text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
ইতিহাসটা আর রাঙ্গাতে পারেনি টাইগাররা। শুক্রবার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় কলকাতা টেস্টের প্রথম দিনে পুরোপুরি ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১০৬ রানে অলআউট হয়। দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭৪ রান। বাংলাদেশের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেছেন, আত্মবিশ্বাসের অভাবেই ব্যাটসম্যানরা খেলতে পারেননি। অবশ্যই ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এ ধনের বোলিং লাইন-আপের বিপক্ষেও কোনো দিন খেলেনি। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটও এ ধরনের বোলারদের মুখোমুখি হয়নি কখনো। মানসিক ও টেকনিক্যাল দিক থেকে দলের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
12
প্রথম আলো: এ মুহূর্তে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন? আহসান এইচ মনসুর: অর্থনৈতিক খাত সম্পর্কে সরকারের যেসব তথ্য-উপাত্ত আমরা পাই, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতা এবং আর্থিক নানা সূচকের পার্থক্য দেখতে পাই। সরকারের তথ্যে অর্থনীতিকে বেশ উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত, গতিশীল দেখায়; কিন্তু বাস্তবে তা নয়। প্রথম আলো: দু-একটা দৃষ্টান্ত? আহসান এইচ মনসুর: অবশ্যই। যেমন সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি এখন সবচেয়ে বেশি, কিন্তু আমরা দেখছি বিনিয়োগ আগের মতো নেই এবং শুধু বিনিয়োগ নয়, ব্যক্তি খাতে ঋণের প্রবাহও কমে গেছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ঋণের প্রবাহ এখন সবচেয়ে কম। তো এত কম ঋণের প্রবাহ, অথচ বলা হচ্ছে আমাদের শনৈঃ শনৈঃ উন্নতি হচ্ছে-এখানে অবশ্যই একটা অসামঞ্জস্য আছে। প্রথম আলো: আর? আহসান এইচ মনসুর: অন্য সূচকগুলোর দিকে যদি তাকাই, যেমন রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়, সেখানেও দেখি প্রবৃদ্ধির তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত বাস্তবতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি হলে রাজস্ব আয় বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমাদের রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে, ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে নাকি ১৮-১৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে; কিন্তু দেখা যাচ্ছে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ বা ৯ শতাংশ। এ রকম কেন হবে? এ রকম তো হওয়ার কথা নয়। সাধারণত কী ঘটে? অর্থনীতি যখন চাঙা থাকে, তখন রাজস্বের প্রবৃদ্ধিটা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চেয়ে একটু বেশি হয়। সেটা কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি না। রাজস্ব আয় সরকার-কথিত প্রবৃদ্ধির অনুপাতে বাড়েনি। প্রথম আলো: প্রবৃদ্ধি বেশি হলে তো কর্মসংস্থানও বাড়ার কথা? আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ, কর্মসংস্থানের চিত্রও ভালো নয়। ইনফরমাল কর্মসংস্থান কিছু হচ্ছে বটে, কিন্তু ফরমাল সেক্টরের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আমরা ব্যাপক ঘাটতি দেখছি। শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার অত্যন্ত বেশি। অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করতে গেলে আমরা এসবের বাইরেও যদি দীর্ঘমেয়াদিভাবে দেখি, তাহলেও কিছু সমস্যা দেখতে পাই। যেমন জিডিপির অনুপাতে রপ্তানি বাড়ছে না, পাঁচ বছর ধরেই বাড়ছে না। এটা একটা খারাপ লক্ষণ। কারণ, আমরা তো মনে করি আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে রপ্তানির প্রাধান্য থাকবে। রপ্তানি বৃদ্ধির দ্বারা প্রবৃদ্ধি বাড়বে। কিন্তু সেটা যদি না হয়, তাহলে লক্ষণটা ভালো নয়। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা-ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। আগে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল জিডিপির ১০ থেকে ১২ শতাংশ; কমতে কমতে এখন ৫-৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এই সব দীর্ঘমেয়াদি যে প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, তা আমাদের অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। প্রথম আলো: আপনি বলছেন, সরকারি তথ্য-উপাত্তে অর্থনীতির যে উন্নতি দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে সে উন্নতি হয়নি। তাহলে কি অবনতি হচ্ছে? নাকি অর্থনীতি একই রকম আছে? আহসান এইচ মনসুর: সামগ্রিকভাবে অবনতি হয়েছে, এটা আমি বলব না, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে অবনতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু প্রবৃদ্ধির মাত্রাটা যতটা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের দ্বিধা আছে। তারপরও আমরা বলব, বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো সজীব আছে। কিন্তু ঘোড়ার মতো ছুটছে, এ রকম নয়। প্রবৃদ্ধি ৮ বা ৯ শতাংশ নয়। প্রথম আলো: আপনি বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো সজীব আছে। এটা কীভাবে হচ্ছে? আহসান এইচ মনসুর: বাংলাদেশের অর্থনীতি সজীব হওয়ার অনেক কারণ আছে। একটা হলো বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ৩ শতাংশ হারে বাড়ছে; তারা কোনো না কোনোভাবে কিছু না কিছু করে খাচ্ছে। এভাবে আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। প্রথম আলো: এ রকম প্রবৃদ্ধি কি আসলেই অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষণ, না আকার বৃদ্ধি? আহসান এইচ মনসুর: এটা আকার বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। প্রবৃদ্ধি যদি অন্ততপক্ষে ৬ শতাংশ বা তার বেশি না হয়, তাহলে অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসে না। প্রথম আলো: আমরা প্রকৃতপক্ষে ৬ শতাংশের ওপরে আছি না? আহসান এইচ মনসুর: আমাদের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়তো ৬-৭ শতাংশ। এর বেশি নয়। প্রথম আলো: আমরা শুনতে পাচ্ছি, ভারতের অর্থনীতির অবস্থা এখন খারাপ, ঝুঁকির মুখে। আসলেই কি তাই? আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, ভারতের অর্থনীতির যে চিত্রটা আমরা পাচ্ছি, সেটা প্রকৃত চিত্র। তাদের অর্থনীতির বার্ষিক চিত্রের প্রান্তিকভিত্তিক তথ্যও পাওয়া যায়; সেভাবে তারা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে পারছে। আমাদের দেশে প্রান্তিকভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। যাহোক, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে; ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তবে তারা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে; সেই সক্ষমতাও তাদের আছে। তাদের ফিসক্যাল পলিসি ভালো। প্রথম আলো: কেন বলা হচ্ছে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন খারাপ? আহসান এইচ মনসুর: ভারতের অর্থনীতি বিশ্ববাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভারতকে দেখতে হবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে। এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা খারাপ, কাজেই ভারত এর প্রভাবের বাইরে থাকবে না। প্রথম আলো: ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কতটা পড়বে? আহসান এইচ মনসুর: খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। একটা বিষয়ের প্রভাব পড়তে পারে; ভারতের মুদ্রার পতন হচ্ছে, তারা হয়তো কিছুটা ইচ্ছাকৃতভাবেই সেটা করছে। কারণ, চীনের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। ভারতের মুদ্রা এখন ডলারের চেয়ে বেশি সম্পর্কিত চীনের মুদ্রার সঙ্গে। চীন যেহেতু তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে, সেহেতু ভারতও তা করছে। অন্যদিকে কোরিয়া, জাপানও মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। সবাই এটা করছে নিজেদের রপ্তানি খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু বাংলাদেশে মুদ্রার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এর ফলে ভারতীয় ও চীনা পণ্যের দাম কমে যাবে; তাদের পণ্য আমাদের বাজারে আরও ব্যাপকভাবে ঢুকবে। ফলে তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যবৈষম্য আরও বেড়ে যাবে। প্রথম আলো: আমাদের আর্থিক খাতের বর্তমান অবস্থা কী? শোনা যাচ্ছে ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। আহসান এইচ মনসুর: বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অবস্থা বেশ শোচনীয়। আর্থিক খাতের চারটা স্তম্ভ থাকে: মুদ্রাবাজার, যেটা ব্যাংক ও নন-ব্যাংক খাত মিলিয়ে হয়, শেয়ারবাজার, বিমা খাত এবং বন্ড মার্কেট। এই চারটা স্তম্ভের মধ্যে তিনটারই অবস্থা বেশ শোচনীয়। বন্ড মার্কেট নেই বললেই চলে; শেয়ারবাজারের অবস্থা এতই শোচনীয় যে নতুন করে কিছু বলার নেই; বিমা খাত যেটা আছে, সেটা আসলে কাগজে-কলমে। বাংলাদেশের বিমা কোম্পানিগুলো প্রকৃতপক্ষে প্রিমিয়াম সংগ্রহের এজেন্সি; এরা বিমাকারীদের কোনো সুরক্ষা আসলে দেয় না। সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যে অ্যাকচুয়ারিয়াল অ্যালাউন্স থাকা দরকার, তা দেশি কোনো বিমা কোম্পানিরই নেই। তাহলে আর্থিক খাতের তিনটা স্তম্ভেরই এই দুর্দশা; ভরসার জায়গা শুধু থাকল মুদ্রাবাজার। এর নন-ব্যাংক আর্থিক খাতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক তারল্যসংকট চলছে। প্রথম আলো: তাহলে আমাদের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কী? আহসান এইচ মনসুর: যেসব প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেগুলো অব্যাহত থাকলে আমাদের অর্থনীতি এখন যেটুকু ভালো অবস্থায় আছে, ভবিষ্যতে তা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কারণ, বিনিয়োগ না বাড়লে, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে উন্নয়ন হবে না। প্রথম আলো: কী করতে হবে? আহসান এইচ মনসুর: সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। বিশেষত ভারত ও চীনে মুদ্রার অবমূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদেরও তা করতে হবে। নইলে আমরা রপ্তানি খাতে আরও পিছিয়ে যাব, বিশ্ববাজারে আমাদের পণ্যের প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা কমে যাবে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার আনতে হবে; রাজস্ব বিভাগের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত যে কায়েমি স্বার্থ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার উচ্ছেদ ঘটাতে হবে। প্রথম আলো: আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কী? আহসান এইচ মনসুর: প্রথম কথা হচ্ছে, ব্রিটিশ আমলের পর থেকে আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কোনো সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে আমাদের অর্থনীতির আকার, তাতে রাজস্ব আদায়ের জন্য যে ধরনের প্রযুক্তিভিত্তিক রাজস্ব প্রশাসন করতে হবে, সেটা আজ পর্যন্ত করা হয়নি। প্রথম আলো: কেন? বেশি রাজস্ব আদায় হলে তো সরকারেরই সুবিধা। আহসান এইচ মনসুর: সেটা তো সরকারের বোঝা উচিত। রাজস্ব বিভাগে যারা দুর্নীতিবাজ, তাদের তো বিদ্যমান অবস্থাই ভালো, তাতে আমার পকেট ভারী হবে। করদাতাদের অসৎ অংশের বিদ্যমান অবস্থাই কাম্য। তাঁরা রাজস্ব কর্মকর্তাকে ১০ শতাংশ দেবেন, নিজের পকেটে ৯০ শতাংশ রাখবেন, রাষ্ট্রের কোষাগারে যাবে শূন্য শতাংশ। এই অশুভ যোগসাজশ একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত একটা কালচারে পরিণত হয়েছে। এটার অবসান ঘটাতে হবে। সে জন্য ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পলিসিগত পরিবর্তন আনতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে আমাদের জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায় আগামী দিনে আরও কমে যাবে। এখন ট্যাক্স-টু-জিডিপি রেশিও সাড়ে ৮ শতাংশ; পৃথিবীর কোনো দেশে এখন আর এত কম ট্যাক্স-টু-জিডিপি রেশিও নেই। এই কম ট্যাক্স-টু-জিডিপি রেশিও দিয়ে এসডিজি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না, আমাদের উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া সম্ভব হবে না। প্রথম আলো: আর কী করতে হবে? আহসান এইচ মনসুর: আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন। আমরা যদি বিনিয়োগের পরিবেশের দিকে তাকাই, এটা তো উৎসাহব্যঞ্জক নয়। সহজে ব্যবসা করার সূচকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু এনফোর্সমেন্ট অব কনট্রাক্টের সংস্কৃতি ভালো নয়। আমরা চুক্তি করছি কিন্তু চুক্তি মানছি না। আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যেমন আচরণ করছি, তারও কিছু কিছু দৃষ্টান্ত অত্যন্ত ক্ষতিকর। যেমন গ্রামীণফোনের সঙ্গে রাজস্ব বিভাগের একতরফা আচরণের নেতিবাচক বার্তা চলে যাচ্ছে বহির্বিশ্বে। রাজস্ব বিভাগ বলছে, গ্রামীণফোন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছে, গ্রামীণফোন বলছে, তারা ফাঁকি দেয়নি। সে জন্য তারা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ আরবিট্রেশনের দাবি জানাচ্ছে, কিন্তু রাজস্ব বিভাগ তাতে রাজি নয়; তারা গ্রামীণফোনকে বলছে, আমরা বলছি, তোমরা দিয়ে দাও। গ্রামীণফোন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুই বিদেশি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের একটি। তাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করবে। শুধু বিদেশি বিনিয়োগকারী নয়, দেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তারপর আমরা কোরিয়ান ইপিজেডগুলো নিয়ে কত রকমের হয়রানি করলাম! এই ধরনের আচরণ যদি আমরা করতে থাকি, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। এসব আমাদের বুঝতে হবে। এ ধরনের আচরণ বন্ধ করতে হবে। আর আমাদের দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে হবে। আরও অনেক কিছু করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী, উদ্যমী। আমাদের অর্থনীতির আরও অনেক অগ্রগতি সম্ভব। সে জন্য অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতে ব্যাপক সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। প্রথম আলো: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আহসান এইচ মনসুর: আপনাকেও ধন্যবাদ।
8
গেমারদের চমকে দিয়ে 'সি অফ থিভস' গেমে 'আ পাইরেট'স লাইফ' নামের নতুন আপডেট নিয়ে এসেছে মাইক্রোসফট। এতে করে ডিজনির পাইরেট'স অফ দ্য ক্যারিবিয়ান গল্পে গেম খেলার সুযোগ পাবেন গেমাররা। নতুন গল্পে দেখা মিলবে ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো, ডেভি জোনস এবং ফার্স্ট মেট গিবসের। ২২ জুন বিনামূল্যেই আপডেটটি পাবেন গেমাররা। ধারণা করা হচ্ছে, রূপালী পর্দার মতো গেমের ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো চরিত্রকেও প্রাণ দেবেন হলিউড তারকা জনি ডেপ। আরও পরিষ্কার করে বললে, চরিত্রটির জন্য কণ্ঠ দিতে পারেন ডেপ। অন্যদিকে, ডেভি জোনসের গেইম চরিত্রে কণ্ঠ দিতে পারেন বিল নায়ি, চলচ্চিত্রেও তিনিই কণ্ঠ দিয়েছেন। খবর এনগ্যাজেটের আ পাইরেট'স লাইফ আপডেটে পাঁচটি একক পর্ব থাকবে। শুরুতে জ্যাক স্প্যারোকে কারাগার থেকে উদ্ধার করতে হবে গেমারদের। এরপর আসবে ভিন্ন ভিন্ন গল্প। ডিজনির সঙ্গে মিলে গেমের গল্পগুলো তৈরি করেছে মাইক্রোসফট। গল্প তৈরিতে চলচ্চিত্র এবং থিম পার্ক রাইড দুটি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে।
11
খোকসায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপস্থিতিতে মসজিদ থেকে মাইকিং করে এক ইউপি মেম্বারের সমর্থকদের ২০টি বাড়িতে হামলা ও লুটতরাজ করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। হামলায় ২৩ নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গ্রামের ভেতর দিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেল চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরাজিত ইউপি মেম্বার প্রার্থী ফারুকের সমর্থক এনজিও কর্মী রাকিবের ওপর হামলা করে প্রতিপক্ষ জহুরুল মেম্বারের লোকেরা। এ ঘটনার নিষ্পত্তির জন্য বুধবার উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বাবলু ওসমানপুর কলতলা গ্রামে সালিশ বৈঠকে বসেন। এ সময় চেয়ারম্যানের গ্রাম দেবীনগরের মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে জহুরুল মেম্বারের লোকদের বাড়িতে হামলা ও লুটতরাজ চালানো হয়। হামলাকারীরা আবদুস সালাম, রিপন, সোবাহান, শাজাহান, ময়েন, আবু তালেব, মুক্তার, হাসান, মতিন, হেকমত আলীর বাড়িসহ ২০টির বেশি বাড়ির দরজা-জানালা ও টিনের বেড়া ভাংচুর করে। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে সাব্বির, শাজাহান, রজব আলীসহ ৮ জনকে খোকসা ও কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জহুরুল মেম্বার অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে কৃষক লীগ সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান পরিকল্পিতভাবে মাইকিং করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রথমে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির পর লুটতরাজ করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এদিকে কৃষক লীগ সভাপতি ও ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বাবলু দাবি করেছেন, মূলত বিরোধ জহুরুল মেম্বার ও তার প্রতিপক্ষ ফারুকের মধ্যে। দু'পক্ষ ফোন করে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। গুজবকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের গ্রাম দেবীনগর মসজিদের মাইক থেকে তাকে উদ্ধারের জন্য ঘোষণা দেওয়া হয় বলে তিনি স্বীকার করেন। খোকসা থানার এসআই হুমায়ন রেজা হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে মাইকিং করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। হামলার সময় তিনি ও কয়েক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান।
6
মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সু চিকে ভিন্নমত উসকে দেওয়ার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইনের অধীনে কোভিড নিয়ম ভঙ্গ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ রয়েছে। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এই নেত্রী। মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয় অং সান সু চিসহ তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। তখন থেকে ৭৬ বছর বয়সী সু চিকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছেএবং অনেকগুলো মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভঙ্গ এবং সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার মতো অভিযোগ।সু চির বিরুদ্ধে আরও যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো প্রমাণিত হলে তার ১০২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সেনাবিরোধী আন্দোলনে দেশটিতে ১ হাজার ২০০ র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি।
3
আমাদের দেশের কোনো সরকারই ডাক বিভাগের আধুনিকায়নসহ সংস্কার করেনি। সেকেলে ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি যুগোপযোগী হয়নি, হয়নি আধুনিকও। তাই যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোতে পারেনি। ক্রমেই পিছিয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাস শেষে বেতন নিয়মিতই পেয়েছেন।আমাদের সামাজিক জীবনে যোগাযোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল চিঠি। সব ধরনের যোগাযোগ-কুশলাদি জানার, ভাববিনিময়সহ সার্বিক প্রয়োজনে চিঠির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। চিঠির কোনো বিকল্প ছিল না। মনের কথা, প্রাণের কথা, ভাব-চিন্তার কথা প্রকাশের একমাত্র অবলম্বন ছিল চিঠি। দূরে থাকা সবাই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত চিঠির মাধ্যমে। আমাদের সাহিত্যের সব শাখায় চিঠিকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে প্রচুর রচনাসম্ভার। আমাদের খ্যাতিমান অনেক কবি-সাহিত্যিকের রচনায় চিঠিকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে প্রচুর সাহিত্যকর্ম। বাস্তবে চিঠি ছিল আমাদের জীবনেরই অপরিহার্য অংশ। চিঠির ব্যাপক ব্যবহার ছিল প্রায় সর্বক্ষেত্রে। আজকের বাস্তবতায় সেই চিরচেনা চিঠি প্রায় বিলুপ্তির পথে। চিঠির আবেদন-গুরুত্ব সবই কমে এসেছে। চিঠি আর কেউ লিখে সময় অপচয় করে না। অথচ চিঠি লেখার দক্ষতা ও পারদর্শিতার জন্য অনেকে চিঠি-সাহিত্যিকের মর্যাদা পর্যন্ত পেতেন। তাঁর কাছে ছুটে যেত কত মানুষ কেবল চিঠি লেখানোর জন্য।চিঠি লেখার জন্য বিশেষ ধরনের নীল কাগজের প্যাড পাওয়া যেত। সেই প্যাডের ওপরে পাখির ঠোঁটে চিঠির খাম মুদ্রিত এবং পাশে ছাপার অক্ষরে লেখা থাকত-'ভুলো না আমায়', 'মনে রেখো', 'যাও পাখি বলো তারে, সে যেন ভোলে না মোরে' ইত্যাদি নানা কথা। যাদের সংগতি ছিল তারা সেসব নীল প্যাডের কাগজে চিঠি লিখে পাঠাত প্রিয়জনকে। এ যেন এক হারানো পৃথিবীর হারানো সময়ের স্মৃতি। অনেকের পক্ষে বিশ্বাস করাও কঠিন। চিঠির ভাষা ও শব্দ প্রয়োগে সৃজনশীলতা নিয়ে একরকম প্রতিযোগিতা পর্যন্ত ছিল। আত্মীয়-পরিজন ছাড়াও পত্রবন্ধুদের সঙ্গে পত্রালাপের সংস্কৃতি ছিল; যা কালের গর্ভে আজ বিলীন হওয়ার পথে। চিঠি লেখার মধ্য দিয়ে ভাষাজ্ঞান সমৃদ্ধ করার সুযোগ ছিল। ভাষাজ্ঞান, শব্দ গঠন ও প্রয়োগে চিঠির ভূমিকাকে অস্বীকারের উপায় নেই। একটি চিঠিকে অনেকবার খসড়া করে তবেই চূড়ান্ত করে প্রাপকের কাছে পাঠানো হতো, অতি যত্নে। চিঠির সর্বজনীন ব্যবহার যেমন ছিল, তেমনি ছিল চিঠির রোমান্টিক আবেদন। চিঠিকে কেন্দ্র করে কত হৃদয়বিদারক ঘটনাও ঘটত। মানুষের হাসি-কান্না, আনন্দ, দুঃখ, বিরহ-বেদনা, শোকবার্তা-সবই বয়ে আনত চিঠি। চিঠির ব্যাপক আবেদন, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আজ আর নেই। চিঠির স্থানটি বেদখল হয়ে গেছে। হাল আমলের মোবাইল ফোন পুরোপুরি দখলে নিয়েছে চিঠি-সংস্কৃতি। তাই চিঠি হয়েছে অপ্রয়োজনীয় কালক্ষেপণের এক মাধ্যম মাত্র। সেকেলে এবং পশ্চাৎপদ সংস্কৃতির অপবাদ নিয়ে বিলুপ্তির প্রান্তে।প্রিয়জন বা নিকটজনের সংবাদ জানতে চিঠির জন্য ব্যাকুল হয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা আর দিতে হয় না। প্রেরক ও প্রাপক কাউকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনতে হয় না। প্রয়োজন হয় না সময়ক্ষেপণের ক্লান্তিকর প্রতীক্ষার। তাৎক্ষণিকভাবে কাঙ্ক্ষিত যে কারও সঙ্গে মুহূর্তে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। পরস্পরের সঙ্গে বলা যায় কথাও। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার এই যান্ত্রিক যুগে তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছুই নাগালে এখন। আমাদের চিরচেনা চিঠির সংস্কৃতি এখন সোনালি অতীত। আমাদের অনেক খ্যাতিমান সাহিত্যিকের রচনার হাতেখড়ি ছিল চিঠি লেখা, যা তাঁরা অনেকে স্বীকারও করে গেছেন। আজকের প্রজন্মের কাছে চিঠির প্রয়োজন-গুরুত্ব কোনোটিই নেই। থাকার কথাও নয়। তারা অনায়াসে মুহূর্তে যেখানে ইচ্ছে ফোন টিপে কথা বলতে এবং ক্যামেরায় পরস্পরকে দেখতেও পারছে। দেশে-বিদেশে সর্বত্র।বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় ইতির পাশাপাশি নেতির দিকটি যে নেই, তা কিন্তু নয়। নেতির দিকটি কি আমরা বিবেচনা করছি? আজকের প্রজন্ম মোবাইল, আইফোন, ওয়েভ, ই-মেইল, কম্পিউটার, স্যাটেলাইট সংস্কৃতিতে নিমজ্জিত। তাদের মেধা ও মনন বিকাশে যান্ত্রিকতার বিরূপ প্রভাব অস্বীকার করি কীভাবে? চিঠি লেখার অনভ্যস্ততায় কর্মজীবনে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে চিঠি লিখতে তাদের যে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না, এ সত্যটি কি অস্বীকার করা যাবে? যান্ত্রিকতার আবর্তে সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চা ও জ্ঞান অর্জনের পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠার উপায় আছে? সেটা কি ভাবনার কারণ নয়? আমাদের চিরচেনা সংস্কৃতি এখন অচেনা এবং অপাঙ্ক্তেয়। আজকের তরুণদের কাছে আমাদের সেই চিরচেনা সংস্কৃতি হাস্যকর বটে। আমাদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন ও ইতিহাসভিত্তিক রচনা আজকের প্রজন্মকে মোটেও আকর্ষণ করে না। এটা কি নেতিবাচক বিষয় নয়? বর্তমান প্রজন্মরা সমষ্টির বাইরে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। পাসটাস করে ঠাস-ঠাস ওপরে উঠে যাওয়ার প্রবণতায় ব্যস্ত। সেই সিঁড়িটি পাড়ি দিতেই অধীর ব্যস্ত, যে সিঁড়িটি কোথায় গিয়ে কোথায় মিশেছে, সে বিবেচনা পর্যন্ত করছে না। একটি জাতির সমষ্টিগত উন্নতির বিপরীতে চলছে ব্যক্তিগত উন্নতির প্রতিযোগিতা। এতে ব্যক্তির উন্নতি সাধন হলেও সমষ্টি রয়ে যাচ্ছে আলোহীন অন্ধকারে। সমষ্টিগতভাবে আমরা হয়ে পড়েছি অনগ্রসর। এটাই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। যার দ্বারা সমাজ আক্রান্ত।চিঠির ব্যাপক আদান-প্রদানে একমাত্র ভূমিকা ডাক বিভাগের। ডাক বিভাগও আজ আর অতীতের মতো কর্মমুখর নেই। চিঠি লেখার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাক বিভাগের কর্মপরিধিও সংকুচিত হয়েছে। ডাক বিভাগ এখন কর্মমুখর সচল কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। অচল ও অলস এক রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির প্রতিষ্ঠানে পরিণত; যা ইতিমধ্যে রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মব্যস্ত ডাক বিভাগের নানা অনিয়ম-অসংগতি ছিল সাধারণ বিষয়। যথাসময়ে বা নির্দিষ্ট প্রাপকের হাতে চিঠি পৌঁছানোও ছিল অনেক ক্ষেত্রে দুর্লভ। চিঠি খোয়া যাওয়ার ঘটনাও অতিসাধারণ বিষয় ছিল। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির কোনো জবাবদিহি ছিল না, আজও নেই। প্রাপকের চিঠি বেহাত হওয়ার মূলে ছিল চিঠি বিলি-বণ্টনে নিয়োজিত ডাক পিয়নদের অনৈতিক অপকীর্তি। একান্ত ব্যক্তিগত চিঠির ক্ষেত্রে ডাক পিয়নদের উপঢৌকন দিয়ে হাতে রাখতে হতো। চিঠি যেন খোয়া না যায় কিংবা বেহাত না হয়, সে জন্য ডাক পিয়নদের মাসোহারা দেওয়ার অলিখিত নিয়মও ছিল। ডাক পিয়নদের অপকীর্তির মাশুল গুনে কত ব্যক্তিগত গোপন চিঠির প্রাপককে অভিভাবকদের দ্বারা তিরস্কারের শিকার হতে হয়েছে। চিঠির প্রেরক বা প্রাপক নারী হলে চিঠির গোপনীয়তা ফাঁসে পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে রীতিমতো অসম্মানজনক অবস্থার মুখোমুখি হতে হতো। কত সুন্দর সম্পর্ক মুকুলে বিনষ্ট পর্যন্ত হয়েছে ডাক পিয়নদের অনৈতিক দায়িত্বহীন অপকীর্তিতে।সংগত কারণেই ডাক বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা ছিল না। বিকল্প ব্যবস্থার অভাবে ইচ্ছের বিরুদ্ধে হলেও ডাক বিভাগের ওপরই নির্ভর করতে হতো। আজ আধুনিক প্রযুক্তির আগমনে ই-মেইল, ফ্যাক্সে চিঠি যেমন প্রেরিত হয়, পাশাপাশি হয় বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও। বেসরকারি কুরিয়ার ডাক বিভাগের বিকল্পরূপে রাষ্ট্রীয় ডাক বিভাগের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। ডাক বিভাগের শক্ত প্রতিপক্ষ এবং বিকল্পরূপে মানুষের আস্থাও অর্জন করেছে। চিঠি, ডকুমেন্ট, পার্সেল, অর্থ প্রেরণসহ ডাক বিভাগের তাবৎ কর্মের বিকল্পরূপে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলো মানুষের কাছে আস্থাশীল হয়ে উঠেছে। এতে ডাক বিভাগের কর্মপরিধি সংকুচিত ও হুমকির মুখে। স্বেচ্ছাচারিতার মাশুল এখন গুনতে হচ্ছে খোদ ডাক বিভাগকেই। রাষ্ট্রীয় ডাক বিভাগের বহু গুণ খরচে মানুষ বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসে আস্থাবান হয়ে পড়েছে। বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে বিশাল ডাক বিভাগ এখন অন্তিম প্রহর গুনছে।ডাক বিভাগের সেবার মান অতি নিম্নমানের এবং বিড়ম্বনাময় বলেই মানুষের আস্থা-ভরসা হারিয়েছে। পাঁচ টাকা খরচে একটি চিঠি নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপকের হাতে পৌঁছাবে কিংবা আদৌ পৌঁছাবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ ত্রিশ টাকা খরচে বেসরকারি কুরিয়ার পরদিনই নির্দিষ্ট প্রাপকের হাতে ডাক পৌঁছে দিয়ে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কুরিয়ার সার্ভিসের ডাক বিলি-বণ্টনের সাফল্য প্রমাণিত। আর রাষ্ট্রীয় ডাক বিভাগ স্বীয় ব্যর্থতার দায় নিয়ে রাষ্ট্রের লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত। সেবার স্থলে দুর্ভোগ দিয়ে মানুষের আস্থা হারিয়ে নিজেরাই অন্তিম দুর্ভোগে পতিত।আমাদের দেশের কোনো সরকারই ডাক বিভাগের আধুনিকায়নসহ সংস্কার করেনি। সেকেলে ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি যুগোপযোগী হয়নি, হয়নি আধুনিকও। তাই যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোতে পারেনি। ক্রমেই পিছিয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাস শেষে বেতন নিয়মিতই পেয়েছেন। নিশ্চিত বেতন প্রাপ্তিতে বর্তমান দুরবস্থায়ও তাঁদের হয়নি সামান্য সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতাও। তাঁদের দায়িত্বহীন বেপরোয়া আচরণ অতীতের মতো অটুট রয়েছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে তাঁদের বোধ বিবেচনার সামান্য পরিবর্তন হয়নি। তাঁরা অতীতমুখী এবং অতীতের পথেই হাঁটছেন। ডাক বিভাগ কেবল অলাভজনকই নয়; রাষ্ট্রের আর্থিক ভর্তুকির এক নজরকাড়া প্রতিষ্ঠান; যা রাষ্ট্রের জন্য অনভিপ্রেত বোঝা। এই বোঝা রাষ্ট্র কত দিন বইবে, তা নিকট ভবিষ্যৎই বলে দেবে।
6
