text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
নর্দাম্পটন যেন ফিরে এল হ্যামিল্টনে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচে নর্দাম্পটনে এই পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশের ছেলেরা। ২৩ বছর হ্যামিল্টনে আরেকটি ইতিহাস রচনা করলেন বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশ্বমঞ্চে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে নিগার সুলতানার দল।ইতিহাস গড়া জয়ের পর যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন অধিনায়ক নিগার। বাংলাদেশ অধিনায়ক এই ছন্দ টেনে নিতে চান পরের ম্যাচগুলোতেও, 'ভাষায় বর্ণনা করতে পারছি না। এটা আমাদের বিশ্বকাপে প্রথম জয়। আজ আমরা ইতিহাস গড়েছি। পুরো টুর্নামেন্টে এই ছন্দটা ধরে রাখতে আমরা উন্মুখ হয়ে আছি। আমি এখানে দুটা ম্যাচ দেখেছি যেখানে স্পিনাররা আধিপত্য দেখিয়েছে। তাই আমি ভেবেছিলাম সে(সালমা খাতুন) যেন তার সেরাটা দিতে পারে। আমি তাকে খুব ভালো ব্যবহার করেছি।'পাকিস্তানকে বাছাইপর্বেও হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর মূলপর্বে শুরুটা ভালো করতে পারেনি সালমা-জাহানারারা। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও হেরেছিল বাংলাদেশ। নিজেদের প্রমাণ করতে আর দেরি করলেন না তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের বৃত্ত ভেঙে তুলে নিলেন ঐতিহাসিক জয়।একটা জয় পুরো দলের চেহারা বদলে দিতে পারে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয়কে সেরকমই ভাবছেন নিগার। জয়ের পর তিনি বলেন, 'আমরা সবাই জানি পাকিস্তান ভালো দল। আমরা পাকিস্তানকে এর আগেও প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছি। এই বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও শেষ ওভারে তাদের বিপক্ষে আমরা জিতেছিলাম। জয় সব সময় আত্মবিশ্বাস জোগায়। আর এই ছন্দটাই আমরা সব সময় চেয়ে আসছিলাম। আমরা যে ভালো দল সেট এরই মধ্যে প্রমাণ করেছি। আমরা জানি ভালো কিছু করার সক্ষমতা আমাদের আছে।'
12
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মেয়াদ ২০১৯ সালে শেষ হওয়ায় তা রিইস্যুর আবেদন করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেত্রীর পক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ মে) আগারগাঁয়ে পাসপোর্ট অফিসে এ আবেদন জমা দেন। পাসপোর্ট অফিসও আবেদন হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে। পাসপোর্টের সর্বশেষ অগ্রগতি সর্ম্পকে জানতে চাইলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আইয়ুব চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর আবেদন পেয়েছি। তবে তার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করছি, প্রক্রিয়া শেষ হলে পাসপোর্টটি প্রদান করা হবে। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে এ দিন পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে (রি-ইস্যু) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে অতিজরুরী ক্ষেত্রে যেমন জরুরী চিকিৎসা করাতে কেউ দেশের বাইরে যেতে চাইলে উপযুক্ত কাগজপত্রের ভিত্তিতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট আবেদন জমা নেওয়া ও বিতরণ করা হচ্ছে। গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা 'ফিরোজায়' চিকিৎসা চলতে থাকে। আক্রান্তের ১৪ দিন পরও করোনা টেস্ট করা হলে ফল আবারও করোনা পজিটিভ আসে। এরপর কিছু পরীক্ষার জন্য তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথম দফায় পরীক্ষা করে বাসায় ফেরার পর দ্বিতীয় দফায় ২৭ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল। তবে শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন দরকার পড়ছে।
6
বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি নয় বরং উনার সুস্থতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। দেশে অথবা বিদেশে যেখানেই চিকিৎসা হোক উনি সুস্থ হয়ে সকলের মাঝে ফিরে আসুন এটাই আমাদের প্রত্যাশা । বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত। খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ও সেখানে তাঁর সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেগম জিয়া দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনি বাংলাদেশের একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিনি করোনাকে পরাভূত করে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে যান, এটিই মহান স্রষ্টার কাছে আমার প্রার্থনা। কিন্তু তাঁর অসুস্থতার ধরন প্রকরণ নিয়ে একটি ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিক অসুস্থতার এক ভিন্ন রূপ বলেই আমার বিশ্বাস। আমি মনে করি বেগম জিয়ার অসুস্থতা এবং চিকিৎসার বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক। এটি রাজনীতির ঊর্ধ্বে। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে মূল বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রকাশিত হয়েছে; যেটা নিয়ে জনমনে একধরণের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সংশয় তৈরি করা কিংবা রাজনীতি করা কারোই উচিত নয়। বেগম খালেদা জিয়া করোনা পরবর্তী সকল ধরনের শারীরিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন সেটাই প্রত্যাশা। লেখক: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্বরাজনীতি। এ হত্যার প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ট্রাম্পও এ হামলার জবাবে পাল্টা হুমকি দিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সৈন্য পাঠাচ্ছে খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের পাশ্ববর্তী দেশ কুয়েতে আরও ৩০০০ সৈন্য পাঠানো হচ্ছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে কুয়েতে ৭৫০ মার্কিন সেনা পাঠানো হয়। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
3
"আজ এখানে দাঁড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতে অভিশাপ দিচ্ছি, মগজের কোষে কোষে যারা পুঁতেছিল আমাদেরই আপনজনের লাশ, আমি তো তাদের জন্য সহজ মৃত্যু করি না কামনা।" কবি শামসুর রাহমানের অমিয়বাণী সত্য করে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা বারবার ফিরে ফিরে আসেন বাঙালীর মানসপটে। বাঙালীর হৃদয়ে প্রতিভাত হয় শ্রদ্ধা ও শোকের আবহ, আর সঞ্চারিত হয় শক্তি। একাত্তরে জাতিকে বুদ্ধি, পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে বুদ্ধিজীবীরা আমাদের বিজয়কে দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করেছিলেন বুদ্ধিজীবীরা। পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত বিজয়ের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত নির্যাতন ও হত্যা করে। ২৫শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পরিকল্পিত প্রথম হামলা চালিয়ে হিন্দু শিক্ষক, ছাত্র এবং আওয়ামীপন্থীদের হত্যা করা হয়। স্বাধীনতার পর বঙ্গভবনে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর একটি ডায়েরি পাওয়া যায়। ডায়েরিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন 'ছাত্র সংঘ' আলবদর বাহিনী গঠন করে বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরি করে। বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান ঘাতক বদর বাহিনীর চৌধুরী মঈনুদ্দীন ছিল বদর বাহিনীর অপারেশন ইন-চার্জ ও আশরাফুজ্জামান খান প্রধান জল্লাদ। ১৬ ডিসেম্বরের পর আশরাফুজ্জামান খানের নাখালপাড়ার বাড়ি থেকে তার একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করা হয়, ওই ডায়েরিতে যেসব বুদ্ধিজীবীর নাম ও ঠিকানা পাওয়া যায় তাদের সবাইকে ১৪ ডিসেম্বর হত্যা করা হয়। আর চৌধুরী মঈনুদ্দীন ৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিল। সে অবজারভার ভবন হতে বুদ্ধিজীবীদের নাম ঠিকানা রাও ফরমান আলীকে পৌঁছে দিত। শহীদ বুদ্ধিজীবী মো. মুর্তজা ও সিরাজুল হকের ছেলে এনামুল হক অপহরণকারী এ দু'জনকে চিনতে পারেন। তারা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বর্তমানে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ড পাওয়া এই আসামিদ্বয় চৌধুরী মাইনুদ্দীন লন্ডনে ও আশরাফুজ্জামান নিউইয়র্ক প্রবাসী। একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পিছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন উপাচার্য ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনসহ পাকিস্তানপন্থী বুদ্ধিজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ইতিহাসের অধ্যাপক ড. মোহর আলী ৮ জুলাই 'লন্ডন টাইমস' পত্রিকায় "পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিদের জীবনের নিরাপত্তা নেই" এই সংবাদের প্রতিবাদ জানান। এছাড়াও মার্কিন সেনাবাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা হেইট এবং সিআইএ এজেন্ট ডুসপিক দুজনই রাও ফরমান আলীর সাথে মিলে প্রায় তিন হাজার বুদ্ধিজীবীর একটা তালিকা তৈরি করে। এ ঘটনাই প্রমাণ করে যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। ১৪ ডিসেম্বর তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ২০০ জনের মত বুদ্ধিজীবী লেখক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, কন্ঠশিল্পী, সকল পর্যায়ের শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলী। লেখক: আইনজীবী। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
2
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানের ব্যাংক, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়দেনা আয়ের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এ সাংসদ ঋণগ্রস্ত। একই অবস্থা এ আসনে বিএনপির প্রার্থী শিল্পপতি মোহাম্মদ শাহ আলমেরও। তবে বার্ষিক আয়ের দিক দিয়ে শামীম ওসমানের চেয়ে শাহ আলম অনেক এগিয়ে। শামীম ওসমানের বার্ষিক আয় ৭ কোটি টাকার ওপরে। আর শাহ আলমের আয় ১৪ কোটি টাকার ওপরে। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ দুই প্রার্থীর হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অতীতে ১৭টি মামলা থাকলেও ১০টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন। রাষ্ট্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে চারটি মামলা। উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে তিনটি। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী শাহ আলম তিনটি মামলার আসামি ছিলেন, যার দুটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। একটি মামলা তদন্তাধীন। শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার ভি-৮ জিপ থাকলেও বিএনপি প্রার্থী শাহ আলমের নিজ নামে কোনো গাড়ি নেই। শামীম ওসমান শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন বিএ, এলএলবি পাস। শাহ আলম বিকম পাস। এ দুই প্রার্থীর হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শামীম ওসমান চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। জেডএন করপোরেশন, জেডএন শিপিং লাইনস, শীতল এসি ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড এবং মাইশা এন্টারপ্রাইজের মালিক তিনি। শীতল বাস ছাড়া বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি তেল আমদানি, সরবরাহ ও পণ্য পরিবহন করে থাকে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী শাহ আলম শাহ ফতেহ উল্লাহ টেক্সটাইল মিল ও জালাল আহমেদ স্পিনিং মিলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ দুটি তাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। শামীম ওসমানের বাড়ি ভাড়া, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক থেকে সুদ, এমপি হিসেবে বার্ষিক সম্মানী, ব্যাংকে রক্ষিত টাকা, এফডিআর সবকিছু মিলিয়ে আয় বার্ষিক সাত কোটি ৬৪ লাখ টাকার ওপরে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও একটি ব্যাংকের কাছে তার ঋণ রয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। শাহ আলমের বার্ষিক আয় ১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিপরীতে তিনটি ব্যাংকে তার ঋণ রয়েছে ৩৩৭ কোটি টাকার ওপরে। শামীম ওসমান পৈতৃক সূত্রে ১৫ শতাংশ কৃষিজমির মালিক। এ ছাড়া নগরের মাসদাইরে ১০ শতাংশ জমি, সোনারগাঁয়ের বারদিতে ১২৩ শতাংশ জমি এবং পূর্বাচল নিউ টাউন এলাকায় ১০ কাঠা জমি রয়েছে তার। পৈতৃক বাড়ি ছাড়াও জামতলা এলাকায় শামীম ওসমানের ১৬ শতাংশ জমির ওপর দোতলা বাড়ি রয়েছে। শাহ আলম ৮৭১ দশমিক ৩৪ ডেসিমেল জমির মালিক। পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের তার দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। শাহ আলমের স্ত্রীর নামে ছয় কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ বিষয়ে শামীম ওসমান বলেন, আমার হলফনামায় যে বিবরণ উল্লেখ রয়েছে তার বাইরে বলার মতো কিছু নেই। একই কথা বললেন বিএনপি প্রার্থী শাহ আলম।
6
'তোমারে লেগেছে এত যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে' কিংবা 'আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন'-এর মতো কালজয়ী গানের স্রষ্টা কে জি মোস্তফা। এই গানের নিচে আরও কত গান চাপা পড়ে গেল। আত্মার গল্প শুনতে হলে নিজস্ব মাটির গন্ধই নিতে হবে। এইখানে মানুষের যে প্রেম-আকাঙ্ক্ষা, তাতে মেলোডি সুরের গান প্রয়োজন, গীতিময়তা প্রয়োজন। কে জি মোস্তফা সেটা বেশ ভালোভাবে বুঝতেন। গীতিকারের সফলতা-যদি তিনি অনেকের অনুভূতি চুম্বকের মতো তুলে ধরতে পারেন। মনকে নাড়া দিতে না পারলে সে গানের দোলা কিছুদূর পর্যন্ত লাগে, তারপর থেমে যায়। কে জি মোস্তফার গানের দোলা অনেক দূর পর্যন্ত লাগে।আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিতে কে জি মোস্তফার অনবদ্য অবদান রয়েছে। তিনি সর্বজন পরিচিত একজন মানুষ ছিলেন। ওনার প্রতিভাকে যেন আমরা সম্মান জানাতে পারি। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমরা এখন একটা ক্রাইসিসে আছি। বিশেষ করে সংগীতাঙ্গনে। এই সময়ে ওনাদের মতো ব্যক্তিত্বের বড় প্রয়োজন। গুণীজনদের সম্মান জানাতে জানলে জাতি সম্মানিত হয়, সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়। আমি আশা করব, এসব প্রতিভাবান মানুষের নাম ইতিহাসের খাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁদের কথা জানবে। এই শ্রদ্ধাটুকু যেন গুণীজনেরা মৃত্যুর পরেও পান। আমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল তাঁর। সামগ্রিকভাবেই তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর কর্মেও সেই প্রমাণ রেখে গেছেন। কে জি মোস্তফা সবার মনে গেঁথে থাকবেন তাঁর গান দিয়ে, তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে।গীতিকার হিসেবে পরিচিতি থাকলেও কে জি মোস্তফা একজন সফল সাংবাদিক এবং কলামিস্ট ছিলেন। ১৯৬০ সাল থেকে চলচ্চিত্র, রেডিও এবং টেলিভিশনে তাঁর লেখা প্রচুর গান প্রচারিত হয়। হাজার গানের গীতিকার কে জি মোস্তফার ফিল্মের গানগুলোও জনপ্রিয়। তাঁর গানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী তালাত মাহমুদ এবং বাংলাদেশের খ্যাতিমান প্রায় সব শিল্পী কণ্ঠ দিয়েছন।-অনুলিখন
6
করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় জারি করা বিধিনিষেধ আরও শিথিল করল অস্ট্রেলিয়া। পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া নাগরিকেরা এখন অনুমতি ছাড়াই দেশটির বাইরে যেতে পারবেন। এ ছাড়া চলতি বছরের মধ্যেই বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের আবারও অস্ট্রেলিয়ার ঢুকতে দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় আজ বুধবার দেশটির স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, করোনার কারণে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ রেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। সম্প্রতি বেশ জোরেশোরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে দেশটি। এর মধ্যেই ৮০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে পূর্ণ ডোজ টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়া। এর জের ধরেই কিছুটা স্বস্তির মুখে নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারেন অ্যান্ড্রুস বলেন, টিকাদানের হার বেড়েছে। এ কারণে আপাতত পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশটির নাগরিক নন, এমন কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। পাশাপাশি চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া কর্মী ও শিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে দেওয়া হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, শিগগিরই সিঙ্গাপুরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে। এর ফলে পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমণকারীরা দুই দেশে মধ্যে যাতায়াত করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজন পড়বে না। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকেই নানা কঠোর পদক্ষেপ নেয় অস্ট্রেলিয়া। গত বছরের ২০ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া দেশটির সব সীমান্ত। এতে ভোগান্তির মুখে পড়েন দেশটিতে এবং দেশটির বাইরে অবস্থান করা হাজারো বাসিন্দা।
3
আওয়ামী লীগের রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।গতকাল রোববার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এই ঘোষণা প্রদান করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সারওয়ার আবুল নরদাশ ইউনিয়নে আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার কারণে আসাদুজ্জামান আসাদকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।আসাদুজ্জামান আসাদ এর আগে উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘদিন তিনি কৃষক লীগের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০২০ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তাঁকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, 'উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আমি সততা, নিষ্ঠা এবং সংগঠনের নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করে যাব।'
6
সংঘর্ষ, গুলি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৫টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ভোট গ্রহণ চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ফলে মানুষের মাঝে আতঙ্কের কমতি ছিল না। চার জেলায় ছয়জন নিহতসহ আহত হয়েছেন অনেক। দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ নিয়ে আগে থেকেই ছিল শঙ্কা। তাই বাড়তি সতর্কতাও ছিল নির্বাচন কমিশনের। তবে তাতে থামানো যায়নি সংঘাত। দেশজুড়ে মারামারি-হানাহানির এই কাণ্ড পত্রিকা, টেলিভিশন, ফেসবুক খুললেই দেখা যাচ্ছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। বাংলাদেশের মতো স্বাধীন দেশে এ রকম ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে কেন এই সহিংসতা? সংবিধানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা আছে, যেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। সেই গণতন্ত্রের বাস্তবায়নে আজ ভোট অনুষ্ঠিত হয় ঠিকই, কিন্তু এসবের মধ্যে আজ স্থান করে নিয়েছে সহিংস মানসিকতা। এই সহিংসতা দেখা দিয়েছিল ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে। তবে সেটা ছিল জাতিকে শোষণ, শাসন ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত করা। বাঙালি জাতিকে পৃথিবীর বুকে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আর আজ সহিংসতা হচ্ছে আধিপত্য বিস্তারের। নিজেকে বা নিজের দলকে বিজয়ীর আসনে অধিষ্ঠিত করাই যেখানে মূল লক্ষ্য। এতে রাজনীতির মূল বিষয়ের অবক্ষয় ঘটছে। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো জনগণের মুখে হাসি ফোটানো, জনগণের দুঃখে নেতার মন কাঁদবে। কিন্তু আজ ইউপি নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার আগেই নেতারা জনগণের মনে দাগ কেটে ফেলছেন। নেতায় নেতায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কর্মীদের লেলিয়ে দিচ্ছেন যেভাবে হোক সোনার হরিণ ছিনিয়ে নিতেই হবে। কর্মীরাও সে অনুযায়ী কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ কি আমাদের এটাই শিক্ষা দেয়? বঙ্গবন্ধুর জীবন-দর্শন, নীতি, আদর্শ, কর্ম ও নেতৃত্বের বহুমাত্রিক গুণাবলির মধ্যে নিহিত রয়েছে আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হওয়ার সব উপাদান। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে ছিল সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সেই শান্তিপূর্ণ আদর্শে বলীয়ান বাঙালি জাতির মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে এত অশান্তি কেন? আজকে যে আমরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কর্মী হিসেবে দাবি করি, সেটা কতটা যুক্তিযুক্ত? বঙ্গবন্ধু তো আমাদের শিখিয়ে যাননি মানুষ মেরে, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখল করতে। তাহলে আজ আমরা বঙ্গবন্ধুকে কতটা সম্মান দিচ্ছি? তাঁর আদর্শকে নিজের মধ্যে কতটা লালন করতে পারছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিজেদের মধ্যে লালন করলে আজ এই সামান্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হতো না। মানুষে মানুষে মারামারি-হানাহানি হতো না, ভোট জালিয়াতির অভিযোগও উঠত না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে যেখানে আমাদের পথ চলার কথা, সেখানে ঘটছে বিপরীত। মুখে আদর্শকে ধারণ করা হচ্ছে, কিন্তু সেটা কাজে প্রকাশ পাচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। বঙ্গবন্ধু হাতে গড়া সংগঠনকে রক্তাক্ত করা হচ্ছে নানাভাবে, যা কখনো কাম্য নয়। এমন বাংলাদেশ তিনি চাননি। ক্ষমতার লোভে মারামারি-হানাহানি তাঁর সংবিধানে ছিল না। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারকেও সমালোচিত করে তুলছে দেশজুড়ে। তাই এ ধরনের ঘটনা নিরসন করতে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। মো. আল-মামুনশিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
8
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলতে ভারত গেলেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তিনি এবারের আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে সাকিবের এই আইপিএল যাত্রা নিয়ে বহু কাণ্ড হয়েছে। কয়দিন আগে সাকিব মুখ খুলে বোর্ড পরিচালকদের ধুয়ে দিয়েছেন। বিডি প্রতিদিন/ কালাম/ ওয়াসিফ
12
ঈদুল ফিতরের পর জয়পুরহাট বেড়াতে গিয়ে দিন ছয়েক অনেক মানুষের সঙ্গে গল্পগুজব করা গেল। আমার সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে অনেকেই জিজ্ঞাসা করলেন, 'দেশ কেমন চলিচ্ছে?' আমি হেসে তাঁদের বলি, 'দেশ কেমন চলছে তা তো আপনারাই আমাদের বলবেন, আপনাদের কথাই তো আমরা লিখব।' আমার কথা শুনে তাঁরাও হাসলেন; দুঃখের হাসি। অধিকাংশ মানুষ দুইটা দুঃখের কথা বললেন: এক. 'ধানের দাম খুবই কম', দুই. 'ভোট দিবা পারিনি।' ধানের বাম্পার ফলন হলে দাম খুব কমে যায়-ধানচাষির এই দুঃখ পুরোনো হয়ে গেছে। এবার তাঁরা এত বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন যে কেউ কেউ পাকা ধানের খেতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশজুড়ে বেশ শোরগোল হয়েছে। কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার সরকারি উদ্যোগ কৃষকের ক্ষোভ-দুঃখ কমাতে পারছে না, কারণ এ উদ্যোগের মধ্যে বিরাট কারসাজি রয়ে গেছে বলে তাঁরা মনে করছেন। জেলা-উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দুর্নীতির উদ্দেশ্যে হয়রানির অভিযোগ বিস্তর। ভোট দিতে না পারার দুঃখ আগেও ছিল, কিন্তু এবারের সাধারণ নির্বাচনে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে-এই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অনেক মানুষ। কেউ কেউ বললেন, এ রকম খারাপ নির্বাচন তাঁরা আগে কখনো দেখেননি। জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রথম মনোনীত প্রার্থী ফজলুর রহমানের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন অবৈধ ঘোষণা করেছিল একদম শেষ মুহূর্তে। তাদের বক্তব্য ছিল, ফজলুর রহমান উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেননি বলে তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। নির্বাচন কমিশন যখন ফজলুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে, তখন আর বিএনপির বিকল্প দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ছিল না। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থীই ছিল না। যেসব মানুষের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই আমাকে বলেছেন, এটাকে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কারসাজি বলে মনে করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্দেশে এই কারসাজি করেছে। কারণ, তাদের জানা ছিল, জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকলে, তা যদি একটা কলাগাছও হয়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয় কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। একজন বললেন, জয়পুরহাট জেলার দুটি সংসদীয় আসনে যে কটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন, তার প্রতিটিতেই তাঁরা জয়ী হয়েছেন। শুধু এবারই ব্যতিক্রম ঘটেছে: জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই দেওয়া হয়নি; আর জয়পুরহাট-২ আসনে তাদের প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে ব্যাপক জালিয়াতি ও জবরদস্তির মাধ্যমে। লোকজনের ভোট দিতে না পারার দুঃখের কথাটা গল্পচ্ছলে বললাম জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বসে, ১৩ জুন সন্ধ্যার একটু পরে। শুনে বয়স্ক একজন বললেন, 'হাঁ, ভোট দিতে পারলে তো কামই সারা হয়ে গেছিল!' তাঁর কথার সুরটা বেশ স্পষ্টই ছিল, তবু বললাম, 'আপনি কী বোঝাতে চাইছেন?' তিনি অনেকক্ষণ ধরে যা বললেন, তার সারসংক্ষেপ হলো, লোকজন ঠিকমতো নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে বাংলাদেশের সর্বনাশ হয়ে যেত, দেশ আবার রাজাকার-আলবদর-খুনি-যুদ্ধাপরাধীদের খপ্পরে পড়ে যেত। আমি বললাম, এ ধরনের বক্তব্য আওয়ামী লীগ ও তার সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের মুখে অনেক শোনা গেছে; কিন্তু জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে কি না? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া গেল না। পাশ থেকে এক যুবক বললেন, 'আমরা স্বীকার করি, জয়পুরহাটে বিএনপিই সবচেয়ে বড় দল। কিন্তু দলটা খুবই খারাপ।' তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কথার ভিত্তি কী; কী বাস্তব কারণে তিনি বলছেন যে বিএনপি খুব খারাপ দল। উত্তরে তিনি বললেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় দলটি অনানুষ্ঠানিকভাবে আলেয়া বেগম নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন করেছিল, যাঁর কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই, সামাজিক মানমর্যাদা নেই, যিনি অত্যন্ত 'খারাপ'। এ প্রসঙ্গে কথাবার্তার একপর্যায়ে বলা হলো, ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে গোপনে সমর্থন দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী এবং দলটির লোকজন গোপনে সংগঠিতভাবে তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের পাশাপাশি বিএনপির সমর্থক ভোটারদের একটা বড় অংশও তাঁকে ভোট দিয়েছেন। অন্যত্র শুনেছি, 'মাত্র এক ঘণ্টা ভোট দেওয়ার সুযোগ' পেয়ে ৮৩ হাজার ভোটার তাঁকে ভোট দিয়েছেন। আমি জানতে চাইলাম, জয়পুরহাটে কি এখন জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মকাণ্ড আছে? উত্তরে সেই বয়স্ক ভদ্রলোক বললেন, জামায়াতে ইসলামী আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি হয়ে গেছে। গোপনে তারা খুব সংগঠিত। তিনি আমার মুখের দিকে চেয়ে বললেন, 'এখনই ডাক দেক, আসো রে, জড়ো হও, আর কোনো অসুবিধা নাই, তাহলে দুই ঘণ্টার মধ্যে মাঠ ভরে যাবে।' জামায়াতের কিছু লোক নাকি আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে গেছে?-আমার এই কৌতূহলের উত্তরে তিনি বললেন, 'ঢুকে থাকতে পারে, কিছুই বলা যায় না।' পাশ থেকে সেই যুবক বললেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে সন্ত্রাসী ছিল, এমন কিছু লোক এখন আওয়ামী লীগের নেতাদের ঘনিষ্ঠ। 'হাইব্রিড আওয়ামী লীগার' কথাটাও সেখানে শুনতে পেলাম; জয়পুরহাটের আওয়ামী লীগে এখন এই হাইব্রিড আওয়ামী লীগারদের কদর ও দাপট খুব বেশি-এ কথা বললেন একাধিক জন। তঁারা মাদকদ্রব্যের কারবারসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, পুলিশ তাঁদের ধরলে আওয়ামী লীগের নেতারা, এমনকি কেন্দ্রীয় পর্যায়েরও প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করেন। জয়পুরহাটে মাদক সেবন ও মাদকের কারবার ব্যাপক; ১০ জুন জয়পুরহাট থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল হকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ওই থানায় সর্বাধিকসংখ্যক মামলা হয় মাদকের কারবারের অভিযোগে। সেদিন আওয়ামী লীগের অফিসে গল্পগুজবের শেষ প্রসঙ্গ ছিল তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ দল বিএনপি। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, জয়পুরহাটে বিএনপির অবস্থা কী। উত্তরে শুনতে পেলাম, বিএনপির কিছু করার নেই। বলা হলো, দলটা বড়, এটা ঠিক, কিন্তু এখন তাদের বড়ত্ব অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ যত দিন পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে, বিএনপি তত দিন অপ্রাসঙ্গিকই থেকে যাবে। আর আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে হবে দেশ-জাতির প্রতি নৈতিক দায়িত্বের কারণে। দায়িত্বটা হলো দেশকে স্বাধীনতাবিরোধীদের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়া। জয়পুরহাট শহরের মধ্যখানে রেললাইনের পুব পাশে জেলা আওয়ামী লীগের অফিস থেকে জেলা বিএনপির অফিসে হেঁটে যেতে মিনিট তিনেক লাগল। রেললাইনের পশ্চিম পাশেই একটা উত্তর-দক্ষিণ চিকন গলির ধারে টিন-ছাওয়া একটা ঘরে বিএনপি ও ছাত্রদলের অফিস। সেখানে গিয়ে লোকজনের ভিড় দেখে একটু অবাক হলাম; কারণ কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতার বাইরে ছিটকে পড়লে নেতা-কর্মীদের কাছে তার আকর্ষণ কমে যায় বলে আমার ধারণা। নগদ প্রাপ্তির আশা এবার কত দিনের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে কেউ জানে না, তবু কেন ও কিসের আশায় মধুশূন্য মৌচাক ঘিরে এত ভিড়! কুশল বিনিময়ের সুরে বললাম, কেমন চলছে আপনাদের? উত্তর এল, 'শুধু অফিসটাই খুলতে পারি, আর কিছুই করতে পারি না।' জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্য নেতা-কর্মীরা বললেন, পুলিশ তাঁদের কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেয় না। জমায়েত করতে চাইলে অফিসের দরজার সামনেই করতে হয়, টুল বা চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করতে হয়; পুলিশ চারপাশে ঘিরে রাখে। তারা আগেই শাসিয়ে যায়, জমায়েত গলি ছাড়িয়ে গেলেই ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। নেতাদের মধ্যে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন, যাঁর বিরুদ্ধে মামলা নেই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোনো ইস্যু, কর্মসূচি না থাকলে আপনারা দলের কর্মীদের ধরে রাখবেন কীভাবে? কত দিন এভাবে ধরে রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন? উত্তরে সাধারণ সম্পাদক নাফিজুর রহমান বললেন, তাঁরা কয়েক মাস ধরে দলের বিভিন্ন কমিটি সংগঠিত করার কাজে ব্যস্ত আছেন; এই কাজ আরও কয়েক মাস চলবে। ঈদুল আজহার পরে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করার পরিকল্পনা আছে। আমি বললাম, কর্মসূচি ঘোষণা করা এক কথা, আর তা বাস্তবায়ন করা আরেক কথা। যেসব তীব্র বাধাবিপত্তির কথা আপনারা বললেন, সেগুলো অতিক্রম করে কীভাবে কর্মসূচি পালন করবেন। এ প্রশ্নের উত্তর অনির্দিষ্ট: 'দেখা যাক'। লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নিয়মিত স্কাইপে কথোপকথন হয়, তিনি নানা নির্দেশনা ও পরামর্শ দেন-এ কথা বললেন দুজন নেতা। নির্দেশনা ও পরামর্শগুলো কী ধরনের, তা অবশ্য তাঁরা বললেন না। তবে আলাপের শেষ পর্যায়ে বেশ জোর দিয়ে বললেন, জয়পুরহাটের বিএনপির নেতা-কর্মীরা মোটেই হতাশায় ভুগছেন না, কারণ জনগণ তাঁদের সঙ্গে আছে, সরকারের সঙ্গে নেই। তাঁদের ভাষায় 'চরম স্বৈরতান্ত্রিক' সরকারের সর্বাত্মক দমন-পীড়নের মুখেও পার্টির অফিস খোলা আছে, এখানে নেতা-কর্মীরা আসছেন-আপাতত এটাও কম কথা নয়। মশিউল আলম প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক []
