text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের ছয় সপ্তাহ পূর্ণ হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ যুদ্ধ নিয়ে রুশ নাগরিকদের মনোভাব বদলাচ্ছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এমনটাই বলছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হয়। এ যুদ্ধের শুরুর দিকের তুলনায় এখন বেশিসংখ্যক রুশ নাগরিক দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সমর্থন দিচ্ছেন। জরিপের পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে এ চিত্র উঠে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এখন রাশিয়ার গণমাধ্যমে বাড়তি প্রচারণা (প্রোপাগান্ডা) চালানো হচ্ছে। জনমত জরিপ ও সাক্ষাৎকারে দেখা গেছে, অনেক রুশ নাগরিক, যাঁরা আগে যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন, তাঁরাও এখন ইউক্রেন প্রশ্নে পুতিনের অবস্থানকে সমর্থন করছেন। তাঁরা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, রাশিয়াকে অবরুদ্ধ করছে পশ্চিমারা। এ অবস্থায় ইউক্রেনে হামলা করা ছাড়া রাশিয়ার অন্য কোনো উপায় ছিল না। তবে যেসব রুশ নাগরিক প্রকাশ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, তাঁদের এখন প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেকে দেশ ছাড়ছেন। অনেকে চুপ থাকার পথ বেছে নিচ্ছেন। সম্প্রতি রাশিয়ার জরিপ প্রতিষ্ঠান লেভাদা একটি জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপে দেখা গেছে, এখন পুতিনের প্রতি ৮৩ শতাংশ রুশ নাগরিকের সমর্থন রয়েছে। অথচ গত জানুয়ারি মাসে তা ছিল ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ পুতিনের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮১ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা ইউক্রেন যুদ্ধকে সমর্থন করেন। তাঁরা মনে করেন, ইউক্রেনের রুশভাষীদের রক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্লেষকেরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চলছে পশ্চিমারা। ফলে আগামী মাসগুলোতে রাশিয়া চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আর তখন হয়তো রুশ নাগরিকদের মনোভাবে আবার বদল আসতে পারে। কোনো কোনো পর্যবেক্ষক আবার বলছেন, যুদ্ধকালে পরিচালিত জনমত জরিপের তাৎপর্য সীমিত। কারণ, এ সময় অনেক রুশ নাগরিক ভিন্নমত প্রকাশ করতে ভয় পান। দেশটিতে পাস হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, কেউ ক্রেমলিনের বক্তব্যের বাইরে গেলে তাঁর ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এ ভয়েও অনেকে প্রকৃত মত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে পারেন। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রোস্তভ-অন-দনের অধিকারকর্মী সের্গেই শালিগিন বলেন, তাঁর দুই বন্ধু শুরুতে তাঁর সঙ্গে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তাঁরা যুদ্ধের সমর্থক শিবিরে ভিড়েছেন। তাঁরা তাঁকে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে রুশ প্রোপাগান্ডা পোস্ট পাঠাচ্ছেন। এসব পোস্টে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনীয় ফ্যাসিবাদীরা নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। শালিগিন বলেন, গৃহযুদ্ধের মতো করে এখন বিভেদরেখা টানা হচ্ছে। তিনিসহ রাশিয়ার অন্য পর্যবেক্ষকেরা সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, চলমান যুদ্ধের বেশির ভাগ সমর্থককে বিশেষভাবে উত্সাহী বলে তাঁদের মনে হয়নি। খ্যাতিমান রুশ সমাজবিজ্ঞানী সের্গেই বেলানোভস্কি বলেন, 'আমি এখানে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখছি না। বরং আমি এখানে যা দেখতে পাচ্ছি, তা হলো উদাসীনতা।' লেভাদার জরিপে দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ রুশ নাগরিক এ যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। তবে জরিপে এ-ও দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ রুশ নাগরিক বলেছেন, সত্যিকার অর্থে এ ব্যাপারে তাঁদের কোনো আগ্রহ নেই। অর্থাৎ জরিপ অনুযায়ী, রুশ নাগরিকদের একটা তাৎপর্যপূর্ণ অংশ কোনো ধরনের আগ্রহ ছাড়াই এ যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। কিন্তু রাশিয়ায় যাঁরা টেলিভিশন দেখেন, তাঁদের নিশানা করে সরকারি প্রচারণা চালানো হচ্ছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত চ্যানেলগুলোতে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান কমিয়ে সংবাদ ও টক শো বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক এক শুক্রবার ক্রেমলিন নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ওয়ানে ১৫ ঘণ্টা সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠান দেখানো হয়। অথচ ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর আগে এ চ্যানেলে শুক্রবার পাঁচ ঘণ্টা সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠান দেখানো হতো। গত মাসে চ্যানেল ওয়ানে 'অ্যান্টিফেক' নামের নতুন একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়। পশ্চিমাদের ছড়ানো 'ভুয়া তথ্য' নিরূপণ করাই এ অনুষ্ঠানের লক্ষ্য। টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইবেরিয়ার একটি শহরের ব্যবসায়ী স্তানিসলাভ ব্রিকভ বলেন, যুদ্ধ খারাপ কাজ। কিন্তু রাশিয়াকে এ খারাপ কাজ করতে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি ঐক্য প্রকাশ করা ছাড়া রুশ নাগরিকদের কিছু করার ছিল না। যে সেনাসদস্যরা তাঁদের জীবনবাজি রেখে রাশিয়ার স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করছেন, তাঁদের পাশে না দাঁড়ানোটা লজ্জার বিষয় হতো। মিখাইল নামের ৩৫ বছর বয়সী এক বন্ধুর কথা উল্লেখ করেন ব্রিকভ। তিনি বলেন, মিখাইল একসময় সরকারের সমালোচনা করতেন। কিন্তু তিনি এখন মনে করেন, সব মতবিরোধ এখন দূরে সরিয়ে রাখার সময় এটা। মিখাইল বলেন, 'আমাদের সীমানার বাইরে সব জায়গায় যখন আমাদের বিরুদ্ধে লোকজন সরব, তখন অন্তত এ সময়ের জন্য হলেও আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।' রাশিয়ায় যাঁরা এখনো যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, তাঁদের ব্যাপক অপবাদ-হয়রানি-হেনস্তার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের শত্রুপক্ষের দোসর বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। গত ১৬ মার্চ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, পশ্চিমাপন্থী রুশ নাগরিকেরা নোংরা ও বিশ্বাসঘাতক। তাঁদের সমাজ থেকে উৎখাত করতে হবে। গত দুই সপ্তাহে রাশিয়ার বেশ কয়েক অধিকারকর্মী, সাংবাদিক, বিরোধী নেতা নিজেদের বাড়িতে ফিরে দরজায় বিভিন্ন অক্ষর ও শব্দ লেখা দেখতে পান। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা কারও দরজায় 'জেড', কারও দরজায় 'বিশ্বাসঘাতক', কারও দরজায় 'দালাল' লিখে গেছেন। মার্চের শুরুর দিকে একটি উদারপন্থী রেডিও স্টেশন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। রেডিও স্টেশনটির সাবেক প্রধান সম্পাদক আলেক্সি ভেনেদিকতভ বলেন, গত সপ্তাহে তিনি তাঁর বাড়ির দরজায় একটি শূকরের বিচ্ছিন্ন মাথা পেয়েছেন। তার সঙ্গে একটি স্টিকারও ছিল। এতে লেখা ছিল 'ইহুদি শূকর'। বিক্ষোভকারী একটি সংগঠনের সদস্য লুসি স্টেইনও সম্প্রতি তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের দরজার সামনে নিজের একটি ছবি পেয়েছেন। সেখানে লেখা ছিল, 'নিজের মাতৃভূমিকে বেচে দিয়ো না।' ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পরের সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ায় ব্যাপক যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হয়। এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র দেশজুড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ কমে এসেছে। যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করায় নানা আশঙ্কা থেকে ইতিমধ্যে অনেক রাশিয়ান দেশ ছেড়েছেন। একটি বাণিজ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, কমপক্ষে ৫০ হাজার প্রযুক্তিকর্মী রাশিয়া ত্যাগ করেছেন। সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ হওয়া স্থানগুলোর মধ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গ অন্যতম। স্থানীয় বিরোধী আইনপ্রণেতা বরিস ভিশনেভস্কি বলেন, প্রথম দুই সপ্তাহে যুদ্ধ বন্ধের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করার অনুরোধসংবলিত প্রায় ১০০টি চিঠি পান তিনি। এ সময়ে পাওয়া মাত্র একটি চিঠিতে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছিল। তবে যুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনে পুতিন স্বাক্ষর করার পর চিঠি আসার পরিমাণ কমে গেছে। টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মস্কোর এক রাজনীতি বিশ্লেষক বলেন, গত মাসে তাঁকে বেশ কয়েকবার শহরের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনে যেতে হয়েছে। কারণ, বিক্ষোভকালে তাঁর কিশোর ছেলেকে কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছেলেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। অধিকারকর্মীদের যাঁরা অনলাইনে উত্ত্যক্ত করেন, তাঁদের কাছে তাঁর ছেলের নাম পৌঁছে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মস্কোর এ রাজনীতি বিশ্লেষক আরও বলেন, যে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে, তাঁদের যুদ্ধের ব্যাপারে আগ্রাসী বা স্বতঃস্ফূর্ত কোনোটিই মনে হয়নি তাঁর। তবে সব মিলিয়ে তিনি বিশ্বাস করেন, বেশির ভাগ রুশ নাগরিক এখন প্রকাশ্যে যুদ্ধের বিরোধিতা করতে ভয় পান। তাঁরা মেনে নিয়েছেন, এ ব্যাপারে তাঁদের কিছু করার নেই। ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই রুশ রাজনীতি বিশ্লেষক বলেন, অন্য কেউ রুশ জনগণের সবকিছু ঠিক করে দিচ্ছেন। এই জ্ঞাত নিষ্ক্রিয়তাই তাঁদের ট্র্যাজেডি। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস | 3 |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ইজতেমায় বয়ানে বা সম্মুখে কেউ কারও বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে পারবেন না। ইজতেমা নিয়ে ফেসবুকে বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো রূপ অপপ্রচার চালানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আজ বুধবার দুপুরে বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয় প্রাঙ্গণে ইজতেমার সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে ফলোআপ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী আগের চেয়ে অনেক দক্ষ। যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ইজতেমার দুই পক্ষকে তাদের ৬ দফা ও ১০ দফা মেনে চলতে হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ইজতেমা সম্পন্ন করার জন্য উভয়পক্ষকে ধৈর্য ধরে সহনশীল আচরণ করতে হবে। এ জন্য তিনি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। গাজীপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, শান্তি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে ইজতেমা সম্পন্ন করতে হবে। ইজতেমা আয়োজনের জন্য উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সব রকম সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ইজতেমার মূল আয়োজন ইজতেমা কর্তৃপক্ষ করছে। সরকার কেবল তাদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক দিকে সহযোগিতা করছে। ইজতেমায় কারা আসবেন আর কারা আসবেন না সেটা ইজতেমা কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবেন। দুই পক্ষ তাদের যে তালিকা দেবেন সে তালিকা অনুসারে বিদেশি মুসল্লিদের ভিসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে ইজতেমা আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সবার সহযোগিতায় এবার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইজতেমা সম্পন্ন হবে। ইজতেমায় আগত সকল মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ ও সতর্ক রয়েছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারী, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, ঢাকা উত্তরা জোনের ডিসি (ট্রাফিক) প্রবীর কুমার রায়, গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন মেরামত) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ, ইজতেমার মুরব্বি মাওলানা জুবায়েরপন্থী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান, সা'দপন্থী মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে ইজতেমা ময়দান শতভাগ প্রস্তুত হয়ে যাবে। মুসল্লিদের সেবাদানের জন্য সরকারের সকল সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। | 6 |
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় স্কুল শিক্ষক মামাকে খুনের অভিযোগে ভাগ্নে জাহেদুল হক মহসিন মিয়া (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে মহসিনকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দন ইউনিয়নের কাশোরার চর গ্রামে ফুফুর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নাহিদ হাসান সুমন বলেন, গ্রেপ্তার মহসিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মুকসেদপুর গ্রামের (বড়পুল এলাকা) শাহাব উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত ভাগ্নে মহসিন তার মাকে নিয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলার পোড়াবাড়িয়া গ্রামে মামার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। জমিজমার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে মামা আফজাল হোসেন রায়হানের সঙ্গে মহসিনের বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রায়হানের সঙ্গে ভাগ্নের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ভাগ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে মামা রায়হানকে উপর্যুপরি আঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রায়হানকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই মহসিন পলাতক ছিলেন। এ ব্যাপারে গত শুক্রবার নিহতের স্ত্রী রহিমা খাতুন বাদী হয়ে জাহেদুল হক মহসিনসহ দুই জনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নাহিদ হাসান সুমন জানান, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিবি পুলিশের সহায়তায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের কাশোরার চর গ্রামে তার ফুফুর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয় তাকে। | 6 |
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ঘুরতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে মৃত্যুর দুই সপ্তাহের মাথায় এবার পানিতে ডুবে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত সাইফুল ইসলাম (২৪) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নিয়ামত গ্রামের বাসিন্দা ও সিলেট সরকারি কলেজের ডিগ্রির ছাত্র। স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সাইফুল তার বন্ধুদের নিয়ে সাদাপাথর এলাকায় বেড়াতে যান। এ সময় স্থানীয় নৌকার মাঝি তাকে লাইফ জ্যাকেট দিলে সেটি না পরেই পানিতে নামেন। প্রবল স্রোতের মাঝে নদী পার হতে গেলে নিরাপত্তায় নিয়জিত কর্মীরা বাধা দেয়। বাধা না মেনেই নদী পার হতে গিয়ে স্রোতের টানে কলেজছাত্র সাইফুল পানিতে তলিয়ে যান। কিছু সময় পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ না মানায় পর্যটকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যুর পর পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করতে ও ১০ জনের বেশি লোককে নৌকায় না তুলতে পর্যটকদের বহনকারী সবগুলো নৌকার মাঝিকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশ মানছেন না তারা। | 6 |
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অবস্থা ভালো নয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ এই নেতার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে জানানো হয়, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জন্য সকলে দোয়া করবেন। উনার শরীর ভালো না। রাতে উনার শ্বাসকষ্ট ছিল। আপনাদের সকলের দোয়া খুব প্রয়োজন। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বর্তমানে উনার স্থাপিত প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি বিশেষ করে ব্রিগেডিয়ার অধ্যাপক ডা. মামুন মুস্তাফি, অধ্যাপক ডা. নজীব এবং তাদের দলের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। গত ২৫ মে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা হলে তার করোনা পজিটিভ আসে। এরপর গত ২৬ মে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শরীরে প্লাজমা থেরাপি দেয়া হয়। এদিন সন্ধ্যায় তার শরীরে ও পজিটিভ রক্তের ২০০ মিলি প্লাজমা দেয়া হয়। এরপর গত ২৮ মে রাতে দ্বিতীয়বারের মতো প্লাজমা নেন। এছাড়া গত ৩০ মে রাতে তৃতীয়বারের মতো ডায়ালাইসিস করান তিনি। সেই সঙ্গে ব্রেথিং (শ্বাস-প্রশ্বাস) থেরাপিও নেন ডা. জাফরুল্লাহ। | 6 |
ভারতের বিহার এবং পূর্ব উত্তর প্রদেশের গঙ্গা নদীতে সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়ার পর এবার একই নদীর তীরে একাধিক মরদেহ বালিচাপা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলার গঙ্গার তীরে দুটি জায়গায় বালুচাপা দেওয়া সারি সারি মরদেহ পাওয়া গেছে। রাজ্যেটির রাজধানী লখনউ থেকে উন্নাও মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে। খবর এনডিটিভির এক ভিডিওতে দেখা গেছে, মরদেহগুলো গেড়ুয়া কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উন্নাওর এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, যেখানে মরদেহগুলো পাওয়া গেছে এর মধ্যে একটি জায়গা হলো শ্মশান। যে মরদেহগুলো পাওয়া গেছে তারা করোনা রোগী ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্র কুমার বলেছেন, কিছু লোক মরদেহ দাহ করে না, তারা মরদেহ নদীর ধারে বালিতে পুঁতে দেয়। খবর পাওয়ার পরে আমি কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেব। এই মরদেহগুলো করোনা রোগীদের কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সকালে কর্মকর্তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরও গভীর গর্ত করে মরদেহগুলো সমাধিস্থ করেছেন। মঙ্গলবার পূর্ব উত্তর প্রদেশের গাজীপুরে গঙ্গার তীরে ভেসে আসে অনেক মরদেহ। গাজীপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমপি সিং বলেছেন, আমরা তথ্য পেয়েছি। আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন এবং তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো কারা এখানে এনেছে তা আমরা অনুসন্ধানের চেষ্টা করছি। এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন, শেষকৃত্যের জন্য কাঠের ঘাটতির কারণে মরদেহগুলো এভাবে বালিচাপা দেওয়া হয়েছে। তারা আরও বলেছেন, শেষকৃত্যের সময় কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। আবার অনেকে বলছেন, মরদেহগুলো করোনা রোগীদের। করোনায় মৃতের সংখ্যা কমানোর জন্যই তাদের বালিচাপা দেওয়া হয়েছে। | 3 |
ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের আয়োজন করে বেশ কয়েকবার শিরোনামে এসেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। এ ধারাবাহিকতায় এবার গরীব ও দুঃস্থদের জন্য কোরবানি দেবে এ সমিতি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ঢালিউড অভিনেতা জায়েদ খান। তিনি বলেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছে। এতে আমরা সবার সহযোগিতাও পেয়েছি। এবার কোরবানি দেয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দটা সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে চাই। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের তুলনায় চতুর্থ সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ৭৭ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মৃত ব্যক্তিদের ৮০ শতাংশ করোনার টিকা নেননি। করোনায় মৃত্যু ও টিকার এই তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা) ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে জানুয়ারি মাসে মোট ২৮৬ জনের মৃত্যু হলো। প্রথম সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছিল ২৫ জনের। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে মারা যান যথাক্রমে ৪২ ও ৭৯ জন। চতুর্থ বা শেষ সপ্তাহে ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, প্রতি সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের চেয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে। সর্বশেষ সপ্তাহে মারা যাওয়া ১৪০ জনের মধ্যে ১০৯ জন বা ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ করোনার টিকা নেননি। টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩১ জন। তাঁদের মধ্যে এক ডোজ টিকা নিয়েছিলেন ৬ জন, পূর দুই ডোজ টিকা নিয়েছিলেন ২৩ জন এবং তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ নিয়েছিলেন ২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, টিকা করোনারভাইরাসের সংক্রমণ পুরোপুরিভাবে প্রতিরোধ করতে পারবে না। তবে টিকা পাওয়া ব্যক্তি আক্রান্ত হলে উপসর্গের তীব্রতা কম হবে, হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন কম হবে, মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে। বয়স যাঁদের বেশি এবং যাঁরা অসংক্রামক রোগে (ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বক্ষব্যাধি, হৃদ্রোগ, কিডনিজনিত রোগ) আক্রান্ত, তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি। সর্বশেষ সপ্তাহে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৭৬ শতাংশের বয়স ৫১ বছর বা তার বেশি। অন্যদিকে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৬৫ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ, ৬২ শতাংশের ডায়াবেটিস এবং ২০ শতাংশের হৃদ্রোগ ছিল। দেশে করোনা শনাক্তের সক্ষমতা বেড়েছে। করোনা শনাক্তের জন্য সরকারি-বেসরকারি ৬৫৩টি পরীক্ষাগার সক্রিয়। আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট এবং র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা রোগী শনাক্ত করা হচ্ছে। সর্বশেষ এক দিনে ৪৫ হাজার ৩৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৫০১ জনের বা ২৯ দশমিক ৭৭ শতাংশের করোনা শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিরা হাসপাতালে কম ভর্তি হচ্ছেন। গত ১০ দিনে এক লাখের বেশি নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু গতকাল হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় ২ হাজার ৫৪৯ জন এবং আইসিইউ শয্যায় ৩৩২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। | 6 |
প্রয়াত পীর হাবিবুর রহমান ছাত্রবেলায় স্বপ্ন দেখতেন আজীবন রাজনীতি করবেন। ছাত্র রাজনীতি করতেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে আর সরাসরি রাজনীতি করা হয়নি তার। ফুল টাইম পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতা। আর সাংবাদিকতার সুবাদে রাজনীতি ও রাজনীতিকগণ ছিল/ছিলেন তার অন্যতম প্রধান সংযোগ। আমাদের পেশার অনেকেইে সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে পেশা বদলিয়ে নতুন পেশা নিয়েছেন। কিন্তু আমাদের পীর হাবিব আমৃত্যু জীবনটা কাটিয়ে গেলেন সংবাদের জগতে। পত্রিকায় কলাম লিখে, টিভি টকশো করে নিজেকে জনপ্রিয় করেছিলেন। বুকের ভেতর সাহস পুষতেন বলে দেখেছেন কত রকম ভয়ঙ্কর চোখ রাঙানি। প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতেও জানতেন। বিরুদ্ধে বাতাসে কখনো মুখ থুবড়ে পড়েছেন, আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। সংবাদকর্মীর জীবনটা কঠিন কঠিনতর বাস্তবের ঘেরাটোপে কঠিন গদ্যময়। অনেক সময় সেটা ভুলে যেতেন প্রচণ্ড আবেগী এক কোমল হৃদয় এই জেদি মানুষটি। তিনি লেখালেখির জন্য অনেকের বিরাগভাজন হয়েছেন। কিন্তু প্রিয়জন হয়েছিলেন আমপাঠকের। রাখঢাক না করে সোজাসাপ্টা কথা বলায় অভ্যস্ত পীর হাবিবের মনের জোরটা ছিল আকাশ ছোঁয়া। যা বিশ্বাস করতেন সেটা স্পষ্ট বলে দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন, আবার সমালোচনার তীরেবিদ্ধও হয়েছেন। লেখক: উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন | 2 |
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাদকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করেছেন পাষণ্ড স্বামী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদকাসক্ত স্বামীকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চকরিয়া পৌরসভার মগবাজারস্থ ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফাতেমা বেগম রুম্পা (২০) মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার বাহাদুর আলমের মেয়ে। পাষণ্ড স্বামী মিজানুর রহমান চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সোয়াজানিয়া এলাকার মৃত ছাবের আহমদের ছেলে। ফাতেমার ছোট বোন আশরফা বিলকিস বলেন, এক বছর আগে ডুলাহাজারার সোয়াজানিয়া এলাকার মিজানুর রহমানের সঙ্গে আমার বড় বোন প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। পরে পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করে। মিজান মাদকাসক্ত ছিল। বিয়ের পর থেকে আমার বড় বোনের কাছ থেকে মাদক সেবনের জন্য প্রতিদিনই টাকা চাইতো মিজান। টাকা না পেলেই মারধর করতো। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের মধ্যে মাদকের টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজান আমার বড় বোনকে গলা টিপে হত্যা করে। তাদের কোনো সন্তান নেই। চকরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জনতার সহায়তায় ঘাতক মিজানুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছে মিজান। ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
অবৈধ বিয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন, তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আগামী ২৪ জানুয়ারি চার্জ গঠনের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন তিন আসামির উপস্থিতিতে এ দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিমের আদালতে আত্মসমর্পণ করে মামলায় জামিন চাইলে তাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানা তাম্মী এখনও ব্যবসায়ী রাকিব হাসানের স্ত্রী। সেই হিসেবে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী পরিচয় দেয়া তামিমা যে বিয়ে করেছেন সেটি অবৈধ। পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে আদালত ক্রিকেটার নাসির, তামিমা ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে ৩১ অক্টোবর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিমা রাকিবকে তালাক দেননি। আইনগতভাবে রাকিব তালাকের কোনো নোটিশও পাননি। তামিমা উল্টো জালিয়াতি করে তালাকের নোটিশ তৈরি করে তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় তালাক না দেয়ার ফলে তামিমা তাম্মী এখনও রাকিবের স্ত্রী হিসেবে বহাল রয়েছেন। দেশের ধর্মীয় বিধিবিধান ও আইন অনুযায়ী এক স্বামীকে তালাক না দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করা অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা তাম্মীর বিয়ে অবৈধ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাকযোগে তালাকের যে পত্র পাঠানো হয়েছিল তার রিসিটটি সঠিক নয়। তালাক যথাযথভাবে হয়নি জেনেও বিয়ে করেছিলেন নাসির। এ কারণে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তালাক হয়নি জানা সত্ত্বেও তালাকের তথ্য প্রচার করায় মানহানির ধারাও রয়েছে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মী ও তার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার প্রথম স্বামী মো. রাকিব হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই দিনই আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর শুনানি শেষে বিকালে আদালত মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। | 6 |
ঢাকা: কিংবদন্তি গীতিকার ও সুরকার জাভেদ আখতার অতিথি বিচারক হিসেবে হাজির হয়েছিলেন ইন্ডিয়ান আইডল ১২-র মঞ্চে। 'শোলে' থেকে শুরু করে নিজের একাধিক ছবির গান নিয়ে এদিন কথা বলেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রতিযোগীদের গাওয়া গানে মুগ্ধ জাভেদ প্রশংসায় ভরিয়ে দেন সকলকে। সম্প্রতি এই এপিসোডের প্রোমোর পাশাপাশি চ্যানেলের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও ক্লিপিংস শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে অরুণিতা কাঞ্জিলালের গানে মুগ্ধ জাভেদ থেকে শুরু করে সমস্ত বিচারক। আর তারপরই জাভেদ আখতার ঠিক করেন তিনি অরুণিতাকে একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ দেবেন। ঘোষণা করেন, তিনি অরুনিতার জন্য একটি গান রচনা করবেন। উদ্দেশ্য তাঁর প্রতিভা পরখ করা।ওই শেয়ার হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আখতার ও অনু মালিক কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি গান বানিয়ে ফেলেন ও অরুনিতাকে তা গেয়ে শোনাতে বলেন। এমনকী, শোয়ের সঞ্চালক আদিত্য চোপড়াও অরুণিতাকে বলেন, এটি তাঁর জীবনের সবথকে কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে। এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অরুণিতা জানান, 'যে কোনও সংগীত শিল্পীর জীবনেই এটা একটা সেরা সুযোগ। যা অনেক কম মানুষ পেয়ে থাকেন। আমি ভাগ্যবান যে ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে একটা জাভেদ আখতারের লেখা ও অনু মালিকের সুর দেওয়া একটা আনকোরা নতুন গান গাওয়ার সুযোগ পেলাম। আমার মনে হচ্ছে আমার জীবনের সমস্ত কিছু পেয়ে গিয়েছি। এই এপিসোডটা আমার জন্য স্পেশ্যাল হয়ে থাকবে।'ইন্ডিয়ান আইডল ১২-র অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিযোগী অরুণিতা কাঞ্জিলাল। সম্প্রতি হিমেশ রেশামিয়াও ঘোষণা করেছেন 'মুডস অ্যান্ড মেলোডিজ' অ্যালবামে একটি গান গাইবেন অরুণিতা ও পাওয়ানদীপ রঞ্জন। ২১ জুন ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে-র দিন একথা ঘোষণা করেছিলেন হিমেশ। | 2 |
আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিয়মিত আপিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে শহিদুল আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।এর আগে শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলার তদন্ত কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল গত ১৪ ডিসেম্বর খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এর পর আপিল বিভাগে আবেদন করেন তিনি।আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।২০১৮ সালের ৬ আগস্ট রমনা থানায় শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, শহিদুল আলম তাঁর ফেসবুক টাইম লাইনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কল্পনাপ্রসূত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণিকে শ্রুতিনির্ভর মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে উসকানি দিয়েছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। | 6 |
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ১নং চরজব্বর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সমিতির বাজার থেকে পরিষ্কার বাজার লতিফ সড়কটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যায়। ভাঙা সড়কে কাদাপানির কারণে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ছাত্রলীগ নেতা ও সামাজিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাদার্স ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন সাগর এগিয়ে আসেন। তিনি এলাকার ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তাটি মেরামতে সবার সহায়তা চান। তার আহ্বানে সাড়া দেন ৩০-৩৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। রোববার থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমে ওই সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করেন। তারা নিজেরাই কোদাল হাতে মাটি কেটে তা মাথায় নিয়ে ভাঙা স্থানে রাখেন, সরিয়ে নেন কাদা। এই কাজে লোকমান হোসেন সাগরকে সহযোগিতা করেন ১নং চর জব্বর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য আলাউদ্দিন বিটু, ছাত্রলীগ নেতা রাফি হোসেন রাজ, ফারুক হোসেন ফাহিম, চরজব্বর কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রহিম, মহি উদ্দিন, ছাত্রলীগ কর্মী আবু সায়েদ, নয়ন, মাইন উদ্দিন, দেলোয়ার, ফারুক, শাকিব, নুর হোসেন, মামুন। ছাত্রলীগের এমন উদ্যাগেকে দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী স্বাগত জানিয়েছেন। এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে। | 6 |
বাড়ির নারী ও কিশোরীরা কাঠিতে রং লাগানো ও কাগজে আলপনা আঁকায় ব্যস্ত। বড় কারখানায় বৈদ্যুতিক মোটর চলার টানা শব্দ। বাড়ির আঙিনায় কাঠ, বাঁশ আর রংবেরঙের কাগজ দিয়ে তৈরি হচ্ছে টমটম গাড়ি বা টরটরি, কাঠের গাড়ি, চরকি, কাঠের পাখি, বেহালা, সারিন্দা, ঘিন্নিসহ নানান খেলনা। পোড়ামাটির খুরি, চাকতি, মোটা কাগজ, সুতা, মাটির খুদে চাকা আর বাঁশের কাঠি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব। কেউ কেউ আবার তৈরি করছেন প্লাস্টিকের হরেক রকমের খেলনা। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার খোলাশ গ্রামের প্রায় প্রতি বাড়ির দৃশ্য এটি। গ্রামের প্রায় আড়াই শ কারখানায় দিনরাত চলছে এসব খেলনা তৈরির কাজ। এরপর এগুলো কারখানায় কারখানায় মজুত করা হচ্ছে। করোনা অতিমারির কারণে দুই বছর মেলা ও উৎসব বন্ধ থাকার পর এবারের পয়লা বৈশাখ ও মেলা মৌসুম ঘিরে প্রাণ ফিরেছে খোলাশের খেলনাপল্লিতে। ঘরে ঘরে খেলনা তৈরির ধুম পড়েছে। দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। খেলনাপল্লির কারিগরেরা বলেন, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস ছাড়া বছরের ৯ মাসই খোলাশের ঘরে ঘরে খেলনা তৈরির কর্মযজ্ঞ চলে। তবে বিক্রির মৌসুম ধরা হয় সাধারণত চৈত্র, বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস। এই তিন মাসে সারা দেশে অসংখ্য মেলা ও উৎসব বসে। এ উপলক্ষে খোলাশের কারিগরেরা সারা বছর খেলনা তৈরি করে মজুত করেন। তিন মাসে প্রতিটি কারখানার মালিক গড়ে লাখ টাকা আয় করেন। পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কারিগরেরাও মেলায় দোকান নিয়ে বসে যান। করোনা বিধিনিষেধের কারণে গত দুই মৌসুমে পল্লির কোটি কোটি টাকার খেলনা বিক্রি না হওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে পল্লির কারিগর ও ব্যবসায়ীদের। পুঁজি হারিয়ে অনেক ব্যবসায়ী প্রায় নিঃস্ব। পেশা বদলে অনেকেই দিনমজুরিসহ নানা কাজে জীবিকা নির্বাহ করছেন। খোলাশের প্রবীণ কারিগর আফজাল ফকিরের বয়স এখন ৭০ বছর। তিনি বলেন, টরটরি তৈরির জন্য পালপাড়া থেকে মাটির খুরি আর চাকা কিনতে হয়। সব খেলনাতেই কাঠের হাতল লাগে, করাতকল থেকে এসব হাতল সংগ্রহ করে নিজেরাই রং লাগাই। এরপর মাটির খুরি, চাকতি, চাকা ও মোটা কাগজ, বাঁশ, সুতলি দিয়ে তৈরি হয় টমটম গাড়ি ও টরটরি। বাংলাদেশ শিল্প ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক এ কে এম মাহফুজুর রহমান বলেন, খেলনার কারিগরেরা উৎসাহী হলে তাঁদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। | 6 |
বয়স সবে আঠারো। এই বয়সেই ফ্যাশন ডিজাইনে হাত পাকিয়েছেন। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়াতে নিজের ভাবনার আলো ছড়িয়েছেন। আর এতেই বাজিমাত। হাতে উঠে এল সেরা ফ্যাশন ডিজাইনারের পুরস্কার। তিনি জান্নাতুল ফেরদৌস। সবাই চেনেন মালিহা নামে। চট্টগ্রামে ৪ মে অনুষ্ঠিত বার্জার-প্রথম আলো ঈদফ্যাশন প্রতিযোগিতা-২০১৯-এ শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, যুগল পোশাক, ফিউশন ও ফতুয়া বিভাগে ৯টি পুরস্কার জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মালিহা। সেরাদের সেরা হয়ে সে কী উচ্ছ্বাস তাঁর! মালিহার ব্র্যান্ডের নাম 'রাজকন্যা'। এই ব্র্যান্ড নিয়ে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তাঁর। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। প্রথমবার দুটি পুরস্কার জিতেছেন। ভালো কাজ করে পোক্ত হয়ে এসে এবার হলেন সেরাদের সেরা। মালিহার ভাষায়-এই প্রতিযোগিতায় কাজের পরখ হয়। শুধু মালিহা একা নন, মুনাজ্জা, আবদুল্লাহ ইবনে সৈয়দ, আয়েশা রুবাইয়াতের মতো তরুণ ডিজাইনাররাও পুরস্কার জিতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। প্রথম আলো ঈদফ্যাশন প্রতিযোগিতার গল্পটা এ রকম। প্রতিবছর এক ঝাঁক নতুন ডিজাইনারের স্বপ্ন ডানা মেলে এই আয়োজন থেকে। ২১ বছরের পথচলায় চট্টগ্রামকে দিয়েছে অনেক ডিজাইনার। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ব্র্যান্ড। এর মধ্যে অন্যতম ফ্যাশন হাউস নিডলওয়ার্ক, শৈল্পিক, মিয়াবিবি, নিহাল ওয়ারড্রপ ও নক্ষত্র। চট্টগ্রামের ফ্যাশনজগতের সবচেয়ে বড় এই আয়োজনের এবার ছিল ২১তম আসর। পাঁচ তারকা হোটেল র্যাডিসন ব্লু চিটাগাং বেভিউর মোহনা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় জমজমাট এই ফ্যাশন শো। ফ্যাশন কিউর পাশাপাশি ছিল গান, নৃত্য ও কথামালা। ঘূর্ণিঝড় ফণীর আতঙ্ক ছিল। এরপরও সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠান শুরুর আগেই মিলনায়তনভর্তি দর্শক জানান দেয় অপেক্ষাটা সারা বছরের। ঈদের পোশাকের আগাম এক ঝলক দেখে নেওয়া যায় বলে সবার আগ্রহ এই অনুষ্ঠান ঘিরে। অনুষ্ঠানের পর্দা ওঠে সৃষ্টি কালচারাল ইনস্টিটিউটের সমবেত নৃত্যের মধ্য দিয়ে। ইমতুর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন পোশাক প্রদর্শনী চলে। ফ্যাশন কিউয়ের প্রথমেই ছিল শাড়ি। মঞ্চে আলো ছড়ান ছয় মডেল। নানা রঙের বাহারি নকশার শাড়ি দৃষ্টি কেড়েছিল দর্শকদের। শাড়িতে দেখা গেছে উজ্জ্বল রং-লাল, নীল, হালকা সবুজ, ঘিয়ে, মেরুন প্রভৃতি। কাপড়ে প্রাধান্য মসলিন ও সিল্ক। বৈচিত্র্য ছিল ব্লাউজে। পরপর শাড়ির দুটি কিউর পর আসে ছেলেদের উৎসবের প্রধান পোশাক পাঞ্জাবি। এবারের ঈদ পোশাকে গরমের কথা চিন্তা করে আরামদায়ক কাপড়ে নজর দিয়েছেন ডিজাইনাররা। সুতি, এন্ডি সিল্ক ও সিল্কের কাপড়ে হালকা কাজ। কিছু পাঞ্জাবি ছিল প্যাটার্ন নির্ভর। রং ছিল চোখ সওয়া হালকা সবুজ, সাদা ও ঘিয়ে। এরপর সালোয়ার-কামিজ পরে মঞ্চে আসেন মডেলরা। সালোয়ার-কামিজে হাতার কাটে কিছুটা ভিন্নতা ছিল। এ ছাড়া মসলিন, সুতি ও সিল্কের কাপড়ে ছিল সবুজ, নেভি ব্লু, সিলভার, গোলাপি, সাদা প্রভৃতি রং। এভাবে একে একে চলে ফিউশন, যুগল পোশাকেরও প্রদর্শনী। পাশ্চাত্য ধাঁচে তরুণীদের ফিউশন পোশাক এবারও নজর কেড়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ডিজাইনার আমিনা রহমান, নাসরিন সরওয়ার, নুজহাত কৃষ্টি, মাশরুর নিহাল ও চিত্রশিল্পী রেজাউল হক খান। প্রতিযোগিতায় ১১টি বিভাগে ৩৩টি পুরস্কার পায় বিভিন্ন বুটিক হাউস। সেরাদের সেরা হয় রাজকন্যা বুটিক। এর আগে দুই শতাধিক পোশাক থেকে ৬০টি পোশাক প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা রন্টি। গানের পর কথামালায় প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ২১ বছর ধরে এই প্রতিযোগিতা এ অঞ্চলের ডিজাইনার ও ফ্যাশনপ্রিয় মানুষের কাছে অতিপরিচিত হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ফ্যাশনে এনেছে বৈচিত্র্য। বার্জার বাংলাদেশ লিমিটেডের হেড-ইন্ডাস্ট্রিয়াল, মেরিন অ্যান্ড স্পেশাল কোটিং সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিম এমন একটি আয়োজনের জন্য প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানান। আরও বক্তব্য দেন জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মহাব্যবস্থাপক সুব্রত শর্মা। বার্জার পেইন্টসের সৌজন্যে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতার কো-স্পনসর হিসেবে ছিল গোল্ডেন ইস্পাত ও জিপিএইচ ইস্পাত। এবার সম্প্রচার সহযোগী নাগরিক টিভি, ভ্রমণ সহযোগী রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও রূপসজ্জা সহযোগী ছিল পারসোনা। ফ্যাশন শোর কোরিওগ্রাফার ছিলেন বুলবুল টুম্পা। মঞ্চসজ্জা করেন শিল্পী সুব্রত বড়ুয়া। | 4 |
গত ২ এপ্রিল সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা আরোরা। পুনের একটি ফ্যাশন ইভেন্ট থেকে মুম্বাই ফেরার পথে তিনি সড়ক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। এসময় এক মুহূর্তের জন্য বেঁচে রয়েছেন নাকি মারা গিয়েছেন ঠিক করে অনুধাবন করতে পারছিলেন না তিনি। সুস্থ হয়ে সেই বিভীষিকাময় অধ্যায় ঘুরে দেখলেন তিনি। মালাইকা বলেন, 'আমি আর ওই সব জিনিস মনে রাখতে চাই না। মানসিক ভাবে ওই ক্ষত এখনও ঠিক হচ্ছে না।' তিনি বলেন, 'দুর্ঘটনার পর আমার গোটা মাথা ব্যথা করছিল। শুধু একটাই কথা মনে আসছিল আমি কি বেঁচে আছি নাকি বেঁচে নেই। চারিদিকে রক্ত আর রক্ত... এত প্রশ্ন... কী হচ্ছে সেটাই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। চোখের সামনেটা ঝাপসা হয়ে আসছিল, আমায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ' উল্লেখ্য, সেদিন শুটিং থেকে ফেরার সময় মালাইকার গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে অপর এক গাড়ির। দুর্ঘটনাস্থল থেকেই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। শোনা যায়, চোখে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। হাসপাতালে পৌঁছে যান প্রেমিক অর্জুন কাপুরও। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস ও মিড ডে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে ফাইভ জি প্রযুক্তির সেবা পরীক্ষামূলকভাবে উদ্বোধন করবেন। সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভ জি চালুর কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। বুধবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) কাউন্সিল হলে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে "৫-জি: দ্যা ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি" শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. রনক আহসানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর। ওবায়দুল কাদের বলেন, "বিটিআরসির নির্দেশনা মোতাবেক রাষ্ট্রীয় একমাত্র মোবাইল অপারেটর টেলিটক প্রাথমিক পর্যায়ে বর্তমান ৪জি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে সীমিত পরিসরে আগামী ডিসেম্বরে ৫জি চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রথমে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সরকারি কার্যালয় ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই সেবা চালু হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই সেবা দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও শিল্প প্রতিষ্ঠাননির্ভর এলাকাগুলোতে বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। ৫জি প্রযুক্তি সেবা কেবল গ্রাহকের মোবাইল ব্রডব্যান্ড ও ভয়েস কলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।" তিনি আরও বলেন, "এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠান, সরকার ও এন্টারপ্রাইজ এবং ইউটিলিটি সার্ভিস প্রোভাইডাররা আইওটি, হিউম্যান টু মেশিন, মেশিন টু মেশিন ডিভাইস ব্যবহার করে ক্রিটিক্যাল মিশন সার্ভিস, স্মার্ট গ্রিড, স্মার্ট সিটি, স্মার্ট ফ্যাক্টরি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। মুজিব বর্ষে এটি একটি বিশাল উদ্যোগ। ৫-জি প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল গ্রাহকরা অধিকতর উন্নত গুণগত মানের ভয়েস কল ও ৪-জি হতে ২০ গুন দ্রুত মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে সক্ষম হবে। ৫-জির মাধ্যমে চালকবিহীন গাড়ি চলবে রাস্তায়। ফাইভ জি চালু হলে কল ড্রপের সংখ্যা কমে যাবে বলে আমরা আশা করি।" অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহাব উদ্দিন। | 6 |
রাঙ্গামাটির সদর উপজেলাধীন বন্দুকভাঙ্গা এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে জনসংহতি সমিতির -জেএসএসের নেতা আবিষ্কার চাকমা নামে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের বাড়ি বাঘাইছড়ির সারোয়াতলী ইউনিয়নের সিজক এলাকায়। তার পিতা মিন্টু চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে প্রতিপক্ষের অতর্কিত সশস্ত্র হামলায় আবিষ্কার চাকমা নিহত হন। প্রতিপক্ষ দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। নিহত আবিস্কার চাকমা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা জানা গেছে। রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি টিমকে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দশ হাজার টাকা মুচলেকায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের জামিন দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডলের আদালত এই আদেশ দেন। এদিকে, গতকাল শুক্রবার আসামি ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত ১৭ নভেম্বর ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ১০ নভেম্বর আদাবর থানায় আনিসুল করিম শিপনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাইজুদ্দিন আহম্মেদ বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে দুই আসামি পলাতক রয়েছে। তারা হলেন, মাে. সাখাওয়াত হােসেন ও সাজ্জাদ আমিন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
বেশির ভাগ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম সাপ। পৃথিবীতে একমাত্র এন্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশেই সাপের দেখা মেলে। জল ও স্থল উভয় স্থানেই বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বসবাস করলেও স্থলেই এদের বেশি দেখা যায়। হাত-পা বিহীন এই লম্বা সরীসৃপের প্রতি মানুষের যেন কৌতূহলের শেষ নেই। কোথাও সাপ দেখা গেলে মানুষজন লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে যায় পিটিয়ে মারতে। সাপের সঙ্গে যেন মানুষের চিরকালের শত্রুতা। বিষধরদের জন্য বিখ্যাত হলেও বেশীরভাগ প্রজাতির সাপই নির্বিষ। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাপের উপদ্রব হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। গত ৪ ও ৬ জুলাই রাজশাহীর দুটি বাড়িতে ১৫২টি গোখরা সাপ মারার ঘটনা সারা দেশে আলোচিত হয়েছে। গত কয়েকদিনেই গণমাধ্যমে শত শত বিষাক্ত সাপ হত্যা ও উদ্ধারের খবর এসেছে। সর্বশেষ ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইউনিয়নের দুবলাচরা গ্রাম থেকে শুক্রবার বিকেলে দুই শতাধিক তাজা গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এখন জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে হঠাৎ কেন এত সাপের উপদ্রব? রনজু বলেন, এই সময়ে কোবরা নাজা নাজা সাপের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হচ্ছে। আর এক মাসের মধ্যে নাজা কাউথিয়া সাপের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবে। সাপ সাধারণত নিরাপদ জায়গায় ডিম পারে। একদিকে বর্ষার মৌসুম অন্যদিকে বন্যা হওয়ায় সাপগুলো আমাদের মাটির ঘরবাড়িতে বাসা বেধে ডিম পারার চেষ্টা করে। ভূ-প্রকৃতির এই পরিবর্তনের কারণে সাপ খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য আবাসিক এলাকায় চলে আসছে। বিশেষ করে এরা কাঁচা ঘরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সাধারণত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সাপের ডিম এবং বাচ্চা উৎপাদনের সময়। এই সময়ে কোবরা নাজা নাজা এবং কাউথিয়া ডিম ও বাচ্চা দেওয়ার সময়। রনজু বলেন, সাপের প্রিয় খাবার ইঁদুর। আর যেসব বাড়িতে ইঁদুরের উৎপাত বেশি সেখানে সাপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।
নিরাপদ যায়গা হিসেবে সাপ বাড়ির ইঁদুরের গর্তে ডিম ফোটাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, গোখড়া সাপ বছরে ১ বার ডিম দেয়। এরা বছরে একবার ডিম দিলেও একবার মিলনে দুই বছরে দুই বার ডিম দিতে পারে। বিডি প্রতিদিন/১৫ জুলাই ২০১৭/হিমেল | 6 |
সীমান্তে মানুষ হত্যা হলেও সরকার নিশ্চুপ বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সীমান্তে দেশের মানুষকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ হত্যা ও রক্তাক্ত করছে। সরকার এর জন্য একটা প্রতিবাদও করতে পারছে না। রোববার স্বেচ্ছাসেবক দলের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্মরণে মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা দিতে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানটি বাড্ডার একটি মাদ্রাসায় হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের বাধার কারণে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে হয়। স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠান হয়। এতে বক্তব্য দেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল ও যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামান। পরে মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন জামা-কাপড় বিতরণ করা হয়। বিএনপি সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে রিজভী আরও বলেন, 'বিএনপির নীতি হচ্ছে, পার্শ্ববর্তী দেশ, দূরবর্তী দেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা; কিন্তু নিজের স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করে নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য দেশের স্বার্থকেও বিসর্জন দিচ্ছেন। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক।' সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'ক্যাসিনোকাণ্ড ও সরকারি টাকা লুটপাটকারীদের আমরা দেখেছি। কিন্তু যারা এদের কাছ থেকে বখরা পেয়েছে সেসব নেতা-গডফাদারদের তো স্পর্শও করতে পারেনি দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।' রিজভী বলেন, 'বিএনপির নেতাকর্মীদের একদিকে জামিন বাতিল করে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্নীতিবাজ ক্ষমতাসীন দলের লোকজন জামিন পাচ্ছে। এক দেশে আইনের দু'রকম প্রয়োগ হচ্ছে।' | 9 |
লেনদেনে স্বচ্ছতা ও আমানতদারিতা ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। অনিয়ম-অস্বচ্ছতা মানুষের নেক আমল ধ্বংস করে দেয়। চুরি-ডাকাতি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দখলদারি, সম্পদ আত্মসাৎ ইত্যাদি আর্থিক অস্বচ্ছতার উদাহরণ। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব জঘন্যতম গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'হে ইমানদারগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কোরো না। শুধু তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা-ই বৈধ।...' (সুরা নিসা/ ২৯)মহানবী (সা.) সব ধরনের অস্বচ্ছতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এসব কাজের ভয়াবহ পরিণতির কথা বলেছেন। লেনদেনে অস্বচ্ছ মানুষকে তিনি প্রকৃত দরিদ্র আখ্যা দিয়ে বলেন, 'তোমরা কি জানো দরিদ্র কে?' সাহাবায়ে কেরাম বললেন, 'আমাদের মধ্যে দরিদ্র ওই ব্যক্তি, যার কোনো অর্থ ও সম্পদ নেই।' তিনি বললেন, 'আমার উম্মতের মধ্যে দরিদ্র ওই ব্যক্তি যে কেয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে হাজির হবে। সে আরও নিয়ে আসবে-অন্যকে এই পরিমাণ গালি দিয়েছে, এই পরিমাণ মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, এই পরিমাণ সম্পদ খেয়েছে, এই পরিমাণ রক্ত প্রবাহিত করেছে, এই পরিমাণ প্রহার করেছে। তার নেকি থেকে সমপরিমাণ (ক্ষতিগ্রস্তদের) প্রদান করতে হবে। তার দায় শেষ হওয়ার আগেই তার নেকি শেষ হয়ে যাবে। তখন ক্ষতিগ্রস্তদের পাপ থেকে সমপরিমাণ নিয়ে তার ওপর নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।' (মুসলিম: ৬৭৪৪)বোঝা গেল, আর্থিক স্বচ্ছতা না থাকলে নামাজ, রোজা, জাকাতের মতো ইবাদত-বন্দেগিও কোনো কাজে আসবে না। কাজেই বলা যায়, আর্থিক স্বচ্ছতাই ইবাদতের রক্ষাকবচ এবং অনিয়ম-অস্বচ্ছতা ধ্বংসের কারণ।লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় | 6 |
নিজের লেখা ও সুর করা গান নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন শিল্পী হায়দার হোসেন। গিটারের তারে সুর তুলে সেগুলো গাইছিলেন তিনি। আর গানের ফাঁকে ফাঁকে চলে গানগুলোর পেছনের গল্প। প্রথম আলোর ভিন্নধর্মী গানের অনুষ্ঠান 'মিউজিকডেস্ক'-এ নিজের গান দিয়ে মাতিয়ে যান হায়দার হোসেন।হায়দার হোসেন শুরু করেন তাঁর লেখা ও সুর করা প্রথম গান 'মন কী যে চায় বলো' দিয়ে। এরপর তিনি করেন 'নীল চোখে চোখ আমি রেখেছি'। পরিবেশনের ফাঁকে ফাঁকে গানটি লেখার নেপথ্যের গল্পও শোনান। সে সময় তিনি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ছিলেন। সাগরের নীল জলরাশি দেখে এই গান লেখেন। একে একে গেয়ে শোনান 'কী দেখার কথা কী দেখছি', 'গণতন্ত্র', 'বাংলাদেশ', ও 'ফাঁইসা গেছি'। একে একে তিনি ছয়টি গান গেয়ে শোনান।ধারণকৃত অনুষ্ঠানটি আজ রাত ৯টায় প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও প্রথম আলো ডটকমে দেখা যাবে। | 2 |
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া যেসব অপশক্তি বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে নানা প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে তাদের শক্তহাতে দমন করা হবে। আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও ডাকা ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমরা ভুলি নাই, ভুলব না। যেসব অপশক্তি বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে নানা প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে তাদের শক্তহাতে দমন করা হবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিডি প্রতিদিন/১৯ আগস্ট, ২০১৭/ফারজানা | 6 |
অফসাইডে বাতিল হয়ে গেল ব্রাজিলের গোল। ফলে লিড ধরে রেখেছেন মেসিরা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে এখন গোল পরিশোধে মরিয়া স্বাগতিক ব্রাজিল। তবে আর্জেন্টিনাও শিরোপা জয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। খেলার ফলাফল এখনো ১-০। প্রথামার্ধে ডি মারিয়ার দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে থাকল আর্জেন্টিনা। খেলার ২২ মিনিটে ডি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক চিপ শটে ব্রাজিল গোলরক্ষক এডারসনকে পরাস্ত করে নিজ দলকে এগিয়ে দেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ২০০৪ সালে সিজার ডিলগাডোর পর ডি মারিয়া প্রথম আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় হিসেবে কোপা আমেরিকার ফাইনালে গোল করলেন। খেলায় দু'দলই প্রায় সব তালে লড়াই করে। তবে সফল হয় আর্জেন্টিনাই। একটি গোল তো করেইছে। তারা প্রথমার্ধে ২-০-এ এগিয়ে যেতে পারত। ৩২ মিনিটে মেসির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্য দিকে ২৫ গজের বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। ৩৪ মিনিটে নেইমারের ফ্রি-কিক দেয়ালে প্রতিহত হয়। ৪২ মিনিটের মাথায় এভার্টনের আক্রমণ প্রতিহত হয় আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক মার্টিনেজের দস্তানায়। ৪৪ মিনিটে নেইমারের কর্ণার থেকে বল ধরে আক্রমণ শানান রিচার্লিসন। যদিও তা মাঠের বাইরে চলে যায়। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারকানা স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার স্বপ্নের ফাইনাল শুরু হয়। দু'দেশের জাতীয় সঙ্গীতের পর রেফারির বাঁশিতে শুরু হয় কোপা আমেরিকার ফাইনাল। আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন, সেমির দল নিয়েই নামে ব্রাজিলকোপা আমেরিকার ফাইনাল শুরু হয়েছে। এই মহাযুদ্ধে অংশ নিচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের জন্য আর্জেন্টনা দলে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এসেছে। তবে ব্রাজিল তাদের সেমিফাইনালের দল নিয়েই শুরু করে। আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশএমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ডি'পল, মেসি, ওতামেন্দি, লো সেলসো, মার্টিনেজ এল, আকুনা, রোমেরো, মন্তিয়েল, পারেদেস ও ডি মারিয়া। ব্রাজিলের প্রথম একাদশএডারসন, দানিলো, থিয়াগো সিলভা, মারকিনহোস, ক্যাসোমিরো, রিচার্লিসন, ফ্রেড, নেইমার, রেনান লোদি, লুকাস পাকুয়েতা ও এভার্টন। প্রথম একাদশে পরিবর্তনব্রাজিল সেমিফাইনালের অপরিবর্তিত প্রথম একাদশে ফাইনালেও মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি তাদের বদলি ফুটবলারের তালিকাও অপরিবর্তিত থাকে। তবে আর্জেন্টিনা প্রথম একাদশে একসাথে পাঁচটি পরিবর্তন করে। রিজার্ভ বেঞ্চে পাঠানো হয় জেল্লা, গঞ্জালেজ, মলিনা, ট্যাগলিয়াফিকো ও রডরিগেজকে। প্রথম একাদশে ঢুকেছেন আকুনা, রোমেরো, মন্তিয়েল, পারেদেস ও ডি মারিয়া। আর্জেন্টিনার বদলি ফুটবলারআর্মানি, ট্যাগলিয়াফিকো, পেজেল্লা, মার্চেসিন, অগুয়েরো, পালাসিয়স, গঞ্জালেজ, রডরিগেজ, কোরেয়া, গোমেজ, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, মলিনা। ব্রাজিলের বদলি ফুটবলারঅ্যালিসন, অ্যালেক্স সান্দ্রো, রিবেইরো, উইভার্টন, এমার্সন, মিলিতাও, ফ্যাবিনহো, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রবার্তো ফির্মিনো, বারবোসা, অর্টিজ, ডগলাস লুইজ। | 12 |
কক্সবাজার থেকে পিকচার ম্যান নামে একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং শেষ করে ঢাকায় ফিরেছেন চঞ্চল চৌধুরী। এদিকে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার শুরু হয়েছে তাঁর অভিনীত নতুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্র। ১৭ বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানেরই বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। এসব নিয়েই বুধবার সন্ধ্যায় কথা হলো তাঁর সঙ্গে কক্সবাজার থেকে ফিরলেন কবে? মঙ্গলবার রাতে ফিরেছি। সেখানে ঈদের সাত পর্বের একটি নাটকের শুটিং করেছি। বৃন্দাবন দাদার লেখা এই নাটকের পরিচালক নিয়াজ মাহবুব। এই নাটকের গল্পটা সি বিচে যাঁরা ছবি তোলেন, তাঁদের নিয়ে। এখানে আমি ফটোগ্রাফার চরিত্রে অভিনয় করেছি। শার্টারে ক্লিক করলে তো আর ছবি হয় না। ছবি তোলার জন্য শিল্পী হতে হয়। এ বিষয় যেমন উঠে এসেছে, তেমনি এসব ফটোগ্রাফারের যে এখন দুর্দিন, সেটাও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই সময়ে এমন গল্প কেন প্রাসঙ্গিক? পিকচার ম্যান এই সময়েরই গল্প। বছরখানেক আগে আমরা (চঞ্চল ও বৃন্দাবন দাসের পরিবার) কক্সবাজার গিয়েছিলাম। তখন আশপাশে অনেক ফটোগ্রাফার এসে বলছিল, ভাইয়া ছবি তুলি? অথচ একটা সময় ছিল, যখন কক্সবাজার যেতাম, ওরাই ছবি তুলত। ছবি তুলে ওরাই হোটেলে পৌঁছে দিত। গত বছর দেখলাম, বিচ ফটোগ্রাফাররা ঘুরছে। তেমন ছবি তোলাতুলিও নেই। গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে ঘুরছে। তখন বৃন্দাবন দাকে বলছিলাম, দেখেন দাদা, ওদের কী দুর্দিন চলে আসছে, সবার হাতে এখন মোবাইল। ওদের প্রফেশনটা হুমকির মুখে। তখনই এই গল্পটা নিয়ে ভাবা হয়। সমুদ্রসৈকতে শুটিং করার সময় তো লোক জড়ো হয়ে যায়? একদমই তাই। এখানে শুটিং করাটা টাফ। প্রচণ্ড ভিড় হয়ে যায়। একটা শর্ট ধরতেই চারপাশ থেকে শত শত মানুষ ঘিরে ধরে। ছবি তোলে, ভিডিও করতে থাকে। এটা ডিজকম্পোর্ট। সিনেমার শুটিংয়ের সময় অবশ্য ভিড় হলেও ইউনিটের লোকজন থাকে অনেক বেশি, কিছুটা সামাল দেওয়া যায়। সি বিচে নাটকের শুটিং অনেক কষ্টমাধ্য। এই নাটকের বেশির ভাগ সিকুয়েন্স বিচ ঘিরে। এরপরও সাকসেসফুলি কাজটা সেরে আসছে। নাটকটি মাছরাঙা টেলিভিশনে দেখানো হবে। আপনি তো টেলিভিশনের কাজ এখন কম করেন? ঈদের সময় কিছু কাজ করতে হয়। চ্যানেলের লোকজন এবং সারা বছর যাদের সঙ্গে কাজ করা হয়, তারা অনুরোধ করে; তাই কাজ তো করতেই হয়। সারভাইব করতে হলেও তো কাজ করতে হয়। এখন যদিও ওটিটির কাজ করি। কিন্তু ওটিটির কাজের একটা সিস্টেম আছে। তবে বাজেট বেশি আছে, কিন্তু সময়সাপেক্ষ। বছরে তো সব সময় ওটিটির কাজ হয় না-এক-দুবার হয়। টেলিভিশনের প্রতি একধরনের দায়বদ্ধতা আর মায়াও আছে। কারণ, আমরা তো টেলিভিশন থেকে আসছি। যদিও নানান কারণে টেলিভিশনের অনেক পিছিয়ে যাওয়া। হয়তো টেলিভিশনের নাটকের মান কমে গেছে। এরপরও চাই যে ভালো স্ক্রিপ্টে যদি কাজ হয়, দর্শক তো সেটা দেখতে পাবেন। একজন শিল্পীরও জীবনে কি সব কাজ মানসম্মত হয়? এটা তো সম্ভব না। কিছু কাজ সারভাইবিং, কিছু কাজ ভালো লাগা, কিছু অনুরোধেও করতে হয়। আগে তো শুধুই সারভাইবিংয়ের জন্য নাটকের কাজ করতাম। পাশাপাশি নিজের মধ্যে অন্য রকম একটা উদ্যম কাজ করত। এখন তো পরিণত বয়স, চেষ্টা থাকে খারাপ কাজের সংখ্যা যেন না বাড়ে। এখন আমরা কোনো কাজ করলে দর্শক সেই কাজ দেখতে আগ্রহী হন। তখন যদি তাঁরা দেখেন, কাজের মান কম, আশানূরূপ নয়-তখন দর্শকেরা আমাদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন। সেই আস্থা রক্ষার জন্য অনেক যাচাই-বাছাই করতে হয়। বয়স, ম্যাচিউরিটি, অভিজ্ঞতা এবং অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গে এসব তৈরি হয়। অতএব নিজের নাম অথবা সুনাম যা-ই বলি না কেন, এটা রক্ষা বা সুরক্ষা করাটা তো নিজেরই দায়িত্ব। নাম ও সুনাম রক্ষার কথা ভেবে যখন কোনো পরিচালক ও প্রযোজকের কাছ থেকে অভিনয়ের প্রস্তাব পান, প্রথমেই কী করেন? প্রথমেই গল্প আর চরিত্রটাই দেখি। চরিত্রটা আমি করার উপযুক্ত কি না, গল্পটা ভালো কি না। পরিচালকের সঙ্গে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলে, দেখি কী কী কাজ করছে। নতুনদের ক্ষেত্রে স্ক্রিপ্ট দেখেই কিন্তু পরিচালকের মানও বোঝা যায়। ভালো স্ক্রিপ্ট হাতে পেলে এটা বোঝা যায়, নতুন হলেও ভালো কিছু করার ইচ্ছে আছে পরিচালকের। যাদের সঙ্গে আগে কাজ হয়েছে, তাদের সঙ্গে তো আর কথাই থাকে না। সহশিল্পী ফ্যাক্টর হয়? অভিনয় তো যৌথ শিল্প। অতএব এখানে সহশিল্পী বড় ফ্যাক্টর। আমি যতই ভালোই করি না কেন, সহশিল্পী যদি প্রপার অ্যাক্টিং না করেন, আমার অভিনয়ও কিন্তু হবে না। এটা তো অ্যাকশন রিঅ্যাকশনের ব্যাপার। | 2 |
