text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
বর্তমান বিশ্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন। কারণ এর প্রভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দাবদাহ, ঝড়, বন্যার মতো নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা কয়েক দশক ধরে প্রভাবিত করছে বিশ্বকে, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে। তাই প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনকে ঘিরে আশায় উন্মুখ হয়েছে বিশ্ববাসী। সবার আশা, বরাবরের মতো শুধু প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটবেন বিশ্বনেতারা।এবারের কপ সম্মেলনে কী নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বা সম্মেলনটির সাফল্য বা ব্যর্থতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, তার বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে বিবিসির এক বিশ্লেষণে।কপ-২৬ কী এবং কেনমানবসৃষ্ট কারণে নির্গত হওয়া বিপুল পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে দাবদাহ, বন্য, দাবানলের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তাই বিশ্বের ২০০ দেশের কাছে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে তাদের পরিকল্পনা কী তা জানতে চাওয়া হবে এবারের কপ সম্মেলনে।কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে?কপ-২৬ সম্মেলন শুরুর আগেই কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে নিজেদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে বেশির ভাগ দেশ। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব কোন পথে রয়েছে, সে বিষয়ে মোটামুটি একটি ধারণা মিলবে আগেভাগেই। তবে দুই সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে নতুন অনেক ঘোষণাও আসতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে, যার বেশির ভাগই হতে পারে কৌশলগত। এর মধ্যে অন্যতম-বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো, পর্যায়ক্রমে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে সরে আসা, গাছ কাটা কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আরও বেশি মানুষকে রক্ষা করা।তর্কে-বিতর্কে 'ন্যায়বিচার'এ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনগত ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে ধনী ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের হার হওয়া সত্ত্বেও এসব দেশকেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে। কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিপুল অর্থও দরকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর। তাই মনে করা হচ্ছে, কপ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ নিয়েও লড়াই হবে।কপ-২৬ সফল কি না জানব কীভাবে?আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের চাওয়া থাকবে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের হার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণের সমর্থনে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দৃঢ় বার্তা দেবে দেশগুলো। এ ছাড়া কয়লার ব্যবহার ও পেট্রলচালিত গাড়ি বন্ধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিও চাইবে দেশটি।জলবায়ু পরিবর্তন বা ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়ক হয় আগামী পাঁচ বছরে এমন একটি বড় আর্থিক প্যাকেজ চাইবে উন্নয়নশীল দেশগুলো। এর মধ্যে যেকোনো একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব না হলে কপ-২৬ সম্মেলনের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।যদিও অনেক বিজ্ঞানীর শঙ্কা, বিশ্বনেতারা খুব দেরি করে ফেলেছেন এবং কপ-২৬ সম্মেলনের আলোচনা থেকে যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না। | 7 |
রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮১। এটি চলতি বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। এর আগে ১১ জানুয়ারি সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ করোনা শনাক্ত হয়েছিল। তবে করোনায় গত দুই দিনে এ বিভাগে কেউ মারা যাননি। আজ রোববার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ) নাজমা আক্তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের সাত জেলায় ৫৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এতে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৯ জনের। নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৮৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ছিল ৬ শতাংশ। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় বিভাগে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমলেও শনাক্তের হার ও পরিমাণ বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমিত ৭৯ জনের মধ্যে বগুড়ায় সর্বোচ্চ ২৫, রাজশাহীতে ২২, নওগাঁয় ৮, নাটোর ও পাবনায় ৭ জন করে এবং জয়পুরহাট ও সিরাজগঞ্জে ৫ জন করে রয়েছেন। এদিন নমুনা পরীক্ষা না হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে কারও করোনা শনাক্ত হয়নি। নতুন সংক্রমিত ৭৯ জন নিয়ে বিভাগে মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০৬। বিভাগে এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৯৬ হাজার ৫৫১ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১ হাজার ৬৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ) নাজমা আক্তার বলেন, রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার বেশি। এবার করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। | 6 |
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর হলেও আমরা পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা এখনো পায়নি। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন নয়। পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার জন্য আমাদেরকে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের আলোচনা সভায় ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সাবেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার পল্টনস্থ জমিয়ত মিলনায়তনে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভাটি ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল আদনানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মহাসচিব ও ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মুফতি শেখ মুজিবুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সাবেক সফল সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম, সাবেক সাধারন সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মুফতি জাকির হোসাইন খান, হাফেজ মাওলানা খাইরুল ইসলাম, মোশাররফ হোসাইন, আরাফাত হোসাইন, শাকিল আহমদ প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, একজন আলেম মাওলানা শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলবি রহ.এর ফতোয়ায় ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী, শাইখুল ইসলাম সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানীসহ উলামায়ে দেওবন্দের ত্যাগের বিনিময়ই ভারত উপমহাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। জমিয়তের অনেক নেতা মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের হেফাজতের জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে বিশেষ মোনাজাত করেন। | 9 |
বান্দরবানের লামায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার একটি ইউনিয়নে ওই ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার নারী অভিযুক্তের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সৎ ভাশুরকে প্রধান আসামি ও অজ্ঞাত একজনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।মামলা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগী গৃহবধূ প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে বাইরে বের হন। সৎ ভাশুর তাঁর মুখ চেপে ধরেন। এ সময় অজ্ঞাত আরও একজনের সহযোগিতায় তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরে গৃহবধূর দেড় ভরি স্বর্ণ ও ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।পরিবারের পক্ষে ভুক্তভোগী নারীর দেবর জানান, বাড়িতে তাঁর প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই শিশু ছিল। রাত ২টার দিকে তাঁর ভাবি টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে তাঁর সৎ ভাই মুখ চেপে ধরে পাশে নিয়ে যায়। এ সময় দুই শিশুকে ঘরে তালা দিয়ে রাখা হয়। পরে তাঁকে রাতভর ধর্ষণ করা হয়।এলাকার ইউপির সদস্য জানান, 'আসামি সম্পর্কে ভুক্তভোগী নারীর সৎ ভাশুর। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।'থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা রমিজ জাহান জুম্মা বলেন, ভিকটিমকে লামা হাসপাতালে থেকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ সেন্টারে পাঠানো হবে।থানারওসি শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। | 6 |
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাকে সচিব পদে পদোন্নতির পর ওই পদে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর | 6 |
দক্ষিণাঞ্চললের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সকল ধরনের পদক্ষেপ নোয় হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণের কারণে
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত পুনর্বাসন কেন্দ্র 'স্বপ্নের ঠিকানা'র দলিল ও
চাবি হস্তান্তর উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণাঞ্চল ছিল সব চেয়ে অবহেলিত। ১৯৯৬ সালে আমার ক্ষমতায় এসে এ অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ হাতে নিই। এরপর ২০০৯ সালে ও ২০১৪ সালে আবার ক্ষমতায় এসে দক্ষিণাঞ্চলসহ সমগ্র দেশের উন্নয়ন করেছি। এ অঞ্চলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সকল ধরনের পদক্ষেপ নোয় হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বঙ্গবন্ধু সারা জীবন কাজ করেছেন। তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। জাতির পিতা আমাদের সংবিধান দিয়েছেন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে পথ প্রর্দশন করেছেন। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চাই। তিনি অরো বলেন, এ অঞ্চলে আমাদের একটি পারমানিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পারিকল্পনা করেছে। ২০২১ সালে পায়রা বন্দরের নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং ২৫ সালে পূর্ণাঙ্গ গভীর সমুদ্র বন্দর চালু করা হবে। ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলছে। ভবিষৎতে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হবে। ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এস সব উন্নয়ন কর্ম করতে গিয়ে কোন মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় আমরা সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করছি। এ সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসন করছি। এই 'স্বপ্নের ঠিকানা'তে একটি মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে পায়রা সমুদ্র বন্দরের অধিগ্রহণকৃত আবাসন এলাকায়ও একই ধরনের সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে; যাতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে এখানকার মানুষ রক্ষা পায়। | 6 |
পোশাক দেশীয় ধাঁচের নাকি বিদেশি কাটের, সেটা এখন বিষয় না। পছন্দটাই এখন এগিয়ে। চলতি ধারাও সেখানে প্রাধান্য পায়। আরাম আর স্টাইল ভাবনায় রেখে পোশাকে তুলে ধরা হচ্ছে আধুনিকতা। পাশ্চাত্য কাটের পোশাকগুলোও কিন্তু তৈরি হচ্ছে দেশি কাপড় দিয়েই। হাতাকাটা পোশাক, পাতলা কাপড়ের জ্যাকেট, স্কার্ট, পোশাকে র্যাফল নানা কিছুর মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে এখন। র্যাফল জনপ্রিয়তা পেল আবার। শাড়িতে বেশ জমকালোভাবে দেখা যাবে র্যাফলের ব্যবহার। সাধারণত মসলিন, শিফনের মতো পাতলা কাপড়ের তৈরি শাড়িগুলোতে র্যাফলের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। কুঁচিগুলো কখনো খুব বড় ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছে শাড়ির পাড়, আঁচলে। কখনোবা ছোট কুঁচিগুলো পুরো শাড়ির চারপাশ ঘিরে রাখছে। তবে র্যাফলের শাড়ি পরার জন্য আত্মবিশ্বাস অনেকটাই জরুরি। সাধারণ শাড়ির নকশার চেয়ে ভিন্ন দেখেই দরকার একটু বাড়তি প্রচেষ্টা। শাড়ির মধ্যেই যেহেতু অনেক নকশা থাকে, ব্লাউজটা হাতাকাটা পরতে পারেন। আরাম আর স্টাইল দুটোই থাকবে। শাড়ি: বাহেরা সালোয়ার-কামিজ ঈদপোশাকের তালিকায় থাকবেই। আরাম পাবেন হাতাকাটা কামিজে। ফ্লেয়ার প্যান্ট কাটের সালোয়ার এখন আবার ফিরে এসেছে। সালোয়ার-কামিজ একই রং ও নকশার হতে পারে। ২০১৯ সালের আন্তর্জাতিক স্টাইলের একটি বিষয় পোশাকের ওপর ও নিচের অংশ একই রকম বা কাছাকাছি নকশার হতে পারে। সেখানে আপনি ওড়নার নকশায় বেছে নিতে পারেন ভিন্ন কিছু। ফুল এখন পোশাকের নকশায় বেশ রমরমা। ওড়না হতে পারে সে নকশারই। ছবির কামিজটি সোনালি ব্রোকেড কাপড়ের। সালোয়ারটি একই রঙের। পোশাক: ক্লাবহাউস পোশাকে লেয়ারিং করার স্টাইল এখনো অনেকে পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে লেয়ারিংয়ের প্রতিটি কাপড়ই যেন হয় হালকা। সাদা রং ঈদে থাকবে। ভেতরের লম্বা পোশাকটি হাতাকাটা। ওপরের সাদা লম্বা জ্যাকেটটি চাইলে অন্য যেকোনো পোশাকের সঙ্গেও পরা যাবে। সাধারণ কিন্তু শুভ্র সুন্দর সাজ। পোশাক: ক্লাবহাউস | 4 |
কী দুর্দান্ত একটা ম্যাচই-না দেখলাম। এখনো চোখে ভাসছে। অনেকে হয়তো হাসান আলীকে দোষ দিতে চাইবেন না। আমি বলব, তার ক্যাচ হাতছাড়াই ম্যাচটা অস্ট্রেলিয়ার দিকে হেলে দিয়েছে। কারণ, ক্যাচটা হলে ওই সময় নতুন কেউ এসে শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো বোলারকে তিনটা ছক্কা মেরে দেবে-বিষয়টি অত সোজা ছিল না। জীবন পেয়ে ম্যাথু ওয়েড যে সাহসটা পেয়েছে, সেই সাহসের প্রদর্শনী ওই ছক্কাগুলো।শুধু এই ক্যাচ মিস নয়, হাসান কিন্তু বোলিংটাও বাজে করেছে। পুরো বিশ্বকাপে নিজের ছায়া হয়ে থাকা এই বোলারের জায়গায় মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে খেলানোর কথা ভাবতে পারত পাকিস্তান।উইকেটটা শুরু থেকেই ভালো ছিল। এরপরও ১৭৬ রানের আগে অজিদের থামানোর কাজটা দুর্দান্তভাবে করে যাচ্ছিল পাকিস্তান। কিছু ছোট ছোট ভুল পিছিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে। মাঝখানে মোহাম্মদ হাফিজকে ওই ওভারটা না দিয়ে ইমাদ ওয়াসিমকেই করালে ভালো হতো। আরেকটা বিষয়-যেখানে কুয়াশা থাকবে, সেখানে কিন্তু টস বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। টস জিতলে পাকিস্তানও হয়তো আগে বোলিংই করত।উইকেট যে ব্যাটারদের কাছে কত বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়, সেটি ওয়েডকে দেখে বোঝা গেল। বাংলাদেশ সিরিজে কী সংগ্রামটাই-না করল সে। সেখানে শাহিনের মতো বোলারকে নির্দ্বিধায় স্কুপ করে ছক্কা মারল। চোখের সৌন্দর্য! কিন্তু এভাবে যদি ওয়েড মিরপুরে মারত, দেখা যেত ফাইন লেগে ক্যাচ হতো।ডেভিড ওয়ার্নারের রিভিউ না নেওয়া নিয়েও অনেক কথা হচ্ছে। তবে রিজওয়ানের হাতে বল যাওয়ার আগে কিন্তু একটা আওয়াজ হয়েছে। সেই আওয়াজের কারণে বিভ্রান্ত ওয়ার্নার রিভিউ নেওয়ার ঝুঁকিটা নিতে চায়নি।অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত খেলে জিতেছে। তবু পুরো টুর্নামেন্টে যেভাবে খেলল পাকিস্তান, দলটার জন্য হাততালি দিতেই হবে। হারার পরও পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম ড্রেসিংরুমে দলকে যেভাবে সাহস জুগিয়ে গেল, অসাধারণ। সে বলল, 'একটা দলকে গোছানো অনেক কষ্ট; কিন্তু ভেঙে দেওয়া খুব সহজ। কেউ যেন হারার জন্য কারও দিকে আঙুল না তোলে।' অধিনায়কের এই ইতিবাচক মানসিকতাই দলটাকে বদলে দিয়েছে, যা বুঝলাম। সব মিলিয়ে আমি বাবরের মধ্যে ইমরান খানের ছায়া দেখতে পাচ্ছি।। বাবরের হাতে তাই আমি ২০২২ সালের বিশ্বকাপটা দেখছি।মোহাম্মদ রিজওয়ানের আইসিইউতে থাকার বিষয়টি শুনে তো বিস্মিত হয়েছি। একটা মানুষ দুই রাত আইসিইউতে ছিল, এরপর খেলতে নেমে গেল, আবার বাউন্সারে মুখে আঘাত পাওয়ার পরও অনড় ছিল। খেলোয়াড়দের মধ্যে দলের জন্য উৎসর্গ করার এই মানসিকতা কিন্তু এসেছে ড্রেসিংরুমে অধিনায়কের এসব বার্তা থেকেই। পাকিস্তানের বিদায় হয়েছে। তবুও আমি বলব, ওরা চ্যাম্পিয়নের মতো খেলেছে। | 6 |
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর দুই মাস পর ২৪ এপ্রিল ইউক্রেন সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। সফরে তারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আরও ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে, ইউক্রেনকে যুদ্ধে অস্ত্র ও আর্থিকভাবে সহায়তা করলেও এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বিষয়টি আবারও পরিষ্কার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। তবে এই সহায়তা মানে এই নয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িত হচ্ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম 'বিবিসি' এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোকে বলেছেন, "প্রেসিডেন্ট (জো বাইডেন) স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধে কোনও মার্কিন সেনা অংশ নেবে না। এর আওতায় ইউক্রেনের আকাশও রয়েছে।" তাদের মতে, এই সফর ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর সরাসরি সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয় না। এর আগে যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটোকে তার দেশের আকাশে নো-ফ্লাই জোন বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ন্যাটো তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
ইউরিয়া সার বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০ টাকা কেজি দরে। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৬ টাকা। সুনামগঞ্জে হাওরের বোরো আবাদ শেষ। এখন জমিতে সবুজ ধানের চারা বেড়ে উঠছে। কৃষকেরা সেই জমিতে দিচ্ছেন ইউরিয়া সার। কিন্তু এই সার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে। আবার ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বেশি খরচ পড়ছে তাঁদের। কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাওরে বোরো আবাদ শেষ হওয়ায় এখন জমিতে ইউরিয়া সার দিচ্ছেন তাঁরা। হাওরে এখন ইউরিয়া সারের চাহিদা বেশি। এতে চারা শক্ত হয়, মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ে। কিন্তু ইউরিয়া সার বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০ টাকা কেজি দরে। অথচ ইউরিয়া সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৬ টাকা কেজি। কৃষকেরা জানান, বাজারে সারের সংকট না থাকলেও খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে তাঁদের। একই সময়ে জমিতে সেচ দিতে ডিজেলের প্রয়োজন হয়। বাজারে এখন প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। অথচ মাসখানেক আগেও প্রতি লিটার ডিজেল তাঁরা কিনেছেন ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। বাজার ঘুরে জানা যায়, ইউরিয়া সার এক মাস আগে বিক্রি হতো ১৬ টাকা কেজিতে। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়। ২২ টাকা কেজির টিএসপি সার এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪-২৫ টাকায়। এমওপি সার ১৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ টাকা কেজি। বেশি দামে সার ও ডিজেল কেনায় তাঁদের জমি আবাদে খরচ বেড়ে গেছে। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক তাজউদ্দিন বলেন, এমনিতেই এখন জমি আবাদে মজুরি, চারা কেনাসহ নানাভাবে ব্যয় বেড়ে গেছে। তার ওপর এখন সার ও ডিজেল কিনতে বাড়তি টাকা যাচ্ছে। এটি একটি সমস্যা। একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, শুধু সার, ডিজেল নয়, সব ধরনের কৃষিপণ্যের দামই এখন বেড়েছে। কৃষিকাজ ছাড়া অন্য কিছু করতে পারেন না তিনি। সরকারের উচিত কৃষকদের স্বার্থে কৃষিপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক স্বপন কুমার বর্মণ বলেন, জমিতে কৃষকদের সেচ দিতেই হবে। না হলে ফলন কম হবে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। সারের দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে বলে উল্লেখ করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একজন খুচরা সার বিক্রেতা জানান, সার খুব একটা বেশি দামে বিক্রি করছেন না তাঁরা। ডিলারের কাছ থেকে আনতে পরিবহন খরচ আছে। এ জন্য কেজিপ্রতি দু-এক টাকা বেশি বিক্রি করতে হয় তাঁদের। এ নিয়ে কৃষকদেরও কোনো অভিযোগ নেই। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের শামসুদ্দিন নামের একজন ডিজেল বিক্রেতা বলেন, ডিজেলের দাম বেড়েছে তিন মাস আগে। সেই দামেই বিক্রি করছেন তাঁরা। শহরে এখন প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গ্রামের দিকে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হয়। সুনামগঞ্জে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম। তিনি বলেন, সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোথাও যাতে বেশি দামে সার বিক্রি না হয় এ জন্য তাঁদের তদারকি আছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকিতেই সার বিক্রি হচ্ছে। তারপরও কোথাও কেউ বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিজেলের বিষয়ে তিনি বলেন, দাম বাড়াতে কিছুটা সমস্যা তো কৃষকের হবেই। তবে এমন নয় যে সার, ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। সব বিষয়েই তদারকি করা হচ্ছে। | 6 |
নিজ শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের মামলায় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চিকিৎসক ইব্রাহিম রহমান রুমি বাবুকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা জজ আদালত-৩ এর বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। এর আগে, নিজের শিশু সন্তানকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ইব্রাহিম রহমান রুমির বিরুদ্ধে গত রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন রুমির স্ত্রী আফিয়া বিনতে শাহে, শাশুড়ি মাগফুরা আহমেদ ও তার শিশু কন্যা। সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে অসহায় দাবি করে নাতনির প্রতি ন্যক্কারজনক অন্যায়ের বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিশুর নানি মাগফুরা আহমেদ। লিখিত বক্তব্যে মাগফুরা আহমেদ জানান, ২০১৬ সালের ২৬ জুন পারিবারিকভাবে ঝিনাইদহের সাবেক এমপি মসিউর রহমানের ছেলে ইব্রাহিম রহমান রুমি বাবুর সাথে আমার মেয়ে আফিয়া বিনতে শাহের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের দুই মাস পর সামান্য কারণে আমার মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে যৌতুক চেয়ে নির্যাতন করতো। সন্তান গর্ভে থাকাকালেও আমার মেয়েকে মারধর করা হয়। সংসার জীবনে বনিবনা না হওয়ায় গত বছরের ২৬ আগস্ট তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তিনি বলেন, অব্যাহত নির্যাতনের কারণে আমি ২০১৭ সালে মেয়েকে ইতালি নিয়ে যাই। তখন আমার মেয়ে গর্ভবতী ছিল। এরপর মেয়েকে বুঝিয়ে দেশে আনার ১৫ দিন পর আবারও তার ওপর নির্যাতন শুরু করে স্বামী। সন্তান জন্মের পরও নানা অজুহাতে দিন দিন নির্যাতন বাড়তে থাকে। সেসময় ঝিনাইদহ থানা পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করে। গত বছরের ২৩ মার্চ বিকাল আনুমানিক সাড়ে চারটায় আমার মেয়ের অনুপস্থিতিতে চার বছরের শিশুকন্যাকে উত্তরার বাসা থেকে নিয়ে যান রুমি। গত ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রুমি তার কন্যাকে কলাবাগানের বাসায় নিজের হেফাজতে রাখেন। ওই সময় ফেরত চাইলেও কন্যাকে নিতে দেননি রুমি। পরে ২২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশে কন্যা শিশুকে হেফাজতে নেয় তার মা। ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টায় আবারও শিশু সন্তানটিকে নিজের কলাবাগানের বাসায় আনেন ইব্রাহিম রহমান রুমি। পরদিন ১৩ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে শিশুর মা কলাবাগান থেকে চার বছরের শিশুটিকে উত্তরায় নিজের বাসায় ফিরিয়ে আনেন। বাসায় আনার পর পরিহিত পোশাক পরিবর্তনকালে মেয়ের শরীরে নির্যাতনের ছাপ দেখতে পান তিনি। অভিযোগ করে শিশুটির নানি আরও জানান, গত ২৩ মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এবং ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত রুমির বাসায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে শিশুর ওপর নিপীড়ন চালানো হয়। এরপর গত ২৭ নভেম্বর বিকালে নিপীড়নের শিকার শিশু সন্তানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান তার মা। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটিকে ওসিসিতে (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) ভর্তির জন্য রেফার করেন। ২৭, ২৮ ও ২৯ নভেম্বর নির্যাতনের শিকার শিশুটির যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে আমার মেয়ে কলাবাগান থানায় একটি মামলা করে। মামলার পর ইব্রাহিম রহমান রুমির প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার করেনি। আমি ধর্ষক ও মাদকাসক্ত ইব্রাহিম রহমান রুমির বিচার চাই। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইব্রাহিম রহমান রুমি (বাবু) জানান, আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি মহলের ইন্ধনে তারা একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এসব করে আমাকে কিছুই করতে পারবে না। কারণ আমিও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর হয়ে এখনো মাঠে নামা হয়নি লিওনেল মেসির। লিগ ওয়ানে পিএসজি এরই মধ্যে তিন ম্যাচ খেলেছে মেসিকে ছাড়াই। পিএসজির জার্সিতে মাঠে ফিরতে দেরি হওয়ায় বার্সেলোনায় বেড়াতে গেছেন মেসি।প্যারিসে এখনো পরিবার নিয়ে থাকার মতো বাসা খুঁজে পাননি মেসি। ছুটি পেয়ে তাই প্রিয় বার্সেলোনায় নিজের বাড়িতে কয়েকটা দিন কাটাতে গেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর, আগামী ২৯ আগস্ট রেঁসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হতে পারে মেসির। যদি সেটিই হয়, তবে খুব বেশি দিন বার্সেলোনায় থাকার সুযোগ নেই তাঁর। হয়তো দুই-তিন দিন পরই পরিবার নিয়ে মেসিকে পিএসজিতে ফিরতে হবে।এদিকে গত রাতে মেসি-নেইমারবিহীন ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে পিএসজি। লিগ ওয়ানে এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচেই জয় পেল মরিসিও পচেত্তিনোর দল। ত্রয়েস ও স্ট্রসবোর্গের পর এবার ব্রেস্টকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা।ম্যাচে ১টি করে গোল করেছেন আন্দের এরেরা, ইদ্রিসা গেয়ে, কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আনহেল দি মারিয়া। তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে আছে পিএসজি। আগের মৌসুমে টেবিলের দুইয়ে থেকে লিগ রানার্সআপ হওয়া পিএসজি এবার শুরু থেকেই সাবধানী। | 12 |
রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগ দিয়েছেন ফওজিয়া রেজওয়ান। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার থেকে প্রথমবারের প্রেষণে এ নিয়োগ পান তিনি। এর আগে তিনি রাজধানীর সবুজবাগ সরকারি মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভিকারুন নিসায় তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসি বেগমের স্থলাভিষিক্ত হলেন। এদিকে অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়ে মঙ্গলবার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। তবে নিয়োগ সংক্রান্ত ওই প্রজ্ঞাপনে কোনো স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় অধ্যক্ষ হিসেবে ফওজিয়ার কাজে যোগ দিতে কোনো বাধা নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। স্কুলটির শিক্ষকরা সমকালকে জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ফওজিয়া রেজওয়ান অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন। বেইলে রোডে বিদ্যালয়ের মূল শাখায় যোগদানের পর তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসি বেগম। এ সময় স্কুলের ধানমন্ডি, আজিমপুর ও বসুন্ধরা শাখার শাখা-প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন। যোগদানের পর অধ্যক্ষ ফওজিয়াকে প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নতুন অধ্যক্ষ এদিন সমকালকে বলেন, ভিকারুন নিসায় কাজে যোগ দিয়েছি। শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। বিকেলে শিক্ষকদের নিয়ে একটি দীর্ঘ সভাও করেছি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয় সরকার। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বরাবরই এ বিদ্যাপীঠে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে এসেছে পরিচালনা পর্ষদ। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ফওজিয়ার নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রীট আবেদন করেন ভিকারুন নিসা পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। আদালত গত সোমবার এক আদেশে গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত তাকে যোগদান না করতে আদেশ দিয়েছিলেন। দেশের অন্যতম খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও ভিকারুন নিসায় দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে কোনো পূর্ণকালীন অধ্যক্ষ নেই। গত এপ্রিলে এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ নিয়োগের চেষ্টা করেছিল তৎকালীন পরিচালনা কমিটি। তবে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তদন্ত করে গত ৪ জুলাই ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নিয়োগ নিয়ে রুল : অধ্যক্ষ পদে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফওজিয়া রেজওয়ানের নিয়োগের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে তাকে নিয়োগ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভুত হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষাসচিব, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ, ঢাকার জেলা প্রশাসকসহ ১১ জন বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে হবে। এদিকে অধ্যক্ষ পদে ফওজিয়ার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ না থাকায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদেশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ফওজিয়ার নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। কিন্ত প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়নি। এর ফলে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে আইনগত কোনো বাধা নেই। আদালতে রিটের পক্ষে ইউনুস আলী আকন্দ নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত। | 6 |
শন্তা, আরমান ও রুপা তিনজনই পেশায় সাংবাদিক। স্পোটস সাংবাদিকতার দায়িত্বে নেপালে আসেন সাফ গেমস্ কভার করতে। হঠাৎ শান্তা কোন এক মার্কেটে রঞ্জন নামের বিখ্যাত এক বাংলাদেশী অভিনেতাকে চিনে ফেলেন। কিন্তু রঞ্জন এখন আর অভিনয় করেন না। অনেকটা আত্মগোপন করে আছেন। শান্তা বেশ নাছোরবান্দা। সে জানতে চায় কেন সে এত বছর অভিনয় থেকে দূরে রয়েছে? কেন সে নেপালে পরে আছে? কিন্তু কোন ভাবেই রঞ্জন সেটা জানায় না। একদিন শান্তা রঞ্জনের পিছু নিয়ে তার নেপালের বাসায় গিয়ে হাজির হয়। অপরদিকে আরমান বেশ দূর্বল শান্তার প্রতি। শান্তা এটা বুঝেও না বোঝার ভান করে। রুপা পছন্দ করেন আরমানকে। আরমানকে ভালোবাসুক রুপা তাতে আরমান ভ্রুক্ষেপ করে না। এমন গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে নাটক 'অভিনয়ে ফিরলেন রঞ্জন'। নাটকটি রচনা করেছেন মাসুম শাহরীয়ার এবং পরিচালনা করেছেন দীপু হাজরা। এতে অভিনয় করেছেন এফ.এস নাঈম, আজমেরী আশা, মনোজ প্রামানিক, নাবিলা ইসলাম, আসিফ নজরুল প্রমূখ। নাটকটি শুক্রবার আরটিভিতে রাত ৮ টায় প্রচার হবে। | 2 |
ভারতের নির্বাচনে সব সময় গণতন্ত্রের বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের বাসভবনে সীমিত পরিসরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ভারতের চলমান বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের এগিয়ে থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী ওই কথা বলেন। পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের যেকোনো নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'যাঁরাই ভারতে সরকার গঠন করুন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পাশের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যে নৈকট্য, তা যেন আরও গভীরে প্রোথিত হয় এবং আমাদের দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান হোক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।' তিনি বলেন, 'আমরা চাই, ভারতে সব সময় গণতন্ত্রের বিজয় হোক।' হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর করা ধর্ষণ মামলা প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, জনগণের সামনে মামুনুল হকের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, যে হেফাজত নেতারা বিয়ে ছাড়াই এই সম্পর্ককে বৈধ বলে ফতোয়া দেন, তাঁরাও আইনের দৃষ্টিতে কুকর্মের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত। | 9 |
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাইডেন ও ট্রাম্পের নীতির কোনো পার্থক্য নেই বলে জানিয়েছেন এক শীর্ষ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা। ফিলিস্তিন ইস্যুতে দু'মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে এমন মন্তব্য করেন এ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা। বুধবার এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইয়েনি শাফাক। ফিলিস্তিনের ফাতাহ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবরি সাইদাম বলেন, ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনিদের ওপর যে নিপীড়ন চালাচ্ছে তার বিষয়ে সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বাইডেন। তিনি ইসরাইলিদের কাছে আত্মসমর্পন করেছেন। আনাদোলু এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবরি সাইদাম বলেন, ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব (কর্তৃপক্ষ) এখন জো বাইডেন প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ভাষণ নয় বরং কাজ (কঠোর পদক্ষেপ) চায়। তিনি বলেন, অধিকাংশ ফিলিস্তিনি মনে করে 'শতাব্দীর চুক্তি' নামের যে চুক্তিটি ট্রাম্প চালু করেছিলেন তাই অনুসরন করছেন বাইডেন। বাইডেন প্রশাসনের আমল হলো ওই চুক্তি সম্পাদনের দ্বিতীয় প্রজন্ম। এ চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনির সঙ্ঘাত নিরসন করতে চেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু, এ চুক্তিটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনিরা। ট্রাম্পের ওই 'শতাব্দীর চুক্তি' অনুসারে, নতুন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো কিছু বিচ্ছিন্ন টুকরা টুকরা বসতি নিয়ে। এমনকি ফিলিস্তিনি শরণার্থীরাও ফিরতে পারবে না নতুন ওই কল্পিত রাষ্ট্রে। এমন এক অকার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করতেই পশ্চিমাদের আগ্রহ। পশ্চিমারা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি পকেট রাষ্ট্র বানাতে চায়, যার চারপাশে ঘিরে থাকবে ইসরায়েল। সময়ের প্রয়োজনে নিরাপত্তার খাতিরে ইসরায়েল যেন তা দখলে নিতে পারে। পশ্চিমাদের এ পরিকল্পনায় আরবরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিবর্তে সমর্থনই দিয়েছে। এটাই মার্কিনদের তথা ট্রাম্পের 'শতাব্দীর চুক্তি' নামে পরিচিত। সূত্র : ইয়েনি শাফাক | 3 |
'দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জাতিকে শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার শিক্ষার আলো সর্বত্র পৌঁছে দিতে কাজ করছে।' আজ সোমবার দুপুরে নওগাঁর পোরশা উপজেলার কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এসব কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে সমাজের মূল ধারায় যুক্ত করে সবার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যারা শিক্ষা-দীক্ষা এবং আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে আছে, তাদের এগিয়ে আনার উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কিছু বিশেষ এলাকায় উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সরকার সব সময় মনে করে শিক্ষা হচ্ছে জাতির অধিকার। শিক্ষার অধিকার থেকে যেন কেউ পিছিয়ে না পড়ে, সেটা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। একদিন এই ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদর্শ জাতি হিসেবে গড়ে উঠবে, দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে।অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হামিদ রেজার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেনসহ প্রমুখ।পরে মন্ত্রী প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা অনুদান ও ১০ জন শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল তুলে দেন। এর আগে মন্ত্রী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ৫০ জন সুফলভোগীর মধ্যে উন্নতমানের বকনা গরু ও গো-খাদ্য উপকরণ বিতরণ করেন। | 6 |
বাবর আজমের সেঞ্চুরিতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৫৮ রানে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব লিচেস্টারশায়ারকে পরাজিত করেছে পাকিস্তান। জয়ের দিন বাবর খেললেন ৬৩ বলে ১০১ রানের ম্যাচ বিজয়ী ইনিংস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ময়দানে নামার আগে দুটি ওডিআই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পাকিস্তান। ওডিআই প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে টি-টোয়েন্টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলারও সিডিউল ছিল। বুধবার প্রথম টি-টোয়েন্টি প্রস্তুতি ম্যাচে গ্র্যাস রোড স্টেডিয়ামে টসে জিতে লিচেস্টারশায়ার ব্যাটিংয়ে পাঠায় সারফরাজ আহমেদের দলকে। ওপেনিংয়ে নেমে ফখর জামান ও বাবর আজম মিলে গড়েন ১০১ রানের জুটি। ৩০ বলে ৭চার ও এক ছয়ে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বেন মাইকের শিকার হন ফখর। তবে আউট হওয়ার আগে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখিয়ে গেছেন এই ওপেনার। ওয়ানডাউনে নেমে আসিফ আলি- বাবর আজমের সঙ্গে মিলে গড়েন ৫৫ রানের জুটি। ১৫ বলে ব্যাক্তিগত ২২ রান করে আউট হোন আসিফ। ফাহিম আশরাফ করেন ১১ রান। মাঠে থিতু হয়ে বাবার আজম ইনিংসের ১৯তম ওভারে তুলে নেন সেঞ্চুরি। ৬৩ বলে ১৩ চার ও দুই ছক্কায় ১০১ রানের ঝড়ো ইনিংসের সুবাধে পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ ২০০ রানের বড় পুঁজি। লিচেস্টারশায়ারের বোলারদের মধ্যে বেন মাইক ৩টি ও ডেইটার কেইন নেন ২টি উইকেট। ২০১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি লিচেস্টারশায়ারের। ইনিংসের প্রথম ওভারে দলীয় ২ রানের মাথায় ওপেনার জর্জ মানসী শিকার হন ইমাদ ওয়াসিমের। দলের ৩১ রানের মাথায় আরেক ওপেনার হ্যারি দার্দান ব্যক্তিগত ৯ রানে ফাহিম আশরাফের বলে হারিস সোহলকে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এভাবেই নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে লিচেস্টারশায়ার। মার্ক কোসগ্রোভের ১৯ , শেষ দিকে মাইক বেনের ২৬ বলে ৩৭ ও ক্যালাম পার্কিনসনের ২২ বলে ২৭ রানে ১৯ দশমিক ২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪২ রান করতে সক্ষম হয় দলটি। পাকিস্তানের হয়ে ইমাদ ওয়াসিম ও ফাহিম আশরাফ দুটি করে উইকেট শিকার করেন। | 12 |
জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণ আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী ঘোষণা করে আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রশ্নে রুলের শুনানি হবে কাল। আবেদনটি শুনানির জন্য বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চের মঙ্গলবারের তালিকায় ৩৬ নাম্বারে রয়েছে। এর আগে নিপুণের আইনজীবীর সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির এই তারিখ ধার্য করেছিলেন। গত ২৮ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন প্রাথমিক ফলাফলে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নিপুণ। আপিল বোর্ড সমাজসেবা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর এক চিঠিতে জানায়, আপিল বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে। এ অবস্থায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও আপিল বোর্ডের ৫ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন জায়েদ খান। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। রুলে ২ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে হাইকোর্ট ২ ফেব্রুয়ারির চিঠির কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পাশাপাশি ২ ও ৫ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আর রুল শুনানির জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন রাখেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টে আদেশের বিরুদ্ধে নিপুণের করা আবেদনের ওপর ৯ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানি হয়। সেদিন চেম্বার বিচারপতি আদেশ দেন। চেম্বার বিচারপতির আদেশে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে নিপুণের আবেদন ১৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে ওই সময়ে দুই পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ চলমান থাকবে উল্লেখ করে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ নিপুণের আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন। নিপুণের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে ১৪ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। ঘোষিত আদেশে আপিল বিভাগ বলেন, দুই পক্ষ (জায়েদ ও নিপুণ) উপস্থাপন করেছে যে হাইকোর্টে বিষয়টি (রুল শুনানি) ১৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এ অবস্থায় আবেদনটি (নিপুণের করা) নিষ্পত্তি করা হলো। চেম্বার বিচারপতি যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা চলমান থাকবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে নিপুণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, 'উনারা (জায়েদ খান) একটি কপি দিয়েছেন। হলফনামা করে এর জবাব দিতে হবে। এ জন্য এক সপ্তাহ সময় চাচ্ছি।' জায়েদের পক্ষে আইনজীবী নাহিদ সুলতানা বলেন, 'শুনানি শুরু হয়ে যাক। পরে সময় দেওয়া যেতে পারে।' তখন রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, 'আজ সাড়ে ১০টায় কপি দিয়েছে।' আদালত বলেন, 'তাহলে তো সময় দিতে হবে। রুলসও পারমিট করে। আগামী মঙ্গলবার (২২ ফ্রেব্রুয়ারি) বিষয়টি কার্যতালিকার শীর্ষে থাকবে।' | 2 |
ভেজাল খাদ্য উপকরণ আমদানি ও বিক্রির অপরাধে ময়মনসিংহে এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিককে ৩ লাখ জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার সন্ধ্যার পর নগরীর মেছুয়া বাজারের পিকে এন্টারপ্রাইজ নামে এক প্রতিষ্ঠানের মালিককে এই জরিমানা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক।অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ উজ্জ্বল। এ সময় জেলা পুলিশ, র্যাব-১৪ ও মসিকের স্যানিটারি পরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন।ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ভেজাল খাদ্য উপকরণ আমদানি ও বিক্রির অভিযোগে মেছুয়া বাজারে পিকে এন্টারপ্রাইজ নামক এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে (দোকান) অভিযান চালানো হয়। অনুমোদনহীন বিভিন্ন ভেজাল খাদ্য উপকরণ আমদানি, বিক্রি, মজুত করায় প্রতিষ্ঠানের মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। | 6 |
বইয়ের সংখ্যার সঙ্গে পড়ার চাপ কমিয়ে আনন্দময় পরিবেশে সহজে শিক্ষার্থীদের শেখাতে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুমোদন করেছে সরকার। আগামী বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ১০০টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-মূলকভাবে এই শিক্ষাক্রম শুরু হবে। ২০২৩-২৫ সালে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে পুরো শিক্ষাক্রম।নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকবে না। থাকছে না পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা। নবম-দশম শ্রেণিতে থাকবে না কোনো বিভাগের বিভাজন। শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে হবে এসএসসি পরীক্ষা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুটি পরীক্ষা হবে, তার ভিত্তিতে দেওয়া হবে এইচএসসির ফল।জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখা গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে রূপরেখাটি অনুমোদন করেছেন বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শিক্ষাক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।দীপু মনি বলেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এই রূপরেখা করা হয়েছে। এর আগে সব শিক্ষাক্রমই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের জন্য আলাদা আলাদা ছিল। একজন শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিক শেষ করে মাধ্যমিকে যাচ্ছে। এ জন্য এক স্তর থেকে আরেক স্তরে যাওয়াটা যেন খুব মসৃণ হয়, সহজ হয়, মাঝে যেন ছেদ না পড়ে, এক স্তর থেকে অন্য স্তরে গিয়ে যেন খাপ খাওয়াতে কোনো সমস্যা না হয়, সেসব বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এ জন্য প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বসে এই রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'পুরো শিক্ষাক্রম হবে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক এবং পড়াশোনা হবে আনন্দময়। বিষয়বস্তু ও পাঠ্যপুস্তকের বোঝা ও চাপ কমানো হবে। গভীর শিখনে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মুখস্থ নির্ভরতার বিষয়টি যেন না থাকে। এর পরিবর্তে অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমভিত্তিক শেখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশে খেলাখুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে পাঠদান দেওয়া হবে।'নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষেই যেন অধিকাংশ পড়া শেষ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমরা চাই এরপর শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো সময় কাটানোর সুযোগ যেন পায়, বাড়ি ফিরেই যেন হোমওয়ার্কের পেছনে ছুটতে না হয়। পড়াশোনার বাইরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বা অন্যান্য বিষয়ের সুযোগ কমে গেছে, এটা যেন না হয়। জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।'নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী নবম শ্রেণিতে আর বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থাকবে না। নবম ও দশম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলকভাবে ১০টি করে বিষয় পড়তে হবে। কোন স্তরে শিখন সময় কতটা হবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। পরীক্ষা নিয়ে যে মূল্যায়ন করা হয়, সেই সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন পর্যায়ে কতটা সামষ্টিক ও কতটা ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে তা-ও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।যেভাবে হবে বাস্তবায়নআগামী বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের এক শটি করে প্রতিষ্ঠানের প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাইলটিং হিসেবে নতুন রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হবে। ছয় মাস পাইলটিং শেষে ২০২৩ সাল থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে। ২০২৪ সালে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণি এবং ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে এই শিক্ষাক্রম শুরু হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে পুরো শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে রূপরেখাটি অনুমোদন দিয়েছেন। ২০২১ সালে এই শিক্ষাক্রম পাইলটিংয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।যেভাবে হবে মূল্যায়নপ্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে কোনো পরীক্ষা না নিয়ে শিখনকালীন ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞানে ৬০ ভাগ শিখনকালীন এবং ৪০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা নিয়ে) হবে। অন্য বিষয়ে হবে শুধু ধারাবাহিক মূল্যায়ন।ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে ৬০ ভাগ শিখনকালীন এবং ৪০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। ষষ্ঠ-সপ্তমের অন্য বিষয়গুলোতে শতভাগ মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন। নবম-দশম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞানে ৫০ ভাগ শিখনকালীন ও ৫০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। এই দুই শ্রেণির অন্য বিষয়গুলোতে শতভাগ শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে।শিক্ষামন্ত্রী জানান, দশম শ্রেণি শেষে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির আলোকে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এখন নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপর ভিত্তি করে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। অর্থাৎ দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচি অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষা হবে। একাদশ ও দ্বাদশের আবশ্যিক বিষয়ে ৩০ ভাগ শিখনকালীন আর ৭০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। একাদশ-দ্বাদশে প্রায়োগিক ও ঐচ্ছিক বিষয়ে শুধু শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপর প্রতি বর্ষে একটি করে পরীক্ষা হবে। একাদশ ও দ্বাদশের ফলাফলের সমন্বয়ে এইচএসসির চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা আলাদা করে আর না হলে এই দুই শ্রেণিতে এখনকার মতো করে সনদ দেওয়া হবে কি না, এ প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শেষে একটা, অষ্টম শ্রেণি শেষে আরেকটা সনদ দেওয়া হতে পারে। এসব শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিতে হবে এমন না। স্কুলের পড়া শেষ করলেই তো সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। একটা স্তর শেষ করার পর সনদ দেওয়া হতে পারে।নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পঞ্চম ও অষ্টমে শুধু ক্লাসরুমের পরীক্ষা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো ধরনের কোনো পরীক্ষা নেই। এরপর থেকে সব ক্লাসেই সমাপনী পরীক্ষা হবে। পঞ্চমেও হয়তো সনদ দিয়ে দেব। সনদ দেওয়ার জন্য পাবলিক পরীক্ষার দরকার নেই। তবে প্রতিটি ক্লাসেই মূল্যায়ন হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক, ব্যবহারিক ও অন্যান্য উপায়েও শিখনকালীন মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।নবম-দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ১০টি করে বিষয় পড়তে হবে জানিয়ে দীপু মনি বলেন, ষষ্ট, সপ্তম ও অষ্টমে প্রি-ভকেশনাল কোর্স পড়বে শিক্ষার্থীরা। একাদশ শ্রেণিতে উঠে শিক্ষার্থীরা বিভাগ পছন্দ করে ঐচ্ছিক বিষয় বেছে নিতে পারবে। অন্যান্য দেশের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে নতুন এই শিক্ষাক্রম করা হয়েছে। ফলে ফলাফল দেওয়া গ্রেডিং পদ্ধতিও '৫'-এর বদলে '৪'-এ নামিয়ে আনা হবে। শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষকগাইডও তৈরি করা হবে। | 1 |
লোকবল নিয়োগে রেলের নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেছেন, লোকবল নিয়োগে রেলের নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ হাজার জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার বেলা ১২টায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ও রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষ সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। রেলমন্ত্রী বলেন, 'রাজশাহী থেকে ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগের সম্ভাবতা তারা যাচাই করে দেখছেন। সবাই তো ব্যবসায়ীক চিন্তা করে। আমাদের বাংলাদেশের উপর দিয়ে কতোটুকু এলাকা চলবে, তার উপরে ট্যারিফ হবে, ভাড়া হবে। ভারতের জমির উপর দিয়ে নেপাল যেতে বহু অংশ যাবে। এটি যদি দিনাজপুরের বিরল হয়ে করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে। ব্যবসাটা আমাদের চিন্তুা করতে হয়।' রাজশাহী হয়ে ভারত পর্যন্ত রেল যোগাযোগ আপাতত না হলেও পণ্য পরিবহন বেড়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের চেয়ে রেলপথে পণ্য আনা নেওয়া বেড়েছে। আগে অল্প সংখ্যক ট্রেন পণ্য নিয়ে আসতো। এখন প্রতিমাসে দেড়'শ বেশি ট্রেন পণ্য আনা নেওয়া করছে। পণ্য নামানোর জন্য রেলওয়ের সক্ষমতার অভাব আছে। সেটি বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। সিরাজগঞ্জ, ইশ্বরদীতে সেই জায়গা করা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরেও একটি জায়গা করার পরিকল্পনা আছে। যাতে করে ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা নেওয়া করতে কোনো ভোগান্তির মধ্যে না পড়েন। মূলত সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনায় কাজ করছে সরকার। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 9 |
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও পাকা ধানে পোকার আক্রমণে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জমি থেকে যখন ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিক সেই সময়েই দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ।হঠাৎ পাকা ধানে বাদামি গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণে মুহূর্তের মধ্যে পাকা ধান সাদা হয়ে যাচ্ছে এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা এই রোগকে গুনগুনির আক্রমণ বলে দাবি করছেন।এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, কীটনাশক স্প্রে করেও দমন করা যাচ্ছে না পোকার আক্রমণ। এক জমি থেকে আরেক জমিতে পোকার আক্রমণ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষকেরা এই পোকার নাম গুনগুনি পোকা বললেও পরশুরাম উপজেলা কৃষি অফিস বলছেন বাদামি গাছ ফড়িং। বাদামি গাছ ফড়িং মূলত পাকা ধানেই আক্রমণ করে। এই পোকা প্রথমে ধানের শিষের কচি ডগার রস চুষে খায়। ফলে ওই ধানের শিষ ২/৩ দিনের মধ্যেই মরে সাদা হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এই পোকার আক্রমণ এতটা ভয়াবহ যে ধান কেটে নেওয়ার পরও এই পোকার সংক্রমণ হচ্ছে।উপজেলার মির্জানগর, চিথলিয়া. বক্সমাহমুদ এবং পৌর এলাকার কয়েকটি গ্রামের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের এমন দুঃখ-দুর্দশার চিত্র দেখা যায়। এ সময় কথা হয় ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে।উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর গ্রামের কৃষক মাধু মিয়া জানান, আমার বেশির ভাগ জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। বাজারের দোকান থেকে কীটনাশক স্প্রে করছি, এতে কাজ হচ্ছে না। সব ধান মরে সাদা হয়ে গেছে। কৃষি অফিসের লোকজন কি পরামর্শ দিয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি জানান, কৃষি অফিসের কোনো লোকজনকে তিনি কখনো দেখেননি।মির্জানগর ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক মো. হানিফ বলেন, 'আগামী সপ্তাহ থেকে ধান কাটার নিয়ত করেছি। সকালে জমিতে এসে দেখি পোকায় পাকা ধান খেয়ে ফেলছে, কী করি ভেবে পাচ্ছি না। বাজার থেকে কীটনাশক এনে স্প্রে করছি।'পরশুরাম পৌর এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেব রঞ্জন বণিক জানান, কিছু কিছু এলাকায় পাকা ধানে বাদামি গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন। এর কারণে কৃষকদের ওষুধ ছিটানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনছুর আহাম্মদ জানান জানান, ভারতের সীমান্ত এলাকা জুড়ে লাইটিং, স্যাঁতসেঁতে জমিতে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি এবং ধানের চারা ঘন ঘন লাগানোর ফলে বাদামি গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। পাকা ধানে প্লেনাম, মিফসিন, নাইট্রো নামের ওষুধ পরিমাণ ও সময়মতো ছিটালে বাদামি গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণ থেকে পাকা ধান রক্ষা পাবে।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, যে জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে সেখানে কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায় কৃষকেরা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুদ রানা জানান, পরশুরাম উপজেলায় চলতি বছর ৩ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে ব্লাস্ট ও বাদামি গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। | 6 |
