text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে, বাসে হাফ ভাড়া কার্যকরের ঘোষণা দেয় পরিবহন বাস মালিক সমিতি। সে হিসেবে আজ বুধবার (১ ডিসেম্বর) থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর হওয়ার কথা হাফ ভাড়া। কিন্তু রাজধানীর বেশকিছু পরিবহনে এখনো কার্যকর হয়নি অর্ধেক ভাড়া। শিক্ষার্থীরা আইডি কার্ড দেখানোর পরেও পুরো ভাড়া দিতে হচ্ছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এমন অভিযোগ করেছেন। রাজধানীর রামপুরার একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার বলেন, তার বাসা মধ্যবাড্ডা। হাফ পাসের আন্দোলন শুরু হওয়ার আগে ফুল ভাড়া দিয়েই তাকে কলেজে আসতে হতো। এমনকি মঙ্গলবার মালিকপক্ষ হাফ ভাড়া নেয়ার ঘোষণা দিলেও তা কার্যকর হয়নি। আজ বুধবার মধ্যবাড্ডা থেকে ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে রামপুরা এসেছেন। স্টুডেন্ট পরিচয় দেয়ার পরেও অর্ধেক ভাড়া কাটা হয় না বলে জানান বাসের সুপারভাইজার। বাধ্য হয়ে ১০ টাকাই ভাড়া দেন তিনি। হালিমা আক্তার বলেন, এখন থেকে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সেটি হলো, কলেজ ড্রেস পড়া দেখলে কোনো বাস আমাদের উঠাতে চাচ্ছে না। গুলশান কমার্স কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রামপুরা থেকে আলিফ পরিবহনের বাসে বাড্ডা লিংক রোড যেতে তাকে ফুল ভাড়া গুণতে হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কলেজ থেকে এখনো আইডি কার্ড দেয়নি। কিন্তু আমার ইউনিফর্ম পড়া রয়েছে। কলেজ ব্যাগ ও বইখাতা রয়েছে। তাও আমার কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেয়া হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গণপরিবহনে হাফ ভাড়া নিতে সম্মত হয় বাস মালিকরা। তবে এই সিদ্ধান্ত শুধু ঢাকায় কার্যকর থাকবে। ঢাকার বাইরের কোনো শহরের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাবে না। | 6 |
সখীপুর-সাগরদীঘি সড়কে হাতি দিয়ে গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। হাতি দিয়ে চাঁদা নেওয়ায় পথচারী, যানবাহনের যাত্রী ও ব্যবসায়ীরাও অতিষ্ঠ। আবার কেউ কেউ টাকা দিচ্ছেন খুশি মনেই। গত বুধবার বিকেলে ওই সড়কের বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে এমন চিত্র।সরেজমিন দেখা যায়, একটি বড় হাতি নিয়ে সখীপুর-সাগরদীঘি সড়কে মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করছেন এক যুবক। তিনি যানবাহনে থাকা যাত্রী, পথচারী ও চালকদের কাছ থেকে অনেকটা জোরপূর্বক টাকা আদায় করছেন। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো গাড়ি ও পথচারীকেই ছাড়ছে না হাতিটি। একে একপ্রকার চাঁদাবাজি বলেছেন পথচারীরা।পথচারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম। পথে হঠাৎ একটি হাতি সামনে এসে দাঁড়ায়। তারপর শুঁড় উঁচু করে টাকা চায়। টাকা না দিলে হাতি হুংকার দিয়ে তেড়ে আসে। পরে ১০ টাকা দিয়ে ছাড়া পাই।'ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী খোরশেদ আলম বলেন, অটোরিকশা দেখেই বড় একটি হাতি সামনে এসে দাঁড়ায়। তাকে ১০ টাকার কম দিলে সে সেটা নেয় না। হাতির তো টাকা চেনার কথা নয়। হাতিটির পিঠে বসে থাকা যুবক কৌশলে ১০ টাকার বেশি নিতে বাধ্য করায়। | 6 |
ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও নিরাপত্তা সরঞ্জামবিহীন নৌযান এবং সনদবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে বরিশালে অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ নৌ পরিবহন অধিদপ্তর। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে এই অভিযান চালান নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের পরিচালক (উপ সচিব) বদরুল হাসান লিটন। এসময় বরিশাল জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী অভিযানে ১৪টি নৌযান আটক করা হয় এবং ১৪ জন চালককে দেওয়া হয় বিভিন্ন পরিমাণ আর্থিক দণ্ড। এসময় রেজিস্ট্রেশন, সার্ভে সনদ এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামবিহীন ১৪টি বলগেট, ড্রেজার, ট্রলার, কার্গো এবং স্পিড বোট আটক করা হয়। নৌযান চালানোর বৈধ সনদ না থাকায় বিভিন্ন অঙ্কের আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয় অবৈধ নৌযান চালকদের। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
শ্রীলংকায় পৃথক বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা দুইশ' ছড়িয়েছে।রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের গির্জা ও হোটেলে আটটি বিস্ফোরণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করার সময় বিস্ফোরণগুলো হয়। হামলায় ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।ইস্টার সানডে উপলক্ষে রোববার সকালে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনা করার সময় গির্জায় বিস্ফোরণ ঘটে- অনলংকাবোমা বিস্ফোরণের পর শ্রীলংকার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ধ্বংসাবশেষে আলামত সংগ্রহ করে- সামা টিভিশ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় বোমা হামলার সেখানে সেনা অভিযান- এএফপিশ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় বোমা হামলার সেখানে সেনা অভিযান- এএফপিশ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় বোমা হামলার সেখানে সেনা অভিযান- এএফপি শ্রীলংকায় পৃথক বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা দুইশ' ছড়িয়েছে।রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের গির্জা ও হোটেলে আটটি বিস্ফোরণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করার সময় বিস্ফোরণগুলো হয়। হামলায় ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।ইস্টার সানডে উপলক্ষে রোববার সকালে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনা করার সময় গির্জায় বিস্ফোরণ ঘটে- অনলংকাবোমা বিস্ফোরণের পর শ্রীলংকার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ধ্বংসাবশেষে আলামত সংগ্রহ করে- সামা টিভিশ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় বোমা হামলার সেখানে সেনা অভিযান- এএফপিশ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় বোমা হামলার সেখানে সেনা অভিযান- এএফপি শ্রীলংকায় পৃথক বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা দুইশ' ছড়িয়েছে।রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের গির্জা ও হোটেলে আটটি বিস্ফোরণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করার সময় বিস্ফোরণগুলো হয়। হামলায় ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।ইস্টার সানডে উপলক্ষে রোববার সকালে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনা করার সময় গির্জায় বিস্ফোরণ ঘটে- অনলংকাবোমা বিস্ফোরণের পর শ্রীলংকার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ধ্বংসাবশেষে আলামত সংগ্রহ করে- সামা টিভিশ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় বোমা হামলার সেখানে সেনা অভিযান- এএফপি শ্রীলংকায় পৃথক বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা দুইশ' ছড়িয়েছে।রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের গির্জা ও হোটেলে আটটি বিস্ফোরণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করার সময় বিস্ফোরণগুলো হয়। হামলায় ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।ইস্টার সানডে উপলক্ষে রোববার সকালে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনা করার সময় গির্জায় বিস্ফোরণ ঘটে- অনলংকাবোমা বিস্ফোরণের পর শ্রীলংকার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ধ্বংসাবশেষে আলামত সংগ্রহ করে- সামা টিভি শ্রীলংকায় পৃথক বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা দুইশ' ছড়িয়েছে।রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের গির্জা ও হোটেলে আটটি বিস্ফোরণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করার সময় বিস্ফোরণগুলো হয়। হামলায় ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। | 3 |
বিশ্বাস এমন একটি জিনিস, যা কেউ হারাতে চায় না। আমরাও বিশ্বাস করতেই চেয়েছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে বিশ্বাস শুধু টলে যায়নি, বরং ধুয়েমুছে সাফ হওয়ার জোগাড়। বিশ্বাস স্থাপন করে এখন আর কাঙ্ক্ষিত কিছু মিলছে না, মিলছে সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা। ঢাকা শহরে ডেঙ্গু প্রথম এসেছিল একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে। আমরা হয়তো বিশ্বাস করেছিলাম যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এত বছরে ডেঙ্গু ঠেকাতে কিছু প্রাথমিক ব্যবস্থা নিতে পারবে। এটি ঠিক, অঙ্ক কষে কখনো রোগ নির্মূল করা যায় না। অনেক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকির কারণে এটি সম্ভব হয় না। তবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু সেই কাজটিও যে করা হয়নি, তা এ বছর পরিষ্কার। তাই ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ছেলেকে দাফন করে এসেই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত মেয়ের পাশে উদ্বেগে দিন কাটাতে হচ্ছে মা-বাবাকে। ঢাকা ও এর আশপাশে শুরু হয়েছে রক্ত খোঁজার হুড়োহুড়ি। হাসপাতালে লাইনও বড্ড লম্বা। কেউ যাচ্ছেন জীবন বাঁচাতে, কেউ যাচ্ছেন জীবন ঝুঁকিতে আছে কি না, জানতে। অথচ শুরুতে রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেছিলেন, সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন 'ছেলেধরার মতো গুজব'। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা নিয়েও তাঁর আপত্তি ছিল। তা থাকতেই পারে। তাঁর কথার সারমর্ম ছিল, ডেঙ্গু ভয়ংকর রূপে দেখা দেয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথার সুরও তেমনি ছিল। এই কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেই আছে। বিভ্রান্ত আমরা ক্ষুব্ধ মনে হয়তো কিছুটা মেনেও নিয়েছিলাম। ধন্দে থাকা স্বাভাবিক, সরকারের মাথারা কি আর ভুল বকবেন? অথচ এর কিছুদিনের মধ্যেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ল দেশের প্রায় সব জেলাতে। নিজের পরিচিতদের মধ্যেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর কানে এল। এক নিকটজন ডেঙ্গু জ্বরে হাসপাতালে গেলেন। মানসিক ঝড়ঝাপটা ফের জানিয়ে গেল, ডেঙ্গু হওয়ার জ্বালা কেমন! দুই-তিন বছর ধরেই ব্যক্তিগতভাবে ঢাকার মশার কামড়ের 'তাৎপর্য' বোঝার অভিজ্ঞতা হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশ্বাসে বিশ্বাস রাখা তাই এভারেস্ট জয়ের চেয়েও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আতঙ্ক বড়ই সংক্রামক। সাধারণ জ্বরও এখন ডেঙ্গু মনে হচ্ছে। ভিড় বাড়ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সবাই জানতে চাইছেন, রক্তে ডেঙ্গুর বীজ আছে কি নেই। প্রথম দিকে আমাদের বিশ্বাস ছিল, পরীক্ষার ফি নিশ্চয়ই খুব বেশি নেওয়া হচ্ছে না। তবে সেই বিশ্বাসও ভেঙেচুরে একাকার। আদালত যে মূল্য নির্ধারণ করেছেন, তার সঙ্গে আগের মূল্যের তফাত অনেক। এখন আবার ডেঙ্গু পরীক্ষার উপকরণ বা কিটের সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইউরোপ ও কোরিয়ায় তৈরি ভালো মানের যে কিট ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় পাওয়া যেত, সেটি এখন ৫০০ টাকায় উঠেছে। চীনের তৈরি ১৫০ টাকার কিট বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। এই দেশে সব সমস্যার সমাধান হয় ভোক্তার মাথায় কাঁঠাল ভেঙে। এবার তার ব্যতিক্রম হবে, সেটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। অর্থাৎ শান্তিমতো একটু রক্ত পরীক্ষা করারও জো নেই। আবার ব্যক্তিগতভাবে যে মশা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবেন, তাতেও টাকার থলে যথেষ্ট পরিমাণ হালকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। বাড়ছে মশা তাড়ানোর 'অস্ত্রে'র দাম। মশার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করেন অনেকে। এসবের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। এবার মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রথমত, এগুলো বাজারে সার্চলাইট জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, যদি পাওয়াও যায়, তবে দাম জানতে গিয়ে জ্ঞান হারানোর অবস্থা। বিক্রেতাদের অকাট্য যুক্তি-'মার্কেট আউট'। এক বন্ধুর কাছ থেকে জানলাম, গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের দ্বিগুণ দামে পণ্য কিনতে হয়েছে তাঁকে। বিশ্বাস হচ্ছিল না। সরেজমিনে দেখলাম, একটি কোম্পানির তৈরি ৯৯ টাকার মশা তাড়ানোর লোশন বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। কেনার পর পণ্যের গায়ে লেখা দামের স্টিকারের দিকে তাকালে কেমন যেন লাগে! কিছুটা রাগ, অনেকটা অসহায়ত্ব আর সর্বগ্রাসী আতঙ্কের এক ঘুঁটা। এ দেশে জীবনের চেয়ে ব্যবসার দাম বেড়েছে অনেক দিন আগে। জানা বিষয়টাই চোখের সামনে নাঙ্গা হয়ে গেলে খুব অস্বস্তি লাগে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনো বলছেন, ডেঙ্গু মহামারি আকার নেয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু মৃতদেহের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা আতঙ্কের বানে বাঁধ দিতে পারছে না। তিন-চার দিনের জ্বরে ফুটফুটে শিশুদের অকালে ঝরে যাওয়ার খবর শুনলে আতঙ্ক কীভাবে কমবে? তা-ও যদি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সরকারি কর্মকাণ্ড চোখের সামনে নিয়মিত মূর্ত হতো, তবে হয়তো তা স্বস্তি জাগাতে পারত। কিন্তু দিন শেষে আশ্বাস আর জনগণের মনে বিশ্বাস জাগাতে পারছে না। কারণ, বিশ্বাস করে বারবার ঠকে যাওয়ার বেদনা বড্ড তীব্র। ক্রমাগত একই ঘটনা ঘটলে একসময় বিশ্বাসের ভিত ভেঙে বিশ্বাসহীনতার প্রবণতা জন্ম নিতে পারে। আমাদের না আবার গণহারে পিসটানথ্রোফোবিয়া হয়ে যায়! এটি একধরনের মানসিক রোগ। এই রোগে কাউকে বিশ্বাস করতে বা কারও ওপর আস্থা রাখতে ভয় হয়। কবিগুরু বলেছিলেন, মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। পাপের ভাগী না হয়ে চলুন বরং আশায় থাকি, ফের বিশ্বাস করি। একদিন হয়তো উড়োজাহাজে চেপে মশা তাড়ানোর কার্যকর ওষুধ আসবে, হয়তো তা ঠিকমতো ছিটানো হবে, হয়তো ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে, হয়তো এবারের ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গু আরও ভয়ংকর রূপ নেবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। ভুলবেন না, বিশ্বাসে মিলায় -। চিন্তার কিছু নেই। শূন্যস্থানে বসানোর মতো অনেক শব্দ আছে। ডেঙ্গু, ভোগান্তি, মৃত্যু-আরও কত-কী! অর্ণব সান্যাল: সাংবাদিক [] | 8 |
দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। সেচে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে উপরিস্থিত পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। যাতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে পরিবেশ বিপর্যয় না হয়। সুবিধামতো বৃষ্টির পানি ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক চেয়ারপারসন হিসেবে এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে সংযুক্ত হন তিনি। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনা কমিশন সদস্য সরকারের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিকের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সাধারণত পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান একনেক বৈঠক শেষে ব্রিফিং করে থাকেন। তার অসুস্থতাজনিত কারণে কমিশন সদস্য ব্রিফ করেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি আছেন। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে সংশ্নিষ্ট সচিবরাও প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রসঙ্গে আসাদুল ইসলাম আরও বলেন, প্রকল্পের কাজের মান উন্নয়নে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণেও উন্নতমান বজায় রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ভারী যানবাহন চলাচল উপযোগী করে শহরের ন্যায় গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোও উন্নত করতে হবে। কারণ, গ্রাম-শহর তফাৎ কমে আসায় গ্রামীণ সড়ক দিয়েও ভারী যানবাহন পরিবহনের প্রয়োজন হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সারাদেশে ১০০ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল হওয়ার প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহনে চাহিদা আরও বাড়বে। এ কারণে রানওয়ের উন্নয়ন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যাতে পানি দূষিত না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। অতীতে এ ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা ছিল। এক হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প অনুমোদন: একনেকে মঙ্গলবার মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে একনেকে মঙ্গলবার মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি সংটি সংশোধনী। বাকি তিনটি নতুন প্রকল্প। কোনো প্রকল্পেই বিদেশি ঋণ বা অনুদান নেই। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৬৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সরকার ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, যশোর বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর ও শাহমাখদুম বিমানবন্দর, রাজশাহীর রানওয়ে উন্নয়ন। ৪৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কদম রসুল অঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভূ-উপরিস্থিত পানি উন্নয়নের মাধ্যমে বৃহত্তর দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলার সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প। | 9 |
রমজানের ইতিবাচক বিষয়গুলো সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ডিএনসিসি'র সহযোগিতায় 'স্নেহের ঈদ উপহার' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় ডিএনসিসি অফিস মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত অসহায় শিশুদের মাঝে ১৪ হাজার নতুন পোশাক বিতরণ করেন। এই আয়োজনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ২ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা উপস্থিত ছিল।উল্লেখ্য, 'স্নেহের ঈদ উপহার'-দারাজ কেয়ারসের অধীনে দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের একটি সামাজিক উদ্যোগ (করপোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের পাশাপাশি ঈদের পোশাক বিতরণের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দারাজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে ছিলেন-দারাজের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এএইচএম হাসিনুল কুদ্দুস রুশো, হেড অব গভর্নমেন্ট রিলেশনস মো. সামসুল মাসুদ, হেড অব সিএসআর অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট আহসান জামিল এবং সিএসআর অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মশিউর রহমান। এই আয়োজন প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, 'প্রথমে আমি দারাজকে এবং প্রান্তিক শিশুদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে আজকে যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। সর্বস্তরের মানুষ যাতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন তাই এই উদ্যোগের মাধ্যমে ১০টি ওয়ার্ডের ১৪ হাজার পরিবারের কাছে আমরা নতুন পোশাক পৌঁছে দিয়েছি। এই শিশুরাই আগামী দিন এই দেশ, এই বিশ্বকে পরিচালনা করবে। তাই তাদের সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি তাদের পথ দেখানোর দায়িত্বও আমাদের সকলের। শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ই-কমার্স শিল্পের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান দারাজকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।'দারাজের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এএইচএম হাসিনুল কুদ্দুস রুশো বলেন, 'দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দারাজ সমাজের সকল মানুষের মাঝে ইতিবাচক ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব অনুভব করে। 'স্নেহের ঈদ উপহার' আয়োজনের মাধ্যমে আমরা প্রান্তিক শিশুদের মাঝে কিছুটা হলেও আনন্দ ছড়িয়ে দিতে পারছি। গত দুই বছর ধরে আমাদের এই পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক মহামারির কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তাই এবারই প্রথম আমরা এমন উদ্যোগ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছি। আগামী বছরগুলোতেও আমরা এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারব বলে আশা করছি।' | 0 |
সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিসহ বিনা খরচে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শে হেলথ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প চালু করেছে ডিজিটাল হেলথ সাবসিডিয়ারি টেলিনর হেলথ নামের একটি সংস্থা। আজ রবিবার থেকে শুরু হওয়া রাজধানীর করাইল বস্তিতে তিন দিনের এ স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের কার্যক্রম চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এ ক্যাম্প। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি'র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন, ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমান, টেলিনর হেলথ এর হেড অব সেলস, ব্র্যান্ড এন্ড পিআর তৌহিদুল আলম, কর্পোরেট বিজনেজ লীড পারভেজ আহমদ, ব্র্যান্ড এন্ড মার্কেটিং ম্যানেজার আলিফ আল মোহাম্মদ প্রমূখ। ক্যাম্পেইন চলাকালীন ডেঙ্গু সচেতনতায় বস্তিবাসীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া ফ্রি মেডিকেল চেক-আপ, ডেঙ্গু পরীক্ষাসহ সব ধরণের মেডিকেল টেস্টের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে এ ক্যাম্পে। | 6 |
মুজিব জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছে গাজীপুর জেলা পুলিশ। গাজীপুর পুলিশ লাইনসের ড্রিল শেডে জেলার ৪৮ জন পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।গতকাল রোববার সকালে জেলা পুলিশ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ্। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) গোলাম রব্বানী, (অপরাধ) সানোয়ার হোসেন, (ডিএসবি) আমিনুল ইসলাম, নন্দিতা মালাকার, ফারজানা ইয়াসমিনসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা। | 6 |
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা আদিবাসী ছাত্র পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পরিষদের সদস্যরা মানববন্ধন করে এ দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁরা অনেক পিছিয়ে আছেন। এরপর যদি তাঁদের এই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তবে তাঁদের আর বাঁচার জায়গা থাকবে না। দেশের কোথাও কেউ অপরাধ করলে শাস্তি স্বরূপ তাঁকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। যেখানে আদর্শ ব্যক্তি দরকার, সেখানে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা আসেন। তাহলে তাঁদের উন্নতি হবে কীভাবে? পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বলা হয়। তাঁরা আসলেই সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। মানববন্ধনে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক দিবা সনজিত সরদারের সঞ্চালনায় সুশান্ত কুমার সহীতা, বিজয় চাকমা, নকুল পাহান, পলাশ পাহান, চিভূতি ভূষণ মাহাতোসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য সুযোগ দরকার। এ জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল রাখতে হবে। তাঁদের সেই অধিকার আবার ফিরিয়ে দিতে হবে। এ জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন। | 6 |
বিএনপির ৯৯ শতাংশ নেতা-কর্মীই স্বাধীনতাবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এই সভাপতি।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ সেলিম বলেন, 'বিএনপির ৯৯ শতাংশ লোকই স্বাধীনতাবিরোধী। তাদের চিন্তা-চেতনায় পাকিস্তান। বাকি এক শতাংশ ভুল করে বিএনপিতে আছে।'দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবিকে মামাবাড়ির আবদার বলে অভিহিত করে শেখ সেলিম বলেন, 'বিদেশে কেন পাঠাতে হবে? একজন কয়েদিকে পাঠালে বাকিদের পাঠাতে হবে না? বাংলাদেশে এখন অত্যন্ত উন্নতমানের চিকিৎসা রয়েছে। বিএনপি বিদেশে যেতে চায় ষড়যন্ত্র করার জন্য।'স্বাচিপ প্রসঙ্গে শেখ সেলিম বলেন, সাধারণ ডাক্তারদের যে হয়রানি করা হতো তা রুখে দাঁড়াতেই স্বাচিপ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই সংগঠনটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক এম এ আজিজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান। আলোচনায় অংশ নেন বিএসএমএমইউয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ। | 6 |
রানা দাশগুপ্ত। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর। গত শুক্র ও গতকাল শনিবার ঐক্য পরিষদের সম্মেলন হলো। এ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিনামা এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সার্বিক সমস্যা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন রানা দাশগুপ্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান ও মনোজ দে প্রথম আলো: আপনারা তো সেক্যুলার বাংলাদেশ চান। কিন্তু আপনাদের সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন। কেন এ ধরনের সংগঠন করলেন? রানা দাশগুপ্ত: মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ছিল বাংলার হিন্দু, বাংলার মুসলিম, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার খ্রিষ্টান আমরা সবাই বাঙালি। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে পরিষ্কার করে বলা হয়েছিল, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সাম্য, সমতা ও সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করা হবে। এ ঘোষণার প্রতি আস্থা রেখেই আমরা (ধর্ম যার যেটা হোক না কেন) মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় নিয়ে আসা হলো। জিয়াউর রহমান সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা তুলে দিলেন। এরপর অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়। সে সময় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জোরালো প্রতিবাদ করেনি। এ প্রেক্ষাপটেই হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জন্ম। প্রথম আলো: কিন্তু সে সময়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বাম দলসহ প্রায় সব বিরোধী দল রাষ্ট্রধর্ম বিলের বিরোধিতা করেছিল। রানা দাশগুপ্ত: রাষ্ট্রধর্ম প্রস্তাব সংসদে উত্থাপনের আগে তাদের কোনো বিরোধিতা দেখিনি। বিলটি যখন পাস হয়ে গেল, তখন তাঁরা অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছিলেন। সংবাদপত্রের ভাষায় সেই হরতাল হয়েছে ঢিলেঢালা। প্রথম আলো: কবে যাত্রা শুরু হলো ঐক্য পরিষদের? রানা দাশগুপ্ত: রাষ্ট্রধর্ম বিল সংসদে উত্থাপিত হওয়ার পর। মুক্তিযুদ্ধে সংখ্যালঘুদের মধ্যে কোনো রাজাকার, আলবদর ছিলেন না। তাঁরা নির্বিচার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা, গণধর্ষণ ও গণধর্মান্তরের শিকার হয়েছিলেন। এক কোটি লোক ভারতে শরণার্থী হিসেবে গিয়েছিলেন, তাঁদের ৯০ শতাংশ ছিলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এত ত্যাগ স্বীকার করার পরও আমাদের রাষ্ট্রীয় সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হলো। প্রথম আলো: কোনো কোনো গবেষক বলে থাকেন, মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা আনুপাতিক হারে কম ছিল। তাঁরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানেই নিরাপদ বোধ করেছিলেন। রানা দাশগুপ্ত: ওই গবেষকেরা কি আমাদের বলতে পারবেন, '৭১ সালে কোনো মুসলিম পল্লিতে গণহত্যা হয়েছে? রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের বাড়ি জ্বালানো হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে, ধর্ষণ চালানো হয়েছে। কিন্তু অপারেশন সার্চলাইটে উল্লেখ ছিল, হিন্দুদের নির্মূল করো, ধ্বংস করো। প্রশ্ন হলো, যে নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, তিনি কি মুক্তিযোদ্ধা নন? যাঁর বাড়িটা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তিনি কি মুক্তিযোদ্ধা নন? গণহত্যার শিকার যাঁরা হয়েছিলেন, তাঁরা কি মুক্তিযোদ্ধা নন? প্রথম আলো: অনেকে বলেন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের যে অনুপাত, সে তুলনায় চাকরি-বাকরিতে তাঁদের সংখ্যা বেশি। রানা দাশগুপ্ত: যাঁরা এগুলো বলেন, তাঁরা অপপ্রচার চালান। তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে পাকিস্তান আমলের মতো সংখ্যালঘুরা দেশত্যাগ করুক। গত এক দশকে পররাষ্ট্র, প্রশাসন, এসএসএফ, সেনাবাহিনী, পুলিশে সংখ্যালঘুদের নিয়োগ-পদোন্নতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যে বৈষম্যটা ছিল, তার কিছুটা প্রতিকার হয়েছে। কিন্তু জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে নিয়োগ-পদোন্নতি সংখ্যালঘুরা এখনো পাননি। প্রথম আলো: ঐক্য পরিষদ কি রাজনৈতিক দলে রূপ নেবে? রানা দাশগুপ্ত: আমরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি না। ঐক্য পরিষদের আন্দোলনটা ধর্মীয় আন্দোলন নয়। আমরা আমাদের সংগঠনকে একটা মানবাধিকার আন্দোলন রূপে দেখতে চাই। আমাদের দুজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, তাঁরা হলেন আমেরিকার মার্টিন লুথার কিং ও দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা। আমাদের মূল দাবি, বাংলাদেশ '৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাক। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিক। সাম্য, সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার যদি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে ঐক্য পরিষদেরও প্রয়োজন থাকবে না। প্রথম আলো: জাতীয় হিন্দু মহাজোট নামে একটি সংগঠন গড়ে উঠেছে। তারা কি আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী? রানা দাশগুপ্ত: না, তারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। সংগঠনটির মূল নেতা শহীদজননী জাহানারা ইমামের আন্দোলনের সময় গৃহে অন্তরীণ থেকে মুক্তি পাওয়া গোলাম আযমকে ফুল দিয়েছিলেন। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকেও ফুলের মালা দিয়েছিলেন। তারা মূলত দ্বিজাতি তত্ত্ব ফিরিয়ে আনতে চায়। এখানেই তাদের সঙ্গে আমাদের মূল দ্বন্দ্ব। প্রথম আলো: সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বিবৃতিকে আপনারা সমালোচনা করেছেন। আপনাদের বিবৃতির প্রতিবাদ করেছে হিন্দু মহাজোট। এর ব্যাখ্যা কী? রানা দাশগুপ্ত: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির প্রতিবাদ করেছি আমরা, তাঁরই জবাব দেওয়ার কথা। কিন্তু জোট জবাব দিল। অর্থাৎ ভূতের মুখে রাম নাম। এর কার্যকারণটা খুঁজে বের করা দরকার। প্রথম আলো: প্রথম আলোর সঙ্গে আগে সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছেন রাজনীতিকেরা সংখ্যালঘুদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এখনো কি সেই অবস্থানে অটুট? রানা দাশগুপ্ত: রাজনীতিকেরা যদি কথা দিয়ে কথা রাখতেন, তবে বাংলাদেশ তো বাংলাদেশই থাকত। আজকের বাংলাদেশ তো বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ নয়। প্রতারণা তো শুরু হয়ে গেছে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই। যে অলি আহাদকে আমরা একসময় নমস্য ব্যক্তি মনে করতাম, যিনি মুসলিম নামের কারণে আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেননি, তিনিই স্বাধীনতার পর বিবৃতি দিয়ে আজাদ বাংলা কায়েম করার কথা বললেন। প্রখ্যাত বামপন্থী নেতা আবদুল হক জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে চিঠি লিখে অস্ত্র চেয়েছিলেন। প্রথম আলো: বামপন্থী লেখক-রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমর প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিভূমি নেই। যা আছে সেটা ধর্মের নামে রাজনীতি ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা। রানা দাশগুপ্ত: বাংলাদেশে সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, ব্যক্তিক, সাংবিধানিক, প্রশাসনিক সাম্প্রদায়িকতা আছে। এখানে সাম্প্রদায়িকতার উৎস হচ্ছে বর্তমান সংবিধান। রাষ্ট্রধর্ম সাম্প্রদায়িকতার উৎস হিসেবে কাজ করছে। হামলার শক্তিটা ওখান থেকেই পাচ্ছে। প্রথম আলো: আপনারা সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার। কিন্তু রাষ্ট্রে যখন বিরোধী দল, বিরোধী মত, নাগরিক সমাজ কিংবা গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা চলে, তখন আপনারা কেন কথা বলেন না। প্রতিবাদ করেন না। রানা দাশগুপ্ত: অবশ্যই প্রতিবাদ করি। প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে যখন গ্রেপ্তার করা হলো, আমরা প্রতিবাদ করেছি। মুক্তবুদ্ধির চর্চা যাঁরা করেন, তাঁদের ওপর যখন হুমকি আসে, তখনো আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করি। এখানে গণতন্ত্রের যে সংকট, সেটা রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থাহীনতার সংকট। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের মৌল বিষয়ে বিরোধ থাকা উচিত নয়। স্বাধীনতার প্রশ্নে, রাষ্ট্রীয় মৌলনীতির প্রশ্নে ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে। প্রথম আলো: সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের ঘটনাবলি আমাদের এখানেও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া তৈরি করে? এ বিষয়ে আপনাদের অভিমত কী? রানা দাশগুপ্ত: আজ ভারতের রাষ্ট্রধর্ম হিন্দুত্ববাদ করার জন্য স্লোগান উঠছে। ভারতের মৌলবাদের এই ধারা ১০ বছরের। আমাদের এখানে এটা শুরু হয়েছিল '৭৫-এর পর। শুধু বাংলাদেশ, ভারত নয়; উপমহাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধর্মকে ধর্মের জায়গায় রেখে রাষ্ট্রকে যদি সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখার সিদ্ধান্ত না নিতে পারেন, তাহলে বড় মানবিক বিপর্যয় আসন্ন। প্রথম আলো: একটা সাধারণ অভিযোগ, আপনারা আওয়ামী লীগের প্রতি অতিশয় নির্ভরশীল। বিএনপিতে তো অনেক হিন্দু নেতা রয়েছেন। রানা দাশগুপ্ত: কোনো বিশেষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আমাদের নির্ভরশীলতা নেই। আমাদের নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের মৌল নীতির প্রতি। কিন্তু যখন ভোট আসে, তখন আমাদের মূল উদ্বেগের বিষয় হয়, আবার তালেবান আসবে না তো? এই ভয়টা কিন্তু শুধু সংখ্যালঘুদের নয়, এই ভয় দেশের মুক্তচিন্তার ও গণতান্ত্রিক সব মানুষেরও। প্রথম আলো: সম্প্রতি দুর্গোৎসবে যে হামলা ও সহিংসতা হলো, তাতে কি সরকারি দলের লোকজন জড়িত ছিল না? রানা দাশগুপ্ত: আওয়ামী লীগ, যুবলীগের অনেক নেতা জড়িত ছিলেন। ১৯৯০ সালে এরশাদের আমলে তিন দিন, একানব্বইয়ে নির্বাচনের পর বিএনপির আমলে ২৭ দিন, ২০০১-২০০৬ বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলে একটানা পাঁচ বছরের সাম্প্রদায়িক যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে সাহাবুদ্দীন কমিশনের সুপারিশ ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি বর্তমান সরকার। তাহলে যে প্রশ্ন সামনে চলে আসে সেটা হলো, সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কি গোপন আঁতাত রয়েছে? প্রথম আলো: ভারতে হিন্দু সংগঠনগুলো মুসলমানদের বিরুদ্ধে যেসব বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর ছয়জন সাবেক প্রধান। ভারতে মুসলিমবিদ্বেষের প্রভাব তো বাংলাদেশেও পড়তে পারে? রানা দাশগুপ্ত: আমিও তাঁদের বিবৃতিটি পড়েছি। ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতা যেখানেই হোক, আমরা তার বিরোধিতা করি। আমরা ভারতকে যেমন সেক্যুলার দেশ হিসেবে দেখতে চাই, তেমনি বাংলাদেশকেও। অনেকে ভারত, ব্রিটেন, আমেরিকাকে সেক্যুলার দেশ হিসেবে দেখতে চান। কিন্তু বাংলাদেশের প্রশ্ন এলেই বলেন, এখানে ৯০ শতাংশ মুসলমান, তাই রাষ্ট্রধর্ম থাকতে হবে। এ কারণে আমরা বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানাই। প্রথম আলো: কিন্তু বাহাত্তরের সংবিধানে তো বাঙালির বাইরে কোনো জনগোষ্ঠীর জাতিগত স্বীকৃতি নেই। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিকেরা সবাই বাঙালি। রানা দাশগুপ্ত: পঞ্চদশ সংশোধনীতে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হলো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে। আমরা বলেছিলাম তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক, সেটা করা হয়নি। রাষ্ট্রের ভেতরে যাঁরা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার দিতে চান, তাঁরাই এটি করেছেন। মন্ত্রী হওয়ার আগে এঁরা আদিবাসীদের ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন, মন্ত্রী হওয়ার পর বলেন বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই। প্রথম আলো: বহুল আলোচিত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন জারি হওয়ার পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কতজন জমি ফেরত পেয়েছেন? রানা দাশগুপ্ত: আমাদের হিসাব অনুযায়ী, ১ লাখ ৬২ হাজার মামলা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। কিন্তু জমি ফেরত পেয়েছেন ৭ থেকে ১০ শতাংশ। প্রথম আলো: সংখ্যালঘুদের মধ্যে যাঁরা প্রান্তিক ও দুর্বল, তাঁরাও কি সমান হারে সম্পত্তি ফিরে পেয়েছেন, না এ ক্ষেত্রে বৈষম্য আছে। রানা দাশগুপ্ত: বৈষম্য তো আছেই। যাঁরা দুর্বল, তাঁদের অনেকে মামলা করতেই ভয় পান। একই ঘটনা ঘটছে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ক্ষেত্রেও। হিসাবটা সোজা। কারও জমি দখল করতে পারলে তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়ন করা সহজ হয়। এ কারণেই আমরা বৈষম্য বিলোপ আইন করার দাবি জানিয়েছি। ২০১৫ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আহূত সম্মেলন ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি পেশ করেছি। যার মধ্যে ছিল সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, বৈষম্য বিলোপ আইন এবং সংখ্যালঘু কমিশন গঠন। গত শুক্রবার ও শনিবার ঐক্য পরিষদের জাতীয় সম্মেলনেও বলেছি, সরকার ২০১৮-এর নির্বাচনের সময় যেসব অঙ্গীকার করেছিল, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রথম আলো: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, বাড়িঘর পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এর পেছনে কারা ছিল বলে মনে করেন? রানা দাশগুপ্ত: ২০১১ সালে রামু দিয়ে শুরু। একজনের ফেসবুক ব্যবহার করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে রামুতে বৌদ্ধদের বাড়িঘর ও প্যাগোডা জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। সর্বশেষ কুমিল্লায় দুর্গোৎসবের সময় মন্দিরে হামলা চালানো হয়। পীরগঞ্জেও বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছে। পীরগঞ্জের দিকে তাকালে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ দেখি, চৌমুহনীতে দেখি সরকারি ও বিরোধী দুই দিকের লোকই আছে। সালনায় দেখি স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার জড়িত। প্রথম আলো: রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে বিভিন্ন সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘুরা চলে যাচ্ছে বলে আপনারা অভিযোগ করেন। আওয়ামী লীগ আমলেও কি সেই প্রবণতা আছে বলে মনে করেন? রানা দাশগুপ্ত: পঁচাত্তরের পরই সংখ্যালঘুদের অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইদানীং সেই প্রবণতা কমেছে। এখন গ্রামে গিয়ে দেখবেন, সংখ্যালঘুরা দোতলা-তিনতলা বাড়ি করছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। তাঁদের মনে এই প্রত্যয় এসেছে যে এ দেশেই থাকতে হবে। এটা ইতিবাচক। আওয়ামী লীগ আমলে কিছু আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তাদের মধ্যে অভয় সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম আলো: বিএনপি আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিচার হয়নি। আওয়ামী লীগ আমলেও হচ্ছে না। তাহলে এই দুই দলের মধ্যে পার্থক্যটা কী? রানা দাশগুপ্ত: পার্থক্য একটাই। আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের কথা বলে। কিন্তু বিএনপি তো এর ধারেকাছেও নেই। বিএনপি বলুক জামায়াত তাদের সঙ্গে নেই। প্রথম আলো: আপনারা বলছেন রাজনীতিকেরা কথা রাখেননি। ভবিষ্যতে তাঁরা কি কথা রাখবেন? রানা দাশগুপ্ত: রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করতে আজ বড় কষ্ট হয়। তাঁরা কথা দিয়ে কথা রাখেন না। তবে এখনো আস্থা রাখতে চাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র তিনি এখনো ধরে আছেন। আবার এ-ও সত্য যে আওয়ামী লীগ ক্রমাগত আওয়ামী মুসলিম লীগের দিকে চলে যাচ্ছে। প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ। রানা দাশগুপ্ত: আপনাদেরও ধন্যবাদ। | 8 |
আদালতের বিচারে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়ার দাবিতে তার দল রাজপথের আন্দোলনে নেমেছে। সরকার বলছে, আইনের আওতায় তা সম্ভব নয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের বাইরে বিএনপি নেতারাও অনেক কথা বলছেন। গুরুতর আশঙ্কা ব্যক্ত করা হচ্ছে। তার স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশে উত্তেজনার পারদ ওপরে উঠছে। সমকাল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় তরফ থেকে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি এ ব্যাপারে সর্বশেষ তথ্য জানার পাশাপাশি সংশ্নিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের কয়েকজন এমন তথ্য জানিয়ে সমকালকে বলেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে বর্তমান সরকার বেশ আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও এ বিষয়ে মানবতা দেখিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতাবলে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারামুক্তি দিয়ে বাসায় থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে তার চিকিৎসার দাবি করছে বিএনপি। কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৭ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি খালেদা জিয়ার জন্য যতটুকু করার ছিল, সেটা করেছেন। বাকিটুকু আইনের বিষয়। এ ব্যাপারে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গত ১৬ নভেম্বর সংসদে বলেছেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হলে খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরে যেতে হবে। সেইসঙ্গে নতুন করে আবেদন করতে হবে। সেই আবেদন বিবেচনা করে দেখবে সরকার। বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসা দেওয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘরানার পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারক মহল নিজেদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে নানামুখী আলাপ-আলোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর দু'জন সদস্য এবং মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বিএনপির দাবি অনুযায়ী খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তাই তার কোনো অঘটন ঘটে গেলে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হতে পারে, সেটা নিয়েও আগাম চিন্তাভাবনা চলছে সরকার ও আওয়ামী লীগে। সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তুতিও রয়েছে। সেইসঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় বিষয়াদি নিয়েও অল্পবিস্তর আলোচনা হচ্ছে। সতর্ক দৃষ্টিও রয়েছে। খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন। তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শীর্ষ পর্যায়ের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং সেই বোর্ড পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে, তারা এখন চিকিৎসক বনে গেছেন। খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে দাবি করছেন। অথচ এ বিষয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কিছু বলেননি। আগেও অসুস্থ হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তখনও বিদেশ না পাঠালে তাকে বাঁচানো যাবে না বলে দাবি করেছিল বিএনপি। অথচ দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এখনও বিএনপি সেই আগের মতো একই দাবি করছে। আসলে খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার দাবি তার স্বাস্থ্যগত কারণে নয়, এই দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে তার চিকিৎসার দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের হুমকির বিষয়টি মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে আন্দোলন ও সরকার পতনের হুমকি দিয়ে আসছে বিএনপি। কিন্তু এ নিয়ে সরকার ও জনমনে কোনো উদ্বেগ কিংবা আগ্রহ তৈরি হয়নি। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়টি মানবিকভাবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হিংসাত্মক ভূমিকার কথা ভুলে গেলে চলবে না। খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বাসায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। অথচ ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন এই খালেদা জিয়াই। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না করে খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশিদকে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসিয়েছিলেন। ২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রেখে এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন শেখ হাসিনাকে। | 9 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে গুম করে ফেলছে। সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলেই হত্যা, না হলে গুম হতে হচ্ছে। পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ সন্তানের মায়েরা আহাজারি করছেন। এ পাঁচ বছরে অসংখ্য পরিবারকে আশাহত করেছে এই অবৈধ সরকার।রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মানববন্ধনে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের গুম ও খুন হওয়া নেতা-কর্মীদের আত্মীয়স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে ট্রায়ালে রাখা হচ্ছে, তাই দেশ আজ কারাগারে। শুধু তাই নয়, আজকে বিচারবিভাগকে কব্জা করে ফেলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে বাধ্য করা হয়েছে প্রথমে ছুটি, পরবর্তীতে পদত্যাগে। প্রশাসনকে করা হয়েছে সম্পূর্ণ দলীয়করণ।সাম্প্রতিক গুমের ঘটনার বর্ণানা দিয়ে তিনি বলেন, ফরহাদ মজহার পাঁচ মাস পর গণমাধ্যমের সামনে এসে জানালেন তার কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, রাষ্ট্রদূত, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক-যারাই গুম হয়েছেন, কেউই এখনো ফিরে আসেননি। যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তারাও কেউ ফিরে আসছেন না।নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে যাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে দিন।এ সময় বিএনপির মহাসচিব দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে 'মিথ্যা' মামলা, অপহরণ, গুম ও খুনের হিসাব তুলে ধরে বলেন, বিএনপির নামে এখন পর্যন্ত মামলার সংখ্যা ৭১ হাজার ৩২৩টি, আসামি করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ জনকে। ৫২০ জন নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে এবং নিখোঁজ ১৫৭ জন।মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সামনে একটি মাত্র পথ। সেটি হলো গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতাসীন সরকারকে পরাজিত করার মাধ্যমে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য সবাইকে উঠে দাঁড়াতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. মঈন খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমান, শওকত মাহমুদ, এ জেড এম জাহিদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল প্রমুখ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
| 9 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন, 'এর আগে আমি একটি দল থেকে নির্বাচন করছিলাম। তাই আমাকে বসে যেতে হয়েছে। এবার আমি জনগণের প্রার্থী। অনেকে প্রশ্ন করেন কেন আমি দাঁড়িয়েছি। আমি জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি করলেও নারায়ণগঞ্জের জনগণের চাহিদা ও তাদের আকাঙ্খার ব্যাপারে আমাকে সচেতন থাকতে হয়। জনগণের প্রয়োজনেই আমাকে এখানে নির্বাচনে দাঁড়াতে হয়েছে।' মঙ্গলবার সকালে প্রতীক বরাদ্দের পর সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন তৈমুর আলম। তৈমুর আলম বলেন, আমাকে শামীম ওসমান, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই নারায়ণগঞ্জ শহরে হাঁটতে হয়েছে। আমি মানুষের ভালোবাসায় প্রার্থী হয়েছি। শামীম ওসমানের পায়ে আমি নারায়ণগঞ্জ শহরে হাঁটি না। আমি আস্থা রাখতে চাই, কিন্তু আস্থা রাখতে পারছি না, গত ২৪ তারিখ আওয়ামী লীগের নেতারা প্রতীক, প্রার্থীসহ সমাবেশ করেছে। আমরা ১৬ ডিসেম্বর ২০ হাজার লোকের সমাবেশ ঘটিয়েছি নারায়ণগঞ্জ শহরে, ইসির অনুরোধে আমি সেখানে যাইনি। আমি আইন মেনে চলেছি কিন্তু সরকার দলের প্রার্থী নির্বাচনী আচরণ-বিধি মানছেন না। তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স সবচেয়ে বেশি। এখানে নাগরিক সুবিধা কম। কর্পোরেশন ২২ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স নেয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম নেয় ১৪ শতাংশ। আমি জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন করছি। জনগণ আমার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং দুর্নীতি ও সহিংসতার মদদদাতা হিসেবে ভিসি ফারজানা ইসলামের অপসারণ ও বিচার দাবি করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ শিক্ষক। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি একনেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, পরিকল্পনায় অনেক গলদ ও অস্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করতে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেই পরিকল্পনার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ভিসি ও তার প্রশাসন তড়িঘড়ি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে ৫০০ গাছ কেটে ফেলে। যেখানে এ ধরনের বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ই-টেন্ডার করার নির্দেশনা আছে, সেখানে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার করা হয়েছে এবং শিডিউল ছিনতাইয়ের ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে একটি জাতীয় দৈনিকে ছাত্রলীগের কর্মীদের ফোনালাপ ফাঁস হলে জানা যায়, ঈদের আগে কথিত এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ভিসি অবৈধভাবে ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়েছেন। সঙ্গত কারণেই আন্দোলনকারীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা নিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি খোলাসা করার দাবি তোলেন। অথচ, এ দুর্নীতির বিষয়ে ভিসি অথবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তদন্তের উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং ধর্মঘটকালে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার মিথ্যা অভিযোগে প্রশাসন অজ্ঞাতনামা ৫০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে। আমরা মনে করি, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ভিসি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিরাপত্তা দেওয়ার মতো যোগ্যতাও হারিয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় আমাদের দাবি, দুর্নীতিগ্রস্ত ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার মদদদাতা এমন ভিসিকে পদচ্যুত করে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু বিচার করা হোক। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নেওয়া হোক; তৃতীয়ত, একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাবির দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। বিবৃতিতে সই করা শিক্ষকরা হলেন- ফাহমিদুল হক, নাসির আহমেদ, কামরুল হাসান, আরিফুজ্জামান রাজীব, মামুন অর রশিদ, সামিনা লুৎফা, কাজী মামুন হায়দার, কাজলী সেহরীন ইসলাম, শেহরীন আতাউর খান, কামাল চৌধুরী, রুশাদ ফরিদী, সুবর্ণা মজুমদার, সৌম্য সরকার, অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, অর্পিতা শামস মিজান, সৌভিক রেজা, খাদিজা মিতু, মজিবুর রহমান, কাজী মারুফুল ইসলাম, মার্জিয়া রহমান, সাঈদ হাসিবুল হাসান চৌধুরী, কাজী ফরিদ, সাদাফ নূর, মাইদুল ইসলাম, আল মামুন, মোশাহিদা সুলতানা, আর রাজী, বখতিয়ার আহমেদ, আবদুল্লাহ বাকী, সিউতি সবুর, কাজী অর্ক রহমান, তাহমিনা খানম, কাবেরী গায়েন, রোবায়েত ফেরদৌস, তানজীমউদ্দিন খান ও গীতি আরা নাসরীন। | 6 |
গাজীপুরের মেয়র হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম থাকছেন কিনা, 'স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯' পর্যালোচনার পর দু-একদিনের মধ্যে সেই বিষয়ে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষ থেকে মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। জাহাঙ্গীর আলমের মেয়র পদ থাকবে কি না জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, আইনটি পর্যালোচনা করে সেটা বোঝা যাবে। আইনটিপর্যালোচনা করতে দু'একদিনসময় লাগতে পারে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 9 |
২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল প্রাইজ মানি পাবে ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩শ' ১৮ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। রানার্স-আপ দল পাবে ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২শ' ৩৪ কোটি ৫৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এমন তথ্য দিয়েছে ফুটবলের প্রধান সংস্থা ফিফা। আগামীকাল বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেখানে লড়বে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া। গত বছরের অক্টোবরে ফিফা জানায়, ২০১৮ বিশ্বকাপে মোট পুরস্কার মূল্য ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পুরস্কার মূল্য ভাগ করে দেয়া হবে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দলের মধ্যে।২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে মোট পুরস্কার মূল্য ছিল ৩৫৮ মিলিয়ন। অর্থাৎ চলতি বিশ্বকাপে পুরস্কার মূল্য ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি। ফিফা আরও জানায়, বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া সব দলই খরচ-বাবদ ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে।বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পাওয়া দলগুলি পাবে আরও ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি।শেষ ষোলো থেকে যে দলগুলো বাদ যাবে ছিটকে যাবে তারা পাবে আরও ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে যারা বাদ পড়বে তারা পাবে ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বকাপের তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হেরে যাওয়া দল ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর যে দল জিতবে তারা পাবে ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আরো পড়ুন :প্রিমিয়ার লিগের আলোচনা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের ফাইনালেই এখন চোখ ডেলিচেরআসন্ন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমকে সামনে রেখে বেশ কিছু ক্লাবের আগ্রহের কথা জানা গেলেও ক্রোয়েশিয়ার হেড কোচ জ্লাটকো ডেলিচ এখন বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়েই বেশী চিন্তিত। রোববার মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের মোকাবেলা করবে ক্রোয়েশিয়া। এই প্রথমবারের মত ক্রোয়েটরা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ৫১ বছর বয়সী ডেলিডচকে বাছাইপর্ব চলাকালীন আন্টে চেচিচের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। বাছাইপর্বের সময়টা অবশ্য মোটেই ভাল কাটেনি ক্রোয়েশিয়ার। গ্রীসের সাথে প্লে-অফে জয়ী হয়ে রাশিয়ার নিশ্চিত করে ক্রোয়েটরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জায়ান্ট আল আইন ক্লাবের হয়ে ২০১৬ সালে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলাই ছিল এ পর্যন্ত কোচিং ক্যারিয়ারে ডেলিচের সর্বোচ্চ সাফল্য। আর এখন ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়ে তিনি দেশের নায়কে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানোর সম্ভাব্যতা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ডেলিচ বলেছেন, 'এই মুহূর্তে এই বিষয়টি নিয়ে আমি মোটেই ভাবছি না। হয়তবা এ ব্যপারে ক্রোয়েশিয়ান মানুষের কাছে ভুল তথ্য এসেছে। বিশ্বের সেরা দল হবার লড়াইয়ের দ্বারপ্রান্তে এখন আমরা রয়েছি। সে কারনেই সেটা চেষ্টা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বজুড়ে ইউরোপীয়ান লিগগুলোতে সবাই বড় বড় ক্লাব খুঁজে। কিন্তু আমি মনে করি এটাই একেবারেই ভুল। আমি একটি ছোট ক্লাব দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। আমি তাদের সরাসরি বলেছিলাম বড় দল বড় ভুল করে এবং এজন্য তাদের বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় করতে হয়। কিন্তু আমি সবসময়ই বলেছি, আমাকে বার্সেলোনা কিংবা মাদ্রিদ দাও, আমি শিরোপা জিতবো। আমি আমার পুরো ক্যারিয়ারেই কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে লড়াই করে এখানে এসেছি। আমি ক্রোয়েশিয়ায় থাকতে চাই না, সে কারণেই বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছি। আমি নিচের থেকে শুরু করেছিলাম, আর এক বছরের মধ্যে এশিয়ার সেরা কোচে পরিণত হয়েছি। আমি এশিয়ার সেরা ক্লাবের দায়িত্বে আছি। ক্রোয়েশিয়া যখন আমাকে ডেকেছে আমি কোন সংকোচ করিনি। আমি জানতাম নিজের বিশ্বাস থেকে আমি কি করতে পারব। আর বিশ্বকাপে তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আমি সত্যিই গর্বিত।' | 12 |
শেবাচিম হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক ও সংগ্রাহক ডা. মুশফিকুজ্জামান প্রদর্শন করেছেন দুর্লভ ব্যাংক নোট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের জার্মানির নোট। বরিশাল সানফ্লাওয়ার মানি এক্সচেঞ্জার মনিরুল ইসলাম প্রদর্শন করেন ব্রিটিশ মুদ্রা। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ৩০ সংগ্রাহক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সূত্রে বরিশালে একত্রিত হয়েছিলেন। এই সংগ্রাহকদের নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় 'সংগ্রাহক মিলনমেলা'। বরিশাল কালেক্টরস সোসাইটি নামের অনলাইন ভিত্তিক এই সংগঠনের সদস্যরা শুক্রবার দুর্লভ ডাকটিকিট, মুদ্রা, ব্যাংক নোট, বই প্রদর্শন করেন।আয়োজকদের তথ্যমতে, জন্মসূত্রে বা চাকরির সুবাদে যারা বরিশালে বিভাগে অবস্থান করেছিলেন কিংবা করেন তাদের নিয়ে এই সংগঠন এবং মিলনমেলা। নগরীর চৌমাথায় একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী সংগ্রাহকেরা ডাকটিকিট, মুদ্রা, ব্যাংক নোট, কলম, বইসহ বিভিন্ন জিনিস প্রদর্শন করেন।'ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল; মুদ্রা কিংবা টাকায়, আমরা আছি একতায়'-এই স্লোগানে এই সংগ্রাহকেরা এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এঁদের একজন ডা. আসিফ আবেদীন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। ২০১১ সালে তিনি বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। সেই থেকে তার নেশা ডাকটিকিট, কয়েন সংগ্রহ করা।অনুষ্ঠানে সংগ্রাহক হিসেবে উপস্থিত ছিল রুপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মামুন-উর-রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল শাখার ডেপুটি ডিরেক্টর আরিফুল ইসলাম, শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মুশফিকুজ্জামান, উত্তরা ব্যাংকের ম্যানেজার হাসিবুর রহমান, প্রফেশনাল ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আল বকর, সানফ্লাওয়ার মানি এক্সচেঞ্জার মনিরুল ইসলাম, ডা. মাঈনুল হাসান প্রমুখ।বরিশাল বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. এ এস কাইউম উদ্দিন আহমদ বলেন, এই সংগ্রহটা আসলে ইতিহাসেরই একটি অংশ। দেশ বিদেশের ঐতিহাসিক ও দুর্লভ জিনিসপত্র টিকিয়ে রাখার জন্য এ উদ্যোগ অভূতপূর্ব। | 6 |
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো অসাধু ও পরিবেশ বিধ্বংসী পরিকল্পনা। রামপাল, রুপপুরসহ প্রাণবিনাশী প্রকল্প বাতিল, সার্বজনীন স্বাস্থ্যেসবা ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশ বান্ধব জ্বালানী পরিকল্পনার দাবিতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪ টায় দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই কোভিড মহামারী আমাদের সামনে একটা শিক্ষা রেখে গেছে যে মানুষের অস্তিত্ব অনেকখানি নির্ভর করে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষার উপর। কিন্তু আমাদের শাসকেরা তা থেকে কোন শিক্ষা নেয়নি বরং এই মহামারীর সময়েও প্রণতি বাজেটে রামপাল-রুপপুরসহ প্রাণ-পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্পগুলোতে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ করেছে। একদিকে স্বাস্থ্য খাতে ভয়াবহ দুর্নীতি-লুটপাট মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকে বিপন্ন করছে, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মিছিল ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার জীবন যাপন করছে, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ সময়ে সরকারের দরকার ছিল স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ মনযোগ দেয়া অথচ সরকার হাটছে তার উল্টো পথে। পরিবেশ বান্ধব জ্বালানী পরিকল্পনা করার লক্ষ্যে জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি। জাতীয় কমিটির এই সমাবেশে কমিটির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপিস্থত ছিলেন বাম গণতান্ত্রিক জােটর বজলুর রশীদ ফিরোজ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, আ.ক.ম জহিরুল ইসলাম, আবুল হাসান রুবেল, শহীদুল ইসলাম সবুজ, আকবর খান, মইনুদ্দীন চৌধুরী লিটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। | 6 |
আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও গোল্ডেন শু হাতে পাননি মেসি। তবে ইউরোপের আরেকটি গোল্ডেন শু নিশ্চিত করেছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। তার সঙ্গে গোল্ডেন শু'র লড়াইয়ে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে তিন গোল পেছনে থেকে মৌসুম শেষ করেছেন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সর্বোচ্চ গোলের হিসেবে মেসিকে টপকাতে হলে রেঁসের জালে পাঁচ গোল দিতে হতো পিএসজির কিলিয়ান এমবাপ্পের। তিনি এক গোল করলেন। তাতেই মেসির আরেকটি গোল্ডেন শু নিশ্চিত হলো। সদ্য শেষ হওয়া লিগে মেসি ৩৪ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছেন। বার্সেলোনা জিতেছে লা লিগার শিরোপা। ওদিকে এমবাপ্পে পিএসজির হয়ে গোল করেছেন ৩৩ টি। তার দলও জিতেছে লিগ ওয়ানের শিরোপা। কিন্তু মেসিকে টপকাতে পারেননি এই তরুণ। এ নিয়ে টানা তিন মৌসুম গোল্ডেন শু জিতলেন মেসি। ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ গোল্ডেন শু নিশ্চিত হলো তার। এতোবার আর কেউ এই পুরস্কার পাননি। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জিতেছেন চারবার। এছাড়া বার্সার লুইস সুয়ারেজ জিতেছেন দুবার। এ বছর মেসি-এমবাপ্পের বাইরে গোল্ডেন শু জয়ের লড়াইয়ে ছিলেন ফাবিও কোয়ালিয়ারেল্লা। সিরি আ'তে সাম্পদোরিয়ার হয়ে ২৬ গোল করে ৫২ পয়েন্ট পান তিনি। গ্যালাতাসারাইয়ের এমবায়ে দিয়াগনে ৩০ গোল করে পান ৪৫ পয়েন্ট। লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহ, সাদিও মানে, বায়ার্নের রবার্ট লেভানডভস্কি ও আর্সেনালের পিয়েরে অবামেয়াং ২২ গোল করে ৪৪ পয়েন্ট পান। | 12 |
পাসপোর্ট মেশিনের প্রিন্টিংয়ের ঝামেলার কারণে বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকেরা পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। আব্দুল মোমেন বলেন, 'এই ইস্যু নিয়ে আমরা অনেক দিন আলাপ করেছি। আমরা এ নিয়ে অনেক দিন ধরে বকবক করছি। কারণ, অনেক বাঙালির পাসপোর্ট নবায়ন হচ্ছে না। তারা পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। এর মূল কারণ হচ্ছেম,পাসপোর্টের প্রিন্টিং আটকে গেছে। এমনকি এখানেও আমরা অনেক পাসপোর্টের জন্য বসে আছি। প্রিন্টিং মেশিনের গন্ডগোল। পাসপোর্ট তো আমরা ইস্যু করি না, এটা পাসপোর্ট অফিস করে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করে। তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে। এখন এটা নিয়ে তারা আগে থেকে চিন্তা করেনি কেন, আমি জানি না।' | 6 |
