text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (সিডিসি) জানিয়েছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ আসার শঙ্কা কম। বুধবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে আমেরিকান সেন্টার বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএস সিডিসির পার্টনারশিপ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিডিসির কান্ট্রি ডিরেক্টর নিলি কায়দোস ডেনিয়েলস এসব কথা জানান। সিডিসির কান্ট্রি ডিরেক্টর জানিয়েছেন, 'চতুর্থ ঢেউ বাংলাদেশে এলেও তা হবে ছোট পরিসরে। তবে করোনা আক্রান্ত একজন রোগীই ফের মহামারি তৈরি করতে পারেন। তাই সতর্ক থাকতে হবে। মহামারি সবার জন্য শিক্ষা। আমাদের এটি ভুলে গেলে চলবে না। সুতরাং সতর্ক থাকতে হবে।' বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
4
গাজীপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে এক কাঠমিস্ত্রিকে শনিবার গ্রেফতার করেছে জিএমপি'র সদর থানার পুলিশ। গ্রেফতার ওই ব্যক্তির নাম মো: জহির (৫৫)। তিনি জামালপুরের ইসলামপুর থানাধীন জিগাতলা এলাকার মো: সিদ্দিকের ছেলে। জিএমপি'র সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সৈয়দ রাফিউল করিম জানান, গাজীপুর মহানগরীর দেশীপাড়া এলাকায় স্বপরিবারে বসবাস করেন কাঠমিস্ত্রি জহির। প্রায় সাড়ে ছয় মাস আগে (১২ মার্চ) তার ছেলে রুবেল ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার চর বেলামারি এলাকার এক তরুণীকে (১৮) বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে একই বাসায় থাকেন এবং এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন রুবেল। গত ২১ সেপ্টেম্বর সকালে স্ত্রীকে বাসায় রেখে কাজের সন্ধানে বাইরে যান রুবেল। তার (রুবেলের) মা-ও ছাগল চড়াতে বাইরে যান। বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগে জহির তার পুত্রবধূকে (রুবেলের স্ত্রী) ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় শ্বশুরের বিরুদ্ধে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ধর্ষণের শিকার ওই বধূ। শনিবার অভিযুক্ত জহিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
6
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ১০ মাস পরই তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়ার ডোমজুর আসনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করে হেরে যান তিনি। পরে আবারও তৃণমূলে যোগ দিতে চাইলে দল পুরোনো এই নেতাকে দলে টেনে নেয়। আজ রোববার ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। যোগ দিয়ে তিনি বলেন, 'বিজেপিতে যোগ দেওয়া ভুল হয়ে গেছে, সেটা আমি স্বীকার করছি। এ জন্য আজ আমি লজ্জিত, অনুতপ্ত। তাই বলছি, আমি যে ভুল করেছিলাম, সেই ভুল যেন কেউ না করে।' গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তিনি তৃণমূলে ফিরেছেন। সাবেক মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের মা। এ কথা বলতে দ্বিধা নেই আজ। তাঁকে চিনতে আমার ভুল হয়ছিল। কিন্তু তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।' ত্রিপুরায় ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'ত্রিপুরায় এখন কোনো গণতন্ত্র নেই। এখানে সন্ত্রাস এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। ভয়ে কেউ মুখে বলতে পারছে না।' বিজেপি তাঁকে লোভ দেখিয়েছিল উল্লেখ করে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি সেই সময় অভিমান করে ভুল করেছিলাম। আমাকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল।' এ সময় তিনি স্লোগান দেন, 'অভিষেক আসছে বিপ্লব দেব কাঁপছে'। তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরায় নিজেদের গদি টলমল করছে। তাই ভয় পেয়ে গেছে বিজেপি।এদিকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রত্যাবর্তনকে মেনে নেননি তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজীব আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত।
3
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
4
বছরঘুরে আবারও প্রকৃতিতে আসছে বসন্ত, আর বসন্ত মানেই ভালোবাসার হাতছানি। ফাল্গুনের সঙ্গে হাত ধরাধরি করেই আসে ভালোবাসা দিবস। বিশেষ এই দিনটি ঘিরে বিশ্বজুড়েই চলে উন্মাদনা। ১৪ ফেব্রুয়ারিকে উদযাপন করতে ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান, সকলেরই থাকে প্রচেষ্টা। ব্যতিক্রম নয় নাগরিক টিভিও। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নানা আয়োজন থাকছে চ্যানেলটিতে। নাগরিক টিভিতে শনিবার ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় প্রচার হবে ভালোবাসার নাটক 'মলম পার্টি'। এতে অভিনয় করেছেন শামীম হাসান সরকার ও শাকিলা পারভীন। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মোহন আহমেদ। রবিবার ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় প্রচার হবে ভালোবাসার নাটক 'এই অবেলায়'। এতে অভিনয় করেছেন তৌসিফ ও তানজিন তিশা। রচনা ও পরিচালনা করেছেন মুহাম্মদ মিফতাহ আনান। এতে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব ও তানিজন তিশা। অবন্তী ভালোবাসে একজন সুনামী কবিকে যে কিনা রাস্তায় ঔষধ বিক্রি করে। ঘটনাক্রমে অবন্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অবন্তী তার বাবার সঙ্গে ছেলেটির দেখা করায়। বাবা তাদের বিয়েতে মত দেয় না। নিজেদের ইচ্ছেতে দুজনে বিয়ে করে সংসার শুরু করে। কিছুদিন পর অবন্তির ক্যান্সার ধরা পড়ে। এই নিয়ে 'এই অবেলায়' নাটকের গল্প। সোমবার ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচার হবে 'দ্বিধাহীন কাছে আসার গল্প'। রাত ১০টায় প্রচার হবে ভালোবাসার নাটক 'এই সন্ধ্যাটা ভালোবাসার'। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন সাগর জাহান। অভিনয় করেছেন জোভান ও তানজিন তিশা। এই নাটকের গল্পে দেখা যাবে, নীলের বাবা গ্রামে থাকেন। তিনি চান ছেলে যেন বিয়ে করে। হঠাৎ একটি মেয়ে চলে আসে নীলের বাসায়। মেয়েটির এমন আচরণ যেন এই বাসা তার। পরে সে জানতে পারে মেয়েটির বাবা আর নীলের বাবা চায় যেন তারা দুজনে বিয়ে করে। ধীরে ধীরে নীল আর মেয়েটির সখ্য বাড়তে থাকে। এছাড়াও ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনভর প্রচার হবে ভালোবাসার সিনেমা। সকাল সাড়ে ছয়টায় নাগরিক প্রভাতী সিনেমা 'জীবন সংসার'। সকাল ৯টায় নাগরিক সকালের সিনেমা 'ফুল এন্ড ফাইনাল'। দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটে নাগরিক দুপুরের সিনেমা 'সবার উপরে তুমি। বিকেল ৩টায় নাগরিক বিকেলের সিনেমা 'মা আমার স্বর্গ। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নাগরিক রাতের সিনেমা 'সুন্দরীবধূ'।
2
ইউরোপীয় অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গ্রুপ এ'র ম্যাচে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকের সুবাদে বড় জয় পেল পর্তুগাল। লুক্সেমবার্গকে ৫-০ গোরে হারিয়েছে দেশটি। জাতীয় দলের হয়ে এটি সিআর সেভেনের ১০ম হ্যাটট্রিক। ঘরের মাঠে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে শুরুতেই লিড নেয় পর্তুগাল। ৮ ও ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জোড়া গোল করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৫ মিনিটে পর তৃতীয় গোল পায় দলটি। এবার বার্নান্ডো সিলভার অ্যাসিস্টে গোল করেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। ৬৯ মিনিটে পর্তুগালের হয়ে চতুর্থ গোল করেন মিডফিল্ডার জোয়াও পালহিনহা। ৮৭ মিনিটে নিজের তৃতীয় আর দলের পঞ্চম গোলের দেখা পান সিআর সেভেন। এই জয়ে ইউরোপীয় অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গ্রুপ এ তে দ্বিতীয় স্থানে থাকলো পর্তুগাল। ৬ ম্যাচের ৫টিতে জিতে ১৬ পয়েন্ট তাদের। আর ৬ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় অবস্থানে আছে লুক্সেমবার্গ। এক ম্যাচ বেশি খেলে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিল টপার সার্বিয়া। বিডি প্রতিদিন/কালাম
12
এশিয়ার দুই শীর্ষ ধনীই এখন ভারতীয়। মুকেশ আম্বানি আগেই শীর্ষ স্থানে ছিলেন, এবার দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিলেন গৌতম আদানি। চীনের পানি ব্যবসায়ী জং শানশানকে পেছনে ফেলে ভারতের আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি উঠে এসেছেন এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীর স্থানে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, আম্বানি বিশ্বের ১৩তম ধনী ব্যক্তি। এবার ১৪তম জায়গায় দখল করলেন আদানি। জং শানশান চলে গেছেন ১৫তম স্থানে। জং শানশানকে আগেই পেছনে ফেলেছিলেন ভারতীয় ধনকুবের, রিলায়েন্স গ্রুপের কর্ণধার মুকেশ আম্বানি। বর্তমানে আম্বানির সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে আদানির সম্পদের পরিমাণ ৬ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। এ বছর আদানির সম্পদ বেড়েছে ৩ হাজার ২০৭ কোটি ডলার। গতকাল বৃহস্পতিবার আদানি গ্রুপের ছয়টি কোম্পানির বাজার মূলধন ৮ দশমিক ৩৬ ট্রিলিয়ন হয়েছে। অন্যদিকে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বাজার মূলধনের পরিমাণ ১২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। পণ্য ব্যবসায়ী হিসেবে জীবন শুরু করা গৌতম আদানি শক্তি, সংস্থান, বন্দর, রসদ, কৃষিক্ষেত্র, রিয়েল এস্টেট, আর্থিক পরিষেবা, গ্যাস বিতরণ, প্রতিরক্ষা ব্যবসা, বিমানবন্দরসহ অনেক ব্যবসার মালিক। আদানির সম্পদ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো এ বছর তাঁর সংস্থার শাখাগুলোর শেয়ারের আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি। যেমন আদানি গ্রিন, আদানি এন্টারপ্রাইজেস, আদানি গ্যাস ও আদানি ট্রান্সমিশনের শেয়ারের দর বেড়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের পর থেকে আদানির মোট গ্যাসের শেয়ারের পরিমাণ ১ হাজার ১৪৫ শতাংশ বেড়েছে। আদানি এন্টারপ্রাইজেস ও আদানি ট্রান্সমিশনের শেয়ার যথাক্রমে ৮২৭ শতাংশ ও ৬১৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে আদানি গ্রিন এনার্জি ও আদানি পাওয়ার যথাক্রমে ৪৩৩ শতাংশ ও ১৮৯ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা গেছে।
0
অর্থপাচারমামলায় ফরিদপুরে বিল্লাল হোসেন (৫৪) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল ফরিদপুর সদরের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুর শহরতলীর হাড়োকান্দি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। ফরিদপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুনীল কর্মকার বলেন, ঢাকার কাফরুল থানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দায়ের করা অর্থপাচার মামলায় সিআইডি পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিল্লালকে। বিল্লাল ফরিদপুর শহরতলীর হাড়োকান্দি এলাকার মৃত শেখ ইছামুদ্দিনের ছেলে। তিনি জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ হোসেন মোল্লা জানান, ফরিদপুর সদরের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই মোহতেশাম হোসেন বাবরের (সাবেক ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, বর্তমানে পালাতক) স্বঘোষিত কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন বিল্লাল, এতে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছিলো না। ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, ডিবি পুলিশ শুক্রবার বিকেলে বেল্লালকে কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করেছে। আগামীকাল শনিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। প্রসঙ্গত, শহর আ.লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার মানি লন্ডারিং এর অভিযোগে মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে গত ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় মানি লন্ডালিং এর অভিযোগ এনে এ মামলাটি দায়ের করেন। এ মানি লন্ডারিং মামলায় ওই দুই ভায়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী ২০১৫ এর ৪(২) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। গত ৭ জুন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে হামলা মালায় গ্রেপ্তার হন রুবেল ও বরকত। পরে তাদের মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রথমে দুই দিন পরে আরও তিন দিনের রিমান্ড শুনানী শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় দুই ভায়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন।
6
সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় রিকশাচালক বাবা মো. দুলাল মিয়া। রাস্তায় রাস্তায় খুঁজছেন পঙ্গু মেয়ে জান্নাতকে (১৫)। মেয়ের সন্ধান পেতে মঙ্গলবার রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন তিনি। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, পঙ্গু মেয়ে জান্নাতকে হারিয়ে বাবা দুলাল মিয়া এসেছিলেন থানায় জিডি করতে। অনুরোধ করেছেন তার মেয়েকে খুঁজে বের করতে। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। জান্নাতকে খোঁজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপ-পরিদর্শক রাজীব আহসানকে। উপ-পরিদর্শক রাজীব আহসান বলেন, থানায় জিডি করার পর আমরা রাজধানীর সব থানায় বার্তা পাঠিয়েছি। মেয়েটির সন্ধান পাওয়া গেলে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সাধ্যমত চেষ্টা চলছে। গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা পেলে জান্নাতকে খুঁজে পাওয়া আরও সহজ হবে। জান্নাতের বাবা দুলাল মিয়া বলেন, ৭ অক্টোবর বিকেলে জান্নাত হারিয়ে যায়। তার সন্ধানে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কোথাও মেয়েটিকে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, তার বাসা ২৮/গ/৫, ঝিগাতলা, চরকঘাটা গলি, ট্যানারি মোড়। তার মোবাইল নম্বর-০১৭৭৯৫৯০৮৮। কেউ জান্নাতের সন্ধান পেলে এই নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান তিনি।
6
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন ব্যাটিং কোচ জন লুইস ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান এই ইংলিশ কোচ। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ও বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফরে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন লুইস। তবে লুইসের সঙ্গে এখনই দীর্ঘ মেয়াদের চুক্তি করতে পারছে না বিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ ও পরে মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে টাইগার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কাজ করবেন তিনি। এ দুই সিরিজের ওপর পর্যালোচনা করেই লুইসকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
12
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে টালমাটাল ভারত। এরই মধ্যে দেশটিতে এ মহামারিতে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন দেশটির তারকারাও। কখনও হাসপাতালের বেড, তো কখনও অক্সিজেন সাপ্লায়ারের নম্বর আবার কখনও প্লাজমা ব্যাঙ্কের নম্বর শেয়ার করছেন নিজেদের সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে। সম্প্রতি একটি টুইট করে করোনা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে তীব্র সমালোচনার শিকার সৃজিত। টুইট সৃজিত জানান, ফোন করলেই অক্সিজেন পৌঁছে দেবে কলকাতা পুলিশ।' সঙ্গে দুটি ফোন নম্বরও দেওয়া ছিল। সৃজিত লিখেছিলেন কালোবাজারি রুখতে ও দ্রুত অক্সিজেন পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ কলকাতা পুলিশের। ফোন করলে গ্রিন করিডর করে বাড়ি বাড়ি অক্সিজেন পৌঁছে দেবে পুলিশ। এরপরেই মঙ্গলবার কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের টুইটার হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে ওই তথ্যকে নাকচ করে বলা হয়েছে, কিছু ভুল তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছিল যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করবে কলকাতা পুলিশ। টুইটারে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র অক্সিজেনের ট্যাঙ্কারকে বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছতে সাহায্য করার জন্যই দু'টি হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছিল। যাতে অক্সিজেন সরবরাহকারীরা এই নম্বরে যোগাযোগ করে গ্রিন করিডরের আবেদন করতে পারেন। যদিও কয়েকদিন ধরেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক কোভিড সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করে চলেছেন পরিচালক। তাঁর টুইটার বা ইনস্টার দেওয়ালে চোখ রাখলে দেখা যাবে, নেই কোনও অন্য পোস্ট। সরাসরি করোনা রোগীদের সাহায্য করতে না পারলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় কোভিড সংক্রান্ত নানা হেল্পলাইন নম্বর শেয়ার করে খারাপ সময়ে সকলের পাশে থাকার চেষ্টা করে চলেছেন। তাই নেট মাধ্যমে অনেকেই সৃজিতকে অনুরোধ জানিয়েছেন এবার থেকে তথ্য় শেয়ারের আগে অন্তত তা যাচাই করে নিতে। যাতে প্রয়োজনের সময় মানুষকে বিভ্রান্তির শিকার হতে না হয়।
2
মুজিববর্ষ উপলক্ষে গোপালপুরে পুলিশের দেওয়া ঘর পেলেন উপজেলার শাহাপুর গ্রামের মৃত রহিমের স্ত্রী ভিক্ষুক বিলাসী বেগম (৮৪)। গত রোববার বিকেলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে এ ঘর হস্তান্তর করা হয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজস্ব মালিকানায় ঘর পেয়ে খুশি বিলাসী।এর আগে ভার্চ্যুয়াল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের সব থানা ও পুলিশ লাইনসের মতো গোপালপুর থানা-পুলিশের সদস্যরাও অনলাইনে যুক্ত হন। এ সময় গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল রানা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, বিলাসী বেগমের স্বামী ছিলেন একজন ভূমিহীন দিনমজুর। অভাব অনটনের সংসারে দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার কিছুদিন পর স্বামী রহিম মারা যান। এর কয়েক বছর পর একমাত্র ছেলেরও মৃত্যু হয়। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বিলাসী বেগম ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহী শুরু করেন।দিনে ভিক্ষা করে রাতে মেয়েকে নিয়ে থাকেন শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায়। এক সময় মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় স্বামী তাঁকে তালাক দেন। তারপর থেকে মেয়েকে নিয়ে আবার সেই স্কুলের বারান্দায় রাত্রিযাপন শুরু করেন ভিক্ষুক বিলাসী বেগম। এভাবে কেটে যায় দীর্ঘ ১৩ বছর। অবশেষে পুলিশের সহযোগিতায় তাঁদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। ঘর পেলেন মা-মেয়ে।এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি থানায় একটি করে গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ কর্মসূচি নেয় বাংলাদেশ পুলিশ। এর অংশ হিসাবে গোপালপুর থানা-পুলিশের সহযোগিতায় শাহাপুর গ্রামে দুই শতাংশ জমি কিনে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয় বিলাসী বেগমকে।জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজস্ব মালিকানায় বাড়িসহ পাকা ঘর পেয়ে আবেগে আপ্লুত বিলাসী বেগম জানান, সারা জীবন কষ্টের পর স্বর্গের ঠিকানা পেয়েছেন তিনি।
6
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, নির্বাচন কমিশন যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে সেনা মোতায়েন হবে। যারা পরাজয়ের আশংকা করে তারাই সেনাবাহিনী চায়। তারা আরো অনেক কিছুর স্বপ্ন দেখে। । আশা করি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হবে এবং সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জের পাগলায় ইউএনওডিসি কর্তৃক বাংলাদেশ নৌ পুলিশকে চারটি পেট্রোল বোট ও জেটি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। তিনি বলেন, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী অপরাধী আমরা কারো মুখ দেখে পরিচয় দেখে অপরাধী বিবেচনা করবো না। আমরা অপরাধ থেকেই অপরাধীর বিবেচনা করবো। অপরাধকারী যেই হোক কোন অপরাধীর স্থান বাংলাদেশে নেই। জঙ্গীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণে গর্ববোধ করি যে আমরা জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি ও একেবারে নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছি। মাদকের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, যারা মাদক ব্যবসা করেন এবং মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তারা নিজ নিজ ধর্মের রীতি অনুযায়ী তওবা করে ফিরে আসুন নয়তো আপনাদের জন্য সামনে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের 'বিশ দলীয় জোট থেকে দুইটি দল বেরিয়ে গেছে বিএনপি অভিযোগ করেছে, আওয়ামী লীগের ইন্ধনে তারা বেরিয়ে গেছে' প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'বিশ দলে যখন ওই দুই দল ছিল তখন তো আওয়ামী লীগকে জিজ্ঞেস করে দলে নেয় নাই বা আওয়ামী লীগের কথায় নেয় নাই। এখন চলে গেছে বলে আওয়ামী লীগকে দোষ দিতে এলে তো চলবে না। এখানে আওয়ামী লীগের প্রশ্ন আসবে কেন?' উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান, পুলিশের আইজি জাবেদ পাটোয়ারি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনপ্রশাসন ও নিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামালউদ্দিন, নৌ পুলিশের ডিআইজি শেখ মো: মারুফ হাসান, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, ইউএনওডিসির প্রোগ্রাম অফিসার সানাকা জয়াসাকারা প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান, পুলিশের আইজি জাবেদ পাটোয়ারি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনপ্রশাসন ও নিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামালউদ্দিন, নৌ পুলিশের ডিআইজি শেখ মো: মারুফ হাসান, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, ইউএনওডিসির প্রোগ্রাম অফিসার সানাকা জয়াসাকারা প্রমুখ।
6
এবারের ঈদুল আজহায় অনলাইনে পশু বিক্রি বাড়লেও কমেছে কোরবানির সংখ্যা। একটু বেশি দাম পাওয়ার আশায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের কোরবানির হাটগুলোতে পশু নিয়ে গিয়েছিলেন ব্যাপারী ও ক্ষুদ্র খামারিরা। কিন্তু অনেক গরুই কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করতে না পেরে ফেরত নিয়ে যেতে হয়েছে। অতি লাভের আশায় গুঁড়েবালি। হাট থেকে ফেরত নিয়ে যাওয়া গরুগুলো নিয়ে এখন বিপাকে খামারি ও ব্যাপারীরা। গরু আনা-নেওয়াতে খরচ হয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থ। সেই সঙ্গে দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল কাটাতে চিকিৎসা বাবদ টাকা খরচ হচ্ছে পানির মতো। বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত খাবার খরচ চালিয়ে যেতে হবে। এমন দশা উত্তরবঙ্গ ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের খামারি ও ব্যবসায়ীদের।কুষ্টিয়ার হরিপুরের মোলায়েম ব্যাপারী ঈদে বেচবেন বলে ঢাকায় গরু নিয়ে যান ১৩টি। লোকসান দিয়ে নয়টি গরু বিক্রি করেছেন। বাকি চারটি বড় গরু বেচতেই পারেননি। এগুলো ফিরিয়ে এনেছেন কিন্তু রাখার জায়গা নেই। আপাতত রেখেছেন কুষ্টিয়া শহরে এক আত্মীয়ের বাড়ি। তিনি এখন চিন্তায় আছেন, এসব গরুর পেছনে খাবারে যে টাকা খরচ হবে তাতে হাতের সব পুঁজিই শেষ হয়ে যাবে। আর কোরবানির পরে বাজারে মাংসের চাহিদা এমনিতেই কমে যায়। ফলে এখন চাইলেই বিক্রিও করতে পারবেন না। অন্তত দুই থেকে তিন মাস গরুগুলো পালন করতে হবে।কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড় এলাকার হাজী জিল্লুর রহমান তিনটি গরুই ফেরত এনেছেন। তিনি বলেন, 'গরুর যে দাম বলেন ক্রেতারা তাতে মাংসের হিসাবে মণপ্রতি ১০-১১ হাজার টাকা পড়ে। কিছুদিন আবার খাইয়ে সুবিধাজনক সময়ে বেচলে দাম মণপ্রতি ২০ হাজারের ওপরে পাওয়া যাবে। তাতে কিছুটা লোকসান কম হবে।'মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ঈদুল আজহায় গত বছরের তুলনায় ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২১টি পশু কম কোরবানি হয়েছে। সারা দেশে এবার মোট কোরবানি হয়েছে ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু। গত বছর এই সংখ্যাটা ছিল ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ২৬৩টি পশু। তবে গতবারের চেয়ে এবার অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি চার গুণ বেড়েছে। এ বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে অনলাইনে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৯টি গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ২ হাজার ৭৩৫ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা। গত বছর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু বিক্রি হয়েছিল ৮৬ হাজার ৮৭৪টি। যার আর্থিক মূল্য ছিল ৫৯৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪ হাজার ৮২৯ টাকা।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। যার সংখ্যা মোট ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৫২ টি। এর মধ্যে ৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৩৩টি গরু-মহিষ, ১২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য পশু ৩৬৩ টি। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫১৮টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৭১ হাজার ২৩১টি গরু-মহিষ, ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮৬টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য পশু ২০১ টি। রাজশাহী বিভাগে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৩৩টি গরু-মহিষ, ১২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৩টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ১২৯ টিসহ মোট ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৫টি পশু কোরবানি করা হয়েছে। খুলনায় কোরবানি হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৪৭টি গরু-মহিষ, ৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৪৩টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ১১ টিসহ মোট ৮ লাখ ৫৭ হাজার ৬০১টি পশু। বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬২১টি গরু-মহিষ, ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৮টি ছাগল-ভেড়াসহ মোট ৪ লাখ ৬১ হাজার ৯৭৯টি পশু কোরবানি হয়েছে। সিলেটে ৪ লাখ ৮ হাজার ৯৪১টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৯ হাজার ৫৬৯টি গরু-মহিষ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৬৪টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য পশু ৮ টি। রংপুর বিভাগে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ২২০টি গরু-মহিষ, ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৯টি ছাগল-ভেড়াসহ মোট ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৯টি পশু কোরবানি হয়েছে। আর ময়মনসিংহ বিভাগে কোরবানি দেওয়া হয়েছে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭টি গবাদিপশু। এর মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার ৩২৫টি গরু-মহিষ, ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৯টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য পশু ৩ টি।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছরই পশু কোরবানির সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু করোনার সংকটের কারণে গত দু'বছর ধরেই এর ব্যতিক্রম ঘটছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে প্রায় ১২ লাখ কম পশু কোরবানি হয়েছিল। এবারও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এ বছর প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী ডিজিটাল হাটের মাধ্যমে গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম চালু করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ গবাদিপশুর এই ডিজিটাল হাট পরিচালনা করেছে। আগামী বছর এই হাটের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।বিশ্লেষকেরা বলছেন, করোনার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্র তার গতি হারিয়েছে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত পর্যন্ত সবার ওপরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বড় ব্যবসায়ীরা টিকে থাকলেও মাঝারি এবং ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকে থাকতে লড়াই করতে হচ্ছে। এর প্রভাবে পড়েছে সার্বিক কর্মসংস্থানের ওপর। অনেকেই কাজ হারিয়েছে এমনকি করোনার পরিস্থিতির কারণে অনেককেই নগর ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। রোজার ঈদের সময় এর প্রভাব পড়েছিল পোশাক বিক্রেতা শুরু করে সব ব্যবসায়ীদের মধ্যে, দু মাস পর কোরবানির ঈদের সময় বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের পকেটে টান দিয়েছেন। ফলে অন্যান্য বারের মতো এবার কম পশু কোরবানি হয়েছে। তবে মহামারির এমন পরিস্থিতিতে এই কোরবানির এই সংখ্যাকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে দেশে ২৮ হাজার কোটি টাকার লেনদেন প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বলেন, দু বছর ধরে দেশে কোরবানি কম হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও কোরবানির পশু বেচাকেনা বাবদ বিশাল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। বড় খামার থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতেও টাকা পৌঁছেছে। এই টাকাটার সর্বোত্তম ব্যবহার বা বিনিয়োগের বিষয়ে সরকারের একটা সমন্বিত ব্যবস্থা থাকা দরকার। যেমন-একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা একজন চাষি এবার ঈদে দুটো পশু বিক্রি করেছেন। এই বিক্রির টাকাটা দিয়ে তিনি কীভাবে তার ব্যবসায়ের আকার আরও বড় করতে পারেন সেটার ব্যবস্থা করা। গবাদিপশুর মাংস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করা একটা অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে খামারিরা কীভাবে আরও বেশি লাভবান হতে পারে সেটা নিয়ে সরকারের একটা সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা থাকা দরকার।
0
ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানী পিছিয়ে আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক শামসুন্নাহার নতুন এ দিন ধার্য করেন। মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হয়। পরে ঘটনার তদন্ত করে চলতি বছরের ২২ জুন বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম কমিশনারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কাইয়ুমের ভাই আব্দুর মতিন, তামজিদ আহম্মেদ, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল আরেফিন ওরফে ভাগ্নে রাসেল, ভাঙ্গারি সোহেল ও শাখাওয়াত হোসেন।