8
বিএনপির প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র শুরু করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমান বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। বুধবার সন্ধ্যায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত সিলেট-০৩ উপ-নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে একজন জেনারেল রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন। সেই জেনারেল হলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর এই দিনে তিনি সামরিক বাহিনীর প্রধান হয়েও সকল নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সে দলটি হচ্ছে বাংলাদেশ নেশনালিস্ট পর্টি- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তিনি আরো বলেন, সেই দলটি তিনি শুরু করেছিলেন কাকে নিয়ে? ইয়াহিয়া খানের নির্বাচন কমিশনার যিনি ছিলেন আবদুস সাত্তারকে নিয়ে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের অন্যতম শাহ আজিজকে নিয়ে। সেই দিন থেকে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশকে একটি পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র। মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে বলে এসময় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, নির্বাচন রাষ্ট্র সমাজ কখনো রাজনীতির বাইরে না। আমি নির্বাচনে বিএনপির কথা বলতে আসি নাই কারন এখানে তো বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। আমি এখানে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে কিছু বলতে আসি নাই। এ সময় তিনি নৌকার প্রার্থী হাবিবুর রহমানকে ৪ সেপ্টেম্বর নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, সিলেট-৩ আসনে সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান। এরপরে এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। এই আসনে ভোটারসংখ্যা মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ জন। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব ছাড়াও এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক এবং বিএনপি নেতা শফি আহমেদ চৌধুরী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে যাচ্ছেন। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সিলেট তিন আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মোট ১১ বার জাতীয় নির্বাচন হওয়া এই আসনে আওয়ামী লীগ চারবার, বিএনপি তিনবার এবং জাতীয় পার্টি তিনবার জয় পেয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলীর সভাপতিত্বে আবুল বাছিত টুটুলের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নাছির উদ্দীন খান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী।
6
এ মাসেই মুক্তি পেয়ে রাজ-পরী দম্পতি অভিনীত সিনেমা "গুণিন"। এবার চলচ্চিত্রটি আসতে যাচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও। আগামী (বৃহস্পতিবার) ২৪ মার্চ রাত ৮টায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম "চরকি"-তে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। "গুণিন" ছবির পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন। গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, "যেমনটা প্রথম থেকে বলা হয়েছিল সিনেমা হলের পর চরকিতে মুক্তি পাবে 'গুণিন', তেমনটাই হচ্ছে। আর পুরো পরিকল্পনাটা করেছে এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানই।" প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ দেশের ২০টি সিনেমা হলে মুক্তি পায় "গুণিন"। এ চলচ্চিত্রের প্রযোজনায় রয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম "চরকি"। "গুণিন" ছবির গল্প হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নেওয়া। এর গল্প গ্রামীণ ওঝা রজব আলী গুণিনকে নিয়ে। তার আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ছিল। এর জোরে গ্রামে তার বিশাল প্রভাব! তার তিন নাতি রহম, আলী ও রমিজ। গুণিনের রহস্যজনক মৃত্যুর পরবর্তী পরিস্থিতিতে তার দুই নাতি তথা আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও ত্রিভুজ প্রেমের গল্পই এই চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য। প্রধান দুই চরিত্র রমিজ ও রাবেয়ার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ ও পরীমণি। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম। এছাড়া, দিলারা জামান, ইরেশ যাকের, মোস্তফা মন্ওয়ার, শিল্পী সরকার অপু, ঝুনা চৌধুরীসহ আরও অনেকেই রয়েছেন এ সিনেমায়।
2
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্লাহকে থাপ্পড়সহ লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সেই পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহের বিরুদ্ধে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মেহের উল্লাহ যে অভিযোগ করেছেন তা শিষ্টাচার বহির্ভূত, অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপশাসনের সামিল এবং স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ৩২ (১) (ঘ) ধারা মোতাবেক অপসারণযোগ্য অপরাধ।
6
লেখক-অ্যাকটিভিস্ট ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সিপিবির, অবিলম্বে মুক্তি দাবি জানিয়ে সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, তাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সরকার প্রতিবাদী জনতাকে ভয়ের বার্তা দিতে চাচ্ছে। ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের সাবেক নেতা লেখক-অ্যাকটিভিস্ট ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেফতারের ঘটনায় সিপিবি'র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে একথা বলেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। বিবৃতিতে সিপিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, ইমতিয়াজ মাহমুদ একজন সমাজসচেতন প্রতিবাদী লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট। তিনি তাঁর লেখনীর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার, নারীমুক্তি ও জাতিসত্তার মুক্তি, বাক্ স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের পক্ষে আপসহীনভাবে লড়াই করে চলেছেন। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ভীতির রাজত্ব কায়েমের মধ্য দিয়ে স্বৈরতন্ত্র টিকে থাকে। ইমতিয়াজ মাহমুদসহ যারা সামাজিক পরিম-লে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে জননন্দিত, তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। এভাবে সরকার ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে চাইছে। নেতৃবৃন্দ ইমতিয়াজ মাহমুদের মুক্তির পাশাপাশি স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য এবং ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
9
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা,ফেনী-২ আসনেরসাবেক সাংসদ জয়নাল আবেদীন ভিপি অভিযোগ করেছেন, ঈদে তিনি যাতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করতে না পারেন সেজন্য তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন একদল যুবলীগ নেতাকর্মী। তার অভিযোগ, ঈদের দিন বিকেল থেকে যুবলীগ কর্মীরা ফলেশ্বর গ্রামে তার বাড়ির পাশে অবস্থান নেন। তার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসা বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর, গাড়ি ভাঙচুর এবং টাকা-পয়সা ও মোবাইল লুট করা হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীকে মারধর করা হয় বলে তারা দেখেছেন। জয়নাল জানান, ঈদের দিন বিকেল থেকে ৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানপুরের মো. ফারুকের নেতৃত্বে একদল যুবলীগ নেতাকর্মী তার বাড়ির আশপাশে মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে টহল দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ফলেশ্বর জামে মসজিদের সামনে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর নবী মেম্বারের উপর হামলা করা হয়। রাত সাড়ে ৭টায় দিকে কাজিরবাগের রুহিতিয়ার জুলহাস, মিনারসহ অনেক নেতাকর্মীকে ফলেশ্বর রাস্তার মাথায় সন্ত্রাসীরা হামলা করে আহত করে। পরে সন্ত্রাসীরা তাদের ফেনী থানায় নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। ভিপি জয়নালের অভিযোগ, পুলিশ সুপার ও ওসিকে টেলিফোনে জানিয়ে এর কোনো প্রতিকার পাননি। এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তাররা বিএনপি নেতাকর্মী কি-না জানা নেই। ভিপি জয়নাল টেলিফোনে তার কর্মীদের উপর হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি কোনো মামলা করেননি। রফিকুল ইসলামের মোবাইলে কল করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমদ জানান, ভিপি জয়নালের বাড়িতে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নয়।
6
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গণপিটুনীতে এক গরু চোর নিহত হয়েছে। রোববার ভোরে উপজেলার দেউলাবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘাটাইল থানার ওসি মাকসুদুল আলম জানান, রোববার ভোররাতে একদল চোর ঘাটাইলের দেউলাবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হানা দেয়। গোয়াল ঘর থেকে চোরেরা গরু নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির লোকজন টের পেয়ে ডাক-চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় গ্রামবাসী চোরদের ধাওয়া দিয়ে এক চোরকে আটক করে গণপিটুনী দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পুলিশ সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
6
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, একটি হাসি গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। তারা আজ মানুষ মরলে হাসে। তাদের কাছে মানুষের কোনো মূল্য নেই। আজ শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সমালোচনা করে এরশাদ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কোমলমতি শিশুরা রাজনীতি বোঝে না। তারা বাঁচতে চায়। তারপরও তাদের ওপর ছাত্রলীগ যেভাবে হামলা করল, তা দুঃখজনক। এরশাদ বলেন, 'পরিবহন শ্রমিকদের কাছে আজ আমরা জিম্মি। বাস চলুক আর না চলুক সরকারকে অনুরোধ করব, তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। আইন সবাইকে মানতে হবে।' এরশাদ আরও বলেন, 'রাজনীতিবিদদের এখন কোনো সম্মান নেই। সে জন্য নিজেকে সৈনিক পরিচয় দিই। বর্তমান সংসদে ১৫৪ জন এমপি বিনা ভোটে নির্বাচিত। তাঁদের রাজনীতিবিদ বলিই বা কী করে।' আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অংশীদার জাপার চেয়ারম্যান বলেন, 'সামনে নির্বাচন। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। গত কয়েক বছর অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছি। আর হতে চাই না। ভেবেচিন্তেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেব।' বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, 'এক-এগারোর আগে তারেক আমার বাসায় এসে আমাকে হাওয়া ভবনে যেতে বললেন। বললেন, "আপনি আমাদের সঙ্গে জোট করবেন, আপনাকে ১৮টি আসন দেওয়া হবে। না হলে আপনাকে দেশ ছাড়তে হবে।" আমি ওর পিতৃসমতুল্য, সে আমার সঙ্গে এ ভাষায় কথা বলতে পারে, ভাবতেও অবাক লাগে। তারপর আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু কী পেলাম? তারা আমার প্রতি অবিচার করল। দল ভাঙল, আমাকে জেলে নিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য করল।' এরশাদ দাবি করেন, তাঁর মতো নির্যাতিত রাজনীতিবিদ আর দেখেননি। তিনি বলেন, '১৪ বছর ৯ মাস পর মঞ্জুর হত্যা মামলা করা হলো আমার বিরুদ্ধে। জিয়া হত্যার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত মঞ্জুর। অথচ তারা জিয়া হত্যার বিচার চায় না। যখনই মঞ্জুর হত্যার রায় ঘোষণার সময় হয়, তখনই জজ পরিবর্তন করা হয়। এ পর্যন্ত সাতজন জজ পরিবর্তন করা হয়েছে।' আইনজীবী ফেডারেশনের সভাপতি শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জাপা কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, আওয়ামী লীগের নেতা ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার প্রমুখ।
9
স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে নোয়াখালীর বিভিন্ন হাট-বাজারে বসছে পশুর হাট। এসব পশুরহাটে চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য মাইকিং ও মোবাইল টিম মাঠে কাজ করছে। তবে এক শ্রেণির মুনাফাভোগী ইজারাদার মানছেন না সরকারি বিধিনিষেধ। করোনার পরিস্থিতিতে ভারতীয় গরু না আসায় এবার দেশীয় গরুর প্রতি চাহিদা বাড়ছে ক্রেতাদের। গতবারের তুলনায় দামও চড়া। তবে বিক্রেতারা বেশি দামের আশায় এখনো গরু ধরে রাখছেন। তবে অনলাইনে বেচাকেনা তেমন জমে উঠেনি। সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই পশুর হাটে। সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই বাজার পরিচালনা করছেন ইজারাদাররা। আটকপালিয়া বাজারে গরু কিনতে আসা আলাউদ্দিন বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক সময়ের মতোই চলছে। কেউ তো সামাজিক দূরত্ব মানছে না। এমনকি মুখে মাস্কও ব্যবহার করছে না। ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের কিছুু বলছে না। গরু বিক্রেতা করমুল্যা বাজারের রফিকউল্যা বলেন, কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার সীমান্তবর্তী গরুর হাট, দত্তের হাট ওবাংলা বাজারে প্রচুর গরু বেচাকেনা হয়। হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার জন্যই মঙ্গল। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরুর হাটগুলো বসছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও মোবাইল কোর্ট মাঠে থাকবে। কেউ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করলে জরিমানা করা হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে গ্যাসভিত্তিক ৭১৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপ। রোববার ঢাকায় বিদ্যুৎ ভবনে প্রকল্প বাস্তবায়নে রিলায়েন্স এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্য এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, একসময় সমালোচনা করা হতো বড় প্রকল্প কেন নেওয়া হচ্ছে না। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে ছোট ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হয়েছে। এখন কিন্তু বড় বড় প্রকল্পের চুক্তি করা হচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। রামপাল থারমাল পাওয়ার প্ল্যান্ট তারই একটি সফলতার প্রতীক। আমি মনে করি, মেঘনাঘাটে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও সফলতার আরেকটি প্রতীক হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ খুবই আকর্ষণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রিলায়েন্সকে দেখে অন্যরাও বড় বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু হেনা রহমাতুল মুনিম, পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, রিলায়েন্স গ্রুপের হেড অব বিজনেস সমীর কুমার গুপ্তা প্রমুখ।
6
অর্ধসহস্রাধিক অতিথির ভূরিভোজ আর দিনভর উৎসবের মধ্যে দিয়ে ফরিদপুরে বট ও পাকুড় গাছের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর বাজারে এই বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হয়।জানা গেছে, গত বুধবার সকালে থেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সন্ধ্যায় শুভলগ্নে শুরু হয় বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা। মন্ত্র পড়ে বটকে "বর" ও পাকুড়কে "কনে" ধরে বিয়ে সম্পন্ন করেন পুরোহিত শ্যামল কুমার দাস।হিন্দু শাস্ত্র ও স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী, বটগাছ ও পাকুড়গাছ একসঙ্গে থাকলে বিয়ে দিতে হয়। সে জন্যই একসঙ্গে বেড়ে ওঠা বট ও পাকুড় গাছের বিয়ের আয়োজন করে দয়ারামপুর বাজার কমিটি। এ উপলক্ষে নানা রকম বাতি দিয়ে পুরো বাজার সাজানো হয়।বট-পাকুড় গাছের চারপাশ বুধবার সকালেই গোবর-মাটি দিয়ে লেপে আলতার আঁচড় দিয়ে সাজানো হয়। বর-কনের পাশে সাজানো হয় ছাদনাতলা।বিয়ের হলুদ কোটা, পুকুর থেকে জল আনা, বর ও কনের বাবাকে দিয়ে করা হয় বিদ্ধি অনুষ্ঠান। নারীরা পুকুরে গিয়ে গঙ্গাপূজা সেরে আসেন। জল দিয়ে ভরে আনেন ঘট। ছাদনাতলায় মঙ্গলঘট বসিয়ে শুরু হয় বিয়ের নিবেদন।বিকেল থেকেই বিয়ে দেখতে উৎসুক জনতার আগমন ঘটে। খাবারের পদে ছিল পোলাও, সবজি, ডাল, ফুলকপির তরকারি, চাটনি ও মিষ্টি। বিকেল ৫টায় বরের বাড়ি থেকে নারী-পুরুষ আসেন বরযাত্রী হয়ে। গেটে মিষ্টিমুখ করিয়ে তাঁদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। বাদ্যযন্ত্রের তালে নেচে ওঠেন সব বয়সী মানুষ। বর-কনের চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকেন অতিথিরা।বটগাছের বাবা হয়ে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন অম্বিকাপুর ইউনিয়নের শোভারামপুর গ্রামের ব্যবসায়ী অধির ব্যনার্জী। পাকুড় গাছের বাবা ছিলেন একই গ্রামের ব্যবসায়ী অরুণ সাহা। তাঁরা দুজনই বাবার দায়িত্ব পালন করতে পেরে বেশ খুশি। তাঁরা জানান, এই বট-পাকুড় গাছের বিয়ের মধ্য দিয়ে তাঁদের মধ্যেও আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, এই সম্পর্ক অটুট থাকবে।বিয়ে দেখতে আসা আরতি রানী সাহা বলেন, এই ধরনের বিয়ের কথা তিনি শুনেছেন। কিন্তু কখনো দেখেননি। তাই অনেক আগ্রহ নিয়ে এই বিয়ে দেখতে এসেছেন। বট ও পাকুড়ের এই বিয়েতে কোনো মঙ্গল হবে কি না জানেন না, তবে ধর্মমতে দেওয়া এই বিয়েতে থাকতে পেরে তিনি খুশি।দয়ারাম বাজার কমিটির ও বিয়ে আয়োজক কমিটির সদস্য সংকর মালো বলেন, 'সনাতন ধর্মমতে বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হলে গ্রামবাসীর মঙ্গল হয়। পবিত্র গীতাতেও বট-পাকুড়ের বিয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই আমাদের শ্মশানের ভেতরে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।'অম্বিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ চৌধুরী বারি বলেন, এই আয়োজন গোটা ইউনিয়ন বাসিকে আনন্দিত করেছে।
6
নিউইয়র্কের এক পাতাল রেল স্টেশনে গোলাগুলিতে অন্তত ১৩ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, নিউইয়র্কের সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে থার্টি-সিক্সথ স্ট্রিটের সানসেট পার্ক স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছু যাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। পুলিশ জানাচ্ছে, স্টেশনের ভেতরে কিছু অবিস্ফোরিত বোমাও পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় পাতাল রেল ব্যবস্থার অন্তত চারটি লাইনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। জরুরি সেবা কর্মীরা ১৩ ব্যক্তির আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীকে এখনো পলাতক রয়েছে। নিউইয়র্কের ফায়ার সার্ভিস বিবিসিকে জানিয়েছে, তার প্রথমে খবর পান যে স্টেশনের ভেতর থকে কালো ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার দেখতে পান বেশ কিছু মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছে। সূত্র : বিবিসি
3
'বাহুবলী' খ্যাত তারকা প্রভাসের নতুন ছবি 'রাধে শ্যাম' মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি মুক্তির প্রথম দিনে ৪৮ কোটি রুপি আয় করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। ছবিতে জ্যোতিষির চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রভাস। এতে তার নায়িকা হিসেবে আছেন পূজা হেগড়ে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাধা কৃষ্ণ কুমার। তেলেগু, হিন্দি, তামিল ও মালায়লাম ভাষাতে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে ভাগশ্রী, শচীন খেদকার ও মুরালি শর্মাকে। মুক্তির প্রথম দিনে সর্বাধিক আয়কারী সেরা ১০টি ভারতীয় ছবির ৪টিই এখন প্রভাসের। তালিকার শীর্ষে রয়েছে তার 'বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন', এরপরেই আছে 'সাহো'। ১০ নম্বরে আছে 'বাহুবলী: দ্য বিগিনিং'। ৭ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে 'রাধে শ্যাম'। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
বরিশালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা। মামলাটি আদালত গ্রহণ করে আদেশের জন্য আগামী ৩ জানুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল কাদের।মামলার এজাহারে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন মোছাদ্দের আলী জায়গীরদারকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কটূক্তি করেন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
6
ঈশ্বরদীর পার্শ্ববর্তী হযরতপুর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহীন আলমের (৪২) শরীরে বাসা বেঁধেছে কঠিন ব্যাধি।শাহীন লক্ষ্মীপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল মাস্টারের ছেলে। পাঁচ বছর আগে লিভার জন্ডিসে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর থেকে ক্রমেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে তার লিভারের ৭৫ ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। এক মাস ধরে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান সরকার কাজলের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন শাহীন। দু-এক দিনের মধ্যে তাকে ভারতের ভেলুর সিএমসি হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে লিভার প্রতিস্থাপন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তাকে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অনেকে লিভার দান করতে রাজিও হয়েছেন। এখন ভেলুরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লিভার প্রতিস্থাপন করার প্রস্তুতি চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শাহীনের লিভার প্রতিস্থাপন করতে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। তবে তার মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পক্ষে বিশাল এই ব্যয় বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এরই মধ্যে শাহীনের সহায়-সম্বল বিক্রি করে এবং পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সহযোগিতায় মাত্র ১৫ লাখ টাকার সংকুলান হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র একমাত্র সন্তানকে নিয়ে শাহীনের স্ত্রী রাশিদা আক্তার সাথী এই অবস্থায় চরম দুর্ভাবনায় পড়েছেন। বাকি প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যবস্থা না হলে শাহীনকে বাঁচানোর আশা নেই। এই অবস্থায় শাহীনকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের প্রতি অর্থ সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- মো. ফুরকান আলী মুন্সি, সঞ্চয়ী হিসাব নং-০২০০০১৫০১১৪২৭, অগ্রণী ব্যাংক লি. গোপালপুর শাখা। প্রয়োজনে ০১৭৬১৮৫৭৬৮৩ নম্বর মোবাইলে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
6
রাজধানীর বনানীতে চীনের নাগরিক গাওজিয়ান হুই হত্যাকাণ্ডে দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আব্দুর রউফ (২৬) ও এনামুল হক (২৭)।মঙ্গলবার রাতে গুলশান এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বনানী এ-ব্লকের ২৩ নম্বর সড়কের ৮২ নম্বর বাসার ছয়তলায় ৬/বি ফ্ল্যাটে থাকতেন পাথর ব্যবসায়ী গাওজিয়ান। গত বুধবার বাসার পেছনের ফাঁকা স্থানে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই রাতে তার ঘনিষ্ঠজন ঝাং শু হং বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, গাওজিয়ানের ফ্ল্যাট থেকে নগদ অর্থ ও মালপত্র লুট করতে তাকে টার্গেট করা হয়। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত কেউ কেউ তার পূর্বপরিচিত ছিল। তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা জানান, চীনের ওই নাগরিক ধনাঢ্য ঠিকাদার ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে গাওজিয়ান পদ্মা সেতু প্রকল্পে পাথর সরবরাহ করে আসছিলেন। এছাড়া পায়রাবন্দর নির্মাণকাজে পাথর সরবরাহ করতেন তিনি।
6
সড়ক দুর্ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবরিনা আক্তার মিতু কয়েকদিন আগে নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার এক শোক সভায় তাঁর পরিবারকে আইনি ও আর্থিকভাবে যেকোনো সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক। বেলা সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের আয়োজনে এক শোক সভায় তিনি এ কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, আমরা সাবরিনাকে এখন আর পাব না। তবে তাঁর হত্যার যেন সুষ্ঠু বিচার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি সেলের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। এ ছাড়া যেহেতু তাঁর পরিবার অসচ্ছল। সে পড়াশোনা শেষ করে কিছু না কিছু করত, আমরা তো সেই পর্যায়ে কিছু করতে পারব না। তবে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্থিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি সাহায্যের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরাও চাই সাবরিনা হত্যার বিচার হোক। আমাদের হল না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাইরে থেকে এক ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে আসতে হয়। নতুন ক্যাম্পাস হয়ে গেলে আর এ আতঙ্ক থাকবে না। আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মিতুর পরিবারের যেকোনো সহযোগিতায় পাশে থাকব।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর বলেন, মেয়েটি গ্রামে যাওয়ার তিন দিন আগেও দেখা করে যায়। মেয়েটি খুবই হাসিখুশি থাকত। আমি আসলে তাকে ভুলতে পারছি না। সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িতরা আইনের আওতায় আসছে না। তাদের বিচার হওয়া দরকার। আমি কখনো এমন শোক সভায় দাঁড়াতে চাই না। মেয়েটির পরিবার খুবই দরিদ্র। তাঁর পরিবারের পাশে আমাদের দাঁড়ানো উচিত।এ সময় শোকসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. অরুণ কুমার গোস্বামী, প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমানসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এ দাবি করেন। তিনি বলেন, 'সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগের সভাপতি আমাদের এক বোনের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। সে এর আগেও ছাত্রীদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি এবং তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকরের দাবি জানাই।' কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের এক ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। রাতভর চলে উত্তেজনা। ছাত্রী নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কবি সুফিয়া কামাল হলের সামনে এসে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ ছাড়া ছাত্রী হল থেকে সাধারণ ছাত্রীরা বের হয়ে এসে বিক্ষোভ করেন। তারা ইফফাত জাহান এশাকে বহিষ্কারের দাবিতে স্লোগান দেন। এমন উত্তেজক পরিস্থিতিতে হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়ছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।