অভিষেক অনুষ্ঠানের আগে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি গির্জায় অনুষ্ঠিত প্রার্থনা সভায় যোগ দিয়েছেন নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এসময় তার সহধর্মিণী ড. জিল বাইডেনও উপস্থিত ছিলেন। ২০ জানুয়ারি বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে শপথ নেবেন জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিস। এর আগে বাইডেনের সঙ্গে প্রার্থনা সভায় যোগ দিয়েছেন নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং তার স্বামী ডগ এমহফও। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা সেনেটর মিচ ম্যাককনেল এবং প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। খবর বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে জো বাইডেন দ্বিতীয় রোমান ক্যাথলিক প্রেসিডেন্ট। তার আগে ছিলেন ডেমোক্র্যাট জন এফ কেনেডি। ১৯৬৩ সালে আততায়ীদের গুলিতে কেনেডি নিহত হওয়ার পর এই গির্জাতেই তার শেষকৃত্য হয়েছিল। বুধবার শপথ বাক্য পাঠ করার পর ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসন গ্রহণ করবেন এবং তার অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। যদিও শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দিনভর আরও নানা আয়োজন চলতে থাকবে। বাইডেনের শপথ বাক্য পাঠ করার ঠিক আগে কমলা হ্যারিস নিজের শপথ বাক্য পাঠ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম আসন গ্রহণ করতে যাচ্ছেন তিনি। খবরে বলা হয়েছে, দিনের মধ্যভাগে বাইডেন ও হ্যারিস শপথ বাক্য পাঠ করবেন। এরপর দিনের শেষ ভাগে হোয়াইট হাউসে যাবেন তিনি। আগামী চার বছরের জন্য সেটাই তার বাড়ি। | 3 |
ইংল্যান্ডে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতে (এনএইচএস) কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক তাসনিম জারাকে 'ভ্যাক্সিন লুমিনারি' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। বুধবার (২ জুন) জি-৭ গ্লোবাল ভ্যাক্সিন কনফিডেন্স সামিটে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জি-৭ প্রেসিডেন্সিতে ব্রিটিশ সরকার প্রথমবারের মতো এ ধরনের ইভেন্ট আহ্বান করে। এতে টিকার বিষয়ে আস্থা গড়ে তোলা এবং তা রক্ষায় সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বিশ্বজুড়ে যেসব বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন তাদেরকে একত্রিত করা হয়। তাসনিম জারা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যদিও আমাকে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে, তবু আমি বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষদের বেশি সেবা দিয়েছি। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে আমাকে ভ্যাক্সিন লুমিনারি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে এই প্লাটফর্মে বিশ্বের অন্য অংশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। ওই সামিটে ব্রিটিশ সরকার এবং পিপলস পিকচারের অংশগ্রহণে সৃষ্ট একটি ফটো মোজাইক 'দ্য লুমিনারিস' শিরোনামে অবমুক্ত করা হয়। ভিডিও এবং ছবি ব্যবহার করে সেখানে 'ভ্যাক্সিন লুমিনারিস'কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 'ভ্যাক্সিন লুমিনারিস' হলেন সেসব ব্যক্তি যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে টিকার পক্ষে আস্থা তৈরিতে কাজ করেছেন। | 3 |
১৯৫২ সালে আজিম উদ্দিন দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। সে সময় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে কবিতা লেখা ও আবৃত্তি করার দায়ে তাঁকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র তাঁর ছাত্রত্ব বাতিল করে। এরপর চিরতরেই বন্ধ হয়ে যায় পড়ালেখা। অবশেষে ২০১৪ সালে তাঁর ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তখন তাঁর বয়স ৮১ বছর। মাতৃভাষার জন্য এই ত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন নেত্রকোনার আজিম উদ্দিন।আজিম উদ্দিনের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মৃত শমসের আলী। ৮৯ বছর বয়সী আজিম উদ্দিন বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও সেই দিনের কথা মনে পড়লে এখনো উত্তেজনা বোধ করেন।সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় আজিম উদ্দিনের। মেলে ধরেন তাঁর স্মৃতির পাতা।আজিম উদ্দিন বলেন, ১৯৫২ সালে তিনি নেত্রকোনা আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়তেন। ছাত্র অবস্থায় সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কবিতা লেখার অভ্যাস ছিল তাঁর। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণের ওপর শোষণের বিরুদ্ধে ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখেন একাধিক কবিতা।এর মধ্যে ১৯৫১ ও ১৯৫২ সালে লেখা 'পকেট ভারী' ও 'ঘুষের থলি' শিরোনামে দুটি কবিতা স্কুল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। ১৯৫২ সালের ২৫ ডিসেম্বর নেত্রকোনা দত্ত উচ্চবিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও তমদ্দুন মজলিশের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় সাহিত্য সম্মেলন। ওই সম্মেলনে 'আজব বুড়ি' শিরোনামে লেখা একটি কবিতা আবৃত্তি করেন তিনি। কবিতার প্রথম চরণগুলো হলো 'ঢাকার গগনে মেঘ ঘন বরষা, মিলিটারি ছাড়া আর নাহি ভরসা'। ওই দিন রাতেই পুলিশ তাঁর বাসায় গিয়ে কবিতার পাণ্ডুলিপি নিয়ে আসে। এর কয়েক দিন পরই 'রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কবিতা লেখার' কারণ জানতে চেয়ে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়।সে সময় তিনি নোটিশের জবাবে বলেছিলেন, 'যা সত্য তাই লিখেছি।' পরপর তিনবার তাঁকে নোটিশ দেওয়ার পরও একই জবাব দেন তিনি। জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ১৯৫৩ সালে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর আজিম উদ্দিনের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তাঁকে আপসের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।পরবর্তী সময়ে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন আজিম উদ্দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধেও তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ভাষা আন্দোলনে নেত্রকোনা ও নেত্রকোনার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ বিভিন্ন বইয়ে তাঁর গৌরবদীপ্ত বীরত্বগাথার কথা লেখা রয়েছে।২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে নেত্রকোনা আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান উদ্যাপন করা হয়। সে সময় সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক ড. তরুণ কান্তি শিকদার তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেন। তত দিনে পেরিয়ে গেছে ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর। প্রতীকী হলেও এত বছর পর এমন সম্মান পাওয়ায় গর্বিত আজিম উদ্দিন।আজিম উদ্দিন বলেন, 'বাবা-মায়ের আশা ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের সেবায় কাজ করব। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। বায়ান্ন পরবর্তী যত আন্দোলন হয়েছে সব কটিরই বীজ বোপিত হয়েছিল ভাষা আন্দোলনে। কিন্তু ভাষাসৈনিকেরা আজও যথাযথ মর্যাদা পাননি। তা ছাড়া যখন মায়ের ভাষার বিকৃত উচ্চারণ শুনি, তখন খুব দুঃখ লাগে। বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মাননা, সংবর্ধনা দেওয়া হলেও সরকারি পর্যায়ে কোনো স্বীকৃতি নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।'আজিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, 'বেশ কয়েকবার একুশে পদকের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু আজও তা ভাগ্যে জোটেনি। মৃত্যুর আগে এ সম্মান পেলে নিজেকে গর্বিত মনে হবে।'স্থানীয় ইতিহাস গবেষক ও লেখক আলী আহাম্মদ খান আইয়োব বলেন, 'আজিম উদ্দিনের মতো ভাষাসৈনিকেরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজটি বপন করেছিলেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আজিম উদ্দিনের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁর জীবনের একটি অনবদ্য ত্যাগ। আজিম উদ্দিনের মতো ভাষাসৈনিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মান দিয়ে তাঁদের সেই ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত।' | 6 |
তুরস্কের দক্ষিণে অবস্থিত গ্রাম উজুমলু। গ্রামটি নাকি আশপাশের গ্রামের মেয়েদের একেবারেই পছন্দ না। সেই কারণে বিয়ের জন্য ওই গ্রামের ছেলেদের প্রতি আগ্রহ দেখায় না মেয়েরা। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করল উজুমলু গ্রামের অবিবাহিত পুরুষরা। সমস্যার সমাধানের জন্য তুরস্কের রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তারা।
দীর্ঘ নয় বছর ধরে গ্রামে কোনও বিয়ে হয়নি। ২৫-৪৫ বছর বয়সী অবিবাহিত ছেলেদের সংখ্যা বেড়ে চলছে পাল্লা দিয়ে। অন্যদিকে পরিণয় না হওয়ায় আসছে না পরবর্তী প্রজন্ম। জনসংখ্যাও শেষ নয় বছরে কমে প্রায় অর্ধেক নেমে এসেছে। এমন নয় যে উজুমলু গ্রামের পুরুষরা দরিদ্র। মহিলাদের থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুঃখে জর্জরিত হয়ে অবসাদে ভুগছে ওই গ্রামের পুরুষরা।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, শহর থেকে দূরে অবস্থিত উজুমলু গ্রামে সংসার করতে রাজি নন মহিলারা। শহরের বুকে নিজেদের যৌবন অতিবাহিত করতে চাইছেন তুর্কি রমণীরা। তাদের এই মনোভাব বদলানোর জন্য কাতর আবেদন করছেন ওই দেশের দক্ষিণে অবস্থিত উজুমলু গ্রামের পুরুষরা।
| 3 |
গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলায় অসহায় ও অতিদরিদ্র ৩০০ পরিবারে হাসি ফোটাল দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সহযোগীতায় আজ বুধবার উপজেলার কাজী আজহার আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বসুন্ধরা গ্রুপের এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় সকলের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও করোনা সুরক্ষায় সচেতনামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘুরে ঘুরে হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করেন রাজু মিয়া। এতেই ঘোরে তার সংসারের চাকা। পরিবারে আছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী আর এক মেয়ে। করোনার টালমাটাল পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে তার বিক্রি। ফলে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজু বলেন, করোনার পর থেকে দিনগুলো খুব কষ্টে যাচ্ছে। এ সময় আপনাদের সাহায্য পেয়ে খুব উপকার হইল। পরিবার নিয়ে কিছুদিন খাইতে পারবো। অনেক ভালো হইলো। আপনাদের জন্য দোয়া করি, সুখে থাকেন। ত্রাণ বিতরণে অংশ নিয়ে সাঘাটার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তুহিন হাসান বলেন, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা বেছে বেছে অসহায়দের তালিকা করেছে। এটি করতে আমাদেরও হিমশিম খেতে হয়। তাই শুভসংঘকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বসুন্ধরা গ্রুপকেও ধন্যবাদ জানাই প্রান্তিক হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত কবির, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান, সাঘাটা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নওয়াব আলী প্রধান সাজু, কাজী আজহার আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক জসিমউদদীন মোল্লা, বোনারপাড়া সরকারি কলেজের প্রভাষক শাহ্ আলম, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন, সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, গাইবান্ধা জেলার সভাপতি তৌহিদা মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস লতা। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সামিউল ইসলাম, রওজাতুন্নাহার লাবণ্য, মিনহাজুর রহমান নয়ন, সারাফ সোহাইবা নিহা, উম্মে কুলছুম তালুকদার, দেবী সাহা, রেহানা আক্তার রিসাত, উম্মে সালমা বৃষ্টি, তানহা এবং শুভসংঘের সাঘাটা উপজেলার সভাপতি আরফিন আলম সানি, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ শান্তসহ মো. পারভেজ, আশিকুর জামান সোহাগ, দীপ্তি সরকার, নাজমুল মোল্লা, রাজিয়া আক্তার ইতি, মহসীন আলী, মনোয়ার হোসেন, সাইদুর রহমান, রাজিয়া আক্তার রোশনী, ফিরোজ আহমেদ, জসীম উদ্দীন, রায়হান কবির, ফরহাদ সরকার, শুভ সরকার, কামরুল হাসান, মাহমুদুল হাসান, জামিল হোসেন, রাকিবুল হাসান নিরব, নুর আলম, আরিফিন আক্তার, জায়মা জান্নাত, নাজমুল হুদা পলাশ, তাওফিক ওমর, মানিলা নিশা প্রমুখ। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
সব বিয়েতেই কনে চায় একটু ভিন্নভাবে সাজতে। বিশেষ করে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে। ওই একটা দিনে যত নতুন কিছুর পরিকল্পনা করা যায়। গায়েহলুদে তাজা ফুলের গয়না কে না পছন্দ করে! এবার ওড়নাটাও যদি তাজা ফুলের হয়, তবে মন্দ হয় না। নিজের বিয়ের সময় হুট করে এমন একটা ভাবনা চলে এসেছিল সংগীতশিল্পী কোনালের মাথায়। বলছিলেন, 'আমার কাছে গায়েহলুদ মানে তাজা ফুল। বছর তিনেক আগে যখন আমার গায়েহলুদের জন্য ফুলের গয়না ফরমাশ করতে যাই, তখন হঠাৎ করেই মাথায় এল, ওড়নাটা ফুলের হলে তো বেশ হবে।' এরপর নিজের ইচ্ছা কারিগরকে বুঝিয়ে দিতে বেগ পেতে হয়নি কোনালের। খুব খুশি ছিলেন ফুল দিয়ে গাঁথা সেই ওড়না পেয়ে। বিয়ের বিশেষ করে হলুদের অনুষ্ঠানে অনেক কনেকেই পরতে দেখা যায় ফুলের ওড়না। পারসোনার পরিচালক নুজহাত খান বললেন, 'যেকোনো ভিন্ন এবং সুন্দর জিনিসই কিন্তু চল হয়ে যায়। এই যেমন তাজা ফুলের ওড়না। এই ধরনের ওড়নার ব্যবহার কনে সাজে আনে ভিন্ন মাত্রা।' তবে ফুলের গয়না বানানোর সময় কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। ওড়না বানানোর সময় একটু শক্ত ফুল ব্যবহার করতে হবে। কনে মঞ্চে বসার পর সাবধানে ওড়নাটা মাথায় দিতে হবে।' ওড়নাটা যেহেতু ভারী হয়, তাই চুলের সাজ খুব সাধারণ রাখার পরামর্শ দিলেন তিনি। 'ফুলের ওড়না পরলে চুল টেনে বেঁধে নেওয়াই ভালো। আর মাথায় একটা টিকলির চেয়ে বেশি কিছু না পরলেই কনেকে বেশি আকর্ষণীয় দেখাবে', বললেন নুজহাত খান। অনেক ফুলের দোকানে খোঁজ মিলবে তাজা ফুলের ওড়নার। হাতে কমপক্ষে দুই দিন সময় নিয়ে ফরমাশ দিয়ে গড়িয়ে নিতে পারেন ফুলের ওড়না। এর আগে দোকানির সঙ্গে দরদাম করে নিতে ভুলবেন না! যেসব দোকানে ফুলের গয়নার ফরমাশ নেওয়া হয়, সেখানেই কথা বলতে পারেন। রাজধানীর কয়েকটি ফুলের দোকান ঘুরে জানা যায়, নকশাভেদে দাম পড়বে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। এর চেয়ে বেশি দামিও হতে পারে। ফুলের ওড়নার চারটি পাড় সাধারণত গোলাপ বা অন্য কোনো ফুল দিয়ে গাঁথা হয়। হতে পারে সেটা গোটা ফুল অথবা ফুলের পাপড়ি। তবে ভেতরে বেলি বা গাজরার কলি দিয়ে জালের মতো বোনা হয়। এবার আপনি ভেবে নিন কোন কোন ফুলের সামঞ্জস্যে আপনার হলুদের ওড়নাটা গড়িয়ে নেবেন। | 4 |
আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা দিয়েছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মনোনয়ন না পাওয়া। দলের উপদেষ্টা পরিষদের বর্ষীয়ান এই সদস্যের সিলেট-১ আসনে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে তারই ছোট ভাই ও জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম আবদুল মোমেনকে। অবশ্য মুহিতের এই বাদপড়াটা ঘটেছে তার নিজের 'ইচ্ছাতেই'। বেশ কিছুদিন থেকেই তিনি বলে আসছিলেন, রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন, আগামী নির্বাচনে দল থেকে প্রার্থীও হবেন না তিনি। যদিও দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হলে সিলেট-১ আসন থেকে ফরম সংগ্রহ ও জমাও দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। সেটাও নাকি তার ভাই এ কে এম আবদুল মোমেনকে প্রার্থী করতে 'চাপ সৃষ্টির' কৌশল হিসেবে- এমনটা চাউর রয়েছে। আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রংপুর-৬ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না। রোববার প্রার্থীদের মনোনয়নপ্রাপ্তির চিঠি প্রদানকালে সেই গুঞ্জনই বাস্তব হয়েছে। এ আসনে আবারও প্রার্থী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ আসনটি শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ির এলাকা এবং দশম সংসদ নির্বাচনে এখান থেকে এমপি হন তিনি। পরে আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে জয়ী হন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে তাকে দশম সংসদের স্পিকার করা হয়। একাদশ নির্বাচনে শেখ হাসিনা রংপুর-৬ ছাড়াও নিজ আসন গোপালগঞ্জ-৩ থেকে প্রার্থী হয়েছেন। | 6 |
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশের মোট ভূমির ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে বনভূমি রয়েছে ১৭ শতাংশ। একসময় হবিগঞ্জে অনেক বনভূমি থাকলেও তা এখন তলানিতে। সরকারি হিসাবে এ জেলায় মোট আয়তনের ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ বনভূমি রয়েছে; কিন্তু বেসরকারি হিসাবে তা আরও কম।হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী জেলায় বনভূমি ১১ হাজার ৬৪৪ হেক্টর, যা মোট আয়তনের ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে বন বিভাগ বলছে, জেলায় কী পরিমাণ বনভূমি রয়েছে, এর কোনো পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। সারা দেশে বনের ওপর জরিপ করা হলেও অর্থ বাঁচাতে ও দক্ষ জনবলের অভাবে জেলাভিত্তিক কোনো জরিপ হয়নি।এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, বনভূমি রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো উদাসীন। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বনভূমির সঠিক তথ্য নিয়েও চলছে লুকোচুরি। সেই সঙ্গে দখল হওয়া বনভূমি উদ্ধারেও কোনো মাথাব্যথা নেই প্রশাসনের। ফলে কমছে বনভূমি, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ।বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ পর্যন্ত ৮৩ দশমিক ৬৮ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জন ব্যক্তির কাছে স্থায়ী স্থাপনাবিহীন বনভূমি রয়েছে ৪৬ দশমিক ৭২ একর। যেখানে তৈরি হয়েছে বাগান ও কৃষিজমি। ৪ দশমিক ৪৮ একর ভূমিতে স্থায়ীভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন ৫২ জন। চারটি শিল্পকারখানা দখল করেছে ৩২ দশমিক ৩২ একর। এ ছাড়া অন্যান্য দখলে রয়েছে দশমিক ১৬ একর সংরক্ষিত বনভূমি।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, একসময় চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবলে শুধুই বনভূমি ছিল। অথচ এখন বনভূমির দেখাই মেলে না। দখল হয়ে গেছে। অথচ সরকারি হিসাবে দখল হয়েছে মাত্র ৮৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।তিনি আরও বলেন, বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে, দখল হচ্ছে; অথচ সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বনভূমি শুধু জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের আধারই নয়, সুপেয় পানি ধরে রাখে বৃক্ষ। ফলে কোনো এলাকায় বনভূমি কমে গেলে সেখানে মরুকরণ, ভূমিধস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় বেড়ে যায়।বন অধিদপ্তর বলছে, ৮৩ দশমিক ৬৮ একর সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত করেনি। স্থানীয়ভাবে ৭ দশমিক ৫২ একর বনভূমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলেও বাকিগুলো উদ্ধারে কোনো অগ্রগতি নেই। এ ছাড়া মামলা হয়নি কোনো দখলদারের বিরুদ্ধে।অন্যদিকে তাদের হিসাবে অসংরক্ষিত বনভূমি দখল হয়েছে মাত্র দশমিক ৩১ একর, আর দখলদারের সংখ্যা মাত্র দুজন। এ ব্যাপারে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলায় সংরক্ষিত দুটি বনভূমির মধ্যে রঘুনন্দন রিজার্ভ পাহাড় মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় এবং মধুপুর সংরক্ষিত বন বাহুবলে অবস্থিত। রঘুনন্দন রিজার্ভ পাহাড়ের ২৪২ দশমিক ৯১ একর জায়গাকে ২০১৫ সালে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে বন দখল না হলেও বাকি অংশ দখলে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। এ ছাড়া মধুপুর সংরক্ষিত বনেরও বিপুল অংশ দখল হয়ে গেছে। সেখানে গড়ে উঠেছে স্থাপনা।অন্যদিকে, সংরক্ষিত বন ছাড়াও বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল রেমা কালেঙ্গায়ও পড়েছে দখলের থাবা। সেই সঙ্গে গাছ কেটে উজাড় করা হয়েছে বৃহৎ এই বনভূমি। নানাভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে বন।হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মারুফ হোসেন বলেন, 'হবিগঞ্জে বনভূমির পরিমাণ কত, সেই হিসাব আমাদের কাছে নেই। তবে চেষ্টা করছি বনভূমি রক্ষা করতে। এ ব্যাপারে সংরক্ষিত বনভূমিকে দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের কাছে একটি উচ্ছেদ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখন জেলা প্রশাসনই বলতে পারবে, এ ব্যাপারে তারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।'জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিজেন ব্যানার্জি বলেন, 'আমি নতুন এখানে এসেছি। বন বিভাগ কোনো প্রস্তাব পাঠিয়েছি কি না, সেটা জানা নেই। আর বনের জায়গা অবৈধ দখল উচ্ছেদের কাজ আমাদের নয়। এটি বন বিভাগ করবে। সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা বন বিভাগকে সহযোগিতা করব।' | 6 |
হবিগঞ্জের মাধবপুর থানা পুলিশ ৪ কেজি গাঁজাসহ মিন্টু মিয়া(২২) নামে এক পাচারকারী কে গ্রেপ্তার করেছে। সে উপজেলার আলীনগর (মোড়াপাড়া) গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। বুধবার সকালে থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) কামরুল গোপন সুত্রে খবর পেয়ে মাধবপুর-মনতলা রাস্তার আলাকপুর ব্রীজের নিকট অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি গাঁজা সহ তাকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একটি মামলা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী সত্যতা নিশিত করেছেন। | 6 |
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা অংশের নির্মাণাধীন একটি রেলওয়ে সেতুসহ দুটি স্টেশনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এতে একবছর ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারের উন্নয়নমুখী সম্প্রসারিত এই ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্প। বিএসেফের অভিযোগ নির্মাণ কাজ সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। শিগগিরই সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভারত সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলার সম্প্রসারিত ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের নির্মাণাধীন কসবা স্টেশন, সালদা-নদীর ওপর রেলসেতু এবং সালদা নদী রেলওয়ে স্টেশনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মূলত বিএসএফ-এর নির্দেশনায়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দেড়শ' গজের ভেতর পড়েছে, এমনটা দাবি করে রেললাইনের পাশে লাল নিশানাও টানিয়েছে বিএসএফ। এতে করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মূল্যবান নির্মাণ সামগ্রীও নষ্ট হওয়ায় পথে। কাজের ঠিকাদার তমা কস্ট্রাকশন লিমিটেডের সেতু বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, কসবা স্টেশনের সালদা নদী ব্রিজ ও সালদা নদী স্টেশনের কাজ বন্ধ আছে প্রায় এক বছর ধরে। বাংলাদেশ-ভারত সীমানার দেড়শ গজের ভেতরে পড়েছে, এমন দাবি করে বিএসএফ বিজিবিকে আমাদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেছে। আখাউড়া লাকসাম ডবল লাইন প্রকল্পের সমন্বয়ক নাঈম আহমেদ খান জানান, সালদা নদী স্টেশনের যে কাজ বন্ধ আছে সেটা রেল ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধানের পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সমাধান আসবে। সম্প্রতি ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা যাওয়ার পথে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী জানান, সীমান্তে চলমান সমস্যাসহ রেলপথ সড়কপথে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতনরা আলোচনার টেবিলে সমাধান করবেন। সব ঠিক থাকলে ২০২৩ সালের জুনে কুমিল্লা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। মনে হয় দ্রুত সমাদান সূত্র মিলবে। | 6 |
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটায় দুই মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর মাটিবাহী ট্রাক্টর চাপায় একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও শিশুকন্যাসহ চারজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের আমান কোল্ড স্টোরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের আফতাব হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী বিথি (৩৩) ও তার মেয়ে মরিয়ম জান্নাত (৪) এবং মান্দা উপজেলার ছোট বেলালদহ গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে আব্দুল মান্নান (৪৮)। এ বিষয়ে নওহাটা ফায়ার স্টেশনের ওয়ার হাউস ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান বলেন, আমান কোল্ড স্টোরের সামনে দুটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই মোটর সাইকেলের চার যাত্রী রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে। এ সময় মাটিবাহী একটি ট্রাক্টর তাদের চাপা দেয়। এতে একটি মোটর সাইকেলের আরোহী আব্দুল মান্নান ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। তিনি রাজশাহী থেকে মান্দার দিকে যাচ্ছিলেন। আতাউর রহমান জানান, আরেকটি মোটর সাইকেলে আফতাব হেসেন তার স্ত্রী ও কন্যা সন্তানকে নিয়ে রাজশাহীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেয়ে ফিরছিলেন বাসায়। এ সময় তাদেরকেও চাপা দেয় ট্রাক্টর। তাদেরকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নেয়া হলে আফতাবের স্ত্রী বিথি ও মেয়ে জান্নাতকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আফতাবকে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে বিকেল ৫টার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। এ ব্যাপারে পবা থানার ওসি ফরিদ হোসেন বলেন, নিহতদের মরদেহ রামেক হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। | 6 |
খুলনা জিআরপি থানায় এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে থানার তৎকালীন ওসি উছমান গণি পাঠানসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। মামলা দায়েরের জন্য খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক রেলওয়ের পাকশী জেলা পুলিশের এসপিকে চিঠি দিয়েছেন। এ ছাড়া ঈদের পর ভুক্তভোগীর পক্ষে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে তার পরিবার। পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া চিঠিতে সাত দিনের মধ্যে মামলা করার নির্দেশনা রয়েছে। চিঠিতে ২০১৩ সালের হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু নিবারণ আইনে মামলা দায়েরের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম শুক্রবার সমকালকে বলেন, বৃহস্পতিবার আদালতের চিঠি পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে জিআরপি থানার ওসি উছমান গণি পাঠান, এসআই নাজমুল হকসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে ভুক্তভোগী নারীর পরিবার। ঈদের পর ওই নারীর খালাতো ভাই মো. শাহাবুদ্দিন মামলা করবেন বলে জানা গেছে। ওই নারীর পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। সংস্থার খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে যদি পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে, তাহলে তারা সেই মামলার কপি দেখবেন। সেখানে যদি পুলিশ শুধু হাজতে নির্যাতনের অভিযোগ আনে, তাহলে তারা আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করবেন। আর যদি পুলিশের মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ থাকে, তাহলে আর পৃথক মামলা দায়েরের প্রয়োজন হবে না। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আসা চার সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং পাকশী রেলওয়ে পুলিশের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকালও খুলনায় অবস্থান করে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার ওসি উছমান ও এসআই নাজমুলকে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশে প্রত্যাহার করা হয়। গত শুক্রবার যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে এক নারীকে আটক করে খুলনা জিআরপি থানা পুলিশ। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ দিয়ে ওই নারীকে আটক করা হয়। রাতে থানার হাজতে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে। পরদিন তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত রোববার ওই নারী আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। এ ছাড়া তাকে মারধর ও গণধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে সোমবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। | 6 |
