text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
ভোলায় আলোচিত যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম টিটুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জামাল উদ্দিন ওরফে চকেট জামালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে তাঁকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার সকালে জামাল উদ্দিনকে ভোলায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এনায়েত হোসেন।জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের নির্বাচনে নৌকার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ডাক্তার নাসির উদ্দিন নান্নু বিজয়ী হন। তিনি বিজয়ী হওয়ার পর গত ২৬ নভেম্বর নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের সমাবেশ ও দাওয়াত খেতে তাঁর নেতাকর্মীসহ লোকজন মদনপুর চরে যান। দুপুরের দাওয়াত খেয়ে বিকেলে ডাক্তার নাসির উদ্দিন নান্নু ও তাঁর কর্মীসহ প্রায় ৬০-৭০ জন মদনপুর থেকে নাসির মাঝি ঘাটের উদ্দেশে ট্রলারে করে ফিরছিলেন। এ সময় স্পিডবোট থেকে অস্ত্রধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন যুবলীগের নেতা খোরশেদ আলম টিটু। এ ঘটনায় আবদুল খালেক, হারুনসহ অন্তত আরও তিন জন আহত হয়েছেন। চকেট জামাল গ্রুপ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন টিটুর স্বজন ও নান্নু চেয়ারম্যান।খোরশেদ আলম টিটু নিহত হওয়ার ঘটনায় জামাল উদ্দিন চকেটকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের বিরুদ্ধে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই হানিফ ভুট্টু। পুলিশ ওই দিন রাতেই আবুল বাশার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত টিটুর পরিবারসহ আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ বিষয়ে আজ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানাবেন। | 6 |
রমজান শুরু হওয়ার আগেই তীব্র যানজটে নাকাল নগরবাসী। সাধারণত রমজান মাসে রাজধানীর সড়কগুলোতে মানুষের ব্যস্ততার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। কিন্তু এবার আগেভাগেই যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের দেয়া বিধি-নিষেধ উঠে যাওয়ার স্কুল-কলেজ,সরকারি বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সব অফিস এবং সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে যানজট পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট লাগতো এখন সেই একই দূরত্বে যেতে লেগে যাচ্ছে প্রায় এক ঘণ্টা। তীব্র যানজটের কারণে রাজধানীর সব সড়কে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিন ধরে ধানমন্ডি রাপা প্লাজা থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ, বিজয় স্মরণী, জাহাঙ্গীর গেট হয়ে বনানী পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার জয়ন্তী সরকার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ধানমন্ডি থেকে বনানীর অফিসে পোঁছতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। যানবাহন ও যাত্রী বেড়ে যাওয়ার সড়কের চাপ বেড়েছে। মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে বনানী পর্যন্ত সড়কে যানজট লেগেই থাকে।বিজয় স্মরণী থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে । ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিনি মোহাম্মদপুর থেকে গুলশানের অফিসে সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না। মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করলেও মনিপুরিপাড়া, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীরকে টু বনানী এলাকায় তীব্র যানজটের কবলে পড়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিজয় স্মরণী ফ্লাইওভার ব্যবহার করে গেলেও মহাখালী এবং তেজগাঁও লিংক রোডে যানজটে পড়তে হচ্ছে। দিলকুশা শিল্প ভবন এর কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, অফিসে যাওয়ার পথে জিগাতলা, ধানমন্ডি ২ নাম্বার রোড, সাইন্স ল্যাবরেটরি মোড়, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ, প্রেসক্লাব, পল্টন সব রাস্তাতেই দীর্ঘসময় যানজটে বসে থাকতে হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি সময়মতো অফিসে যেতে পারেননি। রাজধানীর মিরপুর থেকে মতিঝিল যাওয়ার পথেও যাত্রীদের যানজটে আটকে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। মেট্রোরেলের কাজ চলার কারণে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে। এসব জায়গা দিয়ে ধীর গতিতে যানবাহন চলাচল করে। তারপরে রোকেয়া সরণী, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, বাংলা মোটর, শাহবাগ, প্রেসক্লাব হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘসময় তীব্র যানজট দেখা যায়। মিরপুর থেকে মতিঝিল পোঁছতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। অফিসে আসা যাওয়ার পথে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে প্রতিদিন। মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপরেও যানজটের সৃষ্টি হয়। উবার চালক বাচ্চু মিয়া বলেন, গত ৪/৫ দিন ধরে রাজধানী সব সড়কে যানজট বেড়েছে। যানজটের কারণে ট্রিপ কমে গেছে, দৈনিক ইনকাম কমেছে। গোড়ান, মুগদা, মান্ডা, বাসাবো, খিলগাঁও এলাকার লোকজনকে মতিঝিল পৌঁছাতে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলেও এখন ফ্লাইওভারের উপরে যানজট লেগে থাকছে। খিলগাঁও রেলগেট থেকে যানজট শুরু হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়, অপরদিকে আরামবাগ পর্যন্ত যানজটে বসে থাকতে হয়। তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বের হয়েও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না। যানজট দিন দিন বেড়েই চলছে। সকাল থেকে সারাদিনই যানজট লেগে থাকে। এরপর বিকেলে অফিস ছুটির পর থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে। | 6 |
ঢাকায় বিয়ে করতে যাওয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার ইউনিয়নের রুপসপুর গ্রামের ৮ জনের জন্য সারি করে খোঁড়া আটটি কবর। এ গ্রামের মানুষ একসঙ্গে এত কবর এর আগে কখনও দেখেননি। এমন ঘটবে কখনও ভাবতেও পারেননি তারা।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টায় আট মরদেহ রুপসপুর গ্রামে পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টায় গ্রামের বন্দেরবাজারে একসঙ্গে আট লাশ সামনে রেখে সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে দক্ষিণ রুপসপুর দীঘিরপাড় কবরস্থানে সবাইকে সারিবদ্ধভাবে কবর দেওয়া হয়। জানাজায় রাতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। পুরো গ্রামই যেন ছিল জানাজার ময়দান।
শুক্রবার বিকেলেই রুপসপুর বন্দেরবাজার সংলগ্ন দীঘিরপাড় কবরস্থানে গ্রামবাসী সারিবদ্ধভাবে ৮টি কবর খুঁড়ে রাখে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় একযোগে আটটি মরদেহ আসার পর গোটা রুপসপুর গ্রাম ছিল শোকে স্তব্ধ। স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। গ্রামের চারদিকের রাস্তা দিয়ে জনতার ঢল নামে। তারা কেউ কান্না আটকে রাখতে পারেননি। রাত সাড়ে ১০টায় জানাজায় শরিক হন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র, বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানসহ উপজেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন সংগঠনের লোক। মাওলানা আব্দুল মালিক জানাজা পড়ান। এ সময় নিহতদের আত্মীয়স্বজন ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার লোক উপস্থিত হন। দীঘিরপাড় বাজারে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পুরো গ্রামের যে যেখানে পেরেছেন দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন। কেউ কেউ ঘরের ভেতরে থেকেও জানাজায় অংশ নেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ইউএনও মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুপসপুর গ্রামে যান। পরে সাবেক চিফ হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ গ্রামে গিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান। এ সময় সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
মাওলানা আবু সুফিয়ান বিয়ের জন্য পাত্রী নির্বাচন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের মাওলানা আবু হানিফার মেয়ে মাহমুদা ইয়াসমীনকে। তারা ঢাকার মহাখালীতে থাকেন। গত শুক্রবার ছিল তাদের বিয়ের জন্য নির্ধারিত দিন। জীবনসাথীকে বরণ করতে ভোরবেলায় একটি মাইক্রোবাসে ১১ যাত্রীসহ রওনা দেন ঢাকার উদ্দেশে। বরযাত্রীদের মধ্যে ছিলেন আবু সুফিয়ানের বাবা আদিউর রহমান সরফর, ছোট ভাই কামরান আহমদ, চাচা মতিউর রহমান মুর্শিদ, চাচাতো ভাই আলী হোসেন, মামা দুরূদ মিয়া, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি হাজি আব্দুল হান্নান, আত্মীয় সাইদুর রহমান সোহাগ, মুকিত চৌধুরী মুক্তার ও জাকির হোসেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের শশই এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তারা সবাই নিহত হন। আনন্দের বিয়েবাড়ি রূপ নেয় গগনবিদারী কান্নায়। | 6 |
টি-টোয়েন্টির অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে গত মাসেই এক নম্বরে উঠে আসেন সাকিব আল হাসান। এবার বোলারদের র্যাঙ্কিংয়েও দারুণ উন্নতি দেখিয়েছেন সাকিব। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ শেষে তিন ধাপ এগিয়ে সাকিব উঠে এসেছেন নয়ে।নিউজিল্যান্ড সিরিজে প্রথম ওয়ানডে থেকেই দারুণ বোলিং করেছেন সাকিব। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভার বোলিং করে ১০ রানে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। পরের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ২ উইকেট। তৃতীয়টিতে উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে ৬ ইকোনমিতে দিয়েছিলেন ২৪ রান। ভালো ছন্দে থাকায় আজ বুধবার হালনাগাদকৃত আইসিসির সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছেন সাকিব। নয় নম্বরে থাকা সাকিবের রেটিং পয়েন্ট ৬২৮। এর আগে অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও দারুণ বোলিং করেন সাকিব। পাঁচ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট।এদিকে সিরিজের দারুণ বোলিং করা মোস্তাফিজুর রহমান দশ নম্বরে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। মোস্তাফিজের রেটিং পয়েন্ট ৬১৪। দুই অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ও অ্যাস্টন অ্যাগার এগিয়েছেন এক ধাপ করে। র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ বোলারের অবস্থান অপরিবর্তিত আছে। ৭৯২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে আছেন তাবারেজ সামশি। | 12 |
এ বছরে নতুন কোনো মডেলের গাড়ি বাজারে ছাড়া হবে না বলে সম্প্রতি ঘোষণা দেন সংস্থার সিইও ইলন মাস্ক। তিনি জানান, ২০২২ সালে তারা আর নতুন কোনো মডেলের গাড়ি বাজারে ছাড়বেন না। এমনকি বহুল আলোচিত 'সাইবার ট্রাকও' বাজারে আসছে না। ইভি মডেলের দুটি বৈদ্যুতিক গাড়ির মডেলেরও উৎপাদন স্থগিত ঘোষণা করেন তিনি। যদিও গত বছর রেকর্ডসংখ্যক বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি করেছিল টেসলা। তার ওই ঘোষণার দুই দিন না যেতেই টেসলার শেয়ারের দামে বড় ধস নেমেছে। গত ২৭ জানুয়ারি এক দিনেই মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর হারায় ১২ শতাংশ (১০ হাজার কোটি ডলার)। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 11 |
লক্ষ্মীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের ভবানীগঞ্জে পিকআপ ভ্যানচাপায় তাহসীন নামের এক শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। তাহসীন স্থানীয় চরমনসা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ও ভবানীগঞ্জ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিদ্যালয়ে ভর্তি শেষে মায়ের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিল তাহসীন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে অটো থেকে নেমেছিল তারা। এসময় রামগতি থেকে ছেড়ে আসা একটি গ্যাসবাহী পিকআপ ভ্যান (নাম্বার বিহীন) মায়ের হাত ধরে থাকা শিশুটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা পিকআপটিকে আটক করলেও চালক পালিয়ে গেছে। লক্ষ্মীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দীন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে একইদিন দুপুরে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কের রাখালিয়া এলাকায় ঢাকা এক্সপ্রেসের একটি গাড়িচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত যুবক হলেন- রাখালিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মুন্নার ছেলে আরিফ। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। | 6 |
ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকেট কাটতে আগেভাগে লাইন ধরা যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে করার কিছু 'দেখছেন না' বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।সোমবার দুপুরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকেট কাউন্টার পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন রেলমন্ত্রী। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কালকের টিকেটের জন্য যদি লোকজন আজকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে আমাদের কী করার আছে বলেন? মন্ত্রী বলেন, আজকের টিকেট নিয়ে তো কারো কোনো অভিযোগ নেই। কারণ আমরা সিস্টেম করেছি, অন্য কোনো জালিয়াতির সুযোগ নেই। আপনি আইডেনটিটি কার্ড দিয়ে টিকেট কাটবেন, আপনার টিকেট দিয়ে আমি যেতে পারব না। রেলওয়ের কর্মকর্তারাও কালোবাজারিতে জড়িত বলে যে অভিযোগ আছে, সে বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, কালোবাজারি কীভাবে করবে? আমি যদি আপনার টিকেটে না যেতে পারি, তো টিকেট নিয়ে কী করব? একজন চারজনের টিকেট নিলে চারজনের আইডি কার্ডই জমা দিতে হবে। ই-টিকেটিংয়ের নতুন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সহজ, সিনেসিস ও ভিনসেন জয়েন্ট ভেঞ্চার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনলাইনে টিকেট পেতে ভোগান্তির অভিযোগের বিষয়ে রেলমন্ত্রীবলেন, সহজ তারা সমস্ত টিকেট বিক্রি করেছে। এনআইডি কার্ড দিয়েই তারা বিক্রি করেছে। তারা অর্ধেক বিক্রি করতেছে, আর আমরা অর্ধেক কাউন্টারের মাধ্যমে বিক্রি করছি। চাহিদার চেয়ে ট্রেনের সংখ্যা কম হওয়ায় ভোগান্তির চিত্র পাল্টাচ্ছে না জানিয়ে সুজন বলেছেন, মানুষের চাহিদার তুলনায় আমাদের ট্রেনের সংখ্যা কম। প্রতিদিন ৫০ লাখ লোক যাতায়াত করবে। রাস্তার সক্ষমতা হলো মাত্র ১৫ লাখ।রেলের সক্ষমতা অনুযায়ী আমরা টিকেট বিক্রি করছি। সবাই টিকেট পাবে না। ৫ লাখ লোক যদি যেতে চায়, সেখানে আমি দিতে পারি ২০ হাজার। মন্ত্রী আরও বলেন, টিকেট যার, ভ্রমণ তার- এটা আমরা নিশ্চিত করেছি। কাজেই কারও টিকেট অন্য কারও কাটার কোনো সুযোগ নেই। আমি অন্য কারও টিকেট কাটতে পারি, তবে যার নামে কাটছি- তাকেই ভ্রমণ করতে হবে। কারণ টিকেটে যার পরিচয়পত্র, তার একটি নম্বর থাকবে। এর আগে টিকেট কাউন্টারগুলো পরিদর্শন করেন রেলমন্ত্রী। এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তখন নানা ভোগান্তির পাশাপাশি টিকেট না পাওয়ার অভিযোগ করেন যাত্রীরা। | 6 |
২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মত সার্জিও রামোস আর লিওনেল মেসিকে ছাড়া মাঠে গড়িয়েছিল এল ক্লাসিকো। তবে তাদের অনুপস্থিতিতেও কমেনি রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মহারণের উত্তাপ। আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর দর্শকপূর্ণ ন্যু ক্যাম্পের সামনে মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। আর সেখান থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ২-১ গোলে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসদেছে রিয়াল মাদ্রিদ। রবিবার (২৪ অক্টোবর) বার্সেলোনার ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদার লড়াইয়ে দুই দলই সমানতালে একে অপরের বিপক্ষে লড়ে গেছে। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর দিক থেকে নিখুঁত ছিল লস ব্ল্যাংকোসরাই। দিনশেষে এটিই দুই দলের মধ্যে গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বেশ কয়েকবার। কিন্তু কেউই গোলের দেখা পাচ্ছিলো না। অবশেষে ম্যাচের ৩২ মিনিটে বার্সার রক্ষণদুর্গে ফাটল ধরান ডেভিড আলাবা। সার্জিও রামোসের অভাব পূরণ করতে এসে তারই রেখে যাওয়া চার নম্বর জার্সি গায়ে রিয়ালের হয়ে নিজের প্রথম গোল পাওয়ার এর চেয়ে ভালো উপলক্ষ্য হয়ত আর হতো না তার জন্যে। অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের করা গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মধ্যবিরতিতে যায় রিয়াল। পিছিয়ে থাকা বার্সা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার জন্যে চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি। কিন্তু রিয়ালের দুর্ভেদ্য রক্ষণের সামনে কাতালানদের সব আক্রমণই মাথা কুটে মরেছে। রিয়ালও যে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায়নি তা নয়। কিন্তু তারাও সুযোগ কাজে লাগাতে ছিল ব্যর্থ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি টাইম হিসেবে দেওয়া হয় ৮ মিনিট। ম্যাচের ৯০ মিনিটের চেয়ে এই ৮ মিনিটেই দেখা গেছে বেশি নাটকীয়তা। ৯৩ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন বার্সা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে। প্রতি আক্রমণে মার্কো অ্যাসেন্সিওর শট বার্সা গোলরক্ষক টার স্টেগান ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি শটে গোল করে রিয়ালকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন লুকাস ভাসকেজ। ম্যাচের একদম শেষ মিনিটে এ মৌসুমেই বার্সায় যোগ দেওয়া স্ট্রাইকার সার্জিও অয়াগুয়েরো গোল দিলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। রিয়ালের কোচ হিসেবে এর আগে কার্লো অ্যানচেলত্তি দুবার ন্যু ক্যাম্পে এলেও প্রতিবারই তাকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। তবে এবার ন্যু ক্যাম্পের দুর্গ জয় করেই ফিরলেন। সেই সঙ্গে ১৯৬৫ সালের পর প্রথমবারের মত টানা ৪টি এল ক্লাসিকো জিতে নিলো রিয়াল। এই জয়ের মাধ্যমে ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরেই রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে, সমান সংখ্যক ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনা রয়েছে ৮ম স্থানে। | 12 |
বহুমাত্রিক লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই। ১৮ বছর আগে এই দুই জঙ্গি নেতার নির্দেশে আতাউর রহমান সানির নেতৃত্বে মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগনে শহীদ, নূর মোহাম্মদ ওরফে শামীম, হাফিজ মাহমুদসহ অন্যরা হুমায়ুন আজাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। মামলার নথি, অভিযোগপত্র ও দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে এই তথ্য জানা গেছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন মিজানুর ও আনোয়ারুল। দুই আসামির স্বীকারোক্তির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে অমর একুশে বইমেলায় হুমায়ুন আজাদের উপন্যাস 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' প্রকাশিত হয়। বই আকারে প্রকাশের আগে উপন্যাসটি একটি জাতীয় দৈনিকের ঈদসংখ্যায় ছাপা হয়। তখন জঙ্গিরা ঈদসংখ্যাটি সংগ্রহ করে শায়খ আবদুর রহমানের নজরে আনেন। তিনি উপন্যাসটি পড়ে হুমায়ুন আজাদকে হত্যার নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, হুমায়ুন আজাদকে হত্যা করতে জেএমবির সামরিক কমান্ডার সানিকে নির্দেশ দেন শায়খ আবদুর রহমান। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা হয়। তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরদিন তাঁর ভাই মঞ্জুর কবির রাজধানীর রমনা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। বিদেশে উন্নত চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর একই বছরের ১২ আগস্ট জার্মানিতে মারা যান হুমায়ুন আজাদ। এরপর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। মামলাটি তিন বছর তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১৪ জানুয়ারি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় কারাগারে বন্দী রয়েছেন জেএমবির শুরা সদস্য মিজানুর ও আনোয়ারুল। পলাতক আছেন সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ। মারা গেছেন হাফিজ মাহমুদ। অন্য একটি মামলায় ২০০৭ সালে আবদুর রহমান, বাংলা ভাই ও সানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মামলার অভিযোগপত্রের তথ্য বলছে, ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার দিকে সানির নেতৃত্বে মিজানুর একটি চাপাতি, জেএমবির কিলিং স্কোয়াডের সদস্য নূর মোহাম্মদ ছুরি, আনোয়ারুল ও নুরুল্লাহ বোমা নিয়ে অবস্থান করছিলেন। হুমায়ুন আজাদ রাত সোয়া নয়টার দিকে বইমেলা থেকে বের হয়ে হেঁটে টিএসসির দিকে যেতে থাকেন। বাংলা একাডেমি ও টিএসসির মাঝামাঝি অবস্থানে পৌঁছালে সানির নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা হুমায়ুন আজাদকে ঘেরাও করে ফেলেন। মিজানুর ও নূর মোহাম্মদ ব্যাগ থেকে চাপাতি-ছুরি বের করে হুমায়ুন আজাদের ঘাড়, মাথা, মুখ, গলা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এ সময় আনোয়ারুল ও নুরুল্লাহ বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়ান। এভাবে হামলাকারীরা সাধারণ লোকজনের সঙ্গে মিশে যান। রাত ১১টার দিকে শায়খ আবদুর রহমানকে এই ঘটনা মুঠোফোনে জানানো হয়। আদালতে দেওয়া আনোয়ারুলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হুমায়ুন আজাদকে হত্যাচেষ্টার আগে বাংলা ভাই দিনাজপুরে যান। সেখানে তিনি আনোয়ারুলকে নূর মোহাম্মদের মুঠোফোন নম্বর দেন। পরে ঢাকায় আনোয়ারুলের সঙ্গে মিজানুর, সানি ও নুরুল্লাহর দেখা হয়। সানি তখন আনোয়ারুল ও নুরুল্লাহকে বলেন, 'তোমরা আজকে আমাদের সঙ্গে একটা কাজে যাবে। তোমাদের কাজ হবে নূর মোহাম্মদ ও মিজানুরকে অনুসরণ করা। তাঁদের কাজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বোমা ফাটিয়ে নিরাপদে তাঁদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করবে।' পরে তাঁরা রিকশায় করে বইমেলায় যান। নূর মোহাম্মদ ও মিজানুরের ব্যাগে চাপাতি-ছুরি ছিল। নুরুল্লাহর ব্যাগে তিনটি বোমা ছিল। বইমেলার গেটের বিপরীত পাশে একটা চটপটির দোকানে তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন। রাত সোয়া নয়টার দিকে সানি ইশারা দিয়ে হুমায়ুন আজাদের পিছু নিতে বলেন। তখন নূর মোহাম্মদ ও মিজানুর চাপাতি-ছুরি বের করে হুমায়ুন আজাদকে কোপাতে শুরু করেন। রাস্তার লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মিজানুর বলেছেন, 'আমরা জানতে পারি, বইমেলা থেকে প্রতিদিন রাত আটটা বা সাড়ে আটটার দিকে হুমায়ুন আজাদ হেঁটে বাসায় যান। এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সেদিন আমিসহ অন্যরা বাংলা একাডেমিতে যাই। রাত সোয়া নয়টায় হুমায়ুন আজাদ যখন বইমেলা শেষে বাসায় ফিরছিলেন, তখন আমরা তাঁর পিছু নিই।' জবানবন্দিতে মিজানুর বলেছেন, 'হুমায়ুন আজাদকে আমি ও নূর মোহাম্মদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করি। তখন দূরে থাকা লোকজন ছুটে এলে আনোয়ারুল একটা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। তখন লোকজন বিক্ষিপ্তভাবে পালাতে থাকে। আমরাও পালিয়ে যাই। রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে শায়খ আবদুর রহমানকে এ ঘটনা জানাই।' ২০০৪ সালে 'আগামী প্রকাশনী' থেকে 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেন আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনী। ওসমান গনী আদালতকে বলেন, '২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত নয়টার দিকে বাসায় যাই। পরে টেলিফোনে প্রথমে সংবাদ পাই, হুমায়ুন আজাদ স্যারকে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে শুনি, স্যার মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। এ সংবাদ শোনার পর আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে যাই। তখন হুমায়ুন আজাদ স্যারকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই।' ২০০৪ সালের বইমেলায় 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাসটি ব্যাপক বিক্রি হয় বলে জানান ওসমান গনী। তিনি আদালকে বলেন, 'বইটি ইত্তেফাক পত্রিকায়ও বের হয়। তখন মৌলবাদীরা মিছিল করে বইটি নিষিদ্ধের দাবি জানায়। মৌলবাদীরা হুমায়ুন আজাদকে মুরতাদ ঘোষণা করে। তাঁকে হত্যার হুমকি দেয়। আমাকেও তারা মৃত্যুদণ্ড দিয়ে চিঠি পাঠায়।' হুমায়ুন আজাদকে কুপিয়ে জখম করার পর ঘটনাস্থলে যান দৈনিক জনতার ফটো সাংবাদিক ইফতেখার উদ্দিন। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আদালতে ইফতেখার বলেন, 'রক্তাক্ত অবস্থায় হুমায়ুন আজাদ স্যারের ছয় থেকে সাতটি ছবি তুলি আমি। এ সময় স্যারের জ্ঞান ছিল। তিনি বলছিলেন, "আমার চশমা দাও। গাড়ি ডাকো। আমি একাই হাসপাতালে যেতে পারব। " তখন টহল পুলিশের গাড়িতে করে স্যারকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্যার বলেছিলেন, "ওরা সন্ত্রাসী। ওরা জঙ্গি। বাংলাদেশকে তালেবান রাষ্ট্র বানাবে।" ' হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার আরেক সাক্ষী সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি আদালতকে বলেন, 'সেদিন মুক্তপ্রাণ উৎসবের গান শুনছিলাম। রাত সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ টায়ার ফাটার মতো বা বোমার শব্দ শুনি। তখন আমি শব্দের উৎসস্থলের দিকে যেতে থাকি।' হুমায়ুন আজাদ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন জানিয়ে শরিফুল ইসলাম আদালতে বলেন, 'আমি তাঁকে দেখে চিনতে পারি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ। তখন লোকজনের ভিড় হয়। স্যারকে একটা রিকশায় ওঠানোর চেষ্টা করে না পেরে টিএসসির দিকে দৌড়ে যাই। একটা চলন্ত প্রাইভেটকারকে স্যারকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বলি। তবে চালক রাজি না হওয়ায় আবার ঘটনাস্থলে ফিরে আসি। পরে স্যারকে পুলিশের ট্রাকে ধরাধরি করে তুলি।' বাবা হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে সাক্ষ্য দেন হুমায়ুন আজাদের মেয়ে মৌলি আজাদ। তিনি আদালতকে বলেন, 'আমার পিতা একজন প্রথাবিরোধী লেখক। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তিবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তিনি কোনো দলাদলিতে ছিলেন না। সমাজের বাস্তবতা নিয়ে তিনি নিজে যা বুঝতেন, তা-ই প্রকাশ করতেন। এ দেশের ধর্মীয় উগ্রবাদী-মৌলবাদীদের দৈনন্দিন ও পূর্বাপর কীর্তিকলাপ নিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে লিখতেন, প্রচার ও প্রকাশনা করতেন।' বাবার বিভিন্ন উপন্যাস ও প্রবন্ধ নিয়ে মৌলি আজাদ বলেন, 'আগে তাঁর (হুমায়ুন আজাদ) সাড়াজাগানো গবেষণাগ্রন্থ "নারী" প্রকাশিত হলে সরকার তা বাজেয়াপ্ত করে। পরে হাইকোর্ট নারী প্রকাশনার ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রায় দেন। পরে তিনি আরও উপন্যাস-প্রবন্ধ লেখেন, যা মৌলবাদীরা না পড়ে বিরোধিতা করতেন।' | 6 |
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় একাত্তর টিভির বার্তা প্রধান শাকিল আহমেদকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ তাঁকে চার সপ্তাহের জামিন দেন।একাত্তর টিভির সাংবাদিক শাকিলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ অভিযোগে মামলাএদিকে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন বলেন, হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করবো। গত ৪ নভেম্বর রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে গুলশান থানায় ওই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় শাকিলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।শাকিল বললেন, তাঁর ইমেজ নষ্ট করতেই মামলা করা হয়েছেঅভিযোগকারী নারী একজন চিকিৎসক, তিনি এর আগে শাকিলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন। চাকরির জন্য সাত-আট মাস আগে শাকিলের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাকিল তাঁর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গর্ভবতী হওয়ার পর তাঁর কথায় তিনি ভ্রূণ নষ্ট করলেও শাকিল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁকে বিয়ে করেননি।আরও পড়ুন:সাংবাদিক শাকিলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৩ নভেম্বর | 6 |
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি চিফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত কার্স্টেন নিলসেন পদত্যাগ করেছেন। 'বিতর্কিত' সীমান্ত নীতির বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়নে ট্রাম্পের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। আজ সোমবার (০৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এমনটাই জানানো হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, নিলসেনের জায়গায় শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা কমিশনার কেভিন ম্যাকলিনানকে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিবাসন নীতি ও মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য নিলসেনকেও বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কারণ ট্রাম্পের 'একতরফা' এসব নীতি বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। এমনকি ডেমোক্রেটদের বিরোধিতার মুখেও ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নেন নিলসেন। এদিকে পদত্যাগপত্রে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেননি নিলসেন। তবে তিনি বলেছেন, সরে যাওয়ার এটাই ভালো সময়। আর আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম ওই সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এখন নিরাপদ।' খবরে বলা হয়েছে, বেশ ক'দিন ধরেই ট্রাম্পের সঙ্গে নিলসেনের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। তবে প্রকাশ্যে প্রশাসনের প্রতি অনুগতই থেকেছেন তিনি। সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত সফর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এর পরবর্তী সময়টাকেই পদত্যাগের জন্য বেছে নিলেন নিলসেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি চিফ জন কেলির সহকারী হিসেবে যোগ দেন নিলসেন। পরে হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ হলে কেলির ডেপুটি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। যদিও পরবর্তীতে ওই বছরই আগের দায়িত্বে ফিরে যান নিলসেন। | 3 |
