text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
কক্সবাজারের টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা শিবির থেকে ৫ জনকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। এদের ৪ জন ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং একজন একাধিক মামলার পলাতক আসামি। এদের নাম পুলিশের তালিকায় 'শীর্ষ সন্ত্রাসী' হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে পৃথক অভিযানে হ্নীলা ইউনিয়নের ২৭ নম্বর শিবির থেকে তাদের আটক করা হয়। এরা হলেন-একই শিবিরের আশ্রিত মৃত মো. সিদ্দিকের ছেলে নুর আজিম (৩২), সহোদর আবু (৫০), মো. আইয়ুবের ছেলে ইসলাম (৩৫) ও মৃত মুসলিমের ছেলে নুরুল হক (৩৫)। তাঁদের কাছ থেকে চারটি রামদাও উদ্ধার করা হয়।১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাদিমুড়া ২৭ শিবিরে এপিবিএনের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় চার রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করে। তিনি আরও বলেন, আটককৃতদের হেফাজতে থাকা দেশীয় তৈরি বিভিন্ন সাইজের চারটি রাম দা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা আরও পাঁচ সহযোগীর নাম স্বীকার করে ডাকাতির জন্য জড়ো হওয়ার কথা স্বীকার করেন। উদ্ধারকৃত রামদাসহ আটক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এদিকে একই শিবিরে অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলা পলাতক আসামি রোহিঙ্গা ডাকাত নুর আহম্মদ (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহম্মদ একই শিবিরের ব্লক-বি ১১, এফসিএন-২৮৮১০০ এর লাল মিয়ার ছেলে।আহম্মদ গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এসপি তারিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে টেকনাফ মডেল থানার মামলা নম্বর-২১ (১২) ২০২১, ধারা-৩৯৯ / ৪০২ পেনাল কোড এবং ২২ (১২) ২০২১, ধারা-১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ () এর এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁকেও টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। | 6 |
এডুকেশন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ইরাব) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার অভিজিৎ ভট্টাচার্য। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিজস্ব প্রতিবেদক আকতারুজ্জামান। আজ শনিবার ইরাব কার্যালয়ে 'সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি'র সদস্য ও ইরাব প্রতিষ্ঠাতারা সর্বসম্মতিক্রমে আগামী এক বছরের জন্য এ কমিটির মনোনয়ন দেন। ইরাবের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং দৈনিক শিক্ষা ও দৈনিক আমাদের বার্তা এর সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খান। উপদেষ্টা রয়েছেন ইরাব প্রতিষ্ঠাতা, সংবাদের সিনিয়র রিপোর্টার রাকিব উদ্দিন। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাহান্ন নিউজের সম্পাদক বিভাস বাড়ৈ, ঢাকা প্রকাশের প্রধান প্রতিবেদক আজিজুল পারভেজ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট এর সিনিয়র রিপোর্টার হারুন অর রশিদ ও সংবাদ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার আবদুল হাই তুহিন। ইরাবের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বাহান্ন নিউজের সম্পাদক বিভাস বাড়ৈ। সদস্য ছিলেন মুসতাক আহমদ (যুগান্তর), রাকিব উদ্দিন (সংবাদ), নূরুজ্জামান মামুন (আজকালের খবর) ও আবদুল হাই তুহিন (সংবাদ প্রতিদিন)। নব নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, শিক্ষা বিট সাংবাদিকদের পেশার উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাবে ইরাব। বিটের যে কেউ সাংগঠনিক নিয়মে ইরাবের সদস্য হতে পারবেন।
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 1 |
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় আশির দশকে পাটের গোডাউন ভেঙে প্রথমে প্রেক্ষাগৃহ তৈরি করা হয়েছিল। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে নানা পেশার মানুষের সিনেমা দেখার আনন্দকে সঙ্গী করে চলতে থাকে মর্নিং, ম্যাটিনি ও নাইট শো। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে এক কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি প্রেক্ষাগৃহের জন্ম হয়। এরপর দুই যুগ দর্শক বিনোদন দিয়ে চলতে থাকে সুবর্ণা, অপর্ণা ও মনামী সিনেমা হল (প্রেক্ষাগৃহ)।কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় মানহীন চলচ্চিত্র, নোংরা পরিবেশ, অব্যবস্থাপনা ও অর্থের অভাবে অপর্ণা প্রেক্ষাগৃহটি বন্ধ হয়েছে এক বছর আগেই। এবার বন্ধ থাকা প্রেক্ষাগৃহটি ভেঙে গোডাউন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে খোকসার সুবর্ণা প্রেক্ষাগৃহের অবকাঠামো ভেঙে একটি অংশ গোডাউনে পরিণত করা হয়।নিয়মিত খোকসার প্রেক্ষাগৃহগুলোয় সিনেমা দেখতেন রবিউল ইসলাম (৫৫)। তিনি জানান, আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন আর সিনেমার সঙ্গে অশ্লীল কাটপিস সংযোজনের কারণে দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এতে ক্রমাগত লোকসানের মুখে পড়ে সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা।কথা হয় সুবর্ণা ও অপর্ণা প্রেক্ষাগৃহের মালিক আমজাদ হোসেন খোকনের সঙ্গে। তিনি জানান, সুবর্ণা প্রেক্ষাগৃহটি ১১ বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। পরে সেটি ভেঙে একটি অংশে গোডাউন করা হয়েছে। ভবনটির বাকি অংশ এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অপরদিকে এক বছর ধরে অপর্ণা প্রেক্ষাগৃহটিও বন্ধ রয়েছে। এ জন্য তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রেক্ষাগৃহটি ভেঙে গোডাউনে রূপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বাকি অংশ একটি ব্যাংকের কাছে ভাড়া দিয়েছেন।তিনি আক্ষেপ করে বলেন, প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের পেছনে একদিকে প্রযুক্তির অপব্যবহার, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র দায়ী। পরিকল্পিতভাবে চলচ্চিত্রশিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছে।সরকার প্রণোদনার মাধ্যমে সিনেমা ব্যবসার সুদিন ফেরাতে চায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'প্রণোদনার ঋণের সুদ ৪ শতাংশ বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে ৯ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। ফলে সিনেমা ব্যবসা আর ঘুরে দাঁড়াবে না।'সুবর্ণা ও অপর্ণা ছাড়াও খোকসায় আশির দশকে নির্মিত মনামী প্রেক্ষাগৃহটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। কিছুদিন আগেও ঈদ ও পূজার উৎসবে দর্শক হলেও এখন আর কেউ সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে আসে না।কেবল ভালো মানের ছবি নয় প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ উন্নত করা গেলে আবারও দর্শক প্রেক্ষাগৃহমুখী হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। | 2 |
বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদহত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট ড. জাফর ইকবাল। বুধবার বিকাল তিনটার দিকে বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব | 1 |
কলকাতার ইডেন উদ্যানে ১৯৫৪ সালের কোনো এক দিন আয়োজন করা হয়েছিল কবিতাসভার। বড় মাপের এক যুব সম্মেলন, তাতে অনেক সাংস্কৃতিক আয়োজন, তারই অংশ এই কবিতাসভা। এক সন্ধ্যায় কবিতা পড়বেন ৭২ জন কবি।মাটির ওপর শতরঞ্জি পেতে বসেছেন শ্রোতারা। মঞ্চের ঠিক মাঝখানে ছোট্ট নিচু একটা ডেস্কে আসনপিঁড়ি হয়ে বসে আছেন সভার সভাপতি কাজী আবদুল ওদুদ। তিনি একজন একজন করে কবিদের ডাকছেন। তাঁরা কবিতা পড়ছেন। উইংসের পাশে সুভাষ মুখোপাধ্যায় দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি এক হাতে শক্ত করে ধরে রেখেছেন শঙ্খ ঘোষকে। এর আগে সিনেট হলে যে কবিতা উৎসব হয়েছিল, তাতে কবিতা না পড়েই চম্পট দিয়েছিলেন শঙ্খ ঘোষ। এবার যেন সেটা হতে না পারে, সে কারণেই এই বন্দিদশা। সুভাষ মুখুজ্জে অভয় দিচ্ছেন শঙ্খ ঘোষকে। 'যাবে, একটা কবিতা পড়ে চলে আসবে। এর মধ্যে এত ভয়ের কী আছে?'তাঁদের পাশে দাঁড়ানো ছিলেন পূর্ণেন্দু পত্রী। এরপর তাঁর ডাক আসবে। একটা ছোট কবিতা বের করে রেখেছেন তিনি। আগের কবির পড়া শেষ হতে কাজী আবদুল ওদুদ বললেন, 'পরের কবিকে ডাকবার আগে আমার কয়েকটা কথা আছে। রাত হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে শ্রোতারা অনেকে উঠে যাচ্ছেন। কিন্তু অর্ধেকসংখ্যক কবির কবিতা পড়া এখনো বাকি। তাই কবিদের প্রতি আমার নিবেদন, তাঁরা যদি তাঁদের কবিতার শুধু প্রয়োজনীয় অংশটুকু পড়েন, তাহলে ভালো হয়।'কবিতার প্রয়োজনীয় অংশ! পূর্ণেন্দু এবার কী করেন, সেটাই ছিল দেখার বিষয়। পূর্ণেন্দু উঠলেন মঞ্চে। এবার তিনি ছোট কবিতাটি সরিয়ে রেখে বের করেছেন বইয়ের সবচেয়ে বড় কবিতাটা। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে কবিতা পড়ে যান পূর্ণেন্দু, বিহ্বল হয়ে বসে থাকেন আবদুল ওদুদ।এসব দেখে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের শক্ত হাত শিথিল হয়ে আসে। 'এরপরও আমাকে কবিতা পড়তে বলবেন?' জিজ্ঞেস করেন শঙ্খ ঘোষ।সুভাষ বলেন, 'না।'সূত্র: শঙ্খ ঘোষের গদ্যসংগ্রহ | 6 |
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের পৃথক দুটি স্থানে দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আজ রোববার সকালে মিরসরাইয়ের বারৈয়াহাট ও এক কিলোমিটার এলাকায় এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। নিহতদের একজনের নাম জানা গেছে। তিনি নোয়াখালী জেলার মাইজদি এলাকার বাসিন্দা মো. রফিক (৪৫)। তিনি ইটভাটায় কাজ করতেন বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার সীতাকুণ্ড ফাঁড়ির এসআই শহীদুল ইসলাম বলেন, 'রেললাইনের পাশে প্রস্রাব করার সময় চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ইটভাটার শ্রমিক রফিক নিহত হন। এ ছাড়া মিরসরাইয়ে একজন নিহতের খবর আমরা পেয়েছি। তবে কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা জানতে পারিনি।' | 6 |
বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের বীরপাশা গ্রামের একটি পুকুরে জ্যাকেটের পাশেই ভাসছিল নবজাতক শিশুর লাশটি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমে জ্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় ছিল এটি। মঙ্গলবার সকালে (১৬ ফেব্রুয়ারি) ছেলে শিশুর এ লাশ উদ্ধার করেছে বাউফল থানা পুলিশ। ওই গ্রামের আব্দুল হক হাওলাদার বাড়ির সামনের পুকুর থেকে ওই লাশ উদ্ধার হয়। বীরপাশা গ্রামের চৌকিদার ফিরোজ আলম জানান, কালো রংয়ের একটি কাপড়ের জ্যাকেট দিয়ে মোড়ানো নবজাতকের লাশটি পুকুরে ভাসতে দেখে বাউফল থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, নবজাতকটি কারো অবৈধ সম্পর্কের ফসল হতে পারে। স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার জানান, এ বিষয়ে তাকে কেউ জানায়নি। আজ বিকেলে বাউফল থানার এক পুলিশ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশ আঞ্জুমান মফিদুলের মাধ্যমে দাফন করা হবে। | 6 |
সুনামগঞ্জে হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসলহানির শিকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য প্রণোদনা কর্মসূচি নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, অবশ্যই আমাদের প্রণোদনা আছে। ওখানে আমন ওইভাবে হয় না, একটাই ফসল। আমরা ইতোমধ্যে কর্মসূচিটি নিয়েছি আউশে প্রণোদনা দেয়ার জন্য। ক্ষয়ক্ষতি মেটানোর অবশ্যই চাষীদের পাশে এ সরকার থাকবে। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী সুনামগঞ্জের হাওরে উজানের ঢলে বাঁধ ভেঙে পাঁচ হাজার হেক্টরের কিছু বেশি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশ্য মঙ্গলবার নির্দিষ্ট করে আকস্মিক বন্যায় কী পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখনও সেই সময় হয়নি। এখন মেঘ আকাশে, আমি কৃষিমন্ত্রী হিসেবে সবসময়ই একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকি, আমাদের চিন্তিত করে। প্রকৃতির ওপর তো আমাদের হাত নেই। তিনি আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংসদেও আলোচনা করেছি, এমনিও যোগাযোগ রাখছি। তিনি বলেছেন, দেখো, প্রস্তুতি রাখো যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য। দুদিনে অস্বাভাবিকভাবে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, আবার ১৪-১৫ তারিখে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সেই বৃষ্টি যদি আল্লাহ সরিয়ে নেন বা কোনো পরির্তন হয়- এটাই আমরা আশা করি। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বোরোতে প্রতি বছর আমাদের দুই কোটি টন উৎপাদন হয়, এর মধ্যে ১২ লাখ টন হয় হাওরে, যেটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে ১২ লাখ টনও বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। এটা আপনাদের জানা দরকার। গত সোমবার হাওরে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে করা এক সংবাদ সম্মেলনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগাম বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আমাদের তিনটি স্থানে ভাঙন হয়েছে। ফসলের ক্ষেত্রে দুই লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদন হয়। পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিশ্বব্যাংক। এ নিয়ে কানাডার আদালতে মামলাও হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি বিশ্বব্যাংক। রোববার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের বোরিং কার্যক্রম এবং লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং প্রকল্পের ফলক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, চট্টগ্রাম শুধু বাণিজ্যিক শহরই নয়, এটি অপরুপ সৌন্দয্যের লীলাভূমি। দেশের অন্যন্যা স্থানের মতো চট্টগ্রামের উন্নয়নেও কাজ করছে সরকার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম টানেল হচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে। ২০১০ সালে এই টানেল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। এই টানেল নির্মাণ হলে যোগাযোগের শুধু উন্নয়ন হবে না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নেরও উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য এখনই আমরা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছি। সেই সঙ্গে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনাটা এমন ভাবে নিয়েছি, যাতে সেই ক্ষতির হাত থেকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষজন রক্ষা পায়। এসব দিকে লক্ষ রেখেই আমাদের ব্যপক উন্নয়নের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যা যা প্রয়োজন, একে একে আমরা সেসব কাজ করে যাচ্ছি। এ সময় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ওপর সেতুমন্ত্রীর অনেক ক্ষোভ। কারণ তিনি আমার নামে পদ্মাসেতু করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি সেটা নাকচ করে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমরা পদ্মাসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম ২০০১ সালে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে পদ্মাসেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আবার আমরা উদ্যোগ নেই পদ্মাসেতু নির্মাণের। তখন সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। তবে হঠাৎ মাঝামাঝি সময়ে এসে তারা অভিযোগ আনলো এখানে দুর্নীতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সময় চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম কোথায় দুর্নীতি হয়ে তা দেখাতে হবে, দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক সেই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে কানাডার আদালতেও মামলা হয়েছে। পরে আদালত বলেছেন, বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ তুলেছে তা মিথ্যা, ভূয়া। এরপর আমার নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, সেই পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মাসেতু নিয়ে যখন এত কিছু হয়ে গেছে, তখন সেটা পদ্মাসেতুর নামেই থাকবে। এটার সঙ্গে আর কোনো নাম যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কাজেই আমার মন্ত্রীকে বলবো রাগ ক্ষোভ করার কিছু নেই। আমি কোনো নাম চাই না, কিছুই চাই না। কারণ আমি সব হারিয়ে রিক্ত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি। | 6 |
কৃষকের কান্নায় ভারি হয়ে যাচ্ছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার হাওরাঞ্চল। রবিবার (৪ এপ্রিল) রাতের কয়েক মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন মূহুর্তে বিলীন হয়ে গেছে। শীষে ধান নেই, জমিতে শুধু ধান গাছ দাঁড়িয়ে আছে। সোমবার সকাল থেকে হাওরাঞ্চলে চলছে কৃষকদের বিলাপ করা কান্না। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে পৌরসভাসহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ফলন ভাল হয়েছে। লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে বলে আশা ছিলো কৃষকদের। গেল কয়েক বছরের চেয়ে এবার উপজেলায় রোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বেশির ভাগ জমির ধানই পাকতে শুরু করেছিলো। ধান ঘরে তুলতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কিন্তু গত রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে কৃষকদের সব স্বপ্ন বিলীন করে দিয়েছে। ধার-দেনা করে এক ফসলি জমির ফসল হারিয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই কৃষকের। চানগাঁও ইউনিয়ের শাহাপুর গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বগি, পুতুল মিয়া, মাঘান গ্রামের আনোয়ার, হাবিবুর রহমান হবি, পৌর সভার ৬ নং ওয়ার্ডের মন্জু মিয়া মিয়াসহ অনেকেই জানান, হাওরের এক ফসলি বোরো জমির ফসল দিয়ে সারা বছর পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। রবিবার রাতের কয়েক মিনিটের গরম বাতাসে জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে ফসল উৎপাদন করে ছিলাম। এখন সারা বছর খাবো কী? আর কী দিয়ে পরিশোধ করবো ঋণ? সরকার যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায় পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। সোমবার সকালে মদন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কদ্দুছসহ কৃষি বিভাগের লোকজন হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রায়হানুল হক জানান, গত রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে কৃষদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। আমাদের লোকজন মাঠে আছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য এখনো বলা যাচ্ছে না। | 6 |
মায়ের জন্য আজো কাঁদে গ্রেনেড হামলায় নিহত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রিজিয়া বেগমের পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ এখন আর কেউ তাদের খোঁজখবর রাখে না। প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেয়েও অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন রিজিয়ার বৃদ্ধ বাবা। রিজিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে ফুটফরমায়েশ খেটে রিজিয়া বেগমের (৩৫) বাবা-মা আর ২ সন্তানসহ ৫ জনের সংসার মোটামুটি ভালোই চলছিল। রিজিয়া বেগম প্রতিদিনের মতো অফিসের কাজ সেরে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভাস্থলে এসে ট্রাক মঞ্চের কাছাকাছি দাঁড়ান প্রিয় নেত্রীর বক্তৃতা শুনতে এবং কাছে থেকে তাকে দেখতে। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গ্রেনেডের স্প্লিন্টার এসে তার শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। তখনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাকের ফুল ও মাথায় সাদা ওড়না জড়ানো দেখে আওয়ামী লীগের ২ জন কর্মী ও তার ছোট ছেলে নূরনবী নিহত রিজিয়াকে শনাক্ত করেন। রিজিয়ার বাড়ি কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গঙ্গানারায়ণ গ্রামে তার লাশ দাফনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। সম্প্রতি রিজিয়ার বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তার বৃদ্ধ বাবা আফাজ উদ্দিন দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর অনেকটা বিনা চিকিৎসায় ১০২ বছর বয়সে ৩ বছর আগে মারা যান। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তার ছোট বোন আনোয়ারা বেগম বেরিয়ে এসে জানান, রিজিয়া নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ১ লাখ টাকায় তিনি কাউনিয়ায় গঙ্গানারায়ণ গ্রামে ২৫ শতক জমি কিনেছেন এবং সামান্য কিছু টাকা শেষ সম্বল হিসেবে ব্যাংকে রেখেছিলেন। সে টাকাও বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিনের চিকিৎসা করতে শেষ হয়েছে। হারুন ও নূরনবী নামে তার ২টি পুত্র-সন্তান আছে। রিজিয়ার ছোট ছেলে নূরনবী জানায়, তার মাকে নিয়ে তাদের গর্ব হয়। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান হিসাবে ৮ লাখ টাকা পেয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে কিছু আবাদি জমি কিনেছেন, বাকি টাকা ব্যাংকে জমা আছে। তাদের দুঃখ করোনা দুর্যোগেও এখন আর কেউ তাদের খবর রাখে না। | 6 |
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) গ্যাস অ্যানালাইজার কিট, লিচেট মাপক যন্ত্র ও একটি ড্রোন উপহার দিয়েছে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন আহম্মদের কাছে এসব যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করেন জাইকার প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি মাতসুমোতো ডাইকি। এগুলো পরিচালনায় দক্ষতা অর্জনে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দুইজন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেবে জাইকা। ফ্যানটম ৪ প্রো মডেলের ড্রোনটি অপারেশন পয়েন্ট থেকে ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি ল্যান্ডফিলের মেয়াদ ও উচ্চতা নির্ধারণ, ল্যান্ডফিলের দূষিত পানিপ্রবাহের হটস্পট চিহ্নিত করা, দখলকৃত খালের অবস্থান চিহ্নিত করাসহ নানা কাজে ব্যবহার করা যাবে। লিচেট পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট দূষিত পানির প্যারামিটারের মাত্রা নিরূপণ করা যাবে। | 6 |
জার্মানিতে সাধারণ নির্বাচনের আর দুই মাসও দেরি নেই অথচ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের প্রায় ১৬ বছরের ক্ষমতাকালের শেষে আগামী সরকারের রূপরেখা বা তার উত্তরসূরি সম্পর্কে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস সম্ভব হচ্ছে না জনমত সমীক্ষায় কোনো শীর্ষ চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী বা দলের পক্ষে জোরালো সমর্থন চোখে পড়ছে না ফলে নির্বাচনের পর আসনসংখ্যার ভিত্তিতে দু'য়ের বদলে তিনটি দলের জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাড়ছে অথচ ম্যার্কেলের আমলে ইউনিয়ন শিবির জার্মানির সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজস্ব অবস্থান প্রায় অটুট রাখতে পেরেছিল তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি বাছাইয়ের আগে পর্যন্ত সেই অবস্থান মোটামুটি অক্ষত ছিল কিন্তু চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী হিসেবে নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আরমিন লাশেট আসরে নামার পর থেকে সিডিইউ ও সিএসইউ দলের জনপ্রিয়তা কমেই চলেছে বিশেষ করে জুলাই মাসের মাঝামাঝি নিজের রাজ্যে বিধ্বংসী বন্যার পর তাঁর দুর্বল ও বিতর্কিত ভূমিকা প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে তাঁর বদলে বাভেরিয়ার মুখ্যমন্ত্রী মার্কুস স্যোডার নেতৃত্বের সেই সুযোগ পেলে কিন্তু এমন অধঃপতন হতো না বলে সমীক্ষায় বার বার স্পষ্ট হয়ে উঠছে ফলে আগামী সরকারের নেতৃত্বের সুযোগ ইউনিয়ন শিবিরের জন্য অধরা থেকে যেতে পারে বিপর্যয় এড়াতে দুই দলের মধ্যেই কান্ডারি হিসেবে লাশেটকে সরিয়ে স্যোডারের হাতে হাল দেবার দাবিও বাড়ছে মরিয়া হলে লাশেট জোরালো নির্বাচনি প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা শুরু করেছেন অন্যদিকে তিন চ্যান্সেলর পদপ্রার্থীর মধ্যে সমর্থনের বিচারে শেষ স্থান থেকে ধীরে ধীরে শীর্ষে উঠে এসেছেন এসপিডি দলের নেতা ওলাফ শলৎস ভাইস চ্যান্সেলর ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং শান্ত স্বভাব মানুষের মনে ধরছে এবার তার দলও দুর্বলতা কাটিয়ে সমর্থনের বিচারে সবুজ দলকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে, যদিও সরকারের নেতৃত্ব দেবার মতো অবস্থানে এখনো পৌঁছতে পারেনি জার্মানির আগামী জোট সরকারের নেতৃত্ব বা শরিক দল হবার আশা সবুজ দলের কাছে অধরা থেকে যেতে পারে ইউনিয়ন শিবিরের মতো সবুজ দলও চ্যান্সেলর পদপ্রার্থীর জনপ্রিয়তার অভাবের কারণে পিছিয়ে পড়ছে একের পর এক ব্যক্তিগত বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় আনালেনা বেয়ারবক চ্যান্সেলর হবার স্বপ্ন ত্যাগ করতে কার্যত বাধ্য হচ্ছেন দলের জনপ্রিয়তাও কমে চলেছে জার্মানির আগামী জোট সরকারে শরিক হিসেবে উদারপন্থি এফডিপি দলের সম্ভাবনা বেড়ে চলেছে দলের শীর্ষ নেতা ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনার এখন থেকেই নিজেকে অর্থমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরছেন সূত্র : ডয়চে ভেলে | 3 |
মুলাদীতে আসামিদের থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়েরকৃত মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা মুলাদী থানার উপপরিদর্শক এটা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী রেহানা আক্তার। তবে উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নারাজি দিয়ে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছে আদালতে আবেদন করেছেন বাদী।বিষয়টি নিয়ে রেহানা আক্তার গত ১৪ ডিসেম্বর সিনিয়র পুলিশ সুপার (মুলাদী) সার্কেল কার্যালয়ে যান। এএসপি মো. মতিউর রহমান আদালত রেহানা আক্তারের না রাজি আবেদন গ্রহণ করে পুন:তদন্তের দায়িত্ব দিলে বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্থ করেন।রেহানা আক্তার জানান, তাঁর স্বামী বাটামারা ইউনিয়নের আব্দুর রহিমের যৌতুক দাবিতে বিভিন্ন সময় দেড় লাখ টাকা দেন। আব্দুর রহিম গত জুনে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ২৪ জুন আদালতে মামলা করেন তিনি। গত ৪ আগস্ট আব্দুর রহিম খানের বাড়িতে গেলে আব্দুর রহিম পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন রেহানাকে।ওই ঘটনায় রেহানা আক্তার বাদী হয়ে ১৬ আগস্ট বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আব্দুর রহিম, তার ১ম স্ত্রী ও ওই পক্ষের ছেলেকে আসামি করে মামলা করেন। আদালত মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুসন্ধানের জন্য উপপরিদর্শক মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেন। মিজানুর রহমান ১৫ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। রেহানা আক্তার এতে না রাজি দিয়ে পুন:তদন্তের আবেদন জানান।রেহানা আক্তার বলেন, 'তদন্ত কর্মকর্তা আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। আমি অনেক কষ্টে তাকে দুই দফায় ৯ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু আর দিতে পারিনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মামলার অভিযোগপত্র না দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনের মিল নেই।মিজানুর রহমান জানান, রেহানা আক্তার কিংবা আব্দুর রহিম থেকে সুবিধা নেওয়া হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।মুলাদী থানার ওসি এস এম মাকসুদুর রহমান বলেন, চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের ব্যতিক্রম করার সুযোগ নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। | 6 |
আরেকটি অডিও ফাঁস হওয়ায় দেখা যাচ্ছে জাবি ভিসি ফারজানা টাকা ভাগ করে দিয়েছেন। তিনি এখন বিতর্কের কাঠগড়ায়; তারও পদত্যাগ চাই; এর কঠিন তদন্ত চাই। এই সমাজকে শিক্ষিতরাই নষ্ট করে দিয়েছে। উপাচার্যদের হাত ধরে একেকটি বিশ্ববিদ্যালয় কি তবে অন্ধকারে যাচ্ছে? সকালে যাকে সাধুবাদ জানাই রাত নামলেই দেখি তারাও লোভের পথে নগ্নভাবে হেঁটেছিলেন। আর এ অপরাধে শোভন-রাব্বানী অব্যাহতি পেলে সাদ্দামসহ বাকিরা কেন পাবে না? আইনের ঊর্ধ্বে কেউ যেতে পারেন না। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মর্যাদাবান আদর্শিক শিক্ষকরা ভিসি নন; আদর্শ শিক্ষকের আইডল নেই; সেই সব বিশ্ববিদ্যালয় জাতির আলোকিত সন্তান উপহার দেবে কিভাবে? শিক্ষকরা নষ্ট হলে, দুর্নীতি লোভে ডুবলে, রাজনীতি সরকার তাদের ঠিক করবে কিভাবে? সবার আজ অনেক টাকা চাই, অনেক টাকা। লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব | 2 |
ব্যাংকের বাইরে অন্য প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন শেষে গড়ে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা জমা থাকে গ্রাহকের এখন থেকে গ্রাহকের হিসাবে জমা থাকা অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকের জমা টাকার পুরোটাই ব্যাংকে 'ট্রাস্ট ফান্ড' হিসাবে জমা রাখতে হবে। এ ফান্ডে জমা টাকা কোনোভাবেই গ্রাহকের এমএফএস হিসাবে জমা থাকা টাকার চেয়ে কম হতে পারবে না। আর এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের জমা টাকার বিপরীতে ই-মানি ইস্যু করে, তার পরিমাণও কোনোভাবেই জমা টাকার বেশি হতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল 'ট্রাস্ট ফান্ড ব্যবস্থাপনা' শীর্ষক এই নীতিমালা জারি করেছে। নতুন এ নীতিমালার ফলে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকের হিসাবে জমা থাকা টাকা নিজেদের প্রয়োজনে আর ব্যবহার করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নীতিমালাটির নাম দিয়েছে 'গাইডলাইনস ফর ট্রাস্ট ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ইন পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সার্ভিসেস'। এখন থেকে এমএফএস প্রতিষ্ঠান, আইপে, ডি মানি, এসএসএল কমার্সের মতো আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে মেনে চলতে হবে। ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকের জমা টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্যাংকের বাইরে এমন প্ল্যাটফর্মে দিন শেষে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা জমা থাকে গ্রাহকের। এর বিপরীতে কেউ কেউ গ্রাহকদের সুদ দিচ্ছে। আর প্রতিষ্ঠানগুলো এই টাকা উচ্চ সুদে কেউ ব্যাংকে আবার কেউ অন্যত্র রাখছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতিমালার ফলে গ্রাহকদের জমা টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করতে হবে। এ জন্য তফসিলি যেকোনো ব্যাংকে ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব খুলতে হবে। এই হিসাবে গ্রাহকের জমা করা পুরো টাকা থাকতে হবে। এই টাকা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুমোদিত একটি অংশ সরকারি বিল-বন্ড, স্থায়ী আমানতে রাখা যাবে। এই বিনিয়োগ থেকে যে সুদ আসবে, তা প্রতিষ্ঠানগুলো দৈনন্দিন খরচ, সরকারি মাশুল, গ্রাহক সচেতনতা খাতে ব্যবহার করতে পারবে। এই সুদ আয় থেকে গ্রাহকদেরও ভাগ দিতে হবে। ট্রাস্ট ফান্ডের বিপরীতে কেউ সরাসরি ঋণ বা ঋণসুবিধা নিতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবেই এই টাকা দৈনন্দিন পরিচালনায় খরচ করতে পারবে না। কেউ এই নীতিমালা না মানলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, ব্যাংকের গ্রাহকের টাকার সুরক্ষার জন্য যে ব্যবস্থা রয়েছে, অন্য প্ল্যাটফর্মে সেই ব্যবস্থা নেই। এ জন্য এই টাকার যত্রতত্র ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ আসছিল। গ্রাহকের টাকা কোথায় রাখতে হবে, এই টাকার ব্যবহার কী হবে, এর মাধ্যমে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কেউ না মানলে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে। | 0 |
