text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
বরগুনার আমতলীতে কিশোর গ্যাং লিডার মো.: ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহাকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নবাসী উদ্যোগে এই মানববন্ধন করা হয়। হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে মানববন্ধনে অংশ নেন এলাকাবাসী।জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম নুর ইসলাম তালুকদারের ছেলে মাজহারুল ইসলাম নবাব তালুকদারের কাছে কিশোর গ্যাং লিডার ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করেন নবাব তালুকদার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোর গ্যাং লিডার ত্বোহা ও তার লোকজন গত ১৩ মার্চ নবাব তালুকদারকে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে।এ ঘটনায় গত ১৬ মার্চ নবাব তালুকদার বাদী হয়ে ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহাকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে বরগুনা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মো.: নাহিদ হাসান মামলাটি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (আমতলী সার্কেল) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।এদিকে কিশোর গ্যাং লিডার ত্বোহাকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত কিশোর গ্যাং লিডার ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দাবি করেন।মামলার বাদী মো. মাজহারুল ইসলাম নবাব তালুকদার বলেন, 'কিশোর গ্যাং লিডার ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে গত ১৩ মার্চ আমতলী সরকারি কলেজের সামনে থেকে তুলে পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকায় নিয়ে যায় এবং বেধড়ক মারধর করে। আমি এ ঘটনায় বরগুনা দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু মামলার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কিশোর গ্যাং লিডার ত্বোহাকে গ্রেপ্তার করছে না।'কিশোর গ্যাং লিডার ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহা চাঁদা দাবি ও মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, 'রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমাকে প্রতিহত করতে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন।'আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, 'এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
করোনাবিধি ভঙ্গ করায় বলিউড চিত্রনায়ক টাইগার শ্রফের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। গত বুধবার (০২ জুন) যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাইরে ঘুরে বেড়ানোর কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, 'মুম্বাইয়ে দুপুর ২টার পর যৌক্তিক কারণ ছাড়া মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু এই সময়ের পর বন্দ্র ব্যান্ডস্ট্যান্ডে টাইগার শ্রফকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।' তিনি বলেন, 'সন্ধ্যায় টাইগার শ্রফকে বন্দ্র ব্যান্ডস্ট্যান্ডে ঘুরতে দেখা যায়। তাকে বাইরে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেননি তিনি। পরে পুলিশ তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে এবং সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়।' তবে জামিনযোগ্য অপরাধ হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানান পুলিশের এই মুখপাত্র। | 2 |
সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর জেদ্দায় একটি ফরাসি রেস্তোরাঁ নারীদের হিজাব বা ইসলামিক পোশাক পরে সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্রেতাসাধারণ ও সৌদি নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। একটি বিখ্যাত ফরাসি চেইন রেস্তোরাঁর জেদ্দা শাখা 'বাগাটেলে জেদ্দা' গত সপ্তাহে ও চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হিজাব পরা নারীদের সেখানে প্রবেশে বাধা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি সৌদি আরবের নারীদের পরা ঢিলেঢালা পোশাকও তারা অনুমোদন করেনি। এখানেই শেষ নয়, ঐতিহ্যগতভাবে সৌদি পুরুষদের পরা লম্বা আলখেল্লাও নিষিদ্ধ করেছে রেস্তোরাঁটি। স্বল্প পরিচিত একটি সংবাদমাধ্যমে করা খবরটিতে গুগল ও ফেসবুক থেকে সৌদি নাগরিকদের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। আমিনা আল কানতানি নামে এক নারী ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, 'তারা আমাদের নারীদের হিজাব ও পুরুষদের সৌদি পোশাক নিষিদ্ধ করেছে, তাই তাদেরকে উচ্ছেদ করে দেয়া উচিত। তারা আমাদের ধর্মকে সম্মান করছে না, এটা আমাকে বেশ ক্রোধান্বিত করেছে।' বিষয়টি নিয়ে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যম খবর দিয়েছে যে জেদ্দার সরকারি আইন কর্মকর্তা রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনাটি এমন সময় ঘটলো যখন সৌদি আরব বিদেশী পর্যটকদের বিশেষত পশ্চিমা পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পর্যটন স্থানের মধ্যে অন্যতম জেদ্দা উপকূল। আর বিতর্কিত রেস্তোরাঁটি সেখানেই অবস্থিত। সৌদি সরকার পর্যটন খাতের বিকাশে নতুন যে যুগের সূচনা করেছে তা রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার জন্য যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে সবশেষ এ ঘটনা তা আরো বাড়িয়ে দিলো। সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর | 3 |
তথ্যমন্ত্রী ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, চন্দ্রিমায় জিয়ার লাশ থাকার কোনো প্রমাণ কোথাও নেই। তিনি বলেন, 'আমি রাঙ্গুনিয়ার মানুষ, সেখানে জিয়াকে প্রথম সমাহিত করা হয়েছিল বলে বিএনপি দাবি করে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার তখনকার চেয়ারম্যান জহির সাহেব এখনো জীবিত। তিনি বলেছেন, তিনটি লাশ সেখান থেকে তোলা হয়েছিল, তার মধ্যে জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল না। এরশাদ সাহেব এবং জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠজন মীর শওকত দু'জনেই বলেছেন, তারা কেউ জিয়ার লাশ দেখেননি।' তিনি শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে সংসদে এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, জিয়ার লাশ কেউ দেখেননি।' চন্দ্রিমা থেকে কবরটি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, লাশ ছাড়া কবর দাবি করা যেমন জনগণের সাথে প্রতারণা, তেমনি ইসলামের নিয়ম-নীতিবিরুদ্ধ। লাশ ছাড়া কবর রাখার কোনো কারণ আছে কি না, সেটিই জনগণের প্রশ্ন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্য 'আওয়ামী লীগ চিরস্থায়ী ক্ষমতার জন্য বিএনপির ওপর নির্যাতন করছে' এর জবাবে ড. হাছান বলেন, 'আওয়ামী লীগ জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী, জনগণ যতদিন চাইবে ততদিন আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনা করবে, এর এক দিনও বেশি নয়। গত ১৩ বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেভাবে দেশ এগিয়েছে, প্রতিটি নাগরিকের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে, তাতে মানুষ বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগের ওপর সন্তুষ্ট। পেট্রোলবোমা দিয়ে জীবন্ত ঘুমন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারী, অবরোধের নামে মানুষকে অবরুদ্ধকারী বিএনপির সাথে তো জনগণের থাকার কথা নয়। বিএনপি নিজেরাই জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে নানা কর্মসূচি দিয়ে জনগণের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।' 'বিরোধীদল দমনেও আওয়ামী লীগ বিশ্বাসী নয়' উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, 'সন্ত্রাসী, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপকারী বা ফৌজদারি অপরাধের আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে যদি বিএনপি অপরাধীদের পক্ষ নেয়, তাহলে তো দেশে কোনো ফৌজদারি আইনই কার্যকর করা যাবে না, বিচারও থাকবে না। সুতরাং বিএনপির এসমস্ত কথা হাস্যকর।' সূত্র : বাসস | 9 |
চুয়াডাঙ্গায় পারিবারিক কলহের জেরে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে বাবাকে জখমের অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল আমিনকে আটক করেছে পুলিশ।প্রতিবেশীরা জানায়, সকালে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আল আমিন তাঁর বাবাকে গালাগালি করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে আল আমিন বাঁশ দিয়ে তাঁর বাবার মাথায় আঘাত করে। এতে বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এ সময় শ্বশুরকে বাঁচাতে গিয়ে পুত্রবধূও আহত হয়েছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দুজনকেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সাদিয়া পারভীন জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত ছেলে আল আমিনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান। | 6 |
প্রবল বৃষ্টির পর ভূমিধস হয়েছে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর বেইক্সাজাদা ফ্লুমিনেসি এবং দক্ষিণের উপকূলীয় কয়েকটি শহরে। এতে প্রাণহানি বেড়ে হয়েছে অন্তত ১৪। স্থানীয় সরকার ও রিও ডি জেনিরোর রাজ্য সরকারের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির আজ রোববারের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকার কর্তৃপক্ষ বলেছে, লোকজন উদ্ধারকর্মীদের ফোন করছেন। ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে আট শ কল ধরা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ১৪৪ জন উদ্ধার হয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়েছে রিও ডি জেনিরো। গত ফেব্রুয়ারিতেই ভূমিধস ও বন্যায় রিও ডি জেনিরোর পেট্রোপলিসে প্রায় ২৪০ জনের মৃত্যু হয়। তবে ওই সময় বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যুর কথা জানানো হয়নি। গত ২৩ মার্চ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পেট্রোপলিসে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির কথা জানায়। দেশের দক্ষিণ-পূর্বে আটলান্টিক উপকূলের বিস্তৃত অংশে ঝড় আঘাত হানার পর একাধিক ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে। পর্যটন শহর পারাটিতে ভূমিধসে পাঁচ সন্তানসহ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। মেয়র লুসিয়ানো ভিদাল বলেন, ৭০টির বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। এসব মানুষকে আশ্রয় ও থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। পারাটি মেয়র আরও বলেন, ভূমিধসে সড়কগুলো অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। শহরে কিছু এলাকা এখন জনবিচ্ছিন্ন। আর গোটা এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। এক দিনে পারাটিতে ৩২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এক দিনে ছয় মাসের সমান বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যুর কথা জানান তিনি। দুই দিন ধরে রিও ডি জেনিরো রাজ্যে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে প্রচণ্ড ঝড়ের কারণে জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। এতে শহরের অনেক রাস্তা তলিয়ে তীব্র স্রোতে অনেকের ব্যক্তিগত গাড়ি ভেসে গেছে। পাহাড়ি এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে সেখানকার দরিদ্র অধিবাসীরা প্রতিবছর এ ধরনের ট্র্যাজেডির শিকার হন। | 3 |
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালু বাগান গ্রামের পিকআপ চালক মাছুদ রানা (৩৫) ও গোমস্তাপুর উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের মনোরঞ্জন হাওলাদার (৩৬)।ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নীরেন্দ্র নাথ মণ্ডল বলেন, প্রচণ্ড কুয়াশার মধ্যে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জয়পুরহাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের সঙ্গে ক্ষেতলাল উপজেলার শালবন এলাকায় বগুড়ার মোকামতলা থেকে আসা পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপ চালকের মৃত্যু হয়।অফিসার ইনচার্জ আরও বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় পিকআপে থাকা মাছ ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন হাওলাদারকে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। | 6 |
ইউক্রেনের দক্ষিণের শহর খেরসন ঘিরে ফেলেছে রুশ বাহিনী। শহরটি মাইকোলাইভ ও নিউ কাখোভকার মধ্যবর্তী শহর। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।খেরসনের প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসির প্রতিবেদককে বলেছেন, রুশ সেনারা বিমানবন্দর থেকে নিকোলায়েভ হাইওয়ে ও কোল্ড স্টোরেজ প্ল্যান্টের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।এর আগে বিবিসির ইউক্রেন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, খেরসন বিমানবন্দরের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।খেরসনের প্রশাসন ফেসবুকে লিখেছে, রুশ সেনারা শহরটিকে ঘিরে ফেলেছে। তবে এখনো দখল করতে পারেনি।এদিকে খেরসনের মেয়র ইগর কোলিখায়ে ফেসবুকে লিখেছেন, রুশ সেনাবাহিনী শহরের প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়েছে। পরিস্থিতি এখনই খারাপ হবে কি না, বলা কঠিন। খেরাসন ইউক্রেনের ছিল এবং থাকবে।শহরবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, আপনারা শান্ত থাকুন। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। কারফিউ চলাকালে ঘরের বাইরে বের হবেন না। কারও সঙ্গে আক্রমণাত্মক আলোচনা করবেন না এবং শত্রুকে উসকে দেবেন না।এদিকে গতকাল রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। শিগগিরই দ্বিতীয় দফায় উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বসবেন বলে জানা গেছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁরা আবার বসবেন। বেলারুশের বার্তা সংস্থা বেলটা নিউজের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। | 3 |
পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে ভারী তুষারপাতে সড়কে গাড়ির মধ্যে আটকে পড়ে মারা গেছেন ২১ জন। পাহাড় চূড়ার শহর মুরিতে শীতকালীন তুষারপাত দেখতে আসা বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনে সেখানকার সড়কে প্রায় ১ হাজারের মত যানবাহন আটকা পড়েছে। দেশটির জরুরি পরিষেবা রেসকিউ-১১২২ বলেছে, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য, তার স্ত্রী এবং তাদের ছয় সন্তান এবং আরেকটি পরিবারের পাঁচজনের সদস্য আছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী রাস্তা থেকে বরফ সরানো এবং আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঔপনিবেশিক যুগের ওই শহরটিতে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এক লাখেরও বেশি গাড়ি আসে পর্যটক নিয়ে, পাকিস্তানের সামাজিক মাধ্যম উপচে পড়ছিল তুষারপাত উপভোগের ছবি দিয়ে। তবে শুক্রবার নাগাদ, স্থানীয় গণমাধ্যম খবর দিতে শুরু করে যে পর্যটকরা রাস্তায় আটকা পড়ছেন।
শনিবার, ভারী তুষারপাত এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটিকে একটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চল ঘোষণা করতে বাধ্য হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবি এবং ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আটকা পড়া গাড়িগুলোর একটির বাম্পারের সাথে আরেকটির বাম্পার ঠেকে আছে, তাদের ছাদে তুষারের পুরু স্তর জমে আছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ১০জন শিশুসহ এ পর্যন্ত মোট ২১জন মারা গেছেন। পুলিশ বলছে, ঠাণ্ডায় জমে অন্তত ছয়জন মানুষ গাড়ির মধ্যে মারা গেছেন। বাকিরা ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যেতে পারেন এমন সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শহরে এখনো ভারী তুষারপাত হচ্ছে। সেখানে আটকে পড়া একজন পর্যটক উসমান আব্বাসি ফোনে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, 'মানুষ এখানে এক ভয়ানক পরিস্থিতির মুখোমুখি। এতে কেবল পর্যটকেরাই নয়, স্থানীয় মানুষেরাও গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।' সেই সাথে শহরে এখন গ্যাস ও পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আটকে পড়া মানুষদের জন্য কম্বল এবং খাবার নিয়ে সাহায্য করছে স্থানীয় মানুষেরা। আর যারা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে ৭ হাজার ফুট ওপরের শহরটিতে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন, তাদের সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা এবং স্কুল ভবনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পর্যটকদের 'মর্মান্তিক মৃত্যু'তে শোক প্রকাশ করেছেন। সূত্র : বিবিসি বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
লকডাউন চলাকালীন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে মদ ও জন্মদিনের পার্টি করার মাধ্যমে বেকায়দায় পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। নিজের দলের সাংসদরা তার বিরুদ্ধে চিঠি দেবেন। এদিকে কিছুদিনের মধ্যেই বরিস জনসনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা আছে। বরিসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন যুক্তরাজ্যের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা সু গ্রে। যদিও ওই তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হতে পারে। | 3 |
সম্প্রতি যেসব বোমা আমরা উদ্ধার করেছি সেগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। এগুলো বিস্ফোরণ ঘটলে ম্যাসাকার ঘটানো সম্ভব ছিল। তাই বলবো না অর্থাৎ জঙ্গিদের সক্ষমতা বেড়েছে। যে কারণে আমরা মনে করছি জঙ্গিদের প্রস্তুতি আছে। তবে আমাদের যারা কাজ করছে তারা খুবই পারদর্শী। তাই আমরা মনে করছি না ঈদে কিছু ঘটবে। ঈদুল আজহায় রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঙ্গলবার (২০ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ডিএমপি মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ডিএমপি'র অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম, কৃঞ্চপদ রায়, হাফিজ আক্তার, মুনিবুর রহমান, মফিজ উদ্দিন, সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। কমিশনার বলেন, আমরা খুবই সতর্ক আছি। সম্প্রতি তাদের সক্ষমতা বেড়েছে। বোমা বানানোর ক্যাপাবিলিটি সেটাও বেড়েছে। আমি কমিশনার হবার আগে রাজধানীর পাঁচটি তল্লাশি চৌকিতে জঙ্গি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেসব বোমা কিন্তু বেশি শক্তিশালী ছিল না। একেবারেই অল্প কাজ জানা লোকের হাতে তৈরি হয়েছিল। কম শক্তিশালী হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা বিশেষ আহতও হয়নি। তবে সম্প্রতি যেসব বোমা আমরা উদ্ধার করেছি সেগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। এগুলো বিস্ফোরণ ঘটলে ম্যাসাকার হয়ে যেতে পারতো। অর্থাৎ তাদের সক্ষমতা বেড়েছে। তারা নিয়োজিতদের প্রশিক্ষিত করে বোমা বানানোর কাজে নিয়োগ করতে পেরেছে। যে কারণে আমরা মনে করছি জঙ্গিদের প্রস্তুতি আছে। তবে আমরাও বসে নেই। এই বিষয়ে আমাদের যারা কাজ করছে তারা খুবই দক্ষ। কোনো ঘটনা ঘটনার আগেই আমরা খবর পাচ্ছি। ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট পাশাপাশি কাজ করছে এটিইউ ও র্যাবের ইউনিট। ফলে যেখানেই যতোটুকু তথ্য আমরা পাচ্ছি সেখানেই কাজ করছি। ঢাকার বাইরে কোনো জঙ্গি আস্তানা হলেই অভিযানে যাচ্ছে সিটিটিসি। তবে অন্য ইউনিটগুলোর সক্ষমতা কী কম, নাকি জঙ্গিদের টার্গেটই ঢাকা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের তথ্য ভান্ডারে ঢুকে যারা কাজ করছেন তাদের কাছে তথ্যতো থাকতেই পারে। যেটা ডিসক্লোজ করা ঠিক হবে না। সম্প্রতি জঙ্গিবাদী তৎপরতা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপি প্রধান বলেন, এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিনোদনসহ বাইরে যাবার সুযোগও কম। এ সময়ে অনেকেই ইন্টারনেটে বসে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছে, তথ্য উপাত্ত দেখছে পড়ছে। এক সময় তারা জঙ্গিবাদী ট্রাপে পড়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের নজরদারিও কম না। নইলে বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। তা তো ঘটেনি। সম্প্রতি ভারতে তিনজন বড়মাপের জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। এ ধরণের তথ্য কিন্তু আমরা পরস্পর আদান-প্রদান করে থাকি। এই তিনজন ছেলে জিহাদের জন্য বাংলাদেশ ত্যাগ করেছে। এই তথ্যটা আমরা জানতাম যেটা আমরা যথাযথ সময়েই ভারতকে জানিয়েছি। | 6 |
কলম্বিয়ার কাছে লজ্জার পরাজয় বরণ করল আর্জেন্টিনা। সালভাদোরে কলম্বিয়ার কাছে ০-২ গোলে পরাজিত হলো মেসিদের দল। শনিবার কোপা আমেরিকায় পরাজয় দিয়েই শুরু হলো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যাত্রা। আর্জেন্টিনার জালে প্রথম বলটি জড়িয়ে দেন মার্টিনেজ। নিজেদের অর্ধ থেকে হোসে রদ্রিগেজে লং বল পাঠিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার ডিবক্সের বাইরে ডানদিকে। মার্টিনেজ সেই বল রিসিভ করে সহজেই আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার রেনজো সারাভিয়াকে পার করে যান কাট করে। এরপর বুলেট গতির এক শট মারেন কোণাকুণি। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নিকোলাস অটামেন্ডি দর্শকের মতো চেয়ে থেকেছেন। আর গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আর্মানি ঝাঁপ দিয়েও নাগাল পাননি বলের। মার্টিনেজের গোলটি ২০১১ সালের পর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কলম্বিয়ার প্রথম। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৫৬৫ মিনিটের গোলখরা কলম্বিয়ার কেটেছে দুর্দান্ত এক গোলে। ম্যাচ শেষের চার মিনিট আগে জেফেরসন ফারফানের মাপা ক্রস থেকে দারুণ ফ্লিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দুভান জাপাতা। রাদামেল ফ্যালকাওয়ের বদলি হয়ে মাঠে নামার ৫ মিনিটের মধ্যেই গোল করেন তিনি। তাতে নিশ্চিত হয়ে যায় কলম্বিয়ার জয়ও। বি গ্রুপে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় ম্যাচ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। সেই ম্যাচেও হেরে গেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার পথ অনেকটাই ঝুলে যাবে আর্জেন্টিনার। 'এ' গ্রুপে পোর্তো আলেগ্রেতে ভেনেজুয়েলা ও পেরুর মধ্যে দিনের প্রথম ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। একই গ্রুপে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল স্বাগতিক ব্রাজিল। | 12 |
কথায় আছে বয়স কখনও কিছুতে বাধা হতে পারে না। আর সেই কথাই আবারও প্রমাণ করলেন ভারতের ওড়িশার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মচারী জয় কিশোর প্রধান। যে বয়সে সবাই অবসর জীবন উপভোগ করতে চান, সেই বয়সে এসে নতুন চ্যালেঞ্জই নিয়ে ফেললেন তিনি। তাও আবার চিকিৎসক হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করার। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। ইতোমধ্যে ভারতের ন্যাশনাল ইলিজিবিলিটি কাম এনস্ট্রাস টেস্ট (নিট) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বীর সুরেন্দ্র সাই ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষে ভর্তি পর্যন্ত হয়েছেন জয় কিশোর, যা জানতে পেরে অবাক অনেকেই। অবশ্য সব মহল থেকেই প্রশংসা ও উৎসাহ পাচ্ছেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিন অঙ লাঙের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নেদারল্যান্ডের হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার ব্রিটেনভিত্তিক মিয়ানমার একাউন্টিবিলিটি প্রজেক্ট (এমএপি) নামের এক অধিকার সংগঠন এই অভিযোগ দায়ের করে। একইসাথে মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর সামরিক বাহিনীর সহিংসতার বিষয়ে আদালতে প্রমাণ দাখিল করে সংগঠনটি। পরে এক বিবৃতিতে এমএপির পরিচালক ক্রিস গিনিজ বলেন, 'অবৈধ অভ্যুত্থানের এই নেতার তার অধীন নিরাপত্তা বাহিনীর সংগঠিত গণ নিপীড়নমূলক অপরাধের দায় রয়েছে।' তিনি বলেন, 'আইসিসিতে আমরা এই অপরাধের দায়ে মিন অঙ লাঙের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী মামলা দাঁড় করিয়েছি।' জাতিসঙ্ঘের তদন্তকারী দলের প্রধান নিকোলাস কমিজানের তথ্য অনুসারে, অভিযোগের সমর্থনে অভ্যুত্থানের পর থেকে দুই লাখ ১৯ হাজার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাতমাদাও দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। পরে ১ আগস্ট জরুরি অবস্থার মেয়াদ ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং লাইং। গত বছরের নভেম্বরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে এই অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী। সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া অহিংস বিক্ষোভকেসামরিক উপায়ে জান্তা সরকার দমন করতে গেলে বিক্ষোভকারীরাও বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র হাতে নেয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট দেশের সাধারণ মানুষকে সামরিক জান্তার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দেয়। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ ও সশস্ত্র তৎপরতায় সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে মিয়ানমারে এক হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী ও বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে দেশটিতে মানবাধিকার নজরদারি করা সংস্থাগুলো জানায়। একইসাথে দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি লোক গ্রেফতারির শিকার হয়। অপরদিকে সামরিক বাহিনী নিহতের এই সংখ্যা অস্বীকার করে আসছে এবং সংঘর্ষে বিপুল সৈন্য নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড | 3 |
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। শনিবার (১৬ মে) দুপুর একটায় নগর ভবনে সীমিত পরিসরে অনাড়ম্বরভাবে দায়িত্ব নেন তিনি। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মো. ইমদাদুল হক তাকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। তবে এ সময় বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকন উপস্থিত ছিলেন না। এসময় লেডি মেয়রসহ মহানগর আওয়ামী লীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর নগর আওয়ামী লীগ নেতা মোরশেদ কামাল, ফরিদউদ্দিন আহমেদ রতন এবং কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। বিকেল তিনটায় ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে নগর বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন নবনির্বাচিত মেয়র। | 6 |
জেলার অষ্টগ্রামের পনিরের কদর দেশ-বিদেশে দিন দিন বেড়েই চলছে। করোনা অতিমারির সময়ও হাওরের অলওয়েদার সড়ক অতিক্রম করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীরা পনির ছাড়া গন্তব্যে যেতে চাচ্ছেন না। জিভে জল আনা সুস্বাদু পনির বিক্রি হচ্ছে অনলাইনেও। কিশোরগঞ্জের হাওরের পরিচিতি এখন দেশ-বিদেশে। বিশেষ করে হাওরবাসীর স্বপ্নের অলওয়েদার সড়ক বাস্তবায়নের পর হাওর হয়ে উঠেছে পর্যটনের এক অনন্য স্থান। হাওরের রানীখ্যাত অষ্টগ্রাম উপজেলা পনিরের জন্য সুখ্যাতি অর্জন করেছে। অষ্টগ্রামে পনির বানানোর প্রচলন হয় বহু বছর আগে। দেশ-বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করা জেলার এই ব্র্যান্ডিং পণ্যটি এখন হয়ে উঠেছে গোটা কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক। এ পনিরের কদর এখন সর্বত্র। অলওয়েদার সড়কের কল্যাণে হাওরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসায় পনির হয়ে উঠেছে অপার সম্ভাবনার এক শিল্প। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দের খাদ্য তালিকায়ও রয়েছে এই পনির। কয়েক বছর আগেও এর কারিগর ও ব্যবসায়ী ছিল হাতেগোনা। গত দুই বছরে চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় কারিগর ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অষ্টগ্রামে পনির তৈরি হয়ে আসছে। মোগল আমলে অষ্টগ্রামে আসা দত্ত পরিবারের হাত ধরে এখানে পনির তৈরি শুরু বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ষাটের দশকে অষ্টগ্রামের প্রায় প্রতি বাড়িতেই তৈরি করা হতো পনির। সে সময় উপজেলায় পনির ব্যবসায়ী ছিলেন ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো। তাদের তৈরি পনির সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে যেতো। এখানে অলওয়েদার সড়ক নির্মাণ হওয়ার পর থেকে হাওরের অপরূপ সুষমা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর পর্যটক আসছেন। তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকছে অষ্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার পনির। এছাড়া অনলাইনেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পনিরের অর্ডার আসে। পনিরের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এর কারিগর ও ব্যবসায়ীও বেড়ে গেছে। পনিরের কারিগরদের একজন এসএম নিশান তার বাবার পেশাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার তৈরি পনিরই এখন মাঝেমধ্যে যায় রাষ্ট্রপতির খাবার টেবিলে। নিশান বলেন, কয়েক বছর আগে পনিরের চাহিদা অনেক কমে গিয়েছিল। বর্তমানে পনিরের ব্যাপক চাহিদা। প্রায় প্রতিদিন এখন পনির বানাই এবং বিক্রি করি। নিশান আরও জানান, রাষ্ট্রপতি অষ্টগ্রামে এলে এসএসএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে তিনি পনির তৈরি করেন। তার তৈরি পনির রাষ্ট্রপতি ও অতিথিদের খাবারের তালিকায় থাকে। আবার রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে ফেরার সময় তার তৈরি পনির নিয়ে যান। বঙ্গভবন থেকে সেই পনির যায় গণভবনেও। আলাপকালে এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা জানান, কয়েক বছর আগেও পনিরের ব্যবসার দুরবস্থা ছিল। তাই কয়েকজন পনির ব্যবসায়ী ঢাকার নবাবপুর, মোহাম্মদপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামে গিয়ে পনির ব্যবসা করছেন। তারা জানান, বর্তমানে গরুর দুধের দাম বৃদ্ধি, হাওরে চাইল্যা ঘাঁসের অভাবসহ নানা কারণে আগের অবস্থা আর নেই। ট্রাক্টরসহ নানান কৃষিপ্রযুক্তির কারণে স্থানীয়ভাবে গরু-মহিষের চাহিদা কমে যাওয়াতে দুধের জোগানও কমে গেছে। অষ্টগ্রামের পনিরের খ্যাতি সম্পর্কে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীও অষ্টগ্রামের পনির খেয়েছেন। এ পনির রপ্তানির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। যেভাবে তৈরি হয়: প্রথমে একটি বড় পাত্রে দুধের সঙ্গে তেঁতুল মিশ্রিত টক পানি ও স্বাভাবিক পানি রাখা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে দুধ জমাট বাঁধতে শুরু করে। এ সময় হাত দিয়ে মিশ্রণ নাড়াচাড়া করতে হয়। পরে তা চাকু দিয়ে কেটে ছোট ছোট পিস করা হয়। এরপর পানি থেকে তুলে পনির ছোট ছোট অংশে বাঁশের টুকরিতে রাখা হয়। টুকরিতে রাখা অবস্থায় পনির থেকে পানি চুঁইয়ে পড়তে থাকে। পানি পড়া শেষ হলে পনিরে ছোট ছোট ছিদ্র করে লবণ দিয়ে রাখা হয়। লবণ দেওয়ার পর তা ইচ্ছামতো আকারে প্যাকেটে পুরে বা সংরক্ষণ করে রাখা হয়। প্রায় ১০ লিটার দুধ থেকে এক কেজি পনির পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে পনির ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। | 6 |