ঘাট ও ফেরিস্বল্পতার পাশাপাশি ফেরিডুবির ঘটনায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে নদীতে প্রচণ্ড বাতাস থাকায় ফেরি চলাচল করতে পারছে না। এসব কারণে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া উভয় ঘাটেই যানবাহনের লম্বা লাইন পড়েছে। এরই মধ্যে ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পুরোনো ফেরিগুলো ঠিক করতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা ঢাকামুখী যানবাহনকে ফেরির নাগাল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সাধারণ পণ্যবাহী গাড়িগুলো ফেরির নাগাল পেতে দুই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আজ রোববার ঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফিডস মিল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার লম্বা লাইন রয়েছে। রাতের বেলায় পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। ঘাটে যানবাহনের চাপ কমাতে ফেরিঘাট থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পেছনে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় আহ্লাদিপুরে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছে। সেখানেও চার শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি লম্বা লাইন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোটবড় মিলে ২০টি ফেরি চালু ছিল। গত বুধবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া রো রো ফেরি আমানত শাহ পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে যানবাহন নিয়ে ডুবে যায়। পরদিন যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করতে দুটি ফেরি ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। অবশিষ্ট ১৭টির মধ্যে আরেকটি রো রো ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বসে আছে। বর্তমানে বড় আটটি, ছোট ছয়টি ও মাঝারি আকারের দুটিসহ মোট ১৬টি ফেরি চলাচল করছে।এদিকে, দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়ায় ৫টি করে মোট ১০টি ঘাট রয়েছে। এর মধ্যে ফেরিডুবির ঘটনায় পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে। দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে ইউটিলিটি পন্টুন সরিয়ে নেওয়ায় গত শুক্রবার রাত থেকে তা বন্ধ করা হয়। বর্তমানে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়ায় চারটি করে ঘাট চালু রয়েছে। ফেরিস্বল্পতার পাশাপাশি ঘাটস্বল্পতার কারণে উভয় ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার যানজট ছাড়িয়ে যায়। প্রশাসন বাধ্য হয়ে গোয়ালন্দের পদ্মার মোড় থেকে ছোট ও ব্যক্তিগত গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়ে উজানচর ও চর দৌলতদিয়া বাজার ঘুরে ঘাটে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মা নদীর অববাহিকায় প্রচণ্ড বাতাস রয়েছে। বাতাসের মধ্যে ছোট নৌযান চলাচলে অনেক বেগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি ফেরিগুলো চলাচলে বেগ পোহাতে হয়। নদীতে স্রোতের পাশাপাশি বাতাসের কারণে আগের থেকে সময় লাগছে বেশি।আজ রোববার সকালে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফেরিঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফিডস মিল পর্যন্ত যানবাহনের লম্বা লাইন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনও বাড়ছে। লাইনে অধিকাংশ রয়েছে পণ্যবাহী গাড়ি। এসব গাড়ি আরও দুই দিন আগে এসেছে। কিছু গাড়ি তার আগে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় এসে আটকা পড়ে।খুলনার পাইকগাছা থেকে ইটভাটার শ্রমিক মর্জিনা বেগম যাচ্ছেন ধামরাইয়ের কালামপুর। তিনি বলেন, 'রাতভর এই গাড়িতে বসে ছিলাম। বাচ্চাকাচ্চা সমানে কান্তাছে। কোথাও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নাই। এ ছাড়া আরও অনেক সমস্যা আছে। আমরা এভাবেই যাচ্ছি। কহন নদী পাড়ি দিত পারব বলতে পারছি না।'বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে ২০টির জায়গায় ১৬টি ফেরি চলছে। উভয় ঘাটে একটি করে ঘাট বন্ধ রয়েছে। পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাট কবে চালু হবে তা বলা মুশকিল। দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটটি এক-দুই দিনের মধ্যে চালু হবে। বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে ফেরি বন্ধ থাকায় ওই রুটের গাড়িগুলো এদিকে আসায় বাড়তি চাপ পড়ছে। | 6 |
লেবাননের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব নাজিব মিকাতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোট নিশ্চিত করেছেন। নাজিব মিকাতি প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় দেশটির কয়েক মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হলো বলে মনে করা হচ্ছে। নাজিব মিকাতি জাতীয় সংসদের ১১৮ সদস্যের মধ্যে ৭৩ সদস্যের ভোট লাভে সমর্থ হয়েছেন। সংসদের আস্থা অর্জন করার পর তিনি প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সঙ্গে বৈঠক করেন। নাজিব মিকাতি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আশা করা হচ্ছে তিনি দ্রুত লেবাননের জন্য নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। একদিন আগে তিনি লেবাননের সাবেক তিনজন প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি, ফুয়াদ সিনিওরা এবং তাম্মাম সালামের সমর্থন লাভ করেন। তিনি লেবাননের জাতীয় সংসদের স্পিকার নাবিহ বেরির সমর্থনও পেয়েছেন। এ ছাড়া, প্রগ্রেসিভ সোশালিস্ট পার্টি এবং আমাল মুভমেন্ট এবং ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সমর্থনও তিনি পেয়েছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীকে দেশের অর্থনৈতিক সংকট এবং ওষুধ ও জ্বালানির মতো মৌলিক পণ্য সংকটের মোকাবিলা করতে হবে। সূত্র : পার্সটুডে বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
শিক্ষা দিবসে ছাত্রসংগঠনের কোনো তৎপরতা না থাকায় সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এ ধারা চলতে থাকলে ছাত্রসংগঠনগুলোর জৌলুশ হারিয়ে যাবে। শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন কমিটি আয়োজিত 'শিক্ষা: ২০৪১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বাস্তবিক কৌশল' শীর্ষক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, শিক্ষা দিবস নিয়ে ছাত্রসংগঠনের কোনো কর্মসূচি নেই। আজকের দিবসটা ছাত্রসমাজের জন্য অপরিহার্য। '৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন নিয়ে আজ কজন জানেন? অথচ ছাত্রনেতারা এখন তাঁদের ক্যাম্পাস, শিক্ষা, শিক্ষার সমস্যা-এমনকি এই দিবসের তাৎপর্য নিয়ে কোনো সেমিনারও করেন না। বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোর সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই মাসের শেষেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। হলগুলোতে জীবনযাত্রা কেমন হবে তা দেখতে হবে। হলগুলোতে অছাত্ররা অবস্থান করেন। তাদের হলে থাকা বন্ধ করতে হবে। এ নিয়ে কে খুশি হলেন, কে অখুশি হলেন, তাতে কিছু যায় আসে না। শিক্ষাকে গুণগত গভীরতায় আনতে হলে এসব সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই মুহূর্তে জরুরি হচ্ছে গবেষণানির্ভর হয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে নতুন কৌশলে এগিয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে মেধাবীদের মেধার মূল্যায়ন করতে হবে, কোনো নেতার তদবিরকে গুরুত্ব দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, শিক্ষার মানের পাশাপাশি শিক্ষকদের মানও বাড়াতে হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের করোনার ক্ষতি সম্পর্কে বলেন, অতিমারিতে অনেক ছাত্রছাত্রী ঝরে গেছে। অনেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের খুঁজে বের করে আবার শিক্ষাঙ্গনমুখী করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরের নির্বাচন নিয়ে ভাবেন না। তিনি ভাবেন আগামী প্রজন্ম নিয়ে। পরের প্রজন্মের কথা মাথায় আছে বলেই তিনি আজ রাষ্ট্রনায়ক। 'পরীক্ষার্থী নয়, চাই শিক্ষার্থী-জীবিকা নয়, জীবনের জন্যই শিক্ষা প্রয়োজন' উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বাস্তবতা শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও নীতিনির্ধারকদের সবার আগে উপলব্ধি করতে হবে। আগামী দিনের রাজনীতি হতে হবে জ্ঞাননির্ভর, সে জন্য ছাত্ররাজনীতিকে জ্ঞান ও মূল্যবোধের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুনাজ আহমেদ নুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান ও আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক উপকমিটির সদস্যসচিব শামসুন্নাহার। | 9 |
শুরু হলো মার্সেলের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৮। বরাবরের মতো এই সিজনেও ক্রেতাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। সিজন-৮-এ মার্সেল ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিনলে ক্রেতাদের জন্য রয়েছে নতুন ফ্রিজ, টিভি, এসি ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স ফ্রি পাওয়ার সুযোগ। রয়েছে নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। সম্প্রতি রাজধানীতে মার্সেল করপোরেট অফিসে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৮-এর ডিক্লারেশন প্রোগ্রামে এসব সুবিধা ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ক্রেতারা এসব সুবিধা পাবেন। ডিক্লারেশন প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম সরকার, ইভা রিজওয়ানা নিলু ও এমদাদুল হক সরকার, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর অভিনেতা আমিন খান ও হেড অব সেলস সাখাওয়াৎ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নির্বাহী পরিচালক মো. ফিরোজ আলম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রায়হান, আরিফুল আম্বিয়া ও ফ্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আনিসুর রহমান মল্লিক, সিনিয়র ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহজাদা সেলিম, হোম অ্যাপ্লায়েন্সের সিইও আল ইমরান, সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর রবিউল আলম, ফার্স্ট সিনিয়র অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর রবিউল ইসলাম মিল্টন ও ফারুক আজম, মিডিয়া উপদেষ্টা এনায়েত ফেরদৌস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের সিজন-৮-এ ক্রেতারা দেশের যেকোনো মার্সেল শোরুম থেকে ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন কেনার পর পণ্যটির ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করবেন। এরপর মার্সেলের কাছ থেকে ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে ক্রেতারা ফ্রি পেতে পারেন মার্সেল ব্র্যান্ডেরই আরেকটি নতুন ফ্রিজ, টিভি, এসি কিংবা হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস। এ ছাড়া সব ক্রেতার জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় অঙ্কের নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। মার্সেল হোম অ্যাপ্লায়েন্সের সিইও আল ইমরান বলেন, বাজারে রয়েছে মার্সেলের ৪ মডেলের টপ লোড অটোমেটিক ও ম্যানুয়াল ওয়াশিং মেশিন। এগুলোর দাম ৬ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২২ হাজার টাকা। এ ছাড়া ক্রেতারা মার্সেলের মাইক্রোওয়েভ ওভেন পাচ্ছেন ১৭ হাজার ৬০০ টাকায়। আইএসও সনদপ্রাপ্ত সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের আওতায় ৭৪টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে মার্সেলের। বিজ্ঞপ্তি | 0 |
মানুষ প্লেনে উঠতে পারে না। আর আমরা কিন্তু প্লেনে করে পিয়াজ নিয়ে আসছি। কার্গো প্লেনে পিয়াজের চালান আসা শুরু হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই পিয়াজের বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা জানান মন্ত্রী। গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি-ইচ্ছুক চার শতাধিক ছাত্র চরম বেকায়দায় পড়েছে। শহরের মাত্র দুটি উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্র সংকুলান না হওয়ায় তারা ভর্তি হতে পারছে না। দূরের বিদ্যালয়ে গিয়ে সবার পক্ষে লেখাপড়া করা সম্ভব না হওয়ায় ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এই ছাত্রদের।বিয়ানীবাজার পৌরশহরের সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে অন্তত ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়েছে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৪ শতাধিক ছাত্রী। শহরে তিনটি বালিকা বিদ্যালয় থাকায় ছাত্রীদের ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।কিন্তু পৌরশহরে ছাত্রদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র দুটি। এর একটি খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যা নিকেতন এবং অপরটি পিএইচজি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়। খলিল চৌধুরী বিদ্যালয়ে সাধারণত ওই প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হচ্ছে। বাকিরা পিএইচজি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করলেও সেখানে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানে সরকারি নিয়মে মাত্র ১২০ জন শিক্ষার্থী লটারির মাধ্যমে ভর্তি হতে পারবে। এর মধ্যে এবার ২৮ জন ছাত্রী লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কান্তি তালুকদার বলেন, পৌরশহর এলাকায় ছাত্রদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংকট থাকায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরির বিকল্প নেই।পিএইচজি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল হাছিব জীবন বলেন, লটারির মাধ্যমে মাত্র ১২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবেন। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।এদিকে পৌরশহরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় অনেক ছাত্র দূরের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ খুঁজছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেক ছাত্রই ঝরে পড়তে পারে বলে মনে করছেন খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের শিক্ষক আব্দুল হাছিব। | 6 |
জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, তার মর্যাদা ধরে রাখার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের শুরুতে তিনি এ বক্তব্য দেন। শুরুতেই শেখ হাসিনা বলেন, তৃণমূলের প্রতিটি মানুষের জীবনমান ও ভাগ্য যেন উন্নত হয়, তারা যেন উন্নয়নের সুফল পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মানুষ সরকারকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছে, তার সম্মান রাখতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আপনাদের সবাইকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষগুলোই জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে। টানা তৃতীয়বারসহ চারবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আগামীতেও উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি নজরদারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, আমাদের তার মর্যাদা দিতে হবে। আমি চাই, আমরা যে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা। যত বেশি নজরদারি বাড়ানো হবে, কাজের গতি এবং কাজের মান তত বেশি ভালো হবে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন মন্ত্রিপরিষদ একটু নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়েছি। কাজেই আমরা চাই, আমাদের লক্ষ্যটা যেন আমরা অর্জন করতে পারি। ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, বৈঠকে এক হাজার ৮৯৩ কোটি টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক, যার পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৪৫ শংতাশ। বৈঠকে এক হাজার ৮৯৩ কোটি টাকার আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। | 6 |
বলিউড অভিনেত্রী শিল্প শেঠির স্বামীর পর্ন ভিডিও কেলেঙ্কারিতে নতুন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। রাজ কুন্দ্রার পর্ন ভিডিও কেসে নতুন তথ্য এসেছে মুম্বই পুলিশের হাতে। বৃহস্পতিবার রাজ-শিল্পার বাড়িতে রেড করে পুলিশ। আর তারপরই তাদের হাতে উঠে আসে ৭০টি পর্ন ভিডিও। এগুলো বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউজের সাহায্য নিয়ে তৈরি করেছিলেন রাজের প্রাক্তন পিএ উমেশ কামাত। রাজ ও উমেশের হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট থেকে জানা গেছে গুগল প্লে স্টোর থেকে হটশটস অ্যাপ সরিয়ে দেয়ার পর তারা এই ভিডিওগুলো রাখার আরো সংরক্ষিত জায়গার খোঁজে ছিলেন। সাথে, সফট পর্ন ভিডিও তৈরির পরিকল্পনাও করছিলেন তারা। রাজ-শিল্পার বাড়ি থেকে একটি সার্ভারও উদ্ধার করেছে পুলিশ। যা পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিক ল্যাবে। খতিয়ে দেখা হবে এই সার্ভার থেকেই পর্নোগ্রাফি ভিডিও রাজ কুন্দ্রার ইউকের কোম্পানি কারনিনে পাঠানো হত কি না। ভিয়ান ইন্ডাস্ট্রিসে অফিস এবং জেএল স্ট্রিম-এর অফিসে তল্লাসি চালিয়েও রাজ কুন্দ্রা এবং তার ভায়রাভাই প্রদীপ বকসীর ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য এসেছে পুলিশের হাতে। যেখানে তারা কারনিন অ্যাপে আপলোড হওয়া পর্ন ক্লিপের সাবস্ক্রিপশন পেমেন্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আর সেখান থেকেই পুলিশের হাতে তথ্য উঠে এসেছে রাজ জানতেন হটশটস অ্যাপে যে ভিডিও আপলোড করা হয় তা বেআইনি। ২০২০ সালের শেষের দিকে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যপেলের অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল হটশটস অ্যাপ। যা নিয়ে ই-মেইলে খারাপ খবর হিসেবে এটাকে জানিয়েছিলেন প্রদীপ বকসী। উত্তরে রাজ লিখেছিলেন, 'কোনো চিন্তা নেই। প্ল্যান বি-র কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। খুব বেশি হলে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই নতুন অ্যাপ আইওএস ও অ্যান্ড্রয়ড প্ল্যাটফর্মে লাইভ হয়ে যাবে।' উমেশের সাথেও এই নিয়ে কথা বলেছিলেন রাজ। হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটে লিখেছিলেন, 'বিএফ শুরু হওয়ার আগে চেষ্টা করে দেখা যাক যেভাবেই হোক এইচ্সকে চালু রাখার। আপাতত অত্যধিক বোল্ড ভিডিওগুলো সরিয়ে নেয়া যাক।' মুম্বই পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে, এই চক্রের মূল মাথা রাজই। আর তার বিরুদ্ধে ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে। তবে, সাথে একটা প্রশ্নও উঠছে, সত্যি কি এই ব্যাপারে কিছু জানতেন না শিল্পা। বাড়িতে থাকা পর্ন ভিডিওগুলোও কী করে তার অজানা থাকতে পারে!সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 2 |
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠাতে সরকারের তরফ থেকে যে আইনি বাধার কথা বলা হচ্ছে, সেই আইনের মাধ্যমেই সরকার তাঁকে বিদেশে পাঠাতে পারে বলে পুনরায় মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন, খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তারা (সরকার) আইন দেখাচ্ছে। যে আইন দেখাচ্ছে, সেই ৪০১ ধারায় পরিষ্কারভাবে বলা আছে, সরকারই পারে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে। আইন কোনো বাধা নয়, বাধা হচ্ছে সরকার, যারা জনগনের দ্বারা নির্বাচিত নয়, যারা জনগনের সঙ্গে প্রতারণা করে ভুল বুঝিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে।বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা সাজানো মামলা। কোনোভাবেই তাঁকে সাজা দেওয়া যায় না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে, প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে কারও গণতান্ত্রিক অধিকার নেই, বাক্স্বাধীনতা নেই। আজকে আইনের শাসন তিরোহিত। দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইন-আদালতকে হাতের মধ্যে নিয়ে বিচারব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, 'আমরা ভুলে যাইনি, যে নির্বাচনব্যবস্থাকে এই দেশের মানুষ গ্রহণ করে নিয়েছিল, সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানকে বাতিল করেছে এই আওয়ামী লীগ, যাতে তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা রেখে বশংগত নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভুয়া নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বারবার ফিরে আসতে পারে। খালেদা জিয়ার প্রতি এত রাগ কেন তাদের? কারণ, তারা জানে, খালেদা জিয়া হচ্ছেন সেই বাঁশিবাদক, হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো যিনি বেরিয়ে এলে, গণতন্ত্রের সংগ্রামের জন্য ডাক দিলে-লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসবে। সে জন্যই তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে।' জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, আহমেদ আজম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সাবেক সাংসদ নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার প্রমুখ। প্রতিবাদ সভা শেষে আগামী রোববার সারা দেশের সব বারে (আইনজীবী সমিতি) বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা অনশন কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানানো হয়। | 9 |
'মুজিববর্ষের সফলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা'-প্রতিপাদ্যে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতন থাকা, ভূমিকম্প ও বজ্রপাতসহ যেকোনো বিপদে আতঙ্কিত না হয়ে মোকাবিলা করার কৌশল মহড়াসহ দেখানো হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:বগুড়া: দিবসটিতে গতকাল সকালে সাতমাথা থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শেষে আলোচনা সভা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক।সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুম আলী বেগের সভাপতিত্বে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রোভার ও স্কাউট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।শিবগঞ্জ: উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম সম্পা।ধুনট: উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুর্যোগ প্রস্তুতির মহড়া এবং ইছামতি হলরুমে আলোচনা সভা হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত। ধুনট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আলিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র এ জি এম বাদশাহ।সারিয়াকান্দি: উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সারিয়াকান্দি ফায়ার স্টেশনের উদ্যোগে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে কীভাবে সামাল দেওয়া হয়, তার কয়েকটি মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া দিবসটিতে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা হয়। এতে উপজেলা ইউএনও মোহাম্মদ রেজাউল করিম সভাপতিত্ব করেন।চৌহালী (সিরাজগঞ্জ): উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আয়োজনে চৌহালী সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক সরকার। ইউএনও আফসানা ইয়াসমিন এতে সভাপতিত্ব করেন।কালাই (জয়পুরহাট): উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ-বিষয়ক মহড়া হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনফুজুর রহমান মিলন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টুকটুক তালুকদার।আক্কেলপুর: দিবসটিতে আলোচনা সভা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড-বিষয়ক মহড়া হয়েছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম হাবিবুল হাসানের সভাপতিত্বে ওই আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকছেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ও রুকিন্দীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহসান কবির প্রমুখ। | 6 |
আইসিসির ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেল আরও দুই দল। দল দুটি হলো-যুক্তরাষ্ট্র এবং ওমান। ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ায় এখন থেকে টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর সঙ্গে খেলতে পারবে তারা। ক্রিকেট কাউন্সিলের সহযোগী সদস্য দেশ নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগে হংকংকে ৮৪ রানে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর নামিবিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এই মর্যাদা অর্জন করেছে মুসলিম দেশ ওমান। ইউনাইটেড ক্রিকেট ক্লাবে হাভিয়ের মার্শালের প্রথম আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ উইকেটে ২৮০ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ৭ উইকেটে ১৯৬ রানেই থামে হংকংয়ের ইনিংস। দিনের আরেক ম্যাচে ৯ উইকেটে ২১৩ রানেই থামে নামিবিয়ার ইনিংস। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওমান। দিনের দ্বিতীয় দল হিসেবে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়েছে ওমান। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ মিনিট পর তারা এই মর্যাদা লাভ করে। চার বছর আগে টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস অর্জন করে ওমান। | 12 |
পুলিশিংয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুপারভিশন ও মনিটরিং বাড়িয়ে জনগণকে দ্রুততম সময়ে উন্নত সেবা প্রদানের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ডিএমপিতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের তৃতীয় ও শেষ দিনে সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন তিনি। আইজিপি বলেন, একটি সু-শৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শৃঙ্খলার সঙ্গে 'ওয়েলফেয়ার'কে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশের প্রশিক্ষণে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রশিক্ষণকে আরও প্রায়োগিক এবং কাঠামোবদ্ধ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ডসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পুলিশ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সমূহের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাতে আমাদের পুলিশ সদস্যরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে জনগণকে আরও উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবা দিতে পারে। পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ সাধনের জন্য তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন। উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের 'ফিউচার লিডার্স' আখ্যায়িত করে আইজিপি বলেন, আমরা অনেক দূরে এসেছি, বাংলাদেশ পুলিশকে বহুদূর নিয়ে যেতে হবে। দেশ ও দেশের জনগণকে সেবা দেয়ার চেতনা নিয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। গর্ব নিয়ে চাকরি করতে হবে, চাকরিতে 'প্রাইড' নিয়ে আসতে হবে। ডিএমপিকে 'মিরর অব বাংলাদেশ পুলিশ' অভিহিত করে আইজিপি বলেন, এই ইউনিটের গুরুত্ব উপলব্ধি করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত আইজি ড. মইনুর রহমান চৌধুরী, এসবি প্রধান মীর শহীদুল ইসলাম, সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
