text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের বুড়িরহাট সীমান্তে গত শুক্রবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হন দুই বাংলাদেশি। তাঁদের মরদেহ পাঁচ দিনেও ফেরত পায়নি তাঁদের পরিবার। গতকাল সোমবার মরদেহ ফেরত পেতে এলাকায় মানববন্ধন করেছে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারসহ এলাকাবাসী।এদিকে হত্যার পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সীমান্তের মালগাড়া গ্রামটিতে। ওই গ্রামের কৃষকেরা সীমান্তসংলগ্ন তাঁদের খেতের পাকা ধান কেটে আনতে পারছেন না। ফলে খেতেই নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান। এতে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন।নিহত আসাদুজ্জামন ভাসানীর মা মর্জিনা বেগম ও ইদ্রিস আলীর ভাই একরামুল হক স্বজনদের মরদেহ ফেরত পেতে ও ধর্মীয় রীতিতে দাফন করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিজিবির প্রতি অনুরোধ করেন। তাঁরা বলেন, 'আমরা এরই মধ্যে এলাকায় মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি। তবে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে আবেদন দিতে চাইলে তারা নেয়নি।'ওই ইউনিয়নের মালগাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল গফুর আকন্দ, মোকলেসুর রহমানসহ কয়েকজন বলেন, ঘটনার পর থেকে সীমান্তের মালগাড়া গ্রামটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডের নিজের অথবা বর্গা নিয়ে জমি চাষ করেন। কিছু জমি দুই দেশের কৃষক যৌথভাবেই চাষাবাদ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সীমান্তের কৃষকেরা এসব জমিতে যেতে ও জমির পাকা ধান কাটতে ভয় পাচ্ছেন।এ বিষয়ে জানতে লালমনিরহাট ১৫ রাইফেল ব্যাটালিয়নের হেড কোয়ার্টার ও স্থানীয় বুড়িরহাট ক্যাম্পে মোবাইলে ফোন দিলে কেউ ফোন ধরেনি।কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বিজিবি দেখে। সহায়তা চাইলে পুলিশ সহায়তা করে থাকে।উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের বুড়িরহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের মালগাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে আসাদুজ্জামান ভাসানী (৪৫) ও একই গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস আলী (৪০) নিহত হন। তাঁদের মরদেহ বিএসএফ ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায়।
6
তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় দুইটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন দুইটি হলো ১ নং সয়না রঘুনাথপুর ও ৪নং চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া। নির্বাচনে ১নং সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এইচ এম রেজাউল করিম খোকন পেয়েছেন ১২০ ভোট। এ ইউনিয়নে চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাঈদ ২ হাজার ৬৪৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির (জেপি) সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী এলিজা সাঈদ পেয়েছেন ২ হাজার ২৯৯ ভোট। ইউনিয়নে মোট ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে নৌকা প্রতীকের এইচ এম রেজাউল করিম খোকন ১২০ ভোট পেয়ে ৪র্থ নাম্বারে রয়েছেন। উপজেলার অন্য ইউনিয়ন ৪নং চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়াতে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মাহামুদ খান খোকনও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন। কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. মাহামুদ খান খোকন ভোট পেয়েছেন ১৮৫১ ভোট। চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. লায়েকুজ্জামান মিন্টু ২ হাজার ২৭৬ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিল ৯ জন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
যশোরের ঝিকরগাছায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলের বিজয়ী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের গণসংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা উন্মুক্ত মঞ্চে এ সংবর্ধনা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সাংসদ মেজর জেনারেল (অবসর) ডা. নাসির উদ্দীন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মুন্সি মহিউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পৌর মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা প্রমুখ।
6
বিশ্বব্যাপী সব সাংবাদিককে শান্তিতে পাওয়া নোবেল পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। খবর এএফপির সম্প্রতি মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এবার যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ফিলিপাইনের মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতভ। শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দুজনের নাম ঘোষণা করা হয়। এক সাক্ষাৎকারে মারিয়া নোবেল পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, এই পুরস্কার বিশ্বের সব সাংবাদিকের জন্য। এ সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারিয়া তার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সহায়তা প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে সাংবাদিক হওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। দুজন সাংবাদিককে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়ার মধ্য দিয়ে গণমাধ্যম নিয়ে রাজনীতিক ও সরকারের নেতিবাচক ধারণা ভেঙে যাবে এবং এর মাধ্যমে সরকারি নজরদারি থেকেও সাংবাদিকতাকে রক্ষা করা যাবে বলে মন্তব্য করেন মারিয়া। তিনি আশা করেন, এই পুরস্কার সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ছাড়াই ভালোভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে উদ্বুদ্ধ করবে। মারিয়া ফিলিপাইনের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট র্যাপলারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ফিলিপাইন ব্যুরোপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১২ সালে অন্যদের সঙ্গে র্যাপলার প্রতিষ্ঠা করেন মারিয়া। ফিলিপাইনে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে শত শত মানুষকে হত্যা করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে র্যাপলার। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অর্থ ফিলিপাইনে পাচার বিষয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করে র্যাপলার। ফিলিপাইনের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে ও তার নীতির খোলাখুলি সমালোচনা যারা করে, তাদের মধ্যে র্যাপলার অন্যতম। এ জন্য র্যাপলারের প্রধান মারিয়াকে সরকারের রোষানলে পড়তে হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। গত বছর ফিলিপাইনের সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ আইনে ম্যানিলার একটি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সত্যের সন্ধান ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য তাকে একাধিকবার কারাগারে অন্তরীণ থাকতে হয়েছে। ২০১৮ সালে মারিয়া টাইম ম্যাগাজিনের 'পারসন অব দ্য ইয়ার' নির্বাচিত হন।
3
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, 'করোনা সঙ্কটকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের-স্বাস্থ্যখাতের বেশি নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করার কথা ছিল। অথচ এই খাতের সমন্বয়হীনতা, পরিকল্পনার অভাব, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ফলে মানুষের জীবনে গভীর সংকট এবং মহামারির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে করোনাকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।' শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা ও দুনীতি বন্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, 'স্বাস্থ্যখাতকে পুর্নগঠনের লক্ষ্যে কেবল নয়, সামগ্রিকভাবে সব রাজনৈতিক দল ও সামাজিক শক্তিকে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।' মেনন আরও বলেন, 'দলের কর্মীদেরও দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা। এটাই করোনা সংকট মোকাবিলার সর্বোচ্চ উপায় হবে।' ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মোস্তফা আলমগীর রতন, কিশোর রায়, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, শাহানা ফেরদৌসী লাকী, মুর্শিদা আখতার নাহার, শিউলী সিকদার, মোতাসিম বিলতাহ সানী, আব্দুল মোতালেব জুয়েল প্রমুখ।
9
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১ ঘণ্টার জন্য প্রতীকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হলেন সাদিয়া বিনতে আওলাদ নামে এক ৯ম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাকে নারী বান্ধব করতে ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সুপারিশমালা তুলে ধরেন প্রতীকী দায়িত্ব পাওয়া ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ৩ টায় পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১ ঘণ্টার জন্য প্রতীকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ওই স্কুল ছাত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। একই সঙ্গে ১ ঘণ্টার জন্য তার অধিন হয় পুরো সদর উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সেই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্য সম্পাদনসহ তদারকিও করেন ওই ছাত্রী। জানা যায়, প্রতীকী নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়া স্কুল ছাত্রী সাদিয়া বিনতে আওলাদ পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যায়লের নবম শ্রেনীর ছাত্রী এবং সে চাইল্ড পার্লামেন্ট পঞ্চগড় জেলা শাখার সদস্য। কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে নারী ক্ষমতায়নের জন্য বেসরকারি সংস্থা প্লান ইন্টারন্যাশনাল ও ন্যাশনাল চিল্ড্রেন টান্সফোর্স (এনসিটিএফ) উদ্যোগ এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে প্রতীকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ নারী সহিংসতা রোধে আলোচনা করা হয় এবং প্রতীকী দায়িত্ব পাওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই স্কুল ছাত্রী সুপারিশ সমূহ আমলে নেয়ার আশ্বাস দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন। প্রতীকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া বিনতে আওলাদ জানান, আমি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে এবং নারী বান্ধব উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলবো এবং নারীর উন্নয়নে কাজ করবো। পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন জানান, নারীর অবদান এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। আজকের তরুণ প্রজন্ম ও নারীরাই একদিন দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। আমরা নারী বান্ধব উপজেলা ও নারীর সংহিংসতা রোধে কাজ করবো এবং স্কুল ছাত্রীর সকল সুপারিশ আমরা বাস্তববায়ন করার চেষ্টা করবো। এ সময় উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ,সদর উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন, ন্যাশনাল চিল্ড্রেন টান্সফোর্স (এনসিটিএফ) এর ডিস্ট্রিক্ট ভলেন্টিয়ার মারুফ হাসান আবির, ওমেন্স ভলেন্টিয়ার নিশাত পারভিন নিশি সহ উপজেলার বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
6
প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পুলিশ সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবা মনোরঞ্জন হাজংয়ের পা হারানোর ঘটনায় রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে মামলা নিতে দেরি করা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রভাব খাটিয়ে আসামির নাম বাদ দেওয়ার কারণও জানতে চেয়েছেন আদালত।মহুয়া হাজংয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আইনজীবী জেড আই খান পান্না রুল জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।জেড আই খান পান্না বলেন, গত ২ ডিসেম্বর রাত ২টার পর বনানী এলাকায় মনোরঞ্জন হাজং মোটরসাইকেলে থাকাবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হন। ওই ঘটনায় তাঁর একটি পা হারাতে হয়েছে। তিনি এখন বিকলাঙ্গ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। ঘটনার সময় সেখানে পুলিশ ছিল। দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার-দুটিই থানায় নেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি ঘটনার পর পুলিশ প্রাথমিক কোনো জিডিও গ্রহণ করেনি।জেড আই খান পান্না আরও বলেন, একজন বিচারপতির ছেলে সেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে গণমাধ্যমে তথ্য এসেছে। পুলিশ তাঁর গাড়িটি থানায় নেওয়ার পরও ছেড়ে দিয়েছিল। ঘটনার দুই সপ্তাহ পর আসামির নাম উল্লেখ না করেই মামলা করা হয়। আসামির নাম ছাড়া মামলা করতে মহুয়া হাজংকে বাধ্য করা হয়েছিল।আরও পড়ুন:'দোষ কার' সে তদন্ত করছে পুলিশ২ সপ্তাহ ঝুলিয়ে রেখে আসামির নাম ছাড়া মামলাচাপে আছেন নারী সার্জেন্ট মহুয়াবিচারের আশা ছেড়ে বাবার চিকিৎসায় মনোযোগ দিয়েছেন সার্জেন্ট মহুয়াপা হারানো বাবাকে নিয়ে অসহায় নারী সার্জেন্টসার্জেন্ট মহুয়ার বাবাকেই দায়ী করে জিডি করেছেন বিচারপতির ছেলে১৪ দিন পর মহুয়ার মামলা নিল পুলিশ, আসামি অজ্ঞাত'মহুয়া হাজংয়ের বাবার ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা'মনোরঞ্জনের মামলা তুলতে চাকরির প্রলোভন
6
গাজীপুরের পূবাইলে কাভার্ডভ্যান চাপায় আলিমুজ্জান (৩৩) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর মাঝুখান এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় হোটেল মালিকসহ আরও ৫ জন আহত হন।নিহত আলিমুজ্জান চুয়াডাঙ্গার কুতুবপুর গ্রামের লিয়াকত হোসেনের ছেলে। তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুয়েত এয়ারলাইনসে পণ্য খালাসের কাজ করতেন।আহতরা হলেন-হোটেল মালিক শিল্পী বেগম (৩৪), রিয়াজ (৩৫), জেসমিন বেগম (২৮), শামীম (৩০) ও কাশেম (৫০)। স্থানীয়রা বলেন, মীরের বাজার থেকে টঙ্গীগামী একটি কাভার্ডভ্যান মাঝুখান বাজার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় কাভার্ডভ্যানটি কয়েক পথচারীকে চাপা দিয়ে সড়কের পাশে ফল ও খাবারের হোটেলে ঢুকে পড়ে। এতে ৫ জন আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আলিমুজ্জামানকে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যান তিনি।পূবাইল থানার ওসি মহিদুল ইসলাম বলেন, কাভার্ডভ্যানটি আটক করা হয়েছে। এ সময় চালক পালিয়ে যান। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
6
ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ট্যাংকগুলো একটি দুর্দশাপূর্ণ সময় পার করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে দেশটি প্রায় ১৫৩টি ট্যাংক ও ৩১২টি সাঁজোয়া যান হারিয়েছে। ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্লগ ওরিক্সের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট এ সংখ্যা জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদের যথাক্রমে ২৬টি ট্যাংক ও ৫৭টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে। যদিও এই দাবি একান্তই কিয়েভের। কিন্তু ট্যাংকের এমন দুর্দিন কেন এবং কীভাবে টিকে থাকতে পারে আগামী দিনে-এমন প্রশ্নও উঠছে এখন। তাই সমর বিশারদেরা বলছেন, ট্যাংক প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে।গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণের পর ৩৭ দিনের যুদ্ধে রাশিয়ার সাঁজোয়া যান ও ট্যাংক হারানোর সংখ্যাটি একেবারেই কম নয়। অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন দেশের সমর বিশারদেরা আগামীর যুদ্ধে ট্যাংকের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাচ্ছে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন। বছরখানেক আগে, ব্রিটিশ সেনাপ্রধান জেনারেল মার্ক কার্লটন স্মিথ বলেছিলেন, তিনি মনে করেন-আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাংকের অপ্রতিরোধ্য রূপ অনেকটাই ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছে। তাই এর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। তাঁরই কথার প্রতিধ্বনি করছে ব্রিটিশ সাময়িকী 'দ্য ইকোনমিস্ট'।ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু যুক্তরাজ্য নয়, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রও একই পথে হাঁটছে। দেশটি বিশাল ট্যাংকবহর সমরসজ্জা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কারণ, প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের মোকাবিলায় ট্যাংকের প্রয়োজনীয়তা খুব কম। সিরিয়া যুদ্ধেও তুর্কি ড্রোনের হাতে মার খেয়েছে ট্যাংকবহর। ফলে ট্যাংকের যে আগের দিন নেই তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু ট্যাংকের এমন দুর্দিন কেন? বিশ্লেষকেরা বলছেন, অতীতে ক্যামোফ্ল্যাজের (ছদ্মবেশ) কারণে ট্যাংক যুদ্ধক্ষেত্রে দৃষ্টি এড়াতে পারত। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব নয়। বর্তমানের যুদ্ধবিমান ও সার্ভিল্যান্স বিমানগুলোতে থাকা উন্নত সেন্সর দিয়ে ট্যাংক ইঞ্জিনের তাপ ও মাটিতে থেকে যাওয়া ট্যাংকের চাকার দাগ থেকে ট্যাংকের অবস্থান শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা বেশ সহজ হয়ে গেছে। আবার ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও অনেক উন্নত হয়েছে। ফলে, ট্যাংক ধ্বংস করা এখন আর কঠিন কোনো কাজ নয়।নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম পুরোনো থিংক ট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ নিক রেনল্ডস ও জ্যাক ওয়াটলিং মনে করেন, যুদ্ধের ময়দানে ট্যাংকের মতো ভারী বর্মের সাঁজোয়া যান ব্যবহারের যে ধারণা এখনো আছে, তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ জাগাটা অযৌক্তিক নয়। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান হারানোর সংখ্যা রেনল্ডস ও ওয়াটলিংয়ের মতকেই প্রতিষ্ঠিত করছে। ট্যাংকের কার্যকারিতা প্রকৃতপক্ষেই হুমকির মুখে পড়েছে।ইউক্রেন সেনাবাহিনী রাশিয়ার যেসব ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে তার বেশির ভাগই পদাতিক সেনাদের কাঁধে বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনে কয়েক হাজার এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে-আমেরিকার জ্যাভলিন, সুইডিশ এনলস, জার্মান প্যানজারফাউস্ত-৩ এস। ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জেন্সের 'ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার' কৌশলের গুরু বলে খ্যাত জন হকস বলছেন, 'এই যুদ্ধ (ইউক্রেন যুদ্ধ) আধুনিক আর্মার্ড ভেহিকেলের জন্য যে হুমকি স্পষ্ট হয়েছে তার একটি উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী।' পরিহাসের বিষয় হলো, এক সময় যে রাশিয়া আর্মার্ড ভেহিকেলে 'সক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা' নিয়ে গর্বিত ছিল সেই রাশিয়ার ট্যাংক বাহিনী সহজে বহনযোগ্য অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইল দিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যে এটিজিএমএস এতটা কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে-সেটি প্রতিহত করার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা তথাকথিত যে 'সক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা' (অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম-এপিএস) রয়েছে সেটির অগ্রদূত সোভিয়েত ইউনিয়ন। এ ধরনের এপিএস মূলত ব্যবহার করা হয়-শত্রুপক্ষের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ভেহিকেলে আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি যাতে কমানো যায়। সারা বিশ্বেই বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনী এপিএসের উন্নয়ন নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।এপিএস প্রধানত দুই প্রকার: 'সফট-কিল' ও 'হার্ড-কিল'। সফট কিল এপিএস তার দিকে আগত ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ইনফ্রারেড বা লেজার রশ্মি দিয়ে ভিন্ন দিকে পরিচালিত করা যায়। বিপরীতে হার্ড কিল সিস্টেম হলো আগত ক্ষেপণাস্ত্রকে পাল্টা আঘাত হেনে ধ্বংস করা।তবে ইউক্রেনে সফট কিল সিস্টেম পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা গেছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যাক ওয়াটলিং বলছেন, 'আপনি যে সিস্টেমটি ব্যর্থ করতে চেষ্টা করছেন সে বিষয়ে একটি উপযুক্ত প্রযুক্তিগত বোঝাপড়ার প্রয়োজন।' কারণ, ইউক্রেনের সৈন্যরা যে পদ্ধতিতে তাদের অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইল সিস্টেম ব্যবহার করেছে তা রাশিয়ার আর্মার্ড ভেহিকেলগুলোর পক্ষে জ্যাম করা সম্ভব নয়।তবে হার্ড-কিল সিস্টেমেরও সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগত ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে হলে প্রয়োজন অত্যাধুনিক রাডার এবং আগত ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সেগুলোতে আঘাত করার জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য। এ ছাড়া, ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর যে গতি তা হিসাবে আনাও জরুরি। ১৯৮০-এর দশকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ড্রোজড সিস্টেম' নামে প্রথম হার্ড কিল এপিএস সিস্টেম চালু করে। সে সময় আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনী এই ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল। সে সময় এই ব্যবস্থা আগত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ধ্বংস করতে শেল নিক্ষেপ করত। তবে প্রায় ৪০ বছরের আগের ব্যবস্থার সঙ্গে আজকের ব্যবস্থার অনেক তফাৎ রয়েছে। ড্রোজডের আধুনিক এক ধরন রাশিয়ার সর্বশেষ প্রজন্মের ট্যাংক টি-১৪-এ স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা তৈরি করতে গিয়ে রাশিয়াকে যথেষ্ট সংগ্রাম করতে হয়েছে।কিন্তু এরপরও কেন ইউক্রেনে রাশিয়ার ট্যাংক এবং আর্মার্ড ভেহিকেলগুলো দুর্দশায় পতিত তা বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন।হার্ড কিল এপিএস সিস্টেমে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর একটি হলো ইসরায়েল। রাফায়েলের (যুদ্ধবিমান) জন্য নকশা করা এই সিস্টেম দেশটির মেরকাভা ট্যাংকগুলোতে লাগানো হয়েছে। এই সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য হলো-এটি সুনির্দিষ্টভাবে আগত লক্ষ্যবস্তুর দিকে 'স্প্রেড ফায়ার' করে এবং নিকটস্থ পদাতিক বাহিনীর সম্ভাব্য বিপদ কমিয়ে আনে। ইসরায়েলের দাবি, তাদের এই সিস্টেম গাজায় অনেক ট্যাংক-বিধ্বংসী রকেট আক্রমণকে প্রতিহত করেছে। তবে জন হকস বলছেন, এ ধরনের আক্রমণ (গাজা থেকে আগত রকেট হামলা) সম্ভবত পুরোনো দুর্বল অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইল থেকে আসা, ফলে ক্ষয়ক্ষতিও কম।এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেমের ওজন, এটি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা এবং শক্তি প্রয়োজন হয় তা সরবরাহ করতে গিয়ে ট্যাংকের প্রয়োজনীয় অস্ত্রগুলো কমিয়ে ফেলার ঝুঁকিতে পড়বে। জ্যাক ওয়াটলিংয়ের মতে, পশ্চিমা ট্যাংকগুলো কার্যক্ষমতার সঙ্গে আপস না করায় ওজনে বেশ ভারী হয়ে যায়। ফলে এতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য খুব অল্প জায়গায়ই অবশিষ্ট থাকে।হার্ড কিল সিস্টেম কেবল হাতে গোনা আগত কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারে-যেহেতু এতে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বিরোধী গোলা মজুত করা যায় না। আর করলে পদাতিক বাহিনীকে সহায়তা দিতে যে পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ প্রয়োজন তা ধারণ করতে পারে না। এ ছাড়া, একটি সফল প্রতিরোধ শেষে যে ধ্বংসাবশেষ ছুটে আসে তা দিয়ে ট্যাংকের রাডারেরও ক্ষতি হতে পারে। জ্যাক ওয়াটলিং বলেন, প্রতিপক্ষ যদি একটু চালাক হয় তবে, রাডার নিষ্ক্রিয় করার জন্য দূর থেকে মেশিনগানের গুলি দিয়েও ট্যাংকগুলোকে টার্গেট করতে পারে। যার ফলে, ট্যাংকে থাকা অ্যান্টি অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেমের কার্যকারিতা হ্রাস পায় অনেকাংশে। তবে জন হকসের কথা হলো-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিখুঁত হওয়ার চেয়ে কার্যকর হওয়া বেশি জরুরি। এ লক্ষ্যে জন হকস ট্যাংক বাঁচাতে বহু স্তরবিশিষ্ট 'ওনিয়ন স্টাইল' বা পেঁয়াজের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাজানোর কথা বলেন। যেখানে প্রথমে পদাতিক বাহিনী সম্ভাব্য হুমকি এবং আক্রমণের লক্ষ্য বাছাই ও নির্ণয় করবে, প্রয়োজন বোধে ধোঁয়া কিংবা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার করে ট্যাংকের অবস্থান অস্পষ্ট রাখতে হবে এবং সর্বশেষ সবকিছুই যখন ব্যর্থ হবে তখন গিয়ে ট্যাংক আর্মার এবং ট্যাংকের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম-সেটিকে রক্ষা করবে।তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার ট্যাংকের অবস্থা নির্দেশ করছে-'ওনিয়ন স্টাইল' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও একটি স্তর যুক্ত করতে পারলে তা সত্যিই আরও কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।বিশ্লেষণ সম্পর্কিত পড়ুন:পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিপর্যয় কি প্রতিবেশী দেশে প্রভাব ফেলবেইউক্রেন যুদ্ধের 'আফগানাইজেশন' এড়ানোর কৌশলে রাশিয়ামধ্যপ্রাচ্যে কি তবে নয়া স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হলোচার ভাইয়ের হাতে চৌচির লঙ্কাইউক্রেন সংকটে কেন মধ্যপ্রাচ্যের মৌনব্রত
3
তিনি স্কুলের গণ্ডি পার হননি। অথচ চড়েন ৫ কোটি টাকার গাড়িতে। সঙ্গে ওয়াকিটকিসহ সার্বক্ষণিক দেহরক্ষী। গুলশান ১ নম্বর সেকশনের জব্বার টাওয়ারে মাসিক ৫ লাখ টাকা ভাড়ায় আলিশান অফিস। তাঁর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের নজরানা ১ লাখ টাকা! ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে ফ্ল্যাট। গাজীপুরে বাগানবাড়ি। নাম তাঁর আবদুল কাদের। সরকারের অতিরিক্ত সচিব! না না, বাস্তবে নয়; মানুষ ঠকানোর জন্য এটা তাঁর প্রতারণার কৌশল। এভাবে তিনি ১৪ বছর ধরে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকার মালিক। গণমাধ্যমে এ রকমই একটি খবর পড়লাম দুদিন আগে। ধরা পড়ার পর এখন তিনি জেলখানায়।আরেকটি ঘটনা। এস-ফ্যাক্টর, সর্বরোগের মহৌষধ! ক্যানসার, ডায়াবেটিস বা হার্টের ওষুধই শুধু নয়, করোনা প্রতিরোধেও কার্যকর-এমন প্রচারণা চালিয়ে পার্সেন্টেজ ও প্যাকেজের ফাঁদে ফেলে লাখো গ্রাহকের কাছ থেকে ২৫ কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে 'সুইসডার্ম' নামের ভুঁইফোড় এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ খবরটিও গণমাধ্যমে এসেছে। সিরাজগঞ্জে 'সিরাজগঞ্জশপ ডটকম' ও 'আলাদিনের প্রদীপ' নামের দুটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান খুলে রাতারাতি আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে যান স্থানীয় কয়েক যুবক। চটকদার বিজ্ঞাপন ও বিশাল ছাড়ের অফারের ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার গ্রাহকের প্রায় ২২ কোটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন তাঁরা।আরেকটি খবর চোখে পড়ল কয়েক দিন আগে। এক প্রতিষ্ঠান চীন থেকে সুদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে তারা। এ জন্য নির্দিষ্ট একটি অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার নামে চড়া সুদ নিয়ে প্রতারণা করে এ চক্রটি। তাঁদের কয়েক সদস্যও সম্প্রতি ধরা পড়েছেন।এগুলোর পাশাপাশি কিছুদিন ধরে তো পত্রিকার পাতা আর টিভির পর্দা ই-কমার্সের নামে প্রতারণার খবরে সয়লাব। এই রেশ এখনো কাটেনি। প্রতিদিনই এটি বড় খবর। এসব খবর থেকে যেটুকু জানলাম, তাতে দেখা যায়, ই-কমার্স ও সমবায় সমিতির নামে গ্রাহকের কাছ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অর্ধেক দামে পণ্য দেওয়ার নামে সহস্রাধিক ক্রেতার কাছ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। ধর্মের নামে ১৭ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে এহসান গ্রুপ। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে বিভিন্ন সমবায় সমিতির নামে দ্বিগুণ মুনাফার কথা বলে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। অনেক সমবায় সমিতি গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে।খবরে আরও জানা যায়, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, কিউকম, এসপিসি ওয়ার্ল্ড, বুমবুম, আদিয়ান মার্ট, নিডস, দালাল, সিরাজগঞ্জশপ, নিরাপদ ডটকম, আলাদিনের প্রদীপ, এসকে ট্রেডার্স ও মোটরস, ২৪ টিকেট ডটকম, গ্রিনবাংলা, এক্সিলেন্ট বিগবাজার, ফাল্গুনিশপসহ প্রায় ২৬টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ই-অরেঞ্জের গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের ১ হাজার ১০০ কোটি, ইভ্যালি ১ হাজার কোটি, ধামাকা ৮০৩ কোটি, এসপিসি ওয়ার্ল্ড ১৫০ কোটি, নিরাপদ ডটকম ৮ কোটি, চলন্তিকা ৩১ কোটি, সুপম প্রোডাক্ট ৫০ কোটি, রূপসা মাল্টিপারপাস ২০ কোটি, নিউ নাভানা ৩০ কোটি এবং কিউ ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং গ্রাহকদের ১৫ কোটি টাকা লোপাট করার খবর বিভিন্ন সূত্রে এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।এসব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরেও দেশব্যাপী এ রকম কয়েক হাজার ছোট প্রতিষ্ঠান ফেসবুক, ইউটিউব এবং নিজস্ব অ্যাপস, ওয়েবসাইট খুলেও অব্যাহতভাবে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষ এখনো যুবক, ডেসটিনি, ইউনিপে টু ইউর কথা ভুলে যায়নি। ২০০৬ সালে যুবক ২ হাজার ৬০০ কোটি, ২০১১ সালে ইউনিপে টু ইউ ৬ হাজার কোটি আর ২০১২ সালে ডেসটিনি ৫ হাজার কোটি টাকা প্রতারণা করে লোপাট করে। গ্রাহকেরা এখনো এ টাকা ফিরে পাননি। সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের (সিসিএ) 'সাইবার ক্রাইম ট্রেন্ড ইন বাংলাদেশ ২০২০' শীর্ষক গবেষণা বলছে, গত বছর সারা দেশে যত ধরনের সাইবার অপরাধ হয়েছে, তার মধ্যে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশই অনলাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে প্রতারণার ঘটনা। প্রতারিত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। আর দশমিক ৯২ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের কম। গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পুরুষেরাই অনলাইন কেনাকাটায় বেশি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারিতদের মধ্যে পুরুষ ৭ দশমিক ৩৮ আর নারী ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।তথ্য বলছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্স বাজারের আকার ১৬৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে এ খাতে। ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের ই-কমার্স খাত ২৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এ খাতের মোট উদ্যোক্তার মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়েছেন। মূলত করোনাকালে মানুষের চলাচল সীমিত হওয়ায় ই-কমার্সের প্রসার ঘটে। আর এ সুযোগ নেয় প্রতারক গোষ্ঠী। বাংলাদেশে ২ হাজারের বেশি ওয়েবসাইটভিত্তিক এবং প্রায় ১ লাখের মতো ফেসবুকভিত্তিক ই-কমার্স সাইট চালু রয়েছে। কে জানে এদেরও কেউ কেউ প্রতারণার নতুন ভার্সন নিয়ে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর কৌশলে এগোচ্ছে কি না।এটা নাহয় ঠিক যে, সাধারণ মানুষ; যাঁদের অনেকেরই ঠিকমতো জানাশোনা নেই, দেশ-বিদেশে খোঁজখবর রাখেন না, পর্যাপ্ত জ্ঞানও নেই; তাই তাঁরা ভুল করেছেন। কিন্তু সরকার বা এর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তারা তো দায়িত্বশীল। তারা তো নিয়ন্ত্রক। তাহলে তাদের কী কোনো দায় নেই? তারা কি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে ঠিকমতো? একটি দেশে শূন্য থেকে একটি প্রতিষ্ঠান রাতারাতি গজিয়ে উঠল, পত্রিকায়, টিভিতে, গণমাধ্যমে চটকদার প্রচার-প্রোপাগান্ডা করল, দিনের পর দিন বিজ্ঞাপন দিল, অথচ মানুষ ঠকানোর পর জানা গেল তারা যা করেছে অবৈধ, অনিয়ম। তাহলে এখন কেন এসব বলছে? এত দিন কেন ধরল না?ই-কমার্স কেলেঙ্কারির সবকিছুই হয়েছে প্রকাশ্যে, ডিজিটাল মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েবসাইট খুলে গ্রাহককে বিশাল ছাড়ে পণ্য দেওয়ার লোভ দেখিয়েছে। বিপুল টাকা তুলেছে। লেনদেন করেছে ব্যাংক ও মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। সরকারের দপ্তরগুলো যথাসময়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। অথচ এ প্রশ্ন যখন করা হচ্ছে, তখন কোটি কোটি টাকা হারিয়ে লাখো মানুষ পাগলপ্রায় অবস্থায়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন, গ্রাহকেরা যখন ই-কমার্স থেকে পণ্য কেনেন, তখন সরকারকে তা জানাননি। এটা কী জানানোর বিষয়? গ্রাহক কীভাবে জানাবেন? তাঁরা তো দেখেছেন দেশের জনপ্রিয়, বিখ্যাত সব সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে প্রচার করছেন, মানুষকে প্রলুব্ধ করছেন। তাঁদেরও কী দায় নেই? এখন সবাই গ্রাহকের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। একটি দেশে এত এত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে সব করল, সরকার ধরল না। আর এখন বলা হচ্ছে দায় নেবে না। এর জন্য কি আগে থেকে নীতিমালা হতে পারত না?আমরা জানি, বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়; বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছিল, ই-কমার্সের ব্যাপারে একটা নীতিমালা করার জন্য। কিন্তু কোনো আইন কিংবা নীতিমালা করা হয়নি। এখন বলা হচ্ছে, প্রতারণা ও অর্থ লোপাট ঠেকাতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক আইন হচ্ছে। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। টাকা, সহায়-সম্বল হারানো লাখো অসহায় মানুষ এখন নিঃস্ব হয়ে পথে পথে ঘুরছেন। কিন্তু ইতিহাস বলে তাঁদের এ টাকা তাঁরা কবে পাবেন বা আদৌ পাবেন কি না, তার কোনো ভরসা নেই।কোনো কিছু নিয়ে শোরগোল শুরু হলেই সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নড়েচড়ে বসে। আগে তাদের খবর থাকে না। মানুষ যখন সব খুইয়ে পথে বসে, তখন একে-তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা হয়, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়। এ কাজগুলো আগেই করা যায়, যদি সংস্থাগুলো ঠিকমতো কাজ করে। এই সংস্কৃতির অবসান হওয়া উচিত। ই-কমার্স থাকবে, থাকতে হবে। তবে একে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। মানুষকে সচেতন করাসহ যাবতীয় দায়ও সরকারকেই নিতে হবে।
