text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
উপকরনমুরগির লেগ পিস বা রান ৬ থেকে ৮টি, টক দই আধা কাপ, পেঁয়াজবাটা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচবাটা ১ চা-চামচ, আদাবাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, ধনেগুঁড়ো আধা চা-চামচ, জিরার গুঁড়ো ১ চা-চামচ, বেরেস্তার জন্য পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়ো সামান্য, আলুবোখারা ২টি, জায়ফল ও জয়ত্রীবাটা সামান্য, পোস্তদানাবাটা আধা চা-চামচ, দারুচিনি ২ থেকে ৩ টুকরা, সাদা এলাচি ৪টি, জর্দার রং বা অরেঞ্জ ফুড কালার সামান্য, লবণ পরিমাণমতো, চিনি ১ চা-চামচ, ঘি বা তেল ১ কাপ, মাওয়া বা গুঁড়ো দুধ ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ চা-চামচ, কিশমিশ ৮-১০টি, টমেটো সস ১ চা-চামচ, কেওড়া জল সামান্য।প্রণালিমুরগির টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে রেখে দিন। এরপর ধুয়ে রাখা মুরগির পিসগুলোর সঙ্গে সামান্য লবণ আর জর্দার রং মিশিয়ে হালকা করে ভেজে নিন। এবার একটি পাত্রে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজকুচি দিয়ে বেরেস্তা করে তুলে রেখে দিন।একটি কড়াইয়ে ঘি অথবা তেল দিয়ে তার মধ্যে গরম মসলা দিয়ে সামান্য ভেজে পেঁয়াজবাটা, আদাবাটা, রসুনবাটা দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে তার মধ্যে মরিচ-হলুদ-জিরার গুঁড়ো, লবণ, বাদামবাটা, জায়ফল-জয়ত্রী, পোস্তদানাবাটা, আলুবোখারা দিয়ে পানি অথবা দুধ দিয়ে ভালোমতো কষিয়ে নিন। তারপর মুরগির পিস ও টক দই দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করে নিন। এ সময় পেঁয়াজ বেরেস্তা, গুঁড়ো দুধ, চিনি আর কেওড়া জল দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। পানি অনেকটা শুকিয়ে তেল বের হয়ে এলে তার ওপর কাঁচা মরিচ, কিশমিশ দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে নামিয়ে পরিবেশন করুন।লেখা ও ছবি: আফসানা মিমি | 6 |
আগামী শনিবার রাত ৮টায় আরটিভিতে প্রচারিত হবে নাটক 'একমুঠো জোনাকি'। শফিকুর রহমান শান্তনুর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন দীপু হাজরা। নাটকটি প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, নাটক নির্মাণে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। অভিনেতাদের সকলের আপ্রাণ চেষ্টা, পুরো টিমের অক্লান্ত পরিশ্রম সবকিছু মিলিয়ে আশা করছি ভালো একটি কাজ হয়েছে। দর্শকের ভালো লাগবে বলেই বিশ্বাস করছি। নাটকের অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ বলেন, নাটকটি সমসাময়িক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। সাদামাটা বন্ধুত্বের, প্রেম, বিরহের গল্পের বাইরে একটি ভিন্ন রকম গল্প। চেষ্টা করেছি ভালো অভিনয় করতে। এখন কতটুকু পেরেছি তা দর্শকই ঠিক করবে। তবে আশা করছি, দর্শকের নাটকটি ভালো লাগবে। নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, শবনম ফারিয়া, মাসুম বাশার, নিঝু মনি, ফরিদ মোহাম্মদ, নাজিরুল আপন, শুভ, ফাইজা, নজরুল ইসলাম প্রমূখ। নাটকটি প্রযোজনা করেছেন মোজাফফর দিপু। | 2 |
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন আপোষ নাই।' রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এর আগে এক আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে শেষ হয়। আলোচন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ চন্দ্র সিংহ রায় এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 1 |
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-অরুয়াইল সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ৩টি পয়েন্ট পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জনজীবনে। এলাকাবাসী জানায়, এই সড়ক দিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন পানির উপর দিয়ে চলাচল করছে। তবে যান চলাচল আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে। ভূইশ্বর গ্রামের বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, সড়কটির উত্তর অংশজুড়ে হাওর এবং দক্ষিণাংশে বিভিন্ন গ্রামের অবস্থান। বন্যার পানির তোড়ে এখন সড়কের পাশের বাড়িঘরও পড়েছে ঝুঁকির মধ্যে। কারণ, নির্মাণের পর থেকে এই সড়কটি যান চলাচল ছাড়াও বর্ষার ভাঙন থেকে গ্রামগুলোকে রক্ষা করতো। তাছাড়া ভাটি অঞ্চলের মানুষদের ডাকাতের কবল থেকেও রক্ষা করে এই সড়ক। কিন্তু বর্তমানে সড়কটির দুই পাশে থাকা পাকা ব্লক ঢেউয়ের তোড়ে সরে গিয়ে মাটি, এমনকি পিচ ঢালাই অংশও ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে সড়কটি ভাঙতে থাকলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ছাড়াও এলাকার মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাওছার হোসেন বলেন, গত দু'দিন ধরে পানি বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে সরাইল উপজেলা সদরের সঙ্গে পাকশিমুল ও অরুয়াইল ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, তিতাস নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে নাসিরনগর, সরাইল ও নবীনগর এলাকার নিম্নাঞ্চল বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এলজিইডি'র সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, সড়কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল। আমরা এটি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করছি। প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর কর্তৃপক্ষ বন্যা পরবর্তী সময়ে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। হাওরবেষ্টিত সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের সঙ্গে সরাইল উপজেলা সদরের যোগাযোগ স্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ২০১০ সালে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোড় থেকে অরুয়াইল বাজার পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৩ কিলোমিটারেরও বেশি। নির্মাণের পর থেকে প্রতি বছর বর্ষা এলেই সড়কটি ভেঙে যায়। তবে এবারের বন্যায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হওয়ায় সড়কটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত এলাকাবাসী। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
ক্ষিপ্রগতিতে হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের পাঁচটি রাজধানী দখল করে নিয়েছে তালেবান। আজ রোববার এক দিনেই তারা তিনটি প্রাদেশিক রাজধানী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। শুক্রবার থেকে তাদের এই অভিযান শুরু হয় এবং তিন দিনেই বিপুল সাফল্য লাভ করে। এছাড়া পশ্চিমে হেরাত, দক্ষিণে কান্দাহার ও লাস্কার গাহেও তুমুল লড়াই চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রোববার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তারা কুন্দুজ, সার-ই-পুল ও তালোকান দখল করে নেয়। আইনপ্রণেতা, নিরাপত্তা বাহিনী ও ওইসব নগরীর অধিবাসীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তালেবান রোববার বিকেলে এক বিবৃতিতে জানায়, আল্লাহর রহমতে কিছু প্রচণ্ড লড়াইয়ের পর মুজাহিদনরা কুন্দুজ দখল করে নিয়েছে। এরপর তাদের আরেকটি বিবৃতিতে বলা হয়, মুজাহিদিনরা সর-ই-ফুলও দখল করে নিয়েছে। সেখানকার সব ভবন তাদের নিয়ন্ত্রণে।এরপর সন্ধ্যায় তালেবান টুইটারে জানায়, তারা তাখার প্রদেশের রাজধানী তালোকানও জয় করেছে। সার-ই-ফুলের নারী অধিকার কর্মী পারবিনা আজিমি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও অবশিষ্ট বাহিনী নগরী থেকে তিন কিলোমিটার দূরের সেনা ব্যারাকে হটে গেছে।প্রাদেশিক পরিষদের এক সদস্য মোহাম্মদ হোসাইন মুজাহিদজাদা বলেন, তালেবান ওই কম্পাউন্ডটি ঘিরে রেখেছে। এই পাঁচ নগরীর মধ্যে কুন্দুজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের বিশাল এলাকার ওপর তালেবানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো। সূত্র : বিবিসি ও হিন্দুস্তান টাইমস | 3 |
পাকিস্তানে সরকার পতনে বিদেশী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তরুণদের বিক্ষোভে নামতে বলেছেন ইমরান খান। শনিবার তিনি এমন মন্তব্য করেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে জিও নিউজ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার সরকার পতনে বিদেশী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তরুণদের বিক্ষোভে নামতে বলেছেন। তিনি শনিবার ও রোববার তরুণদের বিক্ষোভ করতে বলেন। রোববার বিদেশী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে যে অনাস্থা ভোট হতে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য তরুণদের এমন আহ্বান জানান। শনিবার পাকিস্তানের জনগণের সাথে হওয়া সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে ইমরান খান বলেন, আমি চাই আপনারা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ পাকিস্তানের জন্য আন্দোলন করুন। তিনি বলেন, তার সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রকাশ্যে বাণিজ্য চলছে, এমপিদের টাকা দিয়ে কিনে নেয়া হচ্ছে। তারা একটি নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে দিতে চাইছে। যদি আগের মতো একই নিয়মে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে দেয়া হয় তাহলে আমাদের দেশের কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। এ কারণে ইমরান খান তরুণদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে বলেন। কারণ, এমন প্রতিবাদকে তিনি তাদের (গণতান্ত্রিক) অধিকার বলে মনে করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি সমগ্র জাতি সত্যের পথে থাকে, তাহলে যে সকল দেশদ্রোহী তাদের ঈমান বিক্রি করে দিয়েছে তাদের জন্য এটা বিশাল ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। ইমরান খান বলেন, আমি চাই বিদেশীদের সাথে মিলে ষড়যন্ত্র করার কারণে এ সকল গাদ্দারকে সবাই ইতিহাস হিসেবে মনে রাখুক। এমনকি পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও এসব দেশদ্রোহীদের (ষড়যন্ত্রমূলক) চিঠি দেখেছে। সূত্র : জিও নিউজ | 3 |
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খাগড়াছড়িতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজনের মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। রোববার সকালে গ্রেফতারদের খাগড়াছড়ি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে শনিবার বিকালে ও রাতে পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে জেলার মানিকছড়ি ও দীঘিনালা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন- জেলার মানিকছড়ির আমির হোসেন এবং দীঘিনালার সুজন দাশ ও মিন্টু চৌধুরী। রোববার সকালে এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আব্দুল আজিজ তার দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন- করোনা প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করার জন্য পুশিল প্রশাসন কাজ করছে। | 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পরাশ্রয়ী আন্দোলন নির্ভর বিএনপি দেশের বিদ্যমান স্থিতি নষ্ট করতে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। আমরা আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম, ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে ক্যাম্পাসগুলোকে উত্তপ্ত করতে। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ছাত্র-শিক্ষকগণ যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন ঠুনকো অজুহাতে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার নোংরা রাজনীতি করছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আজ সকালে তাঁর বাসভবনে ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন। সাম্প্রদায়িক দানবদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতিদানবীয় অপতৎপরতা চালাচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা সরকার নয়, বিএনপিই হচ্ছে আসল দানবীয় শক্তি। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ জনমানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছে, আর বিএনপি এনে দিয়েছিলো পরনির্ভরতার শৃংখল। অন্যান্য প্রশ্নের মতো জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়েও বিএনপি মহাসচিব কখনো কোন প্রশ্নেরই জবাব দেন না, প্রশ্ন করলে মূল প্রসঙ্গ এড়িয়ে সামঞ্জস্যহীন জবাব দেন। এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়াউর রহমানের লাশ নাকি জেনারেল এরশাদ কাঁধে বহন করেছেন, এ ধরনের উত্তর দিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা করেন ফখরুল সাহেব। এরশাদ কফিন বহন করেছেন কিন্তু ভিতরে জিয়ার লাশ আছে- তাতো তিনি কখনো বলেন নি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল সাহেবের কাছে জানতে চেয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে তার লাশ রাঙ্গুনিয়া পাহাড়ে নিয়ে গিয়েছিলো কে? | 6 |
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই শিশুর নাম রাফি (৭)। তার পিতার নাম, জাহিদ হোসেন। বাড়ী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের তালপট্টি গ্রামের নানা নুরুল আমিন মিয়ার বাড়িতে মায়ের সাথে বেড়াতে আসে রাফি। সোমবার সকালে কাউকে না জানিয়ে পুকুরে গোসল করতে নামে। তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে। এরপর পুকুরে তার লাশ ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বালিয়াকান্দি হাসপাতালের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিদ্যুৎ কুন্ডু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার পূর্বেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। | 3 |
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুনামগঞ্জ। হাওরের এই জেলা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহ্যেও বেশ সমৃদ্ধ। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারে গেলে যে কারও চোখে পড়বে শত বছরের পুরোনো দোতলা একটি মসজিদ। স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি রায়পুর বড় জামে মসজিদ নামে পরিচিত। মহাসিং নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই স্থাপত্যের নির্মাণকাজে যিনি যুক্ত ছিলেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের সুনিপুণ হাতেই নির্মিত হয়েছে জগদ্বিখ্যাত তাজমহল। তাজমহল যে পাথর দিয়ে বানানো হয়েছিল, এটি বানাতেও একই ধরনের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে।১৩৩১ বঙ্গাব্দে স্থানীয় ব্যবসায়ী ইয়াসিন মির্জা ও তাঁর ভাই ইউসুফ মির্জা ভারত থেকে দক্ষ স্থপতি এনে মসজিদটির নির্মাণ শুরু করেন। মসজিদ নির্মাণ নিয়ে লোকমুখে নানা জনশ্রুতি থাকলেও পরিবারসূত্রে জানা যায়, ইয়াসিন মির্জার বাবা আদিল হাজি পরগনার মধ্যে একমাত্র হাজি ছিলেন। তিনি নামাজের জন্য বর্তমান মসজিদের জায়গায় একটি টিনশেড ঘর তৈরি করেন। পরে এখানেই দুই ভাই মিলে মসজিদ বানানোর উদ্যোগ নেন।মসজিদের নির্মাণকাজ চলে ১০ বছর ধরে। ৬৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও বারান্দাসহ ২৫ ফুট প্রস্থের এ মসজিদের উচ্চতা গম্বুজসহ ৪০ ফুট। ৬টি স্তম্ভের ওপর ৬টি মিনার, ৩টি বিশাল গম্বুজ এবং ছোট সাইজের আরও ১২টি মিনার। বাইরের চেয়ে ভেতরটা বেশি নান্দনিক। নামাজের জন্য নির্ধারিত মূল স্থান দোতলায়। মিহরাব অংশে জমকালো পাথর কেটে আকর্ষণীয় ডিজাইন করা হয়েছে। পুরো মসজিদের চারপাশে তিন ফুট উচ্চতা পর্যন্ত যে কারুকার্যখচিত টাইলস লাগানো হয়েছে, সেগুলোও উঁচুমানের স্থাপত্যশৈলীর ইঙ্গিত দেয়। টাইলসগুলো আনা হয়েছিল ইতালি, জার্মানি ও ইংল্যান্ড থেকে। প্রতিটি প্রবেশদ্বারে পাথরখচিত খিলান মসজিদটিকে বেশ দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। নিচতলার ছাদ ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে রেলের স্লিপার। ছাদ ও গম্বুজের চারপাশে পাথর খোদাই করা পাতার ডিজাইন গ্রামীণ ঐতিহ্যের জানান দেয়। দোতলার মেঝেতে রয়েছে দুর্লভ শ্বেতপাথর। চারপাশে ব্লকে আছে ব্ল্যাক স্টোন বা কালো পাথর, যা আরও বেশি দুর্লভ। এগুলো আনা হয়েছে ভারতের জয়পুর থেকে। মসজিদ নির্মাণে ব্যবহৃত এ ধরনের পাথর একমাত্র তাজমহলে ব্যবহার করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের ভেতরে ঢুকতে হয় উত্তর পাশের গেট দিয়ে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, রডের ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ ইটের ওপর নির্মিত স্থাপনাটি। নির্মাণকাজ করা মিস্ত্রিরা সবাই ভারতীয়। মূল স্থপতি মুমিন আস্তাগারের পূর্বপুরুষ ভারতের তাজমহল নির্মাণে কাজ করেছেন।ঐতিহ্যবাহী পাগলা বড় জামে মসজিদটি অযত্নে ও অবহেলায় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সরকারের তরফ থেকে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি পর্যটনশিল্পে একটা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। আর যদি অবহেলার ধারাবাহিকতায় দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তবে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী এ মসজিদটি আর না-ও দেখা যেতে পারে। কালের বিবর্তনে যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন ইয়াসিন মির্জার প্রপৌত্র লালন মির্জা ও মনজুর হায়দার। | 6 |
জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল পেলেন সুমন রেজা। তাও একটি নয়, দুটি। কিন্তু খেলাটা কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে হওয়ায় সুমনের চোখ জুড়ানো দুই গোল যেমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাচ্ছে না, তেমনি শেষ পর্যন্ত কাজে লাগেনি দলেরও। সুমনের গোলে এগিয়ে গিয়েও কিরগিজ যুবাদের কাছে ৩-২ গোলে হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে।এই হারে খালি হাতেই কিরগিজস্তান সফর শেষ হলো বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের। ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে ফিলিস্তিনের কাছে ২-০, কিরগিজস্তানের কাছে ৪-১ আর স্বাগতিক যুবাদের কাছে হারে সাফের প্রস্তুতিটাও ভালো হলো না জামাল ভূঁইয়াদের।হারলেও সুমনের গোলে পাওয়া হয়তো স্বস্তি দিতে পারত বাংলাদেশ কোচ জেমি ডেকে। কিন্তু প্রতিপক্ষের যুব দলের বিপক্ষে সহজ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করায় খানিকটা হতাশ তিনি। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ কোচ বলেছেন, 'ফিলিস্তিন-কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ম্যাচগুলো কঠিন হবে জানতাম। জানতাম তেমন সুযোগ পাব না। কিন্তু অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে আমাদের লক্ষ্য ছিল ঘুরে দাঁড়ানো। সেটা হয়নি।'স্বাগতিকদের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে গতকাল একাদশ পুরো পাল্টে ফেলেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। নয় পরিবর্তনে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে ম্যাচ খেলার সুযোগ পান গোলরক্ষক মিতুল মারমা ও ডিফেন্ডার আতিকুজ্জামান। দলের অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড ছিল ডিফেন্ডার রেজাউল করিমের হাতে।দোলেন ওমরাজাকভ স্টেডিয়ামে শুরুতে বাংলাদেশের খেলায় ছিল গতি। সেটিকে কাজে লাগিয়ে সুফলটা বাংলাদেশ পেয়েছে ১১ মিনিটেই। স্বাগতিক এক ডিফেন্ডারের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান সুমন, বল নিয়ে সামান্য এগিয়ে বক্সের সামনে থেকে বাঁ পায়ের দূর পাল্লার শটে লক্ষ্যভেদ করেন বাংলাদেশ স্ট্রাইকার।সেই গোল ২৪ মিনিটেই শোধ করে দেয় স্বাগতিকরা। উলু জানিবেগের ক্রস থেকে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা। ৪ মিনিট পর বোরুভায়েব গুলজিঘিতের বাঁ পায়ের প্লেসিং শটে পরাস্ত হন বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিতুল।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ডি-বক্সের জটলাকে কাজে লাগিয়ে ৫৮ মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করেন আলিগুলোভ মাস্কাট। পরে অবশ্য ব্যবধান কমান সুমন রেজা। ৬৪ মিনিটে কিরগিজস্তানের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে দর্শনীয় এক সাইড ভলিতে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন সুমন। | 12 |
চীনের জিনজিয়াংয়ে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর লোকজনকে গণহারে আটকে রাখা ও তাঁদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পুরোনো। এ ইস্যুতে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে 'মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার' অভিযোগ তুলেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এবার উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর মধ্য দিয়ে গত ৩০ বছরের বেশি সময় পর আবারও ইইউর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে যাচ্ছে চীন। ইইউ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ সোমবার চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জিনজিয়াংয়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর লোকজনের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পৃক্ত চারজন চীনা কর্মকর্তা ও একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করছে ইইউ। তাঁদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। সম্পত্তির ব্যবহার ও হস্তান্তর স্থগিত করা হবে। যদিও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা চীনা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নাম এখনো প্রকাশ করেনি ইইউ। ইইউর একজন কূটনীতিক জানান, সবশেষ ১৯৮৯ সালে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ইইউ। ওই সময় তিয়েনআনমেন স্কয়ারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চীনা সেনাবাহিনীর দমনপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ। ৩০ বছরের বেশি সময় পর এবার জিনজিয়াংয়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর লোকজনের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চীনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিল জোটের সদস্যরা। সম্প্রতি চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে 'সংশোধনাগার শিবির'-এ উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বেশ কিছু নথি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। দেশটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, উইঘুর নারীদের জোর করে বন্ধ্যা করে দিচ্ছে চীন। শিশুদের তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। বিবিসির অনুসন্ধানে বলা হয়, উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকজনকে জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করার প্রমাণ মিলেছে। সেখানকার নারীদের পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ ও নির্যাতন করারও প্রমাণ পেয়েছে বিবিসি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জিনজিয়াংয়ের পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন ক্যাম্পে কমপক্ষে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটক রাখা হয়েছে। চীন এসব ক্যাম্পের কথা প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এগুলো আসলে প্রশিক্ষণকেন্দ্র। উগ্রবাদী মানসিকতা প্রশমনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এসব অভিযোগের পর চীনের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হয় জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো। নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টে পাস হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা 'গণহত্যার' শামিল। সংখ্যালঘু উইঘুর জনগোষ্ঠীর প্রতি চীন সরকারের আচরণকে 'গণহত্যা' বলে আখ্যা দেয় কানাডার পার্লামেন্ট।সমালোচনায় সোচ্চার রয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও উইঘুর মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতি চীনের আচরণকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে চীন বরাবর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, গণহত্যার অভিযোগ হাস্যকরভাবে অযৌক্তিক এবং ডাহা মিথ্যা। পশ্চিমা রাজনীতিবিদেরা জিনজিয়াংয়ে ঘটনায় মিথ্যা তথ্যের ওপর আস্থা রাখছেন। | 3 |
যৌতুক আইনের মামলায় স্বামী পারভেজ সানজারির জামিন নামঞ্জুর চেয়ে আদালতে উচ্চ স্বরে কাঁদলেন কণ্ঠশিল্পী মিলা ইসলাম। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে জামিন আবেদনের শুনানির সময় এই ঘটনা ঘটে। ঢাকা সিএমএম আদালতে এ আসামির দুই দফা জামিন আবেদন নামঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করা হয়। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ওই জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। ওই সময় আদালতে উপস্থিত হন মামলার বাদিনী কণ্ঠলিল্পী মিলা। শুনানিতে মিলা জামিন আবেদনের বিরোধীতা করে বলেন, বিয়ের ৪ দিন পর জোর করে আমাকে তালাক দিতে বলে। আমি রাজি না হওয়ায় আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। বিয়ের আগে তার (স্বামী পারভেজ সানজারি) সাথে আমার ১১ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১১ বছরে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু বিয়ে ৪ দিনের মধ্যে তার আচারণ পরিবর্তন হয়ে যায়। আমি তার জামিন নামঞ্জুরের জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ করছি বলে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওই সময় আসামির পক্ষে আইনজীবীকে বাদিনীর সঙ্গে মিমাংসা করতে বলেন আদালত। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী মিমাংসার জন্য সময় প্রার্থনা করলে বিচারক আগামী ২৭ নভেম্বর জামিন আবেদনের পরবর্তী দিন ধার্য করেন। গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মারধর ও যৌতুকের অভিযোগে মিলা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়ের পরই সানজারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে সানজারিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ৯ অক্টোবরও আদালত এ আসামির জামিন নামঞ্জুর করেন। মিলার দায়ের করা মামলায় বলা হয়, বিয়ের পর পর্যায়ক্রমে কয়েকবার এ ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর তাকে মারধর করা হয়। এর আগে তার স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক নিয়েছেন। আরও দশ লাখ টাকা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়ে তার স্বামী তাকে মারধর করেছেন। একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের পাইলট পারভেজ সানজারির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মিলার প্রেমের সম্পর্কের পর গত ১২ মে তারা বিয়ে করেন। | 2 |