6
স্বপ্ন দেখতে কে না ভালোবাসে। স্বপ্ন মানুষকে বাঁচতে শেখায়; এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। অনেকের জীবনের গতিপথই বদলে দেয় স্বপ্ন। স্বপ্নের পেছনে ধাওয়া করে কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক, কেউ শিল্পী হয়ে ওঠে। নাহিদ আক্তার স্বাতী হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্তা। ব্যবসায়িক উদ্যোগ দিয়ে তিনি নিজের গল্পই বলতে চেয়েছেন।স্বাতী স্বপ্ন দেখতেন তাঁর নিজস্ব একটা পরিচয় থাকবে, যা দিয়ে সবাই তাঁকে চিনবে। স্বাতীর এ স্বপ্নই তাঁকে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা দিয়েছে। ছোটবেলা থেকে দাদি-নানির গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন স্বাতী। গল্পের সঙ্গে বাস করতে করতে একদিন চিন্তা করলেন নিজের একটা গল্প থাকা দরকার। সেই মোতাবেক শুরু হলো গল্পের সন্ধান।সময়টা ছিল করোনাকাল। পুরো পৃথিবী থমকে ছিল। মানুষের হাতে ছিল অফুরন্ত সময়। নিজের অস্থিরতা দূর করতে স্বাতী ২০২০ সালের জুন মাসে অনলাইনে শুরু করেন ব্যবসার কাজ। নিজের অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের নাম দেন 'গল্পের শুরু'। স্বাতীর ভাষ্যে, 'আমার ইচ্ছা নিজের একটা গল্প থাকবে বলার মতো। যে গল্পে আমাকে সবাই চিনবে। তাই 'গল্পের শুরু' নাম দিয়ে শুরু করলাম কাজ। এটা অনলাইনভিত্তিক দেশীয় পোশাক এবং খাদ্যসামগ্রীর প্রতিষ্ঠান হলেও আমি এটাকে আমার জীবনের গল্পের অংশ বলে মনে করি। তাই এই নাম।'নাহিদ আক্তার স্বাতী মাস্টার্স শেষ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সঙ্গে কাজ করতেন। আর সে থেকে কিছু একটা করার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নই তাঁকে নিয়ে যায় 'গল্পের শুরু'-এর কাছে।স্বাতী মায়ের দেওয়া ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন 'গল্পের শুরু'। এখন এই প্রতিষ্ঠান থেকে মাস শেষে আয় হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে পরিবারের সহযোগিতা পেয়েছেন কি-না জানতে চাইলে স্বাতী বলেন, 'আমার পরিবারের সহযোগিতায় আমি এত দূর এসেছি। পরিবারের সার্বিক সহযোগিতা না পেলে হয়তো এত দূর আসতে পারতাম না। পরিবারের পাশাপাশি পরিচিত বন্ধুরাও উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁদের সকলের নাম আমার হৃদয়ের মণিকোঠায় শ্রদ্ধাভরে খচিত থাকবে।' নাহিদ আক্তার স্বাতীর 'গল্পের শুরু' প্রতিষ্ঠানে গাওয়া ঘি, মিক্সড বাদাম ও শীতের মৌসুমে খেজুরের রসের ঝোলাগুড় এবং পাটালি গুড় পাওয়া যায়। এখানকার প্রাকৃতিক চাকের মধু সংগ্রহ করা হয় সুন্দরবনের বিশ্বস্ত মৌয়ালের কাছ থেকে। আর চা-পাতা, ক্লোন-টি, গ্রিন-টি সংগ্রহ করা হয় একজন বিশ্বস্ত লোকের কাছ থেকে। খাবারের পাশাপাশি এখানে পোশাক, শাড়িও বিক্রি করা হয়। এখানকার জামদানি, মণিপুরী, ব্লক-বাটিক এবং টাঙ্গাইল পোশাকগুলো সংগ্রহ করা হয় তাঁতিদের কাছ থেকে। স্বাতীর মতে, এভাবে সংগ্রহ করা হয় বলেই 'গল্পের শুরু'-এর পণ্যের গুণগত মান নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। উদ্যোক্তা জীবনের প্রত্যকের নিজস্ব একটা ছন্দ থাকে। সে ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে এগিয়ে নেওয়াটাই হলো জীবন। অনেক ঝড়-ঝাপটা সামলিয়ে উদ্যোক্তা জীবন কেমন লাগছে জানতে চাইলে স্বাতী বলেন, 'কেমন লাগছে, সেটা এক বাক্যে প্রকাশের মতো না। মিশ্র একটা অনুভূতি। অনেক ভালো লাগে, যখন নিজের কাজ সম্পর্কে ভালো কোনো কথা শুনি। কখনো কাজের চাপে হাঁপিয়ে উঠি, হতাশা চলে আসে। তার পর আবার একটা ভালো খবর শুনে উৎফুল্ল হয়ে উঠি। এই তো, এভাবেই কেটে যাচ্ছে উদ্যোক্তা জীবনের দিনগুলি।' উদ্যোক্তা জীবন মানেই ভালো-মন্দের সঙ্গে মানিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলা। সমাজে ঠিকে থাকতে হলে একজন নারী উদ্যোক্তাকে সামাজিকভাবে বহু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সময়ে-অসময়ে অনলাইনে বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়। অনেকের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার জীবন মোটেও সুখকর বিষয় হয় না। প্রতিনিয়ত লড়াই করে ব্যবসার কাজকে টিকিয়ে রাখতে হয়। স্বাতীর কাছে উদ্যোক্তা জীবনে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন কি-না জানতে চাইলে বলেন, 'একজন নারী উদ্যোক্তার লড়াইয়ের গল্প বলতে গেলে আসলে ঠিকঠাক বলা যায় না। কারণ, কেবল লড়াইয়ের সময়গুলোতে সমস্যার মুখোমুখি হলে অনুভূতিগুলো অনুভব করা যায়। আমার সামাজিক অবস্থান থেকে তাঁতি, চাষি ভাইদের সঙ্গে কাজ করা কতটুকু মানানসই, মেয়েদের খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করা চাট্টিখানি কথা না, চাকরি আছে তো আবার ব্যবসার উদ্যোগ নেওয়া কি বাড়াবাড়ি হয়ে যায় না, আমি বেশি দূর আগাতে পারব না, মজুত করা পোশাকগুলো বিক্রি করা যাবে কিনা-এ রকম অসংখ্য কথা শুনতে হয়। কখনো কখনো হাসিমুখে উড়িয়ে দিয়েছি এসব কথা। আবার অনেক সময় খারাপ লাগত কারও কারও বলার ভঙ্গিতে। মন খারাপ হতো, আবার কাটিয়ে উঠতাম। "গল্পের শুরু" পেজ থেকে বিক্রি বেশি হওয়ায় এখন অন্যদের হিংসাত্মক আক্রমণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সবকিছুর পরও নিজের স্বপ্নটাকে হারিয়ে ফেলিনি। "গল্পের শুরু"-কে এখন পর্যন্ত শক্ত হাতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হইনি। ছোটখাটো যেসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল, সেসব কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।' গল্পের শুরুর ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বিষয়ে স্বাতী বলেন, 'আমি সব সময় চিন্তা করি আমি সৎ পথে থাকব। মানুষের জন্য কাজ করব। আমি এখন ইউনিসেফের একটি প্রজেক্টে কর্মরত। আগামী ১০ এপ্রিল আমার প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রজেক্ট শেষ হলে আমি বেকার হয়ে যাব। কিন্তু আমি মোটেও হতাশ না। আমি "গল্পের শুরু" নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আমি আমার স্বপ্নের হাত ধরে বহু দূর হেঁটে যেতে চাই।'
0
টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামীকাল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তিনি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন-রেডিও এবং অনলাইনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্প্রচার করা হবে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
বিয়েতে শুধু দাওয়াত পর্যন্ত সীমা বাঁধা থাকে না। অনেক আগে থেকে চলে বিয়ের পূর্বপ্রস্তুতি। বিশেষ করে বর-কনের। এই দিনটাতে সুন্দর করে উপস্থাপন করা চাই দুজনকেই। কনেকে প্রস্তুত হতে হয় বেশ আগে থেকেই। প্রথমেই আসা যাক বিয়ের ও বউভাতের শাড়ির ব্যাপারে।বাঙালি নারীর সৌন্দর্য আর ব্যক্তিত্ব শাড়িতেই সবচেয়ে ভালো ফুটে ওঠে। অনেক আগে বউয়ের শাড়ি মানেই ছিল লাল টুকটুকে বেনারসি বা মিরপুরের কাতান। মাঝখানে আকাশ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় অনেকেই ঝুঁকেছিলেন বিদেশি শাড়ির দিকে। কিন্তু অধুনা দেশি শাড়ি ফিরে আসছে স্বমহিমায়।উজ্জ্বল বাহারি রং আর কারুকাজের শাড়ির সমারোহ বিয়েতে অন্য রকম মাধুর্য নিয়ে আসে। বিয়ের পর্বটা শেষ হলেই চলে আসে বউভাত। বউভাতে শাড়ি সাজে এমন স্নিগ্ধতা থাকা চাই, যেন নবপরিণীতা বধূর চেহারায় ফুটে ওঠে প্রসন্ন ও মনোমুগ্ধকর আবেদন। বিয়েতে যেমন একসঙ্গে অনেক বেশি গয়না পরলেই জমকালো লাগে, এদিনে লুক হয় ঠিক তার উল্টো। বিয়েবিয়ে বললেই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল রং। বিয়েতে তাই বেছে নিন লাল শাড়ি। একেবারেই লাল পরতে না চাইলে আছে মেরুন, জাম, গাঢ় নীল, বেগুনি বা গোলাপি। বিয়ের দিন বেছে নিন সবচেয়ে জমকালো শাড়িটি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে ঐতিহ্যবাহী শাড়িটি বেছে নিন। উপাদান হতে পারে জামদানি, বেনারসি, কাতান, টিস্যু বা মসলিন। পেটানো জরিতে মিনা করা, সিকোয়েন্সের ভারী কাজ, এমব্রয়ডারি, মুক্তা বা কুন্দনের কাজ করা শাড়ি বেছে নিতে পারেন। বউভাতবউভাতে বেছে নিন ফ্যাশনেবল, ট্রেন্ডি হালকা কাজ ও রঙের শাড়ি। রং হতে পারে সোনালি, পেঁয়াজি, সফট পিংক, পিচ এমকি সাদাও। অনেকেই সাদা পরছেন বউভাতে, এমকি বিয়েতেও। বউভাতে ভালো লাগবে সিফন, মসলিন আর হালকা কাজের জামদানি। সঙ্গে বেছে নিন বিপরীত রঙের ওড়না। সাদার শুভ্রতা আপনাকে অনন্য করে তুলবে।আড়ংয়ের ডিজাইনাররা জানান, বিয়ে-বউভাতের শাড়ি হিসেবে জামদানি কাতান পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে। সাধারণত বিয়েতে লাল মেরুন ম্যাজেন্টা পরলেও বউভাতে অনেকে রং নিয়ে একটু গবেষণা করতে পছন্দ করেন, তাই অনেকেই বেছে নেন সাদা, গোলাপি, পিচ ও সোনালি। এ ছাড়া আড়ং শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের ওপরও কাজ করে। একটা ধ্রুপদি ধাঁচ ধরে রাখে। যেমন সিল্ক, কাতান, ভেলভেটের ব্লাউজগড়নওধরনবুঝেশাড়ি আপনার গায়ের রং শ্যামলা বা চাপা হলে একটু গাঢ় রঙের শাড়ি বেছে নিন। যেমন ব্লাড রেড, গাঢ় নীল বা গোলাপি। পেঁয়াজ বা বেগুনি রঙের শাড়ি মানিয়ে যাবে সবাইকে। যদি উচ্চতা কম হয়, তাহলে বেছে নিন সরু পাড় বা পাড় ছাড়া শাড়ি। উচ্চতা ভালো হলে চওড়া পাড়ের শাড়ি পরুন। আপনার গড়ন হালকা শুকনো হলে ভারী শাড়ি বেছে নিন। শাড়িটি হতে পারে টিস্যু বা মসলিনের আর ভারী কাজের। ভারী গড়নের হলে বেছে নিন সফট ম্যাটেরিয়ালের গাঢ় রঙের শাড়ি। যেমন শিফন বা জর্জেট।বউ ভাতেরসাজগয়নাবউভাত অনুষ্ঠানের গয়না হোক আরেকটু ছিমছাম এবং হালকা-পাতলা। যেহেতু বিয়ের দিন সোনার গয়না পরা হয়, সেহেতু বউভাতের দিন মুক্তার গয়না পরতে পারেন। দেখতে ভালো লাগবে। আর এতে বিয়ে ও বউভাতের সাজেও ভিন্নতা থাকবে। যদি মুক্তার গয়না পরেন তাহলে কোনো ধরনের সোনা না পরলেই ভালো মানাবে। এ ছাড়া চাইলে রুপার গয়নাও পরতে পারেন। তবে কেউ চাইলে বিয়ের দিনও মুক্তার গয়না পরতে পারেন। বউয়েরসাজওচুলপারসোনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কানিজ আলমাস খান বলেন, আজকাল কনেরা শাড়ি, গয়না ও সাজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চান। লাল লিপস্টিক পরেন ঠোঁটে, আবার উজ্জ্বল কমলা, বাদামি ও হালকা শেডের রংও দিয়ে থাকেন।বিয়েতে শাড়ির রং থেকে শুরু করে মেকআপ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে উজ্জ্বল, গাঢ় রঙের ব্যবহারই বেশি করা হয়। ইদানীং আবার লাল কাতান শাড়ির চল ফিরে এসেছে। বিয়েতে ওড়না পরাতে হয় বলে চুলে খোঁপা করাই ভালো। বিয়েতে কনের বেজ মেকআপ বেশ গাঢ় হয়। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে সোনালি আর গাঢ় বাদামি আইশ্যাডো, লাল ব্লাশন আর গাঢ় লাল লিপস্টিক দেওয়া হয়। গাঢ় মেকআপের মধ্যেও উজ্জ্বলতা আনার জন্য সোনালি রঙের শিমার দেওয়া হয় লাইন আর ব্লাশনের ওপর। হাতে মেহেদি ও শাড়ির সঙ্গে রং মিলিয়ে হ্যান্ডপেইন্ট করতে পারেন। বিয়েতে খোঁপা, পার্শ্বসিঁথি ও খানিকটা কোঁকড়া করে চুলটাকে নানা কায়দায় বাঁধতে পারেন। এ সময়ে বেলি ফুলের সমাহার হয়। বেণি করে বা পুরো খোঁপায় বেলি ফুল ব্যবহার করতে পারেন। লাল বা সাদা শাড়ি পরলে হাতেও পেঁচিয়ে নিতে পারেন বেলি ফুল। বউভাতের সাজে মেকআপটা যেন বেশি গাঢ় না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখা জরুরি। এই দিনে অনেকে চুল বাঁধতে চান না। তাঁরা চাইলে নানা ঢঙে চুল সাজাতে পারেন। চুলের নিচের দিকটা কোঁকড়া করে ছেড়ে দিতে পারেন। টিকলি পরলে সিঁথির আশপাশে চুল স্বাভাবিক রাখলে ভালো দেখাবে। এই সাজের সঙ্গে অবশ্যই নথ পরতে হবে। ঠোঁটে উজ্জ্বল রঙের কমলা লিপস্টিক দিতে পারেন।চুলগুলো অল্প খোলা রেখে কোঁকড়া করতে পারেন। অথবা আয়রন করে ছেড়ে রাখা যেতে পারে। চাইলে ষাটের দশকের আদলে খোঁপা করতে চুলে গুঁজে দিতে পারেন কিছু তাজা ফুল।শাড়ির রং হালকা হলে সাজটাও হালকা করতে পারেন কিংবা কোনো একটা অংশ হাইলাইট করে এক নিমেষেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেন। বেজ মেকআপটা ভারী করে ফিনিশিং পাউডার দিয়ে মেকআপ সেট করে নিন। চোখে সোনালি বা ডিপ ব্রাউন রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। টেনে আইলাইনার লাগান। বড় ল্যাশের আইল্যাশ লাগিয়ে গাঢ় করে মাশকারা লাগান। শাড়ির রং হালকা হলে গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। আর খোঁপা এই সাজের সঙ্গে ভালো মানাবে।দরদামফ্যাশন হাউস আড়ংয়ে রয়েছে এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের জামদানি শাড়ি। বেনারসি শাড়ি ১০০০০-২৫০০০ টাকা, কাতান ১০০০০-৩৫০০০ টাকাজামদানি ৫০০০-২৫০০০ টাকা। বউভাতের শাড়ির সঙ্গে ওড়না কেউ চাইলে করিয়েও নিতে পারেন। ওড়নার দাম ৫০০ থেকে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত।
4
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে যদি ব্যালটের মাধ্যমে আশার প্রতিফলন ঘটে এতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। নির্বাচন কমিশনকে আমরা অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে অনেকগুলো অভিযোগ করেছিলাম। সে অভিযোগের কোনো ব্যাবস্থা নেয়া হয় নি বরং সে সকল ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। তৈমূর বলেন, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হোটেলগুলো চেক করলেই দেখতে পারবেন বিভিন্ন জেলার সরকার দলীয় নেতারা এখানে অবস্থান করছে। সার্কিট হাউজ, ডাক বাংলাকে নির্বাচনের কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে। আইনানুসারে সরকারি কোনো গাড়ি, কোনো ডাকবাংলো ব্যবহার করার নিয়ম নেই। এটা আচরণবিধি লঙ্ঘন। এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই আমাদের সরকারি দলের মেহমানরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক তার কিছু সঙ্গী নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পলিশ সুপারের সঙ্গে আলাপ করেছেন। তিনি অবশ্য বলেছেন, তিনি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে যাননি। কিন্তু তার বক্তব্য ও দেখা করতে যাওয়ার সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। প্রথমত তিনি নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিকও না। এটা আইনগনভাবে আমি অন্যায় মনে করি। তিনি জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন। এটা একজন উচ্চ পর্যায়ের সম্মানিত নেতার কাছ থেকে আমরা আশা করি না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনগণ সন্দিহান হয়ে পড়েছে। আমি বাংলাদেশের যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সেই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই নারায়ণগঞ্জের মানুষ প্রত্যাশা করে আপনি এ দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক হয়ে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন, স্বচ্ছ এবং সুন্দরভাবে করার জন্য ব্যবস্থা নিবেন।
6
বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনদ্বীপ চ্যানেলে এক জালে প্রায় ১৫ মণ ওজনের ১২০টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের মালিকানাধীন এফবি রহমান নামের ট্রলারে এই মাছগুলো ধরা পড়ে। একেকটি মাছের ওজন সাড়ে চার থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত। ফিশিং ট্রলারের মালিক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ট্রলারটি গত বুধবার দুপুরে শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মোহাম্মদ আলী মাঝির নেতৃত্বে নয় মাঝিমাল্লা ছিলেন ট্রলারটিতে। মৌলভীর শীল এলাকায় সেন্টমার্টিন চ্যানেলে ট্রলারটি নোঙর করে জেলেরা জাল ফেলেন। দুপুরে জাল টানা শুরু করেন তারা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে জাল টেনে উঠিয়ে তারা ১২০টি লাল কোরাল পান। পরে মাছগুলো ফিশারিজ ঘাটে নিয়ে এলে ২০ হাজার টাকা মণ দরে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। তিনি আরও বলেন, লাল কোরালগুলো স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ লালু তিন লাখ টাকায় কিনেছেন। তবে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হয়ে থাকে ৫০০-৬০০ টাকায়। এখন মাছগুলো বরফ দিয়ে প্যাকেট করে উপযুক্ত দাম পাওয়ার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হবে। একসঙ্গে এতগুলো বড় মাছ পেয়ে আনন্দিত ফিশিং ট্রলারের মোহাম্মদ আলী মাঝি বলেন, পাঁচজন জেলে জাল তুলতে গিয়ে তা অনেক ভারী বুঝতে পারেন। পরে ট্রলারে থাকা নয় জেলের সবাই মিলে জাল টেনে তোলেন। এরপর হিসাব করে দেখা যায়, ১২০টি লাল কোরাল এবং আরও ২৫-৩০ কেজি অন্য প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। প্রতিটি লাল কোরাল মাছের ওজন সাড়ে চার থেকে ছয় কেজি, একত্রে ওজন প্রায় ১৫ মণ। অন্য প্রজাতির মাছগুলো ট্রলারের মালিক ও জেলেরা ভাগ করে নিলেও লাল কোরালগুলো বিক্রি করা হয়। শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আয়ুব বলেন, লাল কোরাল গভীর সমুদ্রের মাছ বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্য জেলেরাও লাল কোরাল মাছ ধরতে সেন্টমার্টিন চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই এলাকায় কয়েকদিন ধরে ভালোই মাছ ধরা পড়ছে। এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সুস্বাদু কোরাল মাছের কদর দেশব্যাপী। কোরাল সব সময় হাটবাজারে পাওয়া যায় না। এ জন্য এই মাছের দাম কিছুটা বেশি। এ মাছ সাধারণত এক থেকে নয় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তিনি আরও আরও বলেন, এই মাছ উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল, বিশেষত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যায়। এছাড়া এশিয়ার উত্তরাঞ্চল, কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্ব আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলেও এগুলো পাওয়া যায়। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
মাদাগাস্কারের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে একটি জাহাজডুবির স্থান পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দেশটির পুলিশবিষয়ক মন্ত্রী সার্জ গেল। কিন্তু তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়।১২ ঘণ্টা সাঁতার কেটে তীরে এসে জীবন বাঁচিয়েছেন এ মন্ত্রী। গত সোমবার রাতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা দেখতে গিয়ে পরদিন মঙ্গলবার ফেরার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরেকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।স্ট্রেচারে শুয়ে পুলিশবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, 'এখনই আমার মৃত্যুর সময় নয়।' এর আগে গত সোমবার উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে জাহাজডুবির ঘটনায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৬৪ জন মারা গেছেন, নিখোঁজ ২০। এটি ছিল একটি মালবাহী জাহাজ, যাত্রী নেওয়ার অনুমতি ছিল না। ৪৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।এ ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েনিলা টুইটারে শোক প্রকাশ করেন এবং মন্ত্রীর বীরত্বের প্রশংসা করেন। তবে হেলিকপ্টারের পাইলট এবং সেনাবাহিনীর আরেক অফিসারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
6
বিরোধী দলের সাংসদেরা তাঁকে ব্যবসায়ী বলেই বেশি সম্বোধন করেন বলে অভিযোগ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, 'আমি ব্যবসায়ী বলে আমার অপরাধ।'আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বাণিজ্য সংগঠন বিল-২০২২ উত্থাপন করলে বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এই কথা বলেন তিনি।এর আগে জনমত যাচাইয়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে গণফোরামের সাংসদ মোকাব্বির খান বলেন, 'বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের শীর্ষস্থানীয় সফল ব্যবসায়ী। মন্ত্রী হিসেবে তিনি কতটুকু সফল সেটা বলতে না পারলেও, বাজারে গেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সেটি ভালোভাবে জানা যাবে।'মোকাব্বির খান বলেন, 'বর্তমান সরকার দাবি করে তারা ব্যবসাবান্ধব। যে সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী একজন ব্যবসায়ী, সেই সরকার জনবান্ধব নয়, ব্যবসাবান্ধব হওয়াই স্বাভাবিক।'পরে এই কথার জবাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, 'আমি বরাবরই লক্ষ করি একটা ব্যাপার কোনো কোনো সদস্য আমার মন্ত্রণালয়ের কোনো কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলেন যে বাণিজ্যমন্ত্রী নিজে ব্যবসায়ী সেহেতু সেই দিকটাকেই বেশি করে দেখানো হয়।'টিপু মুনশি বলেন, 'দুর্ভাগ্য আমার, আমি কেন যে ব্যবসায়ী হলাম। আমাকে বারবার এ কথাটাই শুনতে হয়। এ দুঃখ যাবে না, তার কারণ সেই '৬৯ সাল থেকে শুরু করেছি ছাত্ররাজনীতি। '৬৬ সালে ঢুকেছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছি বাবাসহ একসঙ্গে। খুব বেশি লোক পাবেন না। আজকে যেখানে দাঁড়িয়ে এই বক্তৃতা দিচ্ছি '৭৩ সালে এই এলাকার ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট আমি। দুর্ভাগ্য তা-ও ব্যবসায়ী।''কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার, উকিল যখন পার্লামেন্ট মেম্বার হয়, ডাক্তার যখন হয় তাকে কেউ বলে না যে উকিল কেন আসছে? কিন্তু আমি ব্যবসায়ী বলে আমার অপরাধ।'
6
জিম্বাবুয়ের কোচ লালচাঁদ রাজপুত বলছেন, টানা হারের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। একমাত্র টেস্টে চাপে থাকবে তারাই। স্বাগতিক হিসেবে জয়ের ধারায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা রয়েছে টাইগারদের। এটিই তাদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে। বুধবার বিকেএসপিতে দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জিম্বাবুয়ের সবশেষ সফরের কথা স্মরণ করিয়ে দেন রাজপুত। ২০১৮ সালে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসে তারা। প্রথম ম্যাচ জিতে এগিয়ে যায় হ্যামিল্টন মাসাকাদজার দল। সেই সফর থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজছেন তিনি। এবারও জয়ের কথাই ভাবছেন জিম্বাবুইয়ান কোচ। তিনি বলেন, আমরা আগে এখানে জিতেছি। এটি আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক। আবার কেন পারব না? এ ধরনের মানসিকতা রয়েছে ছেলেদের। এখন আমাদের নেতিবাচক হওয়া যাবে না। আসন্ন গেম নিয়ে ভাবতে হবে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
12
রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ করিমের গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তাকে ধরার জন্য অনুসন্ধান চলছে। র্যাব এবং পুলিশ উভয়ই খুঁজছে। আমরা মনে করি, খুব শিগগিরই আমরা তথ্য দিতে পারব। যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে সাহেদকে ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানী ধানমন্ডির বাসভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। গত ৭ জুলাই উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে র্যাবের অভিযানের সময় সাহেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তা জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, আমি ফোন দিয়ে তার হাসপাতালে রোগী ভর্তি করি, সেই সুবাধে আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হাসপাতাল সিল করে দিচ্ছে। আমি বলেছি, আপনি নিশ্চয়ই কোনো অন্যায় কাজ করেছেন, এজন্য সিল করছে। বিনা কারণে তো সিল করে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে বলল, আমি তাহলে কী করব? আমি বললাম, হয় আপনি ফেইস করেন, নতুবা কোর্টে গিয়ে আপনার যদি কিছু বলার থাকে কোর্টে যান। এইটুকুই আমি বলেছি। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) তার সংসদ সদস্যকে ছাড় দেননি, তার দলীয় নেতাদেরকেও তিনি ছাড় দিচ্ছেন না। যার (শাহেদ) কথা বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয়, তাকে ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না। সে যতই ক্ষমতাবান হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
6
শুরুতেই বলতে হয়, মোবাইল ফোন যোগাযোগব্যবস্থাকে সহজ করেছে। এর ব্যবহারের ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তুলছে। বিশ্বে বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। নানা দামের মোবাইল ফোন পাওয়া যায় বাজারে। দামি ফোনের পাশাপাশি রয়েছে কম দামি মোবাইল ফোনও। ২০২২ সালে, বাজারে মোবাইল ফোনের বেশ কিছু ব্র্যান্ডের কম দামি ভালো ফোন পাওয়া যাচ্ছে।বাংলাদেশের জনপ্রিয় ১৫টি মোবাইল ফোন ব্র্যান্ডের নামবাংলাদেশের বাজারে বিশ্বে জনপ্রিয় প্রায় সব মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে দেশীয় কিছু ব্র্যান্ডও। এর মধ্যে যে ব্র্যান্ডগুলো দেশের বাজারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে-১. আইফোন২. হুয়াওয়ে৩. গুগল পিক্সেল৪. ওয়ান প্লাস৫. শাওমি৬. অপো৭. স্যামসাং৮. টেকনো৯. ভিভো১০. রিয়েলমি১১. ইনফিনিক্স১২. নকিয়া১৩. মটোরোলা১৪. সিম্ফোনি১৫. ওয়ালটন১০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মোবাইলসাধ্যের মধ্যে ভালো মোবাইল কার না পছন্দের। আর মোবাইল ফোনটি যদি হয় ১০ হাজার টাকায়, তখন কেনার আগ্রহ থাকে ব্যাপক। কিন্তু এই দামে সব সুবিধা কি পাওয়া যাবে? এই প্রশ্নটি অনেকের। যেমন ভালো গেমিং করা, ওয়েব ব্রাউজিং, ভালো কানেকটিভিটি, ভালো ইন্টারনেট সার্ভিস, ভালো ক্যামেরা। প্রতিটি ব্র্যান্ডেই কিছু ভালো এবং কিছু খারাপ দিক থাকবে।দেখা যাক ১০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো কী কী মোবাইল ফোন পাওয়া যায়- ১. স্যামসাং গ্যালাক্সি এ০৩ কোর৬ ডিসেম্বর ২০২১ সাল, স্যামসাং আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফোনটি বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে আসে। এই ডিভাইসে ইউনিসক (২৮ এনএম) চিপসেট এবং শক্তিশালী অক্টাকোর প্রসেসর রয়েছে। তা ছাড়া এতে ২ জিবি র্যাম ও ৩২ জিবি স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে। অল্পের মধ্যে ভালো ফোন হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয়।স্যামসাং গ্যালাক্সি এ০৩ কোর-এর সুবিধা:ডুয়েল সিম সাপোর্ট করে৬.৫ ইঞ্চির ডিসপ্লে রয়েছেঅ্যান্ড্রয়েড ১১ ব্যবহার করা হয়েছে৫০০০ এমএইচ শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছেস্যামসাং গ্যালাক্সি এ০৩ কোর-এর অসুবিধা:এতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নেইহেভি ব্যবহারের জন্য এটি অনুপযোগীতা ছাড়া, সামনে ৫ মেগাপিক্সেল এবং পেছনে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। পেছনের ক্যামেরাটির মাধ্যমে ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং এবং এলইডি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করে ছবি তুলতে পারবেন। সামনে ৫ মেগাপিক্সেল সেলফি তুলতে পারবেন।মূল্য: ৯,০০০-১০,০০০ টাকা(বাজারের ওপর নির্ভর করে মোবাইল ফোনের দাম ওঠানামা করতে পারে) ২. স্যামসাং গ্যালাক্সি এম ০২স্যামসাংয়ের এম ০২ মডেলটি চারটি কালার ভেরিয়েন্ট-ব্ল্যাক, গ্রে, ব্লু ও রেড দিয়ে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি টু-জি, থ্রি-জি, ও ফোর-জি সাপোর্ট করে। এতে দুটো ন্যানো সিম ব্যবহার করা যাবে। এর ওজন ২০৬ গ্রাম এবং প্লাস্টিক বডি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫ ইঞ্চি এবং রেজল্যুশন ৭২০ ১৬০০ পিক্সেল এইচডি প্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। সামনে ৫ মেগাপিক্সেল এবং পেছনে দুটো ক্যামেরা রয়েছে, যার মধ্যে একটি ১৩, আরেকটি ২ মেগাপিক্সেলের।স্যামসাং গ্যালাক্সি এম ০২ এর সুবিধা:অ্যান্ড্রয়েড ১০ রয়েছেদাম হিসাবে ক্যামেরা বেশ ভালো২ জিবি ও ৩ জিবি র্যাম (দুটো ভেরিয়েন্টে পাবেন)স্টোরেজ হিসেবে ৩২ জিবি থাকছে৫০০০ এমএএইচ বড় ব্যাটারি, তাই চার্জ ভালো থাকবেস্যামসাং গ্যালাক্সি এম ০২-এর অসুবিধা:এই ডিভাইসটিতে স্যামসাং ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দেয়নিপারফরম্যান্স কম পাওয়া যাবেনরমাল ব্যবহারের জন্য মোবাইলটি এককথায় অসাধারণ। কিন্তু যারা হেভি ইউজার, তাদের জন্য এই মোবাইল উপযুক্ত নয়। এই ডিভাইস দেখতেও বেশ সুন্দর এবং ব্যবহার করা সহজ। এই বাজেটে ভালো ফোনের মধ্যে এটি একটি।মূল্য: ৮,০০০-৯,০০০ টাকা (২ জিবি র্যাম ও/ ৩২ জিবি স্টোরেজ)মূল্য: ১০,০০০ টাকা (৩ জিবি র্যাম/৩২ জিবি স্টোরেজ)(বাজারের ওপর নির্ভর করে মোবাইল ফোনের দাম ওঠানামা করতে পারে)৩. শাওমি রেডমি ৯ এফুল এইচডি ভিডিওসহ ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাসহ বাজারে এসেছে শাওমি রেডমি ৯ এ। ব্যাটারি দ্রুত চার্জ হতে ১০ ওয়াটের চার্জার ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোন অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড ১০ দিয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মিডিয়াটেক জি২৫ চিপসেট এতে ব্যবহার করা হয়েছে। অক্টাকোর ২.০ গিগাহার্জ প্রসেসর আর সাউন্ড সিস্টেমে ৩.৫ এমএম জ্যাক রয়েছে। কম দামে শাওমি এই মডেলের ফোনটি মোবাইল বাজারে বেশ জনপ্রিয়। শাওমি রেডমি ৯এ সুবিধাফোনটির ডিজাইন বেশ সুন্দর। এর ব্যাক সাইডে ম্যাট আবরণ আছে।৬.