text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
শ্রাবণ প্রকাশনীর ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তরুণদের পাঠাভ্যাস বাড়াতে 'স্টুডেন্ট ডিসকাউন্ট কার্ড' ও 'পরিবার কার্ড' কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিরাব রাজধানীর কাঁটাবনে দীপনপুরে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে অতিথি ছিলেন লেখক-সাংবাদিক আবু সাঈদ খান ওকবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এ বিষয়ে প্রকাশক রবিন আহসান জানান, কার্ডধারী শিক্ষার্থীরা আজিজ সুপার মার্কেটের শ্রাবণ প্রকাশনীর অফিস থেকে সারা বছর ৩৫ শতাংশ ছাড়ে বই কিনতে পারবেন। এছাড়া দশ মাসের সহজ কিস্তিতে কিনতে পারবেন দুই হাজার টাকার বই।তিনি আরও জানান, পরিবার কার্ডের' মাধ্যমে দুই হাজার টাকা দিয়ে কার্ড করে সঙ্গে সঙ্গেই এক হাজার টাকার শ্রাবণ বই কেনা যাবে। এছাড়া ৫০ শতাংশ ছাড়ে বছরব্যাপী বই কেনার সুযোগ থাকছে। এমন উদ্যোগের কারণ বিষয়ে বরিন বলেন, তরুণরা এখন তাদের বেশির ভাগ সময় ব্যয় করে মোবাইল ফোন ও ফেসবুকে। কারণ মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো বিভিন্ন অফার, যেমন- ফ্রি ফেসবুক, ডাটা ফ্রি, কম খরচে গেম ডাইনলোড ইত্যাদি দিয়ে তাদের ধরে রাখে। এ কারণে বই পড়ার মানুষ কমে গেছে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা বিভিন্ন অফার নিয়ে এসেছি। স্টুডেন্ট কার্ডের প্রচারণা চালাতে শিগগিরই আমরা দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ক্যাম্পেইন করবো।অনুষ্ঠান কবিতা আবৃত্তি, স্বরচিত কবিতা পাঠ, গান ও আড্ডায় মুখরিত ছিল।
2
সৌদি আরবে ফেরার টিকিটের জন্যসৌদি এয়ারলাইনস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসেরকার্যালয়েরসামনে ভিড় করেছেন প্রবাসীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কাওরান বাজারে সাউদিয়া ও মতিঝিলে বিমানের টিকিটের বিক্রয় কেন্দ্রের সামনে তাদের ভিড় করতে দেখা যায়। সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে টিকিট প্রত্যাশীদের উদ্দেশে মাইকে জানানো হয়, আজ ১ থেকে ৫০০ নম্বর টোকেনধারীদের টিকিট দেওয়া হবে। শুক্রবার ৫০১ থেকে ৮৫০, শনিবার ৮৫১ থেকে ১২০০, রোববার ১২০১ থেকে ১৫০০ নম্বর টোকেনধারীদের টিকিট দেওয়া হবে। যারা টোকেন পাননি, তাদের ২৯ সেপ্টেম্বর আসতে বলা হয়েছে। তবে প্রবাসী টিকিটপ্রত্যাশীদের কারও কারও অভিযোগ, এ পর্যন্ত ১ থেকে ২০০ জনকে টোকেন দেওয়া হয়েছে। সোহেল নাম এক টিকিটপ্রত্যাশী বলেন, 'এত টোকেন কীভাবে যোগ হলো? আমদের ফ্লাইটের ব্যাপারে কী করা হবে?' সৌদি এয়ারলাইনসের এক সূত্রে জানা গেছে, এ মাসে তারা একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। আগামী অক্টোবর মাসেও পর্যাপ্ত ফ্লাইটে করে প্রবাসীদের সৌদিতে নেওয়া যাবে। কিন্তু সৌদিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ পাওয়া বাধ্যতামূলক। সনদ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফ্লাইট নিতে হবে। এদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীদের জন্য দুইটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। বুধবার বিমান ঘোষণা করে, ১৬ ও ১৭ মার্চের জেদ্দা ও রিয়াদের বিমানের রিটার্ন টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা-জেদ্দা ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রিয়াদে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করবে। শুধু ১৬ ও ১৭ মার্চের ফিরতি টিকিটধারী যাত্রীদের এই ফ্লাইটে বুকিংয়ের জন্য বিমান সেলস অফিসে টিকিট, পাসপোর্ট, সৌদি আরবের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজসহ বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তবে সৌদি এয়ারলাইনস এখন পর্যন্ত মাত্র একটি অতিরিক্ত ফ্লাইটের জন্য আবেদন করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, সৌদি এয়ারলাইনস ২৮ সেপ্টেম্বর একটি ফ্লাইটের জন্য আবেদন করেছে। এর বাইরে বাড়তি ফ্লাইটের আবেদন করেনি। তারা যতগুলো ফ্লাইটের আবেদন করবে, ততগুলোর অনুমতি দেওয়া হবে। ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েন প্রায় ৮০ হাজার প্রবাসীকর্মী।প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ছুটিতে আসা কর্মীদের তিন দফায় মোট সাত মাস ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। সর্বশেষ অনুমোদিত ছুটি অনুসারে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজে যোগ দিতে বলা হয়। দেশে আটকা অন্তত ৫০ হাজার প্রবাসীর ভিসা ও ইকামার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। সাত মাস পর কাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ এলেও ফ্লাইটের অভাবে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। টিকিটের দাবিতে তিনদিন ধরে সৌদি এয়ারলাইনসের কার্যালয়, পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিমানের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন প্রবাসী কর্মীরা। তাদের বিক্ষোভের মুখে বুধবার সন্ধ্যায় জানা যায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিমানকে ১ অক্টোবর থেকে সে দেশে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের ইকামার (কাজের বৈধ অনুমতিপত্র) মেয়াদ নতুন করে ২৪ দিন বাড়িয়েছে। এর আগে, প্রবাসীদের আন্দোলনের মুখে তাদের ইকামা ও ভিসার মেয়াদ নতুন করে তিন মাস বাড়াতে গত মঙ্গলবার সৌদি সরকারকে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
6
আগে দোহারের মাঠ, ঘাট ও গাছে গাছে দেখা মিলত জাতীয় পাখি দোয়েলের। তবে এখন অনেক খোঁজাখুঁজির পর ও ভাগ্য সহায় হলে দেখা মেলে দোয়েলের।উপজেলার কয়েক জন প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোহারে এক সময় দোয়েল, কোকিলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি গ্রামাঞ্চলের বিল-ঝিল, ঝোপ-ঝাড়, বাগানে কিংবা বাড়ির আঙিনায় আসত। পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙত তাঁদের। কিন্তু এখন আর শোনা যায় না পাখির কিচিরমিচির।উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে টিয়া, ঘুঘু, কাক, মাছরাঙাসহ কয়েক প্রজাতির দেখা মেলে। তবে দোয়েলই যেন দুষ্প্রাপ্য। গতকাল উপজেলার মাহমুদপুরে দেখা মেলে দুটি দোয়েলের।মাহমুদপুর গ্রামের আলমাছ বলেন, 'দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্ম পাখিটি দেখতে পায় না। আগে বাড়ির উঠানে ও দেখা যেতে জাতীয় পাখি দোয়েল। এখন সেই পাখির দেখা মিলতে গেলে খুঁজে বের করতে হয়।'জয়পাড়া কলেজের শিক্ষার্থী মো. রাসেল বলেন, 'যেসব পাখির ডাক ও সুর মানুষকে মুগ্ধ করত, সেই পাখিই হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষ করে দোয়েল পাখির এখন আর দেখাই মিলছে না।'দোয়েল কেন হারিয়ে যাচ্ছে তা জানতে চাইলে দোহার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোসা. শামীম নাহার বলেন, 'এ বিষয়টি আমাদের মধ্যে না, এটা বন বিভাগের দায়িত্বে।'এরপর এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল মুমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা বন বিভাগে কাজ করি, আমরা বন নিয়ে থাকি। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে কথা বলুন।'পুনরায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, 'আমরা শুধু ট্রিটমেন্টের (চিকিৎসার) কাজ করি। তাই দোয়েল হারিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয় আমি কিছু বলতে পারছি না।'
6
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদ।আজ রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। স্পিকার শোক প্রস্তাবে উত্থাপন করে বলেন, গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছে জাতীয় সংসদ। আমি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। একইসঙ্গে এ ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এরপর সংসদ সদস্যদের সর্বসন্মতিক্রমে শোক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
6
কুড়িগ্রাম-রাজারহাট সড়কে টগরাইহাটের বড় পুলেরপাড় নামক এলাকায় গেলে হাতের ডানেই চোখে পড়বে একটি উল্টানো বক্স কালভার্ট। এটি উল্টে থাকার কারণে সড়কটি সংস্কার হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কালভার্টের পাশেই চলাচলের জন্য এলাকাবাসী বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করেছেন সাঁকো। পায়ে হাঁটার নড়বড়ে সাঁকোটি এখন এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা। আর কালভার্টটি তাঁদের 'পথের কাঁটা'।স্থানীয়রা জানান, সদরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বড়পুলের পাড় থেকে কাঁঠালবাড়ীগামী গ্রামীণ সড়কে নির্মিত বক্স কালভার্টটি ২০১৭ সালের বন্যায় পানির চাপে উল্টে যায়। এরপর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা যে কতবার এটি পরিদর্শন করেছেন এর হিসাব নেই। উল্টেপড়া কালভার্টের জায়গায় নতুন কালভার্ট নির্মাণ তো দূরের কথা চলাচলের জন্য বিকল্প টেকসই কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। ফলে পাঁচ বছরেও জনভোগান্তির নিরসন হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বক্স কালভার্টটি নির্মাণ করে।বড়পুলের পারের মুদির দোকানি মাসুদ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশরাফুল জানান, ওই এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দা উল্টে পড়া ওই কালভার্ট পথে টগরাইহাট ও জেলা শহরে যাতায়াত করেন। পাঁচ বছর ধরে এটি সংস্কারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আউয়াল জানান, তাঁরা কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি বারবার দেওয়ার পরও কালভার্ট সংস্কার কিংবা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু পরিদর্শন আর আশ্বাসেই আটকে আছে সংস্কার।এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী রিশাদ জামান বলেন, 'ওই স্থানে নতুন কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনাটি ইতিমধ্যে প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছে। মাটি পরীক্ষা হয়েছে। এখন নকশা অনুমোদন হলে নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।'
6
বিদ্যালয়টির নাম রাওথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার রাওথা গ্রামে অবস্থিত। এই স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে ১৭৭ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এতে শিক্ষার গুণগতমান অর্জন তো দূরের কথা, নামমাত্র শিক্ষাও পাচ্ছে না এখানকার শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষা সংকটে পড়ছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনটি খুব সুন্দর। শ্রেণি কক্ষগুলো নানা রকম ছবি দিয়ে সুন্দর করে সাজানো। দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের নামে প্রতিটি কক্ষের নামকরণ করা হয়েছে। এই বিদ্যালয়ে সবই আছে, শুধু নেই একের অধিক শিক্ষক।এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পাঁচটি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র দুজন। তার মধ্যে আবার একজন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘদিন ছুটিতে আছেন। মেরিনা খাতুন দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধানের কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি স্কুল ঝাড়ু দেওয়া, দরজা, জানালা খোলা, পতাকা ওঠানো সব দায়িত্ব একাই পালন করছেন।মহামারি করোনায় বন্ধ হয়ে যায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি করোনা কাটিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেরিনা খাতুনকে সব দায়িত্ব পালন হচ্ছে। এই বিদ্যালয়ে নেই কোন দপ্তরি বা পিয়ন। ফলে সব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন তিনি।এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেরিনা খাতুন বলেন, '২০২০ সালের ৩ অক্টোবরে শিক্ষক হাসান আলী অবসর গ্রহণ করেন। এরপর বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করেন মাত্র দুজন শিক্ষক। সড়ক দুর্ঘটনায় সহকারী শিক্ষক মনিরুল ইসলাম আহত হলে সব দায়িত্ব এসে পড়ে আমার ওপর।'মেরিনা খাতুন আরও বলেন, 'ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকায় প্রায়ই তাঁকে দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয়। তখন স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। শিক্ষক না থাকায় অভিভাবকেরা সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে চান না। ফলে কমতে শুরু করেছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা।' এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির রাহুল, মুস্তাকিন ও মহাইমেনুলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, 'শিক্ষক না থাকায় তাদের ক্লাস ঠিকমতো হয় না। নতুন শিক্ষক নেওয়া হলে তাঁদের লেখাপড়া আরও ভালো হতো।' বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, 'বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। একজন মাত্র শিক্ষক দিয়েই চলে বিদ্যালয়টির পাঠদান। এর মধ্যে উপজেলা সদরে সভা হলেই বিদ্যালয় বন্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককেই ছুটে যেতে হয় উপজেলা সদরে। ফলে দিন দিন কমছে শিক্ষার্থী সংখ্যা। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংকট রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।' এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'এরই মধ্যে তিনজন শিক্ষক অবসর গ্রহণ করেছেন। বাকি দুজনের মধ্যে একজন প্যারালাইজ হয়ে আছেন। তাই একজন শিক্ষক সব দায়িত্ব পালন করছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক এনে হলেও সমস্যার সমাধান করা হবে।'
6
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সাদিয়া সামাদ লিসা নামে স্কুলছাত্রীর কীভাবে মৃত্যু হলো, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। বাড়ির পাশের পুকুর থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি সে আত্মহত্যা করেছে- এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও লাশ উদ্ধারের পর শুক্রবার রাতে তিন কিশোরের নামে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ। মামলায় অভিযুক্ত নবম শ্রেণি পড়ূয়া আকাশ ও মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরেক অভিযুক্ত অষ্টম শ্রেণি পড়ূয়া সাদ পলাতক রয়েছে। এদিকে সাদকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে লিসার সহপাঠীসহ শিক্ষার্থীরা। আটোয়ারী উপজেলা শহরের ছোটদাপ এলাকায় শুক্রবার বাড়ির পাশের পুকুর থেকে লিসার লাশ উদ্ধার হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে লিসাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। মূলত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবেশী ও তার সহপাঠী কিশোর সাদ লিসার বাড়িতে এসে তার পরিবারের লোকজনকে জানায়, 'লিসার কারণে তাকে মার খেতে হয়েছে।' ওইদিন লিসাকে নিয়ে আরেক কিশোর আকাশের সঙ্গে তার মারামারি হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আকাশের সঙ্গে লিসার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। লিসার সঙ্গে কথা বলতে দেখে সাদকে মারপিট করেছে প্রেমিক আকাশ। লিসার পরিবারের অভিযোগ, মারামারির পর সাদ বাড়িতে এসে লিসাকে 'কিছু একটা করা'র হুমকি দেয়। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে-ই লিসাকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত কিশোরদের পরিবারের দাবি, সাদ লিসাদের বাড়ি গিয়ে মারপিটের ঘটনায় নালিশ করায় হয়তো লিসাকে তার পরিবারের লোকজন বকাঝকা কিংবা কটু কথা বলেছে। সে জন্যই অপমান আর ক্ষোভে সে আত্মহত্যা করতে পারে। এ নিয়ে সঠিক তদন্তের দাবি করেছেন তারা। তারা আরও জানান, লিসাকে খুঁজতে সন্ধ্যায় তার পরিবারের সদস্যরা সাদের বাড়িতে আসে। সে সময় সাদ বাড়িতেই ছিল। আকাশ ও মুন্নাকেও রাতে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়। পরে লিসার মা স্থানীয় মুরুব্বি সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গোলাপের কাছে অভিযোগ করলে অভিযুক্ত তিন কিশোরকে তার বাড়িতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাতভর তিন কিশোর ওই বাড়িতেই আটক ছিল। ভোরে লিসার লাশ উদ্ধারের কথা শুনে সাদ ভয়ে পালিয়ে যায়। এতে অন্য দু'জনকে পুলিশে দেওয়া হয়। কিশোরদের পরিবারের দাবি, তিন কিশোর এ মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত নয়। আকাশের সঙ্গে লিসার সম্পর্ক নিয়ে তার পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ায় মান-অভিমানে লিসা পুকুরে আত্মহত্যা করতে পারে। সাদের বাবা স্কুলশিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনা বিবেচনা করলেই প্রমাণ হয়, আমার ছেলে নির্দোষ। আশা করি পুলিশ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে বিষয়টি পরিস্কার হবে। লাশ উদ্ধার করে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছিল। তবে নিহত সাদিয়ার মা খায়রুন নাহারের দাবি, তাদের তিনজনকে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়িতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সেখান থেকে সাদ পালিয়ে যায়। তারাই অন্য কাউকে দিয়ে আমার মেয়েকে হত্যা করিয়েছে। আমি তাদের বিচার চাই। আটোয়ারী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্কুলছাত্রীর বাবা তিন কিশোরের নামে মামলা করেছেন। তাদের মধ্যে আটক দু'জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। মূল অভিযুক্ত কিশোর সাদকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
6
কক্সবাজারের টেকনাফে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ দক্ষিণ পাড়ার আব্দুল আমিনের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আব্দুল আমিনের ছোট বোন রমিদা বেগম (২৮) ও ভাগিনা টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাবিরছরা এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে কলিম উল্লাহ (২৪)। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আলম জানান, রাত আটটার দিকে বিদ্যুতের মেইন তার ছিড়ে আব্দুল আমিনের বসতবাড়ির টিনে পড়লে বিকট শব্দে তাৎক্ষণিক পুরো বাড়িতে বিদ্যুতের স্পর্শ লেগে যায়। ওই সময় বাড়িতে অবস্থান করা সাত সদস্যের মধ্যে তিনজন দ্রুত বেরিয়ে পড়ে। আহত চারজনের মধ্যে ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির টেকনাফ জোনাল অফিসের ডিজিএম আবুল বাশার জানায়, বাতাসে বিদ্যুতের তার ছিড়ে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখি। ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ
6
জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আশুলিয়া থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাত নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মঈনুল ইসলাম ভুঁইয়াকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে তাকে আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। মঈনুল ইসলাম আশুলিয়ার গাজিরচট এলাকার আব্দুস সালাম ভুঁইয়ার ছেলে। মঈনুল ইসলাম ভুঁইয়াকে আটক করায় স্থানীয়রা বগাবাড়ি এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছে। তার গ্রেফতারে সাভার ও আশুলিয়ায় অনেক যুবলীগ নেতা গা ঢাকা দিয়েছেন। আটকের বিষয়টি নিশিচত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) শেখ রিজাউল হক দিপু। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা (মামলা নং-৫৩) দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
দেশের প্রধান বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকেই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার কোনো উন্নতি নেই। সবকিছুই আগের মতোই হযবরল। বিমানবন্দরে গেলেই চোখে পড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ আর হাহাকার।যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে নানা আশ্বাস দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সমস্যা সমাধানে একাধিকবার বিমানবন্দর পরিদর্শনও করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। কিন্তু কিছুতেই পরিস্থিতির পরিবর্তন আসেনি।গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিমানবন্দর ঘুরে জানা যায়, বিমানবন্দরের লাগেজ এরিয়া, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন এরিয়া, আরটি পিসিআর এলাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। অনেক যাত্রীকে মাথায় ও কাঁধে করে মাল বহন করতে দেখা গেছে। করোনা পরীক্ষার জন্য অনেক মানুষকে অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা গেছে বহুতল পার্কিংয়ের ছাদে। তাদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও সিরিয়াল পেতে সমস্যায় পড়ছেন। কেউ কেউ বলছেন, এসব কারণে তাঁরা ব্যাপক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।জেদ্দা থেকে গতকাল সকালে ঢাকায় ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, এয়ারপোর্টে সমস্যার শেষ নেই। মালপত্র বুঝে পেতেও অনেক সময় লেগেছে। মাল বহনের জন্য তিনি কোনো ট্রলি পাননি। সঙ্গে স্বর্ণ এনেছেন, তার জন্য কাস্টমসে সময় লেগেছে প্রায় আড়াই ঘণ্টা।কাতার এয়ারলাইনসে ফ্রান্স থেকে দেশে ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জের জালাল আহমেদ। তিনি ১৪ বছর ধরে ফ্রান্সে ব্যবসা করেন। জালাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের মতো এমন এয়ারপোর্ট আর কোথাও দেখিনি। খুব স্লো কাজ করে। যাত্রীরা খুব বিরক্ত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিমানন্দরে আরও বেশি যাত্রীর চাপ থাকলেও এমন যাত্রী ভোগান্তি নেই।আরেক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, এমনিতেই এয়ারপোর্টে বহুত পেরেশানিতে আছি। বছরের পর বছর একই রকম ভোগান্তি, কোনো সমাধান তো দেখছি না।করোনা পরীক্ষা করাতে বিমানবন্দরের বহুতল পার্কিং ভবনে ঢুকেছেন সৌদিপ্রবাসী নোয়াখালীর ওবায়েদ উল্লাহ। বাইরে অপেক্ষা করছেন তাঁর ছোট ভাই মাহমুদ রহমান। মাহমুদ জানালেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন, তাঁর ভাই এখনো করোনা টেস্ট করাতে পারেননি।ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের রাতের ফ্লাইটে দুবাই যাওয়ার কথা হবিগঞ্জের ইমরান ভূঁইয়ার। সকাল থেকে অপেক্ষা করলেও এখনো করোনা পরীক্ষা করাতে পারেননি তিনি। ইমরান জানান, বেলা ১১টায় যোগাযোগ করার পর বলা হয়েছে ২টার পর যাওয়ার জন্য।তবে অনেক ভোগান্তির খবরের ভেতরে স্বস্তির খবর জানালেন সাভারের কাতার প্রবাসী আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, মিডিয়াতে বিমানবন্দরের ভোগান্তির খবর দেখে স্বজনদের বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা দেরিতে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু কম সময়ে বিমানবন্দরের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায়, এখন দুই ঘণ্টা ধরে স্বজনদেরজন্য অপেক্ষা করছি।এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এখন বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। আগের মতো ট্রলির সমস্যা এখন নেই। যাত্রীর চাপ বেশি হওয়ায় হেলথ, ইমিগ্রেশন, কাস্টমসে যাত্রীদের একটু সময় লাগছে। অনেক যাত্রী একসঙ্গে হলে যাত্রীসেবার প্রক্রিয়া একটু ডিলে (দেরি) হয়। বড় যে সমস্যাগুলো ছিল, তা অনেকটা কাটানো সম্ভব হয়েছে। আমাদের জায়গা কম, অনেক বেশি পরিমাণ জায়গা থাকলে এই সংকট থাকত না।'সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংস্কারকাজের জন্য রাতে আট ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল বন্ধের কারণে দিনে তৈরি হচ্ছে বিমানজট। প্রতিটি ফ্লাইট উড়তে ও অবতরণ করতে প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার ফ্লাইট শিডিউল ১২ ঘণ্টায় নিয়ে আসার কারণে বিমানবন্দরে চাপ বেড়েছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে গড়ে ২৫০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। এর মধ্যে শুধু রাতে ওঠানামা করত ১০-১৫টি ফ্লাইট। সংস্কারের জন্য এ বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত তিন মাস রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত উড়ান বন্ধ থাকবে। এ সময় বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজের সুবিধার জন্য নতুন হাইস্পিড কানেকটিং ট্যাক্সিওয়ে বানানো হবে। তবে কোনো উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণের প্রয়োজন হলে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবে।
6
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে জনমনে আগ্রহ সৃষ্টি এবং বিশেষ করে পরমাণু প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও এর নানাবিধ ব্যবহার সম্পর্কে জনগণের সম্পৃক্তির উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে সজ্জিত একটি যাত্রীবাহী বাস সারা দেশ পরিভ্রমণে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছে। পরিভ্রমণ শেষে নিউক্লিয়ার বাসটি ২৭ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় ফিরে আসবে। রাজধানীর পারমাণবিক শক্তি তথ্যকেন্দ্রের আয়োজনে নিউক্লিয়ার বাস ট্যুর কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন (রসাটম)। বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান রাজধানীর রূপপুর এনপিপি ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে এবং বেলুন উড়িয়ে নিউক্লিয়ার বাস ট্যুরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান প্রকল্পের পরিচালক এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শৌকত আকবর, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা অলোক চক্রবর্তীসহ অন্যান্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ এই বাস আগামী পাঁচ দিনব্যাপী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২০টি জেলা পরিভ্রমণ করবে। পথিমধ্যে বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হবে। জনগণকে আকৃষ্ট করতে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আকর্ষণীয় কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা আছে। যেমন পথসভা, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভিজিট, লিফলেট ও অন্যান্য পাঠ্যসামগ্রী বিতরণ, বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন কুইজ ও গেমসসহ আরও অনেক কার্যক্রম। সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য থাকবে আকর্ষণীয় স্যুভেনির। নিউক্লিয়ার এনার্জি বিষয়ে রুশ-বাংলাদেশ যৌথ কমুনিকেশন্স কর্মসূচীর আওতায় এই বাস ট্যুরটি আয়োজন করা হয়েছে।
6
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আহ্বায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম মাহবুবুল হক আজীবন লুটপাটের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। তার রাজনৈতিক মেধা, প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল অনন্য। দেশের রাজনীতিতে তিনি সাহস, সততা, সত্যবাদিতা এবং দেশপ্রেমের এক বিরল দৃষ্টান্ত।শুক্রবার বামনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষক আ ফ ম মাহবুবুল হক স্মরণে বাসদ আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাসদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সন্তোষ গুপ্ত।বক্তারা বলেন, ৪৬ বছর ধরে দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে লুটপাট চলছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত যে দল যখন ক্ষমতায় গেছে তারাই লুটপাট চালিয়েছে। এই লুটপাটের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে গেছেন আ ফ ম মাহবুবুল হক। প্রসঙ্গত, বাসদের আহ্বায়ক আফম মাহবুবুল হক (৬৯) গত ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল সোয়া ১০টার দিকে কানাডার অটোয়ার সিভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে গত ২৬ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।সভায় বক্তারা বলেন, আ ফ ম মাহবুবুল হক আজীবন সৎ পথে থেকে লড়াই করেছেন। তার মতো সাহস নিয়ে সবাইকে সত্যের সন্ধান করতে হবে।বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে আ ফ ম মাহবুবুল হকের আদর্শ সবসময় রাজনৈতিক কর্মীদের পথ দেখাবে বলেও জানান তারা।স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে প্রয়াত মাহবুবুল হকের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু অ্যাডভোকেট আবুল কালাম চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, শওকত হোসেন আহমেদ, মইন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
9
খাগড়াছড়ি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে অবসরের পরও দিব্যি বহাল রয়েছেন দুই সাবেক কর্মচারী মো. মোস্তফা ও মিলন কান্তি চাকমা। সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবসরে গিয়েও বছরের পর বছর তাঁরা অফিসের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ করছেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে এই সাবেক দুই কর্মচারী এখনো বহাল তবিয়তে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, হিসাব ও নেজারত শাখায় দাপ্তরিক কাজ করছেন মো. মোস্তফা। তিনি ২০১৪ সালে অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার পরও গত ৭ বছর ধরে তিনি দাপ্তরিক কাজ করছেন। বর্তমানে প্রধান সহকারী হিসেবে রিন্টু চাকমা পদায়ন থাকলেও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মো. মোস্তফাই দায়িত্ব পালন করছেন।একইভাবে পরিদর্শক হিসেবে অবসরে যাওয়া মিলন কান্তি চাকমা জেলা খাদ্য অফিসের সংগ্রহ, স্টক, বিলি বরাদ্দ শাখায় কাজ করছেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে অবসরে যান।এ ছাড়া দুই বছর ধরে চেষ্টা করেও চাল কল চালানোর অনুমোদন পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন মো. সেলিম নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, 'আমি মিলন বাবুর (মিলন কান্তি চাকমা) কাছে অনেকবার গেছি। ওনার কথা মতো পরিবেশ ছাড়পত্র জোগাড় করেছি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে চালকলের অনুমোদন এখনো পায়নি।'তবে অবসরে যাওয়া দুই কর্মচারী মো. মোস্তফা ও মিলন কান্তি চাকমা বলেন, 'জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অনুরোধে তাঁরা অবসরে যাওয়ার পরও অফিসে কাজ করছেন।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কানিজ জাহান বিন্দু বলেন, 'তাঁরা কাজ বুঝে। তাই আমাদের সহযোগিতা করছে। তাঁরা কাজ করবে তাই তাদের জন্য অফিস ও চেয়ার প্রয়োজন। তবে এই সময় তিনি এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।'জানতে চাইলে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, 'সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অবসরে যাওয়ার পর এভাবে কাজ করানোর কোনো সুযোগ নাই। আমি বিষয়টি জেনেছি এবং এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।'
6
ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন করা নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দূতাবাসের কর্মীদের স্বজনদের ইউক্রেন ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইউক্রেনের মার্কিন দূতাবাসে নিযুক্ত কর্মীদের স্বজনদের দেশটি ছাড়ার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে। এছাড়া দূতাবাসে অবস্থান করা অতিগুরুত্বপূর্ণ নয় এমন কর্মীদেরও ইউক্রেন ছাড়তে বলা হয়েছে। এমনকি ইউক্রেনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও ইউক্রেন ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।ইউক্রেনে পুতুল সরকার গঠনের চেষ্টা করছে রাশিয়া, দাবি ব্রিটেনেরএক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইউক্রেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে 'মার্কিন নাগরিকরা হয়রানির শিকার হতে পারে' এমন আশঙ্কা থাকায় ইউক্রেন এবং রাশিয়ায় ভ্রমণ না করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনায় বসতে সম্মত রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রযুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, 'দূতাবাস খোলা থাকবে। তবে হোয়াইট হাউস থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে 'যেকোনো সময়' আক্রমণ হতে পারে।'তবে রাশিয়া বরাবরই ইউক্রেনে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিনকে কঠোর সতর্কবার্তা বাইডেনেরপশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রায় এক লাখ রুশ সেনা ইউক্রেন সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে।উল্লেখ্য, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য গোলাবারুদসহ ৯০ হাজার কেজি সামরিক সহযোগিতা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