8
চট্টগ্রামে দুর্নীতি মামলার আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে আদালতে তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার এ সাক্ষ্য নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুনশি আবদুল মজিদ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।সাক্ষ্যদাতারা হলেন, চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ এর উপ-কর কমিশনার হারেছ আহমেদ, অফিস সহকারী মো. শওকত আলী ও কর অঞ্চল-৩ এর উচ্চমান সহকারী মো. আবুল কালাম।এ মামলায় প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রী চুমকি দুজনই আসামি হলেও অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রদীপ হাইকোর্টে আবেদন করেন। তাই ১৭ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের শুরুর দিন থেকে শুধু পলাতক চুমকির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। সেদিন মামলার বাদী দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন মামলায় সাক্ষ্য দেন। এ নিয়ে এ মামলায় চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করে আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রদীপ দুর্নীতি মামলায় গত বছর ১৫ ডিসেম্বর ডিসচার্জ পিটিশন দিয়ে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। তাঁর দরখাস্ত নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রদীপ হাইকোর্টে (মামলা কোয়াশমেন্ট) আবেদন করেছেন। তাই আদালত এ মামলায় শুধু পলাতক আসামি চুমকীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। প্রদীপের দরখাস্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে এই আদালতের (চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ) কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে মামলা করেন গত বছরে ২৬ জুলাই দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জনের মামলায় প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে দুদক অভিযোগপত্র দেয়। একই বছর ১৫ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগ গঠন হয়।প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে অবৈধ আয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তার মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি ও পাঁচলাইশ থানার ষোলোশহরের একটি বাড়ি, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, একটি মাইক্রোবাস, ৪৫ ভরি স্বর্ণ, কক্সবাজারে চুমকির নামে নামে একটি ফ্ল্যাট। বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রদীপ দম্পতির ৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হদিস মেলে। যার মধ্যে বৈধ আয় থেকে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকার সম্পদ পায় দুদক। বাকি ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। চুমকি নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী বলে আয়কর নথিতে উল্লেখ করলেও তার সমর্থনে প্রমাণ দিতে পারেননি। এ মামলার অভিযোগপত্রে সাক্ষীর তালিকায় ২৯ জনের নাম রয়েছে।২০২০ সালের ৩১ জুলাই মাসে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হন। সিনহা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর। এ ঘটনায় করা সিনহার বোনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রদীপ ২০২০ সালের ৬ আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। ওই মামলায় গত বছর ২৭ জুন প্রদীপসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ২৭ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। কক্সবাজার আদালতে এ বছর ৩১ জানুয়ারি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
6
করোনা টিকা নেওয়ার জন্য কানাডা সরকার তার নাগরিকদের ক্রমাগতভাবে উৎসাহিত করছে। কিন্তু এরপরও এখনো অনেকেই টিকা নেননি। তাই এবার টিকা না নিলে কর আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডার কুইবেক রাজ্য প্রশাসন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে কুইবেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া লেগোঁ বলেন, যাঁরা করোনার অন্তত এক ডোজ টিকা নেবেন না, তাঁদের কর পরিশোধ করতে হবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে এটি তাৎপর্যপূর্ণ হবে। আর এটি আরোপ হলে এটিই হবে টিকা না নেওয়ার কারণে কোনো দেশের অর্থনৈতিকভাবে প্রথম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত কানাডায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন কুইবেক রাজ্যে। এখনো রাজ্যটি করোনা প্রতিরোধে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো প্রায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ টিকা নেননি। টিকা না নেওয়া ব্যক্তিরাই বেশি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।ফেডারেল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি পর্যন্ত কুইবেকের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ করোনার অন্তত ১ ডোজ টিকা নিয়েছেন। বাকিরা এখনো টিকা নেননি।এর আগে গত সপ্তাহে প্রদেশটি ঘোষণা দেয় যে, সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত গাঁজা এবং মদের দোকানে কেনাকাটা করার জন্য করোনা টিকা দেওয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে। এ ছাড়া রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউও চালু রয়েছে।উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার পর্যন্ত কুইবেকে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২৮ জন।
3
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই দুনিয়ার ছোট-বড় প্রতিটি জীবেরই সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকা জরুরি। যে কোনও জীবের অস্তিত্বের সংকটই এই দুনিয়ার জন্য বিপদের ইঙ্গিত। তাই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে কীট-পতঙ্গদের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, পতঙ্গদের পরিমাণ পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে কমছে। শেষ ৩০ বছরে গোটা বিশ্বে পতঙ্গের সংখ্যা ২৫ শতাংশ কমেছে। লকডাউনের জেরে মানুষ যখন সারা বিশ্বজুড়ে ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছে, তখন প্রকৃতি সেজে ওঠার নানা সুখবরও এসেছে। মানুষের অবাধ আনাগোনা বন্ধ হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীরা প্রাণ খুলে ঘুরতে পারছে। কোথাও জলের দূষণ সাফ হতেই ভেসে উঠেছে ডলফিনের পরিবার, কোথাও আবার শহরের পথে নির্ভয়ে ঘুরেছে হরিণ। কোথাও আবার ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে এসেছে ফ্লেমিংগোর দল। বহু বছর পরে যেন পৃথিবীকে নিজের করে পেয়েছে তারা। এসব তথ্য ও ছবি নেটিজেনদের মধ্যে বেশ তোলপাড় তুলেছে। এরই মাঝে আবার এই চিন্তা বাড়িয়ে তোলা তথ্যটিও সামনে এল। পৃথিবীর বুক থেকে পতঙ্গদের সংখ্যা দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে। গবেষণা বলছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে ২৫ শতাংশ কমে গেছে পতঙ্গরা। এই কমে যাওয়ার হার দিনের পর দিন বাড়ছে। এই কমে যেতে থাকা পতঙ্গদের মধ্যে কিছু কিছু প্রজাতি আবার রীতিমতো সংকটে। দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু অঞ্চলে এমন অনেক পতঙ্গ আছে, যাদের সংখ্যা এখন কত, তা নিয়ে কোনও সমীক্ষাই হয়নি। হারিয়ে যাওয়া পতঙ্গদের খোঁজ রাখেনি কেউ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতির নিয়মেই মানবসভ্যতা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই পতঙ্গদের ওপর চূড়ান্ত নির্ভরশীল। কারণ প্রকৃতির বাস্তুতন্ত্রে পতঙ্গদের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবেশের বর্জ্যকে নতুন করে ব্যবহারের উপযোগী করা, গাছের ফলন, চাষাবাদে সাহায্য ইত্যাদি নানা কাজ নিঃশব্দে ঘটিয়ে যায় পোকারা। সম্প্রতি প্রায় ৭৩টি ভিন্ন গবেষণা থেকে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যদি পতঙ্গদের এই হারিয়ে যাওয়ার হার কোনও ভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় মানব সভ্যতাধ্বংসের সম্মুখীন হবে। এই গবেষণা যদিও বলছে জলজ পোকারা এই বিপদ থেকে খানিক মুক্ত তবু তাতে সামগ্রিক ভাবে কোন সুরাহা হবে না। 'জার্মান সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটিভ বায়োডাইভার্সিটি রিসার্চ'-এর গবেষক রোয়েল ভ্যান ক্লিঙ্ক বলছেন, শেষ ত্রিশ বছরে ২৫ শতাংশ পতঙ্গ ধ্বংসের পরও মানুষের যদি হুঁশ না ফেরে তাহলে তা সত্যিই আশঙ্কার। পতঙ্গের অভাবে মানুষের একদিন খাদ্যেরও সমস্যা তৈরি হবে। এই পতঙ্গ পতনের হার সব থেকে বেশি ইউরোপে বলেই তিনি জানান। ভ্যান ক্লিঙ্কের মতে, শহুরে সভ্যতার আগ্রাসী নির্মাণের জন্যই পতঙ্গরা নিজেদের বাসভূমি হারাচ্ছে। এইটুকু বুঝতে কাউকে খুব জ্ঞানের অধিকারী হতে হয় না, সংবেদী হতে হয়- এমনটাই মনে করেন তিনি। মানুষের কর্মকাণ্ডের জন্য জলবায়ুর আমূল পরিবর্তন ঘটছে, যার প্রভাব এই পতঙ্গদের ওপর খুব খারাপ ভাবে পড়ছে। চাষাবাদে বিভিন্ন রাসায়নিকের ব্যবহারেও পতঙ্গদের ক্ষতি বাড়ছে। পাশাপাশি ব্রাজিলের আমাজন অরণ্য ধ্বংসের জন্যও পতঙ্গদের ওপর প্রভাব পড়বে বলে তিনি জানান।
3
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত মো: সিদ্দিকুর রহমান সভাপতি ও মো: জাকিরুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এই নির্বাচনে ২২টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ ৫ পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সমর্থিতরা এবং সহ-সভাপতিসহ বাকী ১৭টি পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিতরা নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সমর্থিত সভাপতি পদে মো: সিদ্দিকুর রহমান পেয়েছেন ৮২২ ভোট ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সুদীপ কুমার চক্রবর্তী পেয়েছেন ৭৪২ ভোট। এছাড়াও, সাধারণ সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সমর্থিত মো: জাকিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৯১৬ ভোট ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত মো: বেলায়েত হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন ৭৪২ ভোট। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সমর্থিত নির্বাচিতরা হলেন-সভাপতি মো: সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো: জাকিরুল ইসলাম, সদস্য পদে মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক, মো: আশরাফ হোসেন গাজী ও মো: কামরুল হাসান রাসেল বিজয়ী হন। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে বিজয়ী অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মো: আবুল আসাদ ও আলহাজ মো: মোস্তফা জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: রাজীবুল আলম, কোষাধ্যক্ষ মো: বিল্লাল হোসেন সরকার, লাইব্রেরি সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, অডিটর মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, ক্রীড়া সম্পাদক নূরুল ইসলাম ও মহিলা সম্পাদিকা কামরুন নাহার ববি। প্যানেলের সদস্যরা হলেন, মো: আদনান মামুন, নূরুল আমিন, নিলুফা ইয়াসমিন সুমী, মো: মিনহাজ উদ্দিন (সুমন), মোস্তাফিজুর রহমান (বাহাদুর), মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, মো: রুহুল আমীন, মোহাম্মদ সোহেল রানা। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ১৭৭৬ জন ভোটারের মধ্যে ১৬২০ জন ভোটার ভোটপ্রদান করেন। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির
6
বাজেট হচ্ছে একটি দেশের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের হিসাব। সরকারকে দেশ চালাতে হয়, সরকারের হয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের বেতন দিতে হয়, আবার নাগরিকদের উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাট বানানোসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে হয়। সুতরাং একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে কোথায় কত ব্যয় হবে, সেই পরিকল্পনার নামই বাজেট। একজন মানুষকেও কিন্তু আয় ও ব্যয়ের হিসাব করতে হয়। তবে ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের বাজেটের একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। ব্যক্তি আগে আয় কত হবে, সেটি ঠিক করেন, তারপর ব্যয়ের খাতগুলো নির্ধারণ করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্র করে ঠিক উল্টোটা। রাষ্ট্র আগে ব্যয়ের খাতগুলো নির্ধারণ করে। এরপর ঠিক করে, কোথা থেকে অর্থ আসবে। অর্থাৎ সরকার আয় করে খরচ বুঝে, আর ব্যক্তি ব্যয় করেন আয় বুঝে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য না হলে রাষ্ট্র দেশ-বিদেশ থেকে অর্থ ধার করতে পারে। ব্যক্তিও পারেন, তবে এর সীমা সামান্যই। কারণ, ধার করলে পরিশোধ করতে হয়। রাষ্ট্রকেও পরিশোধ করতে হয়, তবে এ জন্য রাষ্ট্র সাধারণত দেউলিয়া হয় না। ধার বছরের পর বছর টেনে নিয়ে যেতে পারে। রাষ্ট্র এই সুযোগ নিজেই তৈরি করে নেয়। যদিও এর ফলে দায় ক্রমাগত বাড়তে থাকে। আয় ও ব্যয় সমান কি না, সেই প্রশ্নেই রাষ্ট্রের বাজেট দুই রকমের হয়ে থাকে। যেমন: সুষম বাজেটসরকারের মোট আয় ও মোট ব্যয় সমান হলে সেটি হচ্ছে সুষম বাজেট। অর্থাৎ সরকারের মোট ব্যয় পরিকল্পনার সমানই হচ্ছে সম্ভাব্য আয়। অসম বাজেটযেখানে আয় আর ব্যয় সমান হয় না। অসম বাজেট আবার দুই রকমের হতে পারে। যেমন উদ্বৃত্ত বাজেট ও ঘাটতি বাজেট। ব্যয়ের তুলনায় আয় বেশি হলে সেটি উদ্বৃত্ত বাজেট। ঘাটতি বাজেট হচ্ছে ঠিক উল্টোটা। এখানে ব্যয় বেশি, আয় কম। প্রশ্ন হচ্ছে, কোন বাজেটটি ভালো। সাধারণত উন্নত দেশগুলো সুষম বাজেট করে থাকে। তবে প্রতিবছরই সুষম বাজেট করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। উন্নত বা ধনী দেশগুলো বাণিজ্য চক্র মেনে সুষম বাজেট করে। অর্থাৎ অর্থনীতির ওঠানামার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরের বাজেট তৈরি করা হয়। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো হলে সুষম বাজেট, খারাপ হলে ঘাটতি বাজেট। অনেক উন্নত দেশই আইন করে সুষম বাজেট তৈরি করে। অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, অব্যাহতভাবে সুষম বাজেট তৈরি করা ভালো কিছু নয়, বরং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বাজেট কেমন হবে ঠিক করা উচিত। কেননা, সুষম বাজেট সুদের হার কমায়, বাড়ায় সঞ্চয় ও বিনিয়োগ। এ ছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতি এগিয়ে যায়। সাধারণত অর্থনীতি ভালো অবস্থায় থাকলে সুষম বাজেট করা হয়, খারাপ হলে অর্থনীতিকে উদ্দীপনা দিতে তৈরি হয় ঘাটতি বাজেট। একটা সময় ছিল যখন ঘাটতি বাজেটকে ক্ষতিকর ও সরকারের দুর্বলতাও ভাবা হতো। পরিস্থিতি এখন পাল্টেছে, বরং অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে কিছুটা ঘাটতি থাকা ভালো। এতে অব্যবহৃত সম্পদের ব্যবহার বাড়ে, ঘাটতি পূরণের চাপ থাকে। তাতে অর্থনীতিতে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। ঘাটতি বেশি থাকাটা আবার ভালো নয়। সাধারণত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতিকে মেনে নেওয়া হয়। বাজেট ঘাটতি দুভাবে পূরণ করা হয়। যেমন: বৈদেশিক উৎসএটি মূলত বৈদেশিক ঋণ। সরকার বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশ থেকে সহজ শর্তে ঋণ নেয়। এই উৎস থেকে বেশি ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে পারলে তা অর্থনীতির জন্য বেশি সহনীয়। কারণ, এতে সুদহার কম এবং পরিশোধ করতে অনেক সময় পাওয়া যায়। তবে শর্ত থাকে বেশি। অভ্যন্তরীণ উৎসসরকার দুভাবে দেশের ভেতর থেকে ঋণ নেয়। যেমন ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা। ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা হচ্ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেশি ঋণ নেওয়ার দুটি বিপদ আছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য অর্থ থাকবে কম। ফলে বিনিয়োগ কমে যায়। আর ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিলে বেশি হারে সুদ দিতে হয়। এতে সুদ পরিশোধে সরকারকে বেশি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখতে হয়। এতে পরের অর্থবছরের বাজেট বেড়ে যায়। সরকার বেশি পরিমাণ ঋণ নিলে মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে। আয় ও ব্যয়ের ধরনের ভিত্তিতেও বাজেট দুই ধরনের। আর আছে উন্নয়ন বাজেট। যেমন: রাজস্ব ব্যয়রাজস্ব ব্যয় হচ্ছে সরকার পরিচালনার খরচ। রাজস্ব ব্যয়কে অনুন্নয়ন বাজেটও বলা হয়। অনুন্নয়ন ব্যয় মোটা দাগে তিনটি। যেমন দেশরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসন চালানোর খরচ।বাংলাদেশ একটি কল্যাণরাষ্ট্র নয়। তারপরও বাজেটে একটি মানবিক চেহারা দেওয়ার চেষ্টা থাকে। এ জন্য নানা ধরনের সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। আবার কৃষি ও জ্বালানি খাতে সরকার ভর্তুকি দেয়। এর বাইরে আছে সুদ পরিশোধ। তবে সবচেয়ে বড় খরচের খাত হচ্ছে বেতন-ভাতা। রাজস্ব আয়রাষ্ট্রের কতগুলো আয়ের উৎস আছে। এগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন প্রত্যক্ষ কর, পরোক্ষ কর এবং করবহির্ভূত আয়। প্রত্যক্ষ করের মধ্যে আছে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর কর (করপোরেট কর), দান কর, উত্তরাধিকার কর, যানবাহন কর, মাদক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব ইত্যাদি। আর পরোক্ষ কর হচ্ছে আমদানি কর, আবগারি শুল্ক, ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক ইত্যাদি। কর ছাড়া আরও আয় আছে। যেমন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ, সুদ, সাধারণ প্রশাসন থেকে আয়, ডাক-তার-টেলিফোন থেকে আয়, পরিবহন আয়, জরিমানা ও দণ্ড থেকে আয়, ভাড়া, ইজারা, টোল ও লেভি থেকে আয় ইত্যাদি। উন্নয়ন বাজেটদেশ পরিচালনায় যত ধরনের ব্যয় আছে, তা পূরণ করে আয়ের বাকি অর্থ দিয়ে সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করে। এ জন্য বরাদ্দ রাখা অর্থই উন্নয়ন বাজেট। এই অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। রাস্তা নির্মাণ, সেতু নির্মাণ থেকে শুরু করে গ্রামীণ উন্নয়ন, বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল তৈরিসহ নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করে সরকার। রাজস্ব উদ্বৃত্ত ও দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে নেওয়া ঋণ নিয়ে উন্নয়ন বাজেট করা হয়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নামে একটি প্রকল্প খাত রয়েছে। এই খাতেই সাধারণত উন্নয়ন বাজেটের খরচ দেখানো হয়।
0
প্রথমবারের মতো অস্কার প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের দুই ছবি। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের উদ্যোগে গঠিত চলচ্চিত্র বাছাই কমিটির নির্বাচনে এরই মধ্যে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের 'রেহানা মরিয়ম নূর' অস্কারের 'আন্তর্জাতিক ভাষার ছবি' ক্যাটাগরির মনোনয়নের জন্য জমা পড়েছে।সম্প্রতি অস্কারের সাধারণ বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে সরকারি অনুদানের ছবি 'দ্য গ্রেভ'। ছবিটি পরিচালনার পাশাপাশি এর কাহিনি, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন গাজী রাকায়েত। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নির্মাতা নিজেই। বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ইংরেজি ছবি এটি। গত বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া ছবিটি দুই ভাষায় নির্মাণ করা হয়। 'দ্য গ্রেভ' ছবির বাংলা নাম 'গোর'। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তিও পেয়েছে ছবিটি।এ প্রসঙ্গে গাজী রাকায়েত বলেন, 'বাংলাদেশের ছবির জন্য এটা ভালো খবর। তবে আমরা এখনো অস্কারে পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের ছবিগুলো জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র। শর্টলিষ্টে নির্বাচিত হলেই আমরা অস্কারের মূল পর্বে যেতে পারব। যদি চূড়ান্ত হয় তাহলে 'রেহানা মরিয়ম নূর' একটি বিভাগে লড়বে। আর 'দ্য গ্রেভ' অস্কারের চলচ্চিত্র, অভিনেতা, নির্মাতা, স্ক্রিনপ্লেসহ অন্য সব বিভাগে লড়াইয়ের সুযোগ পাবে।'নির্মাতা আরও জানিয়েছেন, এবারই প্রথম অস্কারের সাধারণ বিভাগে প্রতিযোগিতায় মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে জমা পড়েছে কোনো ছবি। এ জন্য কিছু শর্ত পূরণ হলে তবেই ছবিটি সাধারণ বিভাগের জন্য জমা দেওয়া যায়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে রিলিজ দেওয়া, ছবির সাউন্ড, লাইট কোয়ালিটিসহ নানা বিষয়ে সিনেমা হল সার্টিফায়েড হওয়া ইত্যাদি। 'দ্য গ্রেভ' সেসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই জমা পড়েছে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেলে ছবিটি অস্কারের সব সাধারণ বিভাগে প্রতিযোগিতা করবে।
6
রাজশাহীতে নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। এটি হবে দেশের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় ম্যুরাল। 'মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে'র আওতায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে ম্যুরালটি নির্মাণ করা করছে।এটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৫ কোটি ২ লাখ টাকা। এর উচ্চতা ৫৮ ফুট। ম্যুরালের মূল অংশে বঙ্গবন্ধুর ছবিটির উচ্চতা ৫০ ফুট ও দৈর্ঘ্যে ৪০ ফুট। ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন আমিরুল ইসলাম। ল্যান্ডস্কেপিং কাজের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন স্থপতি আবির রহমান। ম্যুরালে ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুটে উঠেছে।রাসিকের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এই ম্যুরাল দেশে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় ম্যুরাল। এটির ফাউন্ডেশনে ২২টি পাইলিং করা হয়েছে। বাউন্ডারি ওয়ালের দুই ধারে ৭০০ বর্গফুট টেরাকোটার কাজ করা হচ্ছে। একধারে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের লোকজ সংস্কৃতির নানা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে, অপরদিকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। গ্যালারি, ল্যান্ডস্কেপিংয়ে উন্নত গ্রানাইট দিয়ে সজ্জিত করা হবে। নির্মাণকাজ শেষে সুসজ্জিত বৈদ্যুতিক বাল্ব দিয়ে নাইট ভিশন করা হবে।গতকাল শনিবার দুপুরে নির্মাণাধীন ম্যুরাল পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাসিক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় তাঁর সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার, গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এস এম জাহিদ হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান আশিক, মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা শরীফ আনোয়ার, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ইকবাল মতিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
6
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার দফা দাবি না মানলে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ ঘোষণা দেন। পদবঞ্চিতদের চার দফা দাবি হলো- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১৯টি পদ শূন্য করা হয়েছে- তাদের নামপদসহ প্রকাশ করা, বিতর্কিতদের অব্যাহতি দিয়ে পদবঞ্চিতদের মধ্য থেকে যোগ্যদের পদায়ন এবং মধুর ক্যান্টিন ও টিএসসিতে হামলায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রলীগের গত কমিটির উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ হায়দার টিপু। তিনি বলেন, 'আমাদের চার দফা দাবি আগেও ছিলো এখনও আছে। দাবি আদায়ে আমরা অনড়। শুরু থেকেই এ দাবিগুলোর ব্যাপারে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অকল্পনীয় উদাসীনতা দেখেছি। তাই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ না হলে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবো।' সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- পদবঞ্চিতদের মুখপাত্র গত কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ, দফতর বিষয়ক উপ-সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুনম, সদস্য তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।
9
বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় মোংলা বন্দরের জেটিতে রাবার ফেন্ডার বসানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। রোববার সকালে বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে এই চুক্তি সই হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ তরফদার ও খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম সামছুল আজিজ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তি সই করেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ৮ কোটি ৫০ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে বন্দরের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর জেটিতে রাবার ফেন্ডার স্থাপন করা হবে। এতে আমদানি-রপ্তানির কাজে নিয়োজিত বিদেশি জাহাজ মোংলা বন্দরের জেটিতে আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভিড়তে পারবে। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা শিপইয়ার্ডের ক্যাপ্টেন এম ফিদা হাসান, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল ও হাইড্রোলিকস) মো. শওকত আলী, পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মোস্তফা কামাল, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মেহেদি, বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগের উপসচিব মো. মাকরুজ্জামান প্রমুখ। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ তরফদার বলেন, মোংলা বন্দরের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর জেটির রাবার ফেন্ডারগুলো ১০ বছরের বেশি সময় আগে লাগানো হয়েছিল। যার অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বিদেশি জাহাজগুলো জেটিতে সহজে বার্দিং করা ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষায় রাবার ফেন্ডার স্থাপন করা হচ্ছে। আগে জেটিতে সামনে কাঠের লগ ব্যবহার করা হতো। যা কিছুদিন পর পচে নষ্ট হয়ে যেত এবং জাহাজের আঘাতে নিচে পড়ে যেত। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কাঠের লগের পরিবর্তে ডি-টাইপ কঠিন উইং ফেন্ডার স্থাপন করা হচ্ছে। এতে মোংলা বন্দরে জেটিতে আগত বিদেশি জাহাজগুলো নিরাপদে আগমন ও বহির্গমন করতে পারবে।
6
দেশে পরীক্ষা যতো বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও ততোবেশী শনাক্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যেখানে বলছেন মে মাসের শেষ সপ্তাহ বা জুনের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ পিকে উঠতে পারে এবং তারপর থেকে ধীরে ধীরে সংক্রমণ কমতে থাকবে। এরকম গবেষনা প্রতিবেদন থাকার পরও গত ২৬ এপ্রিল থেকে পোষাক কারখানা খুলে দিয়ে এবং আগামী ১০ মে থেকে সকল শপিংমল, দোকান-পাট খুলে দেয়ার সরকারি ঘোষণা গোটা দেশের মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। মঙ্গলবার বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সিপিবি সভাপতি মুজাদিুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)'র সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক মঙ্গলবার সংবাদপত্রে দেয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঘোষণায় বলা হয়েছিল সীমিত আকারে ধাপে ধাপে ৩০ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে পোষাক কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করে কারখানা চালু করবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই দেখা গেছে ধাপে ধাপে কারখানা চালুর বিষয়টি না মেনে এক সাথে সব কারখানা চালু করেছে। ৩০ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও ৯০ শতাংশ এর বেশি শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও শ্রমিকের সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে পোষাক শ্রমিকদের অনেকেই ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এবং কমিউনিটি সংক্রমণের ফলে সমগ্র দেশের জনগণই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই অবস্থার নিরসন না করেই গতকাল সোমবার আবার ঘোষণা করা হলো ১০ মে থেকে শপিংমল ও দোকান-পাট খুলে দেয়া হবে। এটা জেনেশুনে মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে দেশের সমগ্র জনগণকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়া হলো। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এমনিতেই যেখানে কর্মহীন, রোজগারহীন মানুষ খাদ্যাভাবে ঘরে থাকতে চাইছে না, তখন সরকারের এহেন অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত গোটা জাতির জন্য চরম দুর্ভোগ বয়ে আনবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে যে সব কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি ও শ্রমিকের সুরাক্ষা মানছে না তদন্ত করে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া শপিংমল, দোকান-পাট না খোলার দাবি জানান। একই সাথে কর্মহীন, রোজগারহীন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী নিন্মআয়ের মানুষদেরকে আগামী ৩ মাস নগদ আর্থিক সহায়তা ও চাল, ডালসহ খাদ্য সামগ্রী ত্রাণ হিসেবে দেয়া এবং নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তদের জন্য স্বল্প মূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