6
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় অবস্থিত ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ক্যাবল চুরিতে বাধা দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তের হামলায় গোলাপ মিয়া (৫৫) নামে এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। রোববার মধ্যরাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭নং ইউনিটের পাশে অবস্থিত ক্যাবল স্টোরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাপ মিয়া কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার চরটেকি গ্রামের মৃত আব্দুল বারিক মিয়ার ছেলে। তিনি ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহতরা হলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা সুপারভাইজার আবুল কালাম আজাদ, নিরাপত্তাকর্মী সাজ্জাত রহমান, আনসার সদস্য আসাদউল্লাহ ও উজ্জল মিয়া। পুলিশ ও আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭নং ইউনিটের পাশে অবস্থিত ক্যাবল স্টোরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন নিরাপত্তাকর্মী গোলাপ মিয়া ও সাজ্জাত রহমান। স্টোরের পাশে নিরাপত্তায় ছিলেন আসাদউল্লাহ ও উজ্জল নামে দুই আনসার সদস্য। রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিরাপত্তাকর্মীদের তদারকি করতে ঘটনাস্থলে যায় সুপারভাইজার আবুল কালাম আজাদ। এসময় স্টোর থেকে ৪/৫ জন দুর্বৃত্তকে একটি মোটা তামার ক্যাবল বের করতে দেখে সুপার ভাইজার নিরাপত্তাকর্মীদের ডেকে নিয়ে যায়। এবং সেখানে বাধা দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে থাকা আরও ১৫/২০ জন লোক নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে অর্তকিত হামলা চালায়। এতে হামলায় আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় নিরাপত্তাকর্মী গোলাপ মিয়া। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত নিরাপত্তাকর্মী সাজ্জাত রহমান জানান, প্রথমে ৪/৫ জন লোক ক্যাবল টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। পরে আমরা তাদের বাধা দেই। এরপর নির্জন একটি ঝোপ থেকে আরও ১৫/২০ জন লোক রামদা ও লাঠি নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় আনসার সদস্যদের সঙ্গে দুটি শর্টগান ছিল। সুপাভাইজার তাদেরকে ফাঁকা গুলি ছোড়ার নির্দেশ দিয়েছিল কিন্তু তারা কেউ-ই গুলি ছোড়েনি। এছাড়া হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে আমরা সহকারী পরিচালক (নিরাপত্তা) এডি স্যারকে ফোন করে হামলার বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের ওপর হামলার বিষয়টি বিশ্বাস না করে এড়িয়ে যান। তখন তিনি বলেন নিরাপত্তায় অস্ত্রসহ দুইজন আনসার সদস্য থাকা অবস্থায় কীভাবে এ হামলা হয়। পরে আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান ফটকে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের জানালে তারা পুলিশ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের অবগত করলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমাদের উদ্ধার করে। আহত সুপারভাইজার আবুল কালাম আজাদ জানান, হামলার শুরুতেই তাৎক্ষণিক আমাদের জীবন রক্ষার্থে দুই আসনার সদস্যকে ফাঁকা গুলি করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তারা শর্টগান হাতেই নেয়নি। বরং তারা বন্দুক কাঁধে রেখেই মার খেতে থাকল। তখন আনসার সদস্যরা গুলি ছোড়লে আমাদের ওপর এমন হামলা হতোনা আর নিরাপত্তাকর্মী গোলাপ মিয়াও মারা যেত না। এ বিষয়ে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দায়িত্বরত আনসার কমান্ডার আক্তার হোসেন জানান, নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের সঙ্গে দুটি শর্টগানে ৫ রাউন্ড করে ১০ রাউন্ড গুলি ছিল। নির্দেশ দেয়ার পরও কেন তারা গুলি ছোড়েনি সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনায় ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক (নিরাপত্তা) মো. কামাল মজুমদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় শুনার পর তিনি ফোনটি বন্ধ করে দেন। পলাশ থানা পুলিশের ওসি মকবুল হোসেন মোল্লা জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনা তদন্ত করে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
6
ঢাকা: ২০১৩ সালের ৫ মে। হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ। দলে দলে মিছিল নিয়ে মতিঝিলের দিকে এগোতে থাকে হাজার হাজার টুপি পরা মানুষ। তাদের সিংহভাগই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী। হেফাজতে ইসলাম নামে একটি নতুন সংগঠনের ব্যানারে মিছিল করা এসব মানুষ একপর্যায়ে বসে পড়ে শাপলা চত্বর এলাকায়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়। শুরু হয় তাণ্ডব। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজধানীতে। ওই রাতে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিলেও সেদিনের শোডাউনই হেফাজতকে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। তবে মাত্র আট বছরের ব্যবধানেই সেই উদ্ধত হেফাজত আজ কুপোকাত।গত আট বছরে নানাভাবে সরকারকে চাপে রেখেছে হেফাজত। সুযোগ পেলেই শক্তি দেখাতে চাওয়া হেফাজত সর্বশেষ তাণ্ডব চালায় সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে। তাদের এই কর্মকাণ্ড দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও সমালোচিত হয়।গত ২৫ এপ্রিল রাতে বিলুপ্তির ঘোষণার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পতন হয়েছে হেফাজতে ইসলামের। বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনাইদ বাবুনগরীর ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১১ বছরের পথ চলায় বিরতি নিল সংগঠনটি। সম্প্রতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগ দেওয়া নিয়ে বিরোধিতা করে আন্দোলনের মাঠ গরম করে হেফাজত। এবারও তাঁরা শাপলা চত্বরের মতো ভয়াল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা চালায়। তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং নিজেদের ভুলের কারণে পুরোপুরি ভরাডুবি হয়েছে তাঁদের। লন্ডভন্ড হেফাজতকে আর কোনোমতেই ছাড় দিতে চায় না সরকার। এ অবস্থায় হেফাজতের সামনে কঠিন এক আগামী অপেক্ষা করছে।হেফাজতের উত্থান-পতন ২০১০-এর ১৯ জানুয়ারি জন্ম হয় হেফাজতে ইসলামের। জন্মের পরপরই রাজপথ গরম করে নিজেদের অবস্থানের জানান দেয় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটি। ২০১১ সালে নারী উন্নয়ন নীতিমালার বিরোধিতা করে আন্দোলনের মাঠে নামে হেফাজতে ইসলাম। তবে সে বছর শায়খুল হাদিস আজিজুল হক ও মুফতি ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বাধীন ওই আন্দোলনে হেফাজতকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই দুই নেতার মৃত্যুর পরে ধীরে ধীরে নিজেদের জানান দিতে শুরু করে সংগঠনটি। ২০১৩ সালে শাহবাগে ব্লগারদের উপস্থিতি ও তাঁদের লেখাকে ইস্যু করে সামনে চলে আসে হেফাজত। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্লগার রাজিব হায়দারের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ আলেমদের নিয়ে হাটহাজারীতে আলোচনায় বসেন। সে আলোচনার সিদ্ধান্তেই ৫ এপ্রিল ২০১৩ শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজত। সেদিনই প্রথমবারের মতো রাজধানীতে জোরেশোরে নিজেদের উত্থানের জানান দেয় সংগঠনটি।সম্প্রতি মোদিবিরোধী আন্দোলনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের নামে অশান্ত হয়ে ওঠে হেফাজত। ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কমপক্ষে ১৭ জন মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন আরও অনেকে। ক্ষতির সম্মুখীন হয় বিপুল সম্পদ। গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ হন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। এ অবস্থায় হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যায় সরকার। এরপর আট বছর আগে করা 'সরকার উৎখাতে উসকানি' দেওয়ার ৬৮টি মামলার তদন্ত নতুন করে সক্রিয় হয়। নতুন করে দায়ের হয় ১৪৪টি মামলা। আসামি করা হয়েছে ৩ হাজার ২০০ জনকে। অজ্ঞাতনামা আসামি আছে প্রায় ৮০ হাজার। নতুন-পুরোনো মামলায় এরই মধ্যে হেফাজতের প্রায় ৯০০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২০ জনসহ ৩৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। ১১ এপ্রিল হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গ্রেপ্তার করে এই অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ এপ্রিল আলোচিত মামুনুল হক গ্রেপ্তার হন।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমরা হেফাজতের পুরোনো মামলাগুলো গুছিয়ে এনেছি। নতুন মামলাগুলোর কয়েকটি সিআইডি ও পিবিআই তদন্ত করছে। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে মামলাগুলোর তদন্ত শেষ করা হবে।'একের পর এক কেন্দ্রীয় নেতার গ্রেপ্তার আর মামলার ভারে নুয়ে পড়া হেফাজত সমঝোতার পথ বেছে নিয়ে সরকারের মন গলানোর চেষ্টা করে। তবে কোনো চেষ্টাই কাজে আসেনি। এ পরিস্থতিতে ২৫ এপ্রিল রাতে হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে সংগঠন চলছে ৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। এরপরেও থামেনি গ্রেপ্তার অভিযান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হেফাজতের পরিচয় ও উদ্দেশ্য অস্পষ্ট। তারা নিজেদের অরাজনৈতিক বললেও তাদের কর্মকাণ্ডে রাজনীতি আছে। তাঁদের স্ববিরোধী আচরণ প্রমাণ করে যে রাজনীতির বিষয়ে তাদের স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। কাজেই তাঁদের পতন অনিবার্য। অন্যদিকে হাতেনাতে প্রমাণ না থাকলেও এটা বোঝা যায়, হেফাজতে ওপরের সারির নেতারা কারো না কারও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। অন্যদিকে হেফাজতকে এখানে অনেক বড় করে তোলা হয়েছে নানাভাবে। ঠিক যতটা না, তার অনেক বড় করে দেখানো হয়েছে। রাজনীতির জন্য হেফাজতকে বড় কোনো ফ্যাক্টর মনে করেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'হেফাজতকে বড় করে দেখানো হলেও সারা দেশে তাদের মূলত দুইটা মাত্র পকেট। একটা পকেট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, আরেকটা চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। এই দুইটা পকেট দিয়ে তাঁরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ফেলবে, এই শক্তি তাঁদের নেই। তাঁরা হয়তো উত্তেজনা ছড়াতে পারবে, যেটা তাঁরা করেছে। কিন্তু শেষমেশ তাঁদের পতনও হয়েছে।'হেফাজতের করুণ পরিণতির জন্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অনেকেই বলছেন, বিভক্তিই এ পরিণতি ডেকে এনেছে। সংগঠনের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির জন্য হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির নীতি নির্ধারকদেরও দায়ী করেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে। তাঁরা বলেন, 'জুনাইদ বাবুনগরী ও তাঁর একান্ত অনুসারীদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে আজ এমন পরিণতি হয়েছে। হেফাজত বিভক্ত না হলে হয়তো আজ এ অবস্থা দেখতে হতো না।'২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা ও আমির আহমদ শাহ শফীর মৃত্যু হয়। ১৫ নভেম্বর নতুন কমিটি হয়। এই কমটিতে শফীপন্থীরা জায়গা না পাওয়ায় সংগঠনে বিদ্রোহী একটি পক্ষ দাঁড়িয়ে যায়। এ পক্ষটি শফীপুত্র আনাস মাদানীকে নিয়ে হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ পক্ষটি তৎপর হয়ে উঠেছে। তাঁরাই এখন ব্যস্ত হেফাজতকে নতুনভাবে সাজাতে। এরই মধ্যে আহমদ শফীর ২৫ হাজার মুরিদ ও খলিফার তালিকা তৈরি করে তাঁদের সক্রিয় করার প্রক্রিয়া চলছে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করছে তাঁরা। আলেম-ওলামাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও এ বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তাঁরা।হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাঈনুদ্দীন রুহী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'হেফাজতের আগামী দিনে কী হবে, না হবে, সেটা আমরাই নির্ধারণ করব। আহমদ শফীর আদর্শের আলোকে হেফাজতের আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।'বিরোধী পক্ষের এ চাপ নিয়েও চিন্তায় আছে হেফাজতের বর্তমান নেতৃত্ব। বিশেষ করে ওই পক্ষটি সরকারঘেঁষা বলে চিন্তাটা আরও বেশি।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকার ও হেফাজতের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী ১৪ দলের এক নেতা বলেছেন, সরকার বাবুনগরী ও তাঁর অনুসারীদের নিয়ে করা হেফাজতকে কোনোভাবেই মানতে পারছে না। এরই মধ্যে আমিরের জন্য নতুন কাউকে খোঁজা হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব নেতা নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।'হেফাজত কারও নয়রাজনৈতিক স্বার্থে হেফাজতকে ব্যবহারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকলেও সংগঠনটির দায় নিতে চায় না কেউ। বিএনপির অভিযোগ, হেফাজতে ইসলাম শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন সরকারের মাধ্যমে প্রতিপালিত হয়ে আসছে। সংগঠনটির বেড়ে ওঠা, কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'কওমি জননী' উপাধি, হেফাজতের শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগের মধ্য দিয়ে তারই প্রমাণ পাওয়া গেছে।হেফাজতের কর্মসূচি ঘিরে সংঘটিত সাম্প্রতিক তাণ্ডবের জন্য সরকার দলের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দায়ী করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'দেশের বিভিন্ন স্থানে উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর তাণ্ডবলীলায় যে বিএনপি জড়িত, তা দিবালোকের মতো পরিষ্কার।'জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'সরকারের নেতা, মন্ত্রী, অনেক মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে 'হেফাজতকে বিএনপি ইন্ধন দিয়েছে, কর্মসূচি পালনে সমর্থন দিয়েছে।' কিন্তু হেফাজতের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।' ক্যালেন্ডারে হেফাজতের কর্মসূচি২০১১: নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে 'নারী উন্নয়ন নীতিমালা' ঘোষিত হওয়ার পরপরই সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে সংগঠনটি।২০১৩: দেশে ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৩ দফা উত্থাপন করে। দাবিগুলোর বেশ কয়েকটি ধারা বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা এখনো মানুষের মনকে নাড়িয়ে দেয়।২০১৪: ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেফাজতে ইসলাম অংশ নেবে এমন প্রচারও ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা অবশ্য নির্বাচনে যায়নি। সংগঠনটির বিরুদ্ধে সরকার সমর্থক ও সরকারবিরোধী দুই অংশের কাছ থেকেই আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ১১ এপ্রিল এক সমাবেশে আহমদ শফী বলেন, 'হাসিনা সরকার, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ সবাই আমাদের বন্ধু।'২০১৭: সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে স্থাপন করা গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য অপসারণে বিক্ষোভ করে হেফাজত। বিক্ষোভ সমাবেশে হেফাজত নেতারা হুমকি দেন, সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্যটি অপসারণ করা না হলে 'শাপলা চত্বরের মতো পরিস্থিতি' তৈরি হতে পারে।২০২০: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের দাবি করে হেফাজতে ইসলাম। ২০২১: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে আক্রমণাত্মক কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচি ঘিরে সহিংসতায় ১৭ জন প্রাণ হারান।
9
তৃণমূল জনগোষ্ঠীর জন্য নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সরকারি কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'আমরা চাই দেশের উন্নয়নে সরকারি কর্মচারীরা তাদের নিজ-নিজ ক্ষেত্রে নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাবেন।' সোমবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন এবং জনপ্রশাসন পদক-২০১৮ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের শেখ হাসিনা বলেন, 'একটা সময় ছিল যখন সরকারি চাকরিতে কাজ করলেও বেতন, কাজ না করলেও বেতন পাওয়া যেত। কাজেই কাজ করলে-করলাম বা না করলে নাই- এই চিন্তা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সরকারি চাকরিজীবীদের মনে রাখতে হবে, দেশের কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ থেকে শুরু করে সকলের ট্যাক্সের টাকাতেই তাদের বেতন হয়। এজন্য দেশের মানুষের সেবা করার মানসিকতা লালন করতে হবে। তারা যেন অন্তত ভালো থাকে- সেই চিন্তাটা সবসময় মাথায় থাকতে হবে।' শেখ হাসিনা বলেন, 'আমাদের সরকারি কর্মচারীরা যথেষ্ট মেধাবী। মেধা আছে বলেই তারা পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাচ্ছেন। কাজেই তাদের মেধা, তাদের যোগ্যতা ও তাদের দক্ষতাকে আমাদের দেশ গড়ার কাজে যেমন লাগাতে হবে তেমনি তাদের গুণাবলী ও উদ্ভাবনী শক্তিরও মূল্যায়ন করতে হবে।' তিনি বলেন, 'এসব লক্ষ্য রেখেই আমরা যেমন পদোন্নতি দিয়ে থাকি এবং আজকের যে পুরস্কার বিতরণ সেটাও সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা করে যাচ্ছি।' জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সরকারি কর্মচারীদের উদ্ভাবনী ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজে উৎসাহ প্রদানের জন্য ২০১৬ সাল থেকে এই পদক চালু করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ৩৯ জন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জনপ্রশাসন পদক-২০১৮ বিতরণ করেন।
6
চীনে করোনা সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে প্রথমবারের মতো দেশটির বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত সাংহাইয়ে করোনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।সাংহাইয়ের স্বাস্থ্য কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের পর এই প্রথম করোনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বয়স ৮৯ থেকে ৯১ এর ভেতর। তারা কিছু রোগে ভুগছিলেন এবং কেউই করোনার টিকা নেননি।স্বাস্থ্য কমিশন বলছে, আজ সোমবার নতুন করে ২২ হাজার ২৪৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় চীনা সরকার সাংহাইয়ে কঠোর লকডাউন দিয়েছে। দেশটির জিরো কোভিড নীতির পরও সাংহাইয়ে করোনা রোগী বেড়েই চলেছে। এরপরই আজ প্রথমবারের মতো মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ভাইরাসটি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে মহামারি আকার ধারণ করতে থাকে। এ জন্য ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে 'বৈশ্বিক মহামারি' হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।
3
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উপলক্ষে রাঙামাটির সাজেকে ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। আজ শনিবার সকালে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে, সর্বশেষ বা সপ্তম ধাপে ১৩৮টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। তার মধ্যে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু ও জুরাছড়ি উপজেলার ১৯টি ইউপিতেও এদিন ভোট গ্রহণ হবে। বাঘাইছড়ি উপজেলার ইউপির মধ্যে রয়েছে সাজেক, সারোয়াতলী, খেদারমারা, বাঘাইছড়ি, মারিশ্যা, রুপকারী, বঙ্গালতলী ও আমতলী। ইউএনও শরিফুল ইসলাম বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে পার্বত্য এলাকার বাস্তবতা ভিন্ন। পর্যটকেরা যেন ঘুরতে এসে বিড়ম্বনার শিকার না হন, তাই বাঘাইছড়ির আটটি ইউপির ভোট উপলক্ষে ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সাজেক ছাড়াও ৭ ফেব্রুয়ারি অন্য যেসব ইউপিতে ভোট গ্রহণ হবে, সেসব এলাকায়ও কিছু যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসি। সম্প্রতি ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সপ্তম ধাপে অনুষ্ঠিত ১৩৮টি ইউপিতে ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক ও পিকআপ চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া এসব ইউপিতে ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে নির্বাচন পর্যবেক্ষক, নির্বাচনী এজেন্ট, সংবাদকর্মী, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পরিদর্শক এবং জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহন। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।
6
রাজধানীর পল্লবীর রাস্তায় ১০০ চারাগাছ রোপন করলেন ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ স্মৃতি স্কুল থেকে শুরু করে চলন্তিকা মোড় পর্যন্ত মূল সড়কের বিভাজনের মাঝখানে এসব গাছ রোপন করা হয়। গাছ রোপনের সময় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশে ১ কোটি বৃক্ষ রোপনের কাজ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা করছে। ঢাকা শহরেও আমরা বিভিন্ন এলাকায় গাছ লাগাচ্ছি। বেশি করে গাছ লাগিয়ে আমরা পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে চাই। কাফরুল এলাকাতেও আমাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপন করছে। এসময় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সবাইকে তিনটি করে চারাগাছ রোপনের অনুরোধ জানান তিনি। ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহাদাত জানান, মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ সারাদেশে ১ কোটি চারাগাছ রোপন। সেই ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা সারাদেশেই ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপন করছে। এতে করে পরিবেশের যেমন উন্নতি হবে। তেমনি আমরা আর্থিকভাবে লাভবানও হবো। আর ঔষধি গাছ আমাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য চিকিৎসার কাজে লাগবে। তিনি বলেন, শহীদ স্মৃতি স্কুল থেকে শুরু করে চলন্তিকা মোড় পর্যন্ত মূল সড়কের বিভাজনের আমরা মেহগনি, ছবেদা ও বকুল গাছের চারা রোপন করেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা উপস্থিত থেকে আমাদের উৎসাহিত করেছেন। আমরা নিয়মিতভাবে এসব চারাগাছের যত্ন নেব।
6
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালানো নারী-শিশুসহ ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী দক্ষিণ ঘাট থেকে স্থানীয় আবদুল হালিম নামে এক ব্যক্তি তাদের আটক করেন। পরে তাদের কোম্পানীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। জানা গেছে, ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২৪ নম্বর ক্লাস্টার থেকে ওই রোহিঙ্গারা দালালের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার রাতে পালিয়ে আসে। নৌকায় তারা কক্সবাজারে যাচ্ছিল। কিন্তু দালাল ও নৌকার মাঝি কৌশলে তাদের শুক্রবার সকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ে ঘাটে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে রোহিঙ্গাদের আটক করে থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা হবে। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে। ভাসানচর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, আটককৃতরা ছাড়াও ক্যাম্প থেকে আরও রোহিঙ্গা পালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
6
লিগ ম্যাচে ক্যাডিজের বিপক্ষে গেল সপ্তাহে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর শাখতার দোনেস্কর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রা শুরু করেছে ৩-২ গোলে হেরে। এতেই চাকরি 'নড়বড়ে' হয়ে গিয়েছিল জিদানের। কিন্তু ক্যাম্প ন্যুতে ৩-১ গোলে জিতে আবার শক্ত অবস্থানে জিদান। তারপরও রিয়াল মাদ্রিদ মাউরিসিও পচেত্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে খবর দিয়েছে এল ট্রানসিস্টর। চলতি মৌসুমে নয় বরং আগামী মৌসুমে পচেত্তিনোকে রিয়াল দায়িত্ব দিতে চায় বলে খবর দিয়েছে ওই সংবাদ মাধ্যমটি। নতুন পরিকল্পনা যোগ করতে রিয়াল ম্যানেজমেন্ট ডাগ আউটে নতুন কাউকে চায় বলে জানিয়েছে তারা। গত দুই মৌসুম ধরে কোন ক্লাবের দায়িত্বে নেই পচেত্তিনো। তাকে দলে পেতে চেয়েছে বেশ কিছু ক্লাব। যে তালিকায় ইতালি, ফ্রান্স, পর্তুগালের ক্লাব আছে বলে শোনা গেছে। কিন্তু পচেত্তিনো রাজি হননি সেসব প্রস্তাবে। বরং তার চোখে জুভেন্টাস, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে। তার সেই আশা আগামী মৌসুমেই পূরণ হয়ে যেতে পারে। কারণ লিগ জিতলেও রিয়াল মাদ্রিদ যদি চ্যাম্পিয়নস লিগে পা হড়কায় তবে জায়গা ছাড়তে হতে পারে জিদানের। অবশ্য রিয়াল পচেত্তিনো ছাড়াও জিদানের বিকল্প তৈরি করে খেলেছে বলে খবর। রিয়াল একাডেমি কোচ লুইস ফিগো প্রস্তুত হয়ে গেছেন বলে এর আগে খবর দিয়েছে একটি সংবাদ মাধ্যম। এছাড়া ম্যানইউ কোচ ওলে গুনার সুলসারের জায়গাও নড়বড়ে। পচেত্তিনোকে দেখা যেতে পারে তাই ম্যানইউতেও।
12
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ডেডিকেটেড কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, সোমবার (১৯ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাঁরা। মৃতদের ৯ জন করোনা পজিটিভ এবং ৩ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতালে এখন করোনা পজিটিভ ১৮১ জন আর উপসর্গ নিয়ে ৭১ জনসহ মোট ২৫২ চিকিৎসা নিচ্ছেন।জেলা প্রশাসনের হিসেবে, ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৫৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৪২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ সময়ে সুস্থ হয়েছেন ১৪৭ জন। এ পর্যন্ত শুধুমাত্র করোনা আক্রান্ত ৪৩২ জনের মৃত্যু হলো। এর বাইরেও প্রতিদিন করোনার উপসর্গ নিয়েও মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।ঈদকে সামনে নিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে জেলার মানুষ বাড়িতে আসতে শুরু করেছেন। শহরের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গরু-ছাগলের হাটে ভিড় বাড়ছে।
6
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আশুতোষ সরকার (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে উপজেলার দূর্গানগর ইউনিয়নের রাংটিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আশুতোষ ওই গ্রামের লংকেশ্বর সরকারের ছেলে। দূর্গানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আফছার আলী জানান, জমিজমা নিয়ে গ্রামের কালু মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে কয়েক বছর ধরে লংকেশ্বর সরকারের বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে সকালে কালু মণ্ডলের লোকজন লাঠিসোঠা নিয়ে আশুতোষ সরকারের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় আশুতোষ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উল্লাপাড়া ২০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরোজ উদ্দিন তালুকদার মৃত ঘোষণা করেন। আশুতোষের স্ত্রী শেফালী সরকারের অভিযোগ, সম্প্রতি আশুতোষ বাবা লংকেশ্বরের কাছ থেকে ২৮ শতক জমি ক্রয় করেন। কিন্তু ওই জমি প্রতিবেশি কালু মণ্ডল তার কাছে বিক্রির জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। আশুতোষ এতে রাজি না হওয়ায় কালু মণ্ডলের নেতৃত্বে তার ছেলে আতিকুল, জামাতা আব্দুল মান্নান, মেয়ে খাদিজা, ছেলে বউ রাবেয়া ও লতাসহ বেশ কয়েকজন বাড়িতে দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা আশুতোষকে পিটিয়ে টেনে হিঁচড়ে পাশের রাস্তায় নিয়ে যান। এ সময় আশুতোষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এই হামলায় তিনি ও তার মেয়েসহ আরও ৪ জন আহত হয়েছেন। উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান কউশিক আহম্মেদ জানান, পুলিশ আশুতোষের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর কালু মণ্ডলের লোকজন পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
6
সেই সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম স্টেশনে এসেছেন ৬০ বছর বয়সী সাবেকুন নাহার। যাবেন ময়মনসিংহে। কিন্তু ট্রেন না চলায় অপেক্ষা করছিলেন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। তাঁর সঙ্গে আসা ছেলে ও ছেলের স্ত্রী ট্রেনের অপেক্ষা করতে করতে চাঁদর বিছিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। শুধু সাবেকুন নাহার নন, স্টেশনে শত শত যাত্রী গন্তব্যে যাওয়ার জন্য এভাবেই ট্রেনের অপেক্ষা করছেন।জানা যায়, আজ বুধবার সকাল ৭টা ২০ মিনিট থেকে ১২টা পর্যন্ত ৬টি ট্রেন চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা যায়নি। বেতন-ভাতার (মাইলেজ) দাবিতে আবারও কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়ায় এমনটি ঘটেছে।ছেড়ে না যাওয়া ট্রেনগুলো হল আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন, বিজয় এক্সপ্রেস, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, লোকাল ট্রেন কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস।কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী নূর জাহান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'সেই সাহরি খেয়ে বের হয়েছি। স্টেশনে এসেছি সকাল ৭টায়। কিন্তু ট্রেন না ছাড়ায় এখনো স্টেশনে অপেক্ষা করছি।'হঠাৎ ট্রেন বন্ধে ভোগান্তিতে যাত্রীরামহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী নাজমুল আবেদীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমার ঢাকায় যাওয়া জরুরি। কিন্তু স্টেশনে এসে দেখি ট্রেন চলছে না। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।'রার্নিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির তথ্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মীর এ বি এম শফিকুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বেতন-ভাতা (মাইলেজ) বাতিল করায় কর্মচারীরা ট্রেন চালাচ্ছেন না। দাবি মেনে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করলেই ট্রেন চালাবেন চালকেরা।'বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ইতি ধর বলেন, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয়টি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। বাকি ট্রেন চলবে কি না, তাও বুঝতে পারছি না। ট্রেনের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।ট্রেনসম্পর্কিত পড়ুন:সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধচেইন টেনে নামার চেষ্টা, ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ৫ঈদে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে চলবে ৬টি স্পেশাল ট্রেনঅনলাইন টিকিটে রেলের 'বারোটা'সহজের জটিলতায় ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তিচবির শাটল ট্রেন শিল্পকর্মে রঙিন করতে চান জার্মান শিল্পী লুকাস জিলিঞ্জার
6
ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ হাজার ৬৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম। গতকাল দেশটিতে ৫১ হাজার ৬৬৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় মারা গেছেন ১ হাজার ১৮৩ জন। আজ শনিবার এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সবশেষ এই তথ্য নিয়ে ভারতে করোনায় সংক্রমিত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজার ১৪৩। মারা যাওয়া মানুষের মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪৯৩। ভারতে টানা ১৯ দিন ধরে ৫ শতাংশের নিচে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। ভারতে এখন পর্যন্ত ৩১ কোটির বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বেশ খানিকটা স্তিমিত হয়ে এলেও মাস দেড়েকের মধ্যে দেশটিতে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটিতে সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে করোনার নতুন ধরন 'ডেলটা প্লাস'। এর আগে করোনার ডেলটা ধরন ভারতে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। করোনার অতি সংক্রামক এই ধরন ভারতেই প্রথম শনাক্ত হয়েছিল।গত মার্চের মাঝামাঝিতে ভারতে এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। করোনার ডেলটা ধরন ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়তে থাকে। গত ৭ মে ভারতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল। বিশ্বের কোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের রেকর্ড ভারতের। গত ৪ এপ্রিল ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই কোটির মাইলফলক ছাড়ায়। ২৩ জুন ছাড়ায় তিন কোটির মাইলফলক। আর গত ২৩ মে করোনায় মৃতের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়ায়। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপরই রয়েছে যথাক্রমে ভারত ও ব্রাজিল। আর মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরেই রয়েছে ভারত। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানলে মাস কয়েক আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করে। এখন সংক্রমণ কমতে থাকায় বিভিন্ন রাজ্য সতর্কতার সঙ্গে বিধিনিষেধ শিথিল করছে। একই সঙ্গে করোনার সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউয়ের ব্যাপারেও রাজ্যগুলো প্রস্তুত হচ্ছে। এদিকে ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর পর্যন্ত বিশ্বে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে ১৮ কোটি ১১ লাখ ৯২ হাজার ৩৬৫ জনের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মোট সংখ্যা ৩৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৬৫।
3
করোনার অতি সংক্রামক ধরন 'ওমিক্রন' প্রতিরোধে প্রবাসীদের দেশে না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করি, যারা বিদেশে আছেন, তাদের এই মুহূর্তে দেশে না আসাই উত্তম। নিজেদের পরিবারকে নিরাপদে রাখতে হবে, দেশকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। কাজেই আপনারা যেখানে আছেন, সেখানেই নিরাপদে থাকুন। জাহিদ মালেক বলেন, ষাটোর্ধ্ব বয়সীদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। আপনারা জানেন ইতোমধ্যে অনেক দেশেই বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করেছে। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশেও এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমাদের টিকার কোনো অভাব নেই। আমরা বুস্টার ডোজ দ্রুত দিতে পারব, ইনশাআল্লাহ। এই মুহূর্তে সীমান্ত বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা করোনাভাইরাস টেস্টের ব্যবস্থা ও কোয়ারিন্টেনের ব্যবস্থা জোরদার করেছি। আমাদের দেশ ভালো ও নিরাপদ আছে। 'আপনারা জানেন, আমরা ২-৩ জন করে মৃত্যুর খবর পাই। এই অবস্থা থাকলে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার শূন্যে নেমে আসবে।' সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা নেওয়া থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। কেউ আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিলে ভালো হয়ে যাবেন। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আলোকিত হল মালিবাগ-মৌচাক উড়ালসেতু। নিজস্ব অর্থায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্বাবধানে উড়ালসেতুটির দক্ষিণ সিটির আওতাধীন ৩.৩৪৫ কি.মি. অংশে স্মার্ট এলইডি বাতি স্থাপনের মাধ্যমে আলোকিত করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় (২ ফেব্রুয়ারি) নগরীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল সংলগ্ন উড়ালসেতু অংশে ল্যাপটপে একটি ক্লিকের মাধ্যমে উড়ালসেতুটি আলোকিতকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। উদ্বোধন পরবর্তী আয়োজনে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, "উড়ালসেতুটি করার সময় আলোকিত করা হয়নি। সেটি আলোকিত করার জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, আমরা নিজ অর্থায়নে এই কাজটি করবো। সেই প্রেক্ষিতে আমরা মালিবাগ-মৌচাক উড়ালসেতুটিতে স্মার্ট এলইডি বাতি স্থাপনের মাধ্যমে আলোকিত করেছি। এতে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা।" এই সেতুটি আলোকিতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল জানিয়ে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, "এখানে বাতি না থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির উপর বিভিন্ন রকমের দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে, অনেক অঘটন ঘটেছে। উড়ালসেতুটিতে অনেকের প্রাণহানিও ঘটেছে। তাই, ঢাকাবাসীর জন্য আমরা এই আলোকিতকরণ কাজটি সম্পন্ন করতে পারায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।" স্মার্ট এলইডি বাতি বলার কারণ জানতে চাওয়ার এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, "আপনারা লক্ষ্য করেছেন আমরা এখানে একটি বোতাম চাপার সঙ্গে সঙ্গেই উড়ালসেতুটির পুরো ৩.৩৪৫ কিলোমিটার আলোকিত হয়ে গেছে এবং নগর ভবনে আমাদের যে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ আছে সেখান থেকে এটা তদারকি করা যাবে। এখানে কোনও বাতি নষ্ট হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা দেখতে পাবো কোন বাতিটি নষ্ট এবং বাতিটি আমরা চালু করে দিতে পারব। বাতিগুলোর দ্রাঘিমাংশ এবং অক্ষাংশ অনুযায়ী সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে আর নিভে। এজন্যই এগুলোকে আমরা স্মার্ট বাতি বলছি। আমাদের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডসহ যে সকল জায়গায় এখন থেকে বাতি নষ্ট হবে, সেখানে আমরা এই স্মার্ট এলইডি বাতি সংযোজন করবো।" এ সময় অন্যান্যের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, সচিব আকরামুজ্জামান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাফর আহমেদ, অঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নিবার্হী কর্মকর্তা মেরিনা নাজনীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
6
রাজধানীর দক্ষিণখানের মধুবাগের মাস্টারপাড়ায় বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রাত পৌনে আটটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে আজ শনিবার সন্ধ্যায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো খুদে বার্তায় বলা হয়, সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে মধুবাগ মাস্টারপাড়ায় ইউনিসের বাড়িতে আগুন লাগার খবর আসে। এরপর আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা রাশেদ বিন খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, সরু রাস্তায় ঢুকতে ফায়ার সার্ভিসের বেগ পেতে হয়। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট রওনা হয়েছিল। কিন্তু সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ফিরে আসে।
6
ঢাকা: যে নন্দীগ্রাম একসময় জয়ের সুবাতাস নিয়ে এসেছিল, সেই নন্দীগ্রাম এবারও হতাশ করেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দলত্যাগী শুভেন্দু অধিকারীকে পরাজিত করে ঠিকই নন্দীগ্রাম বুঝে নিলেন তিনি। এতে নন্দীগ্রামের মানুষের কী হয়েছে বা হবে, আখেরে তাদের ভালো হলো, কি মন্দ সে হিসাব বাদ রেখেই সবার দিদি এবার একটু আনন্দ করতেই পারেন।তবে সরকারিভাবে ফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নন্দীগ্রাম নিয়ে সংশয় থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এবারও যে তৃণমূলই আসছে তা নিশ্চিত।এই নন্দীগ্রাম নিয়ে উত্তেজনার পারদ এবার কম ওঠেনি। গোটা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ভরকেন্দ্রই যেন হয়ে উঠেছিল এই আসন। গত বছরের ডিসেম্বরে তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী শুরু থেকেই পাখির চোখ কররেছিলেন এই আসনকে। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মমতাও দমে যাননি। নিজেই এই আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। তার পরের দ্বৈরথের গল্প তো সবার জানা।সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলনের ওপর ভর করেই ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য শাসনের ভার পেয়েছিলেন মমতা। সেই সময়ের আন্দোলনের মঞ্চের পেছনের বহু গল্প একের পর এক ফাঁস করে দিতে থাকেন হঠাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী বনে যাওয়া মমতা ও শুভেন্দু। বহু জল ঘোলা হলো। অনেক কিছু হলো। মানুষ জানল ঢের, উচাটন হলো কম। তৃণমূল ও বিজেপির প্রচার যত না আশা তেখাল, তারচেয়ে ঢের বেশি দেখাল ভয়। কে এলে বেশি পস্তাতে হবে, কার অতীত পাপের খাতা ভারী, তাই নিয়েই এই কোভিডকালে মানুষকে জেরবার হতে হলো। শেষ পর্যন্ত সব হিসাব উল্টে নন্দীগ্রামে জয় পেলেন মমতাই।সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, ১২০১ ভোটে নন্দীগ্রামে জিতেছেন মমতা। গত ১০ মার্চ আনুষ্ঠাানিক ভাবে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন মমতা। ওই দিনই নন্দীগ্রামে আক্রান্ত হন মমতা। পায়ে আঘাত পান। তা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে বিতণ্ডা চরমে ওঠে। এর দুদিন পর, ১২ মার্চ নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপির হয়ে মনোনয়ন জমা দেন শুভেন্দু। তার পর থেকে বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা শুভেন্দুর হয়ে সেখানে সভা করে এসেছেন। সেই তুলনায় নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সভা ছিল মমতা-সর্বস্বই। তবে সেখানে জেতা নিয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মমতা।আরও পড়ুন:হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নন্দীগ্রামে জিতলেন মমতা
3
সরু সড়ক এবং বাসস্ট্যান্ড না থাকায় যানজটে অতিষ্ঠ গোপালপুর পৌরবাসী। পাশাপাশি পৌর শহরের প্রধান সড়কে নেই কোনো বাইপাস সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। তাই স্কুল, কলেজ ও দোকানের সামনেই গড়ে উঠেছে অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড ও বাইপাস সড়ক নির্মাণ এখনো প্রকল্পতেই সীমাবদ্ধ।বৈরাণ নদীকে ঘিরে দেড় শ বছর আগে গোপালপুরের গোড়াপত্তন। ১৯৭৪ সাল প্রতিষ্ঠিত হয় গোপালপুর পৌরসভা। নদীপাড়কে কেন্দ্র করে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই পৌর শহর। এই শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য রয়েছে একমাত্র সড়ক। আর সেই সড়কে নিয়মিত যানজট থাকায় নাগরিক জীবন হয়ে পড়ে অচল।বেশ কটি আঞ্চলিক সড়ক যেমন- গোপালপুর-পিংনা, গোপালপুর-নলিন, গোপালপুর-ভেঙ্গুলা, গোপালপুর-ধনবাড়ী, গোপালপুর-ভূঞাপুর, গোপালপুর-মধুপুর ও গোপালপুর-ঢাকা ভায়া টাঙ্গাইল সড়ক মিশেছে শহরের প্রধান সড়কে।পৌর শহরের এ সড়কটি একদম সরু। দুটি ট্রাক পাশাপাশি যেতে পারে না। কাজেই আঞ্চলিক সড়ক ধরে বাস-ট্রাক বা বড় কোনো যানবাহন শহরে প্রবেশ করা মাত্রই দেখা দেয় যানজট।আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন বলেন, উপজেলা সদরে কোনো বাস ও ট্রাকস্ট্যান্ড নেই। মালিকেরা শতশত বাস-ট্রাক শহরের প্রধান সড়কের নন্দনপুর মোড় থেকে সমেশপুর পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে রেখে দেন।আব্দুল মোমেন আরও বলেন, 'অনেক সময় সড়কের পাশে রেখেই বাসে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। ব্যস্ত সড়কের বড় অংশজুড়ে বাস ও ট্রাক রাখায় শুধু যানজটই হয় না, ঘটে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। শহরের বাইরে একটি স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।'পৌরশহরের সূতি ভিএম সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদ বিন আব্দুল কাদের বলেন, প্রায় প্রতিদিনই শহরে যানজট লেগে থাকে। যানজটের জন্য আমরা সঠিক সময়ে স্কুল উপস্থিত হতে পারে না। শহরের যানজট নিরসনে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।পৌরশহরের নন্দনপুর রাধারাণী পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসরিক জাহান স্বচ্ছ আজকের পত্রিকাকে বলেন, আমাদের স্কুল গেটের সামনে অটোরিকশা স্ট্যান্ড। এতে সারাক্ষণ কোলাহল লেগেই থাকে। ফলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের সুনজর চাই।সুতি ভিএম সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন, এটি ব্যাটারিচালিত অটোবাইকের শহর। যানজটের জন্য অটোবাইকের ভূমিকাও কম নয়।নন্দনপুর রাধারাণী পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, স্কুলের গেটের সামনেই বাস ও অটোস্ট্যান্ড। ফলে যানজট ও দুর্ঘটনা এখানে স্বাভাবিক চিত্র। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়।গোপালপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি বেলায়াত হোসেন বলেন, 'যানজটের কারণে আমরা অতিষ্ঠ। বাইপাস সড়ক না থাকায় আঞ্চলিক সড়কের সব যানবাহন শহরের এই প্রধান সড়ক দিয়ে যাতায়াতের কারণে এই যানজটের সৃষ্টি হয়। অবিলম্বে বাইপাস সড়ক হওয়া জরুরি।'পৌর মেয়র রকিবুল হক ছানা বলেন, সমেশপুর এলাকার খাসজমিতে স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড করার জন্য চেষ্টা চলছে। নন্দনপুর মোড় থেকে বৈরাণ নদী ক্রস করে ভুয়ারপাড়া এবং মধুপুর ভট্ট থেকে সুতি পর্যন্ত দুটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেই যানজট নিরসন করা হবে।
6
প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন ফিলিপাইনে ও আরেকজন হংকংয়ে, অন্যরা সবাই চীনের। আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখন ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। শনিবার সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। সবমিলিয়ে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাও ৩৪০০০ ছাড়িয়ে গেছে। বিবিসি জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৭২২ জনের মৃত্যূ হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৪৬ জনে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চীনে; এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর চীনসহ প্রায় ২৭টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং প্রাণহানি বাড়তে থাকায় এরই মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রতিদিন বাড়ছে নভেলা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা। তবে আশার খবর হলো এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছেন। চীন থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ফলে কোনো কোনো দেশ চীনা নাগরিকদের নিজ দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মাত্র ৩৫ দিনেই চীনের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ রয়েছে এমন দেশের অর্থনীতিও ঝুঁকিতে পড়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই ঝুঁকি অনেকের চেয়ে বেশি।
3
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যাপক পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে পারেন যে কেউ।পদের নাম: অধ্যাপকবিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিপদসংখ্যা: ১শিক্ষাগত যোগ্যতা: পিএইচডি/সমমানের ডিগ্রি। বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চতর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ১২ বছরের শিক্ষাদান ও গবেষণার অভিজ্ঞতা।বেতন স্কেল: ৫৬,৫০০-৭৪, ৪০০ টাকাযেভাবে আবেদন করবেনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর ১ হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে। সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও অভিজ্ঞতার সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২১।
1
এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আবেদনে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ, পরিদর্শক (তদন্ত) মহিউদ্দিন ফারুক, পরিদর্শক (অপারেশন) গোলাম আজম ও দুই এসআইসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল নং ৭-এ মামলার আবেদন করা হয়। বিচারক জুলফিকার হায়াত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।অন্য আসামিরা হলেন- তানিম রেজা বাপ্পি, পান্নু হাওলাদার, ইউসুফ রিপন, কাজী তোফাজ্জল হোসেন, জাভেল হোসেন পাপন, মোহাম্মদ জামাল, রাকিবুল হাসান, এসআই শরিফুল, এসআই চয়ন ও মোসাম্মৎ আলেয়া।ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণে অভিযুক্তদের সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী একজন স্বামী 'পরিত্যক্তা' নারী। তিনি খিলগাঁওয়ে বাবার বাড়িতে থাকেন। প্রায় এক বছর আগে তাঁর সঙ্গে রাজধানীর ডেমরা রসুলপুরের তানিম রেজা বাপ্পির পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর আসামি তানিম তাঁর সহযোগীদের নিয়ে মামলার বাদীর ভাড়া বাসায় আসেন। সেখানে তানিম বাদীকে বিয়ে করেন। বিয়েটা ছিল সাজানো। দুই মাস ঘর-সংসার করেন। এরপর বাদীর সন্দেহ হয়। তিনি কাবিননামা চান। তাঁরা বিয়ের কাজী তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে যান। বাদী জানান, তাঁদের বিয়ের কোনো কাগজপত্র নেই। বিয়ের নাটক সাজিয়ে তানিম রেজা বাপ্পি বাদীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মামলার বাদীকে তানিম রেজা হাতিরঝিলের পাশের একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে জাভেল হোসেন পাপন ও মোহাম্মদ জামালও বাদীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। বাদী ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বাদী সুস্থ হয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি হাতিরঝিল থানায় এজাহার দায়ের করেন। থানার ওসিসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা কয়েকজন আসামিকে আটক করেন। কিন্তু আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁরা এই মামলা না নিয়ে বাদীকে ১ লাখ টাকা নিয়ে আপস করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বাদী মামলায় অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা ধর্ষণের কোনো প্রতিকার না করে ধর্ষণকারীদের সহায়তা করেছেন।বাদী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'হাতিরঝিল থানার ওসি ও অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলা নেননি। তাঁরা আসামিদের সহায়তা করেছেন। এ কারণে এ মামলায় পুলিশদের আসামি করা হয়েছে।'
6
ভারতের আসামে গত বছরের ৩০ জুলাই নাগরিকত্ব নির্ধারণের যে খসড়া তালিকা (এনআরসি) প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে আসামে বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখ নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়ে। নাগরিকত্বের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়ার বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যক্তিকে আবেদন জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার সর্বশেষ সময়সীমা ছিল গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর। বাদ পড়া প্রায় ৪০ লাখ লোকের মধ্যে অধিকাংশই পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায়। তবে সেখান থেকেও প্রায় চার লাখ লোক কোনো আবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় নিশ্চিতভাবেই রয়ে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো বলছে, ৩১ ডিসেম্বরের ঠিক আগে আগে তড়িঘড়ি করে অন্তত ২ লাখ ব্যক্তির খসড়া তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আবেদন জমা পড়ে। বলা হচ্ছে, অধিকাংশ আবেদনই করা হয়েছে অসমীয় জাতীয়তাবাদী দলগুলোর পক্ষ থেকে এবং আসামের বাংলাভাষী, বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘু অধিবাসীদের লক্ষ্য করে। এ বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি সূত্রমতে এই আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে, যা ১৫ জুন নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। অর্থাৎ, এই পুরো যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র চার মাস। এই যাচাই-প্রক্রিয়ার ফলে এই জুন মাসেই আরও একটি তালিকা প্রস্তুত হয়, যাতে নতুন করে আরও প্রায় এক লাখ লোক বাদ পড়ে; যারা কিনা প্রথম খসড়ায় নাগরিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারতের কয়েকটি সংস্থার প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানানো হয়েছে যে এই আপত্তির আবেদনগুলো হয়রানিমূলক এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি জমা দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া এত কম সময়ে কী করে এত লাখ অন্তর্ভুক্তির আবেদন যাচাই-বাছাই সম্ভব, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নাগরিকত্বের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩১ জুলাই, যা সম্প্রতি উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতিতে এনআরসি কো-অর্ডিনেটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও এক মাস পিছিয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন অন্তর্ভুক্ত প্রায় এক লাখ মানুষের আবেদনও যাচাই-বাছাই করা হবে বলা হয়েছে। সম্প্রতি ২৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের যে শুনানিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেছানোর সিদ্ধান্ত হলো, সেই একই শুনানিতে খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ২০ শতাংশ নাম দৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় ফের খতিয়ে দেখার আবেদন করেছিল আসাম ও কেন্দ্র সরকার। আবেদনে বলা হয়েছিল, তালিকায় অনেক নামই ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, বিশেষ করে আসামের বাংলাদেশ-সংলগ্ন জেলাগুলোতে। অর্থাৎ, খোদ সরকারপক্ষই মনে করছে, তালিকা প্রস্তুতে যথেষ্ট গরমিল রয়েছে এবং সম্ভবত আরও অনেককেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যেত। আবেদনটি আদালত খারিজ করে দিয়েছেন এবং কারণ হিসেবে বলা হয়েছে আসামের এনআরসি কো-অর্ডিনেটরের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইতিমধ্যেই তালিকায় ওঠা প্রায় ২৭ শতাংশ নাম ফের খতিয়ে দেখা হয়ে গিয়েছে। তবে ভারতের মিডিয়ার রিপোর্টগুলো অনুযায়ী, এই ২৭ শতাংশের পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ আসামের বিজেপি পার্টিই। জাতিসংঘের কয়েকজন বিশেষ প্রতিনিধির পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় সরকার বরাবর প্রেরিত একটি লিখিত বিবৃতিতে এই পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে এর অসামঞ্জস্যতা নিয়েও কড়াকড়ি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সার্বিকভাবে নাগরিকত্বের তালিকা প্রস্তুতের এই বিশাল দক্ষযজ্ঞ অনেকটাই জোড়াতালি দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রক্রিয়াটিকে অসমীয় জাতীয়তাবাদকে পুঁজি করে আসামের ক্ষুদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিম ও হিন্দু জনগোষ্ঠীকে সব রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রয়াস হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তবে এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভাজন এবং এর থেকে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক অসন্তোষ যে শুধু ভারতের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সেটি বুঝতে তেমন একটা রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রয়োজন হয় না। এতসংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিতকরণের প্রক্রিয়াটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাংলাদেশের। গত বছরের জুলাইয়ে অবশ্য এই অস্বাভাবিক নাগরিকত্বের খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর উদ্বেগ জানিয়েছিলেন কেউ কেউ। বলা হয়েছে, আসামের তথাকথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা কেউই বাংলাদেশি নন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে কোনো বার্তা আদান-প্রদান হয়নি। অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই; এটি ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয়। সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে বিষয়টি একেবারেই ভারতের নিজস্ব একটি প্রক্রিয়া এবং ভারতীয় সরকারপ্রধান নিজেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন যে তালিকা থেকে বাদ পড়া আসামের জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা ভাবছে না ভারত। এই অনানুষ্ঠানিক মতামত আদান-প্রদান, মিডিয়াকে দেওয়া সরকারি ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার এবং বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত কিছু বিশেষজ্ঞ মতামত-এই সবকিছুই কিন্তু ভারতের সদ্য সম্পন্ন নির্বাচনের আগের প্রেক্ষাপট। স্পষ্ট করে কোথাও না বলা হলেও বাংলাদেশের জন্য পরোক্ষভাবে একটি স্বস্তি কাজ করছিল যে নাগরিকত্বের তালিকা প্রস্তুতের প্রক্রিয়াটি সম্ভবত লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকারের ভোট সংগ্রহের একটি রাজনৈতিক চালমাত্র। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় আসামে তথাকথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের বিষয়টিকে যেভাবে জোর দেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের পর নাগরিকত্বের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আর যা-ই হোক, এই তালিকা প্রস্তুত যে নির্বাচন-পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ফাঁকা বুলি নয়, সেটি নিশ্চিত; বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী এবং পরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন বলেই ধরে নেওয়া যায়। এমনকি বিজেপির এবারের নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রক্রিয়াটিকে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও ভবিষ্যতে প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি তাহলে কিছু অনানুষ্ঠানিক বার্তার ওপর নির্ভর করে আশ্বস্ত হবে যে প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু? প্রাথমিকভাবে আশা করা যায়, অন্তত ৪০ লাখ বা তার বেশি নাগরিককে রাতারাতি দেশ থেকে বিতাড়নের পরিকল্পনা করবে না ভারত। ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সুসম্পর্কের কথা মাথায় রেখে বারবার এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিল করার সুযোগ থাকবে আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে। তারপর আবার আপিল করা যাবে হাইকোর্টে এবং সর্বশেষে সুপ্রিম কোর্টে। অর্থাৎ, কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকলেও ভারতের পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে এই বলে যে পুরো প্রক্রিয়াটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার এবং এ কারণে ভারত থেকে কাউকে শিগগিরই ফেরত পাঠানো হবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। তবে প্রশ্ন হলো, এই দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় যে লক্ষাধিক প্রান্তিক লোক অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের সব রাজনৈতিক অধিকার হারাবে এবং সবশেষে রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি হিসেবে হয়তো যাদের স্থান হবে কোনো বন্দিশিবিরে, তারা এই অন্যায় মেনে নিয়ে এবং অধিকারবঞ্চিত হয়ে কতটা নিরাপদ মনে করবে আসামকে? নাগরিকত্ব হরণের প্রক্রিয়াটি যে রাষ্ট্রহীন গোষ্ঠী তৈরি করবে, তারা যে আসামে সাম্প্রদায়িক অসন্তোষের শিকার হয়ে নিগৃহীত হবে না বা অন্তত নিগৃহীত হওয়ার আশঙ্কা করবে না, তেমনটা বলা যাচ্ছে না। এই নিগৃহীত হওয়ার ভীতি থেকেই অন্য রাষ্ট্রের সীমানায় আশ্রয় চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করবে অধিকারবঞ্চিত জনগোষ্ঠী। বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হয় এমন করেই। আসামের নাগরিকত্বের তালিকা প্রস্তুতের এই প্রক্রিয়া যেভাবে একটি বিপজ্জনক মেরুকরণ করছে এ অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে, তাতে বাংলাদেশের জন্য আগামী বছরগুলোয় ভারতীয় শরণার্থী সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রকট। তা ছাড়া নাগরিকত্বের তালিকা নিয়ে আসামে সব বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে সব সময়ই ছিল তথাকথিত 'বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা'। ফেরত পাঠানো উচিত কি অনুচিত, এই বিষয়ে বিতর্ক থাকলেও ভারতে অনেকেই মনে করেন, এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশ থেকেই সেখানে গেছে। খোদ সুপ্রিম কোর্টের যে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে, সেই সিদ্ধান্তেই আসামের অবৈধ অধিবাসীদের বাংলাদেশেই ফেরত পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে। তাই এই পুরো প্রক্রিয়াকে ভারতের 'অভ্যন্তরীণ বিষয়' ধরে নিয়ে চিন্তামুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। শরণার্থী সংকটের বাইরেও এই বিভাজনমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি আসামে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার যে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে কতটা আঘাত হানবে, সেটিও ভেবে দেখা প্রয়োজন। ৩১ আগস্টের চূড়ান্ত নাগরিকত্বের তালিকা প্রকাশ সামনে রেখে তাই বাংলাদেশের সঠিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নির্ণয় করা অতি জরুরি। তাসলিমা ইয়াসমীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক []
8
