text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের দুই ছাত্রের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের ছয় কর্মীকে হল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে হল কর্তৃপক্ষ বলেছে, তদন্তে হামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার 'দালিলিক প্রমাণ' পাওয়ায় ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বহিষ্কৃত ছাত্ররা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাসফিউর রহমান, অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সফিউল্লাহ সুমন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নাঈমুর রাশিদ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাব্বির আল হাসান ওরফে কাইয়ুম, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মো. ফিরোজ আলম ওরফে অপি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের আবদুল্লাহ আল মারুফ তাঁদের মধ্যে সফিউল্লাহ, নাঈমুর ও সাব্বির তৃতীয় বর্ষে আর অন্যরা দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত তাঁরা সবাই বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীবুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত গত ২৬ মার্চ সকালে বিজয় একাত্তর হলের পদ্মা ব্লকের ২০১০ নম্বর কক্ষে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভুক্তভোগীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আখলাকুজ্জামান অনিক ও একই বর্ষের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের ছাত্র মো. রাজীব আহমেদ ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়ে সেদিনই হল প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আজ সোমবার বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ আবদুল বাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্নাতকোত্তরের ছাত্র আখলাকুজ্জামান ও রাজীবের ওপর নৃশংস হামলা ও মাথায় আঘাত করার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সঙ্গে ছয়জনের সংশ্লিষ্টতার 'দালিলিক প্রমাণ' পেয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় তথা হলের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ছাত্রদের ৩ এপ্রিল হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো | 6 |
করোনার সংক্রমণ কমে আসায় চলতি মাসের মাঝামাঝি মাধ্যমিক স্তরেও পুরোদমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এটি হলে দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুরোদমে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হবে। আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে 'স্টাডি ইন ইন্ডিয়া' এডুকেশন ফেয়ার উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী উপস্থিত ছিলেন। করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। দীর্ঘ ১৮ মাস পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও তখন স্বল্প পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল। এর মধ্যে আবারও নতুন করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার, যা ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছিল। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ২২ ফেব্রুয়ারি খুলে দেওয়া হলেও এখনো সব শ্রেণির ক্লাস প্রতিদিন হচ্ছে না। সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সশরীর ক্লাস হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ২ মার্চ খুলে দেওয়ার পর প্রতিদিনই ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন মাধ্যমিকও একই পথে হাঁটছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমরা আশা করছি, এই মাসের মাঝামাঝি মাধ্যমিকে পুরোদমে ক্লাস শুরু করতে পারব। আমরা ধারাবাহিক মূল্যায়নে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট দরকার হলে সেটাও দেব। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে মাধ্যমিকের পাঠদান স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।' মিশ্র পদ্ধতিতে (ব্লান্ডেড লার্নিং) পাঠদান বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমরা ন্যাশনাল পলিসি করছি। এ মাসের ২৬ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেব। তারপর কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা করা হবে।' সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাঠ্যসূচি পুনর্বিন্যাস করে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা হওয়া উচিত। এ বিষয়ে বিএমডিসির সঙ্গে কথা বলেছেন, আবারও বলবেন তিনি। | 6 |
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণনেয়ার প্রক্রিয়া আরো সহজ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব প্যাকেজের আওতায় ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্করেটিং (আইসিআরআর) নীতিমালার শর্ত পূরণ বাধ্যতামূলক নয়। ফলে আইসিআরআরের শর্ত পূরণ না করেও ঋণ আবেদন করতে পারবেন গ্রাহক। করোনায় দাফতরিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় এবং আইসিআরআরেরকার্যক্রম ব্যাহত ও গ্রহীতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহে বিঘ্ন হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে রবিবার (১০ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় শিল্প ও সেবা খাতের আওতায়কার্যক্রম দ্রুত চালু করার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ সুবিধা দিতে আইসিআরআর সম্পন্ন না করেও ব্যাংক ঋণ দিতে পারবে। তবে প্রতিটি ব্যাংক বিদ্যমান নিজস্ব নীতিমালার আওতায় ঋণঝুঁকি বিশ্লেষণপূর্বক ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রাহক নির্বাচন করবে। এক্ষেত্রে সার্কুলারের সঙ্গে সংযুক্ত একটি ফরম পূরণ করতে হবে প্রতিটি গ্রাহককে। আইসিআরআর নীতিমালায়, প্রথমত একজন গ্রাহককে এক্সিলেন্ট, গুড, মার্জিনাল ও আন-অ্যাকসেপ্টেবল এ চার শ্রেণিতে ভাগ করবে ব্যাংকগুলো।কোনো গ্রাহক এক্সিলেন্ট রেটিং পেলে ব্যাংক তাকে ঋণ দিতে পারবে। গুডরেটিং পেলেও ব্যাংক তাকে ঋণ দিতে পারবে। মার্জিনাল রেটিংধারী গ্রাহককে পুরোনো ঋণ নবায়ন বা নতুন করে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ব্যাংককে। আনঅ্যাকসেপ্টেবল রেটিংধারীকে কোনো পরিস্থিতিতেই নতুন ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো, যদি না আগের ঋণ শতভাগ নগদ পরিশোধ হয় অথবা জামানত দিয়ে ঋণটি আচ্ছাদন করা হয়। এই শ্রেণির গ্রাহকের আগের ঋণ সর্বোচ্চ দুবার নবায়ন বা বর্ধিতকরা যাবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, রেটিং করার ক্ষেত্রে একটি পার্টি বাগ্রাহকের পরিমাণগত সক্ষমতায় ৬০ শতাংশ নম্বর এবং গুণগত সক্ষমতায় ৪০শতাংশ নম্বর থাকবে। এদিকে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ও বড় ব্যবসায়ীদেরজন্য সরকার প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবে বড় শিল্পখাত। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত পাবে ২০ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের সুদ ৯ শতাংশ হিসাব করা হলেও ঋণগ্রহীতাদের দিতে হবে গড়ে অর্ধেক সুদ। বাকি অর্ধেক সুদের অর্থ সরকার ভর্তুকি আকারে ব্যাংকগুলোকে দিয়ে দেবে। | 0 |
ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে গত বুধবার ভোরে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন রুবেল। পরিকল্পনা ছিল শুক্রবার সকালের বাসে ঢাকা ফিরে যাবেন। তেমন প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘটের কারণে আটকা পড়েছেন সবাই। এদিকে পকেটেও টান পড়েছে। বাধ্য হয়ে গতকাল বাড়ি থেকে বিকাশে টাকা আনাতে হয়েছে।আজ দুপুরে কক্সবাজার ডলফিন মোড়ে কথা হয় পর্যটক রুবেলের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, শুক্রবার সকাল ৮টায়ও বাস ছিল। সে অনুযায়ী হোটেল ছেড়ে বাস স্টেশনে আসার সময় কাউন্টার ম্যানেজার কল দিয়ে জানান, বাস যাবে না। রাতে যেতে পারে। কিন্তু সেই বাস আজ পর্যন্ত যায়নি। এখন বলছে, রাতে যাবে। টাকাও শেষ। শেষ পর্যন্ত বাসা থেকে টাকা আনিয়েছি।শুধু রুবেল নন, তাঁর মতো প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে আটকে পড়েছেন। অনেকেই পড়েছেন অর্থ সংকটে। কেউ কেউ অতিরিক্ত ব্যয়ে মাইক্রো ভাড়া করে ফিরছেন গন্তব্যে।এদিকে আজ বিকাল থেকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য ছয়টি বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।কক্সবাজার পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহায়তায় নিজস্ব পরিবহনে পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় চট্টগ্রাম জেলায় পৌঁছে দেওয়া হবে। আটকে পড়া পর্যটকদের পুলিশ লাইনসে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।এছাড়া হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির উদ্যোগে দুটি বাস চালু করা হতে পারে।ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত শুক্রবার সকাল থেকে সারাদেশে অঘোষিত ধর্মঘট পালন করছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংক লরি-প্রাইমুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। শুক্রবার সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাসও বন্ধ রেখেছেন মালিকেরা।কক্সবাজারে পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার ফেরার জন্য বাসের টিকিট করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাস ছাড়ার আগমুহূর্তে জানানো হয় কোনো বাস ছাড়বে না। কখন ছাড়বে সেটিও তাঁরা বলছেন না। চাইলে টিকিটের টাকা ফেরত নিতে বলছেন তাঁরা।অন্যদিকে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং শনিবার কক্সবাজারে পর্যটক বেশি থাকেন। কিন্তু ধর্মঘট থাকায় অনেকই বুকিং দেওয়ার পরে আর আসেননি। এতে তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে কথা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পল্লব বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জানান, সেমিস্টার শেষ হওয়ার পরে বন্ধুর সঙ্গে কক্সবাজার ঘুরতে এসেছিলেন। শুক্রবার সকাল ১০টার বাসের ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাস ছাড়ার নাম নেই।শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের লাবণী পয়েন্টের কাউন্টার ম্যানেজার জানান, শুক্রবার থেকে তাঁদের কোনো বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে না। আর কখন যাবে সেটাও জানেন না। তাই আজ টিকিট বিক্রিও করেননি তিনি।কাউন্টারে থাকাকালীন ম্যানেজারকে ফোন কল করেন এক যাত্রী। যাত্রীকে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের বাস যাবে না মনে হয়। বাস যখন চলবে আপনাকে জানাবো।কক্সবাজার মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম শিকদার বলেন, করোনাভাইরাসের ঢেউ কাটিয়ে আমাদের ব্যবসার কেবল শুরু হচ্ছে, আর তখন বাস ধর্মঘট আমাদের জন্য বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। এতে দেশের বিকাশমান পর্যটন শিল্প ব্যাহত হচ্ছে। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক বাধ্য হয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। এতে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। | 6 |
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগ রংপুর জেলার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার রংপুর চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া।জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফেরদৌসী রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল।অপু উকিল বলেন, 'এই যুব মহিলা লীগকে আমি আমার সন্তানের মতো করে সাজিয়েছি। একজন মা যেমন তাঁর সন্তানের অমঙ্গল চান না আমিও তেমনি আপনাদের অমঙ্গল চাই না। সুতরাং যাঁরা কমিটিতে এসে টাকা আয় করতে চান তাঁরা আমাদের সংগঠনে আসবেন না। এখানে আসলে আয় হয় না বরং সংগঠনকে দিতে হয়।'এক এগারোর কথা স্মরণ করে অপু উকিল বলেন, 'নেত্রীকে যখন কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল তখন এই যুব মহিলা লীগের সদস্যরাই গাড়ির গতিপথ রুখতে গিয়েছিলাম। সেদিন আমরাই ছিলাম সামনের সারিতে। নেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে ৭ মাসের দুধের শিশুকে রেখে জেল খেটেছে আমার সদস্যরা।'সম্মেলনে জানানো হয়, যাঁরা জেলা কমিটিতে আসতে আগ্রহী তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও উপ-দপ্তর সম্পাদকের কাছে জমা দিতে হবে। তাঁরা যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন আকারে তা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠাবেন। এরপর রংপুর জেলা যুব মহিলা লীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে।সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইকা জাহিদ রিপা, নাসিমা আক্তার হ্যাপি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন মণ্ডল মওলা, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালহা বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনি প্রমুখ। | 6 |
বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এক নেতাকে অপহরণের পর হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার সকালে পুলিশ চন্দ্রঘোনার আমতলী এলাকার একটি উঁচু পাহাড়ের মাটি খুঁড়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে। নিহত ব্যক্তির নাম পুশৈথোয়াই মারমা (৪২)। তিনি জেএসএসের বান্দরবান সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।পুলিশ জানায়, গত রোববার রাতে বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের চেমী ডলুপাড়া বাজারে পুশৈথোয়াই অবস্থান করছিলেন। ওই সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী এসে তাঁকে ধরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুশৈথোয়াইকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে গতকাল চন্দ্রঘোনা এলাকায় পাহাড়ে মাটি খুঁড়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশের ধারণা, অপহরণকারীরা তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর পাহাড়ের মাটিতে পুঁতে রেখেছিল।এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জেএসএস নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ থানায় মামলা করতে আসেনি। কে বা করা পুশৈথোয়াইকে হত্যা করেছে তাও বিস্তারিত জানা যায়নি। তদন্ত করার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। | 6 |
মেসি আর রেকর্ড যেন হাত ধরাধরি করে চলে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। লেগানেসের বিপক্ষে বিশাল জয় পেয়েছে বার্সেলোনা, যা কাতালান জায়ান্টদের হয়ে মেসির ৫০০তম জয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘরের মাঠে ক্যাম্প ন্যুয়ে লেগানেসকে ৫-০ গোলে হারিয়ে কোপা দেল রে'র শেষ আটে পা রেখেছে বার্সেলোনা। অবশ্য বার্সার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি জয়ের স্বাদ পাওয়াদের মধ্যে অনেক আগে থেকেই শীর্ষে ছিলেন মেসি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাভি হার্নান্দেজ (৪৭৬) এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (৪৫৯) অনেকটা পিছিয়ে আছেন। এই দুই কিংবদন্তিদের পক্ষে মেসিকে আর পেছনে ফেলার সুযোগ নেই, কারণ দুজনেই ক্লাব ত্যাগ করেছেন। ২০০৪ সালে বার্সার সিনিয়র দলের হয়ে প্রথম জয়ের আনন্দে মাতেন মেসি। ওই ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিল এসপানিওল। এরপর শুধু একটি দলই মেসির বিপক্ষে হার দেখেনি। ২০০৪/০৫ মৌসুমে কোপা দেল'র ম্যাচে ইউডিএ গ্র্যামেনেট ১-০ গোলে হারিয়েছিল বার্সাকে। এরপর অবশ্য দলটির বিপক্ষে আর খেলা হয়নি বার্সার নাম্বার টেনের। বার্সার হয়ে ৭১০ ম্যাচ খেলা মেসির ৫০০টি জয় এসেছে ৮৬টি ভিন্ন ভিন্ন দলের বিপক্ষে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ (২৯) জয় এসেছে সেভিয়ার বিপক্ষে। এরপর ২৪টি করে জয় আছে অ্যাথলেতিক বিলবাও ও অ্যাথলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
ঘাটাইল উপজেলায় প্রাথমিকের ২১ শিক্ষার্থী ২০২০ সালের জাতীয় শাপলাকাব পদক পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ স্কাউটসের ওয়েবসাইটে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।পদক পাওয়া ২১ জনের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উইজডম ভ্যালির ১২ জন এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই জেলায় সর্বাধিক পদক পেয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার চানতারা (দ.) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনজন ও কোলাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ছয়জন রয়েছে এই তালিকায়।এ বিষয়ে উইজডম ভ্যালির সহকারী প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নাহার বাবলী বলেন, এবার আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সবাই পদক পেয়েছে। ২০১৯ সালে আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রথমবারের মতো দুজন পদক পায়।প্রতিষ্ঠানের কাব লিডার মো. আবুল কাশেম জানান, ২০১৪ সালে চার্টার পাওয়ার পর থেকে কাবস্কাউট কার্যক্রম গতিশীল হয়। বর্তমানে উইজডম ভ্যালিতে দুটি কাবদল আছে। সারা বছর নিয়মিত প্যাক মিটিংসহ সব কার্যক্রম হয়ে থাকে। পদক পাওয়ার পর কাব সদস্য জারিন তাসনিম অবনী জানায়, পদক পেয়ে সে ভীষণ আনন্দিত।জেলার মধ্যে সর্বাধিক পদক পাওয়া কাবস্কাউটের সহকারী পরিচালক (টাঙ্গাইল ও গাজীপুর) মো. আবু সাঈদ ও ঘাটাইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান অভিনন্দন জানিয়েছেন। | 6 |
এবার রংতুলির আঁচড়ে নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে পূর্ব ঘোষিত ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে জোর দাবি জানানো হয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীরা সড়কে নিরাপদ সড়ক চাই আলপনা একে দেয় এবং ১১ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে সমবেত হয়ে এ দাবি জানানো হয়। আন্দোলনে খিলগাঁও গভঃ কলোনী স্কুল, শেখ রাসেল স্কুল এন্ড কলেজ, আইপিএস স্কুল এন্ড কলেজ, মহাখালী মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী খিলগাঁও মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ সড়ক ও হাফপাসের দাবিতে আন্দোলন চলে আসছে। আবার এরই মাঝে প্রতিদিনই সড়কে ঘটে চলেছে নির্মম হত্যাকাণ্ড।সাম্প্রতিক সময়ে আপনারা দেখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুদ হাবিবহিমেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাক চাপায় নির্মমভাবে নিহত হয়েছে। রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় বাস চাপায় কানিজ ফাতেমা নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে সড়কে মৃত্যুর মিছিল। যা আমাদের দেশের করোনা তাণ্ডবকেও হার মানিয়েছে। এ যেনো এক মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে আমাদের দেশ।এ সকল মৃত্যুর দায় অবশ্যই প্রশাসনের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার উপর বর্তায়।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি বরাবরের মতোই সড়কের এই অব্যবস্থাপনা বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো কার্যকর উদ্দ্যোগ নেই।এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তাই যতদিন না সড়কের এই মৃত্যুর মিছিল, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে অর্থাৎ আমাদের ১১ দফা দাবি যতদিন না পর্যন্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে ততদিন আমাদের এই নিরাপদ সড়কের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। হুট করে মাঝেমধ্যে কেন আন্দোলনে নামা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সোহাগী সামিয়া বলেন, হুট করে নয়, আমরা আন্দোলনের ব্যাপ্তিতে পরিবর্তন এনেছি। এত বড় একটি আন্দোলন এগিয়ে নিতে অনেক ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। সেই জায়গা থেকে পূর্ব কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ এই সড়ক আন্দোলনের যতটুকু অর্জন ছিলো তাও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের অযুহাতে হাফ ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। অথচ শিক্ষার্থীরা বই মেলায় যাবে, কোচিং সেন্টারে যাবে, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চলাচল করছে। বাস মালিক ও প্রশাসন ভুলে গেছে, সাপ্তাহিক ছুটি আর করোনাকালীন ছুটি এক নয়। | 6 |
নগরীর পাহাড়তলীতে মাত্র ২০ হাজার টাকার জন্য ১০ মাসের এক শিশু অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে অপহৃত শিশুটিকে চাঁদপুরের মতলব এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন, মো. ফরহাদ (৪০), মো. দুলাল (৩০), মো. সবুজ (২৫), হালিমা বেগম (২৬), আসমা বেগম (৩৫) এবং মো. বেলাল হোসেন (৩৫)।পুলিশ জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে পাহাড়তলী থানার শাপলা আবাসিক এলাকার ইদ্রিস কলোনিতে ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানকার বাসিন্দা জাহানারা বেগমের (৩৮) নিজ বাসা থেকে তাঁর ১০ মাসের ছেলে সন্তান মো. আকাইদকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায় চক্রটি। জাহানারা সন্তানকে রেখে পাশে একটি স্থানে রান্না করতে গেলে সেই ফাঁকে ঘরে ঢুকে শিশুটিকে নিয়ে যায় তারা।পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে ২০ হাজার টাকার জন্য দুগ্ধপোষ্য শিশুটিকে তারা অপহরণ করেছিল। পরে চাঁদপুরে আসমা বেগম নামের এক নারীর কাছে শিশুটিকে বিক্রি করে তারা। এ ঘটনায় শিশুটির মা গত ১৫ সেপ্টেম্বর মামলা করেছিল। আমরা সিসি টিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের দ্রুত শনাক্ত করে শিশুটিকে এক দিনের মধ্যেই উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।' | 6 |
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত পরিবার হিমশিম খাচ্ছে, তখনই তাঁদের জন্য ভর্তুকি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে 'পটুয়াখালীবাসী' নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।পটুয়াখালী শহীদ আলাউদ্দিন শিশুপার্কে ৬০ টাকা কেজি ছোলা বুট, ৪৫ টাকা চিড়া, ৬৫ টাকা চিনি, ৮০ টাকা মসুর ডাল ও ৮০ টাকা কেজিতে মুড়িসহ নিত্যপণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যেরা। তাঁদের এই আয়োজনের নাম 'মধ্যবিত্তের বাজার'। শুক্রবার সকাল থেকে সংগঠনটির নিজস্ব অর্থায়নে পণ্য বিক্রয় শুরু হয়েছে।সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, পুরো রমজান মাসে এই প্রজেক্টের আওতায় প্রায় ১২০০ পরিবারের কাছে লোকসানে পণ্য বিক্রি করা হবে। আর পুরো প্যাকেজের দাম পড়বে ৩৩০ টাকা। বাজার থেকে সমপরিমাণ পণ্য কিনতে গেলে গুনতে হবে অন্তত ৪৬৫ টাকা। প্রতি পরিবার পাঁচ দিন পর পর একবার করে ছয়বার এই পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। কেউ চাইলে সব একসঙ্গে না কিনে প্রয়োজনীয় পণ্য আলাদা করে নিতে পারবেন।'মধ্যবিত্তের বাজার'-এর ক্রেতা ইব্রাহিম বলেন, 'আগের মতো আয়-উপার্জন নেই, করোনার পর থেকে আমাদের জীবন কেমন কাটছে তা আমরা জানি। সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। আমার একটি মাত্র মেয়ের স্কুলের পড়াশোনা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। এর মধ্যে বাজারের যে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তা আমার উপার্জনের নাগালের বাইরে। এখানে এসে দেখেছি এই সংগঠনের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করছেন। বাজারের চেয়ে অনেক কম মূল্যে এখানে রমজানের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেলাম।'পটুয়াখালীবাসী সংগঠনের সদস্য সাবরিনা মেহজাবিন স্বর্ণা বলেন, 'আমরা উদ্যোগ নিয়েছি রমজানের প্রথম থেকেই ভর্তুকি দিয়ে পণ্য বিক্রয় করব, যাতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কিছুটা হলেও লাভবান হতে পারে।'সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান রায়হান বলেন, 'যেসব মানুষ ট্রাকের পেছনে দাঁড়াতে পারে না লজ্জায়, সেই শ্রেণির মানুষদের জন্য আমাদের এই ক্ষতিপূরণ দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রয়। রমজান মাসে যাতে সেহরি ও ইফতারি খেতে পারে রোজাদার ব্যক্তিরা, এই কথা মাথায় রেখেই আমরা পণ্য বিক্রয় করছি। পাইকারি দোকান থেকে পণ্য ক্রয় করে কেনা দামে থেকেও ১৫ থেকে ২০ টাকা কম মূল্যে পণ্য বিক্রয় করছি।' | 6 |
হরিরামপুরে রোকেয়া বেগম (৪০) নামে এক নারীকে একই দিন করোনার দুই ডোজ টিকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে সকালে উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ওই নারীকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রোকেয়া বেগম। তিনি উপজেলার মালুচী গ্রামের সাদেক মোল্লার স্ত্রী।রোকেয়া বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'সকালে আমি ইউনিয়ন পরিষদে সুই (টিকা) নেওয়ার জন্য যাই। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একজন বাম হাতে সুই (টিকা) দেয়। কিছুক্ষণ পরে সে আবারও আরেকটা সুই (টিকা) দেয়। এখন সবাই বলছে দুই ডোজ সুই (টিকা) নেওয়ার জন্য সমস্যা হবে। এ জন্য হাসপাতালে এসে ভর্তি হইছি। আমার কোনো সমস্যা নাই। ভয়ে ভর্তি হইছি।'কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী গাজী আল মামুন জানান, 'আমরা শতভাগ টিকাদান করেছি। এখানে কোনো সমস্যা হয়নি। বিকেলে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার বিষয়টির অভিযোগ পেয়ে ওই মহিলার বাড়িতে গিয়েছি। টিকা নেওয়ার পর কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন। আমাদের নির্ধারিত টিকা, দুই ডোজ দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁকে দুই ডোজ দেওয়া হয়েছে কিনা সে নিজেও বলতে পারেনি। এটা সম্পূর্ণ গুজব।'হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, 'ওই নারীর কোনো সমস্যা নেই। তিনি পুরোপুরি সুস্থ। টিকা পরবর্তী ফলোআপ করতে তাঁকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। দুই ডোজ দেওয়ার বিষয়ে ওই মহিলাই নিজেও সন্ধিহান রয়েছে।'হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান বলেন, 'ডাবল ডোজ দিলে যে প্রতিক্রিয়া হওয়ার কথা ছিল, তা তাঁর মধ্যে নেই। ওই নারী পুরোপুরি সুস্থ। তিনি নিজেও বলেননি দুই ডোজ দেওয়া হয়েছে। দুই ডোজ দেওয়ার কোনো উপসর্গ বা প্রমাণও পাওয়া যায়নি।' | 6 |
করোনা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে বিমানযোগে ঢাকায় যাত্রী অবতরণ বন্ধে কঠোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারের সব শাখা প্রস্তুত আছে। নতুন করে আরো দুই জন সংক্রামণের খবর পাওয়া গেছে। আর আগে যারা আক্রান্ত হয়েছিল তারাও সুস্থ হয়ে গেছে। এসময় দলের পক্ষ থেকে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনসহ মুজিব শতবার্ষিকীর সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। | 6 |
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সবকটি আবাসিক হলে তালা দিয়ে দিয়েছে হল প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে হল ছেড়ে আতঙ্ক নিয়েই আবারও গেরুয়া গ্রামে ফিরছেন অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর ও আমাবাগ এলাকাতেও যাচ্ছেন অনেকে। পাশাপাশি স্থিমিত হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও। বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হলের সবকটিই ছেড়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা। এরইমধ্যে সবগুলোতে নতুল তালা লাগিয়েছে হল প্রশাসন। এছাড়া চারটি হলে সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টরা। প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা সবাই সবকটি আবাসিক হল ছেড়েছে। হল প্রশাসন হলগুলোতে তালা দিয়েছে। কোথাও কোনো অসুবিধা হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের প্রক্রিয়ায় হলে অ্যান্ট্রি করে জরুরি জিনিসপত্র নিতে পারবে শিক্ষার্থী। হল খোলার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও স্থিমিত হয়ে পড়েছে। বুধবার তারা কোনো কর্মসূচির ডাক দেননি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র সিরাজুল হকসহ নেতৃত্ব দেওয়া তিনজনকে ফোন দেওয়া হলে তারা কেউই রিসিভ করেননি। তবে সকালে সিরাজুল বলেন, পারিবারিক কাজে আমি ব্যস্ত থাকায় অন্যদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। তাই আন্দোলনের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। এর আগের গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া বাজারে ক্রিকেট খেলা কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর শনিবার হল খুলে দেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে বিভিন্ন হলের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। টানা তিনদিন ধরে আন্দোলনের পরেও সরকারি নির্দেশনায় হল ছাড়েন শিক্ষার্থীরা। গেরুয়া এলাকায় কয়েকজন মিলে বাসা ভাড়া করে থাকা সানিমুল হাসান বলেন, সেদিনের সংঘর্ষের পর গেরুয়ার যে বাসায় থাকতাম, সেটি ছেড়ে হলে এসে উঠেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার হলে এসে হল ছাড়ার নির্দেশ দিলে নিরূপায় হয়ে আবার আতঙ্ক নিয়ে গেরুয়ার বাসায় ফিরেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আসম ফিরোজ উল হাসান বলেন, যারা হল ছেড়ে গেরুয়া এলাকায় ফিরেছে, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দেখছি। গেরুয়া এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আশা করছি, কোনো সমস্যা হবে না। এরইমধ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর গেরুয়া গ্রামবাসীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয়ের ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যে কারণে অনেক মানুষ এলাকা ছেড়েছে। | 6 |
পাড়া প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর পর বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে যাচ্ছেন বান্দরবানের রুমা সদর ইউনিয়নের মুনলাইপাড়ার বাসিন্দারা। এখন পাড়ার প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী ও বান্দরবানের সাংসদ বীর বাহাদুর উশৈসিংকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। আজ শুক্রবার মন্ত্রী মুলাইপাড়া বিদ্যুতের লাইনটি উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের আওতায় ওই লাইনে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে পাড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে খুশি পাড়াবাসী।গত বুধবার বিকেলে মুনলাইপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, পাড়ার মাঝ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার চলে গেছে বগা লেক রাস্তায়। লাইনটি থানাপাড়া থেকে চুংচয় রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত।পাড়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রেমাক্রী-প্রাংসা ইউপি চেয়ারম্যান রিয়ালদৌ বম (৭১) বলেন, মুনলাইপাড়াটি ১৯৮০ সালের দিকে পাঁচটি পরিবার নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এতে ৬৫টি পরিবারের লোকজন বসবাস করছেন। রুমা সদর থেকে দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার হলেও এত দিন পাড়াটি বিদ্যুতের আওতায় ছিল না।রিয়ালদৌ বম বলেন, ১০-১২ বছর আগে সবার কাছ থেকে টাকা তুলে পাড়ায় বিদ্যুৎ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় পাড়ার কার্বারিসহ দুজন দালালের খপ্পরে পড়ে ২০ হাজার টাকা খোয়া যায়। তারপর বেশ কয়েক বছর কোথাও যোগাযোগ করা হয়নি। তবে বিদ্যুতের প্রয়োজন বাড়তেই থাকে। এবার বিদ্যুতের লাইন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। তাই এটি পাড়াবাসীর জন্য বিরাট সুসংবাদ।পাড়ার প্রবীণ নারী রুয়াতজিং বম (৬২) ও থোয়াইলিয়ান বম (৬৬) ১৯৮০ সালে পাড়া প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে মুনলাইপাড়ায় আছেন। তাঁরা বলেন, ৪২ বছর পরে হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ হচ্ছে, এই খুশি বলে বোঝানো যাবে না।লমজুয়াল বম (৩৫) বলেন, বাসায় বিদ্যুতের মিটারের জন্য ইতিমধ্যে টাকা জমা দিয়েছেন। বাসায় সোলার প্যানেল থাকলেও সীমিত আকারে ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক কাজ করা যাবে।মুনলাইপাড়া পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবেন বম বলেন, 'পাড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগের পর কোনো পরিবার যাতে অবৈধভাবে সংযোগ না নেয়, এ বিষয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে কথা হয়েছে। শুরুতে এক সঙ্গে পাড়ার ৬৫ পরিবারের জন্য মিটার কেনা সম্ভব হবে না, তবে অননুমোদিত সংযোগ না নিয়ে বাড়ির পাশের বা নিকটতম আত্মীয়ের সঙ্গে যৌথভাবে সংযোগ নেওয়া যায় কি না, বিষয়টি ভাবার জন্য সবাইকে বলা হয়েছে।' | 6 |