৫৩ এইচডি প্লাস ডিসপ্লে রয়েছে৫০০০ এমএএইচ পাওয়ারফুল ব্যাটারি রয়েছেএটি ভালো পারফর্ম করে। কারণ, মিডিয়াটেক হেলিও জি২৫ চিপসেট রয়েছে।শাওমি রেডমি ৯এ অসুবিধাশাওমি এই মোবাইলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ব্যবহার করেনি২ জিবি র্যাম থাকায় পারফরম্যান্সের কিছুটা ঘাটতি আছেশাওমির এই ডিভাইসটি কম দামে ভালো মোবাইল ফোন হিসেবে পরিচিত। এই মডেলের জনপ্রিয়তা ১০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে খুবই ভালো। তা ছাড়া, ডিভাইসটি সব বয়সের মানুষ ব্যবহার করতে পারে।মূল্য: ৮,৮০০ টাকা(বাজারের ওপর নির্ভর করে মোবাইল ফোনের দাম ওঠানামা করতে পারে) ৪. রিয়েলমি সি১১বর্তমানে মোবাইল ফোন বিক্রির মধ্যে রিয়েলমি শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছে। ২০২১ সালের ২৮ জুন বাজারে আসে মডেলটি। নীল ও ধূসর-এ দুই চমৎকার রঙের সেটটি যে কাউকে আকৃষ্ট করবে। নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি টু-জি, থ্রি-জি ও ফোর-জি সাপোর্টেড। মোবাইল ফোনটির ওজন মাত্র ১৯০ গ্রাম। ডিসপ্লে রেজল্যুশন হিসেবে এতে আছে ৭২০ ১৬০০ পিক্সেল এবং (২৬৯ পিপিআই)। তা ছাড়া, ভিডিও রেকর্ডিং ফুল এইচডি (১০৮০ পিক্সেল) করা যায়।রিয়েলমি সি১১ সুবিধাফোনটিতে রয়েছে ৬.৫২ এইচডি প্লাস ডিসপ্লেপেছনে ৮ মেগাপিক্সেল ও সামনে ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা৫০০০ এমএইচ ব্যাটারির্যাম ২ ও ৪ এবং স্টোরেজ ৩২ ও ৬৪ জিবির দুটি স্টোরেজ ভার্সন রয়েছেঅ্যান্ড্রয়েড ১১ ভার্সনরিয়েলমি সি১১ অসুবিধাপারফরম্যান্সের দিকে পিছিয়েডিসপ্লে প্রোটেকশন নেইরিয়েলমি সি১১ মোবাইল ফোনটি ছোট-বড় সবাই ব্যবহার করতে পারবে। কারণ, এই ফোনের ডিসপ্লে প্রতিদিনের সাধারণ কাজের জন্য বেশ উপযোগী। এর সঙ্গে যুক্ত স্টোরেজটি কম দামি ভালো মোবাইল ফোন হিসেবে বেশ ভালো।মূল্য: ৯০৯০ টাকা (২/৩২ জিবি)মূল্য: ১১,০৯০ টাকা (৪/৬৪ জিবি)(বাজারের ওপর নির্ভর করে মোবাইল ফোনের দাম ওঠানামা করতে পারে) ৫. সিম্ফোনি জেট ৩৫দুর্দান্ত ফিচার নিয়ে সিম্ফোনি জেট ৩৫ বাজারে আসে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে। সিম্ফোনি মোবাইল ফোনের জনপ্রিয়তা বাংলাদেশে ব্যাপক। কারণ, কম দামে ভালো ফিচার দেওয়া এই ফোন ব্যবহারকারীদের আকর্ষণের শীর্ষে। এই বাজেটেই ৬০০০ এমএইচ ব্যাটারি, ১০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার, পেছনে তিনটি ক্যামেরা (১৩ +২ + ০.০৮ মেগাপিক্সেল), সামনে ক্যামেরা (৮ মেগাপিক্সেল), ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং (১০৮০ পিক্সেল), চিপসেট হেলিওজি ৩৫ ও প্রসেসর (অক্টা-কোর ২.৩ গিগাহার্জ) রয়েছে।সিম্ফোনি জেট ৩৫ সুবিধাএই দামে বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেয়অ্যান্ড্রয়েড ১১ দিয়ে বাজারে এসেছেচার্জিং ব্যাকআপ বেশ ভালো থাকের্যাম ৩ ও ৪ এবং স্টোরেজ ৩২ ও ৬৪ জিবির দুটি ভেরিয়েন্টে বাজারে পাওয়া যাচ্ছেচিপসেটটি মাত্র (১২ ন্যানোমিটার)ডিসপ্লে সাইজ ৬.৮২ ইঞ্চি এবং ওজন ২০৮ গ্রামফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর আছেসিম্ফোনি জেট ৩৫ অসুবিধাডিসপ্লে প্রোটেকশন নেইইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট নেইপ্লাস্টিক বডিমূল্য: ৯,৯০০ টাকা, (৩/৩২ জিবি)মূল্য: ১০,৯৯০ টাকা, (৪/৬৪ জিবি)(বাজারের ওপর নির্ভর করে মোবাইল ফোনের দাম ওঠানামা করতে পারে)কম দামি ভালো মোবাইল ফোন বিবেচনায় সিম্ফোনি জেট ৩৫ বেশ জনপ্রিয়। সিম্ফোনি সব সময় চেষ্টা করে অল্পের মধ্যে ভালো কনফিগারেশন-সংবলিত একটি মোবাইল ফোন বাজারে আনতে। এই মডেলটিও এর ব্যতিক্রম নয়।বাজারে মডেল ও ব্র্যান্ড বেশি থাকায় একজন ব্যবহারকারী কোন ব্র্যান্ড কিনবেন, সে বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। কমবেশি সব ব্র্যান্ডের মোবাইল ভালো, কিন্তু দামের বিবেচনায় পারফরম্যান্স ভিন্ন। তাই দাম বেশি হলে পারফরম্যান্সটাও ভালো থাকে। তবে, কম দামি ভালো মোবাইল ফোন বাজারে আছে এবং তার সঙ্গে সুবিধা-অসুবিধাও রয়েছে। তা ছাড়া, পারফরম্যান্সের বিষয়টি নির্ভর করে একজন ব্যবহারকারীর চাহিদার ওপর। প্রতিদিনের সাধারণ কাজ, সঙ্গে ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ চাইলে ওপরে উল্লিখিত ফোনগুলো বেশ ভালো কাজ করতে পারে। তাই দেরি না করে আজই কিনে ফেলুন আপনার শখের মোবাইল ফোনটি।মোবাইল ফোন সম্পর্কিত পড়ুন:দেশের বাজারে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২১এফইফোনের কভারে বৈচিত্র্যবাজেটের মধ্যে সেরা ফোনদেশের বাজারে আইফোন ১৩, চলছে প্রি-অর্ডারমোবাইলের ব্যাটারির যত্ন নেবেন যেভাবে
11
দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের জ্ঞান ফিরেছে। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। আজ শুক্রবার ন্যাশনাল ইন্সটিউট অব নিউরোসাইন্স বিভাগের নিউরোট্রমা বিভাগের প্রধান ডা. জাহিদ হাসান সাংবাদিকদের জানান, ওয়াহিদা খানমের সিটি স্ক্যান ফলাফল খুব ভালো, এক্সিলেন্ট, অপারেশন সাকসেসফুল, তবে এখনও শঙ্কামুক্ত নন তিনি। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে মাথায় অস্ত্রোপচারের পর থেকে ঢাকার নিউরো সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে ৭২ ঘন্টার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এ কর্মকর্তা। জ্ঞান ফেরার পর তিনি কথা বলেন তার স্বামীর সঙ্গে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক আছে। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স হাসপাতালের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম গণমাধ্যমের বলেন, ইউএনও ওয়াহিদার মাথায় অস্ত্রোপচার শেষে রাতেই অপারেশন থিয়েটার থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রাতেই তার জ্ঞান ফিরে আসে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
শ্রীলংকার বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট নিরসনে বিক্ষোভকারীদের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। বৃহস্পতিবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। অর্থনৈতিক সঙ্কটকে কেন্দ্র করে শ্রীলংকার বিক্ষোভকারীরা দেশটির বর্তমান সরকারের পতন চাইছে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী শ্রীলংকার বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোর রাস্তা দখল করে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও তার বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগ চাইছেন। অপরদিকে বিরোধী দলগুলো শ্রীলংকার পার্লামেন্টে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করতে চাইছে। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট নিরসনের বিষয়ে বিক্ষোভকারীদের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। বুধবার শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কলম্বোর গালে ফেস গ্রিন পার্কে বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনা করতে প্রস্তুত শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে আরো বলা হয়েছে, যদি বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে শ্রীলংকার বর্তমান সঙ্কট নিয়ে কোনো প্রস্তাব পেশ করতে চান তবে তাদের প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য ডাকা হবে। উল্লেখ্য, ২ কোটি ২০ লাখ জনগণের দেশ শ্রীলংকা একটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর শ্রীলংকা এমন অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়নি। বৈদেশিক মুদ্রা স্বল্পতার কারণে অর্থাৎ ফরেন রিজার্ভ না থাকায় শ্রীলংকার পক্ষে ওষুধ ও জ্বালানি আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। সূত্র : আল-জাজিরা
3
এ বছরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী শমিতা শেঠি। যদিও শমিতা বা তার পরিবারের কেউ এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি, তারপরও বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে বলিউডের বাতাসে। ভারতের বেঙ্গালুরুর জ্যোতিষী পণ্ডিত জগন্নাথ গুরুর মাধ্যমেই এই বিয়ের গুঞ্জন জোরালো হয়ে উঠেছে। ক'দিন আগে এ জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, শিগগিরই অভিনেতা রাকেশ বাপটের সঙ্গে সাত পাঁকে বাধা পড়তে যাচ্ছেন শমিতা। অনেক বাধা অতিক্রম করেই তাদের বিয়ে সফল হবে। তার মুখে এ কথা শোনার পর দুই-দুইয়ে চার মিলিয়ে নিতেও দেরি করেননি বলিউড বাসিন্দারা। কারণ, এর আগে রিয়েলিটি শো 'বিগ বস'-এর ১৫তম সিজনে অংশ নিয়েছিলেন শমিতা ও রাকেশ। সেখান থেকেই তাদের প্রেমের খবর রটে। এমনকি এই তারকা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এমন খবরও প্রকাশ করেছিল ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। এবার একই খবর প্রকাশ করেছে জ্যোতিষীর বরাত দিয়ে। এদিকে রাকেশ ও শমিতা নিয়মিত যাতায়াত করছেন দু'জনের বাসায়। তাই দেখার অপেক্ষা- জ্যোতিষীর কথা আদৌ সত্যি হয় কিনা।
2
রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, উদ্ভাবন ছাড়া কোনো জাতি এগোতে পারে না। আমাদের ঘরে ঘরে কন্যারত্ন তৈরি করতে হবে। শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের কন্যারত্নদের আত্মরক্ষার কৌশল ও ক্ষমতায়নের জন্য ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি। জেলার বোদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার পাঁচ উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে এই প্রশিক্ষণে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বের পঞ্চম সুপার হিউম্যান সিদ্ধাচার্য ইউরী ব্রজমুণি। প্রত্যেক উপজেলায় শতাধিক কন্যারত্ন এই প্রশিক্ষণ নেবেন। আমাদের কন্যারত্ন আমাদের অ্যাম্বাসেডর, সুস্থ কিশোরী নিরাপদ আগামী-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে পরে তাদের মাঝে আত্মউন্নয়ন ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টির জন্য ইন্টারনেট জুমের মাধ্যমে নানা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নারীদের ক্ষমতায়ন ও আত্মরক্ষার কৌশল শেখার জন্য ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান, বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুখ আলম টবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী, পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান সূজা, বুত্থ্যান ব্যবহারিক প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন শাহানাজ জাহান (অব.) প্রমুখ। সত্যপণ রিয়ন্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বুত্থান অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় ১০ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
9
অক্সিজেনের শহর বানানোর কাজে হাত দিয়েছে সিঙ্গাপুর। ৭০০ হেক্টর জমির উপর গড়ে তোলা হচ্ছে শহরটিকে। শহরটিতে থাকবে ৫টি বিভাগ, থাকবে ৪২ হাজারবাড়ি। পরিবেশ দূষণ এড়াতে শহরের রাস্তায় থাকবে না কোনো যানবাহন। ঘুরে-বেড়ানো যাবে শুধু পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে। গাড়ির জন্য নেওয়া হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। মাটির নিচের টানেল দিয়ে চলবে গাড়ি। গোটা 'ফরেস্ট টাউন' প্রকল্পটির আরেকটি নাম হল 'প্রজেক্ট তেনগা'। খবর আনন্দবাজারের শহরটি গড়ে উঠছে সিঙ্গাপুরের পশ্চিমে। ওই অঞ্চলে রয়েছে তেনগা বনভূমি। একটা সময়ে ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হত, বড় ইটভাঁটাও ছিল। পরিবেশের স্বার্থে শহর গড়তে গিয়ে পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, শহর তৈরির কাজে কাটা পড়ছে তেনগা বনভূমির প্রচুর গাছ। স্মার্ট সিটি ইন্ডেক্সে এ বছরেও বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। এশিয়ার সবুজতম শহর বলেও পরিচিত দেশটি। এ শহরের ঠিক মাঝ বরাবর থাকবে ১০০ মিটার চওড়া বনভাগ। প্রাণী সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে এই বনভাগে। শহরের বিদ্যুত নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট আলোর কথাও ভাবা হয়েছে। সময় হলে নিজ থেকেই নিভে গিয়ে খরচ বাঁচিয়ে দেবে স্মার্ট লাইট। এ ছাড়াও বিদ্যুত ব্যবহারের লাগাম টানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার ব্যাপারেও ভাবা হয়েছে।
3
বদলে গেল আইপিএলের ফরম্যাট। রাউন্ড রবিন নয়, নতুন ফরম্যাটে ১০ দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করে হবে আইপিএলের পরবর্তী আসর।আট দল থেকে বেড়ে আইপিএলের দলের সংখ্যা এখন ১০। আগের রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে খেলা হলে বেড়ে যেত ম্যাচের সংখ্যা। দলগুলোকে তাই ভাগ করা হয়েছে দুই গ্রুপে। গ্রুপে ভাগ করা হলেও প্রতি দল খেলা পাবে ১৪টি করে।প্রতি দলকে ১৪টি করে ম্যাচ দিতে গিয়ে বেশ জটিল এক ফরম্যাট বানিয়েছে আইপিএলের গভর্নিং বডি। প্রতি গ্রুপের পাঁচটি দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে দুটি করে ম্যাচ। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট গ্রুপে একেকটি দলের ম্যাচ আটটি। বাকি ছয় ম্যাচের কোটা পূরণ করতে প্রতি দল অন্য গ্রুপের পাঁচ দলের সঙ্গে খেলবে ছয়টি ম্যাচ। এভাবে পূরণ হবে ১৪ ম্যাচের কোটা।'এ' গ্রুপে আছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। আইপিএলের শিরোপাধারী দলটা এই গ্রুপের শীর্ষ দল। চারবারের শিরোপাধারী চেন্নাই সুপার কিংস 'বি' গ্রুপের শীর্ষ দল। এভাবে শিরোপা ধরে ভাগ করা হয়েছে প্রতিটি গ্রুপ। মুম্বাইয়ের সঙ্গে 'এ' গ্রুপে আছে দুবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স, একবারের চ্যাম্পিয়ন রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস ও নবাগত লক্ষ্ণৌ সুপারজায়ান্টস।'বি' গ্রুপে চেন্নাইয়ের বাকি চার প্রতিপক্ষ ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, পাঞ্জাব কিংস ও নবাগত গুজরাট টাইটানস।২৬ মার্চ থেকে শুরু হবে ১৫তম আইপিএলের আসর। শেষ হবে ২৯ মে। মুম্বাইয়ের তিনটি ও পুনের একটি ভেন্যুতে হবে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ। প্লে-অফের ভেন্যু নির্ধারণ হবে পরে।
12
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গলায় বাদাম আটকে প্রীতি নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটি উপজেলার মরিচপুরা ইউনিয়নের গোজাকুড়া গ্রামের মুসাফির রহমানের মেয়ে। শিশুটির বাবা মুসাফির রহমান বলেন, বাদাম খাওয়ার সময় একটি বাদাম প্রীতির গলায় আটকে যায়। এতে সে কান্নাকাটি করতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা গলায় আটকে থাকা বাদামটি বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বের করতে না পারায় দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জাহিদ হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। গলায় বাদাম আটকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
6
মটরশুঁটির গাছ শুধু এক বছর বাঁচে। চীনে এই গাছের পাতা রান্নায় দেওয়া হয়। মটরশুঁটি শুকিয়ে স্ন্যাক্স হিসেবে খাওয়া হয় জাপান, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায়। আমাদের দেশে মটরশুঁটি সেদ্ধ ও কাঁচা দুভাবেই খাওয়া হয়।এতে ক্যালরি খুব কম থাকে। তবে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে প্রচুর পরিমাণে।প্রোটিনসমৃদ্ধ মটরশুঁটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। আঁশসমৃদ্ধ এই সবজি পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখে। কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। আয়রন থাকে বলে প্রসূতিদের জন্য মটরশুঁটি আদর্শ খাবার।
6
নীরবেই চলে গেলেন দেশের বরেণ্য ক্রিকেট কোচ ও ক্রীড়া সাংবাদিক জালাল আহমেদ চৌধুরী। আজ আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে জালাল চৌধুরীকে। তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বর্তমান ক্রিকেটার, সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট সংগঠকসহ অনেকেই। কাছের মানুষেরা এ সময় জালাল চৌধুরীর সঙ্গে নিজেদের স্মৃতিচারণ করেছেন। কারও কারও মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে জালাল চৌধুরী যা দিয়েছেন, প্রতিদান পেয়েছেন সামান্যই।সাবেক গুরুর এমন বিদায়ে আক্ষেপ নিয়েই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বললেন, জালাল চৌধুরীর মেধাকে যথাযথ ব্যবহার করতে পারেনি বাংলাদেশ। রাস্তায় তীব্র জ্যামের কারণে শান্তিনগর থেকে হেঁটে আজ দুপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আসেন আশরাফ হোসেন লিপু। প্রিয় গুরুকে নিয়ে বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে লিপু বলেন, 'এ এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁকে আমরা আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারতাম। তাঁর মেধাকে কাজে লাগাতে পারতাম। আমার মনে হয় তাঁকে আমরা অপচয় করেছি। হয়তো তাঁকে কিছুটা অবজ্ঞা-অবহেলা করা হয়েছে। তিনি কিছুটা নিভৃতে চলে গেলেন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট যত দিন থাকবে তাঁর নাম চিরদিন অম্লান থাকবে। ভিন্ন একটা চোখ দিয়ে ক্রিকেটকে দেখা-মাপা, সেই মানুষটা আজ হারিয়ে গেল।'জালাল চৌধুরীকে নিয়ে বলতে গিয়ে কেঁদেছেন বাংলাদেশের আরেক শীর্ষস্থানীয় কোচ ওসমান খানও, 'আমরা, জালাল ভাইরা অনেক চেষ্টা করেছি। আমরা কখনোই কোনো প্রতিদান চাইনি। আইসিসি ট্রফির সময় আমরা গর্ডন গ্রিনিজের সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু আমাদের সেভাবে কেউ মূল্যায়নের চিন্তা করেনি। কিন্তু এতে আমাদের কোনো দুঃখ নেই।'আশরাফ হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজাসহ অনেক ক্রিকেটারের সরাসরি গুরু ছিলেন জালাল চৌধুরী। প্রিয় কোচের বিদায়ে মাশরাফি লিখেছেন, 'যাদের হাত ধরে ক্রিকেট জীবন শুরু করা তাদের বিদায়গুলো এভাবে দেখা খুবই কঠিন। স্যার আপনার অধীনে খেলা, আপনার আদেশ, ড্রেসিং রুমে আপনার স্থির থাকা, আপনার লেখা এ সবকিছুই এখন স্মৃতি হয়ে গেল। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপনার অবদান যারা দেখেছে তারা আজীবন মনে রাখবে। অসংখ্য খেলোয়াড়ের গুরু ছিলেন আপনি আর হয়েও থাকবেন। ওপারে ভালো থাকবেন স্যার।'এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রথমবার ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি হন জালাল চৌধুরী। আট দিন চিকিৎসা শেষে বাসায়ও ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু কদিন না যেতেই আবারও শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করলে গত বুধবার ফের একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় জালাল চৌধুরীকে। সেখানে আইসিইউতে রেখে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। অবস্থা অবনতির দিকে যাওয়ায় শুক্রবার রাত আড়াইটায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বরেণ্য এই কোচ ও লেখক।
12
দফায় দফায় পেছানোর পর অবশেষে নিয়োগ পেলেন ৪২ তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশ পাওয়া প্রায় ৪ হাজার চিকিৎসক। আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন বিভাগের উপসচিব মো. মোস্তাফিজার রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।একই সঙ্গে চলতি মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশিত কার্যালয়ে যোগদান করতে বলা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ৪২ তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশক্রমে ৩ হাজার ৯৫৭ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের স্বাস্থ্য ক্যাডারের সহকারী সার্জন পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে ২ হাজার চিকিৎসককে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দিতে ২০২০ সালে ৪২ তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। পরে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় (লিখিত টাইপ) ৩১ হাজার চিকিৎসক অংশ নেন। পরীক্ষার এক মাস পর ২৯ মার্চ ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে উত্তীর্ণ হোন ৬ হাজার ২২ জন।পরে ৫ মে মৌখিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে পিএসসি জানায়, ৪২ তম বিএসএস বিশেষ ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষায় (এমসিকিউ টাইপ) উত্তীর্ণদের মধ্যে ৬ হাজার ২২ জনের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু করোনা মহামারিকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা পরীক্ষার সময় পেছানো হয়।পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও করোনার সময় বিশেষভাবে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে কাজ করে পিএসসি। এ সময় জরুরি অবস্থাতেও সরকারের কাছে অনুমতি নিয়ে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। সেই আলোকে এই ৪ হাজার চিকিৎসককে নিয়োগ দিল সরকার।নিয়োগপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা:
6
মেটলাইফ ফাউন্ডেশন ও এসিলরলুক্সটিকার যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে ২০২৩ সালের মধ্যে আটশো'র বেশি দৃষ্টি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে দুই কোটি মানুষের জন্য চক্ষুসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।এ উদ্যোগে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে উদ্যোগটির বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস (ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ)। যে দৃষ্টি উদ্যোক্তারা প্রাথমিক চক্ষুসেবা দেবেন, তাঁদের নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করবে টিএমএসএস। টিএমএসএস যশোর, খুলনা, কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম জুড়ে চারটি নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে এবং আটশো'র বেশি নতুন দৃষ্টি উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সামগ্রিক ভাবে দুই কোটি বাংলাদেশি মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসা সেবা পাবেন।২০২১ সালে শুরু হওয়া এ প্রোগ্রামটি ইতিমধ্যে ১২৫ জনেরও বেশি দৃষ্টি উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে, যারা তাঁদের কমিউনিটির মানুষকে সেবা প্রদান করছেন।কোভিড-১৯ মহামারি মানুষকে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন করেছে; বিশেষ করে যারা বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাস করে তাঁদের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। দৃষ্টি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে এমন মানুষের সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় বেকার এবং কর্মসংস্থানহীন যুবকদের দৃষ্টি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তাঁরা দৃষ্টি পরীক্ষা এবং চশমা তৈরিসহ অনেককে চোখের যত্নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে পারবেন।এ নিয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, আলা আহমদ বলেন, 'মেটলাইফ বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে চলছে। মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এ প্রোগ্রামটি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রয়োজন মেটাতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।'এসিলরলুক্সটিকার হেড অফ মিশন ও সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট ফান্ড এর চেয়ারম্যান, অনুরাগ হান্স বলেন, 'বাংলাদেশে ভিশন কেয়ার দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রান্তিক সম্প্রদায়ের জন্য অসাধারণ ভ্যালু যোগ করেছে। এটি শুধু প্রাথমিক চক্ষুসেবা প্রদান করে না বরং টেকসই জীবিকা নির্মাণেও সহায়তা করে। আমরা মেটলাইফ ফাউন্ডেশন এবং টিএমএসএস-এর সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে বাংলাদেশে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পেরে আনন্দিত।'এ নিয়ে টিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. হোসনে-আরা বেগম বলেন, 'টিএমএসএস সক্রিয়ভাবে সামগ্রিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে কাজ করছে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকাকে সমৃদ্ধ করার এই উদ্যোগের অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত।'
0
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আলোচিত তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে সালথা থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৩৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। ফিলাট ফকির উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বাউশখালী এলাকার মোসলেম ফকিরের পুত্র। আটককৃত অপর দুজন একই এলাকার হান্নান শেখের ছেলে বাধন শেখ (২৩) এবং দরজা পুরুরা গ্রামের মৃত এবন মৃধার ছেলে বেলায়েত মৃধা। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে বাউষখালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফিলাট ফকিরের নিজ বাড়ি থেকে ৩৩০ গ্রাম গাঁজাসহ তাদেরকে আটক করা হয়। সালথা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, সালথা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসিকুজ্জামান এর দিক নির্দেশনায় এসআই মো. মিজানুর রহমার এর নেতৃতে পুলিশের একটি আভিযানিক দল মঙ্গলবার বিকালে অভিযান পরিচালনা করে ফিলাট ফকির ও তার দুই সহযোগী বাধন ও বেলায়েত কে আটক করে। এসময় তাদের হেফাজতে থাকা ৩৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের বুধবার সকালে ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটককৃত ফিলাট ফকির এর আগেও একাধিকবার মাদকসহ আটক হয়েছে। আটককৃত মাদক সম্রাট ফিলাট ফকির বার বার জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের বড় মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এলাকাবাসীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই বলেন, ফিলাট ফকির সালথার জন্য অভিশাপ। পুলিশ মাদকের বড় বড় চালানসহ তাকে আটক করে জেলে পাঠানো হলেও আইনের ফাক ফোকর দিয়ে কিছুদিন পর আবার জেল থেকে বাইরে চলে আসে এবং আবার এলাকার যুব সমাজের মাঝে মাদক বিক্রি করে সমাজটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বল্লভদী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহিন বলেন, ফিলাট ফকির এলাকার আলোচিত মাদক কারবারি। কয়েক বছর আগেও তারা আর্থিক অনটনে ছিল। বর্তমানে তারা এখন অনেক টাকা পয়সার মালিক। বল্লভদী ইউনিয়ন মাদক মুক্ত করতে হলে মাদকের গডফাদারসহ শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসিকুজ্জামান বলেন, ফ্ল্যাট ফকির একজন বড় মাদক কারবারি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুই সহযোগীসহ তাকে আটক করা হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার মাদকসহ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু জামিনে বের হয়ে এসে পুনরায় সে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
6
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার তৃতীয় ধাপে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নির্বাচিত ২৪ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ৭২ জন সাধারণ সদস্যেরা শপথ নিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজগর হোসেন শপথ বাক্য পাঠ করান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন ও রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে উপজেলায় ১০টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দুটি বাদে চরাঞ্চলের বাঁশগাড়ি, চরমধুয়া, শ্রীনগর, মির্জাচর ও পশ্চিমাঞ্চলের হাইরমারা, আমিরগঞ্জ ও মির্জানগর ইউপির নবনির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।এ ছাড়াও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইউপির চেয়ারম্যানরা।
6
সাগরিকার উইকেট ফ্ল্যাট হবে এটা অনুমেয় ছিল। তবে দিনের শুরুটা দুর্দান্ত হয় বাংলাদেশের। প্রথম সেশনে দুই শ্রীলঙ্কান ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে চালকের আসনে রাখেন স্পিনার নাঈম হাসান। পরের সেশনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় লঙ্কানরা। তবে শেষ সেশনে উইকেট হারালেও দিনটা খারাপ যায়নি লঙ্কানদের। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের সেঞ্চুরিতে প্রথম দিন শেষে ভালো অবস্থানে দিমুথ করুনারত্নের দল।আজ চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান তুলেছে শ্রীলঙ্কা। ১১৪ রানে অপরাজিত ম্যাথুসের সঙ্গে ক্রিজে আছেন ৩৪ রানে অপরাজিত দিনেশ চান্ডিমাল।টস জিতে ব্যাটিংয়ে এসে শুরুটা ভালো হয়নি লঙ্কানদের। ২৩ রান তুলতেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে নাঈমের শিকার হন ৯ রান করা করুণারত্নে। আরেক ওপেনার ওশাদা ফার্নান্দো থিতু হয়েও বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেননি। এই ব্যাটারকে ব্যক্তিগত ৩৬ রানে দ্বিতীয় শিকার বানান নাঈম। প্রথম সেশনে ২৪ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ৭৩ রান তোলে লঙ্কানরা।দ্বিতীয় সেশনের শুরু থেকে উইকেট আগলে স্কোর এগিয়ে নেন কুশাল মেন্ডিস ও ম্যাথুস। স্পিনার নাঈম ও পেসার খালেদের ওভারগুলোতে বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি আদায় করে নেন তারা। তবে সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামের ২০ ওভারের স্পেলে বেশ সতর্ক ছিল এই জুটি। ১৯ রান নিয়ে সেই স্পেল কোনো মতে কাটিয়ে ওঠেন তাঁরা। পুরো সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে যোগ করেন আরও ৮৫ রান।মেন্ডিসের সঙ্গে ম্যাথুসের ৯২ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল। তৃতীয় সেশনে ৫৪ রান করা মেন্ডিসকে নাঈমের তালুবন্দী করেন তিনি। নতুন ব্যাটার ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে (৬) দারুণ এক রিভিউতে ফেরান সাকিব। এর আগে দিনের শুরুতে শরীফুলের দুই ডেলিভারিতে দুটি রিভিউ নষ্ট করে বাংলাদেশ।সাকিব ব্রেক থ্রু এনে দিলেও এক প্রান্ত আগলে রাখা ম্যাথুস ঠিকই সেঞ্চুরি তুলে নেন। শরীফুলকে মিড উইকেট দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারে ১২তম সেঞ্চুরি আদায় করে নেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে যদিও প্রথম। তৃতীয় সেশনে দুই উইকেটে ১০০ যোগ করে লঙ্কানরা।