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বালিয়াচরা ও সোনাখোলা গ্রামবাসীর মধ্যে ৩ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ,৩টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে।সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ১০ রাউন্ড শটগানের গুলি, ১০টি টিয়ারশেল ও দুটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। উত্তেজনা থামাতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন আগে দুই গ্রামের মধ্যবর্তী একটি মাঠে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দুই গ্রামের তরুণদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর গত এক সপ্তাহে সোনাখোলা গ্রামের ছেলেদের হাতে হামলার শিকার হন বালিয়াচরা গ্রামের কলেজছাত্র আল-আমিন (২২) ও মিরহাজ শেখ (২২)। এর পর দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে দুই গ্রামের কয়েকশত গ্রামবাসী ঢাল, সড়কি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এ সময় বালিয়াচরা গ্রামের বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মোল্লার বাড়িসহ আকাশ মুন্সী ও হান্নান শেখের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় বালিয়াচরা গ্রামের হাবুল মাতুব্বর ও গফফার শেখের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।বালিয়াচরার বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই এটিএম ফরহাদ নান্নু বলেন, 'আমাদের বাড়িতে সোনাখোলার লোকজন এসে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।'ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের লিডার খোকন জমাদার বলেন, 'সংঘর্ষের ঘটনা থেকে ওই এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছে।'ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহিমা কাদের চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'দুই গ্রামে থানা-পুলিশের পাশাপাশি ফরিদপুর জেলা শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।' | 6 |
কক্সবাজারের রামুতে সম্প্রতি সন্ধ্যার নাশতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ছোলা-মুড়ি।সরেজমিন দেখা গেছে, রামুর চৌমুহনীতে প্রতি সন্ধ্যায় অন্তত ১৫টি ভ্রাম্যমাণ ছোলা-মুড়ির দোকান বসে। সঙ্গে বিভিন্ন রকমের নাশতা তৈরি করেন দোকানিরা।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বেগুনি, ডালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি পেঁয়াজু, বিভিন্ন প্রকার সবজির মিশ্রণে বড়া। অনেক দোকানিকে চালের গুঁড়া দিয়ে জিলাপি তৈরি করতে দেখা গেছে।জানা গেছে, রামু উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনী ছাড়াও ক্যান্টনমেন্ট, পঞ্জেগানা বাজার, কলঘর বাজার, জোয়ারিয়ানালা, গর্জনিয়া বাজার, সিকলঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে বসে ছোলা-মুড়ির ভ্রাম্যমাণ দোকান।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যার নাশতা হিসেবে রামুর মানুষ ছোলা-মুড়িকেই প্রথম পছন্দের তালিকায় রাখে।রামুর কলঘর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, 'আমি কাঁচা সবজির ব্যবসা করি। প্রতি সন্ধ্যায় নাশতা হিসেবে ছোলা-মুড়ি খাই। মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায় পর্যাপ্ত খেতে পারি। এ জন্য সন্ধ্যার নাশতা হিসেবে ছোলা-মুড়ি খাই।'প্রতিদিন কী পরিমাণ ছোলা-মুড়ি বিক্রি হয় জানতে চাইলে চৌমুহনী কালীবাড়ির সামনের দোকানদার আলম বলেন, 'আমি দৈনিক এক মণের বেশি ছোলা রান্না করি। আর পেঁয়াজ লাগে দেড় মণের অধিক।' রামুতে দৈনিক ৫০ মণের বেশি ছোলা বিক্রি হতে পারে বলেন জানান তিনি।এদিকে এসব ছোলা-মুড়ির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক ক্রেতা। মো. রানা বলেন, রামুতে ছোলা-মুড়ির চাহিদা বেশি। তবে দোকানিরা এসবের মান ঠিক রাখেন না। শীতে ধুলাবালি বেশি হয়। তবে দোকানিরা ধুলাবালি থেকে খাবার রক্ষার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেন না। | 6 |
বিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় শনাক্ত কমলেও বেড়েছে মৃত্যু। পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৯৩২ জনের, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় এক হাজার বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ২৯ হাজার ১২২ জন, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২ হাজার জন কম।গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪২৪ জনের। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৯ জনের এবং মারা গেছে ৮ লাখ ৭৪ হাজার ২১৩ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ায়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৭০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৩০ হাজার ৭২৬ জন। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১ কোটি ৮ লাখ ৩৪ হাজার ২৬০ জন এবং মারা গেছেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৯৯০ জন।ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৩ কোটি ১১ লাখ ২৭ হাজার ১০৬ জনের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫৫ লাখ ৬৩ হাজার ১০৭ জন।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে 'বৈশ্বিক মহামারি' হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি। | 3 |
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ট্যাঙ্ক ও আর্টিলারি দিয়ে আক্রমণ করে ইসরাইল নিজেই নিজেকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে। সন্ত্রাসী দেশটির এই পদক্ষেপ এই অঞ্চল ও বিশ্বকে রক্ত ও যন্ত্রণায় ডুবিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদস্যদের উদ্দেশ্য দেয়া ভাষণে এরদোগান এসব কথা বলেন। এরদোগান বলেন, ইসরাইলের জাতিরাষ্ট্র বিলের উদ্দেশ্য নিপীড়নকে বৈধতা দেয়া। এটি প্রমাণ করে যে ইসরাইল একটি ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী রাষ্ট্র যেখানে অ্যাডলফ হিটলারের আত্মা পুনর্জন্ম নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এরদোগান বলেন, ইহুদি জাতিরাষ্ট্র আইন পাসের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হলো যে ইসরাইল বিশ্বের সবচেয়ে জায়নিস্ট, ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী একটি দেশ। ইসরাইলি সংসদ এই আইন পাস করে দেশটি তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে। এরদোগান বলেন, ইহুদি জাতিরাষ্ট্র আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- তাদের সব বেআইনি কাজ এবং নিপীড়নকে বৈধতা দেয়া। হিটলারের চিন্তা-চেতনা এবং ইসরাইলের মানসিকতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। হিটলারের আত্মা ইসরাইলের প্রশাসকদের মধ্যে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছে। | 3 |
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মধ্যরাতে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের মাত্রা লাগামহীন হয়ে গেছে। দেশে জঙ্গলের শাসন চলছে বলেই মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদে ফেরার নিশ্চয়তা হারিয়ে ফেলেছে। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার প্রতিবাদী মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত করে দেশকে ভীতির কালো মেঘে ঢেকে দিয়েছে। যাতে সরকারের অপকর্ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ লিখতে, বলতে কিংবা টুঁ শব্দ উচ্চারণ করতেও সাহস না পায়। জনসমর্থনহীন আওয়ামী সরকার এখন মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের 'দেশবিরোধী চুক্তি'র প্রতিবাদ করায় বুয়েটের মেধাবী ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, সার্বিক অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমরা যেন এক মৃত্যু উপত্যকায় বসবাস করছি। সরকারের দুঃশাসন দেশের মানুষকে বোবা করে ফেলেছে। অজানা আশঙ্কা, আতঙ্ক আর ভয়ের এক বিষাদময় পরিবেশ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তিনি বলেন, আবরারকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সরকার দেশের মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠকে নির্মূল করে নিজেদের শাসন বজায় রাখতে চায়। তবে জনগণ তাদের এই মনোবাঞ্ছা পূরণ হতে দেবে না। মতপ্রকাশ ও স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে অতীতের সংগ্রামী ঐতিহ্যের ধারায় দেশের মানুষ যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে দ্বিধা করবে না। তিনি আবরার হত্যার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। | 9 |
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা 'সিএএ' ইস্যুতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে মোদি সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ডেনে এনে বলেছে, তাদের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং ভারতের অব্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ। মাহাথির মোহাম্মাদ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন বলে ভারত দাবি করেছে। শুক্রবার কুয়ালালামপুর সামিটের মিডিয়া সেন্টার পরিদর্শন শেষে মাহাথির সাংবাদিকদের বলেন, 'ভারত নিজেকে সেক্যুলার রাষ্ট্র বলে দাবি করে। কিন্তু এটা খুবই দুঃখজনক যে এখন তারা মুসলমানদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার জন্য কাজ করছে।' বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
আগামী দিনে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সমভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে টাঙ্গাইলে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য 'টেকসই আগামীর জন্য, জেন্ডার সমতা আজ অগ্রগণ্য'। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন উপজেলায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ ছিল নানা আয়োজন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী নুসরাত এদীব লুনা, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান প্রমুখ।এদিকে দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সকালে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বিবিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় বিশ্বিবিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, আলেমা খাতুন ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রোকসানা হক রিমি, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হলের প্রাধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।গোপালপুর: গোপালপুরে দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ মল্লিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পৌর মেয়র রকিবুল হক ছানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম সীমা, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা তাপসী শীল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।বক্তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মক্ষেত্রে নারীরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছে। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাই নারীদেরও শিক্ষা গ্রহণ করে সচেতন হতে হবে এবং বর্তমান সামাজিকতার গন্ডি পেরিয়ে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।আলোচনা সভায় নানা শ্রেণি পেশার প্রায় দুই শতাধিক নারী এসময় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুরুষের সঙ্গে সমান তালি এগিয়ে যাওয়ার আত্মপ্রত্যয় ব্যক্ত করেন নারী সমাজের প্রতিনিধিরা।ভূঞাপুর: ভূঞাপুরে গতকাল সকালে উপজেলার প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ও জাতীয় মহিলা সংস্থার আয়োজন একটি শোভাযাত্রা বের হয়। পরে উপজেলা পরিষদে মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউএনও মোছা. ইশরাত জাহান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোছা. নার্গিস বেগম, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
ক্রিকেট ইতিহাসে বড় ঘটনা। এমসিসি বা মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের ২৩৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হলেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ক্লেয়ার কোনর। যার অধিনায়কত্বে একসময় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে অ্যাসেজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার কুমারা সাঙ্গাকারার জায়গায় প্রেসিডেন্ট হলেন তিনি। এমসিসি একদিকে যেমন ক্রিকেটের ধারকবাহক, তেমনই নতুন নিয়ম বা আইনের প্রনোয়ণের ক্ষেত্রেও মুখ্য ভূমিকা নেয়। এক বছরের জন্যই প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন সাঙ্গাকারা। কিন্তু করোনার কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছিল এমসিসি। সাঙ্গাকারার মেয়াদ শেষ হলেই ক্লেয়ার দায়িত্ব নেবেন। শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমারা সাঙ্গাকারাই ক্লেয়ারের নাম ঘোষণা করেছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে। ১৯৯৫ সালে ক্লেয়ারের অভিষেক হয়েছিল ইংল্যান্ডের হয়ে। তখন তার বয়স মাত্র ১৯ বছর। ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হয়েছিলেন। অলরাউন্ডার ক্লেয়ার মনে রাখার মতো অনেক ম্যাচ খেলেছেন। ক্লেয়ার বলেছেন, "ক্রিকেটে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাই। সেই সঙ্গে বোর্ডরুমে আমার সতীর্থ থাকবেন যারা, তাদের সহযোগিতাও চাই। ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই আমরা একসঙ্গে পথ চলব। আগামী একটা বছর আমার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্রপূর্ণ সময়।" এরই মধ্যে এমসিসির বার্ষিক সভায় নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ব্রুস কর্নেগি-ব্রাউন। তিনিও বলেছেন, "একদিকে সম্মান যেমন, অন্য দিকে তেমন বড় দায়িত্ব। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটকে পরিকাঠামোগত দিক থেকে বটেই, আধুনিকতার দিক থেকেও সার্বিক চেহারা দিতে চাই।"
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 12 |
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আহাম্মদপুর ইউনিয়নের মায়া ব্রিজ এলাকায় হাঙ্গরের তেল ও হাঙ্গরের বাচ্চার শুঁটকি জব্দ করেছে উপজেলার বন ও মৎস বিভাগ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাঙ্গরের বাচ্চার শুঁটকি ও হাঙ্গরের তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়টি স্থানিয় সংবাদকর্মিদের নজরে আসে। এসময় সংবাদকর্মিরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে বিকেল ৪টায় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা ও মৎস কর্মকর্তা ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় প্রায় ১০ হাজার হাঙ্গরের বাচ্চার শুঁটকি ও ২১ ব্যারেল হাঙ্গরের তেল জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনার বিষয়টি টের পেয়ে এর সাথে জরিতরা তাৎক্ষনিক পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, স্থানিয় প্রভাবশালিদের ছত্রছায়ায় আনোয়ার হোসেন, ইয়াসিন ও আলমগীরসহ সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্র মিলে দির্ঘ ৫ বছর যাবত হাঙ্গরের শুঁটকিসহ হাঙ্গর শিকার ও এর তেল প্রক্রিয়াজাত করছে এই এলাকায়। পরে ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ শুটকি ও তেল পাচার করা হয়। উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.আলাউদ্দিন হোসেন সাংবাদিকদের এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৎস পরিবেশ ও বন আইনে হাঙ্গর শিকার ও শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং এর তেল সংরক্ষণ দণ্ডনিও অপরাধ। এর সঙ্গে জরিতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
আজ বুধবার (১ ডিসেম্বর)। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের ৫৭ তম প্রতিষ্ঠা দিবস। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবসে বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর মতে, নিজেদের পেশাদারিত্বের জন্যই বিএসএফ আজ সর্বত্রই প্রশংসিত। শুধু সীমান্ত সুরক্ষাই নয়, অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনেও বিএসএফের ভূমিকার প্রশংসা করেন মোদি।শুধু প্রধানমন্ত্রীই নয়, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ৫৭ তম প্রতিষ্ঠা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা এবং কাছাড় ও মিজোরাম ফ্রন্টিয়ার-সহ সর্বত্রই বেশ ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে দিনটি। বিভিন্ন সীমান্তে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবির সঙ্গে বিষ্টি বিনিময় করতেও দেখা গিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে রয়েছে বিএসএফ। | 3 |
৩০ নভেম্বর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের ১২ তম বৈঠক শুরু হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্ব বাংলাদেশের ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ বৈঠকে যোগ দেবে। এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৩টি প্রস্তাব দেওয়া হবে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডব্লিউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর রপ্তানির ধারাবাহিকতা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা অব্যাহত রাখতে উন্নত দেশগুলোর বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধাসহ ৩টি এজেন্ডা পেশ করবে বাংলাদেশ।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, জেনেভাতে ডব্লিউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে উত্থাপনের জন্য তিনটি প্রধান এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুল্ক ও কোটামুক্ত পণ্য প্রবেশাধিকার সুবিধাসহ ৩টি পয়েন্টের ওপর আলোচনা করবে বলে জানান তিনি।এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ডব্লিউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের (এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন) পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উন্নত দেশগুলোতে ডিউটি সুবিধা পাওয়ার জন্য আলোচনা করা।তিনি বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ার পর রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধার ধারাবাহিকতা প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হবে। চাদের মাধ্যমে ডব্লিউটিও'র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আমাদের দাবি পেশ করব। এ ছাড়া কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টিকে রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে এ বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হবে।ডব্লিউটিওতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ পরবর্তী সমন্বয়কারী দেশ হিসেবে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদ। এদিকে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার কথা। জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (ইউএনসিডিপি) কোন দেশ এই তালিকাভুক্ত হবে-সে বিষয়টি নির্ধারণ করে। তবে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এই সময়সীমা ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে ইউএনসিডিপি।প্রসঙ্গত, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। | 6 |
মাদারীপুরের শিবচরে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে পথচারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত আরো দু'জন। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেস হাইওয়ের বাঁচামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় প্রাইভেটকারটি পাচ্চর পেট্রোলপাম্প থেকে তেল নিয়ে উল্টো পথে রওনা হয়। এ সময় গোপালগঞ্জগামী একটি বাস প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলে ২ পথচারী ও প্রাইভেটকারের এক যাত্রী নিহত হন। আরেকজনকে আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী সাখাওয়াত হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, বাস এবং প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু'জন ঘটনাস্থলে এবং আর দু'জন হাসপাতালে নেয়ার পথে। ওসি বলেন, ঘটনার পরপর চারজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। আরো চারজন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। | 6 |
রাজধানীর হাতিরঝিল লেক থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে স্বজনরা মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন। তার নাম আজিজুল ইসলাম মেহেদি (২৪)। চট্টগ্রাম সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া গ্রামের ফখরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সে। মেহেদি চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। নিহতের মামাতো ভাই সাফায়েত উল্লাহ জানান, শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে সে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় চাকরির ইন্টারভিউ ও আরো কিছু কাজ আছে বলে পরিবারকে জানিয়েছিলো। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিলো। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে খিলক্ষেত থানা পুলিশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদেরকে একটি লাশ উদ্ধারের খবর জানান এবং ঢাকা মেডিকেলের মর্গে এসে লাশ দেখতে বলেন। পরে চট্টগ্রাম থেকে আজ বেলা ১২টার দিকে এসে লাশের পরিচয় সনাক্ত করেন তারা। সাফায়েত উল্লাহ আরো জানান, মেহেদী লেখাপড়ার পাশপাশি পরিচিতদের পাসপোর্টের কাজ করে দিতো বলে আমি জানতাম। পরিচিত কারো পাসপোর্টজনিত কোনো সমস্যা থাকলে সে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করে ঠিক করে দিতেন। এখন কে বা কারা তাকে এভাবে হত্যা করেছে তা বলতে পারি না। | 6 |
সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজও নিয়মিত নির্মিত হচ্ছে কলকাতায়। যেখানে টালিউডের পরিচিত তারকারাও অভিনয় করছেন। সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে নতুন ওয়েব সিরিজ 'লার্জ পেগ'। গতকাল প্রকাশিত হলো ওয়বসিরিজটির ট্রেলার। অংশুমান ব্যানার্জী পরিচালিত এই ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির কলাকুশলী থেকে পরিচালক সকলেই। সিরিজটিতে সায়ন্তনী গুহ ঠাকুরতা, অনিন্দ্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীতমা দে, পায়েল রায়, সারা এম. নাথ সহ আর অনেক নতুন এবং পরিচিত মুখদের দেখা মিলবে। ওয়েব সিরিজের কাহিনী এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন সৈকত ঘোষ ও প্রত্যূষা সরকার। সংগীত নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন সমীক কুন্ডু এবং চিত্রগ্রহণে রয়েছেন শান্তনু ব্যানার্জী। একটি সাইকোলজিকাল থ্রিলারের সিরিজ এটি। এই ওয়েব ধারাবাহিকের মধ্যে দিয়ে ধরা পড়েছে একজন লেখকের জীবনে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনা; তার জীবনে একাধিক নারীর আনাগোনা, এবং তাদের প্রভাবে তৈরী হওয়া রহস্য এই নিয়েই এই ওয়েব ধারাবাহিকটির মূল উপজীব্য। কলকাতার একটি নামকরা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে ওয়েব সিরিজটি। | 2 |
করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বুধবার ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার ভোরে নৌকায় করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল সাহেদের। তবে নৌকায় মাঝি ও সাহেদ একা ছিল বলে জানায় র্যাব। গ্রেপ্তারের সময় সাহেদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। সীমান্ত দিয়ে নৌকায় করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় নৌকার মাঝি সাতার কেটে পালিয়ে গেলেও ধরা পড়েন সাহেদ। সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হচ্ছে গ্রেপ্তার সাহেদকে। | 6 |
রাষ্ট্রপতি মো আবদুল হামিদ বাংলাদেশের বদ্বীপ পরিকল্পনা- ২১০০ বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডের সহযোগিতা চেয়েছেন। ডাচ রানী ম্যাক্সিমা জোরেগুয়েতা সেরুতি আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ সহযোগিতা চান। রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. জয়নাল আবেদিন জানান, সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা- ২১০০ বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডের বিশেষায়িত দক্ষতা, বিশেষ করে নদী-শাসনে ডাচ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে ডাচ রানীকে স্বাগত জানিয়ে মো. হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে খুবই চমৎকার এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরদার হবে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এসব মিয়ানমারের নাগরিকের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের নিজ বাসভূমিতে ফেরা নিশ্চিত করতে নেদারল্যান্ডসহ গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নের কথা তুলে ধরেন। জি ২০ গ্লোবাল পার্টনারশিপ পর ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লোজন(জিপিএফআই)-এর সাম্মানিক পৃষ্ঠপোষক রানী ম্যাক্সিমা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকা-ের, বিশেষ করে বাল্য বিবাহ রোধে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। রানী ম্যাক্সিমা সাম্প্র্রতিক সময়ে নারী ক্ষমতায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অনন্য সাধারণ উন্নয়নের প্রশংসা করেন। রানী ম্যাক্সিমা বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- পরিদর্শন এবং বিশেষ করে এখানকার আর্থিক খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষতের জন্য চারদিনের সরকারি সফরে গতকাল ঢাকা আগমন করেন। বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হেন্ড্রিকাস জি. জে. (হ্যারি) ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো সাক্ষাৎকালে রানীর সঙ্গে ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম শামীম-উজ-জামান এবং বঙ্গভবন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাসস | 6 |
এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়া সামরিক অভিযান শুরুর পর কিয়েভের কাছে একটি বন্যা রক্ষা বাঁধে হামলা চালালে বাঁধটি ভেঙে পার্শ্ববর্তী গ্রামে বন্যা দেখা দেয়। এরপর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বন্যামুক্ত হতে পারেনি সেই গ্রামের মানুষ। আজ রোববার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এএফপি জানিয়েছে, গ্রামটির নাম দেমিদিভ। গ্রামপ্রধান ওলেক্সান্ডার মেলনিচেঙ্কো এএফপিকে বলেন, 'ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে রুশ বাহিনী বাঁধ এবং একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে বাঁধ ভেঙে দেমিদিভ গ্রামে পানি প্রবেশ করে।'ওলেক্সান্ডার মেলনিচেঙ্কো আরও জানান, তখন রুশ বাহিনী কিয়েভ দখলের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছিল। তাদের অগ্রযাত্রাকে আটকে দিতে ইউক্রেন সেনারা দেমিদিভ গ্রামের পাশের ইরপিন নদীর ওপরের একটি সেতু উড়িয়ে দেয়। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। কারণ সেতু বিধ্বস্ত হওয়ার ফলে নদীর পানি গ্রামে প্রবেশ করে।সেতুটি ছিল দেমিদিভ গ্রাম ও কিয়েভের মধ্যে সংযোগকারী সেতু। সেতু পেরিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রাসাদে যেতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে। মেলনিচেঙ্কো বলেছেন, 'সেতুটি উড়িয়ে দেওয়ার কারণে রুশ সৈন্যরা বাধ্য হয়ে অন্যদিকে মোড় নেয়।'সেতুটি উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কিয়েভ কর্তৃপক্ষ বাঁধও খুলে দিয়েছিল বলে জানান ওলেক্সান্ডার মেলনিচেঙ্কো। তিনি বলেন, 'বাঁধ খুলে দেওয়ার ফলে নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে গিয়েছিল।'এরপর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু গ্রাম থেকে বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যায়নি। গ্রামটিতে আনুমানিক ৭৫০টি পরিবার বাস করে। এদের মধ্যে ৬০টি পরিবার বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০০ পরিবার।কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রকৌশলীরা ইতিমধ্যেই ইরপিন নদী পার হওয়ার সেতুটি মেরামত করতে শুরু করেছেন। আগামী শনিবার থেকে সেতুটি গাড়ি চলাচলের উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে বলে ধারণা করছেন কিয়েভ কর্তৃপক্ষ।তবে কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না গ্রামবাসীরা। ৮২ বছর বয়সী মারিয়া দিদোভেতস ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, 'বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। দরজা খুললেই ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এ অবস্থায় বেঁচে থাকা যায় না।' তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, 'এখানে কোনো ট্যাংক নেই। বন্যাও নেই। আমরা শান্তিতে আছি।' | 3 |
চাঁদা দাবির ঘটনায় মাস তিনেক আগে থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন মো. আইমন (১৮)। তবে দিনশেষে সেটাই কাল হলো এ তরুণের জন্য। থানায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, সেই ব্যক্তি এবং তার সহযোগীদের হাতে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে খুন হতে হয়েছে তাকে। শনিবার (২১ মে) রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে হোসেন মার্কেটের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিহত আইমন চৌমুহনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গণিপুরের নুর নবীর ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে আইমন ছিলেন চতুর্থ। তিনি চৌমুহনী বাজারে প্রধান সড়কের পাশে খোলা জায়গায় জুতা বিক্রি করতেন। হত্যাকাণ্ডের পর ওইদিন রাতেই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- চৌমুহনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রাকিব (২০), মো. পাভেল (২১) এবং নীরব (২০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান রাজীব। তিনি বলেন, "তিন মাস আগে স্থানীয় সন্ত্রাসী রাকিব তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আইমন এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে রাকিব ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তিন মাস কারাগারে থাকার পর রাকিব গত বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পান।" নাজমুল হাসান রাজীব জানান, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে রাকিব তার দুই সহযোগী পাভেল ও রিমনকে নিয়ে চৌমুহনী বাজারে আইমনের পথ আটকায়। তিনি আরও বলেন, "রাকিব তার কারাভোগের জন্য আইমনকে দায়ী করে। এক পর্যায়ে তিনজন মিলে আইমনকে ছুরি মেরে জখম করে। বাঁচার জন্যে সে পাশের একটি ফার্মেসিতে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়েও তারা আইমনের গলার নিচে ছুরি মেরে জখম করে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।" তবে শুধু আইমনকে হত্যা করেই রাকিব আর তার সহযোগীরা ক্ষান্ত হয়নি। আইমনকে প্রকাশ্যে হত্যার পর হাতবোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং প্রায় আধা ঘণ্টা চৌমুহনী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরবর্তীতে পরে আটিয়াবাড়ি পুল এলাকা থেকে রাকিবসহ ওই তিন যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আইমনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা খুনিদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। আইমনের মা ইতোমধ্যে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান রাজীব জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য আইমনের মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেই থানায় বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "চৌমুহনী বাজারে দোকানদারদের কাছে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা আদায়ের মত ঘটনা কারা ঘটাচ্ছে এবং কারা এই চাঁদাবাজদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে- এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তে যাদের নাম বেরিয়ে আসবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।" | 6 |
