text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মিশুকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার প্রধান সড়কগুলোর দুই পাশ দখল করে এসব অটো-মিশুক পার্ক করে রাখেন চালকেরা।কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই এ চালকেরা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করেন। এতে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে সিরাজদিখান বাজারে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অটো-মিশুক পার্ক করে রাখা। অবাধে চলাচল করায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলার ইছাপুরা চৌরাস্তা, মালখানগর চৌরাস্তা, নিমতলা বাজার এলাকা, কুচিয়ামোড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে যানজটের দীর্ঘ সারি।জানা যায়, এসব গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনেক চালকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। চালকেরা রাস্তায় যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করেন। ব্যস্ততম রাস্তায় কোনো সিগন্যাল ছাড়া হঠাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলে। এর ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া ট্রাক-মাহিন্দ্রা চলাচলের কারণে অতিরিক্ত যানজট সৃষ্টি এবং দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ফিটনেসবিহীন ট্রাক অতিরিক্ত গতিতে চলাচলের কারণে অনেকের প্রাণ অকালেই ঝরে যাচ্ছে। তাই স্থানীয়রা বলছেন, এসব চালককে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।রাজদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসেন জানান, রাস্তার দুই পাশে অটো রাখার কারণে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। এ ছাড়া ট্রাক ও মাহিন্দ্রার কারণে যানজট এবং দুর্ঘটনা ঘটে। তাই প্রশাসনের নজরদারিতে এনে এসব গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।অটোরিকশার যাত্রী মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, এই অটোরিকশার জন্য বাজারে ঢুকতে ও বের হতে প্রায় ঘণ্টা লেগে যায়। সেতু থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাস্তার দুই পাশে অটোরিকশার লাইন করে রাখে, যেন দেখার কেউ নেই।সিরাজদিখান বাজারের ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যে যাঁর মতো যখন-তখন ক্রয় করে অটো-মিশুক রাস্তায় নামাচ্ছেন। আগে চীন থেকে আমদানি হতো। এখন বিভিন্ন এলাকার গ্যারাজে তৈরি হচ্ছে এসব গাড়ি। ফলে যখন-তখন মনে চাইলেই অটো-মিশুক রাস্তায় নামাচ্ছে কিছু মানুষ। এটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।এ বিষয়ে একাধিক চালক জানান, গাড়ি রাখার কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় রাস্তার পাশেই পার্ক করে রাখতে হয়। এই গাড়ি চালাতে কোনো ট্রেনিং লাগে না। যিনি রিকশা চালাতে পারেন, তিনি অটোরিকশা সহজেই চালাতে পারেন। এ কারণে অটোরিকশার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, থানা-পুলিশ যতটুকু সম্ভব যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অটো-মিশুকের তৎপরতা অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে। পুলিশ গেলে গাড়ি সরিয়ে নেয়, পুলিশ চলে এলে আবার রাস্তার পাশে ভিড় জমায়। জনবল কম থাকায় সব সময় পুলিশ রাখা সম্ভব হয় না। | 6 |
কানাডার টরন্টোতে মা-বাবা, ছোট বোনসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার অভিযোগে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় রোববার
টরন্টোর মারখাম উপশহরের ক্যাসেলমোর এভিনিউর বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
গ্রেফতার মিনহাজ জামান (২৩) এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে একটি অ্যাডভেঞ্চার
ফ্যান্টাসি গেমে সেই খবর ও নিহতদের ছবি পোস্ট করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এলে
তিনি নিজেই ধরা দেন ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। নিহতরা হলেন- মিনহাজের বাবা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মা মমতাজ মুক্তা জামান,
ছোট বোন ম্যালিসা ও নানি (নাম জানা যায়নি)। নিহত মনিরুজ্জামান পরিবার নিয়ে
কয়েক দশক আগে টাঙ্গাইল থেকে কানাডায় পাড়ি জমান। স্থানীয় ইয়র্ক পুলিশের মুখপাত্র অ্যান্ডি প্যাটেনডেন জানিয়েছেন, মিনহাজকে
সোমবার টরন্টোর নিউমার্কেট আদালতে হাজির করার পর অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য
তাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। আগামী শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে
মিনহাজকে আবার আদালতে উপস্থিত করা হবে। তবে কীভাবে চারজনকে হত্যা করা
হয়েছে, তা জানায়নি পুলিশ। প্যাটেনডেন আরও জানান, রোববার বিকেল ৩টায় ৯১১ নম্বর থেকে তাদের কাছে একটি
ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, ক্যাসেলমোর এভিনিউর ওই বাড়িতে
কিছু মানুষ আহত হয়ে পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে চারটি মৃতদেহ
পায়। এ সময় মিনহাজ নিজেই এসে হত্যার কথা স্বীকার করেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, স্বল্পভাষী, শান্তশিষ্ট মিনহাজ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি
থেকে ড্রপ আউট হওয়ার পর থেকে হতাশায় ভুগছিলেন। কারও সঙ্গে তেমন মিশতেন না।
শুধু কাছের একটি মল এবং ব্যায়ামাগারে সময় কাটাতেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের খবর জানিয়ে মিনহাজ নিজেই অনলাইন গেমারদের নেটওয়ার্কিং সাইটে
নিহতদের ছবি পোস্ট করেন। তাতে তিনি লিখেছেন, 'প্রথমে আম্মু, তারপর নানি,
তারপর বোন ও সবশেষে আব্বুকে হত্যা করি।' সবশেষে তিনি লেখেন, 'পুলিশ এসে
গেছে, গুডবাই।' ধারণা করা হচ্ছে, অপর প্রান্তে তার সঙ্গে খেলতে থাকা কোনো বন্ধু পুলিশকে
খবরটি জানায়। ইয়র্ক রিজিওনাল পুলিশের কর্মকর্তা লোরা নিকোল বলেন,
হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত আছে বলে মনে হচ্ছে না। মিনহাজই এমন নৃশংসতা
চালিয়েছে। তাই এলাকাবাসীর ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। | 6 |
চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির বোমা বিশেষজ্ঞ জাহিদুল ইসলাম মিজানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলার অপর আসামি জেএমবির চট্টগ্রাম শাখার বিভাগীয় কমান্ডার জাবেদ ইকবালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম রোববার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ ট্রাইব্যুনালের পিপি মনোরঞ্জন দাশ জানান, দণ্ডিত দুই আসামির মধ্যে জাবেদ ইকবাল রায়ের সময় আদালতে কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ভারতের কারাগারে বন্দি। সেখানে এক মামলায় তার ২৯ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে পুলিশের তল্লাশি চৌকির সামনে বোমা হামলা চালায় জেএমবি সদস্যরা। এতে মারা যান পুলিশ কনস্টেবল রাজীব বড়ুয়া এবং বিচারপ্রার্থী শাহাবুদ্দিন। আহত হন কনস্টেবল আবদুল মজিদ, রফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, শামসুল কবির ও আবু রায়হানসহ মোট ১০ জন। এ ঘটনায় আহত পুলিশ কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম মামলা করেন। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৭৭ জন। যাদের মধ্যে ৩২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। ২০০৫ সালের এই মামলায় তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ১৮ মে নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার তৎকালীন পরিদর্শক হ্লা চিং প্রুং আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০০৭ সালের ১৬ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার শুরু হয়। এতে নিষিদ্ধ জেএমবির চট্টগ্রাম শাখার বিভাগীয় কমান্ডার জাবেদ ইকবাল এবং বোমা কারিগর জাহিদুল ইসলামকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই এবং জেএমবির সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি অন্য মামলায় ফাঁসি হওয়ায় তাদের এ মামলা বাদ দেয়া হয়। জীবিতদের মধ্যে জাবেদ ইকবাল কারাগারে আছেন। আরেক আসামি মিজানকে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয় উগ্রবাদীরা। তারপর ২০১৮ সালের আগস্টে ভারতের বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার হয় বোমা মিজান। সবশেষ চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের বর্ধমান বিস্ফোরণের মামলায় মিজানকে ২৯ বছরের সাজা দেয় সে দেশের একটি আদালত। | 6 |
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ফু-ওয়াং ক্লাবে হানা দিয়েছে পুলিশের একটি টিম। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে ফু-ওয়াং ক্লাবটিতে জুয়া ও ক্যাসিনো চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ক্লাবে বৈধ যে বার রয়েছে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এক্ষেত্রে কোনো গড়মিল পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনাস্থলে থাকা সূত্রমতে, অভিযানে ক্লাবটিতে এখন পর্যন্ত অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। এর আগে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে পুলিশ অভিযান চালায়। | 6 |
বন্যায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ও ঘুর্ণনে দৌলতদিয়ায় ১নং ফেরিঘাটটি বিলীন হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ রেকারের সহায়তায় ঘাটের দুটি র্যাম ও পন্টুনটি ভেসে যাওয়া হতে কোনো রকমে রক্ষা করতে পেরেছে।
শনিবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘাট বিলীন হয়ে যায়।
দৌলতদিয়ায় চারটি ঘাটের মধ্যে এর আগে আরও দুটি ঘাট নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন একটি ঘাট থেকে বাস ও হালকা যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা যেকোনো সময়ে এই ঘাট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল ৩টার দিকে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে দৌলতদিয়ার ১নং ফেরিঘাটের দুটি র্যামের নীচে থাকা ৫০/৬০ ফুট মাটি নদীর তীব্র স্রোত ও ঘুর্ণনে ভেসে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিসির উদ্ধারকারী রেকারের সাহায্যে পন্টুন ও দুটি র্যাম ভেসে যাওয়া হতে রক্ষা করে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের ম্যানেজার (মেরিন) আব্দুস সাত্তার জানান, আজ (শনিবার) ১নং ঘাটটি পদ্মায় বিলীন হলো। শুক্রবার বিলীন হয়েছে ২নং ঘাট। গত ২৭ জুলাই বিলীন হয়েছে ৪নং ঘাট। একমাত্র ৩নং ঘাটটির একটি র্যাম দিয়ে নামমাত্র ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। এ ঘাটটির অপর র্যাম ক্ষতিগ্রস্ত। তীব্র স্রোতের কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী। চালু র্যামটি দিয়ে শুধুমাত্র ছোট ফেরিগুলো (কে-টাইপ ও ইউটিলিটি) চলাচল করতে পারছে। বড় ফেরিগুলো (রো-রো) সম্পূর্ণরুপে বন্ধ আছে। এ ঘাটটিও বন্ধ যেতে পারে। ফলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট যেকোনো সময় সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচার উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, বিলীন হয়ে যাওয়া ১ ও ২নং ঘাটের র্যাম ও পন্টুনকে টেনে উপরের দিকে লাগিয়ে চালু করার দু'দফা চেষ্টা করেছি। কিন্তু তীব্র স্রোত আর ঘুর্ণনে বার বার ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রকৃতির কাছে আমরা অসহায় হয়ে পড়ছি। তারপরও বন্ধ ঘাটগুলো চালুর ব্যাপারে আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
তিনি আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী নিজামুদ্দিন পাঠান ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান ঘাটে উপস্থিত থেকে ভাঙ্গন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া অফিসের ম্যানেজার (বাণিজ্য) শফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়ার প্রায় সবকটি ঘাট বন্ধ হয়ে ফেরিগুলো চলতে না পারায় ঘাট এলাকার বেহাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ঘাট এলাকায় ও মহাসড়কে শত শত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছে। এতে যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
| 6 |
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এ প্রথম প্রহরে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
শহরের খোকন পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন এবং পুলিশ সুপার মো: আসাদুজ্জামান। এরপরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বগুড়া জেলা বিএনপি, বগুড়া প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সুর্যোদয়ের সঙ্গে শহীদ খোকন পার্কে মানুষের ঢল নামে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সকালে শহীদ মিনারে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এবং সরকারি শাহ সুলতান কলেজ ক্যাম্পাসেও পৃথকভাবে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। মহান একুশ উপলক্ষে প্রতি বছরের মত এবারও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে খোকন পার্কের সামনে সপ্তাহব্যাপী বই মেলার আয়োজন করা হয়।
| 6 |
দলীয় গঠনতন্ত্র অমান্য করে ঢাকা-৫ আসনের এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন করেছেন। গঠনতন্ত্রবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী এ কমিটি অবৈর্ধ, গঠনতন্ত্র পরিপন্থী জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এটাকে উন্নয়ন কমিটি দাবি করে বলেছেন, আমি যে উন্নয়ন করব, তাদের মাধ্যমে করা হবে। জানা গেছে, গত ১২ নভেম্বর উপনির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুল ইসলাম মনু বিজয়ী হন। এরপর থেকেই প্রয়াত সংসদ সদস্য (এমপি) হাবিবুর রহমান মোল্লার অনুসারীদের কোণঠাসা করতে তৎপর হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে 'এমপি লীগ' গঠনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর। দলের গঠনতন্ত্রে না থাকলেও তিনি ডেমরা থানার ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন করেছেন। ৩০ নভেম্বর এমপি স্বাক্ষরিত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে আবদুল আজিজ প্রধানকে। চারজন যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় জয়নাল আবেদীন, চাঁন মিয়া, নাজির আহমেদ চৌধুরী ও মোয়াজ্জেম হোসেনকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে হাজী সামসুদ্দিন খানকে। তিনজনকে করা হয়েছে যুগ্ম সদস্য সচিব। তারা হলেন, শাহাদাত হোসেন মোল্লা, আবদুর রব ও আজিজুর রহমান। এই কমিটি গঠনের পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগরের একাধিক নেতা জানান, রাজধানীতে ১৮ জন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, কেউ এমপি লীগ বা উন্নয়ন কমিটি গঠন করেনি। কাজী মনিরুল ইসলাম এমপি হয়েই দীর্ঘদিন ধরে যারা দল করছেন কিন্তু অন্যের অনুসারী ছিলেন তাদের কোনঠাসা করার মিশনে নেমেছেন। এতে করে দলের অভ্যন্তরে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 6 |
বানারীপাড়ায় প্রতিবছরের মতো এবারও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে সাইকেল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বানারীপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা।প্রতিযোগিতায় মেহেদী হাসান মিঠু টানা ৩৪ ঘণ্টা সাইকেল চালিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। তিনি বরিশাল থেকে অংশগ্রহণ করেন। এতে টানা ৩৩ ঘণ্টা সাইকেল চালিয়ে রানার্সআপ হয়েছেন ধারালিয়া সলিয়াবাকপুরের বাসিন্দা ইব্রাহিম তাফি।টানা ৩০ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট সাইকেল চালিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন ছোট চাউলাকাঠির বাসিন্দা সালমান। 'অবিরাম সাইকেল' নামের এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বয়সের ১১৩ জন সাইক্লিস্ট অংশগ্রহণ করেন।বৃহস্পতিবার বিকেলে সরকারি বানারীপাড়া মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বরিশাল-২ এর সাংসদ মো. শাহে আলম। উদ্বোধনের সময় মো. শাহে আলম বলেন, 'তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। বানারীপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।'অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, ইউএনও রিপন কুমার সাহা, পৌর মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল, বরিশাল ডিবির ইন্সপেক্টর জিয়াউল আহসান, থানার ওসি হেলাল উদ্দিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, বানারীপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি রুহুল আমিন শুভ, সহসভাপতি আবুল বাশার বাদশা, জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ টি এম মোস্তফা সরদার ও আক্তার হোসেন মোল্লা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুণ্ডু, উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক জাহিদুল হক জুয়েল, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন ব্যাপারী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সিকদার প্রমুখ। | 6 |
দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামটির অবস্থা নাজুক। সাড়ে পাঁচ বছর ভেন্যুটির এই অবস্থা। স্টেডিয়ামের গ্যালারির প্রায় সব চেয়ার নষ্ট হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মাঠের সাইড স্ক্রিন ঝড়ে নষ্ট হওয়ার পর আর তা নতুন করে লাগানো হয়নি।দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকায় ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডটি নষ্টের পথে। প্যাভিলিয়ন ভবনের প্রেসিডেন্ট বক্স, হসপিটালিটি বক্স, ড্রেসিং রুম, ম্যাচ রেফারি রুম, আম্পায়ার রুম, প্রেস বক্সসহ অন্যান্য অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশও বেহাল।টিভি ক্যামেরা ও গ্যালারির সেডগুলো মরিচা ধরে ধ্বংসের পথে। ইনডোরের অবকাঠোমোও ভালো না। বোলিং মেশিন অনেক দিন ধরে অকেজো হয়ে আছে। মূল স্টেডিয়ামের বাইরের পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ায় অফিস ভবন বর্ষা মৌসুমে পানি উঠে তলিয়ে যায়। এ ছাড়া দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ভবনের বিভিন্ন জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে।স্টেডিয়ামের বাইরের চত্বর জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। শুধু মাঠ এবং পিচ নিয়মিত পরিচর্যা করায় খেলার উপযোগী আছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি বর্তমানে পরিণত হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটের ভেন্যু।আবু নাসের স্টেডিয়ামের কর্মকর্তা ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে চার বছর খুলনার এই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো দূরের কথা, স্টেডিয়ামের যে হাল তাতে ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ হওয়াই তো কষ্টকর। ম্যাচ হলে গ্যালারিতে দর্শকদের বসার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, সমস্ত চেয়ার অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে।ম্যাচ না থাকা এবং নিয়মিত সংস্কার না করায় অবকাঠোমোসহ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অসংখ্য এসি অকেজো হয়ে গেছে। নিয়মিত সংস্কার এবং পরিচর্যা না করায় স্টেডিয়ামের ভবন এবং যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্টেডিয়ামটি দ্রুত সংস্কার করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আনতে না পারায় খুলনাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শেখ আবু নাসের ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সব গ্যালারির চেয়ার নষ্ট হয়ে গেছে। গ্যালারির শেড ও ভবনের ছাদে টিভি ক্যামেরা রাখার শেড মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। মাঠের দুপাশের ট্রাইভিশন সাইড স্ক্রিন ধ্বংসাবস্থায়। তার পরিবর্তে বাঁশের কাঠামো তৈরি করে কাপড় দিয়ে সাইড স্ক্রিন বানিয়ে রাখা হয়েছে। প্রেস বক্স, ব্রডকাস্ট রুম বেহাল। এই রুমের চেয়ারগুলো নষ্ট হয়ে রয়েছে। এ সময় কথা হয় ভেন্যু ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান রাসেলের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে জানান, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হয়নি।এরপর ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের ঘূর্ণিঝড়ে স্টেডিয়ামের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। তার ক্ষত এখনো স্টেডিয়ামটি বয়ে বেড়াচ্ছে। স্টেডিয়ামের অবকাঠামো, ইলেকট্রনিক ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির ক্ষতি হয়েছে। তবে আউট ফিল্ট (মাঠ) ও পিচ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা করায় ভালো রয়েছে। এখানে জাতীয় লিগ ও ঘরোয়া ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না থাকায় স্টেডিয়ামের অবকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে না, পাশাপাশি দিন দিন সবকিছু বেহালে পরিণত হচ্ছে।মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঝড়ে ভবনগুলোর কাচের যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল, তা সম্প্রতি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে। স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্য কয়েক দফা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা এখানে এসে পরিদর্শন করে গেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামের অবকাঠামোসহ ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে আধুনিকায়ন করার বড় প্রকল্প নেওয়া হবে। কিন্তু এখনো তার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।এস এম মুর্তজা রশিদী দারা আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাড়ে পাঁচ বছর ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। যার ফলে এখানে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হচ্ছে না। তিন বছরের বেশি সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আর বিসিবি স্টেডিয়াম সংস্কারে শুধু আশ্বাসের বাণীই শুনিয়ে আসছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। উল্টো এই মাঠের ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র খুলে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ আবার এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হবে, তা নিয়ে তাঁরা সন্দিহান। | 6 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে বিজিবি মোতায়েন হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মেয়রপ্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান।
সোমবার সকালে শহরের মিশনপাড়া ও চাষাঢ়া এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সাখাওয়াত বলেন, 'শুনেছি নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি হাস্যকর বলে আমার কাছে মনে হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'কোনো ঘটনার পর স্ট্রাইকিং ফোর্স সেখানে যাবে। আমাদের দাবি ছিল ঘটনার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া।'
এদিনে তিনি শহরে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সোমবার সন্ধ্যা থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে বিজিবি কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসিন রেজা।
উল্লেখ্য, ২২ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
| 9 |
'প্রেম প্রীতির বন্ধন' ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটিবদ্ধ হন অপু বিশ্বাস ও জয় চৌধুরী। সোলায়মান আলী লেবু পরিচালিত ছবিটির শুটিং এখনো শেষ হয়নি। এরমধ্যেই নতুন একটি ছবিতে জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন তারা। সিনেমার নাম 'ট্র্যাপ'। এটি পরিচালনা করছেন দ্বীন ইসলাম। জয় চৌধুরী বলেন, 'অপু বিশ্বাস আপুর সঙ্গে কাজ করছি 'প্রেম প্রীতির বন্ধন' সিনেমার। খুব মজার একটি গল্পে ছবিটি হচ্ছে। ছবিটি মুক্তি না পেলেও আমাদের জুটি রয়েছে আলোচনায়। সেই সুবাদেই আরও একটি সিনেমায় কাজের সুযোগ হলো।' বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
দ্রব্যমূল্য ইস্যুতে বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। রোববার ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, 'আন্তর্জাতিক কারণেই দ্রব্যমূল্য কিছুটা বেশি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কেউ যেন বাজার নিয়ে কোনো কারসাজি করতে না পারে এ ব্যাপারে সরকার সজাগ। অথচ এ নিয়ে বিএনপি অহেতুক রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে। সবকিছুতেই সরকারের সমালোচনা করা বিএনপির রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি। কিন্তু, এই মুহূর্তে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।' আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত যৌক্তিক। ঢালাওভাবে কোনো পক্ষ নেওয়া সমীচীন হবে না। বরং এ ইস্যুতে বিএনপি'র রাজনৈতিক বক্তব্য যুক্তিসঙ্গত হয়নি।' তিনি বলেন, 'নির্বাচনে জিততে পারবে না জেনেই বিএনপি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে এমন কোনো কাজ এই দল করেনি। নির্বাচনে জয়লাভের কোনো সুযোগ নেই বুঝতে পেরেই এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে বিএনপি।' | 9 |
কক্সবাজারের টেকনাফের ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিদেশি অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ দু'জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। সোমবারভোররাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন-চাকমারকুল ক্যাম্প ২২-এর রশিদ আহমদের ছেলে আরকান (১৯) ও মৃত নুর আলমের ছেলে মহিবুল্লাহ (৩৭)। ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (এসপি) মো. তারিকুল ইসলাম তারিক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এপিবিএন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় উমর ইবনে খাত্তাব জামে মসজিদের উত্তর পাশের কাঁচা রাস্তার উপর থেকে দু'জন রোহিঙ্গাকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটকের পর তাদের দেহ তল্লাশি করে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি ও ৪ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 4 |
বাগেরহাটের রামপালে আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের পুনর্বাসনবিষয়ক র্যাবের প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, র্যাব-৬ ও র্যাব-৮ এর অধিনায়ক, বাগেরহাট পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবীর হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসিফ ইকবাল (মোংলা-রামপাল সার্কেল), রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দীন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবীর হোসেন বলেন, আগামী ১ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রামপালে আত্মসমর্পণ করা দস্যু পরিবারকে পুনর্বাসন সহায়তা দেবেন। উপজেলা পরিষদের সামনে এ অনুষ্ঠান হবে। এ উপলক্ষে র্যাবের মহাপরিচালক অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনসহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা করেন। | 6 |
কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে রাতে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছিলেন ইকবাল হোসেন। দিনে তা নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তিনি সরাসরি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরেও অংশ নেন। ১৩ অক্টোবর দিনে কুমিল্লায় বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন ইকবাল। সেই মিছিল থেকে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় মন্দিরে হামলা চলে সে সময়ও ভূমিকা রাখেন তিনি। পুলিশের মারফত সমকালের হাতে আসা আরেকটি নতুন ভিডিওতে ইকবালকে মন্দিরে আক্রমণকারীর ভূমিকায় দেখা যায়। তদন্তসংশ্নিষ্ট একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গতকাল সমকালকে এ তথ্য জানান। কর্মকর্তারা জানান, মন্দিরে কোরআন শরিফ রাখার পরপরই ইকবাল পালিয়ে যাননি। গভীর রাতে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার পর সকালে হামলার সময়ও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে র্যাব-পুলিশের উপস্থিতি দেখে ভয়ে প্রথমে ট্রেনযোগে চট্টগ্রাম যান; সেখান থেকে বাসযোগে কক্সবাজারে চলে যান। সেখানে বেড়াতে যাওয়া তিন যুবক বৃহস্পতিবার সমুদ্রসৈকতে ইকবালকে উদভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। তার চেহারা তিন বন্ধুর চেনাচেনা লাগছিল। পরে তাদের মনে হয় ওই যুবকের চেহারার সঙ্গে কুমিল্লার মন্দিরে ঘটনায় অভিযুক্তের মিল রয়েছে। তাদের অনুসন্ধিৎসু মন আর সচেতনতায় গ্রেপ্তার হন ইকবাল। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইকবালকে কুমিল্লায় আনা হয়। গতকাল শনিবার পুলিশ সদর দপ্তর, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখাসহ (এসবি) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কয়েকটি ইউনিটের পক্ষ থেকে ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এটা এক ধরনের 'যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ'। জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, নানুয়ার দীঘিরপাড়ে দর্পন সংঘের অস্থায়ী পূজাম পে কোরআন শরিফ রাখার পর হনুমানের মূর্তি থেকে গদা সরিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ইকবাল। তবে কার নির্দেশে তিনি কাজটি করেছেন, তা এখনও জানাননি। এ ব্যাপারে ইকবাল দাবি করেছেন, নিজে থেকেই তিনি মন্দিরে যান। সেখানে মূর্তি দেখে তার ভালো লাগেনি। তার মনে হয়েছে, মন্দিরে কোরআন শরিফ রাখলে সেখানে পূজা-অর্চনা হবে না। পূজায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করার জন্য এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে ইকবালের এমন 'সহজ স্বীকারোক্তি'কে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না তদন্তসংশ্নিষ্টরা। তারা বলছেন, ইকবালকে কেউ ব্যবহার করেছে। সেই নামটি হয়তো আড়াল করছেন তিনি। তদন্তসংশ্নিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, কুমিল্লার ঘটনার এক দিন পর ১৪ অক্টোবর সকাল সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ পায়। ওই ফুটেজে দেখা যায়, গদা হাতে একজন ঘোরাঘুরি করছেন। প্রথমে তদন্তসংশ্নিষ্টরা এটিকে লাঠি মনে করেছিলেন। পরে তারা গদা নিশ্চিত হওয়ার পর মন্দির ভাঙচুরের আগে-পরের একাধিক ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। এক পর্যায়ে তারা নিশ্চিত হন, ওই যুবক মন্দিরে ঢোকার পর থেকে গদা নেই। এরপর সিসিটিভির ফুটেজের ছবি দেখতে পাওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য এলাকার অনেকের কাছ থেকে তথ্য নেন। ১৪ অক্টোবর বিকেলেই পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত হয় সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায় যুবক নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজানগরসংলগ্ন দ্বিতীয় মুরাদপুর লস্করপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা নুর আহমেদ আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। এ ছাড়া এলাকাবাসী পুলিশকে জানান, কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা-ভাঙচুরে ইকবালকে অংশ নিতে অনেকে দেখেছেন। এরপর আরেকটি ফুটেজ পুলিশের হাতে আসার পর সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তসংশ্নিষ্ট আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট করেননি ইকবাল। কেন মন্দিরে কোরআন রাখার জন্য জনশূন্য এক রাতকে বেছে নেওয়া হলো, কেউ তাকে টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহার করেছেন কিনা, দীর্ঘদিন ধরে কেন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন না- এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি। ইকবাল কারও প্ররোচনায় মন্দিরে কোরআন রাখার কাজটি করেছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, কয়েক বছর আগে গাজীপুরে পূজা চলাকালে অভিনব একটি ঘটনা ঘটে। মণ্ডপ থেকে কিছুটা দূরে ছিল একটি মসজিদ। হঠাৎ একদিন মসজিদ থেকে আজান দেওয়ার পরপরই পূজামণ্ডপের মাইক থেকে উচ্চ স্বরে গান বেজে ওঠে। এটা শুনে দ্রুত মণ্ডপ এলাকায় যান পূজার আয়োজকরা। আজানের সময় পূজামণ্ডপের মাইক বন্ধ রাখার কথা আগে থেকে বলা থাকলে কেন তা বেজে উঠল, এর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান করেন তারা। তখন মণ্ডপে উপস্থিত অনেকে জানান, এক কিশোর এসে মণ্ডপে এসে মাইকটি হঠাৎ চালু করে চলে যায়। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, যে কিশোর ওই ঘটনা ঘটায় তার পরিবার ওই এলাকায় ফুটপাতে বসবাস করে। স্থানীয় এক মৌলভী ওই কিশোরকে দুইশ টাকা দিয়ে আজান চলার সময় পূজার মাইক চালু করতে বলেন। পরে বেরিয়ে আসে, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আজানের সময় উচ্চ স্বরে গান বাজানোর বিষয়টিকে পুঁজি করে মসজিদের অদূরে থাকা পূজামণ্ডপ উঠিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা। শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। মৌলভীকে পরে আটক করা হয়। এই ঘটনার উদাহরণ দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কুমিল্লায় ইকবালকে কেউ না কেউ ব্যবহার করেছে। কেউ বড় ধরনের অশুভ পরিকল্পনা করেই ইকবালের মতো যুবককে বেছে নেয়। হয়তো স্থানীয় ওই চক্রের পেছনে আরও কেউ থাকতে পারে। স্বজন ও স্থানীয়দের অনেকে ইকবালকে 'ভবঘুরে', 'মাজারভক্ত' ও 'মানসিক ভারসাম্যহীন' বলে উল্লেখ করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করছে বলে জানিয়েছে। তবে তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন- এর স্বপক্ষে এরই মধ্যে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, বখাটে-ভবঘুরে হয়ে থাকলেও ইকবালকে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। এটা হলে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে হবে- এই বোধ তার থাকার কথা ছিল না। কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ সমকালকে বলেন, 'মণ্ডপে কোরআন রাখা, সরবরাহ করা আর এসবের নেপথ্যে কেউ আছে কিনা সব বিষয়েই আমরা ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। সব কিছু নিশ্চিত না হয়ে এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।' কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র পাল সমকালকে বলেন, 'ঘটনার পরদিন সকালে নানুয়ারদীঘির পাড়ে স্থানীয় মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, যুবলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শহীদসহ আরও অনেকে উপস্থিত হন। তারা সবাই পূজা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ঘোষণা দেন। তখনও সেখানে ইকবালকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। এখন আমাদের দাবি, ঢাকায় নিয়ে বিশেষভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করা হোক তার পেছনে কারা ছিল।' গতকাল রাতে যোগাযোগ করা হলে কুমিল্লার মেয়র মনিরুল ইসলাম সাক্কু সমকালকে বলেন, '১৩ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে নানুয়ারদীঘিরপাড়ে যাই। সেখানে গিয়ে শ-খানেক উত্তেজিত লোক দেখি। তারা মন্দির তুলে দেওয়ার দাবি করছিল। এরপর সেখানে যুবলীগের নেতাকর্মীরা আসেন। লোকজনকে শান্ত করতে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হয়, এবার আর সেখানে পূজা হবে না। এরপর কিছু লোক মণ্ডপে ইটপাটকেল মারছিল। ১২টার পর শহরের অন্যান্য মন্দিরে আক্রমণ হয়।' কেন এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেল না- এমন প্রশ্নে সাক্কু বলেন, 'এটা দেখার দায়িত্ব মূলত প্রশাসনের। পুলিশ ও আনসার আরও সক্রিয় থাকলে এমন ঘটনা হয়তো ঘটত না। ইকবালের পেছনে কেউ থাকলে তাকে খুঁজে বের করা হোক।' কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেনকে কুমিল্লায় আনার খবরে সকাল থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও পুলিশ লাইন্সের গেটে অবস্থান নেন। পরে সাংবাদিকদের অনুরোধে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুধু ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণের জন্য ইকবালকে সামনে আনা হয়। এ সময় তার মাথায় হেমলেট ও শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম. তানভীর আহমেদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা ইকবাল হোসেনকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাব।' এদিকে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ইকবালকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। তাকে সহিংসতার অন্যান্য মামলায়ও আসামি করা হতে পারে। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা ইকবাল হোসেনের রাজনৈতিক কোনো সংশ্নিষ্টতা না থাকলেও কুসিকের ১৭ নং ওয়ার্ডের কমিশনার সৈয়দ মো. সোহেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মাঝেমধ্যে তাকে ও তার পরিবারকে আর্থিকভাবে সোহেল সহায়তা করতেন। সোহেলও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্ত সংশ্নিষ্টরা বলছেন, অনেক প্রশ্নে এলোমেলো বক্তব্য দিচ্ছেন ইকবাল। কক্সবাজার যেতে ও পালিয়ে থাকতে কে বা কারা সহায়তা করেছে- জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর এখন তার পেছনে থাকা নেপথ্য কুশীলবদের খুঁজছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইকবালের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ইকবালকে কোনো কিছুর লোভ দেখিয়ে অথবা যে কোনোভাবে রাজি করিয়ে কেউ পূজামণ্ডপে ন্যক্কারজনক এ ঘটনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ, ধর্মভিত্তিক দলের কোনো নেতার ইন্ধন, নানুয়ারদীঘিরপাড়ে অস্থায়ী পূজামণ্ডপ স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র, দেশি-বিদেশি অন্য কোনো অশুভ তৎপরতা- এর সব কিছু হিসাবে নিয়ে ইকবালের পেছনের শক্তিকে খোঁজা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী বছরের শুরুতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরেও কেউ আগাম প্লট তৈরি করেছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। | 6 |
মহান বিজয় দিবস এবং বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ময়মনসিংহে বিজয় সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। শনিবার বিকেলে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে বের হওয়া বিজয় শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে টাউন হল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রাথমিক তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কনস্যুলেটের ভেতরে খাসোগিকে হত্যা করা হয়। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। শনিবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, খাসোগি সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর কয়েকজনের সঙ্গে তার 'ধস্তাধস্তি' হয়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই খাসোগির মৃত্যু হয়। জামাল খাসোগিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদির উপ-গোয়েন্দা প্রধান আহমাদ আল-আসিরি এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তারক্ষী সৌদ আল কাহতানিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ হত্যাকাণ্ড অগ্রণযোগ্য। তবে সৌদি আরব আমাদের অনেক বড় বন্ধু। গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকেই রাজপরিবারের নীতির কট্টর সমালোচক খাসোগির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিলো না।সৌদি গুপ্তচররা কনস্যুলেটের ভেতরেই নির্যাতন ও হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করে তুরস্ক। তবে রিয়াদ এ অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে। সৌদি রাজপরিবারে নীতির সামালোচনার কারণে প্রাণভয়ে প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান তিনি। এরপর গত ২ অক্টোবর তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিসকে বিয়ে করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকেছিলেন জামাল খাসোগি। এ সময় চেঙ্গিস কনস্যুলেট ভবনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। নয় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খাসোগি কনস্যুলেট থেকে বের না হলে তুর্কি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন হেতিস। | 3 |
ক্যান্সার আক্রান্ত অভিনেতা আবদুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। কিন্তু শিগগিরই তাকে দেশে আনা হচ্ছে। পরিবারের সিদ্ধান্তেই দেশে আনা হচ্ছে বলে সমকালকে শনিবার সন্ধ্যায় জানান আবদুল কাদেরের পুত্রবধূ জাহিদা ইসলাম জেমি। জেমি বলেন, 'বাবার অবস্থা এখন আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। সকাল থেকে দেশের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বাবাকে সাহস দিয়ে বলেছেন, দেশে ফিরলে উনি ঠিক হয়ে যাবেন, সেই থেকে বাবা একটু ভালো।' রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আবদুল কাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। এমন কথাই জানালেন পুত্রবধূ জেমি। চিকিৎসা শেষ না করে দেশে নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে জেমি বলেন, 'জানেন তো বাবার শরীরের অবস্থা! এ অবস্থায় তাকে কেমো দেওয়া যাচ্ছে না। ওদিকে চিকিৎসকরা তাকে সেখানে আইসিইউতে রাখতে চান। যেহেতু কেমো দেওয়া হচ্ছে না, তাই সেখানে আইসিইউতে না রেখে দেশে রাখাই ভালো। তাই দেশে ফেরার ছাড়পত্র দিয়েছেন সেখানকার ডাক্তাররা। এখন বাকিটা আল্লাহ্র হাতে।' আবদুল কাদেরকে তার বন্ধু-স্বজনরা সাহস দিয়ে বলছেন, দেশে ফিরলে উনি ঠিক হয়ে যাবেন। সেই কথা শুনে তিনিও দেশে আসতে চাইছেন বলে জানালেন তার পুত্রবধূ। গত ৮ ডিসেম্বর আবদুল কাদেরকে চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের 'কোথাও কেউ নেই' ধারাবাহিক নাটকে 'বদি' চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন আবদুল কাদের। তাকে নিয়মিত দেখা গেছে হানিফ সংকেতের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি'তেও। | 2 |
সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কসহ জেলার ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে অনেকে নিহত হয়েছেন। আবার অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করছেন। আহতরা দুর্ঘটনার স্মৃতি সঙ্গে বয়ে বেড়াচ্ছেন।গত পাঁচ মাসে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে ৪০ জন নারী-পুরুষ নিহত হয়েছেন। ফলে এই সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল, নিয়ম না মেনে হুটহাট পাশ কাটিয়ে যাওয়া, চালকদের অসাবধানতাসহ নানা কারণে ঘটছে এসব দুর্ঘটনা।এসব সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ট্রাকের ধাক্কায়। এরপর বাস ও কাভার্ড ভ্যান। গত পাঁচ মাসে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ১১ জন, বাসের ধাক্কায় পাঁচজন, কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চারজন। এ ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও নসিমনের কারণেও নিহত হয়েছেন অনেকে।সিরাজগঞ্জে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ছয়জন, ফেব্রুয়ারি মাসে পাঁচজন, মার্চ মাসে পাঁচজন, এপ্রিল মাসে চারজন, মে মাসে ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২০২১ সালে এই মহাসড়কে শতাধিক নারী-পুরুষ নিহত হয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন এই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা।হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়ন মোটর শ্রমিকদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। উত্তরবঙ্গের ১ হাজার ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়কের ৯২৫ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে অবৈধ যানবাহন থ্রি হুইলার, মাদকদ্রব্য এবং চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এ ছাড়া মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট, টহল ডিউটি ও বিশ্বস্ত গুপ্তচর নিয়োগসহ ব্যাপক তৎপরতার কারণে মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানায় তারা।সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রশিদপুর নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনা আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে সলঙ্গার পাটধারী নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হই। দুর্ঘটনায় আমার একটি পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারি না। লাঠির ওপর ভর করে চলাফেরা করতে হচ্ছে।'সিরাজগঞ্জ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন দুলু বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের জন্য মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সহায়তা করে থাকে। দুর্ঘটনায় কোনো শ্রমিক মারা গেলে তাঁর পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা ও পঙ্গুত্ববরণ করলে তাঁর চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার সহায়তা করা হয়।সিরাজগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, ওভারটেক ও ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে দুর্ঘটনার মূল কারণ। মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ ছাড়া টহল পুলিশও কাজ করছে। দ্রুতগতিতে যেন যানবাহন চলাচল না করে, এজন্য চালকদের সতর্ক করা হচ্ছে।বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, 'বেপরোয়া যান চলাচলের জন্য দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে মেশিন দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। অতিরিক্ত গতির যানবাহনগুলোকে জরিমানা করা হচ্ছে।' | 6 |
লিওনেল মেসি বলতেই পাগল সে। ১১ বছরের সেই ছেলেটিকেই কি না, তার মা ডাকে ক্রিস্টিয়ানো বলে। মেসি ভক্ত হয়ে মায়ের মুখ থেকে রোনালদোরই ক্রিস্টিয়ানো নামটা স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগত না তার। বিরক্ত লাগত তো বটেই। ভীষণ মন খারাপিও জমেছিল ভেতরে ভেতরে। সেটির প্রায়শ্চিত্তেই কিনা মেসির কাছে গিয়ে মায়ের হয়ে ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সেই ছেলেটি।ভাবনার মধ্যেই শুধু আটকে থাকেনি ছেলেটি। বিষয়টি মেসিকে জানিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিতে প্ল্যাকার্ড হাতে ওই কিশোর চলে যায় মেসির ট্রেনিং ক্যাম্পে। সেই প্ল্যাকার্ড নিয়ে ক্যাম্পের বাইরে মেসির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে । প্ল্যাকার্ডটি মেসির নজরে এসেছে কি না, জানা যায়নি। তবে নজর এড়ায়নি অন্যদের।আর্জেন্টাইন এক সাংবাদিক ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সেটি। সেই প্ল্যাকার্ডে লেখা, 'মেসি আমার মাকে ক্ষমা করে দিও। সে নিজেও জানে না কী করেছে, আমাকে সে ক্রিস্টিয়ানো বলে ডাকে।' ছোট্ট ছেলেটির এমন ক্ষমাপ্রার্থনা মন কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। বিশেষ করে মেসিভক্তরা এ নিয়ে আবেগে ভেসেছেন। | 12 |
পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বে সুসংগঠিত জনপ্রিয় দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্ষতি সাধন করতে ব্যর্থ রাজনৈতিক দল বিএনপি রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। যতই ষড়যন্ত্র করুকনা কেন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণের দল। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের সব স্বপ্ন আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই পূরণ করেন। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প্রশ্নে কোনো আপস করে না। তাই ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ আজ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আল্লাহর রহমতে এমন কোনো শক্তি নেই যে আওয়ামী লীগকে ক্ষতি করবে। শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র ও কাউন্সিলরদের সাথে সুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আজ শুক্রবার নড়িয়া উপজেলা যুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মালের সভাপতিত্বে এ সময় নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ও সকল কাউন্সিলর, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি হাজী আব্দুল ওহাব, এনায়েত মুন্সী, আনোয়ার হোসেন বাদশা শেখ, মাস্টার হাসানুজ্জামান খোকন, আতিকুর রহমান মানিক সহ নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং নড়িয়া পৌরসভার গণ্যমান ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 9 |
ভারতের ঝাড়খণ্ডে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সরিয়ে ক্ষমতায় যাচ্ছে কংগ্রেস, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) জোট। সোমবার ভোট গণনার শুরুতে দু'পক্ষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটের ফলাফল জোট শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করে। ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় মোট আসন ৮১টি। সরকার গড়তে প্রয়োজন ৪১। রাত ৯টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিজেপির হার এক প্রকার নিশ্চিত। রাজ্যের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ার পথে হেমন্ত সোরেনের জেএমএম। এর ফলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হতে চলেছেন হেমন্ত। এরই মধ্যে রাজ্যপাল দৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন রঘুবর দাস। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এছাড়া ৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তারা। অন্যদিকে কংগ্রেস ইতিমধ্যে ১২টি আসনে জয় পেয়েছে। এগিয়ে রয়েছে ৪টিতে। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ২৬টি আসনে জিতেছে এবং ৪টি এগিয়ে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) একটি আসনে জয় পেয়েছে। ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জোট সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও জেএমএম ও কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা মিষ্টি বিতরণ শুরু করেছেন। আবার কোথাও বাজি ফাটাতে দেখা গেছে। এ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বুথফেরত সমীক্ষাগুলোর বেশির ভাগ কংগ্রেস-জেএমএম-আরজেডি জোটকে এগিয়ে রেখেছিল। জয়ের খবরে রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হেমন্ত সোরেন। পাশপাশি জোটসঙ্গীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পরাজয়ের আভাস পেয়ে এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকতে বলেছেন রাজ্যপাল। বিজেপির হার প্রসঙ্গে রঘুবর বলেন, আমাদের আশা অনুযায়ী জনমত হয়নি। হেমন্ত সোরেনকে অভিনন্দন। আশা করি, নতুন সরকার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই হারের পর্যালোচনা করা হবে। ২০০০ সালে গঠিত ঝাড়খণ্ড রাজ্য গত মাসে ২০ বছরে পা দিয়েছে। এটি রাজ্যের চতুর্থ বিধানসভা নির্বাচন। এ দিন সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়ে চলে ৪টা পর্যন্ত। সূত্র: এনডিটিভি ও আনন্দবাজার | 3 |
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতা-কর্মীদেরকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এখন দলাদলির সময় নয়। আসুন সবাই এক হয়ে যাই। ৩০ ডিসেম্বর ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। শুক্রবার সকালে বগুড়ায় বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফখরুল। মির্জা ফখরুল বগুড়া-৬ (সদর) আসনেরও প্রার্থী। নেতা-কর্মীদের উদ্দ্যেশে ফখরুল বলেন, আপনারা ভোটারদের ঘরে ঘরে যান। ধানের শীষে ভোট চান। সব ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। ভোট কেন্দ্র পাহারা দিন। আপনার ভোট যাতে কেউ কেড়ে নিতে পারে সেই অবস্থা তৈরি করুন। প্রায় ২২ মিনিটের বক্তৃতার শুরুতে তিনি খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে কিছুটা আবেপ্রবণ হয়ে বলেন, যার নেতৃত্বে আমাদের নির্বাচন করার কথা। যার নেতৃত্বে ইতিপূর্বে আমরা ঝড়ের বেগে ছুটে বেড়িয়েছি, সেই নেত্রী আজ আটক। আমি আজ প্রার্থী হিসেবে বগুড়ায় আসিনি। আমি এসেছি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিনিধি হয়ে। শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশের শুরুতে সভাপতিত্ব করা নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সমাবেশের সঞ্চালক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন সমাবেশে সভাপতি হিসেবে বগুড়া সদর আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমানের নাম ঘোষণা করেন। এতে আপত্তি জানান বিএনপি বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম। পরে অবশ্য তিনি মাহবুবর রহমানকেই কর্মী সভার সভাপতি হিসেবে মেনে নেন। কর্মী সমাবেশে বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বগুড়া-৬ আসনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান ছাড়া আর কাউকে বক্তৃতা দিতে দেখা যায়নি। দুপুরে জুম'আর নামাজ শেষে তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিকেলে শহরের ১২টি স্থানে তার গণসংযোগের কথা রয়েছে। কর্মী সমাবেশে বক্তৃতাকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্ব নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে, দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে, তারেক রহমান বিদেশে। আমাদের সামনে বড় কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেটি মোকাবেলা করতে হবে। ছোটখাটো বিভেদ ভুলে গিয়ে এক হয়ে যেতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, আজ ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না ও কাদের সিদ্দিকী ধানের শীষের ব্যানারে এসেছেন। তাহলে আমরা কেন পারবো না। আসুন আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হই। বর্তমান সরকারকে 'দানব'-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, সকলে একসাথে হয়ে ভয়াবহ এই দানব- যারা বুকের ওপর চেপে বসে আছে, সেই দানবকে সরাই। সারাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার বুঝে গেছে যে নির্বাচনে তারা জয়লাভ করতে পারবে না। সে জন্য তারা নির্বাচন বানচাল করার জন্য সব জায়গায় হুমকি দিচ্ছে। মামলা-হামলা করছে। আজকেও (শুক্রবার) সকালে ঢাকায় ড. কামাল হোসেন ও আ স ম আব্দুর রবের ওপর হামলা করা হয়েছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্মৃতি সৌধে ফুল দিয়ে ফেরার সময় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তিনি হামলার নিন্দা করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এতটাই ভীত-সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েছে যে, এখন যারা ধানের শীষের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তাদেরকে ভয় পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি কথা দিয়েছিলেন যে তফসিল ঘোষণার কোন গ্রেফতার হবে না। কিন্তু তিনি তার কথা রাখেন নি। তিনি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। একদিন এজন্য তাদের জবাব দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার কথা বলেছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধ করতে বলেছি। কিন্তু তা বন্ধ হয়নি। একদিন তাদেরকে জনগণের আদালতের কাঠগড়ায় জবাব দিতে হবে। সরকার খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের নেত্রীকে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও এই সরকার ষড়যন্ত্র করে তাকে আটকে রেখেছে। তাকে বের হতে দিচ্ছে না। কারণ তারা জানে খালেদা জিয়া যদি বের হন আর যদি তার সেই বাঁশি বাজান, তাহলে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ তার পেছনে এগিয়ে এই নমরুদ-ফেরাউনদের অত্যাচারীদের মসনদ তছনছ করে দেবেন। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্যেশে বলেন, আর কটা দিন। তিরিশ তারিখে এই দেশের ভবিষ্যত নির্ধারিত হবে। তিরিশ তারিখের পরে নির্ধারিত হবে যে আমরা কি স্বাধীন থাকবো, নাকি পরাধীন হয়ে যাব। তিরিশ তারিখের পর নির্ধারিত হবে আমরা কি গণতন্ত্রে ফিরে যেতে পারবো নাকি একদলীয় স্বৈরতন্ত্রের অধীনে চলে যাব। | 6 |
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ রেলস্টেশনে 'দালাল' ছাড়া ট্রেনের টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে নির্ধারিত মূল্যে স্টেশন থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে না পেরে বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে 'দালালের' কাছ থেকে টিকিট কিনছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে এসব অনিয়ম প্রকাশ্যে ঘটলেও সমাধানের নেই উদ্যোগ।জানা গেছে, নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজীগঞ্জ থেকে ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকাসহ সারা দেশে ভ্রমণ করে শত শত মানুষ। বাস, লঞ্চসহ বিকল্প যানবাহনের চেয়ে কম খরচে নিরাপদ গন্তব্য যেতে ট্রেনই এখানকার মানুষের প্রথম আগ্রহ। কিন্তু এই রেলস্টেশন থেকে যাত্রায় নিত্যদিনের দুর্ভোগের এক নাম 'দালালচক্র'। প্রতিদিন টিকিটের জন্য লম্বা লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ অধিকাংশ যাত্রীর।কয়েক দিনে হাজীগঞ্জ রেলস্টেশনে সরেজমিন দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা। কিন্তু স্টেশনের আশপাশে কয়েকজন 'দালাল' বিক্রির জন্য টিকিট নিয়ে ঘুরছেন। হাজীগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে 'দালালের' মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহের বিষয়টিকে লজ্জার বলে মনে করেন যাত্রীরা।কচুয়া উপজেলা থেকে আসা যাত্রী শরিফ ও রাসেল, ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা রাকিব ও মনির এবং হাজীগঞ্জের ইসমাইল হোসেন নামের যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, সাগরিকা ট্রেনের টিকিটের জন্য ৩০ জনের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু ১০ জনকে দেওয়ার পর বুকিং মাস্টার হানিফ বলছেন টিকিট নেই। এরপর এখানকার কয়েকজন 'দালালের' কাছ থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য ৭৫ টাকার টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে ১৬০ টাকায়। বাড়তি দামে টিকিট বিক্রির জন্য এই চক্র আগে থেকেই কাউন্টারের বুকিং মাস্টারের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁদের দখলে টিকিট নিয়ে রাখেন।হাজীগঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টার মারুফ হোসেন বলেন, এ স্টেশনে প্রতিদিন ৪০টি টিকিট বরাদ্দ থাকে। কীভাবে দালাল চক্রের হাতে টিকিট পৌঁছায় লিখিত অভিযোগ পেলে তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সরকারি মেঘনা ট্রেনের সহকারী রেলমাস্টার সুজাউদ্দিন বলেন, 'সাগরিকা ট্রেন কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে হওয়ায় এসএ ট্রেডার্সের অধীনে বর্তমানে ১৮টি ট্রেন চলাচল করছে। তাদের কাউন্টার বাইরে এবং তাদের বুকিং মাস্টারও আলাদা। আমাদের এখানে যাত্রীর তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম। অনেক সময় আগে থেকে অনেকেই বিভিন্নভাবে টিকিট সংগ্রহ করে রাখেন। যে কারণে বিশেষ বিশেষ দিনে যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকিট না পেয়ে অভিযোগ করছেন।' | 6 |