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের এ সময়ে চার নায়িকা সাংগঠনিকভাবে ও ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে রাস্তায় নেমেছেন। তাঁরা হলেন চিত্রনায়িকা পপি, অপু বিশ্বাস, তানহা তাসনিয়া, মিষ্টি জান্নাত ও মারজান জেনিফা। গত চার দিন খুলনার শিববাড়ি, ইব্রাহিম মিয়া রোড, হাসানবাগ ও বুড়ো মৌলভি দরগাহর এতিমখানায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার মাস্ক ও বেশ কিছু স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন চিত্রনায়িকা পপি। তিনি বলেন, 'স্যানিটাইজার বেশি দিতে পারিনি। এখানে পাওয়াও যাচ্ছে না। বাবা, ভাইবোনসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন মিলে এসব বিতরণ করেছি। এই মানুষেরা করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে তেমন জানেন না। তাঁদের চিন্তা-ঘুম থেকে উঠে কাজে যেতে হবে। প্রতিদিনের আয় দিয়ে তাঁদের সংসার চলে। তাঁরা মাস্ক ও স্যানিটাইজার কিনতেও চাইবেন না। এ ভাইরাস সম্পর্কে তাঁদের কিছু তথ্যও দিয়েছি।' অসচ্ছলদের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ও সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করতে এগিয়ে এসেছেন অপু বিশ্বাস। রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় রিকশাচালকসহ প্রায় ১০০ জন খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে এসব বিলি করেন তিনি। বসুন্ধরা এলাকার পাঁচটি জায়গায় এসব সামগ্রী বিতরণ করেন অপু বিশ্বাস। পরে ফেসবুকে ভিডিও পোস্টে করোনা নিয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। ২৬ মার্চ ছিল চিত্রনায়িকা তানহা তাসনিয়ার জন্মদিন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ছিলেন উদ্বিগ্ন। যে কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দিনটি আগের মতো উদ্যাপন করবেন না। বরং জন্মদিনে যে খরচ করার কথা, তা দিয়ে আশপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু করবেন। তানহা জানান, স্বাধীনতা দিবসের বিকেলে খেটে খাওয়া মানুষদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন প্রযোজক স্বামী জাহিদ হাসান। এদিকে চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাতও দেশে করোনার সংক্রমণের এ সময়ে অসচ্ছল মানুষের কথা ভেবে সহযোগিতার হাত বাড়ান। তিনি বলেন, 'আমি ক্ষুদ্র একজন মানুষ। ইচ্ছে থাকলেও বিশাল কিছু করার সুযোগ নেই। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধ্যের মধ্যে জনসাধারণের মধ্যে বিনা মূল্যে মাস্ক, স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ করেছি। নিজে স্বপ্রণোদিত হয়েই এ কাজটি করেছি।'মিষ্টি আরও বলেন, চলচ্চিত্রের শুটিং বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছেন প্রোডাকশনের সঙ্গে জড়িত লোকজন; বিশেষ করে যাঁরা কোনো প্রজেক্টে দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে কাজ করতেন। মিষ্টি জান্নাত তাঁদের পাশেও দাঁড়াবেন বলে জানান। চিত্রনায়িকা মারজান জেনিফাও এগিয়ে এসেছেন দুঃখী মানুষদের দুঃখ ঘোচাতে। গত রোববার বিকেলে গুলশানে প্রায় ১০০ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন প্রযোজক স্বামী জোবায়ের আলম। গত শনিবারও একইভাবে এ চিত্রনায়িকা রাজধানীর গুলশান এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন। মারজান জেনিফার একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। 'মুসাফির' নামের এ ছবিতে তিনি আরিফিন শুভর বিপরীতে অভিনয় করেন। | 2 |
সিইসির আচরনে ভদ্রতা পাইনি। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে সভা বর্জন করেছি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মূখমাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে। তাদের আচরণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। তারা চায় আমরা নির্বাচন থেকে সরে যাই। কিন্তু ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেব না আজ সিইসির সাথে আগারগাওস্থ তার দফতরে সভা থেকে ওয়াকআউট করে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। ব্রিফিং এ আবদুল মঈন খান, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান। উপস্থিত ছিলেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। মহাসচিব বলেন, সারাদেশে বিএনপি ও এক্যফ্রন্ট প্রার্থী, নেতা-কর্মীদের উপর যে হামলা ও হত্যা করা হয়েছে তা জানাতে এসেছিলাম। কিন্তু সিইসির আচরন ভদ্রতাপূর্ণ নয়। তিনি পুলিশের পক্ষ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, পুলিশকে দিয়ে নির্বাচনী কাজ করিয়ে এবং সেনাবাহিনিকে ক্যাম্পে রেখে তাদেরকে হেয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সিইসির কাছ থেকে আমরা কোনো সাড়া পাইনি। পুলিশ সারাদেশে তান্ডব চালাচ্ছে, সিইসি উল্টো তাদের পক্ষ নিয়ে কখা বললেন। যা দু:খজনক। তিনি বলেন, নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহনযোগ্য হবে তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে। ঢাকা শহর দেখলে মনে হয় না কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে। সরকার ও সিইসি মিলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। | 9 |
লিওনেল মেসি প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) নাম লেখানোর পর মাঠের বাইরের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে কাল অনুশীলনে পুরোনো 'শত্রু' সার্জিও রামোসদের সঙ্গে ঘাম ঝরিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। একসঙ্গে শুধু অনুশীলনই নয় মেসিকে নিজের বাসাতে থাকার প্রস্তাবও দিয়েছেন রামোস।পিএসজির প্রথম অনুশীলনে কাল সাবেক ক্লাব প্রতিদ্বন্দ্বী সার্জিও রামোস, জাতীয় দলের সতীর্থ আনহেল দি মারিয়াদের সঙ্গে অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন মেসি। মেসির অনুশীলনের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও অফিশিয়াল টুইটারে পোস্ট করেছে পিএসজি।ভিডিওতে দেখা যায় মাঠের অনুশীলনে নামার আগে মেসিকে স্বাগত জানান সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে, কেইলর নাভাস, নেইমার ও রামোসরা। ভিডিওতে জিমে রামোসের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মেসিকে কথা বলতেও দেখা যায়। পরে অনুশীলনে নেইমার, দি মারিয়াদের সঙ্গে বল নিয়ে কিছুক্ষণ কারিকুরি করেন। অনুশীলনের ফাঁকে আড্ডায় মেতে ওঠেন জাতীয় দলের সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও আনহেল ডি মারিয়ার সঙ্গেও। গত মাসে জাতীয় দলের হয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের পর এই প্রথম মাঠে নামলেন সাবেক বার্সেলোনা তারকা।লিগ ওয়ানে গত ৮ তারিখ ট্রয়েসের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করেছে পিএসজি। আগামী রোববার ঘরের মাঠে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্ট্রাসবুর্গের বিপক্ষে মাঠে নামবে পিএসজি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই ম্যাচেই হয়তো মেসিকে পিএসজির জার্সি গায়ে খেলতে দেখা যাবে! | 12 |
টানা ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে করেছেন বিএনপি। ছিলেন তুখোড় নেতা। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। গেল ৫ বছর আওয়ামী লীগ করে হলেন পরীক্ষিত নেতা। এই নেতার নাম আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু। ২০১৬ সালে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হন। বর্তমান চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করার জন্য আবারও মনোনীত হয়েছেন। তিনি মনোনীত হওয়ার পর থেকে উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে বিএনপির পদের মধ্যে তিনি একবার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিও ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়ে গেলে ২০১৬ সালে এসে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। যোগদান করে ওই বছরই আওয়ামী লীগ থেকে ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়ে যান। সে সময়ও চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও ভোটের জোয়ারে সব কিছুই চাপা পড়ে যায় এবং আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু জয়ী হন। আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু পরপর ৪ বার বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। বিএনপি থেকে এক লাফে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই পরপর দুইবার নৌকা প্রতীক পাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় ধাপে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ নভেম্বর বগুড়া শাজাহানপুরের ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন (নৌকা প্রতীক) ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে এই দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়। শাজাহানপুরে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে আরো কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তি থাকায় তা নিয়ে বেশ গুঞ্জন চলছে। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী বলেন, আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু বিএনপি করতেন। তিনি হঠাৎ করে অনুপ্রবেশকারী হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা হয়েছেন। স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোটের জ্বালাও, পোড়াও, নৈরাজ্যে স্বক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়েছে। এমন একজন ব্যক্তি নৌকা প্রতীক পাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হওয়া বর্তমান চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু জানান, তিনি ২০১৬ সালে আওয়াম লীগে যোগদান করেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আবারো নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। তিনি জানান, এখনো তিনি আওয়ামী লীগের কোন পদ পাননি। আর বিএনপি যখন করতেন তখন দলীয় কোন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিল না। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
'সত্যেরই হোক জয়' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহ্ আজমের সভাপতিত্বে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ-৬ শাহজাদপুর আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা। পহেলা বৈশাখকে বাঙালির সর্ববৃহৎ অসাম্প্রদায়িক উৎসব আখ্যা দিয়ে উপাচার্য বলেন, আমরা শপথ নিতে চাই, আমরা চলব সামনের দিকে সুশিক্ষাকে উপজীব্য করে এবং যেখানে জেগে উঠবে সুন্দর, জাগবে নির্মল, আনন্দময়ী থাকবে সবসময় আমাদের সঙ্গে।' সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলী, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সহকারী প্রক্টর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌসসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষর্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 1 |
করোনাভাইরাসের কারণে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাতিল হওয়া সিরিজ ২০২৩ সালে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার (সিএসএ) পরিচালক গ্রায়েম স্মিথ। করোনার কারণে গেল বছরের ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজ বাতিল হয়েছিল। একই কারণে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও বাতিল হয়। বাতিল হওয়া এই দু'টি সিরিজ ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে আয়োজন করবে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)। ২০২৩ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ এবং ২০২২-২৩ সালে শীতকালীন মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে প্রোটিয়ারা। আইসিসির এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম) অনুযায়ী, এ বছর ব্যস্ত সূচি থাকার কারণে আগামী বছর সিরিজগুলো হবে। ভারতের বিপক্ষে কেপটাউন টেস্ট চলাকালীন ব্রডকাস্টার সুপার স্পোর্টের সাথে সাক্ষাতকারে স্মিথ বলেন, 'আগামী বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চে আমরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবো। এরপর আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবো (২০২১ সালে টেস্ট সিরিজটি বাতিল হয়েছিল)। দ্রুতই ওই দু'টি সিরিজের সূচি ঘোষণা করা হবে।' করোনার কারণে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই দু'টি সিরিজ বাতিল হওয়ায় বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছিল সিএসএ। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার লক্ষ্য সংস্থাটির। সূত্র : বাসস | 12 |
মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত একটি প্রগতিশীল ও ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনে মঙ্গলবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৪৮তম বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকালে হাইকমিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার শহীদ পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের আত্মার মাগফেরাম কামনা করে বিশেষ দোয়া। বিকেলে কেনজিংটন টাউন হলে এক সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম ও মো. নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার)-সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ, প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী রুনা লায়লা, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক এবং বিশিষ্ট অভিনেত্রী শমী কায়সার। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সবাইকে শরীক হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত, প্রগতিশীল ও ধর্ম নিরপেক্ষ একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, '২৬ মার্চ বাঙালির পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার দিন। এদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।' লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, 'যুক্তরাজ্যে প্রবাসীদের কনস্যুলার ও কল্যাণ সেবায় মার্চ মাসে হাইকমিশনে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বরকে প্রবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এবং হাইকমিশনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।' সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে আগত পার্বত্য নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীরা অংশ নেন।দিনের কর্মসূচির মধ্যে আরও ছিল-বরফ নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এ স্মৃতিসৌধ ঘীরে অতিথি-দর্শকরা অগণিত ছবি তোলেন। এছাড়া বাংলাদেশ বিমানের সৌজন্যে এক র্যাফেল ড্রতে ঢাকা-লন্ডন রুটের টিকেট দেয়া হয়। অভ্যাগত অতিথিদের নিয়ে হাইকমিশনার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৪৮তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে একটি কেক কাটেন। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের মাধ্যমে বর্নীল অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি হয়। | 4 |
২০১০ সালে ধসের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ফিরেছে শেয়ারবাজার। এতে ঋণগ্রস্ত বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীর পত্রকোষ বা পোর্টফোলিও জোরপূর্বক বিক্রি বা ফোর্সড সেলের আওতায় পড়েছে। কেবল গত এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত যেকোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন সূচক ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্য পর্যালোচনা করে থাকেন। বর্তমানে শেয়ারবাজারের যে অবস্থা, তাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে খারাপ বার্তা পৌঁছাচ্ছে। এমনকি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও শেয়ারবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ২০১৮ সালে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা, যা গত বছর কমে হয় ৭ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। এই দুই বছরেই বিদেশিরা শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রি করেছেন অনেক বেশি। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) যে প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের যে চেহারা, তার সঙ্গে শেয়ারবাজারের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি) নানা উদ্যোগ নিয়েও বাজার ন্যূনতম স্থিতিশীল রাখতে পারেনি। কারণ, সরকারের নানা আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। শেয়ারবাজার ভালো হবে, হচ্ছে-এমন প্রতিশ্রুতি শুনে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী বাজারে বিনিয়োগ করে এখন প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। গত বছরের ১৩ জানুয়ারি ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। আর গতকাল সোমবার দিন শেষে তা নেমে এসেছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৭৬ কোটি টাকায়। তার মানে এক বছরে শেয়ারবাজারের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকার বাজারমূল্য হারিয়েছে। বাজারের সবচেয়ে ভালো কোম্পানি গ্রামীণফোনে যাঁরা বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁদের পুঁজি গত এক বছরে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে ১৪৮ টাকা বা ৩৮ শতাংশ। একক কোম্পানি হিসেবে ডিএসইর বাজার মূলধনে সবচেয়ে বড় অংশীদারত্ব গ্রামীণফোনের। ফলে এ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে সূচকেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এক বছরের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১ হাজার ৭৩৭ পয়েন্ট। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে গতকাল সবচেয়ে বড় দরপতন ঘটে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৯ পয়েন্ট বা ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। তাতে দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচকটি নেমে এসেছে ৪ হাজার ১২৩ পয়েন্টে। এর ফলে এ সূচক ফিরে গেছে ৫৬ মাস আগের অবস্থানে। সূচক প্রায় পাঁচ বছরের কম হলেও অধিকাংশ শেয়ারের দাম ৯ বছর আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এর আগে সর্বশেষ এ সূচক ২০১৫ সালের ৭ মে ৪ হাজার ১২২ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০১০ সালে ধসের পর এত দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে এমন মন্দাভাব আর দেখা যায়নি। প্রতিদিনই শেয়ারের দাম কমছে, আর বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারাচ্ছেন। যাঁরা ঋণ করে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের অনেকে এরই মধ্যে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ২০১৯ সালজুড়ে শেয়ারবাজারের টানা পতনের পর নতুন বছরে নতুন আশায় বুক বেঁধেছিলেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। নতুন বছরে বাজারে প্রাণ ফেরাতে ২ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ওই বৈঠকে ডিএসইর পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হলেও সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাননি মন্ত্রী। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গুজবের কারণে পুঁজিবাজার পড়ছে। অর্থমন্ত্রীর বৈঠক-পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ছয় দিনই সূচকের বড় দরপতন ঘটে। একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতীতে যখন বাজারে অস্থিরতা দেখা দিত, তখন বিনিয়োগকারীরা পুঁজি রক্ষায় ব্লুচিপস বা ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করতেন। এবার ঘটছে ঠিক উল্টো। সাম্প্রতিক দরপতনে ভালো মানের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বাজার-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির ওপর থেকেও পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। কারণ, ২০১১ সাল থেকে বর্তমান কমিশন দায়িত্ব পালন করলেও বাজারের উন্নতি তো দূরের কথা, স্বাভাবিক অবস্থাও ধরে রাখতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও ২০১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ গতকাল প্রথম আলোকে করেন, এই মুহূর্তে বিএসইসির পুনর্গঠন ছাড়া বাজারের এ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা খুব কম। কারণ, এখনকার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। তাঁর মতে, যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান আইন অমান্য করে নির্ধারিত মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করেন, সেখানে তাঁর পক্ষে বাজারে আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া বর্তমান বিএসইসির সময়কালে বাজারে সবচেয়ে বেশি বাজে কোম্পানি এসেছে। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়েছেন। ইব্রাহিম খালেদের মতে, বিএসইসির শীর্ষ পদে এমন একজন ব্যক্তিকে বসাতে হবে, যাঁকে হতে হবে একাধারে দক্ষ, সৎ ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্ত। যিনি শেয়ারবাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে কোটারি স্বার্থ ভাঙতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, ২০১০ সালের ধসের পর স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথক করার (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) কাজটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কয়েক শ লোকের হাতেই শেয়ারবাজারের লেনদেনের নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে। এটা ভাঙতে হলে বিএসইসিতে সৎ, দক্ষ ও শক্ত কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে গভীরভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কমিশনের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ডিএসইতে দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বশূন্য সিএসইবাজার যখন চরম খারাপ অবস্থায়, তখন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ নিয়ে ডিএসইর পরিচালকদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। সংস্থাটির একজন প্রভাবশালী সদস্য তাঁর পছন্দের ব্যক্তিকে ওই পদে বসাতে অতীতের সব রীতিনীতি ভঙ্গ করেন। প্রভাবশালী ওই সদস্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সাবেক এমডি কাজী সানাউল হককে নিয়োগ দিতে যোগ্য অনেককে বাদ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে পর্ষদ সভায় পরিচালকদের মধ্যে তুমুল বচসাও হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সানাউল হকের বিষয়ে একাধিক পরিচালক যেসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন, তাসহ এমডি নিয়োগের অনুমোদনের বিষয়টি বিএসইসিতে পাঠানো হবে। এমডি নিয়োগকে কেন্দ্র করে ডিএসইর শেয়ারধারী চার পরিচালকের মধ্যে তিনজন রয়েছেন এক পক্ষে আর অন্য পক্ষে প্রভাবশালী ওই সদস্য। ডিএসইর পরিচালকদের এ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেওয়ায় তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। যে ব্যক্তিকে নিয়ে ডিএসই দ্বিধাবিভক্ত, তিনি দায়িত্ব পেলে বাজারের উন্নয়নে কতটা কাজ করতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) এমডির পদটিও সাত মাসের বেশি সময় শূন্য রয়েছে। কয়েক দফায় বিজ্ঞাপন দিয়েও সংস্থাটি এমডি নিয়োগে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে চলছে দৈনন্দিন কার্যক্রম। ভালো শেয়ারের বেশি পতনডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরের মধ্যে গ্রামীণফোন ছাড়া ভালো মানের অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর দাম ৭৪ শতাংশ বা ২ হাজার ৫৯৯ টাকা, স্কয়ার ফার্মার দাম ৩৬ শতাংশ বা ৯৪ টাকা, বেক্সিমকোর দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বা ১২ টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকের দাম ৩৪ টাকা বা ৪২ শতাংশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের দাম ১০৫ টাকা বা ৩৯ শতাংশ, এক্মি ল্যাবরেটরিজের দাম ৩৫ টাকা বা ৩৮ শতাংশ, বিএসআরএম লিমিটেডের দাম ৪৭ শতাংশ বা ৪০ টাকা, বেক্সিমকো ফার্মার দাম ৩০ শতাংশ বা সাড়ে ২৫ টাকা, সিটি ব্যাংকের দাম ৪৮ শতাংশ বা সাড়ে ১৫ টাকা, ইসলামী ব্যাংকের দাম ৩৩ শতাংশ বা ৯ টাকা, ইউনাইটেড পাওয়ারের দাম ৭২ টাকা বা ২২ শতাংশ করে কমেছে। উল্লিখিত সব প্রতিষ্ঠানই ঢাকার বাজারের বাছাই করা ৩০ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত। বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা এ বি মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাজারের যেভাবে দরপতন চলছে, তা পুরোপুরি অযৌক্তিক। ভালো কিছু কোম্পানির শেয়ারের দামের যেভাবে দরপতন ঘটছে, তার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। মির্জ্জা আজিজ মনে করেন, এই মুহূর্তে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে এগিয়ে না এলে অবস্থার উন্নতি হবে না। | 0 |
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে পরাজিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক তুঘলকি কর্মকাণ্ড করেই চলেছেন। এখন আবার বলছেন, জালিয়াতি বা কারচুপি ছাড়াই জো বাইডেন আট কোটি ভোট পাওয়ার প্রমাণ করেই হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারবেন। এদিকে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে আরেকটি আদালতে ট্রাম্পের মামলা খারিজ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফলাফল বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন। পেনসিলভানিয়া ফেডারেল আদালত ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন করার ওপর আস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে ২৭ নভেম্বর মামলার শুনানি ঠিক করেছিলেন। অবশ্য এর আগেই রাজ্যের ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন হয়ে গেছে। ,, . , , , , ! ২৭ নভেম্বর আদালতের রায়ে বিচারক স্টিফেনোস বিবাস বলেছেন, এ মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ এবং প্রমাণ নেই। মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা এ নিয়ে আপিল আদালতে যাবেন। সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ট্রাম্প আইনজীবীদের নিষ্ফল যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের আইনজীবী দলের অন্যতম জেনা এলিস এক টুইটবার্তায় বলেন, পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বিচার বিভাগ রাজনৈতিক কারণে রাজ্যের ব্যাপক ভোট জালিয়াতি আড়াল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এখন বিষয়টি প্রমাণের জন্য তাঁরা সুযোগ পাবেন বলে এমন রায়কে ধন্যবাদ জানান জেনা এলিস। এখন এ মামলার খারিজ হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আপিল করতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। রাজ্যের এমন আপিল আবেদন বিচারপতি সামুয়েল এলটোর কাছে যাবে। বিচারপতি এলিটো তখন তাঁর অন্য আট বিচারপতি নিয়ে শুনানি গ্রহণ করবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন, সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির মধ্যে তাঁর ঘরানার সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শে অসম বিভক্ত সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্য বা অন্য কোনো অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফলাফল পাল্টে ফেলার কোনো আদেশ নিয়ে আসতে পারবেন-এমন মনে করেন না কোনো আইন বিশ্লেষকও। ২৬ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সময় ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ছাড়ার ইঙ্গিত দেন। প্রথমবারের মতো বলেন, ইলেক্টোরাল কলেজ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে তিনি হোয়াইট হাউস থেকে চলে যাবেন। নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করা তাঁর জন্য কঠিন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি আবারও নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও জালিয়াতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, এ নিয়ে কিছু বলেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার দেওয়া ফেসবুক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বাইডেন হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কেবল তখনই ঢুকতে পারবেন, যখন তিনি প্রমাণ করতে পারবেন, জালিয়াতি বা অবৈধভাবে নয়, প্রকৃতভাবেই আট কোটি ভোট পেয়েছেন। জো বাইডেনের আট কোটি ভোট পাওয়াকে ট্রাম্প হাস্যকর বলেও উল্লেখ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে সিংহের সঙ্গে হিংস্র হায়নাদের লড়াই দেখা যাচ্ছে। 'পুলহাল জাঙ্কিস' সিনেমার অভিনেতা ক্রিস্টোফার ওয়াকেনের সংলাপ-এত বেশি সত্য! আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি জানিয়েছেন, পেনসিলভানিয়া ছাড়াও মিশিগান, নাভাদা, অ্যারিজোনা ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোটে অনিয়ম নিয়ে একইভাবে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত রাজ্য পর্যায়ের আদালতে, এমনকি সার্কিট কোর্টেও ভোট জালিয়াতি বা কারচুপির কোনো কার্যকর প্রমাণ ট্রাম্প শিবির উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। | 3 |
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের শেষ কর্মদিবসে নিয়োগপ্রাপ্তরাচাকরিতে যোগদানের দাবিতেফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। মঙ্গলবার রাত ১১টার পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেন। বুধবার বেলা ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, নিজ নিজ দপ্তরে পদায়ন না করা পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করবেন প্রয়োজনে সেখানে তারা রান্নাবান্না করে খাওয়া দাওয়া করবেন। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই আন্দোলন স্থগিত করবেন না। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতারা সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিন্ডিকেট সভা ঠেকাতে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তাদের বাঁধার মুখে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা গণমাধ্যমে বিফ্রিংয়ে বলেন, বাধার মুখে তারা সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করেছেন। পরে নিয়োগপ্রাপ্তরা সেখান থেকে উঠে যান। কিন্তু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ফের রাত ১১টায় তারা সেখানে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারী ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান সুমন বলেন, 'আমাদের মূল উদ্দেশ্য সিন্ডিকেট আটকানো নয়। নিজেদের পদায়নের দাবিতে আন্দোলন করছি। যতদিন পর্যন্ত আমরা যোগদান করতে না পারব ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাব।' মঙ্গলবার রাতে রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, মন্ত্রণালয় এটাকে অবৈধ ঘোষণা করে একটি তদন্ত কমিটিও করেছে। মন্ত্রণালয় তথা সরকারের নির্দেশ ছাড়া আমার পক্ষে তাদের দাবি মানা সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত,গত ৬ মে রাবি উপাচার্য হিসেবে শেষ কার্যদিবস ছিল অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের। মেয়াদের শেষ দিনেই তিনি অ্যাডহকে নিয়োগ দেন ১৪১ জনকে। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তান, স্ত্রী ও স্বজন, ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান নেতাকর্মী ও সাংবাদিক রয়েছেন। 'বিতর্কিত' এই নিয়োগকে অবৈধ উল্লেখ করে ওইদিন সন্ধ্যায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তদন্ত করে গত ২৩ মে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এতে এ নিয়োগকে 'অবৈধ' উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কমিটি এ নিয়োগে বিদায়ী উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে। | 6 |
ম্যারা পিঠা সিলেটউপকরণআতপ চালের গুঁড়া ৩ কাপ, তরল দুধ আধা লিটার, খেজুর গুড় ১ কাপ, নারকেল কোরানো ১ কাপ ও লবণ এক চিমটি। প্রণালিপ্রথমে একটি সসপ্যানে দুধ, নারকেল, লবণ ও গুড় দিয়ে জ্বাল দিন। ফুটে উঠলে চালের গুঁড়া দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। ঢেকে রাখুন কিছুক্ষণ। কিছুটা ঠান্ডা হলে মসৃণ করে মেখে ছোট ছোট প্যারা আকারে তৈরি করে ঝাঁঝরিতে ভাপে সেদ্ধ করে নিন। পনেরো থেকে বিশ মিনিট অপেক্ষা করুন। তৈরি হয়ে গেল সিলেটের ম্যারা পিঠা। পাকন পিঠাবরিশালউপকরণআতপ চালের গুঁড়া অথবা ময়দা ২ কাপ, ঘন দুধ (তরল) ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, দারুচিনি ২ টুকরা, ঘি ২ টেবিল চামচ, এলাচি গুঁড়া এক চিমটি ও তেল ভাজার জন্য। প্রণালিময়দা/চালের গুঁড়া দুধ দিয়ে সেদ্ধ করে তাতে ঘি ও এলাচি গুঁড়া দিয়ে মসৃণ করে মেখে খামির তৈরি করে নিন। পছন্দমতো ছাঁচে পাকন পিঠা তৈরি করে বাদামি করে ডুবো তেলে ভেজে নিন। '১ কাপ পানিতে ১ কাপ চিনি ও দারুচিনি দিয়ে সিরা তৈরি করুন, পিঠা ১ ঘণ্টা সিরায় ভিজিয়ে প্লেটে তুলে রাখুন। ঠান্ডা হলে বাদাম-কিশমিশ দিয়ে পরিবেশন করুন। নকশি পিঠানরসিংদীউপকরণপানি ৩ কাপ, লবণ সামান্য, চালের গুঁড়া ২ কাপ, তেল ভাজার জন্য। সিরা তৈরি করতে লাগবে- ১ কাপ গুড় অথবা ১ কাপ চিনি, পানি ১ কাপ ও তেজপাতা ১টি জ্বাল দিয়ে সিরা তৈরি করে নিতে হবে। প্রণালিসসপ্যানে লবণ ও পানি দিয়ে জ্বাল দিন। পানি ভালো করে ফুটিয়ে তাতে চালের গুঁড়া দিন। নেড়েচেড়ে ঢেকে রাখুন কিছুক্ষণ। মসৃণ করে মেখে ছোট ছোট পুরু রুটি বানিয়ে টুথপিক দিয়ে পছন্দমতো নকশা করে ডুবো তেলে ভেজে সিরায় দিয়ে তুলে নিন। দুধ-চিতইফরিদপুরউপকরণক. চালের গুঁড়া ৩ কাপ, লবণ সামান্য, কুসুম গরম পানি প্রয়োজনমতো। খ. গুড়ের সিরা তৈরি করতে লাগবে দুধ ১ লিটার ও খেজুর গুড় দেড় কাপ। প্রণালি'ক' উপকরণ দিয়ে একটি গোলা তৈরি করে ১ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। গোলা যেন বেশি পাতলা বা বেশি ঘন না হয়। বাজারে পাওয়া যায় মাটির ছাঁচের খোলা অথবা লোহার কড়াই। খোলা চুলায় দিয়ে তাতে সামান্য তেল ও লবণ মাখিয়ে গরম করে মুছে নিতে হবে। বড় চামচে গোলা নিয়ে প্রতিটি ছাঁচে ভরে ঢেকে দিতে হবে। তিন-চার মিনিট পর ঢাকনা খুলে পিঠা তুলে নিতে হবে। গুড় ও দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে সিরা তৈরি করে নিন। এক রাত ভিজিয়ে রেখে পরিবেশন করুন দুধ-চিতই পিঠা।(চিতই পিঠা হাঁস-মুরগি বা গরুর ভুনা মাংসের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়)। মসলা পিঠাময়মনসিংহউপকরণচালের গুঁড়া ২ কাপ, পানি ২ কাপ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া আধা চা-চামচ, আদা বাটা ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো ও তেল ভাজার জন্য। প্রণালিসসপ্যানে পানি দিয়ে তাতে বাটা ও গুঁড়া মসলা দিয়ে ফোটাতে হবে। এবার চালের গুঁড়া দিয়ে ভালো করে নেড়েচেড়ে নামিয়ে ঢেকে রাখতে হবে পাঁচ মিনিট। মিশ্রণ কিছুটা ঠান্ডা হলে ভালো করে মেখে মণ্ড তৈরি করে নিন। এবার রুটির মতো বেলে কুকি কাটার দিয়ে গোল করে কেটে ডুবো তেলে ভেজে নিতে হবে। ভুনা মাংস অথবা কলিজা ভুনা দিয়ে মসলা পিঠা পরিবেশন করা যায়। পানতোয়া বা ডিম পিঠানোয়াখালীউপকরণডিম ১টি, লবণ স্বাদমতো, ময়দা দেড় কাপ, কাঁচা মরিচ মিহি কুচি ১টি, পেঁয়াজ মিহি কুচি ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা বাটা ১ চা-চামচ, প্রয়োজনমতো পানি ও ভাজার জন্য তেল। প্রণালিফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে ডিম ভেজে নিতে হবে। ময়দা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও পানি দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এবার ভাজা ডিম মিশ্রণে ডুবিয়ে ডুবো তেলে ভেজে নিতে হবে। একইভাবে তিনবার মিশ্রণে ডুবিয়ে ভেজে তুলে নিতে হবে। ছুরি দিয়ে কেটে পরিবেশন করা হয় পানতোয়া পিঠা। | 4 |
তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই মির্জাগঞ্জে ৬টি ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানারে ভরে গেছে হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চল। দুপুর দুইটা বাজলেই মাইক দিয়ে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়। রাত আটটায় শেষ হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ও করছেন প্রার্থীরা। চায়ের দোকানে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।মির্জাগঞ্জে ৬টি ইউনিয়নেই ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে মিছিল মিটিং তত বাড়ছে। তবে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।এবারের ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করলেও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কার করলেও কোনো কোনো ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীরা রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। এ ছাড়াও সংরক্ষিত এবং সাধারণ সদস্য পদে ও একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। হাট-বাজারে বিভিন্ন চায়ের দোকানে দিচ্ছেন নির্বাচনী আড্ডা। সাধারণ ভোটারদের দাবি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোক।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মুন্সিরহাট, ভুটিয়ারহাট, কাঠালতলী, নিউমার্কেট, চৈতা, শিশুরহাট, ভিকাখালী, কলাগাছিয়া, পোলের হাট, দেউলী, ভয়াং, কাকড়াবুনিয়া, পিপড়াখালী ও চত্রা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টারে ভরে গেছে। মহাসড়ক ও ছোট বড় সড়কে গাছের সঙ্গে রশি বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রার্থীদের পোস্টার। সব মিলিয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়-উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ২ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এতে চেয়ারম্যান পদে ২৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ ছাড়া সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬৪ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ১৯৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১১ নভেম্বর। উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত তারিখের পূর্বেই চারজন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে ওই ইউনিয়নে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ও সংরক্ষিত এবং সাধারণ সদস্য পদেও প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এখন ৫ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ২০ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬৩ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১৮২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।মাধবখালী ও মির্জাগঞ্জ ইউপির রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, পোস্টার সাদা-কালো রঙের হইতে হবে। আয়তন ষাট সেন্টিমিটার ও পঁয়তাল্লিশ সেন্টিমিটারের অধিক হইতে পারবে না। আচরণবিধি সকল প্রার্থীকে সমান ভাবে মানতে হবে এর ব্যত্যয় হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
বাংলাদেশ সার্ভিস কমিশনের (বিসিএস) ৩৮তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ২ হাজার ১২৯ প্রার্থীর নামে এ গ্যাজেট প্রকাশ করা হয়েছে। পিএসসির সুপারিশ করা তালিকা থেকে ৭৫ জন বাদ পড়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (...) প্রকাশ করা হয়েছে। বিসিএসের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮তম বিসিএসে রেকর্ড হয়েছিল। এতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এ বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রশাসন ক্যাডারের ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদের বিপরীতে আবেদন নেওয়া হয়েছিল। ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০১৯ সালের ১৩ আগস্ট। ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। পরীক্ষা হওয়ার প্রায় দুই মাসের মধ্যে এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়।লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন ৯ হাজার ৮৬২ জন। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪ হাজার ৫৪৬ জন। লিখিত পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। | 6 |
'বড়রা দু-একজন দল ছাড়তে পারে, কিন্তু কর্মীরা কখনো দল ছাড়ে না'-সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, 'পুরোনো কথার জবাব দেওয়ার দরকার নেই। আমরা যারা রাজনীতিবিদ, তারা রাজনীতির মাঠে অনেক কথা বলি। মূল বিষয়টা আপনারাই বের করে নেন।' ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, 'মিডিয়াতে প্রবণতা রয়েছে, মূল জায়গাতে না গিয়ে আমরা ওই সব জায়গা খুঁজে বেড়াই। এটাই সমস্যা।' আজ রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'আজকের মূল বিষয়টা কী? দেশে গণতন্ত্র নেই। আমাদের অধিকার নেই। আপনাদের (মিডিয়ার) সবকিছু লেখার এবং বলার অধিকার নেই। সুতরাং, সেই জায়গাগুলোতে আমাদের যাওয়া উচিত। আমাদের সেই চেষ্টা করা উচিত।' কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারা দেশে পূর্বঘোষিত প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচি ছিল আজ রোববার। তারই ধারাবাহিকতায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রচারপত্র বিতরণ করেন মির্জা ফখরুল। বিতরণ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, 'আজকে আমাদের সিনিয়র নেতাদের যৌথসভা আছে, সেই সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।' খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিষয়ে মিডিয়ার আরও বেশি জানা দরকার বলে মনে করেন ফখরুল। সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, বিএনপি এ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে। জাতি জেনেছে কী হচ্ছে। নৌকায় ভোট চাওয়া রাজনৈতিক অধিকার-গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, 'রাজনৈতিক অধিকার আমাদের সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন আরপিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটা সব রাজনৈতিক দলের জন্য। কিন্তু বিষয়টা তো হচ্ছে, তাঁরা সরকারি টাকা খরচ করে নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। আর কেউ করতে পারবে না, কাউকে কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না, এটা কখনো মেনে নেওয়া যেতে পারে না।' বিএনপির লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সারা দেশে কয়েক দিন ধরে চলবে বলে জানান ফখরুল। এরপরে তাঁরা অন্যান্য কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও জানান। মির্জা ফখরুল ছাড়াও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আজ লিফলেট বিতরণ করছেন। | 9 |
দিনে দিনে একটু করে বাড়ছে শীত। আর শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিঠার দোকানগুলোতে বাড়ছে মানুষের ভিড়। কদর বাড়ছে রকমারি পিঠার।জয়পুরহাট সদরসহ পাঁচবিবি, কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুরের বিভিন্ন সড়কের পাশে বিকেল থেকে রাত ৯-১০টা পর্যন্ত রকমারি পিঠার পসরা সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকেন দোকানিরা। আর ক্রেতারাও মুখিয়ে থাকেন-সন্ধ্যা নামবে, পাওয়া যাবে কাঙ্ক্ষিত পিঠা।সদর উপজেলার তেঘরবিশা গ্রাম থেকে জয়পুরহাট রেলওয়ে পৌর হকার্স মার্কেটের পূর্ব পাশের রাস্তার পাশে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পিঠার দোকান দেন শিপন ও তাঁর নানি হাজেরা। শিপন বলেন, তাঁরা প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার পিঠা ও মাষকলাইয়ের রুটি বিক্রি করছেন। প্রতিটি ভাপা পিঠা ১০ টাকায়, চিতই পিঠা ১০ টাকা এবং মাষকলাইয়ের রুটি ২০ টাকায় বিক্রি করছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন তাঁদের লাভ থাকছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। দোকানে ক্রেতাদের প্রতিদিনই ভিড় থাকে। পিঠা ও রুটি তৈরি করে দিতে হিমশিম খেতে হয়।শিপনদের পাশাপাশি দোকান দিয়েছেন আইজুল ও বুলি দম্পতি। আইজুল জানান, তাঁরাও ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা ও মাষকলাইয়ের রুটি বিক্রি করেন। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাবিক্রি হয়। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে তাঁদের লাভ থেকে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। এটা তাঁদের সংসারের জন্য একটা বাড়তি আয়। আর রুটি, পিঠা খেয়ে ক্রেতারা তৃপ্তি প্রকাশ করেন, যা তাঁদের মনে বাড়তি আনন্দ দেয়।সদর উপজেলার বেলআমলা গ্রাম থেকে পিঠা খেতে এসেছেন বৈশাখী বেগম। তিনি বলেন, 'যখনই জয়পুরহাটে আসি, তখন সময় করে পিঠা তৈরির দোকানে আসি।'জয়পুরহাট সদর উপজেলার করিমনগর গ্রাম থেকে পিঠা খেতে এসেছেন জাকের ও রুপালি দম্পতি। রুপালি বেগম বলেন, 'জয়পুরহাট সদরে মার্কেট করতে এসে সপরিবারে পিঠা খাচ্ছি। বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময় কিছু পিঠা নিয়েও যাব।'নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার চাকলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান জয়পুরহাট শহরে রিকশা চালাতে এসেছেন। তিনি বলেন, 'পিঠা আমার খুব প্রিয় খাবার। তাই সময়-সুযোগ পেলেই দু-একটা ভাপা পিঠা খেয়ে যাই।' | 6 |
কুষ্টিয়ায় র্যাবের অভিযানে দুই নারীসহ আন্তজেলা প্রতারক চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় র্যাব-১২ এর কুষ্টিয়ার ক্যাম্প কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইলিয়াস খান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তাঁর লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান। এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতি এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের মেয়ে রেহেনা আক্তার বুড়ি (৪০), চৌড়হাস ফুলতলা এলাকার আবু জাফর আলীর মেয়ে কুসুম খাতুন কাজল (২৫), একই এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে তরিকুল ইসলাম (৩০), মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে রাসেল আহামদ (৩০), কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার আইয়ুব মালিথার ছেলে আলেক চাদ (২৪), ডিসি কোট এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে আবির হাসান স্বাধীন (১৯) ও জগতি এলাকার ঝনটু শেখের ছেলে পারভেজ শেখ।লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন সময়ে নারীদের দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে অনৈতিক কাজে লাগিয়ে জিম্মি করেন। পরে তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ধারাবাহিকভাবে তাঁদের কাছে থেকে নগদ টাকা আদায় করেন।এমন ঘটনা জানার পর র্যাব সদস্যরা ওই চক্রকে ধরার জন্য ফাঁদ পেতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার জগতি এলাকার প্রতারক দলের সদস্য রেহেনা আক্তারের বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় সেখানে অনৈতিক কাজের প্রলোভনে ডেকে এনে জিম্মি করা দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে প্রতারণার সময় হাতেনাতে প্রতারক চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা তাঁদের অপরাধের কথা স্বীকার করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁরা এ কাজ করে আসছে বলেও জানান তাঁরা।পরে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে কুষ্টিয়া মডেল থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। | 6 |
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো তলপেটের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ব্যথার জন্য তার কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন আছে কি-না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। রবিবার গভীর রাতে সাও পাওলোর ভিলা নোভা স্টার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় ছুরিকাহত হয়েছিলেন ৬৬ বছর বয়সী জইর বলসোনারো। এ জন্য তাকে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, 'আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে সন্ত্রাসের মাধ্যমে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেই তারা বেঁচে আছে। সন্ত্রাস করেই তারা ক্ষমতায় থাকে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমেই তারা ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগের কাছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আশা করা ভুল।'আজ শুক্রবার রাজধানীর এফডিসি-সংলগ্ন এলডিপির দলীয় কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদের কারামুক্তি উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।কর্নেল অলি বলেন, 'সরকারি দলের অধিকাংশ সদস্য কানাডায় বাড়ি করেছেন। দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাঁরা দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছেন। জনগণের টাকায় ভোগবিলাসে জীবন যাপন করছেন। অন্যদিকে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন পরিচালনা করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ শান্তিতে নেই। মানুষের ঘরে খাদ্য নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। লুটেরাদের কবলে পড়ে দেশবাসী অসহায়।' রেদোয়ান আহমেদ বলেন, 'আমি হামলা-মামলা জেল-জুলুমে ভয় পাই না। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে জীবনের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এবারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। আমি কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করব না।' | 6 |
রংপুরে আলোচিত অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা হত্যা মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি এই মামলা রায় ঘোষণা করবেন রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত। মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল মালেক এ খবর নিশ্চিত করেন। অ্যাডভোকেট বাবুসোনা জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও এবং মাজার খাদেম রহতম আলী হত্যা মামলার বিশেষ পিপি ছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত বছরের ২৯ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার পর তার ছোটভাই সুশান্ত ভৌমিক একটি অপহরণের মামলা করেন। তদন্তে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বাবুসোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা ও তার প্রেমিক কামরুল তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যার কথা জানায় তারা। পরে কামরুলের বড় ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই আসামি গ্রেফতারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ওই হত্যা মামলায় সোমবার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবীর যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে আদালত আগামী ২৯ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। পিপি আব্দুল মালেক জানান, গত ৩০ অক্টোবর থেকে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ৩৭ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। ওই সময় মামলার বেঁচে থাকা আসামি স্নিগ্ধা সরকার ওরফে দীপা আদালতে উপস্থিত ছিল। মামলাটিতে রংপুরের আইনজীবীরা আসামি পক্ষের হয়ে কাজ না করার ঘোষণা দেন। পরে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট বসুনিয়া মো. আরিফুল ইসলাম স্বপনকে মামলায় আসামি পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্যদিক রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আব্দুল মালেককে সহযোগিতা করেন আইনজীবী শাহ মো. নয়ন্নুর রহমান টফি, উৎপল আদনান ইসরাম, জাহাঙ্গীর আলম তুহিন, ফিরোজ কবীর গুঞ্জন, সাজেদুর রহমান তাতা, অ্যাডভোকেট শিরিন, প্রশান্ত কুমার রায়, আব্দুস ছাত্তার, আইনুন নাহার পাপড়ী, শহিদুল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম রানাসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী। | 6 |
দৈনিক করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ভারত ও ব্রাজিলকে ছাড়িয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির স্বাস্থ্যখাতে তীব্র সঙ্কট তৈরি হয়েছে। শনিবার দেশটিতে ৫১ হাজার ৯৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৯২ জনের। যা ভারত ও ব্রাজিলের দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর চেয়েও বেশি। এক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে শীর্ষে ছিল। তবে ব্যাপক টিকাকরণের পর দেশটির করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই কমেছে। রবিবার ইন্দোনেশিয়ার ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ১১৪ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। করোনা মহামারি শুরুর পর এ পর্যন্ত মোট ৫৪৫ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। থাইল্যান্ডে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। মিয়ানমারে অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অক্সিজেন ব্যবস্থা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পোস্টি দিচ্ছেন। করোনা সংক্রমণ বেড়েছে মালয়েশিয়াতেও। হাসপাতালের মর্গ ভর্তি হয়ে যাওয়ায় শিপিং কন্টেইনার পাঠানো হচ্ছে মালয়েশিয়ার হাসপাতালগুলোতে।
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 4 |
'পটাকা' ও 'আমি থাকতে চাই' এরপর নিজের গাওয়া তৃতীয় গান 'হাবিবি' নিয়ে আসবেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া- এমন প্রচারণা নিয়েই বিগত কয়েক দিন মুখর ছিলেন 'আশিকী' খ্যাত এই নায়িকা।এই গানের জন্য বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে এই নায়িকাকে। সে কথা কখনোই ভুলতে পারবেন না এই চিত্রনায়িকা। তিনি বলেন, 'তিন সপ্তাহ আগে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। ফিট থাকা, ঠিকঠাক লুক ধরে রাখা ভীষণ চ্যালেঞ্জের। এর মধ্যে যুক্ত হয় পরীক্ষার টেনশন। গত ১৪ অক্টোবর মুম্বাইয়ে শুটিং হয়, পরদিন পরীক্ষার একটি পেপার জমা দেওয়ার তারিখ। বুঝতেই পারছেন কী সময় গেছে। শুটিংয়ের আগের ওই সময়টা জীবনের সবচেয়ে কঠিন তিন সপ্তাহ।' তিনি জানান, এই সময় মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারতেন না। বেশির ভাগ সময় খিটখিটে মেজাজের হয়ে থাকতেন। এই গানের জন্যে একটা সিনেমাও ছেড়েছেন। ফারিয়া বলেন,'এবারের মতো মানসিক চাপে কমই পড়েছি।' রোববার দুপুরে সামনে এল ফারিয়ার সেই পরিশ্রমের ফসল! ডিজিটাল প্লাটফর্মে উন্মুক্ত হলো তাঁর সাড়ে তিন মিনিটের গান ভিডিও 'হাবিবি'! কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি এতে আগের দুটি গানের মতোই পারফর্মও করেন এই তারকা অভিনেত্রী!'হাবিবি' পপ অ্যারাবিক ফিউশন। অক্টোবরের মাঝামাঝিতে মুম্বাই থেকে শতাধিক কিলোমিটারে দূরে এক রাজপ্রাসাদে গানটির ভিডিওর শুটিং হয়েছে। শুটিংয়ের আগে তিন দিন গ্রুমিং হয়েছে। মুম্বাইয়ের ২০ জন ছেলেমেয়ে নেচেছেন। | 2 |
বিয়ের পর প্রথম ভ্যালেন্টাইনস ডে একসঙ্গে কাটাতে পারছেন না বলিউডের তারকা জুটি ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশল। শুনে অনেকটা মন খারাপই হবে ভিকি-ক্যাট ভক্তদের। আর এই বেরসিক কাজটির জন্য অনেকটা দায়ী ক্যাটরিনার একসময়ের প্রেমিক এবং বলিউড আরেক তারকা সালমান খান। নবদম্পতির বিশেষ দিনটি উদ্যাপনে বাদ সেধেছেন সল্লু, এমনটাই বলছেন ভক্তরা।এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন, কী এমন করলেন সালমান খান? এর উত্তর এক কথায় 'টাইগার থ্রি'। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসেই দিল্লিতে 'টাইগার থ্রি'র শেষ পর্যায়ের শ্যুটিং হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শ্যুটিং বাতিল করতে হয়।ভিকি-ক্যাট চার্টার্ড ফ্লাইট নিয়ে কোথায় গেলেনসেই বাকি থাকা শ্যুটিংই শুরু হবে চলতি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ১৫ দিনের টানা শুটিং শিডিউল রাখা হয়েছে। যার বেশির ভাগই হবে দিল্লিতে। পরিচালক মনীশ শর্মা চান ছবির শেষের অংশের অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দিল্লির রাস্তায় করতে। আর এজন্য ১২ বা ১৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লি যাবেন সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফ। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে সেখানে।বর-কনের ঠোঁটে মিষ্টি হাসিগত ৯ ডিসেম্বর রাজকীয় আয়োজনে ভিকি কৌশলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন বলিউড বার্বি খ্যাত ক্যাটরিনা কাইফ। এতদিন প্রাক্তন প্রেমিক সালমান খান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানানোর খবরও পাওয়া যায়নি। তবে সদ্য সমাপ্ত রিয়েলিটি শো বিগ বস ১৫-এর গ্র্যান্ড ফিনালের স্টেজে ক্যাটরিনার 'চিকনি চামেলি' গানে রাখি সাওয়ান্ত ও রুবিনা দিলায়েকের পারফরম্যান্সে এক পর্যায়ে যোগ দেন সল্লুও। নাচ শেষ হতেই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে সবাইকে অবাক করে সালমান বলেন, 'ক্যাটরিনা, শাদি মুবারক হো'।ক্যাটরিনার বিয়েতে নিরাপত্তার দায়িত্বে সালমানের বডিগার্ড!এদিকে 'টাইগার থ্রি'-ছবিতে খল চরিত্রে দেখা যেতে পারে রোমান্টিক অভিনেতা হিসেবে পরিচিত এমরান হাশমিকে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো। | 2 |
আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের আমলে আত্মঘাতী হামলায় নিহত তালেবান সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১১১ ডলার বা ৯ হাজার ৪৯৮ টাকা এবং কিছু জমি ও কাপড় দিয়েছে বর্তমান আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তালেবান সদস্য সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। যুক্তরাষ্ট্র তাঁর মাথার দাম এক কোটি ডলার নির্ধারণ করেছিল। তিনি কাবুলের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সাবেক আফগান সরকারের আমলে আত্মঘাতী হামলায় নিহত পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।তবে এ সময় ফটোগ্রাফাররা তাঁর মুখের ছবি তোলেননি।টুইটারে দেওয়া একটি বিবৃতিতে সিরাজুদ্দিন হাক্কানি শহীদ ও মুজাহিদদের জিহাদ ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তাঁদেরকে ইসলাম ও দেশের বীর বলে অভিহিত করেন।আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কারি সাইদ খোস্তি বলেন, প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার আফগানি অর্থ সহায়তা এবং জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। | 3 |
বলিউডে এখন চর্চিত নাম কার্তিক আরিয়ান ও সারা আলী খান জুটি। পরিচালক ইমতিয়াজ আলীর নতুন ছবির শুটিং সেটে তাদের ঘনিষ্ঠার কথা ইন্ডাস্ট্রিতে কম বেশি সবারই জানা। এবার কার্তিকের পরবর্তী ছবিতে নায়িকা হিসেবে কাকে চান এ নিয়ে আলোচনায় এলেন তিনি। মিড ডে জানায়, 'ভুলভুলাইয়া টুতে' নায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় কার্তিককে। বাকি ছিল ছবিতে কার্তিকের নায়িকা বেছে নেওয়ার। এতে দুজনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন পরিচালক। তারা হলেন- জাহ্নবী কপুর ও সারা আলী খান। 'ভুলভুলাইয়া টুর' ছবির পরিচালক হলেন আনিস বাজমি। সূত্রের খবর, এ ছবিতে নাকি জাহ্নবীর বদলে পরিচালকের কাছে সারার নাম প্রস্তাব করেছেন। এ ক্ষেত্রে কার্তিকের মন্তব্য, 'দোস্তানা টু'তে জাহ্নবী আর তিনি ভাই-বোনের চরিত্রে। তার উপরে দু'টি ছবি পরপর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দর্শক এতে বিভ্রান্ত হতে পারেন। নির্মাতাদেরও আপত্তি নেই সারাকে নিতে। বিশেষত যেখানে দু'জনের জুটি নিয়ে এত আলোচনা চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক এগোলে সারাই থাকবেন কার্তিকের বিপরীতে।সিকুয়েলে অক্ষয় কুমার থাকছেন। আগের বারের মতো এ বারেও তিনি সাইকোলজিস্টের চরিত্রেই। ছোট্ট চরিত্রে বিদ্যা বালনকে ভাবা হচ্ছে। তবে তার নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। | 2 |
গভীর নলকূপ বসিয়ে দিনরাত পানি তোলার কারণে পানিশূন্য হয়ে পড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের পাতাল। এক জরিপে এই অঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নে দেড় হাজার ফুট মাটির নিচেও পানির সন্ধান মেলেনি। সরকারি প্রতিষ্ঠান পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো) এই জরিপ চালিয়েছিল।জানতে চাইলে ওয়ারপোর মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় এই জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপের কাজ হচ্ছে পানি আহরণযোগ্য সীমা নির্ধারণ করা। প্রকল্প শেষে সভা-সেমিনার করে মানুষকে সেই তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। তখন আহরণযোগ্য সীমার বেশি পানি কেউ তুলতে পারবে না।বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ২১ মার্চ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘুটু গ্রামে দুই সাঁওতাল কৃষক বিষপানে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার কৃষকেরা বলছেন, তাঁরা এখনই চাহিদামতো পানি পাচ্ছেন না। এলাকাভেদে বোরো ধানের জমিতে সেচের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৭ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত। গভীর নলকূপের অপারেটররাও বলছেন, আগের মতো আর পানি উঠছে না গভীর নলকূপে।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, 'বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ মাটির গঠনের কারণে ভূগর্ভে পানি রিচার্জ ঠিকমতো হচ্ছে না। কিন্তু সেচসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য ক্রমাগত ভূগর্ভের পানি ওঠানো হচ্ছে। এই কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। এটার সমাধানের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার কমিয়ে ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহারের দিকে আমাদের মনোযোগী হতে হবে।সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের গবেষকেরা দেখেছেন, বোরো ধানের মৌসুমে যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বিদ্যুতের গোলযোগ না হলে সব সময়ই বরেন্দ্র অঞ্চলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ চলে। এর ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিনিয়ত নিচে নেমে যায়। প্রতিবছর যে পরিমাণ পানি নিচে নেমে যাচ্ছে, তা আর পুনর্ভরণ হচ্ছে না। সমালোচনার মুখে ২০১২ সালের জুন মাস থেকে বিএমডিএ বরেন্দ্র অঞ্চলে নতুন করে গভীর নলকূপ বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও রাজশাহী বিভাগে এখনো ৮ হাজার ৮২৬টি গভীর নলকূপ চালু আছে।অভিযোগ রয়েছে, এসব গভীর নলকূপ বরেন্দ্র অঞ্চলের পাতাল পানিশূন্য করছে। পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) জরিপে তার প্রমাণও মিলেছে। তারা গত বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত হাইড্রোলজিক্যাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর ৫০টি স্থানে প্রায় দেড় হাজার ফুট পর্যন্ত গভীরে যান। এতে রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়ন, মুন্ডুমালা পৌর এলাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, নওগাঁর পোরশার ছাওড় ইউনিয়ন এবং সাপাহার উপজেলার সদর ইউনিয়নসহ মোট পাঁচটি স্থানে পানির স্তরই পাওয়া যায়নি। সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ ফুট মাটির গভীরে পানির স্তর পাওয়ার কথা। কিন্তু উঁচু বরেন্দ্র এলাকার কয়েকটি জায়গায় তা পাওয়া যায়নি। তবে এই এলাকাগুলোর আশপাশে ছোট ছোট পকেট স্তর পাওয়া গেছে। সেখানে থেকে এখনো খাবার ও সেচের জন্য পানি তোলা হচ্ছে। আর যে এলাকায় পকেট স্তরে পানি নেই, সেখানকার মানুষকে অন্তত এক কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।২৫ মার্চ দুপুরে গোদাগাড়ীর পালপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি গভীর নলকূপের পাশে বোরো ধানের গাছ বাতাসে দোল খাচ্ছে। এর পাশেই অনাবাদি পড়ে আছে কিছু জমি। নলকূপ অপারেটর মো. কালাম জানালেন, অনাবাদি জমির পরিমাণ ৫০ বিঘা। নলকূপে পানি কম উঠছে বলে ওই জমিগুলো চাষের আওতায় আনা যায়নি। পাশের একটি গভীর নলকূপ দেখিয়ে কালাম বললেন, সেখানে ১৫ দিন লাইন দিয়েও মানুষ পানি পাচ্ছে না।তানোর উপজেলার বাঁধাইড়ের জজটোলা গ্রামে গিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি নতুন বাড়ি করতে দেখা যায়। এখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি পাম্প হচ্ছে তাদের খাবার পানির একমাত্র উৎস। নতুন বাড়ি করছেন সরল সরেন (২৭)। তিনি জানেন না যেখানে তাঁরা বসতি স্থাপন করছেন, সেখানে মাটির নিচে পানির স্তর আছে কি নেই। তিনি বলেন, নলকূপে পানি ওঠে না। পাম্প বসালে পানি পাওয়া যেতে পারে এই ভরসায় বাড়ি করছেন। না পেলে এক কিলোমিটার দূরে আলপথে হেঁটে গিয়ে উচ্চাডাংগা গ্রাম থেকে পানি এনে খেতে হবে।চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বড়বুনগ্রামের একটি বাড়ির পাশের পাম্প থেকে কৃষিজমিতে সেচ দিতে দেখা যায়। খাবার পানির জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই পাম্পটি বসানো হয়েছে। বাড়ির মালিক সেই পাম্প থেকেই ছয় বিঘা ধানের জমিতে পানি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, গভীর নলকূপে আর আগের মতো পানি উঠছে না। জমি পড়ে থাকবে তাই খাবার পানির জন্য বসানো পাম্প থেকে বাধ্য হয়ে সেচ দিচ্ছেন।পানিসংকটের কারণে কয়েক দশক আগেও বরেন্দ্র অঞ্চলে তেমন ফসল হতো না। এই সমস্যার সমাধানে জন্ম নেয় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে বিএমডিএ বরেন্দ্রজুড়ে গভীর নলকূপ বসাতে শুরু করে। তারপর ভূ-গর্ভস্থ পানি তুলে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় সবুজে ভরে ওঠে বরেন্দ্র অঞ্চল। কিন্তু সেই সম্ভাবনা এখন নতুন বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে।জানতে চাইলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রশীদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'কিছু এলাকার পানি না পাওয়াকে গোটা বরেন্দ্র এলাকার চিত্র বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তা ছাড়া ভূ-গর্ভস্থ পানি শুধু বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ একা তুলছে না। ব্যক্তিমালিকানায় পাম্প বসিয়ে পানি তুলে সেচ দেওয়া হচ্ছে। তাতেও পাতালের পানি কমছে। আসলে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না বলে পাতালে পানির স্তর ভরছে না। এতে একটা সংকট দেখা দিচ্ছে। সে কারণে বেশি সেচ লাগে না এমন ফসল চাষাবাদে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।'পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে, এটা খুবই স্বাভাবিক। উত্তরবঙ্গে এবার খরা চলছে, তেমন বৃষ্টি হয়নি। লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুরে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টি হয়েছে। ভূগর্ভস্থের পানির ব্যবহার বেড়েছে। সেচের ৮০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। পানির অপচয় বন্ধ করতে হবে।' | 6 |
