text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার তাকে ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাবেক অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই এএসএ মুইজ সুজন বলেন, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবুল মাল আবদুল মুহিতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি মুখে কোনো খাবার খেতে পারছিলেন না। খবর বাসসের আবুল মাল আবদুল মুহিতের দ্রুত আরোগ্য কামনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৫ জুলাই আবুল মাল আবদুল মুহিতের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৯ জুলাই তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। গত বছরের ১৪ আগস্ট তার করোনা পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ আসে। ১৮ আগস্ট তিনি সিএমএইচ থেকে তার ঢাকার বনানীর বাসায় ফেরেন। আবুল মাল আবদুল মুহিত আওয়ামী লীগের দুই আমলে টানা ১০ বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন, যার ১০টিই আওয়ামী লীগ সরকার আমলের। আবুল মাল আবদুল মুহিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। তার আরেক ছোট ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত ২৫ জানুয়ারি ছিল তার ৮৮তম জন্মদিন। | 6 |
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'রাজনীতি মানেই মানবসেবা। আর মানবসেবার ব্রত নিয়ে এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে উষ্ণ আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।' বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে সংগঠনটির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জন্মই হয়েছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শন ধারণ করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত থাকলে শিক্ষার স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকে। বর্তমান অবৈধ সরকার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং ছাত্রলীগ নামধারী সংগঠনের সন্ত্রাসী আক্রমণের পরও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঐতিহ্যের সিঁড়ি বেয়ে সাহস ও নির্ভিক মনোবল নিয়ে হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, এই সরকারের শাসনের নীতি গুম, খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিভীষিকার মুখেও ছাত্রদল শিক্ষা ও গণতন্ত্রের আদর্শের অঙ্গীকারে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের ব্যর্থতায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান প্রশ্নে বর্তমান নতজানু সরকার কিছুই করতে পারেনি। এর ওপর ভারতে এনআরসি'র কারণে বাংলাদেশে আরেকটি সংকট ঘনীভুত হতে পারে। তিনি আরো বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মীনি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসার কারণে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। শেখ হাসিনা তাঁর অবৈধ শাসন দখলে রাখার জন্যই দেশনেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখেছেন। কিন্তু জনগণ দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে এখন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। যেকোনো মুহুর্তে এই অবৈধ সরকার ভূতলে শায়িত হবে। ছাত্রদলের সাফল্য কামনা করে রিজভী বলেন, ছাত্রদল শত নির্যাতনের মুখে আরও বলীয়ান হয়ে দেশনেত্রীর মুক্তি আন্দোলনকে বেগবান করবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রফিকুল ইসলাম, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাজেদুল ইসলাম রুম্মন, ১নং যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, যুগ্ম সম্পাদক মহিন উদ্দিন রাজু, তবিবুর রহমান সাগর, এ বি এম মাহমুদ সরদার, আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের বাবু, সহ-সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, সুলতানা জেসমিন জুঁই, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ আউয়াল, মশিউর রহমান রনি, সহ-দফতর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
বিরাট কোহলির প্রশংসা অনেকেই করেন। তেমনই করেছেন শোয়েব আখতার। কিন্তু প্রশংসা করতে গিয়ে নিজেই বুঝিয়ে দিলেন, একজন পাকিস্তানি হয়ে সদ্য প্রাক্তন ভারতের অধিনায়ককে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়ে দেওয়ার তাৎপর্যই আলাদা। পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসারের দাবি শচীন টেন্ডুলকারকেও আন্তর্জাতিক শতরানের সংখ্যায় ছাপিয়ে যাবেন কোহলি। একটি সাক্ষাৎকারে শোয়েব বলেছেন, "বিরাটের সম্পর্কে ভালো ভালো কথা বলাই যায়। ওকে সন্মান করাই যায়। বিরাটকে সন্মান করবেন নাই বা কেন? আমি একজন পাকিস্তানি হয়েও বলছি, বিরাটই সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার। বাজি ধরতে পারি, ও ১১০টা শতরান করবেই।" কোহলির প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি নিজে যে পাকিস্তানি, সেটার উপরেই জোর দিয়েছেন শোয়েব। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। বেশ কিছু দিন ধরে চেনা ছন্দে নেই কোহলি। তাতে খেলোয়াড় হিসেবে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের মান কমে যাবে না বলেই মত শোয়েবের। বরং বিশ্বাস করেন, যে কোনও দিন কোহলিকে আবার সেরা ছন্দে দেখা যাবে। কোহলিকে বার্তা দিয়ে পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার বলেছেন, "তোমার ভয় পাওয়ার দরকার নেই। ৪৫ বছর পর্যন্ত তুমি খেলবে। বর্তমান পরিস্থিতিই তোমাকে তৈরি করে দেবে। ১১০টা শতরান করবে তুমি। তোমাকে নিয়ে অনেকে অনেক কিছু লিখছে। টুইট করছে। দেওয়ালিতে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটা পোস্ট করেছিলে। তাতেও অনেকে তোমার সমালোচনা করেছিল। তোমার স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে নানা রকম পোস্ট করা হচ্ছে। এর থেকে জঘন্য কী হতে পারে! প্রকৃতিই তোমাকে ১১০টা শতরান করার জন্য তৈরি করেছে। আমার কথা মাথায় রাখ। এখন থেকেই আবার চালিয়ে খেলতে শুরু কর।" ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কোহলি দুরন্ত ছন্দে ছিলেন। আগামী দিনে তার থেকেও ভালো ছন্দে কোহলিকে দেখা যাবে বলেই আশা শোয়েবের। | 12 |
এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকরণ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওয়ার্ড ভিত্তিক 'চিরুনি অভিযান' শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। আজ মঙ্গলবার অভিযানটি ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ড (গুলশান ও বনানী এলাকা) থেকে শুরু হয়। গুলশানস্থ ডা. ফজলে রাব্বী পার্ক (পুলিশ প্লাজার বিপরীত দিকে) থেকে আনুষ্ঠানিক এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোমিনুর রহমান মামুন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মঞ্জুর হোসেন প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 6 |
সর্বশেষ মামলা গত বুধবার রাতে আগে দুটি মামলা হয়েছে গত শনিবার বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী বাসাছাড়া অনেকে মুঠোফোন বন্ধ রাখছেন সিলেটে গত পাঁচ দিনে দায়ের হওয়া নতুন তিন মামলায় ২৪১ জন আসামি হওয়ার পর এখানকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন। বিএনপির নেতারা বলছেন, দলীয় মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী কাজে যুক্ত জেলা ও মহানগর বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী নিজের বাসাবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকছেন। অনেকে মুঠোফোনও বন্ধ রাখছেন। যদিও আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে এখানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করার জন্য নির্দেশ ছিল। সর্বশেষ মামলাটি হয়েছে গত বুধবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায়। ওই থানার একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) ওপর ককটেল হামলার অভিযোগে ওই কর্মকর্তা বাদী হয়ে করা মামলায় মোট আসামি ৭৩ জন। দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল জানান, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেনকে প্রধান আসামি করে এজাহারে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের সবাই বিএনপির নেতা-কর্মী বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) এম এ ওয়াহাব। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বুধবার রাত নয়টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানা থেকে মোটরসাইকেলে করে ফাঁড়িতে যাচ্ছিলেন এসআই আবু রায়হান। মোমিনখলা এলাকায় একদল লোক জড়ো হয়ে তাঁর ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তিনটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় এবং অবিস্ফোরিত অবস্থায় দুটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও আবু রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। গতকাল তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) আজবাহার আলী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, 'তিন দিন আগে এই কর্মকর্তাই আমাদের আসামি ধরেছিল'-এ কথা বলেই হামলাকারীরা আবু রায়হানের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে আবু রায়হানের শরীরের সামান্য পুড়ে গেছে। প্রচণ্ড শব্দে তাঁর কানের সমস্যা হয়েছে। তাঁর মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবু রায়হান সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কানের চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে রাতেই তিনি হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং বর্তমানে বিশ্রামে আছেন। বিএনপির নেতারা বলছেন, দক্ষিণ সুরমা এলাকাটা কিছুটা অনুন্নত। সেখানে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশতেহারে 'পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ সুরমার বিষয়ে বাড়তি নজর' থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এখন সেখানকার নেতা-কর্মীরা 'দৌড়ের ওপর' আছেন। এর আগে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে শাহপরান থানায়। দুটিই হয়েছে গত শনিবার। একটির বাদী পুলিশ, অপরটির বাদী আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটির প্রেক্ষাপট ভিন্ন রকম। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করা হয়, কিন্তু পুলিশ স্বীকার করছিল না। তাঁদের কোনো খোঁজও মিলছিল না। এরপর শনিবার দুপুরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পুলিশের উপকমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। ঘণ্টা দুয়েক পর পুলিশ ওই দুই কর্মীকে আটক করে আদালতে পাঠানোর কথা জানালে আরিফুল হক সেখান থেকে ফিরে আসেন। এরপর ওই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই ফয়েজ আহমেদ বাদী হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা করেন। তাতে বিএনপির ৩৯ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তবে আরিফুল হককে আসামি করা হয়নি। আরিফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, 'আমার নেতৃত্বে সেখানে অবস্থান নিয়েছিল বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা। কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে মামলা করে এখন এই মামলায় অন্যদের হয়রানি করা হচ্ছে।' আরিফুলকে কেন আসামি করা হলো না, এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে শাহপরান থানার ওসি আখতার হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ওই মামলা দায়েরের পর ওই দিনই গভীর রাতে আরিফুল হকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আবদুর রাজ্জাকের রায়নগরের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। তাঁকে না পেয়ে তাঁর ব্যবসায়ী ছেলে রুমন রাজ্জাককে আটক করে এবং পরে পুলিশের করা ওই মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। একই দিন শাহপরান থানায় আরেকটি মামলা করেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ফরিদ আহমদ। আগের রাতে টুলটিকর এলাকায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার অভিযোগে করা এই মামলায় বিএনপির ৩৪ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ দাবি করেন, তিনটি মামলা ও হামলার অভিযোগ সাজানো। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'আমাদের নেতা-কর্মীরা যাতে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড করতে না পারে, বাড়িঘরে থাকতে না পারে, সে জন্য এসব মামলা করা হচ্ছে।' বিএনপির অভিযোগকে অসত্য বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'পুলিশের ওপর ককটেল হামলার বিষয়ে আমরা জানি না। এসব দুষ্কৃতকারীরা ঘটাচ্ছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করছে।' বাড়ি বাড়ি অভিযানের অভিযোগবিএনপি তাদের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে পুলিশের অভিযানের অভিযোগ করলেও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেশি নয়। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাতজনকে। তবে বাড়ি বাড়ি অভিযান বা তল্লাশির কারণে নেতা-কর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে দলটির নেতারা দাবি করছেন। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ বেছে বেছে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বাসায় তল্লাশি চালাচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এর মধ্যে অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হওয়া থেকে বাঁচতে বিএনপির নেতা আবদুল হাদী মাসুম ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালাতে গিয়ে আহত হয়েছেন। ভয়ে বাসায়ও ফিরছেন না। তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং ওয়ার্ডে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও কর্মীদের সংগঠিত করার দায়িত্বে আছেন। তবে আবদুল হাদীর বাসায় অভিযানের কথা অস্বীকার করেন জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। শেষ সময়ে উদ্ভূত নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় ভোটের আগেই সিলেটে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। যদি প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশন শক্ত হতে পারত, তাহলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও ভালো হতো। | 9 |
সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা করলেন। ফেসবুক ও টুইটারে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা পোস্ট দিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। তিনি লিখেছেন 'এটা ছিল অসাধারণ যাত্রা, কিন্তু আমি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' তিনি পরের পোস্টে লেখেন, 'আমার বড় ভাইদের সঙ্গে বাড়ির পেছনের উঠোনের ম্যাচগুলো থেকে শুরু করে আমি যতগুলো ম্যাচ খেলেছি, সবই খেলেছি বিশুদ্ধ আনন্দ ও সীমাহীন উৎসাহ নিয়ে। এই ৩৭ বছর বয়সে এসে, অগ্নিশিখা আর ওতটা উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে না। এটাই বাস্তবতা, যা আমাকে মেনে নিতে হবে এবং এটা হঠাৎ করে মনে হতে পারে, সে কারণে আজ আমি এই ঘোষণা করছি।' এরপরে তিনি আরও লেখেন, 'ক্রিকেট আমার প্রতি অসাধারণ সদয় হয়েছে। দ্য টাইটান্স কিংবা প্রোটিয়া কিংবা আরসিবি অথবা বিশ্বজুড়ে খেলা হোক না কেন, খেলাটি আমাকে অকল্পনীয় অভিজ্ঞতা ও সুযোগ দিয়েছে এবং তার জন্য আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব।' টুইটে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবিডি ভিলিয়ার্স। বলেন, 'আমি সতীর্থ, প্রতিপক্ষ, সব কোচ, ফিজিও এবং প্রতিটি স্টাফ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা আমার এই পথ চলায় সঙ্গী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং বিশ্বের যেখানেই আমি খেলেছি সেখানে সমর্থন পেয়েছি। এটার জন্য সমর্থকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।' | 12 |
অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে ইসরাইলি দখলদারিত্বে বাস করা ফিলিস্তিনি শিশুদের সাহায্যে তহবিল গঠনের লক্ষ্য নিয়ে তুরস্কের এক এনজিও সংস্থার প্রতিষ্ঠিত পুরনো পণ্যের বাজার পরিদর্শন করেছেন তুর্কি ফার্স্ট লেডি আমিনা এরদোগান। শুক্রবার ইস্তাম্বুলের বালারবাশি কংগ্রেস অ্যান্ড কালচারাল সেন্টারে তুর্কি এনজিও সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট সেন্টার এডুকেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের (তোগেমদের) ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই বাজার পরিদর্শনে যান তুর্কি ফার্স্ট লেডি। খেলনা, পোশাক, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে অ্যান্টিক সামগ্রীসহ হাজারো দাতার দান করা বিভিন্ন দ্রব্য এই বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি শিশুদের সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত এই বাজার থেকে আমেনা এরদোগান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করেন। তুর্কি ফার্স্ট লেডি এই সময় বলেন, তুরস্ক ফিলিস্তিনের মানুষদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে, যারা সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে ভীষণ দুর্ভোগে রয়েছে। তুরস্ক কখনোই ভাগ্যের ওপর তাদের ছেড়ে দেবে না। ফিলিস্তিনি শিশুদের সাহায্যে সবাইকে এই বাজারে আসার জন্য আহ্বান জানান আমেনা এরদোগান। অধিকৃত জেরুসালেমের শেখ জাররাহ মহল্লা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে ইহুদি বসতি স্থাপনে গত ২৫ এপ্রিল ইসরাইলি আদালতের আদেশের জেরে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে পরপর কয়েক দফা মসজিদুল আকসায় হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত এই সকল হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জাতিসঙ্ঘের মানবিক সাহায্য বিষয়ক দফতর ইউএনওসিএইএ। মসজিদুল আকসা চত্ত্বরে মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মসজিদ থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে ইসরাইলকে আলটিমেটাম দেয় গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর গাজা থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামাস রকেট হামলা শুরু করে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে মোট চার হাজার তিন শ' ৬০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমে বেশিরভাগ রকেট ধ্বংস করা হলেও বেশ কিছু রকেট ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। রকেট হামলায় ইসরাইলের ১২ অধিবাসী নিহত ও সাত শ' ৯৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইসরাইল ভূখণ্ডে হামাসের রকেট হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে রাত থেকেই গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। ইসরাইলি বিমান হামলায় ৬৬ শিশু ও ৩৯ নারীসহ ২৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হন। হামলায় আহত হয়েছেন আরো এক হাজার নয় শ' ৪৮ গাজাবাসী। টানা ১১ দিনের আগ্রাসনের পর ২০ মে রাতে ইসরাইল গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। মিসরীয় উদ্যোগে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইসরাইলি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২১ মে সকাল থেকে তা কার্যকর হয়। ফিলিস্তিনিরা এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে গণ্য করছেন। সূত্র : ইয়েনি শাফাক | 3 |
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, আরপিও সংশোধন করে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের বিধান প্রয়োগ করে ডিজিটাল কারচুপির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন চক্রান্ত করছে।আজ এক বিবৃতিতে সংগঠনের এই আমির বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে প্রায় সব দলই ইভিএমের বিপক্ষে মত দেয়। রাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে নির্বাচনে এই পদ্ধতির প্রয়োগ হবে না বলে আশ্বস্ত করে ইসি। এখন তারা চক্রান্ত করছে।রেজাউল করীম বলেন, বিগত তিন সিটির নির্বাচনে ইভিএম প্রয়োগ করা কেন্দ্রগুলোতে ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে। একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতে ইসি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করতে চাচ্ছে। তিনি জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে জনগণ প্রতিহত করবে। সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের বিষয় আলোচনায় আসে। সেখানে সংশোধনের মাধ্যমে আরপিওতে ভোটে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা ওঠে। তবে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান বিপরীতমুখী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চায় ভোটে ইভিএম ব্যবহার হোক। অন্যদিকে বিএনপি কারচুপির আশঙ্কায় শুরু থেকেই ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে। | 9 |
দক্ষিণ কোরিয়ার উরি ব্যাংক তাদের বাংলাদেশ অফিসে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ব্যাংকটিতে ক্রেডিট বিভাগে জনবল নেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের ডাকযোগে/কুরিয়ার বা সরাসরি উরি ব্যাংকের ঢাকার গুলশানের কার্যালয়ে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। পদের নাম: অফিসার/সিনিয়র অফিসারবিভাগ: ক্রেডিটপদসংখ্যা: অনির্ধারিতযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। সিএফএ, সিপিএ, এসিসিএ বা সিএ সনদ থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কোনো ব্যাংকে অন্তত পাঁচ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে অন্তত দুই বছর বিজনেস ডেভেলপমেন্টে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যোগাযোগে দক্ষ ও নেতৃত্বের গুণাবলি থাকতে হবে। চাকরির ধরন: স্থায়ীকর্মস্থল: বাংলাদেশের যেকোনো স্থানেবেতন: আলোচনা সাপেক্ষেঅন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: দুটি উৎসব বোনাস, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, ছুটি ভাতা ছাড়াও ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী গ্রুপ লাইফ ইনস্যুরেন্স ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। যেভাবে আবেদনআগ্রহী প্রার্থীদের একটি সিভি, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবিসহ সরাসরি উরি ব্যাংকের ঢাকার গুলশানের কার্যালয়ে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে যা যা লাগবে দুটি রেফারেন্সসহ সিভি বর্তমান ও পূর্বের পদ-কর্মস্থল চাকরির বৃত্তান্ত বর্তমান বেতন ও প্রত্যাশিত বেতন শিক্ষাগত অবস্থার বিবরণ বৈবাহিক অবস্থা ৩১ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে বয়স মা-বাবার পেশা ও সহশিক্ষা। আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানাবরাবর, প্রধান, মানবসম্পদ বিভাগ, উরি ব্যাংক, সুভাস্তু ইমাম স্কয়ার (দ্বিতীয় তলা), ৬৫ গুলশান অ্যাভিনিউ, গুলশান, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। আবেদনের শেষ সময়: ৭ মার্চ ২০২২ | 1 |
অবশেষে কাপুর ও ভাট পরিবারে বিয়ের সানাই বাজতে চলেছে। আগামী সপ্তাহে আলিয়া ভাট ও রণবীর কাপুরের চার হাত এক হতে চলেছে। ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে মুম্বাইয়ে তাঁদের বিয়ের আসর বসছে। এরই মধ্যে ফাঁস হয়েছে এই তারকা দম্পতির বিয়েতে বিটাউন থেকে কোন কোন তারকা উপস্থিত থাকতে পারেন।'ব্রহ্মাস্ত্র' ছবির সেট থেকে আলিয়া আর রণবীরের একে অপরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়; যদিও আলিয়ার ছোটবেলার 'ক্রাশ' রণবীর। এ কথা আলিয়াই বলেছিলেন। এমনকি আলিয়া তাঁর ঘরে রণবীরের এক বিশাল পোস্টার লাগিয়েছিলেন। কৈশোরের সেই ফ্যান্টাসি, অর্থাৎ রণবীর আজ তাঁর জীবনসঙ্গী হতে চলেছেন। মুম্বাইতে রণবীরের পৈতৃক ভিটেতে অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে তাঁদের বিয়ে হবে বলে জানা গেছে। এখানেই রণবীরের বাবা-মা, অর্থাৎ ঋষি ও নিতু কাপুর গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন। আলিয়া-রণবীরের বিয়ের আসর যে তারকাদের দ্যুতিতে ঝলমলিয়ে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতের এক শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিকের খবর অনুযায়ী, আলিয়া ও রণবীরের বিয়ের দিন সঞ্জয় লীলা বানসালি, বরুণ ধাওয়ান, আয়ান মুখার্জি, জোয়া আখতার, অর্জুন কাপুর, মাসাবা গুপ্তাসহ আরও অনেকে উপস্থিত থাকবেন। এদিকে খবর যে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানকে বিয়ের দিন আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিছুদিন আগে কিং খান 'পাঠান' ছবির শুটিং শেষ করে মুম্বাইতে ফিরেছেন। বিয়ের পর এক গ্র্যান্ড রিসেপশনের আয়োজন করা হবে। এই রাতে হাজির থাকার কথা করণ জোহর, মনীশ মালহোত্রা, অনুষ্কা রঞ্জন, আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন, কারিনা কাপুর খান, সাইফ আলী খান, কারিশমা কাপুর ছাড়া আরও অনেকের। বিয়ের পর্ব চুকে গেলে শুধু ফিল্মি দুনিয়ার বন্ধুদের জন্য এক পার্টি রাখতে চলেছেন আলিয়া ও রণবীর। এপ্রিলের শেষের দিকে তাঁরা এই পার্টি রাখতে পারেন। তাঁদের পার্টিতে রণবীর সিং, দীপিকা পাড়ুকোন, করণ জোহর, আয়ান মুখার্জি, আদিত্য রায় কাপুরসহ চলচ্চিত্র জগতের আরও বন্ধুবান্ধব উপস্থিত থাকবেন। রণবীর ও আলিয়া প্রথমবার একসঙ্গে বড় পর্দায় আসতে চলেছেন 'ব্রহ্মাস্ত্র' ছবির মাধ্যমে। আয়ান মুখার্জি পরিচালিত এই ছবি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা। | 2 |
নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের রায়দুম ঝাউসি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নেত্রকোনাগামী একটি যাত্রীবোঝাই বাস নেত্রকোনার দিকে আসছিল। তখন নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দ্রুতগামী বাস দুটি সড়কের পাশে ধানের জমিতে পড়ে যায়। এতে কমপক্ষে ১৫ যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ঘটনাস্থলে কেউ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে মোটরযান ইউনিয়নের পিকাপ ভ্যান সভাপতি মো. সেলিম মিয়া বলেন, চালকরা এখন ধীরেই চালায়। এই ঘটনাটি ঘটেছে একটি ছাগল দৌড়ে পার হচ্ছিল, তাই। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 6 |
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করল তুরস্ক। 'জি' গ্রুপের ম্যাচে ডাচদের ৪-২ গোলে হারের স্বাদ দিয়েছে তার্কিসরা। লিলের বুরাক ইলমাজ তুরস্কের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন। তার্কিসদের আরেকটি গোল এসি মিলানের হাকান কালহানোগ্লুর। ঘরের মাঠ আতাতুর্ক স্টেডিয়ামে ১৫তম মিনিটেই ইলমাজের গোলে এগিয়ে যায় তুরস্ক। পরের গোলটিও আসে তার পা থেকে। তবে সেটি ছিল পেনাল্টি থেকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হাকান লক্ষ্যভেদ করেন। তাতে খেলা ৫০ মিনিট গড়ানোর আগেই তিন গোলের লিড পেয়ে যায় তুরস্ক। ডাচদের প্রথম গোলটি আসে ডাভি ক্লাসেনের নৈপুণ্যে। ৭৫তম মিনিটে তুরস্কের জালে বল পাঠান তিনি। পরের মিনিটেই বার্সেলোনা মিডফিল্ডার ডি ইয়ং আরও ব্যবধান কমান। কিন্তু কপাল সহায় ছিল না তাদের। ম্যাচে ফেরা তো দূরের কথা, উলটো ৮১তম মিনিটে আরেকটি গোল হজম করে তারা। এই গোলের মাধ্যমেই হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ইলমাজ। | 12 |
সিলেটকে চায়ের দেশ বলা হলেও, চায়ে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশিকুর রহমান আশিক। এক চা-পাতা দিয়ে ২১০ ধরনের চা বানাতে পারেন এই তরুণ। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসেন আশিকের তৈরি চা খেতে। আর এই চা বিক্রি করেই মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করছেন আশিক।সরাইলের শাহবাজপুর গ্রামের হাবলিপাড়া এলাকার মৃত আলী হায়দার মিয়ার ছেলে আশিক ৭ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। ২০০৩ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরেন তিনি। সে জন্য পড়াশোনায় বেশি দূর এগোতে পারেননি। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় পড়াশোনাকে ইতি জানাতে হয়েছে তাঁকে।আশিক আজকের পত্রিকাকে জানান, ২০০৬ সালে বাড়ির পাশের শাহবাজপুর বাসস্ট্যান্ডে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান দেন তিনি। আগে দোকানে শুধু সাধারণ রং চা ও দুধ চা বিক্রি হতো। তবে বিভিন্ন দেশের হরেক স্বাদের চায়ের প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল তাঁর। সেই আগ্রহ থেকে এখন তিনি ২১০ ধরনের চা তৈরি করছেন। গত এক বছর ধরে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও ইরানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রচলিত বিভিন্ন স্বাদের চা তৈরি করছেন বলে জানান আশিক। প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসেন আশিকের তৈরি চা খেতে।ধরন ভেদে এক কাপ চায়ের দাম ৫ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৬০০ কাপ চা বিক্রি হয় আশিকের দোকানে। সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক ৪-৫ হাজার টাকা আয় হয় আশিকের। এ ছাড়া শুক্র ও শনিবার থাকে বাড়তি চাপ।দুই শতাধিক চায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আশিক বলেন, 'রং চা ও দুধ চা তো সব চায়ের দোকানেই পাওয়া যায়। মানুষকে আমার দোকানের চা খাওয়াতে হলে ব্যতিক্রম কিছু করতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই ফেসবুক ও ইউটিউবে আমি চা সংক্রান্ত ভিডিওগুলো দেখতে থাকি। এভাবে দেখে শেখার পর নিজে বানানোর চেষ্টা করতাম। | 6 |
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার লুৎফর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধে কীভাবে তাদের দাদা শহীদ হয়েছেন সে গল্প শুনলেন দুই নাতি। আর এই গল্প শোনালেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু।শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের ভাতিজা রওশন বলেন, তাঁর জমজ দুই ছেলে বর্তমানে খাস নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। একজনের নাম রাহিল বিন রওশন এবং অন্যজন রাফান বিন রওশন। ক্ষুদে দুই শিক্ষার্থী মাঝেমধ্যেই বলতেন কীভাবে দাদা লুৎফর রহমান যুদ্ধ করেছেন এবং কোথায় শহীদ হয়েছেন। এমন প্রশ্ন বারবার ছুড়ে দিতেন বাবা রওশনের প্রতি। শেষ পর্যন্ত তাদের দাদা লুৎফর রহমানের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলুর সঙ্গে দেখা করে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাতে অনুরোধ করেন তিনি।ছোট শিশুদের এমন আগ্রহ দেখে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলুও গল্প শোনাতে আসেন। স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন এবং সহযোদ্ধা আত্রাই উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ও শেখ মো. আনিছুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সেদিনের যুদ্ধস্থল রানীনগর থানার উত্তর দিকে দরিয়াপুর মাঠে পৌঁছান। সেখানেই দুই নাতিকে দেখান কোথায় পাক বাহিনীর গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পরেছিলেন এবং শহীদ হয়েছিলেন তাদের দাদা। এ সময় কীভাবে যুদ্ধ করেছিলেন লুৎফর রহমান এমন গল্প শোনান।বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু বলেন, ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় রাণীনগর পাক হানাদারমুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধারা থানা সদরে থাকা হানাদার ক্যাম্প চারদিক থেকে ঘেরাও করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পাক হানাদার বাহিনীর মধ্যে ৩৭ ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির শব্দে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ১০ ডিসেম্বর রাত ১০টা দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসররা পালাতে শুরু করে। দীর্ঘ ৩৭ ঘণ্টা সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে শেষের দিকে উভয়পক্ষের গোলাগুলির একপর্যায়ে ৪০ জন রাজাকার-আলবদর অস্ত্রসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং রাণীনগর উপজেলা হানাদারমুক্ত হয়। এই সম্মুখযুদ্ধে লুৎফর রহমান শহীদ হন। | 6 |
করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সদস্য সচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো: ওহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, 'গুচ্ছ পরীক্ষা নিয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেই আমাদের। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো সিদ্ধান্তে যেতে পারছি না। খুব শিগগিরই সবাইকে নিয়ে একটি অনলাইন মিটিং ডাকা হবে। তখন কোনো সিদ্ধান্ত এলে জানিয়ে দেয়া হবে।' এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, আমরা খুব শিগগিরই অনলাইনে একটি মিটিং ডাকবো এবং সকল সিদ্ধান্ত মিটিংয়ের উপর ভিত্তি করেই নেয়া হবে। তাছাড়া আমাদের প্রাথমিক আবেদন শেষ হয়েছে সিলেকশন রেজাল্ট প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কবে নাগাদ সিলেকশনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর আমরা মিটিংয়ের আগে কিছু জানাতে পারছি না। উল্লেখ্য, দেশে চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ১৯ জুন থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়া কথা থাকলেও, গত ১১ জুন তা স্থগিত করা হয়। সূত্র : ইউএনবি | 1 |
