text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
ছিল শহিদ বেদি। হয়ে গেল রামমন্দিরের ভিত! নতুন বিতর্ক বাধল বিজেপি-শাসিত ত্রিপুরায়। জনজাতির জন্য জমির অধিকারের লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন মোহিনী ত্রিপুরা। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জনজাতি এলাকায় শহিদ মোহিনীর নামে গ্রাম, স্কুল, কমিউনিটি হল সবই আছে। চারদিন আগে সেই 'মা মোহিনী শহিদ বেদি'র জায়গাতেই রামমন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করেছে বিজেপি এবং বিশ্ব সনাতন সেনা নামে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সহ-সভাপতি সুবল ভৌমিক। মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তরে তার নামও রয়েছে। জমির লড়াইয়ের 'শহিদ মা'র বেদির ভিত ভেঙে মন্দিরের পাথর বসানোয় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জনজাতি মহলে। বিজেপির দাবি, ওই জমি সিপিএম দখল করেছিল। দাবি উড়িয়ে জেলাশাসকের কাছে পাল্টা অভিযোগ করেছেন সিপিএম নেতৃত্ব। উত্তর-পূর্বে পাহাড়ের ঢালে ঝুম চাষ জনজাতিদের বেঁচে থাকার দীর্ঘদিনের পথ। পাঁচ দশক আগে সেই ঝুম চাষে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় প্রতিবাদে নেমেছিলেন টাক্কাতুলসি পাহাড় সংলগ্ন এলাকার জনজাতি মানুষ। তারা চাষ করতে গেলে বাধা দেয় প্রশাসন। প্রতিরোধ করেন স্থানীয় মানুষও। তারই জেরে ১৯৬৭ সালের ১৭ মার্চ গুলি চালিয়েছিল তৎকালীন বিহার মিলিটারি পুলিশ (বিএমপি)। গুলিতে মৃত্যু হয় মোহিনী ত্রিপুরার। সেই ঘটনার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ বিলোনিয়ার মতাই গ্রামে মোহিনী ত্রিপুরার নামে স্মারকবেদির ভিত স্থাপন করেছিলেন ত্রিপুরার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। সিপিএমের বিলোনিয়া মহকুমা কমিটির সম্পাদক তাপস দত্তের অভিযোগ, গত ৫ অক্টোবর প্রথমে শহিদ বেদির ভিত ভেঙে দেওয়া হয়। তার পরে দুর্গাপূজার পঞ্চমীর দিন সেখানে রামমন্দিরের ভিত্তিফলক বসিয়ে দেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সূত্রে অবশ্য বলা হচ্ছে, এমন ঘটনার কথা তাদের জানা নেই। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বিধায়ক বাদল চৌধুরীর অভিযোগ, 'বিজেপি ও সঙ্ঘের চেষ্টাই হচ্ছে ইতিহাস মুছে দেওয়ার। পঞ্চাশ বছর আগের ওই আন্দোলন শুধু ত্রিপুরায় নয়, গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জনজাতিদের বনের জমিতে চাষ ও পাট্টা পাওয়ার পথ প্রশস্ত করেছিল।' ত্রিপুরায় বাম আমলেই ২০০৬ সালে তৈরি হয়েছিল বনাঞ্চল আইন। বিজেপি নেতা সুবলবাবু অবশ্য দাবি করেছেন, 'সিপিএম ওই জমি দখল করে রেখেছিল। সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ছিল। রামমন্দিরের ভিত প্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করেছেন।' তাপসবাবু যদিও পাল্টা জানাচ্ছেন, বিলোনিয়ায় কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন সুশীল বৈদ্য। তারই ছেলে হারাধন বৈদ্য স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জমি দান করেছিলেন সিপিএমকে। তাপসবাবুর বক্তব্য, 'রামমন্দির অন্য কোথাও করা যেত না? জোর করে লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস মুছে দিতে চাইছে বিজেপি।' সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
3
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম দুই দিনে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও তৃতীয় দিনটি ভালোভাবেই শুরু করেছেন টাইগাররা। দিনের প্রথম সেশনে তুলে নেয় চার উইকেট। এর মধ্যে আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান বাবর আজম ও আসাদ শফিকও আছেন। পরে ১২২.৫ ওভারে৪৪৫ রান তুলে থামে স্বাগতিক পাকিস্তান। প্রথম ইনিংস থেকে তারা লিড নিয়েছে ২১২ রানের। শনিবার ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৪২ রান তুলে দিনের দিনের খেলা শেষ করা পাকিস্তানের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান বাবর আজম ও আসাদ শফিক। রোববার সকালে ব্যাটে নেমে আগের দিনের করা ১৪৩ রানেই থামেন বাবর আযম। আবু জায়েদ রাহির শিকার হন তিনি।এরপর দলীয় ৩৫৩ রানে আসাদ শফিককে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে দিনের দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন পেসার এবাদত হোসেন। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়েফেরার আগে আসাদ খেলেন ৬৫ রানের ইনিংস। এরপর দলীয় সংগ্রহে আরও ২১ রান যোগ করে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে তুলে নেন রুবেল হোসেন। রিজওয়ান করেন ১০ রান। শেষ দিকে ৭৫ রান করে ভারতের লিড বাড়িয়ে থামেন হারিস সোহেল। শুক্রবার শুরু হওয়া ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়প্রথম দিনেই ২৩৩ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে দলের পক্ষেমোহাম্মদ মিঠুন সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন। তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা নাজমুল শান্তর ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪ রান। এছাড়া লিটন দাস ৩৩ এবং অধিনায়ক মুমিনুল হক সেট হয়ে ৩০ রান করে ফিরে যান। মাহমুদুল্লাহ করেন ২৫ রান ও তাইজুল ইসলাম ফেরেন ২৪ রান করে। প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিং বিপাকে ফেলে দিয়েছে দলকে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে বাঁ-হাতি পেসার শাহিন আফ্রিদি তুলে নেন ৪ উইকেট। পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও বাঁ-হাতি পার্টটাইম স্পিনার হারিস সোহেল দুটি করে উইকেট নেন। তরুণ গতি তারকা নাসিম শাহ নেন একটি উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে আবু জায়েদ ও রুবেল হোসেন তিনটি করে উইকেট নেন। তাইজুল ইসলাম দুই উইকেট এবং একটি উইকেট নেন এবাদত হোসেন।
12