মহান স্বাধীনতা দিবস ও স্বাধীনতার ৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত শনিবার মাগুরার মহম্মদপুরে ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর কামারপাড়া মাঠে দেখা যায় শিশু কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা। প্রায় দেড় শতাধিক প্রতিযোগীর মধ্যে চলে ঘুড়ির লড়াই।মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো এই ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন লক্ষ্মীপুর স্পোর্টস ক্লাব। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহসভাপতি শেখ মো. শওকতুজ্জামান সৈকতের পৃষ্ঠপোষকতায় ও লক্ষ্মীপুর স্পোর্টস ক্লাবের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এই উৎসবের উদ্বোধন করেন মাগুরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কণ্ডু।বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মাট ১২১টি ঘুড়ি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ঘুড়ি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন ফরিদপুরের ইব্রাহীমের পতম ঘুড়ি। তিনি একই সুতায় একসঙ্গে ১০২টি ঘুড়ি উড়িয়ে হাজারা দর্শকদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও আনন্দের খোরাক জোগান। ২য় স্থান অধিকার করেন লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইকরামুলের প্যাঁচা ঘুড়ি এবং তৃতীয় স্থানে রাজিবুল ইসলামের হাতনে ঘুড়িটি।বালিদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মফিজুর রহমান মিনার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল, মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হাসন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান, প্রচার সম্পাদক শেখ মো. ঈদুল, দীঘা ইউপি চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া, পলাশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিকান্দার আলী মনি প্রমুখ।
6
সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমাত্রিক বিকাশে গণমাধ্যমের প্রসারের পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে নৈতিকতার চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত 'সাংবাদিকতায় বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও সমাজের বহুমাত্রিক বিকাশের স্বার্থে গণমাধ্যমের প্রসার ও স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, একই সঙ্গে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নীতি-নৈতিকতাও আবশ্যক। তা না হলে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রসারের সঙ্গে নীতি-নৈতিকতা থাকলেই কেবল গণমাধ্যমের উদ্দেশ্য সফল হবে। এ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, 'যেসব পত্রিকা প্রকাশিত হয় না, সেগুলোর ডিক্লারেশন রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন দেখা দেয়। এগুলো ভুতুড়ে পত্রিকা। এখানে নিয়োগকৃতদের বেতন দেওয়া হয় না। এরা চাঁদাবাজিসহ নানা কিছুতে লিপ্ত হয় এবং সেই বদনাম সাংবাদিক সমাজের ওপর বর্তায়, যা কখনোই সমীচীন নয়। এ জন্য আমরা ভুতুড়ে পত্রিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি।' অনলাইন গণমাধ্যমকে মন্ত্রী আজকের পৃথিবীর বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, 'যথেচ্ছভাবে নয়, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তবেই অনলাইন গণমাধ্যমের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব অনলাইন পোর্টাল সংবাদ ছাড়া ভিন্ন উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়, এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আইপি টিভির জন্য ৬০০ আবেদন পড়েছে। একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একজন বিচারপতিও মন্তব্য করেছেন, যা রায়ের অংশ। এ ক্ষেত্রটিও আমরা সর্তকতার সাথে দেখছি। মন্ত্রিসভায় পাস করা নীতিমালা অনুযায়ী আইপি টিভি কোনো সংবাদ প্রচার করতে পারবে না। খুব সহসা আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।' হাছান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের তেমন কোনো জোরালো দাবি ছিল না, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই স্থায়ী ব্যবস্থা করেছেন। আজ কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে হাজার হাজার সাংবাদিক উপকৃত হচ্ছেন এবং এটি সাংবাদিকদের একটি ভরসাস্থল। কেউ মৃত্যুবরণ করলে পরিবার তিন লাখ টাকা পায়। সাংবাদিকদের পরিবারকে সহায়তার জন্যও নীতিমালার খসড়া হয়েছে। ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের পরিচালনায় সভায় ডিবিসি২৪ চ্যানেলের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি এম শফিকুল করিম ও সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী ও রাজু আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক আরাফাত দাড়িয়া, নারীবিষয়ক সম্পাদক রীতা নাহার, সদস্য মোতাহার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
9
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চতুর্থ দফা ভোটের আগে অন্তিমলগ্নে মিঠুন চক্রবর্তীর রোড শো বাতিল করা নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর ব্যাপক হাঙ্গামা হয়েছে বেহালায়। ঘটনার জেরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পর্ণশ্রী থানা ঘেরাও করেন বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। এমনকী পুলিশের সাথে বচসাতেও জড়ান। এককথায়, ভোটের আগে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে পুলিশের অনুমতি ছাড়াই বিজেপি কর্মীদের নিয়ে শ্রাবন্তী একাই রোড শো করেন। যার ফলস্বরূপ এবার আইনি বিপাকে পড়তে হলো পদ্ম শিবিরের তারকা প্রার্থীকে। শ্রাবন্তীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করল পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই বেহালায় রোড শো করেছেন বিজেপি প্রার্থী। সেই প্রেক্ষিতেই শ্রাবন্তীসহ আরো কয়েকজন বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের কাজে বাধা এবং অবৈধ জমায়েতেরও। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে স্বতঃপ্রণোদিত রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট ইতিমধ্যে জমাও পড়েছে বলে খবর। এই বিষয়ে যদিও বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এখনো। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক ময়দানে অভিষেক ঘটিয়েই বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী টিকিট পেয়েছেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকে প্রচারের ময়দানে বেহালাবাসী শুধু এযাবৎকাল তার শান্ত-শিষ্ট ঘরের মেয়ের মতো আচরণই দেখেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার মিঠুন চক্রবর্তীর রোড শো বাতিল করায় এদিন শ্রাবন্তীর রণংদেহী অবতারেরও সাক্ষী থাকল বেহালা। থানা ঘেরাওয়ের সময় পদ্ম-প্রার্থী শ্রাবন্তী অভিযোগ তুলেছিলেন, 'পুলিশ থানার ভিতর লুকিয়ে ফোনে কথা বলছে। গত এক ঘণ্টা ধরে ঠায় পায়ে দাঁড়ানোর পরও ওসি আসেননি একবারের জন্যও। পুলিশ ইচ্ছে করে শেষমুহূর্তে আমাদের ব়্যালি করতে দিচ্ছে না। আমাদের জবাব চাই, কেন আমাদেরকে অনুমতি দেয়া হলো না। মিঠুনদা আমাকে নিজে ফোন করে বলেছেন যে তুই জানবি, কেন আমার প্রচার বাতিল করা হলো, কারণটা কী?' সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
2
হাবিবুল জান্নাত ওরফে রাজুকে অটোরিকশা চালক হিসেবেই জানেন পরিচিতরা। তবে এর আড়ালে তিনি যে অবৈধ অস্ত্রের কারবারে যুক্ত তা জানত শুধু অপরাধ জগতের গুটিকয়েক লোক। তাই গ্রেপ্তারের পর যখন তার বিছানার তোষকের নিচ থেকে পৌনে তিন ফুট ব্যারেলের বন্দুক পাওয়া যায়, তখন সবাই বিস্মিত। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজু এখানে চুনোপুঁটি, এর নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী চক্র। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। গত ১৮ জুন ভোরে পাবনার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ও তথ্য যাচাই-বাছাই করতে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে এখনও রিমান্ড শুনানি হয়নি। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আরাফাত লেনিন সমকালকে বলেন, গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হাবিবুল জান্নাত ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, ১২ বোরের দুটি কার্তুজ, চাপাতি ও ছুরি পাওয়া গেছে। তাকে রিমান্ডে পেলে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় পাবনা থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রানা নামে এক যুবক অস্ত্রগুলো কেনার জন্য টাকা দিয়েছিল। তাকে সরবরাহের জন্য অস্ত্র নিজের বাড়িতে মজুদ করে রাখেন রাজু। তিনি আবার ২০ হাজার টাকায় এসব অস্ত্র মিলন নামে আরেক জনের কাছ থেকে কিনে ছিলেন বলে জানা গেছে। রানা ও মিলনকে আইনের আওতায় নিতে কাজ করছে পুলিশ।
6
প্রিজন ভ্যানেও এত গাদাগাদি করে আসামিদের নেওয়া হয় না, যেটা হয় গণপরিবহনে। একটি দেশে নাগরিকেরা কেমন আছে, তা প্রবৃদ্ধির রাংতার ঝিলিকে অন্ধ চোখে ধরা পড়বে না। রাংতা কাগজের একদিকে থাকে সোনালি-রুপালি প্রলেপ, অন্যদিকটা মলিন। সেই মলিন দিকটাতেই বসবাস সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের। চকচকে দিকটায় থাকেন তাঁরা, যাঁদের কখনো ঢাকা-চট্টগ্রামের বাসের খাঁচায় চড়তে হয় না। যে মা-বাবা সন্তানের এতটুকু কষ্টে বিচলিত হন, তাঁরা বাধ্য হন ওই সব খাঁচায় করে তাদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে। আগেকার যুগের ছাত্রছাত্রীরা নদী সাঁতরে, পাঁচ থেকে সাত মাইল হেঁটে স্কুলে যেত। শিক্ষার সেই সংগ্রাম রাজধানীতে এসে আরও কঠিনই হয়েছে। বছিলা থেকে যাত্রাবাড়ী কিংবা মিরপুর থেকে মতিঝিলের বাসে উঠলেই জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মালুম হবে। আপনি যে-ই হন, সাধারণ বাসে উঠেছেন মানে ভেড়া হয়েছেন। বাড়ি থেকে মাথা উঁচু করে বের হওয়া যাত্রীরা বাসেও ওঠেন মাথা উঁচু করে। নামার সময় তাঁদের মাথা হেঁট হয়ে থাকে। গণপরিবহন এখন গণদুর্ভোগের শিক্ষাসফর। এই শিক্ষাসফরে তাঁরা শেখেন, রাজধানীতে ভেড়ার সঙ্গে মানুষের তেমন তফাত করা হয় না। রাজধানী নাকি দেশের প্রচ্ছদ। এখানে আপনাকে খরচ করতে হবে উন্নত দেশের চেয়ে বেশি, পাবেন পাথুরে যুগের নাগরিক জীবন। ধাক্কাধাক্কি, গরম, জ্যাম, ধুলা, কনডাক্টরের ধমক মানতে হবে। মানতে হবে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়। তরুণী ও কিশোরীরা যে মন নিয়ে বাসে ওঠে, নামার সময় কষ্টে ও যন্ত্রণায় তা মুষড়ে থাকে। কেউ মেনে নেয়, কেউ কাঁদে, কেউবা প্রতিবাদ করে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মার খায়। ছাত্রদের সঙ্গে বাসওয়ালাদের মারামারি নিয়মিত ঘটনা। গাড়ির ফিটনেস না থাকুক, চালকের লাইসেন্স না থাকুক, অন্যায়ভাবে ভাড়া বাড়ানোর লাইসেন্স দেওয়া আছে। পরিবহনমালিকদের সিন্ডিকেটের কাছে যাত্রীরা অসহায়। কারণ, সরকার তাঁদের পক্ষে। বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়াকে দোষারোপ করে বলেছিলেন, 'তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা।' আমাদের সরকারগুলো জনগণের কথা শোনে না, শোনে মালিকশ্রেণির কথা। দুঃখের দেশে কষ্টের জীবন কাটানো এক পিতা একবার হাহাকার করে উঠলেন: আর তো সয় না, আর কত? সেই কথা শুনে শিয়াল পণ্ডিত সান্ত্বনা দেয়, 'আর কয়টা বছর সহ্য করো, তারপর আর করতে হইব না!' মাঝবয়সী মানুষটা আশা নিয়ে তাকান পণ্ডিতের দিকে। 'তারপর কী হবে, শান্তি পাব?' বিজ্ঞ শিয়াল লেজ নাড়াতে নাড়াতে বলে, 'তারপর তো তুমি মারা যাইবা, তোমার ছুটি। কষ্ট করব তোমার ছেলেমেয়েরা।' এই বন্দোবস্তেই দেশ চলছে। বড়রা কষ্ট করছে, এখন ছাত্রছাত্রীদের পালা। সড়কে গতি নেই, দুর্গতিতে ভরপুর। আজকের দুনিয়ায় গতিই জীবন, গতিই উন্নতি, গতিই সমৃদ্ধি। দুর্গতিতে ভরা সড়কে অগতির চলাচল মানে জীবনেই পিছিয়ে পড়া। এ রকম ঠেলা-ধাক্কার গণপরিবহন যে দেশে থাকে, তাকে উন্নত তো দূরের কথা, সভ্যও বলা যায় না। আধা ঘণ্টার রাস্তা যদি 'প্রাগৈতিহাসিক কালের' পরিবহনে দুই ঘণ্টায় যেতে হয়, তাহলে একবারের জন্য পাওয়া এই ধন্য দেশের ধন্য জীবন থেকে কতগুলো বছর হারিয়ে যায়, কত প্রাণশক্তি নষ্ট হয়, কত যন্ত্রণা নিতে হয়, তার হিসাব করলেই বোঝা যাবে কেন আমরা পিছিয়ে থাকি, কেন আমাদের স্বাস্থ্য ভঙ্গুর, কেন আমাদের মেজাজ অস্থির। দীর্ঘদিন একই ধরনের নির্যাতন চলতে থাকলে একসময় মানুষ প্রতিবাদ করা বন্ধ করে দেয়। মনে করে, এটাই বাস্তবতা। কিন্তু একেকটা প্রজন্ম আসে, তারা মানতে চায় না। কষ্ট পেতে ভালোবাসে না কেউই। ভালোবাসে না বলেই বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়। পাকিস্তানি শাসকেরা শিক্ষার সর্বজনীন সুযোগ দিতে চাননি বলে আন্দোলন হয়েছে। ছাত্রদের ঐতিহাসিক ১১ দফায় শিক্ষার্থীদের জন্য বাসে-ট্রেনে অর্ধেক ভাড়ার দাবি ছিল। শ্রমিকের আন্দোলন হয়েছে, তাতে ন্যূনতম মজুরিসহ মানুষের মতো বাঁচার বন্দোবস্ত করার দাবি ছিল। পূরণ না হওয়া দাবিগুলো জমে জমে বিদ্রোহ হয়, বিদ্রোহ স্বাধীনতাসংগ্রামের জোয়ার আনে। দেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার সোপানগুলো তৈরি করে ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু স্বাধীনতার স্বাদ ক্ষণস্থায়ী। নতুন নামের রাষ্ট্র নতুন কায়দায় পুরোনো খেলা চালিয়ে যায়। পাকিস্তান আমলে অর্জিত অধিকারগুলো একে একে যেভাবে কাটা পড়েছে, প্রবীণেরা অনেকে বলতে থাকেন যে আগেই তো ভালো ছিলাম। পাকিস্তান কোনো অধিকারই আপসে দেয়নি। রক্তপাত হয়েছে, ত্যাগের বন্যা বওয়াতে হয়েছে। এখন আবার আমাদের বলতে হচ্ছে, চাকরি দাও, জিনিসপত্রের দামে আগুন নেভাও, জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করো, ভবিষ্যতের আশা কেড়ে নিয়ো না। কারা আর বলবে, ছাত্রছাত্রীরাই বলছে। অনিশ্চিত জীবিকার ভয়ে তারা কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নামে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় ভ্যাট বসানোর বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। সড়কে দুর্ঘটনা নামক কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কিশোর-কিশোরীদের নিষ্কলুষ বিদ্রোহকেও পিটিয়ে ঠান্ডা করা হলো। এত নির্মমতা সয়েও আবার তারা বাসে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন করছে। রাজনীতি তারা হয়তো বোঝে না, কিন্তু তাদের আন্দোলনগুলো একটা সত্য জানাতে চাইছে যে সড়কে গণতন্ত্র চাই। সড়কে জুলুম ও ভাড়ার নামে শোষণ চলতে থাকা মানে সড়ক আসলে খুল্লামখুল্লা স্বৈরতন্ত্রের কবলে। তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে বাসের ভাড়া বাড়ানো হলো। একে অনেকে বলেছেন 'নিয়মসংগত' লুণ্ঠন। সেই অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো ভাড়ার অর্ধেক নিতে বলছে তারা। এতে লোকসান হবে না বাসমালিকদের। বাসে অল্প কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর ভাড়া অর্ধেক নেওয়া হলেও বাকি সবার পকেট কাটার জন্য 'গেটলকের' ওপেন পকেট ব্যবস্থা তো থাকছেই। এ দেশের ছাত্রসমাজকে স্তিমিত করে ফেলা হয়েছে। তাদের ভেতর থেকে তৈরি করা হয়েছে কিংবা সেই পরিবেশ জারি রাখা হয়েছে, যেখান থেকে তৈরি হয় কিশোর গ্যাং। মাফিয়াতন্ত্রের পিপীলিকা বাহিনী এই কিশোর গ্যাংকে দিয়ে অনেক কিছুই করানো হয়। তাদের বাইরে বারবার সারল্যের জেদ আর মর্যাদার রোখ নিয়ে রাজপথে হাজির হয় শিক্ষার্থীরা। জানিয়ে যায়, কেবল হাফ ভাড়ার পাস নয়, ফুল মানুষের জীবনই চায় তারা। অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক ভেড়ার জীবনে অর্ধেক ভাড়ার চেয়ে বেশি কোনো দাবি তারা কীভাবে করবে, যখন দেশের শিষ্ট-ভদ্র নাগরিকেরা মানুষের উপার্জনে অন্যায় হাত বসানো মেনে নিয়েছে! যেমন মেনে নেওয়া হয়েছিল কিশোর আন্দোলনের ওপর বলপ্রয়োগের ওপেন কসরত। ফারুক ওয়াসিফ লেখক ও সাংবাদিক []
8
সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেছেন, সুনামগঞ্জে বোরো ফসল রক্ষায় এবারো ১৩২ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় প্রতি বছর ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণের জন্য এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। অতীতে ঠিকাদারি প্রথায়ও এত বরাদ্দ ছিল না। বরাদ্দ কম থাকার পরও প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে কাজ নিয়ে ঠিকাদাররা কাজ করে লাভও করতেন। বাঁধের কাজে অনেকগুলো খাত থাকে এবং কাজের ভাগ অনুযায়ী বরাদ্দ থাকে। যেমন মাটি কাটার বাইরেও কম্প্যাকশন, ঘাস লাগানো ইত্যাদি কাজে আলাদা বরাদ্দ বাঁধের সাথেই ধরা থাকে। এ বছর অল্প সময়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে অধিকাংশ বাঁধে কম্প্যাকশন এবং ঘাস লাগানো হয়নি। প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব এসব তদারকি করা। কম্প্যাকশন না করে ঘাস না লাগিয়ে যেন এসবের টাকা কাউকে না দেয়া হয়। করোনাকালের সুযোগে এসব আড়াল করে বাঁধের অর্থ প্রদানে যেন হাজার হাজার কোটি টাকার নিরব দুর্নীতি না হয়। যতটুকু কাজ হয়েছে ততটুকুর বিল দেয়া হোক। পানিতে বাঁধ তলিয়ে যাবার আগেই সরেজমিন তদন্ত হোক। সৎ, যোগ্য কর্মকর্তাদের দিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত টিম পাঠানো হোক। বাঁধের অর্থ প্রদানে দুর্নীতি বন্ধ করা হোক। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে এই বক্তব্য তুলে ধরেন। পীর মিসবাহ আরও লেখেন, আগে ঠিকাদারি পদ্ধতিতে এসব বাঁধ নির্মাণ করতো পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০১৭ সালে চৈত্র মাসে আগাম বন্যায় ফসলহানী হয়। ফসলহানীর পর বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার পর ঠিকাদারি পদ্ধতি বাতিল করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়। বাঁধ নির্মাণের দায়িত্বে আসেন জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। জেলা প্রশাসন বাঁধ তদারকির জন্য কমিটিতে বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ
6
ব্রহ্মপুত্র নদ ও ঘাঘট নদীর পানি কিছুটা কমলেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী অঞ্চল এবং ২৫৫ টি চরে ১ লাখ ৩২ হাজার বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শুক্রবার বিকেলে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১০৯ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে গরু-ছাগল নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য এই মুহূর্তে দরকার শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি। গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী, ফুলছড়ি উপজেলার ভাষারপাড়া, সৈয়দপুর ও মাঝিপাড়া এলাকায় ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোথাও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কিংবা কোন এনজিওর পক্ষ থেকে টিউবওয়েল ও অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে ওইসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানুষের পেটের পীড়াসহ পানিবাহিত নানা রোগ দেখা দিয়েছে।বিশেষ করে পুরুষ মানুষ যেখানে সেখানে প্রকৃতিক কাজ সাড়তে পারলেও নারী, কিশোরী এবং বৃদ্ধারা বিপাকে পড়েছেন। মহিলাদের পয় নিস্কাশনের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এছাড়া বাঁধে ও উঁচু স্থানে আশ্রিত গবাদি পশুরও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান, গত ২৬ জুন থেকে প্রথম দফা বন্যা ও বর্তমানে দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলার সুন্দরগঞ্জ ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার জন্য এ পর্যন্ত ৪১০ মেট্রিক টন চাল, জিআর ১৯ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা ও শুকনা খাবার ৩ হাজার ৬০০ প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
6
বেশ ধুমধাম করেই গত বছরের নভেম্বরে ইতালিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন বলিউডের সাড়া জাগানো জুটি রণভীর সিং ও দীপিকা পাডুকোন। হাই প্রোফাইল সেই বিয়েতে নজর ছিল শোবিজ জগতের সবার। তবে বিয়ের পর স্ত্রী দীপিকার কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণকারী কনডমকে না বলে দিয়েছেন রণভীর সিং। জানা গেছে, কনডম প্রস্তুতকারক সংস্থা ডিউরেক্স এর সাথে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিল রণভীর সিংয়ের। কনডমটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বিজ্ঞাপনেও অংশ নিতেন তিনি। তবে সম্প্রতি ডিউরেক্সের সাথে সে চুক্তির অবসান ঘটালেন রণভীর সিং। কারণ হিসেবে জানান, দীপিকা আর চান না কনডম কোম্পানির হয়ে বিজ্ঞাপনে অংশ গ্রহণ করুক রণভীর। তাছাড়া হাই প্রোফাইল বিয়ে, সিম্বা ও গালি বয় ছবির সাফল্যের পর বিজ্ঞাপনের বাজারেও উচ্চমূল্য চলছে রণভীরের। সেই উচ্চমূল্যে ডিউরেক্সও আর রণভীরকে ধরে রাখতে পারছে না। যখন শুধু দীপিকার বয়ফ্রেন্ড ছিলেন রণভীর তখন থেকেই দীপিকার কথার বেশ গুরুত্ব দিতেন এই সুপারস্টার। এই নায়িকাকে বৌ করে ঘরে নিয়ে আসার পর সেই গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দীপিকা কোন অনুরোধ করবে আর রণভীর সেটা শুনবে না এটা ভাবাই যায় না। কনডম প্রস্তুতকারক সংস্থা ডিউরেক্সে র সঙ্গে চুক্তি ভেঙে ফেলা তারই একটা বড় উদাহরণ।
2
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়র (খুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধুর আদর্শ শুধু মুখে বললে হবে না, অন্তরে ধারণ করতে হবে। আজকের দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে যে, আমরা মানুষ, আমরা বঙ্গবন্ধুর মতো সহনশীল হব, দেশপ্রেমিক হব। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।'খুবিতে আজ বৃহস্পতিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।উপাচার্য বলেন, 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার মানুষ। তাঁর অন্যতম আদর্শ ছিল সহনশীলতা ও সত্যবাদিতা। তিনি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসতেন। দেশের মানুষও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতেন। তিনি জনমানুষের ভালোবাসার এই প্রতিদান তাঁর জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন।'অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজসেবী ও আইনজীবী এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে মৌলবাদের উত্থান হয়েছিল। হত্যার পরও তাঁকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা জানত না যে, জীবন্ত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধু হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী।'আলোচনা সভা শেষে দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।এর আগে সকাল ৯টায় শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবনের সামনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু করে হাদী চত্বর ঘুরে কালজয়ী মুজিব প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
6
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র শিক্ষার্থী আনুশকা রায় আন্দোলন স্থগিতের কথা জানায়। আনুশকা সাংবাদিকদের জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষকরা। এছাড়া আইনি বিষয়গুলো আইনের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া শুক্রবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে সব শিক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান জানায় আনুশকা। গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল অরিত্রি অধিকারী (১৫)। ফোনে নকল থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে তারা স্কুলে যান এবং মেয়ের হয়ে দফায় দফায় ক্ষমা চান। কিন্তু এরপরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রি অধিকারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওইদিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে ভিকারুননিসারবেইলি রোডেরক্যাম্পাস। বুধবারও চলে আন্দোলন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচণার দায়ে তাকে শাস্তি প্রদানসহ ছয় দফা দাবি জানায়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালেও ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থী তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপে তারা সন্তুষ্ট। তবে পরিচালনা কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ এবং অরিত্রির বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য তাদের কাছে কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টিও কার্যকর দেখতে চায় তারা। শিক্ষার্থীরা জানায়, দাবিগুলো পূরণ না হলে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেবে না। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভিকারুননিসা গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়ে অরিত্রির বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, 'আমরা মর্মাহত। আমরা এ ঘটনায় জন্য অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাই। প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে আমার পদত্যাগের প্রয়োজন হলে আমি করবো।' এর আগে অরিত্রি অধিকারীকে 'আত্মহত্যায় প্ররোচণার' অভিযোগ তার বাবার করা মমালায় বুধবার রাতে উত্তরা থেকে অরিত্রির শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসনা হেনাকে ঢাকা মুখ্য নগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় করা 'আত্মহত্যায় প্ররোচনার' মামলায় হাসনা হেনার পাশাপাশি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আরাকে আসামি করা হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুধবার সন্ধ্যায় ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় ওই তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়। তার আগে বুধবার দুপুরে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সারাংশ তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এতে বলা হয়, অভিযুক্তরা মানসিকভাবে অরিত্রিকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এ জন্য কমিটি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
6
হংকংয়ের নিলাম প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টি 'পিংক প্রমিজ' নামের একটি গোলাপী রঙের হীরা নিলামে তুলছে।১৪.৯৩ ক্যারেটের এ হীরার মূল্য ধরা হয়েছে ৪২ মিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা! আগামী ২৮ নভেম্বর 'পিঙ্ক প্রমিজ'কে নিলামে তোলা হচ্ছে। ক্রিস্টির এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এ যাবৎকালে বিক্রি হওয়া গোলাপী হীরাগুলোর মধ্যে পিঙ্ক প্রমিজ রঙ ও স্বচ্ছতার দিক দিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি। এ হীরা সচরাচর পাওয়া যায় না। এ জন্যই এটি এত দামি।সূত্র : চ্যানেল নিউজ এশিয়া
5
লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে এবার পেরুকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা। শুক্রবার ভোরে ঘরের মাঠে পেরুকে ১-০ হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠল মেসিরা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ১-০ গোলের লিড নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪২তম মিনিটে নাহুয়েল মলিনা পাসে গোল করেন স্ট্রাইকার লাওতারো মার্টিনেজ। বিরতির পর কিছুটা ধার কমে যায় আর্জেন্টিনার আক্রমণের। সেই সুযোগে ম্যাচের ৬২তম মিনিটে পেনাল্টিও পেয়ে যায় পেরু। তবে পেরু সেই পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়। বিডি প্রতিদিন/কালাম
12
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় অতিরিক্ত মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে শনিবার বিকেলে মারা গেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান বাবু। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগ নেতা মহসিন ও গাড়িচালক তোফাজ্জল হোসেনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিসান, রাহিম, হৃদয়সহ আরও ছয়জনকে ঢাকার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিবারের দাবি খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। মদ্যপানে মৃত্যুর খবরটি সঠিক নয় বলে দাবি করেছে পরিবার। ছাত্রলীগ নেতা বাবুর মৃত্যুর খবরে শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বাড়িতে আসেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুসহ জেলা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা শিল্পাঞ্চল এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমের ছোট ভাই জাহিদ হাসান বাবু, চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও পিরোজপুর জৈনপুর গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন, কাদিরগঞ্জ গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা মহসিনসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল গত বৃহস্পতিবার রাতে সংঘবদ্ধভাবে মদপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের সোনারগাঁ ও ঢাকার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তোফাজ্জল ও মহসিন মারা যান। শনিবার সকালে তাদের দাফন করা হয়। এ ঘটনার পর শনিবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাহিদ হাসান বাবু। তাকে রাত সাড়ে ৮টায় মেঘনা শিল্প নগরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এলাকাবাসী জানায়, অসুস্থ হওয়ার পর সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে তারা ১০ থেকে ১২ জন বন্ধু মিলে স্পিড ও বিভিন্ন খাবার খায়। ওই খাবারের বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। মদপানে তাদের মৃত্যু হলে সঙ্গে সঙ্গে সমস্যার সৃষ্টি হতো। ২৪ ঘণ্টা পর তাদের বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত মদ্যপানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও চারজন অসুস্থ অবস্থায় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
6
১১৬ জন শীর্ষ আলেমদের বিরুদ্ধে দুদকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া গণকমিশনের কার্যক্রমের নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম'র চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। আজ এক বিবৃতিতে ববি হাজ্জাজ বলেন, সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কথিত 'গণকমিশন' দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করল? দেশকে অস্থিতিশীল করতে সবসময় কৌশলে ইসলাম এবং উলামায়ে কেরামকে টার্গেট করা হয়। অস্বীকার করার উপায় নেই, ঐতিহাসিকভাবেই কওমি মাদরাসা এবং ওয়াজ মাহফিল এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আবেগ এবং অনুভূতির স্থান। আমরা মনে করি, ওয়াজ মাহফিলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করা হয় কিনা সেটার তদন্ত করতে হলে শীর্ষ আলেমদের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা যেতে পারে। কিন্তু কোনপ্রকার এখতিয়ার এবং যোগ্যতা ছাড়া বিতর্কিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিশন ঢালাওভাবে দেশের শীর্ষ আলেমদের অপমান এবং অপদস্ত করতে যে রিপোর্ট দুদকে জমা দিয়েছে সেটা ধর্মীয় উষ্কানির শামিল তিনি গণকমিশনের দেশের প্রচলিত আইনে ধর্মীয় উষ্কানি দেবার অপরাধে বিচারের দাবি জানান।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