এক জেলেকে ঘর দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. কালাম এর বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার যার 'জমি আছে ঘর নেই' তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় তাকে এই ঘর দিতে চেয়েছিলেন ইউপি সদস্য।অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. কালাম উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের নওগাঁও এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি সোমভাগ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। পেশায় তিনি একজন গরু ব্যবসায়ী।ভুক্তভোগী অনিল রাজবংশী (৪৫) একই ইউনিয়নের সোমভাগ গ্রামের আনন্দ রাজবংশীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরে তা বিক্রি করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন।অনিল রাজবংশী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ঘরের জন্য এক দেড় মাস আগে কাগজপত্র আর ৫০ হাজার টাকা দিছি কালাম মেম্বারকে। দুই রুমের টিন সেট ঘর দিয়ে দেবে বলছে। এখনো কিছু জানায় নাই। ঘর আসলে জানাইবো।'আপনি ঘরের জন্য টাকা দিছেন কিন্তু ঘর যদি না পান তখন আপনার টাকার কি হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'আমি গরিব মানুষ আমার টাকা মাইরা খাইবো না। ঘর না পেলে মেম্বার আমার টাকা ফেরত দিয়ে দিবো বলছে। মেম্বারের কাছে টাকা দিছি সাক্ষী আছে আমার লগের মানুষই।'নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোমভাগ গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তো মানুষ ফ্রি পায়। সরকার এই ঘর দরিদ্রদের ফ্রি দিচ্ছেন। কিন্তু সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে অনিল জেলের কাছ থেকে কালাম মেম্বার ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে এটা অমানবিক। এ রকম করে প্রধানমন্ত্রীর আরও বদনাম করছে এই সব জনপ্রতিনিধিরা।ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. কালাম ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন, 'কে বলছে এই কথা। আমি তা হলে অনিলকে আসতে বলি আমার সামনে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন। দেখি তখন সে এই কথা বলে কিনা।'এ বিষয়ে সোমভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেতে কোনো টাকা পয়সা লাগে না। ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে যদি এমন ঘটনা সত্য হয় তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
6
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদকে ছুরিকাঘাত করার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনের বাসায় অভিযান চালিয়েছে পল্টন থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পল্টন থানা পুলিশ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গিয়াসউদ্দিনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে এ সময় তাদেরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
6
পাইকগাছা পৌরসভার বাজার থেকে শিববাটি সেতু পর্যন্ত প্রধান সড়কের পাশে বালু রেখে ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ফলে রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।প্রশাসন কয়েকবার সতর্ক করলেও সে নির্দেশ না মেনে বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এ অবস্থায় এলাকাবাসী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।জানা গেছে, পৌর সদরের বাজার হয়ে থানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সামনে দিয়ে শিববাটি ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে নিকাম, তুহিন ও ময়নুল নামে তিন বালি ব্যবসায়ী বালু রেখে ব্যবসা করছেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে পাইকগাছা সদরে আসা-যাওয়ার সময় বাতাসে বালু উড়ে এসে যাত্রীদের চোখে মুখে ঢুকছে। আবার মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত হচ্ছেন অনেকে।লস্কর ইউনিয়নের রফিকুল নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, 'এ রাস্তা দিয়ে পৌর সদরে যাওয়ার সময় বালুতে মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে গিয়ে আহত হয়েছি। মোটরসাইকেলটাও ভেঙে গেছে।'কথা হয় এক ভ্যানচালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আমি এই রাস্তায় অনেকদিন ধরে ভ্যান চালাই। রাস্তায় বালি রাখায় ভ্যানের যাত্রীদের অনেক অসুবিধা হয়। বালু উড়ে তাঁদের চোখমুখে পড়ে। আমারও একই সমস্যা হয়। না জানি কবে বড় কোনো দুর্ঘটনার শিকার হই।'তিনি আরও বলেন, 'যখন বালু উড়ে আসে তখন চোখমুখ ঢেকে বসতে হয়। দমকা বাতাসে বালু উড়ে মাথা বা গায়ে পড়ে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। তখন বাড়ি গিয়ে আবার গোসল করতে হয়। ফলে অনেকেই এখন এ রাস্তা চলাচল করা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁরা বিকল্প পথে চলাচল করছেন।'এ বিষয় অভিযুক্ত বালি ব্যবসায়ী ময়নুল বলেন, 'প্রশাসন থেকে নির্দেশ আসার পর বালু রাস্তা থেকে সরিয়ে নিচে নিয়েছি। মানুষের অসুবিধা হবে এমন ব্যবসা করব না। দরকার হলে আরও সরিয়ে নিয়ে যাব।'সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিল এস, এম ইমদাদুল হক বলেন, 'এ নিয়ে কয়েকবার তাঁদের বালু সরাতে বলেছি। কিন্তু তাঁরা বালু সরিয়ে নেওয়ার কথা মুখে বলে বাস্তবে আর সরিয়ে নেয় না।'পাইকগাছা পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, 'রাস্তার পাশে বালি রেখে ব্যবসা করা যাবে না। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দিয়ে ছিলাম। পরে যদি আবার তাঁরা রাস্তার ওপর বালি রেখে ব্যবসা করে সেটি অন্যায়। জনগণের অসুবিধা হয় তেমন কাজ করতে দেওয়া হবে না।'পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে অনেকেই আমার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছে। আমি খুব শিগগিরই সেখানে যাব। যদি বালি রাখার কারণে জনগণের ভোগান্তি হয়। তাহলে অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
ঢাকা: কে বলেছে ১৩ শব্দটি 'আনলাকি'! এই সংখ্যাটাই তো 'জীবন দিল' সাইফ হাসানকে। সেই জীবন পেয়ে শাইনপুকুরের বিপক্ষে মিরপুরে ঝড়ই তুললেন প্রাইম দোলেশ্বরের ওপেনার। তানভীর ইসলামের বলে বোল্ড হওয়ার আগে সাইফের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে-৫০ রান। যে ইনিংস গড়ার পথে সাইফ তিন চারের সঙ্গে মেরেছেন চারটি ছক্কা।শুধু সাইফ হাসান নন। আজ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে একযোগেই হেসেছে জাতীয় দলের আরও দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত আর মোহাম্মদ নাঈমের ব্যাট। জাতীয় দলের হয়ে সময়টা বাজে যাচ্ছিল নাজমুল-সাইফদের। ডিপিএলের প্রথম তিন ম্যাচেও সেই ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ছিলেন তাঁরা। ভালো করার জন্য আজকের দিনটাকেই বেছে নিলেন তিনজন। সাইফ ফিফটির দেখা পেলেও, হাত ছোঁয়া দূরত্বে থাকা ফিফটি ফেলে এসেছেন নাজমুল আর নাঈম। আবাহনীর দুই ব্যাটসম্যানই আউট হয়েছেন ৪৯ রানে। সাইফের ব্যাটিংয়ে প্রাইম দোলেশ্বর জয় পেলেও নাজমুল আর নাঈমের ব্যাটিং যথেষ্ট ছিল না আবাহনীর জয়ের জন্য। মিরাজদের খেলাঘর সমাজকল্যানের কাছে মুশফিকের আবাহনী 'অঘটনের' শিকার হয়ে হেরেছে ৮ রানে।একদিনের বিরতির পর আজ মিরপুরের পাশাপাশি বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া বিকেএসপির দুটি মাঠেও শুরু হয়েছে খেলা। মিরপুরে আগে ব্যাটিং করে টপ ও মিডল অর্ডারের যৌথ অবদানে ১৬৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরই পায় শাইনপুকুর। কিন্তু সাইফ-ফজলে রাব্বীদের ঝড়ে ২ বল হাতে থাকতে লক্ষ্যটা পেরিয়ে যায় প্রাইম দোলেশ্বর। সাইফদের ৪ উইকেটে জয়ের ম্যাচে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে দারুণ অবদান রেখেছেন শামীম হোসেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই অলরাউন্ডার বল হাতে দুই উইকেট ও একটি দারুণ ক্যাচের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ বলে করেছেন ২২ রান।ডিপিএলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীপূর্ণ ম্যাচ দুটি হলো বিকেএসপির দুই মাঠে। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে ইমতিয়াজ হোসেনের (৬৬) ও মেহেদী হাসান মিরাজের ২৫ বলে ৩৩ রানে চড়ে ১৬৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল খেলাঘর সমাজকল্যান সমিতি। জাতীয় দলের ৭ তারকা ক্রিকেটার নিয়ে গড়া আবাহনী সেই লক্ষ্য পেরোতে পারেনি। জিততে হলে শেষ ওভারে আবাহনীকে নিতে হতো ১৭। মোসাদ্দেক হোসেন ও আফিফ নিতে পারলেন তার অর্ধেকেরও কম-৮ রান। শেষমেশ ৮ রানে হারতে হয় মুশফিকদের।মাইশুকুর রাহমানের অনবদ্য ৬৮ রানে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৫ উইকেটে করেছিল ১৩৯ রান। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে আনিসুল ইসলামের (৬৪) দারুণ ব্যাটিংয়ের পরেও ২ রানে হেরেছে ওল্ড ডিওএইচএস। শেষ ওভারে জেতার জন্য মাত্র ৭ রান দরকার ছিল ওল্ড ডিওএইচএসের। সুজন হাওলাদারের ওই ওভারে ৪ রানের বেশি নিতে পারেননি রায়ান রহমান ও প্রীতম কুমার।
12
বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভৌত সুরক্ষা ব্যবস্থা (পিপিএস) নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ড. ইয়াফেস ওসমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন।উদ্বোধনের পর মন্ত্রী বলেন, আইইএর গাইড লাইন অনুযায়ী রূপপুর প্রকল্পে কাজ চলছে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে কাজ এগিয়ে চলেছে।মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ১০০ বছরের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে বহুস্তরের নিরাপত্তাবলয় নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ কাজে সহযোগিতা করছে। এরই মধ্যে তারা প্রশিক্ষণও নিয়েছে।পরে প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়ে একটি সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান ও রাশিয়ান স্টেট করপোরেশন রোসাটমের বৈদেশিক প্রকল্পপ্রধান রুসলান বাইচুরিন, ব্রিগেডিয়ার আব্দুল্লাহ ইউসুফ, কর্নেল মো. কবির উদ্দিন শিকদার।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৪ আসনের সাংসদ নুরুজ্জামান বিশ্বাস ও সংরক্ষিত আসনের নাদিরা ইয়াসমিন জলি, ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইসহাক মালিথা, প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবরসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজন।প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা ও ভৌত অবকাঠামো সেল (এনএসপিসি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় জেএসসি এলেরেন রাশান ফেডারেশন কর্তৃক প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
6
বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একটি 'স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থা' গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে পাঁচ দফা সুপারিশ পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।'জাতিসংঘ ফুড সিস্টেমস সামিট ২০২১'-এ বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে একটি বৈশ্বিক জোট ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে খাদ্যের অপচয় হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পর্যাপ্ত খাবার পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার, যা সব নাগরিকের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থার সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।'৭৬তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, খাদ্য নিরাপত্তা জলবায়ু পরিবর্তনের আন্তসংযুক্ত।পূর্বে রেকর্ডকৃত বক্তৃতায় '২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে' উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।'শেখ হাসিনা তাঁর পরামর্শে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি উন্নয়নের জন্য গবেষণা, বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই খাদ্যব্যবস্থা অর্জনের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর বর্ধিত তহবিল প্রয়োজন। টেকসই নিরাপত্তা অর্জনে প্রযুক্তি শেয়ারিংসহ জলবায়ুজনিত চরম ইভেন্টগুলোর সঙ্গে অভিযোজনের জন্য প্রতিশ্রুত তহবিল ছাড়েরও পরামর্শ দেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, 'মহামারি-পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ।'প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানে খাদ্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনে আমাদের জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনায় খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরকে একটি অন্তর্ভুক্ত হাতিয়ার হিসেবে সমন্বিত করেছি।'শেখ হাসিনা বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৮, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি-২০২০ এবং এর কর্মপরিকল্পনা (২০২১-২০৩০) দেশের খাদ্যব্যবস্থা রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয়।শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে...আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছি এবং আমরা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ এই গতিবেগকে প্রভাবিত করছে।'শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে।শেখ হাসিনা বলেন, 'খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আমরা সবার জন্য মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।'
6
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে ডা. বরেণ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। ওই হাসপাতালের মিডিয়া ও বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা মেহের খুদা দ্বীপ সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্মলেন্দু গুণের পরিবারের সদস্যরা জানান, বেশ কয়েক দিন আগে ঠান্ডায় আক্রান্ত হন কবি। ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়লে ও ১২ ফেব্রুয়ারি কিডনিতে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, যেগুলোর রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। নির্মলেন্দু গুণকে বর্তমানে চিকিৎসকেরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই দর্শনার্থীদের হাসপাতালে ভিড় না করার জন্য কবির পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
6
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান থেকে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। উপস্থিত সাংবাদিকেরা এর প্রতিবাদ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা চত্বর প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের দৌলতপুর উপজেলা প্রতিনিধি সালমান খান বলেন, 'আমরা অনুষ্ঠান শুরুর সময় ছবি তুলছিলাম। তখন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইমদাদুর রহমান আমাদের ছবি তুলতে নিষেধ করেন এবং একাধিকবার অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বলেন। তিনি আরও বলেন, ''আপনাদের ছবি প্রয়োজন হলে আমাদের কাছ থেকে নেবেন''। তাৎক্ষণিক এর প্রতিবাদ করলে ওনার সঙ্গে আমাদের কথা-কাটাকাটি হয়।'এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদুর রহমান বলেন, 'আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দিয়েছি এবং অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বলেছি।'এ বিষয়ে জানতে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
6
সিলেট নগরীর কাজিটুলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ৭০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের পর তা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে এ ঘটনার ছয় ঘণ্টা পর নগরীর বালুচর আল ইসলাহ আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে টাকাসহ দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো, জালালাবাদ থানার নোয়াগাঁও গ্রামের মাসুক মিয়ার ছেলে আনুর হক ও সদর উপজেলার লামাকাজীর চানপুর গ্রামের মজর আলীর ছেলে কাওসার আহমদ। পুলিশ জানায়, নগরীর আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় ইউনিলিভার ডিপো অফিস থেকে দু'জন হিসাবরক্ষক একটি প্রাইভেটকারে ৭০ লাখ টাকা নিয়ে এক্সিম ব্যাংক জিন্দাবাজার শাখায় যাচ্ছিলেন। তারা উত্তর কাজিটুলায় পৌঁছলে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা নিয়ে ছিনতাইকারীরা গাড়িটির গতিরোধ করে। পরে ছিনতাইকারীরা গাড়ি ভাংচুর করে ৭০ লাখ টাকা নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে গাড়ির চালকসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সুহেল আহম্মদ জানান, অটোরিকশার সূত্র ধরে ৬ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বালুচর থেকে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়। ওই সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বস্তায় থাকা ৭০ লাখ টাকা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
6
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ৯১ বোতল ফেন্সিডিলসহ জহির ইসলাম (২২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় শিমরাইল মোড়ের নগর পরিবহন বাস কাউন্টারের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জহির ইসলাম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাবর্চি এলাকার জসিমের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, বুধবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শিমরাইল মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে ৯১ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজনকে গ্রেফতার করে।
6
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কৌশল নির্ধারণের জন্য ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়েছেন সার্কভুক্ত প্রধানরা। ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্বাস দিয়েছেন,জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টিকারী যে কোনো সঙ্কট মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগের পাশে থাকবে বাংলাদেশ। রবিবার বিকেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সার্কভুক্ত প্রধানরা ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সমুদ্র-স্থল-বিমানবন্দরে কড়া নজরদারি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে তিনজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তিনটিই বিদেশ থেকে আসা রোগী। তারা ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। নতুন করে আরও দু'জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ দু'টিও বিদেশ থেকে আসা কেস। স্থানীয়ভাবে এখনো কেউ সংক্রমিত হয়নি। এদিনকরোনাভাইরাস নিয়ে করণীয় ঠিক করতেগণভবণ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে, শুক্রবার একাধিক টুইটে সার্ক সদস্যদেশের নেতাদের একজোট হয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলার প্রস্তাব দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সার্কভুক্ত সদস্যদেশের নেতাদের উপযুক্ত কৌশল তৈরি করার আহ্বান জানান নরেন্দ্র মোদি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
4
প্রথম আলো: দেড় বছর আগে আপনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার। কিন্তু এত দিনেও তা বাস্তবায়ন হলো না কেন?নজরুল ইসলাম মজুমদার: দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমরা সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলাম। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে অনেক শিল্পকারখানা টাকা ফেরত দিতে পারে না। এ কারণে ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে। এ জন্য আমরা সুদ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ওই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সব ধরনের সহায়তা করা হবে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে যে আমানত রয়েছে, তার ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংককে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে ২৫ শতাংশ সরকারি আমানতও আমরা পাইনি। অথচ দেশের ব্যাংক খাতে যে ঋণ রয়েছে, তার ৮০ শতাংশই বেসরকারি ব্যাংকের। সে হিসাবে সরকারের বেশির ভাগ আমানত বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে থাকার কথা। সাধারণ মানুষ থেকে উচ্চ সুদে আমানত নিয়ে আমরা ব্যাংকিং করছি। এ কারণে সুদহার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামেনি। তবে ২০১৭ সালের শুরুতে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নেমে এসেছিল। তখন টাকার সরবরাহ ভালো ছিল, চাহিদা কম ছিল। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, টাকার চাহিদা বাড়ছে। ব্যাংকগুলোতে ঋণের চাহিদাও বেড়েছে। আর ব্যাংকগুলো আমানতের জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে। আরেকটা বিষয় হলো, জোগান ও চাহিদা সুদহার ঠিক করবে। এটা সিন্ডিকেট করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। করা গেলে সব ব্যাংকের সুদহার এক হতো। তবে অর্থনীতির স্বার্থে সুদহার এক অঙ্কে আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রথম আলো: সুদহার তাহলে সহসাই কমবে না। নাকি নতুন করে কোনো সুবিধা পেলে আবারও কমানোর ঘোষণা দেবেন? নজরুল ইসলাম মজুমদার: চাহিদা এখন এত বেশি বেড়ে গেছে, তাই টাকা লাগবেই। কারখানাগুলো চালাতে টাকা না দিলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, একটি কারখানা যে ব্যবসা করছে, সে পরিমাণ আয় করতে পারছে না। আমরা এরপরও কারখানাটি বাঁচিয়ে রাখতে তাদের অর্থায়ন করছি। আমরা জেনেশুনে জাতির স্বার্থে তাদের টাকা দিচ্ছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মতে, প্রচলিত ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে ৮৫ শতাংশ ও ইসলামি ব্যাংকগুলো ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে (ঋণ আমানত অনুপাত বা এডিআর) পারে। এটা ১ শতাংশ বাড়ানো হলে টাকার সংকট কিছুটা কমবে। আবার নগদ জমার হার (সিআরআর) কিছুটা কমিয়ে আনলে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়বে। এতে সুদহার কমে আসবে। প্রথম আলো: দিনে দিনে টাকার চাহিদা আরও বাড়বে। আমানত তো সেভাবে তৈরি হচ্ছে না। তাহলে কীভাবে সুদহার কমবে? নজরুল ইসলাম মজুমদার: এ জন্য আমরা অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরকে জানিয়েছি, একটা ফর্মুলা বের করার। ব্যাংক খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থ মন্ত্রণালয়ও ব্যাংকগুলো তদারক করে। তারা নিশ্চয়ই সুন্দর একটা ফর্মুলা বের করবে। সেটা এডিআর বা সিআরআরে পরিবর্তন এনে বা অন্য কোনো উপায়েও হতে পারে। দেখুন, এডিআরের সীমা ধরে রাখতে ব্যাংকের এমডিরা পাগল হয়ে যায়। এমডিরা এখন নিলামের মাধ্যমে টাকা কিনে আনছে। আগে কখনো টাকার জন্য এমন নিলামের ব্যবস্থা ছিল না। যেহেতু টাকার চাহিদা তৈরি হয়েছে, তাই নিলামে টাকা নিয়ে আসতে হচ্ছে। গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে আমরা এভাবেই টাকা নিয়ে আসছি। সরকারি ব্যাংকে তো এমন সমস্যা নেই। কারণ, সরকারি ব্যাংক লোকসান করলে আবার টাকা পাচ্ছে। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। বছর শেষে কমপক্ষে ১০ শতাংশ বোনাস দিতে না পারলে তারা আমাদের এজিএম মঞ্চ ভেঙে ফেলে। আর আমরা ব্যবসা করছি সাধারণ মানুষের টাকায়। একটি ব্যাংকে আমাদের পরিচালকদের আর কত টাকা। সর্বোচ্চ ৮০০ থেকে ১ হাজার কোটি। একদিকে ঋণের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। আবার কোনো শিল্প রুগ্ণ হয়ে পড়লে বড় অঙ্কের ধরা খেয়ে যায়। এ জন্য ধার করে বেশি সুদে হলেও আমাদের টাকা সংগ্রহ করতে হয়। কোনো শিল্প যাতে রুগ্ণ না হয়ে পড়ে, তা আমাদের দেখতে হয়। প্রথম আলো: বেশি সুদের কারণে ঋণখেলাপি হয়ে পড়ছে, নাকি বেশি খেলাপির কারণে সুদ বাড়ছে? নজরুল ইসলাম মজুমদার: বেশি সুদের কারণে ঋণখেলাপি হয়ে পড়ছে, এটা পুরোপুরি সত্য না। এক্সিম ব্যাংকের বেশির ভাগ ঋণ শিল্প খাতে। এসব ঋণে সুদহার ১১-১২ শতাংশ। তারা সবাই নিয়মিত ঋণ ফেরত দিচ্ছে। আবার ছোট ব্যবসায়ীরাও নিয়মিত টাকা ফেরত দিচ্ছে। তবে মাঝারি ব্যবসায়ীদের সমস্যা হচ্ছে। তাই সুদহারের কারণে খেলাপি হওয়ায় বিষয়টি আংশিক সত্য। আরেকটা বিষয় হলো, সব বেসরকারি ব্যাংকে পরিচালন খরচ অনেক বেশি। একটা ছোট আকারের ব্যাংকের ২৫-৩০ কোটি টাকা বেতনসহ নানা খরচে চলে যাচ্ছে। এসব নিয়ে কথা উঠেছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সুদহারে কিছুটা প্রভাব পড়বে।
0
রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের চতুর্থ দফার দ্বিতীয় দিনে আজ মঙ্গলবার আরো সহস্রাধিক রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ এসব রোহিঙ্গাকে নিয়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানায়, নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিনায়ক রিয়ার এডমিরাল এম মোজাম্মেল হক চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর জেটিঘাট থেকে রোহিঙ্গাবাহী জাহাজের এ বহরকে বিদায় জানান। কুয়াশার কারণে আজ একটু দেরি করেই জাহাজ ছেড়েছে। তারা দুপুর ১টার পর ভাসানচর পৌঁছাবে বলে আশা করা যায়। মিয়ানমার ছেড়ে আসার পর এসব রোহিঙ্গা উখিয়ার বালুখালীর বিভিন্ন ক্যাম্পে ছিল। গতকাল সোমবার অপরাহ্নে বাসযোগে এসব রোহিঙ্গা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম আসে। চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর তাদের বি এ এফ শাহীন কলেজে রাখা হয়। সেখানে তারা রাত্রি যাপন করে। জানা যায়, এদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে চতুর্থ দফায় তিন হাজার ২১ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গতকাল চতুর্থ দফার প্রথম দিনে দুই হাজার ১০ জন ভাসানচর যায়। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া রোহিঙ্গাদের ভাসানচর স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় এনিয়ে চার দফায় ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হলো। পর্যায়ক্রমে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সেখানে পরিচ্ছন্ন আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। ভাসানচর যাওয়ার জন্য চট্টগ্রামে অপেক্ষমাণ রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথমদিকে অনেকের মধ্যে এ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় অনীহা ছিল। এখন তারা স্বেচ্ছায় ভাসানচর যেতে চাইছে। আজ দেখা গেছে, দশ বছর বয়সী শিশু শহীদ তার পালিত কুকুরকে নিয়ে জাহাজে উঠেছে। অন্যদিকে, নুর মোহাম্মদ নামে মধ্যবয়সী একজন তার পরিবারের নয় সদস্যের সাথে তিনটি ছাগলও জাহাজে তুলেছে। এদের সবার চেহারায় স্বস্তির ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। কারণ হিসেবে নুর মোহাম্মদ জানান, উখিয়ার ক্যাম্পে খুব কম জায়গায় তাদের গাদাগাদি করে থাকতে হতো। কিন্তু স্বজনদের মাধ্যমে তারা জেনেছে, ভাসানচরে সুপরিসর গুচ্ছ প্রকল্পে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ সরকার। উখিয়া থেকে অনেক বেশি উন্নত জীবন ব্যবস্থায় তারা সেখানে থাকতে পারবে বলে মনে করে। এদিকে, উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্পে কর্মরত সরকারি একটি সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে প্রায় ২৩ হাজার রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন করেছে। আরো অনেকের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর হামলা শুরু হলে তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। পরে সরকারের সদিচ্ছায় উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। এসময় প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গা আছে। সূত্র : ইউএনবি
6
