text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ বা ব্যক্তি এখন থেকে ইরানের সঙ্গে অস্ত্র কেনাবেচা করবে সেসব দেশ ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) থেকে ইরানের ওপর জাতিসংঘের আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হয়ে যাওয়ার পর পম্পেও এ প্রতিক্রিয়া জানালেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবিবার ওয়াশিংটনে এক বক্তব্যে বলেন, কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশ ইরানে অস্ত্র বিক্রি করলে বা ইরান থেকে অস্ত্র কিনলে ওয়াশিংটন সেই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। এছাড়াও পম্পেও দাবি করেন, ইরানের কাছে প্রচলিত সমরাস্ত্র বিক্রি কিংবা তেহরানের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা হবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনের শামিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়বে এবং 'সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর' হাতে বিপজ্জনক সমরাস্ত্র চলে যাবে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের ওপর কোনো নির্যাতন করা হয়নি। মঙ্গলবার (১৮ মে) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, তিনি না বলে সরকারি ফাইল নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেগুলোর ছবি তুলছিলেন। অনুমতি ছাড়াই ওই রুমে প্রবেশ করেছেন। এগুলো রাষ্ট্রীয় গোপন বিষয়। তিনি অন্যায় করেছেন। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, সাংবাদিক রোজিনাকে কোনো শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। এই তথ্য সঠিক নয়। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সাংবাদিক রোজিনা যে কাজটি করেছেন তা উচিত হয়নি। তিনি অন্যায় করেছেন। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে। তবে আমি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি একজন অতিরিক্ত সচিব। আমাকে তিনি টেলিফোনে বলেছেন, তিনি রোজিনাকে শারীরিক নির্যাতন করেননি। বরং রোজিনা তার উপর হামলা করেছিল। ঘটনার পর রোজিনাকে যখন আটকানোর চেষ্টা করা হয় তখন তিনি ওই অতিরিক্ত সচিবকে খামচি দিয়েছেন, থাপ্পড় মেরেছেন। এরপর পুলিশ আসলে তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, কোনো নির্দোষ লোক সাজা পাক এটা আমি চাই না। দেশের ক্ষতি হোক এরকমটা আমরা চাই না। তিনি অপরাধ না করে থাকলে আইনের মাধ্যমেই তা প্রমাণ হবে। আমরা সব সাংবাদিকদের সম্মান করি। আমরা সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার চেষ্টা করি। আমার বাসার দরজায় আসলেও আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলি। মন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিক রোজিনাকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে এটা ভুল। ঘটনার সময় সেখানে বিভিন্ন পদস্থ পাঁচ-ছয়জন উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর সেখানে পুলিশ এসেছে। ঘটনার আধাঘণ্টার মধ্যে পুলিশ এসেছে। আমার আগে এ খবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনেছেন। বরং রোজিনা সেখানে কাউকে সাহায্য করছিল না। তাকে জোর করে কেউ রুমে নিয়ে যায়নি। ফোনে ছবি তোলার বিষয়ে প্রমাণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফোনে ছবিগুলো পাওয়া গেলেই বুঝা যাবে তিনি তুলেছেন কি না। তাছাড়া আমি ছিলাম না সেখানে তাই এতোকিছু বলতে পারছি না। এর আগে সচিবালয়ের ভেতরে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করে তথ্য চুরির মামলা করার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডাকা সংবাদ সম্মেলন বর্জন করে বেরিয়ে গেলেন সাংবাদিকরা। মঙ্গলবার (১৮ মে) সকাল ১১ টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রিফিং আহ্বান করা হয়। সকল গণমাধ্যমকে স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রেখে সংবাদ কাভারেজের অনুরোধ জানান তারা। কিন্তু সহকর্মীর ওপর হামলা ও মামলার প্রতিবাদে বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের স্থান ত্যাগ করেন ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। এসময় বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বলেন, আমাদের সহকর্মী রোজিনাকে হেনস্থা করার ঘটনায় বিকাল থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আমরা সচিবালয়ে ছিলাম। কিন্তু আমরা এব্যাপারে জানতে বারবার সচিবের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। অথচ তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা না করে আমাদেরকে বারবার অপমানিত করেছেন। আজকের এই সংবাদ সম্মেলন আমরা বয়কট করছি। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি নেতারা ঘোষণা করবেন। | 4 |
'দুর্গ' হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় বিএনপি নিশ্চুপ। নির্বাচনে জিততে নানা কৌশল নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে অতটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারছে না তারা। কারণ নিজ দলের 'বিদ্রোহী' প্রার্থীরা তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতারাও নৌকার প্রার্থীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সোমবার বগুড়ার ১২ উপজেলায় ভোট হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই ১২ উপজেলাতেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির ৭ জন ও জামায়াতের ৫ জন। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে এবার বিএনপি ও জামায়াতের এই ১২ জন চেয়ারম্যান ভোটের মাঠে নেই। এর মধ্যে শেরপুর ও আদমদীঘি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সেখানে শুধু ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে। এই দুই উপজেলার মধ্যে শেরপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াতের আর আদমদীঘিতে বিএনপির। অন্য ১০ উপজেলার মধ্যে বগুড়া সদর, গাবতলী, সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা ও শাহজাহানপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির এবং শিবগঞ্জ, কাহালু, দুপচাঁচিয়া ও নন্দীগ্রামের বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াতের। ভোটের মাঠে দলীয়ভাবে না থাকলেও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী ভোটের মাঠে আছেন। তাঁদের অনেকেই ভোটযুদ্ধে শক্ত অবস্থানে আছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে। সূত্রমতে, চারটি উপজেলায় বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে আছেন। এর মধ্যে সোনাতলা উপজেলায় উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হকের সঙ্গে লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী সাংসদ আবদুল মান্নানের শ্যালক মিনহাদুজ্জামান লিটনের। বগুড়া সদরে বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি মাফতুন আহমেদ খানের সঙ্গে লড়াইয়ে আছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সুফিয়ানের সঙ্গে। বিএনপি-সমর্থক এ কিউ এম ডিসেন্ট আহমেদ গাবতলীতে প্রার্থী হয়েছেন। জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলীতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফি নেওয়াজ খান। শাজাহানপুরে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহবায়ক আবুল বাশারের সঙ্গে লড়াইয়ে আছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন। বিদ্রোহী নিয়ে বেকায়দায় নৌকা! সারিয়াকান্দি উপজেলায় নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির উপদেষ্টা মুনজিল আলী সরকার। তাঁর অভিযোগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বগুড়া-১ আসনের সাংসদ আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদার মান্নানের বিরুদ্ধে। মুনজিল বলেন, সাংসদপত্নী দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন এবং প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। যদিও সাহাদারা মান্নান এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। সেখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী। উপজেলা আওয়ামী লীগেরএকটি বড় অংশ সমর্থন দিচ্ছেন আবদুস সালামকে। আবার আঞ্চলিকতার জেরে শাহজাহান আলীও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কাজে লাগাতে তৎপর বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক পৌর মেয়র টিপু সুলতান। ধুনটে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই হলেও তাঁর পথে কাঁটা মনে করা হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাসুদুল হককে। মাসুদুল হক রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ জানিয়েছেন। এঁদের সঙ্গে ভোটের মাঠে লড়ছেন ধুনট পৌর বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি আলীমুদ্দিন হারুন মণ্ডল । দুপচাঁচিয়ায় নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী দুজন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ প্রামাণিক। সেখানে বিএনপির সাবেক নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এইচ এম নুরুল ইসলাম খান মাঠে আছেন। কাহালু উপজেলায় নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন কবিরাজের ছেলে আল হাসিবুল হাসান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশফিকুর রহমান ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। নন্দীগ্রামে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল আশরাফ। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আজিজুর রহমান। তাঁদের সঙ্গে লড়বেন জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি এস এম আবদুর রাফি পান্না। শিবগঞ্জ উপজেলায় নৌকার প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক। মাঠে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মজিবুর রহমানের ছেলে ও রায়নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ। জেলা মহিলা দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক বিউটি বেগম আছেন তাঁদের সঙ্গে। নির্বাচন বর্জনের ডাক বিএনপিরনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনবিরোধী অবস্থান নেওয়া হয়। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয় ৩০ নেতাকে। নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র কমিটি করেছে দলটি। বগুড়া-৪ আসন থেকে বিএনপির সাংসদ (এখনো শপথ নেননি) মোশারফ হোসেনের ভোট বর্জনের আহ্বান-সংবলিত একটি পোস্টার সাঁটানো হয়েছে নন্দীগ্রামে। তবে সাংসদ এই পোস্টার লাগানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'বিএনপি জনগণকে ভোট বর্জনে উৎসাহিত করতে কমিটি করেছে। যেসব কেন্দ্রে ভোট কম পড়বে সেসব কেন্দ্রের দলীয় নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিকভাবে পুরস্কৃত করার কথাও আমরা বলেছি।' টানা দুবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরও এবার ভোটে প্রার্থী হননি বগুড়া সড়র উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আলী আসগর হেনা। বগুড়া জেলা বিএনপির এই সহসভাপতি এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ভোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আছে। এ ছাড়া নির্বাচনকে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন যে পর্যায়ে নিয়ে গেছে, সেখানে নির্বাচন করার কোনো মানে হয় না। কাহালু উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা তায়েব আলীও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন। বিএনপির নেতারা মনে করেন, ভোটাররা ভোট দিতে যাবে না। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বিএনপির দুর্গ। এই দুর্গে আওয়ামী লীগ খালি মাঠে গোল দেবে বলে মনে করেন তাঁরা। জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্টর জামায়াত২০১৪ সালে বগুড়ার শেরপুর, নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া, শিবগঞ্জ ও কাহালু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছিলেন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরা। এবার দলটি কোনো প্রার্থী দেয়নি। এইপাঁচ উপজেলার মধ্যে শেরপুরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই বিজয়ী হওয়ার পথে। অন্য চারটির মধ্যে কাহালু উপজেলায় জামায়াতের সমর্থন আদায়ে তৎপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ সভাপতির ছেলে হাসিবুল হাসান। নন্দীগ্রাম উপজেলাতেও জামায়াতের সমর্থন আদায়ে তৎপর স্বতন্ত্র এক প্রার্থী। শিবগঞ্জে জামায়াতের সমর্থন আদায়ের তৎপরতা চালচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ। তবে এখন পর্যন্ত সব উপজেলাতেই জামায়াত নিশ্চুপ। কাহালু উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা তালেব আলী বলেন, 'আমরা ভোট দিতে যাব না। আর কাউকে সমর্থন করার প্রশ্নই আসে না, কারণ আমরা ভোট বর্জন করেছি।' বিএনপির বহিষ্কার তালিকা দীর্ঘদলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় এবং তৎপরতা চালানোয় জেলা ও উপজেলা বিএনপির ৩০ প্রভাবশালী নেতা বহিষ্কার হয়েছেন। তাঁরা হলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলম, সহসভাপতি রাফি পান্না, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান, শিবগঞ্জ উপজেলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম তাজুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মাছুদুর রহমান, বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য ও সারিয়াকান্দি পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. টিপু সুলতান, সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক গোলাপী বেগম, সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়াউল হক, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রঞ্জনা খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন তারা, জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মোছা. বিউটি বেগম, নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলেকজান্ডার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে আজাদ, কাহালু উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি শাহাবুদ্দিন, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মমতাজ আরজু কবিতা, ধুনট পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আকতার আলম সেলিম, পৌর বিএনপির সভাপতি আলিমুদ্দিন হারুন, বগুড়া সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মোছা. নাজমা আক্তার, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক মো. মাহিদুল ইসলাম, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল বাশার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহেরুল ইসলাম, শাজাহানপুর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সুলতান আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোছা. জুলেখা বেগম, উপজেলা মহিলা দলের সহসভাপতি মোছা. কোহিনুর বেগম, উপজেলা মহিলা দলের রহিমা খাতুন, জেলা ছাত্রদলের সহ স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মেহেরুল আলম, গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. আনোয়ার এহসানুল বাশার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া জেরীন, গাবতলী উপজেলা মহিলা দলের সদস্য সহমিনা আকতার এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক কমিশনার শ্যামল সরকার। | 9 |
অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম আসামি জেলখানা থেকে যে আপিল করেছিলেন, সেটি ছিল জেল আপিল। তিনজন বিচারপতি সে আপিল শুনানি করে ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর রায়ের মাধ্যমে তা খারিজ করে দেন। কিন্তু তিনি আরও একটি আপিল করেন, যেটি গতকাল বুধবার তালিকায় ছিল। সংবিধান সংশোধনের ফলে লিভ টু আপিল শুনানি হয় না, সরাসরি আপিল শুনানি হয়। যার কারণে ওই আপিলটি ওখানে ছিল।আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আমিন উদ্দিন।তিনি বলেন, উনার (আসামির) আইনজীবীর উচিত ছিল দুটি আপিল একসঙ্গে শুনানি করা, বা আদালতের দৃষ্টিতে নিয়ে আসা। যেহেতু তাঁরা দৃষ্টিতে আনেননি, তাই ওনার যে আপিল ছিল তা সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্টে শুনানি হয়ে ডিসমিসড হলো। এরপর তিনি (আসামি) রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করলেন, সেটিও ডিসমিসড হলো। ওনার আপিল এবং প্রাণ ভিক্ষার আবেদন খারিজ হওয়ার পরে স্বাভাবিকভাবে দণ্ড কার্যকর করা হলো। যেহেতু এই আপিলটা আলাদাভাবে করা হয়েছে, ট্যাগ করা হয়নি, এ কারণে রয়ে গেছে। বিচার তো হয়ে গেছে। ওনার আইনজীবীরা শুনানি করেছেন, আদালত সব কিছু শুনে বিচার করে খারিজ করে দিয়েছেন।অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আমাদের দেশে তো এখনো অ্যানালগ সিস্টেম। এখনো তো ডিজিটাল হয়নি যে একটা দিলেই সব চলে আসবে। আমি মনে করি, আইনজীবীদের দায়িত্ব হচ্ছে আদালতের নজরে নিয়ে আসা যে, এ আপিলের সঙ্গে আরও একটি আপিল আছে। আমরা যখন রিভিউ শুনানি করি তখন দেখি প্রতিটির ভেতর সমস্যার সম্মুখীন হই। দেখা যাচ্ছে যে, আপিল আসে না, তখন বলি সময় দেন সাত দিন, খুঁজে বের করতে হবে। আশা করি, এখন যেহেতু ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে, হয়তো এই সমস্যাগুলো থাকবে না। সব গুনাগুন বিচার করে আপিলে রায় দিয়েছেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।যশোর কারাগারে দুই আসামির দণ্ড কার্যকরের চার বছর পর গতকাল বুধবার আপিল শুনানির জন্য তালিকায় তোলা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে করা আপিলটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হলে আইনজীবী স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারেন, ২০১৭ সালেই দণ্ড কার্যকর হয়ে গেছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কখনোই আপিল শুনানি নিষ্পত্তির আগে সম্ভব নয়। সেটি কীভাবে হলো, তা নিয়ে বিস্মিত সংশ্লিষ্টরা।জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর কারাগারে চুয়াডাঙ্গা জেলার মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার মেম্বার হত্যা মামলায় দুই আসামি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা মোকিম ও ঝড়ুর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। | 6 |
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তাঁরা সম্পর্কে একে অপরের বেয়াই। গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া উড়াল সেতুর কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।এ ঘটনায় নিহতরা হলেন, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের বদিউজ্জামান শিকদারের ছেলে রুমন শিকদার (১৬) ও নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার তৌফিকুর মোল্যার ছেলে আতিক মোল্যা (১৫)।ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু রায়হান নাঈম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রুমন ও আতিক একটি মোটরসাইকেলে করে ভাটিয়াপাড়া থেকে পোনা গ্রামের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মোটরসাইকেলটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাটিয়াপাড়া উড়াল সেতুর কাছে পৌঁছালে খুলনাগামী গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই আতিক মারা যায়।পরে স্থানীয়রা আহত রুমনকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘাতক বাসটিকে গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। | 6 |
ঢাকাই শোবিজের এ প্রজন্মের তারকা তানহা তাসনিয়া। মূলত সিনেমাই তার ধ্যানজ্ঞান। তবে ইদানিং ছবি নিয়ে ব্যস্ততা একটু কম থাকার সুযোগে নাটকে কাজ করলেন তিনি। এ নায়িকাকে এবার ঈদের ৭টি নাটকে দেখা যাবে। নাটকগুলোতে তার বিপরীতে মোশাররফ করিম ও আফরান নিশোর মতো জনপ্রিয় তারকাদের দেখা যাবে। যে সাতটি নাটকে অভিনয় করেছেন সেগুলো হলো জাহিদ প্রীতমের পরিচালনায় 'ভয় করোনা', আদিবাসী মিজানের 'দাঁতাল', ভিকি জাহিদের 'কুয়াশা', তাইফুর জাহান আশিকের 'বউ ভীষণ পাওয়ারফুল', চয়নিকা চৌধুরীর 'বউ বদল', সাইদুর ইমনের 'টুয়েন্টি ফোর আওয়ারস' ও মারুফ হোসেন সজীবের 'দে কোপ'। তানহা বলেন, ঈদ উপলক্ষে যে নাটকগুলো করেছি প্রতিটি নাটকই এ সময়ের শীর্ষ অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে করেছি। পরিচালকরাও অনেক গুণী। দর্শকরা আমাকে বেশ ভালো গল্পের নাটকে পাবেন। এত নাটকের ভিড়ে রকিবুল আলম রকিবের 'বিয়ে আমি করবো না' শিরোনামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তানহা। ছবিটি ইতোমধ্যে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই ছবিটি সিনেমা হলে মুক্তি পাবে। এদিকে, ঈদের দিন থেকে নিজের নাটক দেখার পাশাপাশি অন্যদের নাটকও দেখবেন তানহা। তিনি বলেন, 'অন্য সময় ঈদে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো হলে গিয়ে দেখতাম। করোনার কারণে তো তা সম্ভব হচ্ছে না।' এবারের ঈদে পরিবারের সঙ্গে কোরবানি দিচ্ছেন তানহা। তিনি জানান, তাদের মিরপুরের বাসাতেই কোরবানির দেওয়া হবে। তার বাবাই সবকিছু তদারকি করবেন। উল্লেখ্য, রফিক শিকদারের 'ভোলা তো যায় না' ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন তানহা তাসনিয়া। এরপর অভিনয় করেন জাকির হোসেন রাজুর 'ভালো থেকো'। প্রথম দুই ছবিতে নায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন দেশের দুই জনপ্রিয় তারকা নীরব ও আরিফিন শুভকে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
ফিলিপাইনে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রাইয়ের আঘাতে মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২০৮ হয়েছে। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) দেশটির জাতীয় পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনে এ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার। ফিলিপাইনের জাতীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ২৩৯ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৫২ জন। খবর বিবিসির। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ফিলিপাইনে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে রাইকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ফিলিপাইন রেডক্রস বলেছে, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে উপকূলীয় এলাকা একেবারে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ফিলিপাইন রেডক্রসের চেয়ারম্যান রিচার্ড গর্ডন বলেন, ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ে অসংখ্য বাড়ির চালা উড়ে গেছে। গাছ উপড়ে পড়েছে। কংক্রিটের তৈরি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। কাঠের ঘর ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় রাইয়ের কারণে অনেক জায়গায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎসংযোগ। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের হাজারো কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত এলাকায় খাদ্য, পানি, চিকিৎসাসামগ্রীসহ কোস্টগার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনীর জাহাজও পাঠানো হয়েছে। | 3 |
বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন কুয়োয় পড়ে মৃত্যু হলো অন্তত ১৩ জন নারী-শিশুর। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের কুশিনগরে। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। কুশিনগরের নেবুয়া নওরঙ্গিয়া গ্রামে একটি বাড়িতে চলছিল বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। বাড়ির উঠোনে সবাই জড়ো হয়েছিলেন। উঠোনেই একটি পুরনো কুয়ো কংক্রিটের স্ল্যাব দিয়ে ঢাকা ছিল। সেখানে কেউ বসে, আবার কেউ দাঁড়িয়ে দেখছিলেন গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। এমন সময় ভেঙে পড়ে কংক্রিটের স্ল্যাবটি। অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন নারী ও শিশু পড়ে যান কুয়োর ভিতরে। মুহূর্তে হুলস্থুল পড়ে যায় বিয়েবাড়িতে। উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন সকলে। গ্রামবাসীরা শিশু ও নারী মিলিয়ে ১৫ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছে। ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন নারী ও শিশু। জেলা প্রশাসক এস রাজালিঙ্গম বলেন, কুয়োয় পড়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানতে পেরেছি, নারীরা বাচ্চাদের নিয়ে কুয়ো ঢাকার স্ল্যাবের উপর বসে ছিলেন। কেউ কেউ দাঁড়িয়েও ছিলেন। কিন্তু স্ল্যাবটি ভার ধরে রাখতে পারেনি। স্ল্যাব ভেঙে সবাই কুয়োয় পড়ে যান। মৃতদের পরিবারকে এককালীন ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উত্তরপ্রদেশের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ। | 3 |
যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনারা আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রায় দুই দশক পর আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি ত্যাগ করলেন বিদেশি সেনারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, 'বাগরাম বিমানঘাঁটি থেকে সামরিক জোটের সব সেনা চলে গেছেন।' সবশেষ বিদেশি সেনা কবে কখন বাগরাম বিমানঘাঁটি ছেড়েছেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। আফগান বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কবে এই বিমানঘাঁটি হস্তান্তর করা হবে, সে সম্পর্কেও তিনি কিছু বলেননি। আফগানিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, আফগান বাহিনীর কাছে বিমানঘাঁটিটি আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে বাগরাম বিমানঘাঁটি অবস্থিত। গত শতকে স্নায়ুযুদ্ধের সময় এই বিমানঘাঁটি তৈরি করা হয়। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমানঘাঁটি ছিল বাগরাম। আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী এত দিন এই বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে আসছিল। আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সংশ্লিষ্টতার সময় এই বিমানঘাঁটিতে হাজারো সেনার উপস্থিতি ছিল। বাগরাম বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করেই গত দুই দশক আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাবাহিনীর তৎপরতা পরিচালিত হয়। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের কমান্ড স্থাপিত হয় এই বিমানঘাঁটিতে। কারাগার হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে চলা আফগান যুদ্ধের ইতি টানছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের আগে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব সেনা প্রত্যাহার করবে। এ লক্ষ্যে জোরেশোরে কাজ চলছে। প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। সেনা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গত ১ মের আগেই ছয়টি সামরিক ঘাঁটি আফগান বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন, আমেরিকার দীর্ঘতম আফগান যুদ্ধের সমাপ্তি টানার সময় এসেছে। ১ মে থেকে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়ে ১১ সেপ্টেম্বরের আগে তা শেষ হবে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০১ সালে আফগান যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। একসময় ৯৩ হাজারের বেশি মার্কিন সেনার উপস্থিতি ছিল আফগানিস্তানে। এপ্রিলে বাইডেন যখন এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন, তখন আফগানিস্তানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। | 3 |
মাদারীপুর খাগদী এলাকায় শেখ হাসিনা মহাসড়কের পাশে পুরোনো সেই ময়লার ভাগাড়ে এখন উঁকি দিচ্ছে নানান শাকসবজি। পৌরসভার ময়লার ভাগাড়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় বদলে গেছে পুরো এলাকার পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা বছরজুড়ে এখানে চাষ করছেন লালশাক, পুঁইশাক, বেগুনসহ অন্য শাকসবজি।জানা গেছে, মাদারীপুর পৌর-শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো খাগদী এলাকার শেখ হাসিনা মহাসড়কের পাশে। ময়লার স্তূপ জমে ধীরে ধীরে হুমকির মুখে ছিল পুরো এলাকার পরিবেশ। ওই সড়কে চলাচল করা সাধারণ মানুষ ময়লার দুর্গন্ধে ছিল অতিষ্ঠ। বিশেষ করে দুর্গন্ধে এবং দূষণের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি ছিল চরমে। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষকে বাঁধা দিলে ময়লার ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এতে কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলে যায় পুরো এলাকার পরিবেশ। ময়লার ভাগাড়ের ভেতরে ও আশপাশের ৬ শতাংশ জমিতে সারা বছরজুড়ে চাষ হচ্ছে নানা রকম শাকসবজি।সরেজমিনে পুরোনো সেই ময়লার ভাগাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ময়লা আবর্জনার ছোট ছোট স্তূপ। তার মধ্যে উঁকি দিচ্ছে সবুজ শাকসবজির গাছ। দক্ষিণা বাতাসের আলতো ছোঁয়ায় দুলতে থাকা এই সবজি যে কারও চোখ জুড়াবে। মাত্র এক মাসেই কোনো প্রকার সার বা পরিচর্যা ছাড়াই অধিক ফলন হয়েছে সবজির। ময়লার ভাগাড়ের ওপর এমন সজীব সতেজ এই সবজি চাষ দেখে মুগ্ধ সাধারণ মানুষ। চাষ করা সবজি দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি অংশ স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করছেন চাষিরা।স্থানীয় বাসিন্দা রহিমন নেছা বলেন, 'আগে ময়লার দুর্গন্ধে ঘরে থাকতে পারতাম না। পৌরসভার ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেওয়ার পর এলাকার পরিবেশ বদলে গেছে। দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেয়েছে। সঙ্গে এই জমিতে গত কয়েক বছর ধরে সবজি চাষ করছি। কিছু খাওয়া হয়। আবার কিছু বাজারে বিক্রি করে থাকি। তাতে বাড়তি আয় হয়। এখানে ফলন ভালো হয়। কিন্তু গত বছর বৃষ্টির কারণে ফলন তেমন ভালো হয়নি।এক পথচারী বলেন, 'একটা সময় এখন দিয়ে চলার সময় ময়লার দুর্গন্ধে বমি আসত। ময়লার ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় পুরো এলাকার পরিবেশ অনেকটা স্বাভাবিক। তা ছাড়া পুরোনো ময়লার স্তূপের মধ্যে এমন শাকসবজির চাষ দেখে অবাক লাগছে।'ময়লার ভাগাড়ে উৎপাদিত এই সবজি কতটা নিরাপদ তা জানাতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, 'এখানে যারা সবজি চাষ করছেন তাঁরা কোনো রাসায়নিক সার প্রয়োগ করছেন না। ময়লার ভাগাড়ের বর্জ্য পচে জৈব সারে পরিণত হয়েছে। ফলে গাছের ফলন ভালো হচ্ছে। কিন্তু একটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে যে, কারখানার ভারী কোনো ধাতব পদার্থ এখানে ফেলা হয়েছে কি না। কারণ সবজিতে মাত্রাতিরিক্ত ধাতব পদার্থ থাকলে তা থেকে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।' | 6 |
চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে এবার আতপ চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর আগে এক আদেশে সিদ্ধ চাল ও ব্রোকেন রাইসের ক্ষেত্রে আরোপনীয় আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পরিমাণ এবং সমুদয় সম্পূরক শুল্ক হতে শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় আতপ চালকে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো: রহমাতুল মুনিম সই করা আদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশোধিত আদেশে শর্ত সাপেক্ষে একই সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্কসহ বিভিন্ন চার্জ মিলিয়ে মোট ৬২.৫০ শতাংশ কর দিতে হতো। এর ফলে বাসমতি ও এ্যারোমেটিক চাল ছাড়া সকল ধরণের চাল আমদানিতে এই শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে। আর এই আদেশ আগামি ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে নন বাসমতি আতপ চালের শুল্ক কমানোর জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করে চিঠি দেয়। গত ৭ জানুয়ারি চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। যে আদেশে সিদ্ধ চাল ও ব্রোকেন রাইসের ক্ষেত্রে আরোপনীয় আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পরিমাণ এবং সমুদয় সম্পূরক শুল্ক হতে শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। শর্তের মধ্যে রয়েছে প্রজ্ঞাপনের আওতায় রেয়াতি হারে চাল আমদানির পূর্বে প্রতি চালানের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মনোনীত যুগ্মসচিব পদর্যাদার কর্মকর্তা হতে লিখিত অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। এর আগে ২৭ ডিসেম্বর শুল্ক কমিয়ে ঘোষণা দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চালের দাম নিয়ে ভোক্তাদের যাতে কষ্ট না হয়, আবার কৃষকও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। সেজন্য নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় চাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। | 6 |
মাদারীপুরের মাইক্রোবাসের ধাক্কায় আয়েশা আক্তার নামের এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। গতকাল দুপুরে মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়কের পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছাত্রীর পরিবার এ ঘটনার বিচার দাবি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেয়নি।জানা গেছে, বাবার ভ্যানে স্কুলে যাচ্ছিল আয়েশা আক্তার। পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি মাইক্রোবাস ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি উল্টে যায় এবং পড়ে আয়েশা গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।নিহত আয়েশা আক্তার সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর এলাকার জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের মেয়ে। সে চৌরাস্তা এলাকায় জাগরণী ফাউন্ডেশন নামে একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।এ বিষয়ে নিহতের বাবা জাহাঙ্গীর মাতুব্বর বলেন, 'ভ্যানে করে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার পথে চৌরাস্তা এলাকায় পেছন থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ধাক্কা দেয়। এতে আয়েশা গুরুতর জখম হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। মাইক্রোবাসটি বেপরোয়াভাবে চালানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর আমি হারালাম মেয়েকে। তবে মুহূর্তের মধ্যেই মাইক্রোবাসটি পালিয়ে যায়। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।'সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, 'ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। যদি তাঁরা অভিযোগ দেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা যায়নি।' | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে আবারো ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার রাতে আট ঘণ্টা বন্ধ ছিল ট্রেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়। শনিবার সন্ধ্যা থেকে ফের ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে। এ দিকে রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক ভাংচুরের কারণে প্যানেল বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রেনের যাত্রা বিরতি বাতিল করা হয়েছে। যে কারণে শনিবার ওই রেলওয়ে স্টেশনে কোনো ট্রেন থামেনি। আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের একটি সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ ও হতাহতের পর পরিস্থিতি অবনতি হলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। যে কারণে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে নোয়াখালীগামী আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা স্টেশনে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি, আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেস আখাউড়া স্টেশনে আটকা পড়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। আট ঘণ্টা ট্রেন বন্ধএর আগে আট ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ। শুক্রবার বিকেলে বন্ধের পর ওই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল। স্টেশনের সিগন্যাল প্যানেলসহ সবকিছু আগুনে পুড়িয়ে দেয়ায় বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী, হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন। স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হরষপুর রেলওয়ে স্টেশন ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের আজমপুর রেলওয়ে স্টেশন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে ভাদুঘর এলাকায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ও মহানগর গোধূলি কসবা রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়েছিল। আর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন দৌলতকান্দি রেলওয়ে স্টেশন, নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস নরসিংদীর মেথিকান্দায় আটকা পড়েছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করে। আর রাতে আখাউড়া থেকে রেলওয়ের লোকজন ও পুলিশ এসে রেললাইন পরিষ্কার ও মেরামতের কাজ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সোহেব আহমেদ বলেন, মাদরাসাছাত্ররা স্টেশনের সবকিছু পুড়িয়ে ফেলেছেন। এ কারণে বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। সকল আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রাবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতপ্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-নোয়াখালী রেলপথে চলাচলকারী ১৪টি আন্তঃনগর ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পূর্বাঞ্চল রেলপথে চলাচলকারী সকল ট্রেনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে নির্ধারিত যাত্রাবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো: শোয়েব আহমেদ জানান, 'পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে সকল আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি স্থগিত রাখা হবে। তবে মেইল ট্রেনের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আমাদের দেয়া হয়নি। যারা আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কেটেছেন তাদেরকে টিকিটের মূল্য ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।' | 6 |
