text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর নিকট অবিলম্বে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ঘরে বসে শিক্ষার্থীরা মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে বেশির ভাগই লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। বাল্যবিবাহের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
সীমান্তে সেনা হত্যার পর চীনের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক চলছে ভারতের। সীমান্তে উত্তেজনা নতুন নয়। কিন্তু এক দিনে ২০ সেনা হত্যার ঘটনা চীন-ভারত সীমান্তে ঘটেনি গত ৪৫ বছরে। এ নিয়ে চীন ও ভারত রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় অস্ত্র প্রয়োগে না গেলেও বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা চলছে বরাবরের মতো। তার প্রভাব যেন বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পড়লো। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া পণ্যে চীনের শুল্ক না নেয়ার বিষয়টি যেন একটু অন্যভাবে নিয়েই দেখছে ভারত। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, লাদাখে ঝামেলা হওয়ার পর বাংলাদেশকে কাছে টানতে হয়তো চীন নানা বাহানা করছে। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত তেমনই এক প্রতিবেদন হুবহু তুলে ধরা হলো- বাণিজ্যিক লগ্নি আর খয়রাতির টাকা ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা নতুন নয় চিনের। লাদাখে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত-সংঘর্ষে উত্তাপ ছড়ানোর পরে ফের নতুন উদ্যমে সে কাজে নেমেছে বেজিং। শুক্রবার বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা ঘোষণা করেছে তারা। তাতে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া অতিরিক্ত ৫১৬১টি পণ্যে শুল্ক না-নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে চিনে রফতানি হওয়া পণ্যের ৯৭ শতাংশকেই শুল্কমুক্তির সুবিধা দিল বেজিং। জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে নতুন সিদ্ধান্তটি কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশ একমাত্র প্রতিবেশী দেশ, নানা টানাপড়েন সত্ত্বেও যাদের সঙ্গে ভারতের একটা পরীক্ষিত সুসম্পর্ক রয়েছে। দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা-মলদ্বীপ থেকে উত্তরে নেপাল-ভুটান, কারও সঙ্গেই আর আগের উষ্ণ সম্পর্ক নেই ভারতের। কূটনীতিকরা বলছেন, এই পরিস্থিতির পিছনে চিনের হাত স্পষ্ট। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বিষিয়ে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতকে একঘরে করে ফেলার কৌশল বাস্তবািয়ত করছে বেজিং। কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ তাদের নিশানা। এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন তারা লগ্নি করেছে, দেশের গ্রামীণ বাজারগুলিতেও পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হচ্ছে চিনা বণিকেরা। ঢাকার প্রধান শেয়ার বাজারটিও তাদের কব্জায়। আগে থেকেই এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট (আপটা)-র আওতায় ৩০৯৫টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করে বাংলাদেশ। এ বার সব মিলিয়ে ৮২৫৬ পণ্যকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিল চিন। এ দিন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এই সুবিধা দিল বেজিং।
3
পবিত্র রমজান মাসে সারা দেশের মতো মিঠাপুকুরে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তবে উপকারভোগীদের অনেকে পণ্যের প্যাকেজে ছোলার বদলে আটা এবং চিনির পরিমাণ কমিয়ে সঙ্গে গুঁড়ো দুধ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।বর্তমানে চলছে টিসিবির পণ্য বিক্রির দ্বিতীয় ধাপ। এতে গতকাল মঙ্গলবার জেলার ২৩ হাজার ২৫৮ জন উপকারভোগী ফ্যামিলি কার্ড দেখিয়ে পণ্য কিনতে পেরেছেন। রংপুর সিটি করপোরেশনসহ সাত উপজেলায় শুধু তালিকাভুক্ত কার্ডধারীদের মধ্যে সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল ও ছোলা বিক্রি করা হয়।জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সিটি করপোরেশন এলাকার ৬ হাজার ২২৫, সদর উপজেলার ২ হাজার ৫৩৭, পীরগঞ্জের ১ হাজার ৫২২, মিঠাপুকুরের ৫ হাজার, গঙ্গাচড়ার ১ হাজার ৫২০, কাউনিয়ার ২ হাজার ৮৫৪, তারাগঞ্জের ১ হাজার ৬০০ ও বদরগঞ্জের ২ হাজার ব্যক্তি পণ্য পেয়েছেন। তাঁরার ৫৬০ টাকায় ২ লিটার সয়াবিন তেল এবং দুই কেজি করে চিনি, মসুর ডাল ও ছোলা কিনতে পেরেছেন।গতকাল মিঠাপুকুর বাজারে টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে একাধিক উপকারভোগীর সঙ্গে কথা হলে তাঁরা ছোলার পরিবর্তে আটা এবং দুই কেজি চিনির জায়গায় এক কেজি চিনি ও গুঁড়ো দুধ দেওয়ার দাবি জানান।পণ্য কিনতে আসা রিকশাচালক বিদ্যুৎ মহন্ত বলেন, তাঁর এক মাসে দুই কেজি চিনির দরকার হয় না। গুঁড়ো দুধ দিলে শিশু ও প্রবীণদের উপকারে লাগবে।নাম প্রকাশ না করে এক গৃহবধূ জানান, ছোলার পরিমাণ কমিয়ে আটা দিলে ভালো হতো।কেন্দ্রে একজন মধ্যবিত্ত কৃষককে টিসিবির পণ্য নিতে দেখা যায়। রাস্তায় তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সয়াবিন তেলের জন্যই মূলত তিনি টিসিবির কার্ড নিয়েছেন।বিকেলে কথা হয় আরেক রিকশাচালক চান মিয়ার সঙ্গে। তিনি ঈদের আগে আতপ চাল ও কম দামে মুরগি দেওয়ার দাবি জানান।উপকারভোগীরা এসব বিষয় বিবেচনা করার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁদের চাওয়া নিয়ে কথা হয় সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে। তিনি বিষয়টি টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর আশ্বাস দেন।এ বিষয়ে টিসিবির ডিলার খায়রুল মন্ডল জানান, বিক্রির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পণ্যসামগ্রী নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে সিটি করপোরেশন এলাকায় টিসিবি কর্তৃপক্ষ এবং জেলা ও উপজেলায় প্রশাসনের তদারকিতে পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে।যোগাযোগ করা হলে টিসিবির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী কার্যনির্বাহী জামাল উদ্দীন জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যখন যে ধরনের পণ্যসামগ্রী ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করার নির্দেশনা দেয়, সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ছোলার পরিমাণ কমিয়ে বা এর বদলে আটা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা মন্ত্রণালয়ের বিষয়, টিসিবির নয়।
6
বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন চার শতাধিক পর্যটক। মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হওয়ায় বৃহস্পতিবার পর্যটকরা ফিরতে পারেনি। আটকে পড়া চার শতাধিক পর্যটকদের মধ্যে 'আমার বাজার' নামে ৩'শ জনের একটি দল তিন দিনের ভ্রমণে গত বুধবার সেন্টমার্টিন যায়। পর্যটকবাহী জাহাজ কর্ণফুলী এক্সপ্রেসে করে কক্সবাজার থেকেই সরাসরি সেন্টমার্টিন পৌঁছেন তারা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। যার প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এজন্য সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত এবং নদীবন্দরের মধ্যে কিছু এলাকায় ২ এবং কিছু এলাকায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর আহমেদ বলেন, 'ভ্রমণে আসা সেন্টমার্টিনে চার শতাধিকের বেশি পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন। তাদের বৃহস্পতিবার ফিরে যাবার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারনে ফিরতে পারেনি। 'কিন্তু বুধবার পর্যটকদের মাইকিং করে দ্বীপ ছাড়তে বলা হয়েছিল, অনেকে কথা শুনেনি। তবে দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে,' বলেন স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি। দ্বীপে পর্যটকরা নিরাপদে রয়েছে উল্লেখ করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান, 'সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকদের খোঁজ-খবর রাখতে দ্বীপের পুলিশ ফাঁড়িকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, 'সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকরা ফিরে আসবেন।' সূত্র: ইউএনবি।
6
খাগড়াছড়ির রামগড়ের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য খেজুরগাছ থাকলেও গাছিসংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অধিকাংশ গাছই প্রস্তুত করা যাচ্ছে না। প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে রস আহরণ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও রামগড়ের বিভিন্ন এলাকায় খেজুরগাছে রসের হাঁড়ি ঝুলে থাকার দৃশ্য দেখা যেত। অথচ বর্তমানে শীতের এ মৌসুমে খেজুরের রস এখন সোনার হরিণ। পাশের উপজেলাগুলো থেকে চওড়া দামে রস সংগ্রহ করছে মানুষ। মূলত গাছিসংকটের কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে শীতের মৌসুমে ঐতিহ্যবাহী রস, গুড়ের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।গাছিদের পেশা পরিবর্তন, রস চুরি, নতুন করে কেউ এ পেশায় না আসাসহ বেশ কিছু কারণে রামগড় থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গাছি। অতীতে প্রতি গ্রামে ৪ থেকে ৫ জন করে গাছি থাকলেও বর্তমানে কয়েকটি গ্রাম খুঁজেও গাছি পাওয়া যায় না।সরেজমিন রামগড়ের মহামুনি, সোনাইপুল, দারোগাপাড়া, ডেবারপাড়, গর্জনতলী, কালাডেবা, বল্টুরাম, পাতাছড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার দুপাশ, খেলার মাঠ কিংবা বাড়ির আশপাশে অসংখ্য খেজুরগাছ পড়ে রয়েছে। পূর্বে শীতের আগেই রসের জন্য গাছগুলো প্রস্তুত করা হলেও বেশ কয়েক বছর অবহেলায় পড়ে আছে এসব গাছ। এখনো খেজুরগাছগুলো রস সংগ্রহের উপযোগী করা হয়নি। গাছি খুঁজে পাচ্ছেন না মালিকেরা।দারোগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এমরান হোসেন জানান, তাদের ২৫ থেকে ৩০টি খেজুরগাছ আছে। আগে এসব গাছ বর্গা দেওয়া হতো। কিন্তু বছর তিনেক ধরে গাছি না থাকায় গাছগুলো রসের জন্য প্রস্তুত করা হয়নি। অবহেলায় পড়ে রয়েছে গাছগুলো।অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, গ্রামের মেঠো পথ বেয়ে খেজুরগাছের দীর্ঘ সারি এখন আর দেখা যায় না। শীতে গাছের নলির সঙ্গে বাঁধা রসের পাত্রে রস পড়ার দৃশ্য একেবারে বিলীন। গত বছর রস কেনার চেষ্টা করেও কোথাও পাওয়া যায়নি। এবার পাশের এলাকা থেকে কেজিপ্রতি ১২০ টাকা করে রস কিনতে হয়েছে। অথচ একসময় রামগড়েই ১০ থেকে ৩০ টাকা কেজিপ্রতি রস বিক্রি হতো।আবদুর রাজ্জাক নামের এক গাছি জানান, গাছ কাটা খুবই কষ্টসাধ্য। অনেক পরিশ্রম করতে হয়। গাছে ওঠা, গাছ চাঁছা এবং গাছে রসের পাত্র বসানোর জন্য অনেকবার ওঠা নামা করতে হয়। কিন্তু গাছের মালিকেরা ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে চায় না। তা ছাড়া রস থেকে গুড় উৎপাদনে যে খরচ হয়, তা কৃষকদের উঠছে না। এসব কারণে অনেক গাছি এখন অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছে।মুন্সী মাঝি নামের আরেক গাছি জানান, খুব কষ্টের কাজ এটি। তরুণেরা কেউ এ পেশায় আসতে চায় না। যার কারণে গাছিসংকট দেখা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, বেশির ভাগ সময় রস চুরি হয়ে যায়। পুরো বিকেল কষ্ট করে গাছ চেঁচে পাত্র লাগানোর পর সকালে উঠে দেখা যায় রস চুরি করে নিয়ে খালি পাত্র নিচে ফেলে রাখে। এসব দেখে আর গাছ কাটতে ইচ্ছে হয় না।রামগড় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহমেদ আজকের পত্রিকাকে জানান, প্রশিক্ষিত গাছি একেবারে নেই। তা ছাড়া লাভ কম থাকায় এ পেশায় নতুন প্রজন্মের কেউ এগিয়ে আসছে না। আগের যারা এ পেশায় জড়িত ছিল কষ্টকর হওয়ায় বয়সের কারণে তারাও এ পেশা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
6
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সুমন চৌকিদার (১৬) নামের এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে। আজ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কুতুবপুরের সাহেব বাজারের একটি দোকান থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।প্রেমে বাধা দেওয়ায় অভিমান করে আত্মহত্যার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহত সুমন চৌকিদার কুতুবপুর এলাকার আলেক চৌকিদারের ছেলে। সে সাহেববাজারের দুলাল বেপারীর ইলেকট্রনিকসের দোকানের কর্মচারী ছিল।শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন জানান, দুপুরে ছেলেটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়ে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি নিহত সুমনের সঙ্গে একটি মেয়ের সম্পর্ক ছিল। যা নিয়ে বাবা একটু শাসন করেছিল। এরই জেরে বাবার ওপর অভিমান করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছি এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
6
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আদালত। সেই সঙ্গে সমিতির নির্বাচনে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশও স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই আদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের শুনানি হবে। এর আগ পর্যন্ত শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জায়েদ খান কিংবা নিপুণ কেউই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এদিকে চেম্বার আদালতের আদেশ শোনার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন নায়িকা নিপুণ। তিনি জায়েদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আইন-আদালত এসবে আমি একদমই অভ্যস্ত নই। সে হিসেবে আমি তাকে এটাই বলব যে, আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। হাতে হাত মিলিয়ে চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করি।' নির্বাচনের ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে নিপুণ বলেন, 'আমরা আমাদের ইশতেহারে বারবার বলেছি, আমি প্রধানমন্ত্রীকে এফডিসিতে আনতে চাই। আমাকে আমার কাজটা একটু করতে দিন। আমি আসলে চেয়ারের জন্য কাজ করিনি। চেয়ার আমার জন্য মুখ্য না। কিন্তু আমি যদি কিছু করতে চাই, তাহলে সংগঠন ও চেয়ার গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন- আমি গিয়ে ওনাকে (প্রধানমন্ত্রী) বললাম যে, আপনি আসেন এফডিসিতে। কিন্তু আমার পজিশন কী? তাই সব সংগঠনের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এফডিসিতে আনতে চাই।' আদালতের আদেশ নিয়ে নিপুণ বলেন, 'আদালতের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। আদালত যে রায় দেবেন, আমরা সেটাই মেনে নেব। আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, ন্যায় বিচার চাই। আজ আদালত থেকেও আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি।' উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এর প্রাথমিক ফলাফলে সভাপতি পদে জয়লাভ করেন ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পান জায়েদ খান। তবে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন নিপুণ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচনের আপিল বোর্ড তার প্রার্থীতা বাতিল করে এবং নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী ঘোষণা করে। আপিল বোর্ডের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেন জায়েদ খান। সেই রিটের পর নিপুণও দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারির পর জানা যাবে, শেষ পর্যন্ত কে বসবেন চেয়ারে।
2
মির্জাপুরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার সন্ধ্যায় পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার পর ওই ছাত্রীকে পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনিক (১৮) নামে এক যুবক ওই ছাত্রীকে (১১) বাড়িতে একা থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। পরে বাড়ির লোকজন ঘটনাটি জানতে পেরে থানায় মামলা করেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রুবেল হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ওই শিশুটিকে মেডিকেল চেকআপের জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
6
মেষ(২১ মার্চ-২০ এপ্রিল)কর্মস্থলে প্রতিপক্ষের বিরোধিতা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাফল্যের দেখা পেতে পারেন। আজ আকস্মিকভাবে অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে। বিদেশযাত্রা প্রবাসী আত্মীয়ের সহায়তা পেতে পারেন।বৃষ (২১ এপ্রিল-২১ মে)বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে বিরাজমান জটিলতা দূর হতে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকার মনের আকাশে জমে থাকা কালো মেঘ আজ দূর হতে পারে। আজ নতুন উপকারী বন্ধুর সন্ধান পেতে পারে।মিথুন(২২ মে-২১ জুন)চাকরিতে পরিবর্তন কারও কারও জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে। বেকারদের কারও কারও ব্যবসায়িক উদ্যোগ আলোর মুখ দেখতে পারে। রোমান্স ও বিনোদন শুভ। সৃজনশীল কাজের জন্য প্রশংসিত হবেন।কর্কট(২২ জুন-২২ জুলাই)ব্যবসায়ে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাওনা আদায়ে অন্যের সহযোগিতা পেতে পারেন। আর্থিক লেনদেন শুভ। সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি পাবেন।সিংহ(২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট)ফাটকা ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন। আজ কারও কারও থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান জিনিস খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। রোমান্স ও বিনোদন শুভ।কন্যা(২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট)আর হঠাৎ করেই হাতে টাকাপয়সা চলে আসতে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য দিনটি বিশেষ শুভ। শিক্ষার্থীদের কারও কারও বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।তুলা (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর)ব্যবসায়িক যোগাযোগ শুভ। চাকরিতে কারও কারও বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। বেকারদের কেউ কেউ আজ নতুন কাজের সন্ধান পাবেন।বৃশ্চিক (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর)পরিবারের বয়স্ক কারও রোগমুক্তি ঘটতে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকার মনের আকাশে জমে থাকা কালো মেঘ আজ দূর হতে পারে। আর্থিক লেনদেন শুভ। স্বাস্থ্য ভালো যাবে।ধনু (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর)চাকরির জন্য বিদেশে আবেদন করে কেউ কেউ ইতিবাচক সাড়া পেতে পারেন। পাওনা আদায়ে অগ্রগতি হবে। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য দিনটি বিশেষ শুভ। সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি পাবেন।মকর (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি)ব্যবসায়ে শুভ যোগাযোগ ঘটতে পারে। বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ আসতে পারে। সৃজনশীল পেশায় আপনার সুনাম ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য আজ সুখবর আছে। যাত্রাপথে সতর্ক থাকুন।কুম্ভ(২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি)নতুন ব্যবসায়ে হাত দেওয়ার জন্য দিনটি শুভ। বেকারদের কারও কারও। কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আছে। প্রেমের ঝোড়ো হাওয়া আজ কারও কারও মনকে নাড়া দিতে পারে। চাকরিতে কারও কারও বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।মীন (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ)বেকারদের কারও কারও জন্য দিনটি সাফল্যের বার্তা বয়ে আনতে পারে। পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে অন্যের মতামতকে আজ গুরুত্ব দিতে হবে। রোমান্স ও বিনোদন শুভ।
6
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌর ভবনে গত সোমবার এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে সাত ঘণ্টা আটকে রাখার পর গতকাল মঙ্গলবার আবারও তাঁকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে বসুরহাট জিরো পয়েন্ট এইচআর সিটি মার্কেটের ব্যবসায়ী রূপক মজুমদারকে (৪২) তুলে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ওই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।এইচআর সিটি মার্কেটটি কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ তাঁর ভাগনে স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের নেতা ফখরুল ইসলাম রাহাতের মালিকানাধীন। ব্যবসায়ী রূপক মজুমদার বসুরহাট বাজারের এইচআর সিটি কমপ্লেক্সে সাথী টেলিকম নামক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক।গত সোমবার রাত ৯টায় কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বসুরহাট পৌরসভা থেকে একদল পুলিশ রূপক মজুমদারকে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় আনে। পরে সেখান থেকে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।অভিযোগের বিষয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার মোবাইলে সোমবার রাতে একাধিকবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।গতকাল মঙ্গলবার সকালে ব্যবসায়ী রূপক মজুমদার তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসলে তাকে আবারও তুলে প্রথমে পৌরসভায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুবোধ মজুমদারের ছেলে রুবেল মুজমদারকে দিয়ে রূপক মজুমদারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উসকানি এবং নানা বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। এরপরই কাদের মির্জার নেতৃত্বে রূপক মজুমদারকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। গতকাল বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই মামলা থানায় রেকর্ড হয়নি।এইচআর সিটি কমপ্লেক্স বিপণিবিতানের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান ব্যবসায়ী রূপক মজুমদারকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমেন জানান, গত সোমবার রাতে রূপক মজুমদারকে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল আবারও মেয়র কাদের মির্জা তাঁকে থানায় এনে বিভিন্ন অভিযোগ দিয়ে যান। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
6
ঝালকাঠি ইকোপার্কে ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মী সভায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এহামলার ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্র অধিকার পরিষদের ৪ কর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান,সভা চলাকালে পুলিশ এসে বাধা দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. নাদিমের নেতৃত্বে কয়েকজন লাঠিসোটা নিয়ে আকস্মিক তাদের উপর হামলা চালায়। এতে আবু সাইদ মুসা, ফয়সাল আহমেদ, রনি খন্দকার এবং আরিফুল ইসলাম অভি নামে চারজন আহত হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর অবস্থায় আবু সাইদ মুসা ও ফয়সাল আহমেদকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান জানান, ইকোপার্কে ছাত্র অধিকার পরিষদের একটি কর্মী সভার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ সেখানে গিয়ে কাউকে পায়নি। হামলার বিষয়ে কিছুই জানা নেই পুলিশের। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রচারে মুখর হয়ে উঠছে পীরগাছা উপজেলা। তবে কেউই মানছেন না নির্বাচনী আচরণবিধি। নেচে-গেয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে প্রার্থীদের পক্ষে। বেলা দুইটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণার নিয়ম থাকলেও কেউ মানছেন না। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচার। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে নিজের ছবি দিয়ে পোস্টার সাঁটানোর নিয়ম থাকলেও মানা হচ্ছে না।অপর দিকে, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, মিছিল যেন নিত্য দিনের চিত্র। হোটেল-রেস্তোরাঁয় চলছে ভোটারদের আপ্যায়ন। পাড়ার দোকানগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত চলে চা-পান, সিগারেট দিয়ে ভোট প্রার্থনা।গত রোববার সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাড়ার দোকানগুলোতে মানুষের জটলা। প্রার্থীরা আসবেন জেনে বসে আছেন ভোটাররা। গানে গানে চলছে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার। উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ভোটারদের সকালের নাশতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটাররা। চলছে বাড়ির আঙিনা ও উঠান বৈঠকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা। সরকারি-বেসরকারি, ব্যক্তিমালিকানা ও বিভিন্ন স্থাপনাসহ ঘরের দেয়ালে দেয়ালে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী পোস্টার। গাছপালাও রক্ষা পায়নি পোস্টারের হাত থেকে। অধিকাংশ প্রার্থীরাই রাত ১১-১২টা পর্যন্ত উচ্চ স্বরে মাইক বাজিয়ে নির্বাচনী সভা করছেন।কথা হয় ফজলুল হক নামের এক ভোটারের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'নির্বাচিত হওয়ার পর প্রার্থীদের আর দেখা পাওয়া যায় না। ভোট পার হলেই কেউ চেনে না। তাই ভোটারের স্বভাব-চরিত্র পাল্টেছে। টাকা ছাড়া কেউ মুখ খুলতে রাজি না। কে হারবে, আর কে জিতবে তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই ভোটারদের।'পীরগাছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বলেন, গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ স্বরে মাইক বাজিয়ে চলে প্রচার-প্রচারণা। এতে পড়াশোনার মনোযোগ নষ্ট হয়।কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, দিনের বেলা সবাইকে বাড়িতে পাওয়া যায় না। তাই রাতে প্রচার চালানো হচ্ছে। আচরণবিধির বিষয়ে তাঁরা জানান, সবাই যে ভাবে করছে, তাঁরাও সেভাবে করছেন।পীরগাছার আটটি ইউপি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন চারজন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শোয়েব সিদ্দিকী, মৎস্য কর্মকর্তা হাকিবুর রহমান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা এনামুল হক ও শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান।কথা হলে তাঁরা আজকের পত্রিকাকে জানান, আচরণবিধির বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দু'একদিনের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ টিম মাঠে কাজ করবে।জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউপিতে আগামী ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ৪৩ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১২০ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
6
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে চা-শ্রমিকদের কুলি বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চা-শ্রমিকের সন্তানেরা। গতকাল শুক্রবার মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন শব্দচয়ন করা হয়েছে।ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিশাখা-১ (মাঠ প্রশাসন) থেকে এ চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব প্রশাসনের চারটি গ্রেডে মোট ২২ জন নিয়োগের জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দারা পরীক্ষায় অংশ নেন।সার্টিফিকেট সহকারী পদে পরীক্ষা দেওয়া এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, 'পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এক ইংরেজি অনুবাদ করতে বলা হয়। সেখানে লেখা ছিল, শ্রীমঙ্গল চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত। শ্রীমঙ্গলে ৯২টি চা-বাগান রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের চা পানীয় হিসেবে উপাদেয়। কুলিরা হাত দিয়ে চা-পাতা তোলে। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর চা-পাতা থেকে চা উৎপন্ন হয়। সরকার নিজে এবার আমাদের কুলি বলল!'এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় চা-ছাত্র সংসদের সভাপতি মনোজ কুমার যাদব ও সাধারণ সম্পাদক রাজু নুনিয়া। এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, 'চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য এটি চরম অবমাননাকর। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে দাসত্বের বেড়াজালে বন্দী চা-শ্রমিকদের অবজ্ঞার সুরে এই নামে সম্বোধন করা হতো। বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে এমন চর্চা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের এমন খামখেয়ালিপনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করি।'সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, 'পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছি। এই প্রশ্ন প্রত্যাহার ও শ্রমিকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করতে হবে জেলা প্রশাসনকে।'মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মেহেদী হাসান বলেন, 'আমি এখনো প্রশ্নপত্র দেখিনি। আমরা শুধু পরীক্ষার্থীদের অ্যাকোমোডেশনের ব্যবস্থা করেছি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্বাচন বোর্ড এ পরীক্ষা নিয়েছেন।'