12
নরসিংদীর রায়পুরার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের রতনপুর ঈদগাহ মাঠ থেকে গোপালপুর হয়ে চরমরজাল পর্যন্ত রাস্তাটি কাঁচা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ছোট বড় গর্তে ভরা এই রাস্তায় শুকনো মৌসুমে কোনোরকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে মোটেই সম্ভব নয়। তা ছাড়া শুকনা মৌসুমেও বিভিন্ন যানবাহনের চাকা গর্তে আটকে যাচ্ছে। ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই রাস্তা পাকা করা হোক। এদিকে প্রশাসন বলছে, দ্রুত এই রাস্তা পাকা করার জন্য চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।গতকাল সোমবার দুপুরে দেখা যায় ওই রাস্তার বিভিন্ন অংশে ছোট বড় গর্ত। খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই পথে চরমরজাল, গোপালপুর, রতনপুর, মরজালসহ উত্তরবাখর নগর বাজারে ও ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। প্রতিদিন পাঁচ গ্রামের মানুষ হেঁটে, মোটরসাইকেলে, বাইসাইকেলে চলাচল করে। এলাকার চাষিরা উৎপাদিত সবজি বিভিন্ন বাজারে আনা-নেওয়া করেন রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট ছোট বিভিন্ন যানবাহনে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ অঞ্চলের সবজি সারা দেশের সরবরাহ করা হয়। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত সবজি রায়পুরা, মরজাল, বাখরনগর, জংলী শিবপুর, বারৈচা পাইকারি বাজারে আনা নেওয়া করে। বর্ষা মৌসুমে, এই রাস্তার ছোট বড় গর্তে পানি জমে যায়। তখন গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলাচল করা দায়। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতেও চলাচল করা কঠিন। তা ছাড়া রাস্তার ছোট-বড় গর্তে ঘটছে দুর্ঘটনা।রাতের বেলায় চলাচলে অসুবিধে হয়। এই রাস্তা দিয়ে ৫ থেকে ৬টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। এলাকার চাষিরা সবজি চাষে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।'মজিবুর রহমান বলেন, 'এই রাস্তার অবস্থা কেউ দেখে না। ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চলে না। বাজারে যাও লাগে আওন লাগে। চেয়ারম্যান বানাইয়া দেই। কিন্তু তারা কোনো কাম করে না। যেমনেই হোক রাস্তাটা পাকা করা হোক।'ভ্যানগাড়ি চালক কামাল হোসেন বলেন, 'সরকার সারা দেশে এত কাজ করতাছে। এই রাস্তাটার দিক একটু তাকাইলে ভালো হতো। আমরা এই রাস্তায় চলাচল করি, আমরাই বুঝি এই পথে চলাচল করা কত কষ্টের। এইগুলা দেখা যেন কেউ নাই।'আসাদুল্লাহ নামের এক কৃষক বলেন, 'দেখতাচেন, গাড়িটার কী হইছে। সবজি নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলাম। গর্তে পরে গাড়ি ভাঙছে। এই গাড়ি মেরামত করতে ১ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ লাগব। দিন আনি দিন খাই কেমনে এত টাকা খরচ করুম। সবজি আনা-নেওয়া করতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। এই রাস্তা দ্রুত পাকা করা হোক।'আবদুর রাজ্জাক নামের অপর চালক বলেন, 'আমি এই এলাকার বাসিন্দা। এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাই দীর্ঘদিন। সারা দেশে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও আমাদের এই রাস্তাটার কিছুই হইল না। আমরা গাড়ি চালায়ে খাই। মেম্বার চেয়ারম্যান এক মুঠো মাটিও ফালায় না। মাঝেমধ্যে আমরা নিজেরাই মাটি ফালাই। তাড়াতাড়ি রাস্তাটা পাকা হোক এইডাই চাই।'সুরাফ মিয়া নামের এক পথচারী বলেন, বালি নিয়ে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক এই পথে চলাচল করে। এই কারণে এই রাস্তা খারাপ হচ্ছে এবং আরও বেশি ভাঙছে।উত্তর বাখরনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ হাবিব বলেন, 'আমি মাত্র চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলাম। এখনো দায়িত্ব বুঝে পাইনি। আগেও এই রাস্তার ব্যাপারে সাংসদকে জানিয়েছি। এই রাস্তা পাকা করতে আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।'এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, উত্তর বাখর নগর ইউনিয়নের রাস্তাটি দ্রুত পাকা করারা চেষ্টা করব। এর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হবে।
6
সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে খোলাবাজারে গমের দাম বেশি। তাই কৃষকেরা বাজারে বিক্রি করছেন গম। এতে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত গম সংগ্রহ শুরু করতে পারেনি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা খাদ্য বিভাগ।খাদ্যগুদাম সূত্রে জানা যায়, এ বছর ২ হাজার ১৩৩ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের কথা থাকলেও গতকাল সোমবার পর্যন্ত এক ছটাক গমও কিনতে পারেনি চারঘাট খাদ্যগুদাম। তবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময় রয়েছে। যদিও গম সংগ্রহ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমের দাম ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে গমের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে কৃষকেরা গুদামে গম দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চারঘাট উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর। চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। এবার গম উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন।উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ গম সংগ্রহের আওতায় সারা দেশে দেড় লাখ মেট্রিক টন গম কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। উপজেলায় গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ১৩৩ মেট্রিক টন, যা গত বছরের চেয়ে ৫০০ মেট্রিক টন বেশি। গত ১ এপ্রিল থেকে উপজেলায় সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক গম দিতে আসেননি।স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গম সংগ্রহ অভিযান শুরুর সময়ে সরকার নির্ধারিত দাম হয় কেজিপ্রতি ২৮ টাকা। কিন্তু সে সময় স্থানীয় বাজারে ৩২ টাকা কেজি দরে গম বিক্রি হচ্ছিল। আর এখন স্থানীয় পাইকারি বাজার বানেশ্বর হাটে প্রতি কেজি গম ৩৮-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গুদামে গম বিক্রি করতে গেলে বেশি লোকসান গুনতে হবে তাঁদের।উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, গত কয়েক বছর এক ব্যক্তির মাধ্যমে সরকারি গুদামে গম বিক্রি করেছেন। এতে কিছু টাকা লাভ হয়েছিল। এ বছর সরকার যে দর দিয়েছে, তাতে অনেক লোকসান হবে। কৃষক কেন লোকসান দিয়ে সরকারের কাছে গম বিক্রি করবেন, এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।শলুয়া গ্রামের কৃষক সাইদুর আলী বলেন, বর্তমানে খাদ্যগুদামের চেয়ে বাজারে গমের দাম কেজিতে ১০-১২ টাকা বেশি। তবে এখন সরকার দাম বাড়ালেও কৃষকেরা গুদামে গম দিতে পারবেন না। কারণ, কৃষকদের কাছে তো আর গম মজুত নেই। সব বড় ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়েছেন।উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. মলিউজ্জামান বলেন, সরকারিভাবে যে দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, এখন সেই দামের চেয়েও অনেক বেশিতে গম বেচাকেনা হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। কৃষক যেখানে ফসলের দাম বেশি পাবেন, সেখানেই বিক্রি করবেন। এটাই স্বাভাবিক। এ জন্য গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা গত বারের চেয়ে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন বাড়লেও গুদামে গম সংগ্রহ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত এক কেজি গমও সংগ্রহ হয়নি।
6
উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসীরাও এই ঈদ উৎসবে শরিক হয়েছেন। শুক্রবার মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতীয় মসজিদ নেগারায় সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ নেগারায় নামাজে অংশ নেন প্রধান মন্ত্রী ডা: মাহাথির মোহাম্মদ। এ ছাড়া হাংতোয়া মসজিদ আল বোখারি, মসজিদ জামেক, তিতিওয়াংসা বায়তুল মোকাররাম ও কোতারায়া বাংলা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।ঈদুল ফিতরের জামাতে শরিক হতে প্রবাসীরা ছুটে আসেন। নামাজ শুরুর আগে বয়ান পেশ করেন জাতীয় মসজিদ নেগারার খতিব তানশ্রী শাইখ ইসমাইল মোহাম্মদ। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের পর মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। এ সময় মুসল্লিরা তাদের শিশুদের নিয়ে আসেন ঈদ জামাতে। শিশুরাও পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদ সেলফিতে মেতে উঠেন। এদিকে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের রাষ্ট্রদূত মুহা. শহিদুল ইসলাম দেশটিতে বসবাসরত সকল প্রবাসীদেরকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ সব প্রবাসীদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির ছুবাংজায়া বাংলা মসজিদ, ক্লাং, পেনাং, ছুঙ্গাই ভুলু, সেলায়েং পাছার পুচং, মালাক্কা, জহোরভারোতেও ঈদের নামাজ আদায় করেছেন প্রবাসীরা। এদিকে নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণ কেন্দ্র কোতারায়া বাংলা মার্কেটে জড়ো হতে থাকেন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। সকাল ১০টার মধ্যে কোতারায়া বাংলা মার্কেট হয়ে উঠে বাঙ্গালিদের মিলন মেলায়।
3
মোন্তাজ উদ্দিন আহমেদ।বছর দেড়েক আগেও বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর মিছিল-মিটিং আর 'জ্বালাও পোড়াও' আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে রাজপথ কাঁপিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে পড়তে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ভাড়া করে এনে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছেন। কিন্তু এই মোন্তাজ উদ্দিনই বছরখানেক হয় গায়ে 'মুজিব কোট' চাপিয়ে আওয়ামী লীগের সদস্য হয়েছেন। এমনকি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলরও নির্বাচিত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলে যুক্ত হওয়ার পর মোন্তাজ উদ্দিনের রাজনৈতিক দাপট যত বেড়েছে, দুর্বৃত্তায়নও ততই বেড়েছে। অনুপ্রবেশকারী মোন্তাজ তার অনুগত বাহিনী মারফত বিভিন্ন মিল-কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন, অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে রাইজারপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা আদায় করছেন, চাঁদাবাজি করছেন লতিফপুর-চক্রবর্তী সড়কের অটোরিকশা ও বিভিন্ন গাড়ি থেকে। মোন্তাজ উদ্দিনের বিএনপিনামা: গাজীপুর সিটি করপোরেশন কাশিমপুরের লতিফপুর এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে মোন্তাজ উদ্দিন আহমেদ বছর দেড়েক আগেও বিএনপির সক্রিয় নেতা ছিলেন। ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন তিনি। বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কেবল যুবদল নয়, গাজীপুর মহানগরের লতিফপুর, তেতুইবাড়ি, চক্রবর্তী, সারাব, লস্করচালা, ভবানীপুর ও আশপাশের এলাকার মূল বিএনপিতেও একসময় মোন্তাজের চেয়ে সক্রিয় নেতা খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দেড় মাস আগেও টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করে নাশকতা চালান মোন্তাজসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় টঙ্গী থানার এসআই আল আমীন বাদী হয়ে মোন্তাজসহ ১০০ বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা [নম্বর ১১ (৫) ১৮] করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর এ মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ এবং মোন্তাজ উদ্দিনও এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। আওয়ামী লীগে মোন্তাজ: কিন্তু গত বছরের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই মুজিব কোট গায়ে দিয়ে মোন্তাজ স্থানীয় আওয়ামী লীগে আবির্ভূত হন। স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সুদৃষ্টিতে পড়তে সক্রিয় ভূমিকাও রাখেন সংগঠনে। কাশিমপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা শরীফ হোসেন বেপারী জানান, গত বছরের জুনের প্রথম দিকে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার হাতে ফুল দিয়ে মোন্তাজ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার যোগদানের সেই ছবি ফেসবুকে প্রচারও করেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমর্থন না পেলেও খুব কম সময়েই তিনি দলের নেতাদের আশীর্বাদ পেতে শুরু করেন। মোন্তাজ উদ্দিন নিজেকে ২ নম্বর ওয়ার্ড ও কাশিমপুর থানা আওয়ামী লীগের একজন সদস্য দাবি করে জানান, তিনি একসময় বিএনপি করতেন, এটা সত্য। তার সম্পর্কে জেনেই শীর্ষ নেতারা তাকে দলে নিয়েছেন। তবে কীভাবে আওয়ামী লীগের সদস্য হয়েছেন, তা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, এসব তথ্য তিনি সাংবাদিকদের জানাতে বাধ্য নন। এ প্রসঙ্গে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান বলেন, জ্বালাও-পোড়াও ও নাশকতা মামলার কোনো আসামি আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না- এটা প্রত্যেককে বলে দেওয়া হয়েছে। তবে মোন্তাজ কীভাবে সদস্য হয়েছে, এটা তার জানা নেই। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক ত্যাগী ও পদধারী কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা মোন্তাজের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মোন্তাজ উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। যে বিএনপির সময় আমাদের নির্যাতন করেছে, এখন আওয়ামী লীগের আমলেও সে শক্তিধর। তবে গত বছরের জুনে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগরের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য 'অনুপ্রবেশকারী' মোন্তাজকে দলের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে সমর্থনও জোগায়। দলের ত্যাগী নেতা ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হালিমকে উপেক্ষা করে উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সমর্থনে কাউন্সিলর নির্বাচন করেন তিনি এবং ভোটে জয়ী হন। কাশিমপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা শরীফ বলেন, 'হাইব্রিড এই নেতাকে দলের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা উচিত।' একই কথা বলেছেন এলাকার অন্তত ২০-২৫ নেতা। ভাগ্য খুলেছে কাউন্সিলর হয়ে: আওয়ামী লীগের সদস্য এবং কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে গত দেড় বছরে মোন্তাজ প্রচুর বিত্তবৈভবের মালিক বলে গেছেন। তার দাপটে এখন সিনিয়র নেতারাও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। ঝুট ব্যবসা, অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য আর পরিবহন চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে মোন্তাজ একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। আশপাশের অন্তত এক ডজন বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান তার নিয়ন্ত্রণে। যদিও মোন্তাজের ভাষ্য, কোনো কারখানায় তিনি ঝুট ব্যবসা করেন না। এসব অপপ্রচার। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মোন্তাজ কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পরপরই অবৈধভাবে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ দিতে শুরু করেন। সংঘবদ্ধ চক্রের সহায়তায় হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। গ্যাস সরবরাহের জন্য রাইজারপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে আদায় করেন মোন্তাজের লোকজন। ওই এলাকায় রয়েছে ন্যূনতম প্রায় দুই হাজার অবৈধ রাইজার রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মোন্তাজ বলেন, এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ জনগণের স্বার্থে তিনি একদিন গ্যাস আনার ব্যাপারে কথা বলেছেন। তবে রাইজারপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায়ের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। পরিবহন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে মোন্তাজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, লতিফপুর-চক্রবর্তী সড়কে অটোরিকশা ও বিভিন্ন গাড়ি থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদা আদায় করেন তার লোকজন। সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারদের কাছেও মোন্তাজ চাঁদা দাবি করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে মোন্তাজ বলেন, তিনি জমির ব্যবসা করেন। এসব করার সময় কই তার! তিনি আরও বলেন, 'এসব না লিখে আপনারা উন্নয়নের কথা লেখেন। আমরা তো উন্নয়নও করছি।'
6
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশের প্রায় ২০ শতাংশ ভোটকেন্দ্র দখল করেছে ক্ষমতাসীনরা। ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না এবং ধানের শীষের ভোটারদের ভোট দিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। ৩০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় দফা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, এতো কিছু করার পরও মানুষ ভোটকেন্দ্রে গেছেন। জনগণ এসব প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন। জনগণের শক্তি নিয়ে আমরা এগুচ্ছি, জুলুম মানবো না, এদের পতন হবেই। আন্দোলনের অংশ হিসেবে অংশ নেয়া এ নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকবো। তিনি সারাদেশের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি। তার কেন্দ্রের আশপাশে বোমা ফাটছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের আসনের সব কেন্দ্র দখল করে ফেলেছে। ভোলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনী গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকাকালে নির্বাচন উৎসবমুখর হবে, আনন্দঘন হবে সেটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তার প্রমাণ আজ নির্বাচনে আমাদের দুজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তারপরও ভোটাররা ভোট দেয়ার চেষ্টা করছেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, র্যাব-বিজিবি-পুলিশ তাণ্ডব চালিয়ে সারাদেশে রাতেই নৌকায় সিল মেরেছে। একই সঙ্গে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ শতাধিক আসনে কেন্দ্র দখল, ধানের শীষের এজেন্ট প্রবেশ করতে না দেয়া ও এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে। রিজভী বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা হিসাব করতে পারিনি কতটি আসনে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি যেসব আসনের কথা বলেছেন তা হিসাব করে দেখা গেছে শতাধিক আসনে রাতে ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। সকালে ধানের শীষের এজেন্ট প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। কোথাও কোথাও রাতে ৩০ শতাংশ ভোট বাক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, শনিবার রাতের কোনো এক সময় টাঙ্গাইল-২ আসনের সিমলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। রোববার সকালে নিজের বাসার কাছে শ্যামপুর মডেল হাইস্কুলে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ঢাকা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদকে গুলি করা হয়েছে। তিনি এখন অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি। রিজভী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। কিন্তু আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নমুনা দেখতে পাচ্ছি।
9
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এমএ মান্নান আর নেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এমএ মান্নান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র ছিলেন। এমএ মান্নান দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। মাঝে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে তিনি বাড়িতে ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত বুধবার রাতে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। বিএনপি গাজীপুরের সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, মান্নান ভাই বিকেল সাড়ে ৪টায় মারা গেছেন। বারিধারার বাসায় হার্ট অ্যাটাক করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়েছিল। মৃত্যুকালে একমাত্র ছেলে এম মনজুরুলকরীম রনিকে রেখে গেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, অধ্যাপক এমএ মান্নানের প্রথম জানাজা বৃহস্পতিবার বাদ এশা বারিধারা ডিওএইচএসের মসজিদের সম্পন্ন হবে। এরপর মরদেহ রাখা হবে ইউনাইটেড হাসপাতালের হিম ঘরে। শুক্রবার সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণপ্লাজায়, ১১টায় বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, বাদ জুমা গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠে, বাদ আসর নিজ গ্রাম সালনায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা এমএ মান্নান। মেয়র থাকাকালে ২০১৫ সালে তাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন মামলায় দুই বছরের মতো কারাগারে ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর থেকেই নানা রোগে ভুগতে শুরু করেন বিএনপির এই নেতা। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকারের ধর্ম ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। বিএনপির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে এমএ মান্নান দলের ভাইস চেয়ারম্যান হন। এর আগে তিনি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। অধ্যাপক এমএ মান্নানের মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলাদা আলাদা বিবৃতিতে শোক প্রকাশ তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
9
রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগে এক দিনের ব্যবধানে দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ শনিবার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পরই তার মিরপুরের বাসভবন ও আশপাশ এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়। তবুও রবিবার একই এলাকার আরেক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে, যিনি আগের দিন ওই এলাকায় করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া বৃদ্ধের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির আবাসস্থল মিরপুর উত্তর টোলারবাগে জনমনে এখন এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওই ব্যক্তি আক্রান্ত অবস্থাতেই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোয়, স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন যে, এই ভাইরাস ইতোমধ্যে আশেপাশে ছড়িয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। তবে গণমাধ্যমে নয়তলা ওই ভবনটি লকডাউন করার যে খবর প্রচার করা হচ্ছে সেটির ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মিরপুরের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেছেন, শুধুমাত্র আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে ওই ভবনে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে ভবনের বাকি সদস্যদের সতর্কতার সাথে চলাফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে ফ্ল্যাট মালিকরা পুলিশ, আইইডিসিআর ও সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনায় ভেতরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাছ করছে বলে জানান মোস্তাক আহমেদ। তিনি আরও বলেন, "করোনায় আক্রান্ত রোগীর পরিবারকেই শুধু কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। আর অফিশিয়ালি কোনো ভবন লকডাউন করা হয়নি। ভবনের বাসিন্দারা তাদের নিরাপত্তার জন্যই চলাচল সীমিত করেছেন। আমরা বলছি তারা যেন মাস্ক পরে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বের হন," তিনি বলেন। আক্রান্ত ব্যক্তি মিরপুরে যে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, সেখানকার চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আতঙ্কের মধ্যে আছেন। ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসক কোয়ারেন্টাইনে আছেন বলে জানা গেছে। হাসপাতালের কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে মুখ খোলেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, "যখন পরীক্ষায় জানা যায় যে ওই রোগী করোনা পজিটিভ তখন তো পুরা হাসপাতালেই একটা উদ্বেগজনক অবস্থা। এজন্য আমরা সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতিতে গেছি। আমি তো এখনও জানি না, আমি বা আমার সহকর্মীদের কেউ সংক্রমিত হয়েছেন কিনা। তো স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে আছি।" আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, বর্তমানে তারা ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষা করে সংক্রমণের কারণ জানার চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, "আমরা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার আগে আরেকটু সময় নেব, কারণ আমরা সংক্রমণের উৎস খুঁজতে কাজ করে যাচ্ছি। ওই এলাকায় দু'জন প্রবাসী ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা দেখতে চাই যে তারা আক্রান্ত কিনা বা তাদের থেকে সংক্রমণ হয়েছে কিনা।" বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
4
৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৮৭০ টাকা করার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা, যা তিন বছর আগেও ৪৬৫-৫১০ টাকা ছিল। সয়াবিন তেলের দাম লিটারে আরও ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিপণনকারী কোম্পানিগুলো। তাদের প্রস্তাবে ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম ১৮০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। ভোজ্যতেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশন গতকাল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে নতুন এই দর আগামীকাল মঙ্গলবার (১ মার্চ) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলেছে। অবশ্য সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে ভোজ্যতেল কোম্পানিগুলোর এক বৈঠকে এখনই দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। আগে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) নতুন দাম আমদানি মূল্যের অনুপাতে যৌক্তিক কি না, তা বিশ্লেষণ করবে। তারপর দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হবে। জানতে চাইলে ভোজ্যতেল বিপণনকারী কোম্পানি টিকে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স ও অপারেশন) মো. শফিউল আতহার তাসলিম প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা আশা করি, দু-এক দিনের মধ্যেই দাম নিয়ে আলোচনার জন্য আমাদের ডাকা হবে।' তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়ছেই। এ অবস্থায় দেশে যৌক্তিক দাম নির্ধারণ না করা হলে সরবরাহে ঘাটতি তৈরির আশঙ্কা থাকে। নতুন প্রস্তাবে শুধু বোতলজাত সয়াবিন নয়, খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এখন খোলা সয়াবিনের নির্ধারিত দর লিটারপ্রতি ১৪৩ টাকা, যা কোম্পানিগুলো ১৫৭ টাকা করতে চায়। পাম সুপার তেল ১৪৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে করতে চায় ১৫০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের বোতলের নির্ধারিত দর এখন ৭৯৫ টাকা, যা ৮৭০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, আমদানিমূল্য বিবেচনায় ৩ ফেব্রুয়ারি ১ লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ১৮৬ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ভোক্তাদের কথা বিবেচনা করে ৬ টাকা ছাড় দিয়ে তারা ১৮০ টাকা নির্ধারণ করে বাজারে ছাড়তে চায়। এর আগে সর্বশেষ ৬ ফেব্রুয়ারি সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব বলছে, ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি ৫ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৪৬৫ থেকে ৫১০ টাকা। বিশ্ববাজারে দাম যত বাড়ছে, সরকারের রাজস্ব বাড়ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর ছাড়ের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েও সাড়া পায়নি। এদিকে বাজারে খোলা তেলের সরবরাহে কিছুটা ঘাটতির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ দোকানেই খোলা সয়াবিন ও পাম সুপার তেল নেই। বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি পড়েছে। বাজারে এখন চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা, ময়দা, মুরগি, গরুর মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম ব্যাপক চড়া। টিসিবির ট্রাকের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সাধারণ মানুষকে পণ্য না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, 'বুঝলাম, ভোজ্যতেলের দাম বিশ্ববাজারে বেড়েছে। চাল, মাছ, মাংস, সবজির জন্যও কি আমাদের বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়?'
