text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
কলম্বিয়ায় যে মাদক ব্যবসায়ীকে বহুদিন ধরে খোঁজা হচ্ছিল এবং যে দেশটির সবচেয়ে বড় অপরাধী চক্রের প্রধান, সেই মাদক সম্রাটকে অবশেষে ধরতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে শনিবার দাইরো আন্তোনিও উসুগাকে আটক করা হয়, যিনি অ্যাতোনিয়েল নামেই বেশি পরিচিত। তাকে আটকের পর একটি টেলিভিশন বার্তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইভ্যান ডুকে। ''এই শতকের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এটা সবচেয়ে বড় আঘাত,'' তিনি বলছেন। ''একে শুধুমাত্র নব্বইয়ের দশকে পাবলো এসকোবারের পতনের সঙ্গে তুলনা করা যায়।'' পানামা সীমান্তবর্তী অ্যান্টিকোয়া প্রদেশের প্রত্যন্ত আস্তানা থেকে অ্যাতোনিয়েলকে আটক করা হয়। এখনো এই অভিযানের বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই অভিযানে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনী পরবর্তীতে একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় যে, হাতকড়া লাগানো অ্যাতোনিয়েলকে সৈনিকরা পাহারা দিয়ে রেখেছে। ৫০ বছর বয়সী এই মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসংখ্য অভিযান চালানো হয়েছে, যেসব অভিযানে হাজার হাজার কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। কিন্তু কোন অভিযান সফল হয়নি। দশ বছর আগে নববর্ষের পার্টিতে পুলিশের একটি অভিযানে তার ভাই নিহত হওয়ার পর গালফ ক্ল্যানের প্রধান হয়ে ওঠেন অ্যাতোনিয়েল, যেটি আগে উসুগা ক্ল্যান নামে পরিচিত ছিল। কলম্বিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই দলটি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অপরাধী চক্র। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের বর্ণনা অনুযায়ী, 'এরা হচ্ছে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত চরম সহিংস একটি দল।'' কলম্বিয়ার অনেকগুলো প্রদেশে এই চক্রটি বিস্তৃত। তাদের বিদেশেও ভালো যোগাযোগ রয়েছে। এরা মাদক ব্যবসা, মানব পাচার, অবৈধভাবে সোনা আহরণ এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ধারণা করা হয়, এই দলে ১৮০০ সশস্ত্র সদস্য রয়েছে, যাদের চরম ডানপন্থী আধাসামরিক বাহিনীগুলো থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, হন্ডুরাস, পেরু এবং স্পেন থেকেও এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি রাশিয়া মাদক পাচারের রুটগুলো নিয়ন্ত্রণ করে এই চক্রটি। তবে কলম্বিয়ার সরকার মনে করে, সাম্প্রতিক সময়ে তারা এই দলটিকে অনেকটাই দমন করতে পেরেছে। কারণ তাদের অভিযানে এদের অনেক নেতা জঙ্গলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় লুকাতে বাধ্য হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার, পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যা এবং শিশুদের নিয়োগ দেয়ার মতো অনেকগুলো অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে অ্যাতোনিয়েলকে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিচারে অভিযুক্ত হয়েছেন অ্যাতোনিয়েল। ফলে তাকে বিচারের জন্য বহিঃসমর্পণ চাইতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। সেক্ষেত্রে তাকে নিউইয়র্কের আদালতেও হাজির হতে দেখা যেতে পারে। সূত্র : বিবিসি বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
'পরিচ্ছন্ন মানসিকতা, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ' স্লোগানে মুক্তির উৎসব ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী মেলা উপলক্ষে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে গৌরীপুর ক্লিন আপ। সাত দিনব্যাপী এ মেলায় আগত মানুষের ফেলে যাওয়া বর্জ্য পরিষ্কার করেছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, যথাস্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রচারণাও চালাচ্ছে গৌরীপুর ক্লিন আপের সদস্যরা। হাতে লেখা পোস্টারে লেখা রয়েছে নিজের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে নানা স্লোগান।সাত দিনের এ মেলা গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। মেলা চলাকালে কিছু তরুণ-তরুণীকে দেখা যায়, একহাতে ঝাড়ু অন্য হাতে বেলচা। প্রথম দেখায় যে কেউ ভাববে, ওরা হয়তো অনুষ্ঠান করার জন্য জায়গা পরিষ্কার করছে। তবে ঘটনা তা নয়। তাঁরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একঝাঁক শিক্ষার্থী। লাবণ্য চেহারার এই তরুণদের চোখের দিকে তাকালে দেখা যায়, স্বপ্নময় নয়নে তারুণ্যের আলোক জ্যোতি টলমল করছে। ওরা সবাই গৌরীপুর ক্লিন আপের সদস্য।কয়দিন আগেও তাঁদের অনেকেই হয়তো বাসার কোনো কাজে হাত দেননি, হাত নোংরা হওয়ার ভয়ে। তবে আজ তাঁরা শহরের রাস্তা ও অলিগলি পরিষ্কার করছেন পরম যত্নে। কোনো জড়তা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই আচরণে ও কাজে। চেহারায় নেই কোনো বিরক্তির চাপ। একে অপরের প্রতি বাড়িয়ে দিচ্ছে সহযোগিতার হাত।নিজের শহরকে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে ওরা পথে নেমে এসেছে, কোমল হাতে তোলে নিয়েছে ঝাড়ু ও বেলচা। এখন সময় এসেছে সবার শপথ নেওয়ার, নিজের বাড়ি, শহর কিংবা গ্রাম, নোংরা না করার। সবাই মিলে চাইলে একটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুন্দর শহর উপহার দিতে পারি পরবর্তী প্রজন্মকে, এটাই ওদের প্রত্যাশা।গৌরীপুরে ক্লিন আপ যাত্রা শুরু করছে প্রায় দুই বছর আগে। ইতিমধ্যে করোনা মোকাবিলায় মাস্ক বিতরণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছেন তাঁরা।এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু চত্বর, উপজেলা পরিষদ চত্বর, প্রেসক্লাব আঙিনা, সরকারি কলেজ, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, থানার আঙিনা, সাবরেজিস্ট্রার দপ্তর, রেল স্টেশন, পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পৌর এলাকায় অবস্থিত স্কুল সমূহে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালিয়েছে ক্লিন আপ।গৌরীপুর ক্লিন আপের কো-অর্ডিনেটর সাব্বির আহমেদ খান বলেন, 'পরিচ্ছন্ন শহর গড়াই আমাদের লক্ষ্য।' সহকারী কো-অর্ডিনেটর নার্গিস সুলতানা, মেন্টর শাহাদাত আলম, ওয়েলকাম টিম লিডার আল রাজিন, সদস্য ইমন আহমেদ, নাসরিন মনি সুপ্তি, রিয়াদ হাসান রানাসহ সব সদস্য তাঁর সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। | 6 |
কাউনিয়া সদর বাজারে হঠাৎ করে একটি বানরের আগমন ঘটেছে। ক্ষুধার্ত বানরটি আতঙ্কে দোকানের টিনের চালে চালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার থানা রোডে এ দৃশ্য দেখা গেছে।ব্যবসায়ীরা জানান, বানরটি গতকাল সকালে বাজারে প্রবেশ করে। লোকজন একে সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়সংলগ্ন ইদ্রিস মিয়ার মার্কেটের ছাদে দেখতে পান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে আসা উৎসুক লোকজন বানরটি দেখতে ভিড় জমান। এ সময় এটি থানা রোডের মার্কেটের একটি দোকানের টিনের চালে আশ্রয় নেয়।ব্যবসায়ী শফিকুল ও আব্দুর রাজ্জাক জানান, বানরটিকে দেখে খুব ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছিল। এটি খাবারের আশায় বারবার মাটিতে নেমে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু মানুষের ভিড় দেখে আবার ভীত হয়ে দোকানের চালে উঠে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।ব্যবসায়ী মিন্টু রায় বলেন, বাজারে আসা কেউ কেউ একে দূর থেকে কলাসহ বিভিন্ন ফল ও শুকনো খাবার দেন। ভয় ও আতঙ্কের মধ্যেও বানরটি ক্ষুধা নিবারণে এসব খাবার খেয়েছে।বাজারে আসা অনেকেই বলেছেন, ভবঘুরে বানরটি ক্ষেপে গেলে মানুষের ক্ষতি করতে পারে। জরুরিভিত্তিতে একে উদ্ধার করা প্রয়োজন।উপজেলা সামাজিক বনায়ন কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, খোঁজ নিয়ে ভবঘুরে বানরটি উদ্ধারে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তাকে জানানো হবে। | 6 |
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১৬ এবং ২০১৯ এই তিন বছরের ব্যবধানে ধর্ষণের বিচারে গতি আনতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। বর্তমান সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্ট, পুলিশ এবং সরকারি প্রসিকিউশন ধর্ষণ দমনে কীভাবে বাস্তবে কাজ করেন, সেটি এতে ফুটে উঠেছে। ২০১৬ সালে মিলাদ হোসেন বনাম রাষ্ট্র মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ ১৮০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার বিচার না হওয়া এবং সে কারণে কোনো জবাবদিহি না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কিন্তু তাতে সংশ্লিষ্টরা একদমই কর্ণপাত করছেন না। হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৯ সালে রাহেল ওরফে রায়হান বনাম রাষ্ট্র মামলায় এসেও বলেন, 'আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে যে দেশের বিভিন্ন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ধর্ষণ এবং ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা সম্পর্কিত মামলা বিচারের জন্য অপেক্ষমাণ।' যার মধ্যে চার-পাঁচ বছরের পুরোনো মামলার সংখ্যাও 'নেহাত কম নয়'। এসব মামলার অভিযোগ গঠনে বিলম্ব এবং ধার্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী উপস্থিত না হওয়া, বিরামহীনভাবে শুনানি না করা, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দুই থেকে পাঁচ মাস পরপর তারিখ নির্ধারণে হাইকোর্টের উদ্বেগ প্রকাশ পায়। আইনের বিধান হলো, ১৮০ দিনে ধর্ষণ মামলার বিচার শেষ করতে ব্যর্থ হলে বিচারক, পুলিশ ও প্রসিকিউটর যথাক্রমে সুপ্রিম কোর্ট, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা (পুলিশ ও প্রসিকিউটরের ব্যাখ্যার অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া বাধ্যতামূলক) করবেন। সংশ্লিষ্টরা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু হাইকোর্ট দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করেন, দু-একটা বিরল ব্যতিক্রম বাদে এই বিধানের আদৌ কোনো কার্যকরতা নেই বাস্তবে। হাইকোর্ট বিভাগ এরপর বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করাই এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এখানে আমরা দেখব যে হাইকোর্ট বলেননি এবং সমাজের সুচিন্তিত মত এটা নয় যে মৃত্যুদণ্ড না থাকাই ধর্ষণ বাড়ার কারণ। বরং হাইকোর্ট ২০১৬ সালে ও ২০১৯ সালে নির্দিষ্টভাবে দুটি কমিটি গঠনের উপায় বাতলে দেন। একটির দায়িত্ব ছিল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের। অন্যটি জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। আমাদের জানামতে, কেউ দায়িত্ব পালন করেননি। ২০১৬ সালের আদেশ ছিল, হাইকোর্ট রেজিস্ট্রার এবং আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার দুজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। তাঁরা ১৮০ দিনে বিচার না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নিয়মিত রিপোর্ট দেবেন। এই কমিটি হয়নি। ২০১৯ সালে তাঁরা সাক্ষীর উপস্থিতি ও নিরাপত্তায় প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ও সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ও প্রসিকিউশনের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের আদেশ দেন। কমিটিকে প্রতি মাসে রিপোর্ট দিতে বলেন। সমন জারির পরও সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডাক্তারদের দরকারে বেতন বন্ধের সুপারিশও তাঁরা করেছিলেন। হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ডিসেম্বরেই বলছেন, আমাদের অভিজ্ঞতা হলো যে ধর্ষণসংক্রান্ত মামলার আসামিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেপরোয়া ও দুর্দান্ত। তারা বিভিন্ন ধরনের অপকৌশল অবলম্বন, ক্ষেত্রবিশেষে সামাজিক বিচার করে ভিকটিম পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য এবং আদালতে সাক্ষ্য প্রদানে বিরত থাকতে চাপ দিয়ে থাকে। তাই হাইকোর্ট বলেন, আমাদের সুচিন্তিত অভিমত এই যে অবিলম্বে সাক্ষী সুরক্ষা আইন তৈরি হোক। সেই আইন কেউ দিচ্ছে না। এখন সরকার একটি নতুন আইনের পথে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সেখানে 'মৃত্যুদণ্ড' বিষয়টি থাকবে। সংবাদমাধ্যমে এর বড় শিরোনাম হবে। অনেকেই আশা করবেন এতে অপরাধীরা বেশি ভয় পাবে। কিন্তু বিশ্বের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে আমরা দেখব এভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো ধর্ষণ ঠেকানোর কথা ভাবেনি। ভেবেছে, উত্তর কোরিয়া, ইরান, মিসরের মতো অল্প কিছু দেশ। ভারত সম্প্রতি শিশু ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুদণ্ড এনেছে। অনেকে অবশ্য বলবেন, এর একটি ধর্মাশ্রয়ী সাংস্কৃতিক অভিঘাতও আছে। শরিয়া আইনের একটি শর্ত কাগজে-কলমে আসাটাকেও একটা 'অগ্রগতি' হিসেবে দেখবেন অনেকে। কিন্তু একজন ধর্ষক যখন এই জঘন্য কাজ করে, তখন কি তার মাথায় এটা থাকে যে এই কাজের জন্য তার মৃত্যুদণ্ড হবে না, হবে বড়জোর যাবজ্জীবন, তাই নো চিন্তা। তাই তারা ধর্ষণ করে। এমসি কলেজের ছাত্রলীগের ধর্ষকেরা যদি জানত তাদের মৃত্যুদণ্ড হবে, যাবজ্জীবন নয়, তাহলে তারা অপরাধ করত না? বর্তমান বাস্তবতায় ১৮০ দিনে জাতি ধর্ষকদের যাবজ্জীবন দেখে না, শাস্তি ফাঁসি হলে কি তা দেখবে? ধর্ষণের মাধ্যমে হত্যার ঘটনায় ১৯৯৫ সালে বিএনপি বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছিল। সেটা কি অপরাধ ঠেকিয়েছিল? ওই আইন পাঁচ বছর টিকেছিল। ২০১৫ সালে শুকুর আলীর মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ড অসাংবিধানিক। কারণ তা বিচারকের স্বাধীনতাকে হরণ করে। আশা করি সংসদ এটা মনে রাখবে। আমাদের মনে রাখতে হবে অপরাধবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে কী দেখেছেন। তাঁরা দেখেছেন, যারা ধর্ষণ করে তারা সাধারণত ভিকটিমের জানাশোনা বা পূর্বপরিচিত থাকে। এবং তারা পরস্পরকে চিনে ফেলে। এখন যদি ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ড করা হয়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বরং এটা নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে কি না, সেটা বিবেচ্য। কারণ সমীক্ষা বলছে, যদি অপরাধী এটা বিবেচনায় নেয় যে মেয়েটি সাক্ষী হয়ে গেল এবং সে মুখ খুলতে পারে, তখন তাকে মেরে ফেলবে। গবেষকেরা আরও দেখেছেন, হত্যা নয়, ধর্ষণ সিরিয়াল অপরাধ। খুনের পর অপরাধীর চূড়ান্ত জিঘাংসা চরিতার্থ হয়। ধর্ষণে সেটা ঘটে না। তাই বিশ্বে সিরিয়াল সেক্স অফেন্ডারের সংখ্যা বেশি। একজন সিরিয়াল অপরাধীর মনস্তত্ত্ব হচ্ছে সে বিষয়টিকে ধর্ষণ মনে করে না। সে ভাবে যে কার্যত মেয়েটির সম্মতিতেই সে ধর্ষণ করেছে। মেয়েরা মুখে না বলে থাকে মাত্র। এ কারণে উন্নত বিশ্বে যৌন অপরাধীদের ডেটাবেইস থাকে। তারা সাজার পরে খালাস পেলেও পুলিশ এলাকাবাসীকে তার বিষয়ে সজাগ রাখে। মন্ত্রিসভা যে সংশোধন আনছে, তা আনা ছাড়া তাদের পক্ষে দ্রুত সম্ভবত আর কিছুই করে দেখানো সম্ভব নয়। কিংবা করার সক্ষমতা নেই। এরপরও যখন অবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে, তখন তারা কী বলবে? তবে বড় প্রশ্ন, আমরা নারীর নিরাপত্তার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি কি না, পারব কি না, পারতে চাই কি না? যেসব ক্ষেত্রে 'মৃত্যুদণ্ড' রয়েছে, সেই সব অপরাধ হচ্ছে কেন? কেউ কি যুক্তি দিয়ে বলবেন, মৃত্যুদণ্ড নেই বলেই ধর্ষণ বেড়ে গেছে? বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোনো শিশু বা নারীর মৃত্যু ঘটলে মৃত্যুদণ্ড, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি নষ্ট বা মুখমণ্ডল, স্তন বা যৌনাঙ্গ বিকৃত বা নষ্ট করা হলে মৃত্যুদণ্ড। পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য, মুক্তিপণ বা পাচার করলে মৃত্যুদণ্ড। ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ বা ওই ধর্ষণ-পরবর্তী অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে অভিযুক্ত প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। এটা প্রমাণিত যে এই মৃত্যুদণ্ডগুলো অপরাধ কমাতে পারেনি। দলবদ্ধ ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড আমরা স্মরণ করতে পারি না। ধর্ষণের দায়ে 'মৃত্যুদণ্ড' শব্দটি আইনে নেই। এটা লিখলেই ষোলো কলা পূর্ণতা পাবে? মিজানুর রহমান খান : প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক [] | 8 |
এ বছর দুনিয়াজুড়ে পালিত হচ্ছে 'ইমাজিন' গানের সুবর্ণজয়ন্তী। ১৯৭১ সালে বিশ্বব্যাপী হানাহানির মধ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছিল জন লেননের এই গান। একটা সাদা পিয়ানো, সংগত বলতে এই, আর কোনো যন্ত্র নেই। রক অ্যান্ড রোলসের সেই ঝাকানাকা যুগে আড়ম্বরহীন সাদাসিধে এ গানই কথার জোরে কাঁপিয়ে দিল পুরো বিশ্বকে। জন লেননের জন্মদিনে গানটি নিয়ে থাকল ছোট আয়োজন। বেঁচে থাকলে আজ ৮২ বছর ছুঁতেন জন লেনন। কথাটা কি ভুল হলো? লেনন কি মারা গেছেন? শিল্পীর কি মৃত্যু হয়? মারাই যদি যাবেন, করোনাকালে হোম আইসোলেশনে 'ইমাজিন' কেন গাইবেন হলিউড তারকা গ্যাল গ্যাদত? পৃথিবীর সব প্রান্তে যত দিন না প্রতিষ্ঠা পাবে শান্তি, তত দিন প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে জন লেননের এই গান। এভাবেই তিনি বেঁচে থাকেন, আছেন। লিভারপুলে জন্ম। জাহাজঘাটের ছেলেটি জীবনকে ছুড়ে দিলেন গানে। ষাটের দশকে সংগীতজগৎকে মাতিয়ে তোলা চার তরুণ তুর্কির একজন লেনন। বিটলস হিসেবে আমরা যাঁদের চিনি। প্রায় এক দশক ধরে আশ্চর্য সব গান করার পর একসময় ভেঙে গেল বিটলস, শুরু হলো লেননের একলা পথচলা। সঙ্গী স্ত্রী ইয়োকো ওনো। সত্তরের দশকের প্রথম ভাগ। ১৯৭১ সাল। যুদ্ধবিগ্রহে বিধ্বস্ত বিশ্ব। গানে শান্তির পায়রা ওড়ালেন লেনন। জন্ম নিল 'ইমাজিন'। যুগ যুগ ধরে যে গান হয়ে থাকবে শান্তির প্রতীক। এই গানে আসলে কী চেয়েছেন লেনন? চেয়েছেন এমন এক পৃথিবী, যেখানে কোনো যুদ্ধ নেই, নেই ক্ষুধা বা দারিদ্র্য, নেই মানুষে মানুষে বিভেদ। এমনকি নেই কোনো ধর্ম, স্বর্গ বা নরক। এক আকাশের নিচে সব। নেই কোনো সীমান্তরেখা। ৫০ বছর আগে লেখা সেই গানের প্রাসঙ্গিকতা কি আজকের দুনিয়ায় কোনো অংশে কম? আমরা কি পেয়েছি লেননের কাঙ্ক্ষিত সাম্যের পৃথিবী? সত্তর দশকের শুরুর দিকে গানটি লিখেছিলেন লেনন। সেটি ছিল লেননের ক্যারিয়ারের অদ্ভুত এক সময়। বিটলস ভাঙছে। স্ত্রীর জন্মদিনে উপহার হিসেবে একটি সাদা পিয়ানো নিয়ে এলেন লেনন। সেই পিয়ানোতেই তৈরি হলো 'ইমাজিন'-এর সুর। তাঁর স্ত্রী ইয়োকো ওনোও শিল্পী। গানের কথা ও ধারণায় ওনোর কাছে প্রচণ্ডভাবে ঋণী লেনন। কিংবা বলা যায়, তখন দুজনের যৌথ চিন্তার ফসল যেন এই গান। গান লেখার সেই সময়কে এভাবে স্মরণ করেন লেনন, 'এই গান মূলত ইয়োকোর গ্রেপফ্রুট-এর অনুপ্রেরণায় লেখা। বইটির মধ্যে অনেকগুলো জায়গায়ই এটা বলা ছিল, "ইমাজিন দিস, ইমাজিন দ্যাট"।' ইয়োকো ওনোর ভাষায়, 'জন ও আমি দুজনই শিল্পী। ও প্রতীচী, আমি প্রাচ্য। আমরা একসঙ্গে থেকেছি। আমরা পরস্পরের অনুপ্রেরণা। আর "ইমাজিন" গান জানিয়ে দেয়, আমরা একসঙ্গে কী ভাবছি।' ঊনবিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকের প্রথম ভাগ। ভিয়েতনামে তখনো যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে মত্ত। আর লেনন তখন বিশ্বকে একটা ভিন্ন চোখে দেখার স্বপ্ন বুনছেন। ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ব্যান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অর্থ-খ্যাতিকে পাশ কাটিয়ে শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়লেন তিনি। তবে এটাই তাঁর প্রথম শান্তির সন্ধান নয়। ষাটের দশকের শেষ থেকেই মানবতার পথ খুঁজছিলেন লেনন। ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে লিখলেন 'গিভ পিস আ চান্স' (শান্তিকে দাও একটা সুযোগ)। সেই ধারাবাহিকতারই পরিণতি যেন একাত্তরের 'ইমাজিন'। বলে রাখা ভালো, সেই সময়ের জীবনযাপন যে তাঁর গানে প্রতিভাত হতো, তার বড় উদাহরণ 'বেড-ইন ফর পিস'। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন ধরনের প্রতিবাদ শুরু করেন লেনন-ওনো। যেখানে তাঁদের দাম্পত্যজীবনের অন্তরঙ্গ সব খুঁটিনাটি খোলামেলাভাবে দেখতে সবাইকে নিজেদের শোবার ঘরে আমন্ত্রণ করেছিলেন তাঁরা। যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির পক্ষে এটাও ছিল তাঁদের এক অভিনব প্রতিবাদ। শান্তির পথে দুজনের এমন সব চিন্তার ফসলই কি জন্ম দিয়েছিল 'ইমাজিন'? ভাবনা জাগায় মনে। পরের ৫০ বছর এই গান শুধু আমজনতাকেই প্রভাবিত করেনি, বিখ্যাত সব শিল্পীর কণ্ঠেও বারবার ধ্বনিত হয়েছে। 'কাম ফ্রম দ্য শ্যাডোজ' অ্যালবামে গানটি গেয়েছিলেন জোয়ান বায়েজ। ২০০৫ সালে সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যার্থে ম্যাডোনা গেয়েছিলেন এই গান। এভাবে বিশ্ব যখনই শান্তির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, হাতিয়ার হয়ে পাশে এসে দাঁড়ায় 'ইমাজিন'। দিন দিন হয়ে ওঠে শান্তির প্রতীক। দেশে দেশে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সমান্তরালে মানুষ গ্রহণ করেছে এই গান। এ প্রসঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের একটি কথা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, 'বিশ্বের অনেক দেশে আপনি শুনে থাকবেন, জাতীয় সংগীতের সঙ্গে প্রায় সমানতালে গাওয়া হয় "ইমাজিন"।' | 2 |
যশোরের শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দলের ১৫ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।গতকাল রোববার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এই ১৫ বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন ডিহি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ওবায়দুল রহমান, হোসেন আলী, সাইদুর রহমান, আব্দুল জলিল; শামছুর রহমান, বাহাদুরপুরের মফিজুর রহমান, পুটখালীর নাছির উদ্দীন, গোগার তবিবুর রহমান, কায়বার আলতাপ হোসেন, বাগআঁচড়ার আব্দুল খালেক, উলাশীর আয়নাল হক, সোহরাব হোসেন, নিজামপুরে আশরাফুল আলম বাটুল, নিজামপুরের আমিনুর রহমান ও সেলিম রেজা বিপুল। | 6 |
শিবচরে গণ-উন্নয়ন সমবায় হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি আধুনিক বেসরকারি হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শিবচর পৌর বাজার এলাকায় হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের নামফলক উন্মোচন শেষে মোনাজাতের পর হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ও কার্যক্রম পরিদর্শন করেন চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী ও অন্য অতিথিরা। হাসপাতালের আধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত ও ডিজিটাল ল্যাবরেটরি, এক্স-রে আল্ট্রাসনোগ্রাম, আধুনিক মানের অপারেশন থিয়েটার, মা ও নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটগুলো পরিদর্শন করেন তাঁরা।উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনীর চৌধুরী, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্ল্যা, শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান, শিবচর পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান ও গণ-উন্নয়ন সমবায় হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল হাশেম মিয়া। | 6 |
পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস মানবজাতির ইতিহাসে 'কালো দিবস'। দেশটির সেনাবাহিনী অব্যাহতভাবে হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, মানুষকে ধর্মান্তরিত এবং বেলুচদের জমি দখল করে যাচ্ছে। বেলুচ পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারপারসন নায়লা কাদরি বেলুচ এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেছেন। নায়লা কাদরি বেলুচ আরও বলেন, তাদের (পাঞ্জাবিরা) স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের কোন মানে নেই। পাকিস্তানের দ্বারা বেলুচিস্তান দখলকৃত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান যেহেতু স্থলবেষ্টিত দেশ ছিল তাই তাদের বেলুচিস্তান দখল করা প্রয়োজন ছিল। বেলুচদের জন্য ১৪ আগস্ট হলো নিকৃষ্ট দিন, মানব ইতিহাসের গণহত্যার দিনগুলির মতো সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। বেলুচ, সিন্ধি, পশতুন, মহাজিরি, কাশ্মীরী, বালতি, খ্রিস্টান ও হিন্দুরা পাকিস্তানে বন্দীর জীবনযাপন করছে অভিযোগ করে নায়লা কাদ্রি বলেন, এখানে সেনাবাহিনীই একমাত্র স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কেবল তারাই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে; কারণ হত্যা, ছিনতাই, ধর্ষণ, মানুষকে ধর্মান্তরিতকরণ এবং তাদের জমি বিক্রি ও দখলের স্বাধীনতা রয়েছে সেনাবাহিনীর। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 3 |
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নওগাঁর দশ উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ভোটারদের উপস্থিতি কম হলেও এই জেলায় সকাল থেকে কেন্দ্রের সামনে নারী ও পুরুষ ভোটারদের লাইন দেখা গেছে। এদের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি বেশি। এদিকে, প্রতিটি কেন্দ্র নিরাপত্তা বলয়ের চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। জেলার ১০টি উপজেলার মোট ৬০৮টি ভোট কেন্দ্রে চলছে এই ভোট গ্রহণ। বিডি-প্রতিদিন/১৮ মার্চ, ২০১৯/মাহবুব | 6 |
জেলে আবু সালেহ আকন (৪৫)। খালে মাছ ধরার সময় তাকে থাবা দেয় বাঘ। কামড় ও থাবা খেয়েও বাঘের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছেন তিনি। লড়াই করে তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। আজ রবিবার সকালে বাগেরহাটের পূর্বসুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধরা এলাকার শুয়ারমারা খালে এ ঘটনা ঘটে। বাঘের আক্রমণে শরীরে ক্ষত নিয়ে মোংলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জেলে সালেহ। এখন তাকে দেখতে হাসপাতালে উৎসুক মানুষের ভিড় চমেছে। এতে অনেকটা বেকায়দায় পড়েছেন কর্তৃপক্ষ। 'বাঘের সঙ্গে একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে জড়ান আবু সালেহ। তিনি খালে লাফিয়ে পড়ে চিৎকার শুরু করলে আমিসহ অন্য জেলেরা ছুটে এলে বাঘটি বনের গহীনে চলে যায়। পরে আমি ও সালেহের চাচাতো ভাই আসাদুল সরদারসহ অন্যরা তাকে উদ্ধার করে দুপুরে মোংলা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করি।' মোংলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল হোসেন স্বর্ণ বলেন, 'জেলে সালেহের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বাঘের ৭টি কামড়, থাবা ও আঁচড়ের ক্ষত রয়েছে। তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) মেম্বার মাসুমা বেগম বলেন, 'সালেহ একজন পেশাদার জেলে। তার বাবাও জেলে ছিলেন। তিনি পাস পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে চরপাটা জাল দিয়ে মাছ ধরতে গেলে বাঘের আক্রমণের শিকার হন। সালেহ খুব সাহসী হওয়ায় বাঘের সঙ্গে ধস্তাাধস্তি করে প্রাণে বেঁচে এসেছেন।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
দীর্ঘ ১১ বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছেন জেমি সিডন্স। ১৯-২০ বছরের যে ছেলেগুলোকে রেখে গিয়েছিলেন তারা এখন দলের সিনিয়র সদস্য। অনেকের সময়ও হয়ে গেছে ক্রিকেটকে বিদায় বলার। কিন্তু তার আগে নিজেদের সেরা সময়ে আছেন বলে জানিয়েছেন জেমি সিডন্স। চট্টগ্রামে তামিম-মুশফিকের সেঞ্চুরি, ঢাকা টেস্টে ফিরে আবারও মুশফিকের সেঞ্চুরি। দলের হাল ধরতে শিখে গেছেন লিটন দাসও। প্রথম টেস্টে ৮৮ রানের পর দ্বিতীয় টেস্টে পেয়েছেন সেঞ্চুরি। ছাত্রদের এমন পারফর্ম তাকে বলতে বাধ্য করেছে, আগের বাংলাদেশ দল আর নেই। এসেছে অনেক পরিবর্তন। পেসারদের মাঝেও দারুণ উন্নতি দেখছেন জেমি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে দুর্দান্ত পারফর্ম করতে দেখা গেছে শরিফুল ইসলাম, এবাদত হোসেনদের।' পেসারদের নিয়ে জেমি বলেছেন, 'আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় বদলটা এসেছে পেস বোলারদের দিক থেকে, বাংলাদেশের এখন দুর্দান্ত কিছু পেসার আছে। এটা বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে তুলবে।'
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 12 |
এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের ক্যাডেট কলেজগুলোতে পাসের হার শতভাগ। এই কলেজগুলোর সব পরীক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আজ রোববার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের মোট ১২টি ক্যাডেট কলেজ থেকে এবার ৬২১ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৬২১ জনই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আইএসপিআর জানায়, এবার ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫০ জন, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫৩, মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫১, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৪, সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫১, রংপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫২, বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৯, পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫৩, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫২, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫১, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫৬ ও জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫৯ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এসব কলেজে শতভাগ পাসের পাশাপাশি সব পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশ করা হয়েছে। বেলা ১১টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল হস্তান্তরের পর তিনি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। পরে সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন শুধু এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫৭। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২২ জন। | 6 |
চীনের পর এবার আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে সহায়তায় অন্তত ৩০ টন খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে পাকিস্তান। মানবিক সাহায্যের অংশ হিসেবে এসব সামগ্রী জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রদূত। বৃহস্পতিবার কাবুলে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রীবাহী পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সি-১৩০ বিমানটি অবতরণ করে। এর আগে তালেবান সরকারকে ২০০ মিলিয়ন ইউয়ান (৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। জরুরি খাদ্য সরবরাহ ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সহায়তায় অর্থায়ন করতে এই ঘোষণা দিয়েছে চীন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
মিরপুর টেস্টে হার এড়াতে তৃতীয় সেশনে মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে ব্যাটিং করছেন সাকিব আল হাসান। এরই মধ্যে ফিফটি তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। আর এই ইনিংস খেলার পথে রেকর্ড বইয়েও নাম তুলেছেন সাকিব। ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ৪ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের ক্লাবে নাম লেখালেন তিনি।৪ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের এই ক্লাবে আছেন গ্যারি সোবার্স, ইয়ান বোথাম, কপিল দেব, জ্যাক ক্যালিস ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরিদের মতো কিংবদন্তিরা। তবে এদের সবার চেয়ে সাকিব এগিয়ে ম্যাচ সংখ্যার বিবেচনায়। ক্যারিয়ারে ৫৯ তম টেস্টে এসে এই মাইলফলকের দেখা পেলেন তিনি।৬৯ তম টেস্টে এসে ৪ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের ডাবলস ছুঁয়েছিলেন বোথাম। সোবার্সের লেগেছিল ৮০ ম্যাচ, আর কপিল দেব এই ক্লাবে ঢুকতে লেগেছে ৯৭ ম্যাচ। ১০১ ম্যাচে ভেট্টোরি আর ১০২ ম্যাচে এসে এই মাইলফলকের দেখা পেয়েছেন ক্যালিস।দ্রুত ৪০০০ রান ও ২০০ উইকেটের ডাবলস১. সাকিব আল হাসান-৫৯২. স্যার ইয়ান বোথাম ৬৯৩. স্যার গ্যারিফিল্ড সোবার্স-৮০৪. কপিল দেব-৯৭৫. ড্যানিয়েল ভেট্টরি-১০১৬. জ্যাক ক্যালিস-১০২ | 12 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিত্যপণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের খাদ্যাভাসে যে পরিবর্তন এসেছে সে বিষয়েও কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে বেগুনের দাম ১১০ টাকার ওপরে চলে গেলো। সেটা এখন কমে ৮০ টাকায় এসেছে। তা বেগুন দিয়ে বেগুনি না খেয়ে আরও যেসব সবজি সহজলভ্য সেটা দিয়ে খেলেই হয়। আমরা তো তাই খাই। বেগুনি না বানিয়ে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে খুব ভালো বেগুনি বানানো যায়। আমরা এভাবে করি। সেভাবে করা যায়। আরও পড়ুন: যেভাবে বানাবেন মিষ্টি কুমড়ার 'বেগুনি'! বুধবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের তার বক্তব্যে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট, বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন। দ্রব্যমূল্যসহ জাতীয় জীবনের নানা সমস্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা যেসব কথা বলেছেন, আমাদের সংবিধান পাঠদান করিয়েছেন। তার প্রতিটির উত্তরই আছে। তার সবগুলোর জবাব দেবো। শেখ হাসিনা আরও বলেন, মোটা চালের দাম এখন ৪৬ টাকার মতো আছে। সেটা খুব বেশি বাড়েনি। চিকন ও মাঝারি চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। আলু পাইকারি বাজারে ২০ টাকা, খুচরা বাজারে ২৫ টাকা। পেঁয়াজের দামের জন্য এখন কৃষক হাহাকার করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একে তো কোভিড, তারপর ইউক্রেনে যুদ্ধ। সব ইউরোপে সাড়ে সাতভাগের ওপরে মূল্যস্ফীতি। কোনো কোনো দেশে ৮০ ভাগ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি হয়ে গেছে। এটা হয়েছে একটা করোনাভাইরাসের ধাক্কায়, আরেকটা যুদ্ধের ধাক্কায়। সেখানে বাংলাদেশে ছয় ভাগের নিচে আছে মূল্যস্ফীতি। বিরোধী দলের নেতা বলেছেন মাথাপিছু আয়ও যেমন বেড়েছে, একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যও বেড়েছে। এটা হলো বাস্তব। তিনি বলেন, এই করোনার ধাক্কার মধ্যেও আমরা প্রবৃদ্ধি ৬.৯৪% অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয়ও বেড়ে দুই হাজার ৫১১ মার্কিন ডলার হয়েছে। জিনিসের দাম বাড়লেও মানুষের আয় বেড়েছে। দারিদ্র্যসীমাও হ্রাস পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকতে বিদেশ থেকে কোনো জিনিস কেনার সময় ১০ টাকার জিনিস ২০ টাকায় কিনে বাকি ১০ টাকা পকেটে ঢোকাতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে সেটা হয় না। আমরা বরং দাম কমিয়ে আনি। এ সময় জিনিসপত্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ যাতে বেশি কষ্ট না পায় সেই পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। | 6 |
বার্সেলোনার হয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপাই জিতেছেন তিনি। নিজেকে ইতোমধ্যেই বার্সার সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন লিওনেল মেসি। তবে জাতীয় দলের হয়ে এলএম টেনের সাফল্যের খাতা একেবারেই শূন্য। আর্জেন্টিনার হয়ে বারবার ব্যর্থ হওয়ায় মেসির দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেম নিয়েই প্রশ্ন তোলেছেন নিন্দুকরা। তবে সমালোচকদের নিয়ে মোটেই ভাবনা নেই আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের। সমালোচনাকে সহজাত হিসেবেই দেখছেন আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার নাম্বার টেন।
বার্সেলোনার হয়ে একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েই চলেছেন মেসি। প্রায় প্রতি বছরই ন্যু-ক্যাম্পে সফলতা পাচ্ছেন এই খুদে জাদুকর। তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামলে আর সেই পারফরম্যান্সের প্রতিফলন দেখা যায় না।
২০০৮ সালে আর্জেন্টিনার যুব দলের হয়ে অলিম্পিকের সোনা জিতে দারুণ কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মেসি। তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামলেই যেন খেই হারিয়ে ফেলেন তিনি। ২০১৪ সালে প্রায় একক নৈপুণ্যে দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলেন কিং লিও। তবে ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে একেবারেই বিবর্ণ হয়ে পড়েন তিনি। ফলে ১-০ গোলে হেরে শিরোপার স্বপ্ন বিসর্জন দেয় আকাশী-নীল শিবির। এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালেও পরাজিত দলে থাকেন মেসি।
চিলির বিপক্ষে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে অফিসিয়ালকে গালি দেয়ার অপরাধে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা মুখে পড়েন মেসি। ফলে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে আর্জেন্টিনার জায়গা করে নেয়াই শঙ্কার মুখে পড়ে। সমালোচকরা এই মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করেননি; মেতে ওঠেন মেসির সমালোচনায়। তবে তাতে কোনো ভ্রক্ষেপ নেই এলএম টেনের।
এক সাক্ষাকারে মেসি বলেছেন, 'আমার যেই সমালোচনা করা হচ্ছে সেটির প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। আমি জানি এসব হয়েই থাকে। আমি জানি দর্শকরা সবসময় জয় দেখতে এবং আমাদের শিরোপা জিততে দেখতে চায়। কিন্তু আমরা যারা দেশের হয়ে খেলি তারাও শিরোপা জিততে চাই।'
সবেধন নীলমণি অলিম্পিক ফুটবলের সোনা জয় নিয়েও গর্ব ফুটে ওঠে মেসির কণ্ঠে। যেমনটা বলছিলেন তিনি, 'আমরা কাছে ২০০৮ সালের অলিম্পিক সোনার মূল্য অনেক। কেননা, এটি এমন এক টুর্নামেন্ট যেটি আপনি জীবনে মাত্র একবার খেলতে পারবেন এবং সেখানে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অ্যাথলেটকে একসঙ্গে পাবেন।'
| 12 |
বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য আইন বাধা নয়, সরকার নিজেই। বুধবার নয়া পল্টনে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে মহিলা দল। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবচেয়ে বড় অবদান যে নেত্রীর তিনি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ। তার সুচিকিৎসার জন্য আমরা কয়েকদিন যাবত দাবি জানিয়ে আসছি, আন্দোলন করছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের যে, নেত্রী এই দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য দীর্ঘ নয় বছর সংগ্রাম করেছেন, যিনি প্রেসিডেনশিয়াল গভমেন্ট থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন, মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি আজ চিকিৎসার সুযোগটুকু পাচ্ছেন না। সরকার আইনের দোহাই দিচ্ছে। কিন্তু এই আইনের মধ্যে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, সরকার ইচ্ছা করলে তাকে বিদেশে চিকিৎসা দিতে পারে। বাধা আইন নয়, বাধা এই সরকার। তিনি বলেন, সরকার গণতন্ত্রের মূল কণ্ঠ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চায়। কথা বলতে দিতে চায় না। তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে এবং আজকে বাংলাদেশের মানুষকে তাদের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তিনি আরো বলেন, আজকে এখানে মৌন মিছিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৌন মিছিলকে সরকার ভয় পায়। এই মিছিলের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘণ্টা বাজতে দেখেছে তারা। তাই স্বাভাবিকভাবে সেটাকে আটকে তো দিবেই। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা যে সকল অধিকার অর্জন করেছিলাম বর্তমান সরকার একটি একনায়তান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য তা সমস্ত লুট করে নিয়ে গেছে। তাদের ক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করতে, এদেশের টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দিতে একটি ভিন্ন রূপে তারা একনায়তান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সেজন্য আজকে আমাদের জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হবে যেভাবে ১৯৭১ সালে আমরা লড়াই করেছি। আমাদের সকল অধিকারগুলোকে ফিরে পেতে আমাদের আবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকে আমাদের এখানে দাঁড়িয়ে কথা বললে হবে না। আমাদের ঘরে ঘরে মা-বোনদের জাগিয়ে তুলতে হবে। যে সমস্ত মানুষকে একত্রিত করতে হবে, সঙ্ঘবদ্ধ করতে হবে। একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। | 9 |
উত্তরা গণভবনের শতবর্ষী গাছ কাটার ঘটনার সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগ নাটোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান আকন্দসহ ছয় জন জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।সোমবার রাতে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। এ বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলাম।পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।অভিযুক্ত অন্যরা হলেন-গণপূর্ত বিভাগ নাটোরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান, বিভাগীয় কর্মকর্তা (এসও) কামরুজ্জামান, উত্তরা গণভবনের কেয়ারটেকার আবুল কাশেম ও আব্দুস সবুর তালুকদার এবং ঠিকাদার সোহেল ফয়সাল।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছ, নিয়মবহির্ভূতভাবে নিলামের মাধ্যমে ঠিকাদার সোহেল ফয়সাল শতবর্ষী ১৭টি তাজা গাছ ও ৪৩টি তাজা গাছের ডালপালা কেটে নেন। এ বিষয়ে গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন অনুমোদন নেওয়া হয়নি।এতে আরও বলা হয়েছে, বিনা টেন্ডারে ঠিকাদারের মাধ্যমে ৫টি আম, কাঠ বাদাম, নারিকেল ও অজ্ঞাত ওষুধি গাছসহ ১৪টি ও নিলামের মাধমে তিনটি তাজা গাছ কাটা হয়েছে। প্রতিবেদনে ওই সব গাছ ও ডালপালার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।তবে গাছ কাটা ও মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বন বিভাগের কোন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, তদন্ত কমিটির দেওয়া সুপারিশের আলোকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, উত্তরা গণভবনের চারপাশের লেকের ধারে শতবর্ষী অন্তত ৩০০ প্রজাতির আম গাছ ছাড়াও মেহগনি, নারিকেল, কাঠ বাদামসহ আরও পাঁচ শতাধিক গাছ রয়েছে। সম্প্রতি ঝড়ে ও মারা যাওয়া দুটি আম, একটি মেহগনিসহ বেশ কিছু গাছের ডালপালা কাটার টেন্ডার আহ্বান করে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ। বন বিভাগের কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহর নির্ধারিত মূল্য অনুসারে মাত্র ১৮ হাজার ৪০০ টাকার টেন্ডারের বিপরীতে ১৭টি গাছ ও কিছু গাছের ডালপালা কাটার পর তোলপাড় শুরু হয়। পরে গত ১৭ অক্টোবর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট রাজ্জাকুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অন্য সদস্যরা হলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল আলম, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম ভূঁইয়া ও এনডিসি অনিন্দ মণ্ডল।এদিকে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণপূর্ত বিভাগ নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান আকন্দ সমকালকে জানান, প্রতিবেদনের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
| 6 |
চীনের সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই দু'টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ফের তাইওয়ান প্রণালীকে যাত্রাপথ হিসেবে ব্যবহার করেছে। বৃহস্পতিবার জাহাজ দু'টি প্রণালীটির উত্তর দিক ধরে অগ্রসর হয় বলে জানিয়েছে তাইওয়ান। আন্তর্জাতিক আইনের বিধি মেনেই এসব যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান প্রণালীতে ঢুকেছে বলেও দাবি করেছে তারা। দুই মাসের ব্যবধানে ফের তাইওয়ান প্রণালীতে মার্কিন নৌযানের উপস্থিতি বেইজিংয়ের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে তুলবে বলেই ধারণা পর্যবেক্ষকদের। এ ঘটনা তাইওয়ান-চীন সম্পর্ককে আরো তিক্ত করবে এবং ওয়াশিংটন-বেইজিং উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। চীন তাইওয়ানকে তার নিজের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে। তাইপের যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক আচরণ ঠেকাতে সামরিক শক্তি প্রয়োগে পিছপা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। তাইওয়ানে স্বাধীনতাপন্থী প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তার প্রশাসনের সাথে বেইজিংয়ের টানাপড়েন প্রকাশ্য হয়েছে। চীন তাইওয়ানকে জোর করে দখলে নিতে পারে এ আশঙ্কায় ওয়াশিংটন বারবারই তাইপেকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর তিনবার কৌশলগত প্রণালীটিতে তিন দফা যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। ইউরোপবিষয়ক শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিকের পদত্যাগআলজাজিরাযুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপবিষয়ক শীর্ষ কূটনীতিক ওয়েস মিশেল পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপ ও ইউরো-এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেল মধ্য ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারবেন। ইরান পারমাণবিক চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপড়েনের মধ্যে পদত্যাগ করলেন তিনি। গত ৪ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান মিশেল। সেই চিঠিতে পদত্যাগের কারণ হিসেবে পরিবারের সাথে আরো বেশি সময় কাটাতে চাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। ২০১৭ সালের অক্টোবরে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসেনের অধীনে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন ওয়েস মিশেল। এই পদে যোগ দেয়ার আগে তিনি ১২ বছর ইউরোপ নীতি থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিসে কর্মরত ছিলেন। ইরানের সাথে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি, বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি এবং সম্প্রতি সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ইউরোপীয় মিত্রদের মতভেদের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন ওয়েস মিশেল। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও ওই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ইউরোপের মার্কিন মিত্ররা তা বহাল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি নিয়েও ইউরোপের দেশগুলোর সাথে ট্রাম্পের মতভেদ চলছে। সূত্র : রয়টার্স | 3 |
'তোমরা ভুলেও কাইয়ো বাল্যবিয়া দেন না বাহে। তা হইলে মোর মতো পস্তা নাগবে।' এমন সংলাপই উচ্চারিত হয়েছে কুড়িগ্রামের প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা মাঠে পথনাটক মঞ্চে। বাল্যবিবাহ রোধে নাটকটির আয়োজন করেন বিল্ডিং বেটার ফিউচার ফর গার্লসের (বিবিএফজি) যুব ফোরামের সদস্যরা। নাটকটির নাম 'সর্বনাশা বাল্যবিয়ে'। আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী ও চরবাসীদের উপস্থিতিতে শুক্রবার সকালে নাটকের উদ্বোধন করেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক সদস্য ও মোহামেডান ক্লাবের সাবেক ফুটবলার কহিনুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাবরেজিস্ট্রার এ কে এম মোস্তাফিজার রহমান, বিল্ডিং বেটার ফর ফিউচার ফর গার্লস সমন্বয়ক আল মামুন, স্থানীয় বাসিন্দা ফজলার রহমান, আবদুর সোবহান ব্যাপারী, মজিবর রহমান, সহিদুল ইসলাম, আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান, প্রথম আলো কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সফি খান। নাটকের পরিচালক ও অভিনেতা জীবন কুমার সেন বলেন, 'বিল্ডিং বেটার ফর ফিউচার ফর গার্লসের ব্যানারে আমরা বিভিন্ন স্থানে নাটকের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করি। জেলায় বাল্যবিবাহ রোধে আমরা কাজ করছি।' যুব ফোরামের সদস্য তানজিনা ইসলাম বলেন, 'আশপাশে বাল্যবিবাহ দেখে ক্ষোভ জাগে, যদি কিছু করতে পরতাম। সেই সুযোগ করে দিয়েছে আরডিআরএস বাংলাদেশের এই প্রকল্প। ২০টি স্থানে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে। আমাদের অভিনয় দেখে মানুষকে কাঁদতে দেখেছি। মানুষ সচেতন হচ্ছে। এটাই প্রাপ্তি।' জেলায় ৭৩টি যুব ফোরাম বাল্যবিবাহ রোধে গ্রামে গ্রামে সচেতনতামূলক কাজ করছে বলে জানালেন ফোরামের প্রকল্প সমন্বয়কারী আবদুল্ল্যা আল মামুন। নাটক দেখে প্রথম আলো চরের বাসিন্দা আবদুর সোবহান বলেন, 'বাচ্চা গুইলার নাটক দেখি মনটা ভরি গেইল। অনেক কিছু শিখলাম। চরে বাল্যবিয়া বেশি। সউগ জাগাত নাটক করা দরকার।'আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কুড়িগ্রামে বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি ছিল। এসব সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিছুটা কমছে। প্রথম আলো চর ও আলোর পাঠশালায় এসে নাটকটি দেখে ভালো লাগল। মনে হচ্ছে এখানে আগে কেন আসা হয়নি। কহিনুর রহমান বলেন, 'চরের নামটি সুদূর আমেরিকা থেকে অনেক দিন আগেই শুনেছি। দেখার ইচ্ছা ছিল। চর ও আলোর পাঠশালাটি খুব ভালো লেগেছে। বাচ্চারা নাটকটি অসাধারণ পরিবেশন করেছে। ধন্যবাদ জানাই সবাইকে।' | 6 |
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক কিশোরীকে পোশাকের ওপর দিয়ে স্পর্শ করার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছিলেন বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ। ত্বকে স্পর্শ করা না হলে তা যৌন নির্যাতন হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে রায়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার বোম্বে হাইকোর্টের রায় খারিজ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, শরীরের সঙ্গে শরীরের স্পর্শ যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে জরুরি নয়। ত্বকে স্পর্শ করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেক্সচুয়াল ইনটেন্ট বা যৌন উদ্দেশ্য।বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি পুষ্প গানেদিওয়ালা তাঁর রায়ে বলেছিলেন, 'যৌন অভিপ্রায় নিয়ে সরাসরি শরীরে স্পর্শ' করা হলে তবেই তা যৌন নির্যাতন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তখন সেই রায় নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়।সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উদয় উদিত ললিত, বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাট ও বেলা এম ত্রিবেদীকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বোম্বে হাইকোর্টের সেই রায় খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বোম্বে হাইকোর্টের রায় মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।মহারাষ্ট্র সরকার ও অন্যদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত বলেছেন, 'কাপড়ের ওপর দিয়ে স্পর্শ করলেও সেটা যৌন নির্যাতনের মধ্যেই পড়ে। শিশুদের যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা অপরাধ। যৌন ইচ্ছা নিয়ে শিশুদের যৌনাঙ্গ স্পর্শ করাও আইন অনুযায়ী অপরাধ।' | 3 |
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান সংকট নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, গতকাল সোমবার টেলিফোনে রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্জেই লাভরভ এবং ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবার সঙ্গে ইউক্রেন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোনালাপের সময় ইউক্রেন সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, একমাত্র কূটনৈতিক আলোচনাই পারে এই সংকটের সমাধান দিতে। তিনি উত্তেজনা প্রশমনে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে স্বাগত জানান এবং বলেন, কূটনীতির বিকল্প নেই।গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের সময় স্টিফেন ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব এখনো নিশ্চিত যে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করবে না। গত ২১ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব এমন মন্তব্য করেছিলেন। আমরা এখনো বিশ্বাস করি যে তিনি তাঁর মতামত থেকে সরে আসেননি।তিনি আরও বলেন, সোমবার দুপুরে রাশিয়ার কূটনৈতিক মিশনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ জন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি মাসিক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন আন্তোনিও গুতেরেসের। মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি গণমাধ্যমের সামনে কথা বলবেন।ইউক্রেনে ১ হাজার ৪৪০ জন ইউক্রেনীয় এবং ২২০ জন বিদেশিসহ জাতিসংঘের প্রায় ১ হাজার ৬৬০ জন কর্মী রয়েছে। ইউক্রেন থেকে জাতিসংঘের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া বা স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্টিফেন ডুজারিক। | 3 |
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে দিঘলিয়া ইউনিয়নের সারোল-বাগডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত বৃদ্ধার নাম হাজেরা বেগম (১০২)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আমির হোসেনের স্ত্রী। লোহাগড়া থানা পুলিশের ওসি প্রবীর কুমার বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, গতকাল রাতে যে ঘরে বৃদ্ধা ঘুমিয়েছিলেন, সে ঘরে তার এক আত্মীয় ছিলেন। রাত ৩টার দিকে ঘরে বৃদ্ধাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে বাড়ির পুকুর পাড়ে গলা কাটা মরদেহ পাওয়া যায়। বৃদ্ধার স্বজনদের দাবি, জমিজমা নিয়ে ওই বৃদ্ধার নাতিদের সঙ্গে তার ছেলেদের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। এর জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। | 6 |
কোরবানির ঈদে পশুর হাট নিয়ে বরাবরই মানুষের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত দুই বছর পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনার পাশাপাশি সেগুলোতে জনসমাগমও সীমিত করা হয়েছিল। তবে এ বছর কোভিডের প্রাদুর্ভাব কম থাকায় আবারও ফিরতে যাচ্ছে কোরবানির হাটকেন্দ্রিক উৎসবের আবহ। আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে মোট ১৯টি কোরবানির পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি পর্ব। ঢাকায় যে ১৯টি হাট বসবে, তার মধ্যে দুটি স্থায়ী এবং ১৭টি অস্থায়ী হাট। অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭টি হাট বসবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে গাবতলীতে এবং আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সারুলিয়ায় স্থায়ী হাট বসবে। এছাড়া, চালু থাকবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল হাটও। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে ১০টি জায়গায় কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসবে সেগুলো হলো- লালবাগের রহমতগঞ্জ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গা, শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার মৈত্রী সংঘের ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, হাজারীবাগ এলাকায় ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি মাঠসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা এবং লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন খালি জায়গা। সেই সঙ্গে কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের এলাকায়ও অস্থায়ী হাট বসবে। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যে ৭টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসবে, সেগুলো হলো- ভাটারা (সাইদনগর) পশুর হাট, কাওলা শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬ ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, মোহাম্মদপুর বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তাসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর এলাকায় অবস্থিত বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং ব্লক-ই থেকে এইচ পর্যন্ত এলাকার খালি জায়গা এবং ৩০০ ফিট সড়কসংলগ্ন উত্তর পাশের সালাম স্টিল-যমুনা হাউজিং কোম্পানির খালি জায়গা ও এর পাশে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন খালি জায়গা মিলিয়ে অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। ১৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ১৪টির ইজারার কাজ প্রাথমিকভাবে শেষ হয়েছে। বাকি হাটগুলোর ইজারা চূড়ান্ত করার কাজও চলমান রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো ঠিক করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন জানান, হাটগুলো পরিচালনার জন্য যেসব নির্দেশনা আসবে সবগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। | 6 |