3
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার চারটি রাবার বাগানে এখন সাদা রস সংগ্রহে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। বাগানের ১০ লাখ ২৫ হাজার গাছ থেকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রস সংগ্রহ করছেন তাঁরা।বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফআইডিসি) বাগানগুলোর তত্ত্বাবধান করছে। বাগানগুলো হলো দাঁতমারা, তারাখোঁ, রাঙামাটিয়া এবং কাঞ্চননগর রাবার বাগান।জানা গেছে, চারটি বাগানে এক হাজার ২০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে স্থায়ী শ্রমিক (টেপার) ৩০০ জন। তাঁরা মাসিক বেতন পান ১০ হাজার টাকা। বাকিরা কাজ করেন অস্থায়ী হিসেবে।সরেজমিনে তারাখোঁ রাবার বাগানে দেখা গেছে, বাগানের হাজারো গাছে ঝুলছে ছোট ছোট মাটির পাত্র। গাছ থেকে সাদা রঙের রস (স্থানীয় ভাষায় কষ) পড়ছে এসব পাত্রে। শ্রমিকেরা গাড়িতে তুলছেন এসব পাত্রের রস।বাগানের শ্রমিকেরা বলেন, কাঁচা রস বালতিতে ভরে প্রথমে কারখানায় সরবরাহ করা হয়। সেখানে রসের সঙ্গে পানি ও অ্যাসিড মিশিয়ে নির্ধারিত স্টিলের ফ্রেমে জমা রাখা হয়। এরপর রোলার মেশিনের মাধ্যমে রস থেকে পানি বের করে শেডে শুকানো হয়। পরে নির্ধারিত কক্ষে সেগুলো আগুনে পোড়ানো হয়। ওই প্রক্রিয়া শেষে রাবার বস্তাভর্তি করে গুদামজাত করেন তাঁরা।রাবার শ্রমিকদের নেতা মুহাম্মদ নুরুল কবির বলেন, 'প্রতিদিন গড়ে একজন শ্রমিক ৩৫ থেকে ৪০ কেজি রস সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতি কেজি রস সংগ্রহের জন্য তাঁরা সাত টাকা এবং ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নয় টাকা করে পারিশ্রমিক পান। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রস সংগ্রহের উপযুক্ত মৌসুম।'বাগানের উৎপাদন কারখানার তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার কেজি রাবারের রস উৎপাদন হয়। সারা বছর রাবার উৎপাদন চলে। তবে বর্ষায় রস আহরণ কিছুটা কমে যায়। এতে উৎপাদনও কমে যায়। মূলত শীত মৌসুমে গাছ থেকে বেশি রস পাওয়া যায়।'রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রাবারের চাহিদা বাড়ায় কয়েক বছরে দামও বেড়েছে। গত বছর প্রতি কেজি রাবার বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়। এসব রাবার দিয়ে জুতা, ফুটবল, টায়ার-টিউব, গাড়ির যন্ত্রাংশ, ওষুধ, ব্যাগ, বেল্ট তৈরি হয়।তারাখোঁ রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক মো. মকবুল আহম্মদ বলেন, 'বর্তমানে দুই হাজার ৪৩৬ একর আয়তনের বাগানে এক লাখ ১৭ হাজার উৎপাদনশীল গাছ রয়েছে। আগামী বছরের জুলাই মাসে আরও ৫০ একর জায়গায় ১২ হাজার ৫০০ নতুন গাছ লাগানো হবে।'দাঁতমারা রাবার বাগানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'উপজেলার চারটি বাগানে প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার কেজি রস উৎপাদন হয়। আগের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে। দর যদি আরও ভালো হতো, তাহলে লাভের অংশটা রেকর্ড ছাড়িয়ে যেত।'
6
বিধানসভা ভোটের পর থেকে ভাঙন শুরু হয় রাজ্য বিজেপিতে। গেরুয়া শিবির ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন অনেক নেতা-কর্মী। এর পিছনে শাসকদল তৃণমূলের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের 'সন্ত্রাস'কেই দায়ী করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে যে তাঁর দল ব্যর্থ সে দাবিও করেছেন তিনি। ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে দলীয় কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ আগেই তুলেছিল বিজেপি। এ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়। কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি, তাই অনেকে দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলে ব্যাখ্যা দিলীপের। তবে তার জন্য সরকারের দিকে আঙুল তোলেন তিনি। দিলীপ বলেন, সরকার যদি অত্যাচার করে মানুষ কোথায় যাবে? কর্মীদের বাড়িঘর, দোকানপাট লুঠ হচ্ছে। তারই পরিনাম হিসাবে অনেকে দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁরা আমাদের বলেকয়েই দল ছাড়ছে। আমরা তো জোর করতে পারি না। কারণ আমরাও নিরাপত্তা দিতে পারছি না। বিজেপি ছাড়ার পিছনে পরোক্ষে নিজেদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন দিলীপ। ভোটের আগে যাঁরা বিজেপি-তে এসেছিলেন, এখন তাঁরাই দলবদল করছেন বলে দাবি মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপের। তাঁর মতে, বিজেপির পুরনো কর্মীরা দল ছাড়েননি। দিলীপের বক্তব্যে বলেন, আমরা আমাদের জয় নিশ্চিত করতে পারিনি। তাতে অনেকে কর্মী হয়তো হতাশ হয়েছেন। কিন্তু পুরনো কর্মীরা এখন দলবদলের কথা বলছেন না। কিছু ব্যক্তির স্বার্থ পূরণ হয়নি বলেই তাঁরা অন্য দলে চলে গিয়েছেন।
3
ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস'-এর প্রবল জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় খুলনার কয়রা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রান্তিক এ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ১৮শ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে, ভেঙেছে ৪৬ হাজারের বেশি বসতবাড়ি। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ২৪০ প্রতিবন্ধীসহ দুই লাখ ১৩ হাজার ৪২৮ জন। ভেসে গেছে গবাদি পশু-পাখিসহ পুকুর ও ঘেরের মাছ, এলাকার রাস্তাঘাট। এ দৃশ্য শুধু এবারের নয়। আইলা-পরবর্তী সময়ে প্রায় প্রতি বছরই কয়রার মানুষকে এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সম্প্র্রতি কয়রা ঘুরে এসে লিখেছেন সিরাজুল ইসলাম আবেদ ও আব্দুল কাইয়ুম প্রতি বছর মে-জুন মাস এলেই বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। শঙ্কায় কাটে দিনরাত্রি- এই বুঝি সাগরে নিম্নচাপ শুরু হলো, এলো ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস। ২০০৯ সালের ২৫ মে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলা ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, চিংড়িঘের, খাল-বিল, পুকুর। কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধ ভেঙে ভেসে যায় খুলনার কয়রাবাসী মানুষের আজন্ম লালিত সাজানো সংসার। ঘরের দুয়ারে টানা দু'বছর জোয়ার-ভাটা ঠেলে জীবন চলেছে কোনো রকম। তারপর এক দিন পানি নেমেছে। বসতবাড়ি জেগেছে একটু একটু করে। কিন্তু বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়া, এ অঞ্চলের মানুষের ললাট লিখন হয়ে রইল ফি বছরের জন্য। বুক পেতে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা '২৬ মে দুপুরের দিকে ইয়াস যখন ভারত উপকূল অতিক্রম করে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছিল, কয়রাবাসী তখন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে- এ যাত্রায় বুঝি রক্ষা পাওয়া গেল। ভুল ভাঙল দুপুরের কিছু পরে; যখন দশহালিয়ার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আমাদের গ্রাম তলিয়ে যেতে সময় লাগল মাত্র আধা ঘণ্টা।' বলছিলেন কয়রার শিমলার আইট গ্রামের অনার্স পড়ূয়া শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম। সেই দিনের কথা বর্ণনা দিতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত দশহালিয়া গ্রামের রায়হান বলেন, 'দেখতে দেখতে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে গেল। আমরা বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে বুক পেতে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি। চোখের সামনে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেল। মানুষ তাদের গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি সামলাবে নাকি ঘরের আসবাবপত্র নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেবে। নারী-শিশু-বৃদ্ধদের নিরাপদে সরিয়ে নিতেই এদিকে ঘরবাড়ি তলিয়ে ক্ষয়ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।' বাস্তুচ্যুত মানুষ শিমলার আইট গ্রামের বাসিন্দারা জানালেন, ইয়াসের কারণে বেড়িবাঁধ ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সবকিছু। দু'চোখ যেদিকে যায় শুধুই নোনাপানি। বাঁধভাঙার ঘণ্টা দুই পর শুরু হয় নতুন বিপদ। এ অঞ্চলের অধিকাংশ ঘর মাটির দেয়ালের। সেগুলো ধসে পড়তে লাগল একে একে। জোয়ারের পানিতে টিউবওয়েল ডুবে সুপেয় পানির আধার বন্ধ হলো। ফলে ভাঙাচোরা ঘরবাড়িতেও বসবাসের আর কোনো উপায় রইল না। এক দিন বাদে ঘের, পুকুর, খালের মাছ সব মরে পচে যেখানে সেখানে ভেসে বেড়াতে লাগল। উৎকট দুর্গন্ধে নিজেদের ঘরবাড়ি যেন ভাগাড় হয়ে গেল। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের দুই সপ্তাহ পর আমরা যখন নৌকায় করে মহারাজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে যাচ্ছিলাম, তখনও ক্ষতগুলো স্পষ্ট। পৌঁছেনি কোনো সহযোগিতা। ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কারের কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ল না। এলাকার মানুষ নিজেদের রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁশ ও কাদা দিয়ে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামত করলেও জোয়ারের সময় সেটিও কখনও কখনও উপচে উঠছে। দশহালিয়া গ্রামের সত্তর-ঊর্ধ্ব আবদুস সবুর মোড়ল বলেন, 'আমাদের এখন আর ঘূর্ণিঝড়ের অপেক্ষা করতে হয় না। সাধারণ জোয়ারের চেয়ে পানির উচ্চতা একটু বেড়ে গেলেই সর্বনাশ। নোনাপানিতে সব ডুবিয়ে নিয়ে চলে যায়। আর প্রতি বছর ভাঙন তো লেগেই আছে। নিজের পাড়ার দিকে নির্দেশ করে বলেন, 'আগে এখানে আমরা পনেরো ঘর মানুষ ছিলাম। এখন আছি মাত্র চার ঘর। যে যেদিকে পারে চলে যাচ্ছে।' কেন ভাঙছে বাঁধ ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু পাইকগাছা এলে জনগণের দুঃখ লাঘবের জন্য কয়রায় কপোতাক্ষের পাড়ে বেড়িবাঁধ তৈরির নির্দেশ দেন। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড সেই বাঁধ নির্মাণ করে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হয়েছে। কয়রায় ১০৩ কিলোমিটারের এই বাঁধের ওপর দিয়ে গেছে নানা ঝড়-ঝঞ্ঝা। বিশেষ করে ২০০৯ সালে আইলার আঘাতে বাঁধটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানালেন স্থানীয় পরিবেশকর্মী হাসান মেহেদী। কথা হয় মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিএম আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাঁধটি সার্বিকভাবে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কোথাও ব্লক ফেলে, কোথাও বস্তা ফেলে ঠেকা দেওয়া হয় মাত্র। ফলে প্রতি বছরই কোথাও না কোথাও বাঁধটি ভাঙছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ। এলাকাবাসী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে প্রতি বছর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার বেশ কিছু কারণ উঠে আসে। প্রথমত, যেহেতু মাটির বাঁধ তাই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ দরকার। কিন্তু কোথাও ভাঙার আগে সেটা হয় না। এ ধরনের বাঁধের ওপরের দিকে ১৪ ফুট প্রস্থ থাকার কথা থাকলেও আট ফুটের বেশি কোথাও নেই। একই সঙ্গে উচ্চতাও কমে গেছে। অন্যদিকে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় এখন জোয়ারের উচ্চতা আগের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, লবণাক্ততার জন্য বাঁধের মাটির আঠালো ভাব নষ্ট হয়ে আগের চেয়ে অনেক ভঙ্গুর হয়ে গেছে। ফলে একটুতেই বাঁধ ভেঙে যায়। তৃতীয়ত, পানির উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে ঘের মালিকরা নিয়মিত বাঁধ কেটে ঘেরে লবণপানি ঢোকায় এবং কেউ কিছু বলে না। চতুর্থত, নিয়মিত মেরামতের জন্য স্থানীয়ভাবে তহবিল প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখানে কিছু করতে হলে খুলনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় অফিসে যেতে হয়। সেখানে তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা। ততদিনে বাঁধে নতুন করে আবার ভাঙন তৈরি হয়। সংস্কার নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতি বছর দেখা যায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে এলাকার মানুষ জানমাল রক্ষায় নিজ উদ্যোগে তা মেরামত করে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসে কিছু বালুর বস্তা, ব্লক বা টিউব ফেলছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। দশহালিয়া গ্রামের ক্ষুব্ধ নাজমুল হাসান বলেন, আমাদের নিয়ে একটা ব্যবসা শুরু হয়ে গেছে। প্রতি বছর বাঁধ ভাঙবে। আমরা মেরামত করব। তারপর ঠিকাদার এসে সংস্কারের নামে কয়েকটা বস্তা ফেলে, লিপস্টিকের মতো আস্তরণ দিয়ে বিল তুলে নিয়ে যাবে। পরের বছর আবার ভাঙবে। আমরা এই বাঁধ চাই না। বাঁধ ভেঙে গেলে ত্রাণ নিয়ে আসবেন, আমরা সেই ত্রাণ চাই না। আমরা টেকসই বাঁধ চাই। যাতে করে জানমাল নিয়ে আমরা টিকে থাকতে পারব।
6
সংস্কারের অভাবে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার শাষপুর শহীদ মিনার থেকে পুটিয়া বাজার মোড় পর্যন্ত সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কটির ২ কিলোমিটার অংশের বিটুমিন ও খোয়া উঠে অসংখ্য ছোটবড় গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, আয়ুবপুর ইউনিয়নের শাষপুর শহীদ মিনার থেকে পুটিয়া ইউনিয়নের পুটিয়া বাজার মোড় পর্যন্ত সড়কে অসংখ্য স্থানে কার্পেটিং উঠে ইটের খোয়া ও পাথর বেরিয়ে গেছে। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। এর মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান, ইঞ্জিনচালিত যানবাহন, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর আগে শাষপুর শহীদ মিনার থেকে পুটিয়া বাজার মোড় পর্যন্ত সড়কটির সংস্কার কাজ করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ।সড়কটির একপ্রান্তে জেলার বৃহত্তম পশুর হাট পুটিয়া বাজার এবং অপর প্রান্তে রয়েছে নরসিংদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ শাষপুর কাজী মফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও শাষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে বাজারের ক্রেতা বিক্রেতা ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ ছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের নরসিংদী সদরে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। চলাচলের উপযোগী করতে দ্রুত এ সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।অটোরিকশাচালক গোলজার হোসেন বলেন, সড়কে অনেক খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সুস্থ-সবল মানুষও কষ্ট পেয়ে যান। অনেক সময় এ সড়ক দিয়ে রোগী নিয়ে গেলে তাঁদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।ভ্যানচালক জাকির হোসেন সাদ্দাম বলেন, 'ভাঙাচোরা রাস্তায় ভ্যান চালাতে গিয়ে প্রায়ই নাটবল্টু খুলে পড়ে যায়। ফলে সারা দিন ভ্যান চালিয়ে যা রোজগার করি, তার একটা অংশ মেরামতেই শেষ হয়ে যায়।'নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর শিবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম খোরশেদ আলম বলেন, সড়কের এমন বেহাল দশার জন্য প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। তিনি এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়টি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানান।আয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান সরকার বলেন, সংস্কারের অভাবে বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে বা জরুরি প্রয়োজনে নরসিংদী সদর ও পুটিয়া বাজারে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। জনস্বার্থে সড়কটি সংস্কার করা দরকার।উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেন ভূঁইয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, সড়কটি সংস্কার করাসহ প্রশস্ত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্প প্রস্তাব এলজিইডির প্রধান কার্যালয় হতে অনুমোদন পেয়েছি। কাজের জন্য দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে।উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান বলেন, এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটি সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করি শিগগিরই সংস্কারের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করা হবে।
6
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নাসিম এমপির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি। শোক বার্তায় তিনি জানান, মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। আজীবন দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন এ রাজনীতিবিদ। তার মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। জনসেবা, দেশ ও সমাজের উন্নয়নে তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
6
বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন আইসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে। বিশ্বব্যপী ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেয়ায় কাজ করছেন তিনি। অন্যদিকে পরিবার নিয়ে তিনি বসবাস করেন অস্ট্রেলিয়ায়। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার জানিয়েছেন তিনি সুযোগ পেলে বাংলাদেশের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের সঙ্গে এক ফেসবুক লাইভে নিজের এমন ইচ্ছার কথা জানান তিনি। নোমান মোহাম্মদ বুলবুলকে জিজ্ঞেস করেন প্রস্তাব পেলে দেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে? জাতীয় দলের কোচিং করাতে চান?। এমন প্রশ্নের জবাবে বুলবুল বলেন, ' আমি একজন পেশাদার মানুষ। এখন আমার চিন্তা চেতনায় পেশাদারিত্ব আছে। আমার পেশাদারিত্বের জায়গাটি যদি ঠিক থাকে তাহলে নিজ দেশে কোচিং করানো কেন নয়।' তবে বুলবুল এও জানিয়েছেন বিসিবি যদি তাকে কোচ হিসেবে চায় তাহলে তা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হওয়া উচিত। কারণ তার বয়স এখন ৫০ পেরিয়ে ৫২ হয়ে গেছে। ফলে আর কয়েকদিন পর হয়তো তিনি ইচ্ছে করলেও ক্রিকেট কোচিংয়ের মতো শক্ত কাজ করতে পারবেন না। এদিকে ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানোর পরই বাংলাদেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। এরপর থেকে সেখানেই পরিবার নিয়ে রয়েছেন তিনি। যদিও ২০০৬ সালে মাঝে দেড় বছরের মতো বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেবার দেশে ফিরে তিনি ঢাকা আবাহনীর দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু প্রায় ১৬ মাস দেশে থাকার পর আবার তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। এরপর প্রায় দীর্ঘসময় ধরেই আইসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। আর গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে চীনের ক্রিকেট উন্নয়নেও কাজ করেছেন তিনি। এজন্য দীর্ঘ সময় তিনি চীনেও ছিলেন।
12
মহাসড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ সময়োপযোগী করা এবং যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে 'মহাসড়ক আইন-২০২১'-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানান, নির্দিষ্ট লেন ছাড়া রাস্তায় ধীরগতির গাড়ি চালালে কিংবা ন্যূনতম গতি তুলতে সক্ষম নয় এমন গাড়ি চালালে, ৫০ হাজার টাকা জরিমানারও বিধান রাখা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে বাজার, মার্কেট বা যে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। এ আইনের অধীনে সরকারি বা বেসরকারি ইউটিলিটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও অনুমতি ছাড়া রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারবে না। অন্যথায় তারাও একই শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে সম্প্রতি মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া (এমপিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু দ্বীপের সৈকতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে সাইকেল-মোটরসাইকেল। একই সঙ্গে ছেঁড়াদ্বীপে যাতায়াত নিষিদ্ধ হলেও ভাড়ায়চালিত এসব যানবাহন নিয়ে সেখানে যাচ্ছেন অনেকেই। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।জানা গেছে, দ্বীপ ও সৈকতে সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান চালানো নিষেধ হলেও তা কেউ মানছে না। প্রতিদিন ভোর থেকে শেষ বিকেল পর্যন্ত সেখানে অবাধে চলছে সাইকেল-মোটরসাইকেল। মৌসুম ছাড়াও এলাকাবাসীর পাশাপাশি পর্যটকেরা এসব যানবাহন ভাড়ায় নিয়ে সৈকতে ঘোরেন। তবে রমজান হওয়ায় পর্যটক তেমন না থাকলেও মোটরচালিত যান নিয়মিত স্থানীয়দের নিয়ে চলাচল করছে। তবে পর্যটন মৌসুমে যান বহনের মাধ্যমে ঘোরাঘুরি মাত্রাতিরিক্ত।অপর দিকে সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ হলেও অনেকেই সেখানে যান সাইকেল-মোটরসাইকেল নিয়ে। পর্যটকদের ছেঁড়াদ্বীপে নিয়ে যাওয়ার জন্য আছে লাইফ বোট, স্পিডবোটও। এতে হুমকির মুখে পড়ছে পুরো দ্বীপের জীববৈচিত্র্য।উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত এক বছরে সেন্ট মার্টিনে দুই শতাধিক অটোরিকশা ও দেড় শতাধিক মোটরসাইকেল নামিয়ে রমরমা ব্যবসা করছে দ্বীপের পাশাপাশি বহিরাগত লোকজন। সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এসব মোটরযানের সংখ্যা বাড়ছে।টমটম সমিতির লাইনসম্যান মো. হামিদ জানান, সেন্ট মার্টিনে ১৭৫টি টমটম রয়েছে। ৮০ ভাগ লোক দ্বীপের চালক, বাকিরা দ্বীপের বাইরের। সেন্ট মার্টিন অটো মিনি টমটম ও ভ্যান মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সংগঠন রয়েছে। এ সংগঠনের আওতায় ১০০ টমটম আছে। সংগঠনটি বর্তমানে নিবন্ধিত বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া শতাধিক মোটরসাইকেল রয়েছে; যা ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে বলে জানা গেছে।রমজান মাসে পর্যটকদের আনাগোনা কম হলেও আবহাওয়া ভালো থাকলে নিয়মিত পর্যটক যাতায়াত করে থাকে সেন্ট মার্টিনে।পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন সেন্ট মার্টিনে বিদ্যমান জনসংখ্যার দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। পর্যটকের সমাগমে ও ইঞ্জিনচালিত এসব বাহনে হোটেল-কটেজের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে সমুদ্রের নীল জল। সৈকতে ডিম পাড়তে পারছে না মা কচ্ছপ। নিত্য দূষণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে সেন্ট মার্টিন। তাই সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় পর্যটক নিয়ন্ত্রণ ও দূষণ রোধের দাবি সচেতন মহলের।পর্যটন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন শুভ জানান, রমজানে মাসে পর্যটক নেই বললেই চলে। রমজানের পর পর্যটক আসতে পারে, তা-ও আবার আবহাওয়া ভালো থাকলে। তবে যানগুলো রয়েছে। পর্যটক না থাকলে এসব যানের ভাড়া থাকে না।দ্বীপের বাসিন্দা কেফায়েত উল্লাহ জানান, অটোগুলো বন্ধ করা দুষ্কর হবে। যেহেতু দ্বীপে মোটরযান ছাড়া চলাচলের জন্য তেমন রাস্তা নেই। প্রায় সব রাস্তাই বালু দিয়ে তৈরি। যদি পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়, দ্বীপের লোকজন অটো থেকে ফিরে আসবে বলে জানান তিনি।স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, এমপিএ ঘোষণার কিছুদিনের জন্য সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা দেখো গেলে পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর শুধু সৈকতের কিছু জায়গায় ব্যানার দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। সৈকতে তাদের কোনো তদারকি নেই।কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল হুদা বলেন, 'শিগগির সেন্ট মার্টিন থেকে মোটরযান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছি। তবে স্থানীয় ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য মোটরবিহীন অর্থাৎ প্যাডেলওয়ালা ভ্যান ও রিকশা চলাচল করতে পারবে।'টেকনাফ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো, এরফানুল হক চৌধুরী সৈকতে সাইকেল, মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করাসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছেন তাঁরা। এটি প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান হওয়ায় পর্যায়ক্রমে সবকিছু করা হবে বলেও জানান তিনি।উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াত কমে গেছে।
6
জয়ের জন্য ১৫৫ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই পয়েন্টে ক্যাচ তুলে বসেছিলেন লিটন দাস। সেটা তালুবন্দি করতে পারেননি কেশভ মহারাজ। এরপর আর বাংলাদেশকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক বাউন্ডারিতে রান বেড়েছে তরতরিয়ে। তাতে পাওয়ারপ্লে শেষেই ৫৮ রান তুলে ফেলেছে তামিম ইকবালের দল। এই জুটি ২০.৫ ওভারে রেকর্ড় ১২৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তারা। লিটন দাস আউট হওয়ার আগে ৫৭ বলে ৪৮ রান করেন।
12
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ভারতীয় দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ করে সফল হয়েছেন আবু জাহিদ জুয়েল। স্বাদে, আকারে ও রঙে অতুলনীয় তাঁর বাগানের কমলা।জুয়েলের বাগানের প্রায় গাছে ২০০ থেকে ৩০০ টিরও বেশি কমলা ধরেছে। তিনি আরও বেশি ফলন আশা করছেন। তাঁর কমলা চাষের সাফল্যের কথা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসছে তাঁর কমলা বাগান দেখতে।জুয়েল বলেন, 'ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং আমেরিকার গেলে আমি সেসব দেশের কমলা বাগান দেখতে যাই এবং খুঁটিনাটি জ্ঞান নেওয়ার চেষ্টা করি। দেশে ফিরে ভারতীয় দার্জিলিং ছাড়াও আরও দুই জাতের কমলার চারা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করি। যার একটি অস্ট্রেলিয়ার অপরটি চাইনিজ কমলার চারা। ৮ থেকে ৯ বছর ধরে এর পেছনে লেগে থেকে আমি কমলা চাষের পদ্ধতি ভালোভাবে রপ্ত করে ফেলেছি।' তিনি আরও বলেন, 'গত বছর কমলা বিক্রি করেন প্রায় ৫ লাখ টাকা। এবারও আশা করি এর চেয়ে বেশি টাকায় বিক্রি করব। বর্তমানে ২ বিঘা ২৫ শতক জমিতে ২৫০টি কমলা গাছ আছে। আরও নতুন চারা রোপণ করার কাজ চলছে।'জুয়েলের বাগানে একটি গাছে ২০০ থেকে ৩০০টি কমলা ধরে যা প্রায় ১ থেকে ৩ মণ ওজনের হয়। তিনি আশা করছেন ২০০ টাকা কেজি হিসেবে চলতি মাসে ১০ তারিখে নিজের বাগান থেকে বিক্রি শুরু করবেন।পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা বলেন, 'হিমালয়ের পাদদেশে ঠাকুরগাঁও এর অবস্থান হওয়ায় ভৌগোলিক কারণে এ জেলায় পুষ্টিকর বিদেশি ফল কমলা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
6
ময়মনসিংহে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে ময়মনসিংহ জংশন এলাকার রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ এম সালাউদ্দিন ও ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। রেল স্টেশন এলাকার অর্ধশত পাকা-আধাপাকা স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত রোববার ময়মনসিংহ রেলওয়ে বিভাগের পক্ষ থেকে নগরীর স্টেশনরোড, মিন্টু কলেজ রেলক্রসিং, সানকিপাড়া রেলক্রসিংসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। পরে রাত থেকেই অনেকে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া শুরু করেন। বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ এম সালাউদ্দিন জানান, দখলদারদের কাছ থেকে জায়গা উদ্ধারের মাধ্যমে রেলওয়ে এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত করা হবে। মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় রেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ময়মননিংহ জোনের আওতায় সুতিয়াখালি থেকে খাগডহর পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
6
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি বলেছেন, রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রচুর সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে লেন-দেন এবং কিছু শুল্ক জটিলতার কারণে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যাগুলোর সমাধান হলে রাশিয়ার বাজারে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশের তৈরি পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য সরাসরি রপ্তানিতে রাশিয়ান সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা চাইছে বাংলাদেশ। বাণিজ্যমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে নিজ অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেনতেভিচ মাস্তিতস্কির সাথে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন। নবনিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশকে রাশিয়া বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। রাশিয়া বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বাংলাদেশের পণ্যের অনেক চাহিদা রয়েছে রাশিয়ায়। চলমান বাণিজ্য বাধা দূর হলে উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে। রাশিয়া সরকার চলমান সমস্যাগুলো দূর করতে আন্তরিক। রাশিয়া বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগি হতে চায়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত মানের পণ্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সরবরাহ করতে সক্ষম। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের তৈরী পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশ রাশিয়াসহ ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন ও সিআইএসভুক্ত অন্যান্য দেশে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, গত ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ৬৬৫.৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রাশিয়ায় রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৪৬৬.৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। এ সময় বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, অতিরিক্ত সচিব(রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) নূর মো. মাহবুবুল হকসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কমকর্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন
6
করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের শতভাগ মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকএবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,সারাদেশে ক্যাম্পেইন করে জনগণের মধ্যে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এখন থেকে ঘরোয়াভাবে সীমিত আকারে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দেশের সামর্থ্যবানদের প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, করোনার এই দুঃসময়ে অসচ্ছল মানুষকে সহযোগিতা করুন। শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সদ্যপ্রয়াত আওয়ামী লীগের দপ্তর উপকমিটির সাবেক সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৌজন্যবোধ ও মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে- একথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন,'রাজনীতিকদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টিমওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।' তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে সুবিধাভোগী কর্মীদের দরকার নেই। দরকার শাহজাহানের মতো নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের। তার মতো কর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। দুঃসময়ে যখন কেউ থাকবে না, তখন শাজাহানের মতো নিবেদিত কর্মীরাই দলের পাশে থাকবে। এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য প্রয়াত এইচ টি ইমামের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার গোলাম মওলা নকশাবন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল আউয়াল শামিম ও আজিজুস সামাদ ডন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, মহানগর নেতা নুরুল আমিন রুহুল এমপি, শরফুদ্দিন আহমেদ সেন্টু, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, কাজী মোরশেদ হোসেন কামাল, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, গোলাম আশরাফ তালুকদার, আখতার হোসেন, রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, অ্যাডভোকেট জগলুল কবির, শরিফুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন হেলাল, আবদুল মতিন, আরিফুর রহমান রাসেল, মারুফ আহমেদ মুনসুর, আমিনুল ইসলাম শামীম প্রমুখ।