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে (৫৬) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১২টার পর এই ঘটনা ঘটে। ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতিও ছিলেন নিহত নেথোয়াই মারমা। আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন তিনি। কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুছাইন চৌধুরী এবং রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন। অংসুছাইন চৌধুরী বলেন, তিনি (নেথোয়াই মারমা) এতদিন উপজেলা রেস্ট হাউজে ছিলেন। আজই মনোনয়ন জমা দিয়ে নেতাকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে এলাকায় গিয়েছিলেন। রাতে তার নিজ বাড়িতে জেএসএস এর একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে তাকে গুলি করে হত্যা করে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর এই হত্যাকাণ্ডের জন্য 'জনসংহতি সমিতি'কে দায়ী করে বলেছেন, পাহাড়ে নির্বাচন আসলেই হত্যাকাণ্ডে মেতে ওঠে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলার সব ইউনিয়নের প্রার্থীদের নিরাপদে ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা জেনেছি, আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। পুলিশ সেখানে যাচ্ছে। সেখানে গেলে বিস্তারিত জানতে পারবো। | 6 |
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে (১১২ বছর) বিশ্বব্যাপী মানুষ ৮ মার্চকে নারীদের জন্য বিশেষ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে পালিত হচ্ছে ১৯৭৫ সাল থেকে। বর্তমানে নারী দিবস পালনের পরিসর বেশ বাড়লেও অনেকের কাছে এর ইতিহাস নিয়ে ধারণা নেই। ১৯০৭ সালে স্টুটগার্টের শ্রমজীবী সমাজতন্ত্রী নারীদের সম্মেলনে বিদগ্ধ জার্মান সমাজতন্ত্রী নেত্রী ক্লারা জেটকিনকে (১৮৫৭-১৯৩৩) আন্তর্জাতিক সম্পাদিকা করে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক প্রগতিশীল নারীদের একটি ফ্রন্ট গঠিত হয়। ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে হয়েছিল এই ফ্রন্টের দ্বিতীয় সম্মেলন। সেখানেই বিশ্বের নারীদের একটি বিশেষ দিন হিসেবে ৮ মার্চকে 'আন্তর্জাতিক নারী দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই দিনের একটি ইতিহাস আছে। ১৯০৮ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কে শ্রমজীবী নারীরা আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণ ও সমকাজে সমমজুরির দাবিতে আন্দোলন করেন। এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে বেশ কিছু নারী নিহত হন। সেই আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে বিশ্বজুড়ে এ দিবস পালিত হয়ে আসছে আজও। সাবেক সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোয় ৮ মার্চ ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘের স্বীকৃতির পর বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয়ভাবে ৮ মার্চ পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের নারীর মর্যাদা কমিশনের আন্তর্জাতিক সভাও ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নারী উন্নয়ননীতি ঘোষণা করেছেন ১৯৯৭ সালের ৮ মার্চ। জাতীয় নারীর উন্নয়ন পরিষদ লক্ষ রাখছে নারীর সম-অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়ে। নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু নারীর মর্যাদা হানিকর বহু অমানবিক ভিত্তি রয়ে গেছে যেসব আইনে, সেসব সংশোধন করার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। নারীর অধিকার রক্ষায় ইতিবাচক অবদান রাখার ক্ষেত্রে আইনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইন সব সময় যুগোপযোগী করতে ব্যবস্থা রাখতে হয়। বেইজিং চতুর্থ নারী সম্মেলনের নীতিমালায় (১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত), সিডও সনদ এবং তিউনিসিয়াসহ অন্য কয়েকটি মুসলিম দেশে নারীর অধিকার রক্ষায় বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অথচ দেশের প্রচলিত আইনে নারীর অধিকার এখনো বৈষম্য ও বঞ্চনাকেই প্রতিফলিত করছে। নারী জাগরণের সূচনা পর্বের ধারাবাহিক ইতিহাস থেকে জানা যায়, নারীর স্বার্থে সামাজিক, পারিবারিক, আইনগত সংস্কার ও রাজনৈতিক অধিকারের সন্ধানেই সূচিত হয়েছিল নারী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট। ইউরোপজুড়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৮) দামামা বাজা শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের শেষ দশক থেকে। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের ভয়াবহ চাপে নারীসমাজের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছিল। সেই অবস্থার মুখোমুখি হয়ে নারীসমাজের অবস্থা কী দাঁড়াল, তা প্রত্যক্ষ করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, 'তাদের মুখের ওপর থেকেই যে কেবল ঘোমটা খসল তা নয়, যে ঘোমটার আচরণে তারা অধিকাংশ জগতের আড়ালে পড়ে গিয়েছিল, সেই মনের ঘোমটাও তাদের খসছে। যে মানব সমাজে তারা জন্মেছে, সেই সমাজ আজ সকল দিকেই সকল বিভাগেই সুস্পষ্ট হয়ে উঠল তাদের দৃষ্টির সম্মুখে। এখন অন্ধ সংস্কারের কারখানায় গড়া পুতুলগুলো নিয়ে খেলা করা আর তাদের সাজবে না। তাদের স্বাভাবিক বুদ্ধি কেবল ঘরের লোককে নয়, সকল লোককে রক্ষার জন্য কায়মনে প্রবৃত্ত হবে।' (কালান্তর: নারী) নারীমুক্তির সঙ্গে জড়িত আছে অনেকগুলো বিষয়-নারীর মর্যাদা তথা সমাজে ও পরিবারে নারীর স্থান, শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ, সব ধরনের নির্যাতন, অত্যাচার ও বৈষম্যের কবল থেকে নারীসমাজকে মুক্ত করার পথ বের করা এবং চলতি সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য নারীসমাজের প্রচেষ্টা কী হবে, সেটা চিহ্নিত করা। নারীমুক্তির প্রশ্নটি শ্রেণি-সম্পর্কিত প্রশ্ন। নারী শোষণের সূত্রপাত যে সমাজকাঠামোয়, তার অবলুপ্তি ছাড়া এর পাকাপাকি সমাধান নেই, হতে পারে না। এখানেই রয়েছে নারী আন্দোলন ও শ্রেণিসংগ্রামের যোগসূত্র। সামাজিক যে স্তরেই নারী বাস করুক না কেন, যে শ্রেণিরই সে অংশ হোক না কেন, তাকে বহু সমস্যায় ভুগতে হয়, যা পুরুষকে স্পর্শও করে না। আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মূলধারায় নারীর চাহিদা ও সমস্যা সমাধানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না হলে একপেশে পুরুষকেন্দ্রিক উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটবে। নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হবে নারী। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নারীর এই বিশেষ সমস্যার জন্য পুরুষ দায়ী। নারীর সব বৈষম্য, শোষণ ও নির্যাতনের মূল কারণ রাষ্ট্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো। অন্যদিকে নারীর সব সমস্যা সমাজে পুরুষের প্রাধান্যের জন্যই সৃষ্ট বলে প্রচারের লক্ষ্যে নারী আন্দোলনের একটি ধারা সৃষ্টি হয়েছে, যে ধারায় নারী আন্দোলন ও শ্রেণিসংগ্রামের যোগসূত্রটি নাকচ করে বলা হয়, পুঁজিশাসিত সমাজ ও অর্থনীতি নয়, পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থা বদল করতে পারলে, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারলে এবং জীবনের সব ক্ষেত্রে নারীর জন্য পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে নির্যাতন, শোষণ ও বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি পাবে নারী। এই দুই ধারার নারী আন্দোলনে বহুবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচিতে ভিন্নতাও থাকে। যে যেমন জীবন থেকে আসে ও নিজস্ব গণ্ডিতে যেমন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে বা যা দেখে, তারই ভিত্তিতে দাবি তোলে। ফলে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সুস্পষ্টতার জন্য কোনোটা হয় সঠিক, আবার তারই অভাবে কোনোটা হয় অসাড়। নারী-পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এবারের ৮ মার্চ এগিয়ে যাক সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে। মালেকা বেগম নারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সোশিওলজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন | 8 |
তীব্র শীতে যখন কাঁপছে দেশ ঠিক তখন ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পাঠানো দরিদ্র শীতার্তদের ত্রাণ সহায়তার কম্বল নিয়ে ছিন্নমূল মানুষের দোরগোড়ায় হাজির হয়েছেন বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসন। শনিবার রাতে ৯টার দিকে পৌরশহরের রেল স্টেশন প্লাটফর্ম, বাস টার্মিনাল, ওয়াবদার মোড় ও হাসপাতাল গেটে হতদরিদ্র মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাকিলা বিনতে মতিন। এছাড়া বোয়ালমারী শিবপুরস্থ হেলিপ্যাড এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বেদে পল্লীর দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ বলেছেন, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে বাংলাদেশের জনগণ স্বাগত জানাবে। আজ শনিবার রাত সোয়া আটটায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।বিবৃতিতে রওশন এরশাদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ডাক না দিয়ে দেশবাসীকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান।দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, 'মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে দিল্লির ঘটনায় বাংলাদেশে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, এ কথা সত্য। কিন্তু বিশ্ব মানবতার প্রতি বরাবরের মতো আস্থা রেখে আমাদের ধৈর্য ধারণ করা উচিত। নরেন্দ্র মোদির সফরকে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ডাক না দিয়ে আমাদের উচিত হবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পরীক্ষিত বন্ধু ভারতের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানানো।' সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কোনো একটি দিক বিবেচনায় নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নির্ধারিত হয় না। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সার্বিক পরিবেশ ও ভূরাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি বলেন, 'দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনায় ভারতের বিবেকবান মানুষ দল-মত, ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে এবং মুসলমানদের সুরক্ষায় এগিয়ে এসেছে। বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে। নরেন্দ্র মোদি কোনো দলীয় প্রধান হিসেবে বাংলাদেশ সফর করছেন না, বরং তিনি বন্ধুপ্রতিম ভারত রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশ সফর করছেন।' রওশন এরশাদ বলেন, 'নরেন্দ্র মোদি আমাদের সম্মানিত রাষ্ট্রীয় অতিথি, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান মিত্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর এই সফর উষ্ণ ও আন্তরিকতাপূর্ণ হবে এবং বাংলাদেশের জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বন্ধনকে ভালোভাবে নেবে। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে বাংলাদেশের জনগণ স্বাগত জানাবে।'বিবৃতিতে রওশন এরশাদ অতিথিপরায়ণতার সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে মানবতার পরিচয় তুলে ধরতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। | 9 |
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে রাজশাহী জেলা জজ আদালতে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবীর সরকারের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। হাজিরা উপলক্ষে আদালতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তার মাঝেও সাঈদীকে একনজর দেখতে আদালতে ভিড় করেছেন উৎসুক জনতা। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে আদালত এলাকায় গিয়ে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দেখা যায়। কোর্ট চত্বরে একটি থমথমে আবহাওয়া বিরাজ করছে। একইসাথে প্রচুর মানুষ দেখা যায় যারা সাঈদীকে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা মামলায় হুকুমের আসামি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করছেন ওই আদালতের এপিপি শিরাজী শওকত সালেহীন। আর আসামিপক্ষে মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্যানেল এ মামলা লড়ছেন। গত এক সপ্তাহ ধরেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে সাঈদীকে রাখা হয়েছে। কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। প্রথমে বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ গোপন রাখলেও কারাগারের বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে আসে সবার। প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল দখল নিয়ে ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ফারুক নামের একজন ছাত্র নিহত হয়। পরদিন এ নিয়ে নগরীর মতিহার থানায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩৫ শিবির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেক শিবির নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। পরে ওই মামলার হুকুমের আসামি করা হয় জামায়াতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ বেশ কয়েকজনকে। ২০১২ সালের ৩০ জুলাই নগরীর রাজপাড়া থানার তৎকালীন ওসি জিল্লুর রহমান মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘদিনেও মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি। | 6 |
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বিকাশ হিসাবে পাঠানো বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক ভাতাভোগী। ৯ মাসের বেশি সময় ধরে ভাতার টাকা পাচ্ছেন না তাঁরা। উপজেলার দেবপাড়া ও গজনাইপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ভাতাভোগীর একই অভিযোগ।জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বয়স্কভাতার টাকা পাচ্ছেন না দেবপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মিনা বেগম, সিট ফরিদপুর গ্রামের লেবু বকস, গজনাইপুর ইউনিয়নের মিরাশী বিবি, মৌরশী বিবি, ছমদ উল্ল্যাহ, আনর মিয়াসহ দুই ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ভাতাভোগী। তাঁরা টাকার জন্য প্রতিনিয়তই ঘুরছেন সমাজসেবা অফিসে। কিন্তু মিলছে না প্রতিকার।মিঠাপুর গ্রামের মৃত তৈয়ব উল্লাহর স্ত্রী কমলা বিবি বলেন, 'ব্যাংকে নিয়মিত বয়স্কভাতার টাকা পেতাম। মোবাইলে বিকাশ হিসাব খোলার পর থেকে আর টাকা পাই না। এই টাকাই আমার একমাত্র ভরসা।' এ ভাতাভোগী আরও বলেন, তাঁর বয়স্ক ভাতার টাকা অন্যের মোবাইলে চলে যায়।গজনাইপুর ইউনিয়নের কায়স্থগ্রামের মৌরশী বিবি বলেন, 'ব্যাংকের মাধ্যমে যখন টাকা দেওয়া হতো, তখন পেয়েছি। কিন্তু বিকাশ হিসাব খোলার পর আর টাকা পাইনি।' দেবপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মিনা বেগম বলেন, 'আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তাঁর ভাতার কার্ড আগের মেম্বার নিয়ে গেছেন। দুই বছর হয়ে গেছে আমি কোনো টাকা পাইনি। জানি না মেম্বার সাব কার নম্বর দিয়েছেন।'সিট ফরিদপুর গ্রামের লেবু বকস বলেন, 'আমি প্রায় ১ বছর ধরে বয়স্ক ভাতা পাইনি। বিকাশ চালু হওয়ার পর কোনো টাকা পাইনি।' দেবপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মুকিত বলেন, 'আমার ওয়ার্ডে প্রায় ২০ জনের মতো লোক বিকাশ চালু হওয়ার পর কোনো টাকা পাননি। টাকা যায় কোথায়, এই প্রশ্ন এখন আমাদের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে।'আউশকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিজিল ইসলাম সেজলু বলেন, 'আমার আগের মেম্বার করেছেন। আমি কিছুই জানি না। তবে এক নারী আমার কাছে আসার পর আমি বিষয়টি সমাজসেবা অফিসকে জানিয়েছি। তাঁরা বলছেন, ব্যবস্থা নেবেন। এখানে কারচুপি হয়ে থাকলে সেটাও দেখবেন।'আউশকান্দি সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক অমর দাশ তালুকদার বলেন, 'আমাদের কাছে থাকা অবস্থায় ভাতাভোগীরা সঠিকভাবে টাকা পেয়েছেন। এখন টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যায়। এ দায়িত্ব আমাদের নয়।'নবীগঞ্জ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী ভাতা প্রকল্পের ইউনিয়ন সমাজকর্মী চিত্ত মজুমদার বলেন, 'আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। যদি কোনো প্রতারক ভুয়া মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কীভাবে মোবাইল নম্বর ভুল হলো সে বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে কথা বলব। প্রতারকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'তিনি বলেন, আগের মেম্বারের সঙ্গে কথা বলেই ভাতার নম্বর দেওয়া হয়েছে। আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান দিলাওয়ার হোসেন বলেন, 'আমার আগের চেয়ারম্যানের আমলে এমন হয়েছে। ভাতাভোগীদের পরিবর্তে কার নম্বর দেওয়া হলো, তা দেখছি আমরা।'নবীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ভাতাভোগীদের নম্বর না দিয়ে অন্য লোকের নম্বর দিয়ে একটি প্রতারক চক্র টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন বলেন, কেউ একবার ভাতার টাকা পেয়ে থাকলে পরে বিকাশে টাকা না পাওয়ার কথা নয়। এখানে কোনো প্রতারণা হয়ে থাকলে তার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
পাথরঘাটা পৌরসভায় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করতে আসেন। উপজেলার সাত ইউনিয়ন থেকে মানুষ এখানে আসেন সরকারি দপ্তরে, হাটবাজারে। কিন্তু পাথরঘাটা পৌর শহরে কোনো গণশৌচাগারের (পাবলিক টয়লেট) ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষদের।জানা যায়, পৌর শহরে কয়েকটি পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো বেদখল হয়ে আছে। যা আছে সেগুলো ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে বিভিন্ন মসজিদের টয়লেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।পৌর শহরে শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ও অবৈধভাবে দখল হওয়া পাবলিক টয়লেট উন্মুক্ত করার দাবিতে ওয়াশ এসডিসি নাগরিক কমিটি ও পাথরঘাটা উপজেলা নাগরিক অধিকার ফোরামের যৌথ উদ্যোগে গত শনিবার বেলা ১১টায় পৌর শহরে মানববন্ধন হয়েছে। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ বরাবর স্মারকলিপি দেন তাঁরা। এরপর পাথরঘাটা প্রেসক্লাব চত্বর ও শেখ রাসেল স্কয়ার চত্বরে মানববন্ধন করেন তাঁরা।পৌরশহরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য পাবলিক টয়লেট নেই। পাশাপাশি দোকানে আসা ক্রেতাদেরও মাঝে মাঝে বিপদে পড়তে হয়। এ কারণে তাঁদের ভরসা করতে হয় মসজিদের টয়লেটগুলোতে। তবে মসজিদের টয়লেটগুলোও বেশির ভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকে।পাথরঘাটার পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন জানান, অতি শিগগিরই পাবলিক টয়লেটগুলো উন্মুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অমিক্রনের কারণে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার জেরে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল অব্যাহত রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বাতিলের প্রবণতা ক্রমাগত বেড়েছে। গত শনিবার ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা নতুন শিখরে পৌঁছেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানায়, ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইট এওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার সারা বিশ্বে ৪ হাজার ৭৩১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা বড়দিনের পর থেকে এক দিনে সর্বোচ্চ ফ্লাইট বাতিলের রেকর্ড। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৩৯টি ফ্লাইট অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ ছাড়া শনিবার সারা বিশ্বে ১১ হাজার ৪৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯৯৩টি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইট। দেশটির এয়ারলাইনস কোম্পানি সাউথ ওয়েস্টের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইটের ১৩ শতাংশ বাতিল করতে হয়েছে তাদের। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিকাগো অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে বড়দিনের ছুটিতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনস কোম্পানির প্রায় সাড়ে সাত হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। সিএনএন জানিয়েছে, রোববার সাধারণত এয়ারলাইনসগুলোর জন্য ব্যস্ততম দিন। গতকালও ১ হাজার ৮২৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। করোনার অতি সংক্রামক ধরন অমিক্রনের প্রকোপ যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রভাব এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলোর ওপর পড়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনের অনেক পাইলট, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ও কর্মী ছুটিতে আছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। কাউকে আবার করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসার কারণে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় তাঁরাও কাজে যোগ দিতে পারছেন না। করোনা সংক্রমণের পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণেও যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বিশ্বে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। ইউরোপে ১০ কোটির বেশি করোনা শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এই সংখ্যা বিশ্বব্যাপী মোট সংক্রমণের এক-তৃতীয়াংশের বেশি।সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপ আবারও মহামারির কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। দ্রুত সংক্রমণশীল করোনার অমিক্রন ধরনের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় গোটা ইউরোপ ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করছে। আটলান্টিক উপকূল থেকে আজারবাইজান ও রাশিয়া পর্যন্ত ইউরোপের ৫২টি দেশে গত দুই বছরে ১০ কোটি ৭৪ হাজার ৭৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ২৮ কোটি ৮২ লাখ ৮০৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপে শনাক্ত হয়েছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি। শুধু গত এক সপ্তাহে ৫০ লাখের বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপের ৫২টি দেশের মধ্যে ১৭টিতে গত এক সপ্তাহে করোনা শনাক্তের এই সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ে এক সপ্তাহে আক্রান্তের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফ্রান্সেই গত সপ্তাহে ১০ লাখের বেশি নতুন রোগী শনাক্তের রেকর্ড করেছে। বিশ্বে প্রতি ১ লাখ বাসিন্দার মধ্যে সংক্রমণের অনুপাত সবচেয়ে বেশি ছিল ইউরোপে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ডেনমার্ক। দেশটিতে প্রতি ১ লাখে ২ হাজার ৪৫ জন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অপর দিকে সাইপ্রাসে এই সংখ্যা ১ হাজার ৯৬৯ এবং আয়ারল্যান্ডে ১ হাজার ৯৬৪। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ষষ্ঠ দেশ হিসেবে ফ্রান্সে এক কোটির বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনিবার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়। সরকারি তথ্য অনুসারে, মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। ফ্রান্সের আগে এক কোটি করোনা রোগী শনাক্তের ক্লাবে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়া নাম লেখায়। যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ৫ কোটি ৫৮ লাখের বেশি, ভারতে ৩ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, ব্রাজিলে শনাক্ত ২ কোটি ২২ লাখের বেশি, যুক্তরাজ্যে শনাক্ত ১ কোটি ৩১ লাখের বেশি এবং রাশিয়ায় শনাক্ত ১ কোটি ৫ লাখের বেশি। ফ্রান্সের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করেন বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ কঠিন হবে। ফ্রান্সে ইতিমধ্যে ঘোষণা করা বিধিনিষেধের চেয়ে আরও বেশি বিধিনিষেধের প্রয়োজনের কথা নববর্ষের প্রাক্কালে দেওয়া ভাষণে উল্লেখ করেননি মাখোঁ। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বলেন, সরকারের উচিত ব্যক্তিস্বাধীনতাকে আরও সীমিত করা থেকে বিরত থাকা। | 3 |
বাংলাদেশে এই প্রথম লবণাক্ত ও জলমগ্ন সহিষ্ণু ধানের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিনা) এক অনুষ্ঠানে এই জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় কৃষিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় হঠাৎ বন্যা ও লবণাক্ততা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কার্যকর উপায় হচ্ছে লবণাক্ততা ও জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধানের উন্নত জাত উদ্ভাবন। এ লক্ষ্যে বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী প্রায় এক দশক ধরে কাজ করে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায়, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট (ইরি) থেকে সংগৃহীত ধানের বিভিন্ন অ্যাডভান্স লাইন থেকে নানাবিধ গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট লবণাক্ততা ও জলমগ্নতা সহিষ্ণু ব্রিডিং লাইন আরসি-২৫১ শনাক্ত করে। তিনি বলেন, বিনা এ ধানকে একদিকে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য জাত হিসেবে (বিনাধান-২৩) ছাড়করণের লক্ষ্যে নানামুখী গবেষণা পরিচালনা করেছে, অন্যদিকে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার করে আরোপিত মিউটেশনের ( ) মাধ্যমে এ ধানের কৌলিতাত্ত্বিক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এ গবেষণায় বিভিন্ন মাত্রার গামা রেডিয়েশন প্রয়োগ করে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মিউট্যান্ট সৃষ্টি করে তা থেকে নানামুখী পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে জেনারেশনে তিনটি উন্নত মিউট্যান্ট শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাপ্ত মিউট্যান্টগুলো প্যারেন্ট অপেক্ষা উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, লবণাক্ততা ও ১৫ দিন জলমগ্নতা সহিষ্ণু। বিনা তার প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই আরোপিত মিউটেশনের মাধ্যমে ফসলের নানা জাত উদ্ভাবন করেছে। এসব গবেষণায় আরোপিত মিউটেশনের প্রভাবে ফসলের ফেনোটাইপের কাঙ্খিত পরিবর্তন দেখে উন্নত জাত শনাক্ত করা হতো কিন্তু জিনোমের কোথায় ডিএনএ বিন্যাসের পরিবর্তনের জন্য এমন কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হলো তার ব্যাখা প্রদান করা সম্ভব হতো না। এ লক্ষ্যে ২০১৯ সালে এই গবেষণায় প্যারেন্ট ও নির্বাচিত তিনটি মিউট্যান্ট ধানের জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন হয় যা বাংলাদেশে প্রথম। | 6 |
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ওষুধ শিল্পের বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইংল্যান্ডের ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়।আজ মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে ওই গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্যারাসিটামল, নিকোটিন, ক্যাফেইনসহ ডায়াবেটিস ও মৃগীরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ প্রস্তুতকারক শিল্পগুলোর নিষ্কাশিত বর্জ্যের প্রভাব নির্ণয় করা হয় গবেষণায়। তবে এসবের বাইরেও অনেক পরিচিত ওষুধসহ অন্যান্য চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ওষুধ তৈরি করার সময় সৃষ্ট বর্জ্যের প্রভাব এখনো অজানা।গবেষণায় বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের ২৫৮টি নদীর ১ হাজারেরও বেশি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দেখা গেছে, পাকিস্তান, বলিভিয়া ও ইথিওপিয়ার নদীগুলো ওষুধ শিল্পের বর্জ্যে সবচেয়ে বেশি দূষিত। বিপরীতে আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও আমাজন বনাঞ্চলের নদীগুলো সেই তুলনায় বেশ ভালো অবস্থানে আছে। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ২৫৮টি নদীর মধ্যে প্রায় ৬৫টির নমুনায় দেখা গেছে, নদীগুলোতে উপস্থিত ওষুধ শিল্পের বর্জ্য এত বেশি যে, জলজ প্রাণীর জন্য কোনোভাবেই নিরাপদ বলা যায় না।গবেষণা প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, পানিতে মিশে যাওয়া গর্ভনিরোধক ওষুধগুলো মাছের আকার ও বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে পারে। এ ছাড়া বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, নদীর পানিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সমস্যাকে প্রবল করে তুলতে পারে।ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণা থেকে আরও জানা গেছে, নদীর পানিতে যেসব উপাদান সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে তার মধ্যে কয়েকটি হলো- ব্যথানাশক ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের উপাদান কার্বামাজেপাইন। এ ছাড়া মানুষের নৈমিত্তিক সঙ্গী কফির উপাদান ক্যাফেইনের পরিমাণও পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণে। পাওয়া গেছে নিকোটিন এবং প্যারাসিটামলের উপাদানও।গবেষকেরা বলছেন, নদীতে অ্যান্টিবায়োটিকের বিপুল উপস্থিতি অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া তৈরি করতে পারে। যা মানবদেহে ওষুধের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং শেষ পর্যন্ত তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বৈশ্বিক হুমকি তৈরি করবে। গবেষক দলের প্রধান ড. জন উইলকিনসন বিবিসিকে বলেন, 'আমরা জানি যে, বর্তমান সময়ের আধুনিক জলীয় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্টগুলোও পরিপূর্ণভাবে বর্জ্য পরিশোধন করতে পারে না। ফলে বর্জ্য পদার্থগুলো পরিপূর্ণভাবে পরিশোধিত না হয়েই নদী বা হ্রদের পানিতে গিয়ে পড়ছে।'ইংল্যান্ডের হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের জলজ বাস্তুবিদ ড. ভেরোনিকা এডমন্ডস ব্রাউন বলেন, 'নদীতে এ ধরনের ওষুধের উপস্থিতির প্রভাব নেতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক খুব কম গবেষণা হয়েছে।'তিনি আরও বলেন, 'যে কোনো শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার জন্য সব সময়ই ক্রমাগত ওষুধ সেবন আমাদের জন্য নেতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।'গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সবচেয়ে দূষিত নদীগুলো মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে বর্জ্য ও জলীয় বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। | 4 |
সারা দেশের ন্যায় নওগাঁতেও শুরু হয়েছে গণটিকাদান কার্যক্রম। শনিবার সকাল ৯টা থেকে জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়নে ও ৩টি পৌরসভায় মোট ১১৩টি কেন্দ্রে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। চলছে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে জনগোষ্ঠী, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এদিকে, সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ, পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া, সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। আজ মোট ৬২ হাজার ২০০ ব্যক্তিকে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি কেন্দ্রে ৬০০ জন করে ৯৯টি ইউনিয়নে মোট ৫৯ হাজার ৪০০ ব্যক্তিকে এবং ৩টি পৌরসভার ১৪টি কেন্দ্রে প্রতিটি কেন্দ্রে ২০০ করে মোট ২ হাজার ৮০০ ব্যক্তিকে এই টিকা প্রদান করা হচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