6
সাত মাস বিরতির পর কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে সপ্তম দফায় (প্রথম দল) ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন রোহিঙ্গারা। বুধবার সকাল ১১টার পর উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে চট্টগ্রামের পথে তাদের নিয়ে ৭টি বাস রওনা দিয়েছে। সেখানে ২৫৭ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন জানা গেছে। আজ আরও দল যাওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও সরকারের মধ্যে ভাসানচরে শরণার্থী ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সেখানে রোহিঙ্গাদের নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ দফায় প্রায় দেড় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যাওয়ার উদ্দেশে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তার মাধ্যমে রোহিঙ্গারা সপরিবারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে থাকেন। তারা বুধবার সকালে বাসে করে ভাসানচর যেতে চট্টগ্রামেরউদ্দেশেরওনা দিয়েছেন। তারা রাতে চট্টগ্রামের বিএন শাহীন কলেজের ট্রানিজট ক্যাম্পে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে পরেরদিন নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ভাসানচরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার সকালে সপ্তম দফায় রোহিঙ্গাদের একটি দল উখিয়া থেকে ভাসানচরের উদ্দেশে চট্টগ্রামে রওনা দিয়েছে উল্লেখ করে অতিরিক্ত ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসু দ্দৌজা নয়ন জানান, সপ্তম দফায় প্রথম দলের রোহিঙ্গাদের একটি অংশ উখিয়া থেকে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এবারে কতজন যাচ্ছে সেটি এখন বলা যাচ্ছে না। রোহিঙ্গা নেতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার কারণে আতঙ্কিত উখিয়ার কুতুপালং মেগা ক্যাম্পের লম্বাশিয়া, বালুখালীসহ বিভিন্ন শিবিরের অনেকে ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছেন, যারা আগে সেখানে যেতে চাননি। ৮-এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন জানান, রোহিঙ্গাদের একটি দল ভাসানচরের উদ্দেশে উখিয়া ত্যাগ করেছে। আরও রোহিঙ্গাদের দল যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এদিকে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ছয় দফায় ১৮ হাজার ৯৫ জন রোহিঙ্গাকে সরকার ভাসানচরে পাঠায়। এ ছাড়া গত বছর মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রসঙ্গত,মিয়ানমারের সেনাদের অভিযান থেকে প্রাণে বাঁচতে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। এদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানের সময়ে পালিয়ে এসেছিলেন। শরণার্থীদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত ১ লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।
6
জুন মাস থেকে বিজেএমইএর সভাপতির শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রণোদনার পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পর এই ঘোষণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আপদকালীন ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার বাইরেও পোশাক কারখানার মালিকরা নানা সহায়তা পান। এত সুবিধা নিয়েও চরম দুঃসময়ে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়ে তারা অমানবিক কাজ করেছেন। এর পেছনে অন্য কোনো দুরভিসন্ধি থাকতে পারে। রিজভী অভিযোগ করেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে 'করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা' প্রকল্পে দুর্নীতি হচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে যেসব সামগ্রী কেনা হচ্ছে তা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। প্রকল্পটির আওতায় এক লাখ প্লাস্টিকের চশমা, একলাখ ৭ হাজার পিপিই ও ৭৬ হাজার ৬০০ জোড়া বুট জুতা কেনার কথা। ৫০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকা মূল্যের প্রতিটি চশমার দাম ধরা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। প্রতিটি পিপিইর বাজারমূল্য হচ্ছে এক হাজার থেকে ২ হাজার টাকা্- যা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭০০ টাকা। এক জোড়া বুট জুতার দাম ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, যা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। রিজভী বলেন, সরকার ভেন্টিলেটর আমদানির পরিকল্পনা নিলেও এখনো কেনার কার্যাদেশ দেয়নি। আমদানির আগেই সেখানে দুর্নীতির কালো থাবা বিস্তার করেছে। খবর পাওয়া যাচ্ছে, দুর্নীতির কারণে এই কার্যাদেশ দিতে দেরি হচ্ছে।
9
পোশাক রপ্তানিতে চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামকে টপকে ফের এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশ ১৯৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছর এ খাতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল ভিয়েতনাম। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন । তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ১ হাজার ৮৭৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে ১ হাজার ৬৮৬ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে ভিয়েতনাম। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ের বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পোশাক রফতানি ৭ শতাংশ কমেছে। গত জুলাইয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা-ডব্লিউটিও' ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিকস রিভিউ ২০২১ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে দেখা যায়, ২০২০ সালে ভিয়েতনাম পোশাক রপ্তানি করেছে ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের, বাংলাদেশ করেছে ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের। অথচ তার আগের বছর বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, ভিয়েতনামের রফতানি ছিল ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
6
দুর্গাপুর: মুজিববর্ষে উপহার হিসেবে রাজশাহীর দুর্গাপুরে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৪ জন ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া সরকারি পাকা বাড়ি 'স্বপ্ননীড়'। আগামীকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে হস্তান্তরের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ন কবীর নবনির্মিত সরকারি পাকা বাড়ি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর আগে প্রথম পর্যায়ে উপজেলায় ৩২টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে স্বপ্ননীড় বরাদ্দ দেওয়া হয়।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বেলাল হোসাইন বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের সব ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গৃহ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহসীন মৃধার তত্ত্বাবধানে উপজেলার মাড়িয়া, দেলুয়াবাড়ী, ঝালুকাসহ কয়েক ইউনিয়নের ১৪টি পরিবারের জন্য পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ভূমি ও প্রকল্প অফিসের সমন্বয়ে তৈরি ঘরগুলো আবেদনের পিরপ্রেক্ষিতে উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ভূমি ও গৃহহীনদের মধ্যে দেওয়ার কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে উপজেলায় ৩২টি গৃহহীন পরিবারের মধ্যে সরকারি পাকা বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই শতক জায়গার ওপর প্রতি পরিবারের দু-চৌচালাবিশিষ্ট রঙিন ঢেউটিনের ঘর, তাতে দুটি করে জানালা ও দরজা, ইটের দেওয়াল এবং পাকা মেঝে রয়েছে। এছাড়া বারান্দা এবং আলাদা স্থানে রান্না ঘর ও টয়লেট। রয়েছে বিদ্যুতের সংযোগ।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসীন মৃধা বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারি পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের এসব পাকা বাড়ি ১৪টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া অসহায় পরিবারের জন্য 'স্বপ্ননীড়' উপহার পাচ্ছেন, যা বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
6
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আগামী শনিবার ২ এপ্রিল ঢাকায় গণ অনশশন করবে বিএনপি। বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের যৌথসভা শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী দোসরা এপ্রিল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে । একমাস ব্যাপী বিএনপি'র যে কর্মসূচি ছিল তারই অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হবে! বলেন বিএনপি মহাসচিব। দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা উনারা নিয়মিত বলেন। কোন তারিখে সহনীয় বাংলাদেশের মানুষের কাছে সহনীয় নয়। গত একমাস ধরে যে কর্মসূচি পালন করেছেন তাতে সরকারের দিক থেক কোনো পরিবর্তন দেখছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, না সরকারের দিক থেকে কোন পরিবর্তন নেই। উনাদের চামড়া গন্ডারের মত। মূলত নির্দলীয় সরকার ছাড়া এই সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পর সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। এর মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল,মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহাতাব, আব্দুস সালাম, আমিনুল হক, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।
9
চরম অথনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিপরিষদ নিয়োগ দিয়েছেন। বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসেকে আবারও প্রধানমন্ত্রী রেখে বিভিন্ন পদে দলের কয়েকজন সদস্যকে পুনর্নিয়োগ দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট। সোমবার রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে জোরালো বিক্ষোভ চলার মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা নিয়োগ দেওয়া হলো। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন। এরপর নতুন সরকার গঠনে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তবে বিরোধী দল তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এমন অবস্থায় বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসেকে আবারও প্রধানমন্ত্রী রেখে বিভিন্ন পদে দলের কয়েকজন সদস্যকে পুনর্নিয়োগ দেন তিনি। এপ্রিলের শুরু থেকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিরোধীদের দাবি, রাজাপক্ষে জনগণের আস্থা হারিয়েছেন। তবে তা নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। মন্ত্রিসভায় পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য চামাল রাজাপাকসে এবং মাহিন্দার ছেলে নামাল রাজাপাকসেকে রাখেননি তিনি। ভাতিজা শশেন্দ্র আগে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তবে এবারে তার নাম নেই। দুই কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কা চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুত না থাকায় নিত্যপণ্য আমদানি করতে পারছে না সরকার। মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। ক্ষুব্ধ এসব মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেননি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ কর্মস্থলে যেতে পারবেন না। আর কেউ টিকা নিয়েছেন কি না, তা যাচাই করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ তথ্য সরকারি ডেটাবেসে থাকবে। খুব সহজেই যাচাই করা যাবে।দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন বৈঠকের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এক কোটির বেশি লোককে টিকার আওতায় আনবে। অত্যন্ত ভালো খবর হচ্ছে, প্রতি গ্রাম, ইউনিয়ন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কেন্দ্র করে টিকা দেওয়া হবে। সারা দেশে সপ্তাহব্যাপী ১৪ হাজার কেন্দ্রে একযোগে টিকা দেওয়া হবে। এতে অগ্রাধিবার পাবেন বয়স্ক লোকেরা। কারণ আমরা দেখেছি, বয়স্করাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন।এ সময় দোকানদার, কর্মচারী, পরিবহন শ্রমিকদের নিজ নিজ ওয়ার্ড থেকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, টিকা না নিয়ে কেউ কর্মস্থলে আসতে পারবেন না। আমরা চিন্তা করেছি, আগামী ১১ তারিখ থেকে সবকিছু খোলা হবে। কিন্তু টিকা ছাড়া কেউ কর্মস্থলে আসতে পারবেন না।'মানুষ টিকা নিয়ে যাতে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারে, সে জন্য টিকা পাওয়া নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ১০ তারিখের মধ্যে এটি নিশ্চিত করা হবে। যাতে ১১ তারিখ থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন চালু করা যায়।
6
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হ্যান্ডকাপসহ মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি ও চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে এক কনস্টেবলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দেউন্দি চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেউন্দি চা বাগানে মাদক পাচারের তথ্য পায় পুলিশ। পরে চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য সেখানে অভিযান চালান। এ সময় ১৫ লিটার বিদেশি মদসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে নিয়ে আসার সময় একদল মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের ওপর হামলা চালায়।মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশ সদস্যদের মারপিট করে হ্যান্ডকাপসহ আটক মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।এ হামলায় উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল জুয়েল মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। সহকর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর মধ্যে কনস্টেবল জুয়েলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।বাকি পুলিশ সদস্যদের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে আসেন।চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত চম্পক দাম জানান, ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে। এ ছাড়া বাকিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
6
২০৩০ সালের মধ্যে শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেনের নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে যোগ দিয়েছে বিশ্বের শতাধিক দেশ। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে চুক্তিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাইডেন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই অংশীদারত্ব চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।কার্বন ডাই অক্সাইডের পর মিথেনই প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস। তবে কার্বনের তুলনায় এটি দ্রুত বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এর অর্থ হলো, মিথেন নিঃসরণ কমানো গেলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের লাগাম টানা সহজ হতে পারে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।বাইডেন প্রশাসন জানিয়েছে, বৈশ্বিক মিথেন কমানোর প্রতিশ্রুতির প্রথম ঘোষণা আসে গত সেপ্টেম্বরে। এ সময় চুক্তিটিতে যোগ দেয় ৩০টি দেশ, যারা সারা বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মিথেন নিঃসরণের জন্য দায়ী। আর আজকের এই চুক্তিতে নতুন স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ব্রাজিল অন্যতম। দেশটি বিশ্বের পাঁচটি বৃহত্তম মিথেন নির্গমনকারীর মধ্যে একটি। যদিও শীর্ষ পাঁচ মিথেন নির্গমনকারীর তালিকায় থাকা চীন, রাশিয়া এবং ভারত এই প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করেনি।গত সেপ্টেম্বরে প্রথম ঘোষণা আসার পর বৈশ্বিক এই অংশীদারত্ব চুক্তিতে বৃহত্তম মিথেন নির্গমনকারী দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬ এর আগে ওয়াশিংটন এবং ইইউ থেকে চূড়ান্ত কূটনৈতিক চাপের পর, গত সপ্তাহে প্রায় ৬০টি দেশ এই প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করে। অর্থাৎ মিথেনের নিঃসরণ কমাতে এ পর্যন্ত একমত হয়েছে একশোর বেশি দেশ।জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ না হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনগত বিপর্যয় ঠেকাতে কপ-২৬ সম্মেলনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফলের মধ্যে স্থান পেতে পারে মিথেন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি। এর আগে গত মে মাসে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্লেখযোগ্য হারে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ কমানো গেলে ২০৪০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি প্রায় ০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত এড়ানো সম্ভব। তবে মিথেন মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্থাৎ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে মিথেন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য অর্জনে সফল হলে তা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরাও। মিথেন নির্গমনের মূল উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে তেল এবং গ্যাস অবকাঠামো, পুরোনো কয়লা খনি, কৃষি এবং ল্যান্ডফিল সাইট। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল ও গ্যাস উৎপাদক, যেখানে ইইউ গ্যাসের বৃহত্তম আমদানিকারক।চলতি সপ্তাহেই তেল ও গ্যাস-মিথেন আইন প্রকাশ করার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। আর এই বছরের শেষের দিকে মিথেন আইন উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে ইইউ এবং কানাডার।মোদির প্রতিশ্রুতি।২০৭০ সালের মধ্যে ভারতের কার্বন নিঃসরণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত সোমবার কপ-২৬ সম্মেলনে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। গতকাল সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, মোদি ভারতের কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ২০৭০ সালের মধ্যে শূন্যে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করলেও, এটি জলবায়ু সম্মেলনের লক্ষ্যমাত্রা বিরোধী। কারণ জলবায়ু সম্মেলনে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সকল দেশকে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে।
7
শহরের বা উঁচু এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে বসন্তের আমেজ বইছে। শিশুরা মাঠে নেমে লাফালাফি করছে, খেলছে, গল্প করছে। ওদের দীর্ঘদিনের সরাসরি বলার মতো আলাপন জমে ছিল প্রিয় বন্ধুদের জন্য। শিক্ষার্থীদের এই আনন্দ করার বিষয়টি খুব ভালো লাগছে। গণমাধ্যমে সেগুলোর ছবি খুব দ্রুত প্রচারের ব্যবস্থাও হয়ে যাচ্ছে।বিপাকে পড়েছেন বন্যাকবলিত নদীপারের বা গ্রামাঞ্চলের শিক্ষালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা। তাঁদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখে প্রতিষ্ঠান খোলার দিনে একটি পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম হয়েছে এক উপজেলার কলেজমাঠে থইথই পানি। বড় বিল্ডিংয়ের নিচতলার প্রতিটি কক্ষে পানি। পাশের টিনের তৈরি ঘরের সব শ্রেণিকক্ষে হাঁটুপানি। চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ সবকিছুই পানিতে ভাসমান। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের পৌর এলাকাসহ আটটি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী। স্বভাবতই সেখানকার ১০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথম দিনে খোলেনি। রাস্তাঘাটে পানি থাকায় যোগাযোগ বন্ধ (ইত্তেফাক ১২.০৯. ২০২১)।উজানের নদীগুলো দিয়ে দিনদিন পানি নামতে থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় দুই দিন আগে নদীতীরবর্তী সব প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বন্যার পানি জমে ছিল। স্কুলের মাঠে কোমরপানি। কিছু শিশু কলাগাছের তৈরি ভেলায় চড়ে স্কুলের মাঠে গিয়ে নিজের প্রিয় স্কুলঘরের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবছিল, পানিতে বসার বেঞ্চ পচে নষ্ট হয়ে যাবে না তো? সেদিন সংবাদে বলা হয়েছিল, সেসব জেলায় ১৫৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে। গত সপ্তাহে দেশের প্রায় ৪০টি জেলায় বন্যার পানি ঢুকেছে। বন্যার পানি উজানের বা উত্তরের বাড়িঘর-শিক্ষালয়, আবাদ লন্ডভন্ড করে এখন দক্ষিণের পানে ধেয়ে চলেছে। নদীভাঙন এখনো উজানে থামেনি। তার পূর্বেই ভাটিতে ভাসাচ্ছে বন্যা ও ভাঙছে নদীপাড়।তার ওপর ঘন ঘন বৃষ্টি হচ্ছে। বড় বড় নদীর পানির উচ্চতা বেড়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে নদীতে ঘূর্ণিপাক হওয়ায় নদী পারাপার করে এক তীরের শিক্ষার্থী বাচ্চারা অপর তীরের শিক্ষালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে। কোথাও কোথাও বাঁশের সাঁকো ও কালভার্ট ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।এখন দক্ষিণের বরিশালের হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, বরগুনার আমতলী প্রভৃতি এলাকায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। চার উপজেলার অর্ধশত বসতবাড়ি পানির নিচে। রোপা আমন ধান, বীজতলাসহ শাকসবজি পচে গেছে। পানির নিচে থাকা গ্রামের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ।মজার ব্যাপার হলো, শহরের শিক্ষালয় নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হলেও গণমাধ্যমে গ্রামের বন্যাকবলিত বিপর্যস্ত শিক্ষালয়ের করুণ দশা খুব সামান্যই প্রচারিত হচ্ছে। নদীভাঙনে দিশেহারা বাঁধে বা রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া মানুষ এখনো নিজ ডেরায় ফিরতে পারেনি। কারণ, ওদের চরম দুর্ভাগ্য হলো, অনেকের বসতভিটা এখন মাঝনদীতে অথই দরিয়ার মধ্যে নিপতিত হয়ে গেছে। তারা ফিরবে কোথায়? তাদের পোষ্যরা বিপর্যস্ত, সর্বস্বান্ত। ওরা পোশাক, পুস্তক কিছুই সঙ্গে আনেনি। তারা শিক্ষালয়ে যাবে কীভাবে?প্রায় দুই বছর শিক্ষাবিচ্ছিন্ন থাকার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ভুলে গেছে। অনেকে ইতিমধ্যে কর্মজীবী শিশুদের খাতায় নাম লিখিয়েছে। পুরান ঢাকার একটি অবৈধ নকল জুস তৈরির কারখানায় কর্মরত ৮০টি শিশু এবং একটি পোশাক তৈরির কারখানায় অসংখ্য শিশুকে সেদিন একটি টিভি চ্যানেলে দেখানো হলো। তারা নদীভাঙনের শিকার হয়ে পেটের দায়ে গ্রাম থেকে সেখানে এসে কাজ নিয়েছে। শিশুদের এসব কাজ করা অবৈধ কি না, তা তারা মোটেও জানে না। আর জানলেই বা কী হবে? তাদের ক্ষুধার অন্ন কে দেবে? এমন আক্ষেপ ও ক্ষোভ শোনা গেল কারও কারও মুখে। এসব কর্মজীবী শিশু কি আর ফিরতে পারবে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে?করোনা, বন্যা ও ডেঙ্গুর কারণে কতসংখ্যক শিক্ষার্থীর আর কখনো শিক্ষালয়ে যাওয়া হয়ে উঠবে না, তা আর কিছুদিন পর মেগা জরিপ করা জরুরিহয়ে পড়েছে।পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন, বেসরকারি রেজিস্টার্ড বিদ্যালয়, মক্তব, হাফেজখানা, এতিমখানা, মাদ্রাসা ইত্যাদি থেকে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকেরাও বিদায় নিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জীবনের প্রয়োজনে, সংসারের দায়ে পেশা বদল করে ভিন্ন শহরে চলে গেছেন পরিবার ছেড়ে। জীবন-জীবিকার তাগিদে এ ধরনের মাইগ্রেশন দেশের গণশিক্ষাব্যবস্থাকে ভারসাম্যহীন করতে খুব ক্ষতিকারক বলে চিহ্নিত করতে হবে। গ্রামের একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক পেটের দায়ে পেশা বদল করে অন্যত্র চলে গেলে আমাদের গ্রামের আধুনিকায়ন করার নীতি কাগুজে বাঘ হিসেবে পড়ে থাকবে। গ্রামের সেই অজ্ঞানতার অন্ধকারের কালিমা ঘোচাবে কে, কীভাবে?করোনা অতিমারি ও বর্তমান বন্যায় নতুন করে সৃষ্ট লাখ লাখ কর্মজীবী শিশুকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। এটা নিয়ে বিষোদ্গারের ব্রিফিং দিয়ে অযথা সময় নষ্ট করলে আমাদের শিক্ষার হার নিম্নমুখী হয়ে পড়বে। সেটা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।আরেকটি জরুরি বিষয় হলো, খুলে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হঠাৎ করে শিশু মনস্তত্ত্ব উপেক্ষা করে পড়ার বোঝা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। মা-বাবা বেশি পড়ার জন্য চাপ দেবেন শিশুদের। অন্যদিকে শিক্ষকেরা অল্প সময়ে বেশি শেখাতে চাইবেন। এ জন্য হয়তো প্রাইভেট টিউশনি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, বেশি করে জ্ঞান গিলিয়ে এত দিনের পড়ার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার নাম করে। এ বিষয়টিতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সরকারি নীতিনির্ধারকদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।আরও একটি জরুরি বিষয় হলো, করোনা ও ডেঙ্গু আবার বেড়ে গেলে পুনরায় শিক্ষালয় বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই ভীতিতে শিশুদের বোঝা বোঝা হোমওয়ার্কের লোড যেন দেওয়া না হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে বাচ্চাদের ভার বইবার ক্ষমতা ও সহনশীলতা মেনে এগোতে হবে।যে প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু করেছিলাম: বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে শিক্ষালয় খোলা ও বন্ধ রাখা বা থাকা নিয়ে গ্রাম ও শহরের মধ্যে যেন ব্যাপক বৈষম্য সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এমনিতেই বন্যায় পানিবন্দী শিক্ষালয়ে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা সংকটে দিনাতিপাত করছেন।তাঁদের কপালের দুশ্চিন্তার ভাঁজ যেন মনের মধ্যে বৈষম্য ও বঞ্চনার গভীর ক্ষত সৃষ্টি না করে, সে জন্য বিকল্প উপায়ে তাদের এসব ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে উপযোজন লাভ (অ্যাডাপ্টেশন) করার উৎসাহ ও প্রণোদনামূলক আর্থসামাজিক কর্মসূচি খুব দ্রুত হাতে নিয়ে নৈতিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা জরুরি।লেখক: অধ্যাপক ও ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
6
ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার সবকিছুর আগে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পেস বোলার হোক কিংবা স্পিনার সকলের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানকে হেলমেট পরে খেলা বাধ্যতামূলক করতে বলেছেন তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচের একটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম সেঞ্চুরির মালিক শচীন। রান নেওয়ার সময় পাঞ্জাব ক্রিকেটারের থ্রো করা একটি বল গিয়ে লাগে বিজয় শঙ্করের হেলমেটে। তাৎক্ষনিক মাটিতে শুয়ে পড়েন হায়দরাবাদ অলরাউন্ডার। বাজেভাবে তার ব্যথা পাওয়া দেখে মাথায় হাত বেঞ্চে বসে থাকা অন্য ক্রিকেটারদের। টিম ডক্তরও ছুটে আসেন মাঠে। সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে যান শঙ্কর। ওই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন শচীন। যদি শঙ্কর স্পিনের বিপক্ষে হেলমেট ছাড়া খেলতেন এবং থ্রো করা বল মাথায় এসে লাগতো তবে বিপদ ঘটে যেতে পারতো। সেজন্য তিনি ব্যাটিংয়ের সময় হেলমেট বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দিয়েছেন। টুইট করে আইসিসিকে সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ভাববার পরামর্শ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানের মালিক শচীন লিখেছেন, 'ক্রিকেট আগের থেকে অনেক বেশি দ্রুততম হয়েছে। কিন্তু খেলাটা কি নিরাপদ হয়েছে? সম্প্রতি আমরা একটা ঘটনার সাক্ষী হলাম। যেটা হেলমেট না থাকলে খারাপ কিছু হতে পারতো। পেশাদার ক্রিকেটে তাই ব্যাটসম্যানদের জন্য হেলমেট বাধ্যতামূলক করা উচিত। আইসিসিকে অনুরোধ করবো বিষয়টির দিকে নজর দিতে।'
12
