text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট রাজ্য মিজোরাম। সেখানেই স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনি নিয়ে জিওনা চানার সংসার। তবে শুধু সংসার বললে ভুল হবে, ৩৮ স্ত্রী, ৮৯ সন্তান ও ৩৩ নাতি-নাতনি নিয়ে হয়তো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংসারটিই তাঁর। পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন এই সংসারের কর্তা জিওনা। আজ রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৬ বছর বয়সে আজ বেলা তিনটায় মিজোরামের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন জিওনা। তাঁর পুরো নাম জিওনঙ্ঘাকা। রাজ্যের বাকতাওং ত্লাংনুয়াম গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন জিওনা। টুইটারে জিওনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা। তিনি লেখেন, 'শোকাক্রান্ত হৃদয়ে জিওনাকে (৭৬) বিদায় জানাচ্ছে মিজোরাম। বিশ্বাস করা হয়, ৩৮ স্ত্রী ও ৮৯ সন্তান নিয়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবারের কর্তা ছিলেন। এ পরিবারের কারণে তাঁদের গ্রাম বাকতাওং ত্লাংনুয়াম ও মিজোরাম পর্যটকদের অন্যতম আগ্রহের জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়। শান্তিতে থাকুন, স্যার।' , . - (), ' , . . ! ../ ১৯৪৫ সালের ২১ জুলাই, মিজোরামে জন্ম নিয়েছিলেন জিওনা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি প্রথম বিয়ে করেন। জিওনার প্রথম স্ত্রী বয়সে তাঁর চেয়ে তিন বছরের বড় ছিল। এরপর তিনি একে একে ৩৮ স্ত্রী ঘরে তোলেন। ঘর আলো করে আসে ৮৯ জন সন্তান। রয়েছে ৩৩ জন নাতি-নাতনি। পাহাড়ি গ্রামে পুরো পরিবার নিয়ে একটি চারতলা বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি। স্থানীয় লোকজনের কাছে তাঁর শতাধিক কক্ষের এই বাড়ি চুয়ান থার রান বা নিউ জেনারেশন হোম নামে পরিচিত। বাড়িতে জিওনার স্ত্রী, সন্তানদের জন্য আলাদা আলাদা কক্ষ থাকলেও তাঁরা সবাই একত্রে রান্না করে খান। নিজস্ব সম্পদ ও ধর্মীয় অনুসারীদের দানে পুরো পরিবারটির অন্ন সংস্থান হয়ে থাকে। একই বাড়ির শতাধিক কক্ষে এতজন স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনি নিয়ে জিওনার এই সংসার পর্যটকদের নজর কেড়েছিল। | 3 |
জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টার্স থেকে দুটি এমআই-১৭১ এ ২ হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে ভার্চুয়ালি এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।এতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টার্সের মহাপরিচালক আন্দ্রে বোগিনস্কি ভার্চুয়ালি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান অ্যাম্বাসেডর আলেক্সান্ডার মান্তিটস্কি, সব অতিরিক্ত আইজি ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই দুটি হেলিকপ্টার পুলিশে যুক্ত হলে বাহিনীর কাজে আরও গতি আসবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যে কোনো মুহূর্তে নিরাপত্তা বিধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সহজ হবে।তবে কত টাকায় হেলিকপ্টার কেনা হবে এ বিষয়ে কোন তথ্য জানানো হয়নি। এর আগে গত ৬ অক্টোবর পুলিশের জন্য ২টি হেলিকপ্টার কেনার প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয় সরকারি অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।কমিটির ২৮তম এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৪তম সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের জন্য জিটুজি পদ্ধতিতে রাশিয়ার কাছে থেকে দুইটি হেলিকপ্টার ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকা খরচ হবে এ বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। তবে জানা যায়, প্রায় সাড়ে চার শ কোটা টাকা খরচ হবে রাশিয়ান হেলিকপ্টার দুটি কিনতে।বাংলাদেশ পুলিশে ২০০৪ সালে প্রথম হেলিকপ্টার কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নানা কারণে সে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে এক যুগ পর ২০১২ সালে প্রথম পুলিশের জন্য হেলিকপ্টার কেনার আদেশ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে আমেরিকার তৈরি বেল ৪০৭ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পুলিশের অধীনস্থ বাহিনী র্যাবের এয়ার উইং যাত্রা শুরু করে। ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আমেরিকার তৈরি সেই হেলিকপ্টার সরবরাহ করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান রহিম আফরোজ। | 6 |
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বাংলাদেশ এক চীন নীতি ও চীনের 'ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড' নতুন উদ্যোগের দৃঢ় সমর্থক। সেই সঙ্গে সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত শান্তিপূর্ণ বিশ্বায়ন এবং গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক পথে উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নতি ও বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সিনিয়র নেতা ওয়াং ইয়াজুনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন। খবর বাসসেরসকালে ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ও কমিউনিস্ট দলগুলোর প্রতিনিধিদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।সমাজতান্ত্রিক ও কমিউনিস্ট দলগুলোর প্রতিনিধির মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, জাসদ প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।তথ্যমন্ত্রী বৈঠকের শুরুতে তার দলের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলের কাছে বক্তব্য তুলে ধরেন এবং বৈঠকের পর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে চীনের অ্যাসিসট্যান্ট মিনিস্টার অব ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্ট অব সিপিসি (কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না) ওয়াং ইয়াজুনের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।তথ্যমন্ত্রী বলেন, সিপিসির কংগ্রেস সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এবং শি জিং পিং দলের সাধারণ সম্পাদক ও চীনের প্রেসিডেন্ট হলেন। কংগ্রেসে তারা কি নীতি গ্রহণ করলেন, সেই নীতিটা বাংলাদেশের জনগণ রাজনীতিবিদদের জানানোর জন্য তারা এখানে এসেছেন। আমরা মনে করি যে, বাংলাদেশের একটি বন্ধু প্রতীম চীন, তাদের দেশে কিভাবে অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং বিশ্ব সমস্যা সমাধানের জন্য নীতি গ্রহণ করেছে, তা নিয়ে ঘনিষ্ঠ মতবিনিময় হয়েছে এই বৈঠকে। উন্নয়নকামী বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুপ্রতিম দেশ চীনের এ ঘনিষ্ঠ মতবিনিময় উভয় দেশের জন্য মঙ্গলজনক।আলোচনা বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে আমরা বলেছি, বাংলাদেশ 'এক চীন নীতি' সমর্থন করে, চীনের প্রেসিডেন্ট যে নতুন 'ওয়ান বেল্ট-ওয়ান রোড' নীতি গ্রহণ করেছেন, সেটিও সমর্থন করে। আমরা মনে করি, উন্নয়নশীল দেশের জন্য সমাজতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করা মঙ্গলজনক, কারণ তা উন্নয়নও দেবে বৈষম্যও কমাবে।সেইসঙ্গে সামরিকীকরণ, আধিপত্যবাদ ও বহি:হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত বিশ্বায়নের সমর্থক বাংলাদেশ।হাসানুল হক ইনু বৈঠকে রোহিঙ্গা বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, আমরা বলেছি, রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে, তার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশ তার বন্ধুপ্রতিম দেশ চীনের সক্রিয় সমর্থন ও জোরালো ভূমিকা আশা করে।এর আগে বৈঠকে চীনা দলনেতা ওয়াং ইয়াজুন পুনরায় নির্বাচিত তাদের পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শুভেচ্ছা ব্যক্ত করেন। চীনের নতুন নীতিমালা ব্যাখ্যাকালে তিনি বলেন, চীন-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ সমূহের চীনের পক্ষ থেকে দ্রুত অর্থ ছাড় করা হবে।
| 6 |
মার্চের শুরুতে ইউক্রেন উপকূলে নোঙর করা বাংলাদেশী জাহাজে রাশিয়ার মিসাইলের আঘাতের জেরে বীমা সংস্থার কাছে দুই কোটি ২৪ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ঢাকা। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই খবর জানায় ব্রিটেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে এটিই প্রথম এত বড় অঙ্কের কোনো ক্ষতিপূরণের দাবি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার আগ্রাসনের জেরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউক্রেন দেশটির সব বন্দর বন্ধ করে দেয়ার পর রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের অধীন 'বাংলার সমৃদ্ধি' নামের কার্গো জাহাজটি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকা পড়ে। যুদ্ধের মধ্যে ২ মার্চ দিবাগত রাতে রাশিয়ার একটি মিসাইল জাহাজটিতে আঘাত হানে। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাদিসুর রহমান নামে একজন ক্রু নিহত হন। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বীমা সংস্থার থেকে দুই কোটি ২৪ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। জাহাজটির বীমা প্রদান করেছিল ঢাকা-ভিত্তিক সাধারন বীমা কর্পোরেশন। অপরদিকে লয়েডস অফ লন্ডন ব্রোকার টাইজারসের মাধ্যমে জাহাজটিকে রিইনসিউর করা হয়েছিল। এদিকে জাতিসঙ্ঘের জাহাজ সংস্থা গত সপ্তাহে বলেছে যে কৃষ্ণসাগরে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে একটি করিডোরের ব্যবস্থা করা হবে। তবে বিভিন্ন জাহাজ সংস্থা দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়া খুবই ধীর গতিতে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি চারটি জাহাজে মিসাইল আঘাত হেনেছে। এবং সেই জাহাজগুলির মধ্যে একটি জলে তলিয়ে গিয়েছে। এদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে ভ্রমণের জন্য বীমা প্রিমিয়াম ১০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বীমাকারীরা মনে করছেন এই অঞ্চল থেকে আরো ক্ষতিপূরণের দাবি উঠবে যা সংস্থাগুলির খরচ বাড়িয়ে দেবে। সূত্র : রয়টার্স | 9 |
আধুনিকায়নের জন্য নগরীর পান্থকুঞ্জ পার্কের চারপাশে টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কাজ থেমে থাকায় পুরো পার্ক পরিণত হয়েছিল জঙ্গলে। সাড়ে তিন বছর পর নকশা বদলে পার্কটি ব্যবহারের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কারওয়ান বাজার মোড়ের এই পার্ক নিয়ে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর নকশায় নানা উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পার্কের একটি অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা উড়ালসড়কের দুই থেকে তিনটি খুঁটি বসবে। তাই আগের পরিকল্পনা থেকে তাঁরা সরে এসেছেন। আপাতত পার্কের ভেতরে জন্মানো আগাছা পরিষ্কার করে এটি নগরবাসীর ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে এই পার্ক নিয়ে 'স্বস্তির পার্ক অস্বস্তির কারণ' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই প্রতিবেদনের পর মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দ্রুত পার্কটি জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার নির্দেশ দেন। গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের চারপাশে লাগানো টিনের বেড়া খুলে ফেলা হচ্ছে। ভেতরের আগাছা ও জঞ্জাল পরিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার খোরশেদ আলম নামের এক পথচারী বলেন, এ পথে তিনি নিয়মিত যাতায়াত করেন। পার্কটির পাশ দিয়ে চলাচলের সময় অস্বস্তি হতো। কারণ, ছিনতাইয়ের পর পার্কের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে যেত ছিনতাইকারীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণসহ আধুনিকায়নে বেশ কয়েকটি অনুষঙ্গ তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তবে নতুন পরিকল্পনায় পার্কটিতে ইট-কংক্রিটের ব্যবহার কমানো হয়েছে। এখন পার্কটিতে হাঁটার পথ, বসার আসন ও বাতি বসানো হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসসিসির একাধিক প্রকৌশলী বলেন, দ্রুত পার্কটিকে ব্যবহারের উপযোগী করার কাজ শুরু হবে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বরাদ্দও অনেক কমবে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলীরা। | 6 |
করোনার কারণে ৬৬ দিন টানা বন্ধের পর রোববার থেকে উত্তরাঞ্চলে সীমিত পরিসরে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধের পর প্রথমদিন ৪টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। এসব ট্রেনের মধ্যে রয়েছে খুলনা থেকে ঢাকা- চিত্রা এক্সপ্রেস, লালমনিরহাট থেকে ঢাকা- লালমনি এক্সপ্রেস, রাজশাহী থেকে ঢাকা- বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস এবং পঞ্চগড় থেকে ঢাকা- পঞ্চগড় এক্সপ্রেস। রোববার সকাল থেকে উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনগুলোতে সামাজিক দূরুত্ব মেনে যাত্রীদেরকে ট্রেনে উঠানো হয়। এ সময় টিকেট বিহীন কোন যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারেননি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনে দাঁড়ানো ট্রেনের প্রতিটি বগির টিকেট চেকার ট্রেন থেকে প্লার্টফর্মে নেমে টিকেট চেক করে তারপর যাত্রীদেরকে ট্রেনে উঠান। ট্রেনের বগিগুলোর মধ্যেও ছিল সীমিত যাত্রী। উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরুত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনে যাত্রীদের উঠানো ও নামানো হচ্ছে। টিকেট বিহীন কোন যাত্রীকে কোন ভাবেই ট্রেনে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। আর এ জন্য দীর্ঘদিন পর ট্রেন চললেও প্লার্টফর্মে যাত্রীদের কোন ভিড় নেই। উল্লেখ্য, করোনা প্রতিরোধে সরকার গত ২৫ মার্চ থেকে সকল গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করে। ওই দিন থেকে দেশের সব যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। | 6 |
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষকেরা একটি টুলকিট তৈরি করেছেন, এটি দিয়ে কোনো ফোন পেগাসাসের নজরে রয়েছে কি-না বোঝা যাবে। গবেষকরা বলেছেন, তাঁদের টুলকিটের নাম হচ্ছে মোবাইল ভেরিফিকেশন টুলকিট বা এমভিটি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ফরেনসিক ল্যাবের প্রযুক্তিবিদেরা এই কিট তৈরি করেছেন। এই কিট তৈরিতে তাঁদের কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন ল্যাবসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে।কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন ল্যাব সর্বপ্রথম ইসরায়েলের এনএসও গ্রপের স্পাইওয়্যার পেগাসাসের নজরদারির বিষয়টি ধরতে সক্ষম হয়।এই টুলকিটটি শনাক্ত করতে সাহায্য করবে কোনো ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যারের নজরে রয়েছে কি-না। এটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন উভয় ডিভাইসেই কাজ করে।এই টুলকিটের সাহায্যে পেগাসাসের উপস্থিতি খুঁজে বের করার জন্য, প্রথমে ব্যবহারকারীকে নিজের ফোনের সমস্ত ডাটার ব্যাকআপ রাখতে হবে। এরপর এমটিভি ডেক্রিপ্টের সাহায্যে ফোনের ডাটাগুলোকে দেখতে হবে যে এর মধ্যে পেগাসাসের কোনো চিহ্ন রয়েছে কি-না। তবে, আইফোনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ডাম্প ফাইল সিস্টেম পেগাসাস বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ফরেনসিক ল্যাব জানিয়েছে, অ্যাপলের ফোনগুলোতে পেগাসাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা যায়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শাখা অ্যামনেস্টি টেক ২০১৯ সালে চালু করা হয়। এই অ্যামনেস্টি টেকের মধ্যেই রয়েছে ফরেনসিক ল্যাব। সাইবার সিকিউরিটি, অ্যাপস ফর সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করে অ্যামনেস্টি টেক।পেগাসাস ইস্যুতে চারদিকে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই জুলাই মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি ল্যাব মোবাইল ভেরিফিকেশন টুলকিট প্রকাশ করে। গ্রাহকের ফোনে এমভিটি ইনস্টল করার জন্য পাইথন ৩.৬+ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের প্রয়োজন হয়। অ্যামনেস্টি টেকের ওয়েবসাইটে গিয়ে মোবাইল ভেরিফিকেশন টুলকিট প্রজেক্ট অপশনে ঢুকলেই কীভাবে বিভিন্ন ডিভাইসে এই টুলকিট ইনস্টল করতে হবে তা জানা যাবে।১৮ জুলাই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। এটি তাদের ওয়েবসাইটে রয়েছে। এই নিবন্ধে পেগাসাসের কার্যক্রমের প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। | 11 |
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোট নিয়েই নৌকায় চড়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সংসদ নেতা হবেন মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, এদেশের মানুষ শান্তি চায়, উন্নয়ন চায়। কেউ অন্ধকারে ফিরে যেতে চায় না। কেউই জঙ্গিবাদের শাসন চায় না, হাওয়া ভবন চায় না। মঙ্গলবার কাজিপুরের সোনামুখী ইউনিয়নের পারুলকান্দি ও চরকাদহে আয়োজিত পৃথক দুটি নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। নাসিম বলেন, গ্রামগঞ্জে নির্বাচনী উৎসব শুরু হয়েছে। দেশ এখন নির্বাচনী জোয়ারে ভাসছে। নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে শেখ হাসিনা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। গত ১০ বছরে দেশের যে ধরনের উন্নয়ন হয়েছে, দেশ অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে গেছে। মহাকাশ বিজয় হয়েছে, সমুদ্র সীমানা অর্জন হয়েছে। এসব সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে। আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, সংসদ নির্বাচনে নাকে খত দিয়ে মাঠে খেলতে এসেছেন। সেটা ভালো কথা, কিন্তু ঠিকঠাকভাবে খেলবেন। যদি ফাউল করেন তাহলে জনগণ আপনাদের লাল কার্ড দেখিয়ে দিবে। প্রাক নির্বাচনী খেলায় আপনারা হেরে গেছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় আপনাদেরকে জনগণ চূড়ান্তভাবে হারিয়ে দিবে। জনগণ ভোট দিয়ে আবারও নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করবে। চূড়ান্ত খেলায় ফুটবলের যাদুকর মেসি গোল মিস করতে পারে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা গোল মিস করতে পারেন না। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে এদেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে মুক্তিযু্দ্ধের পক্ষের শক্তিকে আবারও বিজয়ী করবে। পারুলকান্দি ও চরকাদহে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আজগর আলী মন্ডল। সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক উজ্জল ভৌমিক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মাস্টার ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী। | 6 |
সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সরকার খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। খালেদা জিয়ার কিছু হলে সবাইকে হত্যার আসামি করে বিচার করা হবে। আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির প্রতিবাদী মানববন্ধনে একথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, বিরাজনীতিকরণের চক্রান্তের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দরকার হলেও বিদেশে নিয়ে যেতে দিচ্ছে না আইনের দোহাই দিয়ে। এই সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে, সুনামি হয়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের এই দিনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকার বিনা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ বারবার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। | 9 |
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ৩ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে র্যাব-৮ ও মৎস্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৬ মে) রাতে ওই উপজেলার চরভোলানাথ এলাকার একটি পরিত্যাক্ত ঘরে যৌভভাবে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে উদ্ধার হওয়া কারেন্ট জালের বাজার মূল্য প্রায় ৭৭ লাখ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়া ত্রিপুরার উপস্থিতিতে জব্দকৃত অবৈধ জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়। | 6 |
করোনা সংক্রমণ রোধে জারি করা লকডাউনের বিধিনিষেধের মধ্যে কাজ হারিয়ে সঙ্কটে পড়া নিম্ন আয়ের লোকজনের সহায়তায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার পাঁচটি নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়। এই প্যাকেজে রয়েছে, ৩৩৩-নম্বরে জনসাধারণের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে বিশেষ বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা। ক্রমেই রোনাভাইরাসে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঈদের পর দুই সপ্তাহ সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। বিধিনিষেধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। | 6 |
২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ট্রফি আসছে বাংলাদেশে। আগামীকাল বুধবার ঢাকায় পৌঁছার পর সকাল ১১টা থেকে ১২টায় শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি একাডেমির সামনে রাখা হবে ট্রফিটি। মূলত জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্যই বিসিবি একাডেমির সামনে প্রদর্শিত হবে ট্রফিটি। স্বচক্ষে এই ট্রফিটি দেখার সুযোগ থাকছে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদেরও। ঢাকা, সিলেট আর চট্টগ্রাম-এই তিন শহরেই যাচ্ছে বিশ্বকাপ ট্রফিটি। ১৮ অক্টোবর ঢাকায় যমুনা ফিউচার পার্কে ট্রফিটি সর্বসাধারণের দেখার জন্য উম্মুক্ত থাকবে এটি। পরের দিন ১৯ অক্টোবর সিলেট ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আর ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ট্রফিটি প্রদর্শিত হবে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 12 |
মানুষের শরীরে অন্যান্য ফ্লু বা ভাইরাস সংক্রমণের মতোই ধীরে ধীরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে (হার্ড ইমিউনিটি) এমন ধারনাকে উড়িয়ে দিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- হো। সম্প্রতি হো এর জরুরী স্বাস্থ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ড. মাইকেল রায়ান জানান, বিশ্বের করোনা আক্রান্ত দেশগুলোতে মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই এই ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে উঠবে, এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল! কোনও ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে একটা দেশের সমস্ত নাগরিককে টিকা দেওয়া সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে বিবেচনা করে দেখা হয়, কাদের টিকা দেওয়া হলে দেশের বেশির ভাগ মানুষকে মহামারির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিস্তর জটিল গাণিতিক বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে 'হার্ড ইমিউনিটি'র ধারণা আদৌ কার্যকর কিনা, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যখন কোনও দেশের বেশির ভাগ মানুষের শরীরে কোনও ভাইরাস বা ব্যাধির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে তখন ওই ভাইরাস বা ব্যাধির বিস্তার বা সংক্রমিত হওয়ার গতি স্বাভাবিক ভাবেই ধীরে ধীরে কমে আসে এবং একটা সময়ের পর বন্ধ হয়ে যায়। একেই 'হার্ড ইমিউনিটি' বলা হয়। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এমনটা না-ও হতে পারে। তাই অন্যান্য ফ্লু বা ভাইরাল সংক্রমণের মতো করোনার ক্ষেত্রেও মানুষ হয়তো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমনিতেই সেরে উঠবে, এ ধারণা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেই মত ড. রায়ানের! কভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক সুসংগঠিত গবেষণা ও সমীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য হাতে না পাওয়া পর্যন্ত 'হার্ড ইমিউনিটি'র সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট ধারণা করা সম্ভব নয়, জানান ড. রায়ান। হো-এর পরামর্শ, এই ধারণা এখনই ঝেড়ে ফেলতে না পারলে করোনা সংক্রমণের গতি আরও বাড়বে, আক্রান্ত হবেন আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ। বাড়বে গোষ্ঠী সংক্রমণের ঘটনাও। | 3 |
২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের চলমান করোনকালীন সংকট নিরসনের কোন সুস্পষ্ট উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট। আজ শুক্রবার (৪ জুন) প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিক ফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, দেশে দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা 'বৃদ্ধি পাওয়া' ও 'মারাত্মক অর্থনৈতিক বৈষম্য'-এর মতো সংকট নিরসনের কোন সুস্পষ্ট উদ্যোগ প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রন্টের নেতারা। দেশের পোশাকসহ সকল শ্রমিকদের জন্য রেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা, স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সভায় বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের শ্রম অধিকারের মারাত্মক সংকোচন, প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া, মারাত্মক অর্থনৈতিক বৈষম্য, দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার মত সংকট নিরসনের কোন সুস্পষ্ট উদ্যোগ উত্থাপিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। বাজেটের আকার বাড়লেও শ্রমিকদের ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ, অসুস্থতায় চিকিৎসার নিশ্চয়তা কিংবা স্বল্পমূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি। | 6 |
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে মুক্তিপণের ৮০ লাখ টাকা না পেয়ে তানভীর আহমেদ (১৬)নামে এক স্কুলছাত্রকে হত্যা করেছে অপহরণকারী চক্র। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে অভিযান চালিয়ে আটক করেছে। পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উদ্ধার করা হয়েছে নিহত স্কুলছাত্রের মরদেহ। তানভীর উপজেলার নুরপুর ইউনিয়ানের পশ্চিম নছরতপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় হাজী আফরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। শায়েস্তাগঞ্জ থানার (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব জানান, গত ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে স্কুলছাত্র তানভীরকে অপহরণ করে একই গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে জাহেদ মিয়া (২৪), সৈয়দ আলীর ছেলে উজ্জল মিয়া (২২) ও মলাই মিয়ার ছেলে শান্ত মিয়া (১৮)। পরে তারা তানভীরের বাবার মোবাইলে কল দিয়ে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এক পর্যায়ে তানভীরের বাবা বিষয়টি শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে বিষয়টি তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে রোববার রাতেই অপহরণকারী চক্রের সদস্য জাহেদ ও শান্তকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতথাকার কথা স্বীকার করে এবং অপহরণ চক্রের মাস্টার মাইন্ড উজ্জলের নাম প্রকাশ করে।এরই পরিপ্রেক্ষিকে মঙ্গলবার সকালে উজ্জলকে আটক করে পুলিশ। উজ্জলের দেওয়া তথ্যমতেদুপুরে নিহত স্কুলছাত্রের মরদেহ একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। ওসি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরকারীরা তানভীরকে গলায় ফাঁস দিয়ে ও বুকে ছুরি মেরে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে তারা তাকে হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে পুকুরে পুঁতে রাখে। এ ঘটনার পেছনে আরো কোন কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। | 6 |
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মধুমতি নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া চরপাড়া গ্রামের ৬৫টি পরিবার। অব্যাহত ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো। বহু বছর ধরে অনবরত পাড় ভাঙনে তাদের ঘরবাড়ি ও কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার বাপ-দাদার ভিটে হারিয়ে ভাড়া বাড়িতে আবার কেউ সরকারি ঘরে বাস করছেন।এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনের স্থান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ। দ্রুত নদী ভাঙন ঠেকানো না গেলে ৬৫ পরিবারের মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও থাকবে না।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরপাড়া গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ওই গ্রামের লোকজন যুগ যুগ ধরে সরকারের কাছ থেকে জমি বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানেই বাস করেন। ৬৫ পরিবারের সকলেই ভূমিহীন। এলাকাবাসী বিভিন্নভাবে ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। নদী ভাঙন ঠেকানো না গেলে ভাঙনের প্রভাব পাশের সরকারি গুচ্ছগ্রামেও পড়বে। তাই ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার দাবি ভুক্তভোগীদের।স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী তাঁদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পরিবার নিয়ে এখানে প্রায় ৩০ বছর ধরে বাস করছেন। তাঁদের বাড়িটি সাত কাঠা জায়গা জুড়েছিল। বাড়িতে উঠান, বিভিন্ন ফলের গাছ ও ধানি জমি ছিল। ভাঙনে সব নদীতে নেমে গেছে। এখন শুধু বাড়িটিই আছে।তিনি আরও বলেন, 'বৈশাখ মাসে ঝড়-বৃষ্টিতে নদীর পানি ঘরে উঠে যায়। আর ভাদ্র মাসে পানি সব সময় বারান্দায় থাকে। এইটুকু জায়গা ছাড়া আমাদের থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের থাকার জায়গাটুকু রক্ষা করুক।'চরপাড়া গ্রামের হাসিবুর রহমান বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই দেখছি এই নদীর ভাঙন। আমাদের যত জায়গা-জমি ছিল, সব নদীতে চলে গেছে। আমরা এখন ভাড়া বাড়িতে দিন কাটাচ্ছি। সরকারের কাছে আমাদের সবার আবেদন, এখানে এমন কিছু একটা করে দিক, যাতে ভাঙন রোধ করা যায়।'বৃদ্ধ আতিয়ার তালুকদার, হাসি বেগম, তহমিনা বেগমসহ কয়েকজন বলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এই ভাঙনের জায়গা পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্তকোনো কাজ হয়নি। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়ে যান।তাঁরা আরও বলেন, পুরো গ্রাম নদীতে চলে গেছে। এখানে যাঁরা আছেন সবাই ভূমিহীন। কারও নিজস্ব কোনো জমি নাই। তাঁদের ঘরবাড়ি ভাঙতে ভাঙতে এখানে থাকাইদায় হয়ে পড়েছে। সরকারের কাছে তাঁদের দাবি, ভাঙন রোধ করুন, না হলে তাঁদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা করা হোক।টুঙ্গিপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, 'কয়েক মাস হলো আমি টুঙ্গিপাড়ায় যোগদান করেছি। নদী ভাঙনের ব্যাপারে আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক ভাঙন ঠেকাতে কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, 'আমি টুঙ্গিপাড়ায় যোগদান করার পরে ভাঙনেরস্থানে যাইনি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। পানিউন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনাকরে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয়ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