এক নারীর শ্লীলতাহানির মামলায় রাজধানীর সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাসকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।শুনানিতে চিত্তরঞ্জন দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া। বাদী পক্ষের আইনজীবী মিনু রানী রায় জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিকে জামিন দেন।গত ১৪ অক্টোবর জামিন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে চিত্তরঞ্জন দাসকে জামিন দেন আদালত। আর গত ১১ সেপ্টেম্বর শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক নারী সবুজবাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।মামলায় অভিযোগ করা হয়, সবুজবাগে ওই নারীর শ্বশুরের দোকান রয়েছে। তার পাশের চা দোকানদার নিজের দোকান সংস্কার করতে চাইলে কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাস গরিব চা দোকানদারের কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। চাঁদার ব্যাপারে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই নারী রাত পৌনে ৮টার দিকে চিত্তরঞ্জন দাসকে মোবাইলে ফোন দেন। চিত্তরঞ্জন দাস তাঁকে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তাঁর রাজারবাগ কালীবাড়ি কার্যালয়ে যেতে বলেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই নারী স্বামীসহ সেখানে যান। চাঁদার বিষয়ে জানতে চাইলে চিত্তরঞ্জন দাস দু-চারটি কথা বলে তাঁকে পাশের কক্ষে বসতে বলেন। এর একটু পর চিত্তরঞ্জন দাস ওই কক্ষে এসে দরজা বন্ধ করে দেন। ওই নারীকে বসা থেকে উঠে দাঁড়ানোর জন্য বলেন। ওই নারী উঠে দাঁড়ালে চিত্তরঞ্জন দাস তাঁকে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। নানা রকম অঙ্গভঙ্গি করে তাঁকে কু-প্রস্তাব দেন। মান-সম্মানের ভয়ে ওই নারী কোনো চিৎকার করেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করেন।চিত্তরঞ্জন দাস ওই নারীকে পরদিন আবার সেখানে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। ওই নারী কোনো রকমে নিজেকে রক্ষা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। বাদী একজন গণমাধ্যমকর্মী বলে এজাহারে উল্লেখ করেন।এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর চিত্তরঞ্জনের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। চিত্তরঞ্জন দাস এ অনৈতিক ও আপত্তিকর ভিডিও প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানান, 'একটি নাটকের জন্য দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছিল।' | 6 |
দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার প্রকল্পসহ নতুন পাঁচ প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। গণভবন থেকে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে প্রকল্পের সার্বিক বিষয় সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। প্রকল্পের আওতায় মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য সৃষ্টি করা হবে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ। জেলেদের ১০ হাজার বৈধ জাল বিতরণ ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমে সুরক্ষা দেওয়া হবে। থাকছে আরো উদ্যোগ। সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্য ৭৩টি আধুনিক বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) নির্মাণ করবে সরকার। সীমান্তে অপারেশন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের সুরক্ষিত অবস্থান নিশ্চিত করা হবে এতে। প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যমান ৪৯টি বিওপি পুনঃনির্মাণ ও নতুন ২৪টি বিওপি নির্মাণসহ মোট ৭৩টি বিওপি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৩ কোটি ৫২ লাখ ছয় হাজার টাকা। সংশোধিত প্রকল্প মেয়াদ ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। ৩৭৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে 'জামালপুর জেলার দিপপাইত-সরিষাবাড়ি-তারাকান্দি সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্তবায় উন্নীতকরণ' প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৭৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে '০৮টি সরকারি শিশু পরিবারে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট শান্তি নিবাস স্থাপন' প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া '৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে একটি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন' প্রকল্পে ৩৩৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। | 6 |
তিন সংস্করণেই প্রতিপক্ষকে ধবলধেলাই, তিন সংস্করণেই সেরা ব্যাটসম্যান ও সেরা বোলারের তালিকায় জলজল করছে নিজেদের নাম আয়ারল্যান্ড উলভসের বিপক্ষে সব পাওয়ার এক সিরিজ খেলল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।আইরিশদের বিপক্ষে একমাত্র চার দিনের ম্যাচ পরে ওয়ানডে সিরিজের পর কাল মিরপুরে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতেছেন সাইফ হাসানের দল। বাংলাদেশ থেকে একেবারে শূন্য হাতেই ফিরতে হচ্ছে আয়ারল্যান্ড উলভসকে।দুদিন আগে মিরপুরেই ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই নিশ্চিত হয় আইরিশ ইমার্জি দলের। কাল মঙ্গলবার সফরের একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও ভিন্ন ফল হয়নি, আয়ারল্যান্ড উলভসকে ৩০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশের উদীয়মানরা। আগে ব্যাটিং করে তৌহিদ হৃদয়ের ফিফটিতে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। তৌহিদ ৫৮ ও অধিনায়ক সাইফ হাসান করেন ৪৮ রান। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে সুমন খানের দারুণ বোলিংয়ে ১৫৪ রানে অন আউট আয়ারল্যান্ড উলভস। সুমন নেন ৪ উইকেট।আইরিশদের বিপক্ষে তিন সংস্করণেই দাপট দেখিয়েছেন ইমার্জিং দলের খেলোয়াড়েরা। চট্টগ্রামে চার দিনের ম্যাচটা দুই দিনেই জিতে নিয়েছেন বাংলাদেশ। ১০৬ রানে ১৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। আর দল পায় ইনিংস ও ২৩ রানের বড় জয় পায়।ওয়ানডে সিরিজেও দাপটটা ধরে রাখে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও বাকি চার ম্যাচের প্রতিটিতেই সহজ জয় পেয়েছে সাইফ হাসানের দল। দুই ফিফটি ও এক সেঞ্চুরিতে ৭১ গড়ে ২৮৫ রান নিয়ে সিরেজের সেরা ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয়ের। ২২৬ রান নিয়ে দুইয়ে তৌহিদ হৃদয়, তাঁর গড়টি চমকজাগানিয়, ১১৩! অধিনায়ক সাইফে হাসানের ব্যাট থেকে এসেছে ১৯০ রান। বোলারদের মধ্যে ৭ উইকেট নিয়ে শীর্ষে সুমন খান। ৬ উইকেট নিয়ে এর পরেই রয়েছেন তাঁর সতীর্থ পেসার মুকিদুল ইসলাম।বিসিবির ইমার্জিং টিমের এই সাফল্য এসেছে দলীয় পারফম্যান্সের সৌজন্যে। একক পারফরমার নন, সবাই জলে উঠেছেন এক সঙ্গে। ফলও পেয়েছেন তাঁরা। মাহমুদুল-তৌহিদ-সুমনদের চ্যালেঞ্জ, ধারাবাহিক ভালো খেলে বিসিবির পাইপলাইনটা সমৃদ্ধ করা। | 12 |
জামালপুরে বাবুল মিয়ার কোদালের কোপে তার সৎ বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক (৫০) নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের মোহনপুর সোনারুপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলায় গুরুতর আহত আব্দুর রাজ্জাক বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। মৃত আব্দুর রাজ্জাক একই গ্রামের মৃত মহির উদ্দিন সরকারের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে কৃষক বাবুল মিয়ার সাথে তার সৎ বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাকের বিরোধ চলছিল। বুধবার দুপুরে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ পর্যায়ে বাবুল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে কোদাল দিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের মাথায় আঘাত করে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আব্দুর রাজ্জাককে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঁশচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ওই ঘটনা ঘটেছে। নিহত আব্দুর রাজ্জাকের স্বজনরা ময়মনসিংহে রয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ বাড়িতে আনা হবে। | 6 |
কাবুল দখল করে ফেলেছে তালেবান। তবে আপাতত স্বস্তির কথা হলো তারা কোনো ধরনের রক্তপাত করবে না ঘোষণা দিয়েছে। আশরাফ গনি সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এ নিয়ে আলোচনা করতে কাতারের দোহায় গনি সরকারের একটি প্রতিনিধি দল যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওদিকে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। অর্থাৎ ২০ বছর পর কাবুলে আবার তালেবান শাসন কায়েম হওয়ার এখন সময়ের অপেক্ষা।যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর কয়েক দিনের মধ্যে তালেবানের এই উত্থানের পেছনে শক্তি হিসেবে চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নাম ঘুরে ফিরে আসছে। দেশটিতে চীনের বিপুল বিনিয়োগ। পেছনে থেকে তালেবানকে সমর্থন দেওয়ার অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক। তবে তালেবান ক্ষমতায় এলে মধ্য এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে সেটি নিয়ে চীনের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে চীন সরকার তাদের উদ্বেগের কথা বহুবার বলেছে। তালেবান যদিও বরাবর তাদের আশ্বস্ত করে এসেছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক অস্থিরতার কবলে ঝুঁকিতে পড়তে পারে আফগানের মাটিতে বিপুল বিনিয়োগ ও মধ্য এশিয়ায় অবস্থানরত ১০ লক্ষাধিক চীনা নাগরিক।সোজা কথায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহার আফগানিস্তানকে চীনের কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।বেইজিংয়ের ইউয়ান ওয়াং মিলিটারি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গবেষক ঝাউ চেনমিং বলেন, চীন আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিল, মধ্য এশিয়ার চরমপন্থী এবং সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো এই সেনা প্রত্যাহারের সুযোগে এই অঞ্চলে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এতে চীনের বিনিয়োগ হয়ে উঠতে পারে তাদের লক্ষ্যবস্তু।মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশ-কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানে প্রায় ১০ লাখ চীনা নাগরিক বাস করে। তাদের অধিকাংশই ছোটখাট ব্যবসা-বাণিজ্যর সঙ্গে জড়িত। 'চীনের প্রধান উদ্বেগ হলো-ইটিআইএম-এর উত্থান ও সম্প্রসারণ। জিনজিয়াং এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য বেইজিং বারবার এই সংগঠনটিকে দায়ী করেছে।এ ছাড়া বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে চীনা ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে সি চিন পিং সরকারের।এই পরিস্থিতিতে জরুরি বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করাটাই চীনের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দেশটি একদিকে প্রতিবেশী, সেই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বাধীন সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশনের সদস্য।রাশিয়া চীনের আনুষ্ঠানিক মিত্র না হলেও দুই দেশের সামরিক বাহিনী গত কয়েক বছরে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে জাপাড/ইন্টারঅ্যাকশন সামরিক মহড়া দিয়েছে তারা। যৌথ মহড়াটি নিংজিয়া হুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গোবি মরুভূমিতে পরিচালিত হয়। এতে ১০ হাজারের বেশি সেনা অংশ নেয়।চায়না একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সের চীন-রাশিয়া বিশেষজ্ঞ সু চ্যাং বলেন, তিন দশকের সংঘাতের পরও আফগানিস্তান একটি কঠিন নিরাপত্তা ভবিষ্যতের সম্মুখীন হয়েছে। এখানে চীন ও রাশিয়ার যৌথভাবে কাজ করার সাধারণ শর্ত তৈরি হবে এখানে। আফগানিস্তানের ক্ষমতার হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে মাদক চোরাচালান, বিচ্ছিন্ন আকস্মিক হামলা এবং চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর তৎপরতা প্রতিরোধ আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এই পরিস্থিতি চীন ও রাশিয়াকে একসঙ্গে নিরাপত্তা কাজে সামিল হওয়ার অপরিহার্যতাকে সামনে আনছে। রাশিয়াকে তার ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যদিকে চীনের কাজ হবে ইটিআইএমকে জিনজিয়াংয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া।এদিকে আফগানিস্তান যখন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ দখলের কথা বলছিল তখনই (গত মাসে) পাকিস্তানে একটি বাসে হামলায় নয় চীনা শ্রমিক নিহত হন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, এই মারাত্মক বিস্ফোরণটি ছিল ভারত ও আফগান গোয়েন্দা সংস্থার সমর্থিত ইসলামপন্থী জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমা হামলা। যদিও ভারত হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।এই পরিস্থিতির মধ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত মাসে উত্তর চীনের শহর তিয়ানজিনে আফগান তালেবানের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। চীনের উত্তরাঞ্চলের তিয়ানজিন শহরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর জোর দেন এবং তালেবানকে ইটিআইএমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানান। ওয়াং বলেন, ইটিআইএম-এর বিরুদ্ধে লড়াই করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ দায়িত্ব।বেইজিংয়ে চায়না ফাউন্ডেশন ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো ইগল ইয়িন বলেন, রাশিয়া এবং আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে চীনকে অবশ্যই কাজ করতে হবে। রাশিয়া ইটিআইএমকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু তারা তালেবানের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। ২০১৮ সালে তালেবানের একটি প্রতিনিধি দল রাশিয়া সফর করেছিল।ইয়িন বলেন, বেইজিং এবং মস্কো এখন সমন্বয় ও সহযোগিতায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে চীন অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশি মনোযোগ দিতে পারে। আর রাশিয়ার অধিকতর নজর থাকবে আঞ্চলিক নিরাপত্তায়।আরও পড়ুন:কেন আন্তর্জাতিক বৈধতা পেতে যাচ্ছে তালেবান 'সরকার' | 3 |
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ২৯টি ইয়াবাসহ লাল চাঁদ শেখ (২২) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে উপজেলার গওহরডাঙ্গা শেখ লুৎফর রহমান সেতুর টোল থেকে তাঁকে আটক করা হয়। লাল চাঁদ উপজেলার গিমাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মাদক বিক্রেতা বলে দাবি পুলিশের।টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তন্ময় মণ্ডল বলেন, লাল চাঁদ নামের এক ব্যক্তি মাদক নিয়ে টুঙ্গিপাড়া আসছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁকে তল্লাশি করে ২৯টি ইয়াবা পাওয়া যায়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। | 6 |
ঘটনাটি ২০১৯ সালের। নেদারল্যান্ডসের নিরাপত্তা রক্ষী প্যাট্রিক পৌমেন ওই সময় বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। দোকানে বা রেস্টুরেন্টে গিয়ে তিনি এমন কাণ্ড করেছিলেন যে সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিল।কারণ, ৩৭ বছর বয়সী ওই যুবক বিল দেওয়ার জন্য ব্যাংক কার্ড বা মোবাইল ফোনের পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করতেন না। এর পরিবর্তে তিনি স্পর্শবিহীন কার্ডরিডারে তাঁর বাম হাতের কবজিটি এগিয়ে দিতেন। এতেই বিলে দেওয়া হয়ে যেত!হঠাৎ কোনো ক্যাশিয়ার নিজের চোখের সামনে এমন কাণ্ড দেখলে তাঁর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়।পৌমেন এভাবে পেমেন্ট দিতে পারতেন কারণ তাঁর হাতের ত্বকের নিচে ছিল বিশেষ ইলেকট্রনিক মাইক্রোচিপ।অবশ্য ব্যাপারটা খুব আরামদায়ক যে ছিল না সেটি স্বীকার করেছেন পৌমেন। অবশ্য খুব কষ্টেরও নয়। তিনি বলেন, চামড়ায় কেউ চিমটি কাটলে যেমন লাগে চিপটি স্থাপনের সময় তেমন অনুভূতিই হয়েছে।অবশ্য এমন ঘটনা নতুন নয়। জানা মতে, পৃথিবীতে মানুষের শরীরে প্রথম মাইক্রোচিপ স্থাপনের ঘটনাটি ১৯৯৮ সালের। তবে গত দশকে এই প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার আগে পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসেনি।ব্রিটিশ-পোলিশ কোম্পানি ওয়ালেটমোর দাবি করছে, তারাই প্রথম গত বছর এ ধরনের মাইক্রোচিপ বিক্রি শুরু করেছে। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা সিইও উজটেক প্যাপ্রোটা বলছেন, এই মাইক্রোচিপ একবার শরীরে স্থাপন করলে রিও সমুদ্র সৈকতে পানীয়র দাম থেকে শুরু করে নিউইয়র্কের কফি শপ বা প্যারিসের স্যালুনে চুল কাটার বিল পরিশোধ করা যাবে। এমনকি আপনার স্থানীয় মুদি দোকানেও কেনাকাটা করতে পারবেন। অর্থাৎ স্পর্শবিহীন পেমেন্ট ব্যবস্থা যেখানে আছে সেখানেই এই চিপ কাজে লাগবে।ওয়ালেটমোরের চিপটির ওজন এক গ্রামেরও কম। আকার চালের চাইতে সামান্য বড়। এতে আছে একটি ক্ষুদ্র মাইক্রোচিপ এবং একটি এন্টেনা। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি বাইপলিমারে পুরো চিপটি মোড়ানো।ওয়ালেটমোরের সিইও দাবি করছেন, এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদন দিয়েছে। এটি শরীরে স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারযোগ্য এবং শরীরে বেশ শক্তভাবেই বিঁধে থাকে।এরই মধ্যে ৫০০-এর বেশি চিপ বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ালেটমোর।ওয়ালেটমোর ব্যবহার করছে নিয়ার-ফিল্ড কমিউনিকেশন বা এনএফসি প্রযুক্তি। মূলত স্পর্শবিহীন পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে স্মার্টফোনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য চিপ ইমপ্ল্যান্ট সিস্টেমে ব্যবহার করা হয় রেডিও-ফ্রিকুয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি। স্পর্শবিহীন ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ডে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।এই প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহের শেষ নেই। বহু কল্পবিজ্ঞান সিনেমাতেও শরীরে চিপ বসানোর প্রযুক্তি দেখানো হয়। মানুষ এই নতুন প্রযুক্তিতে কতোটা আগ্রহী সেটি নিয়ে ২০২১ সালে একটি জরিপ করা হয়েছিল। তখন যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৪ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে জরিপ করে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ মানুষ শরীরে মাইক্রোচিপ নিতে আগ্রহী। তবে শরীরে ইলেকট্রনিক চিপ প্রবেশ করানো এবং এর নিরাপত্তা নিয়ে বেশিরভাগ মানুষই উদ্বেগ জানিয়েছেন।সংশ্লিষ্টরা অবশ্য বলছেন, এ ধরনের চিপে তেমন উদ্বেগের কিছু নেই। এটি ব্যাংকের স্পর্শবিহীন ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মতোই।তাছাড়া পোষাপ্রাণীর পরিচয় শনাক্ত করার জন্য বহু আগে থেকেই শরীরে স্থাপনযোগ্য মাইক্রোচিপ ব্যবহার করা হয়।এরপরও উদ্বেগের কারণ থাকছে। আগামীতে এ ধরনের চিপ নিঃসন্দেহে আরও উন্নত হবে, সেই সঙ্গে এতে থাকবে বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য। ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হলে এসব তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এড়ানো সম্ভব হবে না। এ কারণে এটিকে বলা হচ্ছে এক ধরনের ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি।প্রযুক্তি সম্পর্কিত পড়ুন:২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেরানীগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে হাইটেক পার্কসাইবার টুলস ও সল্যুশনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে চায় বাংলাদেশদুমার চ্যানেল বন্ধ করল ইউটিউবইলন মাস্ক টুইটারের বোর্ড সদস্য হওয়ায় আতঙ্কিত কর্মীরা৩ হাজার স্যাটেলাইট পাঠাতে চায় অ্যামাজন | 11 |
দেশে করোনা প্রতিরোধী টিকা উৎপাদন করে গরীব দেশকে বিনামূল্যে টিকা দেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪২তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে তিনি এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, দেশে টিকা উৎপাদন হবে। আমাদের দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি এবং গরীব দেশকে বিনামূল্যে টিকা দেয়া সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, দেশের ইতিহাসে এত সংখ্যক নিয়োগ আর কখনও হয়নি। জনগণের টাকায়, তাদের ট্যাক্সের টাকায় আমরা চিকিৎসক হয়েছি। নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসক হয়েছি। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে অনেক দরিদ্র মানুষের ঘামে ভেজা উপার্জন আমাদের পেছনে রয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম প্রমুখ। | 6 |
মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই স্পন্সরশিপ চুক্তি রবি বাতিল করেছে। এতে বিস্মিত বিসিবি। চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তে রবি যে কারণ দেখাচ্ছে সেটিও গ্রহণযোগ্য নয় বিসিবির কাছে। তবে রবির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে শিগগিরই নতুন স্পন্সর খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করবে বিসিবি। বিসিবির সাথে রবির স্পন্সর চুক্তির দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হয়েছিল গত বছরের জুলাইয়ে। শেষ হওয়ার কথা আগামী বছরের জুনে। কিন্তু রোববার এক বিবৃতিতে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। বিবৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে রবি আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, চুক্তিটির প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। গতকাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানালেন, রবি তাদের কাছে কারণ জানিয়েছে। তবে সেই কারণ বোর্ড গ্রহণ করতে রাজি নয়। তারা মূলত যে কারণ বলেছে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপে সাংঘর্ষিক ব্র্যান্ড নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। সেটি পুরোপুরিভাবে প্রতিকার না হওয়ায় তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে আমরা এ বিষয়টি পুরোপুরি গ্রহণ করতে রাজি নই। নিজাম উদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, আমাদের ধারণা, এটি তাদের অন্য কোনো কৌশলগত কারণেও হতে পারে। কারণ আমরা রবির সাথে আলোচনার পর আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। সাকিব আল হাসানের যে চুক্তি ছিল তা তিনি বাতিল করেছেন। তামিম ইকবালও গ্রামীণফোনের সাথে চুক্তি বাতিল করেছেন। মাশরাফি বিন মর্তুজার গ্রামীণফোনের সাথে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া চলছিল। তবে তারা আমাদের কাছে যা বলেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলাম তারা সে সম্পর্কে অবগত আছে। আমাদের কাছে তাই সিদ্ধান্তটি বিস্ময়কর। ব্যক্তিগত স্পন্সরের ক্ষেত্রেও সাধারণ ক্রিকেট বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয় ক্রিকেটারদের। মাশরাফি, সাকিবদের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ছিল না। তবে ২০১৫ সালে যখন প্রথম মেয়াদে স্পন্সর হয়েছিল রবি তখন ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগতভাবে অন্য কোনো স্পন্সর হওয়ার বাধা ছিল না। পরের বার রবি শর্তজুড়ে দেয়ার পর জটিলতার সৃষ্টি হয়। নাজিম উদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপের চুক্তি একেকজনের একেক সময় হয়েছে। এসব চুক্তি যখন হয় ওই ব্র্যান্ড ব্যাপক প্রচার চালায়। এগুলো হুট করে তুলে আনাও সময়ের ব্যাপার। আমরা আশা করেছিলাম, রবি আমাদের সময়টুকু দেবে। চুক্তি বাতিলের কারণ নিয়ে আপত্তি থাকলেও বাস্তবতা মেনে নিয়েছে বিসিবি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এশিয়া কাপ। তার আগেই নতুন স্পন্সরশিপ পাওয়ার আশা করছে বিসিবি। | 12 |
জামালপুরের মেলান্দহে আ'লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ১০জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও তার সমর্থকরা সোমবার দুপুরে মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ এলাকায় হযরত শাহ্ কামাল (র:)এর মাজার জিয়ারত করতে গেলে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনায় পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান মেলান্দহ থানার উপ-পরিদর্শক মর্জিনা খাতুন । এ ব্যাপারে বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সাংবাদিকদের জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর তিনি ও তার সমর্থকরা মাজার জিয়ারত করতে গেলে আ'লীগ প্রার্থীর সমর্থক স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা বাঁধা দেয় এবং হামলা চালায়। ওই হামলায় তাদের পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। অপরদিকে, দুরমুট ইউনিয়ন আ'লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেকুজ্জামান যুবেরী সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ৪০/৫০টি মোটর সাইকেল বহর নিয়ে মাজার জিয়ারতের নামে মহড়া দিতে এসে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। ওই হামলায় আমাদের পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। | 6 |
জনপ্রিয় অভিনেতা আব্দুল কাদের আর নেই। শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার আরিফ মাহমুদ। দেশের জনপ্রিয় এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শোবিজে। 'কোথাও কেউ নেই' নাটকের চরিত্র 'বদি' খ্যাত আব্দুল কাদেরের জন্ম মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার সোনারং গ্রামে। ১৯৭২ সাল থেকে টেলিভিশন ও ১৯৭৩ সাল থেকে রেডিও নাটকে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। টেলিভিশনে তার অভিনিত প্রথম কিশোর ধারাবাহিক নাটক 'এসো গল্পের দেশে'। তবে তিনি আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পান 'কোথাও কেউ নেই' নাটকে বিখ্যাত চরিত্র বাকের ভাইয়ের সহযোগী 'বদি' হিসেবে। হুমায়ূন আহমেদের 'নক্ষত্রের রাত' ধারাবাহিকে দুলাভাই চরিত্রেও তিনি হাস্যরসাত্মক অভিনয় দিয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। আব্দুল কাদের টেলিভিশনে প্রায় দুই হাজারের বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। এরপর এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষায় সোমবার সন্ধ্যায় তার কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। এরপর থেকে এভারকেয়ারের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন আব্দুল কাদের। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
সুপারস্টার হওয়ার পথটা মিঠুন চক্রবর্তীর কাছে সহজ ছিল না। অক্লান্ত পরিশ্রম, একাগ্রতা দিয়েই নিজের পথ নিজে তৈরী করেছেন। মধ্যবিত্ত বাড়ির সাধারণ ছেলে থেকে বলিউডের উজ্জ্বল তারকা। মিঠুন চক্রবর্তী মানেই সিনেমার একটা যুগ। বলিউডের ট্রেন্ড চেঞ্জার। তাই মিঠুন জানেন, যদি মানুষের মধ্যে প্রতিভা থাকে, স্বপ্ন থাকে, তাহলে সে সফল হবেই। আর সেই প্রতিভা খুজবেন মিঠুন। কালার্স টিভির নতুন রিয়ালিটি শো 'হুনরবাজ-দেশ কি শান'। এই শোয়ের মাধ্যমে মিঠুন চক্রবর্তী ফের টেলিভিশন পর্দায় বিচারক হয়ে আসছেন। তবে শুধু মিঠুনই নয়, এই শোয়ে দেখা যাবে পরিচালক করণ জোহরকেও।নতুন এই রিয়ালিটি শো নিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী জানান, 'আমি বরাবরই বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের নানা কোণায় প্রচুর প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে। এই প্রতিভাবান মানুষগুলোকে সামনে নিয়ে আসার এটাই সেরা শো। এই জন্য কালার্স চ্যানেলকে ধন্যবাদ।'মিঠুনের সঙ্গে বিচারকের আসনে থাকবেন পরিচালক করণ জোহর। এই বলিউড পরিচালক বলেন, 'এই ধরনের রিয়ালিটি শো সত্য়িই হওয়া প্রয়োজন। তবেই না নতুন নতুন প্রতিভা সবার সামনে আসতে পারবে। আমার মনে হয় কালার্সের এই শো জনপ্রিয় হবে সব শ্রেণি মানুষের কাছে।'শোয়ের প্রযোজনা করছেন ফ্রেমস প্রোডাকশনস। গায়ক, জাদুকর, নৃত্যশিল্পী, স্টান্টম্যান, কমেডিয়ানদের মধ্যে বাছাই হবে সেরা কে, কার প্রতিভা সেরা। এখানে যার যে প্রতিভা আছে তা থেকেই চ্যাম্পিয়ন বাছাই হবে। | 2 |
এ বছরের ৪ জানুয়ারি থেকে স্টার জলসায় শুরু হয়েছিল 'দেশের মাটি'। এই দীর্ঘ ধারাবাহিকটি এরই মধ্যে এক শ পর্ব পেরিয়েছে। গল্পে কিছুদিন আগেই বিয়ে হয়েছে কিয়ান ও নোয়ার। পেশায় শিক্ষিকা নোয়া মুখার্জির চরিত্রে অভিনয় করছেন শ্রুতি দাস। তিনিই এ ধারাবাহিকের মূল চরিত্র। কিন্তু শ্রুতি হঠাৎ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বিপাকে পড়ে যায় 'দেশের মাটি' টিম।বাধ্য হয়ে গল্পে খানিকটা বদল এনেছিলেন চিত্রনাট্যকার। সুস্থ হয়ে যদিও শ্রুতি আবার কাজে ফিরেছেন। কিন্তু বদলে যাওয়া গল্পে দরকার পড়ছে নতুন চরিত্র, নতুন বাঁক। তাই নতুন চরিত্র যোগ হচ্ছে 'দেশের মাটি'তে। ওই চরিত্রটি কিয়ান-নোয়ার সম্পর্কে যোগ করবে ভিন্নমাত্রা, এমনটাই জানাচ্ছেন 'দেশের মাটি'র কাহিনিকার লীনা গাঙ্গুলি।ধারাবাহিকটির নতুন প্রোমো প্রচার করছে স্টার জলসা। তাতে দেখা যাচ্ছে, মুখার্জি পরিবারের বড় ছেলে বিদেশ থেকে ফিরেছে। তাঁকে বরণ করছে সবাই। নোয়া তাঁকে অনুরোধ করছে- 'জেঠুমনি, বাড়ি কিন্তু যেতেই হবে।' বাড়িতে যেতে জেঠুমনি মানে মুখার্জি পরিবারের বড় ছেলের আপত্তি নেই। কিন্তু পেছনের কোনো একটা ঘটনা তাকে বাধা দিচ্ছে। তাই জেঠুমনির উত্তর, 'বাবা যদি অনুমতি দেন, তবেই আমি ও বাড়িতে যাব।' এ চরিত্রে অভিনয় করছেন শংকর চক্রবর্তী। বোঝাই যাচ্ছে, এটাই হবে 'দেশের মাটি'র পরবর্তী প্রেক্ষাপট। নোয়া প্রাণপণ চেষ্টা করবে অনেক আগে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া জেঠুমনিকে ফিরিয়ে আনতে। 'দেশের মাটি'র পরবর্তী পর্বগুলোর ট্যাগলাইন- নোয়া কি পারবে মুখার্জি পরিবারের বড় ছেলেকে পরিবারে ফিরিয়ে আনতে?বিদেশ থেকে শুধু বড় ছেলেই আসেনি। সঙ্গে এসেছে তার মেয়ে। এ চরিত্রে অভিনয় করছেন বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ সৈরিতি বন্দ্যোপাধ্যায়। 'নাগলীলা' ধারাবাহিক দিয়ে অভিনয়ে আসেন তিনি। এরপর 'ঠিক যেন লাভ স্টোরি' তে কাজ করে জনপ্রিয়তা পান তিনি। পরবর্তী সময়ে 'বাক্সবদল' ধারাবাহিকে টিপ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাঁকে।জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকতেই ২০১৪ সালে বিয়ে করেন সৈরিতি। গত বছর জুনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে 'দেশের মাটি'তে বিলেতফেরত আধুনিক মেয়ের চরিত্র দিয়ে অভিনয়ে ফিরছেন সৈরিতি। নতুন প্রোমো প্রচারের পর দর্শকেরাও মুখিয়ে আছেন নতুনভাবে সৈরিতিকে পর্দায় দেখার জন্য। 'নিশির ডাক'-এ শেষ দেখা মিলেছে সৈরিতির। গর্ভবতী হওয়ার পর মাঝপথে এ ধারাবাহিক ছেড়ে দেন নায়িকা।ধারাবাহিক 'দেশের মাটি' প্রচার হচ্ছে স্টার জলসায়, সোম থেকে রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়।সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া। | 2 |