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সমর্থনে সত্যাগ্রহ করতে গিয়ে জেল খেটেছেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে ঢাকায় তিনি এমনটাই দাবি করেছিলেন।কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মোদির সত্যাগ্রহে অংশ নিলেও জেল খাটার কথা ভারতে অনেকেই বিশ্বাস করতে রাজি নন। সন্দেহ দূর করতে ভারতের তথ্য অধিকার আইনকে হাতিয়ার করে এবার প্রশ্ন তুলেছেন উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের প্রয়াগরাজের (সাবেক এলাহাবাদ) আইনজীবী কৃষ্ণমোহন পান্ডে।প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (পিএমও) জনসংযোগ কর্মকর্তার কাছে বাংলাদেশে সরকারি সফরে মোদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে ভারতের তথ্য অধিকার আইন ২০০৫-কে হাতিয়ার করে তিনটি প্রশ্ন করেছেন ওই আইনজীবী।তাঁর প্রথম প্রশ্ন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে সত্যাগ্রহ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি কোন ধারায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন? এফআইআরের কপিও চান তিনি।দ্বিতীয়, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গ্রেপ্তার করে ভারতের কোন জেলে রাখা হয়েছিল?এবং তিন) সত্যাগ্রহ চলাকালে কতোদিন জেলে ছিলেন মোদি?পান্ডের এই প্রশ্নের জবাবে পিএমও কী বলে এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা। | 3 |
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কোটায় ভর্তিতে জালিয়াতির অভিযোগ এনে বিশেষ কোটায় ভর্তি উপ-কমিটির আহ্বায়ক এবং হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীনের কক্ষ ভাংচুর করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন কর্মী তার কক্ষে গিয়ে এ ভাংচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাসের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মী ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে বিশেষ কোটা ভর্তি উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরিনের সাথে দেখা করতে যায়। এসময় তারা অফিসে আহ্বায়ককে না পেয়ে তার কক্ষে ভাংচুর চালায়। ভাংচুরের পর ছাত্রলীগ কর্মীরা বিজ্ঞান অনুষদে গিয়ে হট্টগোল করে এবং পরে সেখান চলে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচে বিভিন্ন বিভাগের আসবাবপত্র তৈরির কাজ বন্ধ করে দেয়।
ঘটনার পরে দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাস।
এসময় তারা বলেন, '২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রতিবন্ধী কোটায় ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এক ছাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছে। ওই ছাত্রী প্রতিবন্ধী নয়; সে একজন মৃগী রোগী। একজন মৃগীরোগী কিভাবে প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি হলো এ বিষয়টি জানার জন্য আমরা আহ্বায়কের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।'
ভাংচুরের বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা সংখ্যায় অনেক ছিলাম। হয়তো ভিড়ে কারও ধাক্কা লেগে ম্যাডামের অফিসের কিছু জিনিসপত্র ভেঙ্গে যেতে পারে।'
বিশেষ কোটা ভর্তি উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীন সমকালকে বলেন, 'তারা (ছাত্রলীগ) সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে। বিষয়টি আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি। আর তাদের দেয়া অভিযোগটি মিথ্যা। ওই শিক্ষার্থীর মুখ বাকা ও শারীরিকভাবে সে অসুস্থ।'
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান সমকালকে বলেন, 'বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। যারা এ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।'
| 6 |
কুমিল্লার ঘটনার তদন্ত চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আমরা অনেক কিছু দেখছি, অনেক কিছু অনুমান করছি, এগুলো প্রমাণের অপেক্ষায় আছি। আশা করছি খুব শিগগির জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারব।'কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা নিয়ে আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এখানে সবাই মিলে চলছি। এর জন্য দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছি। হঠাৎ করে এ ঘটনা ঘটানোর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারব। কুমিল্লার ঘটনা আমরা খুব সিরিয়াসলি দেখছি। এ ঘটনায় দু-তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছি। আসল যাঁরা করেছেন, তাঁদেরও আমরা চিহ্নিত করে ফেলব, খুব শিগগিরই জানাতে সক্ষম হব। একটা নির্ভুল তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটি আপনাদের জানাব। শিগগিরই জানাব বলে আশা করছি।'আসাদুজ্জামান খান বলেন, 'কোনো ধর্মাবলম্বী মানুষ এই কাজ করতে পারে না। সবাই ধর্মভীরু, যার যার ধর্ম সে সে পালন করেন। কাজটি যে-ই করেছেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন। যে করেছেন কারও ইন্ধনে এবং স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে বিনষ্ট করতে করেছেন। আমরা সবকিছুই তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করব, যাতে করে সম্প্রীতি বিনষ্ট করার প্রয়াস কেউ না পায়। আমরা সুনিশ্চিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এটা করা হয়েছে। একটা সম্প্রীতির বাংলাদেশকে বিনষ্ট করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে।'কুমিল্লার ঘটনায় দেশের বাইরে থেকে কেউ ইন্ধন দিয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে কামাল বলেন, 'এই মুহূর্তে আমি কিছুই বলছি না। আমাদের দেশের লোকেরই তো অভাব নেই। দেশের বাইরে থেকে কলকাঠি কেউ নাড়ছে কি না, সেগুলো তদন্তে বেরিয়ে আসবে। ইতিমধ্যে ফেসবুকে অনেক কিছু শুনেছেন, আমরা সবগুলো আমলে নিয়ে বিশ্লেষণ করে আপনাদের শিগগিরই জানাব। আমরা আশা করছি যেভাবে এগোচ্ছি, খুব শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করতে পারব।'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু কুমিল্লায় নয়; রামুতে, নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা করে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টিই মূল উদ্দেশ্য। আমাদের দেশের লোক ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। আমরা জঙ্গি-সন্ত্রাসকে কোনো দিন স্থান দিইনি। সবাই একত্রিত হয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাস দূর করেছি। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে আবার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কাদের লাভ হবে? কারা এতে লাভবান হবে আপনাদের কাছে সেই জিজ্ঞাসা আমার। আমরা অনেক কিছু দেখছি, অনেক কিছু অনুমান করছি, এগুলো আমরা প্রমাণের অপেক্ষায় আছি। প্রমাণ পেলেই আপনাদের সামনে তুলে ধরব।'কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এলাকায় চারজন নিহতের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'সেখানে পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন। নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজারে ছোট ছোট ঘটনা ঘটেছে। হাজীগঞ্জ ও নোয়াখালীতে প্রাণহানি হওয়ায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। শনিবার রাতের পর থেকে আর কোনো ঘটনার কথা শুনিনি। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। তারা যথেষ্ট ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কাজ করি। একটা শান্তির পরিবেশ চলে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে যে-ই চেষ্টা করুক, সফল হবে না।'সরকার তাদের এজেন্সি দিয়ে কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে বিএনপি দাবি করেছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'অনেকেই অনেক কিছু বলেন যেগুলো তথ্যভিত্তিক নয়, উদ্দেশ্যমূলক। এগুলো বলার জন্য বলেন।' | 6 |
বিলকিস বানু, রাজধানীর কলাবাগানের লাল ফকিরের গলি বস্তির বাসিন্দা। বিভিন্ন বাসায় কাজের বুয়ার কাজ করেন। তার একার রোজগারে সংসার না চলায় ৮ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়মকেও অন্যের বাসায় কাজে পাঠাতেন। একদিন তিনি জানতে পারেন স্কুলে গেলে টাকা দেয়, খাবারও দেয়। একথা জানার পর মেয়েকে গ্রামে পাঠিয়ে স্কুলে ভর্তি করে দেন। মরিয়ম এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দেবে। স্কুলে উপবৃত্তি ও দুপুরের টিফিন প্রদানের ফলে শুধু মরিয়ম নয় মরিয়মের মতো এমন হাজারো শিশুর জীবন বদলে গেছে গত ১০ বছরে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-২০১০ থেকে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায় পর্যন্ত ২ কোটি ৮৯ লাখ ৮ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার ৩১৩ কোটি ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা উপবৃত্তিসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাবৃদ্ধি, ঝরেপড়া রোধ, শিক্ষার প্রসার, বাল্যবিবাহ রোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থ সামাজিক উন্নয়নে মেয়েদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রী সমতা বিধানের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় উপবৃত্তি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা অনলাইনে প্রদান করছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের লেখা 'শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন (২০০৯-২০১৮)' শীর্ষক বইয়ে গত ১০ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি অর্জনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। অর্জনগুলো হলো- জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। জেএসসি, জেডিডি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করা হয়েছে। গত সাড়ে ৯ বছরে একবারও এর ব্যতায় হয়নি। শিক্ষার উন্নয়নে যুগোপযুগী পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টি মিডিয়া ক্লাস মনিটরিং এর উদ্দেশ্যে অনলাইনে ড্যাশ বোর্ড চালু করা হয়েছে। বইটিতে গত ১০ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জনগুলোকে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যলায় ও উচ্চ শিক্ষা এসব ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রাক প্রাথামিক ও প্রথামিকে অর্জন: সকল শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা গ্রহণের ফলে প্রায় ৯৯ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। ১০০ শতাংশ শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার জোর প্রচেষ্টা চলছে। প্রতিবছর ১ জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক দিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে। এ দিন সারা বাংলাদেশে একযোগে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে পূর্ণসেট পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৬০ কোটি ৮৬ লাখ ৯১ হাজার ২৯০ কপি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সর্বপ্রথম প্রাক-প্রাথমিক স্তুরে ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৮২ হাজার ৮৯৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে নিজ নিজ মাতৃভাষায় মুদ্রিত ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৫৯ টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে অর্জন: প্রায় ২৭ বছর পর ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সকল শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও পরিমার্জন করা হয় এবং নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আইসিটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৪৪টি বিষয়ে নতুন ও পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন পাঠ্যক্রম অনুসারে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৩৪০টি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হয়েছে। মুখস্থ ও নোট গাইড বই নির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব আনাসহ উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সকল পরীক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ প্রণীত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে এবং ৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে আরও ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে দেশে ৪৮টি পাবলিক ও ১০৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি পাবলিক ও ৯২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় চালু রয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সাথে যৌথ অর্থায়নে দুই হাজার ৫৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ) বাস্তবায়ন চালু রয়েছে। আইসিটি শিক্ষা: কয়েক বছর আগেও গ্রামের শিক্ষার্থীরা জানত না ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কী। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যকর করতে গ্রাম ও শহরে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩২ হাজার ৬৬৭টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। ফলে শুধু শহর নয় গ্রামের শিক্ষার্থীরাও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে পড়ালেখা করছে। এছাড়া সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ)-এর আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটির ব্যবহার নিশ্চিতকরণে ৬৪ জেলায় ৬৪০ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইসিটি লার্নিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আজ আমাদের জিডিপি বেড়েছে, রেমিটেন্স বেড়েছে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জন সম্ভব হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে বলেই। শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের কারণে আমাদের সব দিকে উন্নয়ন হয়েছে। গত কয়েক বছরে বড় অর্জন কারিগরি খাতে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাওয়া উল্লেখ করে মিজানুর রহমান বলেন, আগে এ খাতে আমাদের অর্জন ছিল ১ শতাংশ। বর্তমানে এটি ১৫ শতাংশ। এটি অভূতপূর্ব অর্জন। কারিগরিতে যতো শিক্ষার্থী বাড়বে আমাদের উন্নয়ন ততো ত্বরান্বিত হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আসাদুল হক বলেন, গত ১০ বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষানীতি প্রণয়ন। নকল বন্ধে এ সরকার সফলতা দেখালেও তা কিছুটা ম্লান করে দেয় প্রশ্নফাঁস। তবে এখন প্রশ্নফাঁসও কঠোর হাতে দমন করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও উচ্চশিক্ষার জন্য আমাদের আর পাশের দেশে যেতে হয় না, এটাও বড় অর্জন। | 6 |
ফেনী নদীর ওপর নির্মীয়মাণ মুহুরী সেতু আশা দেখাচ্ছে নোয়াখালী-ফেনী ও চট্টগ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষকে। এই সেতুটি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার পূর্ব শাহপুর গ্রামকে পাশের চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ের ওসমানপুর ইউনিয়নের পাতাকোড গ্রামকে সংযুক্ত করছে। মুহুরী সেতু নির্মাণের ফলে পুরোদমে চালু হবে সোনাপুর-জোরারগঞ্জ সড়ক, যা এসে মিশেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে।বর্তমানে নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে চৌমুহনী-ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লেগে যায় হয়। মুহুরী সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে সোনাপুর থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র তিন ঘণ্টা।মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ-মুহুরী প্রজেক্ট সড়ক ও ফেনী জেলার সোনাগাজী সড়কের সঙ্গে সংযোগ করে ফেনী নদীর ওপর মুহুরী সেতুটি নির্মাণে কয়েক বছর আগে উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ফেনী নদীর ওপর মুহুরী সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। সেতুটির নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। এর কাজ করছে হাসান টেকনো বিল্ডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩৯১ মিটার, প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। এর ৯টি স্প্যানে ৮টি পিলার, ২টি অ্যাপার্টমেন্ট হবে। মোট পাইলিং হবে ১২৮টি। প্রতিটি পাইলিং ৩৮ মিটার থেকে ৪৮ মিটার পর্যন্ত গভীর করা হয়েছে। পাইলিং বাকি আছে মোট ১০টি। প্রতি স্প্যানে ৫টি করে মোট ৪৫টি গার্ডার বসানো হবে। সেতুর কাজ শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। ৫টি পিলারের বেজ ঢালাই হয়েছে। ইতিমধ্যে ২টি গার্ডার তৈরি করা হয়েছে। সেতুর জন্য ইতিমধ্যে দুই পাশে ৪০০ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ সময় ধরা হয়েছে ১৮ মাস। তবে সেতুর দুই পাশে সড়কের কাজ শেষ হয়েছে আরও আগে।সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) ফেনী জেলার উপসহকারী প্রকৌশলী এবং মুহুরী সেতুর প্রকল্প পরিচালক মাজহারুল হক বলেন, মুহুরী সেতুটি নোয়াখালী জেলার সোনাপুর সড়ক ও ফেনী জেলার সোনাগাজী সড়কের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ সড়ককে সংযুক্ত করবে। এতে সোনাপুর ও সোনাগাজীর বাসিন্দারা প্রায় ২ ঘণ্টা কম সময়ের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াত করতে পারবেন।সেতুটি নির্মাণ করা হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের সোনাগাজী অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাতায়াত সুবিধা বাড়বে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।মাজহারুল হক আরও বলেন, মুহুরী সেতুর পাইলিংয়ের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আর সেতুর কাজের ৪২ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটি দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে বলে আশা করা যায়।মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মুহুরী সেতু নির্মাণ হলেওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। | 6 |
গত মাসেই হয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সিলেটে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে সিলেটর নদনদীগুলোর পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এতেই জনমনে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।যদিও এখনো সিলেটের সব নদনদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও যেভাবে ঢল আসতে থাকলে আগামী ১০ / ১২ জুনের মধ্যে সিলেটের কিছু নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে বলে জানিয়েছে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড।গত বৃহস্পতিবার থেকেই টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে সিলেটে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আশঙ্কা, বৃষ্টি বাড়তে পারে আরও। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেছেন, 'ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টি হলে এর প্রভাবে বাংলাদেশে বন্যা দেখা দেয়। এ মাসের প্রথম দিকে ওই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।'পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, 'উজানে ঢলের হওয়ার কারণে শুক্রবার থেকে সিলেটের সব নদনদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনো সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখন যে লেভেলে পানি বাড়ছে সেটা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ থেকে ১২ তারিখের ভেতর সিলেটের কিছু নদনদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।'প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ আরও বলেন, 'তবে বিপৎসীমা অতিক্রম করা মানে এই না যে বন্যা হবে। কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। তিনি বলেন, বন্যার বিষয়টা এত আগাম বলা যায় না। কারণ এটা প্রাকৃতিক বিষয়। ভারতে বেশি বৃষ্টিপাত হলে আমাদের এখানে বন্যা দেখা দেবে।' | 6 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এরদোগান ও তুরস্কের ফার্স্টলেডি এমিনে এরদোগানের করোনা থেকে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট ইসাক হারজগ। রবিবার (০৬ ফেব্রুয়ারী) ইসাক হারজগ ফোন করে এরদোগানের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন ও তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এদিকে,খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান এরদোগান। এসময় খুব দ্রুতই তারা বৈঠকে বসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত | 3 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশহগ্রহণের জন্য আগামী দু'দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটভুক্ত কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আজকে আমরা আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করেছি। রাতের মধ্যে আসনের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। এরপর আগামীকাল কিংবা পরশুদিনের মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়া হবে।' জোট মহাজোট শরিকদের ৭০ বেশি আসন দেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'আমরা ইন্টারনাল আলোচনা করছি, ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য শরিক দলের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। এখন আসন ভাগাভাগির বিষয়টি আলাপ আলোচনার পর্যায়ে আছে। কাল পরশুর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। জাতীয় পার্টিকে কয়টি আসন দেয়া হচ্ছে তা এখন পরিষ্কার নয়। শরিকদেরকে ৬৫-৭০ বেশি আসন দেয়া হচ্ছে না।'বৈঠকের বিষয়ে জাপার মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, যেসব আসন আমরা চাই, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নির্ভুল পথ চলতে হবে। এখানে আবেগে কোন জায়গা নেই। এর আগে ওবায়দুল কাদের সকাল ১০টা থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেন।জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশিদ, মশিউর রহমান রাঙ্গা, জিয়াউদ্দিন বাবলু, মুজিবুল হক চুন্নু উপস্থিতত ছিলেন। তার আগে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতারের সঙ্গে বৈঠক হয়।এরপর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সাথে বৈঠক হয়। | 9 |
নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি বুধবার শুরু হবে। দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে আজ মিয়ানমার তাদের যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ পাবে। মিয়ানমারের পক্ষে বক্তব্য দেবেনদেশটির স্টেট কাউন্সিলরঅং সান সু চি।সু চি যুক্তি দেখাবেন, মিয়ানমারের বিষয়ে বিচার করার অধিকার আইসিজের নেই।খবর রয়টার্সের। এর আগে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানির প্রথম দিনে বক্তব্য উপস্থাপন করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।গাম্বিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সে দেশের আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু। শুনানিতে উপস্থিত থাকছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা ওই মামলায় শুনানি চলবে তিনদিন। মামলায় গণহত্যার আন্তর্জাতিক সনদ লঙ্ঘন করে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে গাম্বিয়া আইসিজেতে ওই মামলা করে। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা প্রদান ও রাখাইনে গণহত্যার আলামত নষ্টের বিভিন্ন অভিযোগের ওপর এই শুনানি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে গাম্বিয়া এবং বিকেলে মিয়ানমার প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন ও চূড়ান্ত বক্তব্য পেশের সুযোগ পাবে। হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (আইসিসি) রোহিঙ্গাদের গণহত্যা নিয়ে আরেকটি মামলা চলছে। আদালত এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার একটি আদালতেও রোহিঙ্গা গণহত্যায় সু চির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। | 3 |
টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার কাকরাইদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। মহাসড়কে গর্তের কারণে প্রায়ই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। তবুও সড়ক সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এতে যানবাহন ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, কাকরাইদ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ থেকে বিএডিসি খামারের প্রধান গেট পর্যন্ত সড়ক বেহাল। দেখা দিয়েছে অসংখ্য গর্ত। হেঁটে চলাও কঠিন। ফলে সড়কের এ অংশটুকু বাস, ট্রাক ও অটোরিকশা খুবই ধীরগতিতে চলাচল করে। এ ছাড়া সড়কের ফুটপাতে বিএডিসির সার গুদামের প্রাচীর ঘেঁষে বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কিছু অংশে কাঠের স্তূপ দেখা গেছে। সামনের অংশে ফুটপাতে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে কাঠের গুঁড়ি ফেলে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারী থেকে সাধারণ মানুষের।ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, 'কাকরাইদ বাসস্ট্যান্ডের ৩০০ মিটার এলাকা ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। মহাসড়কে এমন গর্তের কারণে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে।'ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিক গোলাম মোস্তফা বলেন, 'মধুপুরের কাকরাইদ বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে পঁচিশমাইল বা জলছত্র ঘুরে আবার মধুপুর এলে কোনো না-কোনো পার্টস ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। অটোরিকশার পাতি ভাঙে। নাট খুলে হারিয়ে যায়। অনেক সময় পণ্যবোঝাই অটোরিকশা উল্টে যায়। কিছুদিন আগে ওই স্থানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনাও ঘটেছে।'স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, খানাখন্দে ভরা এ অংশ চলাচলের জন্য অনেকে ফুটপাত ব্যবহার করতেন। কিন্তু বালু ও কাঠের ব্যবসার নামে ফুটপাত দখল করায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।বালু ব্যবসায়ী সুজন মিয়া বলেন, মালবোঝাই অটোরিকশা ফুটপাত ব্যবহার করতে গিয়েই বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ভাঙা সড়ক থেকে ফুটপাতে উঠতে-নামতে গিয়ে যানবাহন প্রায় উল্টে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার চারটি অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হয়।বালু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমি খোরশেদ আলমের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে বালুর ব্যবসা করছি। রাস্তায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছি না।'স্থানীয় ব্যবসায়ী, অটোচালক, রিকশাচালক, পথচারী ও বাসচালকেরা দ্রুত সড়কটির সংস্কার দাবি জানান।সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. অহিদুজ্জামান বলেন, 'টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধুপুর থেকে কাকরাইদ হয়ে রসুলপুর পর্যন্ত নতুন করে ৩৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে। ১৭২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন ও টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচিত হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।' | 6 |
