text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য সিনেট সদস্য হলেন বাংলাদেশি শেখ রহমান। ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-ফাইভ থেকে লড়ছিলেন। বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বিকে ধরাশায়ী করেছেন। আসালের অন্যতম সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন আটলান্টা থেকে এনআরবি নিউজকে জানান, রিপাবলিকানদের রাজ্য জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয়ের অভিযাত্রায় অংশ নিতে পেরে নিজেকে গৌরবান্বিতবোধ করছি। আরো উল্লেখ্য, শেখ রহমান হচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসে কোন বাংলাদেশি লড়েননি। জর্জিয়ার মত নিউ হ্যামশায়ার অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টেও তৃতীয় মেয়াদের জন্যে জয়ী হয়েছেন আবুল খান নামক আরেক বাংলাদেশি। তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রাথী ছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
4
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার বড় তারকা রজনীকান্ত ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়ার সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাকে বিজেপিতে ভেড়ানোর সব রকম চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই ফাঁদে পা দেবেন না তিনি। খবর আনন্দবাজারের। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন রজনীকান্ত। তখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফ থেকে দলে যোগ দেওয়ার কোনো রকম প্রস্তাব পাইনি। আমাকে গেরুয়াপন্থী হিসেবে দেখানোর একটা প্রচেষ্টা চলছে।' সম্প্রতি তামিলনাড়ু বিজেপির তরফে পঞ্চম শতকের কবি তিরুভল্লুবরের গেরুয়া কাপড় পরিহিত একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যা নিয়ে কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি তাদের। সেই প্রসঙ্গ টেনে রজনীকান্ত বলেন, 'তিরুভল্লুবরের মতোই আমাকে গেরুয়া শিবিরে ভেড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে আমাকে ফাঁদে ফেলা যাবে না, তিরুভল্লুরকেও না।' বেশ কয়েক বছর ধরেই রজনীকান্তের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজের দল ঘোষণা করবেন বলে জানালেও, বিজেপি শিবিরের সঙ্গে তার দহরম-মহরম নিয়ে বরাবরই আলোচনা হয়েছে। এমনকি কর্মজগতে তার সতীর্থ কমল হাসনও রজনীকে 'গেরুয়া ঘেঁষা' বলে কটাক্ষ করেছেন। এদিকে রজনীর এই মন্তব্যের পর তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিজেপিও। রাজ্য বিজেপির নেতা মুরলীধর বলেন, 'আমরা কখনো বলিনি যে রজনীকান্ত আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন বা যোগ দিতে চান। এই ধরনের জল্পনায় বিজেপির কোনো আগ্রহ নেই।' বিডি প্রতিদিন/কালাম
2
আজ আকাশ মেঘলা আর আল মাহমুদ নেই। কাবিনবিহীন হাতে মহাকাল স্পর্শ করতে চলেছেন এখন তিনি।রাত্রিশেষে কোনো শুভ শুক্রবারে তিনি বিদায় নিতে চেয়েছিলেন। প্রকৃতি তাঁর ডাক শুনেছে। শুক্রবার দিনশেষেই তিনি বিদায় নিলেন। আজ শনিবার ভোরে আকাশ মেঘলা। কবি তাঁর শেষ কল্পনা মাখিয়ে দিলেন আকাশে, চরাচরে, বাংলা ভাষাভাষীদের মনে। আজ নিখিল বাংলা শোক করুক। ভাষার প্রিয়তম সন্তানের জন্য, কবিতার সন্তপুরুষের জন্য শোক করুক। তাঁর শেষ ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে। মৃত্যুর লোবানমাখা সেই কবিতায় তিনি মৃত্যু পেরিয়ে দেখতে পান, কোনো এক ভোরবেলা, রাত্রিশেষে শুভ শুক্রবারেমৃত্যুর ফেরেস্তা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাকিদ;অপ্রস্তুত এলোমেলো এ গৃহের আলো অন্ধকারেভালোমন্দ যা ঘটুক মেনে নেবো এ আমার ঈদ।ফেলে যাচ্ছি খড়কুটো, পরিধেয়, আহার, মৈথুন-নিরুপায় কিছু নাম, কিছু স্মৃতি কিংবা কিছু নয়;অশ্রুভারাক্রান্ত চোখে জমে আছে শোকের লেগুন কার হাত ভাঙে চুড়ি? কে ফোঁপায়? পৃথিবী নিশ্চয়।স্মৃতির মেঘলাভোরে শেষ ডাক ডাকছে ডাহুকঅদৃশ্য আত্মার তরী কোন ঘাটে ভিড়ল কোথায়?কেন দোলে হৃদপিণ্ড, আমার কি ভয়ের অসুখ?নাকি সেই শিহরণ পুলকিত মাস্তুল দোলায়!আমার যাওয়ার কালে খোলা থাক জানালা দুয়ারযদি হয় ভোরবেলা স্বপ্নাচ্ছন্ন শুভ শুক্রবার (স্মৃতির মেঘলা ভোর, আল মাহমুদ) বিদায় নিলেন বসন্তে, ভাষার মাসে। এও যেন এক প্রাকৃতিক সংকেত। আজ আমাদের ছোট্ট পৃথিবীটা ফোঁপাচ্ছে। আজ বাংলা কবিতার চুলখোলা আয়েশা আক্তারেরা, আপনার কন্যারা চুড়ি ভেঙে ফেলছে শোকে। আল মাহমুদ তিতাসপারের কবি, মেঘনার কিশোর। তাঁর বিখ্যাত একটি গল্পের নাম 'পানকৌড়ির রক্ত'। সেই থেকে মেঘনার পানকৌড়ি দেখলে আপনার কথা মনে পড়ে কবি। গত কালবৈশাখীতে মেঘনায় ছিলাম। ছিলাম নৌকায়। শিলাবৃষ্টি। রাশি রাশি বরফখণ্ড নদীজুড়ে খই ফোটাচ্ছে। ভাতের বলকের মতো ফুটছিল নদী। আকাশে গুড়গুড় বাজ ও ঐশী আলোর চমকানি। ওই সর্বনাশী সুন্দরের মধ্যে একটা কালো পানকৌড়ি পানি ছুঁয়ে সমানে ডানা ঝাপটাচ্ছিল। নীড়ে ফিরতে না পারা পাখিটা! পাগলিনী বাতাস, বড় বড় বাতাসার মতো শিলাপাত। সেগুলোর একটা ঠিকমতো লাগলেই যথেষ্ট। যেদিকেই যাক, কমপক্ষে এক মাইল আকাশ উড়তে হবে পাখিটাকে। সহজাত প্রবৃত্তি তাকে শিখিয়েছে, এমন বিপদে স্থির থাকতে হবে। আমার তখন আল মাহমুদের কথা মনে পড়েছিল। সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন, 'বন্ধুদের, কবিদের দেওয়া মানসিক চাপ উপেক্ষা করে সমাজে জায়গা করে নিতে হয়েছে আমাকে। কেউ কোনো স্পেস আমাকে দিতে চায়নি। অনেক ধাক্কা খেয়েছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছি, জেলও খেটেছি। আমাকে বলো, একজন কবি আর কী কী করতে পারে?' (নাসির আলী মামুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকার, প্রথম আলো, ২২ জুলাই ২০১৬) আরেক জায়গায় বলেছেন, 'অনেক কষ্ট, অনেক দারিদ্র্য, অনেক দুঃখ পেয়েছি, আবার সুখও। জেল-জুলুম। কিছু লোক আছে, যে কবিদের প্রতারণা করে সুখ পায়। এসব প্রতারণার শিকার হয়েছি।' (সাক্ষাৎকার, মাহবুব মোর্শেদ, দেশ রূপান্তর) বাংলা কবিতার আহত পানকৌড়ি আল মাহমুদ। তবু কত অকপট, আত্মবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনোকালে সঞ্চয় করিনিআহত বিক্ষত করে চারদিকে চতুর ভ্রুকুটি;ভালবাসা দাও যদি আমি দেব আমার চুম্বন,ছলনা জানিনা বলে আর কোনো ব্যবসা শিখিনি। (সোনালি কাবিন) কবির পরকাল হলো ভাষা। তাঁর দৈহিক জীবন সমাপ্ত হলো। ভুল-সঠিকে ভরা জীবনের দেখার ইতি ঘটল। কিন্তু ভাষা তাঁকে ঠিক মনে রাখবে। সেই ভাষিক পরকালে মাত্র জেগে উঠলেন কবি। বাংলা ভাষা আপনাকে সব দায় থেকে মুক্ত করবে, কারণ আপনি এই ভাষার কবিতাকে স্ব-ভাবে ফিরিয়েছেন। আপনি বাংলার মাটির সৌরভ, নদীর কান্না, জাতির আত্মার বেদনা প্রকাশ করে গেছেন। জীবনানন্দ দাশের পর আর কেউ এতটা মায়া দিয়ে সৌন্দর্য দিয়ে দুঃখিনী বাংলার কথা বলেনি। আল মাহমুদের অন্তিম অসুস্থতার খবরে একটা ছায়া ঘনিয়ে আসছিল মধ্যদিনে। প্রথমে কবি ও কবিতার ভক্তদের মধ্যে, তারপর এখন হঠাৎ সূর্যগ্রহণ। দুই বাংলার ভাবাকাশে আজ বড় বেদনা। আপনার প্রতিষ্ঠা ছিল না কিন্তু ভালোবাসায় সিক্ত ছিলেন আপনি। জীবন দুঃখ-দারিদ্র্যে গেছে, মসনদ আপনাকে কটাক্ষ করেছে, পরিত্যক্ত করে রেখেছে। দুঃখ-যন্ত্রণায় আপনি যাদের কাছে গেলেন, তারাও আপনাকে ব্যবহার করেছে। সেটা আপনার ভুল হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে তা আমাদের সমাজ-রাষ্ট্র আর সংস্কৃতির সওদাগরদেরও দায়। মৃত্যুতে আপনার নশ্বর দেহ আর আর মানবিক ভুলগুলো মুছে যাবে, জেগে উঠবে বাংলা কবিতার মাহমুদীয় চরাচর। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। মহৎ কবিরা মায়াবী এক উপায়ে হিংসার বিরুদ্ধে জিতে যান। ভাষার পরকালে সে কবির জেগে ওঠা ইলিয়াসের 'খোয়াবনামা'র সেই পাকুড়গাছের মুনশির মতো, আরশের একটু নিচ থেকে তিনি দেখে রাখেন তাঁর মায়াশাসিত পৃথিবীটাকে। জীবনের কালিমা মুছে তিনি শুদ্ধ হাঁসের মতো ক্লেদহীন থেকে যাবেন। পাঠক হিসেবে আমরাও দুধসাগর থেকে বিষ ফেলে শুধু অমিয়টাই পান করতে আসব তাঁর কাছে। আপনি লিখেছেন, ইগল থাকবে না, ইতিহাস থাকবে।কৌম মানবের অন্তরাত্মা মায়া নামের মায়াবী শক্তির বশ। সেই আত্মা ভাষার মধ্য দিয়ে অলৌকিক অনুভূতির স্বাদ পায়। বাংলার কৃষকগীত, পুঁথি-পাঁচালি, জীবনানন্দ দাশ হয়ে আল মাহমুদ অবধি সেই মায়ার সংসার। তিনি বাংলাদেশি গ্রাম-মফস্বলি জগতের মায়াকে ভাষার কালহরা আরকে অক্ষয় করেছেন। সোনার নোলক হারিয়ে যারা মুক্তি পেয়েছে বলে ভেবেছে, সেই স্মৃতিহীন আধুনিকতার বিভ্রাট আল মাহমুদ আলগোছে এড়িয়ে গেছেন।তিনি বাংলাদেশি রকমের আধুনিক-যেখানে বোদলেয়রীয় ক্লেদজ কুসুমের তৃষ্ণা নেই, পাপের গরিমা গাওয়া নেই। 'আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেছে ভাই' লিখে আপনি আমাদের জাতীয় শোককে জাগিয়ে রেখেছেন। আপনি যখন লিখলেন,'সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়োনা হরিণীযদি নাও দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দুটি,' (সোনালি কাবিন) তখন ভূমিপুত্র হিসেবে বৃক্ষের মতো সাবলীল ভঙ্গিতে আমরা মাথা তুলতে পারি। যেন দুঃখী কবির রাজকীয় অভিষেক ঘটল। জানলাম হৃদয়ের কাছে কতটা সৎ হতে হয়, কতটা শুদ্ধ হাতে তুলে নিতে হয় কলম। কেননা, পরাজিত নই নারী, পরাজিত হয় না কবিরা;দারুণ আহত বটে আর্ত আজ শিরা-উপশিরা। (সোনালি কাবিন) আল মাহমুদের মধ্যে ডান-বাম, এপার-ওপার সব বাংলা একাকার। এটা কবির অর্জন কিন্তু বাংলা ভাষার জন্য এ এক বড় সম্পদ। ঔপনিবেশিকতার পরবাসী মন আর আধুনিকতার ঝুলন্ত মানিপ্ল্যান্ট কিংবা অহংবাদী মাকড়সার জালে বসা কবিতার কূলে আপনি ভেড়েননি। দুঃখী লোকের চরে ভিড়িয়েছেন আপনার নৌকা। আধুনিকতাকে পিছু ধাওয়া করতে করতে কিছুটা সে পথে গিয়েও ফিরে এসেছেন। কবিতার দেশে ফেরার খাতার খোঁজে, জগৎ-প্রকৃতি-মানুষের মায়ার আবেশ পেতে আপনাকে আমাদের লাগবেই। আপনার মধ্যেই খুঁজতে হয় জীবনানন্দ-পারের বাংলা কবিতার হারানো নোলক। নিজেরই সঙ্গে সংঘাতে গিয়ে আপনি দেখান, কবিতা থেকে মতবাদ আর রাজনীতির অসূয়াকেও সরাতে পারেন জাতকের হংসের মতো। দুধসাগর থেকে পানি ঝেড়ে শুধু ননি নিতে আপনি পারেন। লিখতে পারেন এমন অনায়াস আবেশে, 'কী প্রপঞ্চে ফিরে আসি, কী পাতকেবারম্বার আমিভাষায়, মায়ের পেটেপরিচিত, পরাজিত দেশে?বাক্যের বিকার থেকে তুলে নিয়ে ভাষার সৌরভযদি দোষী হয়ে থাকি সেই অপরাধেআমার উৎপন্ন হউক পুনর্বার তীর্যক যোনিতে।অন্তত তাহলে আমি জাতকের হরিণের মতধর্মগণ্ডিকায় গ্রীবা রেখেনির্ভাবন দেখে যাবোরক্তের ফিন্কিতে লাল হয়েধুয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ নির্ভয়ে, নির্বাণে।' (জতিষ্মর, সোনালি কাবিন) কবিতার প্রাণভোমরা চলে গেছেন, আজ আর গান হবে না। আজ শুধু রোদন, আজ শুধু আল মাহমুদকে আবাহন। বিদায় বাংলা কবিতার সন্তপুরুষ, কৌম সমাজের শেষ কবি! ভাষার জননীর গর্ব আপনি। আপনাকে ওরা নিক বা না নিক, শহীদ মিনারে মা চার সন্তানকে নিয়ে আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে। আপনাকে শেষ দেখা দেখবে বলেই সোনার নোলক হারানো দুঃখিনী মায়ের মাথাটা আরেকটু নত হয়ে আছে। ফারুক ওয়াসিফ: লেখক ও কবি[] আরও পড়ুন বইহীন পৃথিবী আমি কল্পনা করতে পারি না : আল মাহমুদকবিতা মানুষকে শান্ত করেসোনালি কাবিনআত্মজীবনী লেখার সাহস হয় না
8
আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ করার জন্য সরকারের প্রতি সংলাপের আহবান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের সংকট নিসরসনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমান সরকার সে ধরনের একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক নয়। সরকারের প্রতি বহুবার আলোচায় বসার আহবান করা হয়েছে। অথচ সরকার সঠিক পথে না গিয়ে উল্টো পথে চলছে। শুক্রবার তার উত্তরার বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। ক্ষমতাসীনদের ফ্যাসিস্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। এতে শুধু বিএনপি নয়, গোটা জাতি আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণ একদিন এই ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াবে এবং দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। কারণ কেউই চায় না এ দেশ আফগানিস্থান, সিরিয়া, লিবিয়ার মতো হোক। জঙ্গিসহ যেসব সংকট চলছে তা কেবল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে কেটে যাবে। তাই মধ্যবর্তী নয়, সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন।
9
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলহাজ শেখ ওয়াহেদুজ্জামান (৭০) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রোববার রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। শেখ ওয়াহেদুজ্জামান উপজেলার বাজারগ্রাম রহিমপুর গ্রামের মৃত. শেখ আব্দুল খালেকের ছেলে। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিয়াউর রহমান জানান, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের। হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অসুস্থবোধ করলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হাবিবুল্লাহ্ দেখেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার এক পর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। কালীগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
6
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থী আচরণবিধি ভেঙে মিছিল, মোটরসাইকেল ও হ্যালো বাইকযোগে শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।গতকাল বুধবার কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে আচরণবিধি ভেঙে স্লোগানসহ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে দেখা গেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর।আচরণবিধি ভেঙে গত মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী তারিকুল ইসলাম তারেকের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, 'আমি প্রস্তাবকারী এবং সমর্থনকারী ছাড়া কাউকে নিয়ে যাইনি। তবে ইচ্ছে করেই প্রায় ১০০ মোটরসাইকেল এবং ১১টি হ্যালোবাইক ভর্তি করে লোক এসেছিল।'এদিকে, বুধবার দুই শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে এবং হ্যান্ডমাইকে স্লোগান দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন বলড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী খোরশেদ আলম খান। তিনি বলেন, 'জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের মতো করে আমার সঙ্গে গিয়েছে।'চালা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী সামছুল আলম বিশ্বাস (শিরু) বিশাল মিছিল নিয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমার সঙ্গে প্রায় ৩০০ জন লোক ছিল। যারা এসেছে, আমাকে ভালোবেসে আমার সঙ্গে এসেছে।'গালা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাব্বির হোসেনও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা এবং মিছিল নিয়ে গিয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। তিনি তাঁর সঙ্গে দুই শতাধিক লোক ছিল বলে স্বীকার করেন।হরিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, 'ওসি স্যারের সঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তার কথা হতে পারে, আমি জানি না। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারি।'এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ''এ বিষয়ে ওসিকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন। পুলিশ এসেছিল, তারা বিষয়টি দেখবেন।'
6
স্বামী হিশাম চিশতি চিত্রনায়িকা তমা মির্জার বিরুদ্ধে অন্য একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগ এনেছেন। বিষয়টি জানিয়েই অন্য পুরুষদের সঙ্গে তমার অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তমা মির্জাকে। বুধবার বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে চারটা নাগাদ ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি জানান হিশাম। এদিকে চরিত্র নিয়ে এভাবে পাবলিকলি কথা বলায় হিশামের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তমা মির্জা। তবে হিশাম চিশতি তমাকে নিয়ে ওই স্ট্যাটাস দেওয়ার ৫ ঘন্টার মধ্যেই তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়েছে বলে জানান। ফেসবুকে তমাকে নিয়ে হিশাম ইংরেজিতে যা লিখেন তা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়- ভাইয়েরা, আমি শিগগিরই লাইভে আসছি। আমি প্রমাণ করে দেব, তমা মির্জা কীভাবে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সে কতজনের শয্যাসঙ্গী হয়েছে, তার হিসাব নেই। আমি তার সব ভিডিও ফাঁস করে দেব। ১৬ বছরের নিচে অপ্রাপ্তবয়স্করা এই লাইভ দেখবে না। এতে সে মরল কি মরল না, তাতে আমার আর কিছু আসে যায় না। অবশ্য তার শয্যাসঙ্গীরা ও লোভী মা তাকে মরতে দেবে কি না, সন্দেহ আছে। আমি যা করতে যাচ্ছি, এটা তার প্রাপ্য। লাইভেই প্রমাণ পাবেন যে সে কত ভালো একজন পর্নো তারকা।' কানাডার নাগরিক হিশাম। সেখানে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তিনি। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন । হিশাম জানান, তমাকে বিয়ের আগে থেকেই অনেকে তমার চরিত্র সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলেছে। সেগুলো কানে নেননি তিনি। ভেবেছিলেন বিয়ের পর সব ঠিক থাকবে। কিন্তু বিয়ের পর তমার পরিচিত বন্ধুবান্ধব ও তমার পরিচিত অনেকেই তমার ব্যাপারে ভয়ংকর সব তথ্য দিতে থাকেন। অনেকে তমার অপকর্মের ভিডিও সরবরাহ করেছেন তার কাছে। বিযের পরও তার অপকর্ম থেমে থাকেনি বলেই দাবি স্বামীর। হিশাম আরও বলেন, তমা আমার নামে বলছেন আমি নাকি তার কাছে টাকা দাবি করি। হাস্যকর কথা। গত কয়েক বছর মিডিয়ায় কি কি কাজ করেছে সে। তার আয় কতটাকা? খোঁজ নিলেই সব প্রমাণ পাওয়া যাবে। তমা কবে, কোথায়, কখন, কার সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। এমনকি কত টাকা নিয়েছেন, সেসব প্রমাণও দেখাতে পারবো। এতোকিছুর পরও হিশাম সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন বলে জানান। হিশাম বলেন, একের পর এক পরকীয়া মেনে নেওয়া যায় না। এমন একটা মেয়ের সঙ্গে কীভাবে সংসার করব আমি। একে তো চরিত্র খারাপ। তার উপর পুরো পরিবারটাই লোভী। মা-মেয়ের অনেক লোভ। যে লোভের কারণেও আমাদের সংসার করা হলো না। রাগে তমার অন্তরঙ্গ ভিডিওগুলো ফেসবুকে ছাড়তে চেয়েছিলেন হিশাম। তার আগেই আইডি হ্যাক করায় সেটা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে তমার মুখোশ সবার সামনে খুলবেন বলেই জানালেন হিশাম। এর আগে তমা মির্জা ও হিশামের মধ্যে বাড্ডা থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। প্রথমে তমা মামলা করলে পরে হিশাম, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় তমা মির্জা ও তার মা-বাবা ও গাড়িচালকের নাম উল্লেখ করেন।
2
ক্যানসার জটিল রোগ। চিকিৎসায় সময় লাগে বেশি, ব্যয়ও বেশি। চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছেন। রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে ঢুকতে ডানে রাস্তার পাশে যেখানে দু-চারটি গাড়ি থাকত, সেখানে এখন রোগী। তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি। ঢাকা শহরে তাঁদের স্বজন নেই, হোটেলে থাকার আর্থিক সামর্থ্য নেই। হাসপাতালের পাশে ছোট এক কক্ষের বাসা ভাড়া নেওয়াও তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। ক্যানসার চিকিৎসার জন্য তাঁরা এসেছেন বিভিন্ন জেলা থেকে। বিছানা-কাঁথা-কম্বল-থালা-বালতি নিয়ে তাঁরা গাড়ি রাখার জায়গায় থাকছেন। ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের রাজমিস্ত্রি সিরাজ মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে তিন দিন ধরে শীতের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় আছেন। তাঁর স্ত্রীর ক্যানসার ধরা পড়েছে। ব্যথায় কাতর। ভর্তি করাতে পারছেন না। পাশের বিছানার এক যুবক জানালেন, তাঁরা এসেছেন বরিশাল থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে লঞ্চ থেকে সদরঘাট নেমেছেন। সেখান থেকে এখানে। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দেশের সবচেয়ে বড় ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র। এখানে রোগনির্ণয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা খরচ বেসরকারি ক্যানসার হাসপাতালের চেয়ে কম। সে কারণে সারা দেশের রোগীর চাপ এই হাসপাতালে। করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর অনেকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসতে পারেননি। এখন আসছেন। তাই চাপও বেশি। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে দেশের বড় বড় সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ সব সময় বেশি দেখা যায়। ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় রোগীরা বারান্দায় থাকেন। কিন্তু এমন ফাঁকা জায়গায় রোগীর ভিড় সাধারণত চোখে পড়ে না। গতকাল হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় গিয়ে ওয়ার্ডের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় বিছানাপাতি নিয়ে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের দেখা গেছে। তবে ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডগুলোয় ফাঁকা শয্যা চোখে পড়েনি। যাঁরা ফাঁকা জায়গায় তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য মরিয়া। যাঁরা ভর্তি আছেন, তাঁদের অন্তত তিনজন বলেছেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েই তাঁরা প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন। একদিকে ক্যানসার রোগীর চাপ, অন্যদিকে দেশে অপর্যাপ্ত চিকিৎসাব্যবস্থা-এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ শুক্রবার বিশ্ব ক্যানসার দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য: ক্যানসার সেবায় পার্থক্য কমান। বেশি মানুষকে সেবা দিতে হবে, সেবার ক্ষেত্রে যেন বৈষম্য না হয়। এ উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাতিরঝিলে একটি নৌ শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। যন্ত্র নষ্ট, পদ শূন্য গতকাল জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে রেডিওথেরাপি প্লানিং কক্ষের সামনে ভিড় চোখে পড়ে। কক্ষের সামনে অনেকে সারি ধরে মেঝেতে বসে আছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়। জানা গেল, বিকিরণ চিকিৎসার যন্ত্রগুলোর অধিকাংশই নষ্ট। ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি, বিকিরণ থেরাপি ও অস্ত্রোপচার প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অল্প দিন দায়িত্ব নিয়েছেন। কয়টা যন্ত্র আছে, কয়টা নষ্ট, তা তিনি জানেন না। তবে রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম এন হক জানান, বিকিরণ দেওয়ার জন্য লিনিয়ার এক্সেলারেটর যন্ত্র আছে চারটি। এর মধ্যে তিনটিতে কাজ হয় না। দুটি কোবাল্ট যন্ত্রের একটি নষ্ট। ব্র্যাকিথেরাপি যন্ত্র আছে দুটি, এর মধ্যে একটি নষ্ট। অর্থাৎ হাসপাতালের বিকিরণ দেওয়ার আটটি যন্ত্রের পাঁচটি নষ্ট। লিনিয়ার এক্সেলারেটর যন্ত্র চালান মেডিকেল পদার্থবিদেরা। হাসপাতালে এদের পদ আছে পাঁচটি। এসব পদে কোনো লোক নেই। যন্ত্র চালান যন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লোক। দুটি বেসরকারি হাসপাতাল জানিয়েছে, একটি লিনিয়ার এক্সেলারেটর যন্ত্র দিয়ে তারা দিনে ৭০ থেকে ৯০ জনকে বিকিরণ থেরাপি দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগের অভাবে এসব যন্ত্রের সেবা মানুষ পাচ্ছে না। অন্যদিকে দুর্নীতিও আছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০১২ সালে ২০ কোটি টাকা দিয়ে একটি আধুনিক লিনিয়ার এক্সেলারেটর যন্ত্র কিনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। যন্ত্রটি এক দিনের জন্য কেউ ব্যবহার করেনি। রোগী ও সেবায় পার্থক্য অনেক দেশে ক্যানসারের রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কখনো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে দ্য গ্লোবাল ক্যানসার অবজারভেটরি ২০২০ সালে ক্যানসার বিষয়ে অনুমিত তথ্য প্রকাশ করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, দেশে প্রতিবছর দেড় লাখ মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। আর ক্যানসারে প্রতিবছর মারা যায় ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি মানুষ। নিজস্ব কোনো পরিসংখ্যান না থাকায় জনস্বাস্থ্যবিদেরা এই তথ্যই ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম অসংক্রামক ব্যাধিবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, দেশে ক্যানসারে ভুগছে প্রায় ২০ লাখ মানুষ। দেশের ক্যানসার রোগীর তুলনায় চিকিৎসার আয়োজন অনেক সীমিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার কেন্দ্র বা হাসপাতাল থাকা প্রয়োজন। এসব কেন্দ্রে ক্যানসার শনাক্তসহ ক্যানসার চিকিৎসার তিন ধরনের (কেমোথেরাপি, সার্জারি ও বিকিরণ চিকিৎসা) পদ্ধতি থাকতে হবে। দেশে মানুষ ১৭ কোটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী ১৭০টি ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র থাকা দরকার। সরকারি ও বেসরকারি সূত্র বলছে, দেশে ক্যানসার কেন্দ্র আছে ৩৩টি। এর মধ্যে বিকিরণ যন্ত্র আছে ১৯টিতে। ক্যানসার চিকিৎসকদের একটি সংগঠন জানিয়েছে, ক্যানসারের চিকিৎসায় দেশে কমপক্ষে ২২০টি বিকিরণ যন্ত্র দরকার। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে আছে ৫৭টি যন্ত্র। এর মধ্যে চালু আছে ৪৩টি। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এখন বেশি মানুষকে বিকিরণ চিকিৎসা দিচ্ছে। তবে বেসরকারি হাসপাতালে খরচ বেশি। জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম এন হক বলেন, 'আমরা যে চিকিৎসা ১০ হাজার টাকায় দিই, বেসরকারি হাসপাতালে তার জন্য কমপক্ষে ১ লাখ টাকা নেওয়া হয়, কোনো হাসপাতালে আড়াই লাখ টাকা।' ক্যানসার চিকিৎসা ব্যয়বহুল ক্যানসার জটিল রোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসায় দীর্ঘ সময় দরকার হয়। তবে ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয়। প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত হলে এবং যথাযথ চিকিৎসা হলে মানুষ আরোগ্য লাভ করতে পারে। ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল অনকোলজি সোসাইটি ইন বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক পারভীন সাহিদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, সচেতনতার ঘাটতি আছে। মানুষ ঠিক সময়ে হাসপাতালে আসে না। পরিস্থিতি অনেক খারাপ হওয়ার পর মানুষ চিকিৎসার জন্য আসে। পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সুমন হোসেন যকৃতের ক্যানসারে আক্রান্ত। কেমোথেরাপি (ওষুধের মাধ্যমে ক্যানসার চিকিৎসা) নেওয়ার জন্য সুমন ৩১ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। কেমোথেরাপির দিন ঠিক হয়নি। এবার নিয়ে তিনটি কেমোথেরাপি শেষ হবে সুমনের। নিতে হবে আরও তিনটি। ছয়টি কেমোথেরাপি শেষ মানেই চিকিৎসার শেষ নয়। গতকাল সকালে হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সুমনের বাবা হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা হেলাল উদ্দিন পেশায় কৃষক। সুমন সন্তানদের মধ্যে বড়, বয়স ২০ বছর। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে সুমন মানিকগঞ্জে আকিজ টেক্সটাইলে চাকরি নেন। গত বছরের মে মাসে সুমন অসুস্থ হন। হেলাল উদ্দিন বলেন, 'ছেলেরে নিয়ে একটার পর এক হাসপাতাল পাল্টাইছি, ডাক্তার পাল্টাইছি। ছেলে ভালো হয় না। শুধু টেস্টই করাইছি ২ লাখ ১৬ হাজার টাকার। শেষে জানলাম ছেলের লিভারের ক্যানসার। চিকিৎসা কবে শেষ হবে, বুঝতেছি না।' হেলাল উদ্দিন জানান, দুই মাস আগে কেমোথেরাপি শুরু হয়েছে। একবার কেমোথেরাপি শেষ হলে বাড়ি চলে যান। ২০ দিন পর নির্ধারিত তারিখে আবার আসতে হয়। তবে হাসপাতালে অনেক রোগীর চাপ, নির্ধারিত তারিখে চিকিৎসা পাওয়া যায় না, ভর্তিও হওয়া যায় না। তখন স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের পাশে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। ভাড়া দিনে ৩০০ টাকা। এরই মধ্যে ছেলের চিকিৎসার জন্য সামান্য সঞ্চয় যা ছিল ভেঙেছেন, আধা বিঘা জমি বিক্রি করেছেন, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করেছেন। হেলাল উদ্দিন বলেন, 'হাসপাতাল জানাইছে ছয়টা কেমোথেরাপি শেষে ছেলের লিভারের অপারেশন হবে। অপারেশনের পর রেডিও থারাপি দেবে। হের পর যদি ছেলে ভালো হয়।' সুমনের চিকিৎসা চলবে আরও দীর্ঘদিন। পাবনা থেকে ছেলেকে নিয়ে হেলাল উদ্দিনকে বারবার ঢাকায় আসতে হবে। আসার আগে খরচের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হবে। পাবনার এই কৃষক বলেন, 'অন্ধকার দেখতেছি।' হাসপাতালে এক মাস সাত দিন ধরে ভর্তি আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের ভুট্টু মিয়া। তাঁর ২৪টি বিকিরণ থেরাপি নেওয়ার কথা। গতকাল পর্যন্ত ৩টি নিয়েছেন। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ভালো হলেও তিনি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন। তাঁর স্ত্রী বলেন, দুই লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি বন্ধক রেখেছেন, ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন একটি এনজিও থেকে। আছে আরও অনেক দেনা। ক্যানসারের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমত ক্যানসার শনাক্ত করতেই অনেক জায়গায় ঘুরতে হয়। শনাক্ত হওয়ার আগেই অনেক খরচ হয়ে যায়। সারা দেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই বলে ঢাকায় আসতে হয়। দু-তিনজন মানুষের বারবার ঢাকায় আসা-যাওয়ার খরচ, ঢাকায় থাকা-খাওয়ার খরচ অনেক। সরকারি হাসপাতালেও কিছু খরচ করতে হয়। অন্যদিকে রোগীর যাওয়া-আসা-থাকার কাজটি করতে গিয়ে অনেকের উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। তাই ক্যানসার রোগীর চিকিৎসা করাতে প্রতিটি পরিবারকে অনেক মূল্য দিতে হয়।