ফরিদপুরে ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতন বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রেসক্লাবে মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) ফরিদপুর জেলা শাখার আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফসা বিনতে হায়দার।সংবাদ সম্মেলনে এনসিটিএফ ফরিদপুর জেলা শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোভিড-১৯ এ মহামারির সময়ে বেড়েছে বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মতো ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও দেশে গণমাধ্যমের দিকে তাকালেই এ চিত্র ফুটে উঠে। আমরা এই খবরগুলো দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি। করোনার এই সময়ে ১৩ শতাংশ শিশু বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এ সময় সংগঠনটির নেতারা বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি তোলেন।এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফাইয়াজ খান, শিশু গবেষক-তুষার আবদুল্লাহ, শাহরিন ইসলাম মাহিন, ঊর্মি আক্তার প্রমুখ।লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, এনসিটিএফের পক্ষ থেকে দেশের প্রচলিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এবং শিশু আইন ২০১৩ এর সঠিক ও কার্যকরী বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিশু নির্যাতন ও বাল্য বিবাহের জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মনি, পান্না বালা, মফিজুর রহমান, মাহাবুব ইসলাম পিকুল, এস এম রুবেল প্রমুখ। | 6 |
ইতিহাসের পাতায় ২০২০ সাল চিহ্নিত হয়ে থাকবে করোনার বছর হিসেবে। তার মধ্যেও নতুন স্বাভাবিকতায় মাঠে খেলা ছিল। ছিল মাঠ ও মাঠের বাইরে আনন্দ-বেদনার কাব্য। সেসব নিয়েই ফিরে দেখা ২০২০ বছর যায়, বছর আসে, কিন্তু আর কোনো বছর কি এতটা দীর্ঘ লেগেছে? কুড়ি-কুড়ি যেন বিষের বাঁশি। করোনা-গরল উগরে দেওয়া এ বছরে ক্রীড়াঙ্গনেও থামেনি মৃত্যুর মিছিল। থামেনি? বছর শেষ হতে এখনো যেহেতু দু-তিন দিন বাকি, তাই নিশ্চয়তা দেওয়ার সাহস দেখাবে কে! সেদিনও এমন শীতে কোবি ব্রায়ান্টের মৃত্যুর খবর অনেকে বিশ্বাস করেননি। সবে ২৬ জানুয়ারি, নতুন বছরে আমেজ কাটেনি। করোনাও সেভাবে ডালপালা মেলেনি। এর মধ্যে মাঝরাতে খবর এল, লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় কোবি ব্রায়ান্ট চলে গেছেন! 'ব্ল্যাক মাম্বা' খ্যাত তুমুল জনপ্রিয় এই বাস্কেটবল কিংবদন্তির ফুটফুটে মেয়েটাও বেঁচে নেই। তখন কে জানত, এ বছর ক্রীড়াঙ্গনেও সবচেয়ে আলোচিত শব্দগুলো হবে 'মৃত্যু', 'স্থগিত' ও 'বাতিল'। সাফল্য, শিরোপা, অবসর-এসব কথা পারতপক্ষে ঠোঁটে উঠবে না। করোনায় বাতিল হয় উইম্বলডন, বোস্টন ম্যারাথন ১২৪ বছরের ইতিহাসে বাতিল হয়েছে এবারই প্রথম, তেমনি নিউইয়র্ক, প্যারিস, শিকাগো ও বার্লিন ম্যারাথনও বাঁচেনি এ ভাইরাসের গ্রাস থেকে। যেখানে অলিম্পিকই পেছাতে হয়েছে, এসব তো সে তুলনায় নস্যি! হ্যাঁ, টোকিও অলিম্পিক হওয়ার কথা ছিল এ বছর। কিন্তু করোনার কারণে সেটা পিছিয়ে আগামী বছর নেওয়া হয়। এভাবে পেছানো হয়েছে এনবিএ, এমএলবি (বেসবল), এনএইচএল (হকি), ফ্রেঞ্চ ওপেন (টেনিস), এটিপি (টেনিস), মাস্টার্স (গলফ), ইউরোপিয়ান ট্যুর (গলফ), ফর্মুলা ওয়ান (অটো রেসিং) ও ট্যুর ডি ফ্রান্স। তবু খেলার মাঠ কিংবা কোর্ট একেবারে ফাঁকা থাকেনি। কথায় আছে 'দ্য শো মাস্ট গো অন'। এ কথা মেনে কোর্টে গড়ায় ইউএস ওপেন। সেখানে অফিশিয়ালের গায়ে বল মেরে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন টেনিসের 'বিগ থ্রি'র একজন-নোভাক জোকোভিচ। সেই টুর্নামেন্ট জিতে টেনিসে নতুনের গান শোনান ডমিনিক থিম। এ বছরই মারিয়া শারাপোভা তুলে রাখেন র্যাকেট। অবসর! কিংবদন্তি বাবার পথে হেঁটে এ বছর ফর্মুলা টু জেতেন মিক শুমাখার। তাঁর বাবার নামটা না বললেও চলে। লুইস হ্যামিল্টন মিকের বাবার নামটা আরও জোরেশোরে তুলে ধরেছেন এ বছর। যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ সাতবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের রেকর্ড গড়ে মাইকেল শুমাখারকে ছুঁয়ে ইতিহাস গড়েছেন কিংবদন্তি। আর গ্রাঁ প্রিঁ জয়ে তো এ বছর শুমাখারকেও ছাড়িয়ে গেছেন হ্যামিল্টন। ফর্মুলা ওয়ানে যেমন হ্যামিল্টন, বাস্কেটবলে তেমনি লেব্রন জেমস। এ বছর এনবিএ ফাইনালে চতুর্থবারের মতো এমভিপি (মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার) হন জেমস। এনবিএর ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আলাদা তিনটি দলের হয়ে এমভিপি হওয়ার রেকর্ড গড়েন জেমস (মায়ামি হিট, লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্স ও ক্লিভল্যান্ড ক্যাভেলিয়ার্স)। জেমসের এ সাফল্যের বছরে ব্যতিক্রমী অর্জনে সবাইকে চমকে দেন মাইক টাইসন। মুষ্টিযুদ্ধে একসময়ের এই অবিসংবাদিত কিংবদন্তি গত মাসে ফিরে আসেন রিংয়ে। ৫৪ বছর বয়সী টাইসন আরেক চ্যাম্পিয়ন রয় জোনস জুনিয়রের বিপক্ষে রিংয়ে যেন অন্য মানুষ হয়ে নেমেছিলেন। ১৫ বছর পর রিংয়ে ফেরার আবেগ সামলাতে না পেরে তাঁর চোখ ভিজেছিল জলে। ৫১ বছর বয়সী জোনসের বিপক্ষে তাঁর ড্র মনে রাখবেন অনেকে। আরেক কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা টাইসন ফিউরি অবসর ভেঙে ফিরে আসেন এ বছর। কারণ হিসেবে বলেন, তাঁর 'আর কিছুই করার নেই।' ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত লড়াই করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন প্রথম মুষ্টিযোদ্ধা হিসেবে ডব্লুবিএ, আইবিএফ, ডব্লুবিসি, ডব্লুবিও এবং রিং ম্যাগাজিন শিরোপাজয়ী এ কিংবদন্তি। সাঁতারে কিছুদিন আগে দারুণ সুখবর পান চীনের বিশ্ব রেকর্ডধারী সাঁতারু সুন-ইয়াং। ফ্রিস্টাইলে তর্কযোগ্যভাবে সর্বকালের সেরা এই সাঁতারুর ডোপ নেওয়ার অভিযোগে ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের রায় দেন সুইস আদালত। বিষয়টি তারা খেলাধুলার সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে পুনরায় স্থানন্তর করে। এর মধ্য দিয়ে টোকিও অলিম্পিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দ্বার খুলে যেতে পারে সুনের। | 12 |
চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ আগের দুটি ম্যাচে পেনাল্টি থেকে চারটি গোল করেছিলেন জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বুধবার আটালান্টার বিপক্ষেও পেনাল্টি পেয়েছিলেন তারা। সেখান থেকে রোনালদো লক্ষ্যভেদ করতে পারলে অনায়াসে জয় নিয়ে ফিরতে পারত তুরিনের বুড়িরা। পর্তুগিজ ফুটবলারের পেনাল্টি মিসের কারণে তার দল জুভেন্টাসও হোঁচট খেয়েছে। ম্যাচটি শেষ হয়েছে ১-১ গোলে ড্রয়ে। ২৯তম মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে দলকে এগিয়ে নেন চিয়েসা। রদ্রিগো বেন্তানকুরের পাস ধরে ডিফেন্ডারদের বাধা এড়াতে ডি-বক্সের বাইরে আড়াআড়ি খানিকটা এগিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড। জুভেন্টাসের হয়ে সিরি আয় এটা তার প্রথম গোল। দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় জুভরা স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন রোনালদো। এর তিন মিনিট আগে আটালান্টাকে একক নৈপুণ্যে সমতায় ফেরান রেমো ফ্রিলার। তাতে ১-১ গোলে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় উভয় দলকে। এ ড্রয়ের ফলে ছয় জয়ে ১২ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে জুভেন্টাস। ১১ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে আটালান্টা আছে আটে। | 12 |
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, ব্যাংক খাতের দুরবস্থা ও করোনাভাইরাসের মহামারির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মশিউল আলম। প্রথম আলো: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন কেমন দেখছেন? জাহিদ হোসেন: অর্থনৈতিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য যে সূচককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা চূড়ান্ত হিসেবে ধরা হয়, সেটা হলো উৎপাদন ও ব্যয়ের অবস্থা। মানে প্রবৃদ্ধির অবস্থাটা কী। কিন্তু আমরা বছর চলাকালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে সরাসরি কোনো তথ্য পাই না; যেমন অন্য অনেক দেশে পাওয়া যায়। যেমন ভারতে, শ্রীলঙ্কায় প্রতি প্রান্তিকের হিসাব পাওয়া যায়। আমাদের দেশে সেই ব্যবস্থা নেই; কাজেই আমাদের নির্ভর করতে হয় জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত সূচকগুলোর ওপর সেগুলোর প্রবণতার ওপর। তা-ও খুব বেশি সংখ্যক সূচক যে আছে, তা নয়। প্রথম আলো: চলতি অর্থবছরে সেই সূচকগুলো কেমন? জাহিদ হোসেন: বাণিজ্য দিয়ে যদি শুরু করি, এখানে রপ্তানি একটা বড় খাত। সেখানে বছরের শুরু থেকেই একটা নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে। তারপর আপনি যদি বিনিয়োগ দেখেন, সেখানেও প্রবণতা নেতিবাচক। যেসব সরাসরি তথ্যের ভিত্তিতে পরিসংখ্যান ব্যুরো বিনিয়োগের হিসাব করে, সেগুলো হচ্ছে যন্ত্রপাতির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং বিদেশ থেকে আমদানি। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খুব বেশি নয়, আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বেশির ভাগই আসে দেশের বাইরে থেকে। এসব যন্ত্রপাতি অর্থাৎ ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিও আগের অর্থবছরের তুলনায় নেতিবাচক। অর্থাৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একটা দুর্বল পরিস্থিতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তৃতীয়ত হলো ব্যক্তি খাতের ভোক্তা ব্যয়, এটা আমাদের জিডিপির সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ৬৫ শতাংশ। এটা সম্পর্কে সরাসরি কোনো তথ্য নেই; তবে ভোক্তা পণ্য বিক্রি করে এমন বড় কোম্পানি, যারা শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত, তাদের বিক্রি সম্পর্কিত যেসব স্টেটমেন্ট সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে; সেখানেও দেখা যাচ্ছে যে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের বিক্রি কমে গেছে। এর সঙ্গে যদি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ধরা হয়, সেখানে দোকানের সংখ্যা, ক্রেতার সংখ্যা, বিক্রির পরিমাণ ইত্যাদি নিয়ে মেলার শেষে যে তথ্যগুলো বেরিয়েছে, সেখানেও দেখা যাচ্ছে যে আগের বছরের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যাও কম ছিল, বিক্রির পরিমাণও কমে গেছে। ভোক্তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে দুর্বলতার এটাও একটা লক্ষণ। প্রথম আলো: সব খাতে সূচক এভাবে কমার প্রবণতার কারণ কী? জাহিদ হোসেন: ভোক্তা ব্যয় বাড়ারও কিছু উপাদান আমরা লক্ষ করেছি। যেমন প্রবাসী আয়। ইদানীংকালে, অর্থাৎ ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি বেশ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। তারপর একটু কমলেও এখনো ২০ শতাংশের ওপরে আছে। প্রথম আলো: এটার কারণ কী? জাহিদ হোসেন: কী কারণে বেড়েছে সে বিশ্লেষণ অন্য বিষয়, কিন্তু এটা ভোক্তা ব্যয়ের, বিশেষ করে গ্রামের অর্থনীতিতে ভোক্তা ব্যয়ের একটা বড় ধরনের ভিত্তি। তাহলে যদিও কিছু কিছু লক্ষণ আছে যে ভোক্তা ব্যয় এখন আগের মতো শক্তিশালী নেই, তবে প্রবাসী আয় বাড়ার কারণে মনে হচ্ছে যে তা হয়তো অতটা দুর্বল নয়। তাহলে, রপ্তানি কমার ফলে এই খাতের লোকজনের আয় কমে যাওয়ার কারণে ভোক্তা ব্যয়ের ওপরে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে হয়তো সেটার কিছুটা ক্ষতিপূরণ হচ্ছে। আবার ধরেন, কৃষিতে উৎপাদনে বাম্পার ফলন আবার আগের মতো হচ্ছে; ফলে এই খাতে আয় না বাড়লেও খুব বেশি কমেনি। অর্থাৎ, রপ্তানি ও বিনিয়োগ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আয় হয়তো কমেছে; কিন্তু প্রবাসী আয় ও কৃষির ওপর যাঁরা নির্ভরশীল, তাঁদের আয় কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রবৃদ্ধির তিনটা উৎসের মধ্যে রপ্তানি ও বিনিয়োগ-এই দুই খাতে আমরা নেতিবাচক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি; কিন্তু ভোক্তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সঠিক অবস্থাটা কী তা বলা মুশকিল, তবে সম্ভবত অতটা নেতিবাচক নয়। আমাদের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তির মধ্যে হলো রপ্তানি ও ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ; সেদিকে যেহেতু দুর্বলতা আছে, তাই আমাদের প্রবৃদ্ধি যে আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে, এটা অন্যান্য সূচকের ভিত্তিতেও মোটামুটি বলা যায়। প্রথম আলো: রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ কী? জাহিদ হোসেন: চীন ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে যে ট্রেড ডাইভারশন হয়েছে, তার কিছু সুফল আমরা গত বছর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখেছি। তার আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি বেশি হয়েছিল। চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে আমেরিকান ক্রেতারা যেসব পণ্য চীন থেকে কিনত, এখন সেগুলো অন্যান্য দেশ থেকে কিনছে, সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। আশা করা হয়েছিল যে এটা চলবে। কিন্তু এ বছর দেখা যাচ্ছে যে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি তো নেই-ই, বরং তা নেতিবাচক। তার মানে, চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে যে ট্রেড ডাইভারশন ঘটেছে, সেটার ভাগ পাওয়া আমরা ধরে রাখতে পারিনি; ভিয়েতনাম ও অন্যান্য দেশ যেভাবে পেরেছে। আমাদের রপ্তানি কমার এটা একটা কারণ। আর একটা কারণ হলো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দুর্বল হয়েছে; ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অর্থনীতিগুলোতে মন্দার ভাব দেখা গেছে। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্সের মতো বড় অর্থনীতির দেশ, যেখানে আমাদের রপ্তানিপণ্যের বড় উপস্থিতি আছে, সেখানে চাহিদার দুর্বলতা লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রথম আলো: চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের সুফল আমরা কেন ধরে রাখতে পারলাম না? ভিয়েতনামসহ অন্যরা কেন পারছে? জাহিদ হোসেন: একটা কারণ হতে পারে, ট্রেড ডাইভারশনের ফলে বিকল্প রপ্তানিকারক হিসেবে ক্রেতারা আমাদের ঠিক আস্থায় নিতে পারছে না, বা স্বস্তি বোধ করছে না। প্রথম আলো: কেন? জাহিদ হোসেন: কারণ, বিদেশি ক্রেতারা সংশয় বোধ করছে, তারা আমাদের পণ্য কিনতে চাইলে আমরা তা সময়মতো তাদের কাছে ঠিক সময়মতো সরবরাহ করতে পারব কি না, এই নিয়ে তারা একটা আস্থার সংকটে ভুগছে। আমার ধারণা, এই আস্থার সংকটের বড় কারণ দুটো। একটা হলো আমাদের বন্দরের দক্ষতার ঘাটতি; রপ্তানিপণ্য যদি আপনি আপনার ক্রেতার কাছে সময়মতো পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে কিন্তু তাদেরও সেটা বিক্রি করতে অনেক কষ্ট পেতে হয়। দ্বিতীয় কারণটা, আমরা ক্রেতাদের কাছ থেকে যেমনটা শুনেছি, ধরেন আমি আপনাকে একটা পণ্যের অর্ডার দিলাম, আপনাকে তো সেই পণ্য তৈরির জন্য উপাদানগুলো কিনতে হবে, শ্রমিকদের মজুরি দিতে হবে, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ খরচ ইত্যাদি দিতে হবে। এসবের জন্য তো আপনার অর্থায়নের প্রয়োজন। সেটা আপনি কীভাবে পাবেন, ঠিকমতো পাবেন কি না-এটা তাদের একটা সংশয়। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অবস্থা ভালো নয়, এই খবর বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে গেছে। এখানে সবাই ঋণ পাচ্ছে না... প্রথম আলো: এটা বিদেশিরা জানতে পেল কীভাবে? জাহিদ হোসেন: এ বিষয়ে তো সংবাদমাধ্যমে লেখা হচ্ছে; আমাদের রপ্তানিকারকেরাও তাদের বলছেন। কেউ কেউ ক্রেতাদের কাছে এ প্রসঙ্গটা তুলছে যে আমরা আমাদের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ পাচ্ছি না, তোমরা আমাদের অর্থায়ন করো। এমন কথা শুনেই তো তারা বলছে যে আমি যদি তোমাকে অর্থায়ন করতে না পারি, তাহলে তুমি পণ্য সরবরাহ করতে পারবে কি না। এসব কথা তো মুখে মুখে ছড়িয়ে যায়। তারা ভাবছে, বাংলাদেশের ছোট ছোট শিল্পকারখানা যদি ব্যাংক থেকে ঋণ না পায়, তাহলে তারা আমাদের সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারবে কি না। আমাদের রপ্তানি কমার আর একটা কারণ আছে, সেটা হলো মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে আমাদের টাকা অতি-মূল্যায়িত। আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো যেভাবে তাদের মুদ্রা অবমূল্যায়িত করেছে, আমরা সেভাবে পারিনি। তার ফলে আমাদের রপ্তানিকারকেরা পণ্যের দামের প্রতিযোগিতায় অন্যান্য দেশের কাছে মার খেয়েছেন। এই তিনটা বড় কারণে আমরা রপ্তানি খাতে আমাদের আগের অবস্থানটা ধরে রাখতে পারিনি। যেমন আমেরিকার তৈরি পোশাকের বাজারে আমাদের যে দ্বিতীয় অবস্থান ছিল, সেখানে এখন ভিয়েতনাম চলে গেছে। আমরা এখন তৃতীয় অবস্থানে চলে গেছি। যদিও আমাদের দেশে শ্রম তুলনামূলকভাবে সস্তা, তবু আমরা সার্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছি মূলত তিনটা কারণে, যেগুলোর কথা এতক্ষণ বললাম। প্রথম আলো: আমাদের বিনিয়োগ কমার কারণগুলো কী? জাহিদ হোসেন: আমাদের ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ কয়েক বছর ধরে ২২ থেকে ২৩-এর মধ্যে স্থবির হয়ে আছে। একটু বাড়ে, একটু কমে। জিডিপির অনুপাতে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ স্থবির। এর একটা বড় কারণ কাঠামোগত সমস্যা। আপনি যদি ব্যবসায়িক পরিবেশের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দেখেন, তাহলে গত বছর আমাদের আট ধাপ উন্নতি হওয়ার পরও ১৯০টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ১৬৮তে। তার মানে ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৬৭টি দেশই ব্যবসায়িক পরিবেশের দিক থেকে আমাদের ওপরে আছে। বিনিয়োগ মানে হলো আপনি হয় একটা নতুন ব্যবসা শুরু করবেন, অথবা আপনার যে ব্যবসা ইতিমধ্যে আছে, তা সম্প্রসারণ করবেন। আপনি যা-ই করতে যান, আপনাকে একটা রেগুলেটরি প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একেবারে নতুন কোম্পানি হলে আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে, ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে, ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট লাগবে (বাংলাদেশে এমন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আমদানির ওপর নির্ভরশীল নয়); একটা কারখানা স্থাপন করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র লাগবে। একটা নতুন ব্যবসা শুরু করতে গেলে বিভিন্ন রেগুলেটরি শর্ত পূরণ করতে আপনাকে প্রায় ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছে যেতে হবে। আর কাজগুলো যে সময়মতো মসৃণভাবে সম্পন্ন হবে তা নয়। আপনাকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বারবার ধরনা দিতে হবে। আপনার অনেক সময় ব্যয় হবে। ডুয়িং বিজনেস সূচকে যে হিসাব করা হয়, তার একটা হলো প্রক্রিয়াগুলো শেষ করতে কত সময় লাগে, আর কাগজে-কলমে, মানে অফিশিয়ালি কত ব্যয় হয়। আন অফিশিয়াল ব্যয়টা কিন্তু ধরা পড়ে না। কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস হলো অফিশিয়াল কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস। আপনি সরকারকে কত টাকা দিচ্ছেন। আপনার কিন্তু আরও খরচ আছে, সেটা আন অফিশিয়াল; সেটা খুব বড় খরচ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের খরচ। তারপরও অফিশিয়াল হিসাবের দিক থেকেও আমরা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রায় সব দেশের চেয়ে পিছিয়ে আছি। আমাদের অবস্থান বদলাবদলি হয় একমাত্র আফগানিস্তানের সঙ্গে। দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান ছাড়া আর সব দেশ আমাদের ওপরে আছে। আর সারা বিশ্বের মধ্যে তো ১৬৮। কাজেই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রেগুলেশনের জটিলতা ও হয়রানি একটা বড় বাধা। আবার তার মানে এই নয় যে বিনিয়োগ একেবারেই হচ্ছে না। যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে শিখে ফেলেছে এই ব্যবস্থার মধ্যে কীভাবে কী করতে হবে, তারা বিনিয়োগ করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এই রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ম্যানেজ করার জন্যই আলাদা বিভাগ খুলেছে। কিন্তু নতুন যারা বিনিয়োগ করতে চায়, তারা তো এসব দেখেই নিরুৎসাহিত হয়ে যায়। প্রথম আলো: আর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা? জাহিদ হোসেন: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে এসে বিমানবন্দরেই তিন-চার ঘণ্টা ব্যয় করতে হয়। তারপর বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছাতে যখন আরও লম্বা সময় লেগে যায়, তখনই তাঁরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। তারপর যখন এসব জটিল রেগুলেটরি বিধিবিধানের মধ্যে পড়ে যেতে হয়, তখন তাঁরা আরও নিরুৎসাহিত হন। এভাবে বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হয়। আর একটা বিষয় হলো রেগুলেশন ভালো বা খারাপ যা-ই হোক না কেন, সেটাকে তো প্রেডিক্টেবল হতে হবে; স্থিতিশীল থাকতে হবে। আমি যে ব্যবসাটা করব বা করছি, তার জন্য যে বিধিবিধানগুলো আছে, আগামী পাঁচ বছরে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এটাকে কীভাবে পরিচালনা করবে সে বিষয়ে যে নিয়মকানুন আছে, সেগুলো কী হবে, এ বিষয়ে যদি অনিশ্চয়তা থেকে যায়, তাহলে তো আমি আমার লাভ-লোকসানের হিসাব-নিকাশ ঠিকমতো করতে পারব না। সেটা করতে না পারলে আমি বিনিয়োগের সিদ্ধান্তটা নেব কীভাবে। আজকে যে নিয়ম আছে কাল সেটা হঠাৎ বদলে গেলে, যেমন আমার যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর যে শুল্কহার আজকে আছে, কালকে যদি তা হঠাৎ করে বদলে যায় তাহলে তো আমার হিসাব-নিকাশ উল্টেপাল্টে যাবে। বা ধরেন, পাঁচ বছর পরে আপনি যদি আমাকে বলেন, আমি তোমাকে এই জমিটা দিয়েছিলাম, এখন সেই জমির অর্ধেকটা আমাকে ফেরত দিতে হবে, তখন আমার কী অবস্থা হবে? আমি তো টাকা খাটিয়ে ফেলেছি। এ দেশে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে এখানকার রেগুলেটরি নিয়মকানুন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। এভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়, সেই ঘাটতি দূর করা খুব দুরূহ। কাগজে-কলমে আপনি যতই বলেন যে আমি বিনিয়োগের দুয়ার খুলে রেখেছি, আপনারা আসুন, বিনিয়োগ করুন, আমরা খুবই বিনিয়োগবান্ধব, আপনি টাকাপয়সা আনতে পারেন, ফেরত নিয়ে যেতে পারেন, কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু বিনিয়োগ করতে এসে কেউ যখন দেখতে পাবে যে আপনার কথার সঙ্গে কাজটা মিলছে না, তখন কাজটাকেই বিশ্বাস করবে, কথাকে নয়। এ ধরনের ঘটনা তো আমরা কিছু ক্ষেত্রে দেখেছি; কোরিয়ান ইপিজেডের ক্ষেত্রে দেখেছি, কিছু টেলিফোন কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখেছি। এত বছর পরে অডিট করে আপনারা এত বড় অঙ্কের দেনা আপনারা বের করলেন! এত দিন কোথায় ছিলেন? এ ধরনের ঘটনা কিন্তু বড় বিনিয়োগকারীদের মনে একটু খোঁচা দেবে। কাজেই রেগুলেটরি পরিবেশের অনিশ্চয়তা আমাদের দেশে বিনিয়োগের পথে একটা বড় বাধা। আর একটা সমস্যা অবকাঠামোগত। বিশেষত আমাদের দেশে জমির বাজারে কোনো রকম বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। প্রথম আলো: বিনিয়োগের জন্য অর্থায়নের যে সমস্যার কথা আপনি বলছিলেন, সেটা তো আর্থিক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এখন এ বিষয়ে কিছু বলুন। জাহিদ হোসেন: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থায়নের সমস্যা নেই; তারা আসছে না বা আসবে ওই সব কারণে, যেগুলো বললাম। কিন্তু আমাদের দেশে বিদেশি বিনিয়োগ তো খুব সামান্য। সিংহভাগ বিনিয়োগকারীই এই দেশের মানুষ। তাঁদের অর্থায়ন প্রয়োজন। আমাদের দেশে তাঁদের অর্থায়নের দুটো উৎস। একটা ব্যাংক খাত, অন্যটা শেয়ারবাজার। শেয়ারবাজার থেকে অর্থ তুলতে গেলে প্রচুর সময় লাগে; অনেক জটিলতা। সেখান থেকে বিনিয়োগের অর্থ জোগাড় করার সুযোগ খুব বেশি নেই। তাহলে থাকল আমাদের ব্যাংক ব্যবস্থা। এই খাত থেকে ঋণ পেতে হলে তো এর স্বাস্থ্য ভালো থাকতে হবে। কিন্তু গত সাত মাসে ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১০-এর নিচে নেমে গেছে। প্রথম আলো: কেন? জাহিদ হোসেন: তাত্ত্বিকভাবে দুটো কারণের কথা বলা যায়। একটা হলো ঋণগ্রহীতার চাহিদা নেই; আর একটা হলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ দেওয়ার সামর্থ্য নেই। চাহিদার কিছু দুর্বলতা থাকতে পারে, কারণ রপ্তানি কমে গেছে। কিন্তু ঋণ দেওয়ার সামর্থ্যের ক্ষেত্রে কী হয়েছে? প্রায় ১০০টি দেশি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষার ভিত্তিতে আইএফসি সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে; সেখানে তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ঋণের প্রাপ্তি। সুদের উচ্চ হারের কথাও তারা বলেনি। কোনটা তাদের বড় সমস্যা? ঋণের সুদের উচ্চ হার, না ঋণ পাওয়াটা? তারা বলছে ঋণ পাওয়াই হচ্ছে এক নম্বর সমস্যা। কারণ, ঋণের টাকাটা সময়মতো ও প্রয়োজনমতো পেলে সেটা বিনিয়োগ করে যা আয় আসবে, সেখান থেকে সুদ পরিশোধ করা যাবে। কিন্তু টাকাটা যদি না-ই পাওয়া যায়, তাহলে সুদের হার কত কম সেটা আর প্রাসঙ্গিক থাকে না। কাজেই বিনিয়োগের পথে বাধা হলে বিনিয়োগকারীরা ঋণ পাচ্ছে না। ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সামর্থ্য কমে গেছে। প্রথম আলো: কমার কারণ কী? ব্যাংকের ব্যবসাই তো ঋণ দেওয়া। জাহিদ হোসেন: আগে যেসব কারণ ছিল, সেগুলোর মধ্যে প্রধান ছিল ঋণ দিয়ে ফেরত না পাওয়া। ব্যাংকগুলো যে টাকা বাজারে ছাড়ে, তা যদি তারা ফেরত না পায়, তাহলে তাদের সার্কুলেশন চলবে কীভাবে। চলতে পারে, যদি তাদের ডিপোজিট ক্রমাগত বাড়তে থাকে। কিন্তু ইদানীংকালে ব্যাংকগুলোর ডিপোজিট গ্রোথও কমেছে, দুর্বল হয়েছে। প্রথম আলো: খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে এটা বোঝা গেল, কিন্তু ব্যাংকের ডিপোজিট গ্রোথ কমার কারণ কী? লোকজন কি আর ব্যাংকে টাকা রাখছে না? না রাখলে কোথায় রাখছে? জাহিদ হোসেন: এত দিন ব্যাংকের ডিপোজিট কমার কারণ ছিল সঞ্চয়পত্রের ওপর সরকারের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা। তা ছাড়া আমাদের প্রবাসী আয়ও দুর্বল ছিল। ব্যাংকে টাকা রাখার ব্যাপারে মানুষের আস্থাও কমে যাচ্ছিল। ফারমার্স ব্যাংকের মতো ঘটনা যখন ঘটে, তখন ব্যাংকে টাকা রাখার বিষয়ে আস্থায় চিড় ধরতে পারে। লোকজন ভাবতে পারে ব্যাংকে টাকা রাখলে বিপদ হতে পারে, তার চেয়ে বালিশের তলায় বা সিন্দুকে রাখা বেশি নিরাপদ, যদিও সেখানে টাকা উইপোকায় কাটতে পারে বা চুরি হয়ে যেতে পারে। এসব কারণে ব্যাংকের ডিপোজিট গ্রোথ কম ছিল। এই বছর দেখা যাচ্ছে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর পরে ব্যাংক খাতে ডিপোজিট গ্রোথ কিছুটা বেড়েছে। আবার প্রবাসী আয়ও অনেক বেড়েছে। কিন্তু এ বছর একটা নতুন জিনিস যোগ হলো, সেটা হচ্ছে সরকার যে টাকাটা সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করত, এখন সেটা নিচ্ছে ব্যাংকগুলো থেকে; শুধু তাই নয়, তার থেকে আরও অনেক বেশি টাকা সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিচ্ছে। প্রথম আলো: কেন নিচ্ছে? সরকার ঋণ নিয়ে কী করছে? জাহিদ হোসেন: ঋণ নিয়ে তার বাজেট ঘাটতিকে অর্থায়ন করছে। কারণ, সরকারের রাজস্ব আয় কমে গেছে; তার ব্যয় বেড়েছে অনেকে। কিছু চলতি ব্যয় বেড়েছে, কারণ নতুন নতুন ভর্তুকি যোগ করা হয়েছে। রপ্তানিতে ভর্তুকি; এলএনজিতে প্রচুর ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, প্রবাসী আয়ে ভর্তুকি। কাজেই সরকারকে ব্যাংক খাত থেকে প্রচুর টাকা ঋণ নিতে হচ্ছে; এক বছরে যে টাকা নেওয়ার কথা ছিল, তা ছয় মাসের মধ্যেই নেওয়া হয়ে গেছে। ফলে ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার মতো যা তারল্য আছে, সেটা চলে যাচ্ছে সরকারি খাতে। ব্যক্তি খাতে দেওয়ার জন্য আর তেমন কিছু থাকছে না। ১ এপ্রিল থেকে যখন ব্যাংকঋণের এক অঙ্কের সুদের হার কার্যকর হবে, তারপর থেকে ব্যক্তি খাতে ঋণ দেওয়া আরও কমে যাবে। ফলে বিনিয়োগ আরও কমে যেতে পারে। প্রথম আলো: এই পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে একটা বৈশ্বিক মহামারির আকারে। আমাদের অর্থনীতিতে প্রভাবগুলো কেমন হতে পারে? জাহিদ হোসেন: এটা যখন চীনে শুরু হলো, তখন ভাবা হয়েছিল যে আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় (সাপ্লাই চেইন) একটা বিঘ্ন ঘটবে। এর ফলে আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার জন্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, রপ্তানি পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। কারণ, অনেক উপাদান আমাদের চীন থেকে আমদানি করতে হয়। এ রকম সাময়িক বিঘ্ন আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে চীনে করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে যাচ্ছে, সেখানে কিছু কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে চীন থেকে সরবরাহ চেইনে বিঘ্নটা হয়তো খুব দীর্ঘায়িত হবে না। কিন্তু এখন তো তার চেয়েও বড় সমস্যা দেখা যাচ্ছে যে এটা ইউরোপে এবং আমেরিকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দুটো বড় বাজার ইউরোপ এবং আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। আমার মনে হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি একটা মন্দায় পড়ে যাবে। যদিও কিছু পলিসি রেসপন্স করা হয়েছে; ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার কমিয়েছে; আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকও সুদের হার কিছুটা কমিয়েছে। অন্যান্য দেশে কিছু আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যেখানে মানুষ আতঙ্কিত, সেখানে আপনি সস্তায় ঋণ দিয়ে লোকজনকে তো দোকানে পাঠাতে পারবেন না। বা তারা রেস্টুরেন্টে খেতে যাবে না বা প্লেনে উঠবে না। এতে ব্যবসায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের সহায়তা হবে। কিন্তু আতঙ্কের কারণে চাহিদার যে পতন ঘটেছে, সেটা না কাটলে তো অর্থনৈতিক মন্দা এড়ানো যাবে না। তা করোনাভাইরাসের কারণে যেসব ক্ষতিকর পদক্ষেপ (প্যানিক রেসপন্স) নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোও বিশ্বের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। প্রথম আলো: তাহলে এখন কী করণীয় বৈশ্বিক এবং আমাদের দেশীয় পরিসরে? জাহিদ হোসেন: এখন সব দেশেরই সবচেয়ে বড় করণীয় এমন পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে না পড়ে। ইতিমধ্যে যেসব ঝুঁকি দৃশ্যমান হয়েছে, সেগুলো সর্বোচ্চ দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। এখন আমাদের নীতিনির্ধারকদের এটাই এক নম্বর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। করোনাভাইরাস যেন আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য ডাক্তার, নার্স, ওষুধপথ্য, যন্ত্রপাতি, হাসপাতালের সরঞ্জাম, বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানিং মেশিন ইত্যাদি যা যা প্রয়োজন, সব প্রস্তুত রাখতে হবে। সচল রাখতে হবে। এ রকম জরুরি ও নাজুক পরিস্থিতিতে থার্মাল স্ক্যানিং যন্ত্র বিকল হয়ে যায়-এটা কীভাবে সম্ভব? করোনাভাইরাসের কারণে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই ক্ষেত্রে অদক্ষতা, দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি এসবের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর অর্থনৈতিক দিকে, আমরা অতীতে দেখেছি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি কারণে অর্থনীতির ক্ষতি হয়, ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তখন ক্ষতিগ্রস্তদের নীতি-সহায়তার প্রয়োজন হয়; কিন্তু সেটার সঙ্গে সুযোগসন্ধানীরাও যুক্ত হয়ে যায়, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কাজেই করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে যাঁরা (ভালনারেবল), তাদের চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে হবে। প্রথম আলো: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। জাহিদ হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। | 8 |
লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনকে। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হসপিটালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। বিএনপি'র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, উনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই অ্যাপোলো হসপিটালে ভর্তি ছিলেন। দুদিন আগে ওনার শারীরিক অবস্থার ভালো ছিলো। আমি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি কথা বলছি আজকের পর থেকে উনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া শুরু করে পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। | 6 |
প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার খাদ্য সামগ্রী গরিব ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) লালবাগের ললিত মোহন দাস লেনসহ ডিএসসিসির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ পরিবারের হাতে এ ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেয়া হয়। এ সময় হুমায়ুন কবীর বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সর্বস্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহার খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগিতায় তা গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে পৌঁছে যাচ্ছে। আমরা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ত্রাণ সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কি-না তা সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিশ্চিত করছি। তিনি বলেন, যদি কেউ কোথাও কোনো অসহায় মানুষ বাদ পড়ে। তবে তাকে বিশেষ বিবেচনা করে আমরা পুনরায় ত্রাণ দেয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের প্রত্যেকটি স্থানীয় কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা তাদের যার যতটুকু সামর্থ্য আছে সামর্থ অনুসারে গরীব অসহায় ও মানুষদের মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে যাচ্ছে। ত্রাণ বিতরণের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ডিএসসিসির ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মকবুল হোসেন, লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। | 6 |
ভারতে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু। গত শুক্রবার দেশটিতে তিন লাখ ৪৫ হাজার ১৪৭ জন আক্রান্ত ও দুই হাজার ৬২১ জন মারা যান। এ নিয়ে তিন দিনে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখ এবং মারা গেছেন সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ। অক্সিজেনের অভাবে দিল্লির এক হাসপাতালে মারা গেছেন ২৫ জন। অভিযোগ উঠেছে, অক্সিজেন সরবরাহে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দিল্লি হাইকোর্ট বলেছেন, কেউ অক্সিজেন সরবরাহে বাধা দিলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হবে। হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট ও চিকিৎসার জন্য হাহাকারের চিত্র দিল্লিসহ মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, গুজরাটসহ বিভিন্ন রাজ্যে একই রকম। শনিবারও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল কেন্দ্র সরকারের কাছে অক্সিজেন দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। করোনায় মরদেহ দাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে শ্মশান কর্তৃপক্ষ। কিছু কিছু শ্মশানে চিতার আগুন নিভছেই না। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা সরকার আড়াল করছে অথবা এড়িয়ে যাচ্ছে। শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে দৈনিক করোনায় আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকই এখন এককভাবে ভারতের মানুষ। তবে যে সংখ্যা দেখানো হচ্ছে, তা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। আক্রান্তের মধ্যে অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। হাসপাতালে বেড নেই, চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। করোনার 'নতুন ভারতীয় ধরন' খুবই সংক্রামক বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে কারণে আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে। ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৮৬ হাজার ৯২৮। সরকারি হিসাব থেকে এ তথ্য দিয়েছে ওয়ার্ল্ডওমিটার। তবে নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, যেখানে প্রতিদিন এত বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে, সেখানে মোট মৃত্যুর এই সংখ্যা সন্দেহজনক। নিউইয়র্ক টাইমস ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শ্মশানে কর্মরত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এসব শ্মশানে চিতার আগুন নিভছেই না। করোনায় মারা যাওয়া যত মরদেহ শ্মশানে দাহ করা হচ্ছে, তা থেকে বোঝা যায়, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। বিশ্নেষকরা বলছেন, কিংকর্তব্যবিমূঢ় রাজনীতিক ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মৃতের বিশাল সংখ্যা লুকিয়ে অথবা এড়িয়ে যাচ্ছেন। এমনও দেখা যাচ্ছে, শোকাহত অনেক পরিবার করোনা সংক্রমণের তথ্য লুকিয়ে যাচ্ছে। ভারতের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মহামারি বিশেষজ্ঞ ভ্রমর মুখার্জি বলেছেন, 'একে তথ্য-উপাত্তের ধ্বংসযজ্ঞই বলা যায়। আমরা যেসব মডেল নিয়ে কাজ করছি, তাতে এটি পরিস্কার- যে সংখ্যা দেখানো হচ্ছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে তিন থেকে পাঁচ গুণ।' গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি বিশাল শ্মশান প্রাঙ্গণের চিত্র তুলে ধরেছে নিউইয়র্ক টাইমস। বলা হচ্ছে, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই সেখানে সারা সারি চিতা জ্বলছে। উজ্জ্বল কমলা আগুনে আলোকিত হচ্ছে রাতের আকাশ। মনে হচ্ছে, শিল্প-কারখানার মতো বিরতিহীন জ্বলেই চলেছে। সুরেশ ভাই নামে সেখানকার এক কর্মী জানান, মরদেহের নিরবচ্ছিন্ন এই দীর্ঘ লাইন তিনি আর কখনও দেখেননি। তবে তার হাতে থাকা পাতলা কাগজে মৃত্যুর কারণ হিসেবে তিনি করোনা সংক্রমণের কথা লিখছেন না। যদিও এই কাগজই তিনি শোকাহত পরিবারকে দিচ্ছেন। তাহলে কাগজে মৃত্যুর কী কারণ লিখছেন তিনি। সুরেশ ভাই বলেছেন, 'সিকনেস, (অসুস্থতা), সিকনেস, সিকনেস। এটিই লিখে দিচ্ছি আমরা।' কেন এমনটি লিখছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এটি লিখতে বলেছেন। তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঊর্ধ্বতনরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ও আরেক বড় শহর ভোপালের চিত্র খুবই নাজুক। ভোপালের সব শ্মশান রাতদিন ব্যস্ত। ১৯৮০-এর দশকে সেখানে গ্যাস বিস্ফোরণে কয়েক হাজার মানুষ মারা যান। বাসিন্দারা বলছেন, ওই বিপর্যয়ের পর এই প্রথম শ্মশানগুলো এত বেশি ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। মধ্য এপ্রিলের ১৩ দিন ভোপালের কর্মকর্তারা ৪১ জনকে করোনায় মৃত দেখিয়েছেন। তবে একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক জরিপে ভোপালের প্রধান শ্মশানে দাহ করা মরদেহের সংখ্যা কমপক্ষে এক হাজার। ভোপালের কার্ডিওলজিস্ট জি.সি. গৌতম বলেছেন, 'অনেক মৃত্যুর রেকর্ড রাখা হচ্ছে না এবং দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে।' এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার রাতে জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ২৫ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. ডি কে বালুজা। শনিবার তিনি জানান, 'আমরা সরকারের কাছ থেকে ৩ দশমিক ৫ টন অক্সিজেন বরাদ্দ পেয়েছি। বিকেল ৫টা নাগাদ তা আমাদের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে এ অক্সিজেন এসেছে মধ্যরাতের দিকে। সে সময় পর্যন্ত ২৫ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।' লাশের এ মিছিল সামলাতে পারছে না দিল্লির শ্মশানগুলো। স্বজনের মৃতদেহ সৎকারের জন্য আসা পরিবারগুলোকে তারা অপেক্ষা করতে অনুরোধ জানাচ্ছে। দিল্লির নিরুপায় হাসপাতালগুলো জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন আর চিকিৎসা উপকরণের বাড়তি বরাদ্দের আদেশ চেয়ে এ সপ্তাহেই হাইকোর্টে গিয়েছিল। সেই আবেদন শুনে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন- এই 'সুনামি' সামাল দিতে তারা কীভাবে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছেন- যেখান থেকে যেভাবে হোক অক্সিজেন সরবরাহ করা হোক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনাভাইরাস কী ঘটাতে পারে- ভারত ভয়ংকরভাবে তার জানান দিচ্ছে। উত্তর ভারতে কয়েক ডজন হাসপাতাল পরিচালনা করে ম্যাপ হেলথকেয়ার। শনিবার ম্যাপ হেলথকেয়ার কর্তৃপক্ষ এক টুইটে জানায়, তাদের কাছে অক্সিজেনের যে মজুদ আছে, তা দিয়ে দুই ঘণ্টাও চলবে না। ভারতের আরেক বড় হাসপাতাল চেইন ফর্টিস হেলথকেয়ার বলেছে, দিল্লিতে তারা আর নতুন রোগী ভর্তি করতে পারছে না। সকাল থেকে তারা অক্সিজেন সরবরাহ হাতে পেতে অপেক্ষা করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রেন এবং সামরিক বিমানে করে দেশের বিভিন্ন অংশ, এমনকি সিঙ্গাপুর থেকেও দিল্লিতে অক্সিজেন পরিবহনের ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে শনিবার রাজ্য সরকারগুলোকে কেন্দ্র সরকারের সহায়তা নিয়ে প্রয়োজনে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। | 3 |