ঋণ খেলাপির অভিযোগে পরিচালক পদ হারিয়েছিলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক এ এস এম ফিরোজ আলম। তিনি পুনরায় তার সে পদ ফিরে পেয়েছেন। এর আগে, করোনাভাইরাসের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ঋণ পরিশোধের তথ্য পৌঁছানো এবং সিআইবি রিপোর্ট হালনাগাদ হতে দেরি হওয়ায় খেলাপি তালিকায় এস এম ফিরোজ আলমের নাম উঠে । ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ঋণ খেলাপি ব্যক্তি কোনো ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। সে অনুযায়ী মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক পদ হারান ফিরোজ আলম। সম্প্রতি এ ঋণ পরিশোধের তথ্য হালনাগাদ হওয়ায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক পদ ফিরে পান তিনি। বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের যুগ্ম পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা বেগম স্বাক্ষরিত ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি চিঠি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, আপনাদের চলতি ১৬ জুলাই তারিখে পত্র নং এমবিএল/বো.স./২৫/২০২০ এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে। ২৪ জুন ব্যাংকের ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচিত এ এসএম ফিরোজ আলমকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে নিযুক্তিতে অনুমোদন দেয়া হলো। গত ৫ জুলাই ঋণখেলাপির দায়ে ফিরোজ আলম ব্যাংকের পরিচালক পদ হারিয়েছিলেন। সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছিল, এ এস এম ফিরোজ আলম এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে খেলাপি ঋণ থাকায় ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ১৫ (৬) (উ) ধারা বিধান অনুযায়ী এস এম ফিরোজ আলমকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার সুযোগ নেই। সূত্র মতে, গত ২৪ জুন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) নির্বাচিত চারজন পরিচালক হিসেবে অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয় ব্যাংকটি। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিনজনকে ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে অনুমোদন দেয়। এই তিনজনের মধ্যে রয়েছেন এ কে এম সাহিদ রেজা, আলহাজ মোশাররফ হোসেন এবং এম আমানউল্লাহ। জানা গেছে, করোনার কারণে সিআইবি রিপোর্ট আপডেট না করায় তিনি খেলাপি ছিলেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক এটি সংশোধন করলে মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে ফিরোজ আলমকে পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য ১৬ জুলাই সুপারিশ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ২২ জুলাই এটি অনুমোদন দেন। শিল্পপতি এ এস এম ফিরোজ আলম ব্যাংকিং এবং লিজিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং টয়ো সিস্টেম বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসার পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কালাইয়ায় 'শাহেদা গফুর ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল' প্রতিষ্ঠা করেন।
0
ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের পুরী উপকূলে শুক্রবার সকালে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় 'ফণী'।উড়িষ্যায় আছড়ে পড়ার সময় ফণীর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ফণীর তাণ্ডবে উড়িষ্যা সংলগ্ন জেলা মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে যেন সকলে সুরক্ষিত থাকেন, এমন প্রার্থনাই করেছেন বলিউড ও টালিগঞ্জের তারকারা। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে স্বস্তিকা, শুভশ্রী সহ অনেককেই টুইট করেছেন। এছাড়া বলিউড তারকাদের মধ্যে অভিষেক বচ্চন,সিদ্ধার্থ মালহোত্রাএবং তামান্না ভাটিয়াসহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুইট করে ওই এলাকার লোকজনদের সুরক্ষিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: জি-নিউজ
2
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে জন্য ডিএমপি তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতা বজায় রাখতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আজ রোববার ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগর যেহেতু দেশের রাজধানী, তাই এখানে যেন এ ধরনের কোন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আমাদের আরও বেশি তৎপর থাকতে হবে, চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।'শফিকুল ইসলাম জানান, এরই মধ্যে ঢাকার বড় বড় পূজামণ্ডপ ও উপাসনালয়ে পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।থানা-পুলিশের সেবার মানোন্নয়নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'থানায় কেউ জিডি বা পুলিশি সহায়তা নিতে আসলে পুলিশের কেউ টাকা দাবি করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডিএমপির কোনো সদস্য দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে ডিএমপি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।'এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কৃষ্ণ পদ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
6
শীতের সবজি মোকামে ঠাসা, কিন্তু দাম চড়া। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানের সবজির মোকামের চিত্র এটি। এক সপ্তাহ আগে সেখানে প্রতি মণ ফুলকপি ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে বাঁধাকপি প্রতিটি বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।
5
জেলায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৩১২ পরিবার ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্যসামগ্রী পাবে। আজ রোববার থেকে এই পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।গতকাল শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। তিনি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন, তিন পৌরসভা ও আট উপজেলার উপকারভোগীরা তালিকায় থাকছেন। এর মধ্যে করোনাকালীন উপকারভোগীর সংখ্যা ৯৮ হাজার এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১২ জন নতুন।এই কার্যক্রমে প্রত্যেক পরিবার রোজার আগে ও পরে দুই দফায় দুই কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল, দুই লিটার সয়াবিন তেল পাবে। এ ছাড়া রোজার মধ্যে দুই কেজি করে ছোলা পাবে। জেলায় ১৩৫ জন ডিলারের মাধ্যমে ২২২টি কেন্দ্রে বিক্রির কার্যক্রম চলবে।জেলা প্রশাসক বলেন, নির্ধারিত মানদণ্ডের (নিম্ন আয়ের মানুষ) ভিত্তিতে উপকারভোগী বাছাইয়ের মাধ্যমে একটি তালিকা প্রণয়ন করে টিসিবির পণ্যসামগ্রী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। জেলায় ইতিমধ্যে ৩৫৫ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন করে চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল ও ছোলা বিক্রি করতে উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়ন কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে চলমান রয়েছে।জেলা প্রশাসক জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের কমিটি উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়ন কাজ প্রায় শেষ করেছে। কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে প্রত্যেক উপজেলায়, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধির সঙ্গে উপজেলা, জেলা প্রশাসনের টিম কাজ করছে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গোলাম রব্বানী, টিসিবির রংপুর আঞ্চলিক অফিস প্রধান প্রতাপকুমার প্রমুখ।