6
এজবাস্টনে প্রথম টেস্টে লড়াই করে হারলেও লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ব্রিটিশদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। বৃষ্টিবিঘ্নিত টেস্টে মাত্র তিনদিনেই ভারতকে ধরাশায়ী করে ইংলিশরা। ইনিংস ও ১৫৯ রানে হেরে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ০-২ এ পিছিয়ে পড়েছে আইসিসি'র এক নম্বর টেস্ট দল। বিরাটের অধিনায়কত্বে এই প্রথম ইনিংস হারের লজ্জায় ডুবেছে টিম ইন্ডিয়া। লর্ডসে এই লজ্জাজনক হারের পর টিম ইন্ডিয়ার সমালোচনায় মুখর হয়েছেন সাবেকরা। সমালোচনার ঝড় উঠেছে টুইটারেও। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে হারলেই সিরিজ শেষ হয়ে যাবে কোহলিদের। এতো খারাপ পরিস্থিতিতে এর আগে কখনও পড়েননি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ভারতীয় দলের ব্যাটিং যখন শোচনীয় তখন কোহলির 'অজানা' ব্যাক পেইন ভারতীয় শিবিরে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। প্রথম একাদশ নির্বাচন থেকে পিচ রিডিং। অধিনায়ক কোহলির প্রায় সব সিদ্ধান্ত নিয়েই ব্যাপক সমালোচনা চলছে। হতাশার হারের পর টিম ইন্ডিয়ার উপর ক্ষুব্ধ দেশের ক্রিকেট ভক্তরা। তাদের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন কোহলি। লিখেছেন, ''কখনও আমরা জিতি, আর বাকি সময় আমরা শিখি। তোমরা আমাদের ছেড়ে যেও না। আমরাও প্রতিজ্ঞা করলাম, তোমাদের কখনও ছেড়ে যাব না। এখন থেকে সব সময়...।" প্রথম দুই টেস্টে বিজয়-কার্তিকদের ব্যর্থতার পর এবার দাবি উঠছে ঋষভ পন্থ, করুণ নায়ারদের খেলানোর। বুধবার থেকে পুরোদমে অনুশীলনে নেমে পড়ার কথা টিম ইন্ডিয়ার। আসলে জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, স্যাম কুরানদের সামনে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বড় অসহায় দেখাচ্ছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে সফল হতে হলে ওপেনারদের শুরুটা ভালো করতে হবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই কাজটাই এখনও করে উঠতে পারেননি ভারতীয় ওপেনাররা। ফলে নতুন বলে মিডল অর্ডারে চাপ পড়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
12
বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। গত অক্টোবরে যে গতিতে উৎপাদন বাড়ানোর প্রত্যাশা করেছিল শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের জোট ওপেক, তবে তার চেয়ে উৎপাদন কম হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম আমদানিকারক দেশ চীনে ডিজেলের সংকটে তেলের চাহিদা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে। গতকাল সোমবার অপরিশোধিত তেলের আগাম লেনদেনের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ হয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ, ব্যারেল প্রতি হয়েছে ৮৪ দশমিক ২৪ ডলার। গত বছরের এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল 'শূন্য' ডলারের নিচে নেমে যায়। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে অপরিশোধিত তেলের দাম এখন চড়া। বিশ্বজুড়ে করোনার সংক্রমণ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হচ্ছে আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানির চাহিদা। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে দাম, তৈরি হচ্ছে সংকট। প্রায় দেড় বছর কম দামে বিক্রির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তেল উত্তোলনকারী দেশগুলো দাম বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দৈনিক তেল উত্তোলনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। চাহিদা বাড়লেও চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত মাসিক চার লাখ ব্যারেল হারে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে অনড় রয়েছে ওপেক প্লাস। গতকাল সোমবার রয়টার্সের একটি জরিপে দেখা গেছে, গত অক্টোবরে ওপেকের তেল উৎপাদন বৃদ্ধি, মিত্রদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী যতটুকু বাড়ানোর কথা ছিল, তার থেকে কম উৎপাদিত হয়েছে। কিছু ছোট উৎপাদক কম উৎপাদন করেছে। ওপেক অক্টোবরে ২ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে। যা আগের মাসের তুলনায় ১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল বেশি তবে সরবরাহ চুক্তির অধীন অনুমোদিত হারের চেয়ে কম। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২ লাখ ৫৪ হাজার ব্যারেল উৎপাদনের কথা ছিল ওপেকের। এদিকে চীনের জাতীয় তেল সংস্থাগুলো ডিজেলের ঘাটতি এড়াতে অপরিশোধিত তেল দিয়ে শোধনাগার চালানোর হার বাড়িয়েছে। ফলে চাহিদা বেড়ে গেছে তেলের।
0
চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দোকানপাট তুলে দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ আসায় টিএসসির দোকানপাট তুলে দিয়েছে বলে জানা যায়। টিএসসির দোকানের জায়গায় শিক্ষার্থীদের জন্য পার্কের মত করে বসার ব্যবস্থা করা হবে, পাশাপাশি থাকবে ফুট কোড বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। আজ রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী টিএসসির সকল দোকান বন্ধ রয়েছে এবং মুষ্টিমেয় ছাত্র-ছাত্রী টিএসসিতে আড্ডা দিচ্ছেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আজ সকালে চা খেতে এসে দেখি টিএসসির সকল দোকান বন্ধ। ক্যান্টিনে নিয়মিত জায়গা না পাওয়ায় আমরা সাধারণত টিএসসিতে চা নাস্তা, ভাত খেয়ে থাকি। ক্যাম্পাসের আশে-পাশে রায়সাহেব বাজার আর সদরঘাট যাওয়া ছাড়া আর কোন চায়ের দোকান নেই। আজ হঠাৎ এটা কেন বন্ধ বুঝলাম না।ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, নতুন কমিটি গঠনের পরই শাখা ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে টিএসসি ও এর আশপাশের দোকান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে। কিন্তু তারা কেউ ছাত্রলীগের কর্মী না। ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয়ে বিভিন্ন লোক টিএসসিতে চাঁদাবাজি করে থাকে। যার কারণে ছাত্রলীগের দুর্নাম হয়।এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহীম ফরাজী বলেন, 'দোকানের জায়গায় ছাত্রছাত্রীদের আড্ডার জন্য পার্কের মতো ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষার্থীদের খাওয়ার ব্যবস্থার জন্য ক্যাম্পাসে ক্যান্টিনের পাশাপাশি নতুন করে ফুড কোড বা খাবারের দোকান খোলা হবে।'শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইন বলেন, 'টিএসসি বন্ধ হওয়ায় এখন আর কোন চাঁদাবাজি হবে না। জগন্নাথ ছাত্রলীগে কোন চাঁদাবাজ বা নেশাগ্রস্থদের জায়গা হবে না। আমরা এখানে সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মনোরম পরিবেশে বসার ব্যবস্থা করব।'জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, 'আমরা এই বিষয়ে কিছু জানি না। এটা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে না, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন এখতিয়ার নেই।'
6
লকডাউন সারা ভারত। বলিউড তারকারাও ঘরবন্দী। কী করা যায়। কেউ ঘরে বসে সিনেমা বানাচ্ছেন, কেউ গান করছেন। আর দক্ষিণ ভারতের অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং ঘরবন্দী সময় কাটাচ্ছেন ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে। আপাতত তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট তা-ই বলে। এই ইউটিউব থেকে পাওয়া অর্থ চলে যাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর করোনাসহায়তার জন্য তৈরি 'কেয়ার ফান্ড' তহবিলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকুল প্রীত একটি ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, 'আমার হাতে এখন প্রচুর সময়। ভাবলাম, ইউটিউব চ্যানেলটা খুলে ফেলি। মজার মজার ভিডিও দেব। আর এর থেকে আসা আয় চলে যাবে কেয়ার ফান্ডে। চলুন, আনন্দ ও সুখ ছড়িয়ে দিই, যে যেভাবে পারি। এখনই আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।' যদিও রাকুল প্রীত সিংয়ের ইউটিউব চ্যানেল খোলা হয় ২০১৩ সালে। এত দিন তিনি অনিয়মিত ছিলেন। এখন থেকে নিয়মিত হতে পারেন। সেই আশ্বাসই দিয়েছেন মনে হয়। তবে শুধু ইউটিউবের আয় দিয়েই নয়, গুরুগ্রামের একটি বস্তির ২০০ পরিবারকে খাবারের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। সে খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে তাঁর নিজের বাড়িতেই। এই আয়োজনকে রাকুল 'ছোট একটি চেষ্টা' বলে বিনয় প্রকাশ করেছেন। রাকুল প্রীত বলেন, 'আমার বাবা এই বস্তিবাসীর কথা বলেছিলেন। যেখানে তাঁরা কেউ-ই তাঁদের মৌলিক অধিকারটুকু পাচ্ছেন না। তাঁদের দিনে আমরা দুই বেলা খাবার দিচ্ছি। লকডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এটি চালিয়ে যাব। যদি লকডাউন বাড়ানো হয়, তাহলে আমরাও এটি চালিয়ে যাব। আপাতত এপ্রিল মাস চলবে। বাকিটা অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। রান্নার ব্যবস্থাও করা হয়েছে আমাদের সোসাইটিতে। এবং এখান থেকেই তা লোকজনের কাছে পাঠানো হয়।' রাকুল প্রীত আরও বলেন, 'এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা অনেকেই সচ্ছল। আমাদের ঘর আছে। আমরা সাহায্য পাই। খাবার আছে, জরুরি অবস্থায় খাবারের ব্যবস্থা করারও সক্ষমতা আছে। কিন্তু এখন মানুষকে দেওয়ার সময়। খাওয়ার সময় মানুষের মুখে হাসি দেখার চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই আমার কাছে। এটা আমাকে মারাত্মক সুখী করে। এ কারণে এই ধরনের সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছি। আর এটা আমার পক্ষ থেকে ছোট একটা প্রচেষ্টা মাত্র।' সূত্র: ডিএনএ
2
চট্টগ্রামে উন্মুক্ত নালা ও খালে পড়ে একের পর এক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের টাইগারপাসে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ে সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে এ উদ্বেগের কথা জানান তিনি। পরে ঝুঁকিপূর্ণ খোলা নালার উপর স্থাপনের জন্য মোস্তফা হাকিম গ্রুপের গোল্ডেন ইস্পাত লিমিটেডের পক্ষ থেকে এক ট্রাক স্ল্যাব উপহার হিসেবে সিটি মেয়রের হাতে তুলে দেন তিনি। এ সময় বর্তমান ও সাবেক মেয়র নগরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং নাগরিক দুর্ভোগ সহনীয় করার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। সাক্ষাতে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম নগরবাসীর চলাচলের সুবিধায় নালার ওপর স্ল্যাবস্থাপন, সড়কবাতি স্থাপন, খাল ও নালার পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপনের অনুরোধ জানান। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত্ম সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
6
আইপিএলের সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলেন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪১২ রান করেছেন। তবে ব্যাটসম্যান হিসেবে বিরাট কোহলি যতটা না সফল ঠিক ততটাই অসফল অধিনায়ক হিসেবে। তিনি ব্যাঙ্গালুরুকে ৭ আসরে নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র ১ আসরে ফাইনালে তুলতে পেরেছেন। কিন্তু শিরোপা জিততে পারেননি একটিও। তাই আইপিএলের নতুন মৌসুম এলেই বিরাট কোহলির অধিনায়ক থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এবারো ব্যতিক্রম হয়নি। ক্রিকেটবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর মালিক সঞ্জিব চুরিওয়ালাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিরাট কোহলিকে তার দল এবারো অধিনায়ক হিসেবে রাখবে কিনা। এমন প্রশ্নের জবাবে চুরিওয়ালা জানিয়েছেন, আইপিএলে বিরাট কোহলির হাতে দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিতে পেরে তারা গর্বিত। ফলাফল যাই হোক না কেন এতে তাদের সমস্যা নেই। ফলে এবারো কোহলিকেই অধিনায়ক হিসেবে রাখবেন তারা। এ ব্যাপারে চুরিওয়ালা বলেন, 'বিরাট হচ্ছে ভারতের অধিনায়ক এবং তার সবার চেয়ে বেশি ভক্ত রয়েছে। আমরা বিরাটকে ভালোবাসি আর ভালোবাসি বিরাটকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়ার ব্যাপারটিকে।' বিরাট কোহলি ৭ বছরে ব্যাঙ্গালুরুকে ১১০টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই ১১০টি ম্যাচের মধ্যে তার দল জয় তুলে নিতে পেরেছে ৪৯টিতে। মানে সবমিলিয়ে তার অধীনে মাত্র ৪০ ভাগ ম্যাচে জয় পেয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে জয় পরাজয়ের হিসাব নিয়ে ভাবতে চান না চুরিওয়ালা। তার মতে জয় পরাজয় খেলার অংশ। বিরাট ব্যক্তিগতভাবে যে অর্জনগুলো করেছে সেগুলোই কম কিসে। এ ব্যাপারে চুরিওয়ালা বলেন, 'দেখুন খেলা মানেই আপনি একবার জয় পাবেন। আরেকবার হারবেন। আর তাই তার ব্যক্তিগত অর্জনকে ভুলে গেলে চলবে না। ব্যাঙ্গালুরু একজন সমর্থক হিসেবে, একজন মালিক হিসেবে, বিরাট কোহলিকে অধিনায়কের দায়িত্ব দিতে পেরে আমরা গর্বিত। ভবিষ্যতেও তার ওপরই বিশ্বাস রাখতে চাই আমরা।'
12
হকার্সদের পেশার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, তাঁদের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, রেশনিং কার্ড চালু করা, গণপরিবহনে হকারদের অবাধে কাজ করার ব্যবস্থা করা, রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে পরিবহন ও ভ্রাম্যমাণ হকার্সদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাসহ বেশ কিছু দাবি তুলছে বাংলাদেশ ভ্রাম্যমাণ হকার্স শ্রমিক ঐক্য ফোরাম।আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক হকার্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তাঁরা এসব দাবি তোলেন।সমাবেশে বক্তারা বলেন, 'আমাদের অনেকেই শিক্ষিত। এ দেশে অনেকেই বেকার থাকছেন, কিন্তু নিজেদের উদ্যোগে কাজ করছি। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে পড়ালেখা করেও চাকরি না পেয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করে হকার্স হয়েছে। আমরা জীবিকার তাগিদে হকার্স হয়েছি, অথচ আমাদের এই পেশার কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।'হকার্স মাহফুজুর রহমান বলেন, 'আমরা চুরি বা ডাকাতি করি না। আমি উচ্চমাধ্যমিক পাস করে এসেছি একটি স্বাধীন পেশায়। আমার পেশার স্বীকৃতি নাই। আমরা শরীরের ঘাম পায়ে ফেলে রুটি রোজগারের জন্য কাজ করি। আজকে আমরা পেশার স্বীকৃতি পাচ্ছি না।'বাংলাদেশ ভ্রাম্যমাণ হকার্স শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি ইউসুফ আলী সিকদার বলেন, 'আমাদের কোনো পরিচয় নেই। আমরা নানা বৈষম্যের শিকার। হকারদের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন আমাদের প্রাণের দাবি। রাষ্ট্রীয়ভাবে হকার্স দিবস ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের বিনা সুদে লোন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতি গাড়িতে হকার্সদের জন্য একটি করে সিট দেওয়া হোক এবং প্রতিবন্ধীদের বিনা জামানাতে একটি করে দোকান দেওয়া হোক।'সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, 'দেশে পরিবহন ও ভ্রাম্যমাণ হকার্স রয়েছেন ১০ লাখ। আমাদের পরিচয় নেই বলে করোনার সময় কোনো সহযোগিতা পাইনি, অথচ সব ব্যবসায়ী সহযোগিতা পেয়েছেন। পরিচয় থাকলে আমরা সরকারকে কর দিতে পারতাম। সরকারের উন্নয়নের সহযোগী হতে চাই। সরকার তাতে কয়েক কোটি টাকা পেত।'সমাবেশে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ভ্রাম্যমাণ হকার্স শ্রমিক ঐক্য ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ হকার সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, কার্যকরী সভাপতি কামাল সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইজুদ্দিন মিয়া, সহসভাপতি আরিফ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক এম এ খায়ের, কেন্দ্রীয় নেতা তাজুল ইসলাম, খায়রুল বাশারসহ বাংলাদেশ ভ্রাম্যমাণ হকার্স শ্রমিক ঐক্য ফোরামের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
6
আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউপি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীরগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোটের মাঠে নেমেছেন দেবর-ভাবী। তারা হলেন নাটঘর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ডা: আবুল কাসেমের বড় ছেলে সদ্য মরহুম এরশাদুল হকের স্ত্রী ইসরাত জাহান সেতু এবং তার আপন দেবর আক্তারুজ্জামান। দু'জনই নৌকার মাঝি হতে মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। এই বিষয়ে এরশাদুল হকের স্ত্রী ইসরাত জাহান সেতু জানান, 'জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে আমার স্বামী নাটঘর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। আমার স্বামীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ঘাতকেরা তাকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমার সন্তানেরা স্বপ্ন দেখেছিল তাদের দাদার মতো তাদের বাবা চেয়ারম্যান হবেন। এখন তাদের বাবা নেই, আমিই তাদের বাবা-মা। এলাকাবাসী ও আমার সন্তানদের স্বপ্ন এবং আমার স্বামীর ইচ্ছা পূরণ করতে পরিবারের সম্মতি নিয়েই আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।' এ বিষয়ে আক্তারুজ্জামান বলেন, পরিবারের সাথে আলোচনা করেই দলীয় ফর্ম কিনেছি, দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষেই কাজ করবো। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন চৌধুরী শাহান বলেন, নাটঘর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী মোট পাঁচজন দলীয় মনোনয়নপত্র আজকে (মঙ্গলবার) জমা দিয়েছে। তাদের মধ্যে ইসরাত জাহান সেতু এবং তার আপন দেবর আক্তারুজ্জামান রয়েছে। উল্লেখ্য, নাটঘর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ডা: আবুল কাসেমের বার্ধক্যজনিত কারণে তার বড় ছেলে এরশাদুল হক বাবার কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে নাটঘর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ছিলেন এরশাদুল হক। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে এবং তার মোটরসাইকেল চালক বাদল সরকারকে গুলি করে হত্যা করে।
6
অবশেষে বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে টপকে একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে চলে গেছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশ নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। বরাবরের মতো চীন সবার ওপরেই আছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিসটিকস রিভিউ ২০২১ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ডব্লিউটিও। এতে দেখা যায়, ২০২০ সালে ভিয়েতনাম দুই হাজার ৯০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। আর বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে দুই হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পোশাক। অথচ এর আগের বছর বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার। তখন ভিয়েতনামের রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার। মূলত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছিল ভিয়েতনাম। গত দু-তিন বছরে ব্যবধানটি পিঠাপিঠি নিয়ে এসেছিল দেশটি। শেষপর্যন্ত করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে পেছনেই ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির হিস্যাও কমেছে। ২০১৯ সালে বিশ্বে যে পরিমাণ পোশাক রপ্তানি হয়, তার মধ্যে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল বাংলাদেশি। গত বছর সেটি কমে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ভিয়েতনামের বাজার হিস্যা গত বছর ৬ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য ২০১০ সালে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। তখন ভিয়েতনামের ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। ১০ বছরের ব্যবধানে সেই ভিয়েতনামই টপকে গেল বাংলাদেশকে। অবশ্য বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, করোনার কারণে গতবছর প্রায় এক মাস পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। সে সময় পণ্য রপ্তানি হয়নি। অনেক ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। ফলে বন্ধের পর কারখানা খুললেও ক্রয়াদেশ কম ছিল। সে কারণে সহজেই ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে পারে। তবে চলতি বছর চিত্র আবার পাল্টে যাবে। কারণ বর্তমানে প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। অনেক কারখানা ২০১৯ সালের চেয়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্রয়াদেশ বেশি পাচ্ছে। ডব্লিউটিওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে চীন সবচেয়ে বেশি; ১৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। যদিও এর আগের বছরের চেয়ে দেশটির পোশাক রপ্তানি ৭ শতাংশ কমেছে। তারপরও চীন বিশ্বের মোট পোশাক রপ্তানির ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে রেখেছে। তবে একক দেশ হিসেবে ভিয়েতনাম দ্বিতীয় পোশাক রপ্তানিকারক হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো সম্মিলিতভাবে এ জায়গা বহুদিন ধরেই দখল করে আছে। গতবছর ইইউর দেশগুলো নিজেদের অঞ্চলে ১২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। আর ইইউর বাইরে তাদের রপ্তানির পরিমাণ ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।
0
আওয়ামী লীগের সভাপতিমতণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আর নেই। টানা ৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় বিদায় নিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নাসিম। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও তার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, মেডিক্যাল বোর্ড রাতে মিটিং করেছে। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় নতুন করে হার্টে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আগে এই সমস্যা ছিল না। প্রসঙ্গত, গত ১ জুন নিউমোনিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হলে ফলাফল পজিটিভ আসে। তবে সম্প্রতি মোহাম্মদ নাসিমের পরপর তিনটি করোনা টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৫ জুন শুক্রবার ভোরে তার স্ট্রোক হয়। সেদিনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হকের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার হয়। এর আগেও তার একবার স্ট্রোক হয়েছিল। সব মিলিয়ে তার অবস্থা খুব সংকটাপন্ন বলেই মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকরা।
6
ফাইনালের আগ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্টে দুজনই খেলেছেন আধিপত্য বিস্তার করে। তাদের বিপক্ষে কোনো প্রতিপক্ষই পাত্তা পায়নি। তাই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল ম্যাচটি হবে জমজমাট, দেখা মিলবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কিন্তু মেলবোর্ন পার্কের রড লেভার এরেনায় তা হতে দেননি সার্বিয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচ। স্প্যানিশ সুপারস্টার রাফায়েল নাদালকে সরাসরি সেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার মাধ্যমে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা নিজের করে রাখলেন জোকোভিচ। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকেন জোকোভিচ। পাঁচ ম্যাচের সেট তিনি শেষ করে দিয়েছেন তিন সেটেই। প্রথম সেটে ৬-৩, পরের সেটে ৬-২ এবং ম্যাচ নির্ধারণী তৃতীয় সেটে ৬-৩ গেমে জিতে ম্যাচের ফল নিজের পক্ষে আনেন দ্য জোকার। এটি সার্বিয়ান এ তারকার ক্যারিয়ারের ১৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। ছেলেদের এককে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার তালিকায় কিংবদন্তি পিট সাম্প্রাসকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। তার সামনে রয়েছেন কেবল রাফায়েল নাদাল (১৭ শিরোপা) এবং রজার ফেদেরার (২০ শিরোপা)। এছাড়া প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ফাইনাল ম্যাচে নাদালকে সরাসরি সেটে উড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭ বারের মতো শিরোপা জিতলেন জোকোভিচ। এ টুর্নামেন্টে তার চেয়ে বেশি শিরোপা জেতার রেকর্ড নেই অন্য কোনো টেনিস তারকার।
12
লালমনিরহাটে তাণ্ডব চালানো সার্কাসের সেই হাতিটি নেওয়া হলো বগুড়ায় মালিকের বাড়িতে। গতকাল বুধবার দি লায়ন সার্কাস কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহযোগিতায় ট্রাকে করে হাতিটি নিয়ে গেছে।এর আগে গত সোমবার লালমনিরহাটে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) আয়োজিত শিল্প ও পণ্য মেলায় শিকল ছিঁড়ে তাণ্ডব চালায় হাতিটি। গত মঙ্গলবার এটিকে ট্র্যাঙ্কুলাইজার যন্ত্রের মাধ্যমে অচেতন করে নিয়ন্ত্রণে আনার পর গতকাল বগুড়ার শেরপুরে সার্কাস মালিকের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো।স্থানীয়রা জানান, হাতিটি পায়ের শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে পড়েন শহরে। এ সময় বেশকিছু গাছপালা, কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও ফসলের ক্ষতি করে। পরে মাহুতসহ সার্কাস দলের সদস্যরা একে শান্ত করতে গেলে আরও উত্তেজিত হয়ে রাস্তার গাছপালাসহ মানুষের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় একজন আহত হন। পরে সার্কাস দলের সদস্যরা ব্যর্থ হয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে শহরের সাহেবপাড়ায় তাণ্ডব শুরু করে একটি বিলে নেমে পড়ে হাতিটি।দি লায়ন সার্কাসের মালিক নিরঞ্জন সরকার জানান, হরমোনজনিত কারণে হাতিটি একটু উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ে। এ কারণে শিকল ছিঁড়ে লোকালয়ে প্রবেশ দোকানপাট, গাছপালাসহ কিছু ফসলের ক্ষতি করে। মঙ্গলবার দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ডক্টর তপন কুমার দের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল এসে হাতিটিকে অচেতন করে নিয়ন্ত্রণে আনে। ২৪ ঘণ্টা অচেতন ও বিশ্রামে থাকার পর গতকাল দুপুরে হাতিটিকে ট্রাকে করে শেরপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিন দিনে হাতির চিকিৎসা বাবদ প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
6
নিজের দেশের প্রস্তুত করা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণের পর তার মেয়ের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রশিয়া ২৪ নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানান বলে বৃহস্পতিবার স্পুটনিক নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিশ্বের প্রথম করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেন পুতিন। এরপর তার এক মেয়ের শরীরে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগের কথাও জানান তিনি। সাক্ষাতকারে পুতিন বলেছেন, এই ভ্যাকসিন একটি স্থিতিশীল প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে; আমাদের বিশেষজ্ঞদের কাছে ব্যাপারটি অত্যন্ত স্পষ্ট। এর মাধ্যমে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে; যা আমার মেয়ের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। এটি ক্ষতিকর নয়। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমার মেয়ে ভালো আছে। তিনি জানান, ভ্যাকসিন গ্রহণের প্রথম দিন তার মেয়ের শরীরে তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠেছিল আর দ্বিতীয় দিন তা হয় ৩৭ ডিগ্রির কিছুটা বেশি। পুতিন জানান, ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার ২১ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যায়। তবে সব ঠিক আছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়তে রাশিয়ার তৈরি আরেকটি ভ্যাকসিন আসন্ন সেপ্টেম্বরে প্রস্তুত হয়ে যাবে বলেও জানান প্রেসিডেন্ট পুতিন।
3
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য বুধবার (১৩ এপ্রিল) দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মামুন মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ২৭ মার্চ আলোচিত এ হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। যুক্তি উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামীদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হয়। এ মামলার আসামিরা হলেন- জেএমবির শুরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন, হাফিজ মাহমুদ ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু। আসামিদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ার বর্তমানে কারাগারে। মৃত্যু হয়েছে হাফিজের। আর বাকি দুইজন সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ পলাতক রয়েছে। এছাড়া এ হত্যা মামলায় ৫৮ সাক্ষীর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৪১ জন সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন লেখক হুমায়ুন আজাদ। এসময় তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যবরণ করেন। এ ঘটনার দিন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির রাজধানীর রমনা থানায় হত্যাকান্ডের একটি মামলা করেন।
6