নাটোরের লালপুরে মোহরকয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রীকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় স্বামী আব্দুল জব্বার। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জব্বার হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এসব তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, গত ১৭ জুলাই উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের বাড়ির পাশে পুকুর থেকে স্মৃতি খাতুনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় স্মৃতির পিতা সেলিম আলী বাদী হয়ে মোহরকয়া গ্রামের ইসাহাক প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল জব্বারকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে লালপুর থানার পুরাতন ঈশ্বরদী এলাকা থেকে গত ২১ জুলাই আব্দুল জব্বারকে গ্রেফতার করে লালপুর থানা পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক জুবায়ের, ডিবির ওসি আনারুল ইসলাম প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
শনাক্তের প্রায় ২৮ বছর পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অধিকাংশ এলাকা এখন অনেকটা আর্সেনিকমুক্ত। সরকার নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারিভাবে ২৬টি উৎস থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে নিরাপদ আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করতে পারছে তিন গ্রামের মানুষ।জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রাম নামক গ্রামে কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পায়। এরপরই সেই গ্রামে আসে 'ব্রতী' নামের একটি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে কীভাবে বাংলাদেশে প্রথম আর্সেনিক শনাক্ত গ্রামের বাসিন্দাদের আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ করা যায়।গ্রামবাসীর জন্য আর্সেনিক পানির ভয়াবহতা দূর করতে ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে মহানন্দা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে তারা। প্রাকৃতিক উপায়ে ফিল্টার করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে সংগঠনটি। বর্তমানে তারা বারোঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রাম, লাহারপুর ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রায় পাঁচ শ পরিবারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে।ব্রতী পানি বিশুদ্ধ করতে প্রয়োগ করছে প্রাকৃতিক পদ্ধতি। পাথর ও বালু দিয়ে নদীর পানি বিশুদ্ধ করে সরবরাহ করছে আশপাশের তিনটি গ্রামে। নদী থেকে সংগ্রহ করা ফিল্টার পানি ওই গ্রামের মানুষ খাবার, রান্না ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করছেন। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে নদীর পানি বিশুদ্ধ করে সরবরাহ করায় দেশের প্রথম আর্সেনিক শনাক্ত গ্রামের চিত্র পাল্টেছে। ব্রতীর এ কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে গ্রামটিতে কেউ নতুন করে টিউবওয়েল স্থাপন করছেন না।চামাগ্রাম গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, দেশের মধ্যে এ গ্রামে প্রথম আর্সেনিক ধরা পড়ার পর বেসরকারি সংস্থা ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক গ্রামের আর্সেনিকের অবস্থা দেখতে আসেন। এরপর তিনি গ্রামবাসীকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার উদ্যোগ নেন। মহানন্দা নদী থেকে পাইপ দিয়ে আধা কিলোমিটার দূরে তাদের অফিসের পাশে পানি ফিল্টারের জায়গায় পানি উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর পানি ফিল্টার করার পর বাড়ি বাড়ি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে তারা।সাইদুর রহমান আরও বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাওয়া গেছে ব্রতীর সরবরাহ করা পানি ১০০ ভাগ বিশুদ্ধ। তবে আগে পানির বিল ১২০ টাকা ও সংযোগ নিতে ১৫০ টাকা লাগত। তবে এখন তা বাড়িয়ে পানির বিল ৩৫০ টাকা ও সংযোগ ফি ৪০০ টাকা করা হয়েছে। এতে গ্রামবাসীর একটু কষ্ট হচ্ছে।গত ১০ বছর ধরে ব্রতীর পানি ব্যবহার করে একরামুল হকের পরিবার। একরামুল হকের স্ত্রী আকলিমা বেগম বলেন, এই পানি পাওয়ার পর থেকে তাঁরা নলকূপ বা কুয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা-ব্রতীর ফিল্ড ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চামাগ্রামে আর্সেনিক শনাক্তের পর থেকেই ব্রতী এ এলাকায় বাড়ি বাড়িতে আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে কাজ শুরু করে। এর পর থেকে সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পানি সরবরাহ করছেন তাঁরা। ভবিষ্যতে পানি সরবরাহের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার সরকার বলেন, বর্তমানে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে সরকার থেকে ২৬টি করে পানির উৎস দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে যে এলাকার জন্য যেমন প্রযুক্তি দরকার, তেমনি প্রযুক্তিসম্পন্ন পানির উৎস দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রত্যেক উপজেলায় পানির উৎস বিবেচনায় একটি করে স্কিম করা হচ্ছে। এতে ওই এলাকার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।অমিত কুমার সরকার বলেন, 'আমাদের সাধারণত ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ আসে। এগুলো উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি মহোদয় দিয়ে থাকেন। তাঁদের অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে দেশের প্রথম আর্সেনিক শনাক্ত হওয়া বারোঘরিয়ার চামাগ্রামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।' | 6 |
রাজশাহীতে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের হেরোইনসহ মাহমুদ হাসান রাব্বেল (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আজ বৃহস্পতিবার র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রাব্বেল বেলপুকুর থানার আগলা গ্রামের বাসিন্দা।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় রাজশাহীর বেলপুকুর থানার ভাঙা দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাব্বেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৫-এর রাজশাহীর মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের একটি দল এ অভিযান চালায়।এ বিষয়ে রাব্বেলের বিরুদ্ধে বেলপুকুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। | 6 |
বিজয় দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে গান গাইবেন দিলশাদ নাহার কনা। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এশিয়াটিক ইভেন্ট আয়োজিত বিশেষ এই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আরও অনেক সংগীতশিল্পী গাইবেন বলে জানিয়েছেন কনা। তিনি বলেন, 'জন্মের পর থেকে যেসব গান শুনে বড় হয়েছি, বেড়ে উঠেছি, সেসব গানই গাইব আমরা। গানগুলোর নতুন সংগীতায়োজন করছেন আমাদের সবার প্রিয় বাপ্পা মজুমদার। এরই মধ্যে আমরা রিহার্সালেও অংশ নিয়েছি। অনুষ্ঠানটি নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত আমরা। আশা করছি একটি চমৎকার অনুষ্ঠান হবে।''রক্ত দিয়ে কিনেছি বাংলা', 'বাংলায় গান গাই', 'চল চল চল'-শ্রোতাপ্রিয় এমন ২৬টি দেশাত্মবোধক গান নতুন করে সংগীতায়োজন করছেন বাপ্পা মজুমদার। আগামী ১৬ ডিসেম্বর সংসদ ভবনের সামনে এক ঘণ্টার বিশেষ একটি লাইভ পারফরম্যান্স হবে, সেখানে দেশের নবীন-প্রবীণ ১০০ কণ্ঠশিল্পী গাইবেন গানগুলোর অংশবিশেষ। দুই সপ্তাহ ধরে চলছে রেকর্ডিং।এদিকে, ২৫ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন কনা ও ইমরান। স্টেজ শোর মৌসুম শুরু হওয়ার পর কনা আবারও পুরোনো ছন্দে মঞ্চে ফেরার চেষ্টা করছেন।স্টেজ শোর পাশাপাশি তিনি মৌলিক গান, ছবির গান ও জিঙ্গেলেও কণ্ঠ দিচ্ছেন। এসব নিয়ে তাঁর নিয়মিত ব্যস্ততা তো রয়েছেই। কিছুদিন আগে কনা ও ইমরানের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে রবীন্দ্রসংগীত 'আমারও পরান যাহা চায়'।সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছে কনার গাওয়া 'ফিরে যেতে চাই আমি' গানের ভিডিও। | 6 |
অভাব-অনটনের সংসার। স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। জায়গাজমির মধ্যে রয়েছে কেবল ভিটেমাটি। চারজনের এ সংসারে দু'বেলা দু'মুঠো ডাল-ভাতের আশায় পৈতৃক পেশা ঘানিতে সরিষা ভেঙে তেল উৎপাদনের কাজ শুরু করেন শেরপুরের পাকুড়িয়া চকপাড়া গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব সাজন মিয়া। কিন্তু ঘানির জন্য একটি গরু বা মহিষ কেনার সামর্থ্যও ছিল না তাঁদের। অনন্যোপায় হয়ে নিজেই ঘানির জোয়াল কাঁধে নেন সাজন। সঙ্গে স্ত্রী মোছা. বেগম। কিন্তু এতেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে। অনেকটা বাধ্য হয়েই সারা দিন কাঁধে ঘানির জোয়াল বয়ে নেওয়ার পরও প্রতিদিন সন্ধ্যার পর রিকশা চালাতে হয় গৃহকর্তা সাজন মিয়াকে।৩৫ বছর ধরেই চলছে এ দরিদ্র দম্পতির জীবনসংগ্রাম। পাঁচ বছর আগে একটি গরু কিনেছিলেন। পরে অভাবের কারণে বিক্রি করে দিতে হয়। ছেলে ও মেয়ে এখন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকে। তাদের আয় দিয়ে নিজেদেরই ঠিকমতো চলে না। বন্ধ করতে পারছেন না ঘানির জোয়াল। চালাতে হচ্ছে রিকশাও। কঠিন জীবনযুদ্ধে পেটের দায়ে মানুষ হয়েও পশুর পরিবর্তে ঘানির জোয়াল কাঁধে নিয়ে অনবরত তাঁদের নিজেদেরই ঘুরতে হচ্ছে ঘানির চক্রে। এ যেন আরেক জীবনচক্র।সকাল সাতটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত একটানা ঘানি টেনে ১০ কেজি সরিষা ভাঙতে পারেন। এক হাজার টাকায় কেনা এ সরিষা থেকে তিন লিটার তেল হয়। আর খৈল হয় ছয় কেজি। চার শ টাকা লিটার দরে তিন লিটার সরিষার তেল ও ৪০ টাকা দরে ছয় কেজি খৈল বিক্রি করে লাভ হয় সাড়ে চার শ টাকার মতো।মো. সাজন মিয়া বলেন, 'কষ্ট কইরা কোনোমতে চলতেছি। পশুর কাম আমরা করি। গরু কিনার মতো টাকা তো আর নাই। এহন বয়স হইয়া যাইতাছে, আগের মতো আর ঘানি টানতে পারি না। খুব কষ্ট হয়। থাহার ঘরটাও ভাঙা।' মোছা. বেগম বলেন, 'আমার দাদা ঘানি টানছে, মা টানছে। এহন গরু কিনার ট্যাহা-পয়সা নাই বইলা আমিও টানতাছি। আর এত সময় ঘানি টানার পর এহন আমার মা শ্বাসকষ্টসহ অনেক অসুখে পড়ছেন। আমরাও আস্তে আস্তে অসুস্থ হইয়া পড়তাছি। সরকার যদি একটু সাহায্য-সহযোগিতা করত, খুব উপকার হইত।বেগম-সাজন দম্পতির দীর্ঘদিনের এই কষ্টের লাঘব চান স্থানীয়রাও। মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অনেক দিন থেকেই দেখতাছি এরা খুব কষ্ট করে ঘানি টানে। একটা গরু না থাকায় গরুর কাজটা স্বামী-স্ত্রী মিলে করতাছে। দেইখা খুব খারাপই লাগে। স্থানীয় মো. খলিল মিয়া বলেন, কেউ যদি একটা গরু দিত, তাহলে তাঁদের কষ্টটা লাঘব হতো।বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মোমিনুর রশীদ। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। সেই সঙ্গে এ পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছি। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তাঁদের একটি গরুর ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আর পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলেছি, একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে। আশা করছি, তাঁদের এই দুর্ভোগ আর থাকবে না। | 6 |
পারিবারিক কলোহের জের ধরে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা দ্বিতীয় স্ত্রী জোসনা বেগমকে (৩৫) হত্যার পর চার টুকরো করে লাশ বস্তায় ভরেন তাফালবাড়ী ক্যাম্পে কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবল। এছাড়া পেট কেটে গর্ভের ভ্রুণ পলিথিনে প্যাকেট করে গুম করতে গিয়ে আটক হয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট খবর: অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ গুম করতে গিয়ে পুলিশ সদস্য আটক শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, জোসনা বেগমের কাছেই থাকতো তার প্রথম পক্ষের এক মাত্র ছেলে সন্তান জিসান ( ১০)। তাফালবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন ভাড়া বাসায় শিশু জিসান প্রতিবেশী একটি শিশুর সাথে বুধবার বিকালে হাতাহাতি করে। ওই শিশুটি পুলিশ কনষ্টেবল সাদ্দামকে বিষয়টি জানালে সে জিসানকে কান ধরে ওঠবস করায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্ত্রী জোসনা স্বামীকে গালাগাল করতে থাকে। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চরমে উঠলে বৃহস্পতিবার ভোরে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জোসনাকে ভাড়া বাসায় প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সাদ্দাম। পরে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। কাটা হয় দুই হাতের কবজি। পেট কেটে গর্ভের ছয় মাসের ভ্রুণ বের করে পলিথিনে প্যাকেট করা হয়। এর পর স্ত্রী চার টুকরো লাশ এবং ভ্রুণ বস্তাবন্দী করে রেখে দেয়া হয় ঘরে। লাশ গুম করার জন্য পাশের বলেশ্বর নদী বা মাটিতে পুতে ফেলার অপেক্ষায় ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল সাদ্দাম। কিন্তু সেই সুযোগের আগেই ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। কাজের বুয়া বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ওই বাসায় গিয়ে দেখতে পান পুলিশ কনস্টেবল সাদ্দাম একটি বস্তায় টুকরো-টুকরো লাশ ভরছে। এসময়ে সাদ্দাম তাকে অর্থের প্রলোভন দিয়ে কাইকে বিষয়টি না জানাতে বলে। কাজের বুয়া ওই বাসা থেকে বের হয়ে বিষয়টি স্থানীয় লোকজনদের জানায়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি শরণখোলা থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে কনস্টেবলের বাসা থেকে ভ্রুণসহ বস্তাবন্দী জোসনার চার টুকরো লাশ উদ্ধার করে। এসময় গ্রেফতার করা হয় তাফালবাড়ী ফাঁড়ির কনস্টেবল ঘাতক সাদ্দাম হোসেনকে (৩০)। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক সাদ্দাম হত্যাকাণ্ডের এসব তথ্য জানিয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরো বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে বলেও জানান ওসি।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
দেশে ফেরা প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে বিমানবন্দর এলাকা থেকেই স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সাসহ সর্বস্ব লুটে নিতেন তাঁরা। এই আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার তৈয়ব আলী। তিনি একটি উপজেলার বিএনপির শ্রমিক দলের সভাপতি। তাঁর নামে টাঙ্গাইলে ৪০ লাখ টাকার একটি ডাকাতি মামলাসহ একটি খুনের মামলাও রয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে ডাকাতিসহ আরও ছয়টি মামলার আসামি তিনি।প্রবাসীদের টার্গেট করে একটি আন্তজেলা ডাকাত চক্র বেশ কিছুদিন ধরে সক্রিয় বলে অভিযোগ পায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীসহ মাদারীপুর ও ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবির উত্তর বিভাগ।আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার কে এম হাফিজ আক্তার।ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, বিএনপির শ্রমিক দলের সভাপতির আড়ালে তৈয়ব আলী ডাকাতি করার মাধ্যমে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ জন্য তাঁর নামে একটি মানি লন্ডারিং মামলা হবে।ডাকাত চক্রের প্রধান তৈয়ব আলীর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি বিলাসবহুল বাড়িসহ দুটি প্লট রয়েছে। একটি দামি গাড়ি রয়েছে। নম্বর-প্লেট পরিবর্তন করে ডাকাতির কাজে এই গাড়ি ব্যবহার করেন তিনি। তাঁর সহযোগী মিলন সরদারেরও একটি চারতলা বাড়ির সন্ধান পেয়েছে ডিবি।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তৈয়ব আলী (৪২), তাঁর স্ত্রী রিমা আক্তার হ্যাপি (২৪), মিলন সরদার (৩০), মনির হোসেন (৪৩) ও বিপুল দেবনাথ (৪৩)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি অস্ত্র, দুটি গুলি, একটি ম্যাগাজিন, একটি ওয়ারলেস, একটি হ্যান্ডকাফ, নগদ ২৩ হাজার টাকাসহ ডাকাতি করা ১ কেজি ৩৬৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।হাফিজ আক্তার বলেন, চক্রটি সকালে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের টার্গেট করেই ডাকাত করে। প্রবাসী যাত্রীরা বিদেশ থেকে কম দামে কিছু স্বর্ণ নিয়ে আসেন। পরে তাঁরা দেশে অনেক দামে বিক্রি করেন। তবে এই চক্র প্রবাসীদের টার্গেট করেই সর্বস্ব লুটে নেয়।অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, তাঁরা বিমানবন্দরের ভেতর থেকে কোনো তথ্যই পান না। কিন্তু বিমানের শিডিউলগুলো ফলো করেন। এ ছাড়া দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটগুলো তাঁরা লক্ষ্য করেন বেশি। এতে প্রবাসীসহ বিদেশি যাত্রীরাই বেশি আসেন।হাফিজ আক্তার বলেন, প্রবাসী রাসেল ও সাইফুল গাবতলী যাওয়ার উদ্দেশে কাওলা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে মিরপুর বেড়িবাঁধে যাওয়ার পথে আব্দুল্লাহপুর থানার বেড়িবাঁধ রোডে সিলভার রঙের একটি গাড়ি তাঁদের অটোরিকশার গতি রোধ করে। পরে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে সবকিছু নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে।ডিবি কর্মকর্তা বলেন, এই ডাকাত দলের সদস্যদের টার্গেটই থাকত ভোরে যাঁরা এয়ারপোর্ট থেকে বিভিন্ন এলাকায় যান তাঁদের। তাঁরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ডাকাতি করে আসছিলেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত তৈয়ব আলী কামরাঙ্গীরচর বিএনপির শ্রমিক দলের নেতা ছিলেন।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির প্রধান বলেন, ওই ঘটনায় এয়ারপোর্টের কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন কি না, তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, তাঁরা নাকি প্রবাসীদের চলাফেরা বা আকার-ইঙ্গিতে বুঝতে পারেন কাদের কাছে মূল্যবান জিনিস আছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনা অনেকেই থানায় জানান না। এ জন্য আমরা বিস্তারিত জানতে পারি না। আমরা মনে করি, এ ধরনের ডাকাতির ক্ষেত্রে থানায় বিস্তারিত জানানো উচিত। | 6 |
সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে বিদ্যুতায়িত হয়ে আল আমিন (২১) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই আরিফ হোসেন।নিহত আল আমিন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের সুখনগরী দ্বীপচর গ্রামের লুৎফর মিয়াসাবের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।আল আমিনের চাচাতো ভাই আরিফ হোসেন বলেন, 'আল আমিন তাঁর রুমে লাইট লাগাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়। পরে সহকর্মীরা উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।'আরিফ হোসেন আরও বলেন, 'মাত্র আট মাস আগে স্বপ্নপূরণের আশায় অল্প বয়সেই বিদেশ পাড়ি জমান আল আমিন। অতি দ্রুত যেন তাঁর মরদেহ বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।'এ সংবাদে বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা ফকরুল ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি আমি শুনেছি। তাদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।' | 6 |
ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় শনিবার দিবাহত রাতে স্প্যানিশ লা লিগায় বার্সেলোনাকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হয়ে গোলটি করেছেন লুইস সুয়ারেজ ও থমাস লেমার। ম্যাচের ২৪ মিনিটে লেমারকে দিয়ে গোল করান সুয়ারেজ। আর ৪৪ মিনিটে নিজে বল জালে জড়ান এ উরুগুইয়ান কিংবদন্তি। নিজের সাবেক ক্লাব বার্সাকে হারিয়ে কোচ রোনাল্ড কোম্যানের উপর কয়েকদিন ধরে যে অমানসিক চাপ যাচ্ছে তা আরও বাড়িয়ে দিলেন সুয়ারেজ।শুধু যে চাপ বাড়ালেন তা নয়, এ মৌসুমের আগের মৌসুমে কোম্যান তাকে যে ভাবে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মূলত নিজ পায়ে কুড়াল মেরেছেন সেটিও বুঝিয়ে দিলেন। সুয়ারেজ মূলত কোম্যানকে মনে করিয়ে দিয়েছেন কীভাবে একটি ফোন কলেই তার বার্সা ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিয়েছিলেন কোম্যান তাছাড়া ঝোপ বুঝতে পরে কোম্যানের ওপর কোপও মেরেছেন তিনি। মানে তাকে কোম্যান যেভাবে অপদস্ত করেছিল সেটির জবাব দিয়েছেন সুয়ারেজ গোল উদযাপন করে। বার্সার বিপক্ষে গোল করার পর নিজের গোলটি তিনি উদযাপন করেন, কাউকে ফোন করছেন এমন ভঙ্গিতে। এর মাধ্যমে সুয়ারেজ মূলত কোম্যানকে মনে করিয়ে দিয়েছেন কীভাবে একটি ফোন কলেই তার বার্সা ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিয়েছিলেন কোম্যান। এ ছাড়া সুয়ারেজ ম্যাচ শেষে বলেছেন বার্সাকে হারিয়েও তিনি উদযাপন করেননি। কারণ, বার্সার প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা আছে। এই কথার মাধ্যমে মূলত কোম্যানের উপর সমর্থকদের তাতিয়ে দিলেন সুয়ারেজ। কারণ, এখন স্বাভাবিকভাবেই বার্সা সমর্থকরা বলবে, সুয়ারেজ থাকলে দলের অবস্থা অন্তত এত খারাপ হত না। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আতলেতিকোর বিপক্ষে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়শূন্য রইলো বার্সেলোনা, এর তিনটিতেই পরাজয়। এর মধ্যে লা লিগায় চার ম্যাচে দুটি করে হার ও ড্র। আর ২০২১ স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে ৩-২ গোলে হেরেছিল কাতালান ক্লাবটি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 12 |
তেরো বছর বয়সী একটি শিশুকে গুলি করে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো পুলিশের এক কর্মকর্তা। রাজ্যটির পুলিশ জবাবদিহিতা ব্যুরো সেই গ্রাফিক বডি-ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশ করেছে। ভিডিও প্রকাশের পর শহরে ছোট আকারে একটি বিক্ষেভ মিছিল হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, অ্যাডাম টোলেডো নামের ওই শিশুকে গুলি করার আগে তাকে লক্ষ্য করে পুলিশ কর্মকর্তা 'ফেলে দাও' বলে চিৎকার করছে। গত ২৯ মার্চ এ ঘটনা ঘটে। ওই শিশুটিকে কোনও অস্ত্র ধরে থাকতে দেখা যায়নি, কিন্তু পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওতে তার পাশে একটি অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে। খবর আলজাজিরার। ভিডিও প্রকাশের পর শিকাগোর মেয়র সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বৃহস্পতিবার শহরটিতে ছোট আকারের বিক্ষোভ হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল মিনিয়াপোলিস উপশহরে ডন্টে রাইট নামে এক কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করে হত্যা করে এক পুলিশ কর্মকর্তা। জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চওভিনের বিচার চলার মধ্যে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের জেরে শহরটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যেই প্রকাশ পেলো ১৩ বছর বয়সী শিশুকে হত্যার ভিডিও। প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে পুলিশ কর্মকর্তা নিজেদের বহরের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে বের হয়ে ওই শিশুটিকে একটি অন্ধকার গলিতে ধাওয়া করছেন। ওই সময়ে অপর এক সন্দেহভাজনকে দৃষ্টির বাইরে চলে যেতে দেখা যায়। পুলিশ কর্মকর্তা চিৎকার করে বলছেন, 'পুলিশ! থামো, এই মুহূর্তে থামো। হাত! হাত দেখাও।' শিশুটি ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজের হাত উচু করে ধরে। কর্মকর্তা আবারও চিৎকার করেন 'ফেলে দাও'। এরপরই তিনি গুলি করেন- নিজের গাড়ি থেকে বের হওয়ার ১৯ সেকেন্ডের মাথায়। টোলেডোর পরিবারের আইনজীবী আডিনা ওয়েস ওরটিজ বলেন, টোলেডোর পুলিশের নির্দেশ মেনে চলেছে। নিজের অস্ত্র ফেলে দিয়েছে। হাত উঁচু করে পুলিশের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পুলিশ সরাসরি তাকে গুলি করল। | 3 |
বাহরাইনে নানা আনুষ্ঠানিকতায়বাংলাদেশ স্কুল প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূতি ও রজতজয়ন্তী শুক্রবার (১ অক্টোবর) স্কুল মিলনায়তনে পালন করা হয়। স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সনজিদ কুমার শীলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মো. নজরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম কাউন্সিলর শেখ মো. তৌহিদুল ইসলাম ও দূতাবাসের প্রথম সচিব হারুন অর রশিদ। এছাড়াও এতে বক্তব্য রাখেন স্কুল অভিভাবক কাউন্সিলের সদস্য আইনুল হক,পরিচালনা পর্ষদের সদস্য প্রকৌশলী জয়নুল আবেদীন, স্কুলের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুরাইয়া শারমিন। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে স্কুলের কাজ যত দ্রুত সম্ভব তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সদস্য ফুয়াদ তাহের শান্তনু, অভিভাবক কাউন্সিল সদস্য সেলিম, হাসান,জালাল, প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ, স্থপতি ফারিয়াল খান,ড. শাহ আলম, প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরসহ বাহরাইনে বাংলাদেশ স্কুলের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 4 |
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, সরকার দেশের এক কোটি মানুষকে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দিচ্ছে। এতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে প্রকৃত লোকজন এ সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা তদারক করতে হবে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজারের জুড়ী এবং বড়লেখা উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে উফশী আউশ ধানের বীজ ও সারসহ ভর্তুকি মূল্যে কৃষিযন্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ঢাকা থেকে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, 'একসময় দেশ গরিব ছিল, ভিক্ষুকের দেশ ছিল। অনেকে ঠাট্টা-মশকরা করত। এখন আর সেই দিন নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা এখন ৪ কোটি ৫০ লাখ টন খাদ্য উৎপাদন করছি।' অতীতে ভর্তুকি মূল্যে দেওয়া কৃষি যন্ত্রগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, এসব যন্ত্র কেউ বিক্রি করে দিয়েছেন কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। কেউ যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার না করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতেও বলেন তিনি। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জুড়ী উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোনিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রঞ্জিতা শর্মা, ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও উপকারভোগী কৃষক মনিরুল ইসলাম। এদিকে বড়লেখার ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ প্রমুখ। কৃষি বিভাগ জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের খরিফ-১ মৌসুমে উফশী আউশ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় ৩ হাজার ৬০০ জন ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষককে বিনা মূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জুড়ীতে দুটি কম্বাইন হারভেস্টার ও দুটি পাওয়ার প্রেশার এবং বড়লেখায় পাঁচটি কম্বাইন হারভেস্টার, দুটি রিপার ও দুটি পাওয়ার প্রেশার যন্ত্র বিতরণ করা হয়। | 6 |
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চকঝগড়- স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেইন গেট বন্ধ করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টির পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হতে না পেরে ক্ষোভে তিনি বিদ্যালয়টির শিক্ষাকার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই ক্ষমতার জোরে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম এলাকাবাসীর কথা না শুনে জোরপূর্বক দোকানঘর নির্মাণ করছেন। কেউ বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। মেইন গেট ভাঙচুর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, চেয়ারম্যান মো. তরিকুল ইসলাম স্কুলের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে সরকারি অর্থে মূল গেটটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার তিনি সভাপতি হতে না পারায় গেট ভেঙে দোকান ঘর তৈরি করছেন। তবে তিনি স্কুলের পেছনে গেট তৈরি করে দিতে চাইছেন। কিন্তু বর্তমান মূল গেটটি বন্ধ হলে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট হবে। এদিকে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দৌলত আলী বলেন, বছর খানেক আগেও চেয়ারম্যান এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। সেসময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে সুদর্শন গেটটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। এমনকি বিদ্যালয়ের অধিকাংশ সম্পত্তিই চেয়ারম্যানের ভাই ও বাবা দান করেছেন। তবে এবার সভাপতি হতে না পেরে চেয়ারম্যান এমন গর্হিত কাজ করছেন। এ প্রসঙ্গে বালিয়াডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মো. তরিকুল ইসলাম জমিটি নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে বলেন, চকঝগড়- স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটক ভাঙা হলেও নিজ খরচে দক্ষিণ দিকে গেট নির্মাণ করে দেওয়া হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে একটি মহল তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্র করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 6 |