6
প্রেমের পড়ার অনুভূতিটা সুখেরই হয়। কিন্তু যদি প্রেম টা পরিণতি না পায়, তার চেয়ে কষ্টের কিছুই হয়না। একতরফা প্রেমের ব্যাপারটা কষ্টকর। ভালোবাসার মানুষকে না পাওয়াটা আমাদেরদুঃখ আরও বাড়িয়ে তোলে। এমনকি তা মানসিক শান্তিও নষ্ট করে দেয়। তখন কোনো কাজেও মনোযোগ দিতে পারিনা। তবে, বেশিদিন তো জীবন এভাবে কাটানো সম্ভব নয়। যত জলদি সম্ভব এ একতরফা ভালোবাসা থেকে বেরিয়ে নতুন করে জীবন সাজাতে হবে। কিন্তু কীভাবে এ এক তরফা প্রেম থেকে বেরিয়ে আসবেন? ১) দূরত্ব এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী ও কার্যকরী সমাধান। যে মানুষটির প্রতি দুর্বলতা তার কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব সে ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। ২) সময়ের ওপর ছেড়ে দিন। সময়ই পারে ক্ষত পূরণ করে দিতে। ৩) নিজের উপর বিশ্বাস বা আস্থা কোনোভাবেই হারাবেন না। ৫) পুরোনো চ্যাট বা মেসেজ বারবার পড়বেন না। ৬) নিজেকে সময় দিন। নিজেকে ভালোবাসুন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সাথে সময় কাটান। নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। ৭) বেড়াতে চলে যেতে পারেন। সেটা হতে পারে একা কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে।
5
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অধীন উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইংয়ের অটোমেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এর ফলে এখন থেকে কৃষিপণ্য আমদানি-রফতানির সনদ অনলাইনে পাওয়া যাবে। আজ মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে এ অটোমেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, 'এই অটোমেশনের ফলে সেবাগ্রহীতারা দ্রুত ও সহজে সেবা পাবেন। সনদ গ্রহণে ভোগান্তি কমবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
একাদশ সংসদ নির্বাচনে 'ভোট ডাকাতি'র চিত্র তুলে ধরতে গণশুনানীর জন্য কোন ভেন্যু এখনো পায়নি জাতীয় এক্যফ্রন্ট। ফ্রন্টের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে কোথাও তারা স্থান বরাদ্দ পাচ্ছেন না। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ফ্রন্টের গণশুনানীর কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে। গণশুনানীর জন্য রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তন, কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিউট মিলনায়তন, গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ অথবা জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনকে স্থান হিসেবে বিবেচনা করেছিল ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু জানিয়েছেন, তারা ফাঁকা তারিখ দেখে আবেদন করলেও ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন ও জাতীয় প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তাদের না করে দিয়েছে। অন্য ভেন্যূগুলো থেকেও তারা সাড়া পাচ্ছেন না। জানা গেছে, পছন্দসই ভেন্যু না পেলে গণফোরাম অফিসের সামনে অথবা বিএনপির অফিসে গণশুনানী হতে পারে। ফ্রন্টের নেতারা জানিয়েছেন, এই শুনানিতে একটা আদালত থাকবে, বিচারমঞ্চ থাকবে। গণশুনানীর মাধ্যমে ভোট ডাকাতি চিত্র বিশ্ববাসী ও দেশের জনগনের কাছে পরিস্কার করে তুলে ধরা হবে গণশুনানিতে ক্ষমতাসীন জোট ছাড়া ভোটে অংশগ্রহনকারী সকল দলকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যারা ভোটের সময় আহত হয়েছেন, যারা নিহত হয়েছেন তাদের স্বজনদের, যারা অপদস্ত হয়েছেন, যারা কারাবন্দি হয়েছিলেন তাদেরকে এই শুনানিতে আসতে বলা হবে।
9
চীনে সরকারিভাবে একাধিক সন্তান গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শানজি প্রদেশের কর্তৃপক্ষ ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই প্রদেশে কোনো নারী কর্মী সন্তান গ্রহণ করলে পূর্ণ বেতনে এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। বর্তমানের চীনের শানজি প্রদেশে সন্তান জন্মের পর নারী কর্মীরা ১৬৮ দিনের ছুটি কাটাতে পারেন। কিন্তু ওই প্রদেশের সরকার এ ছুটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এ ব্যাপারে জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও চলছে। একই সঙ্গে তৃতীয় সন্তান নিলে পুরুষকেও ৩০ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার কথা ভাবছে তারা। খবর রয়টার্স ও ইওন নিউজের। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে চীন এগিয়ে থাকলেও বিগত বছরগুলোতে এ সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। সেই কারণে দম্পতিদের সন্তান গ্রহণে উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটির সরকার। গত মে মাসে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, দম্পতিরা চাইলে একাধিক সন্তান নিতে পারবেন। এ প্রসঙ্গে গত আগস্টে পরিবার পরিকল্পনা সংশোধন আইন পাসের মধ্য দিয়ে তিন সন্তান নীতি গ্রহণ করেছে বেইজিং কতৃপক্ষ।
3
বগুড়ায় করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আসা ১১ জনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসায় অর্থাৎ করোনা আক্রান্ত না হওয়ায় সোমবার পর্যন্ত পাঁচজনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই বাড়ি চলে গেছেন। আর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী এক কিশোরেরও নেগেটিভ এসেছিল। বাকি ৫ জনের মধ্যে রংপুরের এক বাসিন্দার দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। আর অন্য চারজনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এখন পর্যন্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়ছেন, গত ৪ ও ৫ এপ্রিল পাঠানো ওই চারজনের নমুনা রিপোর্ট ৭ এপ্রিলের মধ্যেই পাওয়া যাবে। বগুড়ায় করোনাভাইরাসে উপসর্গযুক্ত রোগী এবং তাতে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে গত ২৬ মার্চ থেকে আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তর করা হয়। গত ২৯ মার্চ থেকে সেখানে রোগী ভর্তি শুরু হয়। ৫ এপ্রিল রাত পর্যন্ত সেখানে এক শিশুসহ মোট ১১ জন ভর্তি হন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গাবতলী এলাকার সেই শিশুর মৃত্যু হয়। পরে মৃত ওই শিশুসহ সেখানে চিকিৎসাধীন সবার নমুনা পর্যায়ক্রমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে সর্বশেষ গত ৪ ও ৫ এপ্রিল পাঠানো চারজনের নমুনা ছাড়া সবার রিপোর্টই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে এসে পৌঁছায়। বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানিয়েছেন, পরীক্ষায় যাদের করোনা নেগেটিভ এসেছে তাদের মধ্য থেকে ৫ এপ্রিল তিনজন এবং পরদিন ৬ এপ্রিল আরও দুজনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে আইসোলেশনে যে চারজন আছেন তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। আশাকারি মঙ্গলবারের (৭ এপ্রিল) মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যাবে।
6
যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিড়িয়াখানায় আট বছর ধরে একই খাঁচায় থাকা একটি সিংহী তার সঙ্গী পুরুষ সিংহকে হত্যা করেছে। সিংহীটির তিনটি শাবকের বাবা ছিল ওই পুরুষ সিংহটি। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানাপোলিস চিড়িয়াখানায় ১২ বছর বয়সী ওই সিংহীর নাম জুরি। আর ১০ বছর বয়সী পুরুষ সিংহটির নাম নায়াক। ২০১৫ সালে তাদের তিনটি শাবকের জন্ম হয়। ঘটনার সময় শাবক তিনটি খাঁচার বাইরে অন্য জায়গায় ছিল। চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা ঘটনার কারণ সম্পর্কে কিছু ধারণা করতে পারছেন না। তারা জানান, সিংহীটি তার চোয়াল দিয়ে সঙ্গী পুরুষ সিংহের ঘাড় মটকে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নায়াক ছিল অসাধারণ এক আফ্রিকান সিংহ। তারা তাকে আর পাবে না। সব বিষয় পর্যালোচনা করে তারা এ ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাবে। চিড়িয়াখানাটির একজন কর্মকর্তা জানান, হঠাৎ করে খাঁচায় অস্বাভাবিক গর্জন শুনে তারা সেখানে ছুটে যান। এ সময় তারা দেখেন, সিংহীটি পুরুষ সিংহের ঘাড় শক্ত করে কামড়ে ধরে রেখেছে। তারা অনেক চেষ্টা করেও সিংহ দু'টিকে আলাদা করতে পারেননি। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই দু'জনের মধ্যে তারা কখনও আক্রমণাত্মক স্বভাব দেখেনি। চিড়িয়াখানাটির কিউরেটর ডেভিড হাগান সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, চিড়িয়াখানায় বাস করা প্রত্যেকটি প্রাণীর সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে এই ঘটনাটি পরিবারের কোনো সদস্যকে হারানোর মতো শোক অনুভব করছেন তারা। ঘাড়ের জখমের কারণে দমবন্ধ হয়ে সিংহটির মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
3
মাউন্ট ম্যাঙ্গানুইয়ে মিডল অর্ডারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়েছে নিউজিল্যান্ড। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরি এবং পরের তিন ব্যাটসম্যানের ফিফটিতে তুলেছে ৪৩১ রান। জবাব দিতে নামা পাকিস্তান দ্বিতীয় দিন শেষ বেলায় প্রথম ইনিংস থেকে ১ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৩০ রান। পিছিয়ে আছে ৪০১ রানের বিশাল ব্যবধানে। টস হেরে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ড শুরুতেই পাকিস্তান পেসার শাহিন আফ্রিদির তোপে দুই ওপেনারকে হারায়। টম ল্যাথাম ও টম ব্লান্ডেল ফিরে যান যথাক্রমে ৪ ও ৫ রান করে। তিনে নামা উইলিয়ামসন জুটি বাধেন শততম টেস্ট খেলতে নামা রস টেইলরের সঙ্গে। দু'জনে যোগ করেন ১২০ রান। রস টেইলর ৭০ রান করে শাহিন আফ্রিদির বলে ফিরে যান। ক্রিজে থাকা অধিনায়ক উইলিয়ামসন এবার জুটি গড়েন হেনরি নিকোলাসের সঙ্গে। তারা গড়েন ১৩৩ রানের জুটি। ফিফটি পাওয়া নিকোলাস সাজঘরে ফেরেন ৫৬ রান করে। তাকে তুলে নেন তরুণ পেসার নাসিম শাহ। ছয়ে নামা কিউই ব্যাটসম্যান বিজে ওয়াটলিংও তুলে নেন ফিফটি। তার ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান। কেনের সঙ্গে ঠান্ডা মাথার এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের বড় জুটি হওয়ার আগেই অবশ্য কিউই অধিনায়ক ক্যারিয়ারের ২২তম সেঞ্চুরি করে আউট হয়ে ফেরেন। ইয়াসির শাহ তাকে ১২৯ রানে সাজঘরে ফেরান। ততক্ষণে বড় রান তুলে ফেলেছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত মিশেল সাটনার ১৯ এবং জেমিসন ৩২ রান করলে বিশাল রান চাপায় পড়ে পাকিস্তান। শেষ বেলায় ব্যাট করতে নেমে তারা আবার হারায় ওপেনার শান মাসুদকে। তিনি জেমিনসনের বলে ১০ রান করে ফিরে যান। পরে নাইট ওয়াচম্যান মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে দিন শেষ করেন ১৯ রানে অপরাজিত থাকা ওপেনার আবিদ আলী। পাকিস্তানের হয়ে প্রথম ইনিংসে শাহিন আফ্রিদি নেন ৪ উইকেট। লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ তুলে নেন ৩ উইকেট।
12
করোনার লক্ষণ দেখা দিলে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। এ সময় ভয় না পেয়ে কিছু নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে। কোনোভাবেই ভিড়ের মধ্যে যাওয়া যাবে না। পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে সুস্থ রাখতে টেস্টের ফলাফল না আসা পর্যন্ত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। মেডিকেল নিউজ টুডে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যেই লক্ষণ দেখা দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশ পায় ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে। আক্রান্ত হলে প্রথম এক সপ্তাহে রোগী সংক্রামক থাকেন। ফলে রোগীকে এ সময় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে, যেন অন্যদের মাঝে এই রোগ না ছড়ায়।সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছেলক্ষণ দেখলে যা মানতে হবে ঘরে থাকতে হবে। চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবেন না। প্রচুর পানি ও ফলমূল খেতে হবে। চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সমস্যা হলে হাসপাতালে যেতে হবে। আলাদা একটি ঘরে থাকতে হবে। বাথরুমও আলাদা হতে হবে। কারও সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে মাস্ক পরতে হবে। আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দুই দিন কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হলেও বোঝা যায় না। এই দুই দিনে যাদের সঙ্গে মিশেছেন তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিতে হবে।সতর্কতা ঘরে একা থাকাবস্থায় মাস্ক না পরলেও চলবে। শ্বাসকষ্ট হলে মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই। ২ বছরের কম বয়সী বাচ্চাকে মাস্ক পরানো যাবে না। হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু দিয়ে মুখ ঢাকতে হবে। প্লেট, গ্লাস, কাপ, তোয়ালে আলাদা করতে হবে। প্রতিবার ব্যবহারের পর রোগীকে এগুলো ধুয়ে ফেলতে হবে। যে তাকে খাবার দেবে বা তার ঘরে যাবে তাকেও মাস্ক ও গ্লাভস পরতে হবে।জরুরি সেবাশ্বাসকষ্ট দেখা দিলেবুকে ব্যথা হলেত্বকের রং নীল হয়ে গেলে
4
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সনগাঁও গ্রামে বিদ্যুত স্পৃষ্ট হয়ে আলমগীর হোসেন (৩৫) ওবজ্রপাতে আশরাফুর হক (৩২) নামের ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সনগাঁও গ্রামের মরহুম শরিফ উদ্দীনের ছেলে আলমগীর হোসেন গতকাল সকাল ৮টায় ঝড়ে বাড়ীর বিদ্যুতের ছেড়া তার সরাতে গিয়ে বিদ্যুত স্পৃষ্ট হয়ে তার ঘটনাস্থলে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আজিমতদ্দীনের ছেলে আশরাফুর হক সে তার শয়ন ঘরে ঘুমিয়ে থাকলে ভোররাতে ঝড়বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত ঘরের উপর পড়ে যুবক আশরাফুর হকের শরীর ঝলসে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পরে তার পরিবারের লোকজন শয়ন ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম সাজেদুল ইসলাম ও স্থানীয় দুওসুও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
6
সাবেক স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ডের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছিলেন অভিনেতা জনি ডেপ। বিষয়টি নিয়ে ভার্জিনিয়ার আদালতে শুনানি চলছে। সেখানে উঠে আসছে পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। সোমবার (১৬ মে) আদালতে একটি আবেগঘন অডিও শোনানো হয়। যেখানে অ্যাম্বার তাকে "মিথ্যাবাদি" না বলার জন্য জনি ডেপকে অনুরোধ করছিলেন বলে শোনা যায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ২০১৬ সালে জনি ডেপের বিরুদ্ধে শারীরিক ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনে আদালতে ডিভোর্সের আবেদন করেন অ্যাম্বার হার্ড। আদালতে চালানো অডিও ক্লিপটি এর এক মাস পরের। অডিও ক্লিপে অ্যাম্বার হার্ডকে বলতে শোনা যায়, "আমাকে মিথ্যাবাদি এবং গোল্ড ডিগার বলা হচ্ছে কেন।" তিনি বলেন, "আমি কোনও কিছুই মিথ্যা বলছি না। আপনার টাকার প্রতি আমার কোনও লোভ নেই।" অ্যাম্বার হার্ড আদালতকে জানান, তিনি চান জনি ডেপ তাকে মিথ্যাবাদি বলা বন্ধ করুক এবং তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো থেকে বিরত থাকুক। তিনি জানান, জনি ডেপ তাকে এবং তার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। হার্ড বলেন, "জনি ডেপ আমাকে বলেছিলেন আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিবে। কেউ আর আমার সঙ্গে কাজ করতে পারবে না।" এ দিন আদালতে বেশকয়েকটি ফোনকলের রেকর্ড বাজানো হয়। কিছু অডিও ক্লিপে অ্যাম্বার হার্ডকে কাঁদতে শোনা যায়। একটি রেকর্ডিংয়ে হার্ডকে বলতে শোনা যায়, জনি ডেপের নিরাপত্তারক্ষারীরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এদিকে অ্যাম্বার হার্ডের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জনি ডেপ তার বক্তব্যে বলেছিলেন, তিনি নিজেই পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। এমনকি তাদের বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন এই অভিনেতা। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তার চেষ্টারও কোনও কমতি ছিল না। ডেপ দাবি করেন, মতের অমিল হলেই তাকে চড় কিংবা ধাক্কা দিতেন হার্ড। এমনকি একদিন মদের বোতল ছুড়ে মারেন স্বামীর দিকে, এতে জনি ডেপের ডান হাতের মধ্যমা আঙুলের ওপরের অংশ কেটে যায়। যদিও এসব ঘটনা অস্বীকার করেন হার্ডের পক্ষের আইনজীবীরা। উল্লেখ্য, হলিউড তারকা জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড ২০১৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও ২০১৬ সালে জনি ডেপের বিরুদ্ধে শারীরিক ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনে আদালতে ডিভোর্সের আবেদন করেন অ্যাম্বার হার্ড। স্ত্রীর সেই অভিযোগ অস্বীকার করলেও ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন জনি ডেপ। সেই সময়ে আদালতের কাছে দুইজন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে তাদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে জনসম্মুখে আর কোনও ধরনের আলোচনা করবেন না তারা। কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্টের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন স্বামী জনি ডেপের বিরুদ্ধে আবারও শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন তার সাবেক স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ড। এ কারণেই পরবর্তীতে ব্যক্তিগত আইনজীবীর সহায়তায় মানহানির মামলা করেছিলেন জনি ডেপ। অ্যাম্বারের বিরুদ্ধে ৫০ মিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা করেন জনি ডেপ। ওই মামলার পর ১০০ মিলিয়ন ডলারের পাল্টা মামলা করেন অ্যাম্বার।
2
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপের ফলে আজ বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে।' তিনি বলেন, 'এর মূলে রয়েছে পুলিশ। কারণ, পুলিশ সামাজিক শৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়ছে, পাশাপাশি বিদেশিরাও আমাদের দেশে বিনিয়োগ করছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। সে লক্ষ্যে পুলিশের ন্যায্য বিষয়গুলো বিবেচনার জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিমন্ত্রীদ্বয়ের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লাহ খন্দকার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (ওঅ্যান্ডএম) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিবৃন্দ, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
রোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে ২০২১ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ভার্চ্যুয়াল বা অনলাইনে করার জল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়েছে, ১৮ মার্চ শুরু হচ্ছে মেলা। এর আগে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী জানিয়েছিলেন করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হবে না। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে বইমেলা পিছিয়ে দেওয়ার পর তিনটি সম্ভাব্য তারিখ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্য ছিল ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৭ মার্চ ও ২৭ মার্চ। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ১৮ মার্চ মেলা শুরুর ব্যাপারে গ্রিন সিগনাল পাওয়া গেছে। সে অনুসারে প্রস্তুতি শুরু করতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই দিন ভার্চুয়ালি মেলার উদ্বোধন করবেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, কখন শেষ হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। আমাদের ইচ্ছা আছে ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ পর্যন্ত বইমেলার আয়োজন করা। তবে এর মধ্যে যদি কোনো আপত্তি উঠে, তবে রমজান মাস শুরুর আগের দিন মেলার সমাপনী আয়োজন করব।' তিনি জানান, প্রকাশকদের সঙ্গে আলোচনা করে কত দিন মেলা চলবে, সেটি ঠিক করা হবে। ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকেই বাংলা একাডেমি চত্বরে বইমেলা শুরু হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এ বইমেলার উদ্বোধন করে থাকেন। ১৯৮৩ সালে মনজুরে মওলা যখন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন, তখন তিনি বাংলা একাডেমিতে প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্যোগ নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়। বাংলা একাডেমির তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল ৪ হাজার ৯১৯টি। বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছিল ৪১টি নতুন বই।
6
ঢাকা: রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে রোগীর সংখ্যা বাড়তির দিকে। আর এক মাসের ব্যবধানে রোগী শনাক্তের হার আশঙ্কাজনক। আর এসব রোগীদের মধ্যে শতকরা ৯৮ ভাগই রাজধানীর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৮ জন। এদের মধ্যে ১৫ জনই রাজধানী ঢাকার।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল ৪৩ জন। আজ রোববার পর্যন্ত চলতি মাসে রোগী ভর্তি হয়েছে ২২৫ জন। দেশের সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৭৭ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৭৪ জন। এ পর্যন্ত রোগী ভর্তি হন ৩২৫ জন এবং সুস্থ হয়ে ছুটি নিয়েছেন ২৪৮ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ার আগে থেকেই তারা সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাসের রোগীর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গুর দিকে নজর দিচ্ছিল না। কিন্তু এখন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা গতি ফিরেছে। অর্থাৎ তারা লড়ে চড়ে বসছেন।ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু মশার লার্ভা প্রতিরোধে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযান চালিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেছেন ঢাকা সিটি করপোরেশন। তাদের ভাষ্যমতে, নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতাই ডেঙ্গু নির্মূল করা সম্ভব। বৃষ্টির মৌসুমে বাড়িতে, অফিসে, কিংবা খোলা মাঠে স্বচ্ছ কোনো বস্তুতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নাগরিকদের সচেতনতা জরুরি।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. জোবায়দুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, করোনার কারণে রাজধানীসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পানি জমে এডিস মশার জন্ম নিতে পারে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর সিভিল সোসাইটিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। পাশাপাশি মশক নিধনে অভিযানও চালানো হচ্ছে।
6
তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চানাক্কালে প্রদেশে সাগর থেকে অন্তত ৫৬ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শুক্রবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়। খবরে বলা হয়, তুর্কি কোস্ট গার্ডের সদস্যরা আইভাজিকের কাদিরগা উপকূলে রাবারের নৌকায় একদল অভিবাসীকে দেখতে পায়। গ্রিক কর্তৃপক্ষের ফিরিয়ে দেয়া ওই অভিবাসীদের কোস্ট গার্ড সদস্যরা উদ্ধার করে। তুরস্ক ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো গ্রিসে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অন্যায় অনুশীলনের বিষয়ে বারবার নিন্দা করেছে। তারা বলেছে, এটা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন যার মাধ্যমে অরক্ষিত অভিবাসীদের জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
3
করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম চালান কাল বৃহস্পতিবার কলকাতায় আসতে পারে। তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে কলকাতার বিমানবন্দর থেকে। ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে বিমানবন্দরকে করোনাসংক্রান্ত কাজে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, ৭ ও ৮ জানুয়ারি টিকাসংক্রান্ত যাবতীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। অন্যদিকে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তীও সাংবাদিকদের একই কথা বলেছেন। ফলে এখন অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে পড়েছে কলকাতায় আসছে করোনা ভ্যাকসিন। পশ্চিমবঙ্গে কমছে করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার। এরই মধ্যে করোনা নিরাময়ে দুটি টিকা অক্সফোর্ডের তৈরি কোভিশিল্ড এবং ভারতে তৈরি কো-ভ্যাক্সিন ভারত সরকার ভারতে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। আর তাতে জনমনে স্বস্তি এসেছে কিছুটা। কেন্দ্রীয় সরকার আগেই ঘোষণা দিয়েছে, শিগগিরই ভারতে শুরু হবে করোনার টিকা দেওয়ার কর্মসূচি। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ বলেছিলেন, 'কেন্দ্রীয় সরকার করোনার দুটি টিকা কোভিশিল্ড ও কো-ভ্যাক্সিনের মানবদেহে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। তাই আমরা অনুমতি পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ভারতে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।' তবে স্বাস্থ্যসচিব নির্দিষ্ট দিনের কথা বলেননি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিবের এই ঘোষণার পর মনে করা হচ্ছে, ১২ কিংবা ১৩ জানুয়ারি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে। ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তাই সেই দিন দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরুর সম্ভাবনা বেশি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিমানে করে এই করোনার টিকা প্রথম ভারতের চারটি শহরে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এই চারটি শহর হলো কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বাই ও দিল্লি। টিকা নির্মাতা সংস্থা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং ভারত বায়োটেক এই ভ্যাকসিন পাঠিয়ে দেবে ওই চারটি শহরের সরকারি মেডিকেল স্টোরে। সেখান থেকে পৌঁছানো হবে ভারতের ৩৭টি রাজ্যে। আবার ওই সব রাজ্য থেকে এই ভ্যাকসিন পৌঁছানো হবে বিভিন্ন রাজ্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, যেখানে দেওয়া হবে এই টিকা। সারা দেশে ২৯ হাজার কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। এসব কোল্ড স্টোরেজে এই ভ্যাকসিন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সুরক্ষিত রাখা হবে। ২ জানুয়ারি দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫১৭ কেন্দ্রে টিকাকরণ কর্মসূচির মহড়া (ড্রাই রান) হয়েছিল। তাতে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি কেন্দ্র কলকাতার সল্টলেকের দত্তাবাদ, উত্তর চব্বিশ পরগনার আমতা এবং মধ্যমগ্রামেও এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অবশ্য ভারতের আরও চার রাজ্য পাঞ্জাব, আসাম, গুজরাট ও অন্ধ্র প্রদেশে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার এই টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। এতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়সহ রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে বলা হয় এই টিকা দেওয়া হবে পর্যায়ক্রমে কোভিড-যোদ্ধাদের, রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, নার্সসহ সরকারি কর্মী, শিক্ষক, পুলিশ, সেনা ও প্রবীণ নাগরিকদের।
3
ছয় বছরের দাম্পত্যের ইতি টানলেন ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পী অনুপম রায় ও পিয়া রায়। সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা কাছাকাছি এনেছিল এই দুজনকে। বসন্তের সন্ধ্যার আলাপে শুরু বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম আর পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সাত পাক ঘুরে পূর্ণতা পেয়েছিল সম্পর্ক। কিন্তু আচমকাই সকলকে অবাক করে দিয়ে ডিভোর্সের ঘোষণা দিলেন অনুপম ও পিয়া। ../ বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তারা। অনুপম রায় জানান, বিয়ে ভাঙলেও বন্ধুত্বের সম্পর্কটা অটুট থাকবে। টুইটে বলা হয়, "আমরা দুজনে পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ের সম্পর্কটা ভেঙে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা এবার নিজেদের পথে চলব বন্ধু হিসেবে।" "একসঙ্গে আমাদের এই যাত্রা খুব সুন্দর ছিল। অসাধারণ কিছু স্মৃতি, সুন্দর-সাজানো মুহূর্তগুলো সবসময় সঙ্গে থাকবে। কিন্তু কিছু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আমরা ঠিক করেছি স্বামী-স্ত্রী হিসেবে এই সম্পর্কটা আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। আমরা ঠিক আগের মতোই পরস্পরের খুব কাছের বন্ধু থাকব, যেমনটা আমরা আগে থেকেই ছিলাম এবং পরস্পরের ভালো-মন্দ দেখার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকব।"
2
রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনিরুজ্জামান স্বাধীনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। মামলার পর পুলিশ স্বাধীনের ছোট ভাই মিঠু ও স্ত্রী বিউটিকে গ্রেপ্তার করেছে। নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বাদী হয়ে রাতেই মনিরুজ্জামান স্বাধীনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ রাতেই মিঠু ও বিউটিকে গ্রেপ্তার করে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, নিয়ম লঙ্ঘন করে কলেজটি চালানো হচ্ছিলো। পরে কলেজটি বন্ধ করে ২২৫ জন শিক্ষার্থীকে অন্য কলেজে বদলি দিতে নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। তবে তা মানেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থী বদলির দাবি জানালে শুক্রবার তাদের লাঠিপেটা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
6
মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান পালনে খুলনার দাকোপে দুটি সরকারি অফিসে ওঠেনি জাতীয় পতাকা। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।গত ১৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সারা দেশের মতো উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান বিজয় দিবস পালনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম ছিল সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।স্থানীয় এক সাংবাদিক বিষয়টি দেখে তাঁর ফেসবুক পেজে ওই দুই ভবনে জাতীয় পতাকা না ওঠানোর ছবিসহ তুলে ধরলে উপজেলাবাসীর মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইলে ওই সাংবাদিককে ১০ মিনিটের মধ্যে পোস্টটি সরিয়ে ফেলার কথা বলেন। পোস্টটি না সরালে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।মহান বিজয় দিবসের গৌরব গাঁথা এই দিনে সরকারি কর্মকর্তাদের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মোহিত লাল রায় বলেন, 'সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।'উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড় এটাকে সরকারের বিরুদ্ধাচরণ দাবি করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার মেহেদি হাসান খান মোবাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, 'কৃষি অফিসে কী পতাকা উত্তোলন হওয়ার কথা? কৃষি অফিস সরকারি ১৭টি হস্তান্তরিত অফিসের একটি।' এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মাহমুদ হোসেন বলেন, 'বিষয়টি আসলে আমাদের ভুল হয়েছে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর হবে না।'এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ শেখ আবুল হোসেন এ কাজের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
6
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দ্রুতগামী একটি ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ (৩৭) নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর দুইটার দিকে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত হারুন অর রশিদ রংপুর জেলার মিটাপুকুর উপজেলার শেরুভাঙ্গা গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে ও মাধবপুর উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুর একটার দিকে হারুন উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মোটরসাইকেল যোগে নয়াপাড়া ইউনিয়ন অফিসে যাচ্ছিলেন, অফিসের কাছাকাছি পৌঁছালে দ্রুতগামী একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
6
অর্থপাচার মামলায় মো. মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে জামিন দেননি হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতে গোল্ডেন মনিরের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কেএম আমিন উদ্দিন মানিক। গত বছরের ১১ মে সিআইডির পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মনিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে বাড্ডা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মনিরের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও বোনকেও আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, মনিরের প্রায় ৩০টি প্লট, এক ডজনেরও বেশি ভবন ও দুটি গাড়ির শোরুম আছে। এর সবগুলোই তার অবৈধ উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে। সিআইডি ইন্সপেক্টর ইব্রাহিম জানান, মনির সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার সময় ১২৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭৯১ কোটি টাকারও বেশি টাকা জমা দেন। ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে এখন মাত্র ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা পাওয়া যাচ্ছে।
6
চাহিদার বিপরীতে দেশে সব রকমের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। দেশে ডিসেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৩ লাখ ১ হাজার ৯০২ মেট্রিক টন, বিপরীতে বর্তমানে মজুত রয়েছে ৮ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন, যা প্রয়োজনের চেয়ে ৫ লাখ টনেরও বেশি। অন্যান্য সার যেমন টিএসপির ডিসেম্বর মাসে চাহিদা ১ লাখ ১৪ হাজার টন, বিপরীতে মজুত ১ লাখ ৯২ হাজার টন, ডিএপির চাহিদা ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬১২ টন, বিপরীতে মজুত ৫ লাখ ৯৬ হাজার টন এবং এমওপির চাহিদা ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮৫ টন, বিপরীতে মজুত রয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার টন। এছাড়া, বিগত বছরের (২০২০ সালের ডিসেম্বর) একই সময়ের তুলনায় সব রকমের সারের বর্তমান মজুত বেশি। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এ তথ্য জানান। এ সময় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্পপ্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, বিসিআইসির চেয়ারম্যান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, গুজব ছড়িয়ে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যেসব ডিলার, ব্যবসায়ী, দোকানদার বেশি দামে সার বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপাতত ৩০ দিন অব্যাহতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে পুরো বোরো মৌসুমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, সামনে বোরো মৌসুম, এ সময়ে সারের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা সব রকমের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। বর্তমানে সারের যে মজুত রয়েছে এবং পাইপলাইনে যে সার রয়েছে, সব মিলিয়ে সারের কোন রকম সংকট হবে না, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ড. রাজ্জাক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। যে সারের মূল্য টনপ্রতি ৩০০ ডলার ছিল, তা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৯৬৪ ডলার। আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়ে আমাদের মতো দেশগুলোকে শোষণ করছে। আর এদিকে দেশে সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা গুজব ছড়িয়ে কোথাও কোথাও এলাকাভেদে বিচ্ছিন্নভাবে সারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা কঠোরভাবে এটি মনিটর করছি, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, সারের উৎপাদন, আমদানি ও মজুতে কোন সমস্যা নেই, সারের কোন ঘাটতি নেই। কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। তবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে সারের দাম বৃদ্ধি করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিকভাবেও বিরোধীরা সুযোগ নিতে পারে। সেজন্য আমরা সার পরিস্থিত নিয়ে খুব সতর্ক রয়েছি। এ সময় গুজবরোধে সাংবাদিকবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন শিল্পমন্ত্রী। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কামরুল আশরাফ খান বলেন, গত কয়েকদিন সার পরিবহণে কিছু সমস্যা ছিল, তা কেটে গেছে। কোন ডিলার সারের দাম বেশি নিলে তার সদস্যপদ বাতিল করা হবে। এসএইচ
6
করোনা ভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের জন্য বিশেষ ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু করেছে ফাইজার ও বায়োএনটেক। এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে জানা যাবে, নতুন এই ভ্যাকসিন কতখানি নিরাপদ, সহনশীল এবং কেমন প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করতে সক্ষম। ১৪২০ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে এই পরীক্ষা চালানো হবে। অংশ নেয়া সকলের বয়স ১৮ থেকে ৫৫। মোট ৩ দলে ভাগ করে এই পরীক্ষা চালানো হবে। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়েছে তারা। এরমধ্যে এক দল গত ৯০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে প্রচলিত ফাইজার ভ্যাকসিনের দুই ডোজ গ্রহণ করেছেন। তাদেরকে নতুন ওমিক্রন ভ্যাকসিনের এক বা দুই ডোজ দেয়া হবে। আরেক দলে যারা আছেন তারা ৯০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে প্রচলিত ফাইজার ভ্যাকসিনের তিন ডোজ নিয়েছেন। তাদেরকে আরও একডোজ ফাইজার ভ্যাকসিন কিংবা ওমিক্রন ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সর্বশেষ দলে যারা আছেন তারা কেউ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি। তাদেরকে তিন ডোজ ওমিক্রন ভ্যাকসিন দেয়া হবে। এর প্রতি ডোজ ৩০ মাইক্রোগ্রামের, যা প্রচলিত ফাইজার ভ্যাকসিনের সমান। এ নিয়ে ফাইজারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন জ্যানসেন একটি বিবৃতিতে বলেন, গবেষণা ও রিয়াল-ওয়ার্ল্ড ডাটা বলছে বুস্টার ডোজ ওমিক্রনের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের সুরক্ষা দিচ্ছে এবং মানুষকে গুরুতর অসুস্থ হওয়া থেকে বাঁচাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টকে মোকাবেলায় আলাদা করে প্রস্তুতির অংশ হিসাবে নতুন এই ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। ফাইজারের সিইও আলবার্ট বোরলা গত মাসে বলেছিলেন, ওমিক্রনের জন্য নতুন ভ্যাকসিন প্রয়োজন হলে তা মার্চ মাসের আগেই নিয়ে আসবে তারা। তবে ফাইজারের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, এরইমধ্যে নতুন ওমিক্রন ভ্যাকসিনের উতপাদন শুরু হয়ে গেছে।
4
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপরেশনের (নাসিক) তৃতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারসহ ছয়জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে দুইজনের প্রার্থিতা। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বাছাই অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতান মাহমুদের দাখিলকৃত ৩০০ ভোটার তালিকায় গরমিল পাওয়া গেছে। এ কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম এবং তার কোনও প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার দাখিল করা ৩০০ ভোটার তালিকায় গরমিল রয়েছে। ভোটার যাচাই-বাছাইয়ে সঠিক পাওয়া যায়নি। তার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবির তথ্যে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হিসেবে তার বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর আগে প্রার্থীদের দেওয়া সকল তথ্য যাচাই করার পর সেগুলো সঠিক পেয়ে সিটি করপোরেশন, পুলিশ প্রশাসন, ব্যাংক বিভাগ, আয়কর বিভাগের উপস্থিত প্রতিনিধিদের অনাপত্তি প্রদান সাপেক্ষে প্রার্থীদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার বলেন, দুজনের প্রার্থীতায় ভুল তথ্য প্রদান ও ঋণ খেলাপি থাকায় বাতিল করা হয়। বাকিদের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যারা বৈধ হননি তারা চাইলে আপিল করতে পারবেন। সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান জানান, আপনারা অনেকে দেখা যায় প্রতীকের দিন মিছিল করে এখানে আসেন এটি ঠিক নয়। কারণ ২৭ তারিখ প্রতীক বরাদ্দ, আপনারা ২৮ তারিখ থেকে প্রচারণা করবেন। এর ব্যত্যয় হলে আমাদের অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে। পোস্টার ব্যানারসহ নানা আচরণবিধি ভঙ্গের সংবাদ গণমাধ্যমে আসছে, আমরা সবাইকে সচেতন করছি তবে নির্বাচন যেহেতু একটি উৎসব তাই আমরা চাই না কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। আপনারা নগর পিতা হবেন তাই নগরবাসীকে আগলে রাখবেন, যদি আপনারাই আইন ভঙ্গ করেন তাহলে সেটা লজ্জাজনক। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যে নেওয়া হচ্ছে না তা নয়, ব্যানার ফেস্টুন অপসারণে অভিযান চলছে নিয়মিত। আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে থাকবেন, আমরাও থাকব। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বাতিল ও পুনর্ভোটের দাবিতে বিক্ষোভে টালমাটাল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গদি। এমন পরিস্থিতিতেই হুগো শাভেজের এই উত্তরসূরীকে আরও চাপে ফেলে দিয়েছেন ইউরোপের নেতারা। তারা পুনর্ভোট আয়োজনের জন্য আট দিনের সময় বেঁধে দিয়ে বলেছেন, এর মধ্যে কোনো ঘোষণা না এলে বিরোধীদেরই 'স্বীকৃতি' দিয়ে দেবেন তারা। গত মে মাসে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মাদুরো। এ মাসের শুরুতে শপথ নেন বামপন্থি এ রাজনীতিক। তবে বিরোধীরা প্রথম থেকেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনর্ভোটের দাবি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি দেশটির অর্থনীতিতে মন্দাবস্থা দেখা দিলে রাস্তায় নামে বিরোধীরা। গত সপ্তাহে জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিতে থাকেন। এরপর তিনি নিজেকে 'অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট' বলেও ঘোষণা দিয়ে বসেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে গুইদোকে 'স্বীকৃতি' দিয়ে মাদুরো সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ফ্রান্স সরাসরি এখনো গুইদোকে 'অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট'র স্বীকৃতি না দিলেও তারা বলেছে, আট দিনের মধ্যে মাদুরোকে নতুন নির্বাচন ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় বিরোধীদেরই 'স্বীকৃতি' দেবে তাদের সরকার। অবশ্য বিক্ষোভ চললেও সামরিক বাহিনী মাদুরোর পেছনেই তাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। এমনকি ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো প্রস্তাব তুলতে চাইলেও তাতে রাশিয়া ভেটো দেবে বলে আশাবাদী কারাকাস।
3
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ঘিরে জমে উঠেছে প্রকাশনা পাড়া। বইমেলাকে কেন্দ্র করে এ সময় দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। সুযোগ সৃষ্টি হয় নানান পেশার। এমনই একটি পেশা প্রুফ রিডিং। প্রুফ রিডিংয়ের চাকরিতে নিজের সৃজনশীলতা দেখানোর সুযোগ আছে। নিজের সৃজনশীলতা দেখিয়ে কম সময়ে যাঁরা ভালো আয় করতে চান, তাঁরা প্রুফ রিডিংকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন। তবে শুধু বইমেলার সময় নয়, সারা বছরই বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থা, সংবাদপত্র ও প্রকাশনায় প্রুফ রিডার নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্পাদনার সর্বশেষ ধাপ প্রুফ এডিটিং। যেহেতু সবশেষ ধাপ, তাই কাজটা অনেক স্পর্শকাতর। কারণ, তাঁদের হাত থেকে ভুল চলে গেলে আর সংশোধনের সুযোগ থাকে না। বিশ্বের অনেক ভাষায় প্রুফ রিডিংয়ের কাজ বর্তমানে কম্পিউটারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে মিডিয়া হাউসগুলো নিজস্ব বানানরীতি অনুসরণ করে, লেখকেরাও ভিন্ন ভিন্ন বানান রীতি অনুসরণ করেন। ফলে আমাদের দেশে প্রুফ রিডিংয়ের কাজের চাহিদা যথেষ্ট রয়েছে। এ বিষয়ে এডিটিং হাউস সম্পাদনার প্রধান সম্পাদক রাখাল রাহা প্রথম আলোকে বলেন, 'লেখকেরা আলাদা আলাদা বানানরীতি অনুসরণ করেন। তাঁদের লেখার ধারাবাহিকতা ও স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থায় প্রুফ রিডারদের চাহিদা রয়েছে।' রাখাল রাহা বলেন, 'প্রুফ রিডারকে বুঝতে হবে কোন লেখক এবং কোন হাউস কোন বানানরীতি অনুসরণ করে, সেটা মেনে কাজ করতে হবে। বাংলাবাজারকেন্দ্রিক প্রকাশনা সংস্থাগুলোয় প্রুফ রিডারদের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কারণ, সেখানে কারিগরি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। লেখা কম্পিউটার বা ওয়ার্ড ফাইলে নেওয়ার সময় ভেঙে যায়, সেগুলো সঠিকভাবে সম্পাদনার জন্য প্রুফ রিডার দরকার।' বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা ছাড়া প্রুফ রিডার হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে সংবাদপত্র, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা এবং সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে। এ ছাড়া প্রোডাকশন হাউসগুলোয় নাটক, সিনেমা ও বিভিন্ন ধরনের পাণ্ডুলিপি সংশোধনের জন্য প্রুফ রিডার নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রুফ রিডিংয়ে ভালো করতে চাইলে সাহিত্যবিষয়ক বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ পেশায় শিক্ষাসনদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। নিয়মিত অভিধান পড়তে হবে, যেন প্রয়োজনের সময় দ্রুত সঠিক বানানটি বের করা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের পিএইচডি গবেষক কবীর আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, 'প্রুফ রিডিংয়ের চাকরিতে নিজের সৃজনশীলতা দেখানোর সুযোগ আছে। মনোযোগ দিয়ে স্বল্প পরিশ্রমে সম্মানজনক উপার্জন করা সম্ভব। বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও কনটেন্ট রাইটিং হাউসে এই পেশায় দক্ষ জনবল দরকার হয়।' তিনি বলেন, 'প্রুফ রিডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে নিজের জানাশোনার আগ্রহ থাকা দরকার। শুদ্ধ করে বানান লেখার খুঁটিনাটি বিষয় আয়ত্তে রাখতে হবে। বানানের ক্ল্যাসিক ও আধুনিক ফরম্যাট সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে।' প্রুফ রিডার নিয়োগের জন্য গণমাধ্যম কিংবা চাকরির ওয়েবসাইটে খুব বেশি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় না। পরিচিতজনদের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। যাঁরা এই পেশায় আসতে চান, তাঁদের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। হাওলাদার প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মো. মাকসুদ প্রথম আলোকে বলেন, 'আগে যাঁরা প্রুফ রিডার হিসেবে কাজ করেছেন বা বর্তমানে করছেন, সাধারণত তাঁদের মাধ্যমে নতুন কর্মী নেওয়া হয়। অন্যান্য চাকরির মতো পত্রিকায় তেমন বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় না। শুধু বইমেলার সময় নয়, সারা বছরই প্রুফ রিডারদের দরকার হয়। কারণ, বইমেলায় বই আসে আগে তৈরি হয়ে। সেগুলো নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করার জন্য আগে থেকেই কাজ শুরু করতে হয়। তাই প্রতি মাসেই প্রুফ রিডার নিয়োগ দেওয়া হয়।' বাংলাবাজারভিত্তিক কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাসিক ও চুক্তি ভিত্তিতে প্রুফ রিডার নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ফর্মাভিত্তিক হিসেবেও কাজ দেওয়া হয়। মাসিক বেতন সাধারণত ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। যাঁর কাজ যত ভালো, তাঁর আয় তত বেশি। ভালো কাজ করে কেউ কেউ মাসে ৬০-৭০ হাজার টাকাও আয় করেন। আর ফর্মাভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন প্রতি ফর্মা ২০০ টাকা দেওয়া হয়। অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রতি ফর্মা এক হাজার টাকাও দেওয়া হয়। গবেষণাধর্মী বইগুলোর ক্ষেত্রে প্রুফ রিডারদের আয় অনেক বেশি হয়। কারণ, সেগুলোর পৃষ্ঠা বেশি এবং অনেক তথ্য থাকে। এসব সংশোধনের জন্য অভিজ্ঞ প্রুফ রিডার দরকার পড়ে।
1
ঢাকা : করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দোকানপাট, শপিংমলসহ সব ধরনের কেনাকাটায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।আজ মঙ্গলবার বিকালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে করণীয় সম্পর্কে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সব পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপারগণ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।আইজিপি বলেন, কেনাকাটায় দোকানদার এবং ক্রেতা উভয়কে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। শপিংমলের প্রবেশপথে স্যানিটাইজার ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে শরীরের তাপমাত্রা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে এক সঙ্গে দোকানে বেশি লোকের প্রবেশ নিরুৎসাহিত করতে হবে। বড় দোকানের ক্ষেত্রে ক্রেতার অবস্থান গোল চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট করে রাখতে হবে।আইজিপি আরও বলেন, আমরা সকলে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চললে করোনা সংক্রমণ কমবে, মৃত্যুর হারও কমবে। তিনি বলেন, করোনাকালে জীবন চালাতে হবে, আবার জীবিকাও চালাতে হবে।বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, তাঁরা প্রতিটি মার্কেটের সামনে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রেখেছেন। শতভাগ মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা হয়েছে। বড় বড় শপিংমলে জীবাণুনাশক টানেল বসানো হয়েছে।
6
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রদেশের আভা বিমানবন্দরে ফের ড্রোন হামলা হয়েছে। এই হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে একটি যাত্রীবাহী বিমানও ধ্বংস হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয় বার ড্রোন হামলা হল সৌদির ওই বিমানবন্দরে। যদিও এখনও পর্যন্ত হামলার দায় নেয়নি কোনো সংগঠন। বেশ কয়েক বছর ধরে ইয়েমেনের হুথি ও সৌদির সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন সংগঠনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। সেই যুদ্ধের ফলেই এই হামলা কি না তা এখনও জানা যায়নি। সৌদি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ড্রোনটিকে আগেই চিহ্নিত করেছিল তারা। নইলে আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদি ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্টকে ফেরাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। সৌদি জোটের হামলার জবাবে ইয়েমেনের হুথিরা প্রায়ই সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার যুদ্ধাপরাধের মতো ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ইউক্রেনে,এমন অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রধান কৌঁসুলি ইরিনা ভেনেডিকটভা। নেদারল্যান্ডের দ্য হেগ শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় ৬০০ সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ৮০টি ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাশিয়া অবশ্য বরাবরই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইরিনা ভেনেডিকটভা জানিয়েছেন, ১৫ হাজার যুদ্ধাপরাধের ঘটনার মধ্যে কয়েক হাজার হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় ডোনবাস অঞ্চলে, যেখানে ইউক্রেনের সেনাদের সঙ্গে রুশদের তীব্র লড়াই হয়েছে। ওই অঞ্চলে যুদ্ধাপরাধের যেসব ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে আছে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের রাশিয়ার দুটি আলাদা এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, নির্যাতন, বেসামরিক নাগরিক হত্যা, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করাও সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধের মধ্যে রয়েছে। "লড়াই চলার সময় তদন্ত করা খুব কঠিন কাজ," ইরিনা ভেনেডিকটভাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ। এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও স্লোভাকিয়াও এসব ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া আগে থেকেই সহায়তা করছে। দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম কোর্ট ইতোমধ্যেই ইউক্রেনকে 'অপরাধ ক্ষেত্র' হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং ইতোমধ্যেই সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তাদের একটি বড় দলকে ইউক্রেনের তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ছেড়ে দিয়েছে। এমনকি তারা কিয়েভে একটি কার্যালয় নেওয়ারও আশা করছে। এদিকে, মঙ্গলবার দু'জন রাশিয়ান সেনাকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বেসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণের দায়ে। এছাড়া ইউক্রেনে আরও একজন রুশ সেনার বিচার শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে। তার বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক ন্যায়পাল বরখাস্ত ওদিকে ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক ন্যায়পালকে দেশটির পার্লামেন্ট বরখাস্ত করেছে। লুদমিলা ডেনিসোভার বিরুদ্ধে অভিযোগ হল তিনি মানবিক করিডোর তৈরি করে বন্দি বিনিময় কার্যক্রম সঠিকভাবে করতে পারেননি। একইসাথে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের যে অভিযোগ উঠেছে সেটিও ঠিকমতো সামাল দিতে পারেননি বলে স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
দেশে বিচারাধীন মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, বিচারক সঙ্কটের কারণে আদালতে প্রতিদিন মামলাজট বেড়েই চলছে। দেশে প্রতি ১০ লাখ লোকের জন্য বিচারক আছেন মাত্র ১০ জন। যেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১৮ জন, ব্রিটেনে ৫১ যুক্তরাষ্ট্রে ১০৭, কানাডায় ৭৫ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৪১ জন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। দেশের বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার-সংক্রান্ত একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদন তুলে ধরতে আজ শনিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এমন মন্তব্য করেন। সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়াল রিফর্ম কমিটি ও জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই আয়োজন করে। প্রধান বিচারপতি বলেন, মামলাজট নিরসন ও বিচার প্রার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতে কাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সঠিক মামলা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই বিচারক সঙ্কট, অবকাঠামোগত অপ্রতুলতাকে মামলাজটের অন্যতম কারণ মনে হলেও শুধুমাত্র বিচারক বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে এ অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন সঠিক মামলা ব্যবস্থাপনা; যা নিশ্চিতে আমাদের দুটি ধাপে কাজ করতে হবে। প্রথমত, প্রাতিষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থায় মামলা দায়েরের হার কমানো এবং দ্বিতীয়ত, মামলা দায়েরের পর প্রতিটি পর্যায়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মত দেশগুলোতে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মামলা পারস্পরিক বোঝাপড়া বা বিকল্প ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। বড়জোড় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয় আদালতে। আর আমাদের দেশে এর চিত্র ঠিক তার বিপরীত। এদেশে কেবল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয় বোঝাপড়া বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে। আর ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয় আদালতে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি ব্যবহারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থায় মামলা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিকল্পভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচলিত আইনি বিধানগুলো আরও সূক্ষ্মভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের কারাগারগুলো বিচারাধীন মামলার আসামিতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের জন্য জিআইজেডের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। জিআইজেড কারাগারগুলোতে আইনি উপদেষ্টা পরিষেবা চালু করেছে, যা মামলাজট হ্রাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত কারাবন্দির চাপও কমিয়ে আনবে বলে আমি আশা করি। সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল জুডিশিয়াল রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান ও আপিল ভিাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) বাংলাদেশের প্রধান জুডিথ হারবার্টসন, জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মাইকেল শুলথহাইস ও জিআইজেড বাংলাদেশের রুল অব ল'র হেড অব প্রোগ্রাম প্রমিতা সেন গুপ্ত। এছাড়া জাস্টিস অডিটের ফলাফল উপস্থাপন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ম্যাপিং সেন্টারের পরিচালক জোসেপ এরিক ক্যাডোরা।
6
অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব নিজে চিত্রনাট্য লিখেছেন, পরিচালনাও করেছেন। তবে এখন লেখায়-নির্মাণে অত সময় দিতে না পারলেও মাঝেমধ্যে কিছু গল্প ভাবেন। অপূর্বর গল্প-ভাবনায় সম্প্রতি তৈরি হলো নাটক 'স্পাই'। চিত্রনাট্য লিখেছেন মেজবাহ উদ্দীন সুমন, পরিচালনা করেছেন রুবেল হাসান। নাটকে অপূর্বকে দেখা গেছে সিকিউরিটি গার্ডের পোশাকে। সহ-অভিনেতা হিমে হাফিজ জানালেন, এমন পোশাকে দেখা গেলেও অপূর্ব আসল সিকিউরিটি গার্ড নন। মূল সিকিউরিটি গার্ড হিমে হাফিজকে তাড়িয়ে তিনি ছদ্মবেশে ওই বাড়িতে ঢোকেন একটি বিশেষ উদ্দেশে। 'স্পাই' নাটকে অপূর্বর সঙ্গী হয়েছেন সাবিলা নূর।
