text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তান সফরে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে করোনাভাইরাসের প্রকোপে সিরিজটি স্থগিত করা হলো। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চত করা হয়। শনিবারই শুরু হওয়ার কথা ছিল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি। সিরিজটি ২০২২ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে সম্মতি প্রকাশ করেছে দুই বোর্ড। তবে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করা হলেও ওয়ানডে সিরিজ চালিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি আর নেয়নি দুই বোর্ড। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 12 |
ঢাকা: বয়সভিত্তিক ফুটবলে তাঁরা ছিলেন প্রতিপক্ষ। একে অপরের বিপক্ষে মাঠে লড়াই হয়েছে একাধিকবার। কৈশোরের সেই প্রতিপক্ষ ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন যখন কাল মাঠে লুটিয়ে পড়লেন, কোপেনহেগেন থেকে হাজার মাইল দূরে দোহায় শঙ্কায় কাঁপলেন ডেনমার্কপ্রবাসী বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে কাল ইউরোর ম্যাচে কোপেনহেগেন স্টেডিয়ামে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে থ্রু ইন থেকে আসা বল ধরতে গিয়ে মাঠেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন ড্যানিশ মিডফিল্ডার। পরে জানা যায় হার্ট অ্যাটাক হয়েছে ইন্টার মিলান তারকার। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। হাসপাতালে এরিকসেনের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।কৈশোরে ডেনমার্কের ক্লাব ফুটবলে দুইবার এরিকসেনের মুখোমুখি হয়েছেন জামাল। বাংলাদেশ অধিনায়ক তখন খেলতেন এফসি কোপেনহেগেনের বয়সভিত্তিক দলে। 'বিস্ময় বালক' তকমা পাওয়া এরিকসেন খেলতেন ওডেনেস বোল্ডক্লাবের হয়ে। জামালদের সঙ্গে ম্যাচের চার মাস পর আয়াক্সে নাম লেখান এরিকসেন।কৈশোরের প্রতিদ্বন্দ্বীর হার্ট অ্যাটাকের খবরে ভীষণ মন খারাপ হয়েছিল জামালের। বলেছেন, 'আমি প্রথমে বুঝিনি তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। যখন জানলাম তখন শুধু তাঁর জন্যই নয়, ডেনমার্কের খেলোয়াড় ও এরিকসেনের পরিবারের জন্য খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমরা সবাই তাঁর জন্য দোয়া করেছি।'এরিকসেনের বিপক্ষে খেলার স্মৃতিচারণা করে জামাল বলেন, '১৫-১৬ বছর বয়সে তাঁর বিপক্ষে দুইবার ম্যাচ খেলেছি। খেলার আগে কোচ এসে বললেন, একজন বিস্ময় বালক আছে। দেখেশুনে খেলো। আমি বললাম, কিসের বিস্ময় বালক, ওকে দেখে নেব। প্রথম ম্যাচে আমরা দুই গোলে এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু কোথা থেকে যেন এরিকসেন এসে দুই গোল করল। অবশ্য ম্যাচটা আমরা জিতেছিলাম। পরের ম্যাচেও এরিকসেন দুই গোল করেছিল। তখনই বুঝেছি এরিকসেন আসলেই এক বিস্ময়। এর চার মাস পর সে আয়াক্সে চলে যায়।'কালকের ডেনমার্ক-ফিনল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে জমে উঠেছিল দুই প্রবাসীর লড়াই। জামাল যথারীতি সমর্থন করেছেন ডেনমার্ককে। আরেক প্রবাসী তারিক কাজীর দল ফিনল্যান্ড। ম্যাচ নিয়ে তারিকের কাছ থেকে তাঁকে বেশ খোঁচা শুনতে হয়েছে বলে জানালেন জামাল, 'ম্যাচের সময় তাঁর কক্ষ থেকে তারিক আমাকে বারবার ফোনে বার্তা পাঠিয়েছে। আমিও জবাব দিয়েছি। ফিনল্যান্ড যখন গোল করল, তখন ও আমাকে বার্তা দিয়েছে।' | 12 |
এ যাবৎকালের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক দলিলপত্র ফাঁসের এক ঘটনায় বিশ্বের বড় বড় নেতা, রাজনীতিবিদ ও ধনকুবেরদের গোপন সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিস, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার - এমন আরো অনেক নেতার গোপন সম্পদের তথ্য এতে প্রকাশ পেয়েছে। বিবিসি প্যানডোরা পেপার্স নামে এসব দলিলপত্রে প্রায় ৩৫ জন বর্তমান ও সাবেক নেতা এবং তিন শতাধিক সরকারি কর্মকর্তার নাম রয়েছে - যারা বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্যানোরামার প্রকাশ করা এসব দলিলে দেখা যায়, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ৭ কোটি পাউণ্ডের বাড়ি-জমির মালিক হয়েছেন। আরো জানা যাচ্ছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মোনাকোয় গোপন সম্পদের সাথে সম্পর্কিত। আজারবাইজানি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও তার সহযোগীরা যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০ কোটি পাউন্ডের জমি-বাড়ি কেনাবেচার চুক্তিতে জড়িত ছিলেন বলে এসব দলিলে দেখা গেছে। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার স্ত্রীর ব্যাপারে জানা গেছে যে তারা লন্ডনে একটি অফিস কেনার সময় ৩১২,০০০ পাউণ্ড কর স্ট্যাম্প শুল্ক বাঁচিয়েছেন। ই ভবনের মালিকএকটি বিদেশী কোম্পানিও তারা কিনে নিয়েছেন। গত সাত বছরে প্যারাডাইস পেপার্স, পানামা পেপার্স ইত্যাদি নামে যেসব গোপন; লিলপত্র ফাঁস হয়েছে, - এই প্যানডোরা পেপার্স হচ্ছে তার সবশেষ ঘটনা। বিবিসি প্যানোরামা, ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এবং আরো কিছু মিডিয়া অংশীদার মিলে বিশ্বের ১৪টি কোম্পানির এই ১ কোটি ২০ লাখ দলিলপত্র হাতে পেয়েছে। | 3 |
কলকাতার পার্ক সার্কাসে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের থেকে সামান্য দূরত্বে শুক্রবার দুপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ৫ জন। এই ঘটনাকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতাজুড়ে। ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের কোনো সম্পর্ক নেই। উপ-দূতাবাসের সবাই নিরাপদে রয়েছেন।কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, মানসিক অবসাদ থেকেই কলকাতা পুলিশের রাইফেলম্যান চোডুপ লেপচা নিজের ইনসাস রাইফেল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তাঁর গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী এক নারী প্রাণ হারান। পরে চোড়ুপ লেপচা নিজের গুলিতে নিজেই আত্মহত্যা করেন।কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল জানিয়েছেন, মানসিক অবসাদ থেকেই পুলিশ কর্মী চোডুপ লেপচা গুলি চালিয়েছে। কেন তাঁর অবসাদ সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। কেন মানসিক অবসাদ থেকে এমন কাণ্ড ঘটাল সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি-র ফুটেজও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই ঘটনার সঙ্গে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের কোনো সম্পর্ক নেই। উপ-দূতাবাস জানিয়েছে, দূতাবাসের সবাই নিরাপদে রয়েছেন।কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে গুলিতে ২ জনের মৃত্যুশুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে হঠাৎ গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস সংলগ্ন এলাকা। মাত্র এক বছর আগে কলকাতা পুলিশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়া কালিম্পঙের যুবক চোডুপ লেপচা ছুটি কাটিয়ে শুক্রবারই যোগ দিয়েছিলেন উপ-দূতাবাসের পাশের পুলিশ ফাঁড়িতে। ফাঁড়িতে থাকা সহকর্মীদের পানি খেতে বাইরে যাচ্ছেন বলে বের হয়ে কয়েক মিনিটের মাথায় নিজের ইনসাস রাইফেল থেকে গুলি চালাতে শুরু করেন চোডুপ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চোডুপ আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ রাউন্ড গুলি চালায়। তাঁর গুলির আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন মোটরসাইকেলের পেছনের সিটে বসে থাকা রিমা সিং। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় মোটরসাইকেল চালকের গায়েও গুলি লাগে। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বসির আলম ও মোহাম্মদ সরফরাজ নামে কলকাতার দুই বাসিন্দা। তাঁদের কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) রঞ্জন সেন জানান, এই ঘটনার সঙ্গে দূতাবাসের কোনো সম্পর্ক নেই। সকলেই নিরাপদে রয়েছেন। | 3 |
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রীকে ফের গৃহবন্দি করা হয়েছে। নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন তারা। এ আন্দোলন ঠেকাতেই শনিবার তাদের গৃহবন্দি করে প্রশাসন। খবর এনডিটিভির। খবরে বলা হয়েছে, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাহ রাজধানী শ্রীনগরের গুপকার রোডের বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। সে সময়ে উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ওই এলাকা সিল করা হয়েছে। শ্রীনগর পুলিশ ওই এলাকায় রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি মোতায়েন করেছে। ফলে রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারছেন না এবং কেউ বাড়ি থেকে বেরও হতে পারছেন না। সম্প্রতি সীমানা নির্ধারণ কমিশন বিধানসভা আসনের সীমানা বণ্টনের বিষয়ে খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে। ওই কমিশন কাশ্মীরের একটি আসনের বিপরীতে জম্মু প্রদেশের জন্য ছয়টি অতিরিক্ত আসনের প্রস্তাব করেছে, যা সাবেক রাজ্যের উভয় প্রদেশের জনসংখ্যার অনুপাতের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। বিরোধীরা এই প্রস্তাবকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত এই আসন বণ্টন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একজনের একটি ভোট- এই অধিকারের পরিপন্থি। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ নেতৃত্বাধীন গুপকার জোট। এর পরই তাদের গৃহবন্দি করা হয়। গৃহবন্দি হওয়ার পর ওমর আবদুল্লাহ এক টুইট বার্তায় একটি ছবি পোস্ট করেছেন। এতে তার ও তার বাবা ফারুক আবদুল্লাহর বাড়ির ফটকের অবস্থা দেখানো হয়। তার বাবা এবং বোনও বাড়িতে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ছবিতে তাদের বাড়ির বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর ট্রাক মোতায়েন দেখা যায়। জোটের ডাকে শনিবার অনেক স্থানে ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। তারা গৃহবন্দি নেতাদের মুক্তি ও সীমান নির্ধারণ বাতিলেরও দাবি জানান। পরে বিক্ষোভকারী গুপকার রোডের দিকে অগ্রসর হলেও পথে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-ক অনুচ্ছেদ দুটি বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরকে দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দাদের কাশ্মীরে সম্পত্তি ক্রয় করার ওপর বিধিনিষেধ উঠে যায়। পাশাপাশি অন্য রাজ্যে বসবাসরত ভারতীয়দের কাশ্মীরে সরকারি চাকরি পাওয়া কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের বিধিনিষেধও বাতিল হয়ে যায়। তবে শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে স্থানীয় সব রাজনৈতিক দল। সে সময়ও এই তিন মুখ্যমন্ত্রীসহ বহু রাজনীতিবিদকে গৃহবন্দি করেছিল সরকার। | 3 |
স্বাধীনতার পর থেকে মুজিববর্ষ পর্যন্ত পঞ্চাশ বছরের এই ব্যাপ্তিতে আমাদের শিক্ষা কতটা এগোলো, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ যেসব রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বাস্তবতা মোকাবিলা করে এগিয়েছে, তার একটা খতিয়ান নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন এ জন্য যে অন্য অনেক ক্ষেত্র থেকেও শিক্ষায় এর অভিঘাতটা বহুমুখী এবং শক্তিশালী। যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, ব্যবসা-বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, ব্যবসায়ীরাও একটা সময়ে এসে রাজনীতিতে তাদের আসন পাকা করেছেন। যোগাযোগ, স্বরাষ্ট্র, কৃষি ও প্রতিরক্ষাতেও বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে, নানাভাবে তা বেড়েছেও। কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে সেই উদ্যম বা আগ্রহ চোখে পড়েছে কম।মোটাদাগে শিক্ষাক্ষেত্রে বাস্তবতাগুলোর একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করলে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পায়। যেমন,পঞ্চাশ বছরের রাজনীতি। স্বাধীনতার পর থেকে অনেক ধরনের মানসিকতার, রাজনৈতিক মত ও চিন্তার সরকার এ দেশ পরিচালনা করেছে। ১৯৭৫ সালের আগস্টের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ছিল সংসদীয় গণতন্ত্র, ওই দিনের পর থেকে এল সামরিক শাসন, যা মাঝে মাঝে ছদ্মবেশী গণতন্ত্রের মোড়কেও ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত চলেছে। এরপর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন করল, কিন্তু ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি আরেক কায়দায় আবার সামরিক শাসনে ফিরে গেল। গণতন্ত্র আবার ফিরে এল ২০০৯-এর শুরুতে। তবে গণতন্ত্র বলতে বহুদলের অংশগ্রহণে একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত জাতীয় সংসদ খুব অল্প সময়ের জন্যই এদেশের মানুষ পেয়েছিল। এর ফলে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা, নানা বিষয়ে জাতীয় কথোপকথন ও গঠনমূলক আলোচনার অভাবটা প্রকটভাবেই থেকে গেছে।অর্থনৈতিক অগ্রগতি। এই অগ্রগতির একটি প্রতিফলন অবশ্য পড়েছে পুঁজির অধিষ্ঠানে, নানান ক্ষেত্রে বাজার সৃষ্টিতে, পণ্যায়নের একটা সার্বিক আবহ তৈরিতে এবং সামাজিক বৈষম্যের প্রকট আকার ধারণের ক্ষেত্রে। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে, যার ফলে সামাজিক গতিশীলতা বেড়েছে।কৃষি উন্নয়ন। ফলে প্রান্তিক কৃষকও অনেক ক্ষেত্রে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহী হয়েছে।শিক্ষার ক্ষেত্রে সমাজের আগ্রহ বাড়া ও অঙ্গীকার সুদৃঢ় হওয়া। এর ফলে শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে।যোগাযোগের ক্ষেত্রে অগ্রগতি। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও পর্যটন সেবা খাতসহ অনেক অঞ্চলেই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সমাজ আরও গতিশীল হয়েছে, মানুষে মানুষে, অঞ্চলে অঞ্চলে দূরত্ব কমেছে। শিক্ষার সম্প্রসারণের জন্য এর প্রয়োজন ছিল।সাম্প্রদায়িকতার উত্থান, যা শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ নানা ক্ষেত্রে নেতিবাচক, দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখছে।শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব প্রতিটি বিষয় দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য-দুধরনের অভিঘাত রেখেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সাড়ে তিন বছরের দেশ পরিচালনায় শিক্ষা নিয়ে যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং তাঁর আগ্রহে প্রস্তুত করা কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন বাস্তবায়িত হলে আরও অনেক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ তিনি নিতেন, এর পরবর্তী সরকারগুলোর সময় তার কিছুই প্রায় দেখা যায়নি। বরং এর পরের দুই দশক তিন ধারায় চলতে থাকা শিক্ষাব্যবস্থা আরও পাকাপোক্ত হলে দেশ একটা বড় বিপর্যয়ের সামনে পড়ে। পৃথিবীর আর কোনো দেশের শিক্ষা এভাবে তিন পায়ের ওপর ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে কিনা, কে জানে। এই দুই দশকে সাম্প্রদায়িকতা তীব্র রূপ ধারণ করে, যা উদারনৈতিক, ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করে একে অনেকটাই পেছনে নিয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা চলেছে কোনো শিক্ষানীতি ছাড়াই। আওয়ামী লীগ সরকার অনেক আগ্রহ-আয়োজনে একটি শিক্ষানীতি তৈরি করে, যা ২০১০ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীতও হয়। কিন্তু এটি অনেকটা কাগজ-কলমেই থেকে গেছে অর্থনীতিতে উল্লম্ফন ঘটলেও শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ এই পঞ্চাশ বছরে আমাদের জিডিপির ২ শতাংশের বেশি বাড়েনি। বড় বিনিয়োগ না হলে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন হবে না এবং বড় পরিবর্তন না হলে ২০৪১ সাল, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব- এসব কিছুর জন্য আমরা প্রস্তুত হতে পারব না।তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ না বাড়লেও সামাজিক বিনিয়োগ বেড়েছে। কোনো পরিবারই এখন একেবারে নিঃস্ব, দরিদ্র পরিবারও সন্তানদের শিক্ষাহীন রাখতে চায় না। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়লে এই সন্তানেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ দাবি করে নিতে পারবে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণও শিক্ষায় বড় অবদান রেখেছে, কারণ কর্মজীবী নারী শিশুদের শিক্ষিত করতে প্রত্যয়ী হন।দেশে পণ্যায়ন সংস্কৃতির প্রচলন হলে শিক্ষাতেও তার প্রভাব পড়েছে। শিক্ষা এখন বাজারমুখী, শিক্ষার সনদগুলোর মূল্য এখন পণ্যের বাজার নির্ধারণ করে। এটি ভবিষ্যতের জন্য সুসংবাদ নয়।এসব প্রভাব ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশে শিক্ষা এগিয়েছে যতটা না মানের দিক থেকে, তার থেকে বেশি পরিমাণ ও বিস্তারের দিক থেকে। এই বৃদ্ধির একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যানচিত্র দেওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হতো, কিন্তু স্থানাভাবে তা দেওয়া সম্ভব নয়। তারপরও বলা যায়, প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এই বৃদ্ধি বা বিস্তার ১৯৭১ সালের বিজয়ের মাস থেকে এখন পর্যন্ত বিস্ময়কর। ১৯৭১ সালে সব ধরনের প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ১৩৪; ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৭-এ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র ৬টি; ২০২১ সালে সেই সংখ্যা ১৬০ বা তারও বেশি। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংখ্যাও বেড়েছে, তবে অনুপাতের হিসাবে অনেক বেশি। পাঠ্য বিষয়, শিক্ষাসূচি ও বিশেষায়িত পাঠক্রমের ক্ষেত্রেও বৃদ্ধির চিত্রটি ঊর্ধ্বমুখী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যশিক্ষা, প্রকৌশল ও স্থাপত্য, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই এখন শিক্ষার প্রচুর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। চামড়া প্রযুক্তি, সিরামিক, গ্রাফিকস শিল্প অথবা টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের মতো বিষয়েও এখন বাংলাদেশে উচ্চতর পর্যায়ে পাঠ দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, বিশেষ করে কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নতিটা হয়েছে প্রকৃতই আশাব্যঞ্জক। সরকার সারা দেশের স্কুলগুলোকে তথ্যপ্রযুক্তি সক্ষম করতে সেগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ ও সেবা দেওয়ার জন্য একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে মেয়েদের বৃত্তি ও উপবৃত্তি বাড়ানো হয়েছে, দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হচ্ছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে, শিক্ষক প্রশিক্ষণ আরও কার্যকর ও নিবিড় করা হচ্ছে।অর্জনের তালিকাটা যথেষ্ট দীর্ঘ। পঞ্চাশ বছরে অনেক দেশ হয়তো আমাদের থেকে অনেক বেশি এগিয়েছে। এই এশিয়ারই অনেক দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটা ভগ্নাংশ থেকে, পূর্ণ সংখ্যা থেকেও নয়। দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং কর্মহীনতা এমনই প্রবল ছিল যে এক বিশালসংখ্যক পরিবার পড়াশোনাকে বিলাসিতা হিসেবেই দেখত। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এতদূর আসতে পারাটা সামান্য কথা নয়। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক যা, সেই কঠিন, ভাঙা পা নিয়ে উঠে দাঁড়ানোর সময়ে বঙ্গবন্ধু এক দূরদর্শী পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন। কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন ছিল তার প্রথম পর্যায়। তিনি শিক্ষায় যে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কমিশনের প্রতিবেদনে তা-ই লিপিবদ্ধ হয়েছিল জিডিপির ৫-৭ ভাগ! অবাক, বঙ্গবন্ধুর সেই সাহসী এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন আওয়ামী লীগ সরকার এই এতগুলো বছরও করতে পারেনি। পারলে আমাদের শিক্ষার মান আকাশমুখী হতে পারত।আমরা সবাই স্বীকার করি, শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। এখন অর্জন ঘটাতে হবে মানের ঘরে। মানহীন শিক্ষা নিয়ে আমরা এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের জায়গাটা ধরে রাখতে পারব না, এগিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা। মানের উন্নতিতে একটা উল্লম্ফন ঘটাতে হবে পাঠ্যক্রম, পাঠ্যবই, শিখন, শিক্ষাদানসহ শিক্ষাক্রমের সব ঘরে; মানের উন্নতি ঘটাতে হবে ভাষাশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গণিত ও অন্য সব বিশেষায়িত শিক্ষায়; শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগার, গবেষণাগারসহ সব ভৌত কাঠামো ও সুযোগসুবিধায়। এ কথাটি সারা বিশ্বে স্বীকৃত যে ভালো শিক্ষক ছাড়া ভালো শিক্ষা দেওয়া, ভালো শিক্ষার্থী তৈরি করা সম্ভব নয়। আর ভালো শিক্ষক পেতে হলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, সুযোগসুবিধা প্রচুর বাড়াতে হবে। যদি একদিন দেখা যায়, পেশার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও গবেষণা এবং শিক্ষকতাকে এক নম্বরে রাখছেন, তাহলে বুঝতে হবে আমরা সত্যিকারভাবে উল্লম্ফনটা ঘটাতে পারছি।মানের উন্নতির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হবে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা। সেটি আমাদের না থাকার কথা নয়। কিন্তু এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে শিক্ষার ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়িয়ে, যাতে সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় খরচের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সংকুলান হয়। সেই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়নদক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বর্তমানে যেভাবে আমরা শিক্ষা দিচ্ছি, যা মুখস্থনির্ভর, পরীক্ষাসর্বস্ব, নিরানন্দ এবং অসৃজনশীলই রয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন, তা আমূল বদলাতে হবে। কোচিং-বাণিজ্য এবং নোটবই, গাইড বই এদেশে কোনো দিনই নিষিদ্ধ করা যাবে না, যদি না আমরা শিক্ষার পদ্ধতিতে এই পরিবর্তন আনতে পারি। আমাদের এমন শিক্ষাপদ্ধতির প্রয়োজন, যাতে শ্রেণিকক্ষেই সব শিক্ষা দেওয়া হয়ে যাবে। তখন কোচিং বাণিজ্য এমনিতেই তার দোকানে ঝাঁপি ফেলবে।সম্ভব। এ সবই সম্ভব। এবং তিনটি ধারাকে একটি মূল ধারাতে সন্নিবেশিত করাও সম্ভব। কিন্তু তার জন্য বঙ্গবন্ধুর সাহস, নিষ্ঠা, এবং দূরদৃষ্টির প্রয়োজন।সেই সম্ভাবনাও এদেশের আছে। আরও পঞ্চাশ বছর পর কেউ যখন বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে লিখবেন, তিনি হয়তো ওই সম্ভাবনার বাস্তবায়ন দিয়েই শুরু করবেন।সৈয়দ মনজুরুল ইসলামইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | 5 |
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, 'আমরা ভেবেছিলাম, মার্চে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু তা জানুয়ারিতেই বাড়া শুরু করেছে। এখন আমাদের যা পরিকল্পনা ছিল তাতে পরিবর্তন আনতে হবে। ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমাদের চিন্তা রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।' আজ শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না। বরং আমরা চাই আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন টিকা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।' বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 9 |
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের উভালদে শহরের রব এলিমেন্টারি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক শিক্ষকসহ ১৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, "কেন আমরা এই হত্যাযজ্ঞের সাথে বেঁচে থাকতে চাই? কেন আমরা এটি ঘটতে দিই? ঈশ্বরের কসম আমাদের মেরুদণ্ড কোথায়?" ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "ঈশ্বরের কসম কখন আমরা আমরা বন্দুকের লবিতে দাঁড়াব?" হোয়াইট হাউস থেকে তিনি বলেন,"আমি এতে অসুস্থ, ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। আমাদের পদক্ষেপ হবে। আমাকে বলবেন না যে আমরা এই হত্যাকাণ্ডের উপর প্রভাব ফেলতে পারি না।" যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র আইনের সমালোচনা করেবাইডেন বলেন, "একজন ১৮ বছর বয়সী বাচ্চা দোকানেই ঢুকেই দুটি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে পারে- এই ধারণা (নীতি) ভুল। এই ধরনের ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বের অন্য কোথাও খুব কমই ঘটে।" এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, "দেশজুড়ে বাবা-মায়েরা তাদের বাচ্চাদের বিছানায় শুইয়ে দেন, গল্প শোনান, গান শোনান- কিন্তু তাদের মনের মধ্যে চিন্তা, আগামীকাল তাদের বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসার পর, কিংবা কোনও মুদি দোকান বা খোলা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার, তাদের সঙ্গে কী ঘটবে তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন তারা।" এ সময় নিহতদের পরিবারের প্রতি তিনি ও তার স্ত্রী মিশেলের পক্ষ থেকে "শোক" জানান ওবামা। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "স্যান্ডি হুকের প্রায় দশ বছর পর- এবং বাফেলোর দশ দিন পর- আমাদের দেশটি পঙ্গু হয়ে গেছে, ভয়ে নয়, কিন্তু একটি বন্দুক লবি এবং একটি রাজনৈতিক দল যারা এই ট্র্যাজেডিগুলো প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু তারা এতে কোনও আগ্রহই দেখায় না।" ওবামা বলেন, "পদক্ষেপ, যেকোনও ধরনের পদক্ষেপের জন্য ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে।" ২০১৫ সালে, যখন তিনি ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ডেমোক্রেটিক এই প্রেসিডেন্ট গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, নতুন বন্দুক আইন সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে তার প্রশাসন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটি ছিল তার সবচেয়ে বড় হতাশা। তিনি আর বলেছিলেন, "আমাদের জন্য এই সমস্যা সমাধান করতে না পারাটা ছিল কিছুটা দুঃখজনক।" সূত্র: বিবিসি বিডিপ্রতিদিন/কালাম | 3 |