কক্সবাজারে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার মূল আসামি আশিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।কক্সবাজারে হোটেলে দুই দিন ধরে স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর মামলা করলে পুনরায় ধর্ষণ করে তাকে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছিল অভিযুক্ত আশিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মো. আশিক র্যাবকে এ তথ্য দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-১৫ এর কক্সবাজার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার। খায়রুল ইসলাম সরকার আরও জানান, হোটেলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর র্যাবের একটি দল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা এলাকায় এ অভিযান চালায়। এ সময় ধর্ষণে অভিযুক্ত কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আশিককে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। আরও পড়ুনস্কুলছাত্রীকে হোটেলে আটকে ধর্ষণ, কক্সবাজারে আরেক আশিক গ্রেপ্তার র্যাব-১৫ অধিনায়ক বলেন, কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনে একটি আবাসিক হোটেলে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে জিম্ম করে ধর্ষণ করে মো. আশিক নামে এক যুবক। জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় ওই ছাত্রী। এরপর ছাত্রীর বাবা সদর থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সংলগ্ন মামস্ নামের এক আবাসিক হোটেলে দুই দিন ধরে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে ওই স্কুল ছাত্রীকে। ওই ছাত্রীর দাবি, গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পরীক্ষার ফলাফল জেনে বাড়ি ফেরার পথে আশিকের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ১৫ ডিসেম্বর রাতে তাকে একটি গাড়িতে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেয়। পরে ওই ছাত্রীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন। গত ১৮ ডিসেম্বর পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পৃথক স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে এই মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মো. কামরুল এবং ওই ছাত্রীকে জিম্মি রেখে ধর্ষণের ঘটনাস্থল মমস্ গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহীনকে। পরে সোমবার রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে আটক হল মূল আসামি আশিক। এদিকে অভিযুক্ত আশিকের ভাবি শাহিনা আকতার দাবি করেছেন, আশিকের সঙ্গে ওই ভুক্তভোগী মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। উভয়েই বিয়ে করতে রাজি। তবে মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা মানছে না। তারা উল্টো মামলা দিয়েছে। | 6 |
পিরোজপুরের নাজিরপুরে চুরির ছাগল দিয়ে ভূরিভোজের অভিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত বুধবার ছাগলের মালিক আব্দুল লায়েক ফরাজী বাদী হয়ে পিরোজপুর জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চার কর্মচারী ও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।মামলার অভিযোগপত্রে ওই হাসপাতালের কর্মচারী মো. শাহিন খান (৩২), মো. চমন খান (২৫), মো. পলাশ খান (৩৩) ও মো. বাশার শেখের (৪৫) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ নভেম্বর লায়েক ফরাজীর ছাগলটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর গেলে ওই কর্মচারীরাসহ কয়েকজন সেটি জবাই করেন। পরে ওই ছাগলের মাংস স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে রান্না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মিলে ভূরিভোজ করেন। এ বিষয়ে থানায় মামলার জন্য আবেদন করলে থানা তা এজাহারভুক্ত না করে মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করে। তাই তিনি বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছেন।ভুক্তভোগী লায়েক ফরাজী বলেন, 'উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর থেকে চুরি হয়ে যাওয়া ছাগলটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী শেখ বাশারসহ চারজন মিলে জবাই করেন। পরে ওই ছাগলের চামড়া স্থানীয় চামড়া ক্রেতার কাছে থেকে গত সোমবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে উদ্ধার করা হয়। চামড়ার ক্রেতা আমাকে জানান, ওই চামড়াটি হাসপাতালের সুইপার বাশার শেখ তাঁকে দিয়েছেন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ওই ছাগল দিয়ে ভূরিভোজ করেছেন। | 6 |
দীর্ঘদিন ধরেই রাজশাহীর কাঁকনহাট রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন থেকে চুরি হচ্ছিলো তেল। শেষ পর্যন্ত আশেক আলী (৫০) নামে তেল চোর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আশেক আলী একই এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে। তার কাছ থেকে ৯৫ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরে রাজশাহী রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার আশেক আলীকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। র্যাব-৫ রাজশাহীর অধিনায়ক এটিএম মাইনুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদ পেয়ে কাঁকনহাট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালায় র্যাবের অপরাধ দমন বিশেষায়িত কোম্পানির (সিপিএসসি) মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের একটি দল। মধ্যরাতে ওই অভিযানে ৯৫ লিটার ডিজেলসহ আশেক আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন থেকে তেল চুরির কথা স্বীকার করেছেন তিনি। পরে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। | 6 |
ফুসফুসের কিছু বিশেষ রোগের ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় ট্যাবলেট বা ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ দেওয়ার চেয়ে সরাসরি ফুসফুসে ওষুধ পৌঁছালে সেটা ভালো কাজ করে। আর এখানেই প্রয়োজন পড়ে যায় ইনহেলারের। ইনহেলার একটি ওষুধ-সংবলিত উচ্চচাপযুক্ত ডিভাইস বা ক্যানিস্টার। ইনহেলার দিয়ে প্রতিটি চাপে পরিমিত পরিমাণ ওষুধ শ্বাসের মাধ্যমে সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছানো যায়।কোন রোগের ক্ষেত্রেসাধারণত সব ধরনের শ্বাসকষ্টের ক্ষেত্রে ইনহেলার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। যেসব ক্ষেত্রে ইনহেলার ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তার মধ্যে রয়েছে অ্যাজমা ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)। এ ছাড়া কিছু কিছু অ্যালার্জির ক্ষেত্রে ইনহেলার ব্যবহার করে কার্যকারিতা পাওয়া যায়।দিনে কতবার ব্যবহারপ্রয়োজনবোধে দিনে ২ থেকে ৪ বার ১ থেকে ২ চাপ করে ইনহেলার নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।ইনহেলারের ধরনরেসকিউ ইনহেলার: হঠাৎ দেখা দেওয়া শ্বাসকষ্টের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে যে ইনহেলার দিয়ে আরাম পাওয়া যেতে পারে সেটা রেসকিউ ইনহেলার। এগুলোতে সাধারণত কম সময়ে কাজ করে এমন ওষুধ ব্যবহার করা হয়।কন্ট্রোল ইনহেলার: মেইনটেন্যান্স ইনহেলার হিসেবেও এটি পরিচিত। আপাতদৃষ্টিতে তীব্র শ্বাসকষ্ট না থাকা অবস্থায় যে ইনহেলারগুলো ব্যবহার করে পরবর্তী শ্বাসকষ্টের আক্রমণ আটকানো যেতে পারে সেগুলো মেইনটেন্যান্স বা কন্ট্রোল ইনহেলার।পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াপ্রয়োজন ছাড়া ইনহেলার ব্যবহার করার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। ফলে প্রয়োজন ছাড়া ইনহেলার ব্যবহার না করাই ভালো। তবে কখনো তেমন কিছু ঘটলে মনে রাখতে হবে, রেসকিউ ইনহেলার নিলে তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। শুধু রোগীর হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে, বুক ধড়ফড় করতে পারে। অন্যদিকে কন্ট্রোল ইনহেলার ব্যবহার-পরবর্তী নিয়ম না মেনে যদি বারবার নেওয়া হতে থাকে, তাহলে মুখে ঘাসহ আরও কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।রাতে শ্বাসকষ্ট কেন বেশি হয়রাতের বেলায় দেখা যায় অনেকের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় অথবা হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এর সঠিক কারণ ঠিকভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে কিছু কিছু ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের বা পাকস্থলীর রোগের ক্ষেত্রে এ রকম হতে পারে। লক্ষ করলে দেখা যায় যে রাতের বেলা আমাদের রক্ত সঞ্চালন হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের মাধ্যমে তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। তাই এ সময়গুলোতে রক্ত ফুসফুসে জমা হয়ে যায় আর শ্বাসকষ্ট তৈরি করে। কিছু রোগের ক্ষেত্রে এ রকম হতে পারে। যেমন:হার্ট ফেইলরঅ্যাজমাসিওপিডিপালমোনারি এমবোলিজমরেসট্রিক্টিভ লাং ডিজিজপালমোনারি ইডিমাস্লিপ এপনিয়াগ্যাস্ট্রিক রিফ্লাক্স ডিজিজ।চিকিৎসামূল রোগের চিকিৎসা ঠিকভাবে করলেই রাতের বেলার শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রয়োজনে সি-প্যাপ বা বাই-প্যাপ মেশিন ব্যবহার করা যেতে পারে।লেখক: রেসিডেন্ট, নেফ্রোলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ | 4 |
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, খালেদা জিয়ার ব্যাপারে দুটি শর্ত আছে। তিনি বাংলাদেশের ভেতরে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন, আর বিদেশে যেতে পারবেন না। সে কারণে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময় তাঁকে দাওয়াত দিতে আইনি কোনো বাধা নেই। আজ রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, 'জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিদ্বেষের বশীভূত হয়ে কারও প্রতি কোনো "অ্যাকশন" নেয় না। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছিল। তা দুদকের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তারা যদি এটা বলে যে, আওয়ামী লীগ সরকার এই মামলাগুলো করেছে, তাহলে আমার মনে হয় তাদের দোষারোপ করাটা ভিত্তিহীন।'আইনমন্ত্রী বলেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। ২০০৪ সালের আইনের পর ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুদককে চেয়ার-টেবিলও দেয়নি বিএনপি সরকার। ২০০৭ সালে এটাকে প্রকৃত কার্যকর করা হয়েছে। বিচার বিভাগের বাজেট বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তিসংগত যেকোনো প্রয়োজনে অর্থ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় কার্পণ্য করবে না। জাতীয় বাজেটে আইন মন্ত্রণালয়কে যে টাকা দেওয়া হয় তা আগে কোনো সরকার দেয়নি। সুপ্রিম কোর্টে ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের একটি অংশ বাস্তবায়নের জন্য ২১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এটা আইন মন্ত্রণালয়ের নামে বরাদ্দ মূল বাজেটের বাইরে বলে জানান মন্ত্রী।এর আগে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য আয়োজিত ১৪৬তম রিফ্রেসার কোর্সের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, কোর্স পরিচালক মীর মো. এমতাজুল হক বক্তব্য দেন।পদ্মা সেতুসম্পর্কিত আরও পড়ুন:বাড়তি নিরাপত্তা দেয়াল আছে ১২৩৯০টিপুরোটাই গুজব: পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান স্থগিতপদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের বাস ছাড়বে কোত্থেকেসেতু মানে শুধু দুই পাড়কে জোড়া নয়পদ্মা সেতু উদ্বোধনে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বাধা নাই: গয়েশ্বর১২ হাজার কর্মী নির্মাণে যুক্ত ছিলেনউদ্বোধনের দিন পদ্মা সেতুতে যান চলাচল না-ও করতে পারে: সেতুসচিবপদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন সবাইকে সাবধানে চলাফেরা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী | 6 |
মামলার বাদী পর পর সাত কার্যদিবস আদালতে উপস্থিত না থাকলেও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে লালমনিরহাটের একটি আদালত। নিয়ম অনুযায়ী আদালতে দাখিল করা যে কোন মামলায় পরপর তিন কার্যদিবস বাদী আদালতে অনুপস্থিত থাকলেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। লালমনিরহাটের ৪ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক মো. আফাজ উদ্দিন গত ২ জানুয়ারি এই পরোয়ানা জারি করেন। বাদী আদালতে উপস্থিত না থাকার পরেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার বিষয়ে ফৌজদারী আইন বিশেষজ্ঞ ও আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আদালতে সরাসরি দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে কোনরূপ আইন সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ করা ছাড়া যদি বাদী একাধিক ধার্য তারিখে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে মামলাটি খারিজ হবে।এই বিধানেরব্যত্যয় ঘটিয়ে মামলার কার্যক্রম অব্যহত রাখা হলে, তা হবে আইনের পরিপন্থি। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এই মামলার ক্ষেত্রে বাদী যেহেতু একাধিকবার অনুপস্থিত ছিলেন, সেকারণে মামলাটি খারিজ না করে আইন পরিপন্থিভাবে মামলাটিকে চলমান রাখা হয়েছে। যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে না। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতায় 'সাবেকদের আমলনামা: রেশন ডিলার সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহারের শত কোটি টাকা' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের জেরে এই মামলাটি দায়ের করেন মোতাহার হোসেন। প্রতিবেদন প্রকাশের ৪০ দিন পর এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। বিডিপ্রতিদিন/ ১০ জানুয়ারি, ২০১৮/ ই জাহান | 6 |
সমালোচনার মুখেও কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যিপ এরদোগান আবারো আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আগের খবরে যদিও বলা হয়েছিল যে কাবুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিধানের বিষয়ে তুরস্ক তার পরিকল্পনা পরিত্যাগ করেছে, কিন্তু শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানন বলেন যে আফগানিস্তানে তুরস্ক কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে কিনা এবং পারলে কী ভূমিকা পালন করতে পারে সে সম্পর্কে তুরস্ক তালেবানের সাথে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছে। শুক্রবার এরদোগান বলেন, আমাদের দরজায় কড়া নাড়লে, আমরা সংলাপের জন্য দরজা খুলে দেব। তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তানের অবকাঠামো নির্মাণের প্রচেষ্টার সাথে তুরস্ক সম্পৃক্ত এবং এ ধরণের কাজ করার বিষয়ে তুরস্ক এখনও আগ্রহী। এর আগে বুধবার টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এরদোগান বলেন কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা প্রদানে তুরস্ক এখনো আগ্রহী। যদিও সোমবার রয়টারের সংবাদে বলা হয়েছিল তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর বিমান বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাদ দেয়া হয়েছে। এই সাক্ষাত্কারে এরদোগান বলেন, আফগানিস্তানে তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নতুন প্রশাসনের হাতকে শক্তিশালী করবে। তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তানের সকল পক্ষের সাথেই তুরস্ক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। ন্যাটো সদস্য হিসেবে তুরস্কের ৬০০ সৈন্য রয়েছে আফগানিস্তানে এবং তুরস্ক কর্তৃপক্ষ তাদের উপস্থিতিকে যোদ্ধা বাহিনী হিসেবে দেখছে না। জুন মাসে তুরস্ক এ রকম প্রস্তাব দিয়েছিল যে ন্যাটো বাহিনী সরে আসার পর তারা হামিদ কারজাই বিমানবন্দরের প্রহরার দায়িত্ব নেবে। আফগানিস্তানে কুটনৈতিক মিশনের লোকজনের নিরাপদ পথ হিসেবে বিমানবন্দরটি খোলা রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক বিস্তারিত আলোচনা করেছিল। তবে জুলাই মাসে, তালেবান বিমান বন্দরে আমরিক উপস্থিতি সম্পর্কে তুরস্ককে হুঁশিয়ার করে দেয় এবং এই প্রস্তাবকে তাদের কথায়, আমাদের সার্বভৌমত্ব, ও আঞ্চলিক অখন্ডতা লঙ্ঘন এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে অভিহিত করে। এরদোগান বুধবার বলেন, তালেবান যোদ্ধারা সে দেশের নিযন্ত্রণ আবার গ্রহণ করার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষার নতুন চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন আমরা সেই ক্ষেত্রে নতুন বাস্তবতা অনুযায়ী আমাদের পরিকল্পনা করছি এবং সেই অনুযায়ী আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলছেন, তালেবান অনুরোধ করলে তুরস্ক বিমানবন্দর পাহারা দেবে। তবে তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে এ রকম সামরিক উপস্থিতিতে ন্যাটো এবং আফগানিস্তান সহায়তা দেবে না। তবে রিপালিকান পিপলস পার্টিসহ তুরস্কের বিরোধীদলগুলো আফগানিস্তান থেকে তুরস্কের সৈন্যদের সরিয়ে আনার জন্য সরকারকে বলেছে।সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা | 3 |
টিকার সনদ দেখাতে না পারলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হবে। জেলা প্রশাসনের এমন নির্দেশনায় সাধারণ মানুষ টিকা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। যাঁদের বেশির ভাগ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও গৃহকর্মী।মৌলভীবাজার জেলায় আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণের সনদ ছাড়া বাইরে যাওয়া যাবে না বলে নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।মৌলভীবাজার জেলার মোট জনসংখ্যা সাড়ে ২২ লাখ। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা (ভ্যাকসিন) নিয়েছেন ১২ লাখ মানুষ। তবে টিকা গ্রহীতাদের এ সংখ্যাকে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়।সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানান, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আরও ৩ লাখ মানুষকে দেওয়া হবে করোনাভাইরাসের টিকা। ওই দিন জেলার ৬৭ ইউনিয়নের প্রতিটি পুরোনো ওয়ার্ডে দিনব্যাপী টিকা কার্যক্রম বা গণটিকা চলবে। পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডের তিন বুথে এ কার্যক্রম চলবে।মৌলভীবাজার পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, পৌর এলাকায় যাঁরা টিকা নেননি, তাঁদের জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়কে গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টিকা বুথ বসিয়ে তিন দিনে ২ হাজার ২১৯ জনকে টিকা দেওয়া হয়।এদিকে টিকা বুথে আগতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিকা গ্রহীতাদের বেশির ভাগ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও গৃহকর্মী।আহমদ আলী নামে একজন বলেন, 'আমি শহরের ব্যবসায়ী, দোকানে বসি। টিকা কার্ড না থাকলে জরিমানা গুনতে হবে। তাই টিকা নিলাম।'গৃহকর্মী আয়েশা খাতুন, সুমনা বেগম ও সোহেল মিয়া জানান, তাঁরা টিকা নিয়েছেন। কারণ টিকা না নিলে রাস্তায় চলাচলে ঝামেলায় পড়তে হবে।দোকান কর্মচারী রাহেল, পলাশসহ টিকা গ্রহীতাদের কয়েকজন বলেন, টিকা সনদ না থাকলে জরিমানার মুখে পড়তে হবে, তাই দোকান মালিকের নির্দেশে তারা টিকা নিতে এসেছেন।শহরের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা জানান, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে টিকা গ্রহণের সনদ না দেখালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হবে। তাই তাঁরা নিজ নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের টিকার আওতায় আওতায় আনছেন।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির পর মৌলভীবাজারে কেউ করোনাভাইরাসের টিকার সনদ ছাড়া বাইরে বের হলে তাঁকে জেল-জরিমানা করা হবে। এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান বলেন, জরিমানার ভয়েও যদি মানুষ করোনাভাইরাসের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ হন, তাহলে একটা অংশ টিকার আওতায় আসবে। করোনার আক্রান্ত ও সংক্রমণের হার আরও কমবে।জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে ও জনসচেতনতার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ব্যবসায়ী, পথচারী, ক্রেতা-বিক্রেতা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। | 6 |
কফি যেন নগর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীর এমন কোনো শহর নেই যেখানে কফির দোকান মিলবে না। তথ্যানুসারে, পানি ও চায়ের পর পৃথিবীর তৃতীয় সর্বাধিক বিক্রীত বেভারেজ হচ্ছে কফি। সে কারণেই বিশ্বজুড়ে কফি বীজের চাহিদা। ব্যবসাও রমরমা। কফির পরিমাপ আবার কিছুটা ভিন্ন উপায়ে করা হয়, ৬০ কেজির বস্তা হিসাবে। ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশনের তথ্যানুসারে, ২০২০ সালে বিশ্বে ৬০ কেজি ওজনের প্রায় ১৭ কোটি বস্তা সমপরিমাণ কফি উৎপাদিত হয়েছে। কথা হচ্ছে, কফি এত জনপ্রিয় কেন। কফি পান করে মানুষ একধরনের মিশ্র অনুভূতি পায়। সুগন্ধি তবে একটু কড়া ও গা গরম করা, সেই গরমের অনুভূতি আবার ঠিক অস্বস্তিকর নয়। কফির বিশেষ দিক হলো, এটি নানা উপায়ে পরিবেশন করা যায়-ছোট কাপে বা বড় মগে। সঙ্গে আবার নানা সুগন্ধ ও স্বাদও যোগ করা যায়। যা হোক, এবার কফির বাণিজ্যে আসা যাক। বিশ্বের ১০টি শীর্ষ কফি উৎপাদনকারী দেশের হাতেই বৈশ্বিক কফির বাজারের ৮৭ শতাংশ। বিশ্বের শীর্ষ কফি উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি দেশ পরিচিত হলেও অন্য নামগুলো বিস্ময় জাগাতে পারে। বিশ্বের ৭০টি দেশে কফি উৎপাদিত হয়, যদিও সিংহভাগ কফি আসে মাত্র পাঁচটি দেশ থেকে। সেগুলো হলো ব্রাজিল, ভিয়েতনাম, কলাম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইথিওপিয়া। শীর্ষ কফি উৎপাদক দেশ হচ্ছে ব্রাজিল। বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ কফি দেশটি জোগান দেয়। ব্রাজিলের ভূমি ও জলবায়ু কফি চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। দেশটির ২৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কফির চাষ হয়। ব্রাজিলের কফির বিশেষত্ব হলো, এই কফি ধোয়া ছাড়াই শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। কফির জগতে ব্রাজিলের আধিপত্য এত বেশি যে তাদের ব্যবহৃত ৬০ কেজির বস্তা বিশ্বজুড়ে কফি আমদানি-রপ্তানির একক হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। কফির বাজারে জায়গা করে নিতে ভিয়েতনাম কিছুটা ভিন্ন পথে হেঁটেছে। তারা মূলত কম দামি রোবাস্তা জাতের কফির বীজ উৎপাদন করে থাকে। এতে ক্যাফেইনের পরিমাণ অ্যারাবিকার দ্বিগুণ। এই কফির স্বাদ তেতো। অবশ্য বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভালো বা মানসম্মত কফি উৎপাদন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। ভবিষ্যতে কফির উৎপাদন ঠিক রাখতে নতুন জাতের কফি উৎপাদন জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, সিয়েরা লিয়নসহ আশপাশের অঞ্চলে কিছু বুনো জাতের কফি উৎপাদিত হচ্ছে। এই নতুন জাত ভবিষ্যতে কফির চাহিদা মেটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কফির স্বাদ অ্যারাবিকা জাতের মতো। | 0 |
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপি বলেছেন, নতুন নির্বাচন কমিশন আগামীতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশ ও জাতিকে উপহার দিবে-এটাই সকলের প্রত্যাশা। সোমবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, সব দলের সাথে আলোচনা করে, তাদের মতামতের ভিত্তিতে সার্চ কমিটি গঠনে করে, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সংবিধান অনুযায়ী 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার আইন, ২০২২ প্রণয়ন করে এবং আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করায় মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ। বেগম রওশন এরশাদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য চার নির্বাচন কমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই আপনারা দায়িত্ব পেয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী সেই দায়িত্বটুকু পালন করতে যথেষ্ট যত্নশীল হলেই সম্ভব হবে সব দলের অংশগ্রহণে আগামীতে দেশে, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশও চীনের মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।আজ রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত 'ডায়ালগ উইথ চায়না' শীর্ষক আলোচনায় এ কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। ডায়ালগের আয়োজন করে ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব)।অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই আমাদের বন্ধু, উভয়কে বলব আলোচনায় বসতে হবে, সমাধান করতে হবে। আবেগ নয়, ঠান্ডা মাথায় রাশিয়া-ইউক্রেন সমস্যার সমাধান করতে হবে, উভয় পক্ষ চাইলে আলোচনায় সহায়তা করতে পারে চীন।তিনি বলেন, ইউক্রেনকে প্রথমে দুশ্চিন্তা কমাতে হবে এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। অনুসন্ধান করতে হবে, কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।চীনের উইঘুরে মুসলিম নির্যাতনের ঘটনা পশ্চিমাদের 'অপপ্রচার', এ বিষয়ে জাতিসংঘ তদন্ত মিশনের সফরের উদ্যোগকে স্বাগত জানান চীনা রাষ্ট্রদূত। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব নির্বাচনে প্রবাস বাংলা ডট ইনফোর সম্পাদক ও এনটিভি প্রতিনিধি কাজী মশহুরুল হুদা সভাপতি এবং সমকাল প্রতিনিধি লস্কর আল মামুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে শহরের আপন বাজার মিলনায়তনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচন শেষে ২০১৮-১৯ সালের দুই বছর মেয়াদের জন্য প্রেস ক্লাব কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত অন্য সদস্যরা হলেন- সিনিয়র সহসভাপতি জাহান হাসান, সহসভাপতি সৈয়দ এম হোসেন বাবু, যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সামাদ, কোষাধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম শিপন প্রমুখ।প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন কমিউনিটির বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। | 4 |
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'বিএনপির এত বিদেশপ্রীতি কেন, সেটি একটি প্রশ্ন। দেশে কোনো ঘটনা ঘটলে দূতাবাসে দৌঁড়ায়, আর কারও একটু জ্বর উঠলে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এই বিদেশপ্রীতিটা কেন?' আজ বুধবার দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দিয়ে তিলে তিলে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে-বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদের এমন মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, 'বেগম খালেদা জিয়া আদালত থেকে কোনো জামিন বা খালাস পান নাই। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত মহানুভব, সে কারণে তিনি তাঁর সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতাবলে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাঁকে কারাগারের বাইরে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। এ জন্য বিএনপির বরং সরকারকে ধন্যবাদ দেওয়া প্রয়োজন। কদিন আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় ডাক্তাররা বলেছেন, বেগম জিয়া সুস্থ এবং ভালো আছেন। রিজভী সাহেব কখন ডাক্তার হয়ে গেলেন, তা জানি না।' অনলাইন নিউজপোর্টালের নিবন্ধন বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেছেন, অনলাইন নিউজপোর্টাল নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বিধানে সহায়ক। তিনি বলেন, অনলাইন নিউজপোর্টাল রেজিস্ট্রেশন একটি চলমান প্রক্রিয়া। কারণ, ইতিমধ্যেই রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ছাড়া আর কোনো অনলাইন ভবিষ্যতে বের হবে না বা আজকে যেসব পত্রপত্রিকা আছে, সেগুলো ছাড়া ভবিষ্যতে আর কোনো পত্রপত্রিকা বের হবে না, তেমন নিয়ম কোথাও নেই। এ বিষয়ে আদালতের আদেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব অনলাইন সত্যিকার অর্থে গণমাধ্যম হিসেবে কাজ করে না বরং নিজস্ব বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে এবং যেমন ইচ্ছা তেমন অসত্য সংবাদ পরিবেশন করবে, গুজব রটনায় ব্যস্ত হবে, অন্যের চরিত্র হনন করবে, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কোনো ব্যবসায়ীর স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সেখানে লেখালেখি হবে, এটি কখনোই সমীচীন নয়, সে ক্ষেত্রে আদেশটি অবশ্যই সহায়ক। আদালতের আদেশের লিখিত কপি পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অবশ্যই কিছু অনলাইন বন্ধ করা হবে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, 'একই সঙ্গে এটি যে একটি চলমান প্রক্রিয়া, একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন চলছে এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া সবগুলোকে একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া কতটুকু সমীচীন, সে ভাবনার বিষয়গুলো আদালতের কাছে উপস্থাপন করব।' এর আগে প্রধানমন্ত্রী 'শেখ হাসিনাকে নিবেদিত একগুচ্ছ কবিতা'র তুর্কি ভাষায় অনুবাদগ্রন্থের ওয়েবিনারে উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী। | 9 |