চার নির্বাচন কমিশনার হলেন বেগম রাশিদা সুলতানা, আহসান হাবীব খান, মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান। আজ বিকেলে শপথ। অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে দেশের নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আরও চারজন। তাঁরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খান এবং সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান। নতুন এই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সিইসি এবং অপর চার কমিশনার নিয়োগ দেন। এ বিষয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠিত হলো। ইসি গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি গত বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির হাতে ১০ জনের নামের তালিকা তুলে দিয়েছিল। সেই তালিকা থেকেই রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করলেন। নির্বাচন কমিশন গঠনের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির হলেও সংবিধানে বলা আছে, কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। এদিক নতুন নিয়োগ পাওয়া সিইসি এবং কমিশনারদের শপথ হবে আজ রোববার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে। তাঁদের শপথ পড়াবেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। নিয়োগ পাওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নতুন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল প্রথম আলোকে বলেছেন, 'একটি দায়িত্ব আরোপিত হয়েছে। এই দায়িত্ব আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব। কমিশনের অপর সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁদের নিয়ে বসে কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করব।' নতুন সিইসি বলেন, 'আওয়ামী লীগকে নিয়ে তো কোনো সমস্যা নাই। ওরা তো নির্বাচন করবেই। যাঁরা বলছেন, নির্বাচন করবেন না, সেসব দলের নেতাদের প্রতি আমাদের অবশ্যই একটা আবেদন থাকবে যে আপনারা আসেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।' নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হাবিবুল আউয়াল বলেন, এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইবেন। সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক দল মানেই তো তারা নির্বাচন করবে। সেটা বিএনপি হোক, যাই বলি না কেন। অন্তত তাদের তো দাওয়াত করতেই হবে, আমন্ত্রণ জানাতে হবে।' গত ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর ইসি গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। ব্যক্তিপর্যায়েও নাম আহ্বান করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি ৩২২ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করে কমিটি। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এলডিপি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগসহ নিবন্ধিত কয়েকটি দল অনুসন্ধান কমিটির কাছে ইসি গঠনে কোনো নামের প্রস্তাব পাঠায়নি। অনুসন্ধান কমিটির প্রকাশ করা ৩২২ জনের তালিকা থেকেই নতুন নির্বাচন কমিশনের ৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য অনুসন্ধান কমিটি চূড়ান্তভাবে যে ১০ জনের নাম সুপারিশ করেছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। ১০ জনের মধ্যে নিয়োগ পাওয়া ৫ জনের নাম জানা গেলেও বাকি ৫ জন কারা, তা জানা যায়নি। নতুন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের নামটি ছিল ৩২২ জনের তালিকার ৪৯ নম্বরে (তবে যোগ্যতার ক্রম অনুসারে তালিকাটি করা হয়নি)। তিনি সর্বশেষ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান। এর আগে তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। কাজী হাবিবুল আউয়াল বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা। তাঁর চাকরিজীবন শুরু হয়েছিল মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে। ১৯৯৭ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। অবসরের পর তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কলাম লেখেন। বিচার বিভাগ থেকে আসা হাবিবুল আউয়াল আইনসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে ২০১০ সালে রায় দেন আদালত। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে তাঁর নিয়োগের সময় নীতিমালা মানা না হওয়ায় আদালত ওই নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এ ছাড়া আইনসচিব থাকা অবস্থায় বিধিবহির্ভূতভাবে দুই বিচারককে অবসরে পাঠানোর ঘটনায় সংসদীয় কমিটি তলব করেছিল তাঁকে। ওই সব ঘটনার পর ধর্মসচিব করা হয় হাবিবুল আউয়ালকে। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে থাকার সময়ই জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। অবসরে যাওয়ার পাঁচ বছর পর এখন সিইসি হিসেবে নিয়োগ পেলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হাবিবুল আউয়ালের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। তবে তাঁর জন্ম কুমিল্লায়। তাঁর বাবা সেখানে চাকরি করতেন। নতুন নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে বেগম রাশিদা সুলতানা ২০২০ সালে রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসরোত্তর ছুটিতে যান। গত বছর তাঁর অবসরজীবন শুরু হয়। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে। তবে তিনি এখন খুলনায় থাকেন একমাত্র সন্তানের কাছে। তাঁর ছেলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী রাশিদা সুলতানা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রথম আলোকে বলেন, 'আল্লাহ আমাকে বড় একটি দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সুচারুভাবে পালন করার চেষ্টা করব।' নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর ২০২১ সালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে অবসরে যান। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, 'নির্বাচন কমিশনার হওয়া বড় কথা নয়, কাজটি সুন্দরভাবে করতে পারাই বড় কথা।' অপর নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে গত ডিসেম্বরে অবসরে গেছেন। এর আগে তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বাড়ি শরীয়তপুরে। নতুন নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাঁরা দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। একই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন উপহার দিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছেন দলটির নেতারা। নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বাসসকে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা নতুন কমিশনের দায়িত্ব। এ ব্যাপারে কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে আওয়ামী লীগ। আর দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাগত ও অভিনন্দন জানায় নতুন ইসিকে। তবে কাজকর্ম দিয়েই ইসিকে মূল্যায়ন করা যাবে। এদিকে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো আগ্রহ না থাকার কথা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরকারে আওয়ামী লীগ থাকলে নির্বাচন কোনোভাবেই নিরপেক্ষ হবে না-এটাই 'ইউনিভার্সেল ট্রুথ' (চিরন্তন সত্য)। আর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নয়, জাতির দৃষ্টি এখন নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দিকে। একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যতীত এ জাতীয় নির্বাচন কমিশন নিয়ে আলোচনা করে কোনো লাভ নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন করে সরকার। নির্বাচন কমিশনের হাতে কিছুই নেই। | 9 |
মাহমুদ কলিকে এখন আর কোথাও দেখা যায় না। না রূপালি পর্দায়, না টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে, না তাঁর পুরোনো কর্মস্থল এফডিসিতে। চলচ্চিত্র থেকে অনেকটা দূরে সরে রয়েছেন তিনি। তাও অনেকগুলো বছর ধরে। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে একাধিকবার শিল্পীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহমুদ কলি। সমিতির শেষ নির্বাচনে তিনি আসেননি ভোট দিতেও। কোনো ক্ষোভ কি পুষে রেখেছেন তিনি? কোনো অভিমান? মাহমুদ কলি বলেন, 'চলচ্চিত্রের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। সম্ভবত বিদেশে থাকার কারণে নির্বাচনের দিন যেতে পারিনি।' বিদেশ! হ্যাঁ, এই একটা শব্দ দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে তাঁর সংযোগ খুঁজে পাওয়া যায়। সিঙ্গাপুরে চিত্রায়িত 'লাভ ইন সিঙ্গাপুর', যুক্তরাষ্ট্রে চিত্রায়িত 'দেশ বিদেশ', নেপালে চিত্রায়িত 'নেপালী মেয়ে' এখনো মাহমুদ কলির প্রিয় ছবির তালিকায়। দর্শকেরা বিদেশে শুটিং মানেই বুঝতেন মাহমুদ কলির ছবি। আশির দশকে সামাজিক-রোমান্টিক-ফ্যান্টাসি ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। মাহমুদ কলির মতে, স্বল্পসংখ্যক' ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। সেই সংখ্যাটা কত? 'পঞ্চাশের কিছু বেশি', জানান 'প্রিয়তমা' ছবির মধ্য দিয়ে সেলুলয়েডে আসা নায়ক। বড় ভাই প্রযোজক-পরিচালক আজিজুর রহমান বুলি। সত্তরের দশকে বুলি ও তাঁর বন্ধু পরিচালক অশোক ঘোষ একসঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতেন। সেসব ছবির শুটিং দেখতে যেতেন মাহমুদ কলি। সেখান থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক আসে। 'আট বছর ধরে পড়াশোনা করেছি আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছে। পড়াশোনা শেষে আরও বারো বছর অভিনয় করেছি। তারপর অভিনয়কে বিদায় জানিয়েছি', বলেন 'মাস্তান'খ্যাত চিত্রতারকা মাহমুদ কলি। ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো বন্ধ করে দেন তিনি। চলে যান ব্যবসার জগতে। কিছুদিন যেতে চলচ্চিত্রের মানুষেরা তাঁকে ডেকে আনেন নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। শিল্পী সমিতির হাল তিনি ধরেন তখনই। সেই সময় একটি-দুটি ছবিতে অভিনয় করেছেন বলেও মনে পড়ে তাঁর। কিন্তু ছবির নাম মনে করতে পারেন না মাহমুদ কলি। নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ কী? মাহমুদ কলি বলেন,'যারা সক্রিয়ভাবে জড়িত, তারা ভেতরের ব্যাপারটা জানবে, সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে, তাই তাদেরই নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। আসলে ব্যক্তিগত কিছু কারণে চলচ্চিত্র অভিনয় থেকে অব্যাহতি নিই। অভিনয় ছেড়ে দিয়ে বেশ কয়েক বছর অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হয়ে রইলাম। দুদিকে সময় দিতে গেলে ভালোভাবে পারব না বলেই সরে দাঁড়াই। যারা চলচ্চিত্রে অভিনয় করছে, ছবি নির্মাণ করছে, তাদেরই নেতৃত্বে থাকা উচিত।' চলচ্চিত্রের খবরাখবর কতটা রাখেন একসময়ের ব্যস্ত নায়ক? মাহমুদ কলি জানান, তেমন খবর রাখতে পারেন না ব্যস্ততার কারণে। সিনেমা হলেও যাওয়া হয় না। এখনকার ছবিও দেখা হয় না। চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিবেশ সম্পর্কে তাঁর জানা আছে কি না? প্রশ্ন করলে মাহমুদ কলি বলেন, 'অনেকে ঠিকভাবে বোঝার চেষ্টা করে না। আপনার জীবন, আপনার পরিবার, প্রতিটি জায়গা সমাজের অঙ্গ। যখন সমাজে কোনো অস্থিরতা থাকবে, ঝামেলা থাকবে, চলচ্চিত্রে তাঁর প্রভাব পড়বে। এটার জন্য চলচ্চিত্রকে দোষারোপ করা উচিত নয়। সমাজে কখনো ছিনতাই হয়, কখনো শান্তি থাকে। ভালো সময় আগে ছিল। এখন সমাজে অস্থিরতা। সেই অস্থিরতা চলচ্চিত্রেও এসেছে। তবে খারাপ সময়টা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।' অভিনয় থেকে বিদায় নেওয়ার পর একসময় দলীয় রাজনীতি করতেন মাহমুদ কলি। এখন আর ওই প্রসঙ্গে কথা বলতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তেমন খোলামেলা নন। একটু ঢেকে রাখতেই পছন্দ করেন। একসময় পাদপ্রদীপের আলোয় থাকলেও এখন নিভৃতে থাকতে ভালোবাসেন। মাহমুদ কলি জানান, ব্যবসা নিয়েই কাটে তাঁর দিন। পারিবারিকভাবেই ব্যবসা ছিল তাঁদের। সেই ব্যবসার সঙ্গে নিজস্ব ব্যবসা যোগ করে এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী তিনি। মাহমুদ কলির গ্রামের বাড়ি ফেনী। তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা সব ঢাকায়। তাঁরা তিন ভাই, তিন বোন। সবাই জীবিত। একমাত্র মেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করছেন। চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেও প্রায়ই পুরোনো দর্শকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে যায়। তখন আলাপচারিতা জমে ওঠে। ভক্তরা যে সম্মান দেন, তাতে তাঁর ভালোই লাগে বলে জানান। এত ব্যস্ত তারকাজীবন ছিল তাঁর, সে জীবন কখনো কখনো নাড়া দিতে স্মৃতিতে ফিরে আসে কি? মাহমুদ কলি বলেন, 'এটা পৃথিবীর নিয়ম যে আমরা আসব, কিছুদিন থাকব, একদিন চলে যাব। এ জন্য একে অপরকে জায়গা দিতে হয়। জায়গা আসলে এমনি হয়ে যায়। আমি চলচ্চিত্রে ছিলাম। সারা জীবনের জন্য থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নয়। হয়তো আমি একটু আগেই চলে এসেছি। আমি যত দিন ছিলাম, সুখী ছিলাম। যতটুকু করার ছিল, করেছি। চলচ্চিত্র শিল্পের মানুষের উপকার করার, দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি সন্তুষ্ট।' চলচ্চিত্রে কত ঘটনার সাক্ষী তিনি। কত বর্ণিল অভিজ্ঞতায় মোড়া রঙিন জীবন তাঁর। সেসব ঘটনার সবই কি মুছে গেছে স্মৃতি থেকে? এমন প্রশ্নে তিনি মুক্তোর মতো স্মৃতির সাগরে ডুব দিয়ে একটি ঘটনা তুলে আনেন। 'লাভ ইন সিঙ্গাপুর' বিদেশে প্রথম শুটিংকৃত বাংলাদেশি ছবি। সে ছবির শুটিংয়ে এক মাসের জন্য সিঙ্গাপুর যান মাহমুদ কলি, ববিতাসহ শুটিং ইউনিট। মেঘের জন্য প্রথম দুদিন কাজ করা যায়নি। তারপর মেঘলা আকাশ মাথায় নিয়েই সবাই কাজ করতে নেমে পড়েন। 'আমার শুধু মনে হচ্ছিল এই মেঘের মধ্যে কাজ করছি, পর্দায় আমাদের কেমন দেখাবে কে জানে। মনে মনে ভেবে খুব অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। একসময় শুটিং শেষ হলো। সিঙ্গাপুরেই নেগেটিভ প্রসেস করে একটা প্রিন্ট ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। সেই প্রিন্ট দেখে আমি অবাক। কোনো দৃশ্যে মেঘের প্রভাব নেই। শুটিংয়ের সময় দেখছিলাম চিত্রগ্রাহক রফিকুল বারী চৌধুরী বারবার লেন্স পাল্টাচ্ছিলেন। তার ফলে যে এই জিনিস হবে, তা কি আর জানতাম', মাহমুদ কলির কণ্ঠে বিস্ময় টের পাওয়া যায়। মাহমুদ কলি বলেন, 'ওই ঘটনা থেকে একটা জিনিস শিখলাম, যার যা কাজ তা-ই তার করা উচিত। যে যার ক্ষেত্রটাকে সবচেয়ে ভালো বোঝে। অন্যের পক্ষে ওটা বোঝা সম্ভব নয়। এ জন্য না বুঝে অন্যের কাজ সম্পর্কে কথা বলা উচিত নয়।' মাহমুদ কলির বয়স এখন ৬৪। জীবনের অনেকটা সময় পেরিয়ে এসেছেন। কোনো উপলব্ধিতে পৌঁছেছেন কি না? জানতে চাইলে আশির দশকের সুদর্শন অভিনেতা বলেন, 'আমি মনে করি মানুষ আসবে-যাবে। যে যত দিন থাকি না কেন, মানুষের উপকারে লাগতে হবে। এ পৃথিবীতে সবাই আসবে, চলে যাবে। এটাই হলো পৃথিবীর নিয়ম। যে কটা দিন থাকা যায়, মানুষের উপকার করে, নিজের পরিবার, আশপাশের সবার জন্য যদি কাজ করা যায়, তবে ভালো। আমার জীবনে চাহিদা ছিল অল্প। যতটুক পেয়েছি তাতে আমি সুখী।' মাহমুদ কলি অভিনীত ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য 'মতিমহল', 'তুফান', 'বাদল', 'নওজোয়ান', 'নবাবজাদী', 'টক্কর', 'হিম্মতওয়ালী', 'গোলমাল', 'নাগমহল', 'নিশানা', ধনীগরীব প্রভৃতি। | 2 |
নরসিংদীর রায়পুরায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে আ. রহমান (২৫) নামের এক গার্মেন্টস কর্মীর কবজিসহ বাম হাত কেটে নিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনার জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নূরে আলম ও সাদ্দাম হোসেন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়নের সাহেবনগর পলাশতলী মোড়ে এ ঘটনাটি ঘটে।আহত আ. রহমান নরসিংদীর থার্মেক্স গ্রুপের ডায়িংয়ের কাজ করেন। তিনি উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নের রতনপুর মৃত. আব্দুল রহিমের ছেলে।জানা যায়, গত দুই বছর পূর্বে শিশুদের মাঝে পাখির বাসা ভাঙা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের প্রয়াত জুলমত প্রধান বাড়ির সিরাজুল ইসলাম শিরু ও প্রতিবেশী এলাকা একই উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের শমসু বাড়ির খলিল মিয়ার লোকজনের মধ্যে এই বিরোধ হয়। ওই সময় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনার উভয় পক্ষই মামলা করেন। কিছুদিন পর গ্রাম্য সালিসের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিরাজুল ইসলামের পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করেন খলিল মিয়ার লোকজন। ওই মীমাংসিত ঘটনার প্রায় দুই বছর পরে আজ বৃহস্পতিবার খলিল মিয়ার চাচাতো ভাই আ. রহমানের ওপর এই হামলা করা হয় বলে ধারণা করছে পরিবার।আহত আ. রহমানের মা সালমা বেগম বলেন, 'পাখির বাসা ভাঙা নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে আমাদের সাথে পার্শ্ববর্তী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম শিরুর লোকজনের ঝগড়া হয়। পরে পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়। পরে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে আমাদেরকে এক লাখ টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। এত দিন সবাই সুন্দরভাবে চলাফেলা করে আসছি। আজ ভোরে হঠাৎ একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে (প্রতিপক্ষ সমর্থক) সাদ্দাম হোসেন কাজে যাওয়ার কথা বলে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। এর ঘণ্টাখানেক পরে আব্দুর রহমান তাঁর কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। এরপর বাড়ির অদূরে নির্জন এফকে বিদ্যানিকেতনের গেটের সামনে কয়েকজন মিলে হামলা করে হাত পা চোখ বেঁধে তার বাম হাতের কবজি ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যায়। এরপর প্রতিপক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়।'আ. রহমানকে বাম হাতের কবজি কাটা অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। পরে তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে তিনি।এদিকে ঘটনাস্থলের আশে পাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও বিচ্ছিন্ন ওই হাতের কবজি কোথাও পাওয়া যায়নি স্বজনেরা। ঘটনাস্থলে হামলার সময়ের ধস্তাধস্তির কিছু চিহ্ন পাওয়া যায়। ওই ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রতিপক্ষের বাড়িতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ওসি (তদন্ত) গোবিন্দ সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উক্ত ঘটনার জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নূরে আলম ও সাদ্দাম হোসেন নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রে আবার বন্দুকধারীর তাণ্ডব। এবার ওকলাহোমায় মেডিক্যাল সেন্টারে। বন্দুকধারীর গুলিতে মৃত চার। বন্দুকধারীও মৃত। যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এখন প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে বন্দুক-সহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্নের সঙ্গে আলোচনায় এই প্রসঙ্গ উঠেছিল। কারণ, আর্ডার্ন নিউজিল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চালু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক ও তার লাইসেন্স সহজেই পাওয়া যায়। বন্দুকধারীরা স্কুলে গিয়ে বাচ্চাদের মারছে, শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে মানুষ মারছে, বুধবার ওকলাহোমায় মেডিক্যাল সেন্টারে গিয়ে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছে। খবর ডয়েচে ভেলের। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীও মারা গেছে। সে কেন গুলি চালালো, তা বোঝা যাচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটেছে, ওকলাহোমা শহর থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে টুলসায়। সেখানে চার লাখের মতো মানুষ বাস করেন। ক্যাপ্টেন রিচার্ড মিউলেনবার্গ এবিসি-কে জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশকে ফোনে কেউ জানান, এক বন্দুকধারী মেডিক্যাল ক্যাম্পাসের একটি বাড়ির দোতলায় ঢুকেছে। যখন পুলিশ সেখানে পৌঁছায়, ততক্ষণে সেখানে বন্দুকধারী তাণ্ডব চালিয়ে ফেলেছে। কয়েকজন বন্দুকের গুলিতে মৃত। কয়েকজন আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। বন্দুকধারীর কাছে বড় রাইফেল ও পিস্তল ছিল। মে মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে দুইটি বড় গুলিচালনার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে টেক্সাসে বন্দুকধারী স্কুলে ঢুকে ১৯টি বাচ্চা ও দুই শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করেছে। এর আগে নিউ ইয়র্কের বাফালোতে এক বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে ১০ জনকে হত্যা করেছিল। এবার ওকলাহোমাতে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটলো। | 3 |
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল চীনের উইঘুর মুসলমানদের নিয়ে তাদের নতুন রিপোর্টে অভিযোগ করেছে, চীন মুসলমানদের মুছে ফেলতে চাইছে। ১৬০ পাতার এ রিপোর্টের শিরোনাম, 'আমরা যেন যুদ্ধে শত্রুপক্ষ'। অ্যামনেস্টির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড জার্মান বার্তা সংস্থা ডয়চে ভেলেকে (ডিডব্লিউ) বলেছেন, 'চীন মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ করেছে, তা তথ্যসহ রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে।' তিনি বলেছেন, 'অন্য দেশগুলো যেন সাহসী হয়ে উপায় ঠিক করে এবং চীনকে এই কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করে।' অ্যাগনেস বলেছেন, 'আমরা যে তথ্যপ্রমাণ দিয়েছি, তারপর দেশগুলোর পক্ষে চুপ করে থাকা মুশকিল।' আমেরিকা ইতিমধ্যেই উইঘুরদের প্রতি চীনের নীতিকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে। চীন অবশ্য উইঘুরদের বিরুদ্ধে কোনোরকম অত্যাচারের কথা অস্বীকার করে। তাদের অভিযোগ, চীনের ঘরোয়া বিষয়ে বাইরের দেশগুলো হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। রিপোর্টে কী বলা হয়েছেঅ্যামনেস্টি ২০১৯-এর অক্টোবর থেকে ২০২১-এর মে পর্যন্ত গবেষণা করেছে। তারা ১২৮ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তার মধ্যে ৫৫ জন চীনের উইঘুর শিবিরে ছিলেন। আর ৬৮ জন সেই সব পরিবারের সদস্য, যে পরিবার থেকে কেউ হারিয়ে গেছেন বা তাদের আটক করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। রিপোর্ট বলছে, জিনজিয়াংয়ে ১০ লাখের বেশি মানুষকে শিবিরে পাঠানো হয়েছে। মুসলমানদের ভয় দেখানোর জন্য চীন তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সাইটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। প্রচুর সাক্ষী অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, চীন মুসলমানদের মুছে ফেলতে চায়। অনেকে বলেছেন, মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনকী মসজিদে ও মুসলমানদের বাড়িতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ছবি লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। যাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই বলেছেন, তারা চীনে নিজেদের ধর্মাচরণ করতে ভয় পাচ্ছেন। তারা জানেন যে, রাষ্ট্র তাদের উপর নজর রাখছে। উইঘুর শিবিরের কথারিপোর্টে বলা হয়েছে, কোনোরকম সতর্কতা ছাড়াই উইঘুরদের মাঝরাতে বাড়ি থেকে তুলে শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের তথাকথিত শিক্ষা-শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোর করে নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করানো হয়।। তারপর তাদের মধ্যে কিছু মানুষকে শিবিরে রাখা হয়, কারণ দেখানো হয়, তারা সন্ত্রাসবাদী এবং বিশ্বাসযোগ্য নয়। যাদের শিবিরে আটকে রাখা হয়েছিল, তাদের কয়েকজন অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, শিবিরের অবস্থা চীনের কারাগারের থেকেও খারাপ। তাদের সংশোধন-ক্লাসে যেতে হয়। তার আগে সারাদিন তাদের বসিয়ে রাখা হয়। শিবিরের ক্লাসে তাদের ইসলামের 'খারাপ' দিকগুলো বাধ্যতামূলকভাবে শিখতে হয়। অ্যামনেস্টির সুপারিশএই মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, শিবির থেকে চীনকে সব উইঘুরকে মুক্তি দিতে হবে। যদি না তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অকাট্য প্রমাণ থাকে। চীনকে এই শিবির বন্ধ করতে হবে। উইঘুরদের বিরুদ্ধে যাবতীয় অত্যাচার ও তাদের হেনস্থা করা বন্ধ করতে হবে। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদ জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও অপরাধের তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক দল পাঠাবে। জাতিসঙ্ঘের সেক্রেটারি জেনারেল জানিয়ে দেবেন, চীন বেআইনি কাজ করেছে এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। সূত্র : ডয়চে ভেলে | 3 |
কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় অনেকটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৪৩ জন কাউন্সিলর ও ১১ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে মেয়র পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন সাবেক মেয়র আবদুল মালেক। ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিজয়ীরা হলেন- ২নং ওয়ার্ড আক্তারুজ্জামান (উটপাখি) ৫১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আবুল খায়ের (টিউবলাইট) ৪৩০ ভোট। ৩নং ওয়ার্ড জহির উল্লাহ সুমন (পানির বোতল) ১৫৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি রেজাউল হক রেজু (টেবিল ল্যাম্প) ৬৪৭ ভোট। ৪নং ওয়ার্ড শাখাওয়াত হোসেন সুমন (পাঞ্জাবি) ৪৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ইমরান হোসেন বাহার (পানির বোতল) ৩৬২ ভোট। ৫নং ওয়ার্ড শেখ রাসেল মজুমদার (পাঞ্জাবি) ১১৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সেলিম জাহাঙ্গীর (উটপাখি) ৩৭৪ ভোট। ৬নং ওয়ার্ড ছাদেক হোসেন (উটপাখি) ৮৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি রুবেল হোসেন (পাঞ্জাবি) ৬৪১ ভোট। ৭নং ওয়ার্ড জামাল হোসেন সোহাগ (উটপাখি) ৬৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মেজবাউল আলম (পানির বোতল) ২৩৮ ভোট। ৮নং ওয়ার্ড শাহ খুরশিদ আলম মজুমদার (টেবিল ল্যাম্প) ৪২১ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নিজাম উদ্দিন মজুমদার (পানির বোতল) ৩৪২ ভোট। ৯নং ওয়ার্ড আবু জাফর (পানির বোতল) ৫৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়া (পাঞ্জাবি) ৪৪৫ ভোট। সংরক্ষিত ১,২,৩নং ওয়ার্ড সাবিনা ইয়াসমিন (আনারস) ৩০৪৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সুফিয়া আক্তার (চশমা) ২১০৫ ভোট। সংরক্ষিত ৪,৫,৬নং ওয়ার্ড ফরিদা আক্তার (টেলিফোন) ১০৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি রহিমা খাতুন (জবা ফুল) ৯৫১ ভোট। সংরক্ষিত ৭,৮,৯নং ওয়ার্ড আয়েশা বেগম (চশমা) ১৭১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সালেহা বেগম (আনারস) ১১৭৯ ভোট। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা লামইয়া সাইফুল জানান, গত ১১ এপ্রিল নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তখন তা স্থগিত করা হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবদুল মালেক নির্বাচিত হন। সোমবার ভোটারদের স্বর্তঃস্ফুর্ত উপস্থিতিতে ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হওয়ায় তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 6 |
ঢাকা: চীনের সিনোফার্ম উদ্ভাবিত কোভিড টিকা প্রতি ডোজ ১০ ডলার করে কিনবে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চীন থেকে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি এই টিকা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এই দামে চীন থেকে দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনা হবে।অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান অব্যাহত রাখতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে সার্স কোভ-২ ভ্যাকসিন কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেড় কোটি ডোজ টিকার মোট দাম পড়বে ১৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হয় ১ হাজার ২৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা (৮৫ টাকা বিনিময় হার ধরে)। প্রতি ডোজের দাম পড়বে ১০ ডলার পড়বে।অতিরিক্ত সচিব জানান, সিনোফার্ম প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে জুন, জুলাই ও আগস্ট-এ তিন মাসে ১ কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করবে। এই কেনাকাটায় তৃতীয় কোনো দেশীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সরাসরি চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এই ক্রয় চুক্তি হচ্ছে।উল্লেখ্য, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড টিকা কিনেছে সরকার। সেরামের ৭০ লাখ এবং ভারত সরকারের উপহার দেওয়া ৩৩ লাখ ডোজ দিয়েই এত দিন টিকাদান কর্মসূচি চালিয়েছে সরকার। সেই টিকার প্রতি ডোজের দাম পড়েছে সব মিলিয়ে পাঁচ ডলার।তিন কোটি ডোজ টিকা কিনতে গত বছরের নভেম্বরে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। অগ্রিম অর্থ পরিশোধও করা হয়। দেশে সরবরাহকারী হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও দুই দফায় এসেছে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ। অথচ মে মাস পর্যন্ত দেড় কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার কথা। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উপহারের ৩৩ লাখসহ সব মিলিয়ে ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ টিকা হাতে পেয়েছে সরকার। টিকা সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে প্রথম ডোজের টিকাদান কর্মসূচি।এরই মধ্যে টিকা কিনতে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। চলে এসেছে চীনের উপহারের পাঁচ লাখ টিকা। গত মঙ্গলবার থেকে এই টিকা প্রয়োগও শুরু হয়েছে। তবে অক্সফোর্ডের প্রথম ডোজের টিকা নেওয়া ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৯১২ জনের মধ্যে ১৪ লাখের বেশি মানুষের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া অনিশ্চিত। চীন বা রাশিয়ার টিকা দিয়ে সেই ডোজ পূর্ণ করা যাবে কি-না এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। | 6 |
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে শান্তিপূর্ণ ভাবে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টায় শুরু হওয়া জামাতে ইমামতি করেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ সামসুল হক কাশেমী। নামাজ শেষে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। আয়োজক ও স্থানীয়দের দাবি, এবারের ঈদ জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাড়ে ৩ লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছেন। তারা জানান, ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দান ২২ একর জমির উপর গড়ে ওঠা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঈদগাহ্ মাঠ। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ একর জায়গা জুড়ে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। শোলাকিয়ার চেয়ে বড় জামাতের আয়োজন করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদগাহ মাঠের প্রধান মিনারের উচ্চতা ৪৭ ফিট। এছাড়াও ৫১৬ ফিট দীর্ঘ ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। মিনারগুলো সিরামিক্স দিয়ে তৈরি। ঈদগাহ মাঠের দুপাশে রাখা হয়েছে ওজুর ব্যবস্থা। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, এবার ঈদের জামাতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছে। তবে কোরবানীর ঈদের কারণে মুসল্লির সংখ্যা কম। আগামীতে এই সংখ্যার দ্বিগুন মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে ময়দান ঘিরে ব্যপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মাঠের চারপাশে স্থাপন করা হয় চেক পোস্ট, ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা ও পুলিশ বুথ । মোতায়েন করা হয় আনসার, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির ১২ শতাধিক সদস্য। দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর জানান, মাঠে মুসল্লিদের জন্য ছিল নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল। একই সঙ্গে পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন ছিল। এ সময় শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় হওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ তুরস্কে নিযুক্ত ১০টি পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। কারাবন্দী সুশীল সমাজের এক নেতার মুক্তি দাবি করায় স্থানীয় সময় শনিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে এ নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। খবর এএফপির। এরদোয়ান বলেন, 'পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই ১০ রাষ্ট্রদূতকে যত দ্রুত সম্ভব তুরস্কে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছি।' সাধারণত কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আগে এটি প্রথম পদক্ষেপ। কিন্তু এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করেননি এরদোয়ান। এরদোয়ান বলেন, 'তাদের তুরস্ককে জানতে ও বুঝতে হবে। যেদিন থেকে তারা তুরস্ককে জানবে না, সেদিনই তাদের চলে যাওয়া উচিত।' ২০১৭ সাল থেকে বিনা বিচারে কারাগারে রয়েছেন সুশীল সমাজের নেতা কাভালা। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে তুরস্ক জুড়ে বিক্ষোভ এবং ২০১৬ সালের অভ্যুত্থান চেষ্টার মামলা করা হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর এক যৌথ বিবৃতিতে কারাবন্দী নেতা কাভালার মুক্তি নিশ্চিত করতে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন আঙ্কারায় নিযুক্ত পশ্চিমা বিশ্বের ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূতেরা। এই ১০টি দেশ হচ্ছে কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই রাষ্ট্রদূতদের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, এসব রাষ্ট্রদূতদের তুরস্কে জায়গা দেওয়া উচিত নয়। গত মঙ্গলবার বিবৃতিদাতা রাষ্ট্রদূতদের তলব করে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বিদেশি কূটনীতিকদের এমন আচরণকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করা হয়। | 3 |
রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তিনটি নগরীতে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ভবনে এই তফসিল ঘোষণা করেন। এদিন বেলা ১১টায় এ সংক্রান্ত বৈঠকে বসে কমিশন। বৈঠকের পর সিইসি তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ২৮ জুন।জমাকৃত মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ১ ও ২ জুলাই। আর প্রার্থীরা চাইলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন ৯ জুলাই পর্যন্ত। তিনটি সিটি কর্পোরেশনে এক যোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুলাই। তফসিল ঘোষণার সময় চার নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে ২০১৩ সালের ১৫ জুন ভোট হয়। তবে তিন সিটিতে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে। নির্বাচিত মেয়র কাউন্সিলরগণ দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন থেকেই সিটি কর্পেোরেশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু হয়।এ হিসাবে আগামী ৫ অক্টোবর রাজশাহী, ৮ অক্টোবর সিলেট ও ২৩ অক্টোবর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মেয়াদ শেষের আগের ছয় মাসের মধ্যে এসব সিটিতে নির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। | 9 |