6
ময়মনসিংহের ফুলপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রজেক্ট পরিদর্শন করলেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টায় ফুলপুর পরিদর্শনে আসেন তিনি। এরপর প্রথমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। তারপর ফুলপুর মহিলা কামিল মাদরাসা, ফুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ, ফুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন তিনি। জেলা প্রশাসক ফুলপুরে পৌঁছলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেষ চন্দ্র সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার ববি ও ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমান হারিছ (৩২) নামে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার এক যুবক নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে সৌদির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহতের পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনা সম্পর্কে নিহতের ভাই ফরিদ জানান, গত সাত বছর আগে হারিছ সৌদি আরবে যান। তিনি রিয়াদে বসবাস করতেন। সৌদি আরব থেকে হারিছের এক সহকর্মী তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে জানান ফরিদ। তিনি জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ডিউটিতে যান তিনি। ডিউটি শেষে সৌদি সময় বিকাল চারটায় বাসায় ফিরছিলেন। রাস্তায় মালবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে হারিছ গুরুতর আহত হন। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মিজানুর রহমান হারিছের শতবর্ষী পিতা সাহাব উদ্দিন বলেন, ৭ বছর আগে আমার ছেলেকে সৌদি আরব পাঠিয়েছি। এখন সে নাই, এ কথা ভাবতেই পারি না। দূর দেশে সে মারা গেছে, আমরা তার লাশটা কি পাব? তাকে হারিয়ে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মিজানুর রহমান হারিছের স্ত্রী কল্পনা বেগম দুই ছেলে ও এক মেয়ের কথা বলে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে আকুতি জানাচ্ছি, আমার স্বামীর মৃতদেহ আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার। আমরা যেন তাকে নিজ হাতে কবর দিতে পারি। আমার স্বামীর পাঠানো টাকা দিয়ে আমার পরিবারের এবং আমার শ্বশুরের ওষুধ খরচ চলতো। তার তিন ছেলে মেয়ে রয়েছে। সবাই তার দিকে চেয়ে থাকতাম। এখন আমাদের কী হবে? আমার নাতি-নাতনি, পুত্রবধূর কি হবে। এসব কথা বলে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ সাহাব উদ্দিন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
কলকাতার আলোচিত অভিনেত্রী পাওলি দাম। চরিত্রের প্রয়োজনে যেকেনো সাহসী দৃশ্যে তার অংশগ্রহণ বেশ আলোচিত।এককথায় বিনোদনের জন্য সবকিছুতে ছাড় দিতে রাজি এ অভিনেত্রী। সামনেই ভালোবাসা দিবস। ওইসময় মুক্তি পাবে তার আসন্ন ছবি প্রতীম ডি গুপ্তার 'লাভ আজকাল পরশু'। ভ্যালেন্টাইনস'ডে উদযাপন ও তার নতুন ছবি নিয়ে সম্প্রতি এনডিটিভিকে এক সাক্ষাৎকার দেন তিনি। সেখানে উঠে আসে ভালোবাসা দিবসে তার পরিকল্পনার কথা ও তার হাতে থাকা 'লাভ আজকাল পরশুর' খুঁটিনাটি। ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপন প্রসঙ্গে পাওলি বলেন, প্রেম একটা দিনের! উঁহু, বছরভর। সারাজীবনের জন্য। আসলে আমরা বাঙালিরা অজুহাত করি পার্বণ পালনের জন্য। সেই হিসেবে এক সপ্তাহ জুড়ে চুটিয়ে প্রেম। মন্দ কী? আমি ছোট থেকেই ভীষণ টেডি বিয়ার পছন্দ করি। তাই স্কুলে পড়ার সময় বন্ধুরা প্রচুর টেডি উপহার দিত।কখনও একা টেডি। কখনও জোড়ায়। সঙ্গে হার্ট সাইন। নিজেও টেডি বানাতাম। স্কুলে শেখাত। দিনটায় যেন হাওয়ায় উড়তাম। লাভ আজকাল পরশু বিষয়ে এই আবেদনময়ী নায়িকা বলেন, প্রতীমের ৫ নম্বর ছবি 'লাভ আজ কাল পরশু'। এতে আমি কালকি মৈত্র। প্যারাডাইস হোটেল দেখাশোনার দায়িত্বে। এখানে আমাকে তিনজন সহযোগিতা করবেন লীনা, গণেশ, বটুক।একদম অন্য স্বাদের। ভিন্ন ঘরানার। এই প্রথম একটা চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আমি চাপে পড়ে গেছিলাম। এমন কোনও নারী আমি দেখিনিই। অভিনয়ের আগে তাই রীতিমতো মাথা ঘামাতে হয়েছে, কীভাবে পোট্রে করলে দর্শকের কাছে সহজে পৌঁছোতে পারব। এই প্রজন্মের নায়ক-নায়িকা অর্জুন-মধুমিতার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে পাওলি বলেন, অর্জুনের সঙ্গে আমি প্রতীমের 'মাছের ঝোল'-এ কাজ করেছি। ভীষণ ভালো অর্জুন। মধুমিতার সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। বড়পর্দায় মধুমিতাও এই ছবি দিয়ে অভিষেক হচ্ছে। ও খুব মিষ্টি, ঝকঝকে মেয়ে। আমি চা খেতে ভালোবাসি শুনে অনেক রকমের চা খাইয়েছে। অনিন্দিতা বসু, অনিপ্বাণ চক্রবর্তীর সঙ্গেও প্রথম কাজ আমার। অনিন্দিতা ভীষণ সাবলীল। অনির্বাণদা মঞ্চ থেকে উঠে আসা বলে দারুণ স্ট্রং। অভিজিৎ গুহ-ও আছেন কমিক চরিত্রে। ওর অভিনয় দেখে আমি হেসে গড়িয়েছি। বুঝতেই পারছেন, দর্শকদের তাহলে কী অবস্থা হবে। ভালোবাসা, বিনোদনের জন্য কতটা সাহসী হতে পারেন? - এমন প্রশ্নের জবাবে হাসতে হাসতে পাওলির একটাই উত্তর, 'এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড এনআরটেইমেন্ট। (প্রেম ও বিনোদনে সবকিছুই বৈধ)।'
2