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শেখ জায়েদ বিন আল নাহিয়ান ট্রাস্টের অর্থায়নে বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণ হবে বারবার বলা হচ্ছে। সেই ২০১৪ সাল থেকে চলছে পরিদর্শন।সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এডিজি মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী প্রমুখ।এর আগে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই সদস্যের প্রতিনিধি আবুধাবি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার আলী হুমাইদ আলদিরী ও প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ মুবারক আল মেহরিবী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।এ ছাড়া ২২ মার্চ বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত এইচ ই সাইয়েদ আল মাহারী ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রেড ক্রিসেন্টের দুর্যোগ বিভাগের প্রধান সাইয়েদ মোহাম্মেদ আল খামিরি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।এর আগে ২০১৪ সালে আরব আমিরাতের শীর্ষ স্থানীয় নির্মাণ সংস্থা আরটেকের প্রধান প্রকৌশলী আসাদ আল খিলালি ও প্রকৌশলী ওয়ায়েল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। তাঁরা হাসপাতাল নির্মাণের ২৫ হাজার বর্গফুট জায়গা নির্ধারণ করেন।সূত্র জানায়, রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ও বেতাগী ইউনিয়নের গুনগুনিয়া বেতাগী এলাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বাদশা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানকে বাংলাদেশ সরকারের উপহারস্বরূপ দেওয়া ১১০ একর পরিত্যক্ত জমিতে প্রতিষ্ঠিত হবে হাসপাতালটি।প্রাথমিকভাবে ৬৪ শয্যা দিয়ে শুরু করা হবে হাসপাতালটি। পরে ক্রমান্বয়ে তা ১২০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আধুনিক গাইনি সেবা নিশ্চিত করতে একটি অপারেশন থিয়েটারকে সার্বক্ষণিক দুজন সার্জনসহ প্রস্তুত রাখা হবে। অপর অপারেশন থিয়েটার ব্যবহৃত হবে জেনারেল সার্জারিতে। মা ও শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে সেখানে।সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্নত হাসপাতালগুলোর মতো সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে হাসপাতালটিতে। রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত সাংসদ এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ শেখ জায়েদ বিন আল নাহিয়ান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ বিন আল নাহিয়ান ট্রাস্টের অর্থায়নে ও রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের হাসপাতালটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় মাইলফলক রচিত হবে। | 6 |
দেশের উপকুলীয় অঞ্চলে বসবাসরত মানুষকে সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের সময় নিরাপদ আশ্রয় প্রদানসহ আরো বেশকিছু সুবিধা নিশ্চিতে ৯টি জেলায় কাজ করেছে সরকার। বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পটি (এমডিএসপি) বাস্তবায়নে কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি অনেকদূর এগিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও জিওবি-এর সহাতায় সারাদেশে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী- এ ৯টি জেলায় ও ৭৬টি উপজেলায় এমডিএসপি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এ প্রকল্পগুলো হচ্ছে সুপার সাইক্লোন সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে জনগণ এবং তাদের সম্পত্তিসহ গৃহপালিত জীব-জন্তুর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণ, প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সকলের জন্য শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা ও বিভিন্ন সামাজিক এবং সরকারি কর্মসূচি যেমন- ইপিআই, এনজিও, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির উন্নয়নের জন্য সুযোগ সৃষ্টি। আরো জানা গেছে, এ প্রকল্পটি গত ২০১৪ সালে অনুমোদিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ঠিক করা হয় ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রকল্পসূত্রে জানা গেছে। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ৫৫৬টি সাইক্লোন সেল্টার। জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মহসিন ভোরের কাগজকে জানান সাইক্লোন শুধু সেল্টার বিপদগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়ের জন্য নয়। তা পরবর্তীতে প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে বা হবে। কাজের গুণগত মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বব্যংকের প্রতিনিধিরা সরাসরি এই কাজ দেখাশুনা করছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আমাদের সাইক্লোন শেল্টার অসংখ্য বিপদগ্রস্ত মানুষের জান-মালকে রক্ষা করে। জানতে চাইলে বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পের (এমডিএসপি) পরিচালক জাবেদ করিম ভোরের কাগজকে বলেন,আমাদের এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুপার সাইক্লোনের (সিডর) প্রাকৃতিক এবং জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে বসবাসরত মানুষ এবং তাদের সম্পদসহ গৃহপালিত জীব জন্তুর নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ভোরের কাগজকে বলেন আরো বলেন, এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ১৭০ কোটি টাকা। তার মধ্যে জিওবির ১০ কোটি টাকা ও বাকি টাকা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পের কাজের কত শতাংশ শেষ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ অল্প সময়ের মধ্যে সমাপ্ত হবে জানান এ কর্মকর্তা। | 6 |
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের এক নিরাপত্তারক্ষীর ছেলে ছিনতাইকালে আটক হয়েছেন। পরে ক্ষুদ্ধ শিক্ষর্থীরা তাকে গণধোলাই দেয়। আটকৃতের নাম নাম মেহদী হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের নিরাপত্তারক্ষী মো. শহীদ মিয়ার ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ১১টার দিকে হেমায়াতপুর থেকে ৪ শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় খেতে আসে। এই সময় মেহেদী তাদের ভয় দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইজারল্যান্ড এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের কারণে তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন দাবি করেন মেহেদী। এ সময় ওই শিক্ষার্থীরা টাকা দেওয়া কথা বলে কৌশলে মেহেদীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে। পরে আশপাশের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদীকে উদ্ধার করেন। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদিপ্ত শাহিন বলেন, তাকে আমরা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। | 6 |
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর '১৬তম কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট' হিসেবে অভিষিক্ত হলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। আজ বুধবার চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ ঐতিহ্যবাহী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের শহীদ এম আর চৌধুরী প্যারেড গ্রাউন্ডে মনোমুগ্ধকর ও চৌকষ এই অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে 'কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট' হিসাবে সেনাবাহিনী প্রধান সামরিক রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ''প্রবীনতম রেজিমেন্ট'' ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অভিভাবকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। অনুষ্ঠানে সেনাসদর, আর্মি ট্রেনিং এ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, স্থানীয় ফরমেশন এবং বাংলাদেশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ বিভিন্ন পদবীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্যারেড স্কয়্যারে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধানকে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন জানানো হয় এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি চৌকষ দল তাঁকে 'গার্ড অব অনার' প্রদান করে। এরপর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জ্যেষ্ঠতম অধিনায়ক এবং মাষ্টার ওয়ারেন্ট অফিসার সেনাবাহিনী প্রধানকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের 'কর্নেল র্যাংক ব্যাজ' এ ভূষিত করেন। অভিষেক অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে তাঁর দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি স্বাধীনতার মহান স্থপতি এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, এই রেজিমেন্টের বীর সেনানিরাই ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সেনাবাহিনী প্রধান ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩৪তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং এই রেজিমেন্টের উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশে-বিদেশে পরিচালিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। সেনাবাহিনী প্রধান ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের 'কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট' হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে এই রেজিমেন্টের সদস্যদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি এবং রেজিমেন্টের প্রতিটি সদস্যের মাঝে আগামী দিনে দেশসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
রাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারের বিভিন্ন ফ্লোর ও অফিস মালিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ। আজ শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে পুলিশের নেতৃত্বে ১৯টি টিম ভবনটিতে প্রবেশ করে। ৯ জন করে পুলিশ সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, প্রতি ফ্লোরের মালিকদের দুই জন প্রতিনিধি, প্রতিটি অফিসের দুই জন করে প্রতিনিধি ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি মিলিয়ে প্রতি টিমে মোট ১৫ জনের মতো সদস্য রয়েছেন। সবমিলিয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তি ভবনে প্রবেশ করেছেন। এর আগে ভবনটি পুলিশের তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর করে ফায়ার সার্ভিস। ভবনটির বিভিন্ন অফিসে কোনো মূল্যবান মালামাল থাকলে সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়াই এই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এর আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী বলেছেন, সবাইকে নিয়ে পুলিশের নেতৃত্বে এই দল ভবনে প্রবেশ করবে। কারো কোনো মূল্যবান জিনিস বা দলিল থাকলে সেগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়াও সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। | 6 |
নেছারাবাদে তিনটি গ্রামের চলাচলের জন্য নির্মিত একটি ভাঙা লোহার পুল মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছেন না কেউ। প্রায় ৫০ বছর আগে এলাকার এক ধনাঢ্য ব্যক্তির নিজস্ব অর্থায়নে লোহার পুলটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ ও ৬ ফুট প্রস্থ লোহার পুলের ওপরের অংশ অনেক আগেই ভেঙে পড়েছে। ওপরের অংশ ভেঙে যাওয়ায় বাঁশ ও কাঠের সাঁকো বানিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে তিন গ্রামের শত শত মানুষ।উপজেলার দৈহারী ও গুয়ারেখা ইউনিয়নের সীমানা খালের এক পাড়ে কাটা দৈহারী, অপর পাড়ে ভরতকাঠি এবং গুয়ারেখা গ্রামের মানুষের বসবাস। ওই পুল পাড় হয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজে যাতায়াত করতে হয়। পুলের ছাউনি না থাকায় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার্শ্ববর্তী দৈহারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালক ও বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।জানা যায়, সত্তরের দশকের প্রথম দিকে ভরতকাঠি গ্রামের মরহুম মেহের আলী ফকির দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নিজের টাকায় একটি লোহার পুল নির্মাণ করে দেন। রেল পাটির খুঁটি ও ভীমের ওপর নির্মাণ করা পুলের ওপরের অংশের প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। পুলের ছাউনিসহ ওপরের অংশ ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠের টুকরা দিয়ে সাঁকো বানিয়ে কষ্ট করে যাতায়াত করছেন।গুয়ারেখা ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফোরকান গাজী রুবেল বলেন, সীমানার খালে পুল হওয়ায় দুই ইউনিয়নের আগের কোনো চেয়ারম্যান এটি মেরামত করার উদ্যোগ নেয়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই পুল মেরামতের দাবি জানান তিনি।এ বিষয়ে দৈহারী ইউপির চেয়ারম্যান জাহারুল ইসলাম বলেন, 'সবেমাত্র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। আমি চেষ্টা করব যাতে পুলটি মেরামত করা যায়।'পুলটি মেরামতের জন্য এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মীর আলী শাকির বলেন, ওই পুল মেরামতের জন্য দুই ইউপির কোনো চেয়ারম্যান কখনোই কোনো স্কিম দেননি। এলাকার একজন লোক দিয়ে একটি আবেদন করানোর ব্যবস্থা করলে তিনি উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে পুলটি মেরামত করার জন্য গুরুত্বসহকারে চেষ্টা করবেন বলে জানান। | 6 |
দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও কাটা হয়নি গৌরীপুরের বঙ্গবন্ধু চত্বরের মরা পামগাছগুলো। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার পিতলের ম্যুরাল। আসন্ন কালবৈশাখী ঝড়ের মৌসুমে গাছগুলো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ম্যুরাল ও ছাউনির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, তত বাড়ছে গৌরীপুরবাসীর আতঙ্ক। এ নিয়ে আজকের পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় গণমাধ্যম।রিকশাচালক সাইদুর রহমান বলেন, ঝড়-বৃষ্টিতে তাঁরা বঙ্গবন্ধু চত্বরের ছাউনির নিচে এসে দাঁড়ান। শুধু তিনি নন অনেক শিক্ষার্থীরাও এখানে আশ্রয় নেন। মরা গাছগুলোর ভেঙে পড়লে অনেক প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিদেশ থেকে এনে গাছগুলো গৌরীপুরে রোপণ করেন। এরপর থেকে প্রকৃতিপ্রেমী লোকজন দূরদূরান্ত থেকে এসে গাছগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েই সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ডা. ক্যাপ্টেন (অব) মজিবুর রহমান ফকির ২০১৪ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার পিতলের ম্যুরাল নির্মাণ করেন এখানে।পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি, সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের ও গৌরীপুরের স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাদা মোজাইক পাথরের ম্যুরাল স্থাপন করেন। ২০১৬ সালে কাজ অসমাপ্ত রেখেই তিনি প্রয়াত হন। এর পাশেই রয়েছে গৌরীপুর পৌরসভা নির্মিত স্মৃতিসৌধ 'বিজয়-৭১ '। তাঁর মৃত্যুর পর স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ ও অসমাপ্ত কাজ থেমে যায়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও রক্ষণাবেক্ষণের রয়েছে উদাসীনতা। এখন মৃত ও অর্ধমৃত পাম গাছগুলো ভেঙে পড়ে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে ম্যুরালের পাশের ছয়টি পামগাছ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাশের সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন উপজেলা পরিষদ, কৃষি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষ, গৌরীপুর মহিলা কলেজ, আর কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, অগ্রদূত নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় ও বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা।কাছাকাছিই রয়েছে গৌরীপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, গোবিন্দবাড়ি মন্দির, গৌরীপুর প্রেসক্লাব, সংগীত নিকেতন ও গৌরীপুর গণপাঠাগার। ঝড়-বৃষ্টির সময় ছাউনির নিচে আশ্রয় নেন অনেক পথচারী। গাছগুলো ভেঙে পড়লে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে ওই এলাকায় চলাচলকারী অনেকে মনে করছেন।গৌরীপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রুহুল আমীন বলেন, 'বঙ্গবন্ধু চত্বরের মৃত পাম গাছগুলো কাটা খুবই জরুরি। ঝড়-বৃষ্টিতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।' এ ব্যাপারে তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, 'বঙ্গবন্ধু চত্বরের মৃত পামগাছগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে গাছগুলো যেহেতু সরকারি, এ ক্ষেত্রে কাটতে হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অনুমতি লাগবে।'এ বিষয়ে ইউএনও হাসান মারুফ বলেন, 'বঙ্গবন্ধু চত্বরের ঝুঁকিপূর্ণ পামগাছগুলো পৌরসভায়। এ ব্যাপারে তাঁরা উদ্যোগ নিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে।' | 6 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আহমেদের আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন। পরে শুনানি শেষে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। মামলার আবেদনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় অর্ন্তভূক্ত অন্যান্যরা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ইশরাক হোসেন, চাকুরিচ্যুত মেজর দেলোয়ার হোসেন, নুরুল হক নুরু, মেজর (অব.) শহীদুল ইসলাম খান, মো. নুরে ইলিয়াস রিপন, এম রহমান মাসুম, আতিকুর রহমান সবুজ, জাহাঙ্গীর আলম, রেজাউল করিম, ইলিয়াস মোল্লা, জাকির হোসেন, শেখ মো. তিতুমীর আকাশ ও সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন। এ বিষয়ে মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আজ মামলাটি গ্রহণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি আরো বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুৎসা রটনা করা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটা মেনে নিতে পারি না। গত ২২ ডিসেম্বর জয়বাংলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আকরাম হোসেন বাদল বাদী হয়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসাদ বেগমের আদালতে এ আবেদন করেছিলেন। | 6 |
বাড়ির ছাদে বা খোলা উঠানে বারবিকিউ করার সময় চলে এসেছে। ডিসেম্বরের হিমশীতল রাতে বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজন নিয়ে অনেকেই বারবিকিউ পার্টি করে থাকেন। ভুল এড়িয়ে গ্রিল করতে ৫টি বিষয় মাথায় রাখতে পারেন।একইভাবে গ্রিল করাসব চুলায় একভাবে গ্রিল করবেন না। কয়লার ওপর গ্রিল করার পদ্ধতি হবে অন্য রকম। সব সময় চুলার পাশে থাকতে হবে। কয়লা ঠিকভাবে জ্বলছে কি না, তাপ সব জায়গায় পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। গ্যাসের গ্রিল চুলায় এসব ঝামেলা নেই। একদম আনাড়ি হলে গ্যাসের গ্রিল চুলা ব্যবহার করাই ভালো।তাপমাত্রা না মাপাঅনেক সময় ওপরের দিকের মাংস পুড়ে যায় কিন্তু ভেতরের অংশ কাঁচা থেকে যায়। এ সমস্যা এড়াতে গ্রিল করা মাংসের তাপমাত্রা মাপতে হবে। গরুর মাংস ভালোভাবে গ্রিল করতে গেলে ফুড থার্মোমিটারে তাপমাত্রা অন্তত ১৫৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে হবে। মাংসের সবচেয়ে ভারী অংশের তাপমাত্রা মাপতে হবে।চুলা থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়াবারবিকিউয়ের সস মাংসের ভেতরে ঢোকে গ্রিল হয়ে যাওয়ার পর। তাই গ্রিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলা থেকে সরাবেন না। চুলার ওপর কিছুক্ষণের জন্য রেখে দিন। গ্রিল গ্রেটের সঙ্গে যখন মাংস সেঁটে থাকবে না, আলগা হয়ে উঠে আসবে, তখনই বুঝবেন আপনার গ্রিল তৈরি হয়ে গেছে।বারবার খোলাঢাকনাসহ চুলা হলে বারবার খুলে না দেখাই ভালো। প্রতিবার ঢাকনা তোলার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের সব তাপ বের হয়ে আসে। ভেতরের তাপমাত্রাও হ্রাস পায়। এতে গ্রিল হতে সময় বেশি লাগে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।আগেই সস ব্রাশ করাবারবিকিউ বা টেরিয়াকি সস গ্রিল করা মাংসে ব্রাশ করলে আলাদা ফ্লেভার পাওয়া যায়। তবে এ সসগুলো রান্নার শুরুতেই ব্রাশ করতে যাবেন না। এগুলোয় চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই অল্প সময়েই মাংস পুড়ে যায়। সস ব্রাশ করতে হবে নামানোর কয়েক মিনিট আগে। এতে মাংস সহজে পুড়ে যাবে না।সূত্র: রিয়েল সিম্পল ডট কম | 6 |
প্রতি বছরের মতো এ বছরও পালিত হচ্ছে বিশ্ব লিম্ফোমা সচেতনতা দিবস। ২০০৪ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য 'আমরা অপেক্ষা করতে পারি না'। পুরো পৃথিবীতে প্রতি বছর ৭ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ লিম্ফোমায় আক্রান্ত হন। অধিকাংশই ধরা পড়েন রোগ কিছুটা ছড়িয়ে যাওয়ার পর। অথচ শুরুতে ধরা পড়লে লিম্ফোমা নিরাময় সহজ।চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার অনীহা, চিকিৎসা সুযোগের অপ্রতুলতা, সচেতনতার অভাব ইত্যাদি কারণে প্রাথমিক রোগ লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও আমরা অপেক্ষা করি। এই অপেক্ষাই কাল হয়ে দাঁড়ায় একপর্যায়ে। তাই এবারের প্রতিপাদ্য 'উই ক্যান নট ওয়েট' বা 'আমরা অপেক্ষা করতে পারি না'।লিম্ফোমা নিয়ে কিছু বলার আগে জানা দরকার লিম্ফোমা কী।লিম্ফোমা হলো রক্তের বিশেষ এক ধরনের ক্যানসার। রক্তের প্রধান উপাদান দুটি। রক্তরস ও রক্তকোষ। রক্তের বিভিন্ন কোষীয় উপাদানের একটি হলো লিম্ফোসাইট, যা মূলত এক প্রকার শ্বেত রক্তকণিকা। এর প্রধান কাজ হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ করা।বিভিন্ন কারণে এই লিম্ফোসাইটের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলে দেখা দেয় লিম্ফোমা নামক ক্যানসার। লিম্ফোসাইট যেসব অঙ্গে তৈরি ও বৃদ্ধি হয়, সেসব অঙ্গের মধ্যে রয়েছে লিম্ফনোড, স্প্লিন (প্লীহা), টনসিল ইত্যাদি।শরীরের বিভিন্ন অংশে লিম্ফনোডগুলো ছড়িয়ে আছে। এরা দেহের ভেতরে থাকে। সুস্থ অবস্থায় এদের সাধারণত বোঝা যায় না। কিন্তু কোনো কারণে আকার বড় হলে তা বোঝা যায়। তবে গলার দুদিকে, ফুসফুসের দুই পাশে ও পেটের ভেতরে এর উপস্থিতি বেশি বোঝা যায়।লিম্ফোমার লক্ষণশরীরের কোনো এলাকায় লিম্ফনোড বা অন্য কোনো লিম্ফেটিক অঙ্গ (যেমন প্লীহা) অস্বাভাবিক বড় হতে থাকে। ফুলে যাওয়া লিম্ফনোডগুলো রাবারের মতো নরম ও ব্যথাহীন হয়। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের জ্বর, ওজন কমে যাওয়া ও রাতের বেলায় প্রচুর ঘাম হয়। লিম্ফোমার জ্বর হয় সাধারণত অনিয়মিত ধরনের। আসে আবার চলে যায়। জ্বরের মাত্রা কখনো খুব বেশি হয়, কখনো সামান্য। এই লক্ষণগুলোর অধিকাংশই যক্ষ্মার সঙ্গে মিলে যায়, যা বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হয়।লিম্ফোমার ধরনলিম্ফোমা প্রধানত দুই প্রকার। হজকিনস লিম্ফোমা ও নন হজকিনস লিম্ফোমা। এদের ভেতরেও আবার নানা সূক্ষ্ম রকমফের আছে। এদের উভয়ের ধরন ও চিকিৎসায় বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। লিম্ফোমা কেন হয়, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। অন্যান্য ক্যানসারের মতো লিম্ফোমার কারণও নানাবিধ এবং অনেকটাই অজ্ঞাত। তবে কিছু কিছু জীবাণু, যেমন হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়া, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস, এইডস, ইবস্টেইন বার ভাইরাস ইত্যাদির সঙ্গে লিম্ফোমার যোগসূত্র প্রমাণিত হয়েছে। এর সঙ্গে রেডিয়েশনের প্রভাব এবং অন্যান্য রোগের সঙ্গে পরোক্ষ সম্পর্কও কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।পরীক্ষা-নিরীক্ষালিম্ফোমা রোগ নিশ্চিত হতে হলে কিছু বিশেষ ধরনের পরীক্ষা করতে হয়। আক্রান্ত লিম্ফনোড থেকে টিস্যু কেটে নিয়ে বায়োপসি করাই হলো লিম্ফোমার প্রধান পরীক্ষা। এর চেয়ে উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি পরীক্ষা, যা বাংলাদেশেই এখন সম্ভব। রোগের স্টেজ বোঝার জন্য এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটিস্ক্যান, বোনম্যারো পরীক্ষা, পেট সিটিস্ক্যান ইত্যাদি করা হয়। এ ছাড়া সার্বিক অবস্থা বোঝার জন্য রক্তের রুটিন পরীক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য কিছু পরীক্ষাও করা হয়।চিকিৎসালিম্ফোমার মূল চিকিৎসা কেমোথেরাপি। স্টেজিংয়ের ওপর নির্ভর করে এবং আক্রান্ত লিম্ফনোডের আকার ও অবস্থান বিবেচনা করে রেডিওথেরাপিও দেওয়া হয়। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপিতে ভালো না হলে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হয়।অধিকাংশ লিম্ফোমা রোগী ভালো হয়ে যায়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হলে ৭০-৯০ ভাগ লিম্ফোমা ভালো করা সম্ভব। বাংলাদেশেই লিম্ফোমার চিকিৎসা হয়। চিকিৎসা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল। কেমোথেরাপির অধিকাংশ ওষুধ বাংলাদেশেই তৈরি হয়। লিম্ফোমার অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনও বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর ধরে সফলতার সঙ্গে চলছে।লেখক: রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা | 4 |
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে সাহাদ হোসেন সাদ (১৭) নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বেজগাও স্কুলবাড়ি গ্রামে। গত শনিবার রাত ১০টায় আহত কিশোরের মামা বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা সাড়ে ৩ টার সাদ আসরের নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়ে পশ্চিম বেজগাঁও স্কুলবাড়ি মসজিদে যাচ্ছিল। এ সময় একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল বেপারীর নাতি তামিম (১৯) ও আলম বেপারীর ছেলে অভি (১৯) ও অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জন সাদকে রাস্তায় আটকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তামিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাদের কোমরের বাম পাশে কোপ দেয়। তামিমের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, 'লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বাদীপক্ষ চাইলে মামলা নেওয়া হবে।' | 6 |
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে প্রলোভন দেখিয়ে তিন শিশুকে অপহণের চেষ্টার অভিযোগে রুনা খাতুন (২৫) নামে এক নারীকে পুলিশে সোর্পদ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তার কাছ থেকে ওই তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার বিকালে উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগের দিন নিজ স্বামীকে খোঁজার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিচিত ওই তিন শিশুদের বাড়িতে অবস্থান নেয় রুনা। ঘটনার দিনি দুপুরে বাড়ির লোকজনের উপস্থিতি কম দেখতে পেয়ে তিন শিশুকে নিয়ে চম্পট দেয় ওই নারী। পথিমধ্যে নাগলা বাজার বাসট্যান্ডে ঢাকাগামী গাড়ির উদ্দেশ্যে অবস্থান করলে শিশু তিনটি চিৎকার দেয়। তাদের ডাক-চিৎকারে সন্দেহ হলে অভিযুক্ত নারীকে আটক করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে হালুয়াঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী মাহমুদ ও এসআই মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স শাকুয়াই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তিন শিশুসহ ওই নারীকে আটক করে থানায় নেন। ঘটনার সত্যতার বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ মুঠোফোনে জানান, ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিক তিন শিশুসহ ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ওই নারী। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
নারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, 'নিজেদের নারী বলে মনে করবেন না। অফিসার হিসেবে দাবি করবেন।' আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে 'জেন্ডার রেসপন্সিবল পুলিশিং : অ্যান অ্যাপ্রোচ অব বাংলাদেশ পুলিশ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, 'এখন থেকে পুলিশে নিয়োগের সংখ্যা নয়, যোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে। সেই সাথে নারী পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগে আলাদা নিয়োগ দেওয়া হবে।' আইজিপি বলেন, 'বাংলাদেশে নারী পুলিশের সংখ্যা ৭ শতাংশ। জাপানেও ৭ শতাংশ। সুইডেনে ৯ শতাংশ। ২০১৫ সালের মধ্যে ১১ শতাংশ করতে চেয়েছিলাম, হয়নি। তবে শিগগিরই তা হবে।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কানাইঘাট সদর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত সদস্য পদপ্রার্থী সাহাব উদ্দিন গরু জবাই করে ওয়ার্ডবাসীকে খাওয়ালেন। এ সময় তিনি শোকরিয়া আদায় করেন।গতকাল সাহাব উদ্দিন তাঁর বাড়িতে এই আয়োজন করেন। এ শোকরিয়া সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বৃহত্তর জৈন্তা ১৭ পরগনার বিশিষ্ট মুরব্বি হাজী আব্দুল হেকিম।বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, বড়চতুল ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী, শামসুদ্দিন বাবুল মহুরী।এ সময় বক্তব্য দেন মাওলানা সাহাব উদ্দিন, পরাজিত ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী সাহাব উদ্দিন, বিশিষ্ট মুরব্বি কামাল উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম, বিলাল আহমদ, তাজ উদ্দিন প্রমুখ। | 6 |
অপহরণের দীর্ঘ এক বছর পর প্রিয় কন্যা লাকিংমে চাকমার (১৫) দেখা পেলেন লালা অং চাকমা। তবে জীবিত নয়, নিথর দেহ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে ২৬ দিন ধরে পড়েছিল কিশোরী লাকিংমে চাকমার মরদেহ। লাকিংমের বাবা ও অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্বন্দ্বের কারণে শেষকৃত্য করা যায়নি মেয়েটির। আদালতের নির্দেশে সোমবার মরদেহ নিতে হাসপাতালে আসেন লাকিংমের বাবা লালা অং চাকমা ও স্বজনরা। কিন্তু হাসপাতাল মর্গের ২৪ হাজার টাকা বিল দিতে না পারায় মেয়ের মরদেহ পাচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় দুপুরে হাসপাতালের মর্গের বিল ২৪ হাজার টাকা পরিশোধ করে মামলার তদন্ত সংস্থা র্যাব। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লাকিংমের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মরদেহ গ্রহণ করেন লাকিং মের চাচাতো ভাই ক্যচিং মং চাকমা। বিকেলেই মেয়ের মরদেহ টেকনাফের শিলখালী গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তদের ভয়ে গ্রামে মরদেহ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রামুতেই সমাধিস্থ করা হয় লাকিংমে চাকমাকে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কক্সবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি ক্য জ অং বলেন, 'বাড়িতে নিরাপত্তা নেই, তাই রামুর কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ মহাশ্মশানে (নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে) লাকিং মে চাকমার মরদেহ সমাহিত করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অধিবাসীসহ লাকিংমের পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।' টেকনাফ উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার দক্ষিণ শিলখালী এলাকার চাকমা পল্লীতে বসতি লালা অং চাকমার। সমুদ্রে মাছ ধরে ও পাহাড়ে জুমচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় লাকিংমে চাকমা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহীন আবদুর রহমান বলেন, 'বাবার কাছেই হস্তান্তর করা হয়েছে কিশোরী লাকিংমে চাকমার মরদেহ।' র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহম্মেদ সমকালকে বলেন, 'নিহত লাকিংমের বাবা খুবই দরিদ্র। মর্গের বিল ২৪ হাজার টাকার জন্য মেয়ের মরদেহ নিতে পারছিলেন না। খবর পেয়ে আমরা মর্গের বিল পরিশোধ করেছি।' লালা অং চাকমা বলেন, তার মেয়ে লাকিংমেকে অপহরণের পর জোর করে বিয়ে এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা প্রিয় সন্তানের (লাকিংমে) মরদেহ গ্রামে নিয়ে শেষকৃত্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দুর্বৃত্তদের হামলার আশঙ্কায় রামুতে শেষকৃত্য হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লাকিংমে স্থানীয় শাপলাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি তাকে স্থানীয় যুবক আতাউল্লাহর নেতৃত্বে কয়েকজন অপহরণ করে। ঘটনার পর থানায় গেলেও পুলিশ সহায়তা করেনি। পুলিশ মামলা নিতে রাজি না হওয়ায় ১৭ জানুয়ারি কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন তিনি। তারপর কেটে যায় প্রায় ১১ মাস। এ সময় মেয়েকে হন্যে হয়ে খুঁজেছেন তিনি। অবশেষে গত ৯ ডিসেম্বর মেয়ে লাকিংমে চাকমার খোঁজ পান। তবে জীবিত নয়, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল তার প্রিয় কন্যার নিথর দেহ। মেয়ের মরদেহ নিতে গিয়েও পড়েন বিপত্তিতে। অপহরণ, নাবালিকা বিয়ে এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত আতাউল্লাহ এতে বাদ সাধেন। নিজেকে লাকিংমে চাকমার স্বামী দাবি করে লাশ নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। ফলে আবেদন যায় আদালতে। এ অবস্থায় তদন্ত সাপেক্ষে মৃতের 'ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত' হয়ে র্যাবকে মরদেহ সৎকার করার নির্দেশ দেন কক্সবাজারের একটি আদালত। র্যাবের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে লাকিংমে চাকমার মরদেহ বুঝে পান বাবা। লাকিংমের বাবা লালা অং চাকমা বলেন, তার মেয়েকে জোর করে বিয়ে করে পরে হত্যা করা হয়। মেয়ে হত্যার বিচার চান তিনি। এদিকে স্বামী দাবিদার আতাউল্লাহ বলেন, অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় তারা বিয়ে করেছেন। বিয়ের আগে লাকিংমে ধর্মান্তরিত হন। তার (লাকিংমের) বর্তমান নাম হালিমাতুল সাদিয়া। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বিউটি পার্লারে যাওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রুমে গিয়ে বিষ পান করে সে। মারা যাওয়ার ১২ দিন আগে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছে 'তার স্ত্রী'। তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১৫ এর পরিদর্শক অঞ্জন চৌধুরী বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে আমরা নিশ্চিত হয়েছি লাকিং মে চাকমার বয়স ১৫ বছর। জাল জন্মসনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করে তাকে ধর্মান্তরিত ও কাবিননামা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজন কিশোরীকে বিয়ে ও ধর্মান্তরিত করা কোনোভাবে আইনসম্মত হতে পারে না। বিষয়টি আদালতকে জানানো হলে লাকিং মে চাকমার মরদেহ তার বাবার জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিগগিরই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।' লাকিংমে 'অপহরণ ও হত্যা'র প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন: লাকিংমে চাকমাকে অপহরণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে আদিবাসী ফোরামসহ কয়েকটি সংগঠন। কক্সবাজার পৌরসভার সামনে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। বক্তারা বলেছেন, 'লাকিংমে চাকমাকে অপহরণ করে বেআইনিভাবে ধর্মান্তর, বাল্যবিয়ে ও পরে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।' সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- নারী প্রগতি সংঘের পারভীন সুলতানা, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের দীপক দাশ, জাসদ নেতা এ কে ফরিদ আহম্মদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নারী বিষয় সম্পাদক মা টিন টিন, ফোরামের নেত্রী আলো চাকমা, অংথেন মারমা, থৈন অং (বুবু), আদিবাসী ছাত্র পরিষদ নেতা লাতু চাকমা, এনজিও কর্মী ডা. পরিমল কান্তি দাশ, মিঠুন দাশ প্রমুখ। | 6 |
রায়পুরা (নরসিংদী): নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা যেন হয়ে পড়েছে নিত্যদিনের ঘটনা। কখনো ঘোষণা দিয়ে, আবার কখনো ঘোষণা ছাড়াই লাইন সংস্কারের নামে সারা দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া আকাশে সামান্য মেঘ দেখা দিলে কিংবা সামান্য বৃষ্টি বা হালকা বাতাস হলে তো কথাই নেই-ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের দেখা মেলে না। এভাবে দিনে-রাতে অন্তত ১০ থেকে ১২ বার বা তার চেয়েও বেশি লোডশেডিংয়ের হয়রানির শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী।দীর্ঘদিন ধরে এমন অব্যবস্থাপনার শিকার হলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না রায়পুরার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। গত কয়েক মাস ধরে বিদ্যুতের এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিদ্যুতের এ ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। আর সমস্যার প্রতিকার চাইতে বিদ্যুৎ অফিসের দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল দিয়েও সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তাতে কোন ধরনের মাথা ব্যথাই নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ উপজেলায় বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে। এখানে দিনে-রাতে লোডশেডিং যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ বার কখনোবা এর চেয়েও বেশিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। সাধারণ মানুষের এ দুর্ভোগ লাগিয়ে কর্তৃপক্ষ যেন কানে তুলা গুঁজে ঘুমাচ্ছে।পৌর এলাকার রাতুল চৌধুরী বলেন, অফিসের দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে ফোন করে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না, প্রায় সময়ই ফোনটি ধরে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজ, টিভি, ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।নাজিম উদ্দিন নামে এক সেচ গ্রাহক জানান, লোডশেডিংয়ের ফলে কৃষি জমিতে সেচের সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া তীব্র এই গরমে সংস্কারের নামে এক দুই দিন পর পর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় ভোগান্তির শিকারও হচ্ছেন তাঁরা। রমজান মাসেও প্রায় প্রতিদিনই ভোরে বিদ্যুৎ চলে যেতো যা এখনো চলছে। এতে ভ্যাপসা গরমে বয়োবৃদ্ধ নারী পুরুষ-শিশুসহ সকলের কষ্ট হচ্ছে।নরসিংদী পল্লিবিদ্যুৎ সমিতি-২ 'র রায়পুরা জোনাল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিজিএম) মো. সিদ্দিকুর রহমান এব্যাপারে বলেন, রায়পুরা জোনাল অফিসে কোন প্রকার লোডশেডিং নেই। শুধুমাত্র ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে মেন্টেনেনসের কারণে এ সমস্যাগুলো হয়ে থাকে। আমরা সার্বক্ষণিক গ্রাহককে পরিপূর্ণ সেবা দিতে চেষ্টা করি। আমরা সার্বক্ষণিক গ্রাহকে পরিপূর্ণ সেবা দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঝড় বৃষ্টির মৌসুম চলে গেলে গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দিতে পারব। | 6 |
নিচে হাঁটু পানি। সেই পানিতে লম্বালম্বি করে সাজানো হয়েছে একটার পর একটা বেঞ্চ। সে সব বেঞ্চ মাড়িয়ে ক্লাস রুমে ঢুকতে হয় কোমলমাতি শিক্ষার্থীদের। এছাড়া পানি খাওয়া, টয়লেটে যাওয়ারও পথও ওই বেঞ্চ মাড়িয়ে। এক দুই দিন নয়, এভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে চলছে স্কুলটি। বছরের বেশির ভাগ সময় স্কুলের আঙ্গিনায় পানিতে ডুবে থাকে। আর বর্ষাকাল এলে দুর্ভোগের কোনো শেষ থাকে না। নারায়ণগঞ্জ শহরের কাছেই ফতুল্লার ৭২নং ইসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। দূর থেকে স্কুলটির ভবন দেখে যে কেউ বলবে ভালোই তো চলছে । কিন্তু বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা গিয়ে হাঁটু সমান পানি বছর পর বছর থাকার খবরে অনেক হতভম্বই হন। তিনতলা বিশিষ্ট নতুন ভবনটি দূর থেকে দেখতে ঝকঝকে। তবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢোকার চেষ্টা করলেই চোখ কপালে উঠবে। বিদ্যালয় ভবনের সামনে পুরো এলাকাটি জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তবে তাই বলে কী বন্ধ থাকবে পাঠদান? অভিনব এক পদ্ধতি বের করেছে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বেঞ্চের পর বেঞ্চ সাজিয়ে একটি সেতু তৈরি করেছে তারা। এই বেঞ্চ সেতুতে পার হয়েই স্কুলে ঢোকেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তবে স্কুলের সামনের এ জলাবদ্ধতার সমস্যাটি নতুন নয়। ২০০৪ সাল থেকেই এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের এক শিক্ষক জানান, আমরা এ দুর্ভোগের সমাধানের জন্য সবার কাছে সকলের কাছে গিয়ে জানানো হয়েছে। শিক্ষা অফিসার এসে দেখে গেছেন। সমাধানের ব্যাপারে তারা অপরাগতা জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানাতে বলেছেন। কিছুদিন আগে বেঞ্চ সেতু দিয়ে পার হতে গিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পড়ে গিয়ে ব্যথা পান। নির্বাচনের আগে আমরাই কিছু বালু ফেলেছি। তিনটি ক্লাসরুম এখনো পানির নিচে। সেগুলো বন্ধ অবস্থাতেই রয়েছে। শিক্ষার্থী মরিয়ম বেগম জানান, পুরো বছর আমরা বেঞ্চ মাড়িয়ে ক্লাসে ঢুকি, পানি খেতে যাই টয়লেটে যাই। বিদ্যালয়ের পরিবেশে দেখে আমাদের খুবই খারাপ লাগে। বিদ্যালয়টি প্রধান শিক্ষক লতিফা নাহার জানান, ১৯৭৩ সালে ৩৩ শতাংশ জমির জমির উপর ৫ জন শিক্ষক নিয়ে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রাক শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৬৪৫ জন্য শিক্ষার্থী রয়েছে। তার মধ্যে তিন জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। স্কুল ভবনটিতে ১৪ টি কক্ষ ও ১৪ শিক্ষক নিয়ে স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, স্কুলের এ জলাবদ্ধতার সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানকে স্কুলটির জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও বলেছে। কিন্তু সমস্যাটির কোনো সমাধান হয়নি। বর্ষাকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কোনো অন্ত থাকে না। এ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। স্কুল কমিটির সভাপতি আব্দুল আওয়াল জানান, জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ড্রেন হয়ে গেলে আশা করি এই সমস্যা আর থাকবে না। এ ব্যাপারে এলাকার মেম্বারের সাথে কথা হয়েছে। | 6 |
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বাস ও দুইটি সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিআরটিসি বাসের চাপায় দুমড়ে-মুচড়ে গেছে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মাছমিরুন ও তার শিশুকন্যা মারিয়া। মেয়েকে নিয়ে অসুস্থ মাকে দেখতে যাচ্ছিলেন ছমিরুন। তাদের সঙ্গে মারা গেছেন নববিবাহিত দেবরের স্ত্রী হালিমা বেগমও। তারা নবীগঞ্জ উপজেলার মুড়াউড়া গ্রাম থেকে পানিউমদা যাচ্ছিলেন। হালিমার স্বামী অনু মিয়া জানান, ফুটফুটে শিশু মারিয়া বায়না ধরে নানার বাড়ি যাবে। সেই আশা পূরণ করতে ও অসুস্থ বাবা-মাকে দেখতে একটি অটোরিকশা নিয়ে বাবার বাড়ি রওয়ানা হন ছমিরুন। সঙ্গে ছিল আমার স্ত্রীও। এসব কথা বলতে বলতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন অনু মিয়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন অনু মিয়া। শত শত লোককে পাশ কাটিয়ে সোজা দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ির নিচে চলে যান। তখন তাকে আইনশৃংখলা বাহিনীর লোক জন ধরে নিয়ে আসেন। এসময় চিৎকার করে কাঁদছিলেন অনু মিয়া। বলছিলেন 'মারিয়া বলেছিল চাচ্চু আসছি।' ছমিরুনের স্বামী আবু তাহের কাঁদতে কাঁদতে বলেন, সকালে থেকে মারিয়া নানা নানিকে দেখার জন্য বায়না ধরে। সেই বায়না মেটাতেই স্ত্রী ছমিরুন নেছা বিকালে একটি সিএনজি অটোরিকশা রির্জাভ করে বাবার বাড়ি রওয়ানা হয়। আসার সময় মারিয়া আমাকে আদর দিয়ে চলে আসে। স্ত্রী বলে রান্না করে রেখেছি খেয়ে নিও। সেই রান্না করা ভাত খাবার আগেই খবর আসে সিএনজি অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। তখনও জানতাম না স্ত্রী-সন্তান ও ভাইয়ে বউ মারা গেছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি স্ত্রী সন্তানের লাশ। তিনি বলেন, বউয়ের শেষ রান্না খাওয়া হয়নি। আমার বউ ও সন্তান যে শেষ বিদায় নিচ্ছে সেটাও আমি বুঝিনি। আমার মেয়েরও নানা নানিকে দেখা হলো না। | 6 |
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পুলিশ হেফাজতে ফডিসির কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিকীর (৪৫) মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এফডিসির সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে এফডিসির কর্মচারীরা। সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা এ বিক্ষোভ শুর করেন। এদিকে থানা হেফাজতে আবু বকরের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার সকালে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে আবু বকরের মৃত্যু আত্মহত্যা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গলায় ফাঁস দিয়ে আবু বকর আত্মহত্যা করেছেন বলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের দাবি। তবে আবু বকরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবারের দাবি। থানা থেকে যায়, আবু বকরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এক নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। পরে মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করলে আবু বকর আত্মহত্যা করেন। | 6 |
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিভিন্ন হাট-বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি। প্রতিদিন সকালে গ্রামের হাটগুলোতে শীতকালীন সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তবে চড়া দামের কারণে এসব সবজি অনেকে ইচ্ছে থাকলেও কিনতে পারছেন না। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির দাম মৌসুমের শুরুতে কিছুটা চড়া থাকে। কিছুদিনের মধ্যে সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জাঙালিয়া, চরফরাদী, এগারোসিন্দুর, বুরুদিয়া ও চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় সব এলাকায় শীতকালীন সবজির আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে চর এলাকা সবজির জন্য বিখ্যাত। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। শীত মৌসুমের শুরুতে বেশি লাভবান হওয়ার জন্য এখানকার অনেক কৃষকই আগাম সবজির চাষ করে থাকেন। মৌসুমের শুরুতে বাজারে এসব সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হন তাঁরা।সম্প্রতি কোদালিয়া, চণ্ডীপাশা, জাঙালিয়া, তারাকান্দি, মুনিয়ারীকান্দা ও পৌর সদর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জমিতে শীতের আগাম সবজি উৎপাদিত হয়েছে। কিছু জমির সবজি বিক্রির উপযোগী হয়েছে। কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত সবজি সংগ্রহ করে বাজারে নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক পাইকার আবার এসব জমিতে এসে সবজি সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন।শীতকালীন এসব সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, করলা, চিচিঙ্গা, পটোল, ঢ্যাঁড়স, কাঁচা মরিচ ও বেগুন বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাজার ঘুরে জানা গেছে, শিম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০, কাঁচা টমেটো ৭০ থেকে ৮০, করলা ৭০ কেজি ৮০, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০, ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৭০ ও বেগুন কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে এবং প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।আগাম সবজি উৎপাদনে খরচ বেশি হওয়ায় এবং বাজারে সরবরাহ কম থাকায়, এই সময়ে সবজির দাম চড়া থাকে। কিছুদিন পর অন্যান্য জমির সবজি ওঠা শুরু করলে দাম কমবে বলে জানিয়েছেন খুচরা পাইকারেরা।কফিল উদ্দিন নামের একজন ক্রেতা বলেন, 'বাজারে এসেছি সবজি কিনতে। কিন্তু সবজির যে দাম, তাতে ইচ্ছে থাকলেও কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আলু, কচুমুখী, পেঁপে ছাড়া অন্য সব সবজির দাম চড়া। দাম না কমলে নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এসব সবজি কিনে খাওয়া সম্ভব না।'পৌর সদর বাজারের সবজি বিক্রেতা রুবেল মিয়া জানান, শীতের শুরুতে সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়বে। তখন সবজির দামও কমে আসবে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিমুল হক সোহাগ বলেন, সবজি একটি লাভজনক ফসল। কম সময়ে, কম পুঁজিতে কৃষকেরা সবজি চাষ করে লাভবান হয়ে থাকেন। অনেকে আগাম সবজি চাষ করেন। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্র বেশ তাড়াহুড়ো করে তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আগ্রাসন থেকে বাড়ি ফিরতে চাইছে বিজয়ের স্বাদ ছাড়াই। এও দেখা যাচ্ছে, আফগানিস্তানের শান্তি-স্বস্তি নিয়ে চীন আর রাশিয়াও খুব উৎসাহী। বিশ্বের সব মুরুব্বি দেশই এখন তালেবানদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কিন্তু কেন এবং তারপর কী হতে যাচ্ছে দেশটিতে? তিন ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ রয়েছে আফগানিস্তানেআফগানিস্তানে ন্যাটোর ঢুকে পড়ার প্রচারিত কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল 'সন্ত্রাস দমন'। সন্ত্রাস রোখার নামে রাশিয়া, ইরান ও চীন সীমান্তের কাছাকাছি পাঁচটি বড় সামরিক ঘাঁটি হাজির করতে পারা ন্যাটোর জন্য বড় ভূরাজনৈতিক সফলতা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা এও ভেবেছিলেন, হয়তো তালেবানদের হারিয়ে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদও দখল করা যাবে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তাই নতুন বাস্তবতায় তালেবানদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। চীন আর রাশিয়ারও অনুরূপ ইচ্ছা। অনুমান করা হয়, দেশটির মাটির নিচে এক থেকে তিন ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদ উত্তোলনযোগ্য হয়ে আছে। এসব নিয়ে ব্যবসার সূত্রে দেশটি বছরে অনায়াসে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। স্বর্ণ আর নিকেল ছাড়াও আফগানিস্তানে আছে লিথিয়াম, কপারসহ অনেক মূল্যবান খনিজ। আছে স্ক্যানডিয়াম, ইউটিরিয়ামসহ বহু দুর্লভ মৃত্তিকা মৌল, যেগুলো আজকাল মুঠোফোন, টিভি, ফাইবার অপটিক তৈরির কাজে লাগে। আফগানিস্তানে ঢোকার পর ন্যাটোর বিশেষজ্ঞরা দেশটির খনিজ সম্পদ সম্পর্কে ১৯৭০-৮০ সালের দিকে সোভিয়েতদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোও হাতে পেয়েছিল। তার সঙ্গে মিলিয়ে পেন্টাগনের উচ্চ প্রযুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধান শেষেই আফগানিস্তানের গজনিতে লিথিয়ামের বিপুল মজুতের খবর জানা যায়। লিথিয়াম মূলত খুদে কম্পিউটারের ব্যাটারি থেকে বিবিধ সামরিক যন্ত্রে কাজে লাগে। বৈদ্যুতিক গাড়ির আসন্ন বিপ্লবের জন্যও এটা জরুরি। বিশ্বজুড়ে এটা এখন একটা কৌশলগত খনিজ। ২০১০ সালের জুনে বিবিসি এক প্রতিবেদনে লিথিয়ামের কারণে আফগানিস্তানকে 'ভবিষ্যতের সৌদি আরব' বলেও প্রচার করেছিল। একই রকম বড় লিথিয়াম মজুত নিয়ে তীব্র ঝামেলা পোহাচ্ছে বলিভিয়ার রাজনীতি। সেখানে ক্ষমতাচ্যুত ইভো মোরলেস তাঁর বিরুদ্ধে সংঘটিত অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের মদদের জন্য লিথিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কারণ হিসেবে দাবি করেছেন। তবে আফগানিস্তানে লিথিয়াম, কপার প্রভৃতি খনিজের বাইরেও আছে গ্রেড-৪ মানের হেরোইনের উপাদান হিসেবে আফিম উৎপাদনের কারবার। শান্তিচুক্তির পর এসব কার নিয়ন্ত্রণে যাবে, সেটাও অবশ্যই চুক্তির আড়ালেই ফয়সালা হতে থাকবে শিগগির। সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধের সময় আফগান গেরিলাদের অর্থ সংস্থানে সিআইএ হেরোইন বাজারজাত করার কাজে স্থানীয়দের যে সহায়তা দিয়েছিল, এখন তার পরিণতি কী হবে, সেটাও দেখার বিষয়। এসব বিষয়েও জালমে খলিলজাদকে সবার সঙ্গে সফল দর-কষাকষি চালিয়ে যেতে হবে। খলিলজাদ শুধু একজন নিরীহ কূটনীতিক ননআফগানিস্তানের খনিজের বৃত্তান্ত লিখতে বসলেই জালমে খলিলজাদের কথা চলে আসে। ২৯ ফেব্রুয়ারির শান্তিচুক্তিতে তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন। বিশ্বজুড়ে তাঁকে নিয়ে এখন আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনীতিক দীর্ঘ সময় যুক্ত ছিলেন তেল কোম্পানি ইউনিকলে। সেখানে তাঁর দায়িত্ব ছিল 'ঝুঁকি বিশ্লেষক'-এর। রিপাবলিকান শিবিরের সবচেয়ে রক্ষণশীল অংশের সঙ্গে খলিলজাদের ঘনিষ্ঠতা ১৯৮৫-এর পর থেকে। এর এক বছর আগে তিনি দেশটির নাগরিকত্ব পান। পরবর্তী সময়ে জর্জ বুশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় আসরে নামেন। পশতু বংশজাত হওয়ার কারণে তালিবানদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বয়সও প্রায় ২৫ বছর। ২০০১ সালে তালেবানরা ক্ষমতা থেকে উৎখাতের আগেই তাদের মন্ত্রীদের টেক্সাসে ইউনিকল কার্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অথচ তখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবান সরকারের কূটনীতিক সম্পর্কও ছিল না। মূলত ইউনিকলের হয়ে আফগানিস্তানের ওপর দিয়ে ৮২০ মাইল লম্বা পাকিস্তান-তুর্কমিনিস্তান গ্যাস পাইপলাইন বসানোর কাজটি ('সেন্ট-গ্যাস' প্রকল্প নামে পরিচিত) এগিয়ে দেওয়াই ছিল খলিলজাদের দায়িত্ব। সে সময় বছরে ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এ রকম একটা অনুমোদন দিতে রাজি ছিল তালেবানরা। পরবর্তী যুদ্ধ-দামামার মাঝে প্রকল্পটা এগোয়নি। তাতে অবশ্য খলিলজাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বা তালিবান, কারোই আস্থা কমেনি। ২০১০-এ তিনি আরব আমিরাতভিত্তিক আরেক তেল কোম্পানি আরএকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হন। একই খাতে কাজ করা নরওয়ের কোম্পানি ডিএনওর পরিচালক সদস্য ছিলেন তিনি। ইরাকের কুর্দি এলাকায় ডিএনও ২০০৪ সালে কাজ পেয়েছিল। খলিলজাদ ২০০৫-০৭ সময়ে ইরাকেও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। যুদ্ধ, আগ্রাসন ও জ্বালানি ব্যবসা সব সময় তাঁর জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে লেগে আছে। তাঁর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা অগাধ। সদ্য স্বাক্ষর হওয়া 'শান্তিচুক্তি' সফল হলে তাঁকে আফগানিস্তানে সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে। মার্কিন প্রশাসনে খলিলজাদের এককালীন বস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কন্ডোলিৎসা রাইসও একসময় আরেক তেল কোম্পানি শেভরনের বোর্ড মেম্বার ছিলেন। ২০১৭ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ উত্তোলনের লক্ষ্যে দেশটির কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তালিবানাদের প্রসার বাড়ায় একটা শান্ত অবস্থা তৈরি না করে খনিজ উত্তোলন দুরূহ। সেই দূরবর্তী লক্ষ্যেই ২৯ ফেব্রুয়ারির 'চুক্তি' একটা 'ভালো সূচনা'। এই চুক্তি আফগানিস্তানে যে ধরনের ভবিষ্যৎ সরকারই কায়েম করুক, তাতে খলিলজাদের একটা অভিভাবকসুলভ ভূমিকা যে থাকছে, তা প্রায় নিশ্চিত। মাইনিং করপোরেটদের জন্য এটা একটা ভালো মুহূর্ত। খলিলজাদের ছেলে আলেকজান্ডার বেনার্ডও পিতার আনুকূল্যে মধ্য এশিয়ায় খনি ব্যবসায়ীদের পক্ষে কনসালটেন্সি করে থাকেন। পিতার গড়া প্রতিষ্ঠান গ্রাইফোন পার্টনারের এমডি এখন বেনার্ডই। কোন দেশ খনিজ সম্পদ কীভাবে চাইছেবলা বাহুল্য, খলিলজাদ চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো একা আফগান খনিজ ভোগ করতে পারবে না। ভাগ চাইবে প্রতিবেশীরাও। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের সেই চাপ অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়। দেশটির চারপাশে সব প্রতিবেশী বিশাল সামরিক সামর্থ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য কমে যাওয়ামাত্র আফগানদের দরকার হবে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান ও ভারতকে। এসব দেশ এখন তালিবানদের সঙ্গে একটা 'উইন-উইন' সম্পর্ক গড়ে তুলতে তৎপর। রাষ্ট্রপরিচালকদের হাত করে কীভাবে বড় বড় প্রকল্প নিতে হয়, তৃতীয় বিশ্বে সে বিষয়ে চীনের দক্ষতাই বেশি। আফগানিস্তানে গত ১৯ বছর ন্যাটোর শাসন চললেও, মেস এয়াংকের সবচেয়ে বড় কপার মজুত চীনের রাষ্ট্রীয় সংস্থা এমসিসি ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে লিজ নিতে পেরেছিল ২০১৭ সালে। কাবুলের ২৫ মাইল দক্ষিণে লগার প্রদেশের এই খনিতে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের কপার মজুত আছে। তাড়াহুড়ো করে লিজ নিলেও চীন এখনো তা উত্তোলন শুরু করতে পারেনি। প্রথমত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এত দিন সুবিধার ছিল না। তা ছাড়া যে বিপুল জনগোষ্ঠী খনি এলাকায় বাড়িঘর হারাবে, তাদের পুনর্বাসন করার বিকল্প কিছু এখনো গড়ে তোলা হয়নি। এই এলাকাতেই রয়েছে বৌদ্ধ সভ্যতার বহু পুরোনো নিদর্শন। কপার তুলতে গেলে সেসবও সরাতে হবে। মেস এয়াংকের কপার মজুতে চীনের আগ্রহের মতোই ভারতের আগ্রহের জায়গায় দেশটির হাজিজাক খনির দিকে। এখানে রয়েছে বিশাল লৌহ আকরিকের মজুত। এই এলাকাটি বামিয়ানে পড়েছে, যা কাবুল থেকে ১৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ১.৮ বিলিয়ন টন লৌহ আকরিক আছে এখানে। ২০১১ সালে ভারতের কয়েকটি কোম্পানি এই ক্ষেত্রটি ১০ বিলিয়ন ডলার দামে বরাদ্দ পায়। তবে চীনের মতো তারাও কাজে নামতে পারেনি। নিরাপত্তার বিষয় ছাড়াও তাদের এ ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে একটা বোঝাপড়ায় আসতে হবে। কারণ মেস এয়াংকের কপার বা তামার জন্য চীন যদি রেলপথ বানাতে রাজি হয়, তবেই ভারতের পক্ষে বামিয়ানের লৌহ আকরিকের ব্যবসাটা সহজে করা সম্ভব। কানাডার একটা কোম্পানিও এই লৌহ আকরিক নিয়ে আগ্রহী। ২৯ ফেব্রুয়ারির পর এরা সবাই এখন হয়তো তালিবানদের সঙ্গে এ বিষয়ে নতুন করে একটা বোঝাপড়ায় আসবে। পাকিস্তান আর রাশিয়ারও কিছু প্রিয় অর্থনৈতিক প্রকল্প আছে আফগানিস্তানে। খনিজ সম্পদকে কাজে লাগানো আফগানিস্তানের জন্য জরুরিও বটেখনিজ সম্পদে উর্বর হলেও আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষের এই দেশে এখনো ৪০-৫০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ে আছে, দিনে যাদের আয় ১.৯ ডলারের কম। ৩০ লাখ আফগান শরণার্থী হয়ে আশপাশের দেশে আছে। যুদ্ধ শেষ হলে এরা বিধ্বস্ত জনপদগুলোতে ফিরবে। জন্ম হারেও দেশটি বেশ এগিয়ে। এ রকম সবার জন্য খাদ্য, বাসস্থান ও কাজের ব্যবস্থা করতে হবে ভবিষ্যতের আফগানিস্তানকে। আয়তনে বাংলাদেশের চার গুণের বড় এই দেশটি যুদ্ধে যুদ্ধে একটা বিধ্বস্ত জনপদ ছাড়া এখন আর কিছুই নয়। অবকাঠামো বলতে তেমন কিছু আর গোলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। ৮০-৯০ ভাগ নাগরিকই শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত। বন্দুক চালানো ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ আর কিছুতে প্রশিক্ষণ পায়নি। একটি জনগোষ্ঠীকে বন্দুক সংস্কৃতি থেকে কাগজ ও কলমের সংস্কৃতিতে টেনে আনার জন্য প্রয়োজন মনস্তাত্ত্বিক এক বিপ্লব। এ কাজের জন্য সম্পদও দরকার। আয়-রোজগারের জন্য খনিজ সম্পদ আর পর্যটন ছাড়া তালিবানরা তেমন কিছু পাবে না। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো আফগানিস্তানের এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে যে উদগ্রীব, তা বলাই বাহুল্য। তালিবানদের বিনিয়োগ দরকার মানবসম্পদ তৈরি ও অবকাঠামো খাতে। আর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকবে সস্তায় খনিজ পেতে। প্রয়োজনে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত উপায়ে হলেও। 'সেন্ট-গ্যাস' প্রকল্পের আলাপও হয়তো শিগগির শুরু হবে। এই দ্বিমুখী চাওয়া-পাওয়ার সমন্বয় ঘটানোই তালিবান নেতৃত্বের জন্য আসন্ন চ্যালেঞ্জ। আলতাফ পারভেজ: গবেষক | 8 |