মাদক গ্রহণের দায়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ক্রিকেটার জুবায়ের হামজা। ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার (সিএসএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৭ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মাদক পরীক্ষায় পরীক্ষায় তার দেহে নিষিদ্ধ ঘোষিত মাদকের উপাদান পাওয়া গেছে। সিএসএ জানায়, পরীক্ষার ফল পজিটিভ হওয়ায় স্বেচ্ছায় নিষিদ্ধাদেশ মেনে নিয়েছেন জুবায়ের হামজা। ২৬ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার জাতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট এবং একটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। গত ১৭ জানুয়ারি মাদক পরীক্ষার জন্য নুমনা দিয়েছিলেন হামজা। সিএসএ জানায়, 'জুবায়ের এই পরীক্ষার ফল মেনে নিয়েছেন। তিনি আইসিসিকে পুরোপুরি সহযোগিতা করেছেন এবং স্বেচ্ছায় নিষিদ্ধাদেশ মেনে নিয়েছেন।' 'জুবায়ের দেহে পাওয়া ফুরোসেমাইড কোনো শক্তিবর্ধক পদার্থ নয় এবং কিভাবে সেটি তার দেহে প্রবেশ করেছে- সেটা চিহ্নিত করতে পেরেছেন।' বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঘোষিত প্রোটিয়া দলে ছিলেন জুবায়ের। কিন্তু সিরিজ শুরুর আগমুহূর্তে 'ব্যক্তিগত কারণ' উল্লেখ করে স্কোয়াড থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে সিএসএ। সূত্র : বাসস | 12 |
করোনার আর্থ-সামজিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আগামী দিনগুলোতে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রভাব মোকাবিলায় মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। সমাজসেবা অধিদফতর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন আলোচকগণ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আগারগাঁও-এ সমাজসেবা অধিদফতর মিলনায়তনে 'দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত করনীয়' শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (ইউসিডি) মো: মোস্তাফিজুর রহমান এর সঞ্চালনায় পরিচালিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (কার্যক্রম) জনাব জুলফিকার হায়দার। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমাজসেবা অধিদফতরে উপপরিচালক (ইউসিডি) ও বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানউন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জনাব মোহা: কামরুজ্জামান। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে ৫ কোটি ৮৭ লাখ শ্রমশক্তি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। এর বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছে ৭০ লক্ষের অধিক মানুষ। স্বল্প দক্ষতার কারণে উৎপাদলশীলতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি এ ক্ষত্রে প্রবৃদ্ধিও কম হচ্ছে। তাই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরতে তরুণদের উপযুক্ত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদফতর শহর সমাজসেবা কার্যক্রম (ইউসিডি)'র আওতায় দেশে ৮০টি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে চলতি সেশনের ১২,০০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর ২০টির অধিক ট্রেডে প্রশিক্ষণ করছে। কার্যক্রমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২,৭২,১৯১ জন। প্রবন্ধকার বলেন, তরুণদের ভবিষ্যত কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ কাজে সকলের সুচিন্তিত মতামত প্রয়োজন। চারটি দলে অংশগ্রহণকারীগণ প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা; অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) চাহিদা অনুযায়ী ট্রেড নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ প্রদান; উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে নেটওয়ার্কিং জোরদারকরণসহ বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট বেকার সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ের চাহিদা ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একইসাথে প্রশিক্ষণ ইমপেক্ট স্ট্যাডি ও অনলাইন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্মশালায় সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আবু মাসুদ, পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) সৈয়দ মোঃ নূরুল বাসির, পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) সাব্বির ইমামসহ বিভিন্ন শাখার উপরিচালক, সহকারী পরিচালক ও সমাজসেবা অফিসারগণ, এটুআই প্রকল্পের দক্ষতা উন্নয়ন স্পেশালিস্ট অংশগ্রহণ করেন। এছড়া জুম ক্লাউডের মাধ্যমে সভায় অংশগ্রহণ বিভিন্ন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালকবৃন্দ, শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা অফিসারবৃন্দ, সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষকগণ। | 6 |
ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে ভর করে কোন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিয়ে বিএনপি সরকারের পতন চায়! শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস করার অপচেষ্টা করছে বিএনপি। সরকার এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে। শনিবার গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। সংসদ ভবনের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বর্ধিত সভায় যুক্ত হন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। ওবায়দুল কাদের বলেন, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপির ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতাদের জড়িত থাকার খবর এসেছে। এরপরও বিএনপি নেতারা এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এটেছেন কেন? তারা কী বিএনপি ও তাদের ছাত্র সংগঠনের ধর্ষণকারীদের রক্ষা করতে চান? তিনি বলেন, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের নামে যারা ষড়যন্ত্র ও গুজব রটাচ্ছে, তাদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আন্দোলনের নামে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্র সৃষ্টির অপপ্রয়াস জনস্বার্থে সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার শুধু ধর্ষণ আর নারীর প্রতি সহিংসতাই নয়, যেকোনো অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আনা হয়েছে বিচারের আওতায়। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম রুখতে যে শুদ্ধি অভিযান সরকার পরিচালনা করছে- তা কারো দাবির প্রেক্ষিতে নয়, স্বপ্রণোদিত হয়েই করছে। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয়ও শেখ হাসিনার কাছে কোনো অপরাধীর রক্ষাকবচ হতে পারেনি এ পর্যন্ত। তাই তো এদেশের নারীদের আস্থার ঠিকানা শেখ হাসিনা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিসভায় আইন সংশোধনের প্রস্তাব আসছে। দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের কোনো পর্যায়ে সন্ত্রাসী, ধর্ষক ও মাদকসেবীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কমিটি গঠনে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কেউ যেন কমিটিতে ঠাঁই না পায়। খারাপ লোকদের দিয়ে দলভারি করা যাবে না। খারাপ লোকেরা উন্নয়ন ও অর্জনকে ম্লান করে দেবে। নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। আর দলীয় প্রার্থীর জয়ের জন্য যথাযথ প্রার্থী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ে কাজ করতে হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, শক্তিশালী ও গণমুখী সংগঠনের জন্য সাংগঠনিক ঐক্যের বিকল্প নেই। সংগঠনের মজবুত জনভিত্তি তৈরি করতে হলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ছোট-খাট বিষয়ে মতের অমিল থাকলে তা মিটিয়ে ফেলতে হবে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশ হচ্ছে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি শহর ও পৌরসভা সংগঠনগুলোকেও মজবুত করতে হবে। জনসমর্থনও বাড়াতে হবে। দলের জেলা সম্মেলনের আগে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলার সম্মেলন অবশ্যই শেষ করতে হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। | 9 |
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় জহুরুল ইসলাম (৬৫) নামের একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই আদেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ফারুক আহম্মেদ।এ রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত জহুরুল ইসলাম। তিনি গোবিন্দগঞ্জের ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মালাধর গ্রামের মৃত নায়েব উদ্দিনের ছেলে।আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, 'আসামিকে মৃত্যু পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার দণ্ডাদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আসামিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া জব্দকৃত হেরোইন ধ্বংস করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।'মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২ জুন রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরের বস্তাপট্টি ও বিস্কুটপট্টিতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযান পরিচালনা করেন গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মমিরুল হক। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজন পালিয়ে যান। অভিযানে নিজের খালি বস্তা বিক্রির দোকানের ভেতর থেকে জহুরুল ইসলামকে আটক করা হয়। দোকানের ভেতরেই জহুরুল ইসলামের শরীর তল্লাশি করে পলিথিনের ভেতরে ২৫০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাঁরা রায়ে সন্তুষ্ট নন। আসামিপক্ষ ন্যায়বিচার পায়নি। এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। তাঁরা হাইকোর্টে আপিল করলে জহুরুল ইসলাম খালাস পাবেন। খুব শিগগির হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স আদালতে আপিল করা হবে। | 6 |
ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ভাই আদিব মাহমুদ ও জারির ফারহানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে ময়মনসিংহে। গত শুক্রবার বিকেলে নগরীর ভাটিকাশর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার দুপুরে তাদের মরদেহ ময়মনসিংহে পৌঁছায়। পরে বাদ আসর চরপাড়ার জামিয়া ইসলামিয়া মসজিদে ওই দুই কিশোরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রেজাউল হাসান বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এ বি এম নুরুজ্জামান খোকন, সাধারণ সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী রকেট, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।জানা গেছে, গত সোমবার ওমানের রাজধানী মাসকাট সিটি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে সেনেও শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় আদিব মাহমুদ ও জারির ফারহানের মৃত্যু হয়। নিহত আদিব মাহমুদ ও জারির ফারহান ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নাট্যবিষয়ক সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম তুহিনের ছেলে।চিকিৎসক মা তানিয়ার কর্মস্থল সূত্রে মায়ের সঙ্গে সেখানে বসবাস করত। এ ঘটনায় আরও দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। | 6 |
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সমন্বিত বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই রোগ প্রতিরোধে দেশে উচ্চ পর্যায়ের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় যক্ষ্মা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হবে।
বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে 'যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সম্মেলন'-এর সমাপনী দিনে 'কল ফর অ্যাকশন' ঘোষণা অধিবেশনের বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসসের।
ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সভাপতিত্বে অধিবেশনে 'কল ফর অ্যাকশন' ঘোষণা করেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং।
যক্ষ্মা নির্মূলে বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আন্তরিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এ রোগ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যক্ষ্মা সংক্রমণের কারণগুলো চিহ্নিত করে দারিদ্র্য বিমোচন, অপুষ্টি দূরীকরণ, স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যান্য আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জনগণ এরই মধ্যে গৃহীত কার্যক্রমের সুফল পেতে শুরু করেছে। গত কয়েক বছরে যক্ষ্মা রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ থেকে পোলিও ও ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল এবং ইবোলা, জিকা ভাইরাস মোকাবেলায় সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, যক্ষ্মা নির্মূলে সরকারের কর্মসূচিতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই বাংলাদেশকে যক্ষ্মামুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
গত বুধবার শুরু হওয়া এ সম্মেলনে সিয়ারো অঞ্চলের ১১ দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে মঙ্গলবার দিল্লি যান। শুক্রবার বিকেলে তিনি দেশে ফিরবেন।
| 6 |
চলমান বিশ্বকাপের দশম ও নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাওয়া জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতেই মাঠে নামছে দু'দল। নটিংহামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।নটিংহামেই পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বল হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। তাদের আগুন ঝড়ানো বোলিং-এ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২১ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ১০৫ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওশান থমাস ২৭ রানে ৪ ও অধিনায়ক জেসন হোল্ডার ৪২ রানে ৩ উইকেট নেন। জবাবে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলের ৪৩ বলে ৫০ ও নিকোলাস পুরানের ১৯ বলে অপরাজিত ৩৪ রানে ২১৮ বল বাকী রেখেই জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুর্দান্ত জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে পথ চলা শুরু হয় ক্যারিবীয়দের।ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত সহজ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারায় তারা। বিস্ট্রলে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় আফগানিস্তান। কিন্তু ৩৮ দশমিক ২ ওভার ব্যাট করে ২০৭ রানে অলআউট হয় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন সাত নম্বরে নামা নাজিবুল্লাহ জাদরান। অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স-এডাম জাম্পা ৩টি করে উইকেট নেন। ২০৮ রানের জয়ের লক্ষ্য পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার দুর্দান্ত শুরু করেন। ৯৬ রানের জুটি গড়েন তারা। ফিঞ্চ ৪৯ বলে ৬৬ রান করে ফিরে গেলেও, ১১৪ বলে অপরাজিত ৮৯ রান করে অসিদের জয় নিশ্চিত করেন ওয়ার্নার। তাই শুভ সূচনার স্বাদ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। | 12 |
জিতলেই নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন ট্রাম্প। আর না জিতলে নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন। বারাক ওবামা বলেছেন, "নির্বাচনের ফল মেনে না নেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্প যে আভাস দিয়েছেন, তা 'বিপজ্জনক'।" স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে এক প্রচার সমাবেশে অংশগ্রহন করেন। সেই সমাবেশে ওবামা এ মন্তব্য করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার এক সমাবেশে ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, "নির্বাচনে জিতলেই কেবল ফল মেনে নেবেন। নির্বাচন স্বচ্ছ হলে তিনি মেনে নেবেন। তবে এতে কোনো ধরনের সন্দেহ হলে আইনি লড়াইয়ে যাবেন।" ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর ওবামা বলেন, "ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে জনগণের মনে সন্দেহের উদ্রেক হবে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের সুবিধা দেবে।" বিডি-প্রতিদিন/২১ অক্টোবর, ২০১৬/তাফসীর | 3 |
খাগড়াছড়ির আনাই মগিনীর এখন দেশজোড়া খ্যাতি। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারানো দেশের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সদস্য তিনি। গত বুধবার কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় জয়সূচক গোল করেন এই পাহাড়ি কন্যা।আনাই মগিনীর বাবা রিপ্রু মঘ বলেন, 'একদিন আমার মেয়েরা বিশ্বকাপে খেলব এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমাদের মেয়েদের আশীর্বাদ করি, তারা অনেক দূরে এগিয়ে যাক।'গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সাত ভাইয়া পাড়ায় আনাই মগিনীদের বাড়ি গিয়ে তাঁর বাবাসহ স্বজনদের সঙ্গ কথা হয়। অন্তত ২০ ফুট বাঁশের সাঁকো পার হয়ে যেতে হয় তাঁর বাড়ি। এই সাঁকো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ রয়েছে।এ বিষয়ে মগিনীর বাবা বলেন বলেন, 'আমাদের বাড়িতে আসার পথে কালভার্ট নেই। জেলা পরিষদ ও সরকারি সহায়তা পেয়ে আমি বাড়ি নির্মাণ করেছি। তবে বাড়িতে আসার জন্য কোনো কালভার্ট নেই। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। বর্ষায় বাঁশের সাঁকো পানিতে ভেসে যায়। তখন পারাপার বন্ধ থাকে। আমাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সরকার যাতে একটি সেতু নির্মাণ করে দেয়।'স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, 'আনাই মগিনী এখন দেশের তারকা। তাঁরা দুই বোন আনাই মগিনী ও আনুচিং মগিনী বেশ কয়েক বছর ধরে জাতীয় ফুটবল দলে খেলছেন। অথচ তাঁর বাড়িতে যাওয়ার জন্য কোনো কালভার্ট নেই। নড়বড়ে বাঁশে সাঁকো পেরিয়ে সেখানে যেতে হয়। অনেকে ভয় পেয়ে সাঁকোর পরিবর্তে ঝিরি পথে হেঁটে যায়।'পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী বলেন, 'আনাই মগিনী আমাদের জেলার গর্ব। তাঁদের বাড়িতে বাঁশের সাঁকোতে যেতে হয়, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা একটা কালভার্ট নির্মাণ করে দেব। এ ছাড়া পরিষদের পক্ষ থেকে আনাই মগিনীসহ খাগড়াছড়ির তিন তারকা ফুটবলার আনুচিং মগিনী ও মনিকা চাকমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।' | 6 |
তাঁর লেখার একনিষ্ঠ পাঠক আমি অনেক বছর ধরে। পরিশ্রম করে জোগাড় করা তথ্য এবং অকাট্য যুক্তিনির্ভর তাঁর প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ লাখ লাখ পাঠকের মতো আমাকেও সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে নতুন করে ভাবার তাগিদ জোগাত। ছাত্রজীবন থেকেই আইনের শাসন, কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র ও মানবাধিকার বিষয়ে আগ্রহ থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মিজানুর রহমান খানের লেখার ভান্ডারের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। তাঁর লেখাগুলো গতানুগতিক উপসম্পাদকীয় ছিল না; সেগুলো একজন বিবেকবান সক্রিয় নাগরিককে ভিন্ন চিন্তনের প্রেক্ষিত জোগাত। বন্ধু শাহদীন মালিক ও আসিফ নজরুলের সঙ্গে আলাপে ও আড্ডায় আইন, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ে সাংবাদিকতার জগতে মিজানুর রহমান খান যে দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন, তা জানতে পেরেছিলাম। আর এসব কারণেই তাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য উদ্গ্রীব ছিলাম। অল্প দিনের মধ্যে সে সুযোগ ঘটল। আমাদের পরিচয়পর্বের কিছুদিনের মধ্যেই ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের চতুর্থ সপ্তাহে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল নামে। এ বিষয়ে মিজান এবং আমার আগ্রহ দুজনের যোগাযোগের মাত্রা বাড়ায়। দ্রুত বহমান এই ঘটনার বিষয়ে দেশি-বিদেশি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে টেলিফোনে প্রায়ই দীর্ঘ আলাপ হতো। বলা বাহুল্য, সেই সঙ্গে বন্ধুত্বও গাঢ় হতে শুরু করে। ২০১৭ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যার ওপর আন্তর্জাতিক গণ-আদালতের দ্বিতীয় শুনানির বিষয়টি আমি মিজানকে জানালে তিনি ভীষণ উৎসাহিত হয়ে ওঠেন। আমরা দুজনেই একমত হই দেশের শীর্ষ দৈনিকে এ বিষয় নিয়ে যদি প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়, তবে এ দেশে থাকা এবং দেশের বাইরে থাকা অগণিত বাংলাভাষী রোহিঙ্গা গণহত্যার স্বরূপ এবং তার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাবেন। এতে শরণার্থীদের সম্পর্কে সহমর্মিতা সৃষ্টি হবে এবং একই সঙ্গে রোহিঙ্গা নিধনের জন্য সুদূরপ্রসারী যে পরিকল্পনা বর্মি রাষ্ট্র গ্রহণ করেছিল, সে সম্পর্কে পাঠকেরা অবহিত হবে। ট্রাইব্যুনাল উদ্যোক্তাদের প্রথম আলো ও মিজানের আগ্রহের কথা জানালাম। তারা সাগ্রহে অতি দ্রুত আমন্ত্রণ পাঠাল। পরিকল্পনা ছিল দুজনে একই ফ্লাইটে যাব, কিন্তু মিজানের ভিসা প্রাপ্তিতে দেরি হওয়ায় তিনি সারা রাত যাত্রা শেষে সকালবেলায় এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি ট্রাইব্যুনাল ভেন্যুতে উপস্থিত হলেন। তিন দিন ধরে একটানা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। যেখানে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনগুলোয় আমাদের সরকারি প্রতিনিধিদের খণ্ডকালীন উপস্থিতি ছিল, তার বিপরীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে গভীর মনোনিবেশ করে রোহিঙ্গা গণহত্যা এবং মিয়ানমারের অন্যান্য নির্যাতিত নৃগোষ্ঠীর সাক্ষীদের বক্তব্য, বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য এবং বিচারকদের মতামত তিনি আগ্রহ ও নিষ্ঠার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করেছেন। অধিবেশনের বিরতির সময় আমরা যখন রোহিঙ্গা ডায়াসপোরা নেতৃবৃন্দ এবং বর্মি ভিন্নমতাবলম্বীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বা আড্ডায় ব্যস্ত, তখন মিজানকে দেখেছি গণহত্যার কোনো উত্তরজীবী (সারভাইভার), গণহত্যা অথবা আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। এক সন্ধ্যায় হোটেল লবিতে রাত ১১টা পর্যন্ত তাঁকে তেমনই এক সাক্ষাৎকার নিতে দেখেছিলাম। পরদিন ব্রেকফাস্টের সময় যখন জিজ্ঞাসা করলাম, রিপোর্ট কখন পাঠাবেন? আমাকে অবাক করে দিয়ে মিজান জানালেন, রাত তিনটার দিকে তিনি তা ফাইল করে দিয়েছেন। ওই কয়েকটা দিনেই কাজের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার, পরিশ্রম করার অপার শক্তি এবং ঘটনার পেছনে প্রবাহগুলোকে জানতে চেষ্টা করার অদম্য আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আমি পরিচিত হয়েছিলাম। সারাক্ষণ কাজে ব্যস্ত থাকা মিজানের কুয়ালালামপুর শহরের বিষয়ে তেমন কোনো আগ্রহ না দেখায় আমি ধরেই নিয়েছিলাম তিনি আগেও সেখানে গেছেন। জিজ্ঞাসা করায় জানালেন, না, এই তাঁর প্রথম সফর। একটু অবাক হয়ে বললাম, 'শহরটা একটু দেখবেন না?' প্রত্যুত্তরে বললেন, 'বেঁচে থাকলে আবার আসার সুযোগ তো হবে, তখন দেখে নেব।' যোগ দিলেন, 'একসঙ্গে এত বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনবিদ আর রোহিঙ্গা নেতারা রয়েছেন, তাঁদের বক্তব্যগুলো নেওয়া তো জরুরি। তা-ই নাহয় করি।' বুঝলাম, কাজপাগলা আমার নতুন বন্ধুটি কাজের নেশায় বুঁদ। কথা বাড়ালাম না। আমার দেশে ফিরে আসার আগের সন্ধ্যায় তাঁর কাজের চাপ কম থাকায় লম্বা আড্ডা দিলাম। প্রসঙ্গক্রমে আমার গ্রাম গোপালগঞ্জ জেলায় জানতে পেরে তিনি প্রায় বাকরুদ্ধ। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে জানতে চাইলাম, কেন তিনি অবাক হলেন। হা হা করে হেসে বললেন, 'অফিসে আমরা কয়েকজন ধরেই নিয়েছি আপনার পরিবারের সঙ্গে উর্দুভাষীদের যোগসূত্র রয়েছে।' ব্যাখ্যা করলেন, ক্যাম্পের উর্দুভাষীদের অধিকার বিষয়ে আমার উৎসাহ এবং তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে আমার সক্রিয়তা, সেই সঙ্গে কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী আবরার নাম ও চেহারার আদলের কারণেই তাঁদের এ ধারণা। হোটেল কাঁপানো হাসিতে দুজন ফেটে পড়েছিলাম। আলাপের মধ্যে এল একজন বিদেশি কূটনৈতিকের বাসায় নিমন্ত্রণে গিয়ে তাঁর বিড়ম্বনা পরিস্থিতিতে পড়ার বিষয়। 'দাওয়াত তো খেলাম। সমস্যায় পড়লাম যখন হোস্ট আমার আপত্তি সত্ত্বেও গাড়িতে একটি প্যাকেট তুলে দিল।' নিজেকেই তখন প্রশ্ন করলাম, একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে এই উপঢৌকন প্রাপ্তি আমার কোনো সহকর্মী কিংবা সাংবাদিক এমন বিবেকের যন্ত্রণায় কি ভুগতেন, যেমন ভুগেছিলেন ন্যায়বান মিজানুর রহমান খান? মাস তিনেক আগে এক যুগ ধরে আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে যাওয়া শিপু কিছুটা ঠাট্টাচ্ছলেই বলেছিল, 'খালাম্মার (আমার স্ত্রী তাসনিম সিদ্দিকী) তো দু-দুটো লম্বা সাক্ষাৎকার ছাপা হলো প্রথম আলোতে, তাও দু-তিন বছরে। আপনার একটাও তো দেখলাম না।' তার ঠাট্টার পালে বেশি হাওয়া জোটেনি। কাকতালীয়ভাবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মিজান একদিন ফোনে জানালেন, শ্রম অভিবাসীদের নিয়ে আমার একটা সাক্ষাৎকার প্রথম আলো ছাপবে। দেওয়া হলো সাক্ষাৎকার। আবার ফোন মিজানের, ছবি লাগবে। নিরুপায় হয়ে তাসনিমকে বললাম সেলফোনে তুলে দিতে। স্ত্রী ফটোগ্রাফার হলে স্বামীর কি যন্ত্রণা পোহাতে হয়, সেদিন টের পেয়েছি। ভ্রু ঠিক করা নিয়ে অনেক ঝগড়াঝাঁটির পর মোটামুটি জুতসই ছবি পাঠালাম। 'রাজকীয় ছবি হয়েছে', ধন্যবাদ জানিয়ে লিখলেন মিজান। জানালাম, তাঁকে পাঠানো ছবি আমার স্ত্রীর তোলা। তিনি ফোনটা তাসনিমকে দিতে বললেন। তাঁকে জানালেন, 'প্রথম আলো আপনার এই প্রয়াসকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মনে রাখবে।' বিষয়টি নিয়ে পরেও হাসাহাসি করেছি আমরা। প্রাণখোলা এমন হাসি বিশুদ্ধ মনের মানুষেরই সহজাত। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে রোহিঙ্গাবিষয়ক গণহত্যা ও আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল বাংলাদেশে আসে। কক্সবাজার থেকে ফিরে এসে আমার বাসায় রাতের খাবারের আয়োজন নির্দিষ্ট করা ছিল। বিধি বাম। বেশ কয়েক ঘণ্টা বিমান দেরিতে আসার কারণে ওই টিমের সঙ্গে প্রথম আলো আয়োজিত মিজানের যৌথ আলোচনা পিছিয়ে যায়। ট্রাফিক জ্যামের এই নগরীতে সোনারগাঁও হোটেল থেকে বনানীতে এসে নিমন্ত্রণ রক্ষা অতিথিদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমার পার্টি ভেস্তে গেলে। মিজান ছিলেন নির্লিপ্ত, যেন কিছুই হয়নি। রাগ হয়েছিল খুব তাঁর ওপর। ওই আলোচনায় আমিও ছিলাম। চলেছিল রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। পরে ধারাবাহিকভাবে প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছিল ওই সন্ধ্যায় আলোচনার ওপর ধারণ করা প্রতিবেদন। লজ্জা পেলাম নিজেরই কাছে। কত বড় একটা কাজ হলো, কত লোক আবার নতুন করে জানবে রোহিঙ্গা সম্পর্কে বিশ্বের ভাবনা। কাজকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা মিজানের কাছে একটা দাওয়াত তো তুচ্ছই বিবেচিত হবে। এতে অবাক হওয়ারই-বা কী আছে। রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার মিজানুর রহমান খানের বিশেষ ভাবাবেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ নিয়ে নানা প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার তিনি প্রথম আলোয় লাগাতারভাবে লিখেছেন, প্রকাশ করেছেন। ফলে, বিশ্ব রোহিঙ্গা অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েছিলেন। তাই তো তাঁর প্রয়াণে বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনবিদ জন প্যাকার লিখেছেন, তাঁর মৃত্যু সাংবাদিকতা পেশার জন্য বিরাট ক্ষতি। গণহত্যাবিষয়ক খ্যাতিমান গবেষক গ্রেগরি স্ট্যানটন শোকবিহ্বল ভাষায় জানালেন, এমন তো হওয়ার ছিল না। আমার ও মিজানের পরম বন্ধু বর্মি ভিন্নমতাবলম্বী রোহিঙ্গা গণহত্যা বিশেষজ্ঞ মং জার্নি জানালেন, তাঁর মৃত্যুতে রোহিঙ্গারা তাদের এক অকৃত্রিম বন্ধুকে হারাল। মিজান চলে যাওয়ার এক দিন পর রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির থেকে একজন তরুণ আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিল, 'স্যার, আমাদের কথা এমন জোরালোভাবে আর কে লিখবে?' জবাব দিতে পারিনি সে প্রশ্নের। অক্টোবরের শেষের দিকে টেলিফোনে কুশলবিনিময়ের সময় মিজান জিজ্ঞেস করলেন, আমি কোনো বিষয় নিয়ে বিচলিত কি না। হয়তো আমার কণ্ঠস্বরে তাঁর তা মনে হয়েছিল। জানিয়েছিলাম, কিছুটা ঝামেলায় আছি। বিজয়নগরে ১৯৫০ সাল থেকে আমাদের পারিবারিক মালিকানায় এবং দখলে থাকা এজমালি রাস্তার একাংশ আমার চাচাতো ভাইয়ের কাছে থেকে কেনা প্লটের নতুন মালিক পুরোনো সীমানা নির্ধারণকারী দেয়াল ভেঙে দখল করে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। তিনি জানতে চাওয়ায় বললাম, দখলদার একজন প্রভাবশালী সাংসদ ও মন্ত্রী। মিজান জানালেন, এ নিয়ে সংবাদ করার মতো কোর্ট-কাছারি হলে কাগজপত্র পাঠালে প্রয়োজনে তিনি নিজে 'ঝাঁপিয়ে' পড়বেন। সত্যি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো মানুষই ছিলেন মিজান। সে অন্যায় গণহত্যার মতো রাষ্ট্রীয় অপরাধীই হোক, সে অন্যায় ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য দায়ী বা প্রথম আলোর সম্পাদক তাঁর প্রিয় মতি ভাইকে উৎপীড়নকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই হোক বা আমার মতো সাধারণ নাগরিকের সম্পত্তি আত্মসাৎকারী প্রভাবশালী ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হোক। বড় অকালে চলে গেলেন নতুন বন্ধু আমার। সি আর আবরার অভিবাসন ও উদ্বাস্তু বিশেষজ্ঞ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। | 8 |