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদের উপনির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। একই তারিখে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনে এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন সৈয়দ জাকিয়া নূর লিপিকেও দলের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয়া হয়। গতকাল শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড এবং সংসদীয় বোর্ডের যৌথ সভায় এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। সভায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড ও সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, 'বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে আতিকুল ইসলামকে এবং জাতীয় সংসদের কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনে সৈয়দ জাকিয়া নূর লিপিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।' তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ১০ জন এবং কিশোরগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৭ জন আগ্রহী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড এদিনের বৈঠকে তিনটি পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য ৩ জন মেয়র প্রার্থী এবং ২৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য ২৯ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়। বরগুনার আমতলী পৌরসভার জন্য মতিয়ার রহমান, পটুয়াখালী পৌরসভার জন্য পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আল আমিনকে এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলমকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়। গত ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে মেয়র পদটি শূন্য হয়। ২১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলাল উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ড এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ওয়ার্দ কাউন্সিলর পদের নির্বাচনও একই দিনে অনুষ্ঠত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ৩০ জানুয়ারি এবং ২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি। কিশোরগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনের নির্বাচন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। গত ২২ জানুয়ারি এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকালে নির্বাচন কমিশনের সচিব জানান, এই আসনের নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ৩১ জানুয়ারি। ৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন বাছাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহরের শেষ দিন। ইসি সচিব হেলাল উদ্দিন বলেন, এই আসনের নির্বাচনটি সাধারণ নির্বাচন হিসেবেই গণ্য হবে যেহেতু এই আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শপথ গ্রহণের পূর্বেই ইন্তেকাল করেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত ৩ জানুয়ারি ইন্তেকাল করেন। একইদিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত অন্য সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
9
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসে প্রায় শত কোটি টাকার তালগাছ লাগানো প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখন আর আমরা তালগাছের সঙ্গে নেই, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে।আজ শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান তিনি।এনামুর রহমান বলেন, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ৭২৩টি বজ্রপাত স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের মেসেজ দেবে, আর্লি ওয়ার্নিং দেবে। এই মেসেজ আবহাওয়া দপ্তরে পাঠানো হবে। ফলে মানুষ আগেই সচেতন হতে পারবে। ফাঁকা জায়গায় বা মাঠে যারা কাজ করে তাঁরা বজ্রপাতের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। এ জন্য ফাঁকা জায়গায় বজ্রপাত নিরোধক শেল্টার তৈরি করা হবে, যাতে বজ্রপাতের সময় মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে।প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালের আগে হাওরের ফসল নষ্ট হয়েছে বন্যায়। এখন সেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ফলে গত চার বছরে হাওর এলাকার ফসল নষ্ট হয়নি। এ বছর ঘূর্ণিঝড়ে যারা মারা গেছে, তাঁরা আশ্রয় কেন্দ্রের বাইরে বের হয়ে টিনের তলায় কাটা পড়ে মারা গেছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে এসে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। এ ছাড়া ছায়া সংসদে সরকারি দল হিসেবে অংশ নেয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি এবং বিরোধী দল হিসেবে অংশ নেয় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজির বিতার্কিকেরা।
6
আমাদের বিরোধীজোটের নির্বাচনে থাকা না থাকাটা নির্ভর করছে ইসি এবং নির্বাচনকালীন সরকারের আচরণের উপর। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় বিএনপি অফিসের সামনে হামলার ঘটনায় সিইসি দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেন। আজ বুধবার বিকেলে ইসির সাথে সোয়া দু'ঘন্টার বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের দু'নেতা এই মন্তব্য করেন। ড. কামাল বলেন, তারা আমাদের কথা ধৈর্য্য সহকারে শুনেছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর প্রস্তাব করেছি। তারা বিবেচনায় নেবেন বলে জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছি এবং বলেছি তাকে ছাড়া নির্বাচন সম্ভব না। তারা বলেছেন, দেখবো।
9
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন নয়জন। তাঁদের স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের কাছে লিখিতভাবে সুপারিশ করেছেন।গতকাল রোববার দুপুরে ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।উপজেলা নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলায় তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামী ২৮ নভেম্বর।উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ৯ জন। বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন: এলাঙ্গী ইউনিয়নে এলাঙ্গী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এমএ তারেক হেলাল ও আওয়ামী লীগের সমর্থক মাসুদ রানা। ধুনট ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান ও কৃষক লীগের সাবেক সদস্য আলমগীর আকন্দ। নিমগাছি ইউনিয়নে নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নবাব আলী ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন। গোসাইবাড়ি ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মাকছুদুল হক। চিকাশি ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমর্থক আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ ও আরিফুর রহমান।এই নয় নেতা কর্মী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টি আইএম নুরুন্নবী তারিক ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই কেন্দ্রীয় নির্দেশ মোতাবেক জেলা কমিটির নিকট সুপারিশ করা হয়েছে।উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, 'পাঁচটি ইউনিয়নের নয়জন বিদ্রোহী প্রার্থীর নাম স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের নিকট লিখিতভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জেলা আওয়ামী লীগ।'
6
বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য প্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ভোপালের একটি আদালত। সোমবার ভোপালের জেলা ও দায়রা আদালত ৩২ কোটি ২৫ লাখ রুপির চেক জালিয়াতির মামলায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেন। ইউটিএফ টেলিফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। পরবর্তী শুনানির তারিখ দেওয়া হয়েছে ৪ ডিসেম্বর। সেদিন আদালতে আমিশাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। ইউটিএফ টেলিফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে আইনজীবী রবি পন্থ জানান, সিনেমা বানানোর জন্য তাদের কাছ থেকে ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ধার করে আমিশা ও তাঁর সংস্থা। এই সূত্র ধরে আমিশা অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানকে দুটি চেক দেন। কিন্তু চেকগুলো ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে দুটি চেকই বাউন্স করে। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আগেও চেক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ইন্দোরের নিশা ছিপ্পার কাছ থেকে ১০ লাখ রুপি নিয়েছিলেন আমিশা প্যাটেল। কারণ সেই একই, ছবি প্রযোজনা। বদলে নিশাকে একটি চেক দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া গেছে, ইন্দোরের একটি ব্যাংকে ওই চেক জমা দিলে সেখানেও টাকা দিতে অস্বীকার করে ব্যাংক। চেক জালিয়াতির ঘটনায় এর আগেও আইনি সমস্যায় পড়েছিলেন আমিশা। ২০১৯ সালে রাঁচির একটি আদালত চেক বাউন্স এবং প্রতারণার মামলায় আমিশার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
2
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বনদস্যুদের থাবায় দিন দিন ছোট হয়ে আসছে বরগুনার তালতলীর টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন রক্ষায় উদাসীন বন বিভাগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বনাঞ্চল রক্ষা করতে না পারলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে দক্ষিণাঞ্চল।পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, মিনি সুন্দরবন খ্যাত বরগুনার তালতলীর টেংরাগিরি বনাঞ্চল থেকে প্রতি বছরই ৭০ থেকে ৮০ হাজার বড় গাছ কেটে নিয়ে যান বনদস্যুরা। এ ছাড়া তীব্র নদীভাঙন ও ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যে পরিমাণ গাছ নষ্ট হয়, তার কোনো হিসাব নেই। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে গাছ। আর আয়তনে ছোট হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল।জেলা বন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজার ৬৪৮ দশমিক ৩ একর আয়তন নিয়ে তালতলীর টেংরাগিরি বনকে ১৯৬০ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। তবে গত ৬২ বছরে বনের ৩ হাজারেরও বেশি এলাকা বিলীন হয়েছে সাগরে। বনদস্যু, ঘূর্ণিঝড়, ভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে তিন লক্ষাধিক গাছ।তালতলীর টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনে গিয়ে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে হওয়ায় বনের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে তীব্র ভাঙনে অনেক গাছ উপড়ে গেছে। বনটি সংরক্ষিত হওয়ায় এ বনের ভেতরে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও বনের ভেতরে অবাধে চলাফেরা করছেন স্থানীয়রা। বনদস্যুরা কেটে নিয়ে গেছেন বনের কেওড়া সুন্দরীসহ বিভিন্ন ধরনের বড় গাছ।নাম প্রকাশ না করতে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, কিছু অসাধু বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় বনের গাছ কেটে নিচ্ছেন বনদস্যুরা। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বনের আয়তন ছোট হয়ে আসছে।মজিবর ফরাজী ও টুকু সিকদারসহ স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি বলেন, প্রতি বছরই কোনো না কোনো ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে হয় আমাদের। এই বন ঘূর্ণিঝড় থেকে আমাদের রক্ষা করে। কিন্তু প্রতিনিয়ত এই বনাঞ্চল ছোট হয়ে আসছে।পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের বরগুনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুশফিক আরিফ বলেন, ভাঙন এবং বন নিধনের কারণে প্রাকৃতিক ঢাল এই টেংরাগিরি বনাঞ্চল এখন হুমকির মুখে। প্রতি বছর এখান থেকে হাজার হাজার গাছ কেটে নিয়ে যায় দস্যুরা। বন বিভাগের এই দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চরম মূল্য দিতে হবে, যা পরিবেশের জন্য খুবই ভয়াবহ হবে।বরগুনার সংরক্ষিত বন রক্ষা কমিটির সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বনদস্যুদের কাছে বনের গাছ পাচার করছেন। স্থানীয়দের কাছে যার অনেক প্রমাণ রয়েছে। এমনকি সংরক্ষিত বনের গাছ বিক্রি করার সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন একাধিক বনরক্ষী। বন বিভাগের হেঁয়ালিপনা না বন্ধ হলে অস্তিত্ব হারাবে টেংরাগিরি।বন বিভাগ তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সংরক্ষিত বন রক্ষায় বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছুটা আয়তন ছোট হয়ে আসছে। তবে বনের গাছ বনদস্যুরা কেটে নেওয়ার বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ছাড়া নতুন করে কিছু চরাঞ্চলে বনায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বনদস্যু নির্মূলে তৎপর রয়েছি আমরা।'
6
স্বাধীনতা পদক প্রদানেও সরকার আত্বীয়করণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যাদেরকে স্বাধীণতা পদক দেয়া হয়েছে তদন্ত করলে দেখা যাবে এদের বেশির ভাগই হয় তারা মন্ত্রীদের আত্বীয়-স্বজন অথবা তারা প্রধানমন্ত্রীর আত্বীয়-স্বজন। বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দলের স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। জয়ন্তী উদযাপনে চিকিতসা ও সেবা কমিটির উদ্যোগে স্বনির্ভর দেশ গঠনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান' শীর্ষক এই আলোচনা সভায় ৭জন প্রখ্যাত চিকিতসক মুক্তিযোদ্ধাকে তাদের অবদানের জন্য ক্রেস্ট প্রদান করেন। এরা হলেন, অধ্যাপক ফরিদুল হুদা, অধ্যাপক মোবিন খান, অধ্যাপক শামসুল ইসলাম, ডা. সাহাদাত হোসেন, অধ্যাপক মোমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক আবদুল হক। এছাড়া বিএনপির খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আবদুস সালামকেও সন্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। প্রয়াত ডা. মো. ফরিদুল হুদার পক্ষে তার ছেলে নাজমুল হুদা বিপ্লব এবং অধ্যাপক মোবিন খানের পক্ষে ডা. সাইফুল ইসলাম লেলিন ক্রেস্ট গ্রহন করেন। ফখরুল বলেন, যে স্বাধীনতার পদক যেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন সেই স্বাধীনতার পদক নিয়ে তারা দুর্নীতি করেছে। যেখানে আমির হামজা নামে একজনকে তারা পদক দিয়েছে, পরে তা বাতিল করে দিয়েছে। আবার নতুন করে তারা তদন্ত করছে। মির্জা ফখরুল বলেন, একটি ব্যর্থ ও অযোগ্য সরকারের পক্ষেই এমন কাজ সম্ভব। বিএনপি মহাসচিব বলেন, চতুর্দিকে সরকার লুটপাট, দুর্নীতি এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে যে, এখন এদেশকে রক্ষা করতে হলে একমাত্র এদেরকে সরানো ছাড়া বিকল্প কিছু নাই। আজকে এরা গণতন্ত্রের সর্বনাশ করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে আজকে এরা ঘরছাড়া করেছে। সমস্ত পেশাজীবীদের কাছে আমরা আহবান জানাব, আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে সরিয়ে আমরা সত্যিকার অর্থে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি। চিকিৎসা ও সেবা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ও সদস্য ডা. মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের অধ্যাপক মহাসচিব অধ্যাপক আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. আব্দুস সেলিম, ডা. মোসাদ্দেক হোসেন ডাবলু, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. শহীদুল আলম প্রমূখ চিকিতসকরা বক্তব্য রাখেন।
6
এক দশক আগে মাত্র ১৫ বছর বয়সে একটা গানের রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন গানপাগল হ্যারি স্টাইলস। তারপর বদলে গেল তাঁর জীবন। শুরু হলো 'ওয়ান ডিরেকশন' ব্যান্ডের যাত্রা, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় দ্য বিগেস্ট সেলিং ব্যান্ড অব অল টাইম। হ্যারি এখন ২৬-এ, আর তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭৩১ কোটি টাকা। ব্রিটিশ গানের রিয়েলিটি শো 'এক্স ফ্যাক্টর'-এর সাবেক প্রতিযোগী হ্যারি আসর শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। সেদিন গাড়ির তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনি থেমেছিলেন একটা পেট্রলপাম্পে। গাড়ি থেকে বেরিয়ে একটু হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ দেখেন, আশপাশে লোকজন জড়ো হয়ে গেছে। কেউ কেউ বলছেন, 'তুমি হ্যারি না? তুমি তো দারুণ গাও', 'একটা অটোগ্রাফ হবে?' হ্যারি কী বলবেন, কী করবেন, বুঝতে পারছিলেন না। সেই প্রথম তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি যেন আর সাধারণ কেউ নন। তিনি 'স্টার'! সেই প্রথম, আর সেই শেষ। এরপর আর কখনোই নিজেকে তারকা মনে হয়নি হ্যারির। এসব তিনি নিজেই বলেছেন 'দ্য ফাইন লাইন' সাক্ষাৎকারে। এখন হ্যারি যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্য দুই দেশেরই ফ্যাশন আইকন। ইনস্টাগ্রামে ৩ কোটি ৬২ লাখের বেশি ফলোয়ার তাঁর। সংগীতশিল্পী ও গীতিকার হিসেবে নন কেবল, অভিনয়শিল্পী হিসেবেও নাম কুড়িয়েছেন তিনি। 'টেলিভিশন তারকা' বিশেষণটাও যুক্ত হচ্ছে তাঁর নামের আগে। মাত্র ২৬ বছর বয়সে হ্যারি স্টাইলসের এ অর্জন তাক লাগানো। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ক্রমাগত হাতে তুলছেন ব্রিটিশ স্টাইল অ্যাওয়ার্ড। ২০১৬ সালে ওয়ান ডিরেকশন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর হ্যারি ব্রিটিশ রেডিও নেটওয়ার্কের শ্রোতারা ভোট দিয়ে জানিয়েছেন, তিনিই 'সেক্সিয়েস্ট মেল ইন পপ'। জিকিউ ম্যাগাজিনের 'ফিফটি বেস্ট ড্রেসড ম্যান'-এর তালিকায় তিনি বিশ্বের সেরা ফ্যাশনবোদ্ধাদের নম্বর অনুসারে দখল করেছেন চতুর্থ স্থান। ২০২০ সালে সানডে টাইমস-এর 'রিচ রিস্ট অব মিউজিশিয়ানস' প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হ্যারির মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৩১ কোটি টাকা।
2
ইউক্রেনে রুশ অভিযান ইস্যুতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
ম্যাচ শুরুর ৩ ঘণ্টা আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের নেতৃত্ব থেকে মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে নাঈম ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বিপিএল গভর্নিং কমিটির হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত মিরাজ দলের সঙ্গে থেকে গেলেও ঘটনাটি টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পরে মিরাজ ও চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বৈঠক করে দুপক্ষকেই সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।মিরাজ-কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আলোচনায় অধিনায়ক বদল। এবার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জায়গায় সিলেট সানরাইজার্সের নেতৃত্বে এলেন রবি বোপারা। সিলেটের নেতৃত্ব বদলের ঘটনায় অবশ্য কোনো মতবিরোধ নেই। মোসাদ্দেক নিজ থেকেই দায়িত্ব ছেড়েছেন।অথচ ঘরের মাঠ সিলেটে আজ খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ম্যাচের ঠিক আগ মুহূর্তেও ফুরফুরে দেখাচ্ছিল মোসাদ্দেককে। মনে হচ্ছিল মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তিনিই টস করতে নামবেন। কিন্তু মোসাদ্দেকের জায়গায় বোপারাকে দেখে বিস্মিত হন সবাই। অধিনায়ক না থাকলেও একাদশে ঠিকই আছেন মোসাদ্দেক।কেন টুর্নামেন্টের মাঝপথে এমন বদল? তা ছাড়া মোসাদ্দেকের জায়গায় সহ-অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়কেও তো দায়িত্ব দেওয়া যেত। তাঁকে না দিয়ে বোপারা কেন?সংবাদমাধ্যমে সব কিছু খোলাসা করলেন সিলেটের মিডিয়া ম্যানেজার সাজিদ মুস্তাহিদ, 'চট্টগ্রাম পর্ব শেষেই মোসাদ্দেক নেতৃত্ব ছেড়ে নিজের খেলায় আরও মনোযোগী হতে চেয়েছিলেন। আমরা বিজয়কে অধিনায়ক হতে বলি। কিন্তু টুর্নামেন্টের মাঝপথে নেতৃত্ব নিতে রাজি হননি বিজয়ও। আজ মাঠে এসে কোচ মারভিন ডিলন বোপারাকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে রাজি করান।'
12
এই লেখা যখন লিখছি, তখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। ভোট গণনা শেষ হলে এটি নিশ্চিত, পুনর্গণনার দাবি উঠবে এবং ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে মামলা হবে। রেকর্ড পরিমাণে ভোট পড়া প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতার এ নির্বাচন ঘিরে এমন ধারণা সবার মধ্যেই তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শুধু আমেরিকান ভোটাররা ভোট দেন কিন্তু তাঁদের মতামত বিশ্বের সব মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। আমি যে মুহূর্তে এ লেখা লিখছি, তখন ভোটের ফল কী হবে, তা হয়তো নিশ্চিত করে বলার মতো সময় আসেনি। কিন্তু আশার কথা হলো যুক্তরাষ্ট্র এখনো মজবুত গণতন্ত্রের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মহামারির মধ্যেও রেকর্ডসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি হয়েছে। ভোটের ফল নিয়ম মেনেই প্রকাশ পাচ্ছে। সহিংসতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে। আদালতের নির্দেশে চলা তদন্তে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে ডাক বিভাগ ভোটারদের ডাকযোগে পাঠানো ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেয়নি। মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট বিজয় অর্জনের ঘোষণা দিলেও তা ধোপে টেকেনি। তিনি ভোট গণনা বন্ধ রাখার আহ্বান জানালেও তা কেউ কানে তোলেননি। তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো মার্কিন ভোটাররা গভীরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দুই প্রার্থীর শিবিরেই প্রায় সমানসংখ্যক সমর্থক। অবাক হওয়ার কিছু নেই, এ বিভক্তি সরকারের মধ্যেও বিভক্তি টানবে। যা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটরা হোয়াইট হাউস জয় করবেন এবং প্রতিনিধি পরিষদ দখল করবেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা সিনেটে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবেন। এমনকি গভর্নরশিপ এবং প্রাদেশিক সরকারও দুই পার্টিতে বিভক্ত হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা যে 'নীল সুনামির' আশা করেছিলেন, তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। প্রায় ১৬ কোটি ভোটার ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে জো বাইডেন ৪০ থেকে ৫০ লাখ বেশি ভোট পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ পপুলার ভোটে তিনি ট্রাম্পের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকছেন। কিন্তু রিপাবলিকানরা সিনেটে তঁাদের আসন ধরে রেখেছেন। অনেকে ভেবেছিলেন, ডেমোক্র্যাটরা সিনেট দখল করে নেবেন। কিন্তু তা হয়নি। এমনকি প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের এক রকম পরাজয়ই হয়েছে। এ নির্বাচনে ট্রাম্প বলা যায় ভীষণ ভালো করেছেন। ২০১৬ সালে তিনি যত ভোট পেয়েছিলেন, এ বছর তার চেয়ে ৫০ লাখ বেশি ভোট পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক ভোট পাওয়া প্রার্থী হলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প যদি হেরে যান, তারপরও তিনি শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে সংবাদমাধ্যমে টিকে থাকবেন। কারণ, তাঁর প্রতি সংবাদমাধ্যমগুলোর দৃষ্টি থাকবে। আগামী ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি যদি না-ও দাঁড়ান, তাহলেও রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী নির্বাচনে হয়তো তাঁর ভূমিকা থাকবে। জর্জ ডব্লিউ বুশ বা রোনাল্ড রিগ্যানের যে রিপাবলিকান পার্টি ছিল, এখন সেই রিপাবলিকান পার্টি আর নেই। ট্রাম্প থাকুন আর না থাকুন, আধুনিক আমেরিকান জনতুষ্টিবাদীদের কাছে ট্রাম্পিজম যেভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, তা শক্তিশালী অবস্থানেই থেকে যাবে। ট্রাম্প সফলভাবেই গণতন্ত্রের উর্বর মাটিকে লবণাক্ত করে দিতে পেরেছেন। তিনি কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফলকে অবৈধ সাব্যস্ত করেছেন। এতে কিছু মানুষের মনে সন্দেহের বীজ বপন করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের অনেক সমর্থক বাইডেনের প্রেসিডেন্ট পদকে বৈধ বলে মানতে রাজি হবে না। ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার করবেন-সে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এমনকি তাঁর উত্তরসূরির শপথ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন, এমন সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে আসছে। যত দিন যাচ্ছে, তত আমেরিকানরা বিভক্তির দিকে যাচ্ছেন। তাঁরা বসবাস ও ওঠাবসার জন্য সমমনা সম্প্রদায়ের এলাকা বেছে নিচ্ছেন। রক্ষণশীলেরা তাঁদের পছন্দের টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও স্টেশন বা পত্রিকা থেকে খবরাখবর জানছেন এবং তাঁদের অপছন্দের সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। একই প্রবণতা ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। শুধু আর্থিক বিষয় তাঁদের বিভক্তির মাপকাঠি হচ্ছে না। রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুসরণের বিষয়ে আমেরিকানদের মধ্যে কট্টর পন্থা বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিষয়ে ক্রমবর্ধমানভাবে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। এটি সরকার পরিচালনা করাকে কঠিন করে তুলবে। বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলে তাঁকে যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে সিনেটে রিপাবলিকানদের বাধার মুখে পড়তে হবে। সবাই মিলে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে হলে বাইডেনকে রিপাবলিকানদের সঙ্গে আপস করতে হবে। সেটি আবার তাঁর নিজের দলের নেতারা মেনে নিতে পারবেন না। ইংরেজি থেকে অনূদিত। স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট রিচার্ড এন হাস: কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের প্রেসিডেন্ট
8
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিয়া রহমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এলেক্স মার্টিন নামে এক বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলার আর্জি করেছেন, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। আদেশে সিআইডিকে আগামী ২০ মের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ক্রেইজ ওয়াকার জানিয়েছেন, এলেক্স মার্টিন বলে কেউ কখনো শিকাগো জার্নালে ছিল না, কেউ নেই। এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেই মেইলের কোনো সফট কপি সামিয়া রহমানকে দেয়নি। মিথ্যা ও বানোয়াট মেইল আইডির ওপর ভিত্তি করেই সামিয়া রহমানকে 'চৌর্যবৃত্তির' মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। সামিয়া রহমানের অভিযোগ, বিবাদীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতারণা করে তার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার এবং প্রকাশ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধ করেছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমানের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সংস্থাটির সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ধর্মের নামে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে সাত হাজার একর জমি দখলের অভিযোগে রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে।
6
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টাকালে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ব্যর্থ করে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। দমদমিয়া বিওপির কাছে নাফ নদী দিয়ে চোরাচালান হচ্ছে এমন খবর পেয়ে রবিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিজিবির একটি টহল দল সেখানে অবস্থান নেয়। বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুইজনকে একটি ব্যাগ নিয়ে নদী পার হতে দেখা গেলে টহল দল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ কর। এ সময় তারা ব্যাগটি নদীতে ফেলে দেয়। এরপর তারা শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারে প্রবেশ করে। পরে টহল দল ইয়াবাসহ ব্যাগটি উদ্ধার করে। ওই দুই ব্যক্তির নাম মো. হাসান আবদুল্লাহ (৩৮) ও মো. ইউসুফ (২৮) বলে চিহ্নিত করেছে বিজিবি।
6