শিশুদের দিয়ে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি করানোর অপরাধে সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়া এলাকা থেকে রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) নামে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তার ভুয়া স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে (র্যাব)। এ সময় ১২ বছরের দুই নির্যাতিত শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে র্যাব-৯-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগরীর দাড়িয়াপাড়ার মেঘনা এ-২৬/১ ফ্ল্যাটের নিচতলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) ও তার ভুয়া স্ত্রী রিমা বেগম (৩৫)। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৯-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হিসেবে বর্তমানে ৭-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সিলেটের লালাবাজারে কর্মরত আছেন। তিনি নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে। গ্রেপ্তার রিমা বেগম নেত্রকোনার কালিয়াজুড়ি থানাধীন আটগাঁও গ্রামের মৃত মফিজুল মিয়ার মেয়ে। মো. মনিরুজ্জামান আরও বলেন, গ্রেপ্তার দুইজন অবৈধভাবে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দাড়িয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে গরিব, অসহায় ও সুন্দরী তরুণী ও শিশুদের ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ইয়াবা সেবনের মাধ্যমে পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযানে উদ্ধারকৃত নির্যাতিত দুই শিশু হলো- কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মাঝিকোনা গ্রামের মো. জুয়েল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তার তমা (১২) ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের আশুক আহম্মেদের মেয়ে দিপা (১২)। গ্রেপ্তার দুইজনকে সিলেট কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৯-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান। | 6 |
ঢাকা: 'বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়', 'বুড়া জামাই ২', 'গার্লফ্রেন্ড যখন ভাবী', 'লাড্ডু সোনা', 'ম্যারাডোনার ছেলে', 'সৌদি জামাই বিদায় রজনী', 'পাগলা রাজা বাসর ঘরে', 'গার্লফ্রেন্ড শুধু গিফট চায়', 'বিশু পাগলা গাছের আগায়', 'আমি ব্রেকআপ চাই', 'বেইমান ভাবী', '৩০০ টাকার প্রেম ১০০ টাকা', 'কেনো একসেপ্ট করবা না?'- এগুলো এবারের ঈদের কিছু নাটকের নাম।এগুলো তো নতুন। এর আগেও দেখা গেছে 'নোয়াখালী বিভাগ চাই', 'বাবার গার্লফ্রেন্ড', 'প্রোটেকশন', 'এক্স বয়ফ্রেন্ড', 'এক্স গার্লফ্রেন্ড', 'গার্লফ্রেন্ড যখন ভাবী', 'সেন্ড মি নুডস', 'বেড সিন', 'ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা', 'চুটকি ভান্ডার', 'চ্যাতা কাশেম' নামের নাটক।গুরুজনেরা ছোটদের বলতেন নাম নয়, কাজে পরিচয়। এ কথা বলতেন এটি বোঝাতে যে নাম যত ভালোই হোক না কেন, মানুষের মূল পরিচয় আসলে তার কাজে। তবে ইদানীং বাংলা নাটকের নাম নিয়ে রুচিহীনতার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। নামেও আসলে অনেক কিছু যায়-আসে। সেটা যেন বেমালুম ভুলে যাচ্ছেন নির্মাতারা।নাটকের মান নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। মানহীন নাটকের কারণে দর্শকেরা দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এবার পড়তি মান, নিম্নমানের গল্প, অভিনয়, অত্যধিক বিজ্ঞাপন বিরতির পাশাপাশি যোগ হয়েছে নতুন বিরক্তি-উদ্ভট নাম। এটাও যে একদম নতুন তা নয়, ইউটিউবের ঝড় শুরু হলে উদ্ভট নাম দেওয়ার গতিও ক্রমেই বাড়ছে।নাটকগুলোর এমন নাম শুনে রীতিমতো বিস্ময় ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন নাট্যজনেরা। এ সময়ের কয়েকজন পরিচালকও এ ধরনের নামের বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। অনেকে নাটকের এমন উদ্ভট ও অরুচিকর নামকরণকে পরিচালকদের সৃজনশীলতা ও শিক্ষার অভাবকে দায়ী করছেন।নাট্যজন মামুনুর রশীদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'ইদানীং বেশির ভাগ নাটকে যে ধরনের নাম দেওয়া হয়, এগুলো অসভ্য লোকের বর্বর কাজ। আমাদের দুঃখ ছিল, টেলিভিশন নাটক তো গেল, এখন ইউটিউব আরও জঘন্য। নাটকের নামের এই বিকৃতির পেছনে যাঁরা আছেন, তাঁদের শাস্তি দেওয়া উচিত।'বরেণ্য অভিনয়শিল্পী আবুল হায়াত বললেন, 'একটা সময় প্রমিত বাংলায় মানুষ কথা বলত। টিভি নাটক দেখে বাচ্চারা কথা বলা শিখবে-সেই জায়গা থেকে আমরা নাটক করতাম। এখন নাটকের নাম শুনলেই মোটামুটি সব বোঝা যায়। ভাষাটাই যেখানে হারিয়ে গেছে, নাম নিয়ে আর কী আশা করতে পারি।' সব নাটকের নাম এমন, তা নয়। এই ঈদে 'আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে', 'সীমার', 'অহং', 'এক ভাই চম্পা', 'গল্পটা তোমার জন্য নয়', 'বায়ুচড়া', 'লাশে গেলাম ফেঁসে'-এর মতো নামের নাটকও আছে। মজার বিষয় হচ্ছে, ঘুরেফিরে একই অভিনয়শিল্পীরা এই দুই ধরনের নাটকগুলোতে অভিনয় করছেন।নাটকের বাজেট কম, এ কারণেই কি নামের এই হাল? ইরেশ যাকের বলেন, 'এখানে বাজেট বিষয় নয়। এ ধরনের নাম কিছু টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ পছন্দ করে, যার প্রভাব অন্যদের ওপর পড়ে। শুনেছি, যাঁরা অনুষ্ঠান বিভাগে আছেন, তাঁরা এমনও বলেন, নাটকে মজা কোথায়, মজা বের করেন।'অভিযোগ আছে, নাটকের নাম যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এটা অনেক পরিচালক ও টিভি কর্মকর্তারা বুঝতে চান না। এর পরিণতি খারাপ হবে বলে মনে করেন নাটকসংশ্লিষ্ট অনেকে। তাঁদের আশঙ্কা, ২০০০ সালের দিকে গুটিকয়েক লোক উদ্ভট গল্প, আনাড়ি অভিনয়শিল্পী দিয়ে অরুচিকর নামের সিনেমা বানিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে অশ্লীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। নাটকেও সেই অবস্থা হতে চলেছে। নাটকে এখন পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ভট সব কনটেন্ট বানানোর প্রতিযোগিতা। উদ্দেশ্য, লাখ লাখ ভিউ এনে রোজগার করা।অভিনেতা আফরান নিশো বলেন,'নাটকে কোনো সেন্সর কমিটি নেই। তাই স্থূল নামকরণ দিয়ে অনেকে ইউটিউবে দর্শকের দৃষ্টি আগ্রহ করতে চাচ্ছে। আমি নিজেও এই দোষে দুষ্ট। তবে এটাও ঠিক যে অনেক সময় আমি জানিই না আমার নাটকটা কী নামে প্রচার হয়েছে। এক নামে অভিনয় করি, প্রচারের পর আরেক নাম হয়ে যায়। তখন হয়তো পরিচালক এটা-সেটা বলে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাঁর সঙ্গে ঝগড়া তো করতে পারি না। বোঝানোর চেষ্টা করি। ওদের ভাষ্য, ভিউয়ের জন্য এমন নাম চাই।'নাট্যকার মাসুম রেজা বলেন, 'ভালো নামের পেছনে সময় দিতে হয়। কিন্তু পরিচালকেরা দৌড়াচ্ছেন, ডজন ডজন নাটক বানাচ্ছেন। সবার ধারণা, একটা ক্যাচি নাম দিয়ে দিলেই হলো। কিন্তু ক্যাচি নাম তো অর্থপূর্ণ, নান্দনিক হতে হবে। বাংলা ভাষা তো নান্দনিক।' | 2 |
দেশের প্রতিটি খাতে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে সব শ্রেণি-পেশায় এবং জনজীবনে। কিন্তু আনুপাতিক উন্নয়নের ধারায় পিছিয়ে আছে কিছু খাত, জনগোষ্ঠী ও পেশাজীবী। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা তথা এমপিও, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্যতম। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীরা অন্যান্য খাতের পেশাজীবীদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। একটি দেশ উন্নয়নের পথে হাঁটলে ক্রমে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, গাড়ি-বাড়িভাড়া, দ্রব্যমূল্যসহ সব ক্ষেত্রেই কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি হবে, এটাই স্বাভাবিক। যেহেতু সর্বশেষ পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে, প্রায় ৮ বছর আগে, তখন সেটা ছিল সরকারের একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। সরকারি ট্রেজার থেকে বেতনপ্রাপ্ত পেশাজীবীদের জন্য সেটা ছিল শ্রেষ্ঠ একটা পাওয়া। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই পে স্কেল এখন নিতান্তই সামান্য বিবেচিত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা) পেশাজীবীদের জন্য বর্তমান জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সেক্টরের চাকরিজীবীরা যেখানে মূল বেতন স্কেলের ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া, পূর্ণ উৎসব ভাতা, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতাসহ দ্রুত প্রমোশন, বদলি, পেনশন, অবসরকালীন নিরাপত্তা ভাতা ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন, সেখানে বেসরকারি শিক্ষা খাতটি চরমভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সমবেতন গ্রেড হলেও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় যেন এই সেক্টর বিমাতার সন্তান। মূল বেতনের সঙ্গে মাসে বাড়িভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা যুক্ত হয়। উৎসব (ঈদ) ভাতা মাত্র ২৫ শতাংশ আর বৈশাখী ভাতা নামমাত্র। নেই কোনো বদলি, পদোন্নতির সুযোগও সীমিত। বর্তমানে এনটিআরসিএর জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে শিক্ষকেরা নিজ বাড়ি থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে চাকরি পাচ্ছেন। অঞ্চলভেদে বাড়িভাড়া কমপক্ষে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা। ঈদে ১১ গ্রেডের (স্কেল-১২,৫০০) সহকারী শিক্ষকেরা উৎসব ভাতা পান মাত্র ৩ হাজার ১২৫ টাকা, আরও দুঃখজনক বিষয় হলো এখনো মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শিক্ষক, মৌলভি বা কারিদের বেতন গ্রেড ১৬, বেতন স্কেল ৯৩০০। শিক্ষকের বেতন গ্রেড ১৬ বা স্কেল ৯৩০০ টাকা হলে কীভাবে দিনাতিপাত করতে পারেন? তাঁদের মনোযোগ শিক্ষাবিস্তারে থাকবে, নাকি জীবন-জীবিকার চিন্তায় তাঁদের দিন কাটবে? চার থেকে পাঁচজন সদস্যের পরিবারে মাসিক বেতন ৯ হাজার ৩০০ বা ১২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে কীভাবে চলবে? এবার আসা যাক বর্তমান দ্রব্যের বাজারমূল্য এবং গাড়িভাড়ায়। চার থেকে ছয়জন সদস্যের (স্ত্রী, ২ সন্তান, মা-বাবা) একটা পরিবারের ঈদের পোশাক কিনতে ৫ থেকে ৭ সাত হাজার টাকা লাগে। ১০ হাজার টাকার কম কোরবানির পশু কেনাই সম্ভব নয়। কয়েক বছরে গাড়িভাড়া বেড়েছে ২ থেকে ৩ গুণ। চাল, ডাল, তেলের দামও বেড়েছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। শাকসবজি, মাছ-মাংসের দামও বেড়েছে ২ থেকে ৩ গুণ।সর্বশেষ পে স্কেলে মহার্ঘ ভাতাও বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের এমন ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় মহার্ঘ ভাতাকে আবার একবার স্মরণ না করে উপায় নেই। একজন শিক্ষকের মাসিক বেতনের সবটুকুই যদি জীবনধারণে ব্যয় করতে হয়, তাহলে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা কোথায়? অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অবস্থা আরও মানবেতর। গ্রেডভেদে তাঁদের বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ৯ হাজার ৩০০ টাকা। এ অবস্থায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেশাজীবীদের একটা বড় অংশ সমগ্র শিক্ষা খাত জাতীয়করণের পক্ষে সমর্থন সমর্থন দিচ্ছেন। কিন্তু জাতীয়করণের বিষয়টি সরকারের একটা বৃহৎ ও জটিল সিদ্ধান্তের ব্যাপার। জাতীয়করণের সঙ্গে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সমন্বয়সাধন প্রয়োজন; পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু পারিপার্শ্বিক নিয়ামক ও সক্ষমতার ওপরও নির্ভরশীল। তাই খুব দ্রুত, একই সঙ্গে সমগ্র শিক্ষা খাত জাতীয়করণ করা সম্ভব নয়। তাই অনুমেয়, জাতীয়করণের বিষয়টি সরকার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এগিয়ে নিতে থাকবে। এখন প্রশ্ন, তাহলে আমরা কি শুধু জাতীয়করণের দাবি নিয়েই থাকব? অনেকে মনে করে থাকেন জাতীয়করণই এই খাতের সব বৈষম্য দূর করতে সক্ষম। হ্যাঁ, হয়তো সক্ষম বা হয়তো না। কিন্তু যত দিন জাতীয়করণ হচ্ছে না, তত দিন কি এ রকমই চলতে থাকবে? নিশ্চয় না। বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব। এর আগে ঐতিহাসিক পে স্কেল কার্যকর হয়েছে এই সরকারের হাত ধরেই। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠানে জনবল বৃদ্ধিসহ একাধিক যুগান্তকারী বিষয় বাস্তবায়ন করা হয়েছে এই সরকারের আমলেই। তাই আশা করি, পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের বিষয়টি চলমান থাকবে।সুতরাং এই ধারাবাহিক জাতীয়করণের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেতন-ভাতা-বোনাস ইত্যাদি বিষয় সমন্বয় করা জরুরি। একদিকে বেতন বৃদ্ধি করে গ্রেডভিত্তিক বেতন-বৈষম্য দূর করা যেমন প্রয়োজন, তেমন প্রয়োজন বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতার সমন্বয়সাধন। পাশাপাশি প্রয়োজন বদলি-পদোন্নতিসহ আগের মহার্ঘ ভাতা পুনরায় বহাল রাখা।তাই জাতীয়করণের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণের এ শুভ লগ্নে ঊর্ধ্বমুখী বাজারমূল্য বিবেচনায় মহার্ঘ ভাতার সুবিধা পুনর্বহাল করে বেতন-ভাতা-বোনাস বৃদ্ধি ও সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই। মো. আবু বকর সিদ্দিকইবতেদায়ি শিক্ষকআওতাপাড়া আবু বকরিয়া (এবিসি) আলিম মাদ্রাসা, ঈশ্বরদী, পাবনা। | 8 |
ভোট গ্রহণের তারিখসহ মনোনয়নপত্র জমা-যাচাই বাছাই, প্রার্থীতা প্রত্যাহারে তারিখ পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে সিইসিকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। রোববার বিকাল সাড়ে তিনটায় সিইসির কাছে বি. চৌধুরীর চিঠি নিয়ে গেছেন বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, তার সাথে রয়েছেন বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রউফ মান্নান, বিকল্প শ্রমজীবীধারার সভাপতি আইনুল হক ও প্রচার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মেসবাহ উদ্দিন জুন্নু। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বি চৌধুরীর প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন গণমাধ্যমকে। | 9 |
ফুলবাড়িয়া কলেজ সরকারীকরণের দাবিতে বৃহস্পতিবার আধাবেলা হরতাল আহ্বান করেছে কলেজ সরকারীকরণ দাবি আদায় কমিটি। বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ হরতাল চলবে। বুধবার বিকেলে এমন ঘোষণা দেন কলেজ সরকারীকরণ দাবি আদায় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম আবুল হাশেম। পরে হরতাল সমর্থনে কলেজ থেকে শিক্ষক-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করেন। কলেজ সরকারীকরণ দিবি আদায় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম আবুল হাশেম জানান, আমাদের নিয়মিত আন্দোলনের কর্মসূচি এটি। আজ শুধু ঘোষণা দেয়া হল। উল্লেখ্য, গত ২৭নভেম্বর আন্দোলন চলাকালে কলেজ শিক্ষক আবুল কালাম আজাদসহ এক পথচারী নিহত হয়। বিডি প্রতিদিন/২৫ জানুয়ারি ২০১৭/ সালাহ উদ্দীন | 6 |
কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ গতকাল বুধবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি তার স্বাধীনতার ৩০ বছরের মধ্যে সম্প্রতি সবচেয়ে বাজে অস্থিরতার মুখোমুখি হয়। এই অস্থির সময়ে নেতৃত্ব প্রদর্শন ও যথাযথ উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুরাত বেকতানভকে বরখাস্ত করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোকে কেন্দ্র করে ১ জানুয়ারি কাজাখস্তানে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সহিংস বিক্ষোভের মুখে দেশটির সরকার পদত্যাগ করে। দেশজুড়ে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। বিক্ষোভ মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট রুশ নেতৃত্বাধীন জোটের সেনাদের সহযোগিতা চাইতে বাধ্য হন। তাঁর অনুরোধে কাজাখস্তানে রুশ সেনারা যান। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে কোনো ধরনের সতর্কসংকেত ছাড়াই নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালাতে নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। কাজাখস্তানে সহিংস বিক্ষোভে অন্তত ২২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাজারো মানুষকে। সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র কাজাখস্তানে অভূতপূর্ব এই অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তাঁর ক্ষমতাকে সুসংহত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে মুরাতকে বরখাস্ত করার ঘটনাটি এ পদক্ষেপেরই অংশ। কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেন, জানুয়ারির ঘটনাবলির সময় কাজাখস্তানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। এ জন্য তিনি নেতৃত্বের ঘাটতি ও উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করেন। সংকটের সময় তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুরাত তাঁর 'কমান্ডিং গুণাবলি' প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট। মুরাতকে বরখাস্ত করে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে রুসলান জাকসিলিকভকে। তিনি আগে উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান ছিলেন। কাসিম-জোমার্ট বলেন, দেশকে নেতৃত্বকে দেওয়ার পাশাপাশি বাহ্যিক-অভ্যন্তরীণ হুমকি সম্পর্কে সময়োপযোগী-নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর পুঙ্খানুপুঙ্খ আধুনিকায়ন ও উন্নততর সামরিক বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন। সহিংস বিক্ষোভ কাজাখস্তানের স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কাজাখস্তান তার তেল ও খনিশিল্পে শত শত বিলিয়ন ডলার পশ্চিমা বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এ ভাবমূর্তিকেই ব্যবহার করে। | 3 |
মানবপাচার, অর্থপাচার ও ভিসা বাণিজ্যের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের ভাইকে এবার দেশটির তদন্ত কমিটি তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর কুয়েত টাইমসের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাপুলের ছোট ভাই তার সহযোগী ছিলেন-এমন নতুন তথ্য পাওয়ার পর পাপুলের ভাই কাজী বদরুলকে তলব করার নির্দেশ দিয়েছে মামলার তদন্ত কমিটি। পাপুলের স্ত্রী এবং অন্যদের সঙ্গে তার ভাই বদরুলও মানবপাচারে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পেয়েছেন তারা। কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মানব, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন জালিয়াতিতে জড়িত এমন কয়েক শ ব্যক্তির তালিকা করে কুয়েত সরকার। সেই তালিকা ধরেই বিতর্কিত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। সেই অভিযানেই গ্রেফতার হন বাংলাদেশের এমপি পাপুল। ২৪ জুন পর্যন্ত ২১ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে আরও কয়েকবার আটকাদেশ বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 4 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার দাবি করেছেন, তাকে সমর্থনকারী ১০ জন নেতাকর্মী ও নির্বাচনী এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।শনিবার সন্ধ্যায় মাসদাইরের মজলুম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, যাদের কাছে আমাদের অভিযোগ করার কথা তারাই নির্বাচনকে কলুষিত করছে এবং সুষ্ঠু পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। আমার বাসার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেন এবং যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের দেখেন। দেখবেন তাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত থেকে আমি কাগজ নিয়ে এসেছি। গত বছরের হেফাজতের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন দেখা যায় ছাত্রলীগও হেফাজতের মামলার আসামি, হিন্দুও হেফাজতের মামলার আসামি। মানে হিন্দুরাও হেফাজত করে। তিনি বলেন, যারা আমার নির্বাচনের নানা কাজের দায়িত্বে আছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সকলকেই হেফাজতের মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ডিসি এসপি বলে আমি অভিযোগ করিনি। এখানে সই করা কাগজ আছে আমার কাছে। এদিকে গ্রেপ্তাকৃতদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। তারা হলো, মো. মমতাজ মিয়া, মো. জামাল, মো. গিয়াসউদ্দিন প্রধান, আহসান হোসেন ভূইয়া, মনির হোসেন, আহসানউল্লাহ, কাজী জসিম উদ্দিন, মো. বোরহান উদ্দিন, আবু তাহের, জয়দেব চন্দ্র মন্ডল। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, আমরা কারও পক্ষ বা বিপক্ষে না। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে আমরা শুধু তাদেরই গ্রেপ্তার করেছি। প্রসঙ্গত,গত কয়েকদিন ধরেই নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের অভিযোগ করে আসছিলেন তিনি। | 6 |
ইচ্ছে থাকলে এই দুনিয়ায় অসম্ভব বলে আর কিছুই থাকে না। তেমনই এক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন ইথিওপিয়ার মেতু অঞ্চলের এক নারী। সন্তান জন্ম দেওয়ার আধ ঘণ্টা পরেই স্নাতক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেন তিনি। পড়াশোনা, আর পরীক্ষার প্রতি এমন অপার আগ্রহ দেখে ওই নারীকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটদুনিয়ার মানুষজন। পশ্চিম ইথিওপিয়ার ২১ বছর বয়সী ওই নারীর নাম আলমাজ় ডেরেসে। রমজানের জন্যই পিছিয়ে গিয়েছিল তার স্নাতক পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষা এমন দিনে এসে দাঁড়াল, সেই দিনই তিনি জন্ম দিতে চলেছেন সন্তানের। কিন্তু তাতে কী?গ্র্যাজুয়েট হওয়ার জন্য আরও এক বছর অপেক্ষা করবেন? সে সব ভেবেই হাসপাতালকেই পরীক্ষাকেন্দ্র বানিয়ে সেখানেই গ্র্যাজুয়েট হওয়ার স্বপ্নতরীতে ভেসে পরীক্ষা দিলেন আলমাজ়। আলমাজ়'র এমনতর প্রয়াসে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্যুইটার থেকে ফেসবুকের মানুষজন। কেউ তাকে স্যালুট জানিয়েছেন। কেউ আবার তার কাছে মনোবল বাড়ানোর সহজ টোটকা চেয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ তাকে আর তার সদ্যোজাতকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/ তাফসীর আব্দুল্লাহ | 5 |
নারায়ণগঞ্জে দাফন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আবদুল মাজেদের মরদেহ। রবিবার ভোরে তার শ্বশুরবাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এই দাফন সম্পন্ন হয়। ভোলার স্থানীয় জনগণ বঙ্গবন্ধুর খুনির মরদেহ তাদের মাটিতে দাফন করতে আপত্তি তোলায় নারায়ণগঞ্জে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। ফাঁসি কার্যকরের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সিদ্ধান্ত হয়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দাফন হবে আবদুল মাজেদের। এরপর তার মরদেহ স্ত্রী সালেহা বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির দেওয়া ঘোষণাকে 'ভাঁওতাবাজি' বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।রোববার রংপুরের দর্শনা এলাকায় নিজের বাসভবন পল্লী নিবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, '৫ থেকে ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া, খাওয়ানো এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ঘোষণা দিয়েছেন- দেশত্যাগ করা রোহিঙ্গাদের আইডি কার্ড দেখে বেছে বেছে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু যাদের আইডি কার্ড নেই তাদের কীভাবে ফিরিয়ে নেবে? সু চির এ ঘোষণা ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়।'এরশাদ বলেন, 'রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্মমতা সারা বিশ্বের মানুষের বিবেক নাড়া দিয়েছে। অনেকে মনে করেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের যে মনোভাব তাতে আমার মনে হয় না এসব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে তারা। দেশ ত্যাগ করা এসব রোহিঙ্গার ভার আমাদেরই বহন করতে হবে। এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ হবে আমাদের দেশের জন্য। তবুও এটা করতে হবে।'এ সময়স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াছির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে তিনদিনের সফরে রোববার সকালে এরশাদ রংপুর যান। সড়কপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুরে পল্লী নিবাসের বাসভবনে পৌঁছলে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
| 6 |
রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের প্রতারণা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সাহেদ করিমের গ্রেফতারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বুধবার দুপুরে নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, টেলিভিশন টকশোতেও সে (সাহেদ) একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিল, এটাও ছিল তার প্রতারণার অংশ। তবে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগের চেয়ে অনেক দক্ষ। তার প্রতারণাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে দেওয়া হয়নি, আমরা তাকে ধরে ফেলেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন করোনা চিকিৎসার জন্য কেউ হাসপাতাল দিতে চাচ্ছিল না, তখন সাহেদ নিজ থেকে এগিয়ে এসেছে। তার উদ্দেশ্য যে ছিল প্রতারণা সেটা সেই মুহূর্তে বোঝা যায়নি। কিন্তু এই সবকিছুর মূলে তার উদ্দেশ্য ছিল প্রতারণা, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
নলছিটি (ঝালকাঠি): জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী রিয়াজ মোর্শেদ। কথাবলা থেকে শুরু করে হাঁটাচলা খাওয়া দাওয়া; সবকিছুতে অন্যের সহায়তা নিতে হয়। পায়ে সমস্যা থাকায় ঠিক ভাবে হাঁটতে পারেন না। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজে খাওয়া দাওয়া করতে পারেন না। তাঁর মা ছোট বেলা থেকে খাওয়া থেকে শুরু করে গোসলসহ সব কাজ করে দেন। বর্তমানে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌরসভার হাসপাতাল সড়কে একটি ভাড়া বাসায় তাঁর মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন। হাসপাতাল সড়কে বাসা নেওয়ার কারণ হিসেবে তাঁর মা বলেন, আমার ছেলের জন্ম থেকেই নানান সমস্যা রয়েছে এখনো হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পরে তাই হাসপাতাল সড়কে বাসা নিয়ে থাকা। এখান থেকে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়।তাঁর মা মিনারা বেগম জানান, আমাদের বাড়ি উপজেলার মগড় ইউনিয়নের করুয়াকাঠি গ্রামে। কিন্তু আমার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক না থাকায় আমি আমার ছেলেকে নিয়ে নলছিটিতে থাকি। নিজে টুকটাক কাজ করে কোনো মতে বেঁচে আছি। তবে স্থানীয়দের সহায়তা ছেলের লেখাপড়া চালু রেখেছি। আমার ছেলেও তার এত সমস্যার মাঝেও লেখাপড়া চালিয়ে যেতে আগ্রহী। রিয়াজ নলছিটি সরকারি মার্চেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে ৩.১১ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পাস করেন। তাঁর মা জানান, ২০১৬ সালেই সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল সেইবার রিয়াজ একটি বিষয়ে ফেল করেন। ফেল করার কারণ বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, যে দিন ওর পরীক্ষা ছিল তার আগের দিন আদালতে বসে তাঁর বাবার সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কছিন্ন হয়। সেদিন ও সেটা সহ্য করতে পারেনি অনেক কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।তাঁর বাবা মো. আলতাফ হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করে সেই স্ত্রী নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। বিগত চার বছর ধরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। তাঁদের ধারণা তিনি হয়তো ঢাকাতেই মৃত্যুবরণ করেছেন। রিয়াজ বর্তমানে নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছেন।নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কবির হোসেন বলেন, সে প্রতিবন্ধী হলেও কলেজের কোনো কাজে ভলান্টিয়ার নিয়োগের প্রয়োজন হলে সে সবার আগে এগিয়ে আসে। আবার খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করার জন্য সে উদ্গ্রীব থাকে আমরা তাকে সুযোগও দেই। তাঁর মাঝে কোনো কিছু করার আগ্রহটা প্রবল। এ ছাড়া শারীরিক দুর্বলতার পরও কলেজ খোলাকালীন সময়ে সে নিয়মিত কলেজে আসত। আমাদের কলেজের পক্ষ থেকে তাকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এত প্রতিকূলতার মাঝেও সে মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় এখন সে প্রতিদিন নলছিটি রেনেসাঁ কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।রেনেসাঁ কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক আক্তারুজ্জামান বলেন, রিয়াজ মোর্শেদকে আমরা বিনা মূল্যে কম্পিউটার ট্রেনিং দিয়ে থাকি। সে যত দিন ইচ্ছা এখানে বিনা মূল্যে কম্পিউটার ব্যবহার শিখতে পারবে। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার বলেন, রিয়াজ মোর্শেদ ও তাঁর মায়ের সম্পর্কে আমি অবগত তারা আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁদেরকে একটি সরকারি ঘর দেওয়ার চেষ্টায় আছি আশা করি তারা একটি সরকারি ঘর পাবেন। এতে তাদের কিছুটা হলেও দুর্ভোগ লাঘব হবে। | 6 |