ইভ্যালির সিইও ও এমডি গ্রেপ্তারের রাতেই প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যারহাউস থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোনসহ বেশ কিছু মালামাল সরিয়ে ফেলেছে কয়েকজন কর্মচারী। সাভারের হেমায়েতপুরের পূর্বহাটি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে পণ্যগুলো এনে জমা করেন ইভ্যালির প্যাকেজিং সেকশনের দায়িত্বে থাকা মোজাম্মেল। এই পণ্যগুলোর আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এ তথ্য জানতে পেরে ইভ্যালির কিছু গ্রাহক অর্ডারকৃত পণ্য বুঝে পেতে সেই বাসার সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। পরে তাঁদের দাবিকৃত পণ্য বুঝিয়ে দিতে একদিন সময় চান মোজাম্মেল। সময় পার যাওয়ার পর থেকে মোজাম্মেলের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।হেমায়েতপুরে মোজাম্মেলের শ্বশুর বাড়িতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ কার্টন ভর্তি পণ্যের খোঁজ পান আজকের পত্রিকার ধামরাই প্রতিনিধি নাঈম ইসলাম। গ্রাহক সেজে অন্য গ্রাহকদের সঙ্গে ওই বাসায় যান তিনি। তিনি ওই বাসায় ঘরভর্তি পণ্যের কার্টন দেখতে পান। কার্টন খুলে দেখতে চাইলে দুই কার্টন ভর্তি আইফোন ও রিয়েলমি ব্র্যান্ডের মোবাইল দেখতে পান আহাদ নামে একজন গ্রাহক। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির কাছে মোজাম্মেল স্বীকার করেন বাকি কার্টনগুলোতেও মোবাইল ও মোবাইল এক্সেসরিজ রয়েছে।রোববার মোজাম্মেলের স্ত্রীর বড় বোন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, যেদিন রাসেল গ্রেপ্তার হয় ওই দিন রাত ২টার দিকে একটি মাইক্রোবাস ও একটি লেগুনায় করে পণ্যগুলো তাঁদের বাড়িতে আনা হয়। মানুষ ঝামেলা করতে পারে এই আশঙ্কায় মালগুলো রাতে আনা হয়েছে। পরে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে পণ্যগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এ পণ্য আবার ইভ্যালির ওয়্যারহাউসেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পণ্যগুলো বাসায় আনার পর কোন গেট পাশ, স্লিপ বা ক্যাশ মেমো ধরনের কোন কাগজও আজকের পত্রিকার প্রতিনিধিদের দেখাতে পারেননি তিনি।ওই নারী আরও বলেন, ইভ্যালির মালিকের বড়ভাই ও ওয়্যারহাউসের কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা এসে বাসায় মালগুলো দিয়ে যায়। তাঁরা বলেছিল এখান থেকে মালগুলো বিক্রি করে দেবে। পরে শনিবার বিকেলে বাড়ির ৩ ভাড়াটিয়ার সহযোগিতায় কার্টনগুলো আবারও গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভারে মোবাইল ব্যবসায় জড়িত এক যুবক আজকের পত্রিকাকে বলেন, শনিবার ৩০০ ও রোববার ২০০ পিচ রিয়েলমি ৮ (৫ জি) মডেলের ফোন সাভারের বাজারে ছোট হোলসেলারদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে ১৯ হাজার ৭০০ টাকা দরে। হেমায়েতপুর মোজাম্মেলের শ্বশুরবাড়ির এলাকা পূর্বহাটি থেকেই এ ফোনগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে ফোনগুলো কে বুঝিয়ে দিয়েছেন তা জানাতে পারেননি তিনি।ওই যুবক বলেন, প্রায় ২০ হাজার টাকা করে যদি ৫০০ মোবাইল বিক্রি করে দেওয়া হয় তাহলে এরই মধ্যে কোটি টাকার মোবাইল বিক্রি হয়েছে। এভাবে হয়তো আরও অনেক মোবাইল বাজারে বিক্রি করেছে মোজাম্মেল ও তাঁর সহযোগী জাহাঙ্গীর। তিনি নিজেও ইভ্যালিতে ৪ লাখের বেশি টাকার পণ্য অর্ডার করেছেন। সেই টাকার আশায় ঘুরছেন তিনি।শুক্রবার রাতে ওই বাসায় মানুষের উপস্থিতি দেখে অপ্রস্তুত হয়ে যান মোজাম্মেল। তখন তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে একদিন সময় চেয়ে নেন। পরদিন মোজাম্মেল ইভ্যালির এক গ্রাহককে জাহাঙ্গীর নামে একজনের মোবাইল নম্বর দিয়ে জানান ইনি তাঁর সিনিয়র কর্মকর্তা। মোজাম্মেল বলেন, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পণ্য পেয়ে যাবেন।গ্রাহক আহাদ আহাম্মেদ ইভ্যালির জাহাঙ্গীরকে ফোন করলে তিনি নানা অজুহাতে সময় পার করেন। শনিবার সন্ধ্যার পরে ইভ্যালির সাভারের আমিনবাজারে সালেহপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ওয়্যারহাউসের গেটের বাইরে প্রতিষ্ঠানটির এইচআর বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন। পরে সেখানে মোস্তাফিজুর ওই গ্রাহকের কাছ থেকে আরও একদিন সময় চান।১৯ সেপ্টেম্বর গ্রাহকেরা আবার মোজাম্মেলের বাসায় এলেও মোজাম্মেলকে পাওয়া যায়নি। তবে কিছুক্ষণ পরে হাজির হন জাহাঙ্গীর। দুদিন ধরে বড় কর্মকর্তা সেজে কথা বলা জাহাঙ্গীর স্বীকার করেন যে, তিনি ইভ্যালি সংশ্লিষ্ট কেউ নন। মোজাম্মেল তাঁর বোনের জামাই। তবে আগের দিন গ্রাহকদের মাল ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কথা বলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোজাম্মেল তাঁর বোন জামাই। বোন জামাইকে বিপদ থেকে বাঁচাতে তিনি গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই তিনি পালিয়ে যান।জাহাঙ্গীর সাভারের হেমায়েতপুরের শামপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর ফেসবুক আইডিতে দেখা যায় ইভ্যালি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করেন তিনি এবং তাঁর প্রোফাইল ছবিতেও ইভ্যালির অন্য কর্মীদের মত ইভ্যালি ফ্রেম দেওয়া ছিল। ইভ্যালির গ্রাহক আহাদ আহাম্মেদ জানান, গত শনিবারে জানতে পারি কয়েকজন কর্মকর্তা ইভ্যালির সাভারের ওয়্যারহাউস থেকে প্রচুর পরিমাণ মালামাল সরিয়ে বাসায় নিয়ে রেখেছে। পরে মোজাম্মেল নামের এক কর্মচারীর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখি তাঁর এক রুমে অনেকগুলো কার্টন রয়েছে। আরেক রুমের এক পাশে প্রায় অর্ধশতাধিক কার্টন। পরে আমরা কয়েকজন জোরপূর্বক দুটি কার্টন খুলে দেখি মোবাইল ফোন। একটিতে রিয়েলমি অন্যটিতে আইফোন এবং বাকি সব কার্টনেই মোবাইল ফোন আছে বলে জানায় মোজাম্মেল।আহাদ আহাম্মেদ আরও বলেন, তখন আমার সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১৫ জন গ্রাহক ছিল। আমরা আমাদের পণ্য চাইলে মোজাম্মেল আমাদের বলে যে, আগামীকাল পর্যন্ত সময় দেন আমার সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আপনাদের ব্যবস্থা করব। এর পরদিন বিকেল থেকে মোজাম্মেলের মোবাইল বন্ধ রয়েছে। পরে রোববার আবার মোজাম্মেলের শ্বশুর বাড়িতে এসে দেখি সে এবং তাঁর শ্বশুর এজাজ বাসায় নেই এবং ঘর ভর্তি সেই মোবাইল ফোনের কার্টনও নেই।এই বাসায় পণ্যগুলো কি ইভ্যালির অফিশিয়াল সিদ্ধান্তেই এসেছিল নাকি মোজাম্মেল, জাহাঙ্গীর ও মোস্তাফিজুর রহমান মালগুলো পরিকল্পিতভাবে চুরি করে এনে বিক্রি করেছেন এ বিষয়ে ইভ্যালির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।রোববার রাতে মোজাম্মেলের বাসা থেকে বেড়িয়ে এইচআর সহকারী ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি বারবার কল কেটে দেন।প্রসঙ্গত, গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরই মধ্যে সেলারদের রেগুলার বিল দিতে না পারায় 'ইভ্যালি টি-টেন' অফারের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
6
যে কোনও সময় ইউক্রেনে আক্রমণ করবে রাশিয়া। গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহতভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদেশগুলো এভাবেই সতর্ক বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, ইউক্রেনে হামলার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাশিয়াণ সেনাদের। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বললেই ঝাপিয়ে পড়বেন তারা। মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) ক্রিমলিনে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠক হয় পুতিনের। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে আসেন পুতিন। সেখানে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ করার বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিলেও তিনি বলেন, আমরা কি যুদ্ধ চাই নাকি চাই না? অবশ্যই না। আর শুধুমাত্র এ কারণেই আমরা আলোচনার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা করে তাহলে এ বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাবে বলে দাবি করা হচ্ছে। পেন্টাগনের মতে, ডনবাস বা লুহানস্ককে গণহত্যা হচ্ছে এরকম দাবি করে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর হামলা করবে। অপরদিকে, জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠক শেষে পুতিন সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্য হওয়ার বিষয়টি এখনই সমাধান করতে হবে এ ব্যপারে পুতিন বলেন, তারা বলছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটা কি বোঝায়? গত ৩০ বছর ধরে আমাদের বলা হচ্ছে ন্যাটোর পরিধি পূর্ব ইউরোপে বাড়ানো হবে না। আর আজ আমরা দেখছি ন্যাটো আমাদের দোরগোড়ায়। তিনি আরও বোলেণ, আমরা শুনছি ইউক্রেনও ন্যাটোর সদস্য হতে প্রস্তত না। আমরাও জানি এটি। কিন্তু একই সময়ে তারা বলছে ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেবে না কিন্তু এটির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের জন্য বিষয়টি অনেক দেরি হয়ে যাবে। তাই আমাদের এখনই বা নিকট ভবিষ্যতে এ প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে হবে। আমাদের এজন্য আলোচনা করতে হবে। সূত্র: আল জাজিরা বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ
3
মাত্র ছয়দিন আগে কাতারে গিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে এসেছে বায়ার্ন মিউনিখ। আর বিশ্ব জয়ের পর সোমবার রাতে বুন্দেসলিগায় আর্মিনিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামে তারা। কিন্তু ম্যাচটিতে প্রায় হারতেই বসেছিল বায়ার্ন। অবশেষে কষ্ট করে কোনোমতে হার এড়িয়ে ৩-৩ গোলের ড্র করেছে তারা। ম্যাচের প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বায়ার্ন। ৯ ও ৩৭ মিনিটের সময় আর্মিনিয়ার হয়ে ভ্লেপ ও পাইপার গোল করেন। এরপর ৪৮ মিনিটের সময় রবার্ট লেভানদোস্কি ব্যবধান কমান। কিন্তু এর স্থায়ীত্ব হয় মাত্র ১ মিনিট। ৪৯ মিনিটের সময় জেবুর আর্মিনিয়ার হয়ে তৃতীয় গোল করেন। এরপরই জ্বলে উঠে বায়ার্ন। তাদের হয়ে ৫৭ মিনিটে তোলিসো ও ৪৯ মিনিটের সময় আলফানসো ডেভিস গোল করেন। এদিকে এই ম্যাচটিতে ড্র করার কারনে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারলেও দ্বিতীয়স্থানে থাকা লাইপজিগের চেয়ে পয়েন্টের ব্যবধান কমেছে তাদের। এখন ২১ ম্যাচ শেষে বায়ার্নের পয়েন্ট হলো ৪৯। অপরদিকে লাইপজিগের পয়েন্ট ২১ ম্যাচ শেষে ৪৪।
12
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদল্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বি হত্যা মামলায় চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। আগামী ৩ ডিসেম্বর শুনানি শুরু হবে। সোমবার চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মো. কাউসারুল ইসলামের আদালত। এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজামান। গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে 'শিবির সন্দেহে' পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সেদিন রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
এবার বোরো মৌসুমে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন ধান, ১১ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৫০ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহ করবে সরকার। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে আজ বৃহস্পতিবার খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২৭ টাকা কেজি দরে বোরো ধান, ৪০ টাকা কেজিতে সিদ্ধ চাল এবং ৩৯ টাকা কেজি দরে আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।সভায় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, 'দেশের বাজারে মোটা চালের দাম বাড়েনি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম কমতির দিকে। মোটা চালের অধিকাংশ নন হিউম্যান কনজামশনে চলে যাওয়ায় এবং মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে সরু চালের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এ কারণে সরু চালের দাম কিছুটা বেড়েছে।'সভায় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ইতিমধ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন উদ্ভাবিত দুটি জাত ব্রি-৮৯ ও ব্রি-৯২ বোরো ধানের উৎপাদন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এই প্রজাতির উৎপাদন বেশি হবে এবং চালও সরু হবে। এ ছাড়া খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে উচ্চফলনশীল ধানের চাষ বাড়ানো হচ্ছে।'
6
কঙ্গো বিশ্বের কোবাল্ট আকরিক মজুদের ৬০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে চীন বিশ্বের বৃহত্তম কোবাল্ট আমদানিকারক। প্রতি বছর প্রায় ৯৫ হাজার টন প্রয়োজন হয় চীনের। কিন্তু কঙ্গোর চেয়ে কোম্পানিগুলো বেশি লাভবান হচ্ছে, ফলে চীন অল্প দামে কোবাল্ট কিনতে পারছে। এর জন্য ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি বিদেশি কোবাল্ট খনি কোম্পানিগুলোর সাথে করা বেশ কয়েকটি চুক্তি পর্যালোচনা করে দেখতে চান। কারণ চুক্তিগুলো খুবই অযৌক্তিকভাবে করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'এখন সময় এসেছে খনি শ্রমিকদের সাথে তার চুক্তি রদ করার, যাতে দেশের জন্য লাভজনক হয়। এই চুক্তিগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের দ্বারা খারাপভাবে আলোচনা করা হয়েছিল। ফলে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আর সব তাদের পকেটে যাচ্ছে।' এছাড়াও গত সপ্তাহে কাটঙ্গা প্রদেশের খনি শহর কোলওয়েজি পরিদর্শন করেন শিসেকেদি। সেখানে প্রায় ৪০টি খনি কোম্পানি কাজ করে, এর মধ্যে ৩০টিই চীনা মালিকানাধীন। উল্লেখ্য, মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোবাল্ট উৎপাদক, যা বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপের মতো যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহৃত ব্যাটারির একটি অপরিহার্য উপাদান। মূলত সস্তায় কোবাল্ট পাওয়া জন্য ২০১২ সাল থেকে চীনা কোম্পানিগুলো কঙ্গোতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ ঢালছে। সূত্র: এএনআই বিডি প্রতিদিন/ অন্তরা কবির
3
হাতের মেহেদি না শুকাতেই বিয়ের তিন মাস পর ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় বিষপানে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নবদম্পতির মৃত্যু ঘিরে রহস্য দেখছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজন বলছেন তাঁদের দাম্পত্যজীবন সুখের ছিল।ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ভাটি দাপুনিয়ায় নবদম্পতি রনি মিয়া (২২) এবং সেতু আক্তার (১৯)।জানা যায়, তিন মাস আগে ময়মনসিংহ নগরীর বলাশপুর কসাইপাড়ার তারা মিয়ার মেয়ের সঙ্গে ভাটি দাপুনিয়া গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে রনি মিয়ার বিয়ে হয়। রনি মিয়া রাজমিস্ত্রি ছিলেন। গতকাল রোববার মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে বিষ পান করেন তাঁরা। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।সেতু আক্তারের বাবা তারা মিয়া বলেন, 'গত রাত ১২টার দিকে মেয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছি তখন তারা ভালোই ছিল। কথা বলার আধঘণ্টা পর শুনি মেয়ে অসুস্থ। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি মেয়ে আর জামাই বিষ খেয়েছে। চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও তাদের বাঁচাতে পারেননি।'তারা মিয়া আরও বলেন, মেয়ের দাম্পত্যজীবন খুব সুখের ছিল। তবে কী কারণে কী ঘটছে তা বলতে পারছি না। দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হাফিজুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের জানামতে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী মধ্যে খুব মধুর সম্পর্ক ছিল। মেয়েটার হাতের মেহেদি এখনো শুকায়নি। ঘটনাটি শুনে খারাপ লেগেছে। পরে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে এসে দেখি দুজনই মারা গেছে। আমরা চাই পুলিশ বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করুক।'ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ বলেন, দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
6
রাত পোহালেই ঈদ। আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে শেষ মুহূর্তে বাড়ি ছুটছেন সবাই। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় মঙ্গলবার ভোর থেকেই যাত্রীদের ঢল। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটেস্বাস্থ্যবিধি অমান্য করেফেরি ও লঞ্চে গাদাগাদি করে নদী পাড়ি দিচ্ছেন তারা। মঙ্গলবার সকালে ঘাট এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে ট্রলারে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন মানুষ। ট্রলারে যাত্রী পারাপারের কোনো অনুমতি না থাকলেও এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ট্রলার মালিক শ্রমিক ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যাত্রীদের কাছ থেকে ৪-৫ গুণ ভাড়া বেশি নিয়ে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদী পারাপার করছেন। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পারাপারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কোনো কিছুর তোয়াক্কা করা হচ্ছে না লঞ্চ ও ফেরিতে। ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীরা ঢাকা থেকে প্রাইভেটকার, সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও দূরপাল্লার বাসে করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে আসছেন। আরিচা ঘাটে ট্রলারে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী সাথী আক্তারের বাড়ি পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলায়। তিনি জানান, প্রতি বছর ঈদের ২-৩ দিন আগে তারা সবাই বাড়ি যান। কিন্ত তারা গতকাল ছুটি পাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে মঙ্গলবার বাড়ি যাচ্ছেন। আরিচা অফিসের বিআইডাব্লউটিএর মাসুদ রানা জানান, ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে অবৈধভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে যাত্রী পারাপার নিষেধ করা হয়েছে। এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ মালিক শ্রমিকরা তা মানছেন না। আরিচা অফিরের বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, রাত পোহালেই কোরবানির ঈদ। ঢাকায় কর্মজীবী মানুষের ছুটি হয়েছে সোমবার। এ কারণে ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীরা নদীর স্রোতের মতো বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার ভোর থেকে ঘাট এলাকা জনস্রোতে পরিণত হয়েছে।
6
পাটুরিয়ায় যমুনা নদীতে ডুবে যাওয়া ফেরি আমানত শাহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফেরিটি উদ্ধার করে পানি থেকে ভাসিয়ে তোলা হয়। বিকেলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনকে (বিআইডব্লিউটিসি) প্রাথমিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির উদ্ধারকারী দলের প্রধান ফজলুর রহমান। তবে তারা ফেরিটি আরও দুইদিন পর্যবেক্ষণে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেবেন বলে জানান তিনি। ফেরিটি ডুবে যাওয়ার ১৪ দিন পর বেসরকারি উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান চট্রগ্রামের জেনুইন এন্টার প্রাইজ ফেরিটি উদ্ধার কাজ শেষ করে পানি থেকে ভাসিয়ে তোলে। জেনুইন এন্টার প্রাইজের পাঁচটি উইন্স বার্জ দিয়ে ফেরির উদ্ধার কাজ করা হয়। উইন্স বার্জের সুপারভাইজার ইয়ার মোহাম্মদ জানান, গত শুক্রবার বিকেল থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি আমানত শাহ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নদীতে ডুবে যাওয়া ফেরিটি বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিআইডব্লিউটিসি'র কর্মকর্তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এখন ফেরিটি পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সকালে পাটুরিয়া ঘাট থেকে আটটি কাভার্ডভ্যান, ৯টি পণ্যবাহী ট্রাক এবং ১৬টি মোটরসাইকেল নিয়ে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরি ঘাটে যাওয়ার পর ডান দিকে কাত হয়ে নদীতে ডুবে যায় ফেরিটি।
6
ঈদকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়াঘাটে স্পিডবোট যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। টিকিটের গায়ে কোনো মূল্য লেখা না থাকায় ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ঘাটে ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা যায়নি। শনিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে অন্তত ২০ জন যাত্রী দ্য ডেইলি স্টারের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে ঘাটে নিযুক্ত জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বারি বলেন, "সবসময় অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে না। আমরা মনিটরিং করছি। বেশি ভাড়া আদায় করলে সতর্ক করা হবে।" বরিশালগামী যাত্রী আজাদ হোসেন বলেন, "পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে রওয়ানা দেই মাদারীপুরের জাজিরা যাওয়ার উদ্দেশে। শিমুলিয়াঘাট এসে স্পিডবোট ঘাটে যাত্রীদের লাইনে দাঁড়ালে টিকিট কাউন্টার থেকে ২০০ টাকা দিতে বলে। ঈদ মৌসুম ছাড়া অন্যান্য সময়ে ১৫০ টাকাই নির্ধারিত। ভাড়া বেশি নেওয়ার কারণ চাইলে কাউন্টারের কেউ কোনো কথাই বলেনি।" মাদারীপুরগামী যাত্রী দেলোয়ার হোসেন বলেন, "স্পিডবোট ঘাটের ভাড়া নিয়ে প্রতি ঈদ মৌসুমে ঝামেলা হয়। প্রতিবার তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। কেউ কিছুই বলে না। এবারও শিমুলিয়াঘাটে স্পিডবোটের ভাড়া ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।" যাত্রীদের অভিযোগ, স্পিডবোট ঘাটে একেক সময়ে একেক রকম ভাড়া আদায় করা হয়। ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে ঘাটের লোকজন যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। কখনও কখনও মারধর করার ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মুন্সিগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ বলেন, "যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা বেআইনি। এর জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। শিমুলিয়ায় স্পিডবোট ঘাটের কোনো যাত্রী লিখিত অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। এছাড়া ভোক্তা অধিকারের নিয়মিত অভিযানেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।" লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, "শিমুলিয়া ঘাটে ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় টিকিটের গায়ে মূল্য লেখার বিষয়ে আলোচনা হয়নি। তবে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। এই ভাড়া স্বাভাবিক সময়েও ছিল। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়ে দুপুরের পর উপজেলা প্রশাসনের দুই জন স্টাফকে মনিটরিংয়ের জন্য কাউন্টারে বসিয়ে রাখা হয়েছে।"
6
আমলকি। ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল।এর ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়। আমলকিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন 'সি'। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে তিন গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন 'সি' রয়েছে। আমলকিতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন 'সি' রয়েছে। চলুন জেনে নিই আমলকি খাওয়ার ১০টি উপকারিতা সম্পর্কে- ৩. এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু'বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে। ৪. আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার হজমে সাহায্য করে। ৫. প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। ৬. আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ৭. প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে। আমলকির টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন। ৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী। ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী। ৯. শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। ১০. ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
4
বস্তা পরিবর্তন করে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য অন্য জায়গায় বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর তালতলা সরকারি কোয়াটার কলোনী এলাকা থেকে তিন জনকে আটক করাসহ ১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে র্যাব। এ সময় বিপুল পরিমাণ চাল, আটা, তেল ও পেয়াজ জব্দ করা হয়। সোমবার (২৬ এপ্রিল) র্যাব-২ এর সিপিসি (সদর) মেজর সাঈফ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা বাজার সংলগ্ন সরকারি কোয়াটার কলোনীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলামের সহায়তায় অভিযান শুরু করে র্যাব-২ এর একটি দল। এ সময় দেখা যায় যেসব পণ্য সরকারি মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করার কথা সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল। যা কালোবাজারির আওতায় পড়ে। তবে এসবের নেপথ্যের খলনায়ক টিসিবির স্থায়ী ডিলার মো. আনোয়ার। তার অপকর্মের সহযোগী ম্যানেজার মিলন মিয়া। কিন্তু তারা দুজনই পলাতক ছিলেন। তবে অভিযানকালে জাহেদুল ইসলাম, মো. শাহজাহান ও জাকারিয়া হোসেন নামে তিনজনকে আটক করাসহ এক মাসের কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আর পলাতকদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে নিয়মিত মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম বলেন, সরকার ওএমএস ও খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পন্য বিক্রির জন্য টিসিবির মাধ্যমে ডিলারদের সরবরাহ করে থাকে। তবে মিরপুর এলাকার এ অসাধু ডিলার আনোয়ার তা সাধারণদের কাছে সুলভমূল্যে বিক্রি না করে গোডাউনে মজুদ করেছে। সেখানে বস্তা পরিবর্তন করে অন্য নামে টিসিবির পণ্য প্যাকেজিং করে বিক্রি করে আসছিল। প্রসঙ্গত অভিযানকালে ওএমএস ও খাদ্য অধিদপ্তরের ১০ হাজার ৫০০ কেজি চাল, খাদ্য অধিদপ্তরের ৬ হাজার ৯০০ কেজি আটা, টিসিবির ৫ হাজার ৯০০ কেজি ছোলা, ৫০০ কেজি চিনি, ২ কেজি ওজনের টিসিবির ১৫৬ বোতল তেল, ১৪০ কেজি খোলা খেজুর ও ১৬০ কেজি পেয়াজসহ নগদ টাকা ৪৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট মাজহার বলেন, জব্দকৃত সব পণ্য নিলামে তুলে বিক্রিলব্ধ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে।
6
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন শিকারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত বুধবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আবুজাফর রিপন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হুসাইন মুঠোফোনে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইদিলপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য বলা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দেড় ঘণ্টা (বেলা ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা) তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপপরিচালক আলী আকবর। দুদক-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কক্সবাজারে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি, পানি শোধনাগার প্রকল্পে দুর্নীতি, সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। মুজিবুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। অনুসন্ধানে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে মেয়র মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। দুদক সূত্র বলছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি ও জালিয়াতি, সরকারি টাকা অপচয়, কারচুপি ও আত্মসাতের নানা অভিযোগের বিষয়ে মেয়র মুজিবুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্পে আধিপত্য বিস্তার, কমিশন নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ছাড়া মুজিবুরের ছেলেসহ নিকটাত্মীয়দের নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার বিষয়েও তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়। এর বাইরে মুজিবুর রহমানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, চাঁদাবাজি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
6
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে সুমী আকতার নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা বলছেন, যৌতুকের জন্য নয়, স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্যের কারণে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে সুমী। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ঢেপসাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।গৃহবধূর স্বামী হৃদয় হাওলাদার ও শাশুড়ি জেসমিন বেগমকে আটক করেছে পুলিশ । গৃহবধূর মরদেহ রাতেই উদ্ধার করে পুলিশ ইন্দুরকানী থানায় নিয়েছে। নিহত সুমীর নানা সাকায়েত ফরাজী বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে ইন্দুরকানী থানায় হত্যার লিখিত অভিযোগ করেন। সুমীর নানা সাকায়েত ফরাজী জানান, উপজেলার ঢেপসাবুনিয়া গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক হাওলাদারের ছেলে হৃদয় হাওলাদার (১৮) ও একই গ্রামের প্রবাসী সাহিদা বেগমের কিশোরী মেয়ে সুমী আকতারের (১৭) প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সংসারে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে কলহ চলছিল। সুমীকে তার মায়ের কাছ থেকে মোটরসাইকেল কেনার টাকা আনতে বলেন শাশুড়ি। টাকা না আনায় তাকে তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদ মিলে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে অমানবিক নির্যাতন করেন। নির্যাতনের ফলে মারা যান সুমী। পরে বিষ খেয়েছে বলে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমীকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন মরদেহ নিয়ে তারা দ্রুত বাড়িতে আসেন। সুমীর মামা মনির হোসেন বলেন, আমার ভাগ্নিকে টাকার জন্য তার স্বামী ও পরিবারের লোকেরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে সুমীর শ্বশুর ফারুক হাওলাদার বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য হলে ঘরে থাকা চাউলের বিষের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন সুমী। ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, গৃহবধূ মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। মৃত্যু নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রয়েছে। রিপোর্ট পেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
6
বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে এক মঞ্চে থেকে আগামী দিনে আন্দোলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। গতকাল রোববার রাত ৯টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসায় বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।দলগুলোর অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি মতা দিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে মোতায়েন রাখা, ইভিএম ব্যবহার না করা, নিরাপদ সড়কের দাবি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরসহ সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি দেয়া। বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ার সাথে জামায়াতের যুক্ত থাকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আ স ম আব্দুর রব বলেন, আমরা বিএনপির সাথে ঐক্য করছি। মুক্তিযুদ্ধের পরে সব দল এখানে থাকতে পারবে। তবে বিএনপির সাথে অন্য কেউ থাকবে কি না তা আমরা বলতে পারব না। বাংলাদেশের জনগণ চায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি। জেএসডি সভাপতি বলেন, একই মামলায় অন্যদের জামিনের পরও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কেন জেলে? আমরা জানি না। আমরা খালেদা জিয়াসহ কোটা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে এবং গায়েবি মামলায় আটক সবার মুক্তি চাই। জনগণ আজ শঙ্কিত। সবাই ঐক্য চায়। এটা সবার চাওয়া। আমরা আগামীতে বসে আন্দোলনের কর্মসূচি ঠিক করব। বৈঠক শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৫টি মৌলিক দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলব। এই দাবিগুলো আদায় করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করব। মওদুদ বলেন, আমাদের দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সব রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি ও কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের মুক্তি, নিরপে সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি মতা দিয়ে মোতায়েন করা। বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতাদের মধ্যে প্রথমবাবের মতো আনুষ্ঠানিক এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে যুক্তফ্রন্টের পে উপস্থিত ছিলেন আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, মেজর (অব:) মান্নান, তানিয়া রব, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার মোস্তফা মহসীন মন্টু ও আ ব ম মোস্তফা আমীন। বিএনপির পে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ ছাড়া বৈঠকে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
9
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডে (ডিএসই) 'এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম-আইসিটি' পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা ২১ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। তবে পদসংখ্যা কত, তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি ইন সিএসই/সিএস/এসই/ইইই/টিই/আইসিটিঅভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়দক্ষতা: সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণাবয়স: ৩০ বছরকর্মস্থল: ঢাকাবেতন: আলোচনা সাপেক্ষেআবেদনের ঠিকানা: আগ্রহীরা ...-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। *ডিএসইর বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত দেখুন
1