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শোকাহত তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা। বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বিদিশা। সাবেক স্বামীর মৃত্যুতে আক্ষেপ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। ফেসবুকে প্রোফাইল ছবিও পাল্টে বসিয়েছেন কালো ব্যাজ। ফেসবুকে বিদিশা লিখেছেন, 'এ জন্মে আর দেখা হলো না। আমিও আজমীর শরীফ আসলাম, আর তুমিও চলে গেলে। এত কষ্ট পাওয়ার থেকে মনে হয় এই ভালো ছিল। আবার দেখা হবে হয়ত অন্য এক দুনিয়াতে, যেখানে থাকবে না কোনো রাজনীতি।' দেড় দশক আগে বিদিশার সঙ্গে এরশাদের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র ছেলে শাহতা জারাব (এরিক এরশাদ)। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যে এরশাদ ও বিদিশার বিচ্ছেদ ঘটে। রোববার সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত ১০ দিন ধরে এই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। গত ৪ জুলাই থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এরশাদ। তিনি রক্তের রোগ মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে ভুগছিলেন। তার আগে গত ২২ জুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়।
9
বাংলাদেশে বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জার্মান কোম্পানি হ্যাফলে একের পর এক বাসস্থান, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও কিচেন তথা রান্নাঘরে নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম, ফিটিংস, ফার্নিচার ও ইলেকট্রিক পণ্য নিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ওয়াশিং মেশিন, ডিশ ওয়াশার, ওয়াক ইন ক্লোসেট অ্যাকসেসরিজ, রি-ইনভেন্ট সিরিজ, ৩০০ কেজি উডেন স্লাইডিং ডোর-এসব পণ্য বাজার ছেড়েছে। হ্যাফলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বাংলাদেশে ডিজিটাল লক বা নিরাপত্তাব্যবস্থা, বার্নার ও কুকার হুড, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, বৈদ্যুতিক ওভেন, ডিপ ফ্রাইয়ার, বেকিং, গ্রিলিং ও বারবিকিউর বিভিন্ন সরঞ্জাম, স্লাইডিং ফোল্ডিংসহ এ ধরনের নানা পণ্য বাজারজাত করছে। এসব পণ্য বাজারজাতকরণে ইতিমধ্যে সারা দেশে তাদের ডিলার বা পরিবেশক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০। হ্যাফলে বাংলাদেশের স্টোর ম্যানেজার ফখরুল আমিন বলেন, ভোক্তাদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই নিত্যনতুন পণ্য আনা হচ্ছে। ফলে প্রিমিয়াম রান্নাঘর গড়ে তোলা ও বাড়ির সাজসজ্জায় বিশ্বমানের উপকরণের একটি ওয়ান-স্টপ সেন্টার বা এক জায়গায় সব পণ্য পাওয়ার অন্যতম এক ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে হ্যাফলে। তিনি আরও বলেন, ভোক্তারা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী হ্যাফলের পণ্য কিনে রান্নাঘরে ফিট করার জন্য স্টোরেজের একটি অংশ বা বসার ঘরে সুন্দর পার্টিশন দিতে কিংবা এমনকি ওয়ার্ডরোবের একটি অংশও সাজিয়ে তুলতে পারেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হ্যাফলের স্টেনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি আধুনিক বার্নার ও কুকার হুড ব্যবহার করে রান্নাঘর পরিষ্কার ও ধোঁয়ামুক্ত রাখা যায়। এগুলোয় কম সময়ে রান্না করা যায়, খাবারের মানও বজায় থাকে। কারণ, হ্যাফলের বার্নার ও কুকার হুড সব রকমের রান্নার পাত্রে সমানভাবে তাপ দেয়।
0
পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের মধ্যেই আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের কাছে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার কাবুলে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ঈদের নামাজ চলার মুহূর্তেই পরপর তিনটি রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে এখনো কোনো সংগঠন বিবৃতি দেয়নি। আফগান টিভি চ্যানেল তোলো নিউজের টুইটার একাউন্টে শেয়ার করা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের খোলা চত্ত্বরে ঈদের নামাজ আদায় করা হচ্ছে। নামাজের মধ্যেই প্রাসাদের কাছে পর পর তিনটি রকেট আঘাত হানার প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়। রকেট হামলা সত্ত্বেও স্থিরভাবে নামাজ আদায় করা হয়। পেছনের সারির দুই-তিনজন মুসল্লীকে নামাজ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে দেখা যায়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় কাবুলের সুরক্ষিত গ্রিনজোনে এই তিন রকেট আঘাত হানে। নামাজের পর প্রেসিডেন্ট গনি তার ঈদের ভাষণে হামলার জন্য তালেবানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামনে অগ্রসর হওয়ার কোনো ইচ্ছাই সংগঠনটির নেই। এর আগে রোববার কাতারের রাজধানী দোহায় আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার ও তালেবানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা শেষ হয়েছে। শনিবার ও রোববার, দুই দিনের আলোচনায় দুই পক্ষ কোনো মীমাংসায় পৌঁছাতে না পারলে আগামী সপ্তাহে আবার আলোচনায় বসতে সম্মতি জানায় উভয়পক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তালেবানের গত বছর স্বাক্ষরিত দোহা চুক্তি অনুযায়ী বিগত কয়েক মাস আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করে আসছে তালেবান। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত উভয়পক্ষ কোনো মীমাংসায় পৌঁছাতে পারেনি। গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুসারে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার চলছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুসারে ইতোমধ্যেই দেশটি থেকে ৯৫ ভাগ সৈন্য প্রত্যাহার শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে আফগান সরকারের সাথে সমঝোতা না হওয়ার জেরে সশস্ত্র সংগঠন তালেবান দেশটির বিভিন্ন স্থানের নিয়ন্ত্রণ নেয়া শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই দেশটির ৮৫ ভাগের বেশি এলাকা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার তথ্য জানিয়েছে দলটি। ২০০১ সালে মার্কিন আগ্রাসনের সময় আফগানিস্তানে ক্ষমতায় তালেবান সরকার প্রতিষ্ঠিত ছিল। ওই বছর ১১ সেপ্টেম্বর নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার জেরে ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন আগ্রাসন চালায়। ২০ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘ আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক নিরপত্তা সহায়ক বাহিনীর অবস্থানের অনুমোদন করলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের অংশীদার ৪৩টি দেশের সৈন্য দেশটিতে অবস্থান নেয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আলোচনার পর কাতারের রাজধানী দোহাতে এক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির অধীনে তালেবান সহিংসতা ছেড়ে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণে সম্মত হয়। বিনিময়ে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল বিদেশী বাহিনীকে এই বছর ১ মে সময়সীমায় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে গত ১৪ এপ্রিল হোয়াইট হাউজে এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নতুন করে এই সময়সীমা ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ান। বাইডেনের ঘোষণা অনুসারে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য ৩৫টি দেশের নয় হাজার পাঁচ শ' ৯২ সৈন্য প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের সাথে তালেবানের সমঝোতায় আসার কথা থাকলে এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। সমঝোতায় না পৌঁছানোর জেরে তালেবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। সমঝোতা না হওয়ার জন্য আফগান সরকারকে অভিযুক্ত করছে তালেবান। সূত্র : আলজাজিরা ও তোলো নিউজ
3
ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা এ কথা সবাই জানেন। এই খেলায় একটু ভুল করলে তার খেসারত দিতে হয় অনেক বেশি। তেমনি শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী মাহিন্দানদা আলুথগামাগে অভিযোগ করেছেন ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালটি ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল লঙ্কান ক্রিকেট দল। এমনকি তার এমন অভিযোগের পর থেকেই উত্তাল লঙ্কান ক্রিকেট। তবে সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রীর অভিযোগ বেশ ভালোভাবেই আমলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কান সরকার। তার মন্তব্যের জেরে প্রায় ৯ বছর আগের বিশ্বকাপ ফাইনালের সকল ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লঙ্কান সরকার বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রীকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী দুলাস আলাহপেরুমা জানিয়েছেন এ তদন্ত নির্দেশের কথা। ২০১১ সালে বিশ্বকাপে ফিক্সিং এর বিষয় সন্দেহের তীর তাক করা হয়েছে দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা এবং মাহেলা জয়াবর্ধনের দিকে। তারা দুজনই সাফ জানিয়েছেন, নিজের অভিযোগের পক্ষে যেন যথাযথ প্রমাণ দেখান মাহিন্দানদা। তাদের দুজনের সরব থাকার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রীর। এবার এ দুজনের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। জানতে চেয়েছেন, কারও নাম না বলার পরেও কেন এ অভিযোগটি সাঙ্গা-মাহেলার গায়ে লাগল? মাহিন্দানদার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাহেলা বলেছিলেন, মনে হচ্ছে নির্বাচন সামনে, তাই সার্কাস শুরু হয়ে গেল। তার মন্তব্যের জের ধরে সাঙ্গাকারা বলেন, 'আইসিসি এবং এন্টি করাপশন ও সিকিউরিটি ইউনিটের কাছে তাকে (সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী) প্রমাণ হাজির করতে হবে, যাতে করে এই অভিযোগ সম্পূর্ণরুপে তদন্ত করা যায়।' কথার জবাবেই ডেইলি মিররকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মাহিন্দনদা বলেছেন, 'মাহেলা বলল যে, সার্কাস নাকি শুরু হয়ে গেছে। আমি বুঝতে পারছি না সাঙ্গা ও মাহেলা এটার মধ্যে পড়ছে কেন? আমি তো আমাদের কোন খেলোয়াড়ের নাম বলিনি। প্রায় ত্রিশ মিনিটের সাক্ষাৎকার থেকে মাত্র দুই মিনিট নিয়ে কথা বলছে সবাই। অর্জুনা রানাতুঙ্গেও তো সেই ম্যাচের ফিক্সিং নিয়ে কথা বলেছিলেন।' মাহিন্দনদার এ মন্তব্যের পর চুপ থাকেননি মাহেলা। টুইটারে তিনি লিখেছেন, 'কেউ যখন বলে আমরা ২০১১ সালের বিশ্বকাপ বিক্রি করে দিয়েছি, তখন অবশ্যই এটা বড় ইস্যু। কেউ মূল একাদশের অংশ না হয়ে কীভাবে ম্যাচ ফিক্সিং করতে পারে? আশা করি নয় বছর পর হলেও আমরা আলোকিত হবো।'
12
মাধ্যমিক কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বয়ঃসন্ধিকালীন যৌন, প্রজননস্বাস্থ্য, অধিকার ও সবার জন্য জেন্ডার সমতা নিয়ে নির্মিত 'শাহানা' কার্টুনের নির্বাচিত পর্ব শ্রেণিকক্ষে ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে এটিকে ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণির অধ্যায়ের সঙ্গে ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।মাউশির এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইউএনএফপিএ (জাতিসংঘের জনসংখ্যা ফান্ড) নির্মিত 'শাহানা' কার্টুনের বিষয়বস্তু বয়ঃসন্ধিকালীন যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার এবং সবার জন্য জেন্ডার সমতা।সংযুক্ত পাঠপরিকল্পনা ও গাইডলাইন অনুযায়ী, শাহানা কার্টুন ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণির জাতীয় কারিকুলামের সহায়ক শিক্ষা উপকরণ হিসেবে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যবহার করা হবে। এরই মধ্যে কার্টুনটির সিডি (কমপ্যাক্ট ডিস্ক) প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতরণের লক্ষ্যে সব জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার এবং জেন্ডার সমতা বিষয়ক তথ্য কার্যকরীভাবে জানানোর লক্ষ্যে শাহানা কার্টুনের ছয়টি পর্ব সংযুক্ত পাঠপরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুযায়ী সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণির সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের সঙ্গে ব্যবহারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
1
পাকিস্তান সুপার লিগে খেলতে এসেছেন তিনি। তাকে ঘিরেই যেন সব আকর্ষণ। এমনিতে পিএসএলে তারকার ছড়াছড়ি। তবে সব কিছু ছাপিয়ে তিনিই যেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছেন চীনা ক্রিকেটার ঝাং। ঝাং এবার পিএসএলে পেশাওয়ার জাল্মির হয়ে খেলছেন। পিএসএলের ষষ্ঠ মৌসুমে চীনের ক্রিকেটার ঝাং ইফেংকে দেখতে ভিড় করছেন দর্শকরা। সেই ঝাংয়ের একটি পুরনো ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তাকে প্রশ্ন করছেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা। রমিজ তাকে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। তার মধ্যে একটি ছিল, চীনে ক্রিকেটকে কী নামে ডাকা হয়? সেই ভিডিও অস্ট্রেলিয়ার একজন সাংবাদিক শেয়ার করেছেন। রমিজ রাজা প্রথমে দর্শকদের সঙ্গে চীনের ক্রিকেটার ঝাংয়ের পরিচয় করান। তার পরই তার কাছে জানতে চান, চিনে ক্রিকেটকে কী নামে ডাকা হয়? ঝাং তখন জানান, চীনে ক্রিকেটকে 'বানছো' () নামে ডাকা হয়। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত
12
শৈল্পিক বাসার কারিগর বাবুই পাখি। শাহরাস্তি উপজেলায় বসবাস উপযোগী পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি। এক যুগ আগেও শাহরাস্তি উপজেলার সব জায়গায় চোখে পড়ত এ পাখি। কিন্তু এখন সারিবদ্ধ তালগাছের পাতায় ঝুলতে দেখা যায় না তাদের শৈল্পিক বাসা। কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয় না গ্রামবাংলার জনপদ।বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, কীটনাশকের ব্যবহার, শিকারিদের দৌরাত্ম্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাবুই পাখি বিলুপ্ত হতে বসেছে।জানা যায়, নিপুণ শিল্পকর্মে দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত বাসা তৈরির জন্য বাবুই পাখি বিখ্যাত। বাসা বানানোর জন্য বাবুই খুব পরিশ্রম করে। নলখাগড়া ও হোগলা পাতা দিয়ে বাবুই বাসা বুনে থাকে। সেই বাসা যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি মজবুত। শক্ত বুননের এই বাসা সহজে ছেঁড়া যায় না। অনেকে বাবুই পাখিকে তাঁতি পাখিও বলেন।বাবুই পাখি সাধারণত গ্রামের নারকেল, খেজুর, রেইনট্রি, আখ খেতে এবং বিশেষ করে তাল গাছে দল বেঁধে বাসা বোনে। এরা সাধারণত বিভিন্ন ফসলের বীজ, ধান, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু ও রেণু প্রভৃতি খেয়ে জীবনধারণ করে।এ বিষয়ে মেহের ডিগ্রি কলেজের জীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, ইট ভাটার দূষণ, মোবাইল টাওয়ারের তেজস্ক্রিয়তা ও ফসলের খেতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে খাদ্যাভ্যাস নষ্ট হয়ে পড়ে। এতে বাবুই পাখি প্রতিকূল পরিবেশ এবং খাদ্য সংকটে পড়ে বিলুপ্তির পথে।শাহরাস্তি উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাকসুদ আলম বলেন, সারা দেশে নির্ধারিত কিছু স্থানে উদ্ভিদ ও প্রাণীদের অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলেও গ্রামাঞ্চলে বাবুই পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণী নানাবিধ সংকটের কারণে বিলুপ্তির পথে। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতাই পারে এদের রক্ষা করতে।প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আরও বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা, প্রকৃতির বাস্তুসংস্থান (ইকো সিস্টেম) ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ও পরিবেশ দূষণের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি আজ বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে।
6
সম্প্রতি এক প্রমোদতরী থেকে আটক করা হয় বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানকে। এরপর তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় আদালত। তারপর থেকে কারাগারেই রয়েছেন তারকাপুত্র। এদিকে তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায়, আরিয়ান হেফাজতে থাকাকালীন তার সঙ্গে ছবি তুলেছেন এক ব্যক্তি। জানা গেছে, আরিয়ান খানের সঙ্গে সেলফি তোলা ব্যক্তির নাম কিরণ পি গোসাভি। প্রথমে ছবিটি ভাইরাল হওয়ায় মনে হয়েছিল তিনি কোনও এনসিবি কর্মকর্তা। পরে জানা যায় তার সঙ্গে এনসিবির কোনও সম্পৃক্ততা নেই। তবে তার নামে আগে থেকেই লুক আউট নোটিশ জারি করেছিল মহারাষ্ট্রের পুনে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণায় অভিযুক্ত কিরণ পি গোসাভি। যে প্রমোদতরী থেকে আরিয়ানকে গ্রেফতার করা হয় সেখানে কিরণ ছিলেন। কোনওভাবেই যেন সে দেশ ছাড়তে না পারে সেজন্য 'লুক আউট' নোটিশ জারি করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে জানা যায়। আর সেই প্রেক্ষিতে সোমবার কিরণের সঙ্গী শেরবানো কুরেশিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনিও চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণায় অভিযুক্ত। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে একটি প্রতারণা মামলা হয় কিরণের নামে। সেই সময় থেকেই তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছিল পুলিশ। বিডি প্রতিদিন/কালাম
2
দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধন চলছে। গত তিন দিন সূচক কমেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে। বাজারে তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, একটানা বড় উত্থানের পর তবে কি মূল্য সংশোধন শুরু হয়েছে? এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর না মিললেও বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষই চায় কিছুটা মূল্য সংশোধন হোক। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত তিন দিনে ৬০ পয়েন্ট কমেছে। আর লেনদেন কমেছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন শুরু হয় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়। কিন্তু সেই উত্থান বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১০ মিনিটের মাথায় সূচক কমতে শুরু করে। এভাবে কয়েক দফা সূচকের উত্থান-পতনের পর লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচকটি কমেছে ২৮ পয়েন্ট। আর দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩৮১ কোটি টাকা কম। সূচকের সামান্য সংশোধনে সবচেয়ে বেশি কমতে শুরু করেছে দুর্বল মানের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম। উত্থানপর্বে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। যেভাবে দাম বেড়েছিল মূল্য সংশোধন শুরু হওয়ায় তার চেয়ে বেশি গতিতে দাম কমতে শুরু করেছে এসব কোম্পানির শেয়ারের। ডিএসইতে গতকাল দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৬টিই ছিল দুর্বল মানের 'জেড' শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি। এর বাইরে গতকাল দরপতনের শীর্ষে ছিল নতুন তালিকাভুক্ত সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। গত দুই দিন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে। এর আগে টানা সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির ফলে ১০ কার্যদিবসে কোম্পানির ১০ টাকার শেয়ারের দাম ওঠে সাড়ে ২৫ টাকায়। গতকাল তা ১০ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ২২ টাকা ৪০ পয়সায়। এদিকে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই চায় কিছুটা মূল্য সংশোধন হোক বাজারে। তাদের মতে, সেটি বাজারের জন্যই ভালো। যেভাবে সূচক একটানা কয়েক হাজার পয়েন্ট বেড়েছে, তাতে শেয়ারের কিছুটা মূল্য সংশোধন দরকার। কারণ, একটানা মূল্যবৃদ্ধি কখনো সুস্থ বাজারের লক্ষণ হতে পারে না। শেয়ারবাজারের শীর্ষস্থানীয় একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মূল্য সংশোধন না হওয়ায় কারণে অযৌক্তিকভাবে কিছু শেয়ারের দাম ৫ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কারসাজির মাধ্যমেই এ ঘটনা ঘটেছে। আর তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। মূল্য সংশোধন না হলে এসব শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে। ঢাকার বাজারে গতকাল জেড শ্রেণির যেসব শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে তার মধ্যে রয়েছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ইমাম বাটন, মিথুন নিটিং, শ্যামপুর সুগার ও মেঘনা পিইটি।
0
বরিশালের হিজলা উপজেলার শেওড়া সৈয়দখালী পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতিসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হরিনাথপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাদল সিকদারের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর রাতভর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন-হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বিপ্লব খন্দকার, ভ্যানচালক মনির রাঢ়ী, জাকির হোসেন, সোলায়মান, মাইনউদ্দিন, মাহফুজ ও সৌরভ সিকদার।শেওড়া সৈয়দখালী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান পুলিশ সদস্যদের মারধরের অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা শতাধিক জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা সকলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মী।মিজানুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাদল সিকদারের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রায় ৩ শতাধিক নেতা-কর্মী হঠাৎ অতর্কিত হামলা করে। এ সময় কনস্টেবল মেহেদী হাসানকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করলে আমি তাঁদের বাধা দিতে চাইলে তাঁরা আমাকে মারপিট করে। পরে তাঁরা ফাঁড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তাঁদের এ হামলার ঘটনাটি ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরা ফুটেজে রয়েছে।'কনস্টেবল মেহেদী হাসান বলেন, 'গতকাল মাগরিবের পরে বাজার থেকে ফাঁড়ির দিকে আসছিলাম। হঠাৎ একটি ভ্যানগাড়ি সজোরে আমাকে ধাক্কা দেয়। তাই ভ্যানগাড়ি চালকের সঙ্গে রাগারাগি করেছিলাম। এ ঘটনাটি ভ্যানচালক নেতা-কর্মীদের জানালে তাঁরা আমাকে ফাঁড়ির মধ্যে এসে মারপিট করে গুরুতর আহত করে।'হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'হরিণাথপুরে হামলা ও পুলিশ সদস্যদের মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা শতাধিকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত ৭ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।'এদিকে, হরিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌফিকুর রহমান সিকদার বলেন, শনিবার হরিণাথপুর বাজারে স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠান শেষে রাত ৯টার দিকে ডেকোরেটরের চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য মালামাল একটি ভ্যানে ফেরত নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন হরিণাথপুর ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্য। তাঁদের একজনের গায়ে ভ্যানগাড়ির মালামালের ধাক্কা লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভ্যানচালক মনির রাঢ়ীকে বেদম মারধর করেন ওই দুই পুলিশ সদস্য। পরে মনির বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এসে কান্নাকাটি করে ঘটনাটি জানায়।চেয়ারম্যান তৌফিকুর রহমান সিকদার জানান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান থাকায় তখন বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দলীয় কার্যালয়ে ছিল। তারা ভ্যানচালকের মুখে নির্যাতনের কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে যান। তখন ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মী ও গ্রামবাসীর বাদানুবাদ হয়।চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, শনিবার দিবাগত রাত ১টার পর পুলিশ গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গ্রেপ্তার অভিযান চালায়। ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বিপ্লব খন্দকার ও ভ্যানচালক মনিরসহ আওয়ামী লীগের ৭ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. মতিউর রহমান বলেন, 'এক ভ্যানচালকের পক্ষ হয়ে স্থানীয় একদল যুবক ফাঁড়ির মধ্যে অনুপ্রবেশ করে পুলিশের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করেছে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।'
6
পাকিস্তানের এক প্রাদেশিক সর্বোচ্চ আদালত ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানে অ্যাপটির ওপর এক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার তিন মাস পর সোমবার নতুন করে এই এলো। দেশটির সিন্ধু প্রদেশের সর্বোচ্চ সিন্ধু হাইকোর্টে টিকটকের বিরুদ্ধে এক পিটিশনের শুনানিতে বিচারক আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত পাকিস্তানে ভিডিও অ্যাপটি স্থগিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেলকে আদেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ৮ জুলাই পিটিশনের সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেয়া হয়। আদালতে বাদি পক্ষের আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপনের সময় বলেন, টিকটকে কিছু 'অনৈতিক ও ইসলামের শিক্ষার বিপরীত' ভিডিওর বিষয়ে তার মক্কেল পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটির (পিটিএ) কাছে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করে। কিন্তু ওই বিষয়ে পিটিএ কোনো সাড়া না দেয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। এদিকে সোমবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে এক পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। পাঞ্জাবের পাকপাত্তান জেলার বাসিন্দা আলী জেব তার পিটিশনে অপরাধ বিস্তার ও শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের পরিবেশকে নষ্ট করার দায়ে টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের আইনের বিরোধী আত্মহত্যা চেষ্টার মতো বিষয়ও টিকটকে বিপুল পরিমাণে প্রদর্শিত হচ্ছে। এই আবেদনকারী টিকটকের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা ও এই প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা কনটেন্ট সেন্সরে সরকারকে আদেশের জন্য তার পিটিশনে আবেদন করেন। এর আগে এই বছরের মার্চে খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পেশোয়ার হাইকোর্টে 'অনৈতিক ও ইসলামের শিক্ষা বিরোধী' ভিডিও আপলোড করার জেরে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তবে এপ্রিলেই পিটিএকে 'অনৈতিক কনটেন্ট' রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় পেশোয়ার হাইকোর্ট। গত বছরের অক্টোবরে প্রথমবারে মতো টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় পিটিএ। তবে টিকটক কর্তৃপক্ষ 'অনৈতিক' কনটেন্ট সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। চীনের বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক পাকিস্তানে বিপুল প্রসারিতহয়েছে। দেশটিতে প্রায় তিন কোটি ৯০ লাখের বেশি বার অ্যাপটি ডাউনলোড করা হয়েছে। সূত্র : দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ও টাইমস অব ইন্ডিয়া
3
এ বছরের রমজান মাসের শেষ জুমা পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ। এ উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমসহ সব মসজিদে ঢল নামে মুসল্লিদের। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। রমজানের শেষ জুমা হিসাবে মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটির বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। জুমার দিনের স্বতন্ত্র ফজিলত অনেক বেশি। রমজানের প্রতিটি জুমা ফজিলত ও তাৎপর্যের দিক থেকে অনন্য। বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন
10