সব দলের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়েই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। রোববার বিকেলে মাদারীপুরের শিবচরে চৌধুরী ফাতেমা বেগম পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মহাসচিব বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সারা দেশে ৪৬০টি উপজেলা গঠন করে দেশের উন্নয়নের যাত্রা শুরু করেন এবং বর্তমানে মহাজোট সরকারের মাধ্যমে সেই উন্নয়নের ধারা পূর্ণতাও পেয়েছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী দিনে সব দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচনের দাবি জানান তিনি। রুহুল আমিন বলেন, রাজনীতিতে দলগতভাবে প্রত্যেক দলেরই ভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে। তবে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সব মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করে যেতে হবে। আর এতেই দেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আগামী ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নে প্রথম সারির দেশের তালিকায় চলে যাবে। দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে, তা শিবচরের উন্নয়ন দেখে বোঝা যায়। ভবিষ্যতে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হয়ে গেলে শিবচর নতুন এক শহরের মর্যাদা পাবে। দেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে সবাইকে হিংসার রাজনীতি ভুলে ঐক্যের পথে চলতে হবে। শিবচর পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি ও অনুমিত হিসাবসংক্রান্ত কমিটির সভাপতি নূর-ই-আলম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মুনির চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুদ্দি খান প্রমুখ। | 9 |
নওগাঁর রানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ভোট শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রউফ, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন ও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মফিজ উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৬ জন। ৮টি ইউনিয়নে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫৬। ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হচ্ছে। সকালে ভোট গ্রহণের শুরুতে কেন্দ্রগুলোয় ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। সকাল ৯টায় উপজেলার ত্রিমোহিনী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মফিজ উদ্দিন। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। ভোটে যে ফল হবে, তা তিনি মেনে নেবেন। বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, ভোট শুরুর পর থেকে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজ উদ্দিন বিলকৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ভোট দেন। মুঠোফোনে তিনি অভিযোগ করেন, 'সব কটি কেন্দ্রেই এজেন্ট দিয়েছিলাম। আমার সব এজেন্টকে বের করে দিয়েছে নৌকা প্রার্থীর লোকজন।' রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাছান সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, 'এজেন্ট বের করে দেওয়ার কোনো ঘটনা আমাদের জানা নেই। কোনো প্রার্থীও এ বিষয়ে অভিযোগ করেননি। এখন পর্যন্ত ভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।' | 9 |
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে বাপ্পী (১৪) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে তার বন্ধু আশরাফ। সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার খরনা ইউনিয়নের গয়নাকুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাপ্পী ওই গ্রামের মক্কেছ ড্রাইভারের ছেলে। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীন জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ। বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন | 6 |
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের মার্কস নিয়ে বিতর্কের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং থেকে জিপিএর মার্কস ১০০ থেকে নামিয়ে ২০ এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে মাধ্যমিকে ১০ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ১০ গণনা করা হবে। একাডেমিক কাউন্সিলের একজন সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ২০০ মার্কস এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং বাকি ১০০ মার্কস এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের উপর ভিত্তি করে মেধা তালিকা করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে ভর্তিচ্ছু ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিসূত্রে জানা যায়, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ২০ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে ৩০ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এ ইউনিটের শিক্ষার্থীরা সব ইউনিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর বি ইউনিটের শিক্ষার্থীরা বি ও সি ইউনিটে এবং সি ইউনিটের শিক্ষার্থীরাও বি ও সি ইউনিটে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ টাকা। এর মাধ্যমে সব ইউনিটে আবেদন করা যাবে। শিক্ষার্থীরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ,নগদ,রকেট) অথবা কার্ডের মাধ্যমে (ভিসা কার্ড, কিউ-ক্যাশ বা ফাস্ট ক্যাশ) অথবা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দিতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে .. লিংকে ক্লিক করতে হবে। এছাড়া যেকোনো তথ্যের জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট হেল্পলাইনে ০১৫৫৭৩৩০৩৮১ ও ০১৫৫৭৩৩০৩৮২ নম্বরে সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত যোগাযোগ করতে হবে। | 6 |
আরও ১৩/১৪টি দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রদানের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। তবে এসব দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি। গত ২৭ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে সাত মুসলিম প্রধান দেশের ওপরনিষেধাজ্ঞা জারি করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সাতটি দেশ হলো ইরাক, ইরান, ইয়েমেন, লিবিয়া, সিরিয়া, সুদান ও সোমালিয়া। পরে ইরাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১৬ মার্চ থেকে। শুধু সিরিয়ার ছাড়া বাকি সব শরণার্থীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকছে আদেশে। তবে এ দেশগুলোর গ্রিনকার্ডধারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। একইভাবে, ইতিমধ্যেই যারা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পেয়েছেন, তারাও বাধাপ্রাপ্ত হবেন না। এছাড়া, যারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বৈঠকে অংশগ্রহণ কিংবা পেশাগতভাবে কূটনীতিক, তারা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন না। বিডি প্রতিদিন/৭ মার্চ, ২০১৭/ফারজানা | 3 |
'এক হাতে গাছের চারা, অন্য হাতে মাদককে লাল কার্ড' এমনই অভিনব দৃশ্য দেখা গেল দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা চত্বরে। শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের' আয়োজনে মাদককে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। সংগঠনটি আগামী তিন মাস এ কার্যক্রম সারাদেশে পরিচালনা করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খানসামা উপজেলা চত্বরে এ কর্মসূচিহয়। সংগঠনের সদস্যরা টিফিনের টাকায় গাছ কিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন। শিক্ষার্থীরা গাছের চারা হাতে নিয়ে মাদক ও ধর্ষণবিরোধী শপথ নেন। এসময় তারা সব অন্যায়কে লাল কার্ড প্রদর্শন করে সবুজ বাংলা গড়ার শপথ নিয়ে স্লোগান দেন। লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম বলেন, লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সদস্যরা তাদের জমানো টাকায় গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ কর্মসূচির শুরু করেছেন। আগামী তিন মাস এ কার্যক্রম সারাদেশে পরিচালনা করা হবে। গত ৫ বছরে সংগঠনটি ৪ লাখ গাছের চারা বিতরণ করেছে। এ বছর সারাদেশে ১ লাখ গাছের চারা উপহার হিসেবে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
ইউক্রেন সংকট সমাধানে ও পূর্ব ইউরোপে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে অস্ত্রবিরতির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন রাশিয়া ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। রোববার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর টেলিফোনে আলাপকালে দুই নেতা এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটব্যাপী ওই টেলিফোন আলাপকালে তাঁরা চলমান সংকট নিরসনে 'কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দিকে জোর দেওয়া প্রয়োজন' বলে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন দুই নেতা। এ ছাড়া, এলিসি প্রাসাদ থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাশিয়া ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় এই বিষয়ে বৈঠকে বসবেন।এ দিকে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউক্রেন সংকট সমাধানে 'যে কোনো সময়' রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগ্রহ পোষণ করেছেন। তবে, রাশিয়ার কোনো প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলার ব্যাপারে সতর্কও করেছেন ওই কর্মকর্তা।সিএনএনের এক টক শো-তে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, 'সব আলামত থেকে দেখা যাচ্ছে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা একটি আক্রমণের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। তবে যতক্ষণ না ট্যাংকের চাকাগুলো ঘুরতে আরম্ভ করছে, যুদ্ধ বিমানগুলো আকাশে না উড়ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা প্রতিটি সুযোগ ব্যবহার করব। প্রতি মিনিটে আমাদের দেখতে হবে যে কূটনৈতিক তৎপরতা পুতিনকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে কিনা।' | 3 |
এক দশক ধরে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট পর্যন্ত কমপক্ষে ১০টি কালভার্ট ও সেতু খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকি নিয়েই চলছে ট্রেন, তবুই সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।এ ছাড়া যথাযথ দেখাভালের অভাবে রেললাইনের ক্লিপ-হুক চুরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। চুরি হওয়া ক্লিপ-হুকও লাগানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না রেললাইন কর্তৃপক্ষ। ফলে শতবছরের পুরোনো রেলপথে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন।সিলেট রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, 'প্রতিদিন রেললাইনের ক্লিপ ও অন্যান যন্ত্রাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। যে কালভার্ট ও সেতু ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে, সেটি সংস্কার করা হয়েছে। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণগুলোর তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে ব্যবস্থ নেবেন।'সেতু ও কালভার্ট ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সংস্কার না হওয়ায় প্রায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ট্রেন। সবশেষ ২০১৮ সালের ১৩ জুন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সেতু ভেঙে ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ ছাড়া রেলপথ ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় লাউয়াছড়া উদ্যানের পাহাড়ি এলাকায় একাধিকবার ট্রেন আটকা পড়ে। দুই বছর আগে প্রবল বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলে লাউয়াছড়া এলাকায় ১৫৭ নম্বর সেতুতে মাটি ধসে পড়ে। এতে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ট্রেন যোগাযোগ ১৩ ঘণ্টা বন্ধ হয়ে যায়।সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট-আখাউড়া রেলপথের শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট পর্যন্ত স্থান রেললাইন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক স্থানে রেললাইনের স্লিপারে নেই ক্লিপার, নাট-বল্টু, কোথাও স্টিলের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে লাইনের মেরামত করা হয়েছে। এসব যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ার পরও লাগানো হচ্ছে না।সেকশনের শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, শমশেরনগর, মনু, টিলাগাঁও, লংলা ও কুলাউড়া স্টেশনের মাঝে অনেক স্থানে ক্লিপ-হুক নেই। ক্লিপ, হুক, ফিশপ্লেটসহ লোহার যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে প্রতিনিয়তি। তবুও কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা করছে না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রেলপথে ক্লিপ, হুক, নাট-বল্টু চুরি হচ্ছে। শমশেরনগর, মনু, টিলাগাঁও, লংলা এলাকার একটি চক্র নিয়মিত এসব যন্ত্রাংশ চুরি করে। চুরি হয়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ দ্রুত লাগানোর নিয়ম থাকলেও দু-একটি জায়গায় লাগানো হয়।ভানুগাছ স্টেশন মাস্টার কবির আহমদ বলেন, 'আমাদের দায়িত্ব স্টেশনে। রেলপথ দেখাশোনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তবে স্টেশন এলাকা বা রেলপথে পাথর কমে যাওয়া, ক্লিপ, হুক চুরির কথা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গলস্থ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) গুলজার আহমদ বলেন, 'আমরা রেলপথে হুক, ক্লিপ নিয়মিত লাগিয়ে থাকি। সেগুলো আবার চুরি হয়ে যায়। সেগুলো দ্রুতই লাগানোর চেষ্টা করি। তা ছাড়া রেলপথে যেসব স্থানে পাথর কমে গেছে, সেখানে পাথর ফেলা হবে। আর পাহাড়ি এলাকায় গাছ ভেঙে পড়লে রেললাইনে ঝুঁকি বাড়ে।' | 6 |
৩০ জুলাই পথচলার ১০ বছর পেরিয়ে ১১ বছরে পদার্পণ করছে মাছরাঙা টেলিভিশন। 'রাঙাতে এলো মাছরাঙা' স্লোগান নিয়ে ২০১১ সালের এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে চ্যানেলটি। যাত্রালগ্ন থেকে চ্যানেলটি অনুষ্ঠান ও সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ধারণ করে এগিয়ে যায়। আবহমান বাংলার কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা এবং অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধকে ছড়িয়ে দিতে মাছরাঙার নানামাত্রিক আয়োজন দর্শকদের মন জয় করেছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং রুচিশীল অনুষ্ঠান প্রচারের মধ্য দিয়ে আলাদা দর্শকশ্রেণি তৈরি করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্কয়ার গ্রুপের এই চ্যানেল। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চ্যানেল কার্যালয়ে বিশেষ কোনো আয়োজন থাকছে না। টিভির পর্দায় বিশেষ আয়োজনের মধ্যে থাকছে চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত 'বিশ্বসুন্দরী' চলচ্চিত্রের ওয়ার্ল্ড টিভি প্রিমিয়ার। ৩০ ও ৩১ জুলাই পরপর দুদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাছরাঙার পর্দায় দেখা যাবে ছবিটি। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন সিয়াম, পরীমনি, চম্পা, ফজলুর রহমান বাবুসহ অনেকে। এ ছাড়া মাছরাঙার নিয়মিত অনুষ্ঠান 'রাঙা সকাল'-এর বিশেষ পর্ব থাকছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে। প্রথম দিন থেকে প্রচার শুরু হওয়া 'রাঙা সকাল'-এরও ১০ বছর পূর্তি হচ্ছে। তাই এ দিনের আয়োজন থাকছে ভিন্ন আঙ্গিকে। আজকের পর্বের অতিথি ছিলেন অনুষ্ঠানেরই দুজন উপস্থাপক নন্দিতা ও লাবণ্য। দুজনই সংগীতশিল্পী হিসেবে সুপরিচিত। দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের পাশাপাশি অন্য দুই উপস্থাপক কিবরিয়া ও রুম্মানের সঙ্গে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন। অনুষ্ঠানটি প্রচার হয়েছে সকাল ৭টায়। | 2 |
পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র বাঁহাতি ওপেনার সালমান বাট। ম্যাচ গড়াপেটার কারণে মোহম্মদ আমির, মোহম্মদ আসিফ এবং সালমান বাটকে আজীবন নির্বাসনে পাঠিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আমির পরে ফিরে এলেও বাট বা আসিফের আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মুখ খুললেন অস্ট্রেলিয়ার হাই প্রোফাইল বিশ্বকাপ জয়ী কোচ জন বুকাননকে নিয়ে। উল্লেখ্য বুকাননের প্রশিক্ষণে ২০০৮ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সে থাকাকালীন খেলেছিলেন সালমান বাট। বাটের মতে এই 'হাইটেক' অস্ট্রেলিয়ান কোচ যখন টিম মিটিং করতেন তখন তা এতটাই বোরিং হতো যে ক্রিকেটাররা নাকি ঘুমিয়েই পড়তেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৯-২০০৭ সাল পর্যন্ত রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া যে তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছিল সবক্ষেত্রেই তাদের কোচ ছিলেন জন বুকানন। তবে অনেকের মতেই, ওই সময়ের অজি দল এতটাই ভালো ছিল যে আলাদা করে প্রশিক্ষক হিসেবে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। কেকেআরে তার একাধিক অধিনায়কের নীতি কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে ২০০৯ সালে বরখাস্তও করা হয়। ওই ঘটনা তুলে ধরেই বাটের মন্তব্য অস্ট্রেলিয়া ছাড়া কোচ হিসেবে তিনি আর কোনো সাফল্য পাননি। আর অস্ট্রেলিয়ার সেই সময় যা দল ছিল, তাতে বুকাননকে ছাড়াও তারা জেতার ক্ষমতা রাখত। বুকানন সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বাট বলেন, 'বুকানন একজন হাই টেক কোচ। উনি দীর্ঘ টিম মিটিং করতে পছন্দ করতেন। আমি কখনো এমন দীর্ঘ টিম মিটিংয়ের পক্ষপাতী নই, যেখানে ক্রিকেটাররা ঘুমিয়ে পড়বে। আমি দেখেছি কিভাবে তার টিম মিটিংয়ে ক্রিকেটাররা ঘুমিয়ে পড়ত। অস্ট্রেলিয়া ছাড়া উনি একাধিক কোচিং প্রোজেক্টের সাথে যুক্ত ছিলেন, তবে কখনো সাফল্যের মুখ দেখেননি। সেই সময়ের অস্ট্রেলিয়া দল অনবদ্য ছিল । তাদের কোচ থাকুক বা না থাকুক তাতে এমন কিছু ফারাক হতো না। অজি ক্রিকেটাররা অনেকেই সেই কথা তাদের বইতে লিখেছেন। হ্যাঁ উনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তবে তাকে মহান করে দেখানোটা একেবারেই ঠিক নয়। যেকোনো কোচ ওই ধরনের ক্রিকেটারদের পেলে তার একই রকম ফল হতো।'সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 12 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই কর্মসূচি পালন করেন ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা। এ সময় তারা অবিলম্বে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি মেনে না নিলে ভবিষ্যতে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন। 'দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক' ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন তারা। বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করেন। কর্মসূচিতে মহিবুল ইসলাম দাঊদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক ভুল সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের অনেক স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। আজকে আমাদের দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ প্রদানের বিষয়ে কোনো ধরনের কর্ণপাত করেনি। শিক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেক শিক্ষক সেকেন্ড টাইম দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। মেডিকেল কলেজে সেকেন্ড টাইম থাকে কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা নেই। এটা হতে পারে না। এটা একজন শিক্ষার্থীর অধিকার। আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হলে আমরা অনশনে যাব। ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।' আরেক শিক্ষার্থী মারুফ বিল্লাহ বলেন, 'আমাদের কোনো দাবি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মেনে নেয়নি। আমরা চাই আমাদের আরও একবার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেয়া হোক। ইউজিসি, শিক্ষামন্ত্রী এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক আমাদের দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন। এটা আমাদের অধিকার। পৃথিবীর অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। এটা বাংলাদেশে কেন থাকবে না? অতি দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।' সাইফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, 'একবারের পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীকে কোনোভাবেই বিচার করা যায় না। তার মেধাকে কাজে লাগাতে আরও একবার সুযোগ দেয়া উচিত। অনেকের ইচ্ছা থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে। কিন্তু পৃথিবীর বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে যেগুলোর অবস্থান ৫০০ এর মধ্যে। আমরা চাই আমাদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া হোক।' | 6 |
পুলিশের ওপর হামলা ও দলীয় কোন্দলের মামলায় বিএনপি নেতা বাবুল আহম্মেদকে (৪২) কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বাবুল আহম্মেদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের (বামনজল) মৃত আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে।থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে বাবুল আহমেদকে পৌর শহরের পশ্চিম বাইপাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেন এস আই সেলিম রেজা।আব্দুল্লাহিল জামান আরও বলেন, গত ২৬ মার্চ শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। এতে পুলিশ সদস্যসহ আহত হন দলীয় নেতা-কর্মী। পরে ঘটনার দিনই এস আই মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ৩৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার দুই নম্বর আসামি ছিলেন বাবুল আহম্মেদ। এ ছাড়াও মারামারির ওই ঘটনায় বাবুল আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে আরও একটি মামলা হয় গত ৩ এপ্রিল। কোনো মামলায় তাঁর জামিন ছিল না এবং সেই থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। | 6 |
তুরস্ক ও আজারবাইজানের সরকার দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টবিহীন যাতায়াত চালু করতে যাচ্ছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে দুই দেশের নাগরিকরা উভয়দেশে পাসপোর্ট ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবেন বলে সোমবার এক বিবৃতিতে জানায় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, 'তুরস্ক প্রজাতন্ত্র ও আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর এক চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যার ভিত্তিতে উভয় দেশের নাগরিকরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দুই দেশে সফর করতে পারবেন, যা ২০২১ সালের ১ এপ্রিল কার্যকর হবে।' বিবৃতিতে বলা হয়, 'তুরস্ক ও আজারবাইজানের নাগরিকরা দুই দেশে তাদের পাসপোর্ট ছাড়াই সরাসরি ভ্রমণ করতে পারবেন। তাদের শুধু নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।' নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক জোরদার হবে বলে বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়। সূত্র : ইয়েনি শাফাক | 3 |
বোর্ডের শৃঙ্খলাবিধি না মানার অভিযোগে জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তাকে বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ রাখা হয়েছে।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাফল্যের অন্যতম নায়ক পেসার রুবেলে বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নাকি তার চোটাক্রান্ত সময়ের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াগুলো নিয়ম মেনে করেননি!
বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শোকজের যথার্থ জবাব দিতে পারলে রুবেলকে বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখা হবে, অন্যথায় বাদ পড়বেন তিনি।
সোমবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন রুবেল প্রসঙ্গে বলেন, 'চোট থেকে ফেরার জন্য তাকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেসব পুনর্বাসন পদ্ধতি সে অনুসরণ করেনি। এ জন্যই তাকে আপাতত বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখা হয়নি।'
তিনি বলেন, 'তাকে (রুবেল) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তার জায়গায় এখনও কাউকে নেওয়া হয়নি। কারণ দর্শানোর নোটিশে সে যদি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারে, তবে সে চুক্তিতে ঢুকবে। না হলে সে বাদ যাবে।'
এই সংবাদ সম্মেলনেই বোর্ড সভাপতি জানান, বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ১৪ জন ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে। তাদের বেতন ২৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
| 12 |
পেট্রোল পাম্পে সারারাত ডিউটি করে সকাল ৯টায় বাসায় ফেরেন আবদুস সোবহান ওরফে সুমন মিয়া। এসে দেখেন দরজা ভেতর থেকে খোলা। দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য দেখেন, তার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। মেঝেতে পড়ে আছে প্রিয় দুই শিশুকন্যা ও স্ত্রীর রক্তাক্ত নিথর দেহ। পাশেই আহত অবস্থায় বসে কাঁদছে বড় ভায়রা আব্বাসের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া আক্তার। এ দৃশ্য দেখে সুমন চিৎকার করে ওঠেন। পরক্ষণেই নির্বাক হয়ে বসে পড়েন স্ত্রী-সন্তানদের লাশের পাশে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বীভৎস এ ঘটনা দেখে তারাও থ বনে যান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে আহত সুমাইয়াকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিকের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিআই খোলা এলাকার আনোয়ার হোসেনের বাড়ির ষষ্ঠতলার একটি ফ্ল্যাটে। নিহতরা হলো- গৃহবধূ নাজনীন আক্তার (২৭), তার মেয়ে নুসরাত জাহান নিঝু (৬) ও খাদিজা আক্তার (২)। রক্তাক্ত আহত অবস্থায় নিহত নাজনীনের বড় বোনের প্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরা উদ্ধার করেছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসেন, কেয়ারটেকার কবীর হোসেন ও নিহত নাজনীনের বড় বোন ইয়াছমিন আক্তারকে আটক করেছে। তবে ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে নিহত নাজনীনের বড় বোন ইয়াছমিনের স্বামী আব্বাসকে। বিকেলে আব্বাসকে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। আব্বাস পেশায় খানসামা (ওয়েটার)। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এই পরিবারেরই কেউ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি নিহত নাজনীনের বড় বোনের স্বামী আব্বাস একাই তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে। আব্বাসের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন সুমাইয়া বিষয়টি পুলিশকে নিশ্চিত করেছে। সকালে ঘটনাস্থল সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে আনোয়ার হোসেনের বাড়ি ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড়। ওই বাড়ির আশপাশের বাড়ির ছাদেও নারী-পুরুষের জটলা। সবার দৃষ্টি আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে। খবর পেয়ে সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা দুপুরে আলামত সংগ্রহ করার পর লাশ নারায়ণগঞ্জ দেড়শ' শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত নাজনীনের স্বামী সুমন বলেন, তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় জোনাকী পেট্রোল পাম্পে কাজ করেন। বুধবার তার নাইট ডিউটি ছিল। সকাল ৯টায় তিনি বাসায় ফিরে মর্মান্তিক এ দৃশ্য দেখতে পান। দেখেন ফ্ল্যাটের দরজা খোলা তবে ভেড়ানো। তিনি দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করেই বড় একটি ধাক্কা খান। মেঝেতে স্ত্রী ও দুই মেয়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। পাশেই বড় ভায়রা আব্বাসের মেয়ে সুমাইয়া বসে কাঁদছিল। রক্তে পুরো মেঝে ভরে গেছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার করে ওঠেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। ওই সময় তিনি কী করবেন বুঝতে না পেরে স্ত্রী-সন্তানদের লাশের পাশে বসে পড়েন। কোনোমতে আহত সুমাইয়াকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, তারা বাবাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বাবা তাকেও মারার জন্য ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। সুমাইয়ার বরাত দিয়ে সুমন আরও জানান, সকাল ৮টার দিকে আব্বাস তার ফ্ল্যাটে আসে। ওই সময় বড় বোন ইয়াছমিনকে মারধর করা নিয়ে আব্বাসের সঙ্গে নাজনীনের বাদানুবাদ হয়। সুমন বলেন, তার বড় ভায়রা আব্বাসের সঙ্গে জ্যাঠাস ইয়াছমিনের পারিবারিক কলহ চলছিল। গত মঙ্গলবারও দু'জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। ওই সময় আব্বাস তার জেঠাস ইয়াছমিনকে মারধর করেন। এ খবর পেয়ে শ্যালক হাসান আব্বাসের বাসায় গিয়ে তাকে মারধর করেন। পারিবারিক কলহের কারণে বুধবার রাতে মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে ইয়াছমিন আমাদের বাসায় চলে আসে। বড় বোন ইয়াছমিনকে মারধরের কারণে একবার নাজনীন দুলাভাই আব্বাসকে চড় দিয়েছিলেন বলে জানান সুমন। এদিকে নিহতের বড় বোন ইয়াছমিন বলেন, তিনি আদমজী ইপিজেডে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কারণে তিনি বুধবার রাতে মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে ছোট বোন নাজনীনের বাসায় চলে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি কাজে চলে যান। পরে গার্মেন্টে কর্মরত অবস্থাতেই জানতে পারেন ছোট বোন নাজনীন খুন হয়েছেন। এ খবর পেয়ে তিনি নাজনীনের বাড়িতে ছুটে আসেন। তিনি আরও বলেন, তিনি নাজনীনের পাশের মহল্লা বাতানপাড়া এলাকায় স্বামী-সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। তার স্বামী মাদকাসক্ত। এ কারণে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। নিহত নাজনীনের শ্বশুর নিজাম উদ্দিন বলেন, সকাল ১০টায় ছেলে সুমন তাকে ফোন করে বলে, বাবা আমার সব শেষ। নিঝু-খাদিজাসহ তার মাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এ খবর পেয়ে আমরা সুমিলপাড়ার বাসা থেকে দ্রুত সিআই খোলা চলে আসি। তিনি বলেন, আমার জানা মতে আমার ছেলের কোনো শত্রু নেই। তাহলে কে এ ঘটনা ঘটাল। প্রেম করে নাজনীনকে বিয়ে করায় আমরা ওই বিয়ে মেনে নিইনি। তাই সুমন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সিআই খোলা এলাকায় ভাড়া থাকত। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক বলেন, পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে। কারণ সকাল সাড়ে ৭টার আগে ওই বাসায় নিহত নাজনীনের বড় বোন ইয়াছমিন ছিল। পুলিশ আব্বাসকে সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার স্টেশন থেকে গ্রেফতার করেছে। তিনজনকে হত্যা এবং নিজের সন্তানকে কুপিয়ে আহত করে সে ঘটনা আড়াল করতে সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার স্টেশনের ভেতরে একটি বিয়েবাড়িতে খানসামার কাজ করছিল। | 6 |
একদিকে শীতের প্রকোপ অন্যদিকে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মাগুরাবাসীর জীবন। বর্ষায় যেমন মশার যন্ত্রণায় নাভিশ্বাস ছিল ঠিক নভেম্বরেও জেলায় শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর উৎপাত বেড়েছে। জেলাবাসী মশার হাত থেকে রক্ষা পেতে নানা রকম ব্যবস্থা নিলেও তা ঠেকাতে পারছে না। এমনকি দিনের বেলাতেও দোকান, মার্কেট, অফিস, খেলার মাঠ শিক্ষাঙ্গনে মশার উপদ্রব। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে মশার উৎপাত আরও বেশি।জেলা শহরে মশার উৎপাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তাঁরা বলছেন, এতটা উৎপাত এর আগে দেখেননি। কয়েল, মশা মারার স্প্রে এমনকি ইলেকট্রিক ব্যাট দিয়েও কাজ হচ্ছে না। তাঁরা মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিতে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এখনই ব্যবস্থা না নিলে এক সময় ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলেও তাঁরা মনে করছেন।ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক মশাজনিত রোগ যদি মাগুরায় ছড়ায় তাহলে আমরা অবাক হব না বললেন কলেজপাড়ার বাসিন্দা শাহনুর রহমান। তিনি বলেন, দুই বছর অগে আমি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। ওই বছর শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ ছিল। এক পারনান্দুয়ালীরই ২০ থেকে ৩০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এর মধ্যে শিশুরাও ছিল।কলেজশিক্ষক হাসানুজ্জামান বলেন, পৌর এলাকায় মশার উৎপাত নির্মূলে কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম আমরা দেখছি না। সমানে মশা কামড়াচ্ছে, এটা এডিস নাকি ডেঙ্গু নাকি ম্যালেরিয়া জানি না। বাড়ির পাশে পরিষ্কার করার পরও দেখছি মশা হচ্ছে। পৌর এলাকার নালাগুলো ঠিকভাবে পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বলে মনে করেন তিনি।মাগুরা পৌরসভার (১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) দুই কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি এলাকায় মশা বেড়েছে। তাঁরা নিজেরাও চেষ্টা করছেন পৌরসভা থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না।কলেজপাড়া, দোয়ারপাড়া, আবালপুর, ভিটেসাইর, পারনান্দুয়ালী এলাকাসহ শহরের ম্যাটারনিটি পাড়ার দুটি বৃহৎ আকারের পুকুরকে শহরের মশার কারখানা বলছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকায় মশা বেড়েছে অতিমাত্রায় বলছেন স্থানীয়রা। রাতে শুধু নয় দিনের বেলায়ও বাড়িতে মশারি টানিয়ে থাকতে হয়।নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা এক গৃহিণী কৃষ্ণা সাহা জানান, সব মশা নতুন বাজার ব্রিজ থেকে আসে। ব্রিজের নিচে বাজারের সব ময়লা ফেলা হয়। সেগুলো পৌরসভা থেকে ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। তিনি আরও জানান, সন্তানদের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। একদিকে করোনার উৎপাত অন্যদিকে মশা নিয়ে খুব যন্ত্রণায় তাঁরা।সদর হাসপাতালের চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম শাওন বলেন, মাগুরাতে আমরা সাধারণ মশাই দেখি। ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়াবাহিত মশা খুব একটা দেখি না। আমাদের হাসপাতালে এ বছর ডেঙ্গুর কোনো রোগী নেই। এরপরও নিজেদের সাবধানে থাকতে হবে।মাগুরা পৌরসভায় দুই বছর আগে ডেঙ্গুর প্রকোপে মশা নিরোধে পৌর এলাকায় ফগার মেশিন দিয়ে কার্যক্রম চালালেও এ বছর এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে প্যানেল মেয়র মকবুল হাসান মাকুল জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে মাগুরা পৌরসভা। | 6 |
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় সরকারি মুজিব কলেজে যাওয়ার একমাত্র সড়ক খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলেও জমে পানি। প্রায়ই শিক্ষিক-শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হন। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল সড়ক সংস্কার করা হয়নি। এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সরকারি মুজিব কলেজের শিক্ষার্থীরা।গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মানববন্ধন করে প্রায় সাত শ থেকে আট শ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সখীপুর-সাগরদিঘি সড়কের কলেজ গেটে অবরোধ করে। এ সময় তাঁরা সড়কে বসে 'নিরাপদ সড়ক চাই' স্লোগান দিতে থাকে। ফলে সড়কের দুইপাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর পৌনে ১২টায় সখীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।সরকারি মুজিব কলেজের শিক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তার বলেন, সখীপুর-সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়ক থেকে সরকারি মুজিব কলেজে যাওয়ার মাত্র এক কিলোমিটার সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষায় সড়ক ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে পানি জমে যায়। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।'শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ তুলে নিতে হাজির সখীপুর থানার ওসি একে সাইদুল হক ভূঁইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে আগামী তিন দিনের মধ্যে সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন।সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, 'ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।' | 6 |
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, 'দুষ্কৃতিকারীরা যখনই সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত হয়, পুলিশ তখনই তাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। সেই যুদ্ধে থাকে প্রাণহানির শঙ্কা, ঘটে যায় অনেক ঘটনাও। এতে হয়তো পুলিশ সদস্যরা একজন কমরেডকে হারান, সহকর্মী হারান। কিন্ত পরিবার হারান তাদের প্রিয় মানুষটাকে।'রাজধানীর মিরপুর-১৪ এর পুলিশ স্টাফ কলেজ কম্পাউন্ডে আজ রোববার নিহত পুলিশ সদস্যদের সম্মানে তৈরি পুলিশ মেমোরিয়ালের উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন আইজিপি।বেনজীর আহমেদ বলেন, 'পুলিশে চাকরির কারণে যেসব পরিবার ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়েছেন সেসব পরিবারের প্রতি আমাদের সান্ত্বনার ভাষা নেই। আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। সবটুকু ভালোবাসা ও দরদ দিয়ে পুলিশের সেই সব সদস্যদের স্মরণ করছি।'আইজিপি বলেন, 'আজ একটি তাৎপর্যময় গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকে আমরা পুলিশ সার্ভিসের জন্য, বাহিনীর জন্য পুলিশ মেমোরিয়াল উদ্বোধন করলাম। বিভিন্ন দেশেই এমন মেমোরিয়াল হল রয়েছে। যখন যুদ্ধাবস্থা হয় তখন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ডিফেন্স ফোর্সেস অংশ নেয়।'বেনজীর আহমেদ বলেন, 'বিশ্বব্যাপী সব দেশেই ডিউটিতে থাকা অবস্থা অনেক পুলিশ সদস্য প্রাণ হারায়। আমরাও প্রতিবছর শত শত সহকর্মীকে হারাই কর্তব্যরত অবস্থায়। করোনার দুই বছরে আমরা ১০৬ জন পুলিশ সদস্যকে হারিয়েছি। হাজার হাজার সদস্য ইনফেকটেড ও অসুস্থ হয়েছে। সুস্থ হয়ে আবার কর্মেও ফিরেছেন। পুলিশ ১৯৭১ সালেও বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রথম বুলেট নিক্ষেপ করেছে। শাহাদাত বরণ করেছে। মানুষের জন্য নিরাপত্তা, শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য এখনো আত্মোৎসর্গ করছে পুলিশ।' আইজিপি বলেন, 'আমাদের এখানে যে মেমোরিয়াল হল ও টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে বিভিন্ন সময়ে কর্তব্যরত অবস্থায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আত্মত্যাগ করা সদস্যদের নাম থাকবে। তাদের জীবনবৃত্তান্তের আর্কাইভ রয়েছে।'বেনজীর আহমেদ জানান, ১৯৭১ সালের স্মরণে ৭১ ফিট টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। পুলিশ মেমোরিয়াল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। | 6 |
সাভারে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে দুর্বৃত্তরা ৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এ সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিন জন আহত হয়েছেন।
সোমবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ডেইরি ফার্মগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ তিন জন হলেন, সানোয়ার হোসেন (৪০), তার ভাতিজা টুটুল মিয়া (৩০) ও ভায়রা আবুল হোসেন (৫০)। তাদের মধ্যে দু'জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একজনকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সাভারে চিকিৎসাধীন টুটুল মিয়া বলেন, 'দুপুরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে একটি বাসযোগে চাচা সানোয়ার হোসেন ও চাচার ভায়রা আবুল হোসেনকে নিয়ে ডেইরীফার্ম পোস্ট অফিসে যাচ্ছিলাম। এ সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে দুই মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা বাসটিকে থামিয়ে চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে দুর্বৃত্তরা আমাদের তিন জনকে গুলি করে টাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এ সময় চাচা ও তার ভায়রার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।'
বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির জানান, লণ্ঠিত টাকা উদ্ধার ও দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
| 6 |
ক্রিকেটের নতুন ফরম্যাট ১০০ বলের টুর্নামেন্টের বিপক্ষে কথা বলেছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। আগামী মাসেই ইংল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে এই ফরম্যাটের টুর্নামেন্ট। এই ব্যাপারে উইসডেন ক্রিকেট মান্থলিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেছেন, 'যারা ১০০ বলের ক্রিকেটের সাথে জড়িত তারা অবশ্যই এই ফরম্যাটের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে সত্যি বলতে, আমি আর কোনো ফরম্যাটের কথা এখন ভাবতে পারছি না।' তিনি আরো বলেন, 'আমি ইতোমধ্যেই...আমি এ কথা বলব না যে, আমি হতাশ। তবে মাঝেমাঝে আপনাকে এতো বেশি ক্রিকেট খেলতে হবে যে, আপনাকে নিয়ে তখন প্রত্যাশা বেড়ে যাবে। আমার মনে হয়, ক্রিকেটের মধ্যে এতোটাই বাণিজ্য ঢুকে গেছে যে, খেলাটার আসল সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে।' কোহলি বলেন, 'সত্যি করে বলতে, আমি চাই না নতুন কোনো ফরম্যাটে কোনো ক্রিকেটারকে পরখ করা হোক। আমি বিশ্ব একাদশের অংশ হতে চাই না যে এই ১০০ বলের ক্রিকেটের উদ্বোধনে অংশ নেবে। আমি আইপিএল খেলতে ভালোবাসি, বিগ ব্যাশ দেখতেও। কারণ এখানে আপনি নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিভাধর ক্রিকেটারদের একটি দলের বিরুদ্ধে লড়ছেন এবং এর ফলে প্রতিযোগীতাপূর্ণ খেলার স্বাদও পাচ্ছেন। ক্রিকেটার হিসেবে আপনি এটাই চান। সব ধরণের লিগের পক্ষে আমি আছি, কিন্তু কোনো এক্সপেরিমেন্টের জন্য নয়।' | 3 |
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে বর্তমানে একদলের স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
'বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। একই অভিযোগে সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'একটি নিবন্ধিত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল, যারা তিনবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে-সেই দল একটি জনসভার অনুমতি পায় না। এতে সহজেই বোঝা যায়, দেশে গণতন্ত্রের অবস্থান কোন জায়গায় এসে পৌঁছেছে।'
তিনি বলেন, 'জনসভা করা আমাদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার আজ লঙ্ঘিত হচ্ছে। গোটা দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার বলতে কিছু নেই।'
সমাবেশের অনুমোদন না দেওয়ায় সরকারের এ ধরনের আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল সোমবার রাজধানীর প্রতিটি থানায় ও সারাদেশের মহানগরী এবং জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সংলাপে বসতে সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, 'আমরা বারবার বলেছি যে, রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনের জন্য সংলাপের প্রয়োজন আছে। সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। আবারও বলছি, সময় শেষ হওয়ার আগে আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।'
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।
এদিকে, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। কাছাকাছি অবস্থানে রাখা ছিল জলকামানের গাড়ি।
প্রসঙ্গত, 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে বিএনপি ৭ অথবা ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চেয়েও পুলিশের অনুমতি পায়নি। এরপর বিকল্প স্থান হিসেবে ৮ নভেম্বর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে বিএনপি ফের চিঠি দিলেও পুলিশ সে চিঠি পায়নি বলে জানায়। তবে পুলিশ ২৭টি শর্তে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে সভার অনুমতি দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি। ওই দিনই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৩ নভেম্বর সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে ডিএমপির কাছে আবার চিঠি দেয় তারা। এবারও অনুমতি না পাওয়ার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।
| 9 |
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শনই ছিল শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের প্রতি ভালবাসা। বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শকে ধারণ করে তরুণ নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করবে-এই হোক জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর প্রত্যয়। বৃহস্পতিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংসদ ভবনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় কবিতা আবৃত্তি করেন সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মঞ্জুর, বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' থেকে পাঠ করেন গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক তারিক মাহমুদ, বঙ্গবন্ধুর 'কারাগারের রোজনামচা' থেকে পাঠ করেন উপপরিচালক সামিয়া রুবাইয়াত হোসাইন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আরো বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। শোষণ-বৈষম্য-নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে বাংলার মানুষকে মুক্তি দেওয়াই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। ১৯৭৪ সালে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ স্থাপন তার উন্নত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার অন্যতম পদক্ষেপ। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়নে রোল মডেল, রেমিট্যান্স থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে অনেক সফলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। সকল সূচক পূরণ করে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্যকে কারাগারে যেতে হয়েছিল আবাসিক হলগুলোয় যে সংখ্যক শিক্ষার্থী ছিলেন, তার চেয়ে বেশি রেশন কার্ড করার দায়ে। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে ওই উপাচার্য বলেছিলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে কম পয়সায় খেতে পারেন, সে জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের সংখ্যার চেয়ে বেশি রেশন কার্ড করা নিশ্চয়ই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তিনি এটি করেছিলেন শিক্ষার্থীদের কল্যাণচিন্তা থেকে। বর্তমানে যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদাধিকারী, তাঁরা শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে যে খুব ভাবিত নন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলনই তার প্রমাণ। গত বুধবার প্রথম আলোয় প্রধান শিরোনাম ছিল, শিক্ষার্থীরা কী খাচ্ছেন, নজর নেই কারও। এই প্রতিবেদনে ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ক্যানটিনের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। আবাসিক হলের পাতলা ডালের 'খ্যাতি' সর্বজনবিদিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাছ বা মাংসের যথাসম্ভব ছোট টুকরো এবং বাজারের সবচেয়ে নিম্নমানের মোটা চালের ভাত। বিনিময়ে প্রতি বেলা খাবারের জন্য নেওয়া হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য কোনো ভর্তুকি দেওয়া হয় না। কেননা বাজেট কম। বাজেট কম বলে নতুন নতুন দালানকোঠা নির্মাণ থেমে নেই। থেমে নেই বছরব্যাপী আড়ম্বর অনুষ্ঠানাদিও। শিক্ষার্থীদের খাবারদাবারের প্রশ্ন এলেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাজেটের দোহাই দেয়। শিক্ষার্থীদের এ জ্বলন্ত সমস্যা যে তাঁদের মাথায় ছিল না, সেটি বোঝা গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, শিগগিরই হল প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করবেন। এত দিন কেন করলেন না? প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আরও বেরিয়ে এসেছে যে আবাসিক হলের ক্যানটিনের খাবারের নিম্নমানের পেছনে সরকার-সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের 'হাত' আছে। একদিকে তাঁদের অনেকে ফাউ খান এবং খাবারের বিল দেন না, অন্যদিকে হল ক্যানটিনের ইজারাদারদের ছাত্রলীগের হুকুমে চলতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রলীগই ঠিক করে দেয় কে ইজারা পাবেন, কে পাবেন না। সম্প্রতি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে জীবন দিতে হলো ছাত্রলীগের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে। 'বাজেট কম' থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের খাবারের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া যাচ্ছে না বলে যে যুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরফে তোলা হচ্ছে, তার পাল্টা হিসেবে প্রশ্ন করা যায়, শিক্ষার্থীদের খাবারের মান নিয়ে আদৌ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা আছে কি? এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য সরকারের সঙ্গে জোরালো দেনদরবার করেছে কি? উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলে, শিক্ষার্থীদের খাবারে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য বাজেট মিলবে না কেন? আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে গবেষণা করেছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। এতে দেখা যায়, হলের একজন শিক্ষার্থী দৈনিক গড়ে পুষ্টি পান ১ হাজার ৮২১ কিলোক্যালরি। অথচ একজন সুস্থ মানুষের প্রয়োজন ২ হাজার ৮০০ কিলোক্যালরি। এর কম পেলে তাকে দারিদ্র্যসীমার নিচে ধরা হয়। পুষ্টি গ্রহণের বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকেই উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের খাবারের মান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের টনক নড়ুক। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি যেন নিশ্চিত হয়, সেই মানের খাবার পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া হোক। ছাত্রলীগের ফাউ ও বাকি খাওয়া বন্ধ হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের খাবার মান কিছুটা বাড়বে। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তা নিশ্চিত করতে হবে। খাবারের খাতে বাড়তি বরাদ্দ পাওয়ার আগে অন্য খাতে বরাদ্দ কমিয়ে হলেও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ভর্তুকি দিতে হবে। | 8 |
বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ব ও শক্তিশালী উপস্থিতির পরিধি বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ বলে করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন সিনিয়র জেনারেল।তিনি বলেছেন, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রাশিয়া নিজের কর্তৃত্ব জাহির করছে এবং শক্তিশালী উপস্থিতির পরিধি বৃদ্ধি করছে। তিনি আরো বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে মস্কো এই অঞ্চলে শক্তির খেলা খেলছে। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে পাকিস্তান ও রাশিয়া একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর ফলে পাকিস্তানের সেনাকর্মকর্তারা রাশিয়ার সামরিক একাডেমিগুলোতে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কাবনতির কারণে এই চুক্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে দেয়া কেবল সামরিক ও নিরাপত্তা সহায়তাই বন্ধ করেনি, আমেরিকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও বন্ধ করেছে দেশটি। পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল জোসেফ এল ভোটেল বলেন, 'বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে কর্তৃত্ব ও শক্তি ব্যবহার করে নিজেদের উপস্থিতি জাহির করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। দেশটি সমগ্র অঞ্চলটির ওপর প্রভাব বিস্তারেরও চেষ্টা করছে। আমি মনে করি, একটির পর একটি নতুন দেশ বা এলাকায় তারা নতুন করে কাজ শুরু করছে এবং এ জন্যই এই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় তাদের কর্মকাণ্ড ও প্রভাব দেখতে পারছি আমরা।' পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেনারেল ভোটেল এই কথা বলেন। রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ডকে 'অস্থিতি সৃষ্টির কার্যকলাপ' হিসেবে আখ্যায়িত করে জেনারেল ভোটেল বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান হওয়ার কারণে মস্কোর এই কর্মকাণ্ড তাকে প্রত্যক্ষভাবে উদ্বিগ্ন করে। কারণ সেন্টকমের প্রধান হিসেবে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়গুলো তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরো বলেন,'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) দৃষ্টিভঙ্গি এটাই। আরো পরিষ্কারভাবে বললে, আপনারা আমাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি দেখেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের আওতাভুক্ত অঞ্চলে বর্তমানে বিশাল শক্তির প্রতিযোগিতা চলছে।' মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বলছে যে, চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দুই দিনের ইসলামাবাদ সফরের সময় পাকিস্তানের সেনাকর্মকর্তাদের রাশিয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ বিষয়ে ইসলামাবাদ-মস্কোর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি আগস্টের ৯ তারিখে মস্কোয় রাশিয়া ও পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এই বিষয়ে আলোচনা করেন। দেশটির গণমাধ্যমে আরো বলা হয়েছে, পাকিস্তান পশ্চিমা সামরিক তত্ত্ব বা মতবাদ মেনে চলে। দীর্ঘ দিন তারা পশ্চিমা উন্নত সামরিক সরঞ্জাম পেয়ে এসেছে এবং ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের মতো অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানও পাকিস্তান পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পেয়ে এসেছে। সুতরাং পাকিস্তানের পক্ষে পাশ্চাত্যের সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা এবং রাশিয়ার মডেল অনুসরণ করা সহজ হবে না। কিন্তু মন্ট্রিল-ভিত্তিক বিশ্বায়নবিষয়ক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি এক রিপোর্টে যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছে যে, রাশিয়া ও পাকিস্তান সঠিক পথেই আছে এবং তারা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি রয়টার্সের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মস্কো ও ইসলামাবাদ বেশ কয়েক বছর ধরে সহযোগিতা গড়ে তুলছে। তবে এই সম্পর্ক এখন নতুন গুণগতপর্যায়ে উপনীত হচ্ছে। সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে ও অন্যান্য উপায়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাস্তব সহায়তা করে যাবে রাশিয়া। | 3 |
আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। একই সঙ্গে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে উচ্ছেদ হওয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের এ জ্যেষ্ঠ নেতা।সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ইন্টারন্যাশালনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েনডি জো ওয়ার্নারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। আইএফসি কান্ট্রি ম্যানেজার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, গত কয়েক দিনে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকেও আছে। আওয়ামী লীগ এসব জনগণের পাশে আছে। মানবিক সাহায্য-সহযোগিতা দিচ্ছে। যদি আরও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আসে মানবিক কারণে তাদেরও আশ্রয় দেওয়া হবে, সহযোগিতা করা হবে।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা গণহত্যার শামিল। একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করে ওই রাজ্যে কলকারখানা স্থাপন করতে এসব হচ্ছে। বিশ্বের সবার উচিত, মানবতার জন্য এর বিপক্ষে দাঁড়ানো। বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, বিশ্ব বিবেক রোহিঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমার সরকারকে চাপ সৃষ্টি করা হবে, যাতে মিয়ানমারে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়। রোহিঙ্গাদের পাশে আওয়ামী লীগের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশিরা সব সময় মানবিক। বাংলাদেশিরাও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গৃহহারা হয়েছিল। প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যারা সবকিছুতে 'না' বলতে থাকে। বাংলাদেশ তো এজন্য যুদ্ধে জড়াতে পারে না। মিয়ানমার প্রতিবেশী দেশ। সরকার কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করছে। যাতে রোহিঙ্গারা আরাকানে নিজস্ব ভূমিতে বসবাস করতে পারে। অনেকে বলছে বাণিজ্য সম্পর্ক, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে। কিন্তু এটা সমাধান নয়। বিএনপি কোনো ইস্যু না পেয়ে অমূলক কথাবার্তা বলছে। যেমন বলেছে ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে। আগে রায় পড়েনি, বলতে শুরু করেছে। যখন দেখেছে ওই রায়ের পর্যালোচনায় জিয়ার সরকারকে অবৈধ, ব্যানানা সরকার বলা হয়েছে। এখন তাদের (বিএনপির) গলা নেমেছে।
| 6 |
কক্সবাজারে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যায় তার বোনের করা মামলা অবৈধ ঘোষণার রিভিশন আবেদনের উপর শুনানির দিন ফের পিছিয়ে আগামী ১৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে আদালত। ১০ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল এ আদেশ দেন বলে জানান রিভিশন মামলার বিবাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা। আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী অসুস্থ থাকায় এ দিনধার্য্য থাকলেও শুনানি না করে এ আদেশ দেওয়া হয়। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় তার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয় জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার প্রধান আসামি বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী। গত ৪ অক্টোবর লিয়াকত আলীর আইনজীবী মাসুদ সালাহ উদ্দিন এ মামলা বেআইনি ও অবৈধ দাবি করে বাতিলের জন্য রিভিশন আবেদন করেন। এ নিয়ে আদালত আবেদনটির পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য গত ২০ অক্টোবর এ দিনধার্য্য করেছিলেন। ওই নির্ধারিত দিনে সিনহা হত্যা মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস অসুস্থতা জনিত কারণে উপস্থিত থাকতে না পারায় আদালত ১০ নভেম্বর শুনানির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। রিভিশন মামলায় বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, সিনহা হত্যা মামলার প্রধান আসামি লিয়াকত আলীর আইনজীবীর দায়ের করা রিভিশন আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার নির্ধারিত দিন ছিল। আদালতে আবেদনটির বিবাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে রিভিশন আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ সালাহ উদ্দিন আসেননি। তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, যে কারণে উনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। এতে আবেদনের প্রার্থী মঙ্গলবার সময় চান বলেন তিনি। মোস্তফা আরও বলেন, "যেহেতু রিভিশন আবেদনটির বাদীপক্ষের আইনজীবী উপস্থিত থাকতে পারেননি এবং সময় চেয়েছেন; তাই আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আগামী ১৩ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য দিনধার্য্য করেছেন।" | 6 |
সারাদেশে দুই হাজার ৩১৪ জন হোম কোয়ারেন্টাাইনে আছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত পুরাতন তিন জনই সংক্রমণ মুক্ত। তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত দুই জন। তারা হাসপাতালে আছেন। রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, ইতালি থেকে দেশে আসা যাত্রীদের প্রাথমিক পরীক্ষায় রোগের লক্ষণ না থাকায় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের মাধ্যমে ওই যাত্রীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। | 6 |
ইলন মাস্কের টুইটার কিনে নেওয়ার প্রস্তাবের খবরে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য কর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছেন টুইটারের প্রধান নির্বাহী পরাগ আগারওয়াল। তিনি কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন যে এ জন্য কোম্পানি জিম্মি হয়ে থাকবে না। খবর রয়টার্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের বোর্ডে আসতে চেয়েছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তবে পরে সে বিবেচনা থেকে সরে এসে ৪ হাজার ১০০ কোটি (৪১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে টুইটারকে কেনারই প্রস্তাব দেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক নথিতে এ তথ্য জানানো হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মাস্ক টুইটারের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫৪ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার দিতে চেয়েছেন। এমন অবস্থায় গতকাল টুইটারের সব পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী পরাগ আগারওয়াল। সংশ্লিষ্ট এক সূত্র রয়টার্সকে জানায়, বৈঠকে কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন আগারওয়াল। সে সময় কর্মীদের কাজের প্রতি মনোযোগ অব্যাহত রাখার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। বলেন, 'যা কিছুই ঘটুক না কেন কর্মী হিসেবে আমরা তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখব।' বৈঠকে কর্মীদের কাজের প্রশংসাও করেছেন পরাগ আগারওয়াল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সূত্র তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়েছেন। কারণ, জনসমক্ষে এ নিয়ে কথা বলার অনুমতি তাঁর নেই। এ সপ্তাহের শুরুতে মাস্ক বলেন, টুইটারের পরিচালনা বোর্ডে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাতিল করেছেন তিনি। কারণ, টুইটার বোর্ডে বসলে কোম্পানি কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হবে তাঁকে। টুইটার কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে চেয়ারম্যান ব্রেট টেলরকে লেখা এক চিঠিতে মাস্ক বলেন, 'টুইটারে বিনিয়োগ করার পর থেকে বুঝতে পারছি বর্তমান অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি উন্নতি করবে না বা সামাজিক প্রয়োজন মেটাবে না। টুইটারকে একটি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে রূপান্তরিত করতে হবে।' মাস্ক বলেন, 'আমার প্রস্তাবটি সেরা ও চূড়ান্ত। এ প্রস্তাব যদি গৃহীত না হয়, তবে শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আমার অবস্থান বিবেচনা করতে হবে।' | 3 |
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে কেনাকাটায় 'কমিশন দেওয়ার প্রস্তাবের' অভিযোগ করেছিলেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে তিনি লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন ২০২০ সালের ৩০ মে। অভিযোগ দেওয়ার এক বছর চার মাস পর পুলিশেরই একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের মতো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তাহলে কি ভুল অভিযোগ করেছিলেন? অধীনস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনি কেন এ অভিযোগ করতে গেলেন?তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ব্যাপারে জানতে চেয়ে শফিকুল ইসলাম ও ইমাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা দুজনই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পুলিশ বাহিনীর অন্য কর্মকর্তারাও এ নিয়ে কিছু বলতে চান না। যদিও কমিশনারের অভিযোগ এবং ওই অভিযোগের তদন্ত নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে পুলিশ মহলে। পাল্টাপাল্টি মতও আছে।উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, এখানে সাক্ষ্য পাওয়া যাবে না, সেটাই স্বাভাবিক। কমিশনার যে অভিযোগ দিয়েছিলেন, এটা হয়তো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়নি। তবে ঘটনা যে মিথ্যা তা-ও বোঝা যাচ্ছে না। কোন অবস্থায় গেলে দায়িত্বশীল একজন মানুষ নিজের অধীনস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে বাধ্য হন, সেটা সহজেই অনুমেয়। সত্য জানতে সব সময় প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।গত বছরের ৩০ মে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের কাছে একটি চিঠি দেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। চিঠিতে তিনি ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিকস) মো. ইমাম হোসেনকে 'দুর্নীতিপরায়ণ' কর্মকর্তা বলে আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি তাঁকেকেনাকাটায় কমিশন দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। সেই চিঠিতে কমিশনার ওই কর্মকর্তাকে জরুরি ভিত্তিতে ডিএমপি থেকে বদলিরও সুপারিশ করেন। তবে কমিশনারের চিঠি কার্যকর হওয়ার আগেই তা গণমাধ্যমে চলে যায়। কয়েকটি গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর ডিএমপি কমিশনার ইমাম হোসেনকে কেনাকাটার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিএমপির পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম)-এ, যা দাঙ্গা দমন বিভাগ নামে পরিচিত, বদলি করেন।১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা ইমাম হোসেন ১৯৯৯ সালে পুলিশবাহিনীতে যোগ দেন। ২০১২ সালে তিনি ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হিসেবে বদলি হন। এরপর ডিএমপির উপকমিশনার (অর্থ) ও উপকমিশনার (লজিস্টিকস) পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কর্মরত।এদিকে, কমিশনের চিঠি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেই চিঠি কী করে বাইরে এল, তার তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তারা কয়েকজন সাংবাদিককে ডিএমপি সদর দপ্তরে ডেকে চিঠির ব্যাপারে জানতে চায়। সে সময় এ নিয়ে সংবাদকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে ঘটনা জানতে চিঠি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ সদর দপ্তর তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। সেই তদন্ত দলে ছিলেন সদর দপ্তরের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম ও সদর দপ্তরের এআইজি জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। কমিটির সদস্যরা অভিযোগ নিয়ে কমিশনার ও ইমাম হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজি) কাছে। সেই প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কমিটির প্রতিবেদনের অনুলিপি গত ২৪ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিবের কাছে পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে পার্সেন্টেজ বা ঘুষ প্রদানের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান তৎকালীন উপমহাপরিদর্শক এবং বর্তমান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ ও অপারেশনস) এম খুরশীদ আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, কমিটি তদন্তে যা যা পেয়েছে, তা জমা দিয়েছে। কী কী বিষয় তদন্তে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'অনেক দিন আগের বিষয়, সব মনে নেই।' তবে অধীনস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশনারের অভিযোগ এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর এ বিষয়টি নিয়ে আর কী হবে, তা কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না।কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ কমিশনার নিজে ছয় মাস চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেননি। তিনি আইজিপিকে মৌখিকভাবে না জানিয়ে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, যা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশে কেনাকাটার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বেশি দিন ওই পদে না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, এই পদে পদায়নের ক্ষেত্রে সততা, নৈতিকতা ও পেশাদারি বিবেচনায় রাখতে হবে।জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, সেই অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই সেই কর্মকর্তা অব্যাহতি পাবেন। তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।এ ধরনের অভিযোগ, তদন্ত ও তা প্রমাণিত না হওয়া পুলিশের ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে-জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু পুলিশ তদন্ত করলে তা কখনোই নিরপেক্ষ হবে না। কারণ, সেখানে নানা স্বার্থের বিষয় থাকে। আমরা বারবারই বলেছি, এমন ঘটনায় তদন্তে আস্থা আনতে কমিটিতে যাঁদের মানুষ বিশ্বাস করে-এমন কাউকে রাখতে হবে। | 6 |
মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এফ হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সভাপতিসহ ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষে স্থানীয় রিপন মিয়া নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে সিনিয়র সহকারী জজ (সুন্দরগঞ্জ) গাইবান্ধার আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। সোমবার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম প্রধান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মামলায় প্রধান আসামি করা হয়, চন্ডিপুর এফ হক উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মোজাম্মেল হক, স্কুলের অন্যান্য আসামিরা হলেন ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আমিন হোসেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম, অফিস সহকারী ফিরোজ কবির ও সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রশিদ, মোজাহিদুল সরকার, সাইফুল্লা এবং হাবিবুর রহমান।এছাড়া মামলায় সহযোগী আসামি করা হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সোনালী ব্যাংক সুন্দরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুর ও পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে।অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম প্রধান জানান, '২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির তালিকায় নাম ও তথ্য ঠিক থাকলেও কৌশলে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করেন সাবেক অধ্যক্ষ ও সাবেক সভাপতিসহ কতিপয় শিক্ষক-কর্মচারী। পরে গত দেড় বছরে কয়েক কিস্তিতে এসব মোবাইল অ্যাকাউন্টে আসা উপবৃত্তির মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন তারা। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগের পর সরেজমিন তদন্তে উপবৃত্তি আত্মসাতসহ অধ্যক্ষ ও শিক্ষক-কর্মচারীদের জড়িত থাকার প্রমাণও পায় উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা অধিদপ্তর জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। এমনকি উপবৃত্তির টাকাও ফেরত পায়নি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।'নুরুল ইসলাম আরও জানান, 'মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতে জড়িতদের বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরতের দাবিতে আদালতে প্রতিনিধিত্বমূলক মামলা করেন রিপন মিয়া। আগামী ৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত। এর আগে গত ৩০ জুন বিবাদী সাবেক অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ প্রেরণ করা হলেও তিনি কোন জবাব দেননি।' | 6 |
বিস্ফোরক আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজিবি) সংগঠককে গ্রেপ্তার করেছে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। গ্রেপ্তারকৃতের নাম শরিফুজ্জামান ওরফে মিন্টু ওরফে ওবায়দুল্লাহ ওরফে মাহি ওরফে শরিফ। শুক্রবার (১১ মার্চ) সকালে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এটিইউ বলছে, গ্রেপ্তার শরিফ ২০১৩ সালে তুরাগ থানায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া মামলায় ১০ বছর ৬ মাস কারাদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি। এটিইউ'র পুলিশ সুপার (মিডিয়া এন্ড অ্যাওয়ারনেস) মোহাম্মদ আসলাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০১৩ সালে ৭ অক্টোবর তুরাগ থানাধীন আশুলিয়া বাইপাইল রোডে অভিযান চালিয়ে হুজিবির সংগঠক খলিলুর রহমান শাহরিয়ার, মো. আ. কাদের মুয়াক্ষের, মো. মাকছুদুর রহমান ও শরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তাদের কাছ থেকে একটি ম্যাগজিনসহ পিস্তল, ৩২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১ হাজার ১৩৫টি এসএমজির গুলি, দুইটি ১ হাজার ৫০০ গ্রাম ওজনের উচ্চ বিস্ফোরক, ১১০ ফিট কর্ডেক্স, ৫টি ডিটোনেটর, একটি ব্লাস্টিং মেশিন ও ৮টি ককটেল। তাদের মধ্যে খলিলুর রহমান শাহরিয়ার হুজিবির পলাতক কেন্দ্রীয় নেতা ও হুজিবি'র পরিবর্তিত সংগঠন তামিরুত-আত-দ্বীন এর প্রধান সংগঠক ছিলেন। শরিফ হুজিবির পরিবর্তিত সংগঠনে অর্থ সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের সংগঠকদের মধ্যে বিতরণ ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য এনেছিল। গ্রেপ্তারের পরের দিন ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর তুরাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের মধ্যে শরিফ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে পলাতক হয়ে দীর্ঘদিন উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। সে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করে এবং ফ্রিল্যান্সিং করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। সে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় বসবাস করতো। তাকে আদালতে সোপর্দ করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান এটিইউ কর্মকর্তা। | 6 |
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকায় পাকুন্দিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয় কলেজ গেটের সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ওই এলাকার বাসাবাড়ির আবর্জনা এখানে স্তূপ করে রাখা হয়। জমে থাকা এসব ময়লা-আবর্জনা দীর্ঘদিনেও অপসারণ না করায় গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে অতিষ্ঠ কলেজের শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা। তবে ময়লা অপসারণে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।জানা গেছে, পৌর এলাকার পাকুন্দিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাকুন্দিয়া মহিলা কলেজ গেট-সংলগ্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। ওই এলাকায় শতাধিক বাসাবাড়ি রয়েছে। আলাদা কোনো ডাস্টবিন না থাকায় এসব বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ এসব অপসারণে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এসব ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। আর পড়ে থাকা ময়লা পচে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজের হাজারো শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা যাতায়াত করে থাকেন। ফলে এসব আবর্জনার দুর্গন্ধে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির পূর্ব পাশে জমে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বেশির ভাগই পলিথিনের ব্যাগে ভরা। এসব পলিথিন ক্ষয় না হওয়ায় সহজে পচন ধরছে না। পলিথিনে থাকা ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। ছড়াচ্ছে তীব্র গন্ধও। সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ততম। শত শত বাস-ট্রাক প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়া করে। এ কারণে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা।কবির হোসেন নামের একজন পথচারী জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লার ভাগাড় থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক সময় নাক-মুখ বন্ধ করে চলাফেরা করতে হচ্ছে।'নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসাবাড়ির মালিক বলেন, 'এখানে শতাধিক বাসাবাড়ি রয়েছে। কিন্তু ময়লা ফেলার জন্য কোনো ডাস্টবিন নেই। বাধ্য হয়ে বাসাবাড়ির উচ্ছিষ্ট এখানে ফেলা হচ্ছে। এসব আবর্জনা থেকে যাতে কোনো দুর্গন্ধ না ছড়ায়, সে জন্য মাঝেমধ্যে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়। স্থায়ীভাবে এখানে একটি ডাস্টবিন নির্মাণ করা হলে উপকার হতো। তাহলে যত্রতত্র ময়লা ফেলা হতো না। কাউকে দুর্ভোগও পোহাতে হতো না। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা দেখবেন বলে আশা করছি।'কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। ময়লা-আবর্জনার স্তূপের কারণে এক পাশে চলতে হয়। এই ময়লা পচে দুর্গন্ধের পাশাপাশি জীবাণু ছড়াচ্ছে। পরিবেশের দূষণও ঘটাচ্ছে। জমে থাকা এসব ময়লার স্তূপ দ্রুত অপসারণের দাবি জানায় তারা।এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, 'আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে; পাশাপাশি ওই এলাকায় একটি ডাস্টবিন নির্মাণ করা যায় কি না, তা-ও আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
নাট্য অঙ্গনে কারোনা আঘাতের দুই বছর আজ। করোনার কারণে বিশেষ সতর্কতায় ২০২০ সালের ১৯ মার্চ থেকে ছোট পর্দার সব শুটিং স্থগিত হয়। দীর্ঘ এই সময়ে একটু করে এই অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে গত দুই বছর দেশের নাট্য অঙ্গন কেমন ছিল, অভিজ্ঞতার আলোকে সেটাই জানালেন গুণী প্রবীণ অভিনেতা আবুল হায়াত। সেই সময় থেকেই বিধিনিষেধের কারণে একে একে বিনোদনের সব দরজা বন্ধ হতে থাকে। এর সঙ্গে বন্ধ হতে থাকে অর্থলগ্নি। খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তায় দিন গুনতে থাকেন অনেক অভিনয়শিল্পী। এ প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, 'প্রথম দিকে একটা আতঙ্ক ছিল। কী হয়! পরে তো আমাদের অনেকে করোনায় আক্রান্ত হন। একসময় সব দ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শিল্প অঙ্গনে খরা চলছিল। জীবন ধারণেই সমস্যা হয়ে গিয়েছিল। আমাদের মধ্যে কম আয়ের অভিনয়শিল্পীরা বেঁচে থাকতেই হিমশিম খাচ্ছিলেন। তখন শিল্পীরা তাঁদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। এভাবে তখন শিল্পীদের মধ্যে একটি বন্ধন তৈরি হয়েছিল। আমাদের শিল্পীদের মধ্যে সোশ্যাল দিকগুলো আরও শক্ত হতে শুরু করে। আমরা নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকি।' তবে কাজের ক্ষেত্রে স্থবিরতায় কিছুটা চিন্তিত ছিলেন এই অভিনেতা। কারণ, সহকর্মীরা অনেকে কাজ না করে ভালো ছিলেন না। অনেকেই অভিনয় থেকে দূরে থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। করোনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল মানসিক চাপ। পরিস্থিতি কি স্বাভাবিক হবে? আবার কবে শুটিং হবে, কবে নাটক নির্মাণ বাড়বে-এসব কারণে নাট্য অঙ্গন ছিল স্থবির। দীর্ঘ এই দুই বছরে সেই স্থবিরতা দেশের নাট্য অঙ্গন কতটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে? এমন প্রশ্নে আবুল হায়াত বলেন, 'আমরা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। এখন রীতিমতো "গণজোয়ার" এসে গেছে। টেলিভিশন চ্যানেলের বাইরে অনেক বড় বড় কাজ হচ্ছে। অনেক অর্থলগ্নি হচ্ছে। সবাই কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। কাজের মান বাড়ছে। মিডিয়াটা এখন এগিয়ে যাচ্ছে।' তবে টেলিভিশনের বাইরে ওটিটি ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের কাজগুলো নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেতা। তিনি মনে করেন, 'এখন ভালো কাজের প্রতিযোগিতা হচ্ছে। সেখানে ভালো নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা সেরাটা দিয়ে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। কাজের একটা মূল্যায়ন হচ্ছে। এসব কাজই আমাদের নাট্য অঙ্গনে নতুন করে আশা দেখাচ্ছে। হয়তো এই পরিবর্তন একটা সময় এমনিতেই আসত। সেই সুসময়ই এসে গেছে। ভালো কাজের পরিবেশই নাট্য অঙ্গনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।' | 2 |