বর্তমান সরকারকে অন্যায্য সরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এই সরকার জনগণকে ন্যায্যমূল্যের খাবার খাওয়াতে পারবে না বলে মনে করেন তিনি। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার ধামরাই উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। ধামরাই উপজেলার শরীফবাগে শরীফুন নেছা মহিলা মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন হয়। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তমিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, বেনজীর আহমেদ ও সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক। সম্মেলনের মধ্যেই ধামরাই উপজেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়। সভাপতি হিসেবে তমিজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সামছুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তাঁরা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দেশে বর্তমানে একধরনের দুর্ভিক্ষ চলছে মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, টিসিবির লাইনে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে স্বল্প মূল্যে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে। মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে মনে, সরকারই তো অন্যায্য, সে আবার ন্যায্যমূল্যে খাওয়াবে কী করে। ন্যায্যমূল্যে পণ্য সবার জন্য উন্মুক্ত হতে হবে। ট্রাক নিয়ে সচিবালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, আর এটা টিভিতে প্রচারের মধ্যে দিয়ে দেশের কত ভাগ মানুষকে ন্যায্যমূল্যে খাওয়ানো গেছে। দশমিক পাঁচ ভাগও না। মাথাপিছু আয়ের বিপরীতে দেশে মাথা পিছু ঋণের বোঝা বাড়ছে জানিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, দেশের বাজারমূল্য বিবেচনা করলে দেখা যাবে, উচ্চ আয়ের দেশের চেয়ে দাম বেশি। তাহলে এটা কোন ধরনের মধ্যম আয়। আবার টিভি-পত্রিকায় দেখানো হয়, দুই হাজার ডলারের বেশি মাথাপিছু আয় বেড়েছে। কিন্তু একটা কথা বলা হয় না, জনগণের মাথাপিছু কত টাকা ঋণের বোঝা আছে। আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার কথা হিসাব করা হলে চাল কেনার টাকা থাকার কথা নয়। পৃথিবীর সব দেশে তেলের দাম কম, বাংলাদেশে বাড়ছে। যে দেশে দুর্নীতি হয়, সে দেশে জিনিসের দাম বাড়বে না কেন? প্রশ্ন তোলেন গয়েশ্বর। | 9 |
মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী কাইয়া টিন জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। একইসঙ্গে বাংলাদেশসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্নিষ্ট বিষয়ক সমস্যা সমাধানেও তার দেশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে. আব্দুল মোমেনকে লেখা এক চিঠিতে মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী কাইয়া টিন এ কথা বলেন।সম্প্রতিলেখা এ চিঠিতেমিয়ানমারের মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পারম্পারিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের সমাধান করতে চায়। গত ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরুর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। কাইয়া টিন বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো তিনিও মনে করেন করোনা মহামারির কারণে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পারিক সংহতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন। পারস্পরিক অলোচনার ভিত্তিতে ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার বিষয়টি মিয়ানমারের মন্ত্রী উল্লেখ করেন। কাইয়া টিন ড. মোমেনের সুস্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। গত ১ জানয়ারি মিয়ানমারের মন্ত্রী চিঠি দেওয়ার জন্য ড. মোমেনকে ধন্যবাদ জানান। কাইয়া টিন ও ড. মোমেন একই সময়ে জাতিসংঘে নিজ নিজ দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন্য। সেসময় থেকে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে। | 6 |
উপসর্গযুক্ত কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকরী কোভ্যাক্সিন। চূড়ান্ত পর্বের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষে শনিবার (৭ জুলাই) এমনই দাবি করেছে এই টিকার প্রস্তুতকারক সংস্থা ভারত বায়োটেক। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। তাদের আরও দাবি, করোনার ডেল্টা প্রজাতির বিরুদ্ধে কোভ্যাক্সিন ৬৫.২ শতাংশ কার্যকরী। উপসর্গহীন কোভিডের ক্ষেত্রে এই টিকা কার্যকরী ৬৩.৬ শতাংশ। টিকা কতটা নিরাপদ তারও একটা তথ্য তুলে ধরেছে ভারত বায়োটেক। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এই টিকা ব্যবহারের পর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার ১২ শতাংশ। ০.৫ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংস্থার দাবি, সর্বোপরি যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে তা অন্যান্য কোভিড টিকার তুলনায় খুবই কম। বিশ্বের ১৬টি দেশে জরুরি ভিত্তিতে এই টিকা প্রয়োগের ছাড়পত্র পেয়েছে ভারত বায়োটেক। তার মধ্যে ভারত ছাড়াও রয়েছে ব্রাজিল, মেক্সিকো, ইরান, ফিলিপিন্সের মতো দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি ভিত্তিতে টিকা প্রয়োগের তালিকায় কোভ্যাক্সিনকে অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভারত বায়োটেকের। দেশে যে দু'টি টিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট এবং অক্সফোর্ডের তৈরি কোভিশিল্ড এবং হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক-এর কোভ্যাক্সিন। | 4 |
তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলার দশটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আলাদা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানেরা এবং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়।চেয়ারম্যানদের শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গণি। অপরদিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দশটি ইউনিয়নের ৯০ জন সাধারণ সদস্য ও ৩০ জন সংরক্ষিত সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাশ্বের আলম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনছার আলী, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আখতারুজজামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কবীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা পরিষদের সিএ আবুল কালাম আজাদ।ইউনিয়নগুলো হলো বল্লা, সহদেবপুর, কোকডহড়া, পাইকড়া, নাগবাড়ি, নারান্দিয়া, সল্লা, দশকিয়া, দুর্গাপুর, গোহালিয়াবাড়ি। | 6 |
আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে আগামীকাল মেয়েদের ব্যালান্স বিম ফাইনালে অংশ নিতে নামবেন যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্ট সিমোন বাইলস। আমেরিকার জিমন্যাসটিক্স সংস্থার তরফ থেকে টুইট করে এমনটাই জানানো হয়েছে। আমেরিকার জিমন্যাসটিক্স সংস্থা থেকে টুইটে বলা হয়েছে, 'মঙ্গলবার আমেরিকার হয়ে ব্যাল্যান্স বিমের ফাইনালে সিমোনে বাইলস নামতে চলেছেন। সঙ্গে থাকবেন সানি লি। এই দুজনকে ফের একবার দেখার জন্য গোটা দেশ মুখিয়ে রয়েছে।' ফাইনালে অংশগ্রহণকারী আটজন প্রতিযোগীর তালিকায় সিমোনের নাম রয়েছে। গত রিও অলিম্পিকে চারটি সোনা ও একটি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন ২৪ বছরের সিমোনে। এই ব্যাল্যান্স বিমেই জিতেছিলেন ব্রোঞ্জ। মানসিক অবসাদ কাটিয়ে অবশেষে এবার সেই বিভাগে ফের একবার পদক জয়ের লক্ষ্যে নামবেন তিনি। মানসিক অবসাদের জন্য টোকিও অলিম্পিকের চারটি বিভাগ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। স্বভাবতই সবাই মনে করেছিল এবারের মতো তার অভিযান শেষ। কিন্তু ঠিক এমন সময় ফের দেশের হয়ে নামবেন এই তারকা জিমন্যাস্ট। | 12 |
চুয়াডাঙ্গায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার। দীর্ঘদিন মানহীন এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসার নামে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রমরমা বাণিজ্যের ফাঁদে পড়ে পরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এমনকি ভুল চিকিৎসা ও ভুল রিপোর্টে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অনেককে।জেলার চার উপজেলায় এমন চিত্র লক্ষ করা গেছে। মাঝে মাঝে এসব ক্লিনিকে অভিযান চালানো হলেও তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এসব অবৈধ ক্লিনিক ও প্যাথলজি সেন্টার গড়ে উঠছে। জেলা শহরের সদর হাসপাতালের পাশে গড়ে ওঠা ক্লিনিকগুলো স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো নীতিমালা মানছে না। তা ছাড়া ১০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও আছে তিনগুণ। অভিযোগ আছে, যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকেন না, এমনকি নেই প্রশিক্ষিত নার্সও। জেলার ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টারগুলোতে অদক্ষ কর্মী দিয়ে করানো হচ্ছে রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ফলে রোগ নির্ণয় রিপোর্ট ভুল আসছে বলে অভিযোগ করছেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো তাদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছে। জেলায় ক্লিনিকের সংখ্যা ৫৬টি এবং মোট প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৮১টি। অনলাইনের আবেদনে নতুন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা নীতিমালার সব তথ্য সঠিক দিলেও মাঠপর্যায়ে তার মিল পায় না স্বাস্থ্য বিভাগ।অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক শ্রেণির দালাল, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। অদক্ষ টেকনিশিয়ান ও প্যারামেডিকেল চিকিৎসক দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন স্বেচ্ছাসেবী জানান, সদর হাসপাতালের পাশে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দালালের মাধ্যমে রোগী নেওয়া হয়। এ জন্য দালালেরা কমিশন পায়। এ ছাড়া শহরের রিকশা ও ভ্যানচালকরাও ক্লিনিকে রোগী নিয়ে গেলে বাড়তি টাকা পান।এদিকে, কয়েক দিন আগেই সদর হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে সদর উপজেলা প্রশাসন। জেলার কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুয়া ডাক্তার ও ক্লিনিকের অনুমোদন না থাকায় বন্ধ ঘোষণাসহ জরিমানাও করা হয়।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম ভূঁইয়া বলেন, 'সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা সামনে এসেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আমরা বসেছি। ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হয়েছে। তাঁরা ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন। কয়েক জায়গায় দেখা গেছে ভুয়া ডাক্তার সেবা দিচ্ছেন। মেডিকেল সনদ ছাড়াই। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করাসহ তিনজনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ক্লিনিক মালিক সমিতির ১৫ দিন পূর্ণ হয়েছে। আমরা আবার মাঠে নামব।'ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ওয়ালিউর রহসান নয়ন বলেন, 'স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সারা বছরই এগুলো তদারকি করা হয়। সিভিল সার্জন স্যারের নেতৃত্বে একটি কমিটিও আছে। দালাল এবং অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। আমি মনে করি, এ ধরনের অভিযান সারা বছর গ্রাম থেকে শুরু করে শহর সব স্থানেই পরিচালনা করতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ এ ব্যাপারে তৎপর।' | 6 |
সংঘাতসংকুল শ্রীলঙ্কায় প্রায় আড়াই শ বাংলাদেশি আছেন। তাঁদের মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও শ্রীলঙ্কান মালিকানাধীন বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজে আছেন কমপক্ষে ২০০ ব্যক্তি। এ ছাড়া আছেন প্রায় ৪০ জন পেশাজীবী, যারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তাঁরা সবাই গতকাল বুধবার পর্যন্ত নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছেন কলম্বোয় বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।শ্রীলঙ্কা-প্রবাসী বাংলাদেশি কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি আজকের পত্রিকাকে বুধবার রাতে বলেন, 'এখনো অসুবিধা হচ্ছে না। কারফিউ আছে। তবে সহিংসতা কমে এসেছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশের মানুষদের সঙ্গে হাইকমিশন থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দুটি টেলিফোন হটলাইন নম্বর দেওয়া আছে। খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। তাঁরা তেমন কোন সমস্যায় নেই।'নির্মাণ শ্রমিকেরা প্রধানত ডরমিটরিতে থাকেন এবং যার যার কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় তাঁরা কর্মস্থলে যাতায়াত করেন জানিয়ে তিনি বলেন, 'নিজে নিজে বের হয়ে কোনো পরিস্থিতিতে না পড়লে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।'তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন খোলা আছে। শ্রীলঙ্কানদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে জ্বালানি সংকট আছে বলে কাজ-কর্মে কিছু অসুবিধা হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি আছে বলে কয়েক ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। মাঝে মাঝে গাড়ি ও জেনারেটর চালানোর তেল পেতে সমস্যা হলে কাজে বিঘ্ন ঘটে।সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি সরবরাহসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী হবে, সে ব্যাপারে কিছু অনিশ্চয়তা আছে জানান হাইকমিশনার। | 6 |
ঐচ্ছিক অনুশীলনে গতকাল মাঠে আসা হয়নি মেহেদী হাসান মিরাজের। দলের বেশির ভাগ সতীর্থের মতো হোটেলেই সময় কেটেছে তাঁর। গত পরশু জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তীব্র চাপে আফিফ হোসেনের সঙ্গে অবিচ্ছন্ন সপ্তম উইকেটে ১৭৪ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে ফিরিয়েছেন, অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলে হয়েছেন ম্যাচসেরা-ফোনের এ প্রান্তেই বোঝা গেল মেহেদী হাসান মিরাজের মুখে চ্যালেঞ্জ জয়ের হাসি।মিরাজের এই হাসি শুধু ম্যাচ জিতেই নয়, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই তাঁর পরিচিতি নিখাঁদ অলরাউন্ডার হিসেবে। ২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগে আইসিসি পর্যন্ত তাঁর ভেতর 'বাংলাদেশের পরবর্তী সাকিব আল হাসান' হওয়ার সম্ভাবনা দেখেছিল। ২০১৬ অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক টেস্টে আলোড়ন সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাব হলেও গত ছয় বছরে মিরাজ বাংলাদেশ দলে অফ স্পিনার হিসেবে যতটা নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন, ব্যাটার হিসেবে ততটা নন।বিষয়টি নিয়ে মিরাজকে কম প্রশ্ন শুনতে হয়নি। তবে তাঁর চেষ্টার কমতি নেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে একটু ওপরের দিকে ব্যাটিং করার সব চেষ্টাই করেন। কিন্তু বিষয়টি তাঁর একার ওপর নির্ভর করে না, ম্যানেজমেন্টকেও রাজি হতে হয়। সর্বশেষ বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়ক হিসেবে ওপরের দিকে ব্যাটিং করতে চেয়ে দূরত্ব তৈরি হলো ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে, তৈরি হলো অপ্রীতিকর এক পরিস্থিতি।জাতীয় দলে ওপরে ব্যাটিং করা আরও কঠিন। টপ ও মিডল অর্ডারে যেহেতু সুযোগ নেই, নিচের দিকে নেমে যতটা সুযোগ পাওয়া যায়, সেটিই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন মিরাজ। সেই চেষ্টায় গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন, ফিফটি পেয়েছেন। গত নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে অপরাজিত ৩৮, জানুয়ারিতে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের জয়ে শুধু বোলিংয়েই নয়, ৪৭ রানের ইনিংস খেলে ব্যাট হাতেও রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এখনো পর্যন্ত ১০১টি আন্তর্জাতিক ইনিংসে যে ১টি সেঞ্চুরি ও ৫টি ফিফটি পেয়েছেন, বেশির ভাগই সাত কিংবা আট নম্বর পজিশনে খেলে। যেহেতু নিচের দিকে নামেন, তাঁর ৩০-৪০ পেরোনো যেকোনো ইনিংসই দলের ভালো ফল এনে দিতে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, যার সর্বশেষ উদাহরণ গত পরশুর ম্যাচ। মিরাজের তৃপ্তিটা এখানেই।অতৃপ্তিও কম নেই। বাস্তবতা মেনেই গতকাল মিরাজ বলছেন, 'ব্যাটিংয়ে আমার আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি নেই। কিন্তু যতই আত্মবিশ্বাস থাক, ৮-৯ নম্বরে নেমে প্রতিদিন লম্বা ইনিংস খেলার সুযোগ থাকে না। এই পজিশনে ইনিংস আর কতই লম্বা করা যায়? ওপরের দিকের ব্যাটাররা খুব খারাপ করলে একটু লম্বা সময় পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এমন পরিস্থিতি কেউ কি প্রত্যাশা করে? কেউ কি চায় নিয়মিত বিপর্যয়ের চাপ নিয়ে খেলতে?'যে পজিশনেই খেলুন সেটিতেই ভালো করার চেষ্টা মিরাজের, 'এখন আমাদের ওপরের ব্যাটিং পজিশনে সব গ্রেট খেলোয়াড়েরা খেলছেন। ব্যাটিংয়ে প্রমোশন পেতে হয়তো সময় লাগবে। আর কাল (পরশু) একটা বিপর্যয় হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে এমন হয়। তাঁরা সবাই পরীক্ষিত খেলোয়াড়। এ রকম সব সময় হবে না।' নিচে ব্যাটিং করার একটা ইতিবাচক দিকও খুঁজে পেয়েছেন মিরাজ। বলছেন, 'ব্যাটিং বিপর্যয় ইচ্ছা করে হয় না। আর এমন পরিস্থিতি তৈরি না হলে আমরাও এই ম্যাচে হিরো হতে পারতাম না!' | 6 |
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলা গুরুতর আহত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মাহাদি জে আকিবের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন উঠে বসতে পারছেন, হাঁটাহাঁটি করছেন। সবার সঙ্গে কথাও বলতে পারছেন। তবে বুধবার (৩ নভেম্বর) রাতে তার জ্বর এসেছিল। জ্বরের কারণ নির্ণয় করার জন্য বৃহস্পতিবার তাকে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। আকিব এখনও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে আইসিইউয়ে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হবে। কেননা অন্য ওয়ার্ডে রাখা হলে লোকজন তহার সঙ্গে দেখা করতে চাইবে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে। চমেক হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নোমান খালেদ চৌধুরী বলেন, এর মধ্যে সে উঠে বসছে। হাঁটাহাঁটি করছে। দিন দিন তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হতে একটু সময় লাগবে। কারণ মাথায় গুরতর আঘাত লেগেছে। নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুল কাদের বলেন, বুধবার রাতে যেহেতু জ্বর এসেছে, তাই নতুন করে কোনো সংক্রমণ হল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে | 6 |
ওজন কমানোর জন্য কিছু জিনিস খুব কার্যকর মনে করা হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে এগুলো ওজন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু এগুলো খেলে ওজন কমবে, এমনটা কিন্তু একেবারেই নয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমস। আপেল সাইডার ভিনিগার ওজন কমানোর জন্য খুবই কার্যকরী বলে মনে করা হয়। বলা হয় যে আপেল ভিনিগার ডায়াবেটিস রোগী এবং আপনার হার্টের জন্য উপকারি। কিন্তু ওজন কমাতে আপেল সাইডার ভিনিগার ততটা কার্যকর নয়। আপল সিডার ভিনিগার পান করলে অতিরিক্ত খিদের ভাব কিছুটা কমতে পারে। তবে খালি এর প্রভাবে ওজন কমবে না। গ্রিন টি গ্রিন টি খেতে একেবারেই সুস্বাদু নয়। কিন্তু ওজন কমানোর আশায় অনেকে গ্রিন টি পান করেন। এটা ঠিকই যে গ্রিনটি ভীষণ স্বাস্থ্যকর এবং উপকারি। তাই বলে এর প্রভাবে রাতারাতি ওজন কমবে না। হালকা গরম জলে মধু ও লেবু অনেকেই সকালে উঠে খালি পেটে, হালকা গরম পানির মধ্যে মধু ও লেবুর রস গুলে পান করেন। ভাবেন এতেই ওজন কমবে ম্যাজিকের মতো। কিন্তু কিছুই হয় না। তবে হ্যাঁ, মধু ও লেবুর অন্যান্য উপকারিতাগুলি পাবেন। তবে ওজন কমবে কী করে? ফেলুদার মতো করে বললে, পরিমিত আহার ও নিয়মিত ব্যায়াম। এর কোনও বিকল্প নেই। জাঙ্ক ফুড, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, অতিরিক্ত ফ্যাট খাওয়া কমান। প্রোটিন, শাক সবজি, ফাইবারযুক্ত কার্বোহাইড্রেট খান বেশি। এর সঙ্গে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট যতটা সম্ভব কঠোর শারীরিক কসরত। ওজন কমানোর এটাই একমাত্র উপায়। | 4 |
যাত্রা শুরু করলো মাদারীপুর জেলার কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন মাদারীপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম। মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুর জেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি নিউজ টুয়েন্টিফোরের সাংবাদিক বেলাল রিজভী ও সাধারণ সম্পাদক চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের সাংবাদিক সাগর হোসেন তামিম। আগামী দুই বছরের জন্য গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি ইনডিপেনডেন্ট টিভির সাংবাদিক রিপনচন্দ্র মল্লিক, যুগ্ম সম্পাদক চ্যানেল নাইনের সাংবাদিক শিব শংকর রবিদাস, দপ্তর সম্পাদক বাংলাভিশনের সাংবাদিক ফরিদ উদ্দিন মুপ্তি, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ টিভির সাংবাদিক ম.ম হারুন অর রশিদ, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহাগ, কার্যকরী সদস্য এটিএন বাংলার সাংবাদিক গোলাম মাওলা আকন্দ, এনটিভির সাংবাদিক এম.আর মুর্তজা, ৭১ টিভির সাংবাদিক একেএম নাসিরুল হক, বৈশাখী টিভির সাংবাদিক নিত্যানন্দ হালদার, যমুনা টিভির সাংবাদিক প্রদ্যুৎ কুমার সরকার ও জিটিভির সাংবাদিক টি.এম সিদ্দিক। এছাড়া আরও সদস্য হয়েছেন বাংলা টিভির সাংবাদিক মেহেদী হাসান সোহাগ, দীপ্তি টিভির সাংবাদিক অপূর্ব দাস, দেশ টিভির সাংবাদিক সম্পা রায়, মাই টিভির সাংবাদিক মাসুদুর রহমান। পেশাগত উন্নয়ন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাসহ সম্প্রচার সাংবাদিকতা সার্বিক দিক উন্নয়নে এই সংগঠন কাজ করবে বলে নীতি নির্ধারকরা মনে করেন। | 6 |
তিনি একজন সফল সঙ্গীত পরিচালক। প্রজন্মের সঙ্গীত পরিচালকদের মধ্যে যারা ইতিমধ্যে চলচ্চিত্র, অডিও অ্যালবাম এবং স্টেজ প্রোগ্রামে নিজেদের যোগ্যতা মেলে ধরেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাজ আহমেদ শাহরিয়ার। সাজ আহমেদ শৈশব থেকেই গানের সঙ্গে জড়িত। তিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন 'ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল' মিউজিকে তালিম নেন। আর তার কী-বোর্ডে হাতেখড়ি মাইলস ব্যান্ডের মানাম আহমেদের কাছে। তার কাছ থেকে দুই বছর কী বোর্ড বাজানোর ওপর তালিম নেন। তিনি আরও জানান, এটি প্রযোজনা করছে সি ইজ ডায়মন্ড এবং এস এস মিউজিক। স্পন্সর থাকবে আল হাসান ডায়মন্ড গ্যালারি। নতুন এই গানের রিমিক্স করেছেন দেশের জনপ্রিয় ডিজে ডিউক। আর গানটির সেকেন্ড ভার্সনটি করেছেন ডিজে সনিকা। ২০১২ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত খালিদ মাহমুদ মিঠু পরিচালিত 'জোনাকীর আলো' ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। ছবিতে জনপ্রিয় শিল্পী আগুনের কণ্ঠে 'পানসুপারী' গানটির সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সাজ আহমেদ। 'জোনাকীর আলো' ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও তার করা। এরপর ইমপ্রেসের ছবি গাজী রাকায়েত পরিচালিত 'মৃত্তিকা মায়া'ছবির সবগুলো গানের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/০৯ মার্চ ২০১৯/আরাফাত | 2 |
করোনাভাইরাস সংক্রমণে নতুন রেকর্ড হচ্ছে ভারতে। একদিন ব্যবধানে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত শনাক্ত তিন লাখ ছুঁইছুঁই অবস্থায় দেশটি। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ৯৫ হাজার ৪১ জন। পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ২৩ জনের। সংক্রমণের রশি টানতে যদিও রাজ্যগুলোতে জারি করা হয়েছে কঠোর লকডাউন, কিন্তু তাতে কোনো ফল আসছে না। পাল্লা দিয়ে সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। দেশটির স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত শনাক্তদের নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত সংখ্যা এক কোটি ৫৬ লাখ ১৬ হাজার ১৩০ জন। আর এই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ৫৫৩ জনে। মঙ্গলবারের রিপোর্টে আক্রান্ত সংখ্যা একটু কমলেও বুধবার তা অনেকটাই বেড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ভারতে করোনাকে ঠেকাতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে টিকাকরণ প্রক্রিয়া। এখন পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে ১৩ কোটি এক লাখ ১৯ হাজার ৩১০ জনকে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আগামী ৩ সপ্তাহ করোনার সংক্রমণ বিপজ্জনক হারে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজ্যগুলোর পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতেও সংক্রমণ মাত্রা ছাড়া রূপ নিতে পারে। সে কারণেই আগেভাগে সব পরিকল্পনা করে রাখতে পরামর্শ কেন্দ্রীয় সরকারের। এদিকে মে থেকে ১৮ বছর হলেই করোনা টিকা দেওয়া হবে ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্র। এখন ৪৫ ঊর্ধ্বদের জন্য করোনা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা সারাদেশে চালু রয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সংকটে ফেলে দিয়েছে ভারতের প্রশাসনকে। দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাই সে জায়গা থেকে ১৮ বছর হলেই করোনার টিকা দেওয়ার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যেহেতু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কোনো বয়সকেই ছাড় দিচ্ছে না, তাই এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী মনে করা হচ্ছে। | 3 |
আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে 'মেলবোর্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব'। এতে অংশ নিচ্ছে তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা অং রাখাইনের 'দ্য লাস্ট পোস্ট অফিস'। ছবিটি আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে প্রদর্শনের জন্য মনোনীত হয়েছে। আগামী ৭ ও ৯ আগস্ট ছবিটির দুটি প্রদর্শনী হবে। 'দ্য লাস্ট পোস্ট অফিস' ছব্রি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশীষ খন্দকার। এছাড়াও আছেন শাহরিয়ার ফেরদৌস সজীব ও অশোক ব্যাপারী। রাজীব রাফির গল্পে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন ও আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ। ছবিটি নিয়ে অং রাখাইন বলেন, ''আমাদের দেশের পোস্ট অফিসগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চিঠির আদান প্রদান নেই বললেই চলে। আমার স্বল্পদৈর্ঘ্যটিতে বিলুপ্তির পথে থাকা এমন একটি পোস্ট অফিসকে দেখানো হয়েছে। নিজেদের অস্তিত্ব সংকটের কথা জেনেও যেখানে দুজন পোস্টমাস্টার ও ডাকপিয়ন মনের আনন্দে কাজ করে যায়।' | 2 |
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থীরা পুলিশের একটি প্রিজনভ্যানে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকায় বংশাল থানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরপুর গামী অনিবার্ণ,উত্তরণ এবং গাজীপুরগামী উল্কা বাস বংশাল থানার সামনে তাঁতীবাজার মোড় অতিক্রম করার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফয়সালকে রেখে চলে যায়। ফয়সাল মিরপুরগামী উত্তরণ বাস ধরতে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে উঠে যায়। এসময় প্রিজন ভ্যানে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে লাথি মেরে নিচে ফেলে দেয়। ফয়সাল রাস্তার মধ্যে পরে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বাসের শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের প্রিজনভ্যানে ভাঙচুর শুরু করে। এসময় প্রিজনভ্যানে ৫২ জন আসামী ছিলেন। শিক্ষার্থীদের হামলায় প্রিজনভ্যানের চালকসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত চালককে ন্যাশনাল মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়েছে। আরো পড়ুন :পুলিশের বিরুদ্ধে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগনিজস্ব প্রতিবেদক ০৫ মার্চ ২০১৯, ২০:০২ কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে মোহাম্মদ সেলিমকে (৩৮) তুলে নিয়ে গিয়েছিল মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান থানা পুলিশ। পরবর্তীতে ধলেশ্বরী নদীর চরে নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এমনই অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী নাসরিন বেগম। গতকাল মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নিহত সেলিমের বৃদ্ধ মা ও নাবালক দুই শিশু সন্তান। লিখিত বক্তব্যে নাসরিন বেগম জানান, সেলিমের বিরুদ্ধে সিরাজদীখান থানাসহ কোনো থানায়ই অভিযোগ দূরের কথা একটি জিডিও ছিল না। ২০০৬ সালে তার শ্বশুর রুহিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদ আনোয়ার হোসেন মেম্বারকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকান্ডে যারা জড়িত ছিল তাদের মদদে ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দুীর্ঘ ১২ বছর পর তার পুত্র সেলিমকে গত ১ মার্চ শুক্রবার নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সিরাজদীখান থানার ওসির নেতৃত্বে এই হত্যাকান্ড ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমে তার স্বামীকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এসময় কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সেলিমের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ জানাতে পারেনি। ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ সেলিমের উপর নির্মম নির্যাতন চালায়। পরে ধলেশ্বরী নদীর চরে নিয়ে সেলিমকে অপরাধী বানিয়ে শত শত লোকজনের সামনে নির্মমভাবে হত্যা করে।বিধবা নাসরিনের অভিযোগ, কি অন্যায় করেছিল তার স্বামী? যার কারণে পুলিশ বিচার বহির্ভূতভাবে সেলিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করলো! পিতৃহারা অবুঝ দুই সন্তান ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে বিচারের জন্য কোথায় দাঁড়াবো? তিনি জানান, তারা জানতে পেরেছেন ২০০৬ সালে তার শ্বশুর আওয়ামীলীগ নেতা শহীদ আনোয়ার হোসেন মেম্বার হত্যাকান্ডে জড়িতরা সিরাজদীখান থানার ওসিকে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ দিয়ে তার ছেলে সেলিমকে হত্যা করিয়েছে। যাতে করে কেউ ওই হত্যাকান্ডের বিচার চাইতে না পারে। তিনি এই দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সিরাজদীখান থানার ওসিসহ জড়িত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। প্রিজন ভ্যানে উঠতে চাওয়া জবি শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, আমি ভুল করে পুলিশ ভ্যানে উঠে সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরণ বাস ধরার জন্য উঠেছিলাম। পুলিশ আমাকে লাথি মেরে নিচে ফেলে দিয়েছে। কোতয়ালী জোনের এসি বদরুল হাসান রিয়াদ বলেন,শিক্ষার্থীদের হামলায় প্রিজন ভ্যানটি ভাঙচুর হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। | 1 |
ফরিদপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার দায়ে শাহাবুদ্দিন খান নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় শাহাবুদ্দিনের ছোট ভাই সুমন খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুজনকে আদালত ৫০ হাজার টাকা করে অর্থ দণ্ড দিয়েছে। মামলা অপর দুই আসামি খালাস পেয়েছেন।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) প্রদীপ কুমার রায় এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডিতরা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলাইরচর গ্রামের ছেকেন্দার খানের ছেলে।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট স্বপন পাল জানান, ২০১১ সালের ২৭ জুন ছোট ভাই সুমন ও পরিবারের দুই সদস্য আছিয়া বেগম এবং ঝুমুর বেগমকে নিয়ে শাহাবুদ্দিন তাঁর স্ত্রী মনিরা খানমের গাঁয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন। পরে মনিরার চিৎকারের পাশের বাড়ি লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। পরে থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনিরা মারা যান।আদালত সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় মনিরার বাবা ২০১১ সালের ৩ জুলাই আলফাডাঙ্গা থানায় নারী নির্যাতন ও হত্যা মামলা করেন। ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণ করেন আদালত। | 6 |