'এ কার তবে কান্না!/ গান কে গাহে,- গান না!' চম্পাঝিরিতে ম্রো বাঁশির প্লুং শুনে ভ্রমণসঙ্গীদের একজন স্মরণ করছিলেন জীবনানন্দ দাশের এই লাইনটি। সত্যি, বাঁশিতে এ কোন কান্না! এমন সুর বাজাতে অনেক বেদনা লাগে। কীসের বেদনা এত! এই বেদনায় কি বর্ণমালা হারানোর সেই পুরোনো গল্প লুকানো আছে, না হাল-আমলের উচ্ছেদ আতঙ্ক? প্লুং শব্দের বাংলা কি বাঁশি, না বাঁশের বাঁশি? বোধ হয় এর কোনোটাই নয়। ম্রোদের বিভিন্নজনের সঙ্গে আলাপে আমার মনে হয়েছে, এটা হবে বাঁশির অর্কেস্ট্রা বা ঐকতান। এই ঐকতান বা প্লুং বাজাতে ছোট থেকে বড় আকৃতির নানান ধরনের বাঁশি দরকার হয়। সেবার বন্ধু রূপা দত্তের ডাকে গিয়েছিলাম চম্পাঝিরিতে। চম্পাঝিরি বললে জায়গাটা চেনা কঠিন হবে। এটা আসলে বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের একটি ম্রোপাড়া। ইউনিয়নটি সর্বসাধারণের কাছে কেয়াজুপাড়া নামে পরিচিত এবং একটি বাজারও আছে এই নামে, যে বাজার থেকে পাহাড়ি পথে যেতে হয় চম্পাঝিরি। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত সরই ইউনিয়ন। আমরা গিয়েছিলাম ম্রোদের ঐতিহ্যবাহী গোহত্যা উৎসব বা চিয়াচটপ্লাই দেখতে। সেখানকার ম্রোরা নতুন ধর্ম ক্রামা অনুসারী হয়ে যাওয়ার পর থেকে এই উৎসবে গরুকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করার আদি রীতি রদ হয়েছে। চম্পাঝিরি পৌঁছাতে চাটগাঁর সজীবতা, এলোমেলো বহদ্দারহাট, পটিয়া, সাতকানিয়া সবই পেলাম। চান্দের গাড়ির ঝক্কি সামলাতে গা ব্যথা হয়ে গেল। রোদের বেলার চন্দ্রযান (চান্দের গাড়ি) ভ্রমণ তেমন সুখের হলো না। যাওয়ার পথে দেখলাম, পাহাড়ের পর পাহাড়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বিস্তার। পাহাড়ে দখলদারিত্ব নতুন কিছু নয়, দখল চলছে এখনও। গত নভেম্বরেও চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণের নামে উচ্ছেদ করা হয়েছে ম্রোদের। ওই দখলের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে রেং ইয়ং ম্রোচ্য নাংচেন বলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী একটা অসাধারণ বক্তব্য রেখেছেন। নাংচেনের ওই বক্তব্য আমার মর্মে লেগে আছে- 'নীলগিরি কোনোদিন আমাদের নাম ছিল না, চন্দ্রপাহাড় কোনোদিন আমরা চিনি না। আমরা শোং নাম হুং নামে চিনেছি, আমরা তেংপ্লং চুট নামে চিনেছি। এই শোং নাম হুং কীভাবে চন্দ্রপাহাড় হয়ে যায়, এই তেংপ্লং চুট কীভাবে নীলগিরি হয়ে যায়? এই জীবন নগর কীভাবে তোমাদের জীবন নগর হয়ে যায়? এই ভূমি, এই মাটির প্রতিটি ইঞ্চি আমাদের বাপদাদার সম্পত্তি।' রেং ইয়ং তার বক্তব্যে চিম্বুক পাহাড়ে একটাও প্রাইমারি স্কুল, একটাও হাইস্কুল না থাকায় আক্ষেপ জানিয়েছেন। সত্যি তো, যেখানে সরকারি কোনো স্কুল নেই, হাসপাতাল নেই, জলের ব্যবস্থা নেই, সেখানে পর্যটনের নামে জনপদ উজাড় করে কোন উন্নয়ন করা হচ্ছে? তাতে কারই বা ভালো হবে? বন-পাহাড় কাটতে পারি আমরা, বানাতে তো পারি না। জনজাতি উচ্ছেদ করতে পারি, যেমন এখন বান্দরবানে পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণের নামে করা হচ্ছে ম্রোদের, নতুন জাতি তো গড়তে পারি না। আমার জানা ছিল, ম্রোরা শুধু বান্দরবানেই বাস করে। ম্রো লেখক সিংইয়ং ম্রো জানালেন, ম্রোদের অল্প কিছু মানুষ আছে রাঙামাটির সীমান্তবর্তী অঞ্চলে, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে। এই ম্রো লেখক-গবেষকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে বান্দরবান জেলায় ম্রো জনসংখ্যা ৩৮ হাজার ২১ জন। তবে ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিল পরিচালিত শুমারি অনুযায়ী সংখ্যাটা ১৯৯৫ সালেও এর চেয়ে বেশি ছিল। ম্রোদের এই কাউন্সিল প্রতিবছরই নিজস্ব শুমারি করে থাকে এবং সর্বশেষ শুমারি অনুযায়ী ম্রো জনসংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি হবে। আমার অভিজ্ঞতা হলো, প্রচলিত নথিপত্রে সব সময়ই আদিবাসীর সংখ্যা, প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম দেখানো হয়। সেটা ম্রোদের বেলায় যেমন, তেমনই মান্দিদের বেলায়ও। সাঁওতালরাও মনে করে, তাদের সংখ্যাটা ঠিকঠাক তুলে আনা হচ্ছে না শুমারিতে। সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও নিজস্বতায় একেবারে স্বতন্ত্র ম্রোরা। ভাষা, খাওয়া-দাওয়া, রীতিনীতি- সব আলাদা। চম্পাঝিরির দিনরাতের প্রথম দিন চেষ্টা করেও ম্রোদের ঘরের ভেতরে বসবার অনুমতি পাইনি আমরা। শুধু বাঙালির থেকে নয়, অন্য পাহাড়িদের থেকেও আলাদা ম্রোদের জীবন। খুব নিঃসঙ্গ স্বভাব তাদের। নির্জনতাপ্রিয় এই মানুষদের সুর-সংগীতও বিশিষ্ট। নানা রকম পাহাড়ি লতা পেঁচিয়ে সুর তুলতে ওস্তাদ ম্রোরা। আগেই বলেছি, প্লুংকে আমার কাছে বাঁশের বাঁশির একটা অর্কেস্ট্রা মনে হয়েছে। ছোট থেকে বড় বাঁশিগুলো এ রকমভাবে বানানো হয় বোধ হয়, যাতে ছোট-বড় সবাই একসঙ্গে বাজাতে পারে। বাঁশকে ম্রোরা বলে কাও। বাঁশের বাঁশিকে প্রুই। প্লুং বাজানো বাঁশিগুলোও বাঁশের তৈরি। গোহত্যা উৎসবে যেটা বাজানো হয়, সেটা হচ্ছে প্লুংয়ের সেট। এক সেটে সর্বনিম্ন ১০টা বাঁশি থাকে। তবে পরিপূর্ণ সেটে ২৫ থেকে ৪৮ ধরনের বাঁশি থাকে। একেকটা বাঁশির একেকটা কাজ। সবচেয়ে বড়টা বেইজের কাজ করে, এগুলো গম্ভীর সুর সৃষ্টি করে। সবচেয়ে ছোটটা থাকে লিড সুর হিসেবে। প্লুংয়ের সঙ্গে সেই রাতে রাতভর শুনেছি স্তোত্রপাঠ। আদিবাসী শিশুদের জন্য গড়া রূপাদের স্কুলের একটা ঘরে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। সেটা ছিল ২০১৯ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে। পাহাড়ের নিয়ম অনুযায়ী দিনে রীতিমতো গরম লাগলেও রাতে বাঁশের বেড়া ও মাচান দেওয়া ঘরে ঠান্ডায় জমে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। হিমের রাতে প্লুংয়ের সুরকে বলতে না পারার কান্না বলে মনে হয়েছিল আমার। স্তোত্রপাঠে বলা হচ্ছিল সেই উপকথা, যে উপকথায় রয়েছে ম্রোদের বর্ণমালা হারানোর গল্প, অভিশপ্ত হওয়ার বেদনা। ম্রো উপকথা অনুযায়ী, ভগবান থুরাই সব জাতির উন্নয়নের জন্য পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন বর্ণমালা নিয়ে। অন্য সব জাতির প্রতিনিধিরা ঠিক সময়ে সেখানে উপস্থিত হতে পারলেও ম্রো জাতির প্রতিনিধির দেরি হয়ে গিয়েছিল যথাস্থানে পৌঁছাতে। থুরাই স্বর্গে ফিরে যাওয়ার আগে গরুর কাছে ম্রোদের বর্ণমালা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে যান। গরু বর্ণমালা নিয়ে যাচ্ছিল ম্রোদের কাছে। পথে খুব ক্ষিধে পাওয়ায় কলাপাতায় লেখা সেই বর্ণমালা খেয়ে ফেলে। অবশ্য বহুকাল পরে গত শতাব্দীর আশির দশকে মেনলে ম্রোর তৈরি করা ক্রামালিপি পাওয়ার পর বর্ণমালা না থাকার ওই আক্ষেপের অবসান হয়েছে। ম্রোদের বেশিরভাগই মেনলে ম্রো প্রবর্তিত ক্রামা ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। মেনলের তৈরি করা বর্ণমালাকে বলা হয় ক্রামালিপি। ক্রামা ধর্মানুসারীদের কাছে প্রেরিত পুরুষের মর্যাদায় অভিষিক্ত মেনলের খুব বেশি পড়াশোনা ছিল না। আশির দশকের মাঝামাঝিতে বান্দরবান সদরের সুয়ালক এলাকায় ম্রো আবাসিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর মেনলে এসেছিলেন পড়াশোনা করতে। বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় রীতিমতো অনশন করতে হয়েছিল তার পড়াশোনার সুযোগ আদায়ে। পড়াশোনা কম হলেও জাতিগত চিন্তাশীলতা আগে থেকেই ছিল মেনলের মনে। ম্রো জাতির জীবনে তিনি এক বড় জানালা খুলে দিলেন। তার প্রচারিত ক্রামা ধর্ম হয়তো পৃথিবীর সর্বশেষ ধর্মগুলোর একটি। মেনলের অন্তর্ধানও রহস্যঘেরা। তার অনুসারীরা মনে করেন তাদের ত্রাতা মেনলে আবার ফিরে আসবেন। ভীষণ অনুভূতিপ্রবণ, প্রখর গভীরতার এই রক্ষণশীল সমাজে প্রচলিত পড়াশোনার হার দ্রুত বেড়ে গেল। ভাষার মুক্তি এলেও মূলধারার সঙ্গে সংযোগ সুখের হয়নি তাদের। একের পর এক ম্রো গ্রাম বিলীন হচ্ছে, জলের অভাবে আর আগ্রাসনের প্রকোপে হারিয়ে যাচ্ছে ম্রো সভ্যতা। রূপাদের স্কুলে পৌঁছাতেই ম্রো শিশুদের দেখা পেয়ে ভালো লাগা পেয়ে বসেছিল। বেলাটাও পড়ে যাচ্ছিল তখন। ওই স্কুল বানাতে ওরা বেশ কিছু ওঠা-নামার পথ বানিয়েছে, জলের কল বসিয়েছে। তবে মোটামাথার পরিচয় দেয়নি এতটুকুও। পাহাড় সমান করেনি। পুরো পরিমণ্ডলটাতে কয়েকটা পাহাড়ের এঁকেবেঁকে মিশে থাকার ভঙ্গিটা অটুট আছে। স্নানের জন্য সঞ্জয়ের বানানো একটা ঢালু সিঁড়ি বেয়ে বহুদূর যেতে হলো আমাদের। স্কুলের বাচ্চারা ভোরে দূরের ঝরনা থেকে ফেরার পথে একটা করে কনটেইনার বয়ে আনে সারাদিনের জলচাহিদা মেটাতে। বিকেল থেকেই বাঁশির সুর শোনা গেল। এই সুর জানিয়ে দিল উৎসবের আয়োজন হচ্ছে যে গ্রামটায়, তার নিশানা। সন্ধ্যা হতেই বিষাদ ছেয়ে ফেলছিল। এমন বিষাদাক্রান্ত উৎসব আমি আর দেখিনি। হয়তো আমাকে না অনেককেই বিষাদ ছুঁয়ে গিয়েছিল সেই রাতে। সারারাত পাগলাটে সব ঘটনা ঘটছিল। শেক্সপিয়রের 'গ্রীষ্মের মধ্য রজনীর স্বপ্ন' মনে পড়ছিল আমার। পাহাড়ি নির্জনতা চারধারের ঘন অন্ধকারে বিরাজিত ছিল। তবুও উৎসবমুখর গ্রামটা সেদিন জেগেই ছিল। প্লুং বাজছিল। সবাই ঘুরে ঘুরে নাচছিল। বিষাদ ছেয়ে ফেলছিল আমাদের। সমস্ত পাহাড়কে। এত বেদনা কীসের? বাঁশির সুরেই বা এত বেদনা কেন? হয়তো সেই বেদনা অব্যক্ততার, অসহ্য কঠিন জীবনকে সংজ্ঞা না দিতে পারার, শেকড় থেকে উচ্ছেদের।
6
শিবচর (মাদারীপুর): বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে দীর্ঘ ৪৯ দিন পর লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে সোমবার (২৪ মে) ভোর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা লঞ্চে পার হতে শুরু করেছেন।এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে ৫ এপ্রিল থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এ সময়ে নৌরুটে শুধুমাত্র ফেরি চলাচল স্বাভাবিক ছিল। বিকল্প নৌযান না থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঈদে বাড়ি ফিরতে হয়েছে একই সঙ্গে ঈদের পর ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে।এদিকে লঞ্চ চলাচল শুরু করায় স্বস্তি দেখা দিয়েছে যাত্রীদের মধ্যে।বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু করায় যাত্রীরা ফেরির পাশাপাশি লঞ্চে পদ্মা নদী পার হচ্ছেন। ফলে ফেরিতে কমে এসেছে যাত্রী চাপ আর গাদাগাদি অবস্থা। যাত্রীদের বেশির ভাগই লঞ্চে পার হচ্ছে।লঞ্চ কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন, তাঁরা ঘাটে দাঁড়িয়ে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পরে লঞ্চ চালু হওয়ায় মালিক-শ্রমিকদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে।বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চ ঘাট সূত্রে জানা গেছে, নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ৮৬টি লঞ্চ রয়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল নৌরুটে। স্পিডবোট চলাচল বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও নিয়ম ভেঙে কিছু স্পিডবোট যাত্রী পারাপার করেছিল। এর মধ্যে ৪ মে স্পিডবোট দুর্ঘটনার পর নৌরুটে স্পিডবোট, ট্রলার চলাচল বন্ধ করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যায়। এরপর থেকে বন্ধ থাকে এসব নৌযানও।বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাট সূত্র জানিয়েছে, লঞ্চ চলাচল শুরু করায় ফেরিতে যাত্রীদের চাপ কমেছে। ফলে যানবাহন পারাপার সহজ হয়েছে।বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, 'ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচল শুরু করেছে। সোমবার ভোর ৬টায় বাংলাবাজার ঘাট থেকে লঞ্চ শিমুলিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে লঞ্চ চলাচল শুরু। লঞ্চ চালু হওয়ায় যাত্রীদের স্বস্তি ফিরেছে।
6
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) রেজাউল করিম চৌধুরী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বেসরকারিভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী (ধানের শীষ প্রতীক) ডা. শাহাদাত হোসেনের চেয়ে তিনি তিন লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। মোট ৭৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩৩টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা হয়েছে। আর দু'টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়েছে। ঘোষিত ফলে রেজাউল করিম চৌধুরী পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট। বুধবার রাত পৌনে একটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। এদিকে এ নির্বাচনে কাউন্সিলর নতুনের জয়জয়কার হয়েছে। ৩৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবকটিতে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ১৯টিতে জয় নতুনদের।আর এবারই প্রথম চসিকের কোনো ওয়ার্ডে জয় পাননি বিএনপির কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী।
6
ভারতের করোনা টিকা উৎপাদন জোরদার হলে তাঁরা বাংলাদেশকে চুক্তির টিকা সরবরাহে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি জানান, ভারত সফরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি ও টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় সেরকমই জানানো হয়েছে।আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে মন্ত্রীর বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এ কথা জানান তথ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি কাঁচামালের অপ্রতুলতার কারণে টিকা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। যা বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তাঁরা কাটিয়ে উঠবেন। আশা করি, ভারতে টিকা উৎপাদন জোরদার হলে তাঁরা বাংলাদেশে চুক্তির টিকা সরবরাহে সক্ষম হবে।মূল ভিডিও না পাঠালে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর বিদেশি চ্যানেল বন্ধএছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ নিয়েও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে আলোচনার কথা জানান তথ্যমন্ত্রী।তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ গত ৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরে পর্যন্ত ভারত সফরে ছিলেন। এসময় তিনি নয়াদিল্লিতে প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ায় বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব, সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে জানান মন্ত্রী।ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুরের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অগ্রগতি, আমাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু এবং ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর ৫০ বছর ২০২১ সাল যৌথ উদযাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেইসঙ্গে ১ অক্টোবর থেকে বিদেশি টিভির ক্লিন ফিড নিয়ে আইন কড়াকড়ি ভাবে প্রয়োগের বিষয়টিও ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে জানিয়েছি।
6
প্রযুক্তির উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে দেশ। প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। পরিবর্তন ঘটছে মানুষের জীবন ধারায়। কিন্তু পরিবর্তন ঘটছে না খাগড়াছড়ির মহালছড়ি সদর এলাকার দুই গ্রামবাসীর। উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুড়াপাড়া ও যৌথখামার ত্রিপুরা পাড়া পাশাপাশি দুটি গ্রাম। এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় আধুনিক ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির যুগে নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে দুই গ্রামের মানুষদের।মুড়া পাড়া ও যৌথখামার ত্রিপুরা পাড়ায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মহালছড়ি সদর থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে পাশাপাশি এ দুটি গ্রাম। বিদ্যুৎ না থাকায় ডিজিটাল যুগের ছোঁয়া পাচ্ছেন না দুই গ্রামের এলাকাবাসী। সদর থেকে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার দূরে দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে গেছে। কিন্তু সদরের এই দুই গ্রামে নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ। এই দুই গ্রামে রয়েছে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিসেফ পরিচালিত দুটি পাড়াকেন্দ্র,৩টি বৌদ্ধ বিহার, একটি হরি মন্দির ও একটি ত্রিপুরা ছাত্রাবাস। প্রযুক্তির উন্নয়নের ছোঁয়া না পেয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে পড়ে আছেন এই এলাকার মানুষগুলো।স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা বিনন্দ ত্রিপুরা বলেন, বিদ্যুতের জন্য দুই গ্রামবাসী দীর্ঘদিন থেকে দাবি করে আসছি। কিন্তু কোন সুফল পাচ্ছি না। গ্রামের পাশ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন গেলেও বিদ্যুৎ পাচ্ছি না আমরা। ফলে শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়ে লেখাপড়া করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও বিদ্যুৎ না থাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ দুই গ্রামে ৩ শতাধিক পরিবারের বসবাস। আজ এ মানুষগুলো বিদ্যুতের অভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এই দুই গ্রামে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য দোঅংপ্রু মারমা বলেন, এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রাঙামাটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ বিভাগে ২০১৭ সালে আবেদন করা হয়েছিল। ওই বিভাগের একজন কর্মকর্তা সরেজমিনে এসে পরিদর্শন করে গেছেন। তখন বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এরপর অনেকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু আজ অবধি কোন খবর নেই। একটা বিষয় নিয়া কত আর যাওয়া যায়? এখন আর যোগাযোগ করিনা।এই দুই গ্রামে বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ না থাকাটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন মহালছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বিষয়টা গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে।এ বিষয়ে মহালছড়ি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ইরাতোষ চাকমার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিষয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি। তবে তিনি রাঙামাটি বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
6
প্রকৃতির আশীর্বাদ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। আজ পঞ্চম ও শেষ দিন সাতসকালেই গুটিয়ে গেছে মুমিনুল হকের দল। পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ হাসানের তোপে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় ৮৭ রানে। অবধারিতভাবেই স্বাগতিকদের ফলোঅন করিয়েছে পাকিস্তান।দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমেও বেহালদশা বাংলাদেশের। স্কোর বোর্ডে ২৫ রান যোগ হতেই আউট টপ অর্ডারের চার ব্যাটার। পরে পঞ্চম উইকেট জুটিতে উইকেটের লাগাম টেনে ধরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও আগের টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাস। ৪২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ইনিংস হার ঠেকাতে লড়ছেন তাঁরা।এই জুটির ওপর দাঁড়িয়ে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে শেষ দিনের মধ্যাহ্নভোজে গেছে বাংলাদেশ দল। দলের সংগ্রহ এখন ৪ উইকেটে ৭২। মুশফিক ১৬ ও লিটন ২৭ রানে অপরাজিত আছেন। সম্ভ্রম বাঁচাতে এই দুজনই আশার আলো হয়ে আছেন উইকেটে। চট্টগ্রাম টেস্টেও তাদের ব্যাটে অনেক দূর এগিয়েছিল বাংলাদেশ।শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ফলোঅন এড়াতে বাংলাদেশকে করতে হতো ১০১ রান। কিন্তু ১৪ রান আগেই থেমেছে মুমিনুলেদের প্রথম ইনিংস। ৮ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে আগাগোড়া ধসিয়ে দিয়েছেন স্পিনার সাজিদ খান। অন্য উইকেটটি শাহিন শাহ আফ্রিদির।দ্বিতীয় ইনিংস অবশ্য স্পিন নয়, পেস আক্রমণ দিয়ে শুরু করে পাকিস্তান। আফ্রিদি ও হাসান আলীর তোপে শুরুতে কোনো জবাব ছিল না বাংলাদেশের ব্যাটারদের। দ্বিতীয় ইনিংসে দুটি করে উইকেট নেন এই পেস যুগল। সাদমান ইসলাম (২) ও নাজমুল হোসেন শান্তকে (৬) ফেরান আফ্রিদি। মাহমুদুল হাসান জয় (৬ ) ও মুমিনুল (৭) হাসানের শিকার।
12
বিকেল ৩টার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীসহ সকলের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞার নোটিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকগুলোতে টাঙানো হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে প্রশাসন বলছে- ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফটকগুলোতে ঝোলানো ওই নোটিশে লেখা আছে, 'করোনাজনিত কারণে বিকেল ৩টার পর থেকে শিক্ষার্থীসহ বহিরাগত ও দর্শনার্থী কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না।' নোটিশটি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা প্রবেশ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছেন। এতে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিকেল তিনটার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের কারো জরুরি প্রয়োজন থাকলে গেটম্যানকে আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। আমি গেটম্যানকে নির্দেশনা দিয়ে দিচ্ছি।
6
মানিকগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের সময় পেটে টিউমার রেখেই সেলাই করার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এতে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি সার্জারি বিশেষজ্ঞ রুমা আক্তারকে প্রধান করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।জানা যায়, গত শুক্রবার সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গী এলাকার মাসুদ রানার মেয়ে আফরোজা আক্তারকে মানিকগঞ্জ সদরের হেলথ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আফরোজার কন্যাসন্তান প্রসব করানো হয়। এ সময় ওই নারীর পেটে টিউমার দেখতে পান ডা. খায়রুল হাসান। টিউমারটি অপসারণের জন্য আফরোজার স্বজনদের কাছে তাৎক্ষণিক ৩ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি।টাকা জোগাড় করতে বিলম্ব হওয়ায় প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর রোগীর পেটে টিউমার রেখেই সেলাই করেন ডা. খায়রুল। আফরোজার টিউমার অপসারণ না করার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
6
দীর্ঘমেয়াদি লকডাউন কোনো সমস্যার সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শুক্রবার দুপুরে ১২টার দিকে ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে করোনা কিট প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে প্রচুর মানুষ দিন আনে দিন খায়। করোনা ভাইরাসের শুরুতে যারা আমাদের সমালোচনা করে তারাসহ অনেক বিদেশি মিডিয়াও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল, বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। করোনা ও অনাহারে রাস্তায় লাশ পড়ে থাকবে। আল্লাহর অশেষ রহমত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের ফলে তেমন হয়নি। করোনার ১৪ মাসে একজন লোকও না খেয়ে মারা যায়নি। এসময় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির কো-অর্ডিনেটর সুজিত রায় নন্দীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
9
সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর রুশরা দেশের বাইরে এ পর্যন্ত অনেক সামরিক অভিযান চালিয়েছে। জর্জিয়া (২০০৮), ক্রিমিয়া (২০১৪), বেলারুশ (২০২০), কাজাখস্তানের (২০২২) পর ইউক্রেনের (২০২২) জমিনে নেমেছে তাদের জওয়ানেরা। কোথাও দেশ দখল, কোথাও কোনো দেশের অংশবিশেষ দখল, কোথাও নিজের পছন্দের একনায়ককে জনরোষ থেকে রক্ষা, কোথাও 'স্বাধীনতা'কে মদদ দিতে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। নিজদের সীমানার চারদিকে রাশিয়ার ধারাবাহিক এসব সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য পশ্চিমের প্রচারমাধ্যম বর্তমানে এককভাবে পুতিনকে একজন যুদ্ধবাজ উত্তেজক শাসক হিসেবে তুলে ধরছে। তাঁকে 'যুদ্ধাপরাধী'ও বলতে চাইছে তারা। কিন্তু বাস্তবে রাশিয়ার দিক থেকে এসব অভিযান কোনো একক ব্যক্তির সামরিক রোমাঞ্চ নয়। প্রতিটি অভিযানের পেছনে আছে রুশদের ভবিষ্যৎ ভৌগোলিক পরিকল্পনার ব্যাপক সমন্বিত ভাবনাচিন্তা। রাশিয়ার চলমান সমরদর্শনকে বুঝতে আমাদের পুতিনের দিক থেকে মনোযোগ ফিরিয়ে তাকাতে হবে আলেকসান্দর দাগিনের দিকে, পুতিনের অন্যতম উপদেষ্টা যিনি। ৬০ বছর বয়সী দাগিনকে বলা যায় চলতি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের শিরোমণি। সমালোচকেরা তাঁকে উগ্র জাতীয়বাদী বলেন বটে, কিন্তু রুশ শাসকশ্রেণির ওপর তাঁর ব্যাপক প্রভাবকে অস্বীকার করেন না। দাগিন অত্যন্ত মেধাবী পুরুষ। বহু ভাষায় অনর্গল বলেন। একসময় মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন। দাগিনের নিজস্ব ওয়েবসাইটটি (দ্য ফোর্থ পলিটিক্যাল থিওরি) কয়েক ডজন ভাষায় তাঁর চিন্তাকে ছড়িয়ে চলেছে। ওই ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে দাগিন নিজের সম্পর্কে লিখে রেখেছেন, 'যিনি বাম ও ডানের সীমানায় আটকে নেই-তবে অবশ্যই মধ্যপন্থীদের বিরুদ্ধে'! 'মধ্যপন্থী' বলতে দাগিন উদারনৈতিক গণতন্ত্রীদের বোঝান। দাগিনের স্বঘোষিত 'প্রতিপক্ষ' উদারনৈতিক-গণতান্ত্রিক আদর্শ আর এই আদর্শের বড় কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে আমেরিকা। মস্কোতে জন্ম নেওয়া দাগিন বড় হয়েছেন সমাজতন্ত্রের বিরোধিতার মধ্য দিয়ে। তবে সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি গণতন্ত্রমুখী হননি, বরং ইউরোপের দক্ষিণপন্থী বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে ভাব করেছেন ধীরে ধীরে। নিজের রাজনৈতিক দর্শনে যুক্ত করেছেন আধ্যাত্মবাদ ও ধর্মকে। তাঁর পাঠক ও শ্রোতাকে সব সময় 'পুরোনো সোনালি দিনগুলো'-র স্বপ্ন দেখান দাগিন-যেখানে চলতি উদারনৈতিক গণতন্ত্র থাকবে না, যেখানে 'রাষ্ট্র' হবে সর্বেসর্বা, যেখানে প্রচারমাধ্যম কেবল 'জাতীয় স্বার্থ'-এর কথা শোনাবে। এ রকম এক ভবিষ্যৎ ত্বরান্বিত করতে দাগিন রাজনৈতিক কাজে হাত লাগানোর তাগিদ দেন সবাইকে; বিশেষ করে রুশদের। সেই তাগিদের ফসল তাঁর 'ফাউন্ডেশন অব জিওপলিটিকস' গ্রন্থ। এখানে তিনি দেখান কীভাবে রাশিয়াকে আবার আশপাশের অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জায়গায় যেতে হবে। বইটি দ্রুত রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠানে পাঠ্য হয়ে গেছে। রাশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের জেনারেলদের সঙ্গে নিয়ে দাগিন যৌথভাবে অনেক কিছু লেখেন প্রায়ই। এতে তাঁর প্রভাববলয় সম্পর্কে ভালোই ধারণা মেলে। প্রথম জীবনে দাগিন ন্যাশনাল বলশেভিক পার্টির ব্যানারে ভোটাভুটির রাজনীতিতে নেমেছিলেন। সুবিধা করতে পারেননি। এরপর তিনি পুরো রাজনৈতিক কৌশল পাল্টান। মেঠো রাজনীতির বদলে রাশিয়ার শাসক এলিটদের উগ্র জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শ দিয়ে প্রভাবিত করার পথে নামেন এবং সফল হন। দাগিন তাঁর এই কৌশলের নাম দিয়েছেন অধিরাজনীতি (মেটা-পলিটিকস)। তাঁর মতে, রাজনীতিতে সফল হওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পাল্টানো এ সময়ে জরুরি। এ কাজকেই তিনি বলছেন অধিরাজনীতি। ইউরোপে অনেকে দাগিনের এই অধিরাজনীতিকে আন্তোনিও গ্রামসির হেজিমনি তত্ত্বের একধরনের নবায়িত রূপ হিসেবে দেখছেন। যদিও গ্রামসির শ্রেণি লক্ষ্য দাগিনের বিপরীত; সে জন্য দাগিনকে 'দক্ষিণপন্থী গ্রামসি'ও বলা হচ্ছে। দাগিন মনে করেন, সাম্য ও সমানাধিকার একটা বাতিল ধারণা। ইউরোপকে এখন মনোযোগ দিতে হবে 'ইউরেশিয়া' সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায়, যে সাম্রাজ্যে নায়কের আসনে থাকবে রুশরা। অর্থাৎ এটা হবে 'বৃহত্তর এক রাশিয়া', যে সাম্রাজ্যে দাপট থাকবে কেবল পুরোনো ধর্ম ও রাজনৈতিক কাঠামোর। অর্থাৎ রাজনীতি ও প্রশাসনে রাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য, ধর্ম ও চার্চের প্রভাব ফিরিয়ে আনতে চান দাগিন। পুরোনো সামাজিক বন্ধনকে খাটো করে এমন সব নাগরিক স্বাধীনতার বিপক্ষে তিনি। এ রকম ভাবনার কারণে দাগিনকে রাশিয়ার বাইরে ইউরোপের অনেক উগ্র জাতীয়তাবাদীও গুরু মানছে। তুরস্কের জাতীয়তাবাদীদেরও তিনি বেশ আকর্ষণ করছেন। দাগিনের প্রভাব বাড়ছে আমেরিকার রিপাবলিকানদের ওপরও। ট্রাম্প যে 'লৌহমানব' পুতিনের ক্রমাগত প্রশংসা করতেন এবং নিজেও ওই রকম এক শাসক হওয়ার গোপন বাসনা পোষণ করতেন, তাতে দাগিনের অবদান আছে। পুতিনকে 'লৌহমানব' করে তুলেছে দাগিনের দর্শন। আর দাগিন নিজে তৈরি হয়েছেন ইতালির ফ্যাসিস্ট জুলিয়াস ইভোলার আদর্শিক প্রভাবে। ইভোলাকে মনে করা হয় আধুনিক ইউরোপের ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের অন্যতম গুরু। এই ইভোলার ভক্ত আবার যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকানদের অনেকে; বিশেষ করে স্টিভ ব্যানন, যে ব্যানন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তাত্ত্বিক গুরু ছিলেন। এদিক থেকে দাগিন ও আমেরিকার অনেকের মধ্যে দার্শনিক দূরত্ব বেশি নয় এবং তাঁরা পরস্পরের চেনাজানা। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে পুতিনকে নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার সাংবাদিকদের লেখায় বিদ্বেষের ঝাঁজ বেড়েছে। তবে এটুকু মোটেই মিথ্যা নয়, পুতিনের ভাবনা-চিন্তা-সিদ্ধান্তে দাগিনের বেশ প্রভাব আছে। কেউ কেউ দাগিনকে বলছেন পুতিনের 'রাসপুতিন'। আরও বেশি খোঁজখবর রাখা ব্যক্তিরা বলছেন দাগিন হলেন 'পুতিনের মস্তিষ্ক'। লেনিন-ট্রটস্কিদের বিপ্লবের আগে রাশিয়ার রাজতান্ত্রিক দিনগুলোয় শাসক জার-পরিবারে পুরোনো রাসপুতিনের প্রভাবের কথা সবার মনে আছে। অদ্ভুত ব্যাপার, সেই রাসপুতিন ও আজকের দাগিনের চেহারায় অবিশ্বাস্য মিল। জারদের আমলের রাসপুতিন যেভাবে শাসকদের সম্মোহিত করতেন, দাগিনও একালের রাশিয়ার অভিজাতদের আরও বড় সাম্রাজ্যের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। দাগিনের ১৯৯৭ সালে লেখা 'ফাউন্ডেশন অব জিওপলিটিকস' বইটিকে পুতিনের গত ২০ বছরের বিদেশনীতির গাইড বই হিসেবে গণ্য করা যায়। অন্যভাবে বললে, দাগিনের 'স্বপ্ন' বাস্তবায়ন করতেই হয়তো পুতিনকে দুমার সাহায্য নিয়ে সংবিধানে অদল-বদল ঘটিয়ে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে হবে; ১৯৯৯ সালে শুরু হয়ে ইতিমধ্যে যে শাসনের প্রায় দুই যুগ হতে চলল। রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনে ঢুকে পড়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিস্ময় তৈরি হলেও এ ঘটনা যে ঘটানো হবে, সেটা দাগিন ২০০৮ সালেই বলে রেখেছিলেন। সে সময় জর্জিয়ায় রুশদের অভিযানের সময় দাগিন দক্ষিণ ওশেতিয়ায় গিয়েছিলেন এবং জর্জিয়ায় তাঁর দেশের সামরিক অভিযান সমর্থন করতে গিয়ে বলেছিলেন, 'তিবলিশ, ক্রিমিয়া, ইউক্রেনসহ এসব অঞ্চল রুশদের।' সর্বশেষ আগ্রাসনকালে ইউক্রেনের দুটি অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন হতে পুতিন যেভাবে উৎসাহ জোগালেন, ঠিক সেভাবেই ২০০৮ সালে দক্ষিণ ওশেতিয়াকে 'স্বাধীন' করে রাশিয়া নিজ কবজায় নেয়। দাগিন সে সময় দক্ষিণ ওশেতিয়ায় রকেট লাঞ্চার হাতে প্রতীকী ছবি তোলেন এবং সেটা ইন্টারনেট জগতে তুমুল সাড়া ফেলে। স্বাধীনতাসংগ্রাম'গুলোকে দাগিন মনে করেন 'রুশ বসন্ত'। জর্জিয়ার দক্ষিণ ওশেতিয়া, ইউক্রেনের লুহানস্ক, দোনেৎস্ক ইত্যাদি এলাকায় যারা রুশ বসন্তের গোড়াপত্তন করেছে, সবাই দাগিনের ভক্ত। দাগিন আলাপ-আলোচনায় বরাবরই ইউক্রেনকে 'নিউ রাশিয়া' বলতেন। পুতিনও এখন সেটাই অনুসরণ করেন। জর্জিয়ায় সেনা প্রেরণকালে দাগিন পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির উপদেষ্টা ছিলেন। আর এখন তাঁকে পুরো রাশিয়ার সমরদর্শনের মুখপাত্র মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া যখন জর্জিয়ায় সেনা পাঠায়, দাগিন সে সময় ২০০ 'স্বেচ্ছাসেবক' নিয়ে ওখানে সেমিনার করে বলছিলেন, এই লড়াই দুটি 'সভ্যতার সংঘাত। আমাদের আমেরিকার হেজিমনি শেষ করতে ইউক্রেন পর্যন্ত যেতে হবে' (স্পাইজেল, ২৫ আগস্ট ২০০৮)।২০১৪ সালের ১০ জুলাই বিবিসিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে দাগিন আরেকবার খোলামেলাভাবে পুতিনকে ইউক্রেন দখলের আহ্বান জানান। সে সময় তাঁর যুক্তি ছিল, 'রাশিয়াকে তার নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে ইউক্রেন পেতে হবে।' দাগিনের কথা রেখেছেন পুতিন। পুতিনের এসব অভিযান দাগিনের সুপারিশমতো 'বৃহত্তর রাশিয়া' গড়ারই পদক্ষেপমাত্র। ক্রিমিয়ার মতো ইউক্রেন অভিযানের পর বিভিন্ন জরিপে রাশিয়াজুড়ে জনগণের মধ্যে পুতিনকে পছন্দের হার বেড়েছে। এভাবেই দাগিন-পুতিন মৈত্রীর ভেতর দিয়ে নতুন শতাব্দীতে নতুন রাশিয়ার নবজন্ম হচ্ছে, যা ১৯৯০ সালে ভেঙেপড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের চেহারার একদম বিপরীত। ইউক্রেন অভিযান কতটা সুপরিকল্পিত, সেটা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রশ্নে দাগিন-পুতিন জুটির অভিমত দেখেও বোঝা যায়। এ অবরোধকে এই জুটি নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। দাগিনের মতে, এ রকম অবরোধ তাঁদের অনুমানে ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রধানত রাশিয়ার বড় ধনীরা, যারা রাজনৈতিক বিশ্বাসে উদার গণতন্ত্রী এবং পশ্চিমের মিত্র। তাদের দুর্বল হওয়া রাশিয়ায় 'দেশপ্রেমিক'দের শক্তি জোগাবে। দাগিনকে নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকা উদ্বিগ্ন। অন্তত এসব দেশের ভাবুকদের বিভিন্ন লেখনীতে সেটা স্পষ্ট। বিশেষ করে দাগিন তাঁর আলোচনায় রাশিয়ার বর্তমান নেতৃত্বকে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নজর রাখতে বলেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উদ্বেগের শেষ নেই। সেখানে অনেকের অভিমত, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য হিলারির প্রচারণায় রাশিয়ার নাক গলানোর কারণ আসলে দাগিনের দার্শনিক উসকানি। যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী 'কেকেকে'-র সঙ্গে দাগিনের দহরম-মহরম প্রকাশ্যেই দেখা যায়। দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের বিরোধিতা করতে গিয়ে দাগিন এও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদারনৈতিক আদর্শ আর কিছু নয়, স্বর্গে যাওয়ার পথে এক বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতামাত্র। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আন্তজাতি বিভেদেও রুশদের নাক গলাতে বলেন। এগুলো তাঁর কাছে রাশিয়ার 'কেন্দ্রীয় কাজ'। এ রকম কাজের জন্য এক শক্তিশালী 'রাজত্ব' দরকার। সেই লক্ষ্যে যে পুতিন ইউক্রেনে হাত বাড়িয়েছেন, তাতে রাশিয়ার শাসক-কুলীনদের অন্তত সন্দেহ নেই। দাগিন মনে করেন, রাশিয়ার রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত-একদিকে আছে উদার গণতন্ত্রীরা, অন্যদিকে দেশপ্রেমিকেরা। ইউক্রেন অভিযান দেশপ্রেমমূলক এক অগ্রাভিযানমাত্র। দাগিনের এই বয়ানে ভয়ের দিক হলো এটা ১৯৩৩ সালের ইতালি ও জার্মানির কথা মনে করিয়ে দেয় বিশ্বকে। ইউক্রেন যুদ্ধ সে কারণেই হয়তো দীর্ঘস্থায়ী এক বৈশ্বিক দুর্ভোগের সামান্য সূচনামাত্র। একই কারণে আলেকসান্দর দাগিনের প্রতি নজর রাখাও এ মুহূর্তে বিশেষ জরুরি। আলতাফ পারভেজ ইতিহাস বিষয়ের গবেষক
8
উত্তাল পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে মায়ের সঙ্গে বাড়ি যেতে ভয় হয় ছোট্ট শিশু শীর্ষেন্দুর, সে জন্য সেতুর দাবিতে চিঠি লেখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। চিঠির জবাবে সেতু করার আশ্বাস দিয়ে ফিরতি চিঠি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেই প্রতিশ্রুতির সেতু বাস্তবায়নের পথে বাংলাদেশ কোরিয়ার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। প্রায় ১৭০০ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪২ কোটি টাকা।গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেতু ভবনে কোরিয়ান সামহোয়ান করপোরেশন এবং বাংলাদেশের মীর আখতার জয়েন্ট ভেঞ্চারের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।ওবায়দুল কাদের বলেন, 'পটুয়াখালীর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠির মাধ্যমে আবেদন করে এবং তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।'ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, 'বঙ্গবন্ধু কন্যা, বাঙালির আস্থার প্রতীক এ শিশুটির আবেদনে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে সেটি আবারও প্রমাণিত হলো, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।'এদিকে সেতু হওয়ার খবরে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ উপকূলের মানুষের যেন আনন্দের সীমা নেই। সেদিনের ছোট্ট শিশু এখন সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। ২০১৬ সালে পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ সড়কের পায়রা নদীর পায়রাকুঞ্জ এলাকায় সেতুর দাবিতে চিঠি লিখেছিল। শীর্ষেন্দুর কাছে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সেতুটির কাজ শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।এতে আনন্দিত স্কুলছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। শীর্ষেন্দু বিশ্বাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'অনেকেই আমাকে বলত তোমার চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী যে সেতুর কথা বলছেন তা হবে না, এত বড় নদীতে সরকার কেন সেতু করবেন। আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে সেতু। অনেকেই ফেসবুকে জানতে চাইত, কীরে তোর সেতুর খবর কী? এই প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যেতে অনেক সময় ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভ করে রাখতাম। তবে সেইসব দিনের অবসান হয়েছে।'শীর্ষেন্দু বিশ্বাস আরও বলে, 'এখন সবাই বলছে সেতু হবে। হয়তো এই বছরেই কাজ শুরু হবে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন তিনি মানবতার জননী। তাইতো আমাকে দেওয়া কথা তিনি রেখেছেন, ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।'মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান মো. আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, 'মির্জাগঞ্জ উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের সেতুটি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। ছোট একটি শিশুর চিঠির জবাবে প্রধানমন্ত্রী পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।'সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী-লোহালিয়া-কালাইয়া সড়কের ১৭ কিলোমিটারে পায়রা নদীর ওপর পায়রাকুঞ্জ নামক স্থানে সেতু নির্মাণ করা হবে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪২ কোটি টাকা। সেতুর প্রাথমিক ডিজাইন অনুযায়ী সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ১ হাজার ৬৯০ মিটার। এর মধ্যে মাঝের ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৯টি স্প্যান এবং উভয় প্রান্তে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ২টি স্প্যান ও ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের ২৩টি স্প্যান রাখা হয়েছে। ২০২০ সালে মার্চে একনেক সভায় সেতু নির্মাণের ডিপিপি অনুমোদিত হয় এবং সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে ২০২৫ সালের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার বিষয়ে আশাবাদী সেতু কর্তৃপক্ষ।
6
জাপান সাগরের আকাশে রাশিয়ার সাথে যৌথ বিমান মহড়া চালিয়েছে চীন। দু'দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে এ মহড়া চালানো হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। খবর দিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাপান সাগরের আকাশে রাশিয়া ও চীনের জঙ্গিবিমানের উড্ডয়ন একটি কৌশলগত পদক্ষেপ এবং এর মাধ্যমে তৃতীয় কোনো দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না। গত কয়েকদিন ধরে চীনের দক্ষিণ সীমান্তের কাছে জাপান সাগরের আকাশে রাশিয়া ও চীনের যুদ্ধবিমানগুলো যৌথ মহড়া চালায়। চীনের ভাষ্য, 'বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করতে দু'দেশের যুদ্ধবিমানগুলো একটি নিয়মিত টহলে অংশ নিয়েছে এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।' এর আগে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, পূর্ব চীন সাগর ও জাপান সাগরের আকাশে চীনা যুদ্ধবিমানগুলোর সাথে এক স্কোয়াড্রন রুশ জঙ্গিবিমান মহড়ায় অংশ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই মহড়া চালানো হয়েছে, দাবি চীনের। সূত্র : পার্সটুডে
3
ফরাসি লিগ ওয়ানে লিওঁর বিপক্ষে মাউরো ইকার্দির শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। এতে ৬ ম্যাচের সবকটি জিতে লিগের শীর্ষে রয়েছে পিএসজি। পিএসজির হয়ে ঘরের মাঠে অভিষেক ম্যাচেও গোল-এসিস্ট কিছু পেলেননা আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তাই আর্জেন্টাইন এই তারকার জাদু দেখতে আরো অপেক্ষা বাড়লো ভক্তদের। অবশ্য খেলার ৭৫ মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ পচেত্তিনো, যেটা ভালো লাগেনি সবশেষ কোপা আমেরিকার সর্বোচ্চ গোলদাতার। তখন গোল ব্যবধান ছিল ১-১। এমতাবস্থায় কেন তাকে তোলা হলো, নিয়ে ফুটবলবিশ্বে চলছে আলোচনা আর সমালোচনা। অবশেষে সে বিষয়ে মুখ খুললেন পিএসজির কোচ। পচেত্তিনো বলেন, 'অনেক সময় এসব সিদ্ধান্তে ভালো ফল আসে। আর এসব সিদ্ধান্তের জন্যই আমরা ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকি। এই সিদ্ধান্তগুলো আমাকে নিতেই হবে, সেটাতে শেষ পর্যন্ত ভালো হোক বা না হোক, সেটা আপনার পছন্দ হোক বা না হোক।' তিনি আরও বলেন, 'আমার মনে হয়, আমরা সবাই জানি যে আমাদের ৩৫ জনের স্কোয়াডে দারুণ সব ফুটবলার আছে। কেবল ১১ জনই একসঙ্গে খেলতে পারে। এর বেশি খেলানো সম্ভব নয়। মাঠের সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয় দল ও প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভালোর জন্যই।'
12
ঘুষ নেয়ার মামলায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক (বরখাস্ত)এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ শেখ নাজমুল আলমের আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা। তার জবানবন্দি নেয়ার পর আসামিপক্ষের জেরা শুরু হয়। তবে তা আজ শেষ হয়নি। অসমাপ্ত এই জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা এ মামলায় গত ১৯ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ মামলাটি বিচারের জন্য চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। ৪০ লাখ টাকার ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যলয়-১ এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে এ মামলা করেছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন শেখ মো. ফানাফিল্লাহ। ৯ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। এরপর আদালত চার্জগঠনের তারিখ ধার্য করে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বদলির আদেশ দেন। গত ১৮ মার্চ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জগঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন আদালত। ওইদিন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৩ মার্চ দিন ধার্য করেন আদালত। তবে করোনা পরিস্থতিতে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ আর শুরু হচ্ছিল না। এরপর গত ৫ আগস্ট থেকে নিয়মিত আদালত চালুর পর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১২ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়। তবে সেই নির্ধারিত দিনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা অসুস্থ থাকায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত হননি। তাই বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৯ আগস্ট দিন ধার্য করেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে সামরিক বাহিনীর একাংশের বিদ্রোহের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার আটকের পর এক টেলিভিশন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোউবাকার কেইতা। ভাষণে তিনি সরকার ও পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বলেন, 'সেনাবাহিনীর একটি নির্দিষ্ট অংশ যদি নিজেদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের ইতি টানতে চায়, তাহলে কী আমার সামনে পদত্যাগ ছাড়া আর কোনও বিকল্প আছে? আমাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য কোনো রকম রক্তপাত হোক, সেটা আমি চাই না।' ওই টেলিভিশন ভাষণের আগে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোউবাকার কেইতা এবং প্রধানমন্ত্রী বোউবোউ সিসেকে আটক করে বিদ্রোহী সেনারা। আটকের পর তাদের রাজধানী বামাকোর একটি সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। মালির এই অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং দেশটির সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্স। মালির সেনাদের মধ্যে বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ এবং জিহাদিদের সঙ্গে অব্যাহত লড়াই নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। সেই সঙ্গে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের ওপরও অনেকে সন্তুষ্ট নয়। ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হন কেইতা। কিন্তু দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় তার ওপর অনেকের ক্ষোভ তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বেশ কয়েকবার বড় ধরণের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রক্ষণশীল মুসলিম ইমাম মাহমুদ ডিকোর নেতৃত্বাধীন নতুন একটি জোট দেশে সংস্কারের দাবি তুলেছে। কেইতা তাকে যৌথ সরকার গঠনসহ নানা প্রস্তাব দিলেও মাহমুদ ডিকো তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিদ্রোহ সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে মালির কাটি সামরিক ঘাটির ডেপুটি কমান্ডার কর্নেল মারিক ডিয়াউ এবং জেনারেল সাদিও কামারা এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বামাকো থেকে বিবিসি আফ্রিকান সার্ভিসের সাংবাদিক আবদাউল বা। বামাকো থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের এই সামরিক ঘাঁটির দখল নেওয়ার পরই বিদ্রোহী সেনারা রাজধানীতে পৌঁছায়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী কেইতার পদত্যাগের দাবিতে জমায়েত হওয়া লোকজন সেনাসদস্যদের স্বাগত জানায়। মঙ্গলবার দুপুরের পর তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে থাকা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী- দুই জনকেই গ্রেফতার করে। প্রেসিডেন্টের ছেলে, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকেও আটক করা হয়েছে। তবে এই বিদ্রোহে দেশটির কত সৈনিক অংশ নিয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া বিদ্রোহের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ১৫টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত ইকোনমিক কম্যুনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস ঘোষণা করেছে যে, তারা মালির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেবে, সব ধরণের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করবে এবং জোটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে আপাতত মালি বাইরে থাকবে। দেশটির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার আলোচনায় বসবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। মালির সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্স এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সেনাদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্যারিস। সূত্র: বিবিসি।
3
সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৯১৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। খায়রুজ্জামান ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন। সম্প্রতি খায়রুজ্জামান মালয়েশিয়ার অভিবাসন পুলিশের হাতে দেশটির সেলাঙ্গর প্রদেশের আমপাং এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি ছাড়াও পান।দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, এম খায়রুজ্জামানকে ২০০৯ সালের ১৪ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে কুয়ালালামপুরের দায়িত্বভার ত্যাগ করে ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি নির্দেশ উপেক্ষা করে হাইকমিশন ত্যাগ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেন। পরে খায়রুজ্জামানের অনুমোদিত ও উত্তোলিত বিভিন্ন খরচের বিষয়ে যাচাই ও তদন্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও পরিচালক মো. খাইরুল আলমের সমন্বয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তদন্তে দেখা যায় খায়রুজ্জামান প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্যে শিক্ষাভাতা বাবদ ৮ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৮ টাকা, ভ্রমণ না করেও ভ্রমণের অগ্রিম হিসেবে ১০ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৫ টাকা, চিলড্রেন এয়ার প্যাসেজ বাবদ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৫ টাকা, গৃহস্থালি জিনিসপত্র কেনাকাটায় ৫ লাখ ৩১ হাজার ৪৬ টাকা, অবৈধভাবে এসি মেরামত বাবদ ২৪ হাজার ৯১৭ টাকা, অবৈধভাবে স্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয় বাবদ ৪৬ হাজার ৯৩৩ টাকা, অবৈধভাবে জ্বালানি খরচ বাবদ ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৮১২ টাকাসহ সর্বমোট ১ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৯১৩ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে বিভাগীয় তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মো. আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে আজ বুধবার সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করেন।
6
ওমরা পালন করতে আসা বিদেশী নাগরিকদের জন্য করোনাভাইরাস সংক্রমণে সৌদি আরবের হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয় ছয় লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়ালের চিকিৎসা বীমার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ এক কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫২ টাকা। সৌদি হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয় বুধবার এই ঘোষণা দেয়। ঘোষণা অনুসারে যদি কোনো বিদেশী ওমরা যাত্রী ওমরায় এসে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হন, তবে তিনি চিকিৎসা খরচের জন্য ছয় লাখ ৫০ হাজার রিয়াল পাবেন। অপরদিকে যদি ওই যাত্রীকে স্বাভাবিক ১৪ দিনের মেয়াদের চেয়ে বেশি কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়, তবে তার জন্য ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো প্রতিদিনের জন্য তাদের চার শ' ৫০ রিয়াল (বাংলাদেশী ১০ হাজার এক শ' ৭৩ টাকা) কোয়ারেন্টিন খরচ দেবে। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, করোনায় কোনো বিদেশী ওমরা যাত্রীর মৃত্যু হলে মৃতের দেশে তার লাশ ফেরত পাঠাতে ছয় হাজার পাঁচ শ' রিয়াল (বাংলাদেশী এক লাখ ৪৬ হাজার নয় শ' ৪৫ টাকা) খরচ দেয়া হবে। এর আগে গত রোববার সৌদি সেন্ট্রাল ব্যাংক ও কাউন্সিল অব কোঅপারেটিভ হেলথ ইনস্যুরেন্স এক যুক্ত ঘোষণায় জানায়, সৌদি আরবে ভ্রমণ বা হজ-উমরা করতে এসে কোনো বিদেশী নাগরিক করোনাভাইরাস সংক্রমিত হলে তাকে নির্দিষ্ট বীমা নীতির অধীনে চিকিৎসা দেয়া হবে। সূত্র : সিয়াসত ডেইলি
3
কানাডার ক্যালগেরিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে উৎসব মুখর ও বর্ণিল আয়োজনে বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্যালগেরির উদ্যোগে বাংলাদেশ সেন্টারে "চাঁদ রাত মেহেদি উৎসব" পালিত হয়েছে।
4
ঢাকা: লাক্স-চ্যানেল আই সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে বহু সুন্দরী মডেলিং ও অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে মাহবুবা ইসলাম রাখি, আফসানা আরা বিন্দু ও প্রসূন আজাদ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। অনেকটা দিন অভিনয়ে নিয়মিতও ছিলেন। হুট করে একেকজন হারিয়ে গেলেন। আলোচনার বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি এই তিনজনের দেখা মেলেছে ভিন্নভাবে। প্রসূন আজাদবিয়ের পিঁড়িতে বসছেন মডেল ও অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ। গত পরশু হয়ে গেল বাগদান। ২০১২ সালের লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেন প্রসূন। এরপর টানা কাজ করলেও ২০১৬ সাল থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। গত বছর অনলাইনে পোশাকের ব্যবসা শুরু করেন প্রসূন। সেখানে নারী-পুরুষের পোশাকসহ নারীদের গয়না ও প্রসাধনী পাওয়া যায়। তা নিয়েই এখন মূল ব্যস্ততা। বেশ আটঘাট বেঁধে নেমেছেন তিনি। প্রসূনের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখনো তিনি পোশাকের পাইকারি মার্কেটে। শুরুতেই বললেন, 'জলদি কথা সারতে হবে! মার্কেটে এসেছি, দরদাম করছি তো।' কীভাবে দিন চলছে? প্রসূন বলেন, 'এখন ঘরেই বেশি থাকা হয়। তবে পোশাকের ব্যবসা শুরু করার পর বেশ ব্যস্ত সময় কাটে। মাঝেমধ্যে মার্কেটেও যাই। লট ধরে পোশাক কিনি। এরপর সেগুলো অনলাইনে সাজিয়ে রাখি।' অন্যদিকে ওজন কমাতে নিয়মিত জিমেও যাচ্ছেন তিনি। আগের চেয়ে আরও হালকা হতে চান। কারণ, এর মধ্যে বেশ মুটিয়ে গেছেন। তবে এটা যে অভিনয়ের জন্য, তা বলতে চান না প্রসূন। প্রসূন আজাদকে নিয়ে সর্বশেষ ভেবেছিলেন নির্মাতা শিহাব শাহীন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল আলোচিত ওয়েব সিরিজ 'আগস্ট ১৪' নির্মাণ করার। কিন্তু প্রসূন সেই প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে ফেরান। পরে সেই চরিত্রটিতে অভিনয় করে বাজিমাত করেন তাসনুভা তিশা।এর মধ্যে কয়েক বছর মিলিয়ে চারটি ছবি করলেও নাটকে প্রায় অনুপস্থিত ছিলেন। কারণ হিসেবে জানান, ভালো গল্প ও পছন্দ অনুযায়ী চরিত্র না পাওয়া। নাটকের প্রতি রয়েছে অভিমানও। রোকেয়া প্রাচীর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে নাটকে নিষিদ্ধ হয়েছেন। ২০১৬ সালে বিয়ের ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ার ছিন্নভিন্ন করে দেয়। অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসীর সঙ্গে সিডনিতে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের আগে এবং পরে অনেকটা সময় সিডনিতেই ছিলেন প্রসূন। কিন্তু সেই সম্পর্ক স্থায়ী না হওয়ায় প্রসূন ভেঙে পড়েন। এরপর একরকম মিডিয়াকে বিদায় জানিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেন। প্রসূন জানালেন, আপাতত অভিনয় নিয়ে কোনো ভাবনা নেই তাঁর। বিয়ে, সংসার আর ব্যবসাটার প্রসার ঘটাতে চান। মাহবুবা ইসলাম রাখিমাথায় পরে ছিলেন লাক্স 'সুপারস্টার'-এর মুকুট। রাতারাতি হয়ে উঠেছিলেন উপস্থাপনা, মডেলিং আর নাটকের দুনিয়ার তারকা। কিন্তু হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান অভিনেত্রী ও মডেল রাখি মাহবুবা। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করে নিজের নামের সঙ্গে প্রকৌশলী পরিচয়টাও যুক্ত করেছেন। প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্নপূরণের জন্যই রাখি যশ, খ্যাতি, জনপ্রিয়তার মায়া কাটিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ছাত্রজীবনে। ২০১৩ সালে রাখি প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক করার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। রাখি বলেন, 'আমি তখন ধারাবাহিক, খণ্ডনাটক, মডেলিং আর উপস্থাপনা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে কাউকে কিছু জানাতেও পারিনি। মনে আছে, যেদিন আমার ফ্লাইট, তার দুই দিন আগেও আমাকে নাটকের শুটিং শেষ করতে হয়েছে।' অস্ট্রেলিয়া থেকেই ২০১৭ সালে পুরকৌশলে স্নাতক করেছেন। সেখানকার একটা প্রতিষ্ঠানে চাকরিও নিয়েছেন। তবে অভিনয়প্রীতি কমাতে পারেননি। তাই তো যখন শুটিংয়ের জন্য বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়, চাকরি থেকে সময় নিয়ে ছুটে আসেন বাংলাদেশে। গত ১০ এপ্রিল ঢাকার বোর্ডবাজারে 'পায়ের ছাপ' ছবির শুটিং শুরু করেছিলেন সাইফুল ইসলাম মান্নু। সেখানে অভিনয়ে ফিরেছিলেন রাখিও। তবে কিছুদিন পর জানা গেল মেঘলা মুক্তা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। তবে মেঘলা কীভাবে ও কেন রাখির স্থলাভিষিক্ত হলেন, এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাইলেন না কেউই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছবিসংশ্লিষ্ট একজন জানালেন, তিন দিন শুটিং করার পরই রাখিকে বাদ দেওয়া হয়। গত মাসে দুবাইয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন রাখি। এখন তিনি আছেন হানিমুনে। মেসেঞ্জারে কথা হলো তাঁর সঙ্গে। বললেন মাত্র তিনটি শব্দ, 'ছবিটি ছেড়ে দিয়েছি'। অন্য কোনো কাজ শুরু করবেন কি না জানতে চাইলে বলেন, 'আপাতত বিয়ে-সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাই। পাশাপাশি আমার চাকরি আছে। সেখান থেকে সময় বের করে আবার অভিনয় করা ঠিক কবে হবে এখন কিছু বলতে পারব না।' আফসানা আরা বিন্দু২০০৬ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়ে শোবিজে আগমন ঘটেছিল আফসান আরা বিন্দুর। সৌন্দর্য দিয়ে তিনি মাতিয়ে রেখেছিলেন শোবিজ। বিজ্ঞাপন-নাটক-সিনেমায় তিনি পেয়েছিলেন জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে টিভি নাটকে সমসাময়িকদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন ব্যস্ততায়। কিন্তু হঠাৎ বিয়ে করে ২০১৪ সাল থেকেই আড়ালে চলে যান তিনি। তারপর আর নেই কোনো খবরে। সংসারজীবনে কেমন আছেন তিনি? সে গল্প তাঁর খুব কাছের মানুষ ছিলেন যাঁরা একসময়, তাঁদের কাছেও পাওয়া যায় না। হুট করে শোনা গিয়েছিল স্বামীর সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য কলহ চলছে। সেই খবর গুজবই থেকে গেছে। এত দিনে অভিনয়ে যেমন পাওয়া যায়নি, তেমনি মিডিয়ার কোনো অনুষ্ঠানেও তাঁর দেখা মেলেনি। তবে গত দুই বছরে বেশ কয়েকবার দেখা মিলেছে তাঁর। সর্বশেষ দেখা মিলেছে গত সপ্তাহে কনা, শবনম ফারিয়া ও নাবিলাদের সঙ্গে এক আড্ডায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজেকে ফিট রাখতে রাজধানীর একটি ব্যায়ামাগারে নিয়মিত যাতায়াত করছেন তিনি। নিজেকে পুরোপুরি ফিট করে পুরোদমে আবারও অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠজন। আফসান আরা বিন্দু আবার অভিনয়ে ফিরবেন কি না সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