আজ শনিবার সকাল আটটায় শুরু হয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত ঢাকা শহরে যে ভোট, সেটাই কে এম নূরুল হুদা কমিশনের শেষ বড় ভোট। ৫৪ লাখ ভোটারকে তারা আর কোনো নির্বাচনে একত্র করতে পারবে না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটারদের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্যও। বর্তমান ইসির অধীনে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনসহ অনেকগুলা নির্বাচন হয়েছে, এর মধ্যে দু-একটা ব্যতিক্রম ছাড়া কোনোটি সুষ্ঠু ও অবাধ হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনে ইসি নিজেদের অদক্ষতা-অক্ষমতার প্রমাণ রেখেছে এবং অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। অতীতেও একাধিক নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। পার্থক্য হলো তারা নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকারও করেছে, বর্তমান ইসি ভোটে যত কারচুপি ও জালিয়াতিই হোক না কেন, 'শতভাগ সুষ্ঠু' বলে সার্টিফিকেট দিয়ে চলেছে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন, কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো ক্ষমতাসীনেরা গায়ের জোরে সেই স্বাধীনতাকে খর্ব করতে নানা কলাকৌশল ব্যবহার করে থাকেন। আবার নির্বাচন কমিশনেও এমন ব্যক্তিরা পদায়িত হন যে তাঁরা পরাধীন হতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও আমরা আশা রাখতে চাই, এবার নির্বাচন কমিশন একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম হবে। মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, প্রচারের সময় যত নিষ্ক্রিয়তা দেখাক না কেন, অন্তত ভোটের দিন ইসি যেন ক্ষমতার সুষ্ঠু প্রয়োগ দেখায়। এটি তাঁর একার কথা নয়, ঢাকা শহরের ৫৪ লাখ ভোটারের মনের কথা। বলা প্রয়োজন যে নির্বাচনের নিয়ামক শক্তি কিন্তু ইসি বা প্রতিদ্বন্দ্বী দল নয়, নিয়ামক শক্তি হলেন ভোটার বা জনগণ। ইসির প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো সেই জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষা করা। কিন্তু ইসি ইভিএম, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে যতটা সক্রিয়, ভোটারদের সম্পর্কে ততই নিষ্ক্রিয় ও উদাসীন। ঢাকা শহরে নির্বাচন হচ্ছে। সিইসিসহ পাঁচ নির্বাচন কমিশনারও ঢাকায় থাকেন, কিন্তু তাঁরা একটি বারের জন্যও ভোটারদের মুখোমুখি হননি। তাঁদের কাছে জানতে চাননি, ভোট দিতে বাধা কোথায়। ইসি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, কিন্তু সেই প্রশিক্ষণ তাঁরা কোন কাজে লাগাচ্ছেন, একবারও খোঁজ নেয়নি। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বা নিতে পারেনি। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে অনুপস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের সচিব এক আজগুবি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নতি করেছে বলে নাকি মানুষ ভোট দিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। তাঁর কথা সত্য হলে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে ভোটব্যবস্থাই তুলে দিতে হয়। মানুষ খারাপ অবস্থায় থাকলে ভোট দেয় আর ভালো থাকলে ভোট দিতে যায় না, এ রকম দায়িত্বহীন কথাবার্তা যাঁরা বলেন, তাঁরা কী করে ভোটের সুরক্ষা দেবেন? শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, প্রার্থীরাও ভোটারদের উপেক্ষা করে চলেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তিন সপ্তাহ ধরে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। পোস্টারে পোস্টারে ঢাকা ছেয়ে ফেলেছেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মাইকিং করেছেন। প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। আবার এক পক্ষের অভিযোগ অন্য পক্ষ খণ্ডনও করেছে, কিন্তু ভোটারদের কথা কেউ শোনার প্রয়োজন বোধ করেননি। নির্বাচনী প্রচারের শুরুতে প্রার্থী বা দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। এরপর বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ সেই ইশতেহার নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। ভোটাররা প্রতিক্রিয়া জানান। এই রীতিই আমরা এত দিন দেখে এসেছি। কিন্তু ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রার্থীরাই শেষ মুহূর্তে ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ, তাঁরা শুধু কথা বলে গেছেন, ভোটারদের কথা শোনেননি। একসময় বিভিন্ন দলের প্রার্থী একসঙ্গে 'জনতার মুখোমুখি' হতেন। ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন। এখন তাঁরা মুখোমুখি হতে ভয় পান। বেলা শেষে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের এটিও একটি কারণ হতে পারে। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম লিখেছেন, 'নির্বাচনী ইশতেহারের তামাশা।' নির্বাচন নিয়ে আরও অনেক তামাশা প্রত্যক্ষ করেছে দেশবাসী। বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ও জাতীয় উভয় নির্বাচন নিয়েই বিতর্ক আছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় সরকার সংস্থার রেকর্ড তুলনামূলক ভালো। জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের হেরে যাওয়ার কোনো নজির নেই। যারা যখন ক্ষমতায় ছিল বা আছে, তারাই সব সময় জয়ী হয়। কিন্তু সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার মনোনীত বা সমর্থিত প্রার্থীর হেরে যাওয়া কিংবা বিরোধীদলীয় প্রার্থীর জয়ী হওয়ার অনেক নজির আছে। বিএনপির আমলে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয় ১৯৯৪ সালের ৩০ জানুয়ারি। সেটাই ছিল ঢাকা সিটির প্রথম সরাসরি ভোট। এই নির্বাচনে এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মির্জা আব্বাস। একই দিন অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও জয়ী হন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন বিএনপির আমলে, ২০০৫ সালের ৯ মে। আওয়ামী লীগ আমলে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে জয়ী হন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলম। বিএনপির আমলে ২০০৩ সালের ২০ মার্চ সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী; যদিও আওয়ামী সমর্থন দিয়েছিল শামীম ওসমানকে। আওয়ামী লীগ আমলে ২০১২ ও ২০১৭ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হন বিএনপির মো. মনিরুল হক। আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৩ সালের নির্বাচনে বরিশাল সিটি করপোরেশনে বিএনপির আহসান হাবীব, গাজীপুরে অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, খুলনায় মো. মনিরুজ্জামান এবং রাজশাহীতে মোসাদ্দেক হোসেন জয়ী হন। সিলেটে ২০১৩ ও ২০১৮ সালে দুবার জয়ী হন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী। আবার আওয়ামী লীগ আমলে রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক প্রার্থী জিতলেও তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেননি। কিন্তু ২০১৫ সালে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা যেভাবে জয়ী হলেন, তা বিতর্কের সৃষ্টি করে। বিতর্কের সৃষ্টি করে ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনও। বিতর্কটা এ কারণে নয় যে সরকারদলীয় বা সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিতর্কটা এ কারণে যে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে হয়নি। ভোটে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা আজকের নির্বাচনকে কীভাবে দেখব? নির্বাচনে কি ২০১৫-এর পুনরাবৃত্তি হবে, না ১৯৯৪ সালের মতো 'ভোটবিপ্লব' ঘটবে? বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করেন, এ রকম একজন বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেমন হবে ভোট। তিনি বললেন, একটি নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে যা যা প্রয়োজন, সেটি করার ক্ষমতা ইসির আছে। কিন্তু নিকট অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, সরকার চাইলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। সরকার না চাইলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। আজকের নির্বাচনটি সুষ্ঠু হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের মর্জির ওপর। তাঁর এই বক্তব্য শুনে গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে দেওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি কথাও মনে এল। তিনি বলেছিলেন, 'আমি আশ্বস্ত করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নির্বাচন ফ্রি, ফেয়ার, সুষ্ঠু, অ্যাকসেপ্টেবল এবং ক্রেডিবল করতে চান। নির্বাচনে যে-ই বিজয়ী হোক না কেন, তাতে কিছু আসে-যায় না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হেরে গেলে সরকারের ওপর আকাশ ভেঙে পড়বে না। আমরা সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন করতে চাই। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।' সরকারের পক্ষ থেকে সেই সহযোগিতা থাকবে কি না, তার প্রমাণও আজ পাওয়া যাবে। লেখাটি যখন শেষ করছি, তখনই খবর পেলাম ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর সুস্থতা কামনা করি। সেই সঙ্গে প্রার্থনা করি, বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাটিও সুস্থ হয়ে উঠুক। সোহরাব হাসান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি[]
8
আগুনে পুড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক লাশ বের করা হচ্ছিল। বাইরে অপেক্ষায় স্বজনরা। একটি লাশ বের করা হলেই ছুটে যান তারা। কিন্তু চিনতে পারছিলেন না। পুড়ে এমন অবস্থা যে, লাশ চেনার কোনো উপায় নেই। এতেতাদেরআহাজারি আরও বেড়ে যায়, যাতেকারখানা এলাকার আকাশ-বাতাস ভারীহয়ে ওঠে। শুক্রবার দেড়টার দিকে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সেজান জুস কারখানার সামনে। এই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইতোমধ্যে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো লাশ উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। ঘটনাস্থল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশীস বর্ধন গণমাধ্যমকে জানান, এখন পর্যন্ত কারখানার ভেতর থেকে ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর মেডিকেলে তিনজন মারা গেছেন। আজকে উদ্ধার করা লাশগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কারখানা ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ভবনের অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন অনেক শ্রমিক। এতে ওই রাতেই তিনজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, আহতও হন বেশ কিছু শ্রমিক। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
'তুমি' বলে সম্বোধন করায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদকে। তাকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠে। ভুক্তভোগী আনিসুর রহমানের সাথে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। তাই অভিযুক্ত ওয়াকিল আহমদকে উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। তাকে বহিষ্কারের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নিকট অনুরোধসহ প্রেরণ করা হল। বিডি প্রতিদিন/হিমেল
1
তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি রপ্তানি আয় হবে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এ খাতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বৃহস্পতিবার বর্তমান সরকারের তিন বছরে তথ্য প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকাদর উপস্থিত ছিলেন। জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন একটি বড় খাত খুঁজে পাওয়া গেছে। সেটি হচ্ছে বিজনেস প্রসেসিং আউটসোর্সিং বা বিপিও। এই খাতকে আলোকপাত করে তরুনদের বিপুল সংখ্যায় সম্পৃক্ত করতে পারলে তথ্য প্রযুক্তি সেবা রপ্তানি হবে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের তথ্য প্রযুক্তি খাতে আউটসোর্সিংয়ের জন্য প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। এ খাতে তরুণ উদ্যেক্তা তৈরির কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর একটাই লক্ষ্য বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তি বাজারে বাংলাদেশের দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি গত তিন বছরে উন্নয়নের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক ও কারওয়ান বাজারে সফটওয়ার পার্ক নির্মাণে অগ্রগতি, দেশের বিভিন্ন স্থানে আইটি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা, ই-গর্ভনেন্স চালু, ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, জেলা পর্যায়ে ই-সেবা কেন্দ্র স্থাপন প্রভৃতি।
11
বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্য মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে পরিণত হবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।শুক্রবার দুপুরে মাগুরা শহরের নোমানী ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্য পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের দিক দিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের মত দেশে পরিণত হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হবে। দেশে ছেলেরা রোবট তৈরি করবে। দেশের ছেলেরা তাদের তৈরি রোবেটের মাধ্যমে নিজেরা কাজ করবে।জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মোস্তাফিজুর রহমানের জেলায় তিনটি ক্রিকেট একাডেমি গড়ে তোলা হবে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মাগুরা ক্রিকেট একাডেমি স্থাপনের বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সভা হয়েছে।জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ তানজেল হোসেন খানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মামুন স্বপন এমপি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট বীরেন শিকদার, এটিএম আব্দুল ওয়াহহাব এমপি, কামরুল লায়লা জলি এমপি, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ কুণ্ডু প্রমুখ।
6
দেশের মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব অভিযোগ করেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের কোনো প্রস্তাব ও সুপারিশ মানা হয়নি। মোবাইল অপারেটরদের ওপর আরোপিত উচ্চহারের করে ছাড় দেওয়া হয়নি। বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকাল মঙ্গলবার অনলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যামটবের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়। এতে মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রতিবছর বাজেটের আগে তাঁরা বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। কিন্তু কোনো বছরই তা শোনা হয় না। এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ মুঠোফোন সেবার বাইরে। মাত্র ৪৪ শতাংশ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। তাঁদের সেবার আওতায় আনতে পারলে অর্থনীতির গতি আরও বাড়ত। সংবাদ সম্মেলনে অ্যামটবের মহাসচিব এস এম ফরহাদ জানান, এবারের বাজেটে তাঁরা অলাভজনক অপারেটরের ওপর ন্যূনতম লেনদেন কর বা টার্নওভার ট্যাক্স তুলে নেওয়া, করপোরেট করহার সহনীয় পর্যায়ে আনা, মোবাইলে টাকা রিচার্জ করে কিছু কেনার ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ প্রত্যাহার, সিমের ওপর ২০০ টাকা সিমকর তুলে নেওয়া, কথা বলা ও ইন্টারনেটে কর যৌক্তিক পর্যায়ে আনাসহ কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। গ্রামীণফোনের পরিচালক ও হেড অব পাবলিক অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বলেন, করোনাকালে টেলিযোগাযোগকে জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উচ্চহারে কর এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান, তারা নিজেই যেন একটি গবেষণা পরিচালনা করে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে টেলিযোগাযোগের প্রভাব মূল্যায়ন করে এবং সে অনুযায়ী নীতি নির্ধারণ করে। বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, 'অপারেটরদের যুক্তিসংগত কয়েকটি দাবি প্রস্তাবিত বাজেটে বিবেচিত না হওয়ায় আমরা আশাহত হয়েছি।'
0
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনায় ৯ জন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হাসপাতালেরে করোনা ইউনিটে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। সোমবার (২৬ জুলাই) মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকালপারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।মৃতরা হলেন-ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সুক্লা (৬১), আলি ফতেন্নেসা (৬৮), গফরগাঁওয়ের বকুলা (৮২), হালুয়াঘাটের মোহাম্মদ আলি (৬০), ত্রিশালের সাব্বির (৪২), মুক্তাগাছার লিয়াকত আলি (৬০), নেত্রকোনা সদরের হামিদা খাতুন (৫২), খালিয়াজুড়ির শাহজাহান (৫০) ও গাজীপুর শ্রীপুরের ফয়েজ বানু (৮০)।উপসর্গ নিয়ে মৃতরা হলেন-ময়মনসিংহ সদরের ইসমাইল (৩৫), আব্দুস সিদ্দিক (৬৪), মো. সাইফুজ্জামান (৬৪), ফিরোজা খাতুন (৬৫), নান্দাইলের রমেসা (৭৮), ফুলপুরের আব্দুল সেলিম (৫০), ভালুকার তাজুদ্দিন (৪৫), ত্রিশালের আঞ্জুমান (৭০), গফরগাঁওয়ের আব্দুস রাজ্জাক (৮০), নেত্রকোনা সদরের পাপিয়া (৩৫), পূর্বধলা আব্দুর রশিদ (৮৫), টাঙ্গাইল সদরের বিনয় কিশ পোদ্দার (৬২), মধুপুরের খলিল (৮৫), গাজীপুর শ্রীপুরের নুরুল ইসলাম (৬০)।ডা. মহিউদ্দিন আরও বলেন, আইসিইউতে ১৯ জনসহ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৪৫৬ জন চিকিৎসাধীন আছেন। নতুন ভর্তি ৮৪ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৭ জন।ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব ও এন্টিজেন টেস্টে ১২৬৩টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ৩৭০ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন।
6
পঞ্চগড়ে কয়েকদিন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও আবারও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। সকাল থেকে ঘনকুয়াশা আর শরীর হিম করা শীতে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাড় কাঁপানো শীতের কারণে আবারও দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। পৌরসভা এলাকার মিঠাপুকুর এলাকার দিনমুজুর আইবুল ইসলাম বলেন, শীতের জন্য বাড়ি থেকে বের হতে দেরি হয়। এজন্য ঠিকমত কাজ পাওয়া যায় না। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গবার সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়ার এই অবস্থাকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। প্রসঙ্গ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকাকে মাঝারি পর্যায়ের শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
6
আগামী দুই বছরের জন্য সম্প্রচার ফি বাবদ সরাসরি কোনো আয় থাকছে না বিবিসির। ফলে এই ব্রিটিশ সম্প্রচার মাধ্যমটির নিঃসন্দেহে প্রোগ্রাম বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করতে হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে বিবিসির সম্প্রচার ফি সম্পূর্ণ বাতিল করারও পরিকল্পনা করেছে বরিস জনসনের সরকার।জনসনের সরকার বেশ কিছুদিন ধরেই বলে আসছেন, বিবিসির তহবিল সংস্থান ব্যবস্থায় সংস্কার আনা দরকার। অবশ্য লাইসেন্স ফির টাকায় পরিচালিত ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (বিবিসি) ভবিষ্যৎ বহু দিন ধরেই ব্রিটেনে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়ে গেছে।ব্রেক্সিট এবং এরপর দীর্ঘ মহামারির কারণে ব্রিটেনে বাজারের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। আগামী এপ্রিলে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশ বা তারও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির খপ্পরে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।এ পরিস্থিতিতে বিবিসির বর্তমান বাৎসরিক লাইসেন্স ফি (১৫৯ পাউন্ড) আগামী দুই বছর স্থগিত করলে গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে ব্রিটেনে জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়ছে।তবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নাডিন ডরিস জানাচ্ছেন, লাইভ টেলিভিশন এবং আইপ্লেয়ার সার্ভিস পেতে চাইলে একটি বাৎসরিক লাইসেন্স ফি দিতেই হবে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এটি ১৫৯ পাউন্ডই থাকছে। এর পরবর্তী তিন বছর সামান্য বাড়বে।মন্ত্রী বলেছেন, এই পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে বিবিসির বর্তমান লাইসেন্স ফি ফান্ডিং ব্যবস্থার ইতি ঘটবে। তবে এতে দীর্ঘ মেয়াদে গণমাধ্যমটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম হিসেবে এই রক্ষণশীল সরকারের অধীনে এটির সম্পাদকীয় স্বাধীনতাও হুমকির মুখে পড়বে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।তা ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিলে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম এবং সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক অর্থে পরিচালিত নেটফ্লিক্সের মতো বিনোদন স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে বিবিসিকে। ফলে লাইসেন্স ফি বাবদ বছরে ৩২০ কোটি পাউন্ড পেলেও এরই মধ্যে প্রতিযোগিতা ও মূল্যস্ফীতির কারণে যেভাবে খরচ বেড়ে গেছে তাতে বিবিসিকে বেশ বেগ পেতে হবে। মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় সংকোচনের যেতে হতে পারে।মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিবিসিকে লাইসেন্স ফি বাড়ানোর যদি অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলেও আসছে এপ্রিলের মধ্যে ফি বাড়িয়ে ১৬৭ পাউন্ড করতে হবে। যেখানে বর্তমান মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ১ শতাংশ।গত বছরের নভেম্বরে টিভি লাইসেন্স ফি নির্ধারণ নিয়ে ব্রিটেন সরকার আলোচনা শুরু করে। যেখানে আগামী এপ্রিলে পাঁচ বছর মেয়াদি তহবিল জোগান চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার কথা রয়েছে।সংস্কৃতি মন্ত্রী নাডিম ডরিস বলছেন, লাইসেন্স ফি নিয়ে সরকারের এটিই হবে শেষ চুক্তি। এ নিয়ে তিনি একটি টুইট করেছেন।তবে এ ব্যাপারে সরকার বা বিবিসির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সরকারি টাকায় টেলিভিশন চালানোর দিন শেষ। এ ক্ষেত্রে নেটফ্লিক্স এবং ইউটিউবের মতো মার্কিন বেসরকারি কোম্পানির উন্নতির কথাও উল্লেখ করেছেন সূত্রটি।বিরোধী লেবার পার্টি বলছে, বিবিসির এই তহবিল কর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
3
ভালোবেসে বিয়ে করে ঘর বাঁধতে পারছে না সাবিনা ইয়াসমিন (২৩) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা তরুণী। স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ৫ দিন ধরে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছে সে। সাবিনা ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের চরধলী গ্রামের আ. সামাদের মেয়ে। জানা যায়, গত ৫ জুলাই ধনবাড়ী পৌরসভার আমনগ্রাম গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলামের (৩০) সাথে তার বিয়ে হয়। গত ৫-৬ বছর আগে মোবাইলে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং স্বামী-স্ত্রীর মত মেলামেশা করতে থাকে। পরবর্তীতে অবস্থা বেগতিক দেখে গত ৫ জুলাই পাইস্কা ইউনিয়ন কাজী অফিসে গিয়ে ৮০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সোমবার সরেজমিনে ওই বাড়িতে গেলে অনশনরত সাবিনা জানায়, ৫-৬ বছর আগে সাইফুলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর সূত্র ধরে গত ৫ জুলাই উভয়ের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে থাকত সাবিনা। এক পর্যায়ে মায়ের পরামর্শ অনুযায়ী সাইফুল ইসলাম কিছুদিন আগে সাবিনাকে অস্বীকার করে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। সোমবার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন মারধার করে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়। গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে মায়ের পরামর্শে স্বামী সাইফুল তার তলপেটে লাথি মারে। এ ব্যাপারে ধনবাড়ী পৌর সভার মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ভুক্তভোগী মেয়েটি পৌর সভায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্র উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হয়। মেয়েপক্ষ হাজির থাকলেও ছেলেপক্ষ হাজির হয়নি। পরবর্তীতে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ধনবাড়ী থানার ওসি মজিবর রহমান জানান, বিষয়টি এখনো আমাকে কেউ জানায় নি। জানালে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটির কাবিননামা থাকলে আদালতেও যেতে পারে। বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার
6
মাত্র ২ রান। তার মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেন ১০ জন ব্যাটসম্যানই। অবিশ্বাস্য এমনই ঘটনা ঘটল এবার ইংল্যান্ডে। কাউন্টি লিগ সাইডের ম্যাচে বাকডেন ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গেই খেলা ছিল ফ্যালকন একাদশের। হান্টিংডনশায়ারের চতুর্থ ডিভিশনের সেই ম্যাচেই বাকডেন ক্রিকেট ক্লাব লজ্জার নজির তৈরি করল। প্রতিপক্ষের ২৬১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮.৩ ওভারেই অলআউট হয়ে গেল। স্কোরবোর্ডে মাঝে যোগ হয়েছিল মাত্র ২ রান। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে এটাই নাকি সবচেয়ে একপেশে হার। নাটকীয় এই ম্যাচ খেলা হলো কেমব্রিজের সট্রি-তে। টসে জিতে বাকডেন ক্রিকেট ক্লাব ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল ফ্যালকন একাদশকে। ফাহিম সাব্বির ভাটি (৬৫) এবং মুরাদ আলির (৬৭) হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ফ্যালকন একাদশ স্কোরবোর্ডে তোলে ২৬০ রান। ৪০ ওভারের ম্যাচে এই টার্গেট তাড়া করতে গিয়েই কেলেঙ্কারি ঘটায় বাকডেন ক্রিকেট ক্লাব। মাত্র ২ রানের মধ্যেই সমস্ত ব্যাটসম্যান অলআউট হয়ে যায়। দশজন ব্যাটসম্যানই রানের খাতা খুলতে পারেননি। স্কোরবোর্ডে ২ রানই আসে অতিরিক্ত হিসাবে। ফ্যালকন একাদশের আমনদীপ সিং ছয় উইকেট নিয়ে একাই বাকডেনকে হারিয়ে দেন। নিজের ৪ ওভারে কোনো রান খরচ করেই হাফডজন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ২৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হার মানে বাকডেন। পেশাদারি ক্রিকেটে এমন হারের নজির বিরল। বাকডেন ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক জোয়েল কির্সনার জানান, চোট আঘাতের সমস্যায় দলের ১৫ জন ক্রিকেটারই খেলতে পারেননি। অনেকে আবার পারিবারিক কারণে মাঠে নামতে পারেননি। প্রথম সারির ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতেই কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে একাদশ সাজানো হয়। আর তাতেই নাকি বিপর্যয়! জোয়েল বিবিসি স্পোর্টস-কে জানিয়েছেন, আমাদের একাদশের মাত্র ৮ জন নিয়মিত ক্রিকেটার ছিল। ১৫-৫০ বছরের মধ্যে। গ্রাহাম পিয়ার্স যখন খেলতে আসেন, তখন খেলার মাঝপথ। ও কাজ করতে গিয়ে দেরি করে ফেলে। ১৫ জন নিয়মিত ক্রিকেটারকে পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে ২-৩ জনের চোট ছিল। বাকিরা পারিবারিক কারণে আটকে পড়েন। একজনকে আবার দেখাই যায়নি। আমরা এতটাও খারাপ দল নই, যেভাবে স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছে। এর আগে যখন আমরা ফ্যালকনের বিপক্ষে খেলি, তখন মাত্র ৯ রানে হেরেছিলাম। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
12
টি-টোয়েন্টি যদি হয় ক্রিকেটের আধুনিকতম সংস্করণ তবে সেই ফরমেটের নায়ক ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল। বয়স ৪০ এর ঘর ছাড়িয়ে গেলেও এই ফরমেটে তার ব্যাটের ধার কমেনি এতটুকুও। কিন্তু ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) চলতি আসরে দলে থেকেও মাঠে দেখা যাচ্ছিল না ইউনিভার্স বস খ্যাত এই ক্রিকেটারকে। তাই চলতি আসর যেন মিস করছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের এই মহানায়ককে। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হারের মুখ দেখতে হয়েছে বলিউড কুইন প্রীতি জিনতার দলকে। চলতি আসরে অনিল কুম্বলের দলের এমন পারফরম্যান্সের পরও মাঠে ক্যারিবীয় দানব গেইলকে দেখা যাচ্ছিল না। অবশেষে গেইলের দলে না থাকার কারণ জানালেন পাঞ্জাব কোচ কুম্বলে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার কুম্বলে বলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাকে নিতে পারেনি পাঞ্জাব। তবে পরের ম্যাচেই মাঠে পাওয়া যাবে ইউনিভার্স বস খ্যাত গেইলকে। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ খবরটি নিশ্চিত করেছেন দলটির প্রধান। জানিয়েছেন খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত কারণে হওয়া পেটের পীড়ার কারণে হাসপাতালে ছিলেন গেইল। তবে এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে টিম হোটেলে ফিরে এরই মধ্যে দলের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন গেইল। তাই আরো একবার গেইল ভক্তরা অধীর আগ্রহে বসে আসেন গেইল তাব দেখবেন বলে। কেননা ম্যাচে বাঁহাতি এই ওপেনার খেললে বাকি ক্রিকেটারদের দর্শক বনে যাওয়া ছাড়া করার থাকে না কিছুই। ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে টেনে নিতে গেইলের জুড়ি মেলা ভার। এর আগে ২০০৯ সালে আইপিএলে অংশ নিয়ে এখন পর্যন্ত ১২৫ ম্যাচে ৪ হাজার ৪ শত ৮৪ রান করেন যেখানে তার ব্যাটিং গড় ৪১.১৩ ও স্ট্রাইক রেট ১৫০ এর উপরে। টি-টোয়েন্টির ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭৫ রানের ইনিংসটিও এই ক্যারিবিয়ানের দখলে। পাশাপাশি হাত ঘুরাতেও জানেন এই ক্রিকেটার সেখানে তার সংগ্রহ ১৮ উইকেট। আইপিএলে এখন পর্যন্ত তার ছক্কা আছে ৩২৬টি যা কিনা রেকর্ড। এর আগে টানা অফ ফর্মে থাকা ক্রিকেটার গ্যালন মেক্সওয়েলের পরিবর্তে গেইলকে মাঠে ফিরানোর কথা ছিল লোকেশ রাহুলের দলের। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৮ অক্টোবর মাঠে ফিরার কথা থাকলেও পেটের অসুখে ভুগে খেলতে পারেননি। বর্তমানে গেইল সুস্থ থাকায় ১৫ অক্টোবর রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে দেখা যাবে ৪১ বছর বয়সি গেইলকে। এছাড়া গত মৌসুমে পাঞ্জাবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন টি- টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা গেইল। ১৫৩.৬০ স্ট্রাইক রেটে ১৩ ইনিংসে গেইলের সংগ্রহ ছিল ৪৯০ রান। তাই চলতি মৌসুমে ছন্দ ফিরে পেতে গেইলের দিকেই তাকিয়ে আছে প্রীতির দল।
12