নারায়ণগঞ্জ: ২৭ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ রেখে মোট ২৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ। আজ সোমবার দুপুরে একটি ভার্চ্যুয়াল সভার মাধ্যমে এই বাজেট ঘোষণা করা হয়। এদিকে ভার্চ্যুয়াল বাজেট সভায় যোগ দেননি সভার সদস্যদের একাংশ। বাজেট সভা ভার্চ্যুয়াল হওয়ার কারণে তাঁরা এই সভা বর্জন করেছেন বলে জানা যায়।জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা ১১টায় ভার্চ্যুয়াল জেলা পরিষদের বাজেট সভার আয়োজন করা হয়। সব সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়ের আগেই অনলাইনের 'জুম' লিংক ও পাসওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছিল। তবে পরিষদের সদস্যদের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে অনভিজ্ঞ হওয়ায় জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে চলে আসেন। পরে তাঁরা আর ভার্চ্যুয়াল সভায় অংশ নেননি। তবে সভায় সংযুক্ত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিষদের সদস্যবৃন্দ।তবে ভার্চ্যুয়াল সভায় অংশ না নেওয়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহমুদা মালা বলেন, এটা আমাদের শেষ বাজেট। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাজেট সভায় যোগ দেন, সেখানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও যোগ দিতে পারতেন। গতকালও আমি এসেছিলাম। আমাদের দাবি ছিল সরাসরি বাজেট সভার। সেই দাবি উপেক্ষা করায় সংখ্যাগরিষ্ঠ (১১ জন) সদস্য সভা বর্জন করেছেন।' এ ছাড়া সভা বর্জন করলেও এবার বাজেটে সদস্যদের উন্নয়ন বাবদ বরাদ্দ ১ কোটি টাকা দাবি করেন তিনি।এ সময় জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে সদস্য মজিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাডভোকেট নূরজাহান, মাহবুবুর রহমান রোমান, আলী নূর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, কোভিড-১৯-এ বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে ভার্চ্যুয়াল সভার আয়োজন করা হয়। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর এভাবেই বিভিন্ন জরুরি সভা সম্পন্ন করছে। সে অনুযায়ী স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জেলা পরিদের বাজেট সভা সম্পন্ন হয়েছে। বাজেটের সিদ্ধান্ত নিয়ে কারও কোনো দ্বিমত থাকলে তা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।এদিকে জেলা পরিষদ সূত্রে আরও জানা যায়, গত বছর ২৬ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট ঘোষণা করা হয়। ওই বাজেটে সদস্যপ্রতি ৪০ লাখ টাকা করে মোট ৮ কোটি টাকা উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার তাঁরা ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে করোনাকালীন ত্রাণ বিতরণ ও নগদ অর্থ প্রদানের হিসাবও চেয়েছেন তাঁরা। তবে বাজেট সভায় অংশ না নেওয়ায় এসব বিষয় উত্থাপন করার কোনো সুযোগ পাননি তাঁরা। ফলে অনলাইন সভা না করে সরাসরি সভার মাধ্যমে অন্য আরেক দিন বাজেট ঘোষণা করার দাবি জানান তাঁরা।এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ২৭ কোটি টাকা উন্নয়ন বরাদ্দসহ ২৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। অনলাইনে বাজেট সভা হবে তা পূর্বেই সবাইকে জানানো হয়েছিল। কারও আপত্তি থাকলে ভিন্ন পথে যাওয়া যেত। বাজেট সভা সম্পন্ন হয়েছে। বর্জনের ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। আর অতিরিক্ত বরাদ্দের যে দাবি তাঁরা করেছেন, সেটি করতেই পারেন। তবে আমরা ১ কোটি নয়, গতবারের চেয়ে ১০ লাখ বাড়িয়ে ৫০ লাখ করে দেব। তা ছাড়া আমাদের অনেকের অনুরোধেই উন্নয়নকাজ করে দিতে হয়। সেটাও বিবেচনা করতে হবে।' | 6 |
এককালে যে স্বচ্ছ কাচের টাংস্টেন বৈদ্যুতিক বাতি ছিল রাতের বিস্ময়জাগানিয়া আলোর উৎস, হেমন্তে সকালের রংটা তা-ই। ফটোগ্রাফির ভাষায়, এটা ওয়ার্ম লাইট। মধ্য হেমন্ত যখন গড়িয়ে গড়িয়ে শীতের দিকে ধীর পায়ে চলতে থাকে, আলোর রঙে তখন খানিক পরিবর্তন হয়। সকালবেলা সে আলোয় পিঠ এলিয়ে দিয়ে ধোঁয়া-ওঠা গরমাগরম ফ্যানভাত খেতাম একসময়। সেই ধোঁয়া-ওঠা ভাতে সংগত দিত নুন, সরিষার তেল, টেলে নেওয়া মরিচ আর ভর্তা। ফ্ল্যাশ ব্যাক থেকে ফ্ল্যাশ ব্যাকে যেতে থাকলে দেখা যাবে, সকালের সোনালি আলোয় পিঠ পেতে পিঁড়িতে বসে আছেন বাবা, ঠাকুরদাদা, পরদাদা, তস্য পরদাদা। সামনে দাঁড়িয়ে সারদা রানি, গোলেনুর বেগম কিংবা বেগম সুফিয়া রহমান জীবন ঘষে বানিয়ে গেছেন প্রবাদ। আর একুশ শতকের কোনো এক হেমন্তে বসে অর্বাচীন আমি লিখে চলেছি সেই সব ভুলে যাওয়া গল্প আর প্রবাদের কথা।শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে ভর্তার মতো এক তুচ্ছ বিষয়কে ফেনিয়ে তুলছি কেন? সোজা কথায়, উত্তেজিত হয়ে। 'তেল নুন চরতা, তবে হবে ভর্তা' প্রবাদটি প্রথম শুনেই চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল এক অপূর্ব অভিজ্ঞতার বয়ান। কড়াইয়ে তেল গরম হলে তাতে ছেড়ে দিন পেঁয়াজ আর কাঁচা মরিচ। অল্প তেলে ভাজা ভাজা করে নিন সেগুলো। এবার তাতে খোসা ছাড়ানো সেদ্ধ আলু আর পরিমাণমতো লবণ দিন। তারপর মিহি করে পিষে নিন হাত দিয়ে বা বাঁশের মুড়ো দিয়ে বানানো নোড়ায়। তৈরি হয়ে গেল স্বর্ণাভ আলুভর্তা। এই যে আধুনিক রেসিপি বয়ানের স্টাইল, সেটাই খুব সরলভাবে বলে দেওয়া আছে ছয় শব্দের এ প্রবাদে।কোন জিনিসটির ভর্তা হয় না? সবজির মধ্যে ভর্তার উপকরণ হিসেবে আলু ও বেগুন জনপ্রিয় বটে। কিন্তু বরবটি, মিষ্টিকুমড়া, পটোল, করলা, কাঁচকলা-সবগুলোরই ভর্তা হয়। বেশ সুস্বাদু ভর্তা হয়। ডালের মধ্যে মসুর ডালের ভর্তা জগতে বিখ্যাত। খেসারির ডালেরও ভর্তা খাওয়া হয়। আছে ডিমভর্তা। আর একটু ফিউশন করলে ডিম-আলুর ভর্তাও বানানো যায়। উত্তরবঙ্গে শীতে ভাতের হাঁড়িতে লাউশাক দিয়ে সেদ্ধ করে তার ভর্তা খাওয়া হয় জমিয়ে। মাছের মধ্যে টাকি আর চিংড়ি প্রধান। ইলিশের 'ল্যাঞ্জা' ভর্তাও পাওয়া যায়। সিরাজগঞ্জে ইলিশের ভর্তা বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়া রুই মাছের ভর্তার কথা শুনেছি, না খেলেও।ময়মনসিংহে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করে শুঁটকি বানিয়ে তার ভর্তা খাওয়ার চল আছে। ওই অঞ্চলেরই বিখ্যাত খাবার কাবক বা মুরগির মাংসের ভর্তা। এটা আবার এতই বিখ্যাত যে নতুন জামাইয়ের আগমনে খাওয়াতেই হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, ফরিদপুর ইত্যাদি এলাকায় কাঞ্জিরভাত খাওয়া হয় আট-দশ পদের ভর্তা দিয়ে। কাঁচকলার ভর্তা, কচুরমুখী ভর্তা, লাইশাক ভর্তা, পটোলের খোসা কিংবা কাঁচকলার খোসার ভর্তা অসাধারণ খাবার। শুঁটকি ভর্তার কথা বলতে হবে নতুন করে? ছোট্ট করে বলে রাখি, ভাটি অঞ্চলের মানুষ চ্যাপা শুঁটকির ভর্তা না খেলে জাত্যভিমান হারিয়ে ফেলে বলেই আমার ধারণা। এই যে এত বিচিত্র পদের ভর্তা-এর রেসিপির মূল বিষয়টি হলো, সেদ্ধ করে, মিহি করে পিষে নেওয়া। হাত দিয়ে, শিল দিয়ে, গ্লাসের পেছনের অংশ দিয়ে-যেভাবেই হোক পিষে নেওয়া। তারপর তাতে পরিমাণমতো নুন, তেল, পেঁয়াজ কিংবা মরিচ যোগ করা। এ প্রক্রিয়ার কথাই বলা হয়েছে প্রবাদটিতে। তেল-নুন চরতা অর্থাৎ ভর্তার উপকরণ দিয়ে সেদ্ধ করে চটকে নিয়ে তাতে তেল-নুন দিলেই ভর্তা তৈরি হয়ে যাবে। চরতা শব্দটির অর্থ চটকে নেওয়া। সেদ্ধ করলে যেকোনো কিছুই সহজে চটকে নেওয়া যায়।থাক। ছুটির দিনে এত কচকচানি শুনে লাভ নেই। আপনাদের মুফতে দুখানা রেসিপি দিয়ে ফেলি বরং। সুযোগ থাকলে একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। সেদ্ধ করে হাতে চটকে যে ভর্তা আমরা খাই, রেসিপির এই ভর্তাগুলো তার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। প্রথমে বলি লাইশাক ভর্তার কথা। সিলেট অঞ্চলে লাইশাক ভর্তা খুবই জনপ্রিয় খাবার। শীতে পাওয়া যায়। এখন অবশ্য আগেও পাওয়া যায়। তেমন কোনো কষ্ট নেই বানানোয়। লাইপাতা উত্তমরূপে পরিষ্কার করে মাঝের মোটা শিরটা বাদ দিয়ে তাকে নিজের মতো করে মেরুদণ্ডহীন করে দিন। তারপর ছিঁড়ে নিয়ে মিহি কুচি করে কেটে নুন মাখিয়ে রাখুন। টাকি বা রুই মাছ ভেজে কাঁটা বেছে রাখুন। শুকনো মরিচ ভেজে, পেঁয়াজ ভালো করে কুচিয়ে নিন। নুন মাখানো শাক চিপে রস ফেলে দিয়ে ভাজা মাছ, পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে মেখে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে লাইশাকের ভর্তা। তারপর সকালবেলা গরম গরম ভাতে মেখে খেয়ে নিন।এবার বলি থানকুনিপাতা আর শুঁটকির ডলা ভর্তার রেসিপি। উপকরণ হিসেবে নিন যেকোনো ছোট বা মাঝারি মাছের শুঁটকি, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ, শুঁটকি ভাজার জন্য সামান্য তেল, লবণ আর থানকুনিপাতা। থানকুনিপাতা কুচিয়ে রাখুন। কাঁচা মরিচ ও রসুন টেলে নিন। গরম পানি দিয়ে ধুয়ে রাখা শুঁটকি অল্প তেলে ঢাকা দিয়ে কম আঁচে ভেজে নিন। পেঁয়াজ বড় করে কেটে হালকা টেলে নিন।এবার থানকুনিপাতা কুচিসহ সব ডলে নিন লবণ দিয়ে। শেষে ভাজা শুঁটকি ভেঙে মেশান। তেল ছাড়াই খাওয়া যায়। চাইলে সরিষার তেলও দিতে পারেন। | 4 |
যশোরের কেশবপুরে বীর নিবাস পাচ্ছেন অসচ্ছল আট বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বাসস্থানগুলো তৈরি করা হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বীর নিবাসের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাংসদ শাহীন চাকলাদার।আট বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেন-উপজেলার চিংড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ, সাগরদাঁড়ি গ্রামের নিমাই দেবনাথ, ভরত ভায়না গ্রামের কালিপদ মণ্ডল, মহাদেবপুর গ্রামের আবুল কাশেম, সুজাপুর গ্রামের মোবারক হোসেন হাওলাদার, হাড়িয়াঘোপ গ্রামের সুভাষ চন্দ্র দেবনাথ, পাত্রপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন সরকারের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল ফকিরের ছেলে মমরেজ ফকির।জানা যায়, প্রতিটি বীর নিবাসের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৮ টাকা। এরই মধ্যে কাজের টেন্ডার সম্পন্ন করে যশোরের মেসার্স এসএস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে।যশোর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ রিজিবুল ইসলাম বলেন, অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় কেশবপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, সম্প্রতি কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাংসদ শাহীন চাকলাদার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আগামীকাল বীর নিবাস তৈরির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের মধ্য দিয়েই কাজ শুরু হবে। | 6 |
সস্ত্রীক করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেনঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। সোমবার ডিএনসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডিএনসিসিরজনসংযোগ বিভাগ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,মেয়র আতিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ডা. শায়লা শগুফতা ইসলামঅসুস্থ বোধ করায় রোববার সকালে কোভিড টেস্টের জন্য নমুনা দেন এবং রাতে টেস্টের ফল পাওয়া যায়। তারা দু'জনেই করোনা পজেটিভ হয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মেয়রের এপিএস-২ রিশাদ মোর্শেদও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সবার রোগমুক্তির জন্য তারা নগরবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। উল্লেখ্য,গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতোডিএনসিসির মেয়র নির্বাচিত হন আতিকুল ইসলাম।গত ১৩ মে ঢাকা তিনি ডিএনসিসির মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেন। | 6 |
মেরেকেটে শ'তিনেক দর্শক জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। সেখানেও প্রায় অর্ধেক আবার নিরাপত্তাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক। বলা যায়, বেশ নীরবেই পর্দা উঠল যুব বিশ্বকাপের। তবে যুবাদের পরিস্ফুটন মঞ্চের জন্য কোনো অঙ্গসজ্জার দরকার পড়েনি। সুশৃঙ্খল ব্যাটিং, বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং আর ক্ষুরধার ফিল্ডিং_ ক্রিকেটের নিখুঁত সব অস্ত্র প্রয়োগ করেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ধরাশায়ী করেছেন ঘরের ছেলেরা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৩ রানে হারিয়ে চমৎকার সূচনা করেছেন মিরাজ-শান্তরা। এ জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেল জুনিয়র টাইগারদের। পরের দুই ম্যাচে বড় কোনো অঘটনের শিকার না হলে কোয়ার্টার ফাইনাল প্রায় নিশ্চিতই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। এর চেয়েও বড় বিষয়, চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে প্রথম ম্যাচের গেঁরো খুলল টাইগাররা।
নাজমুল হোসেন শান্তর ৭৩ এবং পিনাক ঘোষ ও জয়রাজের ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটে ২৪০ রান তোলেন বাংলাদেশের যুবারা। তবে মাঝারি মানের এ সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে কখনও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি জুনিয়র প্রোটিয়ারা। চমৎকার বোলিংয়ে কুড়ি ওভারের মধ্যেই ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এক প্রান্ত আগলে রেখে প্রোটিয়া ওপেনার লিয়াম স্মিথ সেঞ্চুরি করলেও অন্যরা তেমন কিছুই করতে পারেননি। ১৯৭ রানে গুটিয়ে যায় তারা। অবশ্য চট্টগ্রামের মন্থর উইকেটে আড়াইশ'র কাছাকাছি রান বেশ বড় টার্গেট। তার ওপর যেখানে আছে বাংলাদেশের একঝাঁক স্পিনার। নতুন বলে প্রথম উইকেটও আসে স্পিনারদের হাতেই। তৃতীয় ওভারেই অধিনায়ক মিরাজের স্পিনে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ওপেনার ভেরেইন। পরের ২ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নাড়িয়ে দেন পেসার সাইফুদ্দিন। প্রথমে দুর্দান্ত এক ইনকাটারে বোল্ড করেন মুল্ডারকে। তবে অধিনায়ক টসি জর্জির আউটটা কিছুটা দুর্ভাগ্যজনক। সাইফুদ্দিনের ইয়র্কারে শেষ মুহূর্তে ব্যাট নামিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বল তার ব্যাট থেকে প্যাডে লেগে গড়িয়ে গড়িয়ে স্টাম্পে আঘাত হানে। এর পরই স্পিনাররা চেপে ধরেন দক্ষিণ আফ্রিকানদের। তখন কমে যায় রানের গতিও। তবে এ সময় বিপর্যয় সামাল দিতে ওপেনার স্মিথ পাঁচ নম্বরে উইকেটে আসা ডায়ান গ্যালিয়েনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। অফস্পিনার সাঈদ সরকারের দুর্দান্ত টার্নে গ্যালিয়েন বোল্ড হয়ে গেলে কার্যত শেষ হয়ে যায় প্রোটিয়াদের জয়ের স্বপ্ন। এরপর স্মিথ সেঞ্চুরি করে কেবল বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়িয়েছেন। অবশ্য ৫৬ রানের সময় তার সহজ ক্যাচ সাঈদ না ফেললে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো না। পরে অবশ্য সেই স্মিথেরই একটি কঠিন ক্যাচ বাজপাখির ক্ষিপ্রতায় লুফে নিয়েছেন অধিনায়ক মিরাজ।
বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনাই ছিল টসে জিতলে ব্যাটিং করে একটা ভালো স্কোর করে স্পিন আক্রমণে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়া। সে অনুযায়ী টসে জিতে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। তবে সূচনাটা তেমন স্বচ্ছন্দ হয়নি। প্রথম তিন ওভারই ছিল মেডেন। প্রথম ম্যাচ বলেই হয়তো স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন ব্যাটসম্যানরা। সেটা বেশ ভালোভাবে বোঝা গেছে ইনফর্ম ওপেনার সাইফ হাসানের ব্যাটিংয়ে। কোনো শটই খেলতে পারছিলেন না তিনি। ১৩তম বলে গিয়ে রানের খাতা খোলেন। শেষ পর্যন্ত ডাউন দ্য উইকেটে মারতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। তবে বাংলাদেশের ইনিংসটা গতি পায় আরেক ওপেনার পিনাক ঘোষের ব্যাটে। ৪৩ রানের ইনিংসে তিনি দুটি ছয় মেরেছেন। পুল করে মারা ছয়-দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংকে কিছুটা হলেও ভড়কে দেয়। তবে তার এমন চমৎকার ইনিংসটির সমাপ্তি ঘটেছে রানআউটে। দ্বিতীয় উইকেটে পিনাক ও জয়রাজের মধ্যে আরও একবার রান নিয়ে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তখন দু'জন এক প্রান্তে চলে এলেও ভাগ্যগুণে বেঁচে যান। এরপর বাংলাদেশের ইনিংসের পুরোটাতেই ছিল নাজমুলের দাপট। শুরুতে অত্যন্ত পরিপকস্ফতার সঙ্গে ইনিংস গড়েছেন এ বাঁহাতি। ভালো বলেও সিঙ্গেলস নিয়েছেন। আর বাজে বল পেলে তো কথাই নেই। হাফ সেঞ্চুরি করার পর হাত খুলে ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। তার তিনটি ছয়ের মধ্যে পেসার মুল্ডারকে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে লং অনের ওপর দিয়ে সীমানা পার করা শটটি অনেক দিন মনে থাকবে। তবে ৪৯তম ওভারের শেষ বলে অদ্ভুত স্টান্স নিয়ে বোলারকে বিভ্রান্ত করতে গিয়ে তিনি নিজেই বোল্ড হয়ে যান। বোল্ড হলেও ম্যাচ জেতায় আক্ষেপ নেই শান্তর; বরং রানক্ষুধা আরও বেড়ে গেল তার! | 12 |
রাত পোহালেই রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর অসন্তোষ থাকলেও এখনও পর্যন্ত সন্তুষ্ট রয়েছেন অপর মেয়র প্রার্থীরা। নির্বাচন ঘিরে বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রোববার কোনও কথা বলেননি; আর অন্যরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সোমবার সিটি নির্বাচনের আগের দিন রোববার দপুরে দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানির অভিযোগ রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বুলবুল। কাফনের কাপড় মাথায় দিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন জানিয়ে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, সরকারের অব্যাহত নির্যাতন চলছে বিএনপি ও জোটের নেতাদের ওপর। অনেককে হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। গত তিন দিনে জেলা বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেনসহ অনেককে বাড়ি থেকে চলে যাবার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হয়েছে। তাদের হুমকিতে এ পর্যন্ত ২৩-২৪ জন পোলিং এজেন্টকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন বুলবুল। তবে এসময় সুনির্দিষ্টভাবে তাদের নাম পরিচয় জানতে চাইলে বুলবুল জানাতে ব্যর্থ হন। গোয়েন্দা পুলিশ রাজশাহীর মানুষকে নির্যাতন করছে উল্লেখ করে বুলবুল বলেন, নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। তিনি কাফনের কাপড় মাথায় পড়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন বলেও ঘোষণা দেন। এসময় তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে রোববার নির্বাচন বা বুলবুলের অভিযোগ নিয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কোন কথা বলেননি আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তবে এর আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে হারলেই বলে অস্বচ্ছ হয়েছে। এবারো নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে। অভিযোগ করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভেতরে চরম দ্বন্দ্ব চলছে। এছাড়া অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা আছে। চলমান দ্বন্দ্ব সংঘাত ও গ্রেফতার আতংকের কারণে অনেকেই বুলবুলের এজেন্ট হতে চাচ্ছে না। এবিষয়টিও তারা আমাদের ওপর চাপাতে চাচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ খুব ভালো আছে বলেও শনিবার উল্লেখ করেন খায়রুজ্জামান লিটন। গণসংহতি আন্দোলনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদ (হাতি মার্কা) রোববারর সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আশাবাদী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ মন্দের ভাল আছে। এখনো বড় ধরনের নাশকতা ও সংঘাত সংঘর্ষ হয়নি। রোববার সকাল থেকে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে বেরিয়েছি আর পোলিং এজেন্টদেরকে নিয়ে নির্বাচনী কার্যালয়ে সভা করেছি। জনগণের ভোটাধিকার নিজেদের রক্ষা করার আহবান জানান তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন গ্রুপ) প্রার্থী হাবিবুর রহমান নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো আছে উল্লেখ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট হবে বলে মনে হচ্ছে। ভোট চুরি এখনকার যুগে করা খুব কঠিন। বিশ্বাস করা যায় না। তবে বিভিন্ন প্রার্থী বলছে তেমন কিছু হতে পারে। আমার কাছে এসব কথার তেমন গুরুত্ব নেই। রোববার মোবাইলে কুশল বিনিময় করেছি ভোটার ও স্বজনদের সাথে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা মার্কা) বলেন, ছোটখাট কিছু সমস্যা ছাড়া এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভাল আছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন মডেল হিসেবে তিন সিটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবে বলে আশা করি। তবে আমরা সেনাবাহিনী চেয়েও পাইনি। এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দিন অতিবাহিত করেছি। | 6 |
বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বগুড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ৫ জন করোনায় ও ৮ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজার রহমান তুহিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।ডা. তুহিন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ার ৫৫২টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৯১ জন। একই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১২২ জন। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে জেলায় করোনা শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।ডেপুটি সিভিল সার্জন বলেন, জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৪৫ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৪৪ জন। বাকিরা বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।উল্লেখ্য, সর্বশেষ ৫ জন নিয়ে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৮৪ জনে। মৃতদের মধ্যে শুধু বগুড়ার বাসিন্দা রয়েছেন ৬২২ জন। বাকিরা অন্য জেলার বাসিন্দা। তাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়ে বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তবে এই তালিকায় উপসর্গ নিয়ে মৃতরা নেই। | 6 |
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাকে সমুন্নত রাখতে নৌকাকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট মনোনীত প্রার্থী ড. এ. কে আব্দুল মোমেনের নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন মুহিত।আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। এদেশে যতসব ভালো অর্জন সবই আওয়ামী লীগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সবসময়ই জনকল্যাণে নিবেদিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন। তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বিগত ১০ বছরে সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে -যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। দেশের চলমান উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে ভোট প্রদানের জন্য সকলের কাজে আবেদন জানান অর্থমন্ত্রী। | 9 |
বাংলাদেশ চীনের 'ঋণের ফাঁদে' পড়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন মঙ্গলবার আবারো বলেছেন, অর্থনীতিবিদদের যারা এ ধরনের কথা বলছেন তারা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে চান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাপান থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে, তবে চীনের ঋণ নিয়ে তাদের একমাত্র মাথাব্যথা, কিন্তু জাপানের কথা কেউ বলে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'ঋণ নেয়ার সময় আমরা খুব সতর্ক থাকি। ঋণের ফাঁদে পড়ার কোনো সুযোগ নেই।' পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি দিক সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেন এবং কোনোভাবেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, আমরা জানি না, তবে মাঝে মাঝে আমরা আপনাদের কাছ থেকে শুনি, আপনারা লিখেন যে বাংলাদেশ নাকি চীনের ঋণের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। পড়ে দেখি যে আপনারা সম্পূর্ণ অলীক কথা লিখেন।' চীনের ঋণ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের নেতিবাচক মন্তব্যের কথা বলতে গিয়ে মোমেন বলেন, তারা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে চায়।' বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত বিদেশী ঋণ খুব ভালোভাবে পরিচালনা করছে তবে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে মানুষের মধ্যে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবকাঠামোর প্রয়োজনের মধ্যে চীন 'আকর্ষণীয় ও সাশ্রয়ী মূল্যের' প্রস্তাবের সঙ্গে 'অর্থের ঝুড়ি' নিয়ে এগিয়ে এসেছে। সূত্র : ইউএনবি | 0 |
পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে নারী শিক্ষকদের জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করে জারি করা নোটিশটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।আজ সোমবার সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গোমেজ স্বাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।নোটিশে অধ্যক্ষ বলেন, 'সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের টিচার্স নোটিশ বোর্ডে হিজাব পরিধান বিষয়ে প্রকাশিত একটি নোটিশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে আমি কাউকে কোনোভাবেই মনঃকষ্ট দিতে চাইনি। কোনো ব্যক্তি যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং নোটিশটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।'এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গোমেজ স্বাক্ষরিত নোটিশে নারী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হিজাব না পরতে নির্দেশ দেওয়া হয়।নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ জানায়।এর আগে এই নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গোমেজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমরা হিজাব না পরতে শিক্ষিকাদের জোর করিনি। স্কুলে সব ধর্ম-বর্ণের সবাই পড়াশোনা করে। আমরা চাই আমাদের স্কুলটি অসাম্প্রদায়িক হোক। যাতে ছোট শিশুদের মাঝে প্রশ্ন না জাগে, তাই আমরা নোটিশটি দিয়েছি।' | 6 |
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ক্রমেই স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। এটা গোটা জাতির জন্যই গর্বের বিষয়। বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক পাঁচটি জাতীয় প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় এ কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিহাসের সব জল্লাদকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি এমন এক অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছিলেন যা ইতিহাসে নজিরবিহীন। ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও তারা কোনো ধরনের ছাড় দেয়নি। ওষুধ ও টিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়নি। টিকা কেনার জন্য অর্থ লেনদেনেও মারাত্মক সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। যদিও আমেরিকা নিজেও করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এরপরও তারা পরিস্থিতি উপলব্ধি করে এই পথ থেকে সরেনি। রুহানি আরও জানান, আমেরিকা এখন নিজেই তাদের ভুল নীতির কথা স্বীকার করছে। তারাই বলছে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি ব্যর্থ হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
যুক্তরাজ্যে দৈনিক করোনা শনাক্তে আবার রেকর্ড হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি হিসাবে দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান এসব তথ্য জানায়। করোনার অতি সংক্রামক ধরন অমিক্রনের কারণে গত ডিসেম্বরের শুরুর দিক থেকে যুক্তরাজ্যে নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। শুরুর দিকে লন্ডন ও অন্য শহুরে এলাকায় সংক্রমণ শনাক্ত হলেও দ্রুত তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। গত শীতে করোনার আলফা ধরনের কারণে যুক্তরাজ্যে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা চূড়ায় উঠেছিল। সেই সংখ্যার তুলনায় এখন দেশটিতে তিন গুণ মানুষ করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন। গতকাল প্রকাশিত সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত সাত দিনে যুক্তরাজ্যে ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এই সংখ্যা ৫১ শতাংশ বেশি। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারিভাবে যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি হবে। কারণ, বড়দিন ও খ্রিষ্টীয় নববর্ষকে কেন্দ্র করে সব জায়গার তথ্য পুরোপুরি সংগ্রহ করা যায়নি। তা ছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তিদের অনেকে পরীক্ষা করাননি। গতকাল সরকারিভাবে যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চার দিনের ও ওয়েলসের দুই দিনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইংল্যান্ডেই ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭২৫ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪১। গতকালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে এখন ১৫ হাজার ৪৪ জন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৫৪৬ জন। একই সময়ে স্কটল্যান্ডের হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৯৯ থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৪৭ হয়েছে। তবে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের করোনার তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।অমিক্রনের সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় এখন দৈনিক ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কম। টিকা নেওয়া কিংবা পূর্ববর্তী সংক্রমণের কারণে করোনার বিরুদ্ধে অনেক মানুষের প্রতিরোধক্ষমতা অর্জিত হওয়ায় দৈনিক হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা কম বলে মনে করা হচ্ছে। গণটিকা কর্মসূচির আগে গত শীতে যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোয় দৈনিক সাড়ে চার হাজারের বেশি করোনা রোগী ভর্তি হতে দেখা গেছে। | 3 |