মহামারি বিবেচনায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩২ বছর করার দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। এ দাবিতে রোববার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। 'চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ চাই'-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আকাইদ আকন্দের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তানভির হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আনোয়ার সাকিন, অক্ষয় রায়, সুমনা রহমান, মারজিয়া মুন, মানিক রিপন, সাদেকুল ইসলাম, শারমীন সুলতানা, কাজী কামরুন্নাহার, নিতাই সরকার, আলমগীর হোসেন, ওমর ফারুক, বাকী বিল্লাহ প্রমুখ। মানববন্ধনে নেতারা বলেন, করোনাকালের অচলাবস্থায় চাকরিপ্রত্যাশীরা এরই মধ্যে দেড় বছর হারিয়ে ফেলেছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ হওয়ায় দেড় লাখ তরুণ-তরুণী চাকরির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ হারাতে বসেছেন। তারা বলেন, সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স দুই বছর বাড়ানোর কারণে প্রবেশের বয়স বাড়ালেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। করোনাকালে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের হার ৮৭ শতাংশ থেকে কমে ১৩ শতাংশে নেমেছে আর বেকারত্বের হার ২০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তারা বলেন, চাকরিতে আবেদনের বয়স স্থায়ীভাবে দুই বছর বাড়িয়ে ৩২ বছর করলে সবাই তাদের হারিয়ে যাওয়া দুই বছর ফিরে পাবে। মানববন্ধন থেকে এ দাবিতে সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন এবং আগামী মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অথবা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মৌন সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। | 6 |
গরু ডাকাতির অভিযোগে এক খামারের মালিকসহ ডাকাতদলের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। এসময় ডাকাতি করা ৪১টি গরু এবং গরু বিক্রির টাকাসহ ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। খামারের ব্যবসার আড়ালে তারা গরু ডাকাতি করে বিক্রি করতেন বলে মঙ্গলবার (১ মার্চ) জিএমপি'র উপ পুলিশ কমিশনার জাকির হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- খামারের মালিক এবং ডাকাত সর্দার টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার পাইশানা এলাকার মরন দাস ওরফে সুমন ওরফে তাপস (৩৫), রংপুরের কাউনিয়া থানার নিজপাড়া এলাকার আসাদুজ্জামান বাবু (৩০), মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার বাগুটিয়া চরকাটারিপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলাম (৪০), বগুড়ার ধনুট থানার বামন নগর এলাকার আব্দুল মালেক (৪০), টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বাগুটিয়া এলাকার দূর্জয় রাজবংশী জাইল্লা (২৮) এবং ঢাকার আগুলিয়া থানার চাকোলগ্রাম এলাকার আল-আমীন (২৯)। তারা গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর, বাংলাবাজার ও ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় বসবাস করত। জিএমপি'র উপ পুলিশ কমিশনার জাকির হাসান জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দিনাজপুরের আমবাড়ী হাট থেকে সাতটি গাভী, দুইটি বাছুর ও পাঁচটি ষাঁড়সহ মোট ১৪ টি গরু কিনে ট্রাকে করে ফিরছিলেন কুমিল্লার ব্যবসায়ী ছাদেক (৫৮) ও তার ছেলে রাকিব (২২)। পথে রাত দেড়টার দিকে টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে গাজীপুরের কাশিমপুর থানার মোজারমিল এলাকায় পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস গরুবাহী ওই ট্রাকের গতিরোধ করে। পরে ৭/৮ জন যুবক মাইক্রোবাস থেকে লাঠি নিয়ে বের হয়ে ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ছাদেক ও রাকিবকে চোখ-মুখ, হাত-পা বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে সাভারের গেন্ডা এলাকায় গিয়ে গরুগুলো ডাকাতদের ট্রাকে তুলে নিয়ে বাবা ছেলেকে ফেলে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে কাশিমপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীপংকর রায়ের নেতৃত্বে থানার কয়েক কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। জিএমপি'র উপ পুলিশ কমিশনার আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার (২৮ ফেব্রয়ারি) ভোররাতে জিরানী বাজার হতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রাকের সহযোগী রাজ্জাক দৌড়ে পালিয়ে গেলেও ডাকাত সর্দার সুমনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। পরে সুমন জিজ্ঞাসাবাদে জানায় আশুলিয়ার দক্ষিণ নাল্লাপপাল্লা গ্রামে তার একটি গরুর খামার রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারী দল ওই খামারে অভিযান চালিয়ে চারটি গাভী, দুটি বাছুর এবং ৩৫টি ষাঁড়সহ মোট ৪১টি গরু উদ্ধার করে। এসব গরু কেনার প্রয়োজনীর কাগজপত্র সুমন দেখাতে পারেননি। একপর্যায়ে মামলার বাদীকে জানানো হলে তিনি তার কেনা চারটি গাভী, দুইটি বাছুর এবং পাঁচটি ষাঁড় শনাক্ত করেন। পরে সুমনের বাসায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির গরু বিক্রির নগদ ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৫০টাকা জব্দ করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যে অপর ৫ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া, ডাকাতির গরু আটকের খবর পেয়ে জিএমপির গাছা থানার চারটি গরু চুরি যাওয়া মামলার বাদী বগুড়ার আসাদ ওই খামারে গিয়ে তার চুরি হওয়া দুটি গরু শনাক্ত করেন। | 6 |
সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গুলিতে এক ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাফলংয়ের সংগ্রামপুঞ্জি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ীর নাম তকবির হোসেন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের ছেলে। তকবির হোসেন বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে সিলেটের ৪৮ বিজিবি অধিনায়কের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ওই নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে জাফলংয়ের বিজিবির প্রতাপপুর ক্যাম্প কমান্ডারের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি সিলেট সদর দপ্তরে যোগাযোগ করার কথা বলেন। ব্যবসায়ী তকবিরের প্রতিবেশী মো. করিম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে বিজিবির টহল দল সংগ্রাম বস্তিতে যায়। এ সময় তকবির হোসেন একটি দোকানে বসে ছিলেন। একপর্যায়ে ভারতীয় চোরাই গরু ধরতে এলাকাবাসীর সঙ্গে বিজিবির সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় তকবির হোসেন ঘটনাস্থলে গেলে বিজিবির সদস্যদের ছোড়া গুলিতে তকবির আহত হন বলে তিনি দাবি করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। করিম হোসেন দাবি করেন, তকবির গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে তকবির আগে পাথরের ব্যবসা করতেন। বর্তমানে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় তিনি ওই ব্যবসাও করছেন না। প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব থেকে তিনি তকবিরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। আজ বুধবার তকবিরের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল চন্দ্র দেব বলেন, সংগ্রাম বস্তিতে বিজিবির সঙ্গে এলাকাবাসীর বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ ব্যাপারে 'অফিশিয়াল (আনুষ্ঠানিক)' কোনো তথ্য জানেন না তিনি। বিজিবির সদস্যরা গুলি করলে বিজিবিই বিষয়টি জানাবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। | 6 |
হঠাৎ একদিনজুবায়েরের বয়স ৩৫ পেরিয়েছে। সুঠাম দেহ আর চাঙা মনের মানুষ বলে বন্ধুমহলে পরিচিত। একদিন শোয়া থেকে উঠতে গিয়ে জুবায়েরের চারপাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে এল। টানা দুই দিন একই রকম ঘটনা ঘটল। শোয়া থেকে বসা, বসা থেকে দাঁড়াতে গেলেই মাথা চক্কর দেয়, অন্ধকার দেখেন কিছুক্ষণ। একটু পরে অবশ্য স্বাভাবিক হয়ে যান। তবে ক্লান্তিবোধ থাকে সারা দিন। কী ব্যাপার? দেরি না করে কাছের চিকিৎসকের কাছে গেলেন তিনি। চিকিৎসক রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা করালেন। সব ঠিক আছে, শুধু রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ওষুধ নয়, খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাপন নিয়ে দিলেন একগাদা পরামর্শ।জীবনের পড়ন্ত বিকেলসমস্যা গুরুতর নয়। বয়স বেড়েছে, এটা তারই নিদর্শন। বিভিন্ন চিন্তা জুবায়েরের মাথায় ঘুরতে লাগল। মনে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন। রাত নেই দিন নেই, অবিরাম ছুটে চলেছেন, কোনো সমস্যা হয়নি। এখন এক রাতে ঘুমের ঘাটতি হলে পরের দিনটা ম্যাজমেজে লাগে।জুবায়েরের এই সময়টাকে মধ্য বয়স বলা যায়। মধ্য বয়স আসলে কোন সময়টা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। দেশ, জাতি ও সংস্কৃতিভেদে মধ্য বয়সের পরিধির পার্থক্য হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৩৫ থেকে ৫০ বছরের সীমাকে মধ্য বয়স ধরা যায়। এই বয়সে প্রবেশ করলে মানুষ কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে পারেন, যাকে অনেকেই 'মধ্য বয়সের সংকট' নামে চিত্রিত করেন।লাভ-ক্ষতির হিসাবজীবনকে কয়েকটা ধাপে ভাগ করলে মধ্য বয়স অন্যতম একটা ধাপ। প্রতিটি ধাপের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও চাহিদা রয়েছে। একটি ধাপের চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ হলে পরবর্তী ধাপ স্বাচ্ছন্দ্যে কাটে। এই বয়সে একজন ব্যক্তি হঠাৎ আবিষ্কার করেন, তাঁর ওপর পড়েছে গুরুদায়িত্ব। একদিকে তাঁকে ছোটদের লালনপালন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যত্ন নিতে হচ্ছে বয়স্কদের। তাঁর কাঁধে পড়েছে পরিবারের বিশাল অর্থনৈতিক চাপ। এই চাপ সামলাতে সামলাতে ব্যক্তিটি খেয়াল করেন, জীবনের প্রায় অর্ধেকটা চলে গেছে। এত দিন অন্যের ঘাড়ে দায়িত্ব দিয়ে চলা মানুষটি এখন নিজেই অনেকের ভরসার জায়গা। শুরু হয় লাভ-ক্ষতির হিসাব।আগের মতো নেইমধ্য বয়সে বাহ্যিক অবয়বের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। তারুণ্যের উচ্ছলতা উবে গিয়ে বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপোজ ঘটে। নারী-পুরুষ উভয়ের শরীরে দেখা যায় নানা অসুখ। অন্যকে সহজে আকৃষ্ট করতে পারার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় মনের ভেতরে জ্বলে আগুন। অনেকেই এ সময়ে কাছের মানুষকে নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। মানুষটা কি আসলেই ভালোবাসে, নাকি শুধু অভিনয় করেই গেল! কেউ কেউ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।সমস্যা কেন হয়মধ্য বয়সে যদি জীবনের লক্ষ্য, ক্যারিয়ারের লক্ষ্য অস্বচ্ছ থাকে, প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মধ্যে বিরাট ফারাক দেখা দেয়, দাম্পত্য বা রোমান্টিক সম্পর্ক নাজুক থাকে, আধ্যাত্মিক চেতনা পরিষ্কার না হয়, তাহলে একজন ব্যক্তির এ রকম মানসিক সংকটে ভোগার আশঙ্কা বেশি থাকে।সমস্যার প্রকাশ যেভাবেএই সংকটে পড়লে অনেকের মন ভার হয়ে যায়, মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। কোনো কাজেই আনন্দ বা উদ্যম থাকে না। জীবনকে উদ্দেশ্যহীন মনে হয়। মৃত্যুচিন্তা আসতে পারে। জীবন, সংসার, কাজ নিয়ে বিরক্তিবোধ দেখা দিতে পারে। যৌন আগ্রহ কমে যেতে পারে। এসব উপসর্গের সঙ্গে বিষণ্নতার উপসর্গের অনেক মিল থাকলেও এগুলোকে সাধারণত মধ্য বয়সের উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যেকোনো বয়সের যে কেউ বিষণ্নতায় ভুগতে পারেন।কী করবেনআপনার শারীরিক পরিবর্তনগুলো সাধারণত বিকাশজনিত। আর সামাজিক পরিবর্তনগুলো হয় সাংস্কৃতিক কারণে। কমবেশি প্রত্যেক মানুষ এসবের মধ্য দিয়ে যায়। বিরক্ত বা হতাশ না হয়ে মনোযোগী হোন। পরিবর্তনগুলো নিবিড়ভাবে খেয়াল করুন। কোন কোন জায়গায় ঠিক কী কী ভিন্নতা লক্ষ করছেন? এই ভিন্নতার ফলে আপনি কেমন বোধ করছেন?যেহেতু শারীরিক পরিবর্তনগুলো প্রাকৃতিক, বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই সেগুলোকে এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। এই অবধারিত অবস্থাকে ঘৃণা না করে আলিঙ্গন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে ভাবা শুরু করলে, নিজের সঙ্গে নিজের একটা স্বস্তির সম্পর্ক তৈরি হবে। ফলে নতুন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুন্দর উপায় আপনি নিজেই বের করতে পারবেন।সম্পর্কগুলোর যত্ন নিতে ভুলবেন না। সম্পর্ক মানুষের তৈরি, তার যত্নের দরকার আছে। এতে প্রয়োজন হতে পারে সংযোজন কিংবা বিয়োজনের। একসময়ের বন্ধুর দেখা হয়তো এখন না-ও পেতে পারেন, নতুন কারও সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে অসুবিধা নেই। সম্পর্ক শক্তির উৎস, আবার কষ্টেরও উৎস। খেয়াল করুন, অযত্ন অথবা অবহেলায় আপনার সম্পর্কগুলো আপনাকে শক্তি না দিয়ে কষ্ট দিচ্ছে কি না।আধ্যাত্মিকতা নিয়ে স্বচ্ছ থাকা খুবই জরুরি। আধ্যাত্মিকতা অনুধাবনের বিষয়, শেখানোর কিছু নেই। নিজেকে সময় দিন। যত দ্রুত এ বিষয়ে স্বচ্ছতায় পৌঁছাতে পারবেন, ততই মঙ্গল। বস্তুগত জিনিসের পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনে যেন চরম মূল্য দিতে না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি থাকা ভালো।লেখক: সহকারী অধ্যাপক, এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং, সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | 4 |
ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা ও প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি মালিককে ৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলে। গুলশানের ১১৩ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবন এবং 'হাশেম ইলেকট্রিক' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ছাদে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া ১১৫ নম্বর সড়কের 'হারমোনি হোল্ডিংসে'র ছাদে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট সগীর হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত বারিধারা 'জে' ব্লকে অভিযান চালিয়ে 'গালফ অটো কারস লিমিটেডে'র মালিককে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মিরপুরের টোলারবাগে পরিত্যক্ত টায়ারে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় একটি দোকানের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহা বিনতে সিরাজ। ভাষানটেকে ৪টি দোকানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শফিউল আজম প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হামিদ মিয়া বারিধারার 'জে' ব্লকে অভিযান চালিয়ে ১৩টি দোকানের ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় এবং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার অপরাধে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ডিএনসিসি'র পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিএনসিসির 'চিরুনি অভিযানে' ২৬১টি বাড়ি পরিদর্শন করে ১৮টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ বাড়িগুলোর সামনে 'সাবধান, এ বাড়িতে/প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়াছে' লেখা স্টিকার লাগানো হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত বৃহস্পতিবার মোট ১১৮টি বাড়ি পরিদর্শন করে। এর মধ্যে ৪টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং দুটিতে নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়ায় মোট ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ১৯৩ ফকিরাপুলের নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা, ৪৩/১ হাজারীবাগ শেরেবাংলা রোডের বাড়ির ছাদে পরিত্যক্ত টায়ারে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ২৫ হাজার টাকা এবং কেএমদাস লেনের দুটি বাড়িতে লার্ভা জন্মানোর উপযোগী পরিবেশ পাওয়ায় ৫ হাজার ও অভয় দাস লেনের ২টি বাড়িতে নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় ৪ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। | 6 |
আগামী রোববার ৮ আগস্ট দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে সোমবার ও মঙ্গলবার লেনদেন চলবে। ওই দুই দিন লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। এর আওতায় সপ্তাহের রোববার ও বুধবার ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাকি কার্যদিবসে ব্যাংক সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার চলমান বিধিনিষেধ আরো ৫ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত করেছে সরকার। এ অবস্থায় আজ নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে আগামী রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। | 0 |
ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের রাষ্ট্রদূত সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বলেছেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে হবে, আমাদের শিশুদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদেরকে জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। আমাদের দেশের মেয়েদের মধ্যে যোগ্যতার কোনো কমতি নেই। তিনি আরো বলেন, আমাদের শুধু নারীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে যেন তারা ভয়কে জয় করে, সামাজিক বাধা অতিক্রম করে এমন কিছু করতে পারে যা এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। রবিবার ইউ এন উইমেন ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় 'আনটোল্ড টেলস অফ উইমেন চ্যাম্পিয়নস' শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় সভাপতির বক্তৃতায় সায়মা ওয়াজেদ এসব কথা বলেন। এ অধিবেশনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সংকটের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছেন সেই নারী নেত্রীদের একত্রিত করা হয়েছিল। যেখানে নারীরা তাদের অভিজ্ঞতার অনুপ্রেরণামূলক ঘটনাগুলো তুলে ধরেন। | 6 |
ঢাকা: করোনা পরিস্থিতিতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো যেন আশার আলো হয়ে জ্বলছে। ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বেশকিছু ওয়েব ফিল্ম ও সিরিজ। দেশের পাঁচটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মোট ১১টি কনটেন্ট প্রকাশ পাবে ঈদুল ফিতরে।সিনেম্যাটিক এ আসবে গোলাম সোহরাব দোদুলের 'ডার্ক রুম' ও সানি সানোয়ারের 'বিলাপ'। প্যারাসাইকোলজিক্যাল থ্রিলার 'ডার্ক রুম' এ অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, তারিন ও বাঁধন। এবার ঈদে সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট দেখাবে বঙ্গবিডি। সাহিত্যনির্ভর কনটেন্ট নির্মাণ করেছে তারা। এই কর্মযজ্ঞের নাম দিয়েছে 'বঙ্গ বব' বা 'বঙ্গ বেডজ অব বুকস'। থাকছে 'শহরে টুকরো রোদ', 'মরণোত্তম', 'চরের মাস্টার', 'আলিবাবা ও চালিচার', 'পাসওয়ার্ড, 'হাকুল্লা' ও 'লাবনী'। এই সাতটি কনটেন্ট আগে টিভিতে প্রিমিয়ার হবে। তারপরই দর্শকরা এগুলো দেখতে পাবেন ওয়েব প্ল্যাটফর্মে। এদিকে বিঞ্জ নিয়ে আসবে ক্রাইম থ্রিলার 'বরফ কলের গল্প'। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন শহিদ উন নবী। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে এর ট্রেলার।দেখুন 'বরফ কলের গল্প' ওয়েব সিরিজের ট্রেলার:ইরোস নাও প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পাবে 'সিক্স' নামের একটি ওয়েব সিরিজ। এই সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ওয়েব কনটেন্টে মুখ দেখাচ্ছেন সাদিয়া ইসলাম মৌ। ছয় পর্বের এ সিরিজে আরও অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, ইফতেখার আহমেদ ফাহমি, অপর্ণা ঘোষ ও ইয়াশ রোহান। 'সিক্স' নির্মাণ করেছেন তানিম পারভেজ। এছাড়া রায়হান রাফি পরিচালিত 'দ্য ডার্ক সাইড অব ঢাকা' ওয়েব সিনেমাটি প্রকাশ পাবে আই থিয়েটারে। ঈদের সপ্তম বা অষ্টম দিন দেখা যাবে এটি। একই প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে অনন্য মামুন পরিচালিত 'কসাই'। মাত্র ২০ টাকায় সাবস্ক্রিপশন করে দেখা যাবে ছবিটি।লাইভ টেকনোলজিস দেখাবে পারিবারিক গল্পের টেলিফিল্ম 'যদি আমি না থাকি'। বানিয়েছেন আশিকুর রহমান। অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, মুনিরা মিঠু, ইরফান সাজ্জাদ, অপর্ণা ঘোষ ও সমু চৌধুরী। ঈদের অ্যাকশন আর ভায়োলেন্স নির্ভর কনটেন্টের ভিড়ে 'যদি আমি না থাকি' একমাত্র ফ্যামিলি ড্রামা।দেখুন 'যদি আমি না থাকি' টেলিফিল্মের ট্রেলার: | 2 |
করোনাভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাম-গঞ্জ-মফস্বলে, শহরের পাড়া-মহল্লায়ও এটির আগ্রাসন লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রথম দিকে কিছু হটস্পটে এটিকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। তাই এখন সবাই ঝুঁকিতে পড়েছি। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কোনো স্বীকৃত চিকিৎসাপদ্ধতি নেই, নেই কোনো ভ্যাকসিন। বিশেষজ্ঞরা বলতে পারছেন না কখন এটি পাওয়া যাবে। এই মুহূর্তে তাই আশাবাদী হওয়ার সুযোগ কম। এইডস ও সার্স ভাইরাসের টিকাই এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই আমাদের এর সঙ্গে সহাবস্থান করতে হবে; করোনাভাইরাস 'রেসিলিয়্যান্ট' বা সহনীয় হয়ে উঠতে হবে। প্রকৃতিতে নানা ধরনের অজস্র ভাইরাস বিরাজমান, যেগুলোর সঙ্গে মানুষ সহাবস্থান করতে পেরেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে যেহেতু সুস্থ মানুষও সংক্রমিত হয়, সেহেতু এই অদৃশ্য ভয়ানক সংক্রামক শত্রুর প্রতি সহনীয় হয়ে উঠতে না পারলে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। একটি গ্রাম বা মহল্লায় একজন ব্যক্তিও যদি সংক্রমিত হয়, তাহলে পুরো গ্রামবাসীর সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। গ্রামের সবচেয়ে প্রান্তিক ব্যক্তিটির নিরাপত্তার ওপর সবার নিরাপত্তা নির্ভরশীল। অতএব নিজের এবং আপনজনের সুরক্ষা দিতে হলে সবারই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তাই করোনাভাইরাস-সহনীয় গ্রাম সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন সবার অংশগ্রহণ এবং একটি সামাজিক আন্দোলন। এর স্লোগান হতে পারে: আসুন, সবাই মিলে শপথ করি, স্থানীয়ভাবে করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করি। আমরা দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে সম্প্রতি 'করোনাভাইরাস-সহনীয় গ্রাম' সৃষ্টির লক্ষ্যে এ রকমই একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। করোনাভাইরাস-সহনীয় গ্রাম সৃষ্টির জন্য মোটাদাগে তিনটি কাজ করে চলেছে আমাদের স্বেচ্ছাব্রতীরা। প্রথমত, সচেতনতা সৃষ্টি, বিশেষত হাত ধোয়া, গ্লাভস পরা, মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, যার লক্ষ্য হলো মানুষের অভ্যাস ও আচরণে পরিবর্তন আনা এবং নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজে নেওয়া। একই সঙ্গে করোনাভাইরাস সম্পর্কে প্রচারিত ভুল তথ্য বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা। আমাদের 'গ্রাম উন্নয়ন দল' ও 'গণগবেষণা সমিতি'র প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাব্রতীরা লিফলেট ব্যবহার করে এবং স্বল্প পরিসরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে এ সচেতনতা সৃষ্টি করছে। এর উদ্দেশ্য শুধু তথ্য দিয়ে মানুষকে ক্ষমতায়িত করা নয়, বরং তাদের বোধে আনা, যাতে তারা তা চর্চা করে। এই কাজে গ্রামের মাতবর, ইমাম, পুরোহিত, বিশেষত তরুণ ও নারী এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের যুক্ত করা আবশ্যক। এ কথা জোর দিয়ে বলা প্রয়োজন, প্রত্যেক ব্যক্তি দায়িত্বশীল না হলে এবং নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত না করলে এলাকাভিত্তিক লকডাউন দিয়ে বিশেষ লাভ হবে না। এ জন্য অবশ্যই মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে আচরণ পরিবর্তন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, চিহ্নিত, পৃথক ও সহায়তা করা: ভাইরাসের লক্ষণ দৃশ্যমান-এমন ব্যক্তিদের পৃথক থাকতে এবং স্বাস্থ্যসেবা পেতে স্বেচ্ছাব্রতীরা সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তারা যাতে নিগ্রহের শিকার না হয়, তা নিশ্চিতে সচেতনতা তৈরি করে চলেছে। এ ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে বেড়ে যাওয়া নারী-শিশু নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নজর রাখছে। তৃতীয়ত, তালিকাভুক্ত ও সহায়তা করা: এমন ব্যক্তি ও পরিবার, যারা জীবিকাহারা ও খাদ্যসংকটে আছে, তাদের তালিকা প্রণয়ন করছে স্বেচ্ছাব্রতীরা। তালিকায় অগ্রাধিকার পায় নারীপ্রধান পরিবার এবং শিশু ও প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে-এমন পরিবার। এসব পরিবার যাতে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আসতে পারে, স্বেচ্ছাব্রতীরা সে ব্যাপারে তাদের সহায়তা করে। একই সঙ্গে তারা 'কমিউনিটি ফিলান্থ্রপি'র মাধ্যমে অর্থ, খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করে সাময়িক সহায়তার জন্য তাদের মধ্যে তা বিতরণ করে। তবে মনে রাখতে হবে, এই মহাবিপর্যয়ের সময়ে জরুরি সহায়তা প্রদান সরকারের দায়িত্ব এবং তা পাওয়া মানুষের অধিকার। স্বেচ্ছাব্রতীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং পুরো সমাজের সম্পৃক্ততায় পরিচালিত এই কার্যক্রম এখন প্রায় ১ হাজার ৪০০ গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গত কয়েক সপ্তাহে ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াও আড়াই কোটি টাকার বেশি মূল্যমানের খাদ্য, অন্যান্য সামগ্রী ও অর্থ সংগ্রহ করে বিপন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করেছে। সর্বোপরি এর মাধ্যমে সমাজের শুভ শক্তিগুলো একত্র হওয়া শুরু করেছে। স্থানীয়ভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করলেও এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সচেতনতা, সচেতনতা এবং সচেতনতা সৃষ্টি, যাতে মানুষের মধ্যে আমার স্বাস্থ্য, আমার দায়িত্ব-এমন মানসিকতা তৈরি হয় এবং তাদের আচরণ বদলায়। গত ১৯ মে আমরা এ উদ্যোগ নিয়ে একটি আলোচনা সভা করেছিলাম, যাতে আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্থানীয় সরকারসচিব আবু আলম শহীদ খান, আইইসিডিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন, হেলথ অ্যান্ড হোপের পরিচালক ডা. লেলিন চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. তাজিন মুর্শিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়াদুল করিম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, রাজনীতিবিদ রুহিন হোসেন প্রিন্স, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ড. শাহনাজ করিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় সবাই এটিকে একটি সৃজনশীল উদ্যোগ বলে আখ্যায়িত করে এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। মাননীয় মন্ত্রীও উদ্যোগটি সম্পর্কে ব্যাপক আগ্রহ প্রদর্শন করেন এবং একটি লিখিত প্রস্তাব চান। সাবেক স্থানীয় সরকারসচিব আবু আলম শহীদ খান উদ্যোগটির প্রশংসা করে বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করার ফলে তাদের সঙ্গে একটা সেতুবন্ধ তৈরি হচ্ছে। সরকারের সহায়তা জায়গামতো পৌঁছাচ্ছে। স্থানীয় ফিলান্থ্রপিক উদ্যোগকেও সরকারের ভূমিকার সম্পূরক বলে তিনি উল্লেখ করেন, কারণ সরকার সবকিছু ঠিকঠাকভাবে করলেও মাঝখানে কিছু মানুষ থেকে যাবে, যাদের কাছে সরকার পৌঁছাতে পারবে না। পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের কাছে তিনি এর বার্তা পৌঁছে দিতে চান এবং এই মডেলের অনুসরণে স্থানীয় সরকার, এনজিও এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির মাধ্যমে অন্যান্য গ্রাম, এমনকি শহরে করোনা মোকাবিলার পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলেন। আইইসিডিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন মনে করেন, কোভিড-১৯-এর মহামারি আপনা থেকে নির্মূল হয়ে যাবে না। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এটির লাগাম টেনেছে আগ্রাসী 'কন্টেইনমেন্ট' বা নিয়ন্ত্রণ ও 'মিটিগেশন' পদ্ধতির মাধ্যমে, শুধু তথাকথিত লকডাউনের মাধ্যমে নয়। তাঁর মতে, 'করোনা রেসিলিয়্যান্ট গ্রাম' একটি মডেল, যা শুধু গ্রামের জন্যই নয়, নগর ও শহরেও এটি বাস্তবায়নযোগ্য। এই মডেল সারা বাংলাদেশে ব্যবহৃত হলে এক মাসের মধ্যে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অন্য দেশগুলোও আমাদের অনুসরণ করবে। আমাদের এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ইতিমধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। দ্য ইকোনমিস্ট ও বিবিসি এরই মধ্যে যোগাযোগ করেছে। আশা করা যায় যে তারা এ ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। আজ মানুষের জীবন রক্ষার্থে এবং করোনাভাইরাসের মতো অদৃশ্য শত্রুর বিস্তার রোধে গ্রামের সব মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে এবং নিজ গ্রামের দায়িত্ব নিতে হবে। যাঁরা গ্রামে বসবাস করছেন না, তাঁরাও গ্রামে অবস্থান করা স্বজনদের জীবন রক্ষার্থে এ কাজে ভূমিকা রাখতে পারেন। ১৯৭১ সালের মতো আজ আবারও ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার পালা। শুধু মুষ্টিমেয় স্বাস্থ্যকর্মী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে এটিকে প্রতিরোধ করা যাবে না, যদি না সত্যিই জনপ্রতিরোধ গড়ে ওঠে। জনপ্রতিরোধের মাধ্যমে আমরা অসম শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে জিততে পারি, যেমন পেরেছিলাম মুক্তিযুদ্ধে। যখন আমাদের দেশের আপামর জনসাধারণ বঙ্গবন্ধুর ডাকে, যার যা কিছু ছিল তা নিয়ে শত্রুর-পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর-মোকাবিলা করেছিল। ড. বদিউল আলম মজুমদার: দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর | 8 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে যে কাজ করছে, তা সারা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একটি মহল বসে নেই, তারা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের দেওভোগ এলাকায় মরগ্যান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা চেক প্রদান অনুষ্ঠানে আইভী এসব কথা বলেন। সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, 'যতই ষড়যন্ত্র হোক না কেন, এই ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে আমরা আমাদের উন্নয়ন অব্যাহত রাখব। নারীর ক্ষমতায়নের যে ধারা অব্যাহত রয়েছে, আমরা তা ধরে রাখব। সরকারকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। সব শ্রেণির মানুষ সরকারের সুবিধা পাচ্ছে। আমরা ২০২৩ সালে আবারও শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই।' নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, 'অনেকে অনেক সময় নানা কথা বলেন, সরকার কী করছে? আমি বলব, সরকার অনেক কিছু করছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কাজ করছে, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের সুরক্ষা, প্রতিবন্ধীদের জন্য নানা সুবিধাসহ নানা কার্যক্রম করছে। সরকারের যত উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে, সেগুলো চলবে। তারপরও একটি মহল কিন্তু বসে নেই, তারা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে কীভাবে সরকারকে ছোট করা যায়। সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের সবাইকে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।' মেয়র আইভী বলেন, 'আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কর আগেই মওকুফ করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে পানির বিলও মওকুফ করে দেব। তা ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রতিটি কবরস্থানে ১০ শতাংশ জায়গার চারপাশে দেয়াল করে দিয়েছি।' অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষায় প্রতিটি এলাকার সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার জন্য আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদানের চেক দেওয়া হয়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল হুদা প্রমুখ। | 9 |