ঢাকা: মগবাজারের জ্যামে আছি, পরে ফোন দিই, স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন কাসেম। কিন্তু এই 'পরে' যে আর শেষ হবে না জানতেন না স্ত্রী সোহাগী বেগম।৭ বছরের মেয়ে মীম ও স্ত্রী সোহাগীসহ আবুল কাশেম মোল্লা থাকতেন গাজীপুরে। সারা দিনের কাজ শেষে বাড়ি ফিরবে তার স্বামী এই অপেক্ষায় থাকেন স্ত্রী সোহাগী বেগম। প্রতিদিন দু-একবার মুঠোফোনে কথা হয় তাদের। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও কথা হয়েছে তাদের। কিছুক্ষণ পর টিভিতে দুর্ঘটনার সংবাদ দেখে আঁতকে ওঠেন সোহাগী। মুঠোফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ। তিনি বলেন, 'টিভিতে গাড়ি দেইখা চিনছি। গাড়ি পুইরা শেষ। তাইলে আমার স্বামীর কিছু হইছে।'গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের শরমা হাউজে বিস্ফোরণে যাত্রীবাহী যে কয়টা বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে 'আজমেরী গ্লোরী' তার মধ্যে একটি। নিজের কেনা এই বাসটি চালাচ্ছিলেন আবুল কাসেম (৪৫)। সেই দুর্ঘটনায় মারা যান আবুল কাসেম।যুবক বয়স থেকেই বাস চালাতেন আবুল কাসেম মোল্লা। স্বপ্ন ছিল একদিন নিজের একটা বাস হবে, সেই বাস চালাবেন তিনি নিজেই। পরিবারের অভাব অনটন থাকবে না। সচ্ছলতায় জীবন কাটাবেন স্ত্রী সন্তান নিয়ে। দেড় বছর আগে ঋণ করে কিনেও ফেলেছিলেন তিনি। অকস্মাৎ বিস্ফোরণ শেষ করে দিল সব।অনেকগুলো মানুষকে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে তথ্য পেয়ে ছুটে যান সেখানে। হাসপাতালের সবগুলো ওয়ার্ড ঘুরে কোথাও খুঁজে পেলেন না স্বামীকে। কিন্তু সেখানকার মর্গে যে ব্যক্তি আছেন তার বর্ণনা শুনে সেদিনই রাত ১০ টার দিকে নিশ্চিত হন তার স্বামী আর বেঁচে নেই।আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে কাসেমের মরদেহ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সোহাগী। নিয়ে যাবেন শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায়। সেখানে কবর হবে তাঁর।এরপর কি হবে, কীভাবে কাটবে দিন! একদিকে স্বামী হারানোর শোক অপরদিকে ঋণের বোঝা।সোহাগী বলেন, 'এখন আমি নিঃস্ব। এখন থেকে কেমনে সংসার চালামু! আমার মাইয়াটার কী হইব! ১২ লাখ টাকা ঋণ নিয়া গাড়িটা কিনছিল। বাস্তু শিক্ষা, ডিএসটে ও সেতু নামের ৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনো আট লাখ টাকা ঋণ আছে। লকডাউন না থাকলে ঋণ শোধ হইয়া যাইতো। লকডাউনের মধ্যে কিস্তি দিতে পারি নাই। তাইলে এই দুর্দশায় পরতে হইতো না।পরিবারের একমাত্র আয় করা স্বামীর মৃত্যুর পর সোহাগী তাকিয়ে আছেন রাষ্ট্রের দিকে। তিনি বলেন, 'এখন মন্ত্রী মহোদয় যদি কিছু করে আমাদের জন্য! নাইলে আমাদের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হইবো।'শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রোগীদের পরিদর্শন করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি নিহতের স্বজনদের হাতে দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। সেখানে তিনি বলেন, বার্ন ইনস্টিটিউট ও ঢাকা মেডিকেলে ৩৮জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের অনেকেই অন্যান্য হাসপাতালে সেবা নিয়ে চলে গেছেন। হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার কারণে অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে খুঁজে পাওয়াও যাচ্ছে না। তবে তাদেরও খুঁজে বের করে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
6
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেট বিতরণ অঞ্চলের এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে যুবলীগ নেতা পরিচয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত বুধবার বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে মিরাবাজারে পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের দুই নেতা সেখানে উপস্থিতি ছিলেন।প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন জিডিতে উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে যান সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও একজন। তাঁদের প্রবেশের ১০ মিনিট পর নগরীর উত্তর বাগবাড়ি এলাকার যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে মো. শামীম আহমদ নামে একজন তাঁর কক্ষে ঢুকে পড়েন। সবার সঙ্গে কথার একপর্যায়ে শামীম আহমদ বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন কাজের দরপত্র সংক্রান্ত গোপনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। তিনি কাগজ দেখাতে অসম্মতি জানালে শামীম আহমদ তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অফিসের বাইরে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় বুধবার সাধারণ ডায়েরি করেন শামস-ই আরেফিন।প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন বলেন, 'ছাত্রলীগের দুই নেতা সৌজন্য সাক্ষাতে আমার অফিসে আসেন। তাঁদের আসার প্রায় ১০ মিনিট পর যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে মো. শামীম আহমদ নামে একজন আসেন। তিনি আমাদের অফিসের দরপত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন গোপনীয় কাগজ দেখতে চান। আমি দেখাতে অসম্মতি জানালে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি তাঁর মোবাইল সেটে আমার একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ''চেহারা মিলেছে, তোমাকে দেখে নেব''।প্রকৌশলী শামস-ই আরেফিন আরও বলেন, 'আমি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সিলেটে বাস করি। এখন যদি সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পরিবারকে আক্রমণ করে, তাই জিডি করেছি।'এ ব্যাপারে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ বলেন, 'এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ ওই সময় আমাদের ব্যক্তিগত কাজে ওই অফিসে গিয়েছিলাম। তখন ওই লোকও (শামীম) কক্ষে প্রবেশ করেন। আমরা তাঁকে চিনি না। কথাবার্তার একপর্যায়ে ওই লোক আর প্রকৌশলীর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। তখন আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি ও ওই লোককে অফিস থেকে চলে যেতে বলি।'অভিযুক্ত শামীম আহমেদ বলেন, 'এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। আমি ওই দিন বিদুৎ অফিসে গিয়েছিলাম ঠিক। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার কোনো ঝগড়া বা কথা কাটাকাটি হয়নি। আমি উনাকে চিনিও না। আমি মূলত ছাত্রলীগ নেতা রাহেল আর নাইমের সঙ্গে গিয়েছিলাম। এখন তিনি কেন এই অভিযোগ করলেন তিনিই জানেন।'কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, 'প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন জিডি করেছেন। আমরা তদন্ত করছি। তবে প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের ব্যাপারে ভালো কোনো খবর আসেনি। তাঁর সম্পর্কে এলাকার সবাই ভালো কিছু বলেননি। যতটুকু বুঝতে পেরেছি তিনি সব সময় সরকারি দলের নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে। তদন্তসাপেক্ষে শামীমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
6
দেশে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ফেনসিডিল সরবরাহ কমলেও ইয়াবা ও আইস আসা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মান উন্নয়নের জন্য অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমরা আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। ভারতের সঙ্গে ফেনসিডিল সম্পর্কে অনেকবার আলাপ হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিল উৎপাদন বন্ধের জন্য তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, ফেনসিডিল সরবরাহ কমেছে। কিন্তু ভয়ংকর মাদক বেড়েছে সেটা হলো ইয়াবা। এর সঙ্গে আইস সংযুক্ত হয়েছে, যেটা আরও ভয়ংকর। এগুলো আমাদের যুবসমাজের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে।'আমাদের দেশে মাদকাসক্তের যে সংখ্যা বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'মাদকাসক্তের সংখ্যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক যেটা বলেছেন, আমি মনে করি তার চেয়ে অনেক বেশি। উনি কম করে বলেছেন, ৩৬ লাখের কথা বলেছেন। আমাদের কারাগারে বন্দী ৬০ শতাংশ মাদক চোরাকারবারি বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ঢাকা বিভাগে আসক্তের সংখ্যা বেশি।'এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ক্রাইটেরিয়া মেনে চললে মদের বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হবে বলে জানান আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, 'একটা হলো সফট ড্রাগস আরেকটি হলে হার্ড ড্রাগস। সফট ড্রাগস সারা বিশ্বেই চলছে। আমাদের এখানেও লাইসেন্সের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে, কয়েকটি হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ক্লাবকে লাইসেন্স দিয়েছি। তারা শর্ত মেনে চলছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লাইসেন্স দিচ্ছি।'মন্ত্রী বলেন, 'এর আওতা বাড়বে কি না, এটা নির্ভর করে নিয়মকানুন কতটা মেনে চলছে তার ওপর। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। যারাই আমাদের নিয়ম মেনে চলতে পারবে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকটি ক্রাইটেরিয়া আছে যখন সেগুলো ফুলফিল করতে পারবে তখন তারা লাইসেন্স পাবে।'মাদকাসক্তি নিরাময়ে সরকার পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে আমরা ঠিক ততখানি সেবা দিতে পারছি না। আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের সাইকিয়াটিস্ট নেই, এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ সে ধরনের চিকিৎসক নেই। সরকারিভাবে আমরা তেজগাঁওয়ে যেটা চালাচ্ছি সেখানেও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। তবে বসে থাকলে তো চলবে না, সেভাবেই আমরা চলছি-এগোচ্ছি। বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করছি।'
6
গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) মেয়র ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ আমার রক্ত, সেই জায়গায় আমার কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। সেই বিশ্বাস নিয়ে আমি সবার সঙ্গে চলি। আসুন মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করি। তা না হলে আমাদের সন্তানরা সভ্য সমাজের দিকে যেতে পারবে না। আমি সবাইকে নিয়ে একটি পরিকল্পিত শহর গড়তে চাই।'গাজীপুর মহানগর মহিলা লীগের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে নগরের দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগর মহিলা লীগের সভাপতি সেলিনা ইউনুসের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নয়ন, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা আক্তার হোসনা, মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খালিদ হোসেন প্রমুখ।জিসিসি মেয়র আরও বলেন, 'আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে কাজ করতে চাই। কেউ যেন চাঁদাবাজি করে সংগঠনকে ছোট করতে না পারে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি সেদিকে লক্ষ রেখে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছি। আজকে আমাদের পদ আছে একদিন হয়তো পদ থাকবে না। কিন্তু মানুষ হিসেবে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক যেন করব পর্যন্ত থাকে। আমাকে আপনারা এই শহরের মেয়র বানিয়েছেন এবং দল আমাকে সাধারণ সম্পাদকের পদ দিয়েছে। এমন কিছু করবেন না যাতে আওয়ামী লীগের ও শহরের বদনাম হয়। আমাকে ছোট করলে দল ও শহরের মানুষকে ছোট করলেন।'অপরদিকে গাজীপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দুপুরে ক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মাসুমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শাহ সামসুল হক রিপন, সাবেক সভাপতি মুকুল কুমার মল্লিক, মো. মুজিবুর রহমান প্রমুখ।
6
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তুলে নেওয়া কলেজছাত্র চন্দন সরকারকে মাদকের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে; বিষয়টিকে পরিকল্পিত বলছেন তার পরিবারের সদস্যরা। গত ৩ অক্টোবর চন্দনকে(২৪)রাজৈর থানার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দাপুলিশের (ডিবি) একদল সদস্য। পরে তাকে রাজৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মাদারীপুর ডিবি পুলিশের এএসআই আবু সাঈদ বাদী হয়ে রাজৈর থানায় চন্দনের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই আবু সাঈদ বলেন, শনিবার বিকেলে রাজৈর বাসষ্ট্যান্ডে বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে অজ্ঞাত এক যুবক অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির উদ্দেশে অবস্থান করছে- এমন গোপন সংবাদে আমি ও ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালাই। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাত একজন দৌড়ে পালিয়ে গেলেও চন্দন সরকারকে দুইশত পিঁচ ইয়াবা ট্যবলেটসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। পরে রাজৈর থানায় হস্তান্তর করা হলে রোববার মাদক মামলায় তাকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। এদিকে চন্দন সরকারের চাচা (সাবেক ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান) সুধিন সরকার মঙ্গল বলেন, গত শনিবার চন্দন নিজ বাড়ি থেকে দুপুরে খাবার খেয়ে ভাঙ্গার উদ্দেশে রওনা হয়। স্থানীয় চন্ডিদাসদী গ্রামের কাওসার চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে পৌঁছালে পথে অজ্ঞাত কয়েকজন চন্দনকে বেধড়ক মারপিট করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় আমাদের কাছে চন্দনের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ফোনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চন্দনকে ছাড়িয়ে আনতে বলে। মঙ্গল বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা, আমার ভাতিজা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। আমি প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্তপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তসহ আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সবুজ মাতুব্বর বলেন, দুপুরের পরে বেলা ৩টার দিকে কাওসার চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে চিৎকার শুনে সামনে এগিয়ে গেলে দেখতে পাই অজ্ঞাত কয়েকেজন চন্দনকে মারপিট করছে। আমরা কয়েকজন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি, কেন মারছেন। উওরে কোন কথা না বলে চন্দনকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাতরা। পরে জানতে পারি চন্দনকে মাদকসহ রাজৈর থানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভাঙ্গা থানার ওসি মো. শফিকুর রহমান এ ঘটনায় সত্যতা নিশিচত করে জানান, মাদারীপুরের ডিবি পুলিশের একটি দল ওই দিন চন্দনকে তার গ্রাম থেকে তুলে নিয়ে যায়। তবে মাদকসহ রাজৈর বাসস্ট্যান্ডে গ্রেপ্তারের বিষয়টি রহস্যজনক এবং ইতোমধ্যে এ ঘটনার ব্যাপারে ঊর্দ্ধতন কর্তপক্ষের নিদের্শে তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
6
রাধে মুক্তির মাত্র তিনদিন আগে খারাপ খবর, এবার করোনার (কোভিড-১৯) থাবা সালমান খানের পরিবারে। ভাইজানের দুই বোন- অলভিরা ও অর্পিতা খান দুজনের করোনা পজিটিভ। সালমান খান নিজেই সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 'রাধে : ইয়োর মোস্ট ওয়ান্টেড ভাই'এর প্রমোশন্যাল ইন্টারভিউতে বোনেদের কোভিড ১৯ পজিটিভ হওয়ার কথা জানান অভিনেতা। আগামী বৃহস্পতিবার থিয়েটার ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাচ্ছে এই ছবি। অভিনেতা বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অনেক বেশি মারাত্মক। সালমান খানের নিজের বোন অলভিরা খান অগ্নিহোত্রী। অভিনেতা তথা পরিচালক অতুল অগ্নিহোত্রীর স্ত্রী ৫১ বছর বয়সী অলভিরা। সালমা খান ও সেলিম খানের একমাত্র কন্যা তিনি। অন্যদিকে সেলিম খান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী হেলেনের দত্তক কন্যা অর্পিতা। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে সালমানের ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার অশোক এবং দুই গৃহকর্মী করোনায় আক্রান্ত হন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
2
বাংলাদেশে জাতিসংঘের নতুন আবাসিক সমন্বয়কারী নিযুক্ত হয়েছেন জিন লুইস। বাংলাদেশ সরকারের সম্মতির পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সোমবার আমেরিকার নিউইয়র্কে সংস্থার সদর দপ্তর থেকে এই নিযুক্তির ঘোষণা দেন বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।আয়ারল্যান্ডের নাগরিক জিনের ২০ বছর জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেডক্রসসহ বিভিন্ন সংস্থার হয়ে কসভো, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, আলবেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, শান্তি বিনির্মাণ ও মানবিক বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা আছে। নতুন নিযুক্তির আগে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থায় (ইউএনরাওয়া) পরিচালক পদে ছিলেন।আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রিধারী জিন যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ইউরোপিয়ান স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ইংরেজি ছাড়াও তিনি ফরাসি ভাষায় পারদর্শী।
6
বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ যেকোন মূল্যে আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে। আজকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ভুলণ্ঠিত। আজকে মানবাধিকার ভুলণ্ঠিত,গণতন্ত্র অবরুদ্ধ। গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। শনিবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও পিয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব
6
আইপিএলে এবার ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামিকে সোয়া ছয় কোটি রুপিকে কিনল নতুন ফ্রাঞ্চাইজি গুজরাট টাইটানস। দুই কোটি ভিত্তি মূল্যের শামির জন্য লড়াই শুরু করে রয়্যাল চালেঞ্জারস বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। পরে লড়াইয়ে যোগ দেয় গুজরাট টাইটানস, লখনউ সুপার জায়ান্টস ও কোলকাতা নাইট রাইডার্স। শেষ পর্যন্ত ৬ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে গুজরাট টাইটানস কিনে নেয় টিম ইন্ডিয়ার তারকা এই পেসারকে। এবার আইপিএলে মোট ৫৯০ জন ক্রিকেটার নিলামের তালিকায় আছে। এর মধ্যে ৩৭০ জন ক্রিকেটার ভারতীয়। ২২০ জন বিদেশি। বিডি প্রতিদিন/কালাম
12
বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর বহুবার তার স্টাইলের জন্য খবরের শিরোনামে এসেছেন। কিন্তু এবার এমন এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। সম্প্রতি মুম্বাই বিমানবন্দরে কোমরে বেল্ট বাঁধা হলুদ পোশাকে দেখা যায় সোনম কাপুরকে। তার চোখে ছিল সানগ্লাস। এই ছবি দেখেই অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এত ঢিলে পোশাক সোনমের মতো ফ্যাশনিস্তা কোনো দিনই পরেননি। তার সঙ্গে সোনমের হাঁটার ভঙ্গিতেও নাকি রয়েছে ইঙ্গিত। একই সঙ্গে অনেকের দাবি, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণেই নাকি হিল জুতা পরা আপাতত বন্ধ রেখেছেন এ অভিনেত্রী। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে সোনম বা তার স্বামী আনন্দের কেউই মুখ খোলেননি। বিয়ের পর বেশ কয়েকবারই সোনমের মাতৃত্ব নিয়ে গুজব রটেছে। এই তো ক'দিন আগেই আনন্দ আহুজা মাটিতে বসে স্ত্রী সোনমের জুতার ফিতা বেঁধে দেওয়ার ছবি ভাইরাল হয়। সেই ছবি দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন, সোনম মা হতে চলেছেন। সে কারণেই নিচু হয়ে জুতার ফিতা বাঁধলেন না তিনি। গতবারের মতো এই গল্পও কি শুধুই গল্প! নাকি সত্যি? সেটাই এখন দেখার বিষয়।
2
মুন্সীগঞ্জে পৌর মেয়রের বাসায় রাতে হঠাৎ 'রহস্যময়' বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাতে মীরকাদিম পৌরসভা মেয়র হাজী আব্দুস সালামের বাসায় এ ঘটনায় প্যানেল মেয়রসহ ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে মেয়রের স্ত্রী কাননের (৩৭) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। তবে বিস্ফোরণে পৌর মেয়র অক্ষত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মিরকাদিম পৌরসভার কাউন্সিলর রহিম বাদশা। চিকিৎসাধীন দগ্ধ পান্না হালদার (৫০) জানান, তিনি পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার সেকশনে কাজ করেন। তার বাসা সদরেই। অফিসিয়াল কাজে তিনি সন্ধ্যায় মেয়রের বাসায় গিয়েছিলেন। এসময় আরো ৪-৫ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর, অফিস স্টাফ ও কর্মীরাও ছিলেন। তখনই ৪তলা বাসাটির ৪তলাতে হঠাৎ বিকট আওয়াজে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে রুমের ভিতরে থাকা তারা সবাই কম বেশি দগ্ধ হন। বার্ন ইনস্টিটিউটের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল আযম খান বলেন, আমাদের এখানে ১২জন দগ্ধকে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে কানন নামে এক নারীকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এক জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি ১০ জনের শরীরে ২০ শতাংশের কম করে দগ্ধ। তাদেরকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। চিকিৎসাধীন দগ্ধ বাকিরা হলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ও প্যানেল মেয়র আওলাদ হোসেন (৪০), ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হাজী দ্বীন ইসলাম (৬০), পৌরসভার সচিব সিদ্দিকুর রহমান (৩৮), মেয়রের পিএস যুবলীগ কর্মী মো. তাজুল ইসলাম (২৬), মো. হোসেন কালু (৫০), আমিন আহ মাইনুদ্দিন (৪৫), পৌরসভা অফিসের নিরিপত্তা কর্মী মো. মনির হোসেন (৪৮), নৈশ্য প্রহরী শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৫), মেয়রের কর্মী মোশারফ হোসেন (৪০) (বারডেম হাসপাতালের অফিস সহকারী)।
6
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে জয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চেয়ারম্যানদের শপথবাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম। এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-২ আসনের সাংসদ ড. শ্রী বিরেন শিকদার।শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু পঙ্কজ কুমার কণ্ডু, মেয়র মো. খুরশীদ হায়দার টুটুল, জেলা তথ্য অফিসার মো. রেজাউল করিম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম, শালিখা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিফ উল হাসান, মহম্মদপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল, শালিখা উপজেলার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন, মহম্মদপুর উপজেলার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আব্দুল্লাহেল কাফি, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. শামীম খানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।শপথ নেওয়া নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন, মহম্মদপুর উপজেলার ২ নম্বর বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের শিকদার মিজানুর রহমান, দীঘা ইউপি চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া, রাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাকিরুল ইসলাম শাকিল, বালিদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মফিজুর রহমান, মহম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. উজ্জ্বল আক্তার কাফুর, পলাশবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ সিকান্দার আলী মণি, নহাটা ইউপি চেয়ারম্যান মো. তৈয়েবুর রহমান তুরাগ এবং শালিখা উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন, ধনেশ্বরগাতী ইউপি চেয়ারম্যান শ্রী বিমলেন্দু শিকদার, তালখড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিরাজউদ্দিন মণ্ডল, আড়পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আরজ আলী, শতখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন ঝন্টু, শালিখা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলীর হুসাইন, বুনাগাতী ইউপি চেয়ারম্যান মো. বক্তিয়ার উদ্দিন, গঙ্গারামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হালিম মোল্যা। অন্যদিকে, উচ্চ আদালতে নির্বাচন নিয়ে মামলা থাকায় মহম্মদপুর উপজেলার ১ নম্বর বাবুখালী ইউনিয়নের পুনরায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান মীর মো. সাজ্জাদ আলী আজ শপথ নিতে পারেননি।
6
বলিউড অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুর তাঁর আগামী ছবি 'পিপ্পা'র জন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ম্রুণাল চান এই ছবিতে তাঁর সেরাটা উজাড় করে দিতে। তাই নিজেই তাঁর চরিত্র নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি।ছবিটি নিয়ে এই বলিউড অভিনেত্রী বলেন, 'আমি যদি আমার চরিত্রের গভীরতা, ছবির গল্প মন থেকে অনুভব করতে না পারি, তাহলে আমি সেরাটা দিতে পারব না। সব ছবিতেই আমি আমার চরিত্রের ভ্রমণকে অনুধাবন করার চেষ্টা করি। 'পিপ্পা' ছবিতে আমার চরিত্র নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করছি। কারণ, এই ছবির সঙ্গে আমাদের দেশের ইতিহাস জড়িয়ে আছে।' নিজেকে চরিত্র অনুযায়ী প্রস্তুত করতে ম্রুণাল অনেক জার্নাল, বই, আর্টিকেল পড়ছেন। তাঁর কথা, আজ যে ম্রুণালকে সবাই চেনেন, এ পর্যন্ত আসতে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর অবদানও অনেক। এই বলিউড অভিনেত্রী বলেন, 'আমি আমার ভ্রমণ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এর মাধ্যমে আমি নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে পেরেছি। আমার অভিনীত বেশ কিছু চরিত্র আমার ওপর দারুণ প্রভাবও ফেলেছে। আমার জীবনদর্শনকে অনেকটা বদলে দিয়েছে।'ম্রুণাল আরও বলেন, 'লাভ সোনিয়া ছবিতে আমি সোনিয়ার চরিত্রে অভিনয় করেছি। সোনিয়া আমাকে শিখিয়েছে যে জীবন কী আর কতটা মূল্যবান। এদিকে 'তুফান' ছবিতে আমি অনন্যার চরিত্রে অভিনয় করেছি। অনন্যা আমাকে শিখিয়েছে, যন্ত্রণাকে নিজের দুর্বলতা হিসেবে না নিয়ে নিজের শক্তিতে পরিণত করতে।' ছবি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখেন ম্রুণাল। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, 'আমি ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাই না। আমি কখনোই এটি নিয়ে ভাবি না যে ছবিটা কতজন মানুষকে আকর্ষিত করবে, কোন বয়সের মানুষেরা দেখতে উৎসাহিত হবেন। আমি এ-ও ভাবি না যে ছবিটা হিট হবে কি না। আমি শুধু কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিই। ছবির গল্প, চিত্রনাট্য আর পরিচালক। এই দিকগুলো আমার কাছে বেশি প্রাধান্য পায়। একটা ভালো চিত্রনাট্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো চিত্রনাট্য পেলে কঠিন চরিত্র করতে কোনো আপত্তি থাকে না।'ম্রুণাল ঠাকুর অভিনীত 'জার্সি' এখন মুক্তির অপেক্ষায়। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে আছেন শহীদ কাপুর। এ ছাড়া 'আঁখ মিচোলি', 'গুমরাহ' ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে।
2
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে (কুসিক নির্বাচন ২০২২) ভোটগ্রহণ আগামী ১৫ জুন। একইদিন ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদ,৬টি পৌরসভা ও একটি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসি সম্মেলন কক্ষে আউয়াল কমিশনের দ্বিতীয় সভা শুরু হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে এটিই প্রথম নির্বাচন হতে যাচ্ছে।ইসি সচিব জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৭ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ মে ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৬ মে। প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে এবং ভোটগ্রহণ ১৫ জুন।আইন অনুযায়ী প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর হয় নির্বাচিত করপোরেশনের মেয়াদ। এ হিসেবে কুমিল্লা সিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৬ মে। আর ভোটগ্রহণ করতে হয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে। এ হিসেবে গত বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে এ সিটি নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হয়ে গেছে। সর্বশেষ কুমিল্লা সিটিতে ভোটগ্রহণ হয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ। নির্বাচিত করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই বছরের ১৭ মে। এ ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ করতে হবে আগামী ১৬ মে'র মধ্যে।২০১৭ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু দ্বিতীয়বারের মতো এ সিটিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ সিটিতে সে সময় ভোট হয়েছিল ১০৩টি কেন্দ্রে। মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬ জন। ২০১১ সালে দুটি পৌরসভাকে একীভূত করে গঠন করা হয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নামে নতুন একটি করপোরেশন। ওই বছরই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৭ সালে এই সিটির পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি ইউপিকে অন্তর্ভুক্ত করে আয়তন বাড়ানো হয় প্রায় তিনগুণ। এতে দেখা দেয় সীমানা জটিলতা। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।কুসিক নির্বাচন সম্পর্কিত খবর জানতে - এখানেক্লিককরুনএর আগে আউয়াল কমিশন গত ৫ এপ্রিল কমিশনের প্রথম বৈঠক করেছিল। সেই বৈঠকে কুমিল্লা সিটির ভোট নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তবে ইসি সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পরবর্তী কমিশন সভায় কুমিল্লা সিটির ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে।এই সম্পর্কিত পড়ুন:কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন পিছিয়েছেবিধি রক্ষায় শোকজ, জরিমানাকুমিল্লা নগরে ভোটের হাওয়ালড়াইয়ের মাঠে থাকছেন সাক্কুকুসিক নির্বাচন: আ. লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন সংসদ সদস্য সীমা