এতিমদের চাল বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন নড়াইলের লোহাগড়ার রামপুর দরগা শরিফ এতিমখানা ও মাদ্রাসার সুপার শরিফ আরিফুজ্জামান হিলালী। গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া পৌরসভার রামপুর দরগা শরিফ এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিশুদের খাওয়ার জন্য নড়াইল জেলা প্রশাসক গত ৩০ জুন সরকারের গ্রাজুয়েটি রিলিফ (জিআর) প্রকল্প থেকে ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেন। প্রতিষ্ঠানের সুপার মাওলানা শরিফ আরিফুজ্জামান হিলালী ওই চাল সম্প্রতি লোহাগড়া খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করে এতিমখানায় নিয়ে যান। তিনি সেখান থেকে ২৭০ কেজি (৯ বস্তা) চাল গত সোমবার লোহাগড়া বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে এলে বাজারে কঠোর লকডাউনে টহলরত পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে শরিফ আরিফুজ্জামান হিলালী ওই চাল মাদ্রাসার বলে স্বীকার করেন। তখন পুলিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চালসহ সুপারকে আটকের নির্দেশ দেন।এ সময় দোষ স্বীকার করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোসলিনা পারভিন ভ্রাম্যমাণ আদালতে ওই মাদ্রাসা সুপারের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন এবং উদ্ধার চাল রামপুর দরগা শরিফ এতিমখানা ও মাদ্রাসার এতিমদের মাঝে ফেরত দেন।প্রতিষ্ঠানের সুপার মাওলানা শরিফ আরিফুজ্জামান হিলালী জানান, এতিম ছাত্রদের অন্যান্য খরচ মেটানোর জন্য কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে বরাদ্দ করা চাল থেকে কিছু চাল বিক্রি করার জন্য বাজারে আনা হয়েছিল।লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোসলিনা পারভিন বলেন, সুপারের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। উদ্ধার হওয়া চাল এতিমদের মাঝে ফেরত দেওয়া হয়েছে। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পোষা দুটি কুকুরের মধ্যে একটি মারা গেছে। তার নাম চ্যাম্প। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন টুইটে ১৩ বছরের পুরোনো এই সঙ্গীর প্রতি শোক জানান। তাঁরা বলেন, 'আমরা আমাদের মিষ্টি, ভালো ছেলেটিকে ভালোবাসি। সব সময় তার কথা মনে পড়বে।' খবর এনডিটিভির। বাইডেনের পোষা কুকুর চ্যাম্প ছিল জার্মান শেফার্ড। ২০০৮ সাল থেকে জো বাইডেন ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে রয়েছে চ্যাম্প। সে সময় বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালন করেছিলেন। বাইডেনের মেজর নামে আরও একটি জার্মান শেফার্ড রয়েছে। মেজরই প্রথম কুকুর, যাকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে এনে হোয়াইট হাউসে রাখা হয়েছে। . . ../ টুইটে জো বাইডেন ও জিল বাইডেন চ্যাম্পের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন। বাইডেন বলেন, চ্যাম্প ছিল তাঁদের ভালো সঙ্গী। শেষ কয়েক মাসে সে দুর্বল ও অসুস্থ ছিল। তারপরও ঘরে ঢুকলেই চ্যাম্প দ্রুত উঠে দাঁড়াত। আনন্দে লেজ নাড়ত। নাক, কান ঘষে আদর প্রকাশ করত। পুরোনো দিনের কথা মনে করে বাইডেন ও জিল বাইডেন আরও বলেন, চ্যাম্প যখন ছোট ছিল, তখন গলফ খেলতে পছন্দ করত। ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যে থাকার সময় নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দৌড়াতেও পছন্দ করত চ্যাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছর সময়কালে হোয়াইট হাউসে কোনো কুকুর ছিল না। ১৮৬০ সালে অ্যান্ড্রু জনসনের পর তিনিই ছিলেন প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যার কোনো কুকুর বা বিড়াল ছিল না। | 3 |
অনুষ্ঠান করতে করতে কেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন কেকে? প্রচণ্ড গরম, ভিড় এগুলোই কি আসল কারণ? চিকিৎসকরা বলছেন, না। সমস্যা একদিনের নয়, কেকের হৃদযন্ত্রে মারণরোগ বাসা বেঁধেছিল আগে থেকেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসতেই কপালে ভাঁজ চিকিৎসকদের। দেখা গেছে, কেকের হৃদপিণ্ডের চারপাশে পুরু মেদের আস্তরণ। সেটি সাদা হয়ে গিয়েছিল। হৃদপিণ্ডের মোড়ক খুলতেই দেখা যায় ভাল্বকাগুলো অস্বাভাবিক রকম শক্ত হয়ে রয়েছে। পুলিশ সূত্রে সেই খবর সামনে এসেছে বৃহস্পতিবার। অভ্যন্তরীণ প্রত্যঙ্গের খুঁটিনাটি পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে আরও বিশদে যেতে চাইছেন চিকিৎসকরা। কেকের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নমুনা হিস্টোপ্যাথলজিকাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হিস্টোপ্যাথোলজি হল কোষের বিশদ পরীক্ষা, যেখানে যাবতীয় অস্বাভাবিকতা, ব্লক জনিত ত্রুটি খতিয়ে দেখা যাবে। ডাক্তাররা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হৃদপিণ্ডে কাঠিন্য দেখা যায়। তবে কেকের হৃদপিণ্ডের যে চেহারা ধরা পড়েছে তা স্বাভাবিক নয়। কোথায় কোথায় ধমনীর পথ আটকে গিয়েছিল সেসব জানতে হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩১ মে সকালে কেকে তার ম্যানেজারকে বলেছিলেন শরীরে জোর পাচ্ছেন না। সেই রাতেই, অর্থাৎ মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে, তিনি স্ত্রীকে বলেছিলেন, "কাঁধ এবং বাহু টনটন করছে।" সেই অবস্থাতেই মঞ্চে ওঠেন কেকে। অসুস্থ অবস্থাতেই অনুষ্ঠান করে যান। তারপর অনুষ্ঠান শেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হোটেলে ফিরে সোফায় বসতে গিয়ে মেঝেতে বসে পড়েন গায়ক। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা বিডি প্রতিদিন/কালাম | 2 |
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়ে তা পণ্ড করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশন শুরু করেন ছাত্রদলের নেতারা। বেলা ৩টা পর্যন্ত তাঁদের এই কর্মসূচি চলার কথা ছিল।শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা এই প্রতীকী অনশন শুরু করেন।ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করে বলেন, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ 'ফোর্স' নিয়ে আমাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।শাবিপ্রবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে প্রতীকী অনশনে ছাত্রদলরাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, 'পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশাল ফোর্স নিয়ে বাধা দিয়েছে, ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। কাউকে আটক করেনি, কিন্তু কয়েকজনকে লাঠিচার্জ করেছে। আমরা বেলা ৩টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে প্রতীকী অনশন করতে চেয়েছিলাম। শান্তিপূর্ণ এমন কর্মসূচিতে পুলিশের বাধার তীব্র নিন্দা জানাই আমরা।'এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি মওদূত হাওলাদার বলেন, 'আমরা কোনো বাধা দিইনি। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ফোর্স আনা হয়েছিল। তাদের আমরা অনুরোধ করেছি বিষয়টা দ্রুত শেষ করার জন্য। কোনো বল প্রয়োগ করা হয়নি। পরে তারা দ্রুত সময়ে কর্মসূচি শেষ করে দিয়েছে।' | 6 |
হজের সার্বিক খরচ ব্যতীত প্রত্যেক হজযাত্রী ১ হাজার ২০০ ইউএস ডলার বা এর সমপরিমাণ মূল্যমানের অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একজন হজযাত্রী ধর্ম মন্ত্রণালয় নির্ধারিত খরচ বাদে উল্লেখিত অর্থের অতিরিক্ত অর্থ সঙ্গে নিতে পারবেন না। আর হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ কোটা প্রযোজ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।এদিকে হজের খরচ বেড়েছে ৫৯ হাজার টাকা। নতুন প্যাকেজে সরকারিভাবে প্যাকেজ-১-এ খরচ হবে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকা আর প্যাকেজ-২-এ খরচ হবে ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা।আজ দুপুরে মন্ত্রণালয়ে এ তথ্য জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভা শেষে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, একইভাবে বেসরকারি খরচে হাব ঘোষিত টাকার পরিমাণও ৫৯ হাজার টাকা বাড়বে। | 6 |
এই গ্রীষ্মেই বার্সেলোনা ছাড়তে চান আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। নিজের সিদ্ধান্তের কথা গত সপ্তাহেই কাতালান ক্লাবকে এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই শোনা যাচ্ছে মেসিকে দলে ভেড়াতে ম্যানসিটি বেশ এগিয়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সিটি ৫ বছরের জন্য চুক্তির প্রস্তাব করেছে মেসিকে। কর পরিশোধের আগে প্রতি মৌসুমে মেসির আয় হবে ১০০ মিলিয়ন ইউরো। ৫ বছরে মোট চুক্তির পরিমাণ হবে ৭৫০ মিলিয়ন ইউরো। মৌসুম প্রতি ১০০ মিলিয়ন ইউরো হলে ৫ বছরে অঙ্ক দাঁড়ায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো। বাকি ২৫০ মিলিয়ন ইউরো মেসি পাবেন নিউ ইয়র্ক সিটিতে যোগ দেওয়ার সাইনিং বোনাস হিসেবে। এই ধরনের চুক্তি ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে বিধি ভঙ্গের জটিলতা এড়াতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
নরসিংদীর রায়পুরায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে এক কৃষককে কৃষিযন্ত্র (কম্বাইন্ড হারভেস্টর) দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মাঠে আদিয়াবাদ ইউনিয়নের শিকদার পাড়ার কৃষক মো. মাহমুদউল্লাহর হাতে চাবি তুলে দেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজগর হোসেন, নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক ড. মো ছাইদুর রহমান, জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. মো মাহবুবুর রশিদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো সুমন মিয়া প্রমুখ।মাহমুদউল্লাহ বলেন, 'ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টর পেয়ে খুবই আনন্দিত। যান্ত্রিকিকরণের মাধ্যমে কৃষিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব। আশা করি অল্পতেই সফলতার মুখ দেখতে পারব।'কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের মো. সাইফুল ইসলাম নামে এক কৃষককে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন দেওয়া হয়েছে। যা সরকারিভাবে ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় দেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যে দুটি কম্বাইন্ড হারভেস্টর বিতরণ করা হয়। গত বছর উপজেলায় ছয়টি বিতরণ করা হয়েছে। | 6 |
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবাসিক হলের ডাইনিং কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে 'ডাইনিং হল কর্মচারী সমিতির' ব্যানারে মিছিল বের করেন বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন সড়কে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।এ সময় ডাইনিং হল কর্মচারী সমিতির সভাপতি মনির হোসেন খন্দকার বলেন, 'দুই বছর আগে সাড়ে তিন হাজার ছাত্রের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করি। পরে প্রশাসন বলে এ ব্যাপারে কমিটি গঠন হয়েছে। এর ভিত্তিতে আমাদের চাকরি স্থায়ী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বলা হয় আমাদের সবাইকে চাকরি দেওয়া হবে। একজনও বাদ যাবে না। কিন্তু এত বছর হতে চললেও আমাদের চাকরি স্থায়ী হলো না।'চাকরি বাঁচাতে এরপর কি বাঁশ চাষমনির হোসেন আরও বলেন, 'আমরা প্রায় ৯৬ জন ডাইনিং কর্মচারী বিভিন্ন হলে কর্মরত আছি। প্রশাসন জানায়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ হলে আমাদের থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ নেওয়া হবে এবং প্রাধান্য দেওয়া হবে। কিন্তু আমাদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি আমাদের ডাইনিং সার্ভিসের মেয়াদ ৩২ বছর করেছে। আমাদের দাবি সেটা ৪০ বছর এবং অবসরের বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছর করতে হবে। এ ছাড়া অবসরকালীন ভাতা বাড়াতে হবে।'চাকরি ছেড়ে কৃষিতে সফল হলেন তৌহিদসমাবেশে কর্মচারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, 'ডাইনিং কর্মচারীদের রক্ত ঘাম করা পরিশ্রমের বিনিময়ে খাবার পান শিক্ষার্থীরা। তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা অনিশ্চিত করে, অস্থায়ী চাকরির ফাঁদে রেখে প্রশাসন একটা অন্যায় নীরবে করে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, ডাইনিং কর্মচারীদের যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে নিমকহারামি করবে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।'এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আবু সাইদ, সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তিসহ প্রমুখ। | 6 |
অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাঁকে। তবে আগের তুলনায় শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে বলে মঙ্গলবার দুপুরে জানিয়েছেন বরেণ্য এ অভিনেতার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক অরিন্দম কর। সৌমিত্র ২২ দিন ধরে মিন্টো পার্কের বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত সেখানকার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর অনলাইন সংস্করণগুলো সূত্রে জানা গেছে, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। নতুন করে আর রক্তক্ষরণ হচ্ছে না। প্রস্রাবও কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। অরিন্দম কর জানিয়েছেন, আজ দুপুরের পরে সৌমিত্রের শরীরে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মানবশরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো কিডনি ঠিকমতো কাজ না করা। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দেওয়া হবে কি না, তা দেখছেন হাসপাতালের নেফ্রলজিস্টরা। এখনো তিনি ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। স্যাচুরেশন ৯৫ শতাংশের বেশি আছে। নিউমোনিয়ার যে প্যাচ পাওয়া গিয়েছিল, সেটা আর বাড়েনি। কেন নিউমোনিয়া হয়েছিল, সে কারণ খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। তাঁর চিকিৎসা চলছে।তিনি আরও জানান, বেলভিউ হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞসহ সব চিকিৎসক সৌমিত্রের চেতনা ফেরাতে ইনটিউবেশন মানে ভেন্টিলেশনের ওপরই নির্ভর করছেন। বর্ষীয়ান অভিনেতার স্নায়ুর চিকিৎসা চলছে। এখন প্ল্যাটিলেটের সংখ্যা স্বাভাবিক আছে। নতুন করে পরিমাণ কমেনি। প্ল্যাটিলেট কাউন্ট বাড়ানোর জন্য তাঁকে কিছু ওষুধ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁকে রক্ত দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।সৌমিত্রের চিকিৎসায় নিয়োজিত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে কথা বলেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। তাঁরা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ নেগেটিভ হওয়ার পরও সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত কোভিড এনকেফালোপ্যাথি থাকতে পারে। আগের দিন সোমবার রাতেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। তাঁর রক্তে ইউরিয়ার পরিমাণ অনেকটাই বেশি ছিল। কিডনির অবস্থাও ভালো ছিল না। ফুসফুসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। অন্ত্রে রক্তক্ষরণেরও আশঙ্কা থেকে যায়। ফলে উদ্বেগ বাড়ছিল চিকিৎসকদের। অভিনেতার বয়স ও কো-মর্বিডিটি তাঁর চিকিৎসার ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায় বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তবে ওষুধের মাধ্যমে তাঁকে সুস্থ করে তোলার কাজ চলছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসক।অক্টোবরের শুরু থেকে বাড়িতে থাকাকালে সৌমিত্রের শরীর ভালো যাচ্ছিল না। জ্বর এলেও করোনার কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। চিকিৎসকের পরামর্শে নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৫ অক্টোবর তাঁর কোভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। ৬ অক্টোবর তাঁকে বেলভিউ নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর নমুনা পরীক্ষায় তাঁর কোভিড-১৯ নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরই সৌমিত্র সুস্থ হতে থাকেন। যদিও কোভিড-১৯ ছাড়াও তাঁর শারীরিক নানা সমস্যা ছিল। সেসবের মধ্যে আছে প্রোস্টেট ক্যানসার, সিওপিডি, প্রেশার ও সুগার। গত মঙ্গলবার থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে।সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়স এখন ৮৫ বছর। ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। অভিনয়, কবিতাচর্চা, রবীন্দ্রপাঠ, সম্পাদনা, মঞ্চনাটক-সব মিলিয়ে অনন্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। | 2 |
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়।আদালত বলেছেন, 'ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে এই জেল আপিল শুনানি হবে।'আবরার হত্যায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবনএর আগে গত ৬ জানুয়ারি এই মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এ ছাড়া দণ্ডিত আসামিরা ফৌজদারি আপিল এবং জেল আপিল করতে পারেন। হাইকোর্টের রায়ের পর সংক্ষুব্ধরা আপিল বিভাগে আবেদন করার সুযোগ পান। এরপর আইনি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হিসেবে রিভিউ করতে পারেন সংক্ষুব্ধরা।উল্লেখ্য, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গত ৮ ডিসেম্বর ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। | 6 |
কৃষক আন্দোলন নিয়ে টুইট করে নেটদুনিয়ার একাংশের রোষানলে পড়েছেন সংগীত সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। কেউ হতাশা জাহির করেছেন, কেউ আবার বর্ষীয়ান শিল্পীকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছেন। কৃষক বিক্ষোভের সমর্থনে পোস্ট করেছিলেন মার্কিন পপ তারকা রিহানা, পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও সাবেক পর্নস্টার মিয়া খালিফা। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর, শচীন টেন্ডুলকার, বিরাট কোহলি, অজিঙ্কা রাহানে, রবি শাস্ত্রী, অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি ওকরণ জোহররা। তার এই টুইট শেয়ার করেটুইটারে রঙ্গ-রসিকতায় মেতেছেন অনেকে। কেউ লিখেছেন, লতা দিদিকে কষ্ট করে টাইপও করতে হয়নি। যা বড় ভাই পাঠিয়েছিল, কপি করে দিয়েছেন। কেউ আবার লিখেছেন, ম্যাডাম কেন দেরিতে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ চেক করলেন? ১ টাকা লেট ফি কাটা গেল। এমনই টুইটে ভরে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এদিকে, বলিউডের কিছু তারকা আবার রিহানা, গ্রেটাদের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছে। একের পর এক টুইট করে চলেছেন তাপসী পান্নু এবং স্বরা ভাস্করের মতো অভিনেত্রীরা। তবে মধ্যপন্থা অবলম্বন করলেন বলিউডের 'সুলতান' সালমান খান। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যে সিদ্ধান্ত নিলে সবার ভাল হবে, সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া উচিত। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিদিন/এমআই | 2 |
কানাডার প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির আলোচিত মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৮ মার্চ। আজ মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) মামলাটিতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় ঢাকার ৯ নম্বর (অস্থায়ী) বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে তার আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। আবেদনটি মঞ্জুর করে আগামী ৮ মার্চ নতুন দিন ধার্য করেন বিচারক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ দুর্নীতির মামলা করেন। এরপর ২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয় | 6 |
ভারতে আটকেপড়া বাংলাদেশীরা দেশে ফিরতে পারছেন। বুধবার দুপুর ১টার মধ্যে যশোরের বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরেছেন ২০০ বাংলাদেশী। তাদেরকে বেনাপোলের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। এদের মধ্যে একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বন্দরের ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব জানিয়েছেন, ফেরত আসা যাত্রীদের মধ্যে একজনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তার সাথে থাকা একজনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ফেরত আসা ক'জন যাত্রী জানান, চিকিৎসার জন্য তারা ভারতে অবস্থান করছিলেন। লকডাউনের খবর পেয়ে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় আটকেপড়া যাত্রীরা। ছাড়পত্র নিতে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে প্রায় ৭/৮ শ' পাসপোর্ট যাত্রী অপেক্ষাকরছেন। এদের অধিকাংশ বিভিন্ন ধরনের অপারেশনের এবং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী। গত সোমবার দেশে ফেরার জন্য বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের পেট্রাপোলে ছুটে আসেন প্রায় ৩০০ যাত্রী। লকডাউনে শর্তানুযায়ী আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফেরত আসার জন্য কলকাতাস্থ ভারতীয় উপ-দূতাবাস থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ছাড়পত্র নিয়ে দেশে ফিরেছেন ৯০ জন বাংলাদেশী। বুধবার বেলা ১টার দিকে আরো ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী বেনাপোল ইমিগ্রেশনে প্রবেশের অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এদিকে বাংলাদেশ থেকে বুধবার ভারতে ফেরত গেছেন পাঁচজন। শার্শা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসনা শারমিন মিথি জানান, পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় দেশে ফেরত আসা যাত্রীদের বেনাপোলের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। | 6 |
অর্থনীতির নানান বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. সাদিক আহমেদ আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সহকারী সম্পাদক ফারুক মেহেদী।করোনার ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। বাংলাদেশও কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?ড. সাদিক আহমেদ: কোভিডের আগপর্যন্ত অর্থনীতি ভালো চলছিল। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার অনেক উঁচুতে ছিল। অন্যতম উদীয়মান অর্থনীতি বলা হচ্ছিল বাংলাদেশকে। মানবসম্পদসহ সব সূচকই ইতিবাচক ছিল। কোভিড আসার পর জিডিপি প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি, দারিদ্র্যের ওপর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ল। এটা একটা বৈশ্বিক সংকট ছিল। এতে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের কম ক্ষতি হয়। বিবিএস ২০১৯-২০ অর্থবছরে বলেছে, সাড়ে ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বৈশ্বিক তুলনায় এটা ভালো। ভারতে নেতিবাচক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভিয়েতনামে কমেছে। একপর্যায়ে সবকিছু খুলে দেওয়ায় ক্ষতির মাত্রাটা কমেছে। জিডিপিও বাড়ছে। বিবিএস ২০২০-২১ অর্থবছরে সাড়ে ৫ শতাংশ অর্জিত হওয়ার কথা বলছে। রপ্তানি বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং অর্থনৈতিক কার্যক্রম বলা যেতে পারে ভালোর দিকে। রেমিট্যান্স আগে ভালো ছিল, তবে কিছুদিন ধরে একটু নেতিবাচক। এটা প্রত্যাশিত ছিল।এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকারের নীতি-কৌশল কেমন হওয়া উচিত?ড. সাদিক আহমেদ: বেসরকারি বিনিয়োগ কিছুটা ফিরেছে। যতটা হওয়া উচিত, সেটা হয়নি। আর সাপ্লাই চেইনে যে সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে, সেটা হলো চীন, ইউরোপ এবং আমেরিকায়ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঠিকমতো হচ্ছে না। বৈশ্বিকভাবে পণ্যমূল্য বাড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেড়েছে। নির্মাণসামগ্রী ও শিল্পের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এটা ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে। এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ওপর একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। তাই আমি মনে করি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি। একটি মিশ্র অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে। মুদ্রা ও রাজস্বনীতিতে ভারসাম্য আনতে হবে। ঋণপ্রবাহ যদি ১২-১৪ শতাংশের মধ্যে হয়, তাহলে ঠিক আছে। রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশ, এটাও ঠিক আছে। খরচ বাড়ার ফলে কিছু নেতিবাচক প্রভাব তো থাকবেই। তবে সরকার যে ভর্তুকি দিয়ে সব আটকে রাখবে, এটা সম্ভব নয়।করোনার ক্ষত না কাটতেই জ্বালানির দাম বাড়ানো কতটা ঠিক হলো?ড. সাদিক আহমেদ: ডিজেলে সরকারের ভর্তুকি ছিল। বৈশ্বিক দাম বাড়ার ফলে সরকার যে সমন্বয় করছে, এটা ঠিকই আছে। তবে আমি মনে করি, দাম সমন্বয়ের বিষয়টির একটি পদ্ধতিগত সংস্কার প্রয়োজন। অ্যাডহক বেসিসে সরকার কেন দাম নির্ধারণ করবে? ভারতও কিন্তু সরকারের হাতে রাখেনি। এটার নিয়ন্ত্রণ যদি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, জ্বালানি ও অর্থ মন্ত্রণালয় মতামত দেবে। তবে মূল বিষয়টি বিইআরসি দেখভাল করবে। চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে দাম নির্ধারিত হবে। এভাবে করলে দাম নিয়ে প্রশ্ন আসবে না। সরকার প্রয়োজন মনে করলে ভ্যাট, ট্যাক্স বা শুল্ক কমিয়ে দিতে পারে। ট্যাক্স পলিসি দিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সুতরাং আমি মনে করি, পণ্যমূল্য বা জ্বালানি তেলের দাম সরকারের হাত থেকে ছেড়ে দিতে হবে।সরকারের অ্যাডহক ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ কতটা যৌক্তিক?ড. সাদিক আহমেদ: যদি বাজারভিত্তিক হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে এখানেও বাড়বে, দাম কমলে এখানেও কমবে। এটা হলো সবচেয়ে উত্তম নীতি। এ সিস্টেম তো আমাদের নেই। নেই বলেই এটাকে প্রশাসনিক দাম বলা হচ্ছে। যেহেতু এটি স্ট্র্যাটেজিক পণ্য, তাই পণ্যটির দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে সরকার ট্যাক্স পলিসি দিয়ে হস্তক্ষেপ করবে। সার্বিকভাবে আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের যে চাপ, তা আমাদের সহ্য করতে হবে।করোনায় দারিদ্র্য বাড়ছে বলা হচ্ছে। এটা কমানোর জন্য করণীয় কী হতে পারে?ড. সাদিক আহমেদ: এটা ঠিক যে, সময়ের পরিক্রমায় দারিদ্র্য কমেছে, জিডিপি বেড়েছে; তবে একই সঙ্গে আয়বৈষম্যও বেড়েছে। আমরা জানি, ২০ শতাংশের বেশি দরিদ্র মানুষ রয়েছে। কোভিডের ফলে এই হার কিছুটা বেড়েছে। এ ধরনের আয়বৈষম্য কমানোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কৌশল নেওয়া হয়। বাংলাদেশেও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আছে। তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতার জন্য এটা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হচ্ছে না। এটাকে ব্যাপক পরিসরে করতে হবে। এ জন্য সরকারকে করের ওপর জোর দিতে হবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের কর জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশকে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। মাথাপিছু আয় আড়াই হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতেই বোঝা যায়, আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। কর সেভাবে বাড়েনি। করব্যবস্থায় একটা সংস্কার এনে কিছু সম্পদ স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা যাবে। অবশ্যই সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও করতে হবে।দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী বা ধনীরা সেরা করদাতার তালিকায় নেই কেন?ড. সাদিক আহমেদ: এ জন্যই সংস্কারের কথা বলছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ভলান্টারি কমপ্লায়েন্স। এটা ছাড়া এনবিআরের লোকজন পাঠিয়ে ধরাধরি করে হবে না। করব্যবস্থা সহজ করতে হবে। ভলান্টারিভাবে আয় থেকে কর জমা হবে। এনবিআর পরে সিলেকটিভ অডিট করবে। সবার ফাইল দেখার প্রয়োজন নেই। আমরা তো জানি, বেশি আয়ের মানুষ কোথায় আছে। আমরা যদি মনে করি, ওঁদের কর ঠিকমতো আসছে না, সেখানে অডিট করা যায়।বৈশ্বিক যেসব উত্তম চর্চা আছে, সেগুলো আমরা কেন করছি না?ড. সাদিক আহমেদ: আমরা বলছি যে, করনীতি এবং কর আদায় দুটোকে আলাদা করে দিতে হবে। কর প্রশাসনকে আধুনিক করতে হলে সবকিছু কম্পিউটারাইজড করতে হবে। অনলাইনে যেন রিটার্ন দিতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। টার্গেট করে সিলেকটিভ ও প্রোডাকটিভ অডিট করতে হবে। একটা কম্পিউটারাইজড মডেল থাকবে যে, এই ক্রাইটেরিয়া থাকলে এ ধরনের অডিট করা যাবে। আমি মনে করি, দৃশ্যমান উচ্চবিত্তদের করের বিষয়টি আগে দেখা যেতে পারে।করোনায় দারিদ্র্যের হার বেড়েছে শোনা গেলেও সরকার বলছে কমছে। আপনি কী বলেন?ড. সাদিক আহমেদ: আমাদের কাছে দারিদ্র্যের সঠিক তথ্য নেই। ধারণা থেকে যেটা বলা যায়, কোভিডের আগে আমাদের দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছিল ১৯ শতাংশে। দারিদ্র্য কিসের ওপর নির্ভর করে? প্রবৃদ্ধি, আয়, রেমিট্যান্স, কর্মসংস্থানের ওপর। বাংলাদেশে কোভিডের ফলে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। কিন্তু নেতিবাচক তো হয়নি। আর রেমিট্যান্স তো ৩০ শতাংশের মতো বেড়েছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে, প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়নি, রপ্তানিও ভালো ছিল। সুতরাং দারিদ্র্য বাড়ার কথা নয়। সাময়িকভাবে যদিও কোভিড শুরুর দিকে দারিদ্র্যের হার কিছুটা বেড়েছিল, তবে বছরভিত্তিক হিসাবে তা খুব বাড়েনি বলে আমার ধারণা।এত কিছুর মধ্যেও অর্থনীতির জন্য কী কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন?ড. সাদিক আহমেদ: আমরা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। সেখানে প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে সাড়ে ৮ বা ৯ শতাংশ। ২০৩১ সালের মধ্যে আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে যাব। অতি দারিদ্র্য শূন্য হয়ে যাবে। ২০৪১ সালে আমরা উচ্চ আয়ের দেশ হব-সরকারের এসব লক্ষ্যমাত্রা কোভিডের কারণে কিছুটা পিছিয়ে গেছে। প্রবৃদ্ধি কমেছে, দারিদ্র্য যেভাবে কমার কথা, কমেনি। সুতরাং প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন অর্জনে অনেক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অবকাঠামো, দারিদ্র্য বিমোচনে বরাদ্দ বাড়াতে হবে, কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনতে হবে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি নিতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়ানোও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ৫-৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আমরা এমনিতেই অর্জন করতে পারব। কিন্তু যদি এটাকে ৮-৯ শতাংশে নিতে হয়, তাহলে আমাদের রিফর্ম করতেই হবে।বিনিয়োগ লাগবে। কিন্তু পরিবেশ কতটা অনুকূলে আছে?ড. সাদিক আহমেদ: বিনিয়োগে সবচেয়ে বড় বাধা ট্রানজেকশন কস্ট। দেখা যায়, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ সহজে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে ব্যাংক ক্রাপসি বা কন্টাক্ট এনফোর্সমেন্টের আইনগত ব্যবস্থার প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে। বিনিয়োগ অনুমোদন বা এর প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘসূত্র, জমি পেতে সমস্যা আছে-এ রকম অনেক সমস্যা আছে। কোর্টের সমস্যা। কর দিতে জটিলতা। এসব ইস্যু চিহ্নিত হয়েছে এবং তা সরকারও জানে। সরকার যদি এগুলোর সমাধান করতে পারে, তাহলে নিঃসন্দেহে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। বাংলাদেশ অত্যন্ত লাভজনক গন্তব্য। এখন যদি জরুরি সংস্কারগুলো করা যায়, ট্রেড প্রোটেকশন কমিয়ে এফডিআই নিয়ে আসা, প্রযুক্তি সংযোজন বাড়ানো, ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট, মুদ্রার বিনিময় হারে নজর দেওয়া যায়, তাহলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও সহজ হবে। সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তনের যে ঝুঁকি, সেটা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার কমাতে হবে। | 6 |