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ২০২০ সেশনের কার্য নির্বাহী কমিটি গঠিিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের সাংবাদিক সমিতির অফিস রুমে নির্বাচন শেষে নতুন কমিটির ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার খালেদ কুদ্দুস। এছাড়া সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক যুগান্তরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাহুল এম ইউসুফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাংলানিউজ২৪. কমের আবির আব্দুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ দ্যা ডেইলি অবজার্ভারের তারেক আজীজ শ্রাবন, দপ্তর ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বার্তা২৪. কমের রুদ্র আজাদ। এছাড়া কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের বেলাল হোসেন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ওসমান গনি রাসেল এবং বার্তা বাজারের প্রতিনিধি ইমরান হোসাইন হিমু। নতুন কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন জাবিসাসের সাবেক কমিটি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা কর্মীরা। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
1
গাজীপুরে চিকিৎসক সেজে নারীর গর্ভপাত করানোর অভিযোগে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালককে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মিরের বাজার এলাকায় জনসেবা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নামক ওই কেন্দ্রের পরিচালক জাহানারা মেগমকে (৫০) এই দণ্ড প্রদান করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থান্দার কামরুজ্জামান জানান, লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিকটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। ক্লিনিকের পরিচালক জাহানারা বেগম নিজে নার্সিং প্রশিক্ষণ নিয়ে ডাক্তার সেজে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে রোগীর গর্ভপাত করার সময় হাতেনাতে তাকে আটক করা হয়। এজন্য তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগেও একই অভিযোগে তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'এই সরকার আমাদের অর্জনগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। এই সরকার আমাদের ঋণের গভীরে নিয়ে গেছে। আমাদের পুরোপুরি ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে। আমরা চাকচিক্য দেখে কিছু বুঝতে পারছি না। আমাদের সরকার তো গদগদ হয়ে গেছে, সারাক্ষণ শুধু পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু তো কারও পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে না। পদ্মা সেতু এ দেশের মানুষের পকেটের টাকা দিয়েই করা হচ্ছে।' আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে 'কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান' শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস। যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী এম সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হাওলাদার, অধ্যাপক আবু জাফর খান, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, আবদুল্লাহ হিল মাসুদ বক্তব্য দেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
নেপালের চ্যাম্পিয়ন মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাবকে কাঠমান্ডুতেই হারিয়েছিল আবাহনী। হিমালয়ের দেশটির ক্লাবকে ঢাকায় হারিয়ে এএফসি কাপে পরের রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্য ছিল ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়নদের। ঘরের মাঠে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে আকাশী-হলুদ জার্সিধারীদের। নেপালের মাটিতে তাদের ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল আবাহনী। এবার ঘরে মাঠে নেপালি ক্লাবটির জালে রীতিমত গোল উৎসব করেছে আবাহনী লিমিটেড। মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাবকে তারা হারিয়েছে ৫-০ গোলের ব্যবধানে। এটি এএফসি কাপে আবাহনীর সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নেপালের ক্লাবটিকে কেনো পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ৬ বারের চ্যাম্পিয়নরা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ধারাবাহিকভাবে গোল আদায় করেছেন জীবন-সোহেল রানারা। এ জয়ে ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে 'ই' গ্রুপের শীর্ষে উঠলো আবাহনী। আবাহনী প্রধমার্ধে দুটি এবং দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন ৩টি গোল। ১১ মিনিটে নাবিব নেওয়াজ জীবন এবং প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে হাইতির বেলফোর্ট গোল করলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আবাহনী। দ্বিতীয়ার্ধের তিন গোলের একটি করেন জুয়েল রানা, একটি সানডে এবং শেষ গোলটি করেন মামুনুল ইসলাম। ৬৩ মিনিটে ম্যাচের সেরা পারফরমার সোহেল রানার ক্রসে ব্যবধান ৩-০ করেন জুয়েল রানা। ৭৬ মিনিটে গোলের হালি পূরণ করেন সানডে। শেষ বাঁশির কয়েক সেকেন্ড আগে আবাহনীর পঞ্চম গোলটি করেছেন মামুনুল।
12
দরপত্র ছাড়াই কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবন ভাঙার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভাঙা ভবনের ইট দিয়ে নতুন ভবনের প্রবেশপথ তৈরি করারও অভিযোগ উঠেছে।গতকাল সোমবার যদুবয়রা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নবনির্মিত দ্বিতল ভবনে প্রবেশের জন্য নতুন রাস্তা নির্মাণ চলছে। দুজন শ্রমিক নতুন ভবনের সামনে ও রাস্তা সংলগ্ন পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার কাজ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, 'প্রকৌশলী, ডাক্তার ও ঠিকাদারের নির্দেশে পরিত্যক্ত ভবন ভাঙা হচ্ছে। ভাঙা ভবনের ইট নতুন রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনের একটি রুম ও দুটি বাথরুম ভাঙা হয়েছে।'স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনে প্রবেশ পথের জন্য দরপত্র ছাড়ায় পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনটি ভাঙা হচ্ছে। কিন্তু ভাঙা ভবনের ইট, লোহা ও অংশবিশেষ কোথায় যাচ্ছে তা জানা যায়নি।এ বিষয়ে ঠিকাদার আতিয়ার রহমান বলেন, 'সবকিছু অফিসের নিয়মে হয় না। রাস্তা নির্মাণের জন্য আনঅফিশিয়াল অনুমতি নিয়ে ভবন ভাঙা হচ্ছে। ভাঙা অংশ এখানেই আছে। এ নিয়ে মাতামাতির কি আছে। ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।'কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহীম মো. তৈমুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। তবে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সুমন আলী বলেন, যদুবয়রা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবন আমাদের অন্তর্ভুক্ত না। এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কিছু নেই।বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি যদুবয়রা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী মেডিকেল অফিসার মিজানুর রহমান।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আকুল উদ্দিন বলেন, 'আমি অনেক দিন ছুটিতে ছিলাম। ভবন ভাঙার বিষয়ে কিছু জানি না। একাধিকবার পরিত্যক্ত ভবনগুলো অপসারণের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে আবেদন করেছি। দরপত্র হয়েছে কি না জানা নেই।'
6
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়া ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ছবি সম্বলিত ৩২টি রৌপ্য মুদ্রা উদ্ধার করেছে পুলিশ। উল্লাপাড়া পৌর এলাকার আকবর মৃধার বাড়ির পাকা ভবন নির্মাণে মাটি কাটার সময় বুধবার মুদ্রাগুলোর সন্ধান পেয়ে তা উদ্ধার করে পুলিশবৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম মুদ্রা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।উদ্ধার করা রৌপ্য মুদ্রার তিনটির গায়ের এক পাশে 'ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ওয়ানরুপি' এবং ২৯টির গায়ে 'ওয়ান রুপি ইন্ডিয়া' ইংরেজিতে লেখা আছে। অন্যপাশেপ্রত্যেকটির গায়ে রানী ভিক্টোরিয়ার ছবি সম্বলিত, যার ১৩টির গায়ে'ভিক্টোরিয়া কুইন' ও ১৯টির গায়ের 'ভিক্টোরিয়া এক্সপ্রেস' ইংরেজিতে লেখাআছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, উদ্ধার করা রৌপ্য মুদ্রাগুলো প্রত্নতাত্বিক সম্পদ। এগুলোআদালতের নির্দেশনায় সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
6
তুষার ঝড়ের কবলে নিউইয়র্ক অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। ৩০ থেকে ৩৫ মাইল বেগে প্রবাহিত তুষার ঝড়ে লন্ডভন্ড কানেকটিকাট, নিউজার্সি আর নিউইয়র্কের জনজীবন। এসব এলাকার ৩ লক্ষাধিক বাংলাদেশীসহ ১৮ লাখের অধিক আমেরিকান বাস করেন। জাতীয় আবহাওয়া দফতরের বুলেটিনে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে শুরু এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘণ্টায় প্রায় দুই ইঞ্চি করে বরফ জমছে এসব এলাকায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ 'বিশেষ সতর্কতা' জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক সিটি, নর্দার্ন নিউজার্সি, হাডসন ভ্যালি, কানেকটিকাটের উপকূলিয় অঞ্চল এবং লং আইল্যান্ডে শৈতকালিন এই ঝড় হামলে পড়েছে। নিউইয়র্ক সিটি এবং আশপাশের সকল পাবলিক স্কুলে ছুটি ঘোষণার পাশাাশি লোকজনকে বিশেষ প্রয়োজন ব্যতিত ঘরের বাইরে না যাবার পরামর্শ দিয়েছেন সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত জেএফকে এয়ারপোর্টে ৫০৮, লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্টে ৫৭২ এবং নিউইয়ার্কে লিবার্টি এয়ারপোর্টে ৬০৭টি ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন নেই বললেই চলে। বাস, রেল চলাচলেও স্থবিরতা এসেছে। নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ওজোনপার্ক, চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড, পার্কচেস্টার, স্টার্লিং এভিনিউ, ওয়েস্টচেস্টার, নিউজার্সিও প্যাটারসনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় সবগুলোতেই তালা ঝুলছে। রেস্টুরেন্টগুলো খোলা থাকলেও গ্রাহক নেই বললেই চলে। এসব এলাকায় ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বরফ জমতে পারে বলে আবহাওয়া দফতর উল্লেখ করেছে।
3
শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে চলমান মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ। মঙ্গলবার এফডিসিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগের কথা জানান নিপুণ। তার এ অভিযোগের বিপরীতে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হোন জায়েদ খান। তিনি বলেন, 'মামলা আমি করেছি, উনি (নিপুন) করেননি। সুতরাং তার মামলা তুলে নেয়ার কিছু নেই। এই মামলা এভাবেই চলতে থাকবে। তার মামলা তুলে নেয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। উনি মূল ঘটনাকে ভিন্নপথে নিতেই এসব অভিযোগ করছেন। বললেন জায়েদ খান। মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে এসব কথা বলেন তিনি ' এফডিসিতে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিপুণ বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে নিজ বাসা থেকে ফুল কেনার জন্য বনানী সুপার মার্কেটে যাই। সেখানে আমি গাড়ি থেকে দরজা খুললে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন লোক সাহায্যের জন্য হাত বাড়ায়। এরপর আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই অজ্ঞাতনামা লোক মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলে ওখান থেকে চলে যায়। বর্তমানে আমার একটি মামলা চলছে আদালতে। এই ঘটনায় রাজধানীর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি আমি। নং ৮২৯। নিপুনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জায়েদ খান বলেন, তার এসব অভিযোগ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। ঘটনা সত্যি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। এ নিয়ে আমার বলার মতো কিছু নেই। এদিকে নিপুনের সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসা নিয়ে জায়েদের আইনজীবী বলেন, এই পদে এখন কেউ বসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আদালত। সেখানে কেউ যদি গিয়ে বসে পড়ে তাহলে সেটি আদালত অবমাননা হবে।
2
টাঙ্গাইলের মধুপুরে শ্বশুর বাড়িতে জামাই আরশেদ আলীকে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা নিয়েছে পুলিশ। নিহত আরশেদ আলীর ছোট ভাই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে গত বুধবার (২৪ জুন) রাতে নিহতের স্ত্রী রেহেনা পারভীন, দুলাভাই আব্বাস আলী, শ্বশুর আবুল হোসেন ও শ্যালক স্বপনসহ আরো অজ্ঞাত নামা ৫/৬ জনকে আসামি করে এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে শ্বসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়ায় হত্যা মামলা নেয়ার কথা স্বীকার করেছে মধুপুর থানা পুলিশ। জানা যায়, গত ১৮ মে সোমবার মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের থলবাড়ী গ্রামের শ্বশুর বাড়ীর সুপারি গাছের সাথে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় আরশেদ আলী (৩২) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল জানান, এ ঘটনায় ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে আরশেদ আলীকে শ্বসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়ায় বুধবার (২৪ জুন) রাতে হত্যা মামলা নেয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জোর তৎপরতা চলছে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
বগুড়ার আদমদীঘিতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে, দুই হাত-পা বেঁধে ভ্যানচালক শামীম আলমকে হত্যা করেছে আন্তঃজেলা অটোভ্যান ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। শামীমকে হত্যার পর অটোভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে আদমদীঘি থানা পুলিশ। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকেজেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদসম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী এসব তথ্য জানান। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার জিনুইর গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ রানা (২৫), একই এলাকার বাবলু শেখের ছেলে মো. জনি (২১), আদমদীঘি উপজেলার কোমারপুর খাডির পাড় এলাকার জাবাইদুলের ছেলে মিঠু (২২) ও জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ঢেকুঞ্জা গ্রামের মৃত ছামসুল সরদারের ছেলে মো. শাহিন (৩৫)। গ্রেফতার শাহিনের কাছ থেকে নিহত শামীমের অটোভ্যান উদ্ধার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদমদীঘি থানার উপ-পরিদর্শক সোলায়মান আলী জানান, অটো ভ্যানচালক শামীমকে হত্যার পর আন্তঃজেলা অটোভ্যান ছিনতাই চক্রের সদস্যরা অটোভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। ভ্যানচালক শামীম আলমের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আন্তঃজেলা অটোভ্যান ছিনতাইকারী চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। সংবাদ সম্মেলন বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ, মোতাহার হোসেন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ, আদমদীঘি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাজরান রউফ ওআদমদীঘিথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, রবিবার দুপুরে গ্রেফতার ব্যক্তিদের জেলা আদালতে পাঠানো হবে। আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রটির আরও তথ্য উদঘাটনের জন্য তাদের তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
দুই কন্যা সন্তানের পর এবার এক শিশুপুত্র দত্তক নিয়েছেন সুস্মিতা সেন। সম্প্রতি এমনই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল বিভিন্ন মহলে। সেই খবর যে সত্যি নয় তা নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমেই জানিয়ে দিলেন সাবেক মিস ইউনিভার্স। সম্প্রতি সুস্মিতাকে দুই মেয়ের সঙ্গে একটি জায়গায় দেখা যায়। বরাবরই মিডিয়া বান্ধব এই অভিনেত্রী। দুই মেয়েকে ডেকে নেন একসঙ্গে পাপারাজ্জির ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়ার জন্য। এরপরই এক ছোট্ট ছেলেকে ডেকে নেন। সকলে একসঙ্গে হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। এরপরই খবর ছড়িয়ে পড়ে, পুত্রসন্তান দত্তক নিয়েছেন সুস্মিতা। নিজের এই ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমেই যাবতীয় রটনার জবাব দিয়েছেন সুস্মিতা। বরাবরই স্পষ্টবাদী অভিনেত্রী। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনও লুকাননি। ২০০০ সালে প্রথম সন্তান রেনেকে দত্তক নেন সুস্মিতা। তার ১০ বছর পর দ্বিতীয় সন্তান আলিশাকে ঘরে নিয়ে আসেন। একাই দুই মেয়েকে বড় করে তুলেছেন অভিনেত্রী। তাদের নিয়ে নানা ছবি ও ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিদায়ী বছরের শেষে প্রেমিক রহমন শওলের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙেন সুস্মিতা। ১৫ বছরের ছোট প্রেমিকের সঙ্গে ব্রেকআপের কথাও সোশ্যাল মিডিয়াতেই জানান তিনি। সুস্মিতা জানান, বন্ধুত্ব দিয়েই শুরু হয়েছিল, বন্ধুত্বই রইল। সম্পর্ক না থাকলেও, ভালবাসা থাকল। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ
2
অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধান মন্ত্রী তার সাবেক এক কর্মচারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। যার সূত্র ধরে সরকারের ভাবমূর্তি হুমকির মুখে পড়ে। তার এ 'মারাত্মক' অপরাধের জন্য নিকট ভবিষ্যতে কোনো মন্ত্রীই নিজেদের কর্মচারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না। কারণ দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি এটি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছেন! যদিও তিনি জনসমক্ষে বলেননি যে তার উপপ্রধান কোনো আইন ভঙ্গ করেছেন। বারনাবি জয়েস তার উপপ্রধান বারনাবি জয়েসও আইন ভঙের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।তবে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী তার উপপ্রধান বারনাবি জয়েসকে 'বিচারবুদ্ধির মারাত্মক ভুল' এর জন্যও দোষারোপ করেছেন। সূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/ফারজানা
3
নরসিংদীর মনোহরদীতে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে এখানে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না। এ ছাড়া সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ গালমন্দ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লেবুতলা ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে উঠেছে এ অভিযোগ। ওই কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন লেবুতলা ইউনিয়নের প্রায় ১০০ ভুক্তভোগী।লেবুতলা ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন আকন্দ এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করেছেন।লিখিত অভিযোগ এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নামজারির জমাভাগের নামে কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ কৌশলে সেবা নিতে আসা লোকজনের কাছে থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মনোহরদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে কাচিকাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ কার্যকলাপের জন্য এলাকার লোকজন তাঁর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লেবুতলা গ্রামের দুজন ভুক্তভোগী জানান, টাকা না দিলে এই অফিসের পিয়নও ফাইল হাতে নেন না। টাকা দিলে কাগজ ঠিক থাকে, না দিলে কাগজে ভুলভ্রান্তি ধরা পড়ে।এ বিষয়ে লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু বলেন, 'তাঁদের অবৈধ আবদার আমি মেটাই না, এ জন্য তাঁদের মনে অনেক কষ্ট। তাই আমার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ। অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বসানো হয়, এ জন্য তাঁরা আমার ওপর ক্ষুব্ধ। ২২ বছর ধরে চাকরি করছি, শেষ বয়সে এসে তাঁদের কাছ থেকে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটা খুবই বিব্রতকর ও দুঃখজনক।'
6
সদ্য সমাপ্ত রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজে খেলা চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন ভারতের সাবেক পেস বোলিং অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন। ইরফান লেখেন, আমি উপসর্গ ছাড়াই করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছি এবং নিজেকে বর্তমানে ঘরে আইসোলেটেড করে রেখেছি। আমি অনুরোধ করব, গত কয়েকদিনে যারা আমার কাছাকাছি এসেছেন সবাই নিজেদের পরীক্ষা করিয়ে নিন। এদিকে ইরফানের আগে এ টুর্নামেন্টে ভারত লেজেন্ডসের হয়ে খেলা শচিন টেন্ডুলকার, ইউসুফ পাঠান ও সুব্রামানিয়াম বদ্রিনাথও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত শনিবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়েছেন শচিন টেন্ডুলকার। এরপর পরীক্ষা করলে জানা যায় ইউসুফ এবং বদ্রিনাথও করোনায় আক্রান্ত। তাই কোনো উপসর্গ না থাকলেও পরীক্ষা করান ইরফান পাঠান এবং তার নমুনার ফলাফলও এসেছে করোনা পজিটিভ।
12
আলোচিত পিকে হালদারের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এবার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এর ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদা রুনাই ও ওয়াকামা লিমিটেডের পরিচালক শুভ্রা রানী ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সংস্থাটির একটি তদন্ত টিম। এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাদের দুদক কার্যালয়ে আনা হয়। এর আগে, গত ৯ আগস্ট এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনার অংশ হিসেবে এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডিসহ ৩০ কর্মকর্তাকে তলব করে দুদক। তলবকৃতদের মধ্যে ২৬ জন এফএএস ফাইন্যান্সের ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ৪ জন। তাদেরকে পর্যায়কমে ১৭, ১৮ ও ২২ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) ও তার সহযোগীদের যোগসাজশে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও এফএএস ফাইন্যান্স থেকে লুটপাট হয় দুই হাজার কোটি টাকা। শুধুমাত্র একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে ৩০টি কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরি করে মর্টগেজ ছাড়াই ঋণ নিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য আরবি এন্টারপ্রাইজ, জিঅ্যান্ডজি এন্টারপ্রাইজ, তামিম অ্যান্ড তালহা এন্টারপ্রাইজ, ক্রসরোড করপোরেশন, মেরিন ট্রাস্ট, নিউটেক, এমএসটি মেরিন, গ্রিন লাইন ডেভেলপমেন্ট, মেসার্স বর্ণসহ অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। যার রেকর্ডপত্র দুদকের অনুসন্ধান টিমের কাছে রয়েছে। এ অনিয়মের সঙ্গে পি কে হালদার, ওইসব প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও এমডিসহ প্রায় ৭৫ জনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। মূলত এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করে দুদক। গত ৮ জানুয়ারি দুদকের অনুরোধে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করে ইন্টারপোল। দুদক উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে আরো একটি টিম তার আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। ওই টিম এরই মধ্যে ১৫টি মামলা করেছে। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ভুয়া নামে ঋণ উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা এবং ৩৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৩৩ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা করে দুদক। পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। কোম্পানিগুলো হলো, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন। পি কে হালদার কেলেঙ্কারিতে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ১১ জন। যাদের মধ্যে উজ্জ্বল কুমার নন্দী ছাড়াও তার সহযোগী শংখ বেপারী, রাশেদুল হক এবং সর্বশেষ পি কে'র বান্ধবী অবান্তিকা বড়াল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন
6
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আলোচিত জিল্লুর রহমান ভান্ডারি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. কামালকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার ভোররাতে র্যাব-৭-এর একটি দল খাগড়াছড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে রাঙ্গুনিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।আটক কামাল উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোদারপাড় এলাকার আমিনুল হকের ছেলে।র্যাব সূত্রে জানা যায়, আসামি মো. কামাল পেশায় একজন গাড়িচালক। জিল্লুর ভান্ডারি হত্যা মামলায় কারাগারে গিয়ে ২০১৭ সালে জামিনে আসেন। জামিন নিয়ে এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালানো শুরু করলেও মামলার রায় ঘোষণার পর অন্যত্র পালিয়ে যান। পালিয়ে থাকাকালীন তিনি নিজেকে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত করেন। সর্বশেষ তিনি সাজেকের একটি রেস্তোরাঁয় ওয়েটারের কাজ নেন। সেখান থেকে অন্য একটি কাজের সন্ধানে খাগড়াছড়ি এলাকায় অবস্থান করলে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজার পরোয়ানা, ডাকাতি, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, চুরিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া কামালের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা, পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাউখালী থানায় মাদক মামলাসহ একাধিক বন মামলা রয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়ার রাণীরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয় গেটের সামনে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী জিল্লুর ভান্ডারিকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় জিল্লুর ভান্ডারির ছোট ভাই মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাতের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সেই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব মিলকী বলেন, র্যাব-৭ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বুধবার বিকেলের দিকে রাঙ্গুনিয়া থানায় হস্তান্তর করে। তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
6
পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী শ্রাবন্তী। ঢাকার দর্শকদের কাছেও জনপ্রিয় মুখ তিনি। টালিগঞ্জের পর ঢালিউডেও এখন অভিনয় করছেন। গত বছর এদেশে তার অভিনীত 'যদি একদিন' মুক্তি পায়। এখন তিনি শুটিং করছেন 'বিক্ষোভ' নামের আরও একটি ছবির। এফডিসিতে সমকালের মুখোমুখি হন তিনি- দুই বছর হলো ঢাকায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করছেন। ঢাকার কোন বিষয়গুলো ভালো এবং মন্দ লাগছে? মন্দ লাগা নেই; যা আছে পুরোটাই ভালো লাগা। এখন ঢাকা আর কলকাতা ভিন্ন কিছু মনে হয় না। ঢাকা এলেও মনে হয় বাসার পাশেই কোনো এক শহরে এসেছি। কলকাতা থেকে ঢাকায় যারা আসবেন তারা একটা কথার প্রশংসা না করে পারবেন না। সেটা এখানকার আতিথেয়তা। সবাই এত সহজে আপন করে নেয়; যা সত্যিই মুগ্ধ করে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও জটিলতা পছন্দ করি না। জীবনকে সহজ-সরলভাবেই দেখতে চাই, চলতেও চাই। ঢাকার মানুষের মাঝে সরলতা বেশি। এই সরলতা বলতে আপনি কোন দিকটা বোঝাচ্ছেন। ব্যাখ্যা করে বলবেন? ঢাকায় কাজ ছাড়া আসা হয় না। কাজের পারপাসে যেহেতু আসা, তাই সিনেমার বাইরে অন্য অঙ্গনের মানুষের সঙ্গে আমার ওঠাবসা হয় না। এ পর্যন্ত যাদের সঙ্গেই কাজ হয়েছে, তারা আমার সঙ্গে ভালো মনেই মিশেছে। আমাকে নিজেদের একজন ভেবেছে। তাদের আচার-আচরণে কখনও মনে হয়নি আমি অন্য দেশ থেকে এখানে কাজ করতে এসেছি। একজন শ্রাবন্তীকে যতটা শ্রদ্ধা ও সম্মান দেওয়ার দরকার তারা সেটা দিয়েছে। মনে হয়েছে আমি তাদের অনেক কাছের। বন্ধুর মতোই মিশেছেন সবাই। 'ঢাকার মানুষ' না 'ঢাকার সিনেমার কাজ' কোনটার প্রেমে পড়েছেন? এ ক্ষেত্রে আমাকে বলতে হবে দুটোর প্রেমেই পড়েছি। প্রথমে কাজকে রাখতে হবে। আর এখানকার মানুষদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের আতিথেয়তা ও ব্যবহারে মুগ্ধ না হলে হয়তো রেগুলার কাজ করাও হতো না। তাহলে বলা যেতে পারে বাংলাদেশের ছবিতে ক্যারিয়ারে ভিত্তিটা শক্ত হচ্ছে শ্রাবন্তীর? ক্যারিয়ারের ভিত্তি শক্ত করতে তো এ দেশে কাজ করছি না। কাজ করছি গল্প পছন্দ হচ্ছে বলে। সেটা কলকাতার ছবি হোক আর ঢাকার ছবি। আমাকে যে কোনো ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে আগে গল্প ও চরিত্র দেখি। দুটো পছন্দ হলে চোখ বন্ধ করে কাজে রাজি হয়ে যাই। গত বছর এখানে মুক্তি পেয়েছে 'যদি একদিন'। তাহসান ও তাসকিনের সঙ্গে প্রথম অভিনয় করলাম। এমন গল্পের ছবিতে কাজ করে নিজের ভেতর এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করে। এখন 'বিক্ষোভ' ছবির কাজ করছি। এর গল্পও হার্ট টাচিং। 'বিক্ষোভ' ছবির কোন দিকটি সবচেয়ে বেশি টেনেছে আপনাকে? এই ছবির বড় শক্তি গল্প। প্রথমবার একজন শিক্ষিকার চরিত্রে অভিনয় করছি। তাছাড়া এই ছবির উদ্দেশ্য জনগুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ সড়কের দাবি নিয়ে এই ছবির গল্প। বাংলাদেশ-ভারত সব জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনা হয়। এই দুর্ঘটনার প্রতিকারে যে আন্দোলন, তা নিয়েই ছবিটি। ছবিতে আমি যে চরিত্রে অভিনয় করছি তার নাম আফ্রি। তার জীবনে অনেক কষ্ট এসেছে কিন্তু থেমে থাকেননি। এগিয়ে গেছেন। লড়তে শিখেছেন। এটাই আমার ভালো লেগেছে। এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ এলে আমার মনে হয় না কোনো অভিনয়শিল্পী হাতছাড়া করবেন। ছবির নির্মাতা শামীম আহমেদ রনি ও নায়কও নতুন। তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা... রনির সঙ্গে আমার প্রথম কাজ হলেও মনেই হয়নি তার সঙ্গে প্রথম কাজ করছি। তার আগের কাজগুলো দেখেছি আমি। এ দেশের সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গেও কাজ করছি। ভালো নির্মাতার পাশাপাশি ভালো মানুষও। আমরা প্রথম কাজ করেছি, কিন্তু কোনো সমস্যা হয়নি এখনও। সুন্দরভাবে অভিনয় করেছি। ছবির কাজের ফাঁকে চমৎকার আড্ডা হয়েছে। আগেরবার তো আমার স্বামী ও শাশুড়িকেও নিয়ে এসেছিলাম। সবাই মিলে খুব ইনজয় করেছি। এর মাঝে বাংলাদেশের আর কোনো ছবিতে অভিনয়ের বিষয়ে কথা হয়েছে কী? শুটিং করতে যে কয়বারই এসেছি, কোনো না কোনো ছবির প্রস্তাব পেয়েছি। সেটা এবারও। তবে হুট করেই তো আর কোনো একটি ছবিতে অভিনয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। গল্প-চরিত্র দেখতে হয়। আগামীকাল কলকাতার সঙ্গে বাংলাদেশেও আপনার নতুন ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা... হ্যাঁ। আগামীকাল কলকাতায় মুক্তি পাবে 'হুল্লোড়'। শুনেছি একই দিন বাংলাদেশেও মুক্তি পাওয়ার কথা। পেলে ভালোই হবে। মন ভালো করে দেওয়ার মতো একটা ছবি। পুরোপুরি কমেডি ঘরানার ছবি। প্রচুর টেনশন ও কাজের চাপে থাকা মানুষের সবকিছু থেকে মুক্তি দিতে পারে এই ছবি। এর গানগুলো দারুণ। যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত 'শিকারি' ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। ছবিটি দুই দেশের দর্শকরা বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শাকিবের সঙ্গে আপনাকে... 'শিকারি' দারুণ ছবি হয়েছিল। ভালো ব্যবসাও করেছে। তবে আমি তো কোনো প্রযোজক বা পরিচালককে বলতে পারি না আমার বিপরীতে অমুক নায়ককে নেন। আমি নায়ক বাছাই করার কেউ না। প্রযোজক-পরিচালক তারা যাকে ভালো ভাবেন, তার বিপরীতে আমাকে নেন। তবে আমিও চাই শাকিবের সঙ্গে আমার আবারও কাজ হোক। কলকাতায় এখন ভিন্নধারার গল্পের ছবিতে আপনাকে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে। তাহলে কি শ্রাবন্তীও কলকাতায় ঋতুপর্ণা ও জয়াদের পথে হাঁটছেন? আমি অভিনয়শিল্পী। আমাকে অভিনয়ের পথেই হাঁটতে হয়। ভিন্নধারার গল্পে, না সাধারণ ধারার গল্পের, সেটা ভাবি না। যে চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাচ্ছি, সে চরিত্রে কতটা সফলভাবে অভিনয় করতে পারছি সেটাই ভাবি আমি। দর্শক আমার চরিত্রটা কতটা গ্রহণ করবে তাও ভাবনায় থাকে। ছবিতে ভালো একটা চরিত্র খুঁজি। অভিনয়ের জায়গা খুঁজি। সেটা যে ধারার ছবিই হোক না কেন।
2