পাখির জন্য অভয়াশ্রম তৈরি করেছেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা মীর মো. আব্দুন নাসের। পুলিশ সদস্যের এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। এ কর্মকর্তা থানা প্রাঙ্গণে প্রায় ৫০০ পাখির আবাসস্থল তৈরি করেছেন।'পুলিশের বিচরণ যেখানে পাখিদের অভয়ারণ্য সেখানে'-এই স্লোগানে চলে এ কার্যক্রম।গতকাল বৃহস্পতিবার থানা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে বাঁধা পাখির বাসা। থানা প্রাঙ্গণ এবং রাস্তার পাশে ৬০টি গাছে পাখিদের অবাধ বিচরণে ২৫০টি মাটির কলস ও বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেখানে বসত করতে পারবে প্রায় ৫০০ পাখি।ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের জানান, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজেই নয়, বিভিন্ন সামাজিক কাজেও পুলিশের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পুলিশ এখন অনেক মানবিক। পুলিশ এখন শুধু জনতার নয় প্রাণীদেরও। এ কাজের অংশ হিসাবে পাখিদের জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিনদিন বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে যাওয়ায় দেশ পাখি শূন্য হয়ে পড়েছে। তাই পাখির বংশবিস্তার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার তাগিদে এ উদ্যোগ নেওয়া। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে এবার আরও অনেক কিছুর মতো নতুন ইতিহাস তৈরি গড়তে যাচ্ছেন জিল বাইডেন। তিনি হোয়াইট হাউজে আসা প্রথম ফার্স্ট লেডি হতে যাচ্ছেন যিনি একজন চাকরিজীবী। সেটি অবশ্যই শিক্ষকতা। ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এই নারী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে শিক্ষিত ফার্স্ট লেডি। এর আগের যারা ফার্স্ট লেডি ছিলেন তাদের শিক্ষার দৌড় এত উঁচুতে ছিল না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার একটি কম্যুনিটি কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে তিনি তার শিক্ষকতা পেশা ধরে রাখবেন। সেখানে তাকে একজন কঠোর শিক্ষক হিসেবেই জানেন তার ছাত্র-ছাত্রীরা। ডক্টরেট ডিগ্রি থাকায় তিনি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৩১ বছরের ইতিহাসে প্রেসিডেন্টের প্রথম সর্বোচ্চ শিক্ষিত অর্ধাঙ্গিনী। ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ার থেকে ২০০৭ সালে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি কম্যুনিটি কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার বিষয়ে মনোযোগ দেন। পুরো জীবন ধরে শিক্ষকতা করে আসা জিল বাইডেনের দুইটি মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে। ইংরেজি ও পড়াশোনার ওপরে। অধ্যাপক জিল বাইডেনের আরেকটি পরিচয় রয়েছে। তিনি তার স্বামীর একজন রক্ষক। সমাবেশে বাধা সৃষ্টিকারীদের ঠেকানো এবং বাইরে বের করে দেয়ার কাজে স্বেচ্ছাসেবীদের তিনি সহায়তা করেছেন। হোয়াইট হাউজে অধ্যাপক জিল বাইডেনের এবারই প্রথম আসা হচ্ছে না। কারণ বারাক ওবামার পুরো মেয়াদ জুড়ে তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি। সেই সময়েও তিনি তার শিক্ষকতা পেশা অব্যাহত রেখেছিলেন। সেকেন্ড লেডি হওয়ার পর সর্বশেষ যিনি ফার্স্ট লেডি হয়েছিলেন, তিনি ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের স্ত্রী বারবারা বুশ, ১৯৮৯-১৯৯৩ সালে। সেকেন্ড লেডি হিসেবে দ্বিতীয় দফার দায়িত্ব পালনের সময় নারীদের বিভিন্ন সমস্যা, স্তন ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা, শিক্ষা ও কম্যুনিটি কলেজের গুরুত্ব তুলে ধরা আর সামরিক বাহিনীর পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় কাজ করেছেন। কলেজ জীবনের প্রেমিকা, প্রথম স্ত্রী নেইলিয়া এবং তাদের মেয়েকে ১৯৭২ সালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় হারান জো বাইডেন। তিন বছর পরে তার সঙ্গে পরিচয় হয় জিল জ্যাকবসের। সেই সময় জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর, আর জিল ছিলেন কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। দুইজনেরই আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। স্মৃতিচারণায় ২০০৭ সালে জো বাইডেন লিখেছিলেন, 'সে আবার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে। আবার নতুন করে পরিবার শুরু করার ব্যাপারে তিনি আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছিলেন।' জিল বাইডেন ভোগ ম্যাগাজিনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'তাদের প্রথম ডেটিংয়ের সময় (একটি সিনেমা দেখতে যাওয়া) জো বাইডেন একটি স্পোর্ট কোট আর লোফার জুতা পড়ে এসেছিলেন।' 'আমি ভেবেছিলাম, হায় ঈশ্বর, এখানে কোন কিছু হবে না, কোন দিন এখানে সম্পর্ক হবে না। তিনি ছিলেন আমার চেয়ে নয় বছরের বড়ো।' কিন্তু এরপরে এই যুগলের সম্পর্কটা যেন তৈরি হয়ে যায়। সেই রাতের শেষে বিদায়ের সময় জিলের সঙ্গে করমর্দন করে বিদায় নেন জো বাইডেন। তবে এরপরেও বিয়েতে জিলের সম্মতি পেতে জো বাইডেনকে অন্তত পাঁচ দফা চেষ্টা করতে হয়েছে। জিল বাইডেন বলছেন, তিনি প্রতিবারই বলেছেন, 'এখনি নয়' কারণ তিনি শতভাগ নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যেন বিয়েটা বাইডেনের দুই ছেলে, হান্টার আর বেয়াউর জন্য সঠিক হয়। মি. বাইডেন রসিকতা করে বলেন, সম্মতি দেয়ার জন্য ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে তিনি হুমকি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালের জুন মাসে নিউ ইয়র্কে ইউনাইটেড ন্যাশনস চ্যাপেলে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে জো বাইডেনের দুই ছেলেই উপস্থিত ছিল। এরপর পুরো পরিবার মিলে হানিমুনে যায়। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
ক্রিকেটারদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাধারণত ঘোষণা করে বছরের শুরুতেই। মহামারিতে এলোমেলো পৃথিবীতে অনেক নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে হচ্ছে। বিসিবির চুক্তিও তাই জানুয়ারিতে না হয়ে সেপ্টেম্বরে চূড়ান্ত হচ্ছে। পরশু রাতে প্রকাশিত সেই চুক্তিতে সংস্করণ ভেদে রয়েছেন ২৪ ক্রিকেটার। চুক্তি হয় সাধারণত এক বছরের। এবার সেটি হচ্ছে সাত মাসের জন্য। সংক্ষিপ্ত সময়ের এ চুক্তি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাও দিচ্ছে।সাকিব টেস্টই খেলতে চানসাকিব আল হাসান টেস্ট খেলতে চান না-এমন একটা প্রচার বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে। বাঁহাতি অলরাউন্ডার এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ না খেলে আইপিএল খেলতে চাওয়ায় কথাটা ছড়িয়েছিল বেশ। অবশ্য বিসিবির শীর্ষ কর্তারাও নানা সময়ে বলেছেন, টেস্টের প্রতি সাকিবের নাকি আগ্রহ কম! যদিও সাকিব নিজে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। বরং তাঁর লক্ষ্য, সবার শেষে টেস্ট ছাড়বেন। ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতেই দেখা যাবে। বর্তমান বলছে, সাকিব টেস্টই খেলতে চান। গত জুন মাসে বিসিবি যে চুক্তিপত্র দিয়েছিল ক্রিকেটারদের, সেখানে সাকিব তিন সংস্করণেই স্বাক্ষর করেছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য গতকাল বললেন, 'সাকিব কখনোই বলেনি সে টেস্ট খেলবে না। সে জানিয়েছিল শ্রীলঙ্কা সফরে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। পরে সিরিজটা না হওয়ায় সফরে যায়নি, এতটুকুই।'টি-টোয়েন্টির সঙ্গে তামিমের দূরত্বগত পরশু দেশের ক্রিকেট আলোড়িত হয়েছে তামিম ইকবালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার ঘোষণায়। বাঁহাতি ওপেনার নিজেকে আরও কিছু সময় সরিয়ে রাখছেন ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ থেকে। বিসিবিও তামিমকে রাখেনি টি-টোয়েন্টির চুক্তিতে। আগে কখনো কেন্দ্রীয় চুক্তির কোনো অংশ থেকে বাইরে ছিলেন কি না, তামিমের পক্ষেও মনে করা কঠিন হবে নিশ্চিত। বিসিবি সূত্রই জানিয়েছে, বাঁহাতি ওপেনার অনেক দিন ধরেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খুব একটা উপভোগ করছেন না। এই সংস্করণ ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা তাঁর আগে থেকেই। টি-টোয়েন্টির সঙ্গে তামিমের দূরত্ব নিয়ে এক নির্বাচক বললেন, 'ক্রিকেটাররা সাধারণত কঠিন সংস্করণ মানে টেস্ট আগে ছাড়ে। সবার শেষে টি-টোয়েন্টি। তামিম কিন্তু তা করছে না। সে বরং কঠিন পথটা বেছে নিতে চাইছে। এই যুগে টি-টোয়েন্টি থেকে দূরে থাকা সহজ নয়!'ফিজের সঙ্গে লাল বলের আড়ি!ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই মোস্তাফিজুর রহমানের আবির্ভাব আলোড়ন তুলে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সঙ্গে দারুণ 'বন্ধুত্ব' হলেও টেস্টে ফিজের পরিসংখ্যান মলিনই। লাল বলের ক্রিকেটকে আপন করতে না পারার পেছনে বিভিন্ন সময়ে আড্ডাচ্ছলে দেশের দুর্বল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের কাঠামোকে সামনে এনেছেন ফিজ। কখনো নিজের ফিটনেসের কথা বলেছেন। আগে সরাসরি না বললেও এবার তিন সংস্করণ বাছাইয়ের সুযোগ থাকায় মোস্তাফিজ বিসিবিকে জানিয়েছেন, জৈব সুরক্ষা বলয়ের হ্যাপা সইয়ে তিনি আপাতত লাল বলের ক্রিকেট খেলবেন না। গতকাল বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খানও সাংবাদিকদের সেটিই জানিয়েছেন, 'মোস্তাফিজ এখন টেস্ট খেলতে চাচ্ছে না। সে বলেছে যত দিন কোয়ারেন্টিন ও বায়ো-বাবল আছে, এর মধ্যে টেস্টে মনোযোগ দেওয়া তার জন্য কঠিন। আমরা এটা ইতিবাচকভাবে নিয়েছি। যেহেতু সে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।'টেস্টের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর 'বিচ্ছেদ'মোস্তাফিজের মতো টেস্ট চুক্তিতে নেই মাহমুদউল্লাহও। তবে দুজনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরের মাঝপথে আকস্মিকভাবে মাহমুদউল্লাহ দলকে জানান, তিনি আর টেস্ট খেলবেন না। বিষয়টা অবশ্য স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। গত পরশুও তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, 'রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) তিন সংস্করণের মধ্যে টেস্টেই সবচেয়ে উপযুক্ত।' মজাটা হচ্ছে, টেস্টে এখন 'উপযুক্ত' মনে হলেও গত বছর মাহমুদউল্লাহকে কিন্তু লাল বলের চুক্তিতে রাখেনি বিসিবি। এমনকি মাঝে টানা ১৬ মাস টেস্ট দলেই বিবেচিত হননি তিনি। গত জুনে জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলেও তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে শেষ মুহূর্তে। এবং সেটিও নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। | 12 |
বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের এবারের লড়াইটা হচ্ছিল সমানে সমান। পয়েন্ট টেবিলেও দুই দলের অবস্থান ছিল কাছাকাছি। জার্মান ক্ল্যাসিকোর শনিবার রাতের ম্যাচটা ছিল তাই এগিয়ে যাওয়ার। রুদ্ধশ্বাস সেই লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেনি। তবে শেষ পর্যন্ত বায়ার্নের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে বরুসিয়া।জয়ের পর রেফারির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বরুসিয়ার খেলোয়াড়েরা। এমনকি ম্যাচের পর এই জয় নিজেদের প্রাপ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন খোদ বায়ার্ন তারকা থমাস মুলার। বরুসিয়ার মাঠে বায়ার্নের জয়ে আলো ছড়িয়েছেন তারকা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও তাঁর জোড়া গোলের জয় পেয়েছে বায়ার্ন। তবে ম্যাচের পর নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি হতে পারছেন না মুলার। জার্মান স্ট্রাইকার বলেন, 'ডর্টমুন্ডের প্রথম গোলটি সম্ভবত আমাদের সহায়তা করেছে। তবে প্রথমার্ধেই আমাদের লিড নেওয়া উচিত ছিল। আমি জানি না, যেভাবে আমরা খেলেছি তাতে জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল কি না।'বায়ার্নের এই জয়কে অবশ্য মানতেই পারছেন না বরুসিয়ার ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহাম। বিশেষ করে রেফারি ফেলিক্স জওয়েইরের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই জার্মান রেফারি ২০০৫ সালে ম্যাচ পাতানোর দায়ে ছয় মাস নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। বেলিংহাম বলেন, 'আপনি এমন একজন রেফারিকে দিয়েছেন, যিনি আগে ম্যাচ পাতিয়েছেন। সেটাও আবার জার্মানির সবচেয়ে বড় ম্যাচে। আপনি কী আশা করবেন?'পেনাল্টি নিয়ে বেলিংহাম আরও বলেছেন, 'আমার কাছে এটা পেনাল্টি ছিল না। ম্যাচের আরও অনেক সিদ্ধান্ত এমন ছিল।' জার্মানিতে উত্তাপের রাতে স্পেনে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছে রিয়াল। তবে লিগ ওয়ানে লেঁসের বিপক্ষে ১-১ গোল ড্র করেছে পিএসজি। | 6 |
কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করায় পূজামণ্ডপের বর্ণিল আলোকসজ্জা নিভিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। বিমানবন্দর এলাকায় লেজার রশ্মি ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও কাছাকাছি এলাকায় স্থাপিত এ পূজামণ্ডপে সে নির্দেশনা মানা হচ্ছিল না। এ কারণেই বেধেছে বিপত্তি। লেজার রশ্মির বিকিরণে বিমান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে কয়েকজন পাইলট অভিযোগ তোলার পর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলো নিভিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে পূজা কমিটি। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থী প্রবেশের সংখ্যাও। পশ্চিমবঙ্গে এবারের দুর্গাপূজার মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে উত্তর কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পূজামণ্ডপ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নির্মিত বিশ্বের সর্বোচ্চ অট্টালিকা বুর্জ খলিফার আদলে তৈরি করা হয় এটি। এর লেজার রশ্মিতে বর্ণিল হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। কয়েক দিন ধরে আকর্ষণীয় এ পূজামণ্ডপ দেখার জন্য সেখানে ভিড় জমাচ্ছিল মানুষ। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শ্রীভূমির তৈরি বুর্জ খলিফা পূজামণ্ডপের দূরত্ব মাত্র সাড়ে আট কিলোমিটার। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আগেই বলা ছিল, বিমানবন্দর এলাকায় লেজার রশ্মি ব্যবহার ও ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ। তবে তা অমান্য করেই বুর্জ খলিফার আদলে তৈরি পূজামণ্ডপকে লেজার রশ্মিতে বর্ণিল করে গড়ে তোলা হয়। গত সোমবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) কাছে আলাদা করে তিন এয়ারলাইনসের পাইলটরা অভিযোগ করেন, লেজার রশ্মির বিকিরণে তাঁদের বিমান চালাতে অসুবিধা হচ্ছে। এর পরই এ অভিযোগ চলে যায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে। শেষ পর্যন্ত তাদের নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফার লেজারের রশ্মি। গতকাল সন্ধ্যায় সল্ট লেক পুলিশ কর্মকর্তারা মণ্ডপ এলাকায় গিয়ে লেজার রশ্মি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পূজা কমিটি সে নির্দেশ মেনে বুর্জ খলিফার আলো নিভিয়ে দেয়। শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মূল পৃষ্ঠপোষক হলেন রাজ্যের দমকল ও বিপর্যয় দপ্তরের মন্ত্রী সুজিত বসু। এ ক্লাব প্রতিবছরই নানা থিম আর বৈচিত্র্যের আবহে পূজার আয়োজন করে আসছে। এর আগে তারা 'বাহুবলী', 'পদ্মাবত', কেদারনাথ মন্দিরকে থিম করে মণ্ডপ বানিয়ে আলোড়ন তুলেছিল কলকাতায়। | 3 |
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কালাম কলোনির ২২টি বসতঘর আগুনে পুড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মধ্যম শাকপুরার আবুল কালামের কলোনিতে এ আগুন লাগে।বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।কলোনির মালিক আবুল কালাম বলেন, কলোনিতে একটি মাছের গুদাম ও একটির মুদির দোকান ছিল। অন্য ঘরগুলোতে ভাড়াটিয়ারা ছিল। আগুনে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। | 6 |
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে পুরানো ঢাকার হোসনি দালানে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলবার। আট জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে রায়ের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান গত ১ মার্চ এ তারিখ ঠিক করেন। ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে হোসনি দালান এলাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। এ ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় এসআই জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে ১০ জঙ্গিকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০১৭ সালের ৩১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ২০১৮ সালের ১৪ মে মামলাটি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা সবাই জেএমবির সদস্য। আসামিরা হলেন- ওমর ফারুক মানিক, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ, শাহজালাল মিয়া, চান মিয়া, কবির হোসাইন ওরফে রাশেদ, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, আবু সাঈদ রাসেল ওরফে সোলায়মান, আরমান ওরফে মনির, মাসুদ রানা ও জাহিদ হাসান। তাদের মধ্যে জাহিদ হাসান এবং মাসুদ রানা 'নাবালক' হওয়ায় তাদের বিচার চলছে শিশু আদালতে। আসামিদের মধ্যে আরমান, রুবেল ও কবির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলায় ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। | 6 |
এবার পৃথিবীর দীর্ঘতম আকাশ পথ অতিক্রম করতে চলেছে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। এয়ার ইন্ডিয়ার এই বিমান চালানোর দায়িত্বে আছেন একদল নারী। উত্তর মেরুর উপর দিয়ে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এই প্রমিলা বাহিনী। আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো থেকে ভারতের বেঙ্গালুরু পৌঁছবে এই বিমান। এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তর মেরু অতিক্রম করা যেকোনও বিমান সংস্থার কাছে চ্যালেঞ্জিং। তাই সব সময় সেরা এবং অভিজ্ঞ বিমান চালকদের এই দায়িত্ব দিয়ে থাকে সবাই। এবার নারী ক্যাপ্টেনদের এই দায়িত্ব দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। সান ফ্রান্সিসকো থেকে উত্তর মেরু অতিক্রম করে বেঙ্গালুরু পৌঁছবেন তারা। জোয়া আগারওয়াল জানিয়েছেন, অধিকাংশ মানুষ তাদের গোটা জীবনে উত্তর মেরু দেখার সুযোগ পান না। আমি সত্যিই খুব ভাগ্যবতী যে বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয় আমার উপর এতটা ভরসা রেখেছে। এটা সোনালি স্বপ্নের মতো যে এসএফও-বিএলআর (-) নেতৃত্ব দেওয়া যাবে। যা বিশ্বের অন্যতম লম্বা বিমান পথ। এই দলে জোয়া আগারওয়াল ছাড়াও আছেন ক্যাপ্টেন থান্নাই পাপাগারি, আকাঙ্ক্ষা সোনাওয়ানে, শিবানি মানহাস। জোয়া আগারওয়াল বলেন, এই প্রথম শুধু মহিলারা উত্তর মেরুর উপর দিয়ে পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ আকাশ পথ অতিক্রম করতে চলেছে। যা ইতিহাসে এই প্রথম। এটা যেকোনও পাইলটের কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। বেসামরিক বিমান বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর মেরু দিয়ে বিমান চালানোর জন্য প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হতে হয়। একইসঙ্গে প্রয়োজন অভিজ্ঞতারও। ক্যাপ্টেন জোয়া আগারওয়াল বলেন, উত্তর মেরু অতিক্রম করার ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি রোমাঞ্চকর বিষয় হল, ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায় কম্পাস।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৩ সালে বোয়িং ৭৭৭ উড়িয়েছিলেন জোয়া। সেই সময় সব থেকে কনিষ্ঠ কম্যান্ডার ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, বোয়িং ৭৭৭-এ আমি ছিলাম বিশ্বের সব থেকে কনিষ্ঠ কম্যান্ডার। প্রতিটি নারীর আত্মবিশ্বাস থাকা উচিত। বোঝা উচিত কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ আকাশ পথ অতিক্রম করতে পারলে এয়ার ইন্ডিয়ার নারী কম্যান্ডার হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করবেন তিনি। স্পষ্টতই, উত্তর মেরু অতিক্রম করলে জোয়ার মুকুটে নতুন পালক যোগ হবে। সূত্র: দ্য ট্রিবিউন, দ্য হিন্দু বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
উন্নয়নশীল-৮ (ডি-৮)-এর মহাসচিব দাতো কু জাফর কু শারি ও সুদানের প্রধানমন্ত্রী মুতাজ মুসা আব্দাল্লা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুক্রবার পৃথক বার্তায় তারা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।খবর বাসসের অভিনন্দন বার্তায় দাতো কু জাফর কু শারি বলেন, 'আমি নিশ্চিত যে, এই ঐতিহাসিক ও বিপুল বিজয় শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ সুগম করবে।' ডি-৮ হলো বাংলাদেশ, মিশর, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক- এই ৮ দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য গঠিত সংস্থা। একই দিন অপর এক অভিনন্দন বার্তায় সুদানের প্রধানমন্ত্রী মুতাজ মুসা আব্দাল্লা বলেন, 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমি অতীব সম্মানিত বোধ করছি।' সুদানের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সুসম্পর্ক জোরদারে তার দেশের অব্যাহত অঙ্গীকারের কথা জানান। | 6 |
ঠিক সময়ে সঠিক কাজটি অবহেলাবশত না করলে যে ক্ষতি হয়, পরে অসময়ে অনেক চেষ্টা করেও সে ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়। সে জন্যই আমাদের প্রাচীনকালের জ্ঞানীরা বলেছেন: সময়ে এক ফোঁড় অসময়ে দশ ফোঁড়। কোনো জনপদে রোগবালাই বলেকয়ে আসে না। তবে যদি কোনো রোগ হয় সাংবৎসরিক ও মৌসুমি, সে সম্পর্কে একটা আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। শ্রাবণ-ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বাংলাদেশে কমবেশি ভাইরাল ফিভার ও ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা দেয়। কোনো কোনো বছর কম, কোনো বছর খুব বেশি। পঞ্চাশের দশক পর্যন্ত আমরা দেখেছি চৈত্র-বৈশাখ মাসে গুটিবসন্ত এবং আশ্বিন-কার্তিক মাসে কলেরায় গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের চেষ্টায় সেই বালাই থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে। প্লেগের মতো ভয়াবহ সংক্রামক রোগও এই উপমহাদেশে দেখা দিয়েছিল। ১৮৯৬ সালের শেষের দিকে বোম্বে (মুম্বাই), পুনেসহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্লেগ মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়ে। 'মহারাষ্ট্রে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ প্লেগে মারা যায়।' [ভারতী, বৈশাখ ১৩০৬] চিকিৎসার আধুনিক ব্যবস্থা, ওষুধপথ্য এখনকার মতো সেকালে ছিল না। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে। তা না করলে উপমহাদেশে কয়েক কোটি মানুষ মারা যেত। কলকাতায়ও প্লেগ এসেছিল। বিত্তবানেরা নৌকায় গঙ্গায় গিয়ে থাকতেন। কয়েক মাসের মধ্যে সরকার 'প্লেগ রেগুলেশন' আইন করে ১৮৯৭-এর ফেব্রুয়ারিতে। একটি 'প্লেগ কমিটি' করা হয়েছিল ডব্লিউ সি রিডকে সভাপতি করে। সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল সংক্রামক রোগটি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে। 'প্লেগ রেগুলেশন'-এর বিধিতে ছিল যেকোনো নাগরিকের বাড়ির ভেতরে ঢুকে প্লেগের রোগী আছে কি না, তা দেখতে পারবে এবং তাকে সরিয়ে নিতে পারবে হাসপাতালে। প্লেগ সংক্রামক রোগ, তার জীবাণু ছড়ায় ইঁদুর থেকে। মানুষের বাড়িঘর দোকানপাটের আবর্জনার মধ্যে থাকে ইঁদুর। তাই প্লেগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর সরকার জোর দেয়। মুম্বাই নগরীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকেরা বাড়িঘর হাটবাজারের দোকানপাটে হানা দিতে থাকেন। রাজনৈতিক নেতারা একটা ইস্যু পেয়ে যান। বালগঙ্গাধর তিলক এই আইনের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন। সন্ত্রাসবাদীরাও একটা কাজ পান। প্লেগ কমিটির চেয়ারম্যান রিড এবং তাঁর সহকারী ক্যাপ্টেন আয়ের্স্টকে () প্রকাশ্য রাজপথে গুলি করে হত্যা করে। উপমহাদেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। সব ব্যাপারে সরকারকে দোষ দেওয়া যায় না। রক্ষণশীল ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে সমস্যা নানা রকম। 'পরিচ্ছন্নতা রক্ষা ও প্লেগ রোগীকে পৃথক্করণ কর্মসূচি'তে ভদ্রলোকদের থেকে বাধা আসে। 'উচ্চবর্ণের হিন্দুদের পারিবারিক সম্ভ্রমবোধ ক্ষুণ্ন' করায় তাঁরা বাড়িঘর তল্লাশিতে বাধা দেন। সম্ভ্রান্ত মুসলমানরা আরও বেশি পর্দানশিন। তাঁরাও ঘোর আপত্তি তোলেন। ইংরেজ সরকার, গোরা সৈন্য ও পুলিশের হাতে থাকত হান্টার। তারা দেখেছে জীবন আগে, পর্দা পরে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে প্লেগ প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছিল। তখন এত মিডিয়াও ছিল না। প্রচারের জন্য কর্মকর্তারা লালায়িতও ছিলেন না। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বাচালতা অপছন্দ করেন, নীরবে কাজ করেন। তাঁদের তৎপরতায় প্লেগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। হান্টারের ভয়ে নাগরিকেরা নিজেরাই ইঁদুরের আস্তানা ধ্বংস করে। স্বাধীন দেশে হান্টার এস্তেমাল সমর্থনযোগ্য নয়। সেটা করতে গিয়ে ১২২ বছর আগে মি. রিড নিহত হন, এখন হবে রিট। সেকালের মানুষের সংস্কার ও চেতনার মান আর এখনকার মানুষের চেতনার মান সমানও নয়। বাংলাদেশের নগর-বন্দর ও সমস্ত জনপথ আজ 'নির্বাচিত' জনপ্রতিনিধিতে গিজগিজ করছে। টেলিভিশনের কারণে 'মেয়র' শব্দটির সঙ্গে দেশের মানুষ অতি পরিচিত। কিন্তু ঢাকা মহানগরীতেই যে শ দেড়েক কাউন্সিলর রয়েছেন, তা ৯৫ শতাংশ মানুষ জানেন না। তাঁদের রক্তসম্পর্কের জ্ঞাতি এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় ছাড়া নগরবাসী তাঁদের দর্শন পায় না। অথচ পঞ্চাশ ও ষাটের দশকেও এই নগরীতে একজন কাউন্সিলরকে অলিগলি ঘুরে মানুষের খোঁজখবর নিতে দেখেছি। সরকারি কর্মকর্তাদের দোষারোপ করে একহাত নেওয়া বাঙালির আড়াই শ বছরের অভ্যাস। অথচ তাঁরা কী করেন, তার খোঁজ সব সময় না নিয়েই তাঁদের সমালোচনা করা হয়। ওদিকে রাজনীতিকরনেওয়ালারা গলাবাজি করে দায়িত্ব শেষ করেন। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের রয়েছে। তাঁরা মাস চারেক আগেই এবারে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে-এমনটি আশঙ্কা করে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে তাঁরা সভা করেছেন। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমাকে ডেকেছেন। আমিও তাঁদের অনেক সভায় গিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সতর্কতাকে মন্ত্রণালয় তথা মন্ত্রী মূল্য দেননি। ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম মশা নিধনের কীটনাশক নিয়ে সভা করেছেন। কার্যকর কীটনাশক আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অগ্রগতি বিশেষ নেই। আমরা চেয়েছিলাম সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। দুই মাস আগেই যদি দেশের বিভিন্ন মেডিকেল হাসপাতাল, সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের এ সম্পর্কে প্রস্তুতি নিতে বলা হতো, তা হলে মানুষের ভোগান্তি কম হতো। বাস্তবতাকে অস্বীকার করে সরকারের দুই পয়সা লাভ হয় নাই। রোগবালাই মহামারির আকারে দেখা দিতেই পারে। তাতে কারও হাত নেই। মহামারির জন্য সরকারকে দায়ী করা যায় না, তা প্রতিরোধে ও দমনে ব্যর্থতার জন্য সরকারকেই মানুষ দায়ী করবে। নব্বইয়ের দশক থেকে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বাংলাদেশসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটবে। বিশেষ করে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, কালাজ্বর প্রভৃতি। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে জোরালো ব্যবস্থা নিয়েছে তেমন প্রমাণ নেই। মন্ত্রণালয় পদায়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, বিদেশ সফর প্রভৃতি দাপ্তরিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত। খুব বেশি আগ্রহ নতুন ভবন নির্মাণ ও কেনাকাটা নিয়ে। চিকিৎসার যন্ত্রপাতি অতি আগ্রহে কেনা হচ্ছে, তা কে ব্যবহার করবে, কেউ জানে না। সেগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এবার ডেঙ্গু নিয়ে যখন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছিল, অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যখন সভা করছিলেন, তখনই মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল দেশের সব মেডিকেল কলেজের পরিচালক ও প্রিন্সিপালদের নিয়ে আলোচনা করে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার আগাম ব্যবস্থা নেওয়া। পত্রপত্রিকার রিপোর্টকে তাচ্ছিল্য ও বিদ্রূপ করা হলো। তখনই যদি ঢাকার বাইরের মেডিকেল হাসপাতালের ডাক্তার, সদর হাসপাতালের আরএমও, মেডিকেল কনসালট্যান্টদের এনে ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং দেওয়া হতো, আজ মানুষের এত ভোগান্তি হতো না। এখনো দায়িত্বপ্রাপ্তরা মুখে এমন সব কথা বলছেন, তা চায়ের আড্ডায় বলা যায়, রাষ্ট্রের পাবলিক অনুষ্ঠানে নয়। ঢাকার বাইরে জেলায় ও উপজেলায় হাজার হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না, কারণ উপযুক্ত ডাক্তার নাই, ওষুধ নাই, যন্ত্রপাতি নাই অথচ অতি সুন্দর হাসপাতাল কমপ্লেক্স রয়েছে। জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালে যদি স্বাভাবিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে এই ধরনের মাঝারি মহামারিতে মানুষকে ঘাবড়াতে হতো না। কিন্তু বেদনার বিষয়, সরকার টাকা খরচ করছে দেদার, মানুষ উপকার পাচ্ছে না। বর্তমানের খারাপ অবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো দুর্যোগ কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে চেষ্টাই হবে দূরদর্শী কাজ। উন্নত ও জ্ঞানপিপাসু জাতি তাই করে। তারা পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করে এবং অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ ফলাফল নীতিনির্ধারকদের কাছে পেশ করে। যদি আগামী বছরগুলোতে এর চেয়েও বড় বিপদ আসে, বিপন্ন মানুষদের জন্য রাষ্ট্র কিছুই করতে পারবে না। কেউ মরবে, অগণিত ভুগে ভুগে কোনোমতে বেঁচে থাকবে। কাজেই সময়ে এক ফোঁড়ই অনেক কাজে আসে। সৈয়দ আবুল মকসুদ লেখক ও গবেষক | 8 |