চাঁপাইনবাবগঞ্জের একমাত্র নারী সংসদ সদস্য ও প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ডা. আ.আ.ম মেসবাহুল হক বাচ্চু ডাক্তারের কন্যা ফেরদৌসী ইসলাম জেসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তার করোনা পজিটিভের ফলাফল আসে। তার ছোটভাই মেসবাহুল জাকের জংগি এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় সংসদের মেডিকেল সেন্টারে গত বুধবার করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে চিকিৎসকরা রিপোর্ট পজিটিভ বলে জানায়। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, গত ২২ জুন জাতীয় সংসদের ৯০ জন সংসদ সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হলে একজনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩৩৮ সংরক্ষিত আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 4 |
সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করা হয়েছে। পিবিআই ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তার স্থলে ইন্সপেক্টর আওলাদ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে তিনি মামলার তদন্ত কাজও শুরু করেছেন। গত রোববার রাতে মহিদুল ইসলাম ছাড়াও দু'জন পরিদর্শক, একজন সহকারী পুলিশ পরিদর্শক ও দু'জন কনস্টেবল করোনায় আক্রান্ত হন। এ অবস্থায় একদিন পর মঙ্গলবার মামলা তদন্তে দায়িত্ব দেওয়া হয় আওলাদ হোসেনকে। এরই মধ্যে ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম মামলার তদন্ত কাজ বেশ এগিয়ে নেন। তিনি তিন পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবরসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন। | 6 |
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মশার লার্ভা নিয়ে নগর ভবনের প্রধান ফটকের পাশে একটি ব্যানার নিয়ে অবস্থান নেন। আজ দুপুর ১২টায় তারা ব্যানার নিয়ে সেখানে অবস্থান করেন।ব্যানার নিয়ে উপস্থিত সায়েদাবাদ এলাকার নূরনবী জানান তারা মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ।আলাউদ্দিন নামে পুরান ঢাকার একজন বলেন সিটি করপোরেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য তারা এখানে এসেছেন। জলাবদ্ধতা ও ময়লা-আবর্জনার কারণে এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে বলে তারা জানান।আগতরা জানান, তারা কামরাঙ্গীরচর থেকে লার্ভাগুলো সংগ্রহ করেছেন। জুরাইন এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা পানির কারণে মশার সৃষ্টি। সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকের আশপাশে ময়লা আবর্জনা রয়েছে বলে জানান তিনি।মিজানুর রহমান বলেন, মেয়রদের জনগণের কাছে জবাবদীহি করতে হয় না কারণ তারা জনগণের রায়ে নির্বাচিত হননি। | 6 |
আগামী ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তারাকান্দার ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন তারাকান্দা ইউপিতে মো. খাদেমুল আলম শিশির, বানিহালায় মো. আলতাব হোসেন খন্দকার, কাকনীতে মশিউর রহমান রিপন, গালাগাঁওয়ে মো. আব্দুর রহমান তালুকদার, বালিখাঁয়ে মো. শামছুল ইসলাম, ঢাকুয়ায় এনায়েত কবির, রামপুরে আজিজুর রহমান, কামারিয়ায় এ. কে. এম আজাহারুল ইসলাম, কামারগাঁওয়ে মো. রফিকুল ইসলাম ও বিসকায় মো. আব্দুছ ছালাম মন্ডল।উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী মনোনয়নের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে, তাঁদের মনোনয়ন দিয়েছে। আমরা এখন তাঁদের পক্ষেই নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যাব।' | 6 |
নবীগঞ্জে সরকারি খাস খতিয়ানের গোপাট দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। গত বুধবার উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের সুজাপুরের বাসিন্দারা এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজাপুর মৌজার জেএল নম্বর ১৬৪ খতিয়ানের গোপাট দখল করে ঘর নির্মাণকাজ শুরু করেন এ গ্রামের বাসিন্দা সজীব মিয়া। তাঁকে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গোপাট দখল করে ঘর নির্মাণ না করার জন্য নিষেধ করা হয়। তবে গ্রামবাসীর নিষেধ উপেক্ষা করে সজীব ঘর নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখেন। পরে খাস খতিয়ানের গোপাট দখল করে ঘর নির্মাণের ঘটনায় গ্রামবাসীর পক্ষে থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পাইকপাড়া গ্রামের ওয়াহিদুজ্জামান মাসুদ ও পূর্বতিমিরপুর গ্রামের মো. আজিজুর রহমান অভিযোগপত্র দেন।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। পরে এ কর্মকর্তা বুধবার ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন।জানা যায়, উপজেলার পাইকপাড়া, বদরদি, মুরাদপুর, তিমিরপুর, সুজাপুর ও ঘোনাপাড়ার গ্রামবাসী এ গোপাট ভূমি হিসেবেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। উল্লিখিত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের হালের গরু, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার চলাচলের একমাত্র জমি এটি। ২০১৫ সালে জসিম উদ্দিন ও নূরুল হক গং এই গোপাট অবৈধভাবে বেড়া দিয়ে টিনের ঘর বানিয়ে গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন।পরে এলাকাবাসী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) স্বাক্ষরিত নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে অবৈধ দখল করা জায়গা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ অমান্য করেন দখলদারেরা।২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সরকারি জায়গা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। আদেশের পাঁচ দিন পর নোটিশের মাধ্যমে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বলা হয় উচ্ছেদের তারিখ পরবর্তীকালে জানানো হবে।এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা থেকে উচ্ছেদের ব্যাপারে বারবার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সজীব মিয়ার মোবাইল ফোন করলেও রিসিভ করেননি।নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশ বলেন, 'বিষয়টি আমি জেনেছি, প্রাথমিকভাবে ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ করা হয়েছে। অবশ্যই সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় ট্রাক্টরচাপায় (ট্রলি) সামিউল হক (২৫) নামে এক কয়লা খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী সড়কে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক গেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সামিউল দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভালুকা গ্রামের সামসুল হকের ছেলে। তিনি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির একজন শ্রমিক। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের (আইসি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল হক (পিপিএম) এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক ট্রাক্টরটি আটক করা হলেও চালক পলাতক রয়েছেন। | 6 |
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেছেন, 'রাজাকাররা আওয়ামী লীগ করলে বিরাট মুক্তিযোদ্ধা, আর না করলে রাজাকার। তাই তারা জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করতে চায়। আর কিছুদিন পর তারা বলবে, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের নাগরিকই নয়। তারা নাগরিকত্ব বাতিল করবে, এটা আওয়ামী লীগের পক্ষেই সম্ভব।' গতকাল শনিবার বিকেলে খুলনা নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলের বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
নীলফামারীর বিভিন্ন বিলে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি ভিড় করছে। এর মধ্যে পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সৈয়দপুর বাইপাস সড়কের পাশে ধলাগাছ এলাকার সুখীপাড়ার বিল এবং কিশোরগঞ্জ সদরের পঞ্চনার ও রনচণ্ডী ইউনিয়নের বাফলার বিল। প্রতিদিন এসব পাখি দেখতে ভিড় করছেন অসংখ্য পাখিপ্রেমী।গত শুক্রবার বিকেলে সরেজমিন সুখীপাড়া বিলে গেলে ওই সব পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। বিলটিতে গিজগিজ করছে ঝাঁকে ঝাঁকে আসা পরিযায়ী পাখি।স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম বলেন, 'তিন বছর ধরে সুখীপাড়ার বিলটিতে পরিযায়ী পাখির আগমন লক্ষ করা যাচ্ছে। এর আগে পরিবার-পরিজন নিয়ে পাখি দেখতে নীলসাগর ও রামসাগর যেতে হতো। এখন বাড়ির পাশেই পরিযায়ী পাখি দেখতে পাচ্ছি। জলাশয়টি ব্যক্তিমালিকানাধীন। পাখির অবস্থান সময়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন জলাশয়ের মালিক। সেখানে মাছ চাষ বা চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।'পাখি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন সেতুবন্ধ যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, 'বিলগুলোতে পরিযায়ী পাখির মধ্যে কালেম, ডাহুক, ছোট সরালি, বালিহাঁস, কসাই পাখি, সাদা বক, কাদাখোঁচা জাতের পাখির আগমন ঘটেছে। পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে আমরা নানা সচেতনতামূলক কাজ হাতে নিয়েছি। মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। বিল এলাকায় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। যাতে পাখি শিকার না করা হয়।'সৈয়দপুরের সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলাম বলেন, 'জলাশয়টি পরিদর্শন করেছি। প্রচুর বিদেশি পাখি এসেছে এখানে। জলাশয়টিতে পাখিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের জোগান রয়েছে। এখন প্রয়োজন সুষ্ঠু তদারকি।'সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন বলেন, 'গন্তব্য বদলে শীতের পাখিরা সৈয়দপুরে আসছে। এলাকাবাসী হিসেবে আমি গর্বিত। লক্ষ রাখতে হবে কেউ যেন এসব পাখি শিকার না করে। পাখি সংরক্ষণে উপজেলা পরিষদ সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে বলে আশি করি।' | 6 |
রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ দিতো বলে প্রমাণ পেয়েছে র্যাব সেই প্রেক্ষিতে উত্তরায় রিজেন্টের প্রধান কার্যালয়সহ রোগীদের স্থানান্তরের পর সিলগালা করা হয়েছে উত্তরা ও মিরপুরের হাসপাতাল। র্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, 'করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা এবং বাড়িতে থাকা রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করত রিজেন্ট হাসপাতাল। এছাড়াও সরকার থেকে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ টেস্ট করার অনুমতি নিয়ে রিপোর্টপ্রতি সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকার করে আদায় করত তারা। এভাবে জনগণের সাথে প্রতারণা করে মোট তিন কোটি টাকার হাতিয়েছে রিজেন্ট। এই সমস্ত অপরাধ ও টাকার নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যান সাহেব (রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ) নিজে করতেন অফিসে বসে।' সারোয়ার আলম বলেন, 'রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় থেকেই এই অপকর্মগুলো হতো বিধায় এটি সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের স্থানান্তর করে হাসপাতাল দুটিও সিলগালা করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতেই মো. মোহাম্মদ সাহেদের মালিকানাধীন হাসপাতাল থেকে অননুমোদিত র্যাপিড টেস্টিং কিট ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। এ প্রসঙ্গে সারোয়ার আলম বলেন, ওই গাড়িতে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদফরের স্টিকার লাগানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের চোখে ধুলো দিতেই ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদফরের স্টিকার ব্যবহার করা হতো। এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। এতে নেতৃত্ব দেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে রিজেন্টের ৮ জন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। | 6 |
খাগড়াছড়ির রামগড়ে সাপের কামড়ে উষা মারমা (৩০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে মারা যান তিনি। নিহত উষা মারমা উপজেলার ছোটখেদা গ্রামের সেলেহা মারমার স্ত্রী।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে জমিতে গরু খুঁজতে যান উষা। তখন তাঁকে সাপ কামর দিলে পরিবারের লোকজন রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করতে বলেন। এ সময় তাঁকে স্থানীয় ওঝার কাছে নিয়ে গেলে আজ সকাল ১১টায় সে মারা যায়।এদিকে হাসপাতালে সাপে কামড়ানো রোগীদের চিকিৎসা না থাকায় স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে কয়েকজন এলাকাবাসী ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. বিজয় মজুমদার বলেন, রাত ১২টার দিকে ওই রোগীকে নিয়ে তাঁর পরিবার হাসপাতালে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করতে বলা হয়। রামগড় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব চন্দ্র কর বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানি না।উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই রামগড়ের দক্ষিণ লামকুপাড়া এলাকায় তাহমিনা আক্তার নামের এক শিশু সাপের কামড়ে মারা যায়। | 6 |
বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে ৬ মাসের বেশি সময় সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা যাবে না, এমন নির্দেশনা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষককে এই সময়ের বেশি বরখাস্ত করে রাখলে ওই আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত রায় দেওয়া বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরের পর ১৫ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ন কবির রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরিবিধিতে এই বিধান সংযোজন করতে বলেছেন আদালত। একইসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি ইস্যু করে সব শিক্ষা বোর্ডকে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করতে বলেছেন আদালত। রায়ে রিটকারীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে ৯০ দিনের মধ্যে চাকরিতে পুর্নবহাল করতে বলেছেন আদালত। এছাড়া তার বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর স্কুল, কলেজ, মাদরাসার কোনো শিক্ষককে ৬ মাসের বেশি সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা যাবে না বলে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছেন, কোনো শিক্ষককে এই সময়ের বেশি বরখাস্ত করে রাখলে ওই আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে। এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর রায় দেন। গত ১৪ বছর ধরে সাময়িক বরখাস্ত থাকা মাগুরার স্কুল শিক্ষক বাদশা মিয়ার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় এসেছে। ওইদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। সে সময় অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের সাময়িক বরখাস্ত রাখার কোনো মেয়াদ ছিল না। আজকের রায়ে ৬ মাসের সময় নির্ধারিত হলো। এখন কোনো অভিযোগে কাউকে বরখাস্ত করলে ৬ মাসের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যথায় ৬ মাস পরে সাময়িক বরখাস্ত আর কার্যকর থাকবে না। | 6 |
বসারঘরে টেলিভিশন থাকবে না তা কি হয়? জানেন কি, আপনি কীভাবে টেলিভিশন দেখছেন এবং সেটির যত্ন নিচ্ছেন তার ওপর এর আয়ু নির্ভর করে। টেলিভিশন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এড়িয়ে যেতে হচ্ছে কিছু ভুল।সারাক্ষণ চলাটেলিভিশনের জীবনচক্র প্রায় ৬৫ হাজার ঘণ্টা। টেলিভিশন চালু রেখে অন্যান্য কাজ করলে অথবা ঘুমিয়ে গেলে এর আয়ু কমে আসবে এটাই স্বাভাবিক। এটিকে অভ্যাসে পরিণত না করে দেখা শেষে টেলিভিশন বন্ধ করে দিন।টেলিভিশন অপরিচ্ছন্ন রাখাটেলিভিশন সব সময় পরিষ্কার রাখা জরুরি। ধুলোবালু জমে থাকলে টেলিভিশনের পর্দার ক্ষতি হয়। কখনো স্ক্রিন মোছার সময় পানি ব্যবহার করবেন না। টেলিভিশন পরিষ্কার রাখার বিভিন্ন লিকুইড ক্লিনার বাজারে পাওয়া যায়।ব্রাইটনেস বাড়ানোসব সময় টেলিভিশনের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে রাখলে এর আয়ু কমে আসবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত আলো আপনার চোখের জন্যও ক্ষতিকর। তাই টেলিভিশনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখাই ভালো।অনিয়ন্ত্রিত ভোল্টেজযন্ত্রপাতি ও গ্যাজেটের জন্য ভোল্টেজ ওঠানামা করা ক্ষতিকর। এ কারণে সেগুলো খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। টেলিভিশন আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় যখন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় আবার তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ চলে আসে। এতে করে টেলিভিশন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে অনেক গুণ। বিদ্যুৎ চমকালে বা বাজ পড়লেও টেলিভিশনের ক্ষতি হয়। ঠিক এ জন্য ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রক বা স্ট্যাবিলাইজার থাকলে সব সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।ধারালো বস্তু কাছাকাছি রাখাধারালো বস্তু খুব সহজে আপনার টেলিভিশনের পর্দার ক্ষতি করতে পারে, যার কারণে আজীবনের জন্য টেলিভিশন নষ্ট হতে পারে। এখনকার এলসিডি পর্দাগুলো অনেক পাতলা হয়ে থাকে, যে কারণে অল্পতেই ভেঙে যেতে পারে ধারালো বস্তুর কারণে। সুতরাং এগুলো টেলিভিশন থেকে দূরে রাখতে হবে।সূত্র: দ্য আরবান গাইড | 6 |
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় শোয়ার ঘর থেকে সজিব হোসেন নামের এক তরুণ ক্রিকেটারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে নিজের শয়ন কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সজিব হোসেন দুর্গাপুর উপজেলার আমগাছি গ্রামের মোর্শেদ আলীর ছেলে। তিনি অনূর্ধ্ব ১৭ দলের হয়ে বাংলাদেশের পক্ষে শ্রীলঙ্কা, ভারত সহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। নিহত সজিব হোসেনের ভাই তসিকুল ইসলাম জানান, অনূর্ধ্ব ১৭ দলের হয়ে এর আগে সজীব শ্রীলঙ্কা, ভারত সহ বিভিন্ন দেশে জাতীয় পর্যায়ে ভালো খেলে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। ভালো পারফরম্যান্স থাকার পরও আসন্ন বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে তার নাম ছিলো না। একারণে হতাশা থেকেই সে আত্মহত্যা করেছে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী জানান, রোববার দুপুরে ঝালুকা গ্রামে গিয়ে ক্রিকেটার সজিব হোসেনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পারিবারিক ভাবে আপত্তি না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় ইউডি মামলা হয়েছে। | 6 |
আবারও আহাজারিময় ছবির স্রোত। আবারও নাম-ঠিকানাহীন লাশের সারি নিয়ে বিমূঢ় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ। আগুনে পুড়ে যাওয়া এসব মানুষ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হারিয়ে ফেলেছে তার মানুষ পরিচয়; তারা এখন কেবলই সংখ্যা।এই করোনা মহামারির সময়ে আরও হাজারটা সংকটের বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকা এই মানুষেরা শেষ পর্যন্ত আর পারলেন না। এমনকি তাঁরা ছবিও হতে পারলেন না। তাঁদের স্বজনেরা হয়েছেন। তাঁদের শ্রেণি বিচারে একমাত্র আপন অন্য শ্রমিকেরা উঠে এসেছেন ছবিতে। তাঁরা বিক্ষুব্ধ। তাঁরা জানতে চান, কেন বারবার তাঁদের এমন করে মরতে হয়? কেন আগুন লাগলে শুধু শ্রমিকেরাই মরে?বাংলাদেশের শ্রমিকেরা সেই কবে থেকে এই প্রশ্ন তুলে আসছেন। তাজরীন ফ্যাশনসে হওয়া অগ্নিকাণ্ড এবং তাতে শতাধিক মৃত্যুর কথা তো ভোলার নয়। তারপর এমন আরও কত কত মৃত্যু আমাদের চোখের সামনে দিয়ে চলে গেছে। চলে গেছে কত কত দিন। তবু এ-ই যেন একমাত্র বাস্তব হয়ে আছে যে, কারখানার আগুনে শুধু শ্রমিকই মরবেন। আর সে দায় নেওয়ার জন্য কেউ থাকবে না। দায়ের হিসাব চোকানো হবে ন্যূনতম অর্থমূল্যে।এবারও নেই। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের আওতাধীন কারখানায় আগুনে পুড়ে এখন পর্যন্ত ৫২ জন মারা গেছে বলে ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঠানো বিভিন্ন ছবিতে এমনকি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দমকলকর্মীদেরও আবেগাপ্লুত হতে দেখা গেছে। ইয়াসিনের অপেক্ষায় থাকা মা কিংবা মায়ের অপেক্ষায় থাকা আঁখিদের কান্না তাঁদেরও ছুঁয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও যাচ্ছেন বলে খবর এসেছে। কিন্তু যার কারখানায় আগুন লাগল, তিনি ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও একবারও যাননি। শুধু তাই নয়, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন-এ ঘটনায় তাঁর কোনো দায় নেই।সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম যেন এক প্রত্যাদিষ্ট ভূমিকা পালন করছেন। এর আগে ঠিক একই ভূমিকায় দেখা গেছে তাজরীন ফ্যাশনসের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে। ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনসে লাগা আগুনে পুড়ে ১১২ জন শ্রমিক নিহত হন। এ নিয়ে মামলা চলার সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক দেলোয়ার হোসেনকে বলতে শোনা গেছে-'আমার কিসসু হবে না।'ঠিক একই বক্তব্য আজ শোনা গেল সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাশেমের মুখে। কত সহজেই তিনি বললেন, 'আগুনের ঘটনার দায় নেব না। এটা নিতান্তই একটি দুর্ঘটনা।' তাঁর বক্তব্যের পরের অংশটা আরও তাক লাগানো। কাজের সঙ্গে তিনি আগুন লাগা এবং শ্রমিকের মৃত্যুর একটি সরল সমীকরণ দাঁড় করিয়েছেন। বলেছেন-'জীবনে বড় ভুল করেছি ইন্ডাস্ট্রি করে। ইন্ডাস্ট্রি করলে শ্রমিক থাকবে। শ্রমিক থাকলে কাজ হবে। কাজ হলে আগুন লাগতেই পারে। এর দায় কি আমার? আমি তো আর গিয়ে আগুন লাগাই নাই। এই দায় আমার না।' অত্যন্ত নিপুণ সমীকরণ। কোনো ফাঁক নেই। বরং মৃত শ্রমিকদের সারির মধ্যেই হয়তো ফাঁকটি রয়ে গেছে, যা গলে বরাবরই মালিকেরা বের হয়ে যান। এবারও আবুল হাশেম সেই ইঙ্গিতই দিয়ে রাখলেন। অনায়াসেই নিজেকে দায়হীন বলে ঘোষণা করলেন। অথচ কারখানাটির সামনে আজ সকালে হওয়া শ্রমিক বিক্ষোভ ও এতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ভিন্ন বার্তা দিল।না আবুল হাশেম আগুন লাগাননি। কিন্তু আগুন লাগলে শ্রমিকদের নিরাপদে বের হওয়ার পথটি তিনি করতে পারতেন, সেটি তিনি করেননি। শ্রমিকদের বিক্ষোভ আমাদের সে কথাই মনে করিয়ে দিল। তাঁরা অভিযোগ করলেন, কারখানাটিতে আগুন লাগার পর ভবনটিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের হওয়ার জন্য কোনো সিঁড়ি ছিল না। অর্থাৎ, ফায়ার এক্সিট রাখা হয়নি। শুধু তাই নয়, এমনকি কারখানার প্রধান গেট বন্ধ থাকারও অভিযোগ উঠেছে।এ দেশে কারখানা আর কারাগারে যে খুব একটা তফাৎ নেই, তা যেকোনো দুর্ঘটনার সময় প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। যেকোনো কারখানায় আগুন লাগা বা কারখানা ভবন ধসে পড়লে সবার আগে যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো-কারখানার নিচের প্রধান গেট বন্ধ ছিল। শুধু তাই নয়, দেখা যায় অধিকাংশ বড় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ভবনটিতে কোনো জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারও ছিল না কোনো জরুরি নির্গমন পথ এবং যথারীতি বন্ধ ছিল মূল গেট। ফলে এক রকম বন্দী অবস্থায় একটু একটু করে আগুনে পুড়ে, ভারী বাতাসে দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন শ্রমিকেরা।তাই ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটকে একযোগে কাজ করতে দেখেও রূপগঞ্জে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করলেন। এই বিক্ষোভের তাৎপর্য অনেক। এই বিক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা এবং সেই সূত্রে ঊর্ধ্বতন বলে যে কর্তৃপক্ষ আছে, আছে মালিক পক্ষ, তাদের প্রতি শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। এ দেশে শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা ভালো না। তারা বারবার নিজের স্বজনদের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে দেলোয়ার হোসেনদের হাসতে দেখেছে, বলতে শুনেছে-'আমার কিসসু হবে না।' তারা বারবার আবুল হাশেমদের অনায়াসেই বলতে শুনেছে-'আমার কোনো দায় নেই।'এখানে কবি ও শিল্পী কফিল আহমেদের একটি গানের কথা উল্লেখ করা যায়, যেখানে তিনি বলছেন-'আমারে তালাবদ্ধ রেখে, আমারে আগুনে পুড়িয়ে মেরে/ প্রেসনোট, শুধু প্রেসনোট আমি চাই না।' অথচ এই প্রেসনোটই যেন শ্রমিকদের একমাত্র বাস্তবতা। যারা অর্থনীতির চাকাটি নিজের সর্বশক্তি দিয়ে টেনে নিয়ে যান, তাঁরা বরাবরই এই দেশে তালাবদ্ধ অবস্থায় আগুনে বা ভবন ধসে মারা পড়েন। কফিল আহমেদ গানটি লিখেছিলেন ১৯৯৭ সালে একটি কারখানায় তালাবদ্ধ অবস্থায় আগুনে পুড়ে সাত শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে। তারপর কত কত শ্রমিক কত কত কারখানায় এভাবে মারা পড়লেন। তাজরীন ফ্যাশনস, রানা প্লাজা হয়ে আজকে এই সজীব গ্রুপের ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানা-কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। নিশ্চিন্তপুর বা রূপগঞ্জ-শ্রমিকের ঠিকানা যেখানেই হোক না কেন, কপালটি একই থাকছে। ঠিক যেমন এক থাকছে মালিকপক্ষের দম্ভ ও দায় না মানা চরিত্র। এর যেন কোনো শেষ নেই। | 8 |
আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইউক্রেনের অস্তিত্ব মুছে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেছেন, একটা বার্তা দেখলাম ইউক্রেন অন্যান্য দেশ থেকে আগামী দুই বছর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনবে এবং দুই বছরে সেই গ্যাসের মূল্য পরিশোধ করবে। অন্যথায় আগামী শীতকালে দেশটি জমে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কে বলেছে যে আগামী দুই বছর ইউক্রেনের অস্তিত্ব টিকে থাকবে? গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডোনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। ডোনবাস অঞ্চলের ডোনেটস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। এ কারণে ওই অঞ্চলের স্বাধীনতার পক্ষের গেরিলারাও রুশ সেনাদের সহযোগিতা করছে। সূত্র: প্রাভদা নিউজ, বিজনেস ইনসাইডার, তাস বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার তাড়ালিয়া গ্রামে চলাচলের রাস্তা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। একাধিক বার সংঘর্ষে জড়িয়েছে উভয় পক্ষ। কেটে ফেলা হয় চলাচলের রাস্তাও। দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করেও হয়নি কোনো সুরাহা। বারবার সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসন।আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের তাড়ালিয়া গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে কথা হয় গ্রামবাসীর সঙ্গে। এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত। তবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান এলাকাবাসী।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন যুগ পূর্বে তাড়ালিয়া গ্রামের ৪৫ শতাংশ জমি কিনে বসবাস শুরু করেন জহুরুল হক ও শওকত আলী নামে দুই ভাই। একই মালিকের কাছ থেকে বেশ কিছু জায়গা ক্রয় করেন ওই গ্রামের সুধীর গোপ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যেন্দ্র গোপ। ওই সময় থেকে জহুরুল হক ও শওকত আলীর পরিবারসহ কয়েকটি পরিবার বাড়ির উত্তর অংশে বিরোধপূর্ণ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেন।২০২০ সালে জহুরুল হক ও শওকত আলীর বসবাসকৃত বাড়ির অংশে সুধীর গোপের জায়গা রয়েছে বলে দাবি করেন। সুধীর গোপের দাবির প্রেক্ষিতে ওই বছর সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে গজনাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলও উপস্থিত ছিলেন। সালিস-বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুধীর গোপের দাবি করা জায়গা ছেড়ে দেন জহুরুল হক ও শওকত আলীর পরিবার। ওই সময় জহুরুল হক ও শওকত আলীসহ কয়েকটি পরিবারের বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য বিরোধপূর্ণ রাস্তা সংস্কারে সম্মতি দেন সুধীর গোপ ও সত্যেন্দ্র গোপের পরিবার। অনুষ্ঠিত সালিস-বৈঠকে উভয় পক্ষের মনোনীত দুজন করে মোট চারজন ব্যক্তিকে রাস্তা সংস্কারের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা হলেন সুধীর গোপের মনোনীত শুকুর গোপ, ইরেশ গোপকে এবং জহুরুল হক পক্ষের মনোনীত টনু মিয়া, মুসলিম মিয়া। উভয় পক্ষের মনোনীত চারজন ব্যক্তি ওই রাস্তা সংস্কারকালে জহুরুল হক ও সুধীর গ্রুপের কোনো লোকজন উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়। উভয় পক্ষই ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।২০২০ সালের ২০ মে রাস্তা সংস্কার করতে যান জহুরুল হক ও সুধীর গোপ মনোনীত চারজন ব্যক্তি। এ সময় জহুরুল হক ও সুধীর গোপ সালিস-বিচারের নির্দেশ অমান্য করে উক্ত রাস্তা সংস্কারের স্থানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে রাস্তা সংস্কারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও পরে সংঘর্ষ হয়। এতে দু-পক্ষের ৮-১০ জন আহত হন। এরপর বারবার জহুরুল হকের লোকজন রাস্তা সংস্কার করলে সুধীর গোপের লোকজন রাস্তা কেটে ফেলেন। ফলে কয়েক দফায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একই ঘটনা নিয়ে ফৌজদারি তিনটি ও দেওয়ানি দুটি মামলা রয়েছে।এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার পর্যায়ক্রমে তৎকালীন বাহুবল-নবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরীর কার্যালয়ে ও গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে সালিস বৈঠক হয়। কিন্তু মেলেনি সমাধান। মামলা চলমান অবস্থায় সম্প্রতি উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানাকে জানানো হলে বাহুবল-নবীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের সমঝোতার চেষ্টা করেন।গত ২১ মে উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীর নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রে সালিস-বৈঠক হয়। সভায় সমঝোতার মধ্য দিয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ ও সার্বিক দিক বিবেচনায় রাস্তাটি বহাল থাকার ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়। তবে সালিস-বৈঠকেই সুধীর গোপের লোকজন ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের। পরে উভয় পক্ষকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি না ঘটিয়ে আইনিভাবে মোকাবিলা করার জন্য বলা হয়। জহুরুল হক রাস্তার অংশের জায়গাটি কিনে নিতে চাইলেও তাতে সুধীর গ্রুপের লোকজনের সম্মতি ছিল না বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। এদিকে এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজির বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন শুভ্র গোপ। তাতে প্রশাসনের সহযোগিতা না করার অভিযোগ তোলা হয়।