দুই শিশুকন্যার সামনে মায়ের মৃত্যু কত বড় শোক হয়ে উঠতে পারে, সেটা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারও পক্ষে বোঝা খুব কঠিন। মিরপুরের ভাষানটেকের ডেন্টাল কলেজের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা নিয়ে আমরা হয়তো কোনো কথা বলতে পারব, কিন্তু কোনোভাবেই সন্তানদের কাছে তাদের মাকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। বাসের ধাক্কার পর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়লেন মা এবং দুই কন্যা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মা মারা গেলেন। অসহায় দুই শিশু হলো মায়ের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী! এত বড় শোক বহন করা সহজ কথা নয়।যানজটে প্রায় স্থবির রাজধানী ঢাকাতে কিছু সময়ের বিরতি দিয়ে এ ধরনের শোকাবহ দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকে। সড়কপথে চলার ব্যাপারে আইনকানুন না মানাকে অনেকেই নিজের অহংকার বলে গণ্য করে। দীর্ঘক্ষণ লাল বাতিতে দাঁড়িয়ে থাকার পর সবুজ বাতি জ্বলে উঠলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তা মোটেই ট্রাফিক আইনকে শ্রদ্ধা করে না। আইন ভাঙার এই প্রতিযোগিতায় সব ধরনের যানবাহন শামিল হয়, তবে মোটরসাইকেল এবং সিএনজি অটোরিকশা স্বাধীনতা একটু বেশি নেয়। আর বাসগুলো সোজা চলতে চলতে হঠাৎ আড়াআড়ি এসে পেছনের বাহনের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।আর এ জন্য চালক শুধু তাঁর হাতটা একটু বের করে দিয়ে সদম্ভে জানিয়ে দেন, 'খবরদার! এগিয়েছ তো পিষে দেব!' এই সমস্ত কিছুই চলছে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে অসম্মান করে, কিন্তু সড়কের এই অসভ্যতা যেন সয়ে গেছে রাজধানীবাসীর। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্কুলগুলো খুলেছে যখন, তখন যানজটও বেড়ে গেছে ব্যাপকভাবে। রাস্তায় এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অনেক চালকই মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেন না, আর তার শিকার হয় সাধারণ মানুষ।আরও একটা কথা প্রায়ই বলা হয়ে থাকে, অনেক চালকই ট্রাফিক আইন জানেন না, যে লাইসেন্স সঙ্গে নিয়ে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালান, সে লাইসেন্স স্বাভাবিক পথে পাওয়া নয়। মালিকেরা কি তা জানেন না? জানেন, কিন্তু কম বেতনে চালকদের নিয়োগ দেওয়ার লোভে এই দুই নম্বরি লাইসেন্সকে মেনে নেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সম্মান করা না হলে ভুগতে হবে, এমন কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা ও তার প্রয়োগ দেখা যায় না।তাই একজন মা তাঁর সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে লাশে পরিণত হলে সবাই শোকার্ত হয় ঠিকই, কিন্তু এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ যে ট্রাফিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা, সেটা নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা থাকে না কারও। পরিবহনমালিক, সাধারণ চালকসহ সবাই যদি অন্তত সড়কে চলার আইনগুলোকে সমীহ করতেন, তাহলে দুর্ঘটনার খবরগুলোকে অতীত করে দেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে বর্তমানের এই আগুন ভবিষ্যতেও পোড়াবে।সমবেদনায় মেয়ে দুটো মাকে ফিরে পাবে না। কিন্তু সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কীই-বা করতে পারি আমরা? | 6 |
শুধু নিজের সাজপোশাকেই ঈদ এখন সীমাবদ্ধ থাকে না। ঘরে নানা অতিথি আসবে। আড্ডা থেকে শুরু করে আপ্যায়ন-সবকিছুই চলবে। তাই ঘরটার সাজপোশাকেও নজর দিতে হয়। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় অনেকেই ছুটছেন ঘর সাজানোর পণ্যের খোঁজে। আড়ংয়ের 'হোম ডেকোর' কর্নারে দুজন বিক্রেতা গাঢ় সবুজ রঙের একটি বিছানা চাদর মেলে ধরেছেন। নিমা রহমান সেটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন। তিনি বলেন, 'ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠেই নতুন চাদর বিছানো চাই। নয়তো ঘরটাকে ম্যাড়ম্যাড়ে লাগে।' বিছানা চাদরের পাশাপাশি কেউ দেখছেন কুশন কাভার, কেউ বা নকশি কাঁথা, কেউ আবার সোফার কাভার বা জানালার পর্দা। বড় কুশন কাভারের চাহিদা বেশ। 'হোম ডেকোর' কর্নারের বিক্রেতা মানসুরা হক বলেন, ঈদ উপলক্ষে সোফা ও ডাইনিং টেবিল সাজানোর পণ্য মানুষ বেশি কিনছে। গত সপ্তাহ থেকে পোশাকের পাশাপাশি ঘর সাজানো পণ্যের কেনাকাটা বেড়েছে। বিছানার চাদর ১ থেকে ১০ হাজার টাকা, পর্দা পাঁচ শ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। শোপিস, ক্রোকারিজ সামগ্রীর বিক্রি টুকটাক হলেও ঈদের দু-তিন দিন আগে বেশি বাড়বে। মানসুরা বলেন, এবার টেরাকোটা নকশার ক্রোকারিজ আনা হয়েছে। ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদাও ভালোই। রাজধানীর নিউমার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোডের ঘর সাজানো পণ্যের দোকাগুলোয় মানুষ ভিড়তে শুরু করেছে। শাহনাজ খাতুন প্রতি ঈদেই বসার ঘরে নতুন পর্দা লাগান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিউমার্কেটে এসেছেন পর্দার খোঁজে। সময়টা বর্ষা বলে সুতির মধ্যে হালকা নীল রং খুঁজছেন। সঙ্গে শতরঞ্জি নেবেন। তিনি বলেন, 'ঈদের দিনে সকালে নামাজ শেষে ছেলের বন্ধুরা আসে। বসার ঘরে আড্ডা দেয়। তাই এই ঘরটাকে সুন্দর করেই সাজাই।' নিউমার্কেটের কয়েকজন বিক্রেতা জানান, ঈদে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বিছানার চাদরের। তা ছাড়া কুশনও বেশ চলে। এ মার্কেটে বিছানার চাদরের দাম পড়বে ৬০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। পর্দা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ১৬০০ টাকার মধ্যে। আর কুশন কাভারের দাম দেড় শ থেকে সাড়ে তিন শ টাকা। নিউমার্কেটের তাহমিদ বেডিংয়ের বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, 'ঈদে তো মানুষ কাপড়চোপড় বেশি কেনে। আমাদের বেচাকেনা কম হয়। তা-ও রোজার শেষ সপ্তাহে গিয়ে মানুষ কিছু কিনতে আসে।' ক্রোকারিজের দোকানগুলোতে গ্লাস, চামচ আর ফিরনি সেটের চাহিদা বেশি। খান ক্রোকারিজের বিক্রেতা আলাউদ্দিন টিটু বলেন, ঈদুল ফিতরে ছোট ছোট ক্রোকারিজ সামগ্রী বেশি বিক্রি হয়। তানিয়া ইসলামের বিয়ের পর এবারই প্রথম ঈদ। স্বামীর চাকরির জন্য ঢাকাতেই ঈদ করা হবে। ঈদের দিনে ঘরটাকে নিজের মতো করে সাজাবেন। নিউমার্কেট থেকে বেশ কিছু শোপিস কিনলেন। নেড়েচেড়ে দেখছিলেন প্লাস্টিকের ফুল ও ফুলদানি। সংসার নতুন হোক আর পুরোনো, ঈদের দিনটাতে ঘরের সাজেও নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলতে চান অনেকে। | 4 |
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় বিকাশ প্রতারক চক্রের মুলহোতাসহ তিনজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। এই সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র ভুয়া মোবাইল সিম ব্যবহার করে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও উচ্চপদস্থ চাকরিজীবিদের শীর্ষ সন্ত্রাসী পরিচয়ে মোবাইলে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী শামশের উদ্দিন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী মহাসড়কের আড়াইহাজার থানার বান্টিবাজার হতে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন সৈয়দ আকতার হোসেন লিটন (৪৫), মুকলেসুর রহমান ওরফে দয়াল বাবা (৫২) ও দুলাল ওরফে দুলাল পাগলা (৩২)। র্যাব জানায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি আড়াইহাজার থানার জনৈক মমতাজ হাসান র্যাব-১১ বরাবর লিখিত অভিযোগ জানান, একটি অপরিচিত মোবাইল নাম্বার (০১৮৮০৮৭৭০৮৬) থেকে দেশের শীর্ষ-সন্ত্রাসী মিরপুরের শাহাদাত পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে। 'বাঁচতে চাইলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দে' বলে হুমকি দেয়। প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই পরিচয়ে একই ব্যক্তি একাধিক সিম ব্যবহার করে দেশের বহু প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ পদস্থ চাকরিজীবিদের মোবাইলে হুমকি দিয়ে চাঁদার দাবি করেছে। অনেকে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে বিকাশে চাঁদা দিয়েছে। অনেকে হুমকিতে ভীত সন্ত্রন্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আবার অনেকে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরীও করেছে। র্য্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল দীর্ঘদিন অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে এই প্রতারক চক্রকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে গোপনসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী মহাসড়কের আড়াইহাজার থানার বান্টিবাজার থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাজ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদ জানায়, এই সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের মূলহোতা সৈয়দ আকতার হোসেন লিটন। তার বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার আমগ্রামে। প্রতারণাই তার মূল পেশা আর মাজার ভক্তি তার নেশা। প্রায় একযুগ আগে গাজীপুরের কোনাবাড়ির এক মাজারে ফকির মোখলেসুর রহমানের সাথে তার পরিচয়। লিটন ভক্তি করে ফকির মোখলেসুর রহমানকে উপাধি দেয়। দয়াল বাবার মুরীদ হিসেবে দুলাল পাগলার সাথে লিটনের পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লিটন মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। জ্বিনের বাদশা হয়ে প্রতারণা করার অপরাধে একবার গ্রেফতারও হয়েছিল। তার পরেও তার প্রতারণা থেমে থাকেনি। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত টাকা নিয়মিত গুরুদক্ষিণা হিসেবে দয়াল বাবাও পেত। সরকার মোবাইল সিম নিবন্ধনের আওতায় আনলে লিটনের প্রতারণা কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়ে। প্রায় ৩মাস পূর্বে দয়াল বাবার নির্দেশে দুলাল পাগলা গাজীপুর চৌরাস্তার আজিজ নামের এক ভিক্ষুকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফিংগার প্রিন্ট ব্যবহার করে ৪টি সিম তুলে লিটনকে দেয়। এই সিমগুলো দিয়ে বিকাশ ও নগদ একাউন্ট খোলা হয়। পরবর্তীতে এই সিম ও বিকাশ নাম্বার ব্যবহারের মাধ্যমে হুমকি ও প্রতারণা করে এই চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। | 6 |
খুব সকালে রাজধানীর কাঁটাবন মোড়ে সড়কের পাশে পড়ে ছিল তরুণীর নিথর দেহ। পিঠ, দুই হাতের কনুইসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে তখন রক্ত ঝরছিল। পরিচয়হীন তরুণীকে পথচারী এক চিকিৎসক নারী উদ্ধার করে নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ততক্ষণে সব শেষ। জরুরি বিভাগের চিকিৎকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর শনিবার দিনভরই অজ্ঞাত পরিচয়ে তরুণীর লাশ পড়েছিল মর্গে। শেষ বিকেলে স্বজনরা পরিচয় শনাক্তের পর জানা গেল তার নাম প্রিয়াংকা দত্ত পিয়া। ২২ বছরের এ তরুণী ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। পাশাপাশি ধানমণ্ডিতেই ল্যাবএইড হাসপাতালের কলসেন্টারে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন।
তরুণীর পরিচয় শনাক্ত হলেও মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি এখনও। প্রাথমিক ধারণায় পুলিশ বলছে, সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হতে পারে। তবে আলমত দেখে ভিন্নমতও রয়েছে পুলিশ আর স্বজনদের। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় প্রিয়াংকার হাতে ভ্যানিটি ব্যাগ আর মোবাইল ফোন ছিল। তাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভোরে অনেকটা খালি বাসে দুর্বৃত্তরা তার ভ্যানিটি ব্যাগ ও মোবাইল ফোন রেখে তাকে চলন্ত বাস থেকে ছুড়ে ফেলেছে কিনা- তাও তদন্ত করছে পুলিশ।
যে নারী চিকিৎসক ওই তরুণীকে উদ্ধার করেন তিনি শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। আসমা উল আরবী নামের ওই নারী বলেন, সকাল ৭টার দিকে রাস্তার পাশে তরুণী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন। তিনি ওই পথে যাওয়ার সময় সেখানে কয়েকজন রিকশাচালকসহ পথচারীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ভয়ে কেউ রক্তাক্ত তরুণীকে ধরছেন না। মানবিক কারণেই তিনি কয়েকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। তবে তরুণীটির এমন পরিনতির বিষয়ে উপস্থিত কেউই কিছু বলতে পারেননি।
শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রিয়াংকার পরিচয় শনাক্ত করেন তার মামা টিটু কুমারসহ কয়েকজন স্বজন। লাশ দেখে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
টিটু কুমার জানান, ভোরে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের বাসা থেকে ল্যাবএইড হাসপাতালের উদ্দেশে বের হয়েছিল প্রিয়াংকা। কল সেন্টারের দায়িত্ব শেষ করে তার ভাগ্নির ধানমণ্ডিতেই ভুইয়া একাডেমিতে ক্লাশ করতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সকালে ল্যাবএইড থেকে পরিবারকে জানানো হয়, প্রিয়াংকা ডিউটিতে যায়নি। এরপরই মূলত তাকে খোঁজা শুরু হয়। মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
টিটু জানান, ক্যাম্পাস ও বন্ধুদের বাসায় খুঁজে না পেয়ে তারা বিভিন্ন পথে প্রিয়ংকার সন্ধান শুরু করেন। কাঁটাবন মোড়ে গিয়ে জানতে পারেন-সকালে সেখান থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। এরপরই মর্গে গিয়ে ভাগ্নিরর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। স্বজনরা জানান, প্রিয়াংকার বাবার নাম নারায়ণ চন্দ্র দত্ত। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়।
শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, কীভাবে ওই তরুণীর মৃত্যু হলো তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনা মনে হলেও তার মোবাইল ফোন ও ব্যাগটি কোথায় গেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
| 6 |
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালিকপক্ষ। পাশাপাশি নিহত কারও যদি শিশুসন্তান থাকে সেই শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত পরিবারকে বেতনের সমপরিমাণ টাকা এবং উপার্জনক্ষম সদস্য থাকলে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।আজ রোববার স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মেজর (অব) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।এ ছাড়াও এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে যাদের অঙ্গহানি ঘটেছে তাঁদের পরিবারকে ছয় লাখ টাকা এবং সাধারণ আহতদের প্রতিজনকে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।এদিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ৪৫ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৯ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ১৩টি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বেশিরভাগ মরদেহই আগুনে জ্বলে অঙ্গার হয়ে গেছে। ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।যদিও রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৪৯ জন বলে জানিয়েছেন।নিহত ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা হলেন কুমিরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারফাইটার ও মানিকগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মো. রানা মিয়া, একই ফায়ার স্টেশনের নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান, ফায়ারফাইটার ও নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন, ফায়ার স্টেশনের কর্মী মো. শাকিল তরফদার, স্টেশন লিডার ও রাঙ্গামাটি জেলার বাসিন্দা মিঠু দেওয়ান, একই জেলা ও একই ফায়ার স্টেশনের লিডার নিপন চাকমা, ফায়ারফাইটার ও শেরপুর জেলার বাসিন্দা রমজানুল ইসলাম এবং সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার ও ফেনী জেলার বাসিন্দা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। | 6 |
নাশকতার অভিযোগে ১২৭ জনকে আটক করেছে ইউক্রেনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানী কিয়েভ থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ জন অনুপ্রবেশকারীও রয়েছেন। কিয়েভের সেনা দপ্তরের প্রধান মিকোলা জিরনভ এসব তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিবিসির জিরনভ বলেন, রুশপন্থীদের ধরতে সড়কের তল্লাশিচৌকিগুলো মুখ্য হয়ে উঠেছে। এসব রুশপন্থীর বিরুদ্ধে নাশকতা ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ এনেছে ইউক্রেন। দীর্ঘ সময়ের প্রতিরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে বলে জিরনভ জানান। তিনি বলেন, কিয়েভের ৩৫টি বিপণিবিতান ও ৬৩৫টি দোকান খোলা রয়েছে। ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরু হয়েছে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। রুশ অভিযান বন্ধে রাশিয়া-ইউক্রেন দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকেও বসেছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা। কোনো সমঝোতা ছাড়াই এসব আলোচনা শেষ হয়। | 3 |
বিমা খাতের শেয়ারের আবারও অস্বাভাবিক উত্থান শুরু হয়েছে শেয়ারবাজারে। কয়েক দিন ধরে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এটিকে বিমার শেয়ারের 'দ্বিতীয় র্যালি' বলে অভিহিত করছেন। আর তাতেই বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকের মনে আতঙ্ক ভর করেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিমার শেয়ার নিয়ে প্রথম র্যালিটি হয়েছিল গত বছরের আগস্ট-নভেম্বরে। তখন এ খাতের কোনো কোনো শেয়ারের দাম ৪-৫ গুণ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। পরে ওই দাম কমতে শুরু করে। তাতেই বেশি দামে শেয়ার কিনে সবচেয়ে বেশি লোকসানে পড়েন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত বছর একটি সংঘবদ্ধ চক্র কারসাজির মাধ্যমে বিমার শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটায়। নানা তদন্তে সেসব কারসাজিকারকদের নামও বেরিয়ে আসে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন এসে আবারও পুরোনো কারসাজিকারকেরা বিমা শেয়ার নিয়ে কারসাজিতে মেতেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে সব কটিই ছিল বিমা খাতের। এসব শেয়ারের প্রতিটিরই প্রায় ১০ শতাংশ করে বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানিসহ গতকাল ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া বিমা খাতের ৪৬ কোম্পানির মধ্যে ৪৪টিরই দাম বেড়েছে। আর কমেছে একটির, অপরিবর্তিত ছিল একটির দাম। বিমা খাতের শেয়ারের দামের আবার এ উত্থানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক ভর করেছে। একাধিক বিনিয়োগকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এর আগেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখের সামনে হুহু করে বিমা খাতের শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়েছিল। পরে তা কমে যায়। ওই সময় কারসাজিকারকদের কেউ কেউ হয়তো তাদের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করতে পারেনি। তাই দ্বিতীয়বারের মতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করে হাতে থাকা বাকি শেয়ার বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এ ছাড়া বিমা কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে বিমা খাতের শেয়ারের দামের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্স, প্রভাতি ইনস্যুরেন্স ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স। এর মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিকের দাম মাত্র ১২ কার্যদিবসে ১২ টাকার বেশি বেড়েছে। আর প্রভাতি ইনস্যুরেন্স ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্সের দাম এক মাসে যথাক্রমে ৩৪ শতাংশ ও সাড়ে ৩৭ শতাংশ করে বেড়েছে। এদিকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সোমবার থেকে বিধিনিষেধ আরোপের দ্বিতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবারও শেয়ারবাজারে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ১০৪ পয়েন্ট বা ২ শতাংশ বেড়েছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি বেড়েছে ১৯৭ পয়েন্ট বা প্রায় ২ শতাংশ। সোমবার থেকে বিধিনিষেধ আরোপের পর ব্যাংকের লেনদেনের সময় কমে যাওয়ায় শেয়ারবাজারের লেনদেনও দুই ঘণ্টা কমে যায়। তারপরও গতকাল ঢাকার বাজারে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৫০৮ কোটি টাকায়, যা আগের দিনের চেয়ে ২৭১ কোটি টাকা বেশি। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রামে গতকাল লেনদেন হয় প্রায় ১৫১ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৩৫ কোটি টাকা বেশি। | 0 |
রবীন্দ্রনাথের গানটিই একটু ঘুরিয়ে বলা যায়, প্রতারণার ফাঁদ পাতা ভুবনে,/ কে কোথা ধরা পড়ে, কে জানে-/ গরব সব হায় কখন টুটে যায়,/ সলিল বহে যায় নয়নে। সুতরাং, সাবধান। বিনিয়োগের এমন অনেক জায়গা আছে, সেখানে টাকা খাটানো বারণ। বিনিয়োগ করার আগে সবকিছু দেখেশুনে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ। হাতে অঢেল টাকা থাকলে তা কোথাও খাটানোটাই সংগত। কারণ, টাকায় টাকা আনে। বালিশের নিচে টাকা রাখলে ওই টাকা বাড়ে না। তাহলে কোথায় রাখবেন টাকা? সঞ্চয়পত্র ভালো সুদ দেয়। নিঃসন্দেহে ভালো জায়গা। ভরসা করা যায়। যেহেতু সরকার এর নিশ্চয়তা দেয়। ডাকঘরও সুদ খারাপ দেয় না। এরও জিম্মাদার সরকার। বাকি আছে ব্যাংক। যেকোনো ব্যাংকে স্বল্পমেয়াদি বা মধ্যমেয়াদি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করা যায়। দীর্ঘমেয়াদির প্রসঙ্গ তোলা হচ্ছে না। কারণ, নয়-ছয় সুদ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ব্যাংকগুলো নিজেরাই এখন দীর্ঘমেয়াদি এফডিআর নিতে উৎসাহী নয়। টাকা খাটানোর আরেকটি আলোচিত খাত আছে। সেটা পুঁজিবাজার। অন্যগুলোর সঙ্গে তুলনায় খাতটি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু বুঝেশুনে এগোতে পারলে ঝুঁকির মাত্রা কমানোর সুযোগ আছে। কম বুঝনেওয়ালাদের জন্য এ খাত নয়। দীর্ঘ মেয়াদে টাকা খাটানোর অন্যতম আকর্ষণীয় খাত এটি। অন্যগুলোর তুলনায় এ খাত থেকে এমনকি বেশি লাভও ঘরে তোলা সম্ভব। বিমা কোম্পানিতেও অনেকে টাকা খাটান। এ খাত থেকে নির্দিষ্ট সময় পরপর যেমন বোনাস পাওয়া যায়, আবার নির্দিষ্ট সময় পর টাকার অঙ্কও দ্বিগুণ বা আড়াই গুণ হয়ে যায়। পাশাপাশি থাকা যায় বিমার আওতায়। অথবা আপনি এসবের কোনো পথেই যাবেন না। না-ই যেতে পারেন। টাকা আপনার, সিদ্ধান্ত আপনার। আপনি বসে বসে খেতে পারেন। যদিও বাংলায় প্রবাদ আছে একটা, বসে বসে খেলে রাজার ধনও ফুরায়। ফুরিয়ে যাক। তবু ভোগ তো করে যেতে পারলেন!এবার আসল প্রসঙ্গে আসা যাক। টাকা কোথায় ঘুণাক্ষরেও রাখবেন না বা খাটাবেন না, এটাই হচ্ছে আলোচ্য বিষয়। কষ্টে অর্জিত টাকা হোক বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়াই হোক, তা জলে মানে পানিতে ফেলে দেওয়া নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অবশ্য আপনি চাইলে ফেলতেই পারেন। পানির ধর্ম আছে। ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া। ভাসিয়ে নিয়ে গেলে পানিকে আবার দোষারোপ করতে যাবেন না যেন। সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি মিলিয়ে দেশে ৬০টি ব্যাংক আছে। সরকারির মধ্যে সোনালি, অগ্রণী, জনতা, অগ্রণী, বেসিক, বিডিবিএল-৬টি হচ্ছে কোম্পানি। ১১টি আছে বিশেষায়িত। ৯টি বিদেশি, বাকিগুলো বেসরকারি। সরকারি ও বিদেশির মধ্যে আমানত রেখে বিপদে পড়েছেন কেউ, এমন কথা শোনা যায়নি। বেসরকারির ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে সমস্যা হয়। যেমন ওরিয়েন্টাল ব্যাংকে আমানত রেখে দেড় যুগেও অনেক আমানতকারী পুরো টাকা ফেরত পাননি। ব্যাংকটির মালিকানা পরে বিক্রি হয়। সেটি আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক নাম ধারণ করে। কিন্তু মানুষের আস্থা আর অর্জন করতে পারেনি। ফলে কোন ব্যাংকে টাকা রাখবেন, তার আগে বিবেচনা করতে হবে ব্যাংকগুলো চালাচ্ছেন কারা। ব্যাংকের স্বাস্থ্য কেমন, মানুষ আমানত রাখছে কেমন, মুনাফা কেমন করছে ইত্যাদি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ব্যাংকে টাকা রাখলে মার যাবে না, পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংক আছে, এমন ধারণা যে ভুল, তার ভূরি ভূরি উদাহরণ ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে দেশে। সুতরাং, সাবধান। নিজ দায়িত্বেই টাকা রাখুন। পরে কাউকে দোষারোপ করা যাবে। কিন্তু নিজের টাকা তোলার জন্য ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় হয়ে যাবে। অনুমোদন থাকলেও প্রায় অর্ধেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো না। তারা গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। গ্রাহকেরা প্রতিদিনই সেখানে ধরনা দিচ্ছেন। তাই বেশি মুনাফার লোভে দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা মানে দুর্ভোগ ডেকে আনা। দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান নামে একটি বিভাগ আছে। এ বিভাগের কর্মকর্তারা সারা বছর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তদারকি করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তিন মাস আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে ছয় কোম্পানির খারাপ অবস্থার কথা জানানো হয়। সেগুলো হচ্ছে পিপলস লিজিং, বিআইএফসি, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ফারইষ্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও এফএএস ফাইন্যান্স। স্বাধীনতার পর এ দেশের মানুষ বহু স্তর বিপণন (এমএলএম) কোম্পানির নাম প্রথম শুনেছে নব্বইয়ের দশকে জিজিএনের মাধ্যমে। এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মো. রফিকুল আমীন। এখন ডেসটিনি তো একটি ইতিহাস। প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে রফিকুল আমীন ৭ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে। এমএলএমের লোভনীয় অফারে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠে একসময় শত শত কোম্পানি। এমওয়ে, নিউওয়েসহ অসংখ্য কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। অথচ এমএলএম পদ্ধতির ব্যবসা করার কোনো আইনই ছিল না দেশে। ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিদের অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়ার পর এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসা করার আইন তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আইনের আওতায় এক বছরের জন্য চারটি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া হলেও পরে আর এগুলোর নবায়ন হয়নি। ছয় বছর ধরে একটি কোম্পানিকেও লাইসেন্স দেয়নি সরকার। কয়েকটি কোম্পানি আদালতে থেকে অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করছে। এই ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের সব এমএলএম কোম্পানিই এখন অবৈধ। অথচ এসব কোম্পানিতে অতি মুনাফার লোভে একশ্রেণির সহজ-সরল মানুষ আমানত রাখছেন। টাকা মেরে চলে গেলে প্রতিকার চাওয়ার জায়গাটাও যে নেই, তা-ও বিবেচনায় রাখছেন না এসব বিনিয়োগকারী। বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, এমএলএম একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত শব্দ। সাধারণ মানুষ কেন এসবে যান, এটা আমারও প্রশ্ন। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বিমা খাতের অবদান এক শতাংশের নিচে। যদিও দেশে ৭৮টি বিমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি জীবন বীমা করপোরেশনসহ জীবনবিমা কোম্পানি ৩০টি। বিদেশির মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ এবং ভারতের এলআইসি। কোম্পানিগুলোতে অনেক ধরনের পলিসি করা যায়। দীর্ঘ মেয়াদে টাকাও রাখা যায়। কিছু পলিসি আছে ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের মতো কাজ করে, আবার পলিসি আকারেও কাজ করে। কিন্তু এ খাতের প্রতি মানুষের অনাস্থাও আছে কিছু। অনাস্থার বড় কারণ, সময়মতো দাবি পরিশোধ না হওয়া। এমনও উদাহরণ রয়েছে, মানুষ প্রিমিয়াম দিচ্ছেন, কিন্তু তা কোম্পানিতে জমা হচ্ছে না। আবার পরিচালকেরা কোম্পানি থেকে নানা কৌশলে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। বিমা পলিসি করা বা বিমা কোম্পানিতে আমানত করার ক্ষেত্রেও তাই গ্রাহকের ভূমিকাটা বড়। কোম্পানিতে কারা আছেন, ঠিকমতো দাবি পরিশোধ করেন কি না, কোম্পানির আয় কত ইত্যাদি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) সভাপতি বি এম ইউসুফ আলী বলেন, বিমা পলিসি করার ক্ষেত্রে কোম্পানির সুনাম ও স্বাস্থ্য দেখে করা উচিত। নাহলে ঠকার আশঙ্কা থাকে। তবে এখন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আছে। কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইডিআরএর কাছে যে কেউ নালিশ জানাতে পারেন। শেয়ারবাজারে 'জেড' ক্যাটাগরির শেয়ার নামে একধরনের শেয়ার রয়েছে। এগুলো পচা শেয়ার নামে পরিচিত। কোম্পানিগুলো, এমনকি এখন আর কোনো পণ্যই উৎপাদন করে না বা করলেও মুনাফা কম বা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না। সাধারণত এসব কোম্পানির শেয়ারের সংখ্যা কম থাকে। হঠাৎ দেখলেন, এ ধরনের কোম্পানির শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে। লোভে পড়ে আপনিও বিনিয়োগ করলেন। কিন্তু আপনি যেদিন বিনিয়োগ করলেন, সেদিন থেকেই কমা শুরু হলো। কারণ, আপনি তো জানেন না, এই শেয়ার নিয়ে কারা খেলছেন। কীভাবে কখন এই খেলা তাঁরা শেষ করবেন, তা-ও জানা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে একসময় কমতে কমতে এমন জায়গায় নেমে এল যে আপনার পুঁজিই শেষ। ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকাই ভালো। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, জেড ক্যাটাগরির নাম যে জেড ক্যাটাগরি, তা থেকেই বিনিয়োগকারীদের বোঝা উচিত। এই শেয়ার ঝুঁকিপূর্ণ। তবে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনই এ শ্রেণির শেয়ার থেকে মুনাফার সম্ভাবনাও বেশি। এখন হচ্ছে বিনিয়োগকারীর নিজের সিদ্ধান্ত। হায় হায় কোম্পানির নাম শুনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবু বুঝে হোক আর না বুঝে হোক, অনেকই অতি মুনাফার লোভে এমন কোম্পানিতে কষ্টের টাকা বিনিয়োগ করে বসেন। তারপর একসময় সেই টাকা উদ্ধারে জীবন হয়ে যায় ওষ্ঠাগত। কেউ হয়তো ফিরে পান, তবে অধিকাংশই সেই কোম্পানির টিকিটাও খুঁজে পান না। গত এক দশকে সমবায় সমিতির নামে সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে হাওয়া হয়ে যাওয়ায় অনেক ঘটনা ঘটার পর বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। এখানে বলে রাখা দরকার, খারাপের ভিড়ে ভালো সমবায় সমিতিও রয়েছে কিন্তু। সারা দেশে কত সমবায় সমিতি আছে, সেই সংখ্যা শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। গত মার্চ পর্যন্ত সরকারের সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত সমিতির সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি। সেখানে অর্থ জমা করেন ১ কোটি ১৪ লাখ মানুষ। তো ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত উধাও হয়ে যাওয়া প্রতারক সমিতির ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সমবায় অধিদপ্তর। তাতে দেখা যায়, ২৬৬টি 'সমবায় সমিতি' সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করার পর তা আর ফেরত দিচ্ছে না। অধিকাংশই অফিস গুটিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছে। দেশের আইন অনুযায়ী ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান মুনাফার লোভ দেখিয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করার অধিকার রাখে না। আর সমবায় অধিদপ্তরে নিবন্ধিত সমবায় সমিতিগুলোর যা করার অধিকার আছে তা হলো, নিজ নিজ সদস্যদের অর্থ জমা রাখা। কিন্তু নামসর্বস্ব ওই সমবায় সমিতিগুলো তাদের সদস্যনির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে উচ্চ হারে মুনাফা প্রদানের লোভ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের আমানত সংগ্রহ করে একটা সময় পালিয়ে যায়। তখন প্রতারিত মানুষগুলোর হায় হায় করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। প্রশ্ন করতে পারেন, এমন ঘটনা কেন ঘটছে? আসল কথা হচ্ছে, সমবায় অধিদপ্তর নিবন্ধিত সমিতিগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি করছে না। সেটা করা হলে বার্ষিক নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে তা ধরা পড়ার কথা। তা ছাড়া সমিতিগুলো নিয়মিত পরিদর্শন হয় কি না, সেটাও সন্দেহ। তেমনটি করা হলে সম্পদ আত্মসাৎ পরিদর্শকদের চোখে ধরা পড়ার কথা। সমবায় সমিতির নামে প্রতারণা ঘটনা যে বন্ধ হয়নি, তার সর্বশেষ উদাহরণ যশোরের সূর্যের আলো সমবায় সমিতি। গত জুলাইয়ে জেলার বাঘারপাড়া চৌরাস্তায় হাজি সুপার মার্কেটে জননী কম্পিউটারের একাংশ ভাড়া নিয়ে সমিতির কার্যক্রম শুরু করেন আসলাম হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। নারী কর্মী নিয়োগ দিয়ে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে ঋণ দেওয়ার নামে হাজার হাজার টাকা জামানত সংগ্রহ করা হয়। সাধারণ গ্রাহকদের দৈনিক ডিপোজিট পেনশন স্কিম জমা অনুযায়ী লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এভাবে কয়েক শ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তারপর হঠাৎ করেই সমিতির অফিস বন্ধ করে পালিয়ে যান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশকে অবহিত করেন গ্রাহকেরা। মামলা হয়। আসলাম হোসেনকে আটক করে পুলিশ। ঘটনাটি গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের। জানতে চাইলে বাঘারপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন গত শনিবার প্রথম আলোকে জানান, '৪ জনের টাকা ফেরত দিতে পেরেছি। বাকিদের টাকা এখনো উদ্ধার করা যায়নি।' এই যখন অবস্থা, তখন সিদ্ধান্ত আপনার। সমবায় সমিতিতে বিনিয়োগের আগে ভালোভাবে খোঁজখবর নিন। অতি মুনাফার লোভে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের মিষ্টি কথায় ভুলবেন না। তাতে লোকসান পুরোটাই কিন্তু আপনার। | 0 |