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় রিমন শেখ ফুরকান (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র প্রাণ হারিয়েছে। জানা গেছে, বুধবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চর কাতলাসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিমন উপজেলার পানাইল মধ্যপাড়া এলাকার রুকু শেখের ছেলে। সে পানাইল ইউনাইটেড একাডেমির দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। রিমন পড়ালেখার পাশাপাশি ভাড়াকৃত ট্রলি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। সকালে বকজুড়ি ঘাট থেকে ট্রলিতে বালু নিয়ে কাতলাসুর গ্রামে যায়। পরে সেখানে বালু নামানোর সময় ট্রলিটির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করতে গেলে বগির নিচে চাপা পড়ে সে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ট্রলি গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। | 6 |
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শরীয়তপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ শিকারের অভিযোগে ৭৪ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জেলেকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে ১২০ কেজি মা ইলিশ ও ৩ লাখ ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল।জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৪ জেলেকে আটক করে র্যাব, পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ। আটক জেলেদের মধ্যে ৩৩ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আটক অপর এক মাছ ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট উপজেলার পদ্মা মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ৪০ জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। আটক আরও ৮ জেলেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৩ লাখ ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১২০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। | 6 |
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি গরুর রাখাল গুরুতর আহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৭ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে জহরপুর টেক সীমান্তের ওপারে ভারতের পিরোজপুর ক্যাম্পের জওয়ানরা এ ঘটনা ঘটায়। গুলিবিদ্ধ ওই রাখাল জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর বাগডাঙ্গা এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে ফটিক। গুলিবিদ্ধ ফটিকের ভাই শহিদুল ইসলাম ফিটু জানান, তিনদিন আগে ফটিকসহ আরো কয়েকজন ভারতে গরু আনতে যায়। বুধবার রাতে গরু নিয়ে ফেরার সময় ভারতের পিরোজপুর বিএসএফ ক্যাম্পের জওয়ানরা কুতুবপুর বাওড়া ঘাট এলাকায় তাকে ধরে ফেলে এবং শরীরে গুলি করে। এ সময় তার সঙ্গের সাথীরা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফটিককে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মো. এখলাসুর রহমান জানান, আহতের বিষয়টি আমরা শুনেছি তবে তার পরিবার এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেনি। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফাঁড়ির এএসআই রফিকুল ইসলাম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত অবস্থায় ফটিক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫নং ওর্য়াডে ভর্তি রয়েছে। | 6 |
আর্ন্তজাতিক সেবা সংস্থা লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ১ বাংলাদেশ এর রিজিয়ন চেয়ারপার্সন- ক্লাবস হলেন লায়ন কমর উদ্দিন আহমেদ এমজেএফ। আর্ন্তজাতিক সেবা সংস্থা লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ১ বাংলাদেশ এর ডিস্ট্রিক্ট কেবিনেট ঘোষনা করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর লায়ন আর্কিটেক্ট নিখিল চন্দ্র গুহ ১০ জুলাই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আগারগাও লায়ন্স হুমায়ুন জহির মিলনায়তনে অনুষ্ঠানিকভাবে ও র্ভাচুয়ালি ডিস্ট্রিক্ট কেবিনেট ঘোষনা করেন। তিনি ২০২১-২০২২ সেবা বর্ষের জন্য লায়ন কমর উদ্দিন আহমেদ এমজেএফ কে রিজিয়ন চেয়ারপার্সন- ক্লাবস পদে মনোনয়ন পত্র প্রদান করেছেন। লায়ন কমর উদ্দিন আহমেদ ২০১৩ সালে ঢাকা দিলকুশা গ্রীন লায়ন্স ক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী হিসেবে লায়নিজমে যোগদান করেন। বর্তমানে ঢাকা এঞ্জেল লায়ন্স ক্লাব এর ক্লাব এডমিনিসট্রেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ক্লাবটির চার্টার প্রেসিডেস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০-২০২১ সেবা বর্ষে ডিস্ট্রিক্ট লিও ক্লাবস চেয়ারপার্সন ছিলেন। তিনি ইতোপূর্বে জেলা কেবিনেটের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর্ন্তজাতিক ও জেলার একাধিক এওয়ার্ড অর্জন করেন। | 6 |
আইপিএলে বেটিংয়ে যুক্ত আছেন এমন অভিযোগে অনেক বলিউড তারকা পুলিশের সন্দেহের তালিকায় আছেন। পুলিশ অনেকের বিষয়ে তদন্তও শুরু করে দিয়েছিল। কিছু প্রয়োজনীয় নথিও সংগ্রহ করে ফেলেছিল। কিন্তু এ তালিকায় সালমান খানের ভাই বলিউড তারকা আরবাজ খান যুক্ত আছেন শুনে অনেকের মাথায় বাজ পড়েছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত মাসের ১৫মে মুম্বাই থেকে চার বুকিকে গ্রেফতার করেছিল থানে পুলিশ। যার মধ্যে ছিল বুকি দলের প্রধান সোনু জালান। জেরার মুখে সোনু তার সঙ্গে আরবাজ খানও ছিলেন বলে স্বীকার করে দেন। তিনি জানান, আরবাজের সঙ্গে তার প্রায় পাঁচ বছর ধরে যোগাযোগ রয়েছে। পরে থানে 'ক্রাইম ব্রাঞ্চ' আরবাজকে ডেকে পাঠায়। শনিবার সকালে সোনু ও আরবাজকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার একপর্যায়ে মুচড়ে পড়েন আরবাজ খান। আরবাজ স্বীকার করে নেন, আইপিএলের বেশ কয়েকটি ম্যাচে বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। এছাড়া বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচেও বেটিং করার কথা স্বীকার করেন এ দাবাং অভিনেতা। এমনকি বেটিং চক্রের সঙ্গে পাকিস্তানের এক নামজাদা রাজনৈতিক নেতাও যুক্ত আছেন বলে তার কাছ থেকে জানা গেছে। আরবাজ নাকি আইপিএল বেটিংয়ে সংযুক্ত হয়ে ২ কোটি ৮০ লক্ষ রুপি খুইয়েছেন। সেই অর্থের মালিক নাকি বুকি সোনু। সোনুর ওই অর্থ আদায় করার জন্য বলিউড তারকাকে মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছিলেন বলেও গুঞ্জন আছে। সোনু জেরার মুখে আরবাজ খানের নাম ছাড়াও বুকি দলের আরেক হোতা 'জুনিয়র ক্যালকাটা' ছদ্মনামের এক বেটিং চক্রের পরিচালকের নাম নাকি জানিয়েছেন। | 2 |
দেশের দক্ষিণ সীমান্ত উপজেলা কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাথে পৃথক 'বন্দুকযুদ্ধে' চারজন ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বরতলী এলাকায় পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন দুইজন। নিহতরা মাদক কারবারি ছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে। এদিকে টেকনাফের নাজিরপাড়ার মগপাড়া এলাকায় বিজিবির সাথে বন্দুকযুদ্ধে আরো দুজন নিহত হয়েছেন। তারাও ইয়াবা কারবারি বলে বিজিবি সূত্রের দাবি। প্রাপ্ত তথ্যমতে, পুলিশের সাথে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহতরা হলেন- টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার আবদুল জলিলের পুত্র নজির আহমদ (৩৩) এবং হোয়াইক্যং নয়াপাড়ার হাজি জাকারিয়ার পুত্র ও গিয়াস উদ্দিন (৩০)। নিহত নজির কুখ্যাত ডাকাত আবদুল হাকিম ডাকাতের ছোট ভাই বলে পুলিশ জানায়। বন্দুযুদ্ধের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন দাবি করা হচ্ছে এবং তারা হলেন- এসআই সুজিত চন্দ্র দে, এএসআই খায়রুল, কনস্টেবল এরশাদুল ও বেলাল উদ্দিন। পুলিশ আরো জানায়, হোয়াইক্যংয়ের বরতলী এলাকায় ইয়াবা বেচাকেনা হচ্ছে এমন গোপন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে ইয়াবা কারবারীরা। এসময় বাধ্য হয়ে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ইয়াবা কারবারীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে ওই দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৩টি দেশীয় অস্ত্র, ৪ রাউন্ড কার্তুজ, ২৩টি গুলির খোসা ও ৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ। লাশ দুটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুদ জামান চৌধুরী জানান, আজ শুক্রবার ভোরে টেকনাফের নাজিরপাড়া মগপাড়া এলাকায় ইয়াবা পাচারের খবর পেয়ে টেকনাফ ২ বিজিবির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এসময় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইয়াবা কারবারীরা। বিজিবিও এসময় পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে লাশ দুটি পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা ও একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। | 6 |
কলম্বিয়ার আরাউকা প্রদেশে দুটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩ জানুয়ারি) রাতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী দিয়েগো মোলানো এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের। ভেনিজুয়েলার সীমান্তবর্তী আরাউকায় রোববার ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (ইএলএন) সদস্যদের সঙ্গে আরেকটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী রেভলিউশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (এফএআরসি) ভিন্নমতাবলম্বীদের লড়াই শুরু হয়, এফএআরসির এই অংশটি ২০১৬ সালে হওয়া শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। রোববার রাতে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এ দুটো বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে মাদক পাচার করে অবৈধ উপায়ে অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে লড়াই শুরু হয়েছে। কলম্বিয়ার মানবাধিকার ন্যায়পাল জানিয়েছেন, তাদের এ লড়াইয়ের কারণে ১২টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর আগে ২০০০ সালের মাঝামাঝি আরাউকায় ইএলএন ও এফএআরসির মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তা ভেনিজুয়েলার আপুরে রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১০ সালে এ সংঘাত বন্ধ হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এর তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সে লড়াইয়ে ৫৮ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয় এবং অন্তত ৮৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। | 3 |
আসছে অর্থবছরের প্রাক্-বাজেট আলোচনা চলছে। একটি সুষম বাজেট তৈরি করতে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এনবিআরের বৈঠক শুরু হয়েছে। এসব বৈঠকে অগ্রাধিকার পাচ্ছে রাজস্ব খাত সংস্কারের বিষয়টি। এরই মধ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়া সংশ্লিষ্টরা আলোচনা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বৈঠক করেছেন অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইআরএফ ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার নেতারা। স্টেকহোল্ডাররা দাবি তুলেছেন কর কাঠামোতে সংস্কার আনার বিষয়ে। আর খাত-সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা মনে করেন, কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে বাজেটের নীতি-কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে। তবে এনবিআর কর্মকর্তারা সবকিছু পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে করণীয় নির্ধারণ করার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন।এনবিআর সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরই বাজেট ঘিরে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। মূলত তাদের প্রস্তাবনা থেকে যা রাজস্ব ও ব্যবসাবান্ধব হবে বলে মনে করা হয়, সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করে এনবিআর। সেই ধারাবাহিকতায় ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাক্-বাজেট আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাজেট প্রস্তাবনা এনবিআরকে দিয়েছে এবং সংস্থার চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এনবিআর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইআরএফের পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি শারমীন রিনভী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।এ সময় শারমীন রিনভী বলেন, দেশের অর্থনীতির পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১০ বছরে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর প্রদানে সামর্থ্যবান হয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, দেশে করযোগ্য মানুষের সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি। এ নিয়ে বিতর্ক আছে। জরিপ কিংবা গবেষণার মাধ্যমে এ বিভ্রান্তি দূর করা দরকার। তিনি টিআইএনধারীর সংখ্যা ৭০ লাখ হলেও কেন মাত্র ২৪-২৫ লাখ রিটার্ন দাখিল করে-এমন প্রশ্নও তোলেন। ইআরএফ সভাপতি দেশে কর্মরত বিদেশিদের সংখ্যা এবং তাদের কর দেওয়ার বিভ্রান্তিও দূর করার অনুরোধ করেন।ভ্যাটের বিষয়ে শারমীন রিনভী বলেন, পণ্য আমদানির সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উৎসে কর কাটা হয়। এটি পরে সমন্বয় করে এনবিআর। তবে পণ্য বিক্রি করে কর সমন্বয়ের আগপর্যন্ত ব্যবসায়ীর বড় আকারের মূলধন আটকে যায়। এভাবে ব্যবসার মূলধন আটকে না রেখে বিকল্প পদ্ধতিতে কর আহরণ করা যায় কি না, তা এনবিআরকে ভাবতে হবে।গতকাল অপর বৈঠকটি হয় রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার নেতাদের সঙ্গে। তাঁরাও বিভিন্ন শুল্কসংক্রান্ত সংস্কারের পক্ষে কথা বলেন। তাঁরা ব্যবসায়িক পর্যায়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি করেন। এ ছাড়া ইলেকট্রিক কারে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আগামী বাজেটে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। আর ৪০ সিটের রিকন্ডিশন্ড বাসের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করারও পরামর্শ দেন তাঁরা। সংগঠনের এসব দাবি তুলে ধরেন সচিব জাকারিয়া আল মাহমুদ। তিনি বলেন, 'আমাদের ব্যবসার স্বার্থে আয়করের ওপর সারচার্জ ও দ্বৈত কর তুলে দিতে হবে।'প্রাক্-বাজেট আলোচনার বিষয়ে এনবিআরের আয়কর নীতির সাবেক সদস্য ও রাজস্ব বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ আমিনুল করিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাজেট তৈরির আগে প্রাক্-বাজেট আলোচনা করে থাকে এনবিআর। এটি একটি সুষম বাজেটের জন্য সহায়ক। আসছে বাজেটে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ কর দিতে হয়। এটা একটু বেশি। তা কমানো যায় কি না, দেখা দরকার। এটা গত অর্থবছরে ছিল ৫ শতাংশ, এ অর্থবছরে তা ৭ শতাংশ। এটা সমন্বয় করতে হলে ৩০ শতাংশের বেশি মুনাফা করতে হয়। যা অসম্ভব একটি কাজ।আমিনুল করিম আরও বলেন, 'করপোরেট করের ক্ষেত্রেও চিন্তা করতে হবে। আমার মনে হয়, এটা আরও কমানো উচিত। ব্যক্তি খাতের ৩০ শতাংশ কর, এটা কমানো ঠিক নয়। ধনীরা বেশি কর দেবে এটাই স্বাভাবিক। কম কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ উঠিয়ে দেওয়া হলো। আমি মনে করি, করোনাকালে এটা ঠিক হয়নি। এতে টাকা বিদেশে পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। অন্তত করোনার সময় পর্যন্ত এ সুযোগ থাকা দরকার ছিল। সুযোগ থাকলে সরকারও লাভবান হতে পারত। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে। খেলাধুলা, সঙ্গীত চর্চা, সাংস্কৃৃতিক, রচনা, হস্তলেখা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আমাদের শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশের সুযোগ হয়।
রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত ৪৬তম শীতকালীন জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসসের
ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যুক্ত থাকলে শিক্ষার্থীরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ থেকে দূরে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকাশক্তি থেকে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে দূরে থাকতে হবে। যারা শিক্ষক তাদেরকে আমি বলব, তারা এদিকে আরো মনযোগী হবেন। শুধু সারাদিন যদি 'পড়', 'পড়', 'পড়'- বলতে থাকেন তাহলে এটা কারোই ভাল লাগে না।
আজকে আমাদের প্রতিবন্ধীরাও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে অনেক পুরস্কার নিয়ে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলাটাও থাকতে হবে। সংস্কৃতি চর্চা ও থাকতে হবে। সেইদিকে মনযোগ দিয়েই আমি সবাইকে কাজ করার আহ্বান জনাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান স্বাগত বক্তৃতা করেন।
| 6 |
তিনি হতে পারতেন 'রং দে বাসন্তী'র অজয় রাঠোরের মতো পাইলট কিংবা 'থ্রি ইডিয়টস'-এর ফারহান কুরেশির মতো আলোকচিত্রী। সিনেমার জগতে আসার আগে কিশোর বয়সে এগুলোর ওপর প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। কিন্তু কানাডায় থাকাকালে কলেজের গ্র্যাজুয়েশন ইয়ারবুকে 'অ্যাম্বিশন'-এর ঘরে মজার ছলে যা লিখেছিলেন, কে জানত, ভাগ্য সেখানেই নিয়ে যাবে আর মাধবনকে। সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, মোটিভেশনাল স্পিকার, আলোকচিত্রী, ব্যবসাসহ নানা পেশা বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর। এগুলোর কোনো পথেই বেশি দিন না হেঁটে শখের বশে মডেল হতে দাঁড়ান ক্যামেরার সামনে। সে পথই তাঁকে টেনে নিয়ে এল রুপালি পর্দার দুনিয়ায়। কিন্তু বাস্তব জীবনে পাশ কাটিয়ে আসা সম্ভাব্য পেশাগুলোর চরিত্রেই তাঁকে হাজির হতে হলো সিনেমার পর্দায়। এ জন্যই হয়তো কলেজের ইয়ারবুকের একটি ছবি প্রায় তিন বছর আগে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে বলেছিলেন, 'মহাবৈশ্বিক ষড়যন্ত্র'। ইয়ারবুকে অ্যাম্বিশনের ঘরে কিশোর মাধবন লিখেছিলেন, 'টু বিকাম আ রিচ অ্যান্ড ফেমাস অ্যাক্টর অ্যান্ড বি আ জ্যাক অব অল ট্রেডস অ্যান্ড মাস্টার অব সাম।' এখন পর্যন্ত ৫৭টি সিনেমায় অভিনয় করা আর মাধবন আসলেই 'জ্যাক অব অল ট্রেডস'। ইংরেজিসহ ভারতেরই অন্তত সাতটি আঞ্চলিক ভাষায় অভিনয় করেছেন। জয় করেছেন নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সুউচ্চ 'কুক' পর্বতচূড়া। সুবক্তা। শখের বশে করেন মোটরসাইকেল রেসিং। খেলেন গলফও। বলে রাখা ভালো, এমন বাবার ছেলেও কম যায়নি। মাধবনের ছেলে বেদান্ত ২০১৯ সালের বয়সভিত্তিক এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে জিতেছেন ব্রোঞ্জ পদক। সচ্ছল এক পরিবারে জন্ম রঙ্গনাথন মাধবনের। ১৯৭০ সালে বিহারের জামশেদপুরের (বর্তমান ঝাড়খন্ড) এক তামিলভাষী পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। বাবা ছিলেন টাটা স্টিলের ব্যবস্থাপনা নির্বাহী আর মা ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপক। ১৯৮৮ সালে মহারাষ্ট্রের কোলাহপুরে রাজারাম কলেজে পড়ার সময় ভারতের সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে যান কানাডার আলবার্টায়। ২২ বছর বয়সে মহারাষ্ট্রের সেরা সাতজন এনসিসি ক্যাডেটের একজন ছিলেন মাধবন। এর সুবাদে সুযোগ পান ব্রিটিশ আর্মি, রয়্যাল নেভি ও রয়্যাল এয়ারফোর্স থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার। দেশে ফিরে মুম্বাইয়ের কিষিনচান্দ চেল্লারাম কলেজে স্নাতকোত্তর করার সময় পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতায় হন ভারতসেরা। ১৯৯২ সালে জাপানের টোকিওতে হওয়া ইয়ং বিজনেসম্যান কনফারেন্সের ভারতের প্রতিনিধিত্বও করেন। মুম্বাইয়ে থাকার সময়ই নিজের পোর্টফোলিও জমা দেন একটি মডেলিং এজেন্সিতে। করপোরেট দুনিয়ায় সম্ভাবনাময়ী এক তরুণের রুপালি পর্দায় আসার প্রথম ধাপটি শুরু হলো তখন থেকেই। বেশ কিছু হিন্দি ভাষার বিজ্ঞাপন আর টিভি শোতে কাজ করেন শুরুতে। তবে বড় পর্দায় হাজির হন ইংরেজি ভাষার সিনেমা দিয়ে। আমেরিকান পরিচালক ফ্রেড ওলেন রে-এর অ্যাকশন ধাঁচের ছবি 'ইনফার্নো'-তে (১৯৯৭) অভিনয় করেন পুলিশ ইন্সপেক্টরের চরিত্রে। পরে তামিল ইন্ডাস্ট্রির বিখ্যাত পরিচালক মনি রত্নমের নজরে পড়েন। ২০০০ সালে মুক্তি পায় 'আলায় পায়ুথে'। এই ছবিতে মাধবন হাজির হন রোমান্টিক নায়ক হিসেবে। পরে করেন আরও দুটি রোমান্টিক ঘরানার ছবি 'মিন্নালে' আর 'মাদ্রাজ টকিজ'। ২০০১ সালে মুক্তি পায় মাধবনের প্রথম হিন্দি ভাষার সিনেমা 'রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে'। প্রথম দর্শনে প্রেমে পড়ার চল তখন বেশ জনপ্রিয়। আর ছবিটির 'থিম সং' এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে দীর্ঘদিন মুঠোফোনের রিংটোন হিসেবেও ব্যবহার হয়। গত ২০ অক্টোবর ছিল সিনেমাটি মুক্তির ১৯ বছর। হিন্দি সিনেমাতে আর মাধবন উজ্জ্বল হয়ে ধরা দিলেন 'রং দে বাসন্তী', 'তনু ওয়েডস মনু' কিংবা 'থ্রি ইডিয়টস' ছবিতে। ২০০০ থেকে ২০১৫। এই সময়ে মাধবনের অভিনয় করা বেশির ভাগ সিনেমাই রোমান্টিক অথবা কমেডি ঘরানার। কিন্তু দর্শক খোঁজেন বৈচিত্র্য। একই ধাঁচের অভিনয়ে দর্শক যখন তাঁকে 'চকলেট হিরো'র তালিকায় ফেললেন, তখনই চোখ খুলে যায় মাধবনের। 'মাস্টার অব সাম' হওয়ার যে কথা কলেজের ইয়ারবুকে লিখেছিলেন, তারই যাত্রা শুরু হলো 'বিক্রম বেদ' (২০১৭) দিয়ে। বিজয় সেথুপাতির সঙ্গে অ্যাকশন-থ্রিলার ধাঁচের এই সিনেমা যেন পঁয়তাল্লিশোর্ধ্ব মাধবনকে নতুন করে চেনাল। যাঁরা সিনেমাটি দেখেছেন, তাঁরা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন অন্য মাধবনের খবর। না দেখে থাকলে নতুন মাধবনকে চিনতে দেখে ফেলুন ছবিটি। আর নীরবে 'মাস্টার' অভিনেতা হতে চলা মাধবনের সবশেষ মুক্তি পাওয়া সিনেমা 'সাইলেন্স'ও দেখতে ভুলবেন না যেন। | 2 |
হাওড় এলাকায় পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে নতুন করে কোনো সড়ক নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে হাওড় এলাকায় যত সড়ক নির্মাণ করা হবে সবগুলোই হবে উড়াল সড়ক। সোমবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "পানি প্রবাহে যাতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য হাওড় এলাকায় আর কোনোভাবেই রাস্তাঘাট নির্মাণ করা যাবে না। এখন যে সড়কগুলো আছে, সেগুলো পরিদর্শন করে প্রতি আধা কিলোমিটার পর পর ব্রিজ নির্মাণ করা যায় কি না সেটা দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া হাওড় এলাকার রাস্তা এখন থেকে এলিভেটেড করতে হবে, যদি কিছু হয়। যাতে করে পানি চলাচলে বাঁধা না আসে।" তিনি আরও বলেন, "সিলেটের পানিটা মূলত অষ্টগ্রামের দিক দিয়ে নামে। মিঠামইন থেকে অষ্টগ্রাম পর্যন্ত যে রাস্তাটা করা হয়েছে, সেগুলোতে কোনো এফেক্ট হলো কি-না সেটাও দেখতে বলা হয়েছে।" মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "বছরে প্রায় ৫ হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয় ওই এলাকায়। কিন্তু ১ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উপর থেকে পানি চলে এসেছে। প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।" | 6 |
টানা তিন মাস করোনার নিম্নমুখী আচরণ অব্যাহত থাকার পর তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আবারও ঊর্ধ্বমুখী ভাইরাসটি। ডেলটার পাশাপাশি আছে নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাব। এ অবস্থায় করোনা নিয়ন্ত্রণে আবারও জোরালো সিদ্ধান্তের ঘোষণা এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে। তবে তাতে কান দিচ্ছে না সাধারণ মানুষ।করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একদিকে সরকারের পক্ষ থেকে নানা বিধি-নিষেধের ঘোষণা, অন্যদিকে সারা দেশে চলছে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও নির্বাচন, এমনকি বাণিজ্য মেলা, পিঠা উৎসব, স্মার্টফোন মেলা এবং পার্বত্য মেলার মতো আয়োজন। মানুষের ঢল নেমেছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয়ও। এসবের কোথাও নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীরের মতে, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাতে তৃতীয় কিংবা চতুর্থ ঢেউ বিষয় নয়, ফের গণসংক্রমণ বাড়ছে বলা যেতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এ জন্য মানুষের সচেতনতা দরকার। এটি না হলে করোনার মতো মহামারি মোকাবিলা অনেকটা অসম্ভব।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় গত ২১ সেপ্টেম্বর শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নামে। গত দুই দিনে তা আবারও কাছাকাছি থাকলেও এবার তা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে তৃতীয় ঢেউয়ে অনেকটা প্রবেশ করল বাংলাদেশ।করোনার ভয়াবহতা যখন উঁকি দিচ্ছে, তখন গত বছরের ন্যায় এবারও সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই ১ জানুয়ারিথেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। গতকাল ছুটির দিনে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, আগের দিনগুলোর তুলনায় বেড়েছে লোকসমাগম। মেলায় আসা অধিকাংশের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। মেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, 'স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জোর দিচ্ছি। প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। একটু পরপর মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। সবাই ভাবে মেলায় আসছে, চেহারাটা যদি একটু না দেখানো যায়, তাহলে এসে কী লাভ?'একই অবস্থা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত পিঠা উৎসবে। বারবার মাস্ক পরা-খোলার বিরক্তিতে অনেকে মাস্ক খুলেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পিঠা বিক্রেতাদের অনেককেই দেখা যায় মাস্ক খুলে কাজে ব্যস্ত থাকতে। শুধু এসব উৎসব নয়, গত তিন সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিজয় দিবস থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ নানা দিবস পালন করেছে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই। এতে অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ। আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমাবেশ। এ ছাড়া সারা দেশে চলছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। অপেক্ষায় আছে ঢাকার কাছের শহর নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচন। যেখানে প্রার্থী-কর্মী-সমর্থক কারোরই মাস্ক পরতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল-কেউ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়নি।অথচ এই সময় ধরেই লকডাউন ছাড়া নানা বিধিনিষেধ আরোপের একের পর এক ঘোষণা দিচ্ছে সরকার। সবশেষ স্কুল-কলেজ, শপিং মল, ট্রেন-লঞ্চে বাধ্যতামূলক টিকা সনদ দেখানোর বিধান চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। এমনকি কোনো অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ কতজন অংশ নিতে পারবে, তা-ও নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে।তবে সরকারের এসব সিদ্ধান্ত শুনতে যতটা আশার আলো দেখায়, ততটাই হতাশা তৈরি করে গত প্রায় দুই বছরে নেওয়া করোনার নানা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের চিত্রে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলছেন, 'এখনো ৬৮ শতাংশের বেশি মানুষ পূর্ণ ডোজের টিকা পায়নি। অথচ টিকা না নেওয়া থাকলে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পাশাপাশি লঞ্চ, ট্রেন ও বিমানে যাতায়াত করতে পারবে না বলা হচ্ছে। এতে দেশ পঙ্গু হয়ে যাবে। বরং আমাদের সংক্রমণের তীব্রতাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা দরকার।' তিনি বলেন, 'বিধিনিষেধগুলো দেওয়া ও বাস্তবায়নে মেলবন্ধন থাকা দরকার, সেটি না থাকায় ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এক পক্ষ দিচ্ছে, অন্য পক্ষ মানছে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকের মাস্ক কেনার সুযোগ ও সামর্থ্য হয় না। এসব মানুষকে বিনা মূল্যে মাস্ক দেওয়া যেত। কিন্তু শুধু নির্দেশনা দিয়েই আমরা দায়িত্ব শেষ করছি। ফলে এবারও কাজীর গরু কেতাবেই থাকবে, গোয়ালে আর আসবে না।'এদিকে ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দেশে ১০ জনের শরীরে নতুন এই ধরনটি পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজনের তালিকায় আরও ২৫ জন। ওমিক্রনের ব্যাপক বিস্তারের শঙ্কা বাড়াচ্ছে সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোর করোনা পরিস্থিতি। গত এক দিনে দেশটিতে নতুন লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।দেশে সংক্রমণ বাড়ায় কাতারের ভ্রমণনীতির ব্যতিক্রমী লাল তালিকায় পড়েছে বাংলাদেশও। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশসহ ৯টি দেশকে এ তালিকায় রেখেছে। এর ফলে কাতারে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি যাত্রীদের অধিকতর কড়াকড়ির মুখে পড়তে হবে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, 'করোনা নিয়ন্ত্রণে যেভাবে নির্দেশনা আসছে, এভাবে পরিস্থিতি সামলানো যাবে না। এ জন্য দরকার পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন। আমাদের ভারতকেন্দ্রিক ঝুঁকি কমাতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তার খেসারত আমাদেরও দিতে হবে।'বিশ্বে করোনা রোগী ৩০ কোটি ছাড়াল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে এশিয়ার দেশ চীনে সর্বপ্রথম শনাক্ত হয়েছিল করোনা। এরপর গত দুই বছরে এর শিকার হয়েছে ৩০ কোটির বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষের। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে ২৫ লাখ ১১ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে সাত হাজারের বেশি মানুষের।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার ১ হাজার ১৪৬ জনের দেহে করোনার উপস্থিতি মিলেছে। এদিন শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা গত ১৬ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। তবে গতকাল করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত নারী ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। | 6 |
নাটোরের বড়াইগ্রামের সরিষাহাটে বিএডিসির খনন করা খালে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে সেচ যন্ত্রের মাধ্যমেপানি সেচে মাছ শিকার করছেন প্রভাবশালীরা। এতে খালের সব পানি শুকিয়ে যাওয়ায় আবাদি জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। অপরদিকে, খালে মাছ ধরতে না দেওয়ায় স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। এ অবস্থায় বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে খাল খননের প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, উপজেলার সরিষাহাট সিঙ্গার বিলের মাঝখান দিয়ে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল রয়েছে। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) উদ্যোগে ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খালটি পুনরায় খনন করা হয়। এর আগে সপ্তাহ খানেক ধরে প্রথমে বাদাই ও বেড় জাল দিয়ে খালের রুইসহ বড় বড় মাছ ধরে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। বর্তমানে খালের পানি সেচে মা মাছসহ সব মাছ মেরে নিচ্ছেন তারা। এতে একদিকে যেমন পাড়ের নরম মাটি ভেঙে খালে পড়ছে। অপরদিকে, খালে পানি না থাকায় শুকনো মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়া প্রভাব খাটিয়ে কাউকে খালে মাছ ধরতে দিচ্ছে না চক্রটি। এতে বিশেষ করে মৎস্যজীবীরা তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন। এ ব্যাপারে সরিষাহাট গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিলে পাঁচ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। বর্তমানে শুকনো মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানি তেমন উঠছে না। তাই খালের পানিই ছিল জমিতে সেচ দেওয়ার একমাত্র ভরসা। কিন্তু ২-৩ জন অর্থলোভী ব্যক্তি গায়ের জোরে খালের সব পানি সেচে ফেলে দেওয়ায় আবাদ করা নিয়েই চরম বিপাকে পড়েছি। অপর কৃষক আতাহার আলী জানান, খালে মৎস্যজীবী তো দূরের কথা, গ্রামের সাধারণ লোক বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে আসলেও এরা তাড়িয়ে দেয়। যদি এভাবে মুষ্টিমেয় লোকজনই মাছ ধরে টাকা কামাবে, তাহলে খাল খনন করে সরকারি টাকা নষ্ট করার কি দরকার ছিল! মৎস্যজীবী সাবের হোসেন বলেন, তারা মৎস্যজীবীও না, আবার খাল লিজও নেয়নি। অথচ দেদারছে মাছ মেরে খাচ্ছে। অথচ তাদের হুমকির কারণে আমরা খালে মাছ ধরতে না পেরে কষ্টে দিনযাপন করছি। খাল সেচে মাছ ধরার বিষয়ে অভিযুক্ত ঈমান আলীর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ৬ মাস যাবৎ আমরা খাল পাহারা দিয়ে রেখেছি। ডালপালা ফেলে মাছের আশ্রয়স্থল করেছি, এখনতো আমরা মাছ ধরবোই। তাছাড়া বর্তমানে খালে যে বড় আকারের দামি দামি মাছ আছে, সেগুলো কি অন্যদের ধরতে দেওয়া যায়, আপনারাই বলেন। তার সহযোগী হুজুর আলীর কাছে সরকারি খালে অন্যদের মাছ ধরতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা স্থানীয় একটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে খালের দায়িত্ব নিয়েছি। তবে সমিতির নাম তারা বলতে পারেননি। এ সময় তারা এ প্রতিবেদককে প্রয়োজন মতো মাছ নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়াম খাতুন জানান, আমি বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সেচ কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তারপরও যদি পুনরায় একই কাজ করে তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