চলচ্চিত্রের এক ক্রান্তিকালে আজকের দিনে সুদর্শন ফ্যাশনেবল আধুনিক মানসিকতার এক মহানায়কের আগমন ঘটে। তিনি হাজারো মানুষের 'স্বপ্নের নায়ক' সালমান শাহ। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সালমান। বেঁচে থাকলে আজ ৫০ বছরে পা রাখতেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে চলে যান সালমান শাহ। তার অভিনীত প্রায় সবগুলো সিনেমায় ছিল সুপারহিট। ২৫ বছর নেই ক্ষণজন্মা এই নায়ক। তবু বাংলা সিনেমার দর্শকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে তার অবস্থান। বর্তমান সময়ের নায়কদের পাশাপাশি দর্শকদের কাছে প্রিয় স্টাইল আইকন হিসেবে খ্যাত তিনি। সালমান শাহ মৌসুমীর সঙ্গে জুটি হয়ে 'অন্তরে অন্তরে', 'দেনমোহর' ও 'স্নেহ' সিনেমায়ও অভিনয় করেন। ১৯৯৪ সালে সালমান শাহ-শাবনূর প্রথম জুটি হন জহিরুল হক পরিচালিত 'তুমি আমার' সিনেমায়। এরপর একে একে 'সুজন সখী', 'বিক্ষোভ', 'স্বপ্নের ঠিকানা', 'মহামিলন', 'বিচার হবে', 'তোমাকে চাই', 'স্বপ্নের পৃথিবী', 'জীবন সংসার', 'চাওয়া থেকে পাওয়া', 'প্রেম পিয়াসী', 'স্বপ্নের নায়ক', 'আনন্দ অশ্রু', 'বুকের ভিতর আগুন' এ অভিনয় করেন। সালমান শাহ অভিনীত অন্য সিনেমাগুলো হলো জীবন রহমান পরিচালিত 'প্রেম যুদ্ধ', দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত 'কন্যাদান', হাফিজ উদ্দিন পরিচালিত 'আঞ্জুমান', মালেক আফসারী পরিচালিত 'এই ঘর এই সংসার'। এ ছাড়া, রয়েছে 'আশা ভালোবাসা', 'শুধু তুমি' ও 'স্বপ্নের ঠিকানা'। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 2 |
দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুর ফিতর। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর জামদানী পল্লী এখন কর্মমুখর হয়ে উঠেছে। জামদানী পল্লীর মালিক এবং শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন । এই পল্লীতে তৈরী হচ্ছে আধুনিক রুচিশীল জামদানী কাপড়। বর্ণিল সুতা দিয়ে তৈরী হচ্ছে সুন্দর জামদানী শাড়ি। শাড়ির মাঝে বাহারি রঙ্গের সুতা দিয়ে তৈরি কারুকাজ দেখলে সত্যিই কোন শিল্পীর আপন হাতের রং তুলির আঁচড় বলে মনে হয়। চমৎকার শিল্প খচিত এখানকার জামদানী শাড়ির স্থান হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের অভিজাত বিপণী বিতানগুলোতে। মনোমুগ্ধকর এ শাড়ির জনপ্রিয়তা উর্ধ্বমূখী থাকায় ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী কাপড় সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে কারখানার মালিকরা। আর তাই চাহিদা অনুযায়ী কাপড় তৈরী করতে রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন শ্রমিকরাও। এ জন্য মালিক শ্রমিকের কোলাহলে সরব হয়ে উঠেছে জামদানী পল্লী। সরেজমিনে জামদানী পল্লী পরিদর্শন করলে কাপড় তৈরীর মেশিনের ঝুম ঝুম শব্দ বলে দিচ্ছে বাজারে কাপড়ে চাহিদা এবং শ্রমিকদের ব্যস্ততার কথা।এখন জামদানীর চাহিদা বেশি থাকায় মহিলাদেরকেও ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে । জামদানী শিল্পীরা জানান, সুতার গুণগতমান এবং ডিজাইনের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন রকমের শাড়ি তৈরী হয়। এক সঙ্গে দুইজন শ্রমিকের একটি শাড়ি তৈরী করতে সময় লাগে ১৫ দিন হতে এক মাস পর্যন্ত। যেখানে প্রতিটি শাড়ির মূল্য ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। জানা যায়, ১৯৮৮ সালে দৌলতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম সর্বপ্রথম নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ হতে জামদানি শাড়ির কাজ শিখে সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে দৌলতপুরে একটি তাঁত দিয়ে জামদানী শাড়ি তৈরীর কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে চাহিদা এবং লাভ দেখে পরিবারের সদস্যদেরকেও এ কাজে সম্পৃক্ত করেন। যা দেখে গ্রামের লোকজন উৎসাহী হয়ে ধীরে ধীরে জামদানী শাড়ি তৈরীকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। এরপর থেকে এখনো পর্যন্ত বাঙ্গালীর প্রতিটি উৎসবে চাহিদার আলোকে মনোহরদীর জামদানী শাড়ি অবদান রেখে আসছে। জামদানী শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে বলে এ পেশায় তারা অনেক স্বাচ্ছন্দবোধ করে। জামদানী শিল্পী কামাল হোসেন বলেন, প্রত্যেক ঈদসহ সকল উৎসবে আমাদের এ এলাকার জামদানী শাড়ির চাহিদা অনেক। তাই সকল উৎসবের আগে আমাদেরকে চাহিদার আলোকে কাজ দেওয়া জন্য পরিশ্রম করতে হয় দিন রাত। আর এ সময় আমাদের উপার্জনও হয় অন্য সময়ের চেয়ে বেশি বলে মনের আনন্দে সবাই কাজে ব্যস্ত থাকি। জামদানী শ্রমিক ফারুক বলেন, নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা যায় বলে এ পেশায় অনেকর আগ্রহ আছে। এলাকার বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকার যদি স্বল্প সূদে ঋণ প্রদান করে তবে এ শিল্পকে অনেক দূর নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। | 6 |
'যৌক্তিক কারণ' ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ায় চলমান কঠোর বিধিনিষেধের তৃতীয় দিনে রাজধানীতে ৬২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও মাস্ক ব্যবহার না করায় ৩৪৬ জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, কঠোর বিধিনিষেধ অমান্য করে কোনো কারণ ছাড়াই বের হওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৮৮৫টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ডিএমপির আটটি বিভাগ এসব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় মোট ১৯ লাখ ২২ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে সজল বলেন,করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধের তৃতীয় দিনে মাঠে অবস্থান করেছি আমরা। যারাই অকারণে বাসা থেকে বের হয়েছেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রথমে আটক এবং পরে এর মধ্যে থেকে যাচাই বাছাই করে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তৃতীয় দিনে সারা দেশে ২৭৭ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। যার পরিমাণ ১ লাখ ৯৮ হাজার ১৭৫ টাকা। পুরো দেশে তাদের ১৭২টি টহল এবং ১৮১টি চেকপোস্ট ছিল।এর আগে দ্বিতীয় দিনে রাজধানীতে ৩২০ জন গ্রেপ্তার হয়েছিল। এছাড়া মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও মাস্ক ব্যবহার না করায় ২০৮ জনকে জরিমানা করা হয়। কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ডিএমপির আটটি বিভাগ এসব আইনি ব্যবস্থা নেয়। এ সময় মোট ২১৯টি মামলা দেওয়া হয়েছে। কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) অকারণে বের হয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন ৫৫০ জন। জরিমানা করা হয় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৫০৭ টাকা। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ১ থেকে ৭ জুলাই সারা দেশে চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরাকার। এ সময় সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহনসহ সব ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলও বন্ধ। | 6 |
হালকা-পাতলা শরীর। মাথায় কাঁচা-পাকা চুল। শ্বেতশুভ্র চোখের ভ্রু। গায়ের চামড়া ঝুলে গেছে। তবু মনের জোরই তার সবচেয়ে বড় সম্বল। এ অবস্থায় সাইকেল চালিয়ে সাতক্ষীরা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ৮৪ বছরের বৃদ্ধ জয়নাল আবেদিন। সোমবার ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাওনডাঙ্গায় নিজের গ্রাম থেকে সাইকেলে চেপে রওনা হয়েছেন তিনি। বৃদ্ধ জয়নাল সঙ্গে নিয়েছেন কয়েকটি রুটি, কিছু চিড়া, গুড় ও পানি। আছে স্যালাইন আর ব্যথার ট্যাবলেট। আরও নিয়েছেন ছাতা ও একটি টর্চলাইট। পকেটে সামান্য কিছু টাকাও নিয়েছেন। এসব নিয়ে নিজের বাইসাইকেলে জয়নাল আবেদিন উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা ছেড়েছেন। বৃদ্ধ জয়নাল ২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছরই যান রাজশাহীতে। ২৭৫ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত বিভাগীয় শহর রাজশাহী তার গন্তব্যস্থল। সেখানে আহলে হাদিসের ইজতেমা অথবা কর্মী সম্মেলনকে লক্ষ্য করেই তার এই সাইেকেলযাত্রা। কর্মসূচি শেষে আগামী শনিবার জয়নাল বাড়ির উদ্দেশ্যে আবারও সাইকেলযোগে রওনা হবেন রাজশাহী থেকে। কষ্ট হয় কি না জানতে চাইলে জয়নাল সমকালকে বলেন, 'নাহ, কোনো কষ্ট হয় না। শুধুমাত্র বৃষ্টি নামলে থেমে থাকি। তারপর আবারও সাইকেলে চড়ি। চলতি পথে রাত্রিকালীন যাত্রাবিরতি হয় কোনো মসজিদে অথবা মাদ্রাসায়। আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভালো, তাই কোনো কষ্ট নেই।' | 6 |
'দেখাশোনা করে বিয়ের হাত থেকে বাঁচান।' পাত্রী খুঁজতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন নয়। হালের ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটেও নয়। পছন্দের জীবনসঙ্গী পেতে সরাসরি রাস্তায় হোর্ডিং! ব্রিটেনের মোহম্মদ মালিক এমনই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। ২৯ বছরের ওই যুবক বার্মিংহামের একাধিক স্থানে বিলবোর্ড টাঙিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মালিক পেশায় ব্যবসায়ী। লন্ডনের পাশাপাশি বার্মিংহামেও তার বাড়ি রয়েছে। কিন্তু পছন্দের পাত্রী জুটছে না তার। আবার দেখাশোনা করে স্ত্রী খুঁজে নেবেন, তাতেও রাজি নন। এনিয়ে চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি তিনি। দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডেটিং অ্যাপের। এমনকি ঘটকরাও তার মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে পারেননি। শেষে মাথায় আসে বিলবোর্ড টাঙিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়ার ভাবনা। গত শনিবার ওই বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিনি। বিলবোর্ডে দেখা যাচ্ছে, মালিক আঙুল দিয়ে একটি টেক্সটের দিকে নজর টানছেন। তাতে লেখা, 'দেখাশোনা করে বিয়ের হাত থেকে বাঁচান আমাকে!' পাশাপাশি বিলবোর্ডে '.' নামে একটি ওয়েবসাইটেরও লিঙ্ক দিয়েছেন তিনি। ওয়েবসাইটে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। সেখানে ওই যুবক জানিয়েছেন, 'কেউ আগ্রহী হলে ওয়েবসাইটে দেওয়া ফর্মটি পূরণ করুন।' ইতিমধ্যে ভালো সাড়াও পেয়েছেন মালিক। প্রচুর মেসেজে ভরে উঠছে তার ইনবক্স। আগামী ১৪ জানুয়ারির মধ্যে আরো প্রস্তাব আসবে বলে তিনি মনে করছেন। কেননা ওই সময় পর্যন্ত বিলবোর্ডটি ডিসপ্লে করতে প্রশাসনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে বিয়ের জন্য শতাধিক প্রস্তাব পেলেও তাড়াহুড়া করে পাত্রী খুঁজে নিতে রাজি নন। হাতে কিছুটা সময় নিয়েই জীবনসঙ্গী বাছাই করতে চান। মালিকের কথায়, এখন পর্যন্ত কেউ আমার পছন্দসই জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে পারেননি। এটি খুবই কঠিন কাজ। নিজেকে একটু অন্যভাবে তুলে ধরতে এবং আমার পছন্দকে আরও বেশি করে প্রকাশ করতেই এই সিদ্ধান্ত। কেমন পাত্রী পছন্দ তাঁর? মালিক বলেন, 'জাত-পাত নিয়ে ছুঁৎমার্গ না থাকলেও, মুসলিম হলে ভালো হয়। তবে বয়স হতে হবে ২০ বছরের মধ্যে।' মালিক একা নন, এর আগেও ব্রিটেনের এক ব্যক্তি বিলবোর্ড টাঙিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। বিয়ের জন্য নয়, তিনি অবশ্য ডেটিং পার্টনার খুঁজছিলেন। তার জন্য 'ডেটিং মার্ক' নামে সাইটও খুলেছিলেন। সূত্র : বর্তমান | 3 |
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়ায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় ২৯ জনকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বিকেলে এ অভিযান চালানো হয়। র্যাব-১০ সূত্র জানায়, র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে ও র্যাব-১০ এর উপ-অধিনায়ক মেজর শাহরিয়ার জিয়াউর রহমানের সমন্বয়ে বিকেল ৩টার দিকে দনিয়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঘরে থাকার সরকারি আহবান উপেক্ষা করে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখার দায়ে ২৯ জনকে জরিমানা করেন আদালত। | 6 |
স্বামীর সঙ্গে কেনিয়ার একটি জঙ্গলে বন্যপ্রাণী দেখতে গিয়েছিলেন যুবরাণী। ঘুম থেকে উঠে শুনলেন রানি হয়েছেন তিনি। কারণ মারা গিয়েছেন তার বাবা ষষ্ঠ জর্জ। তারপর থেকেই ব্রিটেনের রানি হিসেবে ৭০ বছরের রাজত্বকাল পূর্ণ করলেন দ্বিতীয় এলিজাবেথ। গত রবিবার তার ৭০ বছরের রাজত্বকাল পূর্ণ হলো। পাশাপাশি তিনিই বিশ্বের প্রথম কোনও রাজপরিবারের সদস্য, যিনি এত দীর্ঘ সময়কাল ধরে কোথাও রাজত্ব করছেন। নবতিপর ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বয়স ৯৫। রানি হিসেবে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ব্রিটেনের সিংহাসনে বসেন তিনি। তখন থেকেই তিনি ব্রিটেনের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের একজন মূল কারিগর হিসেবে নিজের ছাপ রেখেছেন। তবে রবিবার নিভৃতে নিজের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন। তাই দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৭০ বছরের রাজত্বকালের পূর্তিতে তেমন কোনও ধুমধাম দেখেনি ব্রিটেন। তবে জুনের শুরুতে ৭০ বছরের রাজত্ব পূর্তিতে চার দিনের উৎসব উদযাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি সামরিক কুচকাওয়াজ এবং একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান-এর আয়োজনও থাকবে। তার এই কীর্তিকে চিরস্মরণীয় করে তোলার জন্য ইতিমধ্যেই স্মারক মুদ্রাও তৈরি করা হয়েছে। এই বছর ক্রিসমাস এবং নববর্ষে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে তার 'স্যান্ড্রিংহাম' প্রাসাদে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্রিটেনে ওমিক্রনের দাপটে এই সফর স্থগিত করা হয়।-আনন্দবাজার বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 3 |
ঢাকার ধামরাইয়ে অভিযান চালিয়ে ৭টি ক্লিনিককে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আজ সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধামরাই বাজার কালামপুর বাজার জয়পুরা ও কাওয়ালিপাড়া বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুর রিফফাত আরা।ডাঃ নুর রিফফাত আরা বলেন, 'স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা পাওয়ার পরই ধামরাইয়ে অনিবন্ধিত ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা শুরু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সন্ধানী এক্স-রে অ্যান্ড প্যাথলজি, জনকল্যাণ জেনারেল হাসপাতাল, একতা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিমান্ত ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতাল, আলাদীনস হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিডিএন ধামরাই ডায়াবেটিস সেন্টার, ইয়াসিন ডেন্টাল কেয়ারকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'এ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরও বলেন, 'নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধামরাইয়ের সব অনিবন্ধিত ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই অভিযান চলমান থাকবে।'এ অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন ধামরাই থানার পুলিশ সদস্যসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সব অনিবন্ধিত ক্লিনিক বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। | 6 |
চতুর্থ দিন সকালে নিশ্চিন্তে আধাঘণ্টা পার করেছিল বাংলাদেশ। এরপরই বিপদ। পরের আধাঘণ্টায় ফিরেছেন দু'জন। ওপেনার লিটন দাস ও মুমিনুল হক। এরপর নিশ্চিন্তে পার করেছে আরো আধাঘণ্টা। এই সময় ক্রিজে ছিলেন ওপেনার ইমরুল কায়েস ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু পরের আধাঘণ্টায় এই দু'জনও সাজঘরে ফিরেছেন। এখন ক্রিজে আছেন তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত (১১) ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (১)। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১০৪ রান। টি-২০ স্টাইলে টেস্ট খেলে বিপদে বাংলাদেশটেস্ট মানে ধীর-স্থিরতা। ক্রিজে টিকে থেকে ভালো বলে রান তুলে নেয়া। অথচ চলমান সিলেট টেস্টে বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে। প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে অলআউট। আর আজ দ্বিতীয় ইনিংসেও তারা দ্রুত রান তোলায় ব্যস্ত। টি-২০ স্টাইলে রান সংগ্রহ করছেন তারা। যার বেশিরভাগই বাউন্ডারি হাকিয়ে। যার ফল হাতে-নাতেই পাচ্ছে। বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২ উইকেটে ৬৭ রান। সাজঘরে ফিরে যাওয়া দুই ব্যাটসম্যান হলেন লিটন দাস ও মুমিনুল হক। লিটন তিন বাউন্ডারিতে করেছেন ২৩ রান আর মুমিনুল দুই বাউন্ডারিতে ৯ রান। গতকাল জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস শেষে ৩২০ রানের লিড নেয়। বাংলাদেশকে জয়ের মন্ত্র তখন জানিয়েছিলেন ক্রিকইনফোর ধারাভাষ্যকার। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে এই টেস্ট যখন হচ্ছে একই সময় সিলেট থেকে কয়েক শ' কিলোমিটার দূরে চলছিল জাতীয় ক্রিকেট লিগের খেলা। খুলনা খেলছিল রংপুরের বিরুদ্ধে। খুলনার টপ অর্ডার দ্রুতই ভেঙে পড়ে। তখন তুষার ইমরান ক্রিজে আসেন এবং দলকে ওই অবস্থা থেকে টেনে তুলতে দুই ঘণ্টা ক্রিজে মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন। ৮৭ বল খেলে করেন ১৯ রান। এই ঘটনার কথা উল্লেখ্য করে ধারাভাষ্যকার বলেন, 'তুষারের ধৈর্য্য, অধ্যবস্যায়, মনোবল ও স্থিরতা থেকে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের শিক্ষা নেয়া উচিত।' ওপেনিং জুটি ভাঙলেন রাজা দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। অর্ধশত রানের জুটি গড়েছিলেন ওপেনার লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। কিন্তু দলীয় ৫৬ রানের মাথায় সেই জুটির ভাঙন ধরালেন সিকান্দার রাজা। ২৩ রানে সাজঘরে ফিরেন লিটন। এর আগে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৬ রান। এই সংগ্রহ নিয়ে সকালে ব্যাট করতে নামেন অপরাজিত থাকা লিটন (১৪) ও ইমরুল (১২)। | 12 |
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালি গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে অগ্রীম যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। খবর বিবিসির। এক সাক্ষাৎকারে টিপু মুনশি বলেন, 'তারা মানুষের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে এবং তাদের সাপ্লায়ারদের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে, তার মোট অঙ্ক প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে তাদের কাছে সেই টাকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্ত শেষে গ্রাহকদের ও সাপ্লায়ারদের কাছ থেকে নেয়া টাকার খুব সামান্য অংশের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সেজন্যই প্রশ্ন উঠেছে যে এই বিশাল দায় কীভাবে তারা শোধ করবে?' ইভ্যালি এর মধ্যে যেই পরিমাণ টাকা গ্রাহক ও ব্যবসায়িক পার্টনারদের কাছ থেকে নিয়েছে, তা ফেরৎ পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়েও বাণিজ্য মন্ত্রী সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "তাদের ফান্ড কোথায় রেখেছে, অন্য কোনো উৎস আছে কিনা সেটা তদন্তের পর জানা যাবে। তবে এখন সেই পরিমাণ টাকার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।" এ বছরের জানুয়ারি মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে যে পণ্য বেচাকেনার ক্ষেত্রে ইভ্যালি আইন ভঙ্গ করেছে। এর পর জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তদন্ত দল ইভ্যালির কার্যক্রমের কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরদিনই বেশ কয়েকটি ব্যাংক ইভ্যালি সহ আরো কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার ভিত্তিতে সেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন বাতিল করে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে দুদক সহ বিভিন্ন সংস্থা যখন নানা অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে, তখন আগাম টাকা দিয়েছেন, এমন গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহ পাওয়ার ব্যাপারে নতুন করে উদ্বেগ বা সংকট তৈরি হয়েছে। গ্রাহকদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, ইভ্যালির সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন সাড়া মিলছে না এবং তারা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বন্ধ পাচ্ছেন। রুবাইয়াত হাসান নামের একজন গ্রাহক জানান, মে মাসের শেষদিকে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য ইভ্যালিতে প্রায় তিন লাখ টাকা দেন। প্রতিশ্রুতি মত ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি না দেয়ায় ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার নম্বরে যোগাযোগ করেও সাড়া পাননি। তবে ইভ্যালির মুখপাত্র শবনম ফারিয়া জানান, তাদের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস এখনও ২৪ ঘণ্টা চালু আছে। মিজ ফারিয়া বলেন, "লকডাউন থাকার কারণে আমাদের অফিসে কেউ যাচ্ছে না, আমরা হোম অফিস করছি। কিন্তু আমাদের ডেলিভারি চালু আছে এবং কাস্টমার কেয়ার ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।" বিবিসি বাংলার প্রতিবেদক এসময় কাস্টসার কেয়ারে ফোন করে কোনো উত্তর না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চান মিজ ফারিয়ার কাছে। এই প্রশ্নের উত্তরে মিজ ফারিয়া বলেন, "আমরা খুব কঠিন সময় পার করছি। অনেকে অনেক কিছু নিয়ে ভীত, তারা ফোন করে বিভিন্ন বিষয়ে খবর জানতে চাইছে। তাই ফোন অনেক সময় ব্যস্ত দেখাচ্ছে। কিন্তু আসলে সবসময় ফোন ব্যস্ত থাকছে, বিষয়টা তেমন নয়।" | 0 |
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আওয়ামী লীগ সব বিষয়ে সফল হলেও একটি বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশে নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ বেড়ে গেছে। এসব অপরাধে জড়িতরা বিএনপি-জামায়াতের চেয়েও ভয়ঙ্কর। তাই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে এদের বিচার করতে হবে। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, '৭১-এর ঘাতকদের যদি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করা যেতে পারে, তাহলে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণকারীদের কেন ট্রাইব্যুনাল করে বিচার করা যাবে না। এরা বিএনপির-জামায়াতের চেয়েও ভয়ঙ্কর। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলবো, এরা ক্রিমিনাল। এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে নাসিম বলেন, এসব সামাজিক অপরাধগুলো বন্ধ করার জন্য দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা করুন। বাইরের দেশগুলোতে দেখুন, তারা প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার করে। তাই তাদের অপরাধগুলো কমে আসে। আওয়ামী লীগ কোনোদিনও জনগণের দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি এখন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তার জোট ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। ভয় ওখানে। এখন তারা ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটবে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মোজাফফর হোসেন পল্টু, আমিনুল ইসলাম আমিন, কন্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, বলরাম পোদ্দার, কামাল চৌধুরী, অরুণ সরকার রানা প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অভিনেত্রী সারা বেগম কবরী। | 9 |
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এরই মধ্যে বুধবার ৪৯তম দিনে গড়িয়েছে রুশ বাহিনীর এই সামরিক অভিযান। রাশিয়ার দাবি, রুশ ভাষাভাষী অধ্যুষিত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডোনবাস (ডোনেটস্ক ও লুহানস্ক) অঞ্চলকে বেসামরিকীকরণ, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ না দিতে এবং দেশটিকে অস্ত্র নিরপেক্ষ মর্যাদা ধারণ করানোর লক্ষ্যেই বিশেষ এই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এরপর নিজেদের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ফিনল্যান্ড সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করতে যাচ্ছে রাশিয়া, এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করেছে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল। পত্রিকাটি জানিয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে ফিনল্যান্ড সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার ডেইলি মেইলের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে ফিনল্যান্ডকে হুঁশিয়ার করে দেওয়ার পর ওই দেশের সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর করার কাজ শুরু করেছে। ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো জোটে যোগদানের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ন্যাটো জোটের বিস্তারের মাধ্যমে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। ন্যাটোকে সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার একটি হাতিয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করে পেসকভ বলেন, এ জোটের সদস্য বৃদ্ধির মাধ্যমে ইউরোপ মহাদেশে স্থিতিশীলতা আনা যাবে না। গত সপ্তাহে ব্রাসেলসে জোটের শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠকে চলতি বছরেই সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করার একদিন পরই এই সতর্কবার্তা দেয় রাশিয়া। সূত্র: ডেইলি মেইল বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