0
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে জয় পেয়েছেন ওসমান গণি। তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাছির উদ্দিন নোবেল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলায় এক মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি।গত রোববার রাতে ঘোষিত ফলাফলে তাঁকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে ৪৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।ওই ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাছির উদ্দিন মোরগ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩১০ ভোট।পূর্ব বড়ভেওলায় রিটার্নিং কর্মকর্তা সুপন নন্দী বলেন, 'ঘোষিত ফলাফলে ফুটবল প্রতীক নিয়ে কারাগারে থাকা ওসমান গণি নির্বাচিত হয়েছেন।'মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম ওমর গণি এমইএস কলেজছাত্র সংসদের সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নোবেলকে পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মুন্সিঘোনা ও মুবিনপাড়া স্টেশনের টেক এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়।ওসমান গণি এই হত্যা মামলার ১২ নম্বর আসামি।
6
আফগানিস্তানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে তালেবানের নতুন সরকার। রুগ্ন অর্থনীতি, সমন্বিত সরকার ও প্রশাসন গঠন ছাড়াও তালেবানের বিভিন্ন দলের মধ্যে একতা ধরে রাখার বিষয়টাই এখন তাদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। বুধবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ সকল তথ্য পাওয়া গেছে। আল-জাজিরার প্রতিনিধি চার্লস স্ট্র্যাটফোর্ড কাবুল থেকে জানিয়েছেন যে আফগানিস্তানে তালেবানের নতুন সরকারের ধরণ কেমন হবে এবং তারা কিভাবে দেশটির বিধ্বস্ত অর্থনীতি সামলাবেন তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ বিষয়ে আল-জাজিরার চার্লস স্ট্র্যাটফোর্ড বলেন, আফগানিস্তানে তালেবানের নতুন সরকারের বহুমুখী চ্যালেঞ্জে নিয়ে দেশটির কান্দাহার শহরে আলোচনা চলছে। আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এখন তালেবান কর্তৃপক্ষের সমন্বিত সরকারের অংশ হতে চাচ্ছেন। তিনি এখনো কাবুলে অবস্থান করছেন। এছাড়া তালেবানের বিভিন্ন অংশগুলোর মধ্যে একতা ধরে রাখা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তিনি আরো বলেছেন, আফগানিস্তানে বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রদান ও দেশটির রুগ্ন অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আফগানিস্তানের অর্থ ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এসব বিষয় তালেবানের নতুন সরকারের জন্য বড় ধরনের বাধা। সূত্র : আল-জাজিরা
3
অবশেষে টানা চারদিন বন্ধ থাকার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে ভারত। গতকাল সন্ধ্যায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে দৃঢ় রাখার জন্য ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। তবে শুধুমাত্র যে সকল পেঁয়াজের ট্রাক অনুমোদন পেয়েছে সেই ট্রাকগুলোই দেশে প্রবেশ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ নেতৃবৃন্দ। ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় গত সোমবার এক নির্দেশে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকারের বাণিজ্য বিভাগের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা। নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বেনাপোল-পেট্রাপোল, ঘোজাডাঙ্গা, মহদিপুর, হিলিসহ বিভিন্ন স্থল সীমান্তে আটকে পড়ে প্রায় এক হাজার পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক। ব্যবসায়ীদের সংগঠন ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মাকসুদ খান বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজের ট্রাক দেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। দিল্লি সরকার ভোমরাসহ তিনটি বন্দর দিয়ে ২৫ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিয়েছে। এদিকে দিল্লিতে গতকাল ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে যেসব পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির পথে আটকে পড়েছে, সেসব ট্রাক অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার। এ-সংক্রান্ত নির্দেশও দেওয়া হয় ভারতের শুল্ক বিভাগকে।
0
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম এবং তাদের দল বিএনপি ভুল রাজনীতির কারণে এখন চরম দুর্দিনের ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতায় বিএনপি আজ গভীর সঙ্কটে নিপতিত। রাজনৈতিক দৈন্যতায় চরম দুর্দিনের কালো অন্ধকারের হতাশা-অবসাদ জেঁকে বসেছে তাদের মনে। সেই সঙ্কট ঢাকতে মির্জা ফখরুল জাতিকে দুর্দিনের আষাঢ়ে গল্প শোনানোর পাঁয়তারা করছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় বিএনপি শাসনামলের দুঃসহ নির্যাতন-নিষ্পেষণ এখনও দেশবাসীর স্মৃতিতে দগদগে ক্ষতের স্মারক বহন করছে। বাংলার জনগণ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও চরম অনিশ্চয়তার দুর্বিসহ সময়ে ফিরে যেতে চায় না। সেই অন্ধকারময় সময় কাটিয়ে বাংলার জনগণ শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে আলোকজ্জ্বল আগামীর পথে এগিয়ে চলেছে। সেতুমন্ত্রী বলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কালজয়ী নেতৃত্বে স্বৈরতন্ত্রের প্রতিভূ বিএনপি-জামায়াতের সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবিলা এবং পারিপাশ্বিক সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতা জয় করে উন্নয়ন-সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ তার কাক্সিক্ষত অভিষ্ঠে পৌঁছাবেই। গণ অভ্যুত্থান দিবস প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ২৪ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতনের লক্ষ্যে দুর্বার গণআন্দোলন শহীদ হন কিশোর মতিউর রহমান, রুস্তমসহ অনেকেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে দিনটি অনন্য গুরুত্ব বহন করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা ভিত্তিক আন্দোলনে সোচ্চার হয় সমগ্র জাতি।' বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
9
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বাজেট অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংসদকে অপমান করেছে। বাজেটে পণ্যমূল্য না বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা ভঙ্গ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এটা ভালোভাবে নেয়নি। বরিশালের বাবুগঞ্জে ইউনিয়ন শাখা সম্পাদকদের এক যৌথ সভায় আজ বৃহস্পতিবার মেনন এসব কথা বলেন। মেনন বলেন, সংসদে বাজেট আলোচনায় তিনিসহ অন্যরাও এ বিষয়ে বাজেট-পরবর্তী অধিবেশনের দিনগুলোতে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁদের কথার মূল্য নেই, উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, 'সেসব কথার যে মূল্য নেই, তা বোঝা যাচ্ছে। সংসদে খোলাখুলি আলোচনায় গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। এতে না সংসদ, না সরকার, কার কল্যাণ হলো।' গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মানুষ ভালোভাবে নেয়নি, উল্লেখ করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, গৃহস্থালির খরচের সঙ্গে কৃষকের সার, সেচের বিদ্যুৎ, পোশাক ও সুতাকল শিল্প, পরিবহনসহ অর্থনীতির সব খাতের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। মেনন বলেন, ১৪ দলের দায়িত্ব হবে সরকার ও তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের কাজের বিরোধিতা করা। আর শরিক দল হিসেবে এসব বিষয়ে ওয়ার্কার্স পার্টি জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করবে। রিকশা বন্ধ হলে যাত্রীরা বাস-অটোরিকশার হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, রিকশা বন্ধ হলে স্কুল-কলেজ এবং হাসপাতালে যারা যাতায়াত করবে, তাদের জন্য যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়বে। সাধারণ যাত্রীরা বাস মালিক এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে। ওয়ার্কার্স পার্টি বলে, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। ঢাকার সিটি করপোরেশনের একগুঁয়েমি মনোভাবের কারণে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্তে ঢাকাবাসী ভোগান্তিতে পড়বে। দলটি এ সিদ্ধান্তে বাতিলের দাবি জানায়।
9
পদ্মা নদীর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য এর ওপর সেতু নির্মাণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল। এ ক্ষেত্রে স্রোত যেমন, তেমনি গভীরতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পদ্মার থই পাওয়া তো খুবই কঠিন। পদ্মার গভীরতা কত আসলে? এর উত্তর একবাক্যে দেওয়া কঠিন। যেকোনো নদীরই একেক অংশের গভীরতা একেক রকম। যেখানে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে, সেখানে এর গভীরতা প্রায় ৪০ মিটার বা ১৩১ ফুট। সাধারণ কোনো ভবনের প্রতিটি তলার উচ্চতা ১০ ফুট করে ধরলে এই গভীরতা ১৩ তলা ভবনের উচ্চতার সমান।তাহলে ১৩ তলা উচ্চতার সমান দৈর্ঘ্যের কলাম দিলেই তো হয়। হয় না, কারণ এই দৈর্ঘ্য দিয়ে তো কলাম বা পিলারগুলো কেবল নদীর তলদেশ ছুঁতে পারবে। তলদেশে পিলারগুলো গাঁথতে না পারলেও স্রোতেই ভেসে যাবে সেতুটি। এখানে হলো আরেক চ্যালেঞ্জ। পদ্মার তলদেশ বেলে ও পলিমাটি দিয়ে গঠিত। পদ্মা কেন, দেশের সমভূমির কোনো নদীরই তলদেশে পাথর নেই। ফলে পিলার গাঁথার মতো শক্ত ভিত পেতে তলদেশ ফুঁড়ে বেশ অনেকটা যেতে হয়। পদ্মার ক্ষেত্রেও নিয়ম একই।পিলার কতটুকু গাঁথতে হবে, তা হিসাব করা হয় সংশ্লিষ্ট নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়ার সর্বোচ্চ প্রবণতাকে মাথায় রেখে। অর্থাৎ কোনো নদীর যে অংশ সেতু তৈরি হচ্ছে, সেখানকার তলদেশের মাটি যদি সর্বোচ্চ ১০ ফুট সরে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তবে পিলার ১০ ফুটের বেশি গভীরে গাঁথতে হবে। এটাই সাধারণ নিয়ম। পদ্মায় এই মাটি সরে যাওয়া বা স্কাওয়ারের সর্বোচ্চ রেকর্ড হলো ৬১ মিটার বা প্রায় ২১০ ফুট। অর্থাৎ নিরাপদ ভিত পেতেই ২১ তলা ভবনের উচ্চতার সমান দৈর্ঘ্যের পিলার গাঁথতে হবে সেখানে।স্বপ্নের পদ্মা সেতুসম্পর্কে সবশেষ খবর পেতে - এখানেক্লিককরুনএটুকুতেই তো পিলারের দৈর্ঘ্য হয়ে গেল (১৩+২১) ৩৪ তলা ভবনের উচ্চতার সমান। কিন্তু নিরাপদ ভিত পর্যন্ত শুধু পৌঁছালেই তো হবে না। আবার এত দিন স্কাওয়ারের রেকর্ড ৬১ মিটার ছিল বলে আজীবন তাই থাকবে, তাও তো নিশ্চিত বলা যায় না। পদ্মা নতুন রেকর্ড করতেই পারে এবং তা সেতুর স্থানটিতেই হতে পারে। তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আরও অনেকটা গভীরেই গাঁথতে হবে পিলারগুলো। কারণ, বছর বছর তো আর পদ্মার ওপর সেতু নির্মাণ করা যাবে না। তাই গড়ে ১২০ মিটারের পাইল দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চটি ১৫০ দশমিক ১২ মিটার বা ৪৯২ দশমিক ৫ ফুট। অর্থাৎ, সেতুটি নির্মাণের জন্য এমনকি প্রায় ৫০ তলা ভবনের উচ্চতার সমান দৈর্ঘ্যের পিলার স্থাপন করতে হয়েছে!পদ্মা সেতুসম্পর্কিত আরও পড়ুন:পদ্মা সেতু, স্যাটেলাইট ও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রীপদ্মা পাড়ে স্বপ্ন জয়ের প্রস্তুতিপদ্মা সেতু শাস্তি প্রয়োগের কোনো স্থাপনা নয়: আ স ম রববিএনপি-জামায়াত দেশকে শ্রীলঙ্কার অবস্থায় দেখতে চায়: হানিফপদ্মা নদীর নামেই সেতু, উদ্বোধন ২৫ জুনসর্বজনীন পদ্মা সেতুতে ওঠার আগে অপপ্রচারকারীদের ক্ষমা চাওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রীনগরের আয়তন বৃদ্ধির প্রস্তাব
6
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পররুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন দেখছেন না জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস। সংবাদমাধ্যম টি-অনলাইনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জার্মান চ্যান্সেলর এই মন্তব্য করেছেন। গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারেজার্মান চ্যান্সেলর বলেন, যুদ্ধে রাশিয়া যেসব লক্ষ্য অর্জন করতে চেয়েছিল তার কোনোটি এখন পর্যন্ত পারেনি। এর মধ্যে একটি ছিলন্যাটোর সম্প্রসারণকৃত রাষ্ট্র এবং মস্কোর মধ্যে ইউক্রেনকে বাফার স্টেট হিসেবে ব্যবহার করা। ওলাফ শলৎস বলেন, পুতিনের উন্মত্ত'রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের ধারণার কারণে রাশিয়াসহ সমগ্র বিশ্ব আজচড়া মূল্য পরিশোধ করছে। সূত্র: আল জাজিরা বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল
3
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:গৌরীপুর: উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, কেককাটা, শোভাযাত্রা ও ধান মহালে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাপতি উত্তম সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পালিত হয়।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জল হোসেন খান। এতে অংশগ্রহণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ ড. সামিউল আলম লিটন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ম. নুরুল ইসলাম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সানাউল হক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল কালাম, মাহবুব আলম, সাদেকুর রহমান সেলিম, মো. কামাল হোসেন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কাদির, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মশিউর রহমান কাউসার, মাজহারুল হোসেন টুটুল, সানাউল হক হীরা, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, জহিরুল ইসলাম ছোটন, আলী আসকর সোহাগ, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আল হোসাইনসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।ভালুকা: বেলা ১১টায় ৭৪ পাউন্ড ওজনের একটি কেক কাটা শেষে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। প্রধান সড়কগুলা প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলাচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এমএওয়াহেদ। এতে আরও বক্তব্য দেন আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম সরকার, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খোকন হোসেন ঢালী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আহাম্মদ সুজন, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান সরকার, অনিক হাসান, পারভেজ প্রমুখ।মুক্তাগাছা: ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তাগাছায় ছিল বর্ণাঢ্য নানা আয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে এ উপলক্ষে নেতা-কর্মীদের নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। সকাল ১০টায় কলেজ মাঠে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়। পরে হলরুমে কেককাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।এ সময় শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সকল ষড়যন্ত্রকে ছিন্নভিন্ন করে ছাত্রলীগ সব সময় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে। ছাত্রলীগ আগামী দিনেও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্রকে ছিন্নভিন্ন করে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করবে।অনুষ্ঠানে কলেজ শাখার বিভিন্ন ইউনিট থেকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।
6
বিএনপির ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ৭ মার্চকে যারা এতদিন নিষিদ্ধ করে রেখেছিল তারাই এখন ৭ মার্চ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপির এই প্রচেষ্টা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক আবহ তৈরি করবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, বাংলাদেশ এক সূত্রে গাঁথা- একথাউল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সবার। তাকে মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত করার অর্থই হচ্ছে দেশ ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে সম্মানিত করা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, ভৌগোলিক মুক্তি। পক্ষান্তরে তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা দিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্তির রোল মডেল। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত করার শেখ হাসিনার স্বপ্ন সফল করতে শিশুদের যোগ্য নাগরিক হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাই হবে নতুন প্রজন্মের রোল মডেল-উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা অনুকরণীয় আদর্শ। তাদেরকে স্মরণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ইতিহাসের পায়ে শেকল পরিয়ে রাখা হয়েছিল, করা হয়েছিলো বিকৃত। তাই তরুণদের দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। বর্তমান বিশ্বে সেরা তিনজন রাষ্ট্রপ্রধানের একজন শেখ হাসিনা- একথাউল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, '৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা কেউ গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেননি।বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেউ হাওয়া ভবন সৃষ্টি করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সদস্যরা আগামীতে সোনার মানুষ তৈরি করবে বলে এ সময় আশাবদ ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের। আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, আনোয়ারুল আবেদিন তুহিন, সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সচিব কে এম শহীদুল্লাহ।
9
ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে থাকা 'এমভি বাংলার সমৃদ্ধি' নামে বাংলাদেশের একটি জাহাজে মিসাইল হামলা হয়েছে। এতে এক নাবিক নিহত হয়েছেন। জানা গেছে, নিহত ওই নাবিকের নাম হাদিসুর রহমান। তিনি জাহাজটিতে থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জাহাজের নাবিকেরা জানিয়েছেন, বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে) জাহাজটিতে মিসাইলের আঘাত লাগে। এতে আগুন ধরে যায়। বর্তমানে ইউক্রেন বিষয়ে দায়িত্বে থাকা পোল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসাইন একজন নাবিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এমভি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটি তুরস্কের ইরেগলি থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছায়। পরে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ শুরু হলে সে বন্দর ত্যাগ করার সুযোগ পায়নি জাহাজটি। জাহাজটিতে বাংলাদেশের ২৯ জন নাবিক রয়েছেন। ইউক্রেন হামলার সপ্তম দিনে বাংলাদেশী জাহাজে ওই মিসাইলের আঘাতের ঘটনা ঘটল।
3
দেশের সকল বিমানবন্দরে 'ডগ স্কোয়াড' ইউনিট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (১৮ জুন) শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুকুরের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রবল। বিমানবন্দরে পৃথিবীর অনেক দেশে ডগ স্কোয়াড ইউনিট আছে। আমাদেরও করতে হবে। বিমানবন্দরে অধিকতর নিরাপত্তার জন্য ডগ স্কোয়াড ইউনিট প্রয়োজন। একনেক সভায় বেশকিছু নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয় প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। ম্যাচে ৪৮ রানে আউট হওয়া তামিম ইকবালের জন্য আফসোস করেন প্রধনমন্ত্রী। সেই সঙ্গে সাকিব ও লিটন দাসের প্রশংসাও করেন তিনি। ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত যাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা যায়, এখন থেকে এমন একটি মাস্টারপ্ল্যান করার জন্য এলজিইডি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তার নির্দেশ হলো, সারাদেশের হাইওয়েগুলোতে এমন একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে, যাতে চালক-যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট দূরুত্ব অন্তর সার্ভিস সেন্টার থাকবে। দারিদ্র্যসীমা থেকে কোন কোন জেলা বের হয়ে আসতে পারল- তার একটা ডাটাবেজ তৈরির বিষয়েও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, 'ব্যবহার উপযোগী প্রকল্পে সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে।' এছাড়া দেশের কসাইখানাগুলো মানসম্মত ও আধুনিক করার নির্দেশ দেন তিনি। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
6
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, আমি সাক্ষী ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে আমাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে পাঠানো হয়েছিল। আমি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলাম। আমি জার্মানিতে এক বছর ছিলাম। এ সময় তিনি বলেন, সংবিধানের কোন আর্টিকেলে আছে খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবে না? আমি সরকারের কাছে জানতে চাই। শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত গণঅনশনে সংহতি জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন। আ স ম রব বলেন, 'শুধুমাত্র প্রতিহিংসার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। মাত্র ২ কোটি টাকার মামলায় তাকে সাজা দিয়ে বন্দী রাখা হয়েছে, জামিন দেয়া হচ্ছে না। সেই টাকা কোথাও খরচ হয়নি। ব্যাংকেই আছে। এটাই সরকারের প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।' তিনি বলেন, 'আমি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারের কি অবস্থা হবে তা আমি জানি না। গাঁ শিউরে উঠে আমার। ঘরে ঘরে আগুন জ্বলবে।' এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ঘোষিত সকল আন্দোলনে অংশ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় গণঅনশনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি'র আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি'র আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
9
সরকার জনগণকে বাদ দিয়ে তাদের ভিনদেশী মনিবদের সাথে নিয়ে আমাদেরই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা দিবসে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিএনপি এ প্রতিবাদ সমাবেশ করে। ইশরাক হোসেন বলেন, সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকার মানুষকে ঘরে ঢুকিয়ে এক ধরণের কারফিউ দিয়ে কিছু বিদেশী প্রভু নিয়ে এসে আমাদেরই স্বাধীনতা পালন করা হলো। লজ্জা লাগে আজ এভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে হলো। অথচ দল মত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল পেশার মানুষের একসাথে হয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার কথা ছিল। নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসা নিয়ে ইসলামী দলগুলোর সাথে বেশ কয়েক দিন ধরেই সরকারের ঝামেলা চলছে উল্লেখ করে সাবেক এই মেয়র প্রার্থী বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন চলছে তা আড়াল করার জন্যই সরকার ধর্মকে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। এ দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিতে ধর্মকে ব্যবহারের চক্রান্তে মেতে ওঠেছে সরকার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঘটে যাওয়া গোলাগুলির ঘটনায় সরাসরি আওয়ামী লীগ জড়িত বলে অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, হেফাজতের হরতালে মুন্সিগঞ্জের ৮০ বছর বয়স্ক বড় হুজুরকে সরাসরি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করে আহত করেছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র রয়েছে মন্তব্য করে ইশরাক বলেন, এদের মোকাবেলা করে দেশে স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ারও আহ্বান জানান ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এসময় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শ্যামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।
9
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ফিঙ্গারপ্রিন্ট জটিলতার কারণে নিজের ভোট দিতে পারেননি সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। আজ শনিবার সকাল ১০টায় রেবতী রমন উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে ইভিএম মেশিনে আতিকের আঙুলের ছাপ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তিনি ভোট দিতে পারেননি। এ সময় কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা আতিককে দেড়-দুই ঘণ্টা পরে আবারও আসার জন্য অনুরোধ করেন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানাএ বিষয়ে মো. মাসুদ রানা বলেন, 'প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ইভিএম মেশিনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান ভোট দিতে পারেননি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছি। আশা করি সমাধান হয়ে যাবে।'জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান বলেন, ভোট দিতে একটি বুথে ঢুকলেও ইবিএমে ভোট দিতে ব্যর্থ হয়েছি। পরবর্তী সময়ে একে একে কেন্দ্রের আরও দুটি বুথে গিয়ে চেষ্টা করলে আঙুলের ছাপ না মিলায় ভোট দিতে পারিনি। নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলেছেন টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধান করার পর ভোট দিতে পারব।তবে আতিক ভোট দিতে না পারলেও নৌকার প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর শফি আহমেদ চৌধুরী ভোট দিয়েছেন।সকালে দক্ষিণ সুরমার কামাল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। অপরদিকে দাউদিয়া গৌছ উদ্দিন সিনিয়র মাদ্রাসায় ভোট দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমেদ চৌধুরী।এর আগে সকাল ৮টায় সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়। শুরুতে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কিছুটা কম। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
6
সঞ্চয়ী হিসাবে আবগারি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাজেট মানুষের জন্য। মানুষের কোনো দুর্ভোগ হয়, মানুষের কোনো কষ্ট হয় সেটা অবশ্যই আমরাও চাই না। অর্থমন্ত্রীও চান না। সেটা আমি জানি। তাই সঞ্চয়ী হিসাবে আবগারি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করছি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে এক লাখ টাকা জমা রাখলে দেড়শ টাকা কেটে রাখা হবে। আগে ১ লাখ টাকার বেশি রাখতে ৫০০ টাকা দিতে হত, এখন দেড়শ টাকা কাটা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আহরণ বিষয়ে সংসদে যে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সেটি আমি সযত্নে শুনেছি। এ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীকে তিনটি বিষয়ের প্রতি নজর দিতে আহ্বান জানাচ্ছি। প্রথম বিষয়- ইতোমধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নতুন বাজেটের অপেক্ষা না করে চাল আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ করারোপ না করে ১০ শতাংশ করেছি। আবগারি শুল্ক তিন স্তরে সঞ্চয়ী হিসাবে যদি ২০ হাজার টাকার বেশি রাখে তাকে নির্দিষ্ট হারে আবগারি শুল্ক দিতে হতো। 'আসলে অর্থমন্ত্রী বলার কারণে মানুষ উল্টো বুঝেছে। ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কোনো আবগারির শুল্ক ছিল না। ২০ হাজার ১ টাকা হলেই আবগারি শুল্ক দিতে হতো। অর্থমন্ত্রী ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়ী হিসাবকে শুল্কমুক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু এটাকে উল্টো অপপ্রচার হয়েছে যে, এক লাখ টাকা থাকলেই ৮শ টাকা কাটা হবে। আসলে তিনি ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত করে দিয়েছিলেন। কাজেই এ বিষয়টা পরিষ্কার করবেন।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১ লাখ টাকার বেশি অর্থাৎ, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত শুল্ক হার বানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছি ১ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত তিনটি স্তর করে দিয়ে শুল্কহার যেন আর না বাড়ান। সেই ব্যবস্থা নেবেন। এটা তিনিই ঘোষণা দেবেন। বিডি প্রতিদিন/২৮ জুন ২০১৭/এনায়েত করিম
6
সিরিয়ায় অবৈধভাবে সেনা মোতায়েন রেখে দেশটির তেল সম্পদ চুরি করার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে দামেস্ক। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা বাসিনা সাবান বলেছেন, অবিলম্বে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। লেবাননের আল-মায়াদিন টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শাবান এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমেরিকার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করার পর কি পদক্ষেপ নেন সেটি দেখার জন্য দামেস্ক অপেক্ষায় রয়েছে; তবে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে, সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে। একইসঙ্গে বাসিনা শাবান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৫৪ নম্বর প্রস্তাবকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেলি ক্রাফটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ওই প্রস্তাবে সিরিয়ার ওপর মার্কিন দখলদারিত্বের বিরোধিতা করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
3
যাতায়াত, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সূচকের পাশাপাশি শিক্ষায়ও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। সেইসঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। কথাগুলো বলেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। শনিবার দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। মন্ত্রী এম এ মান্নান আরও বলেন, দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের গর্ব। এ বিদ্যালয়ের শত শত কৃতী শিক্ষার্থী দেশের উন্নয়নে নিয়োজিত রয়েছেন। আজ তারা শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। সবার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই হিসাবে ২০১৯ সালে শতবর্ষ পূর্ণ হয়। তবে করোনা মহামারির কারণে ওই বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হয়নি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন্নাহার শেফা, সাবেক সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দীক, বীরপ্রতীক এনায়েত হোসেন সুজা, সাবেক সভাপতি ইস্তিয়াক হোসেন দিদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র নুরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা শওকাতুল হক কামাল চৌধুরী প্রমুখ।
6