6
জুভেন্টাসের পর্তুগিজ ফুটবলার নিজেই একটা রেকর্ড বই! ফুটবল ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময়ে নিজের নাম লিখিয়ে রেখেছেন তিনি। এক দিক দিয়ে সেই রোনালদোকে টপকে গেলেন লিভারপুলের মিশরীয় ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এখন রোনালদোর সমান ৮৪ গোল তার। অবশ্য এই ৮৪ গোল করতে রোনালদোর চেয়ে অনেকগুলো ম্যাচ কম খেলেছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি করার আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর খেলেছেন রোনালদো। এই সময়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তিনি ১৯৬ ম্যাচে করেছেন ৮৪ গোল। এ মাইলফল স্পর্শ করতে সালাহর লেগেছে মাত্র ১৩১ ম্যাচ। অর্থাৎ রোনালদোকে ছুঁতে তার চেয়ে ৬৫ ম্যাচ কম খেলেছেন মিশরের ফুটবলার। রবিবার রাতের খেলায় উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্য। ৪-০ গোলে জেতা মাচে দলের হয়ে প্রথম গোলটিই তার পা থেকে আসে। এ নিয়ে অল রেডদের জার্সিতে ১১৮ ম্যাচে তার গোল ৮২টি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মোহামেদ সালাহ লিভারপুল ছাড়াও খেলেছেন চেলসির হয়ে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্টামফোর্ড ব্রিজে ছিলেন তিনি। ৮৪ গোলের বাকি দুটি এসেছে সেই চেলসির হয়ে ১৩ ম্যাচ থেকে। চেলসির হয়ে খেলার পর ধারে তিনি খেলতে যান ইতালিয়ান সিরি আর ফিওরেন্তিনাতে। সেখান থেকে আবার ধারে চুক্তি করেন রোমার সঙ্গে। রোমা থেকে ২০১৭ সালে লিভারপুলে নাম লেখান তিনি। বাকিটা তো বলা যায় ইতিহাসই। অলরেডদের জার্সিতে সব মিলিয়ে ১৬৯ ম্যাচে তার পা থেকে এসেছে ১০৫ গোল। লিভারপুল, চেলসি, ফিওরেন্তিনা ও রোমা ছাড়াও মোহামেদ সালাহ খেলেছেন বেলজিয়ামের দল বাসেল ও নিজ দেশের ক্লাব আল মোকাওলানের হয়ে। ক্লাব ফুটবলে সব মিলিয়ে ৪২০ ম্যাচে তার গোল ১৮২টি। দলটির হয়ে অসাধারণ নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের মুকুটও জয় করেন এ তারকা। জাতীয় দল মিশরের হয়ে দুর্দান্ত সালাহর পারফরমেন্স। ২০১১ সালে দেশের হয়ে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত তিনি ম্যাচ খেলেছেন ৬৮টি। এই ৬৮টি ম্যাচে তিনি ৪৩ বার লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হয়েছেন। শিরোপা জিততে না পারলেও ২০১৭ সালের আফ্রিকা নেশন্স কাপে রানার্সআপ হয়েছে তার মিশর।
12
'জাতীয় ঐক্য' গড়তে বৈঠকে বসেছেন যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের নেতারা। তাঁদের সঙ্গে আছেন বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ডা. জাফরুল্লাহ। আজ মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বেইলি রোডে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বাসায় এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উপস্থিত আছেন ড. কামাল হোসেন এবং যুক্তফ্রন্টের তিন দল বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মহাসচিব আবদুল মান্নান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ। বিগত কয়েক মাস ধরেই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছিলেন ড. কামাল হোসেন। গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্ট এ ব্যাপারে এগিয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বিএনপিও বৃহত্তর ঐক্য গড়ার কাজ করে আসছে। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে জামায়াতে ইসলামী থাকার কারণে অনেক দলই বিএনপির সঙ্গে ঐক্য প্রক্রিয়ায় যেতে চায়নি। তবে এখন ২০-দলকে আলাদা রেখে বিএনপি অন্য দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও আজকের বৈঠকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনো নেতা নেই। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, ডা. জাফরুল্লাহ অনেক দিন থেকেই বর্তমান সরকারের বাইরে থাকা দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করছেন। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলীয় মহাসচিবকে দল ও জোট ঠিক করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
9
গোপালগঞ্জে ৪১তম জাতীয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবেউপস্থিত থেকে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং গোপালগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় গোপালগঞ্জ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৭ ও ২৮ মে দুই দিন চলবে সাইক্লিং প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সানজিদা খানমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মৌলভীবাজার-কুলাউড়া, রাজনগর-বালাগঞ্জ ও রাজনগর-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দু'পাশ ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর চলে এসেছে বিভিন্ন গাছ ও লতাপাতা। সড়কের দুই পাশে কোনো জায়গা খালি নেই। মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। যানবাহন এলে পথচারীদের সরে দাঁড়ানোর জায়গাও থাকে না।ঝোপঝাড়ের কারণে সড়কে বাঁকের উল্টো দিক থেকে কোনো পরিবহন আসছে কি না তাও দেখার সুযোগ নেই। ফলে প্রায় ঘটছে ছোট খাটো দুর্ঘটনা। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে বৃষ্টির কারণে ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা সড়ক বিভাগ।সড়ক বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, 'এই মহাসড়কের দু'পাশে ঝোপঝাড় বৃষ্টির জন্য বেটে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। আমরা দ্রুত পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি। জেলার কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের ঝোপঝাড় জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। পথচারীদেরও হাঁটার কোনো জায়গা নেই। ঝোপঝাড়ের কারণে প্রায় দুর্ঘটনার ঘটছে।স্থানীয় বাসিন্দা অর্জুন মোহন দেব বলেন, 'এ সড়কের দু'ধারের ছোট ছোট গাছ বেড়ে সড়কের ওপরে উঠে এসেছে। পথচারীরা প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া সড়কের অনেক জায়গায় বাঁক থাকায় অপর দিক থেকে গাড়ি দেখা যায় না। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে।অটো চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, 'সড়কের দু'পাশে ঝোপঝাড় থাকায় আমাদের অটো চালাতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। পথচারীদেরও হাঁটার কোনো জায়গা নেই। সড়কের ওপর দিয়ে পথচারীরা হাঁটা চলা করেন। দিনের বেলায় ঝোপঝাড় থেকে গরু ছাগল হঠাৎ এসে সামনে পড়ে। ফলে তখন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।'
6
মনঃসংযোগ বাড়াতে অনেকেই রুবিকস কিউব মেলাতে পছন্দ করেন। অনেকেই শুধু খেলার ছলে। তবে সাইকেল চালাতে চালাতে কাউকে রুবিকস কিউব মেলাতে দেখেছেন? জবাবটা সম্ভবত 'না' হবে। তবে এ কাজ করেছে ভারতের জয়াদর্শন ভেঙ্কতেশান নামের এক কিশোর। সাইকেল চালাতে চালাতে কয়েক সেকেন্ডে রুবিকস কিউব মিলিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের পাতায় নাম লিখিয়েছে সে। জয়াদর্শনের বাড়ি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, অবিশ্বাস্য দ্রুততার সঙ্গে রুবিকস কিউব মেলাতে পারে জয়াদর্শন। শুধু তা-ই নয়, রুবিকস কিউব মেলানোর সময় সে একই সঙ্গে সাইকেল চালাতেও পারে। দ্রুততার সঙ্গে এ কাজ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে জয়াদর্শন। গিনেস কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে জয়াদর্শনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় ওই কিশোর সাইকেল চালাচ্ছে। এর মাঝেই গভীর মনোযোগে রুবিকস কিউব মেলাতে ব্যস্ত তার দুই হাত। ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, সাইকেল চালাতে চালাতে রুবিকস কিউব মেলাতে জয়াদর্শন মাত্র ১৪ দশমিক ৩২ সেকেন্ড সময় নিয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রুবিকস কিউব মেলাতে গভীর মনোযোগ ও অধ্যবসায়ের প্রয়োজন। জয়াদর্শন টানা দুই বছর এটা নিয়মিত অনুশীলন করেছে। এরপরই ধরা দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। রেকর্ডের খাতায় নাম উঠেছে ভারতীয় এ কিশোরের। চেন্নাইয়ের অপর এক ব্যক্তি দুই বছর আগে পানিতে ডুবে থেকে রুবিকস কিউব মিলিয়ে রেকর্ড গড়েন। ইলায়রাম সেকার এক ডুবে ছয়টি রুবিকস কিউব মিলিয়েছিলেন। সময় নেন ২ মিনিট ১৭ সেকেন্ড। এর মধ্য দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠে তাঁর। এর আগের রেকর্ডটি ছিল এক ডুবে পাঁচটি রুবিকস কিউব মেলানোর।
3
ইউক্রেনের আকাশসীমায় রুশ বাহিনীর যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইউক্রেনের এয়ার ফোর্স কমান্ডের এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই উপস্থিতি গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিবিসির লাইভ আপডেটে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের আকাশসীমায় মনুষ্যবিহীন অনেক আকাশযান ব্যবহারের পাশাপাশি বোমারু বিমান, হামলা ও যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল এবং ব্যালিস্টিক মিসাইলের ব্যবহার হচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, সোমবার ইউক্রেন রাশিয়ার একটি বিমান, দুটি হেলিকপ্টার এবং ছয়টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে বিবিসি এসব দাবির সত্যতা যাচাই করেনি। এর আগে সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশের বাহিনী রাশিয়াকে উপসাগর থেকে অনেক দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। রুশ বাহিনী 'ধীরে ধীরে' অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে আর তাদের প্রচেষ্টাকে এখনও পর্যন্ত 'প্রতিহত' করেছে আমাদের বাহিনী। রুশ বাহিনীকে তারা 'দমিয়ে দিতে' সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। জেলেনস্কি আরও দাবি করেন, ইউক্রেনের বাহিনী খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার আরেকটি বিমান ভূপাতিত করেছে। রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের পাইলটদের কথা বলতে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, 'তাদের অবশ্যই হৃদয়ের পরিবর্তে শূন্যতা রয়েছে। একটি আত্মার পরিবর্তে। সবকিছুর পরিবর্তে, যা মানুষকে মানুষ করে।' এদিকে সোমবার ইউক্রেনের মারিউপোল শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেয় মস্কো। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে কিয়েভ বলে, শেষ সৈন্য বেঁচে থাকা পর্যন্ত লড়াই চলবে। শহরটিতে তাদের পরাজয় হলে সেটি হবে রাশিয়ার জন্য কৌশলগত বিজয়। সেখান থেকে ক্রিমিয়ায় সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন রুশ সেনারা। মারিউপোলে আটকে পড়া বাসিন্দারা বলছেন, তাদের শহরটি এখন কার্যত পৃথিবীর বুকে এক নরক। মারিউপোল আজভ সাগরের তীরে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর। প্রথমত, সেখানে পরাজয় হলে আজভ সাগরের সঙ্গে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ইউক্রেন। দ্বিতীয়ত, এটি যুদ্ধে রাশিয়াকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। ক্রিমিয়ায় পানি সরবরাহের যে খালের মুখে ইউক্রেন বাঁধ দিয়েছে, সেটি খুলে দিতে পারবে রাশিয়া। যে কারণে এই যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে থাকা দেশগুলোর নজর এখন মারিউপোলের দিকে।
3
সুন্দরবন ভ্রমণে এখন আগের চাইতে বেশি খরচ করতে হবে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সুন্দরবন ভ্রমণের প্রায় সবগুলো খাতে কর ও ফি বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সুন্দরবনে গেলে দৈনিক ভিত্তিতে ভ্রমণ ফি, প্রবেশ ফি, তথ্য কেন্দ্রের ফি, গাইড ফি, লঞ্চ ক্রু ফি, নিরাপত্তা গার্ড ফি, টেলিকমিউনিকেশন ফি, ভিডিও ক্যামেরা ফি, তীর্থ ফি, ট্রলার ফি এবং বিশ্রামাগার ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে সরকারকে টাকা দিতে হয়। এর মধ্যে অনেকগুলো খাতে ফির পরিমাণ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করায় বিদেশি পর্যটকদের খরচ অনেক বেশি বেড়েছে। বনবিভাগের এই সিদ্ধান্ত ভ্রমণ মৌসুমের শেষ সময়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ ম্যানগ্রোভ বনে যেতে পর্যটকদের বিমুখ করবে কি না, সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সুন্দরবনের সাধারণ জায়গাগুলোতে মাথাপিছু দেশি পর্যটকের ভ্রমণ ফি ৭০ টাকার বদলে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। এসব জায়গায় বিদেশি পর্যটকদের খরচ ১০০০ টাকার বদলে ২০০০ টাকা করা হয়েছে। সুন্দরবনের ভেতরে কটকা, কচিখালী, নীলকমল, হিরণ পয়েন্ট, নোটাবেকী, পুষ্পকাঠী, মান্দারবাড়িয়া, হলদেবুনিয়ার মতো সরকার ঘোষিত অভয়ারণ্যগুলোতে দেশি পর্যটকদের প্রতিদিনের ভ্রমণ ফি ১৫০ টাকার জায়গায় ৩০০ টাকা বিদেশি পর্যটকদের ফি ১৫০০ টাকার জায়গায় ৩০০০ টাকা হয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকার দেশের পর্যটন খাতের বিকাশের কথা বললেও হঠাৎ করে রাজস্ব বাড়ানোর ফলে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্প নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়বে। এর ফলে সুন্দরবনের প্যাকেজ ভ্রমণের খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
6
দেশে নতুন করে কেউ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়নি। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ৩ জনের নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে দুই জনের নমুনা নেগেটিভ এসেছে। পরবরতী পরীক্ষায় নেগেটিভ এলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। করোনা সন্দেহে দেশে এখন পর্যন্ত মোট ১৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘন্টায় ১০জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে তাদের কারও শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
4
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পুকুরপাড় ফয়জুল উলুম মহিউচ্ছুন্নাহ কওমী মাদ্রাসার এক ছাত্রকে (১২) বলাৎকারের অভিযোগে বেলাল হোসেন (২৮) নামে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। নির্যাতিত ছাত্রের বাবা অভিযোগ করেন, তার ছেলে ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। শিক্ষক বেলাল হোসেন নানা ওসিলায় হাসানকে তার রুমে ডেকে নিয়ে হাত পা মালিশ করাতেন। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে ছেলেটিকে তার রুমে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করেন। ছেলেটি পরে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি এসে তার বাবা-মাকে জানালে তারা লোকজন নিয়ে শুক্রবার ওই মাদ্রাসায় এসে বলাৎকারের অভিযোগ করেন। এরপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষক বেলাল হোসেনকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটক করে রাখে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি জয়নুল আবেদীন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাস জানান, শিক্ষক বেলালকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
6
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শাসনগাছা রেলক্রসিংয়ে ঢাকাগামী মালবাহী ট্রেন-সিএনজি (অটোরিকশা) সংঘর্ষে একজন নিহত তিনজন আহত হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শাসনগাছা রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) নিয়ে গেলে ফরিদ মুন্সি (৭০) নামের ১জনকে মৃত ঘোষনা করেন জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তার স্ত্রী পেয়ারা বেগম, মেয়ে আখি আক্তার ও চালক (নিহতের ভাগিনা) রাকিবুল। জানা যায়, কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে ডাক্তার দেখানোর জন্য শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন একি পরিবারের ৪সদস্য। স্থানীয়রা জানায়, শাসনগাছা রেলক্রসিংয়ে রেলগেটের ফাঁকা অংশ দিয়ে দ্রুত সময়ে সিনএজি চালিত অটোরিকশাটি পারাপারের চেষ্টা করলে ঢাকাগামী একটি ট্রেন ধাক্কা দিয়ে ১০০গজ সামনে খোকন মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যায়। এসময় সিএনজি চালকসহ ৪জন আহত হয়। কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার সফিকুর রহমান জানান, ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রেন শাসনগাছা রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময়ে রেললাইনের উপরে একটি যাত্রীবাহী সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে মুচড়ে যায় ও যাত্রীরা আহত হয়। দুর্ঘটনায় ট্রেনের এয়ার পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে সেটির মেরামত করা হচ্ছে।
6
কাজল, রানি মুখার্জিদের বাড়ির দুর্গাপুজা মুম্বাইয়েও বেশ জনপ্রিয়। মুখোর্জি বাড়ির পুজাতে অংশ নেওয়ার জন্য দূর দূর থেকে লোক ছুটে আসেন। তার কারণ ভোগ খাওয়া এবং সামনে থেকে কাজল, রানিদের এক ঝলক দেখে নেওয়া। প্রতিবারই নিয়ম মেনে কাজল ও রানিরা এই পুজায় রীতিমতো কোমর বেঁধে নেমে পড়েন। পুজার প্রত্যেকটি আচার-অনুষ্ঠানে অংশও নেন তাঁরা। তবে করোনার কারণে গত বছর থেকেই একটু অন্যরকম মুখার্জি বাড়ির পুজা। আর এবার তো বাইরের দর্শনার্থীদের ভিতরে ঢোকার অনুমতিই নেই। সম্প্রতি সামনে এল কাজল ও রানির বাড়ির পুজার এক ভিডিও। যেখানে লাল শাড়িতে দেখা গেল কাজলকে। গত বছরের পুজায় বাড়িতে আসতে পারেননি কাজল। দেখা হয়নি কাকা, জ্যাঠাদের সঙ্গে। ভিডিওতে দেখা গেল কাকা, জ্যাঠাদের সামনে পেয়ে জড়িয়ে ধরলেন কাজল। ক্যামেরার সামনেই কেঁদে ফেললেন। কাজলের এই অবস্থা দেখে তাঁকে সামলে নিলেন কাকা দেব মুখার্জি। মুছে দিলেন কাজলের চোখের পানি। সপ্তমী থেকে দশমী মুখার্জি বাড়িতেই কাটান কাজল। এই পুজাতে অংশ নেন স্বামী অজয় দেবগনও। সঙ্গে থাকেন কাজলের কন্যা ও পুত্র। পুজার কয়েকটা দিন কাজল একেবারেই বাঙালি মেয়ে। শাড়ি পরেন, ভোগ খান, পুজার নানা অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তও হন। ঢাকের তালে নাচেনও কাজল।
2
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড আমাদের সামনে চিন্তার নতুন দরোজা খুলে দিতে পারে। নিষ্ঠুর, অমানবিক ও বেদনাদায়ক এ হত্যার পর প্রশ্ন উঠতে পারে, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ রকম খুনি-নিপীড়ক তৈরি হয়? বিশেষ করে বুয়েটের মতো বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হন, দেশ-বিদেশে যে প্রতিষ্ঠানের স্নাতকদের বিপুল স্বীকৃতি, সেখানে কীভাবে এ রকম নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড হতে পারে? এ রকম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে একাধিক 'টর্চার সেল' থাকতে পারে? কেমন করে দীর্ঘদিন যাবৎ টিকে আছে এ ধরনের নিপীড়ন-সহায়ক প্রতিষ্ঠান? সহপাঠি ও সিনিয়র শিক্ষার্থী, যাঁরা আবরারের মতোই মানুষরূপী, কীভাবে তাঁরা এতটা অমানবিক হতে পারেন? একজন শিক্ষার্থীকে সামান্য একটি ফেসবুক মন্তব্যের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিপীড়ন করে হত্যা করতে পারেন! পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই যুগের বেশি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিজ্ঞতার জোরে আমি বলতে পারি যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো একেকটি নিপীড়ক গড়ার কারখানা। রাজনৈতিক দলের কাছে অতি-আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া এবং নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যে ইঁদুরদৌড় প্রতিযোগিতা বিদ্যমান, তা এ ধরনের নিপীড়ক তৈরির মূল কারণ। এখানে বলা প্রয়োজন যে আবরার হত্যাকাণ্ড আমাদের সামনে কেবল রাজনৈতিক নিপীড়নের চরিত্র তুলে ধরে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুধু রাজনৈতিক নিপীড়ন নয়, সন্ত্রাস ও অপরাধের অভয়ারণ্য নয় শুধু, এখানে যৌন নিপীড়নসহ আরও নানা ধরনের নিপীড়ক গড়ে ওঠে মূলত প্রশাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায়। এটা কীভাবে হয়, তা বিশ্লেষণ করার আগে আমাদের জানা দরকার শিক্ষার্থীরা, যাঁরা পড়তে আসেন, তাঁরা আসলে কতটা সন্ত্রাসী হয়ে আসেন এবং কতটা মানুষ হিসেবে আসেন। প্রতিবছর এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যেসব শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসেন, শুরুতে তাঁরা একেবারেই নিষ্পাপ থাকেন। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই শুরুতে প্রচণ্ড রাজনীতিবিমুখ থাকেন। সবারই স্বপ্ন থাকে শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং ব্যক্তি ও পরিবারের সব সদস্যকে গৌরবান্বিত করা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদের সামনে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে দেয় যে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রচণ্ড নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীও নিপীড়ক হয়ে ওঠেন। সরলীকরণের ঝুঁকি নিয়ে বলা যায়, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউই খুনি হিসেবে বুয়েটে ভর্তি হননি, এসেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে। কিন্তু ঘটনাচক্রে তাঁরা প্রত্যেকেই আজ খুনি। কেমন করে তৈরি হয় এসব খুনি? এটা বুঝতে হলে একটু বুয়েটের হত্যাকাণ্ডের দিকে নজর দিতে হবে। আবরার খুন হওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের সামনে আসেননি। নিজের নিহত শিক্ষার্থীকে একনজর দেখার প্রয়োজনবোধ করেননি তিনি। উপাচার্য স্বীকার করেছেন, এ সময় তিনি মন্ত্রী ও অন্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করছিলেন। অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় যে দীর্ঘ সময় আবরারের লাশের সামনে হলের প্রভোস্ট খুনিদের সঙ্গে নির্লিপ্ত আলাপচারিতায় ছিলেন। পুলিশ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল হলের বাইরে। বিভিন্ন পত্রিকা থেকে জানা যায়, সেখানে মাদক রাখার দায়ে একটি গণপিটুনির নাটক করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, খুনিদের রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন উপাচার্য এবং প্রশাসনের অন্য কর্তারা। এটা ছিল এ পর্যায়ের শেষ চেষ্টা। এ রকম অনেক চেষ্টা, আর ঘটনার আড়াল হলগুলোতে টর্চার সেল বানাতে ও টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হয়েছিল। শুধু বুয়েটের সিএসই বিভাগের তৈরি করা ওয়েবপেজে গত আড়াই বছরের শিক্ষার্থীরা ১০৩টি অভিযোগ করেছেন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করে বিআরটিএ ইতিমধ্যে তা বন্ধ করে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমন ঘটনা কেবল বুয়েটেই সীমাবদ্ধ নয়, কমবেশি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ রকম নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বিচার চেয়ে কোনো প্রতিকার পান না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক আবাসিক হল থাকে, যাতে প্রভোস্ট পদে একজন শিক্ষক থাকেন। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষক ওয়ার্ডেন, আবাসিক শিক্ষক, সহ-আবাসিক শিক্ষক হিসেবে থাকেন। সব মিলিয়ে ১০-১৫ জনের একটি টিম থাকে। টিমের প্রায় সবাই সাধারণত সরকারি দলের অনুগত শিক্ষক হয়ে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর, প্রভোস্ট ইত্যাদি পদগুলোকে শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল 'অর্থকরী পদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ভাইস চ্যান্সেলর তাঁর নিজের ক্ষমতাবলে বিতরণ করেন। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া নিয়োগপ্রাপ্ত অধিকাংশেরই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে, আর্থিক-জাগতিক লোভ-লালসা থাকে। তাঁদের দায়িত্ব ছিল হল প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধান, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার দেখভাল করা। কিন্তু কার্যত তাঁরা হল প্রশাসনের সব দায়িত্ব ছাত্রসংগঠনের হল কমিটির নেতা-কর্মীদের ওপর ছেড়ে দেন। এর মাধ্যমে তাঁরা মূলত ছাত্রনেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন, যা তাঁদের আরও উচ্চ পদ লাভে সহায়ক হয়। আর্থিক ও পদলোভী 'আত্মসম্মানহীন শিক্ষকেরা', মুহম্মদ জাফর ইকবালের ভাষায়, 'দেখতে দেখতে কেঁচোর মতো হয়ে যান।' ফলে তাঁদের কাছে ভোটের আগে ব্যালট ভর্তি করা যেমন কোনো ব্যাপার নয়, তেমনি ছাত্রদের বাঁচানোর কোনো দায়ও থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা থেকে বাঁচতে অসহায় শিক্ষার্থীরা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এতে তাঁদের ঝামেলা বাড়ে, কমে না। জগতে সবার মনের জোর যেমন এক নয়, তেমনি সবার নৈতিক জোরও এক রকম নয়। ফলে, অনেক শিক্ষার্থীই গড্ডলিকাপ্রবাহে গা ভাসিয়ে দেন। মাস্তান হিসেবে পাঁচ বছর কাটিয়ে দেন। তাঁরা জানেন যে কোনো অপকর্ম করলে তাঁদের বাঁচানোর জন্য প্রশাসন সবকিছু করবে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে কেউ কেউ প্রথমে নিপীড়ক হন, তারপর মানসিকভাবে খুনি হন। ১৯৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রশাসন চেষ্টা করেছে খুনিদের বাঁচাতে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর প্রথমবারের মতো একটি খুনের (যুবায়ের হত্যা) বিচার সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু বিচারের পর দেখা গেল দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিরা আমাদের নিয়ে তামাশা করে বিদেশ থেকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন: 'আমি পাখির মতো মুক্ত...এখন আমি উড়তে পারি...!' খুনিদের এই উড়তে পারা নতুন নতুন খুনি তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আর রাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া এঁরা কখনোই উড়তে পারতেন না। আর এঁদের ডানা কাটা থাকলে আজ আবরারকে মরতে হতো না। মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম: শিক্ষক ও গবেষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।[]
8
সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বুধবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সকালে অন্তত ১০ বার পাতলা পায়খানা হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা এখনো স্থিতিশীল হয়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। অবস্থা আরও খারাপের দিকে গেলে তার জন্য আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সুচিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী সার্কিট হাউজ থেকে কামরুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিভিআইপি কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তির পর তাকে প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শরীরে প্রচুর পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। রক্তচাপ কমে গেছে। এ জন্য আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া সুচিকিৎসার অধ্যাপক খলিলুর রহমানকে প্রধান করে সংশ্লিষ্ট নয়জন চিকিৎসককে নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বার কাউন্সিল নির্বাচন ২০২২ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনীত প্যানেলের পরিচিতি পর্ব উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ১১ রাজশাহী ১নং বার ভবনে তিনিসহ অন্য প্রার্থীগণ উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এর আগে রাজশাহী সার্কিট হাউজে অবস্থান করছিলেন তিনি।
6