2
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গলাচিপায় মশাল মিছিল হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার নিজ গ্রামে চরবিশ্বাস বাজার থেকে এ মশাল মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন নূরের শ্যালক মহিবুল্লাহ এনিম। মিছিলটি বাজারের আশপাশের সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় চরবিশ্বাস বাজারে এসে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য আবু নাঈম, আমিনুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, জুয়েল, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
লিসবনে বেনফিকার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে বার্সেলোনা। এই হারের পর থেকে আবার আলোচনায় বার্সা কোচ রোনাল্ড কোমানের বিদায়ের প্রসঙ্গটি। গত কদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল কোমানকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন। বার্সা সমর্থকদের চাওয়াও নাকি তেমনটাই। তবে টানা ব্যর্থতার পরও দায়িত্ব ছাড়তে নারাজ কোমান। খেলোয়াড়েরাও তাঁকে সমর্থন দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এই ডাচ কোচ।বেনফিকার বিপক্ষে গতকাল রাতের ম্যাচ পরই কোমানকে সরিয়ে দেওয়া উচিত কি না এমন একটি জরিপ চালায় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা। যেখানে ৭৩ শতাংশ সমর্থকই কোমানের সরে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে ভিন্ন কিছু ভাবছেন কোমান। ম্যাচের পর তিনি বলেন, 'আমি অনুভব করছি খেলোয়াড়েরা আমাকে সমর্থন দিচ্ছে। আমি কেবল কাজ দিয়েই জবাব দিতে পারি। বাকিটা আমি জানি না। ক্লাবের ভাবনা সম্পর্কে আমি জানি না।'এদিকে কোচ সরিয়ে দেওয়াতে কোনো সমাধান দেখছেন না বার্সা মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ংও। কোমানের স্বদেশি এই খেলোয়াড় বলেন, 'আমি মনে করি না কোচ বদলে ফেলা কোনো সমাধান। আমি কোমানের ব্যাপারে কথা বলতে পারি না। এটা আমার কাজ না। আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করে পরিস্থিতি বদলাতে হবে। কঠিন পরিশ্রম ও ঐক্যবদ্ধ হয়েই আমরা এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারি।'দলের এ বেহাল দশায় দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন বার্সার অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সার্জিও বুসকেটস। তিনি বলেন, 'আমরা খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। এখনো আমাদের কোনো পয়েন্ট নেই। টেবিলে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের ভাবতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আমরা এখন সবার নিচে আছি, কিন্তু আমাদের ইতিবাচক হয়ে ভাবতে হবে।'
12
টাকা দিয়া আবেদন কইরাও পরীক্ষা দিতে পারি না। বেকার বইলা আমাগো নিজেগো তো দাম নাই, আমাগো টাকারও কোনো দাম নাই।চাকরিপ্রত্যাশী কয়েকজন আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর আজিমপুরে ইডেন কলেজে খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় শেষে আক্ষেপ করে এসব কথা বলেন। একই দিনে তাদের আরও দুটি পরীক্ষা ছিল বলে জানান তারা। আজ শুক্রবার একই দিনে ১৫টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলো হলো-সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, স্থাপত্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল কার্যালয়, পদ্মা অয়েল কোম্পানি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। এতগুলো পরীক্ষা একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা গেছে। যেসব এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি, সেসব এলাকার আশপাশে যানজট বেশি লক্ষ্য করা গেছে।ঢাকা কলেজের সামনে জ্যামে আটকে পড়া রাকিব হাসান বলেন, অনেক চেষ্টা করে একটা বাসে উঠতে পারছি। এখন দেখি বাস আর চলে না। চাকরির পরীক্ষার চাপে পরীক্ষার্থীদের মতো আমরাও পিষ্ট।নোয়াখালী থেকে পরীক্ষা দিতে আসা সাবিকুন্নাহার বলেন, একেকটা পরীক্ষায় আবেদন করতে পাঁচ সাত শ টাকা লাগে। পরীক্ষা দিতে আসতে আরও দুই তিন হাজার টাকা খরচ হয়। এত কষ্ট করার পরেও পরীক্ষা মিস হইতেছে।করোনার অচলাবস্থা কাটার পর মাস দেড়েক ধরেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে আসছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ারও দাবি উঠছে আর সরকারি কর্ম কমিশন বলছে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার সূচি নির্ধারণ করতে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কথা বলে জানা গেছে, আপাতত এগুলোর কোনোটিরই পরিকল্পনা নেই মন্ত্রণালয়ের। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে ১৪ থেকে ২০ তম গ্রেডের কিছু পদের পরীক্ষা নেওয়া যায় কিনা সেটা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।
6
ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় মা'রিব প্রদেশ মুক্ত করার লড়াইয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের যোদ্ধারা এবং তাদের সমর্থিত সেনারা। কৌশলগত দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ হচ্ছে মা'রিব এবং পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির অনুগত সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি। শহরটিকে হুথি সমর্থিত যোদ্ধারা পরিপূর্ণভাবে মুক্ত করার চেষ্টা করছে। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে হুথি সমর্থিত সামরিক বাহিনী মা'রিব প্রদেশকে মুক্ত করার লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে। তখন থেকে মা'রিব বড় ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত দুই দিনের লড়াইয়ে সেখানে ৬৫ জন নিহত হয়। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
সরকারের চলমান আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় ধাপে ঈদ উপহার হিসেবে মঙ্গলবার ভূমিহীন ও গৃহহীন ৩২ হাজার ৯০৪টি পরিবারকে একটি ঘর দেওয়া হবে। এ দিন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে জমির দলিলসহ ঘরগুলো হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের চারটি উপজেলায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের কাছে পরিবারপ্রতি দুই শতক জমিসহ এসব ঘরের দলিলপত্র হস্তান্তর করবেন শেখ হাসিনা। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৬৭৪টি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৯০৪টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় সেগুলো মঙ্গলবার হস্তান্তর করা হবে উপকারভোগীদের মধ্যে। বাকিগুলোর নির্মাণকাজও শেষের পথে। শেষ হওয়া মাত্রই এসব ঘরও তুলে দেওয়া হবে ভূমিহীন ও দুঃস্থ পরিবারগুলোর হাতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ মুজিবর্ষে 'দেশের একটি মানুষও গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না'- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের যাত্রা। এ জন্য সারাদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন আট লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করে তাদের জমিসহ ঘর উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পোড়াদিয়া বালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
6
পৃথক পাঁচ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ এক বছর করে বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট।খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মানহানির অভিযোগে ঢাকার তিনটি ও নড়াইলের এক মামলায় তাঁর জামিনের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে আদেশ দেন বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।এ ছাড়া কুমিল্লায় করা হত্যা মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ দেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো.ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ।আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মামুন।
9
মিয়ানমারে সামরিক জান্তার আগ্রাসন ও কঠোর নিয়ন্ত্রণে দেশটি ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হচ্ছে বিশ্ব থেকে। ইন্টারনেট পরিষেবা ক্রমেই সীমিত হয়ে আসা এবং বুধবার সর্বশেষ বেসরকারি পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামরিক শাসনে বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদের আয়োজন ও সংবাদ জানানোর সুযোগ কমে এসেছে। তথাপি সেনাশাসনের প্রতিবাদে দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে বিক্ষোভ দমনে সহিংস অবস্থানে আছে মিয়ানমারের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক জান্তার অনুগত বাহিনীর সহিংসতায় এই পর্যন্ত ২১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস জানায়। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি তাতমাদাও নামে পরিচিত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে এই অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী। সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। সূত্র : রয়টার্স
3
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার চার্জশিটকে ভুলে ভরা বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। মঙ্গলবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে আসামিদের হাজির করার পর আসামিপক্ষের ষষ্ঠ দিনের যুক্তিতর্কে তারা এ দাবি করেন। আইনজীবী কামরুল হাসান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪(১) ধারায় বর্ণনা দিয়ে আদালতকে বলেন, এ আইনে কোনো দাহ্য পদার্থ দিয়ে কাউকে হত্যা করা হলে তার বিচার এ আদালতে হবে; কিন্তু নুসরাতকে কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কপি আদালতকে দিয়ে বলেন, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলকে দাহ্য পদার্থ বলা হয়েছে, কেরোসিনকে নয়। তাই এ মামলার বিচার শুধুমাত্র সেশন জজ আদালতের ৩০২ ধারায় করার বিধান রয়েছে। আইনজীবী আদালতকে বলেন, আসামি আসছার উদ্দিনের জড়িত থাকার ব্যাপারে চার্জশিটে বলা হয়েছে, এই আসামি পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এই আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক। ঘটনার সময় মাদ্রাসার পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। নুসরাতের মা আদালতের সাক্ষ্যে বলেছেন, কেন আসছারকে আসামি করা হয়েছে তা তার জানা নেই। অথচ তাকে রহস্যজনকভাবে তদন্ত কর্মকর্তা আসামি করেছেন। তিনি বলেন, মামলার কোনো আসামির বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রপক্ষ প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য আনতে ব্যর্থ হয়েছে। আইনজীবী কামরুল হাসান আদালতকে বলেন, মামলার জব্দ করা মালপত্র সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। ভুলে ভরা এই মামলার চার্জশিট ও তদন্ত কার্যক্রম। পিপি হাফেজ আহাম্মদ বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা চলতে আইনের ব্যত্যয় থাকলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে যেতে পারতেন; কিন্তু তারা তা করেননি। বুধবার শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করে মঙ্গলবার বিকেলে আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে আবেদন করেছেন যশোরের ঝিকরগাছার অদম্য মেধাবী তামান্না নূরা। গতকাল বুধবার উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি আবেদন করেন। দুই হাত ও এক পাহীন জন্ম নেওয়া তামান্না উপজেলার বাঁকড়া আলীপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পীর মেয়ে।তামান্না নূরা বলেন, 'যেহেতু আমি চলাচলে অক্ষম, তাই উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় থাকতে হলে আমার পরিবারের সহায়তার প্রয়োজন। বাবা-মাসহ ছোট ভাই-বোনের ঢাকায় থাকা প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকায় বাবার একটি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে আবেদন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব সময় সহযোগিতা কামনা করেছি।'ঝিকরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডাক্তার কাজী নাজিব হাসান বলেন, 'তামান্নার আবেদনপত্র হাতে পেয়েছি। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আবেদনটি ফরোয়ার্ড (স্থানান্তর) করা হয়েছে।'অদম্য তামান্নার পাশে জেলা ছাত্রলীগ নেতা পল্লবতামান্না নূরা সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষায় বাঁ পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর আগে তিনি পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষাতেও ধারাবাহিকভাবে জিপিএ-৫ অর্জন করেন।'সরাসরি সাক্ষাৎ করাসহ দুটি স্বপ্নের কথা জানিয়ে গত ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন তামান্না নূরা। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার তামান্নাকে মোবাইল ফোনে কল করে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা। তামান্নাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে আবেদন করতে বলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আবেদন করলেন তামান্না।গত মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অদম্য শিক্ষার্থী তামান্না নূরাকে ফোন কল করে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি তাঁকে সব ধরনের সহযোগিতা করার কথা জানান।সেই তামান্নাকে কল করে খোঁজখবর নিলেন প্রধানমন্ত্রীহুইলচেয়ার উপহার ছাত্রলীগের: এদিকে তামান্না নূরাকে হুইলচেয়ার উপহার দিয়েছে যশোর যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ পল্লব। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের তামান্নার ভাড়া বাসায় এই হুইলচেয়ার পৌঁছে দেন তিনি।তানজীব নওশাদ পল্লব বলেন, তামান্নার যেকোনো সহায়তার বিষয়ে আমরা এগিয়ে আসব। তাঁকে বলেছি, কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাতে।এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি কায়েস আহমেদ রিমু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিফাতুজ্জামান রিফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, ছাত্রনেতা মারুফ হোসেন, রাকিবুল আলম হিরণ প্রমুখ।
6
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে লোকবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের আইন বিভাগে দক্ষ লোকবল খুঁজছে। পদের নাম: লিগ্যাল স্পেশালিস্ট। তবে এ পদে কতজন নেওয়া হবে, তা নির্ধারিত নয়। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক পাস হতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাজে কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীলভাবে লিখতে ও বলতে জানতে হবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য এখানে ক্লিক করুন। ১০ আগস্ট ২০২১
1
ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যানবিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফুর রহমান আর নেই।বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায়কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।লতিফুর রহমান প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, লতিফুর রহমানের মরদেহ আজ ঢাকায় আনা হবে। গুলশানের আজাদ মসজিদে বাদ এশা তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাতেই বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। লতিফুর রহমানের জন্ম ১৯৪৫ সালের ২৮ আগস্ট। তিনি ঢাকায় থাকতেন গেন্ডারিয়ায়।মৃত্যুর সময়ে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহআত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
6
সিলেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ভুয়া সাংবাদিকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। গ্রেপ্তারদের বেশির ভাগই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন নামে পেজ খুলে গুজব রটাতেন।গতকাল রোববার (২৫ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মুসা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, সিলেটের পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।লে. কর্নেল আবু মুসা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, গত ২২ জুলাই সাইবার পেট্রোলিং এর সময় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ সিলেটের সাইবার মনিটরিং টিম 'মুরাদপুর আর্মি ক্যাম্পে আগুন' শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা গুজবের প্রচারণা দেখতে পায়। র্যাব-৯ এর সাইবার মনিটরিং টিম র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের সহায়তায় এ গুজবের ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান সাপেক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা গুজবের প্রচারণার দায়ে তাঁদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তাররা হলেন-সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার তুরুগাঁও এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে মো. আশফাকুর রহমান (৩২), সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) থানার পীরের চক গ্রামের উস্তার আলীর ছেলে আলা উদ্দিন আলাল (৭৪), গোলাপগঞ্জ থানার মজিদপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে রেজা হোসাইন (২০), গোলাপগঞ্জ থানার আওই বানীগ্রামের মোবারক আলীর ছেলে সোহেল আহমদ (২৬), গোলাপগঞ্জ থানার বাঘীরঘাট এলাকার আশাব আলীর ছেলে আবুল কাশেম (৩৫), এসএমপির মোগলাবাজার থানার কুচাই গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে রাজন আহমদ (২৮) ও এয়ারপোর্ট থানার আটপিয়ারি গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে মোক্তার হোসেন মান্না (২৮)।র্যাব-৯ এর অধিনায়ক জানান, জনমনে ভীতি সঞ্চারের জন্য গ্রেপ্তাররা এই গুজব রটিয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর তাঁরা গুজব ছড়ানোর দায় স্বীকারও করেছেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানোর ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।এদিকে সিলেটে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের ১৬ তলা বিল্ডিংয়ে আগুনের গুজব রটনাকারী আটজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে র্যাব। একজন পলাতক আছেন। রাতেই তাঁদের সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
6
অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে দিন দিন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পানির তীব্র স্রোতে নদের তীরবর্তী গ্রামের মানুষ আতংকে জীবন যাপন করছে। ইতিমধ্যে ঘুঘুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘুঘুমারী কমিউনিটি ক্লিনিক নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এদিকে নদী ভাঙ্গনের কারনে ফসলি জমি ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যের জমিতে খোলা আকাশের নিচে পলিথিন টানিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে নি:স্ব পরিবার গুলো। স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, যে ভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে এই ভাঙ্গন বন্ধ করতে না পারলে উপজেলার মানচিত্র থেকে মুছে যাবে কয়েকটি গ্রাম, বাড়ি ভিটা হারিয়ে নি:স্ব হবে হাজার হাজার মানুষ। শনিবার( ১২ জুন) কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরশৌলামারী ইউনিয়নের ঘুঘুমারী, সুখেরবাতী, চরঘুঘুমারী, খেরুয়ারচর, খেদাইমারী, চর খেদাইমারী, সাহেবের আলগা, বলদমারা, বাইশ পাড়া, সোনাপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে নদী ভাঙ্গনের চিত্র দেখা যায়। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের ৭.৩ কি:মি বামতীর রক্ষাবাঁধ নির্মান করা হচ্ছে ৪৭৯ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। ১৫ টি প্যাকেজের মধ্যে আরএফএল কোম্পানীর ৪ টি, স্ট্যার্ন্ডাড কোম্পানীর ৪ টি, তাজ মঞ্জিলের একটি, জেডিএমএম বিল্ডার্স একটি, মেসার্স ডন করপোরেশন এন্ড সানফ্লাওয়ার কোম্পানীর একটিসহ বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব কাজ গুলি করা হচ্ছে। বর্ষার শুরুতেই ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে প্রখর স্রোতে বইছে। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন বন্ধ করতে না পারলে বিলীন হয়ে যাবে বামতীর রক্ষাবাঁধের আংশিক কাজ ও ঘরবাড়ি ফসলি জমি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারের কোটি কোটি টাকা জলে যাবে, উদ্দেশ্য ব্যহত হবে। ঘুঘুমারী গ্রামের স্থানীয় এলাকাবাসী মিয়াউল্লাহ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের ফলে আমার বাড়িঘর ফসলি জমি ভেঙ্গে গেছে। সরকারের কাছে আকুল আবেদন দ্রুত ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিন। মর্জিনা বেগম বলেন, আমাদের ঘুঘুমারী গ্রাম প্রায় নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। আমরা ত্রাণ চাইনা ভাঙ্গন বন্ধ চাই। এ বিষয়ে চর শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম সাইদুর রহমান দুলাল বলেন, নদী ভাঙ্গনের ফলে কয়েকটি গ্রাম বিলীন হওয়ার পথে। ইতিমধ্যে ঘুঘুমারী, খেদাইমারী ও সোনাপুরসহ কয়েকটি গ্রামে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শত শত মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে অন্যের জমিতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে সাথ্যমতো সহযোগীতা করছি। নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্ল্যাহ্ জানান, আমি নদী ভাঙ্গন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি বিষয়টি খুবই ভয়াবহ অবস্থা। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরো কয়েকটি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আমি গুরুত্ব সহকারে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি তারা আমাকে আশ্বস্থ করেছেন যে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম এর সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি জেনেছি। রৌমারী উপজেলার ঘুঘুমারী পয়েন্টে ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতি মধ্যে সাহেবের আলগা পয়েন্টে ভাঙ্গন রোধে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়েছে। আশা করি ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবো।
6
নরসিংদীর রায়পুরায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৫০% ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের মধ্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টর বিতরণ করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মাঠে নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজগর হোসেনের সভাপতিত্বে ও কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ বশির আহম্মদ সরকার। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমির গঞ্জ ইউনিয়নের মো. সাইফুল ইসলাম নামে একটা কৃষকের হাতে ২৯ লাখ টাকা মূল্যের কম্বাইন্ড হারভেস্টর তুলে দেওয়া হয়।
6
ব্রিটেনের পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডের সেভেন কিংস এলাকায় রোববার রাতে ছুরিকাঘাতে তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের দুজনের বয়স ২০ ও একজনের বয়স ৩০। নিহতদের স্বজনদের পুলিশ খবর দিলে তারা লাশ সংগ্রহের ব্যবস্থা করে। ঘটনাস্থল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে একই স্থানে ছুরিকাঘাতে নিহত তিনজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ সোমবার। নিহত তিনজনের মধ্যে একজন হলেন বালজিত সিং। তার বয়স ৩৪ বছর। বাকি দুজন হলেন হরিন্দার কুমার ও নরিন্দার সিং। তাদের বয়স ২০ বছর। নির্মাণকাজের (কন্ট্রাকশন) অপরিশোধিত অর্থ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এমন কি ঘটনার ব্যাপারে শিখ কমিউনিটির দুটি গ্রুপ জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা পুলিশের। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠ সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, রোববার রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ইলফোর্ডের সেভেন কিংস এলাকার এলমস্টেড রোডে একদল যুবক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে জরুরী ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশ ডাকা হয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে পাশাপাশি ২০ এবং ৩৪ বছর বয়সী তিনজনকে ছুরিকাঘাত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত ঘোষণা করে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ২৯ এবং ৩৯ বছর বয়সী দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে একটি পার্টি চলছিল। পার্টির মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পর ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা ছুরিকাঘাত হয়ে একে অন্যের খুব কাছাকাছি পড়েছিল। নিহতরা একে অন্যের পরিচিত এবং স্থানীয় শিখ কমিউনিটির তাদের সম্পর্কে ধারনা থাকতে পারে বলেও মনে করছে পুলিশ।
3
ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল মাস দুয়েক আগে। চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির তালিকায় মুক্তির তারিখও বসেছিল ছবিটির নামের সঙ্গে। ২৪ ডিসেম্বর মুক্তির জন্য প্রস্তুত ছিলেন নির্মাতাসহ ছবির অভিনয়শিল্পীরা। অনলাইন-অফলাইনে ওই দিনকে টার্গেট করে শুরু হয়েছিল প্রচার-প্রচারণা। তবে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে গেল 'আগামীকাল'।অঞ্জন আইচ নির্মিত এই ছবি ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। নির্মাতা অঞ্জন জানিয়েছেন, মাসখানেক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে 'আগামীকাল' ছবির মুক্তির তারিখ। নতুন তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অঞ্জন আইচ বলেছেন, 'দু-এক দিনের মধ্যে আমরা সবাই একত্রে বসে নতুন মুক্তির তারিখ নিয়ে আলোচনা করব।' কিন্তু কেন মুক্তির মাত্র এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত বদল? 'আগামীকাল'-এর নির্মাতা অঞ্জন আইচ বলেন, 'প্রযোজকসহ আমরা সবাই মিলেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেহেতু এটি বেশ বড় বাজেটের ছবি। তাই চেয়েছি আরেকটু প্রচার-প্রচারণা করে তারপর মুক্তি দিতে। সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক ছবির ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়া করে ছবি মুক্তি দিলে দর্শক জানতেই পারবে না। আমরা চাই এই ছবি মুক্তির খবর সবার কানে পৌঁছে যাক।''আগামীকাল' ছবির শুটিং শুরু হয় ২০১৯ সালে। ঢাকার সাভার, কক্সবাজার, বান্দরবান, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরে শুটিং হয়েছে।ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামনুন ইমন ও জাকিয়া বারী মম। ইমন আছেন সদ্য পাস করা এমবিবিএস শিক্ষার্থী আর মমকে দেখা যাবে দরিদ্র পরিবারের অনাথ সন্তান হিসেবে।'আগামীকাল' ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন টুটুল চৌধুরী, সূচনা আজাদ, আশীষ খন্দকার, ফারুক আহমেদ, শতাব্দী ওয়াদুদ, তারিক স্বপন, সাবেরী আলম, সুজাত শিমুল প্রমুখ।২৪ ডিসেম্বর 'আগামীকাল' মুক্তি না পেলেও ওই দিন সিনেমা হলে আসবে 'মৃধা বনাম মৃধা'। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ ও নোভা।
2
খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের প্রতিবাদে কালীগঞ্জে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলা সদরের কাঁকশিয়ালী সেতুসংলগ্ন বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের পাশের মহাসড়কে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন, জাতীয় হিন্দু মহাজোট ও যুব মহাজোট উপজেলা শাখার আয়োজনে এই মানববন্ধন পালিত হয়।সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের উপজেলা কমিটির সহসভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চুর সঞ্চালনায় এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জাফরুল্লাহ ইব্রাহিম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুজনের সদস্য ও সাংবাদিক এস এম, আহম্মাদ উল্যাহ বাচ্চু, শেখ মোদাচ্ছের হোসেন জান্টু, জাহাঙ্গীর হোসেন, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্য। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট উপজেলা শাখার সভাপতি ডাক্তার পতিরাম মল্লিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সরদারের পরিচালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রভাষ চন্দ্র মণ্ডল, তাপস কুমার, চণ্ডীচরণ মণ্ডল, তারক সরকার, সিদাম প্রমুখ।এ সময় বক্তারা বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য সরকারকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানন তাঁরা। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