দেশের মহকুমা শহরগুলো সব জেলায় উন্নীত হয়েছে। কিন্তু পটিয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঘটেছে ঠিক উল্টো। এককালের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ দক্ষিণ চট্টগ্রামের এ অঞ্চলটি ক্রমান্বয়ে গুরুত্ব হারিয়েছে। এরশাদ সরকারের আমলে মহকুমা থেকে উপজেলায় নেমে এসেছিল। পরবর্তী কালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে উপজেলা পদ্ধতি বাতিল করলে আরও এক ধাপ নেমে একটি থানায় পরিণত হয়েছিল পটিয়া। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তিত হওয়ায় এখন পটিয়া আবার উপজেলার পরিচয় পেয়েছে বটে, কিন্তু এখানকার মানুষের মন থেকে এই 'অমর্যাদা'র ক্ষোভ ও গ্লানি দূর হয়নি। পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এখানকার মানুষের এই গভীর হতাশার কথা জানা গেল। একসময় জেলা বাস্তবায়নের দাবিতে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। এখন সাধারণ মানুষও যেন বুঝে গেছে এটা আর হওয়ার নয়। তাই নির্বাচন সামনে রেখেও এই দাবি আর জোরালো হয়ে উঠছে না। আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা যে এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেই মুখও তাঁদের নেই। কারণ, অতীতে নানা সময়ে এরশাদ, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা প্রকাশ্য জনসভায় পটিয়াকে জেলা ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কেউ কথা রাখেননি। তবে শীর্ষ নেতাদের ওপর যতটা না ক্ষোভ, তার চেয়েও মানুষের বেশি আক্ষেপ, পটিয়ায় কখনো নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে প্রভাব রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতা গড়ে ওঠেনি। এই নেতৃত্বশূন্যতাই পটিয়ার বঞ্চনার কারণ। অবশ্য বঞ্চনার বোধ থাকলেও নির্বাচনী উত্তাপ যে সঞ্চারিত হয়েছে মানুষের মনে, তা টের পাওয়া গেল থানার মোড় এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় বসে। নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে প্রবীণ একজন ভদ্রলোকের সঙ্গে এক তরুণের বাহাসে রীতিমতো বিতর্ক প্রতিযোগিতার আসর হয়ে উঠল যেন রেস্তোরাঁটি। শ্বেত শ্মশ্রুমণ্ডিত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আবদুল মতিন (৭০) বললেন, 'গত দুই টার্মে শামসুল হক (আওয়ামী লীগের প্রার্থী) যত কাজ করেছেন, আগের ২০ বছরেও তা হয়নি। এবার কনফার্ম নৌকা জিতবে।' কাউন্টারে বসা সাখাওয়াত হোসেন (২৩) বললেন, 'উন্নয়ন কী হয়েছে থানার মোড় এলাকাটি দেখলেই তো বোঝা যায়। এক বছর ধরে রাস্তা আর নালা মেরামত চলছে। হাঁটাচলার উপায় নেই, ধুলা উড়ছে সারা দিন, নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়।' নিজের মত প্রকাশের পাশাপাশি এবার আমাদেরও সাক্ষী মানলেন সাখাওয়াত, 'আপনারা নিজের চোখে কী দেখলেন?' স্বীকার করতেই হলো অবস্থাটা সত্যি খুব খারাপ। এবার জনপ্রতিনিধির পক্ষ নিয়েই যেন জবাবদিহি করলেন আবদুল মতিন, 'এখানকার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মামলার কারণে এই রাস্তার কাজটা সময়মতো শেষ করা যায়নি। তবে গ্রামের ভেতর যান, দেখবেন যেখানে হেঁটে যাওয়ার উপায় ছিল না, সেখানে এখন পাকা রাস্তায় গাড়ি চলছে।' এবার তরুণের উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন করলেন মতিন সাহেব, 'বিএনপির আমলের মতো এখন চুরি-ছিনতাই-চাঁদাবাজি এসব আছে?' সাখাওয়াত স্বীকার করলেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কিন্তু সেখানেও একটা প্রশ্ন আছে তাঁর, 'চুরি-ছিনতাই-চাঁদাবাজি নেই, তবু লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কেন?' বুঝলাম এ বিতর্ক সহজে শেষ হওয়ার নয়। গ্রেপ্তার প্রসঙ্গটা যখন এলই, একবার পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে আলাপ করা দরকার ভেবে রওনা দিলাম থানা ভবনের দিকে। মাত্র এক দিন আগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পটিয়ায় বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক অভিযোগ করেছেন, তাঁর কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, থানায় অভিযোগ করা সত্ত্বেও এর বিহিত করছে না পুলিশ। থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নেয়ামতউল্লাহর কাছে জানতে চাইলাম বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কে। তিনি তাঁর কক্ষের সিসিটিভির মনিটর দেখিয়ে বললেন, 'এই দেখেন, থানার প্রবেশপথ থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকা এই মনিটরে দেখা যায়। আপনি গত তিন মাসের ফুটেজ দেখেন। যেকোনো দিন-তারিখের ফুটেজ দেখেন। যদি দেখাতে পারেন যে এনামুল হক সাহেব বা তাঁর দলের কোনো নেতা-কর্মী থানায় অভিযোগ করতে এসেছিলেন, তাহলে আমি চাকরি ছেড়ে চলে যাব।' বুঝলাম উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন তরুণ পুলিশ কর্মকর্তা। বললাম, 'ধরে নিলাম এনাম সাহেব অভিযোগ করতে আসেননি। কিন্তু ধরপাকড় যে চলছে এটা তো ঠিক?' 'হ্যাঁ। ওনার বাড়ি থেকে ভোর পৌনে চারটায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সরদার কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন এনাম সাহেব অস্বীকার করুক কুদ্দুস ডাকাত দলের সরদার নয়, বলুক কুদ্দুস তাঁর দলের কর্মী। বলতে পারবেন?' এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই বলে বেরিয়ে এলাম থানা ভবন থেকে। রওনা দিলাম কমল মুন্সীর হাটের দিকে। পথে চোখে পড়ল সুপরিসর একটি বাস টার্মিনাল। কিন্তু পথে পথে এলোপাতাড়ি রাখা হয়েছে বাস, সে তুলনায় বাস টার্মিনাল প্রায় ফাঁকা। এই মুহূর্তে পরিবহন সমস্যা পটিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে উল্লেখ করলেন সুমন দাশ (৩৮) নামের একজন ব্যবসায়ী। তাঁর মতে, শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটারের দূরত্ব হলেও দুবার গাড়ি বদলাতে হয়, সরাসরি যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন নেই। দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতুর এপার পর্যন্ত গণপরিবহনের চলাচল। সংখ্যাও অপ্রতুল। এখানকার বাস মালিক সমিতির কারণে অনেক চেষ্টা করেও সরাসরি গণপরিবহন চালু করা যায়নি। বাস মালিক সমিতির নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন আছেন বলেই সাধারণ যাত্রীরা তাঁদের কাছে জিম্মি বলে মন্তব্য করলেন সুমন। কমল মুন্সীর হাটে গিয়ে মাত্র ৫০ গজের ব্যবধানে নৌকা ও ধানের শীষ প্রার্থীর দুটি নির্বাচনী ক্যাম্প দেখা গেল। কিন্তু নৌকার ক্যাম্পটি সাজানো-গোছানো, ধানের শীষের ক্যাম্পটি ভাঙা। এ ক্যাম্পটি কারা ভাঙল, জানতে চাইলে ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের মালিক মফিজুর রহমান (৫৫) বললেন, 'গভীর রাতে কে বা কারা এসে ভেঙে দিয়েছে, আমরা জানি না। আপনারা বুঝে নেন।' বুঝে নিয়ে আমরা আবার রওনা দিলাম পটিয়া রেলস্টেশনের দিকে। সেখানে যাত্রীর জন্য অপেক্ষমাণ বেশ কয়েকজন অটোরিকশাচালকের সঙ্গে আলাপ হলো। চালকদের একজন আজিজুর রহমান (৩৫) বললেন, 'পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ। এই দ্যাখেন দুইজনের ব্যানার পাশাপাশি ঝুলছে।' রেলস্টেশনে ঢোকার মুখে পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর দুটি ব্যানার দেখা গেল। এই দুজনের মধ্যে কে জিতবেন-জানতে চাইলে আজিজুর রহমান উত্তর দিতে নারাজ। বেলায়েত হোসেন (৫৪) নামের একজন চালককে তুলনামূলক বুদ্ধিমান মনে হলো। তিনি বললেন, 'আমাদের বর্তমান এমপি (আওয়ামী লীগ প্রার্থী) বিপদে-আপদে পাশে থাকেন। আবার এনাম সাহেব (বিএনপির প্রার্থী) দলের জন্য অনেক খেটেছেন, মাঠে পড়ে আছেন অনেক দিন ধরে। দুজনই ভালো। তবে ধানের শীষ জিতবে বলে মনে হয়।' রেলস্টেশনের পাশেই চায়ের দোকান নজরুল ইসলামের (৪৫)। তিনি বললেন, 'নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আছে। মারামারি-কাটাকাটি নেই। ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এম এ মতিনের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর ভোট ভাগাভাগি হবে। নৌকা জিতে যাবে।' থানার মোড়েই দেখা হয়ে গেল দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শামসুল আলম মাস্টারের সঙ্গে। তাঁর গাড়িতে নৌকা প্রতীকের পোস্টার দেখে বিস্মিত হয়ে জানতে চাইলাম, 'এ আসনে আপনাদের প্রার্থী আছে, আপনি লাঙ্গল বাদ দিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন?' শামসুল আলম বললেন, 'এখানে আমরা মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে। নুরুচ্ছাফা তালুকদারকে (লাঙ্গল) এখানে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের এ কথা জানিয়ে দিয়েছি।' শহরে ফেরার সময় পথে পথে দেখা গেল বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে মাইকিং চলছে। নির্বাচনী ক্যাম্পগুলোও জমজমাট। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। যে কেউ একজন বিজয়ী হবেন। কিন্তু একজন বড় মাপের নেতার জন্য এলাকাবাসীর আক্ষেপটা বোধ হয় থেকেই গেল। পটিয়া কি ফিরে পাবে তার হৃত গৌরব? বিশ্বজিৎ চৌধুরী প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক, কবি ও সাহিত্যিক [] | 8 |
মির্জাপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণের কার্ডে নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে দুস্থদের মধ্যে সরকারি চাল বিতরণ করেছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। শুধু তা-ই নয়, নিজের তৈরি করা ওই কার্ডে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ব্যবহার করে গ্রাম আদালতের সিল তৈরি করে তা ব্যবহার করেন তিনি। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।টাঙ্গাইল জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক ও উপজেলার বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকার সারা দেশে দুস্থদের মধ্যে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়েছে। উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৮ হাজার ২৮২টি গরিব পরিবার ১০ কেজি করে চাল পাচ্ছে। এর মধ্যে বানাইল ইউনিয়নে ১ হাজার ১২৮ জন ১০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন।এদিকে সরকার থেকে দেওয়া ভিজিএফের চাল বানাইল ইউনিয়নের বিতরণের জন্য কার্ড তৈরি করেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকী। এতে নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, কার্ডের ওপর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক-সংবলিত গ্রাম আদালতের সিলও ব্যবহার করেন তিনি।এ বিষয়ে বানাইল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি মাজম আলী বলেন, সরকারের দেওয়া উপহারে চেয়ারম্যান কেন তাঁর ছবি ব্যবহার করবেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল বলেন, বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যে কাজটি করেছেন, তা বেআইনি। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।তবে বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকী বলেন, কেউ যেন জালিয়াতি করে চাল নিতে না পারে সে সে জন্যই তাঁর নাম ও ছবি দিয়ে টোকেন তৈরি করা হয়েছে। কার্ডে দাঁড়িপাল্লা-সংবলিত প্রতীক দিয়ে তৈরি সিল ব্যবহার করা হয়েছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি গ্রাম আদালতের সিল।মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, 'বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গণি বলেন, ভিজিএফের চাল বিতরণের কার্ডে চেয়ারম্যানের ছবি ব্যবহার করার সুযোগ নেই। গ্রাম আদালতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের নির্ধারিত কোনো লোগো নেই। | 6 |
যৌন হয়রানী এবং ধর্ষণের অভিযোগে লন্ডনের কেমডেনে নাজমুল আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে ১৬ বছরের করাদণ্ড দিয়েছে উডগ্রীন ক্রাউন কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাসেল স্কোয়ার থেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে ২০ বছর বয়সী এক নারীকে যৌন হয়রানী করেন নাজমুল। এছাড়া ২০১৯ সালে ২ মার্চ এবং ২৭ মার্চ টটেনহ্যাম কোর্ট রোড এবং শরডিচ থেকে পৃথকভাবে আরো দু'জন নারীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যৌন হয়রানী এবং মোবাইল ও অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগে নাজমুলকে এই সাজা প্রদান করা হয়েছে। তাকে সারা জীবন যৌন অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 4 |
করোনা প্রতিরোধী টিকা বিক্রি কেলেঙ্কারিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেউ জড়িত কিনা তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা এ বি এম খুরশীদ আলম। রবিবার (২২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি। এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের জানান, টিকার জট খুলতে কেন্দ্র গুলোতে বুথ বাড়ানো এবং প্রয়োজনে সাবসেন্টার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, টিকা চুরি করার বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। টিকা বিক্রির ব্যাপারে তদন্ত চলছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার 'দরিদ্র পরিবার সেবা' নামে একটি ক্লিনিকে অবৈধভাবে করোনাভাইরাসের মডার্নার টিকা দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিজয়কৃষ্ণ তালুকদারকে (৩৭) আটক করে পুলিশ। এ সময় ক্লিনিকটি থেকে মডার্নার টিকার দুটি এম্পুল পাওয়া যায়। যার একটির মধ্যে টিকার আইসিক ছিল। এছাড়া মডার্নার টিকার খালি বক্স পাওয়া যায় ২২টি। সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা শুধু সংবাদমাধ্যম সূত্রে রাজধানীর একটি ক্লিনিকে টিকা বিক্রির খবর শুনেছি। এরকমভাবে আরও কতগুলো ক্লিনিক চুরি করে টিকা বিক্রি করছে সে খবর আমাদের জানা নেই। জেলা পর্যায়ে সেই সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে। এদিকে, নিয়মবহির্ভূত টিকা নেওয়াদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, টিকা একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও নির্দিষ্ট নিয়মে পরিবহন করতে হয়। এর ব্যত্যয় হলে টিকা এর কার্যকারিতা হারাতে পারে। আর এসব সুবিধা সব জায়গায় না থাকায় চুরি করেও যদি টিকা বিক্রি করা হয়, সেটা কোনো কাজে লাগবে না। বরং এর মাধ্যমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে। | 6 |
''মানবাধিকার লংঘনের ব্যাপারগুলো স্বীকার করতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাগুলো এতই গুরুতর যে, নিরাপত্তার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়া বিদেশিদের সাথেও তারা ভালো আচরণ করে না। কারাগার কিংবা ডিটেনশন সেন্টারে আটক বিদেশিদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যদিও এ কর্মের জন্যে ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না। দৈনিক মাত্র এক ডলার করে প্রদান করা হয় কঠোর পরিশ্রমের জন্যে।'' এমন অভিযোগে মামলা হয়েছে ২০১৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তম একটি প্রাইভেট প্রিজন কোম্পানীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি গত সপ্তাহে ক্লাস-এ্যাকশন স্ট্যাটাসে পরিণত হয়েছে অর্থাৎ কমপক্ষে ৬০ হাজার অভিবাসী ওই মামলার অংশ হলেন। এরা সকলেই বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকালে ধরা পড়েছিলেন এবং ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বন্দীকেই বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ডিটেনশন সেন্টার অথবা কারাগারে রাখা হয়। আরও উল্লেখ্য, বন্দীদের জোরপূর্বক কাজে নিযুক্তির অভিযোগে এটাই প্রথম মামলা।
কলরাডোভিত্তিক অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'টুওয়ার্ডস জাস্টিস'র নির্বাহী পরিচালক নিনা ডিস্যালভো এ মামলার সাথে জড়িত। তিনি বলেন, ঘটনাটি সত্যি বিস্ময়কর। সরকার নিযুক্ত কন্ট্রাক্টররা অসহায় বন্দীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে, অথচ ন্যায্য পারিশ্রমিক দিচ্ছে না। এটি খুবই অন্যায় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাখে। শুধু তাই নয়, যারা শ্রম দিয়েছেন তারা ক্ষতিপূরণও পেতে পারেন। কলরাডো ফেডারেল কোর্টে দায়েরকৃত এ মামলায় প্রথমে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু জজ জন কেইন কর্তৃক সর্বশেষ এ রুলিংয়ের কারণে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ কয়েক শত গুণ বাড়বে। মূল মামলার আবেদনকারি একজন গ্রীণকার্ডধারী। এসাইলাম মঞ্জুর হবার আগে তাকে আটক রাখা হয়েছিল ওই ডিটেনশন সেন্টারে। তার সাথে ছিলেন আরও নয় জন। তারা অভিযোগ করেছেন, ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-আইস এজেন্টরা জোর করে তাদের দিয়ে কাজ করিয়েছে। কাজের বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক দেয়া হয়নি। কাজ করতে না চাইলে নানা ধরনের ভীতি প্রদর্শন করা হতো বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কলরাডোর অরোরা সিটিতে অবস্থিত ডেনভার কন্ট্রাক্ট ডিটেনশন ফ্যাসিলিটির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকালে ৬ জন নেওয়া হয় পুরো সেন্টার পরিস্কার করার জন্যে। আরেক গ্রুপ দিয়ে খাবার তৈরিসহ যাবতীয় কাজ করানো হয়। সারাদিন কাজের জন্যে মাত্র এক ডলার করে দেওয়া হয় বন্দীদের। এভাবে কলরাডো অঙ্গরাজ্যের শ্রম আইনও লংঘন করা হয়েছে। সে রাজ্যে ন্যূনতম মজুরি হচ্ছে ঘন্টায় ৯ ডলার করে।
এ মামলার রায় হলে কমপক্ষে ৩০ লাখ অভিবাসী ক্ষতিপূরণ পাবে বলে আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন। বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ | 3 |
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপকতা বাড়ায় সাধারণ ছুটি আরো ১১ দিন বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। সোমবার (৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে। আদেশে ৭-১৪ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ ছুটির সঙ্গে ৬ মে'র বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি এবং ১৫ ও ১৬ মে'র সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখা থেকে আরেকটি নির্দেশনা জারি হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রমজান উপলক্ষ্যে সামাজিক দূরত্ব মেনে ও স্যানিটাইজার নিশ্চিত করে শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখা হবে। তবে বিকেল ৫টার মধ্যেই বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শিল্প-কারখান, কৃষি, উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে। | 0 |
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, জনস্বাস্থের নিরাপত্তার স্বার্থে ঔষধের গুনগত মান বজায় রাখা ও মান নিয়ন্ত্রণে সরকার সবসময় সচেতন রয়েছে। নকল, ভেজাল নিম্মমানের ঔষধ বিক্রয়, আনরেজিস্টার্ড ঔষধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোরতা অবলম্বন করেছে। এই ধারাবাহিকতায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোবাইল কোর্টে ২ হাজার ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুন) জাতীয় সংসদে ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। জাহিদ মালেক বলেন, এ সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ৯১টি এবং ড্রাগ কোর্টে ২১টি মামলা দায়ের করা হয়। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ৪৬টি ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ১৭টি, হার্বাল ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৪টি, এ্যালোপ্যাথিক ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৫টি, ইউনানী ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৬টি, আয়ুর্বেদিক ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ১৪টি। এছাড়া ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মান-বহির্ভূত ও অন্যান্য অনিয়মের কারণে ১৩৬টি ঔষধের রেজিস্ট্রেশন সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। তিনি এছাড়াও ঔষধের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিদ্যমান ঔষধ আইনকে আরো যুগোপযোগী ও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে প্রস্তাবিত ঔষধ আইন-২০২১ অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি। | 6 |
অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের আলোচিতকোটিপতি পিয়ন ইয়াছিন মিয়াকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। ইয়াছিন মিয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দির আতুয়াকান্দির হাজী মোহন মিয়ার ছেলে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, গত ২৬ নভেম্বর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়ন ইয়াসিন মিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরই মাঝে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার তাদের অডিটে বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপের প্রমাণ পায়। এর প্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার ইয়াসিন নিখোঁজ হওয়ার একটি সাধারণ ডায়েরি করে। জানা যায়, ২০০৬ সালে ইয়াছিন সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পিয়ন পদে চাকরি পান। এরপর নানা সময়ে তাকে আশুগঞ্জ ও নাসিরনগর উপজেলায় বদলি করা হলেও ঘুরে ফিরে তিনি সদর উপজেলায়ই চাকরি করেন। ২০১৪ সাল থেকে নকল তল্লাশির কাজ এবং রেজিস্ট্রেশন ফিসহ চালানের টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য পাঠানো হতো তাকে। কিছুদিন আগে অফিসিয়াল অডিটে তার বিরুদ্ধে 'কোটি টাকার ঘাপলা' প্রকাশ পায়। এরপর গা ঢাকা দেন ইয়াছিন। অভিযোগ ওঠেছে, ব্যাংকের ভুয়া চালান তৈরি করে তিনি ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইয়াছিনের প্রথম স্ত্রী সাজেদা বেগমকে পৌর এলাকার ভাদুঘরে ৪ শতাংশ জায়গার উপর তৈরি করে দিয়েছেন ৩ তলা বাড়ি। যার মূল্য কোটি টাকার উপরে। মাস কয়েক আগে বড় ছেলেকে পাঠিয়েছেন ফ্রান্সে। ২৫ বছর পূর্বে প্রথম বিয়ে করে ইয়াছিন। এর ১০ বছর পর আকলিমা নামের এক বিধবা নারীকে কন্যা সন্তানসহ দ্বিতীয় বিয়ে করেন পিয়ন ইয়াছিন। ওই কন্যা সন্তান বড় হওয়ার পর ইতালি প্রবাসীর কাছে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই মেয়ের স্বামীর সাথে যৌথভাবে জেলা শহরের পাইকপাড়ায় ৬তলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ২য় স্ত্রী আকলিমাকে বিয়ে করার ৫ বছর পর প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন। পরে ওই নারীকে বিয়ে করেন ইয়াছিন। ইয়াসিন ছোট স্ত্রীকে নিয়ে শহরের মুন্সেফপাড়ায় নিজের কেনা ফ্লাটে বসবাস করতেন। ইয়াছিন নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি তার ছোট স্ত্রীরও নিখোঁজ ছিলেন। ইয়াছিনের পিতা হাজী মোহন মিয়া জানান, 'আমার চার ছেলে। কোন মেয়ে সন্তান নেই। এর মধ্যে ইয়াছিন সবার বড়। আমার সাথে তার তেমন কোন যোগাযোগ নেই। আমি অন্য ছেলের সাথে কলেজপাড়াতে বসবাস করি। আমার জানা মতে, সে তিনটি বিয়ে করেছে।' তবে এ বিষয়ে ইয়াছিন মিয়ার কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘাতকচক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। তিনি বলেন, আসুন, আমরা জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করি। তার ত্যাগ এবং তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ ধারণ করে সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রতিষ্ঠা করি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। জাতীয় শোক দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় শোক দিবসে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, 'জাতির পিতার দূরদর্শী, সাহসী এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু যখন পুরো জাতিকে নিয়ে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্র তাকে হত্যা করে। এ হত্যার মধ্য দিয়ে তারা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়।' ঘাতকদের উদ্দেশ্যই ছিল অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র '৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকেই হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। তারা ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথও বন্ধ করে দেয়।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল' জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে। বিদেশে দূতাবাসে চাকরি দেয়। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়। রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করে। পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকারও একই পথ অনুসরণ করে।' ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতির পিতার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, ১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, কৃষক নেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ, আব্দুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকেও ঘৃণ্য ঘাতকরা এ দিনে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলও নিহত হন। ঘাতকদের কামানের গোলার আঘাতে মোহাম্মদপুরে একটি পরিবারের বেশ কয়েকজনও হতাহত হন। | 6 |
করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্ক কোটা স্কলারশিপ প্রোগ্রামে পড়তে আসা ৩০০ পাকিস্তানি শিক্ষার্থী বাংলাদেশে আটকা পড়েছে। খবর ডনের। তাদের মধ্যে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী রিজা হামিদ ডনকে বলেন, 'আমি রাজশাহীতে ছাত্রাবাসে থাকতাম। ভারত, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা তাদের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ দেশ ফিরিয়ে নেওয়ার পর আমাকে ঢাকার একটি ছাত্রাবাসে স্থানান্তর করা হয়।' বেশিরভাগ পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থী জানান যে, সীমিত খাবার নিয়ে বাংলাদেশের 'লকডাউনের' মধ্যে আটকে পড়ায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। রিজা বলেন, 'গত কয়েক দিন ধরে আমরা এমনকি রুটি এবং জ্যাম বা বিস্কুট খেয়ে থাকছি।' একটি সূত্র ডনকে জানিয়েছে, পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর গণসংযোগ ও অভিযোগ শাখা বাংলাদেশি পররাষ্ট্র সচিবের কাছে বাংলাদেশে আটকা পড়া একজন পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর বাবার একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র আয়েশা ফারুকী বলেন,'বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তানি হাইকমিশন থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন পেলে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন।' | 3 |
শখ করে কমলা চাষ শুরু করেছিলেন স্কুলশিক্ষক আব্দুস সালাম ও ব্যাংকার আব্দুর রউফ। সেই শখের ফলই এনে দিয়েছে দুই ভাইয়ের সুদিন, দেখা মিলেছে সাফল্যের। এখন বাণিজ্যিকভাবেই কমলা চাষ করছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামের এই দুই বাসিন্দা। ২০১৫ সালের শেষ দিকে এক একর জমিতে ১০টি ম্যারিন্ডা জাতের কমলার চারা রোপণ করেন তারা। ২০২০ সালে প্রথম ফল আসে। সেবার প্রতিটি গাছে ৫০ কেজি করে কমলা ধরে। পরের বছরও ভালো ফলন আসে। তবে পরিচর্যায় ঘাটতিতে এ বছর ফলন কিছুটা কমেছে। কিন্তু বেড়েছে কমলার স্বাদ। বাগান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে রঙিন কমলা। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে আসছেন কমলার বাগান দেখতে। স্থানীয় কৃষকরাও বাগান দেখে বেশ উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষকরা এখান থেকে কমলার চারা নিয়ে যাচ্ছেন। বাগান দেখতে এসে কামরুন্নাহার নামে এক নারী বলেন, "গত বছর শুনেছিলাম এখানে বিশাল কমলার বাগান হয়েছে। গত বছর এলেও কমলা দেখা হয়নি। কারণ সব ফল পাড়া হয়েছিল। এবার সন্তানদের নিয়ে এসেছি গাছে থাকা কমলা দেখাতে। নিজের হাতে কমলা ছিঁড়ে খেয়েছে ওরা। স্বাদে কোনো কমতি নেই।" কৃষক লোকমান শিকদার বলেন, "এত সুন্দর বাগান দেখে মনটা ভরে গেছে। আমিও চেষ্টা করবো এমন একটি বাগান করার। এখান থেকে কমলার চারা নিয়ে যাব। উনাদের পরামর্শও নেবো।" এ বিষয়ে আব্দুস সালাম বলেন, "ইচ্ছা আছে এই অঞ্চলে ভালো জাতের কমলার চারা ছড়িয়ে দেবো। সেভাবেই কাজ করছি। পাশাপাশি আমাদের এখানে অনেক উন্নত জাতের ফল ও ফুলের চারা পাওয়া যায়। সেগুলো নিয়েও বড় কিছু করার ইচ্ছে আছে।" বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, "বিশ্বে ফল চাষে বাংলাদেশ এখন সেরাদের তালিকায়। এই অবস্থানকে আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ব্যাপক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বালিয়াকান্দির দুই ভাই কমলা চাষে সফল হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। আমরা সারাক্ষণই তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি।" | 6 |
ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকর মারা গেছেন। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। চার সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন লতা মঙ্গেশকর। সম্প্রতি অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। কিন্তু শনিবার আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। আজ রোববার সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। এই কিংবদন্তি গায়িকা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন বিভিন্ন বিষয়ে নিজের ভাবনা। সেই ভাবনাগুলো পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।মৃত্যু নিয়ে ভাবনাযখন মানুষ চলে যায় তখন একটা অদ্ভূত শূন্যতা ঘিরে ধরে। আমার এক খুব কাছের বন্ধু ছিল, কানাডায় থাকত। সে যখন মারা গেল, আমি খুবই ভেঙে পড়েছিলাম। চিকিৎসক অনেক আগেই আমাকে বলে দিয়েছেন আমি যেন কোনো মৃতদেহ দেখতে না যাই। আমার সব বন্ধুরাই একে একে চলে গেল, সোনালি দিনগুলো শেষ! বোন আশা ভোসলে প্রসঙ্গেআশা নিজের মতো গেয়েছিল বলেই আমার ছায়া হয়ে থাকেনি। আমাদের মধ্যে কখনও কোনো পেশাদারি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। ও গান করার ক্ষেত্রে আমার থেকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কায়দা তৈরি করেছে। ও যা করতে পারত, আমি তা করতে পারতাম না।পঁচাত্তরের বেশি সময় গানেআমি তো জীবনে আর কিছু নিয়ে সময় কাটাইনি। আমার মনে হয়েছে আমার জীবনধারণ গান গাইবার জন্য, তাই গেয়ে গেছি। গান গাওয়া এমন আনন্দের ঝরণা, যে কখনও বিরক্তি দেয়নি। গান ছাড়া জীবনে তো কিছু শিখিওনি। বছরের তিনশ পঁয়ষট্টি দিনের চব্বিশ ঘণ্টা এটা নিয়েই বুঁদ হয়ে থাকি। সারাক্ষণ ভাবি, কী করে আরও ভালো গাইতে পারি। ভরা পেটে রেকর্ডিং নয়যে দিন রেকর্ডিং থাকে আমি তো সে দিন কিছু খাই না। ভরপেটে রেকর্ডিং হয় নাকি! শুধু চা খাই।গলার ফ্রেশনেসগলার সজীবতা থাকতেই হবে। সবসময় থাকতে হবে। আমার জীবনে এমন হয়েছে যে, টানা রেকর্ডিংয়ের শিডিউল। অথচ হঠাৎ করে আমার সাইনাসের প্রবলেম। আমি দ্রুত বলেছি, সব ক্যানসেল করছি। প্লিজ কিছু মনে করবেন না। আপনারা অন্য কাউকে দিয়ে প্লেব্যাক করিয়ে নিন। তারা অবাক হয়ে বলেছে, আপনার তো সাইনাস প্রবলেম। তার জন্য সব ক্যানসেল করছেন? আমি অনড় থেকেছি, কোয়ালিটির সঙ্গে কখনও কম্প্রোমাইজ করতে চাইনি। সাইনাসের সামান্য সমস্যাও গলাকে আক্রান্ত করতে পারে। ওই তাজা ভাবটাই তখন থাকবে না। সেই ঝুঁকি আমি নেব না। ঈশ্বর জানেন, কোনওদিন নিইনি।নারীদের সম্মানআসলে কর্মজীবী নারীদের সম্মান ও মর্যাদা দিতে হবে, একটু জায়গা দিতে হবে। যদি সেটা কেউ না দেয়, তাঁদের উচিত শিক্ষা দেওয়া উচিত।অনুষ্ঠানে যাননি অনেক বছরবহু বছর আগে আমি একবার রাজ কাপুরের জন্মদিনে গিয়েছিলাম। আর কোনও ফাংশনে যাইনি। আমি বলেই দিই যে, অত ভিড়ে আমি কমফর্টেবল ফিল করি না। আমাকে ডেকে কী লাভ? আমি স্রেফ এক কোণে গিয়ে মুখ গুঁজে বসে থাকব। সেটা আনন্দ অনুষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিতও নয়। ওরা তখন বোঝে।লতার গানে সেরালিপ ভালো দিয়েছে এ রকম অনেকেই আছে। তবে সেরা তিনজন বললে- মীনা কুমারী, নূতন আর মাধুরী। নার্গিস খুব ভালো ছিল। মধুবালা, ওয়াহিদা, রেখা, কাজল, রানি। কিন্তু আমি যে তিনজনের কথা বললাম, এরা প্রত্যেকেই নিজেরা ভালো গাইত বলে অ্যাডভান্টেজ ছিল।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্থান টাইমস, সংবাদ প্রতিদিনলতা মঙ্গেশকরসম্পর্কিত আরও পড়ুন:জানা অজানা'লতাজি ডেকেছেন, সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাই'লতা মঙ্গেশকরের অন্তিম যাত্রায় ভক্তের ঢলআমার নয়ন দুটি শুধুই তোমারে চাহেহেমা থেকে লতা হওয়ার গল্পলতা মঙ্গেশকরের শেষ গান ছিল যেটিকিংবদন্তি গায়িকা লতা মঙ্গেশকরচলে গেলেনলতা মঙ্গেশকরের বিদায়ে কোহলিদের শোকলতা মঙ্গেশকরের অবস্থা আশঙ্কাজনককরোনার পাশাপাশি নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত লতা মঙ্গেশকরকরোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে লতা মঙ্গেশকর | 2 |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় দেখিয়ে দিয়েছে, যে কোনও কিছুই ঘটতে পারে। কাজেই আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যদি 'দ্যা রক' খ্যাত ডোয়েন জনসনকে লড়তে দেখা যায় তাহলে নিশ্চয়ই অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আর এমনটা কেউ নন, জানাচ্ছেন স্বয়ং ডোয়েন জনসন নিজেই। ডোয়েন জনসনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কোন দিন সুযোগ আসে তাহলে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়বেন কিনা। এর জবাবেই 'দ্য রক' বলেন, ''যদি সুযোগ মেলে, তাহলে আমি অবশ্যই লড়বো। সাধারণ মানুষের সেবা করার এই সুযোগটা ছাড়া উচিত হবে না। তাছাড়া যে কোনও কিছু যে ঘটা সম্ভব, সেটা তো আমেরিকার মানুষ এবার দেখতেই পেলেন!''