রাস্তার অংশের জায়গাটি কিনে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রভ গোপ বলেন, জমি কিনে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কখনো বলা হয়নি যে উনি (জহুরুল হক) টাকার বিনিময়ে জায়গা নিবেন। বারবার বলা হয়েছে যে উনি আড়াই শ থেকে তিন শ বছর এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছে, সে হিসেবে এইটা ওনার অধিকার। গত ১৭ মার্চ যে হামলার ঘটনা বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল বলেন এইটা ওনার (জহুরুল হক) স্বাধীনতা। চেয়ারম্যান এই স্বাধীনতা তাঁদের (জহুরুল) দিয়ে দিছেন।' এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড তাঁর কাছে আছে বলে দাবি করেন শুভ্র গোপ।অন্যদিকে জহুরুল হক জানান, গত ৩ জুন (শুক্রবার) জুম্মার নামাজের সময় সুধীর গোপ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিরোধপূর্ণ রাস্তাটি পুনরায় কেটে ফেলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে জুম্মার নামাজ শেষে তিনি ও শওকত আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুধীর গোপ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সংঘাত হয়। এ সময় তাঁর পক্ষের সৈয়দুন নেছা (৫০), রুপজান বিবি (৪৫), শাবানা বেগম গুরুতর আহত হন বলে জানান তিনি।এ হামলায় সুধীর গোপের পক্ষের গুরুতর আহত হন সীতা রানী গোপ (৫০), সুধীর চন্দ্র গোপ (৬৫) ও শুভ্র গোপ (২৭)। উভয় পক্ষ নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।এ ঘটনায় গত রোববার (৫ জুন) নবীগঞ্জ থানায় জহুরুল হক মামলা দায়ের করেন। এতে প্রতিপক্ষের সাতজনকে আসামি করা হয়। একইদিন সুধীর গোপের ছেলে সুচিত্র গোপ বাদী হয়ে জহুরুল হক ও শওকত আলীসহ সাতজনকে আসামি করে থানায় পাল্টা একটি মামলা করেন। উভয়ের মামলা রুজু করে পুলিশ।এদিকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের হবিগঞ্জ জেলা শাখার একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক শংকর পাল, হবিগঞ্জ জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শঙ্খ শুভ্র রায়, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের হবিগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিপুল রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব রায় সুজন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কৌশিক আচার্য্য পায়েলসহ একটি প্রতিনিধি দল নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের তাড়ালিয়া গ্রাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।উভয়ের প্রতিবেশী টনু মিয়া বলেন, 'আমরা এলাকাবাসী তাদের দু-পক্ষের বিরোধ মীমাংসায় একাধিক বার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। কিন্তু তাঁরা আমাদের কথা শোনেনি, আমরা অতি দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চাই।'এ বিষয়ে সুধীর গোপের ছেলে শুভ্র গোপ বলেন, 'জহুরুল ও তাঁর লোকজন গজনাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুকুলের মদদে আমাদের জায়গার ওপর দিয়ে জোরপূর্বক দখল করে রাস্তা নির্মাণ করার চেষ্টা করলে আমরা বাধা দেই। এতে তাঁরা আমাদের ওপর একাধিকবার হামলা করে এবং মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করে আসছে। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমরা দ্রুত আমাদের জায়গা উদ্ধার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।' এ প্রসঙ্গে জহুরুল হক বলেন, 'এই রাস্তা প্রায় দু শ বছরের পুরোনো রাস্তা। আমরা প্রায় তিন যুগ ধরে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে আসছি। আমাদের কেউ মারা গেলে এই একমাত্র রাস্তা দিয়েই বের হতে হয়। রাস্তার উভয় পাশে সুধীর গোপের জায়গা থাকায় উক্ত রাস্তা সুধীর গোপের জায়গায় বলে দাবি করে বারবার পুরোনো এই রাস্তাটি কেটে ফেলেন। একাধিক বার উপজেলা প্রশাসন পুলিশ প্রশাসন স্থানীয় চেয়ারম্যান, সনাতন ধর্মাবলম্বীর নেতৃবৃন্দসহ সালিস-বৈঠক করা হলেও সুধীর গোপ ও তাঁর ছেলেরা সালিস-বৈঠকে রায় না মেনে আমাদেরকে হয়রানি করে আসছে। সুধীর গোপের অত্যাচারে আমরা সংখ্যালঘুদের মতো বসবাস করছি। এ বিষয়ে প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছি।'এ বিষয়ে গজনাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল বলেন, 'এখানে কেউ জায়গা দখল করেনি। ওই রাস্তা দিয়ে যুগ যুগ ধরে জহুরুল হকসহ কয়েকটি পরিবার চলাচল করে আসছে। তবে রাস্তাটি রেকর্ডীয়ভাবে রাস্তা না। আমরা এ বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য একাধিক বার প্রশাসনসহ বসেছি। কিন্তু সমাধান আসেনি। আমিও চাই ওই বিষয়টি মীমাংসা হউক।'তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে জড়িয়ে তারা ফেসবুকে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লেখালেখি করতেছে, যা দুঃখজনক।'নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ডালিম আহমেদ বলেন, 'মূলত রাস্তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এ দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। কিছুদিন পরপরই তাঁদের মধ্যে সমস্যা হয়। পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বিশিষ্টজনদের নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করলেও সমাধান করা যাচ্ছে না। উভয় পক্ষই থানায় দুটি মারামারি মামলা করেছে। আমরা মামলার প্রেক্ষিতে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।' | 6 |
চলতি বছর (২০২১) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় মারা গেছেন ১১৩ জন। এ ছাড়া পৌর ও সিটি করপোরেশন ভোটের সংঘাতে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে গত এক বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব তথ্য জানায় আইন ও সালিস কেন্দ্র।আসক জানায়, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৬৭২টি ঘটনায় ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পৌর ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহিংসতায় ৮৩টি ঘটনায় ১৩ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া দেশজুড়ে রাজনৈতিক সংঘাতে এক বছরে ১৫৭ জনের মৃত্যুর তথ্যও তুলে ধরেছে আসক।সংবাদ সম্মেলনে যৌথভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতির মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির ও সহকারী সমন্বয়কারী অনির্বাণ সাহা।আবু আহমেদ ফয়জুল কবির জানান, গত এক বছরে সারা দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ১ হাজার ৩২১ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৭ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন। ২০২০ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন মোট ১ হাজার ৬২৭ জন নারী এবং ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪১৩।গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে সংগৃহীত আসকের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন ১২৮ জন নারী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন ৭৭ জন পুরুষ। এ বছর উত্ত্যক্তকরণের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন নারী। এ ছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ নারী ও ৫ পুরুষসহ খুন হয়েছেন মোট ৮ জন।সংবাদ সম্মেলনে আসক আরও জানায়, এ বছর পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৬৪০ জন নারী, যার মধ্যে নির্যাতনের কারণে মারা যান ৩৭২ জন এবং আত্মহত্যা করেন ১৪২ জন। ২০২০ সালে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ৫৫৪ জন নারী। অন্যদিকে ২০২১ সালে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২১০ জন নারী। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার শিকার হন ৭২ জন নারী এবং আত্মহত্যা করেন ১৩ জন নারী।আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৮০ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও নিখোঁজের শিকার হন ৭ জন। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আর ১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আসকের মহাসচিব মো. নূর খান, নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল ও পরিচালক নীনা গোস্বামী। | 6 |
চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ব্যাপক হারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়কে 'গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের' বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ইউপি নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। চলমান এ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৩৬০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং অন্যান্য পদে প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। মাহবুব তালুকদার বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াকে উৎসাহিত করা সমীচীন নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনা দরকার আছে কি না, তা ভেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আর মাত্র ৫৫ দিন। এর মধ্যে যা নির্বাচন হবে, তা সুষ্ঠু করার জন্য চেষ্টা থাকবে। কারণ, শেষ ভালো যার সব ভালো তার। নতুন নির্বাচন কমিশন এলে তাদেরও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। 'ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হবে। এটিকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এরই মধ্যে তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এ নির্বাচন সুষ্ঠু করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে,' বলেন তিনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সফলতা বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব তালুকদার বলেন, আমার আরো চারজন সহকর্মী আছেন। তাদের মধ্যে একেকজনের অনুভূতি একেকরকম। আমার অনুভূতি আমার মতো। তবে এখানে আমি আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই না। কমিশনের অনুভূতিই আমার অনুভূতি। এর আগে বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। | 9 |
নওগাঁর বাজারে সব ধরনের মুরগির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। অথচ উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মুরগি উৎপাদনকারী এলাকার মধ্যে একটি হলো নওগাঁ জেলা। ১০ দিনের ব্যবধানে এই জেলায় মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা অস্বস্তিতে পড়েছেন।আজ বৃহস্পতিবার নওগাঁ পৌর মুরগি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা কেজি দরে। আগে এই দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮৫ থেকে ২৯০ টাকা দরে, যা আগে ছিল ২৫০ থেকে ২৬০ টাকার মধ্যে। লেয়ার মুরগি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এর আগের দাম ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা।নওগাঁর উকিলপাড়ার বাসিন্দা হারুন ইসলাম বলেন, বাসায় আত্মীয় এসেছে। মুরগি কিনতে এসে দাম শুনে অবাক হয়ে গেছি। গত ১০ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০-৪০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।'সুমন মণ্ডল নামে আরেক ক্রেতা বলেন, আমি একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অল্প বেতনে চাকরি করি। প্রতি মাসে মুরগির মাংস কেনা বাবদ হিসাব রাখতে হয়। কিন্তু যা দাম বেড়েছে, এ মাসে আর মুরগি কিনব না। হিসাবের বাইরে দাম চলে গেছে। দাম কমাতে প্রশাসনের নজরদারি ও শক্ত পদক্ষেপ জরুরি।'নওগাঁ পৌর বাজারের খুচরা মুরগি বিক্রেতারা জানান, এখানে কেউ ইচ্ছা করে দাম বাড়াননি। উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানি কম হচ্ছে, এ জন্য দাম বেড়েছে। কেবল ৫ থেকে ১০ টাকা লাভে মুরগি বিক্রি করা হয়। মুরগি বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে মুরগির খাদ্যের দাম বেশি। কম দামে মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য বাজারে মুরগির আমদানি কমে গেছে। তাই দামও বেড়ে গেছে।জনি হোসেন নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, খামারে দাম বাড়লে খুচরা বাজারে দাম বাড়বে এটা স্বাভাবিক। এ ছাড়া লকডাউনের পর এখন বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠান বেশি হচ্ছে, এ জন্য চাহিদাও বেড়েছে। তাই দাম বেড়েছে।নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার সবচেয়ে বড় খামারি ফিরোজ হোসেন বলেন, লকডাউনের সময় অনেক লোকসান হয়েছে। এ ছাড়া মুরগির খাদ্যের দাম প্রতি বস্তায় কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ জন্য সরকারি নজরদারির অভাব দায়ী। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মুরগির দাম বেড়েছে। এখন দাম কমে গেলে লোকসানে পড়তে হবে।নওগাঁ পৌর মুরগিবাজারের সভাপতি ও আড়তদার ইউনুস আলী বলেন, মুরগির দাম বাড়ানো বা কমানোর বিষয়টা আড়তদারেরা করেন না। খামারিরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। খামারে দাম বাড়লে আমরাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করি। তবে খাদ্যের দাম কমে এলে মুরগির দামও কমবে। | 6 |
ময়মনসিংহে চলন্ত ভ্যানে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ায় চালকসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৭ টার দিকে নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের চায়নামোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- মন্টু মিয়া (৩৫)। সে চর ঈশ্বরদিয়া হারুন অর রশিদের ছেলে। অপরজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, বিদ্যুৎস্পৃস্ট হয়ে মৃত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 6 |
কয়েকদিন ধরেই ভারতের মহারাষ্ট্রের চালিশগাঁও এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল একটি চিতাবাঘ। খবর পেয়েই বীরদর্পে নিজের পিস্তল হাতে নিয়ে চিতাবাঘ শিকারে বেরিয়ে পড়েছিলেন মহারাষ্ট্রের পানিসেচ মন্ত্রী গিরিশ দত্তাত্রেয় মহাজন। কিন্তু চিতাবাঘ ধরা তো দূরের কথা নিজের পায়েই গুলি করে বসলেন মন্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পিস্তলের মুখ নীচের দিকে করে ঝোঁপের মধ্যে চিতাবাঘ খুঁজছিলেম মন্ত্রী। অসতর্ক হয়েই গুলে চলিয়ে ফেলেন তিনি। তারপর যা হল তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। চিতাবাঘ ছেড়ে মন্ত্রীকে নিয়েই শোরগোল পড়ে যায় গ্রামে। মন্ত্রীর এই কীর্তির ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
বিডি-প্রতিদিন/ আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর | 5 |
মুলাদীতে জেলেদের ফোন দিলেই মিলছে ইলিশ। ক্রেতাদের কাছে মাছ পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।জানা গেছে, ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে জেলেরা নানান কৌশলে মাছ ধরে যাচ্ছেন। নৌকার অস্থায়ী ইঞ্জিন বসিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছেন। এ তালিকাভুক্ত জেলেদের পাশাপাশি মৌসুমি জেলেরা যুক্ত হওয়ায় নদীতে শত শত নৌকায় মাছ শিকার করতে দেখা যায়।উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানায়, নিষিদ্ধ মৌসুমে জেলেদের প্রণোদনায় চাল সহায়তা দেওয়াসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়। কিন্তু মুলাদী উপজেলার জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জয়ন্তী, আড়িয়াল খাঁ ও নয়াভাঙনী নদীতে ইলিশ শিকার করছেন।মৃধারহাট এলাকার জানে আলম জানান, ফোন দিলেই জেলেরা বাড়িতে মাছ পৌঁছে দেন। কিন্তু দাম একটু বেশি। তবে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে অনেকেই এই পন্থা অবলম্বন করেন। এ ছাড়া মৃধারহাট, ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট, চরমলিয়া মনির মল্লিকের আড়ত এলাকা, সফিপুর সোহেল সরদারের মাছের আড়ত এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি হয়।চরমালিয়া গ্রামের কালাম দেওয়ান জানান, চরাঞ্চলের প্রত্যেক জেলের বাড়িতে ডিপফ্রিজ রয়েছে। এসব ফ্রিজ ভর্তি রয়েছে ইলিশে।সফিপুর এলাকার জেলে জাকির হোসেন জানান, পুলিশের ট্রলারের মাঝির সঙ্গে অনেক জেলের সখ্য রয়েছে। তারা মুঠো ফোনে জেলেদের কাছে অভিযানের কথা বলে দেয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুব্রত গোস্বামী বলেন, মুঠোফোনে ইলিশ ক্রয় বিক্রয় হলে তা ধরা অনেক কঠিন। প্রকাশ্যে কোথাও ইলিশ বিক্রির সংবাদ এখনো পাননি। এ ছাড়া ট্রলার চলকদের সঙ্গে জেলেদের সখ্যর বিষয়টি জানা নাই। | 6 |
প্রকল্প অনুমোদনের প্রায় চার বছর পর চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তি হলো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের। রাজধানীর যানজট কমাতে ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকার ও চীনা এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে প্রকল্পটির জন্য ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইআরডি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। চুক্তির আওতায় চীনা এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশকে ৯ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা দেবে। চীনা পলিসি প্রিফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিটের (পিবিসি) আওতায় ঋণ দেবে সংস্থাটি। ইআরডিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং চীনা এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে ব্যাংকটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ঝাং তিয়ানকিন চুক্তিতে সই করেন। শাহরিয়ার কাদের সিদ্দীকি জানান, আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি হয়নি। চীন চুক্তির কাগজপত্র পাঠিয়েছে। আমরা গত ২৬ অক্টোবর সই করেছি বৃহস্পতিবার সেটির জিও জারি করা হয়েছে। পিবিসি ঋণচুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের বার্ষিক সুদের হার দুই শতাংশ, পাঁচ বছর গ্রেস (রেয়াতকাল) পিরিয়ডসহ ২০ বছর মেয়াদী শর্তে চীনা এক্সিম ব্যাংকের এই ঋণের অর্থ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী আশুলিয়া অংশে যানজট কমে যাবে। এটি এশিয়ান হাইওয়ের এলাইনমেন্টের মধ্যে অবস্থিত। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে ৩০টি জেলার সংযোগ স্থাপনকারী আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল চন্দ্রা করিডোরে যানজট কমে যাবে। বিমানবন্দর ইন্টারসেকশন থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল দিয়ে ইপিজেড পর্যন্ত অংশে নির্মাণ করা হবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। মূল উড়ালসড়কটির দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার। বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে উড়ালসড়কে ওঠানামার জন্য তৈরি করা হবে ১৬টি র্যাম্প বা সংযোগ সড়ক। র্যাম্পগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। এ প্রকল্পে উড়ালসড়ক ছাড়াও ১৪ কিলোমিটারের বেশি সড়ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি নবীনগর এলাকায় নির্মাণ করা হবে এক দশমিক ৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার। এ ছাড়া দুই দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু, ৫০০ মিটার ওভারপাস, ইউটিলিটির জন্য ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ ও ডাক্ট এবং পাঁচটি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে। সূত্র জানায়, প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। ৯ হাজার ৪৭২ কোটি দেবে চীন সরকার। বাকি অর্থ খরচ হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল হতে। প্রকল্পের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বার্তা নিয়ে ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং দুই দিনের জন্য ঢাকা সফরে আসেন। সফরকালে 'স্ট্রেনদেনিং অ্যান্ড প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি করপোরেশনের' আওতায় আনুমানিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। ২৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এই এমওইউ সই হয়। এর মধ্যে এ পর্যন্ত সাত দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আটটি প্রকল্পের ঋণচুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। | 6 |
পরিবার ও মেয়ের নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার মামলা দায়ের করেন ক্রিকেটার মোহম্মদ সামির স্ত্রী ও মডেল হাসিন জাহান। বিচারপতি দেবাংশু বসাক লালবাজারে 'সাইবার' অভিযোগের কী তদন্ত হয়েছে তার রিপোর্ট তলব করেন। ৪ সপ্তাহ পর মামলা ফের শুনানি। ওই সময়কালের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে লালবাজারকে। হাসিন জাহানের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান, গত ২৮ অগাস্ট অভিযোগ জানায় হাসিন জাহান। তারপরেও নিয়মিত হুমকি ফোন আসছে। হুমকি দেয়া নাম্বার গুলি লালবাজারে জানানো হলেও কোনো তদন্ত হচ্ছে না। হাইকোর্ট তাই তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট তলব করেছে। মামলা চলাকালীন আমার মক্কেলের মেয়ে ও পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশকে। বিতর্কের শুরু অযোধ্যা ভূমিপুজো নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা নিয়ে। স্পিডস্টার শামি'র স্ত্রী হাসিন জাহান পোস্ট করেন ফেসবুক, ট্যুইটার, ইনস্টাগ্রামে। সেখানে ৫ আগাস্ট অযোধ্যা ভূমি পুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে ওই পোস্ট করতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন কিছু মানুষ। বিষয়টি তাতেই থেমে না থেকে আরও বাড়তে থাকে। হাসিন জাহান কেন এমন পোস্ট করবেন, এই প্রশ্ন তুলে তাঁকে খুন ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ৫ অগাস্ট পেরিয়ে ৯ অগাস্ট, ক্রমশ বাড়তে থাকে হুমকির বহর। লালবাজারে অভিযোগ জানিয়ে আসেন হাসিন জাহান। কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা সাইবার ক্রাইম শাখায় আলাদা অভিযোগ জানান হাসিন। পুলিশের অভিযোগপত্রে হাসিন জাহান জানান, যেভাবে ক্রমাগত খুন ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাতে তিনি আতঙ্কিত। নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। পুলিশের কাছে তিনি অভিযোগের মোবাইল স্ক্রিনশটও জমা দিয়েছিলেন। হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে হাসিন জাহান জানান, প্রচুর মানুষ আমার সামাজিক সাইটে আছেন। কারা ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে তা পুলিশকে তদন্ত করে পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তদন্ত নিষ্ফলা তাই হাইকোর্টে মামলা করতে বাধ্য হই। আশা করি এবার দুষ্কৃতিরা নাগালে আসবে। | 12 |
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার বিচারকাজ ফের শুরু হচ্ছে। আগামী ২০ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন এ তারিখ ঠিক করেন। জানা গেছে, মামলাটি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে দীর্ঘদিন বিচারকাজ বন্ধ ছিল। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর মামলার যাবতীয় নথি বিচারক আদালতে আসে। এদিন আসামিদের উপস্থিতির জন্য দিন ধার্য ছিল। আসামিদের মধ্যে তারিক সাঈদ মামুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামি হারুন অর রশীদ ওরফে লেদার লিটন ওরফে বস লিটন এ মামলায় কারাগারে থাকলেও তাকে উপস্থিত করা হয়নি। আসামি আদনান সিদ্দিকী, ফারুক আব্বাসী পক্ষে সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বাকি দুই আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন ও আশীষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী পলাতক। রাজধানীর বনানীর ১৭ নম্বর রোডের আবেদীন টাওয়ারে ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান চলচ্চিত্র নায়ক সোহেল চৌধুরী। ওই ঘটনায় সোহেল চৌধুরীর ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। এক আসামির রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৩ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। | 6 |
দেশের সর্বশেষ তথা ২০১১ সালের আদমশুমারি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, '২০১১ সালের আদমশুমারিতে আমাকেই গণনা করা হয়নি।' আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভবনের অডিটরিয়ামে জোনাল অপারেশন (প্রথম) প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আক্ষেপ প্রকাশ করেন। 'জনশুমারি গণনায় মাঠপর্যায়ের কর্মীদের গাফলতিতে অনেকই বাদ পড়ে। ২০১১ সালের জনশুমারি গণনা থেকে আমি নিজেই বাদ পড়েছিলাম। এবার যেন না পড়ি। অনেকেই ভালো কাজ করে। কিন্তু দু-একজন ভুল তথ্য দিলে পুরো কার্যক্রমই প্রশ্নবিদ্ধ হয়',- বলেন সচিব। সচিব বলেন, চলতি মাসেই মূল শুমারির অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ডিভাইস ব্যবহার করে ধর্য সহকারে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। সঠিক পরিসংখ্যান ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটায়। বিশেষ করে এখন বিশবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাগজ-কলমের তথ্য ব্যবহার করতে পছন্দ করে না। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সভাপতিত্ব করেন বিবিএস মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম। আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর শুমারি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ জন্য সারাদেশের ১৪৪ জন জোনাল কর্মকর্তা এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ কার্যক্রম ৪টি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে, জোনাল অপারেশন পরিচালনা, শুমারির তথ্য সংগ্রহ, পিইসি জরিপ পরিচালনা ও আর্থ-সামাজিক ও জনতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা। জোনাল অপারেশন প্রথম পর্যায়ে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত হবে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রর ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে, মাঝে মাঝে রক্ত বমি করছেন। বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে নাগরিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তিনি অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আছেন। যে কোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারেন। মেডিক্যাল বোর্ডের ৬ চিকিৎসক আমাকে বিস্তারিত বলেছেন। আমি তাদের ফাইলের প্রত্যেকটা লেখা পড়ে দেখেছি। ওনার মুখ দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। ব্লাড প্রেসার একশোর নিচে নেমে এসেছে। আমি সেখানে দেখেছি খালেদা জিয়াকে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। আমি ফাইলের প্রত্যেকটা লাইন দেখেছি, কারো মুখের কথায় কিছু বলছি না। সম্ভব হলে আজ (২৪ নভেম্বর) রাতেই ওনাকে বিদেশে ফ্লাই করা উচিত। আর না হলে যে কোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পরিচালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সদস্য অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহিদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 6 |
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার রাতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যেই ডা. মুরাদকে পদত্যাগের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ডা. মুরাদের বিষয়ে তার কথা হয়। আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে ডা. মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ দিলে তিনি এই বার্তা রাত ৮টায় প্রতিমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন। জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারে তাকে প্রথমে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে ২০১৯ সালের মে মাসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে নিযুক্ত হন তিনি। গত কয়েকদিন থেকেই বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের ফলে আলোচনায় ছিলেন মুরাদ হাসান। বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিভিন্ন মহল থেকেই তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করার দাবি উঠছিলো। সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বেগম জিয়ার নাতনি ও তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন ডা. মুরাদ। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে রোববার মধ্যরাতে চলচ্চিত্র অভিনেতা মামনুন হাসান ইমন ও অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির সাথে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এক ফোনালাপের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ফোনালাপে প্রতিমন্ত্রী আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। সংবাদমাধ্যমকে ভাইরাল হওয়া সেই অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই ফোনালাপ দুই বছর আগের। একটি সিনেমার মহরত অনুষ্ঠানের আগের রাতে প্রতিমন্ত্রী তাকে ফোন করেছিলেন। | 9 |