9
আগামী ১২ মে খুলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন ক্লাসের আগে সমাবেশসহ সাত নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। সোমবার রাতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো : ১. এক শিফট বিশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে শনিবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ২টা ২৫ পর্যন্ত (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি সকাল ৯টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত) শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম চলবে। ২. দুই শিফটের বিদ্যালয়গুলোতে শনিবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি সকাল ৯টা থেকে ১১ টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত) শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম চলমান থাকবে। ৩. এক শিফটবিশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি কার্যক্রম শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১২টা এবং দুই শিফট বিশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলবে। ৪. এক শিফট বিশিষ্ট বিদ্যালয়গুলো দৈনিক সমাবেশ সকাল ৯ থেকে ৯ টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত এবং দুই শিফট বিশিষ্ট বিদ্যালয়গুলো সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১১ টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করতে হবে। ৫. প্রধান শিক্ষক বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে রুটিন প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসারের অনুমোদন নেবেন। ৬. ঢাকা মহানগরীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময়সূচির ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগের ক্লাস রুটিন অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। ৭. শিখন ঘাটতি পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।ডিপিই থেকে এ নির্দেশনাগুলো পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর করতে বলা হয়েছে।সূত্র : বাসস
1
সৌদি আরব থেকে বোনের মৃতদেহ দেশে আনার জন্য সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করেছেন ভাই আক্কাস মিয়া। আজ মঙ্গলবার করা আবেদনে জানিয়েছেন, বোনের লাশ পেতে দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কোনো লাভ হয়নি। বিমানবন্দরে লাশ এলে সেটি গ্রহণের জন্য আক্কাস মিয়ার মুঠোফোন নম্বর দিয়ে রেখেছেন। বোন মারা গেছেন ফেব্রুয়ারি মাসে, ভাই এখনো জানেন না তাঁর লাশটি কবে দেশে আসবে। লুঙ্গি পরা, মলিন শার্ট গায়ে এই ভাই আক্ষেপ করে প্রথম আলোকে বললেন, 'বোনের লাশ আনার জন্য কত জায়গায় যে দৌড়াইতাছি, কিছুই লাভ হইতেছে না।' বোনের ছবি আছে কি না, জানতে চাইতে শার্টের পকেটে হাত দিয়ে পরম যত্নে বোনের একটি ছবি বের করে দেখালেন। জানালেন, ২০১৯ সালে সৌদি আরবে যাওয়ার আগে পাসপোর্ট সাইজের ছবিটি তুলেছিলেন বোন। ৩৩ বছর বয়সী বোনের নাম ফাতেমা আক্তার। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। আর এ খবরটা ভাই আক্কাস মিয়া ও শরিফুল ইসলাম জানতে পেরেছেন প্রায় ১১ দিন পর। আক্কাস মিয়া বললেন, 'ফেব্রুয়ারি মাসেই আমার বোনের দেশে আসনের কথা ছিল। দালাল কয়, বোন নাকি আত্মহত্যা করছে। যে মানুষটা দেশে আসনের খুশিতে ছিল, সে ক্যান আত্মহত্যা করব?' আজ আক্কাস মিয়া ও শরিফুল ইসলাম কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে বসে বোনের লাশ দেশে আনতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। চার ভাই-বোনের মধ্যে ফাতেমাই সবচেয়ে বেশি সুস্থ ছিলেন বলে জানালেন দুই ভাই। বললেন, ঠান্ডা মেজাজের বোনটি আত্মহত্যা করেছে-এটা তাঁরা মানতে পারছেন না।শরিফুল ইসলাম জানান, ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফোনে ফাতেমার সঙ্গে কথা হয়। তখন ফাতেমা জানিয়েছিলেন, মালিকের কাছে দেশে যাওয়ার টিকিট চেয়েছেন বলে তিনি খুব রাগারাগি করছেন। মালিকের বউ তাঁকে মারতে আসছেন জানিয়ে পরে আবার কথা বলবেন বলে ফোনের লাইন কেটে দিয়েছিলেন। শরিফুল ইসলাম বলেন, 'কী হইছে বোন, কান্দো ক্যান-ফোনেই জানতে চাইছিলাম। বোন তাড়াতাড়ি ফোনের লাইন কেটে দেয়। তারপর কতবার রিং হইছে, বোন আর ফোন ধরে নাই।' স্থানীয় দালালের কাছে বোনের খবর জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যেতে থাকেন। বোন জীবিত না মৃত-এ খবর জানতে চেয়ে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর মডেল থানায় দালালের নামে সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন দুই ভাই। এরপর গ্রামের মেম্বারসহ মুরব্বিদের নিয়ে দালালের বাড়িতে গেলে চাপের মুখে দালাল বলেন, ফাতেমা মারা গেছেন। সৌদি মালিক টিকিট হাতে নিয়ে ফাতেমাকে ডাকতে গিয়ে দেখেন দরজা বন্ধ। পরে বন্ধ দরজা খুলে ঘরে ঢুকে দেখেন ফাতেমা আত্মহত্যা করেছেন। দুই ভাই জানালেন, মাস ছয়েক আগেও ভিডিও কলে বোন তাঁর ভাঙা আঙুল দেখিয়ে জানিয়েছিলেন, মালিকের বউ মেরেছেন। খেতে চাইলে খাবার না দেওয়াসহ অন্যান্য নির্যাতনের কথাও জানিয়েছিলেন ফাতেমা। তাই ফাতেমা আত্মহত্যা করেছেন-এটা তাঁরা মানতে নারাজ। দালালের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন কাগজপত্রেও ফাতেমা মারা গেছেন বলে উল্লেখ আছে। সৌদি আরব থেকে আরবিতে পাঠানো প্রাথমিক ফরেনসিক মেডিকেল রিপোর্টটি নিউ আল-মদিনা ট্রান্সলেশন সেন্টার থেকে অনুবাদ করিয়েছেন দুই ভাই। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাতেমার ঘাড়ের ওপরের দিক রক্তাক্ত ছিল, সেখানে রক্ত গড়িয়ে যাওয়ার প্রমাণ ছিল। এ ছাড়া তাঁর গায়ে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। অনুবাদ করা প্রতিবেদন বলছে, ফাতেমাকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়েছিল। অপশন ম্যানপাওয়ার সার্ভিস নামের রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ফাতেমা গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তাঁর দুই ভাই জানালেন, রাজধানীতে এই এজেন্সির অফিস, তাঁরা আজ পর্যন্ত মালিকের চেহারাও দেখেননি। অভ্যর্থনা কক্ষে কথা বলতে হয়, ফাতেমার লাশ দেশে আনার বিষয়ে পরে সব জানাবে বললেও ওই অফিস থেকে আর কিছু জানানো হয়নি। আর দালাল হিসেবে যিনি কাজ করেছেন, তিনি ফাতেমাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয়। এর আগে ফাতেমা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, সে কথা জানিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বললে বা এখন তাঁর লাশ দেশে আনার কথা বললে ওই দালাল খারাপ ব্যবহার করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, এটা কি মামার বাড়ির আবদার যে চাইলেও লাশ দেশে এনে দিতে পারবেন তিনি। ফাতেমার ভাই শরিফুল ইসলাম দরজির কাজ করেন। লেবাননে ছিলেন ছয় বছর। আরবি ভাষায় কথা বলতে পারেন। তিনি জানালেন, ফাতেমার মালিকের সঙ্গে আগে কথা বলে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, তখন তিনি খারাপ ব্যবহার করেছিলেন। ফাতেমার আরেক ভাই আক্কাস মিয়া ছোটবেলা থেকেই এক চোখে দেখতে না পান না। তিনি কাঁচামালের ব্যবসা করেন। এখন দুই ভাই তাঁদের কাজ ফেলে একবার সরকারের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, আরেকবার ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, স্থানীয় ব্র্যাকের অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন বোনের লাশ দেশে ফেরত আনার জন্য। দুই ভাই বললেন, বৃদ্ধ মা-বাবা বাড়িতে কান্নাকাটি করছেন। বোনের লাশটা দেখাতে পারলেও তাঁরা একটু শান্তি পেতেন। স্থানীয় ব্র্যাক অফিসের মাধ্যমে ফাতেমার দুই ভাই আজ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে বোনের মরদেহ দেশে আনার আবেদন জানিয়েছেন। জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মো. আমিনুল ইসলাম গত ৩ মার্চ ফাতেমার মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠানো অথবা স্থানীয়ভাবে দাফনের জন্য উত্তরাধিকারীদের মতামত জানতে চেয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠি দিয়েছিলেন। তাতে থানা ও হাসপাতাল সূত্রের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাতেমা ৩ ফেব্রুয়ারি মারা গেছেন। এই চিঠিতেই মৃতদেহ শনাক্তকারী ব্যক্তির নাম ও যোগাযোগের নম্বরসহ ওয়ারিশদের মতামত যৌক্তিক সময়ে পাওয়া না গেলে করোনায় সৃষ্ট সংকটে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে লাশ দাফন করবে বলেও জানিয়েছিল। ফাতেমার ভাই শরিফুল ইসলাম জানালেন, তাঁরা বোনের লাশ আনার জন্য প্রথমে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে কোনো উত্তর পাননি। পরে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করলেন। এর আগে এখান থেকে তাঁদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব থেকে লাশ আনতে সময় একটু বেশি লাগে, সেখানকার ১৪টি বিভাগের অনুমতি নেওয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা পোহাতে হয়। বৈধ শ্রমিকের লাশ দেশে আনার পর লাশ দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। প্রায় ১০ বছর আগে ফাতেমার বিয়ে হয়েছিল। তাঁর কোনো সন্তান হয়নি। ফাতেমা সাভারে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর স্বামী দরজির কাজ করতেন। স্বামী তাঁর গ্রামের বাড়িতে ঋণ করে জমি কিনেছিলেন। এ ঋণ শোধ করার জন্য স্বামী নিজেই ফাতেমাকে বিদেশে পাঠান। ফাতেমা বিদেশ থেকে কয়েক মাস পরপর স্বামীর কাছে ৩০ হাজার, ২০ হাজারের মতো করে টাকা পাঠাতেন। তবে ফাতেমা বিদেশ যাওয়ার পর থেকে স্বামী তাঁর ভাইদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ করতেন না। এমনকি ফাতেমা মারা যাওয়ার পরও তিনি যোগাযোগ করছেন না বলে অভিযোগ করলেন দুই ভাই। সর্বশেষ গত ৪ ফেব্রুয়ারি ফাতেমার স্বামী ফাতেমার ভাইদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপর থেকে মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ করে রেখেছেন। আক্কাস মিয়া বললেন, ফাতেমার স্বামী চান বা না চান, তাঁরা চান ফাতেমার লাশ দেশে আনা হোক। ফাতেমার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তও চান তাঁরা।
6
প্যারিসে আজ রাতে আক্ষরিক অর্থেই বসতে যাচ্ছে তারার মেলা। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও রিয়াল মাদ্রিদের শেষ ষোলোর ম্যাচ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের পারদও এখন তাই চূড়া স্পর্শ করেছে। শেষ আটের পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ই শুধু নয়, এই এক ম্যাচেই লুকিয়ে আছে খণ্ড খণ্ড অনেক লড়াই।মেসির পুরোনো 'শত্রু'ক্যারিয়ারের প্রায় পুরো সময়ে লিওনেল মেসির অর্জনে বড় বাধা হয়ে ছিল রিয়াল। বার্সেলোনা ছেড়ে মেসি পিএসজিতে আসার পর এই দ্বৈরথে ছেদ পড়েছে। রিয়ালের বিপক্ষে অম্ল ও মধুর দুই অভিজ্ঞতাই আছে আর্জেন্টাইন তারকার। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম লেগে সেই রিয়ালকেই এবার সামনে পাচ্ছেন মেসি। প্যারিসে আজ মেসি জ্বলে উঠলে শেষ আটের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে পিএসজির। রিয়ালের কৌশল ও খেলার ধরন সম্পর্কেও অন্যদের চেয়ে ভালো জানবেন মেসি। সব মিলিয়ে মরিসিও পচেত্তিনোর তুরুপের তাস হয়ে মাঠে নামবেন 'এলএম টেন'।রিয়াল ও এমবাপ্পের ভাবনাএই ম্যাচে চোখ থাকবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর। রিয়ালের হয়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠেছেন এমবাপ্পে। গত মৌসুমে সেই স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি তাঁর। তবে এমবাপ্পের রিয়ালে যাওয়ার পথে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোর জট খুলতে পারে আজ। এমবাপ্পে নিজেও বলেছেন, রিয়ালের বিপক্ষে দুই ম্যাচ দিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। একই কথা বলেছেন পিএসজির কোচ পচেত্তিনোও।নেইমারের ফেরাচ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে পিএসজিকে স্বস্তি দিচ্ছে নেইমারের ফেরাটা। চোটে পড়ে লম্বা সময় মাঠের বাইরে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে পাওয়া নিয়েও ছিল শঙ্কা। শেষ খবর হচ্ছে, রিয়াল ম্যাচের আগে ফিট হয়ে উঠেছেন তিনি। এখন 'এমএনএম' জুটির এক সঙ্গে জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় থাকবে পিএসজি। নেইমার শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, তা নিয়ে অবশ্য সংশয় রয়েছে। নেইমার ফিরলেও এই ম্যাচে পিএসজি পাবে না রিয়ালের ঘরের ছেলে সার্জিও রামোসকে। চোটে পড়ে ছিটকে গেছেন তাদের স্প্যানিশ সেন্টারব্যাক।বেনজেমা-মদরিচেই ভয়রিয়ালের হয়ে দারুণ সময় পার করছেন করিম বেনজেমা ও লুকা মদরিচ। প্যারিসের ম্যাচেও রিয়ালের ভরসা হবেন এই দুজন। তারকাবহুল পিএসজির বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পেতে হলে দুজনকেই জ্বলে উঠতে হবে।ম্যানসিটির সামনে লিসবনশক্তি, সামর্থ্য ও পরিসংখ্যানে লিসবনের চেয়ে বেশ এগিয়ে থাকা দল ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু নিজেদের মাঠে খেলা বলেই লিসবনকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই সিটির। আর চ্যাম্পিয়নস লিগ তো সব সময়ই 'জায়ান্ট কিলিং'য়ের বড় মঞ্চ।
6
আর সবার মতো জনপ্রিয় তারকারও আছে ব্যক্তিগত জীবন। যার অনেক কিছুই থাকে পাঠকের অজানা। তারকার অজানা কথাগুলো নিয়ে হাঁড়ির খবর ...। আজ হাঁড়ির খবর বললেন সাবিলা নূর শুনেছি, অভিনয় আপনার প্রাণ। সেই অভিনয়কে যদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, কী করবেন? অভিনয় নিষিদ্ধ হয়ে গেলে শিক্ষকতার কথা ভাবব। সবাইকে এমন শিক্ষা দেব, যাতে করে তারা অভিনয়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আন্দোলনে নামে। দেশের কোথাও গিয়ে দেখলেন কেউ আপনাকে চিনতে পারছে না ... একি এখানে দেশি কোনো ভাইবোন নেই নাকি! কেউই আমাকে চিনতে পারছে না! বিস্মিত মনে এ কথাই হয়তো মনে হবে। সেই সঙ্গে একটু কষ্টও হবে। তবে আমি নিশ্চিত, কষ্ট ভুলতে সময় লাগবে না। কারণ আমাকে কেউ না চিনলে মনের আনন্দে যেখানে-সেখানে ঘুরতে পারব। আপনাকে বোকা বানানো মন্ত্রটা বলবেন? আমি খুব নরম স্বভাবের, একটু আত্মকেন্দ্রিক, মিষ্টি মধুর কথায় সহজেই ভোলানো যায়। এই যা, কী বলে ফেললাম, আমি তো আসলেই বোকা! রাতে একা একা গাড়ি চালাচ্ছেন। নির্জন জায়গায় গিয়ে টায়ার পাংচার হয়ে গেল। আপনি টায়ার পরিবর্তন করতে জানেন না। কী করবেন তখন? কাছের মানুষদের ফোন দিয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করব। আমি নিশ্চিত ফোনে এটা শুনে যেভাবেই হোক, কেউ না কেউ আমাকে খুঁজে বের করবে। বড় কোনো বিপদে পড়েছি ভেবেই ছুটে আসবে। তারপর না হয় দেখব বিষয়টা তত ভয়ংকর নয়। ভূত দেখলে কী করবেন? একটা ভৌতিক গল্পের নাটকে ভূত না দেখেই যে ভয় পেয়েছিলাম, তাতে আমার ধারণা হয়েছে, বাস্তবে ভূত দেখলে সত্যি জ্ঞান হারাব। আপনার একটি গোপন কথা বলুন, যা কেউ জানে না। গোপন কথা এমনভাবে গোপন করে রেখেছি, যা কেউ জানে না। প্রথম দর্শনে প্রেম? আয়না, যার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে নানারূপে দেখি, নানারূপে নিজেকে আবিস্কার করি। জন্মদিনে কাকে দাওয়াত দেবেন না? নাম বললে চাকরি থাকবে না। শেষ কবে কার কাছে কানমলা খেয়েছেন? এই তো কয়েক দিন আগেই মায়ের কাছে কানমলা খেয়েছি। মা আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু। অথচ তার সঙ্গেই আমার সবচেয়ে বেশি খিটিরমিটির বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকে। কোন পরিস্থিতিতে পড়লে কাউকে চড় মারতে ইচ্ছা হয়? চড় কাউকেই মারতে চাই না। তবে কেউ আমার দুর্বলতার সুযোগ নিতে চাইলে ভীষণ রেগে যাই। নিজ হাতের রান্না কাকে খাওয়াতে চান? নিজেকেই খাওয়াতে চাই। কারণ আমি তো রান্নাই জানি না। ভাত রাঁধতে পায়েস হয়ে গেছে কিনা- সেটা যাচাই করার জন্যই নিজের রান্না নিজে খেতে চাই। যে শব্দগুলো দিনে বেশি ব্যবহার করেন? একি! যাহ, হায়রে, হুম, তাই। শ্রেষ্ঠ উপহার... অভিনয়ের সুবাদে যত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি এবং কাছের মানুষদের কাছে যা কিছু পেয়েছি সবই আমার শ্রেষ্ঠ উপহার। দুঃখের দিনগুলো ... ভেজা চোখ, মুখ কালো করে রাখা। ছুটিতে কোথায় বেড়াতে যেতে চান চিড়িয়াখানা নাকি শিশু পার্ক? চিড়িয়াখানা এমদমই না, শিশু পার্কেই যেতে চাই। রাইডে ওঠে গলা ছেড়ে চিৎকারের যে আনন্দ, বড় থেকে মুহূর্তে শিশু হয়ে যাওয়া- এসব শিশু পার্ক ছাড়াও আর কোথাও সম্ভব নয়।
5
ইয়েমেনের জনপ্রিয় হতে আনসারুল্লাহ আন্দোলনের প্রধান আব্দুল মালেক বদরুদ্দিন আল-হুথি বলেছেন, সামরিক উপায়ে তার দেশে এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে না। ইয়েমেনের ওপর চলমান বর্বর আগ্রাসন এবং অবরোধের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে হুঁশিয়ার করে তিনি একথা বলেছেন। ইয়েমেন সফররত জাতিসংঘের বিশেষ দূত মার্টিন গ্রিফিতের সঙ্গে বৈঠকে আব্দুল মালেক আল-হুথি আরো বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব যে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে তা এ পর্যন্ত চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, সামরিক উপায়ে ইয়েমেনে এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে কোনভাবে শান্তি আসবে না। পরে গণমাধ্যমকে দেয়া এক বিবৃতিতে আনসারুল্লাহ আন্দোলনের মুখপাত্র আব্দুস সালাম এসব কথা জানান। স্টকহোমে সই হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি মরেজমিনে দেখার জন্য মার্টিন গ্রিফিথ বর্তমানে ইয়েমেন সফর করছেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
12
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ঐচারমাঠ গ্রামে হিন্দু সেঁজে বিয়ের আট বছর পর স্ত্রী'র কাছে ধরা খেয়ে প্রতারক ইউসুফ আলী ওরফে ইমন ঘোষ এখন কারাগারে। ইউসুফ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার তারালিয়া গ্রামের কুরুশ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে প্রথম স্ত্রী তাপসী বাদী হয়ে ইমনকে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ইমনকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন। তাপসী ঐচারমাঠ গ্রামের প্রয়াত অটল বাড়ৈর মেয়ে। গত চার বছর আগে প্রথম স্ত্রী তাপসীর বিনা অনুমতিতে ইউসুফ পূর্বের মতো নিজের পরিচয় ও ধর্ম গোপন রেখে একইভাবে ইমন ঘোষ পরিচয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার একই ইউনিয়নের তালতারমাঠ গ্রামের অতুল বেপারীর মেয়ে বৃষ্টি বেপারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে তাকে বিয়ে করে। এরপর পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের সুপেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে দ্বিতীয় স্ত্রী সাথে নিয়ে বসবাস শুরু করে ইমন ওরফে ইউসুফ। প্রতারণার ঘটনায় মামলা দায়েরের পরপরই থানা পুলিশ ইউসুফকে গ্রেফতার করে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
প্রতিটি সম্পর্কেই কখনও না কখনও কথা কাটাকাটি বা ঝগড়াঝাঁটি হয়েই থাকে। তবে সব সময় ঝগড়া সম্পর্কের জন্য যে খারাপ, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় ঝগড়ার কারণে সম্পর্কের বুনিয়াদ আরও মজবুত হতে পারে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ঝগড়া না হওয়ার থেকেও বেশি প্রয়োজন দুজনের ভালো বোঝাপড়া। তাই ঢাকা ট্রিবিউনের পাঠকদের জন্য সম্পর্কের ভিত কীভাবে আরও মজবুত করা যায় যে বিষয়ে কয়েকটি বিশেষ টিপস- - ঝগড়া করলে সম্পর্ক ভেঙে যায় এমন ধারণা বাদ দিতে হবে। সঙ্গী কোনো বিষয় নিয়ে সংশয়ে থাকলে বা আপত্তি জানালে দুজনে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন। আলোচনার মধ্যে হয়তো কথা কাটাকাটিও হবে, কিন্তু একবার বিষয়টি মিটে গেলে সম্পর্কের গভীরতা আরও বাড়বে। - পরস্পরের প্রশংসা করুন। আপনার সঙ্গী যদি জানেন আপনার কাছে তার গুরুত্ব কতটুকু তাহলে হাজার ঝগড়াতেও সম্পর্ক নষ্ট হবে না। - সম্পর্কের মাঝে সমস্যা আসতেই পারে। চুপ করে না থেকে যত দ্রুত সম্ভব সেগুলো মিটিয়ে ফেলুন। প্রথমে কে সমাধান করতে এগিয়ে এলো না ভেবে আপনিই প্রথমে কথা বলুন। সম্পর্ক যখন দুজনের তখন আপনারও কিছু দায়িত্ব আছে। - সঙ্গীর সমালোচনা করবেন না। তাকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করবেন না। এতে সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়। - দিন শেষে একসঙ্গে কিছু সময় উপভোগ করুন। একটু হেঁটে আসুন, একসঙ্গে রান্না করুন, সারাদিন কে কী করলেন সেগুলো নিয়ে গল্প করুন। অর্থাৎ দুজনকে কিছুটা সময় দিন। - একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রাখুন, সবকিছু ইতিবাচকভাবে নিতে শিখুন। দেখবেন ঝগড়ার ইতিবাচক দিকও বুঝতে পারবেন।
5
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী স.ম. রেজাউল করিম বলেছেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬২ হাজার ফ্ল্যাট নিমার্ণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেরাণীগঞ্জে কৃষিবিত্তিক নগর গড়ে তুলতে 'কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন' আবাসন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, রাজউকের উত্তরা তৃতীয় ফ্ল্যাট নিমার্ণ প্রকল্পে ৬ হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট নিমার্ণ সম্পন্ন হয়েছে। জিলমিল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৭২০ ফ্ল্যাট নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সোমবার ( ২৭ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মমতাজ বেগমের ( মানিকগঞ্জ-২) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী স.ম. রেজাউল করিম আরো জানান, জাতয়ি গৃহায়ন কতৃপক্ষ দেশের ৩৫ জেলায় ৬৫টি হাউজিং এস্টেটে ২৭ হাজার ৮৮টি আবাসিক প্লট, ১ হাজার ৬৯টি বাণিজ্যিক প্লট, ৪৩০টি প্রাতিষ্ঠানিক প্লট, ৬১৪টি শিল্প প্লট-এর সংস্থান রয়েছে। এছাড়া ১৪ জেলায় ৩৩টি প্রকল্পের অধীনে ২ হাহাজর ৫৯১আবাসিক প্লট, ৭ হাজার ১৮৯টি ফ্ল্যাট প্রকল্প ও ৮১৯টি বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পুরানো ঢাকার নাগরিক সমস্যা সমাধানে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী স.ম. রেজাউল করিম সংসদকে জানান, পুরানো ঢাকার নাগরিক সমস্যা সমাধানে সরকার আরবান রিডেভেলপমেন্ট নামে নগর পুনঃউন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এ সংক্রান্ত সাতটি এলাকা চিহ্নিত করে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে হাজারীবাগ ট্যানারী এলাকাকে একটি পরিকল্পিত মিশ্র এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের নগর পুনঃউন্নয়ন প্রকল্প বাংলাদেশে নতুন হওয়ায় এই বিষয়ে একটি ধারণা গ্রহণ করতে কারিগরি ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় সাধনের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরো জানান, রাজউকের চলমান ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (২০১৬-২০৩৫) নগর পুনঃউন্নয়নের ধারণাপত্র বাস্তবায়ন কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
6
শক্তি-সামর্থ্যে সুইডেনের থেকে অনেক এগিয়ে স্পেন। স্প্যানিশদের ফিফা রেংকিং ৬ এবং সুডেনের ১৮। সেই স্পেনকেই রুখে দিয়েছে সুইডিশরা। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে আজ দুদলের ম্যাচটি ড্র হয়েছে গোলশূন্যভাবে। তাতে দুদলই পেল এক পয়েন্ট করে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের যৌথভাবে সবচেয়ে সফল দল স্পেন। জার্মানির মত সর্বোচ্চ তিনবার ট্রফি জিতেছে তারা। ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়নরা আজ সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের ইউরো যাত্রা শুরু করে। স্পেন কোচ লুইস এনরিকে আক্রমণভাগে আলভারো মোরাতার সঙ্গে স্থান দেন দানি অলমো ও পাও তোরেসকে। তবে কেউই নামের প্রতি তেমন সুবিচার করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত জেরার্ড মরেনোরা এসেই স্পেনকে দেখাতে পারেননি গোলের মুখ। স্পেনের এস্তাদিও লা কারতুজায় ১৬তম মিনিটের মাথায় প্রথম বলার মতো আক্রমণ করে স্পেন। প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষক তা ফিরিয়ে দিয়ে হতাশ করেন স্পেনকে। আক্রমণ হোক কিংবা বল দখল, দুই ক্ষেত্রেই বিস্তর আধিপত্য দেখিয়েছে সার্জিও রামোসবিহীন দল। তবে তা ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। গোলশূন্য ড্রয়ের মাধ্যমেই থামতে হয়েছে উভয় দলকে। সুইডেন এদিন দলে পায়নি বড় তারকা দিজান কুলোসেভস্কিকে করোনা ভাইরাসে পজিটিভ হওয়ার কারণে এ ম্যাচে খেলতে পারেননি জুভেন্টাস মিডফিল্ডার।
12
কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দেশে উত্তম কৃষি চর্চা নীতিমালা (জিএপি) প্রণয়ন করা হয়েছে; যা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষ থেকে অনলাইনে সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি) আয়োজিত এবং কোয়ালিটি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (কিউসিআই) সহযোগিতায় দু'দিনব্যাপী 'ফলমূল ও শাকসবজির সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া ও গ্যাপ শনাক্তকরণ' শীর্ষক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে খাদ্য উৎপাদনে প্রশংসনীয় অগ্রগতি হলেও পুষ্টিকর খাবারে মানুষের কম প্রবেশযোগ্যতা এখনও উদ্বেগের কারণ। অনেক ক্ষেত্রে অপুষ্টি এখনও প্রবল। সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. বক্তীয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ভারতের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এগ্রিকালচার কমিশনার ড. এসকে মালহোত্রা, ভুটানের কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব দাশো রিনঝিন দর্জি এবং সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (উদ্যানতত্ত্ব) ড. নাসরিন সুলতানা বক্তব্য দেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ ও বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
6
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ঝুঁকিপূর্ণ ভুইয়াগাঁতী সেতুর নিচে সওজের 'বিকল্প রাস্তা' নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার থেকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক দিয়ে বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নওগাঁসহ উত্তরাঞ্চলের ১১ জেলার যানবাহন ফের চলতে শুরু করেছে। প্রচণ্ড শীত ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই বৃহস্পতিবার দিনভর কাজ করে বিকল্প রাস্তাটি নির্মাণ করেন সওজের লোকজন। বিকল্প/ডাইভারশন রাস্তাটি নির্মাণের ফলে যাত্রী ও চালক বিড়ম্বনা কমেছে। এর আগে বিকল্প রাস্তাটি না থাকায় অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছিল ঢাকা থেকে উত্তরের ওইসব জেলার যাত্রীদের। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের 'ভুইয়াগাতী সেতু'র ওপর দিয়ে যানবাহন পারাপার গত বুধবার বিকেল থেকে বন্ধ করে সওজ। ভারী যানবহনের চাপে গত শতকের ষাটের দশকে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির উপরিভাগে ও নিচের কয়েকটি অংশে গত দু'সপ্তাহ আগে ফাঁটল দৃশ্যমান হয়। সেতুর পাটাতন দু'সপ্তাহ আগেই ২ থেকে ৫ ইঞ্চি দেবে যায়। বুধবার বিকেলে পাটাতন আরও ২-৩ ফুট দেবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় সওজ। বিকল্প পথে চলতে থাকে উত্তরাঞ্চলের যানবাহন। হাটিকুমরুল-বনপাড়া-নাটোর মহাসড়ক দিয়ে বগুড়া বা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা ও ধানগড়া বাজার এবং কাজিপুরের সোনামুখী-ধুনট রাস্তা দিয়ে ঘুরে যায় যানবাহন। অন্যদিকে ভুইয়াগাঁতী সেতুটি বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের যানবাহন হাটিকুমরুল-বনপাড়া-নাটোর মহাসড়ক হয়ে বগুড়া দিয়ে যাওবার কারণে একদিকে যেমন ধীরগতির সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে যাত্রী বিড়ম্বনা বাড়ে। হাটিকুমরুল-বনপাড়া-নাটোর মহাসড়কের খালকুলা থেকে তাড়াশের মহিষলুটি হয়ে মান্নাননগর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশের খানাখন্দে গত ক'দিন থেকে সওজের মেরামত কাজের কারণে একটি লেন বন্ধ থাকে। হাটিকুমরুল-বনপাড়া-নাটোর মহাসড়ক দিয়ে উত্তরের যানবাহন চলাচল করায় যানজটের মাত্রাও বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে দ্বিগুণ বেড়ে যায়। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খায় হাইওয়ে, জেলা ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম পিকে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বলেন, ষাটের দশকে নির্মিত সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ায় বুধবার বিকেল থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দিনভর পাশের সেতুটির নিচে ডাইভারশন বা বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে ডাইভারশন দিয়ে উত্তরাঞ্চল ও ঢাকার যানবাহন আবারও চলতে শুরু করেছে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. আকতারুজ্জামান বলেন, ডাইভারশন বা বিকল্প রাস্তাটি তড়িঘড়ি নির্মাণ করা হলেও এখনও কমপ্যাকশন ঠিকমত হয়নি। শুক্রবার সকালে একটি ভারী ট্রাক মাঝপথে ফেঁসে যায়। এরপর যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে রেকার দিয়ে সরানোর কারণে বিকেল থেকে অবস্থা স্বাভাবিক হয়।
6