ভারতের কেরালা রাজ্যের মন্দিরে অনুমোদনহীন আতশবাজি বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ।
রোববারের ওই ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত ও আরও কয়েকশ' জন আহত হন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দশ থেকে পনেরো হাজার মানুষ কেরালার কোল্লাম শহরের ওই মন্দিরে আতসবাজির প্রদর্শনী দেখতে হাজির হয়েছিলেন। সে সময় বাজির মজুতে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়াতেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে মন্দিরকে আতসবাজির অনুমোদন না দওয়া হলেও মানুষের চাপের কারণে প্রদর্শনীটি শুরু হয়েছিল।
বিস্ফোরণের পর ছড়িয়ে পড়া আগুনের শিখায় বহু মানুষ প্রাণ হারান, প্রাণ বাঁচানোর জন্য মানুষের ধাক্কাধাক্কি আর হুড়োহুড়িতেও হতাহত হন অনেকে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভেঙে পড়ে মন্দির চত্বরের একটি দোতলা ভবন, যেটির চারদিকে মানুষ ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মন্দিরের দুটো গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে পাল্লা দিয়ে প্রতি বছরই আতসবাজির উৎসব করলেও এবার জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। কিন্তু আতসবাজি তার অনেক আগে থেকেই জড়ো করা শুরু হয়ে গিয়েছিল, ফলে শেষ পর্যন্ত তা আর বন্ধ করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী ওমেন চান্ডি এই অগ্নিকান্ডের বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইতিমধ্যেই।
| 3 |
প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি। প্রায় প্রতিদিন মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হচ্ছে দেশটিতে। রোববার ইতালিতে করোনায় মারা গেছে ৬৫১ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ হাজার ৪৭৬ জনে। খবর রয়টার্সের এটাই এখন পর্যন্ত কোনো দেশের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। করোনার উৎসস্থল চীনে ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ৩ হাজার ২৬১ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু দেশটিতে। করোনায় তৃতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৫৬ জন মানুষ মারা গেছে স্পেনে। চতুর্থ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৮৫ জন মারা গেছে ইরানে। চীনের পর করোনা ব্যাপকহারে আঘাত হানে ইতালিতে। শনিবার দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক একদিনে মারা যান ৭৯৩ জন। রোববার একদিনে মৃতের সংখ্যা কমে ৬৫১ জনে। আজ আশার খবর দেশটিতে একদিনে মৃতের সংখ্যা কমার পাশাপাশি নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও কমেছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে রোববার পর্যন্ত সারা বিশ্বে মোট আক্রান্ত তিন লাখ ৩৭ হাজার ৮৮১ জন এবং মৃতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৪৪ জন। | 3 |
শেরপুরের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ এডভোকেট ফাতেমাতুজহুরা শ্যামলী ১৫ হাজার রোজাদারের মাঝে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। রমজানের প্রথম দিন থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে অসহায় দরিদ্র, কর্মহীন রোজাদারদের মাঝে ইফতার বিতরণ করে আসছেন। নিজে রান্না করে ইফতারের পুর্বেই পিকআপ ভ্যানে করে প্রতিদিন রোজাদারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অসহায় পরিরারের হাতে ইফতার তুলে দিচ্ছেন। প্রতিদিন ৫শ জনের মাঝে ৩০ দিনে ১৫ হাজার পরিবারের মাঝে ইফতার বিতরণ করবেন তিনি। শ্যামলীর এ ব্যাতিক্রমি উদ্যোগটি এলাকায় ব্যাপক আলড়ন সৃষ্ঠি হয়েছে। এছাড়া করোনা পরিস্হিতির শুরু থেকেই সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে খাদ্য সামগ্রী চাল, ডাল, আলুসহ সচেতনতা সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। | 6 |
দায়িত্ব ছিল এটিএমে টাকা রাখা। তাঁরা রাখতেনও। কিন্তু এ কাজে আশ্রয় নিতেন ভিন্ন কৌশল। ফলে কোনো গ্রাহক বুথ থেকে টাকা তুলতে গেলে পড়তেন বিপত্তিতে। টাকা বের না হয়ে জমা হতো এটিএমের পার্সবিনে। পরে সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে করা হতো আত্মসাৎ। আজ রোববার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব। এটিএমের অর্থ আত্মসাতে জড়িত সন্দেহে আগের দিন শনিবার রাজধানীর মিরপুর, হাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবদুর রহমান, তারেক আজিজ, তাহমিদ উদ্দিন পাঠান, রবিউল হাসান, হাবিবুর রহমান, কামরুল হাসান, সুজন মিয়া ও আবদুল কাদের। র্যাব বলছে, তাঁরা সবাই গার্ডা শিল্ড নামের একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মী। প্রতিষ্ঠানটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা রাখা ও তদারকির কাজে নিযুক্ত ছিল।সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, বিভিন্ন সময় ব্যাংকের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রাহকেরা টাকা পাচ্ছেন না। তবে ব্যাংকিং চ্যানেল বলছে, টাকা চলে গেছে। এই গরমিলের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছিল। এ নিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়েই ধরা পড়ে জালিয়াতির বিষয়টি। জালিয়াত চক্রের প্রধান গ্রেপ্তার আবদুর রহমান। চক্রের আরও ১২ জন পলাতক।চক্রটি গত ছয় মাসে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ২৩১টি এটিএম বুথ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অর্থ লেনদেনে গরমিল পাওয়ার কারণে এক বছর আগে জি-ফোর নামে একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ব্যাংকটি। পরে গার্ডা শিল্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পরও জালিয়াতি বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে খন্দকার আল মঈন বলেন, ব্যাংকটি চুক্তি বাতিল করলেও আগের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরই নিয়োগ দেয় নতুন প্রতিষ্ঠান। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দুই থেকে তিন বছর আগে একসঙ্গে চাকরি করার সুবাদে পরিচিত হন। সমমনাদের নিয়ে আবদুর রহমান একটি চক্র গড়ে তোলেন। সাবেক এক সহকর্মীর কাছ থেকে বিষয়টি রপ্ত করেন তিনি। এ ঘটনায় গত রাতে কাফরুল থানায় গার্ডা শিল্ড একটি মামলা করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। | 6 |
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫৪ মিনিট। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার সামনে পুলিশের একটি গাড়ি অপেক্ষা করছে ৪ আসামিকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিছুক্ষণ পর থানা থেকে ৪ আসামিকে নিয়ে আসা হয় গাড়ির সামনে। গাড়িতে উঠানোর আগেই তাদের শরীরে, হাতে-পায়ে স্প্রে করা হয় জীবানুনাশক। প্রত্যেক আসামির শরীরে ভালভাবে স্প্রে করার পরই তাদের ওঠানো হয় ওই গাড়িতে। আদালতে নিয়ে যাওয়া ওই ৪ জনই মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। গ্রেপ্তারের পর বেশ কয়েকবার তাদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবারই প্রথম তাদের 'জীবানুমুক্ত' করতে এমন খাতির পুলিশের। স্প্রে করার দায়িত্বে থাকা একজন কনস্টেবল বলেন, বোতলের মধ্যে স্যাভলন বা ডেটল ও পানি ছাড়াও অন্যান্য জীবানুনাশক রয়েছে। এসব স্প্রে করা হচ্ছে যাতে করে আসামিরাও করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকে। তাছাড়া আসামিদের আদালতে নিতে যে গাড়িটি ব্যবহৃত হয়েছে সেটিও যাতে জীবানুমুক্ত থাকে। কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ বলেন, আসামিকে সুরক্ষা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। এখন করোনা নিয়ে সবাই সচেতন। এই আসামিদেরকে রাতে আটক করা হয়েছে, কাদের সঙ্গে মিশেছে সেটা বলা অসম্ভব। আবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে, সেখানেও অনেকের সঙ্গে মিশবে। যাতে করে তাদের শরীরে কোন ধরনের ভাইরাস উপস্থিত না থাকতে পারে সেজন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আসামির ক্ষেত্রেই এটি করা হচ্ছে। | 6 |
দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার ও মালয়েশিয়ার ফায়ারফ্লাইয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার নভোএয়ারের প্রধান কার্যালয়ে এই সমঝোতা চুক্তি সই অনুষ্ঠিত হয়। নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান ও ফায়ারফ্লাইয়ের সিইও ফিলিপ সি ইউ জিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এর আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ, প্রকৌশল, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বিনিময় করবে। মফিজুর রহমান বলেন, 'যাত্রীদের উন্নত সেবা প্রদান ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তাই সেবার মান আরও উন্নত করতে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবলসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্যই আমরা স্বনামধন্য ফায়ারফ্লাইয়ের সঙ্গে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি।' ফিলিপ সি ইউ জিন বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম ও অগ্রগামী বেসরকারি এয়ারলাইন নভোএয়ারের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে এবং সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে যাত্রীদের সেবা আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই এই দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে বলে তাঁর অভিমত। এ অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ফায়ারফ্লাই মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ২০০৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও উড়োজাহাজের কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। নভোএয়ার ছয়টি এটিআর ৭২-৫০০ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রামে পাঁচটি, কক্সবাজারে পাঁচটি, সৈয়দপুরে পাঁচটি, যশোরে পাঁচটি, সিলেটে দুটি, বরিশাল, রাজশাহী ও কলকাতায় একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিজ্ঞপ্তি | 0 |
নওগাঁ: নওগাঁর আত্রাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে জাহিদা বেওয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে তাঁর ছেলে ও তার স্ত্রী মিলে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃদ্ধার ছেলে জাহিদ হোসেন (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী রহিমা খাতুনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের দীঘাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, আজ বেলা ২টার সময় দাফনের আগে মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় স্থানীয়রা। সন্দেহ হওয়ায় থানায় খবর দেন তারা। বেলা ৩টার দিকে আত্রাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দিঘা পূর্বপাড়া গ্রামের জাহিদা বেওয়ার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ছেলের সাথে থাকেতন। কিন্তু ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। আজও সেহরির সময় তাঁদের ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ছেলে ও তার স্ত্রী মিলে শিল-পাটা দিয়ে জাহিদার মাথায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। সকালে জাহিদ ও তাঁর স্ত্রী প্রতিবেশী এবং স্বজনদের খবর দিয়ে বলেন, জাহিদা অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন। বেলা ২টার দিকে লাশ দাফনের জন্য গোসল করার সময় মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে উপস্থিত গ্রামের লোকজন ও স্বজনদের সন্দেহ হয়। তখন তাঁরা জাহিদ ও তাঁর স্ত্রীকে নানা প্রশ্ন করতে থাকলে এক পর্যায়ে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।আত্রাই থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। আটক জাহিদ ও তাঁর স্ত্রী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বৃদ্ধা মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। থানায় রেখে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জাহিদ ও তাঁর স্ত্রীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। | 6 |
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) একাংশের সদস্যরা। গতকাল রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বায়রা সদস্যবৃন্দের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সাবেক সভাপতি নূর আলী বলেন, গত ডিসেম্বরে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারও জনশক্তি রপ্তানির সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদের দিকনির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও একটি সিন্ডিকেট আগের মতোই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ থেকে দুটি চক্র ২৫ সদস্যের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে সরকার অনুমোদিত ২৫০টি বৈধ এজেন্সিকে সাব-এজেন্ট বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হলে বিদেশগামী কর্মী ও এজেন্সির মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যে প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ করা হয়; সেই একই নিয়মে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের দাবি জানান নূর আলী।কর্মীরা যাতে স্বল্প খরচে স্বচ্ছতার সঙ্গে মালয়েশিয়া যেতে পারেন, সে জন্য সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী।বায়রার আরেক সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, অপপ্রচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা অন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির এজেন্সি হিসেবে তুলে ধরে নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চাইছে। কিন্তু আসল ঘটনা হচ্ছে সরকার যেসব রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দিয়েছে, তাদের সবারই সমান মর্যাদা। | 6 |
মেঘলা আবহাওয়ায় টস জিতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান অধিনায়ক আসগর স্তানিকজাই। আফগানদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে শুরুতে সতর্ক ব্যাটিং করেন বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। প্রথম ১০ ওভার নিরাপদেই কাটিয়ে দেয় বাংলাদেশের দুই ওপেনার। এরপর বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় তামিম ইকবালের। তামিম আউট হবার কিছুক্ষনের ভেতরেই সাজঘরে ফেরেন আরে ওপেনার সৌম্য সরকার। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদশের স্কোর ১৬ওভারে ৭২রান। ক্রিজে আছেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ এবন মুশফিকুর রহিম। দেশের মাটিতে টানা ষষ্ঠ সিরিজ এবং ওয়ানডেতে নিজেদের শততম জয়ের লক্ষ্যে খেলছে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার যখন টস হয় তখন আকাশ পুরোপুরি মেঘে ঢাকা ছিল। আবহাওয়া পূর্বাভাসেও আছে বৃষ্টির সম্ভাবনা। তবে সিরিজে প্রতিটি ম্যাচের জন্য আছে রিজার্ভ ডে। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডের বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ।
বিডি-প্রতিদিন/২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/তাফসীর | 12 |
এবারের শারদীয় উৎসবে ছন্দপতন ঘটেছে বিস্ময়কর রকমের। প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় এ উৎসবে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এ বছর ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। এরপরও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ক্ষতির চরিত্রটি বহুমাত্রিক। প্রশ্ন হলো, ক্ষতি কি শুধু হিন্দু সম্প্রদায়েরই হয়েছে? বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ক্ষতির মুখে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরাও আছে। তাদের ক্ষতির ধরন যদিও আলাদা।হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়েছে। গবাদিপশু খোয়া গেছে। স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। লুট হয়েছে মন্দিরের দানবাক্স ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে থাকা নগদ অর্থ। এ ক্ষতি তাৎক্ষণিক। এটা একটা দিক। দীর্ঘ মেয়াদে পুরো ঘটনার অভিঘাতে হিন্দুদের যে মানসিক ক্ষতি হয়েছে, সেটা আরেকটা দিক। যদিও সে কথা আড়ালে রয়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুতই হয়তো ঠিক হয়ে যাবে বিভিন্ন মহলের আন্তরিক সহযোগিতায়; কিন্তু মানসিকভাবে পুরো সম্প্রদায় কি দ্রুত আগের জায়গায় ফিরতে পারবে? পারস্পরিক নির্ভরতা, বিশ্বাস আর নিরাপত্তার ভাবনা কি আগের মতোই থাকবে?এই সাধারণ প্রশ্নগুলো তোলার কারণ আছে। বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর জেলা সাম্প্রদায়িক সহিষ্ণুতার দিক থেকে এগিয়ে থেকেছে সব সময়। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের বিখ্যাত বাবরি মসজিদের ঘটনাও ওই এলাকায় খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সেখানে ঘটেনি। এর কারণ হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মানুষের সহিষ্ণুতা ও প্রতিবেশীসুলভ আচরণ। প্রতিবছর শারদীয় উৎসবে পুরো রংপুর-দিনাজপুর জেলায় অনুল্লেখযোগ্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে একই কারণে।কিন্তু গত দশ বছরে দৃশ্যটা ধীরে ধীরে বদলে গেছে। ২০১৩-১৪ সালের আগুন-সন্ত্রাস রংপুরসহ পুরো উত্তরবঙ্গকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেবারও হামলা হয়েছিল রংপুর-দিনাজপুরের বেশ কিছু মন্দিরে এবং মন্দিরের একজন সেবায়েতও খুন হয়েছিলেন। নীলফামারীর জলঢাকা ও দিনাজপুরের রানিরবন্দরে, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুরের দুর্গম এলাকাগুলোয় বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হিন্দুরা। বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুরের গত এক দশকের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, রাজনৈতিক কারণে সাম্প্রদায়িক সহিষ্ণুতার জায়গাটি ধীরে ধীরে মলিন হয়ে গেছে। কোনো ঘটনা এক দিনে ঘটে না। তার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষেত্র প্রস্তুত হতে হয়। উত্তরবঙ্গে এ ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। ফলে এবার পীরগঞ্জের ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনা জানান দিয়েছে সতর্কতার।এবার ফেরা যাক অন্যদিকে। বলেছিলাম, সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ক্ষতির চিত্র বহুমাত্রিক এবং এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুসলমানরাও। হামলার পর যে মামলা হবে, পুলিশ আসবে, দৌড়ের ওপরে থাকতে হবে, মামলাবাজ বাঙালি সে বিষয়টা বেমালুম ভুলে যায়। আইনি প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য পুলিশ বিপুলসংখ্যক জনগণের মাধ্যমে সংঘটিত হওয়া কোনো ঘটনার পর অনেক মানুষকে আসামি করে। বেশ কিছু ন্যক্কারজনক ঘটনা শুরু হয় সেই মামলার পর।এবারের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর মামলা ও তাতে আসামি হওয়া মানুষের সংখ্যাও খুব কম নয়। রংপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ সহিংসতাসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় মামলা হয়েছে মোট ১১৬টি। সেসব মামলায় আসামি ২২ হাজার ২২০ জন। তাদের মধ্যে এজাহারে নাম দিয়ে আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৫৫১ জনকে। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ৭০৯ জনকে (আজকের পত্রিকা, ২৬ অক্টোবর)। আরও যে কয়েক শ মানুষ গ্রেপ্তার হবে, সেটা বোঝা যাচ্ছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, এই সব মামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ আসামি। আইনি প্রক্রিয়ায় কী ঘটবে, সেটা পরের বিষয়। এখন যা ঘটছে, সেটা কম কিছু নয়। ইতিমধ্যে 'পুরুষশূন্য পীরগঞ্জের রামনাথপুর, চারদিকে ভয়ের আবহ।' (আজকের পত্রিকা অনলাইন, ২৫ অক্টোবর) পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের হঠাৎ উপস্থিতি আতঙ্কিত করে তুলছে পীরগঞ্জের সাধারণ মুসলমানদের। কুমিল্লা, নোয়াখালী বা সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোয়ও একই ঘটনা যে ঘটছে না, তা নয়। এই যে শত শত মানুষ আসামি, তারা সবাই ভাঙচুর, লুটপাট বা হামলার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও মামলার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তাদের অনেকের সঙ্গেই প্রকৃত ঘটনার হয়তো দূরবর্তী সম্পর্কও নেই। কিন্তু একটা প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে তারা আসামি হয়েছে।সংশ্লিষ্ট প্রতিটি এলাকায় মুসলমানরা এই মামলার চিপায় আছে। এর ফলে কয়েক ধরনের ক্ষতির শিকার তারা। আর্থিক ক্ষতি এ ক্ষেত্রে প্রধান। পুলিশ যখন গণমামলা দেয়, তখন নীরবে একধরনের গ্রেপ্তার-বাণিজ্য চলতে থাকে। সেটাকে অস্বীকার করা যায় না। আর্থিক বিষয়টির বড় অংশ বরাদ্দ রাখতে হয় গণমামলা থেকে নিজেদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য। তার পরিমাণ কী, সেটা নির্ধারিত নয়। গণমামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য যে অর্থের লেনদেন হয়, তার ভাগের জন্য স্থানীয় ক্ষমতাবলয়ের অনেকেই ওত পেতে থাকে। ফলে সে অনির্ধারিত অর্থের পরিমাণ হাজার ছাড়িয়ে লাখে পৌঁছায়। আর যদি সত্যিই ঘটনার সঙ্গে ব্যক্তিটির সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। গণমামলা থেকে বাঁচতে জমিজিরেত বিক্রির ঘটনাও আমাদের জানা। কারণ, গ্রামের মানুষের কাছে শহরের মানুষের মতো নগদ অর্থ থাকে না। নগদ অর্থের জন্য তাদের ধান-চাল বিক্রি বা জমি বন্ধক রাখতে অথবা বিক্রি করতে হয়, যখন অর্থের পরিমাণ হাজার ছাড়িয়ে লাখে পৌঁছায়। অর্থনৈতিক এ ক্ষতির যে দুর্বিষহ অভিঘাত, সেটা সাধারণ মানুষকে টেনে যেতে হয় দীর্ঘদিন।এরপর থাকে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা না পড়ার জন্য আত্মগোপনে থাকার বিড়ম্বনা। সে জন্যও বিরাট অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি যে হয়, তা বলাই বাহুল্য। এ ছাড়া থাকে অনির্দিষ্ট দিন পরিবার-পরিজন ছেড়ে এক উদ্বিগ্ন সময় কাটানোর মাসিক চাপ। পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উভয় পক্ষকেই এ চাপ সামলাতে হয়।সহিংসতার মতো কোনো ঘটনার গণমামলায় যখন কারও নাম আসে, তাদের অনেককেই সামাজিকভাবে হেয় হতে হয়। যারা নির্দোষ কিন্তু মামলায় নাম আছে, তাদের পক্ষে এ বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেওয়া সম্ভব হয় না। ধর্মীয়ভাবে সংখ্যাগুরু মুসলমানদেরও চলতে হয় সামাজিকতার মধ্য দিয়েই। বেশির ভাগ মানুষ ঘটে চলা নেতিবাচক বিষয়গুলোকে সহজভাবে নেয় না। ফলে যারা মামলায় পড়ে বা ঘটনা সংশ্লিষ্টতায় যাদের নাম আসে, তারা সামাজিকভাবে খুব যে ভালো থাকে, তা নয়। মুখের ওপর কেউ কিছু বলে না হয়তো। কিন্তু ভেতরে-ভেতরে নির্দিষ্ট মানুষটিকে নিয়ে চর্চা চলতে থাকে। তার পরিবারের মানুষেরাও রেহাই পায় না সেই চর্চার হাত থেকে। সামাজিকভাবে বয়কটের ভয় হয়তো থাকে না, তবে আত্মসম্মান নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহসও খুব একটা থাকে না তাদের। ব্যক্তিগতভাবে আমি এমন কিছু মানুষকে চিনি, যাঁরা ২০১৩-১৪ সালের আগুন-সন্ত্রাসের ঘটনায় এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পরে শহরে চলে গেছেন 'লজ্জা' থেকে বাঁচতে। সেই ঘটনাগুলো ঘটেছিল মূলত গণমামলায় নাম আসার কারণে। স্থানীয় ক্ষমতাবলয়ের অর্থনৈতিক লোভে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে নিরীহ মানুষদের গণমামলায় নাম আসার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়গুলো 'ওপেন সিক্রেট'। সবাই জানে, বোঝে কিন্তু কিছু বলে না।না হয় বোঝা গেল, টাকাপয়সা খরচ করে মামলা থেকে উদ্ধার পেল অনেকেই। কিন্তু প্রতিবেশীদের যে আস্থা তারা হারাল, তাদের ওপরে থাকা যে বিশ্বাসটা চলে গেল, সেটা ফেরত পাবে কীভাবে? রামনাথপুর কৃষক লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. আনোয়ারুল মণ্ডল। আজকের পত্রিকার সংবাদদাতার কাছে তিনি বলেছেন, 'বছরের পর বছর হিন্দু-মুসলিম একত্রে বসবাস করে আসছি। তারা মাছ ধরে, মাছ ব্যবসা করে। আর সেই মাছ আমরাই কিনে থাকি। ফলে একজন আরেকজনের ওপর নির্ভরশীল।' এ নির্ভরতা কি ফিরবে শিগগিরই?আমরা জানি, নির্ভরতার আশ্বাস যদি না থাকে, সৌহার্দ্যের সম্ভাবনা যদি না থাকে, হামলা হবে। হামলা হলে মামলাও হবে। সাধারণ মানুষ দৌড়ের ওপরে থাকবে। আর আমরা লিখেই যাব, হামলার পরে মামলা: ক্ষতির চরিত্র বহুমাত্রিক। | 8 |
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অস্ত্র মামলায় তিন জেএমবি সদস্যকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আজ বুধবার (০৩ জুলাই) দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. শওকত আলী। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরমোহনপুর এলাকার দুরুল হুদার ছেলে সেলিম ওরফে হারুন মিস্ত্রি, গোমস্তাপুর উপজেলার নিমতলা কাঁঠাল গ্রামের আব্দুল মাবুদের ছেলে শাহাদাৎ ওরফে নয়ন এবং একই উপজেলার কয়সার দিয়াড় মহল্লার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে আব্দুল মুমিন। মামলার বিবরণে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০০৯ সালের ৮ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরমোহনপুর এলাকায় সেলিম ওরফে দুরুল হুদার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তুল, নয় রাউন্ড গুলি ও দুইটি ম্যাগাজিনসহ তাকে আটক করে র্যাব-৫। এরপর সেলিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহাদাৎ ও মুমিনকে আটক করে ওইদিনই সদর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে র্যাব। মামলার তদন্ত শেষে তাদের অভিযুক্ত করে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) কামরুল ইসলাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা জানান, আদালতে সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান ও যুক্ততর্ক শেষে বিজ্ঞ বিচারক এ রায় দেন। | 6 |
নানা আয়োজনে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস পালিত হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সব কর্মসূচিই আয়োজিত হয় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সীমিত পরিসরে। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং করোনাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এ সময় তারা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতানির্ভর দল নয়, কর্মীনির্ভর দল। তৃণমূলের কর্মীরাই এই দলের মূল চালিকাশক্তি। নেতারা বিভ্রান্ত হলেও কর্মীরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। আওয়ামী লীগ কর্মীনির্ভর দল বলেই ওয়ান ইলেভেনের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সেদিন দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে পারেনি। ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন মসজিদে এ দিন বাদ জুমা বিভিন্ন দল ও সংগঠনের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও তবারক বিতরণ করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আলোচনা সভা করেছে। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট করেছে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা। জোটের কার্যকরী সভাপতি রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন হালদারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ, অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিন জাহান, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রনি প্রমুখ। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে করোনাদুর্গত পাঁচ শতাধিক পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে মৎস্যজীবী লীগ। সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর নস্করের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল বাসার, গফুর চোকদার, গিয়াস খান, মুহাম্মদ আলম, মমতাজ খানম, সাজ্জাদ আলম লিকু সিকদার, আবদুল আলিম, শাহজাহান হাওলাদার, কাজী মহিদুল ইসলাম মহিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বাদ আসর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করেছে যুবলীগ। উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, ডা. খালেদ শওকত আলী, রফিকুল ইসলাম, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মৃনাল কান্তি জোদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, কাজী মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, সাইফুর রহমান সোহাগ, জহির উদ্দিন খসরু, জয়দেব নন্দী, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, জাকির হোসেন বাবুল, মাইন উদ্দিন রানা প্রমুখ। এছাড়া রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মাতুয়াইলসহ বিভিন্নস্থানে বিশেষ দোয়া, মিলাদ মাহফিল এবং এতিম-অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। | 9 |