বর্তমানে দেশে এলপিজির বাজারের ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের কোম্পানির দখলে দেশে এক দশকের বেশি সময় ধরে গৃহস্থালিতে গ্যাস-সংযোগ বন্ধ। এ সময় বেড়েছে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়। বেড়েছে জীবনযাত্রার মান। তাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দিকে ঝুঁকছেন মানুষ। গ্রামেগঞ্জেও এখন রান্নাবান্নায় মাটির চুলার বদলে জায়গা করে নিয়েছে এলপিজি। চাহিদা বাড়লেও দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই আছে অসন্তুষ্টি। তাই ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যায্যমূল্য ও ক্রেতার জন্য সহনীয় দাম নির্ধারণ করা গেলে তাতে এলপিজির বাজার আরও বড় হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দেশের বাজারে এলপিজির চাহিদা নিয়ে একটি প্রক্ষেপণ প্রতিবেদন তৈরি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ বছর ধরে দেশে এলপিজির ব্যবহার প্রতিবছর গড়ে সাড়ে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সাল নাগাদ দেশে এলপিজির চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ৭০ লাখ টনে। তাই বাড়তি চাহিদা পূরণে সরকারিভাবেও এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেসব কারণে চাহিদা বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ বন্ধ। মাথাপিছু আয় বাড়ছে। শিল্পে বাড়ছে এলপিজির ব্যবহার। পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে অটো গ্যাস। নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি। সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ ক্রেতার জন্য সহনীয় দাম। ব্যবসার জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। নিরাপদ সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনা। সরকারি নজরদারি বাড়ানো। পরিবহন খরচ কমানো। তবে বেসরকারি খাতের এলপিজি কোম্পানিগুলোর সংগঠন লোয়াব বলছে, ব্যাপক সম্ভাবনা আছে ঠিকই, তবে সরকারি প্রক্ষেপণে চাহিদা একটু বেশি হিসাব করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে হয়তো ২০ শতাংশের বেশি চাহিদা বাড়তে পারে। ২০২৫ সালে চাহিদা হতে পারে ৩০ লাখ টন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্র বলছে, দেশে মোট ৫৬টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসার জন্য লাইসেন্স নিয়েছে। ২৮টি কোম্পানি বর্তমানে বাজারে সক্রিয়। এর মধ্যে ২০টি কোম্পানি সরাসরি আমদানি করে। এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। গত বছর ১২ লাখ টন এলপিজি সরবরাহ করা হয় বাজারে। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশের বেশি সরবরাহ করে বেসরকারি খাত। আর দেড় শতাংশ চাহিদা পূরণ করেছে সরকারি কোম্পানি। বিপিসি ও লোয়াবের তথ্য বলছে, দেশে ২০০০ সালে প্রথম এলপিজি সরবরাহ শুরু করে বসুন্ধরা। এ বাজারে এখনো শীর্ষে আছে কোম্পানিটি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ওমেরা। এ ছাড়া শীর্ষ সরবরাহকারীদের মধ্যে আছে ওরিয়ন, যমুনা, নাভানার মতো ব্র্যান্ড। দুই বছর ধরে বাড়তে শুরু করেছে ফ্রেশ এলপিজির সরবরাহও। এদিকে দেশে এলপিজি ব্যবসার দুই দশক পার হওয়ার পর উচ্চ আদালতের আদেশে বাধ্য হয়ে গত এপ্রিলে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গণশুনানির মাধ্যমে ঠিক হওয়া এ দাম নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে লোয়াব। তারা বলছে, এমন দামে এলপিজি বিক্রি করতে হলে অধিকাংশ কোম্পানির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা বলেন, এলপিজির বাজার সম্প্রসারণে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ভোক্তার জন্য সহনীয় দাম নির্ধারণ করা জরুরি। তবে এমন দাম নির্ধারণ করা ঠিক হবে না, যার জন্য কোম্পানিগুলোকে লোকসান গুনতে হয়। জানতে চাইলে লোয়াবের সভাপতি আজম জে চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এলপিজির বাজার সরকারি প্রক্ষেপণ অনুসারে না-ও বাড়তে পারে। প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য ভোক্তার পাশাপাশি ব্যবসায়ীর বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। জ্বালানি পণ্যের সব খাতেই সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে, এলপিজির ক্ষেত্রেও দিতে পারে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বালানি ব্যবহারে পরিবর্তন ঘটে। তাই এলপিজির ব্যবহার বেশি দিন না-ও বাড়তে পারে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে রান্না ও পরিবহনে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। দেশেও এটি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ব্যবসায়ী ও ক্যাবের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এলপিজির দাম নির্ধারণের বিষয়টি দেখছে বিইআরসি। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমছে। তাই সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করতে স্বল্পমেয়াদি নানা পরিকল্পনার কথা ভাবা হচ্ছে। বিপিসি বলছে, দেশে বর্তমানে ৭০ শতাংশ পরিবার রান্নার কাজে গাছপালা (লাকড়ি), শুকনা গোবর ও বায়োমাস ব্যবহার করে থাকে। বাকিরা প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজি ব্যবহার করে। এলপিজির গ্রাহক বর্তমানে ৩৮ লাখ। আর রান্নায় প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করেন ৪১ লাখ পরিবার। ২০১০ সালে বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস-সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে এলপিজির ব্যবহার বাড়তে থাকে। ২০১৬ সালে এসে ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় এলপিজির ব্যবসায়। ২০১৭ সালে সেটি দাঁড়ায় ১২৩ শতাংশে। সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস কোম্পানির হিসাবে, পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারে মাসে ১৮ কেজি এলপিজি লাগে। এলপি গ্যাস কোম্পানির প্রতিবেদন বলছে, ২০৪১ সালে শহরের দেড় কোটি পরিবারের জন্য চাহিদা বেড়ে হবে প্রায় ৩৪ লাখ টন। গ্রামের উচ্চ ও মধ্যম আয়ের পরিবারের চাহিদা দাঁড়াবে ২২ লাখ টন। আর যানবাহনে চাহিদা হতে পারে ১৪ লাখ টন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চাহিদা বাড়তে থাকায় সরকারিভাবে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টন এলপিজি আমদানির চিন্তা করছে বিপিসি। জানতে চাইলে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এলপিজির বাজার প্রতিযোগিতামূলক করা গেলে বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে। | 0 |
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পর অনেকেই ভেবেছিলেন এরাজ্য থেকে জয়ী সাংসদদের ছয়জনকে দেখা যাবে দিল্লির মন্ত্রী হিসাবে। সেই সুরে গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। বারবার উঠে আসছিল দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজু বিস্ত, সৌমিত্র খাঁ, কুনার হেমব্রমের নাম। অবশ্যই এই তালিকায় অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তার পরেই ছিলেন দেবশ্রী চৌধুরী। মনে করা হয়েছিল বাবুল সুপ্রিয় পেতে পারেন পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদা। তবে সমস্ত জল্পনা মিটিয়ে, বাংলা থেকে মাত্র দুইজনকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর নবগঠিত সরকারে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মন্ত্রী করা হয়েছে গোবলয় উত্তরপ্রদেশ থেকে। ১০ জন ঠাঁই পেয়েছেন নবগঠিত মন্ত্রিসভায়। কথায় বলে উত্তর প্রদেশ আর মহারাষ্ট্র যার দখলে, তার দখলেই থাকবে সংসদ। সেই হিসাব মিলিয়ে এই দু'টি রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক আসন জিতে কেন্দ্রে গঠিত হয়েছে মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকার। সেখানে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মন্ত্রী এসেছে গোবলয় থেকে। উত্তরপ্রদেশের পরই রয়েছে মহারাষ্ট্র, বিহারের নাম। উত্তরপ্রদেশ থেকে ১০ জন মন্ত্রীর মধ্যে হেভিওয়েটদের তালিকায় রয়েছেন রাজনাথ সিং, স্মৃতি ইরানিরা। যাদের হাতে রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো বিভাগ। অন্যদিকে, বিহার থেকে গিরিরাজ সিং, রবিশঙ্কর প্রসাদ, রামবিলাস পাসওয়ানরাও পেয়েছেন পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদা। মারাঠা প্রদেশ মহারাষ্ট্র থেকে নীতীন গড়করি, প্রকাশ জাভড়েকর, পীযূষ গয়ালরাও রয়েছেন মোদি মন্ত্রিসভার পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায়। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এদের। দক্ষিণের অন্ধ্রপ্রদেশের মতো বড় রাজ্য থেকে একজনকেও মন্ত্রী পদে রাখা হয়নি মোদীর মন্ত্রিসভায়। মন্ত্রিত্ব পাননি, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা, সিক্কিম, মণিপুর থেকে আসা কোনো সাংসদ। বাংলা থেকে মাত্র দুই জয়ী বিজেপি সাংসদকে মন্ত্রী করা হয়েছে। বাবুল সুপ্রিয় পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। যদিও তাকে পূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেতে দেখতে চেয়েছিল বাংলা। অন্যদিকে, দেবশ্রী চৌধুরীও গতকাল শপথ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হিসাবে। | 3 |
জামালপুর সদর উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২ জন। গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাত ৪টায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘাতক ট্রাকটি আটক করা যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার ভোর ৪টায় জামালপুর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঘাটাইলে যাচ্ছিলেন যাত্রীরা। জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নারিকেলী এলাকায় পৌঁছানোর পর দ্রুতগামী একটি মাল বোঝাই ট্রাক অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন দুজন। নিহত হলেন সদর উপজেলার দিগপাইতের ছোনটিয়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে মো. মিন্টু মিয়া (২৮) এবং মেলান্দহ উপজেলার নাংলা গ্রামের উসমান গণির ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৪৫)। আহতরা হলেন মোশারফ হোসেন (২৫) ও আব্দুস সাত্তার (৭৬)। তাঁদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করে। তবে ট্রাকটি আটক করতে পারেনি।নিহত মিন্টু মিয়ার বড় ভাই মুকুল মিয়া বলেন, 'মাছ ধরতে জামালপুরে আসেন মিন্টু। মাছ নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।'জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জাকিউল কাজিম খান বলেন, 'দুজন আহত অবস্থায় এসেছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।'জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ট্রাকটি আটকের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হবে।' | 6 |
গত এক বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা। আর চলতি ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা বিনিময় হারের তথ্যে এই চিত্র দেখা গেছে। আসলে মুদ্রার অবমূল্যায়ন নেতিবাচক না ইতিবাচক, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে দ্বিমত আছে। বিষয়টি দেশ অনুযায়ী আপেক্ষিকও। এককথায় এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। আধুনিক মুদ্রানীতি অনুযায়ী 'অবমূল্যায়ন' অর্থ একটি সুনির্দিষ্ট বিনিময় হার পদ্ধতিতে দেশের মুদ্রার মূল্য অন্য দেশের মুদ্রার বিপরীতে আনুপাতিক হারে কমানো। তবে সময় ও আর্থিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অবমূল্যায়নের ধরন ও প্রকৃতি পাল্টে যাচ্ছে। এই পাল্টে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে গেলে পুরোনো দিনে ফিরে যেতেই হয়। আর্থিক ব্যবস্থার ইতিহাস নিয়ে ঘাটতে হয়। মুদ্রা প্রচলনের আগে লেনদেনের প্রয়োজনে কেবল ছিল বিনিময় ব্যবস্থা। একে অপরের মধ্যে পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে এখনকার অর্থের কাজ মেটানো হতো। কালক্রমে প্রয়োজন হলো একটি মুদ্রা ব্যবস্থার। প্রথমে ধাতব পণ্যে যেমন তামা লোহা রুপা মুদ্রা হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ বা পঞ্চম অব্দে তুরস্কের এশিয়া মহাদেশীয় অংশের লিডিয় জাতি সর্বপ্রথম মুদ্রা তৈরি করে। লিডিয়দের মুদ্রা তৈরির প্রায় কাছাকাছি সময়ে প্রাচীন ভারতে মুদ্রা তৈরি এবং প্রচলন হয়। ধারণা করা হয় এখানে মুদ্রার প্রচলন হয় প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে। অবশ্য আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে সুমেরিয়রা বার্লি বিক্রির জন্য প্রথম ধাতব মুদ্রা ব্যবহার করে। যাই হোক ধাতব মুদ্রার পরে আসে কাগুজে মুদ্রা। কাগুজে মুদ্রার বা নোটের প্রচলন শুরু হয় চীনে, ট্যাঙের রাজত্বকালে (৬১৮-৯০৭ সাল)। এর পর ধীরে ধীরে প্রচলন শুরু হয় কাগুজে নোটের। ১৬৯০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস বে কলোনিতে সর্বপ্রথম কাগজের নোটের প্রস্তাবনা করা হয়। ১৭৬০ সালে প্রথম ডলার ছাপানো হয় এবং তা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়। আজকের যে অর্থ ব্যবস্থা তাতে স্বর্ণ রুপার ভূমিকা সরাসরি তেমন নেই। তবে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক পর্যন্ত মুদ্রা ব্যবস্থায় কাগজের মুদ্রার সঙ্গে স্বর্ণের একটা সরাসরি যোগসূত্র স্থাপন করা হয়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর আস্থা ছিল স্বর্ণের ওপর। মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রা মান নির্ণয় স্বর্ণ হয়ে ওঠে নির্ভরশীল। আজ সেই গল্পই বলব। গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ১৮৮০ সাল থেকে ১৯১৪ সাল হলো গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের স্বর্ণযুগ। এ ব্যবস্থায় অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলো তাদের মুদ্রার মান নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ হিসেবে প্রকাশ করে। স্বর্ণমান ব্যবস্থাটি হলো অনেকটা এমন-এখনকার টাকায় লেখা থাকে, চাহিবামাত্র এর বাহককে অত টাকা দিতে বাধ্য থাকিব। মুদ্রা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভিত্তি হলো স্বর্ণমান। বলা যায় ৫০০ টাকার নোটে অঙ্গীকার থাকত চাহিবামাত্র এর বাহককে ২৯ গ্রাম স্বর্ণ দিতে বাধ্য থাকিব। এই ধরনের কিছু। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ব্যবস্থায় চাইলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ছাপাতে পারত না। যে সব দেশ গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল তারা তাদের দেশীয় মুদ্রার মূল্য কী পরিমাণ স্বর্ণের সমান হবে তা আইন করে বেধে দিয়েছিল। যেমন: এক পাউন্ড, এক ডলার, এক জার্মান মার্কের বিনিময়ে কতটুকু স্বর্ণ আদান প্রদান করা যাবে তা সে সব দেশের আইনে নির্ধারণ করে দেওয়া হতো। এ ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মানের বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেটের ওঠা নামার খুব একটা বেশি সুযোগ ছিল না। খাঁটি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড আমলে কাগুজে মুদ্রার বিপরীতে শতকরা ১০০ ভাগ স্বর্ণ রিজার্ভ রাখার বিধান রাখা হয়। মুদ্রা ব্যবস্থায় এর পরের ধাপ হিসেবে বলা হয় গোল্ড বুলিয়ান স্ট্যান্ডার্ডকে। গোল্ড বুলিয়ান স্ট্যান্ডার্ড প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ব্যবস্থার অবসান হয়। বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যায়। গ্রেট ব্রিটেন অবশ্য যুদ্ধ পূর্ব স্বর্ণমান অবস্থায় ফিরতে চায়। আর তাদের প্রচেষ্টাতেই ১৯২৫ সালে গোল্ড বুলিয়ান স্ট্যান্ডার্ড ব্যবস্থার চালু হয়। এ ব্যবস্থায় চালু নোটের বিপরীতে পুরোপুরি স্বর্ণের রিজার্ভ রাখার বিধান উঠিয়ে নেওয়া হয়। ফলে নোট ইস্যু করার ব্যাপারে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড বেশি স্বাধীনতা লাভ করে। অবশ্য এ ব্যবস্থা বেশি দিন টেকেনি। ১৯৩১ সালে এ ব্যবস্থা থেকে সরে আসে ইংল্যান্ড। গোল্ড এক্সচেঞ্জ স্ট্যান্ডার্ডপ্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মুদ্রার চাহিদা বেড়ে যায়, তবে সমস্যা হলো স্বর্ণের মজুত তো আর বাড়েনি। এখন যখন নোট ইস্যু করার দরকার পড়ল, গোল্ডের মজুত থাকতেই হবে। এ পরিস্থিতিতে অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ আইন পরিবর্তন করে। তারা স্বর্ণের পাশাপাশি স্বর্ণ রূপান্তরযোগ্য অন্যান্য দেশের মুদ্রাও রিজার্ভ আকারে রাখার অনুমোদন দেয়। এ ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইস্যু করা নোটের মূল্য স্বর্ণে পরিশোধ করা বা স্বর্ণমুদ্রা ও স্বর্ণ জনসাধারণের কাছে ক্রয় বিক্রয়ের জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তবে এ সব নোটের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গোল্ড এক্সচেঞ্জ বা বিল অব এক্সচেঞ্জ, ড্রাফট অথবা চেক ইস্যু করার দায়িত্ব গ্রহণ করত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো সমঝোতা ছাড়া এই ব্যবস্থা চলতে থাকে। সমস্যাটার শুরু হয় তখন যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে অনেক দেশ পর্যাপ্ত স্বর্ণ জমা না রেখেই নোট ছাপাতে শুরু করে। ১৯২৮ সালের দিকে ২৫টি দেশ তাদের নোটের বিপরীতে রিজার্ভের মাত্র ৪২ শতাংশ তথাকথিত গোল্ড এক্সচেঞ্জ বিশেষ করে পাউন্ডে রেখেছিল। তবে সে সময় বিশ্বব্যাপী মহামন্দা শুরু হলে গ্রেট ব্রিটেনেও তার তাপ লাগে। ব্রিটেন পাউন্ড স্টার্লিংয়ের বিপরীতে স্বর্ণ পরিশোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এমন অবস্থায় ইউরোপের দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তারা তাদের জমা রাখা পাউন্ড স্টার্লিং স্বর্ণে পরিবর্তন করে নিতে আগ্রহী হয়। তারা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কাছে পাউন্ডের বিপরীতে স্বর্ণ দাবি করে। তবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পক্ষে সম্ভব ছিল না এই দাবি মেটানো। এ সব জটিলতায় ১৯৩১ সালে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড পরিত্যাগ করে গ্রেট ব্রিটেন। ১৯৩৩ সালের দিকে মাত্র পাঁচটি দেশ ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, হল্যান্ড, বেলজিয়াম ও ইতালি এই ব্যবস্থা বহাল রাখে। তবে বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি। ১৯৩৬ সালে মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে এই ব্যবস্থার লোপ পায়। তবে এটি ১৯৮৮ সালে একটি অন্য আকারে ফিরে আসে ঐতিহাসিক ব্রেটোন উডস ব্যবস্থার মাধ্যমে। ব্রেটোন উডস ব্যবস্থা ১৯৪৪ সালের ১ জুলাই যুক্তরাজ্যের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের ব্রেটোন উডস শহরে বসে এক অর্থনৈতিক সম্মেলন। এতে যোগ দেন যুদ্ধরত মিত্রশক্তির ৪৪টি দেশের প্রতিনিধি। ব্রেটোন উডস ব্যবস্থার মূল লক্ষ ছিল স্থিতিশীল বিনিময় হার ব্যবস্থার প্রবর্তন, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অবসান, সকল দেশের মুদ্রার রুপান্তরযোগ্যতার পুনঃপ্রবর্তন এবং দেশে দেশে মুদ্রা অবমূল্যায়নের প্রতিযোগিতার অবসান। ব্রেটোন উডস ব্যবস্থায় অবমূল্যায়নের তেমন অবকাশ ছিল না। সমস্যা সমাধানের জন্য সদস্য দেশ তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবে। তবে আর্থিক ও রাজস্ব নীতি সংস্কার করে তারা অর্থনীতি এমনভাবে পরিচালনা করবে যাতে সমস্যার মূল কারণগুলো দূর হয়ে ব্যালান্স অব পেমেন্টস পুনরায় অনুকূলে চলে আসে। ব্রেটোন উডস ব্যবস্থা তদারকির জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রতিষ্ঠা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ফরেন এক্সচেঞ্জ এবং মুদ্রাবাজারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বলা যায়। বিশ্বযুদ্ধ গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড, রকমারি মুদ্রার ইতি টানে। যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক লেনদেন আইএমএফ প্রবর্তিত পার ভ্যালু ব্যবস্থা দিয়ে শুরু হয়। আর সত্তরের দশকের শুরুতে শুরু হয় ফ্লোটিং রেটের যুগ। আসলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেটের প্রসার ঘটেছে। স্বর্ণমান এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বের মুদ্রা বাজারে এখন প্রতিনিয়তই বিনিময় হারের পরিবর্তন হচ্ছে। কখনো অর্থনৈতিক অস্থিরতা, কখনো ভূ রাজনৈতিক কারণে পরিবর্তন আসে বিনিময় হারে। পটভূমি বাংলাদেশ বিনিময় হার ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা যে খুব অসাধারণ কিছু নয় তা এখন বলা যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার সঙ্গে দিন দিনই মান হারিয়েছে টাকা। ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকা মান হারিয়েছে ৮৭ শতাংশ, পাউন্ডের বিপরীতে ৮০ শতাংশ, জার্মান মার্কের সঙ্গে ৯৫ শতাংশ, জাপানি ইয়েনের সঙ্গে ৯৩ শতাংশ। ১৯৭২ সালে ১ ডলার সমান ৭ টাকা ৮৭ পয়সা ছিল। ২০০৪ সালে যা দাঁড়ায় ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা। আসলে বলা যায়, জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের বিনিময় ব্যবস্থাপনাসহ সামগ্রিক অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। প্রথমত ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর মোটামুটি শূন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ ভান্ডার নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকটের আঁচ গিয়ে পড়ে মুদ্রা ব্যবস্থায়। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি দেখা যায়। শিল্প ও কৃষি দই উৎপাদনই কমে। সেই সঙ্গে ১৯৭৪ সালের বন্যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সংকটময় মুহূর্ত তৈরি করে। ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসীদের অর্জিত অর্থে সরাসরি আমদানি সুবিধা প্রদানের জন্য ওয়েজ আর্নার্স স্কিম ব্যবস্থা চালু করা হয়। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ টাকার বেসরকারি হার দাঁড়ায় প্রতি পাউন্ড প্রায় ৬০ টাকা। ওই বছরের ১৫ মে বাংলাদেশ টাকা প্রথমবারের মতো প্রায় ৫৮ শতাংশ অবমূল্যায়ন করে নতুন বিনিময় হার করা হয় প্রতি পাউন্ড ৩০ টাকা। পরবর্তীতে অবশ্য বড় মাপের পরিবর্তে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাত্রায় অবমূল্যায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়। অসংখ্যবার অবমূল্যায়নের ফলে ২০০৫ সাল নাগাদ মার্কিন ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হার দাঁড়ায় ৬০ টাকা। বাংলাদেশে ডলার ও টাকার বিনিময় হার স্বাধীনতার পর থেকে সরকার নির্ধারণ করে দিত। ০০৩ সালে এই বিনিময় হারকে করা হয় ফ্লোটিং বা ভাসমান। এরপর থেকে আর ঘোষণা দিয়ে টাকার অবমূল্যায়ন বা পুনর্মূল্যায়ন করা হয় না। তবে বিনিময় হার ভাসমান হলেও পুরোপুরি তা বাজারভিত্তিক থাকেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব সময়ই এতে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ রেখে আসছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে অনুসরণ করে আসছে 'ম্যানেজড ফ্লোটিং রেট' নীতি। ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের (ইউএসডি) বিপরীতে টাকার দর ৮৪ দশমিক ৯৫ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। | 0 |
রংপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ শনিবার দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ আশ্বাস দেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রংপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ২০০১ সালে আইন পাস করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি রংপুর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।দীপু মনি বলেন, রংপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করাটা আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি ছিল। আমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। রংপুরে পুনরায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। ২০০১ সালের সেই ফাইল কি অবস্থায় আছে জানি না। ঢাকায় গিয়ে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখব।তিনি আরও বলেন, দেশে শিক্ষিত বেকার কমাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম পরিবর্তন করা হবে। শিক্ষার্থীদের কর্ম উপযোগী শিক্ষা প্রদান করা হবে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। আমরা চাই একজন শিক্ষার্থী অনেক বেশি উপযোগী হয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করুক। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।বেসরকারি স্নাতক-স্নাতকোত্তর কলেজগুলোকে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও)-এর আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে দীপু মনি বলেন, এ ব্যাপারে কথা হচ্ছে। এনটিআরসিএর মাধ্যমে আগে কিছু নিয়োগ হয়েছিল সেগুলো নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আরও কিছু এমপিওভুক্ত করেছি। যারা বাকি রয়েছে তাদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হবে। তবে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানকে আপাতত এমপিওর আওতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে সরকার ভাবছে না বলে জানান তিনি।এ সময় রংপুর জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম রব্বানী, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এরপর দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রংপুর বিভাগীয় অঞ্চলের শিক্ষকদের নিয়ে 'শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন' বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী। | 6 |
সিরিয়ার হিমস প্রদেশে ইসরাইলের এক বিমান হামলায় এক সিরীয় সৈন্যসহ চারজন নিহত হয়েছে। বুধবার এই স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৪ মিনিটে এই হামলা করা হয় বলে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার প্রকাশিত খবরে জানানো হয়। খবরে বলা হয়, হিমসের ঐতিহাসিক শহর পালমাইরার কাছে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইলি বিমানবাহিনী হামলা চালায়। হামলায় এক সিরীয় সৈন্য নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে বলে সানার খবরে জানানো হয়। অন্যদিকে ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, পালমাইরার টি ফোর বিমানঘাঁটির কাছে কমিউনিকেশন টাওয়ারসহ বেশ কিছু ইরানি অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরাইলের এই হামলায় এক সিরীয় সৈন্য ও তিন ইরানপন্থী যোদ্ধা নিহত হয়েছে। হামলায় একইসাথে তিন সিরীয় সৈন্যসহ সাতজন আহত হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ৮ অক্টোবর সানার খবরে জানানো হয়, হিমসের গ্রামাঞ্চলে ইসরাইলের এক মিসাইল হামলা রুখে দিয়েছে সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরাইলের ওই হামলায় ছয় সিরীয় সৈন্য আহত হয় বলে খবরে জানানো হয়। অন্যদিকে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই হামলায় ইরানপন্থী দুই যোদ্ধা নিহত হয়েছে। ২০১১ সালে সিরিয়ায় আরব বসন্তের জেরে ক্ষমতাসীন বাশার আল আসাদ সরকার বিরোধীদের ওপর দমন অভিযান শুরু করে। এর প্রতিরোধে আসাদবিরোধী বিক্ষোভকারীরাও অস্ত্র তুলে নেয়। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানে আসাদকে রাশিয়া, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক শিয়া সশস্ত্র সংগঠনগুলো সহায়তা করে। সিরিয়া ভূখণ্ডে চিরশত্রু ইরান ও শিয়া সংগঠনগুলোর উপস্থিতিতে ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়। তখন থেকে বিভিন্ন সময়ে নিয়মিতভাবেই সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইলি বাহিনী। বিমান হামলায় প্রায়ই কোনো স্বীকারোক্তি না দিলেও ইসরাইল সিরিয়ায় ইরানকে ঘাঁটি গড়তে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা করে আসছে। সূত্র : আলজাজিরা | 3 |
বান্দরবানে কোনো হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁয় আজ বৃহস্পতিবার থেকে করোনা সুরক্ষা টিকা সনদ ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না। সেই সঙ্গে মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ ছাড়া সভা-সমাবেশ ও উন্মুক্তস্থানে জনসমাগম করা যাবে না। করোনা মোকাবিলায় গত মঙ্গলবার বিকেলে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতার অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার দুপুরে বান্দরবান বাজারে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ ও আজ থেকে অবশ্যই মুখে মাস্ক পরিধান করার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালান হয়।জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির সভাপতিত্বে জরুরি সভায় জানান হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় শাখার ১০ জানুয়ারি এক স্মারকে ১১টি বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এতে করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে ১৩ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে।বৈঠকে উপস্থিত বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনু আজকের পত্রিকাকে জানান, বান্দরবান পর্যটন শহর। এখানে দেশ-বিদেশের পর্যটকের আসেন। তাই করোনা প্রতিরোধে আবাসিক হোটেলে থাকতে হলে অবশ্যই টিকা সনদ প্রদর্শনের বিষয়ে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনা জেলার সব হোটেল-রিসোর্ট মালিক পক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সব হোটেল রিসোর্টে করোনা টিকা সনদ প্রদর্শনের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখে মাস্ক পরিধানের বিষয়টিও তারা অবগত করেছেন।বান্দরবান মুদি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বিমল কান্তি দাশ বলেন, জেলা প্রশাসনের সভার সিদ্ধান্ত মুদি দোকানিদের জানিয়ে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। নো মাস্ক, নো সার্ভিস নীতিতে কেউ মাস্ক ছাড়া এলে তার কাছে পণ্য বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ীরা।জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কায়েসুর রহমান বলেন, কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ছাড়া আগের মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।বান্দরবানের সিভিল সার্জন অংসুই প্রু মারমা আজকের পত্রিকাকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে। তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, টিকা গ্রহণ ও অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। তিনি পর্যটন শহর হিসেবে বান্দরবানে টিকা সনদ প্রদর্শনের নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।মঙ্গলবারের জরুরি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শেখ ছাদেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া আক্তার সুইটি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, পরিবার পরিকল্পনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. অংচালু, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মিলটন মুহুরী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও সমিতির নেতারা। | 6 |
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অধিকাংশ ধারাই বাস্তবায়ন হয়েছে বলেছেন বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর। পাহাড়ে শান্তির জন্য সবার সংযত ও আন্তরিক প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। গত বুধবার আজকের পত্রিকাকে তিনি এই কথা বলেন। একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, 'সরকার চুক্তির অবশিষ্ট ধারার কিছু অংশ বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু সন্তু লারমা ও জেএসএস সময়ে সময়ে চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন, তা একেবারেই সত্য নয়। এতে পাহাড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও সরকারের প্রতি ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।' | 6 |
জার্মান ফুটবলের কিংবদন্তি, ১৯৭৪ বিশ্বকাপ জয়ী তারকা গার্ড মুলার আর নেই। জার্মান সময় আজ রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। এফসি বায়ার্ন মিউনিখ ফুটবল ক্লাব তার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। গার্ড মুলার জার্মানিকে জিতিয়েছেন ১৯৭৪ বিশ্বকাপ, তাও টোটাল ফুটবল দিয়ে বিশ্বমাতানো ইয়োহান ক্রুইফের নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে! জয়সূচক গোলটি তারই করা।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে রাজত্ব ছিল টোটাল ফুটবল নামের এক অভিনব উদ্ভাবনের। নেদারল্যান্ড ছিল টোটাল ফুটবলের আঁতুড়ঘর। তাদের রূপকথার নায়ক ছিলেন ইয়োহান ক্রুইফ। কেউ ভাবতে পারেনি এই টোটাল ফুটবল ফাইনালে পরাজিত হবে জার্মানদের শক্তির কাছে! তাই ঘটেছিল। গার্ড মুলারের গোলে জার্মানি জিতে যায় ২-১ এ। কবর রচিত হয় টোটাল ফুটবলের। জার্মানদের রূপকথার নায়ক বনে যান গার্ড মুলার।
.