9
সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়মিত সম্পদের হিসাব দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না কেউ। এ কারণে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের চিঠি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।বিধিমালা অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী দাখিল এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা বিক্রির অনুমতি নেওয়ার কথা। কিন্তু সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়ম মানছেন না। তাই এবার বিধিমালাটি বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে চিঠি দিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।সচিবদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, 'সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ১১,১২ ও ১৩-এ সরকারি কর্মচারীদের স্থাবর সম্পত্তি অর্জন, বিক্রয় ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত বিধিগুলো কার্যকরভাবে কর্মকর্তাদের অনুসরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।'সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর আওতাভুক্তদের নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধীন সংস্থায় কর্মরত সকল সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী দাখিল, উক্ত সম্পদ বিবরণীর ডাটাবেজ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে স্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও বিক্রির অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১১,১২ এবং ১৩ বিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রতিপালনের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হলো।'সরকারি কর্মচারীদের জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট বা সম্পত্তি ক্রয় বা অর্জন ও বিক্রির অনুমতির জন্য আবেদনপত্রের নমুনা ফরম এবং বিদ্যমান সম্পদ বিবরণী দাখিলের ছক চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীরা কারও কাছে ১৫ হাজার টাকার বেশি মূল্যের কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রি বা অন্য কোনো পন্থায় হস্তান্তর করতে চাইলে বিভাগীয় প্রধান বা সরকারের সচিবকে তা জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারী নিজেই বিভাগীয় প্রধান হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সচিব হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে লেনদেনের কারণ ও ঠিক হওয়া মূল্যসহ লেনদেনের সম্পূর্ণ বিবরণ সরকারকে জানাতে হবে। এরপর সরকার যে আদেশ দেবে সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কাজ করতে হবে। কোনো কর্মচারী তাঁর অধস্তন কর্মচারীর সঙ্গে লেনদেন করলে তা পরবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।বিধিমালায় আরও বলা আছে, কোনো সরকারি কর্মচারী নির্মাণ ব্যয়ের প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস উল্লেখ করে আবেদনের মাধ্যমে সরকারের অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসায়িক বা আবাসিক ইমারত নির্মাণ করতে পারবেন না। প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীকে চাকরিতে প্রবেশের সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা শেয়ার, সার্টিফিকেট, সিকিউরিটি, বিমা পলিসি এবং ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের অলংকারসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে সরকারের কাছে ঘোষণা দিতে হবে।বিধিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীকে প্রতি পাঁচ বছর পর ডিসেম্বর মাসে আগের পাঁচ বছরের বিবরণীতে উল্লিখিত সম্পত্তির হ্রাস-বৃদ্ধির হিসাব বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের কাছে দেওয়ার কথা।
6
প্রতি বছর যত করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন, তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ কর মেলায় জমা পড়ে। গতবার কর মেলায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দেন। ২০১০ সালে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রথম কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কর মেলার জন্য সাধারণ করদাতার অপেক্ষা করে থাকেন। কারণ, কর মেলায় গিয়ে ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই অনেকটা নির্বিঘ্নে বার্ষিক আয়কর জমার পাশাপাশি কর পরিশোধ করতে পারেন। গত ১০ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত কর মেলা করদাতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেছে। এবার এমন করদাতাদের জন্য দু:সংবাদ। এ বছর কর মেলা হচ্ছে না। করোনার কারণে জনসমাগম এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। তবে মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি কর অঞ্চলে আয়কর রিটার্ন নেওয়া হবে। সেখানে করদাতাদের রিটার্ন জমা সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা দেওয়ার জন্য সেবা কেন্দ্র চালু করা হবে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো এ দেশে কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর প্রতি বছরই মেলার পরিসর বেড়েছে। গতবার রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরে সপ্তাহব্যাপী কর মেলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা ও এক শ'র বেশি উপজেলায় এ মেলা হয়। কর মেলায় করদাতারা কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) গ্রহণ, রিটার্ন ফরম পূরণ থেকে শুরু করে কর পরিশোধের জন্য ব্যাংক বুথসহ নানা ধরনের সেবা পান। একই ছাদের নিচে সব সেবা পাওয়ায় গত দশ বছরে করদাতাদের কাছে কর মেলা জনপ্রিয় হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কর মেলায় করদাতাদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। কর কার্যালয়ে গিয়ে হয়রানি এড়াতে অনেক করদাতা কর মেলার জন্য অপেক্ষা করেন। এবার তাঁদের সেই আশায় গুঁড়েবালি। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া যাবে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন) আরিফা শাহানা প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে এবার কর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে না। তবে মাঠপর্যায়ের কর অফিসগুলোতে করদাতার মেলার মতো যাবে সুবিধা পান, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এনবিআরের কর কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র বাংলাদেশেই কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এক দশক আগে কর মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই করদাতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। রাজধানীর কর মেলার সাত দিনে সকাল থেকেই ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। প্রতি বছর যত করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন, তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ কর মেলায় জমা পড়ে। করদাতারা মেলায় কর দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত কর মেলায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। গতবার সব মিলিয়ে ২২ লাখের বেশি করদাতা তাদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছিলেন। এবার করোনার কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে। অনেকের আয় কমেছে। কর মেলা না হলে রিটার্ন দেওয়াও কমতে পারে বলে মনে করেন অনেক কর কর্মকর্তা। প্রতি বছর সেরা করদাতাদের ঘটা করে সম্মাননা দেয় এনবিআর। তাও এবার অনিশ্চিত হয়ে গেছে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, কোভিডের কারণে এবার সেরা করদাতাদের সম্মাননা নাও দেওয়া হতে পারে।
0
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে 'তথ্যআপা।' এ প্রকল্প থেকে গত ৩ বছর দুই মাসে সেবা গ্রহণ করেছেন ১৭ হাজার ৪০০ মানুষ।জানা যায়, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) চলমান রয়েছে। ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর কোটচাঁদপুরে 'তথ্যআপা' কেন্দ্রটি চালু হয়। এ কেন্দ্রে মানুষকে সেবা দিতে যোগদান করেন একজন তথ্যসেবা কর্মকর্তা (তানিয়া সুলতানা) ও দুজন তথ্যসেবা সহকারী (শারমিন আক্তার ও মমতাজ খাতুন)। কেন্দ্রে উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন পাড়া, মহল্লা ও গ্রামের মানুষ সেবা গ্রহণ করেছেন। মানুষ তথ্যআপাদের মাধ্যমে শিখেছেন কীভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল করা, ভিডিও কলে কথা বলা যায়। এ ছাড়া প্রেশার মাপা, ওজন মাপা, ডায়াবেটিস পরীক্ষার নিয়ম শিখেছেন। উঠান বৈঠকে জেনেছেন, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বাল্যবিবাহ, ফতোয়া, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, চাকরি সংক্রান্ত তথ্য, আইনগত সমস্যাসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা।উপজেলার দুধসরা ভবানীপুরের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, 'আগে কোনো কিছুই জানতাম না। তথ্যআপারদের মাধ্যমে জেনেছি, কীভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও ভিডিও কলে কথা বলতে হয়? জেনেছি, বাল্যবিবাহ, স্বাস্থ্যগতসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উপায়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের চোখ খুলে গেছে। দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।'রেলস্টেশন পাড়ার পারভিন আক্তার বলেন, 'আগে আমরা অন্ধ ছিলাম। এ তথ্যআপা এসে চোখ খুলে দিয়েছে। আমরা বাড়িতে বসে পাচ্ছি স্বাস্থ্যসেবা। জানছি ডিজিটাল সেবার বিভিন্ন দিক।'এ বিষয়ে তথ্য সেবা কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা বলেন, '২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর কোটচাঁদপুর উপজেলায় যোগদান করি। এরপর থেকে ১৭ হাজার ৪০০ মানুষকে এ কেন্দ্রের সেবা পৌঁছে দিতে পেরেছি। যার মধ্যে তথ্যকেন্দ্র থেকে সেবা দেওয়া হয়েছে ৯০০ জনকে। বাড়িতে গিয়ে সেবা দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার মানুষকে। এ ছাড়া উঠান বৈঠক করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০টি। তিনি বলেন, 'করোনার মহামারিতে কাজের কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল। তা না হলে এ এলাকার আরও মানুষকে আমাদের এ সেবাসমূহের আওতায় আনা সম্ভব হতো। মহামারি কমতির দিকে। এ কারণে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।'
6
বেশ কয়েক বছর আগে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হওয়া পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক আগরতলা-আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে বাংলাদেশের আখাউড়া সীমান্তের চেকপোস্ট দিয়ে তাঁরা দেশে ফেরেন। প্রবেশের পর আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহযোগিতায় এই পাঁচজনকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। আখাউড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আক্তার প্রথম আলোকে জানান, দেশে ফেরা ওই ছয়জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা সন্তোষ দে (৬০), নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার বিজয় চুন্নু (৩০), মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার এক নারী (৫৫), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার অপর এক নারী (৩৮) এবং কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এক যুবতী (৩৬)। আখাউড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় তাঁদের গ্রহণ করার সময় ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ, আখাউড়ার ইউএনও রোমানা আক্তার, ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান, আখাউড়া ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর এবং ভারত থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে ফেরা এই পাঁচ বাংলাদেশি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ত্রিপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে দেশটির আদালতের নির্দেশে তাঁরা আগরতলার মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর চারজন সুস্থ ও স্বাভাবিক হন। একজন মানসিকভাবে সুস্থ হলেও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যান। তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না। দেশে ফেরা এই ৫ ব্যক্তির মধ্যে সন্তোষ দে ৭ বছর আগে, এক নারী ৯ বছর আগে, অপর নারী ১২ বছর আগে, যুবতী ৯ বছর আগে ও বিজয় চুন্নু ৪ বছর আগে নিখোঁজ হন। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা আজ দেশে ফিরেছেন, তাঁরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পৌঁছালেন কীভাবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সীমান্ত থেকে তাঁদের বাড়ি অনেক দূরে। তাঁদের পক্ষে একা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়া সম্ভব নয়। এখানে পাচারকারী একটি চক্র সক্রিয় আছে। চক্রটিকে খুঁজে বের করতে হবে। ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ বলেন, যাঁরা ফিরেছেন, তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাঁরা কিছুই স্মরণ করতে পারছেন না। কীভাবে তাঁরা সেখানে পৌঁছালেন, সেটিও তাঁদের মনে নেই। পাচারের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকেও সুনির্দিষ্ট তেমন কোনো অভিযোগ নেই। কীভাবে তাঁরা ভারতে গেছেন, বিষয়টি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তদন্ত করছেন।
6
স্বাস্থ্যবিধির না মানায় দেশে করোনা সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউয়ে এমন অবস্থা। আমরা এখনো সতর্ক না হলে তৃতীয় ঢেউয়েও আসতে পারে। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু বারবার ঢেউ আসলে সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে। জাতীয় পুষ্টিসপ্তাহ উপলক্ষে অনলাইনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
6
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ নূর হোসেন সম্পর্কে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্য নিয়ে সংসদে কড়া সমালোচনা করেছেন তার নিজ দলেরই প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। তিনি বলেন, বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে। আমি যতদিন রাজনীতি করি ততদিন ওর (মসিউর রহমান রাঙ্গা) বয়সও না। ও এই ধৃষ্টতা দেখায় কিভাবে, এই দুঃসাহক কিভাবে পেল? এই সংসদই তাকে লাই দিয়েছে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা মশিউর রহমান রাঙ্গাকে সংসদে এসে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান এবং জাতীয় পার্টির অবস্থান জানতে চান। এরপর সংসদে ফ্লোর নিয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও সংসদে উপস্থিত ছিলেন। কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা সম্পর্কে বক্তব্য হয়েছে। তার বক্তব্য আমি শুনেছি, আমি সেদিন সভায় ছিলাম না। পরে এটা ভাইরাল হয়ে গেছে। এই বক্তব্য জাতীয় পার্টির বক্তব্য না। এটা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য হতে পারে না। এটা রাঙ্গার নিজস্ব বক্তব্য হতে পারে। এই বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টি লজ্জিত। আমরা দুঃখিত এবং অপমানিত অনুভব করছি। তিনি বলেন, নূর হোসেন '৯০-তে তার জীবন দিয়ে গেছেন। যে যুবক গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিতে পারেন, স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করতে পারেন সেই সাহসী যুবকের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। আমরা কখনো এই ধরনের ধৃষ্টতা দেখাই নাই। এই ধরনের অপমানজনক কথা কখনো বলি নাই। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য হতে পারে না। তিনি বলেন, আমি যতদিন রাজনীতি করি ততদিন ওর বয়সও না। সে করেছে যুবদল। কোথায় আন্দোলন করেছে? কোথায় সংগ্রাম করেছে? শুধু তাই না প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কেও সে কথা বলেছে। সে গণতন্ত্রের ছবক দেয়। যে লেখাপড়া করে নাই, রাতারাতি কাগজের মালা গলায় দিয়ে পরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে হঠাৎ করে এখানে এসে বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে গেছে। সে এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখায়। আর তার জবাব দিতে আজ সংসদে দাঁড়াতে হয়। আজকে খুব লজ্জিত। এটা সম্পূর্ণ আমাদের ঘাঁড়ে এসে পড়েছে। আমরা দুঃখিত। নূর হোসেনের গায়ে লেখাটা ছিল একটা পোস্টার। সারা বিশ্বের লোক দেখেছে। এটা ছিল তার মনের কথা। ফিরোজ রশীদ বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেছি। আমাকে যদি প্রধানমন্ত্রী সেদিন পরিচয় করিয়ে না দিতেন, আমার জন্য যদি ভোট না চাইতেন আমি নির্বাচিত হয়ে এই সংসদে আসতে পারতাম না। মানুষ এত অকৃতজ্ঞ হয় কিভাবে? রাঙ্গা সাহেব পাস করেছেন, মনে করছেন তার নিজের জোরে। পিছে যদি আওয়ামী লীগ না থাকত, ওই রংপুরে নামতেও পারতো না। কার কত ভোট আছে আমাদের জানা আছে। আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রত্যেকটি মানুষ মনে করে যতদিন শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন ততদিন এই দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে। ততদিন এই দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে এবং এই দেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
6
ঈদের সাজে জ্ুতা ও ব্যাগের নকশা এনে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। পোশাকের সঙ্গে এখন শুধু মিলিয়ে পরার ব্যাপারটা নেই, বরং পায়ের জুতা জোড়া ও হাতের ব্যাগটা দিয়ে বোঝা যায় রুচি। নকশা এখন এতখানিই নজরকাড়া যে মাঝেমধ্যে মনে হয় পোশাকটাই বোধ হয় অনুষঙ্গ। ঈদের বাজার ঘুরে সেটাই বোঝা গেল।একটা সময় ছিল যখন শুধু কালো বা খয়েরি রঙের জুতাই বেছে নিত সবাই। এখন বর্ণিল নকশার পাশাপাশি আরামের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। ব্যাগের বেলাতেও দেখা যাচ্ছে আজকাল রঙিন ব্যাগের চলটাই বেশি। তরুণীদের কাছে বর্তমানে চিকন চেইন দিয়ে আটকানো মাঝারি স্লিম ব্যাগগুলোই বেশি জনপ্রিয়। অন্যদিকে ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তিরা ছোট বেল্টের মাঝারি আকৃতির লেদার ব্যাগ বেশি পছন্দ করছেন। আর পার্টি ব্যাগ বা ক্লাচ তো বরাবরই প্রিয় তালিকায় আছে।শিমার এক্সক্লুসিভ সুজ অ্যান্ড ক্লাচ স্টোরের সিইও মাহজাবিন সাইদ বলেন, 'কুর্তা, ফতুয়া, জিনস, টপের সঙ্গে উজ্জ্বল রঙের পাম্প শুর এবং পিপ-টো শুমগুলো বেশি মানায়। সঙ্গে নিতে পারেন স্লিম ব্যাগগুলো। সালোয়ার-কামিজ এবং শাড়ির সঙ্গে ক্লোজড হিল বা পেনসিল হিল পরলে আকর্ষণীয় লাগে। তবে যাঁরা ব্যালান্স বা শারীরিক অসুবিধার কারণে পেনসিল হিল পরতে পারেন না, তাঁরা ফ্যাশনেবল ওয়েজেজ হিলগুলো বেছে নিতে পারেন।'পাশ্চাত্য ধাঁচের জুতাগুলোর মধ্যে বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বক্স হিল, ওয়েজেজ হিল, ক্লোজড শুন, সেমি হিল, পাম্প বা ব্যালোরিনা শুে, পিপ-টো শুচ ইত্যাদি। এ ছাড়া এশিয়ান নাগরা বা কলাপুরি সান্ডেল তো আছেই।পোশাকের সঙ্গে বিপরীত রঙের ব্যাগটি যদি হয় সাদার মধ্যে কালো রেখার, তাহলে আপনার হিল জুতাটি হতে পারে কালোর মধ্যে সাদা পলকা ডটের। আবার নীল রঙের ব্যাগের সঙ্গে নীলের বিভিন্ন শেড যেমন হালকা নীল, আসমানি, কালচে নীল বা কাছাকাছি রঙের জুতা বেছে নিতে পারেন। যদি অ্যানিমেল প্রিন্টের ব্যাগ নিয়ে থাকেন, তাহলে এর সঙ্গে কালো বা বাদামি রঙের জুতা বেশি মানাবে। লেদারের হ্যান্ডব্যাগ বা ক্লাচের সঙ্গে ক্যাজুয়াল অথবা ফরমাল লুক নিতে চাইলে পরতে পারেন প্রিন্টের পিপ-টো শুমজ।রাতের বেলার জমকালো সাজের সঙ্গে ছোট ব্যাগ যেমন-ক্লাচ নিতে পারেন। সেই সঙ্গে বাকি সবকিছু মাথায় রেখে রঙিন, চোখধাঁধানো ওয়েজেজ হিল বা পেনসিল হিল পরতে পারেন। দিনের বেলায় বেশি সময় ধরে ঘুরতে বের হলে প্ল্যাটফর্ম ফ্লাট স্যান্ডেল বা ফ্লাট হিল বেছে নিতে পারেন।
4
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখের উদযাপন শনিবার সকালে দারুণভাবেই শুরু হয়েছিল। রোদেলা দিনে মানুষ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই উদযাপন করছিল তাদের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার মানুষ রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হয়ে মেতে উঠেছিল উৎসবে। তবে শেষ বেলায় কালবৈশাখী ঝড় এবং সেই সঙ্গে বৃষ্টির বিড়ম্বনায় শেষ হয় উৎসব। শনিবার বিকেল ৪টা অবধি বেশ রোদ ঝলমলে ছিল দিনটি। বলা ভালো, ওই সময় পর্যন্ত গরমে মানুষকে রীতিমতো ঘামতে হয়েছে। আর ওই সময় পর্যন্ত আকাশে মেঘের কোনো চিহ্নও ছিল না। পহেলা বৈশাখের অনেক আয়োজনই তখন পুরোদমে চলছে। তবে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকেই বদলে যেতে শুরু করে আবহাওয়া। এর পরপরই শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়, সঙ্গে বৃষ্টি। আর তাতেই শেষ হয় রাজধানীবাসীর এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপন। হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টিতে রাস্তায় থাকা মানুষ বিপাকে পড়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে এ সময় অনেককে আশ্রয়ের খোঁজে দৌঁড়াতে দেখা যায়। সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত চলা বৃষ্টির কারণে শেষ বেলায় পহেলা বৈশাখের অনেক আয়োজনই ভেস্তে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বৃষ্টি থামার পর বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া মানুষ যার যার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।
6
কাঁটাতারে ঘেরা কাবুল এয়ারপোর্ট বর্তমানে আমেরিকা ও ব্রিটেনের সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কাঁটাতারে ওপারে ভিড় করে আছেন সাধারণ আফগানরা। রোববার তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে তারা যে কোনো মূল্যে আফগানিস্তান ছাড়তে উদগ্রীব। এর মধ্যে কাবুল বিমানবন্দরের একটি দৃশ্য নাড়া দিয়েছে। কাঁটাতারের উপর দিয়ে নিজ শিশুসন্তানকে কাবুল বিমানবন্দরে ছুঁড়ে দিচ্ছেন মা। চিৎকার করে বলছেন, আমার সন্তানকে অন্তত আপনারা বাঁচান। এই দৃশ্য দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না বিদেশি সৈন্যরাও। কারণ ভিড়ের মধ্যে থেকে মাঝে মাঝে সন্তানকে ছুঁড়ে বিমাবন্দরের মধ্যে ফেলছেন মায়েরা। চিৎকার করে বলছেন, যাতে অন্তত ওই সন্তানকে কেউ নিরাপদে অন্য দেশে নিয়ে গিয়ে রাখে। খবর স্কাই নিউজের। এই দৃশ্যের কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কেঁদে ফেললেন এক বৃটিশ সেনা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, 'সকালে দায়িত্বে থাকাকালীন কাঁটাতারের ওপার থেকে সন্তানদের ছুঁড়ে ফেলতে দেখেছি। রাতে ফিরে আমার পরিবারের কথা মনে পড়েছে। সন্তানদের কথা মনে পড়েছে। বিশ্বাস করবেন না, আমি দেখেছি, কারো সন্তান ওই কাঁটাতারে আটকে গিয়ে ঝুলছে। এ দৃশ্য কোনোদিন ভুলতে পারব না।' বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। ওই সেনা কর্মকর্তা জানান, মেয়েরা সন্তানকে ছুড়ে দিয়ে ভেতরে থাকা সেনাদের ধরতে বলছেন। বলছেন অন্য বিমানে তুলে দিতে। যদিও শিশুদের উদ্ধারের বিষয়ে আর সাহায্য করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আমেরিকা। তালিবান কাবুল দখল নেওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই বিমানবন্দরে ছুটছেন সাধারণ মানুষ। সেখানে হট্টগোল চলছে তিন দিন ধরেই। কাবুল বিমানবন্দরের ভেতরটা মার্কিন সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে এবং বাইরে অবস্থান নিয়েছে সশস্ত্র তালেবান। এদিকে রোববার থেকে বিমানবন্দর ও এর আশপাশে ১২ জন নিহত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালেবান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, বিমানবন্দর ও এর সামনে গুলিতে ও পদদলিত হয়ে ১২ জন নিহত হয়েছেন। যাদের ভ্রমণের অনুমোদন নেই তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করে তিনি বলেন 'বিমানবন্দরে আসা কারোর ক্ষতি করতে চায় না তালেবান।' প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বৈধ কাগজপত্র আছে- এমন ব্যক্তিদেরও বিমানবন্দরে যেতে বাধা দিচ্ছে তালেবানরা। বিমানবন্দরের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করা তালেবান যোদ্ধারা বিমানবন্দরের দিকে জনস্রোত ছত্রভঙ্গ করতে আকাশে গুলি ছুঁড়েছে।
3
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিশীল খাত যেমন আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, নীল অর্থনীতি, পর্যটন ও হাইটেক পার্কের জন্য মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।আজ এক ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, নীল অর্থনীতি, পর্যটন, জ্ঞানভিত্তিক হাইটেক শিল্পসহ অন্যান্য লাভজনক খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।'লোট নিউইয়র্ক প্যালেস থেকে ভার্চুয়ালি এই গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে আরও উচ্চ পরিসরে উন্নীত করতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারে।শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন বাজারে অন্যান্য বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হতে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে 'বাংলাদেশ ফরওয়ার্ড: দ্য ফ্রন্টিয়ার ফর গ্রোথ' শীর্ষক ভার্চুয়াল গোলটেবিল আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি নিশা বিসওয়াল গোলটেবিল পরিচালনা করেন এবং উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দও এতে অংশ নেন।শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ সঠিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কারণে অবশ্যই বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ।উল্লেখকৃত খাত ছাড়াও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে এফডিআই সুবিধা দিতে বাংলাদেশ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সরবারাহে উন্নয়ন ঘটাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব অভিন্ন মূল্যবোধ ও স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আমাদের এই পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।'প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক অগ্রাধিকারের মাধ্যমেই বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি শুধু আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশের ২৮টি হাইটেক পার্কে মার্কিন বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধিঞ্চু আইসিটি খাত এখন ৬০টি দেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের আইসিটি পণ্য সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের আইসিটি শিল্প ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৬ লক্ষাধিক ফ্রিল্যান্স আইটি প্রফেশনালের কারণে বাংলাদেশ এখন আইসিটি খাতে বিনিয়োগের জন্য আদর্শ স্থান।
6
গায়ক সাব্বির নাসির ও 'সারেগামাপা'খ্যাত কলকাতার গায়িকা সম্পা বিশ্বাসের নতুন গান 'হারমোনি বাজাও' প্রকাশ পায় ২ জুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাত্র ১০ দিনে গানটি ৪০ লাখের বেশি দর্শক-শ্রোতারা উপভােগ করেছে। শিল্পী সাব্বির নাসির তার ফেসবুক ওয়ালে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, হারমোনি বাজাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪০ লক্ষ নয়নতারায়। ৬০০০+ শেয়ার। ভালোবাসা রইল দুই বাংলার অগণিত শ্রোতা, দর্শকদের জন্য। 'হারমোনি বাজাও' গানের কথা, সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন প্লাবন কোরেশী। মিক্স মাস্টারিং করেছেন সালমান জাইম। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন প্রীতুল এবং ভিডিও সম্পাদনা করেছেন ইভান। সাব্বির নাসির-সম্পা বিশ্বাস জুটির পঞ্চম গান এটি। 'বিনোদিনী রাই' গানের জনপ্রিয়তার পর একের পর এক হিট গান শ্রোতাদের উপহার দিয়ে যাচ্ছেনএই জুটি। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
মান্দায় আত্রাই নদী দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইতোমধ্যে নদীর বেশকিছু ঘের থেকে জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে অনেক ঘের থেকে গাছের কাটা ডালপালা ও বাঁশের বেড়া অপসারণ করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, চলতি মৌসুমে অবৈধভাবে আত্রাই নদী দখল করে অর্ধশতাধিক মৎস্যঘের তৈরি করে কিছু অসাধু ব্যক্তি। মৎস্য ঘেরের নামে গাছের কাটা ডালপালা নামিয়ে ও বাঁশের বেড়া দিয়ে নদীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। সম্প্রতি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্তের পর ঘেরগুলো থেকে গাছের ডালপালা ও বাঁশের বেড়া সরিয়ে নেয়ার জন্য নদী এলাকায় মাইকিং করে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। কিন্তু মৎস্য দপ্তরের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এসব ঘেরে জাল নামিয়ে মাছ শিকার শুরু করেন দখলদাররা। এ বিষয়ে গত ১৪ জানুয়ারি ভোরের কাগজে আত্রাই নদীকে গিলে খাচ্ছে মৎসঘের, নির্বিকার প্রশাসন শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর পরদিন থেকে নদী দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘের থেকে ২ লক্ষাধিক টাকার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপসারণ করা হয়েছে ঘের তৈরিতে ব্যবহৃত গাছের ডালপালা। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান জানান, 'নির্দেশনা অমান্য করে ঘেরে জাল নামিয়ে মাছ শিকারের বিষয়টি নজরে আসার পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। অনেক ঘের থেকে জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়াসহ কাটা অপসারণ করা হয়েছে। নদীকে দখলমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।' উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, নদীতে কাটা কিংবা বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে। ভবিষ্যতে কেউ যেন নদী দখল করে ঘের তৈরি করতে না পারে এ বিষয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। নদী দখলমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, আত্রাই নদী দখল করে ঘের তৈরি ও মাছ শিকারের বিষয়ে ভোরের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। আগের সংবাদ পড়ুন-
6
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক ও উদার। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সর্বশক্তি দিয়ে আমাদের রুখে দিতে হবে। বুধবার সকালে মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের আয়োজনে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথিরি বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, আজ যারা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে, পবিত্র ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে ফেতনা ছড়িয়ে যাচ্ছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ না রেখে, নিজেদের মধ্যে ফেতনা না রটিয়ে আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার ১২ রবিউল আউয়ালকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইসলামের মূল মর্মবাণী হলো মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা। যারা এই মূল মর্মবাণী ধারণ করে, তারা কখনো ইসলামের নামে অন্য কারো ওপর আক্রমণ করে না। আজ ইসলামের মূল থেকে সরে গিয়ে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তরুণদের বিপথে নিয়ে যাওয়া হয়। অলি-আউলিয়াদের মাধ্যমে ভালোবাসায় এই জনপদে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এদের বিরুদ্ধে কথা বলে, সহিংসতা সৃষ্টি করে, অন্য ধর্মের প্রতি হামলা করে; তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী। আমাদের এই দেশের স্বাধীনতার জন্য মুসলমান-হিন্দু একসঙ্গে যুদ্ধ করেছে। এই দেশ সবার। বিডি প্রতিদিন/এমআই