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা। ১০ নভেম্বর চতুর্থ দফার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এখন সেই আলোচনা আরও বেড়ে গেছে। ফলে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অতীতের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নানামুখী কর্মকাণ্ডের কথা চলে আসতে শুরু করেছে এসব খুঁটিনাটি বিষয়গুলো। যার ফলে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক ইউনিয়নে পুরোনোতেই ভরসা খুঁজছেন আর অনেক ইউনিয়নে পরিবর্তনের বিকল্প খুঁজছেন ভোটাররা। আবার অনেক ইউনিয়নে আসতে পারে কিছু নতুন মুখ। আশিয়া ইউনিয়ন: এই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন ছয়জন। এর মধ্যে গেল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী চেয়ারম্যান এম এ হাসেম মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। গেল নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাঁর এলাকায় তেমন কোনো দলীয় কর্মকাণ্ড কিংবা উন্নয়নমূলক কোনো কাজ চোখে পরার মতো ছিল না। সে ক্ষেত্রে কোনো কারণে এম এ হাসেম দলীয় মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়লে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান উদ্দিন বশির দলীয় প্রার্থী হতে পারেন। এছাড়াও রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলামুর রহমান মন্জু, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, এম সাইফুদ্দিন ও অ্যাডভোকেট বেলাল উদ্দিন। কাশিয়াইশ: আওয়ামী লীগের সভাপতি জহির আহমেদ চৌধুরী মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়াও বর্তমান চেয়ারম্যান এম এ কাসেম, যদিও তিনি আওয়ামী লীগের কেউ নন। তিনি গতবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে ৫ম বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ইউনিয়নে যদি কোন ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে তাহলে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন জহির আহমেদ চৌধুরী। এছাড়াও সাবেক ছাত্র নেতা গাজী আজগরসহ এখানে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন তিনজন।জিরি: এই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ আর হারুন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিমুল হক ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম টিপু এবং ফরিদুল আলম। কুসুমপুরা: দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এজাজ চৌধুরী, বর্তমান চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বাচ্চু, আওয়ামী লীগ নেতা জাকারিয়া ডালিম, মোহাম্মদ এমরান মনা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হোসাইন রানা ও আবু সুফিয়ান টিপু। তবে এদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এজাজ চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন এটি এক প্রকার নিশ্চিত করেই বলা যায়। কোলাগাঁও: এই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আহম্মেদ নুর, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরীর নাম জোরে শোরে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হারুন ও মোহাম্মদ রাসেলও রয়েছেন। তবে যুবলীগ নেতা মাহবুবুল হক চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের হওয়া সত্ত্বেও গেল নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া আহম্মেদ নুরকে বেগ পেতে হতে পারে। কোন কারণে সে যদি দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয় সে ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আছে।হাবিলাসদ্বীপ: এই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক ফৌজুল কবির কুমার। এখানে বর্তমান ও টানা দুইবারের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তাহলে বেগ পেতে পারেন ফৌজুল কবির কুমার। তবে কুমার দলীয় মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন এ বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। আওয়ামী লীগ নেতা মৃদুল নন্দী, আজগর আলী বাহদুর ও দিদারুল হক জসিমও রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে।জঙ্গলখাইন: ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ ইদ্রিচ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অসিত কুমার বড়ুয়া। আরও আছেন সাবেক চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেন ফরিদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরতুজা কামাল মুন্সি, আওয়ামী লীগ নেতা লিটন বড়ুয়া। এর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির মধ্য থেকে দু'জনের একজন দলীয় মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত।ছনহরা: দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ও মুক্তিযোদ্ধা সামশুল আলম দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়াও ওসমান আলমদার সরোয়ার উদ্দিনের নামও শোনা যাচ্ছে। বিগত পাঁচ বছরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় এখনো পর্যন্ত ওসমান আলমদারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।ভাটিখাইন: জেলা যুবলীগ নেতা আবু সালেহ মোহাম্মদ শাহরিয়ার শাহরু ও বর্তমান চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দিনের মধ্য থেকেই একজন পাবেন দলীয় মনোনয়ন। এ ক্ষেত্রে শাহরুকে ঘিরে ব্যক্তিগত নানা বিতর্ক উঠলেও দলের আনুগত্য, আবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নিজের ভোটকেন্দ্রে একচ্ছত্র আধিপত্য ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রেও তাঁর অবস্থান অপেক্ষাকৃত ভালো হওয়ায় তিনি এগিয়ে রয়েছেন। অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নিজস্ব বলয়ের কোন ভোটকেন্দ্র না থাকাসহ রাজনৈতিক নানা কারণ দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিনও। কচুয়াই: এই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্র নেতা ও উপজেলা আওয়ামীগ নেতা ইনজামুল হক জসিম ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল খালেক রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে। তবে কোন ঘটনা না ঘটলে জসিমের মনোনয়ন বলাচলে নিশ্চিত। যদিও উপজেলা যুবলীগ নেতা এনামুল হক মজুমদার মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও সাজেদা বেগম ও ঋষি বিশ্বাসের নাম ও শোনা যাচ্ছে। খরনা: সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও চট্টগ্রাম কারা পরির্দশক আবদুল হান্নান লিটন ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। যদিও বর্তমান চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মনজুরুল আলমও দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ধলঘাট: মনোনয়ন প্রত্যাশীর দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ী আবুল বশর ও বর্তমান চেয়ারম্যান রনবীর ঘোষ। তবে দলীয় ও অন্যান্য দিক বিবেচনায় উপযুক্ত প্রার্থীর সংকটে মন্দের ভালো হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান রনবীর ঘোষ পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন এটি একপ্রকার নিশ্চিত। এছাড়াও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রুবেল ও আবদুল আজিজ রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশায়। শোভনদণ্ডী: এই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান এহসানুল হক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর খালেদ দুজন মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তবে ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে মনোনয়ন তালিকায় এক নম্বরে আছেন আলমগীর খালেদ। যদিও বর্তমান চেয়ারম্যান এহসানুল হকের ওপর নানা সময়ে এলাকায় নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তা ছাড়াও আছেন সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীনের নামও। দক্ষিণ ভূর্ষি: ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিমের বিকল্প কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না বলেই তিনি আছেন মনোনয়ন দৌড়ে আরও এগিয়ে। যদিও আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছৈয়দের নাম শোনা যাচ্ছে। বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম কোনো কারণে যদি বাদ পড়েন তাহলে মোহাম্মদ ছৈয়দের ভাগ্য বদলে যাবেন এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাইদগাঁও: মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন ও আওয়ামী লীগ নেতা বি এম জসিম। এছাড়াও আছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম জুলু ও জিতেন গুহ। কেলিশহর: বিকল্প কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলে বর্তমান চেয়ারম্যান সরোজ সেন নান্টুর হাতে উঠতে পারে আবারও নৌকা প্রতীক। তবে যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, নুরুল ইসলাম বাচা, সুমন চক্রবর্তীর নাম শোনা যাচ্ছে। বড়লিয়া: বর্তমান চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম সানু ও নুরুল আবছারের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও আছেন ইউনুস তালুকদার। উপরিউক্ত বিষয়গুলো দলের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কিছু ব্যতিক্রম হলে হতেও পারে।উল্লেখিত প্রার্থীদের বিপরীতে যারা রয়েছেন, তাদের অনেকে মাঠে তুলনামূলক জনপ্রিয় বা শক্তিশালী প্রার্থী হলেও বিগত দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কারও ক্ষেত্রে দুর্বল কেউ বা বিতর্কিত হওয়ায় মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। আবার কাউকে নিয়ে জনপ্রিয়তার সংকট থাকলেও দলীয় কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নে বিশ্বস্ত ও আনুগত্য হওয়ায় এগিয়ে রয়েছেন তারা। উল্লেখ্য ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী চতুর্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামী ২৫ নভেম্বর, মনোনয়ন বাছাই ২৯ নভেম্বর এবং প্রত্যাহার ৬ ডিসেম্বর। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৩ ডিসেম্বর।
6
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষমতাশালী দেশগুলোর যে নেতারা দেশবাসীর কাছে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন, তাঁদের অনেকের কাছেই করোনা মহামারি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এই মহামারি মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাঁদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে ফেলেছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী গুসেপ্পে কোন্তি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল-এমন অনেক নেতার জনপ্রিয়তা বছরখানেক আগে যেভাবে পড়ে গিয়েছিল, নতুন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে তা আবার তাঁরা পুনরুদ্ধার করে ফেলেছেন। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। দুই বছর ধরে তাঁর জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমছিল। করোনা পরিস্থিতিতে সেই অবনমনের গতি আরও বেড়েছে। পুতিনের অতি অজনপ্রিয় পেনশনব্যবস্থার সংস্কার সাধারণ নাগরিকদের, এমনকি তাঁর সমর্থকদেরও খেপিয়ে তুলেছে। তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে রাশিয়া। পুতিন সংবিধানে একটি সংশোধনী আনতে চান, যার মাধ্যমে তিনি ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। তত দিন পর্যন্ত তিনি বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স দাঁড়াবে ৮৪ বছরে। এত দিন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার এই ইচ্ছাকে রুশ নাগরিকেরা মোটেও ভালোভাবে নেয়নি। করোনাকালে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকায় ক্রেমলিন এই সময়টাকেই সংবিধান সংশোধনের মোক্ষম সময় মনে করছে। কিন্তু এতে মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়ে যাবে। পুতিনের এই আজীবন ক্ষমতায় থাকার অভিলাষকে তাঁর কট্টর সমর্থকদেরও কেউ কেউ ঘৃণার চোখে দেখছেন। লেভাদা নামের একটি নিরপেক্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের গত ফেব্রুয়ারির জরিপে দেখা গিয়েছিল, ৬৯ শতাংশ রুশ নাগরিক পুতিনকে সমর্থন করেন। কিন্তু সেই একই প্রতিষ্ঠানের মে মাসের জরিপে দেখা গেছে, পুতিনের জনপ্রিয়তা ৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে। মাত্র পাঁচ বছর আগে পুতিন যখন ইউক্রেন সংকটে হস্তক্ষেপ করেন এবং ক্রিমিয়া দখল করে নেন, তখন তাঁর জনসমর্থন ছিল ৮৫ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানের চেয়ে পুতিন এর আগে কখনো এত অজনপ্রিয় ছিলেন না। তরুণদের কাছে এখন পুতিন সবচেয়ে বেশি অজনপ্রিয়। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মাত্র ১০ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা পুতিনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান। এ ছাড়া অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত, গরিব এবং ছোট শহর বা গ্রামে বাস করা লোকজনের মধ্যেও তিনি অজনপ্রিয় নেতা। নতুন পেনশন নীতি এবং জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে মানুষ বিক্ষোভ করতে রাস্তায় পারছে না। কিন্তু করোনা কেটে যাওয়ার পর লোকেরা যদি রাজপথে নেমে আসে, তাহলে তা সামাল দেওয়া পুতিনের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। মনে হচ্ছে পুতিনের সামনে দুটি বড় সমস্যা অপেক্ষা করছে। প্রথমত, করোনাভাইরাসের মহামারি কেটে যাওয়ার পরও রাতারাতি তেল ও গ্যাসের দাম আগের জায়গায় যাবে না। অর্থনীতি আগের জায়গায় আসবে না। এতে মানুষ বিক্ষুব্ধ হবে। আরেকটি হলো, পুতিনের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন করা হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ১ জুলাই 'পপুলার ভোট' অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এটি পুতিনবিরোধী বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালতে পারে। নিরপেক্ষ আইনজ্ঞরা বলছেন, আইনি গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়ার সরকার এটিকে 'পপুলার ভোট' বলছে; অর্থাৎ তারা বোঝাতে চাইছে এটি গণভোট নয় এবং এতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন থাকবে। কিন্তু গণভোট হতে হলে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ভোট পড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গণভোট দিলে এত ভোটার ভোট দেবে কি না, তা নিয়ে সরকারের সংশয় রয়েছে। বিশেষ আইনে করা 'পপুলার ভোট' পদ্ধতিতে কত শতাংশ ভোট পড়তেই হবে, সে ধরনের কোনো বিধিনিষেধ রাখা হয়নি। এই ভোট পর্যবেক্ষণে খুবই সীমিত পর্যবেক্ষক রাখা হয়েছে। লেভাদা একটি জরিপ চালিয়ে বলেছে, যদি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে এই সাংবিধানিক সংশোধনের প্রতি সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ লোক ভোট দেবে। তবে বোঝা যাচ্ছে, এই ভোটে পুতিনই পাস করবেন এবং পাস করলেও পুতিনের আজীবন ক্ষমতায় থাকার খায়েশ অনিবার্যভাবেই রাশিয়ায় জনবিক্ষোভের সৃষ্টি করবে। ক্রেমলিন এটা জানে এবং সে জন্যই সব ব্যবস্থা করে রেখেছে। দেশটির সাংবিধানিক আদালত সম্প্রতি একটি রুল জারি করে বলেছে, কেউ কোনো বিষয়ে বিক্ষোভ করতে চাইলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তা করতে পারবে। বোঝাই যাচ্ছে, ভবিষ্যতে সরকারবিরোধীরা বিক্ষোভ করতে চাইলে তাদের প্রবল বাধার মুখে পড়তে হবে। তবে বাধা যত কঠিন হবে, বিরোধিতাও তত প্রবল হতে পারে। আল-জাজিরা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিতরোমান দোবরাখোতভ: মস্কোভিত্তিক সাংবাদিক ও নাগরিক অধিকারকর্মী
8
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সহযোগীসহ সরকারি ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি করতে সে দেশের পুলিশ কোনো পূর্ব-অনুমোদন ছাড়াই 'পেগাসাস' নামের স্পাইওয়্যার ব্যবহার করেছে- এমন এক অভিযোগ ওঠার পর তা তদন্ত করতে এক কমিশন গঠনের কথা বলেছে ইসরাইলি সরকার। পেগাসাস নামের সফটওয়্যারটি তৈরি করে ইসরাইলেরই এনএসও গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান- যা দিয়ে মোবাইল ফোন হ্যাক করা যায়। এটি একবার কারো মোবাইল ফোনে ঢুকলে তা দিয়ে নজরদারি প্রতিষ্ঠান সেই ফোনের মেসেজ, ফটো, বা ইমেইল হস্তগত করতে পারে, ফোনে কথাবার্তা রেকর্ড করতে পারে এবং গোপনে এর মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা চালু করতে পারে। পেগাসাস কাদের টার্গেট করেছেএনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তাদের এই পেগাসাস সফটওয়্যার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একনায়কতান্ত্রিক সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে- এবং তারা এটির অপব্যবহার করেছে। এখন ইসরাইলের ভেতরেই এ সফটওয়্যার অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠলো। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ওমর বারলেভ বলেছেন, ইসরাইলি সংবাদপত্র ক্যালকেলিস্টে প্রকাশিত এই অভিযোগ তদন্তে একটি রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠন করা হবে। পত্রিকার খবরে বলা হয় যে মন্ত্রী, মেয়র, কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বিক্ষোভকারী এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এক ছেলের বিরুদ্ধেও গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করতে পুলিশ আদালতের কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই পেগাসাস ব্যবহার করেছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলার বিচারের এক সাক্ষীর ওপরও নজর রাখা হচ্ছিল বলে অভিযোগে বলা হয়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, প্রকাশিত রিপোর্ট সত্যি হলে এটি অত্যন্ত গুরুতর ব্যাপার। তিনি বলেন, 'এসব সরঞ্জাম সন্ত্রাসবাদ ও গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ- কিন্তু ইসরাইলি জনগণ বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এগুলো তৈরি হয়নি। সে কারণেই ঠিক কী ঘটেছে তা আমাদের বুঝতে হবে।' ইসরাইল সরকারের সাবেক কিছু কর্মকর্তা তাদের ফোন হ্যাক করার জন্য পুলিশের পেগাসাস সফটওয়্যার ব্যবহারের রিপোর্টটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিচার, অর্থ ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রধানরা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছেন, তাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ায় তারা অপমানিত এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইসরাইলের পুলিশ প্রধান তার ইউএই সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরে আসছেন। পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করছে। কিভাবে কাজ করে পেগাসাসইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এনএসও এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে যা বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এনএসও অবশ্য বলছে, সাধারণ মানুষের ফোনে আড়ি পাতার জন্য তাদের পেগাসাস কেউ ব্যবহার করেনি। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের ৫০ হাজারের মতো মানুষের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে এবং ফোনের ব্যবহারকারীরা এবিষয়ে কিছু জানতেও পারেনি। সাধারণত ই-মেইল কিংবা বার্তা পাঠিয়ে ফোন হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়। কেউ যখন সেই ইমেইলের লিঙ্ক বা মেসেজে ক্লিক করেন তখনই ফোনে একটি সফটওয়্যার ইন্সটল হয়ে যায়, যার সাহায্যে ওই ফোনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু পেগাসাসের ক্ষেত্রে ফোন ব্যবহারকারীর কোনো লিঙ্কে ক্লিক করার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। এটি কোনো ক্লিক ছাড়াই ফোনে ইন্সটল হয়ে যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে নীরবে এবং অবশ্যই ব্যবহারকারীর অজান্তে।সূত্র : বিবিসি
3
চট্টগ্রাম জেলায় প্রাথমিকের শতকরা ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস করতে পারেনি করোনাকালীন সময়ে। এতে এই শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে পড়ালেখায়। স্মার্ট ফোন না থাকায় ছয় লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে চার লাখ এ সময় শিক্ষার সুবিধা পায়নি। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নিজস্ব জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য। উপজেলার একটু প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের অনলাইনে অংশ নেওয়ার হার আরও কম। কোথাও কোথাও ৭-৮ শতাংশ।নগরের শুলকবহর ডেকোরেশন গলির বস্তিতে গিয়ে দেখা হয় শান্তার সঙ্গে। দরিদ্র হলেও পড়াশোনায় ব্যাপক আগ্রহ তার। পড়ছে নগরীর পাঁচলাইশ আহমেদ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তার ঘরে মোবাইল বলতে আছে দুটি পুরোনো মডেলের ফোন। এসব দিয়ে অনলাইনে ক্লাসের সুযোগ নেই। তাই দিনদিন পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছে সে।শান্তার মা আসমা আক্তার একজন গৃহকর্মী। করোনায় মেয়ের পড়াশোনার বিষয়ে জানতে চাইলে আফসোস করে বলেন, দামি মোবাইল না থাকায় মেয়েকে অনলাইনে ক্লাস করতে দিতে পারিনি। দু-এক দিন তার এক বান্ধবীর বাসায় গিয়ে ক্লাস করেছিল। নিয়মিত ক্লাসের অভাবে সে এখন অনেক কিছু ভুলে গেছে। এই চিত্র শুধু শান্তাদের ঘরেরই নয়। চট্টগ্রামের প্রাইমারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অংশই এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গেছে গত দেড় বছর। বড় সমস্যা স্মার্ট ফোনের অভাব।চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, গত বছর জুনে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে একটি সমীক্ষা করা হয়। এতে দেখা গেছে চট্টগ্রাম জেলায় প্রাথমিকের ৬ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ লাখ ৯২ হাজার ১২০ জনের স্মার্ট ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সক্ষমতা আছে। বাকি ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী ছিল এর বাইরে। এখনকার হিসাবে, ৮-১০ হাজারের মতো শিক্ষার্থীর মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সক্ষমতা বেড়েছে। অর্থাৎ প্রায় দুই লাখের মতো। সে হিসাবেও সাড়ে চার লাখ বা ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই সুযোগের বাইরে ছিল।নগরের পূর্ব নাসিরাবাদে এ জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রিনা শওকত বলেন, আমাদের স্কুলে ১ হাজার ১৫৪টি বাচ্চার মধ্যে অনলাইনে পেয়েছি ২০০ থেকে ২৫০ জনকে।কাতালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপন মল্লিক বলেন, এখানে ৪১০ জন শিশুর মধ্যে ক্লাসে থাকত দেড় শর মতো। তবে যারা থাকতে পারেনি, তাদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছি, মোবাইলে কল করে কাজ দিয়েছি। তার পরও অনেক গ্যাপ থাকবে।রাঙ্গুনিয়া উপজেলার জঙ্গল পারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপেন বৈদ্য জানান, তার বিদ্যালয়ে ৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অনলাইন পাঠদানে নিয়মিত পাওয়া গেছে মাত্র পাঁচ-ছয়জনকে।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম দাবি করেন, এতে গ্যাপ হবে না। কারণ তাদের সঙ্গে শিক্ষকেরা যুক্ত ছিলেন। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকেরা ওয়ার্কশিট পৌঁছে দিয়েছেন। তবে এই কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, দেড় বছর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে না থাকায় অনেকেরই ড্রপ আউটের শঙ্কা আছে।চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গুগল মিট বা অনলাইনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩০ শতাংশের মতো। এটি নিয়ে এই ঘাটতি পূরণে একটি রিকভারি লেসন প্ল্যান তৈরি করছি। আশা করি ধীরে ধীরে এটা পূরণ করতে পারব।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খান মনে করেন, এর একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। ২০৩০ সালে শিক্ষা খাতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার উদ্যোগ এ কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শিক্ষাবিদ ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর মতে, ইন্টারনেটে ক্লাস কেবল সচ্ছলদেরই এগিয়ে দেবে। ওয়ার্কশিট দিয়ে যেটি করা হয়েছে, তাতেও বাচ্চারা নামমাত্র লাভবান হবে। সব মিলিয়ে করোনা শিক্ষার বৈষম্যটাকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে।
6
সুন্দরবনের নদী-খালে মাছের প্রজনন মৌসুমে দু'মাসে নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে আজ থেকে নেমে পড়েছেন জেলেরা। দু'মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে উপকূলের জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে ট্রলার, নৌকা নিয়ে নেমে পড়েছেন। প্রজনন মৌসুমকে ঘিরে গত জুলাই ও আগস্ট মাস পর্যন্ত গোটা সুন্দরবন অভ্যন্তরের জেলেদের নদী ও খালে প্রবেশ ও সকল প্রকার মৎস্য সম্পদ আহরণ বন্ধ রাখে বন বিভাগ। আর এতে করে করোনাকালে চরম দূরাবস্থার মধ্যে পড়েছিল সুন্দরবন উপকূলের প্রায় ৩০ হাজার জেলে পরিবার। সুন্দরবন বিভাগ ও জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনে জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪.১ বর্গ কিলোমিটার। যা সমগ্র সুন্দরবনের ৩১.১৫ ভাগ এলাকা। এই বিশাল জলভাগে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫০টি নদ-নদী ও খাল রয়েছে। এসব খালে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, বিশ্বখ্যাত শিলা কাঁকড়াসহ ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪৩ প্রজাতির মরাস্কা, ও ১ প্রজাতির লবস্টার রয়েছে। সুন্দরবনে মৎস্য আহরণের উপর উপকূলের প্রায় ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্ভর। এদের বেশির ভাগ জেলেই বংশ পরম্পরায় সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা পিরোজপুর ও বরগুনাসহ সুন্দরবন লাগোয়া এলাকার বিপুল সংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠী সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ আহরণ ও বিকিকিনির সাথে জড়িত। সুন্দরবনে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানসের (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সালে বন বিভাগ প্রতি বছর ১ জুলাই ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গোটা সুন্দরবনের সকল নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মৎস্য আহরণের এ নিষেধাজ্ঞা গত সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রজনন মৌসুম থাকায় নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা বৈধ পাশ-পারমিট নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সুন্দরবনের অভ্যন্তরের বিভিন্ন খাল-নদীতে পুনরায় মাছ ও কাঁকড়া ধরতে শুরু করেছে। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমিত আকারে জেলেদের মাছ ও কাঁকড়া ধরার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলেদের ছদ্মবেশে কেউ যাতে বিষ দিয়ে সুন্দরবনে মাছ শিকারসহ বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়, সে জন্য বন রক্ষীদের টহল ও অন্যান্য কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/ আবু জাফর
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র শবে বরাতের মহাত্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জনিয়েছেন। আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র শবে বরাত। প্রধানমন্ত্রী এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার এক বাণীতে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানবজাতির জন্য সৌভাগ্যের এই রজনি বয়ে আনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমত ও বরকত। এ রাতে আল্লাহপাক ক্ষমা প্রদর্শন এবং প্রার্থনা পূরণের অনুপম মহিমা প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস বর্তমানে সমগ্রবিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জনগণকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তিনি এই মহামারিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইবাদত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এই সংক্রমণ থেকে সকলের দ্রুত মুক্তি কামনায় মহান আল্লাহতায়ালার কাছে বিশেষ দোয়া করেন। বাণীতে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে হেফাজত করুন, আমিন। সূত্র: বাসস বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় একটি বিড়ালকে হত্যা করে তার শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ আলাদা করে এক তরুণী। এরপর সেটির ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেন ওই তরুণী। এরপর ওই তরুণীর ছবিসহ তার পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনায় কেয়ার ফর পস- এর সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হুসাইন বাদী হয়ে মুগদা থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। বাংলাদেশে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইন, ১৯২০-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অকারণে শুধু সহিংসতা প্রদর্শনে কোনো প্রাণিকে হত্যা করে তাহলে তিনি অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। আইনটিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাণী হত্যার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে কোনো গোষ্ঠী ধর্ম বর্ণের রীতি পালনের জন্য বা কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটলে তা অপরাধ বলে গণ্য করা হবে না। সম্প্রতি একটি বিড়ালের চামড়া ছাড়িয়ে বেশ কয়েক টুকরা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেন ওই তরুণী। সঙ্গে তিনি লেখেন, 'আই লাভ ব্লাড'। এরপর ওই তরুণীর ছবিসহ তার পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। পশুপ্রেমীদের সংগঠন কেয়ার ফর প'স উদ্যোগী হয়ে ওই তরুণীর পরিচয় বের করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ওই তরুণীর বাসায় যায় সংগঠনের কর্মীরা। এসময় ওই তরুণী জানান, তিনি ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালে এসএসসি পাস করে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হলেও তার এন্টিবায়োটিক রিঅ্যাকশন হওয়ার কারণে পড়াশোনা আপাতত বন্ধ আছে। আবারও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবেন। তিনি বলেন, 'আমি এর আগে ছোট ছোট সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট করেছি। এটাও কৌতুহল বশত করেছি। আমি খুব দুঃখিত, ভবিষ্যতে এরকম আর করবো না।' এরপর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে আসে। বিডি প্রতিদিন/২১ মার্চ ২০১৯/আরাফাত
6