টাঙ্গাইল-বাসাইল সড়কের লাঙ্গুলিয়া নদীর উপর ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে এই সড়কের লাঙ্গুলিয়া সেতুর উপর ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। ফলে বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জেলা সদরের। কিন্তু দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের পর মানুষের কষ্ট লাঘব হয়। ৬৯.১৫৫ মিটার দীর্ঘ লাঙ্গুলিয়া সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওলিউর রহমান, বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি নাহিয়ান নূরেন ও কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা রাজিকসহ অন্যরা। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান তিনি। খবর বাসসের প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দলের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা এবং শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুল এ সময় উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
হেফাজতে ইসলামের আমীর মোহাম্মদ জুনাইদ বাবুনগরী, খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মুহম্মদ মামুনুল হক এবং চরমোনাই পীরের পুত্র সৈয়দ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহের দুই মামলা তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুই মামলার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার অভিযোগ তদন্ত করে আগামী সাত জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে হুমকি ও বিরোধিতা করে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সোমবার সকালে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। প্রথম মামলাটি করেছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দ্বিতীয়টি করেছেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি আইনজীবী মশিউর মালেক। এদিকে সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও ম্যুরালের দ্রুত নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে কুষ্টিয়ায় ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন আদালত। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সোমবারও বিক্ষোভ হয়েছে। ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়। এছাড়া দেশের প্রতি জেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের দাবি জানিয়েছে, বাস্তবায়ন কমিটি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ ও মানববন্ধনে ভাস্কর্য ও স্মৃতিরক্ষা আইনের দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি। দণ্ডবিধির ১২০ (খ) (১)/১২৪ (ক)/ ৫০৫ (ক) ধারায় করা প্রথম মামলায় জুনাইদ বাবুনগরী, মামুনুল হক এবং সৈয়দ ফয়জুল করিমকে আসামি করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ১২০ (খ)/১৫৩/১২৪ (ক)/ ধারায় করা দ্বিতীয় মামলায় আসামি করা হয়েছে শুধু মামুনুল হককে। মামলায় মামুনুল হক সম্পর্কে বলা হয়, গত ১৩ নভেম্বর বিএমএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ যুব খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগর শাখার সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে মামুনুল হক বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য গড়তে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে লাশের পর লাশ পড়বে। আবার শাপলা চত্ত্বর হবে।' সমাবেশে যুব মজলিসের কর্মীদের এজন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মামুনুল হকের বক্তব্যের পর একশ্রেণি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে একের পর এক বক্তব্য দিচ্ছেন। দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। মামলায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আমীর সৈয়দ ফয়জুল করিম সম্পর্কে বলা হয়, গত ১৩ নভেম্বর এ আসামি গেন্ডারিয়ার ধুপখোলা মাঠে তৌহিদী জনতার ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে 'আন্দোলন করব, সংগ্রাম করব, জিহাদ করব। রক্ত দিতে চাইনা, দিলে বন্ধ হবে না। রাশিয়ার লেলিনের ৭২ফুট মুর্তি যদি ক্রেন দিয়ে তুলে সাগরে নিক্ষেপ করতে পারে তাহলে শেখ সাহেবের মুর্তি আজ হোক কাল হোক তুলে বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করবেন' বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। মামলায় বাবু নগরী সম্পর্কে বলা হয়, এ আসামি মামুনুল হক ও ফয়জুল করিমের পরামর্শক্রমে গত ২৭ নভেম্বর হাটহাজারীতে বলেন, মদিনা সনদে যদি দেশ চলে তাহলে কোনো ভাস্কর্য থাকতে পারে না। ভাস্কর্য নির্মাণ থেকে সরে না দাঁড়ালে আরেকটি শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটবে এবং ভাস্কর্য ছুঁড়ে ফেলবেন। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, ইসলামকে 'ঢাল হিসেবে ব্যবহার' করে আসামিরা ধর্মের 'আজগুবি' ব্যাখ্যা দিয়ে 'বিদ্বেষপূর্ণ, কাল্পনিক, উত্তেজনাকর ও উসকানিমূলক' বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা বাঙালি মুসলমান সমাজের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও সংবিধান সম্পর্কে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন। | 6 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে হল কর্তৃপক্ষের কাছে "নির্যাতনের" অভিযোগ দেওয়ায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে হলছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে রাতেই প্রশাসনের উদ্যোগে ওই ছাত্রকে আবার হলে তোলা হয়। সোমবার (৪ এপ্রিল) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজিমুল হক ওরফে রাকিব নামের ওই শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়ার পর তার বই-খাতা, টেবিল ও কাপড় হলের বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। এর আগে ১ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তানভীর সিকদার রাকিবকে ডেকে নিয়ে "নির্যাতন" করেন। পরে সোমবার রাকিব হল কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানান এবং নিরাপত্তা চান। পরে এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা ছাত্রলীগ নেতা তানভীরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাজিমুল হককে কর্মসূচিতে থাকতে বলেছেন শুধু। তাকে কোনো ধরণের মারধর করা হয়নি। রাকিব তার "স্নেহের ছোট ভাই"। তাকে কেউ মারধর করে থাকলে তিনি বিষয়টি দেখবেন। এদিকে ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় তানভীরের অনুসারী নাফিজ ও হাসান আহমেদ রাজুসহ আরও কয়েকজন রাকিবকে জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দেয়। এ বিষয়ে রাকিব বলেন, "ইফতারের পর নাফিজ ও রাজুর নেতৃত্বে কয়েকজন আমাকে হল থেকে বের করে দেয়।" অভিযোগের বিষয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, "ঘটনাটি শোনার পর আমি কয়েকজন আবাসিক শিক্ষককে ওই শিক্ষার্থীর কাছে পাঠিয়েছি। তাকে হলে তুলে দেওয়া হবে।" রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসএম হলের আবাসিক শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, "আমরা হলে গিয়ে রাকিবকে তার কক্ষে তুলে দিয়ে এসেছি।" রাকিবকে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে হল ছাত্রলীগ সভাপতি তানভীর সিকদার বলেন, "হল থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। হল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার অনুরোধ রইল।" ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাজিমুল হক রাকিব সোমবার বলেন, "আমি হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে বেলা তিনটার দিকে দেখা করেছিলাম। তিনি আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে সন্ধ্যায় আমাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। রাত ১১টার পরে হল প্রশাসনের উদ্যোগে হলে ফিরে এসেছি।" | 6 |
নভোএয়ার সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ও দিনাজপুরে বিনামূল্যে শাটল সার্ভিস চালু করেছে। রংপুর, দিনাজপুর ও এর আশেপাশের যাত্রীরা সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে যাওয়া-আসার এ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। রংপুর নভোএয়ার সেলস অফিস থেকে সকাল ৬টা ৫০ মিনিট, ৯টা ৩৫ মিনিট, দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট, বিকাল ৫টা ২০ মিনিট এবং ৬টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে রংপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এছাড়া দিনাজপুর নভোএয়ার সেলস অফিস থেকে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট এবং বিকাল ৫টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছাড়ে। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। নভোএয়ার সৈয়দপুর থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে, সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে, বিকাল ২টা ৪০ মিনিটে, সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে এবং রাত ৯টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রংপুর থেকে বিনামূল্যে শাটল সার্ভিসের সুবিধা উপভোগ করতে যোগাযোগ করুন ০১৭০৮১৩২৬৪১ এবং দিনাজপুর থেকে এই সুবিধা নিতে যোগাযোগ করুন ০১৭৫৫৬৯৪৯৩০ নাম্বারে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি | 0 |
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপকারীদের শাস্তির মুখোমুখি করতে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে রাশিয়া। আজ রোববার রাশিয়ার এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, দেশটির আইনপ্রণেতারা রাশিয়ার ভূখণ্ডে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের চেষ্টাকারীদের শাস্তির মুখোমুখি করার প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।রাশিয়ার পার্লামেন্ট স্টেট ডুমার সদস্য আন্দ্রেই ক্লিশাস বার্তা আদান-প্রদান মাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেছেন, 'স্টেট ডুমায় আমি ও আমার সহকর্মীরা এ বিষয়ে প্রাথমিক কাজ শেষ করেছি। সোমবার আমরা রাশিয়ান ফেডারেশনের ভূখণ্ডে বিদেশি রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা (নিষেধাজ্ঞা)) বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে সংশোধনী আনব।'আন্দ্রেই ক্লিশাস বলেন, 'আমরা বিষয়টি অতি দ্রুত স্টেট ডুমার মাধ্যমে সংশোধন করে আইনে পরিণত করতে উন্মুখ।' তবে যেসব দেশ বা যারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও বাস্তবায়ন করেছে, রাশিয়া তাদের কীভাবে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনবে তা পরিষ্কার করেননি ক্লিশাস।এর আগে গত মার্চ মাসের প্রথম দিকে রাশিয়ার আইনপ্রণেতারা 'ভুয়া তথ্য' ছাড়ানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য করে আইন সংশোধন করেছে।উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর একের পর এক শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এদিকে, বাল্টিক দেশগুলো আর রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি করবে না বলে জানিয়েছে। বাল্টিকভুক্ত দেশ লাটভিয়া জানিয়েছে, বাল্টিক দেশগুলো রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করবে না। কারণ হিসেবে জানিয়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।লাটভিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস স্টোরেজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কনেক্সাস বাল্টিক গ্রিডের সিইও উলদিস বারিস শনিবার বলেন, 'রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে আমাদের আর কোনো আস্থা নেই। বর্তমান ঘটনাগুলো আমাদের স্পষ্টভাবে দেখায় যে রাশিয়ার ওপর কোনো আস্থা রাখা উচিত নয়।'লাটভিয়া রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উলদিস বারিস আরও বলেন, '১ এপ্রিল থেকে লাটভিয়া, এস্তোনিয়া ও লিথুয়ানিয়া রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আর আমদানি করছে না। বাল্টিক দেশগুলো বর্তমানে লাটভিয়ায় ভূগর্ভস্থ গ্যাসের মজুত থেকে নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটাচ্ছে।' | 3 |
বাবা হতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তার স্ত্রী ক্যারি জনসন ইনস্টাগ্রামে এই সুখবর দিয়েছেন। শনিবার (৩১ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এই ক্রিসমাসেই মা হতে যাচ্ছেন জানিয়ে ৩৩ বছর বয়সী ক্যারি ইনস্টাগ্রমে লিখেছেন, আবার গর্ভধারণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করছি। ওই পোস্টে চলতি বছরের শুরুতে গর্ভপাতের কারণে তার 'মন ভেঙে' গিয়েছিল বলেও অকপটে জানিয়েছেন ক্যারি। ওই দম্পতির প্রথম সন্তান উইলফ্রেডের জন্ম হয় ২০২০ সালের এপ্রিলে। ওই বছরের মে মাসে ওয়েস্টমিনস্টার ক্যাথেড্রালে ঘরোয়া আয়োজনে নিজেদের বিয়েটা সেরে ফেলেন ক্যারি-বরিস। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ২০০ বছরের মধ্যে বরিস জনসনই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি দায়িত্বরত অবস্থায় বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। এটা অবশ্য ৫৭ বছর বয়সী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বিয়ে। বরিসের দ্বিতীয় স্ত্রী মেরিনা হুইলার। তাদের চারটি সন্তান আছে। তবে প্রথম স্ত্রী আলেগ্রা মস্টিন-ওয়েন আর বরিসের কোনো সন্তান নেই। এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় ২০০০ সালে বাবা হয়েছিলেন টনি ব্লেয়ার। ২০১০ সালে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে থাকাকালেই কন্যা সন্তানের বাবা-মা হয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন আর সামান্থা। | 3 |
অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রতিবাদেবিক্ষোভে উত্তাল শ্রীলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো। আন্দোলনকারী সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দল সবাই যৌথভাবে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন। এরইমধ্যে জানা গেছে দেশ ছেড়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক উপমন্ত্রী নিরুপমা রাজাপাকসে। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার রাতে তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে লঙ্কান গণমাধ্যম সিলন টুডে। সিলন টুডের প্রকাশিত ছবিতেও লাগেজ হাতে বিমানবন্দরেএক নারীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে নিরুপমার দেশ ছাড়ার বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকার বা ক্ষমতাসীন রাজাপাকসে পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুইজানানো হয়নি। এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্যও হাজির করেনি সিলন টুডে। নিরুপমা গোতাবায়ার ও মাহিন্দা রাজাপাকসেরচাচাতো বোন। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন বিষয়ক উপমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি শ্রীলঙ্কার এমপি ছিলেন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গোপন অর্থ লেনদেনের ১ কোটি ২০ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়। সেই প্যান্ডোরা পেপারস কেলেঙ্কারিতেও নিরুপমার নাম ছিল। সূত্র: সিলন টুডে
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 3 |
বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে আজ। রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আজ বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের ফাঁসি ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর লুৎফুজ্জামান বাবর আদালতে চিৎকার করে বলতে থাকেন, 'আল্লাহ এর বিচার করবেন। আমাকে বার বার রিমান্ডে নিয়ে তারেক রহমানকে এ ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। মুফতি হান্নানের কথিত স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে এ রায় দেয়া হয়েছে।' এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। ওই দিন রায়ের তারিখ ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি এবং আসামিদের পক্ষ থেকে বেকসুর খালাস দাবি করে। মামলাটি প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষে ৫১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনকে আদালতে উত্থাপন করা হয়। ২১ আগস্ট গেনেড হামলা মামলার মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। বিচারকালে আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বর্তমানে মামলা দু'টিতে মোট আসামির সংখ্যা ৪৯। এ মামলায় জামিন বাতিল হওয়া আটজনসহ ৩১ আসামি কারাগারে আছেন, বাকি ১৮ জন পলাতক। এ মামলায় রায়ের দিন নির্ধারণ করার আগে জামিনে থাকা আট আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আটক ৩১ আসামির উপস্থিতিতে আজ রায় ঘোষণা করা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ' নেতাকর্মী। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এ সংক্রান্ত হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার বিচার শুরু হয়। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এর অধিকতর তদন্ত করে। এরপর বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এরপর দুই অভিযোগপত্রের মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। অন্য মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯। | 6 |
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের বরান্তর কমিউনিটি ক্লিনিক। মাসেও এক দিন খোলা হয় না। ভেতরে ময়লা জমে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা আসেন না। এখানে কেউ কর্মরত রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে জানেন না স্থানীয় বাসিন্দারাও। ক্লিনিকটির এমন অবস্থায় হতাশ স্থানীয় বাসিন্দারা। হাওরবেষ্টিত ওই এলাকায় এভাবেই সেবাবিহীন ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। অথচ কাগজপত্রে এখানে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীর দায়িত্ব পালন করার কথা।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরান্তর কমিউনিটি ক্লিনিকে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে বিপ্লব কুমার উকিল, স্বাস্থ্য সহকারী পদে তুহিন চৌধুরী ও পরিবারকল্যাণ সহকারী পদে রয়েছেন তন্দ্রা চৌধুরী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকের একমাত্র নারী কর্মী তন্দ্রা চৌধুরী ২০০৯ সালে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ি থাকেন। তুহিন চৌধুরী ও তন্দ্রা চৌধুরী আপন ভাইবোন। তাঁরা বরান্তর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জু চৌধুরীর সন্তান। আর বিপ্লব কুমার উকিলের বাড়ি মোহনগঞ্জ শহরের শিবির গ্রামে।নিয়ম অনুযায়ী, সিএইচসিপি মূলত ক্লিনিকটির সার্বিক দেখাশোনা করেন। শিশুদের বিভিন্ন টিকাদানসহ অন্যান্য কাজ করেন স্বাস্থ্য সহকারী। এ ছাড়া পরিবারকল্যাণ সহকারী গর্ভবতীদের কাউন্সেলিং, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িসহ অন্যান্য ওষুধ বিতরণ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা ইত্যাদি কাজ করে থাকেন। তবে বরান্তর কমিউনিটি ক্লিনিক মাসে এক দিনও খোলা হয় না। এতে করে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবেই এমনটি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কাশিপুর, কমলপুর ও পাবই কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থা প্রায় একই রকম। নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক জানিয়েছেন, কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও)। এ সময় ক্লিনিকগুলোতে নানা অনিয়ম পেয়েছেন তিনি।সূত্র জানায়, কোনো ক্লিনিকই ঠিকমতো খোলা হয় না, আবার কোনোটার খাতায় আগাম স্বাক্ষর করা ছিল। নোংরা পরিবেশ ও দুর্গন্ধ তো আছেই। এ ছাড়া বাকিগুলোর অবস্থাও নাজুক। কোনোটাতে পানি নেই, কোনোটায় অন্য সমস্যা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিয়মিত খোলা হয় এমন কমিউনিটি ক্লিনিক একটিও পাননি সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, গত শনিবার মোহনগঞ্জের ইউএইচএফপিও মাহমুদা খাতুন বরান্তর কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে সেটি বন্ধ পান তিনি। যদিও এদিন করোনার বুস্টার ডোজ দেওয়ার কথা ছিল। পরিদর্শনে গিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগে তিনি জানতে পারেন, গত ১৮ মে থেকে এই ক্লিনিক খোলা হয়নি। এ ছাড়া হাজিরা খাতায় দীর্ঘদিন কারও স্বাক্ষরও পাননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।বরান্তর বাজারের ব্যবসায়ী মামুন চৌধুরী বলেন, বরান্তর গ্রামটি শহর থেকে অনেক দূরে। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এখানকার মানুষ চিকিৎসার জন্য শহরে যেতে পারে না। হাওরপারের মানুষের চিকিৎসার জন্য এই কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এটি তো কাউকে কোনো দিন খুলতেই দেখিনি। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ জানেই না যে এখানে ওষুধ দেওয়া বা চিকিৎসা হয়। তাই কেউ এখন আর এই ক্লিনিকে আসে না। এমনকি এটি যে একটি ক্লিনিক, নামফলক না থাকায় তা বোঝারও উপায় নেই।জানতে চাইলে কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস প্রোভাইডার বিপ্লব কুমার নিয়মিত অফিসে না যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে পরিবারকল্যাণ সহকারী তন্দ্রা চৌধুরীর অফিস না করার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।স্বাস্থ্য সহকারী তুহিন চৌধুরী বলেন, 'আমার কাজ বাইরে, অফিসে না। নিয়মিত সেই কাজ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে কিছুটা অনিয়ম হয়তো মাঝেমধ্যে হয়।'তন্দ্রা চৌধুরী বলেন, 'আমার বাচ্চা হওয়ার সময় ছয় মাস ছুটিতে ছিলাম। এখন ছোট বাচ্চা নিয়ে অফিস করতে সমস্যা হয়। তবে দায়িত্ব পালন করি। মাঝেমধ্যে হয়তো মিস হয়।' তিনি বলেন, 'অফিস দেখার দায়িত্ব সিএইচসিপির। তিনি যেহেতু গাফিলতি করেন, সে ক্ষেত্রে আমরাও কিছুটা করি।'সার্বিক বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, 'আমি কিছুদিন হলো যোগ দিয়েছি। এর মধ্যে কয়েক কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি। সব কটির সমস্যা দূর করব।' | 6 |
২০০১ সালের ২২ এপ্রিল একটা বিশ্ব রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমর। জাভেদের কাছে সেই কীর্তি যেন একটা অতৃপ্তির নাম! পরদিন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামবেন। রাতে এমনিতেই ভালো ঘুম হওয়ার কথা নয়। জাভেদ ওমরেরও সে রাতে ঘুম হচ্ছিল না। কিন্তু সেটি যতটা না নিজের প্রথম টেস্ট খেলতে নামার রোমাঞ্চে, তার চেয়ে বেশি অ্যাংকেলের ব্যথায়। অনুশীলনে জাভেদ এমনভাবেই চোটটা পেয়েছিলেন যে মাঠ থেকে ড্রেসিংরুমে যেতে হয়েছিল সতীর্থদের কোলে চড়ে। সে রাতটার কথা এখনো মনে পড়ে জাতীয় দলের সাবেক ওপেনারের, 'মনটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল সেদিন। পরদিন খেলা, অথচ রাত ১২টা পর্যন্ত আমি শুধু পায়ে বরফই দিয়েছি। ব্যথানাশক ওষুধ খেয়েছি।' টেস্টের আগের রাতটা যদিও ব্যথার কারণেই মনে থেকে গেছে, ব্যথা নিয়ে খেলা ওই টেস্টটাই আবার জাভেদের জীবনে রয়ে গেছে সোনালি ফ্রেমে বাঁধাই এক স্মৃতি হয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে প্রথম ইনিংসে ৬২ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিংয়ে নেমে জাভেদ অপরাজিত ছিলেন ৮৫ রানে। টেস্টে ওপেনিংয়ে নেমে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ার নজির তাঁর আগে-পরে আছে আরও ৫৫টি। তবু জাভেদ একটি জায়গায় বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের চেয়ে আলাদা। অভিষেক টেস্টে এমন কীর্তি তাঁর আগে ছিল মাত্র দুজনের-জন ব্যারেট ও পেলহাম ওয়ার্নার। জাভেদ আদ্যন্ত ব্যাটিংয়ের বিশ্ব রেকর্ডটা ছুঁয়েছিলেন ২০০১ সালের আজকের দিনেই (২২ এপ্রিল), গত ২০ বছরেও যে কীর্তিতে তাঁর পাশে বসতে পারেননি নতুন কেউ। তবে এমন কীর্তি গড়েও একটা আক্ষেপ রয়েই গেছে তাঁর, 'দ্বিতীয় ইনিংসে মনেই হয়নি আমি আউট হব। শেষ ব্যাটসম্যান মঞ্জু (পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম) যদি আরেকটু টিকে থাকত, হয়তো সেঞ্চুরি করতে পারতাম। ৪০টি টেস্টে মাত্র একটি সেঞ্চুরি একজন ওপেনারের জন্য যথেষ্ট নয়। অভিষেক টেস্টে ১০০ করতে পারলে অনেক বড় ব্যাপার হতো। বিশ্ব রেকর্ডের চেয়েও বড়।' চোটে পড়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে খালেদ মাসুদের ব্যাট করতে না পারাটাও জাভেদের তিন অঙ্ক না ছোঁয়ার একটি কারণ। জাভেদ অবশ্য তাঁর ইনিংসের শেষ ১৫-২০ রান আগেই 'লিখে' দিয়েছিলেন মাসুদের নামে, 'দ্বিতীয় ইনিংসের আগে ওয়ার্ম আপের সময় পাইলটের (খালেদ মাসুদ) পা ভেঙে যায়। মনে মনে বললাম, আমি যা রান করব, তার চেয়ে পাইলটের জন্য হলেও আরও ১৫-২০ রান বেশি করব।' ১২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার জুড়েই একটা 'অপবাদ' সঙ্গী ছিল জাভেদের-তিনি ব্যাটিংটা করেন ধীরলয়ে। জাভেদের কাছে আবার সেটির অনুবাদ 'টেস্টের ব্যাটিং'। ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের স্কোয়াডে থেকেও একাদশে সুযোগ না পাওয়ার হতাশা তাই ভুলতে পারেননি এখনো, 'আমার নামের সঙ্গে সব সময় টেস্ট খেলোয়াড় তকমা ছিল। অথচ আমিই বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের একাদশে সুযোগ পাইনি! বাংলাদেশের টেস্ট খেলোয়াড়দের তালিকায় যেখানে আমার নামটা দুই নম্বরে থাকতে পারত, সেখানে এখন ১২ নম্বরে। আমি ছিলাম দ্বাদশ খেলোয়াড়।' অবশ্য সে হতাশাই জিম্বাবুয়ের পরের টেস্টে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে জাভেদকে, 'অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশ ৪০০ রান করেছে একটা ঘোরের মধ্যে থেকে। বুলবুল ভাই (আমিনুল ইসলাম) অসাধারণ সেঞ্চুরি করেছেন, সেটিও ঘোরের মধ্যে থেকে। জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে সবার ঘোর কেটে যায়। আমাদের প্রস্তুতি তখন খুব ভালো হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে আমিও ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। অভিষেক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। মনে হচ্ছিল, জিম্বাবুয়েতে সুযোগ পেলে ভালো করতে হবে।' প্রথম ইনিংসে ৬২ রান করার পরই বেড়ে যায় আত্মবিশ্বাস। বুলাওয়ের উইকেটে অনেক ঘাস ছিল। জাভেদের ভাষায়, 'কোনটা মাঠ, কোনটা উইকেট বোঝা যাচ্ছিল না।' তাতে অবশ্য তাঁর সুবিধাই হয়ে যায়, 'ওদের পেসাররা শর্ট বল করছিল। আমি যেহেতু পুল খেলতাম না, বল ছাড়তে পারতাম ভালো; শর্ট বলগুলো ছেড়ে দিচ্ছিলাম। শটও কম খেলছিলাম। আমার সাধ্যের মধ্যে থাকা শটগুলোই খেলেছি। ড্রাইভ, স্কয়ার কাটের বাইরে কিছু খেলিনি।' ঘরোয়া ক্রিকেটেও 'ধরে খেলা' ব্যাটসম্যান ছিলেন জাভেদ। ক্লাব ক্রিকেটে সব সময় উপলব্ধি করেছেন, তাঁর ধরে খেলাটার ওপর নির্ভর করে দল। সে জন্য দলীয় অনুশীলনের বাইরেও চেষ্টা করতেন নিজেকে প্রস্তুত রাখতে, 'অনুশীলনের জন্য নিজে সারা রাত দাঁড়িয়ে থেকে সিমেন্টের উইকেট বানিয়েছি। বাসায় টেবিলের ওপর থেকে ছোড়া বলে ব্যাটিং অনুশীলন করেছি। বল কীভাবে ছাড়তে হবে, সেটাও শিখতাম।' বিসিবির অনুশীলন সুবিধা তখন এত বেশি না থাকায় জাভেদ বেছে নিয়েছিলেন বাড়ির পাশের দুটি মাঠকে, 'আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ বুয়েট মাঠ ও ফজলে রাব্বী হল কর্তৃপক্ষের কাছে। তারা আমাকে অনুশীলন করার সুযোগ দিত সেখানে।' দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাভেদ খেলেছেন কয়েক প্রজন্মের সঙ্গে। আজকের তামিম-সাকিবরাও একসময় তাঁর সতীর্থ ছিলেন। আরও অনেক কিছুর মতো এটাকেও জাভেদ গৌরবের মনে করেন। তবে অতৃপ্তি ওই একটাই-অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি না পাওয়া। অভিষেকে আদ্যন্ত ব্যাটিংয়ের কীর্তিও সেই অতৃপ্তিতে কোনো সান্ত্বনা হতে পারেনি আজও। | 12 |
মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের সিংহভাগ মানুষই ছিল অবরুদ্ধ। উদ্বাস্তু হিসেবে প্রায় এক কোটি মানুষ গিয়েছিল সীমান্তের ওপারে। যুবকেরা গিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। শিল্পীরা গিয়েছিলেন সাংস্কৃতিকভাবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে, খেলোয়াড়েরা গিয়েছিলেন দেশের হয়ে ফুটবল খেলতে। কিন্তু সাড়ে ছয় কোটি মানুষ শত্রুর নৃশংসতার মধ্যেই কাটিয়েছে ৯ মাস।এই সাড়ে ছয় কোটি মানুষের একজন ছিলেন শামসুর রাহমান। কবি মানুষ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চলে গিয়েছিলেন গ্রামে। সঙ্গে ছিল ডায়েরি, খাতা। মন যখন স্বাধীনতা আর কবিতায় মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত, তখন তিনি কবিতা লিখতেন। অবরুদ্ধ দেশে কবির কলমকে তো আর রুদ্ধ করা যায় না।মার্চের উত্তাল দিনগুলোয় বিক্ষুব্ধ শিল্পীসমাজের একজন প্রতিনিধি ছিলেন শামসুর রাহমান। অন্য সব মুক্তিকামী মানুষের মতো স্বাধিকার আন্দোলনই ছিল তাঁর চালিকাশক্তি। ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরু হলে তিনি চলে যান নরসিংদীর পাড়াতলি গ্রামে। সেটাই তাঁর পৈতৃক বাড়ি। 'স্বাধীনতা তুমি' আর 'তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা' কবিতা দুটির জন্মভূমি এই পাড়াতলি গ্রাম। 'গেরিলা', 'কাক'সহ আরও যে কবিতাগুলো তিনি লিখেছেন, তাতে আছে অবরুদ্ধ দেশে বিচ্ছিন্ন ও একাকিত্বে থাকা মানুষের দীর্ঘশ্বাস।আমরা জানি, জারের রাশিয়ায় ডিসেম্বরিস্টদের হাতে হাতে ঘুরত আলেকজান্দর পুশকিনের কবিতা। জার বহু চেষ্টা করেও পুশকিনের বিদ্রোহী কবিতাগুলোর গলায় ফাঁস লাগাতে পারেনি। শামসুর রাহমানের কবিতাগুলোও কপি হয়ে হাতে হাতে পৌঁছে যেত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে। জুন মাসে তিনি ঢাকায় ফিরে এসে যোগ দেন পত্রিকার চাকরিতে। কিন্তু তাতে কবিতা লেখা থামেনি।১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর ভারতের কলকাতার সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় মজলুম আদিব (বিপন্ন কবি) ছদ্মনামে যাঁর কবিতাগুলো ছাপা হয়, তিনি আর কেউ নন, শামসুর রাহমান। আবু সয়ীদ আইয়ুব তাঁর ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন পরম মমতায়। মজলুম আদিব ছদ্মনামটিও তাঁরই দেওয়া।সূত্র: বাংলাকবিতাডটকম | 2 |
বিদেশে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি-জামায়াত। দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ও দেশের টাকা পাচার করে দেশের বাইরে ষড়যন্ত্র করছে তারা। এরা তদানিন্তন মুনাফিক, ইহুদি ও কাফেরদের উত্তরসূরী। সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সম্মিলিত ওলামা সমাজ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা। সভার আহ্বায়ক মাওলানা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করার জন্য বিএনপি-জামায়াত দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করছে। দেশের বিরুদ্ধে বহির্বিশ্বে নেতিবাচক মানসিকতা তৈরির জন্য 'লবিস্ট ফার্ম' নিয়োগ করেছে। তিনি আরো বলেন, এ দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখগণকে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাদের মোকাবিলা করতে হবে। এ সময় সভাপতির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা সুলাইমান বলেন, দেশ যখন উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাচ্ছে তখন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াত ও তাদের সহযোগী শক্তি বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার জন্য নেমেছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তারা। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ড. মাওলানা আব্দুল মোমিন সিরাজী, আল্লামা আব্দুস সালাম চরণপুরী, আলহাজ সৈয়দ নাসির বিল্লাহ রাব্বানী, মাওলানা মো. জাকির হোসেন, খন্দকার সাইফুল ইসলাম বাগদাদীসহ প্রমুখ। | 6 |
চালনা পৌর ভবনের উত্তর পাশের সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুকুর পাড়ের এ সড়কটি ভেঙে গিয়ে ও অর্ধের বেশি অংশ পুকুরের পানিতে বিলীন হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও এটির সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিগগিরই সড়কটি সংস্কার করে এটিকে চলাচল উপযোগী করে তোলার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের তিন ভাগের দুই ভাগ পাশের পুকুরে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি যে অংশ আছে তাতে অসংখ্য ছোটবড় খানা-খন্দ। এ অবস্থাতেই মানুষসহ ভ্যান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ইজিবাইকের মতো যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সড়কের উত্তর পাশে রয়েছে চালনা বাজার সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। দক্ষিণ পাশে রয়েছে চালনা পৌর ভবন। পূর্ব পাশে চালনা বাজার ও পশ্চিমে রয়েছে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। চালনা বাজারে যাওয়ার সহজ পথ হওয়ায় এ সড়ক দিয়ে তুলনামূলকভাবে মানুষ একটু বেশি চলাচল করেন।স্থানীয় বাসিন্দা শংকর সাহা বলেন, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন এলাকার অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু সড়কটি দীর্ঘদিন ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তা ছাড়া সড়কের তিন ভাগের দুই ভাগ পুকুরের পানিতে চলে গেছে। এখন এক পাশ দিয়ে একটি ভ্যান ঢুকলে আরেক পাশে জায়গা থাকে না। আমরা সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাই।'পৌরসভা এলাকার ভ্যানচালক লিটন বলেন, 'সড়কটি দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে পৌঁছানো যায় বলে অনেকেই এ সড়ক দিয়ে বেশি চলাচল করেন। কিন্তু সড়কটির যে অবস্থা তাতে এদিক দিয়ে ভ্যান-রিকশার মতো ছোট যানবাহন চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করতে আমি পৌর মেয়রকে অনুরোধ করছি।'রহিম মোল্লা নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, 'এখন তো তাও সড়কটি দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে, বর্ষা মৌসুমে একটু বেশি বৃষ্টি হলেই পুকুরের পানি সড়কে উঠে আসে। তখন আর চলাচল করা যায় না। আমরা অনতিবিলম্বে সড়কটির সংস্কার চাই।'সহিদুল হাসান নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, 'সড়কটি আমাদের সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। এটি দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। সড়কটি তো ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু সড়কের পাশের পুকুরের ধার দিয়ে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনি নেই। কোমলমতি শিশুদের জন্য বিষয়টি ভয়ংকর। সড়কটি সংস্কারের পাশাপাশি পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।'৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুধীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, 'সড়কটি মানুষ ও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এটি সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন। বিষয়টি মেয়রকে জানানো হয়েছে। আশা করি তিনি খুব শিগগিরই সংস্কারের ব্যবস্থা নেবেন।'চালনা পৌরসভার মেয়র সনৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, 'সড়কটির অবস্থা আসলেই খুব খারাপ। সড়কটির পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। ড্রেন নির্মাণ শেষ হলেই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে।' | 6 |
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিন টুইট করেছিলেন। রবিবার টেলিফোন করে ভাবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ইমরান খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চান ভারতের ভাবি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিবেশীদের অগ্রাধিকার দেয়ার সরকারি লাইনের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইমরানকে মনে করিয়ে দিয়েছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইটা সবার আগে লড়তে হবে দারিদ্র দূরীকরণের জন্য। এই অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য যে পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা আর সংঘর্ষ বন্ধ করাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি ইমরান খানকে সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মোদি। বিডি প্রতিদিন/২৬ মে, ২০১৯/আরাফাত | 3 |