6
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী এবং তার স্ত্রী নিলুফার মঞ্জুর। শনিবার রাতে তাদের ছেলে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর গণমাধ্যমমে জানান, "আম্মা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন আছেন। আর বাবা বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তৃতীয় পরীক্ষাতেও নিলুফার মঞ্জুরের করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে বলে জানান তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
4
নির্বাচনের দিন নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশ এসল্ট মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলদল সভাপতিসহ ১৪ বিএনপি নেতাকর্মীকে করাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। একই মামলায় আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন করাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। হবিগঞ্জ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল হক চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেতৈয়া ভোট কেন্দ্রে নাশকতার অভিযোগ এনে সদর মডেল থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) দিলীপ বড়ুয়া বাদী হয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৯৫ নেতাকর্মীকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামীদের মধ্যে ১৬ জন হাইকোর্টে জামিন প্রার্থনা করলে ৪ সপ্তাহ পর নিম্ন আদালতে হাজিরা দেওয়ার আদেশ দেন হাইকোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ১৪ জন হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন প্রার্থনা করেন। একই মামলায় বিএনপি নেতা শামীম মিয়া, জহিরুল ইসলাম, হেলিম মিয়া জসিম মিয়া ও আব্দুর রহমানের পক্ষে জামিনের সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ জানায়, ৩১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে হামলা-ভাংচুর চালিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিতে চায় আসামীরা। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশ সদস্যদেরকে পিটিয়ে আহত করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ ফারুক, অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান তালুকদার ও অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটুসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী ও আসামীপক্ষে অ্যাডভোকেট আশরাফুল বারী নোমানসহ আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করেন। বিডি-প্রতিদিন/০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/মাহবুব
6
বাদাম ও ছোলা দুটিই পরিচিত খাবার। গুণাগুণের দিক থেকেও অনেক কিছুতে মিল রয়েছে বাদাম ও ছোলায়। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ জানিয়েছেন এই দুটি খাবারের পুষ্টিগুণ। বাদামপ্রোটিনযুক্ত খাবার এটি। এতে আঁশ ও প্রোটিন দুটিই আছে। প্রোটিনের দিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিন আছে এতে। রয়েছে ফ্যাটও। অবশ্য এই ফ্যাট শরীরের জন্য ভালো। তাতে ভিটামিন ই থাকে। যাঁদের চুল পড়ে যায় ও এলোমেলো হয় এবং ত্বক শুষ্ক, তাঁদের জন্য বাদাম ভালো। ছোলাছোলাও প্রোটিনযুক্ত খাবার। বাদামের মতো ছোলাতে থাকা এই প্রোটিন দ্বিতীয় শ্রেণির। ছোলা অবশ্য দুই ধরনের। একটি খোসাসহ আরেকটি খোসা ছাড়া। এর মধ্যে খোসাসহ ছোলা বেশি ভালো। এতে ভিটামিন, আঁশ, প্রোটিন-তিনটিই থাকে। বাদামের তুলনায় এতে ফ্যাট কম রয়েছে।যাঁরা ওজন কমানো ও পেশি সুষম করতে চান, তাঁদের জন্য খাবার হিসেবে ছোলা ভালো। কাঁচা, সেদ্ধ, রান্না-তিনভাবেই খাওয়া যায় এটি। এর মধ্যে কাঁচা ছোলায় ভিটামিন বি বেশি থাকে। যেটি শরীরের জন্য খুব ভালো। অপকারিতা২৫-৩০ গ্রাম ছোলায় প্রায় ১০০ ক্যালরি থাকে। ফলে রোজ বেশি পরিমাণে এটি খেলে শরীরের ওজন বাড়বে। অন্যদিকে বাদামেও প্রায় সমান পরিমাণে ক্যালরি থাকে। ফলে বাদামও অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়বে।গ্রন্থনা: অধুনা প্রতিবেদক
4
বিমানে এবার যাত্রীদের জন্য থাকছে জিমের ব্যবস্থা। এরকম একাধিক পরিষেবা নিয়ে আসছে অস্ট্রেলিয়ার কনভিন্সড কোয়ানটাস বিমান সংস্থা। সেই বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানোহয়েছে, সিডনি থেকে লন্ডন ২০ ঘণ্টার টানা বিমান যাত্রা নিয়ে হাজির হচ্ছে তারা। এক বছর আগেই এই বিমান সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা অ্যালান জয়েসি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানান এই বিষয়ে। তিনি জানিয়েছিলেন, সিডনি থেকে লন্ডন বা নিউইয়র্ক যাওয়ার জন্য ২০ ঘণ্টার টানা বিমান পরিষেবা দেবে তাদের বিমান সংস্থা। কি কি পরিষেবা থাকছে এই বিমানের মধ্যে? কোয়ানটাস বিমানের পক্ষ থেকে জানা গেছে, টানা ২০ ঘণ্টা বিমানে বসে থাকা মোটেও সহজ নয়। তাই যাত্রীদের মনোরঞ্জনের জন্য কিছু ব্যবস্থা সেখানে করা হবে। যেমন থাকবে শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের জন্য জিম। অ্যালান জানান, বিমানের মধ্যে বার, ক্রেস এবং যাত্রীদের ঘুমানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়াও যাত্রীদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে একটি বিমানের মধ্যেই। তবে বিমানের টিকিটের দাম এক্ষেত্রে একটু বেশি পড়বে। অ্যালান জানান, তিনি আশাবাদী ২০২২ সালেই আকাশে উড়তে দেখা যাবে সানরাইসকে। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর
3
বলিউডে বিতর্ক মানেই তাতে যুক্ত হবেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুরহস্য নিয়ে প্রথম থেকেই সরব তিনি। সুশান্তের মৃত্যুতে বলিউডের নেপোটিজম, ফেভারিটজম এবং নানা অন্ধকার দিক তুলে একের পর এক মন্তব্য করে খবরের শিরোনাম হয়েছেন এ অভিনেত্রী। বিতর্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে তার নাম। আর সেই বিতর্কে জড়াতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েছেন আইনি বিপাকেও। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন গীতিকার, চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার। আর সেই মামলায় পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিল মুম্বাইয়ের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গত আদালতে জাভেদের আইনজীবী এ বিষয়ে পদক্ষেপের আর্জি জানান। এরপরই জুহু পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে ১৬ জানুয়ারি রিপোর্ট জমা দিতে বলে আদালত। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে হৃত্বিক রোশনের সঙ্গে বিতর্ক প্রসঙ্গে জাভেদ আখতারের বিরুদ্ধে বাড়িতে ডেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন কঙ্গনা। তাছাড়া সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃতুর পর নেপোটিজম বিতর্কেও তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ জাভেদ আখতারের। গণমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নেপোটিজম বা স্বজনপোষণ নিয়েও মুখ খোলেন কঙ্গনা। আর তাতে তিনি জাভেদ আখতারের কথা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়ে যায়। জাভেদ আখতারকে নিয়ে করা কঙ্গনার অভিযোগ আলোচিতও হতে থাকে সর্বত্র। এই নিয়ে জাভেদ আখতারের দাবি, তাতে তার সম্মানহানি হয়েছে। আর এইসবের কারনেই কঙ্গনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন জাভেদ।
2
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় আকাশপথে আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ফ্লাইট চলাচল। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইট শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই ফ্লাইট চলবে। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, এয়ার বাবল চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে সপ্তাহে দুটি এয়ারলাইনসের সাতটি ফ্লাইট ভারতে যাবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা থেকে কলকাতা রুটে সপ্তাহে দুটি, দিল্লি রুটে দুটি, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে চেন্নাই রুটে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। তবে ভারতীয় সিভিল অ্যাভিয়েশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে এবং চেন্নাই বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভ্রমণকারীদের নিজ খরচে মলিকিউলার টেস্ট করাতে হবে। ভ্রমণ ভিসা ব্যতীত সব ভিসায় বর্তমানে এয়ার বাবল চুক্তির অধীনে ভারতে ভ্রমণ করা যাবে।গতকাল শুক্রবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এ সম্পর্কিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে কলকাতা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হচ্ছে। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা-কলকাতা রুটে সপ্তাহে দুদিন মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। পাশাপাশি ৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি রোব ও বুধবার ঢাকা-দিল্লি রুটে সপ্তাহে দুদিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, আগামীকাল রোববার থেকে ঢাকা-চেন্নাই-ঢাকা রুটে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এয়ার বাবল চুক্তির অধীনে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হচ্ছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতি রোব, বুধ ও শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে চেন্নাইয়ে অবতরণ করবে। একই দিন বেলা ১টা ৩০ মিনিটে চেন্নাই থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করবে।বেবিচক তথ্যসূত্র বলছে, এয়ার বাবল চুক্তিতে ভারতের নাগরিকেরা 'ব্যবসায়িক ভিসা' নিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারবেন। তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সপ্তাহে ১০টি ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে বেবিচক। সে ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহে পাঁচটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস চারটি ও নভোএয়ার একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
6
'হলুদ বাটো মেন্দি বাটো' ছাড়াও অসংখ্য শ্রোতা-দর্শকপ্রিয় গানের সুরস্রষ্টা কিংবদন্তি সঙ্গীত পরিচালক আলী হোসেন আর নেই (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।তার মৃত্যুর খবর পারিবারিক সূত্রের বরাতে সঙ্গীতাঙ্গনের লোকেরা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রআলী হোসেন। বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য কালজয়ী গান তার হাত দিয়ে সৃষ্টি। তার মধ্যে রয়েছে 'হলুদ বাটো মেন্দি বাটো', 'চাতুরী জানে না মোর বধূয়া', 'অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান', 'আরে ও প্রাণের রাজা', 'এ আকাশকে সাক্ষী রেখে', 'ও দুটি নয়নে', 'কে তুমি এলে গো আমার এ জীবনে'সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান। ঢাকায় বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রের কাজ করার পাশাপাশি উর্দু 'ছোট সাহেব', 'দাগ', 'আনাড়ি', 'কুলি' ইত্যাদি চলচ্চিত্রেও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন আলী হোসেন।
2
মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলাকারীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এবং স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানায়, হামলাকারীর নাম নোয়া গ্রিন। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৫ বছর।যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিন ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের অধিবাসী হলেও ভার্জিনিয়ার কভিংটনে বসবাস করতেন। ফ্লোরিডার স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি এমবিএ কোর্সের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন গ্রিন। সম্প্রতি তিনি বতসোয়ানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নোয়া গ্রিনকে 'নেশন অব ইসলাম' নামের একটি দলের সদস্য হিসেবে দেখা গেছে। ওয়ালেস ডি. ফার্ড মুহাম্মদের হাত ধরে ১৯৩০ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আফ্রিকান-আমেরিকান এবং মানবজাতির মানবিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন।সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইনস্টাগ্রামে নোয়া গ্রিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে কৃষ্ণাঙ্গদের এক নম্বর শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে মন্তব্য করেন।হামলাচেষ্টার কয়েক ঘণ্টা আগে নোয়া গ্রিন ইনস্টাগ্রামে বেশ কয়েকটি পোস্ট দেন। এসব পোস্টে তাঁর চাকরি চলে যাওয়ার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারকে দায়ী করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, নোয়া গ্রিনের হামলাচেষ্টার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
3
আগামী ৩ জানুয়ারি আত্মিক চাকমার তিন বছর পূর্ণ হবে। একই দিন তার বাবা মিঠুন চাকমার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এটা আন্দাজ করা যায়, খাগড়াছড়ি সদরের আত্মিক চাকমা যত দিন বেঁচে থাকবে, তত দিন তার নিজের জন্মদিনের আনন্দ উপভোগ করা হবে না। কিন্তু পরিবারটির মনোবেদনা এই মুহূর্তে আরও অনেক গভীর। স্ত্রী রিনা দেওয়ান জানান, বাড়ি থেকে ডেকে প্রকাশ্যে মিঠুনকে খুনের ৯ মাস পেরোলেও তদন্তকারী কেউ তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে আসেনি। তিনি এই হত্যার বিচারের ব্যাপারে আশাবাদী নন, বরং পরিবারের অন্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই রকম আশাহীন প্রতিভাস চাকমাও। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা পার্বত্য জনসংহতি সমিতির তিনবারের সম্পাদক ৬১ বছর বয়সী চন্দ্র শেখর চাকমা গুলিবিদ্ধ হন রাঙামাটির চম্পকনগরে ২০০৯ সালের ৯ আগস্ট। প্রতিভাসের মা দ্বিপ্তী চাকমাও স্বামী হত্যার বিচার পাননি। বিচার পাচ্ছেন না যুবনেতা সুদীর্ঘ চাকমার স্ত্রী অরুমিতা চাকমাও। দুই সন্তানের বাবা সুদীর্ঘ নিহত হন লংগুদুতে ২০১৩ সালের ১২ মার্চ। চন্দ্র শেখর পার্বত্য চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের একজন। আর বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মিঠুন ও সুদীর্ঘ চাকমা সুপরিচিত দুই মুখ। গত ৩ মে সেখানে একইভাবে খুন হন নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা। নিহত ব্যক্তিদের এ রকম তালিকা অনেক দীর্ঘ। অনেকটা যুদ্ধ-পরিস্থিতির ক্ষয়ক্ষতির মতো। বয়স ও মতাদর্শনির্বিশেষে এ রকম মৃত্যু ও বিচারহীনতা সমাজে সবার জন্যই খারাপ বার্তা। এ রকম মৃত্যুর মিছিল প্রচণ্ড স্নায়ুচাপ তৈরি করে যেকোনো সমাজে। চাকমা-মারমা-ত্রিপুরা তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কথা বলে এমন কাউকে পাওয়া যাওয়া যায় না, যাঁরা কমিউনিটি ও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। সর্বগ্রাসী মানসিক অশান্তির শিকার তাঁরা। জাতীয় পরিসরেও পার্বত্য পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা-আশাবাদ ক্ষীণ। অথচ এলাকাটি বাংলাদেশের এগারো ভাগের এক ভাগ। জাতীয় বাজেটের বড় এক হিস্যা খরচ হয় সেখানে। কিন্তু সেখানে অস্বস্তি কাটছে না। দুই. পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬টি উপজেলায় মাত্র ১৬ লাখ মানুষের জন্য ২০ বছর ধরে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় কাজ করছে। টাকার হিসাবে রাষ্ট্র সেখানে যা খরচ করে, তা ছোট অঙ্ক নয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের এক পরিপত্রে দেখা যায়, শুধু পরবর্তী বছরে এই তিন জেলায় ৮২০টি প্রকল্পের পেছনে ২৬০ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে। তারপরও প্রায় স্থায়ী রূপ নেওয়া নিরাপত্তাহীনতা স্পষ্ট বলছে, অনুন্নয়নই এই জনপদের প্রধান সমস্যা নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেয়েও অধিক কিছু প্রয়োজন সেখানে। সে বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য দরকার। সেই ঐকমত্য ও অঙ্গীকার না থাকায় ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তিও প্রত্যাশিত সুফল আনেনি। আর কিছুদিন পরই ওই চুক্তির ২১ বছর পূর্তি হবে। প্রতিবছরের ২ ডিসেম্বর এলেই প্রচারমাধ্যমে পার্বত্য চুক্তির প্রত্যাশাগুলো স্মরণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রকৃতই নির্বাহী অনেক দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের বিশ্বাসযোগ্য একটা তালিকাও প্রচারিত হয়। কিন্তু কোথাও এ রকম অনুসন্ধান নেই, কেন ওই চুক্তি স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে স্বশাসনের ন্যূনতম বোধ তৈরি করতে পারল না, যা স্বস্তি ও শান্তির জন্য জরুরি। পার্বত্য পরিষদগুলো কেন প্রায় ৩০ বছর অনির্বাচিত ব্যক্তিদের জিম্মায় রয়েছে, তারও পুনর্ভাবনা জরুরি। নিশ্চয়ই এগুলো মনোনীত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জন্য ছিল না। সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হলে পার্বত্য পরিষদগুলো সবার আশা-হতাশা-ক্ষোভের মূল সুরাহাকেন্দ্র হতে পারত। সেটাই ছিল ২১ বছরের পুরোনো চুক্তির বড় অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা। অনির্বাচিত ব্যক্তিদের পরিচালনার কারণে পার্বত্য জনজীবনে এসব পরিষদের রাজনৈতিক প্রাধান্য সৃষ্টির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অঞ্চলটির নৈতিক কর্তৃত্বের ভরকেন্দ্রও কারও হাতে নেই । গুম-খুনের অজ্ঞাতনামা হোতাদের জন্য এ রকম পরিস্থিতি সুবিধাজনক হলেও তরুণ-তরুণীদের সামনে তা অন্ধকারময় ভবিষ্যৎ নির্দেশ করছে। গত ২১ বছরে কয়েক শ যুবক খুন বা গুম হয়েছেন এই পরিবেশে। হারিয়ে যাওয়া অনেকে মিঠুন চাকমার মতোই স্ত্রী-পরিজন রেখে গেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে যুদ্ধ ছাড়াই অনেক যুদ্ধবিধবার দেখা মেলে। সংঘাতময় পরিস্থিতি এই নারীদের ঘরে-বাইরে বিপন্ন অবস্থায় ফেলেছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচারহীনতার মর্মপীড়া। তরুণীদের অপহরণের মতো ভীতিকর সংস্কৃতিরও প্রসার ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যেও কীভাবে এসব ঘটতে পারছে, সেটাই উদ্বেগের বিষয়। তিন. নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে এই পরিস্থিতির দায় সেখানকার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের দাবিদার সংগঠনগুলোরও কম নয়। তিন-চারটি উপদলে বিভক্ত পাহাড়ি সংগঠকেরা পরস্পর হানাহানির সশস্ত্র আবহে আটকা পড়েছেন। এই অন্তর্দ্বন্দ্ব সেখানে কিশোর-তরুণদের নিরাপত্তাহীনতার বড় এক উৎস। এতে পাহাড়ি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এসব সংগঠন কতটা অর্থনৈতিক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত আর কতটা সমাজের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সক্রিয়, এ নিয়ে তীব্র হতাশা আছে। গত বছরগুলোয় চোরাগোপ্তা খুনোখুনির বাইরে রাজনৈতিক প্রসঙ্গগুলো নিয়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো গঠনমূলক আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে পেরেছে সামান্যই। জুমিয়ারা যে ফসলের ন্যায্য দাম পান না এবং বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলে খাদ্যাভাবের এটা যে এক বড় কারণ, সেটাও ধামাচাপা পড়ে আছে রক্তপাতের বৃত্তান্তের নিচে। সম্প্রতি কোনো তরফ থেকে দাবি ছাড়াই যে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জন্য নির্ধারিত কোটা বাতিল হলো, তারও সোচ্চার আপত্তি তুলতে পারেনি পার্বত্য কোনো সংগঠন। এ রকম রাজনৈতিক সংগঠকেরা অবশ্য তাঁদের নিষ্ক্রিয়তার জন্য স্বাভাবিক পরিবেশের অনুপস্থিতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিবদমান প্রতিপক্ষগুলোকে সালিসে বসাতে পার্বত্য জেলাগুলোর শ্রদ্ধাভাজন অভিভাবক সমাজের অস্তিত্ব ও কর্তৃত্বও হারিয়ে গেছে বহুদিন। জাতীয় পরিসরে রাজনৈতিক সংলাপ না থাকলেও সভা-সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে মাঝেমধ্যে কিছু মৃদু কথা হয়। তাতে সবাই স্বাস্থ্যকর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সেখানে স্বাভাবিক রাজনীতির বিকাশকে জরুরি মনে করেন। কিন্তু বর্তমান পরিবেশে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে জনগণের প্রাত্যহিক যোগাযোগ দুরূহ। ৭৫ বছর বয়সী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা, তাতিন্দ্রলাল চাকমা কিংবা তরুণ প্রসীত বিকাশ খীসা-কেউ সেখানে হত্যা ও মুক্তিপণের সংস্কৃতি রোধে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। বরং সামনে নির্বাচনী আবহে পরিস্থিতির অধিকতর অবনতির শঙ্কা করছেন অনেকে। তাতে রিনা দেওয়ানদের সংখ্যাই বাড়বে কেবল। সেই উদ্বেগই ধ্বনিত হলো অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য সুধাসিন্ধু খীসার কণ্ঠে। তাঁর ভাষায়, 'আমাদের এক জায়গায় বসা কঠিন হয়ে গেছে। অথচ খুনোখুনির রাজনীতি বন্ধ না হলে পাহাড়িরা টিকতে পারবে না।' আক্ষেপ করে বললেন, 'আমার সন্তানেরাই আমাকে খাগড়াছড়ি যেতে দিতে চায় না।' হতাশার এরূপ স্থায়ী আবহ ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের। আত্মিক চাকমার মতো শিশুরা বড় হয়ে জানবে রাষ্ট্র তাদের বাবার খুনের বিচার করেনি। এটা তাদের মাঝে নিরাময়-অযোগ্য হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। উপরন্তু তরুণী বিধবাদের ক্রমবৃদ্ধিও পার্বত্য চট্টগ্রামের সব উন্নয়নচেষ্টার ইমেজ ম্লান করে দিতে যথেষ্ট। সবচেয়ে বড় বিষয়, রিনা দেওয়ানরা মনে করছেন, তাঁদের বিচার চাওয়ার আঞ্চলিক বা জাতীয় কোনো পরিসর নেই। যুদ্ধহীন পরিবেশের এরূপ শত শত যুদ্ধবিধবা এখন কী করবেন? এই দমবন্ধ ভয়ের সংস্কৃতি পাল্টাতে পার্বত্য পরিস্থিতি জাতীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে পুনর্ভাবনা দাবি করছে। সর্বাগ্রে জরুরি জীবনের নিরাপত্তা এবং তরুণ-তরুণীদের মন থেকে ভয়ের আবহ দূর করা। এ দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের নয়, জাতীয় নেতৃত্বের। আলতাফ পারভেজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ের গবেষক
8
আফ্রিকার দেশ সুদানের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও দেশটির ক্ষমতাচ্যুত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদক সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এর মধ্য দিয়ে সেনাশাসনের অধীনে থাকা দেশটিতে আটক মন্ত্রী-রাজনীতিকদের মুক্তি ও বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হবে। তবে সুদানের প্রধান বিরোধী দলগুলোর জোট এমন সমঝোতা মানতে নারাজ। তারা দেশটিতে সেনাশাসনের পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহার চান। সুদানের ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে মধ্যস্থতা করেছেন ফাদলাল্লাহ বুরমা। তিনি দেশটির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল উম্মা পার্টির প্রধান। স্থানীয় সময় আজ রোববার তিনি দুই পক্ষের সমঝোতার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। বুরমা বলেন, জেনারেল বুরহান ও আবদাল্লাহ হামদক একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এর মধ্য দিয়ে হামদক ক্ষমতায় ফিরবেন। রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়া হবে। দুই পক্ষের সমঝোতার জন্য সুদানের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, রাজনীতিকদের নিয়ে নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদল কাজ করছিল। তবে এই সমঝোতার ফলে আগামী দিনগুলোয় দেশটিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে, তা জানা যায়নি।সমঝোতার খবর প্রকাশের পরপর আজ গৃহবন্দী আবদাল্লাহ হামদকের চলাফেরার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সুদানের সেনাবাহিনী। রাজধানী খার্তুমে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সুদানের বিরোধী দলগুলোর জোট ফোর্সেস অব ফ্রিডম অ্যান্ড চার্জ গতকাল বলেছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা সুদানের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, সেনাশাসন তুলে নেওয়ার পক্ষে রাজপথে রক্ত দিয়েছে। টানা তিন দশক ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল সুদানের সেনাবাহিনী। এর পর থেকে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশটিতে শাসন করছিল সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সরকার। গত ২৫ অক্টোবর সুদানের সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান করে রাষ্ট্রক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। জেনারেল বুরহান দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। এর পর থেকে খার্তুমসহ সুদানের বিভিন্ন শহরে সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। রাষ্ট্রক্ষমতা পুরোপুরি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে অর্পণ এবং সাম্প্রতিক ওই অভ্যুত্থানের নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে সংঘাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে সুদানের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ও জাতিসংঘ।
3
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আচরণ বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তার কষ্ট আমি বুঝি। গত নয় বছরে তারা নয় মিনিটও রাস্তায় আন্দোলন করতে পারেননি। কোটার ওপর ভর করে তারা ব্যর্থ, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সওয়ার হয়েও তারা ব্যর্থ। এসব ব্যর্থতায় হতাশ কর্মীদের চাঙ্গা করতে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন, বিদেশিদের কাছে নালিশ জানাচ্ছেন। তার আচরণ হয়ে গেছে বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে চার লেন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীরা সাত দিন রাস্তায় ছিল। আর আমি সাত বছর ধরে রাস্তায় আছি। প্রায় প্রতি সপ্তাহে রাস্তা পরিদর্শন করি। যতটুকু সফলতা আসা উচিত ছিল, তা থেকে আমরা এখনও অনেক দূরে। এখনও গাড়ি চেক করতে গেলে দেখা যয়, বেশিরভাগেরই ফিটনেস নেই, নয়তো ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই। এসবের পরিবর্তন করতে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, মালিক-শ্রমিক, পুলিশ ও বিআরটিএর নিরবচ্ছিন্ন সমন্বিত প্রয়াস এ সমস্যা লাঘব করবে।সেতুমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অবশ্যই রাজনৈতিক সংশ্নিষ্টতা ছিল। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার বিষয়ে বিএনপি-জামায়াতের জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। স্কুলব্যাগ নিয়ে ছাত্র পরিচয়ে পাথর, চাকু, চাপাতিসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরপর দু'দিন আওয়ামী লীগ অফিসে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তা রাজনৈতিক হামলা। এখানে বিএনপির সুস্পষ্ট যোগসাজশ রয়েছে। সরকার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। তদন্তে কোনো প্রকার নাশকতার প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তরুণরা মওদুদের মতো বহুরূপী রাজনীতিবিদ নয়। যিনি মৃত মানুষের সার্টিফিকেট আদালতে জমা দিয়ে বাড়ি দখল করতে চেয়েছেন, সেই ভুয়া ব্যারিস্টারের কথায় দেশের তরুণরা বিভ্রান্ত হবে না।মন্ত্রী আরও বলেন, গত ঈদের মতো এবারও রাস্তা সচল থাকবে এবং যাত্রীরা স্বস্তিতে যাত্রা করতে পারবে। তিনি বলেন, গত ঈদে চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার কাজ চলায় ব্রিজগুলো উন্মুক্ত করা যায়নি। এবার যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ২৩টি ব্রিজ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। দুর্ভোগ কমাতে ঈদের চার দিন আগে থেকে মহাসড়কের চন্দ্রা, কোনাবাড়ি, মেঘনা, গোমতি ও ভুলতাসহ বিভিন্ন স্থানে র্যাব মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি।এদিন মন্ত্রী বিকেলে চন্দ্রার ত্রিমোড়ে এসে ঢাকা ও টাঙ্গাইলগামী বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট পরীক্ষা করে দেখেন। ওই সময় ১০-১২টি যাত্রীবাহী বাস, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাকের কাগজপত্র ঠিক না থাকায় হাইওয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, সড়ক বিভাগের ঢাকা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর সড়ক ও জনপথের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাহিন রেজা, গাজীপুর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী গাউস উল হাসান মারুফ প্রমুখ।
9