ফেনীর পরশুরামে টিসিবির বাকি প্রায় এক হাজার প্যাকেট পণ্য শুধু পরিচয়পত্র দেখে বিক্রি করেছে ডিলাররা। গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন পেশার লোকজনের কাছে এ পণ্য বিক্রি করা হয়।এর আগে গত সোমবার টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য নির্ধারিত স্থান পরশুরাম পাইলট হাইস্কুলের মাঠে ট্রাক ভর্তি পণ্য নিয়ে রাত নয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে কেউ না আসায় বাকি পণ্য গুদামে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। ওই দিনের জন্য বরাদ্দকৃত ১ হাজার ৮৬২ প্যাকেট তৈরি করে রেখেছিলেন ডিলার সুজন চৌধুরী।গত সোমবার টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে বলে মোবাইল ফোনে ইউএনও প্রিয়াংকা দত্তকে জানানো হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে পাইলট হাইস্কুল মাঠে গিয়ে টিসিবির অবশিষ্ট মালামাল খাদ্য গুদামে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেন। পরে ডিলারের লোকজন অবশিষ্ট এক হাজার প্যাকেট খাদ্য গুদামে সংরক্ষণ করে রাখেন।পরদিন পৌর এলাকার ডিলার সুজন চৌধুরী জানান ইউএনওর নির্দেশনা মোতাবেক শুধুমাত্র ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে পণ্য বিক্রি করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।পরশুরাম পৌর এলাকার কাউন্সিলর এনামুল হক এনাম জানান, বাকি পণ্য ভোটার আইডি কার্ড এর মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।পরশুরামে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত পাইলট স্কুল মাঠে গত সোমবার দুপুর ২টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও টিসিবির পণ্য কিনতে আসেনি কেউ। | 6 |
দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন তিনি। তাঁকে দেখা যায়নি টেলিভিশনে, সিনেমায়, দেখা যায়নি কোনো ছোট-বড় উৎসব আয়োজনে। নিভৃতে নিজের মতো ছিলেন। বুধবার দুপুরে একসময়ের মঞ্চ ও রুপালি পর্দার নামী অভিনয়শিল্পী আজমেরি জামান রেশমা নীরবেই বিদায় নিলেন। বুধবার বেলা আড়াইটায় গ্রিন লাইফ হাসপাতালে থেমে যায় তাঁর জীবনযাত্রা। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২। ১৯৬০ সালে রেশমা বেতার ও ভয়েস আমেরিকায় ভয়েস আর্টিস্ট, উপস্থাপক ও সংবাদ পাঠক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সত্তরের দশকে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ঘটে টিভিতে মুনীর চৌধুরী অনূদিত উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটকে মূল চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। নাটকটির নির্দেশক ছিলেন বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। অভিনয় করেছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত 'শেষের কবিতা', 'বৃত্ত থেকে বৃত্তে', 'সাঁকো পেরিয়ে', 'দিন বদলের পালা'সহ অনেক আলোচিত নাটকে। ১৯৬০ সালে সিনেমায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে 'জি না ভি মুশকিল' ছবির মধ্য দিয়ে। তাঁর সঙ্গে সে সময় তারকা শিল্পী নাদিম, শাবানা অংশ নেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বাংলা ও উর্দু ছবির মধ্যে রয়েছে 'ভাওয়াল সন্ন্যাসী', 'মেঘের পরে মেঘ', 'নয়ন তারা', 'ইন্ধন', 'চাঁদ আর চাঁদনি', 'সূর্য ওঠার আগে', 'শেষ উত্তর' প্রভৃতি। তিনি দীর্ঘদিন মঞ্চে শিল্পনির্দেশকের কাজ করেছেন। ষাটের দশকে যুক্ত ছিলেন মঞ্চ সংগঠন ড্রামা সার্কেলের সঙ্গে। তাঁর জন্মস্থান ঢাকার মুন্সিগঞ্জ। তাঁর স্বামী জামান আলী খান ছিলেন ১৯৬১ সালে পিটিভির প্রথম প্রযোজক। দীর্ঘদিন নিভৃতে থাকা এই শিল্পী যেন মৃত্যুর পর আবারও ফিরে এলেন স্মৃতিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করছেন। দিচ্ছেন সেই সময়ের পুরোনো নাটকের দৃশ্যের ছবি। অভিনেতা আবুল হায়াত তাঁর সঙ্গে একটি নাটকের স্থিরচিত্র দিয়ে স্মরণ করেছেন। যোগাযোগ করা হলে প্রথম আলোকে আবুল হায়াত বলেন, 'আসলে আমাদের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা কম ছিল, কারণ আমাদের চেয়ে সিনিয়র শিল্পী ছিলেন। প্রথমদিকে আমরা যখন টেলিভিশনে কাজ শুরু করিনি, তখন হাসান ইমাম ভাই, গোলাম মোস্তফা ভাইয়ের সঙ্গে তাঁকে অভিনয় করতে দেখেছি। "মুখরা রমণী বশীকরণ" তাঁর বিখ্যাত নাটক। আরেকটি নাটকের কথা মনে পড়ে, "গোর খোদক"। স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, 'মাঝে আমি লিবিয়ায় ছিলাম। আমি দেশে ফেরার ১৯৮৪ সালে জানতে পারলাম, তিনি জার্মান কালচারাল সেন্টারের একটি নাটকের জন্য অভিনয়শিল্পী খুঁজছেন। "ক্ল্যাভিগো" নামের সেই নাটকে তাঁকে সহশিল্পী ও নির্দেশক হিসেবে পেয়েছি। তাঁর ছোট বোন নাজমা আনোয়ারও অভিনয় করেছিলেন। তখন তাঁকে ভালোভাবে জানতে পারার সুযোগ তৈরি হলো। পরিচালক হিসেবেও যে তিনি বেশ কমান্ডেবল, তা উপলব্ধি করলাম। একটা সময় যেহেতু তাঁর ভক্ত ছিলাম, সে হিসেবে কাজটি করতে আরও ভালো লেগেছিল। এরপর আমরা বিটিভির স্টুডিওতে দেওয়ান "গাজীর কিসসা" নাটকে অভিনয় করতে গেলে দেখা হয়। ওটাই ছিল শেষ দেখা। যত দূর জেনেছি, তিনি একটা সময় নিজের মতো সময় বেছে নিয়েছিলেন। আর কারও সঙ্গে দেখা করতেন না। অভিনয়শিল্পী ফারহানা মিঠু (আজমেরি জামানের ছেলে রাহবার খানের স্ত্রী) মাধ্যমে তাঁর খবর নিতাম। তবে অসাধারণ একজন অভিনয়শিল্পী ছিলেন, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।' | 2 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। কাজেই এদেশ নিয়ে কিংবা এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ কোনো খেলা খেলতে পারবে না। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ নিয়ে আর কেউ কোনো খেলা খেলতে পারবে না। মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ কখনো ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। বাংলাদেশ যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ সেভাবেই এগিয়ে যাবে।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সমাপনী উপলক্ষে শনিবার (২৬ মার্চ) রাতে আয়োজিত চার দিনব্যাপী 'জয় বাংলার জয়োৎসব' শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মন্ত্রিসভা কমিটি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ রূপকল্প ২০২১ নির্ধারণ করে মধ্যম আয়ের দেশ গড়ে তোলার যে ঘোষণা দিয়েছিল সে অনুযায়ী আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু ও সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সবচেয়ে বড় কথা আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আজ শতভাগ বিদ্যুৎ দেয়ার মাধ্যমে সকল ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালানোর মাধ্যমে আমরা আলোর পথে যাত্রা করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ এর বাংলাদেশ কেমন হবে সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনাও আমরা প্রণয়ন করে দিয়ে গেছি এবং পাশাপাশি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করেও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এক শ' বছরের জন্য ডেল্টা প্ল্যান করে তার কিছু কিছু আমরা বাস্তবায়ন করে দিয়ে যাচ্ছি। যাতে এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম সুন্দর এবং উন্নত জীবন পেতে পারে। সকলের জন্য অন্তত একটি ঘর করে দেয়ায় তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশে একটি মানুষও আর ভূমিহীন বা গৃহহীন থাকবে না এবং ইনশাআল্লাহ সেটা আমরা নিশ্চিত করবো। এ পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি এবং এভাবেই বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবো। তিনি বলেন, আমরা স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছি, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট করেছি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে যাচ্ছি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি, ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। যেন বাংলাদেশকে আর কখনো যেন কেউ অবহেলা করতে না পারে।এই বিশাল কর্মযজ্ঞের একটাই উদ্দেশ্য, বাংলাদেশের মানুষ যেন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। শিক্ষায়-দীক্ষায়, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, প্রযুক্তি জ্ঞানে- সববিক থেকে যেন আমরা এগিয়ে থাকতে পারি। তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার ৯ মাসের মাথায় যে সংবিধান দিয়েছিলেন তাই অক্ষরে অক্ষরে মেনে তারই পদাংক অনুসরণ করে দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করেছি এবং এগিয়ে যাচ্ছি। মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া এবং অনুষ্ঠানের আয়োজক মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্য সচিব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের ওপর একটি অভিও ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন পরিবেশিত হয়। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে এরপরই থিম সং পরিবেশিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের পদস্থ বেসামরিক এবং সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন। সূত্র : বাসস | 9 |
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে প্রথমবারের মতো কৃষক অ্যাপে নিবন্ধনের মাধ্যমে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে ধান কেনায় সময় সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি বন্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এ জন্য উপজেলার ৮ ইউনিয়নের চাষিদের কৃষক অ্যাপে নিবন্ধন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, প্রচারপত্র ও মাইকিং করে প্রচার চালাচ্ছে স্থানীয় খাদ্য বিভাগ।উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদাম কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বালিয়াডাঙ্গী থেকে ১ হাজার ৩৪৮ মেট্রিক টন আমন ধান ২৭ টাকা কেজি দরে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হবে। এই কাজে অনিয়ম বন্ধে অ্যাপ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।অ্যাপের মাধ্যমে ধান বিক্রি করতে আগ্রহী কৃষকদের কৃষি কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। কৃষি অফিস থেকে এগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়ার পর সরকারি গুদামে ধান বিক্রির আবেদন করতে হবে। এই কাজে উদ্বুদ্ধ ও নিবন্ধনে সহযোগিতা করছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।গত ৫ নভেম্বর থেকে কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে নিবন্ধনের সময়সীমা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত থাকলেও পরবর্তীতে বাড়িয়ে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। উপজেলার ৮ ইউনিয়নে আমন ধান চাষি ৩৭ হাজার কৃষক রয়েছে। গত শনিবার পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৭ হাজার কৃষকের বিপরীতে ৪ হাজার ৫৪৪ জন কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় জানান, কৃষিতে প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে। কৃষিপণ্য বিক্রিতে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। আমন ধান অ্যাপের মাধ্যমে ক্রয় শুরু হলে সরকারের ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয়ের উদ্দেশ্যে সফল হবে। | 6 |
তালেবান যোদ্ধাদের আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পৌঁছাতে মাস তিনেক সময় লাগবে-কয়েক দিন আগে এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করেছিলেন এক মার্কিন গোয়েন্দা। কিন্তু তালেবানের রাজধানীমুখী যে প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে, তাতে করে আরও অনেক আগেই তারা রাজধানীর দখল নিয়ে নেয় কি না, তেমন আশঙ্কাই দেখা দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে কাবুল ছেড়ে দ্রুত পালাচ্ছে বেসামরিক নাগরিকেরা। আর বিশ্বের যেসব মানুষ সেখানে আছে, তাদের দ্রুত আফগানিস্তান ছাড়তে বলা হচ্ছে নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে সেনাসদস্যদের পাঠাচ্ছে কাবুলে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গতকাল শনিবার রাজধানীর মাত্র ৭ মাইল দক্ষিণের জেলা চার-আসিয়াব দখলে নিয়েছে তালেবান। স্থানীয় এমপি হুদা আহমেদি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তা ছাড়া, বাহিনীটি পাকিস্তান সীমান্তের পাক্তিকা প্রদেশের রাজধানী শারানও দখলে নিয়েছে বলে জানিয়েছেনস্থানীয় এমপি খালিদ আসাদ।অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ বালখের মাজার-ই-শরিফে সরকারি বাহিনী ও তালেবানের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। এটি হাতছাড়া হলে মোটামুটি সব গুরুত্বপূর্ণ শহর তালেবানের দখলে চলে যাবে।সব মিলিয়ে দেশটির ৩৪ প্রদেশের ১৯টির রাজধানী এরই মধ্যে দখলে নিয়েছে তালেবান।এ পরিস্থিতিতে গতকাল এক টেলিভিশন বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেন, 'গত ২০ বছরের অর্জন বৃথা যেতে দেব না। আমরা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। আলোচনার ফলাফল শিগগির আপনাদের জানানো হবে।'এই যখন পরিস্থিতি, ঠিক তখন গতকাল কাবুলে পৌঁছেছে কিছু নতুন মার্কিন সৈন্য। আজ রোববারের মধ্যে মোট ৩ হাজার মার্কিন সৈন্য আফগানিস্তানে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। সেখানে নিয়োজিত মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে আফগানিস্তান ত্যাগে তারা কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।অন্যদিকে একই কাজে দু-এক দিনের মধ্যে প্রায় ৬০০ ব্রিটিশ সৈন্যও সেখানে পৌঁছার কথা রয়েছে। কিন্তু এরা ফের যুদ্ধে জড়াবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেন হামলার প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী। সেখান থেকে ২০ বছরের লড়াই শেষে গত এপ্রিলে আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সব সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তখন পর্যন্ত হাজার তিনেক মার্কিন সেনা ছিল দেশটিতে। ঘোষণা অনুযায়ী তারা ছোট ছোট দলে আফগান ভূমি ছাড়তে শুরু করে গত ১ মে থেকে। শেষ সেনা দলটির কাবুল ছাড়ার কথা আগামী ১১ সেপ্টেম্বর। এর আগে গত জুলাইয়ে কাবুলের অদূরে নিজেদের প্রধান সেনাঘাঁটি ছেড়ে যায় অধিকাংশ মার্কিন ও সব ন্যাটো সৈন্য। এর পর থেকে মূলত গ্রামাঞ্চল ও সীমান্ত ক্রসিং দখলে নিতে শুরু করে তালেবান। | 3 |
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি টাঙিয়ে তাকে অবমাননা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত একটি ছোট কক্ষে ওয়াশরুম তৈরি করা হয়েছে। আর সেই ওয়াশরুমের দেয়ালে টাঙানো রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। সাংবাদিকদের ছবি তোলা দেখে বিদ্যালয়ের দপ্তরি ছবিটি সরিয়ে অন্য কক্ষে নিয়ে যান। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. বাবু মিয়া বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে ছবিটি রাখতে বলেছেন। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় ছবিটি আর সরানো হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল আজিজ জানান, ওই কক্ষটি আগে শ্রেণি কক্ষ ছিল। ছয় মাস আগে কক্ষটিকে ওয়াশরুম করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ছবিটি ওই কক্ষে টাঙানো ছিল। কিন্তু করোনার সময় স্কুল বন্ধ থাকায় ছবিটি সরানো হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন অর রশিদ বলেন, এটি এক ধরনের অবহেলা। ঘটনা সত্যি হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হোসেন আলী বলেন, আমি বিষয়টি কিছুক্ষণ আগে জানতে পেরেছি। বিষয়টি স্পর্শকাতর। কার অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার কারণে এটি হয়েছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারির উপর নির্ভর করে চলে না। এজন্য সকল শিক্ষককে সচেতন হতে হবে। | 6 |
সাবেক স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ায় রাজশাহীতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রবিউল ইসলাম ওরফে রবি (৩০)। তিনি সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল পরিচয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। দামকুড়ার টিকর গ্রামে তাঁর বাড়ি। গত রোববার রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় দামকুড়া থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, সেনা কর্মকর্তা পরিচয়ে রবিউল পাবনার সুজানগরের এক নারীর সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে গড়ে তোলেন প্রেমের সম্পর্ক। তারপর কৌশলে ওই নারীকে দিয়ে তাঁর স্বামীকে তালাক দেওয়ান। এরপর গত ১৩ আগস্ট রবিউল ওই নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর গোপনে রবিউল তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রবিউলকে তালাক দেন ওই নারী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রবিউল ওই নারীর নামেই একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি আত্মীয়-স্বজনকে পাঠাতে শুরু করেন। টাকা না দিলে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না বলেও হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে ওই নারী দামকুড়া থানায় অভিযোগ করেন।ওই নারীর অভিযোগ, রবিউল প্রায়ই মোবাইলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন। তাঁদের সহযোগিতার নামে প্রতারণা করতেন। পাশাপাশি তাঁকেও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন রবিউল। তখন তিনি বুঝতে পারেন, রবিউল আসলে একজন প্রতারক।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল তাঁর অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ভুয়া সেনা কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজ করে আসছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান আরএমপির মুখপাত্র। | 6 |
মা মারিয়া দোলোরেস অ্যাভিয়েরোকে দামি গাড়ি উপহার দিলেন পর্তুগিজ ফুটবল সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এটি ছিল মার্সিডিজ ব্রান্ডের। রবিার পালিত হওয়া মা দিবসে এমনি উপহার দিয়ে রোনালদো চমকে দেন তার মা-কে। সবসময় মায়ের যেকোন প্রয়োজনে ছুটে আসেন রোনালদো। গত মার্চে মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে দলের অনুশীলন রেখে ইতালি থেকে পর্তুগালে চলে এসেছিলেন তিনি। পরে করোনা ভাইরাসের লকডাউনে জন্মস্থান মাদেইরাতে মায়ের সঙ্গে থেকে যান রোনালদো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দোলোরেস অ্যাভিয়েরো একটি পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তার অনুভূতি। পোস্টে তিনি বলেন, সব উপহারের জন্য আমার সন্তানদের। বিশ্বের সব মায়েদের শুভেচ্ছা। এমএইচ | 12 |
বিডিনিউজসহ গণমাধ্যমের ওপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগ উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। বৃহস্পতিবার ( ১৮ ফেব্রুয়ারি) ডিইউজে নির্বাহী পরিষদের সভায় এ উদ্বেগ জানানো হয়। সভার শুরুতে প্রয়াত সাংবাদিক নেতা জহর লাল চন্দ্র দাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তার কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, বিডিনিউজসহ গণমাধ্যমের ওপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগ উদ্বেগজনক। তিনি দেশের সব গণমাধ্যমে নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের দাবি জানান। এছাড়াও নিয়োগপত্র ছাড়া সাংবাদিক নিয়োগের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানান। প্রারম্ভিক বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, করোনার অজুহাত দেখিয়ে গণমাধ্যমে বেতন হ্রাস, ছাঁটাই ও বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। বকেয়া বেতন-ভাতা আদায়ে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যেবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। ডিইউজের সভায় নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এ ধরনের হীন ষড়যন্ত্র মূলত সমাজের অস্থিরতা তৈরির অপকৌশল। শিল্পে ও সমাজে অস্থিরতা তৈরির দায় মালিককেই নিতে হবে। ডিইউজে নেতারা মনে করেন- বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের চাকরি সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম শিল্পরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। অবিলম্বে, সরকারের নেতৃত্বে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান ডিইউজে নেতারা। সভায় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি এম এ কুদ্দুস, যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম, কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এ জিহাদুর রহমান জিহাদ, প্রচার সম্পাদক আছাদুজ্জামান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দুলাল খান, জনকল্যাণ সম্পাদক সোহেলী চৌধুরী, দফতর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সুরাইয়া অনু, জিএম মাসুদ ঢালী, ইব্রাহীম খলিল খোকন, শাহনাজ পারভীন এলিস, রাজু হামিদ, সলিমুল্লাহ সেলিম, অজিত কুমার মহলদার, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, নিউ নেশন ইউনিট চিফ হেমায়েত হোসেন, জনতার ইউনিট চিফ আতাউর রহমান জুয়েল, জনকণ্ঠের ইউনিট চিফ রাজন ভট্টাচার্য্য, আরটিভির ইউনিট চিফ সাইখুল ইসলাম উজ্জ্বল প্রমুখ। | 6 |
ক্রীড়া তারকারা যেমন টাকা আয় করেন তেমন ব্যয়ও করেন। কেউ কেউ শখকে নিয়ে গেছেন আরেকটু উপরে। তাদের রয়েছে স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো আইফোন। শুধু যে স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো তা নয়। এসব আইফোনে নিজেদের জার্সি নাম্বার বা নামও খোদাই করে রেখেছেন তারা। স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো আইফোনের মালিকের তালিকায় নাম রয়েছে আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনা কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমারের নাম। তাছাড়া এই তালিকায় রয়েছেন আমেরিকার বিখ্যাত বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদার ও আয়ারল্যান্ডের বক্সার কনর মেকগ্রেগর। স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো বিশেষ এই আইফোনটি তৈরি করে আইডিজাইন গোল্ড। এটির খরচ পড়ে প্রায় ৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার দাম ৪ লাখ টাকার বেশি। স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো এ কারণে সাধারণ দামের চেয়ে তা প্রায় ৩-৪ গুণ বেশি। তবে এই টাকা একজন ক্রীড়া তারকাদের জন্য খুব বেশি না। সোনা দিয়ে মোড়ানো ও খেলোয়াড়দের নাম্বার সংবলিত আইফোন বিক্রি করা শুরু করেন বেন লায়ন নামে একজন ব্যক্তি। তিনি ইংল্যান্ডের লিভারপুল শহরের বাসিন্দা। ২০১৬ সালে তিনি তার কার্যক্রম শুরু করেন। তখন তিনি ভাবতে পারেননি যে তা প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার হবেন বিশ্বের সব নামি দামি ক্রীড়া তারকারা। ২০১৬ সালে তার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম সোনার আইফোন কিনেন আইরিশ বক্সার কনর ম্যাকগ্রেগর। তিনি এই আইফোনটির ছবি তার বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রকাশ করেন। এরপরই বেন লায়নের বিশেষ আইফোন বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। এই আইফোনটি ব্যবহার করা হয়েছে ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ। মেসি, নেইমার যারাই এই বিশেষ আইফোন কিনেছেন তারা সবাই তাদের সন্তুষ্টির কথাই জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবাসাইটে মেসি ও নেইমারদের এ সম্পর্কে বক্তব্যও রয়েছে। মেসি আইফোনটির ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন, 'অসাধারণ ডিজাইন ও অসাধারণ পণ্য।' নেইমার আইফোন সম্পর্কে তার বক্তব্যে বলেছেন, 'অসাধারণ কোয়ালিটি। আমি একে ৫ স্টার দিলাম।' এই আইফোনের ডিজাইনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এই ডিজাইনগুলো সম্পূর্ণ হাতে করা হয়। নাম ও জার্সি নাম্বার যাই খোদাই করে লেখা হোক না কেন তা হাতে করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে কয়েকজন দক্ষ কর্মী। তারা তাদের হাতের কারুকার্য দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইন ফুটিয়ে তোলেন। | 12 |
নরসিংদীর মনোহরদীতে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি সিরাজগঞ্জ সদরের রায়পুর রেলওয়ে কলোনি এলাকার মুসলিম উদ্দিনের ছেলে মিঠু হোসেন (২৪)। তিনি অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা করতেন। এ ঘটনায় মিঠুর বড় বোন মিনু আক্তার বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।মামলার বাদী মিনু আক্তার জানান, গত বুধবার ভোরে শাড়ি কেনার জন্য নরসিংদীর উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন মিঠু। সন্ধ্যায় মায়ের মোবাইল ফোনে কল করে নরসিংদী পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত করেন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে আবারও ফোন দিয়ে বলেন, কয়েকজন লোক তাঁকে অপহরণ করেছে এবং ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। অপহরণকারীরা মিঠুকে মারধর করে তাদের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই মিঠুর পরিবার থেকে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।কৌশলে অপহরণ থেকে রক্ষা স্কুলছাত্রীরএকই দিন রাত ১১টার দিকে মিঠু ফোন করে তাঁর মাকে বলেন, 'তোমরা তো টাকা দিতে পারলে না। ওরা মনে হয় আমাকে মেরে ফেলবে। কোনো ভুল করে থাকলে ক্ষমা করে দিয়ো।'ওপাশে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মিঠুর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে তাঁর বোনকে বলে, 'যেহেতু টাকা দিতে পারসনি, তাই তোর ভাইকে বাঁচিয়ে রাখতে পারছি না। আগামীকাল তোর ভাইয়ের লাশ খুঁজে নিস।' এ কথা বলেই মোবাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়।আন্তজেলা অপহরণ চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ২পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মিঠুর খোঁজে তাঁর মা, বোন এবং নানি নরসিংদীর উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মিঠুর মোবাইল থেকে মিনুকে ফোন দিয়ে পুনরায় মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তিনি মিঠুর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অপহরণকারী বলে, আগে টাকা দেন, তারপর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। এ কথা বলে আবার মোবাইল বন্ধ করে দেয়।বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জের পরিচিত এক সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারেন, মনোহরদী উপজেলায় অজ্ঞাতনামা যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে মিঠুর মা-বোন দ্রুত মনোহরদী থানায় উপস্থিত হন। পুলিশের মোবাইল ফোনে ছবি দেখে মিঠুর মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনেরা।গেমের টাকা জোগাতে অপহরণ নাটক সাজায় কিশোরএর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের হুগোলিয়াপাড়া এলাকার রূপচান মিয়ার খড়ের গাদার পাশে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। যুবকের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।মনোহরদী থানার ওসি মোহাম্মদ আনিচুর রহমান বলেন, 'পুলিশের একাধিক টিম হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা অন্য কোনো স্থানে মিঠুকে হত্যা করে মরদেহ এখানে ফেলে গেছে। বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে পুলিশ কাজ করছে।' | 6 |
রামপালে ফিরোজ ঢালী হত্যা মামলার ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। গতকাল রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে রামপালের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রামপাল উপজেলার কাষ্টবাড়ীয়া গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে মো. বজলু শেখ (২৫), ইনছান শেখের ছেলে ইমরান শেখ (২২), মৃত রজ্জব আলী শেখের ছেলে এনাম শেখ (৪২), এনাম শেখের ছেলে সুমন শেখ (২১) ও জিয়া গাজীর ছেলে সাগর গাজী (২২)।র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে মেজর এম রিফাত বিন আসাদ ও লেঃ কমান্ডার এম সারোয়ার হুসাইনের নেতৃত্বে রামপালের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফিরোজ ঢালী হত্যা মামলার এ আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।গত ১৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার দিকে রামপালের শ্রীকলস এলাকায় ফিরোজ ঢালীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, ফিরোজ স্থানীয় এক সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থক ও তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকতেন। হত্যাকারীরা সাবেক চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষ হওয়ায় সাবেক চেয়ারম্যানের ক্ষতি করার জন্যই তাঁকে হত্যা করা হয়। ১৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফিরোজ সাবেক ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথাবার্তা শেষ করে সঙ্গে থাকা একই এলাকার হানিফ গাজী ও আকবর গাজীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ফিরোজ। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁরা শ্রীকলস গ্রামের আবু সাঈদ শেখের বাড়ির সামনের পিচের রাস্তায় পৌঁছালে হত্যাকারীরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।জীবন বাঁচাতে ফিরোজ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হত্যাকারীরা পুনরায় তাকে ধরে ধারালো ছুরি, লোহার রড, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। এ সময় স্থানীয়রা ফিরোজ ও তাঁর সঙ্গে থাকা হানিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববারে দুপুর আড়াইটায় ফিরোজের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফিরোজের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। | 6 |
ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ধর্ষণে নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে আটক হয়েছেন দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকেদিল্লি-উত্তরপ্রদেশ মহাসড়কে নাটকীয় ঘটনার পর তাদেরআটক করেছে পুলিশ। সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বৃহৎ জনসমাবেশ করায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এদিন দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশে গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। পরে রাহুল স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হেঁটেই রওনা দেন হাথরসের দিকে। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে ছিলেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরীও। আগে থেকেই রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ঘোষণা করেছিলেন হাথরসে যাওয়ার কথা। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার ১৪৪ ধারা জারি করেছিলো যোগী সরকার। তাতেও কর্মসূচি বাতিল করেননি কংগ্রেস নেতা-নেত্রীরা। রাহুল-প্রিয়াঙ্কার গাড়িবহর গ্রেটার নয়ডায় আসতেই আটকে দেওয়া হয়। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে উত্তরপ্রদেশ-দিল্লি হাইওয়ে ধরে হাঁটতে শুরু করেন তারা। রাহুল প্রিয়াঙ্কাকে যেখানে আটকানো হয়েছে, সেখান থেকে হাথরসের দূরত্ব প্রায় ১৪০ কিলোমিটার। সেখান থেকে কিছু দূরে যাওয়ার পরেই রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের আটকায় পুলিশ। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। রাহুলকে গলাধাক্কা দিতেও দেখা যায় পুলিশকে। পরে আটক করা হয় কংগ্রেসের এই সাংসদকে। এর আগে, গত মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এক তরুণী রাজধানী নয়াদিল্লিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ পরিবারের সদস্যদের বিনাউপস্থিতিতে রাতের আঁধারে ওই তরুণীর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার গ্রামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনাকে ডাকাতি নয়, দুইপক্ষের মারামারি বলে জানিয়েছে নন্দাইল থানা পুলিশ। জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে (২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ১০-১২ জনের একটি দল নান্দাইল উপজেলার জামাল ভূঁইয়ার পৈত্রিক বাড়িতে হামলা করে। প্রথমে ৭-৮ জনের একটি দল একযোগে বাড়িতে ঢুকে পথের বেড়া (দেউড়ি), বারান্দার গ্রিল, স্টিলের দরজায় এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। ৩-৪ জনের একটা দল বারান্দার তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে। তারপর দরজা ভেঙে মূল ঘরে প্রবেশ করে। আলমারিতে থাকা স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে। ভাঙচুর এবং কোপাকুপির প্রচণ্ড শব্দে বাড়ির মানুষ সজাগ হয়ে যায় এবং তাদেরকে ডাকাতিতে বাধা দিলে ডাকাতরা জুনায়েদ ভূঁইয়া (জামাল ভুঁইয়ার চাচাতো ভাই) ও জিন্নাহ ভুঁইয়াকে (জামাল ভূইয়ার চাচা) প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরদিন সকালে জুনায়েদ ভূঁইয়া বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তবে এ ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। জামাল ভূঁইয়ার চাচাতো ভাই জুনায়েদ ভূঁইয়া বলেন, সপ্তাহখানেক আগের ঘটনা এটি। রাতের খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমাচ্ছি। রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ ডাকাতরা হামলা করে। এসময় তারা হুমকি দিয়ে রাখে যদি বের হই শারীরিকভাবে ক্ষতি করবে। প্রত্যেক ঘরের সামনে লোক রাখা ছিল। ওদের মুখে ছিল মুখোশ। দরজা ভেঙে দেড় লাখের মতো টাকা ও কিছু স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। ওইদিন লোডশেডিং থাকায় বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ছিল। স্পষ্ট কথা শুনে চিনতে পেরেছি। মামলা করেছি এক সপ্তাহ আগে। এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। নান্দাইল মডেল থানার ওসি মনসুর আহমেদ বলেন, ডাকাতি নয়, জামাল ভূঁইয়ার চাচাতো ভাইয়ের (জুনায়েদ ভূঁইয়া) সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষই মামলা করেছে। এর আগেও দুই পক্ষ দুটি মামলা করেছিল। এ ঘটনায় পরিবারের সবাই আতঙ্কে আছেন বলে জানান জুনায়েদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমার বাবা-মা, দুই বোন, ছোট ভাই সবাই আতঙ্কে আছে। ডাকাতদের কেউই গ্রেফতার হয়নি এখনও। পুলিশ এসেছিল দুইবার। দুইবারই আসামীদের গ্রামে গিয়ে ধরার চেষ্টা করেছে কিন্তু ধরতে পারেনি। এখন করোনাভাইরাস নিয়ে পুলিশ ব্যস্ত থাকায় আর ওদের গ্রেফতার তৎপরতা চলছে না। | 12 |