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন, 'তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি'। মালপাড়া খালের ওপর নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটিও সুনীলের মতো আক্ষেপে আজ বলতে পারে, 'ছত্রিশ বছর কাটল, কেউ পা রাখেনি।'মালপাড়া খালটি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নে। ৩৬ বছর আগে এই খালের ওপর তৈরি করা হয়েছিল ৫০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি। তখন আশপাশের দশ গ্রামের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, এই সেতু মিলিয়ে দেবে খালের এপার-ওপার। আর মিলিয়ে দেওয়ার আশায় সেতুটিও নিশ্চয় বুক বেঁধেছিল। কিন্তু তার সেই সাধ পূরণ হলো না এত দিনেও। কারণ, আর কিছু নয়, তিন যুগ পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত তৈরি হলো না সেতুর দুই পারের সংযোগসড়ক।স্থানীয়দের দাবি, সেতুটির এই শেষ বয়সে এসেও যদি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংযোগ সড়ক নির্মাণ দিত, হলে জনসাধারণের চলাচলে সুবিধা হতো। সেতুটি ব্যবহার করতে না পারায় গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চবিদ্যালয়, নাপিতেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গাইবান্ধা কাছিমুল উলুম কওমি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাত্র এক কিলোমিটারের পথ ঘুরপথে অন্তত তিন থেকে চার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। এ ছাড়া নাপিতেরচর, মরাবন, মালপাড়া, ডাকপাড়া, আদর্শগ্রাম, চন্দনপুর, ফুলারচরসহ আশপাশের ১০টি গ্রামের মানুষের গাইবান্ধা গো-হাটসহ এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে আসা-যাওয়া করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ মাহমুদ মিয়া বলেন, '১৯৮৫ সালে আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন ব্রিজটি নির্মাণ করে এলজিইডি বিভাগ। ৩৬ বছরেও ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় পারাপার হতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সাইকেল, মোটরসাইকেল ও মালবোঝাই ভ্যান গাড়ি তো দূরের কথা, ব্রিজটির ওপর দিয়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না।'আর বর্তমান চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারীর ভাষ্য, 'বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করবে-এমনটি প্রত্যাশা করি।'এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক জানান, ব্রিজটির উভয় পাশে সংযোগ সড়ক না থাকার বিষয়টি জেনেছি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।একই রকম আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম জামাল আব্দুন নাছের বাবুল। তাঁর মতে, '৩৬ বছর আগে নির্মিত ব্রিজের সংযোগ সড়ক না থাকার বিষয়টি দুঃখজনক।' | 6 |
বয়ঃসন্ধিকালে যেকোনো ধরনের ত্বকেই ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্রণ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে নানা রকম ভুল পদ্ধতি, উপকরণ ও পণ্য দিয়ে রূপচর্চাও শুরু করে কিশোরীরা। এ ছাড়া ব্রণে হাত বা নখ দেওয়ার একটি প্রবণতাও দেখা যায়। ফলাফল জায়গাটিতে দাগ হয়ে যায়। তাই এই সময় ব্রণের সমস্যা এড়াতে নিয়মকানুন মেনে রূপচর্চা করা উচিত।ব্রণ এড়াতে ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। ব্যবহার করা উচিত প্রাকৃতিক উপাদান। হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিন কেয়ার ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী আফরিন মৌসুমী এমনটাই বললেন। তিনি কিশোরীদের ব্রণ সমস্যার কিছু সমাধান দিলেন। খুব বেশি ব্রণ হলে ১ কাপ পানিতে ১ চা-চামচ গ্রিন টি দিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। নির্যাস বের হলে এতে কিছু লবঙ্গ দিয়ে পেস্ট করে নিন। ব্রণে লাগিয়ে রাখলে খুব তাড়াতাড়ি ব্রণ চলে যাবে।প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েও ফেসওয়াশ তৈরি করে নিতে পারেন। ১ কাপ মুগডাল শুকিয়ে গুঁড়া করে তাতে সিকি ভাগ লবঙ্গ ও ১৫-২০টি তেজপাতা মিশিয়ে ব্লেন্ড করে কাচের বয়ামে ভরে রেখে দিতে হবে। বাইরে থেকে আসার পরপরই এর সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে পারো। এতে করে মুখে সাধারণত ছোট ছোট ব্ল্যাক হেডে যে ব্রণগুলো হয় তা চলে গিয়ে ত্বক পরিষ্কার হয়ে যাবে।অ্যালোভেরার জেলও ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ভালো কাজ করে। ১ কাপ অ্যালোভেরার জেল বের করে নিয়ে গরম পানিতে কিছুক্ষণ রেখে ছেঁকে নির্যাস বের করে নিতে হবে। এরপর এই নির্যাসের সঙ্গে ৬-৮টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে কাচের বয়ামে ভরে ৭ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে দেওয়া যাবে। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণ চলে যাবে। ত্বকের লাবণ্য ও আর্দ্রতাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অনেক সময় কিশোরীরা ফেসওয়াশ দিয়ে অতিরিক্ত মুখ ধুয়ে ত্বক শুষ্ক করে ফেলে। এতে করে ব্রণ তো যায়ই না; বরং ত্বকের ধরনও পরিবর্তন হয়ে যায়।আফরিন মৌসুমী আরও বললেন, 'হরমোনজনিত কারণেই এই বয়সে ব্রণ হয়ে থাকে। ১৮ বছরের পর সাধারণত ব্রণের সমস্যা চলে যায়। তবে ব্রণ হলে সে ক্ষেত্রে বাড়তি যত্ন নেওয়া ভালো। রোদে যাওয়ার আগে একটি ঘরোয়া সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারে। সে ক্ষেত্রে শঙ্খ ও মুলতানি মাটির গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে রেখে দেওয়া যায়। বাইরে যাওয়ার আগে পানি বেশি আছে এমন কোনো ময়েশ্চারাইজার দিয়ে নাও। এবার এই পাউডারের মিশ্রণটি ভালোভাবে ত্বকে ব্যবহার করতে পারো। ফলে সিবাম গ্ল্যান্ডটি খুলে যাবে না এবং ব্রণও হবে না। তবে অবশ্যই বাসায় আসার পর খুব ভালোভাবে ঘরোয়া যে ফেসওয়াশের কথা বলা হয়েছে, তা দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।এ সময়ে খাদ্যাভ্যাসের কারণেও সিবাম গ্ল্যান্ড খুলে গিয়ে ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমণ হয়ে ব্রণ হয়। সাধারণত কিশোরী বয়সে তৈলাক্ত ত্বকেই বেশি ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। ত্বকে কালো ছোপও পড়ে যায়। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। কলা ও চীনাবাদাম খাবারে অবশ্যই রাখতে হবে। এ ছাড়া দেশি ফল, বিশেষ করে এই বয়সের জন্য পেয়ারা খুবই উপকারী এবং ত্বকের লাবণ্য বৃদ্ধি করে। ভিটামিন সিসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে নিয়মিত। এ ছাড়া টমেটো ফুটন্ত পানিতে কিছুক্ষণ রেখে রস করে নিয়ে খেলেও ত্বক সুন্দর থাকবে। মনে রাখা ভালো কখনোই মুখ অপরিষ্কার রাখা যাবে না। রাতে অবশ্যই ১ গ্লাস দুধ খেতে হবে। ব্রণে হাত দেওয়া যাবে না। ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। যাদের ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের মেকআপ না করাই ভালো। যদি মেকআপ করা হয় তাহলে অবশ্যই পাউডার বেজ মেকআপ করতে হবে। | 4 |
ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের বর্ডার হাট কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে মঙ্গলবার চালু হয়েছে সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুরা বর্ডার হাট। আগামী ১২ মে দোয়ারাবাজারের বাগানবাড়ি এবং ১৬ মে চালু হবে তাহিরপুরের ডলুরা বর্ডার হাট। করোনা মহামারির শুরু থেকে (২৫ মার্চ, ২০২০ থেকে) ডলুরা বর্ডার হাট বন্ধ ছিল। যৌথ বর্ডার হাট (সীমান্ত হাট) ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৯ এপ্রিলের বৈঠকে মঙ্গলবার হাট খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুরা এলাকায় ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল গড়ে ওঠা দেশের ২য় ডলুরা-বালাট বর্ডার হাট সুনামগঞ্জ সীমান্তের জনপ্রিয় বর্ডার হাট। প্রতি মঙ্গলবার এই হাট বসে। করোনাকালে সেটি বন্ধ ছিল। এ পারের ২৫ জন দোকানি এবং ওপারের ২৫ জন দোকানি এই হাটে বিক্রেতা হিসেবে বসেন। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তের বাগানবাড়ী বর্ডার হাট ও তাহিরপুরের লাউড়েরগড় বর্ডার হাট গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে কোনোটাই চালু হয়নি। মঙ্গলবার ডলুরা বর্ডার হাট পুনরায় চালুকালে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (সিলেট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত) নীরাজ কুমার জায়সওয়াল, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ইফতি সাম প্রীতি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রশিদ আহমেদ প্রমুখ। ভারতের হিস্ট খাসি হিলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালে শুরু হয় দুই দেশের সীমান্ত তাহিরপুরের লাউড়েরগড় বর্ডার হাট ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বাগানবাড়ীতে বর্ডার হাট নির্মাণের কাজ। গত ২৬ মার্চ এই হাটগুলো উদ্বোধন হয়েছে। করোনার কারণে এই দুই হাট বসেনি। ভারতীয় হাইকমিশনের সিলেট উপ-হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাতটি সাতটি বর্ডার হাট রয়েছে। আরও নয়টি নতুন হাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রসঙ্গত, বর্ডার হাট আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং জনগণের যোগাযোগে নতুনমাত্রা যোগ করছে। বর্ডার হাটগুলো স্থানীয় জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছে। এটি সীমান্ত জনগণের জন্য আয়ের অতিরিক্ত উৎস হয়েছে। দুই দেশের মানুষের সংযোগ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের স্থানীয় জনগণের উৎপাদিত কৃষি ও উদ্যানজাত পণ্য, ক্ষুদ্র কৃষি ও গৃহস্থালির পণ্য, সবজি, শুকনো মাছ, কুটির শিল্পের জিনিসপত্র, কাঠের আসবাবপত্র, তাঁত এবং হস্তশিল্পের পণ্যবিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। | 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, "আশা করি নিম্ন আদালতের ফাঁসির এ রায় উচ্চ আদালতে বহাল থাকবে। অপরাধী যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন, অপরাধ করে কেউ পার পেতে পারবে না।" সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশ ও বন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। বিডি-প্রতিদিন/ ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭/ আব্দুল্লাহ সিফাত-১৯ | 6 |
ঘোষণাটা ম্যাচের আগেই দিয়ে রেখেছিলেন জাভি হার্নান্দেজ। সমর্থকেরাও ছিলেন প্রস্তুত। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে মাঠে নামতেই ন্যু ক্যাম্পে সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন আনসু ফাতি।অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে গত জানুয়ারির শেষে বড় রকমের চোটে পড়েছিলেন বার্সার কিশোর 'সেনসেশন' ফাতি। বাঁ ঊরুর চোটে তিন মাস বাইরে থাকার পর বিলবাওয়ের বিপক্ষে মাঠে ফিরে কোচ জাভিকে আশার আলো দেখাচ্ছেন ফাতি।১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড কাল মাঠে নামতেই ৩ ম্যাচ পর জয় পেয়েছে বার্সা। মেম্ফিস ডেপাই ও সার্জিও বুস্কেটসের গোলে ঘরের মাঠে মায়োর্কার বিপক্ষে কাতালানদের জয় ২-১ ব্যবধানে।এই জয়ে ৬৬ পয়েন্টে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানটা ধরে রেখেছে বার্সা। লিগে বাকি আরও চার ম্যাচ। রানার্সআপ হতে হলে সবগুলো ম্যাচেই জয় পেতে হবে জাভির দলকে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফাতিকে ফিরে পেয়ে তাই স্বস্তি বার্সা কোচের কণ্ঠে, 'ফাতি অসাধারণ ও সবার থেকে আলাদা। সে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একজন।'পরিসংখ্যানও বলছে লিগের শেষ সময়ে ফাতির প্রত্যাবর্তনটা কতটা জরুরি। চোটে পড়ার আগে ছিলেন দারুণ ফর্মে। দশ ম্যাচে করেছেন পাঁচ গোল। বার্সার সমর্থকেরাও ভীষণভাবে মুখিয়ে ছিলেন ফাতির ফেরার অপেক্ষায়। পিঁয়েরে এমেরিক অবামেয়াংয়ের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলেছেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। বার্সার পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের জন্যও যা সুখবর। | 12 |
১৮৮ জন আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হওয়া লায়ন এয়ারের ফ্লাইটের চালক ছিলেন একজন ভারতীয়। তার নাম ভব্য সুনেজা। ৩১ বছর বয়সী ওই পাইলট দিল্লির বাসিন্দা। এনডিটিভি জানায়,নিখোঁজভব্য সুনেজা সাত বছর আগে লায়ন এয়ারের ফ্লাইটে পাইলট হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি শিক্ষানবিশ পাইলট হিসেবে সেখানে কাজ করেন। সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জাভা সাগরে পড়ে যায় এই বোয়িং বিমানটি। বেল এয়ার ইন্টারন্যাশনাল থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন সুনেজা। পরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সে ট্রেইনি পাইলট হিসবে কাজ করেন তিনি। এরপর যোগ দেন লায়ন এয়ারে। সুনেজা বোয়িং ৭৩৭ বিমান চালনাতে পারদর্শী ছিলেন বলে জানা গেছে। | 3 |
১৮ আসনে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে মনোনয়ন দিতে বৃহত্তর উত্তরার সাত থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা চিঠি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে চিঠি দেন তারা। চিঠিতে ওই আসনের অধীন দণি খান, উত্তরখান, খিলতে, বিমানবন্দর, তুরাগ, উত্তরা পূর্ব ও উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা স্বার করেন। চিঠির একটি অনুলিপি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও পাঠানো হবে। সাধারণত মনোনয়ন দেয়ার ওই আসনের অধীন থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মতামতকে গুঠঝত্ব দেয়া হয়। এক্ষেত্রে এটি বিবেচনায় আনা হবে বলে বিএনপির এক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন। এদিকে ঢাকা-১৮ তে এখনো প্রার্থী কেন হচ্ছেন তা দলের নীতিনির্ধারকের সিদ্ধান্ত নিতে আবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসবে। তবে এ আসনের তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে যিনি প্রার্থী হবেন তাকে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হতে পারে। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং কফিল উদ্দিন আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে ঘটনার সূত্রপাত কোন পর্যায় করেছেন তা নিয়ে জানার চেষ্টা করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। তবে প্রত্যদর্শী কয়েকজন আমাদের সময়কে জানিয়েছেন, কফিলের সমর্থককেরাই প্রথমে তেড়ে আসেন জাহাঙ্গীর সমর্থকদের দিকে। এতে প্রথমে হাতাহাতি এবং পরে মারামারি জড়িয়ে পড়েন দুই পরে নেতা-কর্মীরা। | 6 |
ইসরাইলকে বয়কট করার একটি আইন বাতিল করেছে সুদান। ওই আইনে ইসরাইলকে বয়কট করার বিষয়টির স্বীকৃত ছিল। যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীন হবার পর থেকেই ইসরাইল ওপর এ আইনটি আরোপ করে সুদান। মঙ্গলবার সুদানের মন্ত্রী পরিষদ এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে বলে আনাদোলু এজেন্সি তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সুদানের মন্ত্রী পরিষদ আজ তাদের সভায় একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এ আইনের মাধ্যমে ১৯৫৮ সাল থেকে ইসরাইলের ওপর বয়কটের বিষয়ে যে আইন ছিল তা বাতিল করা হয়েছে। এ বিবৃতিতে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে যে ফিলিস্তিনি ইস্যু সমাধানে সুদান সবসময় সক্রিয় থাকবে। সুদানের মতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে এ ইস্যুর নিষ্পত্তি হবে। এ বিবৃতিতে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা হয় যে এ আইনটি তখনই প্রয়োগ করা হবে যখন চূড়ান্তভাবে এ আইনটি মন্ত্রিসভা ও সার্বভৌম পরিষদ কর্তৃক স্বীকৃত হবে। সুদান গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইসরাইলের সাথে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এ স্বীকৃতিদানের পর যুক্তরাষ্ট্র সুদানকে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেয়। সূত্র : মিডল ইস্ট মিরর | 3 |
১৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে যাওয়া রক্তিম সুশীলের সৎকার গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সম্পন্ন হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারার মালুমঘাটে পিকআপ চাপায় তিনি আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ওই সড়ক দুর্ঘটনায় রক্তিমের পাঁচ ভাই মারা গিয়েছিলেন।এদিকে, বুধবার দুপুরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে চট্টগ্রাম থেকে চকরিয়ায় ছুটে আসেন। এ সময় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের জন্য চাল, ডাল, তেল, কম্বলসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ ছয় ভাইয়ের স্ত্রীদের হাতে নগদ সহায়তা তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) তফিকুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত উজ জামান প্রমুখ। | 6 |
ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনে সেনা পাঠানো রাশিয়া আদতে 'শান্তিরক্ষাকারী' নয়। এ মুহূর্তে রাশিয়ার সামনে যুদ্ধবিরতি ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। আমরা তাদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান করছি। জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাই তাদের উচিত হবে যুদ্ধবিরতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশকে অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো। খবর আল জাজিরার। | 3 |
ফ্যাশন সাময়িকী ভোগ-এর ভারতীয় সংস্করণ ভোগ ইন্ডিয়ার সেপ্টেম্বর মাসের প্রচ্ছদকন্যা একজন নয়, বরং দুজন। সম্পর্ক তাঁরা মা আর মেয়ে। মা দীপা খোসলার বয়স ৩০ বছর। আর মেয়ে ডুয়ার বয়স মাত্র চার মাস। সন্তান জন্ম দেওয়ার আড়াই মাসের মাথায় এই দীপা মাতিয়েছিলেন কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেট। এবার মাতৃত্বের শক্তিকে উদ্যাপন করতে দীপা তাঁর কন্যাসহ হাজির ভোগের প্রচ্ছদে। প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে তিনি কথা বলেছেন সংসার, মডেলিং ক্যারিয়ার, মাতৃত্ব আর সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে চ্যালেঞ্জ নিয়ে। ২০১৯ সালে তিনি ফ্যাশন সাময়িকী এলে ইন্ডিয়ার জরিপে বছরের সেরা প্রভাবশালী ফ্যাশন আইকনের স্বীকৃতি পান। দীপা মূলত পাঞ্জাবি। তাঁর পরিবার চেন্নাইয়ে থিতু হওয়ার আগে প্রথম ছয় মাস কেটেছে দিল্লিতে। তারপর তিনি একটা ব্রিটিশ বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি হয়ে যান। আর এখন পুরো বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করছেন নেদারল্যান্ডসে। ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার দীপার ওজন ৪৯ কেজি। ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে নামডাক আছে তাঁর। প্রশংসা কুড়িয়েছেন সামাজিক কাজ করেও। ২০১৮ সালে দীপা আইনজীবী ও নেদারল্যান্ডসের কূটনীতিক ওলেগ বুলারকে বিয়ে করেন। ভারতের উদয়পুরে হওয়া সেই বিয়ে নানা কারণে আলোড়ন তুলেছিল ফ্যাশন বিশ্বে। কেউ যদি কিছুক্ষণের জন্য সব ভুলে ভিন্ন এক দুনিয়ায় ডুব দিতে চায়, তবে ভোগ ইন্ডিয়ার পরামর্শ, দীপার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঢুঁ মেরে আসার। সেখানে নাকি মিলবে সত্যিকারের এক জীবনের সতেজ, রঙিন পরশ। পাওয়া যাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন তারকা, আইনজীবী, ইনফ্লুয়েন্সার, মডেল, মা, উদ্যোক্তা আর কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকারের আন্দোলনের প্রথম সারির এক সমর্থককে। সম্প্রতি দীপা সৌন্দর্যচর্চার নিজস্ব ব্র্যান্ড চালু করেছেন। প্রথমেই সেটি নিয়ে কথা বলেছেন ভোগ ইন্ডিয়ার সঙ্গে-'আমার মা একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। আমি ছোটবেলা থেকেই ত্বকের যত্ন নিয়ে আগ্রহী ছিলাম। আজ হোক বা কাল, বিউটি ব্র্যান্ড তো আমি করতামই।' দীপার কোম্পানির মূলে রয়েছেন চার নারী। তাঁদের একজন দীপা নিজে, তাঁর রয়েছে ১৫ বছরের মডেলিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া ত্বক আর চুল নিয়ে পিএইচডি করেছেন, এমন এক নারী রয়েছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞও আছেন। আর অবশ্যই তাঁর মা, আর্য়ুবেদিক ডাক্তার। দীপার জীবনসঙ্গী ওলেগ বুলার নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিক। দীপা আর ওলেগের বিয়ের পর তাঁরা 'পোস্ট ফর চেঞ্জ' নামে একটি এনজিও খোলেন। নারীর সমতা, নারীর যৌনতার অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য-এসব নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করে এই এনজিও। মা হওয়া, নিজের বিউটি ব্র্যান্ড নিয়ে হাজির হওয়া, রেড কার্পেট আর ম্যাগাজিনে দেখা দেওয়া-এগুলো সব একসঙ্গেই চলেছে। দীপা বলেন, 'আমি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। আমি সবই চাই। আর আমার ধারণা, আমার মেয়েও ছোটবেলা থেকেই ওগুলো শিখবে। আড়াই মাসের মেয়েকে নিয়ে আমি ফিট হয়ে কানের রেড কার্পেটে হেঁটেছি। সন্তান জন্মের কয়েক ঘণ্টা আগেও আমি নিজের ব্যবসা নিয়ে মিটিং করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আপনি যদি চান, তাহলে সব সম্ভব। অজুহাতের সীমা নেই। আপনি সিদ্ধান্ত নিন, আপনি কাজ করবেন না অজুহাত তৈরি করবেন।' এটুকু পড়ে অনেকেই হয়তো ঠোঁট উল্টে বলবেন, 'দীপা সুবিধাপ্রাপ্ত। আমাদের জীবন দীপার মতো নয়।' এঁদের জন্য দীপা বলেছেন, 'কারও জীবনের চলার পথ অন্য কেউ তৈরি করে দিয়ে যায় না। নিজেকেই তৈরি করতে হয়। আমিও চলার পথে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। পড়ে গেছি, উঠে দাঁড়িয়েছি। উত্থান-পতন এটা প্রতিটি সফল জীবনের অংশ। প্রতিটি সফল মানুষকেই নিজের পথ নিজেকে তৈরি করে নিতে হয়। মানুষ বড় চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিয়ে আসে বলেই সে বড় আর শক্তিশালী হয়।' | 4 |
নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হাত খুলে খেলতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। শাই হোপ আর জেসন হোল্ডার হাল না ধরলে বড় বিপদেই পড়তো ক্যারিবীয়রা। শেষ পর্যন্ত তারা তুলতে পেরেছে ৯ উইকেটে ২৪৭ রান। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড়ো সূচনা করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশেষ করে ওপেনার সুনিল এমব্রিস ছিলেন বেশি ভয়ংকর। অবশেষে ভয়ংকর হয়ে উঠা এই ওপেনারকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে উদ্বোধনী জুটিটি ভাঙেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। উদ্বোধনী জুটিতে এমব্রিস আর শাই হোপ তুলেন ৩৫ বলে ৩৭ রান। এমব্রিস ১৮ বলেই ৪ বাউন্ডারিতে করে ফেলেছিলেন ২৩ রান। ষষ্ঠ ওভারে এসে মাশরাফি তাকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়েছেন। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য। এরপর ড্যারেন ব্রাভোকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৩ বলে মাত্র ৬ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। তৃতীয় উইকেটে রস্টন চেজকে নিয়ে আবারও প্রতিরোধের চেষ্টা হোপের। ৩৩ রানের এই জুটিটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। মিড উইকেটে ক্যাচটা প্রায় ছুটে যাচ্ছিল। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় মাহমুদউল্লাহ সেটি তালুবন্দী করেন। ১৯ রান করেন চেজ। ক্যারিবীয় ইনিংসে চতুর্থ আঘাতটিও হানেন মোস্তাফিজই। জোনাথান কার্টারকে ৩ রানে এলবিডব্লিউ করেন বাঁহাতি কাটার মাস্টার। ৯৯ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাঝে বাংলাদেশি বোলারদের বিপক্ষে রান তুলতে রীতিমত ঘাম ঝরছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। টানা ১০৩ বল বাউন্ডারির দেখা পায়নি ক্যারিবীয়রা। সৌম্য সরকারের করা ইনিংসের ৩০তম ওভারে এসে সেই খরা কাটান জেসন হোল্ডার। ওভারের চতুর্থ বলে একটি চার মারেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক, পরের বলে মেরে দেন আরেকটা। হোল্ডার আর হোপ মিলেই ক্যারিবীয়দের বড় লজ্জা থেকে বাঁচান। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন ১০০ রানের জুটি। আরেকটি সেঞ্চুরির পথেই যাচ্ছিলেন হোপ। অবশেষে তাকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান মাশরাফি। ১০৮ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৮৭ রান করেন এই ওপেনার। সঙ্গী হারিয়ে হোল্ডারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একইভাবে মাশরাফির বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের কাছে ক্যাচ হন ৭৬ বলে ৬২ রানে থাকার সময়। এরপর ফ্যাবিয়েন অ্যালেনকে (৭) এলবিডব্লিউ করেন সাকিব। অ্যাশলে নার্স (১৪) আর রেমন রেইফারকে (৭) দুর্দান্ত দুই ডেলিভারিতে ফেরান মোস্তাফিজ। সবমিলিয়ে ৯ ওভারে ৪৩ রান খরচায় কাটার মাস্টার নেন ৪টি উইকেট। ১০ ওভারে ৬০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মাশরাফি। একটি করে উইকেট সাকিব আল হাসান আর মেহেদী হাসান মিরাজের। | 12 |
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় চার মাস মাঠের অনুশীলন বন্ধ ছিল ক্রিকেটারদের। চলতি সপ্তাহ থেকে কয়েকজন আলাদাভাবে অনুশীলন শুরু করেছেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। বিসিবির দেয়া সূচী অনুযায়ী আজ ২৫ জুলাই (শনিবার) ব্যক্তিগত অনুশীলন করেছেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন। রানিং ও ব্যাটিং সেশনে তারা ঘাম ঝরিয়েছেন। প্রানঘাতি করোনার কারণে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ যেন না হয়, সে কারণে অনুশীলন সূচি আলাদা করে দেয়া হয়েছে। আজ দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সোয়া ১০টা অব্দি শফিউল ইসলামের ব্যাটিং এবং সাড়ে ১১টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত রানিং সেশন থাকলেও তিনি অনুপস্থিতি ছিলেন। মুশফিকের পরে মাঠে নামেন আরেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি প্রায় আধ ঘণ্টাব্যাপী করেছেন রানিং। তারপর সাড়ে ১২ টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ইনডোরে ব্যাটিং করেছেন এই উইকেটরক্ষক কাম মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। করোনার বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে ফিরেছে ক্রিকেট।ইংল্যান্ড,ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট সিরিজ চলছে, পাকিস্তান,আয়ারল্যান্ডও দ্রুত ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। শ্রীলংকায় শুরু হয়েছে অনুশীলণ। ব্যক্তিগতভাবে মুশফিক,সৌম্য,রুবেল,নাইম শেখ নিজেদের মত করে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন। তবে ১৯ জুলাই থেকে বিসিবি'র অনুমতি পাওয়ায় মিরপুর সহ বাংলাদেশের অন্য সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুতে অনুশীলন শুরু করে মুশফিকরা। প্রথম ফেইজের এই অনুশীলন পর্ব ২৬ জুলাইয়ের পর কোরবানি ঈদের বিরতিতে যাচ্ছে। | 12 |
জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনে এগিয়ে রয়েছে রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরী। দেশে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন ধরনের অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (২ মে) সকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. আবদুল জলিল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, এ রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরীতে দৈনিক ১ হাজার দুই শত লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও নিত্য-প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন চলছে। শিল্পনগরীতে অবস্থিত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান 'টিম ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড' প্রতিদিন ১০০ মিলি আকারের ১২ হতে ১৫ হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করছে। উৎপাদিত এ হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন প্রকারের ১০ হাজার প্যাকেট ওষুধ উৎপাদন করছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা । এছাড়া, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শিল্পনগরীর আরও ৩টি প্রতিষ্ঠান 'অশোকা ল্যাবরেটরি', 'হকস্ ফার্মা' এবং 'শাহী ল্যাবরেটরি' সুনামের সাথে ইউনানী / আয়ুর্বেদিক ওষুধ উৎপাদন করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠান তিনটিতে সাধারণ জ্বর, সর্দি, হাঁপানিসহ জটিল ও কঠিন রোগের ওষুধ উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে। শিল্পনগরীতে উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪৬টি খাদ্য ও খাদ্য সহায়ক উৎপাদনকারী কারখানা রয়েছে। এগুলোতে নিয়মিত চাল, ডাল, আটা, ময়দা, সুজি, সেমাই, চানাচুর, বিস্কুট, কেক, পাউরুটি, সরিষার তেল, আইসক্রিম, বিশুদ্ধ খাবার পানি, গুঁড়া মরিচ, গুঁড়া হলুদ ইত্যাদি উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে 'নোভা এশিয়া এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ' নামে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদিত খাদ্য পণ্যের শতভাগ আমেরিকা ও কানাডায় রপ্তানি করছে বলে জানান শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো: ওয়ায়েস কুরুনী । রাজশাহী বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক জাফর বায়েজীদ জানান, 'শিল্পনগরীর কারখানাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে শ্রমিকেরা পণ্য উৎপাদন করছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কারখানাগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকারের নির্দেশনায় কারখানাগুলোতে পণ্য উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ চেইন অব্যাহত বিসিকের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়া হচ্ছে"। উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে প্রায় ৯৭ একর জমির উপর রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। এতে ৩শ'২৫টি শিল্প প্লটের ২শ'০৪টি শিল্প ইউনিট সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ শিল্পনগরীতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। | 4 |