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২০২১ সালে ১ হাজার ৫৩ জন শ্রমিক নিহত এবং ৫৯৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হন ১৪৭ জন এবং আহত হন ১২৫ জন। বিভিন্ন সেক্টরে ৪৩১টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ১৭২টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে তৈরি পোশাক খাতে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস্) বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের ওপর ভিত্তি করে 'বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মক্ষেত্র পরিস্থিতি জরিপ-২০২১' এ এসব তথ্য জানিয়েছে।জরিপের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের মধ্যে ১হাজার ৩ জন পুরুষ এবং ৫০ জন নারী। পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি ৫১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহত ৫৯৪ জন শ্রমিকের মধ্যে ৫৭১ জন পুরুষ এবং ২৩ জন নারী। মৎস্য খাতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, বজ্রপাত, অগ্নিকাণ্ড, ওপর থেকে পড়ে যাওয়া, পড়ন্ত বস্তুর আঘাত, বিষাক্ত গ্যাস, নৌ দুর্ঘটনা, দেয়াল বা ছাদ ধসে পড়া, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ইত্যাদি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে জরিপটিতে জানানো হয়েছে।গত বছর ২৮৬ জন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৩২ জন পুরুষ এবং ৫৪ জন নারী। নির্যাতনের শিকার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২০ সালে ২৩২ জন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। জরিপ অনুযায়ী ৩০০ জন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রের বাইরে নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে ১৯১ জন নিহত, ৭০ জন আহত, ৩ জন নিখোঁজ, ২৬ জনের ক্ষেত্রে আত্মহত্যা করেছেন।২০২১ সালে ৪৩১টি শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি ১৭২টি শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনা ঘটে তৈরি পোশাক খাতে। এর মধ্যে ১২৬টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে বকেয়া বেতনের দাবিতে। আন্দোলনে একজন নারীসহ ৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হন ১৬৩ জন। আহতদের মধ্যে ১৩৭ জন শ্রমিকই তৈরি পোশাক খাতের। | 6 |
ভারতে চলমান বিধানসভা নির্বাচনে 'ভোটারদের হয়রানি করছে' আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের নিরাপত্তা কর্মীরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা কর্মীরা 'নারীদের শ্লীলতাহানি ও লোকজনকে মারধর' করছে। কুচবিহারে একটি সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে এ অভিযোগ তোলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব করছে বলে দাবি মমতার। তিনি মনে করেন, ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দিতেই এসব করা হচ্ছে বলে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে কমপক্ষে ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার তৃতীয় পর্বের ভোটে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে দুজন নারীসহ পাঁচ প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করা হয়। আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডলকে খোলা মাঠে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনায় তার নিরাপত্তা কর্মকর্তাও আহত হন।নির্বাচন কমিশনের প্রতি মমতার আহ্বান, 'সিআরপিএফের যারা দায়িত্ব পালন করছে, তাঁদের প্রতি খেয়াল রাখুন। তাঁরা যেন কাউকে হয়রানি না করে। তাঁদের নারী হয়রানির অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।'বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার জবাবও দেন মমতা। এ বিষয়ে আনন্দবাজারের শিরোনাম, 'আমাকে দশবার শো-কজ করেও লাভ নেই, একই জবাব দেব।' | 3 |
দক্ষিণ এশিয়ায় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ফের মরে ভেসে উঠেছে একটি বিপন্ন প্রজাতির ডলফিন। শুক্রবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারার গচ্ছাখালি খাল থেকে এটি উদ্ধার করা হয়। প্রায় দুই মণ ওজনের মাছটি লম্বায় প্রায় সাত ফুট। এর আগে গত বুধবারও একটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে। এ বিষয়ে হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া জানান, সকালে স্থানীয়রা ডলফিনটি দেখতে পায়। পরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার লোকজন গিয়ে এটি উদ্ধার করে। এই নিয়ে গত তিন মাসে ১৫টি ডলফিন মরে ভেসে ওঠার খবর এলো। তিনি আরও জানান, বালু তোলার ড্রেজার ও যন্ত্রচালিত বড় নৌযানের প্রপেলারের সঙ্গে লেগে আঘাতের কারণে ডলফিনগুলো মরে যাচ্ছে। তাই এটি নিয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। | 6 |
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।এর আগে রোববার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এদিনই বাদ আসর রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।দেশের নারীশিক্ষা ও নারী অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অধ্যাপক নাজমা চৌধুরীর বিশেষ অবদান রেখেছেন। ১৯৮৪-৮৭ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সম্পাদিত বই 'উইমেন অ্যান্ড পলিটিকস ওয়ার্ল্ডওয়াইড' ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা হিসেবে আমেরিকান পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক পুরস্কৃত হয়।এছাড়াও তিনি ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নাজমা চৌধুরীকে ২০০৭ সালে 'রোকেয়া চেয়ার' সম্মাননায় ভূষিত করে। ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানজনক 'প্রফেসর ইমেরিটাস' পদে উন্নীত হন। একই সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। তাঁর স্বামী সাবেক প্রধান বিচারপতি মাইনুর রেজা চৌধুরী।অধ্যাপক নাজমা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। শোকবার্তায় তাঁরা নাজমা চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তাঁর শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। | 6 |
গত ৮ জানুয়ারি থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এ আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে বলা হয়েছে। এর বাইরে ভুয়া ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন থেকে আবেদন করে কোনো শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রতারিত হলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ এর দায় বহন করবে না বলে জানানো হয়েছে।আজ মঙ্গলবার আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ স্বাক্ষরিত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রমে লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু প্রতারক চক্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের থেকে সুকৌশলে শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষার তথ্য সংগ্রহ করে তাদের অনুমতি ছাড়াই অনলাইনে ভর্তির আবেদন করছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সবাইকে এ ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সাবধান থাকার জন্য সতর্ক করেছে ঢাকা বোর্ড।বোর্ড জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতারণায় জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের প্যানেল বা সার্ভার বন্ধসহ পাঠদান স্থগিত করা হবে।একাদশে শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বোর্ডের নির্ধারিত ভর্তি ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোনো ফেক ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন থেকে আবেদন করে কোনো শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রতারিত হলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এর দায় বহন করবে না। | 1 |
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী কেনার জন্য আরও ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। আজ বৃহস্পতিবার এডিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা বলা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এডিবির এশিয়া প্যাসিফিক দুর্যোগ তৎপরতা তহবিলে জাপান সরকার এই অনুদান দিচ্ছে। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, করোনার সময়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই সহায়তা দিচ্ছে এডিবি। এই অর্থ দিয়ে জরুরি ওষুধ, যন্ত্রপাতি, সংক্রমণ বিস্তার রোধে সামগ্রী-এসব কেনা হবে। করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই পর্যন্ত এডিবি সব মিলিয়ে ৬০ কোটি ৩০ লাখ ডলার ঋণ ও অনুদান দিয়েছে। এর মধ্যে গত ৭ মে ৫০ কোটি ডলার; গত ৩০ এপ্রিল ১০ কোটি ডলার অনুমোদন করেছে। এর আগে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর হওয়ার পরপর সুরক্ষা সামগ্রী কেনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সাড়ে তিন লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে এডিবি। | 0 |
বাংলাদেশের ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশু বিশ্বাস করে যে করোনার লকডাউন পরবর্তী সময়ে তাদের জীবন আরো কঠিন হয়ে উঠবে। শিশুরা তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কদের কাজে ফিরে যেতে না পারায় ২০ শতাংশ শিশু উদ্বিগ্ন। সেই সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা 'এডুকো' দ্বারা পরিচালিত এক নতুন বৈশ্বিক সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সমীক্ষার ফলাফল জানায় এডুকো। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সমীক্ষায় অংশ নেয়া প্রায় ২২ শতাংশ শিশু পরিবারের সঙ্গে আরো বেশি সময় কাটাতে পেরে আনন্দিত, ১৭ শতাংশ শিশুর মতে এমন পরিস্থিতিতে তারা বাড়িতে থাকতে পেরে বেশি নিরাপদবোধ করে। বিশ্বব্যাপী ১৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করে, লকডাউনের পরে তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে, সেই সাথে ২৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে সন্দিহান। তাদের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২২ শতাংশ বলেছে যে তারা বা তাদের পরিবারের কেউ অসুস্থ হতে পারে। ১৯ শতাংশ তাদের পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্করা কাজ করতে বাইরে যেতে না পারায় এবং ১৭ শতাশের বেশি তাদের নিত্যপ্রয়োজন মেটানোর মত পর্যাপ্ত অর্থ নাও থাকতে পারে এটা ভেবে উদ্বিঘ্ন। চলতি বছরের ৭ থেকে ২৩শে মে অনলাইন এবং ফোনে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এই সমীক্ষায় পরিচালিত হয়। এতে অংশ নেয় দেশের ৫'র বেশি শিশু। যাদের মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারীই ছিল মেয়ে। এই গবেষণাটি আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া এবং ইউরোপের ২০টি দেশে পরিচালিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী সাড়ে চার হাজারের বেশি শিশু ও যুবক এই গবেষণায় অংশ নেয়। এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল হামিদের মতে , শিশুরা তাদের চারপাশে কী ঘটছে এবং পরিবারের উপর এই পরিস্থিতির প্রভাব কী সে সম্পর্কে সচেতন। যদিও এই মহামারির মূখ্য ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠী হিসাবে শিশুদের বিবেচনা করা হয় না, তবুও অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা জানি যে এই জাতীয় অর্থনৈতিক সংকট তাদের আবেগ এবং মানসিক সুস্থতার উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই সমীক্ষাটি আবারও নিশ্চিত করেছে যে, শিশুরা তাদের চারপাশে কী ঘটছে তা সম্পর্কে সজাগ এবং কীভাবে এই মহামারিটি তাদের এবং তাদের পরিবারকে প্রভাবিত করছে তা বাস্তবিক অর্থেই বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। | 6 |
আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে রপ্তানি শুরু হবে সাতক্ষীরা কলারোয়ার মৌসুমি আম হিমসাগর। আজ বুধবার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার ৮ নম্বর কেরেলকাতা ইউনিয়ন ইলিশপুর গ্রামের আম চাষি কবিরুল ইসলাম ডবলুর আম বাগান থেকে নিজ হাতে বিষমুক্ত হিমসাগর আম পেড়ে বায়ার কোম্পানির মাধ্যমে ইউরোপে রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির।কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, 'এ বছর কলারোয়া উপজেলা থেকে ৯০ টন আম রপ্তানি করা হবে। পরে গোবিন্দভোগ, ল্যাংড়া ও আম্রপালি আম ভাঙার নির্দিষ্ট সময়ের পড়ে বিক্রি করা হবে।'কর্মকর্তা আরও বলেন, 'উপজেলার ৬২৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ২৪৮ জনের মতো চাষি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা ও পরামর্শে বিষমুক্ত আম চাষ করেছেন। এ উপজেলার চাষিরা অত্যন্ত পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে আম উৎপাদন করে ফরমালিন ছাড়াই বাজারজাত করে। যে কারণে প্রতিবছর দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশে ন্যায্য মূল্যে আম বিক্রি করে চাষিরা লাভবান হয়। গত বছর ৩ হাজার ২০০ টাকা প্রতি মণ দরে ৮৫ টন হিমসাগর আম উত্তরণ সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ব্যবস্থাপনায় ইউরোপে রপ্তানি করা হয়েছিল।এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় প্রতিটি বাগানের আমের মুকুল ৫০ শতাংশ ঝরে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে আমের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে চাষিরাও অনেকটা ক্ষতির মুখে। চাষিরা ন্যায্যমূল্যে আম বিক্রি করতে পারলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। এ বছর হিমসাগর আম বিদেশে রপ্তানির জন্য ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা প্রতি মন দরে বায়ার কোম্পানির মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবে।' | 6 |
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আমার তিনজন কিংবদন্তিতুল্য চেয়ারম্যান (সচিব) ও একজন ব্যতিক্রমী সাংসদের সান্নিধ্যলাভের সুযোগ হয়। তাঁদের নিয়েই আজকের লেখা। কাজী মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ১৯৭৯ সালে আমি সরকারি চাকরিতে যোগদান করি, তখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন কাজী মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন সিএসপি। তিনি আমার নানা হতেন এবং ঢাকার ইস্কাটনে টেনামেন্ট হাউসে থাকতেন। আমাদের সময় দুবার চাকরির অগ্রাধিকার চাওয়া হয়। তাঁর পরামর্শেই আমি ও বন্ধু জাহিদ (বর্তমানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে অবসরপ্রাপ্ত) দ্বিতীয়বার অগ্রাধিকার পরিবর্তন করে সহকারী কমিশনারের পরিবর্তে শুল্ক ও আবগারি বিভাগে যোগ দিই। শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আমাদের কাজ ছিল পুরোনো নথি দেখা। একটা নথি দেখতে গিয়ে গোলাম রহমান নামের তেজগাঁও বিমানবন্দরের একজন সহকারী কালেক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগে খোদ চেয়ারম্যানকে জড়ানো হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত সহকারী কালেক্টর চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ। এবং অভিযুক্ত সহকারী কালেক্টর চেয়ারম্যানকে সিন্ধি গাই উপহার দিয়েছেন। যত দূর মনে পড়ে, অভিযোগপত্রের ওপর চেয়ারম্যান ইংরেজিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগটিতে আমাকে জড়ানো হয়েছে। অভিযোগের একটি অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর প্রেরণ করা হয় আমার বিষয়ে তদন্ত করার জন্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বাপেক্ষা জ্যেষ্ঠ সদস্য সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করবেন এবং প্রয়োজনবোধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমি পুরো প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন থাকব। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব সংস্থাপনসচিব বরাবর উপস্থাপন করতে হবে। একদিন বাসায় পেয়ে তাঁকে নথির বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করি। সিন্ধি গাইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নানিকে ডেকে বলেন, 'তোমার নাতি আখতারকে (আমার ডাকনাম) আমাদের সিন্ধি গাই দেখিয়ে দাও।' নানি বিরক্ত হয়ে বসার ঘরে ঢুকে বলেন, কী আবোল-তাবোল বলছ? কিসের সিন্ধি গাই? কোথাকার সিন্ধি গাই? নানা হাসতে হাসতে নানিকে অভিযোগের বর্ণনা দিয়ে আমাকে বললেন, অভিযোগের একটা কথা ঠিক। আমি অবাক হই। তিনি বলেন, মাস ছয়েক আগে তাঁর ছোট ছেলে হারিয়ে যায়। তোমার নানি পুত্র হারানোর শোকে শয্যাশায়ী হয়ে যান। দিন পনেরো পরে সহকারী কালেক্টর গোলাম রহমান মিরসরাই থেকে তাকে খুঁজে পান। সে থেকেই গোলাম রহমানের প্রতি তাঁর একটা দুর্বলতা আছে। চট্টগ্রাম শুল্ক ভবনে পদস্থ হওয়ায় তাঁর সঙ্গে কাজ করার আর সুযোগ হয়নি। তবে পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে কাজ করতে গিয়ে দেখি, একটি নথিতে ইংরেজিতে তিনি লিখেছেন, 'মহামান্য রাষ্ট্রপতির তার ওপরের আদেশ অনুগ্রহ করে দেখতে পারেন। আদেশটির বাস্তবায়ন একটি খারাপ নজির ও রাজস্ব আহরণে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও আইনি জটিলতা সৃষ্টি করবে। তাই মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁর আদেশ নিম্নরূপ সংশোধন করতে পারেন...।' মহামান্য রাষ্ট্রপতি চেয়ারম্যানের প্রস্তাব অনুমোদন করে স্বাক্ষর করেন! জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে থাকাকালেই দুর্ভাগ্যবশত তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন ও কিছুদিন পরেই বিদেশ সফরকালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশন শোকসভা করবে কি না, এ নিয়ে এক বিতর্ক হয়। আমি এ ধরনের একটি আলোচনায় উপস্থিত ছিলাম। একজন বললেন, সন্দ্বীপের এত বড় একজন সিএসপি অফিসার, তাঁর জন্য শোকসভা করা দরকার। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন প্রতিবাদ করে উঠলেন। বড় অফিসার মানলাম। কিন্তু উনি সন্দ্বীপের জন্য কী করেছেন? একজন যোগ করলেন মোশাররফ মিয়া একজন বেইমান। এবার তিনি বেইমানির ফিরিস্তি দিলেন। সেবার তাঁরা সন্দ্বীপের বন্যানিরোধক বেড়িবাঁধের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলেন। তখন চেয়ারম্যান তাঁদের বলেন, সে বছরের সব বাঁধের বরাদ্দ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে ওপরের থেকে কেউ বললে তিনি সাহায্য করতে পারবেন। তখন তাঁরা চেয়ারম্যানকে বলেন, মোশাররফ সাহেব বললে কি কিছু হবে? চেয়ারম্যান তাঁদের বললেন, ওনাকে আমরা সবাই মানি। উনি বললে তো আমাকে একটা কিছু করতেই হবে। সবাই মিলে তাঁরা মোশাররফ সাহেবের অফিসে যান। তাঁদের প্রয়োজন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের পরামর্শ বলেন। তিনি বক্তব্য শুনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ফোন করলেন। সন্দ্বীপের বেড়িবাঁধের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন। চেয়ারম্যান তাঁকে বললেন বেড়িবাঁধের সব টাকা বরাদ্দ হয়ে গেছে। তবে তিনি বরগুনার বরাদ্দ থেকে কেটে কিছু টাকা সন্দ্বীপের বেড়িবাঁধের জন্য দিতে পারেন। কিন্তু মোশাররফ মিয়া রাজি হলেন না। টেলিফোনে চেয়ারম্যানকে বললেন, 'সন্দ্বীপও আমার দেশ, বরগুনাও আমার দেশ। বরগুনার বরাদ্দ কেটে সন্দ্বীপের জন্য বরাদ্দ দিতে আমি আপনাকে অনুরোধ করব না।' দেখ, কত বড় বেইমান, সন্দ্বীপে জন্মগ্রহণ করে বলে বরগুনাও আমার দেশ! একজন টিপ্পনী কাটলেন। আমি এরপর চট্টগ্রামে চলে যাই। জানি না তাঁর জন্য শোকসভাটি হয়েছিল কি না। শেগুফতা বখত চৌধুরী তিনি যখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর), আমি তখন ঢাকা বিমানবন্দরে এয়ারফ্রেট ইউনিটে কর্মরত অতি কনিষ্ঠ কর্মকর্তা। একসময় আমার কালেক্টর (নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা) পরিবর্তন হয়। আগের কালেক্টরের সঙ্গে আমার কাজের সম্পর্ক ছিল চমত্কার। নতুন কালেক্টর এসে আমাকে মৌখিক নানাবিধ নির্দেশ দিতে থাকেন, যা আইনগতভাবে বৈধ ছিল না। আমি সে নির্দেশগুলো লিখিত আকারে দেওয়ার অনুরোধ পালনে অপারগতা জ্ঞাপন করি এবং উপায়ান্তর না দেখে অগ্রাহ্য করি। আমার কিছু সিদ্ধান্তে তাঁর কিছু ব্যবসায়ী বন্ধুর স্বার্থহানি ঘটে। তাই নতুন কালেক্টর আমার প্রতি নাখোশ হন। তিনি আমাকে শাসাতে থাকেন। আমি তাতে গা না লাগিয়ে আইন, বিধি ও আমার বিবেক ও বিবেচনা অনুযায়ী কাজ করতে থাকি। অতঃপর নতুন কালেক্টর আমাকে তাঁরই অধীনে নারায়ণগঞ্জে বদলি করে দেন। আমি কিছুটা হতাশ হলেও দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিই। কিছুদিন পর আমি তিনটি সামরিক (তখন সামরিক শাসন ছিল) ও বেসামরিক তদন্তকারী সংস্থা থেকে হাজিরা ও আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের জবাব দেওয়ার নোটিশ পাই। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল আমি দুর্নীতিপরায়ণ, অদক্ষ ও অবাধ্য। আমার বিরুদ্ধে আনীত মূল দুর্নীতির অভিযোগটি আমার সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগেই সংঘটিত ও নিষ্পন্ন হয়েছিল! অভিযোগকারী কর্মকর্তা কালেক্টর বাহাদুর স্বয়ং। আমি যথারীতি জবাব দিই ও শুনানিতে হাজির হই। তদন্তকারী কর্মকর্তারা আমার জবাব পড়ে ও শুনানি শেষে আমার কাছে জানতে চান, আমার বিরুদ্ধে কালেক্টরের অভিযোগের আসল কারণ কী। আমি বলি, স্যার, আপনারা তাঁকে জিজ্ঞেস করুন। যাহোক, ইতিমধ্যে আমি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য নির্বাচিত হই। শৃঙ্খলা কার্যক্রম চলমান থাকায় এত দিন তা প্রক্রিয়া করা হচ্ছিল না। একদিন শুনলাম আমার উচ্চশিক্ষার নথিটি চেয়ারম্যানের কক্ষে আছে। ক্লাস শুরু হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। তাই আমি তৎকালীন চেয়ারম্যান শেগুফতা বখত চৌধুরীর সাক্ষাৎকার প্রার্থনা করি। পিএস জানান, তিনি আমার সঙ্গে দেখা করবেন না। ভগ্ন মনোরথ হয়ে বাসায় চলে যাই। মনে মনে বলি, উচ্চশিক্ষা বা বিদেশযাত্রা আমার কপালে নেই! বাসায় ফিরে আমার পিএস রিজওয়ানের ফোন পাই। স্যার, আপনার নথিটা চেয়ারম্যান সাহেবের রুম থেকে বের হয়েছে। তবে সিলগালা করা। মন্ত্রী সাইদুজ্জামান সাহেবের কাছে যাচ্ছে। আমি এবার মনে করলাম চাকরি বুঝি গেল! আমার পিএস রিজওয়ান নথিটি অনুসরণ করতে থাকেন। একসময় জানালেন নথিটি আবার সিলগালা হয়ে এনবিআরে ফিরে যাচ্ছে। যাহোক, আমার বিদেশে উচ্চশিক্ষার নথিটি অনুমোদন লাভ করে। বহুদিন পর অন্য আর একটি বিষয়ের তদন্ত প্রসঙ্গে নথিটি আমার দেখার সুযোগ হয়। দেখলাম, শেগুফতা বখত চৌধুরী নিজের সুন্দর হস্তাক্ষরে ফুল স্কেপ কাগজে আড়াই পাতা নোট লিখেছেন। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, তদন্ত বিবরণ, এর অসারতা বিষয়ে লিখেছেন ও আমার অন্যায় বদলির জন্য কালেক্টরকে ভর্ৎসনা করেছেন। অভিযোগ প্রত্যাহার করে আমাকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার অনুমতি দিয়েছেন। ভাবলাম, বিদেশ যাওয়ার আগে ধন্যবাদ দিয়ে যাই। আবার সাক্ষাৎপ্রার্থী হলাম। এবারও পিএস জানালেন, স্যার বলেছেন দেখা করার প্রয়োজন নেই। আমাদের সঙ্গে সভায় তাঁর দাপ্তরিক আলোচনা শুনেছি। তিনি সবার কথা শুনেছেন। ব্যাখ্যা চেয়েছেন। কিন্তু তিনি কী সিদ্ধান্ত দেবেন, কেবল তিনিই তা জানতেন! এমন নির্লিপ্ত অথচ বস্তুনিষ্ঠ এবং প্রশংসাবিমুখ কর্মকর্তা চাকরিজীবনে আর কখনো পাইনি! চৌধুরী এ কে এম আমিনুল হক ওপরে যে দুজন চেয়ারম্যানের কথা লিখলাম, তাঁদের সঙ্গে আমি প্রত্যক্ষভাবে কাজ করিনি। এখন যাঁর কথা বলব, তাঁর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। আমি বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করে এসেই চৌধুরী এ কে এম আমিনুল হককে চেয়ারম্যান (পরবর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা) হিসেবে পাই। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অফিসেও পিতৃস্নেহ অনুভব করতাম। এনবিআরে তখন আমাকে অনেক সারসংক্ষেপের খসড়া লিখতে হতো অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য। হ্যাঁ, এনবিআরে সিদ্ধান্তের জন্য অর্থমন্ত্রীর জন্যও সারসংক্ষেপ পাঠাতে হয়। স্যার খুব কাটাকাটি ও পরিমার্জনা করতেন। প্রথম দিকে মাঝেমধ্যে এমন হতো যে আমি নিজে কী লিখেছি, তা খুঁজেই পেতাম না। পরিমার্জনাকালে তাঁর পিএ ও স্টেনোগ্রাফার নুরুল আমিনকে ডিকটেশন দিতেন। নুরুল আমিনকে পুরোটা নতুন করে টাইপ করিয়ে আবার কাটাকুটি করে চূড়ান্ত করতেন। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। পরে দেখলাম, আমার দেওয়া খসড়ার তুলনায় চূড়ান্ত সারসংক্ষেপটি অনেক স্পষ্ট ও সাবলীল। অথচ এনবিআরে এমন চেয়ারম্যানও পেয়েছি, যাঁরা পরিমার্জনা করতে গিয়ে ভুল করতেন অথবা কেবল কোথায় সই করতে হবে, তা জিজ্ঞেস করতেন! এমনই একদিন, তাঁর কক্ষে খসড়া চূড়ান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে লাল টেলিফোনে ফোন। ওপারের কথা শুনতে পাচ্ছি না। স্যার যা বললেন তা এ রকম। জি, আমি জানি আপনি কে বলছেন। তাঁর মুখে বিরক্তির ছাপ। আবার বললেন, আমি বিষয়টা সম্পর্কে জেনে, বুঝে, বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার কোনো কারণ দেখি না। ওপাশে যিনি, তিনি ক্ষমতাবান। না শুনতে অভ্যস্ত নন। স্যার বললেন, আমার জায়গায় নতুন সচিব এলে কী সিদ্ধান্ত দেবেন, তা অনুমান করা আমার জন্য ঠিক হবে না। আমার সিদ্ধান্ত আমি দিয়েছি। আপনার যা মেহেরবানি আপনি তাই করবেন। বিনীত অথচ দৃঢ় উচ্চারণ। নির্বিকারভাবে সিগারেটে টান দিতে দিতে আবার পরিমার্জনা চলল। শেষ করে বললেন, আগামীকাল চেয়ারম্যানকে (আমাকে দিয়ে বললেন না) দিয়ে সই করিয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে পাঠাবেন। পরদিন সকালেই সংবাদপত্রে দেখলাম তাঁকে পরিকল্পনাসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে! ক্ষমতার কী নির্মম পরিহাস, কয়েক মাস পরেই তাঁকে আবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনতে সরকার বাধ্য হয়! মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান আমি তখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে বাজেট প্রণয়নের কাজের সঙ্গে জড়িত। সবে সংসদে বাজেট পেশ করা হয়েছে। দুই দিন পরেই ফোন, স্যার, আমার নাম খালেকুজ্জামান। আমাকে একটু সময় দেবেন? আপনারা কীভাবে বাজেট করেন, তা আমি একটু বুঝতে চাই। অদ্ভুত অনুরোধ। রাজি হই। নির্ধারিত সময় ও দিনে তিনি হাজির হন। বাজেটের কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: এটা কেন করলেন? এটা কীভাবে করলেন? আমার দেওয়া জবাবের নোট নিলেন। আমার কৌতূহল বাড়তে থাকে। এত সব জেনে কী করবেন? আপনার পড়াশোনা কোথায়? অনেক জেরার পর জানতে পারি, তিনি একজন সংসদ সদস্য, আইবিএর গ্র্যাজুয়েট। বন্ধু জাহিদের কাছ থেকে (বর্তমানে বিশ্বব্যাংক থেকে অবসরপ্রাপ্ত) থেকে পরে জেনেছি, তিনি ছিলেন তাঁর ব্যাচের সেরা ছাত্র। এতক্ষণ তিনি আমাকে স্যার সম্বোধন করছিলেন। এবার আমার স্যার বলার পালা। তিনি বিব্রত। বললেন, আপনি বয়সে বড়। আমি তাঁকে বলি, আমি সরকারি কর্মচারী। প্রটোকল মানতে বাধ্য। সব সাংসদই জোর গলায় নিজের পরিচয় প্রচার করেন। জিজ্ঞেস করলাম, আপনি করেন না কেন? তিনি বললেন, আপনাকে একটা গল্প বলি। আমার নির্বাচনী এলাকার পাশে এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি। ঘরে ঢুকতেই বন্ধু তাঁর স্ত্রীকে বললেন, এমপি সাহেব এসেছেন। বন্ধুর স্ত্রী কোন এমপি জানতে চাইলে বন্ধু আমার নাম বললেন। বন্ধুর স্ত্রী বললেন, ও, খালেক ভাই। উনি তো ভালো মানুষ, এমপি হতে যাবেন কোন দুঃখে! আমাদের দেশে এমপি পরিচয়টি নানা কারণে সম্মানজনক নয়। তাই একটু ইতস্তত করি। বললেন, হয়তো একদিন বড় গলা করে পরিচয় দিতে পারব আমি একজন এমপি। আমাদের আলোচনা এগোতে থাকে। বাজেটের বিষয়ে সংসদে কিছু বলবেন, তাই বিষয়টা সম্পর্কে জানতে এসেছেন। প্রায় সাত বছর বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। সেই প্রথম ও সেই শেষ। আর কোনো জনপ্রতিনিধি আমার কাছে বাজেট প্রণয়ন বিষয়ে কিছু জানতে চাননি। তখন পালা করে আমাদের সংসদে যেতে হতো। সংসদ সদস্যদের বাজেটবিষয়ক বক্তৃতার নোট নিতে হতো। সেখানে আমার সাংসদ খালেকুজ্জামানের বাজেটসম্পর্কিত বক্তব্য শোনার সৌভাগ্য হয়। সেই পুরো বাজেট সেশনে এই একটিমাত্র বক্তৃতাই আমার মনে দাগ কাটে। শ্রদ্ধায় আনত হই। এ ধরনের ব্যক্তি সাংসদ হয়েছেন জেনে দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী হই। তার কিছুদিন পরে সংবাদপত্রে তাঁর অকালমৃত্যুর কথা জানতে পারি। হঠাৎ করে তাঁর কথা মনে হওয়ার কারণ হলো, বন্ধু সৈয়দ মাহমুদুল হকের শেয়ার করা এক ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারলাম যে রামুর বাইপাসে অবস্থিত তাঁর নামফলক রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। সবকিছুই এখন নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে! আলোচিত চার কৃতী মানুষের মধ্যে শেগুফতা বখত চৌধুরী এখন অসুস্থ। আমি তাঁর আরোগ্যলাভ কামনা করি। বাকিরা তিনজনই পরপারে। আমি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান:বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব | 8 |
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুরনো ডেরা রেড ডেভিলস তথা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রিয়াল, পিএসজি আর ম্যানসিটি সবগুলোকে টপকে দুই বছরের জন্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরা রীতিমতো এক নাটকীয় ঘটনা ৩৬ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকার ভক্তদের জন্য। তিন বছর আগে রিয়াল ছেড়ে দেওয়া রোনালদোর আরও এক বছরের চুক্তি ছিল জুভেন্তাসের সঙ্গে। শেষ বছরটি তুরিনে থেকে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে নানান গুঞ্জন শোনা গেলেও কোনোটিই দৃঢ় ছিল না। তার দলবদলের আলোচনা রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি ঘুরে দু'দিন আগে ম্যানসিটিতে গিয়ে স্থির হয়। দীর্ঘদিন হ্যারি কেনের অপেক্ষায় থেকে বিফল হওয়া সিটি রোনালদোর এজেন্টের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি ও ১৫ মিলিয়ন ইউরো বেতনও চূড়ান্ত করে ফেলে। তবে পর্তুগিজ অধিনায়কের জন্য ট্রান্সফার ফি দিতে রাজি ছিল না পেপ গার্দিওলার দল। এদিকে জুভেন্তাস তাকে বিনা ফিতে ছাড়বে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। ফি না দিতে রাজি না হওয়া ম্যানসিটি আর জুভেন্তাসের সঙ্গে যোগাযোগই করেনি। নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে চলে আসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ক্লাবের মালিকানায় থাকা গ্লেজার পরিবার কিংবদন্তি কোচ স্যার আলেপ ফার্গুসনকে রোনালদোর সঙ্গে আলাপ করতে বলে। এর পরই সাবেক গুরুর সঙ্গে রোনালদোর আলাপ এবং দ্রুতই কাগজপত্র তৈরি শুরু ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। অপরদিকে তুরিনে জুভেন্তাস সতীর্থদের কাছ থেকে বিদায় নেন রোনালদো, মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি জানান সিআর সেভেন তাকে ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এর ঘণ্টা দুয়েক পরই রোনালদোকে কিনতে জুভেন্তাসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠায় ম্যানইউ। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমের মতে, ট্রান্সফার ফি হিসেবে ২৮ মিলিয়ন ইউরোর কথা বলেছে ইংলিশ ক্লাবটি। তবে ফি বা বেতন যেমনই হোক, রোনালদোর জন্য বড় সুখবর হচ্ছে ফিরছেন তিনি ক্লাবে, নিজ দেশের বাইরে প্রথম পা রেখেছিলেন যেখানে, রিয়ালে যাওয়ার আগে ছয়টি বছর কাটিয়ে গেছেন যে শহরে! ২০০৩ সালে প্রথম দফায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে ২০০৯ পর্যন্ত ইউনাইটেডের জার্সিতে ২৯২টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১১৮টি গোল করেন। ম্যানইউ থেকে রোনালদো যোগ দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে। সেখান থেকে জুভেন্টাস ঘুরে দীর্ঘ ১২ বছর পর ফের ইউনাইটেডে ফিরলেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা। | 12 |
জাতীয় সংসদে শূন্য হওয়া চারটি আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হতে ২৩ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এর মধ্যে ঢাকার দুটি আসনের জন্য ১২ জন ফরম নিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ফরম সংগ্রহ করেন। আগামী শনিবার বিকেল পাঁচটায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার হবে। ঢাকা-৫ আসনের জন্য পাঁচজন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এর মধ্যে আছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী, সাবেক সাংসদ সালাহউদ্দিন আহমেদ, শিক্ষকনেতা সেলিম ভূঁইয়া, মো. জুম্মন মিয়া ও আকবর হোসেন নান্টু। ঢাকা-১৮ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কফিল উদ্দিন আহম্মদ, যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত অন্যতম। এ দুজনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় নয়াপল্টনের কার্যালয়ে শতাধিক কর্মী-সমর্থকও সঙ্গে ছিলেন। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থনে নির্বাচনী আসনের বিএনপির সাতটি সাংগঠনিক থানার সভাপতি-সম্পাদকেরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এ আসনে মনোনয়নপত্র কিনেছেন ইসমাইল হোসেন, বাহাউদ্দিন সাদী, মোস্তফা জামান সেগুন, মো. আখতার হোসেন। নওগাঁ-৬ আসনে মোট আটজন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তাঁরা হলেন আবদুস শুকুর, এম এম ফারুক জেমস, মাহমুদুল আরেফিন স্বপন, এসহাক আলী, আতিকুর রহমান রতন মোল্লা, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ রফিকুল আলম রফিক। সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বি এম তহবিবুল ইসলাম, নাজমুল হাসান তালুকদার রানা ও রবিউল হাসান-এই তিনজন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। ঢাকা-৫, ঢাকা-১৮, নওগাঁ-৬ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ১০ হাজার টাকা মূল্যমানে ফরম সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা শুক্রবার ২৫ হাজার টাকা জামানতসহ জমা দিতে পারবেন। আওয়ামী লীগের সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে ঢাকা-৫, ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে নওগাঁ-৬, মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জ-১ ও সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে ঢাকা-১৮ আসন শূন্য হয়। | 9 |
কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে এক পথসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণের কাছে যিনি গ্রহণযোগ্য, তিনিই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন। নেত্রীর কাছে প্রত্যেক মনোনয়ন-প্রত্যাশীর আমলনামা, জরিপ ও এসিআর আছে। যিনি সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন, তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, 'ঘরের বিবাদের কথা পরকে বলবেন না। আমাদের শত্রু আমরা নিজেরা না। বিএনপি-জামায়াতই আমাদের শত্রু। আওয়ামী লীগের নামে যাঁরা অপকর্ম করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন, তাঁদের দলে ঠাঁই নেই। আসল কর্মীরাই দলের মধ্যে টিকে থাকবেন। ঘরের মধ্যে ঘর দেখতে চাই না। পকেট কমিটি করবেন না। সুবিধাবাদীদের দলে আনবেন না।' বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০১৪ সালের মতো আগুন-সন্ত্রাস বোমাবাজি ও পেট্রলবোমা দিয়ে বাসে আগুন দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটালে দলীয় নেতা-কর্মীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। গত ১০ বছরে ২০টি ঈদ গেলেও তারা কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে কুমিল্লায় উত্তর জেলার সাত উপজেলা নিয়ে প্রশাসনিক জেলা করা হবে। পথসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আওয়াল সরকার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার প্রমুখ। ইলিয়টগঞ্জে রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ পথসভা হয়। পথসভা শুরু হওয়ার আগে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে বসা নিয়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিছুক্ষণ পর কুমিল্লা টাউন হল মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। এরপর বিকেলে চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন ওবায়দুল কাদের ও কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলা সফরের অংশ হিসেবে আজ কুমিল্লা থেকে ওবায়দুল কাদের কক্সবাজারে উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আজ তিনি কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বক্তব্য দেবেন। আগামীকাল লোহাগড়া ও কক্সবাজারে পথসভার মধ্য দিয়ে দুই দিনের কর্মসূচি শেষ হবে। | 9 |
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে বৈঠকে বসেছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বৈঠকটি শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বিষপানে আত্মহত্যার প্রবণতা। গত ১১ দিনে ১৫ জন বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তারা বর্তমানে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এদিকে, এসব বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১১ দিনে ১৫ জন বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। তারা চিকিৎসা নিয়েছেন কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এর মধ্যে রয়েছে ২ শিশু, ১১ নারী আর ২ জন পুরুষ। তবে ওই শিশুরা ভুলবশত বিষপান করেছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনেরা।আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শিলা বেগম বলেন, 'আগের কর্মকর্তা থাকতে একটা ইনোভেশন কার্যক্রম চালু ছিল। ওই সময় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হতো। তবে এখন নাই। আর এ সংক্রান্ত কোনো কমিটিও নেই। তবে আমরা বিভিন্ন সামাজিক ও অফিশিয়াল প্রোগ্রামে এসব নিয়ে আলোচনা করে থাকি।'এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, 'ধানের সময় একটু মানুষ বেশি ঝুঁকে পড়ে বিষপানের দিকে। কারণ, এ সময় প্রায় ঘরে বিষ থাকে। এ ছাড়া প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ জন বিষপানে আত্মহত্যা করে থাকে। গত ১১ দিনে ১৫টি রোগী হলে তো একটু বেশিই মনে হচ্ছে।'কোটচাঁদপুর থানার ওসি মঈন উদ্দিন জানান, আত্মহত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হলেও মামলা নেওয়ার নিয়ম আছে। তবে জানতে হবে তো। আমাদের কেউ জানায় না। শুধু মারা গেলে জানায় অনেকে। আজ পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো মামলা থানায় হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না আজও কোনো মামলা হয়নি। | 6 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বর্তমান ভিপি নুরুল হক নুরসহ অর্ধশতাধিক ছাত্রের ওপর বিনা উস্কানিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যেভাবে ডাকসুতে কক্ষে অবরুদ্ধ করে, বাতি নিভিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, তা ঘৃণ্য, বর্বর, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তিনি বলেন, এই হামলা বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যাকারীদের নৃশংসতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। বুয়েটে আবরার মারা গেছে। ডাকসুর ঘটনায়ও যে কেউ মারা যেতে পারত। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংহতি সমাবেশে উপস্থিত হতে পারেননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। ছাত্রদের ন্যায্য আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করেন তিনি বিবৃতিতে। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম একটি ন্যক্কারজনক ঘটনার পর ভিসি এবং প্রক্টরের তাদের পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। তারা যেভাবে এ হামলার পেছনে জড়িতদের পক্ষে সাফাই গাইছেন, তা সত্যিই লজ্জার। এসব তেলবাজি চলবে না। অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনুন, না পারলে পদত্যাগ করুন। মান্না আরও বলেন, লাখো আবরার বাংলার ঘরে ঘরে জেগে উঠেছে। মামুন, ফারুক, ফারাবী হাসপাতালের বিছানায়। লাখো ফারাবী প্রস্তুত। ছাত্ররা জেগেছে, শিক্ষকরা জেগেছে, শ্রমিক জেগেছে, কৃষক জাগবে, গণজোয়ার তৈরি হবে। এই ছাত্র সমাজের হাতেই নতুন সূর্য উঠবে। | 9 |
জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ব্র্যাকের সহায়তায় ১৭ মে বসানো হয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও প্রেসক্লাবের যৌথ আয়োজনে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) স্যাম্পল কালেকশান সেন্টার। মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে শুরু হচ্ছে এর কার্যক্রম। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত (আগে থেকে নিবন্ধিত সদস্যদের) নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ডিইউজে ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য এবং তাদের স্ত্রী,স্বামী ও সন্তানরা এই সেবা নিতে পারবেন। আগ্রহীদের আগেই নাম নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্যে নিম্নোক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হলো। যোগাযোগ- মাঈনুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব ০১৭১৩০৬৬১৬৬ এ জিহাদুর রহমান জিহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, ডিইউজে ০১৭১৩০৬৬৫৮৮ আছাদুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক, ডিইউজে ০১৭১৬১৮০৮৮২ সোহেলী চৌধুরী, জনকল্যাণ সম্পাদক, ডিইউজে ০১৭২৬৭৪৭৮৭০ জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক, ডিইউজে ০১৭১৬৪৮৩৩৯৯ রাজু হামিদ, নির্বাহী সদস্য, ডিইউজে ০১৭১৬০০৯৯৬৫ | 6 |
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, জাতিকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চলছে। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যসুরক্ষাবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার সকালে রাজধানীর কদমতলী এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুলড্রেস, শিক্ষা উপকরণ ও খাবার বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ করোনার সময়ে প্রথমেই তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিয়েছে। অথচ আমাদের দেশের সরকার সম্পূর্ণ বিপরীত ভূমিকা পালন করছে। এমনকি বর্তমান সময়ে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তাদের অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসুরক্ষাবিধি মেনে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আবদুল জব্বার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য যুবনেতা কামাল হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, শাহীন আহমদ খান প্রমুখ। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, মানবজাতিকে দিক-নির্দেশনা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রথম বাণী- ইকরা বা 'পড়'। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা ছোট্ট সোনামণি ছাত্রছাত্রীদের হাতে স্কুলড্রেস তুলে দিতে এখানে এসেছি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ছোট্ট শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে যারা সুবিধা বঞ্চিত ও অসচ্ছল সেসব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটা প্রকল্প করে তাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। শিশুদের উদ্দেশে ড. মাসুদ আরো বলেন, তোমাদেরকে পড়াশোনা করে জ্ঞানী হতে হবে। দেশ ও সমাজকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আগামী প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, করোনার সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। করোনাকালীন সময়ে বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অন্যান্য জনসম্পৃক্ত সকল কার্যক্রম চলছে। শুধুমাত্র দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে রক্ষার জন্য স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দাবিতে তিনি সচেতন অভিভাবকমহলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি | 9 |
রাজধানীতে ডেঙ্গু তথা মশক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সঙ্গে কাজ করবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও-হু)। আজ শনিবার রাজধানীর বনানীতে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকনের বাসভবনে এক বৈঠক শেষে এমনটাই জানায় ডব্লিউএইচও'র প্রতিনিধি দল। সাঈদ খোকনের সঙ্গে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে ডব্লিউএইচও'র ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ড. এডউইন স্যানিজা স্যালভেদর। দুই পক্ষের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ড. এডউইন স্যানিজা স্যালভেদর বলেন, মশক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করতে চাই। তারই অংশ হিসেবে আজ মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করেছি। দুই পক্ষের তথ্য এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছি। কিভাবে আমরা একসঙ্গে কাজ করে সমস্যার সমাধান করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। স্যানিজা স্যালভেদর আরও বলেন, যে জায়গাগুলোতে সমস্যা আছে, সেগুলোর সমাধান বের করতেই কাজ করবো আমরা। এডিস মশা বাংলাদেশে নতুন আসেনি, অনেক আগে থেকেই ছিল। এই সমস্যা মোকাবিলায় সঠিক পরিকল্পনা দরকার। আশেপাশের দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এবং বাংলাদেশে ডেঙ্গুর আগের বছরের চিত্র দেখলে দেখা যাবে যে, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার দিক থেকে সার্বিক পরিস্থিতি বেশ জটিল। তবে মহামারি বা আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু না এখনো। অন্যদিকে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু পয়েন্ট দিয়েছি। যেমন আমাদের ওষুধগুলো কার্যকর কিনা তারা পরীক্ষা করে দেখবে, ওষুধে কোনো পরিবর্তন দরকার কিনা, দরকার হলে তা কেমন হবে, নতুন কোনো ওষুধ দরকার কিনা- এসব তারা আমাদের অতি দ্রুততম সময়ে জানাবেন। তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে জনসচেতনতার প্রতি আবারও জোর দেন মেয়র। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি। তবুও আমাদের আশেপাশের অনেক দেশের তুলনায় আমরা ভালো অবস্থানে আছি। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। আর এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমরা সচেতন হতে না পারলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করবে। ডব্লিউএইচও এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিলে নেওয়া যৌথ পদক্ষেপগুলো প্রতি সাত থেকে দশদিন পরপর মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান মেয়র সাঈদ খোকন। | 6 |
দিনাজপুর কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (রাজবাটি) খামারে বারি সরিষা-১৮ জাতের উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ শীর্ষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে বিএআরআই, জয়দেবপুর, গাজীপুরের, তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্রের, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. মো. সেলিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. শ্রীপতি শিকদার। মাঠ দিবসে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বীজ প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. শামীম আরা বেগম, মো. আরাফাত হোসেন, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বীজ প্রযুক্তি বিভাগ, বিএআরআই, গাজীপুর, মোছা. মাহবুবা খানম, বৈজ্ঞানক কর্মকর্তা, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, দিনাজপুর। তৈলবীজ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের (বারি অংশ) অর্থায়নে ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, দিনাজপুরের আয়োজনে উক্ত মাঠ দিবস সম্পন্ন হয়। উক্ত মাঠ দিবসে ৭০ জন আদর্শ কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত হয়ে সরেজমিন তৈল ফসলের মাঠ ও প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত হয়। এ ব্যাপারে কৃষি বিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শামসুল হুদা জানান, বারি সরিষা-১৮ জাতটি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বপন করে ফেব্রুয়ারির শেষ হতে মার্চের প্রথম সপ্তাহে উত্তোলন করা হয়। এই জাতে ইরুসিক এসিড ১.০৬% (সাধারণ সরিষার ২০-২৫%) বিধায় ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী। জাতটি দিনাজপুর অঞ্চলের জন্য উপযোগী। এই সরিষা চাষ করে কৃষক ব্যাপক লাভবান হতে পারবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
১৩০টি দেশের চলচ্চিত্র নিয়ে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ১৬তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব। আগামী এক মাসের মধ্যে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ট্রাভেলিং ফেস্টিভ্যাল শিরোনামে। আজ বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত এই উৎসব এবারে মোট ৭টি ভেন্যুতে প্রদর্শন করা হবে। এবারের উৎসব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। আয়োজনটি চলবে আগামী ৪ মার্চ পর্যন্ত। সংবাদ সম্মেলনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এবারের উৎসব দেশের বিভিন্ন বিভাগে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে ঢাকা শহরের বাইরের দর্শকে বিশ্বমানের চলচ্চিত্রগুলো দেখতে পারেন। উৎসবে ৩ হাজার ৮৬২টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। এর মধ্য থেকে বাছাই কমিটি ৪১৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত করেছে।চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারম্যান নাসিরুদ্দীন ইউসূফ বলেন, এটি একটি শিল্প, সাহিত্য ও সামাজিক আন্দোলন। এখানে আমরা সামাজিকভাবে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হই। আর যেহেতু এখানে বিশ্বের নানান দেশের সিনেমা দেখানো হয়, তাই এখানে বিভিন্ন শিল্প ও সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকে। তরুণদের জন্য এটি অনেক বড় একটি জায়গা। তাঁরা প্রবীণদের কাছে অনেক বিষয় নিয়ে জানতে পারবেন। আবার প্রবীণেরাও তাঁদের কাছে অনেক বিষয়ে অনুপ্রেরণা পাবেন।চলচ্চিত্র উৎসবের ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম কচি বলেন, এই আয়োজনের একটি আলাদা মর্যাদা আছে। ১৬তম আয়োজনে বিভিন্ন দেশের অনেকগুলো বিখ্যাত সিনেমা দেখানো হবে। এই সুযোগ এর আগে কখনোই আসেনি। তাই সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। | 2 |
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, 'দেশের কোথাও আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা অত্যাচারের অভিযোগ পাওয়া গেলে সরকার কঠোর হস্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমান সরকার সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। যেখানে এর ব্যত্যয় ঘটবে, সেখানেই সরকার শক্ত হাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের সংবিধান অত্যন্ত মানবাধিকারবান্ধব বলে এ সময় দাবি করেন মন্ত্রী।
স্বাধীনতার ২১ বছর পরও দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছিল- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিনা বিচারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হত্যাকাণ্ড অবিচারিক অবস্থায় ছিল। এক্ষেত্রে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যাসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা হয়েছিল। তার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ২১ বছর পর মামলা হয়েছিল। এগুলো কি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়?
তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। মানবাধিকারকে আমরা সম্মান করি। কোনো মানুষের যেন মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয় সেজন্য সরকার সচেষ্ট রয়েছে। যেখানে অভিযোগে পাওয়া যাবে সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম।
তিনি বলেন, 'আমি ক্রসফায়ারে বিশ্বাস করি না। সুবিচার নিশ্চিত করতে হলে সন্ত্রাস, গুম হত্যা সমাজ থেকে এসব পরিহার করতে হবে। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।'
এর আগে সকালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে বাংলা একাডেমি থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
| 6 |
হারারে টেস্টে কাল প্রথম দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি লিটন দাসের ইনিংসটা। তবে লিটনের নিশ্চয়ই আক্ষেপ হচ্ছে এ ইনিংসটা নিয়েই! সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ফিরেছেন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৫ রান করে। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪২ ইনিংসে এ নিয়ে নয়বার পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেও সেঞ্চুরির দেখা পাননি লিটন, যেটা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ।জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কাল লিটনের সুযোগ এসেছিল টেস্টে সেঞ্চুরির আক্ষেপ ঘোচানোর। তবে আরও একবার তিনি ফিরেছেন নড়বড়ে নব্বইয়ে কাটা পড়ে। এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। স্কোরবোর্ডে ১৩২ রান তুলতেই ফিরে গেছেন ছয় ব্যাটসম্যান। ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন লিটন আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।দুর্দান্ত ব্যাটিং করা লিটন যেমন আশা দেখিয়েছেন, তেমনি হতাশও করেছেন দিনের শেষ দিকে উইকেটটা বিলিয়ে দিয়ে এসে। ডোনাল্ড ত্রিপানোর শর্ট বলটা পুল করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন ভিক্টর নোয়াচির হাতে। লিটন তখন সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে। এর আগে আরও একবার ৯০-এর ঘরে কাটা পড়েছেন লিটন। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ৯৪ করে ফিরেছিলেন তিনি।ফিফটি পেরোনো বাকি সাত ইনিংসে তিনবার লিটন আউট হয়েছেন ৬৯, ৭০ ও ৭১ রান করে। তিনবার আউট হয়েছেন ৫০ থেকে ৬০ রানের মধ্যে। ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে না পারার এই তালিকা লিটনের শুধু লম্বাই হচ্ছে। সেঞ্চুরি ছাড়াই টেস্টে লিটনের রান ১২২৯। আর এতেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেঞ্চুরি ছাড়া সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে তিনি পেছনে ফেলেছেন রাজিন সালেহকে। রাজিনের রান ছিল ২৪ টেস্টে ১১৪১।ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে না পারার সান্ত্বনা অবশ্য লিটন খুঁজে নিতে পারেন লঙ্কান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকভেলার কাছ থেকে। ক্যারিয়ারে ১৮ ফিফটির বিপরীতে নেই তাঁর একটিও সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কান এই ব্যাটসম্যান ৮০ ইনিংসে ১৮ বার পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেও দেখা পাননি টেস্ট সেঞ্চুরির।ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার কাজে ফাওয়াদ আলম আবার হাঁটেন বিপরীত পথে। পঞ্চাশ পেরোলেই তিনি সেটিকে টেনে নিয়ে যান শতকে। ক্যারিয়ারে যে চারবার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন, সেঞ্চুরি করেছেন প্রতিটিতেই। সর্বশেষ ১৯৬৬ সালে ইংলিশ ক্রিকেটার জন এডরিচ এই কীর্তি গড়েছিলেন। এর ৫৫ বছর পর ফাওয়াদ আলম তাঁর সেই রেকর্ড স্পর্শ করছিলেন এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টেই। | 12 |
চারদিক কলুষিত হয়ে গেছে। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চলছে। গণতন্ত্র আর নেই। রাজতন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। শেষ বয়সের জন্মদিনে এভাবেই আক্ষেপ করে বলছিলেন মাধবী মুখোপাধ্যায়। ৭৯-এ পা দিয়ে বলছেন, এই জন্মদিন যেন তার শেষ জন্মদিন হয়। ''আমাকে প্রণাম কেন জানাচ্ছেন? এই তো আজ জন্মালাম! আন্দবাজারকে এভাবেই বলছিলেন তিনি। জন্মদিনে মুখে হাসি আসলেও ধরে রাখতে পারছেন না। বললেন 'আজ সকাল থেকেই এত শুভেচ্ছার মধ্যেও মনে পড়ছে ভানুদার ওই কথা। আশিতে আশিও না। আমি আর বাঁচতে চাই না। অনেক হয়েছে।' মহানগরে আর থাকতে পারছেন না চারুলতা। মেয়ে জোর করেছে তাই রাত্রে টলি ক্লাবে জন্মদিনের ডিনারটা সারবেন। কিন্তু জন্মদিনে নতুন শাড়ির প্রসঙ্গ তুলতেই থামিয়ে দিয়ে বললেন, মাধবী বলেন, ''ছোটবেলায় মা ছিল। নতুন জামা পরতাম। মা নিজের হাতে রসগোল্লা তৈরি করত। এখন আর কী জন্মদিন? প্রতিবেশীরা জন্মদিনে তার প্রিয় রান্না করে পাঠিয়েছেন। কেউ বা উপহার দিয়েছেন। তবুও ঘুরে ফিরে তিনি বললেন, ''এ জন্মদিন আর চাই না। যে বিরোধী দল প্রকাশ্য জনসভায় 'গোলি মার দো' বলতে পারে তারা দেশের মানুষকে কী দেখবে? হিন্দু-মুসলিম সবই তো এক। হিন্দু-মুসলিমকে লড়িয়ে তো ক্রমশ সব শেষ হয়ে যাবে'' | 2 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতিবাজ, খুনি-সন্ত্রাসীদের দলে ভেড়াবেন না। আওয়ামী লীগে দূষিত রক্তের প্রয়োজন নেই। খারাপ লোকদের বিতাড়িত করে ভালো লোকদের শেখ হাসিনার দরজায় প্রবেশের সুযোগ দেবেন। মঙ্গলবার খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে অনুষ্ঠিত মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, মঞ্চ যত বাড়ছে, নেতাও তত বাড়ছে। নেতা যত বাড়ছে, কর্মী তত কমছে। এখন পোস্টার-ব্যানার লাগাতে কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না। টোকাই দিয়ে ভাড়া করা লোক দিয়ে পোস্টার লাগাতে হয়। কর্মীরা এখন নেতা, কে লাগাবে পোস্টার? তিনি বলেন, ছবি টাঙিয়ে, বিলবোর্ড প্রদর্শন করে নেতা হওয়া যায় না। নেতা হতে হলে নেতৃত্বের যোগ্যতা, কর্মীদের ভালবাসা অর্জন করতে হবে। নেতাদের উদ্দেশ্য করে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঘরের মধ্যে ঘর করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি খাটাবেন না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক কর্মীর কোনো পরিচয় নেই। ঘরে গিয়ে তারা কিছু বলতে পারে না। এসব কর্মীদের মূল্যায়ন করুন। কর্মীরা বাঁচলে আওয়ামী লীগ বাঁচবে। দুঃসময়ের কর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদীদের নেতা বানাবেন, সময় এলে এসব সুবিধাবাদীরা থাকবে না। দুঃসময় এলে বসন্তের কোকিলেরা হারিয়ে যাবে। শুদ্ধি অভিযানকে শেখ হাসিনার ডাইরেক্ট অ্যাকশন বলে মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী। তিনি বলেন, খুলনায় কেউ গ্রেপ্তার হচ্ছে না বলে ভাববেন না তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কিছু জানেন না। তিনি সব কিছু জানেন। চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসীরা সাবধান। কখন কে ধরা পড়বে বলা মুশকিল। আপনারা সতর্ক হয়ে যান। ভালো হয়ে যান। বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত না হতে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বিএনপি এখন পথহারা পথিকের মতো দিশেহারা। বিএনপির রাজনীতি ভুলের চোরাবালিতে আটকে গেছে। একে একে উইকেট পড়ছে। দু'টি উইকেট পড়েছে, আরও উইকেট পড়ার অপেক্ষায়। তিনি বলেন, বিএনপির অপর নাম এখন নালিশ পার্টি। মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখে দুর্নীতিবিরোধী কথা ভূতের মুখে মুখে রাম রাম ধ্বনি। হাওয়া ভবন দুর্নীতি ভবন, মানুষ বলে খাওয়া ভবন। এসময় বিএনপির আন্দোলনের ঘোষণা নিয়ে হাস্যরস করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, এই মাস না ওই মাস। দেখতে দেখতে ১১ বছর কেটে গেছে। আন্দোলন হবে কোন মাসে? দুর্নীতিগ্রস্ত ও সন্ত্রাসী বিএনপিকে মানুষ আর ক্ষমতায় আসতে দেবে না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য প্রধান বিচারপতির এজলাসে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন তা নজিরবিহীন। এ ঘটনা দেখে বোঝা যায় বিএনপি কতোটা উচ্ছৃংখল। তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় আসার পরে যারা অনুপ্রবেশ করেছে তারাই টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এসব অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে দলকে মুক্ত রাখতে হবে। এর আগে সকাল ১০টায় দলীয় পতাকা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ড. মশিউর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। বিশেষ বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও নির্বাহী সদস্য মির্জা আজম, খুলনা-২ আসনের সাংসদ শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, বাগেরহাট-২ আসনের সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম মিলন, সাবেক মৎস্য মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সাংসদ গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশদ। পরিচালনা করেন নগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান ও জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত কুমার অধিকারী। নতুন কমিটিতে চমক: দ্বিতীয় অধিবেশনে বিকাল ৪টায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন। সম্মেলনে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন তালুকদার আবদুল খালেক। এই পদে আর কোনো প্রার্থী ছিলো না। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা। সম্মেলনে মহানগর সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদকসহ ৫ জন প্রার্থী আলোচনায় ছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে কম আলোচিত ছিলেন বাবুল রানা। দলের মধ্যে সৎ ও ত্যাগী নেতা হিসেবে সুনাম রয়েছে তার। সম্মেলনে আড়াই শতাধিক তোরণ এবং কয়েক হাজার ফেস্টুনের কোথাও বাবুল রানার নাম কিংবা ছবি ছিলো না। আলোচিত নেতাদের টপকে তার সাধারণ সম্পাদক হওয়া ছিলো সম্মেলনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। জেলা সম্মেলনে সভাপতি পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন শেখ হারুনুর রশীদ। ১৯৯২ সাল থেকে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। এই পদে প্রার্থী ছিলেন ৩ জন। শেষ পর্যন্ত তার ওপরই আস্থা রেখেছেন নেত্রী। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন ৯ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে কম আলোচিত অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। | 6 |
যশোরের মনিরামপুরে বলিয়ানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিটের ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলুকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার সোমবার অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসার ড. তৌহিদুর রহমান নুরুন্নবি মঙ্গলবার বরখাস্তের তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা যায়, উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের বলিয়ানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলু গত ১৩ মার্চ শ্রেণিকক্ষে না গিয়ে অফিসে বসে মোবাইল ফোন নিয়ে আড্ডায় মেতেছিলেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক রেজাউল হোসেন তাকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য বার বার চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু তিনি না শুনে মোবাইল ফোন নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শী সহকারী শিক্ষক আনিচুর রহমান ও ডলি রানী বিশ্বাস জানান, ১৩ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে তারা প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠকে বসে নতুন রুটিন তৈরি করেন। কিন্তু এ রুটিন নিয়ে সহকারী শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলু আপত্তি করেন। পরে প্রধান শিক্ষক দুপুরের খাবার খেতে বসেন। এ সময় সময় ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলু চেয়ার নিয়ে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়। পরে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। ফলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেহেলী ফেরদৌস ১৪ মার্চ সহকারী শিক্ষা অফিসার জহির উদ্দিন, ড. তৌহিদুর রহমান নুরুন্নবী ও নাজমুল হাসানের সমন্বয়ে তদন্ত টিম গঠন করেন। তদন্ত টিমের সদস্য ঢাকুরিয়া ক্লাষ্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারি শিক্ষা অফিসার ড. তৌহিদুর রহমান নুরুন্নবী জানান, তদন্তে সহকারী শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলুর বিরুদ্ধে সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় যায়। উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেহেলী ফেরদৌস জানান, তদন্ত টিমের সুপারিশ অনুসারে সহকারী শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলুকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বরখাস্তের ঘটনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক রেজাউল হোসেন বলেন, একজন শিক্ষক হয়ে অন্য শিক্ষকের ওপর যেন আর কেউ এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা না ঘটায়। তবে বরখাস্তের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক অহেদুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভড করেননি। | 6 |
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শাহীন আলম (২৪) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের সিটি সাইবার টিম।আজ শনিবার দুপুরে চক্রের সদস্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) (কনফিডেনশিয়াল) সাইদ নাসিরুল্লাহ।সাইদ নাসিরুল্লাহ জানান, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা ও ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল একটি চক্র। এই চক্রের হাতে প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম জব্দ করা হয়েছে।গ্রেপ্তার শাহীন আলমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে নাসিরুল্লাহ জানান, ফেসবুকে গ্রুপ খুলে রাকিবুল ইসলাম নামে একটি ভুয়া আইডি থেকে মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহ করার আশ্বাসে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। এভাবে প্রশ্ন ফাঁসের আশ্বাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করে আসছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন শাহীন।শাহীন আলমকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। | 6 |
ঝালকাঠির কাঠালিয়ার সাফিয়া বেগম (৫৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে ভুল বানানের একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে প্রথম অংশে দুবার ছেলের নাম, পরে নিজের নামসহ লেখা রয়েছে, 'দুলাল দুলালরে সাফিয়া আমার সামির ছেলের কোনো দোসে দাই না আমার ভুলের ছতোনায়ে মরলাম।'গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আওরাবুনিয়া (কুড়িরহাওলা) গ্রাম থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাফিয়া বেগম ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আ. জব্বার মাঝির প্রথম স্ত্রী।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে ঘরের দরজা খোলা থাকায় বাড়ির লোকজন তাঁকে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কয়েকজন নারী ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় পেছনের রুমের আড়ার সঙ্গে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। বিষয়টি পুলিশকে জানালে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।এ বিষয়ে কাঠালিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহিন জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। | 6 |
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামি গোলজার হোসেন (৬০) মারা গেছেন। শনিবার (২৮ আগস্ট) সকালে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানান, সাবেক বিডিআর সদস্য ছিলেন তিনি। তার বাবার নাম বয়ান শেখ। বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর নুরপুর গ্রামে। কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মৃতদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। | 6 |
নেপালে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় প্রায় তিন সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার সরকারের এক মুখপাত্র একথা জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর। এ খবর নিশ্চিত করে দেশটির শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দীপক শর্মা বলেছেন, স্কুল ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। যদিও ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি চলবে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে স্কুল বন্ধ রেখে লাগাতার সংক্রমণের রাশ আপাতত টেনে ধরা যাবে বলেই আশা করছে কর্তৃপক্ষ। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 4 |
ফের করোনা নিয়ে আশঙ্কার বার্তা দিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস অ্যাঢানম গ্যাব্রিয়াসাস। হু প্রধানের দাবি, চলতি বছরে ২০২০ সালের থেকেও বেশি মারাত্মক আকার ধারণ করবে করোনা ভাইরাস। টেড্রোসের বক্তব্য, 'করোনা যে আরও বেশি মারাত্মক হতে চলছে, তার ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই আমরা পেয়ে গেছি।' দেড় বছর আগে করোনার হদিস মিলেছিল চীনে। তবে চীন সেই ধাক্কা সামলে উঠেছে। তবে চীন থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে সারা বিশ্বে। এবং বিশ্ব এখনও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। এদিকে যখনই করোনার উৎস সন্ধানের চেষ্টা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক মহল, তখনই বেজিং বাধা দিয়েছে বলে দাবি অনেকের। এই আবহে অস্ট্রেলিয়ার এক ওয়েবসাইটের দাবি, ২০১৫ সালেই করোনাকে জৈব অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার কথা ভেবেছিল চীন। এই পরিস্থিতিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পার করল ভারতে। পরিস্থিতি খুব এখটা ভালো নয় জাপানেও। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জারি হয়েছে লকডাউন। এদিকে জাপানেও জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে টোকিও, হিরোসিমা, ওকায়ামা এবং হোক্কাইডোর মতো শহরে। এবং জাপানে জরুরি অবস্থা জারি হতেই হু প্রধান দাবি করলেন, ২০২০-র থেকেও ভয়ঙ্কর হবে ২০২১। | 3 |
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে নাইজেরিয়ায় প্রেসিডেন্টের একমাত্র ছেলে ইউসুফ বুহারির বিয়ে হয়েছে দেশটির অন্যতম প্রধান ধর্মীয় নেতার মেয়ে জাহরা নাসির বায়েরোর সঙ্গে। বর-কনের দেখা হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। সেখানে পড়তে গিয়েছিলেন তারা। নাইজেরিয়ার কানে রাজ্যে আয়োজিত দুই প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানের বিয়েতে আড়ম্বরের কোনো কমতি ছিল না। এমির অব বিচি প্যালেসে এই বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন কয়েক হাজার মানুষ। বিয়ে উপলক্ষে কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন ধরে বিয়ের এ অনুষ্ঠান চলে। সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে ৭০টির বেশি ব্যক্তিগত বিমানে অতিথিরা আসেন। বেশির ভাগ অতিথিই মাস্ক পরেছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন যোগাযোগমন্ত্রী ইমাম ইসা আলী পানতামি। বিয়ের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অঞ্চলের গভর্নর, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতা যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুশারির পূর্বসূরি গুডলাক জোনাথন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে বুশারি তাকে পরাজিত করেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ছিলেন গাম্বিয়ার ফার্স্ট লেডি ফাতৌমাতা বাহ ব্যারো ও প্রতিবেশী দেশ নাইজারের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু ইসোউফু। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
টাঙ্গাইলের সখীপুরে পর্যটন কেন্দ্রের দর্শনার্থী ও বিভিন্ন বাজারের দোকানী এবং পথচারীদের জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পৃথকভাবে এ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হা- মীম তাবাসসুম প্রভা। আদালত সূত্রে জানা যায়, চলমান লকডাউন অমান্য করে বিনোদন কেন্দ্র বেড়াতে আসা জনসাধারণ ও উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকনীসহ পথচারীদের জরিমানা করা হয়। পৃথকভাবে দু'টি ভ্রামমাণ আদালতে ২৬টি মামলায় ৩২,৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 4 |
সারা দেশে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন ১৯ জুন প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বুধবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে শিশুদের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২২ এর উদ্বোধন করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুকে নিকটস্থ ইপিআই ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬-১১ মাস বয়সী ২৪ লাখের অধিক শিশুকে নীল রঙের ১টি করে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ১২-৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখের অধিক শিশুকে লাল রঙের ১টি করে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়াও জন্মের পর (১ ঘন্টার মধ্যে) শিশুকে শালদুধ খাওয়ানোসহ প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো বিষয়ে পুষ্টি বার্তা প্রচার করা হবে। প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রের মাধ্যমে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। প্রতি কেন্দ্রে ২ জন করে মোট ২ লাখ ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক এই কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবে। ১২টি জেলার ৪৬টি উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়নকে দুর্গম এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশু অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই ভিটামিন-এ প্লাসের গুণাগুণ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ভিটামিন 'এ' দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। ভিটামিন 'এ' শিশুর স্বাভাবিক দৃষ্টি শক্তি বজায় রাখে ফলে শিশু রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা পায়। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল বাসার মোহাম্ম্দ খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় পুষ্টি সেবার লাইন ডাইরেক্টর ডা. এস. এম. মোস্তাফিজুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। | 4 |
ই- কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপের চেয়ারম্যান জ্যাক মাকে সরিয়ে এবার চীনের শীর্ষ ধনী হলেন ঝং শানশান। বোতলজাত পানি বিক্রি করেই ব্লুমবার্গের বিলিয়নিয়ার ইনডেক্সে চীনের ধনীর তালিকায় শীর্ষস্থানে চলে এসেছেন তিনি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ঝং শানশান ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর পানি বিক্রির কোম্পানি নংফু স্প্রিং। সম্প্রতি তাঁর কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ায় এবং যে ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক কোম্পানির অংশীদার তিনি সেই অংশের দর বেড়ে যাওয়ায় তাঁর ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। বর্তমানে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী তিনি। তার আগে আছেন ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান মুকেশ আম্বানি। এ ছাড়া বিশ্ব-৫০০ ধনীর তালিকায় জংয়ের অবস্থান ১৭ তে। সাধারণত চীনের শীর্ষ ধনীদের বেশির ভাগই প্রযুক্তি খাত থেকে উঠে আসেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে এবং হুয়াওয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের খড়্গের কারণে চীনা কোম্পানিগুলো বেশ বিপাকে পড়েছে। টিকটক, উইচ্যাটের মতো কোম্পানিগুলোর বাজার দর বেশ কমেছে। সেই জায়গায় উঠে আসছে চীনের খাদ্য খাতের কোম্পানিগুলো। ঝংই তার বড় উদাহরণ। এপ্রিলে ঝংয়ের বেইজিং ওয়ান্টাই বায়োলজিকাল ফার্মাসি এন্টারপ্রাইজ চীনা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। কেবল আগস্টে ফার্মে তার নিয়ন্ত্রণকারী অংশটির সম্পদ ২ হাজার কোটি ডলার বেড়েছে। অন্যদিকে এই মাসের শুরুতে হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথম দিনই নংফু স্প্রিংয়ের শেয়ারের দর ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। দেশের ছোট বড় সব ধরনের স্টোরেই মেলে নংফু স্প্রিংয়ের পানি। কোম্পানিটি চা, স্বাদযুক্ত ভিটামিন পানীয় এবং জুসও বিক্রি করে। | 0 |
বরগুনার তালতলীতে এক কৃষকের তিন একর জমিতে পানি দিয়ে খেসারিখেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার পাওয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কৃষকের অভিযোগ, এতে তাঁর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তালতলী থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নিশানবাড়ি ইউনিয়নের পাওয়াপাড়া গ্রামের কৃষক রাসেল হাওলাদার তাঁর তিন একর কৃষি জমিতে খেসারি ডাল রোপণ করেন। জমিতে খেসারির বাম্পার ফলনের আশা দেখছেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার রাতে বিআরডিসির সেচ মেশিন দিয়ে ওই এলাকার কালাম ও আরিফ নামের দুই কৃষক রাসেলের জমিতে পানি উত্তোলন করেন। এতে রাসেলের ৩ একর জমির খেসারি ডালের গাছ গুলো বিবর্ণ হয়ে মরে যেতে শুরু করেছে। এতে রাসেলের প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।কৃষক রাসেল বলেন, 'কালাম ও আরিফ জোর করে আমার জমিতে পানি উঠিয়ে খেসারিখেত নষ্ট করে ফেলেছে। আমার বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তিন থেকে চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।'এ বিষয়ে কালাম বলেন, 'আমার জমি চাষাবাদের জন্য পানি উঠিয়েছি। তাঁদের জমি পাশাপাশি হওয়াতে আইল পার হয়ে সামান্য পানি তাঁর জমিতে গেছে। এতে তেমন কোনো ফসলের ক্ষতি হয়নি।'তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
একটা সময় ধান ভানার একমাত্র অবলম্বন ছিল ঢেঁকি। গ্রামের কৃষাণি থেকে শুরু করে জমিদারবাড়ি পর্যন্ত সর্বত্রই ছিল এর প্রচলন। ঘরে ঘরে চিড়া কোটা, চাল ও চালের গুঁড়া তৈরির জন্য ঢেঁকিই ছিল একমাত্র মাধ্যম। বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক ঢেঁকি গৃহস্থের সচ্ছলতা ও সুখ সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে প্রচলিত ছিল। শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জেও এখন পুরোপুরি যান্ত্রিক ঢেউ লেগেছে। ফলে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এ যন্ত্রটি একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে।সত্তরের দশকেও প্রায় প্রত্যেক কৃষকের বাড়িতে ঢেঁকি ছিল। ঢেঁকির ধুপুর-ধাপুর শব্দে মুখরিত ছিল গ্রামীণ জনপদ। আশির দশকের পর ইঞ্জিনচালিত ধান ভাঙা কল আমদানি শুরু হওয়ার পর গ্রামাঞ্চল থেকে ঢেঁকি বিলীন হওয়া শুরু হয়।ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলেন, আশ্বিন-কার্তিক মাস এলে বাঙালি জীবনাচরণের আরেকটি বড় অংশ ছিল নবান্ন উৎসব। সে সময় নতুন ধান ওঠাকে কেন্দ্র করে নবান্ন উৎসব শুরু হতো। সেই উৎসবে পরিবারের শিশু-কিশোররা কত আমোদ-আহ্লাদে নাচত আর গাইত। বাঙালি জীবনের এই উৎসবের সঙ্গেও ছিল ঢেঁকির সম্পর্ক। তিনি বলেন, ঢেঁকিছাঁটা চালের গুঁড়ো থেকে তৈরি হতো নানা ধরনের পিঠা। বাড়ি বাড়ি পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যেত।ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একটি পৌরসভা, ১০টি ইউনিয়ন এবং আলফাডাঙ্গার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে অধিকাংশ গ্রামেই ঢেঁকির দেখা মেলেনি। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। দিন দিন ঢেঁকি বিলুপ্ত হলেও একে সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই।বোয়ালমারীর চতুল ইউনিয়নের আরাজিবাইখির গ্রামে মৃত সোলায়মান শেখের বাড়িতে ঢেঁকি দেখা যায়। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়ির আশপাশের লোকজনের সুবিধার্থে গুঁড়ো তৈরি করার জন্য এ ঢেঁকি রাখা হয়েছে।আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের কঠুরাকান্দি গ্রামের গৃহবধূ দিলারা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই ঢেঁকি দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য মাড়াই করেছি। আগে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঢেঁকিতে চালের গুঁড়ো তৈরি করতে আসত। কিন্তু এখন আর তেমন কেউ আসে না। এখন সবাই মেশিনে চাল মাড়াই করে।আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহিদ হাসান বলেন, আগামী প্রজন্ম যাতে বাংলার এসব সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মেলবন্ধন স্থাপন করতে পারে, সে জন্য সরকারি বা বেসরকারিভাবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা জরুরি। তা না হলে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা গ্রামের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে না। | 6 |
যুব মহিলা লীগের পদ বাগিয়ে অভিজাত এলাকায় জমজমাট নারী ব্যবসাসহ ভয়ঙ্কর সব অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। নিজেকে পরিচয় দিতেন ক্ষমতার রাঘববোয়ালদের কর্মী হিসেবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে নেতাদের ফুল দিয়ে সেই ছবিরও অপব্যবহার করতেন তার সব খারাপ কাজে। শুধু গত এক মাসেই এই নারী রাজধানীর অভিজাত এক পাঁচ তারকা হোটেলে বিশাল অঙ্কের বিল পরিশোধ করেছেন। আর এ অর্থ খরচের কারণেই গোয়েন্দাদের চোখ পড়ে পাপিয়ার ওপর। একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে তার সব অপকর্মের কাহিনি। জানা গেছে, সব পাঁচ তারকা হোটেলেই ছিল পাপিয়ার এসকর্ট ব্যবসা। আলোচিত এই নারী হচ্ছেন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাাদক। তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবেও পরিচয় দিতেন। সর্বশেষ প্রচার করতেন সংরক্ষিত এমপি পদ পাচ্ছেন। কিন্তু তা না পেলেও থেমে ছিল না তার অপরাধমূলক কাজকর্ম। গতকাল সকালে স্বামী মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন, সাবিক্ষর খন্দকার (২৯), শেখ তায়্যিবা (২২)সহ আরও দুজন বিদেশে যাওয়ার প্রাক্কালে বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করেছে র্যাব। শুরুতে পাপিয়া প্রথমে নিজের দাপুটে অবস্থানের পরিচয় দেন। তবে কোনো কিছুতে গুরুত্ব না দিয়ে পাপিয়ার কাছ থেকে র্যাব কর্মকর্তারা উদ্ধার করতে থাকেন অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, এই পাপিয়া হেন অপকর্ম নেই, যার সঙ্গে জড়িত নন। পাঁচ তারকা হোটেলে নারী ও মাদক ব্যবসাই তার আয়ের মূল উৎস। দেশের অভিজাত কিছু মানুষ ও বিদেশিরাই এর গ্রাহক। ইন্টারনেটে স্কট সার্ভিস খুলে বসে খদ্দেরদের কাছে তাদের চাহিদামতো সুন্দরী তরুণী পাঠাতেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষিত সুন্দরী তরুণীদের সংগ্রহ করতেন। একপর্যায়ে তাদেরকে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করতেন পাপিয়া। এরই মধ্যে পাপিয়ার কাছ থেকে গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত অনেক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করেছেন র্যাব কর্মকর্তারা। গোপন ক্যামেরায় মেয়েদের ছবি ধারণ করে তাদের নিয়মিতভাবে ব্ল্যাকমেইল করতেন তিনি। পাপিয়ার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়- পাপিয়া বসে আছেন বাইজিবাড়ির সর্দারনির মতো। তার হাতে মোটা একটি বেতের লাঠি। তার কব্জায় থাকা মেয়েরা কথা না শুনলে পেটাতেন। পাপিয়া একাধিক অভিজাত হোটেলের রুম ভাড়া নিতেন নামে-বেনামে। সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত একটি হোটেলের প্রেসিডেনশিয়াল স্যুটে তার নামে পাওয়া গেছে। এই পাঁচ তারকা হোটেলে বিভিন্ন মেয়েকে পাপিয়া নিজেই নিয়ে যেতেন। তাদেরকে দিয়ে করাতেন অবৈধ দেহব্যবসা। এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছুই কবুল করেছেন পাপিয়া। | 6 |