প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভেঙে ভয়ে ভয়ে ফেসবুকে এফডিএসআরের ইনবক্স দেখি। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন ডাক্তার কোভিড-১৯ এ ভুগে মৃত্যুবরণ করছেন। পাশাপাশি আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন পরিচিত-অপরিচিত অনেক ডাক্তারই। এসব খবর পেয়ে প্রতিটি দিন আজকাল শুরু হয় এক ধরণের কষ্টের ভেতর দিয়ে। ডাক্তারদের পাশাপাশি অন্যান্য মৃত্যুগুলোও কাঁপিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রিয়, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ নাসিম ভাই কোভিড রোগে আক্রান্ত হয়ে, পরবর্তীতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতায় মৃত্যুবরণ করলেন। যেবার আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হলাম, সেই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসিম ভাই। তখন তিনি আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, আমাদের ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ভাই সহ-প্রচার সম্পাদক। কারণে-অকারণে আমাদের বহুবার দেখা হয়েছে। যখন তিনি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং ঢাকা শহরে ল্যান্ড টেলিফোন খুব দুর্লভ, তখন আমার করা আবেদনপত্রে মন্ত্রী হিসেবে সই করেছিলেন। দ্রুততম সময়ে আমি ফোন পেয়েছিলাম। পারিবারিক সূত্রেও কিছু সম্পর্ক ছিল। গত টার্মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হবার আগ পর্যন্ত প্রায় নিয়মিতই যোগাযোগ ছিল। গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আব্দুল্লাহও সবার শ্রদ্ধা এবং ভালবাসার মানুষ ছিলেন। আমার প্রয়াত মায়ের তিনি ছিলেন বড় ভাইয়ের মত, সেই সূত্রে আমাদের আব্দুল্লাহ মামা। তিনিও কোভিড রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে চলে গেলেন। সিলেটের গণমানুষের নেতা কামরান ভাইও কোভিড রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। এভাবেই প্রতিদিন শোকের তালিকা দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিটি দিনই আজকাল তাই শোকাচ্ছন্ন দিন। সকল সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েই কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় জীবন বাজি রেখে ডাক্তারসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীরা সন্মুখ সারিতে থেকে লড়ছেন। নিম্নমানের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করে ইতিমধ্যে ডাক্তারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের বাড়তি ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই লড়াইয়ে ডাক্তারসহ কয়েক হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবু লড়াই চলছে। এর মধ্যে থেমে নেই স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি, থেমে নেই ডাক্তারের উপর নৃশংসতা। থামেনি হুমকি-ধামকি আর মিথ্যে মামলা দিয়ে ডাক্তার নির্যাতন। খুলনায় প্রকাশ্য দিবালোকে রোগীর কয়েকজন আত্মীয়স্বজন মিলে গরীবের ডাক্তার বলে পরিচিত ডা. মো. আব্দুর রকিব খানকে নিজের ক্লিনিকের গেটে নৃশংসভাবে আঘাত করেছে। পরিণতিতে মৃত্যবরণ করেছে ডা. রাকিব। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ডা. রকিবের কোন খুনিকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। অবিলম্বে ডা. জোবায়ের আহমেদের মুক্তি চাই ও এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার চাই। অবিলম্বে খুলনায় নিহত ডা. রকিব হত্যার বিচার চাই। কোভিড-১৯ রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডাক্তারদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। লেখক: চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিস (এফডিএসআর)। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
2
ঠাকুরগাঁওয়ে দু'দিন মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনে এমপি লিটার সংবাদ প্রকাশে সন্তুষ্ট হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলায় দুই দিনব্যাপী ফটোকপি ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনে এমপি'র লিটার বিরুদ্ধে থানায় জিডি, হত্যার হুমকির অভিযোগ এই শিরোনামে একটি সংবাদ ছাপা হলে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয়। হকাদের কাছে নিমিষেই পত্রিকা শেষ হলে ছাপানো সংবাদটির কয়েক হাজার ফটোকপি স্থানীয়রা পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলায় বিতরণ করে।
6
গুলিস্তানে বাস দুর্ঘটনায় মেঘনা পরিবহনের বাসের চালক রাকিব শরীফকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রাকিবের বরাত দিয়ে র্যাব জানিয়েছে, গাড়ির দৈনিক চুক্তিভিত্তিক জমার টাকা মালিককে পরিশোধ এবং অধিক লাভের আশায় ট্রিপের সংখ্যা বাড়াতে প্রতিযোগিতা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতেন রাকিব শরিফ।আজ রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।র্যাব কর্মকর্তা বলেন, অধিক গতি থাকার কারণে ফ্লাইওভার দিয়ে নামার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে পথচারীদের চাপা দেয়। গ্রেপ্তারের পর রাকিব এমনটাই স্বীকার করেছেন।র্যাব কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনা পর বাসচালক পালিয়ে যান। এরপর নিহতের এক স্বজন ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ রাজধানীর ওয়ারী থেকে বাসটির চালক মো. রাকিব শরীফকে (২৫) গ্রেপ্তার করে।র্যাবের মুখপাত্র বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রাকিব সড়ক দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করে র্যাবকে জানিয়েছে, তিনি ৭ থেকে ৮ বছর ধরে মেঘলা পরিবহনে বাসের হেলপারি করে আসছিলেন। বাসের হেলপারি করার পাশাপাশি তিনি ড্রাইভিংয়ের প্রশিক্ষণ নেন। পরে বাসের হেলপারি ছেড়ে নিজে গাড়ি চালানোর জন্য মেঘলা পরিবহনের বিভিন্ন মালিকদের চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।কিন্তু রাকিবের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো মালিক তাঁকে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেননি। পরে রাকিব বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে মেঘলা পরিবহনের বিভিন্ন মালিকর গাড়ি সাময়িকভাবে চালানো শুরু করেন।২০১৯ সালে তিনি হালকা মোটরযান ড্রাইভিং লাইসেন্স পান। হালকা মোটরযান ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়েই রাকিব ভারী মোটরযান চালানো শুরু করেন। কিন্তু তাঁর ভারী মোটরযান চালানোর মতো কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না।খন্দকার মঈন জানান, ১৫ দিন আগে বাসটির মালিক সবুর মিয়ার (৫০) কাছ থেকে দৈনিক ২ হাজার ২৫০ টাকায় বাসটি ভাড়ায় চালানো শুরু করেন রাকিব। যথারীতি গতকাল বাসটি নিয়ে ভুলতা গাউছিয়া থেকে গুলিস্তানের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ী হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে গুলিস্তান সংযোগ সড়কে নামার সময় বাসটির অধিক গতি থাকার কারণে এবং ব্রেক কাজ না করায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বাম পাশে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ঘেঁষে নামতে থাকে। ওই সময় ফ্লাইওভারে অন্য একটি বাস থেকে যাত্রীরা নামছিল। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন পথচারীকে ধাক্কা দেয় বাসটি। এরপর দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।দ্রুত গতি ও প্রতিযোগিতার বিষয়ে খন্দকার মঈন বলেন, গ্রেপ্তার চালক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, প্রতিদিন গাড়ির জমা হিসেবে ২ হাজার ২৫০ টাকা মালিককে দিতে হয়। এরপর তো রাস্তার খরচ রয়েছে। তারপর নিজের বেতন, সহকারীর বেতন। সবকিছু মিলিয়ে দ্রুতগতিতে আয়ের একটি প্রবণতা ছিল। পাশাপাশি অনেক সময় গাড়ির সমস্যার কথা বললে মালিকেরা গুরুত্ব দেন না। চালকেরা বললেও মালিকেরা গাড়ির কাজ করান না।র্যাব কর্মকর্তা বলেন, চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেসের বিষয়ে মালিকদের আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাহলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কমবে।
6
পদ্মাসেতুর আসন্ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জনানো হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও পেতে পারেন দাওয়াত। তিনি বলেছেন, 'পদ্মাসেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কে পক্ষে, কে বিপক্ষে তা আমরা দেখবো না। রাজনৈতিকভাবে যারা বিরোধিতা করেছে, তাদেরও আমন্ত্রণ জানাব, চিঠি পাঠাব। শনিবার (৪ জুন) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ব্র্যাকের আয়োজনে নারী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ২৫ জুনের প্রস্তুতি শুরু করেছি। বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানাব। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরকেও আমন্ত্রণ জানাব। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দাওয়াত পাবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিয়মের মধ্যে পড়লে অবশ্যই পাবেন। এখন উনি তো সাজাপ্রাপ্ত। বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে পাওয়ার কথা। বিরোধীরা সবাই পদ্মাসেতুর উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাবেন। বিএনপি নেতারাও দাওয়াত পাবেন। নির্বাচন ও বিএনপি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বিএনপি একটা বড় দল, তারা নির্বাচনে আসুক আমরা চাই। ক্ষমতার পরিবর্তন চাইলে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। এখন নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যদি মনে করেন হত্যা-সন্ত্রাসের পথে থাকবেন, যদি মনে করেন শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ষড়যন্ত্রের চোরাগলি দিয়ে আপনারা ক্ষমতার মসনদে বসবেন, তাহলে এই রঙিন খোয়াব দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।' দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি নিয়ে বিএনপি'র সমলোচনার জবাবে তিনি বলেন, দলটির কিছু নেতা আবোল তাবোল বকছেন। তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। মাথা খারাপ হয়েছে কারণ, পদ্মাসেতু, মেট্রোরেলকে তারা সহ্য করতে পারছে না। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাস র্যাপিড ট্রানজিট তারা জীবনে দেখেও নাই, করেও নাই। শেখ হাসিনা করছেন, তাই তাদের বুকে বিষব্যথা। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নারী প্রশিক্ষণার্থীদের ষষ্ঠ ব্যাচে মোট ১০ জন নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের একজনসহ মোট ১১ জন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। উত্তরা, আশকোনা ও নিকেতনে অবস্থিত ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে ৩ মাসের আবাসিক ও ৩ মাসের শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ শেষে বিআরটিএ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন তারা। ব্রাকের নির্বাহী পরিচালক আশিফ সালেহের সভাপতিত্বে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে 'গ্রাজুয়েশন অফ উইমেন ড্রাইভার : এ স্টেপ টুয়ার্ডস রোড সেফটি' শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মারসি মিয়াং টেমবন, বিআরটিএ'র চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার, বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো: তাজুল ইসলাম। পরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ব্রাক ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী গাড়িচালকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। সূত্র : বাসস
9
আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৯৬ বছর বয়সী মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে। মাহাথির মোহাম্মদকে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে দেশটির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী কী ধরনের অসুস্থতায় ভুগছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
মির্জাপুরে আঞ্চলিক সড়কের পাঁচটি সেতু জনসাধারণের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুগুলো জরাজীর্ণ ও ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসী ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। তবে এসব সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুগুলো হলো বাঁশতৈল ইউনিয়নের পেকুয়া সেতু, বংশীনগর ইনথখাচালা সেতু, মন্দিরাপাড়া সেতু ও দেওহাটা সেতু। এ ছাড়া দেওহাটা-ধানতারা রাস্তার গেড়ামাড়া গ্রামে সেতু না থাকায় বাঁশের সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা। সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।দেওহাটা থেকে ধামরাই হয়ে ঢাকা যাওয়ার অন্যতম সড়ক দেওহাটা-ধানতারা আঞ্চলিক সড়ক। এই সড়কটি মির্জাপুরের সঙ্গে পাশের ধামরাই, মানিকগঞ্জ, সাভার, সাটুরিয়া, ঢাকা ও কালিয়াকৈরে যাওয়ার সহজ মাধ্যম। প্রতিদিন যানবাহনসহ হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে দেওহাটা সেতু নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছর আগে এ সেতুর স্ল্যাব ভেঙে যায়। স্থানীয় লোকজন সেতুর সাময়িক সংস্কার করে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। ২০১৮ সালের বন্যায় ওই সড়কের গেড়ামাড়া এলাকায় সড়কটি ধসে পড়ে। মাটি ভরাটের পর গত বছরের বন্যায় ওই স্থানে আবার ভেঙে যায়।মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। এই সাঁকোটি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ছানোয়ার হোসেন বলেন, গ্রামের ওই অংশে সেতু না থাকায় দক্ষিণ মির্জাপুরের বাসিন্দদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।পেকুয়া-পাথরঘাটা সড়কের পেকুয়া দক্ষিণপাড়া সেতুর মাঝখানের স্ল্যাব ভেঙে পড়েছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা। ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা আওয়ামী লীগের নেতা ইজ্জত আলী জনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর জায়গায় দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি এলাকার সব মানুষের।পেকুয়া-অভিরামপুর সড়কের বংশীনগর এলাকার ইনথখাচালার সেতু গত বছর ২১ জুন ভেঙে যায়। এতে সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জনসাধারণের চলাচলের জন্য বাঁশতৈল ইউপি চেয়ারম্যান মাটি ভরাট করে সরু রাস্তা তৈরি করলেও তা দিয়ে ভারী যান চলাচল করতে পারে না।স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার পারভেজ বলেন, সেতুটি ভেঙে পড়ায় এলাকাবাসী তাঁদের উৎপাদিত ফসল উপজেলা সদরসহ রাজধানীতে নিতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন সেতু নির্মাণ করলে ভালো হবে।কদিম ধল্যা-বাসাইল সড়কের মহেড়া ইউনিয়নের ভাতকুড়া সেতুর মাঝখানে কংক্রিটের ঢালাই উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। ইউনিয়ন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতার উদ্যোগে সেতুটির ভাঙা অংশ মেরামত করা হয়।দক্ষিণ মির্জাপুরের ছয়-সাতটি গ্রামের লোকজন বুধিরপাড়া রাস্তা দিয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। রাস্তাটির মন্দিরাপাড়া গ্রামের সেতুর রেলিং নেই। এসব সেতু দিয়ে ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করছে। ঝুঁকি এড়াতে ব্রিজটির একপাশে মন্দিরাপাড়া গ্রামের লোকজন সিমেন্টের তৈরি খুঁটি বেঁধে দিয়েছেন।মন্দিরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবুল শিকদার ও জালাল শিকদার সরকারের ওপর মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সেতুগুলো পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন।উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু চিহ্নিত করা হয়েছে। যেসব স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।
6
জাতিসঙ্ঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, ইয়েমেনের ১.৬ কোটির বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। এ বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধ বিধ্বস্ত এ দেশটির অসংখ্য মানুষের (কয়েক মিলিয়ন) খাদ্য সাহায্য বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর যত দিন না নতুন করে খাদ্য সহায়তা ও তহবিল আসছে তত দিন এমন অবস্থা চলবে। সম্প্রতি ব্রিটেনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকা এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে। ইয়েমেনের মানবিক সঙ্কটের বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থা ডাব্লিউএফপির (বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি) প্রধান ডেভিড বিসলি এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বলেন, এ বছরের শুরুর দিকে ডাব্লিউএফপির (বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি) অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও অন্যান্য দাতারা সহায়তা করায় আমরা দুর্ভিক্ষ ও বিপর্যয় এড়াতে পেরেছি। এখন আবার ডাব্লিউএফপির অর্থ শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন সহায়তা না পেলে অক্টোবর মাসে ৩২ লাখ মানুষকে আর ডিসেম্বর মাসে ৫০ লাখ মানুষের খাদ্য সহায়তা বন্ধ করতে হবে। এসব কারণে ইয়েমেনের ১.৬ কোটির বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারে। ১ মার্চ তারিখে সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করে। ডাব্লিউএফপির অর্থ সংগ্রহের ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ বছরের জন্য ইয়েমেনের সাধারণ জনগনের সাহায়তায় ৩.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চান। কিন্তু, দাতারা যে সাহায্য দেন তাতে প্রত্যাশিত সহায়তার অর্ধেকেরও কম অর্থ পাওয়া গেছে। মাত্র ১,৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। আন্তোনিও গুতেরেস এমন অবস্থাকে হতাশাজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। সূত্র : ইন্ডিপেন্ডেন্ট
3
বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল কর্মীদের তালা লাগানোর বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, এটি কিছু না। ওরা 'মান-অভিমান' করেছে, এটা ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেছেন, বিষয়টি সাংবাদিকেরা যেভাবে সিরিয়াসলি নিয়েছে বা উপস্থাপন করেছে, আসলে বিষয়টি সে রকম সিরিয়াস না। এটি পোলাপানের কাজ-কর্ম, মান-অভিমানের কাজ। নতুন কমিটিতে নেতা হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারিত বয়সসীমা বাতিল করার দাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতারা মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলটির ভেঙে দেওয়া কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মী বিক্ষোভ করেন। পরে বিকেলে ওই কার্যালয়ে ঢুকে কমিটি ভাঙার সিদ্ধান্তের সমর্থক ছাত্রদলের এক নেতাকে বেধড়ক মারপিট করার পাশাপাশি বিএনপি কার্যালয়ের কর্মীদের বের করে দেয় বিক্ষুব্ধরা। এরপর ঘণ্টাখানেক পর ওই কার্যালয়ে যান মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা। তাঁরা ভবনের তৃতীয় তলায় স্যালাইন লাগিয়ে রাখা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে যান এবং চিকিৎসকের কাছে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। রিজভী সোমবার (১০ জুন) সকালে কয়েকবার বমি করেন বলে জানা গেছে। কার্যালয় থেকে বেরিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, কয়েক দিন আগে ঈদ গেছে। মান-অভিমান হয়েছে। এটা ঠিক হয়ে যাবে। কারও কিছু করতে হবে না। কোনো সালিস, আলোচনা কিছুই করতে হবে না। ওরা রাগ করেছে, সব ঠিক হয়ে যাবে। এর কিছু পরে বিএনপির কার্যালয়ে প্রবেশ করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'এটি কোনো পরিস্থিতি না যদি আপনারা ফলাও করে প্রচার না করেন। কেউ ব্যথা পেলে চিৎকার দেয়, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দীর্ঘদিন দলের কতগুলো পদ্ধতিগত কারণে অথবা নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ার কারণে যোগ্য ছেলেরা তাদের আরাধ্য লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। সেই বিষয়টি আমাদের বিবেচনা করতে হবে, এরা দলের জন্য পরিশ্রম করে, এরা বাইরের নয়, এরা দলের মঙ্গল চায়।' তিনি আরও বলেন, 'দলের মঙ্গল এবং ওদেরও যতটুকু প্রাপ্যটা আছে তা সমাধান করার পথ আমাদের খুঁজতে হবে। এটা অনেক বড় দল, অনেক কর্মী, অনেক নেতা। আমরা বিরোধী দলে আছি, আমাদের সীমাবদ্ধতাও আছে।' গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই সীমাবদ্ধতার মূল কারণটা হলো, 'আমাদের নিয়মিত কাউন্সিল হয়নি। মামলা-হামলা-নির্যাতনের কারণে নিয়মিত এই সাংগঠনিক কাজগুলো হয়নি। এই নিয়মিত সাংগঠনিক কাজগুলো হলে ওরাও ছাত্রদল করার জন্য এত আগ্রহী হতো না। ওরাও বোঝে এটা।' সমাধান কী দেখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সমস্যা যেমন আছে, সমাধানও আছে। আলোচনার মাধ্যমে এটার সমাধান হবে। রুহুল কবির রিজভী হাসপাতালে যাবেন কিনা, জানতে চাইলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এটি চিকিৎসকেরা ঠিক করবেন। কিন্তু কোনো পরিস্থিতি বা এই ঘটনার জন্য তাঁকে বাইরে যেতে হবে, এটি যুক্তিসংগত প্রশ্ন না। মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কথা বলে যাওয়ার পরও বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ছিল। কার্যালয়ের প্রধান ফটকেও তালা লাগানো ছিল। আরও পড়ুন: বিএনপি কার্যালয়ে তালা দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
9
উপকরণমাঝারি আকারের টক আমসত্ত্ব ৪ টুকরো, নারকেলের দুধ ২ কাপ, চিনি ৩ টেবিল চামচ, লবণ ১ চা-চামচ, বাতাবি লেবুর রস ৩ টেবিল চামচ।প্রণালিচার টুকরো আমসত্ত্ব পানিতে ভিজিয়ে রাখুন নরম হওয়া পর্যন্ত। কাঁচা আমে তৈরি আমসত্ত্ব ব্যবহার করতে হবে। যখন আমসত্ত্ব একদম নরম হয়ে যাবে, তখন একটা ব্লেন্ডারে আমসত্ত্বের সঙ্গে নারকেলের দুধ ২ কাপ, পরিমাণমতো চিনি, লবণ ও বাতাবি লেবুর রস দিয়ে একসঙ্গে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। পাকা আমের আমসত্ত্ব ব্যবহার করলে লেবুর রসের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।বাতাবি লেবুর রসের পরিবর্তে লেবুর রস ব্যবহার করলে এর প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যাবে না। ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করতে পারেন সঙ্গে কিছু লেবু পাতা দিয়ে।
6
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আগামী ২৮ মার্চ অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করতে যাচ্ছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রায় ১০০ জন সংসদ সদস্য। কিন্তু এর আগেই ইমরানের নিজ দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ২৪ জন সংসদ সদস্য বিদ্রোহ করে বসেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ২৪ জন সংসদ সদস্যও ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন।দেশে ভয়ানক অর্থনৈতিক সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির জন্য প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দায়ী করে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রায় ১০০ জন সংসদ সদস্য গত ৮ মার্চ পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি সেক্রেটারিয়েটের সামনে একটি অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁদের অনাস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২১ মার্চ পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেমব্লির অধিবেশন আহ্বানের কথা রয়েছে এবং আগামী ২৮ মার্চ ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রাজা রিয়াজ নামের একজন সংসদ সদস্য পাকিস্তানের সম্প্রচারমাধ্যম জিও নিউজকে বলেন, 'ইমরান খান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা দুই ডজনেরও বেশি সংসদ সদস্য রয়েছি, যারা সরকারের নীতিতে সন্তুষ্ট নই।'আরেক সংসদ সদস্য নূর আলম খান সামা নিউজকে বলেছেন, 'জনগণের অনেক সমস্যা এই সরকার সমাধান করতে পারেনি। আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় গ্যাস সংকটের বিষয়টি বহুবার তুলে ধরেছি, কিন্তু কিছুই করা হয়নি।'এই বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা এখন ইসলামাবাদের সিন্ধু হাউসে অবস্থান করছেন। সিন্ধু হাউসে থাকা পিটিআইয়ের একজন সংসদ সদস্য ড. রমেশ কুমার ভাঙ্কওয়ানি পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনকে বলেছেন, 'আমাকে ইমরানের লোকেরা হুমকি দিয়েছে। এরপর সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী আমাকে এখানে (সিন্ধু হাউস) থাকার জন্য একটি কক্ষ দিয়েছেন।' অন্যদিকে সিন্ধু সরকারের একজন প্রাদেশিক মন্ত্রী ও মুখপাত্র সাঈদ ঘানি বলেছেন, সরকার তাদের অপহরণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাংসদরা।এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাঁর দলের নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
3
খাগড়াছড়িতে দুটি হিমালয়ান শকুন উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শকুন দুটি উদ্ধার করা হয়। খাবারের খোঁজে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে এ দেশে এসেছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোজাম্মেল হোসেন। বর্তমানে জেলা বন বিভাগ শকুনগুলো দেখাশোনা করছে।বন সংরক্ষক মোজাম্মেল হোসেন জানান, 'পরিযায়ী পাখি হিসেবে দীর্ঘ পথ ভ্রমণের কারণে শকুনগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শকুনগুলোকে উদ্ধার করা হয়েছে। একটি শকুন জেলা সদরের দশবল বৌদ্ধবিহার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে দীঘিনালার ৪ মাইল এলাকা থেকে আরেকটি শকুন উদ্ধার করা হয়। শকুনের খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন পানি খেতে দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর শকুনগুলোকে চট্টগ্রামের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।'প্রতিবছরই শীতকাল এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিমালয়ান শকুন দেখা যায়। এরা শীত শেষে আবার ফিরে যায় বলে জানান মোজাম্মেল হোসেন।খাগড়াছড়ির বন্য প্রাণীবিষয়ক আলোকচিত্রী সবুজ চাকমা বলেন, 'এর আগে খাগড়াছড়িতে হিমালয়ান শকুন উদ্ধার হয়নি। এটি মূলত পরিযায়ী হিসেবে এখানে এসেছে। শকুনমাত্রই বিপন্ন। তবে হিমালয়ী এই শকুন খাবারের খোঁজে এ দেশে এসেছে।'
6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ নিয়ে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডি.এম দুলালসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার মহান স্বাধীনতা দিবসে ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে উপজেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম খন্দকার মুন্না ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এরপর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনিছুল ইসলাম ঠাকুর ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান লস্কর তপু। তারা শহীদ মিনারের কাছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি গ্রুপ তাদের ওপর হামলা করে। সঙ্গে সঙ্গে সরাইল-অরুয়াইল সড়কের শহীদ মিনারের কাছের রাস্তা দুই গ্রুপের রণাঙ্গনে পরিণত হয়। এ সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষের মধ্যেই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনিছুল ইসলাম ঠাকুর ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান লস্কর তপু। কিছুক্ষণ পর অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মোড় ও নিজসরাইল ব্রিজের কাছে আবারও এ দু'গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আধ ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে পুলিশের ১০ কর্মকর্তা সদস্যসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের পরপরই পুলিশ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলাম শিপন, দুলাল মাহমুদ আলী, যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর আলম, বিএনপির সমর্থক আব্দুল আহাদ, মাসুম মিয়া ও নয়ন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। আহত ১০ পুলিশ সদস্য হলেন- সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ. এম. এম নাজমুল আহমেদ, সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. জাকির হোসেন খন্দকার ও আবু ইউসুফ এবং এএসআই দীপক দেবনাথ, শামসুল আলম, রুবেল আখন্দ ও এমরান হোসেন, কনস্টেবল আব্দুর রউফ, আরাফাত হোসেন ও সুনীতি বিকাশ চাকমা। এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনিছুল ইসলাম ঠাকুর ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান লস্কর তপু বলেন, তারা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেই শহীদ মিনারে গিয়েছিলেন। কিন্তু শহীদ মিনারের কাছে যাওয়ার পরপরই উপজেলা যুবদলের সভাপতি মুন্না ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সমর্থকরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, হামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি সংঘর্ষের খবর জানতে পারেন। কেন্দ্র থেকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.এম.এম নাজমুল আহমেদ সংঘর্ষ ও ছয়জনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে বলেন, সংঘর্ষে তিনিসহ পুলিশের ১০ সদস্য আহত হয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আনিছুল ইসলাম ঠাকুরকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান লস্কর তপুকে সদস্য সচিব করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে জেলা বিএনপি। কিন্তু সাবেক সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপ এই কমিটি মেনে নেয়নি।
6
স্নানের সময় সাবান যে কেবল একটি প্রয়োজনীয় উপকরণ, তা নয়। টয়েলেট্রিজ কেনার ব্যাপারে যাঁরা একটু নিখুঁত করে ভাবেন আর খরচ করতেও দ্বিধা করেন না, তাঁদের জন্যই এই হদিস। স্নানের জন্য একটি সাবান কিনতে যদি ৩-৪ হাজার টাকা গুনতে পরোয়া না করেন, তবে একটু চোখ বুলিয়ে নিন তো এখানে। বলা হচ্ছে বিশ্বের দামি সাবানগুলোর কথা।আরমেসফরাসি ব্র্যান্ড আরমেস তাদের বিলাসবহুল সুগন্ধির জন্য দারুণ জনপ্রিয়। আরমেসের সংগ্রহে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সুগন্ধবিশিষ্ট সাবান, যা কিনা দিনের শেষে আপনাকে একেবারেই উজ্জীবিত করে তুলবে। বলে রাখা ভালো, আরমেস কিন্তু দামি টয়লেট্রিজ বিক্রির জন্য নাম কুড়িয়েছে। তাদের সাবান কিনতে হলে খরচ করতে হবে ৩০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা হয় ২ হাজার ৬০০ টাকা।মিস ডিওরফরাসি ফ্যাশন হাউস ক্রিশ্চিয়ান ডিওর। সুগন্ধিপ্রিয় নারীদের জন্য তারা এনেছে সুবাসিত ক্লিনজিং সাবান। তবে স্নানের পর দীর্ঘায়িত সুগন্ধ গায়ে বয়ে বেড়াতে খরচ তো একটু করতেই হবে। এই সাবানের দাম ৩০.৫১ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ২ হাজার ৬০০ টাকার কিছু বেশি।টম ফোর্ডের সোপ বারস্নানের সময় যদি সাবানের সুগন্ধ মন না ভরায়, তবে কি আর চলে? স্নানে আরেকটু বিলাসিতা যোগ করতে মার্কিন লাক্সারি ফ্যাশন হাউস টম ফোর্ড তাদের সংগ্রহে রেখেছে উদ উড সোপ বার। এই সাবান ভেজা ত্বকে একটুখানি বুলিয়ে নেওয়ার পরই নাকে এসে লাগবে রোজউড, অ্যাম্বার ও টঙ্কা বিনের সুবাস। শীতের রাতে পারফেক্ট হট শাওয়ারে এর চেয়ে বেশি আর কী চাই! ওহ্, আসল কথা তো বলাই হয়নি। এই সাবানে রয়েছে উড কাঠের নির্যাস, যা কিনা টম ফোর্ডের তৈরি সুগন্ধিগুলোয় অন্যতম দামি উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমন একটি সাবান কিনতে গেলে গুনতে হবে ৩০ পাউন্ড! যা বাংলাদেশি মুদ্রায় হয় ৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রায়।এর্নো লাজলোর ক্লিনজিং বারআমেরিকান এই ব্র্যান্ডটির কালেকশনে রয়েছে সি মাড ডিপ ক্লিনজিং বার নামে একটি সাবান। ব্র্যান্ডটির দাবি, সাবানটি রোমকূপ থেকে ময়লা বের করে ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করবে ও ত্বকের অতিরিক্ত তেল অপসারণ করবে। এই সাবানে রয়েছে কয়লা ও ডেড সি মাড, যা কিনা ত্বককে বিষমুক্ত করে। এই সাবানে আরও যুক্ত করা হয়েছে সাইট্রাস ফল ও নানা রকম ফুলের সুবাস। সাবানটির দাম ৩৫ পাউন্ড। বাংলাদেশি টাকায় গুনলে ৪ হাজার ১০০ টাকা প্রায়।ক্রিডের সিলভার মাউন্টেন ওয়াটার সোপএই সাবানের দাম ৪০ পাউন্ড, ভাবা যায়! মানে আমাদের দেশের হিসাবে ৪ হাজার ৭০০ টাকা প্রায়। তবে সৌন্দর্যচর্চায় যাঁরা একটু বিলাসী প্রকৃতির, তাঁরা বিশ্বের অন্যতম সেরা এ সাবানটি দিয়ে একবার হলেও স্নান করতে চাইবেন। এই সাবান তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে আল্পস পর্বত থেকে নেমে আসা ঝরনার পানি। বহু দামি ফরাসি এ সাবানটি আরাধ্য না হয়ে পারে?সূত্র: ক্ল্যাসিফায়েড
6