নরসিংদীর মনোহরদীতে বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাঁচা সড়ক পাকাকরণের কাজ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের উত্তর নারান্দী মাটির বাসন রেস্টুরেন্টের কাছ থেকে সুতালরীকান্দা সংযোগ সড়কের উত্তর নারান্দী ঈদগাহ পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়ক বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।স্থানীয়রা জানান, এক বছরেরও বেশি সময় আগে এই সড়কের কাজের উদ্বোধন করা হলেও এখন পর্যন্ত সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তাঁরা। দোয়েল কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির কাজের দায়িত্ব পায়। দায়িত্ব পাওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সড়কে বক্স কেটে বালু ও ইটের খোয়া ফেলা হয়। এরপর এক বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। এখন এই সড়ক দিয়ে এলাকার মানুষ খুবই কষ্ট করে চলাচল করছে। এবারের ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতেও সড়কে জমে থাকা পানির ওপর দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি আশপাশের জমির ধান কেটে নিয়ে যেতেও কষ্ট হয়েছে।স্থানীয় মো. তোফাজ্জল হোসেন নামে একজনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, 'প্রায় এক বছর আগে সড়কের কাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। এই সড়কের অনেক জায়গা ভেঙে পড়ে গেছে। এর জন্য এলাকার মানুষকে অনেক বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।' একই গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব কফিল উদ্দিন ওই সড়ক দিয়ে সাইকেল নিয়ে হেঁটে নারান্দী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি মুচকি হেসে বলেন, 'আমরা কইলে তো দোষ হইবে। কোন মানুষ যে এই সড়কের কাম পাইছে তা আল্লায় ভালো জানে।'এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দোয়েল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারীর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. মীর মাহিদুল ইসলাম বলেন, 'সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। আশা করছি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করবে।' | 6 |
আফগান সরকারের ব্যবহৃত অনেক ই-মেইল অ্যাকাউন্টের ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে গুগল। দেশটির সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের ডিজিটাল নথি তালেবানের হাতে যাওয়ার ভয় থেকে এমনটা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একজনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আফগান সরকার হটিয়ে গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর পরপরই খবর আসে, আফগান সরকারের বায়োমেট্রিক ও অন্যান্য তথ্যভান্ডার তালেবানের হাতে গেছে। তালেবান যোদ্ধারা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তাঁদের 'শত্রুদের' খুঁজে বের করার কাজে এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে গুগল জানায়, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং 'সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তায় সাময়িক পদক্ষেপ' নিচ্ছে তারা। তবে সেগুলো আফগান সরকারের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট কি না, তা নিশ্চিত করেনি। আফগানিস্তানের বিদায়ী সরকারের একজন কর্মী রয়টার্সকে বলেছেন, তালেবান বিগত সরকারের কর্মকর্তাদের ই-মেইল অ্যাকাউন্টগুলোতে ঢুকতে চাইছে। গত মাসের শেষ দিকে ওই কর্মী বলেন, যে মন্ত্রণালয়ের জন্য তিনি কাজ করতেন, তাদের সার্ভারে রাখা তথ্য সংরক্ষণের জন্য তাঁকে বলেছিল তালেবান। তিনি বলেন, 'আমি যদি তা করতাম, তাহলে তারা ওই সব তথ্য পেত এবং মন্ত্রণালয়ের আগের শীর্ষ পদধারীদের সরকারি যোগাযোগের তথ্য পেয়ে যেত।' ওই সরকারি কর্মী জানান, তালেবানের নির্দেশনা মানেননি তিনি। এরপর থেকে তিনি লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন। ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্য থেকে দেখা যায়, প্রায় দুই ডজন আফগান সরকারি সংস্থা ই-মেইলে যোগাযোগের জন্য গুগলের সার্ভার ব্যবহার করত। এর মধ্যে অর্থ, শিল্প, উচ্চশিক্ষা ও খনিবিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের প্রটোকল দপ্তরও যোগাযোগের জন্য গুগলের সেবা ব্যবহার করত। সরকারি ডেটাবেইস ও ই-মেইল থেকে গত প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী ও দেশি-বিদেশি সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য মিলতে পারে। মাইক্রোসফট করপোরেশনের ই-মেইল সেবাও ব্যবহার করত বেশ কিছু আফগান সরকারি সংস্থা। তবে তালেবানের হাত থেকে সেই তথ্য বাঁচাতে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। কোন মন্ত্রণালয় কোন ই-মেইল সেবা ব্যবহার করত, তা খুঁজে বের করতে রয়টার্সকে সাহায্য করেন ডোমেইনটুলসের নিরাপত্তা গবেষক চ্যাড অ্যান্ডারসন। তিনি বলেন, কেবল গুগল শিটে কর্মীদের তালিকা পেলেও সেটা বড় সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ডিজিটাল অবকাঠামোগুলো থেকে যে তথ্য মিলবে, তা নতুন সরকারের কাছে পুরোনো হেলিকপ্টারের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। | 3 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার গণতন্ত্রকে নিরাপদ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নবনির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ১২ তলা ভবন 'বিজয় একাত্তর' উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্রকে সুরক্ষা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, যাতে জনগণ ন্যায়বিচার পায়।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নির্যাতিত নারী, শিশু ও অ্যাসিড হামলার শিকারসহ সকলে যাতে সুবিচার পায়, আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।' সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করেছে। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী করতে, সংবিধানের কার্যকারিতা নিশ্চিতে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়ার জন্য বিচারপতিদের সাধুবাদ জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, এই রায়ে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে।' অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নবনির্মিত ১২ তলা ভবনের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দীন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার স্বাগত বক্তব্য দেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
বিরাট কোহলির পর কে হবেন ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক? বিসিসিআই যখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, তখনই কৌশলে একে একে নিজেদের নাম ভাসিয়ে দিচ্ছেন দলের সিনিয়র তারকারা। জশপ্রীত বুমরাহ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, সুযোগ পেলে ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। এবার সেই একই ধরনের ইচ্ছার কথা শোনা গেল অধিনায়কত্বের আরেক দাবিদার লোকেশ রাহুলের মুখেও। বলে দিলেন, সুযোগ পেলে অধিনায়কত্বে তিনিও না বলবেন না। সম্প্রতি বিরাট এবং রোহিতের অনুপস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জোহানেসবার্গ টেস্টের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে তাকে। রোহিতের অনুপস্থিতিতে ভারতের ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্বও তিনিই করবেন। স্বাভাবিকভাবেই টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে রাহুলের নাম নিয়েও ভালমতোই গুঞ্জন চলছে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সেই গুঞ্জন প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, 'দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলে সেটা বিরাট বড় সম্মানের হবে। এটা সত্যিই খুব উৎসাহব্যঞ্জক একটা ব্যাপার। আর আমি আমার সবটুকু দিয়েই দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করব। এটা সত্যিই বড় দায়িত্ব হবে।' অর্থাৎ বোর্ড দায়িত্ব দিলে তিনি যে প্রস্তুত, তা স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিলেন রাহুল। একদিন আগে জশপ্রীত বুমরাহও একইভাবে ঘুরিয়ে অধিনায়ক হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সেটা অত্যন্ত সম্মানের ব্যাপার হবে। আমার মনে হয় সুযোগ এলে কোনো খেলোয়াড়ই না বলবে না। আমার উপর দায়িত্ব দেওয়া হলে আমি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। যেকোনো ধরনের দায়িত্বেই আমি একইভাবে অবদান রাখতে চাই। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 12 |
রাশেদুল হাসান, তিনি 'মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া'র প্রথম বাংলাদেশি প্রতিযোগী। ২০১৭ সালে প্রচারিত জনপ্রিয় রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো 'মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া'র নবম আসরের অংশ নিয়েছিলেন রাশেদুল। বাংলাদেশি প্রচলিত কিংবা সাধারণ খাবারকে নতুন রূপ আর স্বাদে প্রস্তুত করা ছিল তাঁর বিশেষত্ব। তবে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন আর ভালো করেন মিষ্টান্ন। বিশেষ এই গুণ নিয়ে প্রতিযোগিতার বাছাইপর্ব থেকে নির্বাচিত সেরা ২৪-এ জায়গা করে নিয়েছিলেন। মাস্টারশেফের নানান দিক আর তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে এই প্রতিবেদক কথা বলেন রাশেদুল হাসানের সঙ্গে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের শুরুর দিকের কথায় রাশিদুল হাসান বলেন, 'আমি ভিন্ন ধরনের রান্না করতে ভালোবাসি। কিন্তু তাই বলে যে মাস্টারশেফে চলে যাব, সেটা ভাবিনি। তবু কী মনে করে যেন অনলাইনে আবেদনপত্রের দু-তিন পাতা পূরণ করেছিলাম। কিন্তু দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে আর বাড়াইনি। মজার ব্যাপার হলো, বেশ কয়েক দিন পর মাস্টারশেফ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জানায়, তারা আবেদনপত্র জমা নেওয়ার শেষ তারিখ বাড়িয়েছে। আমি যেহেতু কয়েক পাতা পূরণ করেছি, তাই ইচ্ছা হলে বাকিটা পূরণ করে জমা দিতে পারি। আমি তখন একটু সাহস পাই। ভাবি, নিশ্চয় আমার কোনো দিক তাদের ভালো লেগেছে। তাই আবেদনপত্র বাকিটা পূরণ করে জমা দিয়ে দিই। মাস্টারশেফ দেশের সব রাজ্যেই যায়। প্রতিটি রাজ্যেই ১০ থেকে ১২ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে গোটা দেশের প্রায় দুই হাজার নির্বাচিত ব্যক্তিকে ডেকে কয়েক দফায় রান্নার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ করায়। প্রতি চ্যালেঞ্জে অর্ধেক করে প্রতিযোগী কমে। প্রতিযোগীর সংখ্যা ৫০ জনে নেমে এলে শুটিং শুরু হয়ে যায়। আমিও সিডনিতে দিয়েছি। সব মিলিয়ে দুই হাজার আবেদনকারী ও চ্যালেঞ্জজয়ী থেকে আমরা নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের আটজন সেরা ২৪-এর জন্য নির্বাচিত হই।' মিষ্টান্ন তৈরি ও পরিবেশন করতে পারদর্শী রাশেদুল হাসানের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি বরাবরই মিষ্টান্নের দিকে ফোকাসড ছিলাম। "মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া"র সিজন ৭-এর প্রতিযোগী রেনল্ড পোর্নোমোকে বলা হতো মিষ্টান্নের রাজা। তাঁর রান্নার কৌশল আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। মূলত, আমি মিষ্টিজাতীয় খাবার রান্না করতেই বেশি ভালোবাসি। বাছাইপর্বে একবার স্মোকড আইসক্রিম বানিয়েছিলাম। খেয়ে প্রাথমিক বিচারকদের একজন বলেছিলেন, এটা তাঁর খাওয়া সবচেয়ে মজার আইসক্রিম।' রাশেদুল হাসানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। যদিও তাঁদের গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুরে। তাঁর হাতেখড়ি মায়ের রান্নাঘরেই। তবে রান্না করতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন তাঁর বাবা বাহাউদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে। তাঁর বাবা রান্নাঘরে বিভিন্ন খাবার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পদ তৈরি করার চেষ্টা করতেন। একই গুণ পেয়েছেন রাশেদুল। তাঁর রান্নার যাত্রা নিয়ে বলেন, 'পরিবারকে রান্না করে খাওয়াতে ভালো লাগত। তবে সব মিলিয়ে অনেক খাবার রান্নার সময় পেতাম না। তাই মিষ্টান্ন তৈরি করা শিখলাম। আমি বেশি পছন্দ করি আইসক্রিম বানাতে।' 'মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া'র প্রথম রান্নায় জাফরান দিয়ে পোচড পেয়ার এবং স্মোকড ভ্যানিলা আইসক্রিম তৈরি করেন রাশেদুল। বিচারকদের পছন্দ হয় রাশেদুলের রান্না। নির্বাচিত হন সেরা ২৪-এর জন্য। তবে প্রথম পর্বেই শেষ হয়ে যায় রাশিদুল হাসানের মাস্টারশেফের যাত্রা। নানান অভিজ্ঞতা আর কিছু স্মৃতি নিয়েই বাড়ি ফেরেন তিনি।বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি পরিচালক হিসেবে চাকরিরত রাশেদুল। স্ত্রী ও পুত্রসন্তান নিয়ে বাস করছেন সিডনিতে। তিনি সাবে জাতীয় ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট সংগঠক সৈয়দ আশরাফুল হকের জামাতা। 'মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া'র ত্রয়োদশ সিজনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী কিশোয়ার চৌধুরীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন রাশেদুল হাসান। বলেছেন, 'বাংলাদেশকে তুলে ধরার স্বপ্ন আমার ছিল। তবে সেটা না হওয়ার আফসোস কাটিয়ে দিয়েছেন কিশোয়ার। তিনি চমৎকারভাবে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি খাবারকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। আশা করছি, তিনি বিজয়ী হবেন।' কিশোয়ারকে শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি রাশেদুল হাসান বলেন, 'কিশোয়ারের এ সাফল্যের মধ্যেই নিজের আর বাংলাদেশিদের গৌরব দেখতে পাই আমি।' সঙ্গে আরও যোগ করেন, 'কয়েক বছর আগে কিশোয়ারের বড় বোনের সঙ্গে সিডনিতে দেখা হয়েছিল। তাঁর রান্নাও খুব মজার। সে সময়েই তাঁর বোন বলেছিলেন যে কিশোয়ার মাস্টারশেফে অংশ নিতে আগ্রহী। এ বিষয়ে সেবার আমাদের আলাপচারিতাও হয়। আমার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করি।' তবে জীবনের শুরুতে রাশেদুল হাসানের স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়ার, ভালো খেলতেন। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলার স্বপ্ন ছিল। তবে নিজের সে স্বপ্নের বলিদান দেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ মায়ের জন্য। মায়ের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে মাকে সার্বক্ষণিক সেবা করতে সবকিছু ছেড়ে মায়ের কাছে পড়ে থাকতেন। মা নাফিসা আহমেদকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে 'প্রভাবশালী ব্যক্তি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। ২০০৯ সালে তাঁর পরম মমতাময়ী মা চিরবিদায় নেন। সে কষ্ট তাঁকে আজও তাড়া করে। সবকিছু ছেড়েছুড়ে চলে আসেন অস্ট্রেলিয়ায়। নতুন যাঁরা মাস্টারশেফে অংশগ্রহণ করতে চান, তাঁদের উদ্দেশে রাশেদুল হাসান বলেন, '১২ থেকে ১৫ পাতার একটা আবেদনপত্র আছে। সেখানে বহু প্রশ্নের অনেক অনেক উত্তর দিতে হয়। বেশির ভাগ প্রশ্নই রান্না-সম্পর্কিত। তবে সবচেয়ে আবশ্যিক শর্ত হচ্ছে, পেশাগতভাবে কোনো রকম রান্নার সঙ্গে জড়িত থাকা যাবে না। এমনকি রান্না দ্বারা আয় করেছেন-এমন অভিজ্ঞতা থাকাটাও নেতিবাচক হিসেবে নেবে প্রাথমিক বিচারকেরা। অর্থাৎ, রান্না নিয়ে আপনার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই, প্রশিক্ষণ নেই-এমন ঘরোয়া রাঁধুনিকে অগ্রাধিকার দেয় মাস্টারশেফ, যাঁরা কিনা মোটামুটি শখের বশেই রান্না করেন। পেশাদার রাঁধুনি হওয়ার পরেও ভুয়া তথ্য দিয়ে অনেকেই মাস্টারশেফে অংশগ্রহণ করে থাকে। তবে সেটা অবশ্যই ধরা পড়ে এবং প্রতিযোগিতা চলাকালে সেই প্রতিযোগীকে বাতিল করার রেকর্ডও আছে মাস্টারশেফের।' ছবি: রাশিদুল হাসানের কাছ থেকে নেয়া | 4 |
আজকের পত্রিকার সহায়িকা কুইজ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় সপ্তাহের বিজয়ী হয়েছে ঢাকার মিরাজুর রহমান। সে বিএএফ শাহীন কলেজে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। মঙ্গলবার ঢাকার অফিসে তার বাবার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারটি তাঁর হাতে তুলে দেন আজকের পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কামরুল হাসান।পুরস্কারে মিরাজ ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা এর তিনজনের বিমান টিকিট ও দুই হাজার টাকার উপহার পায়। পুরস্কার পেয়ে আনন্দিত মিরাজুরের বাবা।এ বিষয়ে মিরাজুরের বাবা মাহাবুবর রহমান বলেন, 'খুব খুশি হয়েছি। আজকের পত্রিকা শুরু থেকেই পড়ি। এটি বাসায় রাখছি প্রথম দিন থেকেই। পত্রিকার নামটি বেশ ভালো হয়েছে। সহায়িকা পাতাটি বেশ ভালো। আমার ছেলে সহায়িকা ও খেলার পাতা বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়ে।'এ সময় তিনি আজকের পত্রিকার জন্য শুভ কামনা জানান। | 6 |
ব্রিটেনে আবারও করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লন্ডনের জনসংখ্যার একটি অংশ করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত এবং দ্রুত এই ধরনটি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওমিক্রনের দ্রুত বিস্তারের কারণে গত সাত দিনে বিশেষ করে লন্ডনে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের (ওএনএস) এক জরিপে দেখা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বরের তথ্যানুসারে লন্ডনের ২০ জন নাগরিকের মধ্যে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং আগামি রবিবারের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে ১ জন হতে পারে। করোনাভাইরাসের আক্রান্ত শ্রমিকরা আইসোলেশনে থাকার কারণে অনেক শিল্প কারখানা এবং পরিবহন কর্মী ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ২০২১ সালের বড়দিনকে আগের বছরের তুলনায় "কিছুটা ভালো" বলে দাবি করেছেন। এমনকি মঙ্গলবার বড়দিনের আগে নতুন বিধিনিষেধ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, "ওমিক্রনের তীব্রতা এবং হাসপাতালে ভর্তির হার সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে।" সরকারি তথ্য অনুসারে, নতুন করে ১ লাখ ২২ হাজার ১৮৬ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছেন। যা বৃহস্পতিবার ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৮৯ জন ছিল। ওমিক্রনের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯-এর আগের ধরনের তুলনায় ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার কম। যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির প্রধান জেনি হ্যারিস বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "বড়দিনে আশার ঝলক দেখা যাচ্ছে। তবে এটা এখনও সেই পর্যায়ে নেই যখন আমরা ওমিক্রনকে হালকাভাবে দেখতে পারি।" এর আগে শুক্রবার দেশটির সরকার গত ২৮ দিনের মধ্যে নতুন করে ১৩৭ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে। ওএনএস-এর তথ্যানুযায়ী, ১৯ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী ৬ দিনে ইংল্যান্ডে ৩৫ জনের মধ্যে ১ জন বা ১৫ লাখ ৪০ হাজার জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বেড়ে ২৫ জনের মধ্যে ১ জন বা ২০ লাখ হতে পারে। | 3 |
রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় বিএনপির কর্মসূচি স্থগিত করার বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কারণেই এ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি নেতাদের বিবৃতি সঠিক হয়নি।রোববার দুপুরে সদর উপজেলার মাহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের বুড়িরহাট খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।বিষয়টি নিয়ে এদিন নীলফামারীর সৈয়দপুরেও মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, 'আজকে (রোববার) রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় আমারও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ নেতৃবৃন্দ যাচ্ছেন। তাই সেখানে একসঙ্গে দু'টি দলের প্রোগ্রাম করা সমীচীন নয়- এ বিষয়কে আমরা গুরুত্ব দিই। তাই আমি তাদের ছাড় দিয়েছি।'লালমনিরহাটে ফখরুল বলেন, বিএনপিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখলে সেটা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশের জনগণ ও বিশ্ব তা মানবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যে তামাশা সরকার করেছিল, সেখানে জনগণ অংশগ্রহণ করেনি। ফলে নির্বাচন কমিশনকে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীদের নির্বাচিত ঘোষণা করতে হয়েছে।এদিন সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার চক্রান্ত করে রংপুরের ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে নিজেদের দোষ ঢাকতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।আগামী নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটে জামায়াতের থাকা-না থাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, 'আমাদের জোট অটুট রয়েছে। এখনও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাই আগামী নির্বাচনে তারা আমাদের সঙ্গে থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।'
| 6 |
আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো এ টি এম শামসুজ্জামান। অস্ত্রোপচারের সেলাই ইতোমধ্যে কেটে দেয়া হয়েছে। দুপুরে নিজ হাতে খাবারও খেয়েছেন বাংলা সিনেমার শক্তিমান ও বরেণ্য এই অভিনেতা। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চলাফেরা করছেন হুইল চেয়ারে করে। তবে এখনই তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হচ্ছে না। সেখানে আরও কয়েকদিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এমনটাই জানালেন এটিএম শামসুজ্জামানের মেজো মেয়ে কোয়েল। গত ২৬ এপ্রিল রাতে বাসায় অসুস্থবোধ করলে এ টি এম শাসুজ্জামানকে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুরু থেকেই তিনি প্রফেসর ডা. রাকিব উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। বিডি প্রতিদিন/১৬ মে ২০১৯/আরাফাত | 2 |
খুব বেশি কিছু না, একটি ছবিই সেটা। এমন কত ছবিই তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিন দিচ্ছে সবাই। খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অগণিত অনুসারী, প্রতি মুহূর্তেই বাড়ে সে সংখ্যা। অনুসারীদের ভালোবাসা পেতে নিয়মিত বিভিন্ন ছবি দেন তারকারা। খেলার মুহূর্তের ছবি, প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো ছবি, প্রিয় মুহূর্তের ছবি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ব্যস্ত সময় কাটান মেসুত ওজিল। মাঠে ও মাঠের বাইরে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি প্রতিনিয়ত দেন। ইসলাম ধর্মের অনুসারী ওজিল মাঠে দোয়া পড়া কিংবা ওমরাহ করার ছবিও দেন। সে তুলনায় আজ টুইটারে দেওয়া ওজিলের ছবিটা একটু ভিন্ন। এই ছবিতে মেসুত নেই। শুধু এটুকুই শেষ নয়, এই ছবিতে খুব বড় এক বার্তা দিয়েছেন জার্মান ফুটবলার। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণই গত শুক্রবার থেকে রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। ইসরায়েলের দখল করা এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করাকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা চলছে। দাবি করা হচ্ছে ইসরায়েলি হামলায় গতকাল পর্যন্ত সেখানে ১০৯ জন নিহত হয়েছেন। এই অবস্থায় হামলায় অংশ নেওয়া ইসরায়েলে সেনাদের লাল কার্ড দেখিয়েছেন ওজিল। ফুটবলে লাল কার্ডের অর্থ খুব পরিষ্কার। খেলার অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন ফুটবলার, তাঁকে এবার মাঠ ছাড়তে হবে। সোজা কথায়, গলাধাক্কা দেওয়া যাকে বলে। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে তাই নিজের বার্তাটা একটু অভিনব উপায়ে জানিয়েছে ওজিল। তুরস্কের বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার যে ছবিটি দিয়েছেন, তার দুটি চরিত্র। একটি শিশু ও আরেকটি সৈনিক। বাঁহাতি একটি বল ধরে শিশুটি তাকিয়ে আছে এক সৈনিকের দিকে। সে যে ইসরায়েলের সেটা বুঝতে কারও কষ্ট হচ্ছে না। গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সংবাদমাধ্যম আর টিভি পর্দায় এ পোশাক হরহামেশা দেখা যাচ্ছে। সম্মুখ লড়াইয়ের জন্য পুরো প্রস্তুত সে যোদ্ধার সামনেই নির্বিঘ্নে দাঁড়িয়ে আছে সে শিশু। তার গায়ে একটি জার্সি। তাতে একটি নাম লেখা, ওজিল। জার্সি নাম্বার ২৩ আর জার্সির রংটা কালো। এটুকুতেই যে কোনো ফুটবল ভক্ত বুঝে যাবেন কোন দলের জার্সি এটি। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে যখন মাত্রই আলো ছড়ানো শুরু করেছিলেন, তখন এই ২৩ নম্বর জার্সিটাই পরতেন। তো ওজিলের জার্সি পর একদিন ওজিল হওয়ার স্বপ্ন দেখা সে বালক বাঁ হাতে ফুটবল ধরে আছে। তার ডান হাত ব্যস্ত অন্য কাজে। যোদ্ধার মুখের ওপর লাল কার্ড দেখিয়ে দিচ্ছে, বার্তাটা পরিষ্কার, 'এখানে তুমি অনাহূত, বেরিয়ে যাও।'ওজিলের এই ছবি ও বার্তা বুঝতে কারও ভুল হয়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় ৯২ হাজার ভালোবাসা পেয়েছেন ওজিল। ১৩ হাজারের বেশি অনুসারী এই ছবি নিজেদের ওয়ালে টেনে নিয়ে রিটুইট করেছেন। ওজিলের আগে অনেক ফুটবল তারকাই এ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। ইন্টার মিলানের মরোক্কান রাইটব্যাক আশরাফ হাকিমি থেকে শুরু করে বায়ার্ন মিউনিখের লেফটব্যাক আলফোনসো ডেভিস, রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মিডফিল্ডার নুরি সাহিন-সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন ইসরায়েলের বিপক্ষে। লিভারপুলের মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ তো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে ট্যাগ দিয়ে এখনই এই নির্বিচারে গণহত্যা থামাতে বলেছেন, 'আপনাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে এই নৃশংসতা থামান। নিরস্ত্র, নিরপরাধ মানুষকে নির্বিবাদে হত্যা করা হচ্ছে, এটা থামান। এখনই। যথেষ্ট হয়েছে।' | 12 |
ঘুমের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বলা হয় স্লিপ এপনিয়া। চিকিৎসকেরা বলছেন, এ রোগ মানুষের জন্য একটি নীরব ঘাতক, যা ঘুমের মধ্যে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ২ শতাংশ নারী ও ৪ শতাংশ পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশেও নারীদের তুলনায় পুরুষদের এ রোগে আক্রান্তের হার বেশি।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আজ রোববার 'অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়া' শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।বিএসএমএমইউর উপাচার্য জানান, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহুরে জনসংখ্যার ৬ শতাংশ এই ব্যাধির শিকার। এর মধ্যে পুরুষ ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে এই রোগের হার ২ দশমিক ১৪ শতাংশ।শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, যাঁদের নাক ডাকার সমস্যা, ঠিকমতো ঘুম হয় না, শরীর স্থূলাকার, তারা এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এ রোগের চিকিৎসা রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে কোনো কোনো রোগীর সার্জারিরও প্রয়োজন হয়। স্লিপ এপনিয়া রোগ সম্পর্কে মানুষ জানে না। তাদের এ রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।এ রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা রয়েছে। লক্ষণ দেখা দিলেই বিএসএমএমইউ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন এই উপাচার্য।সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন বলেন, 'স্লিপ এপনিয়া সারা বিশ্বের একটি অবহেলিত ঘাতক ব্যাধি। তবে এখনো স্লিপ এপনিয়ায় ৯০ শতাংশ রোগী চিকিৎসার আওতার বাইরে। আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রোগের চিকিৎসা রয়েছে। আমাদের দেশে এই রোগ সম্পর্কে চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে আরও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের এখানে দুটি স্লিপ ল্যাব রয়েছে। গত পাঁচ বছর এখান থেকে আমরা স্লিপ এপনিয়া রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছি।'চিকিৎসকদের উদ্দেশে মোশাররফ হোসেন বলেন, স্লিপ এপনিয়ার সচেতনতার লক্ষ্যে প্রত্যেক চিকিৎসককে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার জন্য প্রত্যেক চিকিৎসকের উচিত রোগীর হিস্ট্রি নেওয়া। কম করে হলেও মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় বেশি ব্যয় করে চিকিৎসকদের উচিত রোগীর ঘুমের হিস্ট্রি নেওয়া। এ রোগের ফলে মানুষের রেসপিরেটরি, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক কার্ডিয়াক ফেইলিউরের মতো জটিল রোগ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন নাক, কান, গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার। | 4 |
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বিদায় সংবর্ধনা বর্জন করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। প্রধান বিচারপতির বিদায় অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের অবজ্ঞা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ এনে বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। পরে আইনজীবী সমিতির ৩ নম্বর হলে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির প্যানেল থেকে নির্বাচিত বার সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। লিখিত বক্তব্যে বার সম্পাদক বলেন, 'রেওয়াজ অনুযায়ী কোনো প্রধান বিচারপতির বিদায় অনুষ্ঠানের কমপক্ষে ৩/৪ দিন আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও সদস্যদের অংশগ্রহণ বিষয়ে সমিতির সভাপতি/সম্পাদককে অবহিত করা হয়ে থাকে। একইসাথে সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রধান বিচারপতির জীবনবৃত্তান্ত প্রেরণ করা হয়। সমিতির পক্ষ থেকেও সদস্যদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে অবহিত করে তাদের যোগদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু গতকাল প্রধান বিচারপতির বিদায় অনুষ্ঠান বিষয়ে সমিতিকে অবহিত করা হয়নি। এটি সমিতির প্রতিটি সদস্যের জন্য চরম অবজ্ঞার শামিল। এ পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে এসএমএসের মাধ্যমে আজকের সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে সাংবাদিক ও সমিতির সদস্যদের অবহিত করা হয়। এসএমএস দেয়ার পর রেজিস্ট্রার জেনারেল সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে সম্পাদককে ফোন করে আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান বিচারপতির বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে অবহিত করেন। কিন্তু আমাদের করণীয় কি বা সদস্যদের আমন্ত্রণের বিষয়ে কিছু বলেননি। গত ১৪ এপ্রিল বারের সভাপতি নির্বাচিত হন আব্দুল মতিন খসরু। তার মৃত্যুর পর থেকে সমিতির সভাপতি পদ শূন্য রয়েছে। সভাপতির অবর্তমানে সমিতির দুজন সহ-সভাপতিকে দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারা হচ্ছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: জালাল উদ্দিন ও সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ। যেকোনো অনুষ্ঠানে সভাপতির অবর্তমানে সিনিয়র সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করবেন এটিই সাংবিধানিক রীতি। তবে ক্রমাগতভাবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বর্তমান সভাপতি হিসেবে সম্বোধন করা হয়ে থাকে। এমনকি আগামী ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সুপ্রিম কোর্ট দিবসের আমন্ত্রণপত্রেও অ্যাটর্নি জেনারেলকে সমিতির সভাপতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সমিতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার অপপ্রয়াস। তিনি বলেন, 'আজকের বিদায় অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান বিচারপতির কার্যকালে তার সফলতা-ব্যর্থতা, সমিতির সদস্যদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি বিষয়ে আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে চেয়েছিলাম। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্দশা, ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম, হাইকোর্ট প্রদত্ত জামিনাদেশ ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের অহরহ স্থগিতাদেশের কারণে সৃষ্ট মামলা জট ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি, সমিতির অভ্যন্তরে স্থাপিত সুপ্রিম কোর্টের স্টাফদের জন্য অস্থায়ী টিনশেড উচ্ছেদ, সমিতির নির্মাণাধীন ভবন-২০২০ এর ওপর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সমিতির সদস্যদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আওয়ামী প্যানেল থেকে নির্বাচিত সহ-সভাপতি মুহা. শফিক উল্লাহ। শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিদায়ী বক্তব্য রাখেন। | 6 |
দেশে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও 'বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্সের' ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশে কিন্তু এখন যথেষ্ট পরিমাণ সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আছে। যদিও আমাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বব্যাপী প্রচার করে বেড়ায় যে, দেশে সাংবাদিকতার কোনো সুযোগ নাই, স্বাধীনতা নাই। অনেক সময় অনেকে আমাকে এই বিষয়ে প্রশ্নও করে; তখন আমি বলি, স্বাধীনতা যদি নাই থাকে তাহলে-এই কথাটা বলার স্বাধীনতা তারা কোথা থেকে পেল?'