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে এই তাদের মালিকানাতেই বদল এসেছে সবচেয়ে বেশিবার। এবারের বিপিএলে দলটি খেলবে সিলেট সানরাইজার্স নামে। এর আগে সিলেট সুপার স্টার্স, সিলেট সিক্সার্স, সিলেট থান্ডার নামে বিপিএলে অংশ নেয় তারা।এবারের আয়োজনে নতুন শুরু হচ্ছে সিলেটের। প্রতিযোগিতায় শিরোপা জেতার স্বপ্ন তাদের। কিন্তু ওই অর্থে বড় বাজেট কিংবা তারকা ঠাসা দল গঠন করতে পারেনি ফ্র্যাঞ্চাইজি। দলে তরুণ ক্রিকেটারদের আধিক্যই বেশি। নেই বড় কোনো সুপারস্টার। তবে সানরাইজার্সের সবচেয়ে ইতিবাচক দিকটি হচ্ছে তাদের দলে পারফরমারের অভাব নেই।বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ প্রাধান্য পেয়েছে সিলেট সানরাইজার্সের দল গঠনে। দলটির অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাঁর অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সের ওপর দাঁড়িয়ে কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। মোসাদ্দেক ছাড়াও দলে টানা হয়েছে মিজানুর রহমান, মুক্তার আলি, এনামুল হক বিজয়কে।অভিজ্ঞদের মধ্যে আছেন আলোক কাপালি, সোহাগ গাজীর মতো ক্রিকেটার। দেশের বাইরের বিপিএলের পরিচিত মুখ রবি বোপারাকে উড়িয়ে এনেছে সিলেট। এ ছাড়া লেন্ডল সিমন্স, কলিন ইনগ্রাম, ডেভন থমাসকে নিয়ে এসেছে তারা। জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ প্রস্তুত আছেন গতির ঝড় তুলতে। তাঁর সঙ্গে পেস বিভাগে আল-আমিন হোসেন ও ক্যারিবীয় তারকা কেসরিক উইলিয়ামসের উপস্থিতি দলের পেস বিভাগকে শক্তিশালী করে তুলছে।সব মিলিয়ে দল নিয়ে খুশি অধিনায়ক মোসাদ্দেক। দলে সুপারস্টার না থাকার আক্ষেপ নেই তাঁর। তিনি বলেছেন, 'আমার দলে হয়তো সুপারস্টার নেই। কিন্তু যারা আছে তারা ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরমার। সবাই নিজের দিনে ভালো খেললে ভালো একটা ফলাফল আশা করা যায়।' সিলেটের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের জন্য অন্তরায় হতে পারে সংস্করণে বদল। যাঁরা কিনা লাল বলেই বেশি অভ্যস্ত।সানরাইজার্স অধিনায়কের কাছে সংস্করণের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ। মোসাদ্দেক বলেছেন, 'প্রতিটা সংস্করণ ভিন্ন ভিন্ন। একটা সংস্করণ থেকে আরেকটা সংস্করণে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। আমরা অনুশীলন করছি সেভাবেই। আমার মতে মানিয়ে নিতে আমাদের বেশি সময় লাগবে না। দুই দিন খুব ভালো অনুশীলন হয়েছে। ম্যাচের আগে এখনো দুই দিন সময় আছে। আশা করি, সবকিছু ভালোই হবে।'বাস্তবতা হচ্ছে, বিপিএলে সিলেটের ভালোকিছু কখনোই হয়নি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ফাইনালে উঠতে পারেনি সিলেটের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। এবার প্রধান কোচ মারভিন ডিলানকে পেয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে দলটি। বিশ্বের অন্যতম সেরা পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উড আছেন দলটির ব্যাটিং বিভাগের দায়িত্বে। বিগ ব্যাশ, পিএসএলসহ ইংলিশ কাউন্টির বিখ্যাত একাডেমিগুলোকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে উডের।সিলেটের সবচেয়ে বড় শক্তি এই কোচিং বিভাগই। ডিলান-উড জুটির সুবাদে সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যর্থ বৃত্ত ভাঙতে পারে কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর তোলা থাকল ভবিষ্যতের জন্য। ইতিবাচক ভবিষ্যতের আশায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির স্বত্ব নিয়েছে প্রগতি গ্রুপ। সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজির মাঠের অতীত যেমন নেতিবাচক তেমনি সাংগঠনিক দিকটাও। খেলোয়াড়দের বকেয়া দেনার দায়ে ২০১৬ সালে নিষিদ্ধ পর্যন্ত হয়েছিল সিলেট অঞ্চলের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।সিলেট অবশ্য এখনো পূর্ণশক্তির দল দাঁড় করাতে পারেনি। দলটির দুই শ্রীলঙ্কান তারকা দিনেশ চান্দিমাল ও অ্যাঞ্জেলো পেরেরা এলে দলটিতে আসতে পারে ভারসাম্য।সিলেট সানরাইজার্স দল:মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ, কেসরিক উইলিয়ামস, কলিন ইনগ্রাম, সিরাজ আহমেদ, মোহাম্মদ মিঠুন, আল-আমিন হোসেন, নাজমুল ইসলাম, রবি বোপারা, অ্যাঞ্জেলো পেরেরা, এনামুল হক বিজয়, সোহাগ গাজী, অলোক কাপালি, মুক্তার আলি, জুবাইর হোসেন, মিজানুর রহমান, নাদিফ চৌধুরী, শফিউল হায়াত, সাঞ্জামুল ইসলাম, লেন্ডন সিমন্স, ডেভন থমাস। | 12 |
রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির (আইসিসিবি) হাসপাতাল তৈরিতে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বসুন্ধরা গ্রুপের আনুষ্ঠানিক চিঠির জবাবে তিনি প্রাথমিক এই সম্মতির কথা জানান। কিভাবে হাসপাতাল হবে তা খুব দ্রুত চূড়ান্ত হবে। চীনের উহানের চেয়ে বড় হাসপাতাল হবে এটি। এছাড়া করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আজ রবিবার ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। ত্রাণ তহবিলে চেক হস্তান্তরের সময় সায়েম সোবহান আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল করার এ চিঠিটি হস্তান্তর করেন। এদিকে, করোনা মহামারি মোকাবিলায় আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) হাসপাতাল তৈরির আনুষ্ঠানিক চিঠিতে বসুন্ধরা গ্রুপ জানায়, আইসিসিবিতে চারটি কনভেনশন সেন্টার ও একটি ট্রেড সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কনভেনশন সেন্টারটির আয়তন ৩০ হাজার স্কয়ার ফুট, বাকি তিনটির প্রত্যেকটির আয়তন ২৪ হাজার স্কয়ার ফুট এবং ট্রেড সেন্টারটি দেড় লাখ স্কয়ার ফুট আয়তনের। এই কনভেনশন সেন্টার পুরো শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত। এখানে আলাদা টয়লেট, রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। সবুজে ঢাকা এই কনভেনশন সেন্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ঝকঝকে। যে কোন সময় এখানে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করা যাবে। চীনের উহানে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল অবকাঠামো তৈরি করতে হয়েছিল চীনা সরকারকে। উহানে তিনটি হাসপাতাল মিলে শয্যা সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫০০টি। সেখানে আইসিসিবিতে ৫ হাজার শয্যা স্থাপন করা সম্ভব। এই কনভেনশন সেন্টারে অবকাঠামো এবং সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত থাকায় শুধুমাত্র বিশেষ ব্যবস্থাপনায় শয্যা বসিয়ে এই মহামারি মোকাবেলা করা সম্ভব। নতুন করে হাসপাতাল তৈরির সময় এবং অর্থ অপচয় দুটোই কমবে এখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারলে। সরকার চাইলে এখনই দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার শয্যা বসিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা আবু তৈয়ব বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ মানবতার কল্যাণে কাজ করে থাকে। বানভাসী কিংবা শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় সব সময় হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। সেই ধারাবাহিকতায় করোনা মহামারিতে মানুষের সেবায় হাসপাতাল তৈরির এই প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার চাইলে আজ থেকেই কনভেনশন সেন্টারের ব্যবস্থাপনা বুঝে নিয়ে হাসপাতাল তৈরির কাজ এগিয়ে নিতে পারে। বসুন্ধরা গ্রুপ যে কোন সময় দায়িত্ব হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। করোনা আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বসুন্ধরা গ্রুপ এ প্রস্তাবনা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। পঞ্চম আসরকে ঘিরে এবার উন্মাদনা একটু বেশি। অংশগ্রহণকারী সাত দলই শিরোপা জিততে মরিয়া। তাই দলগুলো এখন অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছে। বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হেড কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে ২০১৫ সালের শিরোপাজয়ী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অনুশীলন করেছে। ক্যাম্পের প্রথম দিন উপস্থিত ছিলেন পাঁচ ক্রিকেটার অলক কাপালি, আল আমিন, রকিবুল হাসান, এনামুল হক এবং মেহেদি হাসান রানা। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ব্যাটিং বোলিং করেন ক্রিকেটাররা। দলের হেড কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের দলের বেশিরভাগ প্লেয়ারের খেলা চলায় অনুশীলনে সবাই যোগ দিতে পারেনি। তবে সবাই খেলার ভেতরে আছে এটা একটা ভালো দিক। কিছুদিনের মধ্যে সবাই দলে যোগ দিবে তখন আরো বেশি কাজ করতে পারব। এবারের কুমিল্লা টিম নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। দেশি বিদেশির সমন্বয়ে ভালো একটা টিম করতে পেরেছি। টুর্নামেন্টে আমরা প্রতি ম্যাচ বাই ম্যাচ আগাতে চাই। অবশ্যই ভালো কিছু করার টার্গেট রয়েছে। বিপিএল শুরু হতে বেশ কিছুদিন বাকি। আমি আশা করব তামিম ততদিনে সুস্থ হয়ে দলের সঙ্গে যোগ দিবে। তামিমের বিকল্প বা অন্য কিছু এখনই ভাবছি না। তামিম আমাদের টিমের সেরা প্লেয়ার এতে কোনো সন্দেহ নেই। গত আসরেও সে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহকারী। অন্যদিকে ঢাকায় অনুশীলন করেছে রংপুর রাইডার্স ও খুলনা টাইটান্স। রংপুর টম মুডির তত্ত্বাবধানে অনুশীলন শুরু করেছে সকাল থেকেই। এ নিয়ে অনুশীলনে দিন পার করেছে দুদিন। একই দিনে মোহাম্মদপুরের ইউল্যাবের মাঠে অনুশীলনে নেমেছে খুলনা টাইটান্স। যদিও তাদের কোচ কিংবা বিদেশি কোনো খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন না। দলের সঙ্গে ছিলেন না অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদও। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতীয় দলের সঙ্গে এখন খেলছেন টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দেশে ফিরেই যোগ দেবেন নিজ দলের অনুশীলনে। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে বিপিএলের পঞ্চম আসর মাঠে গড়াচ্ছে, ঢাকা ডায়নামাইটসের পেসার মোস্তাফিজ তখন থাকবেন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায়। প্রোটিয়া সফরের সময়ে অ্যাঙ্কেল ইনজুরিটা তাকে সহসাই মুক্তি দিচ্ছে না। কিম্বার্লিতে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগের দিন ওয়ার্মআপ সেশনে ফুটবল খেলতে গিয়ে গোড়ালির চোটে পড়েন ফিজ। বৃহস্পতিবার হয়েছে ফিজিওথেরাপি। বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ মনে করছেন, পুরোপুরি ফিট হতে লাগতে পারে আরো ৩ সপ্তাহ। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস অনুশীলন শুরু করবে আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিসিবি একাডেমি মাঠে। একই দিনে মিরপুর স্টেডিয়ামে চিটাগং ভাইকিংস অনুশীলন শুরু করবে। ঢাকায় কয়েক দিন অনুশীলনের করার পর সিলেটে যাবে চিটাগং ভাইকিংস। ওই দিন সকাল ৯টা থেকে অনুশীলন শুরু করবে ঢাকা ডায়নামাইটসও। দলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে বিদেশি ক্রিকেটারদের কয়েকজনকে অনুশীলনে পাওয়া যাবে। একই দিনে টিকিট বিক্রিও শুরু হচ্ছে বিপিএলের। বরাবরের মতো এবারও টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। আসরের প্রথম পর্বের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে। তাই এ ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়া যাবে শুধু ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সিলেট শাখায়। টিকিট বিক্রি শুরুর তারিখ ঘোষণা করলেও এখনো জানানো হয়নি টিকিটের মূল্য। তবে নতুন করে সাজানো স্টেডিয়ামে চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরির আসন-ব্যবস্থার জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে টিকিট বিক্রি করা হবে। এগুলো হলো গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড, ক্লাব হাউজ, গ্রিন গ্যালারি ও সাধারণ গ্যালারি। | 12 |
কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতি সহ রাজনৈতিক নেতাদের আবারও গৃহবন্দী করা হয়েছে। বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে নেতাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রোধ করতে ২০২২ সালের প্রথম দিনে (শনিবার) তাঁদের গৃহবন্দী করা হয়।ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়-পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লারেশন (পিএজিডি) নেতারা বলেছেন, পুলিশ তাঁদের গৃহবন্দী করে রেখেছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সহসভাপতি ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত অবস্থানকে নস্যাৎ করতে বাড়ির গেটের বাইরে ট্রাক রেখে দিয়েছে।এক টুইট পোস্টে ওমর আবদুল্লাহ লিখেছেন-'শুভ সকাল এবং ২০২২ কে স্বাগত জানাই। লোকজনকে বেআইনিভাবে বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রাখা একই জেকে পুলিশ এবং স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপে এত ভীত প্রশাসনের সঙ্গে একটি নতুন বছর।'তিনি আরও লিখেন, 'কিছু জিনিস কখনই পরিবর্তন হয় না। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে পণ্ড করতে গেটের বাইরে ট্রাক পার্ক করা হয়েছে।'জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা পুনরুদ্ধার করার জন্য কাজ করছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমরের বাবা এবং এমপি ফারুক আবদুল্লাহ। তিনি মূলধারার দলগুলির একটি গ্রুপ পিএজিডি-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।অন্য এক টুইটে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, 'একটি আইনহীন পুলিশি রাষ্ট্রের কথা বলছি। পুলিশ আমার বাবার বাড়ির সঙ্গে আমার বোনের বাড়ির সংযোগকারী অভ্যন্তরীণ গেটে পর্যন্ত তালা লাগিয়ে দিয়েছে। তবুও আমাদের নেতারা গাল ভরে বিশ্বকে বলে বেড়াচ্ছে, ভারত বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, হাহ!!' পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সভাপতি মেহবুবা মুফতিও এ প্রসঙ্গে টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'সরকার প্রায়ই ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল ও রাজ্য দ্বিখণ্ডিকরণের ঢাক পিটিয়ে চলেছে। অথচ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতার করলে তাঁরা অসহিষ্ণু আচরণ করছে। বহুবার আমাদের গৃহবন্দী করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতেও দেওয়া হচ্ছে না।' দমন-পীড়ন অগ্রাহ্য করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যেসব কর্মী-সমর্থকেরা শনিবার শ্রীনগরের বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছেন তাঁদের অভিনন্দন জানান মেহবুবা।পিএজিডি-এর মুখপাত্র এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) নেতা এম ওয়াই তারিগামি বলেছেন, তাঁকে এবং অন্যান্য নেতাদের বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না; গৃহবন্দী করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, ডিলিমিটেশন কমিশনের খসড়া প্রস্তাবে জম্মু অঞ্চলের জন্য ছয়টি এবং কাশ্মীর উপত্যকার জন্য একটি আসনের প্রস্তাব করা হয়েছে। উপত্যকার সব রাজনৈতিক দল এই আসন বিন্যাসের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। কমিশনের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে। শনিবার ওই প্রস্তাবের বিরোধিতার জন্য শান্তিপূর্ণ ধরনার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। তা বানচাল করতেই তিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দী করা হয়। | 3 |
প্রয়াত ক্রিকেটার মোশাররফ রুবেলের পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যায় জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, রুবেলের ছেলে রুশদান রুবেলের শূন্যস্থান পূরণ করে এই জাতির জন্য অবদান রাখবে। আমি এই পরিবারের একজন সদস্যের মতো অভিভাবক হিসেবে সবসময় পাশে থাকবো এবং সিটি করপোরেশন এই পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে। শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বারিধারায় প্রয়াত ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। সাক্ষাৎকালে মেয়র ক্রিকেটার রুবেলের স্ত্রী, সন্তান, মা ও ভাইসহ উপস্থিত তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রুবেলের মৃত্যুতে সহমর্মিতা জানান। এসময় তিনি রুবেলের শিশুপুত্র রুশদানের সঙ্গে গল্প করে কিছু সময় কাটান এবং তাকে কিছু উপহারসামগ্রী প্রদান করেন। সাক্ষাৎ শেষে মেয়র উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মেয়র বলেন, রুবেল বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি খেলাধুলার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। রুবেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্লু এবং গোল্ড মেডেল অর্জনসহ অনেক পুরস্কার অর্জন করেছে। সর্বোপরি রুবেল একজন নম্র-ভদ্র ও ভালো মানুষ ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা বাংলাদেশের একটি সম্পদ হারিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি ওমরা পালনে পবিত্র নগরি মক্কায় অবস্থানকালীন রুবেলের মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি এবং পরিবারের চাওয়ায় বনানী কবরস্থানে রুবেলের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। রুবেলের কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য তার স্ত্রীর যে আকুতি আমি মক্কায় থাকাকালীন সেটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছি। আজ আমি রুবেলের পরিবারের সদস্যদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করে জানাতে এসেছি রুবেলের কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণে দ্রুতই সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঈদের পরেই বোর্ড সভায় কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের বিষয়টি অনুমোদন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান মেয়র আতিক। এসময় রুবেলের স্ত্রী চৈতি ফারহানা তার আবেদনে সাড়া দেয়ায় এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ায় ডিএনসিসি মেয়রকে ধন্যবাদ জানান। | 12 |
২৯ আগস্ট সকালে পত্রিকা হাতে নিয়ে মনটা আনন্দে ভরে উঠল। দৈনিক 'প্রথম আলো'এর মলাট জুড়ে মেট্রোরেলের ছবি। গত দুই দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচলের ভিডিও দেখেছি। ঢাকাবাসীর সঙ্গে দেশবাসী তার আরও একটি স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। জানি না এই ছবি দেখার জন্য কি না, কিন্তু প্রথম আলো অনলাইনে ঢুকতেই মেট্রোরেলের চাকরির একটা খবর আমার সামনে ভেসে এল (মেট্রোরেলে চাকরি, পদ ১৩০, আবেদন ফি ৫০০, প্রথম আলো অনলাইন, ২৯ আগস্ট, ২০২১)। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে মেট্রোরেল কোম্পানি তাদের ১৩০টি শূন্যপদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আগেই। আমি আজ দেখলাম। করোনাকালে চাকরির যে কোনো বিজ্ঞপ্তি আমাদের তরুণদের জন্য আশা জাগানিয়া খবর। তার মধ্যে এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্ষেত্র। কাজে দ্রুত আমি মেট্রোরেলের ওয়েবসাইটে ঢুকে বিজ্ঞপ্তিটি দেখেছি ও পড়েছি। এবং সেটি পড়ে আমি খুবই অবাক হয়েছি। আমার মনে হচ্ছে আমি এক যুগ আগে ফিরে গেছি! মেট্রোরেলের এই বিজ্ঞপ্তিতে ৭টি গ্রুপে ৪৩টি পদে ১৩০টি আধা-দক্ষ (সেমি স্কিল) কারিগরি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এগুলোর ন্যূনতম যোগ্যতা হলো এইচএসসি (ভকেশনাল)। এই পদে আবেদনের নিয়মকানুন গুলো যদি আমরা একটু দেখি। বলা হয়েছে আগ্রহী ব্যক্তিকে মেট্রোরেলের ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্রের নমুনা সংগ্রহ করে সেই নমুনা অনুসারে আবেদনপত্র তৈরি করতে হবে। এই আবেদনপত্রের সঙ্গে আবেদনকারীকে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ছায়ালিপি ও সদ্য তোলা পাসপোর্ট আকারের ছবি একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে। সঙ্গে স্থায়ী ঠিকানা ও চারিত্রিক সনদের মূল কপি যুক্ত করতে হবে। তারপর যে কোনো সোনালী ব্যাংক থেকে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের অনুকূলে ৫০০ টাকার পে-অর্ডার করে সেটি ডাকযোগে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাবরে ডাকযোগে পাঠাতে হবে। শুধু তাই নয় প্রার্থীকে নিজের বর্তমান ঠিকানা স্পষ্টভাবে ৯/৪ ইঞ্চি সাইজের খামের ওপর লিখে বা টাইপ করে তাতে ১০ টাকা মূল্যমানের অব্যবহৃত ডাকটিকিট লাগিয়ে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এটি কিন্তু ২০২১ সালের চাকরির বিজ্ঞপ্তি, ২০০০ সালের নয়। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশের নানা কর্মকাণ্ড এই করোনাকালে আমাদের নানাভাবে এগিয়ে নিয়েছে। ২০১১ সাল থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস চালু হয়েছে এবং করোনার টিকার জন্য নিবন্ধনও হচ্ছে অনলাইনে। তাহলে কেন এই আবেদনপত্র ডাকযোগে পাঠাতে হবে? যে প্রার্থী অনলাইন থেকে নমুনা আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারেন তিনি কি অনলাইনে এই আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন না? তাকে কেন কাগজে আবেদন করতে হবে? তিনি তো সকল কাঙ্ক্ষিত তথ্যই অনলাইনে দিতে পারবেন। করোনার টিকার জন্য আবেদন করার সময় কাউকে কিন্তু তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ছায়ালিপি দিতে হচ্ছে না। শুধু নম্বরটি দিলেই হচ্ছে। কাজে এখানেও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়েই আবেদন করতে পারতেন। জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেইস থেকে সেটা যাচাই করা সম্ভব। এখন কিন্তু সারা দেশ থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরকারি নানা ফি পরিশোধ করা যায়। তাহলে কেন একজন গ্রামের আবেদনকারীকে শুধু একটি পে-অর্ডার করার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হবে। এবং কেনইবা তাকে শুধু সোনালী ব্যাংকেরই পে-অর্ডার করতে হবে যেখানে তিনি তার বাড়ি থেকেই এই ফি পরিশোধ করতে পারেন। আমাদের দেশের ডাক বিভাগের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা অনেক কমে গেছে। এখন একজন আবেদনকারী তার পে-অর্ডারসহ যে আবেদন পত্র ডাকযোগে পাঠাবেন, আল্লাহ না করুক, সেটা যদি সময় মতো এই করোনাকালে মেট্রোরেলে অফিসে না পৌঁছে তার দায়িত্ব কে নেবেন?বিজ্ঞপ্তি দেখে বোঝা যাচ্ছে, কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে প্রবেশপত্র ডাকযোগেই পাঠাবেন। সেটি সময়মতো প্রার্থীর কাছে পৌঁছাবে কিনা কে জানে। এবং এটির ওপর ডাকটিকিট আবেদনকারীকেই লাগিয়ে দিতে হবে। অথচ এখন সকল ক্ষেত্রেই অনলাইনে এই ব্যবস্থা করা যায়। প্রার্থীরা যদি সেটি নিজেই প্রিন্ট করে নেয়। অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার বেলায় সেটাই করা হচ্ছে। এখানে কেন ডাকযোগে প্রবেশপত্র পাঠাতে হবে? আবার এই পদগুলো সবই কোম্পানির ১৬ নম্বর বেতন গ্রেডের। এই পদের একটি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য কেন ৫০০ টাকা ফি নিতে হবে? একজন আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ঢাকায় আসতে হবে। এতে তার কত টাকা খরচ হবে সেটা কি কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখেছেন? নিয়োগ কার্যক্রমের সব খরচই আবেদনকারীর কাছ থেকেই বা কেন নিতে হবে? যে কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কষ্ট ও আর্থিক অবস্থা যেন আমরা ভুলে না যাই। মুনির হাসান প্রথম আলোর যুব কর্মসূচির সমন্বয়ক। | 8 |
ঝালকাঠিতে জেলা বিএনপির বিবদমান দুই পক্ষের দুটি কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শহরের ইউসুফ কমিশনার সড়ক ও আমতলা সড়কের কার্যালয় দুটিতে এ হামলা হয়। তবে তালাবদ্ধ কার্যালয় দুটিতে নেতা-কর্মীরা না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শহরের ইউসুফ কমিশনার সড়কের টিনসেড কার্যালয়টি এক মাস আগে উদ্বোধন করা হয়। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে মহড়া দিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা চেয়ার-টেবিল ও টিনের বেড়া কুপিয়ে ক্ষতি করে। তিনি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। জেলা বিএনপির অপর পক্ষের নেতা ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান খান বলেন, দুর্বৃত্তরা আমতলা সড়কের কার্যালয়ের বাইরে হামলা চালিয়ে সাইনবোর্ড ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা ইউসুফ কমিশনার সড়কের কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় বিএনপির অপর পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে। এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেনের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, 'সরকারদলীয় স্লোগান' দিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ে প্রতিবাদ সভা করেছেন। বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'এ হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। জেলা বিএনপির বিবদমান দুটি গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।' সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। | 9 |
শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে ডান হাতের কনুই ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সোহেল আরমান নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আহত ওই শিক্ষার্থীকে গোপনে একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ওই কলেজের বাংলা বিষয় শিক্ষক প্রভাষক সোহেল আরমান শিক্ষাঙ্গনের হলরুমে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন। এ সময় পড়াশোনার বাইরে ভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে কয়েক দফা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আল মামুনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় তাঁর। প্রাইভেট পড়ানো শেষ হলে আল মামুনকে শিক্ষকদের কমনরুমে ডেকে পাঠানো হয়। আর সেখানেই চলে তাঁর ওপর নির্যাতন। পেটাতে পেটাতে আল মামুনের কনুই ফাটিয়ে দেন শিক্ষক। এ অবস্থায় কলেজশিক্ষক জাকির হোসেনের মাধ্যমে তাঁকে গোপনে পাঠানো হয় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে।কি কারণে ছাত্রকে নির্মমভাবে পেটানো হলো এমন প্রশ্নের জবাবে প্রভাষক সোহেল আরমান বলেন, 'অধ্যক্ষ মহোদয় আমাকে কলেজের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় এমন কাজ করার কারণে আমি আমার ছাত্রকে সামান্য মেরেছি। যদিও জানি শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীকে পেটানো বিধি সম্মত নয়।' এ সময় কলেজে প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান।কলেজের হোস্টেলের নিজ কক্ষে থাকা আহত শিক্ষার্থী আল মামুন বলেন, 'আমি কোনো অন্যায় করিনি। কেন আমাকে স্যার এভাবে মারলেন তাও জানি না।' আর কিছু না বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন মামুন।এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর এক সহপাঠী বলেন, চলতি বছর প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে আদায় করে। এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই স্যারের ধারণা সাংবাদিকদের আমরাই তথ্য দিয়েছি। ওই ক্ষোভ থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পেটাচ্ছেন। এর আগেও বাইকে হাত দেওয়ার অপরাধে শিক্ষার্থী রিজভী ও সোহেলকে বেধড়ক পেটান তিনি।'এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক প্রতিটি ক্লাসেই শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে মারধর করে থাকেন। ওই শিক্ষকের আচরণ মোটেই ভালো নয় বলে জানান তাঁরা।কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বললে তারা অকপটে বলেন, 'সোহেল আরমান একজন বদরাগী শিক্ষক। বিধিমালা ভেঙে তিনি প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট পড়ান। এ নিয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাই না আমরা।'এ নিয়ে মোবাইলে কথা হয় অধ্যক্ষ গোলাম মো. ফারুকের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আমি ছুটিতে আছি। তবে শুনেছি একজন শিক্ষক অমানবিক আচরণ করেছেন। শিক্ষাঙ্গনের বিধি অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলা, হয়রানি, যৌন হয়রানি এসবের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কেন ওই শিক্ষক বারবার শিক্ষার্থী পেটাচ্ছেন আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করব। প্রয়োজনে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' | 6 |
একগাল হাসি নিয়ে ইরেশের কোলে চঞ্চল চৌধুরী। আনন্দের কমতি নেই ইরেশ যাকেরের মুখেও। ছবিটা গত পরশু ফেসবুকে পাওয়া গেছে। এ হাসিই বলে দেয় দুই অভিনেতার সম্পর্কের গভীরতা। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব তাঁদের। দীর্ঘদিন অভিনয় করছেন দুজন। সম্প্রতি তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে 'বলি' ওয়েব সিরিজে। সিরিজটি মুক্তির পর এক আড্ডায় হাজির হয়েছিলেন দুজন। সেখানেই দুজনকে এক ফ্রেমে বন্দী করার জন্য ডেকে নেন সহকর্মীরা। ইরেশও 'আয় বাপ কোলে আয়' বলে কোলে তুলে নেন চঞ্চলকে। ইরেশ যাকের ও চঞ্চল চৌধুরী পরস্পরকে 'বাপ' সম্বোধন করেন। কবে, কীভাবে, কে প্রথম এটা শুরু করেন, সেটা আর আজ কারও মনে নেই। স্মৃতি খুঁড়ে চঞ্চল বলেন, 'যাকের ভাই (প্রয়াত অভিনেতা ও ইরেশের বাবা আলী যাকের), সারা ভাবি (ইরেশের মা ও অভিনেত্রী সারা যাকের) আমাদের গুরুস্থানীয়। যখন থিয়েটার শুরু করি, তখনই তাঁরা অভিনেতা, নির্দেশক হিসেবে অতুলনীয়। তখন দেখতাম, থিয়েটারের কোনো অনুশীলন বা নাটকের মঞ্চায়নে ইরেশ আসত। আমরা ছিলাম কাছাকাছি বয়সের। ইরেশ আমার ছোট। তখন থেকেই তাকে চিনতাম। পরে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বন্ধু হয়ে যাই। কাজের ফাঁকে ইরেশ আমাকে মজা করে বাপ বলত। পরে আমিও তাকে মজা করে বাপ বলতাম। এখন আমাদের যেখানেই দেখা হোক, মুখে বাপ চলে আসে। সেদিন আমাদের প্রোগ্রামের সময় অনেকেই ছবি তুলতে ডাকছিলেন। তখন ইরেশ আমাকে কোলে তুলে নিল।' ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ইরেশ যাকের যেন হেসেই খুন। 'বলি' ওয়েব সিরিজে মাওলানা জয়নাল মুনশির চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। গল্পে সোহরাব কোম্পানির হয়ে কাজ করে চরিত্রটি। এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ভক্তদের কাছ থেকে বাহবা পাচ্ছেন। তিনি বললেন, 'আমার সঙ্গে চঞ্চলের প্রথম পরিচয় ২০০৭ সালে। পরে "মনপুরা" সিনেমার মহরতের দিনে কথা হয়। তখনো আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল না। একসঙ্গে নাটক-সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে আমাদের সম্পর্কটা গভীর হতে থাকে। আমরা একসঙ্গে "শান্ত কুটির" নামে একটি সিরিয়াল করেছি, "দেবী" সিনেমা করেছি। শুটিংয়ের ফাঁকে কথা বলতে বলতেই আমাদের সম্পর্কটা এগিয়েছে। একসঙ্গে কাজ করলেও পর্দায় একসঙ্গে অভিনয় করিনি। তবে বন্ধু হিসেবে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে।' চঞ্চল চৌধুরীকে 'বলি' সিরিজে নতুন রূপে দেখা গেছে। কাজটি তাঁর প্রত্যাশা কতটা পূরণ করেছে? জানতে চাইলে এই অভিনেতা বলেন, 'শিল্পীর কোনো ভাবনা কখনোই পূরণ হয় না। এটা হওয়া উচিতও নয়। এখানে সর্বোচ্চ বলে কিছু আছে, এটা আমি মনে করি না। দর্শক পছন্দ করেছেন। সামনে আরও ভালো কাজ করব।' প্রসঙ্গক্রমে আবারও চলে আসে মজাচ্ছলে তোলা ছবিটার কথা। ছবিটি এখন সিনেমা, নাটকসংশ্লিষ্ট ফেসবুকের বেশ কিছু গ্রুপে ঘুরছে। ভক্তরা দুই অভিনেতার রসবোধের প্রশংসা করছেন। 'বলি' সিরিজের সাফল্য উদ্যাপনে একটি পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছিল প্রযোজনা সংস্থা। সেখানেই দেখা হয় চঞ্চল ও ইরেশের। ছবিটিও সেখানেই তোলা। | 2 |
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনের সাথে আমরা একমত নই বরং অনেকক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো।' পয়লা বৈশাখের সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলায় পাম ভিউ রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরাম আয়োজিত 'মাহে রমজান ও গণমাধ্যম' শীর্ষক আলোচনা ও ইফতারের আগে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ প্রতিক্রিয়া জানান। মন্ত্রী বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে অনেকক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো, সবক্ষেত্রে না হলেও। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ান্তামোবে'তে যেভাবে মানুষকে নির্যাতন করা হয়, সে ধরনের কোনো কারাগার আমাদের দেশে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করা হয়েছে, আমাদের দেশে কখনো এ ধরনের হত্যাকাণ্ড হয়নি। মার্কিন পার্লামেন্টে যেভাবে হামলা করে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে, স্পিকারের চেয়ারে দুষ্কৃতকারী বসে ছিল, এমন কোনো ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেনি। গত দশ বছরের পরিসংখ্যান মতে, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে নিহতের অধিকাংশই সংখ্যালঘু। এসব কারণে অনেকক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো।' মার্কিন এই প্রতিবেদন আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছি জানিয়ে ড. হাছান বলেন, 'দেশে বিচার বিভাগ অত্যন্ত স্বাধীনভাবে কাজ করে। সে কারণেই সরকারের বিরুদ্ধে রায় হয় ও সরকারি দলের এমপিরা জেলে যায়।' একইসাথে তিনি বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মানবাধিকার রিপোর্টে যে নিরাপত্তা বাহিনীর কথা আছে, সেই নিরাপত্তা বাহিনীও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা পাচ্ছে। এ কারিগরি সহায়তাসহ অন্যান্য বিষয়ে সহায়তার মাধ্যমে আমাদের যদি কোনো ত্রুটিও থেকে থাকে তা ভবিষ্যতে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি।' এসময় অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, 'সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে চলতি বছর দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছে।' করোনা পরবর্তীতে যে আমাদের অর্থনীতি সুদৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটিও বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'যারা রাত-বিরাতে সমালোচনা করেন, আমি আশা করব, তারা এই রিপোর্টের পর বিরূপ সমালোচনা বন্ধ করবেন।' বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন,বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সিনিয়র সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক, মহাসচিব দীপ আজাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 9 |
মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছিলেন ২৪ বছরের তরুণী ভারতের অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রচুর দেনায় জর্জরিত ছিলেন তিনি। এ কারণেই আত্মহত্যা করেছেন 'বালিকা বধূ' প্রত্যুষা।
রোববার মুম্বাই থেকে ফোনে ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন প্রত্যুষার প্রেমিক রাহুল রাজ সিংহের বড় বোন সাহিলা চাড্ডা। শনিবার সন্ধ্যায় কান্দিভিলির একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান রাহুল। ১২ দিন সেখানে ছিলেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বেরিয়েই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন রাহুল। তিনি বলেন, বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে গোটা বইকে বিচার করবেন না। পুরোটা আগে জানা উচিত।
রাহুলের বোন বলেন, 'প্রত্যুষা আমারও বোনের মতো ছিল। প্রত্যুষার আত্মহত্যায় আমরা সকলেই স্তম্ভিত। তবে তার মানে এই নয় যে, প্রত্যুষার পরিবার সবকিছুর জন্য রাহুলকেই দায়ী করবে। প্রত্যুষার মৃত্যুর জন্য দায়ী ওর জীবনযাপন। গত কয়েক বছরে প্রত্যুষার প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ধার হয়ে গিয়েছিল। বিগ বসের পর তো ও তেমন বড় কোনও কাজ করেনি। যা টাকা ছিল, তা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।'
সাহিলার দাবি, বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর টাকা ধার করতেন প্রত্যুষা। মেয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছিলেন তার মা সোমাও। এই সব কারণেই অবসাদে ভুগছিলেন প্রত্যুষা।
সাহিলা জানান, প্রত্যুষার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিল রাহুলের পরিবার। কিন্তু প্রত্যুষার বাবা-মা যে সবকিছুর দায় রাহুলের উপর চাপিয়ে দেবেন, তা তারা ভাবতে পারেননি।
রাহুলের বোনের দাবি, প্রত্যুষার থেকে তার ভাই কোনও টাকা নেননি। বরং প্রত্যুষাকে টাকা দিয়েছেন। গোরেগাঁওয়ের যে ফ্ল্যাটে রাহুল-প্রত্যুষা থাকতেন, সেটি রাহুলেরই। প্রত্যুষাই নিজের কান্দিভিলির ফ্ল্যাট ছেড়ে রাহুলের ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেছিলেন।
এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে প্রত্যুষার বাবা বলেন, ওই ফ্ল্যাটটা ওরা ভাড়া নিয়েছিল। চুক্তিতে যদিও রাহুলের নাম রয়েছে, তবে পুরো টাকাটাই দিয়েছিল আমার মেয়ে। রাহুলের প্রাক্তন বান্ধবী সালোনি শর্মাই ওই ফ্ল্যাট জোগাড় করে দিয়েছিলেন।
প্রত্যুষার বাবা শঙ্কর 'ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন'কে চিঠি লিখে কান্দিভিলির ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে 'অপরাধীকে আশ্রয়' দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। শঙ্করের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা নিয়ে রাহুলকে 'অসুস্থ' বানিয়ে রেখেছিলেন।
| 2 |
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশের অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদের ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে কালো তালিকাভুক্তও করেছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ফেরদৌসের ভিসা-সংক্রান্ত আচরণ লঙ্ঘনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অভিনেতা ফেরদৌস রোববার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়ালের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। এলাকাটি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে। নির্বাচনী ওই প্রচারে ফেরদৌসের সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার দুই তারকা অঙ্কুশ হাজরা ও পায়েল। এ ঘটনায় বিজেপি নেতারা তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান এবং নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ অম্বিকা রায় এ বিষয়ে বলেন, 'আমার জানা মতে, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। এক্ষেত্রে ভারতীয় ভিসা আইনের লঙ্ঘন করা হয়েছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনও বিদেশি যে ক্যাটাগরির ভিসায় এদেশে আসুক না কেন তিনি এটা করতে পারেন না। এটা খুবই মারাত্বক অপরাধ। এর জন্য আভ্যন্তরীণ শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে।' ভারতীয় ভিসা আইন উল্লেখ করে অম্বিকা রায় আরও বলেন, 'আমাদের দেশের ভিসা আইনে কোনও রাজনৈতিক ভিসার ক্যাটাগরি নেই। ভিসার আবেদন পত্রে বিদেশিদের লিখতে হয় তিনি কি কারণে ভারত ভ্রমণে করতে চান। কনফারেন্স ভিসা ক্যাটাগরিতে বিদেশি রাজনৈতিক নেতারা এদেশে এলেও তাদের ক্ষেত্রে বলা আছে, রাজনৈতিক বা সামাজিক সর্ম্পশকাতর বিষয়ে ভিসা দেওয়া হবে না।' | 3 |
ওয়েব ফিল্ম কনটেন্ট মানেই থ্রিলার। দেশের বেশি ভাগ নির্মাতা যখন থ্রিলারের পেছনে ছুটছেন, তখন সামাজিক বার্তার কমেডি গল্প নিয়ে কাল ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকিতে হাজির হচ্ছেন নির্মাতা আদনান আল রাজীব। ছবির নাম 'ইউটিউমার'। ওয়েব ফিল্মটি প্রসঙ্গে রাজীব জানালেন, এটা দেশের তরুণদের গল্প। তাঁর দেখা চারপাশের জগৎ থেকে গল্পটি নেওয়া। কমেডি জনরার গল্পটি নিয়ে এই নির্মাতা বললেন, 'আমি কখনো স্রোতে ভাসি না। এমন না যে আমাকে থ্রিলারই বানাতে হবে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন আমি এই গল্প নির্মাণ করলাম? কাজের জন্য আমরা কিন্তু আশপাশের দেশ, বিশেষ করে ভারতের ইন্ডাস্ট্রিকে অনেকটাই ফলো করি। সেখানে "সেক্রেড গেমস" বা "মির্জাপুর" যখন জনপ্রিয় হয়, তখন আমাদের অনেকেই ধরেই নেয় ওয়েব কনটেন্ট মানেই থ্রিলার-জাতীয় কিছু একটা হতে হবে। আশপাশে যা হচ্ছে, সেই স্রোতেই ভাসতে হবে, এটাতে আমি বিশ্বাসী নই। সততার জায়গা থেকে কাজটি করতে পারলে শুধু থ্রিলার নয়, যেকোনো জনরাই দর্শক দেখবেন।' বর্তমান তরুণ প্রজন্ম কোন পথে হাঁটছে, ছবিতে সেগুলোই হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন আদনান আল রাজীব। এই গল্প দেখে দর্শক যেমন হাসবেন, তেমনি সামাজিক অবক্ষয়গুলোও টের পাবেন। তরুণ দর্শকদের বিনোদনের মধ্য দিয়ে বার্তা দিতেই এমন একটি গল্প বেছে নিয়েছিলেন আদনান। আদনান বলেন, 'ক্যারিয়ারে যতগুলো কাজ করেছি, সবই এক্সপেরিমেন্টাল হিসেবে নিয়েছি। নিজেকে প্রুফ করার জন্য বিভিন্ন জনরায় গল্প বলার চেষ্টা করি। অন্যদের থেকে একটু আলাদা ভাবনা দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। এভাবে কাজ করে আগেও সফলতা পেয়েছি। সেই আত্মবিশ্বাস থেকে এবার চরকির জন্য "ইউটিউমার" নির্মাণ করেছি। সমসাময়িক কিছু তরুণের লাইফস্টাইল নিয়ে গল্প। চরকি আমাদের একটি ফিল্ম বানানোর স্বাধীনতা দিয়েছিল। আমরা সেভাবেই কাজটি করেছি।' আগে নাটক বিজ্ঞাপন বানালেও এই প্রথম ৯০ মিনিটের ওয়েব ফিল্ম বানিয়েছেন আদনান। কাজের ফাঁকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুটা সময় কাটান। চারপাশে যা যা ঘটছে, সেগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করেন। আদনান বলেন, '"ইউটিউমার" নির্মাণের আগে অনেক বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করেছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বেশ কিছু চরিত্রকে স্টাডি করতে হয়েছে। আশা করছি ইউটিউমার দর্শকদের অন্য রকম বিনোদন দেবে।' 'ইউটিউমার'-এ অভিনয় করেছেন প্রীতম হাসান, জিয়াউল পলাশসহ অনেকেই। | 2 |
'জ্ঞানের আলোয় চেতনার জাগরণ' শ্লোগানকে সামনে রেখে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) শুরু হয়েছে বন্ধুসভা আয়োজিত 'অমর একুশে বইমেলা'। সোমবার বইমেলার উদ্বোধন করেন হাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম কামরুজ্জামান। আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উক্ত বইমেলা চলবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 1 |
স্মার্ট টিভি দেখতে সাধারণ এলইডি টিভির মতোই। তবে মনে রাখতে হবে, এলইডি টিভিমাত্রই স্মার্ট টিভি নয়। এলইডি টিভিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করা গেলে, তবেই সেটা স্মার্ট টিভি। এলসিডি (লিক্যুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে) টিভির উন্নত সংস্করণই এলইডি (লাইট এমিটিং ডায়োড) টিভি। সাধারণভাবে বলা যায়, এলইডি টিভির রেজল্যুশন ভালো। এতে ফ্লুরোসেন্ট আলোর বদলে বিশেষ ধরনের ব্যাকলাইট থাকে। এলইডি টিভি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। ডিসপ্লে ইউনিটের আকার ছোট হয় বলে এলইডির আকার বেশি পাতলা হয়।স্মার্ট টিভিতে ইন্টারনেট যুক্ত করে বিভিন্ন অ্যাপ ইনস্টল করা যায়। এ ধরনের টিভির পর্দার আকার বড় হওয়ার কারণে বিভিন্ন ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপের বা প্ল্যাটফর্মের ছবি, ওয়েবসিরিজ ইত্যাদি দেখা যায় বড় আকারে আরও ভালোভাবে।মেইল পাঠানো, ফেসবুক ব্রাউজ করা ও গেমও খেলা যায় এসব টিভিতে। কিছু কিছু টিভিতে স্মার্ট লাইট, স্মার্ট লক ফিচার ও স্মার্ট স্পিকারও যুক্ত থাকে। ফলে ছবি ও শব্দ পাওয়া যায় সাধারণ টিভির চেয়ে ভালো।এলইডি টিভি শুধু ডিসপ্লে ডিভাইস হিসেবে কাজ করে। ব্লু রে প্লেয়ার, টিভি বক্স ও কেব্ল টিভি বক্স দিয়ে ভিডিও দেখা যায়। অধিকাংশ স্মার্ট টিভির হোম স্ক্রিনে অ্যাপ সার্চ করা যায়। এগুলো ফ্রি ডাউনলোডও করা যায়। স্ট্রিমিং সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট দেখার ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট সেট করার প্রয়োজন পড়ে।স্যামসাংয়ের স্মার্ট টিভির অপারেটিং সিস্টেম টাইজেন। জাপানিজ ব্র্যান্ড সনি ব্যবহার করে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম। অ্যাপল টিভির অপারেটিং সিস্টেমের নাম টিভিওএস।ফ্ল্যাট টিভি সেট কীভাবে করবেনকত উঁচুতে সেট করবেন তা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এর সঙ্গে টিভি থেকে বসার স্থানের দূরত্ব, টিভি দেখার অ্যাঙ্গেল ও টিভির আকারও মাথায় রাখতে হবে।মাটি থেকে কত ফুট ওপরে টিভি বসাবেন তা মাপজোখ করে দেখতে হবে। সোফা থেকে দূরত্ব কত হবে তা টিভির আকারের ওপর নির্ভর করে। টিভির সঙ্গে বসার জায়গার সঠিক দূরত্ব বের করতে হলে টিভির আকারকে শূন্য দশমিক ৫৫ দিয়ে ভাগ করলে বেরিয়ে আসবে দূরত্বের হিসাব। দাঁড়িয়ে নয়; বরং বসে টিভি দেখার সময় চোখ স্ক্রিন বরাবর রাখতে হবে। স্মার্ট টিভি কেনার আগেসব জিনিসেরই ভালো-মন্দ দিক থাকে। স্মার্ট টিভিও এর বাইরে নয়।স্মার্ট টিভিতে ইন্টারনেট চালাতে হলে ওয়াই-ফাই বেশ শক্তিশালী হতে হবে।ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডের টিভি, ভিন্ন ভিন্ন অ্যাপ ও সেবা সাপোর্ট করে। প্রতিটি ব্র্যান্ডের অপারেটিং সিস্টেমও আলাদা। তাই কেনার আগে দেখে নিতে হবে আপনার পছন্দের ব্র্যান্ডের টিভি কোন কোন অ্যাপ ও সেবা সাপোর্ট করবে।ইন্টারনেট থাকায় স্মার্ট টিভিও হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্মার্ট টিভি ইউজার অ্যাকটিভিটি ট্র্যাক করে। যেমন কত সময় অনুষ্ঠান দেখে কাটান, সে বিষয়ে তথ্য নেয় নেটফ্লিক্স। তাই নিরাপদ থাকতে ঘন ঘন পাসওয়ার্ড বদলাতে হবে। সুবিধা থাকলেও অনলাইন কেনাকাটা ও অনলাইন ব্যাংকিং না করাই ভালো স্মার্ট টিভি থেকে।ফোন ও কম্পিউটারের মতো টিভিতেও সফটওয়্যার আপডেট দিতে হয়।স্মার্ট টিভির সুবিধাখুব সহজেই টিভি অনুষ্ঠানের পর্ব রেকর্ড করে রাখা যায়।টিভির সঙ্গে মোবাইল ফোন ও ট্যাবলেট যুক্ত করা যায়। ফলে মোবাইল ফোন ও ট্যাবলেটে থাকা কনটেন্ট টিভিতে দেখা যায়। মোবাইলে থাকা গান শুনতেও টিভির স্পিকার কাজে লাগানো যায়। অ্যাডাপ্টরের সঙ্গে এইচডিএমআই কেব্ল যুক্ত করে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের কনটেন্ট স্মার্ট টিভিতে নেওয়া যায়।কিছু কিছু টিভি থেকে মোবাইলে কনটেন্ট পাঠানো যায়।স্মার্ট টিভিতে ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও চলে। কেব্ল বক্স বা অ্যানটেনার সঙ্গে যুক্ত করে টিভিতে অনুষ্ঠান দেখা যায়।যত্নআত্তিপ্রতিটি টিভিরই নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। অধিকাংশ টিভি ৬৫ হাজার ঘণ্টা চালানো যায়। তাই অযথা টিভি চালু রাখবেন না।ব্রাইটনেস বাড়িয়ে রাখবেন না। তাতে টিভির আয়ু কমে যাবে।পাতলা তোয়ালে দিয়ে নিয়মিত ধুলাবালু মুছে নিন। ভুলেও পানি ব্যবহার করবেন না। | 6 |
মাত্র ২৯ বছর বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন এক ভারতীয় ক্রিকেটার। তার নাম অবি বরোট। শুক্রবার সন্ধ্যায় মৃত্যু হয়। জানা গেছে, গত বছর মার্চে প্রথমবারের জন্য রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সৌরাষ্ট্র। সেই দলের উইকেটকিপার-ওপেনার ছিলেন অবি বরোট। ২০১৯-২০ মৌসুমে সৌরাষ্ট্রের রঞ্জি জয়ের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অবির। বাংলার বিরুদ্ধে ফাইনালে ওপেন করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৫৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রান করেছিলেন। হরিয়ানা এবং গুজরাটের হয়েও রঞ্জি খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। অফ স্পিন বলও করতেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৮টি ম্যাচে ১৫৪৭ রান রয়েছে তাঁর। ঘরোয়া একদিনের ক্রিকেটে ৩৮টি ম্যাচে ১০৩০ রান করেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০টি ম্যাচে তাঁর রান ৭১৭। গোয়ার বিরুদ্ধে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ম্যাচে ৫৩ বলে ১২২ রান করে তিনি নজরে পড়েন। ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। সূত্র: আনন্দবাজার বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে ঢাকা টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এতে প্রথম ইনিংসে ৩৯৭ রানের বড় লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। আগের দিন ৫ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান তুলে দিন শেষ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের তৃতীয় দিনের সকালে ব্যাট করতে নেমেও সুবিধা করতে পারেনি। মিরাজের দুর্দান্ত অফস্পিনে পরাস্ত হয়ে একের পর এক ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরতে থাকলে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন নস্যাৎ হয়ে যায় উইন্ডিজের। দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই মাত্র ৩৬ রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারায় সফরকারীরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে শিমরন হেটমায়ার সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন। এছাড়া শেন ডরউইচ করেন ৩৭ রান। বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদি হাসান মিরাজ একাই তুলে নিয়েছেন ৭ উইকেট। বাকি তিনটি উইকেট নিজের করে নেন সাকিব আল হাসান। শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের চা বিরতির পর গুটিয়ে যাওয়ার আগে ৫০৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। দলের পক্ষে মাহমুদুল্লাহ সর্বোচ্চ ১৩৬ রান করেন। অন্যদের মধ্যে সাকিব আল হাসান ৮০, সাদমান ইসলাম ৭৬ ও লিটন দাস ৫৪ রান করেন। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে কেমার রোচ, জোমেল ওয়ারিকেন, দেবেন্দ্র বিশু ও ক্রেইগ ব্রাথওয়েট ২টি করে উইকেট নেন। সারমন লুইস ও রোস্টন চেজ নেন একটি করে উইকেট। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষ বেলা নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে শেষ বেলাতে ৭৫ রান তুলতে প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় সফরকারীরা। সেই অবস্থায় তৃতীয় দিন সকালে ব্যাট করতে নেমে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা, গুটিয়ে যায় ১১১ রানেই। | 12 |
ঢাকা: হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে তিন মামলায় আরও ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।আজ রবিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।আজ দুপুরে ইসলামাবাদীকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। গত ১২ এপ্রিল পল্টন থানায় দায়ের করা নাশকতার একটি মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে যা মামলার তদন্তে সহায়ক হবে। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত নেতৃবৃন্দের নির্দেশেই তাঁদের কর্মীরা তাণ্ডব চালিয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর ও দক্ষিন গেইটে জালাও পোড়াওসহ ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।এই মামলায় তাকে কারাগাওে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে পল্টন থানায় আরও দুইটি নাশকতার মামলায় ও মতিঝিল থানায় দায়ের করা আরও একটি নাশকতার মামলায় ইসলামাবাদীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানায় পুলিশ। পরে প্রত্যেক মামলায় দশ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক মামলায় সাতদিন করে আজিজুল ইসলামকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। একটির পর একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ চলবে বলে আদেশে বলা হয়।আরও পড়ুন:মামুনুল হক গ্রেপ্তারসোনারগাঁ পৌরসভার কাউন্সিলর গ্রেপ্তারহেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও জালাল সাত দিনের রিমান্ডেরিসোর্টে ডুবলেন মামুনুল, মামুনুলে হেফাজত | 9 |
নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের নামাজে জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নৌকার প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপার সারুটিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। শনিবার বিকালে ইউনিয়নের ভাটবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে হারান বিশ্বাস (৬৫) নামের একজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন ৩০ জন। সেদিন উপজেলার সারুটিয়াা ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হারান বিশ্বাস ওই ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী গ্রামের বিলাত আলীর ছেলে। তার নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য আজ বিকালে নৌকার সমর্থক জসিম উদ্দিনসহ দুইজন ইউনিয়নের ভাটবাড়িয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা তাদের দুইজনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শৈলকূপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে জসিম উদ্দিন মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ইউনিয়নের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, পঞ্চম ধাপে শৈলকূপায় ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টিতে ইভিএম ও বাকি ৯টি ইউনিয়নে ব্যালটের মাধ্যমে আগামী ৫ জানুয়ারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ২৬৭ জন আর নারী ১ লাখ ১৫হাজার ৭৭১ জনসহ মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৮জন ভোটার রয়েছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
থাইল্যান্ডে 'বাংলাদেশি কমিউনিটি পাতায়া'র নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর এক নির্বাচনে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদে আবদুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক পদে শামসুজ্জামান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোহাম্মদ সোলায়মানসহ ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত হয়। ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডে পাতায়া সিটিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সংগঠনটির যাত্রা শুরু করে। থাইল্যান্ডের বাংলাদেশিদেররেজিস্ট্রিকৃত সংগঠন (রেজি নং- ১১/২৫৫২) থাই-বাংলাদেশি কমিউনিটি। সংগঠনটিপ্রতিষ্ঠা করেন জাহাঙ্গীর হোসেন। কমিটিতে অন্যান্যদের মধ্যে সহ-সভাপতি ১ম. আনিসুর রহমান, ২য়. নুরুল ইসলাম শিশির ও ৩য়. শহিদুর রহমান। সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ১ম. আরাফাত রহমান, ২য়. সাইফুল ইসলাম পবন, ৩য়. আলাউদ্দিন ও ৪র্থ. লুতফর রহমান। এছাড়াও অর্থ সম্পাদক তাওফীকুর রহমান, অফিস সম্পাদক ফয়সাল ইমতিয়াজ অপু, ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুর রহমান লিখন, প্রচার সম্পাদক নুরুন নবী জয়, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন নয়ন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শ্রী রণধীর কুমার বোস, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক পদে কোহিনুর আক্তার, কার্যনির্বাহী সদস্য ১ম আসাদুজ্জামান মুনা ও ২য় সারা ইসলাম। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 4 |
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত র্যাব কর্মকর্তা এএসপি মহিউদ্দিন আহমেদকে তলব করেছে আদালত। একইসঙ্গে আগামী ২১ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিনে ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন। বিচারক বলেছেন, তদন্তের কী অগ্রগতি হয়েছে তা তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে জানাতে হবে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনির ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানার মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে এর তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে হত্যা মামলাটির তদন্তভার র্যাবের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
পাঁচ বছরেও চাঞ্চল্যকর ওই খুনের কূল-কিনারা হয়নি। এ নিয়ে ৪৭ দফায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছান হলো।
এ হত্যা মামলায় ছয় জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন-সাগর-রুনি বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ ও আবু সাঈদ।
এ ছাড়া তানভীর রহমান ও ওই বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল উচ্চ আদালত থেকে জামিনে পেয়েছেন।
| 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনার সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে এবং সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনে অন্য দেশকেও সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের খাদ্যে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা আমাদের চালাতে পারব, পাশাপাশি আমরা অনেককে সহযোগিতা করতে পারব। আজ রবিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক অনির্ধারিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এ কথা জানান। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বন্ধুপ্রতীম দেশ, যারা সহযোগিতা চেয়েছে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পারব। সেই সক্ষমতা আমাদের আছে। মানবিক কারণেই আমরা সেটা করব। শুধু নিজের দেশই নয়, অন্যদেরও যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় আমরা সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেব। এ সময় অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ ও ত্রাণ তহবিলে অর্থ ও ২০ হাজার পিস পিপিই তুলে দেয়া হয়। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
২০১৭ সালে বার্সালোনা ছেড়ে প্যারিস সাঁ-জাঁতে (পিএসজি) যোগ দিলেও নেইমারের সাথে লিওনেল মেসির বন্ধুত্বে সামান্যতমও চিড় ধরেনি। এবার বার্সা ছেড়ে আরো একবার নেইমারের পাশেই পিএসজির হয়ে খেলতে দেখা যাবে আর্জেন্টাইন তারকাকে। বন্ধুর দলে যোগ দেয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত নেইমার। দুই লাতিন আমেরিকান তারকার বন্ধুত্বের উদাহরণ এ বছর কোপা আমেরিকা ফাইনালের পরেই গোটা বিশ্ব দেখেছিল। ম্যাচের শেষে মেসির সাথে খোশমেজাজে গল্প করতেও দেখা যায় নেইমারকে। এবার আবারো একই ক্লাবের হয়ে খেলবেন দু'জনে। ওই সুযোগেই মেসিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বাগত জানিয়ে দু'জনের পুরনো গোল ও অ্যাসিস্টের ভিডিও পোস্ট করেন নেইমার। ক্যাপশনে লেখেন, 'পুনরায় একসাথে।' মেসিকে দলে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাকে ম্যাসেজ করা থেকে দলে যোগ দিতে রাজি করানো, পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন নেইমার। এমনকী মেসির জন্য নিজের ১০ নম্বর জার্সি অবধি ছেড়ে দিতে রাজি ছিলেন তিনি। তবে শেষমেশ যদিও তা হয়নি। পিএসজির হয়ে ১০ নম্বর জার্সিতে দেখা যাবে না মেসিকে। ওই জার্সি নাম্বার থাকছে নেইমারের দখলেই। কাতালোনিয়ায় মেসি ও নেইমার চার বছর একসাথে খেলে দু'টি লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একাধিক খেতাব জেতেন। প্যারিসে লুইস সুয়ারেজের বদলে তাদের পাশে থাকবেন কিলিয়ান এমবাপে। বার্সায় ফুল ফোটানোর পরে পার্ক দে প্রিন্সেসেও এই জুটি সাফল্য লাভ করবেন বলেই আশা রাখছেন সকলে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 12 |
বিয়ের অনুষ্ঠানে বা বউভাতে গিয়ে মানুষ কত কিছু উপহার দেয়! শোপিস, শাড়ি, অলংকার, নগদ টাকা কিংবা বই। তাই বলে সয়াবিন তেল! কিন্তু তাই বলে সয়াবিন তেলের বোতল!আজ শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. মোস্তফা আলম সোহাগের বউভাতে এমন ঘটনাই ঘটেছে। পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল উপহার দিয়েছেন এক অতিথি।এই অভিনব উপহার দিয়েছেন একটি জাতীয় পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি মুরাদ মৃধা। কেমন এমন উপহার? এ প্রশ্নে মুরাদ বলেন, 'দেশে যে হারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। উপহার হিসেবে সয়াবিন তেল দেওয়াটা আমার কাছে প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে। এ ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধির একটি মৌন প্রতিবাদ এটি।'সময়োপযোগী এমন উপহার আনন্দের সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন বরপক্ষ। এ বিষয়ে বরের বড় ভাই সাংবাদিক সোহরাব শান্ত বলেন, 'আমাদের পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে উপহার নেওয়া হয় না। তবে মুরাদ ভাইয়ের তেল উপহার দেওয়ার বিষয়টি বেশ চমকপ্রদ।'গত শুক্রবার মো. মোস্তফা আলম সোহাগের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের দিনেও ঘটে এক মজার ঘটনা। ঘোড়ায় চড়ে কনের বাড়িতে উপস্থিত হন বর। ঘোড়ায় চড়া বর দেখতে শত শত উৎসুক নারী-পুরুষ ও শিশু ভিড় জমান।দাম্পত্য জীবন যেন সুখের হয় সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন নবদম্পতি। | 6 |
স্বর্ণালঙ্কারের প্রতি আকর্ষণ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। বিশেষত নারীদের বেলায় এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রায় সব নারীই নিজেকে স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে সাজাতে ভালোবাসেন। সচরাচর পুরুষের মধ্যে স্বর্ণালঙ্কারের প্রতি খুব বেশি আকর্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু এই রীতিকে একেবারেই উল্টে দিয়েছেন ভিয়েতনামের ট্র্যান নুক পুক। স্বর্ণ ও গহনা ব্যবহারে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন নারীকেও। বর্তমানে ট্র্যান সর্বমোট ১৩ কেজি সোনার অলঙ্কার ব্যবহার করেন। আর এই পরিমাণ সোনা ব্যবহারের ফলে ট্র্যান স্বর্ণমানব উপাধি পেয়েছেন। ছত্রিশ বছর বয়সি ট্র্যানের বসবাস ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে। পেশায় তিনি তেল ব্যবসায়ী। পাঁচ বছর আগে একবার জ্যোতিষীর কাছে গিয়েছেন। ওই জ্যোতিষী তাকে বলেছিলেন তিনি যদি সোনার অলঙ্কার ব্যবহার করেন তবে তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে। মূলত তখন থেকেই তার স্বর্ণালঙ্কার ব্যবহার শুরু। ট্র্যানের বিশ্বাস এই স্বর্ণ ব্যবহারের ফলে তার ব্যবসায়ে গতি এসেছে। জ্যোতিষির কথা অনুযায়ী তিনি ভালো ফল পেয়েছেন। আর এই ফলাফল যেন আরো ভালো হয় সে কারনেই তিনি স্বর্ণের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছেন। ট্র্যান যেখানেই যান এই অলঙ্কার পরেন। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন এতো বেশি গহনা ব্যবহার করা কী নিরাপদ? এই বিষয়টি নিয়ে ট্র্যান নিজেও চিন্তিত ছিল। আর তাই নিজের নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত করেছেন দেহরক্ষী। এইসব অলঙ্কার পাহারা দেওয়াই তাদের কাজ। ফলে দেহরক্ষী বেষ্টিত হয়ে ১৩ কেজি স্বর্ণবহনকারী ট্র্যান ঘুড়ে বেড়ান সব জায়গায়। ট্র্যানের এমন কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অবাক হয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন কীভাবে একজন মানুষ এত বেশি সোনার অলঙ্কার পরে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন। আবার কেউ কেউ একে নকল গহনা বলে অবিহিত করেছেন। ঘটনা যাই হোক না কেন, ১৩ কেজি স্বর্ণালঙ্কার ব্যবহার করে ট্র্র্যান ঠিকই নিজেকে নিয়ে এসেছেন আলোচনায়। বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ | 5 |
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে চিত্রনায়িকা পরীমণির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর। সমিতির নেতারা মনে করছেন, পরীমণি সমিতির সংবিধান পরিপন্থী কাজ করেছেন। তার কার্যকলাপে সমিতির সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। জানা গেছে, সমিতির গঠনতন্ত্রের ৬-এর 'খ' ও ৯-এর 'গ' অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সমিতির কোনো সদস্য যদি সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে কোনো কাজে লিপ্ত হয় তাহলে সাথে সাথে তার সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত হবে। তবে আদালতে যদি প্রমাণ হয় তিনি নির্দোষ, তাহলে ফিরে পাবেন পদ। আর যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে আজীবনের জন্য সমিতির সদস্যপদ হারাবেন। গত ৪ আগস্ট পরীমণির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। পরে সেখানে অভিযান শেষে নায়িকাকে আটক করা হয়। অভিযানে তার বাসা থেকে মাদক উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব। এখন পরীমণির দেয়া বিভিন্ন তথ্য নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরীমণিকে আটকের পর নড়েচড়ে বসেছে ফিল্মপাড়া। বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতারা। পরীমণিকে আটকের চার দিনের মাথায় এ বিষয়ে অনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিল্পী সমিতি থেকে পরীমণির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। | 2 |
পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে ঠিক হয় নাঈম-অপর্ণার। কিন্তু এ দু'জনের কেউ-ই কারো জীবন সঙ্গিনী হতে চান না। দুই পরিবারের কেউ যেন তাদের চালাকি বুঝতে না পারে সেভাবেই বুদ্ধি বের করা হলো।
অতঃপর নাঈমের হাত ধরে পালালেন অপর্ণা। কিন্তু তারা ছুটেন ভিন্ন দুটি গন্তব্যের পথে। এ রকম ঘটনা ঘটতে দেখা যাবে 'শেষ দৃশ্যের আগে' নাটকে।
স্বরাজ দেবের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন জামিল আশরাফ খান নয়ন। এতে 'তন্বী' ও 'রাশেদ' নামের প্রধান দু'টি চরিত্রে অভিনয় করেছেন অপর্ণা ও নাঈম। অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আর জে নীরব।