আইপিএলের প্রথম সাক্ষাতে জিতেছিল চেন্নাই সুপার কিংস। দ্বিতীয় সাক্ষাতে মধুর প্রতিশোধ নিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির দলকে ৫ উইকেটে হারালেন রোহিত শর্মারা। ফলে আইপিএলের নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ কঠিন হল চেন্নাইয়ের। টস জিতে প্রতিপক্ষকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান রোহিত। ড্যানিয়েল স্যামসের দাপটে শুরুতেই ধাক্কা খায় চেন্নাই। প্রথম ওভারেই ২ উইকেট হারায় চার বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। ওপেনার ডেভন কনওয়ে এবং তিন নম্বরে নামা মইন আলিকে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরিয়ে দেন স্যামস। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে প্রথম ওভারেই চাপে পড়ে যায় চেন্নাই। দ্বিতীয় ওভারে চেন্নাইয়ের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেন যশপ্রীত বুমরা। তিনি ফিরিয়ে দেন চার নম্বরে নামা রবীন উথাপ্পাকে (১)। মাত্র ৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি চেন্নাই। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় ধোনির দল। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। দলের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও উইকেটের একদিক আগলে রাখেন ধোনি। বাইশ গজের অপর প্রান্তে একের পর এক সতীর্থকে আউট হতে দেখেও শান্ত ভাবে ব্যাটিং করে গেলেন ৪১ বছরের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকলেন ৩৩ বলে ৩৬ রান করে। মারলেন ৪টি চার, ২টি ছয়। চেন্নাইয়েরদ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ডোয়েন ব্যাভোর ১২। মাত্র ১৬ ওভারেই ৯৭ রানে শেষ হয়ে গেল চেন্নাইয়ের ইনিংস। স্যামস ছাড়াও দুরন্ত বোলিং করলেন বুমরা। স্যামস ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নিলেন ৩ উইকেট। বুমরার ৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে ১ উইকেট। তিনি একটি ওভার মেডেন পেলেন। কুমার কার্তিকেয় ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং রিলি মেরেডিথ ২৭ রানে ২ উইকেট নিলেন। ৯৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাল মুম্বাইও। মাত্র ৬ রানেই মুকেশ চৌধুরীর বলে আউট হলেন ওপেনার-উইকেটরক্ষক ঈশান কিশন। দ্রুত আউট হলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মাও। ১৪ বলে ১৮ রান করে তিনি আউট হলেন সিমরজিত সিংহের বলে। ৪টি চার মারলেন তিনি। রান পেলেন না তিন নম্বরে নামা স্যামস (১)। মুকেশ চৌধুরীর দুরন্ত বোলিংয়ের সামনে পর পর উইকেট হারিয়ে পাল্টা চাপে পড়ে যায় মুম্বাইও। রোহিতের দলকে চাপে রাখতে মুকেশকে শুরুতেই টানা চার ওভার বল করালেন ধোনি। শেষ পর্যন্ত ২৩ রানে ৩ উইকেট নিলেন মুকেশ। উইকেটের অন্য প্রান্ত থেকে মুম্বাইয়ের ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রাখলেন সিমরজিতও। তাকেও টানা ৪ ওভার বল করালেন চেন্নাই অধিনায়ক। সিমরজিত ২২ রান দিয়ে পেলেন ১ উইকেট। মাত্র ৩৩ রানে ৪ উইকেট চলে যাওয়ার পর মুম্বাই ইনিংসের হাল ধরেন তিলক বর্মা এবং হৃত্বিক শোকীন। পঞ্চম উইকেটের জুটিতে তারা ধীরে ধীরে চাপ কাটান। তাদের জুটিতে উঠল ৪৮ রান। চেন্নাইয়ের পরের বোলাররা অবশ্য আর শুরুর চাপ ধরে রাখতে পারলেন না। শোকীনকে ১৮ রানে আউট করলেন মইন আলি। অবশ্য দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়লেন। তিনি অপজারিত থাকলেন ৩২ বলে ৩৪ রান করে। মারলেন ৪টি চার। টিম ডেভিড করলেন ৭ বলে অপরাজিত ১৬ রান। ১৪.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১০৩ রান করল মুম্বাই।
12
আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটি থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীরকে পৃথক দুই মামলায় জামিন দিয়েছেন আদালত।গতকাল মঙ্গলবার গুলশান থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা এবং পল্লবী থানার প্রতারণা মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এই আদেশ দেন। তবে এখনই তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। কারামুক্ত হতে হলে তাঁকে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন পেতে হবে।গত ১৭ আগস্ট পল্লবী থানার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় ঢাকার সিএমএম আদালত হেলেনা জাহাঙ্গীরের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। তাঁর আইনজীবী শফিকুল ইসলাম জানান, চার মামলার মধ্যে তিনটিতে জামিন পেলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। গত ২৯ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে চার মামলায়তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
6
বরেণ্য কবি সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ৮৪তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে তার সমাধিতে জানানো হয়েছে ফুলেল শ্রদ্ধা। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ চত্বরে কবির সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আওয়ামী লীগ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাব ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। জন্মদিন উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী সৈয়দ শামসুল হক মেলা ও উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের উদ্যোগে সৈয়দ হকের বর্ণাঢ্য জীবনের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, আইন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন, প্রেসক্লাব সভাপতি আহসান হাবীব নিলু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিক প্রমুখ। বক্তারা কবির সমাধিকে ঘিরে প্রস্তাবিত স্মৃতি কমপ্লেক্স দ্রুত নির্মানের দাবি জানান। পরে শহরের পিটিআই চত্ত্বরে কবি সৈয়দ হকের কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের পুরাতন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। গুণী এই লেখক ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান। শেষ ইচ্ছানুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ চত্বরে তাকে সমাহিত করা হয়।
6
আওয়ামী লীগের সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে সরাতে না পারলে স্বাধীনতা রক্ষা করা যাবে না, বিএনপি মহাসচিবের এমন কথা শুনলে জনগণ এখন হাসে। এ দেশের স্বাধীনতা এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে, দেশের প্রতিটি অর্জনের সাথে মিশে আছে আওয়ামী লীগ। তাই তাদের মুখে স্বাধীনতা, আন্দোলনের কথা শুনলে জনগণ হাসে। রবিবার বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) আয়োজিত বিশেষ সেবা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বিআরটিএ'র চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
9
১৩ বছর ধরে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে কাজ করেন পলাশ আকন্দ। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের জামালপুর জেলার গোপালপুরে। ঢাকা-মালে যাতায়াত ব্যয়বহুল হওয়ায় ১৩ বছরে মাত্র তিনবার বাংলাদেশে এসেছেন পলাশ। এবার দেশীয় এয়ারলাইনস সংস্থা ইউএস-বাংলা এই রুটে ফ্লাইট চালু করার পর তিনি দেশে যাওয়ার জন্য টিকিট কিনেছেন।গত ৩ ডিসেম্বর মালদ্বীপের ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কথা হয় এই প্রবাসী শ্রমিকের সঙ্গে। পলাশ আকন্দ বলেন, 'শ্রীলঙ্কা এয়ারলাইনসে কলম্বো হয়ে দেশে আসতে হতো। মালদ্বীপ থেকে এসে প্রথমে ট্রানজিট করতে হতো শ্রীলঙ্কায়। এতে আট-দশ ঘণ্টা বেশি সময় লাগত। এখন ইউএস-বাংলার সরাসরি ফ্লাইট হওয়ায় মাত্র চার ঘণ্টায় ঢাকায় যাওয়া যায়। আগে ৫০ হাজার টাকার বেশি দামে টিকিট কিনতে হতো, এখন ইউএস-বাংলায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা কমে টিকিট কেনা যাচ্ছে।'মালদ্বীপের হুলহুমালে শহরে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার বিল্লাল হোসেন। ঢাকা থেকে মালদ্বীপে যাওয়ার জন্য ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি আগে একাধিকবার মালদ্বীপএয়ান এয়ারলাইনসে যাতায়াত করেছেন। এতে ভারতের চেন্নাইয়ে ট্রানজিট নিতে হতো। ইউএস-বাংলার সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় এবার সময় কম লাগবে তাঁর।ইউএস-বাংলার বিএস ৩৩৭ ফ্লাইটে মালদ্বীপে যাচ্ছিলেন শ্রীমঙ্গলের মিজানুর রহমান। তিনি অংশীদারি ব্যবসা করেন মালে শহরে। বিশেষ কাজে গত সপ্তাহে দেশে এসেছিলেন মিজানুর। এই মালদ্বীপপ্রবাসী আজকের পত্রিকাকে বলেন, '১৫ বছর ধরে মালদ্বীপে আছি। প্রবাসে নিজের দেশকে তুলে ধরার মতো আমাদের কোনো কিছুই ছিল না। বিদেশি এয়ারলাইনসে যাতায়াত করতাম, তাদের কথা ঠিকমতো বুঝতাম না। সামান্য ইস্যুতে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করত। অনেক বছর পরে হলেও নিজের দেশের এয়ারলাইনস ঢাকা-মালে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এটা আমাদের জন্য পরম পাওয়া।'পলাশ আকন্দ, বিল্লাল হোসেন কিংবা মিজানুর রহমান শুধু নন, ঢাকা-মালে রুটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট চালুতে খুশি মালদ্বীপে যাতায়াত করা ব্যবসায়ী, পর্যটক, প্রবাসী শ্রমিকসহ সবাই। প্রায় সব যাত্রীর বক্তব্য, এতে এক দিকে খরচ কমেছে, অন্যদিকে সময়ও কমেছে।হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকা-মালে রুটে তিনটি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চালু রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস। মালদ্বীপএয়ান এয়ারলাইনস সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে এই রুটে প্রায় ১ হাজার ৪০০ যাত্রী যাতায়াত করেন। এসব যাত্রীকে আগে দুই বিদেশি এয়ারলাইনসের ওপর নির্ভর করতে হতো। ঢাকা-মালে রুটে ইউএস-বাংলা যুক্ত হওয়ার পর পুরোনো দুই এয়ারলাইনসের সব হিসাব পাল্টে গেছে। এখন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৬৫০। মালদ্বীপএয়ান এয়ারলাইনসে ৪৫০। আর শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসে ৩০০ জনের মতো যাত্রী যাতায়াত করে।ইউএস-বাংলায় বেশি যাত্রী হওয়ার কারণ প্রবাসীদের নিজ দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা, আর্থিক সাশ্রয় ও কম সময়ে যাতায়াতের সুযোগ। এ ছাড়া আগে ছোট ব্যাগের পাশাপাশি কার্গোতে ৩০ কেজি মাল নিতে পারতেন যাত্রীরা। ইউএস-বাংলা যাত্রীদের ৪০ কেজি মালামাল বহনের সুবিধা দেয়।ইউএস-বাংলার ঢাকা-মালে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি অত্যন্ত আনন্দের জানিয়ে মালদ্বীপে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত রিয়ার অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান বলেন, 'আমরা বাংলাদেশ বিমানের পেছনে অনেক সময় দিয়েছি। দুঃখজনকভাবে সেটা সফল হয়নি। ইউএস-বাংলা মালদ্বীপে ফ্লাইট শুরু করেছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার কারণে অন্য এয়ারলাইনসের যে টিকিটের দাম ৫০ হাজার রুপির ওপরে ছিল; ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চালু হওয়ার পর সেটা ৩৫ হাজার রুপিতে নেমে এসেছে। এতে শ্রমিকদের অনেক অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।'বাংলাদেশি প্রবাসী ও পর্যটকদের জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি মালে যাওয়ার কোনো অপশন ছিল না আগে। এতে মালদ্বীপ ভ্রমণে পর্যটকদের মধ্যে আগ্রহও কম ছিল। এখন ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চালু হওয়ার পর অনেক বাংলাদেশি পর্যটকের মালদ্বীপ ভ্রমণে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখন সপ্তাহে তিন দিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা আমাদের আছে।বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুসারে, মালদ্বীপের স্থানীয় জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে এখানে প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছে প্রায় এক লাখের মতো। তবে বেসরকারি হিসাব বলছে, মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সূত্র জানিয়েছে, দেশের একমাত্র এয়ারলাইনস হিসেবে ইউএস-বাংলা প্রতি শুক্র, রবি ও মঙ্গলবার ঢাকা-মালে রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা-মালে রুটে সকল প্রকার ট্যাক্স ও সারচার্জসহ ওয়ানওয়ের ন্যূনতম ভাড়া ২৯ হাজার ৫০৮ টাকা এবং রিটার্ন ভাড়া ৪৫ হাজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মালদ্বীপ ভ্রমণে ইউএস-বাংলা হলিডে প্যাকেজও ঘোষণা করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানবহরে ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও ৭টি ব্র্যান্ড নিউ এটিআর ৭২-৬০০ সহ মোট ১৬টি এয়ারক্রাফট রয়েছে।
6
ডুমুরিয়া থানা-পুলিশের অভিযানে প্রতারণা মামলার দুই জনসহ ৪ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-উপজেলার নরনিয়া গ্রামের আশরাফ হোসেনের ছেলে কথিত সিআইডি অফিসার মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মৃত এবাদ আলী মোড়লের ছেলে আশরাফ হোসেন, কাতার সরদারের ছেলে আব্দুস সেলিম সরদার ও আব্দুল হালিম সরদার।এ বিষয়ে থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ দাস বলেন, বিভিন্ন লোককে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সিআর ২১২ / ২১ মামলায় খালিশপুর থানার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মুজাহিদুল ইসলাম ও আশরাফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে আব্দুস সেলিম সরদার ও আব্দুল হালিম সরদার সিআর ১৯৪ / ১৯ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
6
উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক। আজ শনিবার দুপুরে তাকে হাসপাতালের ৩০৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। এখানে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করে তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা জানান, শনিবার সকালে খুলনা থেকে রওয়ানা হওয়ার পর দুপুরে ঢাকায় পৌঁছে সিটি মেয়রকে সরাসরি সিএমএইচে নেওয়া হয়। এদিকে তার সুস্থতার জন্য দলের নেতাকর্মীসহ নগরবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ফিরে এসে পূর্বের মত যাতে নগরবাসীর সেবা করতে পারেন সকলের কাছে সেই দোয়া কামনা করেছেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর
6
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভুয়া খবর বলে আমার ব্যক্তিত্ব আমাদেরকে যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে। কিন্তু সত্য হলো আমার ব্যক্তিত্বই আমাদেরকে যুদ্ধ থেকে দূরে রেখেছে। শনিবার সাউথ ক্যারোলিনার ফ্লোরেন্সে এক সমাবেশে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রায় চার দশকের মধ্যে আমি একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি আমেরিকাকে নতুন কোনো সংঘাতে নিয়ে যাইনি। খবর আরটি'র। সমাবেশে ট্রাম্প পুনরায় ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাতের জন্য বাইডেন প্রশাসনকে তুলোধুনো করেন এবং মন্তব্য করেন, তার নজরদারির কারণে রাশিয়া কোনোদিন ইউক্রেনে হামলা চালাতো না। ট্রাম্প যুক্তি দেখান, বাইডেনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রকে কেউ আর ভয় পায় না, আবার সম্মানও দেখায় না। আর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন সময় নেই যেখানে এখনকার মতো করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আচরণ দেখাতো বিশ্ব। ট্রাম্প বলেন, অন্য দেশগুলো আমাদেরকে সবক শেখায় আমাদের কি করতে হবে। এই কারণেই আমরা হাঙ্গামা এবং বিশ্বজুড়ে হানাহানি আর রক্তারক্তি দেখছি।
3
সপ্তাহের সাত দিনই বই হাতে শহরে ঘুরতে দেখা যায় মোয়াজ্জেম হোসেনকে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার বই বিলি করেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠা করেছেন দুটি লাইব্রেরি ও একটি জাদুঘর। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার খৈনকুট গ্রামের মোয়াজ্জেমের মামা আব্দুল গফুর ছিলেন বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ। তার উৎসাহেই বই পড়া শুরু মোয়াজ্জেমের। ড. লুৎফর রহমান ও ডেল কার্নেগির লেখা পড়ে জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায় তার। এরপর ১৯৯০ সাল থেকে বই সংগ্রহ করতে থাকেন। নরসিংদী স্টেশন লাইব্রেরি ঘুরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, ডেল কার্নেগির বই কেনেন। গ্রামের পরিচিতদের কাছ থেকে বই এনে পড়ার টেবিলে সাজিয়ে রাখতেন। বন্ধুদের পড়তে দিতেন। পাঠচক্র করতেন। ২০০০ সালে নরসিংদী শহরে এসে থিথু হন মোয়াজ্জেম। একটি রুম ভাড়া করে ছাত্র-ছাত্রী পড়াতেন। রুমের এক কোণে পুরোনো একটি শেলফে নিজের বইগুলো সাজিয়ে রেখে দেন। ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে নামও কুড়ান। ভৈরব, কিশোরগঞ্জ থেকে ছাত্ররা সাইকেল চালিয়ে পড়তে আসত তার কাছে। যারা আগে চলে আসত, তারা শেলফে রাখা বই পড়ত। ছাত্রদের আগ্রহ দেখে নতুন বই কিনতে শুরু করেন মোয়াজ্জেম। ভাবলেন, লাইব্রেরি গড়বেন। এক পর্যায়ে বাড়ির দোতলায় লাইব্রেরি গড়ে তুললেন। নাম দিলেন, নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরি। তার লাইব্রেরিতে বর্তমানে আছে প্রায় ছয় হাজার বই। সবার জন্য উন্মুক্ত এই লাইব্রেরি শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিনই খোলা থাকে। বাসায় বই নিতে চাইলে নাম এন্ট্রি করে বই নেওয়া যায়। শুধু নরসিংদী শহরে নয়, খৈনকুট গ্রামে বাবার নামে 'শিক্ষানুরাগী সামসুদ্দিন পাবলিক লাইব্রেরি' গড়ে তুলেছেন মোয়াজ্জেম। সেখানে আড়াই হাজার বই আছে। সেই লাইব্রেরিও শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিনই খোলা থাকে। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার বই বিনা মূল্যে বিতরণ করেছেন মোয়াজ্জেম। অবসরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই দিয়ে আসেন তিনি। যান বিভিন্ন কলেজে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বই দেন। শুক্রবার ছোটেন গ্রামে। ব্যাগে থাকে বই। বিলিয়ে বেড়ান গ্রামের মানুষের মধ্যে। স্থানীয়দের কাছে বইমানুষ নামেই পরিচিত মোয়াজ্জেম। ২০২০ সালে স্থানীয় ব্রাহ্মণদী মোড়ের ফেমাস জেন্টস পার্লারে চুল ছাঁটাতে গিয়ে ৩০ মিনিট বসে থাকলেন মোয়াজ্জেম। তার মতো আরও অনেককেই বসে থাকতে দেখে মোয়াজ্জেম স্যালুনের মালিক কমলের সঙ্গে আলাপ করে সেখানে কয়েকটি বই দিলেন। ফেমাস জেন্টস পার্লারের মালিক কমল দাস বলেন, 'কাস্টমার এসে আগে বসে থেকে বিরক্ত হতো। এখন সবাই বই পড়ে। তা ছাড়া বইয়ের কারণে আমার কাস্টমারও বেড়ে গেছে।' ব্রাহ্মণদীর আরও পাঁচটি স্যালুনে বই দিয়েছেন মোয়াজ্জেম। বই দিয়েছেন ফার্মেসি ও দুটি ডেন্টাল ক্লিনিকে। গড়ে তুলেছেন 'বই পড়া আন্দোলন বাংলাদেশ'। সদস্যরা মানুষকে বইয়ের কথা বলেন। মোয়াজ্জেম বললেন, 'বই ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করি। মানুষ তো কত কিছুর জন্যই আন্দোলন করে, আমি না হয় বই নিয়েই পড়ে থাকলাম।'
5
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের সাতগাড়ি, কুলচারা ও দিগড়ী গ্রামের সড়কগুলোর সংস্কার হয়নি দীর্ঘ দিন। অধিকাংশ পাকা সড়ক এখন প্রায় কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কগুলো ছোট ছোট ডোবা-নালায় পরিণত হয়।সাতগাড়ি, কুলচারা ও দিগড়ী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কগুলো দীর্ঘদিন আগে পাকা করা হয়েছিল। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। ফলে বেহাল এই সড়ক। দেখলে মনে হয় যেন কাঁচা রাস্তা। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়।দিগড়ী গ্রামের এক চায়ের দোকানদার বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণ ঘটিয়ে বলেন, 'মাঝে মাঝে আমি কনফিউজড হয়ে যাই। আসলেই আমি কি পৌরসভায় বাস করি!'শুধু চায়ের দোকানদার নন এমন কথা অনেকের। দিগড়ীর ইমান হোসেন বলেন, 'ভোটের সময় ভোট নেওয়ার জন্য কত কথাই বলেন নেতারা। এখন আর কেউ খোঁজ নেন না। আমরা পৌর কাউন্সিলর ও মেয়রের কাছে গেলেও কোনো কাজ হয় না।'রহমান আলী নামের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, 'রাস্তাগুলো সব ভাঙাচোরা। চরম সমস্যায় আছি। কেউ দেখে না।' করিম নামের আরও একজন বেশ ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, 'পৌরসভায় বাস করি, অথচ মনে হয় না এটা পৌরসভা। ভোটের সময় ভোট চেয়ে জনপ্রতিনিধিরা বলেছিলেন, এখানে মেরামত হবে, ওখানে মেরামত হবে। কই রাস্তার মেরামত তো হয়নি, আর ড্রেন তো নেই। কোথাও কোনো উন্নয়ন হলো না।'কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এই ওয়ার্ডের কমিশনার উজ্জ্বল হোসেন। তিনি ওয়ার্ডের সব জায়গায় নিত্যদিন আসা-যাওয়া করেন। তিনি সমস্যা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যান।সুরুজ ফার্মেসির তকিম জানান, একই ওয়ার্ডের সাতগাড়ি বিলপাড়ায় আজও ড্রেন নেই। বৃষ্টিতে সড়ক হাঁটুপানিতে ডুবে যায়। এই মহল্লাবাসী বর্ষাকালে চরম ভোগান্তিতে জীবনযাপন করে। তাঁদের দুঃখের কথা কাকে জানাবেন তাঁরা? মেয়র-কাউন্সিলর কেউ খোঁজ রাখেন না।চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর উজ্জ্বল হোসেন বলেন, 'আমি সাত নম্বর ওয়ার্ডবাসীর নানা সমস্যা নিয়ে খুব কষ্টে আছি। মেয়র সাহেবকে সমস্যার কথা বলে জলাবদ্ধতা থেকে সড়কগুলোতে এক গাড়ি ঘ্যাস বা কিছু দিয়ে সাময়িক সংস্কার করব, সে ক্ষেত্রেও সমস্যা। কারণ লেবার বা গাড়ি কিছুই পাইনে।'চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন বলেন, 'উন্নয়ন হবে। কেবল তো দায়িত্ব নিলাম। সবে মাত্র ছয় মাস আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই করোনা সংকটে সব অফিস আদালত বন্ধ ছিল। এখন পরিবেশ ভালো। আমরা কাজ শুরু করব। সাতগাড়ির নবগঙ্গা ব্রিজ থেকে কুলচারা মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় এক কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট ধরা হয়েছে। খুব শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।'
6
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ঘটনায় গোলাম মোস্তফা (৬০) নামে এক কৃষক নিহত এবং আরো একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষক গোলাম মোস্তফা উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের লাউগাড়ি গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। প্রতিবেশী হায়দার আলী জানান, কৃষক গোলাম মোস্তফা তার দুইটি গরু নিয়ে বাড়ি থেকে মাঠে যাওয়ার সময় বাড়ি সংলগ্ন এলাকাতে বজ্রপাত ঘটে। এসময় বজ্রপাতের আঘাতে দুইটি গরু সহ তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত ও একই গ্রামের দুলাল মিয়া (৪২) নামে একজন গুরুতর আহত হয়।
6
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে ঘাতকদের হাতে প্রাণ হারানোর আগে সাংবাদিক জামাল খাসোগির শেষ কথা ছিল-'আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।' সৌদি এ সাংবাদিকের জীবনের শেষ মুহূর্তের অডিও টেপের অনুলিপি পড়া এক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। সূত্রটি জানায়, অনুলিপিটি থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, হত্যাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং এই হত্যার কাজ কীভাবে এগিয়ে নিতে হবে সে সম্পর্কে কয়েকবার ফোনের মাধ্যমে ব্রিফ করা হয়। সিএনএন জানায়, তুর্কি কর্মকর্তাদের ধারণা-রিয়াদের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওই ফোনকলগুলো করেছিলেন। ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক সৌদি আরবের নাগরিক জামাল খাসোগিকে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয়। অনুলিপিতে হত্যাকারীদের সঙ্গে খাসোগির ধস্তাধস্তির বর্ণনা রয়েছে। তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আসল অনুলিপিটি তৈরি করেছে। এদিকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তুরস্কের কাছে হস্তান্তরের তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এরদোগান এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তুরস্কের কাছে হস্তান্তরের জন্য সৌদি আরবের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তুরস্কের মতে, ইস্তাম্বুলে পাঠানো ১৫ সদস্য বিশিষ্ট সৌদি দল খাসোগিকে হত্যা করে।
3
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাসহ দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে জামায়াতে ইসলামী থেকে বেরিয়ে আসা অংশটি কয়েক মাসের মধ্যে নতুন নামে রাজনীতিতে আসছে। এরই মধ্যে তারা তিনটি নাম বিবেচনায় রেখেছে। এগুলোর মধ্য থেকে একটি চূড়ান্ত করা হবে। নামগুলো হচ্ছে সাধারণ জনতা পার্টি, বাংলাদেশ ন্যায়তন্ত্র দল ও আমরা বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন দলের সংগঠকেরা 'আমরা বাংলাদেশ' নামটি প্রথম পছন্দে রেখেছেন। আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বর নাগাদ রাজনৈতিক দলের নাম ও নীতিমালা ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে ২২টি জেলায় নতুন দলের সমন্বয়কারী নিযুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, গত এপ্রিলে জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসা নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের যে অংশটি 'জন-আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ' নামের নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন করেছিল, তাদের উদ্যোগেই নতুন দল হচ্ছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত আছে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে উপেক্ষিত নেতা-কর্মীদের একটি অংশ। তবে নতুন দলটির মুখ্য নেতৃত্বে কে থাকছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও জামায়াত থেকে পদত্যাগী নেতা আবদুর রাজ্জাকের নাম আলোচনায় আছে। জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ার প্রশ্নে গত ফেব্রুয়ারিতে আবদুর রাজ্জাক দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি জামায়াতের জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তখন রাজ্জাক নতুন দল না করা এবং সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকার কথা বলেছিলেন। যদিও তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের অনুরোধে তিনি মত পাল্টেছেন বলে জানা গেছে। পদত্যাগের সময় রাজ্জাকের অবস্থানকে সমর্থন করে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান। পরে তাঁকে সমন্বয়ক করে 'জন-আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ' গঠন করা হয়। সংগঠকেরা বলছেন, নতুন দলের নাম ঘোষণার পর জন-আকাঙ্ক্ষা নামটি থাকবে না। নভেম্বর-ডিসেম্বরে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ বিবেচনায় তিনটি নাম-সাধারণ জনতা পার্টি, বাংলাদেশ ন্যায়তন্ত্র দল ও আমরা বাংলাদেশ গত ফেব্রুয়ারিতে আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং মুজিবুর রহমানকে বহিষ্কারের প্রেক্ষাপটে জামায়াত ঘোষণা দিয়েছিল নতুন নামে দল করার। এ লক্ষ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে বলে তখন এক সাংগঠনিক নির্দেশনায় নেতা-কর্মীদের জানিয়েছিল জামায়াত। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও নতুন দল হয়নি। শফিকুর রহমান লন্ডন সফর করেন, সেখানে দলীয় সংহতি রক্ষায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি আবদুর রাজ্জাক যাতে নতুন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হন, সে জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন। জন-আকাঙ্ক্ষার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, জামায়াতের সেক্রেটারির সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। আবদুর রাজ্জাক যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ যেসব দেশে জামায়াতের ভালো সংগঠন আছে, সেখানে জন-আকাঙ্ক্ষাকে সংগঠিত করতে সহায়তা করছেন। ইতিমধ্যে নতুন দলের জন্য লন্ডনে জামায়াত ঘরানার তিনজনকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জন-আকাঙ্ক্ষার নেতাদের লক্ষ্য জামায়াতের সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের নতুন দলে যুক্ত করা। ইতিমধ্যে নতুন দলের উদ্যোক্তারা রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা সফর করেছেন। জন-আকাঙ্ক্ষার দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তাঁরা দাবি করেন, জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের অনেকে ভেতরে-ভেতরে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যাঁরা জামায়াতে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। কখনো দলের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে লন্ডনে অবস্থানরত জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, 'এখন আমি দেশের বাইরে। কখন কী হয়, না হয়, সেটা পরের কথা।'
9
বাগেরহাট শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজারে আগুন লেগে মুদি দোকানসহ ৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকায় ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার রায়েন্দা বাজারের শেরেবাংলা রোডে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ফিরোজ আলী। তিনি বলেন, সোমবার ভোরের দিকে রায়েন্দা বাজারের শেরেবাংলা রোডে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে একঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় চাঁন মিয়া তালুকদারের মুদি দোকান, শহিদুল খাঁন ও বাবুল হাওলাদারের কাঁচামালের দোকান পুড়ে যায়। শেখ ফিরোজ আলীআরও বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
6