তিনি বলেন, 'আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যিনি সংবাদপত্রের মালিক হন তিনিই সম্পাদক হয়ে যান। তাই মালিকানাটা যেহেতু নিজের হাতে থাকে সেখানে সাংবাদিকতার সুযোগটা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়, এতে কোনো সন্দেহ নাই। যে কারণে আমি সব সময় বলে থাকি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা না সাংবাদিকতার স্বাধীনতা।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গত সাত বছরে নিবন্ধন দেয়া পত্রিকার সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত শতাধিক। বর্তমানে দেশে বেসরকারি খাতে অনুমোদন প্রাপ্ত স্যাটেলাইট চ্যানেলের সংখ্যা ৩১টি। সম্প্রচাররত চ্যানেলের সংখ্যা ২৬টি। এরপর রেডিও রয়েছে।
এসব চ্যানেলে যে টকশোগুলো হয়-সেগুলো শুনলে কে বলবে যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নাই বা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নাই', তিনি প্রশ্ন তোলেন।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'আপনি সুবিধা ভোগ করবেন অথচ দায়িত্ব পালন করবেন না, এটা হতে পারে না! দেশের প্রতি সকলের একটা দায়িত্ব থাকে, কর্তব্য থাকে। সমাজের প্রতি দায়িত্ব থাকে, কর্তব্য থাকে। সেই দায়িত্বটাও পালন করতে হয়।'
সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সরকার গঠনের পর থেকেই কিভাবে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করা যায় সেই প্রচেষ্টা আমাদের রয়েছে। সেই '৯৬ সাল থেকেই সে প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি।
এজন্য সাংবাদিকদের কল্যাণে অনেকগুলো আইন আমরা করেছি। তথ্য অধিকার আইন আমরা করে দিয়েছি। তথ্য কমিশন করে দিয়েছি। সিড মানি দিয়ে সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এভাবে ১৮টি আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন ও সংস্কার আমরা করে দিয়েছি।'
তিনি বলেন, 'সংবাদপত্রকে আমরা সেবাশিল্প খাত হিসেবে ঘোষণা করেছি। আমরা ইতোমধ্যে অষ্টম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করেছি। এরপরে তো আরও দাবি আছে করার জন্য।'
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি (বিএফইউজে) মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।
এতে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সমকাল সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ার এবং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, সম্পাদক এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা ছাড়াও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এমন একটি সংগঠন যে সংগঠন গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য একদম তৃণমূল থেকে এই সংগঠনটা গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ সরকারে গেছে।'
শেখ হাসিনা বলেন, 'দুর্ভাগ্য হলো এমন কিছু দলের সঙ্গে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় যে দলগুলো মাটি ও মানুষের মধ্য থেকে গড়ে ওঠেনি। তারা সৃষ্টি হয়েছে-কোন একদিন আমরা টেলিভিশন খুলে দেখতে পেলাম, কেউ একজন ঘোষণা দিচ্ছেন, আজ থেকে আমি রাষ্ট্রপতি হলাম। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং মার্শাল ল' দিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা। পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশে এভাবেই হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের আর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি চলেছিল!'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ক্ষমতায় এসেই তারা (স্বৈর শাসকেরা) প্রথম বক্তৃতায় বলে, তারা কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস নিয়ে আসেনি বরং দেশটা সঠিকভাবে চলছে না, সেটাকে সঠিকভাবে চালাতেই তারা ক্ষমতায় এসেছে। এরপর তারা রাজনীতিকদের গালি-টালি দিয়ে আরম্ভ করলেও নিজেরোই পরে রাজনীতিবিদ সেজে যায়। নিজেরা রাজনৈতিক দল গঠন করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার কাজে লেগে যায়।'
তিনি বলেন, 'জেনারেল আইয়ুব খান, জিয়া এরশাদ সকলেই এই পদাংক অনুসরণ করেই চলেছে। অর্থাৎ ক্ষমতায় বসে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দল সৃষ্টি হয় তা মানুষের আর কতটুকু কল্যাণ করেতে পারে। তারা পারে কেবল নিজেদের আখের গোছাতে।'
জাতীয় প্রেসক্লাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা জানেন-আমাদের প্রেসক্লাবের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সেই ইতিহাসের সঙ্গে জাতির পিতার সম্পৃক্ততা ছিল। আমিও একজন সাংবাদিক পরিবারেরই সদস্য। কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার তৎকালীন পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধি ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে এ সম্পর্কে অনেক কথাই লিখেছেন।'
তিনি বলেন, '১৯৫৪ সালে আওয়ামী লীগ মেজরিটির যুক্তফ্রন্ট সরকার ১৮, তোপখানা রোডের লাল দোতলা ভবনটি (বর্তমান স্থানের আগের অবকাঠামো এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন ক্ষতিগ্রস্ত) পূর্ব পাকিস্তান প্রেসক্লাব-এর নামে বরাদ্দ দেন। ২০ অক্টোবর সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ দেখা করেন যুক্তফ্রন্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। ওই বৈঠকে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম জাতীয় প্রেসক্লাব। আর আজ ৬২ বছর পরে সেই জমিতেই প্রেসক্লাবের আধুনিক ভবন নির্মাণ হচ্ছে।'
জাতির পিতার প্রেসক্লাবে আগমনের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, '১৯৭২ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভায় জাতির পিতা তার ভাষণে বলেছিলেন, গণতন্ত্রের একটা নীতিমালা আছে। সাংবাদিকতারও একটা নীতিমালা আছে। এ দুটো মনে রাখলে, আমরা অনেক সমস্যা সমাধান করতে পারব।'
প্রেসক্লাবের জায়গাটিও সাংবাদিকদের জন্য চূড়ান্ত বরাদ্দ প্রদানে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, '১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসক্লাবে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণও করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেন, তিনি খালি হাতে প্রেসক্লাবে আসবেন না, জমি বরাদ্দের চূড়ান্ত কাগজ নিয়েই তবে তিনি আসবেন।'
বঙ্গবন্ধু তনয়া বলেন, 'নানা প্রক্রিয়া শেষে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু লিখিতভাবে প্রেসক্লাবের জমির চূড়ান্ত লিজ বরাদ্দ দেন। কিন্তু পঁচাত্তরের আগস্টে নির্মমভাবে জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের ফলে ওই জমি আর তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবকে হস্তান্তর করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর থেমে যায় নতুন জমিতে ক্লাব ভবন নির্মাণের সমস্ত প্রক্রিয়া।'
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য অনুদান নিয়ে বড় মিডিয়া হাউজগুলো এগিয়ে না আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আমি চিরদিন থাকব না। কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য স্থায়ী কিছু করে দিয়ে যেতে চাই। যাতে কর্তব্য পালনকালে বা অবসরকালীন সাংবাদিকেরা অসুস্থ হলে বা অসুবিধায় পড়লে এই ফান্ড তাদের কাজে আসে।'
এজন্য সকলকে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে প্রেসক্লাব চত্বরে প্রবেশ করেই প্রধানমন্ত্রী কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্স
প্রেসক্লাবের পুরো ২ দশমিক ০৬ একর জমি নিয়ে বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। আয়তকার ভবনটির প্রতি তলার আয়তন ১৯ হাজার ৮০০ বর্গফুট।
প্রথম ১০ তলা সম্পূর্ণ প্রেসক্লাব এবং মিটিং, কনফারেন্সের ভাড়ার জন্য ব্যবহার হবে। ১১ তলা থেকে ২৮ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদপত্র, দেশি-বিদেশি সংস্থা, টিভি, রেডিও জন্য ভাড়া দেয়া যাবে।
২৯ তলা থেকে ৩১তলা পর্যন্ত হেলথ ক্লাব, সুইমিংপুল, জিমনেসিয়াম, ইনডোর গেমস, গেস্ট হাউস, ডাইনিং হল সিনেপ্লেক্স ইত্যাদির জন্য বরাদ্দ।
ভূমিকম্প সহায়ক নির্মাণ শৈলীর প্রয়োগে নির্মাণধীন কমপ্লেক্সটির পুরো ওপেন স্পেসে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে এক লেভেল ওপরে প্লাজার সৃষ্টি করা হয়েছে, সামনে সৌন্দর্যবর্ধনে রাখা হয়েছে ঝরনা।
৩১তলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে পূর্বদিকে চারতলা অ্যানেক্স ভবন নির্মাণ করে নামাজের ঘর, ইউনিয়ন অফিস, ভাড়ার জন্য ছোট বড় মিটিং রুমগুলো স্থানান্তর করা হবে।
বর্তমানে প্রেসক্লাবে যেসব গাছ রয়েছে, নকশায় সে গাছগুলো যথাসম্ভব না কেটে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও ডিজাইনে পুরো কমপ্লেক্স এলাকায় সবুজ গাছপালা রয়েছে।
| 6 |
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতায় সবচেয়ে বড় নাম তাইজুল ইসলাম। বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হলেও এক টেস্ট খেলে সেখানেই আলো ছড়িয়েছেন তাইজুল। তবে পারফরম্যান্স করতে না পারায় অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নেমে দুই ইনিংসে ৯ উইকেট তুলে নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তার পুরষ্কার পেয়েছেন র্যাংকিংয়ে। আইসিসি ঘোষিত সর্বশেষ র্যাংকিংয়ে ৬৩৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ২২তম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবার ওপরে অবস্থান তাইজুলের। বাঁহাতি এই স্পিনারের পাশাপাশি এগিয়েছেন খালেদ আহমেদও। দুই ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে ২২ ধাপ এগিয়েছেন এই পেসার। ৯৮তম স্থানে রয়েছেন তিনি। অপরদিকে ব্যাটিংয়ে পিছিয়েছেন লিটন দাস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল। টাইগারদের হয়ে সবার ওপরে থাকা লিটন দাস তিন ধাপ পিছিয়ে রয়েছেন ২০তম স্থানে। এক ধাপ পিছিয়ে ২৯ নম্বরে মুশফিক ও দুই ধাপ নেমে ৩৫ নম্বরে রয়েছেন তামিম। ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় অবনতি হয়েছে অধিনায়ক মুমিনুল হকের। ছয় ধাপ পিছিয়ে ৫০ নম্বরে রয়েছেন তিনি। | 12 |
রাজশাহী নগরীতে নিখোঁজের ৭ দিন পর ইয়াদুল ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর মতিহার থানার ধরমপুর এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে নিহত ইয়াদুল ইসলাম ওই এলাকার বাসিন্দা। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন, ৭ দিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। সেই থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। নগরীর মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক ইমরান হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকার ডোবায় এক ব্যক্তির মরদেহ ভাসতে দেখে থানায় জানান। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর পরনের শার্ট দেখে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেন স্বজনরা। এসআই ইমরান আরও বলেন, মরদেহে পচন ধরছে। ধারণা করা হচ্ছে, বেশ কয়েক দিন আগেই মারা যান তিনি। এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি দুর্ঘটনা- তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। | 6 |
স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন- আল ইমরান শেখ (২৫), মো. ইনামুল হক (২৮), আশিক শিকদার (২৫), তালিব শেখ (২০), আব্দুল্লাহ শেখ (১৯) ও রবিউল শেখসহ (৩৫)। বাকিদের নাম জানা যায়নি।এ বিষয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কালিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুস সবুর ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার সেলিম রেজা ইউসুফ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আজ সকাল ১১টার দিকে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ছোটকালিয়ার মোড় জামে মসজিদের পাশে একখণ্ড সরকারি জমি পরিমাপ করতে যায়। এ সময় সেখানে ওই দুই গ্রুপের সমর্থকেরাও জড়ো হয়। জমি পরিমাপের একপর্যায়ে দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জের ধরে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।গুরুতর আহতদের কালিয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।কালিয়া থানার ওসি সেখ কনি মিয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপির নারী প্রার্থীদের সাথে বৈঠক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দেড় ঘন্টার এই বৈঠক হয়। বৈঠকে ইইউ'র প্রতিনিধি দলে ছিলেন এরিনি মারিয়া গোনারী ও ডেভিড নোয়েল ওয়ার্ড। বিএনপির নারী প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন ফরিদপুর-২ আসনের শামা ওবায়েদ, ঝালকাঠি-২ আসনের জিবা আমিন খান ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের রুমানা মাহমুদ। বৈঠকের পর শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি টেকনিক্যাল টিম আমরা যারা নারী প্রার্থী ছিলাম তাদের কাছ থেকে নির্বাচনের ঘটনার বিষয়ে জানতে এসেছেন। আমরা আমাদের নির্বাচনী এলাকায় ভোটের অবস্থা, পরিবেশসহ ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের কর্মকান্ড তথ্য প্রমাণসহ তাদের কাছে উপস্থাপন করেছি। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গত ৩০ ডিসেম্বর নয়, ২৯ ডিসেম্বর পুলিশ-র্যাব-বিজিবি দিয়ে হয়েছে। ইলেকশনের জন্য ইইউ থেকে আসা টেকনিক্যাল টিম গত দেড় মাস ধরে ঢাকায় আছে। ইলেকশন প্রসেস নিয়ে তারা কাজ করেছে, বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। ওনারা বিশেষ করে আমরা যারা নারীরা বিএনপি থেকে নির্বাচন করেছিলাম তাদের সঙ্গে কিছু কথা বলতে চেয়েছেন। নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা কী, নির্বাচনে কী ঘটেছে? সেগুলো নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছিলেন। ওনারা এসেছিলেন এবং আমাদের অনেক নারী প্রার্থী এখানে আসতে পারেননি, যদিও তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন ওনারা- নির্বাচনে কী ঘটনা ঘটেছে ওগুলো নিয়ে। আপনারা কী বললেন- জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, যেগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এসেছে, জাতীয়ভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং তারা নিজেরা বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ঢাকায় ৩০ তারিখে যেগুলো জানতে পেরেছেন, সেটা আমাদের চেয়ে তারা বেশি জানেন। আমরা তাদের বলেছি, ৩০ তারিখে নির্বাচন হয়নি। যেমন আমি ফরিদপুরে নির্বাচন করেছি, আমাদের এলাকায় ২৯ তারিখে নির্বাচন হয়ে যায়। নির্বাচনের দিন সব এজেন্টকে বের করে দেয়া হয় এবং মূলত ৩০ তারিখের নির্বাচনটা ২৯ তারিখে সরকার করেছে। সেটা তারা জানে এবং বিভিন্ন তথ্য তারা নিয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক যে রেজাল্টগুলো হয়েছে, ওগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। আমাদের যে গ্রেফতারগুলো হয়েছে গত একমাস ধরে প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায়, অনেকে আহত হয়েছেন, অনেকে নিহত হয়েছেন, সেসব তথ্য নিয়ে তারা কথা বলেছেন। তাদের জিজ্ঞাসা ছিল- আমরা নারী প্রার্থী হিসেবে কী মোকাবিলা করেছি, আমরা সেই প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি। তারা কোনো মতামত দিয়েছেন কি না নির্বাচন নিয়ে- এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, তারা তথ্য কালেক্ট করছেন, এগুলো নিয়ে রিপোর্ট করবেন। তারপর তারা কোনো স্টেটমেন্ট করবেন। আমরা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাব, আপিল করব- সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। ইইউ প্রতিনিধি দল নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কি না- জানতে চাইলে শামা বলেন, তারা নির্বাচন প্রসেস নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। তারা যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারাতো ওভাবে কথা বলতে পারেন না। কিন্তু তারা অবশ্যই উদ্বিগ্ন। তারা ৩০০ আসনের তথ্য সংগ্রহ করছেন। রিপোর্ট বানানোর আগে হয়ত কিছু বলবেন না। | 9 |
কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টের ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি। এবার সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন দলের কোচ জেরার্ডো মার্টিনোও।
আর রিও অলিম্পিকের মাত্র একমাস আগে কোচের এই পদত্যাগের ঘোষণা বিপর্যস্ত দলটিকে আরও বিপর্যয়ের মুখেই ফেললো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন জেরার্ডো মার্টিনো।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্টিনো জানিয়েছেন, টিম ম্যানেজমেন্টে বিরোধের কারণে এবং অলিম্পিকের জন্য দল সাজানো কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি ও তার কোচিং স্টাফরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিযেছেন।
আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমগুলো বলছে, অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার জন্য খেলোয়াড়দের ছাড়তে চাইছে না ক্লাবগুলো। এ বিষয়টি নিয়েই মূলত হতাশ হয়ে পড়েছেন মার্টিনো। আর সেই হতাশা থেকেই এসেছে পদত্যাগের ঘোষণা।
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার সাবেক কোচ মার্টিনো ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব নেন।
| 12 |
একসময় জেলায় মোট সিনেমা হল ছিল ৩৮টি। বর্তমানে আছে ৭টি। সবশেষ ভাঙার কাজ চলছে ধুনটের সিকতা সিনেমা হলের। ২০০৭-০৮ সালের দিকেও বগুড়ার ধুনট উপজেলার গ্রামে গ্রামে সিনেমার প্রচার মাইকিং হতো। হলে মুক্তি পাওয়া নতুন সিনেমার পোস্টার রিকশার দুই পাশে টানিয়ে আসনে বসে প্রচার করতেন ভয়েস আর্টিস্টরা। গ্রামের পথ ধরে যাওয়া রিকশার পেছন পেছন ছুটতেন তরুণ-কিশোরেরা। মাইকে প্রচার হতো, 'বিপুল সমারোহে চলিতেছে...'। সিনেমার প্রচারণায় হলের নামের জায়গায় কখনো থাকত ক্লিওপেট্রা, ঝংকার অথবা সিকতা। সেই প্রচারণা এখন নেই। সিনেমা হলগুলোও বন্ধ। সবশেষ করোনাভাইরাসের প্রভাবে লোকসানের মুখে ভেঙে ফেলা হচ্ছে উপজেলা সদরের 'সিকতা সিনেমা হল প্রাইভেট লিমিটেড'ও। সিকতাসহ গত ১০ বছরে বগুড়া জেলায় আলো নিভে গেছে ৩১টি হলের রুপালি পর্দার। গত মঙ্গলবার থেকে ২৮ বছরের পুরোনো সিকতা হল ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে বিপণিবিতান গড়ে তোলা হবে। সিকতাসহ জেলায় আগে মোট সিনেমা হলের সংখ্যা ছিল ৩৮। শুধু বগুড়া শহরেই ছিল ১০টি। এখন জেলায় সিনেমা হলের সংখ্যা ৭। তবে এগুলো বন্ধ। জেলা শহরে আছে দুটি সিনেমা হল। তা-ও চালু নেই। সংস্কারের জন্য একটি সিনেমা হল তিন বছর ধরে বন্ধ। অন্যটিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর তালা ঝুলছে। সিকতার রুপালি পর্দায় আলো জ্বলেছিল ১৯৯৩ সালে। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এস এম শাহাদৎ হোসেন ধুনট শহরের অফিসারপাড়া এলাকায় ১০ শতক জায়গার ওপর সিকতা সিনেমা চালু করেন। এই হলে প্রথম প্রদর্শিত হয় সালমান শাহ-শাবনূর অভিনীত স্বপ্নের ঠিকানা চলচ্চিত্র। প্রথম দিনেই হাউসফুল। ৬৫০ আসন কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। এরপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত জমজমাট ছিল সিকতা। বেশ ভালো ব্যবসা হওয়া ছবির মধ্যে সালমান শাহ-শাহানাজ অভিনীত সত্যের মৃত্যু নাই; সালমান শাহ-শাবনূর অভিনীত তোমাকে চাই; মান্না অভিনীত লুটতরাজ, আম্মাজান, ধর, দাঙ্গা; শাকিব খান-অপু বিশ্বাস অভিনীত মনের জ্বালা উল্লেখযোগ্য। সিকতা সিনেমা হলের বর্তমান মালিক জাকির হোসেন বলেন, সিনেমা হল ব্যবসায় দর্শক-খরার শুরু ২০০৮ সালে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাধ্য হয়ে হল ভেঙে বিপণিবিতান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ভালো গল্পের ছায়াছবি নেই, ছবিতে নেই ভালো সংলাপ, নেই ভালো গান ও অভিনয়। এই অবস্থায় অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই চলছিল সিনেমা হলের ব্যবসা। ২০১৮ সাল থেকে শুধু ঈদ উৎসবে চালু রাখা সম্ভব হয় সিনেমা হলটি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরে প্রদর্শিত হয় বেপরোয়া ছায়াছবি। এতে তাঁকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। হলের পুরোনো মাল নিলামে বিক্রির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন। মাত্র চার লাখ টাকায় তা বিক্রি করতে পেরেছেন। স্থানীয় দর্শক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যমুনা নদীর পারের জনপদ ধুনট উপজেলায় একসময় বিনোদনে ভরসা ছিল সিনেমা হল। দর্শক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে উঠেছিল চারটি সিনেমা হল। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো প্রেক্ষাগৃহ ক্লিওপেট্রা। এরপর একে একে গড়ে ওঠে ঝংকার ও সিকতা সিনেমা হল। উপজেলা সদরের বাইরে গোসাইবাড়ি বাজারে চালু হয় কাজল সিনেমা হল। তবে সবার আগে বন্ধ হয় কাজলই। এরপর ভাঙা পড়ছে সিকতা। আর অনেক আগে থেকেই বন্ধ ক্লিওপেট্রা ও ঝংকার। ঝংকার সিনেমা হলের মালিক মো. ঈসা খান বলেন, ১৯৮৪ সালে উজ্জ্বল-শাবানা অভিনীত নসীব ছায়াছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে ঝংকারের রুপালি পর্দা জ্বলে ওঠে। ৬৫০ আসনের এই সিনেমা হলে হাউসফুল ব্যবসা হয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চন-অঞ্জু অভিনীত সাড়াজাগানো ছায়াছবি বেদের মেয়ে জোসনা ও সোহেল রানা-সুচরিতা অভিনীত অস্বীকার। ২০১২ সালের পর টানা দর্শক-খরা চলে। এই অবস্থায় কয়েক বছর ধরেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সিনেমা হলের ব্যবসা। শুধু ঈদ উৎসবকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে ছায়াছবি প্রদর্শন। করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মার্চ থেকে পুরোপুরি বন্ধ সিনেমা হলটি। | 2 |
প্রথমবারের মতো ঢাকায় শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আঞ্চলিক সম্মেলন। এতে সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন বিভিন্ন দেশের প্রায় ৯০০ প্রতিনিধি। আজ সোমবার (৭ মার্চ) কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এফএও'র এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩৬তম এ সম্মেলন মঙ্গলবার শুরু হয়ে চলবে আগামী ১১ মার্চ পর্যন্ত। এ অঞ্চলের ৪৬টি দেশের কৃষিমন্ত্রী, কৃষি সচিব ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেবেন। এফএও'র মহাপরিচালক, ৪৩টি সদস্য রাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও এবং নাগরিক সমাজের ৯০০ প্রতিনিধি এরই মধ্যে সম্মেলনে অংশ নিতে নিবন্ধন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সদস্য দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ৪২ প্রতিনিধি এবারের সম্মেলনে অংশ নেবেন। ৮ মার্চ সম্মেলন শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ১০ মার্চ। করোনা পরিস্থিতিতে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে খাদ্য ও কৃষির বর্তমান অবস্থা, এ অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে করণীয়, এগ্রিকালচার ভ্যালু চেইন ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিতকরণ, ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার চিহ্নিতকরণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত বিনিয়োগ নিয়ে এবারের সম্মেলনে আলোচনার বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, এ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আমাদের সক্ষমতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশে সম্মেলন আয়োজনে আগ্রহী হয়। অনুষ্ঠানসূচি প্রথম দুই দিনে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কৃষি সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেবেন। ১০ ও ১১ মার্চ হবে মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক। ১০ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এবার হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে সম্মেলনের মূল অধিবেশন এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। এছাড়া ১৭টি স্টলে হবে কান্ট্রি শোকেসিং। | 0 |
নামের মিল থাকায় মাদক মামলায় কারাবন্দী শরীয়তপুরের মানিক হাওলাদার আসল আসামি কিনা তা জানতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে শরিয়তপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রকৃত অপরাধী মানিক মিয়াকে চিহ্নিত করে তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ও জেল সুপারকে সব তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া মানিকের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি করে সোমবার (৮ মার্চ) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পে শুনানি করেন আইনজীবী পার্থ সারথি রায়। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মৃদুল কর্মকার। এর আগে মানিক হাওলাদারের আটকাদেশ অবৈধ ঘোষণা এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে গত ২ মার্চ মানিক হাওলাদারের স্ত্রী সালমা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানা যায়, ২০০৯ সালে একটি গাড়িতে ৬৬৮ বোতল ফেনসিডিল পাওয়ার অভিযোগে ওই বছরের ২ জুন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানায় চার জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আসামি মো. মানিক মিয়াকে ২০০৯ সালের ৩ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিছুদিন কারাভোগের পর একই বছর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান মানিক। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ আদালত চার আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। মানিক হাওলাদারের পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি সাজাপ্রাপ্ত মো. মানিক মিয়ার স্থলে শুধু নামের মিল থাকার কারণে মানিক হাওলাদারকে শরীয়তপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে নির্দোষ মানিক হাওলাদার কারাভোগ করছেন। | 6 |
'বিদ্রোহী' নিয়ন্ত্রিত পাঞ্জশির উপত্যকা ঘিরে ফেলেছে তালেবান বাহিনী। তবে তারা যুদ্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমেই ফয়সালা চাচ্ছে বলে জানিয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ টুইটে জানিয়েছেন, তালেবান যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে উপত্যকাটিকে তিন দিক ঘিরে ফেলেছে। তিনি বলেন, তবে ইসলামি আমিরাত শান্তিপূর্ণভাবে এই ইস্যুর সমাধান চায়। এর আগে তালেবানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে তাদের শত শত যোদ্ধা পাঞ্জশির যাচ্ছে। রোববার রাতে সেখানে গোলাগুলির খবরও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহি বলেছিলেন, তারা তালেবান বাহিনীকে প্রতিরোধ করবেন। এছাড়া সাবেক মুজাহিদিন কমান্ডার আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদও তালেবান বাহিনীকে প্রতিরোধ করার কথা ঘোষণা করেছেন। আফগানিস্তান থেকে সময়ের মধ্যেই লোকজনকে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে : বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি এখনো আশা করছেন তালেবান-নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তান থেকে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার লোকজনকে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এদিকে কাবুল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য তালেবান যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।কট্টর তালেবানের আকস্মিক আফগানিস্তান দখলের এক সপ্তাহ পরও আতঙ্কিত আফগানদের দেশ ছাড়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে বাইডেন আগেই ৩১ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সকল সৈন্য ও নাগরিককে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু কাবুল বিমানবন্দরে তীব্র ভিড় ও চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিজেদের লোকজন সরিয়ে নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। সময়সীমার মধ্যেই সকলকে সরিয়ে আনা অসম্ভব বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসে রোববার বাইডেন বলেছেন, তিনি আশা করছেন সরিয়ে আনার সময় সীমা আর বাড়াতে হবে না। তিনি আরো বলেন, আমরা দেখছি কী করতে পারি।বিমানবন্দরের করুণ ও মর্মম্পর্শী দৃশ্যাবলীর কথা স্বীকার করে বাইডেন একে দেশ ছাড়ার মূল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আপনারা যেসব হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখছেন এতো লোককে একসাথে সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এসব ছাড়া কোন উপায় নেই।এদিকে তালেবান কর্মকর্তা আমির খান মুতাকি বলেছেন, আমেরিকা তার সকল শক্তি ও সুবিধা দিয়েও বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। পুরো দেশই শান্ত। অশান্ত কেবল কাবুল বিমানবন্দর। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কিছু উল্লেখ না করে বলেছে, রোববার ভিড়ের কারণে সাতজন নিহত হয়েছে। বাইডেন বলেছেন, তালেবানের কাবুল দখলের পর এ পর্যন্ত ২৮ হাজার লোককে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সূত্র : আল জাজিরা ও এএফপি | 3 |
শুধু দক্ষিণই না, ভারতজুড়েই জনপ্রিয় প্রভাস। বিশেষ করে 'বাহুবলী'র পর তাঁর খ্যাতি আকাশছোঁয়া। অনুরাগীরা প্রভাসের অন্ধ-অনুসারী। তবে প্রভাসও তাঁর ভক্তদের মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন। এমনকি তাঁদের প্রতি দায়িত্বশীলও এই দক্ষিণী সুপারস্টার। তাই প্রভাস চান না অনুরাগীরা ভুল পথে চালিত হোক। তাঁর কারণে অনুরাগীদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হোক, একদমই চান না। আর সেই কারণে কোটি কোটি রুপির প্রস্তাব হাসিমুখে ফিরিয়ে দিয়েছেন এই তারকা। অনেক তারকাই অর্থের জন্য নানা 'নেশাদ্রব্য'র বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। তবে এ ব্যাপারে একদম অন্য রকম প্রভাস। তিনি এমন কোনো বিজ্ঞাপনে ছবিতে কাজ করতে চান না, যা তাঁর হাজার হাজার অনুরাগীর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। আর তাই মদ, পানশালাসহ একাধিক নেশার দ্রব্যের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রভাস। মদ, পানশালাসহ বেশ কিছু নেশার দ্রব্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি প্রভাসকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বানাতে চেয়েছিল। জানা গেছে, গত বছর এই দক্ষিণী তারকার কাছে ১৫০ কোটিরও বেশি রুপির ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্টের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু প্রভাস নির্দ্বিধায় সেই সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই অভিনেতা বিশ্বাস করেন যে তাঁর অনুরাগীদের প্রতি তাঁর দায়িত্ব আছে। এমন কোনো বিজ্ঞাপন প্রভাস করতে চান না, যাতে তিনি নিজেই স্বচ্ছন্দ নন। তবে তার মানে এই নয় যে প্রভাস বিজ্ঞাপনে কাজ করতে চান না। তিনি এমন দ্রব্যের বিজ্ঞাপন করতে চান, যা তিনি নিজে পছন্দ করেন এবং অবশ্যই ফ্যানদের কোনো ক্ষতি হবে না। বলিউডের সুপারফিট অভিনেত্রী শিল্পা শেঠিরও একই মত। অনুরাগীদের সব সময় যোগচর্চা নিয়ে নানান ইতিবাচক বার্তা দেন শিল্পা। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন সুন্দর শরীরের পাশাপাশি সুন্দর মনের জন্য যোগাভ্যাস করা অত্যন্ত প্রয়োজন। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বলিউড অভিনেতারাও তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত। শিল্পাও চান না তাঁর অনুরাগীদের কাছে ভুল বার্তা যাক। ২০১৯ সালেই তিনি রোগা হওয়ার ট্যাবলেটের বিজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই বিজ্ঞাপনের জন্য শিল্পাকে ১০ কোটি রুপির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত বড় অঙ্ক ফিরিয়ে দিতেও তাঁর বিন্দুমাত্র সময় লাগেনি। শিল্পা এই বিজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ, এই ধরনের দ্রব্যের প্রতি তাঁর নিজের কোনো আস্থা নেই। তিনি বলেছিলেন, 'এমন কোনো সামগ্রী আমি এনডোর্স করব না, যার প্রতি আমার নিজেরই আস্থা নেই।' | 2 |
'গুণগত ঘুম, সুস্থ মন, সুখী পৃথিবী'আজ বিশ্ব ঘুম দিবস। প্রতি বছর মার্চ মাসের তৃতীয় শুক্রবার দিবসটি পালিত হয়। ২০০৮ সালে প্রথমবার দিবসটি পালন করে ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিনের ওয়ার্ল্ড স্লিপ ডে কমিটি। ঘুমের অভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বিষয়ে মানুষকে জানানোই ছিল এই কমিটির মূল উদ্দেশ্য।ঘুম খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কীভাবে ঘুমাচ্ছেন, ঘুমের সময় কী করছেন ইত্যাদি আপনার সুস্থ থাকার প্যারামিটার। ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা হতে পারে ঘাতক ব্যাধি। মধ্যবয়স্ক পুরুষদের ৪০ শতাংশ ও নারীদের ২০ শতাংশ ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন। এমনকি শিশুদের মধ্যেও এ সমস্যা দেখা গেছে। তাই নাক ডাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন এবং সঠিক চিকিৎসা করিয়ে গুণগত ঘুম নিশ্চিত করে সুস্থ থাকুন।নাক ডাকার স্বাস্থ্য ঝুঁকিঘুমের মধ্যে নাক ডাকাকে অনেকে সমস্যা মনে না করে গভীর ঘুমের লক্ষণ মনে করে থাকে। কিন্তু সত্য হলো, নাক ডাকা প্রশান্তিময় ও তৃপ্তিদায়ক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোসহ আরও নানাবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।নাক ডাকার কারণঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিপথ কোনোভাবে বাধা পেলে বাতাস শ্বাসযন্ত্রে কাঁপুনির সৃষ্টি করে। সে জন্য নাক ডাকার শব্দ হয়। যেসব কারণে নাক ডাকতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হলো-নাকে পলিপ বা সাইনাসের সমস্যা থাকাওজন বেড়ে গলার চারপাশের চর্বি জমে যাওয়াশিশুদের নাকের পেছনে মাংস বেড়ে যাওয়াবয়সজনিত কারণে কণ্ঠনালি সরু হওয়ালম্বা টান টান হয়ে শুলে গলার কাছের পেশিগুলো আলগা হয়ে যাওয়াগলার পেশির নমনীয়তা কমে যাওয়াধূমপান ও অ্যালকোহল আসক্তিযা হতে পারেনাক ডাকা রোগীদের হার্ট অ্যাটাক বেশি হয়হার্ট ফেইলরের ঝুঁকি বেশি থাকেঘুমের মধ্যে হঠাৎ মৃত্যুর আশঙ্কা থাকেহৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হয়হার্টের অলিন্দ বড় হয়ে যেতে পারেডায়াবেটিস ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।নাক ডাকা এড়াবেন কীভাবেচিৎ হয়ে না ঘুমিয়ে কাত হয়ে ঘুমান। কারণ, চিৎ হয়ে ঘুমালে গলার পেশি শিথিল থাকে। ফলে নাক বেশি ডাকার আশঙ্কা থাকে।ওজন কমান। কারণ ওজন বেশি থাকার ফলে শ্বাসনালির চারদিকে চর্বি জমে বলে ঠিকমতো শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া যায় না।অ্যালকোহল ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বাদ দিন।মাথার নিচে বালিশ ব্যবহার করতে পারেন। মাথার নিচে বালিশ দিলে বুকের চেয়ে মাথা বেশি উঁচুতে থাকে। এতে করে নাক ডাকার আশঙ্কা কিছুটা কমে যায়।ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন। ধূমপান করলে শরীরের অক্সিজেন ব্যবহারের ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে বাতাস বের হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ কারণেও নাক বেশি ডাকতে পারেন অনেকে। তাই ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। এতে করে ঘুমের সঙ্গে শরীরের এক ধরনের সামঞ্জস্য তৈরি হয়। ফলে অভ্যাসেরও পরিবর্তন হয়।ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করলে পেশি, রক্তের চলাচল ও হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বাড়ে, ফলে ঘুমও ভালো হয়।প্রচুর পানি পান করুন। এতে নাকের রন্ধ্রে লেগে থাকা আঠারো মতো দ্রব্যগুলো দূর হবে। নাক ডাকাও কমবে।নাক ডাকা যেসব রোগের লক্ষণ হতে পারেঘুমের সময় নাক ডাকা বেশ কিছু রোগের লক্ষণও। তাই একে হেলাফেলা করবেন না। নাক ডাকা যেসব রোগের লক্ষণ-অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়াঅবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া একটি ঘুম-সংক্রান্ত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত মানুষের ঘুমানোর সময় শ্বাসনালির মধ্য দিয়ে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় বলে উচ্চ শব্দে নাক ডাকার অভ্যাস হয়। এই রোগটি শ্বাসনালির রোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যারা ধূমপান ও মদ্যপান করেন, তাঁদের শ্বাসনালির সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় এবং নিশ্বাসে সমস্যা শুরু হয়। এই রোগে আক্রান্ত মানুষকে বিষণ্নতা এবং স্মৃতিভ্রষ্ট রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।উচ্চ রক্তচাপযাদের ঘুমের মাঝে নাক ডাকার অভ্যাস আছে, তারা প্রায় প্রত্যেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন। নাক ডাকা রোগীদের সিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম উত্তেজিত থাকে। ফলে সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশার বেশি থাকে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী উচ্চ রক্তচাপে পরিণত হতে পারে। মস্তিষ্কের ধমনিতে ব্লক হওয়ার কারণে ঘুমানোর সময় নাক ডাকা অভ্যাস তৈরি হয়। মস্তিষ্কের ধমনিতে ব্লক উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে তৈরি হয়। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বেড়ে চললে পরবর্তীতে ব্রেইন স্ট্রোকের আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই নাক ডাকার অভ্যাসটিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করুন।কার্ডিওভ্যাসক্যুলার রোগযাদের একটু বাড়তি ওজন আছে, তাদের বেশির ভাগ সময় নাক ডাকতে দেখা যায়। এর কারণ হলো, মেদ জমে শ্বাসনালির ব্যাস কমে যায় বলে ঠিকমতো শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া যায় না। ঘুমের মাঝে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। ফলে নাক ডাকা শুরু হয়। মস্তিষ্কের ধমনিতে চাপ পড়ার ফলে কিংবা মেদ জমে শ্বাসনালির ব্যাস কমে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ ঠিকমতো হয় না। তাতে দেহের ক্রিয়াকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সে কারণে কার্ডিওভ্যাসক্যুলার সমস্যা সৃষ্টি হয়।লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জেনারেল সেক্রেটারি, অ্যাসোসিয়েশন অব সার্জনস ফর স্লিপ অ্যাপনিয়া, বাংলাদেশ | 4 |