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কূটনীতির সমালোচনা করে প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কখনো ব্যক্তিগত হয় না। লাহোরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বাড়ি যাওয়ার কোনো প্রয়োজনই ছিল না মোদির। আত্মজীবনীর চতুর্থ ও শেষ খণ্ড দ্য প্রেসিডেনশিয়াল ইয়ার্স: ২০১২-২০১৭তে এভাবে মোদির সমালোচনা করেছেন ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। গত মঙ্গলবার বইটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রণব মুখার্জি ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি গত বছরের ৩১ আগস্ট মারা যান। আর নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসেন ২০১৪ সালে। আফগানিস্তান থেকে দেশে ফেরার পথে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর মোদি আচমকাই লাহোরে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বাড়ি গিয়েছিলেন। এই আচমকা সফরের ঘোষণা মোদি নিজেই টুইট করে জানিয়েছিলেন। সেই সফর নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। এর কিছুদিনের মধ্যেই পাঠানকোটের ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে জঙ্গি হানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই আচরণ প্রণব মেনে নিতে পারেননি। আত্মজীবনীর শেষ খণ্ডে এর উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, 'নওয়াজ শরিফের বাড়ি যাওয়ার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। সেই সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যা ছিল, তাতে গায়ে পড়ে এই বন্ধুত্ব বা দৌত্য ছিল নিছকই অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক।' দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদেশি রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে ব্যক্তিগত রসায়নকে মোদি বরাবর গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। সম্পর্ককে ব্যক্তিগত স্তরে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। ব্যক্তিগত সখ্য স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছেন। কূটনৈতিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে বন্ধুত্ব স্থাপনের এই প্রচেষ্টা প্রণব অনুমোদন করেননি। মোদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে 'ভরসাযোগ্য বন্ধু' বলে অভিহিত করেছিলেন। তার উল্লেখ করে প্রণব লিখেছেন, 'আমি রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের বিরোধী। কারণ, তা কূটনৈতিক সম্পর্কের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে এই বন্ধুত্বের কোনো গুরুত্ব নেই। কূটনীতিতে কোনো সম্পর্কই ব্যক্তিগত হয় না।' এই প্রসঙ্গে প্রণব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর পারিবারিক রসায়নের উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'বাংলাদেশের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বও পুরোপুরি রাজনৈতিক। অবশ্যই শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তখন তিনি ভারতে ছিলেন। আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদি ব্যক্তিগত (বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে) সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে বড় বেশি বাড়াবাড়ি করেছেন। এ ধরনের সম্পর্ককে সত্যিকারের বন্ধুত্ব ভেবে নেওয়া ভুল ও অযৌক্তিক।' মোদির অনভিজ্ঞতা এর জন্য দায়ী বলে মনে করেন প্রণব। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বার কয়েক বিদেশ ভ্রমণ করলেও প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মতে, অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে বিশেষ ধারণা ছিল না। অনভিজ্ঞই ছিলেন। সেই কারণে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে একের পর এক যে ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অতীতে আর কেউ তেমন করেননি। ফলে সমালোচিত হয়েছেন। প্রণবের মতে, অনভিজ্ঞতার দরুন প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথমবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নওয়াজ শরিফসহ সার্ক সদস্যদেশের রাষ্ট্রনেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করেছিল। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়েও মোদি বাড়াবাড়ি করেছিলেন বলে প্রণববাবু মনে করেন। কারণ, তাঁর মতে, 'পাকিস্তানি আগ্রাসনের জবাবে সীমান্তে এমন ঘটনা আকছার ঘটে। ভারতীয় সেনা এমন ধরনের হামলা প্রায়ই চালিয়ে থাকে। এতটা বাড়াবাড়ি তাই না করলেও চলত। এতে ভারতের কোনো লাভ হয়নি।' পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে মোদিকে সম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রণব। লিখেছেন, 'ইমরান স্বাধীনতার পরে জন্মেছেন। তিনি নতুন প্রজন্মের রাজনীতিক। স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে মুসলিম লিগ যে ধরনের রাজনীতি করত, তার কোনো দায় ইমরান খানের নেই।' প্রণব লিখেছেন, 'ভারত সম্পর্কে ইমরানের অবস্থান কী, সে বিষয়ে আমাদের নিশ্চিত হওয়া দরকার। ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, ইমরানের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।' প্রধানমন্ত্রী মোদির কাজের ধরনের কিছু সমালোচনা প্রণব আত্মজীবনীর এই খণ্ডে করেছেন। মোদির কাজ করার ধরন তাঁর 'স্বৈরতন্ত্রী' বলে মনে হয়েছে। সেই কারণে তাঁকে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন। বলেছেন, বিরোধীদের হেলাফেলা না করে তাঁদের কথা বেশি করে শোনা উচিত। সংসদে আরও বেশি করে তাঁর উপস্থিত থাকা দরকার। সংসদ সুষ্ঠুভাবে চালনার প্রাথমিক দায়িত্ব পালনে মোদির ব্যর্থতার উল্লেখ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, সংসদকে ব্যবহার করে বিরোধীদের সন্তুষ্ট করার মধ্য দিয়ে দেশবাসীর কাছে তিনি সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে পারেন। এই ফোরামকে ব্যবহার করা প্রয়োজন। ইউপিএ (সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা) আমলে এই বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, সব সময় তিনি বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। বিভিন্ন বিষয়ে ইউপিএ ও এনডিএ (জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট) দুই শিবিরের অভিজ্ঞ নেতাদের মতামত নিতেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি আগে বলেছিলেন, 'সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্থিতিশীলতা দেয় ঠিকই, কিন্তু কাজ করতে হয় সবার সঙ্গে মিলেমিশে। সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়মই তা। এর উল্টো পথের পথিকদের ভোটাররা শাস্তি দিয়েছেন।'
3
দেশের কলকারখানাগুলোতে কী ধরনের ত্রুটি আছে তা পরিদর্শনে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার। কারখানা পরিদর্শনের জন্য জেলা পর্যায়ের ৩০০ কর্মকর্তার একটি তালিকা করা হয়েছে। তাঁদের ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে এসব কর্মকর্তাকে এক দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে একজন কর্মকর্তা কী কী বিষয় দেখবেন, প্রশিক্ষণে তা-ই শেখানো হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরের সপ্তাহ থেকে কর্মকর্তারা মাঠে নামবেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম গ্রুপের একটি কারখানায় গত ৭ আগস্টের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারান ৫২ শ্রমিক। অগ্নিকাণ্ডের পর জানা যায়, ওই কারখানায় বেশ কিছু ত্রুটি ছিল। সারা দেশে অন্য কারখানাগুলোর অবস্থা দেখতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। হাসেম গ্রুপের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পরপরই সরকার সারা দেশে ৪৬ হাজার কারখানা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়। বিডার তথ্য বলছে, কারখানাগুলো পরিদর্শনের জন্য এ পর্যন্ত ২৭টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটির সদস্য ১১ জন। এ কমিটিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন। কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে কোনো ধরনের ভুল যাতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এ প্রশিক্ষণ। আপাতত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের কারখানা পরিদর্শন করা হবে। পরে আরও কমিটি গঠন করে কলেবর বাড়িয়ে সারা দেশে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কারখানা পরিদর্শনের জন্য কর্মকর্তাদের মাঠে পাঠিয়ে দিলেই হবে না; পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে হবে বিল্ডিং কোড, ফায়ার অ্যালার্ম, ভবনে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ইত্যাদি ঠিক আছে কি না।জানা গেছে, কমিটির সদস্যের একটি করে চেকলিস্ট করে দেওয়া হবে। সেই চেকলিস্ট ধরে কারখানার মালিকদের প্রশ্ন করা হবে।
0
মিরপুরের উইকেট নিয়ে সমালোচনা অনেক আগেই আকাশ ছুঁয়েছে। এবারের বিপিএলের প্রথম পর্ব হচ্ছে মিরপুরেই। স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় মিরপুরের উইকেট। বিপিএলের প্রথম দুই দিনের চার ম্যাচের দিকে তাকালে দুই ধরনের ছবি দেখা যায়। দুপুরের ম্যাচে রান করতে সংগ্রাম করছেন ব্যাটাররা। আর দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিক চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি না হলেও রান উঠছে ভালোমতো।টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচ খেলেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলটির কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মনে করেন, মিরপুরের উইকেটে কোনো রহস্য নেই। টানা দুই দিন খেলার পর আজ বিরতি চলছে বিপিএলের। দলের অনুশীলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সালাউদ্দিন। সেখানে মিরপুরের উইকেট নিয়ে তিনি জানান, 'উইকেটে কোনো রহস্য নেই। এখানে আসলে শিশির একটা বড় ফ্যাক্টর। রাতের বেলায় উইকেটে যেহেতু শিশির পড়ে তখন বল ব্যাটে চলে যায়। এই কারণে সন্ধ্যার ম্যাচে স্কোরটা বেশি হচ্ছে।'এবারের বিপিএলে স্থানীয় তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়েছে কুমিল্লা। তানভীর ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন, মাহমুদুল হাসান জয়ের মতো সম্ভাবনাময়ী ক্রিকেটারদের দলে রাখার বড় ভূমিকা সালাউদ্দিনের। এই তরুণদের জন্য বিপিএলকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন সালাউদ্দিন, 'আমরা অনেক তরুণ ছেলেকে দলে নিয়েছি, যাদের ভবিষ্যৎ অনেক ভালো। তারা হয়তো ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হয়ে অনেক দিন খেলবে। তারা অনেক মেধাবী। এদের নিয়ে কাজ করা গেলে ভবিষ্যতে ভালো কিছু পাওয়ার আশা করা যায়।'
12
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইসলামের ওপর আক্রমণ করে নতুন করে ক্রুসেড শুরু করতে চায়। ফ্রান্সে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে অবমাননা করার কারণে যখন সারা বিশ্বের নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে তখন এই মন্তব্য করলেন এরদোয়ান। বুধবার তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি বা একে পার্টির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় এরদোয়ান বলেন, মহানবী (সা.) এর ওপর এই আক্রমণ আমাদেরই মর্যাদার প্রশ্ন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
সারের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, 'সারের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রস্তবের বিষয়ে আমি অবগত নই।' বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, সারে ২৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। কিন্তু বাজেটে বরাদ্দ আছে মাত্র ৯ হাজার কোটি টাকা। তাই কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত তহবিল না থাকায় এখন সারের দাম তুলতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সারের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাবনা এসেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সারের দাম বাড়ানোর কথা কে বলেছে? উনি (কৃষিমন্ত্রী) যদি ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন, সেটি আমার জানা নেই। আপনারা কৃষিমন্ত্রীর সাথে আলাপ করুন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দিন শেষে প্রতিটি সরকারি ব্যয়ের তদারকি করতে হয় অর্থ মন্ত্রণালয়কে। তিনি বলেন, যদি অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় কোনো মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে অর্থ মন্ত্রণালয়কে তা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ঘাটতি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের জন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন হলে তারা তাদের পণ্যের দাম বাড়ানোর চাপের সম্মুখীন হয়। অর্থমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত তিনি সারের দাম বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রস্তাব পাননি। তিনি আরো বলেন, কোন মন্ত্রণালয়ের জন্য কত অর্থের প্রয়োজন হবে তার হিসাবও তিনি করেননি। সূত্র : ইউএনবি
0
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্তের জন্য কথা বলতে চাইলে পুলিশের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে গেছেন চিত্রনায়িকা পরী মনি। গোয়েন্দা পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, মামলার বাদী হিসেবে পরী মনিকে আমরা ডেকেছি। তার বক্তব্য শুনবে পুলিশ। মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে সেসব বিষয় নিয়েও পরীমণির সঙ্গে কথা বলা হবে বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশের ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। পরীমণি ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সোমবার সাভার থানায় একটি মামলা করেন। সেদিন বিকালে ডিবি পুলিশ মামলার মূল অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে। রোববার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেন পরীমণি। পোস্টে তিনি বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
6
আবার বিয়ে করেছেন 'ব্ল্যাক উইডো' ছবির অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন। তাঁর নতুন বর কমেডিয়ান কলিন জস্ট। এটি ৩৮ বছর বয়সী কলিনের প্রথম ও ৩৪ বছরের স্কারলেটের তৃতীয় বিয়ে। এর আগে তিনি হলিউড অভিনেতা রায়ান রেনল্ডস এবং সাংবাদিক রোমেইন ডরিয়াককে বিয়ে করেছিলেন। ২০১৪ সালে স্কারলেট ও রোমেইনের ঘরে একটি মেয়ে জন্ম নেয়। জোহানসনের মুখপাত্র স্কারলেট ও কলিনের বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার এই যুগল অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিয়ের কাজটি সেরেছেন। ২০১৭ সালে রোমেইনের সঙ্গে বিচ্ছেদের আগে থেকেই স্কারলেট ও কলিনের প্রেম শুরু হয়। ২০১৯ সালের মে মাসে কলিনের বিয়ের প্রস্তাবে সাড়া দেন স্কারলেট। এবার লকডাউন শিথিল হতেই সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারলেন এ জুটি। এমনকি গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যায়নি তাঁদের বিয়ের একটি ছবিও। করোনা মহামারির কারণে সীমিত পরিসরে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ বিয়ে উৎসর্গ করা হয়েছে একটা মহান উদ্দেশ্যে। এ আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে ছিল মার্কিন স্বাস্থ্য সংস্থা 'সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন'। মহামারিকালে বৃদ্ধদের সাহায্যের জন্য অনুদান সংগ্রহের লক্ষ্যে এ খবর প্রকাশের দায়িত্ব দেওয়া হয় 'মিলস অন হুইলস'কে। নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয় ইনস্টাগ্রাম পোস্টে। বিয়ের খবর থেকে সংগৃহীত পুরো অর্থ খরচ করা হবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক কলিন জস্ট মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান 'স্যাটারডে নাইট লাইভ' অনুষ্ঠানের প্রধান সহকারী লেখক ও 'উইকেন্ড আপডেট' অনুষ্ঠানের সহসঞ্চালক। স্কারলেট বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা নারী তারকাদের একজন। তিনি দুবার অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছেন।
2
মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিভিন্ন সুবিধাভোগীর ইন্ধনে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের নথি গায়েব হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও একই ধরনের সন্দেহ করা হচ্ছে। এদিকে সিআইডি ২৯ নম্বর কক্ষে কর্মরত নয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।সিআইডির এক সূত্র বলছে, ২৯ নম্বর কক্ষ ও আশপাশের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) ছিল, যা দুই মাস ধরে অকেজো রয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ থেকে সিআইডি কোনো তথ্যই সংগ্রহ করতে পারেনি। এতে তারা ধারণা করছে, পরিকল্পিতভাবেই ফাইল সরানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সূত্র পায়নি সিআইডি।সিআইডি কার্যালয়ে দেখা গেছে, ফাইল গায়েব হওয়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বিতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার সিআইডির অতিরিক্ত উপসচিব-মহাপরিদর্শক ইমাম হোসেনের কক্ষে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। সিআইডির ধারণা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে মালামাল সরবরাহকারীরা ফাইল গায়েবের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাঁরা ওই দিক লক্ষ্য রেখেই তাঁদের তদন্তকাজ চালাচ্ছেন বলে সিআইডির একজন কর্মকর্তা জানান।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন শাখায় কর্মরত আরও দুই কর্মচারীকে সিআইডি ডেকে নিয়ে গতকাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।২৯ নম্বর কক্ষটিতে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) অধিশাখা, যুগ্ম সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা) ও যুগ্ম সচিবের (প্রশাসন) কার্যালয় রয়েছে। একই কক্ষের ভেতরে সহকারী সচিব (প্রশাসন) ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছাড়াও তাঁদের ১৫ জন স্টাফ রয়েছেন। এ কক্ষে পত্র গ্রহণ ও বিতরণ শাখাও রয়েছে। ওই কক্ষটিতে অনেক ধরনের লোকজনের যাতায়াত রয়েছে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সিআইডি ১২ জনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে। এদের প্রত্যেককে সিআইডিতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গত রোববার প্রথম দফায় ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার আরও দুজনকে সিআইডিতে ডেকে নেয়।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, নথি গায়েবের ঘটনাটি নিছক চুরি হিসেবে দেখছেন না তাঁরা। কারণ গত আগস্টেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের ফাইলটি গায়েব হয়। এরপর একসঙ্গে ১৭টি ফাইল গায়েব হওয়ায় তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন শাখা থেকে ১৭টি নথি গায়েব হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জিডিতে বলা হয়েছে, গত বুধবার (২৭ অক্টোবর) অফিস টাইমে নথিগুলো কেবিনেটে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে খোঁজ করে আর নথিগুলো পাওয়া যায়নি।
6
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে ইউপি সচিব ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মারধরের মামলা করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হোসেন জানান, দুপুরে দেয়াড়া গ্রামের বাড়ি থেকে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এলাকাবাসী জানায়, গত ২১ মার্চ সন্ধ্যায় ইউপি সচিবকে তার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে পরিষদের কক্ষে আটকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচার দাবিতে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিন তিন দিনের কর্মবিরতি ঘোষণা করে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি মো. ইকবাল হোসেন সচিব হিসেবে মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে চেয়ারম্যান তাকে রাতে অফিস করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। চেয়ারম্যানের অনুরোধে মাঝে মধ্যে তিনি রাতে অফিস করেছেন। ঘটনার দিন শরীর খারাপের কারণে বিকেল ৫টার পর তিনি বাড়িতে চলে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে চেয়ারম্যান প্রথমে তাকে ফোন করে অফিসে আসতে বলেন। অসুস্থ্যতার কারণে যেতে পারবেন না বলার পর একটি মোটরসাইকেলে দুই জনকে পাঠিয়ে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে চেয়ারম্যান ও ৩ জন তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এতে তার ডান হাতের একটি আঙুল ও বাম হাতের কবজির উপরে ভেঙে যায়। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় চেয়ারম্যান তার কাছ থেকে জোরপূর্বক মুচলেকা লিখে নেয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।
6
আবারও বিতর্কে একটি ওয়েবসিরিজ। ভারতীয় 'এ স্যুটেবেল বয়' ওয়েবসিরিজে আপত্তি মধ্যপ্রদেশ বিজেপি নেতাদের। নেটফ্লিক্সে দেখানো সিরিজটির দৃশ্যে এক মুসলিম যুবককে মন্দিরের ভেতরে এক হিন্দু তরুণীর চুম্বন করতে দেখা গেছে। এই অভিযোগ ওঠার পড়ই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার। বিজেপির যুব শাখার জাতীয় সম্পাদক গৌরব তিওয়ারি নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ পুলিশে এফআইআরও দায়ের করেছেন। সিরিজ থেকে ওই আপত্তিকর দৃশ্য বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে নেটফ্লিক্সকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে বলে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, এই ওয়েবসিরিজটি ভারতীয়দের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এক মুসলিম যুবককে মন্দিরের ভেতরে এক হিন্দু তরুণীকে চুম্বন করতে দেখা গেছে। এতে করে হিন্দুদের মন্দির ও দেব-দেবীদের অসম্মান করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র বলেন, এই সিরিজের কিছুই আমার স্যুটেবল লাগেনি। উচিত মনে হয়নি। মন্দিরের ভেতরে চুম্বন দৃশ্য ফিল্ম করা হচ্ছে, পেছনে ভজনের সুর বাজছে- এটাকে আমি মানতে পারছি না। অন্য কোনো জায়গাতেও তো এসব করা যেত। এছাড়া তারা তো আলাদা ধর্মের, মুসলিম যুবককে দিয়ে একজন হিন্দু তরুণীর ওপর এসব করিয়ে কেন অযথা ধর্মীয় আবেগকে আহত করা হচ্ছে? এটা তো অনায়াসেই এড়ানো যেত। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগের তদন্ত করার জন্য। এই ওয়েবসিরিজের নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। একই রকম দাবিতে সরব হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনও। এর আগেও লায়লা, সেক্রেড গেমস ইত্যাদি বিভিন্ন সিরিজের কারণে নেটফ্লিক্স ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণের মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মধুরা মুখার্জি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ইন্টারনেট-নির্ভর বিনোদনে এইভাবে রাশ টানার চেষ্টা আসলে অর্থহীন। ইন্টারনেট এসে যাওয়ার পর সব ধরনের কনটেন্টই এখন হাতের নাগালে, তা সে পর্নগ্রাফিই হোক বা একাডেমিক কাজকর্মই। তিনি বলেন, নেটফ্লিক্স বা ওই ধরনের প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা, সেন্সর করা বা না-করায় কিছু যায় আসে না। ওতে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আর কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। 'দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না একটা কিসিং সিনে ধর্মীয় অনুভূতিতে কোনো বিরাট আঘাত লাগতে পারে! আমার ধর্ম বলে ঈশ্বর তো সর্বত্রই, তাহলে সেই যুক্তিতে কোথাওই তো চুমু খাওয়া যাবে না।' অধ্যাপক মধুরা মুখার্জি বলেন, কারও ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দেওয়া উচিত নয় সত্যি, কিন্তু এটাও তো ঠিক এত অল্পেই যদি আমাদের আঘাত লাগে তাহলে তো কোনো ছবি বানানোই সম্ভব নয়! কোনো লেখাও লেখা সম্ভব নয়। অবশ্য এ বিষয়ে নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ কিংবা 'এ স্যুটেবেল বয়'-এর পরিচালক মীরা নায়ার এখনও মুখ খুলেননি। বিক্রম শেঠের গল্প অবলম্বনে মীরা নায়ার তৈরি করেছেন এ স্যুটেবেল বয়। ছয় পর্বের এই ওয়েবসিরিজে ১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতের পটভূমিতে বেশ কয়েকটি পরিবারের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
3
জামালপুরের বাহাদুরাবাদ থেকে গাইবান্ধার বালাসী ঘাট পর্যন্ত নৌপথে পরীক্ষামূলক লঞ্চ চলাচলের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী লঞ্চ চলাচল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। প্রতিমন্ত্রী প্রথমে বাহাদুরাবাদ টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি টার্মিনালের পশ্চিম পাশে বাহাদুরাবাদ লঞ্চঘাটে লঞ্চ চলাচল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন্নাহার শেফা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেনসহ রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা। প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর প্রবাহ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে যমুনা ও তিস্তা নিয়ে কথা চলছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে। নাব্যতা ফিরে এলেই, নৌ চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না। ইতিমধ্যে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করা হয়েছে। দশ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাহাদুরাবাদ ঘাটে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন স্থাপনা করা হয়েছে। বিশাল দুটি প্রবেশদ্বারের সঙ্গে ভেতরে বাস টার্মিনাল, টোল আদায় বুথ, পুলিশ ব্যারাক, আনসার ব্যারাক, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, ফেরির নাবিকদের ব্যারাক, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, জেনারেটর সাবস্টেশন, বিশ্রামাগার, মসজিদ, রেস্তোরাঁ, শৌচাগার ও অভ্যন্তরীণ রাস্তা করা হয়েছে। কিন্তু নাব্যতা-সংকটের কারণে এসব স্থাপনা নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ফেরি সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন পরীক্ষামূলকভাবে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হলো। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে শুধু লঞ্চ সার্ভিস চালু করায় যাত্রীরা খুব বেশি উপকৃত হবে না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৮ সালে তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ নৌরুট চালু করে। এপারে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ ঘাট ওপারে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট। তখন থেকে এই রুটের মাধ্যমে ঢাকা-দিনাজপুর রেল যোগাযোগ চালু ছিল। উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলার মানুষ ট্রেনে করে তিস্তামুখ ঘাটে যেতেন। এরপর তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ রুটে ফেরি পারাপার হতেন। ওপারে বাহাদুরাবাদে গিয়ে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যেতেন। সে সময় কম খরচে নিরাপদে ঢাকা যাতায়াত করা যেত। ১৯৯০ সালে নদীর নাব্যতা-সংকটের কারণে তিস্তামুখ ঘাটটি একই উপজেলার বালাসীতে স্থানান্তর করা হয়। এ জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী থেকে বালাসী পর্যন্ত নতুন প্রায় ছয় কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়। তখন বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটের মাধ্যমে একইভাবে রেল যোগাযোগব্যবস্থা চালু ছিল। তৎকালীন বালাসীঘাটে রেলওয়ের নানা ধরনের ৩০টি নৌযান ছিল। ২০১৫ সালের পর থেকে এসব নৌযান বিক্রি শুরু হয়। ১৯৯৬ সাল থেকে যমুনা নদীতে নাব্যতা হ্রাসের কারণে বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে যমুনা বহুমুখী সেতু চালু হয়। ফলে ২০০০ সাল থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অকার্যকর হয়ে পড়ে বালাসীঘাট। তখন থেকে প্রায় ২২ বছর বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ আছে। তবে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার অব্যাহত ছিল। ২০১৬ সালে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে নৌ, সড়ক, স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেল ও বিআইডব্লিউটিএর প্রতিনিধিরা এলাকাটি পরিদর্শন করেন। পরে পরিকল্পনা কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর ১৩৬ কোটি টাকার ঘাট চালুর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়। জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ও গাইবান্ধার বালাসীর ২৬ কিলোমিটার নৌপথ। এ রুটে গত বছরের জুন থেকে পুরোদমে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে আসায় ওই পথ দিয়ে কয়েক দফায় পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চালানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফেরি চালানো সম্ভব হয়নি। এরপর গত বছরের এপ্রিলে নৌরুটটির সমস্যা খুঁজে দেখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) একটি কমিটি করে। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, যমুনা নদী খুবই পরিবর্তনশীল এবং ঘন ঘন রুট পরিবর্তন করায় নৌপথ সংরক্ষণ করতে বছরে ৩২ থেকে ৩৩ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করতে হবে। ফেরি চালাতে হলে এ রুটে সার্বক্ষণিক ছয় থেকে সাতটি ড্রেজার রাখতে হবে। বছরে ব্যয় হবে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। তখন আরও জানানো হয়েছিল, রুটটি ফেরি চলাচলের উপযোগী নয়। পরে এই রুটে স্পিডবোট ও লঞ্চে যাত্রী পারাপারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই ভাবনা থেকেই অবশেষে এই রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এতে ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলার এবং উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলার মানুষকে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে চলাচল করতে হবে না।
6
খুব শিগগিরই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়ে একথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
9
মাত্র দুই দিনে ইলন মাস্কের সম্পদ কমে গেল ৫ হাজার কোটি ডলার (৫০ বিলিয়ন ডলার), বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪ লাখ ২৮ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। বলা যায়, প্রায় বাংলাদেশের এক অর্থবছরের বাজেটের সমান। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। গত দুই দিন ইলন মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কোম্পানি টেসলা পুঁজিবাজারে ১৬ শতাংশ দর হারিয়েছে। মূলত, কর দেওয়া নিয়ে টুইটারে ইলনের করা একটি জরিপের ফলাফলে এই পতন। বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।সম্প্রতি টুইটারে এক জরিপ চালিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। ওই টুইটার পোস্টে ইলনের প্রশ্ন ছিল, কর দেওয়ার জন্য তিনি টেসলার ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করবেন কি না। জরিপে উত্তর 'হ্যাঁ' বা 'না' দিতে বলা হয়। দেখা যায় ইলনের বেশির ভাগ অনুসারীই শেয়ার বিক্রির পক্ষে মত দিয়েছেন। আর এর পরই হু হু করে কমছে টেসলার শেয়ারের দর। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, ৫ হাজার কোটি ডলার হারিয়েও ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এখন ৩২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে দুই দিনে কোনো কোম্পানি ৫ হাজার কোটি ডলার হারায়নি।এত কিছুর পরও চলতি বছর টেসলার শেয়ারের দর আগের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি আছে। ইলন মাস্ক এখনো এই বিশ্বের শীর্ষ ধনী। দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাইসাইকেল চুরির অভিযোগে এক যুবককে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া আড়াই মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি কক্ষে এক যুবককে বেদম পেটাচ্ছেন সদর উপজেলার চর বাগডাঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান শহীদ রানা টিপু। নির্যাতন না করার জন্য নানান আকুতি করছেন ওই যুবক। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান শহীদ রানা টিপু জানান, ছেলেটি মাদকসেবী এবং সে এর আগে এলাকায় বেশ কয়েকটি সাইকেল চুরি করেছে। তাই তাকে সামান্য মারধর করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর
6
মৌলভীবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ। নতুন করে একজনের মৃত্যু হয়েছে।সর্বশেষ ২৪৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৯৪ জনের করোনা পজিটিভ আসে। মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৩৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট মারা গেছেন ৩৮ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ২৭৫০ জন। রাজনগর উপজেলা আক্রান্ত ১০ জন, কুলাউড়া উপজেলায় ১৬ জন, বড়লেখা উপজেলায় পাঁচজন, কমলগঞ্জ উপজেলায় দুজন, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১১ জন, জুড়ী উপজেলায় আটজন। সদরে ৪২ জন। এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৬ জুলাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১৮ ব্যক্তিকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান ও আদায় করা হয়েছে। এবং নয়জনকে সাময়িক আটক করা হয়। চলমান লকডাউনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ র্যাব, বিজিবি, আনসার, ও সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছেন। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রাখতে কাজ করছেন।
6
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ও উপনেতা হিসেবে পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। আজ সোমবার সংসদ সচিবালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে জি এম কাদের এ পদ দুটিতে স্বীকৃতি দিতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন। জাতীয় পার্টির সাংসদ রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ-৪ এবং জি এম কাদের একই দলের লালমনিরহাট-৩ আসনের সাংসদ। আইন অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রী ও উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতার পদটি শূন্য হয়। গতকাল রোববার রওশনকে জাপার সংসদীয় দল বিরোধীদলীয় নেতা করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু উপনেতা বাছাই করতে পারেনি সংসদীয় দল। ওই দিন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের বলেন, উপনেতা কে হবেন তা বিরোধীদলীয় নেতা চূড়ান্ত করবেন।
9
দীর্ঘ সময় ধরে করোনার ভয়াল থাবায় স্থবির হয়ে থাকা পৃথিবীতে নতুন চিন্তার নাম ওমিক্রন। ওমিক্রনের দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার খবরে যখন সবাই উদ্বিগ্ন, ঠিক সে সময় ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে ওমিক্রন নামের একটি ওষুধের ছবি।বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সম্প্রতি ওমিক্রন নামের ওই ওষুধের প্যাকেটের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখছেন-'ওমিক্রন আমাদের কাছে চিড়ামুড়ির মতো নিত্যদিনের খাবার।'ফ্যাক্টচেকভাইরাল হওয়া ছবিতে যে ওষুধ দেখা যাচ্ছে, সেটির নাম 'ওমিক্রন ২০'। এটি নিপ্রো জেএমআই ফার্মার তৈরি ট্যাবলেট। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ওষুধটি মূলত গ্যাস্ট্রিক ও আলসার নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে সেবন করা হয়। এর দুটি ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে। একটি ২০ মি.গ্রা ও অন্যটি ৪০ মি.গ্রা।অন্যদিকে, করোনাভাইরাসের সাম্প্রতিক মিউটেট হওয়া নতুন সংস্করণের নামও ওমিক্রন। তবে এর সঙ্গে ওষুধটির কোনো সম্পর্ক নেই।দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া ও ছড়িয়ে পড়া নতুন এই ধরনকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই নামকরণ করেছে। আগের ধরনগুলোর মতো এই নামও এসেছে গ্রিক বর্ণমালা থেকে।প্রাথমিকভাবে ধরনটির নাম দেওয়া হয়েছিল বি.১.১.৫২৯। গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা এই ধরন শনাক্তের খবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) জানায়। পরে বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, হংকং ও ইসরায়েলে এই ধরন পাওয়া যায়। নতুন এই ধরন বিশ্লেষণ করে ডব্লিউএইচওর বিবৃতিতে বলা হয়, ওমিক্রন ধরনের ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে মিউটেশন হয়েছে। এখন পর্যন্ত যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে সংক্রমণের মাত্রা আবারও মহামারির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ওমিক্রনের সংক্রমণের ক্ষমতা, শারীরিক জটিলতা, চিকিৎসা ও টিকার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে নানা রকম অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি বাতলে দেওয়া হচ্ছিল ফেসবুকের মাধ্যমে। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে ভুয়া তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি পৃথিবীজুড়ে গুরুত্ব পায়।করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনের সঙ্গে বাংলাদেশে ওমিক্রন ওষুধের নামের মিল দেখে অনেকে ছবিটিকে স্যাটায়ার হিসেবে পোস্ট করলেও এতে অনেকের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সিদ্ধান্তদেশে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া 'ওমিক্রন ২০' নামের ওষুধটির সঙ্গে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ। কোভিড আক্রান্ত রোগীর জন্য এটি কোনো পথ্য নয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে, তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা-[]
6
স্পষ্ট কথা বলায় বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের আলাদা পরিচিতি আছে। রাজনৈতিক বিষয় থেকে শুরু সিনেমা জগতের অনেক কিছু নিয়েই তিনি সমালোচনা করেন। বিশেষ করে নারীদের ব্যাপারে কঙ্গনা সব সময়ই সোচ্চার। সম্প্রতি তিনি বলিউড অভিনেত্রীরা কীভাবে বর্ণ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তা নিয়ে কথা বলেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'র এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা জানান, গায়ের রং ফর্সা হওয়ার কারণে পরিচালকরা তাকে অনেক সুযোগ দিতে চেয়েছেন অনেক সময়। কিন্তু তিনি সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ তিনি নিজের চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছেন। তার ভাষায়, গায়ের রঙের কারণে অনেক বলিউড অভিনেত্রী সব সময় ভালো কাজের সুযোগ পান না। তাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করা হয়। কঙ্গনার কথায়, তিনি যখন বলিউডে পা রাখেন তখন গায়ের রঙের কারণে পরিচালক-প্রযোজকরা তাকে সুন্দরী হিসেবে কাজে নিতে চাইতেন। কঙ্গনা বলেন, তাদেরকে বোঝাতে চেয়েছি নিজের উজ্জ্বল গায়ের রঙ, সৌন্দর্য্যটুকুই শুধু আমার মূলধন নয়। এর বাইরেও আমার গুণ রয়েছে। তবে এবারই প্রথম নয়। এর আগেও 'ফর্সা রং মানেই সুন্দরী' এই ধারণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন কঙ্গনা।এ কারণে মোটা টাকার প্রস্তাব পেলেও কোনো ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনী প্রচারের মডেল হননি তিনি। এই ব্যাপারে এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ক্যুইনখ্যাত কঙ্গনা বলেন, চলচ্চিত্র জগতের অনেকের কাছেই সৌন্দর্য্যের একমাত্র ব্যাখ্যা হচ্ছে গায়ের ধবধবে ফর্সা রং। আমি রীতিমতো পরিশ্রম করে আজ ক্যারিয়ারের এই জায়গায় এসে পৌঁছেছি। ভার ভাষায়, যদি অন্যদের প্রস্তাব শুনতেন তাহলে হয়তো ক্যারিয়ার শুরুর তিন-চার বছরের মধ্যেই কোনো রকম ঝুঁকি ছাড়াই একটা জায়গা তৈরি করতে পারতেন। কঙ্গনা বলেন, সবাইকে বোঝাতে চেয়েছিলাম আমি সৌন্দর্য্যসর্বস্ব নই। আর তাছাড়া নিজের আমার গায়ের রঙ মোটেই পছন্দের নয় আমার। বলতে পারেন অন্যতম অপছন্দের।
2
চলমান রুশ-ইউক্রেন উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। শুক্রবার (৪ মার্চ) এমন পরিস্থিতিতে এই কথোপকথন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। পুতিন-সালমান ফোনালাপ বিষয়ে ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ওই আলোচনায় পুতিন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ইস্যুতে রাজনীতির অগ্রহণযোগ্যতার ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া আলোচনায় 'রাশিয়া-সৌদি অংশীদারিত্বের আরও ব্যাপক উন্নয়নে পারস্পরিক স্বার্থের' ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে ক্রেমলিন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে পুতিনের বিশেষ সামরিক অভিযান ঘোষণা গত এক দশকের মধ্যে রাশিয়াকে অর্থনীতিকভাবে সবচেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। রাশিয়ার অনেক ব্যাংকই বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ব্যবসায়ীরা রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে সৌদি আরব এবং রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন ওপেক প্লাস বুধবারের বৈঠকে এই ক্রমবর্ধমান সংকটকে মূলত উপেক্ষা করেছে। তবে ওপেক প্লাস অপরিশোধিত দাম কমাতে উত্পাদন বাড়ানোর জন্য ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পদক্ষেপ মস্কো এবং রিয়াদের মধ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
3
সব এমন রং করছেন কেন?আবু তাহের: ভাল্লাগে।এটা তো আর্জেন্টিনার পতাকার রং-আবু তাহের: হ। ভাল্লাগে।রং কে করছে?আবু তাহের: আমিই করছি।রিকশা নিজের?আবু তাহের: হ, আমারই রিকশা। নাইলে রং করা যাইত না।কেন ভালো লাগে?আবু তাহের: খেলে ভালো। কতো স্টার!কী খেলে?আবু তাহের: ফুটবল। (প্যাডেল দেওয়া বন্ধ করে অনেকটা বিরক্ত হয়ে পেছনে তাকিয়ে বললেন। মনে হলো, পেছনে প্রতিপক্ষ ব্রাজিল শিবিরের কেউ গেজাচ্ছেন বলে মনে করেছেন!)ফুটবল খেলে ভালো? তা বিশ্বকাপ তো পায় না তারা? কী খেলে?আবু তাহের: কে কয় পায় না? চৌদ্দর (২০১৪) বিশ্বকাপ তো জার্মানি ষড়যন্ত্র কইরা নিয়া গেছে। কেমনে ষড়যন্ত্র হইল? জার্মানি গোল না দিয়া জিতছে?আবু তাহের: না দিছে। কিন্তু একটা পেনাল্টি দেয় নাই। আর ওই একটা গোল, ওইটাও তো অফসাইডে ছিল।তা রেফারি কী করছে?আবু তাহের: ষড়যন্ত্র।এর পরে আর বিশ্বকাপ হয় নাই?আবু তাহের: হইব না কেন? আঠারো (২০১৮) সালেই হইছে। ওইটা জমে নাই। ফ্রান্সের কাছে হাইরা গেছে।কার খেলা ভালো লাগে আপনার?আবু তাহের: মেসির খেলা।কিন্তু সে তো জিতাইতে পারল না।আবু তাহের: চৌদ্দতে (২০১৪ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের) ফাইনালে নিল। কোপার (কোপা আমেরিকার) ফাইনালে নিল।ফাইনাল খেলছে। কিন্তু জিততে তো পারে নাই?আবু তাহের: ডিফেন্স নাই। জিতব কেমনে? সাম্পাওলি বেলমাথা, বুঝে কিছু? সাম্পাওলি কোচ। গুলি (গোলকিপার) নিছে আরেক বেলমাথারে। কোচও বেলমাথা, গুলিও বেলমাথা। গোল তো খাইবই। বল দেইখা তাল পায় না।আর তো আশা নাই।আবু তাহের: কেন? আগামী বছর খেলা আছে না?কিন্তু মেসির তো ফর্ম নাই।আবু তাহের: আছে, আছে।কই। আগে যাও ক্লাবের খেলায় ভালো করত, এখন তো আর তেমন খেলে না।আবু তাহের: আগামী বছর খেলা আছে না?আপনি কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত হলেন?আবু তাহের: ছিয়াশি সালে (১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল), তখন ছোট ছিলাম। ওই সময় থেইকাই।তার মানে ম্যারাডোনা-আবু তাহের: কী খেলত! মরল যে, পুরো পৃথিবী একটা লাড়া (নাড়া) খাইল না? লাড়া খাইল। যেমন খেলত, তেমন কথা কইত। সবাই আহাজারি করছে।তা ওই ছিয়াশির পর তো আর জিতল না। কেন বলেন তো?আবু তাহের: ডিফেন্স নাই। ডিফেন্স না থাকলে খেলা হয়? হয় না। গুলিও (গোলকিপার) ভালো পায় না। এই দুইটা জায়গা ঠিক হইলেই জিতব। আগামীবারই জিতব।ধন্যবাদ, ভালো থাইকেন। দেখা হবে।আবু তাহের: দেখা হবে।
6
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরা থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত দশটি ইউটার্নের কাজ সম্পন্ন হবে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজধানীর এয়ারপোর্ট রোডের কাওলা থেকে তেজগাঁও নাবিস্কো পর্যন্ত ইউটার্নগুলোর নির্মাণ কাজ পরিদর্শনকালে এ ঘোষণা দেন। পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, আমরা দেখেছি উত্তরায় রাজলক্ষ্মীর সামনে এবং জসীমউদ্দীন মোড়ে কী রকম জ্যাম হত। এই কাজটির পরিকল্পনা ২০১৬ সালে নেওয়া হয়েছিল। মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে কাজটি থমকে গিয়েছিল। আমি নয় মাসের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরে আমার একটা কমিটমেন্ট ছিল যে, আনিসুল হকের এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। তার স্বপ্নগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম ছিল। পরবর্তীতে দেখা গেল এখানে সড়ক ও জনপদের জমি আছে। এছাড়া আরো অনেকগুলো বাধা ছিল। আমরা মিটিং করে সবগুলো বাধা নিষ্পন্ন করি। রোডস এন্ড হাইওয়েজের জায়গা আমাদেরকে কিনে নিতে হয়েছে, ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় অতিবাহিত হয়েছে। মেয়র আরো বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে তেজগাঁও নাবিস্কো পর্যন্ত যেতে এখন যে সময় ব্যয় হয় তার শতকরা ৭০ ভাগ সময় কমে যাবে। এই কাজটি শেষ করতে পারলে জনগণ অনেক উপকৃত হবে। এর প্রমাণ আপনারা পেয়েছেন উত্তরায় রাজলক্ষ্মী সামনে এবং জসিম উদ্দিন মোড়ে। ভালো কাজগুলো কোনোভাবেই বন্ধ রাখা যাবে না। এই শহরকে সুন্দর করতেই হবে। তিনি আরো বলেন, পহেলা অক্টোবর থেকে ঢাকা উত্তরে যত ঝুলন্ত তার আছে সেগুলো কেটে ফেলা হবে। ঝুলন্ত তার সরানোর জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হল। এছাড়া রাস্তায় বা ল্যাম্পপোস্টে অবৈধ ঝুলন্ত পোস্টার বা বিজ্ঞাপন বোর্ড থাকতে পারবেনা। তাছাড়া শহরের দেয়ালে যারা লিখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মো: আব্দুল হাই, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
6
কিছুদিন ধরে কঠোর লকডাউনের কারণে আমলাদের ওপর হামলা-আক্রমণ দৃশ্যত কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিশাল পরিমাণের অনিয়ম-বেনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়ার পরে সারা দেশের সব গণমাধ্যমে বিষয়টা ব্যাপকভাবে কাভারেজ পায়, ব্যাপকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা যথার্থভাবেই নিন্দিত ও সমালোচিত হন। কিছুদিন ধরে মনে হচ্ছে, বিষয়টায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। কোরবানির ঈদ, কোরবানির পশু বেচাকেনা, লোকজনের গ্রামের বাড়িতে যাওয়া এবং ওখান থেকে ফিরে আসার যন্ত্রণা আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুর্নীতি ও অনিয়ম-বেনিয়মকে দৃশ্যত চাপা দিয়ে ফেলেছে।আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুর্নীতিতে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে এক মাস ধরে শুনে আসছি। এসব তদন্ত আমরা আগেও অনেকবার দেখেছি, কিন্তু কামের কাম কিছুই হয়নি। এখানেও বিভিন্ন রকমের তদবির, ওপর মহল থেকে বিষয়টা ভুলে যাওয়ার একরকমের চেষ্টা হবে এবং যাঁরা এমন গুরুতর অপরাধে অপরাধী, তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টাও বিভিন্ন ক্ষমতাশীল মহল থেকে বিলক্ষণ দেখা যাবে।এভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি মহৎ উদ্যোগ ব্যর্থ করে দেবে কিছু সরকারি আমলা। কিন্তু আগেই যেমন বলেছি, এদের ধরাছোঁয়া যাবে না। কারণ, বিষয়টা দিনদিন গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে, যেমন আমরা অতীতে বারবার দেখেছি।কিন্তু এই কয়েকজন দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তার বিপরীতে আমরা অসাধারণ দক্ষ, সৎ ও দেশপ্রেমিক সরকারি কর্মকর্তাদের দেশ গঠনে প্রবল ভূমিকা পালন করতেও দেখেছি। ঠিক এই মুহূর্তে এমন দুজন সরকারি কর্মকর্তার নাম মনে পড়তেই আমার মাথা শ্রদ্ধা ও ভক্তিতে নত হয়ে আসছে। তাঁদের একজন প্রয়াত নুরুল কাদের (খান)। এই নুরুল কাদের খান বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের জনক হিসেবে যথার্থই স্বীকৃতি ও সম্মান পেয়েছেন। সত্তরের দশকের শেষ দিকে তিনিই প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি বড় একটা দলকে পাঠিয়ে গার্মেন্ট উৎপাদন, বিপণন, রপ্তানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষিত করে দেশে ফিরিয়ে আনেন। তার পরেই গার্মেন্টস শিল্পে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং দিনদিন এই শিল্পের ব্যাপ্তিও ঘটে। এই শিল্প থেকে আমরা আগামী কয়েক বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে পারব বলে আশা রাখি। আমরা সবাই ইতিমধ্যে জানি যে আমাদের গার্মেন্টস শিল্প এখন বিশ্বে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থান অধিকার করে রয়েছে। চীন ও ভিয়েতনামের পর দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে অবস্থিত আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে এখন প্রায় ৪০ লাখ কর্মী কাজ করেন। এঁদের বেশির ভাগই আবার নারী। এই নারী গোষ্ঠীর সরাসরি আয়-রোজগারের সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে নারীদের ক্ষমতায়ন হচ্ছে, তা-ও আমাদের জন্য একটি বিরাট সাফল্য।অনেকেই হয়তো জানেন, এই নুরুল কাদের খান একজন সিএসপি এবং পরে ১৯৭১ সালে পাবনার জেলা প্রশাসক ছিলেন। এখান থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য কলকাতায় মুজিবনগর সরকারে যোগ দেন। সংস্থাপনসচিব হিসেবে তখন তিনি মুজিবনগর সরকারের দায়িত্ব পালন করেন পুরো ৯ মাস। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু দৃঢ় চরিত্রের কারণে তিনি দ্রুতই বাংলাদেশ সরকারে তাঁর গুরুত্ব হারান। তাঁকে বানানো হয় পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান। এখানেও তিনি বেশি দিন থাকেননি। এখান থেকে পদত্যাগ করে তিনি নিজে বাংলাদেশ গঠনে ও উন্নয়নে অভিনব কিছু করার জন্য তাড়িত হন।এই অভিনব, নতুন কিছুই ছিল তাঁর উদ্যোগে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের শুরু। এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়, তিনি পুরোদস্তুর একজন আমলা ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি ছিলেন না কোনো সাহিত্যিক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী বা কোনো রাজনীতিবিদ। এখানে দেশের পরিবর্তনে উন্নয়ন-অগ্রগতিতে একজন আমলার বিশাল বিপ্লবী চরিত্রের অবদান লক্ষ করতে হয়।(২)আরেকজন খাঁটি ও দক্ষ আমলা কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের চেহারাটাই বদলে দিলেন। আমরা যে এখন গ্রামগঞ্জে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট-এত সব দেখছি; দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর চলাচল, সড়ক ও সেতুর সংযোগ এবং মানুষের চলাচলের জন্য সহজ-সুবিধাজনক ছোট-বড় রাস্তা নির্মাণ করে গেলেন এবং গ্রামগঞ্জের ছোটখাটো কৃষি উৎপাদনকারীদের পণ্যসামগ্রী বাজারজাতকরণের সহজ ব্যবস্থা করে গেলেন, তা ওই এক আমলা। ওই এক আমলা কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর বিশাল অবদান। কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী একজন মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন এবং তাঁর কাজকর্মে দেশ গঠনের একটা কঠোর অঙ্গীকারও ছিল।খুবই মনে পড়ে, বাংলাদেশের ওপর বিশ্বব্যাংকের একটা রিপোর্টে তাঁর নাম উল্লেখ না করে কিন্তু আকারে-ইঙ্গিতে নির্দেশিত করে তাঁকে প্রশংসা করা হয়। তাঁর এই প্রশংসা পড়ে তাঁকে টেলিফোন করলাম। তখনো তাঁর অফিস আগারগাঁওয়ে আছে। আমার টেলিফোনে তিনি এমন একটি ধারণা দিলেন যে তিনিও আমাকে আগে থেকে চেনেন। আমাকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ড্রাই লাঞ্চের দাওয়াত করলেন। আমি যখন তাঁর অফিসে গিয়ে পৌঁছালাম, মিনিট দুয়েকের কুশল বিনিময়ের পর তিনি আমাকে সোফায় আসন গ্রহণ করতে বললেন। তিনি জানালেন, আধা ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসবে। আমি যেন তাদের কথা শুনি, কিন্তু কোনো মন্তব্য না করি। এ দুই গ্রুপের কথাবার্তায় সেদিন যে অভিজ্ঞতা হলো, এখনো তা মনে পড়লে আপনা-আপনি হেসে উঠি। প্রথম গ্রুপ তাদের এলাকায় কিছু রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট বানিয়ে দেওয়ার জন্য কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীকে অনুরোধ করল। তিনি তাদের কথা শুনলেন, কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতি দিলেন না। এর পরেই ঢুকল একই এলাকার আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য গ্রুপটি। তাদের দাবি, প্রথম গ্রুপের দাবিদাওয়া কোনোভাবেই মানা যাবে না। তাদের আশঙ্কা, প্রথম গ্রুপের দাবি মেনে নেওয়া হলে বিপক্ষ গ্রুপের সাফল্যের উদাহরণ সৃষ্টি হয়ে যাবে। এতে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের সমূহ বিপদ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া তাদের বিপরীত গ্রুপে কিছু দেশবিরোধী জামায়াত-শিবিরও আছে। সুতরাং তাদের দাবিদাওয়া মেনে নিলে শিবির-জামায়াতের এই কৃতিত্ব এলাকার মানুষের কাছে প্রচার পাবে। কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী এই গ্রুপকেও কোনো ওয়াদা দিলেন না। দুই গ্রুপ তাদের নিজ নিজ বক্তব্য কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীকে জানিয়ে বিদায় নিল। তাদের প্রস্থানের পর কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বললেন, এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ।আবারও সবাইকে লক্ষ করতে অনুরোধ করি যে ওপরে বর্ণিত নুরুল কাদের খান ও কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী দুজনই ছিলেন খাঁটি আমলা, দেশপ্রেমিক এবং দেশ গঠনে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে দীক্ষিত। নুরুল কাদের খান ও কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর মতো দেশপ্রেমিক আমলা এ দেশে আরও আছে, কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে তাঁদের মাপের নাম এখন মনে পড়ছে না। প্রশ্ন হলো, নুরুল কাদের খান ও কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর মতো কর্মকর্তা আমরা দেশে আরও বেশি সংখ্যায় বেরিয়ে আসতে দেখলাম না কেন? ১৯৭১ সালে বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তো মুজিবনগর সরকারকে যতভাবে সম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, কিন্তু পরে তাঁরা এমন থাকলেন না কেন? তাঁদের মধ্যে অধঃপতনও দেখলাম। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দেশে ফিরে এসে পরিত্যক্ত বাড়িঘর ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করার হিড়িকের মধ্যে পড়ে গেলেন। তা তো আমাদের কলঙ্কের আরেকটা দিক।বলতেই হবে, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই সময় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রত্যাশিতভাবে গাইড করতে পারেননি। তারপর শুরু হয় দলীয় ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপব্যবহার। একেকটা সরকারের বদল ঘটে আর পুরো সরকারি যন্ত্রটি ওই সরকারের ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়ে যায়। যতভাবে সম্ভব এসব সরকারি কর্মকর্তা রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের তোয়াজ-পোষণ করতে থাকেন। বিনিময়ে রাজনৈতিক নেতারাও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রদর্শিত পথে অনিয়ম-বেনিয়ম-দুর্নীতি করে ফেঁপেফুলে মোটা হতে থাকেন। অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের একটি কথা কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে বারবার দেখছি। তিনি সেখানে বলেছেন, আগের জমানায় জমিদারেরা রাজনীতি করতে করতে ফকিন্নির পুত হয়ে যেত; আর এখন ফকিন্নির পুতেরা রাজনীতি করে করে জমিদার-রাজা-বাদশাহ হয়ে যাচ্ছে।আমাদের চারপাশে তাকালেই আমরা দেখি প্রতিবছর কী পরিমাণে মানুষ কোরবানির বড় বড় ষাঁড়ের মতো মোটাতাজা হচ্ছে। তার বিপরীতে শুধু এক টুকরো কোরবানির মাংসের জন্য শত শত মানুষ, শিশু-নারী-বৃদ্ধা বাড়ির দরজার সামনে ভিড় করছে।আমাদের স্বাস্থ্য খাতের দিকে তাকালে শোচনীয় অবস্থাটা আরও প্রকট হয়ে দেখা দেয়। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদ্যাপন করছি আমরা, কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশের বিরাট অংশের মানুষের বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে পারিনি।আমাদের নেতা-মন্ত্রীরা যে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দাবি করে যাচ্ছেন, তা কি আমলাদের অবদান, নাকি রাজনীতিবিদ-সাংবাদিকদের? আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, যদি রাজনৈতিক নেতারা আমলাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারতেন, তবে এই প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হতে পারত। তাহলে কারণে-অকারণে আমলাদের নিন্দা করতে হতো না। হয় দাবি করা ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার সম্পূর্ণ সত্য নয়, নয়তো অসততা-অদক্ষতা-দুর্নীতি সত্ত্বেও আমলারাই সরকারকে এই প্রবৃদ্ধি এনে দিচ্ছেন। আর যেসব আমলা অসততার পথ বেছে নিচ্ছেন, তাঁদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত।সেটা যদি সম্ভব হতো, তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ১৩ বছরের একটানা শাসনে 'সোনা রফিক'-এর সোনার বাংলা না বানিয়ে 'বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা' বানাতে পারতেন।'শিউলিতলা', উত্তরা; সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১লেখক: সাবেক সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলামিস্ট
8
'নদী একটি জীবন্ত সত্তা-নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ'- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে বিশ্ব নদী দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার দুপুরে শহরের বেসরকারী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বেনিফিসিয়ারিজ ফ্রেন্ডশীপ ফোরাম (বিএফএফ) কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিএফএফ'র পরিচালক আনম ফজলুল হাদী সাব্বিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর ডেভেলপমেন্ট এজেন্সী (এফডিএ)'র পরিচালক মোঃ আজহারুল ইসলাম, এসডিসির পরিচালক কাজী আশরাফুল হাসান, নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান, পথকলি সংস্থার পরিচালক বেলায়েত হোসেন, পিডাব্লিউও'র পরিচালক হাফিজুর রহমান মন্ডল, ব্লাস্টের কো অডিনেটর শিপ্রা গোস্বামী। বিএফএফ'র আয়োজনে এবং এএলআরডি, ঢাকার সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা ফরিদপুর জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ-নদী দখল ও দুষণমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ পাইপ উপড়ে ফেলে তিন ফসলি কৃষি জমিতে চলছে পুকুর খনন। প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে উপজেলার কিসমতগণকৈড় ইউনিয়নের রাতুগ্রাম-সুজানগর বড় বিলে চলছে এ পুকুর খননের কাজ। সেচ পাইপ উপড়ে ফেলায় ওই এলাকার ফসলি জমিতে সেচ নিয়ে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করে পুকুর খনন ও এতে প্রশাসন নীরব ভূমিকায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, উপজেলার রাতুগ্রাম-সুজানগর বড় বিলে প্রায় ৩০ বিঘা ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন হান্নান নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু জমির মালিক হান্নান আড়ালে রয়েছেন। পুকুর খননের দায়িত্ব দিয়েছেন এক্সকেভেটরের মালিক মাহাবুব রহমানকে। তিনিই প্রশাসন ম্যানেজসহ পুকুর খননের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন। ওই স্থানে পুকুর খনন করতে গিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রায় ১৫ থেকে ২০টি সেচ পাইপ উপড়ে ফেলা হয়েছে। এখনো মাটির নিয়ে আছে আরও কয়েক শ ফুট পাইপ। সেগুলোও তুলে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাইপ উপড়ে ফেলায় পুকুরের চারপাশের শত শত বিঘা ফসলি জমির সেচ হুমকির পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, মাহাবুব কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি সম্পত্তি বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ পাইপ উপড়ে ভেঙেচুরে ফেলছেন।স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, এসব সেচ পাইপ কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য মাটির নিচ দিয়ে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ স্থাপন করে। কৃষকেরা বছরের পর বছর ধরে এ ড্রেন দিয়ে জমিতে পানি সেচ দেয়। এখন পুকুর খননের ফলে সরকারি এই সম্পত্তি উপড়ে ফেলা হচ্ছে। ফলে এই এলাকার শত শত কৃষক সেচ নিয়ে বিপাকে পড়বে। কিন্তু প্রশাসন নিবর ভূমিকা পালন করছে।মাহাবুব রহমান জানান, ওপরে কথা বলেই তিনি পুকুর খনন করছেন। কারও কোনো অভিযোগ নাই। বরেন্দ্রের সেচ পাইপ উপড়ে ফেলা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন-এটি সরকারি সম্পত্তি। পুকুর খননের জন্য মাটির নিচ থেকে তুলে রাখা হচ্ছে। আমার নিজ খরচে সেগুলো অন্য জায়গায় বসিয়ে দিব।'দুর্গাপুর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী মো. আজমল হক বলেন, 'পুকুর খনন অবৈধ। এ নিয়ে আমরা ওপরে অভিযোগ দিচ্ছি, আপনার (সাংবাদিকেরা) নিউজ করছেন। এতে কোনো কাজ হচ্ছে কি?। পুকুর তো আর বন্ধ না হচ্ছে না। ওই স্থানে লোক পাঠানো হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ জানার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'রাজশাহী জেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রশীদ বলেন, 'বরেন্দ্রর ড্রেন ব্যবস্থাপনা সরকারি সম্পত্তি। কেউ এটি ক্ষতিগ্রস্ত বা উপড়ে ফেলতে পারে না।' এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
6
সিংড়ায় বন্দি খাঁচা থেকে মুক্ত আকাশে উড়ল তিনটি বক পাখি। আর মুচলেকায় ছাড়া পেয়েছেন হামিদুল ইসলাম নামে এক পাখি শিকারি। পরে পৌর কার্যালয়ের সামনে থেকে তিনটি বক পাখিসহ তাকে আটক করা হয়। পাখিগুলো সিংড়া পৌরসভার সামনে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, পরিবেশবাদী সংগঠন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহসভাপতি হাসান ইমাম, সাংবাদিক খলিলুর রহমান প্রমুখ। চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌরসভার সামনের রাস্তায় খাঁচায় বন্দি পাখিসহ শিকারি হামিদুল ইসলামকে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির কয়েকজন সদস্য আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিবেশকর্মীরা হামিদুল ইসলামকে তাদের হাতে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আর কোনো দিন পাখি শিকার ও কেনাবেচা করবেন না বলে মুচলেকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে খাঁচায় বন্দি তিনটি বক পাখিকে অবমুক্ত করা হয়।