বগুড়ার আদমদীঘিতে আল সাফি ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন আব্দুর রশিদ সরকার নামে এক ভুয়া ডাক্তারকে আটক করেছে বগুড়া র্যাব-১২। আজ শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়।আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আব্দুর রশিদ সরকারকে ৬ মাসের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন বগুড়া জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রুপম দাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন র্যাবের ওডিডিএন এসআই রবিউল ইসলাম।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগরের পিরকাসীমপুর দক্ষিণপাড়ার বাহার আলীর ছেলে পল্লিচিকিৎসক আব্দুর রশিদ সরকার বিগত ২০০৫ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষজ্ঞ ও সার্জন পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদান করে আসছিলেন। বগুড়ার আদমদীঘি আল-সাফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পল্লিচিকিৎসক আব্দুর রশিদ সরকার নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ও সার্জনের পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করছেন। আজ সকালে গোপন সংবাদে বগুড়া র্যাব-১২ আল সাফি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় এবং ভুয়া ডাক্তারকে হাতেনাতে আটক করেন।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করেন তিনি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রুপম দাস ভুয়া ডাক্তার আব্দুর রশিদকে ৬ মাসের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের জেল প্রদান করেন।এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আজকের পত্রিকাকে বলেন, আব্দুর রশিদ একজন পল্লিচিকিৎসক। তিনি ভুয়া বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা প্রদান করছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দেন। | 6 |
বাংলা নতুন বছরকে বরণ ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ধরে রাখার প্রত্যাশায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়েছে। শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ছিল পাঁচ স্তরের কঠোর নিরাপত্তাবলয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার নানা ব্যবস্থা ছিল। তবে এত কড়াকড়ির মধ্যেও কয়েক বছরের চেয়ে বেশি মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল 'নির্মল করো, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে'। আজ পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে সকাল নয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকার সড়কদ্বীপের সামনে থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রা শুরুর ১০ মিনিট আগে বেজে ওঠে ঢাক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন-সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন চত্বর ঘুরে আবার টিএসসিতে এসে শোভাযাত্রা শেষ হয় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে। এরপর শোভাযাত্রায় প্রদর্শিত শিল্পবস্তু নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেখানে যাওয়ার পর ঢাকের তালে উচ্ছ্বাসে মাতেন শিক্ষার্থীরা। মোটরসাইকেলে র্যাবের একটি দল ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রার অগ্রভাগে। তাদের পেছনে ছিলেন ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপর ছিলেন পুলিশের সোয়াত টিম, পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা। তাঁদের পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান, সহ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ ও এ এস এম মাকসুদ কামাল, চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন, চারুশিল্পী সংসদের নেতা কামাল পাশা চৌধুরীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় ছিলেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। শোভাযাত্রার পেছনে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে ছিল তল্লাশিচৌকি। কড়া নিরাপত্তায় উৎসবের আনন্দ ছিল বাঁধভাঙা। সব জেলা ছাপিয়ে আজ দেশের ৪৯৩টি উপজেলায় একযোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা। মুখোশ, টেপাপুতুল, মাছ-পাখির প্রতিকৃতিসহ লোকসংস্কৃতির নানা উপাদান ছিল এবারের শোভাযাত্রায়। শোভাযাত্রা শেষে টিএসসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, 'নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে, আমাদের উন্নয়নের ধারা যেন চলমান থাকে। মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটে। মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হোক। সবাইকে শুভ নববর্ষ।' শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে শেষ হওয়ায় এ সময় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কৃষ্ণপদ রায়। তিনি বলেন, 'পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছায়ানট, রমনা বটমূলসহ সব জায়গায় নিরাপত্তাবলয় রয়েছে। চারদিকে ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো হয়েছে। সাদাপোশাকের পুলিশ কাজ করছে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় পুলিশের পাশাপাশি সোয়াত টিম ছিল। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদ্যাপন করছে। দুপুর ১২টার পর তেমন কোনো অনুষ্ঠান নেই। তবে আমরা বিশেষ কিছু জায়গা থেকে মানুষজনকে চলে যেতে বলব। আমরা সড়কগুলো খুলে দেব। মানুষ যে টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা রাস্তায় থাকতে পারবেন না, বিষয়টি এমন নয়। নিরাপত্তাব্যবস্থা শিথিল হয়ে আসবে।' এক প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে সব সময় কিছু না কিছু ঝুঁকি থাকে। অতীতেও অনেক ঘটনা ঘটেছে। সব ঝুঁকির শঙ্কা মাথায় রেখেই ডিএমপি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। ডিএমপি যেকোনো ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম। আশা করছি, দুষ্কৃতকারীরা কোনো অনিষ্ট করতে পারবে না। মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ওয়াচ টাওয়ারও বসানো হয়েছে। অনেক বছর ধরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে ক্যাম্পাসে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক ছাত্রী পুতুল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'এবার অন্যান্যবারের চেয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় মানুষের অংশগ্রহণ ছিল বেশি। এটা দেখে খুব ভালো লাগছে। এটা আমাদের আশাবাদী করছে, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাঙালি সংস্কৃতির জয় হোক।' দেশে যেকোনো উৎসব-পার্বণে বর্ণিল রূপ দেখা যায় ঢাকার হাতিরঝিলে। পরিবার-স্বজনদের জন্য সময় কাটাতে এখানে আসেন অনেকেই। তবে আজ সকাল ১০টার দিকে হাতিরঝিল এলাকা অনেকটাই ফাঁকা ছিল। নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ কোনো আয়োজন চোখে পড়েনি। হাতে গোনা কয়েকজন এসেছিলেন প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে। পাঁচ বছরের ছেলে আরিয়ান রহমানকে নিয়ে হাতিরঝিলে এসেছিলেন শরিফুর রহমান। আরিয়ানের মাথায় মোড়ানো কাপড়ে বড় বড় হরফে লেখা নববর্ষের শুভেচ্ছা। বাবা-ছেলে দুজনের পরনেই রঙিন পাঞ্জাবি। শরিফুর রহমান বলেন, তাঁদের বাসা বাড্ডা এলাকায়। সকালে ছেলেকে নিয়ে রমনায় গিয়েছিলেন নববর্ষ উদ্যাপনে। বাড়িতে ফেরার পথে ছেলেকে নিয়ে ঘুরছেন। ঝিলের এক কোনায় বসে সেলফি তুলছেন নববিবাহিত যাবের দম্পতি। যাবের বলেন, বিয়ের পর এটাই তাঁদের প্রথম পয়লা বৈশাখ। নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য হাতিরঝিলে এসেছেন। এ এলাকায় পাঁচ-ছয় বছর থেকে ফেরি করে নানা জিনিস বিক্রি করেন মো. করিম। আজ তিনি এসেছেন ফুল নিয়ে। ফুলের মধ্যে বেশির ভাগই গোলাপ। করিম বলেন, গত দুই বছর থেকে পয়লা বৈশাখে লোকজন কম থাকে। আজ সকালেও তেমন মানুষজন নেই। সকাল সাতটা থেকে তিন ঘণ্টায় দেড় শ টাকার ফুল বিক্রি করেছেন তিনি। কথা বলতেই বলতেই দূর থেকে 'এই ফুল' বলে ডাক পড়ল করিমের। ফুল নিয়ে সেদিকে ছুটতে লাগলেন করিম। | 6 |
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বিমানবাহিনীর দুটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর এতে আগুন ধরে যায়। দুই বিমানে থাকা চারজনকেই উদ্ধার করা হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পুটিবিলা ও ছোট
মহেখালী এলাকায় বিমান দুটি বিধ্বস্ত হয়।আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ
রেজাউল করিম শাম্মী সমকালকে বলেন, মহেশখালীতে বুধবার সন্ধ্যায় বিমানবাহিনীর দুটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমান দুটি
কিছুক্ষণ রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এর একটির মডেল ইয়াক-৮। দুটি বিমানে
দুজন করে থাকা চারজনকেই উদ্ধার করা হয়েছে।এদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার থেকে হেলিকপ্টারে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার আগে বিমানবাহিনী কক্সবাজার
স্টেশনের অধিনায়ক এম ইউছুপ আলী জানিয়েছেন, চার পাইলটের সাথে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তারা প্যারাসুট নিয়ে বিমান থেকে নেমে আসতে
পেরেছেন। তবে তারা সামান্য আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া গেছে।প্রশিক্ষণ
বিমান দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল কি-না অথবা কী কারণে দুটি বিমান
বিধ্বস্ত হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেননি বিমানবাহিনীর কক্সবাজার স্টেশনের অধিনায়ক এম ইউছুপ আলী ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, 'সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একটি বিমান পুটিবিলা এলাকার জনৈক আব্দুস
সাত্তারের বাড়ির চালা উড়িয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ধান ক্ষেতে বিধ্বস্ত হয়। ওই সময় আঁখি (১৫) নামে এক কিশোরী আহত হয়েছে। বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।'তিনি আরও জানান, একই সময়ে ছোট মহেখালীর লম্বাঘোনা পাহাড়ি এলাকায় আরও একটি
বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই এলাকায় কোন ঘরবাড়ি নেই। বিমানটির
কিছু অংশ মাটির নিচে ঢুকে গেছে। প্রশিক্ষণ বিমান দুটি সম্ভবত চট্টগ্রাম
বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছে বলে জানান ইউএনও।ঘটনাস্থল থেকে সাহাব উদ্দিন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এর একটি অংশ ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে লম্বাঘোনা বাজারের কাছে খসে পড়ে।
| 6 |
যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা গণপদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী ছাড়া বহিরাগত কাউকে দলের পরবর্তী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে তাঁরা এই গণপদত্যাগ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।গত ৩১ ডিসেম্বর দীর্ঘ ছয় বছর পর চৌগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতি পদে দুজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬ জন প্রার্থী হওয়ায় কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।দলীয় সূত্র জানায়, সম্মেলনে সম্পাদক প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৩ নেতা এখন এক জোট হয়েছেন। তাঁদের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রার্থীদের মধ্যেই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক করতে হবে। সেটা নির্বাচনেই হোক বা মনোনয়নেই হোক। তাঁদের কথা ২০১৫ সালে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর অনেক আওয়ামী লীগ নেতা সংগঠনটির নাম নিতেও ইচ্ছুক ছিলেন না। অথচ এখন সংগঠনটির মধ্যে ভাঙন ধরাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি মহলের ইঙ্গিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে হাঠাৎ করে বাইরের লোক দেওয়ার চেষ্টা করছেন।সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ১৩ নেতা বলেন, ৬ বছরে আমরা সংগঠিত হয়েছি। এখন যদি বাইরে কাউকে সভাপতি বা সম্পাদক করলে মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগের কর্মী হয়ে থাকব।উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান রিন্টু বলেন, 'চৌগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ করতে না চাইলেও সম্মেলনের ঘোষণা হতেই অনেকে নেতা হতে তদবির করছেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগ সব সময় ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই কোনো কারণে বিতর্কিত বা অতীতে দলীয় প্রতীকের বিরোধিতা করেছেন এমন কাউকে নেতা হিসেবে মানতে চাইছেন না তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।'যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু মোবাইল ফোনে বলেন, 'আমরা সবাইকে নিয়ে একটি শক্তিশালী পূর্ণাঙ্গ উপজেলা কমিটি দিতে চাচ্ছি। ৭ জানুয়ারির মধ্যেই সে কমিটি দেওয়া হবে বলে আশা করছি।' | 6 |
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার মানসিক ভারসাম্যহীন পুত্রের হাতে বৃদ্ধ পিতা খুন হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) উপজেলার খামখেয়ালী বাজার সংলগ্ন মুন্সী বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানান, পুত্র লিটন ওরফে মোল্লা ( ৩৫) মানসিক ভারসাম্যহীন। সে কয়েক দিন যাবত পিতা আ: খালেক (৬৫) কে হত্যা করার হুমকি দিয়ে আসছিল। বাবা ছেলের চোখের আড়ালেই থাকতেন। শনিবার রাতে সেহরি খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লে বাবার ঘরে ঢুকে কুপিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ জহিরুল হক মুন্না বলেন, ছেলেকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে খুন হয়েছে তা তদন্ত করলে বিস্তারিত বলা যাবে। | 6 |
রাজধানীর বংশাল এলাকায় এক হাজার অসহায় পরিবারের বাসায় বাসায় গিয়ে প্রয়োজনীয় খাবার এবং সহায়তা সামগ্রী পৌঁছে দিলেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। একইসঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশেও দাঁড়ালেন তিনি। শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর বংশাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় ঘুরে ঘুরে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের খোঁজ-খবর নেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তার বাবা সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার এটি নির্বাচনী এলাকা ছিল। আকস্মিক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে পেয়ে অনেকটা আবেগাল্পুত হয়ে যান অনেকেই। এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ত্রাণ বিতরণ করা হয় ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের পক্ষ থেকে। রাত ৯টা থেকে শুরু হয় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম। সেহরির আগ পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে অসহায়দের মাঝে এসব বিতরণ করা হয়। সারা রাতে প্রায় দেড় হাজার প্যাকেট বিতরণ করা হয় বলে জানানো হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল সাদেক হোসেন খোকা ফাউন্ডেশনের (প্রস্তাবিত) পক্ষ থেকে ঢাকার অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি প্রজেক্ট ঢাকা এইডের ঘোষণা দেন ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সেই সঙ্গে রমজান উপলক্ষে ঢাকার অন্তত ১০ হাজার দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিত্তবানদের নিয়ে প্রজেক্ট ঢাকা এইড নামে একটি তহবিল গঠনেরও আহ্বান জানান তিনি। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 4 |
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনকে দেশের সকল টার্মিনালে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনটি সংশোধনসহ ৭ দফা দাবিতে ঢাকা বিভাগে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন তারা। আজ রবিবার রাজধানীর ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা এ ঘোষণা দেন। এর প্রেক্ষিতে ওই সমাবেশ থেকে চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান হিরুর সভাপতিত্বে সমাবেশে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ সাত দফা দাবি মেনে নিতে সরকারকে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। অন্যথায় ১৩ অক্টোবর থেকে সারাদেশে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 6 |
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম বলেছেন, গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গে সংক্রামক বর্জ্য- ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস সহ অন্যান্য সুরক্ষা বর্জ্য মেশানো হলে আগামী ৭ জুলাই থেকে বাসাবাড়ি হতে সেই বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে না। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে ডিএনসিসির সংক্রামক বর্জ্য ব্যবস্থা্পনা কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। মেয়র বলেন, আমরা অনেকে গৃহস্থালি বর্জ্যের সাথে সংক্রামক বর্জ্য বা কোভিড বর্জ্য এক সঙ্গে মিশিয়ে ফেলছি। এটি জনস্বাস্থ্যে জন্য হুমকিস্বরূপ। করোনা যেমন আমরা ম্যানেজ করে চলছি, আমরা যেভাবে মাস্ক পরা শুরু করেছি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করছি, একইভাবে কোভিড বর্জ্য বা সংক্রামক বর্জ্য যাতে গৃহস্থালির বর্জ্যের সাথে মেশানো না হয় সেদিকে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। সংক্রামক বর্জ্য পৃথকভাবে রাখার জন্য ডিএনসিসি প্রথমবারের মত ৩ লক্ষ ব্যাগ বিভিন্ন বাসাবাড়িতে বিতরণ করবো। পরবর্তীতে নগরবাসীকে নিজ উদ্যোগে ব্যাগ ক্রয় করে সংক্রামক বর্জ্য সংরক্ষণ করতে হবে। বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভসসহ অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী যত্রতত্র না ফেলে এই ব্যাগে সংরক্ষণ করবেন। বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহকারী কর্মীগণ প্রতি শনিবার এবং মঙ্গলবার এ সকল সংক্রামক বর্জ্য সংগ্রহ করবে। সংক্রামক বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রতিটি অঞ্চলের একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) এনে রাখা হবে। সেখান থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাতুয়াইলে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ডিসপোজাল করা হবে। এ কাজটি বাস্তবায়ন করতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। এই বর্জ্য যদি আমরা যত্রতত্র ফেলে কিংবা গৃহস্থালি বর্জ্যের সাথে মিশিয়ে ফেলি তাহলে সংক্রমণ আরো বাড়ার আশংকা থাকে। আমরা আপাতত ৩ লক্ষ ব্যাগ বিনামূল্যে ডিএনসিসির বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণ করবো। আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ প্রতিটি ওয়ার্ডে এ বিষয়ে প্রচারণা চালাবেন। পূর্ব রাজাবাজার এলাকার যেসকল বাড়িতে করোনা আক্রান্ত রোগি আছে তাদের প্রত্যেকের বাসায় ১০ টি করে দেয়া এ ব্যাগ দেয়া হবে। স্বেচ্ছসেবকগন এসকল ব্যাগ বাড়িবাড়ি দিয়ে আসবেন। লিফলেট, নোটিস বিতরণের মাধ্যমে এ বিষয়ে আমাদের সচেতনামূলক ক্যাম্পেইন অব্যাহত থাকবে। পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম বলেন, লকডাউন ১৪ দিন থাকার কথা ছিল। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরো ৭ দিন বাড়ানো হচ্ছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে রোপণকৃত বীজ আলুর ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। এই বৃষ্টি যদি দীর্ঘ সময় হয় তবে বীজ আলু পচে যাবে। এতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।এ ছাড়া যে সকল কৃষকের জমি এখন পর্যন্ত প্রস্তুত হয়নি ওই সব জমিতে বৃষ্টির কারণে আরও বিলম্ব হবে আলু রোপণে। এর ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষকেরা।গতকাল উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে আলুর জমিগুলো ভিজে একাকার হয়ে গেছে। এ ছাড়া নিচু জমিগুলোতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক কৃষক।গোবরদী গ্রামের কৃষক মো. ইয়াসিন বলেন, 'আমি এবার ৮৪০ শতাংশ জমিতে আলু রোপণ করছি। আজ (রবিবার) সকাল থেকে দিনভর যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে এতে আমাদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যদি দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হতে থাকে তবে অনেক জমিতে পানি জমে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার বলেন, রাতের মধ্যে যদি বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যায় তবে আলু বীজের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। যদি দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হতে থাকে তবে বীজের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কোনো জমিতে যেন বৃষ্টির পানি না জমে সেই দিকে কৃষকের লক্ষ্য রাখতে হবে। | 6 |
ফেনীর সোনাগাজীতে দুর্বৃত্তদের আগুনে দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এখনই সিঙ্গাপুরে পাঠানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় নুসরাতের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটের চিকিৎসকরা। এরপর সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নুসরাতের চিকিৎসার বিষয়ে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন। তিনি বলেন, আমরা নুসরাতের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সমস্ত ডকুমেন্ট আদান-প্রদান করেছি। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা তা দেখে আপাতত নুসরাতকে সেই দেশে নেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন। এ কারণে এই মুহূর্তে তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাহ - এমন অভিযোগ এনে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। আরেকটি অংশ শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে। | 6 |
পরিবেশসম্মত সবুজ কারখানার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন বা লিড সনদ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবি)। শিল্প কারখানার ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত ছোট-বড় সব স্তরে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি কতটা মানা হলো তা কঠিন তদারকি এবং চুলচেরা বিশ্নেষণ করে সর্বোচ্চ মানের কারখানাকে এ সনদ দেওয়া হয়। সম্মানজনক এ সনদ পাওয়া সবুজ কারখানার সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। সবুজ পোশাক কারখানার সেঞ্চুরি করেছে বাংলাদেশ। মোট ১০১টি পোশাক কারখানা এই সনদ পেয়েছে। পাইপলাইনে আছে আরও পাঁচ শতাধিক। ইউরোপ, আমেরিকার তুলনায় সবুজ শিল্পের দৌড়ে বাংলাদেশ এগিয়েই থাকছে। ইউএসজিবির খাতওয়ারি বিভিন্ন সূচকের রেটিং পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি ৯৭ পয়েন্ট পেয়েছে আদমজী ইপিজেডে অবস্থিত রেমি হোল্ডিংস। ৮০-এর ওপরে রেটিং পাওয়া কারখানাকে প্লাটিনাম সনদ দেওয়া হয়। এই কারখানার সংখ্যাও বাংলাদেশেই বেশি। এ ধরনের কারখানার সংখ্যা এখন ২৫টি। বিশ্বের শীর্ষ ১০টি লিড কারখানার মধ্যে ৭টিই বাংলাদেশে। গোল্ড মানের কারখানার সংখ্যা ৬৫টি। সাধারণ লিড সনদ পেয়েছে বাকি দুটি কারখানা। এ নিয়ে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে সবুজ কারখানার সেঞ্চুরি হয়েছে। ২০১২ সালে ঢাকার অদূরে পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডের ভিনটেক্স ডেনিম স্টিডিও দিয়ে এই বিপ্লব শুরু হয়। দুঃখজনক ঘটনা হলো রানা প্লাজা ধসের পর দেশে-বিদেশে কট্টর সমালোচনার পর পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণে নতুন করে গতি আসে। এই বিপ্লবের সর্বশেষ সংযোজন ধামরাইয়ের কিউট ড্রেস। বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক সমকালকে বলেন, সবুজ প্রযুক্তিতে সত্যি সত্যিই দেশের পোশাক খাত বদলে যাচ্ছে। নতুন বেশিরভাগ কারখানাই এ প্রক্রিয়ায় নির্মিত হচ্ছে। সংস্কারের সময় পুরনো কারখানাগুলোও একই পথে হাঁটছে। এতে প্রাথমিক ব্যয় বাড়লেও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ছে। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ উদ্যোগে অর্থায়ন থেকে ঋণদানের ব্যবস্থা থাকলেও ছোট উদ্যোক্তাদের পক্ষে এই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা থাকলে দেশ লাভবান হবে। কোনো উদ্যোক্তা লিড মানের কারখানা করতে চাইলে প্রথমে ইউএসজিবিতে নিবন্ধন নিতে হয়। ইউএসজিবি তারপর একটি নির্মাণ কোড দেয়। এই কোডেই স্থাপত্য, প্রকৌশলসহ সব নকশা থাকে। নির্মাণসামগ্রীর তালিকা, মান এবং কোন উৎস থেকে কোন সামগ্রী সংগ্রহ করতে হবে সে নির্দেশনারও উল্লেখ থাকে এতে। এরপর ইউএসজিবির নিবন্ধিত উপদেষ্টার নিবিড় তত্ত্বাবধানে নির্মাণ কাজ এগোতে থাকে। এরপরও সময়ে সময়ে তদারক করে ইউএসজিবি পরিদর্শক দল। অর্থাৎ অনেক ব্যয় এবং কাঠখড় পুড়িয়েই অবশেষে মেলে লিড সনদ। লিড সনদের জন্য অতি তুচ্ছ বিষয়কেও গুরুত্ব দিয়ে চুলচেরা বিশ্নেষণ করা হয়। যেমন, শুধু প্রকল্পের অবস্থান সূচকেই ২৬ রেটিং পয়েন্ট বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে স্থানীয়দের সহজ যাতায়াত, পরিবহন ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার মতো পয়েন্ট রয়েছে। জ্বালানি ও পরিবেশ সূচকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারসহ ৩৫টি পয়েন্ট এবং পানির ব্যবস্থাপনা সূচকে ১০টি পয়েন্ট বিবেচনা করা হয়। এরকম ১১০ পয়েন্টের মধ্যে ৪০ থেকে ৪৯ পয়েন্ট পাওয়া কারখানাকে লিড সনদ দেওয়া হয়। ৫০ থেকে ৫৯ পয়েন্টের মধ্যে হলে লিডের সিলভার ক্যাটাগরি, ৬০ থেকে ৭৯ পয়েন্ট গোল্ড ও ৮০ পয়েন্টের ওপরের কারখানাকে প্লাটিনাম সনদ দেওয়া হয়। লিড সনদ পেলে সুবিধা কি জানতে চাইলে উদ্যোক্তারা জানান, বিদেশি বড় বড় ব্র্যান্ড এবং ক্রেতার আস্থা বাড়ে। তাদের সঙ্গে দর কষাকষিতে এগিয়ে থাকা যায়। ব্র্যান্ডিং ইমেজ বাড়ে। দুর্ঘটনা সাধারণত হয় না। প্রাকৃতিক আলো-বাতাসেই চলে উৎপাদন। প্রাকৃতিক আলো-বাতাস বৈরী হয়ে উঠলে ব্যবহার করা হয় নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। ফলে কারখানার ভেতর সার্বক্ষণিক সহনীয় তাপমাত্রা থাকে। কাজের পরিবেশকে করে নিরাপদ, আনন্দদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুবিধায় পানি, বিদ্যুৎ কম খরচ হয়। প্রাকৃতিক আলো এবং সোলার প্যানেলে উৎপাদিত বেশিরভাগ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। বর্জ্য নিঃসরণ কম হওয়ার ফলে শোধনে ব্যয় কম হয়। সর্বোপরি দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যয় কমে আসে। যদিও প্রাথমিকভাবে এরকম একটি কারখানা নির্মাণে সাধারণ কারখানার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যয় বেশি হয়ে থাকে। ইউএসজিবিসির ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, লিড সনদের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবেশ সুরক্ষা এবং সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাশ্রয়ী উৎপাদন। এ কারণে সাধারণ প্রকল্প থেকে লিড সনদ পাওয়া প্রকল্পে জ্বালানি সাশ্রয় হয় ২৪ থেকে ৫০ শতাংশ। পানির ব্যবহার কমে আসে ৪০ শতাংশ, সলিড বর্জ্য উৎপাদন কম হয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কম হয় ১৩ শতাংশ। একটি রেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রকল্পের নকশা, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর লিড সনদ দেওয়া হয়। লিড সনদ পাওয়া কারখানার উৎপাদিত পণ্যের গায়ে 'গ্রিন ট্যাগ' ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ পোশাকটি পরিবেশসম্মত কারখানায় তৈরি হয়েছে। ফলে তুলনায় বাড়তি দর দিয়েও কেনেন সাধারণ ভোক্তারা। দেশের প্রথম লিড সনদ পাওয়া কারখানা ভিনটেইজ ডেনিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান মিরধা সমকালকে জানালেন, বাংলাদেশের পোশাককে বিশ্বদরবারের একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখতে চান তারা। নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পরিবেশসম্মত উৎপাদনে ইকোসিস্টেমকে বিবেচনায় নিয়েছেন তারা। এতে শ্রমিক-ক্রেতার সুবিধা থেকে ভিনটেজ কারখানার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি পাখির কথাও ভাবতে হয়েছে। কোনো কমপ্লায়েন্স শর্ত নয়, পরিবেশের স্বার্থেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। ক্রমশ বৈরী হয়ে ওঠা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবেশসম্মত উৎপাদনের স্বার্থে সরকারের পক্ষ থেকেও সবুজ জ্বালানির শিল্প কারখানাকে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার ক্ষেত্রে করপোরেট কর ২ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কারখানা নির্মাণে ঋণসহায়তার জন্য সবুজ অর্থায়ন নামে আলাদা ঋণ তহবিল গঠন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে পরিবেশসম্মত শিল্প উৎপাদন উৎসাহিত করতে কার্বন করারোপ, জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধ করাসহ বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনে পরিবেশ বিপর্যয়ে নাজুক অবস্থায় পড়া বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ৬ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে জীবনহানি, শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষতি, ফসলের ক্ষতি ও রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হচ্ছে। অবশ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে আইএমএফ। লিড সনদ পাওয়া ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত এনভয় টেক্সটাইলের স্বত্বাধিকারী সাংসদ আবদুস সালাম মুর্শেদী সমকালকে বলেন, লিড সনদ পাওয়া বেশ কঠিন। অনেক কারখানা এ ধরনের প্রকল্প নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে ইউএসজিবিসি সনদ পাচ্ছে না। এ ছাড়া গ্রিন কারখানা গড়ে তোলার প্রাথমিক ব্যয়ও অনেক। এনভয় টেক্সটাইলে ব্যয় হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। তবে সবুজ প্রযুক্তিতে গড়ে তোলার পর এখন উৎপাদন ব্যয় কমেছে অনেক। একজন শ্রমিক একই সঙ্গে চারটি মেশিন চালাচ্ছেন। অপচয় হচ্ছে না। প্রাথমিক বিনিয়োগ একটু বেশি হলেও চূড়ান্ত বিচারে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যয়সাশ্রয়ী। ইউরোপ-আমেরিকার বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো রফতানি আদেশ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াও এনভয় টেক্সটাইল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। ফলে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ নিয়ে নতুন উপলব্ধি হবে বিশ্ববাসীর। | 6 |