6
ধনবাড়ীতে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভবন থাকলেও নেই কোনো কার্যক্রম। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ২০১২ সালে ভবনটি নির্মাণ করলেও এখন তা জরাজীর্ণ ও অরক্ষিত। ভবনের চারপাশে তৈরি হয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করছেন পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা গেছে এ ভবনটিকে ঘিরে।এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি ভবনটি দ্রুত সংস্কার করে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা সচল করে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করা হোক। যদিও প্রশাসন বলছে, ভবনটি পরিদর্শন করে, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধনবাড়ী মানেই জমিদার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। বর্তমানে কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য রয়েছে নবাবি আমলের দুটি ময়দানসহ বিশাল তিনটি মাঠ। আশপাশের স্কুল-কলেজগুলোতেও রয়েছে বড় মাঠ। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা উদ্যোগ নিলে এসব মাঠে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু সংস্থাটির তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যায় না।সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ভবনটি ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঈদগাহ রোডের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত। ভবনটি এখন পরিত্যক্ত। নেই কোনো ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। আশপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও জলাবদ্ধতা। ভবনের বিভিন্ন অংশে গজিয়েছে আগাছা। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ঘরের দরজা-জানালা ও ভবনের প্লাস্টার। টার্মিনালে যাতায়াতকারীরা মল-মূত্র ত্যাগ করছে এখানে। কেউ ধূমপান করছে। পাশের ড্রেন ও স্তূপ থেকে জন্ম নিচ্ছে মশা-মাছি।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেক মিয়া ও নিজাম উদ্দিন বলেন, 'সংস্থার কোনো কার্যক্রম না থাকায় ভবনটি এখন পরিত্যক্ত। বাসচালক ও যাত্রীরা এখানে এসে প্রস্রাব করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। দুর্গন্ধে এর আশপাশে থাকা যায় না।'ভবনের পাশের ব্যবসায়ী আবু তারেক লাকী বলেন, 'সুযোগ পেলেই সবাই এখানে প্রস্রাব করে। এখানকার আবর্জনার কারণে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মশা-মাছি বেড়েছে। দুর্গন্ধ টেকা দায়। সচেতনতার জন্য সতর্কতা সাইনবোর্ড টাঙিয়েছিলাম। রাতে কে বা কারা নিয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি না থাকায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।'সংস্থাটির ফুটবল শাখার পরিচালক জহিরুল ইসলাম মিলন বলেন, 'এ সংস্থার কোনো কার্যক্রম নেই। তাই সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। কিশোর ও যুবকেরা মাদকের দিকে ঝুঁকছেন। এদিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন কর্তৃপক্ষের।'এ ব্যাপারে মেয়র মুহাম্মদ মনিরুজামান বকল বলেন, 'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে গঠিত হয়েছে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি। তবে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এই কমিটির উল্লেখ্যযোগ্য কোনো ভূমিকা নেই। ভবনটি পরিষ্কার করে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।'এ নিয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মো. আসলাম হোসাইন জানান, ভবনটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুস্থতার জন্য সবাইকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে।
6
রাজধানীর কোতোয়ালি থানার অফিসার্স ইনচার্জ মিজানুর রহমানসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন কাপড় ব্যবসায়ী সোহেল। সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান নোমানের আদালতে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালতের প্রসেস সার্ভার শাহরিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
6
ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে জানতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার দুপুরে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম তাকে ডেকে পাঠান। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব (দ্বিপক্ষীয় ও কন্স্যুলার) মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস শাখার কর্মী মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে জানতে সুজা আলমকে ডাকা হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর গভীর রাতে জাহাঙ্গীর বাসায় ফেরেন। তারা আরও জানান, পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলম এ বিষয়ে ইসলামাবাদের সঙ্গে কথা বলে ও পরিস্থিতির বিস্তারিত জেনে ঢাকাকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন। রাজধানীর গুলশান এলাকায় আবরার হোসেন খান নামের পাকিস্তান হাইকমিশনের এক কর্মীকে 'সন্দেহজনক গতিবিধির' কারণে সোমবার পুলিশ আটক করে এবং পরে ছেড়ে দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওই কর্মীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস শাখার কর্মী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দাফতরিক কাজ শেষে প্রতিদিনের মতো সোমবারও তার মেয়েকে কোচিং সেন্টার থেকে আনতে যান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেখানে না যাওয়ায় জাহাঙ্গীরের মেয়ে বাসায় ফোন করে। এরপর জাহাঙ্গীরকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয় এবং তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ইসলামাবাদের স্থানীয় সময় রাত ১২টার দিকে তিনি বাসায় ফেরেন।
6
বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌর এলাকা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া একসময়ের খরস্রোতা শ্রীমন্ত নদের এখন আর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। এলাকাবাসী এটিকে মরা খাল ধরে নিয়েছেন। বিলীন হওয়া শ্রীমন্ত দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা আর বাসাবাড়ির পয়োনিষ্কাশনের একটি নালায় পরিণত হয়েছে।বাকেরগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে কালীগঞ্জ বাজার হয়ে নিয়ামতি পর্যন্ত বিষখালী নদীতে মিশেছে এই অঞ্চলের নৌপথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম শ্রীমন্ত নদ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদটির দখল ও দূষণ রোধ করে সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় ধীরে ধীরে মরে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছেন বাকেরগঞ্জ পৌরবাসী।বাকেরগঞ্জ পৌর এলাকার ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড ঘেঁষে বয়ে গেছে শ্রীমন্ত নদ। দুই যুগ আগেও এটি খরস্রোতা ছিল। তবে সেটি এখন মরা খাল। পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড ব্রিজের পশ্চিম ও পূর্ব পাশে দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের আফসার উদ্দিন মার্কেট থেকে থানা ব্রিজ পর্যন্ত আধা কিলোমিটারে গড়ে উঠেছে অর্ধশত অবৈধ বাড়িঘর। নদীর প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা এই পৌর এলাকার মধ্যে পড়েছে।স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও ব্যাংকাররা খালের দুই পাশ দখল করে রেখেছেন। পৌর এলাকার বাড়িঘরের পয়োনিষ্কাশন নালা খালের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এর পানি বর্ষাতেও দূষিত থাকে। যে কারণে এ পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক আগেই।পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ আমিরুজ্জামান রিপন বলেন, 'এটি শ্রীমন্ত নদ ছিল। এখন দখল আর দূষণে খাল হয়ে গেছে। আমার বাড়ির পাশ দিয়েই নদটি একসময় বয়ে গিয়েছিল।'পৌর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জিলন ডাকুয়া বলেন, 'শ্রীমন্ত; সে তো অনেক আগের কথা। এখন যেটি আছে, সেটি খাল। এর আকার আগে যা ছিল, তাঁর চেয়ে হয়তো কিছুটা ছোট হয়েছে। মেয়র পৌর এলাকার অংশে খালের দুই পাশে ব্লক ফেলে সৌন্দর্য বর্ধন করেছেন। শোনা যায় এটি সংস্কারও করা হবে।'স্থানীয়দের তথ্যমতে, এই অঞ্চলে বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নদীপথ ছিল এটি। শ্রীমন্ত থেকে পশ্চিমাঞ্চলে মোল্লারহাট, পাথরঘাটা, চান্দুখালী, মির্জাগঞ্জ, সুবিতখালী, বেতাগীসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করত নৌকা। এদিকে খালে পরিণত হওয়া সেই শ্রীমন্ততে পানি না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের গরিব বাসিন্দারা। যাঁদের গভীর নলকূপ নেই, তাঁদের এখানকার পানির ওপরই ভরসা। বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রাবাসসংলগ্ন একাধিক বাসিন্দা জানান, তাঁদের গোসলসহ বাসার যাবতীয় কাজ এ নদের পানি দিয়ে চলত। কিন্তু জোয়ারের সময় পানি নিতে না পারলে বাসার কাজকর্ম বন্ধ থাকে। ভাটার সময় নদের পানি শুকিয়ে যায়।স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এখন যে যাঁর মতো দখল করে বসতবাড়ি, দোকানঘর নির্মাণ করায় নদ নালায় পরিণত হয়েছে।সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুজর ইজাজুল হক বলেন, 'নদটি সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। এটি কোন অবস্থায় আছে, তা দেখতে হবে। এরপর কার্যকর ব্যবস্থা নেব।'বাকেরগঞ্জ পৌরসভার সচিব শহিদুল ইসলাম বলেন, 'শ্রীমন্ত নদ সংস্কার, খনন বা উদ্ধার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তা মেয়র কিংবা প্রকৌশল শাখা বলতে পারবে। আমার এ বিষয়ে জানা নেই।'পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া জানান, একটি কর্মসূচিতে থাকায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না এখন।
6
ভারতের থর মরুভূমিতে প্রতিবছর দুই লাখের মতো পর্যটক আসে ঘুরে দেখতে। কিন্তু সম্প্রতি ধু ধু এই মরুভূমিতে অনেকেই বিলাসবহুল ক্যাম্পিং বা প্রকৃতির সাথে আরামদায়ক ভ্রমণের স্বাদ নিচ্ছেন। ট্রেন্ডটা ভারতে নতুন। কিন্তু ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ীর জন্য একটা সফল ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর পশ্চিম অংশে একটা বিরাট শুষ্ক অঞ্চল নিয়ে এই থর মরুভূমি। এখানকার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে। ধু ধু মরুভূমির প্রচণ্ড গরম, অনেকেই হয়তবা ড্রিম হলিডে স্পট বা বহু কাঙ্ক্ষিত ছুটি কাটাতে যাওয়ার কথা হয়তবা চিন্তা করবেন না। কিন্তু বিলাসবহুল কিছু সাফারি টেন্ট পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বিরান মরুভূমির মধ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সব কিছু রয়েছে সেখানে। এমন ২৬টি বিলাসবহুল টেন্ট রয়েছে। যেগুলো অন্য আর দশটা ক্যাম্পিং টেন্ট এর মত না। সেখানে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ। এয়ারকন্ডিশন্ড রুম । পাঁচ তারকা হোটেলে একটা রুমের বিছানা যে শৈল্পিক উপায়ে সাজানো থাকে এখানেও তার কম কিছু নয়। আর ভাবুন তো মরুভূমির মাঝখানে বরফ শীতল পানি খেতে কেমন লাগবে? ঠিক তাই, প্রতিটি টেন্টে রয়েছে রেফ্রিজারেটর, যেখান থেকে আপনি ঠাণ্ডা পানি পান করতে পারেন। এসব টেন্টের একজন মালিক মায়াঙ্ক ভাটিয়া বলছিলেন, 'আমি ভেবেছিলাম এটাকে রিসোর্টের মত করে গড়ে তুলবো। এটা মনে করেছিলাম পর্যটক বা অতিথি যারা আসবেন তাদের এই মধ্য মরুভূমিতে একদম ভারতের ঐতিহ্যবাহী যেসব বিষয় রয়েছে সেসবের মত করে একটা অভিজ্ঞতা দেয়া দরকার।' মরুভূমিতে উটে চড়ে ঘুরে বেড়ানো এবং গাড়ীতে ঘোরা প্রধান আকর্ষণ। অর্থ লাগে অনেক বেশি। তবে উচ্চ বিত্ত ভারতীয় পরিবার গুলোর কাছে এই অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য অর্থ কোনো ব্যাপার না। তেমনি একজন পর্যটক নাঙ্গ পামেলা। যিনি তার সন্তানদের নিয়ে এসেছেন এই মরুভূমিতে। তিনি বলছিলেন, 'আমার বাচ্চাদের জন্য আমি চেয়েছিলাম রাজস্থানের সংস্কৃতি তাদেরকে দেখাতে। তাদের যে প্রাসাদ এবং দুর্গ আছে সেটা কেবল তারা বইতেই পড়েছে। বিশেষ করে উটে চড়ে ঘুরে বেড়ানো এটা একটা বিশেষ অভিজ্ঞতা। আমি চেয়েছিলাম আমাদের বাচ্চাদেরকে এই অভিজ্ঞতাটা দিতে।' কিন্তু মরুভূমির মধ্যে এই ধরণের একটা ক্যাম্প তৈরি করা আসলেই অনেক ব্যয়বহুল। যে টেন্টগুলো তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোর জন্য শুধু পানি আর বিদ্যুতের সাপ্লাই আনার জন্য দুই বছর সময় লেগেছে। উচ্চবিত্ত যেসব পর্যটক রয়েছে তারা আসেন তবু্ও সেটা ঠাণ্ডার সময়। যেটা শুধুমাত্র পাঁচ-মাস স্থায়ী থাকে। প্রতিরাতে এই ধরণের টেন্ট এ থাকার জন্য তিনশ ডলার গুনতে হবে। যেটা একেবারেই সস্তা না। তবে যারা এ ধরণের অভিজ্ঞতা নিতে চান তাদের কাছে অর্থ তেমন বড় বিষয় না। সূত্র : বিবিসি
3
ফুলবাড়িয়া উপজেলার সন্তোষপুর বনাঞ্চলে কভারবিহীন তারে জড়িয়ে বানর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এরজেনারেল ম্যানেজার ও সন্তোষপুর বিট কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ময়মনসিংহ যুব নাগরিক সোসাইটির সভাপতি শুভ্র চক্রবর্তীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান ফয়সাল নোটিশটি পাঠান। নোটিশে ৭ দিনের মধ্যে বনের ভেতরের তার সরানো, তারে কভারযুক্ত করা এবং বানরসহ বনের সব পশুপাখির নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান ফয়সাল জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণে কভারবিহীন তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত হয়েছে এ বনের ১০টি বানর। এর মধ্যে গুরুতর আহত একটি বানর মারা গেছে। এ ঘটনায় বন ও বনের প্রণীর নিরাপত্তায় দ্রুত ওই বিদ্যুতের তার সরানো ও আহত বানরগুলোর চিকিৎসায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বন ও বনের পশুপাখির নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় বন বিট কর্মকর্তা মো আশরাফুল আলম খান জানান, তিনি কোন লিগ্যাল নোটিশ পাননি। উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সন্তোসপুর বনাঞ্চলের ভেতর রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক বানর। এ বনাঞ্চলে অন্তত ৫ কিলোমিটার জুড়ে কভারবিহীন তারেই দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎসংযোগ। এ কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রায় ১০টি বানর গুরুতর আহত হয়েছে। যাদের মধ্যে মারা গেছে একটি বানর।
6
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস্টারভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানোর বিষয়ে ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেছেন, এজন্য শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর, বয়স এবং শাখাভিত্তিক ডিভিশনে ভাগ করা হতে পারে। একেকদিন একেক ক্লাস্টারের শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে আসবে। ক্লাস্টারের আওতায় পড়ে যেদিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা শ্রেণিকক্ষে আসবে না তাদের অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। বাড়িতে বসে তারা অ্যাসাইনমেন্টের কাজ করবে। পাশাপাশি অনলাইনে ক্লাস করানো হবে।অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর সীমিত পরিসরে ক্লাসে উপস্থিত করাটাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। আর এটার কোনো বিকল্প নেই। গত মঙ্গলবার ভোরের কাগজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ক্লাস্টারভিত্তিক শিক্ষাদান ছাড়াও শিক্ষাটিভি চালু করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। শিক্ষাটিভি চালু হলে হয়তো একসঙ্গে মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দেখবে এবং তা থেকে ১০ থেকে ১২ শতাংশও যদি উপকৃত হয় তাহলেও অনেক শিক্ষার্থী সুফল পাবে। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই, শিক্ষার বিকল্প শিক্ষাই কথাটি জানিয়ে তিনি বলেন, করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণ হয়তো হচ্ছে না। এর বিকল্প খুঁজতে হবে। তবে সব স্তরে এই প্রস্তাব একই রকম নয়। প্রাথমিকে এক ধরনের, মাধ্যমিকে আরেক ধরনের, উচ্চ শিক্ষায় অন্য মাত্রার সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, স্তরভিত্তিক শতভাগ শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত করতে হলে টিকার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু ১৮ বছরের নিচে কাউকে টিকা দেয়া হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে কি করা হবে? এজন্য বিকল্প পথ খুঁজতে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড থেকে অ্যাসাইনমেন্ট প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন অলিম্পিয়াড কমিটির সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। অর্থাৎ সব বিষয়কে সহজবোধ্য করে শিক্ষার্থীদের সামনে পরিবেশন করার কৌশল নির্ধারণের কাজ চলছে। যাতে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণ করে।
6
রাাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধে তিনি অপেশাদার বা সংরক্ষিত সেনাদের জড়াবেন না। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধ করতে বিপুল সংখ্যায় বেসামরিক মানুষ তালিকাভুক্ত হচ্ছে। যুদ্ধে যেসব সৈনিক এবং কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন, তাদের 'মা, স্ত্রী, বোন, বধু এবং বান্ধবীদের' প্রতি ভিডিও বার্তায় সহমর্মিতা জানান রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। "আমি উপলদ্ধি করতে পারছি, প্রিয়জনদের জন্য আপনারা কতটা উদ্বেগে আছেন," তিনি বলেছেন। এই নারীদের 'আনুগত্য, নির্ভরযোগ্যতা এবং সহায়তার' বিষয়টি তার বক্তব্যজুড়ে উঠে এসেছে। "আমাদের প্রিয় নারীরা, আপনাদের সংবেদনশীলতা, সহানুভূতি এবং অতিমানবিক উদারতার মাধ্যমে বিশ্বকে আরও ভালো এবং দয়াময় করে তুলেছেন, সেজন্য ধন্যবাদ। আকর্ষণীয় কোমলতা এবং আশ্চর্য অন্তর্নিহিত শক্তির একটি মিশেল আপনারা তৈরি করেছেন," বলেন পুতিন। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি বিডি প্রতিদিনি/কালাম
3
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (৬ অক্টোবর) বিএফইউজের নির্বাচনে মহাসচিব প্রার্থী দীপ আজাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট নূরে আলম উজ্জ্বল এ আবেদন করেন। আগামী রবিবার চেম্বার বিচারপতির আদালতে এই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। এর আগে আগামী ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৮ সেপ্টেম্বর এই আদেশ দেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) নির্বাচনে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর আগে নির্বাচনে ৩৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে ১টি মনোনয়নপত্র বাতিল করে ৩৩ জনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা অনুযায়ী সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আবদুল জলিল ভুঁইয়া, আবু জাফর সূর্য ও ওমর ফারুক। সহ-সভাপতি পদে অমিয় ঘটক পুলক, আজমল হক হেলাল, মধুসূদন মন্ডল, মফিদা আকবর ও সালাম মাহমুদ। মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আবদুল মজিদ, দীপ আজাদ ও লায়েকুজ্জামান। যুগ্ম মহাসচিব পদে নাসিমা আক্তার সোমা, বরুন ভৌমিক নয়ন, মানিক লাল ঘোষ ও শেখ মামুনুর রশীদ। কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন খায়রুজ্জামান কামাল, নজরুল কবির ও মোহাম্মদ আবু সাঈদ। দপ্তর সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এম শাহজাহান, মাসুম আহাম্মদ, রেজাউল করিম রেজা, শাহ আলম ডাকুয়া ও সেবিকা রানী। সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন: আবদুল খালেক লাভলু, উম্মুল ওয়ারা সুইটি, এম এ রহিম রনো, ড. উৎপল কুমার সরকার, নূরে জান্নাত আখতার সীমা, সফিউর রহমান, শাহজাহান স্বপন, শেখ নাজমুল হক সৈকত, শফিউদ্দিন আহমেদ বিটু ও হামিদ মোহাম্মদ জসিম। বিএফইউজে কার্যালয় সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় চার হাজার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহজাহান সরদার।
6
মুন্সিগঞ্জ সদরের বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার নির্মূল কমিটির এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। ঘাদানিক আরও দাবি করে, ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, মৌলবাদীদের ষড়যন্ত্রের শিকার শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছে নির্মূল কমিটি। পাশাপাশি যে কিশোর ছাত্ররা মৌলবাদী চিন্তাচেতনায় প্রভাবিত হয়ে শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে অপমান করে পুলিশে সোপর্দ করেছে, তাদের মধ্যে মানবিক চেতনার বিকাশ ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর আগে আইন ও সালিশ কেন্দ্রও (আসক) তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
6
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শনিবার (৫ জুন) জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০২১-এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে সোনালু, জাম, আমড়া ও ডুমুর গাছের চারটি চারা রোপণের মাধ্যমে এই অভিযানের উদ্বোধন করা হবে। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এবং সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, 'মুজিববর্ষে অঙ্গীকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি' প্রতিপাদ্যে এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২১ উদযাপন করা হবে। এ স্লোগান বাংলাদেশকে সবুজে শ্যামলে ভরিয়ে দিতে সর্বস্তরের জনসাধারণকে উজ্জীবিত করবে। অপরদিকে, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ঘোষণা অনুযায়ী 'প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, হোক সবার অঙ্গীকার' প্রতিপাদ্যে এবং 'প্রকৃতি সংরক্ষণ করি, প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করি' স্লোগানে বিশ্বপ্যাপী দিবসটি উদযাপন হচ্ছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে উপলক্ষ করে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার দীপংকর বর জানান, জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদফতর ও বন অধিদফতরের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের পাশাপাশি মোবাইলফোনে পরিবেশ বিষয়ক বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান, স্থাপনা ও সড়কে ব্যানার, ফেস্টুন স্থাপন করে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
6
টেস্ট ক্রিকেটের জনি বেয়ারস্টো আর ওয়ানডে'র জনি বেয়ারস্টো যেন আলাদা মানুষ। যে ব্যাটসম্যান টেস্ট সিরিজে রান পাচ্ছিলেন না, ওয়ানডেতে সেই তিনিই ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালাচ্ছেন। ভারতের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তার রান যথাক্রমে ৯৪ এবং ১২৪। প্রথম ম্যাচে না পারলেও দ্বিতীয়টিতে আকাঙ্ক্ষিত জয় এনে দিয়েছেন তিনি। ব্যাটে রান পেতেই সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কারের কটাক্ষের জবাব দিলেন তিনি। টেস্ট সিরিজে শোচনীয় ব্যর্থতার পর গাভাসকার বলেছিলেন, বেয়ারস্টোর পাঁচদিনের খেলায় উৎসাহ নেই। ভারতীয় কিংবদন্তির সমালোচনা যে হজম হয়নি বেয়ারস্টো'র তা বলাই বাহুল্য। তিনি বলেন, গাভাস্কারের মন্তব্য তিনি শোনেননি। দ্বিতীয়ত, দুইজনের মধ্যে কোনও যোগাযোগ না হওয়া সত্ত্বেও কী করে মতপ্রকাশ হয়ে যায়, সেটা জানারও ইচ্ছা রয়েছে। সেই কারণেই গাভাস্কার চাইলেই ফোন করতে পারেন। ফোন খোলাই আছে। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত
12
বাংলাদেশের ফুটবলের বিখ্যাত দুই ক্লাব ঢাকা আবাহনী ও ঢাকা মোহামেডানের মৌসুমের প্রথম লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার জয় তুলে নিয়েছে আবাহনী। আকাশী নীল জার্সিধারী আবাহনী তাদের চির প্রতিদ্বন্ধী মোহামেডানকে হারিয়েছে ৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। ম্যাচটিতে আকাশি-নীল জার্সিধারীদের হয়ে গোল করেন আফগানিস্তানের মাসিহ সাইঘানি ও জুয়েল রানা। সাইঘানি গোল করে দলকে প্রথমে এগিয়ে নেন। এরপর জুয়েল রানা গোলের ব্যবধানটা বাড়ানোর কাজটি করেন। ম্যাচের ৪১ মিনিটে রায়হান হাসানের থ্রো থেকে মাসিহ সাইঘানির হেডে প্রথম গোল। ৫৩ মিনিটে তার থ্রো থেকে জুয়েল রানার টোকায় তৃতীয় গোল। মাঝে ৪৫ মিনিটে জুয়েল রানার গোলটি এসেছে মাসিহ সাইঘানির দুর্দান্ত ব্যাকভলি থেকে। বল জালে যাওয়ার সময় মাথা ছুঁইয়ে গোলের কৃতিত্ব নেন জুয়েল। আবাহনী নতুন মৌসুমের জন্য নতুন বিদেশি খেলোয়াড় আনাসহ বেশ শক্তিশালী দল গঠন করে। অপরদিকে মোহামেডান তাদের পুরোনো খেলোয়াড়দের উপরই ভরসা রাখে। আবাহনী শক্তিশালী দল গঠন করায় ধারণা করা হয়েছিল যে মোহামেডান খুব বেশি ভালো করতে পারবে না। সেই ধারনাটাই সত্যি হয়েছে। তবে মোহামেডানের খেলোয়াড়রাও লড়াই করেছেন। তারাও আবাহনীর রক্ষণভাগে কাঁপন ধরাতে সমর্থ হয়েছিলেন। তবে ফুটবল হলো গোলের খেলা। এখানে গোল না পেলে ভালো খেলার দাম নেই। ফলে ভালো খেললেও আবাহনীই বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সমর্থ হয়েছে। গত মৌসুমের পরিত্যক্ত প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর বিপক্ষে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল মোহামেডান। সাদা-কালো সমর্থকদের আশা ছিল এবার সেই হারের প্রতিশোধ নেবে তাদের প্রিয় দল। কিন্তু বাস্তবতা তাদের সেই আশা পূরণ করতে দেয়নি। কাগজ-কলমে আবাহনী যে তাদের চেয়ে বেশ শক্তিশালী, মাঠেও সে ব্যবধান দেখাল ১১ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
12
মৃতদেহের পাশে বিষের খালি বোতল। নিহতদের মুখ দিয়ে তখনও বের হচ্ছে ফেনা ও লালা। তাদের পকেটে চিরকুট, তাতে লেখা," মা আব্বা তোমাদের খুব জ্বালিয়েছি, আমাকে মাফ করে দিও। টাকা আমি নিছিলাম ভুল করে, ইয়ার্কি করতে যেয়ে চোর হয়ে গেলাম। তোমরা সবাই মাফ করে দিও, বিদায় পৃথিবী। '' এই অবস্থায় ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে রিপন হোসেন (২৮) ও আব্দুল আওয়াল (২৭) নামে দুই বন্ধুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বাহাদুরপুর প্রাইমারি স্কুলের পাশের সালতার মাঠ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত রিপন হোসেন বাহাদুরপুর গ্রামের গুল বক্সের ছেলে ও আওয়াল হোসেন একই গ্রামের বিশারত হোসেনের ছেলে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ ধারণা, হতাশা ও বেকারত্বের কারণে তারা আত্মহত্যা করেছে। হরিণাকুন্ডু থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, সকালে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান মৃত দুই যুবকের মুখ দিয়ে ফেনা ও লালা বের হচ্ছে। পাশে বিষের বোতল পড়ে আছে। এতে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বলেন, নিহত রিপনের পকেটে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। বাহাদুরপুর গ্রামের সামাজিক দলের নেতা মতিয়ার রহমান জানান, রিপন জোড়াদহ কলেজে পড়তেন। ২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর বন্ধু আওয়ালের সঙ্গে ঢাকায় চলে যান। তিনি আরও জানান, ঢাকায় গিয়ে চাকরির কথা বলে দুইজনই তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেন। এর মধ্যে রিপন নেন ৮ লাখ টাকা ও আওয়াল নেন ৪০ হাজার টাকা। পরে ঈদে বাড়িতে এসে তারা জানান, তাদের চাকরি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বাবা মার সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য হয়। এ ঘটনায় তারা দুই বন্ধু বিষপান করতে পারে বলে মতিয়ার রহমান জানান। এদিকে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এটা একটি ব্যতিক্রমধর্মী আত্মহত্যার ঘটনা। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার পর চাকরি না পেয়ে বিবেকের তাড়নায় দুই বন্ধু ফসলে ব্যবহারের শক্তিশালী বিষ মার্সাল পান করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এসপি আরও বলেন, আত্মহত্যা ঝিনাইদহের মানুষের একটি সামাজিক ব্যাধি। তারই ধারাবাহিকতায় দুই যুবক এই পথ বেছে নিয়েছে, যেটা মর্মান্তিক ঘটনা। মরদেহের ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
6