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ থেকে গাড়িসহ আওয়ামী লীগ নেতার এক ভাতিজিকে অপহরণের প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট নগরী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।সোমবার বিকেলে নগরীর দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার ও স্থানীয় কদমতলী থেকে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে অপহরণকারীকে। অপহৃত শিশু হালিমা নুসরাত ঊর্মিলা গোবিন্দগঞ্জের সুহিতপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে ও আওয়ামী লীগ নেতা, গোবিন্দগঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতাকালীন ভিপি আওলাদ আলী রেজার ভাতিজি। আটক যুবক রোকন আহমদ একই উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামের কুটি মিয়ার ছেলে। এ বিষয়ে ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন সমকালকে জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ অভিযানে নামে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিশুটি উদ্ধার ও অপহরককে আটক করা হয়। আটক রোকন এক সময় গাড়ি চালক ছিল এবং গাড়িটি ছিনতাইর জন্য ঘটনা ঘটিয়েছে উল্লেখ করে ওসি জানান, শিশুটিকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আওলাদ আলী রেজা তার নিজস্ব সাদা রঙের নোয়া (ঢাকা মেট্রো চ-৫৩ ১২১৫) গাড়ি দিয়ে চালককে স্থানীয় ডাচ বাংলা ব্যাংকে পাঠান। সুইট কিনতে গাড়িতে হালিমা নুসরাত ঊর্মিলা (৫) সঙ্গে যায়। চালক কমর উদ্দিন গাড়িতে ঊর্মিলাকে রেখে ব্যাংকের নীচে পার্কিং করে লেনদেন করতে যান। ব্যাংক থেকে বের হয়ে গাড়ি ও শিশু ঊর্মিলাকে না পেয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েন তিনি। বিষয়টি তাৎক্ষনিক প্রশাসনকে অবহিত করার পর অভিযানে নামে পুলিশ। বিকেল ৪টার দিকে সিলেটের কদমতলী এলাকার স্থানীয় ফল মার্কেটের পাশে প্রথমে গাড়ির সন্ধ্যান মিলে। দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা কদমতলী এলাকায় গাড়িটি ধাওয়ায় করলে দুষ্কৃতিকারী ওই শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে ছাতক থানা ও দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ পার্শবর্তী গোটাটিকর থেকে শিশুটি উদ্ধার করে। ওই সময় রোকনকে আটক করা হয়। | 6 |
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রাজনীতির নামে জনগণের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ আর দিনের পর দিন জনগণকে অবরুদ্ধ করে রাখার কারণে জনগণই বিএনপিকে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। আর লাল কার্ড পেয়ে তাদের অবস্থান এখন মাঠের বাইরে। সোমবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সম্প্রতি বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের 'প্রধানমন্ত্রীকে লাল কার্ড দেখানো হবে' এমন মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি আরও বলেন, 'নজরুল ইসলাম খানসহ বিএনপি নেতারা এ ধরনের মন্তব্য দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। কিন্তু যারা লাল কার্ড পেয়ে ইতিমধ্যেই রাজনীতির মাঠের বাইরে, তারা আবার কাকে লাল কার্ড দেখাবেন !' বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের 'রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ' এ মন্তব্যের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। মনে রাখতে হবে, মানবিক কারণে যাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া যায় না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা ও বিদেশি চাপ অব্যাহত রয়েছে। মির্জা ফখরুল এ বিষয়গুলো বুঝতে পারেননি। ড. হাছান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে এফডিসির গোড়াপত্তনে এ দেশের চলচ্চিত্রশিল্প যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার চলচ্চিত্রশিল্পকে নতুন জীবন দিয়েছে। আলোচনায় অংশ নেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজহারুল হক, বাচসাস সভাপতি ফাল্গুনী হামিদ, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবু, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বাদল আহমেদ, সৈকত সালাউদ্দিন, রিমন মাহফুজ, মঈন আবদুল্লাহ, রাহাদ সাইফুল, শফিকুল আলম মিলন, মুজাহিদ সামিউল্লাহ, শ্রাবণী হালদার, আবু সুফিয়ান রতন, লিটন এরশাদ, আবিদা নাসরিন কলি, ইব্রাহিম খলিল খোকন, অঞ্জন রহমান, রেজাউল করিম রেজা, তুষার আদিত্য, লিটন রহমান, মাহমুদ মানজুর প্রমুখ। | 9 |
আফগানিস্তানে সরকার গঠনের প্রশ্নে আলোচনার উদ্দেশ্যে তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদার শনিবার কাবুল পৌঁছেছেন। তালেবানের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, দেশটিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক' সরকার গঠনের বিষয়ে তিনি তালেবান ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। খবর এনডিটিভির। গনি সরকারের পতনের পর কাবুলে সম্প্রতি আরো যেসব নেতাকে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে আছেন খলিল হাক্কানি। খলিল হাক্কানি যুক্তরাষ্ট্রের মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকার ওপরের দিকে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার দাম ধার্য করেছে ৫০ লাখ ডলার। তালেবানপন্থী সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে দেখা গেছে, তিনি ১৯৯০ এর দশকের প্রথম দিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের সঙ্গে দেখা করেছেন। গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার আফগান রাজনীতিতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা বারাদার এর আগে কাতারে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার তিনি আফগানিস্তানে ফিরে আসেন। তার ফিরে আসার কয়েক ঘন্টার মধ্যে তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা এবার নতুন নিয়মে কাজ করবে। ৯০ এর দশকে যে তালেবানি শাসনব্যবস্থা ছিল, তা এবার ভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তালেবান বলেছে তাদের এবারের সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তবে সরকারে কারা আসবে, সে ব্যাপারে খুব কমই বলা হয়েছে। বারাদার ২০১০ সালে পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর তিনি কাতারে চলে যান। সেখানে তিনি শান্তি আলোচনায় তালেবানের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন। শুক্রবার, তালেবান উপনেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানির চাচা খলিল হাক্কানিকে কাবুলের একটি মসজিদে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। এছাড়া তথাকথিত হাক্কানি নেটওয়ার্কের আরেকজন প্রধান নেতা-আনাস হাক্কানিও রাজধানীতে ছিলেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এবং আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সাথে দেখা করেছিলেন, যারা পূর্ববর্তী প্রশাসনের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। | 3 |
মিয়ানমার আবারও নিজের দেশের সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের 'বাঙালি' হিসেবে বর্ণনা করেছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের বক্তব্যের প্রতিবাদে দেওয়া এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাঙালি শব্দটি ব্যবহার করেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ফেসবুকে গণহত্যার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে লিখেছে, গণহত্যাবিষয়ক সনদের অন্যতম পক্ষ হিসেবে জাতিসংঘের সনদসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের বাধ্যবাধকতা পূরণে মিয়ানমার বদ্ধপরিকর। মিয়ানমার এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের গণহত্যার কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়নি। তা ছাড়া জাতি, ধর্ম কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠীকে পুরোপুরি কিংবা আংশিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো কর্মকাণ্ডে মিয়ানমার যুক্ত হয়নি। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে যা তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। তাঁর বর্ণনায় যা উঠে এসেছে, তা অবিশ্বস্ত সূত্র এবং যাচাই না করেই প্রচারিত ঢালাও মন্তব্য। তাই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে তাঁর ওই বিবৃতি প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। | 6 |
সম্প্রতি ফরাসি সরকার কর্তৃক ডিজেল ও পেট্রলের ওপর বাড়তি কর বৃদ্ধির ঘোষণার বিরুদ্ধে গত নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে ফ্রান্সব্যাপী সব শ্রেণির এবং বিশেষ করে মধ্যবিত্ত নাগরিকদের ভেতর অসন্তোষ ধূমায়িত হতে থাকে। দ্রুত এক অভূতপূর্ব গণ-আন্দোলন দেশটার প্রান্তিক মানুষকে জড়িয়ে ফেলে। এই গণ-আন্দোলনের ব্যাপকতা ও তীব্রতা শুধু ফ্রান্সের তথাকথিত এলিট ও ধনীদের প্রেসিডেন্ট বলে অভিহিত এমানুয়েল মাখোঁ ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরই নয়, বরং গোটা ফরাসি কায়েমি ব্যবস্থাকেই হকচকিত করে দিয়েছে। সম্প্রতি তা ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী বেলজিয়ামেও। কারা আসলে এই আন্দোলনকারী? বিক্ষোভকারীরা প্রধানত গোটা ফ্রান্সের প্রান্তিক টাউন, শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকে আসা পেশাজীবী সাদা পুরুষ, নারী ও সিঙ্গেল মাতা। তাঁদের অধিকাংশ কর্মজীবী-যেমন: সেক্রেটারি, আইটি কর্মী, ফ্যাক্টরি কর্মী, সরবরাহ ও স্বাস্থ্য খাতে কাজ করা নারী-পুরুষ। পেনশনধারীদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সবাই স্বল্প বেতনের হওয়ায় দ্রব্যমূল্য এবং কর বৃদ্ধির ফলে মাসের শেষে টানাটানির মধ্যে নিমজ্জিত। এই আন্দোলনকে ' ' বা 'হলুদ জ্যাকেট' নাম দেওয়ার কারণ, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকেই জ্বলজ্বলে হলুদ জ্যাকেট-যা আইনত প্রত্যেক ফরাসি গাড়িচালককে গাড়িতে রাখতে হয়-পরেই আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলন প্রথমে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে শুরু হলেও দ্রুতই তা পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের ব্যাপকতা ও তীব্রতা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজবিজ্ঞানীরা একে ১৯৬৮ সালের অভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কোনো রাজনৈতিক দল বা ট্রেড ইউনিয়ন এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আন্দোলন ছড়িয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনলাইন পিটিশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রমিকদের করা ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত এই আন্দোলনের কোনো ঘোষিত নেতা বা নেত্রী নেই। তৃণমূল অ্যাকটিভিস্টরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আন্দোলনকে জড়াতে রাজি না। এতে বোঝা যায়, ফ্রান্সের প্রচলিত রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের ওপর আন্দোলনকারীদের ন্যূনতম আস্থা নেই। ফেসবুক, টুইটার, অনলাইনে ভিডিও পোস্টের প্রাধান্য থেকে বোঝা যায়, মিডিয়ার প্রতিও তাদের আস্থা নেই। জনগণের দুঃখ-দুর্দশার কারণ কিন্তু বিশ্বায়িত নতুন অর্থনৈতিক মডেলের ব্যর্থতা নয়, বরং এর সাফল্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমেরিকা, জার্মানির মতো ফরাসি অর্থনীতিও প্রচুর সম্পদ সৃষ্টি করেছে। ফরাসি ধনীদের সম্পদ বিপুল পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে এখানে বেকারত্ব, সামাজিক অনিরাপত্তা ও দারিদ্র্য ব্যাপক বেড়েছে। ফলে, এসব দেশে এক নতুন অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভৌগোলিক এলাকা বিভাজিত হয়েছে। শিল্পকারখানার বদলে সেবামূলক অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। কর্মসংস্থান এবং সম্পদ বেশি হারে মেট্রোপলিটন শহরগুলোয় ঘনীভূত হয়েছে। ফ্রান্সের যেখানে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে পড়ছে, এমন সব অঞ্চল, ছোট ও মধ্যম আকারের শহর এবং গ্রামাঞ্চল ক্রমান্বয়ে গতিশীলতা হারিয়েছে। এসব অঞ্চলে এখন আর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। প্রান্তিক ফরাসিদের সঙ্গে মেট্রোপলিটন ফ্রান্সের বৈষম্য যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে অসন্তোষ, ক্ষোভ, সন্দেহ, অবিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক দূরত্ব। রাজনীতিবিদেরা বিশ্ব পুঁজিবাদী এলিটদের স্বার্থ রাখাকেই প্রাধান্য দিতে থাকলেন। মাখোঁ ক্ষমতায় এসেছেন প্রতারণার মাধ্যমে। ফরাসি জনগণ তাঁর গালভরা বুলি বিশ্বাস করেনি। কারণ, মাখোঁ অবশ্যই সেই এলিট সমাজেরই অংশ, যারা সমস্যার জন্য দায়ী। অন্য জনপ্রিয় ফরাসি রক্ষণশীল প্রার্থীকে এলিট নিয়ন্ত্রিত ফরাসি মিডিয়া দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে তাঁকে নির্বাচন থেকেই সরিয়ে দিয়েছিল। অন্য প্রার্থী মারিন লে পেনকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে এবং সর্বক্ষণ মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে কলঙ্কলেপন করা হতে থাকে। সে কারণেই দক্ষিণপন্থী নেত্রী মারিন ল পেনকে ঠেকাতে মাখোঁকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে আনা ছাড়া ফরাসি জনগণের উপায় ছিল না। ২০১৬ সালের মে মাসে ক্ষমতায় আসার দেড় বছরের মধ্যেই সংস্কারের নামে পেনশনের আয় কমিয়ে দেওয়া, রেলকর্মীদের অবসরের বয়স বাড়ানো, আরও বেশি করারোপ, ব্যয় সংকোচন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ব্যাপক চাকরিচ্যুতি, গণছাঁটাই, শ্রমিক ও চাকরিজীবীদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কেটে নেওয়া, ছাত্রছাত্রীদের মহার্ঘ ভাতা কেটে নেওয়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি নির্বিচারে প্রয়োগ করতে শুরু করলেন। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এবং রাষ্ট্রীয় শক্তির জোরে বিভিন্ন অজনপ্রিয় শ্রম আইন, পেনশন হ্রাস, নতুন করারোপ করে যাচ্ছিলেন। চলমান বিক্ষোভ প্রাথমিকভাবে যদিও অন্যায্য করব্যবস্থার বিরুদ্ধে, তা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা এই অবস্থার আশু পরিবর্তন চায়। বলা বাহুল্য, হলুদ জ্যাকেট আন্দোলন প্রশমিত হওয়ার পরিবর্তে ফ্রান্সব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল। ১ ডিসেম্বরের সহিংসতা ফ্রান্সের গত ৫০ বছরের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল। প্রতিক্রিয়ায় ৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী এদুয়া ফিলিপ টেলিভিশনে সব ধরনের জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ছয় মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। স্বঘোষিত দৃঢচেতা মাখোঁ এত সহজে পিছুটান দিয়ে বসলেন? অধিকাংশ বিক্ষোভকারী এবং ফরাসি জনগণ এখন গোটা ফরাসি সমাজের পরিবর্তনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তাঁরা এখন সরকার পরিবর্তন চাইছেন। পরিস্থিতি দেখে জ্বালানির ওপর সব ট্যাক্স একবারেই বিলোপ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এদুয়া ফিলিপ। এই ঘোষণায় বিদ্রোহের যে দৈত্য বোতল থেকে বেরিয়ে পড়েছে, তা কি আবার বোতলে ফিরে যাবে? শুধু এটা প্রতীয়মান হচ্ছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও এলিটদের জন্য দীর্ঘ এবং কঠিন অপেক্ষা করছে। মূল প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মডেলের দ্বারা সামাজিক বঞ্চনা ও অসন্তোষ ব্যাপকতা পাচ্ছে, সেখানে কত দিন সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে? পাশ্চাত্যের অগ্রসর অর্থনীতির দেশেই যদি এই অবস্থা চলে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর অবস্থা তাহলে কতটা ভয়াবহ? লেখক: নেদারল্যান্ডসে বাসকারী অ্যাকটিভিস্ট। | 8 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ সালেহীন কাদরী মারা গেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আইসিডিডিআরবির তথ্য কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তারিফুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিল ড. সালেহীন। ক্রমেই অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। নেওয়া হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। তারপরও ফেরানো গেল না। বাদ যোহর গুলশানের আযাদ মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বনানীর কবরস্থানে সমাহিত করা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপককে।ড. সালেহীন কাদরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়ন বিভাগের বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। এ ছাড়াও তিনি জীব বিজ্ঞাপন বিভাগের ডিন ছিলেন।অধ্যাপক সালেহীন কাদরীর স্ত্রী আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর, বি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী। তিনি গতকাল মঙ্গলবার কলেরার টিকা উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় 'এশিয়ার নোবেল' হিসেবে পরিচিত র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার পেয়েছেন। ২৫ বছর ধরে তিনি কলেরার টিকা উন্নয়নে কাজ করেছেন।আইসিডিডিআর'বির প্রতিষেধকবিদ্যা বিভাগ থেকে পোস্টডক্টোরাল গবেষণা শেষ করার পর ১৯৮৮ সালে একই প্রতিষ্ঠানে সহযোগী বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী, মিউকোসাল ইমিউনোলজি ও ভ্যাকসিনোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেন।ড. ফেরদৌসী কাদরী ২০২০ সালে 'লরিয়েল-ইউনেসকো উইমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ড' লাভ করেন। এ ছাড়াও তিনি ২০১৩ সালে অনন্যা শীর্ষ দশ পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২১ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। | 6 |
প্রায় শতকোটি টাকায় চলছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের আধুনিকায়নের কাজ। এই বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও স্টেডিয়ামের ছাউনি নির্মাণের কাজ আটকে আছে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে!ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বেই। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে দিনকে দিন। দাম বেড়েছে রডেরও। আর রডের দাম বাড়ায় অর্ধেক আগানোর পর আটকে গেছে ছাউনি নির্মাণের। বাড়ছে সংস্কার ব্যয়। ডিসেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও সংস্কারকাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।আজ দুপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন জাহিদ আহসান রাসেল। সংস্কারকাজের ধীরগতির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, 'রডের দাম এখন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এর কারণে কাজের গতিটা হয়তো একটু কমে গেছে। আশা করি এই মাসের মধ্যে দামটা হয়তো ঠিক হবে। তাহলে হয়তো কাজের গতিটা তখন আবারও বাড়বে। অ্যাথলেটিকস টার্ফ এরই মধ্যে দেশে চলে এসেছে কিন্তু আমরা সেটা বসাতে পারছি না ছাউনি নির্মাণ না হওয়ায়। মাঠের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। চেয়ারসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের ওয়ার্ক অর্ডারও হয়ে গেছে। ফ্লাডলাইটটা বসানো যাচ্ছে না, কারণ ছাউনি নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আলো আসবে কি না, সেটা পরীক্ষার ব্যাপার আছে। তাই দরপত্রের প্রক্রিয়াটা আমরা একটু ধীরগতিতে করছি।'জাতীয় স্টেডিয়ামের দোতলা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস দোকান। পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে আসা যানবাহনের কারণে স্টেডিয়াম চত্বরে তৈরি হয় যানজট। ভবিষ্যতে স্টেডিয়াম ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের মানহীন অ্যাস্ট্রো টার্ফে স্বাধীনতা ও ফেডারেশন কাপের আয়োজন করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল বাফুফে। পুরোনো টার্ফ সরিয়ে নতুন করে টার্ফ বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বলেছেন, 'কমলাপুর স্টেডিয়ামের টার্ফের টেম্পারামেন্ট শেষ হয়ে গেছে। আমরা এখানে নতুন করে টার্ফ বসানোর পরিকল্পনা করেছি। কারণ, এখানে খেলতে গেলেই খেলোয়াড়েরা চোটে পড়ছে।' | 12 |
মোবাইল ফোনে কথা বলায় মাইক্রোবাস চালককে মারধরের প্রতিবাদে বরিশালে শনিবার রাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাস চালকরা। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ডিসি ঘাটসংলগ্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের বিচারের আশ্বাস দিলে রাত সাড়ে ১০টায় চালকরা অবরোধ তুলে নেন। মারধরে আহত মাইক্রোবাসচালক সাদ্দামকে শনিবার রাত ৯টায় বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাইক্রোবাস চালক সাইদুল অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর কালিশুরিতে যাওয়ার জন্য সাদ্দামের মাইক্রোবাস রিজার্ভ করেন নগরীর ১১নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের আত্মীয় স্বজনরা। সেখানে যাওয়ার পথে গাড়িতে মোবাইলে কথা বলায় সাদ্দামকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর সাদ্দাম কালিশুরি থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে আসেন বরিশালে। এই ঘটনার জেরে শনিবার রাত ৮টায় আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান ডিসি ঘাট এলাকায় গিয়ে সাদ্দামকে বেদম মারধর করেন। মারধরে সাদ্দামের মুখ ও নাক থেকে রক্ত বের হয়ে যাওয়ায় তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সাদ্দামকে মারধরের প্রতিবাদে রাত ৯টা থেকে মাইক্রোবাস চালকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই বিষয়ে ১১নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মুন্নার মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্যর নেওয়া সম্ভব হয়নি। ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখর দাস বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সমাধান করা হয়েছে। বরিশাল জেলা ট্যাক্সি ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম নান্টু্ বলেন, আহত সাদ্দামকে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া সাদ্দামের চিকিৎসা খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, সাদ্দামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। যে ঘটনা ঘটেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন বলেন, একজন চালককে মারধরকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ করা হয়েছিলো। আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সকলকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। | 6 |
পাকিস্তানের বালুচিস্তানে ক্ষুদ্র শিল্পে প্রণোদনার অভাব, বিনিয়োগের প্রতি সরকারের হালকা মনোভাব, নজরদারির অভাবে ক্ষুদ্র শিল্পের অবস্থা শোচনীয়। দ্য ফ্রন্টিয়ার পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে খালিক নজর কিয়ানি বলেন, 'শিল্প এস্টেট কোয়েটায় কিছু ক্ষুদ্র শিল্প কাজ করছে, কিন্তু উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'বেশ কিছুদিন ধরে কোন নতুন কারখানা স্থাপন করা হয়নি। প্রণোদনার অভাব, বিনিয়োগের প্রতি সরকারের হালকা মনোভাব এবং সর্বোপরি নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নতুন বিনিয়োগ উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই ধরনের প্রকল্প অনুসরণ করার সময় নেই, যা জনগণের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুবিধা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আনতে পারে।' ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ক্ষমতাসীন সরকার এবং বালুচিস্তান সরকার দাবি করেছে যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্প (সিপিইসি) পাকিস্তান এবং বিশেষ করে বালুচিস্তানের জন্য একটি গেম-চেঞ্জার। কিন্তু বাস্তবতা কিছুটা তিক্ত এবং দরিদ্র বালুচিস্তানের জীবনে হঠাৎ বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা দিবাস্বপ্নের মতো হবে। কিয়ানি আরও বলেন, নওয়াজ শরীফ সরকারের সময় সিপিইসির অধীনে ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প চালু করা হয়। গাওয়াদারের উন্নয়নে বালুচিস্তানের অংশ ছিল প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং হাব বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ। বাকি বালুচিস্তানকে কোন গঠনমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 3 |
বায়ুস্তরে জমে আছে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস। এসব গ্যাস সরানো গেলে জলবায়ু অনেকটা সুস্থ হবে, কমবে গরম। এ জন্য বিভিন্ন আলোচনা চলছে, নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।ইসরায়েলের একটি 'হাই হোপস ল্যাবস' নামের একটি ছোট কোম্পানি এক ধরনের বেলুন তৈরি করেছে, যেগুলো প্রায় ৯ মাইল ওপরে গিয়ে কার্বন টেনে নেবে।এসব কার্বন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার করা যাবে। তারা আরও বড় বেলুন বানাতে চায়, যা দৈনিক প্রায় এক টন কার্বন সরাতে পারবে। এ জন্য খরচ পড়বে মাত্র ১০০ ডলার। | 6 |
আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলম আদালতে ঘটনার সংশ্লিষ্ট অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত উপস্থাপন করেছেন। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালত নিজ জিম্মায় এসব আলামত গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) শাহ আলমের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়ে জেরা শুরু হয়েছে। আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলী হাফেজ আহাম্মদ বলেন, নুসরাত হত্যা মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলমের সাক্ষ্যগ্রহণ গত বুধবার শুরু হয়। ওই দিন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী কার্যদিবস রোববার, সোমবার এবং আজ মঙ্গলবার অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত মামলার মোট ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। মামলায় ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। নম্বর তালিকায় শাহ আলম শেষ সাক্ষী। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, নুসরাত হত্যা মামলার সাক্ষ্য কার্যক্রম শেষের দিকে। এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী অভিযোগপত্র প্রদানকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলমের সাক্ষ্য শেষে যুক্তিতর্ক শুরু হবে। মামলায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ৫ জন আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত না হলেও তারা ডকুমেন্টারি সাক্ষী হওয়ার কারণে আদালতে উপস্থিত না হলেও তারা সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবেন। কারণ তাদের পক্ষে আদালতে কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, এ মামলায় পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে অনেকগুলো অসঙ্গতি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মামলার এজাহারে উল্লেখিত আছে সাক্ষী নাসরিন সুলতানা নিশাতের কথা শুনে বাদী মামলা করেছেন। সেই নাসরিন সুলতানা নিশাতকে আপনি তদন্তে পেয়েছেন কিনা। ফারুক আহমেদ আরো বলেন, যদিও আদালতে অডিও-ভিডিও গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা নয়- তবুও তিনি তা উপস্থাপন করেছেন। এখানে আসামি রুহুল আমিনের সে অডিও উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে প্রমাণ করে না যে সে অপরাধী। এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, আদালতে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে তিনি মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। আদালতে উপস্থাপিত একটি ভিডিওতে নুসরাত বলেছেন, হত্যায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার শালিকার মেয়ে তুহিন (পপি) তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। এদিকে নুসরাতের বড়ভাই মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আমরা আশা করি আমাদের বোন হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার আমরা পাবো। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হয়েছে আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় প্রকাশিত হবে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বেচ্চ শাস্তি দাবি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। | 6 |