একদিন জেন্যাকে তার মা রুটি কিনতে দোকানে পাঠিয়েছে। রুটি কিনে অবাক হয়ে শহরে নানা রকম জিনিস দেখতে থাকে সে। এদিকে দুষ্ট এক কুকুর পেছন থেকে এসে হাতের রুটি সব খেয়ে নেয়। কুকুরের পেছনে ধাওয়া করতে গিয়ে হারিয়ে গেল জেন্যা। হঠাৎ সে চেয়ে দেখে, অচেনা কুঁড়েঘর ছাড়া কিছু নেই চারদিকে। তখন কান্না ছাড়া আর উপায় কী তার?জেন্যা হঠাৎ দেখে তার সামনে এক বুড়ি। বুড়ি তাকে সাত রঙের সাত পাপড়িওয়ালা একটি জাদুর ফুল উপহার দিল। একটি করে পাপড়ি ছিঁড়ে মাটিতে ফেললে যা চাইবে তাই পাবে জেন্যা।জেন্যার প্রথম পাপড়িটি গেল রুটিসহ বাড়ি ফেরা চাইতে। দ্বিতীয়টি মায়ের শখের ফুলদানি যে ভেঙেছিল, সেটা জোড়া লাগানো চাইতে। তৃতীয় ও চতুর্থটি ছেলেদের দলের সঙ্গে মিশতে গিয়ে ঝামেলা মেটাতে। পঞ্চম ও ষষ্ঠটি মেয়েদের দলের সঙ্গে হিংসা-শত্রুতা মেটাতে। বাকি রইল সপ্তম বা সাত নম্বর ফুল। সেটা দিয়ে কী করবে সে? এটা তো আর শেষ করে ফেলতে মন চায় না। যখন সময় এল, কোনো দ্বিধা না করে আনন্দের সঙ্গে সে তা খরচ করে দিল। সেটা হলো, একটি ছেলে যাকে জেন্যার ভালো লেগেছে, যার সঙ্গে তার খেলার ইচ্ছা কিন্তু তার যে পা ঠিক নেই! সে পঙ্গু, তাই সে খেলতে পারবে না। শেষ পাপড়িটা সে খরচ করল সেই ছেলেটির পা ভালো করে দেওয়ার জন্য।বই: সাতরঙা ফুললেখক: ভালেন্তিন কাতায়েভদাম: ৫৮ টাকা | 6 |
ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানীর বিরুদ্ধে টাকা না পেলে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবাদ করে নাজমুস সাকিব নামে এক আইনজীবী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সাকিব চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেছেন। এ ছাড়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখতি অভিযোগ করেছেন।এ বিষয়ে নাজমুস সাকিব বলেন, 'গত রোববার মনির আহমেদ নামে এক ব্যক্তির জামিন দেন আদালত। জামিননামাটি যথা সময় না পৌঁছানোর কারণ জানতে চাইলে আদালত পরিদর্শক জিলানী আমার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে আমাকে অফিস থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। পুরো ঘটনাটি তাঁর রুমে সিসি ক্যামেরায় রয়েছে।নাজমুস সাকিব অভিযোগ করে আরও বলেন, ফেনী ডিসির রুম থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে এক ঠিকাদারকে অপহরণ করার ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই অভিযোগপত্রটি আদালত উপস্থাপন করেনি জিলানী। এ ছাড়া অনেক অপরাধীকে বাঁচাতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি অভিযোগপত্র নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে।তবে আদালত পরিদর্শক মো. গোলাম জিলানী আইনজীবী সাকিবের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামিননামার কাগজের খোঁজে এসে এক আইনজীবী তাঁর কথোপকথন ভিডিও করলে তিনি তাঁর মোবাইল সেটটি রেখে দেন।ফেনী আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম নান্টু ও মানিক চন্দ্র শর্মা বলেন, ফেনীর আদালতের পুলিশ টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। টাকা দিয়ে সেবা নিতে হয়।জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নুর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে লিখিতভাবে বিচার চেয়েছেন নাজমুস সাকিব নামে একজন আইনজীবী। আগামীকাল রোববার একটি জরুরি সভা হবে, এ বিষয়ে সেখানে সিদ্ধান্ত হবে। এ ছাড়া ওসি জিলানী ফেনীর আদালতে যোগদানের পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে এখানে কর্মরত রয়েছে। টাকা ছাড়া তিনি কিছু বোঝেন না। সব অনিয়ম টাকা পেলে নিয়মে পরিণত হয়ে যায়। টাকা না দিলে জামিননামার কপিও আটকে রাখেন। | 6 |
দিনভর সড়কে পণ্যবাহী যানের পাশাপাশি কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন সড়কে চলতে দেখা যায়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউনের সময় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকদিন দিনের বেলা সড়কে যানবাহন চলাচল কম থাকলেও রাতে দেখা দেয় যানজট। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ কিলোমিটার সড়কে বিভিন্ন স্থানে যানজট ছিল।সরেজমিনে দেখা যায়, মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে এবং শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের সামনের সড়ক পুরো ডুবে গেছে। এ ছাড়া নগরীর চেরাগআলী, বোর্ড বাজার, বাসন সড়ক, গাছা, টঙ্গীর মাছিমপুর, শিলমুন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, গাজীপুরমুখী মহাসড়কের টঙ্গী বাজার থেকে গাজীপুর পর্যন্ত তীব্র যানজট দেখা দেয়। একই সাথে বড় বাড়ি, বোর্ড বাজার সড়কেও যানচলাচল ধীর গতি রয়েছে।অন্যদিকে, মহাসড়কের অপরদিকে ঢাকামুখী লেনের বোর্ড বাজার থেকে বড় বাড়ি ও এরশাদ নগর থেকে টঙ্গী স্টেশন রোড পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় টঙ্গী-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের স্টেশন রোড থেকে মীরের বাজার পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা দেয়।এ বিষয়ে মো. সাব্বির হোসেন নামে এক কারখানা শ্রমিক বলেন, গণপরিবহন না থাকায় বিকেল পাঁচটায় কারখানা ছুটির পর গাজীপুর থেকে অটোরিকশা করে টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় এসেছি। এতে সময় লেগেছে প্রায় দুই ঘণ্টা। বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়েন তিনি।একাধিক পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা বলেন, আমরা রাতে মালামাল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাই। রাতে সড়কে গণপরিবহন কম থাকে। এখন লকডাউন চলছে তবুও সড়কে যানজট।গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি, প্রাইভেট কার ও অটোরিকশা চলছে। দিনে গাড়ির বাড়তি চাপ কিছুটা কম থাকলেও রাতে পণ্যবাহী গাড়ির চাপ একটু বাড়তি থাকে। তবে বিকেলে বৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে পানি জমে যানবাহনে ধীর গতি দেখা দিয়েছে। এ সড়কে যানজট সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাস্তা সংস্কারে কাজ চলছে। | 6 |
ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনা জড়ো করার পর থেকে রাশিয়াকে নানা রকম সতর্কতা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনে রুশ হামলার পাল্টা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট ন্যাটোও রাশিয়ার এমন কাণ্ডে উদ্বিগ্ন। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালাবে না বারবার এমন ঘোষণা দিয়েও পশ্চিমাদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারছে না মস্কো। তাই এসব বিষয়ে ভবিষ্যত পদক্ষেপ নিতেই শুক্রবার নিজের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পুতিনের সভায়কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছুই জানায়নি ক্রেমলিন। বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 3 |
বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন সোসাইটি কাতার (বিবিএসকিউ) দেশটিতে বসবাসরত খেলাধুলা-প্রিয় বাংলাদেশিদের সুস্বাস্থ্যের জন্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় কাতারে আল-তুমামায় অবস্থিত আমেরিকান একাডেমি স্কুলের ইনডোরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল "বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা-২০২২"। পুরুষ দ্বৈত এ, বি, সি, পুরুষ একক উন্মুক্ত, বয়োজেষ্ঠ্য (৪০ বছরের ঊর্ধ্বে) ও বালক (অনূর্ধ্ব ১৭ বছর) এই ৬টি বিভাগে কাতারে বসবাসরত সর্বমোট ১১০ জন বাংলাদেশি খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন। পুরুষ একক উন্মুক্ত বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন শাহান এবং রানারর্স-আপ হন শাহাদাৎ। প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন, এনডিসি। সংগঠনের সভাপতি আলমগীর হোসেন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের দূতালয় প্রধান এবং কাউন্সেলর (রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকবিষয়ক) মাহবুর রহমান, বিবিএসকিউ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন আকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক চৌধুরী, আব্দুল মতিন পাটোয়ারী, ড. আনোয়ারুল হাসান, জসিম উদ্দিন দুলাল,শাহ আলম খান, ইয়াসিন পাশা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের প্রবীণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কাতারে বসবাসরত সব বাংলাদেশির প্রতি বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন সোসাইটি আহ্বান জানায় যে, আপনারা কাজের ফাঁকে সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত খেলাধুলা করুন এবং বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এরূপ কার্যক্রম থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 4 |
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল রোববার বিকেলে লাশবাহী গাড়ি নিয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।বিক্ষোভ মিছিল শেষে দক্ষিণ জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম আহমদের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।এতে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা নাজিম উদ্দিন হায়দার, ছৈয়দ আহমদ, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন, কর্ণফুলী ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি ছাবের বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, কর্ণফুলী ট্রাক চালক সমিতির সভাপতি মো. ইসমাইল মোসলমান, সহসভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সিএনজিচালক সমিতির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, কর্ণফুলী ট্রাক চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর মুহাম্মদ ইকবাল, আজগর আলী পাপ্পু, সৈয়দ আহমদ, আবু বক্কর, মো. কামাল, মো. দস্তগীর, নুরনবী বালি প্রমুখ।বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বাদ মাগরিব চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের সৈন্ন্যারটেক গোষ্ঠী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে জাহাঙ্গীরকে দাফন করা হয়।১১ নভেম্বর চরপাথরঘাটা এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের খুদ্যারটেক এলাকার অটোরিকশাচালক ইয়াছিনের সঙ্গে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় অটোরিকশাচালক ইয়াছিন তাঁর ভাই কিশোর গ্যাংয়ের নেতা রুবেলকে ঘটনাস্থলে ডাকেন। রুবেল দলবল নিয়ে এসে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের পেটে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনার ৯ দিন পর গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চমেক হাসপাতালের তাঁর মৃত্যু হয়। | 6 |
নোয়াখালীতে একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড ২৯৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত ২ আগস্ট ২৯৩ এবং ৮ আগস্ট ২৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ।আজ বুধবার জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার ও কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. নিরুপম দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ৩ জন। তাঁদের মধ্যে বেগমগঞ্জে মারা গেছেন ১ জন ও শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে ১২০ শয্যা বিশিষ্ট কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে মারা গেছেন ২ জন।ডা. নিরুপম দাশ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭ জন। তাঁদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ রয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ২৬ জন পুরুষ ও ৫২ জন নারীসহ মোট ৭৮ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২০০ জনের। মারা গেছেন ২০৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৯৪০ জন। সবশেষ তিনটি পিসিআর ল্যাবে ৯৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায় ১০৫ জন ও সোনাইমুড়ীতে ৬৯ জন রয়েছেন। আইসোলেশনে রয়েছেন ৫ হাজার ৫৩ জন। | 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে কোটা আন্দোলনে ভর করেছিল। পরে ছাত্রদের কাঁধে ভর করেছিল। ভিডিও প্রচার করে গুজব ছড়িয়েছিল। ওবায়দুল কাদের বলেন, ওরা গুজব রটিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। বিএনপির গুজব সন্ত্রাস এখনো আছে। আজ রোববার কর্ণফুলীর ক্রসিং এলাকায় চট্টগ্রামের প্রথম পথসভায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার ঢাকা থেকে সড়কপথে কক্সবাজার পর্যন্ত সাংগঠনিক সফর শুরু করেন ওবায়দুল কাদের। তাঁর সঙ্গে আছেন দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। গতকাল কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্য দেন কাদের। গত রাতে চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতি করে কাদেরের নেতৃত্বে এই দল। আজ সকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দিকে যাত্রা আবার শুরু হয়। আজ সকালে ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম নগরে হজরত শাহ আমানতের (রা.) মাজার জিয়ারত করেন। বেলা পৌনে ১১টায় আনোয়ারার কর্ণফুলীতে আওয়ামী লীগের জনসভাস্থলে পৌঁছান। সেখানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাংসদ আবদুল মতিন খসরু, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ বক্তব্য দেন। কর্ণফুলীর সভা শেষে পটিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করে আওয়ামী লীগের এই দল। পথে ১১টি জায়গায় অবস্থান নেন আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী। আজ সারা দিন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, এরপর কক্সবাজারের চকরিয়া এবং পরে রামুতে হবে সমাবেশ। | 9 |
'অডিও' শব্দটি সঙ্গীত ভুবন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। অন্তত লিরিক্যাল ভিডিও প্রকাশনা শুরু হওয়ার পর- এ কথা জোর দিয়ে বলা যায়। একক গানের প্রসারে শিল্পী, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, প্রকাশকসহ কম গানের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সবাই অডিওর বদলে ভিডিওকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। যদিও পূর্ণাঙ্গ মিউজিক ভিডিও প্রকাশের আগে কেউ কেউ লিরিক্যাল ভিডিও প্রকাশ করছেন, তবে স্বল্প সময়ের জন্য। অ্যালবাম প্রকাশনা স্থবির হয়ে যাওয়ায় গান প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিডিও। এতে অবশ্য দর্শক-শ্রোতা হতাশ নন, বরং সময়ের সঙ্গে গান প্রকাশের ধারা বদলে যাওয়ার বিষয়টি সহজ ও স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন তারা। অবশ্য কেউ কেউ গানের সঙ্গে আলাদা করে ভিডিও নির্মাণের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না। তাদের কথায়, গান দেখার নয়, শোনা এবং অনুভবের বিষয়। যখন কেউ গান শোনেন তখন তার মনের ক্যানভাসে আপনা-আপনি কিছু দৃশ্য ভেসে ওঠে। আলাদা করে তাই মিউজিক ভিডিও নির্মাণের প্রয়োজন নেই। অডিওর স্থান মিউজিক ভিডিও দখল করে নেওয়া এবং তা কতটা দর্শক-শ্রোতার মাঝে প্রভাব ফেলছে? এমন প্রশ্নে তর্ক-বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু সবকিছুর পর এটাই সত্যি যে, অডিওর চাহিদা ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বেশি নয়, গত দেড় বছরের গান প্রকাশের তালিকায় চোখ রাখলেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। শুরু করা যাক সম্প্রতি সর্বাধিক সাড়া জাগানো মিউজিক ভিডিওর শিল্পী আসিফ আকবরের কথা দিয়ে। গত দেড় বছরে 'আগুন পানি', 'ফুঁ', 'নেই রেহাই', 'একটা গল্প ছিল', 'তোমাকে যেন ভুলে যাই', 'প্রথম দেখা', 'ও প্রিয় তুমি কেমন আছো', 'চুপচাপ কষ্টগুলো', 'তোকে বউ বানাবো', 'বস্' এবং কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে গাওয়া 'যেখানেই থাকো ভালো থাকো'সহ তার আরও বেশ কিছু একক গানের ভিডিও দর্শক-শ্রোতার মাঝে সাড়া জাগিয়েছে। একইভাবে কর্নিয়ার সঙ্গে গাওয়া 'কী করে তোকে বোঝাই', 'একবার ছুঁয়ে যা হৃদয়', 'মেঘ বলেছে', 'এলোমেলো জীবন', 'তোমার হাসি'; আঁখি আলমগীরের সঙ্গে গাওয়া 'টিপ টিপ বৃষ্টি', কনার সঙ্গে 'মুছে দেব কান্না তোমার', সালমার সঙ্গে গাওয়া 'আই অ্যাম ইন লাভ' দ্বৈত গানের ভিডিওতে আসিফ নিজেকে তুলে ধরেছেন নানা চরিত্রে। অন্যদিকে হাবিব গানের পাশাপাশি অভিনয় করেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন 'ঝড়', 'চলো না', 'আবার তুই', 'অবুঝপনা', 'রাজি', 'আনমনা মন'সহ অন্যান্য গানের ভিডিও প্রকাশ করে। একইভাবে তার সঙ্গীতায়োজনে লিজা 'এক যমুনা', পড়শী 'আবাহন' গানের সাদামাটা ভিডিও প্রকাশ করেও আলোচিত হয়েছেন। গল্পপ্রধান ভিডিও নিয়ে অন্যান্য শিল্পীও দর্শকের মনোযোগ কেড়েছেন। ইমরানের 'আমার কাছে তুমি', 'সব কথার এক কথা', 'কে তোমাকে এত ভালো বাসতে পারে', 'মনের বিপরীতে', 'মেঘেরই খামে', 'আজ ভালোবাসো না', 'তোর নামের ইচ্ছেরা', 'এমন একটা তুমি চাই'সহ পড়শীর সঙ্গে গাওয়া 'আবদার'সহ বেশ কিছু মিউজিক ভিডিও দর্শকের মাঝে সাড়া ফেলেছে। একইভাবে মিনারের 'আমি এমনই', 'তবে', 'নিরুদ্দেশ'; পূজার সঙ্গে গাওয়া 'স্বপ্নভেজা মেঘ'সহ বেশ কিছু গান দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর বাইরে দলছুটের 'মন দাবাড়ূ', প্রীতম হাসানের 'খোকা', 'আমি আমার মতো', 'নিশ্চুপ', 'রাজকুমার', '৭০০ টাকার গান', 'গার্লফ্রেন্ডের বিয়া'সহ বেশ কিছু গানের ভিডিও সাম্প্রতিক সময়ের দর্শকের হৃদয় জয় করেছে। আসলে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মিউজিক ভিডিও হয়ে উঠেছে সঙ্গীতপ্রেমীর চাহিদার অন্যতম উপকরণ। মিউজিক ভিডিওতে কত বৈচিত্র্য তুলে ধরা যেতে পারে, তার উদাহরণ দেখিয়েছেন নির্মাতারা। তানিম রহমান অংশু, সৈকত নাসির, চন্দন রায় চৌধুরী, শাহরিয়ার ও প্রেক্ষাগৃহ টিম, কুমার নিবিড়সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় ও তরুণ নির্মাতা প্রমাণ করেছেন, মিউজিক ভিডিওতে বৈচিত্র্য তুলে ধরতে পারলে তা নাটক, চলচ্চিত্রের মতোই দর্শকের মনে ছাপ ফেলবে। আসিফ, হাবিব, ইমরান, মিনার, পড়শী, লিজা, প্রীতম ছাড়াও অন্যান্য শিল্পী ও ব্যান্ড তাদের আয়োজন নিয়ে দর্শকের মনোযোগ কাড়তে পেরেছেন অনায়াসে। বাপ্পা মজুমদারের 'ঘুম জড়ানো', তাহসানের 'তুমিময় লাগে', 'কী হবে'; কনার 'লাল শাড়ি', 'আইছে পহেলা বৈশাখ', ইমরানের সঙ্গে গাওয়া 'কে কত দূরে', আকাশের সঙ্গে গাওয়া 'খাঁটি সোনা' গানগুলো ছিল আলোচনায়। অন্যদিকে সিলন মিউজিক লাউঞ্জের আয়োজনে হারানো দিনের গান গেয়ে সাড়া জাগিয়েছেন নিশিতা, মাহাদী, সালমা, লিজা, সাব্বির, স্বরলিপিসহ বেশ কয়েকজন তরুণ শিল্পী। তাদের পাশাপাশি একইভাবে তরুণ শিল্পী আরমান আলিফের 'অপরাধী', 'বেঈমান', 'নেশা', 'সর্বনাশ', 'কার বুকেতে মাথা রাখো', 'কাচের জানালা' গানগুলো সঙ্গীতাঙ্গনে হাওয়া বদলের আভাস দিয়েছে। অন্যদিকে কণ্ঠশিল্পী ধ্রুব গুহ 'তোমার ইচ্ছা হলে', 'তোমার উঁকিঝুঁকি'র মতো মেলোডিনির্ভর গান ও চমকপ্রদ গল্পের মিউজিক ভিডিও দিয়ে এ বছরও আলোচনায় ছিলেন। মিউজিক ভিডিও ছাড়াও এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, ন্যান্সি, ফাহমিদা নবীসহ বেশ কিছু শিল্পী একক গান প্রকাশ করে সঙ্গীতপ্রেমীদের প্রশংসা পেয়েছেন। কিন্তু সে গানগুলোর অডিও আলাদা করে প্রকাশের সুযোগ না থাকায় লিরিক্যাল ভিডিওর আশ্রয় নিতে হয়েছে প্রকাশকদের। শুধু জনপ্রিয় ও তরুণ শিল্পী নন; কম-বেশি সবাই এখন ভিডিওর দিকেই ঝুঁকে পড়েছেন। একই কথা বলা যায় আলোচিত ও তরুণ অন্যান্য শিল্পীর বেলায়। সৈয়দ আবদুল হাদী, কুমার বিশ্বজিৎ, ফাহমিদা নবী থেকে শুরু করে এফএ সুমন, বেলাল খান, কাজী শুভ, নদী, ঐশী, কিশোর, জয় শাহরিয়ার, তানযীব, তৌসিফ, শান, প্রতীক হাসানসহ মাহতিম শাকিব, টুম্পা, আতিক শামস, শেখ সাদীর মতো নবীন শিল্পীরাও মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে সম্ভাবনার স্বাক্ষর রেখেছেন। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট, আগের মতো একাধিক গানের অ্যালবাম নয়, মাত্র একটি গানের ভিডিও প্রকাশ করেই শিল্পীরা সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সঙ্গীতাঙ্গনে পা রাখার পথটাও তাই প্রশত হয়ে উঠেছে। কিন্তু একটি মাত্র গান দিয়ে দর্শক-শ্রোতার মনোযোগ কাড়তে পারাও কঠিন কাজ- এমন মত প্রকাশ করেছেন অনেকে। সে কারণেই মিউজিক ভিডিও তারকাবহুল ও নান্দনিক করে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। যার সুবাদে মিউজিক ভিডিওর বাজেট যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে নির্মাণের বৈচিত্র্য তুলে ধরার প্রতিযোগিতা। এ প্রসঙ্গে কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, 'গানের সুর-সঙ্গীতের পাশাপাশি গীতিকথার গল্পকে কত বৈচিত্র্যময়, রোমাঞ্চকর ও হৃদয়স্পর্শী করে তোলা যায়, তারই উদাহরণ মিউজিক ভিডিও। অ্যালবাম প্রকাশনা কমে যাওয়ায় একক গানের ওপর সঙ্গীতপ্রেমীদের নির্ভর করতে হচ্ছে। তাই প্রতিটি গান কতটা ভিন্ন আঙ্গিকে শ্রোতার কাছে পৌঁছানো যায়, তারই এক প্রচেষ্টার নাম মিউজিক ভিডিও। এক সময় টিভি অনুষ্ঠানের জন্য গানের ভিডিও করা হতো। এখন যেহেতু মুঠোফোনের সুবাদে সবকিছু হাতের মুঠোয়, তখন আর শোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গান হয়ে উঠেছে শ্রোতা ও দর্শকের।' কুমার বিশ্বজিতের এ কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। তিনি বলেন, 'এখনকার মিউজিক ভিডিওগুলোকে ছোটখাটো চলচ্চিত্র বলা যায়। চলচ্চিত্রের মতোই নানা ধরনের গল্প নিয়ে ভিডিও নির্মিত হচ্ছে। আমার মতো অনেক শিল্পীকেও তাই গানের পাশাপাশি অভিনয়ও করতে হচ্ছে। যেহেতু আমরা মানুষকে বিনোদন দেওয়ার জন্য কাজ করি, তাদের আনন্দ দিতে এবং সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে নিজেকে নতুন রূপে উপস্থাপন করতে হচ্ছে।' আসিফ আকবরের এ কথা যে একেবারে মিথ্যা নয়, তার প্রমাণ বহুবার পাওয়া গেছে। 'আগুন পানি' গানে তাকে দেখা গেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক যুবকের চরিত্রে। আবার কর্ণিয়ার সঙ্গে গাওয়া 'একবার ছুঁয়ে যা হৃদয়' ও 'কী করে তোকে বোঝাই' দ্বৈত গান দুটিতে তিনি অভিনয় করেছেন অভিনেতা ও এক প্রেমিকের চরিত্রে। অন্যদিকে 'সাদা আর লাল' গানে আসিফের চরিত্রে পাওয়া গেছে এক বলিউড অভিনেতার ছায়া। প্রীতম হাসানও তার 'জাদুকর' গানের নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন। কর্ণিয়াকে রক শিল্পীর চরিত্রে দেখা গেছে 'তোমায়' গানের ভিডিওতে। মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী চরিত্রে সালমা অভিনয় করেছেন তার 'আশায় আশায়' গানের ভিডিওতে। অন্যদিকে হাবিব ওয়াহিদকে 'মিথ্যা' গানে মানসিক রোগী, 'চলো না' গানে পর্যটক, 'ঝড়' গানে পাড়ার মাস্তান চরিত্রে দেখা গেছে। অন্যদিকে মমতাজকে নতুন রূপে দেখা গেছে 'লোকাল বাস' গানের ভিডিওতে। তিনি বলেন, "লোকাল বাস' আমার অন্যান্য গান থেকে একেবারে আলাদা। তা ছাড়া এর ভিডিওতে নাটকীয় একটি গল্প তুলে ধরা হয়েছে। যে জন্য নিজেকে নতুন রূপে তুলে ধরা।" মমতাজের মতো 'রেশমি চুড়ি' গানে নিজেকে নতুন রূপে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল কণ্ঠশিল্পী কনার। তিনি এ গানে কণ্ঠশিল্পীর পাশাপাশি নিজেকে নৃত্যশিল্পী হিসেবেও তুলে ধরেছেন দর্শকের কথা ভেবে। তার কথায়, 'এখন মিউজিক ভিডিও নির্মাণে বাঁকবদল ঘটেছে। ভালো গান করার জন্য যেমন যথেষ্ট সময় নিয়ে কাজ করতে হয়, তেমনই ভিডিও নির্মাণে বড় বাজেট এবং সময় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মিউজিক ভিডিওর দর্শক কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রতিটি কাজই ক্রমে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।' কনার এ কথার সঙ্গে একমত নির্মাতা তানিম রহমান অংশু। তার কথায়, মিউজিক ভিডিও নির্মাণ চলচ্চিত্র নির্মাণের চেয়ে কোনো অংশে কম চ্যালেঞ্জিং নয়। প্রতিটি গানের সঙ্গে নতুন গল্প, চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন, এবং ভিডিওর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখা সহজ বিষয় নয়। তাই ভালো এবং ব্যতিক্রমী কিছু করার জন্য শিল্পী, নির্মাতা, মডেল- সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হয়।' নির্মাতা সৈকত নাসির বলেন, 'চার থেকে সাত মিনিট ব্যাপ্তির গানে একটি গল্প তুলে ধরা কঠিন কাজ। সে কাজটিই করতে হচ্ছে এখনকার মিউজিক ভিডিওতে। গল্প তুলে ধরা শুধু নয়; ভিডিও নান্দনিক করে তুলতেও এর পেছনে প্রচুর সময় দিতে হচ্ছে। গায়ক-গায়িকাকে দিয়ে অভিনয়ও করাতে হচ্ছে। কিন্তু সেটা এমনভাবে উপস্থাপন করতে হচ্ছে, যাতে কারও এটা মনে না হয়, গানের চরিত্রগুলোয় চেনা-জানা মানুষের ছায়া নেই। খেয়াল করলে দেখবেন, চলচ্চিত্রের মতো গানের ভিডিওতে কমেডি, অ্যাকশন, ফ্যামিলি ড্রামা থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও তুলে আনা হচ্ছে। এ কারণেই হয়তো একের পর এক মিউজিক ভিডিওর দর্শক সংখ্যা কোটি অতিক্রম করছে।' শুধু সৈকত নাসির নন; সমকালীন শিল্পী, সুরকার, সঙ্গীতায়োজক, ভিডিও নির্মাতা, মডেল- সবার কথায় একটা বিষয় স্পষ্ট, গানের ভেতরে গল্প যদি নান্দনিকভাবে পর্দায় তুলে ধরা যায়, তাহলে তা অগণিত দর্শকের মন জয় করবে। প্রকাশক ও কণ্ঠশিল্পী ধ্রুব গুহ বলেন, 'গান যতটা শোনার, ততটাই দেখার বিষয় হয়ে উঠেছে এখন। যে জন্য অডিওর জায়গাটা পুরোপুরি দখল করে নিচ্ছে মিউজিক ভিডিও। এর প্রথম কারণ ভিডিওতে এখন অনেকে নানা ধরনের গল্প দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। যে কারণে অনেকে মিউজিক ভিডিওকে গানের ছবি বলেও উল্লেখ করছেন। অ্যালবাম প্রকাশনা নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার কারণে একক গান হয়ে উঠেছে প্রকাশনার অন্যতম মাধ্যম। যে জন্য তা মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশ করতে হচ্ছে। আর তা করতে গিয়েই ভিডিওতে বৈচিত্র্য তুলে ধরার এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এটাই অডিওকে বদলে ভিডিওর চাহিদা তৈরি করে যাচ্ছে।' তার এ কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে সিএমভির কর্ণধার শাহেদ আলী বলেন, 'সময়ের সঙ্গে শ্রোতার চাহিদা বদলে গেছে। ক্যাসেট ও সিডি প্লেয়ারের যুগ শেষ। এখন গান শোনার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। যেখানে ভিডিও দেখার সুযোগ থাকছে। তাই দর্শক-শ্রোতা চান, স্বল্প সময়ের ব্যাপ্তির কোনো গল্পের চিত্রায়ণ। এটা নাটক বা সিনেমায় সম্ভব নয়। যে জন্য গানের ভিডিও এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।' শিল্পী, সুরকার, গানের প্রকাশক, মিউজিক ভিডিও নির্মাতাদের এমন মন্তব্য থেকে এটাই স্পষ্ট, গান প্রকাশের এখন অন্যতম মাধ্যম মিউজিক ভিডিও। অডিও অনেকে শোনেন, কিন্তু ভিডিওর চাহিদা যত বাড়ছে তাতে ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে অডিও প্রকাশনা। গানের ভুবনে এখন তাই ভিডিওর জয় জয়কার। | 2 |
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় মাজেদা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোররাত ৪টা ৪৫ মিনিটে স্টেশন প্ল্যাটফর্মের কাছাকাছি এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাজেদা বেগম উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের উত্তর দাউদপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী। দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরামপুর স্টেশনমাস্টার মো. রফিক চৌধুরী। তিনি বলেন, ভোররাত ৪টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিরামপুর রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যায়। এ সময় মাজেদা বেগম ওই ট্রেনের লাইন পাড় হচ্ছিলেন। তখন ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়েন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। নিহত বৃদ্ধার পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পেটের পীড়ায় ভুগছিলেন মাজেদা বেগম। অসুস্থতায় কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন। কয়েক দিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেননি। সকালে স্টেশন থেকে লোকজনের ফোন পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেন। এ বিষয়ে হিলি রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কায়কোবাদ হোসেন জানান, কোনো আপত্তি না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। | 6 |
পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ায় সারাদেশের মানুষ যখন খুশি তখন বিএনপি ও তার দোসরদের বুকে বড় জ্বালা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার (২৫ মে) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য নবায়ন ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তার রাজধানীর বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ২৫ জুন পদ্মাসেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মার দুই পাড়সহ সারা বাংলাদেশে আজ আনন্দের ফোয়ারা জনগণের মাঝে বিরাজ করছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, পদ্মাসেতু হবে না, এ সরকার কখনো তা করতে পারবে না- এমন প্রসঙ্গ টেনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে গেছে, এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা, তাই বিএনপি ও তাদের দোসরদের বুকে বড় জ্বালা। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দেশের জনগণকে কী দেখাবে? কী উন্নয়ন দেখাবে?- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে বলেন, তাদের দেখাবার কিছু নেই। বিএনপির শাসনামলে জনগণকে দেখাবার মতো হাওয়া ভবনের দুর্নীতি, তারেক রহমানের দুর্নীতি আর তাদের নেত্রীর এতিমের টাকা আত্মসাৎ এর দুর্নীতি দেখানো ছাড়া আর কিছু নেই বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভালো আচরণ করে মানুষকে খুশি করতে হবে,তা হলে শেখ হাসিনার এতো সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে। তিনি দল থেকে দূষিত রক্ত বের করে দিয়ে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রামের কোন্দল আর দেখতে চাই না। দ্রুত চট্টগ্রাম মহানগর এবং উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খানম, উপ-প্রচার প্রকাশনা আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির সমাধিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম অসম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনার ধারক ও বাহক ছিলেন। তার গান আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বাংলাদেশে আজও সাম্প্রদায়িকতার শাখা প্রশাখা আছে, সেই শাখা-প্রশাখাকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতা বিষবৃক্ষ উৎপাটন করে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। | 6 |
বাবা-মাকে না জানিয়েই অনশনে বসেছেন গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ ইকবাল।শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত বুধবার থেকে অনশন করছেন তিনি।গণমাধ্যমে ছবি দেখে তা জানতে পারেন বাবা। তাই ছেলের খোঁজ-খবর নিতে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন বাবা হাফিজুর রহমান। এসে দেখেন ছেলে হাসপাতালে। শরীরে স্যালাইন পুশ করা। সন্তানকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পাশে বসে শুনছেন ছেলের কথা। কত সময় ধরে কিছু খায়নি আসিফ। তবে ছেলেকে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করেননি তিনি। হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, 'জেনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন হচ্ছে, সে অনশন করছে এটা জানায়নি। পরে ছবি দেখে জানতে পারি। এখন ছেলের তেমন কোনো খবর পাচ্ছিলাম না এসে দেখি ছেলে বেশ দুর্বল হয়ে গেছে।' এরপরে বাবা হাফিজুর রহমান বলেন, 'ঘটনা ঘটার পর থেকে বিষয়টা এখানে গড়ালো। শিক্ষকরা তাদের অভিভাবক, অভিভাবকরা কি ভূমিকা পালন করলো? তাদের দায়িত্ব তারা সঠিকভাবে পালন করেছে? আমার তো মনে হয় না। পরিস্থিতিটা এই পর্যন্ত চলে গেলে, অনশনের প্রায় ছয়দিন পার হচ্ছে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা দায়িত্বরত শিক্ষক আছেন তাদের ভূমিকা দেখছি না।' তিনি আরও বলেন, 'সারা জাতি এই শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে। কখন তাদের অনশনের অবসান হবে, কিন্তু অবসানের বিষয়ে কারো তরফ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখছি না। এটার একটা আশু সমাধান কামনা করছি। এতোগুলো ছেলে আত্মাহুতি দিবে, এটা তো কাম্য নয়।' ছেলেকে খাওয়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি আমার সন্তানকে খাওয়াতে যাইনি। আমি আবেগ দিয়ে হয়তো আমার ছেলেকে খাওয়াতে পারবো। কিন্তু এখানে তো তার মতো আরও অনেক সন্তান আছে।' এদিকে গত বুধবার দুপুর দুইটা ৫০ মিনিট থেকে অনশনরত থাকায় সকল শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কেউ হাসপাতালে যাচ্ছেন আবার একটু স্বাভাবিক বোধ করলে আবারও ক্যাম্পাসে ফিরে আসছেন। অনশনরত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে আনা-নেওয়া করার অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ যেন ভারী হয়ে উঠেছে। | 6 |