এডমন্ড হিলারি। ইতিহাসের প্রথম এভারেস্টজয়ী। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া এই এভারেস্টজয়ীর সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার গল্প বের করে এনেছেন শাহনেওয়াজ টিটু- নিউজিল্যান্ডের আল্পস পর্বত দিয়ে পাহাড়ে চড়ার যাত্রা শুরু আমার। সেখানে কঠিন পর্বতমালায় উঠেছি। বেশ কিছু পর্বতের চূড়ায় পা ফেলা প্রথম মানুষ আমি। ইউরোপিয়ান আল্পসেও এক বছর কাটিয়েছি। উঠেছি সেটির চূড়ায়ও। তার পরই মনে হলো, এবার হিমালয়ে পা ফেলা যাক। তবে এভারেস্ট নয়; বরং আমরা গিয়েছিলাম ইন্ডিয়ান গাওয়াল হিমালয়ে চড়তে। তাতে বেশ সফলও হলাম। মোটামুটি ২০ হাজার ফুটেরও বেশি উঁচু কিছু পর্বতের চূড়ায় উঠলাম। তখনই পত্রিকা পড়ে জানতে পারলাম, নেপাল দিয়ে এভারেস্টের দক্ষিণ দিকটিতে বিচরণ করার অনুমতি পেয়েছে ব্রিটিশরা। এর আগ পর্যন্ত বিদেশিদের জন্য এখানে বিচরণের কোনো অনুমতিই ছিল না। অভিযানের প্রথম দিনগুলো: এ খবর পড়ে মনে হলো, 'এখানে বিচরণ করতে পারলে বেশ মজাই হবে!' ফলে লন্ডনে যোগাযোগ করলাম, অর্গানাইজেশনটির সঙ্গে। তাদের দলের সঙ্গে এভারেস্টের দক্ষিণ দিকটিতে অভিযানে যাওয়ার অনুমতি পেলাম আমরা দু'জন। জানেন তো, যদিও এ ছিল একটি অভিযাত্রী দল; তবে এ যেন একদম ফুটবল টিমের মতো ব্যাপার। যদি আপনি যথেষ্ট উপযুক্ত হন এবং যদি কোনো ভুল করে না বসেন, তাহলে এ দলে একবার ঢোকার সুযোগ পেলে আপনাকে কেউ বের করে দেবে না। সেই এভারেস্ট পরিদর্শনে গিয়ে, অভিযানটি বেশ সফলই হলো আমাদের। পরের বছর আবার এখানে এলাম আমরা। আরও বেশ কিছু সফল অভিযান করলাম। এরপর ১৯৫৩ সালে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হলো সামিটের প্রচেষ্টা করার। এটি একটি ক্রমবর্ধমান ও শিক্ষামূলক প্রক্রিয়া। অভিযানের প্রথম দিনগুলোতে আমি কোনোদিনও ভুলেও ভাবিনি এভারেস্টের সামিটে পৌঁছাতে পারার কথা। হেঁটে গেছি অবিরাম: অনেকে বলে থাকে, এভারেস্টে চড়ার সময় এক পা এগিয়ে একটু দম নেওয়া ভালো। কিন্তু আমি কখনোই সেভাবে এগোইনি। অত উঁচুতে, অক্সিজেনের অভাবের মধ্যে, এভাবে ধীরে-সুস্থে পা বাড়ানোই হয়তো ভালো। অথচ আমি করেছি ঠিক উল্টোটি। বেশিরভাগ সময়ই হেঁটে গেছি অবিরাম; আর দম নেওয়ার জন্য বলতে গেলে তেমন থামিনি। আমার ধারণা, পরিবেশের সঙ্গে খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছিলাম আমি। ছড়িয়ে আছে হাজারও ঝুঁকি: এভারেস্টে ছড়িয়ে আছে হাজারও ঝুঁকি। তবে যে রুটটিতে আমরা চূড়ায় উঠেছি, সেটি যে সবচেয়ে সহজ দুটি রুটের একটি, সে কথা জেনেছি অনেক পরে। কেননা, জানব কী করে- আমাদের আগে তো কেউই পৌঁছেনি সেখানে। আমরা যখন পর্বতটির গোড়ায়, আইস ফল হচ্ছিল তখন। বড় বড় বরফ খণ্ড ভেঙে পড়ছিল। জায়গাটি ছিল ভীষণ বিপজ্জনক। এ সময় ধীরগতিতে হলেও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখলাম আমরা। বছরের পর বছর ধরে বহু মানুষ এমন পরিস্থিতির কারণে সেখানে মারা গেছে। বরফের দেয়াল ভেঙে পড়ার মুহূর্তে, প্রকৃতির নিদারুণ বৈরিতার শিকার হয়েছে তারা। তেনজিংয়ে একবার আইস ফলের দুঃসহ অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমারও। অনেক উঁচুতে ওঠার পর, আমরা তখন নামতে বাধ্য হচ্ছিলাম। অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছিল তখন। পুরো অন্ধকারে ঢেকে যাওয়ার হাত থেকে রেহাই পেতে, আইস ফলের ভেতর দিয়েই নামতে হয়েছে আমাদের। দড়ি বেয়ে একসঙ্গেই নামতে শুরু করেছিলাম আমরা; কিন্তু আমার মধ্যে কেন যেন একটু তাড়াহুড়ো ছিল। অর্ধেকটা নামার পর একটা ফাটলের মুখোমুখি হয়ে পড়ি আমি। হুড়মুড়িয়ে নামতে গিয়ে আমি আছড়ে পড়েছিলাম সেই বরফের চাকের ওপর। সেটি আমাকে সঙ্গে নিয়েই ভেঙে পড়েছিল ফাটলের ওপর। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম। চূড়ায় পৌঁছানোর আত্মবিশ্বাস: এভারেস্টের ২৮ হাজার ৭০০ ফুট উচ্চতার সাউথ সামিটে পৌঁছানোর পর সামিট রিজ বা সেতুবন্ধের দিকে তাকালাম। সেটিকে বিস্ময়কর রকমের সরু লাগছিল। একপাশে তুষার আর বরফে ঢাকা সেতুটিকে লাগছিল ছবির ফ্রেমের মতো। এর একপাশ ধরে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু সেতুবন্ধটির অর্ধেকের মতো পৌঁছতেই আমরা দেখতে পেলাম, সামনে একটা রক স্টেপ। মনে হলো ৪০ ফুটের মতো হবে উচ্চতা। রক স্টেপটির কাছে পৌঁছানোর জন্য এক পাশ ধরে হাঁটতে থাকলাম আমি। কিন্তু কাছে যেতেই টের পেলাম এর উচ্চতা, যেটি আসলে ২৯ হাজার ফুট। মনে হলো, এটিকে অতিক্রম করা সম্ভব নয়। কিন্তু তার পরই খেয়াল করলাম, রক স্টেপটির ডান পাশে, যেখানে দেয়ালজুড়ে বরফের আস্তরণ, তার মধ্যে মাত্র দুই ফুট প্রশস্ত একটি ফাটল। রক স্টেপটির মধ্যে ঢুকে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে যাওয়ার জন্য এ ফাটলই যথেষ্ট। হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে পড়লাম। তারপর একইভাবে, এঁকেবেঁকে ওপরের দিকে উঠতে থাকলাম। এক সময় পৌঁছে গেলাম সেই রক স্টেপের চূড়ায়। সেটিই ছিল সেই অভিযানের সত্যিকারের প্রথম মুহূর্ত, যখন আমার মনে হলো, এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে পারব। সেই রক স্টেপটি পেরোনোর পরই চূড়ায় পৌঁছানোর আত্মবিশ্বাস পেলাম আমি। শেষ পর্যন্ত আমরা তা পেরেছিও। সেই স্টেপটি এখন 'হিলারি স্টেপ' নামে পরিচিত। দক্ষিণ দিক দিয়ে যেই এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে যাক না কেন, হিলারি স্টেপ তাকে পেরোতেই হবে। | 5 |
তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস দ্বিতীয় মেয়াদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক হতে যাচ্ছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থার নেতৃত্বসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল মঙ্গলবার ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে গেব্রেয়াসুসকে মনোনীত করে নির্বাহী বোর্ড। আর কোনো প্রার্থী না থাকায় গেব্রেয়াসুসের দ্বিতীয় মেয়াদে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক হওয়ার বিষয়টি এখন নিশ্চিত। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক বেছে নিতে আগামী মে মাসে নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের ভোট দিয়ে একজনকে মহাপরিচালক হিসেবে বেছে নেন সংস্থার সদস্যরা। মহাপরিচালক প্রার্থী মনোনীত করার জন্য গতকাল ডব্লিউএইচওর নির্বাহী বোর্ডের সদস্যরা ভোটাভুটিতে অংশ নেন। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে হওয়া এই ভোটে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে গেব্রেয়াসুসের মনোনয়ন অনুমোদন পায়। ডব্লিউএইচওর প্রধান হিসেবে দুই বছরের বেশি সময় ধরে করোনা মহামারির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন গেব্রেয়াসুস। দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য একক প্রার্থী হিসেবে গতকাল মনোনয়ন পাওয়ার পর ডব্লিউএইচওর নির্বাহী বোর্ডের প্রতি গেব্রেয়াসুস কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, তাঁর প্রথম পাঁচ বছরের মেয়াদটি চ্যালেঞ্জের ও কঠিন ছিল। এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগকে অত্যন্ত সম্মানজনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারি শুরুর পর ৫৬ বছর বয়সী গেব্রেয়াসুস যেভাবে ডব্লিউএইচওকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার জন্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আফ্রিকান দেশগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলোর জন্য টিকা নিশ্চিত করতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য গেব্রেয়াসুস প্রশংসিত। তবে নিজ দেশ ইথিওপিয়ার সরকার গেব্রেয়াসুসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। দেশটির তাইগ্রে অঞ্চলে ১৪ মাস ধরে চলা সংঘাতে সৃষ্ট মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর করা এক মন্তব্যের সমালোচনা করেছে ইথিওপিয়া সরকার। সেখানকার পরিস্থিতিকে নরকের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ করেছিলেন, ইথিওপিয়া সরকার অসহায় মানুষের কাছে ওষুধ ও জীবন রক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছাতে দিচ্ছে না। | 3 |
ঢাকাই চলচ্চিত্রের 'বিউটি কুইন' খ্যাত অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। গতকাল শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে নরসিংদীর মনোহরদীতে ঢাকাই চলচ্চিত্রের গানে তিনি পারফর্ম করেছেন। মনোহরদীর হাজারো দর্শকের মন মাতিয়েছেন জনপ্রিয় এই নায়িকা। তাঁর নাচের তালে দর্শকও নেচেছেন।উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এমদাদুল হক আকন্দের আয়োজনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিববর্ষ ও বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে কৃষ্ণপুর কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন খোলা মাঠে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নেচেছেন অপু বিশ্বাস।হঠাৎ জনপ্রিয় এই চিত্রনায়িকাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত মনোহরদীবাসী। এমনকি নিজের চোখে দেখার আগে পর্যন্ত অপুর উপস্থিতির খবর অনেকে বিশ্বাসই করতে পারেনি। অপুকে একনজর দেখতে অনুষ্ঠানে ভিড় জমায় অপুভক্তরা। লাল-নীল আলোয় ঘেরা মঞ্চে অপু ও তাঁর দল চমকে দেয় সবাইকে।কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নজরুল মজিদ মাহমুদ স্বপন, মনোহরদী পৌর মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন, জেলা পরিষদের সদস্য আবদুস সামাদ মোল্লা যাদু প্রমুখ। | 6 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার খুলেছে। আজ রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় অনার্স চতুর্থ বর্ষ এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থাগারের ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে। এক ডোজ করোনা টিকার প্রমাণপত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখিয়ে গ্রন্থাগারে প্রবেশ করতে পারছেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান গ্রন্থাগার ও বিভাগীয়/ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারবেন। আগামী ৫ অক্টোবর খুলে দেওয়া হবে আবাসিক হল। অনার্স চতুর্থ বর্ষ এবং মাস্টার্সের যেসব শিক্ষার্থী কোভিড-১৯-এর অন্তত প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন, তারা স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রন্থাগার ব্যবহার এবং নিজ নিজ হলে উঠতে পারবেন। তবে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণের প্রমাণপত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে পাঁচদিন (রবি থেকে বৃহস্পতিবার) খোলা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও বিভাগীয়/ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরি। তবে, সেখানে পড়ার সুযোগ পাবে শুধু স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা। পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীদেরও পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া, এবার গ্রন্থাগার ও বিভাগীয়/ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরিতে পড়ার ক্ষেত্রে বেশ সীমাবদ্ধতা এনেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গ্রন্থগার খুললেও গ্রন্থাগারে শুধু একাডেমিক পড়াশোনা করা যাবে। বাহির থেকে চাকরির বইপত্র, খাবার ইত্যাদি নেওয়া যাবেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও বিভাগীয়/ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরি খুলে দেওয়ার কারণে আগামীকাল থেকে সীমিত পরিসরে চালু হচ্ছে বাস। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনের দৃশ্যমান জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের নির্দেশিকা সম্বলিত ব্যানার/ফেস্টুন থাকবে।স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু নিয়মিত আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করবেন। সভায় হল ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়। | 6 |
এক মাস আগে বদলীর আদেশ! তিনদফা চার্জ হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে চিঠি। এরপরও দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন না কুড়িগ্রামের উলিপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, খাদ্য ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সঙ্গে অনৈতিক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষের বদলির আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন ওই কর্মকর্তা। গত ৫ নভেম্বর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল কাদের আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকতার্র বদলি আদেশ কার্যকর করার জন্য মনোয়ারুল ইসলামকে চিঠি দেন। এরপরও ওই অসাধু কর্মকর্তা দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে আবারো গত ১১ নভেম্বর আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকতার্ ১৮ নভেম্বরের মধ্যে তাঁকে সময় বেধে দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের চিঠি দেন। এদিকে, মনোয়ারুল ইসলামের স্থলে দায়িত্ব নিতে আসা আমজাদ বলেন, তিনি এক মাস থেকে দায়িত্ব নেয়ার জন্য উলিপুরে এসে বসে আছেন। বদলি হওয়া মনোয়ারুল ইসলামকে এক মাস ধরে বিভিন্ন সময় ফোন করেই যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করছেন না এবং দায়িত্বও হস্তান্তর করছেন না। এ ব্যাপারে মনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গুদামে কিছু কাজ বাকি থাকায় তিনি আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকতার্র বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন না। দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে উর্ধ্বতন কর্মকতার্র আদেশ অমান্য করা হবে কিনা- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভায়োলেশন হবে না। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের জানান, মনোয়ারুল ইসলামকে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য বলা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেন নি। আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকতার্ রায়হানুল কবীর জানান, নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে বদলি আদেশ কার্যকর না হলে, 'বদলী নীতিমালা ২০১৯' অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। খাদ্য ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, গত ২০১৮ সালের মার্চ মাসে খাদ্য গুদাম কর্মকতার্ মনোয়ারুল ইসলাম উলিপুর খাদ্য গুদামে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করে একটি রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করেন। মিল মালিকদের কাছ থেকে ছাঁটাইকৃত চাল না কিনে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল কাগজে কলমে ক্রয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ পেয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের নির্দেশে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলে তাকে বদলির নির্দেশ দেন। গত ১৬ অক্টোবর রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবির তাকে বদলি করে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে অফিসে যোগদানের নির্দেশ দেন। এই আদেশ পাওয়ার পর তিনি ওই বদলি আদেশ ঠেকাতে ঢাকায় যান। | 6 |
অর্থ মন্ত্রণালয় অভিমুখে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলে গুলিস্তানে জিপিও'র জিরো পয়েন্টে বাধা দিয়েছে পুলিশ। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধের দাবিতে এবং অবলোপন ও রিসিডিউলের নামে ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাতদের ঋণ মওকুফ, সুদ কমানোসহ অন্যায় সুবিধা দেয়ার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাকা হয়। রোববার বেলা বারোটার দিকে কর্মসূচি পালন করতে জোটের শরিক দলগুলো বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে উপস্থিত হয়। এখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের জন্য দায়ী হচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাদের প্রশ্রয়ে এসব অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাংকগুলি সাহস পাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনের আগের দিন জনগণের ভোট নিয়ে নিতে পেরেছে বলে সব কিছুই এ সরকার করতে পারবে বললেই হবে না। তারা বলেন, জনগণের মধ্যে বিক্ষাভ দানা বাঁধছে। যখন তা ফুঁসে উঠবে কেই রোধ করতে পারব না। তারা অবিলম্বে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপের আহবান জানান। সমাবেশ শেষে সোয়া একটার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয় অভিমুখে একটি বিক্ষোভ মিছিল তোপখানা-পল্টন হয়ে জিপিও'র মোড়ে পৌছালে পুলিশের একটি দল বাধা দেয়। এখানে পুলিশ ব্যারকেড দিয়ে সামনে যেতে না দিলে নেতা কর্মীরা সেখানেই বসে পড়েন। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলে, সরকার ব্যাংক লুটোরাদের বিরুদ্ধে কী করল তা দেখতে আগামী বাজের পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়। এরপর সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট এর সমন্বয়ক বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ। বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি'র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক প্রমুখ এখানে বক্তব্য রাখেন। | 9 |
চারদিকে আলোর ঝলকানি, উজ্জল মঞ্চ, দর্শকদের উল্লাস, রিংয়ে আসার জন্য বক্সারদের ঘিরে নিয়ে আসছে তাদের সহযোগীরা। দারুণ সাজে রিংয়ে ঢুকছেন বক্সাররা। সঙ্গে আছে দর্শকদের হৈ হুল্লোড়। দৃশ্যগুলো দেখলে চোখে ভাসবে লাসভেগাস বা দুবাইয়ের কোনো বক্সিং প্রতিযোগিতার কথা! এ জাঁকজমক বক্সিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে এক্সেল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ও প্রমোশন। প্রতিষ্ঠানটির আয়োজনে ঢাকার ইউনাইটেড সিটির শেফ টেবিল কোর্টসাইডে রোববার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে 'জেনসিস ফাইট নাইট' বক্সিং প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের বক্সিংকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবেই দেশসেরা বক্সারদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এই প্রতিযোগিতা। বক্সিংয়ে জাতীয় প্রতিযোগিতাগুলোতেও এমন আয়োজন খুব বেশি একটা চোখে পড়ে না। বক্সিং বা শারীরিক শক্তিমত্তার খেলাকে দেশব্যাপী আরও জনপ্রিয় করার লক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে এক্সেল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট ও প্রমোশন। এক্সেল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের কর্ণধার আদনান হারুন বলেন, 'দেশের বক্সিংকে বহুদূর এগিয়ে নিতে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পেতে এমন আয়োজন করা হয়েছে যা নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।'মোট ৬ জন বক্সার তিনটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে নামেন। প্রথম ম্যাচে ওয়াল্টার ওয়েটে নামেন রাজশাহীর আল আমিন ও ঢাকার কাজী ফয়সাল। ম্যাচটিতে তিন রাউন্ড শেষেই জিতে নেন আটবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও ব্রোঞ্জজয়ী আল আমিন। এরপর আরও দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচ দুটি হয় লাইটওয়েট ও মিডলওয়েটে। মিডলওয়েটে জয় পান রাজশাহীর বক্সার আবু তালহা। তিনি খেলতে নামেন কুস্টিয়ার মশিউরের বিপক্ষে। আর লাইটওয়েটে খেলেন রাঙামাটির সুরা চাকমা ও রাজশাহীর রবিন। প্রতিযোগিতাটির সবচেয়ে আকর্ষণ ছিল ম্যাচটি ঘিরে। নয়বারের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন সুরা চাকমা এ লড়াইয়ে প্রভাব দেখিয়ে ম্যাচ জিতেন। বিজয়ী প্রত্যেককে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা করে। তাছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সবার হাতে প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়। এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল ওটিটি প্লাটফর্ম বঙ্গ। পুরো অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। অ্যাপল স্টোর বা গুগল প্লে স্টোর থেকে বঙ্গ অ্যাপস ডাউনলোড করে প্রতিযোগিতাটি উপভোগ করা যাবে। বঙ্গ ছাড়াও অনুষ্ঠানের স্পন্সর পার্টনার ছিল দৈনিক ইনকিলাব, প্রাইম ব্যাংক, গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স, পেপসি, অ্যাপেক্স লিঙ্গারি লিমিটেড ও সিকিউরেক্স। ঢাকায় বক্সিংয়ের এমন সুন্দর আয়োজন দেখতে আসা সাধারণ দর্শককে উজ্জীবিত করতে লড়াই শেষে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজনও। দেশসেরা র্যাপারর সেখানে পারফর্ম করে। তাছাড়া বিট বক্সিং, ডিজে পরিবেশনসহ ছিল নানা আয়োজন। | 12 |
দিনাজপুরে নদীতে নেমে নিখোঁজ সুজন দেব শর্মা বুধুর (২২) মরদেহ মিলেছে৪৪ ঘণ্টা পর। রোববার ভোর ছয়টায় বিরল উপজেলার কামদেবপুর পূর্ণভবা নদীর ঘাটে মরদেহটি পাওয়া যায়। সুজন দেব কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনয়নের সুলতানপুর ভেন্ডাবাড়ী এলাকার বিনয় দেব শর্মার ছেলে। দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দির থেকে শ্রী শ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ নৌপথে দিনাজপুর শহরের রাজবাটীর নিয়ে আসার সময় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সুজন দেব নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। তাকে উদ্ধারে শনিবার সকাল থেকে রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার চেষ্টা চালায়। এ সময় নদীতে ডুব দিলে আব্দুল মতিন (৪২) নামে এক ডুবুরির রশি আটকে যায়। এতে ডুবুরি আব্দুল মতিন দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকে পড়েন। পরে তার সহকর্মী ডুবুরিরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়। এরপর রোববার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মেম্বার সুনিল দেব শর্মা নিখোঁজ সুজনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভোরে জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে পূর্ণভবা নদীতে একটি লাশ দেখতে পান। পরে সুজনের পরিবারকে খবর দিলে তার বাবা বিনয় দেব শর্মা এসে লাশ শনাক্ত করেন। | 6 |
বার্সেলোনা থেকে যেভাবে তাকে বিদায় করা হয়েছে সেটা নিতান্তই লজ্জাজনক, এমনটা বলেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সমালোচনায় মুখর ছিলেন ফুটবল দুনিয়ার অনেক কিংবদন্তিই। তবে এ বিষয়ে এতদিন কিছুই বলেননি লুইস সুয়ারেজ। নীরবেই ছেড়েছিলেন বার্সেলোনা। তবে অবশেষে মুখ খুললেন উরুগুইয়ান তারকা। বার্সা থেকে বিদায় নিয়ে সুয়ারেজ যোগ দিয়েছেন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলতে বর্তমানে অবস্থান করছেন উরুগুয়েতে। সেখানে বসেই গণমাধ্যমে সিই সময়ের সব পরিস্থিতি জানালেন। এইউএফ টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সুয়ারেজ বলেন, আমার জন্য খুবই কঠিন সময় ছিল তখন। বার্সা ছাড়তে হবে জানার পর প্রতিটা দিন আমি কেঁদেছি। কারণ ওখানে খেলাটা আমি এনজয় করতাম। খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকের পর থেকে সেখানে আমি ভালোবাসা পেয়েছি, মূল্যায়ন পেয়েছি, নিজেও ক্লাবটিকে ভালোবেসে উজাড় করে খেলেছি। ওখানে বেশকিছু স্মৃতি আছে আমার। সুয়ারেজের বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং সতীর্থ লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন তারকা জানান, যেভাবে অপমান করে বের করে দেয়া হয়েছে সেটি কোনোভাবেই প্রাপ্য নয় সুয়ারেজের। এ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারকে। সুয়ারেজ বলেন, আমি ৬ বছর কাটিয়েছি বার্সায় কিন্তু তারা যে আচরণ আমার সঙ্গেকরেছে সেটা কোনোভাবেই যৌক্তিক ছিল না। মেসি আমার বন্ধু-সতীর্থ। সে জানে আমরা কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। সে সময় আমরা কি পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি সেটা সে ভালো বলতে পারবে। | 12 |
সূর্য পুবাকাশে উঠলেই যে সবার হৃদয়েও পৌঁছে যাবে তার আলো, এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। খলিলুর রহমান প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই চলে আসেন চন্দ্রিমা উদ্যানে, থাকেন সকালের অনেকটা সময়। কিন্তু সূর্যের আলো তাঁর কাছে উজ্জ্বল কোনো বার্তা নিয়ে আসে না। সামনের দিকে পেতে রাখা হাত ভাগ্যের সঙ্গে বোঝাপড়া করে। কখনো দুবেলা খাবার জোটার মতো অর্থ সংগ্রহ হয়, কখনো হয় না। তা নিয়ে এখন আর আক্ষেপ করেন না। আকাশের দিকে তাকিয়ে কাউকে অভিশাপও দেন না।সকালের ক্রিসেন্ট লেকে স্বাস্থ্যোদ্ধারে ব্যস্ত মানুষের ভিড়। মাস্ক আছে অনেকের মুখে, অনেকেরই নেই। কোত্থেকে মাস্ককে অপ্রয়োজনীয় করে ফেলার এতটা সাহস পেয়ে গেছে মানুষ, কে জানে! জায়গায় জায়গায় কাপড় টানিয়ে ব্যায়ামের দলগুলো তাদের নাম প্রচার করছে, সেখানে ব্যায়াম করছে। সবার জন্য উন্মুক্ত এ শারীরিক কসরত-সে কথাও লেখা আছে কোথাও কোথাও।শরীর মজবুত করার জন্য এই মাঠে হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম, দৌড়-সবকিছুই চলছে, কিন্তু তাতে খলিলুর রহমানের ভেঙে পড়া শরীরে শক্তি আসে না। এবং তিনি তা মেনে নিয়েছেন। তবে একটা আশা এখনো মনকে স্বপ্ন দেখায়-সে কথা বলব শেষে।লাঠিতে ভর করে এক হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন খলিলুর রহমান। নাম জিজ্ঞেস করার পর দ্বিতীয় প্রশ্নটা হয় বয়স নিয়ে।'আশি হইব মনে হয়।''এখানে প্রতিদিন আসেন?''এখানে না আইলে খাওন জুটব কই থিকা?''বাড়িতে কেউ নেই?''বউ আছে।''কোথায় থাকেন?''মোহাম্মদপুর সি ব্লক।'সি ব্লকটা আসলে ঠিক কোন জায়গায়, জানতে চাইলে অস্পষ্ট উত্তর দেন তিনি। বলেন, বিহারিদের জন্য যে কোয়ার্টার বানিয়ে দিয়েছে সরকার, তারই একটায় ভাড়া থাকেন বুড়োবুড়ি। তাঁরা বিহারি নন।'কত টাকা ভাড়া দেন?''দুই হাজার দুই শ টাকা। পায়খানার জন্য আরও পঞ্চাশ।''মানে? বাড়িতে টয়লেট নেই?''না, বাইরে আছে।'বাড়িটার ধরন কল্পনা করেও কোনো কূল-কিনারা করা গেল না।'কেউ সাহায্য করার নেই?''না। তিন মেয়েরে বিয়া দিতে গিয়া ফতুর হইয়া গেছি। জায়গাজমি যা ছিল, সব বিক্রি হয়ে দিতে হইসে।''আপনার বাড়ি ছিল কোথায়?''মুন্সিগঞ্জে। নদীভাঙনে বাড়ি হারানোর পর ঢাকায় চইলা আইছি। বাড়িঘর নাই। সে বহু আগের কথা।'কথা বলতে বলতে খলিলুর রহমানের মনে হয়, বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা এ মুহূর্তে কোনো কাজে আসবে না। তাই প্রথমবারের মতো তাঁর হাতটা সোজা হয়ে শরীরের একপাশে ঝুলে থাকে।'কী খাওয়াদাওয়া করেন?''ভাত, ডাইল আর সবজি। মাছ-মাংস খাই না।'শেষ বাক্যটার অর্থ দুই রকম হতে পারে। মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য নেই বলে খান না, অথবা খেতে পছন্দ করেন না। খলিলুর রহমানের কাছে সে প্রশ্ন তুলতে সংকোচ হয়।'জীবনটা কেমন?'জীবন মানেই তো কষ্ট। ভাগ্যটাই এই রকম। এটা ছেলে ছিল, বাইরে পাঠাইছিলাম।'জীবনের গল্পটা অন্যদিকে মোড় নেবে কি না, তা জানার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে থাকি।'আপনার ছেলেকে কোথায় পাঠিয়েছিলেন?''দুবাইতে?''তারপর? ছেলের রোজগার?''টাকাপয়সা কিছুই রোজগার করতে পারে নাই। যে কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে গেসিলো, তা মামলা খেয়ে কাজ বন্ধ কইরা দিছে। দেশে ফিরে আসছে আমার ছেলে।''সে সাহায্য করে না?''সে তো থাকে মুন্সিগঞ্জ।''আপনি না বললেন, মুন্সিগঞ্জে আপনার কিছু নাই?''আমার নাই। ও শ্বশুরবাড়িতে থাকে।''ও কি আপনাকে সাহায্য করতে পারে না?''করে তো টুকটাক। পারে না।''যদি পারত, তাহলে করত?'একটু উজ্জ্বল হয়ে ওঠে খলিলুর রহমানের মুখ। 'নিশ্চয়ই করত। আমার ছেলে না? ও একটু দাঁড়াইতে পারলে আমাদের এত কষ্ট থাকবে না।' | 6 |