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা-টিসিবির ট্রাকের পেছনে এই সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে সংসার চালানো ইরুন্নেসা। আশা, যদি কম দামে তেল-ডাল কেনা যায়। তবে পুরোটা সময় দাঁড়িয়ে থাকাটাই বৃথা গেছে। ইরুন্নেসার পালা আসার আগেই টিসিবির ট্রাকের পণ্য ফুরিয়ে গেছে। শুধু ইরুন্নেসা নয়, শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে যেতে হয়েছে আরও প্রায় ২০ জনকে, যাঁরা শেষ পর্যন্ত লাইনে ছিলেন। এর বাইরে পণ্য পাওয়ার আশা না দেখে কেউ কেউ মাঝপথেই ফিরে গেছেন। এই ঘটনা ঘটেছে গতকাল বুধবার ঢাকার মোহাম্মদপুরের টাউন হল মোড়ে। সেখানে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) একটি ট্রাক পণ্য বিক্রি করতে দাঁড়িয়ে ছিল। পণ্য না পেয়ে ক্লান্ত ও ক্ষুব্ধ ইরুন্নেসা প্রথম আলোকে বলেন, 'হাই ব্লাড প্রেশার (উচ্চ রক্তচাপ) নিয়া দাঁড়ায়া আছি কয়েক ঘণ্টা। মানুষের বাসার কাজ বাদ দিয়া আইছি। জিনিস নাকি শেষ হইয়া গ্যাছে। এখন তো কিছু করার নাই।' তিনি বলেন, কাজে যেতে পারেননি বলে গৃহকর্ত্রী ফোন করে রাগারাগি করেছেন। ওদিকে তিনি তেল-ডালও পাননি। ঢাকায় টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন তেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজ বিক্রি করে। টিসিবির ট্রাক থেকে দুই লিটার সয়াবিন তেল কেনা যায় ২২০ টাকায়, বাজারে যা ৩৩০ টাকা। টিসিবি চিনি বিক্রি করে ৫৫ টাকা কেজিতে। বাজার থেকে চিনি কিনতে দাম পড়ে কেজিপ্রতি ৭৮ থেকে ৮০ টাকা। টিসিবি মসুর ডাল বিক্রি করে ৬৫ টাকায়, যা বাজারে ৯৫ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। বাজার থেকে যে পেঁয়াজ কিনতে ৫০ টাকা লাগে, একই পেঁয়াজ টিসিবির ট্রাক থেকে ৩০ টাকায় কেনা যায়। দেশের বাজারে সম্প্রতি নিত্যপণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় টিসিবির ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। অবশ্য সে তুলনায় পণ্য বরাদ্দ কম থাকে। দিনে একটি ট্রাকে যে পরিমাণ পণ্য দেওয়া হয় তা দিয়ে ২৫০ জন ক্রেতার চাহিদা মেটানো যায়। মোহাম্মদপুরের টাউন হল মোড়ে টিসিবির ট্রাকের কাছে গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের আলাদা লাইনে ৩০০ জনের মতো মানুষ দাঁড়িয়ে। লাইনের পেছনে নতুন নতুন ক্রেতা যোগ দিচ্ছেন। তাতে সংখ্যা আরও বাড়ছে। আবার কেউ কেউ বেশি ভিড় দেখে চলেও যাচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই তীব্র রোদের মধ্যে যত কষ্টই হোক, লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকেই বয়স্ক। কারও কারও সঙ্গে ছিল শিশুসন্তান। টাউন হল মোড়ে পণ্য বিক্রেতা টিসিবির পরিবেশক মিজানুল হক প্রথম আলোকে বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, 'পণ্য শেষ। তারপরও তাঁরা (লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তি) বলছেন, না থাকলেও দিতে হবে। বলে, "কম পড়ছে কেন?" আমার পক্ষে তো আড়াই শর বেশি মানুষকে দেওয়া সম্ভব না।' মিজানুল আরও বলেন, ইদানীং ভিড় বেশি হচ্ছে। প্রচুর মানুষ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। 'এখন কম খাই' দুপুরে ইরুন্নেসা যখন লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছেন। তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে থাকেন। ছোট মেয়ে পড়ে উচ্চমাধ্যমিকে। বড় মেয়েও তাঁর দুই কন্যাকে নিয়ে থাকেন ইরুন্নেসার সঙ্গে। বড় মেয়ে ও ইরুন্নেসা মিলে মাসে আয় করেন ১৫ হাজার টাকা। বাসাভাড়ায় চলে যায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। বাকিটা দিয়ে মেটাতে হয় পুরো পরিবারের খরচ। ইরুন্নেসা বলেন, 'আগের চেয়ে এখন কম খাই। জিনিসের দাম বাড়ছে, ইনকাম (আয়) তো বাড়ে নাই। সপ্তাহে এক দিন মাছ-মুরগি খাই। বাকি দিন নিরামিষ, ডাল, আলুভর্তা দিয়াই চলে। আগে একটু ভালোই খাইতাম। সপ্তায় ৩-৪ দিন মাছ খাইতাম।' সাড়ে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পণ্য পেয়ে খুশি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাজ করেন। নিজে থাকেন মোহাম্মদপুরের একটি মেসে। আর দুই সন্তান ও স্ত্রী থাকে ময়মনসিংহে। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকার মতো আয় হয়। সেটা দিয়ে নিজের খরচ যেমন মেটাতে হয়, তেমনি পরিবারকে মাসে মাসে টাকা পাঠাতে হয়। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মেসে আগে খাবারের জন্য দিতে হতো আড়াই হাজার টাকা। ছয় মাস ধরে দিতে হচ্ছে তিন হাজার টাকা। আর পরিবারের মাসে লাগত পাঁচ হাজার টাকার মতো। এখন দিতে হয় সাত হাজার। মোহাম্মদপুরের কয়েকটি জায়গায় টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। একেক দিন একেক জায়গায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড ও বেড়িবাঁধের মাঝামাঝি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শ খানেক নারী-পুরুষ অপেক্ষা করছেন টিসিবির গাড়ির জন্য। অপেক্ষারত আবদুর রহিম খান বলেন, একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সংসারে সচ্ছলতা ছিল। করোনাকালে তাঁর চাকরি চলে গেছে। এখন স্ত্রীর একার আয়ে সংসার চলে। তিনি বলেন, 'বাসাভাড়াটা মাসের শুরুতে দিয়ে দেই। এরপর খাইলে খাইলাম, না খাইলে নাই।' | 0 |
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় গত শুক্রবার ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারান রিকশা আরোহী বাবা ও মেয়ে। দুর্ঘটনাস্থল ছিল মূলত পাঁচ রাস্তার মোড়। অধিকাংশ সময় যানবাহনের আধিক্য দেখা গেলেও পর্যাপ্ত ট্র্যাফিক ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তা ফাঁকা পেলে এই মোড় পার হতে মরিয়া হয়ে ওঠে চালকেরা। আর সে কারণেই প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হন পথচারীরা।ডাকবাংলো মোড়ে মিলিত হয়েছে একে একে পঞ্চবটি থেকে চাষাঢ়া সড়ক, কলেজ রোড, জামতলা থেকে ডাকবাংলো, ইসদাইর থেকে ডাকবাংলো ও চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটি সড়ক। পাঁচটি ব্যস্ততম সড়ক একত্র হলেও এখানে নেই পর্যাপ্ত ট্র্যাফিক ব্যবস্থা। আর তাই বেশ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে পথচারীরা। তাদের ভেতর শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। এ ছাড়া রিকশা ও ইজিবাইকের অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে যান চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়।গত শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে ফাঁকাই ছিল ডাকবাংলোর মোড়। আলতাফ ও তাঁর মেয়ে বেলীকে বহন করা রিকশা হঠাৎ করেই মোড় ঘুরিয়ে নেয়। সে সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রাকচাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর পথচারীরা বলছেন, পর্যাপ্ত ট্র্যাফিক পুলিশ এবং গতিরোধক থাকলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটত না এই সড়কে।সড়কে চলাচল করা কলেজ শিক্ষার্থী মাসুদ বলেন, 'এই মোড় ব্যস্ততম এবং পথচারী পরিপূর্ণ হলেও এখানে নেই পর্যাপ্ত ট্র্যাফিকিং ব্যবস্থা এবং পথচারীদের পারাপারে নিরাপত্তা। এখানে যদি জেব্রা ক্রসিং ও গতিরোধক থাকত, তাহলে সবার জন্যই সুবিধা হতো।'আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নূর উদ্দিন বলেন, 'প্রথমত ডাকবাংলোর সড়ক খুব সরু, যা যানবাহনের জন্য সমস্যার কারণ। পাশাপাশি পাঁচটি সড়কের মিলনস্থান এখানে। গুরুত্ব বিবেচনায় ট্র্যাফিক পুলিশ প্রয়োজন। এই মুহূর্তে অস্থায়ীভাবে গতিরোধক দেওয়া যেতে পারে। দ্রুতগতির যানবাহন যেন এখানে গতি কমাতে বাধ্য হয়।নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাফিক পুলিশের পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, 'ডাকবাংলো মোড়ে আমাদের ট্র্যাফিক পুলিশ আছে। আর তাই আজকে ট্রাকচালককে ধরা সম্ভব হয়েছে। তা না হলে পালিয়ে যেত। আর এই মোড়টি যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিবেচনায় একটি গতিরোধক থাকলে ভালো হয়। এতে করে গাড়ির গতি কমে আসবে মোড়ে। সেটি থাকলে আজ এই দুর্ঘটনা নাও ঘটতে পারত। আমাদের তরফ থেকে এই বিষয়ে সুপারিশ থাকবে।' | 6 |
আবারও একটা ভুল। আবারও হঠকারিতা। এ রকম একেকটা ভুলে কোভিড ছড়ায় বহুগুণে। না, আমি বলছি না যে, গার্মেন্টস খোলার সিদ্ধান্ত ভুল। এটা ভুল, কী ঠিক-তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। জীবন আর জীবিকার এই দ্বন্দ্ব চলছেই এবং কখনোই শতভাগ লোক একমত হতে পারবেন না। কাজেই গার্মেন্টস খোলাকে ভুল বলতে নারাজ। এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু ৩০ তারিখে ঘোষণা দিয়ে ১ তারিখ থেকে গার্মেন্টস খোলার সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভুল। মহাভুল।ফলাফল দেখুন। শিমুলিয়া ঘাটে গতকাল থেকে ঢাকামুখী লাখো মানুষ। আরিচা, দৌলতদিয়া, শিমুলিয়া, কাজিরহাট-সব ফেরি ঘাটেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের ছবি এসেছে গণমাধ্যমে। ফেরিগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। মানুষের ভিড়ে ফেরিগুলোতে কোনো যানবাহন পার করা সম্ভব হয়নি। বরং একেকটা ফেরিতে তিন থেকে চার হাজার মানুষ পার হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানানো কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মহাসড়কে অটো, মাহেন্দ্রসহ ব্যক্তিগত গাড়ি দেখা গেছে। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ রিকশায়-অটোতে, আবার কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ফিরছেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরছে লাখ লাখ মানুষ।পোশাক কারখানার কর্মীরা বলছেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন ও কারখানা বন্ধের ঘোষণা আসায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়িতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ করে কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিপদে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে ফিরছেন। অনেক যাত্রী প্রশ্ন করেছেন, 'সরকার লকডাউন দেয়, আবার লকডাউনের মধ্যে অফিসও খুলে দেয়, কেন?'এই প্রশ্নের উত্তর আসলে কে দেবে? এই যে পথে পথে ভোগান্তি, বাড়তি খরচ-এর দায় কার? নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রশ্ন, আপনারা যদি খুলবেনই ঈদের আগে কেন বলেছিলেন ৫ আগস্টের আগে কিছু খুলবে না, এমনকি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাও না। এরপরও যখন খুলবেনই, ফেরার জন্য অন্তত ৫-৭টা দিন কি সময় দেবেন না? মানুষগুলো কি উড়ে উড়ে আসবে? সরকার মালিকদের তাহলে কেন বলেনি-আপনারা বাস বা গাড়ি করে সব শ্রমিকদের নিয়ে আসেন। এই যে দুদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ আসা-যাওয়া, এর ফলে মহামারি যে আরও ছড়াবে, তার দায় কে নেবে?আবার গার্মেন্টস খোলার পর কঠোর লকডাউন বহাল রাখা তো আরেক বোকামি। এখন তো লাখ লাখ লোক ফিরবে। কী দিয়ে আটকাবেন তাদের? যেহেতু কারখানা খোলা, রোজ এই লাখ লাখ মানুষ পোশাক কারখানায় যাবে, আবার ফিরবে। আটকাবেন কোন যুক্তি দিয়ে? মূলত এই ঘোষণায় লকডাউনই কার্যত অচল হয়ে গেল।অবশ্য শুধু এবারই নয়। প্রতিবারই একটা ঘটনা ঘটছে। গত দেড় বছর ধরে আমরা এই সমন্বয়হীনতার মধ্যেই আছি। আসলে দেশে কোভিডের এই দুরবস্থার জন্য জনগণের অসচেতনতা যেমন দায়ী, তেমনি নীতিনির্ধারকদের বারবার ভুল সিদ্ধান্ত দেওয়া-দুটোই দায়ী।প্রথমত বারবার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আমরা ভুল করছি। কখনো লকডাউন, কখনো সীমিত লকডাউন, কখনো কঠোর লকডাউন, এগুলো এবার আসলেই কঠোর লকডাউন সবই দিন শেষে ব্যর্থ হচ্ছে। এই যে এপ্রিল থেকে কম-বেশি লকডাউন তো চলছেই। কিন্তু পরিস্থিতি কি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে? এ নিয়ে সরকারের কোনো বিশ্লেষণ আছে কি? সরকার যেমন নানা সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করছে, তেমনি জনগণের একটা বড় অংশও সচেতন নয়। গত দেড় বছরে বারবার বলার পরও আমরা জনগণ মাস্ক পরছি না। অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছি। গ্রামে-গঞ্জে বারবার বলার পরও লোকজন সচেতন হননি। যথাসময়ে টিকা নেয়নি। এখনো টিকা নিয়ে নেতিবাচক ভাবনা আছে।এভাবে কখনো নীতিনির্ধারকের, আবার কখনো জনগণের ভুলে মহামারি কিন্তু ছড়াচ্ছে। রোজ দুই থেকে আড়াই শ মানুষ মরছে। একদিকে স্বজনহারাদের বেদনা, আরেক দিকে হাসপাতালগুলোতে ছোটাছুটি। বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।আবার দেখুন সমস্যার জন্য দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করছেন। সরকারের বা ক্ষমতায় যারা আছেন, তাঁরা শুধু জনগণকে দায়ী করেন। আবার যারা সমালোচক, তাঁরা শুধু সরকারের সমালোচনা করেন।আসলে দুই পক্ষই যে আমরা প্রতিনিয়ত ভুল করছি এবং দিনশেষে জনগণের প্রতিনিধিরাই যে সরকার আর সরকারের প্রতিনিধিরাও যে জনগণ-সেটা আমরা ভুলে যাই। ফলে একপক্ষ আরেক পক্ষকে দোষ দিয়ে সব উদ্ধার করতে চাই।আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, একটা দেশ ঠিক করতে হলে নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ববোধ যেমন জরুরি, তেমনি দরকার সাধারণ মানুষের দায়িত্ববোধ। দুটো একসঙ্গে না হলে কখনোই দেশ এগোবে না। আর একটি ছাড়া অন্যটির সৃষ্টি হয় না, টিকেও থাকে না। কাজেই নীতিনির্ধারক আর জনগণ-দুই পক্ষকেই একসঙ্গে দায়িত্বশীল হতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো সেটা কবে হবে? আর কবে?শরিফুল হাসান: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও কলামিস্ট | 8 |
১৪ দলীয় জোটের পক্ষে দেয়া কারণ দর্শানোর চিঠির জবাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া তার একটি বক্তব্যের জেরে তাকে এ চিঠি দেয়া হয়। মেনন বলেন, ওর মধ্যে অনেক কথা আছে যেগুলো আপনারা ভাইরাল করেননি, যেগুলো আপনারা উল্লেখ করেননি। ওই কথা উল্লেখ করলে আর এই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হতো না। আজ শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের জিমখানায় অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে দলের জেলা কাউন্সিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি একথা বলেন। গত ১৯ অক্টোবর বরিশালে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে রাশেদ খান মেনন বলেন, 'গত নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি।' তার ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জোটের অন্য শরিক দলগুলোর মধ্যে। এরপর ২১ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদ নাসিমের বাসায় ১৪ দলের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু সেখানে উপস্থিত হননি মেনন। পরদিন ১৪ দলের গোলটেবিল বৈঠকেও যাননি তিনি। অবশেষে ২৪ অক্টোবর আরেকটি জরুরি বৈঠক ডেকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। রাশেদ খান মেনন দাবি করেন, ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলার সম্মেলনে তার দেয়া যে বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে সেটি ছিল খণ্ডিত বক্তব্য। তার পুরো বক্তব্য প্রচার না করে আংশিক প্রচার করায় বিভ্রান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে আমার বক্তব্যের সবগুলো যদি উঠে আসতো তাহলে এই প্রশ্নই উঠতো না। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ১৪ দলের সাথে দূরত্ব তৈরী হয়েছে কি না সংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি ১৪ দলে ছিল, ১৪ দলে আছে। এখনো যেহেতু ১৪ দল আমাকে চিঠি দেয় তার অর্থ ১৪ দলেই আছি। ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে ১৪ দলের পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার ১৪ দলের সমন্বয়কের সাথে কথা হয়েছে। আমি চিঠির জবাব দিয়ে দিব। এর আগেও চিঠির বিষয়ে আমি কথা বলেছি, সেগুলো পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। তার পরেও আমি আমার জবাব দিয়ে দিব। তিনি বলেন, আমি কি জবাব দেব ইতোমধ্যে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেছি। কোনো কথাই গোপন করে চলিনি। ১৪ দলের চিঠির জবাব কিভাবে দেয়া হবে সেটি পার্টির নেতাদের সাথে বসে আলাপ আলোচনা করে দেয়া হবে। | 6 |
অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী বা বড়-এ চার ধরনের শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ৪৪ শতাংশ নারী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী ভারী শিল্পে। দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) নারীরা কাজে সুযোগ কম পাচ্ছেন। অথচ দেশে এখন সবচেয়ে বেশি শিল্পকারখানা রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে। এসএমই খাতে নারীর অংশগ্রহণ কম হলেও বড় বা ভারী শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের চেয়ে বেশি। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএসের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারী শিল্পে নারীরা নিজেদের যোগ্যতায় ভালোভাবেই টিকে আছেন। ভারী শিল্পে কাজ করতে পারলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও নারীদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব। কিন্তু জরিপের তথ্য বলছে, এসএমই খাতে পুরুষের তুলনায় নারীদের কাজ করার হার বেশ কম। বিবিএসের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, শিল্পকারখানায় মালিক, স্বত্বাধিকারী, অংশীদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পুরুষের একচ্ছত্র আধিপত্য। এসব পদে নারীদের অবস্থান খুবই দুর্বল। একইভাবে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপক পদেও পুরুষের আধিক্য। বিক্রয়কর্মী পদেও পুরুষের তুলনায় নারীরা পিছিয়ে। তবে উৎপাদন ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। জরিপের তথ্য বলছে, ১০ জনের বেশি শ্রমিক কাজ করেন, দেশে এখন এমন শিল্পকারখানার সংখ্যা ৪৬ হাজার ১১০। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিল্প পাওয়া গেছে ক্ষুদ্রশিল্পে ২৩ হাজার ৩০৬টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারখানা রয়েছে অতিক্ষুদ্র শিল্পে, ১৬ হাজার ৭৭০টি। তৃতীয় সর্বোচ্চ কারখানা আছে মাঝারি শিল্পে-৩ হাজার ১৭৮টি। আর বড় কারখানা আছে ২ হাজার ৮৫৬টি। বিবিএস জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ২৪ জন শ্রমিক দিয়ে পরিচালিত এমন অতিক্ষুদ্র শিল্পে নারীশ্রমিক কাজ করছেন মাত্র ১৯ শতাংশ। তার মানে হলো অতিক্ষুদ্র শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ৮১ শতাংশই পুরুষ। ২৫ থেকে ৯৯ জন শ্রমিক নিয়ে পরিচালিত ক্ষুদ্র শিল্পের শ্রমিকের মাত্র ২০ শতাংশ নারী। অর্থাৎ এ শিল্পের বাকি ৮০ শতাংশই পুরুষ শ্রমিক। ১০০ থেকে আড়াই শ শ্রমিক নিয়ে পরিচালিত মাঝারি শিল্পে কর্মরত আছেন ২৬ শতাংশ নারী। এ খাতে কর্মরত বাকি ৭৪ শতাংশ পুরুষ। আর ২৫০-এর বেশি শ্রমিক নিয়ে পরিচালিত বড় শিল্পে কর্মরত আছেন ৫৫ শতাংশ নারী। বড় শিল্পে পুরুষ শ্রমিক নারীর চেয়ে কম-৪৫ শতাংশ। দৈবচয়নের ভিত্তিতে দেশের ৮ হাজার ৫৩৩ শিল্পকারখানার ওপর জরিপটি পরিচালনা করেছে বিবিএস। ২০২০ সালে এ জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপের এ ফল প্রকাশ হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের শিল্পনীতি ২০১০-এর আলোকে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়-এই চার শ্রেণির আলোকে শিল্পকারখানার সংখ্যা বের করা হয়েছে জরিপে। তাতে দেখা গেছে, এই চার শ্রেণির কারখানায় এখন মোট ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ১৬২ জন শ্রমিক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৭। ৫৬ শতাংশ। আর নারীর সংখ্যা ২৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪৫ জন। অর্থাৎ শিল্প খাতের মোট শ্রমিকের ৪৪ শতাংশ নারী। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, শিল্পকারখানায় মালিকানায় বা স্বত্বাধিকারী পদে পুরুষের সংখ্যা যেখানে ৬০ হাজার ২৫৮ জন, সেখানে নারীর সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৯৯৪ জন। প্রশাসনিক পদে পুরুষের সংখ্যা দুই লাখ ৬১ হাজার ৮৪ জন। আর নারী কর্মরত আছেন ২০ হাজার ৭০৫ জন। বিক্রয়কর্মী পদে পুরুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৫ জন। আর নারী রয়েছেন ২৪ হাজার ২২ জন। আর উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত পুরুষের সংখ্যা ২৫ লাখ ৪৩ হাজার এবং নারীর সংখ্যা ২২ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি। জানতে চাইলে বিবিএসের এ জরিপের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা লিজেন শাহ নঈম প্রথম আলোকে বলেন, দেশে মাঝারি শিল্পের সংখ্যা অন্যান্য শিল্পের তুলনায় কম। তাই এ খাতে নতুন নতুন আরও উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের বড় ধরনের সুযোগ আছে। আমাদের বেশির ভাগ শিল্পকারখানা এখনো আমদানিনির্ভর। এ কারণে কর্মসংস্থানের পরিমাণ কম। বিবিএসের জরিপের তথ্য বলছে, দেশে অতিক্ষুদ্র থেকে ভারী শিল্পে কর্মরত শ্রমিকের ৭৯ শতাংশই দক্ষ। বাকি ১৯ শতাংশ অদক্ষ শ্রমিক। এক বছরে এই চারটি খাতে মজুরিসহ অন্যান্য সুবিধার আর্থিক মূল্য ৭৬ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মজুরি বিতরণ করা হয় বড় শিল্পকারখানা থেকে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৫৬ হাজার ৭২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মজুরি দেওয়া হয় ক্ষুদ্র শিল্প থেকে। যার পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। মাঝারি শিল্পমালিকেরা বছরে বেতন-ভাতা বাবদ পরিশোধ করেন ৬৫০ কোটি টাকা। আর অতিক্ষুদ্র শিল্প কারখানাগুলো বেতন-ভাতা বাবদ বছরে খরচ করে ২৬৭ কোটি টাকা। জানতে চাইলে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বড় শিল্পে যেসব নারী শ্রমিক কাজ করেন, তাঁরা একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আছেন। কিন্তু ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকেরা বেশির ভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। সেখানে কোনো আইনি কাঠামো নেই। সে কারণে জরিপে ক্ষুদ্র শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ কম দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভারের ভাকুর্তায় গয়নাশিল্পের সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী। কিন্তু তাঁরা অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। সে কারণে ক্ষুদ্র শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ কম। | 0 |
শেখ রাসেল স্মরণে খুলনা বিভাগীয় বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ নভেম্বর। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ উৎসব শুরু হবে।উৎসবে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বিতার্কিকেরা অংশ নেবে।এ উপলক্ষে গতকাল রোববার বিকেলে যশোরের মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন।শোভাযাত্রাটি প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান বায়জিদ মাহমুদ, জহির ইকবাল নান্নু, সানজিদা ইয়াসমিন, লাবণী আক্তার প্রমুখ। | 6 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার রায় আগামীকাল বুধবার ঘোষণা করা হবে। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মামুন এই রায় ঘোষণা করবেন।ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি সাইফুল ইসলাম হেলাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আগামীকাল বুধবার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য রয়েছে। দুপুরের সময় রায় ঘোষণা হতে পারে।'রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ২৭ মার্চ রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করা হয়।২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে বইমেলা থেকে ফেরার পথে হুমায়ুন আজাদকে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। পরদিন তাঁর ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। বিদেশে উন্নত চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ওই বছরেরই ১২ আগস্ট জার্মানিতে মারা যান হুমায়ুন আজাদ। এরপর হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (খুন) সংযুক্ত করার আবেদন জানান। আদালত তা মঞ্জুর করলে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।২০০৭ সালের ১৪ জানুয়ারি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ওই বছরই অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় কারাগারে আছেন দুই আসামি। তাঁরা হলেন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শুরা সদস্য মিজানুর রহমান ও আনোয়ার আলম। এই মামলায় পলাতক আছেন আসামি সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ। অপর আসামি হাফিজ মাহমুদ মারা যাওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। | 6 |
অমিতাভ বচ্চন এবং অভিষেক বচ্চনের পর এ বার করোনা-রিপোর্ট পজিটিভ এল ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এবং অমিতাভের আট বছরের নাতনি আরাধ্যা বচ্চনের। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপে রবিবার দুপুরে টুইট করে সে কথা জানান। তিনি লেখেন, "ঐশ্বর্যা এবং আরাধ্যা করোনায় আক্রান্ত। বচ্চন পরিবারের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।" যদিও জয়া বচ্চন এবং অমিতাভ-কন্যা শ্বেতা নন্দার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানা গিয়েছে। শ্বেতার দুই সন্তান অগস্ত্য এবং নভ্যা নভেলির করোনা রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে। প্রশাসনের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই স্যানিটাইজ করা হচ্ছে বচ্চন পরিবারের বিলাসবহুল আবাসন 'জলসা'। শনিবার জয়া বচ্চন এবং ঐশ্বর্যার অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন ভক্তরা। কিন্তু আজ, রবিবারলালারসের নমুনা পরীক্ষা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে ঐশ্বর্যা এবং তাঁর কন্যার। বচ্চন পরিবারের এই খবরে উদ্বিগ্ন ভক্তরা। এ দিকে অমিতাভ বচ্চনের দ্বিতীয়বার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসায় চিন্তা আরও বেড়েছে অনুরাগীদের। যদিও নানাবতী হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত অমিতাভের অবস্থা স্থিতিশীল, মৃদু উপসর্গ রয়েছে। আগের থেকে ভাল আছেন অভিষেক বচ্চনও। | 2 |
ঝিনাইদহে কৃষি ব্যাংকে অনিয়ম করে লাখ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ঝিনাইদহ কৃষি ব্যাংক শাখার সাবেক সেকেন্ড অফিসার নাজমুল হক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ব্যাংকের ম্যানেজার মো. রুবায়েৎ হাসান মঙ্গলবার ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি জিডি করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক কার্যালয়ের আরএমও ও ঝিনাইদহ শাখার ম্যানেজারের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। মাগুরা কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল হক জানান, নাজমুল হক মাগুরা শাখায় বদলি হয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকর টাকা তার হিসাবে ট্রান্সফার করে ৩৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৪ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ কৃষি ব্যাংকের আরএমও মো. এনায়েত করিম জানান, নাজমুল দিনের পর দিন টাকা উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনা তো ম্যানেজার রুবায়েৎ হাসান ও ক্যাশিয়ার মো. নাজির উদ্দিনের জানার কথা। কারণ দিন শেষে ম্যানেজার প্রত্যেক চেক তদন্ত করেন। বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজার রুবায়েৎ হাসান জানান, আরএমও স্যার ভুল কথা বলেছেন। তিনিও তো প্রতি মাসে ব্যাংকের শাখায় চেক তদন্ত করে থাকেন। তাহলে তিনি কী করেছেন? ম্যানেজার আরো জানান, গ্রাহকের ঋণের বিষয়টি আইও'রা দেখেন। এ সম্পর্কে আমি ভাল বলতে পারবো না। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, এটি তো ছোটখাটো বিষয়। ভুল যদি হয়েই থাকে টাকা জমা দিয়ে আমরা সেটি সমাধান করতে পারবো। তবে হলমার্ক ঘটনায় কী হয়েছে? বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