চীনের তৈরি টিকার যৌথ উৎপাদনে গেলে উভয় পক্ষই লাভাবান হবে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, 'চীন আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং তার কাছ থেকে আমরা সবসময় সহায়তা পেয়ে এসেছি। চীনা টিকার যৌথ উৎপাদন হতে পারে। আর তা হলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে'। বুধবার (১২ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চীনের উপহার দেওয়া ৫ লাখ টিকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। চীনা টিকা হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক, ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। চীনা টিকা পেতে দেরি হওয়ায় কাউকে দোষারোপ করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'চীনা টিকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন না দেওয়ায় আমরা আনতে খুব একটা আগ্রহী ছিলাম না। আমাদের বিশেষজ্ঞরাও এবিষয়ে এমনই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে এখন অনুমোদন দেওয়ায় আমরা এ টিকা আনতে চাই। তবে, টিকা আনতে দেরি হওয়ায় কাউকেই দোষারোপ করার সুযোগ নেই'। করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ৫ লাখ টিকা উপহার দেওয়ায় চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চীনের পাঁচ লাখ উপহারের টিকার চালান বুধবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছায়। ভোর সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইট টিকা নিয়ে বেইজিং থেকে ঢাকায় আসে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চীনের পক্ষ থেকে এ করোনার টিকা বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। | 6 |
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে এ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের আজ দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেটে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ইটপাটকেলে ১০ পুলিশ সদস্য আহতের দাবি করেছেন এসএমপির উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছুড়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উপাচার্যকে মুক্ত করে বাসায় পৌঁছে দেয়। জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা হয়। শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেন। এ নিয়ে শনিবারও আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। ওইদিন শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ ওঠে। হল প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিসহ তিন দফা দাবি এবং ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রবিবার ফের উত্তাল হয়ে ওঠে শাবি ক্যাম্পাস। বেলা আড়াইটার দিকে শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নিজের কার্যালয় থেকে বাসভবনে যাওয়ার পথে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যকে ঘিরে ধরে। পরে উপাচার্য এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে তালা লাগিয়ে দেন। বিকাল ৪টার দিকে শতাধিক পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা 'ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন, প্রশাসন জবাব চাই' 'পুলিশ তুমি বাসায় যাও, আমার ক্যাম্পাস ছেড়ে দাও' স্লোগান দিতে থাকেন। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধার করতে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে উপাচার্যকে মুক্ত করে তার বাসভবনে পৌঁছে দেয়। পুলিশি হামলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক আহত হন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে শাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষার্থী তানহা তাহসীন, মিত্রা সংঘ, মেহজাবিন পর্ণা, সাজেদুল ইসলাম সিজন, তাকিয়া ইসলাম, জুনায়েদ ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, মশিউর রহমান, ইরফান, রায়হান আহমেদ, মুনির হোসেন তালুকদার, সেলিম, তমাল, সিফাত আকাশ, জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব, হুমায়ূন কবির অপূর্ব প্রমুখ রয়েছেন। মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, 'ভিসি অবরুদ্ধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন আন্দোলনকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বাধ্য হয়ে আমরা প্রেসার ক্রিয়েট করি।' এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এদিকে, অবরুদ্ধ পরিস্থিতি মুক্ত হয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। সভা শেষে উপাচার্য সাংবাদিকদের জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাবি বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন। এ পদে অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 1 |
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা সই হয়েছে। প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর এ সমঝোতার মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের জন্য বিশাল এই শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত হলো।নতুন করা এ সমঝোতাসই অনুসারে শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া প্রান্তের সব খরচ নিয়োগকর্তা বা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বহন করবে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে নতুন একটি সমঝোতা সই হয়েছে। এই সমঝোতায় বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান সই করেন।১৯ ডিসেম্বর রোববার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এ সমঝোতা সই হয়েছে। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল দাতু মুহাম্মদ খাইর আজমান বিন মোহামেদ আনুয়ার, বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম, শ্রম কাউন্সেলর মো. জহিরুল ইসলামসহ উভয় দেশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিয়োগকর্তা নিজ খরচে মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্ট নিযুক্ত করতে পারবেন। মালয়েশিয়ায় আসার পর বাংলাদেশি কর্মীর ইমিগ্রেশন ফি, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইনস্যুরেন্সসংক্রান্ত খরচ, করোনা পরীক্ষার খরচ, কোয়ারেন্টিন-সংক্রান্ত খরচসহ সব ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠান বহন করবে। নিয়োগকর্তা কর্মীর মানসম্মত আবাসন, বিমা, চিকিৎসা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করবে।মালয়েশিয়া সরকার ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে স্থগিতাদেশ আরোপ করে। এরপর পুনরায় কর্মী নিয়োগ শুরু করার লক্ষ্যে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রণালয় সভা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের নিরলস পরিশ্রম ও অবিরাম কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে মালয়েশিয়া সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দেয়। | 6 |
আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন দরকার বলে মত দিয়েছেন কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনা। তিনি শুরুর একাদশে আগুয়েরোকে খেলানোর পক্ষে নয়। আবার মাঝমাঠে আর্জেন্টিনার শক্তি বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন। এছাড়া পাভনকে তার ভালো লেগেছে বলেও জানান বিশ্বকাপ জয়ী এই সাবেক তারকা। ডি মারিয়াকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে অবশ্য কিছু বলেননি তিনি। তবে আজ রাত ১২ টায় নোভগোরদে 'ডি' গ্রুপের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে ডি মারিয়া নাও থাকতে পারেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচ আর্জেন্টিনার জন্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। হারলেই বিদায় সমীকরণটা এমন নয়। তবু্ও আলবেসেলেস্তেদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাবে এই ম্যাচ হারতে। আর নিজেদের এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে পারেন তরুণ তারকা ক্রিস্টিয়ান পাভন। আর প্রথম ম্যাচে নিজেকে ঠিকঠাক মেলে ধরতে না পারা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে থাকতে হতে পারে বেঞ্চে। এছাড়া শুরুর একাদশে প্রথম ম্যাচে দারুণ এক গোল করা আগুয়েরোর থাকা অনেকটা নিশ্চিত। যদিও ম্যারাডোনা মনে করেন আগুয়েরোর বদলে হিগুয়েইনকে বেঁছে নেওয়া উচিত আর্জেন্টিনা কোচ হোর্হে সাম্পাওলির। মিডফিল্ডে বিগলিয়াকে খেলানোর কথা উঠেছিল। তবে তাকে বেঞ্চ গরম করতে হতে পারে এ ম্যাচেও। সালভিও, আকুইনা এবং পেরেজরাই আছেন কোচের শুরুর একাদশের পরিকল্পনায়। আইসল্যান্ড ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা কোচ আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দল ঘোষণা করে দেওয়ার বিলাসিতা দেখিয়েছিল। সেটা ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আগে আর করলেন না চিলির সাবেক এই কোচ। তবে মেসি থাকায় আর্জেন্টিনা কোচ পাওলো দিবালাকে তার সঙ্গে খেলানোর কোন বুদ্ধি খুঁজে পেলেন না। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার সম্ভব্য একাদশ: ক্যাবায়েরো, মারকেদো, ওটামেন্ডি, ত্যাগলিয়াফিকো, মাসচেরানো, পেরেজ/মেজা, আকুইনা, সালভিও, মেসি, পাভন, আগুয়েরো। | 12 |
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক), উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ মোট ১৮৯টি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকালে ভোটারদের সন্তোষজনক উপস্থিতি দেখা যায়। বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হচ্ছে। কুসিকের তৃতীয় এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা হলেন নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি), নিজাম উদ্দিন কায়সার ( ঘোড়া), কামরুল আহসান বাবুল (হরিণ) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম (হাতপাখা)। সাক্কু-রিফাতের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলেই বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন হাজার ৬০৮ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ৭৫টি চেকপোস্ট, ১০৫টি মোবাইল টিম, ১২ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ৩০টি টিম, অর্ধশতাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভোটের মাঠে থাকছেন। কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আশা করছি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কেউ সহিংসতা করলে ছাড় দেয়া হবে না। কুসিক নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থী ছাড়াও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মোট ১০৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি বুথে ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে। এ বছর নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০। | 6 |
রিয়াদ থেকে লেবানিজ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে সৌদি আরব। একইসাথে লেবানন থেকে সকল ধরনের পণ্য আমদানিও বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর সৌদি আরবের সাথে সংহতি প্রকাশ করে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত। দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে শনিবার উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে আরব লীগ। কিভাবে পরিস্থিতি এ পর্যায়ে পৌঁছল? বিরোধের সূচনা হয় এ সপ্তাহের শুরুর দিকে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের পর। ওই সাক্ষাৎকারে লেবাননের তথ্যমন্ত্রী জর্জ কোরদানিকে বলতে শোনা যায়, ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আগ্রাসন চালিয়েছে। সাত বছরের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের সৌদি নেতৃত্বাধীন সুন্নি আরব সামরিক জোট হাউছি শিয়া মুসলমান বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। সৌদি আরব ও হাউছি বিদ্রোহী বাহিনী- উভয় পক্ষই ইয়েমেনে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। তবে মন্ত্রী হওয়ার আগে গত অগাস্ট মাসে ওই সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন কোরদানি। সেখানে ওই যুদ্ধকে তিনি 'নিরর্থক' বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, হাউছি বিদ্রোহীরা 'আত্মরক্ষা'র জন্য যুদ্ধ করছে। লেবাননের সরকার বলেছেন, কোরদানির বক্তব্য তার ব্যক্তিগত, এটি সরকারের অবস্থান নয়। কিন্তু, গত কয়েক বছরে দু'দেশের সম্পর্ক বেশ তিক্ত হয়ে উঠেছে। ইরান সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রভাব লেবাননে বাড়ছে, যারা ইয়েমেনে হাউছি বিদ্রোহীদের সমর্থন করছে। লেবানিজ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সৌদি সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাহরাইন ওই দেশ থেকে রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। এরপর কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একই পদক্ষেপ নেয়। এ তিনটি দেশটি সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে পরিচিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, 'সংহতি' জানাতে তারা লেবানন থেকে তাদের কূটনৈতিকদের প্রত্যাহার করে নিয়ে আসবে। একইসাথে তাদের নাগরিকরা যাতে লেবাননে যেতে না পারে, ওই ব্যবস্থাও নেবে। বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদদাতা টম বেটম্যান বলছেন, সৌদি আরব ও অন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন চলে আসা অসন্তোষের বারুদে অগ্নিসংযোগ করেছে কোরদানির মন্তব্য। ইরান সমর্থক ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হিজবুল্লাহ প্রভাব লেবাননে অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এসব দেশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এ ঘটনা এমন সময়ে ঘটছে, যখন লেবানন চরম অর্থনৈতিক সংকটে হিমশিম খাচ্ছে ও দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। জ্বালানি তেলের অভাবে দেশের অনেক এলাকা অন্ধকার হয়ে থাকছে। মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় অনেকে মৌলিক চাহিদাও পূরণ করতে পারছে না। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সৌদি আরবের সিদ্ধান্তে তিনি হতাশ হয়েছেন। তার আশা, দেশটি তাদের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। শনিবার মন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠক হয়েছে। সেখানে হিজবুল্লাহ'র সাথে যুক্ত একটি রাজনৈতিক ব্লকের সদস্য কোরদানিকে পদত্যাগ করতে বলা হবে কিনা, ওই আলোচনাও হয়েছে। তবে উদ্বেগ রয়েছে যে, তাকে পদত্যাগ করতে বলা হলে তার নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে, যার ফলে দেশটির জোট সরকার হুমকিতে পড়তে পারে। বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদদাতা টম বেটম্যান বলছেন, কোরদানির পদত্যাগ চাওয়া বা রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কারের বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। বৈরুতের বর্তমান সরকার নানা গোষ্ঠী-সম্প্রদায়ের জোট মিলে গঠিত হয়েছে। যদিও সরকার বেশ দুর্বল ও অকার্যকর, কিন্তু দেশটির বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সেখানে কোনো সমস্যার তৈরি হলে তা লেবাননের জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র : বিবিসি | 3 |
'যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকে লাঠি বাজে' বলে বাংলায় একটি প্রবচন আছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার হজ মিশনে বেরিয়ে পড়ার খবর আমাদের সেই প্রবচনটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের বাইরে এমন একটি ব্যবস্থাপনার কাজে তিনি নিজে কীভাবে যুক্ত হলেন? সরকারি হজ্ব মিশনের ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত ১০ সদস্যের একজন তিনি। যারা তাঁকে যুক্ত করল, তারা কী বিবেচনায় এটা মাথায় নিলেন, সেটাও কম বড় প্রশ্ন নয়। কারণ, বছরের পর বছর নানা অদ্ভুত ঘটনা জাতীয় প্রশাসনে ঘটেছে। কিন্তু একজন সাংবিধানিক পদধারী হয়ে নির্বাচনবহির্ভূত বিষয়ে এভাবে যুক্ত হওয়া এর আগে কেউ কল্পনা করতে পেরেছেন, তা ভাবনায় আনতে পারি না। হজব্রত পালন এবং হজের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হওয়া দুটি আলাদা বিষয়। সরকারি খরচে হজব্রত পালন মানেই জনগণের টাকায় হজ করা। শত ভাগ ভোট পড়াকে সিইসি যেমন যথার্থই 'অস্বাভাবিক' বলেছেন। তেমনি সরকারিভাবে তাঁর দ্বারা হজের তত্ত্বাবধান অস্বাভাবিক। নির্বাচন অস্বাভাবিক হলে তা বাতিল করার এখতিয়ার ইসির থাকে। কিন্তু অনেকেই তার কঠিন সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনা নেবেন। কিন্তু হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হওয়া যদি আইন ও রীতিনীতি সমর্থন না করে, তাহলে সিইসি তাঁর সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারেন। এটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তবে এটা জানার কৌতূহল সংবরণ করা কঠিন যে কার মাথা থেকে কীভাবে এমন চিন্তা বেরলো যে, দেশের সিইসিকে হজ ব্যবস্থাপনায় আনা যায়। কেউ ভাবতে পারেন, সিইসি স্বয়ং এ রকম একটি ধারণা অন্যদের মধ্যে না ছড়িয়ে দিলে অন্য কারও পক্ষেই এমন একটি আবিষ্কার করা অসম্ভব। সিইসিকে যুক্ত করা প্রস্তাবিত উচ্চপর্যায়ের হজ মিশন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। সরকারি খরচে হজ পালনকে আমাদের মতো দেশে একটা রক্ষণশীল বিষয় হিসেবে দেখা হয়। আমাদের জিডিপির উন্নতি ঘটেছে বলে সরকারি খরচে অবস্থাপন্নদের হজে পাঠানো অগ্রহণযোগ্য। সিইসির উচিত হবে ব্যক্তিগত খরচে হজ পালন করা। তিনি তা না করলে একটি নীতিমালা তৈরি করে নিতে হবে। কারণ, সিইসি হিসেবে তাঁর হজের খরচ সরকার বহন করলে অন্যান্য কমিশনারের কী হবে! আরও প্রশ্ন আছে। দেশে সাংবিধানিক পদধারীদের মোট সংখ্যা এবং তাঁরা কী নিয়মে, কবে কীভাবে সরকারি হজ মিশনে যাবেন, সেই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক। যদি একজন সাংবিধানিক পদধারী হজ ব্যবস্থাপনায় নিজেকে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে অন্যান্য সাংবিধানিক পদধারীও তা করতে পারেন। এটা শোভন কি না। এটা নৈতিক কি না। একটা হতে পারে বিষয়টি সিইসির ক্ষেত্রে ওয়ান টাইম এক্সসেপশন বা একমাত্রবারের জন্য ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে। অন্যরা কখনো একে নজির হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে সিইসির বিষয়ে আমাদের একটা নিশ্চয়তা পেতে হবে। জনগণকে জানতে হবে যে তিনি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার গ্যারান্টি না দিতে পারলেও হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়মশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার গ্যারান্টি দিচ্ছেন। বিমান ও পাটকলের মতোই একটা লোকাসানি কিংবা মলিন ভাবমূর্তি আমরা যেন কিছুতেই হজ ব্যবস্থাপনা থেকে মুছে ফেলতে পারি না। সরকারি খরচে হজের বিষয়ে একটা সতর্কতা দেখলাম। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রত্যেকে ভ্রমণসঙ্গী হিসেবে স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানসহ সর্বোচ্চ তিনজনকে সঙ্গে নিতে পারবেন। সফরসঙ্গীদের বিমানের টিকিট নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করতে হবে এবং মক্কা ও মদিনার আবাসন, যাতায়াত, মিনা-আরাফাহর তাঁবু ভাড়ার ব্যয় বাবদ জনপ্রতি এক লাখ টাকা যাত্রার আগে পরিশোধ করতে হবে। অনুমান করি, সদস্যদের প্রত্যেকের খরচ তাহলে আমজনতার পকেট থেকে যাবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও দুই সদস্য, ধর্মসচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-৩ ওই প্রতিনিধিদলের সদস্য। কেউ আমাদের বলুক, ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের বিশেষ করে রাজনীতিকেরা নিজেদের খরচেই যাবেন এবং সম্ভবত সেটা তাদের নির্বাচনী ব্যয় এবং সম্পদের বিবরণীর সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হবে না। আরও একটি প্রশ্ন, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে হজের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা হলে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হবে। তাদের সেই উদ্বেগ কোথায়? দলটিতে কি যোগ্যতম লোকের এতটাই আকাল পড়েছে যে হজ ব্যবস্থাপনায় এখন সিইসিকে হায়ার করে আনতে হচ্ছে। কী ঘটছে দলটিতে? তবে আমাদের মূল উদ্বেগ সিইসিকে নিয়েই। তিনি ভুল পরামর্শ পেয়ে থাকতে পারেন। সংবিধান বলেছে, সিইসির নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন তত্ত্বাবধান করবেন। তাহলে এখন তিনি হজ তত্ত্বাবধান করলে তা অসাংবিধানিক হবে। সংবিধান বা রুলস অব বিজনেস সংশোধন ছাড়া সরকারি প্রজ্ঞাপনে তো তাঁকে হজ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়ার কথা কেউ লিখতে পারবেন না। তা আইনগতভাবে সিদ্ধ হবে না। ভোট তত্ত্বাবধায়ক থেকে 'হজ তত্ত্বাবধায়ক' বনে যাওয়ায় রুলস অব বিজনেস লঙ্ঘিত হবে। তাঁর সফরের খরচের টাকা মহাহিসাব নিরীক্ষক হয়তো আটকে দিতে পারেন। দেবেন কি না, সেটাই প্রশ্ন। একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, রুলস অব বিজনেস, আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাত, নৈতিকতা এবং সর্বোপরি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক রীতিনীতি বলে কিছু বিষয় রয়েছে। এটা থাকতেই হবে এবং তা মেনে চলতে হবে। অন্যথায় জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে কিংবা তেমনটা দেখা দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হবে। সিইসি একজন দক্ষ আমলা হিসেবেই সিভিল সার্ভিসে সদর্পে বিচরণ করেছেন। সুতরাং রাষ্ট্রীয় আচারের দিকটি সাংবিধানিক পদধারী অন্য অনেকের চেয়ে তাঁর ভালো জানার কথা। এই লেখাটি শেষ করার পরেও মনে হয়েছে, খবরটি কি ঠিক? সত্যিই তিনি হজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন? স্বতঃপ্রণোদিতভাবে নাকি কেউ চাপিয়ে দিয়েছে? প্রতিমন্ত্রী হজবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের হজ মিশনের নেতৃত্ব দেবেন, সেটা প্রকারন্তরে আরেকটি পরিহাস। কারণ, সাংবিধানিক পদধারীদের মধ্যে সিইসির অবস্থান অনেক ওপরে। সিইসি ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান, সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি রয়েছেন। সুতরাং সিইসি যদি 'বিশেষ অতিথি' হিসেবে একটি বিশেষ হজ মিশনে যাবেনই, তাহলে তিনি নেতৃত্বের পুরোভাগে থাকবেন না কেন? ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ব্যত্যয় ঘটাতে হবে কেন? মিজানুর রহমান খান:প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক[] | 8 |
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামি আসাদুল ইসলামকে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ রবিবার দুপুরের পর তাকে আদালতে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। দিনাজপুর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাম জাফর জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আটক আসাদুলকে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। পরে রাতে পুলিশ দিনাজপুর ডিবির কাছে তাকে হস্তান্তর করে। প্রসঙ্গত, গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে নতুন মুখ হিসেবে ডাক পেয়েছেন ডানহাতি মিডিয়াম পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, টপ-মিডল অর্ডারে ব্যাট করা সূর্যকুমার যাদব এবং স্পিনার ক্রুনাল পান্ডিয়া। শুক্রবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্বাচকদের ঘোষিত ১৮ সদস্যের দল থেকে বাদ পড়েছেন অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা সানজু স্যামসন, মানিশ পান্ডে, মায়াঙ্গ আগারওয়াল ও নভদীপ সাইনিরা। এছাড়া জাসপ্রিত বুহমাহ নিয়েছেন ছুটি। ইনজুরির কারণে দলে নেই রবিন্দ্র জাদেজা ও মোহাম্মদ শামি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে থাকলেও ডাক পাননি পৃথ্বী শ' এবং দেবদূত পাডিক্কাল। টপ অর্ডারে দলে বেশ কিছু পরীক্ষিত ক্রিকেটার থাকায় তাদের রাখা হয়েছে বাইরে। যেমন-ইনজুরি থেকে ফিরেছেন রোহিত শর্মা। শেখর ধাওয়ান, শুভমন গিলদের নেওয়া হয়েছে দলে। আছেন টি-২০ ফরম্যাটে রান না পাওয়া কেএল রাহুলও। এছাড়া ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষ ওয়ানডে খেলা ভুবনেশ্বর কুমার ফিরেছেন ওয়ানডে ফরম্যাটে। আছেন পেসার থাঙ্গারাসু নটরাজন, শার্দুল ঠাকুর ও মোহাম্মদ সিরাজরা। এছাড়া স্পিন আক্রমণ সামলাতে ওয়াশিংটন সুন্দর, যুজবেন্দ্র চাহাল, কুলদীপ যাদবরা আছেন ভারতীয় ওয়ানডে দলে। আগামী ২৩ মার্চ শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ মাঠে গড়াবে ২৬ ও ২৮ মার্চ। ভারতের ওয়ানডে দল: বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা (সহ-অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, শুভমন গিল, শ্রেয়াস আয়ার, সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, ঋষভ পান্ত (উইকেটরক্ষক), কেএল রাহুল (উইকেটরক্ষক), যুজবেন্দ্র চাহাল, কুলদীপ যাদব, ক্রুনাল পান্ডিয়া, ওয়াশিংটন সুন্দর, থাঙ্গারাসু নটরাজন, ভুবনেশ্বর কুমার, মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, শার্দুল ঠাকুর। | 12 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত সাত আসামিকে চার মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন। সাথে সাথে জামিন থাকা সময়ের মধ্যেই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের করা আপিল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। ২০০২ সালে সাতক্ষীরায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহনিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত সাতজনকে জামিন দেয়া হয়েছে। জামিন পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- গোলাস রসুল, আব্দুস সামাদ, জহিরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলাম। আদালত বাকি ১১ আসামীর জামিনের আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন। যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই দিনই কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন বাদি হয়ে এই ঘটনায় মামলা করেন। মামলায় তদন্ত শেষে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলামসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা হয়েছে। এরপর মামলার আসামি রাকিবের আবেদনে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একইসঙ্গে রাকিবের ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। পরে রাকিবকে জামিন দেওয়া হয়। রাকিবের আবেদন ছিল, যখন ঘটনার কথা বলা হয় তখন অর্থাৎ ২০০২ সালে তার বয়স ছিল ১০ বছর। সুতরাং তার বিচার হতে হলে শিশু আইনে হবে। বড়দের সঙ্গে দায়রা জজ আদালতে করা যাবে না। গতবছর ৮ অক্টোবর ওই রুল খারিজ করে রায় দেন আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন রাকিব। এ আবেদনে আপিল বিভাগ তিনমাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে বিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এরপর বিচার শেষে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় সব আসামিকে সাজা দিয়ে রায় দেন। রায়ে হাবিবুল ইসলামকে কয়েকটি ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহ অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। | 6 |
জার্মানি, আর্জেন্টিনা, পর্তুগালের পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ব্রাজিল ছিটকে যাওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষের বিশ্বকাপ সংক্রান্ত উত্তেজনা-উন্মাদনা যেন হঠাৎই থিতিয়ে পড়েছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্রাজিলের পতাকা উড়তে দেখা গেলেও, কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে হারের পর হাতে গোনা দু'একটি জায়গা বাদে খুঁজেই পাওয়া গেল না সেসব পতাকা। রাস্তাঘাটে জার্সি পরা মানুষের সংখ্যাও হঠাৎই যেন কমে গেছে। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ছাত্রী বলছিলেন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার মতো বড় দল বাদ হয়ে যাওয়ায় তাদের বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ভাটা পড়েছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উৎস বলছিলেন, আর্জেন্টিনা হারার পর তার আর্জেন্টিনা সমর্থক বন্ধুবান্ধব বিশ্বকাপের খেলা দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। তেমনি ব্রাজিলের হারের পর তার ব্রাজিল সমর্থক বন্ধুদের অনেকে আর বিশ্বকাপের খেলা দেখবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তামিসা বলেন, আর্জেন্টিনার বিদায়ের পর বড় দল হিসেবে তিনি ব্রাজিল সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলও বাদ পড়ে যাওয়ায় বিশ্বকাপ দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন তিনিও। বড় দলগুলো বাদ পড়ায় বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে তৈরী হওয়া অনীহার কারণে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সম্প্রচার ব্যাবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাছরাঙা টিভির সম্প্রচার বিভাগের প্রধান এমএম সায়েম মনে করেন, বড় দল বাদ হয়ে যাওয়ায় দর্শকসংখ্যা পাশাপাশি ব্যাবসায়িক হিসেবেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তাদের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে। "ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন বা পর্তুগালের মতো বড় দলগুলো সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠবে এমনটাই চাওয়া ছিল আমাদের, যেন খেলা দেখার জন্য দর্শকের চাপ থাকে। বাজারজাতকরণের বিশ্লেষণটাও সেসব বিষয় মাথায় রেখেই করা হয়েছিল", বলেন মি. সায়েম। সায়েম মনে করেন, বড় দলগুলো আগেভাগে বাদ পড়ায় বিজ্ঞাপণ থেকে আসা মুনাফা ও দর্শকের উপস্থিতি, এই দুই বিষয়ের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে পছন্দের দল বাদ হয়ে যাওয়ায় সবাই কিন্তু বিশ্বকাপের ম্যাচ না দেখার সিদ্ধান্ত নেননি। বড় দল বাদ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বকাপ কিছুটা জৌলুস হারালেও ভিন্ন আমেজে খেলা উপভোগ করতে চান অনেক দর্শক। যেমন ব্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জারিফ মনে করেন, অধিকাংশ মানুষের পছন্দের দলগুলো না থাকায় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সমর্থকদের মধ্যে হওয়া দ্বন্দ্ব কমে যাবে। সব দলের সমর্থকরা একসাথে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষের জন্য বিশ্বকাপের উন্মাদনা শেষ হয়ে গেলেও, ফুটবল ভালোবাসেন এমন অনেক মানুষই এখনো মুখিয়ে রয়েছেন বিশ্বকাপের শেষ কয়েকটি ম্যাচের জন্য। | 12 |