ক্ষমতা গ্রহণের আগেই মার্কিন নাগরিকদের জন্য সুখবর দিলেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। করোনা-বিধ্বস্ত মার্কিন অর্থনীতির জন্য এক দশমিক নয় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এতে প্রত্যেক মার্কিনিকে সরাসরি এক হাজার ৪০০ ডলার করে দেওয়া হবে। খবর বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে এই প্রণোদনা প্যাকেজ অনুমোদন হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকছে এক ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে প্রত্যেক মার্কিনিকে সরাসরি দেওয়া হবে এক হাজার ৪০০ ডলার করে। বৃহস্পতিবার রাতে ডেলাওয়ারের নিজ শহর উইলমিংটন থেকে একটি প্রাইমটাইম বক্তৃতায় বাইডেন বলেন, 'নাগরিকদের দুর্ভোগ আরও গভীর হচ্ছে এবং সঙ্কট সুস্পষ্ট হয়েছে। আমাদের হাতে অপচয় করার মতো সময় নেই।' তিনি আরও যোগ করেন, 'জাতির স্বাস্থ্যব্যবস্থা খুবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমাদের আরও কাজ করতে হবে এবং এখনই কাজ করতে হবে।' নবনির্বাচিত এই প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, 'সামনে আরও বাধা আসবে। তবে আমাদের কাজের ব্যাপারে সবাইকে সর্বদা সৎ থাকতে হবে।' ত্রাণ প্যাকেজের আওতায় বাইডেন আমেরিকানদের টিকা দেওয়ার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে চান। এর মধ্যে রয়েছে গণটিকাদান কেন্দ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য ভ্রাম্যমাণ ইউনিট স্থাপন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বেকার। ত্রাণ প্যাকেজের আওতায় বেকারদের জন্য সাপ্তাহিক ভাতা ৩০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪০০ ডলারে উন্নীত করা হবে। উদ্বাস্তু ও গৃহহারাদের জন্যও সুবিধা রয়েছে এই তহবিলে। জো বাইডেন জানিয়েছেন, নাগরিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি দ্বিগুণ করে ১৫ ডলারে উন্নীত করা হবে। উল্লেখ্য, আগামী ২০ জানুয়ারি শপথের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করবেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
যেকোনো 'প্রথম' সব সময়ই বিশেষ। প্রথমবার কিছু পাওয়া কিংবা না-পাওয়ার ঘটনা সারা জীবন মনে গেঁথে থাকে। মাহিয়া মাহি জানালেন তাঁর জীবনের স্মরণীয় কিছু 'প্রথম'-এর কথা।প্রথম ছবিশাহীন-সুমন পরিচালিত 'ভালোবাসার রঙ', ২০১২ সালে।প্রথম পারিশ্রমিক২০ হাজার টাকা। 'ভালোবাসার রঙ' ছবির সাইনিং মানি হিসেবে পেয়েছিলেন।প্রথম প্রেমস্কুলবয়সে। পাড়ার একটি ছেলে মাহিকে পছন্দ করত। আর মাহি তাকে ভয় পেতেন। একদিন পরিবারসহ ছেলেটি অন্য পাড়ায় চলে যায়। এরপর থেকে মাহির সঙ্গে আর তার দেখা হয়নি। হলে দেখা প্রথম ছবিনিজের অভিনীত ছবি 'ভালোবাসার রঙ'। এর আগে হলে গিয়ে কখনো ছবি দেখেননি মাহি।প্রথম পড়া বইমীনা কার্টুনের বইপ্রথম প্রযোজনাওয়েব ফিল্ম 'এইডা কপাল'। বানিয়েছেন রায়হান রাফি। | 2 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালদ্বীপে তার প্রথম ছয় দিনের দ্বিপক্ষীয় সফর শেষে সোমবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইট সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।' এর আগে ১টা ২০ মিনিটে বিমানটি মালদ্বীপের ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রী দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ'র আমন্ত্রণে গত ২২ ডিসেম্বর মালদ্বীপে পৌঁছান। ২৩ ডিসেম্বর তার সফরের দ্বিতীয় দিনে, দক্ষ স্বাস্থ্য পেশাদারদের নিয়োগ এবং যুব ও ক্রীড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দ্বৈত আয়কর বিলোপের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ মালদ্বীপকে ১৩টি সামরিক যান উপহার দিয়েছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং উপকরণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পর একটি যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সোলিহ, ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসিম, পিপলস মজলিসের স্পিকার (জাতীয় সংসদ) মোহাম্মদ নাশিদ এবং প্রধান বিচারপতি উজ আহমেদ মুথাসিম আদনানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। ২৩ ডিসেম্বর বিকেলে মালদ্বীপের সংসদে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা তার সম্মানে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ও দেশটির ফার্স্ট লেডি আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেন। ২৪ ডিসেম্বর তিনি মালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া একটি সংবর্ধনায় ভার্চুয়ালি যোগদান করেন। সূত্র: বাসস | 6 |
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রতিবাদে আজ বুধবার সারা দেশে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ১১টা থেকে ১২ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন করেছে বিএনপি। এসময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সংলাপ ফলপ্রসূ হবে না। তাই তাকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে এই মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 6 |
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার বিভিন্ন পাকা সড়কে ট্রাক থেকে মাটি পড়ে তা বৃষ্টির পানিতে কাদায় পরিণত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় লোকজন। কাদার কারণে সড়ক দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটেও চলা দায়। কখনো যানবাহন পিছলে সড়ক থেকে নিচে নেমে যেতে দেখা গেছে।পৌরসদরের মূল সড়কের এক কিলোমিটার, রেলওয়ে স্টেশন থেকে শ্রীরামপুর সড়কের আধা কিলোমিটার, বিহারপুর থেকে আওয়ালগাড়ি সড়কের দেড় কিলোমিটারে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা শহরের বাইরে থেকে ট্রাকে করে মাটি আনছেন। চলমান সেই ট্রাকগুলো থেকে মাটি পড়ছে সড়কে। রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাস্তাবসন্তপুর গ্রামের রেলগেট পর্যন্ত সড়কে বৃষ্টির পানিতে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে কাদার কারণে অনেক যানবাহন পিছলে নিচে নেমে যেতে দেখা গেছে। একই চিত্র পৌরসদরের মেইন সড়কে। বৃষ্টিতে শহরজুড়ে সড়কের কাদায় একাকার হয়ে গেছে। কাদার কারণে যান চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন মোটরসাইকেলচালকেরা। ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন।মোটরসাইকেলচালক পিন্টু হোসেন বলেন, সকালে রেলস্টেশন থেকে শ্রীরামপুরের দিকে যাওয়ার সড়কটির ওপর এত পরিমাণ কাদা যে, মোটরসাইকেল থেকে নেমে হেঁটে যাওয়ারও অবস্থা নেই।শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'আমার গাড়িতে চড়ে কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক ও তাঁদের গাড়ি নিয়ে শ্রীরামপুরের দিকে যাচ্ছিলাম। পথে হাস্তাবসন্তপুর গ্রামের এলাকায় সড়কে কাদার কারণে আমার গাড়ি পিছলে নিচে নেমে যায়। অনেক কষ্টে লোকজনের সহযোগিতায় সেই গাড়ি ওপরে তুলতে পেরেছি। জনগণের দুর্ভোগের চিন্তা এখন আর কেউ করে না। তাই এসব দেখারও কেউ থাকে না।'হাস্তাবসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা রিপন প্রামানিক বলেন, কয়েকদিন ধরে রেল গেট এলাকায় এক ব্যক্তি তাঁর নিচু জমি উঁচু করার জন্য ট্রাকে করে মাটি এনে ফেলছেন। এ সময় রেল ষ্টেশন থেকে শ্রীরামপুর সড়কটি ব্যবহার করা হয়। তখন ট্রাকে করে মাটি আনার সময় কিছু মাটি সড়কের ওপরে পড়ে। গত মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টিতে সেই মাটি কাদায় পরিণত হয়।আরেক বাসিন্দা রাসেল হোসেন বলেন, 'পৌর সদরের সড়কটি দিয়ে মাটিবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কে মাটি পড়ে। বৃষ্টির পানিতে সেই মাটি যেন পুরো শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। হেঁটে চলা যায় না। বিষয়টিতে স্থানীয় প্রশাসন নজর না দিলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।'ভ্যানচালক আবুল মিয়া বলেন, পৌরসদরের প্রধান সড়কের ওপর দুপুর পর্যন্ত কাদার আস্তর থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে।আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র শহিদুল আলম চৌধুরী বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা ছিল না। রাতে বৃষ্টি হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমি লোক দিয়ে কাদা সরানোর ব্যবস্থা করেছি।'উপজেলা প্রকৌশলী রকিব হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আসলে কারা মাটি নিয়ে যাচ্ছে, সেটি আমরা জানতে পারছি না। ট্রাকে মাটি নিয়ে যাওয়ার সময় সেই মাটি সড়কে পড়ছে। বৃষ্টি এলেই সেখানে কাদা হচ্ছে। আসলে মানুষ যদি সচেতন না হয়, তাহলে এটি রোধ করা কঠিন। তারপরও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করব।' | 6 |
ভালো হওয়ার আগেই করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। শনিবার যুক্তরাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে চিঠি পাঠিয়ে তিনি এই বার্তা দেন। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে তিনি ওই চিঠিতে জানিয়েছেন। খবর: বিবিসি ওই চিঠির সঙ্গে প্রত্যেক ব্রিটিশ নাগরিককে, বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি নিয়মকানুন এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত লিফলেটও দেওয়া হয়েছে। সরকারি পরামর্শের স্পষ্টতা নিয়ে সমালোচনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ব্রিটেনের প্রায় তিন কোটি পরিবারকে ওই চিঠি পাঠাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৮ লাখ পাউন্ড। চিঠিতে বরিস জনসন লিখেছেন, শুরু থেকেই আমরা সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেছি। বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা পরামর্শে আমাদের কিছু করতে বললে, আমরা তা অবশ্যই করবো। আমরা জানি পরিস্থিতি ভাল হওয়ার আগে আরও খারাপের দিকে যাবে। তবে আমরা সঠিক প্রস্তুতি নিচ্ছি, এবং আমরা সবাই নিয়ম যত বেশি মেনে চলবো, তত কম জীবন হারাবো এবং ততো তাড়াতাড়ি জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন শনিবার সকালে ভিডিও-বনফারেন্সের মাধ্যমে কোভিড -১৯ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। জনসন তার চিঠিতে মহামারিকে 'জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি' হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা রক্ষা করতে এবং জীবন বাঁচাতে সবাইকে বাড়িতে থাকতে অনুরোধ করেছেন। তিনি চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য সেবাদানকারীর পাশাপাশি সেইসব লাখ লাখ মানুষ যারা অসহায় মানুষদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন তাদের কাজের প্রশংসা করেন। চিঠির সাথে পাঠানো লিফলেটটিতে হাত ধোয়া সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা, করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলির ব্যাখ্যা, বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সরকারী নিয়ম এবং অসহায় মানুষদের সহায়তা করা সংক্রান্ত নানা পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চিঠি নিয়ে ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার মেডিকেল পরিচালকও শনিবার বলেছেন, ভাইরাসটি নিয়ে এখনও দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়ার সময় আসেনি। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোভিড -১৯ ধরা পড়ার পর থেকে তিনি নিজেকে সবার থেকে আলাদা করে রেখেছেন। ব্রিটেনে শনিবার আরও ২৬০ জন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় দেশটিতে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এখন ১,০১৯ জনে পৌঁছেছে। | 3 |
কারেন্ট জালের থেকেও ভয়ংকর এক জালের নাম 'চায়না দুয়ারি'। নামটা যত না সুন্দর ততটাই ভয়ংকর এই জাল। শুধু দেশি জাতীয় ছোট মাছ নয় বরং এই জালে আটকা পড়ে সকল প্রজাতির জলজ জীব। স্বল্প ব্যয়ে এবং স্বল্প পরিশ্রমে অধিক আয়ের উৎস হওয়ার জেলেদের কাছে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এটি। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ 'চায়না দুয়ারি' জাল দিয়ে অবাধে চলছে মাছ শিকার। নদী-খাল-বিলে এসব ফাঁদ পেতে ব্যাপক হারে ছোট মাছ শিকার করছে জেলেরা। উপজেলার সর্বত্র নতুন ফাঁদ চায়না দুয়ারি বিভিন্ন জলাশয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের বিলুপ্তির শঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতনমহল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে জোড়ালো কোন ভূমিকা নেই বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে একদিন অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। এরপর আর কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বোয়ালমারী পৌর বাজারসহ উপজেলার সমস্ত বাজারেই চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে ধরা ছোট ছোট মাছে সয়লাব। ব্যাপক হারে এই ফাঁদ ব্যবহার করলে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ফাঁদ প্রতিরোধ করতে এবং জেলেদের নিরুৎসাহিত করতে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জেলার সকল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বোয়ালমারী উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর এ ব্যাপারে নির্বিকার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোহার রডের গোলাকার বা চতুর্ভুজ আকৃতির কাঠোমোর চারপাশে 'চায়না জাল' দিয়ে ঘিরে এই চায়না দুয়ারি নতুন ফাঁদ তৈরি করা। ক্ষেত্রভেদে 'চায়না দুয়ারি' ৫২ হাত আবার ৭০ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়। এই ফাঁদ দিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কুমার নদ ও বারাসিয়া নদীসহ বিভিন্ন বিল-বাওরে মাছ শিকার করছে এক শ্রেণির জেলে। সরেজমিনে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বাজারে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা বিক্রি হচ্ছে; যেগুলো 'চায়না দুয়ারি' দিয়ে ধরা বলে স্থানীয়দের দাবি। স্থানীয়রা জানান, এই ফাঁদ বসালে নদীর পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়; এর জালের ছিদ্র ছোট হওয়ায় ছোট-বড় কোনো মাছ বের হওয়ার কোন সুযোগ নেই। উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের সুতালিয়া গ্রামের সৌখিন মৎস্য শিকারী বিভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, উভয় দিক থেকে ছুটে চলা যেকোনো মাছ সহজেই এতে আটকা পড়ে। একবার যেকোন ছোট-বড় মাছ ঢুকলে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসনের চোখের সামনে এ ভাবে নীতিবিরুদ্ধ কাজটি চলে আসছে নিরন্তর। এতে প্রকৃতির ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমন বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। মধুমতি নদী থেকে বেরিয়ে আসা এ পানিতে রয়েছে মাছের ডিম ও চারা পোনা। ক্ষুদ্রাকৃতির কোন মাছের পক্ষেও সম্ভব নয় এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলে আসলেও প্রশাসনের ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। অবৈধ চায়না দুয়ারি জালে রেনু পোনাও রেহাই পাচ্ছে না। উপজেলার চতুল ইউনিয়নের রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নাজমুল হক বলেন, এই 'চায়না দুয়ারি' এসে আমাদের দেশীয় মাছের বংশ শেষ করে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একদিন দেশীয় মাছ আমরা সহজে পাব না। এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, আমরা প্রচার প্রচারণা চালিয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ রকম কোথাও থাকলে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
সকালের রোদ দেখে হোটেলে বসে হয়তো স্বস্তি পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। দিনের প্রথম ম্যাচেই যে টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে সিলেট সানরাইজার্সের মুখোমুখি হবে তাঁর দল। এর আগে গতকাল রাতের বৃষ্টিতে কুমিল্লার কাছে অসহায় পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল চট্টগ্রামের। সেই ঝামেলাই হয়তো পেছনে ফেলে জয়ের জন্য প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টিতে থেমে আছে সাকিবদের শীর্ষে ওঠার লড়াই।শুক্রবার সকালের দিকে রোদের দেখা মিললেও দুপুর গড়াতেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টি চলমান থাকায় ফরচুন বরিশাল ও সিলেট সানরাইজার্সের মধ্যকার ম্যাচের টস নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি।এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শের-ই-বাংলায় বৃষ্টি ঝরছে। উইকেট ঢেকে রাখা হয়েছে কাভারে। হালকা বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টি বন্ধের পর ম্যাচ অফিশিয়ালরা মাঠ পর্যবেক্ষণ করে নতুন করে শুরুর সময় জানাবেন।বিপিএলে দারুণ ছন্দে রয়েছে সাকিবের বরিশাল। ঢাকায় প্রথম পর্বে হারলেও চট্টগ্রাম পর্ব থেকে জয়ের ধারায় আছে দলটি। ৬ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। অন্যদিকে ৫ ম্যাচে ১ জয়ে সিলেটের অবস্থান তলানিতে। | 12 |
দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। এরপরই শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ করেন। শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বিপুল অবদান রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ আইনবিদকে হারালো। রাষ্ট্রপতি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান । এদিকে শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে ব্যারিস্টার রফিকুল হক নানা পরামর্শ দিতেন। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করে। সেই দুঃসময়ে ব্যারিস্টার রফিকুল হক তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে আসেন। শেখ হাসিনা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সে কথা স্মরণ করেন। এমএইচ | 6 |
ভারতে হিজাব বিতর্কের আঁচ গিয়ে পড়ল উপত্যকাতেও। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরে সেনাবাহিনী পরিচালিত বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের একটি স্কুলে হিজাব না পরার নির্দেশিকা ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উত্তর কাশ্মিরের বারামুল্লার ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারে শিক্ষকদের 'স্কুল চলাকালীন হিজাব এড়ানোর' পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এই নিয়ে উপত্যকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভুলবশত 'হিজাব' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এমরন মুসাভি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'হিজাব শব্দটি ভুলবশত ব্যবহার করা হয়েছে। সার্কুলারে নিকাবের ব্যবহারের কথা উল্লেখ করার পরিবর্তে হিজাব শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।' তিনি বলেন, 'বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা শ্রবণ সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত। সেই ধরনের শিক্ষার্থীদের পড়ানোর ক্ষেত্রে একজন শিক্ষিকা যদি নিকাব পরেন তাহলে তিনি কিভাবে পড়াবেন, শিশুরা কিভাবে বুঝবে বা শিখবে? সে কারণেই এই নির্দেশ। এটি কেবলমাত্র শিক্ষিকাদের জন্য। শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।' 'ড্যাগার পরিবার' স্কুলের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, 'স্কুল হলো আবেগ ও নৈতিকভাবে শেখার এবং বেড়ে ওঠার জায়গা। স্কুলের কর্মী হিসেবে শিক্ষিকাদের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর পূর্ণ সম্ভাব্য বিকাশের ব্যবস্থা করা। এর জন্য শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। কর্মীদের স্কুল চলাকালীন হিজাব এড়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষিকাদের সাথে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারে।' যদিও এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সভাপতি এবং কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, 'আমি হিজাবের উপর নির্দেশ জারি করা এই চিঠির নিন্দা করছি। এটা নারীদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা ছাড়া আর কিছুই নয়, সংখ্যালঘুদের ওপর বিজেপি সরকারের অনৈতিক এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।' ন্যাশনাল কনফারেন্সের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং কাশ্মিরের আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, 'ভারতে যেখানে প্রতিটি ধর্মকে সমান হিসাবে দেখা হয় সেখানে এই ধরনের নির্দেশ অগণতান্ত্রিক।' পাশাপাশি তিনি বলেন, 'এদেশে প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। আমাদের দেশের সংবিধান অনুসারে আমরা এক ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। ধর্মনিরপেক্ষ দেশ মানে প্রত্যেক ধর্ম সমান, এবং সকল ধর্মকে সম্মান জানানো।' সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস | 3 |
শাল্লায় পুলিশের উপপরিদর্শকের (এসআই) ওপর হামলার অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক অরিন্দম চৌধুরী অপুসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে অজ্ঞাত সাতজনের বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় মামলা হয়েছে।এসআইকে মারধর এবং ছাত্রলীগের নেতা গ্রেপ্তারের ঘটনায় উপজেলা সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উপজেলার ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।তবে অরিন্দম চৌধুরীর ভাই আইনজীবী অভিতাব চৌধুরী দাবি করেছেন, সাজানো ঘটনায় অরিন্দমকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ নোওয়াগাঁওয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার পর থেকেই অরিন্দম চৌধুরীকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। আর এই ষড়যন্ত্রে সফল হয়েছে চক্রান্তকারীরা। তাই গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা সাজিয়ে অপুসহ তার সহযোগীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।অরিন্দম চৌধুরীর স্ত্রী ইরা সরকার বলেন, 'শুনেছি, বলা হচ্ছে ঘটনা ঘটেছে রাত সাড়ে ১২টায়। অথচ আমার স্বামী ১১টা থেকে বাড়িতে ছিলেন। আমার স্বামীকে পুলিশ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গেছে। তাই এমন ঘটনা ঘটিয়ে কি কেউ বাড়িতে থাকতে পারে? এটা দায়িত্বশীলদের বুঝতে হবে।'এদিকে পুলিশি মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা সদরে ফরহাদের দোকানের সামনে থেকে মাতাল অবস্থায় অরিন্দমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর পানসি রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে অপর আসামি সেন্টু দাসকেও মাতাল অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়।এ ব্যাপারে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, অথচ আমাকে আসামি ভেবে বাড়িতে গিয়ে ঘেরাও করেছে পুলিশ।' তিনি আরও বলেন, ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটাও জানি না। তবে যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা নিরপরাধ নেতা-কর্মীরা এখন আতঙ্কে আছি।'শাল্লা থানার ওসি নূর আলম বলেন, এ ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে মামলা হয়েছে। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান গত বুধবার সকাল থেকে শাল্লায় সরেজমিনে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জেনেছেন, রাতে ধাক্কাধাক্কি হওয়ার পর স্থানীয়রা এসে কয়েকজনকে দৌড়ে পালাতে দেখেছেন। হাসপাতালের ডাক্তার তাঁকে জানিয়েছেন, আক্রান্ত এসআই শাহ আলীর পায়ের আঙুল ও কপালে আঘাত ছাড়াও শরীরে একটি লাঠির বাড়ির আঘাত আছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিরাই-শাল্লার সাংসদ জয়া সেনগুপ্তা বলেন, 'আমাকে বলা হয়েছে, পুলিশ অফিসারের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আবার অভিযুক্তদের পক্ষে বলা হয়েছে, ঘটনা সাজানো। গায়ে হাত তোলার বিষয়টি সত্যি হলে, এটি দুঃখজনক হবে।' | 6 |
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিতে ইসরাইল নতুন করে ১৩৫৫ বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। রোববার ইসরাইলের নির্মাণ ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে ইসরাইলি গৃহায়ণমন্ত্রী জিভ এলকিন বলেন, জায়নবাদি ভিশনের প্রয়োজনেই পশ্চিম তীরে ইহুদি উপস্থিতি জোরদার করা উচিত। বিবৃতিতে বলা হয়, 'জুদেয়া ও সামারিয়ায় নির্মাণকাজের দীর্ঘ বিরতির পর, এক হাজারের বেশি হাউজিং ইউনিট বিক্রয়ের সূচনায় আমি সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। জুদেয়া ও সামারিয়ার ইহুদি বসতি আমি অব্যাহত রাখবো।' ফিলিস্তিনি পশ্চিম তীর ভূখণ্ডকে ইসরাইলিরা তাদের পরিভাষায় 'জুদেয়া ও সামারিয়া' নামে ডাকে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুসারে সাতটি ইহুদি বসতিতে নতুন করে নির্মিত এই ঘরে দু্ই হাজারের বেশি বাসিন্দার আবাসনের ব্যবস্থা হবে। এদিকে ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইশতাইয়া মন্ত্রিসভার এক সাপ্তাহিক বৈঠকে আগ্রাসী ভূমিকার জন্য ইসরাইলকে অন্য দেশ বিশেষ করে করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্টের পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র নেড প্রাইস জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের বসতি পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি, উভয়পক্ষকেই এমন পদক্ষেপ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান যা উত্তেজনা বাড়াবে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মীমাংসায় প্রচেষ্টাকে ব্যহত করবে। ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীর দখল করে ইসরাইল। ওই সময় থেকে ইসরাইলি নাগরিকরা পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন শুরু করে। দখলকৃত ভূমিতে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ অবৈধ হলেও এখনো পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করে আসছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ১৯৯৩ সালে অসলো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীর থেকে ধীরে ধীরে ইহুদি বসতি সরিয়ে নিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের কথা থাকলেও ইসরাইল এই বিষয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। উপরন্তু পশ্চিম তীরে নতুন নতুন অবৈধ বসতি নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে জেরুসালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২৫৬টি বসতিতে প্রায় সাত লাখ ইসরাইলি ইহুদি বাস করছে। সূত্র : আলজাজিরা | 3 |
'ওয়ান প্লানেট সামিটে' যোগ দিতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে ১২ ডিসেম্বর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।প্রধানমন্ত্রী তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সোমবার সকালে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।বিমানবন্দরেসংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটির দুবাই হয়ে চার্লস ডি গৌল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।প্যারিসে নিযুক্ত বাংলদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রাসহ ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রান্ড (অপেরা) হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এই হোটেলে অবস্থান করবেন।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী লা সাইন মিউজিক্যালে ওয়ান প্লানেট সামিটের উচ্চ পর্যায়ের এক অধিবেশনে যোগ দেবেন। এরপর সামিট থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রান্ডে (অপেরা) বাংলাদেশিদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।সরকারি সূত্র জানায়, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে এলিসি প্রাসাদে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া তিনি সামিট উপলক্ষে আগত সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, সহ আয়োজক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মানে একই স্থানে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দেওয়া এক মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেবেন।প্রধানমন্ত্রী বুধবার সন্ধ্যায় প্যারিস ত্যাগ করবেন এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় পৌঁছাবেন।ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিং ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সামিট আহ্বান করেন। প্যারিস চুক্তির দুই বছর পর পৃথিবী নামক এই গ্রহের পরিবেশগত জরুরি সংকট মোকাবেলা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে তারা আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশ্বের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নাগরিকদের এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের অভিন্ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন কীভাবে কাজ করে তা নির্ধারণ এই সম্মেলনের মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হবে।
| 6 |