দরিদ্র পরিবারে জন্ম বলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কষ্টটা ভালোই জানেন মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। মা-বাবার ত্যাগে শিখেছেন পড়াশোনা। পরে পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তবে ভুলে যাননি নিজের শিকড়। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়িতে তাঁর শিকড় পোঁতা। স্বপ্ন দেখেন, কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রতিবছরই ছুটে আসেন দেশে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন সেখানে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করছেন। মায়ের নামে ১৯৯৪ সালে গড়ে তোলেন সাজেদা-আনোয়ার ফাউন্ডেশন। সেই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নিজের উপার্জিত টাকায় শিশুদের স্কুলে ভর্তি, উপবৃত্তি প্রদান, আর্থিক অনুদান, স্কুলের অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা কাজ করছেন; পাশাপাশি শিশুদের উৎসাহ দিতে দেশে ফেরার সময় লাগেজ ভর্তি করে নিয়ে আসেন নানা খেলনা।১৯৯১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, 'একজন শিশুর হয়ে আমি বলব, "আমাকে শিক্ষিত করে দাও।" এই কাজ আমাকে-আপনাকে সবাইকে করতে হবে। মিলেমিশে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।' সব শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত হলেই আমাদের সমাজ ও দেশ পৃথিবীর সেরা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আনোয়ার বলেন, 'আমি যখন পড়ালেখা করতাম, তখন আমার বাবা-মা দরিদ্র ছিলেন। এরপরও তাঁরা আমাদের আলোকিত করতে, স্কুলে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নানা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখনকার বাবা-মায়েরা কিন্তু সেই অবস্থায় নেই। তাঁরা আমার মায়ের মতো দরিদ্র নন। এরপরও তাঁরা নিজ সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। এখানে ভোগবিলাস, অর্থ ও অসচেতনতা কাজ করে। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে না পড়িয়ে কাজে লাগিয়ে দেওয়া হয়।' বর্তমানে বেশ সুবিধা থাকার পরও শিশুদের একটি বড় অংশ স্কুলে যাচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন। শিশুদের শতভাগ স্কুলে বাধ্য করার বিষয়ে সরকারকে কঠোর হতে হবে বলে তিনি মনে করেন।আনোয়ার বলেন, 'সরকারকে মনে করতে হবে, শিশুটি আমার। শিশুটি রাষ্ট্রের। এই শিশু একদিন সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। সরকার যখনই মনে করবেন শিশুটি আমার-তখনই ওই শিশুরা স্কুলে যেতে বাধ্য হবে।' সরকারের দায়িত্বের কারণেই তাঁকে স্কুলে যেতে হবে। তিনি নিজেও তেমন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান।বর্তমানে নিউইয়র্কের বাফেলো এলাকায় থাকেন আনোয়ার। পেয়েছেন দেশটির নাগরিকত্বও। তাঁর সন্তানেরা সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ছেন। ১৯৯৪ সালে মায়ের নামে আনোয়ার হোসেন স্থাপন করেন সাজেদা-আনোয়ার ফাউন্ডেশন। এর চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন মা সাজেদা বেগম। বর্তমানে সংগঠনটির হয়ে কাজ করেন অন্তত ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই পাড়ায় পাড়ায় ও দুর্গম এলাকায় গিয়ে শিশুদের পড়ালেখার বিষয়ে তাঁরা অভিভাবকদের উৎসাহ জুগিয়ে থাকেন। সংগঠনটি ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের স্কুলে ভর্তি, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, আর্থিক অনুদান, লাইব্রেরি, স্কুলের অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা উন্নয়নকাজ করে যাচ্ছে। | 6 |
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট হাতে ২২১ করেছে শ্রীলঙ্কা। তবে এরই মধ্যে দু:সংবাদ এসেছে টাইগার শিবিরে। ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁ হাতের কণিষ্ঠ আঙুলের নিচে ব্যথা পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের বাকিটুকু হয়তো খেলতে পারছেন না টাইগারদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এ ব্যাপারে বিসিবি চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, 'আঙ্গুল ভেঙ্গেছে কী না আমরা জানি না। বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিলে না। এখন এক্সরে করে দেখবে। আজকের ম্যাচটা খেলতে পারবে বলে মনে হয় না।' পরে তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চোটগ্রস্থ আঙ্গুলের এক্সরে করতে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিডি প্রতিদিন/২৭ জানুয়ারি, ২০১৮/ওয়াসিফ | 12 |
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের মেক্সিকো সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এমনটি জানিয়েছে।স্থানীয় সম্প্রচার মাধ্যম ভ্যালি সেন্ট্রালের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে একটি একটি সাদা রঙের ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। ওই ট্রাকটিতে প্রায় ৩০ জন অননুমোদিত অভিবাসী ছিলেন।টেক্সাসের জননিরাপত্তা দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মেক্সিকো বর্ডার থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত ফালফুরিয়াস এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।চোরাচালানকারীরা প্রায়ই সীমান্ত থেকে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য অতিরিক্ত জনাকীর্ণ যানবাহন ব্যবহার করে।গত মার্চে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে জনাকীর্ণ যানবাহনের সঙ্গে একটি ভারী ট্রাকের সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় একজন চোরাচালানকারীকে অভিযুক্ত করা হয়। | 3 |
বাঙালি নির্বাচনমুখী জাতি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তারা নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পছন্দ করে। তাই সারা দেশেই এখন নির্বাচনী আমেজ। এই উৎসবের আমেজের মধ্যে দেশজুড়ে নির্বাচনী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিক হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এই সহিংসতা ক্রমাগত উদ্বিগ্ন করছে। প্রাক্-নির্বাচনী যে সহিংসতা চলছে, সেটা নির্বাচনের সময় ও নির্বাচনের পরে কোন অবস্থায় পৌঁছাবে, তা নিয়ে উদ্বেগটা আরও বেশি। অতীত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু নারীদের বিপদগ্রস্ত হতে হয়। সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ক্রমাগত শঙ্কা দানা বাঁধছে। বিরোধী প্রার্থী ও সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় নারী, সংখ্যালঘু ও তরুণ ভোটার-এই তিনটি গোষ্ঠী বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি গোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। নারী ভোটারের ভোট দেওয়া কোনো না-কোনোভাবে উৎকণ্ঠার জায়গা তৈরি করে। পুরো নির্বাচনব্যবস্থা যেখানে অর্থ ও পেশিশক্তির কাছে হার মেনে যাচ্ছে, সেখানে নারীর ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি তাঁদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। নারী শুধু ভোটার নন, প্রার্থীও হতে পারেন। এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা খুবই কম। দলগুলো অল্প কিছু নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এমন এমন জায়গায় নারী প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, যেখানে দলের জেতার সম্ভাবনা খুবই কম। এটা একধরনের সমঝোতার কৌশল। নারীকে প্রার্থী করতে হবে বলে করা। নারীকে জয়ী করার জন্য দলকে যে কষ্ট করতে হয়, তা করতে দলগুলো কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। নারী আন্দোলনকর্মী হিসেবে বলতে চাই, নারী তাঁর পথ খুঁজে নিতে জানে, যদি তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়। নারীদের সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটাই দুঃখের বিষয়। ক্ষমতায়নের কথা বলে নারীকে প্রার্থী হিসেবে আনার ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। পরিবার ও সমাজেও অনীহা আছে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে আগামীর দিকনির্দেশনা দেবে। ইশতেহার যেন শুধু উন্নয়নের ফুলঝুরি না হয়, সামাজিক উন্নয়নের যেসব ক্ষেত্রে ক্রমাগত বৈষম্য বাড়ছে, সেসব ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। এসব বৈষম্যের লাগাম কীভাবে টানবে, সেসব দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। আমরা বারবার দাবি তুলেছি, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন করতে হবে। আমাদের সে আশা পূরণ হয়নি। আশা করব, কবে সংরক্ষিত আসনে সরাসরি প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন করা হবে, এ বিষয়ে দলগুলো এবার একটা পথনকশা (রোডম্যাপ) দেবে। নারীর ক্ষমতায়নের সূচিত ধারাগুলো যেন মধ্যপথে থেমে না যায়। নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সিডও সনদে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধারা এখন পর্যন্ত মেনে নেয়নি। এ বিষয়ে দলগুলোকে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। নারীকে শুধু অংশগ্রহণকারী হিসেবে না দেখে অংশীদারত্বের জায়গায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাঁদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে দিকনির্দেশনা দিতে হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নারী ভোট দিলেও তাঁর ভোট গণনার মধ্যে আসবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা দানা বাঁধছে। দেশের আপামর জনগোষ্ঠী শান্তিপ্রিয়, নির্বাচনমুখী। তারা একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। আশা করছি, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁরা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে একটি সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবেন। লেখক: , নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান | 8 |
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, ফিলিস্তিনের ব্যাপারে ও তার দেশের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তবে জর্ডান তা থেকে উত্তরণ করতে সক্ষম হয়েছে। মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন। রয়েল দিওয়ান তথা বাদশার প্রধান নির্বাহী কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেন যে ফিলিস্তিনের ব্যাপারে তার দেশের অবস্থান স্পষ্ট ও অপরিবর্তিত। তা হচ্ছে, ফিলিস্তিনের জন্য জর্ডান যথাসম্ভব সব ধরনের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনিদের সাহায্যের জন্য একটি নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানে মিত্র দেশগুলোসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ন দেশের সাথে আলোচনা অব্যাহত রাখবে জর্ডান। ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরাইলি দীর্ঘ দখলদারিত্বের অবসানে একটি রাজনৈতিক পথ বের করার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে জর্ডান নেতৃত্ব দেবে ও অংশগ্রহণ করবে বলেও জানান দেশটির বাদশাহ। ফিলিস্তিনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিলেন তার সৎ ভাই ও সাবেক প্রিন্স হামজাহ বিন হুসেন। তবে বাদশাহর কার্যকর পদক্ষেপে তা ব্যর্থ হয়। এর আগে সৎ ভাই হামজার প্রিন্স (যুবরাজ) পদবি কেড়ে নিয়ে নিজের ছেলেকে ওই পদ দেন বাদশাহ। সূত্র : ইয়ানি শাফাক | 3 |
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে জোট গড়ে তুলতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। নানা ইস্যুতে যখন আমেরিকা ও তুরস্কের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক শস্তিমূলক ববস্থা নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন তখন জোট গঠনের এই আহ্বান জানালো আঙ্কারা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে তুরস্ক ছিল আমেরিকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। তুরস্কের অর্থমন্ত্রী বেরাত আলবায়রাক বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা ও শূল্ক আরোপকে অন্য দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করার কাজে ব্যবহার করছেন। এ অবস্থায় নিজেদের স্বার্থে শক্তিশালী দেশগুলোর একতরফা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা জরুরি। এজন্য সেরা উপায় হচ্ছে মার্কিন-বিরোধী জোট গঠন করা। তুর্কি মন্ত্রী এ নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন এবং ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন তা প্রকাশ করেছে। প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, এখন তুরস্কের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে অন্য দেশগুলো একটা অভিন্ন কৌশল নিতে পারে যা ভবিষ্যত কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় কাজে লাগবে। বেরাত আলবায়রাক তার প্রবন্ধের শিরোনাম দিয়েছে-"বিশ্ব অর্থনীতি পরিচালনার জন্য আমেরিকাকে বিশ্বাস করা যায় না। রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের নয়া কৌশলে বেকায়দায় যুক্তরাষ্ট্র! ১৬ আগস্ট ২০১৮ রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অবৈধ নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের দেশগুলোর কাছে ডলারের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলারের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। এ মন্তব্য করেছেন রাশিয়া ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মঙ্গলবার আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লুর সাথে সাক্ষাতের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, কয়েক বছর আগে থেকেই আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের কথা ভাবছি। ইরান ও তুরস্কের সাথে এরইমধ্যে এ ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে এবং চীনের সাথে সমঝোতার কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছি। ল্যাভরভ আরো বলেন, অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ অবৈধ; এমনকি মার্কিন আইনের সাথেই সাংঘর্ষিক। অচিরেই আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের প্রভাব কমতে শুরু করবে এবং বিশ্বের বহু দেশ ডলারের ব্যবহার বন্ধ করে দেবে। সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতির বিরোধী। ইউরোপীয় দেশগুলিও এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেবে না তুরস্ক। আমরা আমেরিকাকে জানিয়ে দিয়েছি, আগের মতোই ইরানের কাছ থেকে গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখব। | 3 |
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) হত্যার শিকার মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে জন্ডিসে আক্রান্ত। এ কারণে এ ঘটনায় দায়ের হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। রবিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন মামলার বাদী আবরারের বাবা জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারনামীয় ১৯ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত এজাহারবহির্ভূত ছয়জন রয়েছেন। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং এজাহারবহির্ভূত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটজন।
গ্রেফতার ২২ জন হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও এস এম মাহমুদ সেতু। মামলার তিন আসামি এখনও পলাতক। তারা হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। তাদের মধ্যে প্রথম দু'জন এজাহারভুক্ত ও শেষের জন এজাহারবহির্ভূত আসামি। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
দেশের সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতা পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও মর্যাদাহানির জন্যই জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি, সম্পাদকসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে এক সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা এ কথা বলেন।সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই ব্যাংক হিসাব তলব সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটা অপচেষ্টা। সরকার ব্যাংক হিসাব চাইলে সাংবাদিক নেতারা জনগণের সামনেই তা পেশ করবেন। কিন্তু চিঠি দিয়ে এ হিসাব চাওয়ার মাধ্যমে সাংবাদিক ও তাঁদের পেশার মর্যাদাহানি করা হয়েছে। একটা গোষ্ঠী সব সময় স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানোর কাজে সিদ্ধহস্ত। যেকোনো মূল্যে এদের অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।এ সময় সাংবাদিক নেতারা ব্যাংক হিসাব তলবের চিঠি প্রত্যাহারের দাবি জানান।সমাবেশে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা চক্র জড়িত থাকতে পারে। আমরা এর আগেও দেখেছি, রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তাদের ঝামেলা হয়েছে। একটা অংশ সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ করার অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি।সমাবেশে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি মোরসালীন নোমানীসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। | 6 |
প্যাট্রিক ভিয়েরার মন খারাপ ছিল গত বেশ কিছুদিন। ২০১৮ সালে ফ্রেঞ্চ ক্লাব নিসের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। গত ডিসেম্বরে সে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একটু রূঢ়ভাবে বললে ছাঁটাই করা হয়েছে ভিয়েরাকে। এরপর থেকে আর নতুন চাকরিতে দেখা যায়নি তাঁকে। অবশ্য নতুন চাকরি খুঁজতে আগ্রহও দেখাচ্ছেন না খুব একটা। এ ব্যাপারে তাঁর সাবেক কোচের পরামর্শকে পাথেয় মানছেন ভিয়েরা। নিসকে প্রথম মৌসুমেই লিগের পয়েন্ট তালিকার ৭ নম্বরে তুলে এনেছিলেন ভিয়েরা। সে সুবাদে ইউরোপা লিগেও জায়গা করে নিয়েছিল নিস। কিন্তু পরের মৌসুমেই ছন্দপতন। লিগে শুরুটা ভালো হয়নি। ওদিকে ইউরোপা থেকেও বাদ পড়েছে দল। ক্লাব কর্তৃপক্ষের আর তর সয়নি, পত্রপাঠ বিদায় করে দিয়েছে ভিয়েরাকে। এ অবস্থায় তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন আর্সেনালে ভিয়েরার কিংবদন্তি হওয়ার যাত্রায় যিনি ডাগআউটে ছিলেন, তিনি-আর্সেন ওয়েঙ্গার। বলেছেন, ছাঁটাই না হলে সত্যিকারের কোচ হওয়া যায় না! ২০১৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিকে দিয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছেন ভিয়েরা। আড়াই বছরে সাবেক ফরাসি মিডফিল্ডার ভালোই খেলিয়েছেন এমএলএসের ক্লাবটিকে। সে সুবাদেই নিসের চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু দেড় মৌসুমে এসেই ম্যানেজার জীবনের উল্টো দিকটা দেখে ফেললেন। ডিসেম্বরে চাকরি খোয়ানোর পরই ফোন করেছিলেন ওয়েঙ্গারকে। আর্সেনালের স্বর্ণযুগে ওয়েঙ্গারের অন্যতম সেরা অস্ত্র ছিলেন। তাই নিজের হতাশার মুহূর্তে ওয়েঙ্গারের কথাই মনে পড়েছিল তাঁর। লে'কিপের সঙ্গে কথোপকথনে ভিয়েরা বলেছেন, 'আমি আর্সেনকে ফোন করেছিলাম। একদম শুরুতেই তিনি যেটা বলেছেন তা হলো, "যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি ছাঁটাই না হচ্ছ, ততক্ষণ তুমি সত্যিকারের কোচ হতে পারবে না।" আর্সেনের সঙ্গে বেশ গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে-সব সময় তা-ই হয়। এই পেশায় ঢুকলে আপনাকে মেনে নিতেই হবে, কখনো না কখনো ছাঁটাই হতেই হবে।' নিজের ভাগ্য মেনে নিয়েছেন ভিয়েরা। তবে নিসকে নিয়ে নিজের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে না পারার দুঃখটা রয়ে গেছে তাঁর, 'আরেকটু দেরিতে (ছাঁটাই) হলে ভালো লাগত। কিন্তু এটাই হয়েছে। আমার জন্য যেটা গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই অভিজ্ঞতা আমাকে ভবিষ্যতে কোচ হিসেবে আরও ভালো বানাবে। আমি নিশ্চিত আমি কোচ হওয়ার জন্যই জন্মেছি।' | 12 |
ঠাকুরগাঁও সদরের পল্লীবিদ্যুৎ বাজারে বাসের ধাক্কায় জালাল উদ্দীন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পেশায় হোটেল ব্যবসায়ী। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জালাল উদ্দীন পাশ্ববর্তী দাশপাড়া এলাকার মৃত তসলিম উদ্দীনের ছেলে। পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে জালাল পল্লীবিদ্যুৎ বাজারের নিজ হোটেল থেকে বাইসাইকেলে বাড়ি যাওয়ার পথে বালিয়াডাঙ্গী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী এসআই ট্রেভেলসের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এ সময় স্থানীয়রা ও তার পরিবারের লোকজন জালালকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল হলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করলে যাওয়ার পথে রাত ১১টার দিকে মারা যান জালাল। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। | 6 |
আন্তর্জাতিক শুল্ক দিবস-২০১৭ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটা কার্ড উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকের শুরুতে এই ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটা কার্ড উন্মোচন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ সীলমোহরও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসসের
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এ উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকা মূল্যমানের উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকা মূল্যমানের ডাটা কার্ড ইস্যু করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক প্রভাস চন্দ্র সাহা উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার ঢাকার জিপিও থেকে স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটা কার্ড বিক্রি শুরু হযেছে, যা দেশের অন্যান্য জিপিও এবং প্রধান ডাকঘরসমূহেও পাওয়া যাবে।
দেশের চারটি জিপিওতে বিশেষ সীলমোহরযুক্ত খাম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা উদ্বোধনী খাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
| 6 |
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫০ নং ওয়ার্ডে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসময় ওয়ার্ডের হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণসহ মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। এতেসভাপতিত্ব করেন ৫০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. মাসুম মোল্লা । এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. আবু আহমেদ মন্নাফি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না প্রমুখ। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
গণপরিবহন ও পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেছেন, 'গণপরিবহন আর পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না হলে আনন্দের ঈদ জাতির জন্য ভয়াবহ দুঃসংবাদ ডেকে আনবে।'আজ রোববার এক বিবৃতিতে জাপা চেয়ারম্যান এমন সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ আর ক্রমবর্ধমান মৃত্যু হারের মধ্যেই সারা দেশে কোরবানির জন্য পশুর হাট জমে উঠেছে। পছন্দের পশু কিনতে প্রতিটি হাটেই প্রতিদিন ভিড় করছে হাজারো মানুষ। কিন্তু গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, পশুর হাটে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। অধিকাংশ ক্রেতা ও বিক্রেতার মুখে মাস্ক নেই। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার নেই বললেই চলে। আবার প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই ছুটছেন বাড়ির পথে। সেখানেও উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। লঞ্চ, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে গাদাগাদি করে ছুটছে মানুষ। শারীরিক দূরত্ব বা করোনা সচেতনতার অভাবে কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই।ঈদের পর দুই দিনে আবারও কর্মস্থলে ফিরবেন সবাই। সাত দিন ধরে যারা বাড়ি গেছেন, তাঁরা দুই দিনে কর্মস্থলে ফিরতে গেলেই সৃষ্টি হবে মারাত্মক জটলা। তাই করোনা সংক্রমণ রোধ করতে পশুর হাট ও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। | 9 |
'পদ্মপুরাণ' সিনেমার গল্প শোনার পরেই নির্মাতা রাশেদ পলাশকে জানিয়ে দেন, এমন চ্যালেঞ্জিং চরিত্র তিনি করতে পারবেন না। শুনে নির্মাতা অবাক। বুঝিয়ে-সুঝিয়ে প্রসূন আজাদকে চরিত্রটি করতে রাজি করান। শুটিংয়ের দিনও বারবার প্রসূন জানিয়েছিলেন, তাঁর বিকল্প হিসেবে কাউকে শুটিংয়ে রাখলে ভালো হতো। বিকল্প আর দরকার হয়নি। নিজেই সিনেমাটিতে অভিনয় করে বাহবা পেয়েছেন। সেই সিনেমাটি আগামী শুক্রবার মুক্তি পাবে। প্রসূন বলেন, 'অনেক আগে থেকেই সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা ছিল। কিন্তু 'পদ্মপুরাণ'-এর প্রস্তাব পাওয়ার পর ভয়ে ছিলাম। কারণ, এ ধরনের চরিত্র আগে কখনো পাইনি। তখন নির্মাতাকে বলেছিলাম, আপনার গল্প খুবই ভালো লেগেছে। সিনেমাটিতে যেই অভিনয় করুক, হলে গিয়ে দেখব। পরে নির্মাতা সাহস দেন। কাজটি করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, আমার সেরাটা দিয়ে অভিনয় করেছি।' দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রচুর কাজ করলেও পরে পর্দায় তাঁর উপস্থিতি কমতে শুরু করে। কোনো রাজনীতির শিকার হয়ে কাজ কমাতে হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি ইন্ডাস্ট্রিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া একটি মেয়ে। পুরো মিডিয়াতে আমার পরিচিত কেউ ছিল না, তারপরও এখানে এসে আমি অনেকটা সময় নিয়মিত কাজ করেছি। আমার আচরণ নিয়ে অনেকের সমস্যা থাকলেও অভিনয় নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না। এখনো নেই। অভিনয় কম করি, এটা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। লাক্সেও কোনো আশা নিয়ে যাইনি, এখনো কিছু আশা করি না। ক্যারিয়ার আরও আগেই পড়ে যেতে পারত। এত দূর আসতে পেরেছি, এটা পুরোটাই আমার প্রাপ্তি।' গত ৩০ জুলাই বিয়ে করেছেন প্রসূন। তাঁর স্বামী দীর্ঘদিনের বন্ধু ফারহান গাফফার। বিয়ের পর কোথায় হানিমুনে গিয়েছিলেন জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, 'ঘোরাঘুরির কিছু ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছি। এগুলো দেখে অনেকেই মনে করছেন হানিমুনে গিয়েছি। মূলত পাহাড়ে ট্র্যাকিংয়ে গিয়েছিলাম। এর আগে ফ্যামিলি ও ফ্যামিলি ফ্রেন্ডদের সঙ্গে সিলেট ঘুরেছি। কিন্তু আমরা স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনি। ঘুরছি কিন্তু হানিমুন শুরু করতে পারিনি। ইচ্ছা আছে আরও কিছুদিন পরে হানিমুনে যেতে চাই।' দুই মাসের সংসারে অভিজ্ঞতা কেমন? 'তেমন পরিবর্তন আসেনি। বাপের বাড়ির মতোই শ্বশুরবাড়িতে আছি। সুবিধা হচ্ছে, আমার মা একটু বেশি রাগী ছিলেন, শাশুড়ি কম রাগী,' বলেন প্রসূন।'পদ্মাপুরান'-এর বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন শম্পা রেজা, জয়রাজ, সুমিত সেনগুপ্ত, কায়েস চৌধুরী, সাদিয়া মাহি, আশরাফুল আশিষ, সাদিয়া তানজিন প্রমুখ। | 2 |
করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১৬২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও একই সময়ে আরও ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেশে করোনা হানা দেয়ার পর এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড। বুধবার দুপুরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২১৪ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন হাজার ৩৬১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও সাত হাজার ৮৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে সাত হাজার ৯০০টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৮টি। তার মধ্যে এক হাজার ১৬২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যা এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি শনাক্তের রেকর্ড। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, 'সম্মানী লোকদের সম্মান দিতে হয়। এ বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ আছে। তা না হলে ভালো মানুষেরা হারিয়ে যাবে। ঠিক সেভাবে উন্নত দেশ গঠনের লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে সম্মান জানাতে হবে।' আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, 'কে কোথায় কাজ করছেন না, তা সাংবাদিকরা তুলে ধরবেন। আমার ব্যর্থতাগুলোও আপনারা তুলে ধরবেন। কিন্তু ব্যক্তিগত, মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কিছু লিখবেন না। এতে কাজের প্রতি উৎসাহ হারিয়ে যায়।'
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 9 |
ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তা লিউডমিলা ডেনিসোভা বলেছেন, রাশিয়ান আক্রমণে এখন পর্যন্ত ২১০ জনের বেশি বেসামরিক ইউক্রেনীয় নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন এগারোশ'র বেশি মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, নজিরবিহীন নৃশংসতার পাশাপাশি শত্রুরা আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, কিন্ডারগার্টেন ও স্কুল ধ্বংস করছে এবং শিশুসহ ইউক্রেনের ছেলেমেয়েদের ইউক্রেনের মাটিতে বসবাসের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। রোববার ইউক্রেনে রাশিয়ান অভিযান নিয়ে দেওয়া লাইভ আপডেটে এই তথ্য জানায় বিবিসি অনলাইন। এ সময় ডেনিসোভা কয়েকজন বেসমারিক নাগরিক নিহতের উদাহরণ দেন। এর মধ্যে কিয়েভের একটি হাসপতালে গুলিতে এক শিশুর কথা বলেন। এ ছাড়া খারকিভের আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নারী নিহতের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি এই অপরাধের জন্য রাশিয়াকে কঠোর শাস্তির দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইউক্রেন এসবকিছু নথিভুক্ত করছে এবং হেগের সামরিক আদালতে পাঠাবে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতে রাশিয়ান সেনাদের নির্দেশ দেন। এরপর রাশিয়ান সেনারা তিন দিক থেকে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। ইউক্রেনের সেনারাও প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। | 3 |
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় বিএনপি'র মৃত নেতাকর্মীদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেইসাথে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সাথেও সাক্ষাৎ করছেন তিনি। মঙ্গলবার ১১টায় রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক সভাপতি মরহুম রিওয়াজ উদ্দিন দুলাল ও মরহুম রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন মির্জা ফখরুল। নেতাকর্মীদের নিয়ে যাত্রাপথে রুহিয়া সেনিহাড়ী কবরস্থানে মরহুম নেতাকর্মীদের কবর জিয়ারত করেন। তাছাড়া তিনি ওই এলাকায় বিএনপির ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে খোঁজ-খবর নেন। পরে তিনি রুহিয়া থানাধীন আখানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অসুস্থ মো: হালিম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খবর নেন। এ আগে সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের বাসায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন মির্জা ফখরুল। এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমানসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এভাবে তিনি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের খোঁজ নিতে যাবেন বলে জানা গেছে। | 6 |
আন্তর্জাতিক সংস্থা আলপার-ডগার (এডি) বৈজ্ঞানিক সূচকে এর বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের তালিকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৭ জন শিক্ষক স্থান পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক এ সংস্থা সারা বিশ্বের ৭ লাখেরও বেশি বিজ্ঞানীর ও গবেষকের সাইটেশান এবং অন্যান্য ইনডেক্সের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করেছে। র্যাংকিং করার ক্ষেত্রে বিশ্বের ৭ লাখ ৮ হাজার ৪৮০ জন, এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬২ জন, বাংলাদেশের ১৭৯১ জন গবেষকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এ বছরসহ গত ৫ বছরের সাইটেশন আমলে নেওয়া হয়। এর মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৭ জন শিক্ষক প্রকাশিত আর্টিকেল, সাইটেশন এবং অন্যান্য ইনডেক্সের বিবেচনায় এ তালিকায় স্থান পেয়েছে। তালিকায় স্থান পাওয়া একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিসটেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আপেল মাহমুদ বলেন, "সায়েন্টিফিক র্যাংকিং এ নাম অর্ন্তভুক্ত হওয়া গর্বের বিষয়। এর মাধ্যমে আমরা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশে বিদেশে পরিচিত করতে পেরেছি। শিক্ষকদের গবেষণা যত বেশি হবে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করলে তারা তাদের কর্মক্ষেত্রে অধিকতর সৃজনশীল মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে।" তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষকরা হলেন- দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু রেজা মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম রিপন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান, পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাহজামান, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফেরদৌস রহমান, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নুর আলম সিদ্দিক, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আপেল মাহমুদ এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান। | 6 |
আমাদের সম্পর্কগুলো মাঝে মাঝেই বিষাক্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন কারণে যখন দুজনের মনে বিষবাষ্প জমে, তখন তৈরি হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন। এই টানাপোড়েনে সম্পর্কের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হতে থাকে। পুঞ্জীভূত বাষ্প উত্তপ্ত হলে সম্পর্ক দূষিত হয়ে যায়। কিন্তু কেন সম্পর্কে জমে বিষবাষ্প, তার কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। কারণগুলো হলো:একজন অন্যজনকে গুরুত্ব দেয় নাসিদ্ধান্ত নেওয়ায় অংশীদারত্ব দেয় নাঅতি নির্ভরশীলতাঅতি নিয়ন্ত্রণপ্রবণতাব্যক্তিত্বের সংঘাতআমরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন ধরনের সম্পর্কে যুক্ত আছি। কিন্তু ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতম সম্পর্কে যখন আমরা জড়াই, তখন একটা কথা ভুলে যাই যে আমরা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা পরিবেশ থেকে এসেছি। আমাদের প্রত্যেকের বেড়ে ওঠার ধরন আলাদা। কাজেই এসব ব্যাপারে আমাদের মতের মিল হবে না, সেটাই স্বাভাবিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতায় চমৎকার বলেছেন, 'ভালোবাসায় ট্র্যাজেডি সেখানেই ঘটে, যেখানে পরস্পরকে স্বতন্ত্র জেনে মানুষ সন্তুষ্ট থাকতে পারেনি-নিজের ইচ্ছা অন্যের ইচ্ছে করবার জন্য যেখানে জুলুম-যেখানে মনের কবি, আপন মনের মত করে বদলিয়ে অন্যকে সৃষ্টি করে।'দুই.এবার কথা এগোই, আসলেই সম্পর্কে যে পলি জমেছে, সেটা দূর করে ভালোবাসার নাব্যতা আমরা আনতে চাই কি না? যদি চাই, তাহলে খেয়াল করতে হবে, আমি কি একাই চাই? নাকি দুজনেই চাই? কারণ সম্পর্ক তৈরি হয় দুজন মানুষের যোগসূত্রে। একজন যদি তাঁর সর্বস্ব দিয়ে দেন, তাহলে তিনি মাত্র ৫০ শতাংশ অবদান রাখবেন সম্পর্কে। এই সম্পর্ক ডিটক্স বা বিষমুক্ত করতে চাইলে বিবেচনায় রাখতে হবে, আমি একা যতই চাই, তাতে মাত্র ৫০ শতাংশ পরিশোধন হবে। আবার নিজের চোখে আয়না ধরাটা এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্কের আয়নায় আমার চেহারাটা কী? আমি কি নিজেকেও ডিটক্স করব? নাকি শুধু প্রত্যাশা করব জীবনসঙ্গী ডিটক্স হবেন কিন্তু আমি বদলাব না? অধিকাংশ সময় আমরা আত্মকেন্দ্রিক থাকি অবচেতনভাবে। কাজেই এসব ক্ষেত্রে একজন নিরপেক্ষ পেশাদার কাউন্সেলর বা সাইকোথেরাপিস্টের কাছে গেলে আন্তসম্পর্ক কোথায় কোথায় জট পাকিয়েছে, সেগুলো বোঝা সহজ হয়ে যায়।তিন.প্রত্যেক মানুষের একটি নির্দিষ্ট লাইফ পজিশন থাকে। এটাকে চারটা ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগ আমি ঠিক, তুমিও ঠিক। যেখান থেকে পরস্পরের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে শ্রদ্ধায় পরস্পরকে ছাড় দেওয়া হয়। এই অন্যজনের মর্যাদা রেখে তার সীমাবদ্ধতাকে গ্রহণ করা, মতের অমিল হওয়া সত্ত্বেও যেকোনো আন্তসম্পর্ক ডিটক্স করার পূর্বশর্ত।যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি সেটা গ্রহণে রাজি, ততক্ষণ পর্যন্ত বিষাক্ত বাষ্প আপনাকে নীলকণ্ঠ করবে। লাইভ পজিশনের বাকি তিনটি অংশ, যেমন-আমি ঠিক, তুমি ভুল। এ পর্যায়ে শুধু জীবনসঙ্গীর দোষ ধরবে, সমালোচনা করবে, অসম্মান করবে।তুমি ঠিক, আমি ভুল। এ পর্যায়ে এক পক্ষ সাংঘাতিকভাবে নির্ভরশীল হবে, তার আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা নষ্ট হয়ে যাবে।আমি, তুমি দুজনই ভুল। এ পর্যায়ে এক পক্ষ যেকোনো কিছু করতে পারে, খুন করতে পারে আবার আত্মহত্যাও করতে পারে জীবনসঙ্গীকে।অবচেতনে মানুষ এভাবেও নিজেদের পরিচালিত করতে পারে। আবার আন্তসম্পর্কে তৃতীয় পক্ষ ক্ষেত্রবিশেষে ঢুকে যেতে পারে। তখন ডিটক্স প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে যায়।যা করতে হবেপ্রথমে প্রয়োজন একে অন্যকে যে যেমন আছেন, সেভাবেই গ্রহণ করা।আমরা বলি বেশি, শুনি কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে বলাও হয় বলার জন্য বলা, যা মুখে আসে। কিন্তু জীবনসঙ্গীর কথা শুনতে হবে। তিনি কী বলতে চাচ্ছেন, সেটা অনুধাবন করতে হবে আগে, পরে মুখ খুলতে হবে। একে অ্যাকটিভ লিসনিং বলে। এককথায় মনোযোগী শ্রোতা হতে হবে।অতিনির্ভরশীল হওয়া যাবে না। প্রতিটি আন্তসম্পর্কে একটি নিশ্বাস নেওয়ার জায়গা রাখতে হবে। যেখানে সম্পর্কে আবদ্ধ দুজন দুজনের পছন্দের কাজ করতে পারবে। কখনো একটু একা ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, কফিশপে ঢুঁ মারা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া ভীষণ স্বাস্থ্যকর।যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় উভয়ের মতামতকে বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে।আন্তসম্পর্কে একটু ভালোবাসা কম থাকলেও চলে কিন্তু শ্রদ্ধার কলসটি অবশ্যই ভরা থাকতে হবে। না হলে বিষাক্ত ক্লেদ জমে যাবে ধীরে ধীরে।পরস্পরকে সম্মান করতে হবে।জীবনসঙ্গীকে নির্ভর করার মতো ভরসা দেওয়ার আচরণ এবং সদিচ্ছা রাখতে হবে।যে সম্পর্কের সত্যতা নেই, স্বচ্ছতা নেই, সেই সম্পর্কের কোনো মূল্য নেই।দুজন দুজনের কাছে স্বচ্ছ থাকতে হবে।লেখক: চিকিৎসক ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, ঢাকা | 4 |
ফেসবুক লাইভে মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে আসছেন উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ২০০৫ সালের ২৬ মে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মুশফিকুরের। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এদিনই ভক্তদের জন্য সারপ্রাইজ নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসবেন মুশফিক। ২৪ মে রাতে ফেসবুকে মুশফিক লিখেন যে, আলহামদুলিল্লাহ্! খুবই সৌভাগ্যশালী এক রমজান কাটালাম আমরা। আপনারা যেমনটা জানে, ২৬ মে আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষ্যে আপনাদের জন্য একটা বিশেষ ঘোষণা রয়েছে, যা সবাই পছন্দ করবেন আমি নিশ্চিত। তিনি আরো লিখেন, 'বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আমার ফেসবুক পেজের লাইভে চোখ রাখুন এবং সারপ্রাইজ জানতে পাবেন। দেখা হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের ভালো কাজগুলো কবুল করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন।' উল্লেখ্য, নিজের ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের একটি করে সেরা অর্জনের কথা ভক্ত-সমর্থকদের জানিয়েছেন মুশফিক। এখন পর্যন্ত ১৪ বছরে জানা গেছে ১৪ দিনের কথা। আজ রাতে হয়তো ১৫ তম ববর্ষপূর্তিতে বিশেষ কোন ঘোষণা দিতে চলেছেন তিনি। | 12 |
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, লন্ডনের নির্দেশে ঐক্যফ্রন্টের নামে ড. কামাল হোসেন এখন রাজাকারদের প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব নিয়েছেন। ড. কামাল বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতার সদস্য ও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেন। তিনি এখন রাজাকারদের প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়েছেন। বিএনপি এখন রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অস্তিত্ব সংকট চলছে। দেউলিয়া বিএনপি নিরুপায় হয়ে ড. কামালের সঙ্গে সখ্য গড়েছে। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে জেল খাটছেন। আরেকজন মানি লন্ডারিং, কমিশন বাণিজ্যসহ অসংখ্য দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে এখন ফেরারি। মঙ্গলবার মেহেরপুরের গাংনী বাজারে আওয়ামী লীগের পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। সেনাবাহিনী নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন মন্তব্যের ব্যাপারে হানিফ বলেন, সেনাবাহিনী কি বিএনপির শ্বশুরবাড়ির লোক, নাকি নানাবাড়ির লোক। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এই বাংলাদেশের সন্তান। তারা জানেন কারা দেশের ভালো চায়, কারা মন্দ চায়। তাদের নিয়ে অহেতুক কোনো বিতর্ক সৃষ্টি না করতে সতর্ক করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হিছাব উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক, মেহেরপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাহিদুজ্জামান খোকনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এদিকে বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হানিফ বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের ডাকে দেশের জনগণ আর সাড়া দেবে না। দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টুর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাতীয় সংসদের হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরসহ আওয়ামী লীগের নেতারা। | 6 |
ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার তাহিরপুর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।আজ শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রমতে, ভারতের মেঘালয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সুনামগঞ্জে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী তিন দিন পানি বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে এবং ১২টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুপুরে ক্ষতিগ্রস্তদের উপজেলার ভাদেরটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এ সময় উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। | 6 |
ইউক্রেনে মার্কিন হস্তক্ষেপ মানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না ওয়াশিংটন। এর আগেও গণমাধ্যমে একাধিকবার এ কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ না করলেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে সুইফটসহ একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তিনি। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়াকে চাপ প্রয়োগ করার বিষয়টি ভাবছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া যুদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক শহর দখল করতে থাকে রাশিয়া। | 3 |
কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য আবারও ব্রাজিলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে দেশটির ফুটবল তারকা পেলেকে। তবে দিনকয়েকের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তিনটি বিশ্বকাপজয়ী পেলেকে প্রতি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। ৮১ বছর বয়সের সাবেক এই ফুটবলারের কেমোথেরাপি চলছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার কোলন টিউমার হয় বলে তার পরিবার জানায়। এর আগে ২০১৯ সালে পেলের কিডনিতে পাথর পাওয়া যায়। তখনও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। ২০১৪ সালে মূত্রনালীতে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল পেলেকে। তার বাম দিকের কিডনিতে ডায়ালাইসিস করা হয়। ১৯৭০ সালে পেলের ডান দিকের কিডনি অপসারণ করতে হয়েছিল। তখন খেলার মধ্যে ছিলেন ব্রাজিলের অন্যতম সফল ফুটবলার। কোমরের সমস্যার কারণে হুইলচেয়ারে করে চলাফেরা করেন তিনি। | 12 |
সাংবাদিকতা ছেড়ে বাংলা সিনেমায় নাম লেখালেন লহমা ভট্টাচার্য। লন্ডনে সাংবাদিকতার পাঠ শেষ করে কলকাতায় ফিরে সংবাদমাধ্যমেই কাজ করছিলেন তিনি। পাশাপাশি নিচ্ছিলেন অভিনয়ের প্রশিক্ষণ। এর মাঝেই ডাক পেলেন সুপারস্টার জিতের অফিস থেকে। শুরু হলো লহমা ভট্টাচার্যের টালিউড-সফর। জিতের বিপরীতে লহমার প্রথম সিনেমা 'রাবণ' মুক্তি পেয়েছে গত সপ্তাহে। দর্শকেরা বলছেন, মিষ্টিমুখের লহমা অভিনয়ও করেন দারুণ! অনেকেই বলছেন, লহমাকে দেখে প্রথম কাজ বলে মনেই হচ্ছে না। বরং অনেক সাবলীল লাগছে।লহমা বলেন, 'আমি করোনার আগে একটি মিডিয়া হাউসে চাকরি করছিলাম। করোনার সময় সবাই নিজের অপূর্ণ ইচ্ছে পূরণ করছিল, আমিও তা-ই করলাম। বরাবরই আমার শখ ছিল অভিনয় করার। তাই চাকরির পাশাপাশি আমি ওয়ার্কশপ শুরু করি। এরই মাঝে জিৎদার সঙ্গে কথা হয়। এরপর অনেক মিটিং হয়, অডিশন হয়-সব কটা রাউন্ড পেরিয়ে যখন আমি সিনেমার অফার পাই, তখন চাকরিটা ছেড়ে দিই।'সিনেমায় লহমার চরিত্রের নাম রাই। সাংবাদিকতার ছাত্রী, একটা মিডিয়া হাউসে ইন্টার্নশিপ করছে। লহমা বলেন, 'সাংবাদিকদের মধ্যে সত্যিটা বের করার একটা খিদে থাকে, সেটা রাইয়ের মধ্যেও আছে। ও খুবই হার্ড ওয়ার্কার মেয়ে। আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছি চরিত্রটির মধ্যে।'প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক লহমা। লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। বাবা ক্রীড়া সাংবাদিক। তবে ছোটবেলা থেকেই লহমা চাইতেন নায়িকা হতে, কিন্তু পড়াশোনার চাপে নিজের ইচ্ছেগুলোও চাপা পড়ে গিয়েছিল। এবার সেই ইচ্ছে পূরণের পালা শুরু হলো তাঁর। | 6 |
পুরান ঢাকার একাধিক হত্যা মামলার পলাতক আসামি সাইদুর রহমান ওরফে শহীদ কমিশনারের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে জীবন বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়েছেন যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি আসমা আক্তার ও তার পরিবার। সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন আসমা আক্তার। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে আসমা আক্তার বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর, রাজাকারের সন্তান সাইদুর রহমান ওরফে শহীদ কমিশনার বা শহীদ চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর নির্যাতন করে আসছে। গত ১৬ মে পুরনো ঢাকার গেণ্ডারিয়া থানার সতীশ সরকার লেনে ফল কেনার জন্য তার স্বামী দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন তার ওপর হামলা চালায় শহীদের সন্ত্রাসী বাহিনী। এ সংবাদ পেয়ে আসমা তার দুই মেয়েকে নিয়ে সেখানে যান। তখন তাদেরও ব্যাপক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্বামীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি গেণ্ডারিয়া থানায় শহীদ কমিশনারকে আসামি করে মামলা করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাকে বাদ দিয়েই পুলিশ সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। আসমা অভিযোগ করেন, গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ প্রতি মাসে শহীদ কমিশনারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলোকে আমলে নেয় না। পলাতক থাকলেও শহীদ কমিশনার তার ক্যাডার বাহিনী ও পরিবারের সদস্যদের দিয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করছে। সর্বশেষ শহীদ কমিশনারের মেয়ে গত সপ্তাহে আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় জিডি করেছে। আসমা আক্তার বলেন, শহীদ কমিশনারের বিরুদ্ধে অ্যাডভোকেট হাবিব মণ্ডল হত্যাসহ দু' ডজনেরও বেশি হত্যা মামলা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি জায়গা, রাস্তা ও বাড়ি দখল এবং চাঁদাবাজি, জুয়ার বোর্ড ও ক্যাসিনো চালনাসহ অসংখ্য অভিযোগও রয়েছে। যুবদল ও জাতীয় পার্টি হয়ে বর্তমানে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া শহীদ কমিশনার কিছুদিন আগে ৮১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা হামিদ ফকিরের জায়গা জোর করে দখল করে নিয়েছিলেন। এসবের প্রতিবাদ করার কারণেই তাদের ওপর বার বার হামলা চালানো হচ্ছে। তারা নিরাপত্তহীনতায় রয়েছেন। এই অবস্থা থেকে নিস্কৃতি পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান আসমা আক্তার ও তার পরিবার। | 6 |
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ছেলের মরদেহ লুকিয়ে রেখে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে প্রচারে নেমেছেন মা-বাবা। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার নারিনা ইউপিতে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আবদুল করিম (১৮) নামের ওই তরুণের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে আত্মহত্যা করেন ভ্যানচালক করিম। এর বেশ কিছুদিন আগে করিমের বড় ভাবি আত্মহত্যা করেন। এতে হয়রানির শিকার হয় করিমের পরিবার। তাই করিমের আত্মহত্যার বিষয়টি জানাজানি হলে সমস্যা হবে এমন আশঙ্কায় লাশ বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার চার দিন পর গতকাল শুক্রবার করিমের বাবা বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানালে তিনি পুলিশে খবর দেন।এদিকে ছেলের মরদেহ নিজ বাড়ির সেপটি ট্যাংকে ফেলে দিয়ে আসন্ন চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মা করুনা খাতুন ও বাবা আলী। করুনা খাতুন নরিনা ইউপি নির্বাচনে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার। ২৬ ডিসেম্বর এ ইউপিতে ভোট হবে।এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুল মজিদ জানান, লাশ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় মা-বাবাসহ পরিবারের চার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। | 6 |
পাবনার আটঘরিয়া পৌর বাজারের প্রধান সড়ক দখল করে তৈরি করা হয়েছে অটোরিকশা স্ট্যান্ড। এ সড়কে সব সময় অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট এ সড়কের নিত্যসঙ্গী। ফলে গাড়ি চলাচলে প্রতিদিন সৃষ্টি হয় প্রতিবন্ধকতা।এলাকা সূত্রে জানা যায়, এ সড়কের একপাশে সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং অপরপাশে রয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানলেও নেওয়া হচ্ছে না কার্যকর কোনো পদক্ষেপ।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাবনার টেবুনিয়া থেকে চাটমোহর আঞ্চলিক মহাসড়কের মাঝে আটঘরিয়া পৌর সদরের বাজার। সেখান রয়েছে তিন রাস্তার মোড়। আর প্রধান সড়কে সামনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সব মিলিয়ে এ স্থানটি একটি ব্যস্ততম এলাকা। কিন্তু রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে আছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার সারি, অন্যপাশে রয়েছে সিএনজি চালিত অটোরিকশার সারি।প্রধান সড়কের দুপাশে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা খুবই কম। এতে প্রতিদিন যাত্রী ও গাড়ি চালকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ফলে তিন রাস্তার মোড় ও হাসপাতালের সামনে প্রায় সময় ভিড় লেগে থাকে।এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান, আবুল কাশেম বলেন, 'বাজার করতে, ওষুধ কিনতে আসলে মানুষের বিরক্তির শেষ থাকে না। প্রধান সড়ক দখল করে এরা অটোরিকশা স্ট্যান্ড বানিয়েছে। গাড়ি ঠিকমতো আসা-যাওয়া করতে পারে না। যানজট এখানকার নিত্যসঙ্গী। অটোরিকশা স্ট্যান্ড এখান থেকে সরিয়ে অন্য কোন ফাঁকা জায়গায় তৈরি করলে সবার জন্য ভালো হয়।'কয়েকজন যাত্রী বলেন, 'তারা প্রায়ই এ সড়ক দিয়ে পাবনা থেকে চাটমোহরে যাতায়াত করেন। কিন্তু আটঘরিয়া বাজারে আসলে দেখা যায় চরম জ্যাম। চোখের সামনে রাস্তা দখল করে কীভাবে অটোরিকশা স্ট্যান্ড বানিয়েছে সেটি বোধ হয় কারও চোখে পড়ছে না।'এ বিষয়ে ট্রাকচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আটঘরিয়া বাজারের রাস্তা দখলের কারণে গাড়ি চলাচলের জায়গা একেবারে নেই বললেই চলে। সব সময় রাস্তার ওপর রাখা হয় অটোরিকশা। বড় কোন গাড়ি এ রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করতে পারে না।' রাস্তা দখল করে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক নুর মো. ও সেলিম হোসেন এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক জাকির হোসেন জনি ও আবু হানি সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। তারা জানান, আমরা কোথায় যাব? দাঁড়ানোর মতো কোনো জায়গা নেই এখানে। বাধ্য হয়ে কখনো রাস্তার পাশে, কখনো রাস্তার ওপরই গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। তা না হলে যাত্রী পাওয়া যায় না। প্রশাসন আমাদের অন্য কোন জায়গা দিক, আমরা সেখানে চলে যাব।'এ বিষয়ে আটঘরিয়া পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন বলেন, 'আমি পৌরসভার পক্ষ থেকে অনেকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। তারপরও পৌর ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ করে সেখানে যানজট নিরসনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছি। এ ছাড়া আটঘরিয়া কলেজের সামনে একটি পৌর টার্মিনালও স্থাপনের পরিকল্পনা প্রস্তাবনা দেওয়া আছে। যদি সেটি হয় তাহলে এ সমস্যা আর থাকবে না।'আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাকসুদা আক্তার মাসু বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে এটা চলে আসছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে, বাজার থেকে একটু দূরে কীভাবে অটোরিকশা স্ট্যান্ডটিকে সরিয়ে দেওয়া যায়। মেয়রের সঙ্গে কথা বলে দেখব এটা কীভাবে কি করা যায়।' | 6 |