ফাফ ডু-প্লেসিস, ইমরান তাহির ও ক্রিস মরিসকে ছাড়াই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করলো ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)। দলে অন্যতম চমক কেশব মহারাজ। দেশের হয়ে ৩৬টি টেস্ট ও ১৪টি ওয়ানডে খেলেছেন স্পিনার মহারাজ। খেলেননি টি-টোয়েন্টি। তারপরও বিশ্বকাপের দলে মহারাজকে রেখে চমক দেখিয়েছে সিএসএ। গত ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ডু-প্লেসিস। তবে ওয়ানডে ও সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেননি তিনি। আর গেল বছর ডিসেম্বরে সর্বশেষ রঙিন পোশাকে খেলেছেন ডু-প্লেসিস। তবে বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পেলেন না এই সাবেক অধিনায়ক। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে থেকে অবসর নেন তাহির। তবে টি-টোয়েন্টি খেলছেন তিনি। কিন্তু এই স্পিনারকে বিশ্বকাপের জন্য বিবেচনায় নেয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিকে, দেশের হয়ে দুই বছর ধরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেননি মরিস। তাই আসন্ন বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি এই অলরাউন্ডারও। আঙ্গুলের ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও আগামী বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেতৃত্বে দিবেন তেম্বা বাভুমা। বিশ্বকাপের আগেই বাভুমা সুস্থ হয়ে উঠবে আশাবাদি দক্ষিণ আফ্রিকা। মহারাজের সাথে দলে আছেন আরো দুই স্পিনার, বিয়র্ন ফরচুন ও তাবরাইজ শামসি। চারটি টি-টোয়েন্টি খেলা অলরাউন্ডার উইয়ান মুল্ডারকে দলে রাখা হয়েছে। দলে তিন রিজার্ভ খেলোয়াড়ের জর্জ লিন্ডে, আন্দিলে ফেলুকওয়াও ও লিজাড উইলিয়ামস। দক্ষিণ আফ্রিকা দলতেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক, বিয়র্ন ফরচুন, রেজা হেনড্রিকস, হেনরিচ ক্লাসেন, কেশব মহারাজ, আইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার, উইয়ান মুল্ডার, লুঙ্গি এনগিডি, এনরিচ নর্টি, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, কাগিসো রাবাদা, তাবরাইজ শামসি ও রাসি ফন ডার ডুসেন। রিজার্ভ : জর্জ লিন্ডা, আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো ও লিজাড উইলিয়ামস। সূত্র : বাসস | 12 |
বাংলাদেশের সব থেকে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার নামে যেই মামলাই দেওয়া হোক না কেন, এতে তার জনপ্রিয়তা কমবে না। এই মামলার কারণে আইনি জটিলতার বিষয় সামনে এনে তাকে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।আজ রোববার রাজধানীর পল্টনের জামান টাওয়ারে আয়োজিত বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির (আংশিক) পরিচিতি ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হুকুম ছাড়া দেশের একটি গাছের পাতাও নড়ে না। অথচ তিনি বলছেন, 'আমার যতটুকু করার তা আমি করেছি। আমার আর কিছু করার নেই।' খালেদা জিয়ার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে, সে যে কোন সময় মারা যেতে পারে যদি তার সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা হয়। একজন মানুষ হিসেবে মানবিক কারণে বেগম জিয়া চিকিৎসা পেতে পারেন অথচ প্রতিহিংসার কারণে তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ড. আসিফ নজরুল, অধ্যাপক লতিফ মাসুম, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, গণ অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূর, রাশেদ খান, ফারুক, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা বিন ইয়ামিন মোল্লা, আরিফুল ইসলাম আদীব প্রমুখ। | 9 |
'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনবল সংকট ও নানা সামাজিক প্রতিকূলতার কারণে দেশের উপকূলীয়, দুর্যোগপ্রবণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বসবাসরত নারীরা সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ তার মধ্যে অন্যতম। নারী এবং শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি উদ্যোগ (১০৯ হটলাইন) সম্পর্কে এ অঞ্চলে বসবাসরত অধিকাংশ নারী অবগত নন। পিছিয়ে পড়া এমন জনপদে নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত ও সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিষেবা চালু করা অত্যন্ত জরুরি।' শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত 'জেন্ডার সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন : সরকারি পরিষেবার ভূমিকা' শীর্ষক সংলাপে এমন কথা বলেন বক্তারা। 'গণতান্ত্রিক সুশাসনে জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ' শীর্ষক চলমান প্রকল্পের আওতায় যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফাম। এতে সহযোগিতা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভস (এসডিআই)। সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত ও ওয়াসিকা আয়শা খান। এতে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু, চট্টগ্রাম ওমেন চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মুনাল মাহবুব। স্বাগত বক্তব্য দেন এসডিআইর নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক ও অক্সফামের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স ম্যানজোর এসএম মনজুর রশীদ। গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। সংলাপে উঠে আছে সন্দ্বীপে অস্ত্রোপচারসহ জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসেবা দিতে সক্ষম এমন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নেই। এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে চট্টগ্রামের মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীর ৬৯ ভাগ আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হয়েছেন। অথচ সন্দ্বীপে এ সংখ্যা মাত্র ২৮ ভাগ। চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণে নারী শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ৩৩ ভাগ। এ ক্ষেত্রে সন্দ্বীপে নারী শিক্ষকদের অংশগ্রহণ মাত্র ১০ ভাগ। আরমা দত্ত বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। নারীর এসব ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার কাজ করে যাবে। ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীসহ সব অধিবাসীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে যথাযথ কৌশল প্রণয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের যেসব সূচকে সন্দ্বীপের অবস্থান পিছিয়ে আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য দরকার সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা। | 6 |
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভাদার্ত্তী খাল দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বেলাই বিলের দিক থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর সংযোগ ভাদার্ত্তী-জয়রামবের খালে পানির স্রোতের সঙ্গে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধার পচা গলিত মরদেহ ভেসে আসে। ভাদার্ত্তী ব্রিজের নিচে মরদেহটি আটকে গেলে পুলিশ মরদেহটি শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। পরে গণমাধ্যম কর্মীদের তদারকিতে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের সোমবাজার এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান হয়।মঙ্গলবার বিকেলে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম।মো. আমিনুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত বৃদ্ধার বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। নিহতের গায়ে হালকা গোলাপি রং এর একটি ব্লাউজ থাকলেও পুরো শরীরে কাপড় ছিল না। মাথায় কাঁচা পাকা চুল। উদ্ধারকৃত মরদেহটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুরে প্রেরণ করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বেলাই বিলের দিক থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর সংযোগ ভাদার্ত্তী-জয়রামবের খাল দিয়ে পানির স্রোতের সঙ্গে একটি মরদেহ ভেসে আসছিল। এ সময় মরদেহটি ভাদার্ত্তী ব্রিজের পিলারের সঙ্গে আটকে যায়। মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহটিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা থানার ওসিকে ফোন দেন। পরে ওসির নির্দেশে মরদেহটি উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের সোমবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। যদিও মরদেহটি শীতলক্ষ্যা নদীর কালীগঞ্জ অংশে ভেসে ছিল কিন্তু কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ মরদেহটি উদ্ধারের জন্য নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও নরসিংদীর পলাশ থানা-পুলিশের উপর নির্ভর করে। পরে তারা কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর তা নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তরের অপেক্ষায় ছিল। নৌ-পুলিশ না আসায় অবশেষে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।পলাশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইলিয়াস হোসেন, রুপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সায়েদ আহমেদ এ ব্যাপারে কিছুই জানায়। তবে এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা নৌ-পুলিশের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অজ্ঞাত বৃদ্ধার নাম পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি এবং মরদেহের সন্ধানেও কেউ আসেনি। | 6 |
বলিউডের নতুন দম্পতি ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশল। সংসারজীবন সুখেই কাটছে- সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইফা অ্যাওয়ার্ডের আসরে জানিয়েছিলেন ভিকি। এরইমধ্যে দুই জনের সংসারে তৃতীয় ব্যক্তির 'প্রবেশ'। বলিউডের জনপ্রিয় নির্মাতা ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ায় দেখা গেছে ভিকিকে। ক্রোয়েশিয়ায় তোলা একটি ছবি ফারাহ নিজেই প্রকাশ্যে এনেছেন। তবে অন্য নারীর সঙ্গে স্বামীর এই ছবি দেখে শঙ্কিত নন ক্যাটরিনা। উল্টো দুজনের এই ছবিতে নিজের ভালোবাসার কথাও জানিয়ে দিয়েছেন। কারণ পুরো বিষয়টিই রসিকতা; তা বুঝতে মোটেই অসুবিধা হয়নি ক্যাটরিনার। ক্যাটরিনা ও ফারাহর এই রসিকতায় যোগ দিয়েছেন ভিকিও। তিনি লিখেছেন, 'আমি ও ফারাহ শুধুই ভালো বন্ধু'! বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
ধাপে ধাপে সীমান্ত পুরোপুরি খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেন এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এরইমধ্যে দেশটিতে প্রথমবারের মতো কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি সহজ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫টি ধাপে পুরোপুরি খুলে দেয়া হবে নিউজিল্যান্ডের সীমান্ত। আগামি ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের দেশে ফেরার অনুমতি দেয়া হবে। তবে তাদেরকে অবশ্যই ভ্যাকসিন নেয়া হতে হবে। আগামী ১৩ মার্চ থেকে বিশ্বের সকল দেশ থেকেই ভ্যাকসিন নেয়া নাগরিকরা নিউজিল্যান্ডে ফিরতে পারবেন। এভাবে অক্টোবর মাস নাগাদ সীমান্তে সব ধরনের বাধানিষেধ তুলে নেয়া হবে। বিশ্বের যে কটি দেশ কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছে তার মধ্যে নিউজিল্যান্ড অন্যতম। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭ হাজার জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। আর এরমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৩ জন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 3 |
করোনা মহামারীর প্রভাব মোকাবিলায় দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে গতি সঞ্চার, গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অতিদরিদ্র বয়স্ক ও বিধবাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নতুন দুইটি প্রণোদনা কর্মসূচি অনুমোদন করেছেন। কর্মসূচি দুইটির মোট বরাদ্দ দুই হাজার সাতশত কোটি টাকা, যার বাস্তবায়ন অবিলম্বে শুরু হবে। উল্লেখ্য, করোনা মোকাবেলায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রণোদনা প্যাকেজের যাবতীয় দিক নিয়ে অর্থ বিভাগ সম্প্রতি তিনটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করে। এ সভাগুলোতে উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, ব্যাংক, উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন খাতের অংশীজন, প্রেস ও মিডিয়া প্রতিনিধিসহ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ মতবিনিময় সভাগুলোতে করোনা মোকাবিলায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে বেগবান করার লক্ষ্যে ব্যাংক ব্যবস্থার পাশাপাশি কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও আধাসরকারি সংস্থা/ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো, নারী-উদ্যোক্তা উন্নয়নে আরও পদক্ষেপ নেয়া এবং দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অব্যাহত রাখতে পল্লী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অতিদরিদ্র অসহায় পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য সুপারিশ করা হয়। নতুন অনুমোদিত প্রথম প্যাকেজটির আকার ১,৫০০ কোটি টাকা, যার আওতায় ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাত ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য গৃহীত কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক)-কে ১০০ কোটি টাকা এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনকে ৫০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে এনজিও ফাউন্ডেশনকে ৫০ কোটি টাকা, সোসাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি টাকা, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে ১০০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে ৩০০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। অনুমোদিত দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের ১৫০টি উপজেলায় দরিদ্র্য সকল বয়স্কদের এবং বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা সকল নারীকে ভাতার আওতায় আনা হবে। নতুন অনুমোদিত এই দু'টি-সহ মোট প্রণোদনা প্যাকেজের সংখ্যা হলো ২৩টি, যার মোট আর্থিক পরিমান ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা (জিডিপি'র ৪.৪৪ শতাংশ)। | 0 |
দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বাগেরহাটে অন্যান্য বছরগুলোর মত এ বছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অধিকাংশ জমির ধান কাটা শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অশনি আতঙ্কে অনেক কৃষকই এ বছর আগেভাগে ধান কাটতে শুরু করেন।তবে, এ বছর বাগেরহাটে ধান কাটা শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের মধ্যে এ বছর হঠাৎ করে ধান কাটা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বেড়ে হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকা দৈনিক মজুরির পাশাপাশি দিতে হচ্ছে তিন বেলার খাবার। এদিকে জেলায় এ বছর প্রতি মণ মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়।সেই হিসেবে প্রায় দেড় মণ ধানের দামে মিলেছে একজন শ্রমিক। অবশ্য ক্ষেত্রবিশেষে সবচেয়ে ভালো চিকন ধান বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ৯২০ টাকায়। এদিকে ধানের দাম কম আর শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় বোরোর বাম্পার ফলন হলেও বাড়তি ব্যয়ের জন্য লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষীরা। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৫৯ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে চিতলমারী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ১১ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে। আর সবচেয়ে কম উপকূলীয় উপজেলা মোংলায় আবাদ করা হয়েছে মাত্র ২০ হেক্টর জমিতে। তবে কৃষকরা বলছেন, কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে একদিকে যেমন ধানের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, সেইসঙ্গে শ্রমিকের মজুরিও বেড়ে যাওয়ায় ধান ঘরে তোলার খরচও বেড়েছে। অন্যদিকে ধানের দাম কম। ফলে বোরোর বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর এলাকার কৃষক মহিউদ্দিন বলেন, "ধানের ফলন ভাল হয়েছে। কিন্তু এ বছর একজন ধান কাটার শ্রমিককে দৈনিক মজুরি ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আর প্রতিমণ মোটা ধানের দাম ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। এমন অবস্থা হলে ধান চাষ করলে কৃষকের লোকসান হবে।" বাগেরহাট সদর উপজেলার সুগন্ধি গ্রামের কৃষক হাকিম মল্লিক জানান, শ্রমিকের অভাবে বোরো ধান কাটা নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছিলেন। পরে অধিক দামে শ্রমিক নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিবছরই এই মৌসুমে বাগেরহাটে কিছুটা শ্রমিকের সংকট থাকায় নড়াইল, যশোর, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক এসে এখানে কাজ করে থাকেন। বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী "শ্রমিক বেচা-কেনার হাট" ফকিরহাট ও যাত্রাপুর থেকে এসব শ্রমিক আনা হয়। আর এসব শ্রমিক আনা থেকে শুরু করে সব খরচ কৃষকেই বহন করতে হয়। ফলে খরচের পাল্লা বাড়তেই থাকে তাদের। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজিজুর রহমান জানান, "বোরো মৌসুমে বাগেরহাটে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর দীর্ঘ সময় ধরে ধান পাকায় ও কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহারে শ্রমিক সংকট নজরে আসেনি। তবে শ্রমিকের মজুরি তুলনামূলক বেড়ে গেছে।" | 6 |
ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, কোনো কোনো আরব দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সহ্য করা হবে না। ইসরাইলি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে মরক্কোর একটি প্রতিনিধিদল ইসরাইলে পৌঁছার পর এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের নেতারা। সংগঠনটির গণমাধ্যম বিষয়ক প্রধান দাউদ শাহাব সম্প্রতি এক টুইটার বার্তায় এ হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেছেন, মরক্কোর প্রতিনিধিদলটি ফিলিস্তিনি শহীদদের রক্তের অবমাননা ও ফিলিস্তিনি শিশু হত্যাকারীদের উৎসাহিত করেছে। ইসরাইল সফরকারী প্রতিনিধিদলের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করার জন্য মরক্কোর জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সেইসাথে তিনি জেরুসালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তারা যেন আল-আকসা মসজিদসহ অন্য পবিত্র স্থানে মরক্কোর ওই প্রতিনিধিদলকে প্রবেশ করতে না দেন। সম্প্রতি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোসহ কয়েকটি আরব দেশ অবৈধ দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মরক্কোর ওই প্রতিনিধিদল ইসরাইল সফর করছে। বাঙ্কারে পালালো ইসরাইলিরা, প্রস্তুত ফিলিস্তিন ও ইরানআরাবিয়া ফিলিস্তিনিরা ও ইরানিরা মানসিকভাবে বেশ শক্তিশালী। দখলদার ইসরাইলের ব্যাপারে তারা বরাবরই প্রতিবাদী। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াও ঈমানী বলে বলিয়ান হয়ে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলে। শহীদী তামান্নার কারণে ফিলিস্তিনি নিরস্ত্র কিন্তু বিপ্লবী মুসলমানদেরও ইসরাইলবাসীর কাছে একেকটি টাইম বোমার মতো মনে হয়। তাইতো অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র থাকার পরও ইসরাইলবাসী উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় ভুগে। সম্প্রতি ইসরাইলি স্নাইপারের গুলিতে ফিলিস্তিনি নার্স নিহত হবার ঘটনায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। গাজা উপত্যকায় ইসরাইল কর্তৃক ২টি মিসাইল নিক্ষেপের ঘটনার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলে ২টি রকেট হামলা করে। কিন্তু রকেট হামলার খবর আগেই যেনে যায় ইসরাইল। একটি রকেট আকাশে ধ্বংস করতে পারলেও অপরটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইসরাইলি সেনারা রকেট হামলার খবর আগেই জানতে পারায় ওই এলাকা থেকে তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়। তাদেরকে বাড়ি থেকে স্থানান্তর করে সেনাবাহিনীর বাঙ্কারে লুকিয়ে ফেলা হয়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে রকেট হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। ইসরাইলি টিভি চ্যানেল ১০ এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা উপত্যকার সীমান্তবর্তী ইসরাইলি এলাকায় সম্ভাব্য রকেট হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইহুদি বসতিদের সেনা বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সাথে সই হওয়া ৬ জাতিগোষ্ঠীর পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তা পরমাণু সমঝোতার আলোকেই হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভস লা দ্রিয়াঁ। নতুন সেন্ট্রিফিউজ তৈরির পদক্ষেপকে পরমাণু সমঝোতার লঙ্ঘন বলে ধরে নেয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে লাঁ দ্রিয়া বলেন, এখনো তা হয়নি বরং ইরানিরা তাদের সর্বোচ্চ স্তরে গেছে। ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর মঙ্গলবার তেহরান ঘোষণা করেছে যে, নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় উন্নত সেন্ট্রিফিউজ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার বলেন, ইরান যে ঘোষণা দিয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে পরমাণু সমঝোতার আওতায় রয়েছে। আমি মনে করি এটি সুন্দর অরাজনৈতিক পদক্ষেপ। | 3 |
১৯৭০-৮০ সালের পরে পূর্ব ভারতে এত সমস্যা একসঙ্গে মাথাচাড়া দেয়নি, পূর্ব ও উত্তর-দুই সীমান্তেই একসঙ্গে চাপও দীর্ঘদিন বাড়েনি। ঘটনা তিনটি জুলাই ও আগস্ট মাসের। প্রথম ঘটনাটি ২৬ জুলাই। এদিন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দুটি রাজ্য মিজোরাম ও আসামের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত হয়, গুলিতে নিহত হন পুলিশের ছয়জন সদস্য। দ্বিতীয় ঘটনাটি ২৮ জুলাই, নয়াদিল্লিতে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার দূতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সাক্ষাৎ। ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে এই দালাই লামাকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' হিসেবে অভিহিত করে আসছে চীন। তৃতীয় ঘটনাটি আগস্ট মাসের শেষে যখন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করল। আপাতদৃষ্টে ঘটনা তিনটি বিচ্ছিন্ন হলেও ভারতের জন্য গভীরভাবে তা সংযুক্ত ও উদ্বেগজনক। এই সংযুক্তির ক্ষেত্রটা মূলত চীনকেন্দ্রিক। চীনের পশ্চিমে রয়েছে শিনজিয়াং ও দক্ষিণ-পশ্চিমে তিব্বত। চীনের এ দুটি প্রদেশের আয়তন প্রায় ভারতের সমান। ভারতের উত্তর-পূর্বের অংশে অরুণাচল প্রদেশ থেকে লাদাখ (যা ২০১৯ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরের অংশ ছিল) বা কাশ্মীরের পুরোটাই শিনজিয়াং ও তিব্বতের পশ্চিমে বা দক্ষিণ। সীমান্তের উত্তর অংশে সংঘাত হলে তার প্রভাব সীমান্তের পূর্বে বা উত্তর-পূর্ব কোণে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। আবার পূর্ব ভারতের সীমান্তে কোনো সংঘাত হলে তার প্রভাব পড়বে উত্তরে। এই উত্তর সীমান্ত লাগোয়া হলো চীনের শিনজিয়াং প্রদেশ। ফলে আফগানিস্তানের যখন সেনা প্রত্যাহার হয়, তিব্বত নিয়ে ওয়াশিংটন যখন নতুন করে নাড়াচাড়া শুরু করে বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভারতে কোনো সংঘাত হয়, তখন সব কটি ঘটনাই ভারতের জন্য উদ্বেগের হয়ে দাঁড়ায়। ৯৮ বছর বয়সী মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার এখনো সক্রিয়। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পরে তিনি লিখেছেন, এবার যুক্তরাষ্ট্রের 'শরিকেরা আশাহত, শত্রুরা উৎসাহিত ও পর্যবেক্ষকেরা বিভ্রান্ত হবে।' এশিয়ায় গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শরিক ভারত। সেই শরিক যে আশাহত, তা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কথায় পরিষ্কার। দিল্লিতে ২৮ জুলাই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেনের পাশে বসে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের (আফগানিস্তানে) বিরাট সামরিক উপস্থিতি ছিল, সেটা চলে গেলে তার প্রভাব পড়বেই। এটা ভালো না মন্দ, প্রশ্ন তুলে লাভ নেই। কূটনীতিতে আজ যা হাতে আছে, তা দিয়েই কাজ চালাতে হয়।' আফগানিস্তান লাগোয়া পাকিস্তানের খাইবার গিরিপথ থেকে জম্মু-কাশ্মীরের দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক খারাপ। ফলে আফগানিস্তানের যুদ্ধবাজদের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন জম্মু-কাশ্মীরে অশান্তি বাড়াতে পারে, যেমনটা বেড়েছিল ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের উদ্ধৃত করে ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, সে সময় অন্তত ৪০০ আফগান গেরিলা পাকিস্তান টপকে কাশ্মীরে ঢুকে পড়েছিল। বিস্তর অর্থ ব্যয় ও সেনা মোতায়েন করে, কার্যত গৃহযুদ্ধ চালিয়ে ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে ভারত ১৯৯০-এর দশকে কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। এ ছাড়া বর্তমানে আফগানিস্তানে ভারতের বিনিয়োগ রয়েছে। এসব কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার ভারতের জন্য অস্বস্তিকর। দিল্লিকে এখন তালেবানের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে হচ্ছে। এরপর ভারত কতটা এবং কত দিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য শরিক থাকে, তা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতি শুধু পাকিস্তান নয়, চীনেরও আগ্রহ রয়েছে। তাই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাসখানেক আগে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেনের সফর তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দিল্লিতে দালাই লামার দূতের সঙ্গেও বৈঠক করে চীনকে বার্তা দিলেন যে তিব্বতের স্বাধীনতার দাবিকে এখনো অস্বীকার করে না যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের অনুমতি ছাড়া এই বৈঠক সম্ভব ছিল না, তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে এই দাবি সমর্থন করে দিল্লিও। বৈঠকটি চীনকে অসন্তুষ্টও করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীনের বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রস্তুতি জোরদার করা হবে। মার্কিন কূটনীতিক সাবেক রাষ্ট্রদূত নিক হ্যালে বলেছেন, চীনের বিরুদ্ধে অবস্থানে ভারতকে পাশে পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভারতকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে, প্রধানত দুটি কারণে। প্রথমত, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি মোকাবিলা করার জন্য ২০০৭ সালে তৈরি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত জোট (কোয়াড)। তখন ভারতের পক্ষে এটা ভাবা সম্ভব ছিল না যে একদিন আফগানিস্তানে পরাজিত হবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া ২০০৭ সালে ভাবা যায়নি, চীন ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে দেবে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চীনবিষয়ক বিভাগের অধিকর্তা রাস দোসি জুলাই মাসে প্রকাশিত তাঁর দ্য লং গেম: হাউ দ্য চায়নিজ নেগোসিয়েট উইথ ইন্ডিয়া বইয়ে লিখেছেন, কখনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কখনো কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে বিনিয়োগ করে চীন কয়েক দশকে যখন লাগাতার উন্নতি করেছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র 'শিল্পহীন, ইংরেজি-বলা লাতিন আমেরিকার একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষতা জমি-গাড়ি কেনাবেচা এবং সম্ভবত বিশ্বময় কর ফাঁকি দেওয়ায়।' খোদ মার্কিন কূটনীতিক অশীতিপর কিসিঞ্জার ও সরকারি প্রতিনিধি দোসির মন্তব্যের পর ভারতকে তাই দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইতিহাস বলছে, চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে (১৯৬২) ওয়াশিংটনকে পাশে পায়নি দিল্লি। অথচ খানিকটা যুক্তরাষ্ট্রের ভরসাতেই চীনের সঙ্গে লড়তে গিয়েছিল ভারত। এ নিয়ে জানা যায় ব্রুস রিডলের জেএফকেস ফরগটেন ক্রাইসিস: তিব্বত, দ্য সিআইএ, অ্যান্ড দ্য সিনো-ইন্ডিয়ান ওয়ার বইয়ে। ব্রুস রিডল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএতে প্রায় ৩০ বছর চাকরি করেছেন। তিনি এই বইয়ে লিখেছেন কীভাবে পঞ্চাশের দশকে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষুব্ধ তিব্বতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিত। ১৯৬১ সালে সিআইএ ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অর্থনীতিবিদ জন গলব্রেথকে জানিয়েছিল, পূর্ব পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে প্যারাস্যুটারদের তিব্বতে নামার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চীন-ভারত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে ভারতের আশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র তার যুদ্ধবিমানের বহর নিয়ে পাশে দাঁড়াবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গলব্রেথের কাছে জানতে চেয়েছিল, এর প্রয়োজন আছে কি না। গলব্রেথ লেখেন, চীন সব ফ্রন্টে আক্রমণ করবে না, যেমন ভারতীয়রা আশঙ্কা করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিমান পাঠায়নি, ভারতের পরাজয় হয়। সর্বশেষ গত আগস্টেও আফগানিস্তানে স্থায়ীভাবে বিমানবাহিনীকে রাখতে রাজি হয়নি ওয়াশিংটন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষজ্ঞ সঞ্জীব বড়ুয়া তাঁর ডিউরেবল ডিজঅর্ডার: আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য পলিটিকস অব নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া গ্রন্থে লিখেছেন, ১৯৬২ সালের যুদ্ধ উত্তর-পূর্বে যে ভারতের দুর্বলতা রয়েছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে দিল্লিকে। সঞ্জীব বড়ুয়া নিউইয়র্কের বার্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপকও। তিনি বললেন, 'গত দেড় দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। বিষয়টিকে চীনের গুরুত্ব দেওয়ার আশঙ্কা অবশ্যই রয়েছে।' দক্ষিণ তিব্বতের ঠিক নিচে উত্তর-পূর্ব ভারত ছাড়াও রয়েছে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর প্রান্তে শিলিগুড়িতে রয়েছে 'চিকেনস নেক' করিডর। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যবর্তী অঞ্চলে মুরগির গলার মতো সরু ২০ কিলোমিটারের করিডর পশ্চিম ভুটানের ডোকলামের থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে। ২০১৭ সালের জুন মাসে চীনা সেনারা ডোকলামে রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নিলে নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতীয় বাহিনী বাধা দেয়। ভারতের দাবি, ওই অংশ বিতর্কিত এবং তিন দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই ওই বিতর্কের মীমাংসা হতে হবে। চীনেরও দাবি, ওই অংশ তাদের। জমি বিনিময়ের মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যা মেটাতে চীন দীর্ঘদিন ভুটানের সঙ্গে আলোচনা করছে। ডোকলাম-সংলগ্ন অঞ্চল চীন অধিগ্রহণ করতে পারলে ভারতের বিপদ আরও বাড়বে। এই করিডর আটকে গেলে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশের পাঁচ জেলা ও সিকিম। এসব অঞ্চলে ছয় কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দিয়ে উত্তর-পূর্বে ও নেপাল দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে ঢুকতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভারতকে ওই দুই দেশের অনুমতি লাগবে। স্রেফ চীন ও চিকেনস নেকের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই তাই বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে স্থায়ীভাবে ভারতের সম্পর্ক ভালো রাখা প্রয়োজন। এই অবস্থায় তিব্বত নিয়ে নাড়াচাড়া ভারতকে চিন্তায় রাখছে। বিশেষত যখন তিব্বতের দক্ষিণে উত্তর-পূর্ব ভারতে সংঘাত বাড়ছে। গত ২৬ জুলাই মিজোরাম ও আসামের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের ছয়জন কর্মী নিহত হন। ১৯৮০-এর দশকে নাগাল্যান্ড ও আসামের মধ্যে গুলিবিনিময়ে ৩২ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার পরে এমন ঘটনা ঘটেনি। এর প্রধান কারণ রাজ্যগুলোর সীমানা নির্ধারণ করা যায়নি। চীন যুদ্ধের অভিঘাতে ১৯৬০-এর দশকে আসাম ভেঙে পাঁচ রাজ্য: আসাম, অরুণাচল প্রদেশ (তখন নেফা), মেঘালয়, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড তৈরি হয়। কেন ৬০ বছর পরেও আসামের সঙ্গে রাজ্যগুলোর সীমানা নির্ধারণ করা গেল না? এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক সঞ্জীব বড়ুয়া বললেন, সমস্যার সূত্রপাত নতুন রাজ্যগুলো গঠনের মধ্য দিয়ে। এই রাজ্যগুলো আসামের ছোট ছোট জেলা ছিল। একটি রাজ্যের ভেতরে বিভিন্ন জেলার সীমানা নিয়ে নমনীয়তা থাকে। প্রশাসনিক কারণে জেলার সীমানা মাঝেমধ্যে পরিবর্তন করতে হয়। এ নিয়ে সমস্যা হয় না নমনীয়তার কারণে। কিন্তু নতুন রাজ্য গঠনের পরে সেই সীমানা রাজ্যের স্থায়ী সীমানায় পরিণত হয়, সমস্যা বাড়তে থাকে। এর কী ফল হতে পারে, তা ১৯৬০-এ ভাবা হয়নি, এখন অস্থির অবস্থা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। যদিও সমস্যা মেটাতে দিল্লির মধ্যস্থতায় বৈঠক শুরু হয়েছে। সংঘাতের পেছনে দ্বিতীয় আরেকটি কারণ রয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা হিন্দুত্ববাদের অনেক সূত্র ইদানীং উত্তর-পূর্ব ভারতে আমদানি করছেন। যেমন গরু সংরক্ষণ আইন। এর ফলে আসামে গরুর ব্যবসা করা মুশকিল হবে। কিন্তু গরুর মাংস যে শুধু আসামেই খাওয়া হয় তা নয়, উত্তর-পূর্বের অন্য রাজ্যগুলোতেও হয়। কারণ, পাঁচটি রাজ্যে উপজাতি ও খ্রিষ্টানরা সংখ্যাগুরু। গরুর বাজারও বিরাট। গরু যায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসামের মধ্য দিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই খাসি-নাগা-মিজো-অরুণাচলের অধিবাসীরা আইন নিয়ে খুশি নন, যদিও বলা হয়েছে, 'বৈধ পরিবহন অনুমতি সাপেক্ষে' গরু নিয়ে যাওয়া যাবে। কিন্তু কার্যত সেটা সম্ভব নয়। ফলে প্রোটিনের প্রধান সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বাজার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা। মিজোরামের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসেনা রালটেক বললেন, গরু আসতে না দিলে তা মিজোরাম লাগোয়া মিয়ানমার থেকে আনবেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। যদিও মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পরে দেশটির চিন প্রদেশের মানুষ মিজোরামে প্রবেশ শুরু করলে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় ভারত। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা। এ নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মিজোরামের মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। কারণ, চিন প্রদেশ ও মিজোরামের অনেক বাসিন্দার মধ্যে জাতিগত আত্মীয়তা রয়েছে। আরও একাধিক বিষয় নিয়ে সমস্যা চলছে উত্তর-পূর্ব ভারতে। নাগাল্যান্ডের শক্তিশালী দল ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড-আইজ্যাক মুইভার (এনএসসিএন-আইএম) সঙ্গে বৃহত্তর নাগাল্যান্ড নিয়ে কেন্দ্রের আলোচনা ও অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেস্তে গেছে। নাগাল্যান্ডে সমান্তরাল সরকার চালানো এনএসসিএন-আইএম মাসখানেক আগে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট করে নতুন আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এ ছাড়া অরুণাচল প্রদেশে চাকমা-হাজংদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সংঘাত এখন রোজকার ঘটনা। এসবের মধ্যেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মিজোরামের দিক থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছু অস্ত্রশস্ত্র ঢুকেছে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২০০৯-এ ক্ষমতায় আসার পরে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতবিরোধী কাজকর্ম বন্ধে ভারতের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন সংগঠনের অনেক শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে হস্তান্তরও করে ঢাকা। পাশাপাশি মেঘালয়ে পুলিশের গুলিতে এক সাবেক জঙ্গিনেতা নিহত হওয়ায় সম্প্রতি সেখানে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। মানুষ অসন্তুষ্ট, পরিস্থিতি থমথমে। আর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নিজেই আসাম-লাগোয়া উত্তরবঙ্গে নতুন রাজ্য গড়ার চেষ্টা করছে। এতেও উত্তেজনা বাড়ছে। ১৯৭০-৮০-এর পরে পূর্ব ভারতে এত সমস্যা একসঙ্গে মাথাচাড়া দেয়নি, পূর্ব ও উত্তর-দুই সীমান্তেই একসঙ্গে চাপও দীর্ঘদিন বাড়েনি। দুই সীমান্তেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে ভারত কীভাবে সামাল দেয়, সেদিকে নজর থাকবে বিশ্বের। | 3 |
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হয় শুক্রবার বেলা ২টায়। এই ম্যাচ দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচ খেলতে নামলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। আর নেতৃত্ব দেওয়ার শেষ ম্যাচে টস হেরেছেন তিনি। তবে টস হেরে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকে জিম্বাবুয়ে বোলারদের পেটাতে থাকেন লিটন দাস। অপরপ্রান্তে ধীরগতিতে ব্যাট করছেন তামিম। আট ওভার চার বলে দুজনে গড়েন ৫০ রানের জুটি। আর প্রথম পাওয়ার প্লে অর্থাৎ ১০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে তোলে বিনা উইকেটে ৫৩ রান। জিম্বাবুয়েকে আগের দুই ম্যাচে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচটি জিতলেই শন উইলিয়ামস-ব্রেন্ডন টেইলরদের হোয়াইটওয়াশ করবে টাইগাররা। এ ম্যাচে দারুণ এক রেকর্ড গড়ার হাতছানি বিদায়ী নেতার সামনে। এটি জিতলেই দেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ৫০তম ওয়ানডে জয় করবেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। এই ম্যাচে ৪টি পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ দলে। মুশফিকুর রহিম, শফিউল ইসলাম, আল আমিন, এবং নাজমুল হোসেন শান্ত'র বদলে দলে ঢুকেছেন সাইফুদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান এবং ওয়ানডে অভিষেক হচ্ছে মোহাম্মদ নাইম শেখ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব'র!
বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ | 12 |
ভ্যাকসিন সংগ্রহে আগাম বুকিং নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে ধনী দেশগুলো। উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি। তাই বেশি দাম দিয়ে হলেও ধনী দেশগুলো ভ্যাকসিন সংগ্রহ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দরিদ্র দেশের ৯০ ভাগ জনগোষ্ঠী আগামী বছর ভ্যাকসিন থেকে বঞ্চিত হবে বলে নতুন এক গবেষণায় জানানো হয়েছে। খবর আল জাজিরার। দরিদ্র দেশে টিকা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা প্রতিষ্ঠান দ্য পিপল'স ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ধনী দেশগুলো তাদের জনসংখ্যার তিনগুণ বেশি ভ্যাকসিনের ডোজ নিশ্চিত করে রেখেছে। ৬৭টি দরিদ্র দেশের প্রতি ১০ জনের মাত্র একজন ভ্যাকসিন পাবে বলে সতর্ক করেছে ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স। এই জোটে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, অক্সফামের মতো মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোও রয়েছে। ৬৭টি দেশের মধ্যে কেনিয়া, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৪ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী ধনী দেশগুলো ৫৩ শতাংশ ভ্যাকসিন ডোজ ইতোমধ্যেই মজুত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ভূক্ত দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, হং কং, ম্যাকাউও, নিউজিল্যান্ড, ইসরায়েল ও কুয়েত। এ প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ ককবার্ন বলেন, 'ভ্যাকসিন মজুতের ফলে বিশ্বের সকল স্থানে সবার জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিতকরণের বিষয়টিকে স্পষ্টভাবেই অবহেলা করা হচ্ছে।' অক্সফাম জানিয়েছে, কানাডা তাদের মোট জনসংখ্যার পাঁচগুণ ভ্যাকসিন সরবরাহ মজুত করেছে। আরেক শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়া মোট জনসংখ্যার ৮৮ শতাংশ ভ্যাকসিন মজুত করেছে। অন্যদিকে ফিলিপাইনের মতো উন্নয়নশীল দেশ ২৬ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে পেরেছে যা তাদের ১০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ১৩ লাখকে প্রদান করা সম্ভব হবে। অক্সফামের স্বাস্থ্য নীতি বিষয়ক প্রধান আনা ম্যারিয়ট বলেন, 'জীবন বাঁচানো ভ্যাকসিন থেকে কেউই বঞ্চিত হতে পারেন না তা তিনি যে দেশেই থাকুন অথবা যত টাকাই তার পকেটে থাকুক না কেন।' তিনি আরও বলেন, কোনো নাটকীয় পরিবর্তন না এলে আগামী বছরগুলোতে বিশ্বের শত কোটি মানুষ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিতে পারবে না। | 3 |
চতুর্থ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নরসিংদী সদর উপজেলায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং, পোলিং ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকলেও ভোটার উপস্থিতি একেবারেই কম। সদর উপজেলায় দুটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা ও ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে মোট ভোটারসংখ্যা ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৯ জন। নরসিংদী সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজনসহ ৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
মাস্টারকার্ড, ভিসা ও ডিসকভার দিয়ে এখন থেকে আর পর্নো ওয়েবসাইট পর্নহাবের ভিডিও কেনা যাবে না। ৪ ডিসেম্বর 'নিউইয়র্ক টাইমস' পত্রিকায় প্রকাশিত এক কলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কলামে অভিযোগ করা হয়, পর্নহাবে শিশু নিগ্রহ ও সম্মতিবিহীন যৌনাচারের ভিডিও প্রদর্শিত হচ্ছে। এই অভিযোগের পর মাস্টারকার্ড পর্নহাবের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তারা জানিয়েছে, এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এক বিবৃতিতে মাস্টারকার্ড জানিয়েছে, 'পর্নহাবে আমাদের কার্ড দিয়ে আর ভিডিও কনটেন্ট কেনা যাবে না। গত কয়েক দিনের তদন্তে আমরা দেখেছি, পর্নহাবে অবৈধ ভিডিও প্রদর্শিত হচ্ছে। আমাদের কার্ড ব্যবহার করে এই অবৈধ ভিডিও কেনার সুযোগ দেওয়া হবে না। সে জন্য আমরা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছি, আমাদের কার্ড দিয়ে পর্নহাবের ভিডিও কেনার আবেদন গ্রহণ না করতে।' মাস্টারকার্ড আরও জানিয়েছে, অন্যান্য ওয়েবসাইটেও এ রকম অবৈধ ভিডিও প্রদর্শিত হচ্ছে কি না, সেটাও তদন্ত করছি। এদিকে ভিসা কার্ডের তদন্ত এখনো শেষ না হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, ভিসা কার্ড দিয়ে পর্নহাবের ভিডিও কেনা যাবে না। সিএনএনকে তারা জানিয়েছে, 'পর্নহাবে অবৈধ ভিডিও আছে, এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পর্নহাবের কনটেন্ট কেনার ক্ষেত্রে যে অগ্রাধিকার দিতাম, তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।' এই পরিপ্রেক্ষিতে পর্নহাব জানিয়েছে, এই খবরে পর্নহাবের মডেলদের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এদিকে আমেরিকান এক্সপ্রেস তাদের দীর্ঘদিনের ডিজিটাল অ্যাডাল্ট কনটেন্টে সাইট নীতিমালার আলোকে পর্নহাবে কার্ড ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে পে পল ২০১৯ সালে এই সাইটে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার অন সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোকে অনেক দিন ধরেই পর্নো সাইটে অর্থ লেনদেন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেছে, যারা ধর্ষণের ছবি বেচে টাকা রোজগার করে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখাই শ্রেয়। চলতি বছরের শুরু থেকেই তারা এই আহ্বান জানিয়ে আসছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহে সিনেটর জশ হাউলির নেতৃত্বে একদল আইনজীবী নতুন এক আইনের খসড়া পেশ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, যৌন হেনস্তা, পাচার ও প্রতিশোধমূলক পর্নের শিকার হলে যে কেউ পর্নহাবের মতো সাইটগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে, যদি সেখানে সেই ভিডিও প্রদর্শিত হয়। | 0 |
এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ রোববার সাভারের পোস্টাল ট্রেনিং সেন্টারে (পিটিসি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমাদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদারভাবে চলছে। শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে সেই টিকাদান কর্মসূচিতে আবার ভাটা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।'দীপু মনি বলেন, 'আমরা গভীরভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা এখনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংক্রমণের খবর পাইনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও বিষয়টি খুব নজরে রাখছে। আমরা জাতীয় পরামর্শ কমিটির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা এখনো ভাবছি না। যত দূর সম্ভব জীবন স্বাভাবিক রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই করোনা মোকাবিলা করতে হবে, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।'তবে যদি বড় প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন বিষয়টি দেখবেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। | 6 |
বাংলাদেশ ও হেলেনিক রিপাবলিক গ্রিসের মধ্যে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা সই হয়েছে। চুক্তির আওতায় গ্রিস বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর চার হাজার নতুন কর্মী সে দেশে কাজ করার সুযোগ দেবে। কৃষি কাজের এসব কর্মী নিবে দেশটি। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় গ্রিসের সঙ্গে এ বিষয়ে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে চুক্তিতে সই করেন সফররত গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী নতিস মিতারাচি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রতিবছর ৪ হাজার নতুন কর্মীকে সেদেশে কাজ করার সুযোগ দেবে। তাদেরকে ৫ বছর মেয়াদী অস্থায়ী 'ওয়ার্ক পারমিট' দেওয়া হবে। এ চুক্তির আওতায় কৃষি সেক্টরে মৌসুমি শ্রমিক নেওয়া হবে। পরবর্তীতে উভয় দেশ আলোচনাক্রমে চাহিদার ভিত্তিতে সেক্টরের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। তাদের ৫ বছর মেয়াদ শেষে বাংলাদেশে ফেরত আসতে হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ সমঝোতা স্মারকের ফলে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য গ্রীসে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হল। একইসঙ্গে গ্রিসে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা পর্যায়ক্রমে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। তবে আবেদনের সময় বৈধ ট্রাভেল ডকুমেন্ট, বৈধ ওয়ার্ক কনট্রাক্ট, স্বাস্থ্যবীমার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে এবং নির্ধারিত ফি ও ব্যয় বহন করতে হবে কর্মীদের। এ প্রসঙ্গে গ্রিক মন্ত্রী মিতারাচি বলেন, এই চুক্তিটি গ্রিসের পার্লামেন্টে অনুমোদনের মাধ্যমে শিগগির বাস্তবায়ন করা হবে। | 6 |
নওগাঁর বদলগাছীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন চা দোকানদাররা। দোকানে বেড়েছে মানুষের ভিড়। বেড়েছে বেচাবিক্রির পরিমাণ। দোকানদাররা বলছেন, অন্য সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চা বিক্রি হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বদলগাছী উপজেলা পরিষদের সামনের চায়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে চা বিক্রি। চা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানিরা। তিল পরিমাণ বসার জায়গা নেই।উপজেলা পরিষদের গেটের ভেতরের চা বিক্রেতা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গত ১৪ অক্টোবর তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বেড়েছে চা বিক্রি। আগে দিনে চা বিক্রি হতো ১০০ থেকে ১৫০ কাপ। তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন ফরম নিতে আসছের চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা। তাঁদের সঙ্গে আসা লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন চা দোকানগুলোতে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে এক হাজার কাপ চা বিক্রি হচ্ছে।উপজেলা পরিষদের গেটের সামনের চা দোকানদার জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে বেড়েছে চা বিক্রি। প্রতিদিন দোকানে প্রায় ৭ থেকে ১০ হাজার টাকার বেচাবিক্রি হচ্ছে। | 6 |
নারী ক্ষমতায়ণের বর্ণাঢ্য অভিযাত্রা এবং বর্ণ-বিদ্বেষমূলক মনোভাবের পরিসমাপ্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে বুধবার। মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ-অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের প্রথম বক্তব্যের সময় উদ্ভাসিত হবে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় মাস্ক পরিহিত দুই নারী নিকটেই মঞ্চে বসা। একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, আরেকজন স্পিকার ন্যান্সি পেলসি। কমলা বসবেন ইউএস সিনেটের প্রেসিডেন্ট হিসেবে। আর পেলসি হচ্ছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার। উভয়েই ডেমক্র্যাট। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। অপরদিকে, ৪৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে জো বাইডেনের এটি প্রথম ঘটনা। এর আগে বারাক ওবামার ৮ বছরের প্রেসিডেন্সির সময়ে তিনি মঞ্চে বসেছেন। তারও আগে অর্থাৎ প্রায় ৩৬ বছর আগে থেকে তিনি সিনেট সদস্য হিসেবে বরাবরই সাথী সিনেটরদের সাথে অধিবেশনে বসেছেন। প্রেসিডেন্ট রনাল্ড রিগ্যানের আমলে অন্তত: দু'বার যৌথ অধিবেশনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের প্রদত্ত ভাষণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ডেমক্র্যাট হিসেবে। এমন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে আর কোন রাজনীতিকের জীবনে এখন ঘটেনি। করোনার কারণে এবার কংগ্রেসম্যান কিংবা সিনেটররা কোন অতিথি আনতে পারবেন না। মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরাও আমন্ত্রিত হননি। সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির মধ্যে মাত্র প্রধান বিচারপতি জন জি রবার্ট থাকতে পারেন ফ্লোরে। জয়েন্ট চীফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক এ মিলি উপস্থিত থাকবেন সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি নিধি হিসেবে। ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন এবং সেকেন্ড জেন্টেলম্যান ডোগ ইমহোফ কয়েকজন অতিথি আনবেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সামান্যসংখ্যক কংগ্রেসম্যান ও সিনেটর বসবেন ফ্লোরে। অন্যেরা গ্যালারিতে বসবেন বলে সর্বশেষ সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, সচরাচর ১৬০০ জনের সমাগম ঘটেছে প্রেসিডেন্টের যৌথ অধিবেশনে বক্তব্যের সময়। এবার মাত্র ২০০ জন থাকবেন চেম্বারে। আরো উল্লেখ্য, এই অধিবেশনকে 'জাতীয় বিশেষ নিরাপত্তা ইভেন্ট' হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এজন্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি সংস্থাসমূহের পদস্থ কর্মকর্তারা তাদের অধিনস্ত লোকজন দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করবেন। গত ৬ জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের জঙ্গি তৎপরতার কথা বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে অর্থাৎ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে আগেরদিন থেকেই ক্যাপিটল হিল এলাকাকে। বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন | 3 |
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় যুবলীগের কথিত সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত জি কে শামীম এবং তাঁর মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে দুদকের দেওয়া চার্জশিট আমলে নেন। পলাতক থাকায় আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আগামী ১৫ ডিসেম্বর গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ঠিক করেছেন আদালত। তবে এদিন শুনানিকালে জি কে শামীমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।২০১৯ সালে জি কে শামীম ও তাঁর মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। | 6 |
একই দিনে বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবস গেল। তার মানে ব্যাপক ঘোরাফেরা হয়েছে। বসন্তের রোদ খুব কোমল করে নিশ্চয়ই আপনার ত্বক ছুঁয়ে যায়নি। তার ওপর দীর্ঘ সময় ছিল মেকআপ। আজ ত্বককে একটু নিশ্বাস নিতে দিন। তাজা করে তুলুন ত্বক। ভাবছেন আবার দৌড়াতে হবে পারলারে? না, তা হবে না। আরামসে বাড়িতে বসে কোনো রকম রাসায়নিক ছাড়াই ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। তার জন্য আলাদা খরচও নেই। এত সুবিধা আপনাকে দিতে পারে একটি টমেটো। অবিশ্বাসী চোখে তাকিয়ে আছেন কেন? বলে দিচ্ছি কী করবেন আর কী করবেন না।কথা হচ্ছিল টমেটো নিয়ে।ব্রণ দূর করার প্যাক১ চা-চামচ ওটমিলের সঙ্গে টমেটো ও লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি ত্বকে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর ত্বক ভালো করে মুছে নিন। এবার গোলাপজলে তুলোর বল ডুবিয়ে তা টোনারের মতো ত্বকে লাগান। নিয়মিত এটির ব্যবহারে ব্রণের দাগ ধীরে ধীরে কমে যাবে।হালকা ব্রণ থাকলে টমেটো টুকরো করে কেটে কয়েক মিনিট ব্রণের ওপর ধরে রাখুন। ব্রণ বেশি হলে টমেটো চটকে নিয়ে প্যাকের মতো মুখে লাগিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত টমেটো ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ মিলিয়ে যাবে।ব্রণ ও তার দাগ কমাতে টমেটোর রসের সঙ্গে টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখুন। ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মৃত কোষ দূর করতেটমেটোর পাল্প হাতে নিয়ে আলতো করে মুখে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।অতিরিক্ত তেল দূর করতেএকটি টমেটোকে কেটে দুই ভাগ করে এক অংশ দিয়ে মুখের ত্বকে ম্যাসাজ করতে থাকুন। কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমবে।পোরস ছোট করতেটমেটোর রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ধীরে ধীরে পোরস ছোট হবে।অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা পেতে২ টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে টমেটোর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রোদে পোড়া দাগ থেকে মুক্তি পেতে বাটার মিল্কের সঙ্গে টমেটোর রস মিশিয়েও ত্বকে লাগাতে পারেন। নিয়মিত এর ব্যবহারে ত্বক সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা পাবে।ত্বকের তারুণ্য ফেরাতেমুলতানি মাটির সঙ্গে পুদিনা পাতা ও টমেটোর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক প্রাণবন্ত হবে।ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে টমেটোর রসের সঙ্গে অল্প পরিমাণে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে চন্দনের গুঁড়ো যোগ করে মিশ্রণ বানিয়ে ত্বকে লাগান। শুকিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ত্বকে রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।বয়সের ছাপ দূর করতেত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে অ্যাভোকাডোর সঙ্গে টমেটোর পাল্প মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট পুরো মুখে হালকা করে ম্যাসাজ করুন কয়েক মিনিট। তারপর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক সতেজ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।ত্বকের জ্বালাপোড়া রোধেমেকআপের পরে কিংবা কোনো নতুন মেকআপ বা ত্বকচর্চার পণ্য ব্যবহারের কারণে ত্বকে যদি জ্বালাপোড়া হয়, তাহলে টমেটো ব্যবহার করুন। এ জন্য টমেটোর রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি রোজ ব্যবহার করতে পারবেন।সতর্কতাটমেটোর প্যাক বা রস তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই লাল বা পাকা টমেটো ব্যবহার করুন।টমেটো সবার ত্বকের জন্য ভালো বলেই আপনার জন্য উপকারী হবে, তা ভাববেন না। কারণ টমেটোতে থাকা অ্যাসিডিক উপাদানের কারণে কোনো কোনো ত্বকে র্যাশ, চুলকানি, অ্যালার্জি ইত্যাদি হতে পারে। তাই টমেটোর প্যাক ব্যবহারের আগে ত্বকে অল্প করে লাগিয়ে দেখুন তা আপনার ত্বকে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করছে কি না। যদি ত্বক জ্বালাপোড়া না করে, তাহলে তা ব্যবহার করবেন। নয়তো এড়িয়ে চলবেন।বাসি বা দীর্ঘক্ষণ আগে তৈরি করা টমেটোর কোনো প্যাক বা পাল্প ব্যবহার করবেন না।সূত্র: ফেমিনা, হেলথলাইন, বি বিউটিফুল এবং অন্যান্য | 6 |
আসছে বাজেটে আসবাপত্র নির্মাণ শিল্পের উদ্যোক্তাদের আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পরিশোধের বিধানের পরিবর্তন চান উদ্যোক্তরা। একইসঙ্গে সম্পূরক শুল্প কমিয়ে আনা ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তরা। মঙ্গলবার (৮ মার্চ) বিকেলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত আসবাপত্র, পার্টিকেল বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত এফবিসিসিআই স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম সভায় এ দাবি জানান তারা। এ সময় উদ্যোক্তারা জানান, আসবাব রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হলেও এটি মূলত প্রণোদনা নয়। কেননা, অন্যান্য রপ্তানিমুখী খাত কাঁচামাল আমদানিতে শুন্য শুল্ক সুবিধা পেলেও আসবাবপত্রের কাঁচামালে সব ধরণের শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয়। সেই অর্থের কিছুটা ফেরত দিতে এই প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে সরকার। কিন্তু আগামী বাজেটে প্রণোদনার হার অন্তত ২০ শতাংশ করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও আসবাবপত্র খাতে সামগ্রিক করভার ৮৯ শতাংশ বলে জানান বক্তারা। নতুন বাজেটে এই করভার কমানোর দাবিও জানান তারা। উদ্যোক্তারা বলেন, সরকারের নীতি সহায়তা পেলে এই শিল্পে ভবিষ্যতে তৈরি পোশাকের চেয়েও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। এ সময় বক্তারা কর কর্মকর্তাদের নানা হয়রানির কথা তুলে ধরে এ ভোগান্তির অবসান চান। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই'র সহ-সভাপতি এম এ মোমেন। তিনি স্ট্যান্ডিং কমিটিকে আসবাপত্র শিল্পের কর কাঠামোতে যেসব অসঙ্গতি আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে এফবিসিসিআইকে জানাতে বলেন। এনবিআর এর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী বাজেটে এসব অসঙ্গতি দূর করার বিষয়ে এফবিসিসিআই কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন সহ-সভাপতি এম এ মোমেন। এর আগে কমিটির ডিরেক্টর ইন চার্জ ও আক্তার ফার্নিচারের এমডি কে. এম আক্তারুজ্জামান বলেন, বন্ডের ওয়্যারহাউজ সুবিধা পেলে, বাংলাদেশের আসবাবপত্রের রপ্তানি আরো বাড়বে। উচ্চহারের কর-শুল্ক আসবাব রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় বাধা বলে উল্লেখ করেন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও পারটেক্স স্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান হাতিল ফার্নিচারের এমডি সেলিম এইচ রহমান, নাদিয়া ফার্নিচারের এমডি এ করিম মজুমদার, পার্টেক্স ফার্নিচারের হেড অব বিজনেস মো. শাহ আলম মুন্সি, এফবিসিসিআই'র মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হকসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। | 0 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে বান্দরবানের লামার এমডি রোকন উদ্দিন নামক এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এরআগে রোববার রাতে লামা থানা পুলিশ উপজেলার আজিজ উইনিয়ন থেকে গ্রেপ্তার করে। কারাগারে যাওয়া রোকন উদ্দিন ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, ইউপি সদস্য রোকন উদ্দিনের নামে রোববার রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী লামা থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুজ্জামান। পরে তাকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, 'সুমাইয়া তাছনিম' নামক একটি আইডি প্রধানমন্ত্রীর ব্যঙ্গ ছবি পোস্ট করে। আর সেই ছবিটি ইউপি সদস্য রোকন উদ্দিন নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন। এই ঘটনায় আজিজনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ রোববার সকাল থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ ইউপি সদস্য রোকন উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধায় লামার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করার পর জামিন আবেদন নামঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। প্রধানমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করে ছবি ফেসবুকে শেয়ার করার অপরাধে আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দীনও ইউপি সদস্য রোকন উদ্দিনের শাস্তি দাবি করেছেন। | 6 |
সিনেমা বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা কন্নড় কিংবা ভারতীয় সিনেমা নয়; এটা আন্তর্জাতিক সিনেমা। নাম 'কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২'। গতকাল ১৪ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী ১০ হাজারের বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এটি। আর প্রথম দিনেই বক্স অফিসে সুনামি তুলেছে সিনেমাটি। ভারতের সিনেমায় নতুন ইতিহাস রচনা করেছে কন্নড় সিনেমা 'কেজিএফ ২'। প্রথম দিন এটি কেবল ভারতেই ১৩৪ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে। হিন্দি ভার্সনে অবিশ্বাস্য চমক দেখিয়েছে 'কেজিএফ ২'। প্রথম দিনে ৫৩ কোটি ৯৫ লাখ রুপি আয় করেছে। এর আগে প্রথম দিনে সর্বোচ্চ আয় ছিল হৃতিক রোশন ও টাইগার শ্রফের 'ওয়ার' সিনেমার। সেটি আয় করেছিল ৫১ কোটি ৬০ লাখ রুপি। কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির সিনেমা হয়েও 'কেজিএফ ২' গুঁড়িয়ে দিয়েছে হিন্দির সমস্ত রেকর্ড। আরেকটি অবাক করা ব্যাপার জানিয়েছেন সিনেমা বিশ্লেষক তরণ আদর্শ। ২০১৮ সালে যখন 'কেজিএফ: চ্যাপ্টার ১' মুক্তি পেয়েছিল, তখন হিন্দি ভার্সনে সর্বসাকুল্যে ৪৪ কোটি রুপি আয় করেছিল। আর সেই অংকটা মাত্র একদিনেই টপকে গেল দ্বিতীয় পর্বটি। এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন কন্নড় তারকা যশ। তবে এখন তাকে গোটা ভারতের তারকা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। দর্শক ও বক্স অফিস সমালোচকরা যশকে 'বক্স অফিস মনস্টার' বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। এদিকে মুক্তির পর চারদিক থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে সিনেমাটি। প্রায় সব সমালোচক সিনেমাটিকে চমৎকার রেটিং দিয়েছেন। সুতরাং 'কেজিএফ' ঝড় যে অনেকদিন ধরে চলবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। 'কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২' সিনেমায় যশ ছাড়াও অভিনয় করেছেন শ্রীনিধি শেঠি, সঞ্জয় দত্ত, রাভিনা ট্যান্ডন, প্রকাশ রাজ প্রমুখ। রেকর্ড সৃষ্টিকারী সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন প্রশান্ত নীল। | 2 |
আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, টিকাদান, বস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভোলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে ভোলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। অপর দিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ভোলার লালমোহনে গরিব-অসহায়দের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এবং শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। এসময় উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম হাওলাদার, ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হাসানসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ভোলার ৬৮টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় গণটিকাদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে এক লাখ ছয় হাজার জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আজ সকালে জেলা প্রশাসক তৌফিক ই-লাহী চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. শফিকুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী, আলবদর নেতা মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদনের শুনানির দিন ধার্যের জন্য আবেদন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনটি করে। আবেদনে দ্রুত রিভিউ নিষ্পত্তির আরজি জানানো হয়েছে।
রোববার ৬৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদন করেন মীর কাসেম আলী। কাসেমের পক্ষে তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন জমা দেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর ত্রয়োদশতম দিনে এ আবেদন করার ফলে তার মৃত্যু পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ৬ জুন মীর কাসেমের ফাঁসি বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া ২৪৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হলে শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনটি বাকি থাকবে। সেটিও নাকচ হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকর করবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামে হত্যা, লুণ্ঠন, অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর একাত্তরে চট্টগ্রামে আল বদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে অভিযোগ থেকে খালাস চান তিনি। গত ৮ মার্চ এ আপিলের সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমউদ্দিন আহমেদসহ ছয়জনকে অপহরণের পর চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লায় ডালিম হোটেলে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর মীর কাসেম প্রথমে ইসলামী ছাত্র শিবির ও পরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হন। | 6 |
মাঘের শেষে তীব্র শীতের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামেও। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। তবে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রার তেমন একটা পরিবর্তন হবে না বলেও জানানো হয়েছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। মূলত, গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকে নগরের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়। রাতভর থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, কিছু কিছু এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে তাপমাত্রার খুব একটা পরিবর্তন হবে না। আজ সকালেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, এদিন দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি কমে বিকেল নাগাদ মেঘ সরে যেতে পারে। বৃষ্টি কমে এলেও আজ রাত থেকে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় আবার জেঁকে বসতে পারে শীত; বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বেশি থাকবে। আগামীকাল রোববার থেকে আবার শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। | 6 |
'স্কুইড গেম' সিরিজের কথা বিশ্ব সিনেমাপ্রেমীদের কার না জানা। রহস্যজনক থ্রিলার ওয়েব সিরিজটি গত বছরের সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। প্রথম সিরিজ দিয়েই বাজিমাত করেছিলেন পরিচালক হোয়াং ডং-হিউক। এই পরিচালক আবার সহিংস থ্রিলার গল্প নিয়ে আসছেন। নতুন এই সিনেমার গল্পে সহিংসতা 'স্কুইড গেম'কেও ছাড়িয়ে যাবে। সম্প্রতি ঘোষণা করা সিনেমাটির নাম 'কিলিং ওল্ড পিপল ক্লাব'। উপন্যাস থেকে নেওয়া গল্পটিতে তুলে ধরা হবে বৃদ্ধদের সহিংসতা। এখন সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার কাজ চলছে। গল্প নিয়ে পরিচালক হোয়াং ডং-হিউক কিছুই বলতে রাজি নন। তবে গণমাধ্যমে এটুকু জানিয়েছেন, সহিংসতায় 'স্কুইড গেম'কে ছাড়িয়ে যাবে নতুন সিনেমাটি। এটি দর্শকদের দেখতে আরও প্রায় দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। পরিচালক গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, নতুন সিনেমাটি ঘিরে বিতর্ক হয়তো আবার সামনে আসবে। জনপ্রিয়তা পাওয়া 'স্কুইড গেম'ও সমালোচনায় ছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রচারের পর থেকেই এক মাসে রেকর্ড গড়ে নেটফ্লিক্স কাঁপানো ৯ পর্বের সিরিজ 'স্কুইড গেম'। গল্পে কী আছে? কেটে টুকরা টুকরা করলে কিছু আবেগের বিপরীতে শুধু টাকার কথা পাবেন। অর্থসংকটে পড়া ৪৫৬ জন ৪৬ বিলিয়ন ওন (দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা) পাওয়ার আশায় জীবন বাজি রেখে প্রতিযোগিতা করে। ডিসকোয়ালিফায়েড হলে পাখির মতো গুলি করে তাদের হত্যা করে আয়োজকেরা। পরে মৃত ব্যক্তিদের হৃৎপিণ্ড আলাদা করে পাচার করে আয়োজকদের একাংশ। কোরিয়ার কোনো সিরিজ আগে এতটা জনপ্রিয়তা পায়নি। কর্মক্ষেত্রে স্বল্প মজুরি, প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত খাটুনি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনমানের ব্যয় বৃদ্ধি, মাসের মাঝামাঝি হাত খালি হয়ে যাওয়া, ধার করা, হাঁসফাঁস করতে করতে মাস শেষ করা-বলতে পারেন বর্তমানে এভাবেই চলছে সিংহভাগ মানুষের জীবন। স্কুইড গেমে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে জড়ো হওয়া ৪৫৬ জনের গল্পটাও এমন। এবার দেখা যাক 'কিলিং ওল্ড পিপল ক্লাব'-এর গল্পটি কেমন? | 2 |
মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় মেহেরপুর শহীদ শামসুজ্জোহা নগর উদ্যানে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাসিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য আমিনুল আলম এমপি, পারভীন জামান কল্পনা এমপি, গ্লোরিয়া ঝর্ণা এমপি ও গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন এমপি। মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেকের সঞ্চালনায় সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের সভাপতি মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দোদুল এমপি।
সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটায় জেলা আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