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নুর মোহাম্মদ খালাসি (৩০) নামের এক ট্রলার চালকের মরদেহ দাফনের ১৮ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ট্রলারচালকে ট্রলারে থাকা বরযাত্রীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় আদালতের নির্দেশে উপজেলার চরসেন্সাস ইউনিয়নের চরফিলিজ হাওলাদার কান্দি গ্রাম থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।উত্তোলনের সময় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাসিত সাত্তার, গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোয়েব আলীসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।জানা গেছে, এর আগে ১১ আগস্ট নিহত নুর মোহাম্মদ খালাসির বাবা সিডু খালাসী শরীয়তপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে একটি পিটিশন মামলা করলে বিচারক ২০ আগস্টের মধ্যে মরদেহ উত্তোলনসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।এজাহার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশিনগর টেকের বাজার ঘাট থেকে নুর মোহাম্মদ খালাসী বিয়ের বরযাত্রী নিয়ে ট্রলারে গোসাইরহাট উপজেলার গাছচর এলাকায় যাচ্ছিলেন। মাঝের চর পৌঁছালে নদীর চরে ট্রলার ঠেকে যায়। তখন নুর মোহাম্মদ বর পক্ষের লোকজনকে ট্রলার থেকে নামতে বলেন। বর পক্ষের লোকজন নামতে অসম্মতি জানালে নুর মোহাম্মদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বর পক্ষের চরফিলিজ এলাকার ওয়ালিদ মাদবর (৩৫), শহিদুল্লাহ মোল্লা (৪৫), শুকুর আলী মালতসহ (৪৮) বেশ কয়েকজন নুর মোহাম্মদকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে। কিন্তু হৃদ্যন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে দাবি করেন তাঁরা। পরে ২ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে তাঁকে দাফন করা হয়।এ ঘটনায় ওয়ালিদ মাদবর, শহিদুল্লাহ মোল্লা, শুকুর আলী মালতসহ ১০ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৫ / ৬ জনকে আসামি করে নিহত নুর মোহাম্মদের বাবা সিডু খালাসী শরীয়তপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেন।নিহত নুর মোহাম্মদ খালাসির স্ত্রী খোরশেদা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে ওয়ালিদ মাদবর, শহিদুল্লাহ মোল্লা, শুকুর আলী মালতরা। পরে তাঁরা বলে আমার স্বামী নাকি হৃদ্যন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তারা মিথ্যা বলেছেন। আমি এ হত্যার বিচার চাই।গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোয়েব আলী বলেন, আদালতের নির্দেশে ১৪ আগস্ট থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। শুক্রবার সকালে নুর মোহাম্মদের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
ভারতের ঐতিহাসিন বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে অযোধ্যার বিতর্কিত ওই জায়গা রাম মন্দিরের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে, মুসলমানদের জন্য নতুন মসজিদ নির্মাণে বিকল্প জমি বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে, এই রায়ে কোনও পক্ষেরই জয় বা পরাজয় হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রায় ঘোষণার পর তিনি এক টুইটবার্তায় বলেন, "অযোধ্য ইস্যুত রায় দিয়েছেন মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়ে কারও জয়-পরাজয় লক্ষ্য করা যায়নি। রাম ভক্তি হোক কিংবা রহিম ভক্তি, অত্যাবশ্যক বিষয় হল- আমরা রাষ্ট্রভক্তির চেতনায় আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠব।" "শান্তি ও সম্প্রতি বজায় থাকুক,"উল্লেখ করেন মোদি। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
নিরাপদ প্রজননের স্বার্থে ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। তবে থেমে নেই ইলিশ শিকার। মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পদ্মা-যমুনা অংশে এই মাছ শিকার এবং বিক্রির যেন ধুম পড়েছে। প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও তা রোধ করা যাচ্ছে না।স্থানীয় লোকজন জানায়, শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার প্রায় ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত পদ্মা-যমুনা বক্ষে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ইঞ্জিনচালিত নৌকায় অবৈধ কারেন্ট জালের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকার চলছে। এ কাজে প্রকৃত জেলেরা নীরব থাকলেও মৌসুমি জেলেরা তৎপর রয়েছেন। ইলিশ কিনতে আগ্রহী একশ্রেণির লোক নদীপাড়ে নিয়মিত ভিড় জমাচ্ছেন। শিবালয়ের আলোকদিয়া চরে প্রতি কেজি ইলিশ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে।শিবালয় উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে অভিযান শুরুর পর এক সপ্তাহে শিবালয়ে ২২টি পৃথক অভিযান চালানো হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, প্রায় তিন মণ ইলিশ, কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়েছে। তবে গতকাল রোববার পর্যন্ত কোনো জেলে আটক হয়নি।স্থানীয়দের অনেকেই এবার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অনেকের ধারণা, জেলেদের সঙ্গে প্রশাসনের গোপন আঁতাত থাকায় লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল আলম বলেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার প্রায় তিন হাজার প্রকৃত জেলের মধ্যে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শিকার রোধে নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা বলেন, 'প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবলের অভাবে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। অল্পসংখ্যক আনসার ও পুলিশ নিয়ে দুদিন আগে নদীতে অভিযান পরিচালনাকালে আলোকদিয়া চরাঞ্চলের শিকারিরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা হাতে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) ওপর চড়াও হন। তাঁদের রুখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ নিয়ে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করতে আজ (রোববার) বিশেষ বৈঠকে জরুরি সিদ্ধান্ত হয়েছে।' তবে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। | 6 |
মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মার্কেট তিন মাস ধরে দখল করে রেখেছে মৌমাছির দল। শতাধিক মৌচাক তৈরি করে মার্কেটটি ঘিরে রেখেছে মৌমাছিরা। এতে আতঙ্কে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে মৌমাছির চাকগুলো একনজর দেখার জন্য প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার শিকারমঙ্গল এলাকার মিয়ারহাট বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মার্কেট নির্মাণ করেন একই এলাকার সিরাজুল ইসলাম। পরে সে মার্কেটের দোকান গুলো ব্যবসায়ী আজিজ বেপারী, কালাম খান, রব চৌধুরী ও খালেক বেপারীসহ প্রায় ১০জনের কাছে ভাড়া দেন। এ দোকান গুলোর চতুর পাশ দিয়ে প্রায় শতাধিত মৌমাছির চাক বসেছে। মৌ-মাছির হুলের আতঙ্কে ব্যবসায়ীদেও অনেকে দোকান তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। ব্যবসায়ী আজিজ বেপারী বলেন, আমার দোকানে মৌ-মাছির চাক বসায় দোকান বন্ধ রেখেছি কারণ মৌমাছির আক্রমণের ভয়ে দোকান কবে খুলতে পারব জানি না। এদিকে মৌ-মাছির চাকগুলো একনজর দেখার জন্য প্রতিনিয়ত উৎসুক জনতা ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রতি বছরই এই মার্কেটে মৌমাছির চাক বসে। আর এতে করে ওই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। | 6 |
বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং এশিয়ান ট্যুরের সহযোগিতায় ৩ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে চলবে আন্তর্জাতিক পেশাদার গলফ টুর্ণামেন্ট বঙ্গবন্ধু কাপ গলফ ওপেনের খেলা। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে বঙ্গবন্ধু কাপ গলফ ওপেনের লোগো উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে লোগো উন্মোচন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনী এবং গলফ ফেডারেশনের সভাপতি জেনারেল আজিজ আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্টের সাংগঠনিক কমিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান এবং গলফ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জেনারেল ব্রিগেডিয়ার মো: সাঈদ সিদ্দিকি, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম মাহমুদ চৌধুরী, টুর্ণামেন্ট সাপোর্ট ও গ্রাউন্ড কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবিদুর রেজা খান (অব:), পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক রিক হক শিকদার, পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক রন হক শিকদার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোশতাক আহমেদ, বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের যুগ্ন সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিএসএম হামিদুর রহমান (অব:), বঙ্গবন্ধু কাপ গলফ ওপেন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান ফরিদুদ্দিন খান রুমী, ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ও গলফ ফেডারেশনের কো-অর্ডিনেটর লে: কর্ণেল মো: আবদুল বারি (অব:)। ৩ লক্ষ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার প্রাইজ মানির এ টুর্ণামেন্টে খেলবেন এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার সেরা পেশাদার গলফাররা। টুর্ণামেন্ট উপলক্ষে বিশ্বের প্রায় ২২টি দেশের পেশাদার গলফার, অফিসিয়াল, রেফারী, সংগঠক, টেলিভিশন সম্প্রচারের টেকনিশিয়ান এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ প্রায় ১৫০ জনের বেশী বিদেশী অতিথি ১০ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। | 12 |
সিংগাইরের মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে পিকআপ ও মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু'জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আশ্রব খান (৫০) মোটর সাইকেল আরোহী, আরেকজন ৮ বছরের শিশু আব্দুল্লাহ। শুক্রবার (৭ আগষ্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের বাস্তা এলাকায় এ মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হেমায়েতপুর থেকে আসা মোটর সাইকেলের সাথে বিপরীত দিক আসা পিকআপের সঙ্গে আব্দুল আলী চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপটি সড়কের দক্ষিণ পাশে খালে পড়ে যায় । ওই পিকআপে একই পরিবারের দেড় মাসের শিশুসহ আরো ৬ সদস্য ড্রাইভার-হেলপার প্রাণে বেঁচে গেলেও ৮ বছরের শিশু আব্দুল্লাহ খালের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দু'ঘন্টা পর এলাকাবাসী, সাভার ও মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে আব্দুল্লাহর মৃতদেহ উদ্ধার করেন। নিহত আব্দুল্লাহ মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার বরতলা গ্রামের রিকসা চালক আব্দুল জলিলের পুত্র। জানা গেছে, আব্দুল জলিল সাভার ব্যাংক টাউন এলাকায় থাকেন। তিনি পরিবারকে কাছে রাখতে সাভার বাসা ভাড়া নিয়েছেন। মালামালসহ স্বপরিবারের মাগুরা হতে পিকআপ যোগে এ রাস্তা দিয়ে সাভার যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যেই মর্মান্তিক এ দূর্ঘটনায় ছেলে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পিতামাতা। ঘটনাস্থলে মোটর সাইকেল আরোহী আশ্রব খান ও তার সাথে থাকা আরেকজন গুরুতর আহত হন। আহত দু'জনের মধ্যে আশ্রব খানকে সাভারস্থ এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আশ্রব খান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা আওরমাড়া গ্রামের আছালত খানের পুত্র। সে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তার দোকানের কর্মচারীকে সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তার সঙ্গে কর্মচারীকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকাস্থ পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। | 6 |
স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিন্দুমাত্র উপাদান ছাড়াই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকা তৈরি হচ্ছে স্যানিটাইজার। সে এলাকায় অভিযান চালিয়ে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার জব্দ এবং পরে তা ধ্বংস করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একটি বাসায় ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই স্পিরিট, রঙ, জেল এবং লেমন ফ্লেভার দিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করছিল মেসার্স কাজী ম্যানুফ্যাকচারার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, ধ্বংস করা কাঁচামালের বাজারমূল্য প্রায় চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে র্যাব-১০ ও ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত চার জন হলেন কাজী মুন্না, শান্ত, সাব্বির সরদার ও আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। প্রথম তিন জনকে ওষুধ আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করায় দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং আব্দুল মান্নানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, আমরা অভিযানে দেড় লক্ষাধিক পিস হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও নকল সুরক্ষা সামগ্রী জব্দ করেছি। যার আনুমানিক বাজার মূল্য চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা। এগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। | 6 |
জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার বিষয়টি পুরোনো। দল নির্বাচনে সিনিয়রদের পছন্দ-অপছন্দকেও যে গুরুত্ব দেওয়া হয় তাও 'ওপেন সিক্রেট'। শুধু খেলোয়াড়ই নয়, কোচ নিয়োগ বা মেয়াদ বৃদ্ধিতেও সিনিয়র ক্রিকেটারদের একটা প্রভাব থাকে। পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের চুক্তি নবায়ন না করা যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। গতকাল বেরিয়ে এসেছে জাতীয় দলের অন্দরমহলের আরও একটি ঘটনা। পেসার আবু জায়েদ রাহি জাতীয় দলে লবিংয়ের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাকে বাদ দেওয়ার পেছনে একজন ক্রিকেটার পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। রাহির এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর একটা জিনিস পরিস্কার, জাতীয় দলের ভেতরের যে খবরগুলো বাইরে আসে সেগুলো যথার্থই সত্য। সমর্থকরা তাই প্রশ্ন তুলতেই পারেন- জাতীয় দলেও লবিং হয় কিনা। যতবারই জাতীয় দলের অন্দরমহলের খবর প্রকাশ পেয়েছে, বিসিবির চাপে ততবার অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে ইউটার্ন করতে দেখা গেছে। বরাবরের মতো রাহিও ১৮০ ডিগ্রি উল্টো ঘুরে গেছেন। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে ফোন করে তিনি জানান, জাতীয় দলে লবিংয়ের বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। মিডিয়া ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। ক্যারিয়ারের কথা ভেবেই রাহির এ অবস্থান পরিবর্তন। কারণ জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখেন তিনি। জাতীয় দল না হলেও 'এ' দলে অন্তত খেলতে চান। যে কারণে বারবারই বলছেন, লবিংয়ের বিষয়টি যেভাবে মিডিয়ায় এসেছে, তাতে তার ক্যারিয়ার শেষ। তিনি মনে করেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় জাতীয় দলে না থাকলে আয়ের পথ সীমিত হয়ে যাবে। তাই সত্য চাপা দিতে নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। রাহির 'লবিং' মন্তব্যে নির্বাচকরা বিচলিত নন। তবে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ একটি যৌক্তিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, রাহি তাহলে কার লবিংয়ে এতদিন জাতীয় দলে খেলেছেন? খালেদ মাহমুদই রাহিকে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। বিদেশে পড়ি জমাতে চাওয়া এই সুইং বোলারকে তিনি বলেছিলেন- 'বিদেশে গিয়ে কী করবে, ভালো করে খেলে জাতীয় দলে সুযোগ পাবে।' গত চার বছরে ১৩টি টেস্ট ম্যাচে খেলে ৩০ উইকেট শিকার তার। গত এক বছর ধরে একাদশে অনিয়মিত। তাসকিন, শরিফুল, এবাদত এই পেসার ত্রয়ীর উত্থানে জায়গা হারান রাহি। হাবিবুল বাশার তো বলেই দিয়েছেন, টেস্টে ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতির ফাস্ট বোলার খেলাবেন তারা, যেটা রাহির নেই। বার্তা পরিস্কার, রাহির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দাঁড়ি টেনে দেওয়া হয়েছে। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, রাহির অভিযোগের পর টিম ম্যানেজমেন্ট বা বিসিবির কাছ থেকে কোনো প্রতিবাদ আসেনি। এই নীরবতায় আরও অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। যার উত্তর অবশ্যই খুঁজতে হবে বিসিবির। সত্যিই কি আড়ালে-আবডালে কোনো লবিং চলে? সত্যিই দলের সঙ্গে থেকে না থেকেও কারও পছন্দ-অপছন্দ নির্বাচকরা এতটা গুরত্ব দেন কিনা? | 12 |
দেশের ৪৭০ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪০১ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রায় ৯৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে হয়েছে। এছাড়া আরও ৩২ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় জানানো হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের নভেম্বর পর্যন্ত শতকরা ২০ দশমিক ৫৯ ভাগ অর্থ ব্যয় করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেখানে জাতীয় পর্যায়ে ব্যয় শতকরা প্রায় ১৮ ভাগ। সভায় আরও জানানো হয়, ৬৪ জেলাতেই জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। এজন্য সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৩৮ কোটি টাকা প্রায়। এছাড়া ১৫৬টি স্থানে স্মৃতিসৌধ এবং ২০ টি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ১১০টি স্থানে স্মৃতিসৌধ এবং ৪৩ টি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো জাতীয় চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। যথাযথ মান এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে। চলতি অর্থবছরে আরও সফলভাবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রী প্রকল্প পরিচালকদের তাগিদ দেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া আরও ৬টি নতুন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক মো. জহুরুল ইসলাম রোহেল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতি হয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার অভিজিৎ ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সভায়। গত বছরে ঢাকায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের নিয়ে ইরাব গঠন করা হয়। সিদ্দিকুর শিক্ষা বিষয়ক অনলাইন দৈনিকশিক্ষাডটকম-এর সম্পাদক। অভিজিৎ ভট্টাচার্য দৈনিক কালেরকণ্ঠে, দৈনিক আমাদের সময় ও দৈনিক বর্তমানসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে শিক্ষা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করছেন। টানা তিনবার ইউনেস্ক পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। | 6 |
করোনার থাবায় ভাই হারালেন বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা দিলীপ কুমার। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার ভোরে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তার ছোট ভাই আসলাম খান। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৬ আগস্ট লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন দিলীপের দুই ভাই এহসান খান ও আসলাম খান। দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক ছিল। এর মধ্যে কোভিড যুদ্ধে হার মানলেন আসলাম খান। দিলীপ কুমারের দুই ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার আগেই জানিয়েছিলেন, "বয়স ও কো-মর্বিটিজ থাকায় তাদের দু'জনের অবস্থায়ই আশঙ্কাজনক। তাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।" দুই দেবরের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর জানিয়ে ওই সময় অভিনেত্রী সায়রা বানু বলেন, "জলিল পারকার ও কার্ডিওলজিস্ট নিতিন গোখেল তাদের চিকিত্সা করছেন। আল্লাহর রহমতে তারা ভালো হয়ে উঠুক, এই প্রার্থনা করুন।" এহসান ও আসলাম ভর্তির পর থেকেই হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে ছিলেন। তাদের বয়স যথাক্রমে ৯০ ও ৮৮ বছর। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 4 |
সাতক্ষীরার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে মেহেরপুরের বর্তমান এসপি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার)-কে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি সাতক্ষীরার বর্তমান পুলিশ সুপার মো: সাজ্জাদুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন। গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে লক্ষ্মীপুর, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, মৌলভীবাজার, নাটোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোণা, মেহেরেপুর, নরসিংদী ও মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার পদে নতুন পদায়ন ও বদলি করা হয়েছে। মেহেরপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি নারায়নগঞ্জের অতিরিক্তপিুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। সৎ, চৌকশ এবং কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মকর্তঅ হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য তিনি দু'বার পিপিএম পদকে ভুষিত হয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/ তাফসীর আব্দুল্লাহ | 6 |
ঢাকা : ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬০ হাজার ৪৭১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের দিনের চেয়ে এই সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার কম। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৭২৬ জনের। এই সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন কম।আজ মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমনটি বলা হয়েছে।ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ২ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৮১ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ভারতে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩১ জন।এই মুহূর্তে ভারতের বেশির ভাগ রাজ্যেই সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দিকে। ফলে কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ১২৯ জন। গত ২ মার্চের পর রাজ্যটিতে এটাই সর্বনিম্ন আক্রান্তের সংখ্যা।এ ছাড়া কর্ণাটকেও কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্যটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজারের নিচে। কেরালায়ও সংক্রমণের হার ৮ হাজারের ঘরে। তবে তামিলনাড়ুতে এখনো সেভাবে কমেনি আক্রান্তের হার। রাজ্যটিতে দৈনিক আক্রান্ত সাড়ে ১২ হাজারের ওপরেই থাকছে। পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশায় আক্রান্তের সংখ্যা নেমেছে ৫ হাজারের নিচে।করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানলে প্রায় দুই মাস আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এখন সংক্রমণ কমতে থাকায় সতর্কতার সঙ্গে বিধিনিষেধ শিথিল করার প্রক্রিয়া চলছে। ভারতে সংক্রমণ 'বিস্ফোরণের' জন্য করোনার ডেল্টা ধরনকে অনেকাংশে দায়ী করা হয়। | 3 |
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৪ জনের। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫৮৩ জনে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৪৪ জন রোগী। এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩০ জনে। রবিবার (৩০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৫ জন। এসময়ে ১৪ হাজার ৪১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ২৭৭টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ লাখ ২৯ হাজার ৩৩৫টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। মারা যাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১২, রাজশাহীতে ৩, খুলনায় ৬, বরিশালে ১, সিলেটে ২ এবং রংপুরে ২ জন মারা গেছেন। মারা যাওয়াদের মধ্যে ২৩ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। এর মধ্যে ৩ জন বাসায় এবং বাকি সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১২ হাজার ৫৮৩ জনের মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৮৮ জন এবং নারী ৩ হাজার ৪৯৫ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২১ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৫ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের ২ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। | 4 |
গভীর রাত। প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার রাতেও ঘুমিয়ে ছিলেন হতদরিদ্র রায়হান আলী (৬২)। এমন সময় দরজায় কড়া নাড়লেন কেউ একজন। ঘরের ভেতর থেকেই জানতে চাইলে কে? প্রতি উত্তরে বললেন, ভয় নেই, এমপি এসেছেন, উঠুন, দরজা খুলুন। ঘুম থেকে উঠেই দেখলেন, সত্যিই এমপি তার বাড়িতে। কিছুক্ষণের জন্য অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন। এরপর ছুটোছুটি শুরু করলেন, কোথায় বসতে দেবেন এমপিকে? ঘরের ভেতর থেকে কিছু একটা বের করে এনে এমপিকে বসতে দেবেন এমন প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এমপি বলে উঠলেন, বসতে আসিনি, আমি জানি আপনারা এখন কাজ করতে পারছেন না। তাই কিছু খাদ্য সামগ্রী নিয়ে এসেছি। শুক্রবার মধ্যরাতে তাড়াশ ওয়াবদা বাঁধে এমন ঘটনা ঘটে। এরপর পাশের ঘরের ফাহিমা (৪০)কেও ঘুম থেকে ডেকে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সরকার দলীয় এমপি অধ্যাপক ডা. আবদুল আজিজ। যারা কখনো ভাবতে পারেনি, এমপি তাদের বাড়িতে নিজেই খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হবেন। শুধু ওয়াবদা বাঁধের রায়হান-ফাহিমাই নয়, আরও শতাধিক বাড়ি, পাশের কোহিত গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে তিনি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 4 |
সুন্দরবনের নদী-খালে দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে।বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধসহ বনে অপরাধ কমানোর জন্যই ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে বনবিভাগ। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় উপকূলের হাজার হাজার জেলে জাল-নৌকা নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যেতে শুরু করেছেন। জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে ফিরেছে কর্মব্যস্ততা। দীর্ঘ দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মোংলাসহ আশপাশের উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র জেলে পরিবার অনেকটা অভাব-অনটনেই দিন কাটিয়েছে। অনেকে কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি জমান। দুই মাস দূরে কাজ করেছেন তারা। নিষেধাজ্ঞা শেষের খবর পেয়ে তারা আবারও নিজ গ্রামে ছুটে এসেছেন। এখন পুরনো নৌকা ও জাল মেরামত করে বনবিভাগের কাছ থেকে পাস নিয়ে যেতে শুরু করেছেন সুন্দরবনে। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্ট দুই মাস সুন্দরবনে মাছের প্রজনন মৌসুম। এ সময় মাছ ধরা হলে ডিমওয়ালা 'মা' মাছ মারা পড়ে। অসাধু এক শ্রেণির জেলেরা একসঙ্গে বেশি এবং বড় মাছের আশায় বনের ছোট-বড় খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরেন। এতে মৎস্য সম্পদসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও ধ্বংস হয়। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে সুন্দরবনের গোটা জীববৈচিত্র্যে। তাই মাছের প্রজনন ও বিষ দিয়ে মাছ ধরা রোধে বনবিভাগ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলার জয়মনিরঘোল এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, বনবিভাগ নিষেধাজ্ঞা জারির আগে জেলে নৌকা প্রতি আমাদের এক লাখ থেকে সোয়া লাখ টাকা পর্যন্ত দাদন দেওয়া ছিল। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় দাদন দেওয়া টাকা জেলেরা বসে বসে খেয়ে শেষ করেছেন। এখন নতুন করে আবার দাদন দিয়ে তাদের সুন্দরবনে পাঠাতে হবে। এতে আমাদের এ মৌসুমে খরচ উঠবে কি না তাই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারপরও এটাই পেশা, লাভ-লোকসান যাই হোক, এছাড়া অন্য কিছু করারও নেই। মোংলা বাজারের মৎস্য আড়ৎদার দ্বীন ইসলাম বলেন, উপজেলার শত শত জেলে আগে থেকেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে বসে আছেন। এখন দীর্ঘদিন বসে থাকার পর জেলেদের যা আয় হবে তা দিয়ে দাদন পরিশোধ করবে নাকি সংসার চালাবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন অফিসার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বন অপরাধ দমন বিশেষ করে বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে দুই মাস সুন্দরবনে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। যেহেতু নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে তাই ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলেরা পাস নিয়ে বনে ঢুকতে শুরু করেছেন। রোববার শুধু চাঁদপাই স্টেশন থেকেই পাস নিয়ে প্রায় দেড়শ জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া অন্যান্য স্টেশন থেকেও পাস নিয়ে জেলেরা বনে যাচ্ছেন। | 6 |