শর্ট ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রতিবন্ধী যুবককে রাতভর আটকে রেখে দলবেঁধে বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইসমাইল হোসেন বাবু ও শরিফুল ইসলাম রিপন নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৪ মে (বুধবার) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের সোনালী কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বলাৎকারের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন বাবু লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার দক্ষিণ চর মার্টিন গ্রামের মৃত আবু সাঈদের ছেলে এবং সামাজিক সংগঠন 'সবুজ বাংলাদেশ'র সেক্রেটারি। আর শরিফুল ইসলাম রিপন ওরফে কনক সদর উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামের আজিজ উল্যার ছেলে এবং সবুজ বাংলাদেশের সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন বলাৎকারের ঘটনা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বাবা জানান, তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে গত বুধবার রাতে শরিফুল ইসলাম রিপন ও ইসমাইল হোসেন বাবু তাদের লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের সোনালী কলোনির ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তারা তাকে আটকে রেখে দলবেঁধে রাতভর বলাৎকার করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগীর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আলামত দেখতে পান তারা। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ মামলা নেন। মামাওলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইসমাইল হোসেন বাবুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌর শহর থেকে শরিফুল ইসলাম রিপনকে গ্রেপ্তার করে।ভুক্তভোগীর পরিবার এ ঘটনায় বিচার ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছে। | 6 |
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় আজ রোববার পঞ্চম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে আগামী মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) পর্যন্ত তিন দিন এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, এ মামলায় মোট সাক্ষী ৮৩ জন। এর আগে চার দফায় মামলার বাদী সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসসহ ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।পিপি আরও জানান, আদালত এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৫৯ জন সাক্ষীর নামে সমন জারি করেছেন।গত বছরের ৩১ জুলাই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়ার শামলাপুরে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।এ ঘটনায় নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। | 6 |
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শহর সিডনিতে করোনার ডেলটা ধরনে শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, মহামারি শুরুর পর সিডনিতে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৩৯ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।আজ সিডনিতে শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আজ শুক্রবার (৩০ জুলাই) করোনায় নতুন করে ১৭০ জন শনাক্তের তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম মর্নিং হেরাল্ড জানিয়েছে, আক্রান্তদের অনেকেই জনসমাগমস্থলে ঘুরে বেড়িয়েছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মাত্র ৬৫ জন করোনা রোগী নিজেকে জনসমাগমস্থল থেকে দূরে রেখেছেন। আর অন্তত ৫২ জন করোনা রোগী সবার সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন।সিডনির ৬০ লাখ বাসিন্দাকে লকডাউন মানাতে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে লকডাউন কার্যকরে সিডনিতে কয়েক শ সেনা নামানো হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তারা করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোয় মোতায়েন থাকবে। আগামী সোমবার থেকে তারা পুলিশের সঙ্গে লকডাউন কার্যকরে কাজ করবে। এরই মধ্যে সেনাবাহিনীর কয়েক শ সদস্য সিডনিতে পৌঁছেছেন। তাঁরা শনি ও রোববার দুদিনের প্রশিক্ষণ নেবেন।নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশবিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড এলিয়ট বিবিসিকে বলেন, 'সিডনির বাসিন্দাদের একটি ক্ষুদ্র অংশ এত দিন ভাবছিল, তাদের সরকারি নির্দেশ না মানার স্বাধীনতা আছে। আমার বিশ্বাস, এবার শহরটিতে লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর হবে।'রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণের আটটি হটস্পটে সেখানকার প্রায় ২০ লাখের বেশি বাসিন্দাকে ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরার নির্দেশ এবং তাঁদের বাসাবাড়ির পাঁচ কিলোমিটারের (তিন মাইল) মধ্যে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।সিডনিতে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০ জনের বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮২ জন। ৫৪ জন নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রয়েছেন এবং ২২ জনকে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে। করোনায় নতুন দুজনসহ সিডনিতে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩।নিউ সাউথ ওয়েলসে টিকাদান কর্মসূচি খুবই ধীরে চলছে। এ পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের ১৬ বছরের বেশি বয়সী বাসিন্দাদের মধ্যে মাত্র ১৭ শতাংশ টিকা নিতে পেরেছে।উল্লেখ্য, পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় করোনায় এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৯০৯ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯২৩ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২৯ হাজার ৯২৬ জন। | 3 |
করোনা মহামারিতে সহায়তা তহবিল গঠনে 'স্বপ্নের ডাক' নামে অনলাইন কনসার্টের আয়োজন করেছে 'এশিয়াটিক ইএক্সপি' এবং অস্ট্রেলিয়ার 'লিসেন ফর' এবং সহযোগিতা করছে ইউএনডিপি।আয়োজনটি বাংলাদেশ ও এর বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে চারটি জোন ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও বাংলাদেশে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্ব ২০ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় দেখা যাবে। পুরো কনসার্টটি সরাসরি দেখা যাবে স্বপ্নের ডাক ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে। এ আয়োজন থেকে পাওয়া অর্থসহায়তা ইউএনডিপির মাধ্যমে চলে যাবে অসহায় মানুষের কাছে। কনসার্টটিতে দেশি ও বিদেশি শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন। শাফিন আহমেদ, কুমার বিশ্বজিৎ, বাপ্পা মজুমদার, পার্থ বড়ুয়া, সামিনা চৌধুরী, মাকসুদ ও ঢাকা, তাহসান খান, মিলা, আঁখি আলমগীর, দিনাত জাহান মুন্নি প্রমুখ দেশ থেকে এবং শ্রীকান্ত আচার্য, নচিকেতা, লোপামুদ্রা মিত্র, অর্ক মুখার্জি, চন্দন, অনিলা চৌধুরী প্রমুখ দেশের বাইরে থেকে অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া আবৃত্তি করবেন আসাদুজ্জামান নূর, হাসান আরিফ, প্রজ্ঞা লাবণী ও শারমিন লাকি। আলাপচারিতায় যোগ দেবেন সারা যাকের, জুয়েল আইচ, নুসরাত ফারিয়া, মিথিলা, বিদ্যা সিনহা মিম, অপূর্ব, ফজলুর রহমান বাবু, আফসানা মিমি প্রমুখ। বিস্তারিত জানতে ও সহায়তা করতে ঢুকতে পারেন এখানে-.-.. | 2 |
বান্দরবানে পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজন নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মা কৃষ্ণাতি ত্রিপুরার কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি। গত বুধবার বান্দরবান সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাংগাই ত্রিপুরা পাড়া এলাকায় ভারী বর্ষণের ফলে ঝিরির পাশে এই ধসের ঘটনা ঘটে।গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দমকল বাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু আজ শুক্রবার কেবল আত্মীয়-স্বজনই নিখোঁজ কৃষ্ণাতির খোঁজে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছেন।এদিকে বৃহস্পতিবার দুই শিশুকে উদ্ধারের পর ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে দাফন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জগদিশ ত্রিপুরা আজ বিকেলে আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় মা কৃষ্ণাদি ত্রিপুরা, মেয়ে বিনিতা ত্রিপুরা (১২) ও ছেলে প্রদীপ ত্রিপুরা (৮) পাহাড়ে জুম খেতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বৃষ্টি শুরু হলে তাঁরা ঝিরি (ছোট খাল) এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় পাশের পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে নিখোঁজ হন তাঁরা। নিখোঁজ কৃষ্ণাতি ত্রিপুরা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাংগাই ত্রিপুরা পাড়ার মৃত দিয়াম্ব ত্রিপুরার স্ত্রী।জগদিশ ত্রিপুরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নিখোঁজ দুই শিশু বাজেরুঙ (বিনিতা) ত্রিপুরা (১২) ও প্রদীপ ত্রিপুরার (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যার দিকে ত্রিপুরা পাড়া এলাকায় দুই শিশুকে দাফন করা হয়। আজ সকাল থেকে স্থানীয় ও স্বজনরা কৃষ্ণাতি ত্রিপুরার খোঁজে উদ্ধার কাজ শুরু করলেও পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কেউ আর আসেনি।বৃহস্পতিবার বিকেল বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বান্দরবান সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিখোঁজ কৃষ্ণাতি ত্রিপুরার এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। | 6 |
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের মরিচতলা গ্রামে একঘরে করে রাখা নয়টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে ধুনট পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ ও থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা পৃথক ভাবে পরিবারগুলোর সদস্যদের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন। এর মধ্যে ছিল-মাংস, ভোজ্যতেল, মসলা, পেঁয়াজ, আলু, লবণ, চিনি ও সেমাই।গ্রাম্য মাতব্বরেরা ৯ পরিবারকে একঘরে রাখা এবং কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত করার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ধুনট পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ ও ওসি কৃপা সিন্ধু বালা এ উদ্যোগ নেন। নিজ তহবিল থেকে ধুনট পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ ওই পরিবারগুলোর মাঝে ১০ কেজি মাংস, তেল, মসলা, পেঁয়াজ, আলু, লবণ, চিনি ও সেমাই এবং ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ১৫ কেজি মাংস বিতরণ করেন।ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে বলা হয়েছে। ওই নয় পরিবারের সদস্যদের চলাচলে কোনো বাধার সৃষ্টি করা হলে সমাজপতিদের বিরুদ্ধে বিধি মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।ধুনট পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ বলেন, পত্রিকায় সংবাদ দেখে ওই নয়টি পরিবারের জন্য সাধ্য মতো কিছু করার চেষ্টা করেছি।আরও পড়ুন:কোরবানির মাংসও পেল না সমাজচ্যুত ৯ পরিবার | 6 |
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আব্দুল্লাহ (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পৌর এলাকার চকচকা গ্রামে ওই যুবকের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটক আব্দুল্লাহ উপজেলার চকচকা গ্রামের আজাদের ছেলে।ফুলবাড়ী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'ঘটনা সত্য বলে জেনেছি। স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি আমাকে জানায়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের বাবার দায়ের করা মামলায় আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'ফুলবাড়ী থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার দুপুরে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করার সময় ফুসলিয়ে ধান খেতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে আব্দুল্লাহ পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। | 6 |
তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ৬ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে শহরের ভবনগুলো কেঁপে উঠলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তাইওয়ানের আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, আজ রবিবার দ্বীপটির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এইলান কাউন্টিতে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬৭ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি। সূত্র : রয়টার্স বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে থাকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা ফেরার অনুমতি পেয়েছেন। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বাংলাদেশ, কঙ্গো, ভারত, লাইবেরিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সিয়েরা লিওন, শ্রীলংকা, সাউথ আফ্রিকা, উগান্ডা, ভিয়েতনাম, এবং জাম্বিয়ায় যাওয়া প্রবাসীরা সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিরে যেতে পারবেন। কিন্তু তাদের ফিরে যেতে হলে মানতে হবে জটিল শর্ত। আর এই শর্তের কারণে দেশে আটকে থাকা প্রবাসীদের আমিরাতে ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জানা যায়, আরব আমিরাত ভ্রমণের পূর্বে যাত্রীদের নতুন করে ৬ ঘণ্টা ব্যবধানের একটি 'র্যাপিড পিসিআর টেস্ট' করার নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশের বিমান বন্দরগুলোতে র্যাপিড পিসিআর টেস্ট ল্যাব না থাকায় আটকে পড়া প্রবাসীদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে দ্বিগুণ। এ দিকে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর টেস্ট ল্যাব স্থাপনের জন্য ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাব, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবসহ ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দফায় দফায় মানববন্ধন করছেন। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন দেশে আটকে পড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে র্যাপিড টেস্ট ল্যাব স্থাপন করে আটকে পড়া প্রবাসীদের সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিরে যাবার ব্যবস্থা করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। তবে কত সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর টেস্ট ল্যাব স্থাপন হবে কিংবা আটকে পড়া প্রবাসীরা কবে ফিরতে পারছেন সেই হিসাব-নিকাশ এখন কেবলই সরকারের হাতে। দেশে আটকে পড়া আমিরাত প্রবাসী মহিউদ্দিন বেলাল রনি সমকালকে বলেন, 'আমরা দফায় দফায় সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে মানবন্ধন করেছি। আগামী দুই-তিনের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর টেস্ট ল্যাব স্থাপন করে প্রবাসীদের ফিরে যাবার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছি। অন্যথায় আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবো।' আরব আমিরাত প্রবাসী প্রকৌশলী নওশের আলী বলেন, 'প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের টাকা কতভাবে খরচ করা হয়, অথচ প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি র্যাপিড পিসিআর পরীক্ষার কয়েকটি ইউনিট কিনতে পারলাম না।' আমিরাত প্রবাসী সিআইপি শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, 'যে প্রবাসীদের রক্ত আর ঘামের বিনিময়ে অর্জিত এবং প্রেরিত রেমিটেন্সে দেশ সচল থাকে দেশের অর্থনীতি, সমৃদ্ধ হয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, সেই হতভাগা প্রবাসীরা নিজ কর্মস্থলে ফেরত আসার জন্যে যদি আন্দোলন করতে হয় এটি সত্যি লজ্জার, অপমানের।' বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই'র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিবলী সাদিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা দেশে আটকে পড়েছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। অনেকের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। ফিরে যাবার অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে বহু প্রবাসীর। যেহেতু আমিরাতের সঙ্গে আকাশ পথে যোগাযোগ উন্মুক্ত হয়েছে তাই সরকারের উচিত দ্রুত সময়ে বিমানবন্দরগুলোতে র্যাপিড পিসিআর টেস্ট ল্যাব স্থাপন করে প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে সহযোগিতা করা। | 4 |
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রকাশ্যে কোন্দলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড। সভাপতি আব্দুল ওহাবের সংবাদ সম্মেলনের চারদিন পর সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন এবার দলীয় চার নেতাকর্মী খুনের সরাসরি মদদদাতা উল্লেখ করে বিচার দাবি করলেন। বিষয়টি নিয়ে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবকে নৌকা বিরোধী ও দলীয় নেতাকর্মীর স্বার্থবিরোধী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সভানেত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে এসব অভিযোগ অসত্য দাবি করে শাহিনুজ্জামান শাহিন মিথ্যাচার করছেন বলে জানান উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি আরও বলেন, সুজানগর পৌরসভার টিকাদান সহকারী আলামিন হত্যার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির ও তাকে দায়ী করে গত ২১ মার্চ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যে সংবাদ সম্মেলনে করেন, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুজানগর পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, যুবলীগ নেতা সাইদুর রহমান সাইদ, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রবিউল হক টুটুল, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রাজা হাসান, ইউনুস আলী বাদশা, সদস্য মাহমুদ্দুজ্জামান মানিক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। এ ব্যাপারে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল ওহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগ ধ্বংসের জন্য শাহিন এককভাবে দায়ী। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর আধিপত্যের কারণেই আজকের এই পরিণতি হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১৪ মার্চ পাবনা শহর থেকে ফেরার পথে সদর উপজেলার সাদুল্লাহপুর নামক স্থানে সুজানগর পৌরসভার টিকাদান সহকারী আল আমিন দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন। এ ঘটনার পর আতাইকুলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় সুজানগরের দলীয় পদধারীসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়,যার মধ্যে ২৬ জনই সভাপতির নেতাকর্মী বলে দাবি করেন আব্দুল ওহাব। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
জাহাজভাঙা শিল্পে অব্যাহত দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নির্যাতন বন্ধ, কথায় কথায় চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদ ও দুই ঈদে বোনাসের দাবি জানিয়েছে 'জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম'। শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি তুলে ধরা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত। তিনি জানান, ২০১৮ সালে ঘোষিত মজুরি বোর্ডের রোয়েদাদ অনুযায়ী জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের নূ্যনতম মজুরি মাসিক ১৬ হাজার টাকা ও দৈনিক ৬১৫ টাকা বাস্তবায়ন করতে হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা না মেনে জাহাজভাঙা শিল্পে রাতে শ্রমিকদের কাজ করানো হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সীতাকুণ্ডের মাদাম বিবিরহাট এলাকার একটি শিপইয়ার্ডে কর্মরত অবস্থায় লোহার পাত পড়ে সুজন নামের এক শ্রমিকের মৃত্যুকে অসুস্থতাজনিত মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার অপতৎপরতার প্রতিবাদ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে ২০-২৫ হাজার শ্রমিক সরাসরি জড়িত। আরও ৫০-৬০ হাজার মানুষ পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে। এ সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সফর আলী, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান প্রমুখ। | 6 |
যার নেই সে-ই বোঝে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির মাথা ভরা চুলের প্রশংসা করছেন। নিজের চুলের কথা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। প্রাচীন মহাভারতের নারী ধ্রুপদি, রামায়ণের সীতা, শক্তিশালী নারী চরিত্রের পেছনে তাদের দিঘল ঘন কালো চুল নিয়ে আলাদা গল্প আমাদের মন ভরায়। মন ভরায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা নজরুল ইসলামের বাবরি দোলানো ঝাঁকড়া চুল। চুল নিয়ে সৌন্দর্যভাবনা খুবই প্রাচীন। সুন্দর, ঝলমলে চুল চেহারাতে যোগ করে অন্য মাত্রা। বাড়ায় আত্মবিশ্বাস। এই চুল যখন পড়তে শুরু করে, চিন্তার শুরু হয় তখনই। তবে সময়মতো পদক্ষেপ নিলে নতুন চুলও গজাবে। জানালেন বিশেষজ্ঞরা।রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পাচ্ছেন বালিশের ওপর চুল পড়ে আছে। চুল আঁচড়ানোর সময় চিরুনিতেও একসঙ্গে উঠে আসছে একরাশ চুল! চুল ঝরতে ঝরতে এমন হলো যে মাথার সিঁথির রেখা বড় হয়ে মাথার ত্বক দেখা দিল। আগের মোটা বিনুনি হয়ে পড়ল সরু। হাতখোঁপায় হাতে চুলই জড়াল না। ছেলেদের কপাল বড় হতে থাকল, মাথার মাঝখানের চুল ঝরে গিয়ে পাতলা হয়ে দেখা দিল টাক! বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চুল কমে আসা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও কিশোর-কিশোরীদের জন্য এটি বিব্রতকর ও যন্ত্রণাদায়ক একটি বিষয়। জানালেন, রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন মিউনি। তাঁর মতে, চুল হারানো বা ঝরে পড়ার পেছনে কিছু কারণ থাকে। যেমন: বংশগত, মানসিক চাপ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হারানো, অতিরিক্ত ধুলাবালু, খাবারের অনিয়ম, ভিটামিনের অভাব, ঘুমের অনিয়ম, নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার না করা, মাথার ত্বকে সংক্রমণ, খুশকি, ধূমপান, গর্ভাবস্থা, অতিরিক্ত ওষুধ সেবন ইত্যাদির কারণে চুল পড়ে যেতে থাকে। ঠিকমতো পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত, কেননা সঠিক মাত্রায় প্রোটিন না খেলে চুল যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টি পাবে না। পর্যাপ্ত ঘুম দরকার, ধুলাবালু, রোদ এড়িয়ে সঠিক যত্ন নিলে অনেকাংশে চুল ঝরা রোধ করা যায়। তানজিমা শারমিন বলেন, কিছু চুল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাজুক হয়ে ঝরে পড়তে পারে, সে ক্ষেত্রে চিন্তার কিছু নেই। পুরোনো নাজুক, ভঙ্গুর চুল ঝরে গিয়ে নতুন চুল গজায়। নতুবা নতুন চুল গজানোর জন্য নেওয়া যেতে পারে বিশেষ কিছু ট্রিটমেন্ট। সৌন্দর্য সেবাকেন্দ্রে গিয়ে বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে। প্রাচীনকালে চুল সুরক্ষিত রাখতে চুলের যত্নে ব্যবহার হতো ঘরোয়া ভেষজ পদ্ধতি। তাতেই খুলত চুলের বাহার। ঝলমলিয়ে উঠত চুলের আসল সৌন্দর্য। কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা। তিনি জানালেন চুলের ভাঙা, ঝরা রোধ করতে চাই সঠিক যত্ন। নতুন চুল গজানোর জন্য বাতলে দিলেন বিশেষ উপায়।উপকরণ: কালিজিরা ১ চা-চামচ, মেথি ৫০ গ্রাম, লং ২টা, জবা ফুল ২টা, লেবু ১টা, কারিপাতা ১০ গ্রাম, নারকেল তেল ১ চা-চামচ, পেঁয়াজ ২টি, আমলা ২টি। সব উপাদান একত্রে মিশিয়ে পেস্ট করে নিতে হবে।উপকারিতালং এবং লেবু: মাথার ত্বকের সংক্রমণ দূর করে চুল গজাতে সাহায্য করে।মেথি: খুশকি দূর করে।জবা ফুল: চুলকে ঝলমলে মসৃণ করে, চুলের বৃদ্ধি ঘটিয়ে থাকে।কারিপাতা: নতুন চুল গজায়, কন্ডিশন করে, চুলের গোড়া শক্ত করে, চুল পড়া কমায়।পেঁয়াজ: চুল কালো করে চুলকে ক্যারোটিনসমৃদ্ধ করে নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে থাকে।ব্যবহারের নিয়ম: যদি অতিরিক্ত চুল পড়ে সে ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৩ দিন এই উপকরণ চুলে লাগাতে হবে। এক ঘণ্টা চুলে রেখে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্যাকটি ব্যবহার করে শুধু পানিতে চুল ধুয়ে নিলেই হবে। শ্যাম্পু করার প্রয়োজন হবে না। | 4 |
বিএনপির হাল ধরতে জুবাইদা রহমানকে স্বাগত জানালেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতৃবৃন্দ।বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ১২ নভেম্বর সোমবার রাতে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে এক সমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ অভিযোগ করেন, 'ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক অস্তিত্বে বড় ধরনের আঘাত দেয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চিকিৎসার জন্যে লন্ডনে থাকা সত্বেও সরকারের লোকজন তার বিরুদ্ধেও মামলা দিচ্ছে এবং তাকেও জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এর ফলে জনগণের মাঝে এক ধরনের হতাশা তৈরি হচ্ছিল। এমনি অবস্থায় বিএনপির কাণ্ডারি হিসেবে প্রাথমিক সদস্যপদ নিলেন জুবাইদা রহমান। এটি অবশ্যই বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতায় ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।' যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী আলহাজ আব্দুল লতিফ সম্রাট ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, 'ষড়যন্ত্র, মামলা-হামলা আর জেল দিয়ে বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবে না। শহীদ জিয়ার আদর্শের প্রবাসীরাও বিভ্রান্ত হবে না। সামনের নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের বিজয়ে সকল প্রবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।' নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, 'ফলাফল যাতে সরকারি দলের লোকেরা হাইজ্যাক করতে না পারে সেজন্য প্রত্যেক কেন্দ্রেই নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করতে হবে। ফল না পাওয়া পর্যন্ত সকলকে কেন্দ্রে অবস্থান নিতে হবে।' সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট আরিফ আর চৌধুরী পরিচালনায় নিউইয়র্ক বিএনপির সভায় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ফারুক মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র জাগপার সভাপতি এএসএম রহমত উল্ল্যাহ ভূইঁয়া, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির মহিলা সম্পাদিক সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, ব্রুকলিন বিএনপির সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দি, খলকুর রহমান, আবু নোমান সিদ্দিকী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এমডি আনোয়ার ও সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিয়া। | 4 |
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের করা দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর আবেদনের (রিভিশন) রায়ের দিন আগামী ১০ জানুয়ারি ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। আদালতে এ্যানীর পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন জানান আইনজীবী জহিরুল হক সুমন। এ সময় দুদকের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের উপপরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ ছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। | 6 |
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বলেন, গত তিনদিন যাবৎ তিন শতাধিক পুলিশের অক্লান্ত পরিশ্রমে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আরও উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর খাইরুল ইসলাম, কালিয়াকৈর থানার সেকেন্ড অফিসার আজিম হোসেনসহ পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
এবছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পাস করেছে ৮৫.২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে৬৮ হাজার ৯৫ জন শিক্ষার্থী। সোমবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিডি-প্রতিদিন/২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮/মাহবুব | 6 |