নওগাঁর মান্দায় ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি মহল নিষ্পত্তির নামে কালক্ষেপণ করায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি আইনের আশ্রয়ে যেতে পারছেন না। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে আমজাদ হোসেন নামে এক যুবককে মঞ্জিলতলা বাজারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে বাজার কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক পরিচয়ে আমজাদ হোসেন চাঁদাবাজি, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে। বুধবার রাতে দুলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির পথরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। তার এ অপরাধ কর্মকাণ্ডের সহযোগী ছিলেন এনায়েতপুর পুকুরপাড়া গ্রামের সায়ের সরদারের ছেলে মানিকুল ইসলাম ও পুঁজাঘাটি গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে মাজহারুল ইসলাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নামধারী সাংবাদিক আমজাদ হোসেনের সহযোগী মানিকুল ইসলাম এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী। স্থানীয় এক চেয়ারম্যানের মদদপুষ্ট হয়ে মানিকুল বেপরোয়া চলাফেরা করে। এ কারণে গত বুধবার রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি অনেকেই এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছেন। অনেকে আবার স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে সময় ক্ষেপণ করছেন। স্থানীয়ভাবে বিচার পাবার আশায় ভুক্তভোগী দুলাল হোসেন আইনের আশ্রয়ে যেতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী দুলাল হোসেন বলেন, এলাকার মাতবররা মীমাংসা করে দেয়ার কথা বললেও বারবার সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় আবারও বৈঠক বসার কথা রয়েছে । মঞ্জিলতলা বাজার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, সাংবাদিক পরিচয়ে আমজাদ হোসেন বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড করে আসছে। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে বাজার কমিটির এক জরুরি বৈঠকে আমজাদ হোসেনকে মঞ্জিলতলা বাজারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মান্দা থানা পরিদর্শক তদন্ত তারেকুর রহমান সরকার বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি মামলা করতে আগ্রহী নন। মোবাইল ফোনে ইউএনওর নামে চাঁদা দাবির বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে অজ্ঞাত নম্বরটি এখন চালু নেই। | 6 |
'রবিবার' ছবিটির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিতের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন জয়া আহসান। ছবিটিতে তার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। 'রবিবার' ও 'বিসর্জন'র জন্য সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক) ক্যাটাগরিতে টলিউডে ফিল্মফেয়ার পেয়েছেন জয়া। মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'রবিবার' ছবিটির জন্য সেরা অভিনেত্রীও নির্বাচিত হন তিনি। কয়েকমাস আগে পুরস্কার ঘোষণা করলেও সম্প্রতি পদক হাতে পেয়েছেন জয়া। বিষয়টি ফেসবুকে জানিয়ে জয়া লিখেছেন, 'মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে বিদেশি চলচ্চিত্র বিভাগে অভিনয়ের সেরা পুরস্কারটি মাস কয়েক আগেই ঘোষিত হয়েছিল। পুরস্কারটি এসেছিল বাংলাদেশে। ভারত উপমহাদেশের বাইরে কোনো আন্তর্জাতিক স্তর থেকে এই নাকি প্রথম কোনো পুরস্কার বাংলাদেশে এসেছিল। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ঈদের নতুন জামা কিনে না দেয়ায় মায়ের সাথে অভিমান করে শারমিন আক্তার নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। শারমিন আক্তার (১৫) উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মুকুল হোসেনের মেয়ে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে ফুলছড়ির উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের একাডেমি বাজারের দক্ষিণপাশের গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়,তার ভাই একটি ঈদের জামা কিনে এনেছিলেন শারমিনের জন্য । পরে সেটি শারমিন পছন্দ না করায় মায়ের কাছে নতুন জামা চায়। কিন্তু মা অস্বচ্ছলাতার কারনে নতুন জামা দিতে না পারায় মায়ের সাথে ঝগড়া করে শারমিন। ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে শারমিন। ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ কাওছার আলী ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেলা হাসপতালে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ওমর আতা বিন্দিয়াল ঘোষণা করেছেন, আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টা) দেশটির পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ প্রশ্নে ডেপুটি স্পিকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে রায় ঘোষণা করা হবে। তিনি আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, বেঞ্চের অন্যান্য বিচারপতির সাথে আলোচনাক্রমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। পাকিস্তানের বিরোধী জোট প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল। এ নিয়ে ভোটাভুটির আগে ডেপুটি স্পিকার রুলিং দেন যে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় প্রস্তাবটি বাতিল করা হলো। এরপর সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ নিয়ে শুনানি শুরু করে। উল্লেখ্য, ডেপুটি স্পিকারের ওই রুলিংয়ের পর প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। বিরোধী দল ডেপুটি স্পিকারের ওই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। দেশটির চলমান রাজনৈতিক সংকটে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে।সূত্র : এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এরপর পাকিস্তানে কী হবে তা জানালেন আয়েশা জালাল পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিবে তার বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন আয়েশা জালাল। এ পাকিস্তানি-আমেরিকান ঐতিহাসিক বলেছেন, দ্রুত একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে পাকিস্তানে। বৃহস্পতিবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। বর্তমানের সাংবিধানিক সঙ্কটের পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে আয়েশা জালাল বলেন, আপনারা পাকিস্তানের রাজনীতির বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না। এখানে সবকিছুই সম্ভব। পাকিস্তানের সরকারগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারে না। অনাস্থা ভোটের বিষয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট যে রায়ই দিক না কেন আগামী ৯০ দিনের মধ্যে দেশটিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের এ নির্বাচনটি খুবই তিক্ত বা কষ্টদায়ক হবে কারণ এটা গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পাকিস্তানে কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলবে। সূত্র : আল-জাজিরা | 3 |
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনকে ঘিরে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি একমাত্র প্রার্থী থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে অন্তত ৬ জন প্রার্থী রাজনীতির মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে একদিকে উৎসাহ-উদ্দীপনা অন্যদিকে হতাশা, উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে জনসমাগম ও শক্তির মহড়া দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কালিহাতী আরএস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক। কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, দলের যুগ্ম-সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার। সম্মেলনে প্রধান বক্তা থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি। বক্তব্য রাখবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারি। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩ মার্চ কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে মোজহারুল ইসলাম তালুকদার সভাপতি ও আনছার আলী বিকম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর | 6 |
কঠোর বিধিনিষেধ বহাল রেখেই ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হেঁটে চরম ভোগান্তি নিয়ে ঢাকা ফিরছেন লাখো মানুষ। নিরূপায়, বিক্ষুব্ধ মানুষ যে যেভাবে পারছেন, সময়মতো কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা করছেন। কে শোনাবে তাঁদের স্বাস্থ্যবিধির কথা! আজ শনিবার রাজধানীর প্রবেশমুখ আমিনবাজার ও গাবতলীতে ঢাকা ফেরা মানুষের ঢল দেখা গেছে। করোনা প্রতিরোধে বিধিনিষেধ অমান্য করেই চাকরি বাঁচাতে তাঁরা কর্মস্থলে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন। রাজধানী ছেড়ে সাভারের পথেও হাঁটা ধরেছেন অনেক শ্রমিক। কর্মস্থলে ফেরা শাহিন আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ভোগান্তি নয়, অত্যাচারিত হচ্ছি। গণপরিবহন ছাড়া সব যানবাহনই রাস্তায় দেখা যাচ্ছে। সাভারে যেতে যেখানে ৬০ টাকা ভাড়া হওয়ার কথা, সেখানে ৫০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে।' গণপরিবহন বন্ধ থাকায় উত্তরবঙ্গ ও ঢাকার আশপাশের জেলা হয়ে যাঁরা আসছেন, তাঁরা মূলত ভেঙে ভেঙে রিকশা ও ভ্যানে চড়ে আসছেন। এতে তাঁদের গুনতে হচ্ছে ৩ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া। | 6 |
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে পর্যটক যাত্রা শুরু হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে ট্যুরিস্ট ভিসাধারী পাসপোর্টের যাত্রীরা ভারতে যাওয়া শুরু করেছেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের হিসাব মতে গত ২ দিনে ভারতে গেছেন ১শ ২০ জন যাত্রী । পুরনো ট্যুরিস্ট ভিসাধারী কোন পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে যেতে পারছেন না। শুধু২৬ মার্চের পর দূতাবাস থেকে পাওয়া ট্যুরিস্ট ভিসাধারীরা ভারতে যাওয়ার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা রাজু আহমেদ জানান, গত ২ দিনে নতুন ভিসা নিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য বেনাপোলে এসেছেন শতাধিক যাত্রী। ২৬ মার্চের পরে পাওয়া ট্যুরিস্ট বা ভ্রমন ভিসা নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাতায়াত করতে পারবেন। করোনারআগে ইস্যুকৃত ট্যুরিস্ট ভিসা স্থগিত থাকায় সে সব ভিসাধারীযাত্রী ভারতে যেতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে ভিসার শর্তানুযায়ী হরিদাসপুররুট লেখা থাকতে হবে। বাই এয়ার ভিসাধারী পাসপোর্ট যাত্রীরা বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যেতে পারবেন না। বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 6 |
বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি দম্পতি বিশ্ব শান্তির সংগ্রামে যে অবদান রেখেছেন, তা চিরস্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে, মানবতার কল্যাণে, শান্তির সপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য বরণীয় ব্যক্তি ও সংগঠনকে 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে আসছে। ফিদেল ক্যাস্ট্রো, হো চি মিন, ইয়াসির আরাফাত, সালভেদর আলেন্দে, নেলসন ম্যান্ডেলা, ইন্দিরা গান্ধী, মাদার তেরেসা, কবি ও রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা, জওহরলাল নেহেরু, মার্টিন লুথার কিং এবং লিওনিদ ব্রেজনেভের মতো বিশ্ব নেতাদের এই পদকে ভূষিত করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ হতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে তার উক্তি নিয়ে প্রকাশিত ই-পোস্টারের শিরোনাম করা হয়েছে 'মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শান্তি একান্ত দরকার-বঙ্গবন্ধু। জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ৪৮তম বার্ষিকীতে শান্তি, মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।' আকাশসম হৃদয়ের অধিকারী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক চিন্তাধারায় ছিল শুধু মানুষের কল্যাণ; মানবমুক্তি, অসাম্প্রদায়িক বিশ্ব, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও শান্তির বার্তা। যার পরিচয় আমরা তার কর্মকাণ্ডে দেখতে পাই। এ ছাড়া তার লেখা 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থেও সেই চিন্তার ছাপ রয়েছে। ১৯৭৩ সালের ৩ মে 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, 'একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্প্রীতির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।' বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত গণমানুষের নেতা। যেখানে মানবতার বিপর্যয় ঘটেছে, সেখানে মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। এ জন্য বিশ্বজুড়ে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন এই মহান নেতা। জনগণের জন্য ভালোবাসা ছিল বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ডের প্রেরণা এবং মানুষের কল্যাণই ছিল তার কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য। এই মানবিক মূল্যবোধই তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে; যা প্রতিফলিত হয় তার বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শে, যেমন- গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও সমাজতন্ত্র। একটা কথা তিনি প্রায়ই বলতেন, 'আমার সারাজীবনের স্বপ্ন হচ্ছে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।' তার এই প্রত্যয় থেকেই আমরা বুঝতে পারি, সমাজের উন্নয়ন সম্পর্কে তার কত ব্যাপক এবং বহুমাত্রিক ধারণা ছিল। আজ বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি শান্তি পুরষ্কার প্রাপ্তির ৪৮ তম দিবসে এসে একটি কথা দৃঢ়ভাবেই বলতে পারি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বর্তমান বিশ্বে একজন মানবতাবাদী, শান্তিকামী নেতা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার হৃদয় ফিলিস্তিনের শোষিত, নিপীড়িত মানুষের জন্য কাঁদে। তিনিই ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছেন। তাইতো বলতে পারি, বঙ্গবন্ধুর বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার অসমাপ্ত কাজগুলো করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার কন্যার হাত ধরেই বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা, দ্য পিপলস টাইম এবং পরিচালক, এফবিসিসিআই। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 2 |
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের আওয়ারান জেলার কাছাকাছি 'নিরাপত্তা বাহিনীর একটি চৌকিতে হামলায়' দেশটির সেনাবাহিনীর এক মেজর নিহত হয়েছেন। দেশটির ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়। খবর জিও টিভির। আইএসপিআর জানায়, হামলা প্রতিহত করার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের তাড়া করলে তারা পাশের একটি পাহাড়ের দিকে চলে যায়। এর আগে সেনা সদস্য ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধ হয়। 'সংঘর্ষ চলাকালে মেজর শহিদ বশির নিহত হন ও অপর এক সেনা সদস্য আহত হয়েছে। আর সন্ত্রাসীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে', বলা হয় আইএসপিআরের পক্ষ থেকে। ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স জানায়, বেলুচিস্তানের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন ব্যাহত করতে নাশকতামূলক যে কোনো পদক্ষেপ প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিরাপত্তা বাহিনী। | 3 |
মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ড মামলায় রিমান্ডে থাকা আসামিদের তথ্যে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে একটি গ্লাস উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল গ্লাসটি উদ্ধার করে। পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলম জানিয়েছেন, নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়ার সময় আসামিরা একটি গ্লাসে করে তার শরীরে কেরোসিন তেল ছিটিয়েছিলেন। সেই গ্লাসটি মামলার আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অধ্যক্ষের দপ্তরের সামনের ওয়াল কেবিনেটের ভেতর থেকে গ্লাসটি উদ্ধার করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় একদিনের রিমান্ডে থাকা শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম, জাবেদ হোসেন ও যোবায়ের আহম্মদকে নিয়েই পিবিআই অভিযান চালায়। এ সময় পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, পরিদর্শক মো. মোনায়েম হোসেন, পরিদর্শক লুৎফুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের তিনজনকে ফেনীর পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সময় বোরকা পরে থাকা শাহাদাত হোসেন শামীম ও যোবায়ের আহম্মদের দুটি বোরকা উদ্ধার করে পিবিআই। গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত। এ সময় কয়েকজন তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি ১০ এপ্রিল বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। এর আগে ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে ২৭ মার্চ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা সারা দেশে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আটজনসহ ২১জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই। মামলায় এ পর্যন্ত ১২জন আসামি দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। | 6 |
সমাজে সহিংসতা সবসময়ই ছিল। তবে সম্প্রতি এর মাত্রা যেন অতীতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন মা-ছেলে। বলা হচ্ছে, এর পেছনে রয়েছে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ। পরদিন বাড্ডায় খুন হন বাবা-মেয়ে। পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে পরকীয়া। গত ২৭ অক্টোবর মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে নরসিংদীতে খুন হয় আজিজা নামে এক কিশোরী। সম্প্রতি ময়মনসিংহের শ্রীরামপুরে সাগর নামে এক কিশোরকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।এছাড়া কুমিল্লায় তনু হত্যা ও টাঙ্গাইলে বাস কর্মচারীদের লালসার বলি রুপার কথা এখনো আমাদের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি। এসব ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তে সহিংসতার নানা ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কেন মানুষ দিন দিন এত হিংস্র হয়ে ওঠছে, কেনই বা এত সহিংসতা বাড়ছে, এর প্রতিকারই বা কি- এ নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন।সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, এমিরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সম্প্রতি জানতে পারলাম আমার গ্রামে একটি পরিবারের সবাই আত্মহত্যা করেছে। আর সেটা হয়েছে ক্ষুদ্রক্ষণের কারণে। দেশে এখন এত বেশি সহিংস ঘটনা ঘটছে যা আগে আমরা কখনো দেখিনি। স্বাধীনতার পর দেশে অনেক দিক দিয়ে উন্নতি হয়েছে: কিন্তু যেভাবে হওয়া দরকার ছিল সেভাবে হয়নি। সবকিছু পুঁজিবাদী ধারায় হয়েছে। গোটা বিশ্বে ভোগবাদী, পুঁজিবাদী ধারা চরম বর্বরতার আকার নিয়েছে। পাশের দেশ ভারতেও পুঁজিবাদী ধারা চরমে পৌঁছেছে। সেখানে নির্যাতন, গণধর্ষণের ভয়াবহ সব ঘটনা ঘটছে। আমেরিকায় বর্ণবাদের কারণে মানুষ মানুষকে খুন করছে। মানুষের সভ্যতা বদলে যাচ্ছে। সব কিছু দখল করে ফেলছে পুঁজিবাদ। প্রকৃতিও বিরূপ হচ্ছে মানুষের ওপর। একারণে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্রনের প্রভাব পড়ছে। জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। সবই হচ্ছে পুঁজিবাদী দৌরাত্বের ফল। শুধু আইন-শৃঙ্খলা দিয়ে সমাজের এই সহিংসতা রোধ করা যাবে না। সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন গঠন করতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় সামাজিক সংগঠন তৈরি করতে হবে; যাদের কাজই হবে মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া, সামাজিক বোধ জাগিয়ে তোলা।ড. মাহবুবা নাসরিন; পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সমাজে সহিংসতার কারণ বহুবিধ। আমাদের মধ্যে এখন পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাচ্ছে। নিকট প্রতিবেশীর সঙ্গেও কেউ যোগাযোগ রাখেন না। প্রতিযোগমূলক সমাজ, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, সমাজিক শাসন- এগুলোর কারণেও সমাজে সহিংস ঘটনা ঘটছে। সহজ-সরল বৃত্ত থেকে এখন সবকিছুই জটিল হয়ে উঠেছে। মানুষের জীবন হয়ে পড়েছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক, যেখানে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য প্রাধান্য পাচ্ছে। জীবন হয়ে পড়েছে প্রযুক্তিনির্ভর, যেখানে মায়া-মমতার বন্ধন হারিয়ে যাচ্ছে।অনেক পরিবারে শিশুরা ঘরেই সহিংসতা প্রত্যক্ষ করছে। এতে তার ওপর কেমন মানসিক চাপ পড়ছে সেটা কেউ বুঝতে পারছে না। বড়দের সহিংস আচরণ শিশুর মনস্তাত্বিক গঠনে কতটা প্রভাব ফেলছে- সেটা নিয়ে কোন আলোচনা হচ্ছে না। এসব বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যেকোন সমস্যা নিয়ে পরিবারের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। পারিবারিক বিনোদন তৈরি করতে হবে। এজন্য সবাই মিলে একসঙ্গে বাইরে যাওয়া যেতে পারে। সবাইকে বুঝতে হবে, সহিংসতা কখনোই কোন ইতিবাচক সমাধান হতে পারে না। পাশাপাশি এর নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে বেশি বেশি লেখালেখি করতে হবে। গণমাধ্যমে সহিংসতার নেতিবাচক দিকগুলো অনেক বেশি প্রচার করতে হবে।
| 8 |
প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে। গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সিএনজি ফিলিং স্টেশন গুলোকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। এই বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত রাজধানীতে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। একই সময়ে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যায়। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো এসময় যানবাহনে গ্যাস সরবরাহে ব্যস্ত থাকে। একারনে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ পড়ে। এই চাপ সামাল দেয়ার জন্যই মন্ত্রণালয় প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার জ্বালানী মন্ত্রণালয় থেকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারের এই আদেশ কার্যকর করবে। এদিকে এই বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নে গত ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রতিদিন পিক-আওয়ারে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখা এবং এ বিষয়টি কমপক্ষে গণ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। | 6 |
নরসিংদী সদর উপজেলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের কাছ থেকে পালানোর সময় নদীতে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, পিটিয়ে জখম করার পর নদীতে ফেলে দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।মারা যাওয়া ওই আসামির নাম সুজন দাস (২৬)। তিনি সদর উপজেলার হাজীপুর এলাকার অজিত দাসের ছেলে।পুলিশ সূত্র জানায়, সুজন দাসের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তাঁর সাজা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছিল। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে শহরতলির হাজিপুর এলাকার একটি চানাচুর কারখানায় অভিযান চালায় সদর মডেল থানার পুলিশ। সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এক হাতে হাতকড়া লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি পকেট থেকে ছুরি বের করে দায়িত্বরত পুলিশকে আঘাত করেন। এরপর পালানোর জন্য পাশের হাড়িধোয়া নদীতে ঝাঁপ দেন এবং নদী পার হওয়ার সময় মাঝ নদীতে আটকে যান। পরে পুলিশ নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।তবে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ পুলিশ ও চানাচুর ফ্যাক্টরির শ্রমিকেরা মিলে তাঁকে পিটিয়ে আহত করে নদীতে ফেলে হত্যা করেছে। সুজনের মা অজান্তা সাহা ও বোন পিংকি সাহা বলেন, শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকা থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করে হাজিপুর এলাকায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে পূর্বশত্রুতার জের ধরে একটি চানাচুর ফ্যাক্টরির শ্রমিকেরা পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়। তাঁরা এই হত্যার বিচার চান।তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান আজকের পত্রিকাকে বলেন, গ্রেপ্তারের সময় আসামি সুজন দাসের ছুরিকাঘাতে একজন উপপরিদর্শক ও একজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। পালানোর সময় নদীর মাঝখানে কোনো কিছুতে আটকা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। | 6 |
ঢাকা থকে রাত সাড়ে ১১টার বাসে চড়ে ভোর প্রায় ৬টায় খাগড়াছড়ি নামি। হোটেলে ব্যাগ রেখে বের হয়ে যাই পানছড়ি রোডের প্যারাছড়ার পথে। সেখানে আগেই হাজির ছিলেন গাইড জগৎ জ্যোতি ত্রিপুরা। অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে জগতের সঙ্গে পরিচিত হয়ে নিই। এবার যাওয়ার পালা মূল গন্তব্য মায়ুং কপাল। পুরোটা পথ হেঁটেই যেতে হবে। আসা-যাওয়া প্রায় ৫ ঘণ্টার হাইকিং-ট্র্যাকিং। কিছু দূর যাওয়ার পরই চেঙ্গী নদী। ছোট্ট খেয়ায় পারাপার। নদীর প্রস্থ তেমন না হলেও গভীরতা ছিল বেশ। চেঙ্গীর মাঝামাঝি গিয়ে দেহ অনুভব করে মৃদু বাতাসের শিহরণ। নদীর দুকূলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বেশ নজর কাড়ে। পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো এমনিতেই অন্য সব নদীর চেয়ে সৌন্দর্যে-স্বকীয়তায় অন্যরকম।চেঙ্গী নদী পার হয়ে চ্যালাছড়া পাহাড়ি গ্রামের ভেতর দিয়ে যেতে থাকি। যেতে যেতে চোখে পড়ে লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির। আরও কিছুটা দূর এগোনোর পর শুরু হয় বুনো পথ। এখন শুধু ওপর দিকেই উঠছি। মাথার ওপর আকাশ ছোঁয়া গাছের ছায়া। অচেনা পাখপাখালির সুর মাতিয়ে রেখেছে চারপাশ। নাকে এসে লাগছে বুনো ফুলের ঘ্রাণ। সুনসান নীরবতাকে সঙ্গী করে যেতে যেতে শঙ্খমোহন পাড়ায় বট গাছের ছায়ায় জিরিয়ে নিই। এখানে ত্রিপুরাদের পাড়াটা ছবির মতো সুন্দর। বেশির ভাগ ঘর মাটি ও শণের তৈরি। জিরানোর সময়টুকুর মধ্যেই গাইডের সংগ্রহ করা ফল খেয়ে আবারও হাইকিং। এবার কিছুটা বুনো পথ মাড়িয়ে দূর থেকেই দেখতে পাই কাঙ্ক্ষিত মায়ুং কপাল পাহাড়। প্রথম দেখাতেই চোখ জুড়িয়ে যায়। চারপাশে পাহাড় আর পাহাড়। সিঁড়ি বেয়ে ওপর দিকে উঠতে থাকি। সিঁড়িটা এমন খাড়া হয়ে ওপর দিকে উঠছে যে, একটা সময় মনে হবে এই বুঝি নীল আসমানে ভেসে বেড়ানো শুভ্র মেঘমালা ছুঁয়ে ফেলব আমাকে। সেই সঙ্গে ডানে-বামে পাহাড়ের ঢেউখেলানো দৃশ্যের অপার্থিব সৌন্দর্য।গাইডের তথ্যমতে, ৩১৫টি সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছে যাই মায়ুং কপাল পাহাড়ের ওপরে। এ যেন আরেক জগৎ। পাহাড়ে দাঁড়িয়ে পাহাড় দেখা। বৃষ্টির কারণে পাহাড়গুলো গাঢ় সবুজে মোড়ানো। গাছের পাতা ছিল বৃষ্টি ভেজা চকচকে সবুজ। দুচোখ যত দূর যায়, শুধু পাহাড় আর পাহাড়। আমরা আরও সামনের দিকে এগোতে চাই। কিন্তু গাইডের সবুজ সংকেত না থাকায় সিঁড়ির কাছাকাছিই থাকি। ওখান থেকেই নয়ন ভরে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করি। মূলত পাহাড়ে বসবাস করা ত্রিপুরাসহ মোট ১৫টি জনগোষ্ঠীর জনগণের চলাচলের সুবিধার জন্য ২০১৫ সালের ১৩ জুন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সিঁড়িটি নির্মাণ করে। এখন এটি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ত্রিপুরা ভাষায় হাতির মাথাকে মায়ুং কপাল বলা হয়। পাহাড়টির সামনের অংশ অনেকটা হাতির মাথার মতো দেখতে। সে কারণেই এর নাম মায়ুং কপাল। মোট ২৬৭ ধাপের সিঁড়িটির উচ্চতা প্রায় ৪০০ ফিট। আর মায়ুং কপাল পাহাড়ের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ২০৮ ফিট। সিঁড়িটি আনুমানিক ১২০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে খাড়া হয়ে ওপর দিকে উঠেছে।যে কারণে অনেকেই স্বর্গের সিঁড়ি নামেও ডেকে থাকেন একে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় মাঝামাঝি অবস্থানে বাতাস আছড়ে পড়ে যেভাবে শরীর শীতল করে তোলে, সিঁড়ির নিচে বা ওপরে সেরকমটা পাওয়া যায় না। মায়ুং কপাল পাহাড়ে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় কাটিয়ে, দীপা ত্রিপুরার বাগানের পাহাড়ি আম রাঙগুই'র স্বাদ নিয়ে ফিরতি পথ ধরি। যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস খাগড়াছড়ি যায়। খাগড়াছড়ি শহর থেকে অটোরিকশা বা যেকোনো বাহনে পানছড়ি সড়কের প্যারাছড়া ব্রিক ফিল্ড। সেখান থেকে চেঙ্গী নদী পার হয়ে ঘণ্টা দুই হাইকিং-ট্র্যাকিং। তবে নদী পার হয়েই চ্যালাছড়া পাড়ার কোনো দোকানির সঙ্গে কথা বলে, স্থানীয় কাউকে নিয়ে গাইড হিসেবে নেওয়াটাই ভালো হবে।সতর্কতা: মায়ুং কপাল ভ্রমণের জন্য পেশাদার গাইড নেই। সুতরাং স্থানীয় যাকে গাইড হিসেবে নেবেন, তাঁকে বুঝেশুনে নিতে হবে। পর্যাপ্ত সুপেয় পানি ও পরিমাণ অনুযায়ী শুকনো খাবার সঙ্গে নিতে হবে। গাইডের পরামর্শ ছাড়া কোনো পাড়া বা পাহাড়ের পথে যাবেন না। | 4 |
বাংলাদেশ থেকে ভারতে বিভিন্ন নিত্যনতুন সামগ্রী ভারতে পাচার হচ্ছে। মাথার চুল থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুর্লভ পাখি রয়েছে পাচারের তালিকায়। ভারত থেকেও গাঁজা-ফেনসিডিল বাংলাদেশে ঢুকছে। বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পাচারকালে বেশ কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য পাখি ধরা পড়েছে। বেশ কয়েজন অনুপ্রবেশকারীকেও ধরতে সক্ষম হয়েছে বিএসএফ।সীমান্তে চোরাকারবার বন্ধে বিএসএফ ও বিজিবি সমন্বয় ও সহযোগিতার কথা বললেও করোনা পরিস্থিতিতেও পাচার বাণিজ্য চলছেই। গত শনিবার নদিয়া জেলার চাপড়া থানা এলাকায় বিএসএফের হাতে ধরা পড়েছে মানুষের মাথার শতাধিক পরচুল। নারীদের মাথার চুল বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসএফ।বিএসএফের বক্তব্য অনুযায়ী, চোপড়ার কদর মন্ডলের কাছ থেকে এগুলো জব্দ করা হয়েছে। কদর মন্ডল জানান, বাংলাদেশের চুয়াডাঙা জেলার খুতুবপুরের আজিজুল মন্ডল এই পরচুল তার কাছে পাচার করেছে। শুধু পরচুলই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য পাখিও জব্দ করেছেন। পাখিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কালো রাজহাংস, কালো ধণীশ, বুনো টার্কি প্রভৃতি। বাজেয়াপ্ত করা পাখিগুলোকে বনদপ্তরের হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ।প্রচুর মাদকও উদ্ধার করেছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা। গত সোমবার ৮০১ বোতল ও এর আগের দিন ১৭৫ বোতল ফেনসিডিল ছাড়াও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১০ কেজি গাঁজা। প্রায় প্রতিদিনই চলছে বিএসএফের অভিযান। কিন্তু এরপরেও পাচার বাণিজ্য থামছে না। সেই সঙ্গে রয়েছে বেআইনি অনুপ্রবেশও। পশ্চিমবঙ্গে গত সাত দিনে অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় দালাল ধরা পড়েছে বিএসএফের হাতে। | 3 |
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা মসজিদবাড়ি বাজার সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলার 'এমএল ঐশি' ডুবির ঘটনায় ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে নয় জন পুরুষ ও চার জন নারী রয়েছেন।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহত ১৩ জনের মধ্যে আটজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, উজিরপুরের হারতা বাজারের সুকদেব মণ্ডল (৪০), মসজিদ বাড়ির রাবেয়া খাতুন (৫০) ও মোজাম্মেল মোল্লা (৬০), জিরাকাঠীর রূপা বেগম, সাতবাড়িয়ার সাগর মীর (১৮) ও ফিরোজা বেগম (৪০), মীরাবাড়ির রেহানা বেগম (১৪) ও সাতলার জয়নাল হক (২৮)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রলারটি সকালে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে উজিরপুর উপজেলার হারতা যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বেলা সাড়ে ১২টায় বানারীপাড়ার মসজিদবাড়ি বাজার এলাকায় সন্ধ্যা নদীর প্রবল স্রোতে ট্রলারটি ডুবে যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম সমকালকে জানান, ট্রলারের পাঁচ যাত্রীকে জীবিত এবং চার নারী ও নয় পুরুষ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ইউএনও জানান, ট্রলারটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির স্থান চিহ্নিত করার পর নৌবাহিনীর ডুবুরি দল ১৩ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, ট্রলারের ভেতর আরো মরদেহ আছে কী না ডুবুরিরা তা খুঁজে দেখছেন।
ডুবুরিরা জানান, ট্রলারটি মসজিদবাড়ি ঘাটের ৩শ' মিটার দূরে নদীর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ ফুট পানির নিচে রয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করতে ঘটনাস্থলে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, স্থানীয় এমপি তালুকদার মো. ইউনুসসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে উজিরপুরের হাবিবপুর, মিরেরহাট, হারতা ও বানারীপাড়ার বিশারকান্দি এলাকার শত শত নারী-পুরুষ নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে দুর্ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছেন।
| 6 |
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ডাকলে সকাল থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার চলছে। জনগণ প্রতিবাদী হলেই হামলা চালানো হচ্ছে মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার খালেদা জিয়াকে অন্তরীণ করে রেখেছে। সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে বিএনপির উদ্যোগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সম্প্রীতি মিছিলের আয়োজন করে বিএনপি। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে বের হলে এ সংঘর্ষ হয়। তিনি সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়শ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে পুলিশের সঙ্গে জনগণের লড়াই হবে। সরকার পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে খুন করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন গয়েশ্বর। এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ। | 9 |