9
ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে হাতি-মানুষের লড়াই বহুদিনের। হাতির দল জমির ফসল নষ্ট করে ফেলে। প্রায়ই হাতির হানায় মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আবার লোকালয়ে এসে পড়ায় মানুষের আক্রমণে হাতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।আসাম সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ এই ১০ বছরে ৮৭৫ জন মানুষ হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে ৮২৫টি হাতিও মারা গেছে এই সময়ের মধ্যে।হাতি আর মানুষের এই প্রাণঘাতী লড়াই বন্ধে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে আসামের হাতিপ্রেমীদের সংগঠন 'হাতিবন্ধু'। গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তারা রাজ্যের নগাঁও জেলায় খোলা আকাশের নিচে গড়ে তুলেছে হাতির জন্য ব্যতিক্রমী 'রেস্তোরাঁ'।খোলা আকাশের নিচে তিন বছরের শ্রমে ২০৩ বিঘা (৩৩ একর) জমির ওপর এই রেস্তোরাঁ তৈরি করা হয়েছে। এখানকার মেনুতে রয়েছে হাতিদের সবচেয়ে প্রিয় নেপিয়ার ঘাস। এ ছাড়াও রয়েছে হাতিদের প্রিয় আউটেঙা (এলিফ্যান্ট অ্যাপল), কাঁঠাল এবং হাজার পঁচিশেক কলাগাছ।নগাঁও জেলার হাতিখুলি-রংঘাং এলাকার ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা এই রেস্তোরাঁর জন্য জমি দান করেছেন। চাষের জমি থেকে পাঁচ মাইল দূরে, পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা হাতিবন্ধুর এই খাদ্য প্রকল্পই এখন স্থানীয় ৩৫০ থেকে ৪০০ হাতির ভোজনালয়। আসামের বিশিষ্ট হাতিপ্রেমী ও হস্তী বিশেষজ্ঞ প্রদীপ ভূঁইয়া, পরিবেশপ্রেমী বিনোদ দুলু বরা ও ময়ুর হাজারিকাকে সঙ্গে নিয়ে তিন বছর আগে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। তাঁরা নিজেরাই হাতির প্রিয় খাবারের চাষ করেন।নগাঁও ও কার্বিআংলং জেলার সীমান্তবর্তী এই জমিতে গণেশ পূজা দিয়ে হাতিদের খাবার-বাগানের উদ্বোধন করা হয়। নিজেদের পছন্দের রেস্তোরাঁ পেয়ে হাতিরা বেশ খুশি। মহানন্দে তাদের ভোজন চলছে। কৃষকেরাও খুশি। হাতি তাড়াতে তাঁদের এখন আর বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে না, ফসলও থাকছে সুরক্ষিত। পরিবেশপ্রেমীরাও খুশি। কারণ, হাতি আর মানুষের লড়াই এত দিন ধরে কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছিল না।হাতিবন্ধুর সহসভাপতি রূণ ভূঁইয়া বলেছেন, 'এখন আর হাতির দল কৃষকের ফসল নষ্ট করছে না। মহানন্দে নেপিয়ার ঘাস থেকে শুরু করে তারা রেস্তোরাঁয় পছন্দের খাবার খাচ্ছে।'রূণ ভূঁইয়া জানান, এই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে 'হাতিবন্ধু হাতির বাসস্থান সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প'। নাম থেকেই স্পষ্ট, হাতিদের নির্দিষ্ট বসবাসের জায়গাও ঠিক করে দিতে চাইছেন তাঁরা।এই অভিনব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আসামের বন ও কৃষি দপ্তর। নগাঁওয়ের পর এখন অন্য জায়গা থেকেও হাতিদের জন্য নতুন নতুন রেস্তোরাঁ খোলার প্রস্তাব আসছে।
3
নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সাবেক সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরী। যিনি সাংসদ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তাঁর একাধিক স্বজনের বিরুদ্ধে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটে নৌকায় প্রকাশ্যে সিল মারতে বলেছেন তিনি। এভাবে যারা ভোট দেবেন না তাদের ভোটকেন্দ্র না আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে আড়িয়া ইউনিয়নে একটি সভার তিনি এমন বক্তব্য দেন।শুধু রেজাউল হক চৌধুরীই নন বরং দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ উদ্দিন রিমন ও তাঁর ছেলে ইমরান চৌধুরী কলিন্সও স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাদের ভোটারদের হুঁশিয়ারি ও হুমকি দিয়েছেন।উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নে ১৮ নভেম্বর শরীফ উদ্দিন রিমনের ছেলে ইমরান চৌধুরী (কলিন্স) বক্তৃতায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'রক্তের খেলা বন্ধ হবে না। ভোট সেন্টারে যেতেও পারবেন না।' একইভাবে ২১ নভেম্বর রাতে একটি সভায় সাংবাদিকেরা যেন তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধাচরণ না করে সে উদ্দেশ্যে নেতিবাচক ও ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন তিনি।আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারে আড়িয়ার সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, '২৮ তারিখে ভোট হবে। সেই ভোটের দিনে মেম্বার ভাইয়েরা আছেন, তাঁদের আমি অনুরোধ করব, আপনারা প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট মারবেন। তারপর আপনারা আপনার মেম্বারের ভোট গোপনে ব্যালট পেপারে মারবেন। যারা মারবেন না, তাঁরা কেন্দ্রে যাবেন না।'এ সময় সেখানে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন রিমন, কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, আড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাঈদ আনসারী বিপ্লবসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।রেজাউল হক চৌধুরী ১৩ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের সেই বক্তব্য স্থানীয় অনেকই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এই বক্তব্যের কপি আজকের পত্রিকার হাতে রয়েছে। বক্তব্যে রেজাউল হক চৌধুরী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নৌকার বাইরে কোথাও ভোট দিলে নেতা-কর্মীরা অঘটন ঘটাবে বলেও হুমকি দেন তিনি।একই সভায় দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন রিমন বলেন, 'ভোট নৌকার বাইরে যাবে না। যদি কেউ নৌকার বাইরে ভোট দিতে চান, সেন্টারে যাবেন না। আর সেন্টারে গেলে প্রকাশ্যে টেবিলে নৌকায় ভোট দিতে হবে। এর বিকল্প কিছু আছে? নাই।'এদিকে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে আড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করছেন সাঈদ আনসারী বিপ্লব। দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে আছেন হেলাল উদ্দীন।হেলাল উদ্দীন বলেন, 'আওয়ামী লীগের নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে নির্বাচন নিয়ে ভয় ও শঙ্কায় আছি। ভোটাররাও ভয় পাচ্ছেন।'আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘিরে উপজেলা আওয়ামী লীগের আলোচ্য তিন ব্যক্তির প্রকাশ্যে হুমকি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, গণতান্ত্রিক চর্চায় হুমকি দিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন বিদ্রোহী প্রার্থীসহ এলাকার সাধারণ ভোটাররা। এমন ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।এদিকে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই দু-একটি নির্বাচনী সহিংসতার খবর এলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত দৌলতপুর থানায় এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ৬টি। ৬ মামলায় গ্রেপ্তার ও আটক হয়েছেন ৩ জন।
6
করোনা এসে কত কিছুই না বদলে দিল! আরও হাজারটা পরিকল্পনার মতো উয়েফা কর্তৃক আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোর ফাইনাল কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সেসব পরিকল্পনায়ও বাধা দিয়েছিল করোনাভাইরাস। চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ, ইউরো ২০২০-সব টুর্নামেন্টেই উয়েফাকে নতুন করে ভাবতে হয়েছে ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু নির্ধারণ করতে গিয়ে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাগুলোর ফাইনাল কোন কোন মাঠে হবে, কাল এক নির্বাহী সভায় নিশ্চিত করেছে উয়েফা। ভেন্যু নির্ধারণ করার ভাবনায় যথারীতি বড় ভূমিকা রেখেছে করোনাভাইরাস। গত চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ঐতিহ্যবাহী কামাল আতাতুর্ক স্টেডিয়ামে। করোনার কারণে তুরস্ক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকায় শেষ পর্যন্ত ভেন্যু বদলাতে বাধ্য হয় উয়েফা। চেলসি বনাম ম্যানচেস্টার সিটির ফাইনাল আয়োজিত হয় পোর্তোর এস্তাদিও দি দ্রাগাওয়ে। তুরস্ক যেহেতু এই ফাইনাল আয়োজন করতে পারল না, সেহেতু সামনের কোনো মৌসুমের ফাইনাল যেন ইস্তাম্বুল আয়োজন করতে পারে, এমন একটা পরিকল্পনা উয়েফার ছিল। ২০২৩ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব তাই দেওয়া হয়েছে ইস্তাম্বুলকে। শুধু তা-ই নয়, আগামী দুই বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ ও উয়েফা কনফারেন্স লিগ গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হবে এই শহরেই। , ' , ../ এতে ২০২৩ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব যে শহরের ওপর ছিল, সেই মিউনিখ আয়োজন করবে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল। তবে ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন লিগ ফাইনাল নিয়ে পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। সে ম্যাচ যথারীতি আয়োজন করবে ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম। এবার ইউরোর ফাইনাল সেখানেই হয়েছে। এদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন কিংবা স্পেনের বিলবাওয়ে ইউরোর ম্যাচ আয়োজন করা যায়নি। সে কারণে এই দুটি শহরও কিছু দায়িত্ব পেয়েছে। ২০২৪ ইউরোপা লিগের ফাইনাল আয়োজন করবে ডাবলিন, একই বছরের নারী চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল ও ইউরোপা লিগের ফাইনাল আয়োজন করবে স্পেনের বিলবাও। - . . ২০২৫ সাল পর্যন্ত উয়েফা আয়োজিত টুর্নামেন্ট ফাইনালগুলোর ভেন্যু : ২০২১-২২ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল: ক্রেস্তোভস্কি স্টেডিয়াম, সেন্ট পিটার্সবার্গ, রাশিয়া২০২১-২২ ইউরোপা লিগ ফাইনাল: এস্তাদিও সানচেজ পিজুয়ান, সেভিয়া, স্পেন২০২২-২৩ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল: কামাল আতাতুর্ক স্টেডিয়াম, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক২০২২-২৩ ইউরোপা লিগ ফাইনাল: ফেরেঙ্ক পুসকাস অ্যারেনা, বুদাপেস্ট, হাঙ্গেরি২০২৩-২৪ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল: ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম, লন্ডন, ইংল্যান্ড২০২৩-২৪ ইউরোপা লিগ ফাইনাল: আভিভা স্টেডিয়াম, ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড২০২৪-২৫ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল: আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা, মিউনিখ, জার্মানি২০২৪-২৫ ইউরোপা লিগ ফাইনাল: সান মামেস স্টেডিয়াম, বিলবাও, স্পেন
12
হিন্দি 'কাভি কাভি মেরে দিল মে খ্যায়াল আতা হ্যায়' গানটি অনেকে শুনেছেন। হয়তো গুনগুন করে গেয়েছেনও। গুগল বা ইউটিউবের আশ্রয় না নিয়ে চট করে বলুন তো গানটি কে গেয়েছেন? কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ গানের গায়কের গাওয়া একটি গান নতুন করে ভাইরাল হয়। 'এক প্যায়ার কা নাগমা হ্যায়'।চলুন, এ শিল্পীর আরও কিছু গান শোনা যাক। 'মেরা জুতা হ্যায় জাপানি', 'কাহি দূর যাব দিন ঢাল যায়ে', 'ক্যায়া খুব লাগতি হো', 'বারি সুন্দর লাগতি হো', 'আওয়ারা হু', 'ম্যায় পাল দো পালকা শায়ের হু', 'ডাম ডাম ডিগা ডিগা' কিংবা বাংলা 'ঝুন ঝুন ময়না নাচো না, তাথৈ তাথৈ নাচো না', 'মন্দ বলে লোকে বলুক না'। দ্বিতীয় গানটার সুর নিয়েই তৈরি হয়েছে বাংলা 'আমায় প্রশ্ন করে ওই ধ্রুবতারা'। আর তৃতীয় গানটির অনুকরণেও খুব জনপ্রিয় একটা বাংলা গান আছে, 'যদি বউ সাজো গো'। হিন্দি গানগুলো হয়তো শুনেছেন। তারপরও অনেকেরই চট করে শিল্পীর নামটা মনে আসবে না।তিনি মুকেশ। পুরো নাম মুকেশ চন্দ মাথুর। তিনি এমন সময়ে গাইতেন, যাকে বলা চলে বলিউডের গানের স্বর্ণযুগ। তাঁর সময়েই চলছিল মুহম্মদ রাফি, কিশোর কুমার আর মান্না দের শাসন। তাঁদের সঙ্গেই টিকে ছিলেন মুকেশ। শুধু টিকে ছিলেন তা-ই নয়, জনপ্রিয় শিল্পীদের ভিড়ে স্বতন্ত্র এক গায়কি তৈরি করেছিলেন এ শিল্পী। মুকেশকে নিয়ে কেন হঠাৎ লিখতে বসা, কারণটা বলছি। গত মাসেই চলে গেল তাঁর জন্মদিন, ১৯২৩ সালের ২২ জুলাই ভারতের লুধিয়ানায় মুকেশের জন্ম। আর তিন দিন আগে তাঁর প্রয়াণ দিবস। ২৭ আগস্ট, ১৯৭৬ সালের এ দিনে শেষ হয় তাঁর জাগতিক ভ্রমণ। শত বছরের কাছাকাছি এ শিল্পীর জন্ম ও প্রয়াণ দিবসটা নীরবে চলে গেল। তারকা মুখ নিয়ে ব্যস্ত বিনোদন দুনিয়া তাঁকে যেন ভুলতে বসেছে। অবশ্য তাতে মুকেশের গানের কদর কমেনি। ইউটিউবের সারেগামা মিউজিক চ্যানেলে আজও শ্রোতার পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে মুকেশের গান। এমনকি তাঁর ১০০টি গান নিয়ে করা ইউটিউবের ভিডিও প্যাকেজটিও প্রায় ৩ কোটি ভিউ; আজ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার ৫৯৪ বার দেখা হয়েছে।লালা জরওয়ার চন্দ মাথুর ও চন্দ রানির ষষ্ঠ সন্তান মুকেশ। বড় বোনকে গান শেখাতে বাড়িতে ওস্তাদ যেতেন। একদিন কথায় কথায় ছোট্ট মুকেশের গান শুনতে চাইলেন ওস্তাদ। কোনোরকম জড়তা ছাড়া অবলীলায় শুনিয়ে দিলেন পুরো একটি গান। সেদিন তাঁর গান শুনে ওস্তাদ বাড়ির লোকদের ডেকে বললেন, মুকেশকে গান শেখানো হোক। গানে নাম করবে মুকেশ। সেই শুরু। বাড়িতেই গান শেখা চলতে থাকে। দিল্লির দরবারি ঘরানা থেকে শাস্ত্রীয়-সবকিছুই শিখলেন মুকেশ। শিখতে শিখতে একদিন বড় পরিসরে গাওয়ার সুযোগ এল। তা-ও হঠাৎ। তাঁদের এক আত্মীয়ের বিয়ে, মা-বাবার সঙ্গে গেছেন। সেই আসরেই গান গেয়েছিলেন মুকেশ। আসরে ছিলেন হিন্দি ছবির সে সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা মোহিত লাল। অনুষ্ঠানে তিনি মুকেশের গান শুনে মুগ্ধ। অভিভাবকদের বলেকয়ে মুকেশকে তিনি মুম্বাই নিয়ে যান। পণ্ডিত জগন্নাথ প্রসাদের কাছে গান শেখার ব্যবস্থা করেন। সে সময়ে 'নির্দোষ' ছবিতে অভিনেতা ও গায়ক হিসেবে সুযোগ পান মুকেশ। 'নির্দোষ' ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৪১ সালে, শ্রোতারা প্রথমবার শোনেন মুকেশের কণ্ঠ 'দিল হুয়া বুঝহা হুয়া'। এরপর ১৯৪৫ সালে 'পেহলি নজর' সিনেমা দিয়ে শুরু হয় পেশাদার গায়ক হিসেবে মুকেশের বলিউড-যাত্রা। গানের ভেতর দুঃখ, বেদনা, না পাওয়া, পেয়ে হারানোর যন্ত্রণা ফুটিয়ে তুলতে মুকেশ ছিলেন অদ্বিতীয়। বিশেষ করে সে সময়ে রাজ কাপুরের 'কণ্ঠ' হয়ে উঠেছিলেন তিনি। রাজ কাপুর তো এমনও বলেছিলেন, 'আমি তো আমার কণ্ঠ হারিয়েছি, সবাই মনে করে আমার কণ্ঠ মুকেশের মতো!' এভাবে রাজ কাপুর, দেব আনন্দ, অমিতাভের যুগে প্রায় ১ হাজার ২০০ গান গেয়েছেন মুকেশ। তারপরও সমসাময়িক অন্যদের তুলনায় সংখ্যাটা অনেক কম। এর কারণ, মানুষটা ছিলেন খামখেয়ালি। নিজের মনমর্জিতে চলতেন। তাল মিলিয়ে চলা ছিল তাঁর অপছন্দ। তবে সংখ্যায় কম হলে কী হবে, মানের দিকে থেকে সেগুলো ছিল অনেক ওপরে। আগেই বলেছি, বেশ কিছু বাংলা গানও গেয়েছেন তিনি। গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর ভালো বন্ধু। সলিল চৌধুরীর সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল। বাংলা উচ্চারণে দুর্বল অবাঙালি মুকেশের বাংলা গানে আগমনটাও নাটকীয়। হিন্দি ছবিতে তত দিনে বেশ নাম করেছেন। বন্ধু পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেই বাংলায় গান গাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন মুকেশ। গ্রামোফোন কোম্পানির কাছে মুকেশকে দিয়ে বাংলা গান গাওয়ানোর প্রস্তাব দিলেন পুলক। কিন্তু শুরুতে রাজি হয়নি গ্রামোফোন কোম্পানি। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় বোঝালেন, মুকেশকে দিয়ে বাংলা গান গাওয়ালে সাড়া পড়বে। কিন্তু গ্রামোফোন কোম্পানির প্রধান নির্বাচক সরাসরি বলে দিলেন, 'সরি।' তারপরও পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় দমে যাননি। সে সময় দিলীপ বসুর একটি ছবির গান লিখছিলেন পুলক। সে ছবির জন্য 'সরি' শব্দটি দিয়েই একটা গান লিখলেন, 'সরি ম্যাডাম, সরি'। গাওয়ালেন মুকেশকে দিয়েই। ব্যস, বাংলা চলচ্চিত্রে মুকেশের যাত্রা শুরু হলো। পরে মুকেশকে দিয়ে দুটি বাংলা গান গাওয়ায় গ্রামোফোন কোম্পানি। শোনা যায়, মৌলিক ওই দুটি গান গাইতে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয় মুকেশকে। কলকাতায় গানের জলসায় রেকর্ডিং সেন্টারে সারা দিন চেষ্টা করেও গান দুটি নির্ভুল উচ্চারণে গাইতে পারলেন না মুকেশ। পরে মুম্বাইয়ের (তৎকালীন বোম্বে) এক স্টুডিওতে আবার শিডিউল নেওয়া হলো। এবার মান্না দের দ্বারস্থ হলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। মান্না দে গান তুলে মুকেশকে শোনালেন। মুকেশ গাইলেন, 'ওগো আবার নতুন করে ভুলে যাওয়া নাম ধরে ডেকো না' এবং 'দেহেরই পিঞ্জিরায় প্রাণ পাখি'। সে সময় আরও বাংলা গান গেয়েছিলেন। সলিল চৌধুরীর কথা ও সুরে মুকেশের গাওয়া 'মন মাতাল সাঁঝ সকাল, কেন শুধুই ডাকে' এবং 'ঝুন ঝুন ময়না নাচো না, তাথৈ তাথৈ নাচো না' এখনো শোনেন মানুষ। মুকেশের গাওয়া বাংলা গানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছিল 'মন্দ বলে লোকে বলুক না' এবং 'ও ময়না রে'। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর ও মুকুল দত্তের দুটি গান 'আমার মনের কত সুখ নিয়ে সারা বেলা' ও 'মনকে কিছু বলো না' জনপ্রিয় না হলেও প্রশংসিত গানের তালিকায় আছে। মূলত হিন্দি গানের জন্যই নাম করেছিলেন তিনি। তাঁকে বলা হয় হিন্দি সিনেমার 'দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন ভয়েস'। আর তিনি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়কের পুরস্কার পেয়েছিলেন একবার, ১৯৭৩ সালে 'রজনীগন্ধা' ছবির 'কাই বার ইউ হি দেখা হে' গানটির জন্য। চারবার জিতেছেন ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।সুরেলা কণ্ঠ আর গায়কির কারণে মুকেশ তাঁর সময়ে রাফি, কিশোরের ভিড়েও আলাদা জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন। এমনকি ভাষার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে বাংলা গানের শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন তিনি। 'তারকা'চর্চিত বিনোদনজগতে তাঁর নামটি তুলনামূলক কম চর্চা হলেও মুকেশের গাওয়া গানগুলো রয়ে যাবে যুগ যুগ। আজও যশপ্রার্থী গায়কেরা তাঁর মতো গাওয়ার চেষ্টা করেন 'কাভি কাভি মেরে দিলমে...'। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, উইকিপিডিয়া, ডেইলি স্টার
2
এবারের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির নতুন পদ্ধতি দেখলেন ভোটাররা। ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা ঠিকই গেছেন কিন্তু তারা তাদের নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি। তাদের ভোট সরকারদলীয় ক্যাডাররা দিয়ে দিয়েছেন। এরপর আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দিয়েছেন। ঢাকা-৬ আসনের টিকাটুলি শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বের হয়ে এরকম অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ক্ষোভের সাথে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি ভোট কেন্দ্রে ঠিকই গেছি কিন্তু আমার ভোটটা আমি দিতে পারিনি। ওরা আমার হাতের আঙ্গুলে কালি দিয়ে বলে আপনার ভোট হয়ে গেছে। চোখে মুখে প্রচন্ড বিরক্ত নিয়ে বলেন, আমি জীবনে বহু নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছি কিন্তু এরকম অবস্থা দেখিনি। ওরা আমাকে চিনে তারপরও আমার সাথে এরকম করল। বলার কিছুই নেই। তার পাশেই আরেক জন ভোটার বলছিলেন, হিটলার ছিলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বৈরাচারী কিন্তু তারও পতন হয়েছে। পাশেই অপর এক ভোটার বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এই কেন্দ্রে আসছিলেন বলে ওরা আমাদেরকে ডামি হিসেবে নিয়েছেন। না হলে আমিও আমার ভোটটা দিতে পারতাম না।
9
পাবনার পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক উমাইর নূর রায়হান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে দশটার দিকে পাকশী ইউনিয়নের নতুন রূপপুর (সিএনজি পাম্প) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সে নতুন রূপপুর গ্রামের ফুটবল মাঠ এলাকার ফজলুল হকের ছেলে। উমাইর নূর রায়হানের মামা আজিজুল হক জানান, রাতে নতুন রূপপুর (সিএনজি পাম্প) এলাকা দিয়ে উমাইর নূর রায়হান ও তাঁর বন্ধু তুহিন হেঁটে নিজ বাড়ির দিকে আসছিল। এ সময় পিছন থেকে কে বা কারা উমাইর নূরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। একটি গুলি তাঁর কোমরের নিচে এসে লাগে। তিনি আরও জানান, উমাইর নূরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎ প্রকল্প পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই বিকাশ চক্রবর্তী জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রায়হান মোটরসাইকেল চালিয়ে ফাঁড়িতে আসে। সেখান থেকে পুলিশের গাড়িতে করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির ছাত্রলীগ নেতা গুলিবিদ্ধের কথা নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ উমাইর নূর রায়হানকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। গুলি করার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, পূর্ব বিরোধ হোক আর যে কারণেই হোক দূর্বৃত্তদের আটকের জন্যে পুলিশী অভিযান চলছে। বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ
4
দুই বছর পর আগামীকাল শুক্রবার (২৫ মার্চ) আবার চালু হচ্ছে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের ট্যুরিস্ট বা পর্যটন ভিসা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান। তৌফিক হাসান জানান, কলকাতার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের ১৫ নম্বর প্লটের সিপি ব্লকে চালু হওয়া বাংলাদেশের ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে গ্রহণ করা হবে ভিসার আবেদন। ভিসার আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে কোভিডের ডবল ডোজ টিকা নেওয়ার সনদের ফটোকপি। সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত নেওয়া হবে আবেদন। তবে পার্ক সার্কাসের বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের দপ্তরে আর ভিসার আবেদনপত্র নেওয়া হবে না। আগে বাংলাদেশের ভিসার জন্য কোনো ভিসা ফি লাগত না। তবে এখন ভিসা বিনা মূল্যে দেওয়া হলেও দিতে হবে প্রসেসিং ফি বাবদ ৮২৫ রুপি। এই অর্থ নগদে বা অনলাইনে দেওয়া যাবে। বাংলাদেশের এই ভিসা নিয়ে ভারতীয়রা সড়ক, বিমান এবং ট্রেনে করে যেতে পারবেন বাংলাদেশে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতের ওডিশা, বিহার, ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড় এবং সিকিমে বসবাসকারী ভারতীয়রা কলকাতা উপহাইকমিশন থেকে বাংলাদেশের ভিসা নিতে পারবেন।
3
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কোরবানির সময় মহিষ হঠাৎ লাফিয়ে উঠে তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় শিংয়ের গুঁতায় ১১ জনকে আহত করেছে। ওই মহিষকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের ছোড়া গুলি মহিষের গায়ে লাগেনি। সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার যুগিহাটি গ্রামে আরিফুল সরকারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এদিকে, উৎসুক জনতা ভিড় করায় ওই মহিষকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহিষটি ভূঞাপুর উপজেলার বিল নিকলা গ্রামে অবস্থান করছে। স্থানীয়রা জানায়, ঈদ উপলক্ষে যুগিহাটি গ্রামের আরিফুল ইসলামের একটি মহিষ কয়েকজন মিলে কোরবানি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মহিষটি মাটি থেকে লাফিয়ে ওঠে। পরে সেখানে থাকা একই পরিবারের পাঁচজনকে গুঁতিয়ে আহত করে। এরপর ভূঞাপুর উপজেলার কাগমারি পাড়ায় চলে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরিবেশ অনুকূলে আনতে মহিষকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে পুলিশ। তবে সেটি মহিষের গায়ে লাগেনি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) টিটু চৌধুরী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দের নির্দেশে ক্ষিপ্ত ওই মহিষকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ততক্ষণে মহিষটি দেখতে আশপাশের হাজারও উৎসুক মানুষ চলে আসে। বারবার উৎসুক জনতাকে সরতে মাইকে ঘোষণা দেয়া হলেও কেউ সরেনি। রাত ৮টার পরও মহিষটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
6
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রবিবার (২৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে একটি আইন পাসের আলোচনায় বিএনপির এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, তার (খালেদা জিয়ার) দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি দুটো শর্তে সম্পূর্ণ মুক্ত। মুক্ত বলে তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন। মুক্ত আছেন বলেই তিনি মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। এর আগে আইন পাসের বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান বিএনপির সাংসদ মোশাররফ হোসেন । মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার বাসভবনকে সাব-জেল ঘোষণা করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৬ ধারায় খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো যায়। এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ওনারা (বিএনপি) কেবল বলেন সাব-জেল বানিয়ে রাখা হয়েছে। ওনার বাসাটাকে কোনো জেলই বানানো হয়নি। ওনাদের (বিএনপির) তথ্যেই এতই বিভ্রাট, তা বুঝতে পারি না। এতই যদি ভালোবাসা থাকে, তাহলে তো তথ্যটি জেনে এখানে কথা বলতে পারেন। এত সুপারফিশিয়ালি কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে (বেগম জিয়াকে) ছয় মাস করে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত। সেখানে দুটো শর্ত যুক্ত ছিল, সেটা এখনো আছে বলে জানিয়েছেন আনিসুল হক।
6
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের শীর্ষ পদে প্রথমবারের মত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ১১তম কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক।গত বছরের ২১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদে মেয়াদ পূর্ণ করেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট পরবর্তী চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ সাড়ে আট মাস ধরে পদটি খালি থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেয় সরকার।গত (৫ মে) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ১৯৮০ সংশোধিত আইন ২০১০ এর আইন ১২ (১) ধারা অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়াকে আগামী চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হল।তিনি অর্থনীতি বিভাগের ২য় ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রভাষক হিসেবে অর্থনীতি বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। পালন করেছিলেন বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব। এর আগে তিনি বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট, প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, 'আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব। এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।'
1
সুদানে চতুর্থ দিনের মতো অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারের এ সংঘর্ষে অন্তত এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা টেলিভিশনের অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত সোমবার সুদানে সেনা অভ্যুত্থান হয়। এই সেনা অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সংঘটিত সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত আটজন নিহত হয়েছেন। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের ক্ষমতা দখলকারী সামরিক সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশটির বেসামরিক সরকার উৎখাত করে সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদকসহ মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। বন্ধ করে দেওয়া হয় রাজধানী খার্তুমের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। এ ঘটনার পর থেকে দেশটির রাজধানী খার্তুমে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন সড়কে 'ব্যারিকেড' দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। রাস্তায় পোড়ানো হচ্ছে গাড়ির টায়ার। অসহযোগ কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল খার্তুমে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের চতুর্থ দিনের মতো সংঘর্ষ হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এদিন খার্তুমের পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের একটি কমিটি জানিয়েছে, গতকাল খার্তুমের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় সংঘর্ষে এক বিক্ষোভকারী নিহত হন। গতকাল বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিনের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়া ছাড়াও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক বিক্ষোভকারী বলেন, 'আমরা সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় দেখতে চাই না। আমরা এ দেশে মুক্তভাবে গণতান্ত্রিক জীবন যাপন করতে চাই।'কাল শনিবার আরও বড় বিক্ষোভ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশটির অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। সুদানে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের ঘটনা নিয়ে 'গভীর উদ্বেগ' জানিয়ে গতকাল একটি বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে বিবৃতিটি পাস করেছে। কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই সংলাপে অংশ নিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতির পর পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। বাইডেন বলেছেন, সুদানের সেনা কর্তৃপক্ষের প্রতি তাঁদের বার্তা কঠোর ও স্পষ্ট। সুদানের জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করতে দিতে হবে। বেসামরিক নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পুনঃস্থাপন করতে হবে। বাইডেন আরও বলেন, সম্প্রতি সুদানে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা খুব হতাশাজনক। তবে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতো সুদানের জনগণের পাশে থাকবে। তাদের অহিংস লড়াইকে সমর্থন জুগিয়ে যাবে। বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সুদানে সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের নিন্দা জানিয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানকে 'অসাংবিধানিক' উল্লেখ করে জোট থেকে সুদানের সদস্যপদ স্থগিত করেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সুদানের সেনাবাহিনী। এরপর ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশটি শাসন করছিল সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সরকার। গত সেপ্টেম্বরে বশিরের অনুসারীদের একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে। সর্বশেষ সোমবার দেশটির শাসনক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। সেনাশাসনের বিরোধিতায় রাজপথে নামেন দেশটির বহু মানুষ।
3
কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে হাজার বছরের স্মৃতিবাহী শহর চট্টগ্রামের গোড়াপত্তন হয়েছে। গড়ে ওঠে নগরসভ্যতা। এ কারণে চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রধান স্মারক হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে আছে কর্ণফুলী। এখানকার শিল্পায়নেরও গোড়াপত্তন কর্ণফুলী নদী ঘিরে। এ নদী ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়ন শুধু চট্টগ্রাম নয় বাংলাদেশেরও অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, যোগাযোগ এবং জীববৈচিত্র্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।১৯৬৪ সাল থেকে কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করার মাধ্যমে মূল নদীকে অনেকটা প্রবাহহীন মানুষ নিয়ন্ত্রিত নদীতে পরিণত করা হয়। যেখানে ইছাখালী, হালদাসহ আরও কয়েকটি ছোট নদী কর্ণফুলীতে না মিশলে এখন হয়তো একে নদী হিসেবেই সংজ্ঞায়িত করা যেত না। কর্ণফুলী নদী শুধু চট্টগ্রামের প্রাণ নয়, দেশের হৃৎপিণ্ড। কর্ণফুলীর অবদানে চট্টগ্রামে বন্দর হয়েছে, শিল্পায়ন হয়েছে। তাই এই নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে।নামকরণের ইতিহাসসবচেয়ে প্রচলিত কিংবদন্তি হলো, এই অঞ্চলে এক মগ রাজা ছিলেন। তাঁর সুন্দরী কন্যা গোসল করত পাহাড়ি ছড়ায়। একদিন নদী বেয়ে এক যুব সওদাগর এল। সওদাগরকে দেখে রাজকন্যা বিমোহিত। একে অপরের প্রেমে পড়ে। সওদাগরের বাণিজ্যের বহর গুটিয়ে অন্য বন্দরে যাওয়ার সময় হয়। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সওদাগর চলে যায়। স্মৃতি হিসেবে রাজকন্যাকে দেয় এক জোড়া কানের ফুল। শুরু হয় রাজকন্যার অপেক্ষা।রাজকুমারী বিবাহযোগ্য হলে তার বিয়ের ব্যবস্থা করে রাজা। এই খবরে রাজকন্যা বিরহব্যথায় কাতর হয়ে নদীর পাড়ে কাঁদতে থাকে। জীবন থাকতে সওদাগর ছাড়া আর কাউকে মালা দিতে পারবে না রাজকন্যা। সওদাগরও আসছে না। একদিন পাগলপারা রাজকন্যার কানের ফুল হারিয়ে যায় নদীর বুকে। খুঁজতে খুঁজতে অস্থির হয়ে পড়ে কন্যা। রাজকন্যা মনে করে সওদাগর আর আসবে না কোনো দিন। কানের ফুল হারিয়ে যাওয়া যেন তারই লক্ষণ। হতাশ, ক্লান্ত রাজকন্যা আরেক কানের ফুল তীরে খুলে রেখে, গায়ের জড়ানো ওড়না খুলে নদীর বুকে আত্মাহুতি দিয়ে প্রেমের মর্যাদা দেয়। সেই বিয়োগান্ত ঘটনার স্মরণে নদীটির নামকরণ হয়েছে কর্ণফুলী। 'কর্ণফুলী'র অর্থ কানের দুল বা কানের ফুল।উৎপত্তি, দৈর্ঘ্য ও শাখা নদীগুলোকর্ণফুলী ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পর্বতমালা পাহাড় থেকে উৎপত্তি হলেও ৩২০ কিলোমিটার নদীটির বিস্তৃতি ভারতে খুবই কম। যে কারণে ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর তালিকায় কর্ণফুলীর নাম নেই। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ২৭৫ কিলোমিটার। পার্বত্য চট্টগ্রাম অংশেই কর্ণফুলী নদীর ১৮০ কিলোমিটার পড়েছে। বলা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় অর্ধেক এলাকাজুড়ে কর্ণফুলী নদী শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে আছে। ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুংলেই জেলার ট্লাবুং (দেমাগ্রী) থানা থেকে বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ঠেগামুখ এলাকায় প্রবেশ করেছে কর্ণফুলী নদী। নদীটি বরকল, রাঙামাটি, কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। কিন্তু এই নদীর উৎসস্থলের অন্যতম চারটি শাখা নদী কাসালং, মাইনি, রীংকং ও চেঙ্গির উৎসও ভারতে। কর্ণফুলী ও এর চারটি শাখা নদীর পানিই মূলত কাপ্তাই হ্রদের পানির মূল উৎস। এদের মিলিত স্রোতোধারাই কর্ণফুলী নদী নামে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।কর্ণফুলী নদীর মাছ ও জেলে সম্প্রদায়কর্ণফুলী নদী ঘিরে যুগ যুগ ধরে জীবিকা চালিয়ে আসছেন স্থানীয় জেলেরা। নদীতে আর আগের মতো মাছের প্রাচুর্য নেই। ফলে জেলেদের এখন দুর্দিন। দূষণসহ নানা কারণে ইতিমধ্যে বিলুপ্তির পথে এ নদীর প্রায় ৩০ প্রজাতি মাছ। একসময় কর্ণফুলীতে মিঠা, মিশ্র (মিঠা ও লবণাক্ত) ও সামুদ্রিক (নোনা) মাছের বিচরণক্ষেত্র ছিল। এই নদীতে প্রায় ১৪০ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত, এর মধ্যে মিঠাপানির মাছ ৬৬ প্রজাতির, মোহনায় লবণাক্ত পানির মাছ ৫৯ প্রজাতির এবং সামুদ্রিক নোনা পানির মাছ ছিল ১৫ প্রজাতির।সাংস্কৃতিক অবদানকর্ণফুলী এ অঞ্চলের সংস্কৃতিকেও সমৃদ্ধ করেছে। ওরে কর্ণফুলীরে সাক্ষী রাখিলাম তোরে...অভাগিনীর দুঃখর কথা কইতাম বন্ধুরে-প্রয়াত শিল্পী শেফালী ঘোষের জনপ্রিয় গানের পঙ্ক্তি এটি। কর্ণফুলীকে ঘিরে এমন অসংখ্য সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না, বিরহ-মিলনের গান চট্টগ্রামে প্রচলিত রয়েছে। কর্ণফুলীর হাজার বছরের ঐতিহ্য সাম্পানের মাঝিকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি গান রচিত হয়েছে। নির্মিত হয়েছে 'সাম্পানওয়ালা' নামে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ছায়াছবি। কর্ণফুলীর এ সাম্পানওয়ালারাই ছিলেন একসময় অসংখ্য নারীর স্বপ্নের পুরুষ। যার উদাহরণ 'কী গান মাঝি হুনাইলা.... কী বাঁশি মাঝি বাজাইলা', 'কর্ণফুলীর সাম্পানওয়ালা আঁর মন হরি নিলা'। কিংবা 'রঙিলা মাঝিরে এই ঘাটদি সাম্পান ভিড়াও'। অথবা 'চান মুখে মধুর হাসি... দেবাইল্যা বানাইলো-রে মোরে সাম্পানের মাঝি'।কর্ণফুলী নিয়ে মলয় ঘোষ দস্তিদারের লেখা 'চোড চোড ঢেউ তুলি/ লুসাই পাহাড়-উত্তুন/ লামিয়ারে যারগৈ কর্ণফুলী' গানটি সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত। সংগীতজ্ঞ মোহনলাল দাশ কর্ণফুলীর মাঝিকে নিয়ে গান বেঁধেছেন এভাবে, 'ওরে সাম্পানওয়ালা/ তুই আমারে করলি দিওয়ানা।'চট্টগ্রাম বন্দর ও অর্থনৈতিক অবদানকর্ণফুলী নদীর বুকে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র 'চট্টগ্রাম বন্দর'। এ বন্দরের জন্য সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। চট্টগ্রাম বন্দরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ১৩৪ বছর অতিক্রম করলেও তার হাজার বছর আগে প্রাকৃতিকভাবে এ বন্দরের গোড়াপত্তন হয়। ইবনে বতুতা, মার্কো পোলোসহ বিশ্বের নামকরা পরিব্রাজকদের ভ্রমণ কাহিনিতেও তৎকালীন চট্টগ্রাম বন্দরের অস্তিত্ব ফুটে উঠেছে। ঐতিহাসিকদের মতে, চট্টগ্রাম একটি প্রাকৃতিক বন্দর। কর্ণফুলী নদীর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য একে বন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। ব্রিটিশরাই প্রথম এ বন্দরকে বিধিবদ্ধ কাঠামোর আওতায় আনে।ইতিহাসবিদদের মতে, ইংরেজ শাসনের প্রথম দিকে ইংরেজ ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা বার্ষিক এক টাকা সালামির বিনিময়ে নিজ ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীতে কাঠের জেটি নির্মাণ করেন। পরে ১৮৬০ সালে প্রথম দুটি অস্থায়ী জেটি নির্মিত হয়। ১৮৭৭-এ চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার গঠিত হয়। ১৮৮৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে দুটি মুরিং জেটি নির্মিত হয়। এ বছরের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার কার্যকর হয়। ১৮৯৯-১৯১০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার ও আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে যুক্তভাবে চারটি স্থায়ী জেটি নির্মাণ করে। ১৯১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে রেলওয়ে যুক্ত হয়।দখলে বিপর্যস্তনদীর কালুরঘাট সেতু থেকে মোহনা পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার এলাকায় এ দখলযজ্ঞ চলে আসছে। তবে শাহ আমানত সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে বন্দরের ১নং জেটি পর্যন্ত অবৈধ দখলদারদের তৎপরতা ছিল সবচেয়ে বেশি। নদীর জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি, বস্তি, দোকান ও কলকারখানা তৈরি করার কারণে অবৈধ দখলদারের দখলে চলে গেছে কর্ণফুলী। প্রতিবছরই দখলদারদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীর দুই তীরও। ভর জোয়ারের সময় পানি যে জায়গায় গিয়ে স্থির হয়, সেখান থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর সীমানা।কর্ণফুলী নদী দূষণের কারণনগরীর প্রায় অর্ধকোটি মানুষ ও নদীর পার এবং আশপাশে গড়ে ওঠা প্রায় সাত শ ভারী-ছোট বড় কলকারখানার বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে ফেলার কারণে কর্ণফুলীর বাস্তুসংস্থান বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর পরিবেশও এখন হুমকির মুখে। কর্ণফুলী দূষণের তালিকায় শীর্ষে আছে চারটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো বর্জ্য শোধনাগার নেই। তাই প্রতিনিয়ত বর্জ্য পড়ছে কর্ণফুলীতে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে এই চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না পরিবেশ অধিদপ্তর।নতুন সম্ভাবনা দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু টানেলচীনের সাংহাই শহরের আদলে বন্দরনগরীকে 'ওয়ান সিটি, টু টাউন' মডেলে গড়ে তুলতে নগরের পতেঙ্গা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজ চলছে। এতে নদীর পূর্ব প্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং পশ্চিম প্রান্তে চট্টগ্রাম শহর-বন্দর ও বিমানবন্দরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে।মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশে নদীর ভূমিকা অপরিসীম। সিন্ধু, মেসোপটেমিয়া ও মিসরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নদীকে কেন্দ্র করেই। পৃথিবীর বিখ্যাত শহরগুলোর মধ্যে টেমস নদীর তীরে লন্ডন, হার্ডসন নদীর তীরে নিউইয়র্ক, যমুনা নদীর তীরে দিল্লি অবস্থিত।বাংলাদেশের পুরোনো সব শহর প্রাকৃতিকভাবে নদীর তীরে গড়ে উঠলেও যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমরা সেভাবে এগিয়ে যেতে পারিনি। বুড়িগঙ্গার নদীর তীরে ঢাকা, কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রাম, সুরমার তীরে সিলেট, পদ্মার তীরে রাজশাহী, শীতলক্ষ্যার তীরে নারায়ণগঞ্জ এবং রূপসার তীরে খুলনা শহর গড়ে উঠলেও উল্টো দখলে, দূষণে, ভরাটে বিপন্ন নদীর জীবন। শ্রীহীন হয়ে পড়ছে শহর।চট্টগ্রামকে আজ এত দূর এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি কারও এককভাবে সর্বোচ্চ অবদানের কথা বলতে হয় তাহলে প্রথমেই কর্ণফুলী নদীর নাম আসে। সেই নদী আজ বিপন্ন। কাল বিপন্ন হবে এর দুই তীরের মানুষ। তাই একে বাঁচানো ও রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়াঅধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও সমন্বয়ক, হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
5
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবিতে আগামীকাল শনিবার যে গণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে তা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির এনপিপি একাংশ ১৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আয়োজিত এক সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবিতে গণঅনশন কর্মসূচি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি আপনারা সবাই থাকবেন। সবাইকে আমাদের কর্মসূচি যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা বেশ কয়েকজন চেয়েছি কিন্তু আমাদের জায়গা দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ড: ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এর সভাপতিত্বে মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা এর সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাগপা একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, এলডিপি একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম , বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
6
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম না থাকলে গণতন্ত্রকে সুষ্ঠু বলা যায় না। দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও আমরা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারিনি।রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত বার্ষিক কাউন্সিল-২০১৮ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে গভীর এক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বহু আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছ। এসব আন্দোলন সংগ্রামে বহু রাজনীতিবিদ হামলা-মামলা-খুন-গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এই ফ্যাসিবাদী সরকার সকল রাষ্ট্রীয় যন্ত্রগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। প্রায় সকল গণমাধ্যমের মালিকানা দখল করেছ। বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনীতিবিদরা সবসময় খারাপ হয় না। তারা দেশের জন্য অনেক ত্যাগ করেন। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আছেন যারা সরকারের হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ঢাকায় এসে রিক্সা চালাচ্ছেন, হকারের কাজ করছেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। তখন আওয়ামী লীগ থেকে অনেক নেতাকর্মী বের হয়ে জাসদ তৈরী করেছিলেন। সেই জাসদের অনেক নেতাকর্মীকে ৭২-৭৫ সরকার হত্যা করেছিলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন বাকশাল চালু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তখন বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছেন। আমরা দেশনেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
9
বাংলাদেশ পরমাণুশক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ দুই পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন যে কেউ। আগ্রহী প্রার্থীদের ডাক বা কুরিয়ার সার্ভিসযোগে আবেদন করতে বলা হয়েছে। পদের নাম: সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (নিউক্লিয়ার)পদসংখ্যা: ২যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি, এমফিলসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তিন বছরের অভিজ্ঞতা অথবা নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এমএসসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যূন চার বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা। বেতন স্কেল: ৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকাবয়স: অনূর্ধ্ব ৩৫ বছর পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটরপদসংখ্যা: ১যোগ্যতা: বিজ্ঞান বিষয়ে অন্যূন স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি, কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে সর্বনিম্ন গতি প্রতি মিনিটে বাংলা ২৫ ও ইংরেজি ৩০ শব্দ। বেতন স্কেল: ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকাবয়স: অনূর্ধ্ব ৩০ বছর। যেভাবে আবেদনসরকারনির্ধারিত চাকরির আবেদন ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম পাওয়া যাবে এই ওয়েবসাইটে (...)। আবেদনপত্র অফিস চলাকালে জিইপি, রেজিস্ট্রি ডাক বা কুরিয়ারে পাঠাতে হবে। প্রার্থীকে খামের ওপর অবশ্যই পদের নাম উল্লেখ করতে হবে। আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানামুখ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পরমাণুশক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭।আবেদন ফিআবেদনপত্রের সঙ্গে ৫০০ টাকার পোস্টাল অর্ডার, ডিডি বা পে-অর্ডার সংযুক্ত করতে হবে।আবেদনের শেষ তারিখআগামী বছরের ২২ জানুয়ারি
1
মেষ(২১ মার্চ-২০ এপ্রিল)ব্যবসায়িক যোগাযোগ শুভ। কর্মস্থলে পদস্থ ব্যক্তিদের আনুকূল্য পাবেন। বিদেশযাত্রার সুযোগ পেতে পারেন। প্রেমবিষয়ক জটিলতার অবসান হতে পারে। আর্থিক লেনদেন শুভ।বৃষ (২১ এপ্রিল-২১ মে)ব্যবসায়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাওনা আদায়ে অন্যের সহযোগিতা পেতে পারেন। পারিবারিক প্রয়োজনে অন্যের সঙ্গে আপস করতে হতে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য আজ সুখবর আছে।মিথুন(২২ মে-২১ জুন)ফাটকা ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন। চাকরিতে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের অবসানে আপনার উদ্যোগ ফলপ্রসূ হতে পারে। রোমান্স ও বিনোদন শুভ। যাত্রাপথে সতর্ক থাকুন।কর্কট(২২ জুন-২২ জুলাই)বেকারদের কারও কারও ব্যবসায়িক উদ্যোগ আলোর মুখ দেখতে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য দিনটি বিশেষ শুভ। পাওনা আদায়ে অগ্রগতি হবে। কর্মস্থলে পদস্থ কারও আনুকূল্য পাবেন। দূরের যাত্রায় সতর্ক থাকুন।সিংহ(২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট)ব্যবসায়ে শুভ পরিবর্তন ঘটতে পারে। বেকারদের কারও কারও জন্য দিনটি বিশেষ শুভ। পাওনা আদায় হবে। আজ কারও প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিতে হতে পারে। সৃজনশীল পেশায় সুনাম ছড়িয়ে পড়তে পারে।কন্যা(২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর)বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সুযোগ ফিরে আসতে পারে। বেকারদের অনেকেই আজ নতুন কাজের সন্ধান পাবেন। আজ কারও প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিতে হতে পারে। আর্থিক লেনদেন শুভ।তুলা (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর)দিনটি শুভ হতে পারে সুখবর দিয়ে। চাকরিতে কারও কারও কর্মস্থল পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। পাওনা আদায়ে অন্যের সহযোগিতা পেতে পারেন। রোমান্স ও বিনোদন শুভ। স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।বৃশ্চিক (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর)শিক্ষা কিংবা গবেষণায় অবদানের জন্য সম্মাননা পেতে পারেন। কারও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য আপনার প্রেমিক মনকে উসকে দিতে পারে। পাওনা আদায়ে অন্যের সহযোগিতা পেতে পারেন।ধনু (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর)চাকরিতে কারও কারও বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। পরিবারের বয়স্ক কারও রোগমুক্তি ঘটতে পারে। প্রেমের ঝোড়ো হাওয়া আজ কারও কারও মনকে নাড়া দিতে পারে। সৃজনশীল কাজের জন্য প্রশংসিত হবেন।মকর (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি)বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে বিরাজমান জটিলতার অবসান হতে পারে। আজ কারও কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। দূর থেকে পাওয়া কোনো তথ্য আপনার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সহায়ক হবে। রোমান্স ও বিনোদন শুভ।কুম্ভ(২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি)দিনের শুরুতেই আর্থিক বিষয়ে কোনো সুখবর পেতে পারেন। বেকারদের কেউ কেউ বিদেশযাত্রার প্রচেষ্টায় সফল হতে পারেন। সৃজনশীল পেশায় সুনাম ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রেমে সাফল্যের দেখা পেতে পারেন।মীন (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ)কর্মস্থলে আপনার ওপর বসের সুনজর পড়তে পারে। সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুবাদে বিদেশযাত্রার সুযোগ আসতে পারে। রোমান্স ও বিনোদন শুভ। বাড়িতে আজ বিশিষ্ট মেহমানের আগমন ঘটতে পারে।
6
সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল মেয়র হালিমুল হক মিরুর গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শাহজাদপুর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসানাত। তিনি বলেন, 'বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পুলিশ পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়ির সামনে পাহারায় ছিল। তার বাড়ির সামনে দুপুরে বিক্ষুব্ধরা মিছিল নিয়ে আসলে পুলিশের উপস্থিতিতে এবং পুলিশকে ডিঙ্গিয়ে তিনি নিজের শর্টগান দিয়ে বেশ ক'রাউন্ড গুলি ছোড়েন। যার একটি গুলিতে সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধ হন।' শনিবার শিমুলের জানাজার পূর্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় এমন বক্তব্য দেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, পুলিশের উপস্থিতিতে গুলি করা হলেও তাকে কেন ধরা হলো না। এ ঘটনার পর উপস্থিতদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসানাত কোনো উত্তর না দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন মাইক্রোফোন নিয়ে পৌর মেয়র মিরুকে গ্রেফতারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরে দুপুর ১টার দিকে মুঠোফোনে সমকালের পক্ষ থেকে একই প্রশ্ন করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসানাত বলেন, 'এতবড় একজন লোক, যার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই, তাকে হঠাৎ করে ধরব কি করে?' এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, 'শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসানাত কেন এ ধরনের বক্তব্য দিলেন তা আমি জানি না। তবে বিষয়টি তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে।' জানাজায় শাহজাদপুরের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন আল রাজিব, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজাদ রহমান উপস্থিত ছিলেন।
6
কদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার। বিরাট কোহলি গতকাল রোববার রাতে ঘোষণা দিয়েছেন আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর নেতৃত্বে তিনি থাকছেন না।। বেঙ্গালুরুর পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন কোহলি।ভিডিও বার্তায় কোহলি বলেছেন, 'আজ (রোববার) বিকেলে দলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আইপিএলের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার আগে সবাইকে জানাতে চাই, এটাই অধিনায়ক হিসেবে আরসিবিতে আমার শেষ মৌসুম। আজ (রোববার) বিকেলেই দল পরিচালন কমিটির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই এই সিদ্ধান্তের কথা চিন্তাভাবনা করছিলাম।"কোহলি আরও যোগ করেছেন, 'কিছুদিন আগেই টি-টোয়েন্টিতে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। এতে যেন অনেক বছর আমার ওপরে চেপে থাকা দায়িত্বের ভার কিছুটা কমে। নিজেকে সতেজ রাখতে, মানসিকভাবে ঠিক রাখতে এবং ভবিষ্যতে কী করতে চাই সেটার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'অধিনায়কত্ব ছাড়লেও বেঙ্গালুরু ছাড়ার চিন্তা নেই কোহলির। বলেছেন, 'আইপিএলে আমার শেষ পর্যন্ত নিজেকে আরসিবির একজন শুধুই খেলোয়াড় হিসেবেই দেখতে চাই। আমাকে সমর্থন ও আমার ওপর আস্থা রাখায় সবাইকে ধন্যবাদ।'২০০৮ সালে আইপিএল খেলা শুরু করা কোহলি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুতে আছেন। অধিনায়কত্ব করছেন ২০১৩ থেকে। ১৩২ ম্যাচে জিতেছেন ৬২, হেরেছেন ৬৬ ম্যাচে। অধিনায়ক এমনকি খেলোয়াড় হিসেবেও এখনো কোহলির আইপিএল জেতা হয়নি।
12
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বেতার ভবনের ফুটপাত থেকে অসুস্থ এক প্রতিবন্ধীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার রাতে ৫০ বছর বয়সী খোকন নামের ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স শাখা থেকে জানানো হয়, প্রতিবন্ধী খোকন খুবই অসুস্থ। তার পায়ে পচন ধরেছে, ক্ষতস্থানে পোকা জন্মেছে। পচা শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পুনাকের ফেসবুক পেজে জুবায়ের শামীম নামে এক ব্যক্তির তথ্যের সূত্র ধরে অসুস্থ ওই ব্যক্তির সাহায্যে এগিয়ে আসেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা। তার আন্তরিক অনুরোধে অসুস্থ লোকটির সন্ধান শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত রোববার রাতে বেতার ভবনের সামনের ফুটপাতে তাকে পাওয়া যায়। এরপর শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী সহকর্মীদের নিয়ে খোকনের পরিচর্যা শুরু করেন। পুনাক সভানেত্রীর সহায়তায় তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স শাখার এআইজি সোহেল রানা বলেন, উদ্ধার হওয়া খোকন নিজের সম্পর্কে তেমন তথ্য দিতে পারেননি। শুধু তার এক ছেলে আছে বলে জানাতে পেরেছেন।
6
করোনায় মারা গেলেন শিল্পপতি শেখ মমিন উদ্দিন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শেখ আকিজ উদ্দিনের মেজো ছেলে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মগবাজার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এসএএফ'র কারখানায় প্রথম জানাজা, দুপুর ১১টার দিকে গ্রামের বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার বেজেরডাঙ্গা গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পিতার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এসএএফ'র জেনারেল ম্যানেজার আবুল ইসলাম বলেন, ১২ আগস্ট করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আদ্ব-দীন হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মারা যান। মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৩ মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শেখ মমিন উদ্দিন রাজঘাট জাফরপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। খুলনা বিএল কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করে ইংল্যান্ডে যান। সেখানকার নর্থ হ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেদার টেকনোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। আশির দশকে মোমিন উদ্দিন অভয়নগর উপজেলার তালতলার পরিত্যক্ত এসএএফ চামড়া কারখানার দায়িত্ব নেন। এরপর তিনি রুগ্ন কারখানাটিকে আধুনিকীকরণ করে দেশের শ্রেষ্ঠ চামড়া কারখানায় পরিণত করেন। ২০০৯, ২০১০, ২০১১ সালে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য জাতীয় রফতানি ট্রফি (স্বর্ণ) অর্জন করেন।
6
বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বিভাগের ২১ জন শিক্ষক। সম্প্রতি বিশ্বসেরা গবেষকদের নিয়ে প্রকাশিত এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স ২০২১-এ স্থান পেয়েছে জবির এসকল শিক্ষকরা। এ তালিকায় বাংলাদেশের এক হাজার ৭৮৮ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। তালিকায় স্থান পাওয়া জবি শিক্ষকরা হলেন- কামরুল আলম খান, মোহাম্মদ সায়েদ আলম,সায়েদ তাসনিম তৌওহিদ, শরিফুল আলম,দেলোয়ার হোসাইন, এম এ মামুন, কুতুব উদ্দিন, জুলফিকার মাহমুদ, মোহাম্মদ লোকমান হোসাইন, আতিকুল ইসলাম, মো. নুরে আলম আব্দুল্লাহ, রাজিবুল আকন্দ, মোহাম্মদ আলী, জাহিদ হাসান, এ কে এম লুতফর রহমান, জয়ান্ত কুমার সাহা, মো. আব্দুল বাকী, পরিমাল বালা এবং মো. বায়েজিদ আলী। এর মধ্যে কামরুল আলম খান জবিতে প্রথমসহ বাংলাদেশের মধ্যে ১৭তম স্থানে রয়েছেন। এছাড়া জবির গবেষকদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে সালেহ আহাম্মেদ ও মোহাম্মদ মুশাররফ হোসাইন তৃতীয় স্থানে জায়গায় পেয়েছেন। র্যাংকিংয়ে ১২টি ক্যাটাগরিতে বিশ্বের ২০৬টি দেশের গবেষকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সাত লাখ আট হাজার ৫৬১ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। সায়েন্টিফিক ইনডেক্স গবেষকদের গুগল স্কলারের রিসার্চ প্রোফাইলের বিগত পাঁচ বছরের গবেষণার এইচ ইনডেক্স, আইটেন ইনডেক্স এবং সাইটেশন স্কোরের ভিত্তিতে র্যাংকিংটি প্রকাশ করেছে।
6
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পুলিশ সদস্যের কবজি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় আসামি কবির আহমদের স্ত্রী রুবি আকতারকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের লালারখীল এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান।তবে এ ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি কবির আহমদকে (৩৫) এখনো আটক করা যায়নি। তবে তাঁকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কবির আহমদ উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লালারখীলের আলী হোসেনের ছেলে।গতকাল রোববার সকালে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লালারখীল এলাকায় থানার এসআই ভক্ত চন্দ্র দত্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল একাধিক মামলার আসামি কবির আহমদকে ধরতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি পক্ষের লোকজন ধারালো দা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে পুলিশ কনস্টেবল মো. জনি খানের বাম হাতের কবজি হাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া কনস্টেবল শাহাদত ও মামলার বাদী আবুল হোসেন কালুও আহত হয়। পরে তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে জনির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।আসামির দায়ের কোপে কবজি হারালেন পুলিশপরবর্তীতে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য জনি খানকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে জনি খানের হাত প্রতিস্থাপনের কাজ অপারেশনের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও ভিশনারি নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিস্ময়কর উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বৈঠকে তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন উঁচু পদে বাংলাদেশিদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে জানান।নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব কথা জানান তিনি। বৈঠকের পরে লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।আব্দুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং মানবিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি (গুতেরেস) বাংলাদেশে 'মিরাকল' উন্নয়ন অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশের সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেন, এই সাফল্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশকে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে।আব্দুল মোমেন বলেন, বৈঠকে জাতিসংঘের মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, 'ওয়েলকাম টু ইওর হোম।'পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের বহু অর্জনের পেছনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব রয়েছে, বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব। বিভিন্ন সেক্টরে জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ইউএনডিপির যত প্রকল্প বাংলাদেশে নেওয়া হয়েছে, তার সবগুলোই সম্পন্ন হয়েছে। ইউএনডিপি সাহায্য করেছে, কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু আমরা তাদের পথ দেখিয়েছি, কীভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হয়।'আব্দুল মোমেন বলেন, এগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ভাবন। জাতিসংঘ আমাদের সহায়তা করেছে এবং এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘও গর্বিত হয়েছে যে ভালো কাজে তারা সম্পৃক্ত হয়েছে।জাতিসংঘ বাংলাদেশকে 'সম্মান করে' মন্তব্য করে আব্দুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্সিতে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বিভিন্ন উঁচু পদে বাংলাদেশিদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আন্তোনিও গুতেরেসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বলেছেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন।একই দিনে নিউইয়র্কে নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মাদ সলিহ এবং ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নিউয়েন হুয়ান ফুকের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে তাঁর সরকার ইনস্যুরেন্স ব্যবস্থা চালু করার চিন্তাভাবনা করছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মাদ সলিহর সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে ড. মোমেন বলেন, মালে ও চট্টগ্রামের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চালু করার ব্যাপারে উভয় দেশ কাজ করছে।ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুকের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের তাঁদের নিজ জন্মভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে চাপ দিতে ফুককে অনুরোধ জানান।ব্রিফিংকালে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।
6
পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান 'ওয়ান-ডি' বসছে আজ শনিবার। এর ফলে দৃশ্যমান হবে সেতুর ৪ হাজার ৮০০ মিটার। ইতোমধ্যেই স্প্যানটিকে ভাসমান ক্রেনে তোলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। চলতি বছরের ১০ জুন পদ্মা সেতুতে সর্বশেষ বসানো হয়েছিল ৩১তম স্প্যান। করোনা আর বন্যা পরিস্থিতির কারণে সেতুর অন্যান্য কাজ চললেও এরপর আর বসানো হয়নি নতুন কোনো স্প্যান। তবে বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি কেটে যাওয়ায় পদ্মায় পানির উচ্চতা কমতে শুরু করেছে, আর এদিকে চীন থেকেও ফিরে এসেছেন বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা। তাই সেতুর ৩২তম স্প্যান বসানোর জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। আজ শনিবার বসতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান 'ওয়ান-ডি'। এর ফলে দৃশ্যমান হবে সেতুর ৪ হাজার ৮০০ মিটার। তিনি জানান, পানি কমেছে, তবে পদ্মায় এখন অনেক ঢেউ। আবহাওয়া অনুক,লে থাকলে ১০ অক্টোবর ৩২তম স্প্যানটি বসানোর প্রস্তুতি রয়েছে। সেতুর ৪-৫নং পিয়ারে স্প্যানটি বসানো হবে। স্প্যান ভাসমান ক্রেনে তোলা হয়েছে। বাসানোর দিন পিলারের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। সেতুসংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, ওয়ান-ডি ছাড়াও স্প্যান 'ওয়ান-এ', 'ওয়ান-বি' ও 'ওয়ান-সি' সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। পরবর্তী ৪টি স্প্যান পিয়ার ১-২, ২-৩, ৩-৪ ও ৪-৫নং-এ বসানো হবে। আর ডিসেম্বরে ৩২তমসহ বাকি ১০টি স্প্যান পিয়ারের উপর বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ৩১টি স্প্যান। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৪ হাজার ৬৫০ মিটার। প্রতিটি স্পেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। ৪২টি পিলারের উপর ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সব কয়েকটি পিলার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) এবং নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে পদ্মা সেতু।