রাজধানীর কলাবাগানে 'ও' লেভেল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আসামি ফারদিন ইফতেফার দিহানের (১৮) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আগামী ২১ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান প্রতিবেদন না দিয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এ দিন ধার্য করেন ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা। গত ৭ জানুয়ারি রাতে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দিহানকে একমাত্র আসামি করে কলাবাগান থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের করোনা সুরক্ষা টিকাদান শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন অং সুই প্রু মারমা।সিভিল সার্জন বলেন, বান্দরবান জেলায় ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিকাদানের শুরু থেকে সাড়া পাওয়া গেছে। জেলায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী করোনা টিকা দেওয়ার যোগ্য। এসব শিক্ষার্থীকে ফাইজার টিকা দেওয়া হয়।অংসুই প্রু মারমা বলেন, গত বুধবার পর্যন্ত ৩৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে করোনা সুরক্ষার টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থীর টিকা দেওয়া বাকি ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার টিকা দেওয়ার পরও তালিকাভুক্ত ৩৮ হাজারের মধ্যেও কিছু শিক্ষার্থী বাকি রয়েছে। আগামীকাল শনিবার অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজ দেওয়া হলে শতভাগ টিকাদান সম্পন্ন হবে।সিভিল সার্জন বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর থেকে বান্দরবানে বুস্টার ডোজ (তৃতীয় ডোজ) টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজার দেওয়ায় টিকা সংকটের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই শতভাগ শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার জন্য ষাটোর্ধ্ব ও সম্মুখ সারির কর্মীদের বুস্টার ডোজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার পর্যায়ে আছে।এদিকে শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা বুস্টার ডোজের কার্যক্রম গতকাল থেকে আবারও শুরু হয়েছে। বুস্টার হিসেবে অ্যাস্টাজেনেকা ও মর্ডানা টিকা দেওয়া হচ্ছে।সিভিল সার্জন বলেন, শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলা হলেও বান্দরবানের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং স্বাস্থ্য বিভাগ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। টিকা দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিটি কর্মী আন্তরিকভাবে কাজ করেছে।
6
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, 'আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম, খরচ ও হয়রানি রোধে ইন্টার-অপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম (আইডিটিপি) চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ডিজিটাল মাধ্যমে আন্তঃলেনদেন শুরু করেছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ওয়ালেট বিকাশ।' এ সময় তিনি দেশের প্রতিটি ব্যাংকসহ আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার রাজধানীতে ওয়েস্টিন হোটেলে জাতিসংঘ ক্যাপিটাল ডেভলপমেন্ট ফান্ডের (ইউএনসিডিএফ) উদ্যোগে 'লিভিং নো মাইক্রো-মার্চেন্টস বিহাইন্ড ইন দ্য ডিজিটাল এরা ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, 'ডিজিটাল ইআরপি সল্যুশনের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ সুবিধা পাবেন বিনা জামানতে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে বাংলাদেশ যেন পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, আমাদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, উন্নয়ন অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় আমরা মার্চেন্ট ডেভলপমেন্ট ড্রাইভিং রুরাল মার্কেটসের (এমডিডিআরএম) মতো উদ্যোগকে প্রসারিত করেছি।' চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে বাংলাদেশের জন্য পাঁচটি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'রোবটিক্সের জন্য জাতীয় কৌশল, জাতীয় ব্লকচেইন, ন্যাশনাল ইন্টারনেট অব থিংস কৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জাতীয় কৌশল, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইন সক্ষমতা অর্জনে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আমাদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ়ভিত রচনায় সহায়তা করবে।' সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, ইউএনসিডিএফের হেড অব করপোরেশন অব দ্য ডেলিগশন মৌরিজিও সিয়ান, বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায়। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
9
মাদক মামলায় জেরার মুখোমুখি হতে মুম্বইয়ে নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) দপ্তরে আজ শনিবার সকালে পৌঁছলেন অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। সুশান্ত সিংহ রাজপুতের হত্যার তদন্তে যে মাদক যোগ ধরা পড়ে, তাতে দীপিকার নামও উঠে এসেছে। দীপিকাকে মুম্বইয়ের কোলাবা অ্যাপালো বন্দরের এভলিন গেস্ট হাউসে এনসিবি-র বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) দপ্তরে জেরা করা হচ্ছে। দীপিকা উৎকণ্ঠায় ভোগেন বলে জেরার সময় স্বামী রণবীর সিংহ তাঁর সঙ্গে থাকতে চেয়েছেন বলে শোনা গিয়েছিল। তবে এমন কোনো অনুরোধ তাঁদের কাছে এসে পৌঁছয়নি বলে জানান তদন্তকারীরা। সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তে মাদক যোগ সামনে আসার পর থেকেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। তাতে দীপিকার মতো হেভিওয়েট নায়িকা তথা 'এ লিস্টে' নাম উঠে আসার পর থেকে তা অন্য মাত্রা পেয়েছে। এ অবস্থায় তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে যে সকলের নজর আটকে রয়েছে, তা বিলক্ষণ জানেন দীপিকা। শনিবার একেবারে সাদামাটা পোশাকেই এনসিবি-র দপ্তরে পৌঁছান তিনি। তারকা সুলভ কোনো আচরণ দেখা যায়নি তাঁর মধ্যে। কালো চশমায় চোখও ঢেকে রাখেননি। বরং করোনা কালে সতর্ক বিধি মেনে মুখ ছাকা ছিল মাস্কে। কোটি কোটি টাকার একাধিক বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হলেও, এ দিন সাধারণ হুন্ডাই গাড়িকেই বেছে নেন দীপিকা। সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর মতো তথাকথিত 'ফ্লপ' নায়িকার দামি ও বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার নিয়ে এর আগে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। একই মামলায় শনিবার এনসিবির দপ্তরে হাজিরা দেয়ার কথা অন্য দুই অভিনেত্রী সারা আলি খান এবং শ্রদ্ধা কপূরেরও। তাঁদের বাল্যার্ড এস্টেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। গত ১৪ জুন বান্দ্রার বাড়ি থেকে সুশান্ত সিংহ রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তার তদন্ত চলাকালীন সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে অভিনেতার মৃত্যুতে মাদক যোগ সামনে আসে। জেরায় রিয়াই সারা এবং শ্রদ্ধার নাম ফাঁস করে দেন। যদিও রিয়ার আইনজীবী এই দাবি অস্বীকার করেছেন। এই মামলায় সুশান্তের প্রাক্তন ট্যালেন্ট ম্যানেজার জয়া সাহাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তবে দীপিকা, সারা, শ্রদ্ধা অথবা রাকুল, কারও বিরুদ্ধেই এখনও পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের হয়নি। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
2
করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে নেওয়া বিধিনিষেধ আরোপের দুই দিনে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে ১০৩ পয়েন্ট। গতকাল সোমবার সূচকটি বেড়েছিল ৮৮ পয়েন্ট। দুই দিনে বেড়েছে মোট ১৯১ পয়েন্ট। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৯৭ পয়েন্ট। ডিএসইতে আজ হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪০টির, কমেছে ১৫টির, অপরিবর্তিত আছে ৯১টির দর। দুই ঘণ্টায় আজ লেনদেন হয়েছে ৫০৮ কোটি টাকা। গতকালের থেকে যা বেশি। গতকাল লেনদেন হয় ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার। আজ লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো বেক্সিমকো, রবি, এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্স, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মা, প্যারামাউন্ট, প্রভাতি ইনস্যুরেন্স, সামিট পাওয়ার, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ ও দেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। অন্যদিকে, সিএসইতে আজ হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৬টির, কমেছে ১২টির, অপরিবর্তিত আছে ৩০টির দর।
0
আগামী ২০ মার্চ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৫ বছর পর অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনে একাধিক প্যানেল অংশ নিচ্ছে। ১২০টি পদে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে প্রার্থী হয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন 'আজমতগীর-জাফর' প্যানেল।আজ শনিবার ঢাকা কলেজে পরিচিতি সভা ও নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন 'আজমতগীর-জাফর' প্যানেলের প্রার্থীরা।সংবাদ সম্মেলনে মাউশির গুরুত্বপূর্ণ পদ ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করা হয়। এই প্যানেলে প্রার্থীদের অভিযোগ, মাউশির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে প্রার্থী হয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। 'আজমতগীর-জাফর' প্যানেলের নির্বাচনী প্রচারের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে।জানা গেছে, এই নির্বাচনে মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শাহেদুল খবীর চৌধুরী সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন। এটি মাউশির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ।সম্মেলনে 'আজমতগীর-জাফর' প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক অলিউল্লাহ মো. আজমতগীর বলেন, আমরা বিভিন্ন স্থানে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। তবে সব বাধা এগিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।মহাসচিব পদে প্রার্থী মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ জাফর আলী বলেন, শিক্ষা ক্যাডার আজ পেশাগত ও সাংগঠনিক সমস্যায় জর্জরিত। চরম হতাশায় রয়েছে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা। ক্ষুদ্র গোষ্ঠী স্বার্থে সংগঠনকে কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এই গোষ্ঠীর হাত থেকে সংগঠনকে মুক্ত করতে চাই।সংবাদ সম্মেলনে 'আজমতগীর-জাফর' প্যানেল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। এই প্যানেলের ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য ঘোষণাগুলো হলো, শিক্ষা ক্যাডারের সমস্যা সমাধানে সবার মতামতের ওপর ভিত্তি করে অগ্রাধিকার বিবেচনায় ১০০ দিনের কর্মসূচি প্রণয়ন; ২০১৫ সালের পে-স্কেল আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত কোর কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পদ আপগ্রেডেশন ও পদ সৃষ্টির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা; যথাসময়ে পদোন্নতি নিশ্চিত করতে ১৯৮৭ সালের সমীক্ষা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পদ সৃষ্টির ব্যবস্থা করা এবং পদোন্নতির শর্ত পূরণকারী সব সদস্যের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক পদে দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা নেওয়া।
6
টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জলবায়ু তাড়িত প্রান্তিক ও নগরে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) 'ওয়াশ ইন্টিগ্রিটি ম্যানেজমেন্ট : চ্যালেঞ্জ এবং ওয়ে ফরওয়ার্ড' নামক ওয়েবিনারে তারা এ দাবি জানান। বাংলাদেশ ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক (বাউইন), চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ এবং ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক (উইন) যৌথভাবে এ ওয়েবিনার আয়োজন করে। ওয়েবিনার আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায়; চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়। ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের নির্বাহী পরিচালক এস এম এ রশীদ। মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. সাইফুল ইসলাম, বাউইনের সমন্বয়ক কাজী মনির মোশারফ। আলোচক ছিলেন খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল্লাহ, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, সিমাভির কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অলোক মজুমদার, ভিইআরসির নির্বাহী পরিচালক ইয়াকুব হোসেন, ডরপের উপনির্বাহী পরিচালক জোবায়ের হাসান। ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও বাউইন সভাপতি শহিদুল হাসান। ওয়েবিনার পরিচালনায় ছিলেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক এম জাকির হোসেন খান। বিজ্ঞপ্তি।
6
একশ এগারো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মির্জাপুর বালিয়া ভায়া উয়ার্শী আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠিত ওই কমিটির তদন্তকারী দল মঙ্গলবার সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়।তদন্ত কমিটির প্রধান নাজমুল হক প্রধান এমপি সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।' ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থ এই আঞ্চলিক সড়কটি ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্মাণ করে। ২০১১-১২ অর্থবছরে সড়কটি নির্মাণ শুরু হয়ে গত বছরের জুনে শেষ হয়। সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছিল এন মল্লিক অ্যান্ড কোং ও সূচনা এন্টারপ্রাইজ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণেবালির পরিবর্তে মাটি এবং ইটের খোয়ার পরিবর্তে ব্রিজ ও ভবনভাঙা প্লাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। তাই একবছর যেতে না যেতেই বিভিন্ন জায়গায় সড়কটি ভেঙে গেছে। তাছাড়া মির্জাপুরের ঘুঘি নামকস্থানে অধিগ্রহণকৃত জমির ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণ না করে অন্যের ভরাটকৃত জমি জবর দখল করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোনা মিয়া কমিটির কাছে অভিযোগ করেছেন। এর আগে এই সড়কটি নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ এনে এলাকাবাসী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন এমপি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নাজমূল হক প্রধান এমপিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের জামালপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শওকত আলী, একই বিভাগের ময়মনসিংহ জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম, সংসদ সচিবালয়য়ের অতিরিক্ত সহকারী সচিব, আইয়ুব আলী খান ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির একান্ত সচিব ইকবাল বিন মতিন।
6
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২০১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে এবছরে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪০২ জনে। যার মধ্যে অক্টোবর মাসে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ২০৫ জন। রবিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত এ বছরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৮৩ জন। যার মধ্যে অক্টোবর মাসে মারা গেছেন ১৪ জন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬০ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১ জন। নতুন ২০১ জন নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৪ জনে। ঢাকার ৪৫টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬৫১ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৯৩ জন।
6
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ডাংরী নামক স্থানে ময়মনসিংহ কিশোরঞ্জ সড়কের পার্শ্বে একটি জলাশয় থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত বৃদ্ধের পরিচয় জানা যায়নি। নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান আকন্দ ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, ওই ব্যক্তির বয়স অনুমানিক ৭০ হবে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
6
ঢাকার ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নে তৃতীয়বারের মত স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলা চালিয়েছে নৌকার মনোনয়ন প্রার্থীর লোকজন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ১৪ জন আহত হয়েছেন।আহতরা হলেন- নাহিদ (১৮), অন্তর (১৮), রাহিম (১৯), মবেদ আলী (৬০), আব্দুর রউফ (৫০)। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।হামলায় আহত আব্দুর রউফ বলেন, আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আওলাদ হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে প্রচারণা শেষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে সোমভাগ ইউনিয়নের কাউন্সিল বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় পেছন থেকে আজহার চেয়ারম্যানের আজহার আলীর লোক শামীম, কবির, আজহার আলী ছেলে শিমুল, আজহারের গাড়ির চালক একটি সাদা মাইক্রোবাস থেকে নেমে লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হয় তিনজন। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।আহত অন্তর বলেন, শামীম ও কবিরের নেতৃত্বে একটা বাহিনী তৈরি করেছে। তাঁরা একটি গাড়িতে সব সময় লাঠিসোঁটা রাখে। নির্বাচনী প্রচারণায় বের হলেই গাড়ি নিয়ে প্রচারণায় হামলা চালায়। আমরা তার শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওলাদ হোসেন বলেন, আমাদের প্রচারণা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ডিসি মহোদয় বলে গেলেন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আচরণবিধি মেনে চলতে গিয়ে শুধু মার খাচ্ছি। আমি তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এ নিয়ে তিনবার আমি ও আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।এ বিষয়ে কথা বলতে নৌকার মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজহার আলীকে মোবাইল করা হলে তিনি বলেন, আমি খুব ব্যস্ত আছি। আপনারা পরে ফোন দেন।ধামরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আয়েশা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।ধামরাই থানার উপপরিদর্শক আশরাফুল বলেন, আমার চোখে আহত কেউ পড়েনি। এক চাচা দৌড় দেওয়ার সময় পানিতে পড়ে ভিজে গেছে। আর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম।
6
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে এ বছর ১৫ দিন আগে মঙ্গলবার থেকে মধু ও মোম আহরণ শুরু হয়েছে। যা চলবে আড়াই মাস অর্থ্যাৎ আগামী ৩০ মে পর্যন্ত। এর আগে অন্যান্য বছর ১ এপ্রিল থেকে মধু-মোম আহরণ শুরু হতো। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনি এলাকায় খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো মধু সংগ্রহ কার্যাক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মৌয়ালরা উপস্থিত ছিলেন। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন জানান, অন্যান্য বছর ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবন থেকে মৌয়ালরা মধু ও মোম সংগ্রহ করতেন। তার আগে মৌয়ালদের পাশ-পারমিট দেওয়া হতো। কিন্তু দেখা যেতো কিছু মৌয়াল পাশ-পারমিট না নিয়ে অবৈধভাবে আগেই বনে ঢুকে মধু আহরণ শুরু করতো। এর ফলে পাশ-পারমিট নিয়ে বনে যাওয়া মৌয়ালরা তাদের কাঙ্ক্ষিত মধু আহরণ করতে পারতেন না। তাছাড়া তারা গবেষণা করে দেখেছেন- বনের মৌচাকগুলোতে ১৫ মার্চ থেকেই মধু পাওয়া যায়। সে কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জানান, গত বছর সুন্দরবন থেকে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩১৫ কেজি মধু ও ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৫ কেজি মোম আহরণ করেছিলেন মৌয়ালরা। মধু থেকে ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৩ টাকা এবং মোম থেকে ১৩ লাখ ৩৯০ হাজার ৫০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিল। এ বছর এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। মৌয়ালরা জানান, সুন্দরবন বন বিভাগ গতবারের তুলনায় এ বছর মধু আহরণের রাজস্ব বৃদ্ধি করেছে। সুন্দরবনে প্রতি কুইন্টাল (১০০ কেজি) মধু সংগ্রহে রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। যা আগে ছিল ১ হাজার টাকা। ফলে প্রতি কুইন্টাল মধুতে রাজস্ব বেড়েছে ৬০০ টাকা। একই সঙ্গে প্রতি কুইন্টাল মোম সংগ্রহে রাজস্ব বেড়েছে ২০০ টাকা। আগে প্রতি কুইন্টাল মোমে রাজস্ব দিতে হতো ২ হাজার টাকা। বর্তমানে বাড়িয়ে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। তারা জানান, সুন্দরবনে যে কয়টি প্রজাতির ফুলের মধু পাওয়া যায়, তার মধ্যে খলসি ও গরাণ ফুলের মধু সবচেয়ে উন্নতমানের।
6
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসায় হামলার জেরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলার আসামি শেখ সাইয়েদ আহম্মেদ মান্নাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। শনিবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মান্না বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। কাউন্সিলর মান্নার বড়বোন কানিজ ফাতেমা জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তার বাসায় একদল সাদা পোশাকধারী লোক এসে মান্নাকে নিয়ে যায়। মান্নাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তারা বরিশালের থানায় যোগাযোগের জন্য বলেন। গত বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসায় কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের রুখতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার সদস্যদের রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়তে হয়। প্রতিবাদে বুধবার মধ্যরাত থেকে বরিশালে সড়ক ও নৌ যোগাযোগ অচল করে দেয়া হয়। বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ/আরাফাত
6
দেশে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রবাসী আয়ের বেশিভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৬৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা ধরে) যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে (জুলাই-নভেম্বর) প্রথম পাঁচ মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ৮৬০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৪৬৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার; যা মোট আহরিত রেমিট্যান্সের ৫৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর বিশ্বের অন্য দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৯৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় পাঠানোর শীর্ষে থাকা ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ওমান, ইতালি ও বাহরাইন। তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় পাঠানোর শীর্ষে থাকা ১০ দেশের মধ্যে ছয়টি হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে দেশটি থেকে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২০৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার; যা মোট আহরিত রেমিট্যান্সের প্রায় ১৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্য বলছে, সদ্যসমাপ্ত নভেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের এ অঙ্ক গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২৫ শতাংশ বা ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকা কম। গত বছরের নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। শুধু তাই নয়, নভেম্বরের রেমিট্যান্সের এ পরিমাণ গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২০ সালের মে মাসের দেশে ১৫০ কোটি ডলার সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৬০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ কম।
6
ইয়ামাহা আরওয়ানএম অথবা শুধু আরওয়ানএম, সারা বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয় মোটরসাইকেল। বাংলাদেশের বাইকপ্রেমীদের কাছেও ইয়ামাহা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড। আরওয়ানএম হচ্ছে প্যাশনেট বাইকারদের ড্রিম বাইক। মোটোজিপি, ডব্লিউএসবিকের মতো মোটরসাইকেল রেসিংয়ের আন্তর্জাতিক আসর এখন বাংলাদেশের বাইকারদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়। সেই জনপ্রিয়তা এবং বাইকারদের চাহিদা মাথায় রেখেই ইয়ামাহা জাপান বাইকটি বাংলাদেশে তাদের টেকনিক্যাল কোলাবোরেটেড পার্টনার এসিআই মোটরসকে সম্প্রতি উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশে এত উচ্চ সিসির মোটরসাইকেলের অনুমোদন না থাকায় বাইকটি শুধু প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহার করা হবে। ইয়ামাহা আরওয়ানএম বাইকটির ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০০ সিসি। সাত দশক ধরে মটোজিপি, ডব্লিউএসবিকে ইত্যাদি রেসিং ট্র্যাকে ঝড় তোলা ইয়ামাহা এমওয়ানের কনসেপ্টে তৈরি ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ আরওয়ানএমে রয়েছে কার্বনের তৈরি বডি কাউল, ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল টেকনোলজি এবং ইলেকট্রনিক রেসিং সাসপেনশন। ব্যবহৃত হয়েছে নতুন ওহলিনস এনপিএক্স গ্যাস ফোর্ক। বাইকটির ফোর স্ট্রোক লিকুইড কুলড ডিওএইসি ইঞ্জিনে রয়েছে ফরওয়ার্ড-ইনক্লাইন্ড প্যারালাল চার সিলিন্ডার, চার ভালভ। বাইকটির কমপ্রেসর রেসিও ১৩.০:১, ওভারঅল হাইট ১১৫০ মিমি, ডিসপ্লেসমেন্ট ৯৯৮ সিসি। ম্যাক্সিমাম পাওয়ার- . , এবং ম্যাক্সিমাম টর্ক- . , । ক্লাচ টাইপ- ওয়েট, মাল্টিপল ডিস্ক এবং ইলেকট্রিক স্টার্ট সিস্টেম। এই বাইক মাত্র ৭.২ লিটার ফুয়েলে চলে ১০০ কিমি।প্যাসোনেট বাইকারদের মধ্যে খুব কম লোকই আছেন যাঁরা সুপারবাইক ভালোবাসেন না। টিভির পর্দায় বা রেসিং ট্র্যাকে দেখা সুপারবাইক সামনাসামনি দেখতে কার না ইচ্ছে করে। ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ আরওয়ানএম তেমনই একটি সুপার স্পোর্টসবাইক, যা অনেক বাইকারেরই স্বপ্ন-বাহন।
4
বিশ্ব সংগীত জগতের উজ্জ্বল তারকা লেডি গাগার ষষ্ঠ অ্যালবাম ক্রোমাটিকা মুক্তির জন্য প্রস্তুত। যদিও ১০ এপ্রিল মুক্তির কথা ছিল এই অ্যালবামের। কিন্তু করোনার কারণে প্রাথমিকভাবে অ্যালবাম মুক্তি স্থগিত রেখেছিলেন। কিন্তু এমন সময়ে কিছুতেই অ্যালবাম মুক্তি দিতে মন সায় দিচ্ছে না এই অস্কারজয়ী দ্য স্টার ইজ বর্ন তারকার। ৩৪ বছর বয়সী এই 'বর্ন দিজ ওয়ে' তারকা ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন কী কী থাকছে তাঁর নতুন অ্যালবামে। এখনে শুনতে পাওয়া যাবে এলটন জন আর 'রেইন অন মি' তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডেকেও। ক্রোমাটিকায় থাকছে ১৬টি গান। এর মধ্যে 'সাওয়ার ক্যান্ডি' গানটি গেয়েছে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ব্ল্যাকপিঙ্ক। গাগার সঙ্গে এলটন জন গেয়েছেন 'শাইন ফ্রম অ্যাবোভ'। এমন সময়ে বহু আকাঙ্ক্ষিত এই অ্যালবাম মুক্তির সিদ্ধান্ত কঠিন ছিল জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে লেডি গাগা লেখেন, 'আমি জানি, গানের সেই শক্তি আছে, যা আমাদের কঠিন সময়ে শান্তি দিতে পারে, দুঃসময়ে সাহস জোগাতে পারে। এসবই সত্য। তবু পৃথিবীর এই ভয়ংকর দুঃসময়ে অ্যালবাম মুক্তি দিতে কিছুতেই মন সায় দিচ্ছে না। যখন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, আমরা এই সব গানে নাচব, পার্টি করব। এখন ঘরে বসে আমরা বরং সমাধান খুঁজি। এখন অ্যালবাম মুক্তির দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো বেশি জরুরি। করোনায় আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বেশি জরুরি। ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যাওয়া মানুষের মুখে খাবার দেওয়া বেশি জরুরি।' লেডি গাগা 'ওয়ান ওয়ার্ল্ড: টুগেদার অ্যাট হোম' শিরোনামে অনলাইন কনসার্টের আয়োজনের দায়িত্বে আছেন। এখানে ঘরে থেকে যুক্ত হয়েছেন বিশ্বের শতাধিক তারকা। এক হাজার কোটি টাকার ফান্ড জোগাবে এই কনসার্ট।
2
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ওটি সাগর নন্দীনি-৩ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে সুকানি কামরুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দগ্ধ হয়েছেন আরও ৭ জন কর্মচারী। আহতদের বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে জাহাজের পাম্প রুম থেকে অকটেন খালি করার সময় পাইপের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ওই রুমে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়। এতে জাহাজের ৮ জন কর্মচারী দগ্ধ হন। এর মধ্যে সুকানি কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া দগ্ধ আরও ৭ জনকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের পর জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী এবং পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাহাজে থাকা তেল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
6