কুমিল্লায় পূজামণ্ডপ ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় কোতয়ালি, সদর দক্ষিণ, দাউদকান্দি থানায় এ পর্যন্ত আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জামায়াত সমর্থিত তিন কাউন্সিলর, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতিসহ ৭৯২ জনকে আসামি করা হয়। এসব মামলায় ৯২ জনের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।মামলায় জামায়াত সমর্থিত ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকরাম হোসেন বাবু, ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন ও জামাত নেতা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়ার নাম রয়েছে।এদিকে জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির গতকাল সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দিতে পারেনি। ১৫ দিনের সময় বাড়ানোর কথা জানান তদন্ত দলের সদস্য আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, তদন্ত কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে তদন্ত করতে গেলে অসম্পূর্ণ থাকতে পারে।অপরদিকে পূজামণ্ডপের ঘটনায় নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেও নগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সহিংসতার প্রতিবাদে নগরীতে প্রতিদিনই হচ্ছে বিভিন্ন সংগঠনের সভা, মানববন্ধন ও সমাবেশ।গতকাল বিকেলে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রীতির পক্ষে নগরীর টাউন হলে গণজমায়েত করে জেলা মহানগর আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সদর আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। | 6 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ভেতরটায় খুব স্নিগ্ধ, ছোট্ট একটা সবুজ মাঠ আছে। তার এক ধারে একটা গ্রিক সমাধি-মন্দির চারপাশের আর সব স্থাপনার চেয়ে আলাদা এক চেহারা ও পরিচয় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ১১০ বছর। আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে যখন সেখানে পড়তাম, তখন খুব আগ্রহ হতো মন্দিরটির বিষয়ে। শুনেছিলাম অনেক আগের ছোট্ট এক গ্রিক মেয়ের কবর আছে সেখানে। কেমন একটা বিষাদমাখা মায়া কাজ করত তার জন্য।সম্প্রতি ফেসবুকের একটি পোস্টে প্রথমবারের মতো মন্দিরের অন্দর কক্ষ ও সেখানে সংরক্ষিত নয়টি অক্ষত, একটি আধভাঙা এপিটাফ এবং সমাধিফলক দেখে প্রায় ভুলে যাওয়া সেই স্মৃতি আবার মাথায় কড়া নাড়ল। এই অন্তর্জালের দুনিয়াতে তথ্য বের করা খুব কঠিন কাজ নয়। ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের এক গ্রিক কনসালট্যান্ট হেলেন আবাদজী আর জাপানি গবেষক কানদা সায়াকো-এর দুটি গবেষণাপত্রের তথ্য জোড়া লাগিয়ে একটা ছবি দাঁড় করিয়েছি-পলাশী যুদ্ধের সমসাময়িক বাংলায়, বিশেষ করে ঢাকায় গ্রিকদের আগমন, তাঁদের বাণিজ্য, পেশা, পারিবারিক-সামাজিক জীবন এবং ঢাকার বুকেই তাঁদের শেষশয্যা নিয়ে।ঢাকায় গ্রিকদের গল্পবাংলায় গ্রিকরা আসে ১৭৫০ সালের দিকে-আজকের গ্রিস এবং গ্রিক-অধ্যুষিত অঞ্চল, যেমন আধুনিক তুর্কি ও ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশগুলো থেকে। ভাগ্য ফেরানো ওসমানিয়া শাসন বলয় থেকে বের হওয়া, ধর্মপ্রচার ইত্যাদি উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষের দিকে এরা আসতে শুরু করে ইংরেজ ও অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তি বাংলায় ভালোভাবে আসন গেঁড়ে বসার পর। তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন আলেক্সিওসি (আলেক্সান্ডার) আর্গাইরি। বুলগেরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই গ্রিক কলকাতায় এসে ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর কারবার ছিল বসরা আর লেভান্তে (সিরিয়া-লেবানন) অঞ্চলের সঙ্গে। ১৭৭০ সালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরার পথে বঙ্গোপসাগরে নিশ্চিত জাহাজডুবি থেকে বেঁচে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, কলকাতায় একটা চার্চ বানাবেন। তখন সবে কলকাতার গভর্নর হয়েছেন ওয়ারেন হেস্টিংস। তাঁকে গিয়ে আর্গাইরি ধরলেন চার্চ নির্মাণের অনুমতির জন্য। হেস্টিংস জানতেন, গ্রিকরা ইংরেজদের সঙ্গে মিলেমিশে ব্যবসায় উন্নতি করছে, তাই অনুমতি দিলেন। আর্গাইরি আর অন্যান্য ধনী গ্রিকরা চার্চ বানানোর তোড়জোড় শুরু করলে তিনি তাঁর ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য হাজির হলেন ঢাকায়, ১৭৭১ সালে। এ থেকে অনুমান করা যায় আর্গাইরির আগমনের আগে থেকেই গ্রিক বণিকেরা ঢাকায় ডেরা বেঁধেছিল। এই প্রস্তরখণ্ডের নিচে মিসেস সুলতানা আলেক্সান্ডার, আলেক্সান্ডারের স্ত্রীর (আলেক্সান্ডার ইস্তাম্বুলের কারিয়াকোস ফিলিপ্পো পলিটুর পুত্র) নশ্বর দেহাবশেষ শায়িত আছে, যিনি এই ধরাধাম থেকে বিদায় নিয়েছেন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ১৮০০ সালে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। ছবি: লেখকের সংগ্রহ থেকেআর্গাইরির সঙ্গে ঢাকায় আসে তাঁর ২১ বছর বয়সী বড় ছেলে পানিয়তি। ১৭৭৭ সালে আর্গাইরি মৃত্যুবরণ করেন ঢাকাতেই। বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তিকে পুঁজি করে ১৮ শতকের শেষার্ধে এসে এই পানিয়তি ব্যবসা বাড়িয়ে বাংলায় গ্রিক বণিক সম্প্রদায়ের প্রধান হয়ে ওঠেন। ঢাকা ও সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জে গ্রিকদের প্রধান বাণিজ্য ছিল চুন ও লবণকে ঘিরে। সিলেটের খাসিয়া-অধ্যুষিত পাহাড়ি অঞ্চলে উৎকৃষ্ট মানের চুনাপাথর পাওয়া যেত (এবং এখনো যায়), যা থেকে তৈরি করা হতো চুন। সে চুন দরকার হতো বড় বড় ইমারত তৈরিতে। নৌপথে বজরায় করে সে চুনের চালান যেত নারায়ণগঞ্জে। সেখান থেকে নদীপথে সহজেই দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার পদ্মা-মেঘনার সংগমস্থল দিয়ে উত্তর-পশ্চিম বা দক্ষিণ-পূর্বে নৌযাত্রা করা যেত। সে জন্য ভোলা ও চাটিগাঁ থেকে আসা লবণের বিরাট মোকাম গড়ে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জে। এইখানে শায়িত আছেন ইস্তাম্বুলের জর্জ ফিলিপ্পো পলিটুর পুত্র থিওডোরের স্ত্রী থিওডোসিয়া। ১০ এপ্রিল ১৮০৫ সালে। তাঁর স্মৃতি অমর হোক। এই দুই নারীর সমাধিফলকেই একটা কথা আছে, যা আমাদের অবাক করে, 'ঢাকার প্রতি তিনি ঋণী'। ছবি: লেখকের সংগ্রহ থেকেচুন ও লবণ-এই দুই অতিপ্রয়োজনীয় বাণিজ্যের মূল অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ ইংরেজদের হাতে থাকলেও তাতে কলকাতার বাঙালি হিন্দু (যারা বউবাজার-বাগবাজার-বড়বাজারের 'ভদ্দরলোক' নামে পরিচিতি পায়), আর গ্রিকরা মিলে মোটা মুনাফা আয় করে যাচ্ছিল। এর মধ্যে গ্রিক বণিক মভ্রদি কেরিয়াকোস একাই নিয়ন্ত্রণ করতেন চাটিগাঁও, আর ভোলার উৎপাদিত মোট লবণের এক-তৃতীয়াংশ। তখন এক ভোলা থেকেই বছরে ১ হাজার টনেরও বেশি লবণ আসত নারায়ণগঞ্জে। আর তাতে নিয়োজিত ছিল ১৬০টি বজরা। এই বণিকদের একজন ছিলেন নিকোলাস দিমিত্রিওস। টিএসসির সেই গ্রিক মন্দিরের ভেতরে অনেকের সঙ্গে সমাহিত আছেন সেই দিমিত্রিওসও।বিষাদমাখা এক অর্থনীতির গল্পটিএসসির সে মন্দিরের যে আকার ও আয়তন, তাতে করে বড়জোর এক বা দুজনের সমাধি হতে পারে। অথচ সেখানে আটটি স্মৃতিফলকে একজন করে আটজন এবং অন্য আরেকটা ফলকে একসঙ্গে তিন ভাইয়ের কথা উল্লেখ আছে। অর্থাৎ এই ছোট একটি জায়গায় মোট ১১ জনের সমাধি আছে। এই ১১ জনের মৃত্যু কাছাকাছি সময়ে হয়নি। হয়েছে ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে। দুটি স্মৃতিফলকে উল্লেখিত দুই নারীর মধ্যে একটা সম্পর্ক (তাঁদের দুজনের শ্বশুর সম্ভবত দুই ভাই) অনুমান করা যায়। অন্য দুজন নারী আরেক গ্রিকের দুই স্ত্রী ও এক পরিবারের তিন ভাই। এ ছাড়া আরও চারজনের সঙ্গে একে অন্যের কোনো ধরনের আত্মীয়তার প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই যদি হয়, তাহলে 'এটি একটি পারিবারিক সমাধি'-এই চালু ধারণা সর্বাংশে সত্যি নয়। মিসেস মাগদালেন, সোফিয়া জর্ডান এবং তাঁদের স্বামী মি. জোসেফ জর্ডানের (কেসারিয়া, তুর্কি থেকে আগত, নারায়ণগঞ্জের বণিক) স্মৃতির উদ্দেশে। জর্ডান ১০ ফেব্রুয়ারি ১৮১৯ সালে ৬০ বছর বয়সে এই পৃথিবী ত্যাগ করেন। তাঁদের সবার স্মৃতির প্রতি অনুরাগ-আপ্লুত এই স্মারক নিবেদন করলেন তাঁদের অভাগা এতিম সন্তানেরা। ছবি: লেখকের সংগ্রহ থেকেতাহলে প্রথমে যে প্রশ্ন আসে, তাঁরা সবাই এক জায়গায় সমাহিত হলেন কীভাবে? কীভাবে তাঁদের মৃত্যুর প্রায় শতাব্দীকাল পরে এসে ঠাঁই পেলেন এই ছোট্ট সমাধি-মন্দিরে? আমরা এর উত্তর খুঁজব সমাধিফলকের গায়ে উৎকীর্ণ বাণী ও তৎকালীন বাংলায় গ্রিক বণিকদের ওপর করা গবেষণালব্ধ তথ্যের মধ্যে।নিকোলাস দিমিত্রিওসের (জন্ম ১৭৯৭, মৃত্যু ১৮৪৩) সমাধিফলক লেখা হয়েছে ইংরেজিতে। মৃত্যুর ১৬ বছর পর এসে ফলকটি উৎসর্গ করেছেন বাসিল দিমিত্রিওস। পারিবারিক নাম এক হলেও বাসিল নিজের পরিচয় দিয়েছেন নিকোলাসের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে। এই এপিটাফে একটা উর্দু কবিতা (সম্ভবত মির্জা গালিবের) ইংরেজি হরফে লেখা আছে, যার বাংলা অনুবাদ দাঁড়ায় অনেকটা এ রকম:'(আমার বিদায়ে) দুনিয়ার আনন্দধারা কমবে না কিছুমাত্র,আমাকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে কেউ কেউ,আফসোস, আমি তখন থাকব না আশপাশে।'বোঝা যাচ্ছে নিকোলাসের কাব্যপ্রীতি ছিল, যা তাঁর বন্ধু বাসিলের অজানা ছিল না। হয়তো নিকোলাস ও বাসিল দুজনই ভারতবর্ষে, হয়তো ঢাকাতেই জন্মেছিলেন। বাল্যসখা ছিলেন। ঢাকার নবাবদের মধ্যে উর্দুর প্রচলন ছিল। সেখান থেকেই শিখেছিলেন এই ভাষা। খুব সম্ভব তাঁরা বাংলাও বলতে পারতেন, যেহেতু ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন। দিমিত্রিওস এলিয়াসের জ্যেষ্ঠ পুত্র নিকোলাস দিমিত্রিওসের স্মৃতির উদ্দেশে। মৃত্যু ৫ মার্চ ১৮৪৩, বয়স ৪৬। তাঁর প্রিয় কবিতার ছত্র-'(আমার বিদায়ে) দুনিয়ার আনন্দধারা কমবে না কিছুমাত্র,আমাকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে কেউ কেউ,আফসোস, আমি তখন থাকব না আশপাশে।'তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু বাসিল দিমিত্রিওস এই ফলক স্থাপন করলেন ১৮৫৯ সালে। ছবি: লেখকের সংগ্রহ থেকেবন্ধুর জন্য এপিটাফের ব্যবস্থা করার এক বছরের মাথায় ১৮৬০ সালে মারা যান বাসিল দিমিত্রিওস, মাত্র ৬০ বছর বয়সে। ইংরেজি জানা বাসিল জীবনভর বিচিত্র পেশায় জড়িত ছিলেন। কমিশনারের সহকারী ছিলেন ৯ বছর, সেন্ট টমাস চার্চের (১৮২১ সালে প্রতিষ্ঠিত) করণিক ছিলেন ৪০ বছর-জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। আর ১০ বছর ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন ঢাকা কলেজে (১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত)। এর মানে জীবন চালানোর জন্য একসঙ্গে বেশ কিছু চাকরি করেছেন সমান্তরালে। ছাপোষা এমন একজন মানুষের বন্ধু ছিলেন ধনী বণিক নিকোলাস। সম্ভবত দুজনই সমবয়সী, একই সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন ও বেড়ে উঠেছেন।প্রাচীন গ্রিক ভাষায় লেখা হয়েছিল ফাদার নাথানিয়েলের স্মৃতিফলক। আমরা জানতে পারি, ১৭৩৬ সালে সুদূর আজিয়ান সাগরের ছোট্ট দ্বীপ সিফোনেসে জন্ম নেওয়া নাথানিয়েল শেষশয্যা নিয়েছেন ঢাকায়, ১৮১০ সালে। আমরা পুলকভরে অবগত হই যে তিনি তাঁর জন্মস্থান ও ঢাকা-দুই জায়গাকেই নিজের স্বদেশ বলে গণ্য করতেন! তিনি হয়তো ধর্ম প্রচারে এসে ভালোবেসে ফেলেছিলেন বুড়িগঙ্গার ধারের এই নগরকে। এইখানে শায়িত প্রয়াত কেসারিয়ার (তুরকিস্তান) জ্যাকব ইস্সাই লাকোবোগলাস। মৃত্যু ২২ জুন, ১৮১৯ সালে, বয়স হয়েছিল ৪৮। ওপর থেকে যিনি তাকিয়ে আছেন, হে ঈশ্বর, তাঁকে ক্ষমা করুন। ছবি: লেখকের সংগ্রহ থেকেনাথানিয়েলের চার বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন এক ব্যবসায়ী, কনস্টানটিন। তাঁর স্ত্রী এই সমাধিফলক বানান প্রয়াত সহধর্মীর জন্য-তাঁর নাম আমরা জানতে পারি না। কিন্তু তাঁর বেদনামথিত আবেগের কথা লেখা আছে মাতৃভাষা গ্রিকে।ফিলিস্তিন থেকে আসা জোসেফ জর্ডান (১৭৫৯-১৮১৯), আর তাঁর দুই স্ত্রী মাগদালেন ও সোফিয়ার জন্য ইংরেজিতে ফলক লিখে রেখে গেছেন তাঁদের শোকগ্রস্ত সন্তানেরা। এতে অনুমান করা যায়, দ্বিতীয় প্রজন্মের গ্রিকরা ইংরেজদের সঙ্গে বাণিজ্য আর চাকরির সুবিধার্থে ইংরেজিকে তাঁদের প্রতিদিনের ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। বাসিল দিমিত্রিওসের (সেন্ট থমাস চার্চের করণিক) পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে। জন্ম ১৮০০ সালে। তিনি বিশ্বস্ততার সঙ্গে ৯ বছর কমিশনের সহকারী, ১০ বছর ঢাকা কলেজের ইংরেজির শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন এবং ৪০ বছর সেন্ট থমাস চার্চে সেবা প্রদান করেছেন। 'বিশুদ্ধ প্রাণ যাদের, তারাই তো দেখা পায় ঈশ্বরের' (বাইবেল: ম্যাথিউ), ১৮৬০। ছবি: লেখকের সংগ্রহ থেকে১৮৩৬ সালের ৩১ জানুয়ারি, সেদিন ছিল রোববার। ছুটির দিন। ঢাকা থেকে ২৫ মাইল দূরের মির্জাপুরে সেই দিন বাঘ শিকারে গিয়েছেন জন দিমিত্রিওস ইলিয়াস। সেখানেই বাঘের থাবায় তাঁর করুণ মৃত্যু হয় মাত্র ৩৫ বছর বয়সে। যিনি বাঘ শিকারের মতো রোমাঞ্চকর ও দামি শখ মেটানোর ক্ষমতা রাখেন, তিনি যে ধনী পরিবারের সন্তান ছিলেন, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। ইংরেজিতে লেখা সে স্মৃতিপ্রস্তরে তাঁর অন্য দুই ভাইয়ের কথাও বলা হয়েছে, তাঁরাও শিকারি ছিলেন। তাঁদের দেহাবশেষ একসঙ্গে করে তিন ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁদের এক মামাতো বা খালাতো ভাই ম্যানুয়েল এই ফলকের ব্যবস্থা করেন। এটি ফাদার নাথানিয়েলের সমাধি; পবিত্র এবং সাধু; যিনি পবিত্র এক সাধুর ন্যায় যিশুর কথা প্রচার করেছেন, তাঁর জীবনাচার এবং বাণীর মাধ্যমে। অনবদ্য এক আনন্দধাম এই ঢাকায় আবির্ভূত হয়েছিলেন দ্বিতীয় সেন্ট থমাস*। তাঁর পিতৃভূমি ছিল সিফনোস (আজিয়ান সাগরের এক দ্বীপ), যেখানে তিনি ১৭৩৬ সালে প্রথম আলো দেখেছেন এবং ঢাকা-এই দুই স্থানকেই তিনি স্বদেশ বলে গণ্য করতেন। ১২ মার্চ ১৮১০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 'তিনিই সুখী হন, যিনি অন্যকে ভক্তিময় সম্মান দান করেন'। ছবি: লেখকের সংগ্রহ থেকে১৮২০ সালের পর নানা কারণে ইংরেজ-কলকাতার 'ভদ্দরলোক' গ্রিকদের ত্রিমুখী বাণিজ্য প্রণয় আর আগের মতো থাকেনি, মুনাফাতেও টান পড়তে শুরু করে। চুন আর লবণের ব্যবসা ছেড়ে টাকাওয়ালা গ্রিকেরা জমিদারি কিনতে লাগলেন (বরিশাল অঞ্চলেও এদের একটা জমিদারি ছিল)। আর যাঁরা অতটা বিনিয়োগ করতে পারলেন না, তাঁরা ইংরেজদের সওদাগরি কোম্পানিতে চাকরি নিলেন। ১৮৪০ সালে প্রকাশিত ইংরেজ লেখক জেমস টেইলরের বই ' ' থেকে আমরা জানতে পারি, ১৮৩৮ সালে ঢাকায় মাত্র ১২টি গ্রিক পরিবারের বসবাস ছিল। জন দিমিত্রিওস এলিয়াস আত্মীয়স্বজন সেই ১২ পরিবারের একজন হওয়ার কথা। আরও বোঝা যাচ্ছে যে গ্রিকদের ব্যবসা পড়তির দিকে থাকলেও তখন ঢাকায় অবস্থাসম্পন্ন কয়েকজন গ্রিকের বসবাস ছিল। জর্জ মাভরোডোগ্লোর পুত্র কনস্টানটাইনের স্ত্রী, যিনি ছিলেন স্বামীপরায়ণা নারী, তাঁর চিরজাগরুক ভালোবাসার স্মারক হিসেবে এই ফলকখানি স্থাপন করেছেন। তাঁর (স্বামীর) জন্মস্থান ছিল ইস্তাম্বুল। একজন বণিক হিসেবে তিনি তাঁর জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮০৬ সালের ২৪ জুলাই তিনি জীবনের বন্ধন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন এই ঢাকায়। ছবি: লেখকের সংগ্রহ থেকেএকই পরিবারের দুই বউ থিওডোসিয়া (মৃত্যু ১৮০৫) ও সুলতানার (জন্ম ১৭৬৬) দেহাবশেষ পাশাপাশি রাখা আছে। সুলতানা সম্ভবত অধুনা তুর্কি দেশের মেয়ে ছিলেন, শুধু নামেই তার ইঙ্গিত মেলে না, তাঁর শ্বশুর কারিয়াকোস ফিলিপ্পো নিজেও এসেছিলেন ইস্তাম্বুল থেকে। তিনি হয়তো ছেলের বিয়ের জন্য নিজের জন্মস্থানের মেয়েই খুঁজে এনেছিলেন। কেমন দেখতে ছিলেন সুলতানা? তিনি কি কখনো শাড়ি পরেছিলেন? সুলতানার মৃত্যু হয় ৬ ফেব্রুয়ারি ১৮০০ সালে, আজ থেকে ২২২ বছর আগে, মাত্র ৩৪ বছর বয়সে।এই স্থাপনায় আরও আছে আধভাঙা এক সমাধিফলক, যার বাকি অংশ হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। সেখানে আমরা দেখতে পাই, এক পিতা ১৮৫৫ সালের ডিসেম্বরের কোনো এক দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন। একই সমাধিতে পরে তাঁর কন্যাকেও সমাহিত করা হয়। কন্যার জন্ম ১৮১৫ সালে। তাঁর মৃত্যুর বছর আমরা হয়তো জানতে পারব না কোনো দিনই; হয়তো পিতৃশোকাতুর মেয়েও বেশি দিন বাঁচেনি। শুধু জানব ঢাকায় বসবাসকারী এই গ্রিক পিতা এবং কন্যার শেষশয্যা হয়েছিল রমনার সবুজ গালিচার নিচে। নাম না জানা সেই মেয়ে তার বাবার কোলে শুয়ে আছে বছরের পর বছর ধরে, পরম নিশ্চিন্তে। দিমিত্রিওস এলিয়াস এস্কোয়ারের দ্বিতীয় পুত্র জন দিমিত্রিওসের পবিত্র স্মৃতির প্রতি। ১৮৩৬ সালের ৩১ জানুয়ারি, রবিবার ঢাকার উত্তর-পশ্চিমের মির্জাপুরে বাঘ শিকারে গিয়ে নিহত হন। এখানে তিন মহান ভাই নিকোলাস, জন ও কনস্টানটিন একসঙ্গে শায়িত হয়েছেন। এখানে যূথবদ্ধ হয়ে আছেন সাহসী শিকারি ও খেলাধুলায় পারদর্শী তিন উচ্ছল জীবন। ফলক স্থাপনায় (খালাতো/মামাতো) ভাই মানুয়েল এলিয়াস মিচো। ফলকের একদম নিচে লেখা আছে, 'মারডক', যা সম্ভবত কলকাতার সমাধিফলক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম। ছবি: লেখকের সংগ্রহ থেকেযে কয়জন গ্রিকের সমাধিফলক এখানে আছে, তাঁরা একজন আরেকজনের সঙ্গে সরাসরি আত্মীয়তার সম্বন্ধে সংযুক্ত নন। তাঁদের দেহাবসান হয়েছে ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় দশক ধরে। অথচ তাঁরা মিললেন একই ছাদের নিচে!১৮০০ সালের দিকে রমনা অঞ্চলে (তখন নাম ছিল সুজাতপুর) আগে থেকেই গ্রিকদের একটা সমাধি ছিল। ইংরেজরা রমনা অঞ্চলে নানা রকম স্থাপনা বানানো শুরু করলে এবং ১৮৫০ সালের পরে ঢাকায় ধনী গ্রিকদের আধিপত্য কমতে থাকলে এই সমাধি ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হতে থাকে। শেষে এমন অবস্থা হয় যে এলাকার লোকজন সমাধিফলক, ইট-পাথর পর্যন্ত খুলে নিয়ে নির্মাণকাজে লাগানো শুরু করে একসময়। তাই দেখে অবশিষ্ট প্রভাবশালী গ্রিক (যাঁদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী রাল্লি ব্রাদার্সের বংশধরেরা অন্যতম) বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেলের কাছে আরজি করলেন, অন্তত কিছু সমাধি, দেহাবশেষ এবং সমাধিফলক তুলে নিয়ে এসে একত্র করে একটা মন্দিরে স্থাপন করার অনুমতি দেওয়া হোক। আধভাঙা স্মৃতিফলক: বাবা ও মেয়ের। ছবি: লেখকের সংগ্রহ থেকেএই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইংরেজ ও গ্রিকদের যৌথ প্রচেষ্টায় ১৯১৫ সালে তৈরি হয় টিএসসির এই সমাধি-মন্দির। ধারণা করা হয়, টিএসসির সবুজ গালিচার নিচেও শুয়ে আছেন উল্লেখিত মানুষগুলোর কেউ কেউ। এর ছয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এই মন্দির ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসের অংশই হয়ে যায়। ১৯৬০-এর দশকে এটির অবস্থা বেশ নাজুক হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর সৌন্দর্য ও সৌকর্য নবায়ন হয়েছে ১৯৯৭ সালে দিল্লির গ্রিক দূতাবাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের যৌথ উদ্যোগে।শুনতে পাচ্ছি, টিএসসি নতুন করে বিনির্মাণ করা হবে। তখন হয়তো এই সমাধি আবারও সরানো হবে। সেখানে চিরনিদ্রায় থাকা অভিবাসীরা হয়তো ভাবতে থাকবেন, তাঁদের অভিবাসনের কোনো শেষ নেই-না তাঁদের জীবদ্দশায়, না মরণের পর।তথ্যসূত্র:' '. . , , -,' : '. . , , লেখক: প্রযুক্তিবিদ, ইনফিনিয়াম ইউকে লিমিটেড, অক্সফোর্ড, যুক্তরাজ্য*যিশুখ্রিষ্টের ১২ জন শিষ্যের একজন ছিলেন সেন্ট থমাস, যিনি প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝি এক সময়ে দক্ষিণ ভারতে আসেন খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের জন্য। তিনি সেখানেই দেহ রাখেন। নাথানিয়েলকে দ্বিতীয় সেন্ট থমাস বলা হচ্ছে, কেননা তিনিও সুদূর ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারতবর্ষের এক নগর, ঢাকায় এসেছিলেন যেমন করে প্রায় দুই হাজার বছর আগে এসেছিলেন আরেক ধর্মপ্রচারক। | 2 |
ঢাকা: করোনা মহামারি চলাকালীন মানবিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে ত্রাণ বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, অসামরিক সদস্যদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের দিক নির্দেশনায় বিভিন্ন ঘাঁটি এ কার্যক্রম চালাচ্ছে।আজ বুধবার আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বুধবার বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশার থেকে বিভিন্ন মাদ্রাসার ২৫০জন এতিম শিশুদের মধ্যে নগদ টাকাসহ পাঞ্জাবী, পাজামা, সালোয়ার-কামিজ (থ্রিপিস) ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসব ঈদ উপহার ও ইফতার সামগ্রী বিতরণের সময় ঘাঁটির কর্মকর্তা ও বিমানসেনাগণ উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বিমানবাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হকের ব্যবস্থাপনায় এবং ঘাঁটি এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এ এস এম ফখরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সুধারাম এয়ারফিল্ড (চর শুল্লকিয়া), নোয়াখালীর পার্শ্ববর্তী এলাকার দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী করোনাকালীন অসামরিক জনগণকে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে। কোভিড-১৯'র প্রাথমিক উপসর্গ নির্ণয় ও পরামর্শ কেন্দ্র এবং বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে জনগণের পাশে রয়েছে। | 6 |
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার মন্তব্য দেশপ্রেম ও দায়িত্বজ্ঞান বিবর্জিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন 'ভোটাধিকার ও সুশাসনে জাতীয় ঐক্য'র আহ্বায়ক আ ব ম মোস্তাফা আমীন ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুল বাতেন। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেন, 'নির্বাচনে অংশগ্রহণে জনগণ আগ্রহী না হলে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই'বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা যে মন্তব্য করেছেন তা দেশপ্রেম ও দায়িত্বজ্ঞান বিবর্জিত। দায়িত্ব পালনে ন্যক্কারজনক ব্যর্থতার দায় নিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে অনবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানান হয় বিবৃতিতে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকে যে কয়টি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, জেলা, সিটি কর্পোরেশন, সংসদ ও উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলোর একটিও অবাধ, সুষ্ঠ হয়নি। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিনে না হয়ে রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। এসব নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলনের সুযোগ না থাকায় অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই জনগণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। | 6 |
করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের ক্রিকেট বন্ধ সেই মার্চ থেকে। তবে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। কারণ বন্ধ দুয়ারটা খুলবে অক্টোবরে। সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে টাইগাররা। তার আগে নিজদের সেরাটা খেলতে অনুশীলনে ঘাম ঝড়াচ্ছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এমনকি ব্যাট হাতে ব্যস্ত তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমরা। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনুশীলন করছেন বোলার রুবেল-মোস্তাফিজরা। ব্যাটিং-বোলিংয়ে নিজেদের পুরনো ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন তারা। কিন্তু ফিল্ডিং নিয়ে ভাবছেন টাইগাররা। যেহেতু করোনার কারণে কোনো দলের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি তাই ফিল্ডিং নিয়ে মুমিনুল বাহিনীর ভাবনাটা যুক্তি সঙ্গত। গতকাল মিরপুরে অনুশীলন শেষে এমনটাই জানিয়েছেন টাইগাররা। গতকাল বিসিবির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকালে অনুশীলন করেছেন মুশফিকুর রহিম। মিরপুরে এসে তিনি বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। শেরে বাংলার সেন্টার উইকেটে ব্যাটিংটা ঝালিয়ে নিয়েছেন তিনি। অনুশীলনে মুশির অলসতা নেই তা ক্রিকেটপ্রেমীরা জানেন। এক টানা ৪০ মিনিট ব্যাটিং প্র্যাকটিসের পর কিপিং গ্লাভস নিয়ে আবার অনুশীলন শুরু করেন মুশি। কিন্তু ফিল্ডিং নিয়ে বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছিল তাকে। কারণ অপরপ্রান্ত থেকে ছোড়া বলগুলো লুফে নিতে পারছিলেন না তিনি। তাই বলে হাল ছেড়ে দেননি মুশফিক। আধঘণ্টার মতো ফিল্ডিং অনুশীলন করে ঘাম ঝরিয়েছে। মুশফিক অনুশীলন শেষ করার প্রায় ঘণ্টাবাদে এলেন লিটন দাস। এসেই শুরু করলেন আগ্রাসী ব্যাটিং। নেট বোলারদের বলগুলো ব্যাটে ডিফ্লেক্ট হতেই ধুমধুম ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠছিল গোটা হোম অব ক্রিকেটের চত্বর। দেখে একবারও মনে হয়নি করোনা অতিমারির কারণে ছয় মাস ব্যাটিংয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই ছিল না। যতক্ষণ ব্যাটিং করেছেন, দুর্দান্ত দাপটে। নেট বোলারদের সিংহভাগ বলই গিয়ে পড়েছে সীমানায় ও সীমানার বাইরে। লিটনের শেষ হতেই শুরু করলেন তামিম ইকবাল। একই স্টাইলে প্রায় ঘণ্টা অবধি ব্যাটিং করে গেলেন দেশসেরা এই রান সংগ্রহক। পুরো সেশনজুড়েই ছিল তার শটসের সমাহার। নেটে শফিউল ইসলাম ও আল আমিন হোসেনের প্রতিটি বলই মোকাবিলা করেছেন প্রবল বিক্রমে। যেন চিরচেনা উইকেটে ফিরে অনুশীলনেও খুনে হয়ে উঠেছিলেন ক্ল্যাসিক এই ওপেনারের ব্যাট। এছাড়া মিরপুরে বোলিংটা ঝালিয়ে নিয়েছেন রুবেল-মোস্তাফিজরা। বলার অপেক্ষা রাখে না, এখন টেস্ট সিরিজের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু না হলেও মুশফিক, তামিম, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল, লিটনরা সবাই লাল বলে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করছেন। রুবেল, তাসকিন ও মিরাজরা লাল বলে অনুশীলনের পাশাপাশি ফিল্ডিংটাও করেছেন। এক কথায় বলা যায় গতকাল ব্যাটিং-বোলিংয়ের সঙ্গে ফিল্ডিংয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন টাইগার ক্রিকেটারা। | 12 |
স্বাধীনতার ৫০ বছর পর সংবর্ধনা ও সম্মাননা পেলেন বীরাঙ্গনা জয়গুন নাহার খানম। তবে কোন রাষ্ট্রীয় সম্মান নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অশ্রুভেজা চোখে একাত্তরে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া বীভৎস নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন জয়গুন নাহার। তিনি বলেন, বাবা আর ভাইদের মারতে মারতে অচেতন করে পাকিস্তানি হানাদাররা আমাকে তুলে নিয়ে গেছিল। ক্যাম্পে পাঁচ ছয় মাস ধরে চারজন পাক সেনা দিন রাত নির্যাতন চালাতো। সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল আমার। সুযোগ বুঝে একদিন পালিয়ে আসি সেখান থেকে।বীরাঙ্গনা জয়গুন জানান, যুদ্ধ শেষে ফাল্গুনে জন্ম হয় তাঁর মেয়ে নিমসানার। এরপর শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। পরিবার, সমাজের নানা কটু কথা শুনে দিন পার করতে হয় মা, মেয়েকে। এভাবে ৫০টা বছর কেটেছে জয়গুনের। পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা। এখন বৃদ্ধ বয়সে ভিক্ষা করে চলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। যুদ্ধদিনে জয়গুনের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা শুনে উপস্থিত অতিথিরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ট্রাস্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধা তাঁরা যুদ্ধ করেছি একবার, একাত্তরে আট নয় মাস। কিন্তু বীরাঙ্গনা যারা আছেন, তাঁরা যুদ্ধ করেছেন বারবার। একাত্তরে যুদ্ধ করেছেন, একাত্তরের পর যুদ্ধ করেছেন। এখনো তাঁরা যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। অথচ তাঁদের অবদানের জন্য কিছুই দিতে পারিনি আমরা। বীরাঙ্গনা জয়গুন আমার এখানে এত দিন ধরে চিকিৎসাধীন আছে। কিন্তু অনেক দিন ধরে আমি তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারিনি। কারণ পাকিস্তানিরা তাঁদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে আমরা তার চেয়েও বেশি খারাপ আচরণ করেছি বীরাঙ্গনাদের সঙ্গে। জয়গুন যদি আমাকে বলে আপনি তো মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলাদেশে আমার জন্য কী করেছেন আপনারা। তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর মতোই দু ফোঁটা চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কী করতে পারতাম আমি?অনুষ্ঠানে বীরাঙ্গনা জয়গুন নাহার খানমের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এরপর বীরাঙ্গনা জয়গুন নাহারের সম্মানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।নারী প্রবর্তনার সভাপতি ফরিদা আখতার বলেন, সব সময় আমরা বলি আড়াই লাখ মা বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার ৫০ বছরে মাত্র ৪১৬ জন নির্যাতিতা বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেয়েছে। এর থেকে কলঙ্কজনক আর কি হতে পারে? এটা আমাদের জন্য লজ্জা যে আড়াই লাখের মধ্যে মাত্র ৪১৬ জনকে আমরা সম্মান দিতে পেরেছি।বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি তাঁরা সামনে আসতে চায় না। বীরাঙ্গনা হিসেবে পরিচয় দিতে তাঁরা সংকোচ বোধ করে। এটাও আমাদের ব্যর্থতা যে আমরা তাঁদের সসম্মান সামনে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারিনি।নারীপক্ষের সদস্য লিপি লিলিয়ান রোজারিও বলেন, ২০১১ সাল থেকে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কাজ করছি আমরা। বীরাঙ্গনাদের আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা দিচ্ছি। এ পর্যন্ত ৬০ জনের মতো বীরাঙ্গনাকে আমরা সহায়তা দিতে পেরেছি। কিছু শব্দবন্ধের মধ্যে আটকে না রেখে একাত্তরে নির্যাতিতারা যেন মাথা তুলে বাঁচতে পারে আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পরিচালক বদরুল হক। তিনি বলেন, বীরাঙ্গনা জয়গুন নাহারকে চিকিৎসা সেবা দিতে পেরে আমরা গর্বিত। গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করব রাষ্ট্র এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও বীরাঙ্গনাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৩ নভেম্বর ব্যাক পেইন নিয়ে বীরাঙ্গনা জয়গুন নাহার তাদের হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার করোনা পজিটিভ আসে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বিনা মূল্যে তাঁর চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি নারীপক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে এই বীরাঙ্গনাকে। | 6 |
বিএনপির উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাদের (বিএনপি) কোনো অপকর্ম বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ রোববার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, জেল, জুলুম, নির্যাতন ও রাজপথ থেকে উঠে আসা জনগণের সংগঠন আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। বিএনপির কোনো অপকর্ম বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। নির্বাচনে ব্যর্থ ও পরাজিত হয়ে বিএনপির নেতারা এখন হাঁকডাক শুরু করেছেন বলে মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপির মাঠ গরমের অপচেষ্টা সফল হবে না। পরাজিত প্রার্থীদের রোদনভরা ব্যর্থতার কাহিনি শুনে জনগণের কী লাভ হবে-সে প্রশ্ন তোলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির নেতাদের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই, টেমস নদীর পাড় থেকে পাঠানো ফরমায়েশি বার্তা তাঁরা তোতাপাখির মতো পড়েন বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, টেমস নদীর তীর থেকে ঘোষণা দিয়ে পদ্মা-মেঘনা-যমুনায় জোয়ার আনা যাবে না। জনবিচ্ছিন্ন ও নেতিবাচক রাজনীতির কারণে বিএনপির ক্ষমতার মসনদে আরোহণের দিবাস্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। কারও নাম উল্লেখ না করে ওবায়দুল কাদের বলেন, লন্ডনকে খুশি করার জন্যই বিএনপির নেতারা মিথ্যাচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির নয়াপল্টন অফিস হচ্ছে গুজবের ফ্যাক্টরি। সেই ফ্যাক্টরি থেকে আসা অপপ্রচারের বাণী খোদ বিএনপির নেতাদের মধ্যেই অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি করছে। মিডিয়ায় আন্দোলনের ঝড় তুললেও বাস্তবে বিএনপির নেতারা রাজপথে থাকেন না বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, কেউ কেউ মাঠে থাকলেও ফেসবুকে দেওয়ার জন্য ছবি তোলেন। এরপর পালানোর পথ খোঁজেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বক্তব্য-বিবৃতিতে খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপির নেতারা প্রাণ দেওয়ার বাসনা ব্যক্ত করলেও তাঁর মুক্তির জন্য ঢাকা শহরে ৫০০ লোকের একটি মিছিলও তাঁদের করতে দেখেনি জনগণ। তাঁরা তাঁদের নেত্রীর মুক্তি ও চিকিৎসা চেয়ে রাজনীতি করেছেন বেশি। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাদের বক্তৃতায় কথার ফুলঝুরি ছুটলেও তাঁরা রাজপথকে ভয় পান। আন্দোলনকে ভয় পান। এখন তাঁরা জনগণকেও ভয় পান। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি ভয়ের বৃত্তে এখন আবর্তিত হচ্ছে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ৫০০ সদস্যের ঢাউস কমিটি থাকা সত্ত্বেও একটি বড় মিছিল যারা করতে পারে না, তাদের মেরুদণ্ডের শক্তি সম্পর্কে জনগণ বুঝতে পেরেছে বলেই নির্বাচনে তাদের ভোট দেয় না। | 9 |