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় এ ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩২৫ জন। আজ শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যেখানে গতকাল ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় এ ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৫৮৮ জন।এর আগে ২৮ আগস্ট ৬৩ দিনের মধ্যে প্রথম কোভিডে মৃত্যু ১০০-এর নিচে নামে। এর আগে সর্বশেষ ২৬ জুন এক দিনে ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এরপর টানা দৈনিক মৃত্যু ১০০এর ওপর ছিল। এমনকি কোনো কোনো দিন মৃত্যু ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। গত ১০ ও ৫ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে ৮০০টি সক্রিয় ল্যাবে ২৬ হাজার ৮৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করলে ২ হাজার ৩২৫টির ফল করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। সে হিসাবে রোগী শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ।যেখানে গতকাল ৮০০টি সক্রিয় ল্যাবে ২৯ হাজার ৫৪১টি নমুনা পরীক্ষা করলে ২ হাজার ৫৮৮টির ফল করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। সে হিসাবে রোগী শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ।এই সময়ে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে গত এক দিনে মারা গেছেন ১৭ জন কোভিড রোগী। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১০, রাজশাহীতে ২, খুলনায় ৫, ময়মনসিংহে ২, সিলেটে ১, রংপুরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।এক দিনে করোনায় মৃত ৩৮ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ২ জন, বাসাতে ১ একজন।গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ২০ আর নারী ১৮ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১-৯০ বছর বয়সী ৬ জন, ৭১-৮০ বছর বয়সী ৮ জন, ৬১-৭০ বছর বয়সী ১০ জন, ৫১-৬০ বছর বয়সী ৬ জন, ৪১-৫০ বছর বয়সী ৫ জন কোভিড রোগী এই সময়ে মারা গেছেন।এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন ৩ হাজার ৮৫৬ জন রোগী। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৬৭ জন। যেখানে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ২১৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২৬ হাজার ৮৩২ জন করোনা রোগীর।২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম কোভিডে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে নভেল করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্তের খবর জানানো হয় গত বছরের ৮ মার্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রথম মৃত্যুর খবর জানায় ১৮ মার্চ। | 6 |
ভারতে এবার দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা বাতিল করল দা ইন্ডিয়ান সার্টিফিকেট সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিআইএসসিই)। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বোর্ডের সচিব জেরি অ্যারাথুন জানিয়েছেন, বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১ জুন) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের পরই সিবিএসইয়ে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করা হয়। তারপর যে আইএসসি দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা বাতিল হতে চলেছে, তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয় বোর্ডের ঘোষণার ঘণ্টাখানেক পরে সিআইএসসিই সচিব জানিয়ে দেন, বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা। দীর্ঘদিন ধরেই একটি অংশের বোর্ড পরীক্ষা বাতিলের দাবি তোলা হচ্ছিল। তবে প্রাথমিকভাবে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষেই ছিল কেন্দ্র। সূত্র জানায়, অধিকাংশ রাজ্যও পরীক্ষা বাতিলের পক্ষে ছিল না। বরং পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ মাধ্যমিকের ধাঁচে ছোটোভাবে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে ছিল অধিকাংশ রাজ্য। তবে সিআইএসসিই যে পরীক্ষা বাতিলের পথে হাঁটতে চলেছে, তা গত কয়েকদিনের পদক্ষেপেই আভাস মিলেছিল। স্কুলগুলিকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা (২০১৯-২০) এবং চলতি শিক্ষাবর্ষের (২০২০-২১) গড় নম্বর জমা দিতে নির্দেশ দেয় সিআইএসসিই। বোর্ডের সচিব 'অত্যন্ত গোপনীয়' চিঠি দিয়ে জানান, আগামী ৭ জুনের মধ্যে সেই কাজ করতে হবে। তবে সেটাই কি পরীক্ষা বাতিলের আভাস কিনা, সে বিষয়ে সিআইএসসিইয়ের তরফে তখন কোনও মন্তব্য করা হয়নি। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছিল। সেই সিদ্ধান্তের পরই আর কোনওরকম বিলম্ব না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। | 3 |
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে এখনও প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ আটক, ফোনালাপের তথ্য স্বীকার এবং এসব নিয়ে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দেওয়ার পরও তাকে নিয়ে সাফাই গাইছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। অবশ্য গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে বক্তব্যের পর নিজেদের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থকের কাছে সমালোচিতও হচ্ছেন মামুনুল।
নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার পর হেফাজতের পক্ষ থেকে দ্রুত মামুনুলের অবস্থানকে সমর্থন করে বিবৃতি দেওয়া হয়। এরপর গত ৪ এপ্রিল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, 'ফাঁস হওয়া ফোনালাপ কাটছাঁট করে প্রচার করা হয়েছে। যারা এসব প্রচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' কিন্তু বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুল স্বীকার করেন ফোনালাপ তারই ছিল।
এ ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে হেফাজতের মধ্যেও যারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন, তাদের অনেকের ভেতর সংশয় ও অসন্তোষ দেখা দেয়। যদিও মামুনুলের বিরুদ্ধে হেফাজতের কোনো নেতাই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি বা কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান সমকালকে জানান, মামুনুলসহ চলমান সার্বিক বিষয়ের ওপর তাদের নজর আছে। আগামী রোববার নাগাদ বিষয়গুলো নিয়ে আরও পরিস্কার মতামত উপস্থাপন করা হবে। মামুনুলের ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাপারে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।
ফোনালাপের বিষয়ে জাকারিয়া নোমান বলেন, 'ফোনালাপের কথা স্বীকার করে নিয়ে মামুনুল হক সৎ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। একজন এমপিও তো অন্যের স্ত্রীসহ ধরা খেয়েছেন। তখন কি কেউ বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছিল? এখন কেন মামুনুলের ব্যাপারে এত বাড়াবাড়ি হচ্ছে? হেফাজত থেকে এটা স্পষ্ট করা হয়েছে, যে ঘটনা ঘটছে, সেটা তার ব্যক্তিগত।'
'স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে সীমিত পরিসরে সত্য গোপন করা যাবে'- মামুনুলের এমন ভাষ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে হেফাজতের প্রচার সম্পাদক বলেন, 'এ ব্যাপারে তার ব্যাখ্যাকে সঠিক বলে মনে করছি।'
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব নাসির উদ্দিন মনিরের সঙ্গে। তিনি গতকাল সমকালকে বলেন, 'ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুল সব প্রশ্নের উত্তর পরিস্কারভাবে দিয়েছেন। কেউ হয়তো ভাবছেন এটা তার দুর্বলতা। তবে এটা তার দুর্বলতা নয়।'
নৈতিক স্খলন ও অন্য কোনো গুরুতর অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে হেফাজতের পক্ষ থেকে তদন্ত করার নজির রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে নাসির উদ্দিন বলেন, 'হেফাজত আমিরের বক্তব্য সুস্পষ্ট- এ ধরনের অভিযোগের প্রমাণ পেলে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হবে। তবে হেফাজত বিশ্বাস করে, মামুনুলকে নিয়ে উদ্ভট পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার হেফাজতের আমিরের সঙ্গে মামুনুল ইস্যুতে সংগঠনের নেতৃস্থানীয়দের আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে মামুনুলের পক্ষে কথা বলেছেন হেফাজত আমির।'
আলোচনায় তিন ডায়েরি :একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মামুনুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝরনা নিয়মিত ডায়েরি লিখতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার তিনটি ডায়েরি জব্দ করেছে। এ ডায়েরিতে মামুনুলের সঙ্গে জান্নাতের বিয়ের কোনো তথ্য না থাকলেও ৩০ মাসের সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে বলে সূত্র দাবি করেছে। সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসার চতুর্থ তলায় সাবলেট থাকতেন জান্নাত।
গতকাল যোগাযোগ করা হলে ওই বাড়ির মূল ভাড়াটিয়া সালমা খানম সমকালকে জানান, অবিবাহিত পরিচয়ে জান্নাত গত আট-নয় মাস ধরে তাদের বাসায় সাবলেট রয়েছেন। সর্বশেষ শনিবার তিনি বাসায় ছিলেন। আগে তিনি পার্লারে চাকরি করতেন। তবে কিছুদিন আগে হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন।'
এদিকে জান্নাতের বড় ছেলে আবদুর রহমান জামি নিশ্চিত করেছেন, তিনি প্রায়ই নর্থ সার্কুলার রোডের ওই বাসায় যেতেন। তার মা নিয়মিত ডায়েরি লিখতেন। ডায়েরিতে যে হাতের লেখা আছে, তা তার মায়ের।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হলেই ব্যবস্থা : হেফাজত ইস্যুতে দেশের কোনো এলাকায় বিশৃঙ্খলা হলে তা শক্তহাতে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নীতিনির্ধারণী মহল সূত্রে জানা গেছে, সংশ্নিষ্ট এলাকার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে জবাবদিহিও করতে হবে। মামুনুলের ঘটনা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাসপেন্ডকালীন তিনি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় রয়্যাল রিসোর্টে অবস্থান নেন। এ খবরে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। সন্ধ্যায় হেফাজতের কয়েকশ কর্মী-সমর্থক রয়্যাল রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুর করে মামুনুলকে বের করে নেয়। তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ও ভাঙচুর করে। শনিবার রাতে মামুনুলের একাধিক টেলিফোন কথোপকথন ফাঁস হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। | 9 |
অতিকথন না, এতদিন কই ছিলেন? মুজিবকন্যাকে এ লড়াইয়ে জিততে দিন, জিতলে আইনের সুশাসন জিতবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপরাধের দুর্গ গুড়িয়ে দিয়ে, একের পর এক পাকড়াও না করানোর আগে তো কেউ কিছু জানতেন না! মন্ত্রী নেতার একাংশ এখন চুপ করেন। অভিযানটা সফল হতে দেন। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনাই এই সাহসী যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। এই যুদ্ধে জিততে হবে। জনগণের সমর্থন আছে, এই বিজয় শেখ হাসিনার একার বিজয় নয়, এটা আইন ও সু-শাসনের বিজয়। দেশের সৎ ও আদর্শিক জনতার বিজয়। সকল সরকার দলের অপরাধ ও অপরাধীদের যেখানে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, সেখানে শেখ হাসিনা আইনের হতে ঘর থেকেই, দল থেকেই তুলে দিচ্ছেন। এটাই ইতিহাস, বিপ্লব। এটাকে তাই অভিনন্দন, সমর্থন। অতএব অতিকথন কেউ করবেন না। বিতর্কের সুযোগ নেই। এটাই আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অপরাধী যেই হোক তাকেই ধরা হবে। লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 2 |
পর্তুগালের দ্বিতীয় বৃহত্তর বন্দর ও বাণিজ্যিক নগরী পোর্তোর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন শাহ আলম কাজল। গত রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পোর্তোর মিউনিসিপালিটি নির্বাচনে পোর্তো শহরের জুন্টা ফ্রেগজিয়া বনফিমের অ্যাসেম্বলিতে ৪৪ শতাংশ ভোট পড়ে। ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি শাহ আলম কাজল ২১ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ২০১৭ সালেও পোর্তো সিটি করপোরেশনে কাউন্সিলর হিসেবে পর্তুগাল সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। নির্বাচনে জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শাহ আলম কাজল বলেন, আমি মনে করি এখানে বর্তমানে বেড়ে ওঠা আমাদের আগামী প্রজন্ম পর্তুগালের স্থানীয় রাজনীতি ছাড়াও বিভিন্ন সেক্টরে প্রতিনিধিত্ব করবে। পর্তুগালে নতুন আগত প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মূলধারা এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের পাশাপাশি বাংলাদেশকে স্থানীয় পর্তুগিজদের মাঝে তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার সন্তান শাহ আলম কাজল স্নাতক শেষ করেন। এরপর তিনি জীবন ও জীবিকার তাগিদে ১৯৯২ সালে পর্তুগালে যান। সহজে পর্তুগিজ ভাষা রপ্ত করার মাধ্যমে ১৯৯৮ সাল থেকে পর্তুগালে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অনুবাদক হিসেবে কাজ নেন। এর পাশাপাশি প্রবাসীদের সামাজিক উন্নয়নের কাজে যুক্ত হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো গঠন হলে সভাপতির দায়িত্ব পান, যা পর্তুগালে প্রথম কোনো প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন এবং দেশটির সরকার অনুমোদিত। কাজল ২০০৪ সালে পর্তুগালের নাগরিকত্ব পান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুযোগ সুবিধা আদায়ে এবং বাংলাদেশকে বিদেশের মাটিতে তুলে ধরার জন্য তিনি ২০১১ সালে বর্তমান ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টিতে একজন কর্মী হিসেবে যোগ দেন। স্থানীয় রাজনীতিতে একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ পার করে বর্তমানে পোর্তো মহানগর কার্যকর কমিটির সদস্য এবং বনফিমের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শাহ আলম কাজল পরিবার নিয়ে পর্তুগালের পোর্তোয় বসবাস করছেন। তিনি দুই মেয়ে এবং এক ছেলের বাবা। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। পদ্মাসেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে - কোন ঋণ নেওয়া হয়নি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা অর্থনৈতিক সমীক্ষার মাধ্যমে আমরা অন্যান্য মেগা প্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছি। আর শুধু ঋণ নয়, বিদেশি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তিবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতির চেহারা বদলে যাবে। তিনি বলেন, আমরা দেশি-বিদেশি ঋণ নিচ্ছি। তবে তা যাতে বোঝা হয়ে না উঠে সে দিকে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদ বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২২ এবং ২০২৩ হবে বাংলাদেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের এক মাইলফলক বছর। আর কয়েক মাস পরেই চালু হতে যাচ্ছে বহুল আকাক্সিক্ষত পদ্মাসেতু। এই সেতু জিডিপি-তে ১.২ শতাংশ হারে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছরের শেষ নাগাদ নাগাদ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার অংশে মেট্রোরেল চালু হবে। আশা করা যায়, মেট্রোরেল রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আগামী অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামে কর্ণফুলির নদীর তলদেশ দিয়ে চালু হবে দেশের প্রথম টানেল। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট আগামি বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গত মাসে পায়রায় ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ধারিত সময়ের আগেই উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যান্য মেগাপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত ১৩ বছরে যে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে তা অর্থনীতির সামস্টিক সূচকগুলো বিবেচনা করলেই স্পষ্ট হয়। ২০০৯ সালে জিডিপি'র আকার ছিল মাত্র ১০২ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালে তা ৪১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৭০২ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২,৫৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ভাবনা এবং দূরদৃষ্টি-সম্পন্ন অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে। গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রেখে মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ফলেই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের 'রোল মডেল' হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। তবে আমি মনে করি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা সরকারের দায়িত্ব। জাতির পিতা যে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়ন করতে অবদান রাখতে পারছি বলে আমরা গর্বিত। যতদিন বেঁচে আছি, মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে কাজ করার সামর্থ্য দিবেন, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে যাব, জনগণের সেবা করে যাব। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে চাই: জীবনের এই পথ, কে বলিতে পারে
বাকি আছে কত?
মাঝে কত বিঘ্নশোক, কত ক্ষুরধারে
হৃদয়ের ক্ষত?
পুনর্বার কালি হতে চলিব সে তপ্ত পথে,
ক্ষমা করো আজিকার মতো--
পুরাতন বরষের সাথে
পুরাতন অপরাধ যত। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এই সময়ে ৬৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার শুন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। শনিবার (২৬ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, এই সময়ে সেরে উঠেছেন ৯৮৩ জন। তাদের নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ১৩১ জন। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫১ হাজার ২৩৯ জন। আর এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ১১৮ জনের। দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। আর প্রথম মৃত্যু হয় একই বছরের ১৮ মার্চ। | 4 |
সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দেওয়া বক্তব্যে সরকারের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচার মেলা ভবন মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।রিজভী বলেন, 'নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বললেন সামনের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না, তবে সেনা মোতায়েন হবে। একদিন পরেই সিইসি বলেছেন, না না না, এটা তার ভিন্ন মত। একজন নির্বাচন কমিশনার যখন বলবেন, তখন সেটা তো নির্বাচন কমিশনের কথাই। এখানে ভিন্ন মত হয় কীভাবে? সিইসির বক্তব্যে সরকারি দলের নেতাদের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।'তিনি বলেন, আগেই বলা হয়েছিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হচ্ছেন সরকারের আজ্ঞাবহ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যা বলা হবে, তিনি সেটাই বলবেন।আওয়ামী লীগ ছাড়া সব রাজনৈতিক দলই ইভিএম পদ্ধতির বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছে- উল্লেখ করে রিজভী বলেন, 'এর পর ইভিএম নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনে মোতায়েন করার দাবিও শুধু বিএনপি নয়, অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের। কিন্তু এই দাবি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি দলের পছন্দ নয়। তারা ফেনী মার্কা নির্বাচন করতে চায়। যে নির্বাচন রাত ৩টার মধ্যে ব্যালট বাক্স ভরে যাবে।'প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'জোরপূর্বক প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে- এটা দেশের মানুষের আর বুঝতে বাকি নেই। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পছন্দ হয়নি বলেই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র।'দেশে 'অপসংস্কৃতি' রোধে জাসাস নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদ। সভা পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গাজী মাজহারুল আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, জাসাস সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, সহসভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, মীর সানাউল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মাজহার আলী শিবা শানু প্রমুখ।
| 9 |
সৌদি আরব পাকিস্তানকে যে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে তা 'দান নয় বরং বিনিয়োগ' বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেঈর। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে পাকিস্তানে সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। দৈনিক ডনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আদেল আল জুবেঈর বলেন, 'পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নে সৌদি আরব বদ্ধপরিকর।' সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানকে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, 'ইরানের এমন কর্মকাণ্ডের ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে সৌদি আরবকে।' সম্প্রতি ইরানে সন্ত্রাসী হামলায় দেশটির রেভ্যুলেশনারি গার্ডের ২৭ জন সদস্য নিহত হয়। ইরান এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করার দিনই এমন কথা বললো সৌদি আরব। রাজধানী ইসলামাবাদের ওই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশী বলেন, 'পাকিস্তান ও সৌদি তাদের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করছে। পাকিস্তানের বেশ কিছু সেক্টরে ২ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে সৌদি।' সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হিসেবে দেখতে চাই।' এদিকে সফরে আসার একদিন পর সৌদি আরবে কারাবন্দী থাকা দুই হাজারের বেশি পাকিস্তানি নাগরিককে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। | 3 |
তিস্তা নদীর ফ্লাড বাইপাস সড়ক বন্যায় ভেঙে যাওয়ার তিন মাস পেরোলেও সংস্কার হয়নি। ফলে আসন্ন বন্যা মোকাবিলা নিয়ে উৎকণ্ঠায় তিস্তা নদীর বাম তীরের মানুষ।ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নীলফামারীর কালীগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিস্তা নদী; যা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে। এর দৈর্ঘ্য ৩১৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশে রয়েছে ১২৫ কিলোমিটার।ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত সরকার একতরফা তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণ করায় শীত মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়। বর্ষায় অতিরিক্ত পানিপ্রবাহের ফলে বাংলাদেশ অংশে বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিস্তার বাম তীরের জেলা লালমনিরহাট।তিস্তা নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহার করতে আশির দশকে তৎকালীন সরকার লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সংযোগে তিস্তা নদীর ওপর তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে, যা লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলাকে সংযুক্ত করেছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে বাম তীরে লালমনিরহাট অংশে ফ্লাড বাইপাস নির্মাণ করা হয়। অতিরিক্ত পানি যাতে ফ্লাড বাইপাস দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্যারাজ রক্ষা পায়। এই ফ্লাড বাইপাসের ভাটিতে নির্মিত হয় হাজারো বসতবাড়ি ও স্থাপনা।গত বছর ২০ অক্টোবর অসময়ে হঠাৎ তিস্তার পানিপ্রবাহ বেড়ে যায়। ওই দিন তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে ব্যারাজের ফ্লাড বাইপাস ভেঙে বাম তীরে বন্যার সৃষ্টি হয়। ভেসে যায় ঘরবাড়ি, ভেঙে যায় রাস্তাঘাট। বন্যার তিন মাস অতিবাহিত হলেও ভেঙে যাওয়া ফ্লাড বাইপাস সংস্কার করা হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই জেলার মানুষ।অপরদিকে আসন্ন বন্যায় আবারও বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা করছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। বন্যার আগে সংস্কার না হলে তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ব্যারাজ কোনো কাজে না আসার আশঙ্কা স্থানীয়দের।হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারীর বাসিন্দা সোলায়মান আলী খোকন বলেন, 'গত বন্যায় ফ্লাড বাইপাস ভেঙে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে, এখনো সংস্কার করা হয়নি। আগামী বন্যার আগে সংস্কার না হলে বিপদ হতে পারে। এ ছাড়া বন্যার আগে সংস্কার না হলে নদীর গতিপথও পরিবর্তন হতে পারে। এমন হলে তিস্তা ব্যারাজ শূন্যে পড়ে থাকবে।' তাই দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা উদ দৌলা বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাড বাইপাস সংস্কার করতে ৩০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে সংস্কার করা হবে। | 6 |
কাবুল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াবিপজ্জনকবলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেন, লোকজনকে এভাবে সরিয়ে আনতে গিয়ে সেনাবাহিনী ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা একটার দিকে হোয়াইট হাউসে এসব কথা বলেন বাইডেন। খবর বিবিসির। বাইডেন বলেন, আফগানিস্তান থেকে ১৩ হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উড়োজাহাজে যেভাবে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট কঠিন কাজ ছিল। বাইডেন আরও বলেন, মার্কিনদের মধ্যে যাঁরাই ঘরে ফিরতে চাইবেন, তাঁদেরই ফিরিয়ে নেওয়া হবে। যে ৫০ থেকে ৬৫ হাজার আফগান দেশ ছাড়তে চান, তাদেরও একইভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, 'শেষ পর্যন্ত কী হবে বা লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ঝুঁকিমুক্তভাবে শেষ করা যাবে কি না, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি আমি দিতে পারছি না। তবে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আমি বলতে পারি, প্রয়োজনীয় সবকিছু আমি করব।' আফগানিস্তান থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে সেখানে প্রায় ছয় হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। তবে আফগানিস্তান ছাড়তে চাইছেন এমন মানুষের ভিড় বাড়ছে। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে তাদের তালেবানের তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে। | 3 |
সাভারের আশুলিয়ায় সাইড দেওয়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্স আটকে রেখে চালক ও তাঁর সহকারীকে মারধর করেছেন অপর মাইক্রোবাসের চালকসহ কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা ক্যানসার আক্রান্ত শিশু আফসানা (৯) ছটফট করতে করতে মারা যায়।আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডে সাইড দেওয়া নিয়ে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসের চালক।অভিযুক্ত মাইক্রোবাসচালক নজরুল ইসলাম বাইপাইল এলাকার আব্দুল মজিদের গাড়ি চালান বলে জানা গেছে। বিতণ্ডা ও মারধরে জড়িত অন্যদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।আফসানা গাইবান্ধা জেলা সদর থানার মধ্য ধানগড়ার শাপলা মিল এলাকার আলম মিয়ার মেয়ে। সে ক্যানসারের রোগী ছিল। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মহাখালীর ক্যানসার হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সের চালক মারুফ হোসেন বলেন, 'আমরা রোগী নিয়ে গাইবান্ধায় যাচ্ছিলাম। টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় পৌঁছালে বারবার হর্ন দেওয়ার পরও একটি মাইক্রোবাস সাইড দিচ্ছিল না। এ সময় আমার হেলপার ইমন তাদের বলে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে ইমারজেন্সি রোগী আছে, আমাদের ছেড়ে দেন। এ সময় বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে লোকজন ডেকে বাইপাইল এলাকায় গাড়ি আটক করে আমাদের মারধর করে। পরে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি নিয়ে যায় তারা। চাবি নেওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে রোগী মারা যায়। পরে পুলিশ এসে রোগীকে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়।'আফসানার বাবা আলম মিয়া বলেন, 'আমার মেয়ে ক্যানসারের রোগী। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। সেখান থেকে আমরা আবার গাইবান্ধা যাচ্ছিলাম।'এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আফসানার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন। আফসানার বাবা বাদী হয়ে মামলা করছেন।' | 6 |
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য নবনির্মিত আবাসিক ভবন শনিবার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় ২০তলা ভবনটি ১ দশমিক ৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ৭৬টি ফ্লাট রয়েছে। খবর বাসসের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের মে মাসে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে একশত চুয়াত্তর কোটি টাকা।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এম শহিদউল্লাহ খন্দকার।
| 6 |
বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার অ্যালিসন বেন্টক সিএমজি'র নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে তার বারিধারার বাসভবনে বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, বি. চৌধুরীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম, যুক্তফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি. চৌধুরী এবং অ্যালিশন ব্লেকের সাথে ছিলেন বাংলাদেশে যুক্তরাজ্য হাই কমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ক্যানবার হোসেইন-বর ও হাই কমিশনের পলিটিক্যাল এনালিষ্ট এজাজুর রহমান। হাই কমিশনের প্রতিনিধি দল প্রায় এক ঘন্টা ধরে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন এবং বৈঠক শেষে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ গ্রহণ করেন। পরে প্রেস ব্রিফিং-এ বি. চৌধুরীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম বলেন, যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনারের সাথে আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ্য ভাবে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয় নিয়েও কথা বলেছি। প্রেস বিফ্রিং-এ উপস্থিত ছিলেন, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, মাহী বি. চৌধুরী ও ব্যারিস্টার ওমর ফারুক। | 9 |
জাতীয় ভিটামিন "এ" প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিক পরিদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। এরই আলোকে খুলনা সিভিল সার্জন সুজাত আহম্মেদের নেতৃত্বে সম্প্রতি খুলনা দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গঠিত এই দল। দলটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগ, বহিঃবিভাগ ও আন্তঃ বিভাগ পরিদর্শন করেন । এ সময় খুলনা সিভিল সার্জন সুজাত আহম্মেদ ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার খোজ খবর নেন। পরে সিভিল সার্জন, ডেপুটি সিভিল সার্জন সহ অন্যান্য চিকিৎসকরা ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়াসী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান। পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন মোঃ সাইদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহাবুবুল আলম সাগর ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা । উল্লেখ্য, এ বছর খুলনা জেলার নয়টি উপজেলা, একটি সিটি কর্পোরেশন এবং দুইটি পৌরসভায় ৬ হতে ১১ মাস বয়সী ৩১ হাজার নয়শত ২৩ এবং ১২ হতে ৫৯ মাস বয়সী দুই লাখ ৪২ হাজার ৮০ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। | 6 |
ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাদেশের বর্তমান ভূখণ্ডের মধ্যে চট্টগ্রামেই প্রথম চা উৎপাদন শুরু হয়। ১৮৪৩ সালে চট্টগ্রাম ক্লাব ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকার 'পাইওনিয়ার' বাগানের পাতা থেকে এ চা বানানো হয়। পরীক্ষামূলক এ বাগানে আবাদ শুরু হয় ১৮৪০ সালে। অর্থ্যাৎ চারা রোপণের তিন বছরের মাথায় চা-গাছের পাতা থেকে চা তৈরি হয়। ১৮৭৩ সালে বাংলায় চা চাষবিষয়ক তৎকালীন কৃষি বিভাগের এক প্রতিবেদনে এ তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের কাছে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে এ প্রতিবেদন পাঠানো হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে আসামে পরীক্ষামূলক প্রথম চা তৈরির ছয় বছরের মাথায় চট্টগ্রামের বাগান থেকে চা তৈরি হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮৪০ সালে তৎকালীন কালেক্টর স্কোনস আসাম থেকে চায়ের বীজ এবং কলকাতার বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে তিনটি চায়না চারা সংগ্রহ করেন। এসব চারা ও বীজ পাইওনিয়ার বাগানে রোপণ করেন তিনি। ভারতীয় উপমহাদেশের বর্তমান বাংলাদেশ অংশে প্রথম চা চাষের শুরুটা এ বাগান দিয়েই। চট্টগ্রাম ক্লাব প্রতিষ্ঠার আগপর্যন্ত এ বাগানে চা উৎপাদিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে ১৮৭২ সালে পাইওনিয়ার বাগানের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, সে বছর ৬ হাজার ৪০০ পাউন্ড (২ হাজার ৮৮০ কেজি) চা তৈরি হয়। সে সময় বাগানটির ১০ একরে পরিপক্ক চা-গাছ এবং তিন একরে অপরিপক্ক চা-গাছ ছিল। সব মিলিয়ে ওই বছর চট্টগ্রামে ১৩টি বাগানে ১ লাখ ৯৮ হাজার পাউন্ড চা তৈরি হয়। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ক্লাবে এখন সভাপতির দায়িত্বে আছেন পেডরোলো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদের খান। যিনি দুই দশক আগে চা চাষে যুক্ত হয়ে হেক্টরপ্রতি ফলনে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। নাদের খান প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাবের চারদিকে যেসব পাহাড় রয়েছে, সেই সময় তা ছিল চা-বাগান। বর্তমান ক্লাবটি ছিল পাইওনিয়ার বাগানের ব্যবস্থাপকের বাসা। এটিই ব্রিটিশ ভারতের বাংলাদেশ অঞ্চলের প্রথম বাগান। তবে শহর বড় হতে থাকলে ধীরে ধীরে এ বাগান বিলুপ্ত হয়। আর চারা রোপণের তিন বছরের মাথায় চা-পাতা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চা তৈরির তথ্যটি ঠিক। তবে পরিমাণে খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। চট্টগ্রামে প্রথম চাষ শুরু হলেও ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাদেশ অংশে বাণিজ্যিকভিত্তিতে প্রথম চা চাষ শুরু হয় সিলেটে। আবার চা চাষের সম্প্রসারণও হয়েছে সেখানে। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৫৪ সালে সিলেটে মালনীছড়া বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯০৫ সালে প্রকাশিত 'আসাম ডিস্ট্রিক গেজেটিয়ারস, সিলেট'-এ বলা হয়, সিলেটের মালনীছড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৭ সালে। বর্তমানে দেশে ১৬৭টি চা-বাগানের ১৩৫টিই বৃহত্তর সিলেটে। চট্টগ্রামে বাগান রয়েছে ২১টি। চা সম্প্রসারণের তালিকায় এখন যুক্ত হয়েছে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার সমতল এলাকাও। মোট উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসছে সমতল থেকে। শুরুতে চট্টগ্রামে চা চাষ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম বলে চা চাষ সম্প্রসারণেও শঙ্কা ছিল। অবহেলার কারণে অনেক চা-বাগান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এরপরও চট্টগ্রামের উৎপাদিত চায়ের মান স্বীকৃতি দিয়েছিল বিশ্বখ্যাত চা কোম্পানি টুইনিং। ১৮৭৩ সালে চট্টগ্রামের কৃষি বিভাগ থেকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, পাইওনিয়ার বাগানের চায়ের নমুনা ১৮৬১ সালে লন্ডনে পাঠানো হয়। পরে লন্ডনের মেসার্স টুইনিং অ্যান্ড কোম্পানি ওই নমুনা পরীক্ষা করে 'এ ওয়ান' ক্যাটাগরি, অর্থাৎ খুবই ভালো বলে উল্লেখ করে। ১৮৬১ সালের ১ জুলাই দেওয়া ওই সনদে চায়ের চমৎকার স্বাদ ও পানীয়ের রং উজ্জ্বল বলে উল্লেখ করা হয়। এ স্বীকৃতির ১৬০ বছর পর আবারও স্বীকৃতি পেয়েছে চট্টগ্রামের চা। ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ নিলাম মৌসুমে (সাধারণত দেশে প্রতিবছর মে মাস থেকে পরের ১১ মাস চায়ের আন্তর্জাতিক নিলাম হয়) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ব্র্যাকের কৈয়াছড়া ডলু বাগানের চা দেশের বাগানগুলোর মধ্যে গড়ে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এ বাগানের চায়ের গড় মান ভালো। একরপ্রতি সর্বোচ্চ ফলনেও বছর তিনেক আগে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ফটিকছড়ির হালদা ভ্যালী চা বাগান। ২০১৭ সালে হালদা ভ্যালীতে হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ৭১৭ কেজি। সে সময় দেশের অন্য চা-বাগানে গড় উৎপাদন ছিল হেক্টরপ্রতি ১ হাজার ৪৭৭ কেজি। | 0 |