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অর্ধেকের বেশি সেনা গাঁজা সেবন করে। ইসরাইলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, গেলো বছর সেনাবাহিনীর কমপক্ষে ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ সেনা গাঁজা খায়। ইসরাইল অ্যান্টি-ড্রাগস অথরিটি (আইএডিএ) এক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, গেলো নয় বছরে ইসরাইলি সেনাদের অবৈধ মাদক সেবনের পরিমাণ ব্যাপক মাত্রার বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে ২০০৯ সালে মাত্র ১১ শতাংশ ইসরাইলি সেনা অবৈধ মাদক সেবন করতো, সেটি ২০১৭ প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরাইলি পত্রিকাটি বলছে, আগে গাঁজা সেবন সেনাবাহিনীতে একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হতো এবং জেলে পাঠানো হতো। তবে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী অধিকতর নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানাচ্ছে পত্রিকাটি। এর ফলে ইসরাইলি সেনারা এখন চাইলেই অফ-ডিউটিতে থাকা অবস্থায় পাঁচবার পর্যন্ত গাঁজা সেবন করতে পারেন। ইয়েদিওথ আহরোনথ জানাচ্ছে, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এমনকি ডিউটিতে থাকাবস্থায় যারা গাঁজা সেবন করে বা সেটি পাঁচবারের বেশি হলেও তাদের কোর্ট-মার্শাল বা অপরাধ অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে না। একজন সেনা বলেছেন, কমান্ডাররা পর্যন্ত গাঁজা সেবন করেন। স্টাফ, মেডিকেল সার্জেন্ট, সবাই এটি সেবন করে। তাহলে এটি বন্ধ করবে কে? তিনি বলেন, কোম্পানি কমান্ডার হয়তো গাঁজা সেবন করেন না কিন্তু যেসব সেনাসদস্যরা এমনটা করছেন তাদের সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। তিনি তাদের হেঁটে যেতে দেখেন এবং কিছুটা ক্লান্ত অবস্থায় ফিরে আসতে দেখেন কিন্তু এটি উপেক্ষা করেন। যদি তারা কোনও অভিযানে না থাকেন বা কোনও বিপদ না থাকে তাহলে তিনি এটি নিয়ে তেমন উদ্বেগ প্রকাশ করেন না। এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাতে ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, সেনাবাহিনী ডিউটিতে অবস্থায় গাঁজা সেবনকে বিপজ্জনক মনে করে। তাই প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি, তদন্ত এবং আইন প্রয়োগ করাসহ বিভিন্নভাবে এটি মোকাবেলায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
3
অন্তু ও পূজার অনেক দিনের প্রেম। অনেকেই জানতেন সে কথা। ২০১৭ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি পূর্ণতা পায় সেই প্রেম। জমকালো আয়োজনে বিয়ে করেন দুজন। আর দুমাস পরই ছিল তাঁদের পঞ্চমবিবাহবার্ষিকী। এর আগেই গত রাতে পূজাকে ট্যাগ করে অন্তু লিখলেন, 'মহানের কাছে সুস্থ এবং সুন্দর জীবনের কামনা করে, আমাদের সাংসারিক যাত্রা, আমার পক্ষ থেকে এখানেই ইতি টানলাম। ভালো থেকো।' ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের দুবছর পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক যাচ্ছিল না। এমনকি আলাদা থাকতে শুরু করেছিলেন দুজন। পরে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়েও নেন। তবে 'সাংসারিক যাত্রার ইতি টানার' মতো সিদ্ধান্ত কেন নিতে হলো অন্তুর? এ ঘটনা প্রসঙ্গে পূজা প্রথম আলোকে বলেন, 'গত সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে এ রকম একটি স্ট্যাটাস দেবে, সেটা আমার জানা ছিল না। আইনানুগভাবে আমাদের এখনো বিচ্ছেদের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের দুই পরিবারের কেউ বিষয়টি জানে না। দুই পরিবার বসে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।' অর্ণব অন্তু মডেলিং করেন। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে পূজার 'অবুঝ পাখি' গানের মডেল হয়েছিলেন তিনি। তখন থেকেই দুজনের বন্ধুত্ব। সেখান থেকে প্রেম ও বিয়ে। 'সেরা কণ্ঠ' প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংগীতে ক্যারিয়ার শুরু করেন পূজা। এরপর অ্যালবাম ও প্লেব্যাকের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান।
2
কৃষি ব্যবসা ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে ২০১৬ সালে দেশের প্রায় দেড় কোটি কৃষকের কাছে পৌঁছে গেছে এসিআই লিমিটেড। কোম্পানির এগ্রিবিজনেস শাখার ক্রপ কেয়ার, এনিমেল হেলথ, ফার্টিলাইজার, ক্রপেক্স, সীডস, কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে চলতি বছরে প্রায় ২ কোটি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে চায়। গত বছরে কোম্পানির বার্ষিক আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ শতাংশ। শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত বাত্সরিক সম্মেলন ২০১৭ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন এসিআই লিমিটেডের (এগ্রিবিজনেস) নির্বাহী পরিচালক ড. ফা হ আনসারী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা। তিনি বলেন, দেশে এখন দুধ ও মাংসের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে মাটির উর্বরা শক্তি কমে গিয়ে ফসলের উত্পাদনশীলতা কমে আসছে। এ অবস্থায় কৃষি ও কৃষকের জীবন পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পদশালী করতে করণীয় সকল বিষয়গুলোকে বাস্তবায়ন করা হবে। এর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর থেকে শুরু করে উন্নত বীজ, সার এবং উপকরণ সহায়তা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছাতে কাজ করতে হবে। সরকারি সহায়তা ও নীতি-নির্দেশনা অনুসারে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। 'ট্রান্সফারমারস' শিরোনামে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্মেলনে মাঠ পর্যায়ের দেড় শতাধিক কর্মকর্তা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রিমিয়াফ্লেক্সের বিজনেস ডিরেক্টর আনিসুর রহমান এবং এসিআই এগ্রোলিঙ্কের চিফ স্ট্রাটেজিক অফিসার এম সাইফুল্লাহ প্রমুখ।
0
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতকে কঠিন চ্যালেঞ্জ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য বিরাটদের করতে হবে ২৯৯ রান। এখন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছে তারা। ক্রিজে আছেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শেখর ধাওয়ান। দলের সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩২ রান। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে দুই উইকেটের পতনের পর শন মার্শের ধীরতায় ভালো সংগ্রহ দাঁড় করায়। ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করেন তিনি। অর্ধশতের দিকে পা বাড়িয়ে ১৩১ রানে সাজঘরে ফিরেন তিনি। হাঁকান ১১টি বাউন্ডারি ও তিনটি ছক্কা। তিনি ছাড়া ৪৮ রানের কার্যকরী একটি ইনিংস খেলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। পাঁচটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা হাঁকান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯৮ রান। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেন ভুবনেশ্বর কুমার ও তিনটি মোহাম্মদ শামি। তবে আজ ওয়ানডে অভিষেক হওয়া মোহাম্মদ সিরাজ কোনো উইকেট শিকার করতে পারেননি।
12
জোহরের নামাজের পরই হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে ঢল নামে মানুষের। মাথায় লাল কাপড় বেঁধে দলে দলে নারী-পুরুষ দরগাহে প্রবেশ করেন। নাকাড়া বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে 'লালে লাল বাবা শাহজালাল' ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে দরগাহ প্রাঙ্গণ।'শাহজালাল বাবা কী জয়', '৩৬০ আউলিয়াকি জয়', 'লালে লাল বাবা শাহজালাল' স্লোগান দিয়ে শাহজালালের ভক্তরা লাক্কাতুড়া বাগানের দাকে রওনা দেন। তলোয়ার, দা-কুড়াল ও লাল-ঝান্ডা হাতে ভক্তদের মিছিলে গোলাপজল ছিটানো হয়।গতকাল শনিবার সকাল থেকেই সিলেট শহর ও শহরতলি এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাদ্য বাজিয়ে দরগাহ প্রাঙ্গণে আসতে থাকে মানুষ। শুধুমাত্র সিলেট শহর নয় অন্যান্য জেলা, মাজার-খানকা শরিফ, বাউল সংগঠন ও গ্রাম থেকেও মানুষ আসে এই লাকড়ি তোড়া উৎসবে যোগ দিতে।বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গানের তালে তালে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে লাক্কাতুড়া ও মালনীছড়া বাগানের মধ্যবর্তী টিলায় যান ভক্তরা। সেখানে গিয়ে টিলায় মিলাদ পড়ে শিরনি বিতরণের পর লাকড়ি সংগ্রহ শুরু হয়। সংগ্রহ করা লাকড়ি নিয়ে আবার দরগায় ফেরেন সবাই। সেই লাকড়ি দরগাহের পুকুরের পানিতে ধুয়ে ওরসের শিরনিতে ব্যবহারের জন্য স্তূপ করে রাখা হয়।সরেজমিনে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ লাকড়ি তোড়া উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। বাদ যায়নি শিশুরাও। বড়দের মতো তারাও মাথায় লাল কাপড় বেঁধে 'লালে লাল বাবা শাহজালাল' স্লোগান দিয়ে লাকড়ি তোড়া উৎসবে যোগ দেয়। বিভিন্ন মাজার-খানকা শরিফ, বাউল সংগঠনের সদস্যরা পিকআপ গাড়িতে সাজসজ্জা করে বিভিন্ন ধর্মীয় গান, গজল পরিবেশন করে লাকড়ি তোড়া উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।নগরীর মদীনামার্কেট এলাকার জ্যোৎস্না বেগম বলেন, 'আমি বাবার ভক্ত। শাহজালাল বাবার সব অনুষ্ঠানে আমি অংশগ্রহণ করি। আজ লাকড়ি তোড়া উৎসবে এসেছি।'
6
ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকার পুরোপুরিব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেনজাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের। শনিবার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী কলেজ মাঠে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। খবর ইউএনবির জিএম কাদের বলেন, 'আমি দেখি ঢাকার মানুষ আতঙ্কিত। মশা দেখলেই ভয় পাচ্ছে। কারণ ডেঙ্গু হলে মানুষ মারা যাচ্ছে। এই আতঙ্কিত মানুষকে রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের। এই মহামারি অবস্থা ঠেকাতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ।' চলতি বছরের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এরই মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রাজধানীর ৪৯টি সরকারি-বেসরকারি ও ঢাকার বাইরে শুধু সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আক্রান্তের এই সংখ্যা নিরূপণ করছে। এর বাইরে কয়েক হাজার বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে যেসব মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছে, তারা হিসাবের আওতায় আসছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি হিসাবে এক-দশমাংশ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে মাত্র। ৯০ শতাংশ রোগী হিসাবেই আসছে না। শুক্রবারও সারাদেশে ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার মাদারীপুরে এক গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে কজনের এ নিয়ে মৃত্যের সংখ্যা ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক সেনাশাসক এইচএম এরশাদের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়া তার ছোট ভাই জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে, তবে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান আদেল, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর (অব.) আসাফু উদ দৌলা প্রমুখ।
6
নারায়ণগঞ্জ বন্দরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে সরু শীতলক্ষ্যা নদীতে একসঙ্গে ৮ থেকে ১০টি বাল্কহেড সারিবদ্ধভাবে চলে। মাসে ৪-৫টি দুর্ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে বেপরোয়া গতিতে তিন-চার সারিতে বাল্কহেড (বালু বহনকারী বড় ট্রলার) চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে। আতঙ্কে থাকেন ইঞ্জিনচালিত সাধারণ ট্রলার ও নৌকার মাঝি-যাত্রীরা। বাল্কহেডের চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে নৌ পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি তাঁদের। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বন্দর সেন্ট্রাল ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীসহ খেয়া পারাপারের ট্রলার ও নৌকা চলতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরপরই ঘাট থেকে ট্রলার ও নৌকা ছেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে দ্রুত গতিতে চলছে বাল্কহেড। মাঝেমধ্যে দেখা যায় ট্রলার ও নৌকার খুব কাছাকাছি দিয়ে দ্রুত গতিতে চলছিল বাল্কহেড। বিকেলের পর থেকে নদীতে বাল্কহেড চলাচলের সংখ্যাও বেড়ে যায়। একসঙ্গে তখন ৮ থেকে ১০টি বাল্কহেড সারিবদ্ধভাবে চলে। ৫ মার্চ বিকেলে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে বাল্কহেডের ধাক্কায় দুটি নৌকা ডুবে যায়। যাত্রীরা তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ থাকে কলেজছাত্রী রহিমা আক্তার। দুই দিন পর তাঁর লাশ উদ্ধার হয়েছে। নৌ-পুলিশ অভিযুক্ত চালকসহ বাল্কহেডটি আটক করে। এর আগে সম্প্রতি নবীগঞ্জে বেপরোয়া বাল্কহেড একটি যানবাহন পারাপারের ফেরিতে গিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাণহানি না ঘটলেও ফেরির ক্ষতি হয়। দুর্ঘটনার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ পুলিশের কাছে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও স্থানীয় মাঝি ও লোকজন জানিয়েছেন, বাল্কহেডের ধাক্কায় মাসে চার থেকে পাঁচটি দুর্ঘটনা ঘটে। ১৫ বছর ধরে সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে ভাড়ায় বইঠা নৌকা চালান স্বদেব সাহা। তাঁর বাড়ি সোনারগাঁয়ের মেঘনায়। স্বদেব বলেন, সিগন্যাল বাতি ও হর্ন ব্যবহার করে না বাল্কহেডগুলো। বেপরোয়া গতিতে একসঙ্গে কয়েকটি চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। নবীগঞ্জ এলাকার জোয়াত আলীও বইঠার নৌকা চালান ৪০ বছর ধরে। তিনি বলেন, বেপরোয়া বাল্কহেড চলাচলের কারণে আতঙ্ক নিয়ে নৌকা চালান তিনি। নিজের জীবনের সঙ্গে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। একটি নৌকার যাত্রী আবু হেনা বলেন, 'জীবনটা হাতের মুঠোয় নিয়ে খেয়া পারাপার হই। কখন যে বাল্কহেড বা কার্গো ট্রলার এসে নৌকায় লাগিয়ে ডুবিয়ে দেয়, সেই ভয়ে থাকি।' সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে লক্ষাধিক যাত্রী পারাপার হন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক। খেয়াঘাটে ২০০ নৌকা চলাচল করে। জনপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা। এ ছাড়া ইঞ্জিনচালিত ট্রলার আছে ১২টি। জনপ্রতি ভাড়া ২ টাকা। এই ঘাটে নিয়মিত নৌকা ও ট্রলার চালান এমন ব্যক্তিরা বলেছেন, শীতলক্ষ্যা দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ বাল্কহেড চলাচল করে। বালুমহাল থেকে বাল্কহেডগুলো বালু নিয়ে রূপগঞ্জ, পূর্বাচলের বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি ও বালুর গদিঘরে সরবরাহ করে। ঘাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ব্যস্ততম এ খেয়াঘাটে নদী এমনিতেই সরু। কয়েকটি বাল্কহেড একসঙ্গে পুরো নদী দখল করে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় দুর্ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন বলেন, চালকদের শৃঙ্খলা ও সচেতনতার সঙ্গে চালানোর নির্দেশ দেন তাঁরা। এরপরও অসাবধানতায় দুর্ঘটনা ঘটালে এর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বাল্কহেডের মালিককেই বহন করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, সন্ধ্যার পর বাল্কহেড চলাচল বন্ধ। দিনের বেলায় একসঙ্গে অনেকগুলো বাল্কহেড যাতে চলতে না পারে, সে জন্য নৌ পুলিশ তদারকি করে।
6
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ডিএম মনোয়ার হোসেন বাবলু দেওয়ানকে টাকা এবং ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) তাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডিএম মনোয়ার হোসেন বাবলু নৌকার প্রার্থী ছিলেন। নবনির্বাচিত এই চেয়ারম্যানের গলায় টাকার ও ফুলের মালায় দিয়ে ইউনিয়নের চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী, চকরাজাপুর বাজার, দাদপুর বাজার, শহরের মোড়, পুরাতন পলাশি ফতেপুর বাজার, নতুন পলাশি ফতেপুর বাজার, নিচ পলাশি ফতেপুর এলাকায় ঘুরিয়ে সংবর্ধনা দেয় এলাকাবাসী। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় ১৫টি চরের মানুষ সপ্তাহব্যাপী সংবর্ধনা দেবে তাকে। মঙ্গলবারের সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন চকরাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মহসিন শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক টুটু দেওয়ান, মিজানুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস সাত্তার শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জামাল শেখ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ডালিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক চন্তু মোল্লা, বাবলু ব্যাপারী, আবদুল মালেক, হাশেম ডিলার, কুরবান আলী প্রমুখ। এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম জানান, চরবাসীর রেওয়াজ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে এভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নির্বাচিত হওয়ায় আনন্দে আমরা তাকে এভাবেই সংবর্ধনা দিয়েছি। কালিদাসখালী চরের মিলন শেখ জানান, চরের রেওয়াজ অনুযায়ী যে ব্যক্তি নির্বাচিত হবে তাকে সপ্তাহব্যাপী এলাকায় ঘুরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই সংবর্ধনায় চেয়ারম্যানকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মালা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। একজন ইউপি সদস্যকে কমপক্ষে এক থেকে দেড় লাখ টাকার মালা দেওয়া হয়। এই মালাতে এক হাজার, পাঁচশ, একশ, পঞ্চাশ, বিশ এমনকি দশ টাকার নোটও থাকে। এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ডিএম মনোয়ার হোসেন বাবলু দেওয়ান বলেন, "চরের রেওয়াজ অনুযায়ী চরবাসী টাকার মালা ও ফুলের মালা পরিয়ে এলাকায় ঘুরিয়ে আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন।" উল্লেখ্য, ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডিএম মনোয়ার হোসেন বাবলু দেওয়ান (নৌকা) ৪,০৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুল আযম (আনারস) ৩,১০১ ভোট পেয়েছেন।
6
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা দুটি দায়ের করেন। এর মধ্যে একটি মামলায় ৮ জনকে ও অন্যটিতে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুদক জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে রাফি মাহি কর্পোরেশন নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ঋণ অনুমোদনের পূর্বেই সাবেক চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসেন ১২ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ ও পাচার করেন। প্রথম মামলায় ব্যাংকের বিজয়নগর (তৎকালীন মতিঝিল) শাখার ব্যবস্থাপকসহ সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও পরিচালক ক্যাপ্টেন (অব) এম. মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আটজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২), (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক জানায়, অন্য মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ভুয়া এসওডি-ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন না নিয়েই সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদের নির্দেশে ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২), (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
6
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১ উপলক্ষে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে ক্রিকেটবিষয়ক অনুষ্ঠান। আর এই অনুষ্ঠানগুলোতে মঞ্চ মাতাচ্ছেন তারকারা। বিশ্বকাপের শুরু থেকে ফাইনাল পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত নিয়ে হাজির হন তাঁরা। শুধু হাজির হলেই তো হলো না! আগত এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলতে হয় ক্রিকেটের বিশদ নিয়ে। তাই প্রস্তুতি চলে অনেক দিন ধরেই।বিশ্বকাপ উপলক্ষে জিটিভি ও টি-স্পোর্টসে একযোগে প্রচার হচ্ছে দুটি অনুষ্ঠান। খেলা শুরুর আগে '৩০ মিনিট বাকি' এবং খেলা শেষে প্রচার হচ্ছে 'ক্রিকেট এক্সট্রা'। এই অনুষ্ঠানগুলো উপস্থাপনা করছেন আজরা মাহমুদ, শ্রাবণ্য তৌহিদা, নীল হুরেরজাহান ও মৌসুমী মৌ। মৌসুমী মৌ এবারই প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। তবে মৌয়ের ক্রিকেট শো উপস্থাপনা শুরু ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে। সর্বশেষ আইপিএলে তিনি উপস্থাপনা করেছেন 'ক্রিকেট ম্যানিয়া' নামক অনুষ্ঠান। মৌসুমী চলতি বছরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময় জিটিভিতে প্রচারিত 'ক্রিকেট ম্যানিয়া', 'মিড উইকেট' ও 'ক্রিকেট এক্সট্রা' নামক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন।মৌ বলেন, 'একটা একটা খেলা এক এক ধরনের। যেমন আইপিএল ছিল একরকম। সিরিজগুলো একরকম। সর্বশেষ আইপিএল নিয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছি। বিশ্বকাপ নিয়ে এই প্রথম অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছি। এমন অনেক দেশই আছে যা নিয়ে সচরাচর আমাদের তথ্য রাখা হয় না। তাদের নিয়ে বিভিন্নভাবে চর্চা করতে হয়েছে। একই সঙ্গে নাম মনে রাখাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। টপ অর্ডারে কারা আছেন, মিডল অর্ডারে কারা আছেন-এগুলো জানতে হয়। একটু ভুল হলেই ট্রল।'মৌ বিশ্বকাপের শো প্রথম করছে তাই আজরা মাহমুদ, শ্রাবণ্য তৌহিদা, নীল হুরেরজাহান- এর চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিংও মনে করছেন। 'আমি অনেক টেনশনে ছিলাম। তবে আইপিএল করে এই শো এর জন্য বেশ ভালো একটা প্রস্তুতি হয়েছে। প্রস্তুতির তো শেষ নেই। ক্রিকেটের শোতে একধরনের ভয় কাজ করে, যেটা অন্য শোতে করে না। ক্রিকেট শো ভালো করতে দ্বিগুণ স্টাডি প্রয়োজন। তবে আমার জিটিভি টিম খুবই হেল্পফুল, বিশেষ করে প্রযোজক সোহেল হাসান ও নজরুল খান ভাই খুবই আন্তরিক। সোহেল ভাই স্ক্রিপ্ট থেকে শুরু করে প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় ধরে ধরে শেখান। প্রি শো টা অনেক সহজ লাগে। কিন্তু ম্যাচ শেষের শো করতে অনেক তথ্য উপাত্ত জানতে হয় ম্যাচ নিয়ে।' মৌসুমী মৌয়ের উপস্থাপনা ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপস্থাপনার মাধ্যমে। বর্তমানে বিটিভি, এনটিভি, এটিএন বাংলা, জিটিভি, নাগরিক টিভি, এশিয়ান টিভি ও নেক্সাস টিভিতে নিয়মিত অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। এ ছাড়া তিনি প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান 'লাক্স ক্যাফে লাইভ' উপস্থাপনা করেন। এর বাইরে বিভিন্ন করপোরেট হাউসের এমসি হিসেবেও নিয়মিত কাজ করছেন।উপস্থাপনার পাশাপাশি অভিনয়েও আছেন মৌসুমী। তিনি বেশ কয়েকটি টিভি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অভিনয় করেছেন কয়েকটি ওয়েব সিরিজ ও ওয়েব ফিল্মে। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে শঙ্খ দাশগুপ্তর পরিচালনায় 'বলি' নামে একটি ওয়েব সিরিজের শুটিং শেষ করেছেন। বলিতে চঞ্চল চৌধুরীর বিপরীতে দেখা যাবে মৌসুমী মৌকে।মৌসুমী মৌ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে মৌসুমী প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
2
অভিনয় জগতে রাজত্ব করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণের একটি হলো বয়সকে নিয়ন্ত্রণ। বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন হয়তো সেটা খুব ভালোভাবেই পেরেছেন। ৭৮ তম জন্মদিনেও প্রাণবন্ত এই জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা। করোনা জয়ী মানুষটি গতকাল মধ্যরাত পর্যন্তও ব্যস্ত ছিলেন কেবিসির সেটে। জন্মদিনের শুরুটা কেমন ভাবে হল তার ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন বিগ-বি। কাজপ্রেমী মানুষটি করোনা পরিস্থিতিতেও বের হয়েছেন বাড়ির বাইরে। সাময়িক কাবু করলেও করোনা টলাতে পারেনি বিগ-বিকে। কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। শেয়ার করেছেন নিজের কষ্ট, একাকীত্ব ও মন খারাপের কাহিনি। হাসপাতালে থাকা কালীন তিনি বারবার করে বাবা হরিবংশ রাই বচ্চনের উপদেশ নিয়ে কলম ধরেছিলেন। জন্মদিনের শুরুটাও সেভাবে করলেন অমিতাভ বচ্চন। শুটিং করার পর মাঝরাত পর্যন্ত চলছিল শোয়ের ডাবিং। সেই ছবিই টুইট করেছেন অমিতাভ। ক্যাপশনে তার বাবার বলা কথা "জীবন যতদিন রয়েছে ততদিনই সংগ্রাম"। ১৯৪২ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে হিন্দু-শিখ পরিবারে অমিতাভ বচ্চনের জন্ম। তার বাবা হিন্দি কাব্যসাহিত্যের এক বিশিষ্ট ব্যক্তি হরিবংশ রাই বচ্চন এবং মা তেজি বচ্চন। অমিতাভ বচ্চনের অভিষেক ঘটে ১৯৬৯ সালে খাজা আহমেদ আব্বাস পরিচালিত 'সাত হিন্দুস্তানি' সিনেমায়। প্রথম সিনেমাতেই তাক লাগিয়ে দেন তিনি। সেরা নবাগত হিসেবে অর্জন করেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এতে সাত জন নায়কের একজন ছিলেন অমিতাভ। ১৯৭১ সালে রাজেশ খান্নার সঙ্গে সহ-অভিনেতা হিসেবে 'আনন্দ' সিনেমায় অভিনয় করেন অমিতাভ। এ সিনেমাটির জন্য তিনি ফিল্ম ফেয়ার পুরষ্কার পান। এর এক বছর পর 'পরওয়ানা' সিনেমায় প্রথমবার নেতিবাচক চরিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। ১৯৭৩ সালে পুলিশ চরিত্রে 'জানজির' সিনেমায় অভিনয় করেন অমিতাভ। এরপর একই বছর অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়ির সঙ্গে ঘর বাঁধেন তিনি। তারা দু'জন জুটি বেঁধে বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করেন। তাদের দুই সন্তান শ্বেতা নন্দা এবং অভিষেক বচ্চন। অভিষেকও পেশায় অভিনেতা এবং তার স্ত্রী অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে রাজনীতিতেও যোগ দিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। ১৯৮৪ সালে পারিবারিক বন্ধু রাজীব গান্ধীর সমর্থনে এলাহাবাদে লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। ভারতের উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচ এন বহুগুনার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ান এবং সাধারণ নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভোট পার্থক্যে জয়লাভ করেন তিনি। তবে তিন বছর পর রাজনীতিকে 'নর্দমা' আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর আর তাকে রাজনীতিতে দেখা যায়নি। ১৯৮৮ সালে আবারও অভিনয়ে ফেরেন অমিতাভ। অমিতাভ বচ্চন ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ক্রমাগত ভারতীয় চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন তার অসাধারণ অভিনয় শৈলী দিয়ে। তার অভিনীত ব্যবসাসফল সিনেমার দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে 'জানজির', 'শোলে', 'অভিমান', 'কুলি', 'ডন', 'সিলসিলা', 'মুহাব্বতান', 'ভগবান', 'সরকার', 'কাভি খুশি কাভি গাম', 'ব্ল্যাক' ও 'পা'সহ অসংখ্য সিনেমা। ৫০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রায় দুইশ'রও বেশি সিনেমায় অভিনয় 'শাহেনশাহ'। অভিনেতা ছাড়াও অমিতাভ বচ্চন একজন প্রযোজক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও কণ্ঠশিল্পী। অমিতাভের জন্মদিনে বলিউডের বড় বড় তারকারা তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। এছাড়া ভক্তরা এই অভিনেতার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন করেছে বিশেষ প্রার্থনার।
2
গাজীপুরের শ্রীপুরে ছিনতাই করার সময় বাধা দেয়ায় এক মুদি দোকানদারকে গলা কেটে হত্যা করেছে ছিনতাইকারী। এ সময় এলাকাবাসী ছিনতাইকারীকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে। বুধবার ১১টার দিকে পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের লিচু বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারী মো. রুবেল মিয়া ঝালকাটি জেলার রাজাপুর উপজেলার নইকাটি লেবুবুনিয়া বাজারের মো. শামছুল হকের ছেলে। শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ বলেন, আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
রংপুরের কাউনিয়ায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে সাইদুল ইসলাম (২৪) নামে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথ গ্রামে একটি বাড়ির ঘরের মেঝে খুঁড়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার ঘটনাস্থল থেকে রক্তের দাগ ধরে নিহত ব্যক্তির মরদেহের খোঁজ পায় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত সাইদুলের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার এবং তাঁর স্ত্রী বুলবুলি বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমুর রহমান।সাইদুল একই গ্রামের অজিমুদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত রফিকুল ওই গ্রামের হারেস উদ্দিনের ছেলে। তাঁরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বলেছেন, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি সাইদুল। শনিবার সকালে রফিকুলের বাড়ির পাশে একটি ভুট্টাখেতে রক্তমাখা দা ও মাটিতে রক্তের দাগ দেখতে পেরে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় লোকজন। পুলিশ সেখানে গিয়ে ওই রক্তের দাগ অনুসরণ করে রফিকুলের ছোট ভাইয়ের ঘর পর্যন্ত যায়। পরে মেঝের মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখা সাইদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।আটক রফিকুলের বরাত দিয়ে ওসি মাসুমুর রহমান বলেন, রফিকুলের স্ত্রী বুলবুলি বেগমকে প্রায় সময় কুপ্রস্তাব দিতেন সাইদুল। এ নিয়ে কয়েকবার নিষেধ করা হলেও তা মানেননি সাইদুল। এরই জেরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফিরে ঘরের পেছনে সাইদুলকে দেখতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রফিকুল। এ সময় তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাইদুলকে পাশের ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে দা দিয়ে ঘাড়ে কোপ দেন রফিকুল। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাইদুল। পরে মরদেহ নিয়ে এসে রফিকুল তাঁর ঢাকায় অবস্থানরত ছোট ভাইয়ের ঘরের মেঝে খুঁড়ে পুঁতে রাখেন। ওসি মাসুমুর রহমান আরও বলেন, 'এ ঘটনায় আটক রফিকুল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় রফিকুলের স্ত্রী বুলবুলি বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে ৪-৫ বছর আগে জমির আইল নিয়ে সাইদুলের সঙ্গে রফিকুলের হাতাহাতি হয়। পুলিশ সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।'সাইদুলের বাবা আজিম উদ্দিন বলেন, তাঁর একমাত্র ছেলে সাইদুল এলাকার কারও সঙ্গে ঝগড়াবিবাদে লিপ্ত ছিলেন না। রফিকুল কেন তাঁর ছেলেকে হত্যা করলেন এটি তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।এ বিষয়ে রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ বলেন, 'স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতেন বলে আসামি রফিকুল যে দাবি করছেন তা প্রকৃত কারণ না-ও হতে পারে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'জেলা পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, রফিকুলের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা তাঁকে জানিয়েছেন। হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, এ জন্য রফিকুলের স্ত্রী বুলবুলিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