নেত্রকোনার মদনে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বসত ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও শিশু হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি লিটন বাঙ্গালী তার বক্তব্যে বলেন, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের মদদে সন্ত্রাসী হাবিবুর তার লোকজন নিয়ে শিশু হত্যাসহ, বেশ কয়েক দফায় বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। আমরা এর ন্যায় বিচার দাবি করছি। এছাড়াও মানববন্ধন কর্মসূচিতে মিথ্যা হত্যা মামলা প্রত্যাহারসহ বাড়ি ঘর ভাংচুরের প্রতিবাদ জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন রিপন সিদ্দিকী, মাগরিবুর রহমান আন্ছু, জাকির হোসেন, রিপন মিয়া, দিলু মিয়া প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রেরণ করেন এলাকাবাসী। ইভূ | 6 |
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে নারীদের অধিকার আদায়ের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে তালেবান। আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বিক্ষোভকারী নারীদের ভাষ্য, অধিকার আদায়ের দাবিতে তাঁরা কাবুলে একটি বিক্ষোভ বের করেন। তাঁরা একটি ব্রিজ থেকে হেঁটে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে করে তালেবান। সপ্তাহ তিনেক আগে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারপর থেকে রাজধানী কাবুলসহ দেশটির একাধিক স্থানে বিক্ষোভ করেছেন নারীরা। হেরাতেও নারীরা বিক্ষোভ করেছেন। আফগান নারীরা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার অধিকার দাবি করছেন। পাশাপাশি নতুন সরকারে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল তালেবান। সে সময় নারী অধিকারের চরম লঙ্ঘন ঘটে। শিক্ষাসহ বিভিন্ন মৌলিক ও মানবিক অধিকার থেকে নারীদের বঞ্চিত করে তালেবান। তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করায় নারীরা তাঁদের অধিকারের বিষয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। কাবুলের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন অজিতা নাজিমি নামের এক সাংবাদিক। আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজকে তিনি বলেন, '২৫ বছর আগে তালেবান যখন ক্ষমতায় এসেছিল, তারা আমাকে স্কুলে যেতে দেয়নি। পাঁচ বছরের তালেবান শাসন শেষে আমি পড়ালেখা করেছি। কঠিন পরিশ্রম করেছি। একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমরা আর আগের মতো অবস্থা হতে দেব না।' তালেবান সদস্যরা বিক্ষোভকারী নারীদের মাথায় বন্দুক দিয়ে আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ করেন সোরায়া নামের এক নারী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, তালেবানের হামলায় অনেক নারী রক্তাক্ত হন। শিগগিরই আফগানিস্তানে নতুন সরকার ঘোষণা করতে যাচ্ছে তালেবান। তারা জানিয়েছে, নতুন সরকারে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। তবে মন্ত্রিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের রাখা হবে না। হেরাতে নারীদের অধিকার আদায়ের বিক্ষোভের প্রশংসা করেছেন তালেবানবিরোধী সংগঠন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের (এনআরএফ) নেতা আহমেদ মাসুদ। আফগানিস্তানের ৩৩টি প্রদেশ তালেবানের নিয়ন্ত্রণে এলেও পানশিরে এখনো লড়াই চলছে। সেখানে তালেবানের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এনআরএফ। পানশিরের বড় অংশ দখলের দাবি করেছে তালেবান। তবে তালেবানের দাবি নাকচ করেছে এনআরএফ। | 3 |
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে করোনার টিকা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন স্কুলশিক্ষক ও অফিস সহকারী। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে শিবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন লাঞ্ছিত শিক্ষক। ওই দিন সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।আহত উপজেলার মনাকষা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের নাম সাজিদুল ইসলাম ও অফিস সহকারীর নাম জাহিদুল ইসলাম।অভিযোগে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয় মনাকষা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সহকারী শিক্ষক সাজিদুল ইসলাম ও অফিস সহকারী জাহিদুল ইসলাম। টিকা নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ পৌর এলাকার দেওয়ান জাইগীর মহল্লার শিমুল (২৬) ও হিমেল (২৫) শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করেন। এ সময় উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাজিদুল ও জাদিল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে জখম করেন তাঁরা। পরে আট-নয়জন যুবক ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের আরও মারধর করেন এবং হুমকি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে চলে যান। বিষয়টি জানতে পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেন।শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, দোষীদের আটক করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাকিব আল-রাব্বি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। | 6 |
মোংলা সমুদ্র বন্দরের জেটি উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন প্রকল্পে বসুন্ধরা সিমেন্ট ও পাথর ব্যবহার করবে সাইফ পাওয়ার গ্রুপ। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নতমানের ক্লিংকারে উৎপাদনে মানের ধারাবাহিকতা রক্ষা, সুষ্ঠু সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে জেটি নির্মাণে বসুন্ধরা সিমেন্ট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাইফ পাওয়ার গ্রুপ। আজ সোমবার বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হেডকোয়াটার্সে-১ বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড এবং বসুন্ধরা মাল্টি ট্রেডিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে সাইফ পাওয়ার গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠান ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং সাইফ পোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ, দেশের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এবং উন্নতমানের ক্লিংকারে উৎপাদিত, সঠিকমানের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও সর্বোপরি সুষ্ঠু সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে মোংলা বন্দরের জেটি নির্মাণে বসুন্ধরা সিমেন্ট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাইফ পাওয়ার গ্রুপ। উন্নতমানের পাথর এবং বিপণন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে একই প্রকল্পে বসুন্ধরা গ্রুপের আমদানি করা পাথর ব্যবহার করবে সাইফ পাওয়ার গ্রুপ। বর্তমানে দেশের সব উল্লেখযোগ্য প্রকল্পসহ অন্যান্য বৃহৎ স্থাপনাগুলোকে ব্যবহৃত হচ্ছে বসুন্ধরা সিমেন্ট ও পাথর। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাইফ পাওয়ার গ্রুপের পরিচালক (বাস্তবায়ন) মো. আমিনুজ্জামান, পরিচালক (এসপিএইচএল) মো. আলতাফ হোসাইন, পরিচালক (পিএলআই-২) মেজর মো. জাহিদুর রহমান (অব.), নির্বাহী পরিচালক (অ্যাডমিন অ্যান্ড লজিস্টিক) মেজর ফারুখ আহমেদ খান (অব.), প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. ফরহাদ হোসাইনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে অস্ট্রেলিয়ার নবনিযুক্ত হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট। তিনি বলেছেন, 'আপনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নে একজন চ্যাম্পিয়ন।'
বুধবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নিবলেট এ প্রশংসা করেন। খবর বাসসের
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী উল্লেখ করে বিশেষত জ্বালানি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন হাইকমিশনার। প্রধানমন্ত্রীও এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান।
নারীর উন্নয়নে তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো দেশই তাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা ব্যতীত এগোতে পারে না।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষা ও নারীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেই প্রথম শুরু হয়। তিনিই সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেন; বাধ্যতামূলক করেন প্রাথমিক শিক্ষা।
সন্ত্রাসকে বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এ সমস্যা দূরীকরণে দেশব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির পদক্ষেপ নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার সরকার ও জনগণের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।
| 6 |
দেশজুড়ে করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই বসানো হয়েছে পদ্মা সেতুর ২৮তম স্প্যান। এতে সেতুর দৃশ্যমান হয়েছে ৪ হাজার ২০০ মিটার। বাকি থাকল আর মাত্র ১৩টি স্প্যান। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে ২০ ও ২১ নম্বর পিয়ারে সেতুর মাঝামাঝি স্থানে ৪-বি আইডি নম্বরের স্প্যানটি বসানো হয়। পিয়ারের একটি পিলার একটি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এবং অপরটি মাদারীপুরের শিবচরের প্রশাসনিক এলাকায়। এর আগে গত (০১ এপ্রিল ) শতভাগ শেষ করা হয় পদ্মা সেতুর ৪২টি পিলারের কাজ। সেতুর ২৬ নম্বর পিলারটির কংক্রিটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় সব পিলারের নির্মাণ কাজ। করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে এ কাজ শেষ করা হয়। সব পিলারের কাজ শেষ করাকে পদ্মা সেতুর ইতিহাসে অন্যতম অর্জন বলে মনে করেন প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। বেশিরভাগ অংশই দৃশ্যমান এখন দেশের মেগা প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতুর। কাজের বর্তমান অবস্থা আশা জাগানিয়া হলেও কোনোভাবেই সহজ ছিলো না শুরুটা। ২০১৫ সালে শুরুর পর কাজের অগ্রগতি হোঁচট খায় নকশা জটিলতায়। ২২টি পিলারের নিচে মাটির গঠনগত জটিলতা দেখা দিলেও আশা ছাড়েন নি প্রকৌরাজধাশলীরা। দেশি বিদেশি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত দেড়বছর পর নতুন নকশায় শুরু হয় জটিলতায় থাকা পিলারগুলোর কাজ। সে কাজও শেষ হলো অবেশেষে। পরিকল্পনা ছিলো, এপ্রিল মাসের মধ্যে সব পিলারের কাজ শেষ করা হবে। প্রকৌশলগত পিপিই'র পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত পিপিই ব্যবহার করে আগেই নিশ্চিত করা হয় সুরক্ষা। এর আগে গত ১৭ মার্চ শেষ করা হয়েছিলো ৪১তম পিলারটির কাজ। এক সাথে সব পিলারের নকশা সমাধান হলেও ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটির পর একটির কাজ শেষ করা হয়। পদ্মা বহুমুখী সেতু'র প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ২২টি পিলারের কাজ একই পদ্ধতিতে করা হয়েছে। বেশির ভাগ পিলারের সমাধান এক সিস্টেমেই এসেছে। | 6 |
ভারতের প্রত্যন্ত হিমালয় এলাকায় পাওয়া গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া বিমান। ১৯৪৫ সালের প্রথম সপ্তাহে সি-৪৬ পরিবহন বিমানটি দক্ষিণ চীনের কুনমিং থেকে ১৩ যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন পথে ভারতের অরুণাচল রাজ্যের পার্বত্য এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়। ৭৭ বছর আগের এই ঘটনায় বিমানের সব আরোহী মারা গিয়েছিলেন। এখন একটি অনুসন্ধানী দল এই বিধ্বস্ত বিমান শনাক্ত করেছে। অনুসন্ধান মিশনের প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের অভিযাত্রী ক্লেটন কুহলেস বলেছেন, বিমানটি নিখোঁজ হওয়া নিয়ে পরে আর কোনো কথা শোনা যায়নি। তবে বিমানটির হতভাগ্য এক যাত্রীর সন্তানের অনুরোধের পর এই অনুসন্ধান শুরু করেন তারা। অনুসন্ধান মিশনের প্রধান জানান, স্থানীয় লিসু নৃগোষ্ঠীর একদল গাইড নিয়ে বরফশীতল নদীর হাঁটু ও গলা সমান পানি পেরিয়ে পর্বতের উচ্চতায় হিমায়িত তাপমাত্রায় তাদের ক্যাম্প করতে হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে তুষার ঝড়ের সময় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পের তিন গাইড হাইপোথার্মিয়ায় মারা যান। দলটি শেষ পর্যন্ত গত মাসে একটি তুষার ঢাকা পর্বত চূড়ায় পৌঁছায়। যেখানে সেখানে বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান তারা। পরে বিমানটি শনাক্ত হয়। এই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে মানুষের কোনো দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি। সূত্র : এএফপি, আল-জাজিরা বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড ১৯) আরেকটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই ভ্যারিয়েন্টটির নাম বি.১.৫২৫। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে এটি প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়। একই মাসে নাইজেরিয়াতেও পাওয়া যায় এই ভ্যারিয়েন্ট। খবর ডেইলি স্টারের। গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটার (জিআইএসএআইডি) তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত একাধিক গবেষণাগারে এই ভ্যারিয়েন্টের আটটি নমুনা পাওয়া গেছে। এ গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীদের একজন বলেছেন, 'আমাদের ইউরোপের সহকর্মীরা এখন পর্যন্ত এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে যেসব তথ্য দিয়েছেন, তা কিছুটা উদ্বেগজনক। তবে, এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি।' নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সে করে নতুন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার ওই ফলাফল গত ৮ থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে জিআইএসএআইডির ডাটাবেজে প্রকাশ করা হয়েছে। ডাটাবেজের তথ্য অনুসারে, যেসব নমুনায় এটি শনাক্ত হয়েছে, সেগুলো ১১ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব রোগীর নমুনায় এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে একজন সুনামগঞ্জের। বাকি সবাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকার। তাদের বয়স ২৩ থেকে ৫৮ বছরের মধ্যে। এর আগে, বাংলাদেশে বি.১.৩৫১ বা ৫০১.ভি২ নামে পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। এ ছাড়া, গত জানুয়ারিতে বি.১.১.৭ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের আরেকটি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। বি.১.৫২৫ নামের নতুন ভ্যারিয়েন্টটি এখন পর্যন্ত ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ ২৪টি দেশে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটিরও বেশ কয়েকটি মিউটেশন হয়েছে। এর মধ্যে একটির নাম ই৪৮৪কে। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, এই মিউটেশনটি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টেও পাওয়া গেছে। এটি অ্যান্টিবডিকে ফাঁকি দিতে ভাইরাসকে সাহায্য করে বলে ধারণা করছেন তারা। এ ছাড়া, যুক্তরাজ্যের শনাক্ত হওয়া অতিমাত্রায় সংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট বি.১.১.৭'র সঙ্গে নতুন বি.১.৫২৫ ভ্যারিয়েন্টের সাদৃশ্য আছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত মঙ্গলবার তাদের মহামারি সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেটে এই ভ্যারিয়েন্টকে 'ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট' হিসেবে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের কারণেই তৈরি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজির অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, 'ভাইরাসের মিউটেশন হওয়া খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়। এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ থাকলেও, মাস্কের সঠিক ব্যবহার কিন্তু আমাদের যেকোনো মিউটেটেড ভাইরাস থেকেই সুরক্ষা দিতে পারে।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 4 |
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবু সাঈদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শনিবার (৩০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে শংকরপুর এলাকার বেসরকারি গ্রিন ড্রিম লিমিটেড (জিডিএল) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা যায়, আবু সাঈদ যশোর সদর উপজেলার পদ্মবিলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামী যশোর পশ্চিম জেলা শাখার নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারী রেখে গেছেন। তাকে ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। জিডিএল হাসপাতালের পরিচালক আবু ফয়সাল জানান, ডাক্তার ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল রোগী আবু সাঈদকে বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, বেশকিছু সময় আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবুও তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু পরিবার-সদস্যরা তাকে আর জেনারেল হাসপাতালে না নিয়ে ঝিকরগাছার গ্রামের বাড়িতে চলে যান। | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গোপনে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য চাপের মুখে সেই গোপন লটারি বাতিল ঘোষণা করেছেন তিনি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির আওতাধীন অধীনে বিভিন্ন সড়ক সংস্কারের জন্য ৩৬টি দরপত্র আহ্বান করা হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় এলজিইডির সভাকক্ষে দরপত্রে অংশ নেওয়া সব ঠিকাদারের উপস্থিতিতে প্রতিটি কাজের জন্য লটারি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৩৩টি কাজ বাকি রেখে বেশি ব্যয়ের তিনটি কাজের লটারি কম্পিউটার অপারেটর তরিকুল ইসলামকে নিয়ে আগেই গোপনে করে ফেলেন প্রকৌশলী শিরাজুল ইসলাম। গোপন লটারির খবর ছড়িয়ে পড়লে বাকি ঠিকাদারেরা এলজিইডি অফিসে গিয়ে প্রকৌশলী শিরাজুল ও কম্পিউটার অপারেটর তরিকুলের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ঠিকাদারদের তোপের মুখে সন্ধ্যায় গোপনে করা তিন কাজের লটারি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রকৌশলী শিরাজুল।কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কম্পিউটার অপারেট তরিকুলের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন প্রকৌশলী শিরাজুল। এ ছাড়া প্রত্যেক কাজের জন্যই কম্পিউটার অপারেটর তরিকুলের মাধ্যমে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেন প্রকৌশলী।অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শিরাজুল ইসলাম বলেন, 'তিনটি কাজের লটারিতে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। এগুলোর লটারি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।' | 6 |
আমি সিডনিতে অভিবাসন নিয়ে ১৯৯৬ সালে আসার পর এই মানুষটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তিন হাজার কিলোমিটার দূরে পার্থ শহরে উড়ে যাওয়ার মতো ডলার ছিল না পকেটে। ছিল না গাড়ি। ফলে টেলিফোনই ভরসা। কিন্তু তত দিনে তিনি শেষ শয্যায়। তার ওপর প্রচণ্ড অভিমানে বাংলাদেশের জন্য অপার ভালোবাসার পরও কোনো বাঙালির সঙ্গে সহজে কথা বলতে চান না। যে দেশের জন্য তিনি জানবাজি রেখে লড়েছিলেন, তার যেকোনো পতনে তিনি বিচলিত হবেন-এটাই স্বাভাবিক। অনেক কষ্ট করে মাত্র একবার কথা বলতে পেরেছিলাম। আসুন, আজ সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচিত হই। ভদ্রলোকের নাম আপনি না-ই জানতে পারেন, তবে জানে দেশ, দেশের রক্তমাখা মাটি, বৃক্ষ, ফুল, অগণন তারকারাজি।তার কোনো দায় ছিল না বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। তিনি ছিলেন বিখ্যাত জুতা কোম্পানি বাটার সিইও। পুরো নাম উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড। তখন বাটা একাই এক শ। ১৯৭০ সালে ঢাকায় পোস্টিং পাওয়া মানুষটির রক্তে ছিল স্বাধীনতার যুদ্ধ। তিনি জন্মেছিলেন আমস্টারডামে। এই ডাচ মানুষটিকে যৌবনের শুরুতেই পড়তে হয়েছিল নাৎসিদের কবলে। তাদের কুখ্যাত কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে দুঃসহ সময় কাটানোর সময় ও পরে তিনি শিখে নিয়েছিলেন গেরিলা যুদ্ধের কৌশল।বাংলাদেশ তখন পূর্ব পাকিস্তান। আমি সবে হাইস্কুলের উঁচু ক্লাসের দিকে পা বাড়াচ্ছিলাম। আমার পরিষ্কার মনে আছে কী নির্যাতন আর বিভীষিকাময় ছিল দিনগুলো। আজ আপনারা সব বেমালুম ভুলে গেছেন। আজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম বোঝেই না, কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানপ্রেম আর ধর্মীয় চেতনার নামে সাম্প্রদায়িকতা আঙুল ফুলে কলাগাছের সমাজে ভুলে বসে আছে-দেশ মুক্ত হয়েছিল কীভাবে, আর না হলে পাঠান-পাঞ্জাবির পা মুছে নত থাকতে হতো।বাটা শু কোম্পানির মতো বহুজাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ায় তাঁর পশ্চিম পাকিস্তানে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ ছিল। এই সুবিধার কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নীতিনির্ধারক মহলে অনুপ্রবেশ করার এবং বাংলাদেশের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করার। তিনি প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসের ২২ বেলুচ রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুলতান নেওয়াজের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সখ্য গড়ে তোলেন। সেই সুবাদে শুরু হয় তাঁর ঢাকা সেনানিবাসে অবাধ যাতায়াত। এতে তিনি পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ হতে থাকলেন আরও বেশিসংখ্যক সিনিয়র সেনা অফিসারের সঙ্গে। এর একপর্যায়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান, পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি, অ্যাডভাইজার সিভিল অ্যাফেয়ার্স মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীসহ আরও অনেক সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। নিয়াজির ইস্টার্ন কমান্ড হেডকোয়ার্টার তাঁকে 'সম্মানিত অতিথি' হিসেবে সম্মানিত করে। এই সুযোগে তিনি সব ধরনের 'নিরাপত্তা ছাড়পত্র' সংগ্রহ করেন। এতে সেনানিবাসে যখন-তখন যত্রতত্র যাতায়াতে তাঁর আর কোনো অসুবিধা থাকল না। তিনি প্রায়ই সেনানিবাসে সামরিক অফিসারদের আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। একপর্যায়ে তিনি পাকিস্তানিদের গোপন সংবাদ সংগ্রহ করা শুরু করেন। এসব সংগৃহীত সংবাদ তিনি গোপনে পাঠাতেন ২ নম্বর সেক্টরের ক্যাপ্টেন এ টি এম হায়দার এবং জেড ফোর্সের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের কাছে।তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন উপায়ে সাহায্য করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডো হিসেবে স্বীয় অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে স্বয়ং ২ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা শাখার সক্রিয় সদস্যরূপে অকুতোভয় ওডারল্যান্ড বাটা কারখানা প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন। কমান্ডো হিসেবে তিনি ছিলেন অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। একপর্যায়ে তিনি নিজেই জীবন বিপন্ন করে যুদ্ধে নেমে পড়েন। তিনি বাঙালি যোদ্ধাদের নিয়ে টঙ্গী-ভৈরব রেলব্রিজ, কালভার্ট ধ্বংস করে যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত করতে থাকেন। তাঁর পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোয় বহু অপারেশন সংঘটিত হয়। মেজর হায়দারের দেওয়া এক সনদের সূত্রে জানা যায়, ওডারল্যান্ড মুক্তিযুদ্ধে গণযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, নগদ অর্থ, চিকিৎসাসামগ্রী, গরম কাপড় এবং অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস নির্যাতন ও গণহত্যার আলোকচিত্র তুলে গোপনে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন তথ্যমাধ্যমে পাঠাতে শুরু করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন। এ বিষয়ে তিনি নিজেই লিখেছেন: 'ইউরোপের যৌবনের অভিজ্ঞতাগুলো আমি ফিরে পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশে যা কিছু ঘটছে, বিশ্ববাসীকে সেসব জানানো উচিত।' ইউরোপে ফেলে আসা যুদ্ধস্মৃতির ২৯ বছর পর ১৯৭১ সালে টঙ্গীতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে আবার তিনি সাক্ষাৎ পেলেন নাৎসি বাহিনীর। টঙ্গীতে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা নৃশংস হত্যাকাণ্ড, বীভৎস মরণযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করে তিনি ব্যথিত হন। তাই ওডারল্যান্ড ছবি তোলা বাদ দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। যুদ্ধকালে তিনি প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সে সময় তিনি ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাইকমিশনের গোপন সহযোগিতা পেতেন। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং আগের কর্মস্থলে যোগ দেন। তিনি ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করে নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান।এই মানুষটি যুদ্ধের শুরুতেই টের পেয়েছিলেন, বর্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা কী করতে যাচ্ছে। প্রভাব ও কৌশল খাটিয়ে তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পাকিস্তানি বাহিনীর বড় কর্তাদের বিশ্বাসভাজন হওয়ার ভান করে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন খবর জানিয়ে দিতেন। যখন বুঝলেন, যুদ্ধ ছাড়া বাঙালির কোনো পথ খোলা নেই-নিজেই নেমে পড়েছিলেন মাঠে। গেরিলা ট্রেনিং দিয়ে সংগঠিত করার পাশাপাশি হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়া এই মানুষটি পাকিস্তানিদের হাতে মরলে অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। এমনকি তাঁর কৌশল ধরা পড়ে গেলেও জান হারাতেন। অথচ কী আশ্চর্য, বিশাল বিশাল দালানকোঠা, গদি, ক্ষমতা, বিত্ত, পদ-পদবি পাওয়া কেউ তাঁকে মনে রাখে না। চেনেও না।সিডনি বসবাসের শুরুতে না-ছিল প্রচুর অর্থ, না-তেমন কোনো যোগাযোগ। তবু তাঁর ফোন নম্বর জোগাড় করে কথা বলতে চেষ্টা করেছিলাম। কিছুতেই ফোন ধরবেন না। বঙ্গবন্ধু হত্যা, বিশেষ করে তাজউদ্দীন আহমদসহ চার নেতা হত্যার পর তিনি বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঢাকা ছেড়ে চলেও আসেন কিছুদিন পর। সরকারি আমন্ত্রণেও যাননি। গুরুতর অসুস্থ শয্যাশায়ী মানুষটি বাংলাদেশের কথা শুনলেই স্পর্শকাতর হয়ে উঠতেন। তখন তাঁর আবেগী হওয়া বারণ। তবু বারবার চেষ্টা করার পর তাঁর স্ত্রীর মন গলে যাওয়ায় কয়েক মিনিট কথা হয়েছিল। সেই স্মৃতি অমূল্য সম্পদ আমার।শুভ জন্মদিন একমাত্র বিদেশি বীর প্রতীক ওডারল্যান্ড।অজয় দাশগুপ্ত | 6 |
প্রায় চার দশকের হাতে গড়া ব্যান্ড মাইলস থেকে সরে দাঁড়ালেন কিংবদন্তি ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ। শনিবার এক ভিডিও বার্তায় নিজ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। একসাথে পথ চলা সম্ভব না হওয়ায় ব্যান্ডটির কার্যক্রম স্থগিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ভিডিও বার্তায় শাফিন আহমেদ বলেন, মাইলসের সঙ্গে আমার পথচলা সেই ১৯৭৯ সাল থেকে। বহু বছর পার হয়ে গেছে। অনেক বছর সময় দিয়েছি, শ্রম দিয়েছি। অনেক ক্রিয়েটিভ কাজ হয়েছে। মাইলসের যে অবস্থান আজকে সেটার পিছনে আমার কতটুকু অবদান, সেটা আপনাদের অনেকেই জানেন। তবে, একটা সিদ্ধান্ত নিতে আমি বাধ্য হয়েছি সম্প্রতি। সেটা হচ্ছে, এ বছরের শুরু থেকে-মাইলসের বর্তমান লাইন আপের সাথে আমার পক্ষে মিউজিকের কোনো কার্যক্রম করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি-আমি এই লাইন আপের সাথে মিউজিক করা থেকে বিরত থাকবো। মাইলস ছাড়লেও গান ছাড়ছেন না জনপ্রিয় এ ব্যান্ড তারকা। স্টেজে কিংবা রেকর্ডিংয়ে তাকে আগের মতোই পাওয়া যাবে। শাফিন বলেন, "সংগীত জগতে আমার পথচলা খুব স্বাভাবিক এবং আগের মতোই থাকবে। মাইলসের গৌরবময় অতীত যেন ভেঙে যাওয়া মাইলসের মাধ্যমে ক্ষুণ্ণ না হয় এ জন্য ব্যান্ডটির কার্যক্রম স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শাফিন মনে করেন এটিই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, আমার একটা প্রত্যাশা থাকবে, মাইলস নামটার যেন কোন অপব্যবহার না হয়। মাইলসকে নিয়ে আমরা চল্লিশ বছর উদযাপন করেছি-খুব গৌরবজ্জ্বলভাবে। আমরা যদি একসাথে কাজ না করতে পারি তাহলে মাইলসের যে কার্যক্রম তা এখনই স্থগিত করা উচিত। এবং এটাই আমি মনে করি বেস্ট ডিসিশান। সুতরাং আমার প্রত্যাশা থাকবে, অন্য কেউ যেন মাইলস নামটার অপব্যবহার না করে। ভিডিওটি প্রকাশ করে শাফিন ক্যাপশনে লিখেছেন- দীর্ঘদিনের অন্যায় ও ভুল কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে আমি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সময় মাইলস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েও দলে ফিরেছিলেন শাফিন। চলতি প্রস্থান ছাড়াও ২০১৯ সালে তার মাইলস ছাড়াও গুঞ্জন ওঠে। ২০১৭ সালে অক্টোবরে তিনি একবার ব্যান্ডটি ছাড়ার কয়েকমাস পর দ্বন্দ্ব ভুলে ফের ব্যান্ডে ফিরেছিলেন। ২০১০ সালের শুরুর দিকেও একবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ব্যান্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর কয়েকমাস পর ফের ব্যান্ডে ফেরেন। উল্লেখ্য, ফরিদ রশিদের হাত ধরে ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলা সংগীতের অন্যতম ব্যান্ড মাইলস যাত্রা শুরু করে। | 2 |
বীর মুক্তিযোদ্ধা বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হায়দার আলী মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি শহরের নিশিন্দারা উপ-শহর এলাকায় নিজ বাড়িতে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের কনিষ্ঠ জামাতা তৌহিদ বিন আনিস হিল্লোল জানান, তার শ্বশুর বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ তিনি স্ট্রোক করেন। এরপর দ্রুত তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। রণাঙ্গণের বীর যোদ্ধা হায়দার আলী ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। বগুড়ার নিশিন্দারা এলাকার বাসিন্দা হায়দার আলী পরবর্তীতে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন এবং জনসেবায় মনোযোগী হন। তিনি নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দেশে উপজেলা ব্যবস্থা হওয়ার পর ১৯৮৫ তিনি বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জনসেবার পাশাপাশি তিনি ১৯৮৬ সালে তার বাবার নামে নিশিন্দারা এলাকায় ফকির উদ্দিন স্কুল নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। পরবর্তীতে সেটি কলেজে উন্নীত করা হয়। হায়দার আলী বগুড়ার কাহালু উপজেলার বীরকেদার এলাকায় 'মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী' নামে আরও একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আগামী ১ এপ্রিল স্কুলটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে। হায়দার আলীর কনিষ্ঠ জামাতা তৌহিদ বিন আনিস হিল্লোল জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নিশিন্দারা উপ-শহর এলাকায় তার বাড়ির পেছনে মাঠে তার শ্বশুরের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। | 6 |
গোপালপুরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নিয়েছেন দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে আবারও অভিযান চালিয়ে ওই আসামি ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাজনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের চিলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা রিপনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজি ও অপহরণের দুটি পৃথক মামলায় আদালতে হাজিরা না দিয়ে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন রিপন। গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে সাজনপুর মুদিখানা বাজার থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করে। থানায় নিয়ে আসার পথে ভুটিয়া মোড়ে রিপনের সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় রিপনকে ছিনিয়ে নেন।এরপর রাত ১০টায় বাড়তি পুলিশ গিয়ে ভুটিয়া গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে রিপনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। রিপনের সহযোগীরা সেখানেও লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে পুনরায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে রিপনকে দ্বিতীয় দফা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। হামলায় এসআই শহীদুল, এসআই সালাউদ্দীন এবং কনস্টেবল মাখন চন্দ্র আহত হন। আহতরা গোপালপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানা গেছে।গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। আসামি রিপন ও মিজানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে রাশেদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তিনি নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বেঞ্চ অফিসার বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। গতকাল বুধবার বিকেলে যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক ইমাম হোসাইন বলেন, রাশেদুল ইসলাম নিজের নাম ব্যবহার করে বেঞ্চ অফিসারের ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। মীর হাজীরবাগ এলাকায় তাঁর একটি অফিসও রয়েছে। তিনি নিজেকে কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবার কখনো খুলনা ল কলেজের সাবেক ভিপি পরিচয় দেন। বেঞ্চ অফিসার হিসেবে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় রয়েছে বলে প্রচার চালান। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাসহ (এনএসআই) বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, আসামিদের জামিন-খালাস করানোর নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আটজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রতারণা করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকপটু প্রতারক বিভিন্ন অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক আছে বলে প্রতারণা করতেন। | 6 |