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী হত্যা মামলার আসামি রিপন নাথের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদের আদালত শুনানি শেষে এ রায় দেন। অমিত মুহুরী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরির্দশক আবদুল আজিজ বলেন, রিমান্ড সংক্রান্ত আদেশ আদালত থেকে কারাগার হয়ে পুলিশের কাছে যাবে। তবে রিপনকে ঈদের পর রিমান্ডে নেয়া হতে পারে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. কামরুজ্জামান বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি রিপন নাথের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। আদালত শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি সেলে অমিত মুহুরীকে মারধর করে তার রুম পার্টনার রিপন নাথ। দেওয়ালে মাথা ঠুকে দিলে গুরুতর আহত হন অমিত। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত দেড়টার দিকে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন রিপনকে আসামি করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাসির আহমেদ কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। | 6 |
ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নারে ডায়াবেটিসের ওষুধ বিতরণ এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে বারবার এসে ওষুধ না পাওয়ায় এখন রোগীরা আর আগের মতো আসছেন না। যারা-ও আসছেন তাঁরা ওষুধ না পেয়ে ফিরছেন হতাশ হয়ে।এনসিডি কর্নারে থেকে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের তিন ধরনের-হৃদ্রোগের শ্বাসকষ্টের, ডায়াবেটিস ও চর্বি কাটার ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও ওষুধ না থাকায় এসব রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে।গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নারে মাত্র দুজন রোগী। অথচ এর আগে প্রতিদিন এ বিভাগে রোগীর ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হতো।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব মতে, তখন এনসিডি কর্নারে প্রতিদিন ১৩০-১৫০ জন রোগী আসতেন। সেখানে এখন রোগী আসে ২৫-৩০ জন। চলতি বছরে প্রায় নয় মাস ধরে ওষুধ বিতরণ না থাকায় রোগী আসা কমে গেছে।এনসিডি কর্নারে দায়িত্বরত চিকিৎসক জিয়াউর রহমান বলেন, 'ওষুধ সরবরাহ না থাকায় শুধু উচ্চ রক্তচাপের এক ধরনের ও হৃদ্রোগের এক পদের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।'উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশিদুল আলম বলেন, 'ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয় একাধিকবার স্বাস্থ্য বিভাগকে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ হয়ে গেছে। শিগগিরই ওষুধ আসবে।' | 6 |
করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার (১৯ জুলাই) বেলা ২টা ৩০মিনিটে রাজধানীর মহাখালীর ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে টিকা নেবেন তিনি।বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১২ জুলাই খালেদা জিয়া টিকার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের 'সুরক্ষা' ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করেন। গতকাল রবিবার (১৮ জুলাই) তার টিকার এসএমএস আসে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সেখানে ৫৪ দিন চিকিৎসা শেষে গত ১৯ জুন রাতে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর প্রথমে পুরান ঢাকার বিশেষ কারাগার ও পরে কারাবন্দি অবস্থায় বিএসএমইউয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। | 6 |
মাস্টার্স ও পিএইচডিতে ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ দিচ্ছে রাশিয়ার স্কোলকোভো ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (স্কোলটেক)। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১০ জুলাই ২০২২ পর্যন্ত।এই স্কলারশিপের আওতায় শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনা করতে পারবেন। এ ছাড়া উপবৃত্তি হিসেবে প্রতি মাসে ৪০ হাজার রাশিয়ান রুবেল প্রদান করা হবে, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। স্বাস্থ্যবিমা প্রদান করা হবে। মাস্টার্সের মেয়াদ ২ বছর এবং পিএইচডির মেয়াদ ৩ বছর।এই স্কলারশিপের আওতায় শিক্ষার্থীরা কম্পিউটেশনাল সায়েন্স, ডেটা সায়েন্স, এনার্জি সিস্টেম, ইন্টারনেট অব থিংস এবং ওয়্যারলেস টেকনোলজিস, পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, স্পেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সিস্টেম, পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফোটোনিক্স অ্যান্ড কোয়ান্টাম নিয়ে মাস্টার্সে পড়াশোনা করতে পারবেন। এ ছাড়া কম্পিউটেশনাল সায়েন্স, ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইঞ্জিনিয়ারিং সিস্টেম, পদার্থবিদ্যা, প্রকৌশল, গণিত ও পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করতে পারবেন। বিনা খরচে তুরস্কের সাবাঞ্চি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগপিএইচডির জন্য মাস্টার্সে ভালো ফলধারী হতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষতা সনদ প্রদর্শন করতে হবে। আইইএলটিএসে ন্যূনতম ৬ স্কোর পেতে হবে অথবা টোয়েফলে ন্যূনতম ৮০ স্কোর তুলতে হবে।বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। এখানে আবেদন করুন-আরও পড়ুন:বিনা খরচে থাইল্যান্ডের প্রিন্স অব সোংক্লা ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগআবুধাবির খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা খরচে পড়ার সুযোগস্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগবার্সেলোনায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ | 1 |
করোনাভাইরাসে আক্রন্তদের জন্যশেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালপ্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। শনিবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু না।যারা আক্রান্ত হবেন তাদের জন্য আমরা বিভিন্ন হাসপাতালের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া আমরা নতুন দুইটি হাসপাতালের কথা চিন্তা করেছি। এগুলো হলো-শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।এই হাসপাতাল দুটি আমরা যেকোন সময় গ্রহণ করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারবো। তিনি জানান, চীন থেকে কিছু চিকিৎসক ও নার্স আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন ৪০০ আইসি ইউনিট স্থাপন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, টেস্টিংয়ের জন্য আমরা আরও সাতটি মেশিন এনেছি। এগুলো খুব দ্রুত বসানোর ব্যবস্থা করবো। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুইজনে। এ ছাড়া নতুন চারজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৪ জনে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সারাদেশে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৪ হাজার জন। আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫০ জন। জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিস্টেমস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ( সিএসএসই)-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৪০২ জনের। আর মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ জনে। এদের মধ্যে ৮৮ হাজার ২৫৮ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। | 6 |
কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলেরও (বিএমডিসি) সভাপতি। তার ছেলে, ছেলের বউ ও গৃহকর্মীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর তারা বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিএমডিসির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আরমান হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 4 |
ভালো একটা শুরু। এরপর হঠাৎ ছন্দপতন। আর ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি, বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে গেছে নিমেষেই। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই 'ডমিনো ইফেক্ট' বা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উদাহরণ অসংখ্য।সর্বশেষ ভেঙে পড়ার উদাহরণ ডারবান টেস্টে। চার দিন সমানে সমান লড়া বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে টিকতে পারেনি ২০ ওভারও। সেটিও আবার দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনারদের বিপক্ষে। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়িয়েছে, সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকার বয়সভিত্তিক দলের স্পিনাররা বোলিং করলেও সেটি খেলা যেন কঠিন হয়ে যেত মুমিনুলদের! বেশির ভাগ উইকেট বাংলাদেশ দিয়েছে প্রোটিয়া স্পিনারদের নিরীহ বলে, বিষাক্ত টার্নে পরাস্ত হয়ে নয়।এই যে বিপর্যয়, এটা যতটা না স্কিলের পরীক্ষা, সেটির চেয়ে বেশি ছিল মনস্তাত্ত্বিক খেলা। ক্রিকেট শুধু স্কিলেরই খেলা তো নয়, খেলাটা মনেরও। মনে যদি একবার ভয়ের বাঘটা ঢুকে পড়ে-আত্মবিশ্বাস, দৃঢ় মনোবল দ্রুতই হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। এই মনের বাঘ বাংলাদেশকে আগেও অনেকবার খেয়েছে। ডারবানেও খেল। মুমিনুল হক বিষয়টি তাঁর দল থেকে তাড়াতে চান। শিখতে চান চরম বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে।পোর্ট এলিজাবেথ টেস্ট শুরুর আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল বললেন, 'দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি, এই জায়গায় হয়তো আমাদের আরেকটু দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। এই বিষয়গুলো আমার কাছে মনে হয় ভালোভাবে চিন্তা করতে হবে। এমন বিপর্যয়ে পড়লে আমরা কী করতে পারি, ওই অবস্থা যেন ফিরে না আসে, সেটা করতে হবে।'বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্র দেখা গেছে গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে কিংবা জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ টেস্টেও। মুহূর্তেই ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ার সবচেয়ে বীভৎস রূপটা বাংলাদেশ দেখেছে ২০১৮ সালের অ্যান্টিগা টেস্টে। ওই টেস্টে নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিলেন তামিমরা। অবশ্য এই ডমিনো ইফেক্টের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও আছে বাংলাদেশের। ডারবানে টেস্টেই প্রথম ইনিংসে ১০১ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল মাহমুদুল হাসান জয়ের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে। গত ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেটে মহাকাব্যিক এক জুটিতে বাংলাদেশ পেয়েছিল দুর্দান্ত এক জয়। দেশ-বিদেশে ধারাবাহিক সফল হতে হলে এ ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর অভ্যাস করতেই হবে বাংলাদেশকে, সেটি নিজেও উপলব্ধি করছেন মুমিনুল।অবশ্য কোনো দলই চায় না নিয়মিত বিপর্যয়ে পড়তে। ব্যাটিং বিপর্যয় রোধে ধারাবাহিক জ্বলে উঠতে হবে ওপরের ব্যাটারদের। এখানেই একটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে। বিশেষ করে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল আর মুশফিকুর রহিমের ছন্দে ফেরাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই দুজনই সাধারণত দলের বিপর্যয় সামলে অভ্যস্ত। বিষয়টি নিয়ে যদিও চিন্তিত নন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মুমিনুল বলেছেন, 'তাঁকে (মুশফিক) নিয়ে কোনো চিন্তা করি না। তিনি বাংলাদেশ দলের সেরা ব্যাটার। টেস্টে তাঁর তিনটা ডাবল সেঞ্চুরি আছে। অবশ্যই দ্রুত রানে ফিরবেন তিনি। আর আমি নিজেকে নিয়েও চিন্তিত নই। আগে কী হয়েছে, সেটা নিয়ে না ভেবে সামনের ম্যাচে কী হবে সেদিকে তাকাচ্ছি।' | 6 |
পাইভেট কারের ধাক্কায় বাইসাইকেল ভেঙে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। যদি বলা হয় যে বাইসাইকেলের ধাক্কায় প্রাইভেট কার ভেঙে গেছে, তাহলে কেউই হয়তো বিশ্বাস করবেন না। তবে অবিশ্বাস্য হলে সত্য এমন ঘটনাই ঘটেছে দক্ষিণ চীনের শেনজেন প্রদেশে। আর এই ঘটনার ছবি দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। খবর এনডিটিভির। ছবিতে দেখা গেছে, একটি সাইকেলের আঘাতে প্রাইভেট কারের সামনের বাম্পার পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (সিজিটিএন) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাস্তার উল্টো দিকে সাইকেল চালাচ্ছিলেন চালক। এ সময় চলন্ত একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সাইকেলের কোনও ক্ষতি না হলেও প্রাইভেট কারটির সামনের বাম্পার ভেঙে যায়। তবে এই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। দুর্ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে স্থানীয় পুলিশ। অন্যদিকে এই ঘটনায় নেট দুনিয়ায় হাসি-ঠাট্টা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন মজা করে লিখেছেন, নকিয়া এবার সাইকেলও তৈরি করছে? তবে বেশিরভাগ ব্যবহারকারীরই মন্তব্য, এই সাইকেলটি আমার চাই। | 3 |
রাজধানীর মিরপুর-১ এর উত্তর টোলারবাগে করোনাভাইরাস শঙ্কায় আনুমানিক ৪০টি বাড়িসহ পুরো এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। স্থানীয় আবাসিক কল্যাণ সমিতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রাতে আইইডিসিআরের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পুলিশের মিরপুর বিভাগের এসি (দারুস সালাম) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার (২১ মার্চ )ভোরে টোলারবাগের একটি ভবন লকডাউন করা হয়। কারণ ওই ভবনে এক বাসিন্দা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ৪০টি বাড়ি লকডাউনের ব্যাপারে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের এসি (দারুস সালাম) মিজানুর রহমান বলেন, ঠিক লকডাউন নয়। যেহেতু ওই এলাকায় একটি ঘটনা ছিল। সেহেতু তিনি ওই এলাকার মানুষের সঙ্গে চলাফেরা, মেলামেশা করেছেন। তাই আমরা প্রত্যেক বাসায় বাসায় গিয়ে ওই এলাকার মানুষকে সচেতন করে দিয়ে এসেছি। তারা যেন বাসা থেকে বের না হন। তা ছাড়া ওই এলাকায় চলাচল সীমিত রাখেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, সেখানে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০টির মতো বাসাতে আমরা গিয়েছিলাম। বলতে পারেন টোলারবাগ পুরো এলাকা। অন্যদিকে হাউজ ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সুভাশীষ বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যায় বৈঠক হয়েছে। টোলারবাগের ৪০টি বাড়ির ৬৭২ পরিবারকে 'লকডাউনের' সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কারণ যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তিনি কার কাছ থেকে ভাইরাস বহন করেছিলেন, সেটি চিহ্নিত করা যায়নি। আইইডিসিআর জানিয়েছে, সেখানে আরো আক্রান্ত থাকতে পারেন। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। একটি সার্কুলার জারি করা হচ্ছে। যেন সেখানকার চাকরিজীবীরা ঘরে থাকতে পারেন। পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ জানান, মিরপুরের টোলারবাগের একটি ভবনের একজন করোনা ভাইরাস পজিটিভ ব্যক্তি ছিলেন। সতর্কতার জন্য আক্রান্ত ওই রোগীর সঙ্গে সম্ভাব্য চলাফেরা ও মেলামেশা করা ভবনের অন্যদের হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে। ভবনটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে, ওই ভবন থেকে যেন কেউ বের হতে না পারেন। ওই ভবনে প্রবেশ সংরক্ষিত ও এলাকায় চলাচল সীমিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আইইডিসিআরের পরামর্শে পরিবারটি যে ভবনে থাকে সেটি 'লকডাউন' করে রাখা হয়েছে। ওই পরিবারের একজন মারা গেছেন। ওই পরিবারের কেউ যাতে বাসা থেকে বাইরে বের হতে না পারে সেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে ওই ভবনটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতার সঙ্গে চলতে সতর্ক করা হয়েছে। | 6 |
কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের শরীরজোড়া ছিল প্রাণ-তাঁকে যাঁরা দেখেছেন তাঁদের সবাই এ কথা জানেন। ক্রীতদাসের হাসি লিখে আমির-ওমরাহদের ধন ও মাংসপ্রীতির এমন কটাক্ষ করেছেন, যা পড়লে আজও শরীর শিউরে ওঠে। তাতারির মুখ দিয়ে যে কথাগুলো বলিয়েছেন, তা এখনো পুরোনো হয়ে যায়নি।আরেক বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আবু জাফর শামসুদ্দীনের সঙ্গে খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল শওকত ওসমানের। শওকত ওসমান যখন চট্টগ্রামে থাকতেন, তখন ঢাকায় এলে আবু জাফর শামসুদ্দীনের আগামসিহ লেনের ভাড়াবাড়িতেই উঠতেন। এরপর আবু জাফর শামসুদ্দীন ঢাকার রাজারবাগে একটা জমি কেনেন। তাঁরই কথায় শওকত ওসমানও সেখানে জমি কেনেন। পরে দুই বন্ধু পাশাপাশি বাড়িতে থাকতেন।আশি বছরের বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচেছেন শওকত ওসমান, কিন্তু তাঁর ভেতরকার শিশুটি বেঁচে ছিল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। নিজেকে বুড়ো হয়ে যেতে দেননি।এখন শহরাঞ্চলে গ্যাসের চুলোয় রান্না করতে অভ্যস্ত সবাই। মাটির চুলা, কেরোসিন চুলার যুগ পার হয়েছে অনেক আগেই। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আবাসিক জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের চুলায় রান্না করার। গ্যাস কোম্পানি বিনা পয়সায় গ্যাসের চুলা আর গ্যাসের সংযোগ দেবে-এই সিদ্ধান্তও হলো। ঠিক হলো, কোনো সৎব্যক্তির বাসা থেকেই গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। প্যারিসের পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে শওকত ওসমানের নাম প্রস্তাব করা হয়। এরপর ঢাকায় শওকত ওসমানের বাড়িতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়। পত্রপত্রিকায় ছবি বের হয়। এ ছিল আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা।রান্নায় মসলার ব্যবহার নিয়ে তাঁর ছিল নিজের মতো কিছু রসিকতা। তার একটা হলো হলুদ দিয়ে। বলতেন, 'হলুদ হলো অ্যান্টিসেপটিক। হলুদের বদলে রান্নায় স্যাভলন বা ডেটল ব্যবহার করা যায়!'সূত্র: আহমেদ পারভেজ শামসুদ্দীন, কথাশিল্পী শওকত ওসমান স্মারকগ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৪০-১৪১ | 8 |
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের ভাগ্য বলে দিল এক টিয়া পাখি। বললো, রবার্ট মিলার জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি লাভ করবেন। জীবনে তার উন্নতি ঘটবে। নিজের ভাগ্যের কথা শুনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মিলার। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানে 'পাড়া উৎসবে' ভাগ্য গণনা করার স্টলে মিলার উপস্থিত হলে সেখানে থাকা টিয়া পাখি তার ভাগ্যের কথা বলে দিয়েছেন। এর আগে সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে আয়োজিত 'পাড়া উৎসবের' একটি স্টলে ভাগ্য গণনার জন্য টিয়া পাখি রাখা ছিল। মিলার আগ্রহ নিয়ে সে সম্পর্কে জানতে চান মেয়রের কাছে। মেয়র বিষয়টি সম্পর্কে মিলারকে বুঝিয়ে বললে তিনি ভাগ্য গণনার আগ্রহ দেখান। এ সময় টিয়া পাখি খামে মোড়ানো ভাগ্য লেখা একটি কাগজ মিলারের হাতে তুলে দেয়। ভাগ্য গণনাকারী ব্যক্তি তখন কাগজটির লেখা 'এটা যার নামে উঠবে তিনি জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি লাভ করবেন। জীবনে উন্নতি ঘটবে পড়ে শোনান। তখন আয়োজকদের একজন তা অনুবাদ করে মিলারকে বলেন। নিজের ভাগ্য শুনে অবাক হয়ে যান মিলার। সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। | 6 |
স্থানীয় ক্রয়ের বিপরীতে উৎসে মূসক কর কর্তন থেকে পোশাক শিল্পকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ । সেই সঙ্গে উৎসে মূসক কর আদায় কার্যক্রম সহজ করার দাবিও জানিয়েছেন সংগঠনটি । গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিজিএমইএর নেতারা এ দাবি জানান।সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ'র প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছিল। প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যে দৃশ্যমান। এ অবস্থায় পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট সেবা খাতে উৎসে মূসক কর আদায়ে নমনীয় ভাব পোষণসহ কার্যক্রম সহজীকরণে ভ্যাট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান তিনি। | 6 |
দুর্দান্ত প্রাণশক্তি, বৈচিত্র্যময় চরিত্র আর অসাধারণ অভিনয়ের মিশেল-রণবীর সিং। শুধু তা-ই নয়, তাঁর ফ্যাশন সেন্সও ব্যতিক্রমী, কারও কারও মতে, রীতিমতো উদ্ভট। চলুন দেখে আসা যাক তাঁর ফ্যাশন ওয়ার্ডরোব। ফুলে ফুলে প্রিন্ট ফিউশন স্কার্ট অ্যানিমেল প্রিন্টস | 2 |
করোনা নেগেটিভ ফলাফল আসার একদিন পর মারা গেলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাস্টার আবুল খায়ের। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। রবিবার দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিমে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। আবুল খায়ের পার্শ্ববর্তী শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তিনি গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দলীয় নমিনেশন(নৌকা) প্রতীক পান। এর চারদিন পর অসুস্থ হয়ে খুলনা সিটি মেডিকেলে ভর্তি হন। ওই সময় তার শরীরে করোনা ধরা পড়ে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে করোনা নেগেটিভ ফলাফল আসার একদিন পরে মারা যান তিনি। মাস্টার আবুল খায়ের খাউলিয়া ইউনিয়নের টানা দু'বার চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও (স্থগিত) আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
পার্ল হারবারে মার্কিন নৌসেনা ঘাঁটিতে এক জওয়ানের হাতে খুন হয়েছেন দুই মার্কিন নাগরিক ওই হামলাকারী পরে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় ঘটনাটি ঘটেছে। সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, নিহতরা হাওয়াইয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হয়ে কর্মরত ছিলেন এই ঘটনায় আহত হয়েছেম আরো এক কর্মী তাকে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জারি এক বিবৃতিতে বলা হয়ছে, হামলাকারী নৌবাহিনীর এক সিনিয়র অফিসার এদিন দুপুর ২.৩০ নাগাদ আচমকাই নৌঘাঁটির অসামরিক কর্মীদের উপর আচমকাই গুলি চালাতে শুরু করেন হামলাকারী সঙ্গে সঙ্গেই গোটা চত্বর ঘিরে ফেলে নিরাপত্তারক্ষীরা তারপরই মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি গোটা বিষয়টিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, হামলাকারীর গায়ে নৌ-সৈনিকের ইউনিফর্ম ছিল ঘটনাটি নৌঘাঁটির দক্ষিণ প্রবেশ পথের পাশে সংঘটিত হয়েছে উল্লেখ্য, আর তিন দিন বাদেই পার্ল হারবারে জাপানের হামলার ৭৮তম বর্ষপূর্তি এর আগেই এহেন ঘটনায় চঞ্চল্য ছড়িয়েছে উল্লেখ্য, ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর পার্ল হারবারে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল ইম্পেরিয়াল জাপান সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ওই হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর প্রায় ২ হাজার ৫০০ জওয়ান প্রাণ হরিয়ছিলেনখবর বিবিসি ও অন্যান্য সূত্রের | 3 |
বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২১ সালের এই দিনেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। চলে যাওয়ার একবছরেই একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতাকে ভুলতে বসেছেন সহকর্মীরা- এমনটাই আক্ষেপ তার পরিবারের। এ টি এম শামসুজ্জামানের মেয়ে কোয়েল আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'আমার বাবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল অথচ দেশের অনেক গণমাধ্যমই বাবাকে সেভাবে স্মরণ করেনি। আরও দুঃখজনক, যাদের সঙ্গে বাবা জীবদ্দশায় বেশির ভাগ সময় পার করেছেন- সেই সহকর্মীরাও তাকে স্মরণ করেননি। এমনকি এই এক বছরে কেউখোঁজ-খবরও নেননি।' উল্লেখ্য,অনেকটা নীরবে-নিভৃতে পার হয়েছে এই অভিনেতারপ্রথম প্রয়াণ দিবস। আজ পারিবারিকভাবে ঢাকার সূত্রাপুরে কোরআন খতম ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন ছিল না। এ টি এম শামসুজ্জামানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষেঢাকায় দুস্থদের মধ্যে খাবারবিতরণ ছাড়াও তাঁর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর একটি মসজিদেসহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী। বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কেউন আজ সোনারগাঁয়ে বড় সর্দার বাড়িতে কূটনৈতিক সাংবাদিকদের এসব বলেন।সোমবার সোনারগাঁয়ে পানামা শহর ও কোরীয় অর্থায়নে পুনরায়ন করা বড় সরদার বাড়িতে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কেউন। এ সময়ে পানামা শহর ও বড় সরদার বাড়ি পরিদর্শনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিক্যাবের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানান। এতে কোরিয়ার বিশেষ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গির সাদাত, বড় সরদার বাড়ি পুনরায়ন করা প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক আবু সাঈদ এম আহমেদ, ডিক্যাব সভাপতি পান্থ রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশের দক্ষিণে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন করলে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কেউন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাটি গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। আর সুযোগ পেলে এতে কাজ করতে কোরিয়া আগ্রহী। কারণ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিশ্বে কোরিয়া অন্যতম দেশ। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে কোরিয়া। আমি নিশ্চিত যখন সুযোগ আসবে, অনেক কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান এতে আগ্রহ দেখাবে।প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান যে আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে জায়গা খোঁজা হচ্ছে।পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নসহ অন্যান্য সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, অর্থায়ন সক্ষমতা নিয়ে নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না। কারণ কোরিয়া বড় অঙ্কের অর্থ সম্পদ একত্রিত করে না। তবে আমি নিশ্চিত কোরিয়ার সবচেয়ে ভালো পর্যায়ের কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে। তবে আর্থিক সক্ষমতার প্রশ্নে বিভিন্ন উপায় রয়েছে, প্রয়োজনে এখানে সরকারি বা বেসরকারি খাত অথবা অন্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমেও এটি করা যেতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বে ৬ষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।লি জ্যাং কেউন বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি পোশাক খাত বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। তবে ব্যবসায়িক খাতে বৈচিত্র্য খুঁজছে দক্ষিণ কোরিয়া। তথ্য প্রযুক্তি খাত নিয়ে কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়া। সেই সঙ্গে অবকাঠামো কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানের পছন্দের জায়গা। এরই মাঝে ঢাকার বিমানবন্দরের টার্মিনালের কাজ করছে স্যামসাং। অবকাঠামোর আরও কিছু জায়গাতে কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান কাজ করতে আগ্রহী।দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তির পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৩ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হবে। এ সময়ে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে কোরিয়ার সম্পৃক্ততায় তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। | 6 |