তিনি 'দ্য নেশনস বোম্বার' নামে পরিচিত। গোলমেশিন শব্দটা বোধহয় তার ক্ষেত্রেই যায়। জার্মানির হয়ে ৬২ ম্যাচে করেছেন ৬৮ গোল। বুন্দেসলীগায় ৪২৭ ম্যাচে ৩৬৫ গোল। ইতিহাসের অন্যতম টপ গোল স্কোরার তিনি। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ গোল তার। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে (১৯৭২) সর্বোচ্চ ৮৫ গোলের রেকর্ড গার্ড মুলারের। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 12 |
যুদ্ধ বাঁধলে শত্রুরা মূল্য বহন করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতামুল আম্বিয়া বিমান প্রতিরক্ষা সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলী রাশিদ এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, "শত্রুরা যেন ইরানের শক্তি পরীক্ষা করার চেষ্টা না করে। ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে যে মূল্য দিতে হবে শত্রুরা তা বহন করতে পারবে না।" জেনারেল রাশিদ বলেন, "শত্রুদের এটা বিশ্বাস করা উচিত যে, ইরানের সামরিক শক্তি শত্রুদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।" গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্রদের মধ্যে বিশেষ করে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যখন সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে তখন জেনারেল রাশিদ এই বক্তব্য দিলেন। সূত্র: প্রেসটিভি বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় চার মাসের ব্যবধানে দু জনে মারা যাওয়ার পর বারো বছর বয়সী শিশু কন্যা রুমা খাতুন ও আট বছরের শিশু তাহেরা খাতুন মানবেতর জীবনযাপন করছে হৃদ্রোগে আক্রান্ত তাদের বাবা এবং ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মা মারা যান।বাবার রেখে যাওয়া এক শতক জায়গার ওপর ছোট্ট একটা বাড়ি ছাড়া চলার মতো কোনো সম্পদ প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্য নাই বলে জানিয়েছেন শিশু দুটির বৃদ্ধ নানি আছিয়া খাতুন নানি আছিয়া খাতুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, গেল পয়লা আষাঢ় তাঁর জামাই অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। সে শোকের মধ্যে আজ ২০ দিন হলো মেয়েও মারা গেছেন অসহায় পরিবারে আয়ের কোনো মানুষ না থাকায় তাঁদের রেখে যাওয়া দুই শিশু কন্যা সন্তানকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে দিন পার করছেন তিনি বড় মেয়ে রুমা ছোট বোনকে নিয়ে আগে গ্রাম ঘুরে যা পেত তা দিয়ে অসুস্থ বাবা মায়ের কোনোরকম ওষুধ খাওয়ানোটা হতো। এখন দিনের অধিকাংশ বেলা না খেয়ে দিন কাটে ঠিকমতো তাদের খাওয়াতে পারছেন না। আবার অর্থের অভাবে লেখাপড়াও প্রায় বন্ধ হয়ে উঠেছে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানুষেরা এগিয়ে এলে সমাজের আর পাঁচটা স্বাধীন চিন্তামুক্ত শিশুদের মতো লেখা পড়া করে রুমা ও তাহেরা বড় হতে পারত শিশু রুমা খাতুন জানায়, ৩০ কেজির একটা চালের কার্ড ছিলো তার মায়ের নামে সে কার্ডটাও থাকবে কিনা সে জানে না প্রতিবেশী খাদিজা খাতুন বলেন, খুব গরিব মানুষ ও। বাবা মা মারা যাওয়ার পর থেকে খুব কষ্টে কাটছে ওদের সংসার। ভ্যান চালিয়ে আমাদের যা রোজগার করেন তা থেকে যথা সম্ভব সহযোগিতা করেন তাঁরা হেলাতলা গ্রামের ইউপি সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি জানি তবে সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য ব্যস্ততার কারণে সময় দিতে পারিনি। তাদের ভিজিডি ৩০ কেজির চালের যে কার্ড দেওয়া আছে সেটা সরকার যত দিন অসহায় মানুষকে দেবে তারও তত দিন পাবে। তবে তারা কোনো সহযোগিতার জন্য এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরে আলম নাহীদ বলেন, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ছোট্ট দুই শিশুর মা-বাবা হারানোর ঘটনাটি যতটা হৃদয় বিদারক তার থেকে বেশি দুঃখজনক আয়ের কোনো ব্যক্তি না থাকায় খাদ্যের অভাবে তাদের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়ানোর ঘটনা সমাজসেবা দপ্তর থেকে তাদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করা হবে। তবে সমাজের বিত্তশালী মানুষরা এগিয়ে এলে আবারও স্বচ্ছলতা ফিরে পাবে অসহায় এ পরিবারটি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমি নুল ইসলাম লাল্টু বলেন, অল্প বয়সে দুটি শিশু মা-বাবাকে হারিয়েছে। এখন তাদের স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সময়, সমাজের মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে তাদের আর খাওয়া পরা বা বেড়ে ওঠার জন্য কষ্ট পেতে হবে না। তারা চিন্তামুক্ত ভাবে আবারও স্কুলে যেতে পারবে পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জামি উস সানি ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের কক্ষ সিলগালা করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১২ অক্টোবর) বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান কক্ষটি সিলগালা করে দেন বলে জানা যায়। বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলের ৩২১ নম্বর কক্ষে থাকতেন জামি উস সানি এবং শেরেবাংলা হলের ৩০১২ নং কক্ষে থাকতেন মেহেদী হাসান রাসেল। ইতোমধ্যেই মেহেদী হাসান রাসেল আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পরদিনই এ পদক্ষেপ নেওয়া হল। | 6 |
জয়পুরহাটে বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে ৪৫ জন এবং সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ধানবান্ধি মহল্লার ৭০ বছরের নয়ন জুলি জলাশয় মাটি ভরাট করে দখলের পায়তারা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর উপজেলা সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ রবিন শীষ পরিদর্শন শেষে অবৈধ দখল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে দখলদারদের হাত থেকে সরকারি খাস জমি (নয়ন জুলি) দখলমুক্ত করার দাবিতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয়রা। ডা. নজমুল হক জানান, ওই নয়ন জুলি ভরাট করলে অত্র অঞ্চলের পানি বের হওয়ার রাস্তা পাবে না। ফলে বর্ষা মৌসুমে অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়বে। মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, ৭০ বছর ধরে এ নয়ন জুলি দিয়ে এলাকার সব পানি নিষ্কাশিত হয়ে কাঁটাখালিতে গিয়ে পড়ছে। হঠাৎ এটি দখলের পাঁয়তারা করছে একটি মহল। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রবীন শীষ বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক মাটি ভরাট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করার পর নয়ন জুলি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
বৈধ অভিভাবক না থাকায় জামিনের ২৫ দিনেও মুক্তি পায়নি আরিফুল ইসলাম নামের এক কিশোর। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বাসিন্দা তিনি। কিশোর আরিফুল ইসলাম ভোলা লালমোহন উপজেলার পাঙ্গাইস্যা গ্রামের মৃত. মো. সোহেলের পুত্র।মামলার এফআইআর সূত্রে জানা গেছে, ভাসমান ভাঙারির দোকানে প্রবেশ করে ঘুমন্ত কোহিনুর বেগমকে মারধর এবং কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ডাকচিৎকার দিলে স্থানীয়রা ধাওয়া করে আরিফুল ইসলাম (১৬) নামের এক কিশোরকে আটক করে। পরে থানা-পুলিশকে সংবাদ দিয়ে সোপর্দ করা হয়। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে দপদপিয়া এলাকায় গত ৮ মার্চ এ ঘটনা ঘটে।গত ৯ মার্চ কোহিনুর বেগমের স্বামী ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. বেল্লাল সরদার বাদী হয়ে নলছিটি থানায় মামলা (০৭) দায়ের করেন। নলছিটি থানা-পুলিশ আদালতে সোপর্দ করলে আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।আসামির সঠিক ঠিকানা ও অভিভাবকের সন্ধান না পাওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারিভাবে আইনগত সহায়তা পেতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করে আরিফুল। এদিকে আসামি আরিফুল অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাকে পাঠানো হয় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে। লিগ্যাল এইড প্যানেল আইনজীবী মানিক আচার্য মামলাটি পরিচালনা করলে গত ০৮ আগস্টের জামিন শুনানির ধার্য তারিখে কারাবন্দী আসামি আরিফুলের জামিন মঞ্জুর করেন নারী ও শিশু আদালতের বিচারক এমএ হামিদ। জামিনদার না থাকায় প্যানেল আইনজীবী সহকারী রনিকে জামিনদার করে আদালতে জামিননামা জমা দেন অ্যাডভোকেট মানিক আচার্য। ঝালকাঠি আদালত থেকে জামিন নামা কারাগারে প্রেরণ করলে কারা কর্তৃপক্ষ যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। জামিন হওয়ার ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও বৈধ কোনো অভিভাবক না পাওয়ায় সেখান থেকে বের হতে পারছে না আরিফুল।ঝালকাঠি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শিবলী নোমান খান জানান, নলছিটির একটি মামলায় আরিফুল ইসলাম নামে এক কিশোরকে কারাগারে প্রেরণ করলে তাকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে হস্তান্তর করে কারা কর্তৃপক্ষ। যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন এক পত্রের মাধ্যমে লিগ্যাল এইড সহায়তার আবেদন করেন। তাকে আইনি সহায়তা দিয়ে জামিন করানো হয়েছে। কিন্তু তার সঠিক স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত হতে না পারায় বৈধ অভিভাবক পাওয়া যাচ্ছে না।ঝালকাঠির কারাধ্যক্ষ জান্নাত উল ফরহাদ জানান, আরিফুল ইসলাম ভবঘুরে প্রকৃতির হওয়ায় তার কোনো সঠিক ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আরিফুল ইসলামের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সে ভোলা লালমোহন উপজেলার পাঙ্গাইস্যা গ্রামের মৃত মো. সোহেলের পুত্র। আমাদের কাছে জামিননামা চলে আসলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছি।ঝালকাঠি সমাজ সেবা প্রবেশন কর্মকর্তা সানজিদা আয়েশা জানান, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্ধী কিশোর আরিফুল ইসলামের জামিন হয়েছে গত ০৮ আগস্ট। জামিনের ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও বৈধ অভিভাবক না পাওয়ায় বের হতে পারছে না। নিয়মানুযায়ী তাকে মুক্তি দিয়ে বৈধ অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করতে হয়। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সঠিক ঠিকানা বের করে বৈধ অভিভাবকের হাতে হস্তান্তর করতে। | 6 |
সুশান্ত সি রাজপুতের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে ঘুরপাক খাচ্ছে একঝাঁক প্রশ্ন। পেশাগত, প্রেমঘটিত কারণ ছাড়া তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও অনেক সংশয় ছিল। তবে জানা গেছে, ৩৪ বছরের এই তরুণ সুপারস্টারের আর্থিক অবস্থা বেশ ভালোই ছিল। কোনো রকম আর্থিক সংকটের মধ্যে ছিলেন না তিনি। আর্থিক সংকটকে ঘিরে সমস্ত খবর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সুশান্তর ম্যানেজার শ্রুতি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুশান্তর ম্যানেজার জানিয়েছেন, আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল সুশান্তের। এই বলিউড তারকার মাসিক খরচ ছিল অন্তত ১০ লাখ রুপি। শ্রুতি আরও জানিয়েছেন, সুশান্ত বান্দ্রায় যে বাসায় থাকতেন, তার ভাড়া সাড়ে চার লাখ রুপি। শুধু তা-ই নয়, পুনে পাবনা বাঁধের পাশে এই বলিউড তারকা একটা ফার্ম হাউসও ভাড়া নিয়েছিলেন। শ্রুতির বয়ান অনুযায়ী, সুশান্তের কয়েকটি বিদেশি গাড়ি ছিল। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুশান্তর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন শ্রুতি। তিনি আরও জানান, চারটি নতুন ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছিলেন সুশান্ত। এ ছাড়া সামাজিক কাজ, জ্যোতির্বিদ্যা এবং অভিনয় শেখানোসংক্রান্ত নানান কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। শ্রুতি বলেছেন, 'ভিভিড রেড রিয়ালিস্টিক' নামক এক কোম্পানি খুলেছিলেন সুশান্ত। এটা এই বলিউড সুপারস্টারের ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির প্রোজেক্ট ছিল। এ ছাড়া সুশান্ত 'নেশন ইন্ডিয়া ফর ওয়ার্ল্ড' (এনআইএফডব্লু) নামের এক প্রজেক্টের ওপরও কাজ করছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি নাসা এবং ইজরো-সম্পর্কিত নানান তথ্য সংগ্রহ করতেন। জ্যোতির্বিদ্যার ওপর সুশান্তের প্রবল আগ্রহ ছিল। সুশান্ত প্রতি ছবিতে পাঁচ কোটি থেকে সাত কোটি রুপি নিতেন। এ ছাড়া তাঁর হাতে একাধিক বিজ্ঞাপনও ছিল। একটা বিজ্ঞাপনের জন্য এক কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন তিনি। জানা গেছে, সুশান্তের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৬০ কোটি রুপির বেশি। গাড়ির শখ ছিল এই তরুণ সুপারস্টারের। একাধিক দামি গাড়ি এবং মোটরসাইকেল ছিল সুশান্তর। | 2 |
রোজা শুরু হয়ে গেছে। কদিন পরেই ঈদ। ঈদ মানে উৎসবের রঙে নিজেকে রাঙানো! রোজার ঈদকে ঘিরে বেশ আগে থেকেই শুরু হয় ঈদের পোশাক পরিকল্পনা। মেয়েরা এত দিন ছেলেদের চেয়ে এ ভাবনায় এগিয়ে থাকলেও এখন ছেলেমেয়ে সবাই পছন্দের পোশাকটি আগেভাগে বেছে নিতে এবং শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে রোজার শুরু থেকেই ঈদের কেনাকাটা শুরু করেন। এই ঈদে ফ্যাশনসচেতন ব্যক্তিদের জন্য নতুন ট্রেন্ড নিয়ে এসেছে লা রিভ। দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চলের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বাহারি নকশা ও বৈচিত্র্যময় ছাঁটের লা রিভ ঈদ সমাহার এখন পাওয়া যাচ্ছে লা রিভের সব আউটলেট এবং . ওয়েবসাইটে। প্রতিষ্ঠানসূত্রে জানা গেছে, লা রিভের পবিত্র ঈদুল ফিতরের পোশাকের মূল উপজীব্য অরিজিন তথা উৎসমূল। লা রিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মন্নুজান নার্গিস বলেন, 'ঈদ মানে যেমন আনন্দ, তেমনি উৎসের কাছে ফিরে যাওয়াও। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদে সবাই নিজ নিজ উৎসের কাছে ফিরে যায়। এই ফিরে যাওয়া এবং ঈদে প্রিয়জনের জন্য কেনাকাটা আরও অর্থবহ করে তুলতে আমরা এবার অরিজিন তথা উৎসমূল নিয়ে কাজ করেছি।' 'প্রতিটি দেশ ও জাতির রয়েছে নিজস্ব শিল্প ও সংস্কৃতি। এই শিল্প ও সংস্কৃতির পরিচয়ে পরিচিত হয় সে দেশ ও জাতি। বস্ত্র খাত আমাদের তেমনই ঐতিহ্য। অনেক অঞ্চলের মানুষ যখন গুহাবাসী, বাঙালি তখন অনেক সৃজনকর্মেই স্বচ্ছন্দ। এর একটা বস্ত্রবয়ন। তুলা উৎপাদন থেকে সুতা কাটা, কাপড় বোনায় বাঙালি ছিল অতুলনীয়। তা-ও কেবল যেনতেন কাপড় নয়, উচ্চমানসম্পন্ন কাপড়ও বাঙালি সেই সময় থেকে বুনে আসছে। এমনকি তা বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও যে হয়েছে, তার প্রমাণ মিসরের মমিতে পাওয়া মসলিন। লা রিভ এবারের ঈদ আয়োজনে মসলিনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আরেক উৎসমূল জামদানি মোটিফ নিয়েও বহুমাত্রিক কাজ করেছে।' 'বিশ্বের আদি বয়নশিল্পের হাতে গোনা যে কয়টি ধারা আজও টিকে রয়েছে, জামদানি তার একটি। এই বয়নের বৈশিষ্ট্য রীতিমতো মনোগ্রাহী। পরম্পরাগতভাবে বয়নশিল্পীরা স্মৃতি থেকে যে নকশায় জামদানি বুনে থাকেন, সেই বয়নরীতি অনুসরণে জামদানি মোটিফে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ঈদের অনেক পোশাক।' লা রিভের ঈদ আয়োজনে মসলিনের সালোয়ার-কামিজ সেট ছাড়াও নতুন ট্রেন্ডে নারীদের জন্য থাকছে ড্র্যাপিং স্টাইল ইউনিক লং ড্রেস, ফ্লোর টাচ টু পিস সেট, জিপার অ্যাডেড সালোয়ার-কামিজ, সিগারেট প্যান্ট এবং কামিজ প্যাটার্ন পালাজ্জোসহ ফিউশনভিত্তিক শর্ট টপ অ্যান্ড পালাজ্জো উইথ এটাচড দোপাট্টা। আমরা এর নাম দিয়েছি ট্র্যাডিশনাল হিপস্টার। মোটিফের ক্ষেত্রে জামদানি ছাড়াও ব্যবহার করা হয়েছে ইসলামিক মোটিফ, ফ্লোরাল মোটিফ, আলপনা, চিরায়ত দেশীয় উপাদান, ম্যান্ডালা ইত্যাদি। উৎসব-আয়োজনে শাড়ি এখনো বাঙালি নারীদের অন্যতম প্রিয় অনুষঙ্গ। লা রিভ ঈদ আয়োজনে রুচিশীল মানসম্মত শাড়ির সমারোহে থাকছে বিভিন্ন রকম সুতি, তাঁত কটন, হাফ সিল্ক ও কাতান শাড়ি। প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারি, ট্যাসেল ও কারচুপিসমৃদ্ধ এসব শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে বাহারি রং ও নকশায়। শাড়ির পাশাপাশি স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য এখনকার প্রায় সব বয়সী নারীরাই সালোয়ার-কামিজকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। লা রিভ ঈদ আয়োজনেও তাই থাকছে সমকালীন প্যাটার্ন, বৈচিত্র্যময় ছাঁট ও বাহারি নকশার অজস্র সালোয়ার-কামিজ। এক্সক্লুসিভ সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে নিয়মিত সেটের কামিজেও এথনিক লুকের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফ্লোরাল প্রিন্টের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে কাঁথা স্টিচ ও গ্রামীণ পটভূমি। অপটিক্যাল ইলিউশন তৈরি করতে আবার কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে স্ট্রাইপ ও জিওমেট্রিক প্যাটার্ন। বটমে লেইস ডিটেইলিংয়ের সঙ্গে দোপাট্টায়ও যোগ করা হয়েছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। এ ছাড়া, ফ্যাশনসচেতন তরুণীদের জন্য লা রিভ টিউনিক কালেকশনে থাকছে স্ক্রিন প্রিন্ট ছাড়াও মেটালিক ওয়ার্ক, কারচুপি ডিটেইলিং, এমব্রয়ডারি, ব্লক, টাই-ডাই ও হ্যান্ড ওয়ার্কসমৃদ্ধ টিউনিক ও লং কামিজ। উৎসবের আবহ ফুটিয়ে তুলতে ঈদের পোশাকে কফি, ম্যাজেন্টা, মেরুন, নীল, ধূসর, কালো, সাদা, সবুজ, বেগুনি, গোলাপি ইত্যাদি বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছে। মসলিন, কটন, লিনেন, জর্জেট ও সাটিন কাপড়ে তৈরি মূল পোশাকের সঙ্গে ওড়নায় ব্যবহার করা হয়েছে হাফ সিল্ক এবং টাই-ডাইকৃত শিফন। এ ছাড়া এবারের পালাজ্জোগুলো এমনভাবে নকশাকৃত, যেন যেকোনো কামিজ, টিউনিক বা সিঙ্গেল পিসের সঙ্গে মানিয়ে যায়। লা রিভের এবারের ঈদ আয়োজনে ভিন্নমাত্রিক ফ্যাশনসচেতন পুরুষদের জন্য জামদানি মোটিফের বাহারি পাঞ্জাবির পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কাট অ্যান্ড ড্র্যাপড, কাঁথা স্টিচের পাঞ্জাবিসহ প্যাটার্ন বেজড পাঞ্জাবি আনা হয়েছে। কলার আর প্ল্যাকেটে বৈচিত্র্যের সঙ্গে সিল্ক, কটন, টু টোন, টাই-ডাই, স্লাব লিনেন ও ডবি কাপড়ে তৈরিকৃত এসব পাঞ্জাবিতে মিডিয়াম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, কারচুপি ও মেশিন এমব্রয়ডারি। এ ছাড়া পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য লা রিভ ইদ আয়োজনে রয়েছে ভেজিটেবল ডাই পাঞ্জাবি সমাহার। ভেজিটেবল ডাইয়ের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পেঁয়াজ, হরীতকী, ডালিমের খোসা, খয়ের, হলুদ ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ উপকরণ দিয়ে কাপড়ে নকশা করা হয়। এ ছাড়া, ঈদের সাজ ও নামাজে পূর্ণতা আনতে লা রিভ ঈদ সমাহারে আরও আছে আলীগড় ও প্যান্ট-পাজামাসহ ভেজিটেবল ডাইকৃত বাহারি টুপি। পুরুষদের অন্যান্য পোশাকের মধ্যে লা রিভ এবারই প্রথম নিয়ে এসেছে কার্ভড তথা অসম হেম টি-শার্ট। সিঙ্গেল জার্সি কটন ও স্লাব কটনের টাইপোগ্রাফি, ফটো, হাই ডেনসিটি পিগমেন্ট ইত্যাদি প্রিন্টেড ও এমব্রয়ডারিড এসব আরামদায়ক টি-শার্ট পাওয়া যাবে বিভিন্ন রং ও নকশায়। শার্টের ক্ষেত্রে ফাইন কটন, কটন ব্লেন্ডেড, সাটিন ও ফেন্সি ফেব্রিকসের স্লিম ও রেগুলার ফিটেড শার্ট পাওয়া যাচ্ছে ডিপ ডাই, অলওভার প্রিন্টেড, সলিড ইত্যাদি রকমের। এ ছাড়া, ঈদের পরে অফিসের জন্য উন্নত মানের মার্সেরাইজড কটন, জ্যাকার্ড ও কটন মোডাল পোলোসহ লা রিভ ঈদ আয়োজনে থাকছে অফিশিয়াল হিউমার, ইন্সপিরেশন ও মোটিভেশনাল কোটসসংবলিত দারুণ সব টি-শার্ট। খেলাধুলা ও প্রো-অ্যাকটিভ লাইফস্টাইলধারীদের জন্য লা রিভ এথলেইজার কালেকশন সব সময়ই প্রিয় তালিকায়। স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য ডিজিটাল প্রিন্ট, টিপিং কলার এবং বাটন ও জিপার প্ল্যাকেটসমৃদ্ধ ড্রাই-ফিট পোলো ও ট্রাউজার ছাড়াও বটমের ক্ষেত্রে ইউনিফর্ম লুক, এনজাইম সফটেনার ওয়াশ, ভিনটেজ ওয়াশ, হুইস্কার, অ্যাসিড ওয়াশ, ব্লিচ, হেভি এনজাইম ও পাইপিং ডিটেইলসসমৃদ্ধ ডেনিম, চিনোজসহ থাকছে বারমুডা ও বাইকার ডেনিম। গরমে আরামে শিশুর ঈদএবারের ঈদ পুরোপুরি গরমে বলে লা রিভ ঈদ আয়োজনে শিশুদের পোশাক পরিকল্পনায় আরামের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। শিশুদের পোশাকে তাই কটন ও কটন ব্লেন্ডেড কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে বেশি। বিভিন্ন প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ, যেমন: সম ও বিষম পাতার আকৃতি, বৃষ্টির পানির ফোঁটা, ফুল ইত্যাদি মোটিফে নকশা করা হয়েছে শিশুদের পোশাকে। শুধু ঈদ নয়, ঈদের পরপর বিয়েসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠান থাকে। সে জন্য অনেকে একবারেই কেনাকাটার কাজটা সেরে নেন। তাই তেমন অনুষ্ঠানের কথা চিন্তা করেও কিছু পোশাকের নকশা করা হয়েছে। শূন্য থেকে ১৮ মাসের নবজাতক ও শিশুদের আরামদায়ক পোশাকের পাশাপাশি ২ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের পোশাকে রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রাধান্য পেয়েছে উৎসবের ছোঁয়া। মেয়েশিশুদের পার্টি ফ্রকের প্যাটার্নের মধ্যে অন্যতম সার্কুলার ফ্লেয়ার ও র্যাপ প্যাটার্ন। পার্টি ফ্রকে ফেয়ারি টেল প্রিন্সেসটাচ দিতে ফ্লোরাল টোন যোগ করার পাশাপাশি স্লিভের ক্ষেত্রেও শর্ট স্লিভে দারুণ বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। মেয়েশিশুদের নিয়মিত পোশাকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কটন, সাটিন, সলিড ও টেক্সচার্ড থ্রিডি ফ্লাওয়ার এম্বেলিশমেন্ট টিস্যু, ব্লেন্ডেড সিল্ক, জর্জেট ও ভিসকজ কাপড়ে তৈরিকৃত ফ্লেয়ার্ড, গ্যাদার্ড, সার্কুলার, এ-লাইন, গোর প্যাটার্ন, প্রিন্সেস লাইন, বক্স এবং ইনভার্টেড প্লিট, ফ্রিল, র্যাপ ও হ্যাঙ্কারচিফ প্যাটার্নের ফ্রক, কাতানসহ বিভিন্ন আরামদায়ক কাপড়ের সালোয়ার-কামিজ, টিউনিক, ঘাঘরা-চোলি, ওভেন সেট, লেগিংস, পালাজ্জো, কুলটস ইত্যাদি। ছেলে শিশুদের ঈদ পোশাকেও ভিন্নতা আনতে কটন, টেক্সচার্ড ভিসকজ ও ডেনিম কাপড়ে তৈরি ফুল ও হাফহাতা শার্ট, কাট এন সিউ, অন ফোল্ড, কনট্রাস্ট ওয়েইস্ট ব্যান্ড ও বৈচিত্র্যমণ্ডিত পকেট ডিটেইলিংসমৃদ্ধ বটমস, সুদৃশ্য কাতান ও অন্যান্য আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি বাহারি পাঞ্জাবি, কটি, পোলো, টি-শার্ট ইত্যাদি যোগ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, পোশাকে স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটাতে ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা লা রিভের মোহাম্মদপুরে আদাবর থানাসংলগ্ন হীরা টাওয়ার ও বাসাবো আগমন সিনেমা কমপ্লেক্সে মেগা স্টোরসহ ঢাকার বনশ্রী, ধানমন্ডি, মিরপুর-১ ও ১২, উত্তরা, ওয়ারী, বেইলি রোড, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, পুলিশ প্লাজাসহ নারায়ণগঞ্জ, খুলনা এবং সিলেটে নিজস্ব আউটলেট রয়েছে। এ ছাড়া, পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধের সুবিধায় .. থেকেও ঘরে বসেই বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই লা রিভ পণ্য কেনা যায়। | 4 |
"আমি তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করব এবং প্রয়োজনে আমি তার সামনে হাঁটু গেড়ে মিনতি জানাব। জানি না, জোজেপ মারিয়া বার্তোমেউ ও (কোচ) রোনাল্ড কুমান তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসেছে কিনা।" ফুটবল নক্ষত্র লিওনেল মেসিকে বার্সেলোনা না ছাড়তে এভাবেই আকুতি জানান সাবেক সভাপতি হোয়ান গাসপার্তও। তিনি বলেন, "তারপর সে যদি আমার কথা না শোনে, তাহলে চুক্তি ও এর কিছু শর্ত আছে। সে অনুযায়ী তাকে ছাড়তে এক ইউরোও কম করা উচিত হবে না। তোমাকে এত অনুরোধ করার পরও যদি চলে যেতে চাও, তাহলে ৭০ কোটি ইউরো ক্লজ মেনে নিতে হবে।" | 12 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'দল ও সড়ক-এ দুই ক্ষেত্রেই আমার চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।'
বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মিরপুর কার্যালয়ে ভেহিক্যাল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
ভিআইসি যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে।
দলের সাধারণ সম্পাদকের পদে থেকে সড়ক পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কীভাবে সামাল দেবেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'সড়ক দেখতে গিয়ে আওয়ামী লীগকেও দেখতে হবে। দুটির সুবিধা আমার আছে। আওয়ামী লীগের কাছে যেতে হলে সড়ক দিয়ে যেতে হবে।'
স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'মিরপুর বিআরটিএতে আস্তানা গেড়ে আমাকে ছোট করবেন না।'
ওবায়দুল কাদের বলেন, 'ভিআইসি স্থাপনের মাধ্যমে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতি কমবে।'
২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ভিআইসি প্রকল্পে কোরিয়ার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (কোইকা) অনুদান হিসেবে দিয়েছে ২১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত আন সিওং ড. বলেন, আরও চারটি ভিআইসি স্থাপনে অর্থায়ন করবে তার দেশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন, ঢাকা-১৫ আসনের এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার, নাজমুল ইসলাম এমপি, মনিরুল ইসলাম এমপি, সড়ক পরিবহন সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, বিআরটিএর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, কোইকা কান্ট্রি ডিরেক্টর জো হুনগু প্রমুখ।
| 6 |
রাঙামাটিতে দ্রুত বাড়ছে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। জেলা সদরের চেয়ে এই রোগের প্রকোপ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি। গত আড়াই মাসে পাহাড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ম্যালেরিয়া। এতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। একদিকে করোনা রোগের ঊর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব। সবমিলে হিমশিম খাচ্ছে রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ম্যালেরিয়া রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় গঠন করা হয়েছে একাধিক মেডিকেল টিম। এসব উপজেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। তাই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এই চারটি উপজেলাকে ম্যালেরিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। একই সাথে ম্যালেরিয়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে স্বাস্থ্য পার্টনার হিসেবে কাজ করছে বেসরকারি এনজিও সংস্থা ব্র্যাক। রাঙামাটি জেলার সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীষা জানান, প্রতিবছরের চার মাস অর্থাৎ মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে পার্বত্যাঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। কারণ বর্ষার কারণে ম্যালেরিয়ামশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রাঙামাটি পাহাড়ি অঞ্চল, জঙ্গল ও ঝোপ-ঝাড়ের কারণে এই মশা সহজে মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। তবে গত ২০১৯-২০২০ সালের তুলনায় এ বছর ম্যালেরিয়া রোগী তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। কারণ ২০১৯ সালে ঠিক এ সময় এক হাজার ৪০০ ও ২০২০ সালে প্রায় ৭০০ ম্যালেরিয়া রোগী ছিল। কিন্তু এ বছর আড়াই মাসে মাত্র ৩২৬ জন আক্রান্ত। তবে ম্যালেরিয়ারোগে আক্রান্ত হয়ে গত তিন বছরে কেউ মারা যায়নি। তাই আমরা দাবি করতে পারি ম্যালেরিয়া রোগে মৃত্যু শূন্যের কোটায়। রাঙামাটি পুরো জেলায় ম্যালেরিয়া রোগী নেই। শুধু মাত্র ৪টি উপজেলা ছাড়া। জেলার বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলায় ম্যালেরিয়া রোগী সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। তাদের চিকিৎসা সেবায় বেশকিছু মেডিকেল টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে এ তিন পার্বত্য জেলা অর্থাৎ রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালু হওয়ার পর ২০১৩ সাল পর্যন্ত ম্যালেরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের পর ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ হারায় পাহাড়ে। ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়উল্লেখযোগ্য হারে। তবে কেন পার্বত্যাঞ্চলে ম্যালেরিয়ার রোগ বেড়ে চলেছে, তার কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেনি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। রাঙামাটি ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান জানান, রাঙামাটি ১০টি উপজেলায় ৩৫টি কার্যালয় আছে ম্যালেরিয়াবিষয়ক কাজ করার জন্য। এসব কার্যালয়ে এক হাজার ২০০ স্বাস্থ্য সেবিকা রয়েছে। ২৯৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী আছে।তারা ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে এসব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুধু জেলা বা উপজেলায় নয়, ইউনিয়নেও স্বাস্থ্যকর্মীরা ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে,যার কারণে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা একেবারে নেই। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ম্যালেরিয়া রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমলে হবে না, আক্রান্তের সংখ্যা একেবারে কমানোর জন্য এ রোগের চিকিৎসায় আরও আন্তরিক হতে হবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সেই রাতেই গড়ে ওঠে প্রতিরোধ; শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। তখন স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বিশ্বের যে কয়টি দেশ প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছিল, তার মধ্যে ভারতের অবদান সবচেয়ে বেশি। স্বাধীনতা যুদ্ধের নয় মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, মিত্রবাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি এক কোটির বেশি বাঙালি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয় ভারত। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, তা বিশ্বে অনন্য। মুক্তিযোদ্ধারা সীমান্তবর্তী এসব রাজ্যে প্রশিক্ষণ শেষে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যৌথ বাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে জীবনও উৎসর্গ করেন প্রায় দুই হাজার ভারতীয় সৈন্য। এ ছাড়া ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তুলে পাকিস্তানে ফাঁসির দ াদেশপ্রাপ্ত বাঙালি জাতির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করতে চাপ সৃষ্টি করেন। এর ফলে পাকিস্তানে অন্তরীণ বঙ্গবন্ধু নয় মাস পর স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসতে সক্ষম হন। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য সহযোগিতা ও সমর্থনই বাংলাদেশ ও ভারতের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে করেছে সুদৃঢ়। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির সমকালকে বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীই নয়; ভারতের বহু সাধারণ মানুষও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহযোগিতার হাত। আর তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে ভারতের নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ভারতের সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে এত দ্রুত বিজয় অর্জন সম্ভব হতো না।' মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালি নিধন শুরু করলে ভারত সরকার তাৎক্ষণিক তাদের সব সীমান্ত চৌকি খুলে দেয়। লাখো বাঙালি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নেয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে। জুন মাসের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৯ হাজার ৩০৫ জনে। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে এ সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যায়। ৮২৬টি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বাঙালিদের ভরণপোষণ ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও করে ভারত সরকার। তখন পূর্ব বাংলার মোট জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের শক্তি জুগিয়েছিল। তারা আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশটি বাঙালিদের জন্য যা করেছে, তা বিশ্বে বিরল।' মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই একাত্তরের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় 'মুজিবনগর সরকার' গঠন করা হয়। সেই মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে যুগপৎভাবে পাকিস্তান সরকারের গণহত্যা বন্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনের কাজ শুরু করেন ইন্দিরা গান্ধী। তার কূটনৈতিক তৎপরতায় তৎকালীন বৃহৎ পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাঙালিদের পক্ষে সরাসরি অবস্থান গ্রহণ করে। এ পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয় আরেক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। চীনও পাকিস্তানের পক্ষ নেয়। তখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ। এক পর্যায়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে বির্তক দেখা দেয়। নানা ঝুঁকি সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করে একাত্তরের ১৪ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এক সংবাদ সম্মেলনে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেন :'পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক জান্তার প্রতি চীনের প্রকাশ্য সমর্থন সত্ত্বেও ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হবে না।' রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক সমকালকে বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে ভারতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার গঠন করে। এর পরপরই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাঙালিদের সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি ছিল ইন্দিরা গান্ধী ও তার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি তখন সেই চ্যালেঞ্জ শুধু গ্রহণই করেননি; মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা, সংগঠন ও রাষ্ট্রের সমর্থন-সহযোগিতার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ দেশ বা জায়গা বাকি ছিল না, যেখানে তিনি যাননি। ' মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক বই ও বিভিন্ন ধরনের প্রকাশনার তথ্যানুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি পাকিস্তানের কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোচ্চার ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। একাত্তরের ১১ আগস্ট তিনি বিশ্বের ২৪টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে বঙ্গবন্ধুর প্রাণ রক্ষায় তাদের প্রভাব খাটানোর আবেদন করেন। তাৎক্ষণিক রাষ্ট্রপ্রধানদের সদুত্তর না পেয়ে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, 'বাংলাদেশ সম্পর্কে অন্যান্য দেশের অনীহা সবচেয়ে দুঃখজনক।' এ সময় তিনি জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সমকালকে বলেন, 'আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বহুবিধ বাধা ও হুমকি উপেক্ষা করে ভারত মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধরত বাঙালিদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়। শুধু তাই নয়; বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতের সমর্থনও ছিল শর্তহীন। অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়সহ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক সাহায্য প্রদান ছাড়াও জীবনের মায়া ত্যাগ করে অনেকে (ভারতীয় সেনা) আমাদের পক্ষে যুদ্ধ করেছেন। তাদের অনেকে শহীদ হয়েছেন। তাদের ঋণ অপরিশোধ্য।' একাত্তরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে ইন্দিরা গান্ধী সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরে যান। ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ক্রেমলিনে সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক লিওনিদ ইলিচ ব্রেজনেভ, প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি কোসিসিন ও রাষ্ট্রপতি নিকোলাই পদগর্নির সঙ্গে বাংলাদেশ প্রশ্নে ছয় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করেন। তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ২৯ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত-ভারত যুক্ত ইশতেহার প্রকাশিত হয়। এতে বাংলাদেশ প্রশ্নে দুটি দেশই অভিন্ন মতামত ব্যক্ত করে। এর পর ইন্দিরা গান্ধী ২৪ অক্টোবর থেকে ১৯ দিনের বিশ্বসফরে বের হন। এ সময় তিনি ইউরোপ ও আমেরিকার কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তার এই সফর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এভাবে ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির পর ১৪ নভেম্বর ইন্দিরা গান্ধী দিল্লি ফিরে আসার পর পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আবারও আলোচনার প্রস্তাব দেয়। তখন ইন্দিরা গান্ধী পাল্টা জবাবে বলেন, 'বাংলাদেশ' বিষয়ে আলোচনার একমাত্র প্রতিনিধি শেখ মুজিবুর রহমান। তাকে মুক্তি দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান এখনও সম্ভব। প্রয়োজনে ভারত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সমস্যা সমাধান করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানিয়ে দেন। পাকিস্তান সরকার ওই প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে ৩ ডিসেম্বর ভারতের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর পর বাংলাদেশ ও ভারতীয় সেনাদের নিয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর প্রবল আক্রমণের মুখে ১৬ ডিসেম্বর পরাজয় মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী সমকালকে বলেন, 'মাত্র ৯ মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভবই হতো না যদি ভারত প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন না দিত। ভারত সরকার অনেকভাবেই বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে। তবে সবচেয়ে বড় সহযোগিতা করেছে ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর তাদের সীমান্ত বাঙালিদের জন্য খুলে দিয়ে। সেটা যদি না হতো তাহলে এক কোটি বাঙালি সেদিন মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে থাকত। ভারত যে শুধু শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে, তাই নয়; খাদ্য ও চিকিৎসা সুবিধাও দিয়েছিল।' তিনি আরও বলেন, 'ভারতের দুটি অবদান বাঙালির প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য গুরুত্বপুর্ণ। একটি হলো বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ডিসেম্বরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতীয় সেনাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে দ্রুত ভারতীয় সেনাদের দেশে ফেরত নেওয়া। যদি এর কোনো একটি তখন না হতো, তাহলে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ধূলিসাৎ হতে পারত।' মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও ইন্দিরা গান্ধীর অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা দেয় বাংলাদেশ সরকার। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর ২০১১ সালের ২৫ জুলাই ইন্দিরা গান্ধীকে সর্বোচ্চ সম্মাননা 'স্বাধীনতা সম্মাননা' দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এই সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত দেশটির ২২৩ জন ব্যক্তি ও ৯টি প্রতিষ্ঠানকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে, যা একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ। | 6 |
গোপালগঞ্জেকঠোর লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে এসে কোনো বিধিনিষেধ মানছেন না সাধারণ মানুষ। তবে লকডাউন কার্যকর করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনা শনাক্তের হার শতকরা ৪৯ ভাগ। রবিবার সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, জেলা শহরের পুরাতন বাজার রোড, কাপড় পট্টি, চৌরঙ্গী ওলঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই অপ্রয়োজনে বাইরে বের হয়েছেন। আবার অনেকেই মাস্ক না পরে বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন। কাঁচাবাজারের বিভিন্ন দোকান ও মার্কেটে একে অপরের সংস্পর্শে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল ও গোপালগঞ্জ-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জেলা শহরে অধিক সংখ্যক ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, রিকশা-ভ্যান চলাচল করতে দেখা গেছে। এসব যানবাহনে অধিক যাত্রী পরিবহন করার পাশাপাশি ভাড়া দ্বিগুণ নিচ্ছেন চালকরা। লকডাউন কার্যকর করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। শহরের ঢোকার মুখে ও শহরের পাড়া-মহল্লার রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। দোকান বন্ধ রাখতে ও মাস্ক পরিধানে বাধ্য করতে চালানো হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেটরা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এসব আদালত পরিচালনা করছেন। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার শতকরা ৪৯ শতাংশ। এছাড়া জেলায় মোট ২৫ হাজার ৫১০ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৬৬৯ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার আটজন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে মানসম্মত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ অতি জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তিনি এলজিইডির প্রকৌশলীদের মানসম্মত টেকসই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বৃহস্পতিবার এলজিইডি সদর দপ্তরে প্রাথমিক শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মো.জাকির হোসেন এ আহ্বান জানান। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মুনজুর কাদির, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাসিবুল আলম, এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) খলিলুর রহমান, এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রাথমিক শিক্ষা) ওয়াহিদুর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এলজিইডি জিআইএস ইউনিট, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৪ (পিইডিপি-৪) ও ডিজাইন ইউনিট পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলো নির্মাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে এলজিইডি কাজের গুণগত মান সঠিক রেখে কাজ করার আপ্রাণ চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মুনজুর কাদির বলেন, এলজিইডির অনেক কাজ। সে তুলনায় লোকবল কম। তাই প্রয়োজনে লোকবল বাড়িয়ে আরো মনিটরিং ও কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে মানসম্মত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সবাইকে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাসিবুল আলম বলেন, মানসম্মত কাজ মন্ত্রণালয় এবং এলজিইডির কর্মকর্তাদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। | 6 |
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে বড় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। গত রাতে লিসবনের হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে ৫-০ গোলে স্পোর্টিং লিসবনকে উড়িয়ে দিয়েছে সিটি। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন বের্নার্দো সিলভা। একটি করে গোল করেছেন রাহিম স্টার্লিং, রিয়াদ মাহরেজ ও ফিল ফোডেন।এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখলেন পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে অবিশ্বাস্য কোনো কিছু না ঘটলে স্কাই ব্লুজদের শেষ আটে ওঠা প্রায় নিশ্চিত। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে লিসবনকে চেপে ধরে সিটি। এবং প্রথমার্ধেই তাদের জালে গুনে গুনে চারবার বল জড়ায় স্টার্লিং ফোডেন। প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় সিটি, যা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। ম্যানসিটি একমাত্র ক্লাব, যারা নকআউট পর্বের ম্যাচে প্রথমার্ধেই চার গোলের লিড নেয়।গোল উৎসবের শুরুটা করেন রিয়াদ মাহরেজ। এই আলজেরিয়ানের গোলে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যায় সিটি। এর ১০ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হয় সিলভার গোলে। ৩২ মিনিটে ফিল ফোডেনের গোলে সিটির লিড ৩-০। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সিলভার দ্বিতীয় গোলে হালি পূর্ণ করে সিটি। দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট ধরে রাখে সিটি। ৫৮ মিনিটে গোলটি করেন রাহিম স্টার্লিং। ম্যাচের বাকি সময় গোল না পেলেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে সিটি। আগামী ৯ মার্চ হবে ফিরতি লেগ। | 12 |
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন আরও ৭৩২ জন। গতকাল মঙ্গলবার থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যু ও রোগী শনাক্ত হয়।আজ বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে, যেখানে গতকাল একই সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু এবং ৭৯৯ জন রোগী শনাক্তের তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫৩ জন। আর মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ১০৮ জন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৮২৪ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৯ জন করোনা রোগী।গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে ৮৭৬টি সক্রিয় ল্যাবে ২২ হাজার ৭১৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্তের হার ৩ দশমিক ২২ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ।যেখানে গতকাল ল্যাবে ২৩ হাজার ৮১৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে। | 6 |
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের সার্ভার ডাউন হয়ে পড়ে গতকাল সোমবার। ছয় ঘণ্টার ওই বিভ্রাটে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের ব্যক্তিগত সম্পদ কমেছে ৭০০ কোটি ডলার। সেই সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকা থেকে নেমেছেন এক ধাপ। তবে ক্ষতি কেবল জাকারবার্গের হয়নি, সবচেয়ে জনপ্রিয় এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রাটে বিশ্ব অর্থনীতিরও ক্ষতি হয়েছে। ইন্টারনেট ওয়াচডগ নেটব্লক্সের এক আনুমানিক হিসাবে বলছে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার এবং হোয়াটসঅ্যাপের আয়ের ক্ষতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি হারিয়েছে ঘণ্টায় ১৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা (১ ডলার=৮৫ টাকা ধরে) সেই সঙ্গে যেহেতু সমস্যাটি ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলেছে, তাই বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ক্ষতি ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। কেবল যুক্তরাষ্ট্রে নেটব্লক্সের হিসাবে অন্তত ২৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে। , , , () ~$ .://./ ../ ফেসবুকের শেয়ারের দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি সক্রিয় লেনদেনকারী আছে। বিজ্ঞাপন পরিমাপ সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড মিডিয়া ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক। এ সমস্যার কারণে প্রতি ঘণ্টায় আনুমানিক ৫ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের বিজ্ঞাপনের আয় হারিয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশের ব্যবহারকারীরা প্রথমে তাঁদের দেশে সম্ভাব্য ফিল্টারিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, অন্যরা সন্দেহ করেছিলেন যে তাঁদের নিজস্ব ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দেওয়া হতে পারে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই যোগাযোগের জন্য টুইটার, টেলিগ্রামসহ বিকল্প প্ল্যাটফর্মে ভিড় করেছেন। গত মাসের মাঝামাঝি থেকে ফেসবুকের শেয়ারের দর কমছে। ফেসবুকের সাবেক কর্মী ফ্রান্সেস হাউগেন দাবি করেন, তাঁর ফাঁস করা নথিগুলোতে প্রমাণিত হয় ফেসবুক বরাবরই নিরাপত্তার চেয়ে প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়। মার্কিন টিভি চ্যানেল সিবিএসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অংশ নেন ফেসবুকের পণ্য ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত থাকা সাবেক কর্মী ফ্রান্সেস হাউগেন। এর আগে অনেকবারই তিনি পরিচয় প্রকাশ না করে ফেসবুকের তথ্য ফাঁস করেন। এবার প্রথমবারের মতো সামনে এসে এসব কথা জানান তিনি। সিবিএসের 'সিক্সটি মিনিট' নামের অনুষ্ঠানে হাউগেন জানান, ফেসবুকের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়েই এ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে আর কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ফেসবুক ছাড়ার আগে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ নথি সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। ফ্রান্সেস হাউগেনের এ দাবির পর গত মাসের মাঝামাঝি থেকে ১৫ শতাংশ দর কমেছে ফেসবুকের। আবার গতকালের ঘটনায় কোম্পানির শেয়ারের দর মাত্র কয়েক ঘণ্টায় কমেছে হু হু করে। সব মিলিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ফেসবুক ২০ শতাংশ দর হারিয়ে।গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত) ফেসবুক এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সার্ভিস ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারের সার্ভার ডাউন হয়ে যায়। মুঠোফোন বা কম্পিউটার থেকে এসব সার্ভিসে ঢুকতে পারা যায়নি এ সময়। | 0 |
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ২২০০ কিলোমিটার। আসামের সঙ্গে আড়াই শ কিলোমিটারের মতো। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৬০ ভাগ পড়েছে এই দুই এলাকায়। আয়তন, ভাষা, সংস্কৃতি, ভালোবাসা ও রক্তপাত মিলেমিশে এই দুই সীমান্ত বাংলাদেশের জন্য খুবই স্পর্শকাতর। এই দুই সীমান্তের অপর পাড়ে এখন নির্বাচনী উত্তেজনা চলছে। দুই জায়গায়, দুই নির্বাচনেই সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে আরএসএস-বিজেপি পরিবার। জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ভারী। অথচ এক দশক আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। বেশ জোরেশোরে আরএসএস সদস্য বাড়ছে এখন বাংলাদেশ সীমান্তের অপর পারে। তাদের এই উলম্ব বৃদ্ধির মধ্যে লেপটে আছে অল্প-বিস্তর বাংলাদেশ-বিদ্বেষও। তবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে কেবল বিজেপির উত্থানটুকুই দেখা যাচ্ছে। এর পেছনের চালিকাশক্তি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের বিস্তার এবং তার আঞ্চলিক তাৎপর্য ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আলাপ হয় কম। আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কেশব হেডগেওয়ার একদা কলকাতায় চিকিৎসাবিদ্যা পড়তেন। আরএসএসের দাবি, এই শহর থেকেই তিনি হিন্দুত্বাবাদী অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার প্রেরণা পান। সংগঠনের আরেক তাত্ত্বিক শ্যামাপ্রসাদের জন্মস্থানও এখানে। কিন্তু বাংলা ও আসামে আরএসএসের পক্ষে জমিন তৈরি বরাবরই কঠিন ছিল। এর কারণ, এই দুই অঞ্চলে রয়েছে উপমহাদেশের শক্তিশালী দুই ভাষা-সংস্কৃতির মানুষের বসতি। যারা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের স্বাতন্ত্র্য ধরে রেখেছিল ঐতিহাসিকভাবে। বিশেষ করে অসমিয়া ঐতিহ্যের বিপরীতে হিন্দুত্ববাদের ভিত্তি তৈরি খুব কঠিন ছিল। স্বাধীনতার সময় বৃহত্তর আসামে আরএসএসের 'প্রচারক' ছিলেন মাত্র তিনজন-দাদারাও পরমার্থ, বসন্তরাও ওক এবং কৃষ্ণ প্রাণজাপি। গুয়াহাটি, শিলং ও দ্রিবুগড়ে তিনটি 'শাখা' খুলেছিলেন তাঁরা। পাঞ্জাব থেকে আসা ঠাকুর রাম সিং এসেও এ কাজে হাত লাগান। প্রায় পাঁচ দশক পর ১৯৯৮ সালে বৃহত্তর আসামে স্বয়ংসেবকদের এক সম্মেলনে সদস্যসংখ্যা দেখা গেল ৩৫ হাজার। আরও দুদশক পর তারা বিজেপিকে রাজ্যে ক্ষমতায়ই বসাতে পারলে। পশ্চিমবঙ্গেও তারা পিছিয়ে নেই। ছয় দশক হলো এই রাজ্যে তারা কাজ করছে। ফল মোটাদাগেই দেখা যাচ্ছে এখন। প্রথমে তারা উত্তরবঙ্গ ও কলকাতার বড় বাজারে উত্তর প্রদেশ ও বিহারের অভিবাসী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাজ করত। বামফ্রন্টের দাপটে এগোতে পারছিল না ভালো করে। সে সময় আরএসএসের অঙ্গসংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীরা তলোয়ার ও ত্রিশূল উঁচিয়ে রাম নবমীর মিছিল করেছেন, এমন ঘটনা বিরল। এখন সেটা করা যায়। এমনকি মালদার মতো অ-হিন্দুপ্রধান জেলায় সেটা বাড়তি আয়োজনে করা হয়। আসামে এখন আরএসএস ক্যাডারের সংখ্যা আনুমানিক ২৫ হাজার। ৯০০-এর বেশি 'শাখা' আছে তাদের। নানা নামে অঙ্গ সংগঠন আছে ২১টি। বিদ্যাভারতী স্কুল আছে প্রায় ৫০০। এ রকম প্রতিষ্ঠান বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গেও তুমুল গতিতে। বিদ্যাভারতীতে আরএসএসের ক্যাম্পিং হয়। সেসব ক্যাম্পে 'দেশগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি' নিয়ে কর্মীরা মতবিনিময় করেন। পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের অঙ্গ সংগঠনের সংখ্যা আসামের চেয়েও বেশি বলে মনে করা হয়। আসামে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর আরএসএস-বিজেপি পরিবারের প্রধান টার্গেট পশ্চিমবঙ্গ। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আরএসএস 'মিশন-বেঙ্গল' নামে আহমেদাবাদে বিশেষ সম্মেলনও করল বিজেপিকে নিয়ে। এখানেই আসন্ন ভোটে তৃণমূলের হাত থেকে ক্ষমতা নিয়ে নেওয়ার বিস্তারিত রণকৌশল ঠিক করেন সংগঠকেরা। পশ্চিমবঙ্গের ৩৪১টি ব্লকের সব কটিতে আরএসএসের ইউনিট আছে এখন। ৩ হাজার ৩৪২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত অর্ধেকে তারা পৌঁছে গেছে। এ বছরের মধ্যে তারা প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্তত একটা শাখা করতে চায়। এ মুহূর্তে শাখার সংখ্যা দুই হাজার ছুঁই ছুঁই। দক্ষিণ বাংলায় এটা বেশি। উত্তরে কম। দক্ষিণে তাদের সাংগঠনিক জেলা রয়েছে ৩৩টি; উত্তরে ১৫টি। ২০১১ সালে সব মিলে শাখার সংখ্যা ছিল ৫৮০। এক দশকে চার গুণ হয়েছে। উত্তরবঙ্গে কম হলেও দ্রুত বাড়ছে। ২০১০-এর পর তিন গুণ বেড়েছে। আরএসএসের 'শাখা'গুলো সচরাচর প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার বৈঠক করার রেওয়াজ। খেলাধুলা থেকে প্রার্থনা-সবই হয় এ রকম বৈঠকে। বছরে ছয়টি উৎসবও করে তারা। পুরো পশ্চিমবঙ্গকে আরএসএস উত্তর-দক্ষিণে সাংগঠনিকভাবে ভাগ করে নিয়েছে। উভয় ভাগের মুসলমান অধ্যুষিত গ্রামগুলোতেও তাদের 'শাখা' আছে। সেটা চলে 'সেবা'র আদলে। ভানবাসী কল্যাণ আশ্রম, বনবন্ধু পরিষদ, সমাজসেবা ভারতী প্রভৃতি বহু নামে বহু সংগঠন আছে 'সেবা'র জন্য। আর আছে বিশেষভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলার মতো বিশাল আইটি-টিম। এদের দক্ষতা বাড়াতে প্রায়ই 'আইটি-মিলন' নামের কর্মশালা হয়। আইটি-মিলন মানে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান বাড়ানো। সেটা আবার শুরু হয় ভোরে সূর্য নমস্কার এবং যোগসাধনা দিয়ে। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে এভাবেই সংস্কৃতিকে যুক্ত করে কর্মীদের তৈরি করা হয়। আরএসএসের পাশাপাশি প্রতিটি অঙ্গ সংগঠনেরও আইটি শাখা রয়েছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টুইটারে দক্ষতা সব স্বেচ্ছাসেবকের স্বাভাবিক কাজের মধ্যে পড়ে। কেবল ভাবাদর্শ প্রচার নয়, প্রতিপক্ষকে 'ট্রল' করাও একটা 'কাজ'। আরএসএস সচরাচর সরাসরি রাজনৈতিক তৎপরতায় থাকে না এবং বিজেপির রাজনৈতিক অগ্রগতির কৃতিত্বও দাবি করে না। কিন্তু সামান্য ব্যতিক্রম বাদে সব রাজ্যে বিজেপির নেতৃত্বে আছেন তাদের তৈরি সংগঠকেরা। স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনে সহসম্পাদক পর্যন্ত পদগুলো আরএসএসের জন্য সংরক্ষিত থাকে। গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ৪২ জন প্রার্থীর অন্তত ২৯ জন ছিলেন আরএসএস-ঘনিষ্ঠ। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ আরএসএসে 'প্রচারক' জীবন শুরু করেছিলেন ১৯৮৪ সালে। তবে বিজেপি অন্য দল থেকে জার্সি বদল করেও অনেক 'নেতা' এনেছে। এ রকম 'অধিগ্রহণ'-এর কারণ, তাদের সুপরিচিত মুখ কম। কিন্তু সাংগঠনিক শক্তি আছে। সেই শক্তির উৎস আরএসএস। সুপরিচিত কাউকে টেনে এনে সহজে ভোটের অঙ্কে জিতিয়ে আনতে পারে বিজেপি। ভোটকেন্দ্র নিয়ে বিজেপিকে বেশি ভাবতে হয় না। অর্থ নিয়েও নয়। এ দুটো আরএসএসই সামলাতে সক্ষম। আসামে আরএসএস কীভাবে বেড়েছে, সেটা বিজেপির নির্বাচনী সফলতা থেকে আঁচ করা কঠিন নয়। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১২৬ আসনের মধ্যে তারা ৬০টি পায়। ২০১১ সালে তাদের আসন ছিল মাত্র ৫টি। তাদের এই অচিন্তনীয় উত্থান আরএসএসের পরিশ্রমেরই ফসল। পশ্চিমবঙ্গে বহুদিন আরএসএসের প্রথম লক্ষ্য ছিল বামপন্থীদের হটানো। রাজ্যজুড়ে মাওবাদের উত্থানেও তারা উদ্বিগ্ন ছিল। এ রকম বামদের তারা 'জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি' হিসেবে দেখে। শুরুতে মমতাকে সমর্থন দিয়ে সে অধ্যায়ের 'কাজ' সমাধা করা হয়। এখন শেষ প্রতিবন্ধকতা হিসেবে খোদ মমতাকে সরানোর পালা। মমতার বড় 'অপরাধ'- রাজ্যের সংখ্যালঘুদের সাহায্য-সহযোগিতা। মজার ব্যাপার, মমতার আমলেই ২০১৩ থেকে ২০১৮-এর মাঝে এখানে আরএসএসের উত্থান ঘটেছে সহজে। এই আমলেই তাদের স্কুল ও সেবাকেন্দ্র গড়ে উঠেছে বিনা বাধায়। ২০১১ সালের নির্বাচনে বিজেপি এই রাজ্যে কোনো আসন পায়নি। ভোট পেয়েছিল মাত্র ৪ শতাংশ। পরের নির্বাচনে ভোট পায় ১০ ভাগ। আর এখন তারা মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দেখছেন ওয়াকিবহাল অনেকে। ২০১৯-এর সর্বশেষ লোকসভায় তারা ভোট পেয়েছে ৪১ ভাগ। আসন পেয়েছে রাজ্যের প্রায় অর্ধেক। তাদের জনপ্রিয়তা ক্রমে বাড়ছেও। একই দৃশ্য আসামে। ২০১১-এর চেয়ে ২০১৬-এর বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির ভোট বেড়েছে ৩০ ভাগ। ২০০৯-এর চেয়ে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে ভোট বেড়েছে ২০ ভাগ। আরএসএস-বিজেপিকে একসময় হিন্দি বলয়ের সংগঠন ভাবা হতো। কিন্তু ওই অঞ্চলের বহু রাজ্যের চেয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে আরএসএসের বিস্তার বেশি। সংগঠনের নেতারাই সেটা জানাচ্ছেন। ২০১৯ সালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনলাইনে উত্তর প্রদেশের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরএসএসের সদস্য হতে বেশি আবেদন পড়েছে। ২০১৭ সালে এ রকম আবেদন ছিল ৭ হাজার ৪০০। ২০১৮ সালে ছিল ৯ হাজার। আর ২০১৯-এর প্রথম ছয় মাসে ছিল ৭ হাজার ৭০০। একই সময় কেবল উত্তর প্রদেশ থেকে আবেদন পড়েছিল ৯ হাজার ৩৯২। পশ্চিমবঙ্গের লোকসংখ্যা উত্তর প্রদেশের অর্ধেক। এই হিসাবে আরএসএসের সদস্য হতে চাওয়া মানুষের হার পশ্চিমবঙ্গ থেকেই বেশি বলা যায়। আবেদনকারীদের মধ্যে ৭০ ভাগের বয়স ৩৫-এর মধ্যে। প্রশ্ন উঠতে পারে, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের প্রতি তরুণদের এত আগ্রহের কারণ কী এবং বাংলাদেশের জন্য তার তাৎপর্য কী? পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম- দুই জায়গাতেই আরএসএসের মূলমন্ত্র 'ভারতমাতার সুরক্ষা'। এই সুরক্ষার বড় এক দিক ভারতকে 'বাংলাদেশি সন্ত্রাসী'দের 'আগ্রাসন' থেকে বাঁচানো। মিছিল-সমাবেশে, লেখনীতে এসব নিয়ে রাখঢাক দেখা যায় না। উত্তর ভারতে তাদের এ রকম 'বিদেশি' প্রতিপক্ষ নেই। আসাম-পশ্চিমবঙ্গে এ রকম কল্পিত শত্রু সহজে পাওয়া যায় বাংলাভাষী থাকা এবং সীমান্ত ঘেঁষে বাংলাদেশ থাকার কারণে। বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে মানুষ এসে আসাম-পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের হিস্যা কমিয়ে দিচ্ছে- এ রকম ভীতির আবহ ইতিমধ্যে এই দুই রাজ্যের মানুষের মধ্যে তৈরি করা গেছে। আসামে ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রধান অ্যাজেন্ডাই ছিল 'অবৈধ বাংলাদেশি' তাড়ানোর প্রশ্ন। সেই ভীতির রাজনীতির সূত্রেই আসাম হয়ে এনআরসি কর্মসূচি পশ্চিমবঙ্গে আসি-আসি করছে। সঙ্গে নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন করে অ-মুসলমানদের ভোটের হিস্যা বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। লক্ষ্য করার মতো ব্যাপার, আসামে এনআরসি শুরুর সময় অসমিয়াদের রক্ষার কথা বলা হয়। পশ্চিমবঙ্গে বলা হচ্ছে, বাঙলি হিন্দুদের রক্ষার কথা। দুই জায়গাতেই এসব নতুন উদ্যোগে ন্যায্যতা খোঁজা হয় উভয় রাজ্যের মুসলমানপ্রধান সীমান্তঘেঁষা কিছু জেলার শুমারি দলিল সামনে রেখে। তাতে পরোক্ষে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হয়, এসব জেলায় 'বাংলাদেশি' আছে। আরএসএস সাহিত্যে দুই ধরনের 'অবৈধ বাংলাদেশি'র সন্ধান মেলে। মুসলমান বাংলাদেশিরা হলো 'অনুপ্রবেশকারী' আর হিন্দু বাংলাদেশিরা হলো 'শরণার্থী'। আসামে বহুকাল এক কোটি অবৈধ 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী'র কথা বলে আরএসএস তুমুল রাজনীতি করে সংগঠন গুছিয়ে নিয়েছে। এনআরসি শেষে তার সত্যতা মেলেনি। এখন পশ্চিমবঙ্গে একইভাবে নতুন দফায় 'এক কোটি অনুপ্রবেশকারী'র রাজনীতি শুরু হয়েছে, যা মূলত এনআরসি করিয়ে নিতেই। অথচ উভয় রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে কাজের সন্ধানে কারও যাওয়ার অর্থনৈতিক বাস্তবতা নেই। সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলনামূলক উন্নত। জীবনযাত্রার সূচকেও সীমান্তের উভয় পারের মধ্যে বাংলাদেশের জেলাগুলো এগিয়ে। তারপরও আরএসএসের নেতৃস্থানীয় এক সংগঠক জিঞ্চু বসুর এ রকম বক্তব্য দেখা গেল, 'পশ্চিমবঙ্গ পশ্চিম বাংলাদেশ হয়ে যাচ্ছে ক্রমে।' এসব অদ্ভুত প্রচারণায় শক্তি জোগাতে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে তুলে ধরার সম্পূরক প্রচারণাও চলে নানান দিক থেকে। পুরোনো দিনের অনেক শরণার্থীকে সামনে এনে এ রকম প্রচারণাকে বিশ্বাসযোগ্যতা দেওয়া হয়। তবে কেবল বাংলাদেশ-বিদ্বেষ নয়, আরএসএস নতুন কর্মীদের শৃঙ্খলা, সাহস ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও দেয় এবং সেটা কোনো মরীচিকা নয়। কেন্দ্রে তারা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আছে নির্বিঘ্নে। ১৭টি রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর সরকার রয়েছে। মার্চ-এপ্রিলে আসামের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ দখলেও মরিয়া তারা। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মানুষ কাকে ভোট দেবে, সেটা ওই দুই রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ সীমান্তের অপর পারে সমৃদ্ধিই দেখতে চায়। আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশে নিজের ভূখণ্ড দিয়ে যোগাযোগ-সুবিধা দিতেও কার্পণ্য নেই বাংলাদেশের। কিন্তু ঢাকার জন্য উদ্বেগের দিক হলো আরএসএস-বিজেপি পরিবারের উত্থান রাজনৈতিক পূর্ণতা পেয়ে বাংলাদেশ ও বাংলাভাষীদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়াতে পারে। তাতে সীমান্তের এদিকেও খারাপ প্রতিক্রিয়া হবে। এই দুই দৃশ্য মিলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রত্যাশিত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা বাড়ায়। বাংলাদেশিরা বরাবর চেয়েছে সীমান্তের ওপারে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সবল উপস্থিতি, যারা বাংলাদেশকে দেখবে ৫০ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধকালীন সহানুভূতির চোখ দিয়ে। আলতাফ পারভেজ: দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ে গবেষক | 9 |
বাগেরহাটে কৃষি এবং ইউনিয়ন পরিষদের সেবাগুলোর স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার মাধ্যমে নিশ্চিতে মঙ্গলবার সকালে কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান মিলনের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাব্বেরুল ইসলাম, বাগেরহাট সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভিন, বাগেরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা ওবাগেরহাট জেলা সমন্বয়কারী (এলজিএসপি-৩) পার্থ প্রতিম সেন। গণশুনানিতে সেবা গ্রহীতারা কৃষি এবং ইউনিয়ন পরিষদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়মের কথা তুলে ধরেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেই সকল সমস্যার সমাধানকল্পে পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