তিউনিসিয়া উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিহতের মধ্যে ২৭ বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সোমবার সোসাইটির বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২৭ জনের মধ্যে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, তিউনিসিয়া গেছেন লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমবিষয়ক কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম। এরই মধ্যে তিনি রেড ক্রিসেন্ট এবং তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। জীবিতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের বিবৃতিতে সোসাইটির পারিবারিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন বিভাগে দায়িত্বরত পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার জানান, তিউনিসিয়ায় রেড ক্রিসেন্টের প্রাদেশিক প্রধান ডা. মাঙ্গি সিলামের মাধ্যমে জীবিত চার বাংলাদেশি নাগরিকের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। চারজনের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে নিহত ২৭ বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার জয়াগ গ্রামের নাসির, ঢাকার টঙ্গীর কামরান, সিলেটের জিল্লুর রহমান, কিশোরগঞ্জের জালাল উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মাহবুব, মাদরীপুরের সজীব, সিলেটের বিয়ানীবাজারের রফিক, রিপন, শরীয়তপুরের পারভেজ, কামরুল আহমেদ, মৌলভীবাজার কুলাউড়ার শামিম, কিশোরগঞ্জ জেলার আল-আমিন, ফেঞ্চুগঞ্জের লিমন আহমেদ, আব্দুল আজিজ, আহমেদ, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জিল্লুর, মৌলভীবাজারের বাইল্যাহার ফাহাদ, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের আয়াত, সিলেটের হাউড়তোলার আমাজল, সিলেটের কাসিম আহমেদ, সিলেটের বিশ্বনাথের খোকন, রুবেল, বেলাল, সিলেটের মনির, সুনামগঞ্জের মাহবুব, নাদিম এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জের মারুফ। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, বেঁচে যাওয়া ৬ বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। এ ছয়জনের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়ায়। তারা হচ্ছেন- রাজীব, উত্তম, পারভেজ, রনি, সুমন ও জুম্মান। ডুবে যাওয়া নৌকার ১৬ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি, একজন মিসরীয় এবং একজন মরক্কোর নাগরিক। নৌকাডুবিতে নিহত ও জীবিত বাংলাদেশিদের তথ্য পেতে দুটি হট লাইন নম্বর :৮৮-০২-৪৯৩৫৪২৪৬ ও ০১৮১১৪৫৮৫২১-এ ফোন করার অনুরোধ জানানো হয়। | 6 |
শুরুটা ভালো হলেও ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ওপেনিং এ নেমে ঝড় তুলেন তামিম-লিটন। মাঝপথে হঠাৎ করে রান আউট হলে ব্যাকফুটে চলে যায় টাইগাররা। এরপর একে একে সৌম্য, মুশফিক এবং সাকিবরা ফিরেন। সৌম্য ১০ বলে ৯ রান করে ও রানের খাতা খোলার আগেই অ্যালেনের বলে ফেরেন সাকিব। একই জায়গায় ওঠে দুটি ক্যাচই। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭ উইকেটে ৯ ওভার শেষে ৮৯ রান করেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় ঝড়ের পর আস্তে আস্তে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে বাংলাদেশ। এতে ভূমিকা রাখেন মাহমুদউল্লাহ, সাকিব ও মোস্তাফিজ। তবে এভিন লুইসের প্রথমদিকের টর্নেডোতে ১৯.১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯০ রানের বড় সংগ্রহই পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিডি প্রতিদিন/২২ ডিসেম্বর ২০১৮/আরাফাত | 12 |
উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর থেকে তাদের সর্ববৃহৎ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থেকে এসব ছবি তোলা হয়েছে। এসব ছবিতে কোরিয়া উপদ্বীপ এবং আশপাশের এলাকা দেখা যাচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার। উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, এটি ছিল হোয়াসং-১২ নামে মধ্যম পাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান জানিয়েছে, জাপানের উপকূলের কাছে সাগরে পড়ার আগে এটি দুই হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় উঠেছিল। এই মাসে সপ্তম বারের মতো উত্তর কোরিয়ার চালানো ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছে দেশ দুইটি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় নিউজ এজেন্সি, কেসিএনএ ছবিগুলো প্রকাশ করে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের যেখানে বোমা থাকে, সেখানে সংযুক্ত একটি ক্যামেরা থেকে ছবিগুলো তোলা হয়েছে। দুইটি ছবিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সময়কাল উঠে এসেছে। বাকি ছবিগুলো তোলা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশের দিকে ওঠার সময়। জাপান এবং উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আধা ঘণ্টায় ক্ষেপণাস্ত্রটি ৮০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে। উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষার উপর জাতিসংঘের একটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দেশটির উপর জাতিসংঘের কঠোর অবরোধ রয়েছে। কিন্তু পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি নিয়মিত এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে। দেশটির নেতা কিম জং আন সামরিকভাবে দেশটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলছে, ২০১৭ সালের নভেম্বরের পর আর এত বড় মিসাইল ছোঁড়া হয়নি। দেশটির বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি কতটা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে যেতে পারে, সেটা দেখতেই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সেই সময় দেশটির নেতা কিম জং-আন উপস্থিত ছিলেন না। উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক অঙ্কিত পান্ডা বলছেন, কিম জং-আনের অনুপস্থিতি আর ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বক্তব্যের ভাষা দেখে মনে হচ্ছে, এই পরীক্ষা শুধুমাত্র নিজেদের জাহির করার জন্য করা হয়নি। বরং যেভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কাজ করা উচিত, সেভাবে কাজ করছে কিনা, সেটা যাচাই করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। এই জানুয়ারি মাসেই উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। দেশটি বেশ কয়েকটি অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে সাগরে। তার মধ্যে দুইবার ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপ পার হয়ে সাগরে পড়েছে। উত্তর কোরিয়া এর আগে জানিয়েছে, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বড় আকারের পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ছোঁড়া মিসাইলটির সাথে ২০১৭ সালের হোয়াসোং-১২ মিসাইলের বেশ সাদৃশ্য আছে। চলতি মাসের শুরুতে উত্তর কোরিয়া যেসব ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা করে তা আমেরিকা ও জাপানের ব্যয়বহুল ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভন্ডুল করে দিতে সক্ষম। দুই হাজার আঠারো সালে মি. কিম পারমাণবিক অস্ত্র বা দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার উপর স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দুই হাজার উনিশ সালেই উত্তর কোরিয়ার এই নেতা বলেন তিনি আর সেই স্থগিতাদেশ মানতে বাধ্য নন। যুক্তরাষ্ট্র জানুয়ারি মাসে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করে, এরই প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়া কয়েকটি মিসাইল নিক্ষেপ করে। জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই দুই দেশের মধ্যে সংলাপ থমকে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ন্যাভাল কমান্ডার প্রফেসর কিম ডং ইয়ুপ বলেন, "উত্তর কোরিয়া বিচ্ছুর লেজের মতোন একটা প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করছে।" তিনি মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার মূল উদ্দেশ্য আক্রমণ নয়, প্রতিরক্ষা করা। তাই দেশটি 'বৈচিত্র্যময় এক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা' নিশ্চিত করছে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 3 |
জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, দাফতরিক কাজে বাংলা বানানের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে 'সরকারি কাজে ব্যবহারিক বাংলা' পুস্তিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি রোববার সংসদে সরকারি দলের সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলেন, "জনবান্ধব সরকারি সেবা-ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে একজন 'ফোকাল পয়েন্ট' নিয়োগ করা হয়েছে।"
তিনি বলেন, "জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, জনবান্ধব ও তথ্য সমৃদ্ধ সরকারি সেবা-ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রজাতন্ত্রে নিয়োজিত কর্মচারীদের আইনসম্মত নিরাপত্তা বিধান ও তাদের জনসেবায় প্রস্তুত করার লক্ষ্যে 'সরকারি কর্মচারী আইন' প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আইনের খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।"
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, 'সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসদাচারণ, অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগে রুজু হওয়া বিভাগীয় মামলায় দোষ প্রমাণিত হলে দায়ী সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেয়ার বিধান রয়েছে।'
পাশাপাশি জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিতে প্রবেশের সময় সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি-১৩ অনুযায়ী সম্পদের হিসাব বিবরণী গ্রহণ এবং সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে বৈধ আয়ের উৎস প্রদর্শনের বিধান রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
| 6 |
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় গড়েয়ায় এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ মামলায় মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামের এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের এস সি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে তাঁকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি গোপালপুর গ্রামের মৃত দিগেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে। তিনি গড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোববার দুপুরে আসামিকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিচারিক হাকিম আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন রায়ের ছেলে চন্দন রায়ের সঙ্গে মামলার বাদী ওই তরুণীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মামলার বাদী ও চন্দন রায় সম্পর্কে খালাতো ভাই বোন। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় চন্দন রায় ওই তরুণীকে জোরপূর্বক তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। এতে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায়। এরপর তরুণী চন্দন রায়কে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে বাচ্চা নষ্ট করার কথা বলে। পরে গত রোববার বিকেলে চন্দন ওই তরুণীকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন রায় ও তাঁর পরিবারের লোকজন তরুণীকে মারপিট করে এবং বাচ্চা নষ্ট করার জন্য জোরপূর্বক ওষুধ খাওয়ান। এ ছাড়াও ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন রায় তরুণীর গলায় জোরপূর্বক ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে গত শনিবার সদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত করা হয় ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন রায়, তাঁর স্ত্রী সোমারী রায় (৪৮), ছেলে চন্দন রায় (২৬), মেয়ে মালা রাণী (৩০), জামাই সৌখিন রায় (৩৫) ও মেয়ে কৃত্তিকা রাণীকে (২২)।সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলায় অন্য আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। | 6 |
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে প্রকাশিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা ই-বই 'শেখ হাসিনা: দুর্গম পথের নির্ভীক যাত্রী'। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সম্পাদনায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই তথ্য-চিত্রবহুল ঐতিহাসিক বইটি প্রকাশিত হয়। ১৯টি নিবন্ধ এবং একটি বিশেষ ফটো অ্যালবাম সম্বলিত অনলাইনের ডিজিটাল এই বইটি সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ। অনলাইনে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও সাংবাদিক ইয়াসিন কবির জয়। জয়ীতা প্রকাশনী বইটি প্রকাশ করেছে। বইটির সম্পাদক মোস্তাফা জব্বার এসময় ওয়েবিনারে সংযুক্ত ছিলেন। | 11 |
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তীরে ফেলা হলো না ৫ নৌকার মাঝির। এ উপজেলায় দলীয় মনোনয়নে অনুষ্ঠিত ৭টি ইউপি নির্বাচনের মধ্যে ৫ টিতে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা। মাত্র ২টি ইউপি থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।পরাজিত ৫টি ইউনিয়নে নৌকার মাঝিদের ব্যালটের মাধ্যমে বয়কট করে সাধারণ ভোটাররা। এই ৫ টির মধ্যে ৩টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি।গতকাল শুক্রবার বিকেলে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিতদের ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে।গত বৃহস্পতিবার বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে কাশিয়ানী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপির সংসদীয় আসনের ৭টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আর প্রেসিডিয়াম মেম্বার শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এমপির সংসদীয় আসনের ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া ৭ ইউনিয়নের মধ্যে কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী খোকনের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন নৌকার প্রার্থী মশিউর রহমান খান। এখানে মোহাম্মদ আলী খোকন আনারস প্রতীকে ৯০৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আর মশিউর রহমান খান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩৬৯ ভোট।সাজাইল ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুবুল আলমের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহাবুবুল আলম মোটরসাইকেল প্রতীকে ৬৬১২ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কাজী জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩১০ ভোট।পারুলিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীকে ২২৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিল্লাল হোসেন টেলিফোন প্রতীকে ১৬৪২ ভোট পেয়েছেন।মাহমুদপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক মিরাজ চশমা প্রতীকে ১৫১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাক আলী অটোরিকশা প্রতীকে ১৪৩৫ ভোট পেয়েছেন।রাতইল ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনজুরুল ইসলাম আনারস প্রতীকে ৩৪৫৩ ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডেভিড সুরঞ্জন বিশ্বাস থেকে এগিয়ে রয়েছেন। এখানে নৌকার প্রার্থী ও তার নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল দেওয়ায় একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।মহেশপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে লুৎফর রহমান মিয়া ৪৬৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের আবুল বাসার মোল্লা পেয়েছেন ৩৮৪৪ ভোট।রাজপাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে মিল্টন মিয়া ৪৩২৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেলিফোন প্রতীকের সাইফুল সরদার পেয়েছেন ২২৯৯ ভোট।উন্মুক্ত ৭ ইউনিয়নের ফুকরায় অটোরিকশা প্রতীকে শাহ ইশতিয়াক পটু বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নিজামকান্দি ইউনিয়নে টেলিফোন প্রতীকে কাজী নওশের আলী বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পুইশুর ইউনিয়নে টেলিফোন প্রতীকে কামরুল ইসলাম সিকদার বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বেথুড়ী ইউনিয়নে চশমা প্রতীকে ইমরুল হাসান মিয়া বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। হাতিয়াড়া ইউনিয়নে চশমা প্রতীকে দেব দুলাল বিশ্বাস বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সিংগা ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীকে রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা কর্মীরা বলছেন, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আর তাই ৭ টির মধ্যে ৫ টিতেই পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। | 6 |
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যে কোনো সময় সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন তার ডেপুটি ইগর জোভকভা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের উপ-প্রধান এ কথা জানান। জোভকভা বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যে কোনো সময় আলোচনায় রাজি আছেন। তবে, আলোচনায় রাশিয়ার এখন যে অবস্থান তা নিয়ে তিনি কোনো আপস করবেন না। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার তুরস্কের আন্তালিয়ায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। সে বৈঠক থেকে এখনও কোনো সুখবর পাওয়া যায়নি। এ বৈঠক থেকে কোনো সমাধান আসবে তেমনটা ইউক্রেন আশাও করেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এ উপ-প্রধান বলেন, এটি খুবই ভালো খবর যে তারা বৈঠক করেছেন। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সে ব্যক্তি নন যিনি সিদ্ধান্ত নেন। যুদ্ধ বন্ধ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও সেনা প্রত্যাহার একজনের ওপর নির্ভর করে। 'যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক সমাধানে বিশ্বাসী কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বা তার সহযোগীদের কাছ থেকে এমন কিছু শোনা যায়নি', যোগ করেন জেলেনস্কির ডেপুটি। জোভকভা বলেন, আমার দেশ, ইউক্রেনের নাগরিকরা ইউরোপিয়ান পরিবারের সদস্য হওয়ার দাবি রাখে। ইউক্রেন পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য লড়ছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুদ্ধের ১৬তম দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়ার সেনারা হামলা চালাচ্ছে। শুক্রবার দেশটির নতুন বেশ কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। | 3 |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ভারতের বিশাখাপত্তমে তিন দিনের শুভেচ্ছা সফরে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ 'সমুদ্র অভিযান' আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নৌঘাঁটি ত্যাগ করে। নৌজেটি ত্যাগের প্রাক্কালে নৌবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী সুসজ্জিত বাদকদলের বাদ্য পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজটিকে বিদায় জানানো হয়। এ সময় কমান্ডার বিএন ফ্লিট রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে পদস্থ কর্মকর্তা ও নাবিকগণ উপস্থিত ছিলেন। জাহাজের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন আল ফারুক মাহমুদ হোসেন এর নেতৃত্বে ৩২ জন কর্মকর্তা, ৪০ জন মিডশীপম্যানসহ সর্বমোট ২২৮ জন নৌসদস্য উক্ত শুভেচ্ছা সফরে অংশগ্রহণ করছেন। সফর শেষে জাহাজটি আগামী ১০ অক্টোবর ২০২১ তারিখে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
সৌদি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় কলঙ্কিত সৌদি আরবের কাছ থেকে ৬০০ কোটি ডলারের ঋণ নিতে দেশটিতে ছুটে গিয়েছিলেন দেনায় নাক পর্যন্ত ডুবে থাকা পাকিস্তানের নেতা ইমরান খান। ২২ বছর ধরে রাজনীতিতে থাকা ইমরান আগন্তুক নন। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে 'নির্বাচিত', আবার সামরিক বাহিনীর আশীর্বাদধন্য। গত আগস্টে ইমরানের প্রথম বেতার ভাষণে দেওয়া কিছু তথ্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৮ বিলিয়ন ডলার আর মোট ঋণের বোঝা ২৮ হাজার বিলিয়ন রুপি, বৈদেশিক ঋণ ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে এমন ভয়াবহ ঋণগহ্বর তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের ২০০৭ সালের আগের ৬০ বছরের ইতিহাসে ঋণের অঙ্কটা ছিল মাত্র ৬ হাজার বিলিয়ন রুপি। ১০ বছরে 'গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার' ঋণের বোঝা প্রায় পাঁচ গুণ যে বাড়াতে পারে, পাকিস্তান তার উদাহরণ। এ তথ্য দিয়ে ইমরান জানিয়েছিলেন, জুলফিকার আলী ভুট্টোর পিপিপি পাকিস্তানকে ভিখারি করলেও প্রধানমন্ত্রী বিরাট লটবহর নিয়ে উন্নয়নের গীত গাইতে গাইতে মহাসমারোহে বিদেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। নিরাপত্তা সংবেদী পিপিপি প্রধানমন্ত্রীর ছিল ৫২৪ লোকবল, ৩০টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি, ৮০টি বিলাসবহুল গাড়ি; তাঁর শুধু বিদেশভ্রমণের খরচ ৬৫ কোটি রুপি। আমলাতন্ত্রের আবরু রক্ষার ঐতিহ্যও ভেঙেছেন ইমরান। বলেছেন, ব্রিটিশ প্রভুরা বিদায় নিলেও সেই ধ্যানধারণায় বুঁদ সচিব-ডিসিরা। আলিশান বাংলো ছাড়া নিদ আসে না তাঁদের। ১০০ সচিবের দু-তিনটি করে গাড়ি। অথচ ৪৫ শতাংশ পাকিস্তানি শিশু অপুষ্টির শিকার, মাতৃমৃত্যুর হার অনেক বেশি। ইমরান তাঁর প্রথম বক্তৃতায় বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনকে বিশ্ববিদ্যালয় করবেন। আর নিজে থাকবেন সামরিক সচিবের তিন বেডরুমের বাড়িতে। তা তিনি থাকুন, কিন্তু পাকিস্তানের মিলিটারি বিজনেস নিয়ে তিনি একেবারে চুপ। সামরিক বাহিনীর তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থ ঢালা বন্ধ করায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় বেশ সরব। তবে রাজনীতিতে আইএসআইয়ের হস্তক্ষেপ বন্ধ করবেন কি না, সে বিষয়ে নীরব তিনি। বরং দুই প্রধান বিরোধী দলকে হুঁশিয়ার করেছেন এই বলে যে ৩ লাখ কোটি রুপি ঋণের বোঝা কী করে হলো, সে অর্থ কোথায় গেল, তা তিনি নিরীক্ষা করাবেন। আওড়ে যাচ্ছেন সেই অন্তঃসারশূন্য বুলি-দুর্নীতিবাজ কেউ পার পাবে না। সৌদি ও অন্য বৃহৎ দাতারা কেউ পাকিস্তানের উল্লিখিত অভ্যন্তরীণ অবস্থা বদলে দেবে না। আসিফ জারদারি ৭ নভেম্বর 'ভিক্ষাবৃত্তির' জন্য নিন্দা করলেও তিনিও ইমরানের পূর্বসূরি, ঋণং ঘৃতং পীবেৎ সমর্থক। ইমরান নিশ্চিত জানতেন, বড় দুঃসময়ে ছাতা ধরার সুফল কী। যখন সৌদি রাজতন্ত্রের হত্যাকাণ্ডে বিশ্ববিবেক স্তম্ভিত, তখন তাদের দুয়ারে ভিক্ষার ঝুলি হাতে ছুটে গেছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন। যখন অনেক বিবেকি সরকারপ্রধান মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন, সবার অলক্ষ্যে ৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বিনিময়ে পাকিস্তানের ২০ কোটি মানুষের মর্যাদা বিকিয়ে দিয়েছেন ইমরান খান। অথচ কী শর্তে তিনি ঋণ নিয়েছেন, সেসব তথ্যও দেশের মানুষকে জানালেন না। দেশে ফেরার এক দিন পরে দর্পভরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণপ্রাপ্তির তথ্য ঘোষণা করেন ইমরান। খাসোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ইমরান জাতিকে কিছু বলেননি। শুধু লন্ডনের ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকাকে ইমরান অবশ্য ক্ষীণস্বরে তাঁর ভালো না লাগার ভাবটা প্রকাশ করেছেন। ইমরান আসলে 'ঋণ জয়' করেননি বরং সৌদি রাজতন্ত্রের যূপকাষ্ঠে পাকিস্তানি নিরীহ জনগণের ভাবমূর্তি বলি দিয়েছেন। ইমরান ইয়েমেনের সঙ্গে বিবাদ মেটাতে 'মধ্যস্থতা' করার প্রস্তাব দেওয়ার পরে জল্পনা হলো, পাকিস্তানি সেনারা হয়তো সৌদির হয়ে ভাড়া খাটবে। তবে ঋণ শর্তযুক্ত না থাকার দাবি করেও পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী উমর যেটা বলেছেন, সেটা খাসা। তাঁর কথায়, 'এটা হলো উভয় দেশের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ। আমাদের দরকারে তাঁরা, তাঁদের দরকারে আমরা পাশে থাকি। তাঁরা জানেন, তাঁদের দরকারের সময় আমাদের তাঁরা পাশে পান।' ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের পারমাণবিক পরীক্ষার পর দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের উপহার নিয়ে হাজির হয়েছিল সৌদি আরব। আবার ২০১৪ সালে কঠিন অর্থসংকটে পড়লে নওয়াজের পাশে 'দেড় বিলিয়ন ডলারের' উপহার হাতে ঠিকই দাঁড়ায় সৌদি রাজপরিবার। ইমরান সৌদি আরব থেকে যা পেলেন তা তাঁর ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়। এটা স্রেফ আনুগত্যের নজরানা। রিয়াদ ও ইসলামাবাদের অন্দরমহলের এই বোঝাপড়ার সঙ্গে জনস্বার্থের কোনো সম্পর্ক নেই। আর পাকিস্তানের মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতিও আকস্মিক কোনো দৈবদুর্বিপাকের ফল নয়। মিজানুর রহমান খান প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক [] | 8 |
করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর ওপর ক্ষোভ থেকে পদত্যাগ করেছেন দেশটির তিন বাহিনীর অর্থাৎ সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর প্রধানরা। করোনা মহামারির শুরু থেকেই সমালোচিত হয়ে আসছেন বোলসোনারো। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি করোনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না! কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন বোলসোনারো। তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ক্ষোভ এবং হতাশা তৈরি হয়েছে। দুই বছর আগে দায়িত্ব গ্রহণ করা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর দাবি, লকডাউন জারি করলে তা অর্থনীতিতে ধস নামাবে। তিনি মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এমনকি কোয়ারেন্টাইনেরও পক্ষে নন। দেশটির ২৬টি রাজ্যের প্রায় প্রতিটিতে ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত বিছানা এবং ওষুধের অভাবে হাসপাতালের মেঝেতেই অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া অক্সিজেনের অভাবেও বহু রোগী প্রাণ হারাচ্ছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য বোলসোনারো সরকারকেই দায়ী করা হচ্ছে। মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ব্রাজিলে প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার মানুষ মারা গেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫৮। এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় ব্রাজিলের অবস্থান দ্বিতীয়। | 3 |
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা সংক্রমণের ভয় একেবারেই কেটে গেছে। হাট-বাজার, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ সব জায়গায় সবাই স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলাচল করছেন। দেশে করোনা সংক্রমের শুরুতে মানুষের মধ্যে যে ভীতি ছিল, তা এখন আর নেই।গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন অফিস, ব্যাংক-বিমা ও বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায় প্রায় সবাই এখন মাস্ক ছাড়াই চলাফেরা করছেন। করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণকারীরাতো বটেই অন্যদের মাঝেও মাস্ক ব্যবহারে রয়েছে অনীহা।করোনা সংক্রমণ নিয়ে চরম উদাসীনতার ফল মারাত্মক হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোলাম কাউসার হিমেল। তিনি জানান, উপজেলায় গত ছয় মাসে করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা কম, এই সময়ে মৃত্যুও নেই। কিন্তু চিন্তার বিষয় এখন করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট এসেছে। রোগীদের উপসর্গেও ভিন্নতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ খুবই মৃদু আকারে দেখা দেয়। ফলে মানুষজন রোগটিকে গুরুত্ব দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। এটার ফলাফল খুবই মারাত্মক হতে পারে। বিশেষ করে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের করোনা খুবই দ্রুত ছড়ায়। ফলে করোনা থেকে বাঁচতে চাইলে সাবধান থাকতে হবে সবাইকে। মাস্ককে উপেক্ষা করা চলবে না কোনোভাবেই।করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, 'এই উপজেলায় আগে করোনার র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে ৩০-৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হতো। রোগীর নমুনা পরীক্ষার চাপ সামাল দিতে না পারলে জেলা সদরের ভাষা বীর এমএ ওয়াদুদ আরটিসিপিসিআর ল্যাবে নমুনা পাঠানো হতো। প্রায় ৩ মাস আগ থেকে করোনার নমুনা দেওয়া লোকের সংখ্যা কমেছে। আগে হাসপাতালে নমুনা দেওয়ার জন্য যে ভিড় ছিল, সেই ভিড় এখন অনেক কম।' | 6 |
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ মুখে একটা বলে আর করে আরেকটা। কথার সঙ্গে তাদের কাজের কোনো মিল নেই।'রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানি ভবনে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির জরুরি সভায় রিজভী এ মন্তব্য করেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম মজনু সভায় সভাপতিত্ব করেন।সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের নেতারা মুখে একটা বলে, আর তার বিপরীত কাজ করে। তারা দেশ থেকে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ বিতাড়িত করেছে। সরকারের নির্দেশেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাসাসহ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে, এমনকি ইফতার মাহফিলেও হামলা করা হয়েছে। দেশের মানুষ আর সরকারের কথা বিশ্বাস করে না।'নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, 'আন্দোলনের মাধ্যমেই সকল দাবি আদায় করা হবে।'আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, 'অগণতান্ত্রিক সরকারের কাছে কোনো আবদার নয়। দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে মানুষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে আওয়ামী লীগ ছাড়া সকল রাজনৈতিক দল আজ ঐক্যবদ্ধ।' | 9 |
ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী সহকারী মোবারক হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলায় ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মো. মনির কামাল এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ওরফে মহুব, মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া ওরফে বাদল ভূঁইয়া, আফজাল ভূঁইয়া, এমদাদুল হক ওরফে সিকরিত ভূঁইয়া, নয়ন ভূঁইয়া, ভুলন ভূঁইয়া ওরফে ভুলু, রুহুল আমিন, শিপন মিয়া, সুলতানা আক্তার, দেলোয়ার হোসেন, বিধান সন্যাসী ও নিলুফা আক্তার। অপর দুই আসামি তাসলিমা আক্তার (পলাতক), শামীম ওরফে ফয়সাল বিন রুহুলকে (পলাতক) এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। জয়নাল আবেদীন নামে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া বিচারক তাকে খালাস প্রধান করেন। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ঘর বানানো নিয়ে বিরোধের জেরে ঢাকার আইনজীবীর সহকারী মোবারক হোসেন ভূঁইয়াকে বল্লম মেরে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দিন মোবারকের ছোট ভাই মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া ১৬ জনকে আসামি করে বাজিতপুরে একটি মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। একই বছর ১৭ ডিসেম্বর একই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। চার্জশিটের ৩১ জন সাক্ষীর বিভিন্ন সময়ে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন। | 6 |
'দঙ্গল' ছবিটি ভারতের ইতিহাসের সর্বকালের সফলতম হয়ে ওঠার জন্য সবদিক দিয়েই এগিয়ে চলেছে। মিস্টার পারফেকশনিস্ট আনির খানের ছবি বক্স অফিসে রেকর্ড করবে, এটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে একটি ভিডিও কনফারেন্স আমির জানালেন, বলিউডের প্রতিযোগিতার বিষয়ে আমি নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না। আমি শুধু নিজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করি। আমি কখনোই শাহরুখ খান, সালমান খান, অক্ষয় কুমার কিংবা অন্য কারও সঙ্গে আমার দিক থেকে কোন প্রতিযোগিতা নেই।' বিডি-প্রতিদিন/ ১৪ জানুয়ারি, ২০১৭/ আব্দুল্লাহ সিফাত-১৭ | 2 |
বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ রূপ নিয়েছে করোনাভাইরাস। লকডাউনে আছে বিশ্বের বহু দেশ। প্রতিবেশী ভারতেও পড়েছে এর প্রভাব। দেশটিতে চলছে ২১ দিনের লকডাউন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। কিন্তু সন্তানের বিপদের কথা শুনে কি কোন মা ঠিক থাকতে পারেন। তাইতো তিন দিন স্কুটি চালিয়ে ১৪শ' কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক পেরিয়ে আরেক রাজ্যে আটকে পড়া ছেলেকে উদ্ধার করে খবরের শিরোনাম হয়েছেন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক মা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কারণ জানিয়ে স্থানীয় পুলিশের অনুমতি নিয়ে তেলেঙ্গানা রাজ্য থেকে গত সোমবার যাত্রা শুরু করেন মা রাজিয়া বেগম (৪৮)। উদ্দেশ্য পার্শ্ববর্তী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে আটকে পড়া ছেলেকে বাড়ি নিয়ে আসা। এজন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে এক হাজার চারশ কিলোমিটার পথ। আর তা সফলভাবে শেষে করে গত বুধবার ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন রাজিয়া। এ বিষয়ে রাজিয়া বেগমের বক্তব্য, দুইচাকার যান স্কুটি চালিয়ে এতো রাস্তা পাড়ি দেওয়া একজন নারীর পক্ষে ছিল খুবই কঠিন কাজ। তবে ছেলেকে ঘরে আনার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা আমার সব ভয়কে দূরে ঠেলে দিয়েছিল। যাত্রা পথে আমি এমন সময় পার করেছি যখন দেখেছি রাতের আঁধারে কোথাও কেউ নেই। চারিদিকে শুধু সুনসান নীরবতা। জানা যায়, রাজিয়া বেগম হায়দ্রাবাদ থেকে দুইশ' কিলোমিটার দূরে নিজামাবাদ সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। ১৫ বছর আগে তিনি তার স্বামী হারান। তার দুই সন্তানের একজন প্রকৌশলী গ্রাজুয়েট, অন্যজন ১৯ বছর বয়সী নাজিমুদ্দিন। যার কিনা চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন। বন্ধুকে রেখে আসতে গত ১২ মার্চ নাজিমুদ্দিন তেলেঙ্গানার নিলোরের রাহামাতাবাদে যান। কিন্তু এর মধ্যে ভারতজুড়ে লকডাউন ঘোষণায় তিনি সেখানে আটকা পড়েন। আর ছোট ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের ভয়ে বড় ছেলেকে পাঠাননি রাজিয়া বেগম। সেখানে কীভাবে পৌঁছানো যায় সে পরিকল্পনায় প্রথমে গাড়ির কথা মাথায় এলেও, পরে তা ঝেরে ফেলে দুই চাকার স্কুটিতেই ভরসা খুঁজে পান। সূত্র: কলকাতা২৪ | 3 |