সুযোগ পেলে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে অভিনয় করতে চান হলিউডডে খ্যাতনামা অভিনেতা ব্রাডপিট। এই সুপাস্টারের বিপরীতে অভিনয় করার জন্য মুখিয়ে থাকেন নায়িকারা। আর তার সঙ্গে অভিনয়ের প্রস্তাব নাকি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রায়। 'ট্রয়' সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন নায়িকা। পরবর্তী সময়ে এই চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় রোজ ব্রায়ানকে। ২০১২ সালে 'কিলিং মি সফটলি' সিনেমার প্রচার এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে অভিনয় করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। পুরোনো সেই সাক্ষাৎকার নতুন করে আবার আলোচনায় এসেছে। জানা গেছে, 'ট্রয়' সিনেমার চিত্রনাট্য পছন্দ হয়েছিল ঐশ্বরিয়ার। এতে ব্রিসেইসের চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিলো তার। কিন্তু ঘনিষ্ঠ দৃশ্য থাকায় এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ব্র্যাড পিট বলেন, 'সুযোগ পেলে আমি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করতে চাই। কারণ তার অভিনয়ে বৈচিত্র রয়েছে। পাশাপাশি স্টাইল, সৌন্দর্য ও অভিনয় প্রতিভা দিয়ে হলিউডেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। আমার মনে হয়, ট্রয় সিনেমায় তাকে পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছি।' ট্রয়ে অভিনয় না করলেও 'ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস' সিনেমার মাধ্যমে ইংরেজি সিনেমায় ঐশ্বরিয়ার অভিষেক হয়। এরপর 'দ্য পিংক প্যান্থার টু', 'দ্য মিসট্রেস অব স্পাইসেস' সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এসব সিনেমাতে সাহসী চরিত্রেই দেখা গেছে তাকে। হয়তো, 'ট্রয়' সিনেমায় অভিনয় না করার আফসোস ঐশ্বরিয়ার মনেও রয়েছে। | 2 |
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মো. আবু ইউসুফ (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে লাকসাম-নোয়খালী রেলপথে উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লাকসাম রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওইদিন সকালে ইউসুফ নাথেরপেটুয়া এলাকায় রেলপথ দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে সে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ওই ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'অনেকে টিভিতে উঁকি দিয়ে সমালোচনা করে, ঘর থেকে বের হয় না। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাদের দেখা যায় না।' মন্ত্রী বলেন, 'জেকেজি ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রতারণা সরকারই উদঘাটন করেছে। স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম দুর্নীতি রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরো সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।' শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ এস আলম গ্রুপ কর্তৃক কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, এস আলম গ্রুপের প্রতিনিধি আকিজ উদ্দিন প্রমুখ। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন, বিএমএ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন হাসপাতালের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'নতুন এ ভাইরাস মোকাবেলায় সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও প্রথমে অজ্ঞাত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা স্বল্পতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। এখন আইসিইউ বেড ও হাসপাতালে জেনারেল বেড খালি থাকে। অক্সিজেনসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতা দূর হয়েছে। উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের মৃত্যুহার অনেক কম।' মন্ত্রী বলেন, 'সরকারের পাশাপাশি অনেক ব্যক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান কোভিড চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছে। অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জাতি ধর্ম বর্ণ ভেদে মৃত ব্যক্তিদের সৎকার করছে। প্রচার বিমুখ এস আলম গ্রুপ সব সময় জনকল্যাণে এগিয়ে ছিল। কোভিড মোকাবেলায়ও তারা এগিয়ে এসেছে। তাদের এ কার্যক্রম দেখে অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎসাহী হবে এবং এগিয়ে আসবে।' তিনি বলেন, 'অতীতে ভাইরাসের আক্রমণে প্রথিবীর পাঁচ ভাগের এক ভাগ মানুষ আক্রান্ত বা মৃত্যুবরণ করেছে। করোনায় এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আরও নানা ভাইরাস আসার আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই এখন নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করার সময় এসেছে। মানবকল্যাণে ব্যয় আরো বৃদ্ধি করতে হবে।' অনুষ্ঠানে এস আলম গ্রুপের অর্থায়নে কোভিড মোকাবেলায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০০টি হাইফ্লো নজুল ক্যানুলা প্রদান, চট্টগ্রাম মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালকে কোভিড-১৯ হাসপাতালে ডেডিকেটেড ঘোষণা, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন উদ্বোধন এবং কক্সবাজার জেলাকে দুটি এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। | 6 |
বাংলা একাডেমির সভাপতি ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেছেন, সাহিত্য সংসদের মাধ্যমে জেলায় জেলায় সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চা বেগবান হবে। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সমাজকে তরুণেরা আলোকিত করবে। আজ শুক্রবার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা সাহিত্য সংসদের সংবর্ধনা, কবি ও লেখক সম্মাননা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সেলিনা হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া কবি আরিফ মঈনুদ্দিন, কবি রীনা তালুকদার, লেখক ফখরুল ইসলাম, কবি জামিল জাহাঙ্গীর ও রাজু হোসেনকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের সভাপতি মো. সালাউদ্দিন শরীফের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক গাজী গিয়াস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ। এতে অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান হোসেন, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার ইউসুফ হোসেন প্রমুখ। | 6 |
করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশের ৮ জেলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুরে প্রকৌশলীসহ ৩, সিলেটে ২, খুলনায় উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ২, নওগাঁর মান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান, শেরপুরে মুক্তিযোদ্ধা, ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাবেক সেনা সদস্য এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বৃদ্ধ মারা গেছেন। এদের কেউ কেউ করোনা পজেটিভ ছিলেন। অনেকেই বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর ভাঙ্গা (ফরিদপুর) : জেলায় দুই ব্যবসায়ী ও এক প্রকৌশলী মারা গেছেন। এর মধ্যে ভাঙ্গা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন (৫৭) রবিবার গভীর রাতে মারা যান। তার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায়। এছাড়া জেলা শহরের ওয়ালেস পাড়ার মুদি দোকানদার রুহুল আমিন (৫২) সোমবার সকালে নিজ বাসায় মারা যান। তার বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়। অন্যদিকে সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুরের শিবরামপুরের ব্যবসায়ী বিল্লাহ হোসেন (৫৫) একই দিন সকালে মারা যান। সিলেট : সিলেটে নার্সসহ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ ডা. সামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যান ওই হাসপাতালের নার্স নাসিমা পারভীন। এর আগে রবিবার রাতে ময়মুন নেছা নামে আরেক নারীর মৃত্যু হয়। খুলনা : জেলার দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার খান (৫৮) মারা গেছেন। সোমবার সকাল ৬টার দিকে খুলনা সদর হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে তিনি মারা যান। তার বাড়ি বরিশাল জেলার আগৈলঝরা উপজেলায়। অপরদিকে ইমাম হোসেন বাচ্চু (৫৫) নামে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনি মারা যান। তিনি নগরীর রায়েরমহলের সৈয়দ আলতাফ হোসেনের ছেলে। নওগাঁ : জেলার মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা স ম জসিম উদ্দিন সোমবার সকাল ৮টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। শেরপুর : জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম উকিল (৬৭) রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা গেছেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল হালিম উকিল নালিতাবাড়ী পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি ছিলেন ওই পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান। ফেনী : জেলার প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল করিম মজুমদার রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছেন। তার বাড়ি জেলার উকিলপাড়ায়। তিনি ফেনী প্রেস ক্লাবের ৪ বারের সভাপতি, ফেনী সেন্ট্রাল হাইস্কুল ও পশ্চিম উকিলপাড়া পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন, ডেইলি স্টার ও ইউএনবির ফেনী জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। গোপালগঞ্জ : জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় আবুল হাসান মুন্সি (৬০) নামে এক সাবেক সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে তিনি মারা যান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জেলার আখাউড়ায় মো. জহিরুল ইসলাম (৭০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ভাটামাথা গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। | 6 |
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় দিন দিন বেড়ে চলছে করোনা সংক্রমণ। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসার স্বার্থে বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালকে 'করোনা ডেডিকেটেড' হাসপাতাল অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বুধবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মনোয়ার হোসেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বরিশাল বিভাগে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন ক্রমবর্ধমান হওয়ায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসার স্বার্থে বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত ১৩ শয্যায় কোভিড চিকিৎসা সেবা প্রদানের পরিবর্তে হাসপাতালটিকে সাময়িকভাবে সম্পূর্ণরুপে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত ৩ আগস্ট এ অনুমোদন সংক্রান্ত চিঠিটি বরিশালে এসে পৌঁছায়। ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, বরিশাল অঞ্চলে উদ্বেগজনক হারে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল করার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) অনুমতি মেলে। জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় চন্দ্র দাস বলেন, এ হাসপাতালে আগে বহির্বিভাগ বা ডায়রিয়াসহ অন্যান্য যেসব বিভাগ ছিল সেগুলো বন্ধ করা হবে। যেহেতু করোনা ডেডিকেটেড, এ জন্য অন্যান্য রোগের চিকিৎসা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেওয়া হবে। তাই এ সময়ে অন্যান্য রোগীদের এ হাসপাতালে না আসার অনুরোধ জানান তিনি। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সামলাতে যখন অন্যান্য হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছিল ঠিক সেই মুহুর্তে জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২২টি বেড স্থাপন করে করোনার চিকিৎসা শুরু করা হয়। পর্যায়ক্রমে তা বৃদ্ধি করে ৭০ বেড করা হয়েছিল। দক্ষিণাঞ্চলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০০ বেডের করোনা ইউনিট করা হয়। এবার বরিশাল জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড করা হলো। পাশাপাশি সাউথ অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আম্বিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু করার প্রস্তাব রয়েছে। | 6 |
গাজীপুরের কালীগঞ্জে যাত্রীবাহী দুইটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। দুইটি বাসই পাশের খাদে পড়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে দিনা নাজনীন (৪০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাস দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কের নাগরী ইউনিয়নের পিপুলিয়া নামকস্থানে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দিনা নাজনীন উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের কোরবান আলীর স্ত্রী। তিনি আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী নামের এক বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কের পিপুলিয়া এলাকায় বাদশা পরিবহনের যাত্রীবাহী দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঢাকা থেকে ভৈরবগামী (ঢাকা মোট্রো-ব-১১-৪৭৩৪) বাসটি সড়কের উত্তর পার্শ্বে খাদে ও ভৈরব থেকে ঢাকাগামী (ঢাকা মেট্রো-১৪-৪৬১৯) বাসটি সড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে পানিতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। আহতরা আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চলে গেছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ জানান, মৃত অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। | 6 |
রাত ৩টা ১০ মিনিট। কার্তিকের শেষ আর অগ্রহায়ণের শুরুর মুহূর্ত; অদৃশ্য কুয়াশা আর হিম হিম অনুভব উপেক্ষা করে নগরীর শেষ প্রান্তের এক খোলা প্রান্তরে মধ্য আকাশমুখী কিছু উৎসুক দৃষ্টি। বেশ খানিকক্ষণ অপেক্ষার পর আকাশে হঠাৎ ছুটে গেল উজ্জ্বল এক আলোর রেখা। কানে ভেসে এলো উল্লাসধ্বনি। পলক ফেলার মতো, সেকেন্ডেরও কম সময়ের স্থায়িত্বের আলোকরেখার এই বর্ষণ দেখার জন্য সারা রাতের অপেক্ষার অবসান হলো তবে! সময় যত গড়াতে লাগল, ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল আলোকরেখার বর্ষণসংখ্যা, উল্লাস আর উত্তেজনা ভর করল সবার মনে।
বলছি ১৬ নভেম্বর রাতের কথা। বলছি সেই আলোকরেখার বর্ষণের কথা- যার আভিধানিক নাম উল্ক্কাপাত। নভেম্বর মাসের এই সময়ে বছরের আলোচিত উল্ক্কাপাত হয়ে থাকে। যাকে বলে লিওনিড উল্ক্কাপাত। আকাশে লিও নক্ষত্রমণ্ডলের স্থান থেকে এই উল্ক্কাপাতের শুরু; নাম তাই লিওনিড উল্ক্কাপাত।
প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজধানীর ১০০ ফিটে মাদানী অ্যাভিনিউর শেষ প্রান্তে বালু নদের তীরঘেঁষা গ্রিনভিল আউটডোরসে লিওনিড উল্ক্কাপাত ও গ্রহ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প হয়। ১৬ নভেম্বর বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয়ে পর দিন ১৭ নভেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত চলে এ আয়োজন। করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন বয়সের পূর্ব নিবন্ধিত ১০০ জন সীমিত আকারের এ আয়োজনে অংশ নেন।
নভেম্বর মাসের শুরু থেকে ধূমকেতু ৫৫পি/টেম্পল-টার্টল সূর্যের চারদিকে যে পথ ধরে ছুটে চলে, তখন পৃথিবীও ওই কক্ষপথকে অতিক্রম করতে শুরু করে। ৫৫পি/টেম্পল-টার্টল ছুটে চলার সময় পেছনে ফেলে যায় বিচ্ছিন্ন অজস্র ছোট টুকরো বা ডেবরি। এই বিচ্ছিন্ন টুকরোগুলো যখন পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি চলে আসে এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বায়ুর ঘর্ষণে উজ্জ্বল হয়ে রাতের আকাশকে করে তোলে আলোকময়। ১৬ নভেম্বর রাতের আকাশে সেই প্রত্যাশিত লিওনিড উল্ক্কাপাতের দেখাই মেলে।
স্পেস ডট কমের তথ্য অনুযায়ী, লিওনিড উল্ক্কাপাত প্রচুর উল্ক্কাবৃষ্টির জন্য জ্যোতির্বিদ্যার ইতিহাসে বিখ্যাত। লিওনিডের সবচেয়ে আলোচিত উল্ক্কাপাত হয়েছিল ১৭৯৯, ১৮৩৩ ও ১৯৬৬ সালে; এই বছরগুলোয় ঘণ্টায় দশ হাজারেরও বেশি উল্ক্কাপাত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ১৯৯৯, ২০০১ ও ২০০২ সালে ঘণ্টায় এক থেকে দুই হাজার উল্ক্কাপাত রেকর্ড করা হয়। তবে এবারের লিওনিড উল্ক্কাপাত মহাকাশপ্রেমীদের অনেকটা হতাশই করেছে। এবার দেখা গেছে ঘণ্টায় মাত্র ১২ থেকে ২০টি উল্ক্কাপাত। বর্তমানে ধূমকেতু ৫৫পি/টেম্পল-টার্টল সূর্যের কক্ষপথের দূরতম স্থান অতিক্রম করছে বলেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন জ্যোতির্বিদরা। ২০১৬ সালে ৫৫পি/টেম্পল-টার্টল সূর্যের কক্ষপথ থেকে ১ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মাইল দূরের অবস্থানে ছিল। ২০৩১ সালের মে মাসে ৩৩ বছরের চক্র পূর্ণ করে ৫৫পি/টেম্পল-টার্টল সূর্যের অতি নিকটতম স্থান দিয়ে অতিক্রম করবে।
সংখ্যায় উল্ক্কাপাত কম হলেও বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের লিওনিড উল্ক্কাপাত ও গ্রহ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজনে কমতি ছিল না। বিকেল ৫টায় শেষ বিকেলের আলোয় গ্রিনভিল আউটডোরসে আসতে থাকেন মহাকাশপ্রেমী ও আগ্রহীরা। বিকেলের নাশতার পর সন্ধ্যা নামলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীরা টেলিস্কোপে বৃহস্পতি, শনি এবং মঙ্গল গ্রহ পর্যবেক্ষণ করেন। এই পর্যবেক্ষণ পর্ব চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। রাত ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আগ্রহী অংশগ্রহণকারীরা কাগজ কেটে রকেট তৈরির কার্যক্রমে অংশ নেন। রাত ৮ দশমিক ৩০ মিনিটে মহাবিশ্ব নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা পর্বে আলোচক হিসেবে ছিলেন আরিফ আসগর। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর লিওনিড উল্ক্কাপাত নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করেন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মশহুরুল আমিন।
রাতের খাবার শেষে রাত পৌনে ১২টা থেকে শুরু হয় সংগীত আয়োজন। বাংলাদেশের প্রথম আদিবাসী নারী ব্যান্ড দল এফ মাইনর ও স্পন্দনের নান্দনিক পরিবেশনার মধ্যে ফানুস ওড়ানো চলে রাত দেড়টা পর্যন্ত। পরে ক্যাম্প ফায়ার আর বারবিকিউয়ের আয়োজন হালকা শীতের রাতে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। প্রায় দশ ঘণ্টা অপেক্ষার পর গ্রিনভিল আউটডোরসের মাঠের চারপাশের সব আলো নিভিয়ে লিওনিড উল্ক্কাপাত দেখার জন্য মাঠের মধ্যে অবস্থান নেন অধীর সবাই। নির্জন নীরবতায় তারা চেনাতে মশহুরুল আমিনের ছোট্ট পর্বটি উপভোগ করেন সবাই। রাজধানী ঢাকার চারপাশের আলো, ধূলিভরা বাতাস আর হালকা কুয়াশা প্রাথমিকভাবে এতে সমস্যার সৃষ্টি করে। পরে অন্ধকার ধীরে ধীরে চোখে সয়ে এলে আকাশের দৃশ্যমান তারকারাজির ওপারে আরও অনেক তারার পরিবারের দেখা মেলে। এরই মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ আলোর ঝলকের মতো অতি দ্রুত উল্ক্কাপাত সেই সময় এক মহাজাগতিক আবহ তৈরি করে।
লিওনিড উল্ক্কাপাত ও গ্রহ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পের পরিচালক রবিন ফকির বললেন, 'করোনার লকডাউনের পর এটাই আমাদের প্রথম আয়োজন। প্রতি বছরই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা উল্ক্কাপাত পর্যবেক্ষণ করি। কিন্তু এবার স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা করতে হয়েছে। যদিও আয়োজন সফল এবং আনন্দময়ই হয়েছে।'
উল্ক্কার খোঁজে এক রাত পার করে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন ঘরে ফেরার পালা হলো শুরু, তখন চোখের মধ্যে ছিল আলোকরেখার মায়াময় আবেশ আর মাথার মধ্যে ঘুরছিল জীবনানন্দ দাশের 'সহজ' কবিতার কয়েকটি লাইন- 'তুমি শুধু একদিন, এক রজনীর;/ মানুষের- মানুষীর ভিড়/ তোমারে ডাকিয়া লয় দূরে- কতো দূরে-/ কোন সমুদ্রের পারে, বনে- মাঠে- কিংবা যে-আকাশ জুড়ে/ উল্ক্কার আলেয়া শুধু ভাসে'।
| 6 |
কক্সবাজারের টেকনাফে সদ্য আত্মসমর্পণ করা ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে রয়েছে আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বেয়াই শাহেদ কামাল। এছাড়া তার চার ভাইসহ মোট ৭ স্বজনও আজ মাদক ব্যবসা ছাড়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন বদির ভাই আবদুশ শুকুর, আমিনুর রহমান, মো. ফয়সাল রহমান ও শফিকুল ইসলাম, ভাগিনা সাহেদ রহমান নিপু, ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেল ও খালাতো ভাই মংমং সেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেছেন-টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে দিদার মিয়া ও পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর প্রকাশ নুরশাদ, পশ্চিম লেদার নুরুল হুদা মেম্বার, ইউপি মেম্বার জামাল হোসেন, শামসুল আলম। কক্সবাজারের আলোচিত ইয়াবা ডন শাহজাহান আনসারিও আত্মসমর্পণ করেছেন।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
ভক্তের মোবাইল ছুঁড়ে ফেলা ও পশ্চিমবঙ্গের পূজামণ্ডপ ইস্যুতে গত সোমবার মুখ খুলেন সাকিব আল হাসান। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ঘটনা দুটির ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষমা প্রার্থনাও করেছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অনেকে বলছেন সাকিব ঠিক করেছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন ঠিক করেননি। এবার এই ইস্যু জানার পর চুপ থাকলেন না বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। বিস্ফোরক এক টুইট করেছেন তিনি। কঙ্গনা প্রশ্ন রেখে লিখেছেন, মন্দিরে এত ভয় কেন? কোনো কারণ তো থাকবে? এমনি এমনি কেউ এত ঘাবড়ে যায় না। | 2 |
গত ৩ ফেব্রুয়ারি কানাডার টরন্টোতে বার্চমাউন্ট কম্যুউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশের লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস রচিত 'কানাডীয় সাহিত্য: বিচ্ছিন্ন ভাবনা' গ্রন্থটির পাঠ-উন্মোচন ও কানাডার সাহিত্য নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। চারপর্বের এই আয়োজনের উদ্বোধনীতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টরন্টো পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস, বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই লেখক কবি ইকবাল হাসান এবং কথাসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল প্রমুখ। গ্রন্থটির ওপর আলোকপাত করে লেখকের প্রশংসা করেন অ্যান মাইকেলস। আলোকপাত করেন কথাসাহিত্যিক সৈকত রুশদী, কবি দেলওয়ার এলাহী, গবেষক সুরজিৎ রায় মজুমদার ও লেখক মাহমুদ হাসান। বাচিকশিল্পী চয়ন দাস অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। গ্রন্থটির লেখক সুব্রত কুমার দাস গত চার বছর ধরে কানাডার সাহিত্য পাঠ এবং দুই বছর ধরে গ্রন্থটি রচনাকালে যে বন্ধুরা পাশে ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কবিতা পাঠ পর্বে বিশিষ্ট কবি অশোক চক্রবর্তী সভাপতিত্ব করেন। কানাডার মূলধারার যে লেখক ও কবিরা তাদের রচনা থেকে পাঠ করেন তারা হলেন- অ্যান মাইকেলস, কবি মার্ক ডি স্যাভেরিও ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কবি দয়ালি ইসলাম। এই পর্বটি পরিচালনা করেন সংস্কৃতিকর্মী মম কাজী। কানাডার সাহিত্য পর্বে সভাপতিত্ব করেন সম্প্রতি প্রকাশিত 'স্টর্ম' উপন্যাসের লেখক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরিফ আনোয়ার। কানাডার সাহিত্য নিয়ে যে বাঙালিরা আলোচনা করেন তারা হলেন- গবেষক সুজিত কুসুম পাল, অনুবাদক সায়ীদ যাদীদ এবং সংস্কৃতিকর্মী তাসমিনা খান। পর্বটি পরিচালনায় ছিলেন অদিতি জহির। কানাডার প্রথম ২৪ ঘণ্টার টেলিভিশন এনআরবি, সাপ্তাহিক দেশের আলো, সাপ্তাহিক সিবিএন২৪, সাপ্তাহিক বাংলা মেইল ও বাংলা রেডিও আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এনআরবি টেলিভিশনের এমডি আব্দুল হালিম মিয়া, সাপ্তাহিক দেশের আলো পত্রিকার উপদেষ্টা খোশনুর রশীদ চৌধুরী এবং সাপ্তাহিক সিবিএন২৪-এর প্রধান সম্পাদক মাহবুবুল হক ওসমানী। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতাকারী প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকের প্রতিষ্ঠান শাড়ি হাউসের কর্ণধার রঞ্জন রায়ও লেখককে অভিনন্দিত করেন। সাপ্তাহিক বাংলা মেইল পত্রিকার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টুর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে চার ঘণ্টার অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি | 4 |
চরম ব্যস্ততার মধ্যে নিজেকে সময় দেওয়ার ফুরসত মেলে না তাঁদের। এখন মিলছে বটে। করোনাভাইরাসের ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না বলিউড তারকারা। গৃহ রুদ্ধ সময়টাকে উপভোগ করছেন তাঁরা। কেউ খাচ্ছেন তো, কেউ ঘুমাচ্ছেন। কেউ বই পড়ে, কেউ পিয়ানো বাজিয়ে, কেউবা পরিবারের সঙ্গে ঘরের মধ্যেই সময় কাটাচ্ছেন। কেউ আবার রান্নাঘরে গিয়ে বাসন মাজছেন। শুধু বাসন মাজা নয়, রীতিমতো ভিডিও করে ভক্তদের শেখাচ্ছেন কীভাবে বাসন মাজতে হয়। যেমন ক্যাটরিনা কাইফ। ক্যাটরিনা সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে পানি নষ্ট না করেই কীভাবে বাসন ধুতে হয়, তার একটা সংক্ষিপ্ত টিউটোরিয়াল শেয়ার করেছেন ভক্তদের জন্য। সেখানেই তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'প্রথমে ভাবলাম প্রতিটা বাসন আলাদাভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে রাখব কি না। তারপর ভাবলাম, এর চেয়েও ভালো উপায় আছে। সব ডিশ একসঙ্গে সিঙ্কে রাখুন। তারপর সাবানপানি গুলে দিন। এরপর পানি দিয়ে বাসন ধুয়ে নিন। ব্যস, সময়ও বাঁচবে আবার পানিও কম খরচ হবে।'যথারীতি এই ভিডিও ছাড়ার পরই ভাইরাল হয়ে যায় নেটপাড়ায়। ভিডিওতে তাঁর সাবলীল কথাবার্তার প্রশংসা করেছেন ভক্তরা। বাসন ধোয়ার ভিডিও পোস্ট করলেন কার্তিক আরিয়ানও। ভক্তরা তো বটেই, বহু তারকাও মন্তব্য লিখেছেন পোস্টের নিচে। অভিনেতা অর্জুন কাপুর লিখেছেন, 'আমার বাড়িতে তোমার আমন্ত্রণ।' যদিও এরই মধ্যে একজন টিপ্পনীও কেটেছেন, 'এই ট্রিক তুমি আজ জানলে ক্যাটরিনা! চা-বিক্রেতা এই উপায় সেই কত দিন ধরে প্র্যাকটিস করে আসছে।'এর আগে জসমিন করাচিওয়ালার সঙ্গে বাড়ির ছাদে তাঁর ওয়ার্ক-আউট ভিডিও পোস্ট করেছিলেন নায়িকা। এই গৃহবন্দী অবস্থাতেও কীভাবে একঘেয়েমি কাটাতে হবে, নেটিজেনদের একের পর এক সেই সব উপায় বাতলাচ্ছেন তিনি। | 2 |
ঢাকায় নিযুক্তসুইডেন, স্পেন ও নরওয়েররাষ্ট্রদূতের কাছে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ফন লিনদে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো দি ওসিস বেনেতিজ সালাস এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত অ্যাসপেন রিকতার সেভেন্দসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিন রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এছাড়া ড. মোমেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগের জন্য রাষ্ট্রদূতদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে হাইটেক পার্কে আইসিটি খাতে বিনিয়োগের জন্য তাদের প্রতি অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 9 |
পত্রিকা সামনে পেলেই খুলে দেখেন বিনোদন পাতা। সেখানে সিয়াম আহমেদের কোনো ছবি থাকলেই কখনো লুকিয়ে, কখনো অনুমতি নিয়ে সেটা সংগ্রহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রিয় তারকার খবরের কাটিং সংগ্রহ করেছেন এস এ সুচিন্তা। এস এ সুচিন্তার অনেক দিনের ইচ্ছা কাটিংগুলো একটার পর একটা সুন্দরভাবে সাজিয়ে সেগুলোর সঙ্গে নিজের একটা ছবি তোলা। শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছা কীভাবে পূরণ হলো, সে গল্পই সিয়ামের ফেসবুক ফ্যান পেজে পোস্ট করেছেন সুচিন্তা। লিখেছেন, 'কিছু বছর ধরে জমানো ভালোবাসা। জানি না আপনি লক্ষ করবেন কি না। অনেক অনেক দিনের ইচ্ছা এভাবে কয়েকটি সুন্দর ছবি তুলব, কিন্তু কোনোভাবেই হয়ে উঠছিল না। কারণ, যেহেতু আমার বাসায় এসব সম্পর্কে কেউ জানে না, সেহেতু খুব যত্ন করে আপনাকে আড়ালে রেখেছি। অতঃপর কয়েক দিন হলো বাসার ওপরের ফ্ল্যাটটা খালি হয়েছে। সেই সুযোগে খুব কষ্ট করে ইচ্ছাটা পূরণ করলাম। আমার কাছে আপনার মূল্য কতটুকু, তা হিসাবের বিষয় নয়। আপনাকে কতটা বোঝাতে পারব, তা-ও জানি না। শুধু চাই, আপনি আমাকে জানুন। আপনার সঙ্গে দেখা হলেই যেন আমার নামটা নিয়ে বলতে পারেন, "আরে তুমি সে না?" শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।' আর সত্যিই ভক্তের এই পাগলামি সিয়ামের নজরে পড়েছে। নিজের ফেসবুক পেজে সুচিন্তার পোস্টটি শেয়ার করে লিখেছেন, 'দিস ইজ ক্রেজি, দিস ইজ বিউটিফুল। থ্যাংকস ফর ইয়োর আনকন্ডিশনাল লাভ।' সিয়ামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, 'মানুষ এখন এত ব্যস্ত যে কারও জন্য সময় থাকে না। সেখানে কেউ আমাকে নিয়ে ভাবছেন, আমার কাজ দেখছেন, আমার জন্য সময় দিচ্ছেন, এটা আমার সেরা পাওয়া। ভক্তদের এই ভালোবাসা ও পাগলামিগুলো আমাকে অবাক করে। এই ভালোবাসা দীর্ঘদিন ধরে পাচ্ছি। এটা আমাকে ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। এটা একধরনের শক্তি। মনে হয়, না, আমি একা নই।'সিয়াম আরও বলেন, 'প্রথম দিকে কাজ শুরুর পর বুঝতে পারতাম, কিছু মানুষ আমার কাজ পছন্দ করেন। তখন মনে হতো, যেভাবেই হোক ভক্তদের পছন্দটা ধরে রাখতে হবে। পরের কাজগুলো যেন তাঁরা পছন্দ করেন। এটা আমার কাছে এখন একধরনের চাপ মনে হয়। নিয়মিত ফেসবুক, অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম, ফোনে ভক্তরা ভালোবাসা জানান। এগুলো আমাকে মুগ্ধ করে। সব সময় আমার চেষ্টা থাকে ভক্তদের জন্য আরও ভালো কাজ করতে হবে। তাঁদের ভালোবাসায় নতুন স্বপ্ন দেখি।' প্রিয় তারকার ফ্যান পেজে ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত পোস্ট করেন সুচিন্তা। তাঁর পোস্টে বা ব্যক্তিগত ডায়েরিতে উঠে আসে সিয়ামের কাজ ও ব্যক্তিগত নানা ঘটনা। সিয়ামের জন্মদিন বন্ধুদের নিয়ে উৎসব করে কাটান। প্রিয় তারকার বিয়ে বা বিশেষ কোনো দিন কখনোই ভোলেন না। সিয়ামকে নিয়ে লিখেছেন একাধিক কবিতা। নিয়মিত সিয়ামের ছবি আঁকেন। সিয়ামের যেকোনো অর্জনেই তাঁর খুশির সীমা থাকে না। সিয়ামের সেই ভক্তের ফেসবুক সূত্রে জানা যায়, তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ। তিনি গুরুদয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। তাঁর ইচ্ছা প্রিয় তারকার সঙ্গে একদিন দেখা করা।সুচিন্তার সেই ইচ্ছা কি কখনো পূরণ হবে? | 2 |