দাদা-দাদী থেকে শুরু করে মা-বাবা, নাতি-নাতনী, এমনকী প্রতিবেশী, ভারতের উত্তরপ্রদেশের এই গ্রামে সকলেরই জন্মদিন ১ জানুয়ারি। এমনই তথ্য দিচ্ছে কেন্দ্র সরকারের নির্দেশ মেনে করা রেশন কার্ড। ভারতের এলাহাবাদের গুরপুরের কাংসা গ্রাম সেটাকেই সত্যবলে মেনেও নিয়েছে। জাণা গেছে, কাংসা গ্রামের ১০ হাজার বাসিন্দার সকলেরই রেশন কার্ডে জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি লেখা রয়েছে। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক স্কুলের এক শিক্ষক ছাত্রদের রেশন কার্ডের নম্বর নথিভুক্ত করতে গিয়েছিলেন গ্রামে। তিনিই প্রথম এই ঘটনাটি লক্ষ্য করেন। গ্রামের ছাত্রদের সকলের তো বটেই তাদের পরিবারের সকলেরই জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/ ২০ মে, ২০১৭/ আব্দুল্লাহ সিফাত-৭ | 5 |
টেস্টের সহ-অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর প্রথম সিরিজে খেলা হচ্ছে না ভারতের তারকা ওপেনার ও সীমিত ওভারের অধিনায়ক রোহিত শর্মার। রোহিতের চোটে প্রথমবারের মত ভারতীয় দলে ডাক পেয়েছেন প্রিয়ঙ্ক পাঁচাল। সদ্য প্রোটিয়া সফরে ভারতীয় 'এ' দলের হয়ে অধিনায়কত্ব করে দেশে ফিরতে না ফিরতেই এই সুযোগে বিস্মিত প্রিয়ঙ্ক। ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে প্রিয়ঙ্ক জানান, 'মাত্র তিনদিন আগেই আমি দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে দেশে ফিরেছি। আমি তো এখনও আমার জিনিসপত্র ব্যাগ থেকে বেরও করিনি। এরই মধ্যেই আবার মুম্বাইয়ে পৌঁছতে হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে গুজরাট এবং ভারতীয় এ দলের হয়ে আমি ভালই পারফর্ম করেছি এবং বহুদিন ধরেই এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। তবে হঠাৎ করে এমন সুযোগ পাব ভাবতে পারিনি। এটা আমার জন্য বেশ আনন্দদায়ক একট সারপ্রাইজ।' দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন তিনি। ২৪টি শতরানও রয়েছে তার দখলে, ঠিক নিজের শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পরেই ভারতীয় দলে প্রথমবার (বছরের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে দলের স্ট্যান্ড বাইতে ছিলেন) ডাক পেলেন তিনি। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে তার থেকে অধিক রান আর কেউ করেননি। দীর্ঘকাল বঞ্চনার পর অবশেষে দলে সুযোগ পেয়ে গুজরাটের ব্যাটার কিছুটা অভিমানীও বটে। ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেন, 'প্রচুর রান করার পরেও সুযোগ না পেলে খারাপ তো লাগেই এবং সেটাই স্বাভাবিক। তবে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই হল, সেসব দিকে না তাকিয়ে আমার ব্যাটার হিসেবে কী কমতি রয়েছে, জাতীয় দলে খেলতে হলে আরও কী কী করা দরকার, আন্তর্জাতিক স্তরে সুযোগ পেলে কেমনভাবে খেলা উচিত, সেই দিকে নজর দেওয়া। অবশেষ আমার কঠোর পরিশ্রম এবং হার না মনোভাবের পুরস্কার পাচ্ছি দেখে খুবই খুশি।' | 12 |
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ঢাকা কর আপীল অঞ্চল-৩ এর কমিশনার জামাল আহমেদ আর নেই। বুধবার (১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুনিম। কর কমিশনার জামাল আহমেদ বিসিএস (কর) ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি ঢাকা কর আপীল অঞ্চল-৩ এর কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পাকুড়িয়ায়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী তামান্না পারভীন ও ছেলে অখিল প্রিয় জামালিসহ সহকর্মী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি ১৯৯৪ সালের ২৫ এপ্রিল সহকারী কর কমিশনার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৬২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট পাকুড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম কর কমিশনার জামাল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। পরম করুনাময় আল্লাহ্ যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন এবং পরিবারের সবাইকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দিন। | 6 |
বৃহস্পতিবার কাদিজকে হারিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে পৌঁছেছিল জিনেদিন জিদানের রিয়াল মাদ্রিদ। শীর্ষস্থানে থাকা অ্যাতলেটিকো নেমে যায় দুইয়ে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রিয়াল মাদ্রিদের থেকে শীর্ষ স্থান কেড়ে নিয়ে আগের জায়গায় ফিরল দিয়াগো সিমিওনের শিষ্যরা। শুক্রবারের ম্যাচে হুয়েস্কাকে ২-০ গোলে হারানোয় অ্যাতিলেটিকোর এই উন্নতি। ওয়ান্দা মেট্রোপলিটানোয় ৩৯তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিক অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। এ সময় দলের হয়ে গোল করেন অ্যাঞ্জেল কোরেয়া। চাপ বাড়তে থাকলেও দমে যায়নি সিমিওনের শিষ্যরা। হুয়েস্কাও শেষ পর্যন্ত লড়েছে অ্যাতলেটিকোর বিপক্ষে। তবে গোলটাই যা পায়নি সফরকারী দলটি। ম্যাচের দশ মিনিট বাকি থাকতে আরেকটি গোল হজম করে হুয়েস্কা। অ্যাতলেটিকোর ফেরেইরা কারাস্কো শেষ দিকের এ গোলের নায়ক। এ জয়ের ফলে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হয়েই রইল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। ৩২ ম্যাচ শেষে ৭৩ পয়েন্ট তাদের সংগ্রহে। সমানলসংখ্যক ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদও অ্যাতলেটিকোর ঠিক পেছনেই। ২১ জয়, ৭ ড্র ও ৩ হারে ৭০ পয়েন্ট লা লিগার অন্যতম সফল দলটির। ৩২ ম্যাচে হুয়েস্কার পয়েন্ট ২৭। টেবিলে তাদের অভস্থান ১৮তম স্থানে। | 12 |
উত্তরপূর্ব ভারতে ভূমিকম্প পরবর্তী ভূকম্পন [আফটারশক] অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৩.৬ ছিল বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার ভারতের স্থানীয় সময় আজ ভোররাত ৪টা ৩৭ মিনিটে ৬.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস'র এ তথ্য জানায়। দেশটির আবহাওয়া দফতর জানায়, প্রায় এক মিনিট স্থায়ী এ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের মনিপুর রাজ্যের তামেনগ্লং। তবে মনিপুর রাজ্য সরকারের মতে, এর কেন্দ্রস্থল ছিল ইম্ফল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের তামেনগ্লং এলাকার ননি গ্রামে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৫৭ কিলোমিটার গভীরে। | 3 |
বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার পর নীলফামারীর সৈয়দপুরে জনসমাগমস্থলে তিনটি বেসিন নির্মাণ করেছিল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিটি ৩০ হাজার করে মোট ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল এতে। দেশে করোনা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও হাত ধোয়ার উপকরণ রাখা হয় না বেসিনগুলোতে। এতে নির্মাণের এক বছরেই অনেকটা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে বেসিনগুলো।উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা চত্বর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সামনে হাত ধোয়ার বেসিন নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি বেসিনের নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৩০ হাজার ১০০ টাকা করে। তিনটি বেসিন নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছিল ৯০ হাজার ৩০০ টাকা।বেশ আয়োজনের সঙ্গেই বেসিনগুলো তৈরি করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই হাত ধোয়ার উপকরণ হাওয়া গেছে। যদিও স্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, বেসিনগুলোতে নিয়মিত সাবান রাখা হয়। কিন্তু সাবান থাকে না। চুরি হয়ে যায়। থাকলেও মানুষের মধ্যে এখন আর হাত ধোয়ার আগ্রহ নেই।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত বেসিনে সাবান রাখার জায়গা থাকলেও নেই সাবান, নেই হাত ধোয়ার পানি। ভেতরে ধুলোবালি, আর ময়লা জমে আছে। সেখানে বসানো স্বয়ংক্রিয় জীবাণুনাশক টানেলটি অযত্নে এক কোনায় ফেলে রাখা হয়েছে।এদিকে সরকারি টাকায় নির্মিত বেসিনগুলোর এত দ্রুত পরিত্যক্ত অবস্থায় চলে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সংস্কার করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবিও জানিয়েছে সচেতন মহল।এ বিষয়ে সৈয়দপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ নার্জিজ বানু বলেন, 'করোনা মহামারি মোকাবিলা করতে হচ্ছে মানুষকে। এখন ঘন ঘন হাত ধোয়া প্রয়োজন। তাই মানুষ যাতে বেসিন ব্যবহার করতে পারে, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত।'একই মত ব্যক্ত করলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলেমুল বাশার। তিনি বলেন, কোভিড ১৯-এর প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে হলে আবশ্যিকভাবে সবাইকে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, তথা ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।এ ব্যাপারে কথা হয় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবদুস সালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'যে অফিস বা প্রতিষ্ঠানের সামনে হাত ধোয়ার বেসিনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের। যদি বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তা দেখার দায়িত্ব আমাদের।'এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম হুসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমি এ উপজেলায় নতুন। বেসিনগুলো যাতে ব্যবহারোপযোগী থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। তা ছাড়া সচেতন করা হলেও মানুষ হাত ধুতে চায় না।' | 6 |
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় ভাতা পেতে ভোগান্তিতে পড়েছেন উপকারভোগীরা। অনেকের বিকাশ নম্বর ঠিক থাকলেও টাকা পাচ্ছেন না। টাকা যাচ্ছে অন্য মোবাইল ফোন নম্বরে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়েও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন পাটগ্রাম উপজেলার বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সরকার কর্তৃক প্রদেয় ভাতা মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) দেওয়া শুরু হয় এ বছরের জানুয়ারিতে। ভাতাভোগীদের অনেকের দেওয়া মোবাইল নম্বরে টাকা না আসা অন্য অপরিচিত নম্বরে টাকা যাওয়া, অনেকের বিকাশ করা না থাকলেও টাকা গেছে বলে জানানোর কারণে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়েও দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে।গতকাল সোমবার পাটগ্রাম উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় শত শত বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভিড়। তাঁদের অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে ভাতার টাকা পাচ্ছেন না। টাকা ব্যয় করে প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকা একাধিকবার সমাজসেবা কার্যালয়ে ঘুরেও কোনো কাজ না হওয়ায় ক্ষোভ জানান ভুক্তভোগীরা।পাটগ্রাম পৌরসভার মির্জারকোর্ট এলাকার আব্দুল আজিজ বলেন, 'অনেকে টাকা পাইছে। আমি ৩ হাজার ও ১ হাজা ৫০০ টাকা পাইনি। যে নম্বর বিকাশ করে দিয়েছি ওই নম্বরে টাকা ঢুকেনি। আজ (সোমবার) সমাজসেবা কার্যালয়ের লোক অন্য একটা নম্বর বের করে লিখে দিয়ে বলল ওই নম্বরে নাকি টাকা গেছে।'উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহবুবুল আলম বলেন, 'বিভিন্ন সমস্যার কারণে ৬০০ বেশি ভাতাভোগীকে ভাতা দেওয়া সম্ভব হয়নি।' | 6 |
নিয়তির কী পরিহাস, যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১৮ ও ১৯ শতকে ভারতবাসীরা এত এত আন্দোলন করেছে, প্রাণ দিয়েছে, সেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বর্তমান কর্ণধার একজন ভারতীয় উদ্যোক্তা। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে এই কোম্পানিটি গঠিত হয়েছিল ভারত থেকে মসলা, চাসহ নানা রকম দ্রব্য আমদানির লক্ষ্যে। ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ দুই শতাধিক ইংরেজ ব্যবসায়ীকে পূর্ব ভারতে ডাচ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য এই কোম্পানি গঠনের লাইসেন্স দেন। ১৮ শতকে বিশ্বের বস্ত্র ব্যবসায় প্রাধান্য বিস্তার করে এই কোম্পানি। নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষা করার জন্য বড় এক সেনাবাহিনী ছিল এদের, এমনকি প্রয়োজনে যুদ্ধ করারও অধিকার ছিল। ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের বড় একটি অংশ বলপূর্বক দখল করে নেয় এরা। পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্বার্থে তারা অনেক নির্মম কাজ করেছে। ভারতে কোম্পানির প্রধান তিনটি কেন্দ্র ছিল যথাক্রমে মাদ্রাজ, বোম্বে ও কলকাতা। কিন্তু ১৮৫৭ সালে কোম্পানির ভারতীয় সেনারা ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (সিপাহি বিদ্রোহ) করলে কোম্পানিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আরব নিউজ ও ডব্লিউআইওএন ডট কম সূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনও হয়েছিল এই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন সংঘটিত সেই যুদ্ধে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটে। এই যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল ধ্বংসাত্মক ও সুদূরপ্রসারী। এরপর ধীরে ধীরে বাংলা ব্রিটিশদের অধিকারে চলে আসে। বাংলা অধিকারের পর ক্রমান্বয়ে ব্রিটিশরা পুরো ভারতবর্ষ এমনকি এশিয়ার অন্যান্য অংশও নিজেদের দখলে নিয়ে আসে। অর্থাৎ ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। পরবর্তীকালে ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারতবর্ষ সরাসরি ব্রিটেনের রানির তত্ত্বাবধানে চলে আসে। মাঝখানে ১০০ বছর ভারত কোম্পানির শাসনাধীন ছিল। সেই সময়ের কোম্পানির দুঃশাসনের স্মৃতি এখনো মানুষের সামষ্টিক স্মৃতিতে অম্লান। তবে এরপর ব্রিটিশ রানির শাসনও যে খুব সুখকর ছিল, তা নয়। ১৮৫৭ সালে বিলুপ্ত হওয়ার পর বহুকাল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুপ্ত অবস্থায় ছিল-এর স্থান ছিল স্মৃতি ও ইতিহাসের পাতায়। ২০০৩ সালের দিকে কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা চা ও কফির ব্যবসার মাধ্যমে একে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। ২০০৫ সালে ভারতীয় উদ্যোক্তা সঞ্জীব মেহতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামটি কিনে নেন। তখন তিনি নতুন করে ব্যবসা শুরু করেন; দামি চা, কফি ও খাবার ছিল তাঁর পণ্য। ২০১০ সালে মেহতা লন্ডনের অভিজাত মে ফেয়ার অঞ্চলে কোম্পানির প্রথম দোকান চালু করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কি উপনিবেশের কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মেহতা আরব নিউজকে বলেন, 'পারবে।' তিনি বলেন, 'মানুষের প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সেটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, কিন্তু একজন ভারতীয় এই কোম্পানি কিনে নিয়েছে, সেটা জানলে ভারতবাসীর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই হবে।' সঞ্জীব মেহতার ভাষায়: যে কোম্পানি একসময় ভারতের মালিক ছিল, সেই কোম্পানির মালিক এখন একজন ভারতীয়, এটি সাম্রাজ্যকে অনেকটা পাল্টা আঘাত দেওয়ার মতো। তিনি আরও বলেন, আগের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরিচালিত হতো আগ্রাসনের ভিত্তিতে, আর এখানকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চলে সহমর্মিতার ভিত্তিতে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সোনার মোহর তৈরিরও অনুমোদন পেয়েছেন সঞ্জীব মেহতা। | 0 |
বাংলাদেশ ব্যাংক, ডাক বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, কাতার এয়ারওয়েজ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য আবেদন চলছে। এসব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার শতাধিক পদে আবেদন করতে পারেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুসারে যোগ্যতাসম্পন্ন যে কেউ আবেদন করতে পারবেন যে কেউ। নবম-দশমসহ কয়েকটি গ্রেডে লোক নেওয়া হবে। আবেদন করা যাবে অনলাইনে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, পশ্চিমাঞ্চল নিয়োগের জন্য আবেদন চলছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) ২টি পদে নেবে ৩১ জন। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া আবেদন চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ৩১ পদে আবেদনের জন্য আগ্রহী প্রার্থীরা .... ওয়েবসাইটের ঢু মারতে পারেন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। টেলিটক সিমের মাধ্যমে আবেদন ফি ৬০০ টাকা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে। বিশ্বের অন্যতম বিমান সংস্থা কাতারভিত্তিক এয়ারলাইনস কাতার এয়ারওয়েজ ভারতীয় উপমহাদেশে (ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট) পড়ুয়াদের নিয়োগ দেবে। কেবিন ক্রু পদে নিয়োগ দেবে বিমান সংস্থাটি। এতে বাংলাদেশিরাও আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করতে হবে অনলাইনে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে কালচারাল অফিসার, সেট ডিজাইনার, যন্ত্রশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী (জুনিয়র) পদে নবম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হবে।আগ্রহী প্রার্থীরা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডাকে আবেদনপত্রটি পাঠাতে পারবেন। প্রার্থীকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম পেতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানা: মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সেগুনবাগিচা, রমনা, ঢাকা। বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান) ও সহকারী পরিচালক (গবেষণা)। সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান) পদে ২৬ (কমবেশি হতে পারে) ও সহকারী পরিচালক (গবেষণা) পদে ১৯ (কমবেশি হতে পারে) জন নেওয়া হবে। অনলাইনে ফরম পূরণের মাধ্যমে পদগুলোর জন্য ফি ছাড়াই আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ২টি পদে মোট ৩৪ জন নিয়োগ পাবেন। অনলাইনে পদগুলোর জন্য ফি ছাড়াই আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সহকারী মেইনটিন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পদে ১৪ জন ও সহকারী প্রোগ্রামার পদে ২০ জন নিয়োগ পাবেন। পদের সংখ্যা- ১১ টি আবেদনের শেষ ৩০ সেপ্টেম্বর পদসমূহ- ১৭ ক্যাটাগরির পদ। আবেদনের বর্ধিত সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর। অনলাইনে আবেদন ://... ৭ ক্যাটাগরির পদে নিয়োগ দেবে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল। আবেদনের শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর। অনলাইনে আবেদন: ://... চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে ২ পদে আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর। ১৫৩ পদে আবেদন করা যাবে। প্রার্থীকে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা (://. ..) ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। আবেদনপত্র পূরণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১ ও ২ নম্বর পদের জন্য ১১২ টাকা এবং ৩ ও ৪ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা টেলিটক প্রি-পেইড মুঠোফোন সংযোগের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। পদসমূহ : ৪ ক্যাটাগরির ৫৮টি। আবেদনের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর। অনলাইনে আবেদন: ://... আগ্রহী প্রার্থীরা ://... -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ১. পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক। পদের সংখ্যা ৬টি। চাকরির গ্রেড ১৬। বেতন স্কেল ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।২. পরিবারকল্যাণ সহকারী। পদের সংখ্যা ৭৪টি। চাকরির গ্রেড ১৭। বেতন স্কেল ৯,৩০০-২১,৮০০ টাকা।৩. আয়া। পদের সংখ্যা ১১টি। চাকরির গ্রেড ২০। বেতন স্কেল ৮২৫০-২০০১০ টাকা। আবেদনের শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর। আগ্রহী প্রার্থীরা (://...) এই ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। ১. পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক-০২২. পরিবার কল্যাণ সহকারী-১২৮৩. আয়া-১৩ আগ্রহী প্রার্থীরা (://...) ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। | 1 |
হোটেল বয় হিসেবে কর্মরত চলচ্চিত্র পরিচালক অরণ্য পলাশকে বুধবার নিজের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে 'গন্তব্য' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে নি:স্বপ্রায় চলচ্চিত্র পরিচালক অরণ্য পলাশকে তথ্যমন্ত্রী নিজের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা হস্তান্তর করেন। এসময় মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, 'আমি নিজে যখন বিদেশে পড়াশুনা করতাম, তখন হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাজ করতাম। অর্থাৎ আমি নিজেও টি-বয়ের কাজ করতাম, সেখানে টি-বয় বলে না, ওয়েটার বলে। এটি বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, আমি সেই কাজ করতাম। আমি বিদেশে অনেক দিন ছিলাম মাস্টার্স ও ডক্টরেট করার জন্য। সেখানে অনেক দিন কাজ করেছি, মাসের পর মাস। কোনো কাজই অসম্মানের নয়।' 'অরণ্য পলাশের এই পরিস্থিতি দেখে আমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব সবার সাথে আলোচনা করেছি যে তাকে আমরা কোনোভাবে সহায়তা করতে পারি কি না' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আজকে তাকে ডেকেছি ব্যক্তিগতভাবে আমার পক্ষ থেকে সহায়তা করার জন্য। কারণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহায়তা করতে হলে একটা প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়। আপনারা জানেন, সরকার যে অনুদান দেয়, সেটার একটা কমিটি আছে। সেই কমিটির মাধ্যমে অনুদান অনুমোদিত হতে হয়। কমিটির সাথে আমি কথা বলবো, তার এই চলচ্চিত্র যাতে মুক্তি পায়, সেজন্য আরও কী খরচ দরকার, আর কী সহায়তা দরকার, কমিটির সাথে সেটি আলোচনা করবো।' অরণ্য পলাশকে উদ্দেশ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'আপনার মনে কষ্ট পাওয়ার কোনো কারণ নেই।' 'আমি আবারও বলবো, কোনো কাজই কিন্তু অসম্মানের না, সব কাজই সম্মানের এবং সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজকে, কোনো পেশাকে অসম্মানিত করে কোনো কিছু বলা কারো উচিত নয়। সব মানুষ সম্মানের, সব কাজ সম্মানের,' যোগ করেন তিনি। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও চলচ্চিত্র) মো. মিজান-উল-আলম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার এবং 'গন্তব্য' চলচ্চিত্রের প্রযোজক এলিনা শাম্মীসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় যে সিনেমা বানাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে অরণ্য পলাশ এখন জীবিকার তাগিদে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় ওয়েটারের কাজ করছেন। খবরে বলা হয়, বাবার পেনশনের টাকা, জায়গা-জমি, স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে ৭০ লাখ টাকায় 'গন্তব্য' চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। চলচ্চিত্র নির্মাণ করে লগ্নিকৃত টাকা তুলতে না পেরে চাকরির আশায় নানাজনের কাছে ঘুরে ব্যর্থ হয়ে মাস দুয়েক আগে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় ওয়েটারের কাজ নিয়েছেন অরণ্য পলাশ। সূত্র : ইউএনবি | 9 |
চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি সম্মেলনে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মানবদেহে আঘাতসংক্রান্ত মামলায় ভুক্তভোগীকে সাক্ষী করা, জালিয়াতির মামলা সঠিক ধারায় করার এবং আলোচিত মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার আগে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির মতামত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের শুরুতে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল আলম আগের সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন তিনি। দক্ষতার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করা, প্রতিবেদন জমা, যথাসময়ে মামলার সাক্ষী উপস্থাপন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। মো. রবিউল আলম আরও বলেন, যেসব আসামির বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা হয়নি এবং যাঁরা কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত নন, তাঁদের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটদের দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডারস অ্যাক্ট, ১৯৬০-এর বিধানগুলো অনুসরণ করতে হবে। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বিচার প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ একে অপরের পরিপূরক বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিচার বিভাগকে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বলে উল্লেখ করেন রবিউল আলম। তিনি মনে করেন, বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানো ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হবে। একযোগে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিচারপ্রার্থী মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কারও অবহেলা কাম্য নয়। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল হালিম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বেগম তাহমিনা আফরোজ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বেগম মনীষা মহাজন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মেহনাজ রহমান এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহান। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়া উদ্দিন। পুলিশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এডিসি (প্রসিকিউশন) মো. কামরুল হাসান, এডিসি (অপরাধ) জহিরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার কামরুল হাসান এবং মহানগরের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পিবিআইয়ের (চট্টমেট্রো) পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ জুনায়েত কাউছার, র্যাব-৭-এর পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের ফকির এবং সিআইডির পক্ষে সহকারী পুলিশ সুপার আবদুছ ছালাম মিয়া উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবদুল মন্নান, ফরেনসিক মেডিসিনের প্রভাষক এস কে ধর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (মেট্রো) সহকারী পরিচালক মোমেন মণ্ডল এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার বেগম পারুমা বেগম। | 6 |
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী সম্পদের হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মচারীদের নিজ পরিবারের সদস্যগণের বিদেশি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি ওই আচরণ বিধিমালায় আগে থেকেই সংযোজিত রয়েছে বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সংসদে জাতীয় পার্টির সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি জানান মেহেরপুর-১ আসনের সাংসদ ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকুরি আইন-২০১৮ এর আলোকে প্রস্তাবিত খসড়া সরকারী কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-২০২২ প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপণের জন্য গত ১ মার্চ সার সংক্ষেপ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া আচরণ বিধিমালায় তা যুগোপযোগী করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নতুন পদায়ন নীতিমালা প্রণয়ন কার্যক্রম চলমান। শীঘ্রই পদায়ন নীতিমালা প্রণয়ন কার্যক্রম শেষ করা হবে। সিনিয়র স্কেলসহ সকল গ্রেডের কর্মচারীদের পদোন্নতি দেয়ার জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) রয়েছে এবং সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা-২০০২ রয়েছে। যার আলোকে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। এ সময় সাংসদ বেনজীর আহমেদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন জানান, বর্তমানে দেশে সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সরকারি অফিসে শূন্য পদের সংখ্যা তিন লাখ ৯২ হাজার ১১৭টি। তিনি বলেন, আদালতে মামলা থাকায়, নিয়োগবিধির কাজ শেষ না হওয়ায় ও পদোন্নতি যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় বেশ কয়েকটি শূন্য পদ যথাযথ সময়ে পূরণ করা যায় না। | 6 |