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘিরে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি। ন্যায়বিচার হলে তিনি বেকসুর খালাস পাবেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে কাল বৃহস্পতিবার। এ রায়কে ঘিরে দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। রায় নিয়ে জনমনে চলছে নানা আলোচনা। পুলিশ দেশব্যাপী বিশেষ করে রাজধানীতে ব্যাপক ধর পাকড় শুরু করেছে। কাল থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকায় মিছিল করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে আজ বুধবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহবান জানান এবং ন্যায়বিচার হলে খালাস পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন। এ সময় পরিবারের কথা বলতে গিয়ে আবেগ প্রবণও হয়ে পড়েন তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, 'আমি খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করিনি। দুর্নীতি করিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সঙ্গে কোনোভাবেই আমি জড়িত না। এর কোনো টাকা সরকারি না। এক টাকাও তছরুপ হয়নি। বরং সুদে আসলে সেই টাকা তিনগুণ হয়েছে।' তিনি বলেন, 'ন্যায়বিচার হলে কাল আমার কিছু হবে না। বেকসুর খালাস পাব। বরং যারা মামলা করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। আর শাসক মহলকে তুষ্ট করার জন্য রায় হলে ন্যায়বিচার পাব না।' খালেদা জিয়া বলেন, 'আমি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তত। জনগণ আমার সঙ্গে আছে। এ সরকার খালি মাঠে গোল দেওয়ার জন্য এসব করছে। তাদের খায়েস পূরণ হবে না।' এ সময় পরিবারের কথা বলতে গিয়ে আবেগ প্রবণ হয়ে যান তিনি। বলেন, 'এর আগে কারাবন্দী থাকার সময় মাকে হারিয়েছি। পরের বার বন্দী থাকার সময় এক সন্তানকে হারিয়েছি। আরেক সন্তান পঙ্গু অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসাধীন।' তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, অনেক ফাঁদ পাতা হবে। ষড়যন্ত্র হবে। সবাই সতর্ক থাকবেন। বুঝে শুনে কাজ করবেন।' আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তিনি বলেন, জনগণের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না। নির্বাচন নিয়ে আলোচনার প্রত্যাশা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এখনো আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে পারে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্যে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। দেশ এখন বৃহত্তর কারাগার। জনগণের শাসন কায়েম করে দেশকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, 'আসুন আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন করি। আমাদের বয়স হয়েছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুন্দর দেশ গড়ে যাই।' বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পুরো বক্তব্য বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রিয় সাংবাদিক ভাইবোনেরা, আসসালামু আলাইকুম। দেশজাতির চরম সংকটের সময়ে আজ আপনাদের মাধ্যমে প্রিয় দেশবাসীর উদ্দেশে কিছু কথা নিবেদন করতে চাই। ভাষাশহীদের মাসে মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, আমি শুরুতেই তাঁদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমরা সবাই জানি, এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয়। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই এই জাতিকে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের পথে এগিয়ে দিয়েছিল। তাই স্বাধীনতার পর জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হলে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেয়নি। সে কারণেই বাংলাদেশের জনগণের প্রিয় নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। জনগণকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কেড়ে নেওয়া সব অধিকার। এরপর আবারও স্বৈরশাসন চেপে বসলে এ দেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। আমরা ছাত্র, তরুণ, পেশাজীবীসহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রাম শুরু করি। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনে। জরুরি অবস্থা জারির নামে দেশে অগণতান্ত্রিক শাসনকেও এ দেশের সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি। ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের কারণেই তাদের শাসন দীর্ঘায়িত করার খায়েশ পূরণ হয়নি। সাংবাদিক বন্ধুগণ, গণতন্ত্রের প্রতি এ দেশের জনগণের প্রবল অনুরাগের কারণেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি হিসেবে গণতন্ত্রকেই বেছে নিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য এ দেশের মানুষের। তারা রক্ত ঢেলে দিয়ে গণতন্ত্র এনেছে। বারবার সেই গণতন্ত্র এবং এ দেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ তাদের কষ্টার্জিত গণতন্ত্র এবং অধিকারগুলো আজ আবার হারিয়ে ফেলেছে। তথাকথিত উন্নয়নের নামে শোষণ, বঞ্চনা, লুটপাট ও অত্যাচারের এক দুঃসহ দুঃশাসন আজ জনগণের বুকের ওপর চেপে বসেছে। এই স্বৈরশাসন জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা মানুষকে আজ ভাতে মারছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের কাজের সংস্থান নেই। চাকরির খোঁজে লুকিয়ে বিদেশে যাওয়ার পথে আমাদের তরুণেরা সাগরে ডুবে মরছে। উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় পাঁচ-দশ গুণ বাড়িয়ে এরা লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের নামে বিদ্যুৎ খাতকে বানিয়েছে হরিলুঠের কারখানা। শেয়ারবাজার এরা লুটে খেয়েছে। অর্থ লোপাট করে ব্যাংকগুলো করে ফেলেছে দেউলিয়া। হাজার হাজার কোটি টাকার তছরুপকে এরা 'সামান্য ক্ষতি' বলে উপহাস করছে। বিদেশে পাচার করছে হাজার হাজার কোটি টাকা। সুইস ব্যাংকে এরা পাচার করা অর্থের পাহাড় গড়েছে। যারা এই দুর্নীতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হয় না, তদন্ত হলেও সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় না। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয় না। বিচার হয় না। অন্যায়-অবিচার ও শোষণ-বঞ্চনা-লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সব পথ এরা বন্ধ করে দিয়েছে। হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও জেল-জুলুম চালিয়ে প্রতিবাদী সব কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রেও লাখো কর্মী আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। অপহরণ, গুম, খুনের এক ভয়াবহ বিভীষিকায় বাংলাদেশ আজ ছেয়ে গেছে। ঘরে ঘরে আজ হাহাকার। স্বজন হারানো কান্নার রোলে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। হেনস্তা ও অপমানের ভয়ে নাগরিক সমাজ স্বাধীন মতপ্রকাশের সাহস হারিয়ে ফেলেছে। এই দুঃসহ অবস্থার মধ্যেও একদল উচ্ছিষ্টভোগী স্তাবকের গুণকীর্তনে মানুষ অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দলীয়করণ, ভীতি প্রদর্শন ও নানা অপকৌশলের মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থাকে আজ প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি অবশ্যই সে নির্বাচনে অংশ নিত। তাহলে বিএনপিই জনগণের সমর্থনে এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থাকত। যাদের আজ ক্ষমতায় থাকার কথা, সেই দলের সঙ্গে বিনা ভোটের সরকার এমন আচরণ করছে যেন বিএনপি নির্মূল করাই তাদের প্রধান কাজ। আমাদেরকে অফিসে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছে। সেই সময়ে বাইরের নানা ঘটনার জন্য আমাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের দিয়ে জেলগুলো ভরে ফেলা হয়েছে। হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। যারা লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ খুনের নির্দেশ দেয়, গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন দিয়ে বাসযাত্রী পুড়িয়ে মারে, যারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের নামে ব্যাংকে আগুন, পেট্রলপাম্পে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে, রেললাইন তুলে দিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ করেছে দেশজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে, তারাই আজ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করছে। আমরা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করি না। সারা দেশে প্রকাশ্য সন্ত্রাস করছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। তাদের কোনো বিচার হয় না। প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, দেশের সব প্রথা-প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। কথা বলার অধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই, মানুষের ভোটের অধিকার নেই। দশ টাকা দরে চাল খাওয়ানোর ওয়াদাকে ভয়াবহ ভাঁওতাবাজি হিসেবে প্রমাণ করে মোটা চালের কেজি এখন পঞ্চাশ টাকা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম। দেশে ন্যায়বিচার নেই। ইনসাফ নেই। জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই। নারী ও শিশুরা নির্যাতনের শিকার। দেশে আজ সত্যিকারের সংসদ নেই। তথাকথিত সংসদে নেই প্রকৃত বিরোধী দল। শাসকদের কোথাও কোনো জবাবদিহি নেই। সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে বৈরী প্রচারণা ও ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। দলীয়করণ ও অন্যান্য হীন পন্থায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। শিল্পায়ন, উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। মানুষের কাজ নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে গভীর মন্দা। ডলারের দাম বাড়ছে টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ ডুবে যাচ্ছে এক গভীর অন্ধকারে। এই দুঃসহ অবস্থা থেকে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি চায়। তারা তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই আমরা গণতন্ত্রের জন্য আবারও সংগ্রাম শুরু করি। সেই সংগ্রামের পথে অনেক জীবন ইতিমধ্যে ঝরে গেছে। অনেক মানুষ গুম ও খুন হয়েছে। দুঃসহ বন্দীজীবন কাটাচ্ছে অগণিত নেতা-কর্মী। অসংখ্য মানুষ হামলা, মামলা, হুলিয়া, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আজকের দুঃশাসনের হাত অনেক নিরাপরাধ মানুষের রক্তে রঞ্জিত। এই রক্তপিপাসু শাসকদের কবল থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা সহজসাধ্য কাজ নয়। কিন্তু আমরা হার মানিনি। জনগণ পরাজিত হবে না। দুঃশাসন একদিন থাকবে না। কিন্তু যে কলঙ্কের ইতিহাস তারা রচনা করছে সেই কলঙ্কের ছাপ চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। সাংবাদিক ভাইবোনেরা, কেবল নিজেদের দলীয় স্বার্থে ও সুবিধার্থে সংবিধান বদল করে গায়ের জোরে যারা এখন ক্ষমতায় টিকে আছে তারা জনগণের ভোটে আসেনি। দেশের মানুষ তাদের নির্বাচিত করেনি। তাদের দেশ পরিচালনার প্রতি জনগণের সায় ও সম্মতি নেই। নৈতিক দিক থেকে এরা অবৈধ। তাই তারা যতই হুংকার দিক, তাদের কোনো নৈতিক সাহস ও মনোবল নেই। এই শাসকদের কোনো গণভিত্তি নেই। পেশিশক্তি, সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে জনগণের বিরুদ্ধে অপব্যবহার করে ওরা টিকে আছে। জনগণের সমর্থন নেই বলেই তারা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ভয় পায়। আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। জনগণের অধিকার তাদেরকে ফেরত দিতে চাই। তাই আমরা আন্দোলন করছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। যে নির্বাচনে মানুষ অবাধে ভোট দিতে পারবে এবং সেই ভোট সঠিকভাবে গণনা করে সুষ্ঠুভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সব দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। তেমন সুষ্ঠু নির্বাচন তারা চায় না। তাদের কথা, ক্ষমতায় থেকে এবং সংসদ বহাল রেখেই তারা নির্বাচন করবে। যাতে মানুষ ভোট দিতে না পারে এবং কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়া যায়। এই প্রহসন তারা একবার করেছে। আবারও করতে চায়। সেই উদ্দেশ্যেই তারা আমাদেরকে নির্যাতন ও হামলা-মামলা ও বন্দী করে তটস্থ রেখে সরকারি খরচে এক বছর আগে থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ প্রহসন নয়, সত্যিকারের নির্বাচন চায়। তেমন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছি বলেই আজ আমাদের ওপর এত জুলুম-নির্যাতন, এত মিথ্যা মামলা। আপনারা জানেন, আমার বিরুদ্ধে তেমনি এক মিথ্যা মামলায় আগামীকাল রায় হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে শাসক মহল আমাদের চেয়ে বেশি অস্থিও ভীত হয়ে জনগণের চলাচলের অধিকার প্রতিবাদের অধিকার সভা-মিছিলের সাংবিধানিক অধিকার, প্রশাসনিক নির্দেশে বন্ধ করা হচ্ছে। ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদের ভয়ে ভিত হয়ে এ হীন পথ খুঁজে নিয়েছে সরকার। সারা দেশে তারা বিভীষিকা ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। জনগণের প্রতিবাদের সম্ভাবনাকে তারা এতটাই ভয় পায়! আদালত রায় দেয়ার বহু আগে থেকেই শাসক মহল চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছে, আমার জেল হবে। যেন বিচারক নন, ক্ষমতাসীনরাই রায় ঠিক করে দিচ্ছে। প্রধান বিচারপতিকে চাপের মুখে পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য করার পর কোনো আদালত শাসকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েম করতে সাহস পাবে কি না তা নিয়ে সবারই সন্দেহ আছে। তারপরেও দেশবাসীর উদ্দেশে সগৌরবে জানাতে চাই যে, আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। কোনো দুর্নীতি আমি করিনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কুয়েতের তৎকালীন আমীরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তাঁর নামকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কুয়েতের আমির যে অনুদান প্রদান করেন তা তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে নিয়ে আসা, সেই অর্থের বিলিবণ্টন, তহবিল পরিচালনা অর্থাৎ জিয়া অরফানেজের সঙ্গে আমি কখনো কোনোভাবেই জড়িত ছিলাম না। তা ছাড়া এই অর্থ সরকারি অর্থ নয় এবং ট্রাস্টটিও প্রাইভেট ট্রাস্ট। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এ মিথ্যা মামলায় আমাকে জড়িত করা হয়েছে। আমার আইনজীবীরা আদালতে তা প্রমাণ করেছেন। সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, জিয়া অরফানেজের একটি টাকাও তছরুপ হয়নি। সমস্ত টাকা প্রতিষ্ঠানের নামেই ব্যাংকে জমা আছে। এখন সুদাসলে সেই টাকা বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। এ মিথ্যা মামলায় ন্যায়বিচার হলে আমার কিছুই হবে না। ইনশা আল্লাহ্ আমি বেকসুর খালাস পাবো। দেশে ন্যুনতম আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে এই জালিয়াতিপূর্ণ মামলা যারা দায়ের করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়া উচিত। যারা এই মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে তাদেরও সাজা হওয়া উচিত। আর যদি শাসক মহলকে তুষ্ট করার জন্য অন্য রকম কোনো রায় হয়, তাহলে তা কলঙ্কের ইতিহাস হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়কারী কাউকেই ক্ষমা করে না, করবে না। আমি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি। আমাকে জেল বা সাজার ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমি মাথা নত করবো না। জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে পিছু হটব না। জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাকে রাজনীতির ময়দান ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখা এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাতেই একদলীয় শাসন কায়েম ও খালি মাঠে গোল দেওয়ার খায়েশ পূরণ হবে বলে আমি মনে করি না। স্বৈরশাসক আইউব খান এক সময় মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে এ দেশের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের 'এব্ডো' অর্থাৎ নির্বাচন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। ইতিহাস সাক্ষী, সেই 'এব্ডো' টেকে নেই। গণ-অভ্যুত্থানে আইউবের পতন ঘটেছিল। ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের অবৈধ সরকার রাজনীতিবিদদের হেয় করা এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যে আমাকে বিদেশে চলে যেতে বলা হয়েছিল, আমি তাদের কথায় রাজি না হয়ে আপনাদের ছেড়ে দেশ ছেড়ে যাইনি। যার জন্য আমার এবং আমার সন্তানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। আমাকে এক বছর নয় দিন কারারুদ্ধ করে রেখেছিল। আমার দুই সন্তানকেও কারারুদ্ধ করে নির্যাতন করেছিল। সেই অবৈধ সরকার আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। সেই অবৈধ সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাসহ তাদের দলের নেতা-কর্মীদের হাজার হাজার মামলা তুলে নিয়েছে। আর আমিসহ আমাদের নেতা-কর্মীদের সেই সব মামলায় হেনস্তা করা হচ্ছে। যোগ হয়েছে হাজারো নতুন নতুন মিথ্যা মামলা। জরুরি সরকারের সেসব মামলায় আওয়ামী লীগের অনেকের সাজা হয়েছিল। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত সেই আসামিরাও বিনাভোটে এমপি-মন্ত্রী হয়ে এখন আমার বিরুদ্ধে হুংকার দিচ্ছে। তারা ক্ষমতায় থাকবেন আর আমাদের বিরুদ্ধে শুধু অবৈধ সরকারের দেয়া মামলা চলবে-এই অন্যায় বাংলাদেশ মেনে নেবে না। প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, আমি কম বয়সেই স্বামী হারিয়েছি। দেশের জন্য জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছেন। দলের নেতা-কর্মীদের দাবিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনীতির বিপৎসংকুল পথে পা বাড়িয়েছি। আরাম-আয়েশ, সুখ-শান্তি ও নিন্তরঙ্গ জীবন বিসর্জন দিয়েছি। আমার প্রিয় দেশবাসী আমাকে তার প্রতিদান দিয়েছে অপরিমেয় ভালোবাসায়। প্রতিবারের নির্বাচনে পাঁচটি করে আসনে পর্যন্ত তারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আজ পর্যন্ত আমি পরাজিত হইনি। জনগণের সমর্থনে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবার গৌরব আমি অর্জন করেছি। তিন-তিনবার তারা আমাকে প্রধানমন্ত্রী করেছেন। এখনো আমি দেশের যে প্রান্তেই যাই উচ্ছ্বাসিত জনজোয়ারে আমি তাদের ভালোবাসায় অভিষিক্ত হই। আমি রাষ্ট্র পরিচালনায় কিংবা বিরোধী দলে যেখানেই থাকি, এই জনগণ প্রতিটি সুখে-দুঃখে, শান্তিতে-সংগ্রামে আমার সাথি হন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখার পর থেকে আমি জনগণকে যতটা সময় দিয়েছি, পরিবার ও সন্তানদের ততটা সময় দিতে পারিনি। কারাগারে থাকতে আমি আমার মাকে হারিয়েছি। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আমি একটি সন্তান হারিয়েছি। আরেকটি সন্তান নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে দূরদেশে এখনো চিকিৎসাধীন। আমার এই স্বজনহীন জীবনেও দেশবাসীই আমার স্বজন। আল্লাহ্ আমার একমাত্র ভরসা। আমি যেমন থাকি, যেখানেই থাকি যতক্ষণ বেঁচে থাকবো দেশবাসীকে ছেড়ে যাব না। প্রিয় দেশবাসীর প্রতি আমার আবেদন, আমাকে আপনাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলেও বিশ্বাস করবেন, আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, জনগণের সরকার কায়েমের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশে সব সময়ই ছাত্র-যুবক তরুণেরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সৈনিক, ছাত্র-জনতার মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। এই ছাত্র-জনতা আন্দোলনেই স্বৈরাচার পরাজিত হয়েছে। আজ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সেই ছাত্র, জনতাকে আহ্বান জানাই এগিয়ে আসতে বিএনপি, ২০ দলসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক দল, কৃষক শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগেও অনেকে আছেন, যাঁরা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিণতির কথা ভাবেন। তাদের প্রতিও আমার একই আহ্বান রইল। আগামী দিনে অনেক ফাঁদ পাতা হবে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে, সবাই সাবধান ও সতর্ক থাকবেন। বুঝেশুনে কাজ করবেন। এই দেশ আমাদের সবার। কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। আমরা সংঘাত, হানাহানি, নৈরাজ্য চাই না। আমরা শান্তি চাই। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এখনো আমরা আশা করে বসে আছি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সেই প্রত্যাশা রেখেই আহ্বান জানাই, হুমকি-ধমকি ও নির্যাতনের পথ ছেড়ে আসুন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পথে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করি। এ নির্বাচন কাউকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ এবং কাউকে ক্ষমতায় বসাবার নির্বাচন নয়। এ নির্বাচন হবে জনগণের রায় নিয়ে তাদের সম্মতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্বাচন। আসুন, এই দুঃখী মানুষের দেশটাকে একটি শান্তির দেশে পরিণত করতে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে অবদান রাখি। আমাদের বয়স হয়েছে। আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সম্ভাবনাময় দেশ রেখে যাই। এই বাংলাদেশটাকে আজ এক বৃহত্তর কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। জনগণের শাসন কায়েমের মাধ্যমে দেশকে মুক্ত করতে পারলে আমরা সবাই মুক্ত হব ইনশা আল্লাহ্। আল্লাহ্ আমাদেরকে কামিয়াব করুন। সকলকে ধন্যবাদ। আল্লাহ্ হাফেজ। বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ। | 9 |
মহামারী করোনা প্রোকোপ বেড়ে যাওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেট স্থগিত রয়েছে। এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না কবে নাগাদ মাঠে গড়াবে এই ঘরোয়া ক্রিকেট। এ অবস্থায় আয়ের একমাত্র পথ বন্ধ থাকায় ভালো নেই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটাররা। এই দুঃসময়ে ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিসিবি। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বড় অঙ্কের প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জানা গেছে, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকা ১৭২০ ক্রিকেটারকে প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 12 |
বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিট থেকে ১০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ৩০টি সিলিন্ডার মিটার গায়েব হয়ে গেছে। ঘটনাটি নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে তোলপাড় চলছে। ঘটনা তদন্তে শেবাচিমের একজন সহকারী পরিচালককে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে করোনা ইউনিট থেকে সিলিন্ডার ও মিটারগুলো উধাও হয়ে গেছে। এতদিন বিষয়টি গোপন ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়। কিন্তু গত ৭ দিনেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে সন্ধান চালিয়ে উধাও হওয়া কোন সিলিন্ডার ও মিটারগুলো উদ্ধার করা করা সম্ভব হয়নি। সূত্র জানায়, শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আরেক সহকারী পরিচালক ডা. মো. নাজমুল হোসেন, ডা. মাহমুদ হোসেন, সেবা তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তার এবং স্টোর অফিসার অনামিকা দাস। শেবাচিম হাসপাতালের স্টোর সূত্র জানায়, করোনা ইউনিটে ওয়ার্ড মাস্টারদের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার সরবরাহ করা হয়। কোন ওয়ার্ডে কতটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার নেওয়া হয়েছে তার তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ড তল্লাশি করে অন্তত ১০০ সিলিন্ডার ও ৩০টি সিলিন্ডার মিটারের হদিস পাওয়া যায়নি। সাধারণ ওয়ার্ডেও সেগুলোর খোঁজ মেলেনি। বিষয়টি পরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির সদস্য সেবা তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, স্টোর থেকে পরিচালককে অবহিত করা হয় ১০০ সিলিন্ডার ও ৩০ মিটার পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত সপ্তাহে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মিটারের সন্ধান চালানো হচ্ছে। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উধাও হওয়া সিলিন্ডার ও মিটারের সন্ধান মেলেনি। এ জন্য একজনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মিটার উধাও হওয়ার খবর পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর অবহেলার জন্য দায়ী সংশ্লিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারিভাবে সরবরাহ করা এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুদান পাওয়া সিলিন্ডারসহ শেবাচিম হাসপাতালে ৬২৮টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে বলে পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন। | 6 |
মাদারীপুরে চালককে মিষ্টি খাইয়ে অজ্ঞান করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে নারীসহ দুজনকে আটক করেছে রাজৈর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে, বুধবার রাত ৮টার দিকে রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দর থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন-রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় গ্রামের মামুনের স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৫) ও মাগুরা জেলা সদরের হাজরাপুর গ্রামের রওশন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৮)। এদিকে, ইজিবাইক চালক সোহান শেখকে (২০) গুরুতর অবস্থায় উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় স্থানীয় জনতা হৃদয় ও শারমিনকে ইজিবাইকসহ আটক করে গণপিটুনি দিয়ে উপজেলা হাসপাতালে পাঠায়। শারমিন আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তাকে গণপিটুনি না দিয়ে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে আটক করে। রাজৈর থানার এসআই মীর নাজমুল হোসেন বলেন, আটক দুজন স্বামী-স্ত্রী নয়। প্রকৃতপক্ষে হৃদয় শারমিনের বাড়ির পাশের ভাতিজি জামাই। আটককৃত ছিনতাইকারী নারীসহ দুইজনকে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
মুম্বাইয়ের খোপোলি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় অভিনেত্রী মালাইকা অরোরাকে। চোখে আঘাত পাওয়ায় সেখানে ভর্তি ছিলেন তিনি। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও সেই দুর্ঘটনার কথা ভুলতে পারছেন না মালাইকা। তার মতে, 'এটি এমন একটা বিষয় যা, আমি মনে করতে চাই না। আবার ভুলতেও পারি না। শারীরিকভাবে সুস্থ হয়েছি, কিন্তু মানসিকভাবে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হতে পারছি না।' মালাইকা বলেন, 'আমার মাথাব্যথা করছিল এবং আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম বেঁচে আছি কি না। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছিল, কী ঘটছে তা বোঝার জন্য অনেক হইচই হচ্ছিল। আমি প্রচণ্ড একটা ঝাঁকুনি অনুভব করেছিলাম এবং হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত বাকিটা বুঝতে পারছিলাম না।' হাসপাতালে ভর্তির পর মালাইকার সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল। যদিও মস্তিষ্কের ভিতরে আঘাতের কোনো চিহ্ন মেলেনি। বর্তমানে ভালো আছেন মালাইকা, তবু সেই দুঃসহ স্মৃতি তাকে তাড়া করে বেড়ায়। দুই সপ্তাহের বেশি বিশ্রাম শেষে চলতি সপ্তাহের শুরুতে কাজে ফিরেছেন তিনি। গত ১৪ এপ্রিল প্রেমিক অর্জুন কাপুরকে নিয়ে রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাটের বিয়ের পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। | 2 |
ঢাকার একটি স্বনামধন্য স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া দারুণ উচ্ছল প্রতিবেশী ছেলেটিকে ভীষণ ভালো লাগে আমার। ছেলেটি খুব ভালো ফুটবল খেলে। রোজ বিকেলে হাঁকডাক করে আশপাশের ফ্ল্যাটের ছেলেমেয়েদের একত্র করে বাসার নিচে খেলতে নামে সে। তবে বেশ কদিন হলো বিকেলটা কেমন শান্ত; কেউ খেলতে নামে না। এরই মধ্যে একদিন সন্ধ্যায় দেখা হয় ছেলেটির সঙ্গে। জিজ্ঞেস করি, 'ভালো আছ? আজকাল খেলতে নামো না যে!' ছেলেটি মাথা নেড়ে কোনো রকমে জবাব দেয়, সে ভালো আছে। তবে তার চোখে পানি টলটল করে। সে বলে, 'এ বছর জেএসসি পরীক্ষা। বিকেলে কোচিংয়ে যাই, তাই খেলতে পারি না।' ছেলেটির কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায় আমার। পরে শুনেছি, ছেলেটি নাকি স্কুল থেকেই সরাসরি কোচিংয়ে চলে যায়। গাড়িতে বসেই খেয়ে নেয় দুপুরের খাবার। গাড়িতেই পোশাক পরিবর্তন করে কোচিং সেন্টারে যায় সে। আবার সন্ধ্যায় আসে গৃহশিক্ষক। অন্যদিকে, নিচতলার সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি পড়ে নামী একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে কেজি ওয়ানে। সে কয়েক দিন থেকে স্কুলে যেতে চাইছে না। স্কুলে পড়ার ভীষণ চাপ। তাকে আয়ত্ত করতে হচ্ছে প্রশ্নোত্তর লেখার কায়দাকানুন। এ ছাড়া রয়েছে দুই সংখ্যার যোগ-বিয়োগ শেখার বিড়ম্বনা। স্কুল থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে তার মা-বাবাকে। বলা হয়েছে বাসায় শিশুটির পড়ার ব্যাপারে আরও যত্নবান হতে। তাই মা-বাবার মনে শান্তি নেই। যেহেতু তাঁরা জানেন স্কুল এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিবর্তন করা অসম্ভব, তাই শিশুটির পরিবর্তনকেই সহজ সমাধান বলে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। তাঁরা মনে করেন, এই সিলেবাস কোনোভাবেই শিশুটির বয়স বিবেচনা করে তৈরি করা হয়নি। কিন্তু উপায় কী! তাই ইচ্ছার বিরুদ্ধেই স্কুলে টিকিয়ে রাখার যুদ্ধে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হচ্ছে শিশুটির ওপর। এই অভিজ্ঞতাগুলো কিন্তু বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা নয়। ঘরে ঘরে শিশু-কিশোর এবং তাদের অভিভাবকেরা এই পরিস্থিতিকেই বাস্তবতা বলে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বলা হচ্ছে শিশুদের ওপর পড়ার চাপ কমানোর কথা। এই তো কয়েক দিন আগে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, 'শিশুদের পড়ার জন্য অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। তাহলেই দেখবেন তারা ভেতরে একটা আলাদা শক্তি পাবে। তাদের শিক্ষার ভিতটা শক্তভাবে তৈরি হবে।' কিন্তু এসব আহ্বানের কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখি না প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায়। কি ইংরেজি মাধ্যম, কি বাংলা মাধ্যম, কি কিন্ডারগার্টেন-কোথাও স্বস্তি নেই শিক্ষার্থীদের। কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত 'ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৮: লার্নিং টু রিয়েলাইজ এডুকেশন প্রমিজ'-এ বেরিয়ে এসেছে যে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে শুরু করে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১১ বছরের স্কুলজীবনের মধ্যে সাড়ে চার বছর সময়ই নষ্ট হচ্ছে দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির কারণে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকাশিত 'ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০১৫ '-এ দেখা গেছে, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৩৫ শতাংশ বাংলায় এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ২৫ শতাংশ গণিতে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। মূলধারার শিক্ষাদান-পদ্ধতি, কারিকুলাম, শিক্ষকদের গুণগত মান ইত্যাদি নিয়ে বহুদিন ধরেই রয়েছে নানা বিতর্ক। পরীক্ষানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই স্রোতোধারায় গাইড বই এবং কোচিং-বাণিজ্যের জয়জয়কার। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের অধিকাংশ শিক্ষক এখনো অর্জন করতে পারেননি সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন করার যোগ্যতাটুকু। অন্যদিকে, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর ওপর নেই সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ। ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীর ওপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দিচ্ছেন বইয়ের বোঝা। যেন রোবট-মানব বানানোর ব্রত নিয়ে তাঁরা বাজারে অবতীর্ণ হয়েছেন। রোবটে যে যত বেশি ইনপুট দিতে পারছে, সেই রোবটের বাজার কাটতি তত বেশি। মিথ্যা প্রতিযোগিতা আর মানসিক চাপ নিয়ে বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে সারা জীবনের জন্য বৈকল্য সৃষ্টি হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে একধরনের মানসিক দৈন্য। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা শিশুর শৈশবকে বিবর্ণ করছে, তাকে স্বার্থপর ও অসামাজিক করে তুলছে, তাদের দলীয় মনোভাব ও নেতৃত্বের স্পৃহা নষ্ট করছে, নান্দনিক অনুভূতিকে ভোঁতা করে দিচ্ছে; সর্বোপরি তাদের মানুষ নয়, বরং যন্ত্রে পরিণত করছে। অতিরিক্ত বইয়ের চাপে ফিকে হয়ে আসা তাদের বিবর্ণ শৈশবের বেদনা কেউ বোঝে না; বুঝলেও করার কিছু থাকে না। ওদের দেখে কেবলই মনে পড়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তোতাকাহিনী'র কথা, যেখানে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর পাখিটির মৃত্যু হয়েছিল শিক্ষালাভের অত্যাচারে। স্কুলপড়ুয়া এই শিশু-কিশোরদের জন্য ভয় হয়! রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'তোতাকাহিনী' শেষ করেছিলেন এভাবে, 'পাখি আসিল। সঙ্গে কোতোয়াল আসিল, ঘোড়সওয়ার আসিল। রাজা পাখিটাকে টিপিলেন, সে মুখ হাঁ করিল না, হু করিল না। কেবল তার পেটের মধ্যে পুঁথির শুকনো পাতা খসখস গজগজ করিতে লাগিল।' আমাদের সন্তানদের অবস্থাও যে অনেকটা 'তোতাকাহিনী'র পাখির মতো, কর্তাব্যক্তিরা কি তা মানেন? নিশাত সুলতানা: লেখক ও গবেষক [] | 8 |
রাজধানী ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ক্ষতবিক্ষত ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার রূপায়ন নামে একটি আবাসন প্রকল্পের নির্জন মাঠের পাশে মসজিদের পূর্ব পাশ থেকে ওই যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম কবির (২২)। তিনি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানার বেড়িপোটলা গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। নিহতের মা কল্পনা ছেলের মরদেহ শনাক্ত করে বলেন, কবির গাজীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করত। আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিরাজ হোসেন জানান, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে জামগড়া এলাকার রূপায়ন আবাসিক প্রকল্পের মাঠ থেকে কবির নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরে প্রায় ১৫-২০টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি আরো জানান, কে বা কারা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর নির্জন ওই মাঠে ফেলে রেখে গেছে। হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি। নিহতকে শনাক্ত করেছে তার মা। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.