তৃতীয় ধাপেও বিদ্রোহীদের থামাতে পারছে না আওয়ামী লীগ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপিও থাকছে নির্বাচনে। সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ৫৬৯ জন প্রার্থী বিনা ভোটে জয়ী হতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ১০০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। বাকিরা সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য। এ দফায় ১ হাজার ৪টি ইউপিতে ভোট হচ্ছে। ২৮ নভেম্বর ভোট গ্রহণ করা হবে। গত বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিনই স্পষ্ট হয়ে যায়, অনেকের চেয়ারম্যান ও সদস্য হতে ভোট লাগছে না। তৃতীয় ধাপের ভোটের আরেকটি দিক হলো, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কমেনি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১ হাজার ৬৯ জন নেতা অথবা কর্মী। দ্বিতীয় ধাপে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন প্রায় ৮৯৭ জন। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাঁদের পক্ষে কাজ করা নেতা-কর্মীদের দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। দলীয় নেতারা বিভিন্ন সময় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে তাতে কাজ হয়নি। বিদ্রোহীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তৃতীয় ধাপের ভোটেও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে প্রচার শুরু থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত ২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশন থেকে কত প্রার্থী বিনা ভোটে জয়ী হতে যাচ্ছেন, তার একটি হিসাব গতকাল শুক্রবার পাওয়া যায়। এই হিসাব অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হিসেবে ১০০ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে ১৩২ জন ও সাধারণ সদস্য হিসেবে ৩৩৭ জন বিনা ভোটে জয়ী হওয়ার পথে রয়েছেন। এর আগে প্রথম ধাপে ৪৩টি ইউপিতে (১৬০টির মধ্যে) চেয়ারম্যান পদে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি ইউপির মধ্যে ৭৬টির চেয়ারম্যান পদে বিনা ভোটে প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবার বিনা ভোটে যে ১০০ জন প্রার্থী জয়ী হতে যাচ্ছেন, তাঁদের ৯৯ জনই আওয়ামী লীগের। বাকি যে একজন বিনা ভোটে জয়ী হতে চলেছেন তিনি দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী। এই প্রার্থী হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরের ছলিমাবাদ ইউনিয়নের মো. জালাল মিয়া। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। চাপের মুখে এই ইউপিতে নৌকার প্রার্থী আবদুল মতিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, 'আমি খুব অসুস্থ। আমার পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।' যেসব জেলা-উপজেলায় বেশিসংখ্যক ইউপিতে ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না, তার একটি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা। এই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের সব কটিতে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বিনা ভোটে জয়ী হচ্ছেন। জয়ী হতে যাওয়া এই প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং সরকারদলীয় সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর অনুসারী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে রাউজানে এ বছর পৌরসভা নির্বাচন ও ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদেও ভোটের প্রয়োজন হয়নি। রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল ওহাব প্রথম আলোকে বলেন, এখানে কাউকে বাধা দেওয়া কিংবা হস্তক্ষেপ করা হয়নি। অবশ্য রাউজানের স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সাহস কারও নেই বলেই নির্বাচনে কেউ প্রার্থী হননি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ১১টি ইউপির মধ্যে ৮টিতে চেয়ারম্যান পদে ভোটের দরকার হচ্ছে না। ৫টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র জমাই দেননি। দুটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া বাকিরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। একটিতে 'বিদ্রোহী' বাদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ বাকিরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন, যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। বাঞ্ছারামপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত চারজন প্রার্থী বলেন, স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চাপ দিয়েছেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সাংসদ এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, বলপ্রয়োগের কোনো ক্ষেত্র এখানে সৃষ্টিই হয়নি। চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ভোট ছাড়াই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, মতলব উত্তরের মোহনপুর ইউনিয়নে বিনা ভোটে নির্বাচিত শামসুল হক চৌধুরী সাবেক ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর (মায়া চৌধুরী) ছোট ভাই। ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নে বিনা ভোটে নির্বাচিত নূর মোহাম্মদ চাঁদপুর-২ আসনের সাংসদ মো. নুরুল আমিন রুহুলের ছোট ভাই। ইলামাবাদ ইউনিয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন সরকার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমের ভাতিজা। দুর্গাপুর ইউনিয়নে বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকাররম হোসেন খান কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই। মতলব উত্তরের মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা কাজী মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। রাজনৈতিক চাপ ও হুমকিতে তিনি প্রার্থী হননি। এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ স্বতন্ত্রভাবে অনেকেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। সবাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে যেসব এলাকায় বিদ্রোহী বেশি, তার মধ্যে রয়েছে নরসিংদী, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মাগুরা। নরসিংদীর দুটি উপজেলার ২২টি ইউপিতে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে। জেলার রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আসাদুল্লাহ ভূঁইয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, গত নির্বাচনেও তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জয়ী হন। এবারও তিনি দল থেকে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। কিন্তু এলাকার মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিএনপি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের অনেকে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হয়েছেন। তৃতীয় ধাপের ইউপি ভোটে অংশ নিচ্ছেন দলটির প্রায় ৩৭৯ জন নেতা-কর্মী। এর মধ্যে বগুড়ায় সর্বোচ্চ ৩৩ জন, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে ১৫ জন করে, লালমনিরহাটে ১৭ জন, কুড়িগ্রামে ২০ জন, নওগাঁয় ২৮ জন, কুষ্টিয়ায় ১৫ জন, যশোরে ১৯ জন, সিলেটে ২১ জন ও মৌলভীবাজারে ১৯ জন রয়েছেন। বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাংসদ জি এম সিরাজ প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির কোনো নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হলে দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। [প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন ঢাকা ও সংশ্লিষ্ট জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা] | 9 |
মেহেরপুরের গাংনীতে বন্ধুদের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলতে গিয়ে খেলার মাঠেই দম বন্ধ হয়ে আবু সাঈদ (১৬) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আবু সাঈদ উপজেলার তেঁতুলবেড়িয়া গ্রামের জোবেদ আলীর ছেলে।সে করমদী দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র এবং সাহেবনগর জামে মসজিদে ইমামতি করত।স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবু সাঈদ বন্ধুদের সঙ্গে গ্রামে ব্যাডমিন্টন খেলতে গিয়েছিল। খেলা শুরুর কিছুক্ষণের সে দম বন্ধ হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় বন্ধুরা ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, আবু সাঈদ খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আবু সাঈদ দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আজ বুধবার তার কোরআন পরীক্ষা ছিল, কিন্তু পরীক্ষা দেওয়া আর হলো না। আমরা এক মেধাবী ছাত্র হারালাম।'করমদী মাদ্রাসার সুপারিনটেন্ডেন্ট মো. আবু জাফর বলেন, আবু সাঈদের মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সে আমাদের মাদ্রাসার একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। মেধাবী হওয়ার কারণে সে এই বয়সে ইমামতির ও দায়িত্ব পেয়েছিল। তার এই অকালমৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।' | 6 |
সব ধরনের ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ বাস্তবায়নে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, আমানতের সুদহার কোনোভাবেই ৬ শতাংশের বেশি দেয়া যাবে না। এ ছাড়া সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নতুন বছরে অর্থনীতি ভালো যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, শেয়ারবাজার উন্নয়নেও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নিলামের মাধ্যমে যানবাহনের পছন্দের নম্বর প্লেট বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বুধবার (১জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ব্যাংক সুদ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আগামী এপ্রিল থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকর করা হবে। আমরা আশা করি এটি বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, শুধু শিল্প খাতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদ হলে অনেক ইন্ডাস্ট্রি বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনা মেনে এখন সব ঋণ গ্রহীতাকে এ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। কোন সেক্টর ঋণ নিল এটা তার ব্যাপার। ঋণগ্রহীতা যা-ই করবেন তাতে দেশের লাভ হবে। ট্রেড করলেও দেশের লাভ হবে, একটি ইন্ডাস্ট্রি এমনকি সেলুন করলেও দেশের লাভ হয়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, সব খাতেই এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিপোজিটের জন্য কোনো ব্যাংক কাউকে ৬ শতাংশ সুদের বেশি অফার করতে পারবে না। সিঙ্গাপুর কিংবা মালয়েশিয়ায় ব্যাংকে টাকা রাখলে যিনি টাকা রাখেন তাকে টাকা দিতে হয়। আমাদের মতো দু'একটি দেশে ব্যাংকে টাকা রাখলে হয়তো আপনি দুই-তিন পার্সেন্ট সুদ পাবেন, এর বেশি না। কিন্তু আমাদের যে কোনো কারণে হোক ডিপোজিটে বেশি সুদ দেয়া হয়। এটা আর সইতে পারছি না। সে কারণে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এদিকে নিলামের মাধ্যমে যানবাহনের পছন্দের নম্বর প্লেট বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, বিদেশে দেখি যে প্রত্যেকটি গাড়ির নম্বর প্লেট বা লাইসেন্স প্লেট অকশন হয় এবং প্রচুর টাকা আয় করে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া আয় করে। যত সুন্দর নম্বর দামও তত বেশি। আমরা নেকস্ট যে কোনো সময় থেকে শুরু করব এটা, অকশন করে নম্বর প্লেটগুলো পছন্দের লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট বিক্রি করতে চাই তাতে কিছু অর্থ আসার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারের মূল ভিত্তি হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। তাই পুঁজিবাজার উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এ প্রস্তাবটির অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০২০ পঞ্জিকাবর্ষে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের প্রক্রিয়াকরণের জন্য আবুধাবি ন্যাশনাল ওয়েল কোম্পানি ও সৌদি এরাবিয়ান ওয়েল কোম্পানি থেকে মারবান ও এরাবিয়ান লাইট ক্রুড-এএলসি আমদানির একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ তেল আমদানি করবে। | 0 |
কুড়িগ্রামে চলতি বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। সদ্য রোপণ করা আমন ধান, বীজতলা, বিভিন্ন প্রকার শাকসবজিসহ মৎস্য চাষে কৃষকরা মারাত্মভাবে ক্ষতির শিকার হন এবারের বন্যায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এ বন্যায় জেলার ২৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে যায়, যার অধিকাংশই পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ২১ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সদ্য রোপণকৃত রোপা আমনের। এসময়ে পুরো জেলায় ২৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। ফলে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর রোপা আমন এবং আংশিক ক্ষতির পরিমাণ ২৫ হাজার ৪০০ হেক্টর। দেরিতে বন্যার কারণে শাকসবজি চাষিরা কম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার জলমগ্ন হওয়া ১ হাজার ১৯৫ হেক্টর সবজির মধ্যে ৬১ হেক্টর শাকসবজি সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়। অপরদিকে, ৬৭ হেক্টর বীজতলা পচে সম্পূর্ণ চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর, চিলমারী, নাগেশ্বরী ও উলিপুর উপজেলা। সদরে ৭৯২ হেক্টর, চিলমারীতে ৫১৪ হেক্টর, নাগেশ্বরীতে ৪৯৫ হেক্টর, উলিপুরে ৩৯৮ হেক্টর, রৌমারীতে ৩০৮ হেক্টর, চর রাজিবপুরে ১৬২ হেক্টর, ফুলবাড়ীতে ১২৫ হেক্টর, ভুরুঙ্গামারীতে ১২০ হেক্টর ও রাজারহাটে ১০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জেলা মৎস কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান, চলতি বন্যায় ৪৪ দশমিক ৬০ হেক্টর আয়তনের ২৯১টি পুকুর প্লাবিত হয়ে ৬৪ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৬২ জন মৎস্য চাষি এবং মোট ক্ষতি হয়েছে ৭৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই সরকার জানান, এবারের বন্যায় গো-চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গবাদি পশুর জন্য কিছুটা সমস্যা হয়েছে। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম সদর ও চিলমারীতে এই ক্ষতিটি বেশি হয়েছে। সরকার ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করে ৩১ লাখ ৪২ হাজার টাকার গো-খাদ্য প্রণোদনা দিচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, চর এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান ছিটিয়ে নতুন করে রোপণ শুরু করেছেন। এছাড়াও সরকারিভাবে যে বীজতলা করে দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেও কৃষক বীজ নিয়ে কাজে লাগাচ্ছে। এতে করে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
সাবেক এক ইউপি সদস্যকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. মনির হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।নিজের নিরাপত্তা চেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন মনির হোসেন।এ বিষয়ে মো. মনির হোসেন ওরফে মনির মেম্বার বলেন, "শুক্রবার ভোরে আমার বাবা ফজর নামাজ পড়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে একটি প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন। পরে প্যাকেটটি খুলে দেখা যায় ভেতরে রয়েছে কাফনের কাপড়, আঁতর ও অন্যান্য জিনিসপত্র এবং একটি চিরকুট। চিরকুটে লেখা ছিল 'মৃত্যুর জন্য রেডি থাক মনির'। পরে আমি নিজের নিরাপত্তা চেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। "তিনি আরও জানান, 'আমি সাবেক মেম্বার ছিলাম, এবারও মেম্বার পদে নির্বাচন করেছি। এ ছাড়া আমি ইট-বালুর ব্যবসা করি। ব্যবসা সংক্রান্ত ব্যাপারে অনেকের সঙ্গেই আমার শত্রুতা রয়েছে। তবে কে এমন কাজ করল বুঝতে পারছি না।'কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালাম মিয়া জানান, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত হচ্ছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গতবার বাস-লঞ্চ চালানোর আগে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল ৬০ শতাংশ। বছরের শেষ দিকে তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া ২৭ শতাংশ আর লঞ্চ ভাড়া ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বিধিনিষেধ। বিধিনিষেধের মধ্যে গণপরিবহনে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করতে হবে। তবে ভাড়া না বাড়িয়ে বাস ও লঞ্চে অর্ধেক আসনে যাত্রী বহনের নির্দেশনা কার্যকর করতে চান না পরিবহনের মালিকেরা।রেলওয়ে জানিয়েছে, ১৫ জানুয়ারি থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলবে। ট্রেনের ভাড়া বাড়বে না। শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে আন্তনগর ট্রেনের আসনসংখ্যার অর্ধেক টিকিট বিক্রি করা হবে। ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে, বাকি ৫০ শতাংশ কাউন্টার থেকে কাটা যাবে। আন্তনগর ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট ও স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট ইস্যু বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আন্তনগর ট্রেনে কাটারিং সেবা ও রাত্রিকালীন বেডিং সরবরাহ চালু থাকবে।বিআরটিএর পরিচালক শেখ মোহাম্মাদ মাহবুব-ই-রব্বানী আজকের পত্রিকাকে জানান, কীভাবে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চালবে এবং বাসের ভাড়া নিয়ে আলোচনার জন্য আজ বুধবার দুপুরে বিআরটিএর কার্যালয়ে বাসমালিকদের সঙ্গে আলোচনা হবে। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চালানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বদিউজ্জামান বাদল জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা পেলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন তাঁরা।একটি সূত্র বলছে, সরকারের নির্দেশনা মেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনে রাজি বাস ও লঞ্চের মালিকেরা। তার আগে বর্ধিত ভাড়া নিশ্চিত করতে চান তাঁরা। ভাড়া না বাড়িয়ে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করবেন না কেউ।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছু খোলা রেখে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত কাগুজে সিদ্ধান্তে পরিণত হবে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলছে, আবারও বাস-লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণমানুষের জীবন বিষিয়ে উঠবে। ফলে সব আসনে যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানায় জোর দিতে হবে।গতকাল এক বিবৃতিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, করোনার মধ্যে দেশে দেশে গণপরিবহনে যাত্রী কমেছে। অর্ধেক আসনে যাত্রী বহন করে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশসহ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়ার গণপরিবহনে। কিন্তু সেখানে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অর্ধেক আসনে যাত্রী বহনের আগে গতবার গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া আদায় করা হয়। সবকিছু স্বাভাবিক রেখে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে বাস, ট্রেন ও লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি।চলবে বাণিজ্য মেলাবিধিনিষেধের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাণিজ্য মেলা চলবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, যেসব বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে, তাতে বাণিজ্য মেলা চলতে অসুবিধা নেই। বাণিজ্য মেলা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বিধিনিষেধের মধ্যে মার্কেট খোলা থাকছে, ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাণিজ্য মেলাও চলবে। মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলায় আসে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক ইপিবির মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, এখন থেকে বাণিজ্য মেলায় কোনো দর্শনার্থী মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করতে পারবেন না। | 6 |
বর্তমানে সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে যে জনবল তৈরি হয় এবং শিল্পমালিকেরা যে মানের দক্ষ জনশক্তি চান, তা তৈরি হচ্ছে না। আর শিল্পমালিকদের চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারিকুলামের মধ্যে এখনো অনেক দূরত্ব রয়েছে। কারিগরি শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও পর্যটন ভবনে এসএমই ফাউন্ডেশন ও জার্মান উন্নয়ন সংস্থা এফইএসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন: জার্মান অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা' শীর্ষক পলিসি পেপার উপস্থাপন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। | 6 |
সব ধরনের লবণ আমদানি বন্ধ থাকার পরেও লবণের দাম নিয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন উপকূলের হাজার হাজার চাষি। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি লবণ বিক্রি হয়েছে মাত্র তিন টাকা। বাঁশখালী সনুয়ার লবণ চাষি বেলাল উদ্দিন জানান, গতকাল লবণ বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ১৫০ টাকা গড়ে প্রতি মণ লবণে ধোলাই খরচ পড়ে প্রায় ৩০ টাকা। সে হিসাবে গতকাল প্রতি কেজি লবণ বিক্রি করে চাষিরা পেয়েছেন তিন টাকা। অপর দিকে প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে গড়ে খরচ হয় ২৪০ থেকে ২৫০ টাকার উপরে (প্রতি কেজি ছয় টাকা ২৫ পয়সা)। সে হিসাবে প্রতি কেজি লবণে চাষিরা লোকসান গুনছেন তিন টাকা ২৫ পয়সা করে। চলতি মৌসুমে ২২ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিকটন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ও চাহিদা নিয়ে মাঠে নামেন চাষিরা। চলতি লবণ মৌসুমের শুরু থেকে গতকাল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গত সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী (২৩ এপ্রিল পর্যন্ত) লবণ উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩ লাখ ২৫ হাজার ১৫০ টন এ কথা জানিয়েছেন বিসিক লবণ প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জাফর ইকবাল ভূঁইয়া। এদিকে গতকাল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় উৎপাদিত লবণ (অপরিশোধিত বা ক্রুড) প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ধোলাই খরচসহ মাত্র ১৬০ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা। এদিকে চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের শেষ সময় আগামী মে মাসের ১৫ তারিখ। সে হিসাবে লবণ উৎপাদনের জন্য রয়েছে আর মাত্র ১৫ দিন বা দুই সপ্তাহ। সে হিসাবে প্রতি সপ্তাহে গড়ে দেড় লাখ টন লবণ উৎপাদন হিসাব করলেও মৌসুমের শেষ সময় পর্যন্ত লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে মজুদ তিন লাখ ৪৮ হাজার টন (গত বছরের মওজুদ) এবং চলতি মৌসুমে আমদানিকৃত প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টন লবণ ও চলতি মৌসুমের বাকি তিন সপ্তাহের উৎপাদিত লবণের ওপর ভরসা করা হচ্ছে দেশের চলতি বছরের লবণ চাহিদার পূরণের জন্য। জানা গেছে, প্রতি বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি (১৫ নভেম্বর থেকে) সময়ে লবণ উৎপাদন মৌসুম শুরু হয় আর শেষ হয় মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে। লবণ উৎপাদন নভেম্বরে শুরু হলেও মার্চ এপ্রিল মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বেশির ভাগ লবণ উৎপাদন হয়। সে হিসাবে আগামী ৩ সপ্তাহে (আবহাওয়া ভালো থাকলে) কমপক্ষে আরো সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টন লবণ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে গত কয়েক বছর ধরে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে অতিরিক্ত সোডিয়াম ক্লোরাইড (ভোজ্য লবণ) আমদানি করার কারণে দেশে উৎপাদিত লবণের মূল্যে ধস নামা শুরু করে। এদিকে সরকার লবণ শিল্প ও এর সাথে জড়িত হাজার হাজার চাষির স্বার্থ রক্ষায় নামমাত্র সুদে ঋণ প্রদান করছেন। অপর দিকে গত মার্চে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণায়সহ ১৬টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সমন্বয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজমের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে লবণ শিল্প রক্ষাসহ দেশের স্বার্থ রক্ষায় বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সোডিয়াম সালফেট (দেশে উৎপাদিত হয় না বিধায়) লিকুইড ফর্মে আমদানির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নূরুল কবির গতকাল বিকালে নয়া দিগন্তকে বলেন, সরকার লবণ শিল্প রক্ষায় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা যুগান্তকারী বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন এই সিদ্ধান্তের ফলে আর কেউ সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে অতিরিক্ত লাখ লাখ টন সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করতে পারবে না। তিনি বলেন, যদি বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করার প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে যারা লবণ শিল্পের সাথে জড়িত তাদের মাধ্যমে লবণ আমদানি করা উচিত। | 6 |
বাসা-বাড়ীতে আসবাবপত্র পৌঁছে দেয়ার অন্তরালে মাদক ব্যবসা করেআসছিল দুই যুবক। পিকআপ ভ্যান নিয়ে নামে মাত্র দুই-একটা আসবাবপত্র নিয়ে নিদিষ্ট বাড়ী-বাড়ী যেতো। এরপর মাদক পৌঁছে দিয়ে আসতো। আইনশৃখংলা বাহিনীর লোকেরাও বিষয়টি টের পেত না। এভাবে বেশ কিছুদিন ধরে তারা মাদক ব্যবসা করে আসছিল। কিন্তু বেশিদিন তারা এভাবে ব্যবসা করতে পারলনা। র্যাব-১২ এর ফাঁদে আটকা পড়ল তারা। বৃহস্পতিবার ভোরে র্যাব-১২ বগুড়ার একটি টিম তাদের বিপুল পরিমান মাদকসহগ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো-জয়পুরহাট সদর উপজেলারখনজনপুরেরমৃত বাহার উদ্দিনের ছেলেসেলিম (২৮) ওএকই জেলারচকশেমপুরেরমৃত আবু তাহেরের ছেলেমমিন (২৯)। এদিন ভোর সাড়ে চারটায় বগুড়া শহরের সিলিমপুরের বেলাইলএলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের সামনে থেকে তাদেরগ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছে থেকে এক হাজার ৩৮ বোতল ফেন্সিডিল, দুই হাজার পিস নেশার জন্য ব্যবহৃত এ্যাম্পল, চারটি মোবাইল সেট, আটটি মোবাইলের সীম কার্ড ও নগদ তিন হাজার ছয়শ' টাকাসহ একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করে র্যাব। পরে তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। র্যাব-১২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল খাইরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা অভিনব কায়দায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তারা পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ির আসবাবপত্র পরিবর্তনের অন্তরালে বাসায় গিয়ে মাদক পৌছে দিয়ে আসতো। তারা শুধুমাত্রবগুড়ায় নয় দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে এভাবে মাদকের চালান পৌঁছে দিয়ে আসছিল। | 6 |
মাত্র দু'দিন হলো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেলেন বাংলাদেশ দলের হার্ড হিটার ওপেনার ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস। এই সুসংবাদের রেশ না কাটতেই নতুন করো সুসংবাদ বার্তা এলো বিয়ের। সবকিছু মিলিয়ে সময়টা লিটনেরই দখলে। মাত্র কয়দিন আগেই সেরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ। সদ্য সারলেন মুমিনুল হক। এবার তাদের পরে যোগ হচ্ছেন লিটন দাস। বলা যায়, ২০১৯ সালটা ক্রিকেটারদের বিয়ের বছর। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একই বছর এতো ক্রিকেটারের বিয়ের নজির নেই। সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ঘটনা হলো, এক মাসের মধ্যেই চারজন ক্রিকেটারের বিয়ে সমপন্ন এবং একজনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বুধবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিটনের বিয়ের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। তবে লিটন চাননি তার বিয়ের ব্যাপরটি আলোচনায় এভাবে আসুক। বিব্রতবোধও করছেন বিষয়টি এভাবে ভাইরাল হওয়ার জন্য। লিটন বলেন. 'ধর্মীয় রীতিতে এখনো আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়নি। আজ (বুধবার) শুধু ছেলেপক্ষ, মানে আমাকে আংটি পরানো হয়েছে। আশির্বাদের এখনো আরেকটা অংশ বাকি রয়েছে।' ক্রিকেট মাঠে অনেকের সাথেই জুটি গড়েছেন লিটন, তবে জীবনের ইনিংসে জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন দেবশ্রী বিশ্বাস সঞ্চিতার সঙ্গে। কনের বাড়ি ঢাকাতেই, এমএসসি করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। লিটন জানালেন, 'বিশ্বকাপের পর ২৮ জুলাই বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা। ২৮ জুলাইর আগে বলা যাবে না আমার বিয়ে হয়েছে।' বাংলাদেশের দলের এই ব্যাটসম্যান আরো জানিয়েছেন, নিজের পছন্দই বিয়ে করছেন তিনি। আশির্বাদ চেয়েছেন সকলের কাছে। বিশ্বকাপের পরই মোস্তাফিজ, সাব্বির, মিরাজ ও লিটনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। | 12 |
তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। শনিবার রাজধানীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এক শ বিলিয়ন ডলারের দেশের সম্পদ এখন চার শো বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, 'মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে, হত্যা, সন্ত্রাসী-গুন্ডামি কমেছে, নারীরা সম্মান নিয়ে একাকী ঘুরতে পারছে। তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।'তবে দেশ এগিয়ে যাক বিএনপি তা কখনোই চায় না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে দারিদ্র্য দূর করেছে, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে, গৃহহীনদের ঘর দিয়েছে, কমিউনিটি ক্লিনিক করেছে, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা বন্দরসহ অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা করছে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শহরের সকল সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দিচ্ছে। সর্বোপরি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।'বিএনপিকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'মিথ্যা তথ্য দিয়ে বড় বড় কথা বলে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। মানুষ এখন আর বোকা নেই। যদি দেশকে ভালোবাসতে না পারেন তাহলে আপনারা আপনাদের পিয়ারা পাকিস্তানে চলে যান।'স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি বাঙালিকে ফকির-মিসকিনের জাতি হিসেবে রাখতে চায়। কিন্তু ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।'ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফি এবং হুমায়ুন কবিরসহ প্রমুখ। | 6 |
বেসরকারি খাতের সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর চাঁদা গ্রহণ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। কাল থেকে শুরু হয়ে এ চাঁদা গ্রহণ কার্যক্রম চলবে আগামী রোববার পর্যন্ত। চতুর্থ প্রজন্মের এ ব্যাংকটি আইপিওতে ১০ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১০০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে। আইপিওতে প্রতিটি শেয়ার বিক্রি করা হবে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোম্পানিটির আইপিওতে সেসব বিনিয়োগকারীই আবেদন করতে পারবেন যাঁদের সেকেন্ডারি বাজারে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। একজন বিনিয়োগকারী সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার আবেদন করতে পারবেন। লটারি প্রথা তুলে দেওয়ায় এখন আবেদনকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে শেয়ার বণ্টন করা হয়। তাতে আবেদনকারী সবাই কমবেশি শেয়ার পান। | 0 |
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস 'জাতিসংঘ দিবস' উপলক্ষে আজ রবিবার এক বার্তায় বিশ্বের কিছু অসঙ্গতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বিশ্বটাকে ক্ষতবিক্ষত করা সংঘাত নিরসনের পথ অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমাদের অগ্রসর হতে হবে। আমাদের এই বিশ্ব যথাযথ বাসযোগ্য গ্রহ থেকে অনেক অনেক দূরে রয়েছে। কোভিড-১৯ বিশ্বের সংঘাত, ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং জলবায়ু জরুরি পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে এসব সংকট পরিষ্কার করেসংহতির মাধ্যমেই আমাদেরএগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের এই গ্রহটাকে রক্ষা করতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। অন্তর্ভূক্তিমূলক, আন্তঃসম্পর্কযুক্ত ও কার্যকর বৈশ্বিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমাদের অগ্রসর হতে হবে, যার বিস্তারিত আমার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন 'আওয়ার কমন অ্যাজেন্ডায়' আমি তুলে ধরেছি। আমি সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে জাতিসংঘের প্রতিশ্রুতি, সম্ভাবনা ও এই বিশ্ব সংস্থার প্রতি প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানাচ্ছি। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 3 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.