রাজশাহীর দুর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সকাল থেকে হওয়া মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই টিকা নিতে হাজারো মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। বৃষ্টিতে ভিজে ও মাথায় ছাতা নিয়ে টিকা নিয়েছে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ।দুর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অফিস সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত টিকা নিতে উপজেলায় আবেদন করেছেন ৪৭ হাজার ৭৯০ জন মানুষ। তাঁদের মধ্যে ঠিকা পেয়েছেন ২৪ হাজার ৬০০ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন প্রায় ১৮ হাজার জন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তিনটি বুথে আগে প্রতিদিন ৬০০ জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছিল। টিকা চাহিদা বেশি থাকায় চাপ সামাল দিতে বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজারেরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখন ৩ ধরনের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ, সিনোফার্মের দ্বিতীয় ডোজ ও ভারতে উৎপাদিত টিকা কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ। গত সপ্তাহ থেকে সিনোফার্মের প্রথম ডোজ বন্ধ রয়েছে।সরেজমিনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দেওয়া শুরু হয়। এরপর সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া বৃষ্টি কমলে ১১টা থেকে ভিড় বাড়তে থাকে। কিন্তু বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি নামলেও টিকার জন্য অপেক্ষা করছিল হাজারো লোক। বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় কেউবা ভিজে টিকা নিতে থাকেন। অনেকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান নেন।উপজেলার পাঁচুবাড়ী গ্রামের নাহিদ হাসান হীরক বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে মসজিদের সামনে আবেদন ফরম জমা দিয়ে সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলাম। বেলা সাড়ে ১২টার সময় বৃষ্টি শুরু হয়। তারপরও হাল ছাড়িনি। বৃষ্টির মধ্যে অবশেষে টিকা দিতে পেরেছি।উপজেলার দেবীপুর গ্রামের আবদুল হামিদ বলেন, এসএমএস না পেয়েও টিকা নিতে এসেছি। পরে জানতে পারি এসএমএস না আসলে টিকা নিতে পারব না। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে স্থানীয় বাজারে টিকার জন্য আবেদন করি। কিন্তু এখনো এসএমএস না পাওয়ায় হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছি।এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বলেন, টিকা সংকটে গণ টিকা কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরে আবারও ১৪ আগস্ট থেকে চালুর কথা বললেও এখনো পৌরসভা ও ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে গণ টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়নি।দুর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদি হাসান সোহাগ বলেন, করোনা মোকাবিলায় টিকার কোন বিকল্প নাই। তাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিদিন নারী-পুরুষেরা টিকা নিচ্ছেন। প্রতিদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ১ হাজারেরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। সকল মানুষকে টিকার আওতায় আনতে সরকার নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রতিদিন আরও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট উপজেলায় গণ টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ওই দিন উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ওয়ার্ড পর্যায়ে গণ টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু একদিন যেতে না যেতেই গণ টিকা কার্যক্রম কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। | 6 |
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপ-উপাচার্য ও চর্মরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাাহ সিকদার করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। অধ্যাপক শহীদুল্লাহ শিকদার ভোরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এখন নিজ বাসাতেই আছেন বলে জানিয়েছেন। নিজের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে বিশিষ্ট এই চিকিৎসক সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং বাসায় থাকার পরামর্শ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারও তিনি ক্যাম্পাসে ছিলেন। এর মধ্যে যারা তার সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
বাংলাদেশ দলের উদ্বোধনী জুটিটা মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো! সিরিজের সঙ্গে যেন বদলে যায় উদ্বোধনী জুটিও। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে দারুণ খেলার পরও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আজ ডারবানে টেস্টেও দেখা যাওয়ার কথা নতুন উদ্বোধনী জুটির।গতকাল বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তামিম ইকবালের সঙ্গে উদ্বোধন করবেন মাহমুদুল হাসান জয়। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরেও চার ইনিংসে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন উদ্বোধনী জুটি দেখেছে বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে প্রায় ১১ মাস পর অভিজাত সংস্করণে তামিমের ফেরায় ফের উদ্বোধনী জুটিতে পরিবর্তন আসবে, সেটি অনুমিতই ছিল। কিন্তু অভিজ্ঞ বাঁহাতি ওপেনারের সঙ্গে কে ওপেন করবেন, সেটিই ছিল প্রশ্ন। প্রশ্নের উত্তর মুমিনুল তো দিয়েছেনই। সব ঠিক থাকলে ওপেনিংয়ে ১১তম উদ্বোধনী সঙ্গী হিসেবে জয়কে পাচ্ছেন তামিম। ঘন ঘন উদ্বোধনী জুটি বদলালেও গত ২০ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি পরিসংখ্যান বদলায়নি। সেখানে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার সেঞ্চুরির দেখা পাননি। প্রোটিয়াদের সঙ্গে আগের তিন সফরে বাংলাদেশের হয়ে ফিফটি পেরোনো ইনিংসই খেলেছেন মাত্র সাত ব্যাটারের। তাঁদের মধ্যে চারজন নেই বর্তমানে টেস্ট দলে। অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম সর্বশেষ দুই সফরে তিন টেস্টের ৬ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করতে পেরেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪ টেস্টে ২১০ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মুশফিকুর রহিম। এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাটারদের পক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বোচ্চ ৭৭ রান এসেছে মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে। টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের এই হতশ্রী পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে দলীয় স্কোরেও। গত ২০ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় মাত্র একবার ৩০০ পেরোনো স্কোর গড়তে পেরেছে বাংলাদেশ। সেখানে ১২ ইনিংসের ৮টিতেই বাংলাদেশ অলআউট ২০০-এর নিচে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের সফরে পচেফস্ট্রুম টেস্টে মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের।প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টেস্ট জিততে হলে ব্যাটারদের যে লম্বা ইনিংস খেলতে হবে, সেটা অনুভব করছেন মুমিনুলও। লম্বা ইনিংস খেলতে হলে, কী করণীয়-সেটিও অজানা নয় তাঁর। গতকাল বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক বললেন, 'দলের অবস্থা বুঝে খেলার চেষ্টা করি। সেশন ধরে ধরে কীভাবে ব্যাটিং করতে পারি, সেই চেষ্টা করি।'শর্ট বলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দুর্বলতা নতুন নয়, বিশেষ করে বিদেশের মাঠে। এবারও দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলাররা বাংলাদেশের ব্যাটারদের শর্ট বলে পরীক্ষা নিতে পারেন। তবে এই জায়গায় উন্নতি আনতে অনুশীলনে ভালোভাবেই কাজ করেছেন মুমিনুলরা। বাংলাদেশ অধিনায়ক বললেন, 'শর্ট বল নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটা সময় আসে যখন পেসাররা কিছু করতে পারে না, তখন শর্ট বল দিয়ে চেষ্টা করে। সে চাপটা কীভাবে সামলে উঠতে পারেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দলে যারা আছে, তারা সবাই টেস্টে বেশ অভিজ্ঞ। তারা জানে এই চাপটা কীভাবে কাটিয়ে উঠতে হয়।' | 6 |
দেশে ভালো খবর নেই বলে যাঁরা আফসোস করেন, তাঁদের জন্য গত মঙ্গলবার একটি সুখবর দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু গড়আয় ২৩৪ ডলার বেড়ে গেছে। গত অর্থবছরেই মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৫৯১ ডলার আর এখন তা ২ হাজার ৮২৫ ডলার হয়েছে। টাকার অঙ্কে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার। একই সময়ে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধিও বেড়ে হচ্ছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।কেউ বলতে পারেন, কই আমার তো কোনো আয় বাড়েনি। বরং ব্যয় বেড়েছে। বেড়েছে জিনিসপত্রের দাম। গত এক বছরে বাজারে তো কোনো জিনিসেরই দাম কমেনি, বেড়েছে দফায় দফায়। এক বছর আগে যে আয়ে সংসার খরচ টেনেটুনে চালানো যেত, এ বছর তা যাচ্ছে না। ধারকর্জ না করে জীবনধারণই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে আয়টা বাড়ল কীভাবে? যদি বেড়ে থাকে তাহলে সেই বাড়তি আয়টা গেল কার পকেটে?না, গড় হিসাবে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। মনে রাখতে হবে মাথাপিছু আয় কোনো ব্যক্তির একক আয় নয়। দেশের অভ্যন্তরের পাশাপাশি প্রবাসী আয়সহ একটি দেশে যত আয় হয়, তা-ই দেশের মোট জাতীয় আয়। সেই জাতীয় আয়কে দেশের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মাথাপিছু আয়ের হিসাব করা হয়। ফলে দেশে মাথাপিছু গড় আয় বাড়লেও তাতে ব্যক্তির আয়ে কোনো তারতম্য হয় না।সরকারের রাজস্ব আয় কম, বাড়ছে না মানুষের আয়, সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে মূল্যস্ফীতি অথচ বেড়ে যাচ্ছে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়। অবশ্য পরিসংখ্যান অনেক সময়ই মানুষকে বিভ্রান্ত করে থাকে।মানুষের মাথাপিছু এই আয় বর্তমান বাজারের প্রকৃত চিত্রের সঙ্গে কি সংগতিপূর্ণ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেছেন, 'গ্রামের মানুষও যে যার মতো ভালো আছে, আনন্দে আছে, আনন্দ নিয়ে বাজার করছে। তাই মাথাপিছু আয় বর্তমান বাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মনে হয় আমার। আমাদের হিসাবে মাথাপিছু আয় ঠিক আছে। আয় বৃদ্ধিতে এবার ঈদে হাটবাজারে বেশি বেচাকেনা হয়েছে। গ্রামেও প্রত্যেকের হাতে মোবাইল। খালি পায়ে কেউ নেই। সবার আয় বেড়েছে।'মাথাপিছু আয় সবার সমহারে বাড়ছে কি না-এই প্রশ্নের জবারে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, 'সবার আয় বাড়ছে। যাঁর আয় আগে ১০০ টাকা ছিল, তাঁর আয় ১০৫ টাকা হয়েছে। তবে যাঁর আয় এক হাজার টাকা ছিল, তাঁর অনেক বেশি আয় বেড়েছে।' তবে কি দেশে বৈষম্য বাড়ছে? পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, 'উন্নয়নের এ পর্যায়ে বৈষম্য বাড়বেই। বৈষম্য সব সময় খারাপ নয়। যখন পুরো উন্নয়ন হয়ে যাবে, তখন বৈষম্য কমে যাবে।'মন্ত্রীরা যেহেতু খুশি সেহেতু আমজনতার অখুশি হওয়ায় কিছু যায় আসে না। তারপরও যে মাথাপিছু আয় চোখে দেখা যায় না, অনুভবও করা যায় না, সেই প্রবৃদ্ধি দিয়ে কী হবে-সে প্রশ্ন উঠবেই। | 6 |
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, টিকা এবং গণটিকা নিয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই, অপরিকল্পিত এই গণটিকা কর্মসূচি বুমেরাং হতে পারে। গণটিকা কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় করোনা আরো ভয়াবহ রূপে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক অসুস্থ ও বৃদ্ধ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে নানা হয়রানির শিকার হয়েও টিকা পায়নি। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা সংগ্রহ করতে না পারলে, গণটিকা কর্মসূচি আবারো মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। এ নিয়ে জনমনে হতাশা বিরাজ করছে। আজ এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট চলমান গণটিকা কর্মসূচির আওতায় ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু, তিন দিনেই লক্ষমাত্রার প্রায় তিন গুন টিকা গ্রহণ করেছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণটিকা কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে। শারীরিক দূরত্বের বালাই নেই, মাস্ক নেই অনেকের মুখে। অভিযোগ উঠেছে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি হচ্ছে গণটিকা কর্মসূচিতে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা উচিৎ। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, সে হিসেবে সরকারের হাতে টিকা মজুদ থাকার কথা ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৭০৬ ডোজ। এতে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য এখনো ঘাটতি আছে ১ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৯২৪ ডোজ টিকা। প্রতিদিন টিকা প্রয়োগের কার্যক্রম চালু থাকলে দ্বিতীয় ডোজ প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষমানদের তালিকা আরো বাড়তে থাকবে, সেই সাথে বাড়বে টিকা ঘাটতির হিসাবও। বিবৃতিতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, দেশের ১৭ কোটি মানুষের জন্য প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ২৭ কোটি ডোজ টিকা। তাই গণটিকা কর্মসূচি চালু রাখতে সরকারকে এখনই বিভিন্ন উৎস থেকে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করতে হবে। এখনো দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উর্ধ্বমুখী, কমার কোনো লক্ষণ নেই। সেক্ষেত্রে মহমারীর এই ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় গণটিকা কর্মসূচি চালিয়ে রাখা। প্রতিদিন সরকারের মন্ত্রীরা টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে আশ্বাসের বাণী শোনাচ্ছেন। কিন্তু টিকা প্রাপ্তি ও টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট ধারণা জনগণ পাচ্ছে না। তাছাড়া চলমান কর্মসূচিতে অনিশ্চয়তা, বিশৃঙ্খলা ও সমন্বয়হীনতা দৃশ্যমান। সেসব কারণে, সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা দিনদিন বেড়েই চলছে। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন | 6 |
সিনোফার্মের আরও ৫০ লাখ ডোজ করোনার টিকার চালান দেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাত ২টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চীন থেকে কেনা এসব টিকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা টিকার চালান গ্রহণ করেন। টিকা বুঝে নেওয়ার পর তা সংরক্ষণের জন্য টঙ্গীর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সংরক্ষণাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সকালে ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বাংলাদেশকে দুই দফায় ১১ লাখ টিকা উপহার দিয়েছে চীন। প্রথম দফায় দিয়েছে পাঁচ লাখ ডোজ এবং দ্বিতীয় দফায় দিয়েছে ছয় লাখ ডোজ। গত ৩ জুলাই বাণিজ্যিকভাবে কেনা ২০ লাখ টিকার প্রথম চালান দেশে আসে। আর ১৭ জুলাই দ্বিতীয় দফায় আরও ২০ লাখ টিকা এসেছে। এরপর ৩০ জুলাই আসে আরও ৩০ লাখ টিকা। এদিকে, গত ১০ আগস্ট প্রথমবারের মতো কোভ্যাক্সের আওতায় চীন থেকে ১৭ লাখ টিকা আসে। আর দ্বিতীয় দফায় ১১ আগস্ট আরও ১৭ লাখ ৭০টি টিকা ঢাকায় আসে। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসে সিনোফার্মের ৫৪ লাখ ডোজ টিকা। সব মিলিয়ে চীন থেকে সিনোফার্মের দুই কোটি ৩৫ লাখ ৬১ হাজার ৮০১ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। | 6 |
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আবারো অধিনায়ক পাল্টাল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এবার নেতৃত্ব পরিবর্তন করে ভাগ্য বদলাল ফ্র্যাঞ্চাইজি। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তারকাঠাসা মিনিস্টার ঢাকাকে ৩ রানে হারিয়ে জয়ে ফিরল চট্টগ্রাম। মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর দুর্দান্ত বোলিং ও শামীম হোসেন পাটোয়ারির ব্যাটিং দৃঢ়তায় নাটকীয় জয় তুলে নেয় আফিফ হোসেন ধ্রুবর চট্টগ্রাম।টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৪৮ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে চট্টগ্রাম। জবাবে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৫ রান তুলতে সক্ষম হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ঢাকা। বিফলে গেল ওপেনার তামিম ইকবালের ৭৩ রানের অপরাজিত ঝলমলে ইনিংসটা। শেষ ওভারে ৯ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি মোহাম্মদ নাঈম। ৮ বলের ওভারে তামিম খেলেছেন মোটে এক বল। নাটকীয় শেষ ওভারে মৃত্যুঞ্জয় দিয়েছেন ৫ রান।চট্টগ্রামের ইনিংসের শুরুটা ছিল ধীরগতির। ওপেনার জাকির হাসান ১ রানেই ফেরেন সাজঘরে। পরে জ্যাক উইলস ও অধিনায়ক আফিফ ৪০ রানের জুটি গড়েন। দুজনই খরচ করেন সমান ২৪ বল। উইলস ২৬ এবং আফিফ ২৭ রানে আউট হন। দলীয় ৮৪ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে ফেরেন আকবর আলী। ১০ বলে ৯ রানে ফেরেন তিনি। চট্টগ্রাম লড়াইয়ের পুঁজি পাবে কিনা তা নিয়েই জেগেছিল সংশয়।শেষ দিকে শামীম ও বেনি হাওয়েলের ৫৮ রানের কার্যকর জুটির ওপর দাঁড়িয়ে দেড় শ'র কাছাকাছি পৌঁছায় তারুণ্যের দলটি। ৩৭ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন শামীম। তাঁর সঙ্গী হাওয়েল ১৯ বলে ২৪ রানে ফেরেন হাওয়েল। চট্টগ্রামের পতন হওয়া ৬ উইকেট নিয়েছেন ঢাকার ছয় বোলার। ব্যাটারদের এনে দেওয়া পুঁজি দারুণভাবে আগলে রাখেন বোলাররা।রান তাড়ায় ঢাকার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের। পঞ্চম ওভারে ২১ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় তারা। এই ঝড়ে বিদায় নেন মোহাম্মদ শাহজাদ, ইমরান উজ্জামান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে ঢাকার আশা বাঁচিয়ে রাখেন তামিম। তুলে নেন চলমান আসরের তৃতীয় ফিফটি। এ সময় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৭১ রানের দারুণ জুটি গড়েন তিনি। জুটি ভাঙে মাহমুদউল্লাহ ২৯ বলে ২৪ রানে ফিরলে।পরে শুভাগত হোম উইকেটে এসেই ঝড় তোলেন। ১১ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় করেন ২২ রান। যা ঢাকাকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু সুবিধাজনক অবস্থাতে থেকেও ম্যাচটার সুন্দর সমাপ্তি টানতে পারেনি দলটি। নন স্ট্রাইকে থাকা ৭৩ রানে থাকা তামিম কেবল আফসোসই করতে পারেন। বিফলে গেছে তাঁর ৫৬ বলে ছয়টি চার ও তিন ছক্কায় গড়া ইনিংসটা। তবে ৫২ রানের ইনিংসেই ম্যাচ সেরা হয়েছেন শামীম। আর চার ওভারে ২১ রানে ২ উইকেট নেওয়া মৃত্যুঞ্জয় পেলেন পার্শ্বনায়কের চরিত্র।নয় ম্যাচের চারটিতে জিতে প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখল চট্টগ্রাম। আট পয়েন্ট নিয়ে তালিকার চারে উঠেছে তারা। তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে এক পয়েন্ট পিছিয়ে পাঁচে নেমেছে ঢাকা। আট ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশাল। | 12 |
শীর্ষস্থানীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে চীনের শেনজেনে অবস্থিত এর নিজস্ব ডারউইন এক্সহিবিশন হলে এক ভার্চুয়াল ট্যুরের আয়োজন করেছে। এই ভার্চুয়াল ট্যুরে প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিকভাবে এর আবিষ্কৃত সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত ও এর সম্ভাবনা তুলে ধরে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে এসব উন্নয়নের পেছনে হুয়াওয়ের ভূমিকাও তুলে ধরা হয়। এই ভার্চুয়াল ট্যুরে বাংলাদেশ ও নেপালের গণমাধ্যমকর্মী এবং হুয়াওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে চেন অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানান এবং অতিথিদের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের নানা বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন। অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, "২০২০ সাল সবার জন্যই একটি কঠিন বছর ছিলো। এ সময় বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হুয়াওয়ে আরও নিবিড়ভাবে গ্রাহক ও অংশীদারদের সাথে কাজ করছে। এক্ষেত্রে, সামনে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে।" বাংলাদেশ দ্রুতই ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর এক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে নতুন সব প্রযুক্তি বাস্তবায়নের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে এটা আরও বেশ প্রাসঙ্গিক; কেননা, এ বছরের শেষেই বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। চেন আরও বলেন, 'নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিক রূপান্তর নিশ্চিতে এসব দেশে সর্বোচ্চ দায়িত্বের সাথে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে হুয়াওয়ে, যা রূপান্তরের ক্ষেত্রে দেশগুলোকে প্রযুক্তির প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রযুক্তি চালিত পর্যায়ে উন্নীত হতে সহায়তা করবে।' বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 0 |
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রুশ বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত ৫০৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার শহরটির গভর্নর ওলেগ সিনেগুবভ এ দাবি করেছেন। খবর এএফপির। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ। এর অবস্থান রাশিয়ার সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। শহরটিতে রুশ বাহিনীর অভিযান শুরুর আগে ১৫ লাখ মানুষের বসবাস ছিল। রুশ বাহিনীর চলমান অভিযানে খারকিভ ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার এক টেলিগ্রাম পোস্টে খারকিভের ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন শহরটির গভর্নর ওলেগ সিনেগুবভ। তিনি দাবি করেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জন শিশু। টেলিগ্রাম পোস্টে ওলেগ সিনেগুবভ লিখেছেন, 'তারা নির্দোষ বেসামরিক জনগোষ্ঠী। কোনো রকমের প্রাণহানির জন্য আমরা তাদের (রাশিয়া) ক্ষমা করব না।' এদিন ওলেগ আরও বলেছেন, বৃহস্পতিবার খারকিভজুড়ে ৩৪টি রকেট ও গোলা হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছে। ইতিমধ্যে খারকিভ শহরের কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে মাইন অপসারণে কাজ করছে। এই মাইনগুলো উড়োজাহাজ থেকে ফেলা হয়েছে বলে দাবি তাদের। মাইন সরানোর সময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। | 3 |
আমির খান শনিবার (২০ নভেম্বর) সকাল থেকেই টুইটারে ট্রেন্ডিং করেন। তার প্রথম কারণ হল আমিরের আগামী ছবি 'লাল সিং চাড্ডা'র মুক্তির তারিখ প্রকাশ পেল। জানা গিয়েছে, আগামী বছর ১৪ এপ্রিল মুক্তি পাবে আমিরের এই ছবি। তবে শুধু এই কারণই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে ছড়িয়েছে, বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট নাকি ফের বিয়ে করতে চলেছেন। শুধু তাই নয়, তৃতীয়বার বিয়ের জন্য নাকি অল্প অল্প করে তোড়জোড়ও শুরু করে দিয়েছেন আমির খান। হ্যাঁ, বলিউডের গুঞ্জনে এমনই শোনা যাচ্ছে। খবর সংবাদ প্রতিদিনের। আমির ও কিরণের বিবাহ বিচ্ছেদের খবর পাওয়ার পর বলিউডে শুরু হয়েছিল জোর জল্পনা। ঠিক কী কারণে ১৫ বছর পর কিরণ ও আমির এই সিদ্ধান্ত নিলেন তা নিয়েও নানা খবর ঘুরেছে বলিউডে। তবে এসবের মাঝে নজর পড়েছে আমিরের 'দঙ্গল' ছবি থেকে বলিউডে পা রাখা অভিনেত্রী ফতিমা সানা শেখের দিকে। অনেকে বলেন ফতিমার প্রতি আমিরের দুর্বলতাই ডিভোর্সের দিকে নিয়ে গেছে। অভিনেত্রী ফতিমা সানা শেখের সঙ্গে আমিরের সম্পর্কের কথা নতুন নয়। ২০১৬ সালে মুক্তি পায় আমিরের দঙ্গল ছবি। এই ছবিতে সুন্দরী ফতিমা সানা শেখকে সুযোগ দেন আমির। শোনা যায়, ফতিমার অডিশন দেখে আমিরই সবুজ সংকেত দেখিয়েছিলেন। তারপর থেকেই আমির-ফতিমাকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু। বলিউডের নানা পার্টিতে আমিরের সঙ্গে দেখা যেত ফতিমাকে। আমিরের হাতে হাত দিয়ে মুম্বইয়ের বহু জায়গাতেই ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে ফতিমা ও আমিরকে। এ খবর কিরণ রাওয়ের কানেও গিয়ে পৌঁছায়। তবে এই গুঞ্জন আরও বেড়ে যায়, আমিরের কথাতে আদিত্য চোপড়ার 'ঠগস অফ হিন্দুস্তান' ছবিতে ফতিমার সুযোগ পাওয়ার পর থেকে। শোনা যায়, বহু প্রযোজক ও পরিচালককেও নাকি আমির নিজে ফোন করে ফতিমাকে সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। নিন্দুকেরা মনে করছেন ফতিমার প্রতি আমিরের এই প্রেমই ধীরে ধীরে কিরণ রাওয়ের সংসারে আগুন লাগায়। আর যার ফল এই বিবাহ বিচ্ছেদ। আর এবার রটল, ফতিমার সঙ্গেই নাকি সাত পাকে বাঁধা পড়বেন আমির খান। তবে ফতিমার পাশাপাশি নতুন এক পরিচালকের কথাও শোনা যাচ্ছে। সম্প্রতি নাকি এই পরিচালকের সঙ্গে এদিক-ওদিক দেখা গিয়েছে আমিরকে। অন্যদিকে আরেকটি গুঞ্জনও রটেছে। অনেকে মনে করছেন এই বিয়ের খবর নাকি একেবারেই 'লাল সিং চাড্ডা' ছবির প্রোমোশনের জয় আমির নিজেই হাতে রটিয়েছেন। কারণ, গোটা বলিউড জানেন, ছবির প্রোমাশনের জন্য যা কিছু করতে পারেন আমির। তবে আপাতত এই নিয়ে আমিরের তরফ থেকে কোনও মন্তব্য যায়নি। | 2 |
কিংবদন্তী অভিনেত্রীও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরীআর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। করোনা উপসর্গ থাকায় নমুনা পরীক্ষা করলে ৫ এপ্রিল তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর সেদিন রাতেই তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি ঘটেনি। বুধবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কোনো আইসিইউ বেড খালি ছিল না। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 2 |
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানার হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে দুই স্কুলশিক্ষার্থী। সরকার ঘোষিত বিয়ের প্রাপ্ত বয়স না হওয়ায় এদের বিয়ে বন্ধ করে দেন ইউএনও । এ সময় বিয়ে বাড়ির সকল আনুষ্ঠানিকতা ও কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর এ কাজে সহযোগিতা করেন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা। শুক্রবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ইউনিয়নের বেড়াডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাল্যবিয়ের শিকার হওয়া দুইজনের মধ্যে একজন বহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপরজন একই বিদ্যালয়ের ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। এ সময় ইউএনও আরো বলেন, ঐ দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে অঙ্গিকার নামা নেওয়া হয়েছে। ১৮ বছর পূর্ণ না হলে তারা তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে দিবেন না বলে লিখিত দিয়েছেন। বালিয়াকান্দি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফরোজা জেসমিন বলেন, ইউএনও স্যারের কাছ থেকে সংবাদ পাওয়ার পরই কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যদেরকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এর আগের শুক্রবারও (২৪ সেপ্টেম্বর) সদরের পাইককান্দি গ্রামে ইউএনও স্যারের নির্দেশে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
জাতিসংঘের দুই বিশেষজ্ঞ হত্যার দায়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকান কঙ্গোর সামরিক আদালত ৫১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে দেশটির বিরোধপূর্ণ কাসাই অঞ্চলে সহিংসতার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সুইডেনের নাগরিক জাইদা কাতালান ও আমেরিকান মাইকেল শার্প হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। কঙ্গোতে প্রায়শই হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু ২০০৩ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর স্থগিতাদেশ ঘোষণা করে দেশটি। দেশটির কর্তৃপক্ষ দাবি করে সশস্ত্রগোষ্ঠীর লোকেরা তাদের হত্যা করেছে। সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 3 |
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভাঙা জাহাজ থেকে সংগ্রহ করা তেলের একটি ডিপোতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের বিভাগীয় উপ-সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, বুধবার বেলা সোয়া ২টার দিকে ফৌজদারহাটের আবদুল্লাহ ঘাট এলাকায় বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ওই ডিপোতে আগুন লাগার খবর পান তারা। অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর চারটি ইউনিটের ১২টি গাড়ি সেখানে গিয়ে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান। তিনি বলেন, ওই ডিপোতে প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে ফৌজদারহাটের আবদুল্লাহ ঘাট এলাকায় ওই ডিপোতে পুরনো জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে পাওয়া তেল মজুদ ও বিক্রি করা হয়। তবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.