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আবারও এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অনুসারীরা। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাতটায় বসুরহাট মোশারফ হোসেন ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকের নাম মো. নাসির উদ্দিন (৪৩)। তিনি ঢাকা প্রতিদিন ও নোয়াখালী প্রতিদিন পত্রিকার কোম্পানীগঞ্জে প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। হামলার পর স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে তিনি অন্য স্থানে ঠাঁই নিয়েছেন। আহত নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যার দিকে বসুরহাট পৌরসভার দক্ষিণ গেটের মোশারফ হোসেন ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে একটি চা-দোকানে তিনি বসে ছিলেন। এ সময় দলবল নিয়ে সেখানে হাজির হন আবদুল কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ অনুসারী পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদ উল্লাহ। ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হামিদ উল্লাহর সঙ্গে থাকা ১০ থেকে ১২ জন সহযোগী তাঁকে (নাসিরকে) পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেন। নাসির আরও বলেন, 'কোম্পানীগঞ্জে কারও ওপর হামলা চালাতে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ লাগে না। হামলার কিছুক্ষণ পর হামিদ ফোন করে ঘটনার জন্য ভুল স্বীকার করেছেন।' স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চায়ের দোকানে বসে ছিলেন সাংবাদিক নাসির। কাদের মির্জার ঘোষিত বসুরহাট পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদ উল্লাহ ওরফে হামিদের নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা রিকশার চেইন, ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে নাসিরকে পিটিয়ে আহত করেন। নাসির উদ্দিনের ওপর হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন হামিদ উল্লাহ। আজ সোমবার দুপুরে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, নাসিরসহ অন্য সব সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। তাই হামলার প্রশ্নই ওঠে না। তবে তিনি শুনেছেন সাংবাদিক নাসির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, নাসির উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে নাসির উদ্দিন এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কয়েক মাস আগে কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তরুণ সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন কাদের মির্জার অনুসারী। হামলার শিকার হয়েছেন একাধিক সাংবাদিক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোম্পানীগঞ্জের অনেক সাংবাদিককে এখন সচরাচর বসুরহাটে দেখা যায় না। হামলার আশঙ্কায় কেউ কেউ রাতে ঠিকমতো বাড়িতে ঘুমান না। | 9 |
করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চারঘাট উপজেলার বইসহ শিক্ষা উপকরণ বিক্রেতারা। গত বছরের লকডাউনে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারেননি তাঁরা। এরই মধ্যে নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।পৌর সদর, সরদহ, নন্দনগাছীসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা গেছে, সম্প্রতি দেশজুড়ে আবারও করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেছে। এতে সরকার দুই সপ্তাহের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। তাতে বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে হঠাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় বই ও শিক্ষা উপকরণ বিক্রেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।উপজেলার বই ও শিক্ষাসামগ্রী বিক্রেতারা বলেন, গত লকডাউনে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, যা এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ব্যবসায় নতুন করে পুঁজি খাটাতে গিয়ে অনেকে ব্যাংক থেকে উচ্চসুদে ঋণ নিয়েছেন। কেউ জমি বিক্রির টাকা ব্যবসায় খাটিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবারও বন্ধ হওয়ায় আমাদের স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে ঋণের দায় মেটাতে গিয়ে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এতে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।উপজেলা সদরের লামিয়া পেপার হাউসের মালিক সেলিম রেজা বলেন, লকডাউনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় লাগিয়েছি। খুচরা খাতা-কলমসহ স্টেশনারি মালামাল বিক্রির পাশাপাশি একটি কোম্পানির ডিলার রয়েছে আমার। কিন্তু হঠাৎ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পাইকারি পণ্যের অর্ডার কমে গেছে। এতে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।চারঘাট পাইলট স্কুল গেটের সামনের বই বিক্রেতা আইডিয়াল লাইব্রেরির মালিক কাজী ইয়াসিন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেচাকেনা নেই বললেই চলে। শিক্ষার নতুন বর্ষ শুরু হলেও বইয়ের কোনো চাহিদা নেই। আগে জানলে নতুন বছরের বই আমদানি করতাম না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি চারঘাট উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাজদার রহমান বলেন, করোনার কারণে দুই বছর লোকসান গুনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। কিন্তু সরকারি কোনো প্রণোদনা কিংবা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। | 6 |
বরিশালের হিজলা উপজেলায় এক গৃহবধূর লাশ নিয়ে স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনের মাঝে টানাহেঁচড়া এবং মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে আবার শুরু হয় মারামারি। এতে উভয় পক্ষের চারজন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও পুলিশের মধ্যস্থতায় দাফনের জন্য লাশ স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।এর আগে গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর পর দুই পরিবারের মধ্যে টানাটানি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে লাশ উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (সেবাচিম) হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। সেখানে আজ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।মৃত গৃহবধূর নাম পারভীন বেগম। তিনি কাজিরহাট থানার আন্ধারমানিক গ্রামের মানিক সিকদারের মেয়ে এবং একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী এলাকার আক্তার সরদারের স্ত্রী। তাঁদের তিন কন্যা সন্তান রয়েছে।জানা যায়, গতকাল রাতে ওই গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। তখন ওই গৃহবধূর লাশ উপজেলার গোলেরহাট নামক বাজারে এলে উভয় পরিবারের লোকজন জড়ো হন। তাঁরা লাশবাহী গাড়ির পথরোধ করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে হিজলা থানা-পুলিশ এসে স্বামী অনুপস্থিত থাকায় মরদেহ বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।এরপর আজ ওই গৃহবধূর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ফেরার পথে স্বামীর বাড়ির লোকজন বাধা দেয়। স্বামীর দাবি, স্ত্রীর লাশ নিজের বাড়িতে দাফন করবেন। অন্যদিকে গৃহবধূর বাবার পরিবারের দাবি, তাদের বাড়িতে দাফন হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় চার ব্যক্তি আহত হন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশের মধ্যস্থতায় ওই গৃহবধূর মরদেহ স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।এ বিষয়ে আন্ধারমানিক ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম কাজী জানান, গৃহবধূর মরদেহ স্বামীর বাড়িতে কবর দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে গৃহবধূর পরিবার।এ বিষয়ে ওই গৃহবধূর মা কল্পনা বেগম জানান, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ছেলে সন্তান হয় না বলে তাঁর মেয়েকে অমানবিক নির্যাতন করে আসছেন আক্তার সরদার। তাঁরা প্রতিবাদ করলে, মেয়ে লালনপালনের খরচ মেটাতে বলে জামাতার পরিবার। এ নিয়ে কিছুদিন পরপর তাঁর মেয়ের ওপর চরম নির্যাতন চালান আক্তার। গত বৃহস্পতিবার স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন তাঁর মেয়ে। পরের দিন আবার চলে যান তিনি।মৃত গৃহবধূর ভাই জানান, ভগ্নিপতির পরিবার থেকে তাঁর বোনকে অনেকবার স্বামীর ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু মেয়ে তিনটির কথা চিন্তা করে যাননি তাঁর বোন। গত দুই দিন আগে নির্যাতনে শিকার হয়ে তাঁদের বাড়িতে এলে ওষুধ কিনে দেন তাঁরা। বোনের হত্যার বিচারের দাবি করেন তিনি।এ ঘটনায় মৃত নারীর মেয়ে (১৪) জানায়, গতকাল দুপুরে হঠাৎ তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তার দাদি ও বাবা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মায়ের মৃত্যু হয়। গতকাল তার বাবা তার মায়ের প্রতি কোনো নির্যাতন করেনি বলে জানায় সে। তবে আগে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হতো বলে জানায় মৃত গৃহবধূর মেয়ে।কাজিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দিন জানান, ময়নাতদন্তের পর আবারও দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় দাফনের জন্য লাশ স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। | 6 |
হামলার শিকার মন্দিরগুলো অতি শিগগির প্রয়োজনীয় সংস্কার করাসহ সাত দফা দাবি নিয়ে শাহবাগ অবরোধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধ এখনো চলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের মুখপাত্র জয়দীপ দত্ত।জয়দীপ দত্ত বলেন, 'আমাদের দাবিগুলো আদায় না হওয়া অথবা আদায়ের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা শাহবাগ ছাড়বো না।'অবরোধ ও দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কুশল বরণ চক্রবর্তী বলেন, 'আফগানিস্তানে যেহেতু তালিবান ক্ষমতায় আছে। তাই এদেশের মৌলবাদী শক্তিগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। আজ মৌলবাদী শক্তিগুলো ঘাপটি মেরে আছে। মৌলবাদী এই অপশক্তিগুলোর বিষদাঁত উপড়ে না ফেলতে পারলে তারা শিকড় গেঁড়ে বসবে।'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান ললিতা মণ্ডল বলেন, 'যেকোনো দেশে সংখ্যালঘু হয়ে জন্মগ্রহণ করা পাপ। কিন্তু আমাদের দেশে একে একে আমরা যেভাবে নিগৃহীত হচ্ছি। তা আমাদেরকে খুব জ্বালাতন করছে। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে ললিতা মণ্ডল বলেন, 'মা, (প্রধানমন্ত্রী) আমরা সকলে আপনার জন্য প্রার্থনা করি। অনেকে আপনার বদনাম ও দুর্নাম করতে চায়। কিন্তু আমরা জানি আপনি কে! আপনি আমাদের মা'র সমতুল্য। আপনি চাইলে সব সম্ভব। অতিদ্রুত হামলাকারী ও দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এই শিক্ষক।দাবিগুলো হলো: হামলার শিকার মন্দিরগুলো অতি শীঘ্রই প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।ধর্ষণ ও হত্যার শিকার পরিবারগুলোকে স্থায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।জাতীয় সংসদে আইন প্রয়ণের মাধ্যমে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের বাসাবাড়িতে সাম্প্রদায়িক হামলার দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে।হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আধুনিকায়ন করে ফাউন্ডেশনে উন্নীত করতে হবে।জাতীয় বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য জিডিপির ১৫% বরাদ্দ রাখতে হবে। | 6 |
সাসেক্সের ডিউক প্রিন্স হ্যারি ও ডাচেস মেগান মার্কেল রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে কানাডায় চলে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর ব্রিটিশ রাজপরিবার এক সংকট দেখা দেয়। এ সংকটের মধ্যে প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেন ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ। সোমবার ইংল্যান্ডের নরফক কাউন্টিতে সান্দ্রিংহাম প্রাসাদে রাজ পরিবার থেকে প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগানের সরে যাওয়া নিয়ে সংকট সমাধানে বৈঠকে বসে পুরো রাজ পরিবার। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। রানীর সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টা আগে হ্যারি এবং তার বড় ভাই প্রিন্সউইলিয়াম জানান, তাদের মধ্যে কোনো রকম দ্বন্দ্ব নেই। ব্রিটেনের একটি পত্রিকায় দাবি করা হয়েছিল, মেগান আর হ্যারি নাকি বলেছেন, উইলিয়াম তাদের সঙ্গে 'অপমানজনক আচরণ' করেছেন। এই প্রতিবেদনের ভাষা ব্যবহার নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছেন দুই ভাই-ই। পত্রিকাটি লিখেছে, হ্যারির স্ত্রী মেগান নাকি বলেছেন, ব্রিটেনের রাজপরিবারে ২০ মাস থাকার পরে এবার সরে যেতে চান তিনি। সব কিছুর দায় তিনি চাপিয়েছেন হ্যারির বড় ভাই উইলিয়ামের উপরে। বড়দিনের মৌসুমেই নাকি মেগান বলেছিলেন, ''এ ভাবে আমি আর পারছি না!'' গত ৮ ডিসেম্বর হ্যারি এবং মেগান ঘোষণা করেন যে, তারা রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে অবসর নিতে চান। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাজ্য এবং উত্তর আমেরিকায় তাদের সময় ভাগাভাগি করে থাকতে চান। তাছাড়া আর্থিকভাবেও স্বাধীন হতে চান, যাতে রাজকোষের অর্থের ওপর তাদের নির্ভর করতে না হয়। এরপর থেকে ব্রিটিশ রাজপরিবার এক অভূতপূর্ব সংকটে পড়ে।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
চৌগাছা পৌর বিএনপির পুনরায় সভাপতি হয়েছেন সেলিম রেজা আওলিয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আব্দুল হালিম চঞ্চলকে। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও পুনরায় রাখা হয়েছে সহিদুল ইসলামকে।গতকাল বুধবার যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে পদগুলোর জন্য অন্য কেউ মনোনয়নপত্র না কেনায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁরা পুনরায় নির্বাচিত হন।২০১৯ সালে আগের কমিটি বিলুপ্ত করে চৌগাছা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়। কমিটিতে সেলিম রেজা আওলিয়ার আহ্বায়ক এবং আব্দুল হালিম চঞ্চল ও সহিদুল ইসলাম যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।সেলিম রেজা আওলিয়ার ২০০৪ সালে চৌগাছা পৌরসভা গঠিত হলে প্রশাসক এবং পরে ২০০৬ পৌর চেয়ারম্যান ও ২০১১ সালে মেয়র নির্বাচিত হন। আব্দুল হালিম চঞ্চল ২০২১ সালে চৌগাছা পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হয়ে জামানত হারান। অন্যদিকে সহিদুল ইসলাম পৌরসভা প্রতিষ্ঠার আগে পাঁচনমনা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য হন। ২০০৪ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর সদস্য এবং ২০০৬ থেকে টানা চারবার ২ নম্বর ওয়ার্ডের (পাঁচনমনা) নির্বাচিত কাউন্সিলর।জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, 'আজ (বুধবার) মনোনয়নপত্র কেনার শেষ দিন ছিল। অন্য কেউ মনোনয়নপত্র না কেনায় তাঁরা তিনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করা হয়।' | 6 |
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা খুন হয়েছেন। নিহতের নাম মো. লেচু মিয়া (২৮)। তিনি উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ভাটি ধল গ্রামের মো. হামিদ মিয়ার ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ জুলাই) সকালে জেরেধল বাজারের একটি স্যালুনের চেয়ারে বসাবস্থায় লেচু মিয়াকে একই গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে মিন্টু মিয়া ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক লেচু মিয়ার স্বজনরা তাকে স্থানীয় দিরাই উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সিলেটে নেওয়ার পথে সোমবার বিকেল ৩টায় মারা যান। এ ব্যপারে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। | 6 |
ফেসবুকে ভর্তি বিজ্ঞপ্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের ভেতর শুরু হয়েছিল তুমুল আলোচনা। কে কোন সাবজেক্টে পড়বেন, কখন ভর্তি হবেন, কার আগে কে টাকা জমা দিবেন- এ নিয়ে গত একমাস ধরে তাদের ছিল হাজারও পরিকল্পনা। অবশেষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সেই স্বপ্ন বুঝি এবার বাস্তবে পূরণ হতে যাচ্ছে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ভার্চুয়াল ওপেন ডে'র মধ্য দিয়ে। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে তারুণ্যমুখর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে অটাম ২০২০ সেমিস্টারের ভার্চুয়াল ওপেন ডে। চলবে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সিআইইউ কর্তৃপক্ষ জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে ২০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত স্কলারশীপ লাভের সুযোগ। ভার্চুয়াল ওপেন ডে'র আওতায় শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন স্পট অ্যাডমিশন, সেমিস্টার ফি ওয়েবার, যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমের নানান তথ্যসহ অনেক সুবিধা। যাবতীয় তথ্যের জন্য ছুটির দিন ছাড়া সপ্তাহের যেকোন দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নগরের জামালখান সিআইইউর ক্যাম্পাসের অ্যাডমিশন অফিস শাখায় যোগাযোগ করতে পারবেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। মুঠোফোনে যোগাযোগের নম্বর দুটি হল ০১৯৪৬-৯৭৩৭৭৮ ও ০১৮৪৪-২১৬৬৬০।
ওয়েবসাইটের ঠিকানাটি হল: ..., ফেসবুক: ./। অনলাইন অ্যাডমিশন ফরমের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিক করতে হবে: ://../. এই ঠিকানায়। বর্তমানে সিআইইউতে বিজনেস স্কুল, স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস ও স্কুল অব ল প্রোগ্রামের অধীনে রয়েছে একাধিক সাবজেক্ট। সিআইইউ বরাবরই গুণগত শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী। বিডি প্রতিদিন/ আবু জাফর | 1 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ব্যাংক এশিয়ার একটি এজেন্ট ব্যাংকের ছিনতাই হওয়া টাকাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিশ্বস্ত মোটরসাইকেল চালকের সহযোগিতায় একটি চক্র এ ঘটনাটি ঘটায়। ঘটনার তিনদিনের মধ্যে পুলিশ ওই টাকা উদ্ধার করে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার নবীনগর উপজেলার নারুই নোয়াগাঁও গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান ও একই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম। তারা আদালত ও পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কলেজ পাড়ার জুম্মানসহ আরো কয়েকজনকে খুঁজছে পুলিশ। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, নবীনগরের নোয়গাঁও এলাকার ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিয়ের টাকা লেনদেনের জন্য প্রতিনিয়তই ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসেন ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং-এর কর্মকর্তা এনামুল হক। এ কাজে তিনি স্থানীয় বিশ্বস্ত ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক হাবিবুর রহমানকে নিয়ে আসেন। এরই মধ্যে হাবিবুর রহমান টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তিনি সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবকের সঙ্গে এ নিয়ে পরিকল্পনা করেন। সাইফুল যোগাযোগ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুম্মান নামে এক যুবকের সঙ্গে। পূর্ব পরিকল্পান অনুযায়ি গত ২০ জুন নবীনগর ফেরার পথে আখাউড়ার রুটি এলাকায় এনামুল হকের পথরোধ করে ১৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং-এর মালিক সাদেক মিয়া আখাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্তে নামে। সন্দেহভাজন হিসেবে হাবিবুর ও সাইফুলকে আটকের পর পুলিশ বিস্তারিত জানতে পারবে বলে জানান তিনি। তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুসারে ২২ জুন বিকেলে নারুই পূর্বপাড়ার এলাকায় ব্রিজের নিচ থেকে ছয় লাখ ৪৫ হাজার টাকা ও বুধবার দুপুরে জুম্মানের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়ি থেকে ছয় লাখ টাকা উদ্ধার করে। | 6 |
আজ ২ ডিসেম্বর একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার জন্মদিন। জন্মদিনের বিশেষ সময়টুকু কানাডার টরন্টোতে কাটবে সুবর্ণা মুস্তাফার।প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে সিটি কর্তৃপক্ষের নিকট শহীদ মিনার হস্তান্তরবিষয়ক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কানাডায় গিয়েছেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। কিন্তু কোনো এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে সেই অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন তিনি। এখনো টরন্টোতেই আছেন তিনি। ৭ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।কানাডা থেকে নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ছবি শেয়ার করেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা। বরফঢাকা রাস্তায় পরিচিতজনদের সঙ্গে সুবর্ণা মুস্তাফাকে বেশ ফুরফুরে মনে হচ্ছে। গতকাল মুঠোফোনের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, 'এবারের জন্মদিনে দেশে থাকা হলো না। টরন্টোতে আছি। এখানেই জন্মদিনের সময়টা কেটে যাবে। পরিবারকে খুব মিস করব। জানি, ঢাকায় থাকলে সময়টা আরও ভালো কাটত, অনেকের সঙ্গে দেখা হতো। হয়তো আরও বেশি উপভোগ্য হতো।'কাজী জহিরের 'নতুন বউ' ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করে পার্শ্বচরিত্রের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা। কিন্তু সেই পুরস্কার তিনি গ্রহণ করেননি। পরে বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত 'গহীন বালুচর' ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।সুবর্ণা মুস্তাফা সর্বশেষ বদরুল আনাম সৌদের নির্দেশনায় বিটিভিতে প্রচারিত 'লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প' ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি 'গণ্ডি' নির্মাণ করেছেন ফাখরুল আরেফীন। | 6 |
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের কাজ করছে, আমরা আমাদের কাজ করছি। সিপিডির তথ্য-উপাত্ত চেয়ে তিনি বলেন আমরা তাদের চেয়ে বড়। বুধবার (২৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় সরকারের ১০০ দিন নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, 'তাদের (সিপিডি) কাছে যা আছে সেগুলো আগে আমাকে দিতে বলেন। তাদের থেকে আমরা বড়। তাদের কাছে কী আছে সেগুলো আমাদের দিক।' এর আগে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সিপিডি সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের ১০০ দিন নিয়ে কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। 'বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বাধীন পর্যালোচনা : বর্তমান সরকারের প্রথম একশ দিন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব করা ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিকে ঈর্ষণীয় বলছে সিপিডি। উৎপাদন খাতের ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিই জিডিপির প্রবৃদ্ধি চালিকাশক্তি। তবে সিপিডি এ প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সিপিডির মতে, এ হিসাব বাস্তবসম্মত নয়। অর্থনীতির সূচকগুলোর সঙ্গে এর মিল নেই। জিডিপির হিসাব আরও গভীরে গিয়ে করা উচিত। তা না হলে নীতিনির্ধারণে সমস্যা হবে। কিছু অসংগতি তুলে ধরে জিডিপির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি। তারা বলেছে, উৎপাদন খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিবিএসের হিসাব, চামড়া খাতে প্রথম প্রান্তিকে সাড়ে ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অথচ রফতানিতে নেতিবাচক প্রবণতা রয়েছে। রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশ। কিন্তু চলতি মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। আবার ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১২ শতাংশ। কিন্তু গতবার একই সময়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ১৮ শতাংশ। সিপিডির মতে, বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের মানে হলো, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এ প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের ভূমিকা দেখিনি। আবার কর আহরণের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি নেই। ব্যক্তি খাতের ঋণপ্রবাহ বেশি হয়নি। মূলধনী পণ্যের আমদানিও বেশি দেখা যায়নি। ব্যাংক খাতেও চাঞ্চল্য নেই। তবে সরকারের কিছু ভালো উদ্যোগের বিষয়ে জানায় সিডিপি। ভালো উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশি কর্মজীবীদের বিষয়ে জরিপ চালিয়ে করের আওতায় আনার উদ্যোগ, মানি লন্ডারিং বিধিমালা জারি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপনকে করের আওতায় আনা। | 0 |
অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় পার্টিতে প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ হারালেন পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া। জেলা জাতীয় পার্টির জন্য দেওয়া হয়েছে নতুন আহবায়ক কমিটি। আর তা দিয়েছে জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদের ঘোষিত জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদ। এর মাধ্যমে পুরো জেলা জাপার নিয়ন্ত্রণ চলে গেল বিদিশা এরশাদ নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মো. মামুনুর রশীদের হাতে। অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল হেলালকে আহবায়ক ও সৈয়দ মোকাব্বেরকে সদস্য সচিব করে ওই কমিটি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মো.ফিরোজ খান, আবুল কালাম, মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন মিয়াজী, আব্দুল আজিজ ও অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলামকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মো. মামুনুর রশীদ, সাবেক সাংসদ শহিদুল ইসলাম ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক সরকারকে সদস্য করে ৭১ সদস্যের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় পার্টির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়। কমিটিকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জেলার সব উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কমিটি শেষ করে সফল সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বারিধারা প্রেসিডেন্ট পার্কে জাপা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নেতারা সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদের সঙ্গে দেখা করতে এলে আহবায়ক কমিটির অনুমোদনপত্র তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মো. মামুনুর রশীদ, জাপা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মুখপাত্র ও সাবেক সাংসদ জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও জাপা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কাজী অ্যাডভোকেট রুবায়েত হাসান, জাপা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার যুগ্ম মহাসচিব সিকদার আনিসুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব কর্নেল (অব.) শাহজাহান সিরাজ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট ওয়াদুদ দীদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক সরকার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাফিজ মাহবুব, দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য হাফসা সুলতানা স্মৃতি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফিরোজ খান, আবদুল আজিজ,অ্যাডভোকেট এজাজ আহম্মেদ জীবন, মো. সোলেমান মজুমদার, সৈয়দ রুহুল আমিন, মেরাজ মৃধা, শান্তা ইসলাম, জাতীয় ছাত্র সমাজ নেতা লোকমান হোসেন মামুন, এইচ এম শাওন ও মিশু আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। | 6 |
রাউজানে পুকুরে ডুবে সাকিবা আকতার (৬) ও আনিসা আকতার (৬) নামে দুই চাচাতো- জ্যাঠাতো বোনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উপজেলার রাউজান সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানান, রাউজান সদর ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান গাজীপাড়া গুরা মিয়া চৌধুরী বাড়িতে আপন দুই ভাই মো. জানে আলম মনু ও মো. মাহাবুবুল আলমের দুই মেয়ে খেলতে বের হলে একজন পুকুরে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে অপরজনও পুকুরে ডুবে যায়। পরে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফু উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। | 6 |
ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে নাম্বার ওয়ান বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে, এমনকি বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালনে কোন বাঁধা বিপত্তি নেই। স্বাধীনতার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে সরকার আর্থিক সহায়তাও দিয়ে আসছে, যা অন্যান্য দেশে বিরল।" শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী সাম্প্রতিক বিভিন্নস্থানে উগ্র সাম্প্রদায়িক বিভিন্ন ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি গোষ্ঠী নানাভাবে ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তবে সরকার এসব তৎপরতা মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।" তিনি জানান, সাম্প্রদায়িক হামলার ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপকে অত্যন্ত উত্তম বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ভারত সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। এ সময় সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) সভাপতি বাপ্পা ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক আনিছ রহমান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
এক সময় ছিলেন ফুটপাতের টং দোকানি, আর এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। বলছি ক্যসিনো বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবের কথা। কাউন্সিলর রাজীবের বাবার নাম তোতা মিয়া। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী। রাজীব কাউন্সিলর হওয়ার পর প্রভাব দেখিয়ে তার স্বজনরাও বিপুল পরিমাণ টাকা কামিয়েছেন। তার চাচা ইয়াসিন হাওলাদার মোহাম্মদপুর এলাকায় দখল করেছেন একাধিক প্লট। স্থানীয়রা গেছে, খুব অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন রাজীব। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউজিং, সাতমসজিদ হাউজিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করেই এই অর্থ বৈভবের মালিক হয়েছেন রাজিব। মোহাম্মদপুর এলাকায় তার একাধিক বাড়ি, জমি আছে ও একাধিক বিলাসী গাড়ির মালিক তিনি। ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে জয়লাভ করেন। এক দশক আগে মোহাম্মদীয়া হাউজিংয়ে ছোট্ট বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তারেকুজ্জামান রাজীব। কাউন্সিলর হওয়ার পর চলতেন দামি গাড়িতে। তৈরি করেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। তার রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। সব সময় চলাফেরা করতেন গাড়ির বহর নিয়ে। কাউন্সিলর হওয়ার পর দ্রুত ভাগ্য বদলে যেতে থাকে তার। রাজীবের লোকজন এক মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর করেন। ওই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে তার ওই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করা হয়েছিল। এরপর তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর, বেড়িবাঁধ, বছিলা এলাকার পরিবহনে চাঁদাবাজি রাজীবের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরিবহন খাত থেকেও মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতেন তিনি। এলাকার পশুর হাটে একক নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। প্লট ও জমি দখল করে দেওয়ার বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা কামান তিনি। মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লটে তিনি প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করেন। এলাকায় অনেকে বলছেন ৫ কাঠা জমির ওপর ওই বাড়ি তৈরি করতে ৫ কোটি টাকার ওপর খরচ করেন তিনি। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, চলমান অভিযানে যুবলীগের কেউ দুর্নীতি বা অন্য কোনো কারণে গ্রেফতার হলে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা ছিল আমাদের। সেই মোতাবেক রাজিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৮ নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ নিয়ে চলমান অভিযানে দু'জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর গ্রেফতার হলেন। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, রাজীব বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করছেন- এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসা ঘেরাও করা হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। | 6 |