ভারতের আরো একটি জঙ্গি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এর পাইলট নিহত হয়েছে। বুধবার উড়ার সময় মিগ-২১ বাইসন নামে এ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) একটি বিবৃতি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আইএএফ এক টুইটে বলা হয়েছে, বিমান বিধস্ত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এ টুইটে আরো বলা হয়, 'সকালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি মিগ-২১ বাইসন জঙ্গি বিমান মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। মধ্য ভারতের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে যুদ্ধের অনুশীলন জন্য উড়তে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।' আরেকটি টুইটে বলা হয়, 'এ দুঃখজনক ঘটনায় ভারতীয় বিমান বাহিনী তাদের গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ গুপ্তাকে হারিয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং এ বাহিনী সব সময় তাদের পাশে থাকবে বলে নিশ্চয়তা দিচ্ছে। এবং বিমান বিধস্ত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার আদেশ দেয়া হয়েছে।' সময়োত্তীর্ণ মিগ-২১ বাইসন জঙ্গি বিমান ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার মুখে আছে ভারত। আইএএফ প্রধান বি এস ধানোয়া দুই বছর আগে বলেছিলেন, আইএএফ ৪৪ বছরের পুরনো মিগ-২১ বাইসন জঙ্গি বিমান ব্যবহার করছে, যখন সাধারণ মানুষ এত পুরনো গাড়িও ব্যবহার করে না। মিগ-২১ বিশ্বজুড়ে এখন খুব কমই ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদন অনুসারে, মিগ-২১ বর্তমানে বিশ্বে মাত্র ১৮টি বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যাদের মধ্যে ন্যাটোর দুই সদস্যও রয়েছে (রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়া)। সূত্র : দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল | 3 |
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেছেন, আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমি কি কথা বলবো না বলবো সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করে আমার ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। এটি যেমন দেশের আইনেও অপরাধ তেমনি ইসলামী বিধানেও চরম গুণাহের কাজ। সুতরাং আমার ব্যক্তিগত ফোনালাপ যারা ফাঁস করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনি ব্যবস্থা নেবো। তিনি বলেন, আমি সেদিন নারায়নগঞ্জের রয়াল রিসোর্টে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে যে আমি কেন এই পরিস্তিতিতে রিসোর্টে গেলাম। হ্যাঁ আমি স্বীকার করছি যে এমন অসাবধানতাবশত সেখানে আমার যাওয়া সমীচীন হয়নি। তবে আমি জানতাম না যে দেশের মানুষের ব্যক্তিগত নিরপাত্তা চরমভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। মামুনুল হক বলেন, যেভাবে একের পর এক মানুষের ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করা হচ্ছে, এটি দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। মাওলানা রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে তার নামেও অপবাদ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই যে এতোগুলো ফোনালাপ ফাঁস করা হলো তাতে কি প্রমাণ মিলেছে যে সে আমার বিবাহিতা স্ত্রী নয়? অথচ শুধু শুধু আমার একান্ত ব্যক্তিগত কথাগুলো কোন উদ্দেশ্যে ফাঁস করা হলো? মামুনুল হক বলেন, ইসলামে চারটি বিয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দেশের আইনেও একাধিক বিয়েতে বাধা নেই। কাজেই আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি এতে কার কী? তিনি বলেন, যদি আমি স্ত্রীদের কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত করে থাকি, তবে আমার বিরুদ্ধে আমার পরিবার অভিযোগ দিতে পারে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কি দেখাতে পারবে যে আমার পরিবার কোনো বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিয়েছে? বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন,গতকাল বঙ্গবন্ধুর একজন খুনির (ক্যাপ্টেন [বরখাস্ত] আব্দুল মাজেদ) ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। জাতি আবার ভারমুক্ত হলো। তার ফাঁসি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে দেশবাসীর জন্য মুজিব বর্ষের উপহার। বাকি আরো ৫ জন খুনি বিদেশে পলাতক রয়েছে। তাদের দুই জন কোথায় আছে সে সম্পর্কে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে। তবে সকলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সবোর্চ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। দেশে এনে তাদেরও ফাঁসি কার্যকর করা হবে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের মানুষকে ঘরে অবস্থান করার জন্য এবং অতিব প্রয়োজন ব্যতিত ঘর হতে বের না হওয়ার জন্য আহবান করেন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এর ধানমন্ডির বাসায় মাননীয় নৌ প্রতিমন্ত্রী জনাব খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এমপি শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশ কর্তৃক দুঃস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণের জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি এর নিকট দুই হাজার (২০০০) প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তরের সময় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। হস্তান্তরিত এ ত্রাণ (প্রতি প্যকেটে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ৩ কেজি আলু, ১ লিটার তেল, ১ কেজি লবন ও ১ টি সাবান) মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় দরিদ্রদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে। ত্রাণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিপার্স কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে এবং সেখানকার ডাক্তাররা তার বাইপাস সার্জারির চিন্তাভাবনা করছেন বলে আজ মঙ্গলবার জানিয়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশের চিকিৎসক প্রফেসর ডা: আবু নাসের রিজভী। ঢাকা থেকে ওবায়দুল কাদেরের সাথে যাওয়া ডা: নাসের রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদেরের কিডনিতে কিছু সমস্যা ও ইনফেকশন থাকায় সার্জারিতে কিছু সময় লাগতে পারে। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের কার্ডিওলজি ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. ফিলিপ কোহর নেতৃত্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড ওবায়দুল কাদের চিকিৎসা দেখভাল করছে। ডিপার্টমেন্টটির প্রধান আজ মঙ্গলবার ওবায়দুল কাদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং এ বিষয়ে ব্রিফ করেছেন। মেডিক্যাল বোর্ডের ব্রিফিং অনুসারে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় মিডিয়াকে জানিয়েছেন আবু নাসের রিজভী। তিনি বলেন, মেডিক্যাল বোর্ড ওবায়দুল কাদেরকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং মঙ্গলবার সকালে এ ব্যাপারে তাদের মতামত জানিয়েছেন। কিডনিতে কিছু সমস্যা ও ইনফেকশনের কথা জানিয়ে তারা বলেছেন, এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে এলেই বাইপাস সার্জারির কথা চিন্তা করছেন তারা। মেডিক্যাল বোর্ড বুধবার দুপুরে চিকিৎসার বিষয়ে ব্রিফ করবেন বলেন জানান নাসের রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ আওয়ামী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, সড়ক ও হাইওয়ে বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেলাল হোসেন আজ মঙ্গলবার জানান, সকালে হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্যের এ উন্নতির কথা জানান। আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে মেডিকেল বোর্ড ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন বলে জানান তিনি। বেলাল হোসেন আরো বলেন, আজ একটি সিটি স্ক্যান করা হবে। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর আগে ভারতের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. দেবী শেঠির পরামর্শে সোমবার বিকালে হৃদরোগে আক্রান্ত ওবায়দুল কাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। গত রোববার সকালে শ্বাসক্রীয়ার জটিলতা নিয়ে বিএসএমএমইউ'র করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন কাদের। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর এনজিওগ্রাম করে তার করোনারি ধমনীতে তিনটি ব্লক পান চিকিৎসকরা। | 9 |
বিয়ে হয় ১২ বছর বয়সে। তখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতেন। স্বামী বেকার ছিলেন। নিজ বাড়িতে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। এক সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ে গেটকিপারে চাকরির জন্য আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সেখানেই চাকরি হয়। এ সময় পরিবারসহ আশপাশের মানুষ কটুকথা বললেও দমে যাননি তিনি। আজও আছেন এ পেশায়।রূপা পারভীন (৩২)। তিনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার পশ্চিম আমুট্ট গ্রামের মাঠে (আক্কেলপুর মহিলা কলেজ-সংলগ্ন) লেভেল ক্রসিংয়ে গেটকিপার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বাড়ি পৌরসভার বিহারপুর মহল্লায়। তিনি ওই মহল্লার আইয়ুব হোসেনের স্ত্রী।রূপার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১২ বছর বয়সে রূপার বিয়ে হয় আইয়ুব হোসেনের সঙ্গে। এই দম্পতির ঘরে দুই ছেলে আছে। বিয়ের সময় রূপা অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন। বিয়ের পর পাঁচ বছর রূপা তাঁর বাবার বাড়িতেই থাকতেন। আর রূপার স্বামী আইয়ুব হোসেন তখন ছিলেন বেকার। শত অভাব অনটনের মধ্যেও হাল না ছেড়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।এইচএসসি পাসের পর শুরু করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন। এরই মধ্যে দুই ছেলে হয়। বড় ছেলের নাম সিয়াম হোসেন (১২)। সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে, আর ছোট ছেলে শায়ন হোসেন (৪) বাড়িতেই থাকে। সন্তানের ভবিষ্যৎ আর নিজের পায়ে দাঁড়ানো মনোবল নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ে গেটকিপারে চাকরির জন্য আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ২০১৮ গেটকিপারের চাকরি হয়।এরপর থেকে রূপা আক্কেলপুর উপজেলার পৌর সদরের রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং, কানুপুর হালির মোড় লেভেল ক্রসিং, সর্বশেষ পূর্ব আমুট্ট গ্রামের আক্কেলপুর মহিলা কলেজ-সংলগ্ন লেভেল ক্রসিংয়ে গেটকিপার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।রূপা পারভীন বলেন, '১৮ বছরের সংসার জীবনে দুই সন্তানের মা হয়েও চাকরির পাশাপাশি ডিগ্রিতে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। নারী হিসেবে গেটকিপারের চাকরি পাওয়ার পর পরিবার থেকে শুরু করে অনেক মানুষ আমাকে তিরস্কার করেছিল। এমনকি আমার কর্মস্থলেও অনেক মানুষ এসে ভিড় করত, আর বলত দুনিয়াতে আর চাকরি পায়নি, মেয়ে হয়ে আবার গেটকিপারের চাকরি করতে এসেছে। আমি তাঁদের কথা কান না দিয়ে আজও চাকরি করে যাচ্ছি। আমি আরও পড়াশোনা করে বড় হতে চাই, দেখিয়ে দিতে চাই নারীরাও সমাজে সব কাজ করতে পারে।'এ বিষয়ে রূপার স্বামী আইয়ুব হোসেন বলেন, 'একটা সময় আমাদের সংসারে অনেক অভাব ছিল। শত কষ্টের মধ্যেও আমার স্ত্রী লেখাপড়া চালিয়ে গেছে। আজ সে চাকরি করছে। আমি চাই ওর মতো শত নারী ঘরে বসে না থেকে কিছু একটা করুক।' | 6 |
না ফেরার দেশে চলে গেলেন দৈনিক আজকের পত্রিকার রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা প্রতিনিধি চাউচিং মারমা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর রয়েল হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে রাজস্থলী বাসস্টেশনের একটি দোকানে বসে কথা বলতে বলতে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা তাঁকে রাজস্থলী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে চট্টগ্রাম হাসপাতালে পাঠাতে বলেন। পরে সেখান থেকে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাতেই চট্টগ্রাম রয়েল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।চাউচিং মারমার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে রাজস্থলী উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাঙামাটি জেলার সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু মারমা, জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওআমী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজ মুছা মাতব্বর, জেলা পরিষদের সদস্য নিউচিং মারমা, রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উবাচ মারমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শান্তনু কুমার দাশ, ভাইস চেয়ারম্যান অংনুচিং মারমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উসচিন মারমা, ওসি জাকির হোসাইন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজগর আলী খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান পুচিংমং মারমা, ঘিলাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা, বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং মারমা, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লংবতি ত্রিপুরা, কর্মরত সাংবাদিকদবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই।সাংবাদিক চাউচিং মারমা আজকের পত্রিকা ছাড়াও বাংলাদেশ বেতার রাঙামাটি কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় দৈনিকে কাজ করতেন। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনার মতো মহামারির সময়েও বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বুধবার নাটোরের সিংড়ায় গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রা ও সমাবেশ এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে শহরের জয় বাংলা মোড় থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এসময় সিংড়ার পুরো পৌর এলাকা পরিণত হয় জন সমুদ্রে। হাজার হাজার লোকের সমাগমে আর জয় বাংলা শ্লোগানে প্রকম্পিত হয় সিংড়ার পৌর এলাকা। সিংড়া উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে বের করা শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা কোর্ট মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মুক্তমঞ্চে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ ওহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিংড়া পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌসসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 9 |
ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরসভায় আজ (মঙ্গলবার) ভোট। এই পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।নির্বাচনে ৩৫ হাজার ৬৫৯ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৭ হাজার ৫৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ৬০৫ জন।ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ১৩টি কেন্দ্রের সবগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহাকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল সোমবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি পৌঁছে গেছে। এখানে নয়টি ওয়ার্ডের ১৩টি ভোট কেন্দ্রে ৯৩টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। এ লক্ষ্যে ৯৩টি ইভিএমসহ অন্যান্য সামগ্রী কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত আরও ৫০ শতাংশ ইভিএম সরবরাহ করা হয়।ছাগলনাইয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মোট প্রার্থী দুজন। একজন বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা এবং স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) কম্পিউটার প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সদস্য নুর মো. জাকের হায়দার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। | 6 |
ইসলাম সহজাত প্রকৃতির ধর্ম; ইসলাম সাম্য ও মৈত্রীর ধর্ম। মৈত্রীর জন্য প্রয়োজন সাম্য, সাম্যের জন্য প্রয়োজন সহমর্মিতা ও সমবেদনা বা সম-উপলব্ধি ও সম-অনুভব। রমজান মাস সাম্য-মৈত্রী তৈরিতে, সমবেদনা ও সহমর্মিতা সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখে। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: 'রমজান হলো সমবেদনা ও সহমর্মিতার মাস।' (বায়হাকি) রমজান মাসে ধনীরা গরিবের দুঃখ বুঝবে; ক্ষুধায় জঠরজ্বালা অনুভব করবে। ইফতারে অনুভব করবে ক্ষুধা-পিপাসায় কাতর অসহায় মানুষের খাবারের প্রতি কী দুর্নিবার আকর্ষণ। সম্মান করতে শিখবে খাদ্যকে; মর্যাদা দিতে শিখবে ক্ষুধার্ত মানুষকে। বুঝবে কেন অসহায় গরিব মানুষ দুমুঠো অন্নের জন্য অন্যের ঘরে গৃহকর্মীর কাজ করে। কেন প্রসূতি মা তাঁর নাড়িছেঁড়া বুকের ধন মানিককে কয়েকটি টাকার বিনিময়ে অচেনা কারও হাতে অজানার উদ্দেশে বিক্রি করে দেন। উপলব্ধি করবে দুস্থ গরিব অসহায় মানুষ ধনীর সম্পদের লোভে নয়, আরাম-আয়েশের মোহে নয়, শুধুই জীবনে বাঁচার তাগিদে কারও অগোচরে চোখের আড়ালে সামান্য খাবারের প্রতি হাত বাড়ায়। ফুটপাতে ফেলে রাখা বর্জ্য থেকে পচা খাবার কেন সে তুলে মুখে পুরে দেয়। কেন গরিব মা তাঁকে খেতে দিলে নিজে না খেয়ে আঁচলে বেঁধে নেন তাঁর অভুক্ত সন্তানের জন্য। অনুভব করবে ক্ষুধায় কাতর মানুষ কীভাবে তার আত্মসম্মান বিসর্জন দেয়, মর্যাদা ভুলে যায়, মান-ইজ্জত বিকিয়ে দেয় খাবারের জন্য। তাদের ঘৃণা ও উপেক্ষা নয়, তাদের জন্য ভালোবাসা ও সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। এটুকু অনুভূতি যদি জাগ্রত না হয়, তাহলে রোজা ও রমজান উপবাস ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেক জায়গায় দেখা যায় 'এখানে জাকাতের শাড়ি কাপড়-লুঙ্গি পাওয়া যায়' মর্মে ব্যানার ঝুলিয়ে কিছু কম দামি নিম্নমানের শাড়ি কাপড় ও লুঙ্গি বিক্রি করা হয়। কিছু জাকাতদাতা আছেন, যাঁরা এগুলো কিনে গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন। এতে জাকাতকে অসম্মান করা হয়, জাকাত গ্রহীতাকে অসম্মান করা হয়; মানবতাকে উপহাস করা করা হয়। এ শাড়ি টেকসইও নয়, দেখলেই চেনা যায় এটি করুণার দান; যাতে ব্যবহারকারীর আত্মমর্যাদা বিনষ্ট হয়। যা পরে কোনো ভালো জায়গায় যেতে দ্বিধা বোধ করেন। রমজানের শিক্ষা এখানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ করবে না, কালোর ওপর সাদার প্রাধান্য নেই, আরব-অনারবে পার্থক্য নেই; ক্রীতদাস ও কর্মচারীকে নিজ ভাইয়ের সমান মর্যাদা দেবে; তোমরা যা খাও, তাদের তা খাওয়াবে, তোমরা যা পরিধান করো, তাদেরও তা পরিধান করাবে।' (বুখারি) জাকাত প্রদান করা ফরজ ও সদকা আদায় করা ওয়াজিব; কিন্তু কোনো মানুষকে হেয় জ্ঞান করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, কারও সম্মানহানি করা নাজায়েজ, হারাম ও কবিরা গুনাহ। সুতরাং ফরজ জাকাত ও ওয়াজিব সদকা আদায় করতে গিয়ে এই কবিরা গুনাহের মতো হারাম ও নাজায়েজ কাজ করা মোটেই উচিত নয়। প্রকারান্তরে যা বাস্তবে ঘটে থাকে। অনেকেই জাকাত-সদকা প্রদান করে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। এটি মোটেই সমীচীন নয়। কারণ, জাকাত ও সদকা দয়ার দান নয়, এটি ধনীর সম্পদে গরিবের প্রাপ্য অংশ। যা তারা দাবি না করলেও বা না চাইলেও পরিশোধ করতে হবে; তার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'তাদের সম্পদে বঞ্চিত যাঞ্ছাকারীদের নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে।' (আল কোরআন, সুরা-৫১ [৬৭] আয যারিয়াত, রুকু: ১/১৮, আয়াত: ১৯, মঞ্জিল: ৭, পারা: ২৬ হা-মিম, পৃষ্ঠা ৫২২/২০; সুরা-৭০ [৭৯] আল মাআরিজ, রুকু: ১/৭, আয়াত: ২৪-২৫, মঞ্জিল: ৭, পারা: ২৯ তাবারাকাল্লাজি, পৃষ্ঠা ৫৭১/৯)। যেহেতু এটি তার পাওনা, সুতরাং প্রাপককে সসম্মানে তা প্রদান করতে হবে, যাতে তিনি তা পেয়ে সন্তুষ্ট হন। মুজতাহিদ ফকিহগণের মতে, সদকা ও জাকাত এমনভাবে দেওয়া উত্তম, যা গ্রহীতা স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে টাকাই অগ্রগণ্য; কেননা, এর দ্বারা গ্রহণকারী নিজের রুচিমতো প্রয়োজন মেটাতে পারেন। যদি কোনো কাপড়চোপড় বা খাদ্যদ্রব্য অথবা অন্য কোনো বস্তু কিনে দেন, তাহলে মানসম্পন্ন জিনিসই দেওয়া উচিত। এমন শাড়ি বা লুঙ্গি দেওয়া উচিত, যা পরে তিনি কোনো উন্নত পরিবেশে একটি ভালো মজলিশে বা কোনো অনুষ্ঠানে যেতে পারেন এবং স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দ বোধ করেন। (আল ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু) ইতিকাফ অবস্থায় ইতিকাফকারী প্রয়োজনে মসজিদের ভেতরে মোচ ছাঁটতে পারবেন এবং নখ কাটতে পারবেন। তবে এই মাসআলা তাঁদের জন্য যাঁরা দীর্ঘ সময় তথা ১০ দিন, ২০ দিন, ৩০ দিন বা ৪০ দিন একাধারে ইতিকাফ করবেন। তবে তাঁদের জন্য মসজিদের বাইরে গিয়ে ক্ষৌরকর্ম করাও জায়েজ আছে। কিন্তু অল্প সময়, অর্থাৎ ১০ দিনের চেয়ে কম সময় ইতিকাফকারীর জন্য এসব উচিত নয়। এগুলো ইতিকাফের পরও করতে পারবেন। এর দৃষ্টান্ত হলো জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন যেমন ক্ষৌরকর্ম না করে থাকা সুন্নত। (ফাতহুল বারি শারহুল বুখারি, আল বাহরুর রায়েক)। মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম। [] | 10 |
পবিত্র ঈদুল আজহায় মহামারি করোনা থেকে মুক্তি পেতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের মুক্তির জন্যও প্রার্থনা করেছে দলটি।ঈদের নামাজ শেষে আজ বুধবার সকালে শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান দলটির নেতা কর্মীরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, 'পরম করুণাময়ের কাছে এই দোয়া করেছি সরকারের উদাসীনতা এবং অযোগ্যতার কারণে যখন মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে, সেই সময় যেন মানুষকে ক্ষমা করেন। তাঁদের ভয়াবহ মহামারি থেকে মুক্ত করেন।'বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সারা জীবন ত্যাগ স্বীকার করে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন, গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন। তিনি আজকে অসুস্থ অবস্থায় কারারুদ্ধ হয়ে আছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশান্তরী হয়ে নির্বাসিত আছেন। লাখ লাখ মানুষ আজকে মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়ে যাচ্ছে, গুম হয়ে যাচ্ছে। এই একটা অবস্থা বাংলাদেশে বিরাজ করছে। গণতন্ত্রহীনতার এই সময়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।' | 9 |
তুরস্কের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক এক প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধানকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। শনিবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। গত বছর তুরস্কের মুদ্রাস্ফীতি হার ৩৬.১ শতাংশ এবং গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতি চলছে বলে তথ্য প্রকাশ করে দেশটির পরিসংখ্যান অধিদফতর। এরপরই তুরস্কের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান সাইদ এরতাল দিনচারকে বরখাস্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। এখন থেকে সাইদ এরতাল দিনচার তুরস্কের পরিসংখ্যান বিভাগ টিউইকের কোনো পদে থাকবেন না। সম্প্রতি তুরস্কের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বরখাস্ত করেছেন এরদোগান। ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে এখন পর্যন্ত তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন গভর্নরকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান দেশটিতে প্রচলিত উচ্চহারে সুদ প্রদানের রীতি বন্ধ করেছেন। রজব তাইয়েব এরদোগান মনে করেন, তুরস্কে প্রচলিত এ উচ্চহারের সুদই হলো বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির কারণ। যদিও গতানুগতিক অর্থনীতিতে উল্টো একটি ধারণা প্রচলিত আছে। উল্লেখ্য, তুরস্কের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান সাইদ এরদাল দিনচার সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে যে সকল তথ্য প্রকাশ করেছেন, তাতে তুরস্কের সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা ভীষণ অসন্তুষ্ট। তুরস্কের সরকারি দলের সমর্থকরা দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগের সমালোচনা করে দাবি করছেন, মুদ্রাস্ফীতি ইস্যুতে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে তুরস্কের অর্থনীতিকে একটি দুর্বল অর্থনীতি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অপরদিকে তুরস্কের বর্তমান সরকারবিরোধীরা দাবি করেছেন, তুরস্কের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রতিবেদনে অনেক তথ্য গোপন করা হয়েছে। সূত্র : আল-জাজিরা | 3 |
শেরপুরের শ্রীবরদীতে ছয় মাসের এক শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এক তরুণীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।ওই তরুণীর নাম রিয়া খাতুন (১৯) এবং ছয় মাস বয়সী ওই শিশুর নাম মো. সারোয়ার। রিয়া শ্রীবরদী উপজেলার গোশাইপুর ইউনিয়নের বালিয়াচণ্ডী গ্রামের আবদুর রহিমের মেয়ে ও সম্পর্কে শিশু সারোয়ারের দূরসম্পর্কের খালা। তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল রিয়া সহযোগীদের নিয়ে তাঁর মামাতো বোন সুমী বেগম ও সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মো. হৃদয় দম্পতির ছয় মাস বয়সী শিশু সারোয়ারকে কোলে নিয়ে হত্যার উদ্দেশে পুকুর পাড়ে নিয়ে মুখে বিষ ঢেলে দেন। পরে শিশুটি কান্না শুরু করলে তার মা সুমি বেগম শিশুর মুখে বিষের গন্ধ পেয়ে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ফাঁকে রিয়া ও তাঁর সহযোগী মাজেদা বেগম, মাহমুদুল হাসান সবুজ, আলী আকবর, রিক্তা বেগম সুমী বেগমের ঘরে ঢুকে খাটের বাক্স খুলে সাড়ে ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৩ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ৭ মে সুমি বেগম বাদী হয়ে রিয়াসহ পাঁচজনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় একটি মামলা করেন। বাকি আসামিরা হচ্ছেন মাজেদা বেগম, মাহমুদুল হাসান সবুজ, আলী আকবর ও রিক্তা বেগম। ওই মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে শিশু সারোয়ারকে বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার দায়ে তিন বছর এবং স্বর্ণালংকার চুরির দায়ে ৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আসামি রিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়াধীন। | 6 |
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বিএনপি। বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শেষদিনের মতো এ সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ওই কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমিয়েছেন সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে। শুরুতে ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ এবং এরপর চলবে ঢাকা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার। শেষদিনও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারে যুক্ত আছেন বিএনপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারে রহমান। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর। গত ১৮ নভেম্বর বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির টিকিটে লড়তে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৪ হাজার ৫৮০ জন। | 9 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.