বাড়ির পেছনে থাকা বাগান থেকে নারকেল ও লেবু চুরি নিয়ে দ্বন্দ্বে মা-বোনকে বাঁচাতে গিয়ে দাদা আবুল কাশেম হাওলাদারের (৬৬) লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয় কিশোর জিসান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় সে। গত ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বরিশালের মুলাদি থানার জালালাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অভিযান চালিয়ে আসামি আবুল কাশেম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।মুক্তা ধর বলেন, নিহত জিসান আবুল কাশেম হাওলাদারের বড় ছেলে নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে। প্রায় ১৩ বছর ধরে নজরুল মালয়েশিয়াপ্রবাসী। আবুল কাশেম তাঁর ছোট ছেলের সঙ্গে থাকতেন। বড় ছেলে নজরুল বাবার খরচের জন্য মাঝেমধ্যে ছোট ভাইয়ের কাছে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতেন। আবুল কাশেমের বাড়ির পেছনে নারকেল ও লেবুবাগান রয়েছে। ২৭ এপ্রিল রাতে কে বা কারা বাগানের গাছ থেকে নারকেল ও লেবু চুরি করে নিয়ে যায়। সকালে ছোট ছেলে আজিজুলের স্ত্রী আঁখি নুর বেগম গাছে ফল না দেখে প্রবাসী বড় ছেলের স্ত্রী ও তাঁর ছেলে-মেয়েকে সন্দেহ করে গালিগালাজ করেন। গ্রেপ্তার আবুল কাশেমের বরাত দিয়ে মুক্তা ধর বলেন, বাগান থেকে ফল চুরিকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। ছোট ছেলে আজিজুল ও তাঁর স্ত্রী আঁখি নুর মিলে বড় ছেলের স্ত্রী জেসমিন ও তাঁর মেয়ে নাজমুন নাহার শিখাকে মারধর করেন। তাঁদের চিৎকারে কাশেমের নাতি জিসান ঘর থেকে বের হয়ে তার মা-বোনকে ছাড়িয়ে নেয়। এ সময় আজিজুলের সঙ্গে জিসানের তর্কাতর্কি শুরু হয়। এ ঘটনায় আবুল কাশেম হাওলাদার আজিজুলের পক্ষ নিয়ে উঠানে থাকা ক্রিকেট খেলার কাঠের ব্যাট দিয়ে জিসানের মাথায় আঘাত করেন। এতে জিসান তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।আবুল কাশেম জানিয়েছেন, দুই বছর আগে তাঁর স্ত্রী মারা যান। তাঁর দুই ছেলে। ছোট ছেলে আজিজুল কৃষিকাজ করেন। তিনি ছোট ছেলের সঙ্গে থাকতেন। সিআইডির কর্মকর্তা বলেন, পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করে মুলাদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান। এরপর শেবাচিম থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ঢামেকে ২৮ এপ্রিল রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে জিসান মারা যায়।মুক্তা ধর বলেন, জিসান মালয়েশিয়াপ্রবাসী নজরুল ইসলাম হাওলাদারের একমাত্র ছেলে এবং লক্ষ্মীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। হত্যাকাণ্ডের পর জিসানের মা মোসাম্মৎ জেসমিন বেগম একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন উৎস থেকে সিআইডি প্রয়োজনীয় তথ্য সরেজমিনে সংগ্রহ করে। পরে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবুল কাশেম হাওলাদারের সংশ্লিষ্টতা পায়। সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা এলাকা থেকে আবুল কাশেম হাওলাদারকে সিআইডি গ্রেপ্তার করে।
6
ইয়াবাসহ রাজধানীর পল্লবী থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো মো. আবদুর রহিম (৪১) ও মো. আবু তাহের (৪০)। তাদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২৩ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুন) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন র্যাব-২ এর এএসপি ফজলুল হক। ফজলুল হক বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় মিরপুরের পল্লবী এলাকায় কতিপয় মাদক কারবারীদের মধ্যে মাদকের একটি বড় চালান হস্তান্তর হবে। এরই প্রেক্ষিতে, র্যাব-২ এর আভিযানিক দল গতকাল রাতে রাজধানী পল্লবী থানাধীন আলহাজ আব্বাস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থান নেয়। সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় ওই দুজনকে সন্দেহ হলে আটক করা হয়। এসময় তল্লাশী করে তাদের হাতে থাকা স্কুল ব্যাগ ও শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২৩ হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির ৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, তারা পারস্পারিক যোগশাজোসে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক পরিবহন করে নিয়ে আসে এ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকে। মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা ছদ্মবেশ ধারননসহ বিভিন্ন রকম অভিনব পন্থা অবলম্বন করে। পল্লবী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
6
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ উদ্যোগে ২ হাজার শ্রমজীবী মানুষের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ডা. আব্দুল আজিজ জানান, ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তার নির্বাচনী এলাকা তাড়াশ-রায়গঞ্জে লকডাউন চলাবস্থায় ৭ দিন পর পর খাদ্য সামগ্রী বাড়িতে বড়িতে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখবেন। ৭ দিনের খাদ্য তালিকায় রয়েছে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ৫০০ গ্রাম মসুরের ডাল, ৫০০ মিলি লিটার ভোজ্য তেল। এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যতদিন প্রয়োজন ততদিন অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে এই খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়া হবে।' এদিকে শনিবার দুপুরে তাড়াশ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকাজে নিয়োজিতদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পিপিই বিতরণ করেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ । এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনি, তাড়াশ ইউএনও ইফফাত জাহান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জামাল মিঞা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আব্দুল হক, ওসি মাহবুবুল ইসলাম প্রমুখ।
6
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছে দুই পলাতক সেনা সদস্য; কর্তৃপক্ষের আদেশে তারা এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল। ওই দুই সেনা সদস্য ভিডিওতে সম্প্রতি এ দায় স্বীকার করে বলে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস জানিয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে বেঁচে থাকা রোহিঙ্গাদের বক্তব্যের সঙ্গে সেনা সদস্যদের বক্তব্যের মিল পাওয়া গেছে। সিএনএন বলছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চলেছে, দুই সেনা সদস্যের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সেনা সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো এটি স্বীকার করে নেওয়া হলো। মাইয়ো উইন তুন ও জো নাইং তুং নামের এই দুই সেনা সদস্যের ভিডিওটি গত জুলাইয়ে ধারণ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত আরাকান আর্মি। এটি প্রকাশ করেছে ফোর্টিফাই রাইটস বলেছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। দুটি ভিডিও প্রকাশ করে ফোর্টিফাই জানিয়েছে, কীভাবে এই সেনা সদস্যরা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার বর্ণনা দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে নির্যাতনের নানা বিষয় নিয়েও কথা বলেছে। ভিডিওতে মাইয়ো তুন বলেন, মুসলমানদের তাউং বাজার গ্রামটি আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। যেভাবে নির্দেশনা পেয়েছি সে অনুযায়ী আমরা রাতে অভিযান চালিয়েছি। এক কবরেই আমরা ৩০ জনকে সমাহিত করেছি। স্বীকারোক্তি দেওয়া দুই সেনা সদস্যের বক্তব্য নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ওই দুই সেনা সদস্য এখন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তদন্ত চলা চলা হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ তথ্যে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। ফোর্টিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিও স্মিথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, রোহিঙ্গা এবং মিয়ানমারের জনগণের চলমান ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে এটি একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। রাখাইনে নির্যাতন ও নির্মমতার দায় স্বীকার করে জুলাইতে ভিডিওতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর সর্বশেষ আগস্টে ওই দুই সেনাকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে দেখা গিয়েছিল। তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হেফাজতে রয়েছে বলে ফোর্টিফাই দাবি করলেও আদালতের পক্ষ থেকে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
3
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদারদের মতোই গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। আর মানুষ পুড়িয়ে মারা গণহত্যার শামিল। এটি জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড। তবে ৮১ দিনের অবরোধের পরও তিনি আন্দোলনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই ব্যর্থতা থেকে উনি আর উঠে আসতে পারবেন না। নাগরিক সমাজের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যাদের বিবেক আছে, তারা কীভাবে মানবতাবিরোধী ও বীভৎসভাবে মানুষ হত্যাকারী বিএনপি-জামায়াতকে সমর্থন দেয়, ভোট দিতে পারে? যারা নিজেদের সমাজের জ্ঞানী-গুণী ও বিবেকবান বলে দাবি করেন, তারা কী করে এই অপশক্তির পাশে দাঁড়ায়, পক্ষে কথা বলে? এতটুকু মনুষ্যত্ব থাকলে গণহত্যায় জড়িত বিএনপি-জামায়াতকে তারা সমর্থন করতেন না, এদের সঙ্গও ছেড়ে দিতেন।গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। অবরোধ-হরতালের নামে বিএনপিসহ ২০ দলের নাশকতা, নৈরাজ্য, জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ হত্যার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, জনগণ শান্তি চায়। তাই আর কাউকেই দেশের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতেদেব না। এদেশে আর জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নেত্রী জ্বালাও-পোড়াও শুরু করেছেন। ৮১ দিন ধরে অবরোধ দিয়েই চলেছেন। আর কত মানুষকে বীভৎস কায়দায় পুড়িয়ে মারা হবে! একাত্তরে পাক হানাদাররা যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছে, ঠিক সেভাবেই খালেদা জিয়া জামায়াতকে নিয়ে মানুষ পোড়ানো শুরু করেছেন। জীবন্ত মানুষকে এভাবে পুড়িয়ে মারা গণহত্যারই শামিল।তিনি বলেন, ৮১ দিনেও বিএনপি নেত্রীর আক্কেলের গোড়ায় পানি পড়েনি, পড়বেও না। তিনি যা করতে চেয়েছিলেন, ৮১ দিনেও করতে পারেননি, পারবেনও না। আর তিনি কী আশায়, কার আশায় বসে আছেন? যাদের দিকে মুখ করে তাকিয়ে ছিলেন, তারাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সবাই তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। তাহলে আর কার ওপর ভরসা করবেন? কারও নাম উল্লেখ না করে চলমান সংকট নিরসনে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাবকারী নাগরিক সমাজের সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলেন, কথায় কথায় জেহাদ ঘোষণা করেন_ তারা কীভাবে এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীদের (খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান) পক্ষে কথা বলেন? তারা কী একবারও পেট্রোল বোমায় দগ্ধ মানুষের যন্ত্রণা দেখতে গিয়েছেন, উপলব্ধি করেছেন? তাদের মানবতাবোধ জাগ্রত হয় হত্যাকারীদের পক্ষে। হত্যাকারীদের মানবতা নিয়েই তারা সোচ্চার হন।তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে দিতে এসেছে, নিতে আসেনি। আর যারা রাতারাতি ক্ষমতায় এসে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, তাদের কাছে দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি সহ্য হয় না। কিন্তু সমাজের বিবেকবানরা তাদের সঙ্গে কীভাবে যোগ দেন? স্বাধীনতা দিবসে খালেদা জিয়ার জাতীয় স্মৃতিসৌধে না যাওয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে শহীদ মিনার এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে না গিয়ে খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন, তিনি একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসর। আর কারা কারা স্মৃতিসৌধে যাননি, সেটাও হিসাব করতে বলব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি নেতারা বলেন, তাদের নেত্রী নাকি অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। তাকে তো কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেনি! উনি তো নিজেই কার্যালয়ের ভেতরে তালা মেরে বসে আছেন। বিএনপি নেত্রী অফিস থেকে বের হচ্ছেন না। তার কথা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা না করে সেখান থেকে তিনি বেরও হবেন না। সেই চেষ্টাও তিনি আগে করেছেন। গ্রেনেড মেরে আমাকে হত্যার চেষ্টাও করেছেন, পারেননি। আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন, কেউ তাকে মারতে পারে না। উনি তো আর খোদার ওপর খোদকারি করতে পারেন না।'এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'মৃত্যুভয়কে আমি পরোয়াও করি না। আল্লাহ যতটুকু কাজ দিয়েছেন, সেই মানুষের কল্যাণ ও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন না ঘটানো পর্যন্ত কাজ করেই যাব। যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ মানুষের সেবা করেই যাব। খালেদা জিয়ার সাধ্য নেই আমাকে বিরত রাখার।' দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত থেকেই আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের কল্যাণ আওয়ামী লীগই করে, আওয়ামী লীগই করতে পারে। যারা সৃষ্টি করে, তারা সেই সৃষ্টিকে ধরেও রাখতে পারে। আওয়ামী লীগ এদেশ সৃষ্টি করেছে বলেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর বিএনপি-জামায়াত হচ্ছে ধ্বংসকারী। কারণ তারা ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর। তবে বাঙালির ভাগ্য নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।তিনি বলেন, লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এই স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ আমরা মানুষের ঘরে ঘরে পেঁৗছে দেব। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। ইনশাআল্লাহ জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবোই। সভায় বক্তব্য রাখেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর। পরিচালনা করেন ড. হাছান মাহমুদ ও অসীম কুমার উকিল।