6
জম্মু কাশ্মিরের আকাশে আবারো 'সন্দেহভাজন' ড্রোন উড়েছে বলে দাবি করেছে ভারত। শুক্রবার ভোরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে জম্মুর আরনিয়া সেক্টরের জবওয়াল গ্রামে এ ড্রোনটির দেখা মেলে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ড্রোনটি পাকিস্তানের বলে সন্দেহ করছে এবং তা দেখেই গুলি ছোঁড়ে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা। তাদের দাবি, সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানে ফিরে গেছে কোয়াডকপ্টারটি। বিএসএফ সূত্রে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, কোয়াডকপ্টারটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। ভারতীয় এলাকায় নজরদারিই ছিল ওই কোয়াডকপ্টারের উদ্দেশ্য। তবে জওয়ানদের গুলিতে সেটি আবারো পাকিস্তানের দিকে ফিরে যায়। খবরে প্রকাশ, ড্রোনটি কোন উদ্দেশ্যে ওড়ানো হয়েছিল, তার খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তের এপারে কোনো অস্ত্র বা মাদক ফেলা হয়েছে কিনা তার খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় চলছে তল্লাশি। গুপ্তচরবৃত্তির কাজেই ওই ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে মনে করছে বিএসএফ। গত শনিবার গভীর রাতে জম্মুর বিমানঘাঁটিতে পর পর দু'টি বিস্ফোরণ হয়। ড্রোনের সাহায্যেই লস্কর-ই-তায়্যেবা সদস্যরা সেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল বলে ধারণা করছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এরপরও সোমবার কালুচক এবং কুঞ্জওয়ানিতে অবস্থিত সেনাঘাঁটির উপরেও ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকেই সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে।
3
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় শোভাযাত্রা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর দুইটায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এই বিজয় শোভাযাত্রা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার-ফেস্টুন রংবে রঙের পোশাক পড়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হন । নেতাকর্মীদের চাপে নয়াপল্টনের ভিআইপি সড়ক কার্যত বন্ধ। আহত নেতা-কর্মীদের ব্যানার ফেস্টুন প্ল্যাকার্ডে ও খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করা হয়েছে। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে ট্রাকে করে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, বন্ধুদের সাথে আপনি দ্বাদশ মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সাবেক ছাত্র দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এজমল হোসেন পাইলট, যুব দলের দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল সহ সহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। দুপুর ১২ টায় কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরা থেকে ফকিরেরপুল সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের অবস্থানের ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এর বেলা সাড়ে ১২ নাগাদ দুই পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে মৃদু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদারসহ নেতাদেরঘিরে তাদের অনুসারীদের সেলফি তুলতে দেখা গেছে। শোভাযাত্রা কে কেন্দ্র করে রোববার সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শোভাযাত্রায় ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছেন। এর আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি শনিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যালিতে অংশ নিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে যথাসময়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থাকতে বলেছেন। রিজভী বলেন, নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর মোড়ে এই বিজয় শোভাযাত্রা শেষ হবে।
6
চাঁদপুরের মতলব-বাবুরহাট-পেন্নাই সড়কে রাতের আঁধারে বোরিং করে পাইপ স্থাপন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে রাস্তা দেবে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।এলাকা সূত্রে জানা যায়, এই সড়কের মতলব বাজার থেকে বাবুরহাট পর্যন্ত শতাধিক পাইপ এভাবে বোরিং করে স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমতি না নিয়েই রাতের আঁধারে রাস্তার ক্ষতি করে বসানো হচ্ছে প্রায় ৬ থেকে ২০ ইঞ্চি সাইজের পাইপ। এমন একটি পাইপ বসানো হয়েছে আশিকাটি ইউনিয়নের রালদিয়া গ্রামের এবি ব্যাংকের পাশে। মূল সড়কের মাটির নিচে বোরিং করে রাস্তার ক্ষতি করে সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য অপসারণের জন্য এ পাইপ বসানো হয়েছে।এ বিষয়ে এলাকাবাসীরা বলেন, রাতের আঁধারে পাইপগুলো স্থাপন করা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি রাতে গোপনে কাজটি করেন। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া রাস্তা বোরিং করে ওই স্থানের বেশ কয়েকটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য এ পাইপ স্থাপন করেন তিনি।এ বিষয়ে এলাকাবাসী জালাল উদ্দিন ও কামাল বলেন, 'রাস্তার মাঝখানে এভাবে বোরিং করে পাইপ বসানোর কারণে রাস্তার মাঝের অংশ দেবে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া এই পাইপ দিয়ে সেপটিক ট্যাংকের ময়লা পানি অপসারণ করা হলে আশপাশে এলাকাবাসীর মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হবে। এভাবে বর্জ্য ও বর্জ্যের পানি নিষ্কাশনের ফলে পরিবেশে দূষণ ও দুর্গন্ধ ছড়াবে।'এলাকাবাসী স্থানীয় জনগণের স্বার্থে এ বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং চাঁদপুর পরিবহন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বরাবর পরিত্রাণ চেয়ে আবেদন করবেন বলে জানান।
6
চট্টগ্রাম টেস্টে সোমবার (২৯ নভেম্বর) সফরকারী পাকিস্তানকে ২০২ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট হাতে ভালই লড়াই করেছে পাকিস্তান। চতুর্থ দিন শেষে ১০৯ রান তুলেছে সফরকারীরা। আবিদ ৫৬ ও শফিক ৫৩ রানে অপরাজিত আছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার জয়ের জন্য পাকিস্তানকে করতে হবে ৯৩ রান। আর বাংলাদেশের চাই ১০ উইকেট। তাই দুদান্ত বোলিং নৈপুণ্যে প্রদশন করতে হবে তাইজুল-মিরাজদের। এর আগে গত শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) প্রথম দিন ১১৪.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রান তুলতে সক্ষম হয় টাইগাররা। আর নিজদের প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। এর পর নিজদের দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা ভালো করতে পারেননি মুমিনুল বাহিনী। পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার শাহিন আফ্রিদি জোড়া আঘাত করে বিপাকে ফেললেন স্বাগতিকদের। পঞ্চম ওভারে তিন বলের মধ্যে সাজঘরে ফিরলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম ও তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। পরের ওভারে ডানহাতি পেসার হাসান আলির শিকার হয়ে দলের বিপদ বাড়ান অধিনায়ক মুমিনুল হক। এরপর দলের হাল ধরেন মুশফিক-ইয়াসির। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৩ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করে টাইগাররা। চতুর্থ দিন সোমবার (২৯নভেম্বর) মুশফিক-ইয়াসির স্কোর বোর্ডে কত রান তুলতে সক্ষম হন তা দেখতে মুখিয়ে ছিল ক্রিকেটপ্রেমীরা। এদিন অভিজ্ঞ মুশফিক শুরুতেই হাসান আলীর প্রথম বলে চার মারেন। কিন্তু এক বল ডট দিয়ে তৃতীয় বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে ফিরেন মুশফিক। তিনি ৩৩ বলে ১৬ রান করেন। এরপর দলের হাল ধরেন লিটন-ইয়াসির। তারা দুজন বড় জুটির সম্ভাবনা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক তখন শাহীন আফ্রিদির শর্ট বলে মাথায় আঘাত পান ইয়াসির। এরপর ১ ওভার খেললেও পরে মাঠ ছেড়ে উঠে যান। তিনি ৭২ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৩৬ রান করেন। এরপর ক্রিজে আসেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনি লিটনকে ভালই সঙ্গ দিচ্ছিলেন। কিন্তু সাজিদ খানের ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউ হন মিরাজ। জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেন মিরাজ, তবে লাভ হয়নি। ৪৪ বলে ১১ রান করেন মিরাজ। এরপর ব্যাটিং করতে আসেন ইয়াসিরের কনকাশন বদলি নুরুল হাসান সোহান। তবে চতুর্থ দিন দ্বিতীয় ইনিংসে বেশ দাপটেই ব্যাটিং করছেন লিটন দাস। সেই সঙ্গে টেস্ট ক্যারিয়ারে দশম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। লিটন ৮৩ বলে ৬টি চারের মারে ৫০ রান করেন। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১১৪ করেছিলেন তিনি।হাফসেঞ্চুরি করে দলকে এনে দিয়েছেন ২০০ রানের লিড। শেষ পর্যন্ত আউট হন শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। লিটন ৮৯ বলে ৫৯ রান করেন। এর দুই বল পরেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আবু জায়েদ রাহী। ৫ উইকেট শিকার করেন আফ্রিদি।
12
করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাবে চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ২৫ কোটি মানুষ চাকরি হারাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্রাড স্মিথ। খবর বিবিসির। ব্রাড স্মিথ বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে বিশ্ব এক বিস্ময়কর চ্যালেঞ্জের মুখে। লাখ লাখ মানুষকে চাকরি পেতে, এমনকি যে চাকরি আছে তার সঙ্গে তাল মেলাতে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ, অর্থনীতির ডিজিটালাইজেশন ব্যাপক গতিতে এগিয়ে চলছে। ব্রাড স্মিথ মনে করেন, অনেক দেশে অনেক কাজ ডিজিটাল পুনর্নির্মাণের আওতার বাইরে থাকবে। তিনি বলেন, 'এটি সত্য যে, কাজের প্রকৃতি বিশ্বজুড়ে এক নয়। সব কাজ বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বে ডিজিটালাইজড করা যায় না। আমরা এমন বিশ্বে বাস করি, যেখানে ইন্টারনেট সেবার সমতা নেই। আমরা যদি এটি নিয়ে কিছু না করি, তবে অন্য সব অসমতাগুলো আরও বেড়ে যাবে। যা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। মাইক্রোসফট যদি আড়াই কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, তবে আমরা ভাবব, আমরা আমাদের কাজটি করতে পেরেছি।' মাইক্রোসফট তাদের কর্মসূচিতে অলাভজনক সংস্থাগুলোকে তাদের সেবা বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার অনুদান দেবে। স্মিথ আরও বলেন, করোনার আগে শক্তিশালী মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন দুর্বল হয়ে গেছে। মাত্র ২০ শতাংশ মান ধরে রেখেছে তারা। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
করোনায় বেশি বেশি পানি খাওয়ার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সবাই কিছুক্ষণ পরপর পানি খাবেন। একটু পর পর পানি খেলে করোনা খুব একটা ক্ষতি করতে পারে না। এই করোনাভাইরাস গলায় থাকলে সমস্যা। পানি খেলে পানির সঙ্গে সেটা পেটে চলে যায়। পেটে করোনা কোন ক্ষতি করতে পারে না। কাজেই আমি সবাইকে বলব একটু পরপরই আপনারা পানি খাবেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গণভবনে থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এই পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেয়র ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আজম নাছির উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে ডেঙ্গুর মৌসুম আসছে। এ সময় যেন মশার উপদ্রব না হয়। সেজন্য এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
6
গাজীপুরের শ্রীপুরে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইলেন গাজীপুর-৩ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ। গতকাল শনিবার উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মিসভায় তিনি এ ভোট চান।গতকাল উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের সাহেব বাড়ি রিসোর্টে এ কর্মিসভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন ফরাজী, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক সরদার।এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আলম প্রধান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুনাহার মেজবাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির হিমু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম মোল্লা, রাজাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসিনা মমতাজ প্রমুখ।সাংসদ ইকবাল হোসেন সবুজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'দেশের উন্নয়নকামী সাধারণ মানুষের মার্কা নৌকা। তাই ৫ জানুয়ারি শ্রীপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।'নৌকায় সাংসদের ভোট চাওয়ার বিষয়ে রাজাবাড়ী ইউপিতে আওয়ামী মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসিনা মমতাজ বলেন, 'তিনি (সাংসদ) একটি রিসোর্টের ভেতরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী নিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। এতে আইন ভাঙার কিছু নেই। তিনি নৌকার লোক, আমাদের অভিভাবক। তাই এ কথা বলেছেন।'রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ ফরিদা জাহান স্বপ্না বলেন, 'স্থানীয় সাংসদ এভাবে নির্বাচনের মাঠে প্রচারণা চালালে অন্য প্রার্থীদের সমস্যা হয়। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের উচিত সবার জন্য সমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করা।'শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আল নোমান বলেন, 'এ বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে দেখব। একজন সাংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কোনোভাবেই প্রচারণা চালাতে পারেন না।'এ বিষয়ে জানতে সাংসদ ইকবাল হোসেন সবুজের মোবাইল ফোন নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার ছিল পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। আজ রোববার হবে যাচাই-বাছাই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ১৯ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ ২০ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণ হবে আগামী ৫ জানুয়ারি।উপজেলায় আটটি ইউপিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১১২ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫০ হাজার ২১৪ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯৮ জন।
6
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ফুটকিবাড়ী গ্রামে কপালে একটি চোখ নিয়ে এক ছাগলছানার জন্ম হয়েছে। অদ্ভুত এই ছানাটি দেখতে মালিকের বাসায় দূরদূরান্ত থেকে এসে ভিড় করছেন কৌতুহলী মানুষ। ছাগলের মালিক সাবেক মেম্বার বাচেন্দ্র নাথ জানান, তার একটি ছাগল সোমবার দুপুরে দুটি পুরুষ বাচ্চা প্রসব করে। একটি দেখতে স্বাভাবিক হলেও অন্যটি অস্বাভাবিক ভাবে জন্মগ্রহণ করে। অদ্ভুত এই ছাগলছানার কপালে একটি মাত্র চোখ। চোখের পাতা ও নাক নেই। চোখটি বেশ বড়। মুখটিও বেশ অস্বাভাবিক। তবে বাচ্চাটির শারীরের অন্যান্য অঙ্গ স্বাভাবিক।মুখ দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে খেতে না পারায় ছানাটিকে নলের সাহায্যে খাওয়ানো হচ্ছে। বাচেন্দ্র নাথ বলেন, আমরা হিন্দু, পুনর্জন্মে বিশ্বাসী। পূর্বজম্মের কোন কর্মের জন্য ছানাটি এমন হতে পারে বলে অনেকেই আমাকে বলেছেন। অনেকেকেই বলেছিলেন ছানাটিকে মেরে ফেলতে। কিন্তু জীব হত্যা করা পাপ। তাই এটাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অমল কুমার রায় জানান, এটিকে 'কনজেনিটাল আনোমেলিজ' তথা বংশগত প্রজম্ম ত্রুটি বলা যেতে পারে। সাধারণত লিথাল জিনের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
6
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বাদাম চাষ বেড়েছে ৬০ হেক্টর জমিতে। অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় চরাঞ্চলের জমিতে বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকেরা।রৌমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় বাদামের চাষ হয়েছিল ৮০ হেক্টর জমিতে। এবার চাষ হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের চরে বাদাম চাষের উপযোগী মাটি রয়েছে। এর মধ্যে বন্দবেড়, চরশৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা ও যাদুরচর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের চরগুলো বেশি বাদাম চাষের উপযোগী।বন্দবেড় ইউনিয়নের ফলুয়ারচ গ্রামের কৃষক শের আলী, সেলিম মিয়া ও মোড়ল মেম্বারের সঙ্গে বাদাম চাষ নিয়ে কথা হলে জানান, বাদাম চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। একই জমিতে বছরে দুবার বাদাম চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। তাঁরা বলেন, বাদাম যেমন একদিকে সুস্বাদু, মুখরোচক ও ভিটামিন সমৃদ্ধ ফসল অন্যদিকে তেলের চাহিদাও পূরণেও এটি ব্যবহার করা হয়। বাদামের গাছ গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবেও ব্যবহার হয়ে থাকে।চরশৌলমারী ইউনিয়নের খেদাইমারী গ্রামের আবু বক্কর ও সৈয়দ আলী, ঘুঘুমারী গ্রামের কাশেম মোল্লা ও হাসান আলী, ইটালুকান্দা গ্রামের লাভলু মিয়া বলেন, আমাদের চরের জমিতে দুধরনের বাদামের চাষ হচ্ছে। চিনাবাদাম ও দেশি বাদাম। দেশি বাদামে ২ থেকে ৩টি দানা থাকে, চিনাবাদামের থাকে ৪ থেকে ৬টি দানা। তবে দেশি বাদামের উৎপাদন ভালো হয়।চরশৌলমারী ইউনিয়নের ওই কৃষকেরা জানান, ভাদ্র মাসের শেষের দিকে বাদাম বীজ রোপণ করলে পৌষ মাসে অর্থাৎ চার মাসে বাদাম তোলার উপযোগী হয়। বাদাম তোলার পর একই জমিতে পুনরায় বাদামের বীজ রোপণ করা হয়। পৌষ মাসে বাদামের বীজ রোপণ করলে জ্যৈষ্ঠের প্রথমদিকে দ্বিতীয় ধাপের বাদাম ঘরে তোলা যায়। এভাবে বছরে দুইবার বাদামের উৎপাদন হয়।খেদাইমারী গ্রামের তমিজ উদ্দিন বলেন, 'গত বছর আমি ৫ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করি। প্রতি বিঘায় খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা করে। প্রতি বিঘায় বাদাম বিক্রি করে পেয়েছি ২৮ হাজার টাকা। গতবারের চেয়ে এবার দুই বিঘা বেশি জমিতে বাদাম চাষ করেছি।'এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, 'রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়ন, বন্দবেড় ইউনিয়ন, ও যাদুরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের চর এলাকায় প্রায় ১৪০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৬০ হেক্টর জমি বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাদামের ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে।'
6
মিঠাপুকুর (রংপুর): জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে আগামী রোববার থেকে হাঁড়িভাঙা আম বেচাকেনা শুরু করবেন মিঠাপুকুর এলাকার চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর আগে ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান।রংপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, রংপুর জেলায় এবার ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলায় ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান রয়েছে। এ এলাকায় বাগান ছাড়াও বাড়ির উঠান, পুকুর পাড় ও বসত বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত জমিতেও হাঁড়িভাঙা আমের গাছ রয়েছে। এ জাতের আম চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় মিঠাপুকুর এলাকাসহ আশপাশের সকল এলাকাতে এর গাছ রয়েছে।কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন আরও জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার টন হাঁড়িভাঙা আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। প্রতি কেজি আম ৪০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হবে।আম চাষি আব্দুস সালাম সরকার জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ জুন থেকে আম পাড়া শুরু হবে। তবে ৩০ জুন থেকে পুরোদমে শুরু হবে হাঁড়িভাঙা আমের বেচাকেনা। তাঁর দুটি এ জাতের আম বাগান ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।আম ব্যবসায়ী খাদেমুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা পদাগঞ্জ থেকে সরাসরি ট্রাকে করে এই আম ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র পাঠানো শুরু করবেন। উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ, আঁখিরা হাট, পাইকারের হাট, মাঠের হাট ও ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরের হাটে এই আমের পাইকারি বাজার বসে। খোলা আকাশের নিচেই ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা করতে হয়। ক্রেতা বিক্রেতাদের জন্য কোনো ছাউনি নির্মাণ করা হয়নি। তবে চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আমের ভাস্কর্য তৈরি করে আম চত্বর নামকরণ করেছেন। এ ছাড়াও রংপুর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের সামনেও হাঁড়িভাঙা আমের বাজার বসে। প্রত্যেকদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। গত বছর বিআরটিসির ট্রাকে কম দরে আম পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ বছরও পরিবহন সুবিধা আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
6
সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দল রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি দেখতে পাঠাতে চায় চীন। কক্সবাজারের টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিদর্শনে আসা চীনের প্রতিনিধি দল সোমবার এ প্রস্তাব দেয়। শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি কার্যালয়ে ২০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। এসময় বাংলাদেশ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন সহকারী কমিশনারসহ চীনের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোহিঙ্গা নেতারা জানান, মিয়ানমারে নাগরিকত্ব, কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবেন। মিয়ানমারে ফিরে যেতে সমস্যার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রোহিঙ্গারা বলেন, মিয়ানমারে এখনও আমাদের জন্য শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সেদেশে বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে সংঘাত লেগে আছে। এখনও যেসব রোহিঙ্গা সেদেশে রয়েছে তাদের উপর নির্যাতন চলছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা কিভাবে মিয়ানমার যাব। কী করলে মিয়ানমারে যাবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে এ শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা গুরা মিয়া ও মোহাম্মদ জসীম বলেন, আমাদের তিনটি দাবি পূরণ করলে আমরা নিজ দেশে চলে যাব। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত ও নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি দেখতে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দল সেদেশে পাঠালে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রোহিঙ্গারা যাবেন বলে সম্মতি দেন। রোহিঙ্গা নেতা গুরা মিয়া রোহিঙ্গাদের জন্য দুইটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। একটি হলো, রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দলে জনপ্রতি দুইটি মোবাইল সেট দেওয়া হবে। একটি নিজে সেদেশে যাওয়ার সময় নিয়ে যাবেন, অন্যটি এখানে পরিবারে কাছে রাখবেন। যদি মিয়ানমারের পরিস্থিতি ভালো হয়, মোবাইলে জানিয়ে পরিবারকে সেদেশে নিয়ে যাবেন। আরেকটি হলো, একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমারে গিয়ে অবস্থা দেখে ঘুরে চলে আসবেন। যদি সেখানকার অবস্থা ভালো হয় পরিবার নিয়ে তিনি সেদেশে ফেরত যাবেন। বৈঠকে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, দীর্ঘ যুগ ধরে রোহিঙ্গাদের উপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে মিয়ানমার সরকার। আমরা এখন তাদের আর বিশ্বাস করতে পারি না। তাই আমরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কথা বলেছি। এর আগে সকাল ১০টার দিকে চীনের রাষ্ট্রদূত টেকনাফের কেরনতলী ট্রানজিট ঘাট পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রত্যাবাসন নিয়ে লি জিমিং জানতে চাইলে জবাবে ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত) শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নয়াপাড়া শরণার্থী রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ (সিআইসি) আব্দুল হান্নান, জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালিদ হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা। এর আগে রোববার চীনের এই প্রতিনিধি দল নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু শূন্য রেখায় আটকা পরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সীমান্ত ঘুরে দেখে। এদিকে দ্বিতীয়বারের মত গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রতিনিধি দল পাঠায় চীন। এ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।
6
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। আজ বুধবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছে। ঐক্যফ্রন্ট গত সোমবার ইসির সঙ্গে বৈঠক করে তফসিল পেছানোর দাবি করে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, সরকারের সঙ্গে সংলাপ চলছে। এর ফলাফল দেখে তফসিল ঘোষণা করা যেতে পারে। ঐক্যফ্রন্ট বলেছে, সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা করা হলে তারা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে।
9
ভারতের আসামের বিভিন্ন অঞ্চলের নাম পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। গতকাল বুধবার তিনি এ বিষয়ে টুইট করেন। এতে তিনি বলেন, 'কোনো শহর, নগর বা গ্রামের নাম তার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সভ্যতার সঙ্গে সংগতি রেখে হওয়া উচিত।' মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে একটি ওয়েব পোর্টাল চালু করা হবে। সেখানে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হবে। আসামের নিজস্ব সভ্যতা বা সংস্কৃতিবিরোধী যেসব স্থানের নাম রয়েছে, সেগুলো পরিবর্তনের ব্যাপারে পরামর্শ নেবে রাজ্য সরকার। গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষত যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে জায়গার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে। যেমন এ রাজ্যে ভারতের অন্যতম ব্যস্ত রেলওয়ে জংশনের নাম ছিল মোগলসরাই। ২০১৮ সালে এই নাম পরিবর্তন করা হয়। জংশনের নাম রাখা হয় পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়। দীনদয়াল হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। বছর তিনেক আগে উত্তর প্রদেশের বড় শহর এলাহাবাদের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াগরাজ করা হয়েছে। দিল্লির লাগোয়া গুরগাঁওয়ের নাম হয়েছে গুরুগ্রাম। ফইজাবাদ শহরের নাম পাল্টে অযোধ্যা করা হয়েছে। আসাম এবং পূর্ব ভারতে এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখনো সেভাবে চালু না হলেও এবার তা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিষয়ক একজন গবেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, আসামে দীর্ঘ সময় ধরেই মুসলমান সম্প্রদায়ের বাস। এখানে মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ মুসলমান। স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নামের সঙ্গে সংগতি রেখে বিভিন্ন স্থানের নামকরণ করা হয়েছে। যেমন বরাক উপত্যকার নাম করিমপুর। হয়তো এমন জায়গাগুলোর নাম পাল্টে যাবে।
3
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে ২৯ আসন পেয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির বিজয় হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। গত বছর ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা অনুযায়ী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। খবর: বিবিসি বুধবার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ৫৯ লাখ ভোটারের মধ্যে ৬৮ শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ২৮.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে লিকুদ পার্টি ২৯টি আসনে জয় পেয়েছে। অপরদিকে বিরোধী মধ্য বামপন্থি দ্য জিউনিস্ট ইউনিয়ন ১৮.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছে ২৪টি আসনে।
5