বাংলাদেশে সকল চাকরিতে যোগদানের আগে ডোপ টেষ্ট এবং বিয়ের আগে বর ও কনের রক্তে থ্যালাসেমিয়া ও মাদকের অস্তিত্ব আছে কি না তা পরীক্ষা করে মেডিকেল সার্টিফিকেট দাখিল কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।সোমবার এ বিষয়ে করা রিটের প্রাথমিক বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো: খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব,আইন সচিব,স্বাস্থ্য সচিব,পুলিশ মহাপরিদর্শক,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালরক আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ৫ জুলাই বিয়ের আগে বর ও কনের রক্তে থ্যালাসেমিয়া ও মাদকের অস্তিত্ব আছে কি না তা পরীক্ষা করে মেডিকেল সার্টিফিকেট দাখিল বাধ্যতামূলক চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন,অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা শাহিন আরা লাইলীর পক্ষে অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। রিটে মন্ত্রী পরিষদ সচিব,আইন সচিব,স্বাস্থ্য সচিব,পুলিশ মহাপরিদর্শক,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিবাদী করা হয়। রিটে আবেদনে বলা হয়,থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই রোগে আক্রান্ত কোন রোগীর বিয়ে হলে অনাগত সন্তান বিকালঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। এছাড়া দেশে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মাদবাসক্ত। এর মধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগ তরুণ। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ মাদকাসক্তি। বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের সালিশী পরিষদের তথ্য অনুযায়ী নারীদের অভিযোগের কারণ হচ্ছে স্বামীর শারিরিক অসক্ষমতা।আর মাদক যেমন ইয়াবা, হিরোইন, অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন মাদক সেবনে পুরুষত্বহীন হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যমান নিকাহ নামার ৩ ও ৪ নম্বর দফায় বর-কনের জন্ম সনদের পাশাপাশি ১৭ নম্বর দফায় ডাক্তারি সার্টিফিকেট(ডোপ টেস্ট সার্টিফিকেট)বাধ্যতামূলক হলে বর-কনের ভবিষ্যত সংসার ও অনাগত সন্তানের জীবন রক্ষা পাবে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। স্ব স্ব এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রি অফিসে সার্টিফিকেট দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়। | 6 |
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে ইউক্রেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো মারিনা ওভিসসাইয়েনিকোভাকে '১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ' করেছে পুলিশ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন 'চ্যানেল ওয়ান'-এর লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে হঠাৎই পর্দায় হাজির হন রুশ নারী মারিনা ওভিসসাইয়েনিকোভা। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, 'যুদ্ধ থামান। তাদের অপপ্রচার বিশ্বাস করবেন না। তারা আমাদের মিথ্যা বলছে।' চ্যানেল ওয়ানের এই কর্মীর সোমবারের এমন প্রতিবাদ রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। খোদ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এই প্রতিবাদের প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছেন। সেই ঘটনার পর মারিনাকে আটক করা হয়। আটকাবস্থা থেকে মুক্তির পর মারিনা ওভিসসাইয়েনিকোভা বলেন, 'দিনগুলো আমার জীবনের অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল। কেননা, আমাকে টানা দুই দিন না ঘুমিয়ে কাটাতে হয়েছে। ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সেসময় তারা আমার পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে দেয়নি। এমনকি কোনো আইনি সহায়তাও পাইনি।' ক্রেমলিনের মুখপাত্র দেমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ওভিসসাইয়েনিকোভা যা করেছেন তা 'গুন্ডামি'। আপাতত তাকে ২৪৬ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তিনি কারাভোগের শাস্তি পেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন পেসকভ। ক্রেমলিন সম্প্রতি একটি কঠোর আইন চালু করেছে, যেখানে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দেশটির বিবেচনায় কেউ ভুল তথ্য বা 'ভুয়া খবর' ছড়ালে তাকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়ার সুযোগ রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণকে 'যুদ্ধ' বললে সেটাও এই আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা মারিনা ওভিসসাইয়েনিকোভাকে এই আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে। সূত্র : ডয়চে ভেলে | 3 |
চট্টগ্রামে হযরত শাহ সুফি আমানত খান (রহ.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক প্রার্থী। তাদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও। মঙ্গলবার সকালে মাজার জিয়ারত করতে যান তারা। আর মাজারেই একে অপরের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় তাদের। পরে তারা কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তাদের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম -১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর) আসনে নির্বাচন করছেন নোমান এবং চট্টগ্রাম -৯ (কোতোয়ালী-বাকলয়িা) আসনে নির্বাচন করছেন নওফেল। নোমান ও নওফেলের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে। নোমান নওফেলের বাবা প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর সম্পর্কে মামা হন। এ হিসেবে নওফেলের দাদা হন নোমান। | 6 |
এবারের বইমেলা নিয়ে দুরন্ত টিভির জন্য নির্মিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান 'মেলা বই হৈ চৈ'। মেহেদী হাসান স্বাধীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন দুই শিশু মুমতাহিনা রোহা ও জামিউল ইসলাম। তাদের সঙ্গে থাকবেন একজন শিশু সাহিত্যিক। অনুষ্ঠানটির তিন পর্বের আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন আলী ইমাম, লুৎফর রহমান রিটন ও শিল্পী আবুল বারাক আলভীসহ আরো অনেকে। পর্বগুলোতে দেখা যাবে, উপস্থাপক একজন সাহিত্যিককে সঙ্গে করে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে শিশু সাহিত্যের বিষয়গুলো পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন দর্শকদের। দেশি-বিদেশি সাহিত্য নিয়েও কথা বলবেন তারা। প্রতি শুক্র ও শনিবারবাংলা একাডেমিশিশুপ্রহরের আয়োজন করে। এই দুই দিনে শিশুরা যেসব মজার মজার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সেগুলো ঘুরে ঘুরে দেখাবেন উপস্থাপক শিশু এবং অতিথিরা। তারা প্রকাশকদের সঙ্গেও কথা বলবেন। সোম, মঙ্গল ও বুধবার বিকেল ৫টায় দুরন্ত টিভিতে প্রচারিত হবে অনুষ্ঠানটি। বিজ্ঞপ্তি। | 2 |
বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমলেও বেড়েছে শনাক্তের হার। তবে এদিন বিভাগে কারও মৃত্যু হয়নি। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় বরাবরের মতো নমুনা সংগ্রহ হয়েছে কম। গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২০। এ নিয়ে বিভাগে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২ হাজার ২৪২। আজ দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ৪০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ১৭ দশমিক ৭৩। এ ছাড়া করোনা উপসর্গে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। তিনি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা যান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে সর্বোচ্চ ১৮, ভোলায় ৪, বরগুনায় ৪, পটুয়াখালীতে ৫, পিরোজপুরে ২ ও ঝালকাঠিতে ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের ৫ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে করোনা ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল শূন্য। তবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১২ জন মারা যান। এ ছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে উপসর্গ নিয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মহামারির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপসর্গে ১ হাজার ৩৩ জনের মৃত্যু হলো। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের এখনো করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৮৮ জন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও উপপরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই সংক্রমণের হার ও পরিমাণ কমেছে। তবে শনাক্ত রোগী কমলেও মৃত্যু বাড়ছে। এখন পর্যন্ত বিভাগে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। তাঁরা সবাই বার্ধক্য ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগে ভুগছিলেন। এ ছাড়া তাঁদের বেশির ভাগই করোনার টিকা নেননি। এ জন্য পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিদের সুরক্ষায় আরও যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি কম বয়সীদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। | 6 |
২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্ধোধনের দিন পায়ে হেঁটে জনসাধারণকে সেতু পারাপারের সুযোগ দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেুতমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার (৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলণ কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, ২৫ তারিখে কোনো গাড়ি পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যাবে না। ২৬ তারিখ সকাল থেকে টোল দিয়ে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল করতে পারবে। আগের দিন কিছু সময়ের জন্য হয়তো খোলাও হতে পারে। সেটা এখনো নিশ্চিত না। পায়ে হেঁটে হয়তো যাতায়াত করতে পারবে, এটার জন্য সময়সীমা দেয়া হবে। সে চিন্তাভাবনা চলছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সঞ্চালণায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়-য়া, চীফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একে এম এনামুল হক শামীম, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকসহ দক্ষিণ বঙ্গের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। | 6 |
বিমান বাংলাদেশকে চলতি মূলধন হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সোনালী ব্যাংক। সম্প্রতি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সোনালী ব্যাংক। জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় এক মাসের বেশি সময় ধরে ডানা গুটিয়ে বসে আছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বহরে থাকা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থার ১৮টি উড়োজাহাজ অলস বসে আছে। বসে থাকলেও উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কমর্চারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ রয়েই গেছে। তাই বিমানকে বাঁচাতে ১৫০০ কোটি টাকার ঋণের আবেদন করে বিমান কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটি জানায়, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিয়মিতভাবে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুগান্তকারী বিভিন্ন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত পর্ষদ সভায় ইতিমধ্যে গৃহীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনার আওতায় বিমান বাংলাদেশকে চলতি মূলধন হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্প, কৃষি, ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে আর্থিক প্রণোদনার জন্য আবেদন প্রস্তাব যাচাই করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকির মধ্যেও সোনালী ব্যাংকের দেশব্যাপী ১ হাজার ২২২টি শাখার মাধ্যমে জরুরি ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হয়েছে। | 0 |
ভুয়া জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করার অভিযোগে মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম (এসিএমএম) আসাদুজ্জামান নুর এ দিন ধার্য করেন। বৃহস্পতিবার আদালতের পেশকার শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অভিযোগ গঠন হয়নি। আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেন বিচারক। মামলার অন্য আসামি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মৃত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় বৃদ্ধির পেছনে লাগামহীন চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, 'পাঁচ টাকা কেজিতে যে সবজি বিক্রি করছে কৃষক, তা মধ্যস্বত্বভোগী আর চাঁদাবাজদের কবলে পড়ে পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকা দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে হচ্ছে, চাঁদা তুলতে বাজারে অফিস খুলে বসেছে চাঁদাবাজরা।'আজ সোমবার বনানীতে পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় যুব দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় যুব সংহতি এই আলোচনার আয়োজন করে।জি এম কাদের বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে দেশের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দেখার যেন কেউ নেই। বিদেশে কোন পণ্যের দাম ১ টাকা বেড়ে গেলে দেশে একশ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যারা তদারকি করবে, তারাও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে এই অবস্থার কোনো সুরাহা হচ্ছে না।জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক ও জাপার ভাইস চেয়ারম্যান এইচ এম শাহরিয়ার আসিফের সভাপতিত্বে আলোচনায় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা জহিরুল আলম রুবেল, যুগ্ম মহাসচিব মোস্তফা বেঙ্গল সেলিমসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। | 9 |
২০২২ সালে দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের টেলিটকের মাধ্যমে ১১০ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে।অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে হবে। টেলিটকের ://.../ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে হবে। আবেদন শেষে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর সরকারি স্কুলে এবং ১৯ ডিসেম্বর বেসরকারি স্কুলে ভর্তির লটারি হবে।আজ মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অবস্থিত সব সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনপত্র পূরণ ও ফি প্রদান সংক্রান্ত নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে।সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির শর্তঢাকা মহানগরে ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩টি শাখা থাকবে। এবার জাতীয়করণ হওয়া আরও দুটি বিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে। এগুলোতে মাউশির অধীন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় ভর্তির কাজটি হয়। এবারও বিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গুচ্ছ বা গ্রুপ (এ, বি এবং সি) করে ভর্তির কাজটি করা হবে। আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী একটি গুচ্ছের পাঁচটি বিদ্যালয়ে ভর্তির পছন্দক্রম দিতে পারবে। এখান থেকে লটারির মাধ্যমে একটি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হবে।আবেদনের সময় একজন প্রার্থী একই গ্রুপে পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বাধিক ৫টি বিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবে।এ ছাড়া সারা দেশে আবেদনকারীর আবেদনের সময় প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে থানা ভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ ৫টি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় কিংবা শিফট দ্বিতীয়বার পছন্দ করা যাবে না।বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির শর্তঢাকা মহানগরীর বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন কমপক্ষে একটি এবং সর্বোচ্চ তিনটি প্রশাসনিক থানা ক্যাচমেন্ট এরিয়া হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে। এ ছাড়া আবেদনকারীরা আবেদনের সময় প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে মহানগর পর্যায়ের জন্য বিভাগীয় সদরের মেট্রোপলিটন এলাকা এবং জেলা সদরের সদর উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ ৫টি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।ডাবল শিফটের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া একই পছন্দক্রমের বিদ্যালয় কিংবা শিফট দ্বিতীয়বার পছন্দ করা যাবে না।দেশে করোনা মহামারির কারণে গত বছর প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর আগে শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। আর দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে পরীক্ষা নেওয়া হতো। | 1 |
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সমাজসেবী, ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি বুধবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র-কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা শেষে বনানী গোরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পুত্র সৈয়দ তানভীর হোসেন। তিনি কিছুদিন থেকে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। সৈয়দ মকবুল হোসেন ১৯৪৬ সালে সিলেটের গোলাপগঞ্জের পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নের সুন্দিশাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বিএ এবং এমএ পাস করেন। পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। মকবুল হোসেন সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি উপসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করে ব্যবসা শুরু করেন। তার জন্মস্থান সুন্দিসাইল গ্রামে প্রতিষ্ঠাতা করেন ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজ। এছাড়া বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। সৈয়দ মকবুল হোসেন ১৯৮৬ সালের তৃতীয় ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে তিনি জড়িত থাকলেও ১৯৯১ সালের পর যোগ দেন বিএনপিতে। ৯৯১ সালের পঞ্চম ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি রাজনীতি থেকে তিনি অবসরে ছিলেন। এদিকে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও সিলেট-৬ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরওয়ার হোসেন, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল। এ ছাড়াও গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজিরা বেগম শীলা, ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান, সম্পাদক রফিক আহমদ, পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক রুহেল আহমদ, সাবেকউপজেলাচেয়ারম্যান হাফিজ নজমুল ইসলাম, আমুড়া ইউপির চেয়ারম্যান হাসিন আহমদ মিন্টু, বাঘাইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, লক্ষিপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন জেবুল, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি এনামুল হক এনাম ও সম্পাদক ইউনুস আহমদ চৌধুরী প্রমুখ। | 6 |
যশোরের জেলা প্রশাসকের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর চিঠি লিখেছেন ঝিকরগাছার প্রতিবন্ধী অদম্য মেধাবী তামান্না নূরা। গতকাল সোমবার তামান্নার লেখা চিঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে তামান্না নূরা বলেন, 'আমি আমার দুটি স্বপ্নের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। আমার একটি স্বপ্ন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা, অন্যটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা। প্রধানমন্ত্রী আমার দুই স্বপ্ন পূরণে নিশ্চয়ই সহযোগিতা করবেন।'তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, 'মেয়ের লেখা চিঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সোমবার পৌঁছে দিয়েছি।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বরাবর তামান্নার লেখা চিঠি পেয়েছি। সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।'তামান্না নূরা চলতি বছর উপজেলার বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। দুটি হাত ও একটি পাহীন জন্ম নেওয়া তামান্না পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ অর্জন করে।গত ৩ ডিসেম্বর আজকের পত্রিকায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তামান্নাকে নিয়ে 'এক পায়ে তামান্নার জোর কদমে চলা' শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত ডিসি) শওকত হোসাইনকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পাঠান।গত ২০ জানুয়ারি ঝিকরগাছা বাঁকড়া আলীপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী তামান্না নূরার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত ডিসি) শওকত হোসাইন। এ সময় তাঁকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। | 6 |
বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির অভাবে দুই আদিবাসী কৃষক অভিনাথ ও রবি মার্ডির মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়ে বেশি কিন্তু তারা এখন ধুঁকছে।' তিনি আরও জানান, পানি এবং জলবায়ু আগামী দিনে বিশ্বের প্রধান প্রশ্নে আবির্ভূত হবে।আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে কৃষকের পানির অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে জাতীয় কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রাশেদ খান মেনন।রাশেদ খান মেনন বলেন, 'দুই কৃষকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কৃষকদের পানি সংকটের বিষয়টি সবার সামনে এসেছে। এসব বিষয়ে এখন কথা বলার লোকও কমে গেছে। আমরা আমাদের যাবতীয় উন্নয়নের হিসাব করছি জিডিপি, মাথাপিছু আয় দিয়ে। শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়ে বেশি কিন্তু তারা এখন ধুঁকছে। তাদের সকল ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।'খাদ্য সংকট ও বৈদেশিক নির্ভরতা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের অন্যতম কারণ ছিল জানিয়ে মেনন বলেন, 'এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও খাদ্য উৎপাদনের জন্য যে পানি প্রয়োজন এই বিষয়ে আমরা উদাসীন। বরেন্দ্র অঞ্চলে আদিবাসীরাই একসময় বিশাল বিশাল পুকুর খনন করেছিল। এখন সেখানে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর এক ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে, সমস্ত পুকুর শুকিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় নদী ব্যবস্থাপনা ও ভূ-উপরস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।'বিভিন্ন স্থানে নদী দখল করে রাস্তাঘাট, দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে মেনন বলেন, 'তিস্তার বাঁধ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এসব বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর করছি কিন্তু তিস্তা কেন খনন হচ্ছে না?'ধর্মাশ্রয়ীদের বিপক্ষে এবং কৃষকদের পক্ষে দাঁড়াতে তরুণ, যুবকদের আহ্বান জানিয়ে মেনন বলেন, 'যেখানে বিজ্ঞান পড়াতে গেলে জেলে যেতে হয়, টিপ পড়ার কারণে কথা শুনতে হয় এমন বাংলাদেশ কখনো দেখতে চাইনি। এসব কথা বললে এখন নাস্তিক বলা হয়। মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু, কাজী নজরুল এরা সবাই নাস্তিক ছিল।'বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, 'বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি না পেয়ে আত্মহননকারী দুই কৃষক অভিনাথ ও রবি মার্ডির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ১২ দিন অনুরোধ করেও সেচের পানি পায়নি তারা। কৃষকের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এটা একটা কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।' বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হরেন্দ্রনাথ শীল ফোরামের সভাপতি সঞ্জীব দ্রং এর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। তিনি বলেন, 'স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দুজন আদিবাসী কৃষককে পানি চেয়ে না পেয়ে আত্মহত্যা করতে হয়েছে। করোনায় ৯২ ভাগ আদিবাসীদের আয় কমে গেছে। চারদিকে এত উন্নয়ন তবুও বৈষম্য কেন? এই দুই পরিবারের এখন কি হবে?'আলোচনা সভার প্রধান আলোচক এএলআরডি'র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হক বলেন, 'একটা গোষ্ঠী এখন পানি নিয়ন্ত্রণ করছে পানির অধিকার সবার আগে কৃষকের। করোনায় এই কৃষকেরা আমাদের বাঁচিয়েছে। ১৭ কোটি মানুষের যারা খাদ্য যোগান দেয় তাদের সম্মান জানাতে হবে, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভারতের কৃষকদের মতো রাস্তায় নামতে হবে।'জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে আলোচনায় সভায় উভয় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাসহ ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
'আমরা মৃত্যুর মুখে পড়েছি। আমাদের এখনো উদ্ধার করা হয়নি। দয়া করে আপনারা আমাদের বাঁচান। আমরা সবাই এখানে আছি। আমাদের বাঁচান।' রকেট হামলায় এক সহকর্মীর মৃত্যুর পর ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকা পড়া 'বাংলার সমৃদ্ধি' জাহাজের সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আওয়াল তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এই আকুতি জানিয়েছেন।রকেট হামলায় ওই জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মৃত্যুর পর এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই আকুতি জানান।ভিডিও বার্তায় জাহাজের সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৪৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রবিউল আওয়াল বলেন, 'আমাদের জাহাজে কিছুক্ষণ আগে রকেট হামলা হয়েছে, একজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। আমাদের জাহাজে পাওয়ার সাপ্লাই নেই। ইমার্জেন্সি জেনারেটর দিয়ে পাওয়ার সাপ্লাই চলছে। আমরা মৃত্যুর মুখে পড়েছি। আমাদের এখনো উদ্ধার করা হয়নি। দয়া করে আপনারা আমাদের বাঁচান। আমরা সবাই এখানে আছি।'এর আগে বুধবার রাতে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে থাকা ওই জাহাজে রকেট হামলায় জাহাজটির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান মারা যান। বর্তমানে জাহাজটিতে ২৮ জন নাবিক রয়েছেন। রকেট হামলার পর তাঁরা আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।বর্তমানে জাহাজে থাকা নাবিকরা কি অবস্থায় আছেন সেটি নিশ্চিত করে জানা সম্ভব হয়নি। জাহাজে থাকা কয়েকজন নাবিককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে নক করে পাওয়া যায়নি। তবে জাহাজটিতে রকেট হামলার পর জাহাজের সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আউওয়ালের মতো আরও কয়েকজন নাবিক ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। এসব ভিডিওতে জাহাজে থাকা বাকি ২৮ জন নাবিককে অক্ষত অবস্থায় দেখা গেছে।জাহাজের ডেক ক্যাডেট ফারিয়াতুল জান্নাত তুলি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, 'আমি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজ থেকে বলছি। আমাদের জাহাজে কিছুক্ষণ আগে বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। আমাদের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার স্যার মারা গেছেন। আমরা খুব বিপদে আছি আমাদের উদ্ধার করুন, প্লিজ।'অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায় একজন নাবিক বলছেন, 'আপনার জানেন আমাদের এখানে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় মিসাইল হামলা হয়। এতে আমাদের এক সহকর্মী নিহত হয়েছেন। এখন রাত ১১টা বাজে আমরা এখনো জাহাজে অবস্থান করছি। আমাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা? এটি আমরা জানি না। আমরা সবাই আতঙ্কিত অবস্থায় আছি। বলা যায় না, এখানে আরেও বোমা বিস্ফোরণ হতে পারে। পুনরায় হামলা হতে পারে।' ওই নাবিক আরও বলেন, 'গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে আমাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সত্য সঠিক নয়। এই দেখেন আমরা সবাই এখনো জাহাজে আছি। আমরা এখনো নিশ্চিত নই, আমরা কখন এখান থেকে নিরাপদ জায়গায় যেতো পারবো। কখন আমাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে। দয়াকরে আপনারা আমাদের জন্য যা করার দ্রুত করুন।' তবে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে থাকা ২৮ নাবিকে অক্ষত আছেন জানিয়ে বাংলাদেশে শিপিং করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) পিযূষ দত্ত। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সরিয়ে আনার জন্য বন্দরের তীর থেকে কাউকে সেফটি ও সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য আমরা সরকার, পোলান্ড এবং রাশিয়ার দূতাবাস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কথা বলছি। তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।' | 6 |