যদিও প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে কোন দিনই সরাসরি যুক্ত ছিলেন না ডোয়েন। তবে বিভিন্ন পলিটিক্যাল ইভেন্টে যোগ দিয়েছেন এর আগে। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তৃতা করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
বিডি-প্রতিদিন/১৬ নভেম্বর, ২০১৬/তাফসীর-৬ | 2 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (নাসিক) আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সাংসদ শামীম ওসমানের উদ্দেশে বলেছেন, 'তাঁর সমর্থন খুব কি জরুরি এই নির্বাচনে। তিনি একজন সাংসদ। ইচ্ছা করলেও তিনি আসতে পারবেন না। আমরা নির্বাচনের মধ্যেই থাকি।'গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন আইভী। এ সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।তৈমূর আলম খন্দকারের অব্যাহতি প্রসঙ্গে আইভী বলেন, 'এটা একটা দলের কৌশল হতে পারে। এ নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। এটা তাদের দলীয় কৌশল। আমি মাঠে লড়ছি তাঁর সঙ্গে, তিনি আমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী,আরও আছে। আমি এভাবেই শেষ পর্যন্ত লড়ব।'আইভী আরও বলেন, 'স্থানীয় সরকারে কাজ করতে সব সময়ই চ্যালেঞ্জ থাকে। এখানে সব ধরনের চ্যালেঞ্জই আছে। এখানে আলাদাভাবে কিছু বলা যাবে না। যে কোনো কাজেই চ্যালেঞ্জ আছে।'মেয়র প্রার্থী বলেন, 'আওয়ামী লীগের মধ্যে কখনো বিভাজন ছিল না। তৃণমূল সব সময় একত্র ছিল। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু আওয়ামী লীগে কোনো বিভাজন নেই, আগেও ছিল না। আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক শেখ হাসিনার কর্মী। আমাদের মতবিরোধ থাকতে পারে কিন্তু দিনের শেষে সকলে শেখ হাসিনার কর্মী।' তিনি বলেন, 'কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।'এসময় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য সাদেকুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল হুদা বাবু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
কোভিডে ৬২ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কাজ হারিয়েছেন। পরে কেউ কেউ কাজ খুঁজে পেলেও বড় অংশই কাজ ফিরে পাননি। বেশি কাজ হারিয়েছেন সেবা খাতের মানুষেরা। জীবিকার প্রয়োজনে তাঁরা পেশা পাল্টে সেবা থেকে কৃষি খাতের কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। যদিও তাঁদের অন্তত ৯০ শতাংশই আত্মনিয়োজিত, পরিবারকে সাহায্য এবং দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজে যুক্ত হয়েছেন। 'কোভিডকালে আয় ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি: কীভাবে মানুষগুলো টিকে আছে' শীর্ষক খানা জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংলাপে এ তথ্য উঠে আসে। ২ হাজার ৬০০ খানার ওপর গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জরিপটি করা হয়। সংগত কারণেই কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কার কোনো চিত্র উঠে আসেনি এতে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশ যৌথভাবে জরিপটি করেছে। আর্থিক সহায়তায় ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জরিপের ফলাফলের ওপর আজ বুধবার অনলাইনে সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ। সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। জরিপের ফলাফলের তথ্য উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, কোভিডের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ৭৮ শতাংশই মানুষ কম খরচ করেছেন। অন্তত ৫ শতাংশকে সম্পদ বেচে চলতে হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করা হয় প্রবন্ধে। বলা হয়, সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ কাজ পান। আবার এমন প্রণোদনা প্যাকেজ রাখতে হবে, যাতে রেয়াতি সুদে ঋণ নিতে পারেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তারা। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান প্রশ্ন তোলেন, সরকার কি এ ধরনের জরিপের ফলাফল শুনছে? নাকি নিজেদের মতো করেই বা নিজেরা যা ভাবছে, সেভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে? সিপিডির আরেক বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, 'কোভিডের কারণে মানুষ খাওয়া কমিয়েছে। নব্য গরিব হয়েছেন অনেকে। বৈষম্য বাড়ছে। কোভিডের অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। অথচ আমরা প্রবৃদ্ধি-আসক্তিতে ভুগছি। তথ্য-উপাত্তই যেখানে নেই, সেখানে প্রবৃদ্ধি খুঁজতে যাওয়া মানে অন্ধকারে কালো বিড়াল খোঁজা।' আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) শ্রম খাতবিষয়ক সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, 'আমরা অতিমাত্রায় প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি। সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম হয়েছি কি না। অথচ প্রবৃদ্ধির ফল মুষ্টিমেয় লোক ভোগ করছে।' রিজওয়ানুল ইসলামের প্রশ্ন, 'প্রবৃদ্ধি অবশ্যই চাই। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি কি অন্তর্ভুক্তিমূলক? এ দিয়ে বেকারত্বের হার কতটা কমাতে পেরেছি? দারিদ্র্যের হার কতটা নামিয়ে আনতে পেরেছি? বৈষম্য কমাতে কী করেছি?' | 0 |
মাদারীপুরের কালকিনিতে ইউপি সদস্যের বাড়িতে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কালকিনি উপজেলার সিডিখান ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মান্নান মোল্লার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসফাত ইসতিয়াক রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ইউপি সদস্য মন্নান মোল্লার বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে বসে হাতবোমা তৈরি করছিলেন কয়েক যুবক। রাত ১টার দিকে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা ছয়জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত দুজন হলেন সিডিখান ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা গ্রামের ৩৮ বছর বয়সী ইয়ামিন ব্যাপারী ও দক্ষিণকান্দি গ্রামের ২৬ বছর বয়সী সুমন শিকদার।ওসি আরও জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য হাতবোমা তৈরি করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিস্ফোরণ আইনে মামলা করা হবে। এর আগেও এ ইউনিয়নে অন্তত চারবার বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মন্নান মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে সিডিখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. চাঁন মিয়া শিকদার বলেন, আগামী ১১ নভেম্বরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে একশ্রেণির প্রভাবশালীরা এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টির জন্য বোমা তৈরি ও বোমা বিস্ফোরণ করছে। এর ফলে আগামীর নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হবে। | 6 |
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সাধারণ নির্বাচনে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পাঁচ বার ব্যালট পেপার গণনা করে ১ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে পরাজিত তালা মার্কা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সবুর পিন্টু ভোটের ফলাফল স্থগিত ও পুনর্গণনা করার জন্য উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিলকপুর ইউনিয়নের তিলকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।এক ভোটে বিজয়ী ওই প্রার্থীর নাম (ফুটবল প্রতীক) মারুফ হাসান রনি। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ১২৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তালা মার্কায় আব্দুস সবুর পিন্টু পেয়েছেন ১ হাজার ১২৭ ভোট। ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঁচবার গণনার পরে এক ভোটে বিজয়ী হয়েছেন ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হাসান রনি। তিনি নিজেই আজ দুপুর সোয়া ১২টায় আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মারুফ হাসান বলেন, আমি ভোট গণনার সময় ভোট কেন্দ্রের ভেতরে উপস্থিত ছিলাম। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী তালা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সবুর পিন্টুর এজেন্টও ভোট গণনার সময় আমার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।প্রথমবার ব্যালট পেপার গণনায় তালা প্রতীক পাঁচ ভোট বেশি পায়। পরাজিত প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয়বার গণনা করা হয়। তখন তিন ভোট বেশি পায় তালা প্রতীক। পরাজিতের আবার আপত্তিতে তৃতীয়বার গুণলে উভয় প্রতীকের ভোট সমান হয়। এরপর চতুর্থ ও পঞ্চমবার এক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয় ফুটবল প্রতীক।পরাজিত প্রার্থী আব্দুস সবুর তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিন বিকেল ৫টায় পাঁচ নম্বর বুথের প্রিসাইডিং অফিসার ঘোষণা করেন যে, তালা মার্কা ১ হাজার ১৩৮ ভোট পেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে পুনর্গণনা করে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীকে বেআইনিভাবে যোগসাজশে মনগড়া ফল প্রকাশ করে তালা মার্কার প্রার্থীকে এক ভোটে পরাজিত করা হয়। ফলাফলটি স্থগিত করে ব্যালট পেপার পুনর্গণনা করার জন্য লিখিতভাবে আবেদন করেছেন তিনি। তালা প্রতীকের এজেন্ট শামসুজ্জামান বিদ্যুৎ অভিযোগ করে বলেন, চূড়ান্ত ভোট গণনার সময় মেম্বার পদপ্রার্থী আব্দুস সবুর পিন্টু তালা মার্কায় ১ হাজার ১৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। তখন প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল মার্কার প্রার্থী মারুফ হাসান রনি ১ হাজার ১২৮ ভোট পান। তখন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা করতে বলেন। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পুনরায় ভোট গণনার দাবি করেন। এতে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার বিজয়ী প্রার্থী তালা মার্কার ব্যালট পেপার পুনর্গণনা করেন। ওই সময় তালা মার্কা আবারও ১ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়। আবারও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আপত্তি করলে পরপর পাঁচবার গণনা করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সুকৌশলে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।এ অভিযোগের বিষয়ে তিলকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহিনুর রহমান বলেন, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে তালা মার্কার প্রার্থীর প্রথমবার ভোট গণনার সময় বেশি ভোট পান। এরপর দ্বিতীয়বার গণনার সময় ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী এক ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন। প্রথমবার ভোট গণনায় ভুল ছিল। ফলাফল শিটে দুই প্রার্থীর এজেন্টরা স্বাক্ষর করেছেন। এবং ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সূদীপ কুমার রায় বলেন, তিলকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যেহেতু ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, সেহেতু এখন আর ভোট গণনা করার সুযোগ নেই। তবে পরাজিত প্রার্থী চাইলে গেজেট প্রকাশের পর আদালতে ফল পুনর্গণনার জন্য মামলা করতে পারেন। | 6 |
এশিয়া কাপে ভারতীয় দলে ব্যাপক রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ শনিবার মুম্বইয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সদর দফতরে এশিয়া কাপের দল বেছে নেবেন জাতীয় নির্বাচকমণ্ডলী। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে বিরাট কোহির উপর থেকে ওয়ার্কলোড কমাতে এশিয়া কাপে বিরাটকে বিশ্রাম দিতে পারেন নির্বাচকরা। তার পরিবর্তে এশিয়া কাপে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন রোহিত শর্মা। ১৫-২৮ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসছে এশিয়া কাপের আসর। এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ খেলছে ভারত। ইংল্যান্ড সফরের আগে চোটের কারণে কাউন্টি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বিরাট। তার পর লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও পিঠের ব্যাথায় ভুগেছিলেন তিনি। চলতি বছরের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের কথা মাথায় রেখে ক্যাপ্টেন কোহলিকে বিশ্রাম দেয়ার পরামর্শ নিতে চলেছে এমএসকে প্রসাদ অ্যান্ড কোং। সুপ্রিম কোর্টের পর আবার নির্বাচক পদে ফিরেছেন গগন খোদা ও যতীন পারঞ্জেবে। অর্থাৎ পাঁচ নির্বাচকের কমিটি আবারো জাতীয় দল বেছে নিতে চলেছে। চোট সারিয়ে ভারতীয় দলে ফিরতে চলেছেন ডানহাতি পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। চোটের কারণে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি টেস্ট সিরিজ থেকে দূরে সরে দাঁড়ান ভুবি। তার সাথে এশিয়া কাপে ফেরা নিশ্চিত সুরেশ রায়না এবং অম্বাতি রায়ডুর। | 12 |
সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ সস্ত্রীক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী ড. সোহেলা আক্তার দুজনই মৃদু উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে নিজ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। তাদের শরীরে শারীরিক কোনো জটিলতা নেই। সম্প্রতি দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে আবারও বিধিনিষেধের পথে হেঁটেছে সরকার। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর জন্য সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 4 |
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান হাওলাদার। গত সোমবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেদুর রহমান খোকা শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক অনল কুমান দে স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটিপত্র বৃহস্পতিবার হাতে পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জেল হোসেন মোড়ল। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফজ্জল হোসেন মোড়ল জানান, কিছুক্ষণ আগেএকটি পত্র আমার হাতে পৌঁছেছে। ওই চিঠিতে ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বেপারীকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পৌরসভার মেয়র আব্দুল মান্নান হাওলাদারকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এ সময় সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দলীয় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের গোড়াপত্তন হয় ২৩ জুন ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। পরবর্তীকালে এর নাম ছিল নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। ১৯৫৫ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এর নাম 'আওয়ামী লীগ' করা হয়। ১৯৭০ সাল থেকে এর নির্বাচনী প্রতীক নৌকা। আওয়ামী লীগ ৭২ বছরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাফল্যের দীর্ঘ রেখা তৈরি করেছে। দলটির নেতৃত্বে ভাষা, স্বাধীনতা ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশের স্বীকৃতি অর্জন হয়েছে। | 6 |
গভীর রাতে রাস্তার ধারের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গা থেকে শিশুদের হাসির খিলখিল শব্দ শুনেই দৃষ্টি যায় সেদিকে। চোখে পড়ে একটি ভবনের কার্নিশের নিচে ফুটপাতে বসে ছোট ছোট তিন সন্তানের মুখে পরম মমতায় ভাত তুলে দিচ্ছেন মা। আর পাশেই শুয়ে আছে আরেক শিশু। সেই ভাত খেতে খেতেই নিজেদের মধ্যে খুনসুটিতে মেতেছে ওই শিশুরা। সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর লালমাটিয়ায় আড়ংয়ের বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে দেখা মেলে এমন দৃশ্যের। ফার্মগেট থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে মিরপুর রোডের দিকে এগুলেই চোখে পড়ে আড়ংয়ের বিক্রয়কেন্দ্র। সারা দিন সেখানে অনেক ধনীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সমাগম হলেও গভীর রাতে সেটি পুরোপুরি চলে যায় ছিন্নমূলদের দখলে। তবে ইট-পাথরের ওই ভবনের ভেতরে ঢোকার সৌভাগ্য হয় না তাদের। প্রবেশদ্বারের তালাবদ্ধ কেচি গেট পর্যন্তই তাদের সীমানা। মাথার ওপর সামান্য পরিমাণ ছাদ থাকায় প্রবেশপথের সামনের অংশে রাত কাটায় অনেকেই। সেখানেই ৪ সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন ওই মা। নাম নাজমা বেগম। বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায়। স্বামীর নাম দুলাল মিয়া। নাজমা জানান, বছর দুয়েক আগেও সন্তানদের নিয়ে গ্রামেই থাকতেন তারা। দিনমজুর স্বামীর সংসারে অভাব থাকলেও সুখেই কাটছিল তাদের দিন। বিয়ের পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় ডিপজল, মোতাহার ও শহিদুল নামে তিন ছেলে। কিন্তু এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বামী নাজমুল। নাজমা বলেন, এরইমধ্যে কোলজুড়ে আসে চতুর্থ সন্তান লামিয়া। একেতো স্বামীর চিকিৎসার খরচ, তার ওপর ৬ জনের সংসার। সব মিলিয়ে চোখে অন্ধকার দেখা শুরু করি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতে থাকে সবার। তিনি জানান, এসময় কোনো উপায় না পেয়ে ৪ সন্তান নিয়ে ঘর ছাড়েন তিনি। চলে আসেন ঢাকায়। তারপর থেকেই আড়ং সিগন্যালে ফুল-চকলেট বিক্রি আর ভিক্ষা করে দিন কাটছে তাদের। ১০ বছর বয়সী মোতাহার জানায়, তারা পালা করে ছোট বোন লামিয়ার খোঁজ রাখে। রাতে আড়ংয়ের সামনে থাকার জায়গা মিললেও দিনে সংসদ ভবনের সামনের সড়কের আইল্যান্ডের গাছের নিচে থাকতে হয় তাদের। মাঝেমধ্যে সড়ক দ্বীপে থাকা পানির ফোয়ারায় গোসল সারে তারা, কখনও কখনও পাবলিক টয়লেটে। তবে বেশিরভাগ সময়ই প্রাকৃতিক কাজ সারতে হয় রাস্তার পাশে। মোতাহার আরও জানায়, ঢাকায় থাকলে মায়ের হাতের রান্না খাওয়া হয় না তাদের। প্রতিবেলায় হোটেল থেকে কিনে ভাগ করে খায় তারা। ৮ বছর বয়সী শহিদুল জানায়, সারা দিনে সবাই মিলে ৪০০-৫০০ টাকায় আয় হয় তাদের। সেই টাকার বেশিরভাগই খাওয়ার পেছনে খরচ হয়, আর বাকিটা সঞ্চয়। ১ মাস পর পর বাবাকে দেখতে বাড়ি যায় তারা। আর ফেরার পথে বাবার হাতে গুজে দিয়ে আসে সারা মাসের চিকিৎসা ও খাওয়ার টাকা। এসময় সন্তানদের পড়াশুনার কথা জিজ্ঞাস করতেই উদভ্রান্তের মতো হেসে ওঠেন নাজমা। বলেন, 'ট্যাকার অভাবে রাস্তাত থাকি। এরপরও খাওনই জোগাড় হয় না, আবার লেহাপড়ার কথা কন!' | 4 |
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হেলায় হারিয়ে যে সিরিজ জেতা যাবে সেটা সবাই জানত। তবে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর রোহিত শর্মা বুঝিয়ে দিলেন যে তার অধিনায়ক থাকাকালীন সময়ে পরীক্ষা চলবে। ২০২৩ সালে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। তাই সেই মেগা ইভেন্টের আগে দল গুছিয়ে নিতে মরিয়া টিম ইন্ডিয়ার সীমিত ওভারের নতুন অধিনায়ক। সেই জন্যই হয়তো বুধবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রোহিতের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন ঋষভ পন্থ।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত | 12 |
গোপালগঞ্জের ২০ গির্জায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল থেকেই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকদের নিরাপত্তার জন্য গির্জাগুলোতো পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মুকসুদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে উদযাপনের সময় তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে বোমা হামলায় ১৯০ জন নিহত হয়। এরই জের ধরে মা দিবস, সেবিকা ও আহ্বান দিবস এবং আগামী ১৮ মে বুদ্ধপূর্ণিমাকে সামনে রেখে যে কোন প্রকার নাশকতা এড়াতেই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের গির্জাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উপজেলার বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জার ফাদার জেরম রিংকু গোমেজ জানান, এখানে রোববার সকাল থেকেই পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা দিচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে এদেশে নিরাপদে বসবাস করতে চাই। এটাই সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা। উপজেলার সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলমগীর হোসেন জানান, আমরা রেবাবার সকাল থেকেই গির্জাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছি। গির্জায় কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে কাজ করছি। মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, গোপালগঞ্জের জলিরপাড় ইউনিয়নের ২০টি গির্জায় আমরা ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। গির্জার ফাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। মা দিবস নিরাপদে কেটেছে। এখন সেবিকা ও আহ্বান দিবস এবং বুদ্ধপূর্ণিমাকে সামনে রখে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আশাকরি এখানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। | 6 |
হুট করে অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ার কারণে অভিমান করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে আর খেলতে চাইছিলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স শিবিরই ছেড়ে যাচ্ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রোববার দিনভর নাটকের পর মিরাজের সঙ্গে ২ ঘন্টা মিটিং করেছেন দলটির কর্তারা। পরে সিদ্ধান্তও পরিবর্তন করেন মিরাজ। বিপিএলের বাকি ম্যাচগুলো চট্টগ্রামের হয়েই খেলবেন তিনি। তবে অধিনায়কত্ব আর করবেন না। আজ চট্টগ্রামের হয়ে মাঠে নেমেছেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার। মিরাজ-চট্টগ্রামের ইস্যুতে বিব্রত বিসিবিও, এমন ঘটনায় দুই পক্ষেরই দোষ দেখছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। মিরাজের অপেশাদারি মনোভাব ভবিষ্যতে মেনে নিবে না বিসিবি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যান শেখ সোহেল বলেন, 'মিরাজেরও এখানে দোষ আছে, ম্যানেজমেন্টেরও দোষ আছে। দুই পক্ষই কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হয়। মিরাজও যে কাজটা করেছে এত বড় মাপের খেলোয়াড় হয়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড় হয়ে এই টুর্নামেন্টের ভেতরে তার এই ভূমিকাটা রাখা ঠিক ছিল না। তার অপেক্ষা করা উচিত ছিল। যেহেতু আমরা ডিসিপ্লিনারি কমিটি ছিলাম একটু অপেক্ষা করতে পারত। ফ্র্যাঞ্চাইজিরও এখানে সমস্যা আছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিকেও ছাড় দেব না। শুনানি হবে কিছুদিনের মধ্যে। দুই পক্ষকে নিয়ে আমরা শুনানি করব। এখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিরও ধৈর্য ধরা উচিত ছিল নিজেরা আলাপ করে দুই পক্ষই বোঝাপড়া করে একটা কিছু করতে পারত। এটা এত বড় পর্যায়ে যাওয়ার জিনিস ছিল না।' দিনভর নাটকের পর দলের সঙ্গেই থাকছেন মিরাজ একই কথা বলেছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকও, 'মিরাজ অধিনায়ক হিসেবে প্রতিটি ম্যাচের আগেই বলছিল ও ওপেন করতে চায়। প্রত্যেকটা ফ্র্যাঞ্চাইজিতো জেতার জন্য দল করে। তাদের একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। অবশ্যই এটা পেশাদার ভাবে হ্যান্ডেল করা উচিত ছিল। ও ওপেনিং কেন চাচ্ছে, ওর মতামত কি। কোচ কী বলে, সহকারী কোচ, কম্পিউটার অ্যানালিস্ট, বোলিং কোচ আছে, দলের ম্যানেজার আছে। সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারতো। কিন্তু জিনিসটা এভাবে হওয়াটা কোন ভাবেই কাম্য নয়।' সোমবার বিকেলে শেরে বাংলায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে শেখ সোহেল ও মল্লিক জানান, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন এবং বিপিএল কর্র্তপক্ষ পুরো ঘটনা জানতে মেহেদি হাসান মিরাজ ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসবেন। তাদের ডাকা হবে। দু'পক্ষের মতামত জানতে চাওয়া হবে। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মিরাজের পক্ষে-বিপক্ষে যত কথা ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানান, 'প্রত্যেককে রেসপন্সিবল অ্যাটিচুয়েড করতে হবে। যদি সেটা কেউ না করে ভবিষ্যতে সেটা খেলোয়াড় হোক আর ফ্র্যাঞ্চাইজি হোক আমরা তাকে বিপিএলে রাখবো না। এটাই আমরা করতে পারি। নয়তো আমরা কোন শাস্তি দিতে পারি। কিন্তু এটাতো কোন সলিউশন নয়। আপনাকে এটা দেখতে হবে বড় করে। টুর্মামেন্টের ইমেজের জন্য এটা কিন্তু হ্যাম্পার হয়। আমরা দুই গ্রুপকেই শুনানির জন্য ডেকেছি। দুইজনের কথাই শুনবো। কালকে কিন্তু আমরা বলাতেই দুই পক্ষ আলোচনা করে এটা সলভ করেছে।' দুইপক্ষকে ডেকে কারো গাফিলতি পাওয়া গেলে শাস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক। | 12 |
জামালপুরে আজাহার আলী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শফিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং আসামী সুমন মিয়া, জিন্নাহ ও আবু সামাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ছয়মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরদণ্ডিত করেছে আদালত। এছাড়াও অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি হালিমা বেগম ও হবিরন বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ এসএম জিল্লুর রহমান এ দন্ডাদেশ প্রদান করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী শফিকুল ইসলাম জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সুমন মিয়া হলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর ভাই, জিন্নাহ একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে ও আবু সামা একই গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে। খালাসপ্রাপ্ত হালিমা বেগম আসামী জিন্নাহ'র স্ত্রী ও হবিরন বেগম হলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর মাতা। মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের শাহজাহান আলীর ভাতিজা হাসান মাসুদ প্রতিবেশী সুমন মিয়াকে হিন্দি গানের একটি ক্যাসেট ধার দেন। ২০০২ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে হাসান মাসুদ ওই ক্যাসেটটি ফেরত আনতে সুমন মিয়ার বাড়িতে যান। এ সময় বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সুমন মিয়া ও তার লোকজন হাসান মাসুদকে মারধর করে। হাসান মাসুদ বাড়িতে গিয়ে ঘটনা খুলে বললে মামলার বাদী শাহাজাহান আলীর সহোদর ভাই আজাহার আলী ও পরিবারের লোকজন ঘটনা শুনতে সুমন মিয়াদের বাড়িতে গেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শফিকুল ইসলাম ও অন্যরা রামদা, কিরিচ ও গরু জবাই করার ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। এতে আজাহার আলী, তার বোন লেবুজা খাতুন ও স্বজনরা গুরুতর আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে আজাহার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ ঘটনায় পরদিন ২১ নভেম্বর মৃত আজাহার আলীর ভাই শাহজাহান আলী বাদী হয়ে শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ৩১ মার্চ ওই সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিরাজুল ইসলাম। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারী দন্ডবিধির ৩০২/৩২৪/৩৪ ধারায় ওই সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জ/অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। বিচারকার্য চলাকালীন আসামি জাহাঙ্গীর আলম রূপচান মৃত্যুবরণ করায় ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় দায় থেকে আদালত তাকে অব্যাহতি প্রদান করেছে। বিচারকালে প্রসিকিউশনপক্ষ ১২জন সাক্ষীকে পরীক্ষার জন্য আদালতের সম্মুখে উপস্থাপন করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার ওই রায় ঘোষণা করেন জামালপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ এসএম জিল্লুুর রহমান । রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম তারা এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট নওয়াব আলী। | 6 |
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু'পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অফিসগামী লোকজনসহ যাত্রীরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে। জানা যায়, চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত এবং ঢাকা আসার পথে লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে গজারিয়া পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তিশা পরিবহনের চালক সুরুজ মিয়া নয়া দিগন্তকে বলেন, যানজটের কারনে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে মেঘনা ব্রিজের টোলপ্লাজা পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে সাড়ে তিন ঘণ্টা। স্বাভাবিকভাবে যেখানে আসতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট। অন্যদিকে সোনারগাঁ থেকে ঢাকাগামী দোয়েল পরিবহনের যাত্রী মাজেদা আক্তার বলেন, ডাক্তার দেখানোর জন্য ঢাকা যেতে ২০ মিনিট হলো গাড়িতে উঠেছি। কিন্তু যানজটের কারণে বাস কাউন্টার থেকেই ছাড়তে পারেনি। নুরুল আমিন নামে ঢাকাগামী এক ব্যাংক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আজো অফিসে যাওয়ার জন্য যথাসময়ে বাসা থেকে বের হয়েছি। কিন্তু রাস্তায় এসে দেখি তীব্র যানজট। তাই বাস থেকে নেমে প্রায় ৩ কিলোমিটার হেঁটে এখন নারায়ণগঞ্জ হয়ে অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ব্রহ্মপুত্র নদীর নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে তাদের বাৎসরিক ধর্মীয় উৎসব পুণ্যস্নান করার জন্য আসতে থাকেন। তিন দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবে সারাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী অংশগ্রহণ করায় এবং তাদের নিয়ে আসা পরিবহনগুলো মহাসড়কে দাঁড় করিয়ে রাখায় শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু'পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। | 6 |
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১৯০ বোতল ফেন্সিডিল ও ১৫ কেজি গাঁজাসহ মো. নাসির উদ্দিন (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটকের পর গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র্যাব-১২। মঙ্গলবার রাত পৌনে দুইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২ এর একটি আভিযানিক দল তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের বরইচরা ভেংরী গ্রাম এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় রানীরহাট চারমাথা শাপলা হোটেল অ্যান্ড রেষ্টুরেন্ট এর সামানে থেকে নাসির উদ্দিনকে ১৯০ বোতল ফেন্সিডিল এবং ১৫ কেজি গাঁজাসহ আটক করে। আটক নাসির উদ্দিন নীলফামারী জেলার ডিমনা উপজেলার কলেজ পাড়া বাবুরহাট গ্রামের মৃত হায়দার আলী ছেলে। র্যাব জানায়, নাসির উদ্দিনের কাছ থেকে মাদক কেনাবেচার কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩ হাজার ৪৩০ টাকা জব্দ করা হয়। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তি বিরুদ্ধে তাড়াশ থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়েছে। তারপর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ইতালি এখন যেন মৃত্যুকূপ। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ প্রাণ হারিয়েছে। ইতালিতে ফ্রেবুয়ারির মাঝামাঝি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ২২ ফেব্রুয়ারি। প্রথম দু'সপ্তাহে দেশটিতে প্রাণ হারায় ২৩৩ জন। পরবর্তীতে পুরো দেশে ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। দেশটিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সবমিলিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭৪ হাজার ৩৮৬ জন। এর মধ্যে ৬ শতাংশ রোগী (অ্যাকটিভ কেস) ৩ হাজার ৪৮৯ জন মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। সুস্থ হওয়ার মতো অবস্থায় আছে ৫৪ হাজার ৩২ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ৯ হাজার ৩৬২ জন। করোনায় প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ৭ হাজার ৫০৩ জনের। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যা প্রায় ১০ শতাংশ। করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে এ হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। ইতালির চেয়ে চীনের জনসংখ্যা প্রায় ৩০ গুন বেশি। চীনে করোনায় আক্রান্ত রোগী ৮১ হাজার ২৮৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৩ হাহাজর ২৮৭ জন। করোনায় অন্য দেশগুলোর মধ্যে চীনের মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, স্পেনে প্রায় ৭ শতাংশ, জার্মানিতে শুন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর বিশ্বের ১৯৮টি দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর গড় মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ৪ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ জন। মারা গেছেন ২১ হাজার ২৯৪ জন। করোনাভাইরাস নিয়ে তথ্য দেওয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে। | 3 |