মার্সেইয়ের সামসে সুযোগ ছিল ফ্রান্সের ক্লাব হিসেবে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমের পরে ইউরোপ লিগের শিরোপা ঘরে তোলার। কিন্তু পারলো না। পারতে দিলেন না ডিয়াগো সিমিওনের মূল তারকা অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান। নিজের দেশ ফ্রান্সের ক্লাব মার্সেইকে একাই বলতে গেলে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। দারুণ দুই গোল করে শিরোপা এনে দিয়েছেন দলকে। শেষের দিকে গাবি দলের হয়ে একটি করে জয়ের ব্যবধান ৩-০ করেছেন। তবে ইউরোপা লিগের শিরোপা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের জন্য নতুন নয়। এরআগে ১৯৬১-৬২ সালে এই শিরোপার স্বাদ নেয় দলটি। তখন এর নাম ইউরোপা কাপ উইনার কাপ। এরপর ইউরোপা লিগ নাম নেওয়ার পর আরো দু'বার শিরোপা উঠেছে ক্লাবটির শো'কেসে। এরমধ্যে ২০০৯-১০ এবং ২০১০-১১ মৌসুমে শিরোপা জেতে স্প্যানিশ ক্লাবটি। ২০১৭-২০১৮ মৌসুমে দ্বিতীয়বার ডিয়াগো সিমিওনের হাত ধরে শিরোপা উৎসব করল দলটি। সিমিওনে অবশ্য দাবি করতে পারেন শিরোপা তাদের জেতা উচিত। স্প্যানিশ লিগে এবার কোন শিরোপা হাতে ওঠেনি দলটির। লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদকে হটিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। অন্য মৌসুমেগুলোতে চ্যাম্পিয়নস লিগে দারুণ পারফর্ম করলেও এবার শুরুতেই হেরেছে অ্যাথলেটিকো। তাই যোগ্য দল হিসেবে শিরোপাটা তাদের পাপ্য ছিল। যোগ্য দলের মতোই অবশ্য শুরু থেকে দাপট ধরে খেলেছে গ্রিজম্যান-কস্তারা। ম্যাচের ২১ মিনিটেই ফ্রান্স তারকা অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যানের গোলে এগিয়ে যায় অ্যাথলেটিকো। গাবির পাস থেকে দলের প্রথম লিড এনে দেন তিনি। ওই এক গোলেই প্রথমার্ধ শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে মার্সেই ঘুরে দাঁড়াবে উল্টো গোল খেয়ে বসে। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে নিজের এবং দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন গ্রিজম্যান। এই গোলে গ্রিজম্যান প্রমাণ করেন কেন বার্সেলোনা তার দিকে চোখ রাখছে। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে ৯৩ গোল করেছে। এরমধ্যে ২৯ গোলের পাশপাশি ১৩ গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। অ্যাথলেটিকোর মোট গোলের ৪৫ শতাংশ গোলে আছে তার পায়ের ছোঁয়া। গ্রিজম্যান ৪৯ মিনিটের পর৫২ মিটিনে আবার সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু গোল করতে পারেননি ফ্রান্স তারকা। তবে গ্রিজম্যানকে প্রথম গোলের পাস দেওয়া গাবি শেষ সময়ে একটি গোল পান। ৮৯ মিনিটে গোল করে তিনি জয়ের ব্যবধান বড় করেন। দলকে তৃতীয় ইউরোপা লিগ জিততে বড় অবদান তারও। অ্যাথলেটিকো ডিয়াগো সিমিওনের অধীনে দু'বার ইউরোপ সেরার এই মুকুট জিতলো। আগামী ২৬ মে রিয়াল যদি লিভারপুলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারে তবে ২৪ বছর পর ইউরোপ সেরার দুই মুকট একই শহরে যাবে। | 12 |
এশিয়ার মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ রানের মালিক হলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। পাকিস্তানের মিসবাহ-উল-হককে টপকে এ রেকর্ড গড়েন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান হায়দারাবাদ টেস্টের দ্বিতীয় দিন ৪৫ রানের ইনিংস খেলে এশিয়া মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলেন কোহলি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে অধিনায়ক হিসেবে কোহলির পরিসংখ্যান ছিলো- ৪১ ম্যাচে ৪,১৮৮ রান। এ ম্যাচের আগে এই তালিকায় এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ রানের মালিক ছিলেন মিসবাহ। ৫৬ ম্যাচে ৫১ দশমিক ৩৯ গড়ে ৪২১৪ রান করেন তিনি। ৪৫ রানের ইনিংসের পর মিসবাহকে টপকে যান কোহলি। তার বর্তমান রান ৪২ ম্যাচে ৪২৩৩। গড় ৬৫ দশমিক ১২। বিশ্ব ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ রান দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথের। ১০৯ ম্যাচে ৭৪ দশমিক ৮৩ গড়ে ৮৬৫৯ রান করেছেন তিনি। | 12 |
ঈদুল ফিতরের আগে তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ এবং রপ্তানি বিল কেনার জন্য পোশাক শিল্প এলাকায় শুক্র ও শনিবার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা রাখতে হবে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে এবং রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থে অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত পোশাক শিল্প এলাকার সংশ্লিষ্ট শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আগামী শুক্রবার ও শনিবার খোলা রাখতে হবে। ব্যাংক খোলা রাখার একটি সময়সূচিও ঠিক করে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে শুক্রবার ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হবে। লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। শনিবার ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হবে। এর মধ্যে বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। আর লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। | 0 |
রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ৪৪ দশমিক ৫৭। বিভাগের বগুড়া জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ) নাজমা আক্তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনের। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩ জন, যা চলতি বছরে সর্বাধিক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহী জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১৬ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ৩৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৭২ দশমিক ২৯। মহামারি শুরুর পর জেলায় এটি এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, সংক্রমণের হার ৩৭। নাটোরে ১৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, সংক্রমণের হার ৪৬। নওগাঁয় ১৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৩ জনের এবং পাবনায় ৪৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জে সংক্রমণের হার ৪৯ দশমিক ৪৪। জেলায় ২৭১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বগুড়ায় ২৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮৮ জনের এবং জয়পুরহাটে ২৪৬ জনের নমুনায় পরীক্ষা করে ৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। প্রতিবেদন সূত্রে আরও জানা যায়, রাজশাহী বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল। বিভাগে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ১৬ জন। এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৯৮ হাজার ৯৫৯ জন। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ৮৩৭ জন। এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই তিনজন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ১০৪ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছেন ৬৩ জন। এর মধ্যে রাজশাহী জেলারই রয়েছেন ৩৯ জন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, রাজশাহী বিভাগের সব জেলাতে উদ্বেগজনক হারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। রাজশাহী জেলায় সংক্রমণের রেকর্ড সর্বোচ্চ। সিরাজগঞ্জেও প্রায় ৫০ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি সে অর্থে মানছেন না কেউ-ই। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরামর্শ দেন। | 6 |
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে গোপন বৈঠকের জন্য পিয়ংইয়ংয়ে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রধান মাইক পম্পেও। সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরে পম্পেও হোয়াইট হাউজ কিংবা স্টেট ডিপার্টমেন্টের কোনো কর্মকর্তাকে সাথে নেননি, শুধু গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ছিলেন। হোয়াইট হাউজ গোপন বৈঠকের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে, যে খবর প্রথমে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত হয়। এদিকে, উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, পম্পেও'র সফরের ওপর সরকারের মন্তব্য করা বেমানান। বিডি-প্রতিদিন/১৮ এপ্রিল, ২০১৮/মাহবুব | 3 |
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা আমন ধান ঘরে তোলার পরপরই খেতে আলু রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। চলতি মৌসুমের শেষ সময়ে কোল্ড স্টোরে রাখা আলুর আশানুরূপ দাম পাওয়ায় কৃষকেরা আবারও আলু রোপণ করছেন।উপজেলায় বিভিন্ন জমি থেকে আমন ধান কেটে নেওয়ার পর একই জমিতে আলুর চাষাবাদ করা হচ্ছে। অনেকে আলু রোপণ করার জন্য খেত প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ অঞ্চলের মাটি আলু চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় তুলনামূলক অধিক জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের আলু চাষ করেন চাষিরা। অন্যান্য রবি শস্যের চেয়ে আলু লাভজনক ফসল হওয়ায় কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের কৃষকেরা আলু চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু চলতি মৌসুমে এবার ১ হাজার ১০০ হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষাবাদ করা হবে।বর্তমানে যেসব জাতের আলুর বীজ কৃষকেরা রোপণ করছেন এর মধ্যে ডায়মন্ড, কাডিনাল, দেশীয় জাতের লাল পাকড়ী ও গ্রেনোলা বীজ উল্লেখযোগ্য। বেশি ফলনের আশায় কৃষকেরা এবার এসব বীজ সংগ্রহ করে রোপণ শুরু করেছেন।উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের আলুচাষি মো. মোস্তফা আলী বলেন, 'আট একর জমিতে আলু চাষ করছি। গত বছর বোরো ধান ও চলতি বছর আমন ধানের বাজারদর কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই আমন ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশি লাভের আশায় আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি।'এ ব্যাপারে উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের পর ওই জমিতে আলু চাষাবাদ শুরু হয়েছে। আলু রোপণের জন্য কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত উপযুক্ত সময়। তাই এই সময়ের মধ্যে আলু চাষের জন্য কৃষকেরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রোপণ শুরু করেছেন। লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে আলু চাষাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বীজের কোনো সমস্যা নেই বলে এই কৃষি কর্মকর্তা জানান। | 6 |
ছেলেদের টেস্ট ক্রিকেট একটা সময় ছিল 'টাইমলেস'। পরে সেটি নেমে আসে পাঁচ দিনে। মেয়েদের টেস্টে সময়টা এক দিন কম। লাল বলে তাঁদেরও ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর কথা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। আইসিসির চলমান বৈঠক থেকেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।দুই দিন আগে আইসিসি সদস্যদের নিয়ে দুবাইতে শুরু হয়েছে সভা। তবে আজকের বৈঠকটা হতে পারে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। মেয়েদের টেস্ট ক্রিকেট, সংস্করণ ও ভবিষ্যৎ সূচি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একটি সূত্রের খবর, মেয়েদের টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোয় গুরুত্ব দিচ্ছে আইসিসি।আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছে ২০১৯ সালের ১ আগস্টে। মেয়েদের ক্রিকেটেও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপও চালু হতে পারে শোনা যাচ্ছিল। তবে বাস্তবতা সেই জায়গায় নেই। আপাতত মেয়েদের টেস্ট টুর্নামেন্ট হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে ক্রিকেটের ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে আইসিসির এক সদস্য বলেছেন, 'না, মেয়েদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে এখনই আলোচনা হচ্ছে না। তবে মেয়েদের টেস্ট ক্রিকেটের কাঠামো নিয়েই আলোচনা বেশি হবে।'আইসিসির সভায় উঠতে পারে আফগানিস্তানের ক্রিকেট-প্রসঙ্গ। দেশটির শাসকগোষ্ঠীতে এসেছে পরিবর্তন। দুই দশক পর তালেবানরা ক্ষমতায় ফেরার পর রশিদ-নবীদের খেলা নিয়ে আপত্তি না থাকলেও মেয়েদের ক্রিকেট নিষিদ্ধ করেছেন তাঁরা। দেশটির ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়ে কথা হতে পারে।আইসিসির বৈঠকে এশিয়া কাপ টুর্নামেন্ট নিয়ে কোনো আলোচ্যসূচি নেই। তবে প্রতিযোগিতার ভেন্যু নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, এটার সুরাহা হতে পারে। কারণ, দুবাইয়ে আছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সব সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা। | 6 |
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের উত্থাপিত 'শান্তির সংস্কৃতি' রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। আজ শুক্রবার জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। তিনি বিশ্বব্যাপী শান্তির সংস্কৃতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সব সদস্যরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান।রেজুলেশনটি উত্থাপনকালে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, 'এ বছর রেজুলেশনটি আরও প্রাসঙ্গিক ও জরুরি। কারণ বিশ্বব্যাপী আমরা করোনাভাইরাস মহামারির নজিরবিহীন ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলেছি।'জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় ১৯৯৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রেজুলেশনটি প্রথমবারের মতো গৃহীত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশ 'শান্তির সংস্কৃতি' রেজুলেশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন এবং এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি ফোরামের আয়োজন করে আসছে।এ বছরও ৭ সেপ্টেম্বর উচ্চপর্যায়ের এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। করোনা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমগুলোতে সবার অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জনের বিষয়টি আরও এগিয়ে নিতে শান্তির সংস্কৃতি যে রূপান্তরধর্মী ভূমিকা পালন করতে পারে, তা তুলে ধরা হয় ফোরামে।রেজুলেশনটিতে করোনাকালীন বাস্তবতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে আয়, সুযোগ, তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও টিকার নতুন চ্যালেঞ্জগুলোর ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যগুলো। এ ছাড়া করোনার সময়ে লিঙ্গবৈষম্য ব্যাপকতর হয়েছে। ঘৃণাত্বক বক্তব্য, কালিমা লেপন, বর্ণবাদ ও জাতিগত বিদ্বেষ, অর্থাৎ যেসব বিষয় শান্তিকে বিপন্ন করে তোলে তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে রেজুলেশনটিতে।এতে সহনশীলতা, বৈষম্য বিলোপ, বহুত্ববাদ, মত প্রকাশ ও কথা বলার স্বাধীনতাসহ ঘৃণাত্বক বক্তব্য মোকাবিলা করার মতো বিষয়গুলো আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করোনা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় রাষ্ট্রগুলো যাতে 'শান্তির সংস্কৃতি' ধারণাটি কাজে লাগায় সে আহ্বানও জানানো হয়েছে।রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রেজুলেশনটির প্রাসঙ্গিকতা বহুগুণে বেড়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের প্রধান প্রধান কার্যাবলিতে 'শান্তির সংস্কৃতি' ধারণাটি বৃহত্তর পদচিহ্ন রাখতে পেরেছে এবং একটি প্রভাব সৃষ্টিকারী রেজুলেশনে পরিণত হতে পেরেছে।ফাতিমা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এটি একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত, যা বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে জাতিসংঘ সনদের দায়বদ্ধতার পরিপূরক হিসেবেও ভূমিকা রেখে চলেছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বছর ১০৯টি দেশ বাংলাদেশের এই রেজুলেশনকে কো-স্পনসর করেছে, যা 'শান্তির সংস্কৃতি' ধারণা এগিয়ে নিতে একটি ব্যাপক সমর্থন। রেজুলেশনটির প্রতি অব্যাহত এই সমর্থন এবং প্রতিবছর সর্বসম্মতভাবে এটি গ্রহণ শান্তির প্রবক্তা হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশাল আস্থারই সাক্ষ্য বহন করে। | 6 |
উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে চাকরির পেছনে ছোটেননি আগৈলঝাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক যুবক। ৫ বছর আগে স্বল্প পরিসরে উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ত্রিমুখী গ্রামে হাঁস-মুরগি পালন শুরু করেন। এখন এর সঙ্গে কবুতর ও মাছ চাষ করে সফল তমাল জয়ধর (৩৪)।ত্রিমুখী গ্রামের ভিশ্বদেব জয়ধরের ছেলে তমাল জয়ধর। শুরুর হাঁস-মুরগির খামারে অল্পদিনের মধ্যেই সফলতা পান। এবার এর সঙ্গে মনোযোগ দেন মাছ চাষের দিকে। বাড়ির পাশে ধানি জমিতে ধান কাটার পরে যেখানে বছরের দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত ফসলহীন থাকত, সেখানেই ঘের নেট দিয়ে তমাল শুরু করেন মাছ চাষ।তমাল জয়ধর বলেন, '১৫ একর জমিতে মাছের ঘেরে মাছ চাষ শুরু করার পর বছর ঘুরতেই লাভের দেখা পাই। এভাবেই টানা ৪ বছরে হাঁস-মুরগি মাছ চাষে সুফল পাওয়ায় খামারের সংখ্যাও বাড়িয়েছি।'বর্তমানে তার বড় আকারের ৩টি মুরগির খামার ১টি হাঁসের খামারের মাছের ঘের রয়েছে ২ টি। এখানেই থামেননি উদ্যমী তরুণ তমাল। প্রতিবেশী এক যুবকের কবুতর পালনে সফলতা দেখে তমালের ইচ্ছা জাগে কবুতর পালায়। এক বছর থেকে বাড়িতেই একটি শেড তৈরি করে দেশি বিদেশি প্রজাতির কয়েক জোড়া কবুতর পোষা শুরু করেন। মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই কবুতর পালনেও সফলতা ধরা দেয়।বর্তমানে তার কবুতর শেডে কবুতর আছে কয়েক শ।তমাল জয়ধর বলেন, 'আমার হাঁসের খামারে শতাধিক হাঁস রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০টি ডিম পেয়ে থাকি। আমার যে মুরগির খামার রয়েছে তাতে তিন শতাধিক মুরগি রয়েছে। হাঁস-মুরগি ও কবুতরের জন্য যে খাবার প্রয়োজন তা আগের তুলনায় এখন দাম অনেক বেশি। তাই আগের থেকে লাভ কম হচ্ছে। এখন সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে আমার প্রায় ষাট হাজার টাকা আয় রয়েছে। এ ছাড়া শতাধিক কবুতর পালন করছি।'তমাল জয়ধর জানান, বাংলাদেশের জলবায়ু কবুতর পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। গ্রামে বা শহরে কবুতর পালন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। কবুতরকে সহজে পোষ মানানো যায় বলে গ্রামগঞ্জে বাসাবাড়িতে অনেকে কবুতর পালন করেন। বেশির ভাগ কাঠের বাক্সে পুরোনো পদ্ধতিতে কবুতর পালন করেন। তবে ইদানীং বাজারে বাচ্চা কবুতরের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় উন্নত পদ্ধতিতে কবুতর পালনের আগ্রহ বাড়ছে।'তমালের হাতে গড়া খামারগুলি দেখতে গেলে তিনি আরও বলেন, 'সরকারি সহায়তা পেলে আরও খামার বাড়িয়ে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই তার এখন মূল উদ্যেশ্য। | 6 |
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আদালত ও বিচারক পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বুধবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আবেদনের ওপর আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে মামলাটি বিচারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই আদালতে চলছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজও।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আবেদনটি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মাহবুবউদ্দিন খোকন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া।
গত ২ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছিলেন। ওই দিন দুই পক্ষের আইনজীবীদের তুমুল হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত ৯ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন রেখে শুনানি মুলতবি করে।
২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় এতিমদের সহায়তার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলায় খালেদা জিয়া-তারেক রহমানসহ আসামি ছয় জন। অপর চার আসামি হলেন-মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্র্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। জামিনে থাকা দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দেন। ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
| 6 |
ফেনী নদীর ওপর নির্মিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শুধু বন্ধুত্বের বন্ধন নয় বরং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বৃদ্ধিতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন,রাজনৈতিক সীমানা যেন দু'দেশের বাণিজ্যে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আর সেই লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ-ভারত। আজ দুপুরসাড়ে ১২টায় মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীনরেন্দ্র মোদি। এরপর বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই সেতু দিয়ে ত্রিপুরার সাবরুমের সাথে সরাসরি যুক্ত হল বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির রামগড়। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম বন্দরের সাথেও সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হলো ত্রিপুরার। এই মৈত্রী সেতু এই অঞ্চলের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লাগবে। আমরা ভুলি নাই আপনারা কীভাবে ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছিলেন এবং আশ্রয় দিয়েছিলেন। আমরা ভারতকে সব সময়ই যথা সম্ভব সহায়তা করবো। | 6 |
নরসিংদীর মনোহরদীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। চালাক চর ইউপির আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সরদার মাহমুদ হাছান ফোটন এই অভিযোগ করেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফখরুল মান্নান মুক্তুর কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া এলাকায় গতকাল বুধবার এ ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, ফখরুল মান্নান মুক্তু।স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে চালাকচর ব্যাপারীপাড়া এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত তিনজনকে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন তামাককান্দা গ্রামের নূরুল ইসলাম, হাফিজপুর গ্রামের হিরন মিয়া এবং সবুজ মিয়া।মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নূরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা লিফলেট বিতরণ করছিলাম। এ সময় নৌকার প্রার্থীর কর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছেন। তাঁদের লাঠির আঘাতে আমার হাত ভেঙে গেছে। আমি তাঁদের বিচার চাই।'হিরন মিয়া নামের আরেক আহত বলেন, 'আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমি মাটিতে পড়ে যাই। পরে আমার হাঁটু এবং পিঠে রড দিয়ে পিটানো হয়। পরে অজ্ঞান অবস্থায় আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আমার মোটরসাইকেলও ভেঙে ফেলা হয়েছে।জানতে চাইলে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সরদার মাহমুদ হাছান ফোটন বলেন 'প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরপরও নির্বাচনের মাঠে আছি। এ জন্যই আমার গণসংযোগে হামলা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার চালাকচর ব্যাপারী পাড়ায় গণসংযোগ চালানোর সময় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার কর্মী সমর্থকদের ওপর নৌকা প্রার্থীর সমর্থকেরা হামলা করেছেন। আমি ন্যক্কারজনক এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই।'তবে নৌকার প্রার্থী ফখরুল মান্নান মুক্তু বলেন, 'আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমার কোনো কর্মী এই হামলার সঙ্গে জড়িত নন। বরং স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন আমাদের কর্মী-সমর্থকদের মারধর করেছেন। তা ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।'মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিচুর রহমান বলেন, 'নৌকা এবং স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। তবে মারামারির বিষয়টি আমার জানা নেই। এ নিয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
দীর্ঘ ৫৭৯ দিন বন্ধ থাকার পর আগামীকাল খুলছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হল। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছে হল প্রশাসন। এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে সশরীরে ক্লাস।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯টায় খুলে দেওয়া হবে সব আবাসিক হল। আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছেন তাঁদের টিকা কার্ড ও হলের পরিচয়পত্র দেখে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।এ ছাড়া হলে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে একেক হলে থাকবে একেক আয়োজন। এ সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ফুল, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার। কোন কোন হলে দেওয়া হবে এক বেলার খাবার। আবার কোন কোন হলে দেওয়া হবে কলম, চকলেট।এ বিষয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ড. মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের হলে বরণ করে নিতে আমরা প্রস্তুত। স্বাস্থ্যবিধির মানার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব অনেক রুমে এক সিটে দুজন থাকে। আমরা চেষ্টা করব এক সিটে একজন করে ছাত্রী রাখার হলের ছাত্রীদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হলে প্রবেশের সময় আমরা ফুল, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, চকলেট দিয়ে বরণ করে নিব। পাশাপাশি দূর-দুরান্ত থেকে যেসব ছাত্রীরা আসবে, তাদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা রেখেছি।শহীদ আব্দুর রব হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, আমরা কোন অবস্থাতেই অনাবাসিকদের হলে উঠতে দেব না। টিকা কার্ড আর হলের আইডি কার্ড দেখেই শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে দেব। শিক্ষার্থীদের বরণে আমরা বেশ কিছু আয়োজনও রেখেছি। তবে হলের ডাইনিং যারা চালায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে খাবারের মান ও দাম নির্ধারণ করে খোলা হবে।উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে চালু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন। পুরোদমে ক্লাস চালু না হওয়া পর্যন্ত দুটি শাটল ট্রেন প্রতিদিন সকাল ৮টা ও ৯টায় বটতলী রেলস্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। পরবর্তীতে আবার দুপুর দেড়টা ও আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বটতলীর উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। | 1 |
ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জেলার চারটি উপজেলার শতাধিক গ্রামের ২৫ হাজার পরিবার এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পদ্মায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় সাত সেন্টিমিটার পানি বেড়ে এখন বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।জেলা সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলার শতাধিক গ্রামে এই পানি প্রবেশ করেছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিক্রিরচর ও চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ডিক্রিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু বলেন, 'আমার ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম বন্যাকবলিত। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পানিবন্দী মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে।' নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, তাঁর ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের ১৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম রেজা বলেন, 'পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও গবাদিপশুর খাদ্য মজুত আছে। আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যা দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।এদিকে চরভদ্রাসন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেন মোল্যা জানান, এই উপজেলার ঝাইকান্দা, হরিরামপুর, চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের ২৭টি গ্রামের ১৫ হাজার পরিবার এখন পানিবন্দী। সদরপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন দিয়ারা নারকেলবাড়িয়া, চরনাছিরপুর ও চরমাইরের ১৫টি গ্রামে পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান বলেন, 'পানিবন্দী মানুষের নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকারি সহায়তা নিয়ে যেতে পারব।' জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, 'আমরা জেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষের খবর রাখছি। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সরকারিভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।' | 6 |
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তির সমালোচনা করে দেশটির এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে তাদের অর্থনীতির আকার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে থাকার তুলনায় সাড়ে ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল রিসার্চ বুধবার এক গবেষণা প্রকাশ করে জানায়, এ চুক্তি যুক্তরাজ্যের জন্য সাত হাজার কোটি পাউন্ডের (৯ হাজার কোটি ডলার) ক্ষতি বয়ে আনবে। যুক্তরাজ্য ইইউর সাথে ২০২১ সাল পর্যন্ত বহাল থাকা একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে সংস্থাটি ছেড়ে যাবে এবং নতুন চুক্তির জন্য সেখানকার দেশগুলোর সাথে আলোচনা চালাবে- এ অনুমানকে ভিত্তি ধরে গবেষকরা তাদের ধারণাটি দিয়েছেন। ব্রিটেন সরকার বলছে, তাদের পরিকল্পনা হলো গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বিবেচনার তুলনায় ইইউর সাথে 'আরও উচ্চাভিলাষী' বাণিজ্য চুক্তি করা। গবেষণাটিতে আরও বলা হচ্ছে, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট হলে ব্রিটেনের অর্থনীতির জন্য আরও বড় ক্ষতি হবে। জিডিপি কমে যাবে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সূত্র : ইউএনবি | 3 |
দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, নিজের জন্য নয়। কাজেই মানুষের সমস্যা জানার এবং সমাধানের চেষ্টা করি। রাজনীতিবিদ হিসেবে এটাকেই নিজের কর্তব্য বলে মনে করি। আর ক্ষমতা ভোগ করার বিষয় নয়, জনসেবার বিষয়। সেজন্যই বাংলাদেশের মানুষের কীভাবে কল্যাণ করতে পারি, সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সামাজিক সচেতনতার সৃষ্টির মাধ্যমে মাদকমুক্ত দেশ ও সমাজ গড়ে তোলার ওপর সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদেরও নিজ নিজ এলাকায় কেউ যাতে মাদকাসক্ত না হয়, মাদকমুক্ত সমাজ যাতে গড়ে তোলা যায়- সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। আর সরকার যাদের আত্মসমর্পন করাচ্ছে তাদের চিকিৎসা ও কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে। মাদকব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা আত্মসমর্পণ করছে- তাদের সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা অন্য কোনো ব্যবসায় নিয়োজিত হয়ে ভালভাবে চলতে পারে। এভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এদিন সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, কারণ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, চাঁদাবাজী রোধ এবং জঙ্গীবাদ দমনে ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তার সরকার সর্বদা তৎপর। ইতোমধ্যে জঙ্গীবাদ দমনের সফলতা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে যেখানে মাদক চোলাচালান হয়, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান বন্ধে সরকার পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক পরিবহণ ও চোরাচালানের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে। আমরা যখনই সরকারে আসি, তখনই গণপরিবহণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেই। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে বিআরটিসিসহ গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। কারণ বিআরটিসি লাভজনক নয়। আমরা ক্ষমতায় এসে আবার বিআরটিসিকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে অনেকগুলো বিআরটিসি বাস ক্রয় করি। কিন্তু আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত ৩ থেকে ৪শ' বিআরটিসির বাস পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা আবারও ক্ষমতায় এসে গণপরিবহণ যত বেশি চালু করতে পারি- সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকা শহরের মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার সবই গণপরিবহণের আওতায় করা হচ্ছে। যানজট নিরসনে বিআরটিসিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগও সরকার নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় দেশেও ট্রাফিক সমস্যা রয়েছে। কারণ জনসংখ্যা বাড়ছে, মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গাড়ির সংখ্যাও বাড়ছে। ঢাকার যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা ও ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে। এটা চালু হলে যানজট নিরসন আরও কার্যকর হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানান। সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগরে যানজট নিরসনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, এক্ষেত্রে ভবিষ্যতেও আরও অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারি দলের মাহফুজুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মাদক নিয়ন্ত্রণে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে যুবসমাজকে মুক্ত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনার আওতায় নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ প্রণয়ন করে মাদকের পরিমাণভেদে সাজার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত ও যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও পুলিশের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জঙ্গীবাদ নির্মূল সংক্রান্ত বর্তমান সরকারের গৃহীত জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের অপারেশনাল ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্পেশালাইজড নতুন ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) গঠন, বাহিনীর সদস্যদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, পুলিশ এ যাবত বেশকিছু বড় সফল অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গিতৎপরতা প্রতিরোধ করেছে। জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িতদের সনাক্তকরণের সুবিধার্থে হ্যালো সিটি, রিপোর্ট টু র্যাব প্রভৃতি অনলাইন এ্যাপস চালু করা হয়েছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থার পাশাপাশি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত, সাজাপ্রাপ্ত ও আটক জঙ্গিদের নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভিলক্ষ্য অর্জন, ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্টের জন্য আমরা বহুবিধ কার্যক্রম নিয়েছি। সরকার দলীয় আরেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ঢাকার জনসংখ্যার চাপ কমানোর জন্য ইতোপূর্বে রাজধানীর পাশ্ববর্তী এলাকায় চারটি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের লক্ষে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে বংশী-ধামরাই স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন, ধলেশ্বরী-সিংগাইর স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন, ইছামতি-সিরাজদিখান স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন এবং সাভার স্যাটেলাইট টাউনে হাইরাইজ এপার্টমেন্ট প্রকল্প। প্রকল্পগুলো পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্ত্মবায়নের লক্ষে কার্যক্রম চলছে। এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজধানী ঢাকার পাশ্ববর্তী এলাকায় ৪টি স্যাটেলাইট সিটি বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে রাজউক কর্তৃক ২টি এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঢাকার পশ্চিম ও দক্ষিণে ২টি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব গ্রামকে শহরের সুযোগ সুবিধা দিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সব গ্রামে শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সবধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গিকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার গ্রামকেন্দ্রিক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে তার নেতৃত্বাধীন গত দুই সরকার গৃহীত নানা পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি দলের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীরে যানজট সমস্যা নিরসনে গত ১০ বছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে খুব শিগগিরই ঢাকা মহানগরীকে যানজটমুক্ত করা হবে আশা করা যায়। আগামীদিনের পরিকল্পনার মধ্যে ঢাকা শহরের চতুর্দিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পও রয়েছে। যানজট নিরসনে আগামীদিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা মহানগরী ও পাশ্ববর্তী মহানগরীর সঙ্গে দ্রুতগতির আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে কমলাপুর হতে নারায়ণগঞ্জ রুটে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণ এবং গাবতলী হতে চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-২ নির্মাণ করা হবে। | 6 |
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডদল মাইলস থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির ভোকাল এবং বেজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদ। শনিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন শাফিন আহমেদ। ভিডিওটির ক্যাপশনে শাফিন আহমেদ লিখেছেন- "দীর্ঘদিনের অন্যায় ও ভুল কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে আমি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।" ভিডিও বার্তায় শাফিন বলেন, "আমি শাফিন আহমেদ আজকে আপনাদের সামনে কিছু কথা বলতে এসেছি। মাইলস এর সঙ্গে আমার পথ চলা সেই ১৯৭৯ সাল থেকে। বহু বছর পার হয়ে গেছে, অনেক বছর সময় দিয়েছি, শ্রম দিয়েছি এবং অনেক ক্রিয়েটিভ কাজ হয়েছে। মাইলস এর যে অবস্থান আজকে, এটার পেছনে আমার কতটুকু অবদান সেটা আপনাদের অনেকেই জানেন। তবে একটা সিদ্ধান্ত নিতে আমি বাধ্য হয়েছি সম্প্রতি। সেটা হচ্ছে, এ বছরের শুরুতে আমি সিদ্ধান্ত নেই যে, মাইলস এর বর্তমান লাইন-আপের সঙ্গে মিউজিকের কোনো কার্যক্রম করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না " তিনি আরও বলেন, "আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি এই লাইন-আপের সঙ্গে মিউজিক করা থেকে বিরত থাকব। তবে সংগীতজগতে আমার পথ চলা খুব স্বাভাবিক এবং আগের মতোই থাকবে। আমাকে স্টেজেও পাওয়া যাবে, রেকর্ডিংয়েও পাওয়া যাবে।" শাফিন আহমেদ বলেন, "আমার একটা প্রত্যাশা থাকবে, সেটা হচ্ছে যে মাইলস নামটার কোনো অপব্যবহার যেন না হয়। মাইলস কে নিয়ে আমরা ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছি খুব গ্লোরিয়াসভাবে, খুব রেসপেক্টফুলি। মাইলস এর যে পজিশন এখন, আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করতে না পারি তাহলে মাইলস এর কার্যক্রম এখানেই স্থগিত করা উচিত এবং এটাই আমি মনে করি বেস্ট ডিসিশন। সুতরাং আমার প্রত্যাশা থাকবে অন্য কেউ যেন মাইলস নামটা ব্যবহার না করে। এটুকুই আমার বলার ছিল ভাল থাকবেন সবাই।" এর আগেও ২০১০ সালে মাইলস ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন শাফিন আহমেদ। কয়েক মাস পর ফেরত আসেন। এরপর ২০১৭ সালের শুরুর দিকেও একবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ব্যান্ড থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। সেবারও কিছুদিন পর ফেরেন তিনি। | 2 |
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগরীর সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে মোহাম্মদপুর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পল্টন থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল খাইরুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০১৩ সালের ২৯ মার্চ রাজধানীর পল্টন থানার আতাউল্লাহ আমীনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলা নং-৬০। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীসহ চারটি জেলায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা যাচাই বাছাই করছি। বিস্তারিত পরে জানা যাবে। মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী বলেন, 'গভীর রাতে ডিবি পরিচয় দিয়ে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসায় অবস্থান করছিলেন তিনি'। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের অগ্রগতির অদম্য গতি কেউ থামাতে পারবে না। কারণ এটি বিশ্বে উন্নয়নের 'রোল মডেল' হয়ে উঠেছে। এই মর্যাদা বজায় রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে সবাইকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার সকালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) 'ডিএসসিএসসি কোর্স ২০২১-২০২২'-এর গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনিতে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।ডিসিদের যে ২৪ দফা নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রীপ্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। বাংলাদেশের এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা আর কখনো কেউ থামিয়ে দিতে পারবে না, সেভাবেই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।'প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই, আর ২০৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ আমরা উদ্যাপন করব। কাজেই আমাদের নবীন ট্রেনিংপ্রাপ্ত অফিসারদের কাছে আমার একটাই আবেদন থাকবে, '৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সৈনিক হিসেবে কাজ করতে হবে। সব সময় মাথা উঁচু করে চলতে হবে এবং দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে এবং দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে।৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীতিনি বলেন, এখন আর বাংলাদেশকে কেউ অবহেলা করতে পারে না। বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বদরবারে মর্যাদা পেয়েছে। এই মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।তিনি বলেন, 'ঠিক ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করার পর যে সম্মান আমরা আন্তর্জাতিকভাবে পেয়েছিলাম, এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর যে সম্মান আমরা হারিয়েছিলাম, আজকে আবার আমরা সেই সম্মান পুনরুদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছি।'তিনি আরও বলেন, 'আমি একটি কথা সবাইকে বলতে চাই, একসময় বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশে অনেক নেতিবাচক কথা ছিল। তবে এখনো কিছু কিছু লোক আছে বাংলাদেশ সম্পর্কে বদনাম করতেই বেশি পছন্দ করে। কিন্তু আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ফলে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে আমরা যে দক্ষতা দেখিয়েছি, তার ফলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে আজকে উজ্জ্বল হয়েছে।কখনো শৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটাবেন না: প্রধানমন্ত্রীপ্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথাও অনুষ্ঠানে স্মরণ করিয়ে বলেন, 'আমি অনুরোধ জানাচ্ছি, করোনার আবার নতুন ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। কাজেই সবাই স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলবেন। নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখবেন।ডিএসসিএসসির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. জুবায়ের সালেহীন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৮টি দেশের ৪৭ জন বিদেশি কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তিনজন কর্মকর্তাসহ মোট ২৫১ জন পিএসসি ডিগ্রি লাভ করেছেন। ডিএসসিএসসি এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মোট ১২৮টি কোর্স পরিচালনা করেছে এবং ৫ হাজার ৬৮৬ জনকে ডিগ্রি প্রদান করেছে। ৪৩টি দেশের ১ হাজার ২৫৫ জন অফিসার এখান থেকে ডিগ্রি লাভ করেছেন।আধুনিক ও প্রযুক্তি জ্ঞানভিত্তিক জাতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রীসাংবাদিক হাবীবুর রহমানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকদৈনিক সময়ের আলোর সিনিয়র রিপোর্টার ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুর রহমান হাবীবের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। | 6 |
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার জিরো পয়েন্টের কাছেই অবস্থিত সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়। এর বিপরীতে কর্ণফুলী নদীর ধারে তৈরি করা হয়েছে 'আই লাভ কাপ্তাই' নামে জলারণ্য ভিউ পয়েন্ট।একদিকে নদী, তার ওপারে সবুজ বন। এ স্থানে নান্দনিক স্থাপনাটি ইতিমধ্যে পথচারী ও পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ নির্মিত স্থাপনাটিকে বলা হচ্ছে কাপ্তাইয়ের ট্রেড মার্ক।উপজেলার টিআর প্রকল্প থেকে গত বছরের ডিসেম্বরে ভিউ পয়েন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝিতে এর নির্মাণ শেষ হয় বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় 'আই লাভ কাপ্তাই' উদ্বোধন করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির জাহান। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মঈনুল হোসেন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (নিরাপত্তা) মো. জসিম উদ্দিন, কাপ্তাই প্রেস ক্লাব সভাপতি কবির হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।সাংবাদিক কবির হোসেন বলেন, 'প্রতিদিন সকালে প্রাত ভ্রমণে বের হলে এটি আমাদের চোখে পড়ে। কাপ্তাইকে সবার সামনে তুলে ধরা জন্য ইউএনওর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।'ইউএনও মুনতাসির জাহান বলেন, 'এখানে একসঙ্গে নদী, অরণ্য আর পাহাড়ের অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে। তাই এই জায়গায় ভিউ পয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে। এই জায়গায় পর্যটকেরা এসে দাঁড়াবেন, কাপ্তাইয়ের প্রতি মমতা তৈরি হবে। এতেই আমাদের সার্থকতা।' | 6 |
বাগেরহাটের মোংলায় মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার জেরে মেয়ের বাবা এবং ভাইয়ের বিরুদ্ধে জামাই ও বেয়াইকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত সোমবার সন্ধ্যায় মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহতের পরিবার।থানায় দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার চিলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়মনিরঘোল এলাকার বাসিন্দা হাবিব মোল্লার ছেলে মাসুম বিল্লাহর (৩২) সঙ্গে সাত বছর আগে বিয়ে হয় একই এলাকার আশ্রাব আলীর (৫০) মেয়ে মালা বেগমের (২৭)। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে মালা ও মাসুমের মধ্যে ঝগড়া হয়।একপর্যায়ে মালা বাবার বাড়ি গিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে নালিশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মালার বাবা ও ভাই মাসুমের বাড়ি গিয়ে মাসুম ও শ্বশুর হাবিবকে কুপিয়ে জখম করেন। মাসুম ও হাবিবের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহানা মোরশেদ।মোংলা থানার উপপরিদর্শক জুয়েল শেখ বলেন, জয়মনিরঘোল এলাকার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর বাহিনীর শীর্ষনেতা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের পর তাকে মানিকগঞ্জে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।
শনিবার সন্ধ্যায় মীর কাসেমের সঙ্গে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এ কথা জানান তার স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন।
তিনি বলেন, মীর কাসেমের ভাই মানিকগঞ্জে একটি জমি কিনে রেখেছিলেন। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
৬টা ৩৫ মিনিটে মীর কাসেম আলীর সঙ্গে দেখা করে কারাগার থেকে বের হন তার স্ত্রী-সন্তানসহ অন্য স্বজনরা। এর আগে ৩টা ৪০ মিনিটে তারা কারাগারে প্রবেশ করেন।
এই জামায়াত নেতা এখন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর ৪০ নম্বর কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন। | 6 |
ঢাকার অদূরে সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে যে ১ হাজার ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তাদের একজন ছিল ১৩ বছরের কিশোরী সাথী আক্তার। ঝালমুড়ি বিক্রেতা মো. আবদুল হামিদ ও জুতার কারখানার কর্মী শাহানারা বেগম মেয়ে হারানোর শোক নিয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন। গতকাল বুধবার আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ী এলাকার ইউনিওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার লিমিটেডের জুতা বানানোর কারখানায় (শফিক এন্টারপ্রাইজে) লাগা আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান শাহানারা। কর্মস্থলের দুর্ঘটনায় প্রথমে মেয়ে এবং পরে স্ত্রীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হামিদ। হামিদ বলেন, দুপুরে কারখানার খাবারের বিরতিতে বাসায় যান শাহানারা। স্বামীর বানানো ফুচকা খেয়ে বরই নিয়ে কারখানায় চলে যান। সন্ধ্যায় হামিদ স্ত্রীর কারখানার সামনে গিয়ে দেখেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নেভায়। কারখানার টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয় শাহানারা বেগমের দগ্ধ লাশ। এ দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইল সদরের ইমারত হোসেনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। হামিদ বলেন, ১০-১১ বছর আগে খুলনার পাইকগাছা থেকে সাভারে পরিবার নিয়ে এসেছিলেন তিনি। তখন ঝালমুড়ি বিক্রি করে তিনি সংসার চালাতেন। এক থেকে দেড় বছর পর মেয়ে সাথী আক্তার কাজ নেয় রানা প্লাজায়। এরপর মেয়ের লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হয় হামিদকে। ঢাকায় আর আসবেন না-এমন সিদ্ধান্ত ছিল তাঁদের। তবে বছরখানেক আগে হামিদের সঙ্গে অভিমান করে আশুলিয়ায় ভাইয়ের বাসায় চলে আসেন স্ত্রী শাহানারা বেগম। কিছুদিন পর হামিদও চলে আসেন। ঝালমুড়ি বিক্রেতা হামিদ স্ত্রীকে কোথাও কাজ করতে দিতে চাননি। শাহানারার জেদের কাছে হার মানেন তিনি। মাত্র দুই মাস হলো শাহানারার কাজ যোগ দিয়েছেন। স্বামী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন শাহানারা। কারখানায় কর্মরত একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৯০ জন শ্রমিক কাজ করতেন কারখানাটিতে। এর মধ্যে বেশ কিছু শিশু শ্রমিকও ছিল। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কারখানাটির কোনো অনুমোদন নেই। গুদাম হিসেবে ব্যবহারের কথা থাকলেও বিভিন্ন রাসায়নিক রাখাসহ জুতার কারখানা হিসেবে এটি চালানো হচ্ছিল। এখানে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার কথা থাকলেও সেটি নেওয়া ছিল না। আজ ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রথম আলোকে বলেন, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো জানা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। মালিকপক্ষের কাউকে এখনো পাওয়া যায়নি। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ময়নাতদন্তের জন্য তিনজনের মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
চট্টগ্রামের রাউজানের উজ্জ্বল দাশ (৩৭) নামের এক প্রবাসী ওমানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। গত রোববার (৫ জুন) ওমানের আল সোহার নামক স্থানে বাংলাদেশ সময় বেলা ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সেখানে অবস্থানরত প্রবাসীরা। এমন খবরে মৃত ব্যক্তির পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।মৃত উজ্জ্বল দাশ ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দাশপাড়া গ্রামের মাদল দাশের ছেলে। উজ্জ্বল দাশের সংসারে তন্ময় দাশ ও রাশ্মি দাশ নামের অপ্রাপ্ত বয়স্ক দুই সন্তান রয়েছে।উজ্জ্বল দাশের স্ত্রী শিবু দাশ বলেন, 'কী কারণে আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। সকাল ১০টার দিকে আমার সাথে শেষ কথা হয় মুঠোফোনে। গত ১১ বছর ধরে তিনি ওমানে আছেন। গত বছর তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। গত ৫ মাস আগে ছুটি কাটিয়ে তিনি ওমানে গেছেন।'উজ্জ্বল দাশের স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামী রোগাক্রান্ত ছিলেন। তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বিজন করের কাছে রোগের চিকিৎসার জন্য ছুটে চেয়ে না পাওয়ায় হতাশ ছিলেন। বিজন করের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বলে জানা গেছে। | 6 |
জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা গোলাম নবী আজাদকে গত মঙ্গলবার পদ্মভূষণে ভূষিত করেছে বিজেপি সরকার। ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক স্বীকৃতি পাওয়ায় অন্য অনেকের মতো কংগ্রেসের তিন নেতাও আজাদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া না জানালেও নেতা জয়রাম রামেশ খোঁচা দিয়েছেন আজাদকে।এক টুইটে কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল লেখেন: 'পদ্মভূষণ পাওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন। তবে এটা হতাশাজনক, কংগ্রেস আপনার কাজের মূল্যায়ন করেনি।' একই ধরনের টুইট করেছেন আনন্দ শর্মা ও রাজ বাবর। তাঁরা সবাই কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতা হিসেবে পরিচিত। | 6 |
দেশে সোনার বার উৎপাদন কারখানা ও জেলায় জেলায় গোল্ডব্যাংক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। শুক্রবার বিকেলে নগরীর একটি হোটেলে রংপুর বিভাগীয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাজুসের ডিস্ট্রিক মনিটরিং স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দিলীপ কুমার রায় এ ঘোষণা দেন। রংপুর জেলা শাখার সভাপতি এনামুল হক সোহেলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন। সভায় বক্তারা বলেন, দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে স্বর্ণালংঙ্কার অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। স্বর্ণব্যবসায়ীদের সঠিক নীতিমালা না থাকা, সরকারকে মূল্য সংযোজন কর, আয়কর প্রদানের অব্যবস্থাপনা থাকার ফলে এ শিল্প প্রায় ধ্বংসের দিকে। বাজুসের নেতারা এ শিল্পকে রক্ষা করতে একটি স্বর্ণ নীতিমালা করেছেন। আর এ শিল্পকে বাঁচাতে দেশেই সোনা উৎপাদন কারখানা গড়ে তোলা হবে। এজন্য ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশে একটি গোল্ড রিফাইন্ড কোম্পানি স্থাপনে কাজ চলছে। সেই কোম্পানি বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে দেশে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে সোনার বার তৈরি করবে। বক্তারা আরও বলেন, ইতোমধ্যে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ ব্যবসার উন্নয়নে বাজুস ভ্যাট, ট্যাক্স, মিডিয়া, রিসার্চ নামে সেল খুলে বিভিন্নজনকে দায়িত্ব দিয়েছে। এছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলায় গোল্ড টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা নকল সোনার প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন। | 6 |