6
হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান। হোটেল বয় থেকে ফ্রিডম পার্টির দুর্ধর্ষ ক্যাডার বনে যান তিনি। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা এক মামলায় আসামিও হন তিনি। এছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় ১৯৯৬ সালে ইউনূস হত্যা, ২০১৬ সালে সাভার থানায় জোড়া হত্যা মামলা রয়েছে এই মিজানের বিরুদ্ধে। মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পে মাদক নিয়ন্ত্রণকারী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি পরিচিত। অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া মিজান বহুবার গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ফ্রিডম পার্টির সদস্য কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা চালায় একটি চক্র। তারা সেখানে গুলি করে এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় শেখ হাসিনা বাড়ির ভেতর অবস্থান করছিলেন। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীরাও পাল্টা গুলি চালান। একপর্যায়ে হামলাকারীরা চলে যায়। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা হয়। ১৯৯৭ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলার অভিযোগপত্র দেয়। এতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ ফারুক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুর রশিদ ও মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) বজলুল হুদা এবং নাজমুল মাকসুদ মুরাদসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজানকে হামলার পরিকল্পনাকারীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিজানের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাও ছিলেন হামলাকারী দলের সদস্য। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
6
প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি জঘন্য অপরাধ; যারা এই কাজে জড়িত তাদের প্রতি নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে উচ্চ আদালত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় ফাতেমা খাতুনের জামিন বিষয়ে রুল খারিজ করে আজ রায় দিয়েছে হাইকোর্ট বিভাগ। বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো: ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ রায় দেন। এ সময় আদালত বলে, প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি জঘন্য অপরাধ, যারা এই কাজে জড়িত তাদের প্রতি নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আদালত আরো বলে, প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের জামিন দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। তাদের জেলে থাকতে হবে। আদালতে ফাতেমার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদের জন্য ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের পুরঃকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো: আব্দুর রউফ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়। সেই নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে গেলে তিনি ফোনে ছাত্রলীগের নেতা তরিকুলকে জানান যে, এম আবদুস সালাম আজাদ কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অনুমোদন পাননি। এরপর তরিকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বের করে ফরহাদ নামে একজনের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। সেই নথিতে ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া টিক চিহ্নটি 'টেম্পারিং' করে সেখানে ক্রস চিহ্ন দেন তরিকুল। একইভাবে অধ্যাপক মো: আব্দুর রউফের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নামে পাশে টিক চিহ্ন দেন তিনি। পরে নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ওই নথি হস্তান্তরের আগে ফাতেমা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন এবং আরেক দফায় তার ছেলের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেন বলে মামলায় বলা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৫ মে এ ঘটনায় মামলা করেন। এ মামলায় ফাতেমা হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানি নিয়ে তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে। ওই রুলের শুনানি শেষে আজ রুলটি খারিজ করে রায় দেয় হাইকোর্ট বিভাগ। সূত্র : বাসস
6
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্যাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা করোনা সংক্রমণরোধে জনসচেতনতাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সিভিল সার্জন জানান, দুইদিন আগে পুলিশ সুপার তার নমুনা দেন। সোমবার রাতে ঢাকা থেকে জানানো হয়েছে তিনি করোনা পজিটিভ। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রওনা হয়েছেন। উল্লেখ্য, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম ২০ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডার পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন।
6
তাহিরপুরে পোষা বিড়ালের সন্ধান চেয়ে অটোরিকশায় করে এলাকাজুড়ে মাইকিং করেছেন এক জার্মান নারী। শুক্রবার দিনব্যাপী তাহিরপুর বাজারে ওই মাইকিং চলে। এ সময় পোষা বিড়াল 'লিও' ও জার্মান নারী জুলিয়া ওয়াসিমানের কথোপকথনের রেকর্ড প্রচার করা হয়, যেন তা শুনে লিও মাইকের কাছে চলে আসতে পারে। পোষা বিড়ালের সন্ধান চেয়ে অটোরিকশায় করে মাইকিং-সমকাল রতনশ্রী গ্রামের শিবলী আহমদ বলেন, 'মাস খানেক আগে টাংগুয়ার হাওরে ঘুরতে আসেন জার্মান নারী জুলিয়া ওয়াসিমান। সঙ্গে ছিল তার পোষা বিড়াল 'লিও'। হাওর থেকে ফেরার সময় তাহিরপুর মেশিনবাড়ি ট্রলার ঘাট থেকে বিড়ালটি হারিয়ে যায়। সেই থেকে দেড় মাস তাহিরপুরে জার্মান নারী জুলিয়া ওয়াসিমান। তাহিরপুর বাজারের লন্ড্রি ব্যবসায়ী শ্রীদাম বর্মন বলেন, পোষা বিড়ালের প্রতি জার্মান নারীর ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। ওই নারী বাংলায় কথা বলতে পারেন। তিনি বলেছেন, কেউ 'লিও'র সন্ধান দিতে পারলে তাকে তিনি পুরস্কৃত করবেন। টাঙ্গুয়ার হাওরের ট্যুরিস্ট গাইড সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, 'জুলিয়া ওয়াসিমানের পাশাপাশি আমরাও বিড়ালটির সন্ধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'
6
কথা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। ভিন্ন হওয়ার জন্য তাকে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে। কিন্তু নতুন রাষ্ট্র খুব যে ভিন্ন হয়েছে, এমন বলা যাবে না। যেমন ধরা যাক সামরিক অভ্যুত্থানের ব্যাপারটা। আশা ছিল ওই জিনিস স্বাধীন বাংলাদেশে আর দেখতে হবে না। কিন্তু সেনা-অভ্যুত্থান বিলক্ষণ দেখা দিয়েছে। ভয়ংকরভাবেই এবং একবার নয়, কয়েকবার। আশা ছিল বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর আকারটা হবে সীমিত। সে আশা পূরণ হয়নি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তো একটানা নয় বছরই শাসন করে গেলেন এবং শাসনের ওই জের ধরে রাজনীতিতে বেশ ভালোভাবেই টিকে ছিলেন। সেনাবাহিনীর আকার এবং তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা ক্রমাগত বেড়েছে। এখনো বাড়ছে।রাষ্ট্রের যে আমলাতান্ত্রিক চরিত্র সেটাকে রক্ষার জন্যই এমনটা ঘটছে। একই সঙ্গে এবং একই কারণে পুলিশের ক্ষমতাও অব্যাহত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণের টাকাতেই জনগণকে দমন ও ক্ষমতাকে পাহারাদানের জন্যই এ ব্যবস্থা। পাকিস্তানে ব্রিটিশের তৈরি ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনের অধিকাংশই বহাল ছিল। ওই সব আইন ব্রিটিশরা যদৃচ্ছা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করত, নিজেদের স্বার্থে, পাকিস্তানেও তারা প্রযুক্ত হয়েছে শাসকদের স্বার্থেই। বাংলাদেশে সেসব আইনকানুন পরিত্যক্ত হয়নি। উল্টো তার প্রয়োগ আরও কঠোর হয়েছে।দেখা গেছে যেসব সরকার জনসমর্থনের ওপর ভরসা করতে ব্যর্থ হয়ে আমলাতন্ত্র ও বিভিন্ন বাহিনীর ওপর ভর করেছে, সেসব সরকার মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে বিরোধী পক্ষের বুকে ভীতির সঞ্চারে তৎপর থেকেছে। আইনকানুনের সংখ্যাও বেড়েছে। আইনমন্ত্রী ১ হাজার ২৮টি চালু বিধির কথা বলেছেন, যা ধারণ করতে ৪২ খণ্ড বই প্রয়োজন হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ। আইন ও বিধি অনেক, কিন্তু বিচারের গতি গজেন্দ্রগামী। অথচ প্রতিটি মামলার পেছনেই তো ভুক্তভোগী ও বঞ্চিতদের প্রত্যাশা রয়েছে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির। আর কত মানুষ যে মামলা করেনি, সামর্থ্য নেই, সাহস নেই মামলা করার, তার তো হিসাবই করাযাবে না।ব্রিটিশ শাসকেরা পুলিশের জন্য আইন চালু করেছিল ১৮৬১ সালে; সেই আইনই রয়ে গেছে। তবে প্রকৃতিতে তারা আরও কঠোর এবং প্রয়োগে আরও নিষ্ঠুর হয়েছে। রিমান্ড আগেও ছিল, কিন্তু সেই বস্তুকে যেভাবে ও যে পরিমাণে এখন কাজে লাগানো হচ্ছে, পুলিশ যেভাবে চাইছে সেভাবে রিমান্ডে নিয়ে যাচ্ছে ও পীড়ন করছে-এমনটা পরাধীনতার যুগেও দেখা যায়নি। পুলিশ সম্বন্ধে ধারণা ছিল, 'ধরে আনতে বললে বেঁধে নিয়ে আসে'। আর এখন কেবল বেঁধে নয়, পেটাতে পেটাতে আনে। নির্যাতনে দক্ষতা দেখাতে পারলে চাকরিতে উন্নতি ঘটে, ঘুষ পাওয়াও সম্ভব হয়। পুলিশের ছোঁয়া তাই অন্য বহু ছোঁয়ার তুলনাতেই ভয়ংকর। কারাগারের জন্য জেল কোড তৈরি হয়েছিল ১৮৬৪ সালে, সেই কোড এখন যদি মানা হতো তাহলে কারাবন্দীরা বরং খুশিই হতো। তাদের জন্য খুশি হওয়ার কোনো কারণ ও সুযোগ নেই। জেলের ভেতরটা ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে বলেই জানছি আমরা। বাংলাদেশের সংবিধান যখন লেখা হয়, তখন স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট দরকার পড়বে, এমনটা মনে করা হয়নি; যে জন্য সংবিধানে তার কোনো বিধান ছিল না। ১৯৭৪ সালে সেই অ্যাক্ট জারি করা হলে লোকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করেছে। অস্বস্তিতে। ১৯৯১ সালে, অর্থাৎ এরশাদ-শাসনের পতনের পরে ওই আইনে কিছু সংশোধন আনা হয়, ২০১৮ সালে শোনা গেল সংশোধনীর খবর পুলিশ রাখে না, যে জন্য বাতিল হয়ে যাওয়া ধারাতেও হরহামেশা মামলা দেওয়া চলছে। ধারার ধার ধারাটা গৌণ, মামলা দেওয়াটাই মুখ্য। ১৯৭২ সালের ৩ আগস্ট ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা সংশোধন করে আদেশ জারি করা হয়েছিল যে আদালতের নির্দেশ ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না; অধুনা সন্দেহ হলেই আটক করা যাচ্ছে। রাষ্ট্র মোটেই নরম হয়নি, তার ওপর জনগণের কর্তৃত্বের প্রতিষ্ঠা ঘটেনি; শাসন বিভাগই ক্ষমতাধর, বিচার বিভাগ কোণঠাসা; আইন পরিষদ শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে না, শাসন বিভাগের ইচ্ছাপূরণ করে। উচ্চ আদালতের বিচারকেরা কেউ কেউ ঘোষিতভাবে বিব্রত বোধ করেন, কেউ কেউ হয়তো সেটা প্রকাশ করেন না, কিন্তু অস্বস্তিতে থাকেন।বাংলাদেশ রাষ্ট্রে এখন অনেক কিছুরই অভাব। খুব বড় অভাব নিরাপত্তার। মানুষ সড়কে মারা পড়ে, মেয়েরা যেখানে-সেখানে ধর্ষিত হয়। অসহায় মানুষেরা কেউ কেউ আত্মহত্যা করে; অন্যরা হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ করে বসে থাকে, বাস্তব অবস্থা ভোলার জন্য অনেকে মাদকে ঝোঁকে। মাদক এখন যত্রতত্র পাওয়া যাচ্ছে। খুন এখন নিত্যনৈমিত্তিক। যখন-তখন গুমও হচ্ছে লোকে। অপরাধ অত্যন্ত ব্যাপক, দুর্নীতি সর্বত্র। অপরাধতত্ত্ব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন একটি বিভাগ খোলা হয়েছে এবং ওই বিষয়ে পাঠ গ্রহণের উপযোগিতা ও আগ্রহ দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ বিভাগ চালু হয়েছে। অপরাধ সব সময়ই ছিল, কিন্তু এর ব্যাপকতা, বৈচিত্র্য, গভীরতা ইত্যাদি পুঁজিবাদের বিশেষ অবদান, যে জন্য আমেরিকায় অপরাধের সংখ্যা এত বেশি। সেখানে আইন ব্যবসারও ভীষণ প্রসার। আইনজীবীরা প্রস্তুত থাকেন মামলা লুফে নিতে এবং আদালতে যেতে, উৎসাহ দিতে। সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ায় অপরাধ আপাত বিস্ময়কররূপে কমে গিয়েছিল, এখন সেখানে পুঁজিবাদ এসেছে, তাই অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। থেকে থেকে দাবি ওঠে আইনের শাসনের। আসলে যা প্রয়োজন তা কেবল আইনের শাসন নয়, ন্যায়বিচার। ন্যায়বিচারের জন্য রাষ্ট্রের শাসন বিভাগের ক্ষমতা কমানো চাই; সেই সঙ্গে আবশ্যক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সর্বস্তরে জনপ্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠা। সর্বোপরি চাই জবাবদিহির ব্যবস্থা করা। অপরাধ বৃদ্ধির বড় কারণ হচ্ছে জবাবদিহির অভাব। অপরাধ করলে শাস্তি হবে না, এই জ্ঞান নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত উপকারী।পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অধীনে এখন সর্বক্ষেত্রে চলছে মুনাফার লোলুপতা। মুনাফাই হচ্ছে চালিকা শক্তি। মুনাফার শাসন সবকিছুকে পণ্যে পরিণত করে ফেলতে চাইছে। বিচারও কেনাবেচার অধীনে চলে গেছে। সন্দেহ নেই যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এখন চরম রূপ ধারণ করেছে। তার মুখে মুখোশ নেই, তার মুখশ্রীটা ভয়াবহ।মুক্তির উপায় হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে মানুষের সঙ্গে মানুষের অধিকার ও সুযোগের সাম্য প্রতিষ্ঠা ঘটানো। সেটা সম্ভব সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়। সেই ব্যবস্থার ব্যক্তিমালিকানার জায়গায় প্রতিষ্ঠা ঘটবে সামাজিক মালিকানার; উৎপাদনের শক্তি অবারিত হবে এবং উৎপাদিত সম্পদে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে। অভাব থাকবে না, প্রয়োজন হবে না ব্যক্তিগত সঞ্চয় গড়ে তোলার। ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষ, দেয়াল তোলাতুলি ইত্যাদির অবসান ঘটবে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটা বিরোধের থাকবে না, হবে মৈত্রীর। অবাধ সৃষ্টিশীলতার এবং সুস্থ বিনোদনের অবকাশ পাওয়া যাবে। তখন রাষ্ট্রের ভূমিকা ও ক্ষমতা দুটোই কমে যাবে। মানুষের অপরাধের প্রবণতা ভেতর থেকেই হ্রাস পাবে। রাষ্ট্রের তিন বাহুর কোনো বাহুই অত্যাবশ্যক থাকবে না।বিশ্বব্যাপী এখন ওই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে। অভিজ্ঞতা শিখিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা কোনো এক দেশে প্রতিষ্ঠিত হলে স্থায়ী হয় না; অন্য সব দেশ থেকে আঘাত ও অন্তর্ঘাত আসে। সে জন্য বিশ্বব্যাপী তার প্রতিষ্ঠা চাই। কিন্তু সেটা তো এখনই ঘটছে না। ইতিমধ্যে যা প্রয়োজন তা হলো রাষ্ট্রের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা। সে লক্ষ্যে শাসন বিভাগের বিপরীতে বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও সাহসী অবস্থানে দাঁড় করানো দরকার। আর চাই আইন পরিষদের কাছে শাসন বিভাগের জবাবদিহি। এটা করতে পারলে আদালত ও বিচারব্যবস্থার প্রতি লোকের আস্থা বাড়বে। লোকে কপাল চাপড়ে আধমরা হয়ে পড়ে থাকবে না, আবার হিংস্র হয়ে আইনকে নিজের হাতে তুলেও নেবে না। আইন বিভাগ শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখলে কথিত আইনের শাসনের ব্যাপারে আশার সৃষ্টি হবে। এ কাজটি মোটেই সহজ নয়। শাসন বিভাগ বাধা দেবে। একটা উপায় বিচার বিভাগের কার্যকারিতার পক্ষে এবং তার কর্মক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা। পাশাপাশি চাই আইন পরিষদকে কার্যকর করা।এ ক্ষেত্রে মিডিয়া খুব প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। মিডিয়া অবশ্য এগিয়ে আসতে চাইবে না, এর জন্যও আন্দোলন দরকার হবে। বস্তুত আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। শাসন বিভাগের জবাবদিহি আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ উভয়ের কাছেই হওয়ার কথা। বিচার বিভাগ আইন পরিষদে গৃহীত আইনের ব্যাখ্যা, আইনের উদ্দেশ্য, তার অপর্যাপ্ততা, আইনকে ন্যায়বিচারমুখী করা-এসব কাজে দায়িত্ব পালন করবে। করাটা প্রত্যাশিতও। কিন্তু সেটা ঘটে না। বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবে-এমন আশা দুরাশা বৈ নয়। তবু এরই মধ্যে আন্দোলন দরকার নির্বাচনে যাতে জনমত প্রতিফলিত হয় এবং শাসন বিভাগ যাতে সেই জনমতকে গ্রাহ্য করে তার জন্য। আন্দোলনের জন্য আন্দোলন নয়, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আন্দোলন।সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
6
করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। এরই মধ্যে শচিন টেন্ডুলকার ৫০ লাখ, সুরেশ রায়না ৫২ লাখ, অজিঙ্কা রাহানে ১০ লাখ, এমনকি ১৬ বছরের রিচা ঘোষও দিয়েছেন ১ লাখ টাকার অনুদান। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিতই সচেতনতামূলক বার্তা দিচ্ছিছেন ভারতের বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তবে তার কোনো অনুদানের খবর পাওয়া যাচ্ছিল না সংবাদমাধ্যমে। এর ফলে সমালোচকরা পেয়ে বসেছিল দারুণ এক সুযোগ। অবশেষ সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে করোনা ফান্ডে অনুদান দেয়ার কথা জানিয়েছেন কোহলি। তিনি একা নন, স্ত্রী আনুশকা শর্মার সঙ্গে মিলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর করোনা ফান্ডে দান করার কথা জানিয়েছেন কোহলি। টুইটারে তিনি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আমি এবং আনুশকা নিজেদের সমর্থন জানাচ্ছি। সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখে মন ভেঙে যাচ্ছে আমাদের। আশা করি, আমাদের এই অনুদান কোনোভাবে দেশের মানুষের কষ্ট দূর করতে কাজে আসবে। ভারত লড়ছে করোনার বিরুদ্ধে। কোহলির এ টুইট দেখে বোঝার উপায় ছিলো না, ঠিক কত টাকা দান করেছেন তারা দুজন মিলে। একপক্ষ বাহবা দিচ্ছিল দানের অঙ্ক প্রকাশ না করায় আবার আরেকপক্ষ বলছিল, অল্প পরিমাণে দান করায় সেটি প্রকাশ করেননি কোহলি। ভারতের বলিউডভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী দুজন মিলে ৩ কোটি টাকা দিয়েছেন করোনা ফান্ডে। তবে সঙ্গতকারণেই সেটি প্রকাশ করেননি কোহলি ও আনুশকা।
12
ষষ্ঠবারের মতো উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল মুভমেন্টের (এনআরএম) নেতা ইওয়েরি মুসেভেনি। আজ শনিবার পূর্ব আফ্রিকার দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান সিমন বাইবাকামা ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ৫৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৭ জন ভোটার ৭৬ বছর বয়সী মুসেভেনিকে ভোট দিয়েছেন। যা মোট ভোটের ৫৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পপ স্টার কিগুলানাই ববি ওয়াইন নামে বেশি পরিচিত। বিরোধী দলের এ নেতা বলেন, বুধবার দেশটির সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা এবং সবধরনের সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করে দেয়। আমার বিশ্বাস, ভোট কেন্দ্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটের ফলাফল যাতে বাইরে না যায় এবং কারচুপি করার জন্য এ ব্যবস্থা নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। ৩৮ বছর বয়সী ওয়াইন বলেন, সেনাবাহিনী এবং পুলিশ বেশকিছু জায়গায় ভোটারদের সিল মারা ব্যালট সরবরাহ করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী মুসেভেনিকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রভাবিত করেছে। ভোটদানে মুসেভেনির বাহিনী বিঘ্ন ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ তার। 'আমরা দাবির সপক্ষে তথ্য প্রমাণ জোগাড় করেছি। সারাদেশে ইন্টারনেট পরিষেবা চালে হলে এসব প্রকাশ করা হবে।' বলেন ওয়াইন। ওয়াইনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সেনাবাহিনী। বাহিনীর মুখপাত্র ডিও আকিকি বলেন, মিথ্যা দাবির মাধ্যমে উগান্ডার ডিফেন্স বাহিনীকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে চারটায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিজয়ী প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণার বিধান রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
3
করোনা ভাইরাস যতই ভয়াবহ রূপ ধারণ করুক, মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তান ঘোষণা দিয়েছে সে দেশে মাস্ক পরা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, কেউ করোনা ভাইরাসের নাম উচ্চারণ করলেই তাকে জেলে যেতে হবে। এমনকি স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন নথি, স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে করোনা ভাইরাসের নাম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। তারা ঘোষণা দিয়েছে তাদের দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি নেই। এক সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত মধ্য এশিয়ার এ দেশটির পাশেই অবস্থান ইরানের। ইরানে করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে সাড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের। তবে ইরানের পাশে অবস্থান সত্তেও করোনা ভাইরাসের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করেছে তুর্কমেনিস্তান প্রশাসন। তাই ভয়ানক ভাইরাস করোনার নাম ব্যবহারেও জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সারাবিশ্ব করোনা প্রতিরোধে নিয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এর মধ্যে জনসাধারণের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে অধিকাংশ দেশ। আর তুর্কমেনিস্তানে মাস্ক পরা কাউকে রাস্তায় দেখলেই গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। প্যারিসে বসবাসকারী তুর্কমেনিস্তানের সাংবাদিকরা জানান, করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন তাদেরই পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। একই শাস্তি জুটবে যারা করোনা শব্দটি উচ্চারণ করবে তাদের ভাগ্যেও। ফলে জ্বর, সর্দি-কাশি হলেও প্রশাসনের ভয়ে কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন না। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স ২০১৯ তালিকা অনুযায়ী তুর্কমেনিস্তানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার নিচে। গ্যাস সমৃদ্ধ তুর্কমেনিস্তানে কার্যত চলছে স্বৈরশাসন। তুর্কমেনিস্তান প্রেসিডেন্ট গুরবাঙ্গুলি বেরদিমুখামেদভ ২০০৬ সাল থেকে দেশটি শাসন করছেন। সে দেশে প্রেসিডেন্টকে 'আরকাদক' বলে মনে করা হয়, বাংলায় যার অর্থ- রক্ষক।
3
ঝিনাইদহে আপত্তিকর অবস্থায় নারী ও পুরুষসহ দুই টিকটক মডেলকে আটক করেছে পুলিশ। তারা দুইজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক। গতকাল বুধবার (২ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৯ টার দিকে আদর্শপাড়ার মহিলা কলেজ পাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরাহলেন- পবহাটি গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের মেয়ে টিকটকমডেল তুলি ও আদর্শ পাড়ার তৌফিকুর রহমানের ছেলে মডেল আশিকুর। আশিকুরের বাড়িতে স্ত্রী রয়েছে। অন্যদিকে, তুলি লাইকি ও টিকটকে মডেলিংয়ের ভিডিও শেয়ারিং করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি একটি ভিডিও দেখে টিকটক-লাইকি মডেল তুলি সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তাছাড়া ঝিনাইদহে পরিচিত অনেকেই মডেল তুলির চলাফেরা ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে নানা রকম অভিযোগ করেছেন। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত
6
আতঙ্ক মানুষের যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিলোপ ঘটায় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখলেও ততটা প্রাণঘাতী নয়। এ ভাইরাসে আক্রান্ত সিংহভাগ মানুষই কয়েকদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেন। তাই আতঙ্কিত হবেন না। কেননা, আতঙ্ক মানুষের যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিলোপ ঘটায়। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, এই ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপদেশ আমাদের মেনে চলতে হবে। আমাদের যতদূর সম্ভব মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। যারা করোনাভাইরাস-আক্রান্ত দেশ থেকে স্বদেশে ফিরেছেন, সেসব প্রবাসী ভাইবোনদের কাছে অনুরোধ - আপনাদের হোম কোয়ারেন্টাইন বা বাড়িতে সঙ্গ-নিরোধসহ যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন। মাত্র ১৪ দিন আলাদা থাকুন। আপনার পরিবার, পাড়াপ্রতিবেশি, এলাকাবাসী এবং সর্বোপরি দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন। কয়েকটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সহজ হবে। ঘনঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। হাঁচি-কাশি দিতে হলে রুমাল বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নিবেন। যেখানে-সেখানে কফ-থুথু ফেলবেন না। করমর্দন বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। যতদূর সম্ভব ঘরে থাকবেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। বাইরে জরুরি কাজ সেরে বাড়িতে থাকুন। মুসলমান ভাইয়েরা ঘরেই নামাজ আদায় করুন এবং অন্যান্য ধর্মের ভাইবোনদেরও ঘরে বসে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আই.ই.ডি.সি.আর-এর হটলাইন নম্বর খোলা হয়েছে। এছাড়া সোসাইটি অব ডক্টরস তাদের ৫০০টি নম্বর উন্মুক্ত করে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ঐসব নম্বরে যোগাযোগ করুন। সরকার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখলেও ততটা প্রাণঘাতী নয়। এ ভাইরাসে আক্রান্ত সিংহভাগ মানুষই কয়েকদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেন। তবে, আগে থেকেই নানা রোগে আক্রান্ত এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য এই ভাইরাস বেশ প্রাণ-সংহারী হয়ে উঠেছে। সে জন্য আপনার পরিবারের সবচেয়ে সংবেদনশীল মানুষটির প্রতি বেশি নজর দিন। তাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন। তাকে ভাইরাসমুক্ত রাখার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করুন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় খেয়াল রাখুন আপনি, আপনার পরিবারের সদস্যগণ এবং আপনার প্রতিবেশিরা যেন করোনায় সংক্রমিত না হন। আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে এবং সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
6
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ ও স্বামীকে বলাৎকার করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে ৫০ হাজার টাকা দাবির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জগদল দক্ষিণ গোয়ালপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৪ আসামিকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। সোমবার (১২ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় ৩ জনের নামে পর্নোগ্রাফি আইনে ও ১ জনের নামে নারী শিশু নির্যাতন আইনে (ধর্ষণ) দুটি মামলা দায়ের করেছে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী। এদিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার ওই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মেডিকেল পরীক্ষা শেষে হাসাপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলায় আটক আসামিরা হলেন, জগদল দক্ষিণ গোয়ালপাড়া এলাকার ধর্ষক জয়নুল হক (২৫), রনি ইসলাম (২৪), নুর হোসেন (২১) এবং শাহিন হোসেন (২১)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাতে চা বাগানের চা পাতা কাটার কথা বলে ওই গৃহবধূর স্বামীকে ডেকে নিয়ে যায় একই এলাকার জয়নুল, রনি, নুর হোসেন ও শাহিন নামে যুবক। পরে তারা চা বাগানের কাছে গেলে ওই গৃহবধূর স্বামীর পরনের লুঙ্গিসহ কাপড়-চোপড় খুলে নিয়ে উলঙ্গ করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ওই চারজন। টাকা না দিলে এলাকায় ও ইন্টারনেটে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা। ওই গৃহবধূর স্বামী টাকা দিতে অস্বীকার করলে জয়নুল, রনি, নূর হোসেন ও শাহীন একে একে তাকে বলাৎকার করে। পরে জয়নুল ভূক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ কিছু টাকা পয়সা লুটপাট করে। পরে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ চেতন হলে তাকে বিভিন্ন রকম ভয় ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় জয়নুল। এদিকে সকালে পরিবারের লোকজন ভূক্তভোগীকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করলে বাড়ি থেকে বেশকিছু দূরে তাকে দেখতে পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদেরকে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। এদিকে ওই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূও ধর্ষণের বিষয়টি তার স্বামীকে জানায়। পরে স্থানীয়রা ওই ৪ যুবককে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাছ আহম্মেদ জানান, এ ঘটনায় ওই চারজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় নুর হোসেন, রনি ও শাহিন নামে তিন যুবকের নামে পর্নোগ্রাফি আইনে ও জয়নুলের নামে নারী শিশু নির্যাতন আইনে (ধর্ষণ) দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
6
যতই 'শক্তি' প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন, ততই একের পর এক দুঃসংবাদ পাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে নিজের দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) অনেক এমপি বিদ্রোহ করেছেন। তাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তারা সেই নোটিশের জবাবও দিয়েছেন। ভোট দানে বিরত থাকবেন না বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। আবার ইমরান খানকেও ভোট দেবেন না- এ কথাও বলে দিয়েছেন তারা। এরই মধ্যে নতুন খবর হল- ইমরান খান যখন 'ইতিহাস গড়ার' ডাক দিয়েছেন, তখন শোনা গেল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপরিষদে ইমরানের বেলুচিস্তান পুনরেকত্রীকরণ বিষয়ক বিশেষ সহকারি পদত্যাগ করেছেন। তিনি হলেন জামুরি ওয়াতান পার্টির নেতা শাহজান বুগতি। রবিবার সকালে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বেলুচিস্তানের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। তার ভাষায়- কেন্দ্রীয় সরকার আমাদেরকে আশা দেখিয়েছিল। কিন্তু কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো মানুষজন হতাশ হয়েছে। তাই আমরা পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা এক্ষেত্রে যতটা পারি করব। এ সময় নিজের হতাশার কথা তুলে ধরেন শাহজান বুগতি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম ক্ষমতায় এলেন যখন তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দক্ষিণ বেলুচিস্তান ও অনুন্নত এলাকাগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেবেন। কিন্তু তিনি তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। নিজেদের অবজ্ঞার জন্য পিটিআই সরকারের সময়ে তাদের দলেই বিদ্রোহ বেড়েছে। দেয়ালে নিজের মাথা ঠোকা ছাড়া সবকিছুই করার চেষ্টা করেছি আমি। সূত্র: দ্য নিউজ পিকে বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ক্যাম্পাসে মূল ভবনের পাশের রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছিল সেখানে বসবাসকারী লোকজন। ময়লা-আবর্জনার বিষয়টি নিয়ে আজকের পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরও বন্ধ হয় না ময়লা-আবর্জনা ফেলা।বুয়েট কর্তৃপক্ষ অবশেষে রাস্তার ফুটপাতের পাশে যেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়, সেখানে গাছের চারা রোপণ করেছে। প্রায় ৩০০ গজের মতো রাস্তায় গাছের চারা রোপণ করা হয়। এখন আর সেখানে কেউ ময়লা ফেলছে না। দেয়ালে সতর্কতামূলক একটি ব্যানার সাঁটানো হয়েছে।জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ফোরকান উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ফুটপাত ও রাস্তায় যাতে কেউ ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে জন্য সেখানে গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এগুলো দেখভাল করার জন্য নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁরা সার্বক্ষণিক এসব চারা দেখে রাখছেন। একই সঙ্গে দেয়ালে ব্যানারটা দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ ময়লা-আবর্জনা রাস্তার মধ্যে না ফেলে।আজিমপুর কলোনির বাসিন্দা ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক কর্মচারী জানান, বুয়েটের রাস্তা দিয়ে হেঁটে তিনি প্রতিদিনই অফিসে আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে সেখান দিয়ে চলাচল করা তাঁদের জন্য খুবই কষ্টের বিষয় ছিল। তবে গাছের চারা রোপণ করায় এখন আর কেউ সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলছে না। গত দুই দিন ধরে এই চিত্র দেখে তিনিও আনন্দিত।