সাগর বললেই আমাদের চোখে ভাসে পতেঙ্গা, কক্সবাজার অথবা সেন্ট মার্টিনের কথা। কিন্তু চট্টগ্রামেই আছে অসাধারণ এক সৈকত। সেখানে সাগরপাড়ের সবুজের ভুবন, বালু নেই। পা ফেলতেই কাদামাখা মাটির আস্তরণে নরম ঘাসের রাজত্ব। দুই দিকে কেওড়া বন। সেই বনের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ছোট্ট একটি খাল। খালের পাশ ধরে সামনে দেখা যাবে বিশাল জলরাশি আর তার ঢেউ। আছড়ে পড়ছে একেবারে তীরে-সবুজ ঘাসের ওপর। তবে গর্জন কম। কিছুটা আটপৌরে এখনো। দেখে মনে হবে, লজ্জা কাটেনি তার।না, এখানেই শেষ নয়। পরিবেশটা একেবারেই সুনসান। খানিক পর সূর্য রানি পশ্চিমে যাবেন। তারপর টুপ করে ডুব দেবেন সমুদ্রের জলে। আর তাতেই বাড়বে মায়া। বাড়বে ভালোবাসার টানে ফিরে আসার তাড়া।চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে এই সৈকত। নাম গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অবশ্য এই জায়গা মুরাদপুর বিচ নামে পরিচিত। প্রতিদিনই দলে দলে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় করছেন সীতাকুণ্ডের এই গুলিয়াখালী সৈকত ওরফে মুরাদপুর বিচে।মন ভাসাইয়া দেগুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত আর প্রকৃতির মাখামাখি বহুদিনের। সাগরপাড়ে যাওয়ার পথে রয়েছে সবুজ ঘাসের ছোট ছোট মাটির চাক বা কুণ্ড। সেখানে পা দিয়েই এগিয়ে যেতে হয় ঢেউয়ের কাছে। ইচ্ছে করবে হাত-পা এলিয়ে দিয়ে সাগরকে উঁকি দেওয়া নীলাকাশ দেখার। ঢেউয়ের ওপর সাদা মেঘের ভেলা। খেলছে আনমনে। যত দূর চোখ যায় উত্তাল তরঙ্গ। মন কেড়ে নেয় সহজে।ওই তো, সাগরপাড়ে উড়ে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির দল। কোথা থেকে আসছে এত পাখি? কাদা জলে উদোম গায়ে ফুটবলে মেতেছে একদল কিশোর। ইচ্ছে হলে নেমে পড়তে পারেন ওদের সঙ্গে, মনের আনন্দে।সাগরের ঢেউয়ে দুলছে নৌকা। জেলেরা ফিরে আসছেন মাছ নিয়ে। পাড়েই রয়েছে অনেক বোট। ঘুরে আসতে পারেন ঘণ্টাখানেক। সাগরের বুকে জড়িয়ে থাকা সন্দ্বীপের দৃশ্য মনটা ভালো করে দেবে। বিকেল গড়াতেই সূর্য ডুবে যায়। ম্যানগ্রোভ বনের হাতছানি ডাক দেয় চুপিচুপি। এখানে দাঁড়িয়ে দূর থেকে সূর্যাস্ত দেখার মজাটা সত্যি অন্য রকম! এ যেন সুন্দরবনসাগরের পাড়েই কেওড়াগাছের গহিন বন। চোখে পড়ে সারি সারি শ্বাসমূল। জোয়ারের সময় সেই বনের গাছের ফাঁকে ঢুকে যায় সাগরের পানি। নৌকাভ্রমণে গিয়ে মনে হবে, আরে, সুন্দরবনে চলে এলাম না তো!অনেকে প্রিয় মুহূর্তটা স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে ছবি তুলতে ভুল করেন না। গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত অসংখ্য ছোট খালের মিলনস্থল। এসব খালে ছোট নৌকা দিয়ে ঘুরে বেড়ানো যায়। ভাটার সময় দারুণ লাগে পুরো সৈকত। তবে সাগরের কাছে এসেই জোয়ার-ভাটার তথ্যটা টুকে নিতে হবে আপনাকে। নইলে কাদামাখা পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হবে যে!বদলে যাচ্ছে পর্যটন স্পটগুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতের অবারিত সম্ভাবনা একে আরও জনপ্রিয় করে তুলছে দিন দিন। সরকার এই সৈকতকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে হাতে নিয়েছে নানা পরিকল্পনা। যার মধ্যে রয়েছে রেস্টুরেন্ট, আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট, নৈসর্গিক কাঠের সেতু, পার্কিংসহ অনেক কিছু।সীতাকুণ্ডের ইউএনও মো. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, বর্ষাকালে যাতায়াত করতে এসে কেউ যাতে দুর্ভোগে না পড়েন, তাই সেতু নির্মাণের দিকে তাঁরা নজর দিয়েছেন।আনন্দের খবর হচ্ছে, এই বিচে প্রবেশে কোনো বাধা নেই। লাগবে না প্রবেশ ফি কিংবা টাকাপয়সা। এই বিচে ঢাকা থেকে সপরিবারে বেড়াতে এসেছেন সালাউদ্দিন রেজা। তিনি বলেন, 'চমৎকার একটি বিচ। ভালো লাগল। কক্সবাজারের মতো অত গর্জন নেই। নীরব। শান্ত ঢেউ।'যাওয়ার পথটা খুব সহজসীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে যেতে হলে আপনাকে স্থানীয় বাজারে আসতে হবে। মানে সীতাকুণ্ড বাজার। সীতাকুণ্ড উপজেলায় গাড়ি থেকে নেমেই বাজারে চলে আসা খুব সহজ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই গুলিয়াখালী সৈকতে যাওয়ার রাস্তা। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে সাগরের বেড়িবাঁধে গিয়ে নামতে হবে।এরপর সামনে এগোলেই চমৎকার বিচটি। অনেকে চট্টগ্রাম শহরে রাত যাপন করে পরদিন সকালে গুলিয়াখালীতে চলে যান। চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ড যেতে লাগে মাত্র এক ঘণ্টা। দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। সারা দিন থেকে সন্ধ্যায় আবার শহরে ফিরে আসা যায়। চট্টগ্রাম শহরের অলংকার মোড়, এ কে খান মোড়, কদমতলী স্টেশন থেকে প্রচুর ছোট-বড় লোকাল গাড়ি ছাড়ে সীতাকুণ্ডের উদ্দেশে।ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৬০-১০০ টাকা। কেউ কেউ ফেনী থেকে বিচের সৌন্দর্য দেখার জন্য সীতাকুণ্ডে আসেন। তখন ভাড়া পড়বে ৮০-১৬০ টাকা। তবে সমুদ্রসৈকতে আসা-যাওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড বাজার থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে নেওয়াই ভালো।সতর্কতাখাবারের প্যাকেটসহ কোনো প্লাস্টিক পণ্য যেখানে-সেখানে ফেলবেন না।জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে।সন্ধ্যার পর সৈকতে অবস্থান করবেন না। | 4 |
ফেসবুকে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আটক মিঠুন কুমার মন্ডলকে (২২) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় মামলা দায়ের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখায় থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার মিঠুন যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নারিকেলী গ্রামের জুগল মন্ডলের ছেলে। সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াছিন আলম চৌধুরী জানান, দেশের চলমান ধর্ষণ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করছেন। তেমন এক ব্যক্তির প্রতিবাদী কমেন্টে মিঠুন কুমার তার ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করেন। এটির স্কিনশর্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রশাসনের দৃষ্টিতে আসে। পরে সোমবার ভোর রাতে নিজের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিকালে দেবহাটা থানায় সোপার্দ করা হয়। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, আটক মিঠুন কুমার মন্ডলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সন্ধ্যায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে মিঠুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার ছাত্রত্ব কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। সোমবার সকালে যবিপ্রবির উপাচার্যের কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটি, শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা সমিতির জরুরি সভায় তার ছাত্রত্ব বাতিলের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। | 6 |
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে টটেনহ্যামকে ১-১ গোলে আটকে দিয়েছে এভারটন। এমনই শিরোনাম হওয়ার কথা ছিল ম্যাচের। কিন্তু সব ছাড়িয়ে বড় হয়ে উঠেছে আন্দ্রে গোমেজের ইনজুরি। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে এভারটনের পর্তুগিজ তারকা আন্দ্রে গোমেজকে পেছন থেকে ট্যাকল করেন দক্ষিণ কোরিয়ান ফুটবলার সন হিয়ং-মিন। একই সঙ্গে স্পার্স রাইট ব্যাক সার্জ অরিয়েরও গোমেজকে ট্যাকল করেন। তাদের ট্যাকলের মুখে পড়ে রোববার রাতের ম্যাচে গোমেজের ডান গোড়ালি স্থানচ্যুত হয়ে যায়। মাঠে পড়ে থাকা গোমেজের হয়তো ততক্ষণে বুঝতে বাকি নেই তার ক্যারিয়ার শঙ্কায় পড়ে গেছে। সনও হয়তো বুঝে ফেলেছেন কী ক্ষতিই না তিনি করে ফেলেছেন গোমেজের। মাঠের মধ্যেই তাই হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন দক্ষিণ কোরিয়ান এ ফরোয়ার্ড। ফাউলের জন্য প্রথমে সনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরেই দেখান লাল কার্ড। কিন্তু তাতেও যেন সনের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি গোমেজকে দেখে কেঁদেই চলেছেন। আন্দ্রে গোমেজ একই সঙ্গে লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে খেলেছেন। বার্সেলোনায় মেসির সঙ্গে খেলেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন রোনালদোর সঙ্গে। বার্সেলোনা থেকে গত মৌসুমে ধারে এভারটনে এসেছেন তিনি। পরে স্থায়ী চুক্তিও করেছেন এভারটনের সঙ্গে। কিন্তু যে ভয়ংকর ইনজুরিতে তিনি পড়েছেন তাতে কবে নাগাদ সুস্থ হবেন তা নিয়ে আছে সংশয়। সুস্থ হলেও মাঠে ফিরতে পারবেন কি-না সেই প্রশ্নও আছে। গোমেজের ইনজুরি নিয়ে এভারটনের সাবেক ফুটবলার প্যাট নেভিন বলেন, 'খেলোয়াড়রা ভেঙে পড়েছিল। সবাই হতচকিত হয়ে পড়েন। পাগলের মতো কাঁদতে থাকেন সন। অরিয়ের তো প্রার্থনা শুরু করেন।' ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত টটেনহ্যামের ফুটবলার ডেলে আলি বলেন, 'গোমেজের পা দেখে আমি বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারিনি। সন হতাশ হয়ে কাঁদতে থাকেন। এটা তার ভুল নয়। আমার দেখা মতে সন সবচেয়ে ভালো একজন মানুষ। সে বিশ্বাসই করতে পারছিল না।' পায়ে আঘাতের পরই পর্তুগিজ ফুটবলারকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। রোববারই তার সার্জারি হওয়ার কথ। | 12 |
অটোরাইচ মিলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বাজারজাতকরণের দাবি জানিয়েছে মালিকরা। শনিবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের ঘাটিয়া বাজারস্থ শংকর সিটির হলরুমে সিলেট বিভাগ অটোরাইচ মিল মালিক সমিতির বিশেষ সভায় এ দাবি জানানো হয়। সিলেট বিভাগ অটোরাইচ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শংকর পালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ চৌধুরী পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অটোরাইচ মিল মালিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম খান। বক্তব্য রাখেন সিলেট বিভাগ অটোরাইচ মিল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শাব্বির এ চৌধুরী, আসাদুজ্জামান রনি, হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি মো. ছামির আলী, সাধারণ সম্পাদক আনিছুজ্জামান রাজীব, সুনামগঞ্জের মিল মালিক সমিতির নেতা আব্দুল ওয়াহিদ, ফারুকুজ্জামান চৌধুরী, জিয়াউল হক, মোঃ আব্দুল্লাহ শাকির, মোশারফ হোসেন চৌধুরী, শাহ আলম, নজরুল ইসলাম, মুকসুদ আলী, সাহেদ মিয়া তুলকাদর, সোহেল মিয়া, হাজী মো. রনু মিয়া, আমিনুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, রাইচ মিল মালিকদের যেসব সুযোগ পাওয়ার কথা রয়েছে, তারা তা পাচ্ছেন না। বরাদ্দকৃত চাল উৎপাদন করতে গেলে রাইচমিল মালিকদের ঘন ঘন বিদ্যুত বিভ্রাটে পড়তে হচ্ছে। তারা মিলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে সারাদেশের অটোরাইচ মিল মালিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
'স্টেশনে ১৬ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছিলাম। তারপর হুড়োহুড়ি করে ট্রেনে উঠি। সিটে বসে থাকলেও ঘাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীরা। চরম গরমে এভাবেই এলাম। এখন রাজশাহীতে নামতেই স্বস্তি লাগছে। এত ভোগান্তির সবই ভুলে গেলাম।' -শুক্রবার দুপুর ১২টায় ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে রাজশাহী এসে স্টেশনে নেমে এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করেন পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার বাসিন্দা জুলফিকার আলী। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢাকায় কর্মরত জুলফিকার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছেন।ঢাকা-রাজশাহী রুটের পদ্মা এক্সপ্রেসের রাজশাহী পৌঁছানোর কথা ভোর সাড়ে ৪টায়। সেই ট্রেন আসে সকাল ৭টায়। তবুও যাত্রীদের কোনো অভিযোগ নেই। রাজশাহী ফিরতে পেরেছেন এটিই বড় কথা। স্টেশনে নেমেই একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আনিকা তাবাসসুম নামের এক তরুণী বললেন, 'অবশেষে রাজশাহী! ঈদের সময় ট্রেনে বাড়ি ফেরাটা যুদ্ধে জয়লাভ করার মতো বিষয়। সেই যুদ্ধেই জয় করে এলাম। এ জন্য কষ্টটাও কম করতে হয়নি। ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছিলাম। পায়ে ব্যথা ধরে গিয়েছিল। শেষমেশ রাজশাহী এলাম। ঈদটা শেষ করে আবার ঠিকমতো ফিরতে পারলেই হয়।' রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, ট্রেনগুলো প্রায় ঠিক সময়েই রাজশাহী আসছে। কোনো কোনো সময় কিছুটা হয়তো বিলম্ব হচ্ছে। ঈদের সময় এমনটা বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে। তবে যাত্রীরা নিরাপদে ফিরতে পারছেন এতেই স্বস্তি।ট্রেনের যাত্রীদের মতো একইভাবে রাজশাহীর ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকাতেও যাত্রীরা প্রাণের শহরে নেমে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তবে রাস্তায় কোথাও কোথাও যানজটের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।তুহিনুর আলম নামের এক ব্যক্তি সড়কপথে ঢাকা থেকে রাজশাহী এসে জানান, পুরো রাস্তা মোটামুটি ভালোই আছে। কিন্তু কোথাও কোথাও কাজ চলছে। সে কারণে যানজট দেখা দিয়েছে। ছয় ঘণ্টার পথ পার হয়ে এসেছেন সাড়ে ৯ ঘণ্টায়। তবুও তিনি খুশি। | 6 |
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নে কোটি টাকার সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক হয়নি গত ৮ বছরে। এতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে গিয়ে, মই বেয়ে উঠতে হয় সেতুতে। ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মিজান মুন্সির বাড়ি সামনে মাইনী নদী ওই সেতু নির্মাণ করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনী নদীর পূর্বপাশে অন্তত ৫০টি পরিবার বাস করে। তাদের নদী পারাপারের জন্য ২০১২-১৩ অর্থ বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু তৈরি করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। মিজান মুন্সির বাড়ি সামনে সেতু নির্মাণের ৮ বছর পার হলেও দুইপাশে সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। এতে এলাকার জনসাধারণ সেতু দিয়ে পারাপার করতে পারছে না। সম্প্রতি সরেজমিনে এই অবস্থা দেখে গেছে।এলাকাবাসী জানান, সেতু সচল থাকলে পূর্ব পারের বাসিন্দা ও কৃষকদের উৎপাদিত আম, লিচু, কলা, কচু, হলুদসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল খুব সহজে বাজার করতে পারতে পারতেন। তারা বলেন, এত টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণ করার পরও যদি জনগণের উপকারে না আসে, তাহলে এই সেতু নির্মাণের কারণ কী? সেতুটির দুই পাশে মাটি দিয়ে সড়কের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।স্থানীয় বাসিন্দা মিজান মুন্সি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে মই দিয়ে সেতুতে উঠে পারাপার হতে হয়। এভাবে মই দিয়ে সেতুতে উঠে পারাপার হতে গিয়ে অনেকেই পড়ে আহত হয়েছেন। বিশেষ করে শিশু-বয়স্কদের জন্য সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।খালের পূর্ব পারের বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, 'পূর্বপারে আমরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার বসবাস করি। হাটবাজার, স্কুল-কলেজ সবই পশ্চিম পারে। তাই প্রতিদিনই কোনো না কোনো কাজে আমাদের ওপারে যেতে হয়। এই বিবেচনায় ২০১২ সালে সেতুটি নির্মাণ হলেও গত আট বছরেও এই সেতু আমরা ব্যবহার করতে পারছি না।'স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান জানান, সেতুটি এলাকার মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে এর সুফল পাচ্ছে না জনগণ। তিনি কর্তৃপক্ষের নিকট কাজটি দ্রুত শেষ করার দাবি জানান।আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন, 'সেতুটি যেহেতু জেলা পরিষদ করেছে তাই জেলা পরিষদই সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়কের কাজটাও সম্পূর্ণ করতে পারে। জনগণের চলাচলের কথা চিন্তা করে কাজটি দ্রুত করা প্রয়োজন।'এ বিষয়টি কথা বলতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকৌশলী মো. এরশাদ হোসেনের মোবাইল ফোনে গতকাল বৃহস্পতিবারসহ একাধিক দিন কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। | 6 |
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন, চীন যতই শক্তিশালী হয়ে উঠুক না কেন, কখনোই আধিপত্য কামনা করবে না। বিশ্বব্যাপী আরও 'সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত' শাসনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার চীনের হাইনান প্রদেশে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। বেশ কয়েক বছর ধরেই মানবাধিকার, অন্যায্য বাণিজ্য পদ্ধতিসহ নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া এবং ইউরোপের দেশসহ নানা অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতে রয়েছে চীন। এই দেশগুলোর উদ্বেগ যে চীনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বৈশ্বিক শৃঙ্খলাকে হুমকির মুখে ফেলছে। সি চিন পিং বলেন, শক্তিশালী হলেও চীন কখনোই আধিপত্য, সম্প্রসারণ বা প্রভাবের ক্ষেত্র চাইবে না, চীন কখনো অস্ত্রের লড়াইয়ে অংশ নেবে না। বরাবরই এমন দাবি করছিলেন সি। আজকের সম্মেলনে সেই সুরেই কথা বলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, চীন বিশ্বায়ন ও বহু পাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থায় সেরা। আন্তর্জাতিক বিধিগুলো কেবল একটি বা কয়েকটি দেশ দ্বারা নির্ধারণ করা উচিত নয়। কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে সি বলেন, বড় দেশগুলোর আরও দায়বদ্ধতার সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত, যা তাদের মর্যাদাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করে। তিনি স্নায়ুযুদ্ধ ও আদর্শিক সংঘাতের বিরুদ্ধেও কথা বলেন। তিনি বলেন, অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপকারী কোনো দেশই সমর্থন পাবে না। কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ অনেক দেশ চীনের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। দেশগুলো চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের বিরুদ্ধেও সরব। অন্যদিকে বেইজিং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছে। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন শীর্ষস্থানীয় দেশ, বিশ্বের ধনী দেশ এবং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হয়ে ওঠার সামগ্রিক লক্ষ্য নিয়েছে। তবে তাঁর নজরদারির অধীনে এটি তিনি হতে দেবেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সি চিন পিং জানান, আধিপত্য কামনা করে না চীন। | 0 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তাকে দিল্লি এইমসের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত বছর মে মাসে বুকে ব্যথা নিয়ে একবার এইমসে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়েছে। তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে টুইট করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। টুইটে তিনি লেখেন, 'প্রিয় মনমোহন সিংজি আপনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এই সঙ্কটের সময়ে দেশ আপনার পরামর্শপেক্ষী।' এদিকে উত্তর প্রদেশে (ইউপি) করোনা সংক্রমণ কপালে ভাঁজ ফেলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এই আবহে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে ইউপি'র পাঁচ রাজ্যে লকডাউনের নির্দেশ দিল এলাহাবাদ কোর্ট। আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই লকডাউন বলবৎ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। যেভাবে ইউপিতে সংক্রমণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে, সেদিক বিবেচনা করে প্রয়াগরাজ, লখনউ, বারানসী, কানপুর এবং গোরক্ষপুরে লকডাউনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটির মোট সংক্রমণের প্রায় ৭৯% এসেছে মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান থেকে। এই তালিকায় পরের রাজ্যগুলো হলো- তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, গুজরাট, কেরল, মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিশগড়। এদিন আইসিএমআর কর্তা মোহন ভার্গব বলেন, 'করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অক্সিজেনের চাহিদা তুঙ্গে। তবে এবার উপসর্গ খুব কম। এবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা গিয়েছে। কিন্তু আগের বার শুকনো কাশি, গাঁটে ব্যথা আর মাথাব্যাথার মতো উপসর্গ ছিল।' সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস | 3 |
সুনামগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর আয়োজন করে।পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। শোভাযাত্রায় মানবতাবিরোধী অপরাধী রাজাকারদের বিচারের দাবিতে ফাঁসি মঞ্চের প্রদর্শন করা হয়। | 6 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার অভিযোগ করেছেন, তার বাড়ির বাইরে বুধবার রাত ১১টার পর পেট্রোলিং করে ডিবি ও পুলিশ মহড়া দিয়ে নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তাদের এহেন কর্মকাণ্ড নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশকে বিষাদময় করে তুলছে তিনি মন্তব্য করেন। তৈমূর বলেন, তারা আমাদের উসকানি দিচ্ছে যেন আমরা পরিবেশ নষ্ট করি, তবে আমরা পাতা ফাঁদে পা দেব না। বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাতে অভিযোগ করে এসব কথা বলেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চায়না পারভীন নামে এক নারীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দুপচাঁচিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চায়না। তিনি জানান, এক নারীর সঙ্গে জাহিদুলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।বিষয়টি জেনে যাওয়ায় এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তাঁর কলহ চলছিল। এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যায় চায়নাকে বেধড়ক মারধর করেন জাহিদুল। মারধরের একপর্যায়ে রড দিয়ে আঘাত করেন তাঁর স্বামী। এতে চায়নার ডান হাত ভেঙে যায়। এ সময় মাকে মারধরের থেকে বাঁচাতে ছেলে পারভেজ এগিয়ে আসেন। কিন্তু তাঁকেও মারধর করেন তাঁর বাবা। পরে দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান স্বজনরা।জানতে চাইলে দুপচাঁচিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদুল ইসলাম বলেন, মারধরের শিকার চায়না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন। ওই পরিবারকে থানায় ডাকা হয়েছে। তারা এলে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
রেল খাতে নতুন অর্থবছর ২০২২-২৩ এর প্রস্তাবিত বাজেটে ১৮ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকার পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই খাতে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ১৬ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় এবার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দুই হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা।আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতার মাধ্যমে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর চতুর্থ বাজেট। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট এটি।দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে ব্যাংক থেকেই ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে।জাতীয় বাজেট সম্পর্কে জানতে: এখানেক্লিককরুনবাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ রেলওয়ের ৩০ বছর মেয়াদি (২০১৬-২০৪৫) সংশোধিত মহাপরিকল্পনা অনুসারে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে কক্সবাজার, মোংলা বন্দর, টুঙ্গীপাড়া, বরিশাল, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য এলাকা রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে ও আঞ্চলিক রেলওয়ে যোগাযোগ স্থাপন এবং উন্নত কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালুর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরসমূহের সঙ্গে নিকটবর্তী শহরতলীর যোগাযোগ স্থাপনের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ মহাপরিকল্পনার আওতায় ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।'এই সম্পর্কিত পড়ুন:বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৮১ হাজার ৪৪ কোটি টাকাদাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যেরজরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১ হাজার মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তাবাজেটে ঘাটতি বেড়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকাআমরা কি 'ফাঁপা' অর্থনীতিতেই আস্থা রাখছি?মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জনারীর জন্য কেমন বাজেট প্রয়োজনবড় অঙ্কের কঠিন বাজেট আসছে | 0 |
শীতের দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফুল নিয়ে এবারও মেলা বসেছে রাজশাহী নগরীর মনিবাজারে। প্রকৃতিপ্রেমী ও সৌন্দর্যপিপাসু দর্শনার্থীরা মেলায় গিয়ে পরিচিত হচ্ছেন নানা প্রজাতির ফুলের সঙ্গে। ক্রীড়া সংগঠন 'বৈকালী সংঘ' পাঁচ দিনের এ পুষ্পমেলার আয়োজন করেছে। সোমবার সকালে পুষ্পমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক হাসান আখতার, ওয়ান ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান, বৈকালী সংঘের সভাপতি মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক রইস উদ্দিন আহমেদ বাবু। আয়োজকরা জানান, ফুল বিক্রি করা নয়, এ পুষ্পমেলার উদ্দেশ্য হলো ফুল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ জাগিয়ে তোলা। তাই ১৯৮৫ সাল থেকে এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, মেলায় ১৯টি স্টলে সাজানো রয়েছে নানা জাতের ফুলগাছ। দর্শনার্থীদের কেউ সেসব ছুঁয়ে দেখছেন, কেউ কেউ সেলফি তুলছেন ফুলের সঙ্গে। কেউ এসেছেন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে, কেউবা সপরিবারে। প্রথম দিনই তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে মেলা জমে উঠেছে। দর্শনার্থী শিক্ষার্থী জেসমিন জানালেন, এবারই তিনি প্রথম পুষ্পমেলায় এসেছেন। এত প্রজাতির ফুল একসঙ্গে আগে কখনও দেখেননি তিনি। তার মন ভরে গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মেহেরুন নেসা বলেন, একই ফুলের যে এত রঙ আর বৈচিত্র্য থাকতে পারে, তা এখানে না এলে জানা হতো না। শিক্ষার্থী সাবরিনা অভিযোগ করেন, মেলায় ফুলগাছের দাম নার্সারির চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ চাওয়া হচ্ছে। অথচ তারা ভেবেছিলেন, মেলায় হয়তো তুলনামূলকভাবে কম দামে চারা পাওয়া যাবে। পুষ্পমেলায় অংশ নেওয়া বৃক্ষবাজার অ্যান্ড নার্সারি স্টলের মালিক শফিউজ্জামান জানালেন, তার স্টলে শুধু গোলাপই আছে ১৫ প্রজাতির। সর্বনিম্ন ৩০ থেকে তিন হাজার টাকা দামের ফুলের গাছ রয়েছে তার স্টলে। তিনি বলেন, দাম বেশি নয়, স্বাভাবিকই রয়েছে। 'মা নার্সারি' স্টলের মালিক শামীম জানান, তার স্টলে স্টার, গ্যাজানিয়া, গাঁদা, গোলাপ, ডালিয়া, জার্বেরা, ক্রিজিয়াম, সালেসিয়া, ইফোরবিয়াসহ নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল রয়েছে। মেট্রোপলিটন নার্সারির মালিক ইসমাইল হোসেন জানান, মেলায় প্যানাজি, ভারবেনা, অর্কিড, এন্টিরাইনাস, বেগুনিয়া, ইফুরভিয়া, ক্যামেলিয়া, নেস্টিসিয়াম, সিলভিয়া, জিনিয়া, ডানথ্রাসসহ প্রায় ২৫০ প্রজাতির ফুল রয়েছে। মেলা উপলক্ষে সব ফুলের গাছের দামই কম রাখা হয়েছে। বৈকালী সংঘের সভাপতি রইস উদ্দিন বাবু বলেন, আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশি ফুলের সঙ্গে বিদেশি জাতের নানা ফুল এখন মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত মানুষের বাগান ও ঘরবাড়ির সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে। নামি-দামি অনেক ফুলই সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। এসব বিবেচনা করেই প্রতিবছর মেলা করছি। এবার মেলা চলবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চলবে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এর আয়োজনে সহায়তা করেছে ওয়ান ব্যাংক। সবার কাছে মেলাকে অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে এবারও নানা বয়সী শিশুদের জন্য আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, দেশের গান ও ছড়াগান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। | 6 |
পঞ্চগড়ের মানিকপীর এলাকায় অতিবৃষ্টিতে পানির তোড়ে ভেঙে গেছে একটি ব্রিজ। শুক্রবার পঞ্চগড় মাড়েয়া-দেবীগঞ্জ জেলা সড়কের ওই এলাকায় ব্রিজটি ভেঙে যায়। এতে সড়ক দিয়ে পথচারীসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এদিকে শনিবার দুপুরে রেলমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য (পঞ্চগড়-২) নূরুল ইসলাম সুজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জনভোগান্তি লাঘবে দ্রুত স্থানীয়দের চলাচল স্বাভাবিক করতে সড়ক ও জনপদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এ সময় বোদা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আলম টবি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। গড়েরডাঙ্গা তেপুকুরিয়া এলাকার আব্দুল হামিদ বলেন, কয়েক দিন ধরে অতি বৃষ্টির কারণে হঠাৎ সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। আমরা এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করি। জেলা শহরে যেতে হলে আমাদের এই সড়ক দিয়েই যেতে হবে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করা দরকার। বেংহারী বনগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, মূলত পানির স্রোতে ব্রিজের একটি অংশ ও সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ঘটনাস্থল দেখে গেছেন। আশা করি দ্রুত একটা ব্যবস্থা হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পানির তোড়ে ব্রিজের ১৮ ফুট সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। গত অর্থবছরে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কের ১১ কিলোমিটার সংস্কার কাজ করা হয়। আপাতত সেখানে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। | 6 |
সহজ জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। শুক্রবার রাতে (বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে) মেক্সিকোকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে মেসিহীন আর্জেন্টিনা।আর্জেন্টিনার করদোবায় মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। বিরতির আগে ভিয়ারিয়ালের ডিফেন্ডার রামিরো ফুনেস মোরি দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর ম্যাচের শেষের দিকে আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য দুই গোলে এগিয়ে যেতে পারত মেক্সিকো। কিন্তু রাউল হিমিনেসের হেডে বল লাগে পোস্টে। আর ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া ফাবিয়ানের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকান গোলরক্ষক আগুস্তিন মার্চেসিন। ৩৮তম মিনিটে পাওলো দিবালার দুর্দান্ত ক্রসে পোস্টের ঠিক সামনে থাকা লাউতারো মার্তিনেসের হেড পা দিয়ে কোনোমতে গোলরক্ষক গিলের্মো ওচোয়া ফিরিয়ে দিলে নষ্ট হয় আর্জন্টিনার খুব ভালো একটি সুযোগ। ৪৪তম মিনিটে অবশেষে দিবালার মাপা ফ্রি-কিকে হেডে কাছ থেকে বল জালে পাঠান মোরি। বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। ৫০তম মিনিটে কয়েকজনকে কাটিয়ে ওচোয়ার মাথার ওপর দিয়ে চিপ করেছিলেন দিবালা। তবে বল ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ ম্যাচ খেলেও জালের দেখা পেলেন না ইউভেন্তুসের এই ফরোয়ার্ড। ৮৩তম মিনিটের সারাভিয়ার ক্রসে বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজের জালেই জড়িয়ে দেন ইসাক ব্রিসুয়েলা। ভারপ্রাপ্ত কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে পাঁচ ম্যাচে এটি আর্জেন্টিনার তৃতীয় জয়। অন্যদিকে শেষ সাত ম্যাচের ছয়টিতেই হারল মেক্সিকো। বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার সকাল ছয়টায় আর্জেন্টিনার মেনদোসায় আরেকটি প্রীতি ম্যাচে আবার মুখোমুখি হবে দুই দল। | 12 |