5
বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসে বডি বিল্ডিংয়ের উদ্বোধনী দিনে পাঁচ ক্যাটাগরির ১৫ পদকের নিষ্পত্তি হয়েছে। এ পাঁচ ক্যাটাগরির ৩ ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার। মেনস জুনিয়র ওপেন ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ জিতেছেন নিউ গোল্ড জিম হেল্থ এন্ড ফিটনেস সেন্টারের মুশরাফি সাহিল। রুপা জিতেছেন গ্যালাক্সি জিমের মো. রেদোয়ান । ব্রোঞ্জ জিতেছেন বাংলাদেশ বডিবিল্ডংয়ের হযরত আলী অনিক। মেনস মাস্টার ওপেন ক্যাটাগরিতে সোনা জিতেছেন বাংলাদেশ আনসারের আবু সাইদ মোল্লা। রুপা জিতেছেন চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার শাহেদ আলী। ব্রোঞ্জ জিতেছেন ফিউচার ফিটনেস হেল্থ ক্লাবের জাকির হোসেন খান সজিব। মেনস ফিজিক ১৬৬ সে. মি. দৈহিক উচ্চতায় সোনা জিতেছেন বাংলাদেশ আনসারের মো. রবিউল ইসলাম। রুপা জিতেছেন শাকিল বডিবিল্ডিং ক্লাবের সাজ্জাদ হোসেন। ব্রোঞ্জ জিতেছেন সিলেট আইরন ওয়ারিয়র জিমের আবু বক্কর। মেনস ফিজিক ১৭০ সে. মি. দৈহিক উচ্চতায় সোনা জিতেছেন গোল্ডেন জিমের সুমন খান। রুপা জিতেছেন বাংলাদেশ আনসারের শাকের উদ্দিন শাওন। ব্রোঞ্জ জিতেছেন গ্যালাক্সি জিমের মাহমুদুর রহমান। মেনস ফিজিক ১৭৩ সে. মি. দৈহিক উচ্চতা বিভাগে সোনা জিতেছেন বাংলাদেশ আনসারের এমরুল ইসলাম হৃদয়। রুপা জিতেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুজন আলী। ব্রোঞ্জ জেতেন রাজশাহী বডি কিং মাল্টি জিমের মো. আকাশ।
12
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর ৮ ইউনিয়নের ৪ টিতে ৯ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাছে অল্প ভোট পেয়ে পরাজিত হয়ে নিজেদের জামানত হারিয়েছেন। আজ সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের বেসরকারি ফলাফল শিট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে বড়বাড়ী ইউনিয়নের একজন, ভানোর ইউনিয়নের তিনজন, দুওসুও ইউনিয়নের দুইজন এবং চাড়োল ইউনিয়নের তিনজন রয়েছেন।জানা যায়, বড়বাড়ী ইউনিয়নের মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জুলফিকার আলী ৯১টি ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। ভানোর ইউনিয়নের ৩ জনের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম ৩৯৫টি ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকে ৭৭৪ ভোট এবং আব্দুর রাজ্জাক আনারস প্রতীকে ১৪৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। দুওসুও ইউনিয়নের স্বতন্ত্র থেকে আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী মোটরসাইকেল প্রতীকে ১০১ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হুমায়ুন কবীর ৭৯ ভোট পেয়ে জামানত হারান।চাড়োল ইউনিয়নের ৩ জনের মধ্যে মোটরসাইকেল প্রতীকের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশাররফ হোসেন পেয়েছেন ৯৬৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা মুশফেকুর রহমান ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩০৬ ভোট এবং প্রতীক পছন্দ না হওয়ায় প্রচারণায় অংশ না নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মইন উদ্দীন রজনীগন্ধা প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ ভোট।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দলিল উদ্দীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটকে ৮ ভাগ করার পর এক ভাগের কম ভোটে পরাজিত হলেই ওই প্রার্থীর জামানত হারাবেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮ ইউনিয়নের ৪ টিতে ৯ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।নির্বাচন কর্মকর্তা আরও বলেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১০২ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৭১ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ভোট বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৭৮৭ টি।
6
আগৈলঝাড়ায় এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার আস্কর গ্রামে মুদি দোকানি যাদব সাহার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধা করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঋণের চাপে হতাশ হয়ে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন বলে দাবি তাঁর স্ত্রী উজ্জলা সাহার।থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, গতকাল ভোর রাতে আস্কর গ্রামের আস্কর নতুন কালিবাড়ি বাজারের মুদি দোকানি মৃত বৈকন্ঠ সাহার ছেলে তিন সন্তানের জনক যাদব সাহা (৬৫) বাড়ির পাশের একটি কদম গাছে গলায় ফাঁস দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।মুদি দোকানি যাদব সাহার স্ত্রী উজ্জলা সাহা জানান, বিভিন্ন ঋণের কারণে অনেক দিন ধরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যাদব। এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অশান্তির কারণে যাদব মঙ্গলবার ভোর রাতে বাড়ির পাশের একটি কদম গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যাদব সাহার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতলের মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
6
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাবলেছেন,এই মুহূর্তে সরকারের হাতে ৪২ লাখ টিকা মজুদ আছে। আর এপ্রিল মাসে কিছু টিকার চালান আসবে বলে সরকার আশা করছে। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নির্ধারিত সময়ে দেয়ার জন্য। সোমবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, প্রতি জেলায় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কমিটি রয়েছে এবং এসব কমিটি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে মিলে সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য এক সঙ্গে কাজ করবে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