সংসদে বিরোধীদল জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কদিন আগেও তুমুল বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন জিএম কাদের আর এরশাদপত্নী রওশন এরশাদ। আর এর মূলে ছিল পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের মনোনয়ন। লাঙলের টিকেট কে পাবেন- তা নিয়েই ভেতরে ভেতরে চলছিল স্নায়ুযুদ্ধ। অবশ্য 'বৃহত্তর স্বার্থে' কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় পরে তাদের মধ্যে যে সমঝোতা হয় তার অন্যতম সিদ্ধান্ত হচ্ছে বাবার আসনে রওশনপুত্র রাহগির আল মাহিরের (সাদ এরশাদ) মনোনয়ন। যদিও বহিরাগত ঠেকাতে এ ঘটনার আগে রংপুরে এরশাদ পরিবারের সদস্যরাই ছিলেন তৎপর। এরশাদ পরিবারের একমাত্র উত্তারাধিকারী দাবিদার ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফের সমর্থকরা সাদ এরশাদের কুশপুত্তলিকাও পুড়িয়েছে। তার দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত বলেও প্রচার করতে থাকেন কর্মী ও সমর্থকরা। এ নিয়ে উত্তাপও ছড়িয়ে পড়ে। আবার এরশাদের বোন সাবেক সংসদ সদস্য মেরিনা রহমানের মেয়ে ও প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলুর স্ত্রী মেহেজেবুন্নেছা রহমান টুম্পাও ছিলেন মাঠে। তবে তাদের সবাইকে টপকে এরশাদপুত্রেরই ভাগ্য খুলেছে। জাপায় দেবর-ভাবির সমঝোতা আর পদ ভাগাভাগির পর রংপুরের জাপার রাজনীতির ঘূর্ণি বাতাস একমুখী হয়েছে। কারো কোনো রকম উচ্চবাচ্য নেই। জোটগত বন্ধু আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বৈরি সম্পর্কের বিএনপিকে প্রতিপক্ষ ধরে জয়ের জন্য নির্ভুল ছক কষছে এরশাদের জাপা। এরশাদের মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে সব দ্বন্দ্ব ভুলে তারা তৎপর। 'যেখানেই লাঙল প্রতীক সেখানেই সিল মারা'র একমাত্র স্লোগান নিয়ে ভোটের মাঠ কাঁপাতে চায়। এক্ষেত্রে ইতিহাসও তাদের অনুকূলে। যেটা নেই আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির ক্ষেত্রে। নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের পর থেকে রংপুর-৩ (সদর) আসনের মানুষ এরশাদকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে আসছে। অন্য দলের কোনো প্রার্থী তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। যদিও জোটগত কারণে গত তিনটি নির্বাচনে এরশাদের আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থীই দেয়নি। সে কারণে প্রতিবারই এরশাদ বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। তবে এরশাদের মৃত্যু আর 'রংপুর নিয়ন্ত্রিত' জাপায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এবার লাঙলের বিজয় নির্বিঘ্ন হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর ওপর একাদশ সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে ভরাডুবির নেতিবাচক অভিজ্ঞতা শঙ্কায় রাখবে জাপাকে। তবে রংপুরে জাপার পক্ষে-বিপক্ষের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, সেনা ও স্বৈরসাশক হিসেবে যতই সমালোচনার মুখে ফেলা হোক না কেন নিজ এলাকা রংপুরে এরশাদের জনপ্রিয়তা এতটুকু ম্লান হয়নি কখনও। একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে থেকে এলাকায় না গিয়েও তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এসব কারণে রংপুরের নেতাদের আত্মবিশ্বাসে কখনও ভাটা পড়েনি। তাদের কথা, মৃত এরশাদ জীবিত এরশাদের চেয়েও শক্তিশালী। এরশাদের কবরস্থান রাজধানীর পরিবর্তে পল্লীনিবাসে করার পেছনের রাজনৈতিক দর্শন ছিল সেটাই। যদিও রংপুরের মেয়র ও জাপার মহানগর কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বরাবরই বলে আসছিলেন সাদ এরশাদকে মনোনয়ন দিলে তার পক্ষে কাজ করবে না রংপুরের নেতারা। তবে শেষ অবধি নাটকীয়তার মধ্য দিয়েই এরশাদবিহীন জাপায় আবারো সিদ্ধান্ত পাল্টে যাওয়ার নজির দেখা যাচ্ছে।
6
একাদশ জাতীয় সংসদের পুনর্নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় সংলাপসহ তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।কর্মসূচি হচ্ছে- জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠান, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দ্রুত মামলা দায়ের ও নির্বাচনে সহিংসকবলিত এলাকায় ফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সফর। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিলেটের বালাগঞ্জে যাবেন নেতারা। তবে কবে কখন জাতীয় সংলাপ হবে তার কোনো দিনক্ষণ বলা হয়নি। গতকাল সন্ধ্যায় স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে ফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির সিদ্ধান্ত জানিয়ে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা আজকে ফ্রন্টের বৈঠক করেছি যেখানে ৩০ ডিসেম্বর কী ঘটেছিল তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি নির্বাচন যেটা করা হলো, যে নির্বাচন আমরা আশা করেছিলাম, জনগণ যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের প্রতিনিধি বাছাই করতে পারত সেটি তো হয়নি। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে সরকার। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করব। সেই আন্দোলনের জন্য ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক নিয়মিত হবে বলেও তিনি জানান।পরে ফ্রন্টের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বিবৃতি মুখপাত্র মির্জা ফখরুল পড়ে শোনান। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের জোর দাবি হচ্ছে, অনতিবিলম্বে নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের সঠিক অনুলিপি প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক। জনগণ যেন কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের অনুলিপি পাওয়ার পর তা আদালতে উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারে যে, ৩০ ডিসেম্বর সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। এমতাবস্থায় দেশের জনগণ নির্দলীয় সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে আবার একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জোর দাবি করছে। বিবৃতি বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সরকারি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। ফলে জনগণ নিজেদের মতামত প্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার তথা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইউএন কনভেনশন অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের মতে, শুধু সাংবিধানিক অধিকার নয় বরং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের মানবাধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড গুরুতর অপরাধ। মির্জা ফখরুল বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন দেশের মালিক জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অপব্যবহার করে এবং সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকাকে নিষ্ক্রিয় করে নির্বাচন কমিশন পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশ দিয়ে সরকারি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যালট পেপারে নৌকা ও লাঙ্গল মার্কায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখতে সাহায্য করেছে। বেইলি রোডে নিজের বাসায় বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে দেড় ঘণ্টা স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির আসম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, শহিদুল্লাহ কায়সার, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
9
পাঁচ ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর কাছ থেকে কেনা হয় ৫০ হাজার টাকায়। সেই প্রশ্ন নানা হাত ঘুরে জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা সোহেল রানার কাছে বিক্রি করা হয় দুই কোটি ৮০ লাখ টাকায়। আর এই প্রশ্ন পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করে প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সোহেলের। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সদস্য মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য। গত সোমবার তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি দেন। রোববার রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগ। এ নিয়ে চক্রের ১৪ সদস্য গ্রেপ্তার হল। চক্রের আরও দুই সদস্য রাশেদ আহমেদ বাবলু এবং মোবিন উদ্দিনও রয়েছে গোয়েন্দা জালে। গত ৬ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তারা হলেন, মোক্তারুজ্জামান রয়েল, শামসুল হক শ্যামল, জানে আলম মিলন, মোস্তাফিজুর রহমান মিলন ও রাইসুল ইসলাম স্বপন। পরদিন সোহেল রানা, এমদাদুল হক খোকন ও এবিএম জাহিদ নামে আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ব্যাংকে নিয়োগের প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব পাওয়া আহছান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মচারী দেলোয়ার, পারভেজ ও রবিউল এবং পরে তাদের তথ্যে জাহিদসহ আরও দু'জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনই রাষ্ট্রায়ত্ব বিভিন্ন ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। ডিবির তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহাদাত হোসেন সুমা সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার মিজানের গ্রামের বাড়ি রংপুরের আলমনগরের মহাদেবপুর এলাকায়। নিজেকে সে শেয়ার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয়। আর সেই ব্যবসা থেকে বিপুল আয়ের দাবি করত সে। প্রকৃতপক্ষে প্রশ্ন ফাঁস করে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন রাশেদ আহমেদ বাবুল ও মোবিনের কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকায় কেনে মিজান। পরে সেই প্রশ্ন জাহাঙ্গীর আলম জাহিদের কাছে এক কোটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রির কথা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মিজান জানিয়েছে, জাহিদ তার কাছ থেকে প্রশ্ন কিনে জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা সোহেল রানার কাছে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির জন্য চুক্তি করেছিল। এর আগে আহছান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দেলোয়ার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, প্রতি প্রশ্নপত্র সরবরাহের জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকা পেতেন। আর প্রেস কর্মচারী রবিউল পেত ১ লাখ। শেষ পর্যন্ত সেই প্রশ্ন ২ কোটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রি হয় সোহেল রানার কাছে। সে আবার ১৭৫ জন ক্রেতা টার্গেট করেছিল, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। গোয়েন্দারা জানান, চক্রের দুই সদস্য রাশেদ আহমেদ বাবলু ও মোবিন উদ্দিনকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। তারা দু'জনই ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজে চাকরি করে। তাদের মধ্যে মোবিন এর আগে গ্রেপ্তার দেলোয়ারের শ্যালক।
6
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৈশাখী টেলিভিশনের ৭ দিনব্যাপী ঈদ আনন্দ আয়োজনে থাকছে ১৫টি নতুন নাটক, ১৪টি সিনেমাসহ নানা অনুষ্ঠান। নাটকগুলোর মধ্যে ৯টি একক এবং ৬টি বিশেষ ধারাবাহিক। ঈদের বিশেষ একক নাটকগলো প্রচার হবে প্রতিদিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে। নাটকগুলো হলো-টিপু আলম মিলনের গল্পে 'বেবী লাভ', আল হাজেন পরিচালিত 'ছোট ভাই'। অভিনয়ে, শহীদুজ্জামান সেলিম, তানিয়া বৃষ্টি, রাশেদ সীমান্ত, জয়রাজ, মুনিরা মিঠু প্রমুখ। আদিবাসী মিজানের পরিচালনায় 'ব্রিটিশ বুদ্ধি'। সিদ্দিকুর রহমানের পরিচালনায় 'ইনহাউজ প্রোডাকশন'। আনিসুর রহমান মিলনের রচনা ও পরিচালনায় 'গালিবের গপ্পো'। টিপু আলম মিলনের গল্পে মুজিবুল হক খোকনের পরিচালনায় 'ডার্লিং পয়েন্ট'। হারুন রুশোর রচনা ও পরিচালনায় 'ওল্ড বাইক'। ঈদের ৭ পর্বের ৭টি বিশেষ ধারাবাহিক নাটক হলো টিপু আলম মিলনের গল্পে, আকাশ রঞ্জনের পরিচালনায় 'ধান্দা বাবা', টিপু আলম মিলনের গল্পে, আল হাজেনের পরিচালনায় 'জামাই বাজার-২', আহমেদ রোহান রুবেল ও হানিফ খানের পরিচালনায় 'বুড়া জামাই', আল হাজেনের পরিচালনায় 'শিয়াল বাড়ি'। ফরিদুল হাসানের পরিচালনায় সুন্দরী 'বাঈদানী' এবং এস এম শাহীনের পরিচালনায় 'আয়নামতির সংসার'। এসব নাটকে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় সব তারকা। প্রতিদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিট এবং রাত ১২টায় ঈদের ৭ দিন প্রচার হবে ১৪টি বাংলা সিনেমা। এছাড়াও থাকছে জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে বৈশাখীর সকালের গান, গানে গানে ঈদ আনন্দ, প্রিয় শিল্পীর সেরা গান, চলচ্চিত্রের গান নিয়ে শুধু সিনেমার গান, নাটকের গান, বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ঈদ ধামাকা, নাটকের হাস্য রসের দৃশ্য নিয়ে ফানি মোমেন্ট, বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান দ্বারা দিয়া কর্তৃক-২ ও সব চরিত্র কাল্পনিক-২সহ নানা আয়োজন। ঈদ অনুষ্ঠান নিয়ে বলতে গিয়ে বৈশাখী টিভির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলন বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশীয় সংস্কৃতির কথা চিন্তা করে প্রতি ঈদেই বৈশাখী টেলিভিশন তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে অনুষ্ঠান সাজিয়ে থাকে। এবারো তার ব্যত্যয় হবে না সে কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। তবে করোনা ভাইরাসের মহামারিতে আমাদের সীমাবদ্ধতার কথাও ভাবতে হবে। ইচ্ছে থাকা সত্তেও অনেক কিছু করতে পারিনি। এরপরও আমাদের মূল লক্ষ্য দর্শকদের বিনোদন দেয়া। এ ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছি।'
2
পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন। আসন্ন রমজানের প্রাক্কালে সোমবার (১২ এপ্রিল) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ শুভেচ্ছা জানান। বিবৃতিতে জো বাইডেন বলেন, জিল এবং আমার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং শুভ কামনা রইল। বাইডেন বলেন, বহু আমেরিকান আগামীকাল থেকে রোজা শুরু করবে। আমরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, এই বছরটি অনেকটা কঠিন। এই মহামারীতে বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে একত্রিত হতে সম্ভব নয়। অনেকই পরিবার প্রিয়জনদের ছাড়াই ইফতার করতে হবে। জো বাইডেন বলেন, মুসলিম সম্প্রদায় নতুন এক প্রত্যাশায় সংযম শুরু করবেন। অনেকেই সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য আরও সচেতন হবেন। একে অন্যের প্রতি সেবার ব্রত নিয়ে, তাদের বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থেকে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। সবার সুস্বাস্থ্য, মঙ্গল ও সুন্দর জীবন কামনা করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুসলিম আমেরিকানরা এই দেশটিকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন। তাদের বৈচিত্র ও প্রাণশক্তি দিয়ে তারা এই দেশটিকে প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছেন। আজ, মুসলমানরা কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই মহামারিতে তারা টিকা উন্নয়ন এবং সামনের কাতারের স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হিসাবেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। জো বাইডেন বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার প্রথম দিনেই আমি লজ্জাজনক মুসলিম ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটাতে পেরে গর্বিত হয়েছিলাম। চীনের উইঘুর, বার্মার রোহিঙ্গা এবং বিশ্বের সর্বত্রে আমরা মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াবো। তিনি বলেন, গত রমজানে আমরা যাদেরকে হারিয়েছি তাদের স্মরণ করছি। আমরা উজ্জ্বল আগামীর জন্য আশাবাদী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এবারের রমজানে হোয়াইট হাউস ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান করলেও জিল এবং আমি আশাবাদী আগামী বছর হোয়াইট হাউসেই সবার উপস্থিতিতেই উদযাপন হবে ইনশাল্লাহ। ইভূ ইভূ
3
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক কোটি ফলোয়ারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও উপস্থাপক হানিফ সংকেত। বর্তমানে তার ফেসবুক পেজে ফলোয়ার বা অনুসারীর সংখ্যা ১০ মিলিয়ন অর্থাৎ ১ কোটির ওপরে। এই মাইলফলক অর্জনের পর হানিফ সংকেত তার অনুসারীদের উদ্দেশে বৃহস্পতিবারকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি'-এর উপস্থাপনা করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন হানিফ সংকেত। তিনি ১৯৮৯ সালে বিটিভিতে 'ইত্যাদি' অনুষ্ঠান শুরু করেন। এখনো ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে একটি পর্ব প্রচার হচ্ছে। পাশাপাশি লেখক ও নাট্যনির্মাতা হিসেবেও হানিফ সংকেত পরিচিত। বিডি প্রতিদিন/এমআই
2
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী বলেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হওয়ার পর বিশ্ব বাজারে তেলের যে ঘাটতি দেখা দেবে তা রিয়াদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস'কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অভিমত প্রকাশ করেন খালিদ আল-ফালিহ। আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ইরানের তেল খাতের ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। পরমাণু সমঝোতার জের ধরে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও গত মে মাসে মার্কিন প্রেসেডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ঘোষণা দেন। সে ঘোষণা অনুযায়ী ইরানের তেল ও ব্যাংকিং খাতের ওপর ৫ জানুয়ারি থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তাসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেছেন, নভেম্বরের শুরুতে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হওয়ার পর তেলের দাম বাড়বে না বলে কোনো গ্যারান্টি সৌদি আরব দিতে পারবে না। চলতি মাসের গোড়ার দিকে ইরানের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সৌদি যুবরাজ যে মন্তব্য করেছিলেন আল-ফালিহ সম্পূর্ণ তার বিপরীত বক্তব্য দিলেন। মোহাম্মাদ বিন সালমান দাবি করেছিলেন, সৌদি আরব এরইমধ্যে বিশ্ব বাজারে ইরানের তেলের ঘাটতি পূরণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইরানের তেল রফতানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চান। সৌদি যুবরাজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইরানের তেল বিক্রি শূন্যতে নেমে আসলে সে ঘাটতি তিনি পূরণ করে দেবেন। এদিকে, ইরানের জ্বালানি মন্ত্রী বিজান জাঙ্গানে সোমবার বলেছেন, সৌদি আরব ও রাশিয়া তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করে তেল উৎপাদন করছে এবং এর চেয়ে বেশি তেল উত্তোলন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কাজেই ওই দুই দেশ মিলেও ইরানের তেলের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না। বিডি প্রতিদিন/২৩ অক্টোবর ২০১৮/আরাফাত
3
চেহারার মলিন ভাব কাটাতে ঠোঁটকাঠিই (লিপস্টিক) যথেষ্ট। কখনো কখনো মন ভালো করতেও এর জুড়ি মেলা ভার। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রূপবিশেষজ্ঞ ববি ব্রাউন মনে করেন, চেহারায় যখন কোনো মেকআপ থাকবে না, মানানসই লিপস্টিকটি খুঁজে বের করুন। আর কিছুই লাগবে না। মার্কিন অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নও ভক্ত ছিলেন লিপস্টিকের। তিনি বিশ্বাস করতেন ম্যানিকিউরে, অতিরিক্ত পোশাক সজ্জায়, বিশ্বাস করতেন অবসর সময়ে নিজেকে ফিটফাট করে তোলা আর লিপস্টিক লাগানোয়। ১৭৭০ সালে এই লিপস্টিক নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। বলা হয়েছিল, নারীরা দোষী হিসেবে সাব্যস্ত হবে, যদি পুরুষদের বিয়েতে প্রলুব্ধ করতে লিপস্টিক ব্যবহার করে। এটি অনেকটা জাদুবিদ্যার মতনই (সূত্র: ফ্যাক্ট রিপাবলিক)। বোঝা তো গেল, লিপস্টিকের ক্ষমতা কত। তবে নারীরা কখনোই ঠোঁটকাঠিকে নেতিবাচক হিসেবে নেননি। লিপস্টিক সব সময়ই নারীদের একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দের সাজ অনুষঙ্গ হিসেবে ছিল, আছে, থাকবে। লিপস্টিক আবিষ্কারের পর থেকেই এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। সাজের অন্য সব অনুষঙ্গের মতো লিপস্টিকেও প্রতিবছর, প্রতি মাসে দেখা যাচ্ছে নানা পরিবর্তন। সব সময় চলতি ধারাগুলো আসে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে। এ বছর পুরোটা সময় চলবে লাল লিপস্টিকের রাজত্বে। লাল রঙের মধ্যে আছে, এমন লিপস্টিক থাকবে বছরজুড়ে। ২০২০ সালে প্যাস্টেল শেড বেশি চলবে বলে জানান পারসোনার পরিচালক নুজহাত খান। তবে লালের বাইরে মভ রঙের লিপস্টিকও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছে। লাল, মেরুন, ওয়াইন রেড, প্লাম, হট পিঙ্ক, কমলা, বাদামি, বাঙ্গি ইত্যাদি রং সারা দিন মন ভালো রাখবে। রূপচর্চার ধারায় আবার চকচকে (গ্লসি) ভাব চলে এসেছে। গ্লিটারও আছে। তবে গ্লিটার সব বয়স ও জায়গার জন্য নয় বলে জানালেন নুজহাত খান। লাল লিপস্টিকের ওপর লাল রঙের গ্লিটার চমকাবে ভালো। লিপস্টিকের নিয়মকানুন ঠোঁটকাঠি ব্যবহারের আগে অধরোষ্ঠ প্রস্তুত করে নিন। যদি বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে অনেকক্ষণ রং ধরে রাখতে চান, প্রস্তুতির আটটি ধাপ অনুসরণ করলে লিপস্টিকের রং থাকবে ঠিকঠাক। ১. প্রথমে চিনি আর নারকেল তেল দিয়ে ঠোঁট হালকা মালিশ করে নিন। মরা চামড়া উঠে যাবে। ২. লিপজেল লাগিয়ে নিন। চলে যাবে খসখসে ভাব। ৩. ঠোঁটে প্রাইমার দিন। ঠোঁটকাঠির রং অনেকক্ষণ স্থায়ী হবে। রংটাও সঠিকভাবে ফুটে উঠবে। ৪. ফাউন্ডেশন লাগান। ৫. যে রং লাগাবেন, একই রঙের লিপ লাইনার দিয়ে ঠোঁটের চারপাশ এঁকে নিন। পাশাপাশি ঠোঁটের ভেতরের অংশটুকুও ভরে ফেলুন। ৬. এবার লিপস্টিক লাগান। ৭. লিপস্টিক লাগানোর পর টিস্যু পেপার দিয়ে হালকা চাপ দিন। টিস্যুর ওপর দিয়ে একটু পাউডার বুলিয়ে নিন ব্রাশের সাহায্যে। ৮. এবার আবার এক কোট লিপস্টিক লাগিয়ে ফেলুন।
4
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জোয়াল ভাঙ্গার হাওর থেকে জয়তুন বিবি (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের বোয়ালজোর গ্রামের জোয়াল ভাঙ্গার হাওর থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।জয়তুন বিবি উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে।পুলিশ জানায়-মঙ্গলবার দুপুরে জোয়াল ভাঙ্গার হাওরে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জয়তুন বিবির লাশ উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের দাবি, জয়তুন বিবি মানসিক ভারসাম্যহীন।এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ডালিম আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জয়তুন বিবি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াতেন।
6
ভোটের আর মাত্র চার দিন বাকি। প্রচারের জন্য সময় আরও কম। তাই শেষ বেলায় গাজীপুরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে অন্যান্য নির্বাচনের মতো গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ভোটের হিসাব কষা হচ্ছে বড় দুটি দলের মধ্যেই। প্রচারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই দলের প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপই বেশি। দুই প্রার্থীর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়েই চলছে জনসংযোগ, পথসভা, ভোট প্রার্থনা। প্রশাসনকে ব্যবহার করে সরকারি দল আওয়ামী লীগ সুবিধা নিচ্ছে, বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপিমনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগমনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থীর প্রতি। আজ শুক্রবার সকাল আটটা থেকে প্রার্থীরা প্রচারে নামেন। প্রধান দুটি দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও ঢাকা থেকে গাজীপুরে এসে নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে প্রচার চালান। আওয়ামী লীগ ১৪ দলের ব্যানারে ও বিএনপি এককভাবে জনসংযোগ করছে। আজ দুই প্রার্থী ভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে ভোটারদের কাছে ভোট চান। বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সকালে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে জয়দেবপুরে প্রচার চালান। তিনি সেখানে পথসভা করেন। এতে সমবেত হন কয়েক শ লোক। ওই সময় তিনি ভোটের পরিবেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। পরিস্থিতিকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' উল্লেখ করে তা আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আর এমন পরিস্থিতির জন্য সরকারের ক্যাডার বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করেন তিনি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনারা চেষ্টা করুন, ভোট যেন সুষ্ঠু হয়। তা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব। জীবনের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। এ পর্যায়ে এসে ভোট চুরির বিরুদ্ধে যা করা দরকার করব। নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যা আন্দোলন করা দরকার করব।' সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে ভোট সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। ভোটে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতের ক্ষেত্র (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নষ্ট হবে। তিনি নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতা-কর্মীকে ধর পাকড়, ভয় দেখানো, ভোটারদের কেন্দ্রে না যেতে হুমকিধমকি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। জুমার নামাজ আদায়ের আগে জয়দেবপুরের পর গাজীপুর সদর, কোনাবাড়িসহ কয়েকটি এলাকায় তিনি প্রচার চালান। টিঅ্যান্ডটি রোডের এক মসজিদে নামাজ আদায় করেন তিনি। নামাজের পরপর মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে ভোট প্রার্থনা করেন। এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সদর এলাকার এক মসজিদে নামাজ আদায় করেন। তিনিও নামাজ শেষে মুসল্লিদের কাছে ভোট চান। দুই প্রার্থীই নামাজের পর আবার প্রচারে নামেন। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় আছে। আজ সকাল থেকে ১৩ নম্বর, ২৩ নম্বরসহ কয়েকটি ওয়ার্ডে জনসংযোগ ও পথসভা করেন তিনি। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে পথসভা শেষে বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁরা হেরে যাওয়ার ভয়ে আছেন। মানুষ তাঁদের সঙ্গে নেই বুঝেই এমন অভিযোগ করছেন। সব প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ দেখছি। আমরা সবাইকে প্রচার চালাতেই ব্যস্ত দেখতে পাচ্ছি।' বিএনপি প্রার্থীর উদ্দেশে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'এখানে এর আগে আপনাদের দলের প্রার্থী মেয়র ছিলেন। তিনি কোনো উন্নয়ন করেননি। আপনি বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা। অপপ্রচার না চালিয়ে জনগণের কাছে গিয়ে বোঝান আপনি কী করতে চান। অপপ্রচার চালিয়ে গাজীপুরে ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করবেন না।' বিএনপি অভিযোগ জানিয়েছে, গত বুধবার দিবাগত রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। দলটির পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের হয়রানি বন্ধে গতকাল সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুণ অর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণগ্রেপ্তার বা ধরপাকড়ের ঢালাও অভিযোগ সত্য নয়। বিএনপির নয়জনকে আটকের তথ্যও সত্য নয়। মাত্র দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তা-ও তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এদিকে স্থানীয় থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথমবারের তফসিল ঘোষণার পর গাজীপুরে 'গোপন বৈঠক' থেকে জামায়াতের ৪৫ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১ জনের এই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। এর বাইরে আরও ১০৩ জনকে বিভিন্ন সময়ে আটক করা হয়। এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ১৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে। বেশির ভাগকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সবাইকে গাজীপুরের পুলিশ আটক করেছে, তা নয়। অনেকে ঢাকা, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক হয়েছিলেন। এর আগে ইসির তফসিল অনুসারে ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির প্রজ্ঞাপন ও নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ মে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের তফসিলের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এবং নির্বাচন কমিশন পৃথক তিনটি আবেদন করে। শুনানি শেষে ১০ মে আপিল বিভাগ এই নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করে ২৮ জুনের মধ্যে এ নির্বাচন করতে বলেন। এরপর ১৩ মে ইসির এক সভায় ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
9
বিনিয়োগ স্বার্থক হতে চলেছে পিএসজি। স্বার্থক হতে চলেছে নেইমার-এমবাপ্পের ওপর অর্থ ঢালা। চ্যাম্পিয়নস লিগের যে চ্যালেঞ্জ নেইমার-এমবাপ্পেরা নিয়েছিলেন দলকে তার শেষ ধাপে তুলেছেন তারা। তবে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার জাদুতে। মঙ্গলবার রাতে লিসবনে ৩-০ গোলে পিএসজি উড়িয়ে দিয়েছে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপগিজকে। প্রথমবার নিশ্চিত করেছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় পিএসজি। ১৩ মিনিটের মাথায় ব্রাজিল ডিফেন্ডার মারকুইনোস চোখে লেগে থাকার মতো এক হেড থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার নেওয়া ফ্রি কিক থেকে উড়ে এসে হেড করেন তিনি। প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন উইঙ্গার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। নেইমারের অসাধারণ ব্যাক হিল পাস ধরে গোল করেন তিনি। পুরো ম্যাচে তিন-চারটি গোলের সুযোগ হারানো নেইমার ওই এক পাসের জন্যই হয়তো বর্তে যাবেন। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে জোয়ান বারনেটের করা গোলটিও আসে ডি মারিয়ার পা থেকে। দারুণ এক বল ধরে ক্রস দেন তিনি। আবারও হেডে থেকে গোল পিএসজির। ওই গোলেই ম্যাচ থেকে রূপকথা লিখে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে আসা জার্মান ক্লাব লাইপজিগকে বিদায়ের পথ বাতলে দেয় পিএসজি। ম্যাচে অবশ্য লাইপজিগ সুবিধাই করতে পারেনি। গোল মুখে তিনটি শট নিলেও তা কেইলর নাভাসের বদলে পিএসজির পোস্টের নিচে দাঁড়ানো রিকোকে পরীক্ষাই নিতে পারেনি। বরং নেইমার সহজ সুযোগগুলো মিস না করলে আরও বড় ব্যবধানে হারতো হতো লাইপজিগকে। তাদেরকোচ নিগেলসম্যান ম্যাচের ছক কষতে নেইমার-এমবাপ্পেকে নিয়েই ভেবেছেন। ভুলে গিয়েছিলেন ডি মারিয়ার নাম। তারই খেসারত দিল তার দল।