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জমি দখলের চেষ্টা ও গুজব ছড়ানোর প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে সাঁওতাল-ওঁরাও সম্প্রদায়ের মানুষ।গতকাল শনিবার জেলা শহরের সাঁওতাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাঁওতাল-ওঁরাও সম্প্রদায়ের দুই শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এটি শহর ঘুরে চৌরাস্তা মোড়ে এসে মানববন্ধন করে।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আদিবাসী পরিষদের নেতা জ্যাকোব খালকো, সুভাষ কুজুর, নয়মী টপ্য, জেসপিনা এক্কা, ঢেনা মুরমু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী প্রমুখ।বক্তারা অভিযোগ করেন, 'ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. বাবুল ও তাঁর মদদপুষ্ট বাহিনী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জমি দখল করতে ব্যর্থ হয়ে মসজিদে মুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে এমন মিথ্যা গুজব ছড়ায়। এ ঘটনায় সমবায় হিমাগারে স্থাপিত মসজিদে আসা নামাজিদের দিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলেন এবং আদিবাসীদের বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা করেন।'কর্মসূচি শেষে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দেন।ঠাকুরগাঁও থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম বলেন, 'গত শুক্রবার সদর থানায় জমি দখলের চেষ্টা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ দেওয়া হয় ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে। ওই দিন রাতেই সাবেক কাউন্সিলর মো. বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।' | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে গেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখনো নিজের পরাজয় স্বীকার করেননি ট্রাম্প। বরং তিনি আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে, নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত মনে করেন না তার প্রথম স্ত্রী ইভানা জেলনিকোভা। তিনি পরাজিত হতে পারেন বলেও মনে করেন না তিনি। তাই ট্রাম্প লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলেই মতামত দিয়েছেন ইভানা। তিনি বিশ্বাস করেন নির্বাচনের ফল অনুকূলে না গেলেও স্বাভাবিক থাকবেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, তিনি পরাজিত নন। তিনি পরাজয় পছন্দ করেন না। সন্তানদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি চাই তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করুক। ওয়াশিংটনেই হতে হবে এমন না, নিউ ইয়র্কে হতে হবে এমন না, যেখানেই থাকুক তারা যেন স্বাভাবিক জীবন পায়। আমি নিশ্চিত নই, তারা এখন কেমন আছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে প্রথম স্ত্রী হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্রে জন্মগ্রহণকারী ইভানা জেলনিকোভাকে বিয়ে করেন ট্রাম্প। তাদের ঔরসে জন্ম হয় তার বড় তিন সন্তান এরিক, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং ইভানকা'র। এরপর ১৯৯২ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মারলা ম্যাপলস নামে এক নারীকে বিয়ে করেন ট্রাম্প। সেই বিয়েও টেকেনি। ১৯৯৯ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ৬ বছর পর তিনি বিয়ে করেন স্লোভেনিয়ায় জন্ম নেয়া মডেল মেলানিয়া ট্রাম্পকে। বর্তমানে মেলানিয়া ট্রাম্পই যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদার প্রয়াত প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সাবেক দেহরক্ষী নাসের আল বাহরি ইয়েেমেনের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। দীর্ঘ রোগভোগ শেষে তার মৃত্যু হয়। বাহরি ইয়েমেনের নাগরিক ছিলেন। খবর বিবিসির ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মুকাল্লার একটি হাসপাতালে গত শনিবার বাহরির মৃত্যু হয়। তার বয়স চল্লিশের ঘরে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। আবু জান্দাল নামেও পরিচিত ছিলেন তিনি। আফগানিস্তানে থাকাকালে ওসামার গাড়ির চালকও ছিলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে বসনিয়া, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলায় জড়িত ছিলেন বাহনি। পরে অবশ্য জঙ্গি গোষ্ঠীটির সমালোচনা করে আল-কায়েদা ছাড়েন তিনি। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ২০১১ সালের মে মাসে মার্কিন বিশেষ অভিযানে মারা যান ওসামা বিন লাদেন।
বিডি-প্রতিদিন/২৮ ডিসেম্বর ২০১৫/শরীফ | 3 |
করোনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সরকারের লকডাউন-শাটডাউনসহ বার বার প্রজ্ঞাপন পরিবর্তনে সরকারের ভেতরে আমি অস্থিরতা লক্ষ্য করছি। সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। ইনু বলেন, গত কয়েকদিনে লকডাউন- শাটডাউন নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি এবং তা ঘনঘন সংশোধন করা হলো। কয়েকঘণ্টার মধ্যে অদলবদল করা। এসব বক্তব্য বিবৃতির মধ্য দিয়ে অস্থিরতাই প্রকাশ পাচ্ছে। টিকার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে জাসদ সভাপতি বলেন, সর্বোচ্চ টিকা কূটনীতি প্রয়োগ করে টিকা সংগ্রহ করতে হবে। দেশের ভেতরে টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। ২০২২ সালের মধ্যে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি মনে করি টিকাই মানুষকে বাঁচাবে। ইনু আরও বলেন, প্রজ্ঞাপনে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও রয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে এটা বাঞ্ছনীয় নয়। একই সঙ্গে আমি যতটুকু জানি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্যসহ ৯টি মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত। এই মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতাও লক্ষণীয়। তিনি বলেন, করোনায় মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বাড়েছে। শহরেই নয়, জেলা-উপজেলা শহরেও সংক্রমণ ঘটেছে। ঘরে ঘরে অনেক অসুস্থ। জেলা-উপজেলায় রোগীর জন্য বেড পাওয়া যায় না। অক্সিজেনের জন্য হাহাকার চলছে। তিনি বলেন, সংক্রমণ বিস্তাররোধে লকডাউন এবং শাটডাউনের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে দুই-তিনদিনের মধ্যে খাদ্যের জন্য সাধারণ মানুষের হাহাকার শুরু হয়। সঙ্কট দেখা দেয়। অপরদিকে সংক্রমিত ব্যক্তির জন্য বেড, অক্সিজেনের চাহিদা ও আইসিইউর জন্য দৌড়াদৌড়ি। এক্ষেত্রে জেলা-উপজেলার হাসপাতালের অবিলম্বে কিছু বেড বাড়ানো উচিত। আইসিইউ হয়ত বাড়ানো যাবে না। কিন্তু হাইফ্লো নাজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন সিলিন্ডার, পোর্টেবল অক্সিজেন যোগাড়ের সুযোগ রয়েছে। আমার দাবি থাকবে একটা রোগীও যেন হাসপাতাল থেকে ফিরে না যায় সে চেষ্টা করতে কবে। ইনু বলেন, কোভিড মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জান হাতে নিয়ে কাজ করছেন। তাদের গত নয় মাসে নির্ধারিত কোনো দৈনিক ভাতা দেয়া হয়নি। আমি জানি তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। তাদের প্রণোদনা দেয়া দরকার। একই সঙ্গে নীতিমালা পরিবর্তন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকিভাতা-প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানান তিনি। | 6 |
ট্রান্সজেন্ডার বিউটি ব্লগার সাদ মুআকে যৌন নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলার আসামি ইশতিয়াক আমিন ফুয়াদ ও সহযোগী নারী আরজেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। আজ রবিবার রাজধানীর ফার্মগেট ও মহাখালী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সংবাদমাধ্যমকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান। এর আগে যৌন নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জানুয়ারি রাজধানীর ভাটারা থানায় ওই মামলা করেন ট্রান্সজেন্ডার বিউটি ব্লগার সাদ মুআ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেছেন, আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম আতিকের বিজয় সুনিশ্চিত করতে ছাত্রলীগ ঘরে ঘরে যাবে। মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের টানা এগারো বছরের উন্নয়ন তুলে ধরে মানুষের মন জয় করে বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এ জন্য রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভোট প্রার্থনা করছেন। তরুণ ভোটারদের টানতে কাজ করছে ছাত্রলীগ। শনিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ছাত্রলীগ সভাপতি। তিনি বলেন, আমরা চাই একটি আধুনিক ঢাকা। নিরাপদ ঢাকা। নারীদের জন্য নিরাপদ ঢাকা। এ জন্য শক্তিশালী ও দক্ষ মেয়র দরকার। যতগুলো মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তার মধ্যে যোগ্য ব্যক্তি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম আতিক। আমাদের চাওয়া বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই রাজধানীর মানুষ যোগ্য নগরপিতাকে নির্বাচিত করবেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংগঠনের সভাপতি বলেন, যাকে যে এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাকে সেই এলাকার মুরব্বীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। প্রতিটি ঘরে ঘরে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়ন আর অর্জন তুলে ধরে নৌকায় ভোট চাইতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারণা চালানোর নিদের্শ দিয়ে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এই ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের সরকারের উন্নয়ন প্রচার করতে হবে। মানুষের কাছে ভোট চাইতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করেও মানুষের মন জয় করার পরামার্শ দেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
সাত বীরশ্রেষ্ঠর প্রতি ব্যতিক্রমভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। আজ বৃহস্পতিবার বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে সাত কিলোমিটার দৌড়ে গিয়ে সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে জমসেদ শাহ্ ও বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখা ফুলবানু নামে এক নারীকে সম্মাননা জানানো হয়।সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে দৌড় শুরু করেন ৬৩ জন। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. তাকজিল খলিফা কাজল। আখাউড়া রানার্স নামে একটি সংগঠন এ ব্যতিক্রম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।অংশগ্রহণকারীরা উপজেলার প্রধান সড়ক হয়ে দরুইনে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামালের সমাধিতে যান। সেখানে প্রথমে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। পরে সাত বীরশ্রেষ্ঠর প্রতিকৃতিতে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পাশাপাশি শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামালের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।দৌড়ে অংশ নেওয়া সামিয়া আক্তার বলেন, 'আর কখনো জাতির বীর সন্তানদের প্রতি এভাবে শ্রদ্ধা জানাতে আসিনি। বিষয়টি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।'জাহিদ হাসান ফারদিন বলেন, 'আমি আবেগাপ্লুত। এমন ব্যতিক্রম আয়োজন সত্যিই আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। আমরা সবাই সুন্দরভাবে দৌড়ে আসতে পেরেছি।'উদ্যোক্তাদের অন্যতম মারিয়াম তাবাসসুম বলেন, 'তরুণ প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শাণিত করতে আমাদের এ আয়োজন। ৫০ জনকে নিয়ে আমাদের এ আয়োজন করার কথা থাকলেও বেশ কয়েকজন তরুণীসহ এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ তে। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও ব্যতিক্রম কিছু নিয়ে হাজির হব।' এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম, আখাউড়া থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার জমসেদ শাহ্, আখাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন শফিক আলেয়া প্রমুখ। | 6 |
সপ্তাহখানেক হলো শীত নেমেছে। এমন সময় বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক মিলিয়ে তিন দিনের ছুটি। শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষা শেষ। তাই তো আনন্দ ভ্রমণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ছুটে এসেছিলেন চার লাখের বেশি পর্যটক। করোনা-পরবর্তী এবারই সর্বোচ্চ পর্যটকসমাগম। কিন্তু চাহিদার অতিরিক্ত এ চাপ সামলাতে পারেনি ছোট্ট শহর কক্সবাজার। কোথাও ঠাঁই ছিল না।অবকাশে এসে থাকা-খাওয়া নিয়ে নানা বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুর থেকে কক্সবাজার ছেড়ে যেতে শুরু করেছেন পর্যটকেরা। এতে ভিড়ও কমে এসেছে। তবে রাস্তাঘাটে যানবাহনের চাপে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় সৈকতের কলাতলী বিচে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যটকের চাপ কমে এসেছে। তেমন ভিড় নেই। যাঁরা সৈকতে নেমেছেন, তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। কেউ বিচ-বাইক নিয়ে ঘুরছেন, কেউ সৈকতের নোনাজলে গোসল করে আনন্দে মেতে উঠছেন।হঠাৎ করে সৈকতে ভিড় কমার কারণ কী? এ প্রশ্নের জবাবে বিচ-বাইকের চালক সালাহ উদ্দিন (২৫) বলেন, ছুটি শেষ। এবার বেড়াতে এসে পর্যটকেরা নানাভাবে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। খাবার-দাবার ও থাকতে গিয়ে চার-পাঁচ গুণ অর্থ গুনতে হয়েছে।রাজশাহীর পবা থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী সাজ্জাদ হোসেন সপরিবারে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার এসেছিলেন। তিনি বলেন, 'তিন দিন থাকার প্রস্তুতি নিয়ে বেড়াতে এসেছিলাম। কিন্তু দুই দিনেই সব টাকা শেষ। পরে আবার টাকা এনে খরচ করতে হচ্ছে।রাজধানী ঢাকার শ্যামলী এলাকার ব্যবসায়ী সিয়াম আহমেদ বলেন, থাকা-খাওয়া, যাতায়াতসহ সবখানেই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রবণতা দেখা গেছে। এটি পর্যটন বিকাশের অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে। পর্যটকেরা নিরুৎসাহিত হবেন।মূলত গত বুধবার বিকেল থেকে পর্যটকেরা কক্সবাজার আসা শুরু করেন। এবারের বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির তিন দিনে চার লাখেরও বেশি পর্যটক ছুটে এসেছিলেন বলে জানান পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা।তবে কক্সবাজার, ইনানী, টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনের হোটেলগুলোতে তিন দিনের কক্ষ ভাড়া শেষ হওয়ার পাশাপাশি টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন ও কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন নৌরুটের পর্যটকবাহী জাহাজের টিকিটও বেচাকেনা শেষ হয়ে গিয়েছিল আগেই।কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজ ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, 'কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ৫০০ হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে দেড় লাখের বেশি পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। টানা তিন দিনের ছুটিতে আগে থেকেই বেশির ভাগ কক্ষ বুকিং ছিল। যারা বুকিং দিয়ে আসেননি, তাঁরা বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। গতকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।'ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, 'পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, নানাভাবে সহযোগিতা এবং সেবা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সচেষ্ট ছিল। সৈকতের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে একাধিক দল কাজ করছে।'অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, 'পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায়ের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।' | 6 |
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটী ইউনিয়নের কানলা গ্রামে বাবার বাড়ি বেড়াতে এসে গত ১৫ আগস্ট খুন হন গৃহবধূ আকলিমা আক্তার (২০)। ঘটনার চার দিন পর জানা যায়, আপন ভাই মোতাহার হোসেন ঘুমন্ত আকলিমাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। বুধবার কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রফিকুল বারীর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে মোতাহার স্বীকার করে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ছোট বোনকে সে খুন করেছে। ইটনা থানার ওসি মোহাম্মদ মুর্শেদ জানান, আদালতে মোতাহার বোনকে খুনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে জানিয়েছে, বোন আকলিমাকে একই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মাসুক মিয়া বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু তার পরিবার মাসুকের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এতে মাসুক জোর করে আকলিমাকে বিয়ের হুমকি দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বছরখানেক আগে তাড়াইল উপজেলার বরুহা বড়হাটি গ্রামের ফুফাতো ভাই জিন্নত আলীর সঙ্গে আকলিমাকে বিয়ে দেন তারা। এর জেরে গত বৈশাখ মাসে জমির ধান কাটার সময় মাসুক ও তার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় মোতাহারের ভগ্নিপতি বকুল গুরুতর আহত হন। তার একটি পা পঙ্গু হয়ে যায়। জবানবন্দিতে মোতাহার আরও জানায়, ওই ঘটনার পর সে রিকশা চালানোর জন্য ঢাকায় চলে যায়। গত কোরবানির ঈদের আগে মাসুক মিয়াকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে। এ জন্য ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার সময় ঘুমের ওষুধ নিয়ে আসে। ঈদের পর ছোট বোন আকলিমা ও ভগ্নিপতি জিন্নত আলীকে তাদের বাড়িতে দাওয়াত করে। গত ১৪ আগস্ট স্বামীকে নিয়ে আকলিমা বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন। পরদিন রাত ৯টার দিকে মোতাহার কৌশলে একটি জগের পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আকলিমা ও জিন্নত আলীকে খেতে দেয়। সেই পানি খেয়ে দু'জনই গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে মোতাহার ঘরে থাকা একটি শাবল নিয়ে আকলিমা ও তার স্বামী যেখানে শুয়েছিল, সে ঘরে সিঁধ কেটে আবার নিজের ঘরে চলে যায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোতাহার ঘরে থাকা চাকু দিয়ে আকলিমার বুকের বাম পাশে পর পর দুটি আঘাত করে বের হয়ে যায়। এ সময় আকলিমার আর্তচিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্যরা দ্রুত ছুটে আসেন। তাদের সঙ্গে মোতাহারও আসে। বারান্দায় নিয়ে আকলিমার মাথায় পানিও ঢালে মোতাহার। এর কিছুক্ষণ পরই আকলিমা মারা যান। ওসি মোহাম্মদ মুর্শেদ বলেন, মোতাহার যে এই হত্যায় জড়িত, সেটা আমাদের আগেই সন্দেহ হয়েছিল। মঙ্গলবার নিহত আকলিমার মা আরজুদা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করলে মোতাহারকে গ্রেপ্তার করা হয়। | 6 |
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২১ পেয়েছে। বিজিএমইএ ওয়ার্কার্স ডাটাবেইজ (বায়োমেট্রিক আইডেনটিটি এন্ড ওয়ার্কার্স ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার) এর জন্য এ পুরস্কার দেয়া হয়। রবিবার (১২ ডিসেম্বর) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠিত ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২১ এর উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ'কে এ পুরস্কার দেয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের হাতে পুরস্কার বাবদ একটি ক্রেষ্ট ও একটি সনদপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালী যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। এ তথ্যভান্ডারে শ্রমিকদের পরিচয়, রক্ত গ্রুপ, কর্মসংস্থান সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সন্নিবেশিত রয়েছে। বর্তমানে বিজিএমইএ এর সদস্যভূক্ত ২৫০০ কারখানায় ৪০ লাখেরও অধিক কর্মীদের জন্য প্রায় প্রতিদিনই এই সফটওয়্যারটি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, পোশাক শিল্পের সমগ্র শ্রমশক্তির সঠিক, পরিপূর্ন এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ভান্ডার থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে বিজিএমইএ ওয়ার্কার্স ডাটাবেইজ তৈরি করেছে। এবং এই ডিজিটাল তথ্যভান্ডার ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১-এ অবদান রাখার পাশাপাশি শিল্পে শ্রমিকদের কল্যানের জন্য নীতি প্রনয়নের কাজে সরকারকে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল সমগ্র দেশের জনগন পাচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে তথ্য ও প্রযুক্তি খাত বিনিয়োগের জন্য আদর্শ ক্ষেত্র। তিনি আরো বলেন, সরকারের আইসিটিবান্ধব নীতিগুলো এখাতে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে। তিনি বাংলাদেশী প্রকৌশলীগন যারা বিশ্বের বিভিন্ন নামীদামী তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করছেন, তাদেরকে এই খাতে বিনিয়োগ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন। | 0 |
যুবলীগের নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সংগঠনটির সমালোচিত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে। রবিবার গণভবনের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে যুবলীগকংগ্রেস প্রস্তুতির কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে। একটি বেসরকারি চ্যানেলের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন চয়ন ইসলাম। কারা যুবলীগের নেতৃত্বে আসতে পারেন, এ ব্যাপারে তিনি বলেন, সততা ও দলের প্রতি নিষ্ঠা আছে যাদের, তারাই এগিয়ে থাকবেন। আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম বলেন, 'সুন্দর একটি কমিটি যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারি সে জন্য সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করাই আমার মূল উদ্দেশ্য।' চয়ন ইসলাম আরও জানান, যুবকদের নেতৃত্ব দেবে যুবলীগ সুতরাং সকলে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে আগামীতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সেই সোনার বাংলা গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে সহযোগিতা করবেন এবং আগামীতে সুন্দর একটি অবস্থান সৃষ্টি করবেন সকলের প্রতি এটাই আমার আহ্বান। তবে, যুবলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আরও জানান, বিতর্কিতদের কোনওভাবেই দলে জায়গা হবে না। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
কন্ঠভোটে একাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর আগে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়। এরপর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্পিকার হিসেবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব করেন। এরপর স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়। এসময় নব-নির্বাচিত স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিডি প্রতিদিন/৩০ জানুয়ারি ২০১৯/আরাফাত | 6 |
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় সাত মাস আগে করিমন বেগমকে (৯৫) ভর্তি করেন তাঁর ছেলেমেয়েরা। তবে এরপর থেকে তাঁরা আর নেননি মায়ের খোঁজ। বৃদ্ধা করিমন ওই হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ৭ নম্বর বেডে ভর্তি আছেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।হাসপাতাল ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, করিমন উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের ভাঙা রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত রাজেমুদ্দিনের স্ত্রী। জলিমন নামের এক মেয়ে এবং তাজেল ও জসিম উদ্দিন নামের দুই ছেলে আছে তাঁর। সাত মাস আগে তাঁরা তাঁদের মাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপর থেকে তাঁদের কেউই আর মায়ের খোঁজ নেননি।গত বৃহস্পতিবার করিমন বেগম বলেন, 'ওরা (ছেলেরা) মানুষের কথা শুনে আমাকে দেখতে পারে না বাবা। আমার কোনো ছেলে নাই, তোমরাই আমার ছেলে। আমারে একটু বিষ কিনে দাও, আমি খাইয়া মইরা যামু। আর আমি বাঁচতে চাই না।'মাকে হাসপাতালে ভর্তি করে খবর না নেওয়ার ব্যাপারে জানতে বৃদ্ধা করিমনের দুই ছেলের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি।দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহাউদ্দিন বলেন, 'করিমন বেগম আমাদের হাসপাতালে প্রায় ৭ মাস যাবৎ ভর্তি আছেন। ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাঁর ছেলে ও মেয়েরা কোনো খোঁজখবর নেননি। তিনি হাটতে পারেন না, পা ভাঙা। এ কারণে বিছানায় পায়খানা-প্রস্রাব করেন। যার ফলে পুরো কক্ষ দুর্গন্ধে ভরে গেছে।'ডা. বাহাউদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'তিনি যত দিন পারেন থাকুক, চিকিৎসা নিক। আমাদের আপত্তি নাই, তবে কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি ওনার দায়িত্ব নিতেন তাহলে ভালো হতো। এই সময় তাঁর পাশে আত্মীয়স্বজন থাকা প্রয়োজন।' | 6 |
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) এবার শিরোপার খেতাব ধরে রাখতে জাতীয় দলের বেশ কজন তারকা ক্রিকেটার নিয়ে দল গড়েছিল দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেড। কিন্তু সুপার লিগে লড়াই জমিয়ে তুলে ইনজুরির কারণে ছিটকে যান মুশফিকুর রহিম। দলের গুরুত্বপূর্ন এই খেলোয়ার না থাকলেও শিরোপা ঠিকই লুফে নিয়েছে আকাশি নীলরা। আজ শনিবার (২৬ জুন) সমান ২২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিশনে মাঠে নামে আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। তাই সমীকরণটা ছিল-যে দল জিতবে, তারাই মাতবে শিরোপা উল্লাসে। এদিন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৭ উইকেট খুইয়ে ১৫০ রান করে আকাশি নীলরা। জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রান তোলে প্রাইম ব্যাংক। ফলে ৮ রানে জেতে শিরোপা লুফে নেয় আবাহনী। এনিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তারা ২১ তম শিরোপা জিতল। আর এ জয়ে গুরুত্বপূর্ন ৪ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা পুরস্কার জেতেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। করোনাকালে গ্যালারিতে বসে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) দেখার সুযোগ পায়নি দর্শক। তাই হাত গুটিয়ে বসে ছিল না আয়োজন সংস্থা সিসিডিএম ও বিসিবি। প্রথম পর্বের পর সুপার লিগ টেলিভিশন পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে তারা। তাই ঘরে বসে চার-ছক্কা আর উইকেট উদযাপনের সুযোগ পায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। এতো আয়োজনের ভিড়ে আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইও বেশ জমে উঠে। এদিন টস জিতে ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো করতে পারেনি আবাহনী। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্ত-মোসেদ্দেক হোসেনের দলের হাল ধরেন। শান্ত সর্বোচ্চ ৪০ বলে ৪৫ রান করেন। মোসাদ্দেক খেলেন ৩৯ বলে ৪০ রানের ইনিংস। দুজনের জুটি থেকে আসে ৭০ রান। শেষ দিকে সাইফউদ্দিনের ১৩ বলে ২১ রানের ঝড়ে দেড়শ রান স্পর্শ করে দলটি। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে বল হাতে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন রুবেল হোসেন। এরপর ১৫১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রাইম ব্যাংকও শুরুটা ভালো করতে পারনি। ইনিংসের তৃতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার রনি তালুকদার। দলীয় ২০ রানে অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় আউট হন ১৩ রান করে। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ওপেনার রুবেল মিয়া। কিন্তু তিনি ৪৩ বলে ৪১ রান করে আউট হলে একশ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে প্রাইম ব্যাংক। রাকিবুল ইসলাম ৪ মোহাম্মদ মিঠুন ৬ ও নাহিদুল ইসলাম ১০ রান তুলে আউট হন। পরে নাঈম হাসান ১৯ রান করে আউট হলে লেজের দিকে ব্যাটসম্যানদের নিয়ে চেষ্টা করেন অলক কাপালি। কিন্তু শেষ হাঁসিটা হেসেছে আবাহনী। আর ১৭ বল খেলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন কাপালি। | 12 |