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিয়মিত মেডিকেল চেকআপের জন্য পাঁচ দিনের সফরে সিঙ্গাপুর গেছেন। সোমবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান (বিজি- ০০৮৪)-এর একটি ফ্লাইটে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। মেডিকেল চেকআপ শেষে আগামী ১৪ জুলাই দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। এরশাদের সফর সঙ্গী হিসেবে আছেন-জাতীয় পার্টি মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলদার এমপি, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি এবং মেজর মো. খালেদ আখতার (অব.)। এরশাদের ফ্লাইটের সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য এম এ সাত্তার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, গোলাম কিবরিয়া টিপু, ফখরুল ইমাম এমপি, সৈয়দ আব্দুল মান্নান, চিত্র নায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, প্রমুখ। | 9 |
ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার কাছে ওয়াদা করছি, বাংলাদেশকে তার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করবো। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্ব দরবারে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। সেই দেশ গড়ে তুলবো, জাতির পিতার কাছে এই কথাই দিলাম।' এদিন আলোচনা সভা ছাড়াও জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করেছে আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারের গত নয় বছরে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আর কেউ করতে পারেনি। পঁচাত্তরের পর ২১ বছর এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এই ২৮ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা কেন এই উন্নয়ন করতে পারেনি? দেশেকে এগিয়ে নিতে পারেনি? তারা কেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে পারেনি? কারণ তারা করতে চায়নি। তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাদের হৃদয়ে 'পেয়ারে পাকিস্তান'। তারা কেবল পাকিস্তানের গোলামি করতে পারে। দেশের উন্নয়ন করতে পারে না। জনগণের কল্যাণ ও মঙ্গল করতে পারে না।' টানা দুই মেয়াদে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, যে ভাষণ এক সময় নিষিদ্ধ ছিল, সেই ভাষণই আজ বিশ্বের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাঙালি জাতিকে মর্যাদা এনে দিয়েছে। এদেশের মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গল করাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। এদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, '১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়। স্বাধীনতা বাস্তব রূপ পায়।' ঐতিহাসিক এই দিনটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু লন্ডন হয়ে দেশে ফেরেন। এর আগে তিনি (শেখ হাসিনা), তার মা ও বোন শেখ রেহানাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি ছিলেন। ওই সময় তারা জানতেন না, তার বাবা বঙ্গবন্ধু আদৌ বেঁচে আছেন কি-না। প্রচণ্ড উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে তাদের দিন কেটেছে। অবশেষে মুক্তি পেয়ে ৮ জানুয়ারি লন্ডন থেকে বঙ্গবন্ধু যখন ফোন করেন, তখন আবেগে তারা কোনো কথাও বলতে পারেননি। পরে বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে পরিবারের কাছে না এসে প্রথমেই তার জনগণের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসকদের দুঃশাসন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যখনই সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, তখনই তাকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের মানুষ যখনই একটু সুখের মুখ দেখতে পায়, তখনই ১৫ আগস্ট ঘটে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে প্রথমে খুনি মোস্তাক ও পরে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে। বাংলাদেশের জনগণ আবারও অন্ধকারে হারিয়ে যায়। জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। ৭ মার্চের ভাষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও ইতিহাস বিকৃতি করে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাঁথা মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়। বাংলাদেশের মানুষকে একটা বিভ্রান্তিতে ফেলা হয়। প্রচার করা হয়- বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছেন জিয়া। পঁচাত্তরের পর বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধী, পাকিস্তানের দোসর ও স্বাধীনতাবিরোধীরাই ক্ষমতায় আসে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, পঁচাত্তরের পর ২১ বছর যারাই ক্ষমতায় ছিল, তারা যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন করেছে। প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী বানিয়েছে, আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। তাকে হত্যার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে তাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে 'বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা' আখ্যা দিয়ে বিএনপিসহ কোনো কোনো মহলের বক্তব্যের বিরোধিতা করে শেখ হাসিনা বলেন, 'অনেকেই বলে, জিয়াউর রহমান না-কি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা! জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র মানে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করা, স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এটা জনগণের গণতন্ত্র নয়, যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের গণতন্ত্র। যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনেরই নামান্তর মাত্র। যে কারণে বাংলাদেশ এগোতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে সম্মান পেয়েছিল, সেটা ভূলুণ্ঠিত হয়ে যায়।' এ প্রসঙ্গে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, দুর্নীতি-লুটপাট ও দুঃশাসনের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল ও সরকার পতনের আন্দোলনের নামে ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস, ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার উৎখাত না করে ঘরে না ফেরার ঘোষণা দিয়ে তারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা- এটা কারা করতে পারে জানি না। এটা কেবল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীই করতে পারে, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় অত্যাচার-নির্যাতন ও নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল। আর যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে, তারা জনগণের কল্যাণ করতে পারে না। স্বাধীনতার পর ৪৬ বছরের মধ্যে ২৮ বছরই তারা দেশের ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু কিছুই করতে পারেনি। তিনি বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের মানুষের কল্যাণ হয়, মঙ্গল হয়। জনগণ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যায়। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়া। ইনশাল্লাহ সেটি আওয়ামী লীগই করতে পারবে। সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আখতার পপি, উপাধ্যক্ষ রেমণ্ড আরেং, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। | 6 |
ঢাকা:পরিসংখ্যান বলবে, ম্যাচের দখলে ছিল আফগানিস্তান। বলের দখল থেকে শুরু করে আক্রমণ-সবকিছুতেই ছড়ি ঘুরিয়েছে তাঁরাই। যা লেখা থাকবে না তা হলো, ৪২ বছর পর আফগানদের হারানোর দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। ৩৬ শতাংশ বলের দখল আর ৪৮ মিনিটে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও পেয়েছে জয়ের সমান ১-১ গোলের ড্র।দোহার জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে আজ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, যাদের বিপক্ষে ১৯৭৯ সালের পর আর জয় পাওয়া হয়নি। ৪৮ মিনিটে গোল করে সেই রেকর্ডকে আরও দীর্ঘ করেছে আফগানরা। ৮৫ মিনিটে তপু বর্মণের শটে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ আফগানদের রুখে দিলেও জয়ের একটা আফসোস ঠিকই থেকে গেল। শেষ ১০ মিনিটে যে গতিতে আক্রমণ করে গেছেন জামাল ভূঁইয়ারা, ম্যাচের অর্ধেকও সেই ধারা অব্যাহত থাকলে হয়তো পাল্টে যেত ম্যাচের ফল!দারুণ ড্র করলেও পাল্টাচ্ছে না পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান। ছয় ম্যাচে দুই ড্রয়ে জেমি ডে শিষ্যদের পয়েন্ট দুই। আছে টেবিলের তলানিতে। সমান ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আফগানরা।ম্যাচের শুরুতে জেমি ডের পছন্দের ৪-২-৩-১ ফরমেশনে বাংলাদেশের রক্ষণে সেন্টার ব্যাক হিসেবে ছিলেন তপু বর্মণ ও রিয়াদুল হাসান রাফি। অভিজ্ঞ রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষের জায়গায় অভিষেক হয়েছে ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক কাজী। লেফটব্যাকে ছিলেন রহমত মিয়া। মাঝমাঠের খানিকটা নিচে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে আরেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনি। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে সোহেল রানা, বিপলু আহমেদ ও মতিন মিয়া। দলের একমাত্র ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলেছেন রাকিব হোসেন।বিপরীতে আফগানিস্তানের ফরমেশন ছিল সোজাসাপ্টা, ৪-৩-৩। প্রথম ৪৫ মিনিটে ৭৮ শতাংশ বলের দখল রাখা আফগানদের গোল করতে না দেওয়াই বাংলাদেশের কৃতিত্ব। ২০১৯ সালে দুশানবতে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আফগান অধিনায়ক ফারশাদ নূর। আজও প্রায় বিপদে ফেলে দিয়েছিলেন জামালদের। ২৯ মিনিট ডি-বক্সের বাইরে তাঁর ডান পায়ের উড়িয়ে মারা শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। নইলে প্রথমার্ধেই পিছিয়ে পড়ত বাংলাদেশ।বিরতির পর আর আটকে রাখা যায়নি আফগানিস্তানকে। ৪৮ মিনিটে প্রায় মাঝমাঠ থেকে ডেভিড নাজিমকে বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ শরিফ। নাজিম কাটব্যাক করেন আমির শরিফির পায়ে। ডিফেন্ডার রহমত মিয়া ছিলেন মার্কিংয়ের দায়িত্বে। তাঁকে ছিটকে দিয়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান আমির শরিফি।৬১ মিনিটে বাংলাদেশকে আবারও প্রায় বিপদে ফেলে দিয়েছিলেন আমির শরিফি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোলার বেগে এক শট নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো, লক্ষ্যে ছিল না সে শট।গোল পাওয়ার পর অধিনায়ক নূরকে তুলে নেন আফগান কোচ আনুশ দস্তগির। মাঠে নামান একাধিক ডিফেন্ডারকে। ম্যাচে প্রথমবারের আফগানদের মতো রক্ষণাত্মক হওয়ার সুযোগে দুই ফরোয়ার্ডসহ আক্রমণের তিন খেলোয়াড়কে নামান জেমি ডে। তাতেই পাল্টে যায় ম্যাচের মোড়।ম্যাচের ৭৯ মিনিটে রাকিব হোসেনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন অভিষিক্ত মিডফিল্ডার মো. আবদুল্লাহ। পরের মিনিটেই হাতছাড়া করেছেন সমতায় ফেরার বড় সুযোগ। মানিক মোল্লার বাড়ানো লম্বা শটে আফগান গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন, কিন্তু বল মেরেছেন গোলরক্ষকের গায়ে।৫ মিনিট পরই অবশ্য আক্ষেপ মেটান তপু বর্মণ। ডিফেন্ডার হয়েও আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করার কীর্তি আছে তাঁর। বাংলাদেশকে বাঁচালেন আফগানদের বিপক্ষেও। সেট পিস থেকে রিয়াদুল হাসান রাফির হেড থেকে ডি-বক্সে বল পেয়েছিলেন তপু। তাঁকে ঘিরে ছিলেন আফগানদের তিন খেলোয়াড়। তিনজনকেই দারুণভাবে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশ ড্র এনে দেন অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক। | 12 |
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার জারির পর থেকে দেশের পুঁজিবাজারের পালে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। টানা উত্থানের ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবারও উত্থানে শেষ হয়েছে পুঁজিবাজারের লেনদেন। এ নিয়ে টানা ৫ কার্যদিবস সূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রতি কার্যদিবসই বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী গত ১৬ জানুয়ারি বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং কয়েকটি নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই বৈঠকের পর ১৯ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাড়ে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার পতন হয়। সর্বশেষ গত ১০ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রত্যেক ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা করে ফান্ড গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সার্কুলার জারি করে। ওই সার্কুলারের পর থেকে সূচক ও লেনদেন বাড়তে থাকে। গত রবিবার ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচকটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উত্থান হয়েছ। গতকালও পুঁজিবাজারে উত্থানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৬৮ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৮, ডিএসই-৩০ সূচক ৭ এবং নতুন চালু হওয়া সিডিএসইটি সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০৮৪, ১৫৯৯ ও ৯৫৬ পয়েন্টে। ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৯৭৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। যা ১ বছর ১৪ দিন বা ২৪৭ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গতকালের চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল। ওইদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৯৮৪ কোটি টাকার। ডিএসইতে আজ ৩৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৫টির বা ৫৫ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ১২৮টির বা ৩৬ শতাংশের এবং ৩২টি বা ৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এ দিন ১০৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৪৩ পয়েন্টে। এ দিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১৫৫টির, কমেছে ৮৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টির দর। সিএসইতে ৩২ কোটি ৫১লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। | 0 |
নয়বার চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খানের শারীরিক অবস্থা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল সকালে তাকে রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতাল থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মাহফুজুর রহমান খানের ভাতিজা সাদাতুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'মাহফুজুর রহমান খানের হার্ট সাড়া দিচ্ছে। তবে তার ফুসফুসের অবস্থা ভালো নেই। তাকে লাইফ সাপোর্টে যেসব মেডিসিন দেওয়া হচ্ছিল, সেসব ঠিক রেখে অ্যাম্বুলেন্সে ইউনাইটেড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। গত কয়েকদিন রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন মাহফুজুর রহমান খান। গত শুক্রবার রাতে তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান খান বেলজিয়াম থেকে দেশে ফিরেছেন। এর পরই পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২৪ নভেম্বর রাজধানীর পুরান ঢাকার বাসায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাহফুজুর রহমান খান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। | 2 |
'গাছ লাগাই, গাছ বাঁচাই' এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে সমকাল সুহৃদ সমাবেশের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার ফকদনপুর-রায়পুর ঈদগাহ মাঠে বন বিভাগের সহযোগিতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের শতাধিক চারা রোপণ করা হয়। বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম রন্টু,। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়নুল ইসলাম, সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা শামসুজ্জুহা, সহ-সাধারণ সম্পাদক পজিরুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, সদস্য পয়দুল ইসলাম, জীবন হক, মাইনউদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, জবেদ আলী প্রমুখ।উল্লেখ্য, সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রয় শুরু করেছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা। | 6 |
প্রকৃতিতে শীত জেঁকে বসেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে রীতিমতো শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়ে গেছে। চলতি শীতে ২৮ নভেম্বর প্রথমবারের মতো দেশের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামে। দিনে রোদের তাপ থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই ঝুপ করে ঠান্ডা কাবু করে বসে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় শীতের অনুষঙ্গ খেজুরের রস ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়েছে। শীত নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিনিধি ও আলোকচিত্রীদের পাঠানো ছবি। | 5 |
ঢাকা: ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে হারানো। ইংলিশদের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে প্রথম সিরিজ জয়-ক্যারিবীয়দের কত প্রথমের জন্ম যে সেই সিরিজে।ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজটা জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে। ক্যারিবীয়দের কাছে সিরিজটা শুধুই এক সিরিজ নয়-এটি তাদের কাছে এক যুগান্তকারী বাঁকবদলের সিরিজ। ১৯৫০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ড সফর ক্যারিবীয় ক্রিকেটের মানচিত্রই যেন বদলে দিয়েছিল। এই সিরিজে সূক্ষ্ম চোখ ছিল বারবাডোজের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের, যিনি পরে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে। নাম তাঁর স্যার গ্যারি সোবার্স।সোবার্সের মনে বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বুনে দিয়েছিলেন তিন 'ডব্লিউ'-এভারটন উইকস, ফ্রাঙ্ক ওরেল আর ক্লাইড ওয়ালকট। এই তিন কিংবদন্তির স্বার্থক উত্তরাধিকার স্যার গ্যারি। এঁদের দেখেই ক্রিকেটের প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। পরে সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। উইকস-ওরেল-ওয়ালকট কীভাবে প্রভাবিত করেছিলেন সোবার্সকে, সম্প্রতি সেই গল্পই তিনি শুনিয়েছেন ব্রিটিশ দৈনিক ডেইল মেইলকে।সোবার্স বলেছেন, ব্রিজটাউনে স্কুলের যাওয়ার পথে ম্যাচের ধারাবিবরণী শুনতে সকাল ৭টায় বাড়ি থেকে বের হতেন তিনি । বাড়িতে কোনো রেডিও ছিল না। পাঁচ বছর বয়সে তিনি হারিয়েছেন বাবাকে। কৈশোরের দিনগুলোয় প্রতিবেশির বাড়ির সামনে রেডিওতে ধারাবিবরণী শোনার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। তাদের দরজা বা জানালার কাছে কান পেতে রাখতেন সোবার্স। কেউ তাড়িয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই শুনতেন রেডিও।লর্ডসে সেই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট জয়টা ৮৪ বছর বয়সী সোবার্সের স্মৃতিতে এখনো সতেজ। সনি রামাদিন আর আলফ ভ্যালেন্টাইনের বোলিং কীর্তি এখনও যেন চোখ বন্ধ করলে দেখতে পান। তবে সোবার্সকে বেশি টেনেছিল 'থ্রি ডব্লিউ'। স্মৃতি রোমন্থনে ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ফিরে গেছেন ৭০ বছর আগে, 'ফ্রাঙ্ক ওরেল, এভারটন উইকস, ক্লাউড ওয়ালকট-এই তিন নায়ক ইংলিশ বোলারদের এলোমেলো করে দিচ্ছিল। ইংলিশ ধারাভাষ্যকারদের মুখে তাঁদের ব্যাটিং এখনও যেন শুনতে পাই। মাঠে তাঁদের ব্যাটিং ফিল্ডাররা পর্যন্ত উপভোগ করতেন! তবে আমি সেটি আবিষ্কার করেছি রেডিওতে, আরলটের কণ্ঠে।'তিন ব্যাটিং মহারথী জন্মেছেন বার্বাডোজে। সোবার্সও বার্বাডিয়ান। তবে দলে সুযোগের আগ পর্যন্ত থ্রি ডব্লুউর ব্যাপারে ভালোভাবে জানার সুযোগ হয়নি তাঁর। সোবার্স তিন প্রিয় ক্রিকেটারের প্রথম সান্নিধ্য পান ইংলিশদের বিপক্ষে জ্যামাইকা টেস্টে, ১৯৫৪ সালে । স্যাবাইনা পার্কে কিংবদন্তিত্রয়ীর অনুশীলন দেখেই সোবার্স তো অভিভূত। বলছিলেন, 'আমি কি স্বপ্নের ঘোরে আছি না কি এটাই বাস্তব!'স্বপ্ন আর বাস্তবের সেই সীমানা পেরিয়ে সোবার্স পরে নিজেই হয়েছেন ক্রিকেটের মহিরূহ। | 12 |
মিয়ানমারের জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করে দ্রুত বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠায় দেশটির জান্তার ওপর চাপ জোরালো করতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। স্থানীয় সময় শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাশেলেট এ আহ্বান জানান। খবর এএফপির। মিয়ানমারে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয় অং সান সু চিসহ তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার ইতি টানা হয়। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। দিনটিকে সামনে রেখে শুক্রবার মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট। তিনি বলেন, সেনা অভ্যুত্থানের এক বছরে মিয়ানমারের জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। তাদের জীবনযাপন ও স্বাধীনতার ওপর প্রভাব পড়েছে। তিনি মনে করেন সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক এ হাইকমিশনার আরও বলেন, মিয়ানমারে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ও নতুন করে প্রচেষ্টা শুরু করার এখনই সময়। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মিয়ানমারে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখতে জান্তাকে বোঝানোর জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনসের পক্ষ থেকে খুব বেশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে আক্ষেপ জানান ব্যাশেলেট। তিনি বলেন, মিয়ানমারে নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মানুষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন তাঁদের ছেড়ে না যায়। ব্যাশেলেট বলেন, 'আমি এ অঞ্চলের ও বাইরের বিভিন্ন দেশের সরকার ও অন্যদের প্রতি এ আকুতি শোনার আহ্বান জানাচ্ছি।' জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালাতে গিয়ে কমপক্ষে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া সশস্ত্র সংঘাত ও সহিংসতায় আরও অনেকে নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর বিরোধিতার জন্য কমপক্ষে ১১ হাজার ৭৭৮ জনকে নির্বিচার আটক করা হয়েছে। নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছেন ৮ হাজার ৭৯২ জন।জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয় আরও বলেছে, বন্দী অবস্থায় অন্তত ২৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর মানবাধিকার পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করে আগামী মার্চে ব্যাশেলেটের কার্যালয় থেকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। | 3 |
'বাসা থেকে বেরিয়ে রিকশায় অফিসে যাচ্ছিলাম। সেদিন ছিল অক্টোবর মাসের প্রথম দিন। ২০১২ সাল। কিছুদূর যেতেই সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হঠাৎ একটি গাড়ি রিকশার গতি রোধ করল। জোর করে আমাকে গাড়িতে তুলেই চোখ ও হাত বেঁধে ফেলা হলো। নিয়ে যাওয়া হলো একটি বাড়িতে। সেখানে টানা ৯ দিন চোখ বেঁধে রাখা হয় আমার। শুধু খাবারের সময় ১০ মিনিটের জন্য হাত খুলে দেওয়া হতো। কী যে ভীতিকর পরিস্থিতি ছিল, বলে বোঝাতে পারব না। এরপর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো আমাকে।' সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া তানভীর রহমান প্রথম আলোকে এসব কথা বলেন। সাগর-রুনি হত্যার প্রায় আট মাস পর ওই মামলায় তানভীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তখন তিনি ইংরেজি মাধ্যম একটি স্কুলে চাকরি করতেন। প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। গত বুধবার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন তানভীর রহমান। ১০ বছর পরও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তানভীর রহমান বলেন, 'আসল রহস্য বেরিয়ে এলে, প্রকৃত খুনি গ্রেপ্তার হলে আমি অন্তত এই অপবাদ থেকে মুক্তি পেতাম। আমি এখনো পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করছি। আমার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা এখনো আমাকে ভয় পায়। ভয়ে তারা আমাকে ফোন পর্যন্ত দেয় না। এটা যে কত কষ্টের, তা কাউকে বোঝাতে পারব না।' ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির লাশ পাওয়া যায়। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাঁদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। চোখ বেঁধে রাখার ৯ দিন কী কী জিজ্ঞেস করা হয়েছে জানতে চাইলে তানভীর রহমান বলেন, 'শুধু চোখ বেঁধে বসিয়ে রেখেছে। তেমন কিছু জিজ্ঞেস করেননি তাঁরা। তবে এক-দুবার বলেছেন, আপনি ঘটনার শিকার। এটা আপনাকে মেনে নিতে হবে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আপনার জামিন হয়ে যাবে। আমি তাঁদের কথা মেনে নিয়েছিলাম। তখন আমি বুঝতে পারিনি, হত্যা মামলায় একবার নাম জড়ালে তার ভয়াবহতা কত হতে পারে।' তানভীর রহমান আরও বলেন, 'নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর কোনো একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনির হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করা হবে। মন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর ১ অক্টোবর আমাকে তুলে নেওয়া হয়। ১০ অক্টোবর সাগর-রুনির বাসার দারোয়ানের সঙ্গে আমাকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।' তানভীর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, 'আমার সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ ও র্যাব। শুধু মুঠোফোনে কয়েক সেকেন্ড কথোপকথনের সূত্র ধরে এই ঘটনায় আমাকে জড়ানো হয়, যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক-সামাজিক অবস্থান ধ্বংস করে দিয়েছে।' তানভীর রহমান আরও বলেন, 'ঘটনার পরই মুঠোফোনে কথোপকথন ও বার্তা আদান-প্রদানের সূত্র ধরে আমাকে ডিবি অফিসে ডাকা হয়েছিল। ডিবির কর্মকর্তারা আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে আমাকে ছেড়ে দেন তাঁরা। মামলা র্যাবে হস্তান্তরের আগে ও পরে র্যাবের কর্মকর্তারা আমাকে অন্তত ২০ বার ডেকেছেন। আমার ব্যবহৃত সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস র্যাব ফরেনসিক করেছে। আমাকে যতবার তাঁরা ডেকেছেন, আমি ততবার গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছি।' সাংবাদিক মেহেরুন রুনির সঙ্গে কীভাবে পরিচয় ও যোগাযোগ, জানতে চাইলে তানভীর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, 'সাগর-রুনি জার্মানিতে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুনির সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। রুনি বিভিন্ন ইস্যুতে ব্লগে লিখতেন। তাঁর একটি লেখার নিচে আমি মন্তব্য করেছিলাম। সেই কমেন্টের সূত্র ধরে পরিচয় হয়েছিল। দেশে ফিরে আসার পর তিনি একদিন আমাকে ফোন দিয়ে জানান। তারপর বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের কথা হতো। ঘটনার আগের দিন রাত নয়টার দিকে আমাদের কয়েক সেকেন্ড কথা হয়েছিল।' তানভীর রহমান বলেন, 'গ্রেপ্তার হওয়ার পর ছয় মাস আমার বাবা উকিলদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কোনো উকিল পর্যন্ত পাননি।' তিনি বলেন, খুনের আসল রহস্য বেরিয়ে আসুক। প্রকৃত খুনিকে গ্রেপ্তার করা হোক। তবে কোনো নিরপরাধ লোক যেন হয়রানির শিকার না হন। | 6 |
দীর্ঘ ২৭ বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে গম আমদানি শুরু করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে গমের প্রথম চালান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে আখাউড়া সীমান্তপথে বন্দরে প্রবেশ করে। প্রথম দিনে ২১টি ভারতীয় ট্রাকে করে ছয় হাজার ৭৫৭টি বস্তার গম এই বন্দর দিয়ে দেশে আসে।আখাউড়া স্থলবন্দরের আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার আক্তার হোসেন বলেন, বন্দর চালু হওয়ার দীর্ঘ ২৭ বছর পর প্রথমবারের মতো আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গম আমদানি করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম চালানে ৬৭টি ট্রাকে করে এক হাজার ৩২০ মেট্রিক টন গম বাংলাদেশে আনা হবে। প্রথম দিনে গমগুলো ভারতীয় ট্রাক থেকে আখাউড়া বন্দরে বাংলাদেশি ট্রাকে লোড করা হয়। পরে গম ভর্তি ট্রাকগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ভৈরব, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। আক্তার হোসেন আরও জানান, ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে মালবাহী ট্রেনের ২১টি বগিতে করে এই গম ত্রিপুরার আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে আনা হয়। পরে ট্রেন থেকে ভারতীয় ট্রাকে গম লোড করা হয়। এরপর আগরতলা বন্দর হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয় গম।আখাউড়া স্থলবন্দর সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রথম চালানের ২১ ট্রাক গম আসছে আখাউড়া স্থলবন্দরে। আগামী বুধবার দ্বিতীয় চালানেও গম আসার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের রাজশাহীর বিসমিল্লাহ ফ্লাওয়ার মিলস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে ভারতের ব্রিজ কিশোর প্রসাদ হলেন এ গমের চালান রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠান। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.