12
প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান ও দ্বিতীয় মুসলিম আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নুসরাত জাহান চৌধুরী। দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ৪৪ বছর বয়সী এ আইনজীবীকে মনোনয়ন দেন।মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার ৮ নতুন বিচারক মনোনয়ন দিয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নুসরাত চৌধুরী আছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে- বাইডেন ৮ নতুন বিচারক মনোনয়ন দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নুসরাত জাহান চৌধুরী যিনি আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন অব ইলিনয়ের লিগ্যাল ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন বর্তমানে। ২০০৮ থেকে তিনি আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি রেসিয়াল জাস্টিস প্রোগ্রামের (জাতিগত বিচার কর্মসূচি) উপপরিচালক পদে ছিলেন। ফেডারেল সরকারের নো ফ্লাই লিস্ট এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের নজরদারি চ্যালেঞ্জ করার মামলাসহ অসংখ্য নাগরিক অধিকারের মামলায় সংযুক্ত ছিলেন নুসরাত জাহান। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে নুসরাতকে নিয়োগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে সুপারিশ করেন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠদের নেতা চাক শুমার। নুসরাত জাহান চৌধুরী বিশ্বখ্যাত ইয়েল ল' স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নে যোগদানের আগে তিনি নিউইয়র্ক সাউদার্ন ডিসট্রিক্ট কোর্টের ক্লার্ক এবং সেকেন্ড সার্কিট ইউএস কোর্ট অব আপিলের জজ ব্যারিঙ্গটন পার্কারের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
3
এটা কি স্বপ্ন না দুঃস্বপ্ন? দেখছি, নূর হোসেন জুরাইনের কবরস্থান থেকে উঠে এসেছেন। বুকে-পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক', 'স্বৈরাচার নিপাত যাক' লিখে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঢাকা শহরে। হঠাৎ একদল যুবক তাঁকে ধাওয়া করল। নূর হোসেন 'এরশাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার...' বলতে বলতে ঘুরে দাঁড়ানো মাত্রই কোথা থেকে যেন একটি গুলি এসে বিঁধল তাঁর বুকে। তাঁর বুকটা হঠাৎ সবুজ হয়ে গেল। তারপর ধীরে ধীরে একটা রক্তজবা ফুটল সেই বুকে। সেভাবেই মনে দুঃখ নিয়ে নূর হোসেন আবার ফিরে গেলেন জুরাইনে। সেখানে রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনসসহ অজস্র অপঘাতের শিকারের সারি সারি কবর। নূর হোসেন তারপর কী এক জেদে সেসব কবর খুঁড়ে প্রত্যেকের বুকে-পিঠে লিখে দিতে থাকল, 'জীবন মুক্তি পাক'! হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। সকালের পত্রিকায় খবর পড়লাম। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা জোশের সঙ্গে বলেছেন, এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নূর হোসেন নাকি ইয়াবাখোর ছিলেন। কথাটা তিনি বলেন নূর হোসেনের মৃত্যুর তারিখে পালিত হওয়া গণতন্ত্র দিবসে, ১০ নভেম্বর। ১৯৮৭ সাল কি সুদূর অতীত? নূর হোসেনের ঘটনা তো এখনো অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তাঁরা কেউ সেখানে ছিলেন না? নূর হোসেনের মাকেও এটা শুনতে হলো? এমন গাঁজাখুরি কথায় ইতিহাসের সত্য বদলাবে না, মসিউর রহমান তা ভালো করেই জানেন। জেনেশুনে তাহলে কেন তিনি এটা বললেন? হয়তো তিনি জেনেছেন, নূর হোসেনরা পরাজিত হয়েছে। ছাত্র-তরুণেরা পরাজিত হয়েছে। গণতন্ত্র ধরাশায়ী হয়েছে। জয়ী হয়েছে এরশাদীয় রাজনীতির ধারা। আমাদের রাজনীতিতে কেউ ছোট এরশাদ আর কেউ বড় এরশাদ। ব্যক্তিকেন্দ্রিক আদর্শের মডেলও এরশাদ। আমাদের মধ্যেই ছোট ছোট স্বৈরাচারের বাস। পরিবার থেকে প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্রে সর্বত্রই তাদের নাম। এই ছোট স্বৈরাচারেরা এরশাদের মধ্যে তাদের মনের মানুষের দেখা পায়। তাই পতনের তিন দশক পরও এরশাদ এক প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিত্ব। তাহলে এরশাদকেই বাংলাদেশের রাজনীতির সত্যিকার আদর্শ বলা যাবে না কেন? নির্বাচনহীন একচেটিয়া ক্ষমতার যে রাস্তা তিনি দেখিয়ে গেছেন, সেটাই বাংলাদেশের ক্ষমতাশ্রিত সব দলের স্বপ্নের মডেল। এরশাদ উন্নয়নের কথা বলে অবৈধভাবে যে কৌশলে ক্ষমতা ভোগ করেছেন, সেই ক্ষমতা এখন আইনসিদ্ধ পদ্ধতিতেই ভোগ করা যায়। একটি সাহসী আত্মদানের ঘটনাকে এভাবে অবমাননা করার যে সাহস মসিউর রহমান পেয়েছেন, তা তিনি পেয়েছেন বাস্তবতা থেকেই। এই বাস্তবতায় আর নূর হোসেনদের প্রয়োজন নেই। তাই যে দলের মিছিলে গিয়ে নূর হোসেন শহীদ হলেন, সেই দলই নূর হোসেনের খুনিদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে। করে বলেই মসিউর রহমান ২০১৪ সালে মন্ত্রী হন আর এবার হন মাননীয় সাংসদ। নূর হোসেন যেন সেই অমলকান্তি, যে রোদ্দুর হতে চেয়ে হয়েছিলেন ছাপাখানার ভূত। ২৪ বছরের নূর হোসেন কিছুই হতে পারেননি। জাতির মনে তবু এক রূপকথার নায়ক ছিলেন তিনি। ছিলেন আরও অজস্র শহীদের প্রতীক। কিন্তু জনাব রাঙ্গা তাঁকে দেখাতে চান মাদকাসক্ত হিসেবে। যিনি যেমন, তিনি তো তেমনই দেখবেন ও দেখাবেন। নূর হোসেনের সহযোদ্ধারাই-বা কী করেছেন? অনেকে ধনে-মানে বড় হয়েছেন। মন্ত্রী-সাংসদ-আমলা-মিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা হাতে গুনে শেষ করা যায় না। বুকে ও পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক' 'স্বৈরাচার নিপাত যাক' লিখে তিনি নিজেকে গুলির নিশানা করে নিয়েছিলেন। দাফনের সময় অনেক ঘষাঘষি করেও তাঁর গায়ে লেখা বাংলাদেশের সেই ললাটলিখন ওঠানো যায়নি। যে গুলি তাঁর পাঁজরে রক্তজবা ফুটিয়েছিল, সেটিও সেখানেই থেকে গিয়েছিল। নূর হোসেনের কবর হয়েছিল বেওয়ারিশ হিসেবে। আজকের বাংলাদেশে নূর হোসেনসহ এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সব শহীদও কি বেওয়ারিশ। কে আর তাঁদের উত্তরাধিকারী হয়ে বিপদ ঘাড়ে ডেকে আনতে চায়? নূর হোসেনের আয়ু আত্মসাৎ করেছিল যে রাজনীতি, সেই রাজনীতি আজও গণতন্ত্রকে নূর হোসেনের মতোই বাড়তে দেয়নি। নূর হোসেনের খুনিদের নিয়ে যাঁরা গণতন্ত্রের ককটেল পার্টি জমাচ্ছেন, শহীদ নূর হোসেনকে তাঁরা সফলভাবেই বেওয়ারিশ করে দিয়েছেন। এরশাদের পতনের পরও নূর হোসেনের পিতা মজিবুর রহমানের হতাশা কাটেনি। তিনি প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানকে বলেছিলেন, 'নূর হোসেন যা চেয়েছিল, তা তো হলো। স্বৈরতন্ত্র নিপাত হলো। এখনো দেশে এত হানাহানি, সন্ত্রাস। গণতন্ত্র তো মুক্তি পেল না।' ২০০৪ সালে মৃত্যুর আগে বড় দুঃখ নিয়ে নূর হোসেনের বাবা বলেছিলেন, 'ছেলেটা যা চেয়েছিল, তা তো হলো না!' শহীদ পুত্রের পিতা ভেবেছিলেন, 'নূর হোসেনের মৃত্যুর পর সবাই আমাকে শ্রদ্ধা জানাল। ভাবতে শুরু করলাম, আমিও একটা ইডবিডি পাখি (যে পাখি স্বর্গে যেতে চায় কিন্তু পারে না) হয়ে গেলাম। আমিও সবার সঙ্গে উড়তে পারব। সেটা আমার ভুল। ইডবিডি পাখি কোনো দিন স্বর্গে যেতে পারে না। এখন কোথায় আমার স্থান?' নূর হোসেনের মা মরিয়ম বেগম বলেন, 'দেখেন বাবা, নূর হোসেনের মুখে কি রকম রাগের চিহ্ন!' বিদায়ের কিছু আগে তিনি মাকে বলেছিলেন, 'মা, আমি একটা কিছু করার চেষ্টা করছি।' (শহীদ নূর হোসেন, শামসুর রহমান ও মতিউর রহমান, প্রথমা) এখন ২০১৯ সাল, সময় আবার আশাহীন। মানুষের মনে আবারও প্রশ্ন: রাত পোহাবার আর কত দেরি পাঞ্জেরি? শহীদের আত্মদান কি সত্যিই বৃথা যায়? তাহলে যে ছাত্রতরুণেরা 'শত শহীদের রক্ত/ বৃথা যেতে দেব না', 'নূর হোসেনের রক্ত, বৃথা যেতে পারে না' বলে স্লোগান দিয়ে মার খায়, জেলে যায়, তারা কি ভুল? ইতিহাসের দেবতা তরুণের রক্ত পান না করে সন্তুষ্ট হন না। চিরটা কাল নিষ্পাপ সাহসী তরুণেরাই মানবতার হারানো আত্মাকে ওই 'ইডবিডি পাখির' মতো স্বর্গীয় উড়ালের স্বপ্ন দেখায়। এই দেশে এ রকম তরুণের অভাব কোনো দিন হয়নি। আমরাও বারবার গর্ব করে বলেছি, 'শহীদের আত্মদান বৃথা যেতে পারে না।' কিন্তু দিনের শেষে সব আশার সমাধিতে দাঁড়িয়ে নিষ্ঠুর ভাষায় বলতে হয়, 'নূর হোসেন, তোমাদের আত্মদান যে আমরা কতবার বৃথা করে দিয়েছি, তোমার বাবা মৃত্যুর আগে সেটা দেখে গিয়েছেন; তুমি সৌভাগ্যবান, তুমি তা দেখোনি।' ব্রিটিশ মনীষী টমাস কার্লাইল বলেছিলেন, 'তোমরা আমাকে বীর দাও, আমি তোমাদের ট্র্যাজেডি উপহার দেব।' উদিত দুঃখের দেশ বাংলাদেশ যুগে যুগে বীর জুগিয়ে গেছে। আর এরশাদপন্থীরা তাদের করে দিয়েছে ট্র্যাজিক। মসিউর রহমান দেখালেন, এই সময় ট্র্যাজিক বীরদের নিয়ে পরিহাসও করার সময়। নূর হোসেনের মৃত্যুর পর লেখা কবি শামসুর রাহমানের কবিতাটাই যেন সত্য, 'বাংলাদেশ বনপোড়া হরিণীর মতো আর্তনাদ করে!' আজও। ফারুক ওয়াসিফ: লেখক ও সাংবাদিক।[]
8
নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ইউরোপিয়ান ইকোনমিক এরিয়া (ইইএ) এবং যুক্তরাজ্যে নন-ডেইরি ও ডেইরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য ডেনমার্কের ইনোভার-কে একমাত্র পরিবেশক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল আলম মল্লকি এফসিএ এবং ইনোভার-এর স্বত্বাধিকারী আমানুল হক একটি পরিবেশক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
0
যশোরে শাওন ওরফে টুনি (২৫) নামের এক যুবককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে শহরের শঙ্করপুর ছোটনের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাওন শঙ্করপুর জমাদ্দারপাড়া এলাকার হালিম ওরফে তিলে মুন্সির ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে শঙ্করপুর ছোটনের মোড় এলাকার একটি গলির ভেতর চার-পাঁচ জন যুবক শাওনকে ছুরিকাঘাত করে। জীবন বাঁচাতে তিনি দৌড়ে মোড়ে অবস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। সেখানে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সালাহউদ্দিন স্বপন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কারা, কী কারণে ওই যুবককে হত্যা করেছে তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি আমরা। হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।
6
সাড়ে ছয় বছর বন্ধ থাকার পর বিজয় দিবসে সুনামগঞ্জ জেলার ধরমপাশা গণপাঠাগারটি নতুন করে চালু হয়েছে, এটি আনন্দের খবর। কিন্তু এ পাঠাগার কেন বারবার বন্ধ হয়, কেন প্রশাসন এ ব্যাপারে নির্বিকার ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলে না। এবার যে পাঠাগারটি ফের চালু হয়েছে, তার কৃতিত্ব যতটা না প্রশাসনের, তার চেয়ে বেশি স্থানীয় মানুষের। একপর্যায়ে ধরমপাশা সাহিত্য পরিষদের সদস্যরা পাঠাগার চালুর দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন। সচেতন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একাধিকবার মানববন্ধন হয়েছে। প্রথম আলোর ধরমপাশা প্রতিনিধির দেওয়া খবর অনুযায়ী, অবকাঠামোগত সমস্যা ও প্রয়োজনীয় বই না থাকায় সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার একমাত্র সরকারি গণপাঠাগারটির কার্যক্রম সাড়ে ছয় বছর বন্ধ ছিল। ১৯৯৩ সালে উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের পুকুরপাড় এলাকায় গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৪ সালের বন্যায় পাঠাগারটির ভেতরে পানি ঢুকে এর বই ও আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পাঠাগারটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৭ সালে উপজেলা প্রশাসন বইপত্র সংগ্রহ ও আসবাব সংস্কার করে পুনরায় এটি চালু করে। ২০০৮ সালে পাঠাগারটি থেকে আট শতাধিক মূল্যবান বই ও বেশ কিছু আসবাব চুরি হয়। ২০১৪ সালে ঘূর্ণিঝড়ে ভবনটির টিনের ছাউনির একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে ভেতরে থাকা পাঁচ শতাধিক বই বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়। এরপর আবার বন্ধ হয়ে যায় পাঠাগারটির কার্যক্রম। একটি গণপাঠাগার বছরের পর বছর বন্ধ ছিল, অথচ প্রশাসনের পক্ষ থকে চালু করার কার্যকর উদ্যোগ না থাকা দুঃখজনক। পাঠাগারের অবকাঠামো এমন কেন হয়, বন্যা হলে মেঝে পানিতে ভেসে যাবে, বৃষ্টি হলে চালা উড়ে যাবে। সরকারি পাঠাগার থেকে বিপুলসংখ্যক বই চুরি হওয়া রহস্যজনক। এর পেছনে এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো যোগসাজশ ছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা দরকার। তিন লক্ষাধিক মানুষের বাস ধরমপাশায়। এখানে তিনটি কলেজ ও ২২টি উচ্চবিদ্যালয় আছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অবসরে গণপাঠাগারে গিয়ে পড়তে পারেন। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও উপজেলা সদরে বাস করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি তাঁরাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও বই ও পত্রিকার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি। ভবিষ্যতে যাতে ধরমপাশা গণপাঠাগারটি বন্ধ না হয়, সে ব্যাপারে প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখবে আশা করি। অন্যদিকে পাঠাগারটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকতে হবে।
8
সরকার খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, 'বেগম জিয়াকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে সেটা প্রমাণ হয়ে যাবে। এই জন্যই বর্তমান অবৈধ সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দিচ্ছে না। কিন্তু আজ না হয় কাল এই সত্য প্রমাণিত হবেই।' বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বরিশাল নগরের জিলা স্কুল মাঠে এই সমাবেশ হয়। সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির অধিকার দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। আর তাঁর সহধর্মিণী ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। আন্দোলন করতে হচ্ছে, এটা লজ্জার। শেখ হাসিনা যখন গ্রেপ্তার ছিলেন, তখন প্রথম খালেদা জিয়া তাঁর মুক্তির দাবি তুলেছিলেন। অথচ মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বিভাগীয় সমাবেশ করতে বাধার অভিযোগ তুলে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, 'বরিশালে এবার আসার সঙ্গে সঙ্গেই ধাক্কা খেয়েছি। বিভিন্ন সময় বরিশালে এসেছি, তবে এমন ধাক্কা খাইনি। প্রথমে শুনলাম, আমাদের সমাবেশ করার জায়গা দেওয়া হবে না। পরে শুনলাম, নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। মঞ্চ দুইবার করা হয়েছে। একবার ঈদগাহ মাঠে, তারপর রাত ১২টায় আবার তা খুলে জিলা স্কুল মাঠে। নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। এমন অত্যাচার কোথাও দেখিনি। যারা স্বাধীন মাটিতে কথা বলতে দেয় না, তারা কারা?' সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম) বলেন, 'এই দেশের সরকার চোখেও দেখে না, কানেও শোনে না। জনগণের কথা এরা কানে নেয় না। কেন না, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। এরা ভোটে নির্বাচিত হতে পারবে না। এরা খুনি সরকার। খালেদা জিয়া এই সরকারের ক্ষমতায় থাকায় বড় বাধা। পুলিশি জোরে আপনারা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।' সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, সারা দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুস্থতা কামনা করছে। তারা সমাবেশ করেছে তাতে সরকার বাধা দিচ্ছে। তেলসহ সারা দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কিন্তু তাতে সরকারের কিছু আসে যায় না। শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়ার দাবি যখন জানালেন, তখন সরকারের টনক নড়েনি, কিন্তু যখন তাঁরা সড়কে নামলেন, তখন তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া হলো। তিনি আরও বলেন, 'আজ সাংবাদিক নির্যাতনকারী ডিসিকে মাফ করে দেওয়া হচ্ছে, আজ সন্ত্রাসীদের সাজা মাফ হয়ে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। কিন্তু তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।' মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুখের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল আলম, নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সহদপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবায়দুল হক, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাদের ভূইয়া, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোনায়েম মুন্না প্রমুখ। সমাবেশ সফল করতে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মীরা মিছিলসহকারে যোগদান করেন। পাশাপাশি সমাবেশ ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। সমাবেশস্থলের আশপাশে জলকামান ও এপিসি রাখা হয়।
9
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমে সিচুয়ান প্রদেশের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে তিন হাজার বছর পুরনো একটি শিল্পকর্ম উদ্ধার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। নতুন আবিষ্কৃত ছয়টি 'বলির বেদি' খনন করে পাঁচশর বেশি বিভিন্ন বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি স্বর্ণের মুখোশ। ২৮০ গ্রাম ওজনের মুখোশটি প্রায় ৮৪ শতাংশ স্বর্ণের তৈরি। এটি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।চীনের ন্যাশনাল কালচারাল হেরিটেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ তথ্য জানিয়েছে। সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংদুর বাইরে সানসিংদুইয়ে ৪ দশমিক ৬ বর্গমাইল আয়তনের এলাকাজুড়ে নিদর্শনগুলো পাওয়া গেছে। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, আবিষ্কৃত জিনিসগুলো সু রাজ্যের নিদর্শন বহন করে। ৩১৬ খ্রিস্টাপূর্ব পর্যন্ত এই রাজ্য পশ্চিমা সিচুয়ান নদীর অববাহিকাজুড়ে বিস্তৃত ছিল। ওই এলাকায় স্বর্ণের মুখোশ ছাড়াও প্রত্নতাত্ত্বিকরা ব্রোঞ্জ, স্বর্ণপত্র এবং হাতির দাঁত, রত্নপাথর ও হাড়ের তৈরি শিল্পকর্ম আবিষ্কার করেছেন। ছয়টি নির্দশন এলাকার মধ্যে বৃহত্তমটির আয়তন ১৯ বর্গমিটার। এখানে ডালাবন্ধ কাঠের বাক্স এবং পেঁচার নকশাকৃত একটি ব্রোঞ্জের পাত্রও পাওয়া গেছে।১৯২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত সানসিংদুইয়ে ৫০ হাজারেরও বেশি প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে। ঘটনাক্রমে স্থানীয় এক কৃষক এ স্থানের একটি প্রাচীন নির্দশনের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন। এরপরই শুরু হয় খনন ও অনুসন্ধান। ১৯৮৬ সালে দুটি নিদর্শন এলাকা থেকে এক হাজার বস্তু পাওয়া যায়। খনন কাজের দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালে তৃতীয় নিদর্শন স্থান আবিষ্কার করা হয়। এর পর গত পাঁচ বছরের বিভিন্ন নিদর্শন আবিষ্কার করা হয়েছে।সূত্র: সিএনএন
3
শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো পৃথিবী জুড়েই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। অদৃশ্য এই ভাইরাস মোকাবিলায় সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী পর্যন্ত মাঠে নেমেছে। কিন্তু এ অবস্থাতেও দেশের মানুষের সব ধরণের যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। সরাসরি দেখা না করেও মানুষ মানুষের সাথে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এমনকি সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল জেলা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। শুধুমাত্র ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ায় এখন দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসকরাও সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে পারছেন। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' বিনির্মাণই ছিলো ২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান বিষয়। সেই ইশতেহারে দেয়া কথা রেখেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেরণায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ মহাকাশ জয়ের মিশনেও নেমেছে। ইতিমধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে সফল ভাবে। এ দেশীয় টেলিভিশনগুলো এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে সম্প্রচার কর্যক্রম পরিচালনা করছে। সারাদেশই ডিজিটাল হওয়ায় সবাই সুবিধাও পাচ্ছেন। অফিস আদালত থেকে শুরু করে ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠা গুলোতেও ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া লেগেছে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর জন্য এই করোনা সংকট মোকাবেলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা জাতির এই দুর্যোগের সময় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে বুঝিয়ে দিলেন, জনগণের প্রয়োজনে তিনি সব সময়ই ছিলেন। একজন সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে করোনাভাইরাস মোকাবেলায়ও ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশে। ভোরের পাতা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বাজার২৪.বিজ গ্রাহকদের অর্ডার ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সারাদেশ যেখানে লকডাউন হয়ে থমকে আছে, সেখানেও ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। শুধুমাত্র ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ কাজ করে যেতে পারছে। এ কারণে করোনাভাইরাসের ক্রান্তিলগ্নেও দেশকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা ও ডেইলি পিপলস টাইম। পরিচালক, এফবিসিসিআই বিডি-প্রতিদিন/শফিক
2
গঙ্গাচড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের জমজমাট প্রচার। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি পালন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রার্থীরা বিধি ভেঙে ইচ্ছেমতো প্রচারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যক্তিরা আচরণবিধির প্রতি কোনো তোয়াক্কা করছেন না। রাত ৮টার মধ্যে প্রচার বন্ধ করার কথা থাকলেও এই সময়ের পরে জনসভা শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে।নিষেধ থাকলেও প্রচারে জীবন্ত প্রাণীর ব্যবহার কোথাও কোথাও দেখা গেছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ির দেয়ালে সাঁটানো হয়েছে পোস্টার। রেস্তোরাঁয় চলছে ভোটারদের খাওয়ানো। মোটরসাইকেল মহড়ার পর দেওয়া হচ্ছে নগদ অর্থ ও খাবারের প্যাকেট। কোনো কোনো প্রার্থী জনসভা শেষে খিচুড়ি ও বিরিয়ানি রান্না করে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন।গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে নির্বাচনী আমেজ। হাটবাজারের চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় করেছিলেন প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকেরা। চা-সিগারেটের পাশাপাশি চলে ভোট প্রার্থনা। ইজিবাইকে করে চলছিল মাইকে প্রচার। বিভিন্ন স্লোগানসহ মিছিল নিয়ে চলতে দেখা গেছে অনেককে।আলমবিদিতর ইউনিয়নের মণ্ডলের হাটে কথা হয় মেচনিকুন্ডা গ্রামের মজিবার রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'ভোট আসায় চা-বিড়ি খাওয়ার খরচ কমেছে। হাটোত আসলে কায় যে কাক ডাকে চা খিলায় তার দিশা নাই। যদি চা না খান তাইলে মন খারাপ করে। মনে করে ভোট তাঁর মার্কাত দিবার নেই। ওই জন্যে হামরা যায় খিলায় তারে খাওছি।'কোলকোন্দ ইউনিয়নের পিরের হাট এলাকায় অনেক বাড়িতে দেয়ালজুড়ে সাঁটানো হয়েছে প্রার্থীদের পোস্টার। বাবুপাড়া গ্রামের বীরেন আক্ষেপ করে বলেন, 'কর্মীরা ছোট ছোট চ্যাংরা, এরা কায়ো নির্বাচনী নীতিমালা বুঝে না। বাধা করলেও জোর করি দেয়ালোত পোস্টার নাগায়।'ভোরে মাইকের আওয়াজে ঘুম ভাঙে এবং তা রাত ১টা পর্যন্ত বাজতে থাকে বলে জানান মর্নেয়া ইউনিয়নের খলিফাবাজার গ্রামের আবু বক্কর মিয়া। তিনি বলেন, 'এক প্রার্থীর মাইকিং যাইতে না যাইতে আরেক প্রার্থীর গাড়ি চলি আইসে। তার ওপর গভীর রাইতোত ভোট দেওয়ার কথা কবার জন্য বাড়িও আইসে প্রার্থীরা। অনেক প্রার্থী রাতের বেলা আসি দুই-এক শ টাকাও দিবার চায়। কয়, ভোটটা হামার ওমুক মার্কায় দেন। রাতে ভালো করি ঘুমবারও পাই না। ভোট আসি হইছে যত যন্ত্রণা।'প্রার্থীদের সঙ্গে যাতে সম্পর্ক খারাপ না হয় সে জন্য গভীর রাতেও সমাবেশে যেতে হয় বলে জানান বেতগাড়ী ইউনিয়নের আনজুর মোড় এলাকার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'রাইত ১২টা থাকি ১টা পর্যন্ত এই সভা চলে। প্রার্থী, কর্মীরা বাড়িত আসি ডাকে যায়। না যেয়াও পারি না। ওই জন্যে যাওয়া নাগে, ভোটের পরে যেন কারও শত্রু না হই। তা ছাড়া কামাইও আছে।'এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহা. আইনুল হক (চলতি দায়িত্ব) আজকের পত্রিকাকে জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের জেল-জরিমানা করা হবে।গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, 'নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনা মোতাবেক আমরা নির্বাচনী এলাকার ১০৭টি ভোটকেন্দ্র এলাকাসহ সর্বত্র পুলিশি টহল জোরদার করেছি। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উপজেলার সর্বত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।'দেশে ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন গঙ্গাচড়ার ৯ ইউনিয়নে ভোট হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ৫০, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১২২ ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৬৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
6
বগুড়া জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভা চলাকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দু'পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে শহরের নবাববাড়ী রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ওই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজের সভাপতিত্বে নবাববাড়ী রোডের জেলা কার্যালয়ে বিএনপির এক যৌথ প্রতিনিধি সভা শুরু হয়। সভা চলাকালে দুপুর ১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ করে উপজেলা বিএনপির কমিটি বাতিল চেয়ে সভাকক্ষে প্রবেশ করে। পরে তাদের বের করে দেয়া হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পদবঞ্চিত বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী ও তাদের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে অপর একটি গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওযার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপে আরমান আলীসহ বিএনপির ৩ সমর্থক আহত হন। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় বিক্ষুদ্ধ কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং সেখানে ৪/৫টি চেয়ারও ভাংচুর করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য ও জেলা বিএনপির মূখপাত্র ভিপি খায়রুল বাসার বলেন, বিএনপির বহিস্কৃত নেতাকর্মীরা কোন কারণ ছাড়াই দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিশৃংখলা করার চেষ্টা করে। পরে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান করা হয়। বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।
6
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের সঙ্গে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির কথোপকথন ফাঁসের ঘটনায় র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাসায় ফিরেছেন চিত্রনায়ক ইমন। পাঁচ ঘণ্টা পর তিনি র্যাব সদর দপ্তর থেকে বাসায় ফেরেন।মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইমনের বাসায় ফেরার বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার মঈন।খন্দকার মঈন জানান, ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনার বিষয়ে জানতে র্যাবের সদর দপ্তরে চিত্রনায়ক ইমনকে ডাকা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সোয়া ১১টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে গেছেন।এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা বাজতে ১০ মিনিট আগে ইমনকে র্যাব সদর দপ্তরে ডাকার বিষয়টি এসএমএস করে জানিয়েছিল র্যাব। একদিন আগে একই বিষয়ে জানতে এ চিত্রনায়ককে ডেকেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা ইমনের কাছে ফাঁস হওয়া ফোনালাপটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। নায়ক ইমন এ বিষয়ে নানা ধরনের কথা জানিয়েছেন। গোয়েন্দা কার্যালয়ে ইমনকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় জেরা করা হয়।ফোনালাপ ও নারীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অডিও-ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবারের মধ্যে মুরাদকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় নিজের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে পদত্যাগপত্র ই-মেইল করেন তিনি। এরপর সেটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মুরাদের নিয়োগের অবসান করে রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
2