6
নিখোঁজের ৯ বছর পর বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন মির্জা আব্বাস। ইলিয়াস আলীর 'গুমের' পেছনে দলের ভেতরে থাকা কয়েকজন নেতাকে দুষলেন তিনি। ওই সব নেতার নাম উল্লেখ না করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বললেন, দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই ব্যক্তিদের অনেকেই চেনেন। আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেনি বলে জানান তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা এবং সাবেক সাংসদ ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আজ শনিবার বিকেলে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস এসব কথা বলেন। সিলেট বিভাগ জাতীয়তাবাদী সংহতি সম্মেলনী-ঢাকার উদ্যোগে ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। এত দিন বিএনপি অভিযোগ করে আসছিল, তাঁকে সরকারই 'গুম' করে রেখেছে। তাঁর সন্ধানের দাবিতে সে সময় সিলেটের বিশ্বনাথে সপ্তাহব্যাপী হরতাল পালিত হয়। ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া প্রসঙ্গে দলের মহাসচিবের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, 'ইলিয়াস গুম হওয়ার আগের রাতে দলীয় অফিসে কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয় মারাত্মক রকমের। ইলিয়াস খুব গালিগালাজ করেছিলেন তাঁকে। সেই যে পেছন থেকে দংশন করা সাপগুলো, আমার দলে এখনো রয়ে গেছে। যদি এদের দল থেকে বিতাড়িত না করেন, তাহলে কোনো পরিস্থিতিতেই দল সামনে এগোতে পারবে না।' ইলিয়াস আলীর গুমের খবর ওই দিন রাত দেড়টা থেকে পৌনে দুইটায় পেয়েছিলেন জানিয়ে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস বলেন, 'গুমের সংবাদ পাওয়ার পর পরিচিত যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, ইলিয়াস আলীকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং যে পুলিশ কর্তকর্তাদের সামনে তাঁকে নেওয়া হলো, সেই পুলিশ কর্মকর্তাদের আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এই খবর আপনারা কেউ জানেন না। পুলিশের গাড়িতে যে কজন কর্মকর্তা ছিলেন, তাঁদের আজও পাওয়া যায়নি। যেমন ইলিয়াস আলীর চালককেও পাওয়া যায়নি। তাহলে এই কাজটা করল কে?' মির্জা আব্বাস আরও বলেন, 'আমি জানি আওয়ামী লীগ সরকার গুম করেনি। তাহলে গুমটা করল কে? এই সরকারের কাছে এটা আমি জানতে চাই। একজন জলজ্যান্ত তাজা রাজনৈতিক নেতা গুম হয়ে গেল দেশের অভ্যন্তর থেকে। আমাদের একজন নেতাকে দেশ থেকে পাচার করে নিয়ে গেল, সালাউদ্দিনকে। আমাদের চৌধুরী আলমকে গুম করে দেওয়া হলো। আমাদের কত ছেলেদের গুম করে দেওয়া হলো, বুঝলাম এই সরকার করে নাই। করল কারা? যারা করল, তাদের কি বিচার হতে পারে না? যারা করেছে, তারা এই দেশের স্বাধীনতা চায় নাই? তারা স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব দেশে থাকতে দেবে না।'
9
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এবার যাঁরা হজে যেতে চান, তাঁদের এখনই প্রস্তুতি শুরু করা দরকার। অন্তত মানসিক প্রস্তুতি। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া যায়।হজে যেতে চাইলে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকাসহ নিবন্ধন করতে হবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য সময় পাওয়া যাবে ১০ জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে।এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যেতে পারবেন।ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও পরিচালক হজ মো. মিজানুর রহমান জানালেন, এবার হজে যেতে চাইলে নিজ উদ্যোগে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) তৈরি করতে হবে। সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেভাবেই যান না কেন, কোথায় এবং কীভাবে থাকবেন, তা আগেই জেনে নেওয়া জরুরি। হজ প্যাকেজে সৌদি আরবে যাওয়া-আসা, মক্কা-মদিনায় থাকা-খাওয়াসহ প্যাকেজ সুবিধাগুলো চুক্তিপত্রে বুঝে নিতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করুন। পড়ে, বুঝে, যাচাই করে চুক্তিপত্রে সই করুন। হজের প্রয়োজনীয় তথ্য ...-এ ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।এবার কত টাকা লাগবেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ রয়েছে। একটি প্যাকেজে হজযাত্রীর খরচ হবে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ টাকা। অন্যটিতে খরচ হবে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা। এ ছাড়া কোরবানির জন্য প্রতিটি প্যাকেজে আরও খরচ হবে (৫০০ রিয়াল) সাড়ে ১০ হাজার টাকা।বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্যাকেজ রয়েছে। নূ্যনতম প্যাকেজ হলো ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা। এ ছাড়া ৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা থেকে আরও বেশি টাকার প্যাকেজ রয়েছে।পরামর্শ মক্কায় বাসার দূরত্ব নির্ধারিত হয় কাবা শরিফ থেকে। আর মদিনায় মসজিদে নববী থেকে। বাসস্থান কত দূর, তার ওপর নির্ভর করে হজের ব্যয়ের টাকা। অর্থাৎ কাবা শরিফ থেকে বাসার দূরত্ব কম হলে খরচ বেড়ে যাবে। যত বেশি দূরত্ব হবে, খরচও তত কম হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে হজের প্যাকেজ ঠিক করুন। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য বিমানভাড়া ১ লাখ ২০ হাজার২৫৭ টাকা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতের যাতায়াত ব্যয়, মিনায় তাঁবুভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি ২৫ হাজার ৭৪ টাকা, স্থানীয় সেবামূল্য ৮০০ টাকা, প্রশিক্ষণ ফি ৩০০ টাকা ও আপৎকালীন তহবিল ২০০ টাকা, ব্যাগ বাবদ ১ হাজার ৭০০ টাকা খরচ হবে। এই খরচ সবার জন্য নির্ধারিত। বাকি টাকা মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া, খাওয়া বাবদ খরচ, মিনা-আরাফাতে মোয়াল্লেমের অতিরিক্ত খরচ, হজ গাইড ও কোরবানির খরচ এজেন্সি প্যাকেজ অনুযায়ী ঠিক করে থাকে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত হজ এজেন্সির তালিকা .-. ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। হজ প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য তথ্য ঢাকার আশকোনা হজ অফিসে দেওয়া হয়। সৌদি আরবের টিভি চ্যানেলে ২৪ ঘণ্টা মসজিদে নববী ও কাবা শরিফে তাওয়াফ সম্প্রচার করে, সম্ভব হলে সেসব চ্যানেল দেখলে আগে থেকে ওমরাহ, তাওয়াফ, মসজিদের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। ছাপানো অথবা ইন্টারনেটে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাতের মানচিত্র পাওয়া যায়। সম্ভব হলে মানচিত্র দেখুন, তাহলে ওখানকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন। হাজিদের একটি অংশ নিজে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাই করার স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। একটি অংশ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে (আইডিবি) ৪৯০ রিয়াল জমা দিয়ে তাদের মাধ্যমে কোরবানি দেন। আইডিবির কুপন কিনে কোরবানি দেওয়া সৌদি সরকারের স্বীকৃত ব্যবস্থা। ভাষার ভিন্নতা, নতুন দেশ, নতুন পরিস্থিতির কারণে কিছুসংখ্যক হজযাত্রী সমস্যায় পড়ে থাকেন।কয়েকবার হজ পালন করেছেন, এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কিছুটা ধারণা থাকলে, সচেতন হলে অনেক সমস্যা দূর করা যায়। পাঠকের সুবিধার্থে তাঁদের কিছু পরামর্শ: কোনোভাবেই মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল বা তথাকথিত মোয়াল্লেমের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন না। ঘোষিত হজ প্যাকেজের চেয়ে কম টাকায় হজে গেলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোন কোন এজেন্সির বিরুদ্ধে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ রয়েছে, তা যাচাই করুন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেভাবেই হজে যান না কেন, হজ প্যাকেজের সুবিধা কী কী, ভালোভাবে বুঝে যাচাই করুন। আপনার প্রিয়জন অথবা পরিচিত যাঁরা আগে হজে গিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে এজেন্সির সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে পরামর্শ করুন। হজ প্যাকেজে কিছু খরচ নির্দিষ্ট আছে, যেমন বিমানভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি। বাকি টাকা মক্কা-মদিনায় বাসস্থানের জন্য। হাজিদের আবাসন কোথায় হবে তার স্বচ্ছ ধারণা দেশ থেকেই জেনে রাখা প্রয়োজন। সম্ভব হলে নিজের পাসপোর্ট নিজে করান। কাউকে দিয়ে করালেও আপনার নাম-ঠিকানা পাসপোর্টে ঠিক আছে কি না যাচাই করে নিন। হজসংক্রান্ত নিয়মকানুন জানুন। প্রয়োজনে যাঁরা হজে গেছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করুন। কিছু হজযাত্রী হেঁটে হজের আমলগুলো করে থাকেন। যেমন মক্কা থেকে মিনার দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। আরাফাত থেকে মুজদালিফার দূরত্ব প্রায় নয় কিলোমিটার। মুজদালিফা থেকে মিনার দূরত্ব প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার। এসব স্থানবিশেষে হেঁটে যেতে আপনার এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। মাহরাম (যেসব পুরুষের সঙ্গে দেখা করা জায়েজ। যেমন স্বামী, বাবা, আপন ভাই, আপন চাচা, আপন মামা, ছেলে ইত্যাদি) ছাড়া নারী হজযাত্রী এককভাবে হজে গমনের যোগ্য বিবেচিত হবেন না; নারী হজযাত্রীকে মাহরামের সঙ্গে একত্রে টাকা জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় বই-পুস্তক, হজ গাইড সংগ্রহ করে পড়ুন। কয়েক বছর ধরে প্রথম আলো হজযাত্রীদের সহায়ক হজ গাইড প্রকাশ করে বিনা মূল্যে তা বিতরণ করে। এটি প্রথম আলোর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। অথবা, হজের আগে হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের হাতে পৌঁছেও দেওয়া হয়। হজ প্যাকেজে খরচের ভিন্নতা কেন? প্যাকেজে সৌদি আরবে হজের জন্য অবস্থানের মেয়াদ, বিমানের ধরন (সরাসরি না অন্য বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছাবে), মক্কায় বাসার ধরন এবং তা কাবা শরিফ থেকে কত দূর, বাসায় লিফট আছে কি নেই, বাসা না হোটেল, খাবারের ব্যবস্থা আছে বা নেই, ঐতিহাসিক স্থানে বেড়ানোর ব্যবস্থা আছে বা নেই, কোরবানি আছে বা নেই ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। একইভাবে মদিনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। আবার হজের সময় মিনায় তাঁবুতে বা আজিজিয়ায় থাকা কিংবা না থাকা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে হজের খরচের টাকার অঙ্ক।সরকারি ব্যবস্থাপনাপ্যাকেজ ১: সৌদি আরবের ভিসা, বিমানে যাওয়া-আসা, মক্কায় কাবা শরিফ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মিটার ও মদিনায় মসজিদে নববী থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিটারের মধ্যে তাসরিয়াযুক্ত (সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের যাচাই করা বাসস্থান) বাসায় থাকার ব্যবস্থা।প্যাকেজ ২: সৌদি আরবের ভিসা, বিমানে যাওয়া-আসা, মক্কায় কাবা শরিফ থেকে সর্বোচ্চ দুই কিলোমিটার ও মদিনায় মসজিদে নববী থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে তাসরিয়াযুক্ত বাড়িতে আবাসন।এ ছাড়া উভয় প্যাকেজে মক্কায় ও মদিনায় সৌদি নিয়ম অনুযায়ী একটি খাট, একটি বেড, একটি বালিশ ও একটি কম্বল (কক্ষ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত হবে, কোনো কোনো কক্ষে অতিরিক্ত পাখা থাকতে পারে), পাঁচ থেকে আটজনের জন্য একটি সংযুক্ত বা সাধারণ গোসলখানা-শৌচাগার, মিনায় তাঁবুতে প্রত্যেক হাজির জন্য জায়গা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতের ময়দানে যাওয়া-আসার জন্য পরিবহন, মক্কা ও মদিনায় সাধারণ চিকিৎসা, ফ্লাইটের আগে ঢাকার আশকোনা হজ ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা, হজের আহকাম-আরকান সম্পর্কে নিবিড় প্রশিক্ষণ, বই-পুস্তক সরবরাহ প্রভৃতি সুবিধা পাবেন হাজিরা। প্রতি ৪৫ জন হাজির জন্য একজন গাইড নিয়োগ করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় খরচের খাতদুই ধরনের প্যাকেজেই প্রতি হজযাত্রীর জন্য বিমানভাড়া ১ লাখ ২০ হাজার ২৫৭ টাকা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতের যাতায়াত ব্যয়, মিনায় তাঁবুভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি ২৩ হাজার ১৮৪ টাকা, খাওয়ার খরচ ৩৩ হাজার ৬০০ টাকা, মিনা-আরাফাতে মোয়াল্লেমের অতিরিক্ত খরচ ১৯ হাজার ৬৩৫ টাকা, হজ গাইড ৭ হাজার ৭১১ টাকা, মিনা আরাফাতে ট্রেনভাড়া ৫ হাজার ২৫০ টাকা, স্থানীয় সেবামূল্য ৮০০ টাকা, হজ প্রশিক্ষণ ফি ৩০০ টাকা ও আপৎকালীন তহবিল ২০০ টাকা, খাবার খরচ বাবদ ৩৩ হাজার ৬০০, ব্যাগ বাবদ ১ হাজার ৭০০ টাকাএ ছাড়া প্রতি হজযাত্রীর জন্য মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া একটি প্যাকেজে ১ লাখ ৪২ হাজার ১০৭ টাকা, অন্য প্যাকেজে ৮৪ হাজার ৮৪০ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় খরচের খাতহজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য বিমানভাড়া ১ লাখ ২০ হাজার ২৫৭ টাকা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতের যাতায়াত ব্যয়, মিনায় তাঁবুভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি ২৫ হাজার ৭৪ টাকা, স্থানীয় সেবামূল্য ৮০০ টাকা, প্রশিক্ষণ ফি ৩০০ টাকা ও আপৎকালীন তহবিল ২০০ টাকা, ব্যাগ বাবদ ১ হাজার ৭০০ টাকা খরচ হবে। এ ছাড়া মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া, খাওয়া বাবদ খরচ, মিনা-আরাফাতে মোয়াল্লেমের অতিরিক্ত খরচ, হজ গাইড ও কোরবানির খরচ এজেন্সি প্যাকেজ অনুযায়ী ঠিক করে থাকে। হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশবেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সিগুলোর সংগঠন হলো হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। হাবের মূল কাজ হলো সৌদি ও বাংলাদেশ সরকারের হজ ও ওমরাহ নীতিমালা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা। হাবের ওয়েবসাইট .-.. ঠিকানা: সাত্তার সেন্টার (১৬তম তলা), হোটেল ভিক্টোরি, ৩০/এ নয়াপল্টন, ভিআইপি রোড, ঢাকা। হজের টাকা কোন ব্যাংকে জমা দেবেনহজের ব্যয় বাবদ টাকা নিম্নলিখিত ব্যাংকের যেকোনো শাখায় জমা দেওয়া যাবে: ১. এবি ব্যাংক লিমিটেড, ২. অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, ৩. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ৪. বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড, ৫. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লিমিটেড, ৬. ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড ৭. ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, ৮. ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ৯. ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, ১০. ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ১১. এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড, ১২. ফারর্মাস ব্যাংক লিমিটেড, ১৩. ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, ১৪. আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড, ১৫. আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড, ১৬. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড. ১৭. যমুনা ব্যাংক লিমিটেড, ১৮. জনতা ব্যাংক লিমিটেড, ১৯. মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড, ২০. মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, ২১. মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড, ২২. মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড, ২৩. মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ২৪. ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, ২৫. এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড, ২৬. এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড, ২৭. ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, ২৮. প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, ২৯. পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, ৩০. রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, রাজশাহী, ৩১. রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, ৩২. শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ৩৩. সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ৩৪. সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, ৩৫. সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড, ৩৬. সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ৩৭. স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ৩৮. দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ৩৯. দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, ৪০. ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ৪১. ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড, ৪২. ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) লিমিটেড, ৪৩. উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, ৪৪. এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেড। পাসপোর্ট বানাবেন যেখানেঢাকায় আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এটিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আঞ্চলিককার্যালয় রয়েছে। হজযাত্রীরা নিজ নিজ জেলা অনুযায়ী পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাসপোর্ট বানাতে পারবেন। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাসপোর্টের আলাদা শাখা রয়েছে, সেখান থেকেও ওই জেলায় বসবাসকারীরা পাসপোর্ট বানাতে পারবেন। আবেদনপত্রসহ আরও তথ্য ... ঠিকানায় পাওয়া যাবে। হজের আবেদনপত্রহজের আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দ্বীনি দাওয়াত বিভাগের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, তালিকাভুক্ত ব্যাংকের শাখা (যেখানে টাকা জমা দিতে হবে) এবং বাংলাদেশ সচিবালয়, ভবন নম্বর ৮, হজ শাখা, কক্ষ নম্বর ১০৩, ঢাকায় হজ অফিস, আশকোনা থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং জমা করা যাবে। এ ছাড়া ... অথবা ... ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ফরম পূরণ করে ডাউনলোড ও প্রিন্ট আউট নিয়ে স্বাক্ষরসহ ওই সব কার্যালয়ের যেকোনোটিতে জমা দেওয়া যাবে।আবেদনপত্র আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দিতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে নিজ নিজ এজেন্সি থেকে আবেদন সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখের মধ্যে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রতিষেধকহজে যাওয়ার আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতালসহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, ঢাকায় সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রতিষেধক নিতে হবে। এ ছাড়া হজের আগে উত্তরা আশকোনা, হজ অফিসেও এ কাজটি সম্পন্ন করা হয়।প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক টিকা এবং স্বাস্থ্য সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। হজে যাওয়ার আগে এই স্বাস্থ্য সনদ নিতে হবে। আর ৭৫ বছর বা ততোধিক বয়স্ক হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত বোর্ডের বিশেষ স্বাস্থ্য সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক।সৌদি আরবে বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রত্যেক হজযাত্রীকে স্বাস্থ্য সনদ, পরিচয়পত্র ও কবজি বেল্ট বহন করতে হয়। এটি বাধ্যতামূলক। তাই হজের আবেদনপত্রে স্বাস্থ্যসম্পর্কিত তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করা জরুরি। একনজরে হজের কার্যক্রমহজ শব্দের আভিধানিক অর্থ ইচ্ছা করা। এর পারিভাষিক অর্থ আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে শরিয়তের নিয়মানুসারে নির্দিষ্ট সময়ে কাবা শরিফ ও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো জিয়ারত করা। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হলো পবিত্র হজ।১কাবা শরিফ২মিনা৩আরাফাত৪মুজদালিফা৫জামারা৭৬৮১) ইহরাম বাঁধা ২) ৭-৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান ৩) ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পরে মিনা থেকে আরাফাতে অবস্থান এবং সূর্যাস্তের পরে মুজদালিফায় যাওয়া ৪) ৯ জিলহজ মুজদালিফায় রাতযাপন ৫) ১০ জিলহজ মিনায় বড় জামারাকে (শয়তান) কঙ্কর মারা, কোরবানি করা, মাথার চুল ফেলে দেওয়া ৬) ১২ জিলহজের মধ্যে তাওয়াফ জিয়ারত,সাঈ করা ৭) ১১, ১২ জিলহজ মিনায় জামারাকে (শয়তান) কঙ্কর মারা ৮) বিদায়ী তাওয়াফসূত্র: হজ মন্ত্রণালয়, সৌদি আরব পাসপোর্টনিজ উদ্যোগে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) সংগ্রহ করুন। আবেদনপত্রসহ আরও তথ্য ...ঠিকানায় পাওয়া যাবে।মাধ্যমসরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্যাকেজ রয়েছে। এর মধ্যে নূ্যনতম খরচ ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা। এর চেয়ে কম টাকায় গেলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।নিবন্ধনপূর্ণ নাম, এমআরপি পাসপোর্ট নম্বর, ঠিকানা উল্লেখ করে নির্ধারিত ব্যাংকে (সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১,৫১,৬৯০ টাকা, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১,৪৮,৩৩১ টাকা জমা দিয়ে দিয়ে ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে।টাকা জমাটাকা জমা দেওয়ার আগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা এজেন্সিগুলো যাচাই করে নিন। কোনো কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ রয়েছে। রসিদ ছাড়া কাউকে টাকা দেবেন না। নিয়মকানুনপ্রয়োজনীয় বই-পুস্তক,প্রথম আলো হজ গাইড সংগ্রহ করে পড়ুন। যাঁরা হজে গেছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করুন।... ঠিকানায়হজ বিষয়ে যাবতীয়তথ্য পাবেন।হজবিষয়ক যেকোনো তথ্যপরিচালক, হজ অফিস, আশকোনা,উত্তরা, ঢাকা (ফোন: ৮৯৫৮৪৬২ ও ৭৯১২৩৯১) এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে(ফোন: ৯৫৭৬৩৪৯, ৯৫১২২৩৯, ৯৫৮৫২০০) যোগাযোগ করে যেকোনো তথ্য নিতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলার উপপরিচালক এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। আট বছর ধরে প্রকাশিতপ্রথম আলো হজ গাইডমুদ্রণসংখ্যা এক লাখ কপিহজ গাইডটি ডাউনলোড করতে কিউআর কোডটি স্ক্যান করুন
10
ঘাটাইল উপজেলায় গত ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হলেও ৪ ইউনিয়নের ৩৪৪ জন শ্রমিক এখনো কোনো মজুরি পাননি। তাঁরা সরকারের অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচির শ্রমিক। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলছেন, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মজুরির টাকা পেতে দেরি হচ্ছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারের অতি দরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের (৪০ দিনের কর্মসূচি) আওতায় ঘাটাইলে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবারের কর্মসূচিতে শ্রমিকপ্রতি দৈনিক বরাদ্দ ছিল ৪০০ টাকা।সেই হিসাবে মোট শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১৬৫। বরাদ্দের বিপরীতে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ৪১টি প্রকল্প নেয় কর্তৃপক্ষ। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ফেব্রুয়ারিতে। আর এবারই প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিতে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে সরাসরি শ্রমিকের কাছে মজুরি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।আরও জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে শ্রমিকেরা তাঁদের আংশিক মজুরি পেয়েছেন। কিন্তু দেউলাবাড়ি, ঘাটাইল, সাগরদীঘি ও লক্ষিন্দর ইউনিয়নের ৩৪৪ জন শ্রমিক তাঁদের মজুরি এখনো পাননি। ঈদের আগে মজুরির টাকা না পেলে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন এসব শ্রমিক। মজুরি না পাওয়া শ্রমিকের মধ্যে রয়েছে দেউলাবাড়ি ইউনিয়নে ৮৭ জন, ঘাটাইল ইউনিয়নে ৫১, সাগরদীঘি ইউনিয়নে ৮২ এবং লক্ষিন্দর ইউনিয়নে ১২৪ জন। টাকার হিসাবে যা ৫৫ লাখ ৪ হাজার টাকা।লক্ষিন্দর ইউনিয়নের দুলালিয়া গ্রামের শ্রমিক জামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'দুই মাস অইলো কাম শেষ অইছে। এহনও টেহার (টাকা) কোন খবর নাই।' একই গ্রামের রোকেয়া বেগম বলেন, 'শরীর বালা না। টেহা পয়সার খুব দরকার। আমাগো কষ্টের কথা কারে কমু। চেয়ারম্যান-মেম্বরের কাছে গেলে কয় মোবাইলে টেহা আইবো। বারে বারে মোবাইল দেহি, টেহা আর আহে না। টেহা না পাইলে ঈদটাই মাটি অবো।' বানেছা বেগম বলেন, 'কাম করছি দুই মাস অইলো। এহনো টেহা পাই নাই।'এদিকে লক্ষিন্দর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাহাদুর মিয়া বলেন, 'শ্রমিকেরা শুধু হাত দিয়ে মারতেই আসেন না, আর সব করে।' সাগরদীঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার জানান, শ্রমিকেরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে বসে থাকেন টাকার জন্য। শ্রমিকের ধারণা, তিনি টাকা আটকিয়ে রেখেছেন। তাই বাধ্য হয়ে কিছু কিছু শ্রমিককে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়েছেন।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, আগে শ্রমিকেরা ব্যাংকের মাধ্যমে মজুরির টাকা পেতেন। এ বছর তাঁরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি মজুরির টাকা পাচ্ছেন। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মজুরির টাকা পেতে দেরি হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টির সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি।
6
জাতীয় সংসদকে শয়তানের কারখানা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, এই সংসদে যারা অধিবেশনের নামে জনগণের টাকায় তামাশা করে তাঁরা শয়তান ছাড়া আর কি হবে। কারণ তাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আজ শুক্রবার বিকেলে শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ সমাবেশটির আয়োজন করে। সংগঠনটির সভাপতি আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে অভিযোগ করে নুর বলেন, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কারও অবদান শিকার করতে চায় না। ইতিহাসের নামে তাঁরা সব জায়গায় একজনের নাম প্রচার করে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় চার নেতা, প্রবাসী সরকার, মেজর জিয়া, আসম রবদের অবদান লুকানো হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর দোহাই দিয়ে নিজেদের অপকর্ম জায়েজ করার চেষ্টা করছে।সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, পুলিশের কর্তাদের দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মতো বক্তব্য দেওয়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপতি চেকআপ করাতে সিঙ্গাপুর যায়, আর গরিব মানুষ ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায় কাতরায়। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশের প্রয়োজনে তিনি জীবন দিতে চান। আমি বলব জীবন দিতে হবে না, আপনার জীবন আমরা রক্ষা করব। আমাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেন। নইলে মানুষ ভুলে যাবে আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা।এক এগারোর সংস্কারবাদীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরিবারতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে দেশের মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। নিজের ছেলেদের প্রতিষ্ঠিত করতে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া ত্রিশ বছর ধরে দলের ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। তিনি বলেন, এর সময় যারা সংস্কার করতে চেয়েছিলেন তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। আপনারা গণ অধিকারের সঙ্গে আসুন। আমরা তৃতীয় শক্তির জাগরণ ঘটাতে চাই।সভাপতির বক্তব্যে আবদুর রহমান বলেন, গার্মেন্টস মালিকেরা ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন বোনাস নিয়ে নানা রকম টালবাহানা শুরু করে দেয়। তাঁরা বোঝায় যে লসে আছে। কিন্তু খোঁজ নিলে দেখা যায় বেগম পাড়ায় তাঁদের বাড়ি। এ সময় ২০ রমজানের মধ্যেই শ্রমিকদের বেতন ভাতা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করেন তিনি।বাজার দর অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধি, সড়ক ও নৌ পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, শ্রমিক বান্ধব কল্যাণ রাষ্ট্র, রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে সভায় পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।
9
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা হয়।এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাত হোসেন সভাপতিত্ব করেন।সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন সাবেরী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম সবুজ, সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) আমিনুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিটন কুমার, উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
6
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত এলাকায় স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না পর্যটকেরা। এতে ব্যাপক হারে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে-এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।সৈকত উন্মুক্ত করার পর কয়েক দিন জেলা প্রশাসনের সৈকতকর্মী ও টুরিস্ট পুলিশ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মাইকিং ও প্রচারণা চালান। তবে গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার সৈকত এলাকায় এমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। , হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও মার্কেটগুলোয় কোথাও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না পর্যটকেরা। সৈকতকর্মীরা বলছেন, পর্যটকদের নানাভাবে বলেও কাজ হয় না। মাস্ক পরে সৈকতে ঢুকলেও তা আবার খুলে ফেলেন বেশির ভাগ পর্যটক।সৈকতের সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম হয় সুগন্ধা পয়েন্টে। এখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকেরা ভিড় করেন। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গত দুদিনে লাখো পর্যটক এসেছেন কক্সবাজারে।গতকাল বিকেলে সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা গেছে, পর্যটকেরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে রয়েছেন। কেউ নোনাজলে গোসল করছে, কেউ বিচ বাইকে সৈকত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।কুমিল্লার চান্দিনা থেকে সপরিবারের বেড়াতে আসা এমদাদুল হক বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা তো দূরের কথা কেউ মাস্কই পড়ছেন না। সৈকতে গোসলে নেমে কী আর মাস্ক পরা যায়?চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকা থেকে আসা সোহেল মাহমুদ বলেন, যে কোনো উপায়ে সৈকতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ এখানে মানুষের জটলা বেশি।কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীন আবদুর রহমান নিজের ফেসবুক পেজে পর্যটকে ঠাসা সৈকতের ছবি আপলোড দিয়ে লেখেন, 'লাখো ওমিক্রনের সমারোহ কক্সবাজারে।'গত তিন দিনে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবের হিসেবে দেখা যায়, ৫ জানুয়ারি ৩৫১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ জন, ৬ জানুয়ারি ৪৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৮ জন ও ৭ জানুয়ারি ৫৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৬ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে।কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেন, সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার বিকল্প নেই।টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, পর্যটকদের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পুলিশ মাইকিং করে আসছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাননি তাঁরা।করোনার সংক্রমণ রোধে গত দুই বছরে প্রায় সাড়ে ৯ মাস দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটক সমাগম নিষিদ্ধ ছিল। গত বছরের ১৯ আগস্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে জেলা প্রশাসন সমুদ্রসৈকতসহ পর্যটনকেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেয়। তবে আবাসিক হোটেল-মোটেল, কটেজ, গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁয় ৫০ শতাংশ কক্ষ খালি রাখার সিদ্ধান্ত ছিল।