6
আইসিসির সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক র্যাঙ্কিংয়ে একটি সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলেছে মাহমুদউল্লাহর দল। এবার ঘরের মাঠে লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতলে রেটিং পয়েন্টে বড় উন্নতির সুযোগ থাকছে মুমিনুল হকদের।তবে কাজটা মোটেও সহজ হবে না। বাংলাদেশের বিপক্ষে কখনোই টেস্ট সিরিজ না হারা লঙ্কানদের এবারের দলটা যথেষ্ট শক্তিশালী। দলে নতুন মুখ চারজনের পাশাপাশি ফিরেছেন আরও চার পুরোনো মুখ। প্রথমবারের মতো লঙ্কান টেস্ট দলে এসেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার কামিল মিশারা, স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার কামিন্দু মেন্ডিস, বাঁহাতি পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা ও লেগ স্পিনার সুমিন্দা লাকশান। দলে ফিরেছেন ওসাদা ফার্নান্দো, রমেশ মেন্ডিস, কাসুন রাজিথা ও আসিথা ফার্নান্দো। দিমুথ করুনারত্নের নেতৃত্বে লঙ্কানদের এই দলে বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেন দলটির পুরোনো সৈনিক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, কুশল মেন্ডিস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, দিনেশ চান্দিমালরা।শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, 'ওদের স্পিন আক্রমণ খুব ভালো মনে হলো। (লাসিথ) এম্বুলদেনিয়া তো দুর্দান্ত স্পিনার। তাদের পেস বোলিংও খারাপ নয়। ওদের পুরো বোলিং আক্রমণ অনেক ভালো। তারা অনেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে, অনেক অভিজ্ঞ।'এম্বুলদেনিয়ার কথা নান্নুর বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ আছে। ১৫ টেস্টে ৭০ উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি স্পিনার সর্বশেষ দুটি সিরিজেও ভালো করেছেন। গত নভেম্বরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ টেস্টে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। লঙ্কানদের আরেক তুরুপের তাস হতে পারেন ৪ টেস্টে ২৬ উইকেট নেওয়া অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিস। নান্নুর চোখে, খেলাটা উপমহাদেশে বলে শ্রীলঙ্কা এই সিরিজে স্পিন আক্রমণে বিশেষ জোর দিয়েছে।বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজের আগে কোচিং বিভাগেও বড় পরিবর্তন এনেছে শ্রীলঙ্কা। প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ ক্রিস সিলভারউড এবং সহকারী হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতানো কোচ নাভিদ নেওয়াজ।১৫ মে চট্টগ্রামে শুরু লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশও। নান্নু বলছেন, 'দেশের মাঠে খেলা, অবশ্যই আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো উচিত। দক্ষিণ আফ্রিকায় যেহেতু আমরা টেস্ট সিরিজে ভালো করতে পারিনি। লাল বলের ক্রিকেটে ভালো খেলতে হলে পাঁচ দিনই ভালো খেলতে হবে।'আগামী পরশু চট্টগ্রামে শুরু হবে বাংলাদেশের অনুশীলন। আর শ্রীলঙ্কা ঢাকায় আসবে পরশু। চট্টগ্রামে তারা যাবে ১২ মে।
6
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানির কবর দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ১ সেপ্টেম্বর ৯২ বছরের প্রবীণ নেতার মৃত্যু হয়। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অভিযোগ, গিলানির মৃত্যুর পর তাঁর শরীর পাকিস্তানি পতাকায় ঢাকা ছিল। তাই মামলা রুজু করে পুলিশ।একদিকে গিলানির ছেলে নাশিমের অভিযোগ, পুলিশ তাঁর বাবার লাশ ছিনিয়ে নিয়ে রাতের অন্ধকারে কবর দিয়েছে। অন্যদিকে, কাশ্মীর জোন পুলিশ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে গিলানির শেষ কৃত্যের ভিডিও প্রকাশ করেছে। গিলানির দেহ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই হুরিয়ত নেতারা বুধবার ভারতে জেলবন্দী পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি নেতা মাসরাত আলম ভাটকে অল পার্টি হুরিয়ত কনফারেন্সের সভাপতি নির্বাচিত করে। কাশ্মীর পুলিশের আশঙ্কা, আফগানিস্তানে তালেবান উত্থানে উপত্যকার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাড়তি উৎসাহ পাচ্ছে। তবে কড়া হাতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছেন তাঁরা।গিলানির কবর দেওয়া নিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পুলিশ অবশ্য ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রবীণ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার পরিবারের উপস্থিতিতে ইসলাম ধর্মের রীতি মেনেই তাঁকে কবর দেওয়া হয়েছে। তবে গিলানি পরিবারের কে উপস্থিত ছিলেন তা বলেননি তাঁরা।শ্রীনগরে গিলানির কবর ঘিরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কায় মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভ মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ অফিসার জানান পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে। তবে হাঙ্গামা বাধানোর চেষ্টা চলছে। হুরিয়তের নেতারা অনেকেই জেলবন্দী থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী। সব রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হুরিয়তের নতুন নেতা হিসেবে মাসরাত নির্বাচিত হওয়ায় আরও বেশি সতর্ক পুলিশ। কারণ ভারতে মাসরক গিলানির থেকেও কট্টরপন্থী বলে পরিচিত।
3
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। জামানত হারিয়েছেন চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী মো. মজিবর রহমান মোল্লা। পেয়েছেন মাত্র ৩২৫ ভোট। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে শুধু কালকিনির লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এই ভরাডুবি হয়। এ ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মৌসুমী হক সুলতানা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌসুমী হক সুলতানা পেয়েছেন ৫ হাজার ৪০২ ভোট, তাঁর নিকটতম হয়েছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফাজ্জেল হোসেন ওরফে গেন্দু কাজী, তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৭৩ ভোট। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবর রহমান মোল্লা পেয়েছেন মাত্র ৩২৫ ভোট। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী লিয়াকত হোসাইন পেয়েছেন ৩২২ ভোট। লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে ১৫ হাজার ৫১৪ জন ভোটারের মধ্যে ১০ হাজার ৬২২ জন ভোট দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর চেয়ে বিজয়ী প্রার্থী ৫ হাজার ৭৭ ভোট বেশি পেয়েছেন। আর প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোটও পাননি নৌকার প্রার্থী। এ কারণে তাঁকে জামানত হারাতে হয়েছে। লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী অনেকের পছন্দের ছিলেন না। এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা নেই। 'টাকার বিনিময়ে' মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এ কারণে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধিতা করেন। ইউনিয়নের কোনো দায়িত্বশীল নেতা তাঁর পক্ষে কাজ করেননি। এ কারণেই নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, নৌকার প্রাথী মো. মজিবর রহমান মোল্লাকে সাধারণ ভোটারদের অনেকেই চেনেন না। তিনি নৌকার মনোনয়ন পেলেও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যেত না। দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও তাঁকে ভালোভাবে নেননি। স্থানীয় লোকজনের কাছে জনপ্রিয় না হওয়ায় তাঁর পক্ষে জোরালো কোনো প্রচার-প্রচারণা হয়নি। সে কারণে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে নৌকা প্রতীক নিয়েও জামানত হারিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মজিবর রহমান মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, 'প্রশাসন সম্পূর্ণ আমার বিরোধিতা করেছে। তারা স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করেছে। তারা নির্বাচনে আগে ও পরে আমাদের কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি। তাই নির্বাচনে নৌকায় ভোট কম পড়েছে। ভোটাররা চাইলেও নৌকায় ভোট দিতে পারে নাই।' তবে তাঁর পরাজয় প্রসঙ্গে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী সাংসদ তাহমিনা সিদ্দিকা বলেন, 'মাদারীপুরের জনপদ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এখানে যত জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, সবটাতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কিন্তু এবার ইউপি নির্বাচনে এক প্রভাবশালী নেতার অনৈতিক বাণিজ্যের কারণে নৌকার পরাজয় হয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব দেখে হাইব্রিডজাতীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন।' দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতে বিদ্রোহী ও ১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ৩টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
9
ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি এখন প্রযোজক খরায় ভুগছে। ফলে চলচ্চিত্র নির্মাণ নেমে এসে মাসে দুই বা একটির কোঠায়। ঠিক এই নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে যাত্রা শুরু হলো 'সিনেবাজ ফিল্মস' নামে নতুন প্রযোজনা সংস্থা। শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর এক অভিজাত রেস্তোঁরায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হলো। প্রতিষ্ঠানটির শুভলগ্নে জানানো হলো, প্রতি বছর চারটি করে নতুন চলচ্চিত্র উপহার দেবে সিনেবাজ। রোমান্টিক, অ্যাকশন থ্রিলার, কমেডি, বায়োপিকসহ সকল ধরনের চলচ্চিত্রই নির্মাণ হবে এ প্রতিষ্ঠান থেকে। সিনেবাজ ফিল্মসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) থাকছেন শাম ইসলাম, চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে জোৎস্না ইসলাম, ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে নির্মাতা ইফতেখার চৌধুরী, এবং স্বাধীন খসরু থাকছেন ডিরেক্টর অব কমিউনিকেশন হিসেবে। অন্যদিকে মিউজিক ডিরেক্টর হুমায়ুন থাকবেন মিউজিক সুপারভাইজার হিসেবে। শনিবারের অনুষ্ঠানে এদের সবার সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে নির্মাতা ইফতেখার চৌধুরী। যিনি এর আগে 'খোঁজ : দ্য সার্চ' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে পা রাখেন ইফতেখার চৌধুরী। এরপর তিনি 'দেহরক্ষী', 'অ্যাকশন জেসমিন', 'ওয়ান ওয়ে', 'বিজলী' পরিচালনা করে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি বলেন, সিনেবাজ মাল্টিন্যাশনার কোম্পানি। বাংলা চলচ্চিত্র অস্কার ও কান জিতে আসুক এটা আমাদের সবার চাওয়া। সে জন্য অবশ্যই ছবির গল্প, ও মেকিং উন্নত থাকতে হবে। বর্তমানে আমাদের দেশে এমন মানের ছবি কম নির্মাণ হচ্ছে। যে ছবি শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও মুক্তি দিতে পারবো তেমন ছবিই বানাতে চায় সিনেবাজ। আমাদের প্রথম প্রজেক্ট হবে পিকনিক ও বিফোর ডন। এই ছবি দুটির মাধ্যমেই সিনেবাজ যাত্রা শুরু করবে। সিনেমাবাজের অফিসিয়াল যাত্রায় শুভ কামনা জানাতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক ও এমপি ফারুক। আরও আসেন নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, বাপ্পি চৌধুরী, রোশান ও চিত্রনায়িকা ববি ও জলি। অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাম ইসলাম বলেন,'আমি দেশে থাকিনা। বিদেশে থাকি। আর আমরা যারা বিদেশে থাকি তাদের দেশের প্রতি অন্যরকম ভালোবাসা কাজ করে। সেই ভালোবাসা থেকেই আমরা চাই বাংলাদেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাক। আমরা চাই বাংলা চলচ্চিত্র তার সোনালী দিন আবার ফিরে আসুক। এ চাওয়া থেকেই চলচ্চিত্রে প্রযোজনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা। আমাদের এ দেশে অনেক মেধাবি অভিনয়শিল্পী রয়েছেন। তাদের নিয়ে গুণগত মানের সিনেমা নির্মাণ করবো আমরা। আশা করি সবাই সিনেবাজের সঙ্গে থাকবেন।
2
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০২১ সালে ৩৯ জন খুন হয়েছেন। এর বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডই আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা, জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও পরকীয়াসহ বিভিন্ন কারণে হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে। অধিকাংশ খুনে জড়িতদের পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তথ্যমতে, গেল বছরের ৩৯ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩৭টির অপরাধী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত না হওয়া শিবগঞ্জের অটোচালক মজলুর রহমান ভোদু ও গোমস্তাপুরের দুধ বিক্রেতা মতি হত্যা মামলা তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।পুলিশ বলছে, অপরাধী শনাক্তকরণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তারা এখন প্রযুক্তিনির্ভর। পুলিশের তদন্তে সোর্সনির্ভরতা থেকে সরে এসে প্রযুক্তির সহায়তায় অনেক সূত্রহীন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হচ্ছে দ্রুত সময়ে।জানা গেছে, আধিপত্যের দ্বন্দ্বে পৌর এলাকার আলিনগরে শরিফুল ইসলাম শিমুল হত্যা, পূর্বশত্রুতার জেরে ঝাপাইড়ার হৃদয় হত্যা, আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে ইসলামপুরের কৃষক আব্দুর রহমান হত্যা, শিবগঞ্জে ইয়াবা নিয়ে দ্বন্দ্বে জিয়ারুল ইসলাম হত্যা, গোমস্তাপুরে অটোচালক জুয়েল মার্ডি হত্যা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বটতলাহাট এলাকায় কলেজছাত্র আজিম হত্যাকাণ্ডসহ বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা ছিল আলোচিত।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, পুলিশের তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় সূত্রবিহীন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা শনাক্ত হয়েছে। তাৎক্ষণিক অভিযানে আসামিরাও গ্রেপ্তার হয়েছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এসব হত্যা মামলার সব আসামি হয় তো আটক হয়নি। তবে বেশির ভাগ মামলার আসামিকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া খুনের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল-অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
6
ফ্রান্সে শেষ হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা 'ট্যুর দা ফ্রান্স'। প্রতিযোগিতা চলাকালীন একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন এক নারী। প্ল্যাকার্ডটি টিভির ক্যামেরায় দেখাতে গিয়েই যত বিপত্তি।প্ল্যাকার্ড দেখাতে গিয়ে মনের অজান্তে রাস্তার ওপর এসে পড়েন সেই নারী। তাতে লেখা ছিল 'এগিয়ে যাও দাদা-দাদি'। জার্মানিতে থাকা নিজের দাদা-দাদির প্রতি ভালোবাসা দেখাতে প্ল্যাকার্ডটি নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন তিনি। যখন তিনি প্ল্যাকার্ডটি দেখাতে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই পেছনে চলে আসে সাইকেল প্রতিযোগীদের বহর।প্রথমে টনি মার্টিন নামে এক জার্মান সাইক্লিস্টের সাইকেল হালকা করে ধাক্কা লাগে সেই নারীর শরীরে। এতে করে পড়ে যান সেই সাইক্লিস্ট। এরপর যা হওয়ার তাই হয়েছে! তাঁর পেছনে থাকা বেশ কয়েকজন প্রতিযোগী হুড়মুড় করে একে অপরের ওপর পড়তে থাকেন। একজন, দুজন নয়-এক ধাক্কায় ২১ জন প্রতিযোগী পড়ে যান।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হন স্পেনের মার্ক সোলার। সোলারের দুই হাতই ভেঙে যায়। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান সেই নারী। প্রথমে পালিয়ে গেলেও মামলা থেকে বাঁচতে পারেননি তিনি। চার দিন পর অবশ্য ঠিকই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। মজাটা হচ্ছে, এমন তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়েও অল্পতেই বেঁচে গেছেন সেই নারী।এ ঘটনায় ফ্রান্সের একটি আদালত থেকে শাস্তি পেয়েছেন সেই নারী। শাস্তি কী জানেন? ১ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৭ টাকা) জরিমানা। এই জরিমানা ফ্রান্সের সাইক্লিং ফেডারেশনের কাছে দিতে আদালত ওই নারীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে!
12
১ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু। এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সিলেট বিভাগের ৪টি জেলার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ কেন্দ্রে পাঁচটি ইউনিটে ৭ হাজার ৩০৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিবে।জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ তথ্য জানায়।আগামী ১ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত 'ক' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নেবে ৩ হাজার ৩০৭ শিক্ষার্থী। ২ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত 'খ' ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নেবে ৯২২ জন শিক্ষার্থী। ৯ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত 'চ' ইউনিটে (সাধারণ জ্ঞান) পরীক্ষা দেবে ২৬২ জন। ২২ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত 'গ' ইউনিট পরীক্ষায় অংশ নিবে ৪২৮ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ২৩ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত 'ঘ' ইউনিটের পরীক্ষায় ২ হাজার ১৮৩ শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ঘড়িসহ কোন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নেওয়া যাবে না। ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও শাবিপ্রবির ফিজিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পয়লা অক্টোবরের পরীক্ষায় শাবিপ্রবিতে সাতটি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
1
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকালে উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের তুলাপাড়া গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ওই যুবকের নাম আলম হোসেন (২৭)। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর লাশের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সিংড়া থানা-পুলিশ ও নিহত যুবকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে আলম হোসেন একাই তাঁর কক্ষে ঘুমাতে যান। আজ সকালে তিনি দরজা না খুললে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। এ সময় কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন তাঁরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধারের সময় একটি চিরকুট পান। সেখানে আলম হোসেনের মৃত্যুর কারণ লেখা আছে। লাশের পাশ থেকে উদ্ধার করা ওই চিরকুটে লেখা ছিল, সম্প্রতি আলম হোসেন কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রথমে তাঁর ২০ হাজার টাকা হারিয়ে যায়। পরে আরও ২০ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। নিরূপায় হয়ে তিনি ভাইয়ের কাছ থেকে বিকাশে দুই হাজার টাকা ধার নিয়ে বাড়ি ফেরেন। বাড়িতে এসে ধার পরিশোধ করার জন্য তিনি নিজের মুঠোফোনটি সাড়ে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এ টাকাও ঘর থেকে হারিয়ে যায়। এসব ঘটনা নিয়ে স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়। গতকাল স্ত্রী তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান। ঘটনাস্থলে থাকা সিংড়া থানার উপপরিদর্শক মোজাম্মেল হক লাশের পাশ থেকে চিরকুট (সুইসাইড নোট) উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাড়ির লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত আলম টাকা হারানোর শোকে দিনাতিপাত করছিলেন।সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর-এ-আলম সিদ্দিকী বলেন, উদ্ধার হওয়া চিরকুট নিহত তরুণের লেখা কি না, তা যাচাই করা হবে। তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
6
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখার দায়িত্ব সরকারের শুধু একার নয়; সবার। সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সার্বিক সহযোগিতাও আশা করেন তিনি। সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র নাসিম বলেন, নির্বাচনী ডামাডোল বেজে উঠেছে। জনগণও নির্বাচনমুখী। সরকার দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সরকারের শুধু একার নয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা দেশের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলেরও দায়িত্ব। জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। কোনোভাবেই নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করা যাবে না। কোনো অপশক্তি যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য জনগণকেও সজাগ থাকতে হবে। কাজীপুর পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন, কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বেলাল ও ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মুকুল এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃত্বাধীন বিএনপিসহ সব জোট ও রাজনৈতিক দলকে শঙ্কাহীন চিত্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বৃতি দিয়ে নাসিম আরও বলেন, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। এর কোনো ব্যত্যয় হবে না। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সব দল নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। নির্বাচনকালীন সরকার দৈনন্দিন রুটিন কাজ করবে মাত্র।
9
সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, 'বিশ্বে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে গড়ার জন্য নারী ও পুরুষের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।' রাষ্ট্রপতি বলেন, 'সমাজে নারীর উন্নয়নে অনেক অগ্রগতি হয়েছে, তবে তাদের অধিকার এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ কারণে আমাদের বিশেষ করে পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।' সোমবার লালমাটিয়া মহিলা কলেজের দু'দিন ব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। খবর বাসসের ভাষা আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, '১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের আহ্বানের পর নারীরা বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেছিলেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর অনেক নারী যুদ্ধে অংশ নেন। অনেক নারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সহায়তার হাত প্রসারিত করেন। যুদ্ধের সময়ে অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হন। জাতি মুক্তিযুদ্ধে নারীদের এই অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।' আবদুল হামিদ বলেন, 'এখন দেশে বিদেশে নারীর উন্নয়ন হচ্ছে। তাদের উপস্থিতি এখন রাজনীতি, অর্থনীতি এবং শিল্প সংস্কৃতি ও খেলাধূলাসহ সর্বত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা এবং মন্ত্রিসভায় নারী সদস্যরাই কেবল মাত্র নারীর ক্ষমতায়নে একমাত্র উদাহরণ নয়, তারা তাদের মেধা, দক্ষতা, সাহস দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।' রাষ্ট্রপতি বলেন, 'বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায়ও নারীরা দক্ষতা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।' তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার নারী শিক্ষা বিস্তারে এবং তাদের ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জাতিসংঘ নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ভূমিকার জন্য তাকে প্লানেট প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন অ্যাওর্য়াড এবং এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওর্য়াড প্রদান করেছে।' রাষ্ট্রপতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বলেন, 'এই অর্জন এবং সম্মানিত প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে আমাদেরকে আরো উৎসাহিত করবে।' রাষ্ট্রপতি জাতীয় জীবনে নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'একজন শিক্ষিতা মা একটি ভাল সমাজ গড়তে পারেন। একটি জাতি নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নয়নের শিখরে পৌছুতে পারে।' আবদুল হামিদ লালমাটিয়া মহিলা কলেজ জাতীয় করণে শিক্ষার্থীদের দাবি সম্পর্কে বলেন, 'আমি রাষ্ট্রপতি, সরকার নই। তবে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবো।' রাষ্ট্রপতি পরে কলেজ শিক্ষার্থীদের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গির কবির নানক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসেন, জাতীয় বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ এবং কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
6
উপকরণপাস্তা ১ প্যাকেট, বিফ কিমা ১ পাউন্ড, আলফ্রেডো সস ১ জার, ধনেগুঁড়া ১ চা-চামচ, রসুন ও জিরার গুঁড়া আধা চা-চামচ করে, লবণ স্বাদমতো, গোলমরিচের গুঁড়া পছন্দমতো, সুইট অ্যান্ড সাওয়ার সস ৩ টেবিল চামচ, ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল চামচ, ২টি মাঝারি পেঁয়াজ বড় করে কাটা।প্রণালিপাস্তা লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিয়ে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একটা প্যানে সামান্য একটু তেলে পেঁয়াজ সঁতে করে তাতে সব গুঁড়া মসলা ও লবণ দিয়ে কষিয়ে বিফ কিমা রান্না করে নিন। এই রান্না করা কিমাতেই সেদ্ধ করে রাখা পাস্তা ছেড়ে দিয়ে তাতে আলফ্রেডো ও সুইট অ্যান্ড সাওয়ার সস এবং ধনেপাতা দিয়ে সামান্য জ্বালে সব মিশিয়ে নিন। যদি একটু ঝাল ঝাল করতে চান তাহলে কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিতে পারেন বা ১ চা-চামচ চিলি ফ্লেক দিতে পারেন।সব মেশানো হয়ে গেলেই নামিয়ে ডিশে ঢেলে গরম-গরম পরিবেশন করুন। পরিবেশনের সময় ওপরে একটু পারমাজেন চিজ ছিটিয়ে দিতে পারেন।লেখা ও ছবি: কানিজ নাজনীন বীথি
6
ইসলামাবাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে মার্কিন দূতাবাসের বিরুদ্ধে কথা বলার একদিন পরেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথা বললেন। আজ শনিবার তিনি বলেছেন, "তার দেশ ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক প্রসারিত করতে চায়।"খবর রয়টার্সের। কামার জাভেদ বাজওয়া বলেন, "পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। চীন পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর তার সেই সম্পর্কের প্রমাণ। তাছাড়া ঐতিহাসিক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। এখনও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। আমরা যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে সমান ভাবে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তেমন ভাবে যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং জাপানও আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।" এদিকে, পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সেনাপ্রধান কামার বাজওয়া রাশিয়া ও ইউক্রেন সংকট নিয়ে কথা বলেছেন। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগ যথাযথ। কিন্তু তা সত্ত্বেও ছোট দেশে রাশিয়ার আগ্রাসন গ্রহণযোগ্য নয়।" সূত্র : রয়টার্স ও ডন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
3
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীণ প্রথম ছাত্রী হল বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রভোষ্ট রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড.এস.এম আনোয়ারা বেগমকে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। উপাচার্য জানান, নতুন প্রভোষ্ট নিয়োগ হয়েছে। পহেলা জানুয়ারী থেকে প্রভোষ্টের অনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে। আপাতত হল বুঝিয়ে নেয়ার জন্য প্রভোষ্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সহকারী প্রভোষ্ট, হাউজ টিউটর নিয়োগ দেয়া হবে। প্রভোষ্ট নিয়ম কানুন তৈরি করা এবং ডাইনিং বিষয়ে সকল কাজ আগ থেকেই শুরু করতে হবে। সকল কাজ শেষ করে আগামী জুন থেকে ছাত্রীরা হলে উঠতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য। বিডি-প্রতিদিন/ আব্দুল্লাহ সিফাত
1
মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার মধ্যেই ত্রিপুরায় বিজেপির এক মন্ত্রীকে দেখা গেল একজন নারী মন্ত্রীর কোমর ধরে টানাটানি করতে। সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে ত্রিপুরায় প্রধান বিরোধী দল বামেরা আওয়াজ তুলেছে, কেন অভিযুক্ত মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হবে না। বামেরা সোমবার দাবি জানায়, মনোজকান্তি দেব নামে ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে হবে। কারণ তিনি শনিবার মঞ্চে উপস্থিত একজন নারী মন্ত্রীকে অশালীন ভাবে স্পর্শ করেছেন। তবে ভিডিওটির সত্যাসত্য এনডিটিভির পক্ষে যাচাই করে দেখা সম্ভব হয়নি। প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী মনোজকান্তি অবশ্য ঘটনাটিকে অস্বীকার করেন। ত্রিপুরায় ক্ষমতায় থাকা বিজেপি অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, 'এটা বামেদের তরফে অযথা চরিত্রহননের চেষ্টা।' ত্রিপুরায বাম কনভেনার বিজন ধর মিডিয়াকে বলেন, 'মনোজকান্তি দেবকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা উচিত। যে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব উপস্থিত রয়েছেন সেখানে জনসমক্ষে তিনি এমন কাজ করেন কি করে?' মঞ্চে সে দিন উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার সমাজকল্যাণ এবং সমাজ শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, তিনি একজন তরুণ আদিবাসী নেত্রীও। মনোজকান্তি দেব ত্রিপুরার খাদ্য যুব ক্রীড়া বিভাগের মন্ত্রী। তিনি কয়েক দিন আগেই সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে ফোনে বলেছেন যে, 'এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।' বিজেপির মুখপত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য্য বলেন, 'বাম দলগুলোর আপাতত বিজেপির বিরুদ্ধে অযথা বিষয় নিয়ে ইস্যু করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই, তাই তারা বিজেপি মন্ত্রীদের চরিত্র হননের চেষ্টায় নেমেছেন।' তার আরো প্রশ্ন, 'আমাদের ওই মহিলা মন্ত্রী কি কোনো রকম বক্তব্য রেখেছেন? এই নিয়ে কোনো অভিযোগ করেছেন? তা হলে বাম দলগুলো কেন এ বিষয়টা নিয়ে পানি ঘোলা করে নোংরা রাজনীতির খেলা খেলছে?' দেখুন সেই ভিডিও :
3