কফিনবন্দী হয়ে প্রাণের শহর চট্টগ্রামের মাটিতে মঙ্গলবার রাতে পৌঁছায় নারীনেত্রী, শহীদজায়া ও উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি বেগম মুশতারী শফীর মরদেহ। আজ বুধবার সকাল ৯টায় তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো এই মহীয়সী নারীকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সেখানে গার্ড অব অনার দেবে সিএমপির একটি চৌকস দল।মুশতারী শফীর প্রতি স্মৃতিচারণ করেন কবি আবুল মোমেন, চবি উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার, অধ্যাপক বেণু কুমার চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বালাগাত উল্লাহ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, প্রমার সভাপতি রাশেদ হাসান প্রমুখ।একে একে শ্রদ্ধা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবসার, নারীনেত্রী নূরজাহান খান, প্রফেসর রীতা দত্ত, নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, লেখিকা আনোয়ারা আলম, ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, ডা. চন্দন দাশ, শীলা দাশগুপ্ত, কবি আশীষ সেন, রাশেদ হাসান, রমেন দাশগুপ্ত, প্রণব চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়া শ্রদ্ধা জানায় উদীচী, কমিউনিস্ট পার্টি, সনাক, বোধন, প্রমা, খেলাঘর, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন। শ্রদ্ধা জানানো শেষে দুপুর ১২টায় জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারপর বাদ জোহর চৈতন্য গলি কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। মুশতারী শফীর পরিবারের বরাত দিয়ে উদীচী চট্টগ্রামের সহসভাপতি ডা. চন্দন দাশ আজকের পত্রিকার কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, আমাদের সভাপতিকে হারিয়ে আমরা উদীচী পরিবার খুবই ব্যথিত। প্রগতিশীল সংস্কৃতি অঙ্গনের এই অভিভাবককে হারিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের প্রগতিশীল সংস্কৃতি অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, সেটা কখনোই পূরণ হবার নয়। বেগম মুশতারী শফী দীর্ঘ সময় ধরে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও নাগরিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার বেগম মুশতারী শফী দেশে প্রগতিশীল চেতনার বাতিঘর হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা পালনের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমি কর্তৃক ২০১৬ সালে 'ফেলোশিপ' প্রদান করা হয়। গত সোমবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল চারটায় ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম মুশতারী শফী মারা যান। ৮৩ বছর বয়সী বেগম মুশতারী শফী দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। এ ছাড়া বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগও ছিল। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।
6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা পৌরসদরে বাবাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে শুভ নামে এক যুবককে গ্রেপাতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তারের পর শনিবার তাকে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানায় দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে আমীর হোসেনের সংসার। ছেলে শুভ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে অর্নাস পড়েন। তিনি ব্যবসা কিংবা চাকরির জন্য বাবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চেয়ে আসছিলেন। কিন্তু এত টাকা দিতে রাজি ছিলেন না বাবা আমীর হোসেন। এ নিয়ে প্রায়ই পারিবারিক অশান্তি চলছিল। শুক্রবার সকালে টাকা নিয়ে আবারও বাবা-ছেলের ঝগড়া হয়। কিছুক্ষণ পর আমীর হোসেন হযরত আমেনা পৌর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সামনে দোকানে চা খেতে আসেন। এ সময় ছেলে দা হতে বাবার ওপর চড়াও হন। প্রকাশ্যে সড়কে বাবাকে কুপিয়ে পালিয়ে যান শুভ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমীর হোসেনকে উদ্ধার করে নবীনগর সদর হাসাপাতালে নিয়ে গেলে তাকে দ্রুত কুমিল্লা পাঠানো হয়। কুমিল্লা নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। নবীনগর থানার ওসি ( তদন্ত) রুহুল আমীন বলেন, এ ঘটনায় স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে নিহতের স্ত্রী মোসাম্মৎ সানোয়ারা বেগম ছেলে শুভর বিরুদ্ধে শুক্রবারই নবীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
6
বিশ্বসেরা লিওনেল মেসিকে ঠিকমতো ব্যবহার করতে না পারায় আর্জেন্টিনা কোচ হোর্হে সাম্পাওলির কঠোর সমালোচনা হয়েছে। কোচের সঙ্গে খেলোয়াড়দের বনিবনা হচ্ছে না বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।তবে এ নিয়ে কোনো জবাব দেননি তিনি। শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর অন্যভাবে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মঙ্গলবার রাতে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন মেসি, প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে আর্জেন্টিনাও। এরপর সাম্পাওলি বলেন, মেসি যখন আসল এবং আমাকে জড়িয়ে ধরল তখন নিজেকে খুব গর্বিত ও সুখী মানুষ মনে হয়েছে। কারণ সে জানে আমি প্রত্যেকটা দিনই প্যাশন নিয়ে কাজ করেছি। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
12
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলছেন বাংলাদেশ ভারতকে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেমডেসিভির ঔষধ দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও ভারতকে ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে। রেমডেসিভির কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি ঔষধ। বাংলাদেশের আটটি কোম্পানির এ ঔষধ তৈরির অনুমোদন রয়েছে। সম্প্রতি ভারতে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে এ ঔষধের প্রচণ্ড চাহিদা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রেমডেসিভিরের পেটেন্ট যাদের, সেই গিলিয়ার্ডের সঙ্গেও সরাসরি ভারত যোগাযোগ রাখছে বলে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, 'বাংলাদেশ বলছে যে আমরা রেমিডিসিভির উৎপাদন করছি। আমাদের কাছ থেকে নিন। কেন তারা বলছে, কারণ তারা অনুভব করছে যে এটাই সহযোগিতার সময়। ভারত আমাদের সহযোগিতা করছে এবং আমাদেরও তাদের সহযোগিতা করতে হবে।' বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ ভারতকে জরুরি ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সহায়তা হিসেবে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় এই সংকটের সময়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারতের পাশে আছে বাংলাদেশ এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তা দিতে বাংলাদেশ আগ্রহী।
6
নাটোরের নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের বেগাজ কেরিয়ারে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নিরঞ্জন সাহা (৫৬) লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌর এলাকার মধুবাড়ি মহল্লার মৃত বৈদ্যনাথ সাহার ছেলে। তিনি নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের মিল হাউস ফিডার পদে কর্মরত ছিলেন। মিল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের পরিবার সুত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ বেগাজ কেরিয়ারে সমস্যা দেখা দেয়। কেরিয়ার সচল করতে গিয়ে নিরঞ্জন সাহা বেগাজ কেরিয়ারে জড়িয়ে যান। সঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে এই দুর্ঘটনার পরপরই মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকরা জানায়, ভোর ৬টার দিকে মিলের উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়। নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'ঘটনাটি দুঃখজনক। অসাবধনতা বশত: দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। এই ঘটনার পর মিলের উৎপাদন বন্ধ রাখা হলেও ২/৩ ঘণ্টা পর তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।'
6
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে বাংলাদেশ বিমানের ওয়ার্কশপে একটি গাড়ির চাকার ভেতর থেকে ৪৬টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এসব সোনার বার জব্দ করেন। উদ্ধার করা সোনার বারের ওজন ৫ কেজি ৩৩৬ গ্রাম। প্রতিটি বার ১০ ভরি ওজনের। এ হিসাবে ৪৬০ ভরি সোনার বারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বলে কর্মকর্তারা জানান। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. বশীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গোপন সংবাদে বাংলাদেশ বিমানের নিয়ন্ত্রণাধীন ওয়ার্কশপে পুরোনো চাকা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। একপর্যায়ে একটি চাকার ওজন বেশি হলে স্ক্যানিং করা হয়। বিমানের ওয়ার্কশপের লোকজনের সহায়তায় চাকাটি খুলে কালো রঙের স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি বান্ডিল পাওয়া যায়। এই দুটি বান্ডিল থেকে ৪৬টি সোনার বার জব্দ করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, কাস্টমস আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে। জব্দ করা সোনার বার জমা দেওয়া হবে কাস্টম হাউসে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ছয় বছরে সংস্থাটি ১ হাজার ৫৫২ কেজি সোনা জব্দ করেছে। জব্দ করা এসব সোনার মূল্য ৮১৭ কোটি টাকা। ব্যাগেজ রুলের আওতায় একজন যাত্রী বিদেশ থেকে ফেরার সময় ঘোষণা দিয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম ওজনের দুটি সোনার বার নিয়ে আসতে পারেন। বৈধভাবে সোনার বার আমদানির জন্য শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়। ব্যাগেজ রুলের আওতায় প্রতি ভরিতে (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) শুল্ক-কর ২ হাজার টাকা।
6
আগস্ট মাসটি বাঙালি জাতি তথা বাংলাদেশের জন্য শোকের মাস। হৃদয়ের রক্তক্ষরণের মাস, অনুভূতি, উপলব্ধি ও মননশীলতার পরতে পরতে অসহ্য ও তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা বয়ে যাওয়ার মাস। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকের দিন। বাংলার আকাশ-বাতাস আর প্রকৃতিও অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। পঁচাত্তরের এই দিনে আগস্ট আর শ্রাবণ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর আকাশের মর্মছেঁড়া অশ্রুর প্লাবনে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়, বঙ্গবন্ধু হলেন একটি জাগ্রত ইতিহাস। একটি স্বাধীন জাতিসত্তার অপরিমেয় অহংকার, বর্ণিল ঐশ্বর্য। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এফসিএ আজ রবিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এঁর ৪৬ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী এ সময় বলেন, সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া, সারা বিশ্ব হতবাক হয়ে যায় এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। মুস্তফা কামাল বলেন, ১৯৪৭ থেকে ৭১- এই দীর্ঘ পথপরিক্রমণে একেকটি আন্দোলনের সোপান উত্তরণের মাঝে একেক গুচ্ছ তরুণ তাজা তপ্ত প্রাণ অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। কিন্তু এ সব কিছুরই পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ প্রতীক ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর পুরো জীবনের চেতনার সমস্ত অংশটুকু ছিল রাজনীতির সমুদ্রের অতলান্তে নিমজ্জিত, এমনকি ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম-ভালোবাসা, চাওয়া-পাওয়া সব কিছুই ছিল রাজনৈতিক চেতনার গভীরে নিমগ্ন। তাঁর কালজয়ী নেতৃত্বকে ঘিরেই আবর্তিত হয় প্রতিটি আন্দোলনের স্রোতধারা। জাতির শাণিত শিরায় অকুতোভয় সাহস ছড়িয়ে কোটি কোটি মানুষের ইচ্ছার অনিন্দ্য কুসুম ফুটিয়ে তুলেন তিনি। তিনি বাংলাদেশের ভৌগলিক মুক্তির পাশাপাশি, অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্নে সোনার বাংলা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ আজ আমাদের আধুনিক বাংলার রূপকার ও বর্তমান প্রজন্মের কিংবদন্তী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ঘাতকরা জানতো না যে, বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যায়না, কেননা বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু আছেন, তিনি থাকবেন বাঙ্গালীর মননে, চেতনায়, ভালোবাসায় অমর অক্ষয় এবং অব্যয় হয়ে। অনুষ্ঠানে ১৫ আগস্টের সকল শহিদানদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
6
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সরকারপ্রধানের শুভেচ্ছার অডিও বার্তাটি গত দুই দিন ধরে দেশের সব মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'হ্যালো, আমি শেখ হাসিনা বলছি, আসসালামু আলাইকুম। বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আমি পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আপনাকে এবং আপনার পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি'। বার্তায় চলমান করোনা মহামারির সব অন্ধকার কাটিয়ে ঈদুল ফিতর সবার মাঝে আনন্দ বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অডিও বার্তায় করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে স্বাস্থ্যবিধিগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, 'ভালো থাকুন এবং সুরক্ষিত থাকুন, ঈদ মোবারক'। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগেও ঈদ উপলক্ষে ভয়েস রেকর্ডে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
6
সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যত্নবান হউন, নইলে বিদেশি প্রভুরা আপনাদের পতন ঠেকাতে পারবে না। জনগণের তাড়া খেয়ে পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ফেনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর বাবুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে তিনি বিবৃতি দেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী সরকারের দেশ পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতা, প্রশাসনিক কাজে চরম অদক্ষতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা সন্ত্রাসী ও পুলিশ-র্যাব দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করেছে। সরকারি দলের নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটছে। তিনি বলেন, দেশে চরম জনদুর্ভোগ চলছে, আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত, দেশের মানুষ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ধাবিত হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সরকারের উদাসীনতার ফলেই দেশে সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
9
না, কোনো অঘটন ঘটেনি, হয়নি পরিবর্তন। আবারও নারায়ণগঞ্জবাসী মেয়র হিসেবে বেছে নিলেন পরীক্ষিত সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। 'চাচা' তৈমুর আলম খন্দকারের হাতি নৌকায় উঠতে গিয়ে ডুবে গেছে। ডুবে গেছে তাঁর পরিবর্তনের আশা। অন্যদিকে লিখিত, অলিখিত, দৃশ্যমান, অদৃশ্য-সব যুদ্ধেই বিজয়ী 'চুনকার বেটি'। শঙ্কা, অভিযোগ-অনুযোগ সব ছাপিয়ে আবারও জয়, মেয়র পদে জিতলেন আইভী।বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে জানা গেছে, ১৯২টি কেন্দ্রে গণনা শেষে আইভী পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট, আর তৈমুর পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট। সব মিলিয়ে হাতি মার্কার বিরুদ্ধে ৬৬ হাজার ৯৩১ ভোটের ব্যবধানে জিতেছে নৌকা। ২০১১ সালে নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমানকে হারিয়ে নাসিকের মেয়রের পদে প্রথম জিতেছিলেন আইভী।নাগরিকের আয়নায় আইভীগতকাল রাত ৮টার আগেই বেসরকারি সূত্র থেকে ফলাফল নিশ্চিত হয়, আইভী জিতছেন। তাই যত বেশি কেন্দ্রের ফল আসতে থাকে, ততই আনন্দ ঝিলিক দিতে থাকে চুনকা কুটিরে। অন্যদিকে সন্ধ্যার আগেই ফিকে হয়ে যায় তৈমুরের বাড়ির আলো। ১৯২ কেন্দ্রের ফল আসার আগেই উৎসব শুরু হয় নৌকা শিবিরে। মিছিল নিয়ে দেওভোগের দিকে এগোতে থাকেন সমর্থকেরা।গণনার শুরু থেকেই প্রার্থী কখনো পিছিয়ে না পড়ায় সমর্থকেরা ছিলেনবেশ খোশমেজাজে। বিজয় নিশ্চিত হতেই উৎফুল্ল সমর্থকদের পাশে নিয়ে তিনি বলেন, 'এই শহরের মানুষ আমাকে বিমুখ করেনি। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি সবাইকে নিয়ে নগর গড়তে চাই।' তিনি আরও বলেন, 'ভোট কাস্টিং আরও বেশি হলে ১ লাখের ব্যবধান পূরণ হতো। ইভিএমে প্রথম ভোটে কাস্টিং কম হয়েছে।'আরও বেশি ভোট পড়লে ১ লাখ ব্যবধানেই জিততাম: আইভীবেসরকারি ফলাফলে তৈমুর বুঝতে পারেন, এ লড়াইয়ে তিনি 'চুনকার বেটি'র কাছে হারছেন। পরে তিনি এই পরাজয়ের জন্য ইভিএম কারচুপি, ইন্টারনেটের জটিলতা, ভোটের আগে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ইত্যাদি কারণকে দায়ী করেন। রাতে প্রেস ব্রিফিং করে এসব অভিযোগ করলেও দিনে তিনি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।গতকাল গোটা দেশের নজর ছিল রাজধানী লাগোয়া আলোচিত জনপদ নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। কী হবে-আইভী কি ধরে রাখবেন নিজের সাম্রাজ্য, নাকি 'ওসমান পরিবারের আশীর্বাদ' নিয়ে তৈমুর পাল্টে দেবেন ইতিহাস? সব মিলিয়ে নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই নানা শঙ্কা ছিল; বিশেষ করে কাউন্সিলর পদে একাধিক প্রার্থী ভোটের দিন সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের আশঙ্কা করছিলেন। ফলে ইতিহাস ছাপিয়ে স্থানীয় ভূগোল হয়ে ওঠে মুখ্য। দিনে দিনে সহিংসতা, বহিরাগত, ধরপাকড়-এই শব্দগুলো হয়ে উঠেছিল নাসিক নির্বাচনের সমার্থক। কিন্তু একসময়ের চেনা সেই সন্ত্রাসের জনপদে, এবার হলো অচেনা নির্বাচন। শান্ত, নিরিবিলি, সংঘাতহীন, আনন্দমুখর ভোটের দিন পার করল নারায়ণগঞ্জ। এরই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঐতিহ্য বজায় রাখল এই নগর। গতকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট নেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ডে। বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে বলা হয়, নাসিক নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। সামগ্রিকভাবে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে বলেও মনে করছে কমিশন। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এ কথা বলেন।নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য মরতেও প্রস্তুত আছি: সেলিনা হায়াৎ আইভীসুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে গতকালের ভোটের আসরে পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। কয়েকটি জায়গায় অকারণ ভিড়ে লাঠিপেটা করেছে তারা। নিউ চাষাঢ়া এলাকার আদর্শ স্কুলের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।' এদিন প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১২ জন আনসার সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল ছিল নিয়মিত বিরতিতে।[এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন রেজা করিম, মারুফ কিবরিয়া, তানিম আহমেদ, আল-আমিন রাজু, সাখাওয়াত ফাহাদ, সাবিত আল হাসান ও শরিফুল ইসলাম তনয়]আরও পড়ুন:নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনজয়ের পথে আইভীর সামনে যত চ্যালেঞ্জআমি কোনো ট্যাক্স বাড়াইনিআইভীর বাসার সামনে বিজয় উল্লাসআইভী-তৈমূরের খরচের খতিয়ানকাজ করলে সমালোচনা থাকবে: আইভীমার্কাই মুখ্য নয়, ব্যক্তি ইমেজও ব্যাপার: আইভীনারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে ধারা অব্যাহত রাখতে আইভী কোনো বিকল্প নেই: পরশআমাদের অর্জন অনেক: আইভী
6
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারার পরও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলার পরামর্শ দিয়েছিলেন ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যম দ্যা নিউইয়র্কার এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে এ ধরনের হামলার বিরোধিতা করেছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর চেয়ারম্যান অব দ্যা চিফ অব স্টাফ জেনারেল মার্ক মিলি । তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, 'প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারার পরও যদি আপনি ইরানে হামলা চালান, তাহলে এ যুদ্ধটি একটি খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে। সংবাদ মাধ্যম দ্যা নিউইয়র্কারের তথ্য অনুসারে, মার্ক মিলি বিশ্বাস করতেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ চান না। কিন্তু, বিভিন্ন প্ররোচনার কারণে তিনি ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। সংবাদ মাধ্যম দ্যা নিউইয়র্কারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সময় এমন লোকেদের পরিবেষ্টিত ছিলেন যারা ইরানে হামলার জন্য তাকে প্ররোচিত করত। এছাড়া বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহু সব সময় ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানে হামলার জন্য উস্কানি দিতেন। যদিও ওই সময়ে এ ব্যাপারটা স্পষ্ট ছিল যে ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গেছেন। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রথমদিকে ইরানে আক্রমণ করার বিষয়ে জোর দিচ্ছিলেন। কিন্তু, তিনি পরে ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে সমর্থন দেয়া বন্ধ করেন। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম সম্পর্কে আইএইএয়ের (আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা) প্রতিবেদন সম্পর্কে জানার পর তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন। সংবাদ মাধ্যম দ্যা নিউইয়র্কারের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আর জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা রবার্ট ও'ব্রায়েন ট্রাম্পকে বলেন যে এখন সামরিক হামলা করা যাবে না। আইেএইএয়ের (আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা) প্রতিবেদন মতে, অনেক আগেই আমরা হামলা করার সুযোগ হারিয়েছি। পরে, মার্কিন সেনাবাহিনীর চেয়ারম্যান অব দ্যা চিফ অব স্টাফ জেনারেল মার্ক মিলি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে বলেন, আপনারা ইরানে আক্রমণের ব্যাপারে চুপ কেন? এর প্রতিউত্তরে মাইক পেন্স তাকে বলেন, ইরান একটি শয়তান দেশ, তাই আমরা হামলা করছি না। সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর
3
ইউক্রেনের বন্দর নগরী মারিওপোলের মেয়র জানিয়েছেন রুশ হামলায় তার শহরে ১০ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। এ সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সোমবার (১১ এপ্রিল) দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সঙ্গে ফোনে আলাপকালে এ শঙ্কা প্রকাশ করেন শহরটির মেয়র ভাদিম বয়চেঙ্কো। এ সময় রাশিয়ান বাহিনীকে বহির্বিশ্বের কাছ থেকে সেখানে হত্যাকাণ্ড লুকানোর প্রয়াসে শহরে আটক মানবিক কনভয়কে কয়েক সপ্তাহ অবরুদ্ধ করারও অভিযোগ করেন তিনি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইউক্রেনে আগ্রাসনের নির্দেশ দেওয়ার পরপরই শুরু হওয়া রুশ হামলার কারণে মারিওপোল অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। আরও পড়ুন-ইউক্রেনের বুচা শহরে ৪১০টি লাশের সন্ধান বয়চেঙ্কো বলেন, রুশ বাহিনী মারিওপোলে হামলার শিকারদের মৃতদেহ নিষ্পত্তি করার জন্য বিশেষ সরঞ্জাম এনেছিল। বয়চেঙ্কো মতে, রুশ বাহিনী অনেক মরদেহ একটি বিশাল শপিং সেন্টারে নিয়ে গেছে যেখানে স্টোরেজ সুবিধা এবং রেফ্রিজারেটর রয়েছে। বয়চেঙ্কো মারিওপোলের বাইরে ইউক্রেনীয় নিয়ন্ত্রিত একটি অঞ্চল থেকে এসব বলেন।
3
তৃতীয় টার্মিনালের নতুন কানেকটিং ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণের জন্য প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে আট ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকছে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এ কারণে রাতের ফ্লাইটগুলোর শিডিউল করে দেওয়া হয়েছে দিনের বেলায়। এতে ভিড় বেড়েছে দিনে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে বিদেশগামী যাত্রী ও বিদেশ থেকে আগতরা। ভোগান্তির সঙ্গে নানা অনিয়মের অভিযোগও করছেন যাত্রীরা।আজ রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে বিদেশগামী যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে বিমানবন্দরে। চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। অন্যদিকে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রলি সংকটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। করোনা টেস্টের রিপোর্টও তাঁরা সময় মতো পাচ্ছেন না। এর সঙ্গে বেল্ট থেকে লাগেজ ও ব্যাগেজ পেতেও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা।বিমানবন্দরে কথা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী যাত্রী ইসলাম মিয়ার সঙ্গে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা এই যাত্রী আজকের পত্রিকাকে বলেন, করোনার জন্য দীর্ঘ দিন ফ্লাইট বন্ধ ছিল। এখন আবার ওমিক্রনের কারণে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে সবাই পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ থাকতে থাকতেই নিজ নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।বাহরাইন যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা থেকে বিমানবন্দরে এসেছেন রবিউল ইসলাম। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, দুই মাস আগে বাংলাদেশি টাকায় ২০ হাজার টাকা দিয়ে বাহরাইন থেকে বাংলাদেশে এসেছি। এখন বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন যেতে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে।রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশে এয়ারলাইনসগুলো বলছে টিকিট সংকট। তাই মূল্য বেশি। কিন্তু বাহরাইন থেকে ঠিকই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। যারা আগে গেছেন তারাও বলছেন। সিট ১০ / ১২টি করে ফাঁকা থাকে। কিন্তু কম দামে টিকিট বিক্রি করে না।বিমানবন্দরের দ্বিতীয় টার্মিনালে অপেক্ষমাণ ছিলেন কাজী তৌহিদ। তিনি সৌদি আরব যাবেন। আজকের পত্রিকাকে এই যাত্রী বলেন, যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরে আগে এসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মালামাল বহনের জন্য সহজে কোনো ট্রলি মিলছে না। ফলে কষ্ট হলেও হাতে করেই ভারী লাগেজ বহন করতে হচ্ছে।ফেনী থেকে আগত রাফি বলেন, 'চাচা বিদেশ যাবেন। অনেক চেষ্টা করেও ট্রলি পাইনি। যাত্রীর সঙ্গে আগত স্বজনদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে এখানে। ধাক্কাধাক্কি করে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করছে হচ্ছে।'চাঁদপুর থেকে সৌদি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে নিয়ে অপেক্ষা করছেন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, 'আধা ঘণ্টা চেষ্টা করেও ট্রলি পাইনি। কেউ বলে এই মাথায়, কেউ বলে ওই মাথায় গেলে ট্রলি পাওয়া যাবে। কিন্তু কোথাও ট্রলি পাইনি। পরে জানতে পারলাম, টাকা দিলে টার্মিনালের ভেতর থেকে ট্রলি এনে দিচ্ছেন কর্মীরা।'এ সময় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এ কে গ্রুপের শারমিন আক্তার নামের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ২০০ টাকার বিনিময়ে ট্রলি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন আব্দুল কাদেরকে। পরে পরিচয় গোপন করে তার কাছে ট্রলি চাইলে তিনি বলেন, 'বিমানবন্দরের ট্রলির সংকট। কোথাও কোনো ট্রলি নাই। ওনাকে (কাদের) ট্রলির ব্যবস্থা করে দিয়েছি ২০০ টাকার বিনিময়ে। আপনিও ট্রলি নিতে চাইলে টাকা দিলে ব্যবস্থা করে দেব।' তখন তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে মিম বলে দাবি করেন। যদিও অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।যাত্রীদের দুর্ভোগে বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'অতিরিক্ত যাত্রী চাপের কারণে বিদেশগামী যাত্রীদের গাড়ি ও যাত্রী ঢুকতে বিলম্ব হচ্ছে। মাঝে মাঝে ট্রলির সংকটও হচ্ছে। আবার যাত্রীদের সঙ্গে আসা সহযাত্রীদের সামাল দিতে হচ্ছে। কারণ যখন জনসমাগম বেশি হয়, তখন অপরাধ প্রবণতার সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডিউটির চাপও বেড়ে গেছে।'সার্বিক বিষয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'যেখানে প্রতিদিন ১০ / ১২ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতেন সেখানে ১৮ / ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করছেন। যার কারণে চাপ বেশি। আমরা চাইলে সিভিল অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে কথা বলে ফ্লাইট কমিয়ে দিতে পারতাম। কিন্তু যাত্রীদের কথা চিন্তা করে আমরা তা করিনি। অতিরিক্ত চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।'ট্রলি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'পিসিআর ল্যাবে তিন-চার শত ট্রলি আটকে থাকে। আবার যারা আগে আসেন, তারাও ট্রলি দখল করে রাখেন। যার কারণে কিছুটা ট্রলির সংকট মাঝে মাঝে হয়। কিন্তু আমরা আমাদের লোকজন দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ পাওয়া ট্রলিম্যান দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যাগেজ বেল্ট থেকে ট্রলিগুলো বাইরে বের করানো হচ্ছে। আবার বাহির থেকে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে।'
6