ছিনতাই হওয়ার ৫০ দিন পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ব্যবহার করা আইফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। অন্য একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইলটি উদ্ধারসহ ছিনতাই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির রমনা বিভাগ পুলিশ। তবে এর মধ্যেই মোবাইল ফোনটি হাত বদল হয়েছে চারবার। পুলিশ বলছে, জীবন নামে এক চোরাই মোবাইল কারবারিকে গ্রেফতার করে রমনা বিভাগ পুলিশ। মূলত তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুরো চক্রটি ধরা পড়ে ও মোবাইলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো: সাজ্জাদুর রহমান। তিনি জানান, জীবন মোবাইলটি পেয়েছে আরিফ নামে একজনের কাছ থেকে। আরিফ মন্ত্রীর মোবাইলটি সফওয়্যার ব্যবহার করে আনলক করে জীবনের কাছে বিক্রি করে। আরিফ ফোনটি নিয়েছিল জাকির নামে একজনের কাছ থেকে। জাকির পেয়েছে সগির আর সুমনের কাছ থেকে। আর সগির আর সুমনই মোবাইলটি ছিনতাই করেছিল। ডিসি মো: সাজ্জাদুর রহমান বলেন, 'গতকাল রোববার ধারাবাহিক অভিযানের এক পর্যায়ে ধানমন্ডি থানার আরেকটি ছিনতাই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো: সগির, মো: সুমন মিয়া, মো: জাকির, হামিদ আহম্মেদ সোহাগ ওরফে আরিফ ও মো: জীবন। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, বিভিন্ন মডেলের ১০টি ফোন, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।' তিনি আরো বলেন, 'এক ভুক্তভোগী গত ১২ জুলাই ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ওই দিন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে অজ্ঞাতনামা দুইজন তার ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায়। ওই মামলার তদন্তকালীন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সগির ও সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।' 'তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামিদের গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকে মামলার বাদির মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।' এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, 'জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সগির ও সুমন মিয়ার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়। জাকিরই জানায় সে আরিফের কাছে মোবাইলটি বিক্রি করেছিল। আরিফ টেকনোলজিতে এক্সপার্ট। সে সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে লক করা মোবাইল আনলক বা যে কোনো মোবাইল ব্যবহারের উপযোগী করতে পারে। তার কাছ থেকে টার্গেটকৃত ভিকটিমের মোবাইল উদ্ধার করা হয়। তার কাছে থাকা ল্যাপটপ যাচাইকালে পরিকল্পনামন্ত্রীর ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনের ছবি দেখতে পাই।' 'সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরিফ জীবনের ঠিকানা দেয়। জীবনের কাছ থেকে মন্ত্রীর মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়।' ডিসি সাজ্জাদুর আরো বলেন, 'মন্ত্রীর ছিনতাই হওয়া মোবাইলটি আইফোন। আইফোনের লক খোলা খুবই কঠিন। তবে আরিফই মোবাইলটি সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে আনলক করেছিল। আনলক অবস্থাতেই আমরা মোবাইলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হই।' | 6 |
করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বছর মারা যান অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। খল চরিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেতার চলে যাওয়ার আজ এক বছর হলো। সময়টা যেন সাদেক বাচ্চুর পরিবারের কাছে দীর্ঘ পথ। কারণ, এই অভিনেতার চলে যাওয়ার পর তাঁদের তেমন খবর রাখেননি বিনোদন অঙ্গনের মানুষেরা। অনেকটা অভিমানের সুরে সাদেক বাচ্চুর স্ত্রী শাহনাজ জাহান বলেন, শিল্পীদের মূল্যায়ন নেই, এটা আফসোস। শাহনাজ বলেন, 'এক বছর হলো তিনি (সাদেক বাচ্চু) আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু এই সময়ে মানুষটার পরিচিত তেমন কেউ আমাদের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ করলেন না। তাঁরা মনে করেন, শিল্পীর পরিবারে যোগাযোগ করলে সাহায্য করতে হতে পারে। শিল্পীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ মানে সাহায্য নয়। একটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সামনে দাঁড়িয়ে দুটো কথা বলাও অনেক শক্তি দেয়। দেশের গুণী শিল্পী তিনি। তাঁর সঙ্গে সবার ভালো সম্পর্ক ছিল। কে খবর নিলেন, না নিলেন এসব নিয়ে আমাদের কোনো অভিমান নেই। কিন্তু এটাই ভাবায়, শিল্পীদের মূল্যায়ন করা জরুরি।' সাদেক বাচ্চুর 'মতিঝিল থিয়েটার' নামে একটি মঞ্চ নাটকের দল ছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দলটির সভাপতি ছিলেন। তরুণদের অভিনয় শেখাতে চাইতেন সব সময়। মনে করতেন প্রত্যেকের অভিনয় শিখে এই মাধ্যমে আসা দরকার। চলচ্চিত্র অঙ্গনের সাম্প্রতিক সময়ে তেমন অভিনয়শিল্পী তৈরি হচ্ছে না। নতুনেরা এসে টিকতে পারছিলেন না। নায়ক, নায়িকা, কমেডি, খল অভিনেতার সংকট ছিল। এই নিয়ে মন খারাপ করতেন সাদেক বাচ্চু। তার স্ত্রী শাহনাজ বলেন, 'শাকিব খানসহ অনেকেই আমাদের বাসায় আসতেন। অভিনয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি সবাইকে অভিনয়ের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বলতেন। আলোচনা করতেন। এফডিসিতে আগে কত অভিনয়শিল্পী ছিল, তিনি স্বপ্ন দেখতেন চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির তরুণ প্রজন্ম তাদেরকেও ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু অনেক তরুণের মাঝে শেখার আগ্রহ কম থাকাটা তাকে ব্যথিত করত।' রেডিও ও টেলিভিশনে অনেক আগে থেকেই সাদেক বাচ্চুর পদচারণা ছিল। ১৯৭৪ সালে 'প্রথম অঙ্গীকার' নাটক দিয়ে বিটিভিতে তার অভিনয় শুরু। নব্বইয়ের দশকে পরিচালক এহতেশামের 'চাঁদনী' ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। ৫ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে 'একটি সিনেমা গল্প'তে অভিনয় করে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শাহনাজ বলেন, 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে তার আফসোস ছিল। পুরস্কারটি পেয়ে তিনি তৃপ্তি পেয়েছিলেন। বড় একটি সম্মান নিয়ে মরেছেন, তার আর কোনো অতৃপ্তি ছিল না।' সাদেক বাচ্চু ছিলেন অভিনয় পাগল মানুষ। গত বছর করোনা কিছুটা কমলে শুটিং যান তিনি। তার স্ত্রী নিষেধ করেছিলেন। তখন সিনিয়র শিল্পীরা অনেকেই কাজে ফেরায় তিনিও কাজে যুক্ত হন। নাটকের শুটিংয়ের ৮ দিনের মাথায় তিনি করোনা আক্রান্ত হন। দেরিতে করোনা ধরা পরায় ফুসফুসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সাদেক বাচ্চুর দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। তারা সবাই পড়াশোনা করেন। বড় মেয়ে আগামী বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। ছোট দুজন মাধ্যমিকে পড়ছে। চলচ্চিত্রে সাদেক বাচ্চু হিসেবে পরিচিত মাহবুব আহমেদ ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। | 2 |
পশ্চিম জেরুসালেমের আল আকসা মসজিদ চত্বরে ঢুকে ইসরায়েলি পুলিশের অমানবিক লাঠিচার্জ, ঈদের দিনেও ইসরাইরী সেনাদের আক্রমণ, লাগাতার বোমাবর্ষণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০৯ জন ফিলিস্থিনী নিহত ও শত শত অসহায় মানুষের আহতের ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগরী শাখা। শুক্রবার (১৪ মে) ঈদের নামাজ আদায়ের পরে শত শত মুসুল্লি বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এসময় তারা ইসরাইলী বাহিনী কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের ওপর বেধড়ক লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটে ১০৯ জন নিহত এবং শত শত ফিলিস্তিনি আহতের ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। তারা অভিযোগ করেন, জুমাতুল বিদা উপলক্ষে গত শুক্রবার হাজার হাজার ফিলিস্তিনি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জড়ো হলে তাদের ওপর অভিযান চালায় ইসরায়েলি পুলিশ। এতে নারী শিশুসহ অনেকেই নিহত-আহত হন। তারা বলেন, পরদিন পবিত্র শবে কদরের রাতেও তাদের ওপর তাণ্ডব চালানো হয়। এতে শত শত ফিলিস্তিনি আহত হন। এছাড়া অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। সর্বশেষ চালানো হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে গাজা টাওয়ার। এটি হামাসের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো বলে ধারণা করা হয়। এই হামলার জবাবে ইসরায়েলের তেলআবিব শহর লক্ষ্য করে শতাধিক রকেট হামলা চালানো হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, সোমবার থেকে এ পর্যন্ত ১০৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন শত শত ফিলিস্তিনি নাগরিক। বিক্ষোভ থেকে অবিলম্বে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপরে ইসরাইলী বাহিনীর অমানবিক বিমান থেকে মর্টার, বোম হামলার বন্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। | 6 |
প্রবৃদ্ধি, ঘাটতি অর্থায়নের চেয়েও মানুষকে কীভাবে দ্রুত টিকা দেওয়া যায় সেই প্রশ্নটিই এখন মুখ্য বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, টিকা পেলেই মানুষের মনে স্বস্তি আসবে। ব্যবসায়ীদেরও আস্থা বাড়বে। সফল হবে করোনা সংকট কাটিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনরুদ্ধারের কৌশল। শনিবার (৫ জুন) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের পক্ষ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা উপস্থাপনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ ড. এ কে এনামুল হক এবং সমাজতাত্ত্বিক খন্দকার সাখাওয়াত আলি। ড. আতিউর রহমান বলেন, মহামারিজনিত মন্দাবস্থার কথা বিবেচনা করে চলতি বছরের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনা হয়েছে এবং আসন্ন অর্থবছরের প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের সমান রাখা হয়েছে। এ ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জিং এবং এটি অর্জনে রাজস্ব বোর্ডকে সর্বোচ্চ দক্ষতার নজির স্থাপন করতে হবে। ড. এ কে এনামুল হক বলেন, সামাজিক নিরাপত্তায় সাধারণত দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষদের দিকেই মনোযোগ দেওয়া হলেও, এর একটু উপরে থাকা নিম্নমধ্যবিত্তদের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। এজন্য সার্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে কাজ শুরু হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন। খন্দকার সাখাওয়াত আলী বলেন, বাজেটে ৭০-৮০ শতাংশ নাগরিককে করোনা টিকা দেওয়ার কথা বলা হলেও কতো সময়ের মধ্যে তা করা হবে সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের মধ্যেই এ লক্ষ্য অর্জনে প্রাথমিকভাবে টিকা আমদানি এবং পরে টিকা উৎপাদনে জোর দিতে হবে। এজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই। বাজেট বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন ড. আতিউর ও অন্যান্য প্যানেল আলোচকরা। তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়ের কাঠামোগত পরিবর্তন না করে কেবল বরাদ্দ বাড়ালে সুফল পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে হেলথ ভাউচার চালু করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন এমন মানুষদের একটি অংশের দায়িত্ব সরকার নিলে তা খুবই কার্যকর হবে। | 0 |
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে মো. জইন উদ্দিন (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।নিহত জইন উদ্দিন সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানার সতর গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে।এ বিষয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় জইন উদ্দিনকে গত মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে গতকাল রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি।জেলার আরও বলেন, জইন উদ্দিনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তী সময়ে মরদেহের ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনিপ্রক্রিয়া শেষে আজ বৃহস্পতিবার তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। | 6 |
সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় মহেশ ভাটের কন্যা তথা অভিনেত্রী পূজা ভাট। যেকোনো বিষয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে নিজের মতামত স্পষ্ট করে বলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট করতে হলো পূজাকে। একটি পোষ্ট করেই তিনি জানান যে ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল তিনি প্রাইভেট করছেন। কিন্তু কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? পূজা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকদিন ধরে তার কাছে আসছে খুনের হুমকি। তাকে অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন ইনস্টাগ্রামের কমেন্ট বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। সুশান্ত সিং রাজপুত এর মৃত্যুর পরে বলিউডের তথাকথিত স্টারকিডরা নেটিজেনদের নিশানায় পড়েন। নেপোটিজম নিয়ে বিতর্ক কোথায় নেটিজেনরা রীতিমতো তাদের বয়কট করতে থাকেন। তবে এখানেই শেষ নয়। পূজার বাবা অর্থাৎ মহেশ ভাটের নাম জড়িয়েছে সুশান্তের তদন্তে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তী সঙ্গে যোগাযোগ ছিল মহেশের। আর তাই নেটিজেনদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে ভাট পরিবারকে। সম্প্রতি রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে হাওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রকাশ্যে আসে। সেই চ্যাট দেখেই বোঝা যায় যে রিয়াকে সুশান্তের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরামর্শ দিয়েছেন মহেশ ভাট। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দেখা যাচ্ছে যে সুশান্তের বাড়ি থেকে ৮ জুন বেরিয়ে গিয়ে প্রথমেই মহেশ ভাটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রিয়া। জানান তিনি সেই সম্পর্কটা থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন এবং অনেকটা শান্তিতে আছেন। মহেশ ভাটও তাকে পাল্টা পরামর্শ দেন যে, রিয়া যেন আর পিছন ফিরে না তাকান। এই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সামনে আসতেই রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নেট দুনিয়ায় নিন্দা হচ্ছে রিয়া ও মহেশ ভাট দুজনেরই। ইন্ডিয়া টুডের কাছে সাক্ষাৎকারে রিয়ার আইনজীবী সতীশ বলেছেন, সুশান্তের অনুরোধেই রিয়া ৮ জুন সেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কারণ সুশান্ত চেয়ে ছিলেন সেই সময় তার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে এসে থাকুক। সেই আইনজীবী বলছেন, "সুশান্ত ওর পরিবারকে ফোন করে ডাক ছিলেন। মুম্বইতে এসে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেছিলেন। বহুদিন ধরে ফোনে সুশান্ত কান্নাকাটি করার পর তার দিদি মিতু এসে থাকতে রাজি হয়েছিলেন। অবশেষে ৮ জুন তিনি আসেন। সেই কদিনের জন্য সুশান্ত রিয়াকে তার মা-বাবার সঙ্গে গিয়ে থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। " | 2 |
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা যুবদলের একাংশের ইফতার পার্টি ঘিরে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। জেলা যুবদলের সভাপতি ও সম্পাদকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। রোববার ইফতারির আগে উপজেলার দক্ষিণ ব্যাপারি হাটে এ সংঘর্ষ হয়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপিংয়ের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। এদিকে সংঘর্ষে আহত যুবদলকর্মী ইমরান হোসেন আকাশ (৩০) নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যান। তিনি কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার হাসপাতাল পাড়ার ফয়েজ উদ্দিন বাচ্চুর ছেলে। তিনি এছাড়াও নাগেশ্বরী উপজেলা যুবদলের কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানা গেছে। এ ঘটনায় মূল দলের নেতাদের পথ ধরে যুবদলের গ্রুপিং প্রকাশ্যে চলে এসেছে। জেলা যুবদলের সভাপতি রায়হান কবির জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি উপলক্ষে নাগেশ্বরী মহিলা কলেজ মাঠে উপজেলা যুবদলের পক্ষ থেকে ইফতার পার্টি ও দোয়ার আয়োজন করা হলে জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা আপত্তি করায় স্থানীয় প্রশাসন সেটি বন্ধ করে দেয়। পরে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের চাতালে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নেবার জন্য জেলা যুবদলের সভাপতিসহ সাধারণ সম্পাদক নাদিম আহমেদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা রওয়ানা হয়। কিন্তু জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক নাগেশ্বরীর বাসিন্দা সাইফুর রহমান রানার সমর্থিত কিছু যুবদল কর্মী পথিমধ্যে ব্যাপারিহাট এলাকায় কুড়িগ্রাম থেকে আসা নেতাকর্মীদের পথরোধ করলে কথার একপর্যায়ে সংঘর্ষ ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হয়। পরে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং জেলার নেতাকর্মীদের ইফতার পার্টিতে যাবার সুযোগ করে দেয়। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাদিম আহমেদ বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি ন্যক্কারজনক। যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সাইফুর রহমান রানার সমর্থনপুষ্ট জেলার নেতাকর্মীদের পথরোধকারীদের একজন উপজেলা যুবদলের একাংশের আহ্বায়ক নুরুজ্জামাল হক। তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকেও একটি ইফতার পার্টি আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মোতাবেক জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক রানা ভাই ও আমি জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আমন্ত্রণ করেছিলাম। কিন্তু কে বা কারা উপজেলা যুবদলের ব্যানারে নাগেশ্বরী মহিলা কলেজে আরেকটি ইফতার পার্টির আয়োজন করে। সেটি আমরা পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বন্ধ করে দেই। তারপরও তারা একই সময়ে একটি চাতালে ইফতার পার্টির আয়োজন করে। সেখানে জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আসার খবর পেয়ে আমরা দক্ষিণ ব্যাপারিহাটে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে জেলা সভাপতিসহ জেলার নেতৃবৃন্দ আমাকে অপমানজনক কথাবার্তা বললে হাতাহাতি বেধে যায়। এ সময় আমিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছি। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তাই এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এছাড়া এ ঘটনায় যুবদলের পক্ষ থেকে কেউ আমাকে অভিযোগও করেনি। নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবিউল হাসান বলেন, ইফতার পার্টি আয়োজনকে কেন্দ্র করে যুবদলের দু'গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে এই বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। একজন আহত হওয়ার কথা পরোক্ষভাবে শোনা গেছে। | 6 |
মৌলভীবাজারের কোদালীপুল-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ১৪ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁদের আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন-কুতুপালং ৮ নম্বর ক্যাম্প, ব্লক-৫৯ এর একই পরিবারের মো. হামিদ হোসেন (৫০), হারুন (১৮), জুনায়েদ (১৪), ওসমানগনি (১০), ওমর ফারুক (১৬ মাস), নূর বেগম (৯), নূর কায়দা (৭) ও সাদিয়া ফাতেমা (৩)। কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্প, ব্লক-ই ৩৮ এর একই পরিবারের শফিক (২২), মিনারা (২০) ও রিয়াজ (৫ মাস)।এ ছাড়াও রয়েছেন-কুতুপালং ৮ ক্যাম্প, ব্লক-৩৮ এর আজিজুল হক (২৫)। কুতুপালং ৮ নং ক্যাম্প, ব্লক-৫৮ এর নূর হাসান (৩১)। বালুখালি ক্যাম্প, ব্লক-এ ৩২ এর সোনালি (৫১)।জানা গেছে, গত ৫ দিন আগে দুই পরিবারের ১১ জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারের কুতুপালং এবং বালুখালি ক্যাম্প থেকে মৌলভীবাজারে আসেন। তাঁদের সঙ্গে ৬ শিশুও রয়েছেন। এ ছাড়া তাঁদের সঙ্গে আরও ৩ জন রোহিঙ্গাও আছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এর আগে তাঁরা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে আসেন। সেখান থেকে কাজের খোঁজে মৌলভীবাজারে এসেছেন।মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জিয়াউর রহমান জানান, আজ সন্ধ্যায় কোদালীপুল-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মৌলভীবাজার মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। | 6 |
কুমিল্লায় ২০২১ সালে প্রতি তিন মাস অন্তর মোট চার ভাগে যক্ষ্মা রোগী ছিল ১১ হাজার ৭১৪ জন। এর মধ্যে বছরের শেষ ৩ মাসে ছিল ২ হাজার ৪২৫ জন। যক্ষ্মা রোগী শনাক্তকরণ ও রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় এ তথ্য জানায়।গতকাল মঙ্গলবার নগরীর কান্দিরপাড়ের একটি পার্টি সেন্টারে এ সভা হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব) কুমিল্লা জেলা শাখা।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নাটাব কুমিল্লার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন।নাটাব কুমিল্লা শাখার সহসভাপতি আবুল হাসানাত বাবুলের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাদা এমরানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের প্রধান আতোয়ার রহমান, কুমিল্লা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইয়াসমির রীমা, নাটাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাছুম, সদস্য আশোক বড়ুয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাসেল আহম্মেদ চৌধুরী।জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সাইক বিন আলম জানান, ২০২০ সালে প্রতি তিন মাস অন্তর মোট চার ভাগে যক্ষ্মা রোগী ছিল ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ২৪২ জন।বক্তব্যে সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বলেন, যক্ষ্মা সবার সহযোগিতায় নির্মূল করতে হবে। | 6 |
কয়েক দিন পরেই বড় ভাইয়ের বিয়ে। গায়েহলুদে যাবে বলে শাড়ি কিনেছিল প্রীতি সাহা। কিন্তু বিয়ে আর গায়েহলুদের আগেই বিদায় নিতে হলো তাকে। ৬ জানুয়ারি কলেজে যাওয়ার পথে ইজিবাইক থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পায় সে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর গত শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রীতি মারা যায়। শেষ বিদায়ে তার গায়ে জড়িয়ে দেওয়া হয় হলুদরাঙা সেই শাড়ি।প্রীতি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক তপন কুমার সাহার মেয়ে। সে সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত।বাবা তপন কুমার সাহা জানান, ৬ জানুয়ারি কলেজে যাওয়ার পথে ফারাসপুর বটতলা নামক স্থানে ইজিবাইক থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পায় প্রীতি। এরপর নেওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে তাকে যশোর, পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মাথায় অপারেশনও করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাতে মারা যায়।প্রীতির ভাই সবুজ কুমার সাহা বলেন, 'আমার বিয়ে উপলক্ষ করে ছোট বোন খুব আনন্দ করছিল। গায়েহলুদে যাবে বলে শাড়ি কিনেছিল কিন্তু তার আগেই বোনকে চলে যেতে হলো। তবে শেষ বিদায়ের আগে তার গায়ে কেনা পছন্দের হলুদ সেই শাড়ি জড়িয়ে দেওয়া হয়। | 6 |
বিএনপির সংগঠনগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তাঁর অভিযোগ, কাজ না করে নেতাদের মন রক্ষা করে পদ-পদবি বাগিয়ে নেওয়ার একটা অনৈতিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে সংগঠনগুলোতে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।মির্জা আব্বাস বলেন, 'পদ-পদবির জন্য আমরা নেতাদের বাড়িতে দৌড়াই নাই। পদ-পদবি আমাদের পেছনে দৌড়াইছে। কারণ আমরা পদ-পদবি ছাড়াই কাজ করেছি। এখন সত্যি কথা বলতে, ওই দিন বিএনপির এক নেতা বলল যে ভাই, এখন হাট খায়, বাজার খায়, তারপরে কি বলে টাকা খায়, বিকাশ খায়। আমি কিছু বুঝি নাই। কি কয়! আমার জীবনে এই সমস্ত ডায়লগ শুনি নাই। ব্যাখ্যা জানতে চাইলে বলেন, না, বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠায় তো। আমাদের সংগঠনগুলোর মধ্যে অনেকেরই এই বাজে অভ্যাসটা হয়ে গেছে। অনৈতিক একটা ব্যবস্থা চালু হয়েছে।'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের রোগমুক্তি কামনায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল (ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সম্পর্কে মির্জা আব্বাস বলেন, 'যে সমস্ত আওয়ামী লীগের নেতারা কাচের ঘরে বসে ঢিল ছুড়ছেন, তাদের বলব যে, দয়া করে কাচের ঘর থেকে বাইরে আসেন। পুলিশ বাহিনী, পেটোয়া বাহিনী নিয়ে চলাফেরা না করে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেন। দেখেন না, দেশের মানুষ আপনাদের ফুল দেয়, না থুতু দেয়। আপনাদের গায়ে থুতু ফেলবে।'এ সময় সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, আমাদের সামনে খুব একটা সময় নাই। আগামী দিনের আন্দোলনের জন্য সাহস এবং শক্তি সঞ্চয় করুন, সংগঠনকে শক্তিশালী করুন। এই সরকারের পতনের ব্যবস্থা করতে হবে। | 9 |
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নাচোল বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফ আহম্মেদ। নাচোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাঁকে দল ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে একটি পক্ষ। ওই পক্ষ আজ সোমবার সকালে মানববন্ধন করে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। কাদেরের সমর্থকেরা এই কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দিলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। মানববন্ধন করে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল নাচোল উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হোসেন ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন পক্ষ। আবদুল রশিদ খান বলেন, আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও নানা দুর্নীতির অভিযোগ আছে। তাঁকে দল ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল। তবে উপজেলা প্রশাসন থেকে ১৪৪ ধারা জারি করায় তা স্থগিত করা হয়েছে। তবে তাঁরা ইউএনওকে স্মারকলিপি দেবেন। তিনি দাবি করেন, আবদুল কাদেরের কুকর্মের জন্যই সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নাচোল উপজেলার ইউপি নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হয়েছে। দলের কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থীই নির্বাচিত হননি। সম্প্রতি আবদুল কাদেরের সঙ্গে এক নারীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এর পর থেকে তাঁকে দল ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে সোচ্চার হয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাংশ। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় কমিটিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটি চিঠি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওদুদ। এ ব্যাপারে আবদুল কাদের মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে নেওয়া কর্মসূচি বন্ধ হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।' | 9 |
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উলফাত আরা তিন্নীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মেলেনি বলে সোমবার রাতে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার। তিনি বলেন, তিন্নীর ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ধর্ষণের কোন আলামত মেলেনি। আর এটি ছিল আত্মহত্যা। চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট থানায় হস্তান্তর করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তিন্নীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। রাত ১২ টার দিকে ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিন্নী ঝিনাইদহের শৈলকুপার শেখপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত ইউসুফ আলীর মেয়ে। স্বজনদের অভিযোগ, তিন্নীর বোনের সাবেক স্বামী শেখপাড়া গ্রামের কুনুরুদ্দীনের ছেলে জামিরুল ও তার তিন সহযোগী জোর করে তিন্নীদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এসময় তিন্নীর শোবার ঘরে ঢুকে তার শ্লীলতাহানি করায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। ঘটনায় গত শুক্রবার তিন্নীর মা হালিমা বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। | 6 |
শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজেবিজ্ঞান বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের একাধিক বিষয়ে দীর্ঘদিন কোনো শিক্ষক না থাকায় শিক্ষক নিয়োগ ও নিয়মিত ক্লাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার সকাল ১০টার দিকে শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের আশ্বাসে তারা ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করে। কলেজ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ভূগোল, কৃষি শিক্ষা, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা, গণিত ও আইসিটি বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই। শিক্ষক নিয়োগ ও নিয়মিত ক্লাসের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকটি বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় তারা কোনো ক্লাস ও ব্যবহারিক পরীক্ষা করতে পারেন না। এসব সমস্যার কথা কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের এ আন্দোলন। তারা জানান, আন্দোলন চলাকালে উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার মোশারফ হোসেন, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুস সোবহান, ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুন্নবী কালু, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহসিন হোসেন শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হয়ে শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন স্থগিত করেন। শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুস সোবহান জানান, বর্তমানে কলেজে শিক্ষকের ২৮টি পদের মধ্যে ১১টি পদই শূন্য। ভূগোল, কৃষি শিক্ষা, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা, গণিত ও আইসিটি বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। দাবি পূরণে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ স্থগিত করে। | 6 |
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার স্মরণে বাতি নিভিয়ে এক মিনিট ব্ল্যাক-আউট কর্মসূচি পালন করলো দেশবাসী। রবিবার রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। 'অপারেশন সার্চলাইট' নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা। বিডি-প্রতিদিন/২৫ মার্চ, ২০১৮/মাহবুব | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.