করোনার নতুন ধরন ডেলটার প্রকোপে রাশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। টানা পঞ্চম দিনের মতো দেশটিতে করোনায় সর্বাধিক মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৬৯৭ জন। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এটিই এ পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।মস্কো টাইমস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ৪৩৯ জন। গত জানুয়ারির পর যা দৈনিক আক্রান্তের রেকর্ড।রাশিয়ায় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজধানী মস্কো। শুধু মস্কোতেই গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ১১৬ জন। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবানিন জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাজধানীতে শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীদের ৯০ শতাংশের মধ্যে ডেলটা ধরন পাওয়া গেছে। এই ধরনটি ভারতে প্রথম শনাক্ত হয়। এদিকে গতকাল বুধবার রুশদের স্পুতনিক ভি টিকা নেওয়ার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।রাশিয়া সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষকে টিকার পূর্ণ ডোজ দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছিল। তবে এই সপ্তাহের শুরুতে দেশটির সরকার স্বীকার করে যে তারা ওই সময়ের মধ্যে এই পরিমাণ ভ্যাকসিন দিতে পারবে না। এদিকে রাশিয়ার মানুষজনও করোনার টিকা নিতে নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। একটি জরিপে দেখা গেছে দেশটির শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়া পরিকল্পনা নেই।উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ায় এ পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯ জন আর মোট মারা গেছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৬২ জন। | 3 |
বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে কুড়িগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে তাঁর বাড়ি থেকে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে ডিসি অফিসে নির্যাতন এবং কারাগারে পাঠানোর ঘটনার পর আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছেন। এই খবর আমাদের মধ্যে সম্ভবত এই স্বস্তি দেয় যে তাঁর সৌভাগ্য, তিনি বেঁচে আছেন; অপরাধী বলে চিহ্নিত হয়ে, নির্যাতিত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই খবর দেখে বিচারপতি দস্তগীর হোসেনের ভাষায় অন্যদের এবং নিজেকে বলতে ইচ্ছে হয়েছে, 'আরে রাখেন, ভাগ্য ভালো যে উনাকে গুম করেনি।' বিচারপতি দস্তগীর এই কথা আরিফুলের বিষয়ে বলেননি, বলেছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলমের রিমান্ডের আবেদনবিষয়ক শুনানিতে, ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট। 'সারা হোসেন শুনানিতে শহিদুলের রিমান্ড স্থগিতের জন্য যুক্তি দেখানোর সময় বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন বলেন, "আরে রাখেন, ভাগ্য ভালো যে উনাকে গুম করেনি"' (বিডিনিউজ ২৪, ৭ আগস্ট ২০১৮)। যখন উচ্চ আদালতের বিচারপতিও কারও গুম হওয়া না-হওয়ার বিষয় কেবল ভাগ্যের ওপরে নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন, তখন সার্বিক অবস্থাটা কী, সেটা বোঝা যায়। এটা আমাদের হাতের তথ্যও প্রমাণ করে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মোট ১৩২ জন গুম হয়ে গেছেন। এখন আরেকজন সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল ক্ষমতাসীন দলের একজন সাংসদের করা মামলার আসামি হওয়ার ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই 'নিখোঁজ' হয়ে গেছেন। কুড়িগ্রামের আরিফুলের ব্যাপারে ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে বেঁচে থাকা। তিনি তাঁর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, 'ঘরে ঢুকেই আরডিসি নাজিম উদ্দীন আমার মাথায় কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। মারতে মারতে আমাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে চোখ-হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। এরপর আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এনকাউন্টার দিতে চান। আমাকে বারবার বলেন, "আজ তোর জীবন শেষ। তুই কলেমা পড়ে ফেল, তোকে এনকাউন্টার দেওয়া হবে।"' ডিসি অফিসে নির্যাতন চালানোর সময় তাঁকে বিবস্ত্র করা হয়েছে, ভিডিও করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত চারটি কাগজে জোর করে সই নেওয়া হয়েছে। এনকাউন্টার, ক্রসফায়ারের গল্পগুলো যে নেহাতই গল্পগাথা, সেটা সবার জানা; জাতীয় সংসদে একজন সাংসদ ধর্ষকদের এনকাউন্টারে দেওয়ার দাবি তুলে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছেন। গত দুই বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ৮৫৭ জন; গত ১০ বছরে দেশে এর শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ১ হাজার ৯২১ জন। এসব হত্যাকাণ্ডের খবর মেলে 'আইনশৃঙ্খলা' বাহিনীর বরাতে। তুলে নিয়ে গিয়ে এনকাউন্টারে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের কথা শোনা গেছে। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে এনকাউন্টারে দেওয়া না-দেওয়া এখন সরকারের প্রশাসনের ব্যক্তিদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যে কেউ চাইলেই 'ক্রসফায়ারে দিতে' পারে। আর যাঁদের হাতে এই ক্ষমতা অলিখিতভাবে দীর্ঘদিন ধরেই দেওয়া আছে, তাঁরা কী করতে পারেন আর না-পারেন, তা তো প্রতিদিনই দেখি। এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে কে শিবির করেন, কার বিরুদ্ধে মামলা আছে, কে কোন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন, এই সব অজুহাত খাঁড়া করে। এসব বিষয় সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে; রুটিনমাফিক সরকারের তথ্যমন্ত্রী তা 'প্রত্যাখ্যান' করেছেন। কিন্তু আইনের শাসনের বৈশ্বিক সূচকে গত বছর বাংলাদেশের অবস্থানের যে অবনতি হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের ১২৮টি দেশের মধ্যে ১১৫তম, সেই সত্য অস্বীকার করার উপায় কোথায়? আরিফুলকে আটকের ঘটনা যে আইনের সুস্পষ্ট বরখেলাপ, তা বাংলাদেশের আইন বিষয়ে যাঁরা যৎকিঞ্চিৎ জানেন, তাঁরাই বুঝতে পারছেন। একটি নয়, একাধিক আইনের বরখেলাপের ঘটনাই ঘটেছে বলে প্রতীয়মান। ২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালতবিষয়ক আইন এবং ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের বরখেলাপ স্পষ্ট। ইতিমধ্যে আদালত জানতে চেয়েছেন যে মধ্যরাতে কারও বাড়িতে যাওয়ায় যেসব বিধিনিষেধ আছে, পুলিশি অভিযানের জন্য যেতে হলে যেসব আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়, তা মানা হয়েছে কি না। এই অভিযান কে চালিয়েছিল, সেটাও এখন স্পষ্ট নয়-ভ্রাম্যমাণ আদালত, না টাস্কফোর্স? এসবের উত্তর হয়তো পাওয়া যাবে, কিন্তু সেগুলো এই ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরবে মনে করার কারণ নেই। ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) সুলতানা পারভীনের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন আরিফুল ইসলাম, সেটা বিভিন্নভাবেই দেখা যায়। অন্যথায় আটকের পর নির্যাতনের সময় কেন নির্যাতনকারীরা ডিসির কাছ থেকেই জানতে চাইছিলেন, কী করা হবে? সুলতানা পারভীনকে কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে; তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। কিন্তু এই সব বিভাগীয় মামলার পরিণতি কী হয়, সে বিষয় আমাদের জানা আছে। বড়জোর ওএসডি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্যত্র বদলি। এর বেশি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ নির্বাহী বিভাগের পক্ষ থেকে লিখে-পড়েই বন্ধ করা আছে। সরকারি চাকরির বিধান এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া যায়। সরকারি চাকুরে বিলে এমনকি দুর্নীতি থেকে সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে। সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অত্যাচার-নিপীড়নের অভিযোগ উঠলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ফল কী হয়, তার উদাহরণ এ ঘটনায়ই আছে। আরিফুলের ওপর সেই রাতে ডিসি অফিসে যাঁরা নির্যাতন চালিয়েছেন, তাঁদের একজন, আরিফের বক্তব্য অনুযায়ী কুড়িগ্রামের বর্তমান রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নাজিম উদ্দীন। তাঁর বিরুদ্ধে এই প্রথম এ ধরনের অভিযোগ উঠল, তা নয়। অতীতে একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বদলির 'শাস্তি' ছাড়া কিছুই হয়নি ('নাজিম যেখানেই যান, পেটান'; প্রথম আলো, ১৫ মার্চ ২০২০)। নাজিম উদ্দীনের খবর না হয় আমরা এখন জানলাম, অন্যদের খবর আর কোন ঘটনায় জানা যাবে, বা আদৌ জানা যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আটক অবস্থায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের আইন আছে, বিভিন্ন সময়ে আদালতের নির্দেশনা আছে। কিন্তু এগুলোর তোয়াক্কা না করাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। হেফাজতে, রিমান্ডের নামে নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত আছে-এ নিয়ে সরকারের কোনো রকম অস্বস্তি পর্যন্ত নেই। যখন আরিফুলকে আটক এবং তাঁকে দণ্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সে সময়েই চুয়াডাঙ্গায় জাহিদ হাসানের পরিবার অভিযোগ করেছে যে পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। জাহিদ হাসান ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। পরিবার অভিযোগ করেছে যে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় পুলিশি হেফাজতে জাহিদের মৃত্যু হয়েছে। দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশের একটি দলের গত শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে জাহিদ হাসান মারা যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, কোনো মামলা ছাড়াই পুলিশ জাহিদ হাসানকে আটকের পর নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা কত? আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু ২০১৯ সালেই সারা দেশে পুলিশের হেফাজতে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তারের আগে নির্যাতনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর শারীরিক নির্যাতনে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, দুজন নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এগুলোর বিচার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, উপরন্তু পুলিশ বাহিনী একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি তুলেছে আইনটি বাতিল বা সংশোধনের। আরিফুলকে আটক এবং নির্যাতনের ঘটনা অনেক বিষয় সামনে এনেছে; গণমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এগুলো যে সবার অজানা ছিল, তা নয়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব আচরণের পেছনের কারণ কী, সেটা না বুঝতে পারলে এবং সে বিষয়ে আলোচনা না করলে এই ঘটনাকে ব্যতিক্রম বলেই মনে হবে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে দায়মুক্তির সংস্কৃতি। প্রশাসন, পুলিশ, ক্ষমতাসীন দল ও তার ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী, সদস্যরা ভালো করেই জানেন যে যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হচ্ছে ও তাদের নামে এ ধরনের অত্যাচার-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা এই দায়মুক্তি ভোগ করবেন এবং তঁাদের কিছুই হবে না। সম্প্রতি ক্যাসিনো-বিরোধী অভিযানের সময় একাধিক জায়গায় ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতারা 'টর্চার সেল' চালান বলে প্রতিবেদন বেরিয়েছিল; তাঁদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে বলে জানা যায় না। বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের টর্চার সেলের কথা শোনা গিয়েছিল, কিন্তু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে প্রশাসনের দলীয়করণ। গত এক দশকে প্রশাসনের এক বড় অংশেই দলীয় ব্যক্তিদের আসীন করা হয়েছে, যাঁরা আচরণের দিক থেকে রাষ্ট্র, সরকার এবং দলের ভেতরে পার্থক্য করতে একাদিক্রমে অনীহ ও অপারগ। সেটা ক্ষমতাসীন দল চায় না। এ পার্থক্য যে একেবারেই অনুপস্থিত হয়ে গেছে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে ২০১৮ সালের নির্বাচন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দলীয় ভূমিকা ছাড়া এ ধরনের নির্বাচন করা সম্ভব ছিল না। তৃতীয় বিষয় হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল এখন কার্যত পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল; সে কারণে প্রশাসনের এক বড় অংশই মনে করে যে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তদুপরি যদি ওই কর্মকর্তা নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের বলে প্রতিপন্ন করতে পারেন, তবে তো কথাই নেই। ফলে আরিফুল ইসলামের নির্যাতিত হওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটে; আমরা তার কিছু জানতে পাই, অনেকটাই জানতে পাই না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটবে বলেই আমার আশঙ্কা। কেননা, দায়মুক্তির এই সংস্কৃতি এবং প্রশাসন-দল-রাষ্ট্রকে আলাদা করার কোনো আশু লক্ষণ দৃশ্যমান নয়। সে কাজ রাজনৈতিক, কেবল একটি ঘটনার প্রতিবাদ তার জন্য যথেষ্ট নয়। আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো | 8 |
রাজনীতির নামে কাদা-ছোড়াছুড়ি মানুষ পছন্দ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনা বা পরামর্শ গ্রহণ করার সৎ সাহস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আছে। আজ শুক্রবার নিজের সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা সংকটের শুরু থেকে বিএনপি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন না করে সরকারের সমালোচনাকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল বা দর্শন হিসেবে বেছে নিয়েছে। ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন, 'এতে কি বিএনপির জনপ্রিয়তা বেড়েছে?' বিএনপির মহাসচিবের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি কি একটি দেশেরও নাম বলতে পারবেন, একটি দেশের উদাহরণ কি তিনি দিতে পারবেন, যার করোনা প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতি ছিল? তিনি কি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, প্রতিবেশী ভারত, চীনসহ একটি দেশেরও নাম বলতে পারবেন, যাদের চিকিৎসা বা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতা ছিল না? আর কত সমালোচনার নামে সমালোচনা করে জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়ে যাবেন? সরকারের বিরুদ্ধে করোনার তথ্য গোপনের অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রযুক্তি আর সামাজিক যোগাযোগের উন্মুক্ত প্রবাহের কালে তথ্য গোপনের কোনো সুযোগ নেই। তথ্য গোপনের কোনো ইচ্ছাও সরকারের নেই। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দিন-রাত পরিশ্রম করে সংক্রমণ রোধ, চিকিৎসা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সুরক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ করে অসহায়-কর্মহীন মানুষের সুরক্ষায় কাজ করছে সরকার। বর্তমান সংকটে দলীয় নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, এখন রাজনীতির সময় নয়। এখন একটাই রাজনীতি-করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও মানুষের জীবন বাঁচানো। ওবায়দুল কাদের বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শেখ হাসিনা সরকার ক্রমে সক্ষমতা অর্জন করছে। দেশে প্রায় সোয়া লাখ মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। যার মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ ফ্রন্টলাইনে পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন জীবন বাজি রেখে কাজ করছে। কিন্তু বিএনপি তাদের ধন্যবাদ দিয়ে কথা বলে না। তাদের মনোবল যাতে ভেঙে না যায়, সে ব্যাপারে বক্তব্য দেয় না তারা। নেতিবাচকতা বিএনপিকে এতটাই গ্রাস করেছে যে তারা দিনের আলোতেও রাতের আঁধার দেখতে পায়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধ ও চিকিৎসায় যেসব সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোর যথাযথ বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজারের কৌটা ইত্যাদি যেখানে-সেখানে ফেলে রাখায় একদিকে দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিত্যক্ত সামগ্রী নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপারেও সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়ার অনুরোধ করেন মন্ত্রী। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাচাই করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। | 9 |
জাল টাকা এবং ভারতীয় জাল রুপি তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জুরাইনে নকল টাকার কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবি বলছে, চক্রের সদস্যরা এর আগেও বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়েছিল। জামিনে বেরিয়ে আবার একই কাজে যুক্ত হয় তারা। বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সারাদেশে তারা জাল টাকা সরবরাহ করে। এবার তাদের টার্গেট ছিল- আসন্ন থার্টিফার্স্ট নাইট এবং নববর্ষ। এ উপলক্ষে তারা বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও জাল রুপি তৈরি করছিল বাজারে সরবরাহের জন্য। নকল নোট এমন সূক্ষ্ণভাবে তৈরি করে যে, তা দেখে নকল বোঝার উপায় থাকে না। যে কারণে সহজেই চক্রটি বাজারে মানুষের কাছে নকল টাকা ছড়িয়ে দিতে পারে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- জাকির হোসেন, বাদল খান, জাহাঙ্গীর আলম, জসিম উদ্দিন, মালেক ফরাজী, শিহাব, ওবায়দুল, জামাল ও একজন নারী। জাকির হোসেন এই চক্রের অন্যতম হোতা। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ২০ লাখ ভারতীয় জাল রুপি, ৩২ লাখ জাল টাকা, বিপুল পরিমাণ জাল মুদ্রা তৈরির বিশেষ ধরনের কাগজ, নিরাপত্তা সুতা, প্রিন্টারসহ জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। এসব উপকরণ দিয়ে আরও কয়েক কোটি জাল টাকা ও রুপি তৈরি করা সম্ভব। তাদের কাছ থেকে চার লাখ পাঁচ হাজার আসল টাকাও উদ্ধার করা হয়। এই টাকা তারা জাল নোটের বিনিময়ে পেয়েছিল। জব্দ করা জাল টাকার মধ্যে এক হাজার ও পাঁচশ টাকা মূল্যমানের নোট এবং জাল রুপির মধ্যে পাঁচশ রুপির জাল নোট রয়েছে। ডিবি জানিয়েছে, জুরাইনের শহীদ শাহাদত হোসেন রোডের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে চক্রটি জাল নোট তৈরি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির গুলশান বিভাগ গতকাল ওই বাসায় অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার হওয়াদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। আসামি জাকির ২০১৯ সালে স্ত্রী এবং অপর সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল। জাকির জাল টাকা ও রুপি তৈরির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। ওবায়দুল ও জসিম জাল টাকা তৈরির কারখানায় বিশেষ কাগজ, নিরাপত্তা সুতা তৈরি এবং অন্য কাজ করত। বাদল ঢাকা, সাভার ও মানিকগঞ্জের পাইকারি ডিলার। শিহাব রাজধানীর পাইকারি ডিলার। সাগর নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের ডিলার। জামাল বরিশালসহ দক্ষিণ অঞ্চলে জাল নোট সরবরাহকারীদের মূল হোতা। চক্রটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গার খোলাবাজার, বিপণি বিতান, যানবাহনের চালক ও হেলপারদের বিভিন্ন কৌশলে ধোঁকা দিয়ে জাল টাকা সরবরাহ করে। ঢাকা ছাড়াও তারা বাগেরহাট, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে জাল টাকা তৈরি করত। | 6 |
আসন্ন ঈদযাত্রা বিগত সময়ের চেয়ে অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ রোববার (২৬ মে) মতিঝিলে বিআরটিসির সভাকক্ষে তাদের ঈদ স্পেশাল সার্ভিস পর্যালোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পথে স্বস্তিদায়ক যাত্রার নিশ্চয়তা দিতে পারবো- এমন একটা অবস্থানে আমরা পৌঁছেছি। ঈদের আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন ঢাকা থেকে চার ঘণ্টায় চট্টগ্রাম পৌঁছে যাওয়া যাবে বলেই আশা করছি। তিনি বলেন, এছাড়া ঈদের সময় বিআরটিসির ১১৪২টি বাস আন্তঃজেলায় যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে ২৫৩টি নতুন বাস যুক্ত করা হয়েছে। ঈদের সময় গণপরিবহনের সংকট নিরসনে বিআরটিসি সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। সড়ক পরিবহন করপোরেশনের কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বিআরটিসি দেউলিয়া হলে আপনারাও দেউলিয়া হবেন। রমজান মাস সংযমের মাস। এ মাসে ইনকামটা একটু কম করলে কি হয়। বিআরটিসি যেন আগের মতো সুনামের ধারায় ফিরে আসে, সেদিক বিবেচনা করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। সৎ ও পরিচ্ছন্নভাবে বিআরটিসিকে পরিচালনা করলে জনগণের সামনে সুনাম অক্ষুন্ন থাকবে। বর্তমানে বিআরটিসির আগের সেই সুনাম আছে বলে আমি মনে করিনা। এবার বিআরটিসির আগের বাসগুলোর সঙ্গে নতুন ২৫৩টি বাস যুক্ত হয়েছে। আপনারাও বিআরটিসিকে আকর্ষণীয় করতে নতুন করে শপথ করুন। এদিকে টঙ্গী-গাজীপুর সড়কের যানজটের ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাচপুর-মেঘনা-গোমতী সেতু খুলে দেওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনো যানজট থাকবে না। উত্তরবঙ্গগামী টাঙ্গাইল সড়কের দু'টি ফ্লাইওভার ও চারটি আন্ডারপাস খুলে দেওয়ায় সেখানেও কোনো যানজট থাকবে না। তবে টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত রাস্তায় কিছুটা সমস্যা হতে পারে। এ সমস্যা নিরসনে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি কমিটি করেছি। এ কমিটি যানজট নিরসন করতে পারবে বলে আশা করছি। এছাড়া সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে ৩শ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। টঙ্গী-গাজীপুর সড়কের যানজট নিরসন কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার, বিআরটিএ কর্মকর্তা ও রুট ট্রানজিটের প্রকল্প পরিচালক। | 6 |
দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৯টায় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে সশরীরে পাঠদান শুরু হয়। এত দিন অনলাইনে ক্লাস চললেও এখন থেকে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া গত ১৮ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের জন্য সব আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) শ্রেণির ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে সকল বর্ষের দ্বিতীয় টার্মের চূড়ান্ত পরীক্ষা আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। যা চলবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রণীত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দ্বিতীয় টার্মের রেজিস্ট্রেশন জরিমানা ছাড়া ৩১ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত, জরিমানাসহ ৭ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত, রিভিউ ক্লাস চলবে ৩১ অক্টোবর থেকে ২০ নভেম্বর, পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক ছুটি (পিএল) ২১ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় টার্মের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ ৫ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হবে।সরেজমিনে গেয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে খুবির সবুজ অঙ্গনে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বর, ক্যাফেটেরিয়া, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, অদম্য বাংলা ও হলরোড সংলগ্ন দোকানগুলোসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উচ্ছ্বাসিত। সবাই ব্যস্ত ছিলেন একে-অপরের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়, গল্প-আড্ডায়। কেউ বন্ধুর সঙ্গে বসে চা খাচ্ছেন আবার কোথাও বন্ধুরা মিলে বসিয়েছেন গানের আসর। শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় পড়ালেখায় ক্ষতি পুষিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা ও কর্মজীবনে ফেরার প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মো. নাসিম বিল্লাহ বলেন, অনেক দিন পর ক্যাম্পাস খোলায় নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুরোনো সবকিছু নতুন মনে হচ্ছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হওয়ায় ক্যাম্পাস আবারও তার চিরচেনা রূপে ফিরে আসায় খুব ভালো লাগছে।কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, এত দিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে অনুভূতিটা অন্যরকম। দেড় বছরেরও বেশি সময় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সেশনজটের মুখে পড়েছেন। হল খোলার পর ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়া আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। আমরা দীর্ঘ সেশনজটের কবল থেকে হয়তো রক্ষা পাব।ইংরেজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, দীর্ঘসময় পর প্রিয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের ক্লাসে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। করোনার দিনগুলো শেষে আবারও ক্যাম্পাসে গল্প-আড্ডা জমবে ভাবতেই ভালো লাগছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. খান গোলাম কুদ্দুস বলেন, আমরা ১৮ তারিখ থেকে প্রাথমিকভাবে চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দিয়েছি এবং ২৬ তারিখ থেকে সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেওয়ায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে ফিরেছেন। শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় টার্ম শেষ করার ঘোষণা দিয়েছি। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য একটু চাপ হলেও ঠিকসময়ে পরীক্ষা শেষ হবে। এ জন্য তাঁরা খুশি। | 1 |
মানবতাবিরোধী অপরাধে রিভিউয়ে ফাঁসির রায় বহাল রাখায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সামনে শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে মুজাহিদ ক্ষমা চাইবেন না বলে জানিয়েছেন মুজাহিদের বড় ভাই ও ফরিদপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আলী আফজাল মোহম্মদ খালেছ। বুধবার রায় পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, 'কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামান ভাইও তাদের ফাঁসির রায়ের পরে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাননি। ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নও আসে না। কারণ, মুজাহিদ অন্যায় করেননি। তাই মুজাহিদও ক্ষমা চাইবেন না।'' খালেছ বলেন, আজ যে রায় ঘোষণা করা হলো তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। আমাদের পরিবার এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, মুজাহিদ জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার কারণে এ রায় দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' ছাড়া এমন রায়ের অন্য কোনো কারণ নেই।
খালেছ আরও বলেন, ১৯৭০ সালে ফরিদপুর থেকে চলে যান মুজাহিদ। তারপর একাত্তরে তো তিনি ফরিদপুরেই ছিলেন না। মুজাহিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর থেকে যে মামলা করা হয়েছে তার একটির সঙ্গেও মুজাহিদ জড়িত ছিলেন না। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন সেগুলোও 'মিথ্যা এবং সাজানো'। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা কিছুই করতে চাই না। তবে জামায়াত যে সব কর্মসূচি দেবে তার সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করবো। বিডি-প্রতিদিন/১৮ নভেম্বর, ২০১৫/মাহবুব | 6 |
পূর্ব আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে গণহত্যার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। তবে নিজ দেশের ভূমিকার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি এড়িয়ে যান ফরাসি প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার রুয়ান্ডা সফরের সময় কিগালি জেনোসাইড মেমোরিয়ালে এক বক্তৃতায় দায় স্বীকার করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ম্যাক্রোঁ বলেন, গণহত্যায় সহযোগিতা না করলেও রুয়ান্ডায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল। ফরাসিদের দায়িত্ব ছিল ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়ান। সত্যের পরীক্ষা এড়িয়ে গিয়ে রুয়ান্ডার অধিবাসীদের ওপর ফ্রান্স যে দুর্ভোগ চাপিয়ে দিয়েছে, সেই স্বীকৃতিও দিতে হবে। ১৯৯৪ সালে ১০০ দিনের গৃহযুদ্ধে রুয়ান্ডার নৃতাত্ত্বিক তাতসি জনগোষ্ঠীর প্রায় আট লাখ মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী হুতু হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেশটি শাসন করেছে তাতসিরা। ১৯৫৯ সালে হুতুরা তাতসি রাজতন্ত্র উৎখাতের পর লাখ লাখ তাতসি প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়। নির্বাসিত এসব তাতসিরা রুয়ান্ডার প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট (আরপিএফ) নামে বিদ্রোহী গ্রুপ গঠন করে ১৯৯০ সালে রুয়ান্ডায় আগ্রাসন শুরু করে। ১৯৯৩ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত চলে এই আগ্রাসন। ১৯৯৪ সালের ৬ এপ্রিল রাতে রুয়ান্ডার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুভেনাল হাবিয়ারিমানা এবং বুরুন্দির প্রেসিডেন্ট সিপ্রিয়ান নাতিয়ামিরাকে বহনকারী একটি বিমান ভূপাতিত করা হলে এর সব আরোহী নিহত হন। এই দুই প্রেসিডেন্টই ছিলেন হুতু জনগোষ্ঠীর। হুতু উগ্রবাদীরা এই ঘটনার জন্য আরপিএফকে দায়ী করে আর শুরু করে সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ড। তবে আরপিএফ'র দাবি গণহত্যার অজুহাত দাঁড় করাতেই হুতুরাই বিমানটি ভূপাতিত করে। ওই সময়ে রুয়ান্ডার হুতু সরকারের মিত্র ছিল ফ্রান্স। গণহত্যা শুরুর পর নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে বিশেষ বাহিনী পাঠায় প্যারিস। তবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে এই গণহত্যা ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি তারা। ২০১০ সালের পর ম্যাক্রোঁই ফ্রান্সের প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি রুয়ান্ডা সফর করছেন। দেশটিতে সংঘঠিত ওই গণহত্যার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের দায় নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তবে এর আগে কখনো কোনো ফরাসি নেতা স্বীকার করে বক্তব্য দেয়নি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.