ময়মনসিংহের নান্দাইলের চরশ্রীরামপুরে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নিহত ব্যক্তির নাম মন্নাফ আলী (৫৫)। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক এবং নান্দাইল পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নাজমুল হাসান ডিপজল (২৫) ও মোশারফ হোসেন (৩৮)। মূলত অটোরিকশাটি ছিনতাই করতেই চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আসামিরা। এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন অটোরিকশা ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্য।আজ মঙ্গলবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়েছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) খন্দকার ফজলে রাব্বী।পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ জানুয়ারি বিকেলে নান্দাইলে যাওয়ার কথা বলে ত্রিশালের বালিপাড়া এলাকা থেকে যাত্রীবেশে মন্নাফের অটোরিকশা ভাড়া করেন পাঁচ ব্যক্তি। এরপর এলোমেলোভাবে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন তাঁরা। সন্ধ্যার পর চরশ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এসে চালক মন্নাফ আলীর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন যাত্রীবেশে থাকা ছিনতাইকারীরা। পরে রাস্তার পাশে মরদেহ ফেলে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা।খন্দকার ফজলে রাব্বী বলেন, ঘটনার এক দিন পর ২০ জানুয়ারি নান্দাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এরপর গতকাল সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গাজীপুরের জৈনা বাজার ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল বালিপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে, চক্রের অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। | 6 |
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে কমছে করোনা শনাক্তের হার ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা। তাই বলে করোনা স্বাস্থ্যবিধিতে গাফিলতির সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্যমতে, গত শনিবার পর্যন্ত বিশ্বে আরও ৩১ লাখ ২০ হাজার ৪৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন তা ছিল ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৫। এ অবস্থায় বিশ্বের দেশে দেশে ওমিক্রন সংক্রম চূড়ায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ দৈনিক সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ক্রমেই তা কমবে।রয়টার্স জানায়, অস্ট্রেলিয়ায় গতকাল ১ লাখের বেশি নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে তা আগের দিনের তুলনায় কম। কঠোর বিধিনিষেধের দেশটিতে এ নিয়ে টানা চার দিন সংক্রমণের পরিমাণ ১ লাখ ছাড়াল। এ অবস্থায় দেশটিতে ওমিক্রনের ঢেউ চূড়ায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।দেশটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পল কেলি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'বর্তমানে আমাদের যে পরিমাণ ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হচ্ছে, তা আরও কিছুদিন চলবে। তবে আমাদের শনাক্তের হার ক্রমেই কমছে। হাসপাতালে ভর্তির পরিমাণও কমছে। তাই অল্প কিছুদিনের মধ্যে আমরা ওমিক্রনের চূড়া অতিক্রম করব বলে মনে হচ্ছে।'গতকাল সকাল পর্যন্ত ভারতে আরও ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় একটু বেশি। আগের দিন ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ২০২ জন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ কোটি ৬৭ লাখ। দেশটিতে গতকাল করোনায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৪০২ জনের। এ নিয়ে সেখানে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫২।যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত বৃহস্পতিবার বাধ্যতামূলক টিকার প্রস্তাব স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন। যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা ১০০-র বেশি, তাদের জন্য টিকা বা নিয়মিত করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছিল বাইডেন প্রশাসন।নিয়মিত ক্লাসে ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ও শিকাগো অঙ্গরাজ্যে গত বৃহস্পতিবার কয়েক হাজার স্কুলশিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছে। তা ছাড়া, কঠোর বিধিনিষেধেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা। | 6 |
৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট। শনিবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে। এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল এবং ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। হজযাত্রীদের সঙ্গে দুই মন্ত্রী কুশলাদি বিনিময় করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এবার কোনও হজযাত্রী ট্রাভেল এজেন্সির দ্বারা প্রতারণার শিকার হবে না। তিনি বলেন, 'শতভাগ নিশ্চিত করছি, কেউ কোনও ধরনের প্রতারণার শিকার হবে না।' বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী বলেন, বিমানের অবিক্রীত ১০ হাজার টিকিট শিগগিরই বিক্রি হবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইনামুল বারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম মোসাদ্দিক আহমেদ, সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস এম নাঈম হাসান সহ বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে হজ ফ্লাইট। ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ হবে হজের ফিরতি ফ্লাইট। উল্লেখ্য, এবার সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ যাত্রী হজ পালনে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ডেলিগেটসহ ৬৪ হাজার ৫০০ হজযাত্রী পরিবহন করবে বিমান। বাকি হজযাত্রী পরিবহন করবে সৌদি এয়ারলাইন্স। ১৫৫টি বহির্গমন ও ১৪৩টি ফিরতি ফ্লাইটের স্লট রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। | 6 |
খাগড়াছড়ির রামগড়ে গত রোববার ট্রাকচাপায় নিহত হন মা ও মেয়ে। পিচঢালা রাস্তায় মেয়েকে বুকে জড়িয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় মা ও মেয়ের। অথচ এমন ঘটনায় চালকের বিরুদ্ধে কোনো মামলাই হয়নি। অভিযোগ উঠেছে লাখ টাকায় নিহতের পরিবার সঙ্গে সমঝোতা করেছেন ট্রাকমালিক। এদিকে এই বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র চলছে তীব্র সমালোচনা।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সম্প্রতি এই সড়কে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত ও আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু অধিকাংশ সময় চালকের কোনো শাস্তি হয় না। খুব সহজে পার পেয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় অপরাধীরা। রোববারও সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে নিহত হওয়ার পর 'সমঝোতা' করে পার পেয়ে যাচ্ছেন চালক।রামগড়ের পাতাছড়ার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাজী নুরুল আলম এই সমঝোতার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'নিহত ও আহতদের পরিবারের সম্মতিতে গত রোববার রাতেই এই সমঝোতা হয়।'এ বিষয়ে জানতে নিহত তাছলিমা আক্তারের স্বামী সালেহ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'মামলা করে কি আর তাদের ফিরে পাব?' তবে তাঁর বড় ভাই আলমগীর ট্রাকমালিকের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার বিষয়ে সমাধান করেছেন বলে জানান তিনি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনার দিন রাতেই আপসের উদ্দেশ্যে ঘাতক ডাম্পার ট্রাকের মালিক হেদায়েত উল্লাহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে নিহত তাছলিমা আক্তার ও তাঁর শিশুকন্যা তানহার পরিবারের পক্ষে নিহতের ভাশুর আলমগীরকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আহত আজিজ উল্যাহ, মমতাজ বেগম ও রওনারা বেগমকে চিকিৎসার জন্য মোট ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে সমঝোতা করেন ট্রাকমালিক।রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, 'দুপক্ষের আপসের কারণে নিহত বা আহতদের কারও অভিযোগ না থাকায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।'এদিকে এমন ঘটনার পর রামগড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে সাংবাদিক নিজাম উদ্দীন লাভলু বলেন, 'এখানে প্রায় সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটে। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলেও প্রশাসনের টনক নড়ে না কখনো। অপেশাদার এবং অদক্ষ চালকদের দিয়ে মালিকপক্ষ প্রতিনিয়ত সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন। প্রশাসনের সঠিক নজরদারি থাকলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতো না।'হাবিব আহমেদ নামের এক ব্যক্তি তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, 'এসব দুর্ঘটনা একপ্রকার হত্যাকাণ্ড। জরিমানা দিয়ে আপস একপ্রকার একটি আইনে পরিণত হয়েছে। দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে পদক্ষেপ না নিয়ে টাকা দিয়ে সমঝোতা করা মানবতার চরম অবক্ষয়।'এদিকে, দুর্ঘটনায় শিশুকন্যাসহ নিহত তাছলিমা আক্তারের পরিবারকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে গত রোববার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মো. ইখতিকার উদ্দীন আরাফাত তাঁর কার্যালয়ে নিহতের স্বামী সালেহ আহমেদকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।উল্লেখ্য, রোববার খাগড়াছড়ির রামগড়ের তৈছালাপাড়া এলাকায় বালু পরিবহনকারী ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই শিশুকন্যাসহ মা নিহত হন। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার অপর পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হন। নিহতরা হলেন উপজেলার পাতাছড়া এলাকার সালেহ আহমেদের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার (২৭) ও তাঁর এক বছরের শিশুকন্যা তানহা। এ ঘটনায় তাঁদের আরেক সন্তান মোহাম্মদ তানভীর (৭) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।আহতরা হলেন মোহাম্মদ তানভীর, উপজেলার নাকাপা গ্রামের মোহাম্মদ নুরুন্নবীর ছেলে আজিজ উল্ল্যাহ (২৭), আধারমানিক এলাকার তৈয়ব আলীর স্ত্রী রওনারা বেগম (৬০), সিএনজিচালক রনি ও মমতাজ বেগম (২০)। | 6 |
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পেয়েছে ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। তাঁরা সেই প্রতিবেদন কারা কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠিয়েছে। চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামসুজ্জামান শাহীন আজ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। শামসুজ্জামান বলেন, আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাছির উদ্দিন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ওই প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন। তবে ওই প্রতিবেদনে কী ছিল, তিনি তা বলেননি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করবেন না খালেদা জিয়া। গতকাল সোমবার খালেদা জিয়া কারা কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তিনি নতুন কোনো ওষুধ নেবেন না। কারাগারের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, কারাবিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার এ চাওয়া পূরণ করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ বিষয়ে পরামর্শ নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, খালেদা জিয়া অসুস্থ। তবে তা গুরুতর নয়। গত রোববার খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখে আসে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। চিকিৎসক দলের প্রধান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। খালেদা জিয়া ঘাড়ে, বাঁ হাতে ও পায়ে ব্যথা বোধ করেন। হাত ঝিমঝিম করে। তিনি আগে যেসব ওষুধ সেবন করতেন, তার সঙ্গে আরও কিছু ওষুধ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রক্ত ও এক্স-রে পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি তিনি অসুস্থ, তবে গুরুতর নয়। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পর্কে জানাতে গতকাল সকালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে তারা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। হাসপাতালের উপপরিচালক শাহ আলম তালুকদার বলেন, মেডিকেল বোর্ডের কোনো প্রতিবেদন তাঁদের কাছে আসেনি। এক প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, 'খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। তবে এ ব্যাপারে চিকিৎসকদের কোনো প্রতিবেদন আমরা পাইনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।' গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, 'চিকিৎসকেরা এখনো আমাদের কাছে কোনো প্রতিবেদন দেননি। তাঁরা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া তেমন অসুস্থ নন। যেসব সমস্যা দেখা যাচ্ছে তা আগে থেকেই ছিল।' গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে নেওয়া হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। | 9 |
ব্যাটিংয়ে যে আশা দেখিয়েছিল, বোলিংয়ে আশাহত করেই হার দিয়ে সুপার টুয়েলভ পর্ব শুরু করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দেওয়া ১৭২ রানের লক্ষ্যে ৭ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা।বড় রানের লক্ষ্যে দেওয়া বাংলাদেশকে বোলিংয়েও দারুণ শুরু এনে দেন নাসুম আহমেদ। বল হাতে পেয়ে প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই উইকেটের দেখা পান এই বাঁহাতি স্পিনার। বোল্ড করে কুশল পেরেরাকে মাত্র এক রানেই ফেরান তিনি। পাথুম নিশাঙ্কাকে নিয়ে আরেক ওপেনার চারিথ আসালাঙ্কা জুটি গড়ে তোলেন। নবম ওভারে নিশাঙ্কার সঙ্গে তিনে নামা আভিষ্কা ফার্নান্দোকেও ফেরান সাকিব আল হাসান। পরের ওভারে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে মাত্র ৬ রানে বিদায় করে জয়ের সুভাস দেখাচ্ছিলেন সাইফউদ্দিন।তবে এরপরের গল্পটা বাংলাদেশের জন্য শুধুই হতাশার। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লিটন দাসের দুই ক্যাচ মিস ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ৮০ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন আসালাঙ্কা। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে ১৭১ রানের বড় লক্ষ্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত এক ইনিংসের দেখা মেলে নাঈমের ব্যাট থেকে। বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেওয়া এই বাঁহাতি ওপেনার ফিরেছেন ৬২ রানে। তার আগেই মুশফিকের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে গড়েছেন ৫১ বলে ৭৩ রানের জুটি।বহুদিন ধরে চলতে থাকা ব্যাডপ্যাঁচ থেকেও মুক্তি মিলল মুশফিকের। সুপার টুয়েলভের শুরুতেই ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে মুশফিক খেলেছেন ৩৭ বলে অপরাজিত ৫৭ রানের অসাধারণ ইনিংস। শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মুশিই বাংলাদেশকে পৌঁছে দেন ১৭১ রানে। তবে সেটা কাজে লাগাতে পারলেন না বোলাররা। | 12 |
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি হলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহসভাপতি মাহমুদুর রহমান দলটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি এবং দলের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ্ কায়সারকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহেদ উর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক এবং সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ছয় সদস্যের প্রেসিডিয়াম নির্বাচন করা হয়। প্রেসিডিয়ামের অন্য সদস্যরা হলেন মোমিনুল ইসলাম, জিন্নুর চৌধুরী দিপু, মোফাখখারুল ইসলাম নবাব ও সৈয়দ আবদুল মাবুদ। | 9 |
ইজিবাইক আমদানি, বিক্রিসহ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হাইকোর্টের রুল পুনর্বিবেচনা এবং খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী ইজিবাইক, রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন আধুনিকায়ন করে লাইসেন্স প্রদানের দাবি জানিয়েছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ।আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিষদটির আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।সমাবেশে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, 'বিভিন্ন ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হীন স্বার্থে ইজিবাইক, রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ করার চক্রান্ত চলছে। এ চক্রান্তে আমরা গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। চালক, মেকানিক, খুদে মালিক, গ্যারেজ মালিকসহ আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ৫০ লাখ মানুষ রয়েছেন। তাঁদের ওপর নির্ভরশীল আছে আড়াই কোটি মানুষ। তাই এই আড়াই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় হাইকোর্টর দেওয়া রুল পুনর্বিবেচনা করার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।'সমাবেশে অন্যরা বলেন, ইজিবাইক, রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয়, আধুনিকায়ন করে লাইসেন্স প্রদানসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দীর্ঘ আট বছরের লাগাতার আন্দোলনের চাপে সরকার যখন নীতিমালা তৈরি করে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে, তখন একদল অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী তাঁদের হীন স্বার্থে দেশের সড়ক থেকে ইজিবাইক, রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে উচ্ছেদ করার চক্রান্ত করছে। দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, জনপ্রিয় ও অপরিহার্য গণপরিবহন ইজিবাইক, ব্যাটারি রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ বা নিষেধাজ্ঞা করা হবে চরম আত্মঘাতী। সংগ্রাম পরিষদের প্রস্তাবনা যুক্ত করে সরকার প্রস্তাবিত 'থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা, ২০২১' দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে। ওই নীতিমালার আলোকে ইজিবাইক, রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের দ্রুত নিবন্ধন, রুট পারমিট ও লাইসেন্স প্রদানসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জোর দাবি জানান তাঁরা। অন্যথায় সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ৫০ লাখ মানুষকে বেকার করার যেকোনো চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রতন মিয়া, সংগ্রাম পরিষদের নেতা এস এম কাদির, মেহেদী হাসানসহ আরও অনেকে। | 6 |
খানাখন্দে ভরা সড়ক। যানবাহন চলাচলের অবস্থা নেই। রয়েছে সেতু কিন্তু নেই সংযোগ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও-বড়কাপন সড়কটি। প্রায় এক যুগ ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে সেতুর সংযোগ সড়কটি। স্থানীয়রা সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।স্থানীয়রা জানান, পান্ডারগাঁও-বড়কাপন ১৯ কিলোমিটার সড়ক। এর পার্শ্ববর্তী ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়ন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্বপাগলা ইউনিয়ন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ারা সদর, পান্ডারগাঁও, মান্নারগাঁও ও দোহালিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশ এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশলের (এলজিইডি) আওতায় ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে এই সড়কের কাজ শুরু হয়। ওই সময় কাজ শেষ হলেও সড়কের জলসী এবং কপলা সেতুর সংযোগের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। পরে কোনো রকমে দায়সারাভাবে অ্যাপ্রোচের কাজ শেষ করা হয়। তখন থেকে আজ অবধি জোড়াতালি দেওয়া সংযোগ সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।এর মধ্যে ২০০৯ সালে সড়কের সংস্কার কাজ হয়। কিন্তু সংস্কার কাজ না হওয়ায় এক বছর পার না হতেই সড়কজুড়ে গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এরপর আর সংস্কার না হয়নি। প্রতিবছর স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকেরা নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ভাঙা অংশ মেরামত করে কোনোরকমে চলাচলের উপযোগী করেন।স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মকদ্দুছ আলী বলেন, এই সড়কে আমাদের তিনটি শ্রমিক সংগঠন ও একটি মালিক সমিতি রয়েছে। সড়কটিকে কেন্দ্র করে অসংখ্য শ্রমিকের কর্মসংস্থান। প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলছে।তিনি আরও বলেন, 'আমরা এই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু সরকারিভাবে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বছর নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।'পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন ফয়সল আহমেদ বলেন, 'এই সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এখানকার ও আশপাশ এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মালামাল পরিবহনের সময় ও ব্যয় বেশি হচ্ছে।'স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, 'এই সড়কের কারণে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের অবস্থা এতটায় নাজুক চলাচলে দুর্ঘটনার ভয় হয়। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা, অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ মানুষ এই সড়কে যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়ছেন। আমাদের এই দুরবস্থা দেখার কেউ নেই!'পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, 'সড়কটি মেরামত করা জরুরি। আমি স্থানীয় সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এ সেতুর সংযোগ সড়ক যাতে দ্রুত মেরামত করা হয় এ ব্যাপারে সাংসদ পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বস্তও করেছেন।'এলজিইডির দোয়ারাবাজার উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী সাদিরুল ইসলাম বলেন, 'এ সড়কটির সংস্কার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একটি বাজেটে সংস্কারের কথা থাকায় আমরা নতুন কোনো বাজেটে সড়কটি সংস্কারের অনুমোদন আনতে পারছি না। সংস্কার কাজ শুরু হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।' | 6 |
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী আমেনা বেগমকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন স্বামী নজরুল ইসলাম (৪০)। তবে হত্যা করেই থেমে থাকেননি ঘাতক স্বামী। হত্যার পর তিনি স্ত্রীর লাশ পেছনে রেখে ফেসবুক লাইভে এসে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন এবং ঘরে থাকা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজন ভয়ে ঘাতকের কাছে যেতে সাহস না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে কৌশল অবলম্বন করে ঘাতক নজরুলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে। ঘাতক নজরুল ইসলাম ওই গ্রামের হোসেন মাদবরের ছেলে। ডামুড্যা থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে নজরুল ইসলামের সাথে তার স্ত্রী আমেনা বেগমের পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নজরুল ঘরের দরজা বন্ধ করে কুড়াল দিয়ে এলাপাতাড়ি তার স্ত্রীকে কোপাতে থাকেন। আমেনা বেগমের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশের চেষ্টা করলে নজরুল ঘরে থাকা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের হুমকি দেন। এরপর তিনি স্ত্রীর লাশ পেছনে নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে হত্যার দায় স্বীকার করেন। খবর পেয়ে ডামুড্যা থানা পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৌশল অবলম্বন করে ঘাতক স্বামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারের পর স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঘাতককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায় বলে জানা গেছে। পুলিশ উত্তেজিত জনতার হাত থেকে নজরুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং লাশ মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় মোহর আলী বেপারী বলেন, 'আমেনা বেগম খুব ভালো মানুষ ছিলেন। নজরুল নেশাখোর ও খারাপ লোক। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।' অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) তানভীর আহমেদ বলেন, স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসেছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ভয় দেখাচ্ছেন নজরুল। পরে নানা কৌশলে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এই বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাংসদ এবং সাবেক ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর ও তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএস কাশ্মীর। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লিতে পুলিশের কাছে গৌতম গম্ভীর এসংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আজ বুধবার সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল রাতে অভিযোগ দায়েরের পর গৌতম গম্ভীরের বাড়ির বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পুলিশ কর্মকর্তা শ্বেতা চৌহান বলেন, 'ই-মেইলের মাধ্যমে আইএসআইএস কাশ্মীর থেকে মাধ্যমে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন গৌতম গম্ভীর। তাঁর বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।' | 3 |
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রোববার বলেছেন, বুয়েট পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে একটি মহল ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ছাত্রদের আবেগ-অনুভূতিকে পুঁজি করে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা দেশ অস্থিতিশীল করে ফায়দা লুটতে পারে। তারা সবাই মিলে এ ঘটনাকে পুঁজি করে ছাত্র অঙ্গনকে অশান্ত রেখে, দেশকে অশান্ত করার দূরভিসন্ধি থেকে ছাত্রদের মধ্যে তাদের এজেন্ট ঢুকিয়ে দিয়েছে। যে কারণে দাবি মেনে নেয়ার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আসছে। দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আববার ফাহাদ হত্যার পর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ছাত্র আন্দোলনে শিবির ও ছাত্রদল সক্রিয় রয়েছে। বেনামে শিবির-ছাত্রদল সক্রিয় হয়ে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। 'আমি ছাত্রদের অনুরোধ জানাব, কেউ যাতে এটিকে পুঁজি করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে,' যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বুয়েটে যে ঘটনাটি ঘটেছে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়, ন্যাক্কারজনক ও নৃশংস। আমরা প্রথম থেকেই এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। কেউ দাবি তোলার আগেই সরকার এ ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে ছাত্রদের যে আবেগ, সেটার সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করি। তাদের আবেগের সঙ্গে আমারও আবেগ জড়িত। একই সঙ্গে তাদের প্রতিবাদের সঙ্গেও আমি একমত। এর প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন। 'আমি মনে করি এই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না হয় সেজন্য এই প্রতিবাদ অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে ও করবে,' যোগ করেন তিনি। কিন্তু সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ দাবি-দাওয়া মেনে নেয়ার পরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তথ্যমন্ত্রী।সূত্র : ইউএনবি | 9 |