এ ছাড়া অভিনয় করেছেন মুনিরা মিঠু, কাজী উজ্জ্বল ও জন। মাসুদ পারভেজের প্রযোজনায় 'আই ফিল্মস'র ব্যানারে নির্মিত নাটকটি ২০ মে (শুক্রবার) রাত ৯টা ৫ মিনিটে এনটিভিতে প্রচার হবে।
জামিল আশরাফ খান নয়নের পরিচালিত প্রথম নাটক এটি। এর আগে তিনি কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য জিতেছেন ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড।
নাটক নির্মাণ প্রসঙ্গে তরুণ এ নির্মাতা বলেন, 'প্রথম প্রোডাকশন এনটিভির মতো একটি মানসম্পন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে বলে আনন্দিত। এর পেছনে অতীতে আমার বানানো এক্সপেরিমেন্টাল শর্টফিল্ম নির্মাণের ভূমিকা ছিল। নতুন হিসেবে অপর্ণা দি, নাঈম ও নীরব ভাইয়ের কাছ থেকে খুব সহযোগিতা পেয়েছি। সব টিম মেম্বারদের পরিশ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।'
| 2 |
মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর হামলায় দুই কর্মীর নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। দাতব্য সংস্থাটি জানিয়েছে, মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় কায়াহ রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর হামলার পর নারী ও শিশুসহ ৩৫টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের সেনারা মানুষজনকে ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে জোর করে, তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে এবং অন্যদের লাশ পোড়ানোর আগে হত্যা করে বলে দাবি সংস্থাটির।তবে মিয়ানমারের সামরিক সংস্থাটির এ দাবি অস্বীকার করেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর সেভ দ্য চিলড্রেন এক বিবৃতিতে জানায়, ২৪ ডিসেম্বর কায়াহ রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা লোকজনকে গাড়ি থেকে নামতে বাধ্য করেছে, কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার করেছে, আবার কাউকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দিয়েছে। হামলা চলার সময় সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মীদের ব্যক্তিগত গাড়িকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সেসময় সংস্থাটি জানায়,মানবিক সহায়তা প্রদানের কাজ স্থগিত থাকায় তাদের দুই কর্মী বাড়িতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তাদের সন্ধান মিলছে না। এ ঘটনায় সংস্থাটি এক টুইট বার্তায় দাতব্য সংস্থাটি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও জবাবদিহির জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে পদক্ষেপ নেওয়া আহ্বান জানিয়েছে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে এবং তাকে কারাবন্দী করে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এরপর থেকেই দেশটিতে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। | 3 |
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি স্বতন্ত্র পরিচয়ের ঘোমটা পরে অংশ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বিএনপিকে ঘোমটা ছেড়ে প্রকাশ্যে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সৎ সাহস প্রদর্শন করার আহ্বান জানান। আজ শনিবার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে বিএনপিকে এ আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন অর্জনে দেশের মানুষ খুশি দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ জন্য বিএনপির আন্দোলনে জনগণ সাড়া দেবে না। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপির এক দফার আন্দোলনের রঙিন খোয়াব অচিরে দুঃস্বপ্নে রূপ নেবে। ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, পরবর্তী নির্বাচনের ব্যাপারে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আবরার হত্যা নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন রেখে বলেন, তাদের শাসনামলে অপকর্মের জন্য দলীয় একজন লোকের বিচার হয়েছে, এমন কোনো নজির দেখাতে পারবেন কি? ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার সরকারই বিশ্বজিৎ ও বরগুনার রিফাত হত্যার বিচার করেছে। দলীয় পরিচয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আবরার হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সাংগঠনিক ও দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়াধীন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা সরকার অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখে। আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রায় সবাই ছাত্রলীগ পরিচয়ের। কিন্তু কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। সুতরাং অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, দলীয় পরিচয় কারও আত্মরক্ষার ঢাল হতে পারে না, শেখ হাসিনা সরকার বারবার তা প্রমাণ করেছে। | 9 |
মোসা. ডেইজি আরা খাতুন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের ২০ রশিয়া গ্রামের তৌহিদুর রহমানের স্ত্রী। চাকরি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে। গতকাল মঙ্গলবার তাঁর মাসিক মিটিং ছিল শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে। সে মিটিংয়ে যোগ দিতে সকালে তাঁর ১৮ মাসের মেয়ে আফি খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে শিবগঞ্জ আসেন। এরপর মিটিং শেষে আবার ফেরার পালা। তাড়াহুড়ো করে অটোরিকশাযোগে পৌঁছে যান বোগলা উড়ি ঘাটে।আজ সকালে ডেইজি আরা খাতুন আজকের পত্রিকাকে জানান, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে কোলের শিশুকে নিয়ে বোগলাউড়ি ঘাটে পৌঁছান তিনি। এ সময় একে একে নৌকায় মালসহ যাত্রী ওঠাতে থাকেন মাঝি ইসমাইল হোসেন। মঙ্গলবার ২০ রশিয়ার হাট থাকায় ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ মাল ভর্তি করে নৌকায়। এ ছাড়া গাদাগাদি করে ৪০-৫৫ জন মানুষ ওঠানো হয় নৌকাতে। এরপর এক কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মূল পদ্মায় পৌঁছে ৫০০ গজ ভেতরে যায়। এরপরেই প্রচণ্ড ঢেউ আর বাতাসে নৌকায় পানি উঠতে থাকতে। এ সময় পানি নিষ্কাশনের জন্য দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁরা পানি নিষ্কাশনের মধ্যেই আবারও প্রচণ্ড জোরে আঘাত করে একটি ঢেউ। তাতেই তলিয়ে যায় নৌকাটি। এ সময় সবাই বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে। কেউ সাঁতরে ওঠে তীরে, কেউবা আবার কোনো কিছুকে আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করে।ডেইজি আরা খাতুন আরও জানান, নৌকা ডুবে যাওয়ার পরে তাঁর কোলের শিশুটি হঠাৎ করে হাত থেকে ছুটে যায়। পরে প্রায় ১৫ মিনিট পর শিশু আফিয়াকে নদীতে ভাসতে দেখেন তিনি। এ সময় চোখে পড়ে একটি বেগুনের বস্তা পাশ দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। বস্তাটিকে কোনো রকমে আঁকড়ে ধরেন তিনি। সে বস্তার ওপর বসিয়ে দেন শিশু আফিয়াকে। আর নিজে কোন রকমে বস্তার এক কোন ধরে সাঁতার কাটতে থাকেন। প্রায় ঘণ্টা খানিক সাঁতার কাটার পরে স্থানীয়রা গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে শ্বশুর বাড়ি পাকার ২০ রশিয়া গ্রামে পৌঁছে দেন।ডেইজি বলেন, ভাবতে পারিনি প্রাণে বাঁচব। আমাদের আল্লাহ রক্ষা করেছে। নৌকা ডোবার ভয়াবহতায় সারা রাত ঘুমাতে পারেনি তাঁর পুরো পরিবার।আজ বৃহস্পতিবার ভোরে বোগলাউড়ি ঘাটে গিয়ে দেখা মেলে ডেইজি আরা খাতুনের বাবার সঙ্গে। বৃদ্ধ তাবারক হোসেন ঘুম থেকে উঠে উজিরপুর হতে রওনা দিয়েছেন মেয়ে ও নাতিকে দেখার জন্য। তিনি বলেন, মেয়ে এবং নাতি বেঁচে ফিরেছে এ জন্য মহান আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।প্রসঙ্গত, গত বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর চর এলাকায় নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং প্রাণে বেঁচে ফেরে আরও ২৫-৩০ জন। বেগুন ভর্তি বস্তা ধরে সাঁতার কেটে প্রাণে বাঁচেন মা ডেইজি ও তাঁর শিশু আফি। | 6 |
রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুইজন শিশু। এর আগে সকাল ৯ টায় এ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় কমপক্ষে ৫০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চটি থেকে কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ইতোমধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। স্থানীয়রা আরও জানান, মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দুইতলা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাট কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ানোর আগ মুহূর্তে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক ছোট মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। এদিকে বুড়িগঙ্গায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চ মর্নিং বার্ড উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ থেকে রওনা দিয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। | 6 |
রংপুর নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি পাবলিক টয়লেট। সেগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভালো না হওয়ায় দূষিত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ। একই সঙ্গে শহিদ মিনারের বেদীর পেছনের অংশেও অনেকে মলমূত্র ত্যাগ করছে। ফলে একরকম ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে শহীদ মিনার ও তার চারপাশ। এদিকে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সেখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন কিংবা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শহিদ মিনারের সামনে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে বইমেলার জন্য দুটি পাবলিক টয়লেট বসানো হয়েছিল। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশেপাশের এলাকায়। দুর্গন্ধে পরিবেশ হয়ে উঠেছে অসহনীয়। বইমেলা শেষ হয়ে গেলেও টয়লেট দুটি অপসারণ করা হয়নি। একইভাবে শহিদ মিনারের সঙ্গে টয়লেটের জন্য স্থায়ীভাবে দুটি সোক ওয়েল তৈরি করা হয়েছে। শহীদ মিনার এবং পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ ছাড়া আশেপাশে অনেক জায়গা থাকার পরেও সেখানেই কেন পাবলিক টয়লেট দুটি নির্মাণ করা হলো সে ব্যাপারে মুখ খুলছেন না কেউ। শহিদ মিনারের বেদীর পেছনের অংশে পাবলিক টয়লেট এবং আবর্জনার ভাগাড় বেমানান বলে মনে করে রংপুরবাসী। রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হুমায়ুন কবির মানিক বলেন, "শহিদ মিনার আমাদের অস্তিত্বের জায়গা। এর সঙ্গে পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা খুবই গর্হিত কাজ। এটা ঠিক হয়নি।" নগরীর মডার্ন মোড় এলাকা থেকে শহিদ মিনার দেখতে আসা শিক্ষার্থী আকসা সুলতানা বলেন, "মহান শহিদ মিনারের এমন অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। দুটি টয়লেটের দুর্গন্ধের কারণে সেখানে দাঁড়ানোই যাচ্ছে না। এভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা করা হচ্ছে।" সাংস্কৃতিক কর্মী সামিউল ও মমতাজ উদ্দিন জানান, শহিদ মিনারের বেদীর পেছনের অংশ গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এটা কি কর্তৃপক্ষ দেখে না? এসব দেখভাল করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের, তারা তা পালন করে বলে মনে হচ্ছে না। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠের এক কর্মচারী বলন, "আমাদের কথা কে শোনে? শহিদ মিনারটি বছরের বেশিরভাগ সময় ঘিরে রাখা হয়। এখানে প্রায়ই আয়োজন করা হয় বিভিন্ন মেলার। সে কারণেই পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হয়। অথচ একটু দূরেই বিস্তর জায়গা, সেখানেও পাবলিক টয়লেট করা যেত। তাছাড়া দেশের কোথাও শহিদ মিনার এলাকা দখল করে মেলার আয়োজন হয় না।" সার্বিক বিষয় জানতে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "সিটি করপোরেশন শহীদ মিনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি দেখভাল করে। তবে টয়লেট স্থাপন করার বিষয়টি ঠিক হয়নি।" এদিকে, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দুপুর সোয়া ১২টায় কথা বলার পর পাবলিক টয়লেট দুটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেপটিক ট্যাংক সরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দুর্গন্ধ আগের মতোই আছে। | 6 |
জার্মানিতে ৮৭ বার করোনার টিকা নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে ও ফ্রি প্রেসের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকাবিরোধীরা ওই ব্যক্তিকে একের পর এক টিকা নেওয়ার জন্য অর্থ দিয়েছেন। এ জন্য তিনি এতবার টিকা নিয়েছেন।তবে ওই ব্যক্তির নাম না প্রকাশ করা হলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে তাঁর বয়স ৬১ বছর। তিনি জার্মানির স্যাক্সনি এবং কমপক্ষে ভিন্ন ভিন্ন আরও তিনটি প্রদেশ থেকে এসব টিকা নিয়েছেন।স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি প্রতিদিন তিনটি ভিন্ন টিকাকেন্দ্রে যেতেন। সেখানে তিনি তাঁর নাম ও জন্ম তারিখ বলে টিকা নিতেন। কিন্তু তিনি কখনো তাঁর স্বাস্থ্যবীমা কার্ড দেখাতেন না। এ জন্য তিনি এতবার টিকা নিতে পেরেছেন। কারণ স্বাস্থ্য বীমা কার্ডে টিকার পুরো তথ্য থাকে।ড্রেসডেন এলাকার একটি টিকাকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন বলে ডয়চে ভেলে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যখন ওই ব্যক্তি লিপজিগের একটি টিকাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তখন টিকাকেন্দ্রের কর্মীরা পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।রেডক্রস বলছে, ওই ব্যক্তি প্রতিবার টিকা নিয়ে সেখানে আরেকজনের তথ্য দিয়ে তাঁকে সেই সনদ দিতেন। যারা টিকা নিতে আগ্রহী নন, তিনি নিজে টিকা নিয়ে অর্থের বিনিময়ে সেই সনদ অন্যদের দিতেন। এ জন্য রেড ক্রস ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে টিকার সনদ বিক্রির অভিযোগ এনেছে। এ ছাড়া স্যাক্সনি ও অন্যান্য রাজ্যে তাঁর এই অপরাধের তদন্ত চলছে। | 3 |
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের আন্ধারমানিক নদের তীরে নৌযান থেকে পণ্য কিংবা মালামাল ওঠানামা করালেই দিতে হচ্ছে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা। আর এ টাকা আদায় করা হচ্ছে ব্যবসায়ী ও গ্রামগঞ্জ থেকে শহরে হাটবাজার করতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। এমনকি পৌরসভার বোট ল্যান্ডিং স্টেশন ব্যবহার না করে নদের পাড়ে ব্যবসায়ীদের তৈরি নিজস্ব জেটি দিয়ে পণ্য ওঠানামা করালেও মেয়র অনুসারী ইজারাদার টোলের নামে টাকা আদায় করে নিচ্ছেন।এতে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা হয় বিষয়টি সমাধান নতুবা তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তালা মেরে বন্ধ করে দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষকে। তবে বোট ল্যান্ডিং স্টেশন ব্যবহার না করলে টোল আদায় করা হচ্ছে না, এমন দাবি পৌরসভা কর্তৃপক্ষের।জানা গেছে, শহরের আন্ধারমানিক নদের তীরে লঞ্চ টার্মিনাল ঘাট, খেয়াঘাট, ফেরিঘাট ব্যবহার করে নৌযানে মানুষ কিংবা পণ্য ওঠানামা করালে সংশ্লিষ্ট ঘাট ইজারাদারকে সহনীয় টোল দিয়ে অভ্যস্ত ছিল সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। এ বছর পৌরসভা থেকে বোট ল্যান্ডিং স্টেশন নামে ইজারা নেন মেয়র অনুসারী পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ ও তাঁর সহযোগীরা। আর এ ইজারা নেওয়া হয় মেয়র অনুসারী যুবলীগ নেতা গাজী মশিউর রহমান মামুনের নামে। চলতি মাসের ১৩ তারিখ পৌর মেয়র ও নির্বাহী প্রকৌশলী বোট ল্যান্ডিং স্টেশনের ইজারার টোলের মূল্য/হারে স্বাক্ষর করেন। এরপর বেপরোয়া হয়ে ওঠে ইজারাদার। পৌরসভার বোট ল্যান্ডিং স্টেশন ব্যবহার না করলেও পৌরশহরের সীমানার মধ্যে নদের তীর ব্যবহার করে পণ্য ওঠানামা করালে টোল আদায় শুরু করেন তাঁরা। এমনকি ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্যের ওজন ও বস্তাপ্রতি টোল দাবি করেন তাঁরা। তাঁদের এ ইজারা আদায়ের সীমানা নির্ধারিত না থাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে তাঁদের টোল দাবির বিষয়টি অযৌক্তিক বলে বিবেচ্য হওয়ায় সংক্ষুব্ধ হয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন তাঁরা।একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, মেয়র অনুসারী কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী বোট ল্যান্ডিং স্টেশনের ইজারা নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক নির্যাতন শুরু করেছে। এ বিষয়টি ব্যবসায়ী সমিতির নেতারাসহ স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে বোট ল্যান্ডিং স্টেশনের ইজারাদার গাজী মশিউর রহমান মামুন বলেন, 'আমার নামে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বোট ল্যান্ডিং স্টেশনের এক বছরের ইজারা নেয় পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ। যা ভ্যাট, ট্যাক্স নিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ইজারা মূল্য পড়েছে। বোট ল্যান্ডিং স্টেশন ছাড়া অন্য কোথাও থেকে ইজারা আদায় করা হচ্ছে না।'পৌরসভার সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি বোট ল্যান্ডিং স্টেশন ইজারা-সংক্রান্ত কোনো বিষয় অবগত নন, তবে নির্বাহী প্রকৌশলী সব জানেন বলে জানান।পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত জানান, এ বছর পৌরসভা থেকে বোট ল্যান্ডিং স্টেশনের ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারা মূল্য অনুযায়ী বোট ল্যান্ডিং স্টেশন ব্যবহারকারী নৌযানগুলো থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে।কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দিদার উদ্দীন আহমেদ ও সম্পাদক ফিরোজ সিকদার বলেন, একাধিক ব্যবসায়ী তাঁদের কাছে এসংক্রান্ত অভিযোগ দিয়েছেন। ঈদের পর পৌর প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ব্যবসায়ী সমিতি এর সমাধান চায়। নতুবা তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যেতে হবে। | 6 |
করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। রোগীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এরই মধ্যে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়েছে কয়েক শ চিকিৎসককে। তাঁদেরই একজন ভারতের মনীষা যাদব। ৫১ বছর বয়সী এই চিকিৎসক রোববার ফেসবুকে পোস্ট দেন, 'সম্ভবত এটা আমার জীবনের শেষ সকাল। আমি হয়তো আর সেবা দিতে পারব না। সবাই নিজের যত্ন নেবেন। শরীর মরে যায়। আত্মা মরে না। আত্মা অমর।' এই স্ট্যাটাস দেওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পরেই সোমবার মধ্যরাতে করোনায় মারা যান মনীষা। যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক মুম্বাইয়ের সেউরি টিবি হাসপাতালে প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ছিলেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মনীষার স্ট্যাটাসটি নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন অনেক চিকিৎসক। তাদের কষ্টের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অন্যদের সতর্কতা মেনে চলতেও পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘটনার পর তৃপ্তি গিলাদা নামের আরেক চিকিৎসকের ভিডিও এখন ভাইরাল। ভারতের ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, 'আমরা অসহায়...এ পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি... লোকজন খুব আতঙ্কিত...'। কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে যাওয়ার পথে গাড়িতে তিনি বলেন, 'আমার মন ভেঙে গেছে। আমার যে কী উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা যদি বলতে পারতাম...আমি যদি আপনাদের বোঝাতে পারতাম...।' ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় ২ লাখ ৯৫ হাজার ৪১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ভারতে এক দিনে এত সংখ্যক করোনা রোগী আগে কখনো শনাক্ত হয়নি। এই ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রেও রেকর্ড হয়েছে। এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক ২ হাজার ২৩ জন করোনায় মারা গেছেন। এর আগে ভারতে গত বছরের ১৬ জুন এক দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ভারতের সরকারি তথ্যমতে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫৬ লাখ ১৬ হাজার ১৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ভারতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৩ জন। | 3 |
রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আদিব। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। শনিবার লেবাননের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। গেল ৩১ আগস্ট দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের সমর্থন পান তিনি। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং সৌদি আরবের সমর্থন পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির দলসহ ছোট ছোট দলের বেশ কয়েকটি জোটই তাকে সমর্থন দেন। লেবাননের ক্যাবিনেটে মন্ত্রিত্ব নিয়ে শিয়া মতাবলম্বী দুই দল আমাল মুভমেন্ট ও ইরান সমর্থিত হেজবুল্লাহর সঙ্গে মতের মিল না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে সরকার গঠনে জটিলতা। ২০১৩ সাল থেকে জার্মানিতে লেবাননের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মোস্তাফা আদিব। তিনি অন্তত ২০ বছর লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি'র উপদেষ্টা ছিলেন। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে ভঙ্গুর লেবাননে এখন কে হবেন প্রধানমন্ত্রী সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে নৌকার প্রচারে গণসংযোগ করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও রাজশাহী সিটি মেয়রের মেয়ে ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা। মঙ্গলবার বিকেলে বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তিনি গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি ১৪ দলের মনোনীত আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপিকে নৌকায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। অর্ণা বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতীক আওয়ামী লীগের নৌকা। দেশ ও জনগণের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশ ও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এ আসনের প্রার্থী শাহরিয়ার আলমকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে ফের নির্বাচিত করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনজুরুল হক মনি, মনিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সদস্য তারিকুল ইসলাম বনি, রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বিপু, রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নক্ষত্র, বাঘা পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জোবাইদুল ইসলাম, মনিগ্রাম ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মোমেন সরকার প্রমুখ। | 6 |
পিরোজপুরের নাজিরপুরে স্কুলশিক্ষক সমীরন মজুমদারকে (৩০) হত্যার দায়ে ৩ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ মোহা. মহিদুজ্জামান এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও নিহত সমীরনের মজুমদারের স্ত্রীকেহত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে ওই ৩ জনের প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অন্য ৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম বানিয়ারী গ্রামের চিত্তরঞ্জন রায়ের ছেলে দিপংকর রায় (৩০),একই গ্রামের মৃত দ্বিন মোহাম্মাদ শেখের ছেলে নুর ইসলাম ওরফে নুরু শেখ (৩০) এবং বজলুর রহমান শেখের ছেলে খোকন শেখ (২৪)। রায়ের সময় দিপংকর রায় ছাড়া সকলেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ রাত ২টার দিকে উপজেলার পশ্চিম বানিয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েরসহকারী শিক্ষক সমীরন মজুমদারের বাড়ির সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় নিহত সমীরনের স্ত্রীতার স্বামীকে বাঁচাকে এগিলে এলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় নিহত সমিরন মজুমদারের স্ত্রী স্বপ্না বসু বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় হত্যামামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দিপংকর রায় ও মো. খোকন শেখকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় সরকারি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন পিপি খান মো. আলাউদ্দিন এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ওবায়দুল কবির বাদল ও মো. দেলোয়ার হোসেন। নিহত সমীরন মজুমদারের মা নিহার কনা মজুমদার রায় ঘোষণার পর বলেন, আমি রায়ে সন্তুষ্ট। এ হত্যার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে সৃষ্টিকর্তা তাদের বিচার করবেন। | 6 |
যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ 'বাংলার সমৃদ্ধি'কে টার্গেট করে হামলা করা হয়েছে বলে মনে করছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তবে কোন পক্ষ বাংলাদেশের এই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।বাংলার সমৃদ্ধির মালিকানা বিএসসির হলেও ডেনিশ কোম্পানি ডেলটা করপোরেশনের অধীনে সেটি ভাড়ায় চলছিল। গত ২৬ জানুয়ারি মুম্বাই বন্দর থেকে রওনা হয়ে তুরস্কের ইরেগলি হয়ে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। গত বুধবার জাহাজের ব্রিজে একটি রকেট এসে পড়লে বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়। মারা যান জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান।ইউক্রেনে বাংলাদেশি নাবিকের মৃত্যুসংবাদে পরিবারে মাতমসচিবালয়ে আজ বৃহস্পতিবার নৌ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ হওয়ার কথা না। এর পরেও আক্রমণ হয়েছে। জাহাজের ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়। জেনারেটরের সুবিধা আছে।'নিহত হাদিসুর রহমানের মরদেহ জাহাজে সংরক্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে খালিদ মাহমুদ বলেন, 'এখন জাহাজ থেকে নেমে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমরা কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছি। মনে হচ্ছে টার্গেট করে হামলা হয়েছে। নাবিকদের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার।''মোর পোলার লাশটা আইন্না দ্যান'হাদিসুরের মরদেহ এবং অন্য নাবিকদের কবে নাগাদ দেশে ফেরানো যাবে, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি নৌ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এটা যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। জাহাজে ২৯ জন নাবিক ছিলেন। এখন ২৮ জন বেঁচে আছেন। কে হামলা করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুদ্ধ চলছে, কার রকেট এসে পড়েছে বলা যাচ্ছে না।' | 6 |
বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ হাজার ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে মৃতের সংখ্যার দিক থেকে এ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মৃতের সংখ্যার দিনগুলোর অন্যতম। এতে দেশটিতে কোভিড-১৯ ভাইরাসে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রাণ হারালো। বৃহস্পতিবার জনস হফকিন্স ইউনিভার্সিটি পরিচালিত পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়। বাল্টিমোর ভিত্তিক এ ইউনিভার্সিটি জানায়, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় (গ্রিনিচ মান সময় শুক্রবার (০০৩০) যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে মোট ৪৯ হাজার ৭৫৯ জনে দাঁড়ালো। বিশ্বে করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে ২৬ হাজার ৯৭১ জন বেড়ে বর্তমানে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪৬ জনে দাঁড়ালো। সূত্র : এএফপি | 3 |
সৌন্দর্যচর্চার জগৎ নিয়ত পরিবর্তনশীল। খুব বেশি দিনের কথা না বললেও চলে। গত দুই দশকে একের পর এক বদলেছে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা ও সৌন্দর্যচর্চার ধারা। এই পরিবর্তনের হাত ধরে এসেছে বিভিন্ন উপকরণ। সামনের দিনগুলোতে কী আসতে চলেছে? জানাচ্ছেন আনিকা জীনাত।এককালে পারলার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্বই ছিল না। সেটা ছাড়াই সাজগোজ চলত। বান্ধবী বা বোনদের মধ্যে যে ভালো মেকআপ করতে পারে, উৎসব আয়োজনে তার ওপর দায়িত্ব পড়ত হাতে মেহেদি করানোর, কনে সাজানোর।বদলের হাত ধরে ধীরে ধীরে পারলার এল, তাতে যাওয়ার প্রচলন বাড়ল। বউ তো বটেই, বিয়ের দাওয়াতে আমন্ত্রিত অতিথিরাও সেখানে গিয়ে সাজতে শুরু করলেন। সে চলছে এখনো।তবে এই অতিমারিতে পারলারে যাওয়ার প্রবণতা কমতে শুরু করল। আবারও 'নিজেরা করো' নীতিতে চলতে শুরু করলেন ফ্যাশনসচেতন নারীরা। তাঁদের মেকআপ শেখানোর দায়িত্ব নিল নামীদামি কিছু ইউটিউবার। বিউটি এক্সপার্ট হিসেবে পরিচিত এই ইউটিউবাররা সৌন্দর্যচর্চা বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আলোকিত করলেন সাধারণ সৌন্দর্যপিয়াসী নারীদের। কিন্তু দুনিয়া বদলের হাত ধরে হাঁটে। সামনের দিনগুলোতে সৌন্দর্যচর্চার জগতে আসতে চলেছে আরও চমকপ্রদ সব অনুষঙ্গ।লরিয়েল পারসোকসমেটিকস কেনার সময় দ্বিধায় ভোগেননি এমন কখনো হয়েছে কি? কেনার আগে এর-ওর কাছে খোঁজ নিয়ে, ইউটিউবে রিভিউ দেখে বা ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিডিও দেখে নিলে মেকআপের পণ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়। তা না হলে দোকানে গিয়ে একই রঙের লিপস্টিকের এত এত শেড দেখে মাথা ঘোরাটা স্বাভাবিক। আপনার মনে হতেই পারে, মেকআপবিষয়ক গবেষণার কাজটি অন্য কেউ করে দিলে ভালো হতো।কোন ত্বকের জন্য কোন ফাউন্ডেশন বা কোন বর্ণের ত্বকে কোন লিপস্টিক ভালো লাগবে, তা জানানোর জন্য আলাদা একটি ডিভাইস উদ্ভাবন করেছে লরিয়েল প্যারিস। তাদের ডিভাইস ঘরে আনলে আর বিউটি এক্সপার্টদের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।অ্যাপের মাধ্যমে চেহারা স্ক্যান করলে আবহাওয়া যাচাই করে ত্বকের খুঁত বিষয়ে তথ্য নিয়ে স্কিন কেয়ার পণ্য তৈরি করবে এটি। স্কিন টোন মিলিয়ে ফাউন্ডেশনের শেডও বাছাই করে দেবে। পোশাকের সঙ্গে হুবহু মিল রেখে বানিয়ে দেবে লিপস্টিক। এই ডিভাইস এখনই বাজারে আসছে না। তবে যখনই আসুক, দাম হবে ৩০০ ডলার।কে জানে আর অল্প কিছুদিন পরেই হয়তো সাড়ে ছয় ইঞ্চির ডিভাইসটির কারণে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারও ফাঁকা হয়ে যাবে। যাহোক, এবার বরং চাইলেই যেটা কেনা যাবে, সেটা নিয়ে কথা বলি।অপ্ট'অপ্ট প্রিসিশন স্কিন কেয়ার সিস্টেম'। নামটা বেশ বড়সড় হলেও ডিভাইসটি বেশ ছোট। ত্বকের দাগ দূর করতে অপ্টের সময় লাগে ৫ মিনিট। দাগ ঢাকতে কসমেটিকস ব্যবহারের প্রয়োজন কমে ৯৭ শতাংশ।ডিভাইসটি প্রথমে চেহারা স্ক্যান করে দাগ শনাক্ত করে। এরপর সেখানে সিরামের মাইক্রোস্কোপিক ড্রপলেট প্রয়োগ করে দাগ মোছে। বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়া শুরু হয়। ছোট্ট ডিভাইসটি সে দাগ সহজেই দূর করে, ব্রণের দাগও হালকা করে। তবে এই থ্রিডি প্রিন্টারকে ত্বকের সমস্যার সমাধান হিসেবে ভাবলে ভুল হবে। ব্রণ প্রতিরোধ নয়; বরং দাগ ঢাকাই এর কাজ। ৩০ বছর ধরে ৫ লাখ গবেষণার ফসল এই অপ্ট। দাগ দূর করার এই ডিভাইস কেনা যাবে ৫৩৯ ডলারে। স্টাইলপ্রোমেকআপ করার পর আমরা সাধারণত মেকআপ তোলাকেই শেষ কাজ বলে মনে করি।চেহারার ঘষামাজায় ব্যবহৃত ব্রাশগুলো পরিষ্কারের কথা কি আমরা আদৌ ভাবি? না, এ জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। ধুয়ে শুকানোর পর ব্যবহারের জন্য ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করারও কোনো প্রয়োজনই নেই। ৩০ সেকেন্ডেই ধোয়া ও শুকানোর কাজ করবে স্টাইলপ্রো। যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা মেকআপ ব্রাশ ক্লিনজারটি পাবেন ৪ হাজার ৫০০ টাকায়।লেজার ৪এক্সঅবাঞ্ছিত লোম দূর করতে রেজার বা হেয়ার রিমুভার ক্রিম ব্যবহার করেন অনেকে। এতে সময় লাগে। রেজার দিয়ে ত্বক কেটে যাওয়ারও ভয় থাকে। এসব দূরে সরিয়ে রাখতে কিনে নিতে পারেন 'হেয়ার রিমুভাল লেজার ৪এক্স'।৪৫০ ডলারের এই ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত। বিকিনি লাইন, আপার লেগ, লোয়ার লেগ, আন্ডার আর্মস ও আপার লিপের লোম তুলতে ডিভাইসটি ব্যবহার করতে পারেন।তারবিহীন ডিভাইসটি টানা তিন মাস প্রতি সপ্তাহে ব্যবহার করলে অবাঞ্ছিত লোম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ডিভাইসটি অন করতে একটি বাটন চাপতে হয়। আনলক করতে এর নিচের অংশ হাতের ওপর কিছুক্ষণ রাখতে হয়। ত্বকের ওপরে ধরলে দুটি বিপ সাউন্ড হবে। এরপর ১ ইঞ্চির ৪ ভাগের ১ ভাগ করে ডিভাইসটি সরাতে হবে। কতদূর পর্যন্ত কভার করেছে, তা ছোট্ট ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ভেসে উঠবে। | 4 |