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছেড়ে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) সারের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। রাসায়নিক সারের ক্ষতিকারক দিক বিবেচনা করে উপজেলার কৃষকেরা এখন ব্যাপক হারে ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার শুরু করেছেন। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও শুরু হয়েছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সারের উৎপাদন।জানা গেছে, জমিতে অতিমাত্রায় বালাইনাশক, আগাছা নাশক, কৃত্রিম রাসায়নিক সার ব্যবহার করায় দিন দিন মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে ভূমিকা রাখছে কেঁচো সার। বালাই নাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে বিনষ্ট মাটির উর্বরতা শক্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম এই ভার্মি কম্পোস্ট। এরই মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জের ছয়জন কৃষক কৃষি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেছেন। তাঁরা এসব উৎপাদিত সার নিজেদের জমিতে ব্যবহার করে ধান, পাট ও শাকসবজির প্রচুর ফলন পেয়েছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার শিমরাইল গ্রামের ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো) সার তৈরির উদ্যোক্তা কৃষক মো. মনির উদ্দিন নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় ছায়াযুক্ত স্থানে ৬০টি রিং স্থাপন করেছে। এতে পুরোনো গোবর আর রেড বেঙ্গল কেঁচো দিয়ে রিংগুলো ঢেকে রেখেছেন। প্রতিটি রিংয়ে দুই থেকে আড়াই হাজার কেঁচো রয়েছে। কেঁচো গুলো রিংয়ের গোবর খেয়ে মলত্যাগ করে। এই মল চা পাতার মতো হালকা আর ঝুর ঝুর হয়ে রিংয়ের ওপর দিকে উঠতে থাকে। প্রথম একমাস পর রিংগুলো থেকে ১০০০ -১২০০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি হয়। পরে প্রতি এক সপ্তাহ পর পর ৩০০- ৩৫০ কেজি সার উত্তোলন করা যায়।কৃষক মো. মনির উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে জানান, এরই মধ্যে তাঁর ৬০টি রিং আছে। আরও ১০০টি রিং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেগুলো বর্ষা মৌসুমের কারণে কার্যক্রম শুরু করতে পারছেনা। তার উৎপাদিত কম্পোস্ট সার ১২-১৪ টাকা দরে নিজের চাহিদা মিটিয়ে উপজেলার বিভিন্ন কৃষকদের কাছে বিক্রি করে। এতে আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। তাই এই কেঁচো সার বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছেন তিনি।ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের জানান, কেঁচো সার ব্যবহারে মাটির জৈবশক্তি বৃদ্ধি পায় ও পিএইচ মান সঠিক মাত্রায় থাকে। এ ছাড়াও মাটির প্রকৃত গুণ রক্ষা করে, মাটির পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে ফসলে পানি সেচ কম লাগে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, মাটিকে ঝরঝরে করে ও বায়ু চলাচল বৃদ্ধি করে, উদ্ভিদেও শেকড়ের মাধ্যমে শোষণক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে, বীজের অঙ্করোধগম শক্তি বৃদ্ধি করে ও গাছকে সুস্থ-সবল রাখে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এতে কৃষকের চাষ খরচ অনেক কম হয়, ফসলের ফলন বৃদ্ধি ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে।ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার বলেন, 'মাটির ভৌত এবং জৈব গুণাবলি উন্নতিকরণের জন্য ভার্মি কম্পোস্ট সারের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে এরই মধ্যে উপজেলার ছয়জন কৃষক ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরিতে উদ্যোক্তা হয়েছেন। তাদের এমন সফলতা দেখে আরও অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।' | 6 |
মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারীসহ ১০০ সেনা সদস্য বাইসাইকেলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে পৌঁছেছেন। যাত্রা শুরুর ২৩ দিনের মাথায় দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের অর্থনীতি অঞ্চল সাবরাংয়ে পৌঁছান তারা। এ সময় লাল-সবুজের পোশাকে সজ্জিত সাইক্লিস্ট সেনা সদস্যদের রাস্তার দুই পাশে স্থানীয় লোকজন পতাকা নেড়ে স্বাগত জানান। পরে অর্থনীতি অঞ্চলে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন- কক্সবাজারের রামু ১০ ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর সাদি, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সফিউল আলম, মেজর সাইফুল প্রমুখ। এতে সাইক্লিস্ট টিমের সদস্যরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এসময় সাইক্লিং টিমের লিডার মেজর আসিফ মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রজ্জ্বলিত শিখার আলোয় সমগ্র বাংলাদেশকে উজ্জীবিত করাই এই সাইক্লিং এক্সপেডিশনের মূল উদ্দেশ্য। মুজিব বর্ষের চেতনাকে বুকে ধারণ করে সকল সাইক্লিং যাত্রা পথে কোন ঝুঁকি ছাড়া নিরাপদে এক হাজার ১০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে। নারী সদস্যরাও সাহসিকতার প্রমাণ দিয়েছে। সাইক্লিস্টরা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে এ উদ্যোগ। এছাড়া যাত্রাপথে সচেতনতামূলক বার্তা জনসাধারণের মাঝে পৌঁছে দিয়েছি আমরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর সাদিবলেন, তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এই দীর্ঘপথ সাইকেল চালিয়ে শেষ করা বেশ দুঃসাহসিক ও চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাইক্লিং টিম এই দুঃসাহসিক কাজটি সম্পন্ন করে ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সাইক্লিস্টরা ইতিহাসে এমন একটি দুঃসাহসিক যাত্রার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের চেতনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলার প্রচেষ্টা এবং একাত্তরের চেতনাকে মহিমান্বিত করে তোলার জন্য সেনাবাহিনীর সাইক্লিং এক্সপেডিশন দেশবাসিকে মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছে। এ সময় সাইক্লিং এক্সপেডিশন সমাপ্ত ঘোষণা করেন এবং আগামী ৩ ডিসেম্বর কক্সবাজারের জলতরঙ্গে সমাপনী অনুষ্ঠান হবে বলে জানান তিনি। গত ৮ নভেম্বর তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা সীমান্তের জিরো লাইনে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মুজিববর্ষ সাইক্লিং এক্সপেডিশন-এর উদ্বোধনের পর ১০১০ কিলোমিটার পথে যাত্রা শুরু করেন এসব সেনা সদস্য। এসময় টিম লিডারের স্বার্বক্ষণিক দায়িত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিউল আলম। | 6 |
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই টটেনহাম হটস্পার্স। লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হেরেছে ৩-১ গোলে। পয়েন্ট টেবলে স্পার্সদের অবস্থান সাতে। এখনই শেষ দেখছেন না স্পার্স কোচ জোসে মরিনহো। তিনি মনে করেন, লিগের সেরা চার দল কারা হবে সেটির জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।৫৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে থাকা লেস্টারের সঙ্গে আটে থাকা এভারটনের পয়েন্ট ব্যবধান ৭ । আর সাতে থাকা টটেনহামের পয়েন্ট ৫০। ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সবার ওপরে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। সিটির চেয়ে ৭ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।টেবিলের প্রথম দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধান বেশি হলেও নিচের দিকের দলগুলোর পয়েন্টের ব্যবধান কম। মরিনহোর কথা তাই উড়িয়ে দেওয়ার দেওয়ার উপায় নেই। টটেনহাম কোচ বলেছেন, 'টেবিলে আমাদের কাছাকাছি অবস্থানের দলগুলোও ভালো। দলগুলোর লক্ষ একই রকম। কিছু দল আমাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী, কিছু দল কম শক্তিশালী। গত মৌসুমের মতোই একটা কিছু হতে যাচ্ছে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌছানো যাবে না।'মরিনহোর কথায় যুক্তি থাকলেও সময়টা ভালো যাচ্ছে না স্পার্সদের। লিগে শেষ পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে হ্যারি কেনরা। একমাত্র জয় পাওয়া সেই এস্টন ভিলার বিপক্ষে কাল ড্র করেছে ২-২ গোলে। বাকি চার ম্যাচের দুটিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করলেও তিন ম্যাচেই পয়েন্ট খুঁইয়েছে মরিনহো-শিষ্যরা। লিগে এখনো পর্যন্ত ৩২ ম্যাচে ১৪ জয়ের বিপরীতে তাদের হার ১০টি।মৌসুমের আর বাকি নেই বেশি ম্যাচ। পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান বলছে শেষ চারে থাকতে হলে টটেনহামকে বাকি ম্যাচগুলোয় ভালো করতে হবে। তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যান্য দলের দিকেও। মরিনহো যে আশায় বলেছেন, সেরা চারের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, সেটি কতটা ফলে যায়, তা সময়ই বলে দেবে। | 12 |
১৪ জানুয়ারি শুক্রবার এইচ আর হাবিব পরিচালিত 'ছিটমহল' সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। সিনেমাটির কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য পরিচালকের নিজের। এতে অভিনয় করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মৌসুমি হামিদ, আরমান পারভেজ মুরাদ, শিমুল খানসহ অনেকে। নির্মাতা বলেন, করোনার কারণেই 'ছিটমহল' মুক্তিতে দেরি হলো। এতে আমরা একটা সাবলীল জীবনের গল্প বলতে চেয়েছি। সবাই আন্তরিকভাবে কাজটি করেছেন। অনেক চেষ্টা করেছি দর্শকদের একটি ভালো গল্পের সিনেমা উপহার দেবো বলে। আশাকরি কেউ নিরাশ হবেন না। তাই বলবো হলে আসুন সিনেমাটি দেখুন। ছবিসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) থেকে ৫টি প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে 'ছিটমহল'। এর মধ্যে ব্লকবাস্টার (যমুনা ফিউচার পার্ক), সুগন্ধ্যা (চট্রগ্রাম), শংখ (খুলনা), সিনে স্কোপ (নারায়ণগঞ্জ), বৈশাখী (রাজবাড়ির) কালুখালীতে দর্শক ছবিটি দেখতে পারবেন। সিনেমাটির শুটিং হয়েছে পঞ্চগড়ে ছিটমহলের মধ্যেই। এতে আরও অভিনয় করেছেন মীরাক্কেলের সজল, ডন হক, এবিএম সোহেল রশিদ, উজ্জ্বল কবির হিমু, অঞ্জলি সাথী ও পরিচালক নিজেই। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে কমন হোম এটাচার। এটি পরিবেশনা করছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। | 2 |
অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তানের টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে একটি ছক্কা হাঁকানো নিয়ে আলোচনা এসেছেন ডেভিড ওয়ার্নার। অজি ওপেনার ওয়ার্নার পাকিস্তানি স্পিনার মোহাম্মদ হাফিজের ডেলিভারিতে একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ছিলেন। যা নিয়ে ম্যাচের দু'দিন পরও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। হাফিজের হাত থেকে বলটি ফসকে যাওয়ায় তা পিচে পড়ে দু'বার বাউন্স খেয়ে আসে ওয়ার্নারের কাছে। কার্যত 'ডেড-বল'টিকে ওয়ার্নার কাজে লাগান। উইকেট ছেড়ে লেগ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে বেরিয়ে আসেন ওয়ার্নার। তার সর্বশক্তি দিয়ে ডিপ মিড-উইকেটের ওপর দিয়ে বলটিকে স্ট্যান্ডে পাঠিয়ে দেন। এই কাজের জন্য সমালোচিত হয়েছেন ওয়ার্নার। গৌতম গম্ভীরের মতো প্রাক্তন বিশ্বকাপ জয়ী প্রশ্ন তুলেছেন ক্রিকেটের স্পিরিট নিয়ে। গম্ভীর তার পোস্টে অশ্বিনকে ট্যাগ করেছিলেন। কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার তারকা স্পিনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি কোনো। ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনার হরভজন সিং তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, "বিষয়টি নিয়মের মধ্যেই। কিন্তু এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। এতে ভালো বার্তা যায় না। আমরাও অতীতে এমন সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু এরকম কাজ করিনি।" রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। পাকিস্তানের ১৭৬ রান তাড়া করতে নেমে ওয়েড-স্টোইনিস যুগলবন্দি শেষ চার ওভারে ম্যাচে পকেটে পুরে ফেলেন। আর এই ম্যাচে ওয়ার্নার অ্যারন ফিঞ্চের সাথে ওপেন করতে নেমে ৩০ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন। যদিও অনেকের মতে ওয়ার্নার জেতার জন্যই স্মার্ট ক্রিকেট খেলে ৬ আদায় করে নিয়েছেন। সূত্র : জি নিউজ | 12 |
চলমান সংকট সমাধানে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষক প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে বসেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। শনিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে এ বৈঠক শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের। শাবির শিক্ষকদের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসি কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মহিবুল আলম, ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার, ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন খায়রুল ইসলাম রুবেল। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের নেতারা বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে শাবির ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ১৩ জানুয়ারি। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ' ছাত্রী। ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ ছাত্রীদের আন্দোলনে হামলা চালায়। পরের দিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে ভিসিকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও তাদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। ওই হামলার প্রতিবাদে ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, খুলনা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। | 1 |
কালীগঞ্জে সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার মৌতলা, দুদলী, পাউখালীর রাস্তাসহ চাঁচাই, কোমরপুর ও রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাংসদ এসএম জগলুল হায়দার।এ সময় জগলুল বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নমুখী সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হলো।উদ্বোধন করা সড়ক ও ভবনগুলো হলো এলজিইডির বাস্তবায়নে ৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৬৯৫ টাকা ব্যয়ে এফডিডিআরআইআরপি প্রকল্পের আওতায় উপজেলার মৌতলা সড়ক। ৮১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ টাকা ব্যয়ে চর যমুনা খালধারের দুদলী নতুন হাট, মৌতলা বাসস্ট্যান্ড ও ভায়া-রায়পুর সড়কের নির্মাণকাজ। ৫৭ লাখ ৭১ হাজার ৭১৫ টাকা ব্যয়ে আহমদ আলী হাউস দূদলী ব্রিজ সড়ক নির্মাণকাজ।এ ছাড়া ৯৫ লাখ ২২ হাজার ৩৯৪ টাকা ব্যয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চাঁচাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫১ টাকা ব্যয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মাহমুদ হাসান লাকি কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ। ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়ল, ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাকিম, ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সহসভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আকবার কবির প্রমুখ। | 6 |
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২৯৭ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২৮ হাজার ৩৮ জনে। আর মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৮০ হাজার ৩০২ জন।আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৬৯ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩৩ জন।এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ০৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২৫৮টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ। প্রতি ১০০ জনে সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে। | 6 |
দেশের বেসরকারি খাতের কোম্পানির অর্থ সংস্থানের জন্য বন্ড বাজার অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। বন্ডের মাধ্যমে প্রাণ অ্যাগ্রো ২১০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে। প্রাণ অ্যাগ্রোর এ সাফল্য দেশের বন্ড মার্কেটের জন্য একটি বড় মাইলফলক বলে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সোমবার অনলাইনে আয়োজিত এক সভায় বিশেষজ্ঞরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চয়তা দানকারী বন্ডের মাধ্যমে প্রাণ গ্রুপের অর্থ সংগ্রহের সফলতা উদযাপনে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাণ অ্যাগ্রোর ইস্যু করা বন্ডের পুরোটাই কিনেছে বিমা খাতের বহুজাতিক কোম্পানি মেটলাইফ। সভার প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি সংগ্রহে ব্যাংকের বাইরে বিকল্প উৎস হিসেবে বন্ড মার্কেট অত্যন্ত শক্তিশালী একটি খাত। বন্ড বাজারে আন্তর্জাতিক জিম্মাদার ও অর্থ সংস্থানকারী প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে বন্ড বাজারটি আরও শক্তিশালী হবে। অন্যরাও তখন বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন বলেন, যুক্তরাজ্য সব সময় বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন প্রয়োজন। এ মার্কেট বড় হলে আমাদের বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাণ অ্যাগ্রোর বন্ড ইস্যু অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। এটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি সংগ্রহে উৎসাহ দেবে। বিডা সব সময় দেশে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সভায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, 'বন্ড বাজারকে সামনে এগিয়ে নিতে বিএসইসি কাজ করছে। আমরা আশা করছি, প্রাণের সাফল্যের পর অন্যরাও এখন প্রাণকে অনুসরণ করবে।' সভায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, 'দেশে এখনো সেভাবে বন্ড বাজার গড়ে ওঠেনি। বিএসইসি এ নিয়ে কাজ করছে। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে বন্ড বাজার বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। বেসরকারি কোম্পানিগুলো বন্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান পাবে।' অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সম্প্রতি প্রাণ অ্যাগ্রোর ২১০ কোটি টাকার অরূপান্তরযোগ্য বন্ডের লেনদেন সফলভাবে শেষ হয়েছে। এ বন্ডটি মেয়াদ শেষে সম্পূর্ণ অবসায়িত হবে। এটি আন্তর্জাতিক গ্যারান্টেড প্রথম বাংলাদেশি বন্ড। বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ কৃষির সাপ্লাই চেইন এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেডের কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে। | 0 |
মুন্সিগঞ্জে মাস্ক না পরায় ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ২১ জনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পথচারীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়।মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) দুপুরের দিকে শহরের সুপার মার্কেট চত্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো সিহাবুল আরিফ।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সরকার ঘরের বাইরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করলেও নানা অজুহাতে অনেকে মাস্ক ব্যবহার করছেন না। তাই ঘরের বাইরে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে এই অভিযান চলছে।এবিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিহাবুল আরিফ বলেছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে। | 6 |
চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে ইরানের ৫২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তা যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে তুলনা করেছেন অনেক মার্কিন রাজনীতিক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন গত শনিবার। পরদিন রবিবার ওই হুমকির পুনরাবৃত্তি করে ট্রাম্প টুইট বার্তায় বলেন, 'যদি ওরা মার্কিন নাগরিকদের হত্যা করে, নির্যাতন করে, রাস্তার ধারে বোমা মেরে মার্কিনীদের উড়িয়ে দেয়, তাহলে আমরা কেন ওদের সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারবো না?' ধারণা করা হচ্ছে, ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে ৫২ জন কূটনীতিক ও মার্কিন নাগরিককে জিম্মি করার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেই সুনির্দিষ্টভাবে ৫২টি স্থাপনায় হামলার হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই হুমকির সমালোচনা শুধু আন্তর্জাতিকভাবেই নয় হচ্ছে স্বদেশেও। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধ সম্পর্কিত জেনেভা কনভেনশন, তার ৫৩ ধারার বলা হয়েছে- 'কোনও ধরনের সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলা একেবারেই নিষিদ্ধ।' এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি এই কাজ করেন, সেটা হবে যুদ্ধাপরাধের সামিল। যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেট দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আসলে যুদ্ধাপরাধ করার হুমকি দিচ্ছেন।' সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, এইচআরডব্লিউ ওয়েবসাইট বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
গাম্বিয়া, আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে ছোট্ট দেশ। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সম্প্রতি এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতেরোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটনের দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আফ্রিকার এই ক্ষুদ্র দেশ। তাহলে কেন এত দূরের একটি সংঘাতের বিচার নিশ্চিতের জন্য আফ্রিকার এই ছোট্ট দেশটি উদ্যোগী হল? ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি গাম্বিয়ার জন্য একেবারেই নিজস্ব। গত বছর গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী আবুবাকার এম টাম্বাদু জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন পড়েন। সেই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে কীভাবে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে ও ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে প্রতিবেশী বাংলাদেশের দিকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। তদন্তকারীরা এই সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা নির্যাতন-নিপীড়নকে যুক্তরাষ্ট্র জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলেছে। অবশ্য, মিয়ানমার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছিল। সোমবার আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া। দেশটির প্রত্যাশা এর ফলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইনি চাপ তৈরি হবে। এক বছর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলিরা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন। আইসিসি অবশ্য যুদ্ধাপরাধ নিয়েই বেশি কাজ করে। তবে মিয়ানমারের ক্ষেত্রে কোনও জুরিসডিকশন নেই আইসিসি'র। কেননা, মিয়ানমার এই আদালতের সদস্যরাষ্ট্র নয়। তাই আইসিসি'র প্রচেষ্টা বেশিদূর আগাতে পারেনি। কিন্তু আইসিজে'র ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা নেই। গণহত্যা বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রবিধি মোতাবেক কোনো বিবাদের ক্ষেত্রে আইসিজে রায় দিতে পারে। এই প্রবিধিতে মিয়ানমার ও গাম্বিয়া উভয়ই স্বাক্ষর করেছে। তবে এ ধরণের আইনি তৎপরতা বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে। খরচ হয় কয়েক মিলিয়ন ডলার। গাম্বিয়ার মতো ছোট্ট দেশের ক্ষেত্রে এই বিপুল অর্থ খরচ করাটা কঠিন। দেশটির অর্থনীতির আকার মাত্র ১৪৮ কোটি ডলার। তবে গাম্বিয়ার সহায়তায় এগিয়ে এসেছে অন্যান্য দেশ। ২০ লাখ জনসংখ্যার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়াকে সহায়তা দেবে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি। এছাড়া সহায়তা দেবে মার্কিন আইনি প্রতিষ্ঠান ফোলে হোগ গাম্বিয়ার নিজেরও আছে এক সহিংস অতীত। ২০১৭ সালে পার্শ্ববর্তী ইকুয়েটোরিয়াল গায়ানায় পালিয়ে যাওয়ার আগে ২২ বছর দেশটি শাসন করেছেন ইয়াহহিয়া জাম্মে। এই একনায়কের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারও শুরু হয়েছে দেশটিতে। ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে জাম্মের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে এই হামলা শুরু হয়। সোমবার হামলার পঞ্চম দিন। রাশিয়া-ইউক্রেনের এই যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। গত চার দিনে ইউক্রেনজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে রুশ বাহিনী। কোনও কোনও স্থানে ইউক্রেনীয় বাহিনী ও সেখানকার বেসামরিক নাগরিকরাশক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে এই পদক্ষেপের উল্টো পথে হেঁটেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়ার ওপর কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপে রাজি নয় দেশটি। এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে চায় ব্রাজিল। শুধু তা-ই নয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কঠোর সমালোচনাও করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। এ সময় জেলেনস্কির অতীত জীবনের কথা তুলে ধরে তাকে কটাক্ষ করেন বলসোনারো। তিনি বলেন, "ইউক্রেনীয় জাতি তাদের ভাগ্যের বিষয়ে একজন কমিডেয়ানের ওপর বিশ্বাস করেছে।" এ সময় তিনি বলেন, "ব্রাজিলের কৃষি রাশিয়ার সারের ওপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় ইউক্রেন ইস্যুতে যেকোনও পদক্ষেপ নিতে নিয়ে ব্রাজিলের কৃষিখাত ভীষণ ক্ষতিরমুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।" ইউক্রেনের রাশিয়ার সামরিক অভিযানে সম্ভাব্য গণহত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে, জেইল বলসোনারো বলেন, "এটিকে 'গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেওয়া অতিরঞ্জন ছাড়াই আর কিছুই নয়' এবং পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক এবং ডোনেটস্কের মস্কোপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলগুলোকে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রাশিয়ার পদক্ষেপের পক্ষেই মত দেন তিনি। সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
আইস বিজনেস টাইমস: প্রথম আলোর এক দীর্ঘ ধারাবাহিক যাত্রার ইতিহাস আছে। বলাই যায়, পত্রিকাটি সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে। তৈরি করেছে সাংবাদিকতার নতুন পথ। কীভাবে আপনি এই যাত্রার যাত্রী হতে উদ্বুদ্ধ হলেন? মতিউর রহমান: যখন আপনার সঙ্গে কথা বলছি, ঠিক এই সময়টাতেই আমরা প্রথম আলোর ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তারিখ হচ্ছে এ বছরের ৪ নভেম্বর। এ এক অসাধারণ পথচলা। সাফল্য নিয়ে আমি কখনো ভাবিনি। বরং এক ভীতি সর্বদা তাড়া করে ফিরত আমাকে। যা করতে হবে, আমি তা ক্লান্তিহীনভাবে করে গেছি। বলতে দ্বিধা নেই যে, পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ছাপা হওয়ার আগেই এই চাপে আমার ওজন কমে গিয়েছিল। আমার রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল, আর অন্যান্য শারীরিক সমস্যা তো ছিলই। একটা আশঙ্কা যেন আমার ওপর চেপে বসেছিল। সব রকম সামাজিক যোগাযোগে এর ছাপ পড়েছিল। এমনকি স্বাভাবিকভাবে হাসতেও যেন ভুলে গিয়েছিলাম। এই অনিশ্চিত যাত্রা নিয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। শুধু জানতাম আমাকে চেষ্টা করে যেতে হবে। একটা ভালো পত্রিকা বের করতে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা দিতে হবে। সেই পত্রিকা হবে পক্ষপাতহীন, ধারণ করবে সত্য আর সাহসের কণ্ঠস্বর। সেই পত্রিকা যে কালে কালে প্রচার আর প্রভাবের বিচারে এমন সফল হবে, তা আমি কখনো ভাবিনি। পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে আমার জীবন শুরু হয় ১৯৭০-এর জুনে সাপ্তাহিক পত্রিকা একতার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে। এটা ছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র। পরে সেই পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি ১৯৯১-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত। আরও পেছনে তাকালে দেখবেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। সামরিক শাসনবিরোধী এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯৬২ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি। এই আন্দোলনের প্রায় সব রকমের কাজে আমি যুক্ত ছিলাম। কখনো লিফলেট লিখছি, লিফলেট বিলি করছি, পোস্টার ছাপাচ্ছি, কখনো-বা মিছিল করছি। তবে মিছিলে আমি থাকতাম একদম পেছনের দিকে। স্লোগান বা রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেওয়ার অভ্যাস আমার ছিল না। প্রায় তিন দশক সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলাম, কিন্তু কখনো কোনো মঞ্চে বক্তৃতা দিইনি। ছাত্রকাল থেকেই সব রকম খেলাধুলায় আমার আগ্রহ ছিল প্রবল। ক্রিকেট খেলতাম। আমার আগ্রহ আর সক্রিয়তা ছিল নানা বিষয়ে। পড়তে ভালোবাসতাম, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলাম আর রাজনীতি তো ছিলই। সেই সঙ্গে একটু-আধটু লিখতাম, ২১ ফেব্রুয়ারিসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন রকম প্রকাশনা বের করার কাজে যুক্ত ছিলাম প্রায় আট বছর ধরে। সংস্কৃতি সংসদ (১৯৬৮ এবং ১৯৬৯) থেকে দুটি বিশেষ পুস্তিকা বের করেছিলাম ২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে। ফলে ১৯৭০ সালে সরাসরি সাংবাদিকতায় আসার আগেই সেই জগতের নানা দিকের সঙ্গে আমার সংযুক্তি ছিল। ১৯৭০ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত আমি সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত ছিলাম। ষাটের দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা আর পরে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতার দায়িত্ব পালন করি প্রায় ২০ বছর। ১৯৯২ সালে দৈনিক ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক হই (ফেব্রুয়ারি ১৯৯২-আগস্ট ১৯৯৮) আর ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রথম আলোর প্রথম সংখ্যা বের হয়। যেমন বলেছি, এটা ছিল অনিশ্চয়তায় ঢাকা এক যাত্রা। এর ফল কী হবে আমি তার কিছুই জানতাম না। ভোরের কাগজের আগে দৈনিক পত্রিকা চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ছিল শুধু উদাহরণ দেওয়ার মতো ভালো কিছু করার আকাঙ্ক্ষা। ভোরের কাগজে ছিলাম ছয় বছর। সেই সময়ের মধ্যে একটা পত্রিকার পুরো পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, সম্পাদনার কাজ শিখে উঠতে পারিনি। সাপ্তাহিক আর দৈনিক পত্রিকা চালানোর মধ্যে অনেক ফারাক। প্রথম আলোর কাজের ব্যাপ্তি সেই তুলনায় বিশাল। প্রথম সংখ্যাই ছাপা হলো এক লাখ কপির বেশি! দিনে দিনে সেই সংখ্যা আরও বাড়ল। আজকে ছাপা সংস্করণ (৬৬ লাখ) আর অনলাইন (১০ লাখ) মিলিয়ে প্রতিদিন ৭৬ লাখ পাঠক প্রথম আলো পড়ে। এ এক বিশাল যাত্রা। পথ চলতে চলতে শেখা। সব অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও দুটি সিদ্ধান্তে আমরা অবিচল ছিলাম। আর তা হলো, এই পত্রিকাকে এক নম্বর পত্রিকা করতে হবে আর অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। যদি তা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, দল বা সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে, তাহলে কালের বিচারে এর কোনো মূল্য থাকবে না। তখন এর কোনো স্বীকৃতি বা গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। প্রতিষ্ঠাকাল হতে আমাদের মৌলিক নীতি ছিল যে, প্রথম আলোকে হতে হবে স্বাধীন, পক্ষপাতহীন আর অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।প্রায় চার বছরে আমরা ব্রেক ইভেনে পৌঁছে গেলাম। সম্ভবত বাংলাদেশে কোনো পত্রিকার জন্য এটাই এমন প্রথম দৃষ্টান্ত। এরপর থেকে আমরা একে স্বাবলম্বী রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এ ক্ষেত্রে একটা প্রসঙ্গ উল্লেখ করতেই হবে। আমাদের দেশে ছাপা প্রচারমাধ্যমের খুব সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে। ১৯৫০ আর ৬০-এর দশকে দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ অবজারভার এবং আরও কিছু সমীহ আদায় করার মতো পত্রিকা চালু ছিল। আমাদের দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে সংবাদপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রথম আলো সেই মহান ঐতিহ্যের স্বাভাবিক উত্তরাধিকার বহন করে জন্ম নিয়েছে। প্রথম আলো অনেকের সম্মিলিত অবদানের ফল। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে মিডিয়া স্টার লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানকে আমাদের মূল কোম্পানি হিসেবে পেয়েছি, যার কর্ণধার আমাদের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) লতিফুর রহমানের মতো অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। সাংবাদিকতা আর আর্থিক বিষয়গুলো পরিচালনার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আমাদের তাঁরা দিয়েছেন। সেই দূরদর্শিতা তাঁদের আছে। আমাদের সাফল্যের এটা একটা অন্তর্নিহিত বড় কারণ। আইস বিজনেস টাইমস: প্রথম আলো নিজেকে এক উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। মানুষ এখন এর উদাহরণ দেয়। কিন্তু শুরুর সময় আপনাদের সামনে কোনো উদাহরণ ছিল? আর আপনাদের প্রধান কোম্পানি কী ধরনের স্বাধীনতা দিয়েছিল, সে বিষয়ে যদি বিস্তারিত বলতেন? মতিউর রহমান: বাংলাদেশে সব সময়েই আর্থিকভাবে সফল পত্রিকা ছিল, এ কথা ভুললে চলবে না। দৈনিক ইত্তেফাক ১৯৬০ থেকে ৮০ পর্যন্ত লাভজনক ছিল। ১৯৬০ থেকে ৮০-এর দশকে বাংলাদেশ অবজারভার তাই ছিল। এখনো কয়েকটি স্বাবলম্বী পত্রিকা আছে। আমাদের কোনো বিশেষ বিজনেস মডেল ছিল না। আর সাংবাদিকতা ও প্রকাশনা বিষয়ে আমার কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণও ছিল না। ব্যবসা নিয়ে কোনো পড়ালেখা করিনি। কোনো অভিজ্ঞতাও ছিল না। এ ব্যাপারে আমার একমাত্র অভিজ্ঞতা হচ্ছে ১৯৯৫-এ একটা সেমিনারে অংশগ্রহণ। সেমিনারের বিষয় ছিল 'মাঝারি ও ছোট সংবাদপত্রের প্রচার ও বিজ্ঞাপনের আয় কী করে বাড়াতে হয়'। সাংবাদিকতার জীবনে এই ছিল আমার একমাত্র প্রশিক্ষণ। আর যা কিছু শিখেছি, তার সবই নিজ চেষ্টায় শেখা। প্রতিদিন চলতে চলতে শেখা। সংবাদপত্রকে অর্থনৈতিকভাবে সফল হতে হলে প্রচারসংখ্যা বাড়াতে হবে, এর ফলে বিজ্ঞাপনের আয়ও বাড়বে। শুধু পত্রিকা বিক্রি করে পত্রিকা চলে না। এ থেকে মোট ব্যয়ের ১/৪ ভাগ মাত্র আসে। বাকিটা আয় করতে হয় বিজ্ঞাপন থেকে। আর বিজ্ঞাপন তখনই আসবে, যখন সেই পত্রিকার প্রচারসংখ্যা থাকবে সবচেয়ে বেশি। এ জন্যই আমরা শুরু থেকেই সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা হওয়ার লক্ষ্য গ্রহণ করি। বলতে পারেন, এই ছিল আমাদের বিজনেস মডেল। আপনার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশ প্রসঙ্গে বলা যায়, আমাদের মূল কোম্পানির দূরদর্শিতা। তাঁরা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন বলে আমরা কাজ করে শিখে নিজেদের বড় করতে পেরেছি। বিজ্ঞাপনদাতা, বিতরণকারী, বিক্রেতা-এ রকম সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যত কথা বলেছি, পত্রিকার প্রাত্যহিক কাজকর্মের ব্যাপারে আমার ধারণা তত স্বচ্ছ হয়েছে। আইস বিজনেস টাইমস: আপনার এই অভিযাত্রায় কোনটিকে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা বলে বিবেচনা করেন? তাকে অতিক্রমই-বা করলেন কী করে? মতিউর রহমান: পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে সাংবাদিকতার সামনে বাধা আসে না। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। আমার মনে পড়ে, ১৯৭৫ সালে একতাকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে আবার ছাপা শুরু হয়। চালু হওয়ার পর এরশাদ সরকার আবার তা দুই বছরের জন্য বন্ধ করে দেয় ১৯৮৬ সালে। ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকার ভোরের কাগজে সরকারি বিজ্ঞাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। আমরা তখন রাজপথে নেমেছিলাম। শেষে সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ২০০০ সালে প্রথম আলো একই পরিস্থিতিতে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবার সেই অবস্থায় পড়ি আমরা। ফলে দেখতেই পাচ্ছেন যে বিগত বছরগুলোতে আমরা অনেকবার এমন অবস্থার মুখে পড়েছি। এমনকি এখনো আমার সহকর্মী আর আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা চলছে। এ জন্য আমাদের কোর্টে হাজিরা দিতে হয়। প্রায়ই আমাদের একরকম ভয় আর অনিশ্চয়তায় মধ্য দিয়ে চলতে হয়। এর মধ্যে বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে বলা হয় যেন আমাদের বিজ্ঞাপন না দেয়। এ রকম সব চ্যালেঞ্জ আমাদের নিয়মিত সামলাতে হয়। তবে এসব আমাদের কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নিতে হয়। এত সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আমাদের যা করা উচিত বলে ঠিক করেছি, তা করে যেতেই হবে। আর তা করতে হবে সবচেয়ে ভালোভাবে। আরও কিছু বড় সমস্যা রয়েছে। যেমন সংবাদমাধ্যমের জন্য সাংবাদিকসহ উপযুক্ত কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দিন শেষে বাংলাদেশে ছাপা বা গণমাধ্যম-যা-ই বলুন, মিডিয়া তেমন সফল নয়; যেমনটা ধরা যাক ভারতে। এসব সমস্যা একেবারে সমাধান করা যায়নি। আমি নিজে সাংবাদিক, সংবাদদাতা আর সাধারণ পাঠকদের কাছে যাই। শুনতে চাই তাঁরা কী বলেন। ছাত্র বয়স থেকেই একভাবে দৈনিক সংবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সংবাদ আর অন্যান্য সাপ্তাহিকে নিয়মিত কলাম, প্রতিবেদন লিখেছি। সেই তুলনায় আমার কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল না। আমার একমাত্র সম্বল ছিল দুই দিনের একটি সেমিনার, যা আগেই বলেছি। ২০১০ সালের পর আমরা ভারতে বেশ কয়েকটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করি। বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ভারতীয় সাংবাদিক আর সংবাদপত্র পেশাজীবীদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি। এসব অভিজ্ঞতা আর নিজেদের মধ্যে অনেক আলাপ-আলোচনা থেকে প্রথম আলোর ব্যবসায়িক নীতি গড়ে ওঠে। আমরা একটা সহজ দর্শন গ্রহণ করেছি। আর তা হলো, বৈচিত্র্য একটা সংবাদপত্রকে টেকসইভাবে টিকে থাকতে সহায়তা করতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম টেকসই হওয়া এমন আরও একটা উদাহরণ। বোধ হয় ডিজিটাল হওয়াই এগিয়ে যাওয়ার পথ। প্রিন্ট মিডিয়াকে নতুন সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আর ক্রমবর্ধমান অনলাইন উপস্থিতি হয়তো এর সমাধান হতে পারে। আমরা এই পরিপ্রেক্ষিতে বোধ হয় আমাদের কিছু প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছি। আমাদের মূল কোম্পানি মিডিয়া স্টার লিমিটেড আরও দুটি মাসিক পত্রিকা বের করে। কিশোর-তরুণদের জন্য কিশোর আলো আর তরুণ বিজ্ঞানমনস্কদের জন্য বিজ্ঞানচিন্তা। এর সঙ্গে ত্রৈমাসিক জার্নাল প্রতিচিন্তা ছাপা হয়। আরেকটা উদ্যোগ হলো প্রথমা প্রকাশন। প্রথমা ইতিমধ্যে ৫০০-এর অধিক বই প্রকাশ করেছে। আমরা সমমনা জাতীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বড় বড় অনুষ্ঠানও আয়োজন করে থাকি। এসব কিছুর লক্ষ্যই থাকে কিশোর ও তরুণ, ছাত্র এবং পেশাজীবীরা। বাংলাদেশে . সবচেয়ে বেশি ভিজিট হওয়া অনলাইন পোর্টাল। এটা বিশ্বের এক নম্বর বাংলা ওয়েবসাইট। এ ছাড়া আমাদের ইংরেজি পাঠকদের জন্য আছে .. নামে ইংরেজি পোর্টাল। ফেসবুকে আমাদের ফলোয়ার ১ কোটি ৪৪ লাখ, টুইটারে ১৪ লাখ আর ইউটিউবে ১৩ লাখ। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লক্ষণীয় উপস্থিতি আছে। এসবই ওয়েবে আমাদের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এই ওয়েব উপস্থিতিকে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের সব সময় বিকল্প আর নতুন পথের অনুসন্ধান জারি রাখতে হবে। আইস বিজনেস টাইমস: আপনি একটা চমৎকার বিষয় উত্থাপন করেছেন। আপনি কি সত্যিই মনে করেন যে প্রিন্ট মিডিয়া মুমূর্ষু অবস্থায় আছে? যদি তা-ই হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ কী বলে আপনার মনে হয়? মতিউর রহমান: ছাপা পত্রিকা মরে যাচ্ছে-এমন অভিধার পক্ষে আমি নই। আমি আগেও বলেছি যে সংবাদপত্রশিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। আমরাসহ সারা বিশ্বের প্রকাশক, সম্পাদক আর সাংবাদিকেরা নতুন নতুন কনটেন্ট সংযুক্ত করে একে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আরও বেশি মানুষের কাছে যাতে এর চাহিদা বাড়ে, তার জন্য কনটেন্ট, প্রতিবেদন, ফিচার, কলাম আর লেখার ধরনের মান বাড়াতে হচ্ছে। সমকালীনতাকে ধারণ করে পাঠকদের আমাদের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। পাঠককে শুধু সংবাদ দিলে আর চলবে না। সেই সঙ্গে অবশ্যই মতামত আর বিশ্লেষণ দিতে হবে। পাঠকের সংখ্যা যাতে না কমে, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু বাস্তবে দুনিয়াজুড়েই প্রিন্ট মিডিয়ায় একটা ভাটার টান শুরু হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বাবলম্বী থেকে প্রিন্ট মিডিয়াকে প্রাসঙ্গিক রাখতে আমরা বহু প্রতিকূলতার মোকাবিলা করছি। সবশেষে বলব, প্রিন্ট মিডিয়া প্রাসঙ্গিক থাকবে, কারণ 'ছাপাই প্রমাণ'। সেই সঙ্গে একটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উত্থান আর অস্বীকার করা যাচ্ছে না। এটা এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করছে। বাংলাদেশে ৭০ শতাংশ সংবাদ মোবাইল ফোনে পাঠ করা হয়। এটাই এখন দ্রুততম মাধ্যম। মানুষ তাই একেই বেছে নিচ্ছে। ফলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতার দিকে সজাগ নজর রাখতে হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রিন্ট আর ডিজিটালের সমন্বয়ের মধ্যেই সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ নিহিত। সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা আছে, তবে সাংবাদিকতার ইতিবাচক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ছাপা, অনলাইন বা অন্য যে মাধ্যমই হোক, সংবাদ আর সাংবাদিকতা থাকবেই। এ জন্যই আমাদের সাংবাদিকতায় বিনিয়োগ করতে হবে।আইস বিজনেস টাইমস: কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু নামে নতুন একটি শব্দ আজকাল বাতাসে ভাসছে। এই কনটেন্ট ব্যাপারটাকে আপনি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন? ভালো কনটেন্টের বৈশিষ্ট্য কী?মতিউর রহমান: আজকাল সাংবাদিকতার প্রতিটি অংশ-সে সংবাদ, কলাম, সাক্ষাৎকার, বিশ্লেষণ-যা-ই হোক না কেন, তা মূলত কনটেন্ট। স্মার্টফোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পাঠকের হাতে হাতে কনটেন্ট পৌঁছে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। আর আপনি একে কনটেন্ট বলুন বা সংবাদ বলুন, এর বৈচিত্র্য অনেক। ছাপা হোক আর সম্প্রচার হোক, একে যথাযথভাবে সম্পাদনা করতে হবে। এই পরিবর্তনশীল কনটেন্টের উপস্থাপনের বৈচিত্র্যের বিবেচনায় আজকের সাংবাদিকের দক্ষতা আর সক্ষমতাও অনেক বেশি হওয়া চাই। প্রাথমিক সংবাদ কনটেন্ট তৈরি হতে হবে মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য। এরপর তা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের জন্য তৈরি ও সম্পাদনা করা হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফিচার প্রায়ই ভিডিও কনটেন্ট হয়ে যায়। সেই বিশেষ সংবাদের চূড়ান্ত সংস্করণ অনেক চিন্তাভাবনা করে পরদিনের সংবাদপত্রে ছাপানোর জন্য তৈরি করতে হবে। তাই, একটি সংবাদই বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে তৈরি করতে হয়। এক হিসেবে কিছু ব্যাপার অনেক জটিল হয়ে গেছে। আবার আরেক হিসেবে প্রযুক্তি অনেক কিছু খুব সহজ করে দিয়েছে। আইস বিজনেস টাইমস: সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমে অনলাইনে সংবাদ পড়ার জন্য অর্থ নিচ্ছে। একজন সাংবাদিক ও পাঠক হিসেবে আপনি এই পরিবর্তনকে কীভাবে দেখছেন? মতিউর রহমান: ভালো কনটেন্টের জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে। এটা সোজা ব্যাপার। ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে হলে অনেক কিছু লাগে। অনেক দেশের মতোই বাংলাদেশে অধিকাংশ কনটেন্ট বিনা পয়সায় পড়া যায়। অধিকাংশ সংবাদ প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে সংবাদপত্র অর্থের বিনিময়ে সংবাদ, যাকে পে-ওয়াল মাধ্যমে বলা হয় সেই মডেলের দিকে যাচ্ছে। যদিও কিছু কনটেন্ট এখনো আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রয়োজনে ফ্রি দেওয়া হয়, কিন্তু পাঠককে অর্থ ব্যয় করতে হবে। দুনিয়াজোড়া বিখ্যাত নিউইয়র্ক টাইমসের মতো সংবাদপত্র এর অর্থনৈতিক মন্দার সময় সামলে উঠে অর্থের বিনিময়ে ডিজিটাল সংবাদ প্রদানের মডেল চালু করেছে। এই মডেলেই এখন তাদের সিংহভাগ আয় হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাও একই কাজ করেছে। উভয় পত্রিকাই শুধু কনটেন্টে বৈচিত্র্য এনেই থামেনি, সেই সঙ্গে ব্যবসার মডেলে বৈচিত্র্য এনে ব্যবসার নতুন পথ উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশের সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর এমন কোনো পথ বেছে নিতে হবে। আমাদের অডিও-ভিডিও ফরম্যাটে নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। পাঠকদের কতটা ব্যয় করতে হবে, তা প্রধানত নির্ভর করবে কনটেন্ট তৈরির ব্যয়ের ওপর। প্রথম আলোর ই-পেপার আগে ফ্রি ছিল। কিন্তু খরচ দিন দিন বাড়ছে। ফলে আমরা বাধ্য হলাম ই-পেপারকে পে-ওয়ালের আওতায় নিতে। এটা থেকে খুব আয় হচ্ছে এমন নয়। কিন্তু ভাবনাটা হচ্ছে, কনটেন্টের জন্য ব্যয় করার ধারণার সঙ্গে পাঠককে পরিচয় করানো। আমরা অনলাইনে প্রথমা.কম-এর মাধ্যমে বই বিক্রিও শুরু করেছি। আইস বিজনেস টাইমস: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে ভুয়া খবর একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে এত ক্ষতি করছে, এ থেকে বাঁচার উপায় কী? মতিউর রহমান: এই কাজ খুব কঠিন হবে। পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আমি সন্দিহান। দুনিয়ার যেকোনো জায়গা থেকে যে কেউ সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা ইচ্ছে ছড়িয়ে দিতে পারে। কোনো কিছু ছড়িয়ে দেওয়া এখন যে কারও হাতের মুঠোয়। যে কেউ নিজের মতো, ভাবনা বা ছবি ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই আমার সন্দেহ হয় যে ভুয়া খবর বা গুজব ছড়ানো পুরোপুরি থামানো যাবে কি না। এ প্রেক্ষাপটে আমরা সাংবাদিকেরা কীভাবে কোনো সংবাদকে দেখি, এর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমাদের নিজ দায়িত্ব আরও সুচিন্তিতভাবে পালন করতে হবে। চারটি ভারতীয় সংবাদপত্রের প্রচারণায় আমরা খুব উৎসাহিত হয়েছি। তারা একটি স্লোগান প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, 'ছাপাই প্রমাণ' ' '। এটা সত্য হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে সত্যগুলো উঁকি দিচ্ছে, সেগুলো অবজ্ঞা করার কোনো উপায় নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবকিছু অসত্য-এমন ভাবাটা ভুল। প্রথম আলোতে আমরা সব সময় নৈতিক সাংবাদিকতা করি। কী ছাপা হবে, সে ব্যাপারে প্রথম আলো খুবই সতর্ক। কোনো ভুল তথ্য যেন ছাপা না হয়, সেই ব্যাপারে আমরা খুব সাবধান থাকি। আমরা বিশ্বাস করি, যদি আমরা পেশাদার সংবাদকর্মীরা যাচাই না করে প্রকাশিত সংবাদের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সজাগ থাকি, তাহলে সমাজে ও দেশে এর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পারব। আইস বিজনেস টাইমস: সারা জীবনে আপনি অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্বের সাহচর্যে এসেছেন। এঁদের মধ্যে আপনার মনে পড়লে ভালো লাগে, এমন কারও কথা বলুন। মতিউর রহমান: ষাটের দশক, আমি তখন ছাত্ররাজনীতি আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সেই সময় এবং পরে দেশের বিদেশের বহু বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে দেখা হয়েছে আমার। অনেক প্রবন্ধ, বিশ্লেষণ আর মতামত লিখেছি। তবে সাক্ষাৎকার নিতে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে কথোপকথনের সুযোগ হয়েছে। প্রণব মুখার্জির সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তিনি তখন ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আই কে গুজরাল ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, ব্র্যাকের স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ক্রিকেট খেলোয়াড় পতৌদির নবাব মনসুর আলী খান পতৌদি, মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গীর, অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, অভিনেত্রী ও পরিচালক নন্দিতা দাস, গায়িকা রুনা লায়লা-এমন অনেকের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এ রকম করে বহু বিখ্যাত মানুষের সাক্ষাৎ পাওয়ার সুযোগ হয়েছে। তবে একটি ঘটনা আমার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নিশ্চয়ই আপনাদের শহীদ নূর হোসেনের কথা মনে আছে? তিনি ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বিক্ষোভের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন। সচিবালয়ের কাছে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর বুকে ছিল "স্বৈরাচার নিপাত যাক" আর পিঠে লেখা ছিল "গণতন্ত্র মুক্তি পাক"। ডিসেম্বরের শেষের দিকে আমি বংশালের আমার একতা পত্রিকার অফিস থেকে সংসদ ভবন এলাকায় মণিপুরিপাড়ায় যাই শিল্পী কামরুল হাসানের সঙ্গে দেখা করতে। ওনাকে কিছু বই আর উপহার পৌঁছে দিতে। তিনি তখন ওই এলাকায় থাকতেন। একটি অটোরিকশা নিয়ে রওনা হই। সেটা নিয়েই ফিরি। কারওয়ান বাজার এলাকা পার হওয়ার সময় অটোরিকশার চালক জানতে চাইলেন, 'স্যার, আপনি কি সাংবাদিক?' আমি বললাম, কী করে বুঝলেন? উত্তরে তিনি বললেন, আন্দাজ করলাম। আরেকটু কথা বলতেই জানতে পারলাম তিনি শহীদ নূর হোসেনের বাবা। আমি একটি প্রচণ্ড ধাক্কা খেলাম যেন! মাত্র কিছুদিন আগে নূর হোসেন নিহত হয়েছেন। সবাই তাঁর কথা জানে। সে ছিল এক অনন্যসাধারণ সাক্ষাৎ! তিনি যখন লারমিনি স্ট্রিটে আমার বাড়িতে আমাকে নামিয়ে দিতে গেলেন, আমি তাঁকে চা-নাশতা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালাম। চা খেতে খেতে কথা হলো। সে ছিল এক সুন্দর সম্পর্কের সূত্রপাত। তিনি যত দিন বেঁচে ছিলেন, আমাদের ভালো যোগাযোগ ছিল। আমরা পারিবারিক বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ হতো দুজনেরই বাসায় এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও। এখনো সেই পরিবারের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। যেকোনো উপায়েই আমি এই পরিবারের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করি। এই সাক্ষাৎ আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়ে গিয়েছিল। আমি তাঁর বিষয়ে লিখেছি। সেই আকস্মিক সাক্ষাৎ, কিছু কথাবার্তা, সেই আবেগ আমার জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছে। পরবর্তী সময়ে কবি শামসুর রাহমান ও আমি নূর হোসেনের জীবন নিয়ে যৌথভাবে একটি বই প্রকাশ করি। শহীদ নূর হোসেন বইতে কবির লেখা তিনটি কবিতা আর আমার পাঁচটি লেখা ছিল। আইস বিজনেস টাইমস: এবার একটু ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা যাক। দিনের প্রথম তিরিশ মিনিট আপনি কীভাবে কাটান? এত ব্যস্ততার মধ্যে দিনের এত কাজ কীভাবে সামলান? মতিউর রহমান: আমার জীবন আবর্তিত হয় প্রথম আলোকে ঘিরে। ঘরে, পথে, অফিসে বা অফিসের বাইরে যেখানেই থাকি না কেন, আসলে আমি সব সময় প্রথম আলোকে নিয়েই থাকি। প্রথম আলো একটি বড় প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন আমরা ২০-২৪ পৃষ্ঠার মূল সংবাদপত্র ছাড়াও ৮-১৬ পৃষ্ঠার ক্রোড়পত্র ছাপি। ক্রোড়পত্রগুলো বিভিন্ন বিষয়ের ফিচার আর্টিকেল থাকে। এসব সংবাদ ও ফিচার তৈরির পেছনে অনেক প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। এগুলো পরিকল্পনা আর সম্পাদনা করতে হয়, পড়তে হয়। আপনি ৩০ মিনিটের কথা বলছেন, কিন্তু আমি যদি সকালের চায়ে চুমুক দিতে দিতে শুধু এসবই পড়তে যাই, তাহলে ভাবুন কতটা সময় যায়! ৬০ মিনিট চলে যায় তো নিমেষে। তো এভাবেই আমার দিন শুরু হয়। অধিকাংশ সময় কিছু লেখা দেখার কাজ আমি বাড়ি নিয়ে আসি। সব মিলিয়ে সকালে আমার সারা দিনের প্রস্তুতি নিতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। সময়টা নির্ভর করে সারা দিনে আমার কেমন কাজ আছে তার ওপর। সকালবেলাতেই সারা দিনের কাজের গতি ঠিক করতে হয়। তবে এত সবের মধ্যেও আমি কিছু খবর বা বই পড়া, কিছুটা গান শোনার সময় করে নিই। মনের খোরাক জোগানোও তো জরুরি। আইস বিজনেস টাইমস: সাংবাদিক আর পাঠকদের প্রতি আপনার কোনো বার্তা আছে? মতিউর রহমান: একজন সংবাদপত্র পেশাজীবী হিসেবে, আমি শয়নে-স্বপনে-জাগরণে সংবাদ আর সংবাদপত্রের মধ্যে বাস করি। তবে একজন ব্যক্তি হিসেবে আমি এই জগতের বাইরেও অনেক কিছু আমার পছন্দ বা শখ আছে। বইপত্র পড়ার পাশাপাশি আমি গান ভালোবাসি, চিত্রকর্ম ভালোবাসি এবং সিনেমা দেখতে ভালোবাসি। এগুলো আমাকে উদ্দীপ্ত করে, এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। সবারই নিজের পছন্দমতো কিছু বেছে নেওয়ার অধিকার আছে। তবে আমার পক্ষ থেকে অনুরোধ আছে, এই সবকিছুর মধ্যে আমাদের প্রত্যেকের আরও ভালো এক বাংলাদেশ, এক যথার্থ গণতান্ত্রিক আর আইনের শাসনে চলা দেশ গঠনের আশা রাখা উচিত, এর জন্য কাজ করা উচিত। আমার পাঠক ও বন্ধুদের কাছে অনুরোধ, এটা আমাদের দেশ আর তাই একে উন্নত, মানবিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমাদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। আমার অনুরোধ, দেশের ভালোর জন্য আমরা যেন নিজেদের সবটুকু দিতে পারি। শুধু ক্রিকেটে নয়, সব ক্ষেত্রেই যেন বাংলাদেশ বিজয়ী হতে পারে। আইস বিজনেস টাইমস: আপনার পাওয়া শ্রেষ্ঠ উপদেশ কী? মতিউর রহমান: প্রত্যেকের জীবনেই মা খুব বড় ভূমিকা রাখেন। বাবা ভূমিকা রাখলেও কোনো কারণে মায়ের কথাই প্রথমে এসে যায়। মায়ের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তবে যদি এমন কারও কথা জিজ্ঞাসা করা হয় যাকে আমি খুব উঁচু মাপের মানুষ মনে করি, যার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজের আদর্শ নৈতিকতা গড়ে তোলা যায়, তাহলে আমার আদর্শ হচ্ছেন রণেশ দাশগুপ্ত। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক, সাংবাদিক এবং খুব বড়মাপের বুদ্ধিজীবী। মতাদর্শ ছিল বামপন্থা। তাঁর কাছ থেকে বহু কিছু শিখেছি, তাঁর কথা আমি প্রতিদিনই ভাবি। রণেশ দাশগুপ্তের একটা শিক্ষা আমি সব সময় মনে রাখি, মেনে চলি-বিনয়ী হও, নম্র হও আর মানুষের কথা শোনো। এ কথা বলে ফিরে আসতে চাই এই মহৎ মানুষটার আদর্শের কাছে-নম্র হও, মানুষকে সহায়তা করো আর বিনীত হও। | 8 |
দৈনিক প্রতিদিন সংবাদের রংপুর প্রতিনিধি আব্দুর রহমানের রাসেলের উপর হামলা চালিয়েছে পীরগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালমান ইকবাল সানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে দশটায় রংপুরের পীরগাছার পাওটানা এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎধীন আহত সাংবাদিক আব্দুর রহমান রাসেল জানান, শুত্রুবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে গ্রামের বাড়ী পীরগাছার পাওটানাহাট থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। পাওটানা বাজারের ঢাকা কোচ কাউন্টারে পৌঁছামাত্রই পীরগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালমান ইকবাল সান ও সদস্য উদয়ের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ১০/১২ জন নেতাকর্মী আমার মোটরসাইকেলের পথরোধ করে আমাকে সান ও উদয়ের মোটরসাইকেলের মাঝে বসিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। রাসেল বলেন, কামারপাড়া ব্রীজের কাছে এনে আমার ওপর চাকু মারে। এসময় আমি চিৎকার দিয়ে লাফ দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এসময় তারা আমার কাছে থাকা ল্যাপটপ, টাকা পয়সা, ড্রাইভিং লাইসেন্স বাসার চাবি ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার চেইন দিয়ে মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আমার গলায় ছুরি চালানোর জন্য উদ্যত হয়। জীবন বাঁচাতে আমি দৌড় দিয়ে পাশের এক শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে উঠি। এরপর তারা খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে চলে যায়। পরে বিষয়টি আমি ওসিকে জানালে স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে এসআই নুর আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে আমাকে তাদের গাড়িতে করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। আমি এখন হাসপাতালের ৬ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছি। সাংবাদিক রাসেল আরো জানান, তারা আমাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে বলে তুই বহু বেড়েছিস। তোকে আজ মেরে ফেলবো। আমি তাদেরকে কেন মারবেন জানতে চাইলে তারা বলে তোর সেটা শুনে লাভ নেই। তুই মরণের জন্য তৈরি হ। সাংবাদিক রাসেল জানান, ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। আমি বিভিন্ন সময় এসব বিষয় নিয়ে রিপোর্টিং করেছি। এছাড়াও মাদকের বিষয়গুলো নিয়ে আমি এলাকাবাসির অনুরোধে পুলিশকেও অবহিত করেছি। একারণে তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। হত্যার উদ্দেশ্যে তারা আমার উপর হামলা চালায়। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরেস চন্দ্র জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমি দ্রুতগতিতে সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসাপাতালে পাঠিয়েছি। এখনও কোন মামলা হয় নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিষ্টৈ এসোসিয়েশন, রংপুর, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। | 6 |
বর্তমানে দেশে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরা ইয়াবা ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি বলেন, 'যেভাবে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা হয়েছে, সেভাবে সম্পূর্ণরূপে মাদক নির্মূল করা হবে; সেদিন বেশি দূরে নেই। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অধিকাংশ ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। তবে এখন ইয়াবার বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে রোহিঙ্গারা। মানবিক দিক বিবেচনায় সরকার তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে। আর তারাই এখন মাদক ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে।' শনিবার বিকাল ৩টায় টেকনাফ বাসস্টেশনে জেলা পুলিশের আয়োজনে ইউএনডিপির সহযোগিতায় 'সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সমাবেশে' প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। এসপি মাসুদ হোসেন বলেন, 'সরকারপ্রধানের নির্দেশে জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন ও ইভটিজিংসহ সব ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে পুলিশ। আমরা দুর্নীতি এবং দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করি। পুলিশের কোনও সদস্য যদি মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ রেহাই পাবে না। জেলা কারাগারে চার হাজার ৩শ' বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ২শ' মাদক মামলার আসামি।' তিনি বলেন, 'যেহেতু পুলিশের সংখ্যা কম, সমাজে পুলিশের ভূমিকায় কাজ করা এবং পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করাই হলো কমিউনিটি পুলিশের কাজ। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের গায়ে হাত তুললে, উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।' সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- ইউএনডিপির কনসালটেন্ট ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু বক্কর, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি নুরুল হুদা প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন পৌর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন প্রমুখ। | 6 |
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে চেয়েছিলেন মোহামেদ সালাহ। তার সেই আশা পূরণ হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সফলতম দলটি। এবার ফাইনালের জন্য রিয়ালকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন লিভারপুলের ফরোয়ার্ড। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে রোমাঞ্চ-উত্তেজনার চূড়ান্ত সীমা ছুঁয়ে বুধবার ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে হারায় রিয়াল। ফাইনালে উঠে যায় তারা দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের অগ্রগামিতায়। ভিয়ারিয়ালকে হারিয়ে আগেই ফাইনালের মঞ্চে উঠে গেছে লিভারপুল। পরের মৌসুমেই টটেনহ্যাম হটস্পারকে হারিয়ে শিরোপার স্বাদ পায় লিভারপুল। কিন্তু রিয়ালের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ তো ভিন্ন। গত মঙ্গলবার নিজেদের সেমি-ফাইনাল শেষেই প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিয়ে সালাহ বলেছিলেন, ফাইনালে তিনি প্রতিপক্ষ হিসেবে রিয়ালকে চান। তিনি জানান, আমি রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে খেলতে চাই। (ম্যানচেস্টার সিটি খুবই শক্ত দল, এই মৌসুমে ওদের বিপক্ষে কয়েকবার খেলেছি আমরা। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করলে, আমি মাদ্রিদকেই বেছে নেব ফাইনালের প্রতিপক্ষ হিসেবে। তাদের বিপক্ষে আমরা ফাইনাল হেরেছিলাম। এবার তাই রিয়ালের বিপক্ষে খেলতে চাই। আশা করি, সেটি হলে তাদের হারিয়ে শিরোপা জিতব।" সালাহর সেই আশা পূরণ হয়েছে বুধবার। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ফরোয়ার্ড ছোট্ট করে জানান নিজের তাড়নার কথা। তিনি লেখেন- কিছু হিসাব চুকানোর বাকি আছে আমাদের। সালাহর ইঙ্গিত কোনদিকে, সেটি বুঝতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়! অপেক্ষা এবার সেই মহারণের, যেটি হবে আগামী ২৮ মে, প্যারিসে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 12 |
ঢাকাই ছবির ব্যস্ত নায়ক নিরবের সঙ্গে এবার জুটি হলেন কলকাতার নায়িকা মিমি চক্রবর্তী। এর মাধ্যমে ঢাকার ছবির কোনো নায়কের বিপরীতে প্রথমবার কাজ করলেন কলকাতার জনপ্রিয় এই নায়িকা। তবে সিনেমার জন্য জুটি হোননি তারা। হয়েছেন একটি মিউজিক ভিডিওর জন্য। তবে মিউজিক ভিডিও হলেও গানটিতে দূর্দান্ত সিনেমাটিক ফিল পাবেন বলেই সমকালকে জানালেন নিরব। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন কলকাতার খ্যাতনামা নির্মাতা ও নৃত্যশিল্পী বাবা যাদব। নিরব জানান, কাজটির করার প্রথম কারণ তাপস ভাই। উনি যখন গানটি শোনালেন প্রথমে মনে হয়েছে আউটস্ট্যান্ডিং কাজ। দ্বিতীয়ত মিমি চক্রবর্তী থাকছেন। 'তুই আর আমি চল করি পাগলামি'এমন কথার গানটি গানটি গেয়েছেন আরিফিন রুমি। এর কথা লিখেছেন কৌশিক হোসেন তাপস। সুর ও সংগীতায়োজন তারই। রোমান্টিকভাবে সাজানো এ গানের কস্টিউম ও স্টাইলিশ ডিজাইন করেন ফারজানা মুন্নী। মিমির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নিরব বলেন, মিমি ক্যামেরার পিছনে এক, অথচ ক্যামেরার সামনে পুরোপুরি পেশাদার একজন শিল্পী। তার সাথে যখন অনস্ক্রিনে শুটিং করছিলাম মনে হচ্ছিল যেন তাকে টিভি দেখছি। কাজটি খুবই দুর্দান্ত হয়েছে। আমাদের আয়োজনে কোনো কমতি ছিল না। মিউজিক ভিডিওটি শিগিগরই টিএম রেকর্ডসের ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশ করা হবে। | 2 |
করোনা টেস্ট ফি বাতিলসহ বাস ভাড়া, পানি, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, সরকারকে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অবিলম্বে করোনা পরীক্ষার ফি বাতিল করতে হবে। একইসঙ্গে পানির দাম, গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম, বাস ভাড়া কমাতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এবং বাস ভাড়া ও ওয়াসার পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে নাগরিক ঐক্য। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, 'অবিলম্বে করোনা পরীক্ষার ফি বাতিল করতে হবে। জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে বাঁচতে পারবেন কিন্তু জনগণ থেকে কিভাবে বাঁচবেন। অনেক টাকা লুটপাট করেছেন। চিকিৎসকদের থাকা খাওয়াসহ ল্যাপটপ কেনার নামে। সব অন্যায়ের বিচার করা হবে। একজনও মাফ পাবেন না। করোনা পরীক্ষার ফি বাতিল করেন। তা যদি না হয় তাহলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ সব চিকিৎসক ও অন্য পেশাজীবীদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেবো।' আইসিটি অ্যাক্টের সমালোচনা করে মান্না বলেন, 'মানুষের মুখ বন্ধ করার জন্য আপনারা আইন বানিয়েছেন। বাক স্বাধীনতা হরণ করতে চাইছেন। কিন্তু এই দেশের মানুষ আইয়ুবের শোষণ মানে নাই, দেশের বড় বড় স্বৈরাচার, একনায়কতন্ত্রী সরকার মানে নাই। মানুষ ক্ষোভে ফুসছে। যেকোন সময় বিষ্ফোরণ হবে।' তিনি বলেন, 'পাটকল শ্রমিকদের সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে সরকারের নাটক দেখলাম। যিনি নিজে পাটকল বন্ধ করলেন, তিনি নাকি আবার চোখের পানি ফেলছেন। কেউ দেখেছে সেই পানি ফেলতে? এইসব নাটক সিনেমা বাদ দেন।' মান্না বলেন, 'আমাদের প্রথম দাবি দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা, কোনো মানুষ চাইলে করোনা পরীক্ষা করতে পারবে না, তাহলে এমন সরকারের দরকার নাই। যে সরকার গরিব অসহায়দের খাবার দিতে পারে না সেই সরকার ফকির সরকার। যে সরকার করোনা পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা চায়। তাহলে এইরকম গরিব, ফকির বেইমান সরকার বাংলাদেশ দরকার নাই।' সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন এবং অন্যান্য সকল বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়ে মান্না বলেন, 'অচিরেই আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিব। তার আগেই ভাল হয়ে যান। এখন আপনার অনেক পাইক পেয়াদা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। সেদিন এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ পাবেন না।' মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন- জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তাক আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন- নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শহীদুল্লাহ্ কায়সার, জিন্নুর চৌধুরী দিপু, সাকিব আনোয়ার প্রমুখ। | 9 |
মানুষ নয়, উত্তর আমেরিকার একটি শহরের মেয়রের পদে বসেছে শিং ওয়ালা একটা ছাগল। যদিও বয়স তার খুব একটা বেশি নয়, মাত্র তিন বছর। শহর ফেয়ার হেভেনের নাগরিকদের দেখাশোনার জন্য লিঙ্কন নামের ছাগলটিকে মেয়র নির্বাচিত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ফেয়ার হেভেনে মেয়র নির্বাচনের গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই পদের জন্য প্রার্থী ছিল মোট ১৬ পোষ্য প্রাণী, যাদের কেউই মানুষ নয়। আগামী এক বছরের জন্য এই ছাগলের উপরই নির্ভর করবে শহরের উন্নয়নের দায়িত্ব। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নব নির্বাচিত এই মেয়রের নাম রাখা হয়েছে লিঙ্কন। শহরে বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার লোকের বসবাস। তবে এতোদিন কোনও মেয়র ছিল না এই শহরের। একজন টাউন ম্যানেজার হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন যিনি এতোদিন ধরে শহরের দেখাশুনা করতেন। শহরটির কোনো অফিসিয়াল মেয়র নেই। মিশিগানের একটি ঘটনা পত্রিকায় পড়ে পশুদের নিয়ে নির্বাচনের উদ্যোগ নেন নগর ব্যবস্থাপক জোসেফ গুন্টার। এরপরই তিনি এ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 5 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.