বকেয়া বেতন পরিশোধ ও মজুরি বাড়ানোর দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় আজ মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকরা। সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৪ নম্বর সেক্টরের ২০ রোডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়কে পুলিশের ধাওয়া খেলে অলিতে গলিতে ঢুকে পড়েন শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে নানা স্লোগান ও বাসা-বাড়িতে ঢিলও ছোঁড়েন তারা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, একই দাবিতে রবি ও সোমবারও ওই এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে এক গৃহবধূর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে পৌর সদরের আঁধারকোঠা মহল্লা থেকে মোসা. নিলুফার ইয়াসমিন নামে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মোসা. নিলুফার ইয়াসমিন ওই বাড়িতে অধিকাংশ সময় একাই থাকতেন। তাঁর দুই ছেলে চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে পাশের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়া গ্রামে। নিলুফার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. আবুল খায়ের মণ্ডল ২০১৭ সালে মারা যান।নিহতের বড় মেয়ে প্রিয়াংকা খানম (২৩) জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মায়ের সঙ্গে তাঁর মোবাইলে কথা হয়। এ সময় তাঁর মা জানান, ব্যাংকে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর (প্রিয়াংকা) সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এ জন্য তিনি সকাল ৯টার দিকে মাকে ফোন দেন। কিন্তু রিং বাজলেও কেউ ফোন ধরেনি। এর আধা ঘণ্টা পর থেকে তিনি মায়ের ফোন বন্ধ পান।তিনি আরও জানান, এরপর বেলা ১২টার দিকে প্রতিবেশী পান্না রানী রাজবংশীকে ফোন করেন। প্রিয়াংকাদের বাড়ির ফটক বাইরে থেকে তালা দেওয়া রয়েছে বলে জানান ওই নারী। এরপর প্রিয়াংকা তাঁর মাকে ফোনে না পাওয়ার ঘটনা পাশের ধুলপুকুরিয়া গ্রামের নানা বাড়িতে জানান।নিহত গৃহবধূর ছোট বোন কবিতা ইসলাম (২৭) জানান, তিনি ও তাঁর মা বোনের খোঁজে ওই বাড়িতে এসে প্রধান ফটকে তালা লাগানো দেখতে পান। এ সময় তিনি বাড়ির প্রধান ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।কবিতা বলেন, 'ভেতরে ঢুকে আমি বিছানার ওপর বোনের ব্যবহৃত শাড়ি, ভ্যানিটি ব্যাগসহ চাবি পেয়ে যাই। চাবি দিয়ে ফটকের তালা খুলে আমার মাকে ভেতরে নিয়ে আসি। এরপর বোনের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করি ও আশপাশে খুঁজতে থাকি। একপর্যায়ে বাড়ির উঠোন দিয়ে বস্তা টেনে নেওয়ার দাগ ও আমার বোনের হাতের চুড়ির ভাঙা অংশ দেখতে পেয়ে আমাদের সন্দেহ বাড়তে থাকে।'নিহত নিলুফার অপর বোন দক্ষিণ হাসামদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তানজুন নাহার পলি বলেন, 'টিভিতে দেখা বিভিন্ন অপরাধ সিরিয়ালের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি পানির ড্রাম ও সেপটিক ট্যাংকের ভেতর আমার বোনকে খুঁজতে স্বজনদের পরামর্শ দিই। একপর্যায়ে বাড়ির পেছন দিকে সীমানা দেওয়ালের মধ্যে রিং বসিয়ে তৈরি করা সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা তুলে মানুষের পায়ের পাতার সামান্য অংশ দেখা যায়। বস্তায় ভরা লাশের বাকি অংশ ট্যাংকের পানিতে ডুবে ছিল। এরপর পুলিশ এসে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ট্যাংকের ভেতর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় আমার বোনের লাশ উদ্ধার করে।'এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, 'ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন করসহ পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। আমরা এখন পর্যন্ত হত্যার ঘটনার কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাইনি। তবে ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।' | 6 |
কোনো আলেম ওলামাদের তো নই, এমনকি বিএনপির কোনো নেতাকেও গ্রেপ্তার করেনি সরকার উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা আগুন, সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সড়ক জোন, বিআরটিসি ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন।ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিও দেখে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখানে কল্পকাহিনী তৈরির কোনো সুযোগ নেই। তিনি মনে করেন ঢাকা, হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে যেভাবে নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়েছে তা এখন দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, সন্ত্রাস আড়াল করে সন্ত্রাসীদের বাঁচাতে বিএনপিই মনগড়া কল্পকাহিনী তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে। ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, তথাকথিত ৭ নভেম্বর এবং ২১ আগস্ট ঘটিয়ে চক্রান্তের পথে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতায় যেতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই, তাই আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। করোনার ভ্যাকসিন সংগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তার দক্ষ ও মানবিক নেতৃত্বে প্রথম ডোজের মতো দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিনও বাংলাদেশ সময়মতো সংগ্রহ করবে ইনশাআল্লাহ। তিনি জানান, ভ্যাকসিন সংগ্রহে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। যারা ভ্যাকসিন নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তাদের মনের কথা হচ্ছে বাংলাদেশ যেন ভ্যাকসিন না পায় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা দেশ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী বক্তব্য এবং কাজে সিদ্ধহস্ত, যা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। শেখ হাসিনা সরকারের শেকড় এদেশের মাটির অনেক গভীরে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এদেশে সরকারের জনভিত্তি ঠিকই আছে, তবে গত একযুগ ধরে বিএনপির নানা আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে জনগণ প্রমাণ করে দিয়েছে তারা প্রকৃতপক্ষে জনবিচ্ছিন্ন। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির শেকড় বাংলাদেশের মাটির গভীরে নয়, অন্য কোথাও। করোনার এ সংকটকালে বিশ্বের সমৃদ্ধ দেশগুলোও যখন সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে তখন ভ্যাকসিন, আইসিইউ, অক্সিজেন ইত্যাদি নিয়ে সংকট তৈরি না করে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অধিকতর মনোযোগী হওয়া উচিত বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। ভ্যাকসিন নিলে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তাই মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে না, এসব কথা যারা ভাবেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ মনোযোগী হই, ঘরে ঘরে সমালোচনার পরিবর্তে সচেতনতা দুর্গ গড়ে তুলি। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করারও আহ্বান জানান।তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সড়কগুলোতেও গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন। মন্ত্রী বিআরটিসির বহরের গাড়িগুলোকে যথাযথ মেরামতের কাজ করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। বিআরটিএ'কে দালালের চক্র থেকে রক্ষা করতে ওবায়দুল কাদের আবারও কঠোর হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, তা না হলে বিআরটিএ জনগণের যথাযথ সেবা দিতে পারবে না। | 6 |
বিদেশি টাইলসের ট্যারিফ মূল্য কমানো হলেও দেশীয় টাইলসের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ১৫% সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করা হয়নি। বাসাবাড়ি, অফিস ভবন, কারখানা কিংবা অন্য যেকোনো স্থাপনায় ব্যবহৃত টাইলসের চাহিদার প্রায় ৮৪ শতাংশই জোগান দিচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। তারপরও আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় টাইলসের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করা হয়নি। অথচ বিদেশি টাইলস আমদানিতে ট্যারিফ মূল্য প্রতি বর্গমিটারে ১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত কমানো হয়েছে। তাতে আমদানি করা টাইলসের দাম প্রতি বর্গফুটে ১০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। সিরামিক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বাজেটে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাতে দেশে বিদেশি টাইলসের ব্যবসা বাড়বে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৩০টি প্রতিষ্ঠান টাইলস উৎপাদন করে। তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। বার্ষিক ২০ কোটি ৬৫ লাখ বর্গমিটার টাইলস উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে এসব কোম্পানির। সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার টাইলসের বাজারের মধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে ৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকার ব্যবসা। আর বিদেশি টাইলস বিক্রির পরিমাণ ৭৪১ কোটি টাকা। বাজেটের আগে বিসিএমইএ দেশীয় টাইলস উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং বিদেশি টাইলস আমদানিতে ন্যূনতম ট্যারিফ মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু বাজেটে সেই দাবি মানা হয়নি। উল্টো দেশীয় টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যের ডিলার ও পরিবেশকেরা উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যে কমিশন পান, তার ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। বিসিএমইএ সিরামিকের সিঙ্ক, বেসিন, পেডেস্টাল বেসিন, কমোড ও প্যানের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে যথাক্রমে ১৫ ও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানালেও তা করা হয়নি। তবে দেশীয় স্যানিটারি লং প্যানের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক এবং কিছু ক্ষেত্রে আরোপ করা নিয়ন্ত্রণমূলক ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি করেছিল বিসিএমইএ। দাবিটি বাস্তবায়ন হয়নি। অবশ্য কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। করপোরেট করহারও কমেছে। বাজেটে সিরামিক পণ্য উৎপাদনে কাঁচামালের অপচয় যৌক্তিক করার আহ্বান জানিয়েছিল বিসিএমইএ। সংগঠনটি বলেছে, সিরামিক খাতের ব্যবহৃত কাঁচামালের ৮০-৯০ শতাংশই প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ। সেই খনিজের মধ্যে জলীয় বাষ্প, লোহা ও পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। সে কারণে চূড়ান্ত উৎপাদন পর্যন্ত ৩০-৪০ শতাংশ প্রক্রিয়াগত লোকসান হয়ে থাকে। অথচ আমদানিতে শতভাগ পণ্যের ওপরই সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় করতে হয়। জানতে চাইলে বিসিএমইএর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, 'বাজেটে বিভিন্ন স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তবে সিরামিক খাতের ব্যবসায়ীরা কোনো সুরক্ষা পেলেন না। উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার না করে উল্টো আমদানি করা টাইলসের ট্যারিফ মূল্য কমানো হয়েছে। এতে আমদানি বেড়ে যাবে। আমরা উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হব।' | 0 |
সাত বছরের তাহের। নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মুলদাইড় গ্রামের মা-বাবাহারা এ শিশু পাঁচ বছর ধরে রয়েছে তার খালা রুমা আক্তারের কাছে। ঢাকায় গার্মেন্টে কাজ করা খালা নিজের কাছেই রেখে বড় করছেন তাহেরকে। এরই মধ্যে দুই বছর আগে শার্টে আগুন লেগে শরীরের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায় তাহেরের। সেই থেকে সে ঠিকভাবে কথা বলতে পারে না, মুখ বন্ধ করতে পারে না; ঠিকমতো খেতেও পারে না। প্রাণোচ্ছল শিশুটি শুধু মানুষের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। তার চিকিৎসায় দরিদ্র খালা রুমা মানুষের কাছে হাত পেতে এরই মধ্যে খরচ করেছেন দুই লাখ টাকার বেশি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় সাত মাস চিকিৎসাধীন ছিল সে। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাহেরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে শিগগিরই প্রয়োজন একটি অপারেশন। এ জন্য দরকার প্রায় এক লাখ টাকা। তাহেরের খালা রুমা আক্তার জানান, নিজের সঞ্চয় এবং অন্যদের কাছে হাত পেতে টাকা নিয়ে ভাগিনার চিকিৎসা করিয়েছেন। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চাকরি হারিয়ে নড়াইলে চলে আসেন। এখন চাহিদামতো খাবারেরই ব্যবস্থা করতে পারেন না; তাহেরের চিকিৎসা করাবেন কীভাবে! এ অবস্থায় শিশুটির চিকিৎসায় সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান মানুষের কাছে অর্থ সহায়তা চেয়েছেন তিনি। তাহেরের চিকিৎসায় সহায়তা করতে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন নম্বর :০১৯৬৭-৩৯৮৪৩০। | 6 |
কৃষকদের কাছে যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউরিয়া সার উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, সারের আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। তাইকোনো অনিবার্য কারণ ছাড়া কারখানার উৎপাদন বন্ধ করা যাবে না। জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকার কারণে সাম্প্রতিকসময়ে উৎপাদন বন্ধ করা প্রসংগে সচিব বলেন,' গ্যাসের সমস্যা সমাধানের জন্য পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার উৎপাদন ও মজুদের সঠিক হিসাব থাকতে হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে সারের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হবে।' শিল্প সচিব বলেন, 'কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় পানি ভূউপরিস্থ উৎস থেকে ব্যবহার করতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার কমাতে হবে।' এজন্য নিকটস্থ প্রাকৃতিক উৎস যমুনা নদী কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া কারখানার সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়ন করতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি, বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার, ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ করার উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন। উল্লেখ্য, জাপানের আর্থিক সহায়তায় মোট ২০০ একর জায়গা নিয়ে যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ইউরিয়া সার প্রায় ৫ লাখ ৬১ হাজার টন এবং এমোনিয়া প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার টন। মতবিনিময় সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস আলম, জামালপুরের জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামান, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ নদে বাল্কহেডের ধাক্কায় ইটবোঝাই ট্রলারসহ শ্রমিক মো. নুরুল ইসলাম (৩০) এবং মো. সাইফুল ইসলামের (২৮) লাশ ৩৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় ডুবুরিরা লাশ দুটো উদ্ধার করেন। তবে নিমজ্জিত সাত হাজার ইটবোঝাই ট্রলারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কলাপাড়া থানায় নিমজ্জিত ট্রলারের মালিক নিজাম শরীফ বাদী হয়ে বাল্কহেডের সাত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আজ রবিবার সকালে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রধান আসামি বাল্কহেড কর্মচারী নুরুজ্জামান এবং আফজাল হোসেন ও এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময় ঘাতক বাল্কহেডটি জব্দ করা হয়। কলাপাড়া থানার এসআই বিপ্লব মিস্ত্রি জানান, বাল্কহেডসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যহত রয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার শেষ বিকালে কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের মো. রুহুল আমীনের 'সততা' ইটভাটা থেকে একটি ট্রলার ইট বোঝাই করে গলাচিপা যাচ্ছিল। ওই দিন রাতে চাম্পাপুর ইউনিয়নের পাটুয়া লঞ্চঘাট এলাকায় ট্রলারটি নোঙর করে রেখে ঘুমিয়ে পরেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি বাল্কহেড এসে নোঙর করা ইট বোঝাই ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি সাত শ্রমিকসহ ডুবে যায়। নিমজ্জিত ট্রলারের উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা হচ্ছেন মো. নাসির উদ্দিন, মো. মাসুম, মো. রাসেল, মো. তোফাজ্জেল এবং মো. মানিক। এদের বাড়ি নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। নিখোঁজ দুই শ্রমিকের বাড়ি একই ইউনিয়নের বাইনবুনিয়া গ্রামে। | 6 |
সখীপুরে গোহালিয়া খালের পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কালিয়ান পাড়ায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু এর উদ্বোধন করেন।কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প খনন কাজের বাস্তবায়ন করছে বলে জানা গেছে।জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের শামসুল হকের বাড়ির পাশ থেকে তিরোজিয়া চালা সেতু পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার খালের পুনঃখনন করা হবে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারীর সভাপতিত্বে সহকারী প্রকৌশলী মুনতাসির মাহফুজ, উপসহকারী প্রকৌশলী রুবেল মিয়া ও ফজলুল হক, গজারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন, গজারিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়াসিম মিয়া, ইউপি সদস্য মো. শাহাদৎ হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রুমি আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
জ্যেষ্ঠ নেতাদের মূল্যায়ন না করার প্রতিবাদে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঁচ নেতা। জানা গেছে, আরও অনেক নেতারা পদত্যাগ করবেন।গত শনিবার বিকেলে মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির সহসভাপতি সৈয়দ মাহাতাব উদ্দিন, মো. হুমায়ুন কবির হাওলাদার, সদস্য আবদুস সাত্তার হাওলাদার, সৈয়দ আসাদুজ্জামান (জুয়েল), মো. মাসুম আকন পদত্যাগ করেন। তাঁরা সবাই মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে সৈয়দ মাহাতাব উদ্দিন ও মো. হুমায়ুন কবির বলেন, '২০০১ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন বর্তমান সভাপতি তরিকুল ইসলাম (তারেক) মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করেছিলেন। এ ছাড়া ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে অর্থের বিনিময়ে এই কমিটি দেওয়া হয়েছে। তাই কমিটির অবকাঠামোতে স্বপদে বহাল থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। তাই আমার পদ থেকে আমি পদত্যাগ করলাম।'পদত্যাগকৃত সদস্য মো. মাসুম আকন (মাস্টার) বলেন, 'আমি আগে দল করলেও এখন আমি কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমাকে না জানিয়ে কমিটিতে নাম রাখা হয়েছে। তাই আমি পদত্যাগ করেছি।'পাঁচ নেতার পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম (তারেক) বলেন, 'এখনো পদত্যাগপত্র হাতে পাইনি। লোকের মুখে শুনেছি তাঁরা পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া আমার বিষয়ে যে অভিযোগগুলি করেছেন সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।'উপজেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান বলেন, 'নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। আর তারা যেসব অভিযোগ এনেছেন সেগুলোর যদি উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে আমরা সেসব অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।'উল্লেখ্য, ১২ এপ্রিল মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেয় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক। ইউনিয়ন বিএনপির একাংশ নেতা-কর্মীর অভিযোগ ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নসহ স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মীকে অনুপস্থিত রাখার পাশাপাশি সিনিয়র নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে এ কমিটি করা হয়েছে। | 6 |
ঢাকা: স্টাম্পে লাথি মারা আর উপড়ে ফেলার কাণ্ডে তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা শেষে আজই মাঠে ফিরছেন মোহামেডানের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) এবারের মৌসুমে এটাই নাকি বাঁহাতি অলরাউন্ডারের শেষ ম্যাচ। আজ খেলে পরিবারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেবেন সাকিব।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও মোহামেডান ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, সাকিব এরই মধ্যে সুপার লিগে না খেলার বিষয়টি ক্লাবকে জানিয়েছেন। এখন বিসিবির অনুমতির অপেক্ষায় আছেন। অনুমতি মিললেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে উঠবেন সাকিব। মোহামেডানের হয়ে সুপার লিগে না খেললেও জিম্বাবুয়ে সফরে খেলার কথা সাকিবের। সে জন্যই বিসিবির অনুমতি নিয়ে রাখা।মোহামেডান ক্লাব সূত্রে অবশ্য আরও একটা ব্যাপার নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাকিবের সঙ্গে চুক্তিই ছিল মোহামেডান সুপার লিগে ওঠা পর্যন্ত।। মোহামেডান এখন সুপার লিগে উঠে গেছে। স্বাভাবিকভাবে তাই চুক্তি শেষ হতেই ক্লাব ছাড়ার কথা সাকিবের।মোহামেডানের কোচ মেহরাব হোসেন অপি এ বিষয়ে এখনো কিছুই জানেন না! আজকের পত্রিকাকে অপি বলেছেন, 'সাকিবের না থাকার বিষয়টি নিয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। সাকিব যদি না থাকে তবে তাকে ছাড়াই পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সাকিবের সঙ্গে চুক্তির শর্ত কি কিংবা সে কত ম্যাচ খেলবে, সেটাও আমাদের জানানো হয়নি।'আজ সন্ধ্যায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সাকিবের মোহামেডান। এই ম্যাচে সাকিব খেললেও না-ও করতে পারেন অধিনায়কত্ব। | 12 |
নওগাঁর মহাদেবপুরে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে অটোভ্যান ভাড়া নিয়ে যাওয়ার পথে চালক হাসান আলীকে গলা কেটে হত্যা করেন এখলাছ হোসেন ও তাঁর সহযোগী। পরে তাঁরা হাসানের অটোভ্যানটি ছিনতাই করে সেটি বিক্রির জন্য ওই চক্রের অপর সদস্য উপজেলার বনগ্রাম হঠাৎপাড়া গ্রামের ময়নুল ইসলামকে দেন।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল মান্নান মিয়া তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান।গত সোমবার বিকেলে হাসান আলীর হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মদনচক গ্রাম থেকে এখলাছ হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ওই দিন দুপুরে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি বিক্রির কাজে সহযোগিতার অভিযোগে মহাদেবপুরের ছাইতলতলী বাজার থেকে বনগ্রাম এলাকার ভ্যানচালক ময়নুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এখলাছ হোসেনের বাড়ি উপজেলার সফাপুর পূর্বপাড়া গ্রামে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, হাসান হত্যা মামলার তদন্তে নামার পর সোমবার দুপুরে মহাদবেপুর থানা-পুলিশ জানতে পারে, উপজেলার ছাইতনতলী বাজারে রক্তমাখা একটি অটোভ্যানসহ এক ব্যক্তিকে দেখা গেছে। তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে হাসানের ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানসহ ময়নুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদে ময়নুল পুলিশকে বলেন, উপজেলার সফাপুর পূর্বপাড়া গ্রামের এখলাছ হোসেন নামে তাঁর পরিচিত এক তরুণ গত শনিবার রাত ৯টার দিকে অটোভ্যানটি তাঁর কাছে নিয়ে আসেন এবং সেটি বিক্রি করে দিতে বলেন। অটোভ্যানটি বিক্রির জন্য সোমবার ছাইতনতলী বাজারে নিয়ে এসেছিলেন। ময়নুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মান্দা উপজেলার মদকচক গ্রাম থেকে হাসান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এখলাসকে সোমবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।আব্দুল মান্নান মিয়া আরও বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামলার প্রধান আসামি এখলাছ হোসেন হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে গত শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মহাদেবপুরের কুঞ্জবন মোড় থেকে খাজুর বাজারে যাওয়ার কথা বলে হাসানের ভ্যান ভাড়া করেন এখলাছ ও তাঁর সহযোগী। খাজুর বাজারে যাওয়ার পর তাঁরা চালককে বলেন ছাইতনতলী হাটে নামিয়ে দেওয়ার জন্য। ছাইতনতলী যাওয়ার পর তাঁরা বলেন শাবইল মোড়ে পর্যন্ত দিয়ে আসতে। শাবইল মোড়ে পৌঁছানোর পরেই এখলাছ পেছন থেকে হাসানের গলায় ছুড়ি চালিয়ে হত্যা করেন। পরে তাঁরা হাসানের লাশ রাস্তার পাশে ধানখেতে ফেলে রেখে অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যান।মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন বলেন, বিকেলে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে ভাড়ার উদ্দেশ্যে ইজিবাইক নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন হাসান। পরদিন সকালের দিকে উপজেলার গোফানগর শাবইল এলাকার একটি ধানখেত থেকে হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন হাসানের বাবা আহাদ আলী বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর এ ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। | 6 |
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ শুরু হচ্ছে আজ থেকে। আজ তাঁর শততম জন্মদিন। তাঁর শতবর্ষে দেশ শাসন করছেন তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনা। সূচনায় উত্তরাধিকারের বিবেচনা থাকলেও বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রত্যক্ষ সংগ্রামী রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি অর্জন করেছেন তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়। এতে প্রজ্ঞা ও দক্ষতারও প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের গতি ও পথ খুঁজে পেয়েছে। তিনি শক্ত হাতেই হাল ধরেছেন দেশের। বঙ্গবন্ধুর মূল রাজনৈতিক জীবন কেটেছিল বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মুক্তির পথের খোঁজে। দূরদর্শিতা, সাহস, জনদরদি মন এবং সময়োচিত রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে তিনি একসময় দেশ ও দেশবাসীর মুখ্য নেতায় উন্নীত হয়েছিলেন। ছয় দফার পথ ধরে তাঁর নেতৃত্বে জাতি স্বাধীন বাংলাদেশের গন্তব্যে পৌঁছেছিল। বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন জাতীয় নেতা, তাঁকে পেয়ে জনগণ ভরসা করার মতো নিজের নেতা পেল, সব আড় ও বিভেদ ভুলে একসময় এক দেশ এক নেতার ধারণায় পৌঁছেছিল মানুষ। তাঁকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করল জনগণ। তখন স্লোগান উঠেছিল-তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা এবং এক নেতা এক দেশ-বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি তিনি, তাঁকে দেওয়া হলো জাতির পিতার আসন। তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অবদান বোধ হয় স্বভাবত কলহপ্রবণ, বিভেদ ও বিতণ্ডায় অভ্যস্ত এক জনগোষ্ঠীকে একটিমাত্র মহৎ লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করতে পারা। একাত্তরের যুদ্ধদিনে বাঙালিমাত্রই তার ধর্ম-দেশ-পরিচয় ভুলে জয় বাংলার সৈনিকে রূপান্তরিত হয়েছিল। তাদের এই মহৎ জাগরণের পেছনে প্রেরণা দিয়েছে সাতই মার্চের ভাষণ এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের জাদুকরি স্পর্শ। কেবল ঐক্যবদ্ধ হওয়া নয়, সেদিন বাঙালি তার বহুকালের জড়তা-ভীরুতা ও মজ্জাগত আলস্য-দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে এক বীরের জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। তেমন বীর যারা কিনা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। বীরশ্রেষ্ঠ কিংবা ৩০ লাখ শহীদের ইতিহাসের পেছনে এমন নেতৃত্বের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের ফসল স্বাধীন বাংলাদেশ। তারপরে কিন্তু বাঙালি তার উচ্চ আদর্শ ও উন্নত নৈতিকতাকে ধরে রাখতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর দেশবাসীর কাছ থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনে যথোপযুক্ত সমর্থন-সহযোগিতা পাননি। স্বাধীনতার পরপরই ক্ষুদ্র স্বার্থ ও সংকীর্ণ চিন্তা ঐক্য, বীরত্ব ও ত্যাগের মহিমাকে ম্লান করতে শুরু করেছিল। বঙ্গবন্ধু দ্রুত একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান দিয়ে সুষ্ঠু রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নানা মহলের বিচিত্র স্বার্থের টানাপোড়েনে তাঁর উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়েছে। এত বাধার মধ্যেও অর্জন কম ছিল না। তিন মাসের মধ্যে বিজয়ী যৌথ বাহিনীর ভারতীয় সদস্যরা ফিরে গিয়েছিল, যা সামরিক ইতিহাসে একেবারেই অভূতপূর্ব ঘটনা। নয় মাসের মধ্যে দিলেন একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান, দেড় বছরের মাথায় নির্বাচন হলো, পৃথিবীর বড় সব দেশের স্বীকৃতি মিলল, জাতিসংঘসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ, প্রথম জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিলেন, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণীত হলো, পুনর্গঠন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন হলো-এমনি আরও দৃষ্টান্ত দেওয়া যায়। কিন্তু বাঙালিকে আর উচ্চ আদর্শে উন্নত নৈতিকতায় মহৎ প্রেরণায় উজ্জীবিত করা যায়নি। যে জাতি বীরশ্রেষ্ঠ আর অগণিত শহীদের জন্ম দিয়েছে, এবার সেই জাতি তৈরি করল বঙ্গবন্ধুর ভাষায়-চাটার দল। কিছু মানুষের প্রত্যাশা সব সীমা ছাড়িয়ে গেল, অনেকে যুদ্ধের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থোদ্ধারে সম্প্রসারিত করল। এইখানে বোধ হয় বলা দরকার ১৯৪৭-এর দেশভাগের পরে প্রথমে ভাষার প্রশ্নে পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তানবাদী রাজনীতির সঙ্গে বাঙালির যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তাতে ছাত্র ও রাজনীতিকদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকলেও দেশের শিল্পী-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের সক্রিয় ভূমিকাও ছিল বিশাল। এতে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার যে স্ফুরণ ঘটে, তা রাজনীতির গণ্ডি বা ক্ষমতার লড়াই কিংবা পালাবদলে সীমাবদ্ধ ছিল না। একটি গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী সামাজিক জাগরণ ঘটেছিল। পরবর্তী কালে গণতান্ত্রিক সব সংগ্রামে এই চেতনা রাজনীতির গণ্ডি ছাপিয়ে জীবনের সব স্তরকে ছুঁয়ে পূর্ণতা পেয়েছে। সমাজের এই জাগরণ ও অংশগ্রহণের সামগ্রিকতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল। সকল পর্যায়ের মানুষ তাঁর ওপর অগাধ আস্থা স্থাপন করেছিল, তিনিও তার যথার্থ প্রতিদান দিয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতার পরে যেমন রাজনৈতিক অঙ্গনে ভাঙন ও বিচ্ছেদের সুর শোনা গেল, তেমনি শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে জাতীয় বা স্বাদেশিক চেতনার ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে। শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীরা পুনরায় সেই দেশ ও মানবপ্রেমের চেতনা ফিরিয়ে আনতে পারেননি। ফলে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, তা আর টেকসই হয়নি। তা ছাড়া, ঘরোয়া সমাজজীবনের পরিসরে অভ্যস্ত তরুণদের মধ্যে আকস্মিকভাবে রণাঙ্গনের গোলাবারুদ, মৃত্যু-রক্ত, ধ্বংস-বিনাশের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তার ঘোর থেকে তাদের মুক্ত করে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ কাজটির কথা আমরা ভাবিনি-না রাজনৈতিক নেতৃত্ব, না বুদ্ধিজীবী-সমাজ। ফলে যুদ্ধ বা এর অভিজ্ঞতা অনেকের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে সমাজজীবনে এক নতুন ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে, যা অগ্রসর বুদ্ধিজীবী-সমাজও উপলব্ধি করতে পারেনি। এর খুবই বড় মূল্য দিতে হয়েছে আমাদের সমাজকে। বলা দরকার স্বাধীনতার পর থেকে এবং বিশেষভাবে পঁচাত্তরের পর থেকে রাজনীতি ক্রমে ক্ষমতার বৃত্তে বন্দী হয়েছে এবং সমাজকে কেবল গ্রাস নয়, তার ওপর যেন চেপে বসেছে। আর তাতে সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্র-শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, সমাজসেবা, মানবধর্ম ইত্যাদি সবই স্বকীয়তা ও সৃষ্টিশীলতা হারিয়ে বন্ধ্যত্ব ও অবক্ষয়ের শিকার হয়েছে। এ-ও সমাজের বড় খেসারতই বটে। যারা আমাদের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, যারা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদকে সন্দেহের চোখে দেখেছে, তারা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণমুখী প্রগতিশীল উত্থানকে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপদ্রব জ্ঞান করেছে, তারা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। তাদেরই প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের সেনাবাহিনীর একটি উচ্ছৃঙ্খল দল নির্মম হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিল। এরপর তাদের প্রতিনিধি হিসেবে জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের পাকিস্তানপন্থী যাত্রার সূচনা করেছিলেন। এই ধারা থেকে দেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। তবে তাঁর জন্য কাজটা মোটেও সহজ ছিল না, ইতিমধ্যে দেশের রাজনীতির চরম অবক্ষয় ঘটেছে, ছাত্ররাজনীতিও ক্ষমতার বৃত্তে বাঁধা পড়ে মৌলিকত্ব হারিয়েছে, শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনে বহু মানুষ ক্ষমতার এবং দলীয় রাজনীতির চক্করে আত্মসমর্পণ করে স্বকীয়তা ও স্বাধীন অবস্থান খুইয়ে ফেলেছেন। ভাবুক চিন্তকেরা পিছিয়ে পড়লেন, নানা ছদ্মাবরণে মোসাহেবের দল ভারী হলো। বঙ্গবন্ধু আক্ষেপ করেছিলেন চাটার দলের আধিক্যের আর তাঁর কন্যা দেখছেন নানা মাত্রার মোসাহেবি। তবে এই বঙ্গের মানুষ বরাবর উদ্যোগী এবং সংগ্রামী, তাদের সত্যিই দাবায়ে রাখা যায় না। সার্বিক অবক্ষয়, ক্ষমতাকেন্দ্রিকতা, অর্থ ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সার্বিক ঘোলাটে পরিস্থিতিতে উচ্চাভিলাষী সুযোগসন্ধানীরা এখন রাজনীতিতে ভিড় করেছেন। বাকি সবাই যেন অর্থনৈতিক উন্নতি, উৎপাদন বৃদ্ধি বা বৈষয়িক উন্নয়নে মনোযোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নতির পথে মোড় ফিরছে। আর শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করলেন। পাঠ্যবইসহ গণমাধ্যম ও অন্যান্য ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শ সংরক্ষণ ও চর্চার ধারা তৈরি করলেন। শিল্পী-সাহিত্যিক ও ছাত্র-তরুণদের মধ্যে, এমনকি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আবার প্রগতি ও গণতান্ত্রিক চেতনার কিছু কিছু প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। তরুণ-তরুণতর জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের আলামতও জোরালো হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির ধারা একাত্তরের পরে স্তিমিত হয়েছে। তারপর ১৯৭৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাঝেমধ্যে কিছু আশার আলো সত্ত্বেও কালটা ছিল খরাগ্রস্ত। ২০০৭-এর পর থেকে ধীরে ধীরে সমাজ জেগে উঠতে শুরু করেছিল, ২০০৯-এ ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা উন্নয়নের গতি জোরদার ও রাজনীতির ধারাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যুক্ত করতে চাইলেন। তবে এর মধ্যে বিশ্বায়ন, মুক্তবাজার অর্থনীতি, ইসলামি জঙ্গিবাদের উত্থান, সমাজে ধর্মীয় ও কিছুটা সাম্প্রদায়িক চেতনার বিস্তার এবং সমাজের বিরাজনীতিকরণ, রাজনীতি ও মানবসম্পদের অবক্ষয় ঘটার ফলে কাজটা সহজ নয়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বাস্তবতায় পুরোনো ধারার রাজনৈতিক চেতনা ও প্রক্রিয়া হয়তো ফিরে আসবে না, কিন্তু দেশে সুশাসন, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, বেকারত্ব ও বৈষম্য দূরীকরণের মতো চাহিদা জোরদার হবে। তার কিছু আলামত সমাজের নানা ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি। সঠিকভাবে সমাজের এসব বার্তাকে বিবেচনায় নিয়ে জাতির বৈষয়িক ও মানবিক উভয় উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আজ শেখ হাসিনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ উদ্যাপন সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ হবে, যদি তাঁর কন্যা সঠিক পথে জাতিকে এগিয়ে নিতে পারেন। আবুল মোমেন : কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক | 8 |