ইসলামি পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নারীদের আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বা কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে না-নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ খবরকে গুজব বলে নাকচ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। খবর জিয়ো টিভি। পাকিস্তানের প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেল জিয়ো নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে আফগান সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও কাবুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নারী শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আরও বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আগের মতোই পাঠদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। এর আগে প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে আফগান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী শিক্ষার্থী ও অন্য নারী কর্মীদের উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে খবর প্রকাশ করা হয়। নিউইয়র্ক টাইমস গত সোমবার বলেছে, 'নারীদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ কঠোর করে তালেবান সরকারের নিয়োগ দেওয়া কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য সোমবার বলেছেন, "এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করা হলো।"' উপাচার্য মোহাম্মদ আশরাফ ঘাইরাতের এক টুইটকে উদ্ধৃত করে ওই খবর প্রকাশ করা হয়। ঘাইরাত টুইটে বলেন, 'যতক্ষণ না প্রকৃত ইসলামি পরিবেশ সবার জন্য প্রদান করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে বা কাজ করতে দেওয়া হবে না। ইসলাম প্রথম।' পশতু ভাষায় টুইট করে ঘাইরাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের শিক্ষাদানের জন্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, তা উল্লেখ করেননি তিনি। ঘাইরাত আরও বলেন, নারী প্রভাষকের স্বল্পতার কারণে পুরুষ প্রভাষকদের পর্দার পেছন থেকে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এভাবে ছাত্রীদের শিক্ষার জন্য একটি ইসলামি পরিবেশ তৈরি হবে। আর এ-সংক্রান্ত খবরে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন বলে, আফগান নারীদের জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করার সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম খবরটি প্রকাশ করে। যাহোক, কাবুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, ভুয়া একটি টুইটার অ্যাকাউন্টের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নিউইয়র্ক টাইমস ওই খবর ছাপিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, মানুষকে ভুয়া খবর দিয়ে বিভ্রান্ত করতে এসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যের কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। কোনো খবর প্রকাশ করতে হলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া উচিত। প্রসঙ্গত, কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আশরাফ ঘাইরাতকে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে ইতিপূর্বে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তাঁর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। টুইটারে এসব সমালোচনার জবাবে ঘাইরাত বলেন, নিজেকে সম্পূর্ণ যোগ্য বলেই দেখেন তিনি। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের জন্য তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ঘাইরাত বলেন, কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য, বিশ্বব্যাপী প্রকৃত মুসলমানদের সমবেত করার পাশাপাশি গবেষণা ও পড়াশোনার স্থান তৈরি করা এবং আধুনিক বিজ্ঞানকে ইসলামিকীকরণ করা।
3
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, 'বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে দেশের মানুষ কোনো নির্বাচনেই অংশ নেবে না। আজ শুক্রবার সকালে শহরের আলাইপুরস্থ জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে শহর বিএনপির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শহর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ এমদাদুল হক আল মামুনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান খান বাবুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ, বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম বাচ্চ, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর। 'বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে চায় উল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশ্যে দুলু বলেন, নির্বাচন করবেন, ভালো কথা, এর জন্য আগে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার আগে ফিরিয়ে দিতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রতিটি নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ করে দিতে হবে। তাছাড়া এদেশের মানুষ আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। নির্বাচন পদ্ধতির প্রতি মানুষের আর আস্থা নেই।
6
'শাবনূর একটা থার্ড ক্লাস মেয়ে। ও তো সিনেমা করে উঠে গেল। আর কী আছে ওর? নায়িকাদের কোনো স্ট্যাটাস থাকে নাকি?' দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর দেওয়া সাক্ষাৎকারের এই কথাগুলো পৌঁছে গেছে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা শাবনূরের কাছে। নীলা চৌধুরীর মুখ থেকে এ ধরনের কথা শুনে ভীষণ খেপেছেন শাবনূর। বললেন, 'আন্টির এ ধরনের কথা বলার কোনো অধিকার নেই। তিনি আমার পরিবার সম্পর্কে না জেনে এভাবে কথা বলতে পারেন না। তাঁর এই কথা প্রত্যাহার করতে হবে।'একসময়ের হার্টথ্রব চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৩ বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের পর চিত্রনায়িকা শাবনূর, সালমানের তৎকালীন স্ত্রী সামিরা হক ও তাঁর মা নীলা চৌধুরী গণমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন। তেমনি একটি বক্তব্য দিতে গিয়ে শাবনূরকে 'তৃতীয় শ্রেণির মেয়ে' বলেন। এ কথা চরম আপত্তিকর বলে প্রথম আলোকে জানান শাবনূর। এ ধরনের কথা নীলা চৌধুরী কোনোভাবেই বলতে পারেন না বলে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। শাবনূর বলেন, 'আন্টিকে বলব, কারও সম্পর্কে কোনো কথা বলার আগে দয়া করে খোঁজখবর নেবেন। আপনাকে শুধু বলতে চাই, আমার পরিবারের সবাইকে একনামে চেনেন। সবাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে ভীষণ সম্মানিত। সিনেমায় অভিনয় করতে আসা আমি শাবনূর কখনোই পারিবারিক পরিচয়টাকে সামনে আনিনি। আমি অভিনয় করেছি, আমার মতো করে পরিচয় তৈরি করেছি। আপনাকে অনুরোধ করছি, দয়া করে খোঁজখবর নিন, তারপর কারও সম্পর্কে মন্তব্য করতে আসুন প্লিজ। আমি কোনো ফকিরনি পরিবারের মেয়ে না।' সালমান শাহ হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামিরাও কয়েকটি গণমাধ্যমে শাবনূরকে জড়িয়ে কিছু কথা বলেছেন। সেসব কথার উপযুক্ত প্রমাণ দিতেও অনুরোধ করেছেন শাবনূর। তবে সালমানের মা নীলা চৌধুরীর কথায় অনেক বেশি অবাকও হয়েছেন শাবনূর। বললেন, 'আন্টি তো মুরব্বি। আমার মায়ের মতন। আমি যদি তাঁর মেয়ে হতাম, এভাবে কি তিনি কথা বলতে পারতেন! আমার ধারণা, রাগবশত এই কথা বলেছেন। বেশ কিছুদিন আগে টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সামিরার নামে ভালো কথা বলেছিলাম, তাই হয়তো আন্টির মুড চেঞ্জ হয়ে গেছে। তার আগ পর্যন্ত আন্টি আমাকে নিয়ে কখনোই কিছু বলেননি। কিন্তু তাঁর মুখ থেকে এ ধরনের কথা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কারও কাছে আমার বংশপরিচয় দিতে বাধ্য নই। শুধু এটুকু বলব, আমি ফেলনা নই, আমারও বংশপরিচয় আছে। সবকিছুকে ছাপিয়ে আমি আমার পরিচয়ে বড় হতে চেয়েছি। পরিবারও আমাকে সেই স্বাধীনতা দিয়েছে। আমি কোনো দিন আমার পরিবারের কথা বলিনি। কারণ, আমি সব সময় জেনে গেছি, আমি শাবনূর। আমি আমার মতো কাজ করে গেছি। আন্টিকে বলছি, কাউকে নিয়ে কটু কথা বলার আগে চৌদ্দবার ভাববেন। এরপর কথা বলবেন।' কথায় কথায় শাবনূর এ-ও বলে গেলেন, সালমান শাহকে জড়িয়ে যেভাবে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, তাতে চরমভাবে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তিনি। জানিয়ে রাখলেন, যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে মানহানির মামলা করতেও পিছপা হবেন না তিনি। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর সঙ্গে শাবনূরের ঘনিষ্ঠতার কথা বলা হয়েছে। একদিন ডাবিং রুমে সালমান শাহর সঙ্গে নাকি শাবনূরকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখেছিলেন সামিরা। এ বিষয় নিয়ে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সামিরা বলেছেন, 'বিষয়টি আসলে এমন না। শাবনূরের বয়স তখন অনেক কম। আমাদের বাসায় নিয়মিত আসত। ইমনকে ভাইয়া বলে ডাকত। খুব বেশি মিশত, এটা আমার ভালো লাগত না। পৃথিবীর কোনো স্ত্রীরই এটা ভালো লাগার কথা না, আমারও লাগেনি। তবে শাবনূরের সঙ্গে সালমানের যে ঘনিষ্ঠতার কথা বলা হচ্ছে, সেটা অতটা না। শাবনূর বারবার সালমানের কানের কাছে মুখ নিয়ে কথা বলছিল সে সময়। ওই দৃশ্য দেখে আমার খারাপ লেগেছিল।'
2
করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আর লকডাউনে ফিরে যাবে না। দেশটির শীর্ষ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফাউসি গত রোববার এ কথা বলেছেন। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ফাউসি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা। ফাউসি এবিসির 'দিস উইক'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যথেষ্ট লোককে টিকা দেওয়ায় গত শীতের মতো তীব্র সংক্রমণের পুনরাবৃত্তি এবার হবে না। এদিকে ডেলটা ধরনের সংক্রমণ বাড়ায় চলতি সপ্তাহে বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে। কিন্তু এরপরও ফাউসি বলছেন, 'আমি মনে করছি না যে আমরা আবারও লকডাউনে যাচ্ছি।' বিশ্বজুড়েই ডেলটা ধরন এখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র সংক্রামক ডেলটা ধরনের কারণে চীন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশই নতুন করে লকডাউন জারি করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্র তাদের আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে চলতি সপ্তাহে বলেছে, যাঁরা টিকার পুরো ডোজ গ্রহণ করেছেন, তাঁদেরও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইনডোরেও মাস্ক পরতে হবে। তবে মাস্কের এ পরিবর্তিত নীতির কারণে টিকা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ফাউসি তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, টিকা নেওয়া লোকজনের করোনার ঝুঁকি কম। তবে সংক্রমিত হলেও তাঁদের মৃত্যু কিংবা হাসপাতালে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হবে না। ফাউসি উল্লেখ করেন, 'টিকা যাঁরা নেননি, তাঁদের মধ্যেই আমরা সংক্রমণ ছড়াতে দেখছি।' এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত বিশ্বে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯ কোটি ৮০ লাখ ২২ হাজার ৪১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪২ লাখ ২৩ হাজার ৪৬০ জনের। বিশ্বজুড়ে করোনা শনাক্তের তালিকায় এখনো প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় স্থানে ভারত ও তৃতীয় স্থানে ব্রাজিল। ডব্লিউএইচও বলেছে, গত এক সপ্তাহে রোগী শনাক্তের দিক দিয়েও শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রোববার পর্যন্ত হালনাগাদ) ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৩৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে (মৃত্যুর তালিকায় সপ্তম)। সংস্থাটির তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ব্রাজিলে ৯১০ জনের। এই সময়ে দেশটি রোগী শনাক্তের দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে (৩৭ হাজার ৫৮২ জন)। একই সময়ে শনাক্তের তালিকায় প্রথম অবস্থানে থাকা ভারতে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪০ হাজার ১৩৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪২২ জনের (চতুর্থ)।
3
দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১০৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯৮ জনের। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৩ জন। শনাক্তের হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮২১ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬৯ জন। ২৪ ঘন্টায় ১১ হাজার ৮৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১১ হাজার ১৮৩টি নমুনা। করোনা শনাক্তের হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া তিনজনই পুরুষ। এর মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের, একজন রাজশাহী ও একজন বরিশাল বিভাগের।২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।সূত্র : বাসস
6
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে শনিবার সকালে সিলেটে পৌঁছেছেন। সেখানে পৌঁছে প্রথমেই হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন শেখ হাসিনা। পরে হজরত শাহপরান (রহ.) ও হজরত গাজী বোরহান উদ্দিনের (রহ.) মাজারও জিয়ারত করেন তিনি। মাজার জিয়ারত শেষে বেলা সোয়া ১টায় সিলেট সার্কিট হাউসে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিশ্রাম ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে দুপুর আড়াইটায় আলিয়া মাদরাসা মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার সঙ্গে আছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আহমদ হোসেন, সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. একে আবদুল মোমেন, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। শনিবার সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
6
ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ডিগ্রি কলেজে গত বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষের দরজা ভাঙচুর করে কয়েকজন ছাত্র একজনকে ছুরিকাঘাত করেন।কলেজের শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, কিছুদিন পরপরই এ ধরনের ঘটনায় কলেজ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক দিন আগেও কলেজের বাংলা বিভাগের এক শিক্ষকের সঙ্গে কয়েকজন ছাত্র অশোভন আচরণ করেন। কিন্তু এই বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। এ সব ঘটনায় ক্যাম্পাস অনিরাপদ হয়ে ওঠায় কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীথেকে শুরু করে শিক্ষক-কর্মচারীরাও আতঙ্কিত থাকেন।কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলেজে বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটি নেই। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতা পরিচয়ধারী বেশ কিছু নেতা রয়েছেন। তাঁরা আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে প্রায়ই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। তবে কলেজে কোনো ছাত্র সংগঠনের নেতা আছে কি না তা জানা নেই কর্তৃপক্ষের।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, কথা-কাটাকাটি, সংঘর্ষ, এমনকি শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা নিত্যদিনের ব্যাপার। এসব কারণে বর্তমানে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজে আসতে প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছি। এ ধরনের প্রায় সব বিষয়ই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাই অতিসত্বর কলেজ ক্যাম্পাসকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে অন্তত যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা সতর্ক হবে। তা না হলে এ রকম একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।কলেজের হিসাবরক্ষক কামাল উদ্দিন বলেন, 'এ ধরনের ঘটনায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই এর সমাধান দ্রুত প্রয়োজন।'কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তাজপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জের ধরে ছুরিকাঘাতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী পরিচয়দানকারী আব্দুল মতিন (২১) সম্প্রতি কলেজ থেকে কৌশলে ছাড়পত্র নিয়ে, সিলেট সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সংঘর্ষে আহত আরেক ছাত্র চতুর্থ বর্ষের উজ্জ্বল মিয়া (২৪)।এদিকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য কলেজের সহকারী অধ্যাপক আশুতোষ রঞ্জন দাসকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যরা হলেন প্রভাষক আবুল খায়ের, আমিনুল ইসলাম, শাহীন আলম ও আশরাফ আলী। গত বৃহস্পতিবার কলেজ স্টাফ কাউন্সিলের সভায় এই তদন্ত কমিটি গঠন হয়।কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় ক্লাসের সুষ্ঠু পরিবেশ, শিক্ষক ও কর্মচারীদের যথাযথ নিরাপত্তার পরিবেশ ফিরে না আসা পর্যন্ত ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশসহ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মনু মিয়া বলেন, 'কলেজ স্টাফ কাউন্সিলের সভায় আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনসহ থানায় লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছি।'
6
রাশিয়া ফের ব্যাপক আকারে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অলেক্সান্ডার মোতুজিয়ানিক এ অভিযোগ করেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানায় বিবিসি। মোতুজিয়ানিক বলেন, রাশিয়া এখনও অবরুদ্ধ বন্দরনগরী মারিওপোল, লুহানস্কের পপাসনা ও রুবিঝনে দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাদের ঘিরে ফেলার যে পরিকল্পনার কথা মস্কো জানিয়েছিল সে অনুযায়ীই তারা এগোচ্ছে। তিনি বলেন, দেখা যাচ্ছে, কিয়েভ ও চেরনিহিভ অঞ্চল থেকে রাশিয়া কিছু সেনা সরিয়ে নিচ্ছে। তবে এটি ব্যাপক আকারে সেনা প্রত্যাহার মনে করছে না ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। রাশিয়া জানিয়েছে, শান্তি আলোচনায় 'পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর' প্রচেষ্টায় দেশটি 'কয়েকগুণ সামরিক তৎপরতা হ্রাস করবে'। তবে দেশটি আরও জানিয়েছে, ক্রিমিয়া ও দোনবাস অঞ্চল নিয়ে মস্কোর অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ক্রিমিয়া রাশিয়ার অংশ। রাশিয়ার সংবিধান অন্য কারও সঙ্গে দেশের অঞ্চলের ভাগ্য নিয়ে আলোচনা করতে অনুমোদন দেয় না। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধ শুরুর ৩৫ দিনেও হামলা বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
3
সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে নিল নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটে জেতার পর বে ওভালে রবিবার দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইরা জয় পেয়েছে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে। ৩ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের ২৩৮ রানের জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট খুইয়ে ১৬৬ রান করতে সক্ষম হয় উইন্ডিজ। সিরিজ জেতার ম্যাচে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়েছেন গ্লেন ফিলিপস। ৪৬ বলে শতকের দেখা পেয়েছেন এ ব্যাটসম্যান। ৪৭ বলে শতক করার আগের রেকর্ডটি ছিল কলিন মুনরোর। ম্যাচসেরা হন ফিলিপস। একই ভেন্যুতে সিরিজের তৃতীয় ও সর্বশেষ ম্যাচটি সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। বে ওভালে টস হেরে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। এদিন দুই ওপেনার টিম শেফার্টের ১৮ ও মার্টিন গাপটিলের ৩৪ রানে আউট হওয়ার পর খেলতে নামেন গ্লেন ফিলিপস। শেফার্টকে আউট করেন ওশানে থমাস ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের শিকার হন গাপটিল। গাপটিল ফেরেন দলীয় রান যখন ৫৩। এরপরই শুরু হয় গ্লেন ফিলিপস ও ডেভন কনয় ঝড়। উইন্ডিজ বোলারদের তুলোধুনো করে ৪৬ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন ফিলিপস। তার ইনিংস থামে ১০৮ রানে। ৫১ বলের খেলায় ১০টি চার ও ৮টি ছয় মেরেছেন তিনি। ফিলিপসের সঙ্গী কনয় ৩৭ বলে করেছেন ৬৫ রান। তার ইনিংসে ৪টি করে চার ও ছয়ের মার ছিল। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড স্কোরবোর্ডে রান তুলে ২৩৮। ক্যারিবিয়ানদের হয়ে একটি করে উইকেট পান থমাস, অ্যালেন ও অধিনায়ক কেইরন পোলার্ড। ২৩৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দলীয় ১০ রানে ফেরেন ব্রান্ডন কিং। কাইলে জেমিসনের বলে গোল্ডেন ডাক দিয়ে সাজঘরে যান এ ওপেনার। আরেক ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারকে রানআউটের ফাঁদে ফেলেন ম্যাচের নায়ক ফিলিপস। ফ্লেচজার ফেরার আগে করেন ২০ রান। এরপর কাইলে মায়ার্স ও শিমরন হ্যাটমায়ার আশা দেখালেও বেশিক্ষণ সেটি স্থায়ী হয়নি। মায়ার্স ১৪ বলে ২০ রান করে ফিরলে নিকোলাস পুরান স্কোরবোর্ডে খুব একটা অবদান রাখতে পারেননি। পুরান করেন মাত্র ৭ রান। পুরানকে মিচেল স্যান্টনার ও মায়ার্সকে শিকারে পরিণত করেন জিমি নিশাম। আগের ম্যাচে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা কেইরন পোলার্ডও দলীয় রানে এদিন প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। ১৫ বলে ২৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। বাকিদের মধ্য রোভম্যান পাওয়েল ৯, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন ১৫ ও কেমো পলের ২৬ রানে উইন্ডিজের ইনিংস থামে ১৬৬ রানে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন জেমিসন ও স্যান্টনার। একটি করে উইকেট পান টিম সাউদি, ইশ সোধি, লকি ফার্গুসন ও নিশাম।
12
জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে ১৯৯৮ সালে। চার বছর পরপর প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও ২০ বছরে বাংলাদেশ কোনো প্রতিবেদন দেয়নি। জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরে নির্যাতনবিরোধী কমিটির ৬৭তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে আজ ও কাল। অধিবেশনে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং মানবাধিকার ফোরাম বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনের সংক্ষেপিত ভাষ্য এখানে প্রকাশিত হলো। দ্য ইউনাইটেড ন্যাশনস কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার অ্যান্ড আদার ক্রুয়েল, ইনহিউম্যান অর ডিগ্রেডিং ট্রিটমেন্ট অর পানিশমেন্ট (আনক্যাট), ১৯৮৪-এর ১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার এই প্রতিবেদন পেশ করছে। এই প্রতিবেদনে আনক্যাট বিধানের আওতায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো পদ্ধতিগতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আনক্যাট বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য এই প্রতিবেদনে রয়েছে। এই প্রতিবেদনের প্রাথমিক উৎস হিসেবে সংসদের আইন, অধ্যাদেশ, বিধিবিধান, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তসমূহ এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে নেওয়া তথ্য রয়েছে। দ্বিতীয় উৎসের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ইউপিআর প্রতিবেদনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা প্রতিবেদন, সরকারি ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া তথ্য। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা করেছে। সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বেসরকারি সংগঠন, নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত একাধিক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। নির্যাতন রোধ ও দণ্ডদান প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের জন্য আচরণবিধি, চিকিৎসকদের জন্য প্রণীত নীতিমালা, কয়েদিদের প্রতি নিষ্ঠুরতাবিরোধী বিভিন্ন আইন ও বিধিবিধান করেছে। রাষ্ট্র বনাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মামলায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, 'যদি অভ্যন্তরীণ আইন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে, তা সুরাহায় যথেষ্ট পরিষ্কার বলে গণ্য না হয়, তাহলে জাতীয় আদালতসমূহ আন্তর্জাতিক আইনের দ্বারা পরিচালিত হবে।' মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধান সংসদকে আইন তৈরি করতে দিয়েছে। সংবিধান একই সঙ্গে সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা থেকে সংসদকে বিরত থাকতে বলেছে। ২০১৩ সালে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন পাস করা হয়। বাংলাদেশের ফৌজদারি আইনগুলোতে নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে, এমন সব ধরনের সহিংসতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাংলাদেশের সংবিধানে শৃঙ্খলা বাহিনী সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ক. স্থল, নৌ বা বিমানবাহিনী। খ. পুলিশ বাহিনী, গ. আইন দ্বারা এই সংজ্ঞার অর্থের অন্তর্গত বলে ঘোষিত যেকোনো শৃঙ্খলা বাহিনী। ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অর্থ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখা, আনসার ভিডিপি, কোস্টগার্ডসহ দেশে আইন প্রয়োগ ও বলবৎকারী সরকারি কোনো সংস্থা। বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে নির্যাতনসহ যেকোনো অসদাচরণের সঙ্গে দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে নিরাপত্তা হেফাজতে কিংবা তার বাইরে নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ করতে পারেন। ১৯৮৫ সালের পাবলিক সার্ভেন্ট শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ১৯৪৩ সালের বেঙ্গল পুলিশ রেগুলেশন, ১৯৭৬ সালের পুলিশ কর্মকর্তার অধ্যাদেশের আওতায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালের পুলিশ কর্মকর্তার অধ্যাদেশের আওতায় নেওয়া শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুতি, চাকরি থেকে অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর এবং দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, পদের অবনতি ঘটানো। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেওয়ার জন্য 'ডিসিপ্লিন অ্যান্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড' নামের একটি বিভাগ রয়েছে। তাদের কাছে মাঠপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা যায়। বিচার বিভাগীয় পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত, যা হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগ নিয়ে গঠিত। সংবিধান অনুসারে মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগের কাছে প্রতিকার প্রার্থনা করা যায়। মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটলে যেকোনো ব্যক্তি হাইকোর্টের কাছে দরখাস্ত পেশ করতে পারেন। মানবাধিকার বলবৎ করতে হাইকোর্ট বিভাগ প্রজাতন্ত্রের যেকোনো কর্তৃপক্ষের ওপর আদেশ নির্দেশ জারি করতে পারেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নেওয়া সিদ্ধান্ত সব অধীন আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। যে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া কোনো আদেশ বা নির্দেশের অমান্য ঘটে, তখন সুপ্রিম কোর্ট তার অবমাননার জন্য তদন্তদানে যেকোনো আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারেন। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট গ্রেপ্তার ও অন্তরীণ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে একাধিক সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার, ডিটেনশন, রিমান্ডকালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের করণীয় নির্দেশ করা আছে। ওই মামলায় এই যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে ৫৪ ধারার আওতায় সন্দেহের বশে গ্রেপ্তারকালে পুলিশ তার ক্ষমতার বাইরে যাওয়ার একটা প্রবণতা দেখিয়ে থাকে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর রায়ে বলেছেন, পুলিশি হেফাজতে বা জেল হেফাজতে কয়েদির প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর কোনো আচরণ সংবিধান অনুমোদন করে না। পরে সাইফুজ্জামান বনাম রাষ্ট্র মামলায় সুপ্রিম কোর্ট গ্রেপ্তার, আটক, তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের জন্য একটি গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছেন। ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাস হওয়া জাতিসংঘের রেজল্যুশনের (৩৪/১৬৯) আলোকে একটি আচরণবিধি তৈরি করতে বলেছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সব ধরনের দৈহিক শাস্তি বন্ধে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি রোধে নানাবিধ নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যান্য পদক্ষেপ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আইন কমিশন, লিগ্যাল সার্ভিসেস অর্গানাইজেশনের মতো একাধিক বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান নির্যাতনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্যারিস নীতির আলোকে ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন নির্যাতন বিষয়ে ৭৭টি অভিযোগ পেয়েছে। আইন কমিশন দৈহিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি রোধ, গুরুতর অপরাধের শিকার ব্যক্তি ও মামলার সাক্ষীদের সুরক্ষা দেওয়া, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিবেদন দিয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে যে কোনো ব্যক্তিকে অবহিত করা ছাড়া তাকে অন্তরীণ রাখা যাবে না। সিআরপিসিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে তার গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। ২০১২ সালে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটার্স আইন পাস হয়। এর আওতায় অপরাধের তদন্ত, বিচার ইত্যাদি বিষয়ে আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতার পথ প্রশস্ত হয়। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকার কারাগার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে একটা কমিশন গঠন করে। এই কমিশন কয়েদিদের সব ধরনের শারীরিক দণ্ড বিলুপ্ত করতে সুপারিশ করেছে। কারা মহাপরিদর্শক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জজ নিয়মিত কারাগার পরিদর্শন করে থাকেন। জেল সুপার প্রতিদিন যেখানে এক দিন কারাগার পরিদর্শন করেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা জজ মাসে একবার করে কারাগার পরিদর্শনে যান। কারা কর্তৃপক্ষ কারাগার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কারা কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং ঢাকায় কারা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রিজন্স অ্যাকাডেমি শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তনির্যাতনবিরোধী আইনের অধীনে চলমান কোনো আদালতের সামনে কোনো ব্যক্তি যদি অভিযোগ করে যে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে, তাহলে আদালত অনতিবিলম্বে তেমন বিবৃতির একটি কপি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কাছে বা ক্ষেত্রমতো ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করবেন এবং একটি মামলা দায়েরের নির্দেশ দেবেন। পুলিশ সুপার উক্ত আদেশপ্রাপ্তির পরপরই ঘটনা তদন্ত করে অভিযোগসহ বা অভিযোগ ছাড়াই প্রতিবেদন পেশ করবেন। তবে শর্ত থাকে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি মনে করেন যে পুলিশের দ্বারা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত সম্ভব নয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যদি আদালতে আবেদন করবেন এবং আদালত যদি তাঁর আবেদনে এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদন যথার্থ, তাহলে আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন নয়বাংলাদেশের কোনো আইনেই কোনো বিদেশি নাগরিককে এমন কোনো রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণের অনুমতি দেয় না, যেখানে গেলে ওই ব্যক্তি কোনোভাবে নির্যাতনের কবলে পড়তে পারে। বাংলাদেশ বর্তমানে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। জাতিসংঘ ও তার সহযোগী ও সমর্থিত একাধিক স্বাধীন সংগঠন তাদের সমীক্ষায় বলেছে, মিয়ানমারের যেসব লোককে 'জোরপূর্বক স্থানান্তরিত মিয়ানমার-নাগরিক' (ফোরসিবলি ডিসপ্লেসড মিয়ানমার ন্যাশনালস-এফডিএমএন) বলা হচ্ছে, তারা জাতিগতভাবে রোহিঙ্গা। তারা ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, প্রহার, হত্যা ও অনাহারে রাখার মতো নিকৃষ্ট ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার। এ ছাড়া পরিকল্পিত ও সংগঠিত (সিস্টেম্যাটিক) নির্যাতন এবং সুপরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার হরণের ঘটনায় তারা অব্যাহতভাবে নাজুক অবস্থায় রয়ে গেছে। সে কারণেই মিয়ানমারে তাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে যখনই আলোচনা চলে, বাংলাদেশ সরকার সর্বদা কঠোরভাবে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন না করার নীতিতে সংকল্পবদ্ধ থাকে। বাংলাদেশ এই অঙ্গীকারের অবিচল রয়েছে যে মিয়ানমারে যখন তাদের নিরাপত্তা, নিরাপদ জীবন ও মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে, কেবল তখনই তাদের সে দেশে প্রত্যাবাসন করা হবে। উপসংহারনির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সন্দেহাতীতভাবে একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। এ জন্য দরকার ব্যাপকভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনগত সংস্কার। একই সঙ্গে দরকার নাগরিক ও সরকারি কর্মকর্তা, বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী এবং বিচার বিভাগীয় সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা। মানবাধিকারের উন্নয়ন ও সুরক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার পক্ষ থেকে আসা সুপারিশের আলোকে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদার, স্থানীয় এনজিও, নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর ও লাঞ্ছনাকর আচরণ ও দণ্ড রোধের ম্যান্ডেটকে পূর্ণতা দেওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ
8
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কয়েক হাত দূরে মেঘনা নদী। বিদ্যালয়টি ১০ বছরে পাঁচবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। সর্বশেষ গত পাঁচ বছর এটি তিনবার সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে ঝরে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।স্থানীয়রা বলছেন, উপকূলীয় জেলে ও কৃষক পরিবারের সন্তানদের বিদ্যালয়মুখী মনোভাব এমনিতেই কম। নতুন কোনো স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তর হলেও আগের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ ছাড়া নদীভাঙনে পরিবারের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত শিশুদের বসতিও স্থানান্তর হচ্ছে। এভাবে উপকূলীয় এলাকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়।গত শুক্রবার বিকেলে চর কালকিনি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে মেঘনার ভাঙনের দৃশ্য। নদীপাড়ে থাকা তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে অবকাঠামো রয়েছে, তা খুলে ফেলা হচ্ছে। কোথাও জমি নির্ধারণ হলে, সেখানে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হবে। সেখানে থাকা আরেকটি কওমি মাদ্রাসাও নদীর খুব কাছাকাছি অবস্থানে দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগুলো খুলে অন্যত্র নিয়ে রাখা হচ্ছে। আর পার্শ্ববর্তী একটি বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে।সহকারী শিক্ষক মো. নুরুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যা ৬৫। কিন্তু স্থানান্তর করার পর প্রতিদিন গড়ে ২০ জনের মতো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। বাকিরা মাদ্রাসা বা অন্য কোনো পেশায় চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া নদীর খুব কাছে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি ঘর ভেঙে ফেলার জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। শিগগির সেটি সরিয়ে ফেলা হবে। আর নতুন নির্মিত শ্রেণিকক্ষের অবকাঠামো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেখানে জায়গার ব্যবস্থা হবে, সেখানে বিদ্যালয়ের ঘর তোলা হবে।নদীতীরে দেখা হয় বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিদার হোসেন, দুর্জয় চন্দ্র ভক্ত ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিমের সঙ্গে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ভাঙনের কবলে পড়ায় মন খারাপ তাদের।তারা বলে, বাড়ির কাছেই স্কুল ছিল। আসা-যাওয়াতে কোনো সমস্যা হয়নি। এখন দূরের একটি স্কুলে যেতে হয়। এতে অনেকেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আর তাদের বাড়িও নদীতে ভেঙে যাবে, কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবে, লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে কি না, তা নিয়ে তারা চিন্তিত।তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে রয়েছে নাছিরগঞ্জ দারুল আরকাম কাওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা। প্রতিষ্ঠানটির খুব কাছেই এখন মেঘনা নদীর অবস্থান। যেকোনো মুহূর্তে মাদ্রাসার জমিটি গিলে খাবে রাক্ষুসে মেঘনা। তাই এ প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোও সরিয়ে নিতে হবে।চর কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল্লাহ বলেন, এ এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ আছে। এগুলোর জমি যেকোনো মুহূর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, মাদ্রাসা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বসতবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও হারাতে হচ্ছে।
6
শেষ মিনিট পর্যন্ত মেরিনার ইয়াংস এগিয়ে ৩-২ গোলে। ম্যাচটা জয় বা ড্র হলেই নিশ্চিত হবে মেরিনার্সের দ্বিতীয় লিগ শিরোপা। এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে যখন লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখছে মেরিনার্স তখনই জ্বলে উঠলেন খোরশেদুর রহমান। শেষ মিনিটে তাঁর জোড়া গোলে ৪-৩ গোলের রুদ্ধশ্বাস এক জয় পেয়েছে আবাহনী।আবাহনীর এই জয়ে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের শিরোপার লড়াই। লিগের প্রথম হারে ১৪ ম্যাচে মেরিনার্সের পয়েন্ট এখন ৩৯। ১৫ ম্যাচে সমান পয়েন্ট আবাহনীরও। লিগে মেরিনার্স তাদের শেষ ম্যাচ খেলবে মোহামেডানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জয়-ড্র পেলেই চলবে মেরিনার্সের। আর হেরে গেলে মোহামেডান-মেরিনার্স আর আবাহনীর পয়েন্ট সমান ৩৯ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে তিন দল প্লে-অফে খেলবে একে অপরের বিপক্ষে। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে আজ সপ্তম মিনিটে বৃত্তের বাইরে থেকে বিয়র্ন কেলারমানের হিট সরাসরি ঠিকানা খুঁজে পেলে গোল দেন রেফারি। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে কেলারমানের শট বৃত্তের ভেতর থাকা রোমান সরকারের স্টিক ছুঁয়েছিল কিনা। রিভিউয়ে দেখা যায় রোমানের স্টিক স্পর্শ করেনি বল। বাতিল হয় গোল। এই সিদ্ধান্তের জেরে খেলা বন্ধ থাকে আধ ঘণ্টারও বেশি সময়। পুনরায় খেলা শুরুর পরপরই পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে আবাহনীকে এগিয়ে নেন কেলারমান।পঞ্চদশ মিনিটের পেনাল্টি কর্নার থেকে সমতায় ফিরে মেরিনার্স। মিলন হোসেনের পুশ সুখজিৎ সিং স্টপ করার পর সোহানুর রহমান সোহানের হিট জাল খুঁজে নেয়। তিন মিনিট পর পেনাল্টি কর্নারে থেকে সরাসরি গোল না পেলেও ওই আক্রমণ থেকে ব্যবধান বাড়ান সোহানুর।২৫তম মিনিটে মরিস আলফন্সের গোলে সমতায় ফিরে আবাহনী। কিন্তু একটু পরই প্রতিপক্ষের স্বস্তি কেড়ে নেয় মেরিনার্স। পেনাল্টি কর্নার থেকে লক্ষ্যভেদ করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সোহানুর।সমতা ফেরাতে মরিয়া আবাহনী শেষ ১৫ মিনিটে করেছে একের পর এক আক্রমণ। খেলার অন্তিম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলও করেন ফরোয়ার্ড খোরশেদুর রহমান। খেলা শেষ হতে বাকি যখন বাকি মাত্র দুই সেকেন্ড তখন আবারও পেনাল্টি কর্নার পায় আকাশি-নীলরা। সেই পেনাল্টি কর্নার থেকে আবারও গোল করে মেরিনার্সের অপেক্ষা বাড়ান খোরশেদুর রহমান।
12
গোপালগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে একটি ইঞ্জিন চালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘের্ষ দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ডুমদিয়া নামকস্থানে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা টায়ার জ্বালিয়ে সড়কটি আধাঘন্টা অবরোধ করে রাখে। নিহতরা হলেন- ভ্যান চালক কাশিয়ানী উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের প্রয়াত আয়েন উদ্দিন সিকদারের ছেলে আব্দুল মান্নান সিকদার (৬০) ও ভ্যানযাত্রী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের মোতালেব সরদারের ছেলে রাজমিন্ত্রী মঞ্জুর সরদার (৩৮) । দুর্ঘটনায় ভ্যানযাত্রী মঞ্জুর সরদারের ছেলে হৃদয় সরদার (১৫) আহত হয়েছেন। গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া কাশিয়ানীগামী প্রাণ গ্রুপের একটি কভার্ডভ্যান ডুমদিয়া পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ভ্যানযাত্রী মঞ্জুর সরদার নিহত হন। হাসপাতালের নেওয়ার পর ভ্যানচালক আব্দুল মান্নান মারা যান। তিনি জানান, মঞ্জুরের ছেলে হৃদয়কে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঞ্জুর ও তার ছেলে রাজমিস্ত্রীর কাজ করার জন্য ভ্যানে করে গোপালগঞ্জের পুলিশ লাইন এলাকায় যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সড়ক অবরোধ করা হলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান খান ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা অবরোধ তুলে নেন। ঘাতক কভার্ডভ্যানটি বিজয়পাশা থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল।
6
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এক মিলিয়ন রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ার মুদ্রা) মুচলেকায় জামিন পেয়েছেন। আজ বুধবার তার জামিন আবেদনে সম্মতি দেন মালয়েশিয়ার একটি হাইকোর্ট। বিচারক মোহাম্মদ সুফিয়ান আব্দুল রাজাক জামিনের এ অর্থ নির্ধারণ করেন। তিনি নাজিব রাজাককে তার দুটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
3
ইউকে লেবার পার্টির ইফতার মাহফিলে জামায়াতের ইউরোপ সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেছেন, শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে মোকাবেলা করতে না পেরে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে। বরেণ্য আলেম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ জামায়াত নেতাদের মিথ্যা মামলায় আটকে রেখেছে। এ অগণতান্ত্রিক সরকারকে হটাতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। তিনি অবিলম্বে ২০ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আল্লামা সাঈদীর মুক্তির জোর দাবি জানান। ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টি ইউকে শাখার উদ্যোগে রোববার লন্ডনের স্টার ক্যাফে রেস্টুরেন্টে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ইউকে লেবার পার্টির সমন্বয়কারী রাকেশ রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউকে যুবদলের সভাপতি মো: আবদুর রহীম। বক্তৃতা করেন, ডিএল টিভির চেয়ারম্যান ডালিয়া লাকুরিয়া, জাতীয়তাবাদী ওলামাদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা শামিম আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রহমান খোকা, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম রিবলু, ৯০ দশকের সাবেক ছাত্রনেতা ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, সাবেক ছাত্রদলনেতা মারুফ গিয়াস বাপ্পি, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, লেবার পার্টির ইউকে আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম টুটুল ও যুগ্ম সম্পাদক গোলাম হোসেন হারুন প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি।
9
৯ বছর পর আবারও বাংলাদেশে আসছে বিশ্বকাপ ট্রফি। আগামী ৮ জুন কাতার বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্বকাপ ট্রফি আনা হবে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ট্রফিটি রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রদর্শিত হবে। বুধবার (২৫ মে) বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আবারও বাংলাদেশে আসতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ট্রফি। তাদের বাণিজ্যিক অংশীদার কোকাকোলার সঙ্গে যৌথভাবে দুই-তিন দিনের মধ্যে আমরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো। এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালে দেশে বিশ্বকাপ ট্রফি আনা হয়েছিল।
12
মাদারীপুরে আসন্ন তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনেই ঝাউদি ইউপির দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের তালতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে সংঘর্ষের সময় একটি নির্বাচনী ক্যাম্প, চারটি মোটরসাইকেল, একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ঝাউদি ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হায়দার কাজীর কর্মী-সমর্থকেরা মাদ্রাসা এলাকায় প্রচারণা শেষে মিছিল নিয়ে তালতলা বাজার হয়ে শহরের দিকে আসছিলেন। একই সময় তালতলা বাজারে আরেক প্রার্থী ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাওলাদার নির্বাচনী সভা করছিলেন। এ সময় দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে প্রথমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আবুল হাওলাদারের নির্বাচনী ক্যাম্প এবং হায়দার কাজী সমর্থকদের বহরে থাকা মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে সময় উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হায়দার কাজী অভিযোগ করেন, 'আমরা মিছিল নিয়ে ফেরার পথে আবুল চেয়ারম্যানের লোকজন আমার লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরে প্রশাসনকে দেখানোর জন্য আবুল চেয়ারম্যান তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আবুল চেয়ারম্যান সঠিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেবেন না। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই এখন তাঁর কাজ।' অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে আবুল হাওলাদার বলেন, নির্বাচনের মনোনয়ন জমার পর থেকে হায়দার কাজী প্রতিদিন বহিরাগত উচ্ছৃঙ্খল লোকজন নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। গতকাল এ মহড়া দিয়ে ফেরার পথে হায়দার কাজীর লোকজন বিনা উসকানিতে তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে এসে ভাঙচুর চালায় ও তাঁর কর্মীদের মারধর করেছে। মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ লেগেই আছে। প্রচারণা শুরুর দিনেও সেটা বাদ যায়নি। গতকাল সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। প্রসঙ্গত, তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর মাদারীপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
9
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তমব্রু শূন্যরেখার কাছাকাছি ব্যাপক গুলিবর্ষণ করছে মিয়ানমার। এতে কোনারপাড়া শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভয়ের মধ্যে রয়েছে। মিয়ানমার বলছে, তারা নিজেদের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছিল। এ ঘটনায় সীমান্তে বিজিবি সর্তক অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার বেলা ৩ টায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি'র অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে সীমান্তের শূন্যরেখায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঘটেছে। এ ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বলেছে, সেদেশে অভ্যান্তরে ৫'শ গজ ভেতরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিজিপি যৌথভাবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালিয়েছিল। সেই অভিযানের জন্য তারা গুলি চালায়।' লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, 'গুলিবর্ষণে শুরুতে শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভয়ে ছিল। পরে জানতে পারে ঘটনাটি সেদেশের ভেতরে হচ্ছে। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।' স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় কোনারপাড়া এলাকার খালটি তমব্রু খাল হিসেবে পরিচিত। সেখানে ১ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পরিবারের ৫ হাজার সদস্য রয়েছে। তারা ২০১৭ সালে ২৪ আগস্টের পরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর সেখানে আটকা রয়েছে। তারা যাতে বাংলাদেশে ঢুকে পরে সেজন্য মিয়ানমার পক্ষ থেকে বার বার গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। পাশপাশি সীমান্তে কাঁটাতারের বেষ্টনির পাশঘেঁষে মিয়ানমার সেনাবাহিনী একটি সড়ক নির্মাণ করেছে। এটি তমব্রু থেকে বাইশ ফাঁড়ি পর্যন্ত চলে গেছে। এই সড়ক দিয়েই এখন প্রতিদিন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর যানবাহন চলাচল করে থাকে। শূন্যরেখার এক রোহিঙ্গা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে জিরো লাইনের কাছাকাছি মিয়ানমারে ব্যাপক গুলিবর্ষণ হয়েছে। প্রায় ঘণ্টাখানেক গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। এতে রোহিঙ্গা শিবিরের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পরে। কেননা মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীরা মাঝে মধ্যে রোহিঙ্গাদের ভয় দেখানোর জন্য গুলিবর্ষণ করে। সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, 'বৃহস্পতিবার বিকেলে নো-ম্যানস ল্যান্ডে গুলিবর্ষণের খবর পওয়া গেছে। তবে ঘটানাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটেছে। '
6
ঢাকা: জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রম এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করবে। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এনে এনআইডি নিয়ে আবেদনগুলো এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। আর ঝুলে থাকা আবেদনগুলো দুই মাসের মধ্যে শেষ করা হবে।মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।সভা শেষে মন্ত্রী মোজাম্মেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন এনআইডির নিবন্ধন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করবে। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছি দিনে ৫০০ এনআইডি করার সীমা তুলে দিয়ে ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। কারণ অনেক মানুষের আবেদন পেন্ডিং আছে। সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে এনআইডি করে দিতে হবে। কোনো কারণে এনআইডি দেওয়া সম্ভব না হলে কী কারণে দেওয়া যাচ্ছে না তাও এক মাসের মধ্যে লিখিতভাবে জানিয়ে দিতে হবে। নাগরিকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। করোনার অজুহাত দেওয়া যাবে না, অফিস বন্ধের কথা বলা যাবে না। কারণ এখন বাড়ি বসে কাজ করা যায়।'মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ ভোটার তালিকা তৈরি করা এবং ভোট কাজ পরিচালনা করা। কোনো দেশে এনআইডির কাজ নির্বাচন কমিশন করে না। খুব দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাতে এনআইডি নিবন্ধনের কাজ করতে পারে সেই প্রক্রিয়া চলছে। এরপর পেন্ডিং কাজগুলো দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। আমরা জবাবদিহিতামূলক কার্যক্রম চালু করতে চাই।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার আলোকে এনআইডির নিবন্ধন কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবকে চিঠি দিয়েছে তাঁরা।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তাঁদের চিঠিতে সুরক্ষা সেবা বিভাগের দায়িত্বের মধ্যে জাতীয় নিবন্ধন সংক্রান্ত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রুলস অব বিজনেস অনুসরণ করে এ সংক্রান্ত পরিপত্র অনুযায়ী একটি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে বলেছে।জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে 'নির্বাচন কমিশন' এর পরিবর্তে 'সরকার' শব্দ অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।নির্বাচন কমিশন ২০০৭-০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে। বর্তমানে দেশের ১১ কোটি ১৭ লাখের বেশি নাগরিক ভোটার তালিকাভুক্ত রয়েছে।২০১০ সালে ইসির অধীনে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ গঠন করা হয়। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ক্ষমতা ও এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া আছে। নির্বাচন কমিশন নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার পাশাপাশি এর তথ্য-উপাত্ত সংশোধনের কাজও করে।পাসপোর্ট নিয়ে মানুষের ভোগান্তির বিষয়ে এক প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট ডিজি ও সচিবকে এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিয়েছি। এরপর তাঁরা আগামী মিটিংয়ে আমাদের প্রতিবেদন দেবে।
6
ক্ষমতাসীন দলের 'সিন্ডিকেটের কারসাজিতে' কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম কম। চামড়া 'পাশের দেশে পাচার' করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার অজুহাতে একটি সিন্ডিকেট বেশ কয়েক বছর ধরেই চামড়া নিয়ে কারসাজি করছে। এই সিন্ডিকেটের হোতা আওয়ামী লীগের এক নেতা। যার কারণে তাদের চামড়া নিয়ে অনাচার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এই চক্রের স্বার্থ রক্ষা করছে সরকার। প্রতিবছর কোরবানির ঈদের আগে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য ন্যূনতম দাম ঠিক করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে ট্যানারি মালিকদের দাবিতে গত বেশ কয়েক বছর ধরে ওই দাম কমতির দিকে। কিন্তু এবারও ঈদের দিন বিকেলে চামড়ার দাম পড়ে গেলে 'সিন্ডিকেটের কারসাজির' অভিযোগ তোলেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার রিজভী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়ার বর্গফুট প্রতি একটা হাস্যকর দাম বেঁধে দিয়ে ওই সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছে। এই অল্প দামের চামড়া ব্যাপকভাবে পাচার হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে। এই বিএনপি নেতা দাবি করেন, তাদের সরকারের আমলে যে চামড়া কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বিক্রি হচ্ছে দুই-তিনশ' টাকায়। যেভাবে পাট শিল্প 'ধবংস করা' হয়েছে, ঠিক সেই পথেই বাংলাদেশের ট্যানারি শিল্পকে 'ধ্বংস করা হচ্ছে' বলে মন্তব্য করেন রিজভী। এবার ঈদযাত্রায় জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। রিজভী বলেন, সেতুমন্ত্রী কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে মানুষের চোখকে বিভ্রান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করলেও ভুক্তভোগী মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরে ফেরার যন্ত্রণা। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আমিনুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ ও আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
9
বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, 'এ অবৈধ সরকারের কাছ থেকে মানুষ সব অধিকার ফিরে পেতে চায়।' শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এই কথা বলেন। খিলগাঁও থানা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনি ও নিউ মার্কেট থানা ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ছাত্রদল এ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। নোমান বলেন, 'দেশে আজ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটাপন্ন।' সরকার বন্দুকের জোরে দেশ শাসন করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'অনেক তরুণকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।' ছাত্রদলের সহ সভাপতি এজমল হোসেন পাইলটের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, জনির বাবা ইয়াকুব আলী, বাপ্পির বড় বোন ঝুমুর আক্তার, সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান মানিক, নিউমার্কেট থানা ছাত্রদল নেতা গাজী মনিরুজ্জামান ও সোহেল খান।
9
হস্তজাত পণ্য তৈরি করে অনেক নারী জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তার স্বীকৃতিও পেয়েছেন। একই সঙ্গে শত শত নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। নওরিন আক্তারের বাড়ি জামালপুর শহরের মিয়াপাড়া এলাকায়। তিনি আনন্দ মোহন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি হস্তশিল্পের কাজ করেন। তিনি বলেন, 'এই শহরে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার দুয়ার খুলে দিয়েছে হস্তশিল্প-সৃষ্টি হয়েছে অনেক নারীর কর্মসংস্থান।' এই কাজ করে মাসে যা আয় হয়, তা দিয়ে তিনি লেখাপড়া ও ব্যক্তিগত খরচ চালিয়ে নিতে পারছেন। এখন তিনি নিজেই উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি হলো, নদীভাঙন ও দারিদ্র্যপীড়িত জামালপুর জেলায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প। কাপড়ে সুচ ফুটিয়ে নিপুণ হাতে কারুকাজখচিত বাহারি পণ্য তৈরি করছেন এই জনপদের নারীরা। তাঁদের হাত ধরে জামালপুর এখন হস্তশিল্পের শহর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এই শিল্পের সম্ভাবনা বুঝতে পেরে সরকার ইতিমধ্যে জামালপুর শহরের কম্পপুর এলাকায় বিশাল এক নকশিপল্লি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। জেলার হস্তশিল্প উদ্যোক্তারা এখন এই পল্লির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। জামালপুর শহরের অলিগলিতে অনেক ঘরেই হস্তশিল্পের পণ্য তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় কাজ করে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। যেসব পণ্য তাঁরা তৈরি করছেন, সেগুলো হলো, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, নকশিকাঁথা, বিছানার চাদর, কুশন কভার, শাড়ি, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, হাতপাখাসহ নানা পণ্য। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও যাচ্ছে এসব পণ্য। হস্তজাত পণ্য তৈরি করে অনেক নারী জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তার স্বীকৃতিও পেয়েছেন। একই সঙ্গে শত শত নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। আর তাতে বছরে শতাধিক কোটি টাকার হস্তশিল্প বিক্রি হচ্ছে এই জেলা থেকে। তবে করোনার থাবায় সম্ভাবনাময় এই শিল্পে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। অনেক উদ্যোক্তা ঝরে পড়েছেন। অনেকেই বহু কষ্টে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। এই শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে এই শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। একসময় সম্ভাবনাময় এই শিল্প প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। গ্রামাঞ্চলের নারীদের নিপুণ হাতের জাদুতে আবারও এই শিল্পের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটেছে। বর্তমানে এই শিল্প দেশ-বিদেশে খ্যাতি কুড়াচ্ছে। প্রায় সাড়ে তিন লাখ নারী-পুরুষ এখন এই পেশায় জড়িত। তার ৮০ শতাংশই গ্রামাঞ্চলের নারী। সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি তাঁরা ঘরে বসেই হস্তশিল্প ও নকশিকাঁথার বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছেন। বাড়তি আয়ের জন্য অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণীরাও এই পেশায় আসছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ঢাকাইপট্টি থেকে দেওয়ানপাড়া পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে নারীদের পরিচালিত হস্তশিল্পের পণ্য তৈরির কারখানা ও দোকান গড়ে উঠেছে। শহরের বিভিন্ন মহল্লায় চোখে পড়ে সারি সারি হস্তশিল্পের দোকান। অনেক আবাসিক ভবনেও বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। আমলাপাড়া, বসাকপাড়া, কলেজ রোড, বকুলতলা, জিগাতলা, মুন্সিপাড়া, মিয়াপাড়া, বেলটিয়া, পাথালিয়া, পাঁচ রাস্তা মোড়, কাছারিপাড়াসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় হস্তশিল্পের বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এর সঙ্গে নকশিপল্লি চালু হলে ব্যবসায় আরও গতি আসবে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা। এতে পণ্য বাজারজাতকরণের সমস্যা অনেকটাই মিটবে। তখন দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা নকশিপল্লিতে এসে সহজেই পছন্দের পণ্য কিনতে পারবেন। এ ছাড়া দেশের বাইরেও এসব হস্তশিল্পের ব্যাপক চাহিদা আছে। ইতিমধ্যে সরকার হস্তশিল্পকে জামালপুরের ব্র্যান্ড পণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই বাস্তবতায় নকশিপল্লির নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। জামালপুরের হস্তশিল্প ব্যবসায়ীরা মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। তাঁদের মতো দেশের অন্যান্য এসএমই উদ্যোক্তারাও এখন স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্রের দাবি করছেন। বিষয়টি হলো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব হয় না। সে জন্য সরকার তাঁদের জন্য স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দিলে ব্যবসার অনেক প্রসার ঘটবে বলেই তাঁরা মনে করেন। জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি (নাসিব) জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. শাহিনুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় বড় উদ্যোক্তা আছেন প্রায় আড়াই হাজার। সব মিলিয়ে এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নারী-পুরুষ যুক্ত। হস্তশিল্প পণ্যের নিজস্ব বাজার গড়ে উঠলে হতদরিদ্র নারী শ্রমিকেরা যেমন সঠিক মূল্য পাবেন, পাশাপাশি দরিদ্র এই জেলায় গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও পুরো বদলে যাবে। তবে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এই শিল্পের কাঁচামালের দাম অনেকটাই বেড়েছে। একদিকে কারোনার প্রভাব, অন্যদিকে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি-এই দুই কারণে অনেক ছোট উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে ঝরে পড়েছেন। কোভিড মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা ঋণ বেশিরভাগ উদ্যোক্তাই পাননি। তবে উদ্যোক্তারা সাধারণত এসএমই ঋণ নিয়ে থাকেন। এই শিল্প আরও এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।
0