চামড়া রফতানির দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলে চামড়ার দাম ভালো হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বুধবার সকালে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ বাসভবনে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান। টিপু মুনশি বলেন, চামড়া বাজারের কথা বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। ট্যানারি মালিক ও চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিলো যেন তারা নির্ধারিত দামে চামড়া কেনেন। আমরা ঈদের দিন থেকে লক্ষ করলাম, চামড়ার দাম গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নেই। এভাবে চলতে পারে না, তাৎক্ষণিকভাবে চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মূলত কোরবানির পশুর চামড়া মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করা হয়। সেই চামড়া অনেক কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ইউনিয়ন-উপজেলা পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা লবণ দিয়ে চামড়া কিছুদিনের জন্য সংরক্ষণ করতে পারলে রফতানির জন্য ভালো দাম পেতে পারেন। তাই আমরা চামড়া রফতানি করার অনুমতি দিয়েছি। 'সরকার গরিবের হক মারছে' বিএনপির এমন মন্তব্যের ব্যাপারে টিপু মুনশি বলেন, সমালোচনা করাই হচ্ছে বিএনপির কাজ। ভালো কাজ কখনোই তাদের চোখে পড়ে না। সমুদ্র জয় যখন হয়েছিলো তখন প্রাথমিকভাবে তারা ইতিবাচক মন্তব্য করলেও পরে নেতিবাচক মন্তব্যে ঘুরে দাঁড়ায়। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে যে ক্রেজ ছিল, সেটা এখন কিছুটা স্তিমিত। নানা ধরনের ফ্যাকড়ায় পড়ে ক্রিকেট দ্যুতিহীন হয়ে যাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে যদি ছিটেফোঁটা সাফল্য কিছু এসে থাকে, তবে তা আসছে মেয়েদের কাছ থেকে। ছেলেরা প্রতিযোগিতায় গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছে। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, ভালো কোচ, ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকাণ্ড, খেলোয়াড়দের অনুশীলনসহ নানা জটিল বিষয় এখন উঠে আসছে এবং বোঝা যাচ্ছে, সমন্বয়হীনতা, পারস্পরিক বিশ্বাসবোধের অভাব একটি দলকে কতটা অসহায় করে তুলতে পারে।ক্রিকেট আমাদের সর্বশেষ 'আনন্দ'টি দিয়েছে বিপিএল নিয়ে। রীতিমতো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে 'ফ্র্যাঞ্চাইজি' স্বত্বাধিকারী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল বিসিবি। সেই আহ্বানে সাড়াও পড়েছিল। কিন্তু ১০-১২টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও নানা বিবেচনায় ৮টি প্রতিষ্ঠানকে মালিক হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তার দুটো শর্ত পূরণ করতে না পারায় নেওয়া হয় আজব ও সহজ সিদ্ধান্তটি। বিসিবিই চালাবে একটি দল। এ ছাড়া যেন আর কিছুই করার ছিল না। এহেন পরিস্থিতিতে নিলাম যে পিছিয়ে দেওয়া যেত, এ রকম কথা একবারের জন্যও ভাবেনি কর্তৃপক্ষ। বরং ভেবেছে, নিজেরাই একটি দলের মালিক হয়ে প্রতিযোগিতায় নামবে!নানা ধরনের হাস্যকর ঘটনাগুলো যাঁরা ঘটিয়ে চলেছেন, তাঁরা একবারও দেশের ক্রিকেটের স্বার্থ নিয়ে ভাবছেন কি না, সে ব্যাপারে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। আজকের পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদনটিতে লেখা হয়েছে, এটা বিসিবির 'সরকারি' দল। কথাটা মিথ্যে নয় মোটেই। এই দলেই নাম লিখিয়েছেন বর্তমানে সাদা বলের দুই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর তামিম ইকবাল। আছেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও।১০ বছর ধরে বিপিএল চলছে। কোনো বছরেই তা প্রশ্নহীন থাকেনি। আরও বড় কথা, প্রশ্নগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঢাকাকে ঘিরে। ঢাকাকে নিয়ে এত বিতর্ক হচ্ছে কেন, সেটা কি আলোচনা হয়েছে কোথাও?সরকারি দল হিসেবে একটি দল যদি প্রতিষ্ঠা পেয়েই যায়, তাহলে প্রতিযোগিতায় স্বচ্ছতা আর জবাবদিহি থাকে কোথায়? এ যেন পরিবহন সেক্টরের মতো ব্যাপার। যিনি পরিবহন মালিক, তিনিই শ্রমিকনেতা, তিনিই সরকারি দলের সাংসদ। সুতরাং তিনি এ ক্ষেত্রে কার স্বার্থ দেখবেন, সে প্রশ্ন সব সময়ই থাকবে অমীমাংসিত।যে কটি পরিচয়ে আমরা গর্ববোধ করার পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি, তার মধ্যে ক্রিকেট রয়েছে সামনের সারিতে। এটা যে আমাদের অর্জন এবং এই অর্জন টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বমহলেরই যে স্বচ্ছতা আর জবাবদিহি দরকার, সে কথা আমরা ভুলে যাচ্ছি ক্রমেই। যদি মাঠে গড়ানোর আগেই নানা প্রতিবন্ধকতার জন্য জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে খেলোয়াড়রাই-বা পারফর্ম করবেন কী করে?আপাতত এই কথাটাই বলি: ফ্র্যাঞ্চাইজির টাকাপয়সা লেনদেনের সঙ্গে বিসিবি জড়ালে প্রতিযোগিতা স্বচ্ছ হয় না। সরকারি দল যদি নিজেকে জনগণ বলে পরিচয় দিতে চায়, তাতে তার দলীয় তকমা উধাও হয়ে যায় না। এই দিকটি বিবেচনা করে এ ধরনের হাস্যকর প্রবণতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বিসিবিকেই সচেষ্ট হতে হবে। | 6 |
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। কয়েকটি ইউনিয়নে দিনে ১৫ থেকে ২০ বারের বেশি লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটে। গ্রাহকের এই ভোগান্তিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন এলাকাবাসী।তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন সংযোজনের কাজ চলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।জানা গেছে, উপজেলা পোমরা, বেতাগী, সরফভাটা, চন্দ্রঘোনা, পারুয়া ইউনিয়নসহ, উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সর্বত্র লোডশেডিং চরম পর্যায়ে চলে গেছে। এর মধ্যে উপজেলার চন্দ্রঘোনার বনগ্রাম এলাকায় দিনের ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। পোমরা ও বেতাগী ইউনিয়নে দিনের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ বার লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ এসব এলাকার বাসিন্দারা।পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। বিদ্যুতের প্রধান কার্যালয় থেকে এমন নির্দেশনা রয়েছে। অন্যদিকে নতুন সংযোজনের কাজ চলছে। এতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হয়।গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুতের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি বলে প্রচার করা হচ্ছে। তাহলে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে কেন? যখন গরম বেশি পড়ে, তখন লোডশেডিং বেড়ে যায়। এতে ভোগান্তি বেশি হয়।তাঁরা বলেন, উপজেলায় ঘনবসতি বাড়ছে। অন্যদিকে কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড গরম পড়ছে। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বাসায় টেকা মুশকিল হয়ে পড়ে।গোচরা বাজারের ব্যবসায়ী মো. মোরশেদ বলেন, 'সকাল ১০টায় দোকান খোলার পর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয়বার বিদ্যুৎ গেছে। আবার ইফতারের সময় হলেই বিদ্যুৎ উধাও। রমজানজুড়ে যেভাবে লোডশেডিং, তাতে মনে হয়েছে পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে।'চন্দ্রঘোনার বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন বলেন, 'সকাল থেকে সন্ধ্যা-এমন কোনো সময় নেই যে, লোডশেডিং হচ্ছে না। এমনকি ইফতারের সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যায়। মাঝেমধ্যে দেখা যায় সাহ্রি খেতে বসলে বিদ্যুৎ চলে গেছে। রমজান এলে নানা বাহানায় লোডশেডিং বেড়ে যায়।'পোমরা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকার গৃহিণী রুমি আকতার বলেন, 'বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলা দেখে মনে হয়, বিদ্যুৎ যায় না, মাঝেমধ্যে আসে। গ্রীষ্মকাল আর রমজানে দিনের অর্ধেকের বেশি সময়ে বিদ্যুৎ থাকে না। অথচ বিল আসে আগের মাসের চেয়ে বেশি।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাধব নাগ বলেন, 'ঠিকাদার নতুন সংযোগের কাজ করছেন। বিদ্যুৎলাইন বন্ধ রেখে অন্যদিকে চালু করতে হয়। যার কারণে লোডশেডিং হয়ে থাকে। আর ঠিকাদাররা ইচ্ছেমতো কাজ করেন না। আমাদের কোনো কথা শোনেন না। তবে আমরা রমজান মাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। যাতে লোডশেডিং কম হয়।' | 6 |
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশে সমঝোতা চুক্তি হলেও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমন থামছে না। শুক্রবার সকালে আরও ৩১৫ জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হাড়িয়াখালী পয়েন্ট দিয়ে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।টেকনাফের সাবরাং হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রে দায়িত্বরত জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও টেকনাফ উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবির বলেন, শুক্রবার সকালে এ পয়েন্ট দিয়ে ৩১৫ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। তাদের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ দিয়ে দিয়ে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠানো হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রতিদিন এ পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা আসছে। রোহিঙ্গাদের ফেরতের বিষয়ে দু'দেশের মধ্যে চুক্তি হলেও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা অব্যাহত রয়েছে।শুক্রবার টেকনাফের হাড়িয়াখালী পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা মোহাম্মদ সুলতান মিয়া (৪৫) জানালেন, 'মিয়ানমারের বুচিডং (বুথেডং) টাউনশিপ টাইম্ম্যাখালী গ্রামে তার বাড়ি। ১০ দিন পায়ে হেঁটে পাহাড় ডিঙিয়ে মিয়ানমার মংডুর সীমান্তে চরে ডংখালী নামক এলাকায় পৌঁছান। আসার পথে কোনো গ্রামে লোকজনের দেখা মেলেনি। সবগুলো গ্রাম ছিল নির্জন, যেন মনে হয় মরুভূমি। ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে আছে। ডংখালী চরে এসে দেখা মেলে রোহিঙ্গাদের ঢল, যারা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষা করছিল। সেখানে আনুমানিক ২ হাজার মতো রোহিঙ্গা ছিল। তারা নৌকা না পেয়ে সবাই কান্নাকাটি করছিল। শিশুদের অবস্থা গুরুতর, তারা শীতে কাঁপছিল।'তিনি বলেন, 'বুচিডংয়ে (বুথেডং) আবারো নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে গিয়ে হুমকি ধমকি দিচ্ছে সেনাবাহিনী। ফলে আবারো অনেক মানুষ ভয়ে বাংলাদেশমুখী হওয়া শুরু করেছে। এপারে এক মাস আগে আমার এক চাচতো ভাই চলে আসে। তার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি নৌকা ভাড়া করে এপার থেকে নিয়ে পরিবারের ২০ সদস্যসহ ৩০ জনের একটি দল টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ নামক এলাকা দিয়ে এপারে প্রবেশ করি।'গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা অভিযানের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নৃশংসতা শুরু করে। এ অভিযানকে এরই মধ্যে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র 'জাতিগত নিধনযজ্ঞ' বলে অভিহিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ। এরপর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ লাখের মতো রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।এ ছাড়া আগে থেকেই পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এতে মোট রোহিঙ্গা সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। রাখাইনে শত শত বছর ধরে বসবাস করে এলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজেদের নাগরিক মনে করে না মিয়ানমার।বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয় বাংলাদেশের।চুক্তির পর এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী জানান, এবারের সমঝোতা অনুযায়ী গত বছরের অক্টোবর এবং এ বছরের ২৫ আগস্টের পর যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, মিয়ানমার শুধু তাদেরই ফিরিয়ে নেবে।
| 6 |
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা বলেছেন, শিশু হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮-কে পুরো দেশের স্কুল-কলেজেসহ সব মহলে প্রমোট করবে সরকার। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া হবে। শুক্রবার রাত ৮টায় শিশুদের প্রথম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'চাইল্ড মেসেজ' বাংলা বিভাগের আয়োজন 'শোনো আমাদের কথা' অনুষ্ঠানে নিজ বাসভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা জানান। জানা যায়, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলের ২৪ জন শিক্ষার্থী গত রাতে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছেন। শিশু ফাতিহা জানান, আমি সো হ্যাপি, আজ একজন এমপির সঙ্গে আড্ডা দিতে পারলাম। চাইল্ড মেসেজ'র নির্বাহী পরিচালক আরিফ বলেন, ইউনাইটেড ন্যাশনস কনভেনশন অন দ্য রাইটস অফ চাইল্ড থার্টিন বাস্তবায়নে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চাইল্ড মেসেজ পাবলিক রিলেশন অফিসার লিউ রিন্ডা বলেন, শিশুদের কথা সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্যে আরও বেশকিছু পরিকল্পনা শুরু করছেন তারা। শিশু হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮-কে পুরো দেশের স্কুল-কলেজসহ সব মহলে প্রমোট করলে দেশে শিশু নির্যাতন যেমন কমবে, তেমনি শিশুরাও সুরক্ষা হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
দিনাজপুরের মসজিদ থেকে আটককৃত ৪২ জনের মধ্যে ১১ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। আজ শনিবার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে আসামি পক্ষ থেকে কোন জামিনের আবেদন করা হয়নি। অপরদিকে পুলিশ অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লিমেন্ট রায় আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুনানীর দিন ধার্য করেন। পরে আসামিদের জেলা হাজতে পাঠানো হয়।এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর-বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলায় তিনটি মসজিদ অভিযানে চালিয়ে ৪২ জনকে আটক করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। আটককৃতদের মধ্যে পৃথক তিনটি মামলায় কোতয়ালী থানায় পাঁচজন, বিরল থানায় তিনজন ও বোচাগঞ্জ থানায় তিনজনকে আসামি করা হয়।কোতয়ালী থানায় আটককৃতরা হলেন, ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু থানার আবুল কাশেমের ছেলে রিদওয়ানুল হক (২১), ঢাকা মীরপুর এলাকার মৃত কামালউদ্দিন মজুমদারের ছেলে শাফাত আহমেদ বিন কামাল (২৭), চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই থানার ওয়াহেদপুর গ্রামের মৃত রুহল আমিনের ছেলে মহসিন ভূঁইয়া (২৪), কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানার চর হাজীপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ (২৪), ঢাকা মোহাম্মদপুর আজীজ মহল্লা এলাকার ওবায়দুল বারির ছেলে নাফিস আবির (৩০)। বোচাগঞ্জ উপজেলা থেকে আটককৃতরা হলেন, রংপুর সদরের মুন্সিপাড়া এলাকার নকিম উদ্দিনের ছেলে আবু সাহেদ হাসান রুপম (২৮), ঢাকা জেলার শ্যামপুর থানার অন্তর্গত জুরাইন রামুর হাট গ্রামের মোস্তফা খানের ছেলে জুনায়েদ খান (২৫), দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বড়ুয়া দৌলা গ্রামের ইয়াকুব মিয়ার ছেলে হুমায়ুন কবির (২৬), বিরল উপজেলা থেকে আটককৃতরা হলেন, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার নতুন বাবুপাড়া হাতীখানা মাছুয়া গাছতলা এলাকার আব্দুস সামাদ সাহেদের ছেলে সজল ওরফে সাব্বির আহমেদ (৩০), রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান (২৩) এবং কাউনিয়া উপজেলার নিজপাড়া এলাকার জামালউদ্দিনের ছেলে মুনিরুল ইসলাম (২২)।কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান কোতয়ালী থানায় পাঁচজনের নামে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাকিদের বিষয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সিদ্ধান্ত নেবেন।কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় প্রথমে শহরের মহারাজা মোড় এলাকায় বায়তুল ফালাহ মসজিদে অভিযান চালায়। এ সময় বৈঠকরত অবস্থায় জঙ্গি সন্দেহে মোট ১২ জনকে আটক করে তাঁরা। এ ছাড়া বিরল উপজেলার বিরল বাজার জামে মসজিদ থেকে ১৭ জন এবং সেতাবগঞ্জ এলাকার একটি মসজিদ থেকে ১৩ জনকে আটক করে। তাবলিগ জামায়াতের ৪০-৪৫ জনের একটি দল গতকাল ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে আসে। তাঁরা বিভিন্ন মসজিদে বসে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। কাউন্টার টেররিজম কাছে পূর্বে থেকেই এমন তথ্য ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করেছেন তারা। এ সময় তাদের কাছ থেকে কিছু বই, সিডি উদ্ধার করা হয়।দিনাজপুরে জঙ্গি সন্দেহে আটক ৪২ | 6 |
ড্রেসিংরুম থেকে ইশারায় মায়াঙ্ক আগারওয়ালের কাছে একটা ডাবল সেঞ্চুরি চেয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। মায়াঙ্ক ওকে সিগনাল দেখিয়েছিলেন।ছক্কা মেরে কোহলিকে সেই ডাবল সেঞ্চুরি উপহার দেন ভারতীয় ওপেনার। এরপরই অবশ্য কোহলি অভিনন্দনের সঙ্গে মায়াঙ্ককে ট্রিপল সেঞ্চুরির নির্দেশনা দেন। তবে মায়াঙ্ক আগারওয়াল ফেরেন ২৪৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে। তার ওই ইনিংসে ভর করে ইন্দোর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান তুলেছে ভারত। লিড নিয়েছে ৩৪৩ রানের। তারপরও ইনিংস ঘোষণা না করে তৃতীয় দিন সকালে ব্যাট করবেন না-কি বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাবেন সেই প্রশ্ন জিউয়ে রেখেছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ইন্দোর টেস্টের আগের দিন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন বলেছিলেন, টেস্টে প্রত্যেক দলের সামনেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটা সুযোগ আসে। প্রথম টেস্টে টস জেতা, ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মাকে ৬ রানে এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে শূন্য রানে ফেরানো ছাড়া প্রথম দুই দিনে আর কোন প্রাপ্তি নেই বাংলাদেশের। অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মিস করা ক্যাচগুলো আক্ষেপ হয়েই থাকবে বাংলাদেশ দলের কাছে। ইন্দোরে টস জিতে ব্যাট নেওয়া বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫০ রানে অলআউট হয়। জবাবে ব্যাটে নামা ভারত ইনিংসের শুরুতে আবু জায়েদের বলে রোহিতকে হারানোর পর মায়াঙ্ক আগাওয়াল এবং তিনে নামা চেতেশ্বর পূজারায় ভর করে ৯১ রানের জুটি গড়ে। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ৫৪ করে ফিরে যান পূজারা। ক্রিজে এসেই ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি দুই বল খেলে শূন্য করে আউট হন। আবু জায়েদের লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি। রিভিউ নিয়ে তাকে সাজঘরে ফেরায় বাংলাদেশ। এরপর ক্রিজে এসে আজিঙ্কা রাহানে দলের ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে নিয়ে জমাট জুটি গড়েন। তারা দু'জন ১৯০ রান যোগ করেন। সেঞ্চুরির পথে থাকা রাহানে ৮৬ রানে আউট হন। তাকেও ফেরান আবু জায়েদ। তবে মায়াঙ্গ আগারওয়ালকে কোণঠাসা করতে পারেনি বাংলাদেশের পেসার কিংবা স্পিনাররা। তিনি ক্যারিয়ারের ১২তম ইনিংসে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে দ্রুততম দুটি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। দারুণ ওই ইসিংস খেলার পথে ২৮টি চার ও আটটি ছক্কা মারেন। মায়াঙ্গ ফিরে যাওয়ার পরে ১২ রানে ফেরেন ঋদ্ধিমান সাহ। তবে অলরাউন্ডার রবিন্দ্র জাদেজা ৬০ রানের ইনিংস খেলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেন। তাকে সঙ্গ দিয়ে ১০ বলে ২৫ রান করেন উমেশ যাদব। এর আগে প্রথম দিনের সকালের পেস সহায়ক উইকেটে ইশান্ত শর্মা এবং উমেশ যাদবের নতুন বলের ছোবলে ৩১ রানে ৩ উইকেট হারায় টাইগাররা। পরে মুমিনুল ও মুশফিক ৬৮ রানের জুটি গড়ে দলকে ভরসা দিচ্ছিলেন। কিন্তু মুমিনুল ৩৭ এবং মুশফিক ৪৩ রানে বিদায় নিলে ইন্দোর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানের অলআউট হয় বাংলাদেশ। ভারতের তিন পেসার মিলে প্রথম ইনিংসে নেন সাত উইকেট। মোহাম্মদ শামি দখল করেন তিন উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন উমেশ যাদব এবং ইশান্ত শর্মা। এছাড়া অশ্বিন নেন দুই উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে আবু জায়েদ নিয়েছেন চার উইকেট। মিরাজ এবং ইবাদত একটি করে উইকেট নিয়েছেন। | 12 |
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার আশপাশের সাত জেলায় লকডাউন আরোপ করেছে সরকার। বিধিনিষেধের মধ্যেও শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। তবে যান চলাচল বন্ধ থাকায় আজ মঙ্গলবার শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। অনেকেই হেঁটে নিজ নিজ কারখানায় গেছেন। এদিকে শ্রমিকদের পাশাপাশি পোশাক কারখানার মালিক, উচ্চ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তারাও ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়েছেন। অনেক জায়গায় পুলিশ তাঁদের গাড়ি আটকে দেয়। মহামারি ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে গতকাল সোমবার ঢাকাকে সারা দেশ থেকে ৯ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ জন্য আশপাশের কয়েকটি জেলাসহ দেশের মোট ৭টি জেলায় সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচল (জনসাধারণের চলাচলসহ) আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস চলবে না। কারণ ঢাকার আশপাশের যেসব জেলার ওপর দিয়ে অন্যান্য জেলায় দূরপাল্লার বাস চলাচল করে, সেগুলোতে চলাচলে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার পাশের জেলাগুলো হলো মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও গাজীপুর। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জেলাগুলোর যানবাহন চলাচল করে। আর নারায়ণগঞ্জের সীমানার ওপর দিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের গাড়ি চলাচল করে। গাজীপুরের ওপর দিয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের গাড়ি চলাচল করে। আর মুন্সিগঞ্জের ওপর দিয়েও চলে বিভিন্ন জেলার গাড়ি। এ ছাড়া মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জেও বিধিনিষেধ থাকবে। আমাদের গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, সরকার নতুন করে লকডাউন ঘোষণার পর জেলার গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। তবে চালু রয়েছে শিল্পকারখানা। এতে শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা কর্মস্থলে যেতে বিপাকে পড়েছেন। এদিকে নতুন করে মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ হওয়ায় এই সমস্যা আরও বেড়েছে। এখন হাঁটা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। গাজীপুরে লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক মনিরুল ইসলাম জানান, সব ধরনের গাড়ি বন্ধ। কিছু কিছু কারখানার তাদের শ্রমিকদের পরিবহনের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নেই। তাই শত শত শ্রমিক পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে পৌঁছেছে। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট কোনাবাড়ী শাখার সভাপতি মো. আসরাফুজ্জামান বলেন, 'সামনে ঈদ। তাই লকডাউনের মধ্যেও কারখানা খোলা থাকায় আমরা খুশি। তবে যানবাহন অপ্রতুল হওয়ায় শ্রমিকদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।' শিল্প পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকার আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনায় ৭ হাজার ৮৯২টি শিল্পকারখানা রয়েছে। তার মধ্যে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র কারখানার সংখ্যা ৩ হাজার ১৩৮টি। আর কারখানাগুলোর মধ্যে গাজীপুরেই রয়েছে ৭৫৩টি। নারায়ণগঞ্জের আছে প্রায় সাড়ে ৭০০। জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, 'যেসব শ্রমিক কারখানা থেকে কিছুটা দূরে থাকেন, তাঁরা যানবাহনের অভাবে সমস্যায় পড়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন কারখানার মালিক, ব্যবস্থাপকসহ মধ্যম সারির কর্মকর্তারা গাড়িতে করে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ আসার সময় বাধার মুখে পড়েছেন। সকাল থেকে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে তাঁদের আসার ব্যবস্থা করেছি।' মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, কারখানার উৎপাদন চলছে। এখন মালিক ও কর্মকর্তারা যদি না আসতে পারেন, তাহলে তো কারখানা চালানো যাবে না। আর অধিকাংশ মালিক ও মধ্যম সারির কর্মকর্তারা ঢাকা থেকে প্রতিদিন আসেন। তাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দ্রুত এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। না হলে উৎপাদন বিঘ্নিত হবে। | 0 |
শুরু হয়ে গেছে শারদীয় দুর্গোৎসব। চারদিকে সাজ সাজ রব। এই সময় নতুন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে সাজটা জমকালো না হলে কি চলে? পূজার দিনে নতুন পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে চুল বাঁধাতেও চাই নতুন ঢং। তবেই না সাজ পোশাকে আসবে উৎসবের আমেজ। পারসোনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত খান বলছিলেন, পূজা মানেই দিনভর ঘুরে বেড়ানোর একটা উৎসব। এই সময় তাই চুলের বাঁধন যেন ঘোরাফেরায় সমস্যা না করে, সেদিকটায় বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আর চুলের সাজ পোশাকের সঙ্গে মানানসই হতে হবে। যেমন শাড়ির সঙ্গে সব ধরনের চুল বাঁধাই ভালো দেখায়। চুলে খোলাও থাকতে পারে শাড়ির সঙ্গে। এতে ট্রেন্ডি লুক আসবে। ওদিকে সালোয়ার-কামিজ বা অন্য কোনো পোশাকের সঙ্গে টেনে খোঁপা না করাই ভালো। এর বদলে বেণি বা খোলা চুল ভালো দেখাবে। দিন বা রাতের সঙ্গে সঙ্গে চুল বাঁধাতেও আসবে পরিবর্তন। দিনে সাধারণত চুলের জমকালো সাজ এড়িয়ে যেতে পারেন। রাতের চুলের সাজে একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে। খোঁপাতেও খেলবে ঢেউ ঘুরতে ঘুরতে গরমে যদি খোলা চুলে অস্বস্তিই আসে, তবে একদিকে এভাবে করে বাঁধতে পারেন চুল। এ জন্য সামনের চুলগুলো আগে থেকেই হালকা কোঁকড়া করে নিন। বাইরে যখন খোলা চুলে অস্বস্তি আসবে তখন এক পাশে বেঁধে নিতে পারেন এমন স্টাইলিশ খোঁপা। ফাংকি বেণিতে সারা বেলা পূজার সময় সারা দিন ঘুরে বেড়ানোর জন্য যাঁরা স্কার্ট, টপ, পালাজ্জো বা মিডি ফ্রকের মতো পোশাক পরবেন বলে ঠিক করেছেন, তাঁরা অনায়াসেই এভাবে বাঁধতে পারেন চুল। বাঁ দিকে সিঁথি করে নিন। এবার বাঁ দিক থেকে চিকন বেণি টেনে নিন। ডান দিকের বাকি চুলগুলোতে একটু এলোমেলো পেঁচিয়ে নিলেই হয়ে যাবে একটা নতুন বেণি। এ ধরনের ফাংকি বেণিতে খুব বেশি মেকআপ এবং গয়না না পরাই ভালো। খোঁপার বাঁধনে চিরায়ত সাজ টেনে বাঁধা চুলে খোঁপার বাঁধন পূজার চেনা সাজ। এর সঙ্গে সামনের দুই পাশে হালকা চুল কোঁকড়া করে নিন। চোখে টানা করে দেওয়া কাজল, ন্যুড লিপস্টিক আর ছোট একটা টিপ এনেছে স্নিগ্ধ আমেজ। সাগরের ঢেউ খেলানো চুল সমুদ্রের নোনা পানিতে চুল ভেজালে ঢেউ খেলানো একটা ভাব আসে। চুলের এই ঢেউ খেলানো ধরনই এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিচ ওয়েভ নামে। নুজহাত খান বলছিলেন, বিচ ওয়েভে সাধারণত চুলটা কোঁকড়া হয়ে যায়। চুলের সাজে এই বিচওয়েভ আবহ আনতে হলে চুলকে কিছুটা রাফ করে নিতে হবে। এই জন্য ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। তারপর টং দিয়ে চুলটাকে কোঁকড়ানো করে হাত দিয়ে ছাড়িয়ে নিলেই আসবে বিচ ওয়েভের আবহ। ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সঙ্গে এই চুলের স্টাইল চেহারায় আনবে ভিন্ন আবহ। | 4 |
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত থাকছে। একই সঙ্গে শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে দুই পক্ষকে (নিপুণ আক্তার ও জায়েদ খান) স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির দেওয়া আদেশ চলমান থাকবে। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আজ সোমবার আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের ভার্চ্যুয়াল আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, দুই পক্ষ (জায়েদ ও নিপুণ) উপস্থাপন করেছেন যে হাইকোর্টে বিষয়টি (রুল শুনানি) মঙ্গলবার শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এ অবস্থায় আবেদনটি (নিপুণের করা) নিষ্পত্তি করা হলো। চেম্বার বিচারপতি যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা চলমান থাকবে। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে নিপুণের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি। সেদিন চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে নিপুণের আবেদনটি ১৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। একই সঙ্গে শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে ওই সময়ে দুই পক্ষকে (নিপুণ ও জায়েদ) স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। ধার্য তারিখে লিভ টু আপিল করার কথা জানান নিপুণের আইনজীবী। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে নিপুণের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও হারুন-উর রশিদ। অন্যদিকে জায়েদ খানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন, আইনজীবী নাহিদ সুলতানা ও মজিবুল হক ভূঁইয়া ভার্চ্যুয়ালি আদালতে যুক্ত ছিলেন। গত ২৮ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচন হয়। পরদিন ঘোষিত ফলাফলে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী বলা হয়। পরে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নিপুণ। এরপর আপিল বোর্ড সমাজসেবা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর এক চিঠিতে জানায়, আপিল বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে। এ অবস্থায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও আপিল বোর্ডের ৫ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্ত নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন জায়েদ খান। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশে ২ ফেব্রুয়ারির চিঠির কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি ২ ও ৫ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি রুল শুনানির জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন রাখেন হাইকোর্ট। এ অনুসারে কাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে রুলের ওপর শুনানি হওয়ার কথা। পরে নিপুণের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, 'হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চেম্বার বিচারপতির দেওয়া আদেশ বহাল থাকছে। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হওয়ায় আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। আপিল বোর্ড নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন। ফলে তাঁর কাজ চালিয়ে যেতে বাধা নেই।' তবে জায়েদ খানের আইনজীবী আহসানুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, 'রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল থাকছে। চেম্বার আদালত সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে দুই পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বসতে পারবেন না।' | 6 |
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পল্লিবিদ্যুৎ এলাকায় নসিমন ও থ্রি হুইলার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।নিহতরা হলেন, বগুড়ার সাপগ্রাম কুইশাপাড়া এলাকার মৃত রইছ উদ্দীনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫)। অপরজনের নাম এবং পরিচয় পাওয়া যায়নি, তবে তার আনুমানিক বয়স ৪৫ বছর।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের দিকে আসছিল থ্রি হুইলারটি। পথিমধ্যে পল্লিবিদ্যুৎ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নসিমনের সাথে থ্রি হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে থ্রি হুইলারটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। যার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।ঠাকুরগাঁও ফায়ার স্টেশন মাস্টার মফিজুর রহমান বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করি। এ সময় দুর্ঘটনাস্থল থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আহত বাকি ১০ জন যাত্রীকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ সময় চিকিৎসারত অবস্থায় রফিকুল ইসলাম মারা যান।'সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ রকিবুল আলম বলেন, 'আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাঁদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।'ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনাস্থলে মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। | 6 |
নওগাঁর রাণীনগরে পঞ্চম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে রাণীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি অভিযুক্ত দুলাল হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত দুলাল হোসেন উপজেলার আতাইকুলা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত লুলু প্রামানিকের ছেলে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার আতাইকুলা গ্রামের এক স্কুল ছাত্রীকে গত বুধবার (৯ মার্চ) স্কুলে যাচ্ছিলেন। এসময় স্কুলে যাওয়ার পথে গ্রামের একটি বাড়ির পাশে কাঁচা সড়কের ওপর পৌঁছালে একই গ্রামের দুলাল হোসেন ওই স্কুলছাত্রীকে একা পেয়ে যৌন নিপীড়ন করে। এমতাবস্থায় মেয়েটি কান্নাকাটি শুরু করিলে তার চিৎকারে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত দুলাল পালিয়ে যায়। পরে ওই ছাত্রী বাড়ি গিয়ে তার পরিবারকে বিষয়টি জানায়। এরপর স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় দুলাল হোসেনকে আসামি করে থানায় যৌন নিপীড়নের মামলা দায়ের করেন। রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন আকন্দ বলেন, স্কুলছাত্রীর মা বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে দুলাল হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়। মামলার প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুলালকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত দুলাল হোসেনকে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.