6
করোনার ছোবল মন্ত্রী এমপিদেরকে ছাড়েনি। ইতিমধ্যে একাদশ মন্ত্রীসভার ২ জন মন্ত্রী ও ৭ জন সাংসদ (এমপি) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্য ২ জন এমপি করোনাকে জয় করে সুস্থ হয়েছেন। এমপি শহীদুজ্জামান সরকারের করোনা পজেটিভ দিয়ে এমপিদের করোনা আক্রান্ত শুরু হয়।তিনি আগেই সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্ত মন্ত্রীরা হলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং এবং সর্বশেষ শুক্রবার (১২ জুন) আক্রান্ত হলেন বর্ষীয়ান সদস্য- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুক্তি যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ। তিনি জানান, মন্ত্রী, তার সহধর্মীনী এবং পিএস-এর করোনার নমুনা নিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পরীক্ষা করা হয়। শুক্রবার ফলাফল পজিটিভ এসেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। আ ক ম মোজাম্মেল হকের স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হাবিবুর রহমানেরও করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিংয়ের দেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত ৬ জুন। অবস্থার অবনতি হলে ৭ জুন বান্দরবান থেকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আনা হয়। এখন সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার। সাত এমপির মধ্যে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের রণজিত কুমার রায়ের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৮ জুন। পরে তাকে যশোর সিএমএইচে নেয়া হয়, এখন সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার। চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি মোসলেম উদ্দিনের করোনার পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায় ১০ জুন। তার সঙ্গে পজেটিভ রিপোর্ট আসে স্ত্রী, ছেলে, নাতিসহ পরিবারের আরও ১০ সদস্যের। তাদের সবারই চিকিৎসা চলছে। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের এমপি মো. মোস্তাফিজুর রহমানও সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত। ২ জুন ওই এমপিসহ তার পরিবারের মোট ১১ জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারা চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ রহমান নগর এলাকার বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া ৩ জুন জামালপুর-২ আসনের এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল, তার আগে চট্টগ্রাম-৬ আসনের এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, ১৯ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল ও ১ মে নওগাঁ-২ আসনের এমপি শহীদুজ্জামান সরকারের করোনা সংক্রমণের তথ্য জানা যায়। এর মধ্যে শহীদুজ্জামান সরকার ও এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী করোনাকে জয় করেছেন। এদিকে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় (শেখ তন্ময়) আইসোলেশনে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারীর করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর চিকিৎসকের পরামর্শে আইসোলেশনে গেছেন তিনি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসারে, এই নয়জনসহ দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায়ই শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৪৭১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন এক হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায়ই মারা গেছেন ৪৬ জন। তবে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৭ হাজার ২৫০ জন।
6
নীলফামারীর জলঢাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই নিজস্ব কোনো সনোলজিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফার। লোকবলের অভাবে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ দীর্ঘদিন থেকে টেকনিশিয়ানের অভাবে এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হার্টের রোগীদের তাৎক্ষণিক ইসিজি করার প্রয়োজন হলে নেই কার্ডিওগ্রাফার। গর্ভবতী নারীদের আলট্রাসনোগ্রামের প্রয়োজন, কিন্তু সনোলজিস্টের অভাবে বাইরে থেকে চড়া দাম দিয়ে করতে হচ্ছে তাঁদের।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা হয় কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে। বুকে ব্যথা নিয়ে আসা এনামুল হক বলেন, 'আমি এসেছি ইসিজি করতে। কিন্তু জানতে পারলাম এখানে কার্ডিওগ্রাফার নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে করতে হবে আমাকে।' অপরদিকে অন্য আরেক রোগীর স্বজন মোতাহারা বেগম বলেন, 'এসেছি আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে। কিন্তু পারছি না।'এ ছাড়া জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায় হাসপাতাল চত্বর। এতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয় পুরো হাসপাতালে।অন্যদিকে পুরোনো স্থাপনা হওয়ায় ঝুঁকিতে থাকতে হয় অফিস স্টাফসহ রোগীদের। পুরোনো আমলের ইলেকট্রিক সংযোগটি রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। যেকোনো সময় শর্টসার্কিটের মাধ্যমে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ ছাড়া পৃথক স্টোরেজের অভাবে প্রয়োজনীয় রুমেই রাখতে হচ্ছে জিনিসপত্র।উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা এ এইচ এম ডা. রেজওয়ানুল কবীর বলেন, 'এক্স-রে মেশিনটি চলছে ধার করা টেকনিশিয়ান দিয়ে। এ ছাড়া আমাদের এখানে সনোলজিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফার না থাকায় সাধারণ সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের স্থাপনা পুরুষ-মহিলা ওয়ার্ডগুলো রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। এ বিষয়গুলো নিয়ে কয়েক দফা চিঠি চালাচালি হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালটিতে পৃথক স্টোরেজ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
6
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে বেসরকারিভাবে বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। জয় দিয়েই রাজনীতির মাঠে পুরোপুরি প্রবেশ করলেন ২২ গজের এই সফল অধিনায়ক। রোববার রাতে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বেসরকারিভাবে এ ফল ঘোষণা করেন। মাশরাফি নির্বাচনে দাঁড়ানোর পরই সবার নজর ছিল এই আসনের দিকে। তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন এই ওয়ানডে অধিনায়ক। তিনি ভোট পেয়েছেন দুই লাখ ৭১ হাজার ২১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন সাত হাজার ৮৮৩ ভোট। নড়াইল-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল তিন লাখ ১৭ হাজার ৮৪৪ জন। মাশরাফির জয়ের খবরের পরপরই ভক্তরা উল্লাসে মেতে উঠে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) তার দল রংপুর রাইডার্সের পক্ষ থেকে ফেসবুকে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে এই ফাস্ট বোলারকে বিপিএলে খেলতে যাওয়া প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে অভিহিত করা হয়।
12
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে চার-ছক্কার বৃষ্টি ঝরিয়েছেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বুধবার সিরিজের প্রথম টি-২০তে বড় পুঁজি পায় আফগানিস্তান। পরে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৪৮ রানে পরাজিত করেছেন আফগানরা। টস হেরে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। জবাব দিতে নেমে ৭ উইকেটে ১৫০ রান করতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ানরা। তিনাশে কামুনহুকামবে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন। আফগানিস্তানের হয়ে রশিদ খান ৩টি, করিম জানাত ও ফরিদ আহমেদ ২টি করে উইকেট নেন। এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান গুরবাজ-আসগররা। ৪৫ বলে ৮৭ রান করেন গুরবাজ। ৭টি ছক্কা ও ৬টি চারে ইনিংসটি সাজান আফগান ওপেনার। জিম্বাবুয়ে বোলারদের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজরাবানি ২টি করে উইকেট নেন। এছাড়া আসগর আফগানের ব্যাট থেকে আসে ৩৮ বলে ৫৫ রান। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল আফগানিস্তান।
12
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ৩০ কেজি ওজনের একটি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার তামলাই পুকুরের পাড় থেকে কচ্ছপটি উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন কচ্ছপটি দিনাজপুর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। স্থানীয়রা জানায়, পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আবু রায়হানের তামলাই পুকুরের পানিতে ভেসে কিনারে কচ্ছপটি অবস্থান করে। এসময় এলাকাবাসি কচ্ছপটি দেখে পুকুর মালিককে খবর দেয়। পরে তিনি (পুকুর মালিক) কচ্ছপটি সেখান থেকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে জানান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম পুকুর মালিকের বাসা থেকে কচ্ছপটি নিয়ে আসেন। রাতেই উপজেলা প্রশাসন দিনাজপুর বনবিভাগকে খবর দিলে তারা এসে কচ্ছপটি নিয়ে যায়। পুকুর মালিক আবু রায়হান দাবি করেন, পুকুরটি হাজার বছরের পুরানো। এই পুকুরের পানি কখনো শুকায় না। উদ্ধারকৃত কচ্ছপের বয়স শত বছর হবে। তিনি বলেন, এর আগেও ১০/১৫ কেজি ওজনের কচ্ছপ ধরা পড়েছে। কিন্তু আমি জানার আগেই সেগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। এবার আমি জানার পর তাৎক্ষণিক পুকুরে গিয়ে কচ্ছপটি উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসি এবং প্রশাসনে খবর দেই। এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, কচ্ছপটি বিরল প্রজাতির। সাধারণত সমতল অঞ্চলে এত বড় কচ্ছপ পাওয়া যায় না। রাতেই আমরা কচ্ছপটি পুকুর মালিকের বাড়ি থেকে নিয়ে আসি এবং দিনাজপুর বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করি।
6
অর্থপাচার ও ভিসাবাণিজ্যের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলকে রিমান্ডে টানা ১৭ দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুয়েতের আরব টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার তাকে ২১ দিনের জন্য কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। আটকের পরদিন থেকে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। বাংলাদেশের এই এমপি রিমান্ডে যা বলেছেন, তা প্রসিকিউটরদের বরাতে প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। কুয়েতি কর্মকর্তাদের তিনি কীভাবে কত টাকা ঘুষ দিয়েছেন, সেসব কথাও সেখানে আসছে। কুয়েতি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাপুলের মদদদাতা হিসাবে ইতোমধ্যে সাতজনকে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা; তাদের মধ্যে কুয়েতের দুজন বর্তমান এবং একজন সাবেক পার্লামেন্ট সদস্যও রয়েছেন। তবে কুয়েতের বর্তমান দুই এমপি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে খবর দিয়েছে কুয়েত টাইমস। সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুধু তাই নয়, নিজের স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করেন তিনি। প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে। ইতিমধ্যে পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির হিসাবে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা রয়েছে বলে এর আগে পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাতে জানিয়েছিল কুয়েতি গণমাধ্যম। এই সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে একজন ব্যবসায়ীকে ২ হাজার কুয়েতি দিনারের মাধ্যমে জামিনে ছেড়ে দিয়ে বাকিদের জেলে পাঠানো হয়েছে। বিদেশের মাটিতে একজন সংসদ সদস্য আটকের ঘটনা দেশের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
3
সুনামগঞ্জকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল শিক্ষার্থীরা। 'থাকলে শিশু বিদ্যালয়ে, হবে না বিয়ে বাল্যকালে, থাকলে শিশু লেখাপড়ায়, সফল হবে জীবন গড়ায়' এ স্লোগানে-২৯৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক লাখ ১৪ হাজার ৩২৩ শিক্ষার্থী সোমবার একসঙ্গে 'লাল কার্ড' দেখিয়ে বাল্যবিয়েকে 'না' জানাল। এই কর্মসূচিকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টাও করা হচ্ছে। বেলা ১২টা ২৪ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে কাউন্টডাউন শুরু করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ। ১২টা ২৫ মিনিট থেকে শিক্ষার্থীরা যার যার অবস্থান থেকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে 'লাল কার্ড' উঁচিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে স্লোগান ধরে 'বাল্যবিয়েকে না', 'যৌন হয়রানিকে না'। একনাগাড়ে পাঁচ মিনিট স্লোগানে স্লোগানে বাল্যবিয়ের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়। এর আগে উপস্থিত সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে সুনামগঞ্জ জেলাকে বাল্যবিয়েমুক্ত ঘোষণা করে শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে 'বাল্যবিবাহমুক্ত জেলা, সুনামগঞ্জ' লেখা ফলক উন্মোচন করা হয়। এ কর্মসূচির প্রধান ভেন্যু শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মিলনায়তন ও চত্বরে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে নিজেদের যুক্ত করে। এ ছাড়া জেলার প্রতিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অষ্টম থেকে স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেয়। জেলার জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জগন্নাথপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, দিরাই, শাল্লা এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাদা ভেন্যুতে উপস্থিত থেকে কর্মসূচিতে অংশ নেন। জেলা সদরে কর্মসূচি পালনের পর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মিলনায়তনে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দীন আহমেদ, জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বাবর আলী মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাবেরা আক্তার, নারী নেত্রী শীলা রায়, ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, প্রবাসী আশরাফুজ্জামান মিনহাজ, হিন্দু বিবাহ্ নিবন্ধক সুবিমল চক্রবর্তী চন্দন, কাজী শফিকুল ইসলাম, শিক্ষার্থী ফারজানা সুজি প্রমুখ। কর্মসূচিতে উপস্থিত সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া জাহান বলে, "আমরা এসেছি বাল্যবিয়েকে 'না' বলতে। এই কর্মসূচি সকলের আবেগে নাড়া দিক, এটিই চাই আমরা।" একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সারবাক নাওয়ার বলে, 'এ কর্মসূচির পর শিক্ষার্থীরা যাতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পায়, সেটিই আমরা চাই।' প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, 'বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি। সুনামগঞ্জ জেলাকে বাল্যবিয়েমুক্ত করতে আপনাদের এ উদ্যোগ উৎসাহব্যঞ্জক। লাল কার্ড দেখানোর মাধ্যমে প্রমাণ হলো, এই জেলায় আর বাল্যবিয়েকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, যৌন নির্যাতন হবে না।' সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, 'সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা সুনামগঞ্জে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করলাম। আমাদের এই উদ্যোগ ইতিহাসে স্থান করে নেবে। বিষয়টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা চলছে। গিনেস কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।'
6
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নামে নতুন বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর ২০২১ তারিখে তাকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। ৩১ অক্টোবর তিনি যোগদান করেন। ইতিপূর্বে ২৭ মার্চ তাকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিডি প্রতিদিন/এমআই
1
দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ভারতের কলকাতা থেকে বেনাপোল বন্দরে পৌঁছাল বন্ধন এক্সপ্রেস। গতকাল রোববার সকালে প্রথম যাত্রায় কলকাতা থেকে ১৯ জন যাত্রী নিয়ে বেনাপোলে আসে ট্রেনটি। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ রেলের চালক ও যাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। পরে সর্বশেষ গন্তব্য খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বন্ধন এক্সপ্রেস।শুভেচ্ছা জানানোর সময় বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহম্মেদ, বেনাপোল রেল স্টেশন মাস্টার সাইদুরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।বন্ধন এক্সপ্রেস আপাতত সপ্তাহের দুদিন রোববার ও বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে বেনাপোল হয়ে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।পুনরায় কলকাতার সঙ্গে রেল চালুতে সময় এবং অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সড়ক পথের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলব বলে আশা করছেন যাত্রীরা।জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সৌহার্দ্য সম্পর্ক বাড়াতে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রেল পথে বন্ধন এক্সপ্রেস চালু হয়। পরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ রেলসেবা বন্ধ করে ভারত সরকার। এতে বন্ধ হয়ে যায় কলকাতা-বেনাপোল-খুলনা রুটে যাত্রীবাহী রেল বন্ধন এক্সপ্রেস। সংক্রমণ কমে আসায় রোববার থেকে পুনরায় চালু হয় বন্ধন এক্সপ্রেস।বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি রাজু আহম্মেদ বলেন, 'বেনাপোল ও কলকাতা রেলওয়ে ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের ব্যাগ পরীক্ষা ও পাসপোর্টের কার্যক্রম শেষ করা হয়। যাত্রীরা যেন দ্রুত গন্তব্যে যেতে পারেন, সে বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেন পুলিশ সদস্যরা।'
6
ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্তের দাবিতে শিক্ষকেরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকেরা।প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মানব গোষ্ঠীর সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া সন্তান উল্লেখ করে বিদ্যালয়গুলোর একসঙ্গে স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তের জন্য একটি স্মারকলিপি জেলা সমাজ সেবা উপপরিচালক সাইয়েদা সুলতানার কাছে জমা দেন শিক্ষকেরা। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অংশ নেন।বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আয়োজনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা শাখার আহ্বায়ক মনিরা আহমেদ, আরএসডি আনন্দ প্রতিবন্ধী ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক ইকলিমা খাতুন, মিন্দগড় প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক পুনর্বাসন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র রায়সহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
6
২০২১ সালে তেল বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। তাই চলতি বছর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকো তেল উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছে। আগামী পাঁচ বছর তেলের উৎপাদন বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরবরাহের তুলনায় তেল এবং গ্যাসের চাহিদা ছাড়িয়ে গেছে। এতে জ্বালানির মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেনে রুশ হামলার পর রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে পশ্চিমা দেশগুলোর অনীহাও জ্বালানির বিকল্প উৎস খোঁজার তাগিদ তৈরি হয়েছে। খবর বিবিসি অনলাইনের। সৌদি আরামকোর এই সিদ্ধান্তকে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক নেতারা স্বাগত জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও আগামী পাঁচ থেকে আট বছর উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে আরামকো। এর আগে গত সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সৌদি আরব সফর করছেন। সফরে তিনি দেশটিকে অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ব বাজারে অধিকতর তেল ছাড়ার ব্যাপারে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। সৌদি আরব পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ। এখন দেশটি উৎপাদন বাড়ালে জ্বালানির মূল্য কমাতে সাহায্য করবে। কারণ বিশ্ব বাজারে বর্তমানে জ্বালানির মূল্য গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
3
ধান কিনে মজুত করার অসুস্থ প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সবাই প্রতিযোগিতা করে ধান কিনছে, ভাবছে ধান কিনলেই লাভ। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা ভালো পরিণতি আনবে না বলে সতর্ক করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। একই সঙ্গে কেউ চালের বাজার অস্থিতিশীলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।আজ রোববার সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে 'বোরো ২০২২ মৌসুমে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও বাজার মনিটরিং সংক্রান্ত অনলাইন মতবিনিময় সভায়' ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ মিলমালিক বাজার থেকে ধান কিনলেও তাঁরা উৎপাদনে যাচ্ছেন না। বাজারে নতুন চাল এখনো আসছে। এখন বাজারে যে চাল পাওয়া যাচ্ছে, তা গত বছরের পুরোনো। তাহলে নতুন ধান যাচ্ছে কোথায়? মিলমালিকদের প্রতি এ প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।চলতি বছরে খাদ্যঘাটতির আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রীএ অবস্থা চলতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কে কত পরিমাণ ধান কিনছেন এবং কে কত পরিমাণ চাল ক্রাসিং করে বাজারে ছাড়ছেন, তা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের রিপোর্ট আকারে পাঠাতে হবে। কেউ যাতে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কে কোন দল করেন সেটি বিবেচ্য নয়, কেউ চালের বাজার অস্থিতিশীলের চেষ্টা করলেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বিভিন্ন করপোরেট হাউস ধান-চালের ব্যবসা শুরু করেছে। তারা বাজার থেকে ধান কিনে মজুত ও প্যাকেটজাত করছে। প্যাকেটজাত চাল বেশি দামে বাজারে বিক্রিও হচ্ছে। এ সময় ধান-চালের ব্যবসায় সম্পৃক্ত করপোরেট হাউসগুলোর সঙ্গে দ্রুততম সময়ে বৈঠক করতে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।সবাইকে সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হতে বললেন খাদ্যমন্ত্রীভারত থেকে গম দেওয়া বন্ধ হচ্ছে গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অথচ শুধু ভারত নয়, বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশকে গম দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি পাঠিয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।উত্তরাঞ্চলে ঝড় ও বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কোন জেলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক হিসাব জানা জরুরি। উৎপাদন হিসাব ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা না গেলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে না। এ সময় সঠিক তথ্য পাঠনোর জন্য কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
6
আগামী আগস্টে বাংলাদেশ সফরে সীমিত ওভারের সিরিজের জন্য প্রাথমিক দলে আরো ছয়জনকে অর্ন্তভুক্ত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। গত মাসেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ২৩ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছিলো সিএ। সূচিতে বাংলাদেশ সিরিজটি যোগ হওয়ায় ২৩ সদস্যের সাথে নতুন করে আরো ছয়জনকে প্রাথমিক দলে যুক্ত করলো সিএ। এতে প্রাথমিক দলটি ২৯ সদস্যের হলো। নতুন করে দলে নেয়া হয়েছে ড্যান ক্রিস্টিয়ান, বেন ম্যাকডারমট, অ্যাস্টন টার্নার, ক্যামেরন গ্রিন, ওয়েস আগার ও নাথান এলিসকে। ২০১৭ সালে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ক্রিস্টিয়ান। ২০১০ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর দেশের হয়ে ১৯টি ওয়ানডে ও ১৬টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ক্রিস্টিয়ান। আগামী আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের। সফরে পাঁচটি টি-টুয়েন্টি খেলার কথা রয়েছে অজিদের। তবে সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আগামী মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে এ মাসের শেষের দিকে দেশ ছাড়বে অসিরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ সফরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক দল : অ্যারন ফিঞ্চ, অ্যাস্টন আগার, ওয়েস আগার, জেসন বেহেনডর্ফ, অ্যালেক্স ক্যারি, ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান, প্যাট কামিন্স, নাথান অ্যালিস, ক্যামেরন গ্রিন, জস হ্যাজেলউড, মইসেস হেনরিকস, মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, বেন ম্যাকডারমট, রিলে মেরিডিথ, জশ ফিলিপ, কেন রিচার্ডসন, ঝাই রিচার্ডসন, তানভীর সাঙ্গা, ডি আর্চি শর্ট, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, মার্কাস স্টয়নিস, মিচেল সুয়েপসন, অ্যাস্টন টার্নার, অ্যান্ড্রু টাই, ম্যাথু ওয়েড, ডেভিড ওয়ার্নার ও এডাম জাম্পা।
12
গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খামোশ বললেই কি মানুষের মুখ খামোশ হয়ে যাবে? খামোশ বললে জনগণ খামোশ হয়ে যাবে না, মানুষকে খামোশ রাখা যাবে না। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন। এ আলোচনা সভার আয়োজন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'যারা বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, কামাল হোসেনরা, তাঁরা এই লজ্জাটা কোথায় রাখবেন? আমার এটাই প্রশ্ন।' তিনি বলেন, 'তাঁরা লজ্জা পান? নাকি পান না?' শেখ হাসিনা বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে যাদের আমরা পরাজিত করলাম, তাদের দোসরদের ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হলো। যারা একসময় আমাদের দলে ছিল, এখন বিএনপি জোটের সঙ্গে চলে গেল, তাঁরা কীভাবে নির্বাচন করবেন? এই প্রশ্নের জবাব কি তাঁরা জাতির কাছে দিতে পারবেন? তবে তাঁদের লাজলজ্জা কম আছে। একজন প্রশ্ন করতেই তাকে খামোশ বলে দিলেন।' আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'যাঁরা এত বড় বড় কথা বললেন, সেই কামাল হোসেন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, কাদের সিদ্দিকী তো তাঁর মেয়েকেও ধানের শীষ দিয়ে ইলেকশনে...। আমাদের মান্নার এত তাত্ত্বিক লেখা, এত সুন্দর সুন্দর কথা, এত জ্ঞানগর্ভ কথাকোথায় গেল সেই বিবেক? তাঁদের সেই বিবেকটা গেল কোথায়?' প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁরা আজকে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, ওই ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন, তাঁরা রাজনীতিটাকে কোথায় নামিয়েছেন? মনে হয় রাজনীতিটাকে অপরাধী জগতের রাজনীতিতে পরিণত করেছেন। তিনি আরও বলেন, রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে, দেশের মঙ্গলে। আজকে সেখানে অপরাধীরা যদি এসে যায়, তাহলে দেশের ভাগ্যে কী ঘটবে? অপরাধীদের ভোট না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'অপরাধীদের ভোট দেবেন না। এই অপরাধীরা যেন আর কখনো নির্বাচিত হতে না পারে, যেসব অঞ্চলে এরা দাঁড়িয়েছে, তাদের চিহ্নিত করুন। সম্পূর্ণভাবে এদের বয়কট করুন।' অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সন্তানদের পক্ষে বক্তব্য দেন নুজহাত চৌধুরী, শমী কায়সার।
9
বিশ্ব ব্যাংকের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) বলেছে, বিশ্ব ব্যাংকের 'রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক' এর প্রস্তাব কোনোক্রমেই বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ব ব্যাংকের এই প্রস্তাব গৃহীত হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা প্রচণ্ড ঝুঁকিতে পড়বে এবং এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো জটিল করবে তুলবে। বিশ্ব ব্যাংকের এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। শনিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এসব কথা জানিয়েছেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার। জেএসডি জানায়, বিশ্ব ব্যাংক বাস্তুচ্যুতির মূল সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা না রেখে উদ্বাস্তুদের দায়দায়িত্ব আশ্রয়দানকারী দেশের উপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানের একমাত্র পথ হচ্ছে তাদের নিজ ভূমিতে টেকসই ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন। সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা যায় বিশ্ব ব্যাংকের প্রস্তাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের 'প্রবল আপত্তি' রয়েছে, যা খুবই সাহসী ও ইতিবাচক অবস্থান। আমরা মনে করি জাতীয় স্বার্থে এ ব্যাপারে সরকারকে তার অবস্থান দ্রুত সুস্পষ্ট করতে হবে। শরণার্থী সংক্রান্ত ঋণ প্রদান সহায়তা বিষয়ক নতুন প্রস্তাবনা আমরা বাতিলের দাবি এবং বাংলাদেশ প্রশ্নে এই ধরনের অবাস্তব প্রস্তাব বা পরামর্শ প্রদান থেকে বিশ্ব ব্যাংককে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বিশ্বব্যাংকের এই ধরনের পরামর্শের বিরুদ্ধে সকল রাজনৈতিক দলসহ সকল সামাজিক শক্তিসমূহকে সোচ্চার ভূমিকা রাখার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং অনলাইনে ডলার কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে অর্থ ও বাণিজ্যসচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান এ নোটিশ পাঠান।নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ডলারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ২০০৬ সালে ১ ডলারের বিনিময়মূল্য ছিল ৭০ টাকা। ২০২১ সালের অক্টোবরে এসে ১ ডলার ৮৫ দশমিক ৬০ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৮৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে।ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অধিক মূল্যে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংককে অনলাইন মানি এক্সচেঞ্জ সাইটগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং অনলাইন ডলারগুলোকে বাংলাদেশের ফরেন রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
6
আসছে ৩ নভেম্বর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেনকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সম্প্রতি পেনসিলভানিয়ায় হোয়াইট হাউসের প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেনের পক্ষে প্রচারণায় বারাক ওবামা ট্রাম্পকে 'ক্রেজি আঙ্কেল' বলে মন্তব্য করেছেন। ওবামা আরও বলেন, বাইডেন এমন নন যে কেউ তাকে সমর্থন না করলে জেলে পাঠানোর হুমকি দেবেন। এগুলো কোনওভাবেই একজন প্রেসিডেন্টের আচরণ হতে পারে না। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3