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের হাতে থাকা খাটের পায়ার আঘাতে বাবা আব্দুল কাদের (৭০) নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে পাঁচবিবি উপজেলা বরণ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সুলতান মাহমুদকে আটক করেছে পুলিশ। পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব এসব তথ্য জানিয়েছেন। নিহত আব্দুল কাদের পাঁচবিবি উপজেলা বরণ গ্রামের বাসিন্দা। ওসি পলাশ চন্দ্র দেব জানান, রোববার সকালে বাবা আব্দুল কাদেরের সঙ্গে তার ছেলের পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। বাবা-ছেলের বাকবিতণ্ডার একপর্যায় ছেলের হাতে থাকা খাটের পায়া দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ওসি বলেন, বাবাকে হত্যার অভিযোগে ছেলে সুলতান মাহমুদকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচবিবি থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে অবশেষে সমন্বয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। আগামী রোববার করপোরেশন কার্যালয়ে এই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। এতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। সিটি ডেভলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটির গাইড লাইনসে বছরে অন্তত একবার বৈঠকের কথা বলা হলেও গত দুই বছরে তাদের বৈঠক হয়নি।মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। সমন্বয় করে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করা না হলেও আগামী বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ বাড়বে। তাই সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে বৈঠকটির উদ্যোগ নিয়েছি।'আগামী বুধবার বৈঠক হওয়া কথা থাকলেও সেদিন সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ ঢাকায় একটি সভায় থাকবেন। যে কারণে বৈঠকটি আগামী রোববার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান মেয়র।চসিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আগামী বর্ষায় নগরবাসী যাতে জলাবদ্ধতার কবলে না পড়েন সে লক্ষ্যে চলতি শুষ্ক মৌসুমে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হবে।নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গত চার বছর ধরে ১০ হাজার ৯২১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে পৃথক চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। মধ্যে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে 'চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' শীর্ষক সিডিএর মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ১ হাজার ৬২০ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় 'চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা বা জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন' প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পাউবো। ২ হাজার ৩১০ কোটি ২৪ লাখ ২০ টাকায় 'কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ' প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। এ ছাড়া ১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বহাদ্দারহাটের বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন প্রকল্পের কাজ করছে চসিক।সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীতার কারণে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রেহাই মিলছে না নগরবাসীর। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চসিক মেয়রকে প্রধান করে 'সিটি ডেভলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটি' গঠন করা হয়। এর গাইড লাইনসে বছরে অন্তত একবার বৈঠকের কথা বলা হলেও গত দুই বছরে তাদের বৈঠক হয়নি। সম্প্রতি খাল-নালায় পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা ফুটে উঠে। এ অবস্থায় সমালোচনার মুখে অবশেষে আগামী সপ্তাহে হতে যাচ্ছে সমন্বয় বৈঠক। | 6 |
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কাল শুক্রবার শুরু হচ্ছে নবনির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশন। তার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরকারপ্রধান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের বিরোধ চূড়ান্ত সংঘাতে পরিণত হয়েছে। একদিকে রাজ্যপাল অভিযোগ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য পরিবেশন করছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাঁকে প্রথামাফিক অধিবেশনের গোড়ায় ভাষণ দিতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যপাল 'দুর্নীতিগ্রস্ত'। এই পরিস্থিতিকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক বলে ব্যাখ্যা করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি ও অন্যতম প্রধান মুখপাত্র সুধাংশু শেখর রায় অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রধান ও সাম্প্রতিক দুর্নীতির ঘটনায় মূল অভিযুক্তের সঙ্গে রাজ্যপালের দপ্তরের কর্মীদের যোগাযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দেবাঞ্জন দেব নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে করোনার ভুয়া টিকা দেওয়া, টিকা শিবির চালানো ও টিকার মজুতদারিসহ আরও একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুধাংশু শেখর এই দিন দাবি করেছেন, রাজ্যপালের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ও দেবাঞ্জনকে একসঙ্গে দেখা গেছে। তাঁদের দুজনের ছবি প্রকাশ করে তৃণমূলের এমপি বলেন, 'এই বিশেষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে খাম যেত। এর তদন্ত প্রয়োজন।' শুধু এটাই নয়, কয়েক দিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-নেত্রী বলেছেন, ৩০ বছরের পুরোনো জৈন-হাওয়ালা মামলায় জগদীপ ধনখড়ের নাম রয়েছে। ১৯৯১ সালের এই মামলা ভারতের একটি বড় দুর্নীতির মামলা। এই মামলায় সুরেন্দ্র জৈন নামের এক ব্যক্তি দালাল মারফত বিরাট অঙ্কের টাকা লেনদেন করেছিলেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে। সেই টাকার অংশবিশেষ কাশ্মীরে জঙ্গিদের হাতে পৌঁছেছিল বলেও তদন্তে জানা গিয়েছিল। সুরেন্দ্র দুটি ডায়েরিতে কাকে কত টাকা দিচ্ছেন তা লিখে রাখতেন। একাধিক প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতার মধ্যে, ওই ডায়েরিতে রাজ্যপাল ছিলেন বলে গত সোমবার দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 'রাজ্যপাল দুর্নীতিগ্রস্ত' বলে মন্তব্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ১৯৯৬ সালের জৈন-হাওয়ালা মামলার অভিযোগপত্রে রাজ্যপালের নাম রয়েছে। এটিকে 'সম্পূর্ণ ভুয়া তথ্য' বলে চিহ্নিত করে রাজ্যপাল ধনখড় বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান নেতা যশোবন্ত সিনহা ও কিছু বছর আগে মারা যাওয়া আরেক নেতা অজিত পাঁজার নাম বরং ওই ডায়েরিতে রয়েছে। তবে শুধু এই দুর্নীতি ও পাল্টা দুর্নীতির মামলাই নয়, রাজ্যপালের সঙ্গে বিরোধ বেধেছে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে ধনখড় বলেছেন, তাঁকে বাজেট অধিবেশনের গোড়ায় শুক্রবার প্রথামাফিক উদ্বোধনী ভাষণ দিতে দেওয়া হচ্ছে না। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, 'স্পিকার নিজেই রাজ্যপালের পদের অবমাননা করছেন। বিধানসভায় আমার ভাষণ সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। এটা জরুরি অবস্থার শামিল।' প্রথা অনুযায়ী, রাজ্যপালের ভাষণ দেওয়ার কথা। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে তাঁর ভাষণ এবারে রাখা হচ্ছে না বলে রাজ্যপালকে জানানো হয়েছে। সেই কারণেই ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল। এ ছাড়া আরও একাধিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে করেছে। বিষয়টি 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক' বলে মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের এক সাবেক বিচারপতি বলেন, এর ফলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজকর্ম বিধানসভায় ব্যাহত হবে। কারণ, রাজ্যপাল ও সরকারের বোঝাপড়ার মাধ্যমেই সভার কাজ চলে। | 3 |
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার রাহাত্তারপুল এলাকায় মনজুর আলম (২৮) নামের এক যুবককে বাসায় দাওয়াত দিয়ে অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত শনিবার ভোর ৪টায় রাহাত্তারপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলো দম্পতি রিমা আক্তার ওরফে নাছিফা (২৬) ও মো. কায়ছার (২৯) এবং বাকলিয়া থানার হাটখোলা এলাকার মুজাহার হোসেনের মেয়ে শারমিন আক্তার লিজা ওরফে রিজিয়া (৩০)।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন (বৃহস্পতিবার) পূর্বপরিচয়ের সূত্রে মনজুরকে বাসায় আমন্ত্রণ জানায় কায়সার ও রিমা দম্পতি। পরে কৌশলে তাঁকে বেঁধে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এত টাকা নেই জানালে একপর্যায়ে মনজুরের সঙ্গে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেয় তারা। পরে মনজুরের পকেটে থাকা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও পিন নম্বর নিয়ে বুথ থেকে এক লাখ টাকা তুলে নেয়। এ সময় তাঁর বিকাশে থাকা আরও সাত হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয় আসামিরা। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, ভুক্তভোগী মনজুর আলমকে পূর্বপরিচয়ের সূত্রে ওই বাসায় যাওয়ার দাওয়াত দেয় আসামিরা। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে হাত-পা বেঁধে রেখে মারধর করতে শুরু করে রিজিয়া, নাফিসা ও কায়ছার। পরে তাঁর কাছে থাকা নগদ অর্থ, ক্রেডিট কার্ড ও বিকাশে থাকা অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা। পরে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকায় মনজুরকে ফেলে দিয়ে চলে যায় তারা। স্থানীয় লোকজন মনজুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।গোয়েন্দা পুলিশ উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার সালাম কবীর জানান, গতকাল শনিবার ভোরে রাহাত্তারপুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শারমিন আক্তার লিজাকে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে বাকলিয়ার বলিরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রিমা ও তার স্বামী কায়সারকে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় রিমা ও কায়সার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানান তিনি। | 6 |
দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন গোলাপী বেগম। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা করিয়েও প্রতিকার পাচ্ছিলেন না। একদিন খোঁজ পান সৈয়দপুরের আজিজুল হক নামে এক ব্যক্তির। তাঁর কাছে চিকিৎসা নেন গোলাপী। চিকিৎসার প্রধান উপাদান ছিল মাশরুম। মাশরুমের তৈরি ওষুধ সেবন করে সুস্থ হয়ে ওঠেন এই নারী।মাশরুমে উপকার পেয়ে গোলাপী পরে নিজের প্রয়োজনে অল্প পরিসরে এর চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে পরিধি বাড়তে থাকে। তিনি এখন বাণিজ্যিকভাবে মাশরুমের চাষ করছেন। প্রতিদিন বিক্রির পরিমাণ ৯ হাজার টাকা।গোলাপী তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার দূরে পাকা সড়ক ধরে যেতে হয় তাঁর বাড়িতে। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা গেছে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে মাশরুমের পরিচর্যা করছেন।গোলাপী জানান, সৈয়দপুরের আজিজুল হক মূলত মাশরুম দিয়ে বিভিন্ন ধরেন ওষুধ ও তেল তৈরি করে চিকিৎসাসেবা দেন। পাশাপাশি মাশরুমের চাষও করেন। গোলাপীও নিজের প্রয়োজনে প্রথমে অল্প পরিমাণে চাষ শুরু করেন। তিনি গত বছরের জুনে আজিজুলের ফাতেমা মাশরুম সেন্টারে চাষের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর বাড়িতে এসে স্বামী-সন্তানদের সহযোগিতায় পুরোদমে চাষ শুরু করেন। এখন তাঁর খামারে বাণিজ্যিকভাবে এই চাষ হচ্ছে। বিভিন্ন লোকজন তাঁর বাড়িতে এসে মাশরুম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।গোলাপীর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আকতারুল ইসলাম বলেন, মাশরুম চাষের জন্য তিনটি উপাদান প্রয়োজন। খড়, স্পন বা বীজ ও পলিথিন। প্রথমে আধা থেকে এক ইঞ্চি মাপের খড় কেটে জীবাণুমুক্ত করতে হয়। খড়ের পানি এমনভাবে ঝরিয়ে নিতে হবে যাতে হাত দিয়ে খড় চাপলে পানি না পড়ে। এরপর পলিব্যাগের মধ্যে দুই ইঞ্চি পুরু করে খড় বিছিয়ে তার ওপর ব্যাগের ধার ঘেঁষে বীজ ছড়িয়ে দিতে হবে। বীজের ওপরে আবার খড় ও খড়ের ওপর আবার বীজ, এইভাবে প্রায় সাত থেকে আটটা স্তর তৈরি করে ব্যাগের মুখ কয়েকটা প্যাঁচ দিয়ে কষে বন্ধ করে দিতে হয়।খড় বিছানোর সময় প্রতিবার হাত দিয়ে ভালো করে চেপে দিতে হয়, যাতে খড়ের ভেতর বাতাস জমে না থাকে। এরপরে প্যাকেটে দশ থেকে বারোটা ছোট ছোট ছিদ্র করে তুলা দিয়ে ছিদ্রের মুখ বন্ধ করে দিলে স্বাভাবিক হাওয়া চলাচল বজায় থাকবে, আবার তুলা থাকায় ধুলাও ঢুকতে পারবে না। পরে ৩০ থেকে ৩৩ দিনের মধ্যে মাশরুম খাওয়ার মতো পরিণত হয়ে যায়। একটি ব্যাগ থেকে তিনবার ফলন পাওয়া যায়। মাছি মাশরুম চাষে ভয়ানক ক্ষতি করে বলে জানান আকতারুল।গোলাপী জানান, তিনি প্রতিদিন ৩০ কেজি করে মাশরুম পাচ্ছেন। পুরোদমে উৎপাদনে গেলে ৫০ কেজি পাবেন। প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিভিন্ন লোকজন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শুকিয়ে বিক্রি করলে প্রতি কেজি দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। মাশরুম চাষে একবারই খরচ হয়।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাসসুম বলেন, 'মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণসম্পন্ন খাবার। এতে আছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামাইনো অ্যাসিড, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। গোলাপীর মাশরুমের খামার আমরা পরিদর্শন করেছি। তাঁকে সব ধরনে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমরাও তাঁর খামার থেকে মাশরুম কিনছি।' | 6 |
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সকালে পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলার ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে দুজন আহত হয়েছেন ও কক্ষ দুটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে মাইজদী থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাইজদী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আফসার উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার এমআইএস বিভাগের কম্পিউটার কক্ষে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে কম্পিউটার কক্ষ ছাড়াও পাশের আরেকটি কক্ষ পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের তিন ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। তাঁদের নাম-পরিচয় পরে জানাবেন বলে জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর প্রথম আলোকে বলেন, শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআইএস বিভাগের কম্পিউটার কক্ষসহ দুটি কক্ষ ও ডিনের কার্যালয়ের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। | 6 |
সাংবাদিক পরিচয়ে বাসায় ঢুকে গ্রেফতারের পর মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সাংবাদিক শফিক রেহমানকে।
শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের বর্ণনা দিতে গিয়ে একথা জানান তার বাসার কেয়ারটেকার আব্দুল মতিন মোল্লা।
শনিবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার হন বিএনপির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচতি এই সাংবাদিক।
শফিক রেহমানকে কিভাবে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হলো তার বর্ণনায় কেয়ারটেকার মতিন বলেন, 'দুইজন লোক সকাল ছয়টার দিকে বাসার মূল গেটে ধাক্কা দেন। তারপর আরেকজন আসেন।'
তিনি জানান, ওই ব্যক্তিরা একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল থেকে এসেছেন বলে জানান। এসময় তাদের হাতে ছিল ছোট ক্যামেরা।
কেয়ারটেকার মতিন জানান, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিদের তিনি বাসার ভেতরে নিয়ে যান। তারা তাকে জানান, তাদের টেলিভিশনে শফিক রেহমানের একটি সাক্ষাৎকার আছে সকালে, তাই তারা তাকে নিতে এসেছেন।
মতিন জানান, ওই লোকদের বাসার ভেতরে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি তাদের বসতে দেন এবং শফিক রেহমান এসে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শফিক রেহমানকেও বলেন, তারা টেলিভিশন থেকে এসেছেন। এরপর তিনি ফ্রেশ হতে ভেতরে যান এবং ওই ব্যক্তিদের জন্য নাস্তা ও মিষ্টি পাঠান।
এরপর শফিক রেহমান রেডি হয়ে নতুন পোশাক পরে তাদের সামনে এলে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে বলেন, 'আমরা ডিবির সদস্য, আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।'
এরপরই তাকে একটি গাড়িতে করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান কেয়ারটেকার মতিন।
| 6 |
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে নয়টি জেব্রার মৃত্যুর পর শনিবার সকালে আরও একটির মৃত্যু হয়েছে। পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, আগের জেব্রাগুলোর সঙ্গেই এ দুটি অসুস্থ ছিল। জেব্রা দুটিকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়েছিল। শনিবার সকালে জেব্রা দুটির মধ্যে একটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর ঘণ্টা দুয়েক পর সেটি মারা যায়। অসুস্থ অন্য জেব্রাটির চিকিৎসা চলছে। প্রাণীগুলোর শরীরে করোনার উপস্থিতি থাকতে পারে বলে প্রথমে সন্দেহ করা হয়েছিল। এ কারণে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু মানুষের করোনা পরীক্ষার কিট দিয়ে ওই পরীক্ষা করা হয়। এতে করোনার নেগেটিভ ফল আসে। প্রাণীর শরীরে করোনা পরীক্ষা করার কিট এ দেশের কোথাও নেই। এগুলো বিদেশ থেকে আনার জন্য কাজ চলছে। জাহিদুল কবির আরও বলেন, মৃত্যুর আগে জেব্রাটির মুখ দিয়ে শনিবার সকালে হঠাৎ লালা পড়তে থাকে। এটির শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। হাঁটতে পারছিল না। শরীর দুর্বল হয়ে একপর্যায়ে পড়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটির মৃত্যু হয়। নতুন করে মারা যাওয়া জেব্রার শরীরের নমুনা দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হবে। এ ছাড়া শনিবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে সাফারি পার্কের অভ্যন্তরে বৈঠক হয়েছে। এদিকে নয়টি জেব্রার মৃত্যুর পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গঠন করা হয়। এ ছাড়া প্রাণীটির মরদেহের নমুনা পাঠানো হয় বিভিন্ন পরীক্ষাগারে। কয়েকটি পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। এসব ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গত মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দল সাফারি পার্কের ভেতরে বৈঠক করে। সেই বৈঠক শেষে প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১০ দফা নির্দেশনা আসে। দুই দিন ধরে সেসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছিল পার্ক কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই শনিবার আরও একটি জেব্রার মৃত্যু হলো। এই জেব্রার মৃত্যুর পর সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সঙ্গে নতুন করে দুজন যুক্ত হয়েছেন। এই দুজন হলেন কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের পরিচালক শফিউল ইসলাম সরদার ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম আজম চৌধুরী। আগের গঠিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলে আছেন জাতীয় চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ও চিফ ভেটেরিনারি কর্মকর্তা এ বি এম শহীদ উল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু হাদী নুর আলী খান, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকুল আলম, অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উকিল উদ্দিন ও সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা হাতেম জুলকারনাইন। উল্লেখ্য, এ বছরের ২ জানুয়ারি থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে হঠাৎ একের পর এক মারা যেতে থাকে জেব্রা। গত মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মোট নয়টি জেব্রা মারা গেছে। এরপর শনিবার সকালে আরও একটি জেব্রার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মোট ১০টি জেব্রার মৃত্যু হয়েছে। পার্কটিতে মোট ৩১টি জেব্রা ছিল। এখন জেব্রার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১টি। | 6 |
ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামসহ তিনজনকে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে শৈলকুপা পৌর এলাকার মালিপাড়া ও কাজীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শৈলকুপা থানার উপপরিদর্শক গিয়াসউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শৈলকুপা শহরের ফাতেমা মার্কেটের নিউ বিশ্বাস গার্মেন্টসে গিয়ে সীমান্ত ও আকাশ নামের দুই যুবক গিয়ে প্রায় দশ হাজার টাকার কাপড় নেন। গার্মেন্টসের মালিক তাঁদের কাছে টাকা চাইলে তারা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম পাঠিয়েছে বলে জানান। এরপর কাপড় দিতে অস্বীকার করলে জোরপূর্বক কাপড়ের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে মালিক কালামের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'বেশি বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা আছে।' এমনকি তাঁর (দোকানের মালিক) কাছে উল্টো আরও বেশ কিছু টাকা চাঁদা দাবি করেন।মঙ্গলবার রাতেই গার্মেন্টসের মালিক ১০ নম্বর বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা গ্রামের ইয়ামিন আলী বাদী হয়ে কালামসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে শৈলকুপা থানায় ২ লাখ টাকা চাঁদাবাজি মামলা করেন। মামলার পরে পুলিশ তাঁদের তিনজনকেই শৈলকুপার নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।এ দিকে তবে ঘটনাটি সাজানো বলে দাবি করেন পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মহিদুল ইসলাম মন্নু। | 6 |
আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ও মিত্রদের উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে সমস্ত নাগরিকদের নিরাপদে উদ্ধার করতে মিত্রদের পক্ষ থেকে চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে তালেবান বলেছে, ঘোষিত সময়ের (৩১) মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তান ছাড়তে হবে। কোনোভাবেই সময়সীমা বাড়ানো যাবে।এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার তালেবান প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর গোয়েন্দা প্রধানকে কাবুলে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কূটনীতির সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। সিআইএ প্রধানকে তালেবান প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে কাবুলে পাঠানো সেদিকেই ইঙ্গিত করে।ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম বার্নস গতকাল সোমবার কাবুলে তালেবান প্রধান আব্দুল গনি বেরাদরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। যখন কাবুল বিমানবন্দরে এক মহাবিশৃঙ্খলার মধ্যে নিজেদের নাগরিক ও মিত্রদের উদ্ধারে বাইডেন প্রশাসনের নাভিশ্বাস অবস্থা।বিষয়টি নিশ্চিত হতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি-সিআইএর প্রতিনিধি এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু কোনো পক্ষই সাড়া দেয়নি। | 3 |
ফোন নম্বর স্পুফ করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ফিরোজ খন্দকার ও তার সহযোগী রাকিবুল ইসলামকে তিনদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারি এ আদেশ দেন। এরআগে এদিন রিমান্ড শেষে তাদের দুইজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে কারাগারে আটক রাখতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক এ আবেদনটি মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফিরোজ যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর স্পুফ করে সংগঠনের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলে কৌশলে পরশ পরিচয়ে টাকা দাবি করে বিকাশ-রকেট নম্বর দিয়ে টাকা চাইতেন। চেয়ারম্যানের ফোন পেয়ে নেতারা উৎফুল্ল মনে টাকা পাঠাতেন। পরে সেই টাকা ফিরোজ বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে তুলতেন। এ কাজে ফিরজ প্রথমে ইন্টারনেট থেকে যুবলীগের বিভিন্ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর সেসব ফোন নম্বরে ডায়ালার অ্যাপের মাধ্যমে নম্বর স্পুফ করে ফোন করতেন। এসব ঘটনায় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস বাধ্য হয়ে তার ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেন। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা পোস্ট করেন শেখ পরশ। পরে ১৫ অক্টোবর যুবলীগ চেয়ারম্যানের পক্ষে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করেন ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দিন খান। এরপর ১৮ অক্টোবর রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজীমনগর থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাদেরকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড চাইলে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। | 6 |
ক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৮০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের একজন নাগরিককে আটক করেছে। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি গোয়েন্দারা বিজিবি সূত্র জালিয়ারদ্বীপ এলাকার পাশে নাফ নদীর সীমান্ত দিয়ে মাদকের একটি চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচার হতে পারে মর্মে একটি খবর জানতে পারে। এ খবর পেয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) ব্যাটালিয়ন সদর এবং দমদমিয়া বিওপির দুইটি বিশেষ টহলদল নাফ নদীর জালিয়ার দ্বীপে কৌশলগত অবস্থান নেয়। মধ্যরাতে বিজিবি টহলদল দুই ব্যক্তিকে মায়ানমার থেকে সাঁতরে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জালিয়ার দ্বীপের দিকে আসতে দেখে। তারা শূন্যরেখা অতিক্রম করে জালিয়ার দ্বীপে আসলে বিজিবির টহল দল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে একটি প্লাস্টিকের বস্তাসহ মাদক পাচারকারী মো. কামাল হোসেনকে (২২) আটক করে। তার পিতার নাম আব্দুল গফফার। রাখাইন রাজ্যের মংড়ু জেলার বুথিডংয়ের বাসিন্দা কামাল। তার সঙ্গে থাকা অপর সহকর্মী রাতের অন্ধকারে দ্রুত সাঁতরে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে কামাল হোসেনের কাছে থাকা বস্তা থেকে ৮০ হাজার পিস ইয়াবা আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মূল্য দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা বলে বিজিবি দাবি করেছে। ইয়াবা ট্যাবলেট বহন, পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। | 6 |
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আশা কার্যত শেষ ভারতের। কিছুটা ভরসা জোগাচ্ছে আফগানিস্তান। রশিদ খানরা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দিলে কিছুটা সুযোগ বাড়বে ভারতের সামনে। তবে আফগানিস্তান হেরে গেলেও খাতায়-কলমে বিরাটদের শেষ চারে উঠতে পারে। তবে সেটা একেবারেই খাতায়-কলমেই। কিভাবে? আপাতত 'সুপার ১২'-এর 'গ্রুপ ২'-তে শীর্ষে আছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচে ১০০ শতাংশ জয়ের রেকর্ড নিয়ে গ্রুপের মগডালে আছেন বাবর আজমরা। নামিবিয়া ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তাদের জেতার কথা। ফলে 'গ্রুপ ২' থেকে প্রথম হয়ে সেমিফাইনালে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত পাকিস্তানের। দ্বিতীয় দল নিয়েই আপাতত ওই 'গ্রুপ ২'-তে যত লড়াই চলছে। আপাতত দ্বিতীয় স্থানে আছে আফগানিস্তান। তিন ম্যাচে রশিদদের পয়েন্ট চার। নিট রানরেট +৩.০৯৭। তৃতীয় স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড। দু'ম্যাচে কিউয়িদের পয়েন্ট দুই। নিট রানরেট +০.৭৬৫। দু'ম্যাচে দু'পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ আছে নামিবিয়া। নেট রানরেট -১.২৮৭। শেষ দুটি স্থানে আছে যথাক্রমে ভারত (-১.৬০৯) এবং স্কটল্যান্ড। এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচের ওপর গ্রুপের ভাগ্য অনেকাংশ নির্ভর করবে। ওই ম্যাচ আগামী ৭ নভেম্বর হতে চলেছে। সেখানে কী কী সম্ভাবনা আছে? ১) নিউজিল্যান্ডের আগে আফগানিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে। ওই ম্যাচে যদি আফগানিস্তান হেরে যায়, তাহলে চার ম্যাচে চার পয়েন্ট থাকবে। ওই ম্যাচে হারের ব্যবধান যত কম থাকবে, তত লাভ আফগানিস্তানের। এমন পরিস্থিতিতে কিউয়িদের বিরুদ্ধে যদি আফগানিস্তান জিতে যায়, তাহলে রশিদদের পাঁচ ম্যাচে পয়েন্ট হবে ছয়। নিউজিল্যান্ডেরও পয়েন্ট ছয় হবে (স্কটল্যান্ড এবং নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জিতবে ধরে নিয়ে)। আর ভারতের পয়েন্ট ছয় (আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড এবং নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জিতবে ধরে) পয়েন্টও হবে ছয়। সেক্ষেত্রে নিট রানরেটের বিচারে তিন দলের লড়াই হবে। ফলে আগামী তিন ম্যাচে যদি বিরাট বাহিনী বড় ব্যবধানে জেতে এবং নিট রানরেট অনেকটা ভালো করতে পারে, তবেই লাভ হবে। নাহলে আপাতত যা নেট রানরেট, তাতে বিশাল এগিয়ে আছে আফগানিস্তান। ২) যদি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ড জিতে যায়, তাহলে ভারতের যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই (স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়ার বিরুদ্ধে কিউয়িরা জিতবেন ধরে নিয়ে)। সেক্ষেত্রে কিউয়িদের পয়েন্ট দাঁড়াবে আট। ভারত সব ম্যাচ জিতলেও ছয় পয়েন্টের বেশি যেতে পারবে না। ফলে নিউজিল্যান্ড যদি আফগানিস্তানকে হারিয়ে দেয়, তবে আগামী ৮ নভেম্বর ভারত বনাম নামিবিয়া ম্যাচ স্রেফ নিয়মরক্ষার হবে। সেক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ড-আফগানিস্তান ম্যাচে যদি কিউয়িরা জিতে যান, তাহলে ভারতকে প্রার্থনা করতে হবে যাতে কেন উইলিয়ামসনরা স্কটল্যান্ড বা নামিবিয়ার বিরুদ্ধে হেরে যান। তাহলেই কিছুটা সুযোগ থাকবে ভারতের সামনে। যদিও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এখন যা পরিস্থিতি, তাতে নিউজিল্যান্ড-আফগানিস্তান ম্যাচে রশিদদের হয়েই গলা ফাটাতে হবে বিরাটদের। কিউয়িদের হয়ে গলা ফাটাতে চাইলে এই বিশ্বকাপকে অঘটনের তকমা পেতে হবে। সেইসাথে নিজেদেরও সব ম্যাচ জিততেই হবে বড় ব্যবধানে। ভারতের এখন যা ফর্ম, তাতে বড় ব্যবধান তো দূরের কথা, সব ম্যাচে বিরাটরা জিততে পারবেন কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন অনেকেই।সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 12 |
বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপের দুই দেশে সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। তবে এর আগে অন্য প্রতিযোগিতায়২৫ ম্যাচে মাত্র একটি হারের অবিশ্বাস্য রেকর্ড নিয়ে সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে মাঠে নেমেছে সুইজারল্যান্ড। সেন্ট পিটার্সবার্গে দুই দলই গোলমুখের সামনে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেছে। গোলের দেখা পায়নি কেউ। গোলশূন্য স্কোরে প্রথমার্ধ শেষ করেছে তারা। প্রথম মিনিটে সুইডিশ ডিফেন্ডারের পা ফসকে বল পান জারদান শাকিরি। সুইজারল্যান্ড তারকার শক্তিশালী শট গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়। জুবের বাঁ দিক থেকে ৭ মিনিটে বাঁকানো শট নেন লক্ষ্যে, বল সোজা ধরা পড়ে সুইডেন গোলরক্ষক ওলসেনের হাতে। ৮ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে সুইডেন। অফসাইডের ফাঁদে ধরা দেননি বার্গ, একটু পেছনে থেকে শট নেন লক্ষ্যে। সামনে কেবল ছিলেন গোলরক্ষক। কিন্তু বল চলে যায় গোলবারের পাশ দিয়ে। পরের মিনিটে সুইস গোলরক্ষক সমারের ভুলে বিপজ্জনক জায়গায় বল পান বার্গ, তাকে ব্লক করেন আকানজি। ২৪ মিনিটে জুবেরের ক্রস থেকে শাকিরির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় ক্রসবারের উপর দিয়ে। চার মিনিট পর তোইভনেনের হাফ ভলি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন সমার। ৩৪ মিনিটে আবারও শাকিরি ক্রসবারের উপর দিয়ে বল মারেন। সুইডেন একাদশ:রবিন ওলসেন, মিকায়েল লুসতিগ, আন্দ্রিয়াস গ্রাংকভিস্ত, ভিক্তর লিনদেলোফ, লুদভিক আউগুস্তিনসন, ভিক্তর ক্লসন, গুস্তাভ স্ভেনসন, আলবিন একদাল, এমিল ফর্সবার্গ, মার্কাস বার্গ, ওলা তইভনেন সুইজারল্যান্ড একাদশ:ইয়ান জমের, মিখায়েল লাং, মানুয়ের আকাঞ্জি, জোহান জোরু, রিকার্দো রদ্রিগেস, ভালন বেহরামি, গ্রানিত জাকা, জেরদান সাচিরি, ব্লেরিম জেমাইলি, স্টিভেন সুবার, ইয়োসিপ দার্মিচ | 12 |
সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মঞ্জু নাজনীন রোজী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আজ রবিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। গণমাধ্যমকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান (এফ আর) খান। তিনি বলেন, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মঞ্জু নাজনীন রোজী বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 4 |
ছবির ব্যক্তিটিকে আওয়ামী লীগের পুরনো নেতাকর্মীরা সকলেই নিশ্চয়ই চেনেন। আমার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, আওয়ামী লীগ ঘরানার একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ছবিটি পাঠিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের কাছে তিনি 'পোস্টার নুরুল ইসলাম ভাই' হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আমলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। আমার খুবই প্রিয় একজন ব্যক্তি। তাঁর মুখে শুনেছি, বঙ্গবন্ধুর সাথে একই ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তিনি নির্লোভ, একজন সাদা মনের মানুষ। তিনি চিরকুমার ছিলেন। পশ্চিম ধানমন্ডিতে একটি পুরানো বিল্ডিং-এর দোতলায় অবস্থিত দুই কক্ষ বিশিষ্ট বাসায় থাকতেন। তিনি আমার সাথে অনেক ব্যক্তিগত কথা বলতেন। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু তাঁকে ধানমন্ডিতে একটি বাড়ি উপহার দিতে চেয়েছিলেন। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, "মুজিব ভাই, আমি বাড়ি পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি নাই"। তিনি বাড়িটি নেননি। মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই তাঁর খোঁজ নিতেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছি, ২০০৮ এ ক্ষমতায় আসার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম ভাইয়ের জন্য প্রায়ই আর্থিক সাহায্য পাঠাতেন। আরও শুনেছি, ঐ অর্থ নুরুল ইসলাম ভাই পাননি। হয়তো, যার মাধ্যমে পাঠাতেন, তিনি লোভ সামলাতে পারেন নি। নুরুল ইসলাম ভাই আমাকে খুব স্নেহ করতেন। উনার বাসায় আমার যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে এবং উনার শোয়ার ঘরেও আমি গিয়েছি। কড়কড়া মাড় দেওয়া ইস্ত্রী করা সাদা পাঞ্জাবি পরতেন। শোয়ার ঘরে একটি আলনা ছিল। পাঞ্জাবিটা খুলে ঐ আলনার উপর রাখতেন। আবার বের হওয়ার সময় ওটাই গায়ে দিতেন। বিছানায় গায়ে দেওয়ার জন্য একটি সুন্দর নকশিকাঁথা দেখেছিলাম। এমনভাবে ছিল, মনে হচ্ছিল এইমাত্র কেহ ঘুম থেকে উঠে গেল, এখনই ঘুমাতে যাবেন। একজন ছুটা কাজের বুয়া ছিল রান্না করার জন্য। একদিন রান্না করে, দু'দিন খেতেন। তিনি নিয়মিত ধানমন্ডি ৩ নং রোডে মাননীয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে আসতেন। দপ্তর সম্পাদকের টেবিলের সামনে চেয়ারে বসে পত্রিকা পড়তেন। খুব আস্তে আস্তে কথা বলতেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে অনেক স্মৃতির কথা বলতেন। নেত্রী যখন ঐ কার্যালয়ে আসতেন, আমাকে বলতেন, "আমি নেত্রীর সাথে কথা বলবো"। নেত্রীও উনার সাথে অনেকক্ষণ কথা বলতেন। নেত্রীর রুম থেকে বের হওয়ার পর, উনার চেহারায় আনন্দের ছাপ ভেসে উঠতো। ২০১৫ সালের গোড়ার দিকে, সঠিক দিন/তারিখ স্মরণে নেই, তিনি আমাদের মাঝ থেকে নীরবে চলে গেছেন, না ফেরার দেশে। চাঁদপুরের মতলবে উনার গ্রামের বাড়ির গোরস্থানে নিভৃতে ঘুমিয়ে আছেন। বর্তমান হাইব্রিড আওয়ামী লীগারদের ভীড়ে এমন নিবেদিত প্রাণ নির্লোভ আওয়ামী লীগ নেতা বা কর্মী পাওয়া দুর্লভ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, বাঙালীর মুক্তির জন্য ইহলোকে তিনি অনেক কষ্ট করেছেন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। হে পরম করুনাময় আল্লাহ, পরলোকে উনাকে শান্তিতে রাখুন। আমিন। লেখক : কৃষিবিদ, পরিবেশবিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
সাভারের আশুলিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বিনিময় হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে আবদুর রহিম (৪৫) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হন। সংঘর্ষে আহত হন আরও ১০ জন।
বুধবার বিকেলে আশুলিয়ার নয়ারহাট বাজারে পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেনের কর্মীদের সঙ্গে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের কর্মীদের এ সংঘর্ষ হয়। নিহত আবদুর রহিমের বাড়ি নয়ারহাটের চাকল গ্রামে।
পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা পারভেজ দেওয়ান নিজেই রহিমকে গুলি করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পারভেজ দেওয়ান।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে পারভেজ দেওয়ানের বিরোধ চলে আসছিল। উভয় পক্ষই এলাকায় বালু ও ঝুট ব্যবসা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টাবা করে। এরই জের ধরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পারভেজ দেওয়ান গ্রুপ নয়ারহাট বাজারে মোয়াজ্জেম হোসেনের এক কর্মীকে মারধর করে।
এ খবর মোয়াজ্জেম হোসেনের কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা একত্র হয়ে নয়ারহাট বাজারে এলে দু'গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এতে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলি। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে মোয়াজ্জেম হোসেনের কর্মী আবদুর রহিম মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলাকালে নয়ারহাট বাজার এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পারভেজ চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে বালু ভরাট, ঝুট ব্যবসা, জমি দখলসহ এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তার লোকজন আমার কর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় এবং পারভেজ চেয়ারম্যান নিজেই আমার খালাতো ভাই রহিমকে গুলি করে হত্যা করেন।
এদিকে পারভেজ চেয়ারম্যান এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন না। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিনুল কাদির জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আবদুর রহিমের লাশ উব্দার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| 6 |
স্বাধীনতা দিবসে 'মানুষ হত্যা' ও 'পুলিশি হামলার' অভিযোগে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিএনপি। আজ সোমবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। মহানগর বিএনপি ও তার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার সংঘর্ষে হতাহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপি ২৯ মার্চ ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে এবং ৩০ মার্চ জেলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এই কর্মসূচির আয়োজক। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা সড়কে অবস্থান করছেন। এ কারণে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জাতীয় প্রেসক্লাব ও তার আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। বেলা ১১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলার, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল বাসিত, সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ। সমাবেশে বিএনপির নেতারা বলেন, এখন পর্যন্ত ১৭ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা দিবসে মানুষ হত্যা ও পুলিশি হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্বাধীনতা দিবসে এই ঘটনার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে কলুষিত করা হয়েছে। বিএনপি চায়, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক। তা না হলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এই অন্যায় কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। | 9 |
আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে কাউন্সিলে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন রোববার বিকালে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বর্তমান কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়ার পরপরই নির্বাচনী অধিবেশন শুরু হয়।
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন- সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এডভোকেট সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, এডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, রমেশ চন্দ্র সেন ও পীযূষ ভট্টাচার্য। | 9 |
রাজবাড়ীর পাংশায় ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে উপজেলা সড়কের চান্দুর মোড়। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দারা।গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের ভবন পার হয়েই পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়াল ঘেঁষে ফেলে রাখা হয়েছে ময়লা। ময়লার মধ্যে পড়ে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা হেডকোয়ার্টার কলেজ মোড় ডি, আর সড়কের একটি মাইলফলক সাইনবোর্ড।ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন ময়লা নেওয়ার কথা থাকলেও সপ্তাহে একদিন নিত পৌর কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি দীর্ঘদিন ময়লা না নেওয়ায় স্তূপে পরিণত হয়েছে। মোড়ের সামনে এ রকম একটি ময়লার স্তূপ হওয়া ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা।এ বিষয়ে সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব খোকন বিশ্বাস বলেন, ময়লার স্তূপের পাশে লালন সংগীত চর্চা কেন্দ্র। এই লালন সংগীত চর্চা কেন্দ্র অনেক গুণী মানুষের যাতায়াত রয়েছে। ময়লার ভাগাড়টি দৃষ্টিকটু দেখায়।স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তবে আমাকে এ বিষয়ে কেউ জানায়নি। দ্রুত ময়লাগুলো অপসারণ করা হবে।স্থানীয়রা বলেন, ময়লার স্তূপের পশ্চিম পাশে উপজেলা পরিষদ ভবন। উত্তর দিকে সরকারি হাসপাতালে প্রবেশের একমাত্র পথ। এই জায়গাটিতে ময়লার স্তূপ কারও কাম্য নয়।পাংশা পৌর মেয়র ওয়াজেদ আলী মণ্ডরের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা ধরেননি। | 6 |
মিরসরাই থেকে বিদেশি পিস্তল ও মাদকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার ভোররাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার করেরহাট ইউনিয়নের কাটাগাং রাস্তার মাথা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকসহ পুলিশ চারজনকে আটক করে। এ সময় তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, একই ইউনিয়নের ঘেরামারা আদর্শ গ্রাম থেকে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে বিদেশি পিস্তল ও মাদকসহ আটক করে জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ।আটককৃতর হলেন-উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের সামনেরখীল ঘেরামারা আদর্শ গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. সুমন (৩০), মৃত রুবেল মিয়ার ছেলে মো. রাজু (২৪), আবুল বশরের ছেলে মো. সুমন (৩৪), মৃত মো. হারুনের ছেলে মো. রুবেল (১৯), ঘেরামারা আদর্শ গ্রামের মৃত আহম্মেদ সোবহানের ছেলে মো. মামুন (৩৪) এবং তাঁর স্ত্রী বিবি খতিজা (২৭)।জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর হোসেন মামুন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে করেরহাট ইউনিয়নের কাটাগাং রাস্তার মাথা থেকে ৫ বোতল ফেনসিডিল ও ২ বোতল ভারতীয় হুইস্কিসহ মো. রুবেল, মো. রাজু, মো. সুমন ও রুবেলকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুসারে ঘেরামারা আদর্শ গ্রাম থেকে ১৪ বোতল ভারতীয় তৈরি হি-ম্যান বিয়ার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ১ টি পিস্তল এবং পিস্তলের মধ্যে লাগানো একটি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড বুলেট, ০১ টি ব্যাটন স্টিকসহ মো. মামুন ও তাঁর স্ত্রী খতিজা বিবি কে আটক করা হয়েছে।আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে চালান করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান নূর হোসেন মামুন। | 6 |
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি নামক এলাকার মুন পাম্পের সামনে সকাল ৭টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহতের নাম আম্বিয়া খাতুন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দির মুন পাম্পের সামনে একটি সিমেন্ট মিক্সচার গাড়ি পার্কিং করা মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রীরা গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। মাইক্রোবাসটি কুমিল্লা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহতদের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত আম্বিয়া খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।এ বিষয়ে ভবেরচর হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আম্বিয়া খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকি তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি গাড়ি ভবেরচর হাইওয়ে থানার হেফাজতে রয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। | 6 |
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় নাজিম উদ্দিন খুনের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি রিমন ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গতকাল শুক্রবার দুপুরে ইমনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিন ভোরে উপজেলার চকবোচাই গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার হওয়া ২১ বছর বয়সী রিমন উপজেলার সোন্দাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নাজিম খুনের ঘটনায় গাবতলী মডেল থানায় মামলা করা হয়। নিহত নাজিমের মা রাশিদা বেগম এ মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়।অন্য আসামিরা হলেন উপজেলার তরফমেরু দক্ষিণপাড়া গ্রামের ইভান, ইরাশ, রেজাউল, আসিফ, রাব্বী, রকেট; সোন্দাবাড়ী গ্রামের রোহান, তৌহিদ, আল মাহমুদ, শ্রাবণ; চক কাতুলী গ্রামের রহিম বাদশা ও গোড়াদহ গ্রামের শাওন।গত বুধবার সন্ধ্যায় গাবতলী উপজেলার দাঁড়াইল বাজার এলাকায় ছুরিকাঘাতের শিকার হন নাজিম। পরে ওই দিন রাত পৌনে ৯টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।নিহত নাজিম উপজেলার দাঁড়াইল তরফসরতাজ গ্রামের পূর্বপাড়া গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে।মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গাবতলী পাইলট স্কুলের মাঠে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি চলছিল। ওই সময় নাজিমের প্রতিবেশী অন্তর নামের এক যুবকের সঙ্গে আসামি ইরাশের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় অন্তর মোবাইল ফোনে নাজিমকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। অন্তরের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইরাশকে ধমক দেন নাজিম। এ সময় অভিযুক্ত ইরাশ, রিমনসহ অন্যরা নাজিমের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা উপজেলার দাঁড়াইল বাজারে অবস্থান নেন। ওই সময় বাজার এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন নাজিম। বাড়ি ফেরার পথে নাজিমের পথ আটকিয়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন আসামিরা। এ ছাড়া লোহার জিআই পাইপ ও রড দিয়েও তাঁকে মারধর করা হয়।স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে শজিমেক হাসপাতালে পাঠান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক। শজিমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।বগুড়ার ছিলিমপুর (মেডিকেল) পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. শামীম হোসেন জানান, শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজিমের মৃত্যু হয়। তাঁর পেটের বাঁ পাশে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রিমন ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। | 6 |
ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে টি-টোয়ন্টি বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইয়িং রাউন্ডের খেলা। এখনও পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছে স্কটল্যান্ড। শক্তিশালী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছেন স্কটিশরা। এশিয়ার টেস্ট খেলা শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে অ্যাসোসিয়েট স্কটল্যান্ডের পারফরম্যান্স সমর্থক থেকে বিশেষজ্ঞ সকলের নজর কেড়ে নিয়েছে। বিশ্বকাপে সুপার ১২-য় কোয়ালিফাই করার জন্য বর্তমানে স্কটল্যান্ড বেশ ভাল জায়গায় রয়েছে। তবে তাদের যে শুধু ক্রিকেট নজর কেড়েছে তা নয়। বাকি ১৫টি দলের জার্সি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন তাদের জার্সির রং এবং ডিজাইন। তা নজর কেড়েছে প্রায় সকলেরই। খবর সংবাদ প্রতিদিনের। সাধারণত যে কোনও দেশের জার্সি নামী কোনও ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা তৈরি করে। বড় কোনও ডিজাইনার থাকেন সেই জার্সি তৈরির তত্ত্বাবধানে। তবে তা বেশ খরচসাপেক্ষও হয়। তবে স্কটিশদের ক্ষেত্রে ছবিটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর পাঁচটি নামী সংস্থা নয়, তাদের জার্সি ডিজাইন করেছে ১২ বছরের এক নাবালিকা। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও সেটাই সত্যি। আর ওই জার্সি পরেই স্কটল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপে নামছে। কাইল কোয়েটজারদের জার্সির ডিজাইন করেছে রেবেকা ডাউনি নামক ১২ বছর বয়সি এক খুদে। স্কটল্যান্ড ক্রিকেটের তরফে বাংলাদেশ ম্যাচ চলাকালীন স্কটিশ জার্সি পরিহিত রেবেকার একটি ছবি তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে তাকে জার্সিটির ডিজাইন করার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। এক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রেবেকার ডিজাইনটি বেছে নেওয়া হয় বলে শোনা যাচ্ছে। ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেছে কি না যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তবে স্কটল্যান্ডের জার্সি দেখে একটা বিষয় নিশ্চিত, এই রাস্তায় হাঁটলে রেবেকার ভবিষ্যৎ বেশ উজ্জ্বল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকারীর অনেকেই ওই খুদের এই কাজের প্রশংসা করেছেন। | 12 |
নাটোরের লালপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ঘাটে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে নিখোঁজ হওয়া পাপড়িকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় এ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।নিখোঁজ হওয়া পাপড়ি ওই গ্রামের জুলহাস উদ্দিন পাখির মেয়ে। পাপড়ি নুরানী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।নিখোঁজ পাপড়ির খালা কোহিনুর বেগম বলেন, তাঁর মেয়ে রানী ও বোনের মেয়ে পাপড়ি দুপুর ১টায় স্কুল থেকে ফিরে একত্রে গোসল করতে নদীতে যায়। প্রবল স্রোত থাকায় তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে রানীকে উদ্ধার করা গেলেও পাপড়ি স্রোতে ভেসে যায়। পাপড়ির বাবা জুলহাস উদ্দিন পাখি বলেন, স্থানীয় জেলেরা নদীতে জাল ফেলে পাপড়িকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছে। পরে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দিলে তাঁরা রাত ৮টা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিন্তু পাপড়ির সন্ধান না পেয়ে আজ সকাল থেকে তাঁরা আবারও উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন।লালপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সঙ্গে লালপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা একত্রে উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিখোঁজ পাপড়ির দেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সঙ্গে লালপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গতকাল উদ্ধার কাজ শুরু করেন। বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাঁরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে পাপড়ির সন্ধান পাননি। তাই নিখোঁজের সন্ধানে আবারও আজ সকাল ৭টায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। | 6 |
সহকারি নারী রেফারি (লাইন্সম্যান) সিয়ান মাসে-এলিসের গায়ে স্পর্শ করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ম্যানসিটির আর্জেন্টাইন ফুটবলার সার্জিও আগুয়েরো। এ ঘটনার কারণে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচ জিতেও স্বস্তিতে নেই সিটি। প্রথমার্ধের খেলা তখন প্রায় শেষের দিকে। সিটির মাঠ ইতিহাদে নারী সহকারী রেফারি সিয়ান ম্যাসি-এলিস আর্সেনালের পক্ষে থ্রো-ইনের জন্য পতাকা তোলেন। আগুয়েরো সেটা মানতে পারেননি, তার দাবি ছিল থ্রো-ইনটা সিটির পাওনা।এ নিয়ে কিছুটা তর্কাতর্কি হয় ম্যাসি-এলিসের সঙ্গে। এক পর্যায়ে তার কাঁধে হাত রাখেন আগুয়েরো, স্পর্শ করেন পিঠও। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপারটা পছন্দ হয়নি ওই নারী রেফারির, এক ঝটকায় তিনি সরিয়ে দেন আগুয়েরোর হাত। এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্য আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। আগুয়েরোর এমন কাজ 'অপেশাদার, লজ্জাকর' আখ্যা দিয়ে তাকে রীতিমত ধুয়ে দিচ্ছেন নেটিজেনরা। যদিও ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলা ব্যাপারটাকে ওত বড় করে দেখতে রাজি নন। তিনি ঘটনাটিকে হালকভাবে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'ছাড়ুন না এটা। সার্জিও আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভালো মানুষ। অন্য কিছু নিয়ে সমস্যা বের করুন, এটা নিয়ে নয়।' | 12 |
বোলিংটা বাজে হলেও ব্যাট হাতে দারুণ খেলছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন শেষে চট্টগ্রাম টেস্টে উজ্জ্বল স্বাগতিক শিবির। তামিম ইকবালের দারুণ সেঞ্চুরির পর জয়ের ফিফটি। এরপর চতুর্থ অবিচ্ছিন্ন উইকেটে লিটন ও মুশফিকের ফিফটিতে দারুণ অবস্থানে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩১৮ রান। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা করেছিল ৩৯৭ রান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে ৭৯ রানে। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের রান ছিল বিনা উইকেটে ৭৬। এখান থেকে দলকে ১৬২ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান দুই ওপেনার তামিম ও জয়। লাঞ্চ বিরতির পর মাহমুদুল হাসান জয়কে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আসিথা ফার্নান্দো। ১৪২ বলে ৯ চারে তিনি খেলেন ৫৮ রানের ইনিংস। এরপর তামিম পেয়ে যান তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি। ১৬২ বলে বাঁহাতি ওপেনার পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। যেখানে চার ১২টি। টেস্টে ১৬ ইনিংস পর সেঞ্চুরি পেলেন তামিম। সবশেষ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১২৬ রানের ইনিংস। সব মিলিয়ে এটি তার দশম টেস্ট সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল অধিনায়ক মুমিনুল হকের, ১১টি। ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে তামিমের এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রথমটি ছিল সেই ২০১৪ সালের নভেম্বরে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০৯। তিন নম্বরে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। ২২ বলে ২ রান করে তিনি ফেরেন বিশ্ব ফার্নান্দোর কনকাশন সাব কাসুন রাজিথার বলে। ব্যক্তিগত ১০২ রানের মাথায় জীবন পান তামিম। অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিসের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ডিফেন্স করতে গিয়ে মিস করেন তামিম। কট বিহাইন্ডের আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তামিম। অধিনায়ক মুমিনুল হক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। আউট হয়ে যান বাজে এক শটে। ডানহাতি পেসার কাসুন রাজিথার লেংথ বল ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন মুমিনুল। কিন্তু ব্যাট ও প্যাডের মাঝে ফাঁক ছিল অনেকটা। সেই ফাঁক গলে বল ভেঙে দেয় স্টাম্প। এই নিয়ে টানা পাঁচ ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে ব্যর্থ হলেন মুমিনুল। ১৯ বলে মুমিনুলের রান মাত্র ২। ব্যক্তিগত ১১৪ রানের মাথায় আবার জীবন পান তামিম। রমেশ মেন্ডিসকে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন তিনি। বল ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ যায় স্লিপে। তবে কঠিন ক্যাচটা নিতে পারেননি ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম সেশনে যেখানে ২৮ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে তুলেছিল ৮১ রান। পরের সেশনে ২৫ ওভারে ৬৩ রান তুলতে স্বাগতিকরা হারায় ৩ উইকেট। অপরাজিত থাকলেও তৃতীয় সেশনে ব্যাট হাতে নামেননি তামিম। ক্র্যাম্পের সমস্যায় তিনি থাকেন সাজঘরে। ২১৭ বলে ১৩৩ রানে অপরাজিত আছেন তামিম। তার ইনিংসে নেই কোনো ছক্কা, চার ১৫টি। দিনের শেষ সেশন দারুণ দক্ষতায় কাটিয়ে দেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। দুজনই ফিফটি করে থাকেন অপরাজিত। প্রথম ফিফটি করেন লিটন। ৯৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করতে তিনি চার মারেন ৮টি। টেস্টে লিটনের এটি দ্বাদশ টেস্ট ফিফটি। বছরের শুরুতে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরির পর আবার পঞ্চাশ ছুঁলেন তিনি। মাঝে চার ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল ৪১। এরপর ফিফটির দেখা পান মুশফিকও। ১২৪ বলে ২টি চারে ফিফটিতে পৌঁছান তিনি। মুশফিকের এটি ২৬তম টেস্ট ফিফটি, বাংলাদেশের হয়ে যা সাকিব আল হাসানের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৩১টি ফিফটি করে চূড়ায় আছেন তামিম ইকবাল। দিন শেষে লিটন দাস ৫৪ ও মুশফিক ৫৩ রানে আছেন অপরাজিত। | 12 |
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি টিনের গোডাউনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট ১১টা ৪২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং ১২.৩০ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে জানা গেছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান সিকদার।শাহজাহান সিকদার বলেন, চকবাজারের আশিক টাওয়ারের পাশে ওই টিনের গোডাউনটির অবস্থান। ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট কাজ করে প্রায় ৪৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে ক্ষয়ক্ষতিসহ বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.