মেলায় একটি স্টল দিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা শেফালী বেগম। বিক্রি কেমন চলছে জানতে চাইলে হিসাবের খাতা বের করে দেখালেন স্টলের কর্মী কনা খাতুন। দেখা গেল, ১৭ মার্চ মেলা শুরুর পর প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। ২২ মার্চ কিছুই বিক্রি হয়নি। ওই তারিখে হিসাবের খাতায় একটি 'স্যাড ইমোজি' এঁকে রাখা হয়েছে। কনা জানালেন, এটি তিনিই এঁকেছেন।শেফালী পোশাক বিপণি নামে এই স্টলের মালিক শেফালী বললেন, মেলার কোনো প্রচার নেই। তাই ক্রেতার সংকট। বিক্রি নেই। ১৩ দিনের এই মেলায় অংশ নিতে ১২ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে স্টল নিয়েছেন। প্রতিদিনের ভাড়া ৯২৩ টাকা। মেলা শুরুর পর একদিনও ৯২৩ টাকার পণ্য বিক্রি হয়নি তাঁর স্টলে। শুধু তাঁর একার নয়, অন্য স্টলগুলোরও একই অবস্থা।রাজশাহীর কালেক্টরেট মাঠে গত ১৭ মার্চ থেকে এই 'স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী মেলা' শুরু হয়েছে। চলবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত। জেলা প্রশাসন মেলার আয়োজন করেছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলছে। স্টল আছে ৭০ টি। জেলা প্রশাসনের গঠন করে দেওয়া একটি কমিটি মেলার সার্বিক দায়িত্বে। এই কমিটির সদস্যসচিব উইমেন এন্টারপ্রেনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) রাজশাহী বিভাগের সভাপতি আঞ্জুমান আরা লিপি। তিনিই সবকিছু দেখছেন।এই মেলা নিয়ে কোথাও তেমন কোনো প্রচার চোখে পড়ছে না। ফলে ক্রেতারাও আসছে না।গত বুধবার সন্ধ্যায় মেলায় গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতার অভাবে ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন। 'শৈল্পিক' নামের একটি স্টলের সামনে গিয়ে বেচাবিক্রি কেমন জানতে চাইলে বিক্রয়কর্মী তরনী বলেন, 'এই তো আপনিই আজ সারা দিনের মধ্যে প্রথম স্টলের সামনে এলেন। কিছু কিনলে আপনিই হবেন প্রথম ক্রেতা।' তিনি বলেন, 'মেলার কোনো প্রচার নেই। কোথাও মাইকিং শুনছি না। মেলা করতে হবে তাই করা। আমাদের খুব খারাপ অবস্থা।''রং এর মেলা' নামের একটি স্টলে বসেছিলেন রিয়াজ উদ্দিন জুয়েল। এটি তাঁর বোন সানজিদা পারভীনের স্টল। রিয়াজ উদ্দিন জানালেন, মেলা শুরুর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাঁরা কিছুই বিক্রি করতে পারেননি। শুধু তাঁর নিজের ভাগনি ৮০০ টাকা দামের একটি থ্রি-পিস নিয়ে গেছেন। কেনা দামেই ভাগনিকে থ্রি-পিসটি দিয়েছেন তিনি।কিছুক্ষণ পর সানজিদা পারভীন এসে জানালেন, ৩ হাজার টাকা দিয়ে স্টল নিয়েছেন। বাকি টাকার জন্য কমিটির লোকজন ঘুরছেন। বিক্রি নেই বলে টাকা দিতে পারছেন না।সানজিদা বলেন, 'এ পর্যন্ত বিসমিল্লাহ বলতে পারিনি। টাকা দেব কোত্থেকে? রাজশাহীর মতো জায়গায় ১২ হাজার টাকা ভাড়া খুব বেশি হয়ে গেছে। মেলার সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ভাড়া কমানো উচিত। তা না হলে আমাদের মতো ছোট নারী উদ্যোক্তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। মেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ থাকবে না।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এই মেলার জন্য সরকারি কোনো অনুদান নেই। স্টলের আয় থেকেই ব্যয় করতে হচ্ছে। স্টল করা, প্যান্ডেল করা, লাইটিংসহ অন্যান্য নানা রকমের খরচ থাকে। তাও মেলায় যদি এমন মন্দাভাব থাকে তাহলে মেলা শেষে আমরা ব্যবসায়ীদের বিষয়টা দেখব। এখনো মেলা আরও কয়দিন আছে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।'মেলার প্রচার না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব আঞ্জুমান আরা লিপি বলেন, 'প্রচার তো হচ্ছে। শহরে মাইকিং করছি। রাস্তায় আজ ব্যান্ড পার্টি নামাব। আর ব্যবসায়ী যাঁরা, তাঁরা ব্যবসা মন্দার কথা একটু বলেই থাকেন।'তিনি জানান, মেলার স্টল থেকে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা উঠবে। এই টাকা দিয়ে খরচ মেটানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসক টাকা হাতে ছোঁননি, দেখেননি। মেলা শেষে যদি টাকা উদ্বৃত্ত থাকে সে ক্ষেত্রে এই টাকা কী করা হবে তা কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে। | 6 |
মুজিববর্ষে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক এই যুগসন্ধিক্ষণে সাতক্ষীরায় দেশের সর্বাধিক প্রচারিত পাঠক নন্দিত জাতীয় পত্রিকা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন এক যুগ পেরিয়ে দুই যুগে পদার্পন উপলক্ষে উৎসব মুখর পরিবেশে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার সময় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুজনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাবেক ক্রীড়া অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা
মো. জিল্লুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, ৮০ দশকের সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা শেখ সাহিদ উদ্দিন, ভোমরা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ স্বপন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আক্তার হোসেন, বিশিষ্ট কন্ঠ শিল্পী জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক শামীমা পারভীন রত্না, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, এসএসসি ৯১ ফোরামের সভাপতি মীর তাজুল ইসলাম রিপন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, সাতক্ষীরা জজ কোটের অতিরিক্ত পিপি সৈয়দ জিয়াউর রহমান বাচ্চু, জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য নাজমুন আসিফ মুন্নী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক শাকিলা ইসলাম জুঁই। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছোট্ট শিশু মেহেরিমা ইসলাম মাহিরা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অতিথিরা বাংলাদেশ প্রতিদিনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পত্রিকাটি শীর্ষস্থান অক্ষুন্ন রেখে দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 6 |
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগে জিয়া উদ্দিন ওরফে পারভেজ (২৪) নামের এক পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চর ফকিরা ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় ছিনতাই চেষ্টার ঘটনা ঘটে। জিয়া উদ্দিন নোয়াখালী জেলা পুলিশ লাইনসে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। গতকাল রাতেই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বরখাস্ত পুলিশ সদস্য বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জ থানার হেফাজতে আছেন। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, গতকাল রাত ৯টার দিকে জিয়া উদ্দিন উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকা থেকে যাত্রী সেজে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। এরপর তিনি অটোরিকশা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অটোরিকশাটি বটতলা এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় জিয়া উদ্দিন ওই অটোরিকশার চালকের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চালকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা বাজার এলাকা থেকে ওই অটোরিকশাসহ জিয়া উদ্দিনকে স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে আটক করেন। জিয়া উদ্দিন নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় স্থানীয় উত্তেজিত লোকজন পুলিশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেন। পরে পুলিশ উত্তেজিত লোকজনকে দীর্ঘ সময় ধরে বুঝিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শান্ত করে। রাত ১২টার দিকে পুলিশ জিয়া উদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ওসি সাজ্জাদ রোমন প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য জিয়া উদ্দিন কোনো অনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে অটোরিকশা চালকের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। তবে চুরি বা ছিনতাইয়ের বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই অটোরিকশার চালক থানায় মামলা করতে চাননি। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর রাতেই জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলামের নির্দেশে অভিযুক্ত জিয়া উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত জিয়া উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায়। | 6 |
মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমিতির কার্যালয়ে গত শুক্রবার রাত নয়টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সমিতির উপদেষ্টা পরিষদ।প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সাংসদ খন্দকার আনোয়ারুল হক এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানের শরুতেই নবনির্বাচিত নেতাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরে নবনির্বাচিত সভাপতি সিদ্দিক হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক মিনজুর রহমান নান্নুসহ কার্যকরী কমিটির ২১ জনকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সাংসদ খন্দকার আনোয়ারুল হক। এরপর তাঁদের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন উপদেষ্টা পরিষদ।ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার খন্দকার আনোয়ারুল হক, উপদেষ্টা সরকার সহিদ, উপদেষ্টা সুবল চন্দ্র সাহা, উপদেষ্টা বিল্লাল হোসেন ফকির, উপদেষ্টা মো. আনোয়ার হোসেন, নবনির্বাচিত সভাপতি ও মধুপুর পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান এবং সাধারণ সম্পাদক মিনজুর রহমান নান্নু প্রমুখ। | 6 |
প্রযুক্তিতে বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে পারে চীন। এটি রুখতে পশ্চিমাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটেনের শীর্ষ সাইবার গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেরেমি ফ্লেমিং । গতকাল শুক্রবার লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় একথা বলেন জেরেমি।যুক্তরাজ্যের জিসিএইচকিউ স্পাই এজেন্সির পরিচালক জেরেমি ফ্লেমিং বলেন, তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রযুক্তির নেতৃত্ব পশ্চিমাদের হাত থেকে সরে যাচ্ছে। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয়টি হলো, চীনের আকার এবং তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে। প্রযুক্তিতে বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা চীনের রয়েছে।ফ্লেমিং জানান, প্রযুক্তির দিক দিয়ে পশ্চিমাদের লড়াই করে যেতে হবে। আর এজন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সিনথেটিক বায়োলজি এবং জিন প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ দখলের চেষ্টা করতে হবে।জিসিএইচকিউয়ের পরিচালক আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের যদি বিশ্বে সাইবার শক্তিধর দেশ হিসেবে টিকে থাকতে হয় তাহলে ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রযুক্তিসহ যুক্তরাজ্যের সার্বভৌম কোয়ান্টাম প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে। এতে স্পর্শকাতর তথ্যগুলো সংরক্ষিত থাকবে।ফ্লেমিংয়ের মতে, চীন তাদের রাষ্ট্রক্ষমতার সব উপাদান প্রযুক্তি বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে আধিপত্য বিস্তারের জন্য কাজে লাগাচ্ছে।প্রযুক্তির বাজারে চীনের পরেই রাশিয়াকে পশ্চিমাদের জন্য বড় হুমকির বলে মনে করেন ফ্লেমিং। এ নিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া আবহাওয়াতে প্রভাব ফেলছে আর চীনের প্রভাব বাড়ছে জলবায়ুতে। | 11 |
রামুতে মাছ বোঝাই মিনিট্রাকের চাপায় কলেজ শিক্ষকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক স্কুল শিক্ষক। নিহতরা হলেন- উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ঘোনারপাড়া এলাকার প্রয়াত চাঁদ মিয়া সওদাগরের ছেলে কক্সবাজার সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শফিউল আলম (৫৫) ও একই ইউনিয়নের সিকদার পাড়ার প্রয়াত নূর আহাম্মদ সিকদারের ছেলে জোয়ারিয়ানালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহাবুব মোর্শেদ আমিন (৫৬)। এ দুর্ঘটনায় জোয়ারিয়ানালা এইচএম সাঁচী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বোরহান উদ্দিন (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। জানা যায়, হতাহত ৩ জনই ফজরের নামাজ আদায় করে প্রতিদিনের মতো সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় মাছ বোঝাই মিনিট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়, অপরজন হাসপাতালে মারা যান। আহত বোরহান উদ্দিনকে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স ২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরই গাড়িটি ঘটনাস্থলে রেখে সটকে পড়েন চালক। রামু থানার উপ-পরিদর্শক মো. কামাল খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ১ জনকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
রাজধানীর মতিঝিলে "মডার্ন ম্যানশন" নামের ১৫ তলা ভবনের পাঁচটি পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায়, ভবনটিকে "ঝুঁকিপূর্ণ" ঘোষণা করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম শাখা) শাহজাহান সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (৯ মার্চ) ৫৩ মতিঝিল হোল্ডিংয়ের ওই ভবনে "ঝুঁকিপূর্ণ ভবন" লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে শাহজাহান সিকদার জানান, ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় তিনটি ও তৃতীয় তলায় দুটি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। ১৯৬২ সালের ১৪ নভেম্বর এর নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয় সোমবার সন্ধ্যায় ভবনে ফাটলের খবর জানাজানি হয় পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি পরিদর্শন দল সেখানে গিয়ে তৃতীয় তলার পিলারসহ দেয়ালের বেশ কিছু জায়গা থেকে প্লাস্টার খসে পড়তে দেখেন তখনই ফায়ার সার্ভিস ভবন থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় বহুতল এই ভবনটিতে রয়েছে ব্যাংক, গণমাধ্যম, রেস্তোঁরাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় | 6 |
গত বুধবার গভীর রাতে ব্রিটেনের বার্মিংহামে ৫টি মসজিদে হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ। পেরি বার এলাকায় একজন হামলাকারী নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। অপর ব্যক্তিকে পুলিশ ইয়ার্ডলি এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। ওয়েস্ট মিডল্যান্ড পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলার সাথে জড়িত ৩৪ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি নিজেই বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে ৩৮ বছর বয়স্ক আটককৃত অপর ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট মিডল্যান্ড পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অধিকতর তদন্ত করছে। স্থানীয় পুলিশের এসিস্টেন্ট চিফ কন্সটেবল মেট ওয়ার্ড জানিয়েছেন, হামলাকারীরা কী উদ্দেশ্যে ওই রাতে মসজিদগুলোতে হামলা করেছিল তাতে গুরুত্ব দিয়েই অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা যেনো দ্বন্দ্ব, অনিশ্চয়তা ও ভয়মুক্ত পরিবেশে বাস করতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ ওই এলাকায় টহল অব্যাহত রেখেছে।উল্লেখ্য, বুধবার রাতে ব্রিটেনের মধ্যাঞ্চলীয় নগরী বার্মিংহাম শহরের ৫টি মসজিদে হামলা করে দুষ্কৃতিকারীরা। ওই ঘটনায় আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে ব্রিটেনের মুসলমানদের মধ্যে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানালে পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। ওই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে দৃস্কৃতিকারীরা হাতুরি দিয়ে মসজিদের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেছে। ডেইলি মেইল সংবাদপত্রের অনলাইন ভার্সনের খবরে বলা হয়েছে, বার্মিংহামের উইটন রোড ইসলামিক সেন্টারের (মসজিদ) ৭টি জানালা ও দুটি দরজা ভেঙে ফেলেছে। মসজিদটির ইমাম জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত দেড়টা থেকে দু'টার মধ্যে এই হামলা হয়। এছাড়া অ্যালবার্ট রোড, বির্চফিল্ড রোড, স্লেড রোড, ব্রোডওয়ে রোডের একটি করে মসজিদে হামলা চালানো হয়েছে। রাত আড়াইটার দিকে বির্চফোল্ড রোডের মসজিদে হামলার খবর পুলিশকে জানানো হয়। রাত সোয়া তিনটার দিকে একই ধরনের হামলা হয় এরডিংটন এলাকার স্লেড রোডের মসজিদে। এরপরই পুলিশ সতর্ক হয়ে সব মসজিদগুলোর কাছে টহল দিতে শুরু করে। এসময় তারা মোট ৫টি মসজিদে হামলার আলামত পায়। | 3 |
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজর সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল হালিম উকিল মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি..রাজিউন)। শনিবার দুপুরে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। মরহুমের নামাজে জানাযা রোববার বিকেলে ভান্ডারিয়া বিহারি হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাযা শেষে গ্রামের বাড়ি উত্তর শিয়ালকাঠি পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। মরহুমের রহেুর মাগফিরাতের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড় ছেলে শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল ওয়াদুদ সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। | 6 |
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) পরিচালনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে রেখে পাটকলগুলোর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের সুপারিশ করেছেন বক্তারা। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে লোকসানে পড়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ না করার কথাও বলেছেন। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির আয়োজনে 'রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের আধুনিকায়ন, না ধ্বংস সাধন? পাটখাত সুরক্ষায় ভাবনা ও করণীয়' ভার্চুয়াল সেমিনারে এই মত আসে। এতে প্রতিটি রাষ্ট্রের মালিকানায় রেখে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণের মতো কেন্দ্রীভূত কোনো ব্যবস্থার বদলে প্রতিটি পাটকলকে আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনার সুপারিশ করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। পাটকলগুলোর লোকসানের পেছনে বিজেএমসির কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ও দুর্নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে যে টাকা দিয়ে আমরা শ্রমিকদের বিদায় করছি, তার ধারে কাছে টাকা বরাদ্দ করলেই আমরা আধুনিক যন্ত্রপাতি আনতে পারব। তিনি পিপিপির পরীক্ষা স্থগিত করার কথা বলেন। ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, সারা বিশ্বে যখন পাটজাত পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে, পাটের বহুমুখীকরণের সুযোগ রয়েছে, তখন পাটকল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। কেন্দ্রীভূত বিজেএমসি পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে প্রত্যেকটা পাটকলকে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এবং পাটকল আধুনীকায়ন করার কথা বলেন তিনি। অর্থনীতির অধ্যাপক এস এম আকাশ বলেন, 'পারফরম্যান্স কন্ট্রাক্টের' ভিত্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচ বা ১০টা কারখানা চালু করে যদি লাভজনক করা যায়। তাহলে লাভের টাকা দিয়ে পুরনো পাটকল পাল্টে পণ্যের বহুমুখীকরণের উপযোগী নতুন পাটকল করা যাবে। বাংলাদেশে উৎপাদিত পাট পণ্যের ৬০ শতাংশ নিজেদের বাজারে বিক্রি করাসহ চীনের পক্ষ থেকে পাটকলগুলোকে নবায়নের প্রস্তাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন জি-টু-জির ভিত্তিতেও পাটকল পরিচালনা করা যেতে যারে। পিপিপির মাধ্যমে সরকারি পাটকলগুলো পরিচালনা করলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন এমএম আকাশ। সরকারি পাটকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানি বাজারে ধস নামবে বলে মনে মন্তব্য করেন পাটকল কমিশনের সাবেক সদস্য খালেদ রব। তিনি বলেন, বিজেএমসি ২০১৭-১৮ অর্থকবছরে ৮৬-৮৭ হাজার টন পাট পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তার আগের বছর করেছে ৮৮ হাজার টন। এখন সরকারি পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ করে দিলে এই পরিমাণ রপ্তানি কোথা থেকে হবে? রপ্তানির বাজার একবার হারালে তখন বিএমআরই (আধুনিকায়ন) করেও কোনো লাভ হবে না। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফাসহ ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা তার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় পাট শিল্প রক্ষায় পাটশিল্প রক্ষার বিকল্প প্রস্তাব গ্রহণ করে সরকারি খাতের পাটকলগুলোর খোলনলচে পালটে ফেলা, অর্ধ শতবর্ষ পুরনো যন্ত্রপাতি সরিয়ে আধুনিক ও সর্বশেষ প্রযুক্তি সম্বলিত মেশিন প্রতিস্থাপন, মৌসুম শুরুর পূবেই প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান, পাট পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রণোদনা দেয়াসহ বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। | 6 |
গত বছর ঈদুল আজাহার মতো এবারও কোরবনির পশুর চামড়ার দর বিপর্যয় হয়েছে।ঢাকায় প্রতিটি গরুর চামড়া সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ছাগলের চামড়ার অনেকে ফ্রি দিয়েছেন। আর দু'চারজন দাম দিলেও তা এক বর্গফুটের নির্ধারিত দামে পুরো চামড়া কিনেছেন। যদিও এই দর বিপর্যয় ঠেকাতে ঈদুল আজহার আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গেদফায় দফায় বৈঠক করেছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা। এমনকি অর্থেরঘাটতি মেটাতে বিশেষ ঋণ সুবিধাও অব্যহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমনকিকেস টু কেস ভিত্তিতে কাঁচা ও ওয়েটব্লু চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর পরেও চামড়ার দর মেলেনি। এবার কোরবানির পশুরচামড়ার বাজার নিয়ে হতাশাজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশে করোনা মহামারি, বন্যার দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দর বিপর্যয় বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে দর নির্ধারণ করে সরকার। এবার গত বছরের চেয়েও প্রায় ২৩ থেকে ৩০ শতাংশ কমিয়ে দর নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত এই দর এবার গত দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল। এরপরেও নির্ধারিত দরের অর্ধেকে ও কয়েকভাগ কমে চামড়া বেচাকেনা হয়েছে। ঢাকার নির্ধারিত দর প্রতিবর্গফুট গরুর লবণযুক্ত চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। একটি ২০ বর্গফুট গরুর চামড়া নির্ধারিত দর ৩৫ টাকা বর্গফুট ধরে লবণযুক্ত চামড়ার দাম পরে ৭০০ টাকা। এবার প্রতিবস্তা ৫০ কেজি লবণের দাম ৮০০ টাকা গেছে। এমন আকারের একটি চামড়ায় ৭ কেজি লবণ ব্যবহার করলে ১১২ টাকা, শ্রমিকের মজুরি ১০ টাকা, আড়ত কমিশন ৮ টাকা ধরা হলেও মোট ব্যয় হবে ১৩০ টাকা। এই ব্যয় করে প্রতিটি চামড়ায় ৭০ টাকা মুনাফা করলেও ৫০০ টাকায় কেনার কথা। অথচ শনিবার ব্যবসায়ীরা এই চামড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকায় কিনেছেন। পোস্তার আবদুল মাজেদ আড়তে চামড়া কিনেছেন ব্যবসায়ী তাজউদ্দীন। তিনিবলেন, বোল্ডার (সবচেয়ে বড়) চামড়া কিনেছেন ৬০০ টাকায়। এর চামড়া আকারেগড়ে ৪০ বর্গফুট হবে। মাঝারি চামড়া ৩০ বর্গফুট ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় কিনেছেন। আর ১৮ থেকে ২০ বর্গফুট আকারের ছোট চামড়া ১০০ থেকে দেড়শ টাকায় কিনেছেন। এই আড়তের সামনের সড়কে বসে অনেকেই তখন চামড়া কিনছিলেন। খানিকটা দাঁড়িয়ে দেখা গেল আড়াইশ থেকে ৩০০ টাকায় চামড়া কেনাবেচা চলছে। দেখতে বেশ বড় মনে হওয়ায় এটাই সবচেয়ে বড় সাইজ কিনা ক্রেতাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, এটা মাঝারি মানের চামড়া আকারে ২৫ থেকে ৩০ বর্গফুট হবে। এবার দাম এত কম কেন? জানতে চাইলে ক্রেতারা জানান, ট্যানারিগুলো টাকা দেয়নি। কিভাবে চামড়া কিনবে আড়তদাররা? ট্যানারি টাকা না দিলে কোন বছরই কেনাবেচা জমে ওঠে না। গত দুই বছর ধরে ট্যানারি টাকা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. শহীদুল ইসলাম মোহাম্মদ পুর থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে১২টি চামড়া কেনেন। তার চামড়ার মধ্যে ছোট চামড়া ২টি আর সবগুলোই বড়চামড়া। চামড়া নিয়ে বিক্রির জন্য পান্থপথে কেনার অপেক্ষায় থাকা একটি ট্যানরিরপ্রতিনিধি দরদাম শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত সেখানে গড়ে ৩০০ টাকা প্রতিটিচামড়ার দাম বলছেন বলে জানান তিনি। তার গাড়ির সঙ্গে ছুটতেই সামনে এগিয়ে চামড়ার অনেক স্তুপ দেখা যায়। দাম আরও কম। ছোট চামড়া ১০০ টাকা বড় চামড়া ৫০০ টাকা। হতাশ হয়ে শহীদুল ইসলামের চামড়ার ভ্যান সামনে যতই এগিয়ে যাচ্ছে ততই তার কষ্ট বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত দেখা হয় পোস্তার আড়তে গিয়ে, দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্ধারিতদাম দূরের কথা কেনাদামেও বিক্রি করতে পরেননি। উল্টো লোকশান দিতে হয়েছে। এভাবে চামড়ায় লোকসান হওয়ায় এবার হাতেগোনা অল্পসংখ্যক ব্যবসায়ী চামড়া কিনেছেন। বেশিরভাগ চামড়া মাদ্রাসাগুলো নিয়েছে। তারা যে দাম পেয়েছে তা খুবই কম। ঢাকার চামড়ার গত বছরের মতো একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চামড়ার দামে এই চিত্র রাজধানীর জুরেই ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় পোস্তার আড়তে সারিসারি চামড়াবোঝাই ট্রাক ঢুকতে দেখা গেছে। ট্রাকে থাকা শ্রমিকদের কাছে কতদামে কেনা হয়েছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ১০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে এ চামড়া কেনা হয়েছে। গত বছরও এমন দর ছিল। তবে এর আগের বছরে ভাল চামড়া দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত দরে তারা কিনেছেন। এ বিষয়ে কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশেনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান সমকালকে বলেন, মুলধন লুণ্ঠন হলে কিছুই করার থাকে না। বকেয়া পাওনার ক্ষেত্রে সক্রিয় ট্র্যানারিগুলোর মধ্যে মাত্র ৪টি ট্যানারি সাম্পূর্ণ টাকা দিয়েছে। আর ৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা দিয়েছে ১৫টি ট্যানারি। বাকি ট্যানারিগুলো কোন টাকা দেয়নি। ট্যানারি মালিকরা টাকা না দেওয়ায় এবারও একই অবস্থা হয়েছে। শুধু ট্যানরি নয়। ব্যাংকগুলো ৬৮০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলছে। অথচ বাস্তবে নগদ ১৮০ কোটি টাকা পেয়েছে ট্যানারিগুলো। এর ফলে চামড়া কেনাবেচায় বিপর্যয়ে পুনাবৃত্তি হয়েছে। বাংলাদেশ ফিনিসড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন সমকালকে বলেন, ট্যানারি মালিকরা লবণযুক্ত চামড়া নির্ধারিত দরেই কিনবেন। যারা নির্ধারিত দরের চয়ে অনেক দাম কমিয়ে কিনেছেন। তাদের বিরুদ্ধে তদারকিতে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রতিবছর ট্যানারি মালিকদের দোষারোপ করার খেলা চলছে। এটা হতে পারে না। মধ্যস্বত্বভোগিরা (আড়তদার) অতিমুনাফা করতেই চামড়ার দাম কমিয়ে কিনছেন। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ সমকালকে বলেন,নির্ধারিত দরের চেয়ে কম দামে বেচাকেনার দায় আমাদের নয়। আমরা সবাইকে লবণদিয়ে সংরক্ষণ করতে বলেছি। লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করলে নির্ধারিত দামে ট্যানারিগুলোচামড়া কিনবে। | 6 |