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. নিলুফা আক্তারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেছে হলটির শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী। গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে হলের ভেতরে প্রধান ফটকে বসে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।এ সময় ছাত্রীরা 'প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই, স্বৈরাচারী আচরণ চলবে না, প্রভোস্টের টালবাহানা চলবে না চলবে না' প্রভৃতি স্লোগান দেন। তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এসে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে সায় দেননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, 'রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাজিয়া সুলতানা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে যান। তখন তাঁর সহপাঠীরা প্রভোস্টকে ফোন দেন। কিন্তু তিনি ফোন ধরে না। কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর তিনি ফোন ধরেন। তখন তিনি ফোনেই ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সকে ফোন দেওয়া হলে তাঁরাও ফোন ধরে না। পরে ফোন ধরলে প্রায় ৪৩ মিনিট পর অ্যাম্বুলেন্স আসে। অ্যাম্বুলেন্স করে অসুস্থ ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।'পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো-প্রভোস্টের নিয়মমাফিক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ, হলে মাঝে মাঝে চুরি, সিট বাণিজ্য, হলে বহিরাগতর প্রবেশ, ওয়াশরুম ব্যবহারের অনুপযোগী, ইন্টারনেট সমস্যা ও ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিম্নমানের।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন।আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা হলে এসে অনেক বিষয় সম্পর্কে জানলাম। যেসব বিষয় আমরা কখনো শুনিনি। পর্যায়ক্রমে সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রতিটি হলেই এসব ক্ষেত্রে নজরদারি করা হবে।' | 6 |
বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে অজ্ঞাত পরিচয়ে তার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতরাতে এ অভিযোগ করেন। জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বাসা থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়। একটি মাইক্রোবাসে কয়েকজন সাদা পোশাক পরিহিত লোক টুকুকে বাসার দরজা ভেঙ্গে ভেতর থেকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় বাসায় টুকুর মা ছিলেন। তার সামনে থেকে ছেলেক তুলে নেয়া হয়। এঘটনায় বিএনপির পক্ষে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে জনসম্মুখে হাজির করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অবিলম্বে টুকুকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। | 9 |
বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বায়ুদূষণ কম হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছর ঢাকায় তা মারাত্মক পর্যায়ে যায়। বায়ুদূষণে প্রথম অবস্থানে ছিল আবদুল্লাহপুর, দ্বিতীয় গুলশান, তৃতীয় মিরপুর, চতুর্থ শাহবাগ। শুষ্ক মৌসুমে এই দূষণ আরও ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি জরুরি অবস্থায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের আয়োজনে রাজধানীর পানি, বায়ু ও শব্দদূষণ পরিবীক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথম ডাটা ভ্যালিডেশন কর্মশালায় এই তথ্য উঠে আসে। গবেষণায় চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম তথা এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ের তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শব্দদূষণও বেশি হয় রাজধানীর উত্তরার আবদুল্লাহপুরে, এরপর মিরপুর ১০ নম্বর, তৃতীয় অবস্থানে আছে মতিঝিল, চতুর্থ শাহবাগ এবং পঞ্চম গুলশান। বুড়িগঙ্গা নদীর শ্যামপুরের ট্যানারি এলাকায় বায়ুর সঙ্গে শব্দদূষণও অনেক বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিলের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী নকী। মূল গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার, ঢাকা ওয়াসার গবেষণাগারের পরিচালক ড. আলমগীর হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) শাহনাজ রহমান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুব হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জসিমউদ্দীন, ইউএসএআইডি বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট (সিভিল সোসাইটি) অ্যাডভাইজার সুমনা বিনতে মাসুদ, কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের প্রোমোটিং অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রাইটস প্রকল্পের ডেপুটি চিফ অব পার্টি শাহিদ হোসেন প্রমুখ। | 6 |
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুললেও পরিস্থিতি সাপেক্ষে নভেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে নভেম্বরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে এমন সুপারিশ করেছে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি। গণমাধ্যমে একথা নিশ্চিত করেছেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, পরীক্ষা যে নভেম্বরে হবেই এমন বলা হচ্ছে না। যদি নভেম্বরে স্বাস্থ্যবিধির যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, সেগুলো নিশ্চিত করা যায়। তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে তারিখটা দিবে সেটা নভেম্বরে হতে পারে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা এখন চিন্তাই করা যাবে না, যতদিন পর্যন্ত না পরিস্থিতির উন্নতি না হয়। | 1 |
সরকারি অর্থ রাজনৈতিক দলের কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠার পর অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ অবশেষে চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুর্জ। জানা গেছে, তার জায়গায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্দার শালেনবার্গকে নিযুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দুর্নীতি তদন্তে এরইমধ্যে চ্যান্সেলর, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং চ্যান্সেলরের সিনিয়র সহকারীদের বাড়ি ও অফিসে অভিযান চালিয়েছে প্রসিকিউটররা। সূত্র : সিএনএন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) হাসপাতালে ২০ কোটি টাকা অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মো: আ: মান্নান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে এই কথা জানান স্বাস্থ্য সচিব। এসময় হাসাপাতালের চিকিৎসা বিষয়ক সকল খোঁজখবর নেন তিনি। পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সচিব বলেন, আপনারা এটাকে বলতে পারেন না যে অনিয়ম। এটা বড় কিছু না। বিষয়টি আমরা দেখছি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটা নির্দেশনা দিয়েছে। এই পেমেন্টা দেওয়ার আগে অভিযোগটি খতিয়ে দেখবে। আমরা একটা প্রতিবেদন চেয়েছি হাসপাতালটির পরিচালকের কাছে। ওভারওল তিনি একটা প্রতিবেদন তিনি দিবেন। এখানে কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা আমরা তা দেখছি। তিনি বলেন, এখানে কতজন করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য কতজন চিকিৎসক, নার্স, প্যাথলজিষ্ট, চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী, আনসার সদস্য আছেন তা দেখতে এসেছি। এখানকার রোগীরা, চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ, টেকনিশিয়ানরা কেমন আছেন তাও দেখে গেলাম। মেডিকেল অফিসার থেকে শুরু করে অধ্যাপক পর্যন্ত প্রত্যেকের পরিসংখ্যান আমি নিয়েছি। কোভিড রোগী ভর্তি হওয়ার পর তাদের অবস্থা কি হয় এটা জানার খুব দরকার। কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফ্রির বিষয়ে তিনি বলেন, এটাকি খুব বেশী? ২০০ টাকা মিনিমাম একটা বিষয়। অনেকেই একটু কাশি দিলেই হাসপাতালে আসে পরীক্ষা করতে। এটা যেন না হয় এজন্যই এই ফ্রি নির্ধারন করা হয়েছে। চিকিৎসক সহ সবার থাকা খাওয়া সহ কোন বিষয় যেন সমস্যা না হয় সেগুলো আমরা দেখছি। চিকিৎসকদের হোটেলে না রাখতে পারলে তাহলে যে ডরমিটরি গুলো আছে বিকল্প হিসেবে সে গুলো ব্যবহার করতে বলছি। তাতে সরকারের কিছু সাশ্রয় হবে। কোন জায়গাতেই শতভাগ কিছু করা যাচ্ছে না। তবু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবুও আমরা যার জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব ন্যুনতম কাজ করতে হবে। কারও বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা না নিতে হয়। সমলোচনা করছে তারা কিন্তু কোনো কাজ করতে আসবে না। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সাপোর্ট দেওয়ার দরকার আমরা দিচ্ছি। | 6 |
কেক কাটা, মোমবাতি প্রজ্বালন, আনন্দ র্যালি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শ্রমিক লীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে এর অন্তর্ভুক্ত বেসিক ইউনিয়ন সমন্বয় পরিষদ। দিনটি উপলক্ষে সোমবার রাতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের শ্রমিকদের নিয়ে শোডাউন করে সংগঠনটি। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন। সোমবার রাত ১১টায় আনন্দ র্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর নগরীর দারুল ফজল মার্কেট চত্বরে আলোচনা সভা হয়। বেসিক ইউনিয়ন সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মাদ এয়াকুবের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মিরন হোসেন মিলনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দীন চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মুহাম্মদ শফর আলী, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মো. বেলাল হোসেন, মো. নরুল আমিন মিয়া, বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ফেডারেশনের সভাপতি মো. সাদেকুর রহমান, বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক লীগ সভাপতি মীর মোহাম্মদ নওশাদ, বেসিক ইউনিয়ন সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মো আলমগীর, উজ্জ্বল বিশ্বাস, কামাল উদ্দিন চৌধুরী, শাহ আলম ভূঁইয়া, মো. নাসির উল্লাহ, আবুল কাসেম মোল্লা, আবুল হোসেন প্রমুখ। সভায় সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগর শ্রমিক লীগের নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে ঘোষণা দেন নগর আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির। | 6 |
চলতি বছর করোনাভাইরাসের টিকা আসার পর মানুষের মুখে মুখে ছিল টিকার কথা। টিকা নিয়েছেন কি না, নিতে চাইলে অক্সফোর্ড, ফাইজার, মডার্না-কোন টিকা নেবেন, এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না-সবকিছুই ছিল আলোচনার শীর্ষে। এর ফলে টিকার ইংরেজি প্রতিশব্দ ভ্যাকসিনের সংক্ষিপ্ত রূপ 'ভ্যাক্স'-এর ব্যবহারও বেড়ে যায় অনেক গুণ। তাই চলতি বছর ভ্যাক্স শব্দটি বর্ষসেরা শব্দ হিসেবে নির্বাচিত করেছে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভ্যাক্স শব্দটি আগের বছরের ওই সময়ের তুলনায় ৭২ গুণ বেশিবার ব্যবহৃত হয়েছে। আর সে কারণেই এবার বর্ষসেরা শব্দ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এটি। ভ্যাকসিন-সংশ্লিষ্ট শব্দগুলো বিশ্বজুড়ে এবার বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন 'ফুললি ভ্যাক্সড' ( ), 'ডাবল-ভ্যাক্সড' (-), 'আনভ্যাক্সড' (), 'অ্যান্টি-ভ্যাক্সার' (-) ও 'ভ্যাক্স কার্ড' ( ) ইত্যাদি। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে 'ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন', 'ভ্যাকসিন রোলআউট', 'ভ্যাকসিন পাসপোর্ট' ইত্যাদি শব্দও ছিল মানুষের মুখে মুখে। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শব্দগুলোর ব্যবহার বেড়ে যায়। গত বছর বর্ষসেরা শব্দ নির্বাচিত হয় লকডাউন। অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারির জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ফিওনা ম্যাকফারসন বলেন, সংশয়হীনভাবে ভ্যাক্সকে বর্ষসেরা শব্দ নির্বাচিত করা হয়েছে। কারণ, বছরজুড়ে এই শব্দটিই 'সবচেয়ে লক্ষণীয় রকমের প্রভাব ফেলেছে'। অক্সফোর্ড ল্যাঙ্গুয়েজের প্রেসিডেন্ট ক্যাসপার গ্রাথহোল বলেছেন,'যখন ভাষার পর্যাচোলনা করা হচ্ছিল, তখন ভ্যাক্স সন্দেহাতীতভাবে প্রথম স্থানে ছিল। এই শব্দের নাটকীয় বৃদ্ধি আমাদের বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।' বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যাক্স শব্দটি আশির দশক থেকে ব্যবহার শুরু হলেও শব্দটি ইংরেজি ভাষায় প্রথম রেকর্ড হয় আরও প্রায় দুই শতাব্দী আগে, ১৭৯৯ সালে। | 3 |
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিজয়ের মাসে প্রথমবারের মতো হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী বঙ্গবন্ধু বইমেলা। গতকাল রোববার সকাল সোয়া ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ভার্চ্যুয়ালি মেলার উদ্বোধন করেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ন কবীর।পরে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, পিএসসির সাবেক সদস্য মো. ফজলুল হক, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শংকর কুমার কুন্ডু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মো. মোখলেসুর রহমান। | 6 |
এই প্রজন্মের সেরা ব্যাটারদের একজন বিরাট কোহলি। তাঁর প্রতিভা নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু প্রায়শই প্রশ্ন ওঠে তার আগ্রাসন এবং দাম্ভিকতা নিয়ে। কোহলি নিজেকে অনেক বড় ক্রিকেটার ভাবেন বলেও অভিযোগ আছে। তাঁকে ঘিরে সমালোচনা বেড়েই চলছে। যা ভালো লাগছে না পাকিস্তানের কিংবদিন্ত পেসার শোয়েব আখতারের।ভারতের সাবেক অধিনায়ককে এখন থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন পাকিস্তানি কিংবদন্তি পেসার। আজ নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শোয়েব বলেছেন, 'নিজেকে একজন সাধারণ খেলোয়াড় ভাবো, ব্যাট হাতে নাও এবং শুধু খেলো। লোকজন এখন কোহলির দিকে আঙুল তোলা শুরু করেছে। এটা বিপজ্জনক।'টুর্নামেন্টের এবারের আয়োজনে এখনো কোনো ফিফটি পাননি কোহলি। দুটি ম্যাচে অবশ্য হাফ সেঞ্চুরির আভাস নিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। পাঁচ ইনিংসে ২৬.৭৫ গড়ে ১০৭ রান করেছেন বেঙ্গালুরু তারকা। নিজেকে হারিয়ে খুঁজতে থাকা এই ব্যাটারকে রান করার তাড়া দিলেন শোয়েব। অন্যথায় কী পরিণতি হতে পারে সেই বার্তাটাও দিয়ে রাখলেন তিনি।পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব বলেছেন, 'এটা পারফরম্যান্স ভিত্তিক আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল। এখানে কেউ আলাদা নয়, এমনকি বিরাট কোহলিও না। যদি সে কিছু করতে না পারে তাহলে বাদ পড়বে। কিছু বিষয় আছে যা আমি এখনই বলতে পারছি না। একটা নয়, তার মাথায় ১০ হাজার কাজ চলছে। সে ভালো মানুষ, ভালো ক্রিকেটার। দুর্দান্ত ক্রিকেটার। আমি তাকে বলব একই সময়ে একটা বিষয়ে নজর দাও।' | 12 |
অতি সম্প্রতি সামনে এসেছে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি তথা রাজ্যসভার সদস্য রঞ্জন গগৈয়ের আত্মজীবনী। এই আত্মজীবনী সামনে আসার সাথে সাথেই সোশ্যাল সাইটে শুরু হয়েছে সমালোচনা। ওই আত্মজীবনী থেকে যে ছবি সামনে এসেছে তাতে দেখা গেছে, অযোধ্যার বাবরি মসজিদ রায়দানের পর ওই সময়কার প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও চার বিচারপতির উদযাপনের ছবি। মূলত সমালোচনা শুরু হয়েছে সেই ছবি এবং রঞ্জন গগৈয়ের রায়দান-পরবর্তী উদযাপন মন্তব্য থেকেই। যদিও এনডিটিভিকে দেয়া ব্যাক্তিগত সাক্ষাৎকারে তিনি সাফাই দেয়ার চেষ্টার কসুর করেননি। তিনি বলেন, ৫-তারা খাবার এবং মদ্যপান (ওয়াইন), অযোধ্যা রায়দানের উদযাপন ছিল না। আত্মজীবনীতে গগৈ লিখেছেন, 'সন্ধ্যায় বিচারপতিদের নিয়ে গেলাম তাজ মানসিংহ হোটেলে ডিনারের জন্যে। আমরা চাইনিজ খাবার খেয়েছিলাম। সেখানে পাওয়া সেরা ব্র্যান্ডের একটি মদের বোতল নিয়েছিলাম।' সোশ্যাল সাইটে কটাক্ষের জবাবে তিনি এনডিটিভিতে সাক্ষাৎকারে বলেন, 'বিচারকরা প্রত্যেকেই কাজ করেছিলেন চার মাস ধরে। আমরা সবাই এত কঠোর পরিশ্রম করেছি, আমরা ভেবেছিলাম আমরা বিরতি নেব। আমরা এমন কি কিছু করেছি যা অনুমোদনযোগ্য নয়?' টুইটারে জুনাইদ ভাট বইটির ছবি দিয়ে লিখেছেন 'ঠিক কি রায় দিয়ে এমন উদযাপন? এর মানে কি এই এটাই যে তারা বিশেষ কোনো দিকে যেতে চেয়েছিলেন? বিচার ব্যবস্থার হলোটা কী? বিচার বিভাগ যখন স্বৈরাচারের ধাত্রী হয়ে ওঠে তখন আইন হয়ে যায় ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্র। এমনই টুইট করেছেন সুচিত্রা বিজয়ন। রাজনৈতিক ভাষ্যকার অধ্যাপক অপূর্বানন্দ বলেছেন যে উদযাপন করার পরিবর্তে, রায়টি দেয়ার আগে ব্যক্তিগতভাবে তাদের চিন্তা করা উচিত ছিল। কিভাবে এবং কেন এই রায় দেয়া হয়েছিল এবং কেন তারা এটি এড়াতে পারেনি। তারা কি সত্যিই এটা নিয়ে গর্বিত? সূত্র : পুবের কলম | 3 |
সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাঘায় মন্দিরে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সেবায়েতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বুধবার রাতে উপজেলার বাঘা ইউপি'র কালাকোনা অধিরের দোকান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তার সেবায়েতের নাম গোবিন্দ দাস বাবাজি (৪৬)। তিনি টাংগাইলের দেলদুয়ার থানার সিলিমপুর গ্রামের কালু চৌহানের ছেলে। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের কালাকোনা গ্রামে শ্রী শ্রী গিরিধারী জিও মন্দিরের সেবায়েত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ জানায়, বুধবার এক তরুণী সেবায়েত ও অপর একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় মন্দিরের সেবায়েতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী বলেন, ধর্ষণচেষ্টার মামলায় সেবায়েতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য একজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। | 6 |
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় লিটন আলী নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। লিটনের পরিবারের দাবি, নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যানপ্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় জয়ী প্রার্থীর লোকজন তাঁকে নির্যাতন করেছেন। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।লিটনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লিটন আলী নিজেও এবারের দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সাধারণ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। গতকাল সকালে তাঁকে মাছের খামার থেকে তুলে বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইউপি নির্বাচনে জয়ী প্রার্থী হাসানুজ্জামান হাসানের লোকজন তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে লিটনের বাবা নবীর উদ্দিন গুরুতর আহত হন। তাঁদের দুজনকেই কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।১১ নভেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহেদ আহমেদ শওকতকে হারিয়ে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হাসানুজ্জামান হাসান বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিটন উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জাপুর মালিথা পাড়ার বাসিন্দা। এবারের ইউপি নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। এ ছাড়া তিনি পরাজিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহেদ আহমেদ শওকতের কর্মী ছিলেন।বিশু নামের লিটনের চাচাতো ভাইয়ের দাবি, মো. ফারদেসের নেতৃত্বে রনি, বেল্টু, লিটন, নিজাম, জিয়াসহ অনেকেই এসে তাঁর ভাইকে তুলে নিয়ে যান। তুলে নিতে আসা সবার বাড়ি মির্জাপুর হাটের উত্তরপাড়ায়। মো. ফারদেস জয়ী চেয়ারম্যান হাসানের কর্মী বলে তিনি জানান।বিশু আরও জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লিটনকে তাঁর মাছের খামার দামুসী বিল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। যাওয়ার সময় মারতে মারতে নেওয়া হয়। পরে মির্জাপুর বাজারে একটি গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা আবার মারা শুরু হয়। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি লিটনকে ব্যাপক মারধর করে। লিটনের বাবা ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টা বেঁধে রেখে লিটনকে নির্যাতন করা হয়। এরপর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসান ঘটনা স্থলে এসে বলেন, 'অনেক মারধর হয়েছে। এখন ছেড়ে দে।' এরপর লিটনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহেদ আহমেদ শওকত বলেন, 'লিটন আমার কর্মী ছিলেন। নৌকার পক্ষে কাজ করায় আজ তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। আমার বিপক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হাসানুজ্জামান হাসান ও তাঁর লোকজন মধ্যযুগীয় কায়দায় লিটনের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছেন। এ অমানবিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও দোষীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।'সাহেদ আহমেদ শওকত আরও বলেন, 'শুধু লিটন নয় গত শনিবার রাতে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুরে সুজন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে আগুন দিয়েছে হাসানের লোকজন।'অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিজয়ী ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।লিটন কে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে হাসানের পক্ষের মো. ফারদেসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। কি হয়েছে জানি না।'ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, 'স্থানীয়দের মাধ্যমে পরস্পর বিরোধী অভিযোগ পাচ্ছি। অনেকেই বলছেন নৌকা প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করায় তাঁকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আবার অনেকে বলছেন তাঁর কাছে অনেকেই টাকা পাবেন বলে পাওনাদাররা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনা যাই হোক বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে ঘটনা জানতে পেরেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
নওগাঁর নিয়ামতপুরে সারা দিন হেঁটে হেঁটে গ্রাম ঘুরে চুল, দাড়ি কাটেন বুধু সরদার (৮৫)। মজুরি কম নেওয়ায় অনেকেই সেলুনে না গিয়ে যান তাঁর কাছে। পারিশ্রমিক হিসেবে অনেকে টাকার বদলে চালও দেন। এভাবে ৭০ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চুল, দাড়ি কাটছেন তিনি।বুধু সরদার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ঢিকাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করেন। আয় করেন ১০০ বা তার কম টাকা। প্রতিদিন যা আয় হয় এবং একমাত্র ছেলের আয় দিয়ে কোনো রকম চলে সংসার। জমিজমা না থাকায় সরকারি জায়গায় কোনো রকমে ঘর করে থাকেন তিনি।সরেজমিনে দেখা যায়, রসুলপুর ইউনিয়নের মানপুরা গ্রামের একজনের চুল, দাঁড়ি কাটছেন তিনি। সেখানে কথা হলে বুধু সরদার বলেন, ১৪ বছর বয়স থেকেই তিনি নরসুন্দর পেশায় নিয়োজিত। আগে এত সেলুন ছিল না। প্রতিদিন চুল, দাড়ি কেটে ২০-২৫ কেজি চাল পেতেন তিনি। সেটা দিয়েই সন্তানদের মানুষ করেন তিনি। এখন বয়স হয়েছে, কাজও কমে গেছে। একমাত্র ছেলে সেলুনের দোকান করেছিল, ছেড়ে দিয়ে এখন কৃষিকাজ করে। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে।মানপিরা গ্রামের বাসিন্দা সূর্য সরদার বলেন, ৭০ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চুল, দাঁড়ি কাটছেন বুধু সরদার। তিনি যত দিন থেকে তাঁকে দেখছেন নিতান্তই একজন ভালো মানুষ হিসেবেই তাঁকে জানেন।বুধু সরদারের ছেলে নিরঞ্জন সরদার বলেন, 'বাবার পেশায় অনেক দিন ছিলাম। সেলুনের দোকানঘর নিয়ে ঘর মালিকের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় সেলুন ছেড়ে এখন কৃষি শ্রমিকের কাজ করছি। সংসারে অভাবের কারণে বাবা এই বয়সেও পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করছেন।'বুধু সরদার আরও বলেন, যত দিন বেঁচে আছেন এই কাজ করে যেতে চান তিনি। মাঝেমধ্যে অসুস্থ হলে নিজেকে অসহায় মনে হয়। একটু সুস্থ হলে পরিবারের আয়ের কথা চিন্তা করে আবার নেমে পড়তে হয় এই কাজে। কেউ যখন চুল কাটার প্রশংসা করে তখন মনে হয় ফেলে আসা ৭০ বছরের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোত্তালিব হোসেন বাবর বলেন, ব্যক্তিগতভাবে বুধু সরদারকে তিনি চেনেন। খুব অসহায় একজন মানুষ। সরকারিভাবে যেকোনো অনুদান এলে তাঁকে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। | 6 |
ঢাকা-বরিশাল নৌপথে দৈনিক ১০ হাজারের বেশি যাত্রী চলাচল করেন। এ যাত্রীদের প্রতিনিয়ত লঞ্চে পৌঁছাতে ঝামেলায় পড়তে হয়। বিশেষ করে রাজধানী থেকে সদরঘাটে পৌঁছাতে রাতে যানজটে নাকাল হতে হয়। বরিশাল নৌবন্দরে পৌঁছাতেও একই দুর্ভোগ। মন্ত্রী, এমপি, আমলাদের ফোনে লঞ্চ থেমে গেলেও সাধারণ যাত্রীরা যানজটে লঞ্চঘাটে পৌঁছাতে পারছেন না। এমন দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতে লঞ্চের টাইম টেবিল এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে বরিশালের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও লঞ্চের সময়সূচি নিয়ে দুর্ভোগের নানা অভিযোগ ফুটে উঠছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পদ্মা সেতু চালুর আগে লঞ্চ ছাড়ার সময়ে পরিবর্তন না আনা হলে যাত্রীরা লঞ্চ সার্ভিস থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর বন্দর কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, লঞ্চের টাইম টেবিল পরিবর্তন করতে হলে যাত্রীদের দাবি বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে।বরিশাল শরীর চর্চা পরিষদের সদস্য এবিএম মাসুদ করিম সম্প্রতি ঢাকা থেকে রাতে লঞ্চ ধরতে সদরঘাটে পৌঁছাতে যানজটে পড়েন। একপর্যায়ে নির্ধারিত লঞ্চ না পেয়ে অন্য লঞ্চে বরিশালে ফিরতে হয়। তিনি বলেন, লঞ্চের টাইম টেবিল পিছিয়ে না দেওয়ায় হাজারো যাত্রী প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন।এ রুটের এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চের মাস্টার মজিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে দৈনিক ৭-৮টি লঞ্চে ৮-১০ হাজার যাত্রী যাতায়েত করেন। প্রথম ট্রিপ রাত ৮টা ৩৫ মিনিট। শেষ ট্রিপ রাত ৯টা ৫০মিনিট। নির্ধারিত সময় না মানায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পারেন। অনেকেই যানজটে আসতে না পেরে ঘাট থেকে ফিরে যান। অথচ ঢাকা থেকে বরিশালে ভোর ৪টায় এসে লঞ্চ পৌঁছায়। সে ক্ষেত্রে ১ ঘণ্টা পড়ে লঞ্চ ছাড়লে সমস্যা হবে না।বরিশাল নগরীর অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ হসপিটালের পরিচালক প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ঢাকা-বরিশাল উভয় রুটে লঞ্চ ৯টার স্থলে ১০টায় ছাড়লে তেমন ক্ষতি নেই। যাত্রীরা বাসায় রাতে খেয়ে লঞ্চে পৌঁছাতে পারেন। যানজটেরও সম্মুখীন হতে হয় না।বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি আমিনুর রহমান ঝান্ডা বলেন, ১ ঘণ্টা পিছিয়ে দিলে কর্মজীবীরা স্বাচ্ছন্দ্যে লঞ্চে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু লঞ্চের ক্যানটিন চালু রাখতে মালিকেরা সহজে রাজি হবেন না। পদ্মা সেতু হলে বরিশালে মানুষের চলাচল বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দক্ষিণাঞ্চলে চলে আসবেন। সে ক্ষেত্রে লঞ্চের যাত্রী সুবিধা আরও বাড়াতে হবে।নগরীর সমাজসেবক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, লঞ্চ সার্ভিসের সঙ্গে এ অঞ্চলের শত শত যাত্রীর স্বার্থ জড়িত। তাদের সুবিধায় উভয় প্রান্ত থেকে রাত সাড়ে ৯টা-১০টার মধ্যে লঞ্চ চলাচলের সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, যানজট এড়াতে ঢাকা থেকে লঞ্চ পিছিয়ে ছাড়া সম্ভব। কিন্তু বরিশাল থেকে একই সময়ে ছাড়া জটিল হবে। যাত্রীদের টাইম টেবিল পরিবর্তনের দাবি জানানো হলে মালিকেরা এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারেন। তবে এ জন্য বিআইডব্লিউটিএর কাছ থেকে টাইম টেবিল পরিবর্তনের আবেদন করতে হবে। পদ্মা সেতু চালু হলেও লঞ্চের যাত্রী সেবা নিয়ে খুব একটা সংকট হবে না। কেননা লঞ্চ সার্ভিসের সেবা দিন দিন আরও আধুনিক হচ্ছে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.