ঈদযাত্রায় এ বছর ঢাকা নদীবন্দরের সদরঘাট টার্মিনালে অস্বাভাবিক চাপ পড়বে। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ এবং গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরসহ এ তিন জেলার প্রায় ৪০ লাখ মানুষ নৌপথে উপকূলীয় জেলাগুলোতে যাবে। কিন্তু মাত্র ১২ দিনে একমুখী এত যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক নৌযান নেই। ফলে লঞ্চের ডেকে অতিরিক্ত যাত্রীর পাশাপাশি ছাদেও যাত্রী বহন করা হবে এবং এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাবে। তাই ঈদে বিড়ম্বনামুক্ত নিরাপদ নৌযাত্রার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি।আজ মঙ্গলবার নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে স্বাক্ষরিত ঈদ-পূর্ব এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি ঈদে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের চারটি সিটি করপোরেশনসহ এই তিন জেলা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ স্বজনদের কাছে যায়। তাদের ২৫ শতাংশ যায় নৌপথে। আর সড়ক ও রেলপথে যায় যথাক্রমে ৫৫ ও ২০ শতাংশ। এই হিসেবে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ যায় লঞ্চসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযানে। তবে নিয়মিত দুর্ঘটনা, দূরপাল্লার সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বেহাল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগের প্রধান দুটি মাধ্যম শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরিস্বল্পতা ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে অনেকেই সড়কপথ এড়ানোর চেষ্টা করবেন। এর বিপরীতে নৌপথে যাত্রীসংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০ লাখ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিআইডব্লিউটিএ গত ২১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ থেকে ছয়টি নৌপথের ৭০টি ছোট লঞ্চ চলাচল স্থগিত রেখেছে। তাই এবার ঈদে ৪০ লাখ ঘরমুখী নৌযাত্রীর একমাত্র মাধ্যম ঢাকা নদীবন্দরের সদরঘাট টার্মিনাল। বিলাসবহুল ও বড় আয়তনের লঞ্চ চলাচলের জন্য ঢাকা থেকে বিভিন্ন উপকূলের বৈধ নৌপথের সংখ্যা ৪২টি হলেও যাত্রীস্বল্পতা ও নাব্য সংকটের কারণে মাত্র ৩৩টি নৌপথ ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন ৮০-৮৫টি লঞ্চ এসব নৌপথ দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়।এদিকে, ২৯ এপ্রিল থেকে ঈদের দাপ্তরিক ছুটি শুরু হলেও ২১ এপ্রিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধের দিন থেকেই মূলত ঈদযাত্রা শুরু হবে। তাই ওই দিন থেকে আগামী ২ মে পর্যন্ত ১২ দিনে ৪০ লাখ যাত্রী সুশৃঙ্খলভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নৌ খাতে নেই। এতে টার্মিনালে যেমন মারাত্মক অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি হবে, তেমনি লঞ্চের ছাদসহ ডেকে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হবে। এ ছাড়া এবার দুর্যোগ মৌসুমেই উদ্যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ কারণে যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই নৌপথে নিরাপদ ঈদযাত্রার জন্য বিকল্প ব্যবস্থায় নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধি, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় কমিটি। | 6 |
'গণগ্রন্থাগার চত্বর যেমন/ হাঁটতে নিলেই বকুল পিষে যায় পায়ের তলায়/ এ এক নৃশংস পদচারণ।' আসলেই কি তাই? পায়ের দিকে একবার তাকাই। তার তলাটি তো দেখা যায় না। তবে চারদিকে ছড়ানো আহত ও শুষ্ক বকুল ফুল বলে দিচ্ছে নিজের পায়ের তলায়ও এমন আহতের দল পড়ে আছে। তলানিতে বলে কেউ ভ্রুক্ষেপ করছে না; আক্ষেপ তো দূরের কথা। তলায় বা প্রান্তে থাকার নিয়তিই এমন। যাক, সে অন্য কথা। বকুলের সঙ্গে হয়ে যাওয়া এই নিত্যকার নৃশংসতা নিয়ে মনকে আর বাড়তে দেওয়া যায় না। কারণ, চোখের সামনে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নৃশংসতা, তার সমস্তটা নিয়ে। না, আক্ষরিক অর্থে নয়। তবে গণগ্রন্থাগারের ভেঙে পড়া দেখে এই একটি শব্দই ঘুরেফিরে মাথায় আসছে বারবার।রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর ও চারুকলা অনুষদকে দুই বাহুতে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গণগ্রন্থাগারের বর্তমান কাঠামো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। গণগ্রন্থাগারটির পোশাকি নাম সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার। কিন্তু সবার কাছে পাবলিক লাইব্রেরি নামেই পরিচিত। কতটা পরিচিত? ব্যক্তিগত খাতা খুললে তার তল পাওয়া কঠিন।তার আগে বলে নিই, পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে এই স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। পাঠকদের জন্য আপাতত ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে হবে বহুতল ভবন। বিপুল ব্যয়ে সে ভবন নির্মাণ করা হবে, যা শেষ হবে ২০২৪ সালে। পাঠকক্ষগুলোর সংখ্যা ও পরিসরে বড় হবে। ডিজিটাইজেশনের গতি বাড়বে। প্রতিবন্ধীদের কথা মাথায় রেখে আলাদা ব্যবস্থা হবে। গবেষকদের পাঠ উপকরণ ও গবেষণার দিকে আলাদা মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। বই, পত্রিকা, সাময়িকী, ডিজিটাল আর্কাইভ ইত্যাদির সংখ্যা বাড়বে। সেবার পরিসর বৃদ্ধির এই প্রতিটি বিষয়ই আনন্দের। কিন্তু কোথায় যেন ব্যথা বাজে। শঙ্কা জাগে, যে সুপ্রশস্ত পরিসর দিয়ে এই গণগ্রন্থাগার মানুষের কাছে সহজ প্রাঙ্গণের পরিচয় নিয়ে হাজির হয়েছিল, তা কি আর আগের মতো থাকবে? কত না স্মৃতিগদ্য আছে এই স্থাপনা নিয়ে। কত শতজনের কথায়, ছোট ছোট উক্তিতে, বাক্যে এর কথা উঠে এসেছে। এমন স্মৃতি জন্ম দেওয়া, আশ্রয় দেওয়া প্রাঙ্গণ ঢাকায় খুব কম। এর নকশাটাই মানুষকে আপন করে নেয় বলা যায়। আচ্ছা কে এর স্থপতি? খুঁজতে গিয়েই মাথা ঘুরে গেল। কোথাও নেই সে নাম। পুরোনো গণগ্রন্থাগার, অর্থাৎ বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি নন্দিত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের নকশায় করা। কিন্তু যে ভবনে পরে স্থানান্তর করা হলো, তার স্থপতি কে? কোথাও নেই। সরকারি ওয়েবসাইটগুলো খুঁজে হয়রান হতে হলো। নেই অন্য কোনো ওয়েবসাইটেও। অনেক খুঁটিনাটি তথ্য সেগুলোতে থাকলেও এই জরুরি তথ্যটি নেই। মনটা দমে গেল। এত স্মৃতির রঙিন সিঁড়িগুলো তবে কে বানালেন!এই গণগ্রন্থাগারের সিঁড়ি তো বিখ্যাত হয়ে আছে নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত ধারাবাহিক বা সাপ্তাহিক নাটকের কল্যাণে। এর সিঁড়িতে বসে তৌকীর আহমেদ, বিপাশা হায়াত, জাহিদ হাসান, শমী কায়সারেরা কত যে প্রেম করেছেন! গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে বই সরাতে গিয়ে কত নায়ক-নায়িকার চার চোখের মিলন হয়েছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। নব্বইয়ের দশকের বিটিভি নাটকে থানা বলতে যেমন শুধু রমনা থানা ছিল, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া নায়ক-নায়িকার আউটডোর (সে সময়ের নাটকে আউটডোর বিষয়টা বেশ কম ছিল) প্রথম সাক্ষাৎ বলতে যে গুটি কয়েক স্থান ছিল, তার অন্যতম এই জাতীয় গণগ্রন্থাগার।বাস্তবেও কি তা-ই নয়? এর সেই আইকনিক সিঁড়ি কত শত স্মৃতির আকর! কত তরুণ-তরুণী যে এই সিঁড়িতে বসেই প্রণয়কাল কাটিয়ে দিল, কতজন সদ্য পাওয়া কষ্ট ভুলতে এই সিঁড়িতে চুপ হয়ে বসে থাকল, কতজন কিছুই নয়, শুধু সময় কাটাতে সিঁড়িটুকু আঁকড়ে বসে থাকল! মোবাইল ফোন, বিশেষত স্মার্টফোন আসার আগে এই সিঁড়িতে বসে নানা বয়সী মানুষকে বই পড়তে দেখা যেত। বিকেলের দিকে এই সিঁড়ি ঘিরেই জমত আড্ডা। কবি, শিল্পী থেকে শুরু করে ভবঘুরে আড্ডার উন্মুক্ত স্থান ছিল এটি। তবে হুজ্জতও ছিল; নিরাপত্তাকর্মী বা পাঠাগার তত্ত্বাবধায়কেরা মাঝেমধ্যেই এসে আড্ডা দিতে নিষেধ করতেন। তখন কিছুক্ষণের বিরতি। তারপর আবার হয়তো নতুন কোনো আড্ডাবাজ দলবল নিয়ে বসে যেত। সিঁড়িতে না টিকলেও ক্ষতি নেই তেমন। বকুলঝরা পথ দিয়ে সোজা চলে গেলেই হলো। একেবারে মাথায় ক্যানটিন, যার বাইরে বসবার জায়গা আছে। সেই ক্যানটিনের স্বভাবও প্রায় গণগ্রন্থাগারের মতোই। এর বাইরে বা ভেতরে বসে দীর্ঘ আড্ডায় সাধারণত কোনো বাধা আসত না। শেষ দিকে এর কিছুটা ব্যত্যয় দেখা দিয়েছিল। বাণিজ্যিক দুনিয়ায় পুঁজির চাপে এর অন্যথাও তো হওয়ার কথা নয়। বরং এত দীর্ঘ সময় যে এটি এমনভাবে উদার থাকল, তাই-বা কম কী।এই ক্যানটিন থেকে বাম দিকে শওকত ওসমান মিলনায়তনের মধ্যকার সবুজ প্রাঙ্গণটি অন্যরকম এক ভালো লাগা তৈরি করে। কত দীর্ঘ দুপুর ও বিকেল যে এখানে কেটেছে! বিকেল থেকেই শুরু হতো মিলনায়তন ঘিরে নানা তৎপরতা। হয়তো কোনো গানের অনুষ্ঠান আছে, অথবা আছে কোনো নাটকের শো, কিংবা স্বল্পদৈর্ঘ্য বা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। আলোচনা সভাও হতো নিয়মিত। বিকেল থেকেই গমগম করত গোটা প্রাঙ্গণ।শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষের পদচারণে মুখর ছিল যে প্রাঙ্গণ, তা এখন ভাঙা ইট-পাথর ও ধুলার রাজত্ব। এখনো মুখর সেই প্রাঙ্গণ, তবে তা হাতুড়ির শব্দে। প্রায় প্রতিদিনই বাইরে থেকে এই ধ্বংসযজ্ঞের শব্দ কানে আসে। ধুলার অত্যাচারে শ্বাস জানান দেয় কিছু একটা ভেঙে পড়ছে। সেদিন ভেতরে ঢুকে পুরো বিষয়টা দেখার ইচ্ছা হলো। দেখা গেল শওকত ওসমান মিলনায়তনের এক পাশ ভেঙে ফেলা হয়েছে এরই মধ্যে। জমে থাকা বর্জ্য সরাতে কাজ করা হচ্ছে। ক্যানটিন ও মিলনায়তনের মাঝখানের প্রাঙ্গণটায়, যেখানে আগে বিশেষত তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল, সেখানে দেখা গেল এক তরুণী বসে আছেন পা দুলিয়ে। বিষণ্ন তাঁর চোখ। নিজের ভেতরে চলতে থাকা নানা ভাবনার ছাপ যেন তাঁর চোখেও দেখা গেল। তাঁর পায়ের তলায়ও যেন বকুল পিষে গেছে অজ্ঞাতে; তাই কী মন খারাপ? ফিরে এসে আবার সেই সিঁড়ির সামনে দাাঁড়নো গেল। কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা শুধু। গোটা কয় ছবি তোলা হলো। মনের ভেতর একটা মোচড় দিয়ে উঠল। বামে তাকাতেই দেখা গেল স্মৃতিময় শিশু-কিশোর পাঠকক্ষটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, যেখানে কেটেছে শৈশব-কৈশোরের আশ্চর্য সুন্দর কিছু সময়। স্কুল পালিয়ে কত কী করে মানুষ! আমারা দুই-তিনজন ছিলাম, যাঁরা পালিয়ে আসতাম এই পাঠাগারে। পাশের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা চারুকলায় যাওয়া শুরুও সে সময়েই। কিংবা চলে যেতাম বাংলাবাজার, নীলক্ষেত, পল্টন, গুলিস্তানের বইয়ের দোকানগুলোয়। বইয়ের পোকা ছিল মাথায়। সিনেমা দেখা বা রমনা উদ্যানে ঘুরে বেড়ানো-সে-ও ছিল।সে যাক। সিঁড়িটি বাদ রেখে মূল ভবনের পেছনের দিকটা ভাঙা হচ্ছে। যাঁরা ভাঙছেন, তাঁদেরও কি মন টানছে না তবে? তাঁদেরও কি কিছু জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে? নাকি এ নিছক কল্পনা?ছবি তুলতে দেখে আশপাশে ভাঙার কাজে মত্ত পরিশ্রান্ত শ্রমিকেরা আমাকে দেখার ছলেই একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন দেখা গেল। এগিয়ে যেতেই হেসে তাকালেন বয়স্ক একজন। নাম আলতাফ হোসেন। জানালেন, বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছেন। জানতে চাইলাম, কত দিন লাগবে ভাঙতে? হাসলেন। বললেন, 'তা এক সপ্তাহের মধ্যেই হয়া যাইব।' মন কেমন করল! কিছুক্ষণ চুপ থেকে আলতাফ হোসেন বললেন, 'সিঁড়িটা সুন্দর।' হয়তো আমাকে দূর থেকে সিঁড়ির আশপাশে ঘুরঘুর করতে দেখেই এমনটা বললেন, হয়তো না। দেখা গেল, পরিশ্রান্ত শ্রমিকদের বেশ কয়েকজন ততক্ষণে সেই সিঁড়িতে গিয়ে বসেছেন। লাল-সাদা সেই আইকনিক সিঁড়ি; ভেঙে যাওয়ার আগেও যে পরিশ্রান্ত ক্লান্ত মানুষদের আশ্রয় দিতে ভুলছে না।কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে গেলাম। কে জানে, এটাই হয়তো শেষবারের মতো এই সিঁড়ি ভাঙা। মাথার ভেতরে তখন সঞ্জীব চৌধুরী গাইছেন-'তুমি সিঁড়ি ভাঙো/ কত সিঁড়ি ভাঙো/ ভেঙে ফেলেছ কি স্বপ্নের সিঁড়ি?' সঞ্জীব সম্পূর্ণ অন্য ভাবনা থেকে গেয়েছেন হয়তো, কিন্তু কেমন মিলে গেল। এ সিঁড়ি তো স্বপ্নেরও। যেকোনো গ্রন্থাগারের সিঁড়িই তা-ই। সে হিসেবে বেশ খাপ খেয়ে যায় সঞ্জীবের গানটি। এ সিঁড়ি আক্ষরিক অর্থেই ভাঙা হবে। এই তো আর কয়েকটি দিন। | 6 |
৪ অক্টোবর আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম দেখে বেশ আগ্রহ নিয়েই সংবাদটি পড়লাম। শিরোনামটি ছিল, 'সরকারি চাকরিজীবী: সম্পদের হিসাব দেননি একজনও'। খবরটি চমকপ্রদ হলেও গুরুত্বপূর্ণ। 'চমকপ্রদ' এ কারণে যে, সরকারি চাকরিজীবী হয়েও সরকারি কোনো নির্দেশ গণহারে অমান্য করার ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম দেখল দেশবাসী। আমরা এত দিন ক্ষমতাসীনদের আস্থাভাজন কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কথা শুনেছি। আশীর্বাদপুষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবহারে তাঁদের অনেক সহকর্মীর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ভালো ও মন্দের বিভাজন থাকলেও সম্পদের হিসাব না দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের এমন ঐক্যবদ্ধ অবস্থান সত্যিই চোখে পড়ার মতো। তবে সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তাগাদা থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের অসৌজন্য আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এরই সঙ্গে ১৯৭৯ সালে জারি করা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার বরখেলাপও হয়েছে বটে। এই বিধিমালার মাধ্যমে পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়া এবং স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা বিক্রির অনুমতি নেওয়ার নিয়ম করা হয়। গত ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে বিধিমালা বাস্তবায়নে চিঠি দিয়ে এর অগ্রগতি জানাতে বলেছিল। এরপর তিন মাস পার হয়ে গেলেও কারও হিসাব জমা পড়েনি; বরং সম্পদের হিসাব জমা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সচিব পর্যায়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের ভেতর একধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব লক্ষ করা যাচ্ছে। সম্পদের হিসাবটি কোথায় জমা দেবেন, এ বিষয়ে একেক জনের একেক রকম বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। এরূপ বক্তব্য শুনে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার ইচ্ছেই যদি থাকত, তাহলে তিন মাস চলে যাওয়ার পর কোথায় জমা দিতে হবে-এ প্রশ্ন না তুলে, নোটিশ জারির পরপরই তা পরিষ্কার করে নিতে পারতেন। এ বিষয়টি দু-একজন পরিচিত চাকরিজীবীর সঙ্গে কথা বলে চমকে গেছি। তাঁদের অনেকে মনে করছেন, 'সম্পদের হিসাব আলাদাভাবে দেওয়ার কী প্রয়োজন আছে? প্রতিবছর তো সরকারি চাকরিজীবীদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতেই হয়। সেই আয়কর বিবরণী তৈরির সময় সবাই সম্পদের হিসাব দাখিল করে থাকেন। কাজেই নতুন করে সম্পদের হিসাব দেওয়ার দরকার নেই!' আবার কেউ কেউ বলেন, 'বিধিমালা তো জারি হয়েছিল সেই জিয়াউর রহমানের আমলে! জিয়ার অনেক কিছুই যখন আমরা বর্জন করেছি, তখন এটা নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কী আছে?' তাঁদের প্রশ্ন, 'এই বিধিমালা জারির পর এযাবৎ কোনো চাকরিজীবী কি সম্পদের হিসাব দিয়েছেন?' তাঁরা অভিযোগ করেন, 'আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে মন্ত্রিপরিষদের এক সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের বার্ষিক আয় ও সম্পদের বিবরণী প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন। আমরা কি আজ পর্যন্ত সরকারের সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে দেখেছি? তাঁরা নিজেরাই যখন নিজেদের হাঁড়ির খবর জানাতে অপারগ, তখন আমাদের হেঁসেল নিয়ে টানাটানি কেন?'এ কথা ঠিক, ২০১১ সালের ৪ জুলাই মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। স্মরণ করা যেতে পারে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রার্থীর (মন্ত্রী পদমর্যাদার নেতা) দাখিল করা সম্পদের বিবরণী নিয়ে যথেষ্ট তোলপাড় হয়েছিল। দেখা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া সম্পদের বিবরণী অনুযায়ী যে নেতা ৪ বিঘা জমির মালিক ছিলেন; সেই নেতা ক্ষমতার ৫ বছরের মধ্যেই ঢাকার গুলশানে বাড়ি-গাড়িসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪০০ একরের বেশি জমির মালিক হয়ে গেছেন। এসব সম্পত্তির বিবরণ ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া সম্পদের হলফনামার বিবরণী থেকে জানা গিয়েছিল।আমাদের দেশে নির্বাচন ঘিরে একটি বিষয়ে সবার মাঝে উৎসাহ লক্ষ করা যায়। তা হলো, প্রার্থীদের সম্পদের হলফনামা। এই হলফনামায় প্রার্থীরা সম্পদের হিসাবসহ আটটি বিষয়ে অঙ্গীকার করে থাকেন। প্রতি নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে আশ্চর্যজনকভাবে দেখা গেছে, প্রার্থীদের চেয়ে তাঁদের স্ত্রীদের সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি। মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি শক্ত অবস্থান ছিল। তা ছাড়া, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে দেশে 'সুশাসন' প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সেখানে ৫.২ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে উল্লেখ করা ছিল। এ হিসাব চাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, দেশের মানুষ যাতে বুঝতে পারে, একজন মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়ার আগে কী পরিমাণ সম্পদ ছিল তাঁর, দায়িত্ব নেওয়ার পর কী পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। সম্পদের হিসাব নেওয়ার বিষয়ে তখন জোরালো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। শোনা গেছে, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে সম্পদের হিসাব দেওয়ার কথা বলে সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন। এ ঘটনার তিন মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার আরেক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নতুন করে জনসমক্ষে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করতে হবে না। নির্বাচনের আগে দাখিল করা তথ্যই যথেষ্ট। তখন থেকে আজ অবধি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্পদের হিসাব দাখিল হয়েছে বলে শুনিনি। সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রী-এমপিরাও সম্পদের হিসাব দেবেন বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য খুবই আশাব্যঞ্জক শোনালেও দেশের কতজন মানুষ তা বিশ্বাস করেছে, সন্দেহ আছে। উল্লেখ্য, পাশের দেশ ভারতে নির্বাচন শেষ হওয়ার তিন মাসের মাথায় 'মেম্বার্স অব দ্য লোকসভা ডিক্লারেশন অব অ্যাসেট' আইনের আওতায় সংসদ সদস্যদের সম্পদের হিসাব দিতে হয়। পাকিস্তানের ১৯৭৬ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং সিনেট অ্যাক্ট (ইলেকশন) অনুযায়ী, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। সুযোগ পেলেই দুর্নীতির আখড়া বলে আমাদের ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপিরা যে পাকিস্তানকে নিয়ে যখন সমালোচনা করেন, তখন পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন সম্পদের হিসাব জমা না দেওয়ায় সে দেশের জাতীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদের ২১২ জন সদস্যের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করে।আমাদের দেশে দুর্নীতির মূলে তিনটি ভিন্ন চরিত্রের মানুষের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। চাকরিজীবী এর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া রাজনীতিক, অর্থাৎ মন্ত্রী-এমপি পর্যায়ের ব্যক্তি, যিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেন এবং বেসরকারি খাতের অন্যান্য ব্যক্তি; বিশেষ করে ব্যবসায়ী মহল। চাকরিজীবী বলতে সরকারি ও বেসরকারি (ব্যাংকে চাকরি করেন) চাকরি করেন এমন ব্যক্তিকে বোঝায়। এই তিন বিশেষ চরিত্রের ব্যক্তিদের যোগসাজশেই এ দেশের বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটে থাকে। চাকরিজীবী, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী বলতে এখানে ঢালাওভাবে সবাইকে বোঝানো হচ্ছে না। প্রায় এক যুগ ধরে যেসব ব্যক্তি বড় বড় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের প্রায় সবাই সমাজে পরিচিত। তারপরও অদৃশ্য শক্তির বলে তাঁরা যখন পার পেয়ে যান, তখন দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি চাকরিজীবীরা সেই সুযোগ যে নেবেন, এটাই স্বাভাবিক; অতঃপর সরকারি নির্দেশের তোয়াক্কা না করে সম্পদের হিসাব দেওয়া থেকে যে তাঁরা বিরত থাকবেন, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে গত ১০ বছরে সরকারি অনেক কর্মকর্তাই ব্যাপকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদপুষ্ট গুটিকয়েক কর্মকর্তার দুর্নীতির পিলে কাঁপানো ঘটনা দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড়ও তুলেছে। একই সময়ে ক্ষমতাসীন দলের নিম্নপর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মীর সাড়াজাগানো দুর্নীতির ঘটনাও প্রকাশ পেয়েছে। এসব চিহ্নিত দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীকে আইনের আওতায় আনা গেলেও তাঁদের পৃষ্ঠপোষকেরা কিন্তু রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দেশে দুর্নীতির ঘোড়দৌড় এখন এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, বড় বড় দুর্নীতির ঘটনাগুলোও এখন মানুষের গা-সহা হয়ে গেছে। সরকারি চাকরিজীবী, মন্ত্রী এবং এমপিদের সম্পদের হিসাব চাওয়ার কারণও কিন্তু দুর্নীতি! অর্থাৎ দুর্নীতির মাধ্যমে যেন কেউ রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে না পারেন, এ উদ্দেশ্য সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ভাবতে অবাক লাগে, পাকিস্তানের মতো একটি দেশ একই ব্যবস্থা যদি কার্যকর করতে পারে, তাহলে আমাদের দেশে কেন নয়?কারণটা মনে হয় অন্যখানে! এই কারণ অনুসন্ধানের জন্য বেশি দূর যেতে হবে না। আমরা সবাই তা জানি। আমরা জানি কিন্তু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি না বলে অনেকেই এখন কোলে চেপে বসার চেষ্টা করছেন। সম্ভবত এ জন্যই চাকরিজীবীরা সরকারের নির্দেশ অমান্য করার সাহস পান। কথায় বলে 'শর্ষের ভেতর যদি ভূত থাকে, তাহলে ভূত তাড়াবে কে?' অন্যের ঘাড়ের ভূত তাড়ানোর আগে নিজের ঘাড়ে চেপে বসা ভূতটাকে আগে তাড়াতে হবে। আমাদের রাজনীতিকেরা এ কথা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন; দেশের জন্য ততই মঙ্গলকর। | 8 |
কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা যদি চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলে তা ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ সংক্রান্ত রির্টের শুনানি শেষে সোমবার (১৫ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা দুটি নির্দেশনার আলোকে চিকিৎসা সেবা দেয়াসহ আট দফা নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। আদালতে ভার্চুয়ালে রিটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাডভোকেট এএম জামিউল হক ফয়সাল, মো. নাজমুল হুদা, মোহাম্মাদ মেহেদী হাসান এবং ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মুরাদ রেজা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট অমিত তালুকদার। এর আগে গত শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে সাধারণ রোগীদের ফিরিয়ে না দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনটি করা হয়। রিটে রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে ফেরত দেয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রিটে স্বাস্থ্য সচিব, অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) এবং উপ-সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে করোনা বা অন্যান্য রোগের উপসর্গ নিয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ঘুরে ঘুরে মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পেরে গত ১১ মে দেশের সকল হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আগত রোগীদের ফেরত না পাঠিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারি করে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতর। | 6 |
ওয়েবের দর্শকদের জন্য বছরটা ছিল বেশ উষ্ণ। একের পর এক সিরিজ তাঁদের চাঙা রাখে বছরজুড়ে। একটি শেষ হতে না হতেই এসে পড়েছে আরেকটি। বছর শেষে আবার স্মরণ করা যাক আলোচিত সিরিজগুলো। 'ঊণলৌকিক'পাঁচ পর্বের পাঁচটি গল্প নিয়ে ঊণলৌকিককে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চরকি বলছে অমনিবাস চলচ্চিত্র। এ বছর যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশি এ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের আলোচিত সিরিজ এটি। রবিউল আলম পরিচালিত ঊণলৌকিক-এর গল্প, নির্মাণ ও উপস্থাপনা এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা দিয়েছে অনলাইন দর্শকদের। জুলাইয়ের ১২ তারিখ এর প্রথম গল্পটি প্রকাশ করে চরকি। প্রায় অলৌকিক গল্পকে বিশ্বাসযোগ্য করে পর্দায় উপস্থাপন করে দর্শককে চমকে দিয়েছেন নির্মাতা। 'স্কুইড গেম'একজন করে বন্ধু বেছে নাও, তারপর তার সঙ্গে খেলো। পরাজিত হলে খুন হতে হবে, বিজয়ী পাবে ৪৫৬ কোটি টাকা। এর নাম স্কুইড গেম। শৈশবের ছয়টি খেলাকে মরণখেলায় রূপান্তর করা স্কুইড গেম ছিল বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিরিজ। কোরীয় নির্মাতা হোয়াং ডং-হিউকের রচনা ও পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন লি জং-জা, ও ইয়াং-সু, পার্ক হেই-সো, ওয়াই হা-জুন, জং হো-ইয়েন, হিও সুং-তায়ে, অনুপম ত্রিপাঠী, কিম জু-রিউং প্রমুখ। ১৭ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় সিরিজটি। এ সিরিজ আসার অনেক আগেই কোরিয়ার গান ও সিনেমা বিশ্ব জয় করেছে। এ সিরিজ ভেঙে দিয়েছে অতীতের সব রেকর্ড। অথচ দেশটির অনেক প্রযোজনা সংস্থা বেশ কয়েকবার ফিরিয়ে দিয়েছিল পরিচালককে। ওটিটিতে মুক্তির মাত্র ১০ দিনের মাথায় ৯০টি দেশে সিরিজ র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসে এটি। 'মহানগর'গল্প, অভিনয়, চিত্রগ্রহণ, নির্মাণ-সবদিক থেকে চলতি বছরের আলোচিত বাংলা ওয়েব সিরিজ ছিল মহানগর। আশফাক নিপুণের রচনা ও পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, শ্যামল মাওলা, শাহেদ আলী, জাকিয়া বারী মম প্রমুখ। ২৫ জুন হইচইয়ে মুক্তি পায় এটি। পুলিশের হাতে আটক হয় রাজধানীর ধনাঢ্য এক পরিবারের বখাটে ছেলে। প্রভাবশালী বাবার তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে যায় সিরিজটি। উঠে আসে মহানগর ঢাকার অপরাধজগতের একটি খণ্ডচিত্র। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের দর্শক, সমালোচক ও বিনোদন অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা সিরিজটির নির্মাণ ও শিল্পীদের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ সিরিজের মাধ্যমে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন নির্মাতা নিপুণ। 'মুম্বাই ডায়েরিজ ২৬/১১'সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের যেভাবে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করা উচিত, তার একটা যথাযথ নমুনা দেখা যাবে হিন্দি ভাষার ওয়েব সিরিজ মুম্বাই ডায়েরিজ ২৬/১১-এ। ৯ সেপ্টেম্বর এটি মুক্তি পায় আমাজন প্রাইম ভিডিও ইন্ডিয়াতে। পুলিশসহ এতে দেখা গেছে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়, বিএমসি-কর্মীদের; যারা প্রকৃত অর্থে সমাজের একেকজন নায়ক। একটি সংকটময় সময়ে দায়িত্বের বোধ থেকে শহরকে সচল রাখেন তারা। সিরিজটি দেখে সাত শতাধিক ব্যক্তি রিভিউ দিয়েছেন অনলাইনে। সেখানে একজন লিখেছেন, গল্প বলার চেষ্টা না করেও টান টান উত্তেজনায় দর্শককে আটকে রেখে বিনোদন দিয়েছে সিরিজটি। অপেক্ষা করিয়েছে পরের পর্বের জন্য। নিখিল আদভানি পরিচালিত এ সিরিজে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কঙ্কণা সেনশর্মা, মোহিত রায়না, প্রকাশ বেলাওয়াদি, টিনা দেশাই, শ্রেয়া ধন্বন্তরী পুষ্করঞ্জি প্রমুখ। 'মন্দার'শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ থেকে মন্দার নির্মাণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে ইতিমধ্যে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি দর্শকের হৃদয়ে। এবারে সিরিজ পরিচালনা করে রীতিমতো একটা ধাক্কা দিয়ে বসলেন। ১৯ নভেম্বর এটি মুক্তি পেয়েছে হইচইয়ে। এখানে যেন ডাইনিরূপে দেখা গেছে মা, ছেলে ও বাড়ির বিড়াল কালাকে। তাদের সংলাপ, অভিব্যক্তি রীতিমতো অস্বস্তিকর এক অনুভূতি জাগাবে দর্শকের মনে। সিরিজটি যেভাবে যে বার্তা দিয়েছে, সেটাও দর্শককে ভাবনার খোরাক জোগাবে। এতে অভিনয় করেছেন সোহিনি সরকার, দেবাশীষ মণ্ডল, দেবেশ রায় চৌধুরী এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্য নিজে। বলি বছরের আলোচিত ওয়েব সিরিজের আরেকটি 'বলি'। এ ওয়েব সিরিজে জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীকে নতুন রূপে দেখা গেছে। ওয়েব প্ল্যাটফর্ম হইচইতে মুক্তি পাওয়া সিরিজটি বেশ সাড়া ফেলেছিল। বিশেষ করে চঞ্চল চৌধুরীর খল চরিত্রে অভিনয়, সংলাপ দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছে সিরিজটি দেখতে। শঙ্খ দাসগুপ্তের পরিচালনায় নির্মিত সিরিজটিতে আরও অভিনয় করেছেন সালাহউদ্দিন লাভলু, ইরেশ যাকের, মৌসুমি মৌ, সোহেল মণ্ডল, সোহানা সাবা, সাফা কবির, লুৎফর রহমান জর্জ, জিয়াউল হক পলাশ, কাজী রোকসানা রুমা, নাসির উদ্দিন খান প্রমুখ। বলির গল্পটি ছেঁড়াদিয়া বঙ্গোপসাগরের বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ নিয়ে। এই দ্বীপের দখল যার হাতে, তারই রাজত্ব সেখানে। কারণ, এই দ্বীপ চিংড়ি আর লবণের বাণিজ্যকেন্দ্র। টাকা আর জমি দখলের কারবার যেখানে, সেখানে প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি থাকবেই। ছেঁড়াদিয়াতেও আছে। এখানে টক্কর চলে দুই পরিবারের মধ্যে। বংশপরম্পরায় সেই পরিবারের যে হাল ধরে তার নাম হয় কোম্পানি। আর কোম্পানিদের প্রভাব বজায় রাখে বলি; বল প্রয়োগে জমি দখলে রাখাই যাদের কাজ। এই কাজে তাদের বাধা দেওয়ার কেউ নেই। ছেঁড়াদিয়ায় নেই কোনও আইনের শাসন। ওখানে বন্দুকের নল থেকেই বের হয় ক্ষমতা। সেই ক্ষমতার টক্করে কে বাঁচে, কে মরে যায় সেটা নিয়েই এ ওয়েব সিরিজের কাহিনি আবর্তিত। | 2 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.