বগুড়ায় তিনটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। ১৩টির মধ্যে মাত্র ৩টি ইউনিয়নে নৌকা সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আর বিএনপি সমর্থন করা প্রার্থী জয়ী হয়েছেন ৭টি ইউনিয়নে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ২টিতে এবং অপর একটিতে জামায়াতের প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থক রেজাউল করিম কামাল আনারস প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাটরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোরশেদুল বারী নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থক আব্দুল মতিন নির্বাচিত হয়েছেন। ভাটগ্রাম ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হয়েছেন। কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নে জামায়াত নেতা আব্দুল জলিল, নারহট্ট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আব্দুর রহিম, কাহালু সদরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী পিএম বেলাল, জামগ্রামে আওয়ামী লীগের মনোয়ার হোসেন, পাইকড়ে আওয়ামী লীগের মিঠু চৌধুরী, মালঞ্চায় বিএনপির নেছার উদ্দিন, কালাইএ বিএনপির জোবাইদুল হোসেন সবুজ, বীরকেদারের বিএনপির সেলিম উদ্দিন। এছাড়াও বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নে বিএনপির আতিকুর রহমান আতিক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৩টি ইউনিয়নেে ভোটগ্রহণ করা হয়।এরমধ্যে বগুড়া সদরের এরুলিয়ায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভেট গ্রহণ করা হয়। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
বিদ্যা বালান অভিনীত 'ভুল ভুলাইয়া' ছবির অবনিকে মনে আছে? আবারও ফিরে আসছে অবনি। নির্মিত হচ্ছে 'ভুল ভুলাইয়া'র সিক্যুয়েল। আনিস বাজমি পরিচালিত 'ভুল ভুলাইয়া টু'তে অভিনয় করবেন বিদ্যা বালান। আগের ছবিতে তার সহশিল্পী ছিলেন অক্ষয় কুমার। এবারের ছবির নায়ক কার্তিক আরিয়ান। যদিও প্রথমে অক্ষয় কুমারের কাছে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন পরিচালক। কিন্তু প্রযোজক ভূষণ কুমারের সঙ্গে ঝামেলার কারণে অক্ষয় 'না' বলে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, বিদ্যা এখন ব্যস্ত শকুন্তলা দেবীর বায়োপিকের কাজ নিয়ে। এরই মধ্যে 'ভুল ভুলাইয়া টু'র চিত্রনাট্য শুনেছেন তিনি। অক্ষয় 'না' বললেও, পরিচালক বিদ্যাকে রাজি করিয়েছেন ছবিতে অভিনয়ের জন্য। তবে বিদ্যার এক মুখপাত্র বলেছেন, বিদ্যা ছবিটা করবেন কি-না, সে ব্যাপারে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন লন্ডন থেকে ফিরে এসে। জানা গেছে, 'ভুল ভুলাইয়া টু' ছবিতে বিদ্যার অভিনীত চরিত্রটি নিছক ক্যামিও নয়। এই সিক্যুয়েলে বিদ্যার চরিত্রটি রীতিমতো গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, কার্তিক আরিয়ানের বিপরীতে কে থাকছেন সেটা এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী বছরের জানুয়ারিতে ছবিটির দৃশ্যধারণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। | 2 |
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, কারও অর্থবিত্ত দেখে আওয়ামী লীগে কোনো পদ-পদবি দেওয়া যাবে না। 'অমুকের পয়সা আছে, দল চালাতে সুবিধা হবে' এই বিবেচনায় কাউকে পদ দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এটি আমাদের দলের রাজনীতি ও আদর্শ নয়। দল ও আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা এবং নেত্রীর প্রতি একাগ্রতাই হবে দলীয় পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা।'হাছান মাহমুদ আজ শুক্রবার পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা সুবিধাভোগের জন্য দল করছেন তাদের চিহ্নিত করে পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, পরপর তিনবার ক্ষমতায় থাকার কারণে দলের মধ্যে অনেক সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। যারা একসময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করেছে এবং নেতা কর্মীদের নির্যাতন করেছে তারা এখন এই সংগঠনের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। এই কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি সমস্ত প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর বঙ্গবন্ধুহীন আওয়ামী লীগকে মায়ের মমতায়-বোনের স্নেহে লালন করে বারবার মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসেছেন। আরও প্রত্যয়ী হয়ে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভোট এবং ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের কর্মীরা কখনো দলের সঙ্গে বেইমানি করেনি। তৃণমূল সব সময় দল ও নেতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকেছে, বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করেছে। সেই কারণে আওয়ামী লীগ আজ দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং চারবার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। হাছান মাহমুদ বলেন, 'দলের কারণে সরকার, সরকারের কারণে দল নয়। আমাদের মূল ঠিকানা দল। নির্বাচিত এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান পর্যন্ত সবার মূল ঠিকানা হচ্ছে দল। সবাই এখন দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। দলের কারণে সবাই আমরা পদের মধ্যে আছি। সুতরাং দায়িত্ব পালন করার সময় দলের নেতা-কর্মীদের গুরুত্ব দিতে হবে।' দলের তরুণ নেতা-কর্মীদের বিনয়ী হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বলেন, ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ বদলে গেছে। হাছান মাহমুদ বলেন, 'কারও অপকর্মের দায় দল কখনো নেবেনা। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল রহিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাংসদ গোলাম ফারুখের পরিচালনায় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। বিএনপি ভোটের অঙ্কে ভুল করেছে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি ভোটের অঙ্কে ভুল করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ভালো ভোট হয়েছে। ইভিএমে ভোট কারচুপির সুযোগ নেই, একজনের ভোট অন্যজন দেওয়ারও সুযোগ নেই। হাছান মাহমুদ আজ সকালে পাবনা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'কম ভোট পড়ার ক্ষেত্রে বিএনপি অনেকাংশে দায়ী। বিএনপি মানুষের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে। যার ফলে ১০/১৫ শতাংশ ভোট কম পড়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৯ শতাংশ নয় ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। বিএনপি ভোটের অঙ্কে ভুল করেছে।' | 9 |
নিজেদের সস্পৃক্ততার কথা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে সরকার বিচারের সম্মুখীন না করে জঙ্গিদের ক্রসফায়ারের মাধ্যমে হত্যা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার আমলে জঙ্গিদের ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার আমলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে। জঙ্গিদের ধরে ক্রসফায়ারে না দিয়ে সমূলে উৎখাতের ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে 'মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির' প্রতিবাদে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।
দেশনেত্রী ফোরাম নামক একটি সংগঠন এ সমাবেশের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এ কে এম বশির উদ্দিন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, দলের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, বিএনপি নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, শাহজাহান মিয়া সম্রাট, সরদার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান প্রমুখ।
নজরুল ইসলাম বলেন, ১/১১ সরকারের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসেছে। ওই নির্বাচনে দেশের মানুষ কেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি। এ জন্যই আওয়ামী লীগ দেশে নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে। কারণ নিরপক্ষে সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারলে আওয়ামী লীগের খবর থাকবে না। এ জন্য আগামী নির্বাচনের কথা ভেবে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশে সন্ত্রাস করছে, অপরাধ করছে। অথচ তাদের শাস্তি হচ্ছে না।
নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের হয়রানি-নির্যাতন করা হচ্ছে। তিনি এই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। | 9 |
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা হয়। সেই ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ ম কাইয়ুম মামলার বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, গত ২৩ এপ্রিল মামলা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের মালিক মোহাম্মদ সুমন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ নিয়ে নিউমার্কেটে ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে পাঁচটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে দুইটি মামলা করেছে। এছাড়া দুইটি হত্যা মামলা হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল দুপুরে সংঘর্ষের সময় আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। সেসময় রোগীসহ ছয়জন আহত হন। | 6 |
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিটি ফেরি নদী পার হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে।এ ছাড়াও বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রাকসহ অনেক যানবাহন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ ব্যবহার করছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় তৈরি হচ্ছে পণ্যবাহী যানবাহনের লম্বা সারি। প্রতিটি পণ্যবাহী যানবাহনকে ফেরি পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত।আজ শনিবার (২১ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের অন্তত ৩ কিলোমিটার জুড়ে অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকের র্দীঘসারি। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় শতাধিক যাত্রীবাহী যানবাহন।এ ছাড়া একই ভাবে ঘাট থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দুরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড় থেকে আহলাদিপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালে আটকে রাখা হয়েছে। তবে এ সময় বাস ও কাঁচামাল বোঝাই ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার হতে দেখা যায়।ঘাট সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৮টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হলেও পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে প্রচণ্ড স্রোতের বিপরীতে ফেরিগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে ফেরি চলাচলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে।এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ী ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টি, আই) তারক পাল বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটকে যানজট মুক্ত রাখতে খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া থেকে ফেরি ঘাট অভিমুখে গোয়ালন্দ মোড়ে প্রায় ৩ শতাধিক ট্রাক নদী পাড় হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ঘাটে গাড়ির চাপ কমে আসলেই গোয়ালন্দ মোড় থেকে গাড়ি গুলো সিরিয়াল অনুসারে ঘাটের দিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জামাল হোসেন বলেন, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ এবং পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নদী পারের জন্য ট্রাকগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। | 6 |
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পেয়েছেন মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার।সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বদলির এই তথ্য জানানো হয়। একই আদেশে আরও চার পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান গত ১৮ আগস্ট অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় পদটি খালি হয়। এরপর সোমবার উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মারুফ হোসেন সরদারকে ওই পদে বদলি করা হয়। তিনি রমনা বিভাগের দায়িত্ব পালনের আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার দায়িত্বে ছিলেন। মারুফ হোসেন সরদার সমকালকে জানান, শিগগিরই তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন। সেখানেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে চান তিনি। এদিকে একই আদেশে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানকে চাঁদপুর, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়াকে নওগাঁ, ডিএমপির উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে গাইবান্ধা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিটের জাহিদুল ইসলামকে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। | 6 |
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পলাশিকুড়া গ্রামে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায়ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল সমকালকে জানান, শেরপুর সদর উপজেলার এক গৃহবধূ তার মেয়েকে (১৬) নিয়ে নালিতাবাড়ীতে বাবার বাড়ি এসেছিলেন। শনিবার সকাল ১১টার দিকে তারা অটোবাইকে শেরপুর যাওয়ার জন্য বের হন।পথে সাত্তার (৪৫) ও সাদেক আলীসহ (৩০) কয়েকজন তাদের শেরপুরে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তোলেন। সন্ধ্যার দিকে তারা পলাশিকুড়ায় একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে নিয়ে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করেন। 'ধর্ষণের শিকার' মা-মেয়ে রোববার সকালে বাড়ি ফিরে স্বজনদের ঘটনা জানালে তারা জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯ এ কল দেন। পরে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদলের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযুক্ত সাত্তার ও সাদেক আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সাত্তার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী। ওসি বছির আহমেদ বাদল বলেন, 'সকালে ত্রিপল নাইন থেকে ম্যাসেজ আসার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে জড়িত দুই জনকে আটক করি। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের ও ভুক্তভোগী মা-মেয়েকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।' | 6 |
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন মো. আমিনুল ইসলাম খান। এর আগে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ছিলেন।আমিনুল ইসলাম খানকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পদায়ন দিয়ে আজ বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।২০২০ সালের ৭ জুলাই কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব পদে যোগ দেন আমিনুল ইসলাম। এর আগে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।একই প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসিবুল আলমকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার শাখার সচিব মো. কামাল হোসেনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। | 6 |
ঘাটাইলে মসজিদের তালা ভেঙে ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের লাউয়াগ্রামের দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে গত সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।মসজিদ কমিটির সভাপতি বিল্লাল হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সোমবার এশার নামাজ শেষে প্রতিদিনের মতো তালা লাগিয়ে চলে যানমুসুল্লিরা। পরদিন গতকাল মঙ্গলবার মুসুল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে দেখেন মসজিদের মূল দরজার তালা ভাঙা। তাঁরা মসজিদের ভেতরে গিয়ে দেখেন সোলার প্যানেল ও আইপিএসের দুটি ব্যাটারি ও পানিসরবরাহের কাজে ব্যবহৃত একটি বৈদ্যুতিক মোটর চুরি গেছে।মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য হবে ৫০ হাজার টাকা। | 6 |
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলার স্বপ্ন তাঁর বহু দিনের। স্বপ্নটা প্রায় পূরণও হয়ে গিয়েছিল এবার। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পের বর্তমান ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) আকাশচুম্বী দাম হাঁকিয়ে বসায় দলবদলের শেষ মুহূর্তে তাঁর আশা ছেড়ে দিয়েছে রিয়াল। আপাতত তাই প্যারিসেই থেকে যেতে হচ্ছে এমবাপ্পেকে।এর আগে পুরো আগস্ট মাস পিএসজি-রিয়ালকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছেন এমবাপ্পে। বলতে গেলে, দুপক্ষের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। রিয়াল যেমন ফরাসি তারকাকে ছাড়িয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে, পিএসজিও তেমন তাঁকে ধরে রাখতে মরিয়া ছিল। সেটা করতে গিয়ে এমবাপ্পের দামটা রিয়ালের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে প্যারিসের ক্লাবটি। দরদাম ঠিক করতেই পেরিয়ে গেছে গোটা মাস। তবু সমঝোতা হয়নি।এর মধ্যেই আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সূচি। সেদিনই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। দেশের হয়ে খেলতে গতকাল ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন এমবাপ্পে। সেখানেই এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, এত গুঞ্জনের মধ্যে কেমন বোধ করছেন আপনি? জবাবে বিশ্বকাপ জয়ী তারকা বলেন, 'আমি দারুণ আছি, শান্তিতেই আছি।'এমবাপ্পে যে শান্তিতে আছেন, সেটা পিএসজির হয়ে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই বলে দেয়। পরশু রাতে ফরাসি লিগ ওয়ানে রেঁসের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন তিনি। গত ২১ আগস্ট ব্রেস্তের বিপক্ষেও একবার জালের দেখা পেয়েছেন ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়।যদিও ইউরোপিয়ান গণমাধ্যমগুলোর দাবি, রেঁসের বিপক্ষে নতুন মৌসুমে সেরা পারফর্ম করেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারেননি এমবাপ্পে। পরতে চেয়েছিলেন ছোটবেলার স্বপ্ন রিয়ালের জার্সি। এবার না হলেও আগামী মৌসুমে তাঁকে পেতে হয়তো আরও বড় বাজেট নিয়েই নামবে রিয়াল। | 12 |
হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘণ্টা পর প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় চলে যান অভিনয়শিল্পী মাসুম আজিজ। গতকাল সোমবার জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হন এই অভিনয়শিল্পী। রাতে এই অভিনয়শিল্পীর স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা জানতে পারেন, হাসপাতালটিতে করোনা রোগী আছেন। তাঁরা শুনেছেন, হাসপাতালটি করোনা সংক্রমণের দিক দিয়ে রেড জোনে পড়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে মাসুম আজিজও চাইছিলেন না হাসপাতালে থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে। রাত নয়টার দিকে তাঁকে হাসপাতাল থেকে বনশ্রীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই এখন চিকিৎসাসেবা চলছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন এই অভিনয়শিল্পীর স্ত্রী সাবিহা জামান। প্রথম আলোকে সাবিহা জামান বলেন, 'হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকেরা আমাদের প্রতি যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, তাতে আমরা মুগ্ধ। চিকিৎসাসেবার কোনো ত্রুটি ছিল না। কিন্তু মাসুম আজিজ সাহেব যখন জানতে পারলেন, এলাকাটি রোড জোন, তাঁর মনও সায় দিচ্ছিল না। শ্বাসকষ্টের জন্য অক্সিজেন সাপোর্ট নিয়ে যে চিকিৎসা চলছিল, তা বাসায় রেখেও সম্ভব বলে আমরা চিকিৎসকদের অনুরোধ করে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকেরা আমাদের বলেছেন, পরিস্থিতি যখনই জটিল হবে সঙ্গে সঙ্গে যেন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, এরপর তাঁরা চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করবেন।' আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাসুম আজিজের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে সাবিহা জামান বললেন, জ্বর আছে। শ্বাসকষ্টও আছে। খেতে পারছেন না। মুখে রুচি নষ্ট হয়ে গেছে। খাবার খেতে না পারার কারণে খুব ভোগাচ্ছেন। অস্থির হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগও রাখছেন। চিকিৎসকেরা আন্তরিকভাবে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন।জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে গত শনিবার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা মাসুম আজিজ। শুরুতে সবাই ভেবেছিলেন, করোনা হয়েছে কি না! একাধিকবার করোনা পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ আসে। বাসায় নিয়ে যাওয়ার পরদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তিনি কার্ডিওলজিস্ট মাকসুমুল হকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা নেন। দেশবাসীর কাছে মাসুম আজিজের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার। মঞ্চ ও টিভি নাটকের জেষ্ঠ্য অভিনয়শিল্পী মাসুম আজিজ দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০১৭ সালে তাঁর হার্টে চারটি ব্লক ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার করা হয়। অভিনয়শিল্পী পরিচয় ছাড়াও মাসুম আজিজ চিত্রনাট্যকার ও নাট্যনির্মাতা হিসেবে পরিচিত। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের খ্যাতি রয়েছে তাঁর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তিনি থিয়েটারে কাজের মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ১৯৮৫ সালে তিনি প্রথম টিভি নাটকে অভিনয় করেন। | 2 |
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবু হানিফ হাওলাদার (৬০) নামে এক রোগীর শরীরে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি স্যালাইন পুশ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।শামীমা নামে এক নার্স প্রায় দুই মাস আগে মেয়াদ শেষ হওয়া স্যালাইন দেন তাঁর শরীরে। এর পর থেকেই রোগীর শরীরে জ্বালা-যন্ত্রণা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।রোগীর ছেলে জাকারিয়া হাওলাদার জানান, সকাল পৌনে ৭টার দিকে শামীমা নামে এক নার্স তাঁর বাবার শরীরে হাসপাতালের সরকারি স্যালাইন পুশ করেন। স্যালাইনের প্রায় তিনের দুই ভাগ শেষ হয়। এমন সময় তাঁর ছোট বোন হাসিনা বেগম স্যালাইনের গায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ০২ / ২০২২ লেখা দেখতে পান। পরে নার্সকে ডেকে বিষয়টি জানালে দ্রুত স্যালাইন খুলে ফেলা হয়।হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এস এম ফয়সাল আহমেদ বলেন, 'হানিফ হাওলাদার নামে ওই রোগী শরীরে জ্বালা-যন্ত্রণা নিয়েই হাসপাতালে আসেন। উচ্চ রক্তচাপও ছিল তাঁর। এ অবস্থায় নার্স শামীমা স্যালাইনের মেয়াদ না দেখেই তাঁর শরীরে পুশ করেছেন। এটা তাঁর গাফিলতি। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিক আছেন। তাঁকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখা হবে।'ডা. এস এম ফয়সাল আরও বলেন, 'অভিযুক্ত নার্স শামীমাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে এ বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, স্টোরে স্যালাইন, ওষুধসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অন্য কোনো মালামাল আছে কিনা সেব্যাপারেও স্টোর কিপার ও নার্সিং ইনচার্জকে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।' | 6 |
চলতি জুন ও আগামী জুলাই মাসে কোভ্যাক্সের কোভিড-১৯ টিকায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে গত শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়েছে। আশঙ্কা সত্যি হলে তা বৈশ্বিক এই টিকাদান কর্মসূচির কার্যকরিতাকে ক্ষুণ্ন করবে। করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হিসেবে বিশ্বে বিশেষত নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় যাতে টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে কোভ্যাক্স নামের এ কর্মসূচি গ্রহণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ইতিমধ্যে কর্মসূচির আওতায় ১২৯টি দেশ ও অঞ্চলে ৮ কোটি ডোজের বেশি টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। কোভ্যাক্সের কর্মকর্তা ব্রুস আইলওয়ার্ড শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা যে পরিমাণ টিকা চেয়েছি, তা থেকে এখন প্রায় ২০ কোটি ডোজ টিকার ঘাটতিতে আছি।' ধনী রাষ্ট্রগুলো এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি ডোজ টিকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তা যদি ঠিকঠাক পাওয়াও যায়, তবু টিকার সংকট মিটবে না। আইলওয়ার্ড বলেন, 'টিকার আগাম ডোজ না পেলে, আমরা ব্যর্থতার প্রমাণ রাখতে চলেছি। আমরা এখনো ঠিকভাবে এগোতে পারছি না। বিশ্বকে এ সংকট থেকে পরিত্রাণ দিতে আমরা আগাম ভিত্তিতে যথেষ্টসংখ্যক দেশের কাছ থেকে যথেষ্টসংখ্যক ডোজ টিকা দিতে পারছি না।' কোভ্যাক্সকে অনুদান হিসেবে ১৫ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এ কর্মসূচিকে ভালোভাবে শুরু করতে দারুণ সহায়তা করেছে। কিন্তু দুটি বড় সমস্যা রয়ে গেছে। প্রথমটি, জুন-জুলাই মেয়াদে প্রতিশ্রুত টিকার পরিমাণ খুব সামান্য। যার অর্থ, আমরা ঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছি।' তিনি বলেন, অপর সমস্যাটি যথেষ্টসংখ্যক মানুষকে সময়মতো টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা নিয়ে। দ্বিতীয় সমস্যা প্রসঙ্গে আইলওয়ার্ড বলেন, চলতি বছর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অন্তত ৩০-৪০ শতাংশকে টিকা দেওয়া গেলে আমরা লক্ষ্য অনুযায়ী এগোতে পারব। | 3 |
মুজিব বর্ষ উপলক্ষে নিউইয়র্কে 'বঙ্গবন্ধু বইমেলা' আগামী ২০-২২ সেপ্টেম্বর জ্যাকসন হাইটসে পিএস ৬৯ এর মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে। ৩ দিনব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। এই মেলায় বঙ্গবন্ধু তথা বাংলাদেশ বিষয়ক বই-পত্রের প্রদর্শনী, বিক্রি ছাড়াও থাকবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ও গানের অনুষ্ঠান। আর এটি হচ্ছে আগামী বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর ওয়ার্মআপ অনুষ্ঠান। কারণ, আসছে ১৭ মার্চ জাতিরজনকের জন্মদিন থেকেই শুরু হবে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি সুদূর এই আমেরিকাতেও। এছাড়া প্রবাস প্রজন্মে বাঙালি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর জীবন-ইতিহাস যথাযথভাবে প্রচারের উদ্যোগও থাকবে বছরব্যাপী কর্মসূচিতে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং যারা এখনও বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না-তেমন মহলের সংঘবদ্ধ ইতিহাস-বিকৃতির প্রচেষ্টাকে শক্তহাতে রুখে দিতে এই সংগঠন সোচ্চার থাকবে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের সাথে নিয়ে। নূরুল আমিন বাবু আরও উল্লেখ করেন, নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুল ও লাইব্রেরিসমূহে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস সংযোজিত করার জন্যেও তারা কাজ করবেন। উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কবি মিশুক সেলিম, বইমেলার আহ্বায়ক আবু রায়হান ছাড়াও এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মুজিব বর্ষ উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, নাট্যাভিনেতা মুজিব বিন হক। উল্লেখ্য, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মিশন, নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটও বিস্তারিত কর্মসূচি নেবে। এছাড়া আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামসহ কয়েকটি সংগঠনও এ উপলক্ষে বড় ধরনের কর্মসূচি নেবে। নিউইয়র্কে সেন্ট্রাল পার্ক, ইউনিয়ন স্কোয়ার, টাইমস স্কোয়ার, জাতিসংঘের সামনে জন্মবার্ষিকীর উৎসব হতে পারে। অর্থাৎ পুরো বছর ধরেই চলবে অনুষ্ঠানমালা, যা যুক্ত হবে ২০২১ এ বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উৎসবে। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 4 |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের কাছ থেকে চিঠি পেয়েছেন। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর আবারো বৈঠকে বসার জন্য এই চিঠিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস এ কথা জানায়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারা স্যান্ডার্স বলেন, এটি খুবই উষ্ণ এবং ইতিবাচক চিঠি। চিঠিতে পিয়ংইয়ং-এর কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকের প্রেক্ষিতে কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রিকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। | 3 |
বরগুনার পাথরঘাটার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও এক'শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে পাথরঘাটা থানা-পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জাফর হাজির একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার।পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন বলেন, ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি ধরতে এএসআই মিরাজ, তারিকুল ও শরিফুলকে নিয়ে সদর ইউনিয়নের রুহিতা এলাকায় যাই। যাওয়ার পথে বড় টেংরা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে অনেক সিগারেটের ধোঁয়া দেখতে পাই। তখন এখানে কারা আছেন, দেখতে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে চার/পাঁচজন পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের নিয়ে ঘরটি তল্লাশি করলে একটি বালিশের ভেতরে থেকে দেশীয় পাইপ গান, একটি কার্তুজ ও একটি ব্যবহৃত খোসা ও এক'শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি এখানে এলাকায় কিছু বখাটে ছেলেদের আড্ডা রয়েছে। তবে এ অস্ত্র কার তা পুলিশ তদন্তে বেরিয়ে আসবে।ওসি আবুল বাশার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সাগরের ডাকাতেরা এখানে সংঘটিত হওয়ার চেষ্টা করছিল। এ ছাড়াও এলাকার বেশ কিছু বখাটে এখানে আড্ডা দেওয়ার অভিযোগ আছে। বিভিন্ন দিক সামনে রেখে গভীরতর তদন্ত চলছে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.