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ২৭৪ বছরের পুরোনো হায়দার আলী জমিদার বাড়িটি। ইতিহাস-ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন এ বাড়ি। বাংলা ১১৫৫ সনে তৎকালীন জমিদার হায়দার আলী বাড়িটি নির্মাণ করেন তাঁর নামানুসারে এ বাড়ির নামকরণ করা হয় হায়দার মহল। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে বাড়িটি জরাজীর্ণ হলেও এখনো দৃষ্টিনন্দন। প্রাচীন এ বাড়িটি দেখতে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।জানা গেছে, বাংলা ১১৫৫ সনে জমিদার হায়দার আলী জমিদারি শুরু করেন। তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত জমিদারি প্রথা ধরে রাখেন। ২৭৪ বছর আগে অর্থাৎ ১১৫৫ বঙ্গাব্দে হায়দার মহলের মূল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ভবনটি তিনতলাবিশিষ্ট। এই হায়দার মহলের মূল ভবন ছাড়াও পেছনের দিকে একতলা আরও চারটি ভবন রয়েছে। এ ভবনগুলো তৈরিতে বালু ও সিমেন্টের পরিবর্তে ব্যয়বহুল চুন-সুরকি ব্যবহার হয়েছে। প্রতিটি দেয়াল ২৭ ইঞ্চি পুরু। ভবন নির্মাণের সময় বিম হিসেবে ব্যবহার হয় উন্নত মানের শালকাঠ, যা আজও অক্ষত। জমিদার বাড়ির মোট আয়তন ১৪ একর ২২ শতাংশ। এটি উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের পেট মানিকা গ্রামে অবস্থিত।নিরাপত্তার জন্য বাড়ির চারদিকে ছিল ঘের কাটা। বাড়িটির পশ্চিম পাশে একটি বিশালাকৃতির দিঘি রয়েছে। সে সময় জমিদাররা শখ করে হরিণ, ময়ূরসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রাণী পুষতেন। কালের সাক্ষী হিসেবে আজও এই হায়দার মহলে হরিণের শিং, ময়ূরের পালক, বাঘের চামড়াসহ নানা রকম ঐতিহ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া কিছু ঐতিহ্য জাতীয় জাদুঘরে শোভা পেয়েছে।হায়দার মহলের সামনে রয়েছে ফুলের বাগান, দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, সুপ্রাচীন প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাইক্লোন শেল্টার, ঈদগাহ মাঠ; যা পরবর্তী বংশধররা নির্মাণ করেন বর্তমানে এই বাড়িটি এমদাত আলী ও আসমত আলীর নাতিরা দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। জামিদার বাড়ির মূল ভবনে বর্তমানে কেউ বসবাস করেন না।হায়দার আলীর পঞ্চম প্রজন্মের বংশধর স্বপন মিয়া জানান, জমিদার হায়দার আলীর ছয় ছেলে ছিলেন। তাঁরা হলেন আসমত আলী মিয়া, হেদায়েত আলী, এহসান আলী, এমদাত আলী, ইয়াকুব আলী ও লুতফে আলী। ২০ বছর জমিদারি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা অবস্থায় ৪২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। পরে তাঁর দুই ছেলে এমদাদ আলী ও লুতফে আলী ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত জমিদারি প্রথা ধরে রাখেন। তাঁর অন্য ছেলেদের মধ্যে ইয়াকুব আলী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে খেলাফত ও কংগ্রেস কর্মী হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করেন। জমিদার হায়দার আলী চার হাজার একর সম্পত্তির মালিক ছিলেন।অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে ২৭৪ বছরের এই জমিদার বাড়িটি। প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখার দাবি স্থানীয়দের।হায়দার আলীর বংশধর ও বর্তমান কুতুবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া জানান, বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্য খরচ পরিচালনার জন্য এজমালি একটি ফান্ড রয়েছে নিজেদের উদ্যোগে এই বাড়িটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হবে।'বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুর রহমান বলেন, 'প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটি সংরক্ষণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
6
ভারতে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও আইপিএল বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নন প্যাট কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ার পেসার এই মুহূর্তে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের হয়ে খেলার জন্য আমদাবাদে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ৫০ হাজার ডলার দান করেছেন। বার বার প্রশ্ন উঠছে ভারতে যখন হাজার হাজার মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছেন, তখন আইপিএল বন্ধ করে দেওয়া উচিত কি না। কেউ কেউ মনে করছেন বন্ধ করে দেওয়াই ভাল। কামিন্স যদিও তেমন মনে করেন না। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে দান করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে কামিন্স বলেন, 'কলকাতা দলে কয়েকজনের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। ওদের থেকেই এই তহবিলে দান করার ব্যাপারে জানতে পারি। শাহরুখ খান নিজেও এই তহবিলে দান করেছেন।' কামিন্স জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বহু মানুষ ভারতকে সাহায্য করতে চায়, সেই ব্যবস্থা করারও চেষ্টা করছেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/এমআই
12
চট্টগ্রামে আগুনে ঝলসে যাওয়া এক ব্যক্তির সহায়তায় এগিয়ে এলেন পুলিশ কনস্টেবল মো. শামসুল আলম। এ সময় উৎসুক জনতা দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ তার দিকে সহায়তার হাত বাড়াননি। বুধবার নগরের বিনোদন কেন্দ্র ফয়'স লেকের একটি ক্যাফেতে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ মো. মানিক মিয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার পশ্চিম সাবরহাটি গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে। ক্যাফেটিতে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করে মানিক। কনস্টেবল শামসুল আকবর শাহ থানাধীন ফয়'স লেক তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্বরত। মানিককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্যাফের ভেতরে কাজ করার সময় হঠাৎ আগুনে ঝলসে যান মানিক মিয়া। এ সময় যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন তিনি। উৎসুক জনতা তাকে দেখতে ভিড় করলেও হাসপাতালে নিয়ে যেতে এগিয়ে আসেননি কেউ। ভিড়ের এমন জটলা চোখে পড়ে কনস্টেবল মো. শামসুল আলমের। কাতরাতে দেখে দ্রুত রিকশা থেকে নেমে একটি সিএনজিতে আহত মানিককে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান তিনি; ভর্তি করান হাসপাতালের ৩৬ নম্বর বার্ন ইউনিটে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগুনে মো. মানিক মিয়ার শরীরের ৭০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। মানিক মিয়ার বরাত দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল মো. শামসুল আলম বলেন, ক্যাফের রান্নাঘরে ঢুকে ম্যাচের কাঠি জ্বালাতেই আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে থাকা মানিকের শরীরে এক পর্যায়ে আগুন লেগে যায়। তিনি বলেন, রিকশায় বাজারে যাওয়ার সময় অনেক মানুষের জটলা দেখে আমি নেমে পড়ি। পরে দেখি একজন লোক আগুনে ঝলসে গিয়ে ছটফট করছেন। গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করি তাকে। প্রাথমিক ওষুধপত্রসহ যাবতীয় জিনিসপত্র কিনে দিয়েছি। পরে তার পরিবার ও ক্যাফের মালিকের কাছে খবর দিই। কনস্টেবল শামসুল বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিক মিয়াকে ঢাকায় পাঠানো হবে। ক্যাফেতে থাকা সিলিন্ডার গ্যাস ছিদ্র হয়ে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
6
সপ্তম দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের 'বিদ্রোহী' প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১৭ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবু জাফর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানানো হয়। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সাতকানিয়ার ১৬ ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হয়েও ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে। তাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৭ জন নেতা-কর্মীকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে। বুধবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীরা হলেন চরতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মঈনুদ্দিন চৌধুরী (আনারস), সোনাকানিয়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ আবু তাহের (আনারস) ও উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সেলিম উদ্দিন চৌধুরী (মোটরসাইকেল), ঢেমশা ইউনিয়নে উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ (আনারস), আমিলাইষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এস এম হারুন (আনারস), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মোজাম্মেল হক চৌধুরী (টেলিফোন) ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এইচ এম হানিফ (ঘোড়া), কালিয়াইশ ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মো. ফেরদৌস চৌধুরী সোহেল (আনারস) ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আতাউর রহমান (মোটরসাইকেল), ছদাহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক মাহমুদ (ঘোড়া), পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল মাবুদ সেন্টু (টেবিল ফ্যান) ও সাতকানিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য রিদোয়ানুল ইসলাম (আনারস), ধর্মপুর ইউনিয়নে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী (আনারস), নলুয়া ইউনিয়নে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (আনারস) ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহমহিলাবিষয়ক সম্পাদক তসলিমা আকতার (চশমা), কাঞ্চনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ ছালাম (মোটরসাইকেল) ও বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ চৌধুরী (আনারস)। ধর্মপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গতবারের নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার দল থেকে মনোনয়ন না দিলেও এলাকার ভোটাদের চাপে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সুষ্ঠু ভোট হলে এবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন বলে দাবি করেন তিনি। সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দলীয় পদে থেকে যাঁরা ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন, তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য আগে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তাঁরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আর যেসব নেতা-কর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবেন, তাঁদের বহিষ্কার করা হবে।
6
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সিলেটের বেশ কিছু পণ্যের বাজার ও চাহিদা থাকলেও এত দিন ওয়্যারহাউস ও কার্গো কমপ্লেক্স না থাকায় আটকে ছিল রপ্তানি সম্ভাবনা। পণ্য রপ্তানি চালু করতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মিত হচ্ছে 'এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স'। ফলে সিলেট থেকে আকাশপথে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা কেটে খুলছে রপ্তানি বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার দ্বার।সিলেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিলেটের শাকসবজি, আনারস, লেবুজাতীয় ফল, পান, ফ্রোজেন ফিশ, নানা জাতের সুগন্ধি চাল, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি শাড়ি, সাতকরা, জারা লেবু, বিন্নি চাল, বেতের আসবাবপত্র, নকশিকাঁথা এবং কুটিরশিল্পের বিশাল বাজার রয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে।২০১১ সালে সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়। নানা জটিলতায় কিছুদিন পরই বন্ধ হয়ে যায় ফ্লাইট। দীর্ঘ বিরতি শেষে ২০২০ সালে বছরের ৪ অক্টোবর ফের চালু হয় বিমানের সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় সিলেটের ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকেরা নতুন আশায় স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। কিন্তু 'এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স' না থাকা এবং ওয়্যারহাউস জটিলতায় সিলেট থেকে তারা পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছিলেন না।ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানান, সিলেট থেকে পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে 'এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স' নির্মাণের প্রথম অংশের কাজ শুরু হয় গেল বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে। আর দ্বিতীয় অংশের কাজ শুরু হয় চলতি বছরের আগস্টে।বর্তমানে কার্গো কমপ্লেক্সের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী জানুয়ারিতে কার্গো কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক।হাফিজ আহমদ জানান, এই কার্গো কমপ্লেক্সের ধারণক্ষমতা প্রায় ১০০ টন। পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি টাকা। এরই মধ্যে এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্সের জন্য একটি এক্সক্লুসিভ ডেডিকেশন সিস্টেম স্ক্যানার মেশিনও স্থাপন করা হয়েছে। কার্গো কমপ্লেক্স চালু হলে সিলেট থেকে সরাসরি ফ্লাইটে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সিলেটে উৎপাদিত কৃষি ও কুটিরশিল্প পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।হাফিজ আহমদ জানান, কার্গো কমপ্লেক্স ও আনুষঙ্গিক সব কাজ সম্পন্নের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসবে। তাদের অনুমতি পেলেই পণ্য রপ্তানির দ্বার উন্মোচিত হবে।সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই'র পরিচালক খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে সিলেটের সরাসরি ফ্লাইট চালু থাকায় কার্গো টার্মিনাল ও কমপ্লেক্স চালুর পরই সরাসরি রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগানো যাবে। পরবর্তীতে কার্গো ফ্লাইট চালু হলে এই রপ্তানির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।এদিকে, শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানির জন্য বর্তমানে ঢাকার শ্যামপুরে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে প্যাকেজিং করে কোয়ারেন্টিন সার্টিফিকেট নিতে হয়। শ্যামপুরের এই সুবিধা যাতে সিলেটে পাওয়া যায় সে জন্য সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে কৃষিমন্ত্রী বরাবর আবেদন করা হয়েছে।জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্ট গ্রুপের সভাপতি হিজকিল গুলজার বলেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা আছে। সিলেটে কার্গো টার্মিনাল ও এক্সপোর্ট কমপ্লেক্স তৈরি হওয়ায় স্থানীয় রপ্তানিকারকরা সহজেই পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবে।সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু তাহের শোয়েব বলেন, সিলেট থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পর সিলেট চেম্বার রপ্তানিকারক, উৎপাদক ও ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আসছে, যোগাযোগ রাখছে। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সমন্বয় করা গেলে রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগবে।
0
যাত্রা শুরুর ১০ বছরে এসে স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষানগরী রাজশাহীর খড়খড়ি এলাকায় প্রায় ৪৩ বিঘা জমির ওপর এখন চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সাজানো-গোছানো এক ক্যাম্পাস গড়ে তুলছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি। আসছে বছরের শুরুতেই এখানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ঢাকার বাইরে দেশের আর কোথাও কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এত বড় নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই। শিক্ষানগরীতে শিক্ষার্থীদের আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ক্যাম্পাস গড়ে তুলছে। আগামী ২ জুন এই ক্যাম্পাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন।সমাবর্তন উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকালে স্থায়ী ক্যাম্পাসেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন উপাচার্য অধ্যাপক এম ওসমান গনি তালুকদার, উপ-উপাচার্য আশিক মোসাদ্দেক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার পারমিতা জামান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২০ সালের স্প্রিং সেমিস্টারে স্নাতক শেষ করা শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মোট ৩ হাজার ৮৯৩ জন শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন।সমাবর্তনে অংশ নিতে গ্র্যাজুয়েটদের নাম অনলাইনে নিবন্ধন চলছে। ১৮ মে পর্যন্ত নাম নিবন্ধন করা যাবে। সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আব্দুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভাপতিত্ব করবেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অনুষদভুক্ত ৯ বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রি দেবেন। সমাবর্তনে অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা দুই শিক্ষার্থীকে 'চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল' এবং ৯ জন শিক্ষার্থীকে 'ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল' দেওয়া হবে। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে থাকছেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।সমাবর্তনের মূল আয়োজন শেষে দ্বিতীয় পর্বে থাকবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত ব্যান্ড সংগীত দল ওয়ারফেজ সংগীত পরিবেশন করবে। এ ছাড়া সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী ও ঐশী সংগীত পরিবেশন করবেন। আয়োজন সার্থক করে তোলার জন্য সমাবর্তন প্রস্তুতি কমিটি ও এর ১৮টি উপকমিটি কাজ করছে।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ১৬টি প্রোগ্রাম চালু আছে। তিনটি অনুষদে বিভাগ ১১টি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি থেকেছে। তবে করোনার প্রকোপে শিক্ষার্থী কিছুটা কমেছে। এখন ৪ হাজার ৮১৯ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। শিক্ষক আছেন ২৪৪ জন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে পরিবহনব্যবস্থা। এখন ৪৩ বিঘা জমির ওপর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ চলছে। তবে কাজ শেষে মোট জমির পরিমাণ হবে ৫৪ বিঘা। আগামী বছরের শুরু থেকেই এখানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
6
চলমান লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করায় বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় ৫৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মোবাইল কোর্টে ২০৬ জনকে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিএমপি ট্রাফিক ৪৩১টি গাড়িকে ৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। মোট জরিমানার পরিমাণ ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা। প্রসঙ্গত, ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ২৩ জুলাই ভোর থেকে সারাদেশে ফের কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। এই কঠোর লকডাউন বলবৎ থাকবে আগামী ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত। করোনা সংক্রমণের উল্লম্ফন ঠেকাতে দুই সপ্তাহের এই কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সরকার এবার 'কঠোর' অবস্থানে থাকবে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। এবারের কঠোর লকডাউনে সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে কলকারখানা ও রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প। গতবারের মতোই বন্ধ রয়েছে সব ধরণের গণপরিবহন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই গুণতে হবে জরিমানা, যেতে হতে পারে জেলে।
6
মাগুরা সদর উপজেলার নরসিংহাটি গ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জয়নাল শরীফ (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। জয়নাল নরসিংহাটি গ্রামের গফুর শরীফের ছেলে। তিনিঢাকার একটি বেসরকারি সিকিউরিটি সার্ভিসে কর্মরতছিলেন। নিহত জয়নালের ভাই হারুন অর রশিদ জানান, গত ৮ আগস্ট জয়নাল ঢাকা থেকে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে রক্ত পরীক্ষা করতে দিয়ে ওইদিনই বাড়িতে চলে আসেন। ঢাকার রিপোর্টের ভিত্তিতে ৯ আগস্ট রাতে তিনি জানতে পারেন তার ডেঙ্গু হয়েছে। এ অবস্থায় ১০ আগস্ট তিনি মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে আবারো তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে চিকিৎসকরা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তার পরিবারের লোকজন তাকে ঢাকায় না নিয়ে বুধবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার সদরের নরসিংহাটি গ্রামের নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান। মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জানান, জয়নাল ঢাকা থেকে জ্বরে অক্রান্ত হয়ে ১০ আগস্ট মাগুরা হাসপাতালে আসেন। সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ওইদিনই তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। বুধবার সেখান থেকে ঢাকায় রেফার্ড করা হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়ি নিয়ে যান। আজ নিজ বাড়িতে তিনি মারা গেছেন।
6
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময় বিভিন্ন সময় বাংলায় কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোটে বাংলায় কথা বলবেন সেটা প্রত্যাশিত। কিন্তু জাতিসংঘে গিয়েও যে বাংলায় কথা বলবেন মোদি, সেটা আঁচ করা কঠিন ছিল। কিন্তু তাই করলেন তিনি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাতেই বক্তব্যে ইতি টানলেন মোদি। উল্লেখ করলেন 'শুভ কর্মপথে ধর' নির্ভয় গান। সব দুর্বল সংশয় হোক অবসান।' জাতিসংঘের সংস্কারের বার্তাও দেন তিনি। তার কথায় উঠে এসেছে চাণক্য ও দীনদয়াল উপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও। গুজরাতের চাওয়ালার প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু করা বক্তব্য শেষ হলো বাংলায়। ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, এবিপি লাইভ বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
3
ঈদযাত্রায় বাড়ি ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই দক্ষিণের যাত্রীদের। টিকিট পেতে নানা ভোগান্তির অভিযোগ তাঁদের। নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তিত এ অঞ্চলের মানুষ। তারপর আবার বরিশাল বন্দরে পা রাখতে গিয়েও হোঁচট খেতে হবে যাত্রীদের।কোথায় ভিড়বে বিশালাকায় ১৭-১৮টি লঞ্চ, তা নিয়েও আছে সংশয়। বন্দরের পন্টুনে ঠাঁই নেই। বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চের মাস্টারদের তথ্যমতে, পন্টুনে ৬-৭টির বেশি লঞ্চ ভিড়তে পারে না। এ অবস্থায় ঈদে ভিড়তে যাওয়া সাধারণ সময়ের চেয়ে ৩ গুণ লঞ্চ নিয়ে শঙ্কিত সংশ্লিষ্টরা। গত রোববার এক সভায় লঞ্চের মাস্টার সুকানিদের প্রশ্নের মুখেও পড়েন বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।এমভি সুন্দরবন লঞ্চের মাস্টার মজিবর রহমান বলেন, নৌবন্দরের ৩টি পন্টুনে নিয়মিত ৬-৭টি লঞ্চই ভিড়তে পারত না। কিন্তু এবারের ঈদে ১৭-১৮ লঞ্চে একযোগে কোথায় ঘাট দেবে, তার কোনো জবাব দিতে পারেননি বন্দর কর্মকর্তা। রোববার লঞ্চের মাস্টার, লঞ্চ মালিক নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ'র সভায় এমন প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।তিনি বলেন, পন্টুনের এক পাশে একটি অকেজো ড্রেজার পড়ে আছে। ৬ মাসেও সেটি সরানো হয়নি। ঈদের ছুটিতে ২৮, ২৯, ৩০ এপ্রিল তীব্র চাপ হবে যাত্রীর। ওই সময় পন্টুনে ১৭-১৮টি লঞ্চ ভেড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। একটার পেছনে একটা লঞ্চ ভেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সবচেয়ে ঝুঁকি যাত্রীদের। তাঁরা এক লঞ্চ থেকে আরেক লঞ্চে ছুটতে গিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন। সভায় বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান তাঁদের কথা শুনেছেন, কিন্তু সমাধান না দিতে পারায় শঙ্কা দেখা দিয়েছে।বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চের সুকানি, মাস্টারদের তথ্যমতে, গত ঈদে মানুষ আসতে পারেনি। এবার তাই ঘরমুখো যাত্রীর স্রোত নামবে। সূত্রমতে, দৈনিক ৫০-৬০ হাজারের বেশি যাত্রী রাজধানী থেকে বরিশালে নামবে। ঈদের আগের ৫ দিন এবং পরের ৫ দিন একই সংখ্যক যাত্রী হতে পারে। এত যাত্রী নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণ পন্টুন দরকার। কিন্তু মাত্র তিনটি পন্টুনে নিয়মিত লঞ্চ ভেড়ানোই কঠিন।বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি। বরং তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।তবে লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু এ প্রসঙ্গে বলেন, এবারের ঈদে তাদের বড় লঞ্চ আছে অনেক। কিন্তু এসব লঞ্চ ভেড়ানোর পর্যাপ্ত পন্টুন নেই বরিশাল নৌবন্দরে। বিআইডব্লিউটিএকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার তাগিদ দিয়েছেন।সুরভী লঞ্চের মালিক রিয়াজুল কবির রোববার এক সমন্বয় সভায় বলেন, ঈদের আগের ৫ দিন দিনে রাতে যাতে নদীতে বাল্কহেড না চলে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে।কীর্তনখোলা লঞ্চের মালিক মো. ফেরদৌস বলেন, ২৮, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনেক পোশাককর্মী আসবেন। মানুষ সুস্থভাবে যাতে বাড়ি ফিরতে পারে এমন উদ্যোগ নেবেন তাঁরা। তিনি বলেন, ঈদে ২৮টি লঞ্চ ডাবল ট্রিপ দেবে। সে অনুযায়ী যাত্রীদের ততটা দুর্ভোগ হবে না বলে তাদের ধারণা।এ ব্যাপারে নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের বরিশাল জেলা আহ্বায়ক আব্দুল রশিদ নিলু বলেন, বরিশাল বন্দরের পন্টুন আধুনিক ও সম্প্রসারণ করা দরকার। এটা না করলে যাত্রীদের ঝুঁকি থেকেই যায়। ঈদ উপলক্ষে তাঁরা যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১২ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলোতে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকি রোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে।
6
ফেনীর পরশুরামে চলতি মৌসুমে সরকারি উদ্যোগে ধান ক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। তিন মাস সময়সীমার মধ্যে প্রায় দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রার ১০ শতাংশ ধান কেনা হয়েছে বলে উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা জানিয়েছেন।উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আবু সাঈদ জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে বেশি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকেরা। তাই চলতি মৌসুমে তাঁরা ধান দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।উপজেলার সুবার বাজার এলাকার কৃষক আবদুল কাদের জানান, সরকারি মূল্যের চেয়ে খোলাবাজারে ধানের দাম বেশি। তাই সরকারি খাদ্য গুদামে তাঁর ধান বিক্রির আগ্রহ নেই। তা ছাড়া খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়।উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের নিজ কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের জানান, তিনি প্রতি বছর সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে তিনি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেননি। সরকারি দরের চেয়ে বাজারে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা যায়। তা ছাড়া খাদ্য গুদামে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। ধান দেওয়ার পর প্রতি বস্তায় ৩০ টাকা করে লেবার খরচ দিতে হয়। ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গেলে আগের ঋণের টাকা কেটে নিয়ে যায়। এসব হয়রানির কারণে এ বছর খাদ্য গুদামে ধান দেননি।তবে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মহিবুল হাসান নোমান হয়রানি ও বস্তা প্রতি ৩০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গুণগত মান ঠিক থাকলে উপজেলা কৃষি অফিসের তালিকা অনুযায়ী সবার কাছ থেকে ধান কেনা হয়।মহিবুল হাসান নোমান জানান, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কেনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধান কেনা চলবে। এবারের ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৩৬ টন। এর বিপরীতে গত দুই মাসে ধান কেনা হয়েছে মাত্র ৪৫ টন। এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১০ শতাংশ ধান কেনা হয়েছে। আগামী মাসে কৃষকের কাছ থেকে পর্যাপ্ত ধান পাওয়া যাবে, তেমন আশাও নেই।উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা জানান, সরকারিভাবে প্রতি কেজি ২৭ টাকা দরে প্রতি টন ১ হাজার ৮০ টাকা করে ধান কেনা হচ্ছে। কিন্তু বাজারে এর চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে কৃষকেরা ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। তাই সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বেচতে রাজি হচ্ছেন না কৃষকেরা।পরশুরাম উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ জানান, সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকেরা যাতে ন্যায্য দামে ধান বিক্রির সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করা। চলতি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারের দাম কিছুটা বেশি। তাই কৃষকেরা বাজারে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাই চলতি মৌসুমে পরশুরামে ধান ক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
6
বাংলাদেশে তামাকপণ্য বিক্রি হয় এমন দোকানগুলোতে আইন অনুসারে তামাকের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রদর্শনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে পালন হচ্ছে না। ৬৬ শতাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকের কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা না গেলেও, প্রোডাক্ট ডিসপ্লের অংশ হিসেবে সব বিক্রয়কেন্দ্রেই তামাকপণ্যের খালি মোড়ক সাজিয়ে রাখতে দেখা গেছে। দোকানগুলোতে আইন অনুসারে তামাকের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রদর্শনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে মেনে চলা হয় কি না তা জানতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস-সিটিএফকে'র কারিগরি সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আহমাদ খায়রুল আবরার জরিপের ফল তুলে ধরেন। জরিপে দেশের কোনো তামাকপণ্যের দোকানেই আইন শতভাগ মেনে চলতে দেখা যায়নি। দেশে তামাক বিক্রি হয় এমন দোকানগুলোর ১৮ শতাংশে তামাকপণ্যের স্টিকার, ১৪ শতাংশ দোকানে পোস্টার, ৮ শতাংশে ব্র্যান্ডিং মার্ক, ১ শতাংশ দোকানে ব্যানার দেখা গেছে। এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানে তামাকপণ্যের ব্র্যান্ড সম্বলিত ডিসকাউন্ট কুপন, উপহার সামগ্রী, দোকানির গেঞ্জি ছিল, যা তামাকপণ্যের পরোক্ষ বিজ্ঞাপন। তাছাড়া আজকাল অনেক দোকানেই'এখানে ন্যায্যমূল্যে সিগারেট পাওয়া যায়'-এমন স্টিকার ও বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেটের দাম লিখে প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এটাও একধরনের বিজ্ঞাপন, যা আইন অনুসারে নিষিদ্ধ। সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর যতো মানুষ মৃত্যুবরণ করেন তার এক তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী হৃদরোগ। আর এই হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক সেবন। তামাক ব্যবহারের ফলে হৃদরোগ ছাড়াও ক্যান্সার, ফুসফুসের রোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রচুর মানুষ। তাই জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবেলায় তামাকের বিস্তার রোধের কোনো বিকল্প নেই। ২০১৩ সালের সংশোধিত 'ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন' অনুসারে তামাকপণ্যের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যেকোনো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন, প্রচারণা করলে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আইন লঙ্ঘনের জন্য দোকানদারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তামাক কোম্পানিকেও শাস্তির আওতায় আনতে বিদ্যমান আইন সংশোধন করার দাবি জানান আয়োজকরা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
6