ভারত ও নেপালের বৈষম্যবিরোধী আইনে বৈষম্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়া জাতীয় সংসদে তোলা হয়েছে। তবে এ খসড়ায় বৈষম্যকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, প্রতিকারের জন্য কোন আদালতে যেতে হবে, তা-ও স্পষ্ট করা হয়নি। তাই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। আজ রোববার প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আলোচকেরা এ কথা বলেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ এ আয়োজন করে। রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে অনুষ্ঠিত হয় এ মিডিয়া ব্রিফিং। আলোচনায় আইনের খসড়ার সার্বিক দিক নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বললেন, আইনটির খসড়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ত ভালো, তবে জানা-বোঝার অভাব আছে। অন্যদিকে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নিয়ত ভালো, সক্ষমতা ও উপলব্ধির অভাব আছে। অনুষ্ঠানের আলোচকেরা হতাশ না হয়ে আইনের খসড়া সংসদে উত্থাপনের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান করেন। তাঁরা এ জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানান। ৫ এপ্রিল আইনের খসড়াটি সংসদে তোলার পর বিলটি ৩০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আজকের মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আলোচকেরা সংসদীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেনদরবার করে আইনটি যাতে শক্তিশালী আইনে পরিণত হয়, তার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানান। আইনের খসড়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন কাজগুলো বৈষম্যমূলক কাজ বলে গণ্য হবে, তা তুলে ধরা হয়েছে। আইনটির অধীনে গঠিত মনিটরিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীকে। এ মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের অধীনে বৈষম্যবিরোধী সেল গঠনের কথা বলা হয়েছে। আজকের মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য শাহীন আনাম। তিনি বলেন, ২০০৭ সাল থেকে এ ধরনের একটি আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। আইনে যে সেন্ট্রাল মনিটরিং কমিটির কথা বলা হয়েছে, তাকে কার্যকর করতে হবে। দ্রুত আইনটির বিধি প্রণয়ন করতে হবে। মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সূচনা বক্তব্য ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আইনের খসড়া জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হওয়াকে আন্দোলনের সাফল্য বলা যায়। এখন এটিকে সুষ্ঠু রূপ দিতে হবে। তাই আন্দোলন শেষ হয়ে গেছে, তা বলার উপায় নেই। শাহদীন মালিক ২০১৬-১৭ সালে প্রায় ৪৫টি আইন পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে জানান, সংসদে উত্থাপিত বিল এবং পাস হওয়া আইনে কোনো পরিবর্তন খুঁজে পাননি। সংসদীয় ড্রাফটিং বিভাগে টুকটাক ভাষা সংশোধন করা হয় শুধু। শাহদীন মালিক বলেন, পুলিশ-আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়। বর্তমান আইনটির খসড়াতেও জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সদস্যদের সংখ্যাই বেশি রাখা হয়েছে। এই সদস্যরা এমন বহু আইনের কমিটিতে আছেন। তাই তাঁরা সভা করারও সময় পাবেন না। আইনে মনিটরিং সেল গঠনের কথা বলা হয়েছে, এতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে জনবলকাঠামো তৈরি করতে হবে। এ কাজেই চলে যাবে ৮ থেকে ১০ বছর। তবে এতে আরও কিছু সরকারি কর্মকর্তার চাকরির ব্যবস্থা হবে। শাহদীন মালিক বলেন, আইনে বলা আছে জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় কমিটির কাছে প্রতিকার না পেলে, অর্থাৎ একজন ব্যক্তিকে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-ঢাকা পর্যন্ত আসতেই তিন বছর পার করতে হবে। এরপর প্রতিকার না পেলে যাবেন আদালতে। অন্যদিকে আইনটিতে প্রতিকার কোন আদালতে চাওয়া হবে, তা-ও স্পষ্ট করা হয়নি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান আলোচনায় বলেন, 'আইনটি নিয়ে আশাবাদী হতে চাই, তবে বাস্তবে আশাবাদী হতে পারছি না।' তিনি বলেন, আইনটিতে বৈষম্যের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা অসম্পূর্ণ। সেল গঠন, কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নেই। ফলে অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, গায়ের রঙের কারণে প্রতিনিয়ত যে বৈষম্যের শিকার হতে হয়, এ বিষয়গুলোকে আইনে সম্পৃক্ত করা হয়নি। ভূমির মালিকানার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রথাগতভাবে ভূমির মালিক হওয়ার বিষয়টি আইনে স্পষ্ট করতে হবে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনে আলোচনার মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে গবেষণার তথ্য বলছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আলোচনাকারীরা অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে থাকেন। তাই বলা যায়, এই বৈষম্যকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হচ্ছে আইনটিতে। শুধু কোম্পানিকে বৈষম্যমূলক কাজের জন্য দায়ী করলে হবে না, রাষ্ট্রীয়-অরাষ্ট্রীয় সংগঠনকে আইনে যুক্ত করতে হবে। আইনটি বাস্তবায়নে আলাদা কমিশন গঠন না করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যপরিধি বাড়িয়ে এ কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করার সুপারিশ করেন তিনি। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন বলেন, আইনের খসড়াটিতে ভাষাগত বিভিন্ন সমস্যা আছে। এখানে তৃতীয় লিঙ্গ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আইনটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে কোনো বৈষম্যমূলক আইন নেই। অথচ সাক্ষ্য আইনে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাচ্ছে, নারীরা কাজি হতে পারছেন না, ভিন্ন ধর্মের নারীদের বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বৈষম্যমূলক আইন বিদ্যমান, বিশেষ বিবাহ আইনে ধর্মত্যাগের ঘোষণা দিতে হচ্ছে, বিসিএস রুল, জুডিশিয়াল সার্ভিস রুল বিভিন্ন জায়গায় বৈষম্য রয়ে গেছে। এগুলো স্বীকার করে তাতে পরিবর্তন না আনলে সমাজ থেকে বৈষম্য বিলোপ হবে না। আইনের খসড়ায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কোনো বৈধ পেশা বা চাকরি গ্রহণ বা বৈধ ব্যবসা পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ করাকে বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সারা হোসেন বলেন, এতে করে যৌনকর্মীরা আইনটির সুফল পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেননা, যৌন পেশা বৈধ না অবৈধ, তা-ই তো স্পষ্ট করা হয়নি। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফস্টিনা পেরেইরা বলেন, গত কয়েক দশকে আগের তুলনায় ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর আক্রমণে সহিংসতা বেড়েছে, সংগঠিতভাবে আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। রাগের মাথায় কিছু একটা করে ফেলছে, তা হচ্ছে না, আক্রমণগুলো হচ্ছে ভেবেচিন্তে। এই আইনে এ বিষয়ের প্রতিকার আছে কি না, দেখতে হবে। শিয়া-আহমদিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে দ্বন্দ্ব, তার প্রতিকার আছে কি না, তা-ও দেখতে হবে। ফস্টিনা পেরেইরা বলেন, আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকেই অভিযোগ করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হবে। আইনের আওতায় কমিটি নিজে থেকে কোনো উদ্যোগ নেবে না। তিনি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সঙ্গে চাকরিক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়, তাকে আইনের আওতায় আনার কথা বলেন। একইভাবে এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তি, শুধু বৈবাহিক সম্পর্ক না বৈবাহিক অবস্থা, অর্থাৎ বিয়ে করেননি বা করতে চান না, এ ধরনের ব্যক্তিদের ঘর ভাড়া না পাওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়, তাকেও আইনে সম্পৃক্ত করতে হবে বলে উল্লেখ করেন। নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী প্রধান জাকির হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আইনটির খসড়া সংসদে উত্থাপনের বিষয়টিকে বলা যায় সামাজিক ন্যায়বিচার এক ধাপ এগোল। আইনটিতে শাস্তির বিধান রাখা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে আইনটির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। | 6 |
সুদানে গণতন্ত্রের দাবিতে শুরু হওয়া তীব্র বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর মুহুর্মুহু গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫৪ জন গণতন্ত্রকামীর প্রাণহানি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সুদানি চিকিৎসকদের সংগঠন 'দ্য সেন্ট্রাল কমিটি অব সুদানিস ডক্টরস' এমন তথ্য দিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া সামরিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সরাসরি গুলিতে আহত ২৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আব্বাস মারা যায়। আবদুল্লাহ আব্বাস মারা যাওয়ার ফলে বৃহস্পতিবারের ওই বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ছয়। ফলে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির সংখ্যা হয়েছে ৫৪ জন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
কোন পথে চলছে পাকিস্তান? গোটা বিশ্বে এমনিতেই সন্ত্রাসের আশ্রয়দাতা হিসেবে কোণঠাসা ইমরান খানের দেশ। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে আর্থিক মদদ দেয়ার অভিযোগে ঢুকতে হয়েছে এফএটিএফের ধূসর তালিকায়। এবার জানা যাচ্ছে, দেশের অধিকাংশ মানুষও মনে করছেন, পাকিস্তান চলছে একদম ভুল পথে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এমন চিত্রই ওঠে এলো। গবেষণা সংস্থা আইপিএসওস মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে এই সমীক্ষার রিপোর্ট। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ৭৭ শতাংশ পাকিস্তানিই মনে করছেন দেশ চলেছে ভুল পথে। মাত্র ২৩ শতাংশ মানুষের অবশ্য এখনো বিশ্বাস অটুট রয়েছে দেশের প্রশাসনের প্রতি। তারা মনে করছেন, কোনো সমস্যা নেই। দেশ একদম ঠিকঠাকই এগোচ্ছে। গত ১ থেকে ৬ ডিসেম্বর এক হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর ওই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। অবশ্য রাতারাতি যে পাকিস্তানি নাগরিকরা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে এতটা হতাশ হয়ে পড়েছেন তা নয়। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 3 |
করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ভারতের দক্ষীণী সিনেমার পরিচালক ঐশ্বরিয়া। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধানুশের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই বারবার খবরের শিরোনাম আসছেন ঐশ্বরিয়া। এবারে তার অসুস্থ হওয়ার খবর দিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তের বড় মেয়ে নিজেই। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখলেন, "সমস্ত সাবধানতা মেনেও কোভিডে আক্রান্ত হয়েছি। ভর্তি হয়েছি হাসপাতালে। দয়া করে সবাই মাস্ক পরুন এবং করোনার টিকা নিন। ২০২২ আর কী কী জমিয়ে রেখেছে আমাদের জন্য, দেখাই যাক না।" গত মাসে ধানুশ ও ঐশ্বরিয়া নিজেদের বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামে। শোনা গেছে, রজনীকান্ত নিজের মেয়ের ঘর ভাঙার পর মানসিক অবসাদে রয়েছেন। বারবার চেষ্টা করেছেন জামাইয়ের সঙ্গে দেখা করে মিটমাট করিয়ে দিতে। কিন্তু ধানুশ দেখা করতেই রাজি হননি। অন্যদিকে ধানুশের বাবা দক্ষিণী পরিচালক কস্তুরী রাজা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণার কারণ 'পারিবারিক বিবাদ'। তারা নিজেরা কথাবার্তা বলে এই বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ধানুশ ও তার পুত্রবধূকে আলাদা হতে দেবেন না বলেই দাবি করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে প্রেমদিবস উপলক্ষে ঐশ্বরিয়া একটি গানের ভিডিও শুট করতে শুরু করেছিলেন হায়দরাবাদে। তারপরই করোনা আক্রান্ত হন তিনি। সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বিডি প্রতিদিন/কালাম | 2 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে ঘর তৈরির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে নাসিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলছেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সম্প্রতি বিদ্যালয়ের এই মাঠটি নিজেদের দাবি করে বিক্রি করে দেয়। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন বলছে, খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাসিরপুর গ্রামের পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্যের মালিকানাধীন প্রায় তিন একর জায়গা গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করছিলেন স্থানীয়রা। তিন দশক আগে নাসিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর থেকেই জায়গাটিকে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা। পূর্ণচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে প্রমোদ চন্দ্র ভট্টাচার্য, একই গ্রামের রঞ্জিত রায় চৌধুরী, প্রেমাংশু কুমার ও তপন রায় চৌধুরী বিএস খতিয়ানে এই জমি নিজেদের নামে নথিভুক্ত করে নেন।পরে প্রেমাংশু ও রঞ্জিত জায়গাটির ২৪ শতক জায়গা নাসিরনগর সরকারি কলেজের কর্মচারী সৈয়দ নজরুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু জায়গা কেনার পরও এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে দখল নিতে পারেননি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ২০২০ সালে নাসিরনগর উপজেলা সদরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধনও করেন স্থানীয়রা। পরে এ নিয়ে নাসিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অরুণ জ্যোতি ভট্টাচার্য ও মাঠ রক্ষা আন্দোলনের কর্মী আক্তার মিয়াসহ ১৫ জনের নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে দুটি মামলা হয়।সম্প্রতি প্রেমাংশু কুমার ও রঞ্জিত রায় চৌধুরীর একই গ্রামের ঝরনা আক্তার ও নুরুন্নাহারের কাছে ১৪ শতক জায়গা বিক্রি করেন। এরপর ৬ জুন থেকে তাঁরা এই মাঠে ঘর নির্মাণ শুরু করেন।এ বিষয়ে জানতে প্রেমাংশু কুমার ও রঞ্জিত রায় চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তাঁদের কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।নাসিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃপা দেবনাথ ঋতু বলে, 'আমাদের খেলার মাঠটি দখল করে ফেলেছে ঘর তৈরি হচ্ছে। আমরা মাঠটি ফিরে পেতে চাই।'ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিক্তা রানী বলেন, 'প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি বিদ্যালয়ের মাঠ হিসেবে পরিচিত। প্রায় তিন যুগ ধরে আমরা বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া অনুষ্ঠান ওই মাঠেই করছি।'বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অরুণ জ্যোতি ভট্টাচার্য বলেন, 'এটি নাসিরপুর গ্রামের যুবসমাজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার একমাত্র খেলার মাঠ। মাঠের দখলের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মামলা করেন "মাঠ দখলকারী"রা। আমি চাই মাঠটি দখল মুক্ত হোক।'খেলার মাঠে ঘর নির্মাণকারী ঝরনা ও নুরুন্নাহারের বাড়িতে গেলে জানা যায় তাঁরা বাড়িতে নেই। পরে কথা হয় তাঁদের ভাই কুরবান মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আমার বোনেরা প্রেমাংশু দত্ত ও রঞ্জিত ঠাকুরের কাছ থেকে ১৪ শতক জায়গা কিনছেন। আমরা কেনা জায়গায় ঘর তুলছি। কারও জায়গা দখল করছি না।'উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল মিয়া বলেন, 'শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য খেলার মাঠ খুবই প্রয়োজন। তবে এই মাঠ দখলের বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেন বলেন, 'আমি নাসিরনগরে নতুন এসেছি। মাঠ নিয়ে কোনো সমস্যার কথা এখনো আমি জানি না। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
চীনের সিনোফার্ম থেকে বাংলাদেশ সরকারের কেনা করোনাভাইরাসের টিকার ২০ লাখ ডোজের মধ্যে ১০ লাখ ডোজ দেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় টিকার চালানটি। বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান জানান, একটি বিশেষ ফ্লাইটে সিনোফার্মের ১০ লাখ ডোজ টিকা রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। বাকি টিকা সকালে আসার কথা রয়েছে। গত ১২ মে প্রথমবার সিনোফার্মের তৈরি পাঁচ লাখ উপহারের টিকা বাংলাদেশে পাঠায় চীন। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ১৩ জুন আরো ছয় লাখ টিকা উপহার হিসেবে পাঠায় চীন। সব মিলিয়ে ১১ লাখ টিকা বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে চীন। আর এই প্রথম চীন থেকে বাণিজ্যিকভাবে কেনা টিকা বাংলাদেশে এসেছে। | 6 |
যুদ্ধের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ অন্তত ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৮০৩ কোটি ডলার খরচ করতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধের কারণে দেশটির রাজস্ব সংগ্রহেও পিছিয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির অর্থমন্ত্রী সের্হি মার্চেনকো এই তথ্য জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী সের্হি মার্চেনকো বলেছেন, এই ব্যয়-প্রাথমিকভাবে উন্নয়নের জন্য বাজেট করা ছিল। তবে এখন সেগুলো থেকে অস্ত্র ক্রয়, মেরামত এবং অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত লোকদের জরুরি সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যয় করতে বাধ্য হয়েছি। দেশটির সামাজিক নীতিমালা বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত ২৭ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত লোক রয়েছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা অনেক গুণ বেশি।মার্চেনকো জানিয়েছেন, এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত রাজস্বের মাত্র ৬০ শতাংশ সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে। কিয়েভের জরুরি ভিত্তিতে বিদেশি সমর্থন প্রয়োজন কারণ, কিয়েভকে উন্নয়ন খাতের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার যুদ্ধ খাতে ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে।মার্চেনকো বলেছেন, কিয়েভ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে, অর্থ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করছে সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে। বিশেষ করে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে।মার্চেনকো আরও বলেছেন, 'আমরা আমাদের অংশীদারদের আমাদের ঋণের বোঝা কমাতে একটি অংশ অনুদান হিসেবে প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি। কারণ দেশে যুদ্ধাবস্থা জারি থাকায় ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ হোক আর নাই হোক ইউক্রেন ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' | 3 |
গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (কেপিসিএল) সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) ইমরান মাহমুদ (২৬)। তবে মরার আগে বেশ কিছু কথা চিরকুটে লিখে যান প্রকৌশলী ইমরান মাহমুদ। নিহত ইমরানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেপিসিএলের জিএম রেজাউল করিম। বুধবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার খালিশপুর হাসপাতালের পেছনে কেপিসিএলের ডরমিটরির তিন তলার একটি রুমে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। নিহতের মরদেহের পাশে চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটে তিনি তার মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি। তবে তার দাফন-কাফনের খরচ ও পাওনাদারের টাকা তার ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে সেখান থেকে খরচ করতে বলেছেন তিনি। ইমরানের এক সহকর্মীরা জানান, সকালে শিফটে কাজে যোগ না দেয়ায় ইমরান মাহমুদকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে ডরমিটরির একটি রুমে তাকে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। ইমরানের দুই বছর আগে বিয়ে হয়। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। তবে কী কারণে ইমরান আত্মহত্যা করেছে, তা কেউ বলতে পারেননি। তবে শুনেছি তার স্ত্রী কিছু দিন আগে একটি ডিভোর্স লেটার পাঠায়। খালিশপুর থানার ওসি কাজী মোস্তাক আহমেদ বলেন, কেপিসিএলের এক প্রকৌশলী আত্মহত্যা করেছেন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কোন্দলের কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। | 6 |
সময়টা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য মোটেও সুবিধার যাচ্ছে না। শুরু থেকেই অবশ্য তিনি বেকায়দায় ছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনই তিনি সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছেন। কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন তিনি। একাকী, একেবারে বান্ধবহীন হয়ে পড়ছেন তিনি। বিষয়টি ট্রাম্প নিজের কর্মকাণ্ড দিয়ে সবাইকে দেখিয়েও দিচ্ছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তাঁকে মুখে কুলুপ এঁটে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের খবরাখবর সংগ্রহ ও পরিবেশন করেন-এমন দায়িত্বশীল সাংবাদিকেরা বলছেন, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তাঁদের কাছে বলেছেন, ট্রাম্প এখন বুঝতে পারছেন তিনি একা হয়ে পড়েছেন; ক্রমাগত নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছেন। ট্রাম্পের মধ্যে নিঃসঙ্গতার অনুভূতি আসায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, কারও পক্ষেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সম্ভব নয়। তিনি বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি বন্ধুত্ব চান না। চান নিঃশর্ত আনুগত্য। তাঁর সঙ্গে কাজ করেন, এমন কেউই নিজেকে নিরাপদ মনে করেন না। সম্ভবত ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প বাদে আর কেউই বরখাস্ত হওয়ার ভীতি ছাড়া তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পারেন না। কারণ, ইতিমধ্যে ঘনিষ্ঠ অনেককেই তিনি অপমানজনকভাবে বিদায় করেছেন। ট্রাম্পের এই অন্তর্দহন শুরু হয়েছে এমন একটি সময়, যখন বড্ড দেরি হয়ে গেছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তে ট্রাম্প তাঁর অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসকে বশীভূত করতে পারেননি। এ নিয়ে তাঁর মনোযন্ত্রণা আছে। তবে এর চেয়েও বড় সমস্যা বাধিয়েছেন ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচন প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্ট। এই ম্যানাফোর্ট জালিয়াতি ও শুল্ক এড়ানোর মামলায় শুধু যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তা-ই নয়, তিনি রুশ হস্তক্ষেপের তদন্তে প্রধান তদন্তকারী রবার্ট ম্যুলারকে সব ধরনের সহায়তা দিতে রাজি হয়েছেন। ম্যানাফোর্ট মুখ খুললে স্বয়ং ট্রাম্প ফেঁসে যেতে পারেন। ট্রাম্প ম্যানাফোর্টকে ক্ষমা করবেন বলে ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে তিনি সে ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন বলেই মনে হয়। সম্ভবত ট্রাম্প বুঝতে পারছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যদি ম্যানাফোর্টকে বিশেষ ক্ষমতায় ক্ষমা করে দেন, তাহলে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং তা থেকে ট্রাম্প নিজেও রেহাই পাবেন না। ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়ার আশায় ম্যানাফোর্টের বসে থাকাটাও কঠিন। কারণ, মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের পর ট্রাম্পের নিজের দশাই কেমন হবে, তা আন্দাজ করা যাচ্ছে না। এ কারণে ম্যানাফোর্ট বাকি জীবন জেলখানায় কাটানোর বিপদ এড়াতে গিয়ে তাঁর সম্পদের বেশির ভাগই সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের পরিবারকে জেলহাজত থেকে বাঁচাতে একটি চুক্তির মাধ্যমে তিনি ম্যুলারের কাছে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে সব খুলে বলতেও রাজি হয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে কার কার সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের যোগাযোগ ছিল, তা তিনি ম্যুলারের তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এটি ট্রাম্পের জন্য মহা উদ্বেগের বিষয়। এর চেয়েও দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অ্যাটর্নি মাইকেল কোহেনও তদন্ত কর্মকর্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন। কোহেন ট্রাম্পের আইনজীবী হিসেবে তাঁর ব্যবসা সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন। তিনি ইতিমধ্যেই বলেছেন, ট্রাম্প এমন দুজন নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, যাঁরা নির্বাচনের আগে এ নিয়ে মুখ খুলতে চেয়েছিলেন এবং তাঁদের মুখ বন্ধ করতে ট্রাম্প তাঁদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন। কোহেন বলেছেন, এই অর্থ পরিশোধের যাবতীয় আয়োজন তাঁর হাত দিয়েই হয়েছে। অবশ্য এখন পর্যন্ত ট্রাম্প কোহেনের এই দাবি অস্বীকার করে আসছেন। ধারণা করা হচ্ছে, কোহেন তদন্ত দলকে ট্রাম্পের সম্পত্তি ও নারীসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে বসতে পারেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অ্যান্থনি কেনেডির স্থলে ট্রাম্প ব্রেট কাভানাফকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তও সরু সুতায় ঝুলে আছে। যেকোনো সময় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিতে পারেন। কাভানাফ কিছুদিন আগে বলেছেন, ক্ষমতাসীন অবস্থায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করা যাবে না। এর মাধ্যমে তিনি ট্রাম্পকে আইনের ঊর্ধ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বলে আইনজ্ঞরা মত দিয়েছেন। এটি তাঁদের ক্ষুব্ধ করেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও এনবিসি নিউজের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকান দলের চেয়ে ১২ শতাংশ সমর্থনে এগিয়ে আছে। মনে হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটরা আবার সিনেটে নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্প এখন যে বিপদে পড়েছেন, তা তিনি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে হয় না। ইংরেজি থেকে অনূদিত। স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট এলিজাবেথ ড্র্যু দ্য নিউ রিপাবলিক পত্রিকার কন্ট্রিবিউটিং এডিটর | 8 |
গোপালপুরে অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী উপজেলার খন্দকার ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজে রোটারি ক্লাব অব বারিধারা সানরাইজ নামের সংগঠন এ আয়োজন করে।সংগঠনের সভাপতি ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার আজিজুল হক জানান, এখানে গত ১০ বছর ধরে গ্রামের অসহায় মানুষদের বিনা মূল্যে চক্ষু সেবা দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পেইনে ঢাকা থেকে ৩ জন ডাক্তার ও ৩ জন টেকনিশিয়ান এসেছেন। তাঁরা রোগী দেখার পর ব্যবস্থাপত্রসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন। আর যাদের অপারেশন করা প্রয়োজন তাঁদের শনাক্ত করে বিনা মূল্যে অপারেশনের জন্য ঢাকায় নেওয়া হবে।চিকিৎসা নিতে আসা খোদেজা বেগম ও আবু বকর বলেন, 'তাঁরা প্রতিবছরই টাকা ছাড়া অসংখ্য মানুষকে চিকিৎসা দেন। চোখে সমস্যা হচ্ছে। তাই চিকিৎসা নিতে এসেছি।'এ চক্ষু শিবির কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন রোটারি ক্লাব অব বারিধারা সানরাইজের সাবেক সভাপতি রোটারিয়ান ফশিউর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ড. জাফরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ প্রিন্সিপাল নাজিম উদ্দিন এবং সদস্য অধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদ প্রমুখ। | 6 |
নিপুণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করছেন জায়েদ খান। উচ্চ আদালতের নির্দেশ ছিল, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদের রায় নিষ্পত্তি হওয়ার আগে সমিতির চেয়ারে কেউ বসতে পারবেন না। এমনকি নিজেদের সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ও দিতে পারবেন না। কিন্তু নিপুণ আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন বলে মনে করেন জায়েদ খান। যে কারণে আদালত অবমাননার মামলা করবেন এই শিল্পী সমিতির নেতা। জায়েদ খান বলেন, 'আদালত আগেই বলে দিয়েছেন, রায় নিষ্পত্তি হওয়ার আগে কেউ সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসতে পারবেন না। এ সময়ে কেউ নিজেদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে কোনো কার্যক্রম করতে পারবেন না। কিন্তু নিপুণ এসবের তোয়াক্কা না করেই শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চেয়ারে বসেছেন, অন্যান্য কাজ করছেন। নেমপ্লেট করেছেন, সেটা গণমাধ্যমেও এসেছে। আবার সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফুল দিচ্ছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অন্যায়ভাবে অন্যান্য কার্যক্রম করেই যাচ্ছেন। এ জন্য আমরা পুনরায় আজ আদালত অবমাননার মামলা করেছি। আগামী রোববার আমরা মামলা নম্বর জানাতে পারব।' জায়েদ খানের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা বলেন, 'গণমাধ্যমের খবরে এসেছে, তিনি (নিপুণ) সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেছেন, কিছু কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন। এ জন্য কিছুদিন আগে আমরা উচ্চ আদালতের নির্দেশ অবমাননার বিষয়ে অভিযোগ করেছিলাম। কারণ, তিনি কখনোই সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসতে পারেন না। কোনো কার্যক্রম করার অধিকার তাঁর নেই। তিনি যা করেছেন, সেটা কোর্টের আদেশকে অসম্মান করা। যে কারণে মামলার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার মামলাটি কোর্টে উপস্থাপন করব।' এ বিষয়ে নিপুণ বলেন, 'এমন একটি অভিযোগের বিষয়ে জেনেছি। এটা নিয়ে আমি আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি বিষয়টি দেখভাল করবেন।' গত ২৮ জানুয়ারি নির্বাচনে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটে জয় লাভ করেন জায়েদ খান। কিন্তু ফলাফল মেনে নেননি সাধারণ সম্পাদক পদে হেরে যাওয়া নিপুণ। তিনি আপিল করেন। পরে পদটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এটি এখন নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার শুনানির কথা থাকলেও এটি পিছিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার দিন ধার্য হয়েছে। | 2 |
করোনার কারণে এক বছর বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)। তবে শেরেবাংলা নগরের চিরচেনা ঠিকানা ছেড়ে পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) ডিআইটিএফের ২৬তম আসর বসেছে। এটিকেই বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা বলছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী রপ্তানি নীতিমালা অনুযায়ী রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে আইসিটি পণ্য ও সেবাকে চলতি বছরের 'প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার' ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সভাপতিত্ব করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান। খবর বাসসের। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার বিবিসিএফইসির ১৪ হাজার ৩৬৬ বর্গমিটার আয়তনের দুটি হলে মেলায় অংশগ্রহণকারী সব স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কমপ্লেক্সের বাইরে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন ও ফুড স্টল। এ ছাড়া রয়েছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় পোশাক, যন্ত্রপাতি, কার্পেট, সাজসজ্জার সামগ্রী, ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাব, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার সরঞ্জাম, চামড়া, জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, খেলার পণ্য, স্যানিটারিওয়্যার, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য ইত্যাদি প্রদর্শন করছে। প্রতিদিন মেলা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এক ঘণ্টা বাড়তি সময়, অর্থাৎ রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মেলায় প্রবেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ৪০ টাকার টিকিট কাটতে হবে। শিশুদের জন্য টিকিটের মূল্য ২০ টাকা। মেলায় দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে প্রতিদিন ৩০টি বিআরটিসি বাস ও অন্যান্য যাত্রীবাহী বাস চলাচল করবে। এ জন্য জনপ্রতি ৪০ টাকা ভাড়া গুনতে হবে। যাত্রীদের কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় নেমে সেখান থেকে রিকশাযোগে মেলা প্রাঙ্গণে যেতে হবে। ভাড়া ১০ টাকা। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা দিতে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা যৌথভাবে আয়োজন করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। পূর্বাচলের বিবিসিএফইসির পরিসর ছোট হওয়ায় মেলায় আগের চেয়ে কম প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ২০১৯ সালে শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মেলায় ১১০টি প্যাভিলিয়ন, ৮৩টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও স্টলসংখ্যা ছিল ৪১২টি। তবে এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৬২টি স্টল ও ১৫টি খাবারের দোকান রয়েছে। | 0 |
মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। উদ্ধার প্রচেষ্টা নিয়ে জনসাধারণ এবং বিরোধী আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মধ্যে পড়েছে মালয়েশিয়া সরকার। অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে বার্ষিক বর্ষা মৌসুমে মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলে বন্যা অনেকটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এরমধ্যে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিকভাবে ভারি বৃষ্টিপাত সারাদেশে জরুরি পরিষেবাগুলোতে চাপ সৃষ্টি করেছে। রাজধানী কুয়ালালামপুরকে ঘিরে থাকা সবচেয়ে সম্পদশালী সেলাঙ্গর সবচেয়ে জনবহুলও। এ রাজ্যেই ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে সাতটি রাজ্যজুড়েও এর প্রভাব পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাকে একত্রিত করে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালানো হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামা জানিয়েছে, সোমবার বন্যায় মৃত্যু হওয়া আটজনের মরদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সেলাঙ্গর পুলিশ। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির শাহ আলম জেলার আশপাশে এখনও অনেক লোক বাড়িঘরে আটকে রয়েছেন। নৌকা এবং জনবলের অভাবের কারণে উদ্ধার প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ জন্য সরকারের সমালোচনা করছে সাধারণ জনগণ ও বিরোধীরা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী টুইটারে জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত সেলাঙ্গর থেকে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তবে রাজ্যের অনেক জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় আরও কতজনকে উদ্ধার করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব বলেন, এ মুহূর্তে সেলাঙ্গরের পরিস্থিতি কিছুটা বিশৃঙ্খল। অন্যান্য রাজ্যে, বর্ষার জন্য আগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু সেলাঙ্গরে প্রায় হঠাৎ করেই এমনটি হয়েছে। এদিকে বন্যার কারণে দেশটির বৃহত্তম বন্দর পোর্ট ক্লাংয়ের কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা ও ভূমিধসের কারণে বহু সড়ক ও মহাসড়কও বন্ধ। | 3 |
দক্ষিণ কোরিয়ায় টয়লেটে এবং পোশাক পরিবর্তনের ঘরে গোপন ক্যামেরা একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ছয় হাজারের বেশি ঘটনা রয়েছে যেগুলো 'স্পাই ক্যাম পর্ণ' নামে পাওয়া গেছে। ভিডিওগুলো অনলাইনে আপলোড করার সময় অবশ্যই ওই ব্যক্তির কোনো অনুমতি নেয়া হয় না। সেসব ভিডিও ছেড়ে দেয়া হয় কোনো না কোনো পর্ণগ্রাফির ওয়েবসাইটে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা বলছেন, সিউলে বাড়তে থাকা এ ধরনের অপরাধ যদি অচিরেই নিয়ন্ত্রণে না আনা যায় তবে তা অন্যান্য দেশেও একইভাবে ছড়িয়ে পরতে পারে। আর তখন সেটি প্রতিকার হবে খুবই কঠিন। এই বছরের শুরুর দিকে হাজার হাজার নারীরা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন। তারা গোপন ক্যামেরা ব্যবহারের বিরুদ্ধে সেই বিক্ষোভে লিখেছিলেন "আমার জীবন তোমার কাছে পর্ণ না।" দেশটির অ্যাকটিভিস্টরা বলছে, মেয়েরা সব সময় একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকেন, কখন তাদের অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা হবে অথবা ভিডিও করা হবে। স্পাই ক্যাম পর্ণের শিকার ৮০% নারী। সিউলের পাবলিক টয়লেটগুলো এতদিন মাসে একবার চেক করা হতো সেখানে কোনো গোপন ক্যামেরা আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। কিন্তু এখন থেকে টয়লেটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি প্রতিদিন এ কাজটি করবেন। প্রযুক্তিগত ভাবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর একটি হলো কোরিয়া, একইসাথে ডিজিটাল সংযুক্তিতেও এগিয়ে। স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখানে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্করই রয়েছে স্মার্ট ফোন এবং অন্তত ৯৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতিই এ ধরনের অপরাধীকে সনাক্ত করতে বা ধরতে কঠিন করে তুলেছে। ২০১৫ সালে ডিজিটাল সেক্স ক্রাইম আউট নামে একটি গ্রুপ তৈরি করা হয়, যার নাম হা ইনা, আর এটি তৈরি করেন পার্ক সো-ইয়ুন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল কুখ্যাত 'সোরানেট' নামের একটি ওয়েব সাইটকে ধ্বংস করা। এই সাইটে নারীদের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই তাদের হাজার হাজার ভিডিও আপলোড এবং শেয়ার করা হতো, আর যার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল লাখ লাখ। সেখানে গোপন ক্যামেরার ভিডিওগুলোর বেশিরভাগই ছিল পোশাক বদলানোর রুম বা টয়লেট থেকে ধারণ করা অথবা কোনো সাবেক প্রেমিকের তোলা ভিডিও যা প্রতিশোধ হিসেবে ওই ওয়েব সাইটে দিয়ে দেয়া হতো। সেসব ঘটনার শিকার অনেক নারীকে এমনকি আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিতে হয়েছে। এসব ভিডিও কোনো একটি ওয়েব সাইট থেকে সরিয়ে দেয়ার পরেও অন্য কোনো পর্ণ সাইটে আবার হয়তো আপলোড করা হতো কিংবা তা শেয়ার করার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা এর আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, কারা এই কাজটা করছে সেটা ধরা বেশ কঠিন কারণ তারা ক্যামেরা বসানো ১৫ মিনিটের মধ্যে সেটা আবার সরিয়ে ফেলতে পারে। গত বছর স্পাই ক্যামেরা লাগানোর সাথে জড়িত সন্দেহে পাঁচ হাজার চার শ' জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু তাদের মধ্যে ২% এর কম জেলখানায় রয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে এই অপরাধের শাস্তি এক বছরের জেল কিংবা ১০ মিলিয়ন স্থানীয় মুদ্রা, যার পরিমাণ হলো ৮,৯০০ মার্কিন ডলার। তবে শাস্তির মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রয়োজন নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন। | 3 |
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ভাগার বগুড়ার খাল থেকে জেলের জালে আটকাপড়া লবণপ্রাণি প্রজাতির একটি কুমির উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে। শুত্রবার সন্ধ্যায় সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের খালে অবমুক্ত করা হয়েছে। উপমন্ত্রী কুমিরটি দ্রত উদ্ধার করতে সুন্দরবন বিভাগকে নির্দেশ দেন। এরপর সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির সন্ধ্যা ৬টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে কুমিরটি উদ্ধার করে সুন্দরবনে নিয়ে যান। পরে কুমিরটি সন্ধ্যায় সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের খালে অবমুক্ত করা হয়। করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, রামপালের বাগা খালে জেলের জালে আটক কুমিরটি উদ্ধারে উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের নির্দেশ পাই। উপমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে আমিসহ বনবিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কুমিরটি উদ্ধার করি। পরে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের খালে কুমিরটি অবমুক্ত করা হয়। লবণপ্রাণি প্রজাতির কুমিরটি ৪ ফুট লম্বা ও প্রায় ৮ বছর বয়সি বলে জানান এই কর্মকর্তা। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
রাজউকের এক জরিপে দেখা গেছে রাজধানীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভবন নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবনে আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অভিযান চালাবে রাজউক।শনিবার, সূত্রাপুরের কুলুটোলায় 'এতটুকু বাসা' নামের হেলে পড়া ভবনটির মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলার কাজ পরিদর্শনে এসে রাজউকের চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্ল্যাহ নুরী এ কথা জানান।তিনি বলেন, পুরান ঢাকার অধিকাংশ বাড়ির ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেই। সবকিছু দেখা হলে একটি ভবনও হয়তো থাকবে না। এই জঞ্জাল ঠিক করতে হলে সময় লাগবে। এ সময় তিনি হেলে পড়া ভবনের পাশে নবনির্মিত দুটি ভবন নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করার কারণে বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।রাজউক চেয়ারম্যান জানান, পুরান ঢাকাকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে একটি পরিকল্পনার কাজ চলমান রয়েছে। এজন্য বিদেশি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পুরান ঢাকা একটি পরিকল্পিত নগরের আওতায় আসবে।পরিদর্শনের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, স্থানীয় কাউন্সিলর ও রাজউকের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, 'পিস' নামে চালু দেশের অনুমোদনহীন স্কুলগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মিডিয়া ও পুলিশ এজেন্সির মাধ্যমে এ স্কুলের অনেকগুলো শাখার তথ্য পেয়েছি। এখানে যারা পড়াচ্ছেন তারাও স্বাধীনতার পক্ষে নয়। পিস স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের দায়দায়িত্ব ওই সব স্কুল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে 'ইয়ং চেঞ্জ মেকার্স কোয়ালিশন' শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, পিস স্কুলগুলোর লেখাপড়া, মানসিকতা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে পিস স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিষয় আরও খতিয়ে দেখা হবে।
দেশে বিদ্যমান অনুমোদনহীন সব পিস স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিন দিন আগে চিঠি দিয়ে সব শিক্ষাবোর্ডগুলোকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভারতের বিতর্কিত ইসলামী বক্তা জাকির নায়েকের পিস টিভির সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধের পর সরকারের পক্ষ থেকে এবার অনুমোদনহীন পিস স্কুলগুলোও বন্ধের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক অফিস আদেশে অনুমোদনহীন পিস স্কুলসমূহ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া ঢাকার লালমাটিয়ায় পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকেও নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'বিতর্কিত কার্যক্রমে লিপ্ত থাকায় লালমাটিয়ার পিস স্কুলটির পাঠদানের অনুমতি বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
'পিস' নামে বাংলাদেশে কতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল, রাজধানীর লালমাটিয়ায় পিস স্কুল নামে একটি ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ের সাময়িক নিবন্ধনই শুধু দিয়েছেন তারা। বাকিগুলো অননুমোদিত।
ভারতের বিতর্কিত ইসলামী বক্তা জাকির নায়েকের পিস টিভি বাংলাদেশে বন্ধের পর 'পিস স্কুল'গুলোর কর্মকাণ্ডের খোঁজ-খবর নিতে শুরু করে সরকার। জাকির নায়েকের মতাদর্শ অনুসরণ করেই ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় 'পিস' শব্দ জুড়ে দিয়ে বিভিন্ন নামে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গুলশান হামলাকারী অন্তত দুজন জাকির নায়েকের বক্তব্যে প্ররোচিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠার পর পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধে গত ১১ জুলাই সরকারের সিদ্ধান্ত আসে। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মের যথাযথ মর্যাদা রক্ষার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধর্ম পালনের ভানকারীরাই সংঘাত সৃষ্টিকারী।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শুভ বড়দিন উদযাপন এবং আর্চ বিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও'র কার্ডিনাল পদে উন্নীত হওয়া উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষিবিদ মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। খবর বাসসের
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আসলে যারা ধর্ম পালনের নামে ধর্ম পালনের একটা ভান করে তারাই ধর্মে ধর্মে সংঘাত সৃষ্টি করে।'
তিনি বলেন, 'ধর্মের ওপর যাদের বিশ্বাস ও আস্থা আছে তারা কিন্তু কোন অন্যায় পদক্ষেপ নিতে পারে না। এটা হলো বাস্তবতা।'
শেখ হাসিনা বলেন, 'ধর্মকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করলে আসলে ধর্মকেই প্রকৃতপক্ষে খাটো করা হয়, মানুষের কাছে ছোট করা হয়, হেয় করা হয়। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব যার যার ধর্মকে একটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। যেন কেউ কখনও কোন ধর্ম সম্পর্কে অঙ্গুলি নির্দেশ করতে না পারে বা যেন হেয় করতে না পারে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ধর্মের সম্মান বজায় রাখা স্ব স্ব ধর্মের যারা তাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব এবং আমি একজন মুসলমান হিসেবে আমার ধর্ম পালন করি। তাই এই ধর্মের প্রতি আমার বিশ্বাস ও আস্থা আছে। অন্যরাও যেন বাংলাদেশে তার ধর্মটা যথাযথভাবে পালন করতে পারে সেই পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।'
অনুষ্ঠানে আর্চ বিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বক্তব্য দেন। ফ্রান্সিস সরোদ গোমেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনার জানেন যে- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলতে জাতির পিতা আত্মনিয়োগ করেছিলেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আমি ও আমার বোন রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। কিন্তু স্বজন হারানোর ব্যথাটা আমি বুঝি। আমরা আমাদের বাবা-মা-ভাই আপনজন হারিয়েছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশ কি হারিয়েছিল? বাংলাদেশতো তার সকল সম্ভাবনা হারিয়েছিল।'
তিনি বলেন, 'সেই সময়ে (বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে) এই বাংলাদেশ যেখানে একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। সকল ধর্মের মানুষের জন্য একটা শান্তিপূর্ণ বসবাসের জায়গা হয়েছিল। সেখানে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিয়ে একটি সংঘাত লাগানোর চেষ্টা সেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর থেকেই শুরু হয়েছিল, এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্যজনক।'
শেখ হাসিনা বলেন, 'আমাদের যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সেই চেতনায় বাংলাদেশ আবার জেগে উঠেছে। আমাদের দেশের সঠিক ইতিহাস এদেশের মানুষ জানতে পারছে এবং আজকে যেন আত্মবিশ্বাসটা নিয়ে দেশ আবার এগিয়ে যাচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছিলেন যে একটা সময়ে হঠাৎ একজন খ্রিস্টানকে, একজন বুদ্ধিষ্ট, একজন হিন্দু এমনকি মুসলমান কোরআন শরিফ পড়ছে মসজিদে বসে তাকেও হত্যা করা হলো এবং শুরু হলো ব্যাপক প্রচার। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার জন্যই যেন এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে শুরু করলো। মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হল। কোনও মানুষ জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস চরিতার্থ করার জন্য- এটা আসলে বিশ্বাস করা যায় না। কিন্তু আমরা সেই বিভৎস ভয়াবহ অবস্থাও দেখেছি এই বাংলাদেশে। ২০১৫ সালের সেই জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের কথা একটু চিন্তা করে দেখেন। কী জঘন্য ঘটনা এই বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোট ঘটিয়েছিল। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে আর বলা হচ্ছে ওটাই নাকি আন্দোলন। সেই আন্দোলন করে নাকি আবার সরকার উৎখাত করবে। ভোট দিয়ে জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে। জনগণ ক্ষমতা দিয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'খ্রিস্টান ধর্মের প্রবক্তা যীশুখ্রীষ্ট সবসময় আর্ত-পীড়িতকে সাহায্য করতেন, তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন। আমরা যদি সকল ধর্মের মর্মবাণীর দিকে তাকাই তাহলে কিন্তু সাদৃশ্য দেখতে পাব। প্রত্যেক ধর্মেই কিন্তু শান্তির কথা বলা হয়েছে। সহশীলতার ও মানবতার কথা বলা হয়েছে। অনাহার ক্লিষ্ট, রোগাক্রান্ত অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। কাজেই আমরা এই বাংলাদেশে সবসময় এটাই বিশ্বাস করি- এখানে সকল ধর্মের সমান অধিকার থাকবে। এটাই হচ্ছে আমাদের মূল নীতি। আমাদের সংবিধানেই এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আমাদের ধর্ম ইসলাম। আমি যেহেতু নিজের ধর্ম পালন করি তাই অন্যের ধর্মের প্রতিও আমি শ্রদ্ধা জানাই। আমি যদি বিশ্বাস করি এই পৃথিবী আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সৃষ্ট, তাহলে সবকিছুইতো তিনি সৃষ্টি করেছেন।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কাজেই তিনি (আল্লাহ) যেভাবেই যাকে সৃষ্টি করেছেন না কেন সে সেইভাবেই চলবে এটাইতো স্বাভাবিক। কাজেই সেখানে কোন সংঘাত, দ্বন্দ্ব, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ কোনকিছুরই স্থান নেই। এখানে মানবতাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড়। কাজেই মানবতাকেই আমরা সবচেয়ে গুরুত্ব দেই। আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের 'সুরা কাফেরুন'-এ স্পষ্ট বলা আছে- 'লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদিন।' যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। তোমার ধর্ম তোমার। আমরা সেই নীতিতেই বিশ্বাস করি। আর জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখানে সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষইতো এক হয়ে বুকের রক্ত দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা এনেছে। কাজেই এ মাটিতে প্রত্যেকটি মানুষ তাঁর অধিকার নিয়েই বসবাস করবে। সেটাই আমরা বিশ্বাস করি।'
তিনি বলেন, 'আমরা চাই এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে সকলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়েই বসবাস করবেন। তাছাড়া আমরা এটাই বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার এবং বাংলাদেশের জনগণের কিন্তু সেই উদারতা আছে। সবাই মিলেই কিন্তু আমরা উৎসব পালন করে থাকি। কাজেই আমাদের সেই সুন্দর পরিবেশটা বজায় রাখতে হবে।'
কার্ডিনাল মনোনীত হওয়া আর্চ বিশপ প্যাট্রিক ডি রোজরিওকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিশ্বে খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস আর্চ বিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও সিএসসিকে কার্ডিনাল পদে উন্নীত করেছেন। এই প্রথম আমরা এই পদে একজন বাঙালিকে পেলাম। যেটা আমরা আগে কখনও চিন্তাও করতে পারিনি। সারাবিশ্বে মাত্র ১২১ জন কার্ডিনাল যারা পোপ হিসেবে প্রার্থী হতে পারবেন আবার পোপ নির্বাচনের জন্য ভোট দিতে পারবেন। সেই ভোটদানের অধিকারটা আজকে একজন বাঙালি পেয়েছেন। কাজেই আজকে আমরা খুবই আনন্দিত। এই আনন্দটা শুধু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নয়, সমগ্র বাঙালি জাতির। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আজকে সকলেই আনন্দিত বলে আমি মনে করি।'
শেখ হাসিনা বলেন, 'বাংলাদেশকে আমরা একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাচ্ছি।'
তিনি বলেন, 'জাতির পিতা এই সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে বাণী আমাদের দিয়েছেন এবং আমাদের সংবিধানেও স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। অনেকেই এর ভুল ব্যাখ্যা করে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতায় নিয়ে আসে। আর আমরাওতো ধর্মহীনতায় বিশ্বাস করি না। যার যার ধর্ম সে সে পূর্ণ অধিকার নিয়ে পরিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবে। সেই পরিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারাটাই ধর্ম নিরপেক্ষতা। ধর্মকে বাদ দিয়ে নয়।'
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ উদ্বৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বলেছিলেন- 'ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে তাদের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রের কারো নেই। হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে কারো বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে খ্রিস্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে। তাদের কেউ বাধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি এই যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'ধর্ম অতি পবিত্র বিষয়। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। এটাই হচ্ছে জাতির পিতার মূল কথা।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা দেওয়ার মালিক আর নেওয়ার মালিক তো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। এ সম্পর্কে আমাদের কোরআন শরিফেও বলা আছে- তিনিই সম্মান দেন আবার তিনিই সম্মান কেড়ে নিতে পারেন এবং আমি তাই বিশ্বাস করি। নইলে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর সব হারিয়ে একেবারে রিফিউজি হিসেবে যখন বিদেশে ছয়টি বছর কাটাতে হয়েছে, তারপর দেশে ফিরতে পেরেছি। দেশে ফিরে এসে আজকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। এটা যদি আল্লাহ না দিতেন বা বাংলার জনগণের আস্থা, ভালবাসা, বিশ্বাস,সম্মান না পেতাম তাহলে কখনই এই দায়িত্ব পেতাম না।'
নিজেকে জনগণের সেবক আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি মনে করি আমি জনগণের সেবক। জনগণের সেবা ও কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কাজেই এই জনগণের জন্যই আমি কাজ করে যাচ্ছি। যেখানে সকল ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের যারা নাগরিক তাদের প্রত্যেকের কল্যাণের জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এই কাজই আমরা করে যাব।'
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর পক্ষ থেকে সমগ্র খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান। তিনি অনুষ্ঠানে বড় দিনের একটি কেক কাটেন এবং একটি স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।
| 6 |
চলছে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাস অথচ পাউরুটি উৎপাদিত হয়েছে ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ উৎপাদনের তারিখ দেওয়া হয়েছে এক বছর পর। দিনাজপুর শহরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনার সময় এমন পাউরুটি পেয়েছেন। পরে ওই কারখানার মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শহরর ৪টি স্থানে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এম. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ। অভিযানে সহযোগিতা করেন র্যাব দিনাজপুর ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক জেহাদী হাসানের নেতৃত্ব র্যাব সদস্যরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর শহরের পুলহাট এলাকায় অবস্থিত মা বেকারীর কারখানায় পাউরুটির উৎপাদন তারিখ ২০২২ সালের ৭ সেপ্টম্বর উল্লেখ করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। পরে ওই বেকারীর স্বত্বাধিকারী জমিদুর রহমানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত দিনাজপুর শহরের দক্ষিণ বালুবাড়ীতে অবস্থিত শহরের দিলশাদ হোটলর কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন। কারখানায় মিষ্টির সিরায় মৌমাছি ও দই তৈরির জায়গায় বিড়ালের বিচরণ দেখতে পাওয়া যায়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত দিলশাদ হোটেলের স্বত্বাধিকারী মাজেদর রহমানকে ৫ হাজার জরিমানা করেন। এছাড়াও শহরের ৩ নম্বর উপশহর এলাকার উৎসব বেকারীকে ১০ হাজার টাকা এবং খোদমাধবপুর এলাকায় একটি মুড়ির মিলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দিনাজপুর ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক জেহাদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। | 6 |
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ৬ষ্ঠ দফায় রাজ্যের ৪ জেলায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থেকে নদিয়ার চাপড়া মোট ৪৩ আসনে কড়া নিরাপত্তায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে শুরু করেন ভোটাররা। এই দফায় উত্তর দিনাজপুরের ৯টি আসনের সবগুলিতেই ভোট হচ্ছে। এ ছাড়া দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলা- উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টির মধ্যে ১৭, নদিয়ার ১৭টির মধ্যে ৯ এবং পূর্ব বর্ধমানের ১৬টির মধ্যে ৮ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নদিয়ার কৃষ্ণনগর উত্তর আসনে তৃণমূলের অভিনেত্রী প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের মুখোমুখি রাজ্য রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নেতা বিজেপি-র মুকুল রায়। কৌশানীর চেয়ে এই কেন্দ্রে বেশি নজরে রয়েছেন মুকুল। কারণ, ২০ বছর পরে তিনি নির্বাচনের ময়দানে। একই ভাবে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া কেন্দ্রও নজরে রয়েছে। এখানে তৃণমূল প্রার্থী ৪ বারের বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। দু'বার গাইঘাটা ও দু'বার হাবড়া থেকেই বিধায়ক হয়েছেন তিনি। তাঁর মুখোমুখি রাজ্য বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিংহ। অতীতে একাধিক নির্বাচনে প্রার্থী হলেও তিনি জিততে পারেননি কখনও। তবে গত লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে কৃষ্ণনগর উত্তরের মতো হাবড়াও বিজেপি-র কাছে 'সুবিধাজনক' আসন। উত্তর ২৪ পরগনারই দমদম উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ব্যারাকপুরে তৃণমূলের প্রার্থী চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। এই জেলার বীজপুর আসনও নজরে থাকবে। এখানে বিজেপি প্রার্থী মুকুলপুত্র তথা বিদায়ী বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। এর আগে প্রতিটা ভোটেই বিজেপি ও তৃণমূলে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এবারের ভোট কেন্দ্র করে বদলি করা হয়েছে বেশকিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে। ষষ্ঠ দফা ভোটের আগেও নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। | 3 |
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় এবার প্রকাশ্যেই মুখ খুললেন তার সাবেক বান্ধবী অঙ্কিতা লোখান্ডে। একটি টিভির লাইভ অনুষ্ঠানে প্রথমবার মুখ খোলেন অঙ্কিতা। সাফ জানান, সুশান্ত কখনওই মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন না। অঙ্কিতাকে প্রকাশ্যেই বলতে শোনা যায়, 'সুশান্তকে যেভাবে বারবার মানসিক অবসাদগ্রস্ত বলা হচ্ছে, সেটা সব থেকে বড় ভুল শব্দ। কোনওভাবেই এটা সত্যি হতে পারে না। কোনও ঘটনায় সুশান্তের সাময়িক মন খারাপ হতে পারে, তাকে মানসিক অবসাদ বলা যায় না। মানসিক অবসাদ শব্দটা অনেক বড় শব্দ। কোনও কারণ ছাড়াই কীভাবে কেউ কাউকে মানসিক অবসাদগ্রস্ত বলতে পারেন?' বেশকিছুটা উত্তজিত হয়েই অঙ্কিতাকে এমন মন্তব্য করতে শোনা গেল রিপাবলিক টিভির প্রতিবেদন অনুসারে অঙ্কিতা বলেন, 'যখন আমি প্রথম শুনলাম ও আত্মহত্য করেছে। বিষয়টা আমি মানতে পারিনি। এটা বিশ্বাস করতে আমার সময় লেগেছে। সুশান্ত সেধরনের ছেলেই ছিল না যে কোনও কিছুতে মন খারাপ করে এত বড় পদক্ষেপ নেবে। আমরা যখন একসঙ্গে থাকতাম, তখন আরও অনেক কঠিন পরিস্থিতি আমরা পার করেছি। সুশান্তের ঘরের বিভিন্ন ভিডিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছিল। অনেকেই বলছেন এটা আত্মহত্যা, তবে আমি বিশ্বাস করিনি। সুশান্ত ডায়েরি লিখত। আমরা যখন সম্পর্কে ছিলাম, তখন ও লিখেছিল আগামী ৫ বছর পর ও নিজেকে কোথায় দেখতে চায়। আর ও সেই জায়গায় নিজেকে পৌঁছেছিল অনেকেই ওকে দিমেরুর মানুষ বলছেন। আমি জোর গলায় বলতে পারি, ও মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিল না। ও খুবই আবেগপ্রবণ ছিল, একেবারে শিশুদের মতো। ও বলত ও চাষাবাদ করবে। আর কিছুই না হলে শর্টফিল্ম করবে। ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার ছেলে কখনওই নয়।' সূত্র: জিনিউজ | 2 |
পত্রিকা খুললেই পরীমণি, খুকুমণি আর দীপু মনিদের কাহিনি দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। তিনি বলেছেন, 'নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া জাতীয় কর্তব্য। কিন্তু পত্রিকা খুললেই পরীমণি, খুকুমণি আর দীপু মনিদের কাহিনি দেখলে বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্ম, নতুন প্রজন্ম হতাশ হয়। লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে পরীমণি আর খুকুমণিদের। এতে কাদের নেতৃত্ব দূষিত হয়? সমাজ দূষিত হয়? এটি একটি ষড়যন্ত্র।' বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৬তম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠজনদের চাঁদপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে কারসাজি করে ৩৫৯ কোটি টাকা বাড়তি নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক অনশন ভাঙান শিক্ষার্থীদের। এ প্রসঙ্গ টেনে সুলতান মনসুর বলেন, জাফর ইকবাল গিয়ে অনশন ভাঙিয়েছেন। সেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিলেন না। জাফর ইকবালকে সেখানে পাঠানোর জন্য সংসদ নেত্রী ব্যবস্থা করেছেন নিশ্চয়। এছাড়া বলেন, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। এ বিশ্বাস থাকলে জনগণকে নিয়েই এগোতে হবে। রাজনীতিবিদদের নিয়েই রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.