4
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশের অর্থনীতির অদম্য অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে সকলকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের 'সোনারবাংলা' বিনির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সার্বিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জনে এগিয়ে চলছে।' বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে কনস্যুলেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, 'প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।' তিনি দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে আরও বেশি বিনিয়োগের জন্য প্রবাসীদের আহ্বান জানান। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
9
বরিশাল নগর ও বিভিন্ন উপজেলায় শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনে গতকাল আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে।বরিশাল নগর: আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বরিশালের নির্বাচিত ১৬ জন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে বরিশাল সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. এনামুল হক, গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী ও অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা।এ ছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের সামনে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন।আগৈলঝাড়া: আগৈলঝাড়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চত্বরে শেষ হয়। পরে শহীদ সুকান্ত আব্দুল্লাহ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেহের নিগার তনু প্রমুখ।বাবুগঞ্জ: বাবুগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল।হিজলা: বেলা সাড়ে ১১টার সময় উপজেলা মিলনায়তনে নারী দিবস উপলক্ষে সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়। আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ, এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগমসহ অন্যরা।
6
কাশ্মীরকে "বিতর্কিত" ভূখণ্ড বলার পর ভারতে ক্ষোভের মুখে পড়েছে ডিসি কমিক্স ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন অ্যানিমেটেড ফিল্ম "ইনজাস্টিস"। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতেবেদনে এ খবর জানিয়েছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া চলচ্চিত্রটির একটি দৃশ্যে কাল্পনিক সুপারহিরো সুপারম্যান বিমানের একটি ছোট কাজ করছেন। এ সময় একটি ভয়েস-ওভারে তিনি বলেছিলেন, "তিনি ওয়ান্ডার ওম্যানের সঙ্গে সামরিক কাঠামো ধ্বংস করে কাশ্মীরকে অস্ত্রমুক্ত বলে ঘোষণা করছিলেন।" যদিও দৃশ্যটিতে সুপারম্যান কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি দৃশ্যে প্রতিটি দেশের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছেন নাকি শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। ভিডিওতে দেখা গেছে এ সুপারহিরো ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদের শান্তি চুক্তি করতে বাধ্য করছেন। এমন দৃশ্যের প্রতিক্রিয়ায়, নামের একটি হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে মানুষ বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কেউ কেউ ডিসি কমিক্সকে বয়কটের ডাকও দিয়েছিলেন। একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, "পশ্চিমারা এখন অ্যান্টিমেটেড সিনেমা ব্যবহার করে ভারতবিরোধী প্রচার প্রচারণা করছে। এরকম সস্তা কৌশল কাজ করবে না। কাশ্মীর আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের অপমান করার এই প্রচেষ্টা আমরা সহ্য করব না। । বিতর্কিত দৃশ্য মুছে দিন!" আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "সুপারম্যান কাশ্মীরকে বিতর্কিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। ডিসি কমিক্সের লজ্জা অ্যান্টিইন্ডিয়াসুপারম্যান।" ১৯ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল চলচ্চিত্রটি। কিন্তু এই মাসের শুরুতেই তা অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। এতে দেখা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাত থামিয়ে দিচ্ছে ওয়ান্ডার ওম্যান ও সুপারম্যান।
3
রিকশাভ্যানে চড়ে জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় ঘুরে বেড়ালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় ভ্যানে তার সাথে ছোটবোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, তার স্ত্রী পেপপি সিদ্দিক ও দুই সন্তান ছিলেন। শুক্রবার পিআইডির পাঠানো একটি ছবিতে এভাবেই দেখা যায় এই সরকার প্রধানকে। ববির এক মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। এ অবস্থাতেই তিনি ঘুরে বেড়ান নিজের শৈশব স্মৃতিবিজড়িত টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন স্থান। দুই দিনের সফরে গতকাল বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ আসেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জেলা শহরের মানিকদাহ হাউজিং এলাকায় রোভার স্কাউটদের সর্ববৃহৎ সমাবেশ 'জাতীয় রোভার মুট' এর উদ্বোধনের পর তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং সুরা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাসভবনে রাত্রিযাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে। এদিকে এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিডি প্রতিদিন/২৭ জানুয়ারি ২০১৭/হিমেল
6
'আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাঁর বিদেশে চিকিৎসার দাবির আন্দোলনকে আরও সোচ্চার ও বেগবান করব।' বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে এমনটাই বললেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব।সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে আমাদের দরকার। বিএনপির জন্য নয়। দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য তাঁকে দরকার। তিনিই একমাত্র নেত্রী, যিনি দেশের গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে পারেন। সেজন্যই তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আমরা দাবি জানাচ্ছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এই দাবি জানাচ্ছি।সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বারবার করে বলছি আপনারা তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠান। আমরা তো বুঝি না, আমাদের মাথায় আসেনা, সমস্যাটা কোথায়? কেন আইনের কথা বলছেন?মির্জা ফখরুলের অভিযোগ খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে, সেটা মিথ্যা মামলা। সেখানে বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক এবং প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে সাজা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বারবার করে বলছি আপনারা তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠান। আমরা তো বুঝি না, আমাদের মাথায় আসেনা, সমস্যাটা কোথায়? কেন আইনের কথা বলছেন?দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে, সেটা মিথ্যা মামলা। সেখানে বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক এবং প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে সাজা দিয়ে আটক রাখা হয়েছে।ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীরাও আগে থেকে সমাবেশ স্থলে জড়ো হতে থাকেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে সমাবেশস্থল ও এর আশেপাশের পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়।
9
মানুষের জীবন এখন প্রযুক্তিনির্ভর। আর এ কারণে বদলে যাচ্ছে জীবনধারাও। স্মার্টফোন এই পরিবর্তনের অংশ হয়ে জীবনকে করেছে সহজ ও স্বস্তির। আঙুলের চাপে এখন মুহূর্তেই সম্ভব হচ্ছে যোগাযোগ, মিলছে জটিল সমস্যার সমাধান। স্মার্টফোনে মানুষের বিভিন্ন চাহিদা নিয়ে কাজ করছে গ্লোবাল স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভো। দুর্দান্ত ক্যামেরা, পাওয়ারফুল ব্যাটারি, স্মার্ট ডিজাইন ও অ্যাডভান্সড ফিচারের জন্য এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী নজর কেড়েছে ভিভো'র স্মার্টফোন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় ভিভো'র বার্ষিক ডেভেলপার কনফারেন্স (ভিডিসি)। অনুষ্ঠানে চলতি বছর প্রযুক্তিগত উন্নয়নের একটি সিরিজ ঘোষণা করেন ভিভো'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জানা যায়, চলতি ২০২২ সালে ভিভো'র উদ্ভাবন ও সংযোজনের পরিকল্পনাগুলো নিয়ে। কম্পিউটিং পারফরম্যান্স ভিভো'র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ভিভো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গ্লোবাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান শী ইওজিয়ন অনুষ্ঠানে বলেন, 'ভিভো স্মার্টফোনগুলোতে কম্পিউটিং পারফর্ম্যান্স স্মুথ ও পাওয়ারফুল করতে ভিভো নতুনভাবে ডিজাইন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হাই রিয়েল টাইম কম্পিউটিং ইঞ্জিন, ইন্টেলিজেন্ট শিডিউল কম্পিউটিং ইঞ্জিন এবং হাই-স্পিড ডেটা-চেজিং-লোডিং কম্পিউটিং ইঞ্জিন।' মেমোরি ম্যানেজমেন্ট মেমোরি ম্যানেজমেন্টের পারফরম্যান্স এবং দক্ষতা বাড়াতে বিনিয়োগ করছে ভিভো। সিস্টেম রেসিডেন্ট মেমোরি লাইফ সাইকেল, অ্যাপ্লিকেশন মেমোরি বরাদ্দকরণ, ডিআরএএম, এসওসিসহ অভ্যন্তরীণ ক্যাশ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি একটি স্বাধীন ভার্চুয়াল ক্যাশ ইউনিট অপটিমাইজ করছে। নেটওয়ার্কের সমস্যা দূর করা অনেক সময় দুর্বল নেটওয়ার্ক এবং সিগনালের কারণে সমস্যায় পড়েন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা। হাতের ছোট্টো ডিভাইস হবার কারণে এ ধরণের সিগনাল সমস্যা হয়ে থাকে। ভিভো'র নতুন উদ্ভাবন ইউনিক এন্টেনা আরএফ ডিজাইন এ সমস্যার সমাধান করবে। এছাড়া এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) প্রযুক্তিটি, ঠিক কখন ও কোন অবস্থায় ওয়াইফাই সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ে তাও নির্ধারণ করবে। এমনকি, ভিডিও দেখার সময় নেট স্পিড কম থাকার কারণে ভিডিও স্টাটারিং এর মতো সমস্যাগুলোও দূর হবে। দূর্বল নেটওয়ার্ক দূর করে এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ধারণ করে নেটওয়ার্কের ফ্রিজিং রেট কমিয়ে আনবে ইউনিক এন্টেনা আরএফ ডিজাইন। আইওটি ইকোসিস্টেম: ভিভো'র আইওটি ইকোসিস্টেম ভিভো'র প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি অন্যতম অংশ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিভো চীনের প্রায় ৬০টি স্মার্ট ব্র্যান্ডকে সহযোগিতা করছে। আইওটি ইকোসিস্টেম ডিভাইস থেকে ডিভাইসের সংযোগ, ডাটা প্রবাহের দক্ষতা এবং অ্যাপ আপগ্রেডেশনকে দ্রুততর এবং অপটিমাইজ করে। অনুষ্ঠানে ভিভো'র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শি ইউজিয়ান বলেন, '২০২১ সাল ছিলো ভিভো'র বৈপ্লবিক পরিবর্তনের বছর । টেকনোলজি ও ডিজাইনের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রোডাক্টের কোয়ালিটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রাহককে স্মার্টফোনের সেরা অভিজ্ঞতা দেয়ার জন্য ভিভো'র ফিচারগুলোতে আনা হয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন । আমরা আশা করছি যে, এই পরিবর্তন গ্রাহকদেরকে সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য দিয়ে ভিভোকে নিজেদের প্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে রূপান্তরিত করবে এবং গ্রাহকরা ভিভোর পণ্যগুলোই পরিবার ও বন্ধুদের জন্য প্রথম পছন্দ করবে ।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
0
হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের মুম্বাইয়ে ৫৯ বছর বয়সে মারা যান অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ডিন জোন্স। সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) টি-২০ ক্রিকেটের ত্রয়োদশ আসরে ধারাভাষ্যকার হিসেবে স্টার স্পোর্টসের সাথে যুক্ত থাকায় ভারতে অবস্থানকালে একটি হোটেলে মৃত্যু হয় জোন্সের। আবেগঘন বার্তায় জেন বলেন, 'যখন শুনলাম ডিন ভারতে মৃত্যুবরণ করেছে, এটা আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য বিষয় ছিল। আমি ও আমার মেয়েরা ভেঙ্গে পড়েছিলাম। আমার ভালোবাসার মানুষ, আমার সুন্দর স্বামী, যে প্রাণশক্তিতে ভরপুর ছিল, সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আমাদের বিশাল এক শূন্যতায় ফেলে গেল জোন্স। যা কখনো পূরণ হবে না। আমাদের সুন্দর সব স্মৃতি উপহার দিয়ে বিদায় নিয়েছেন তিনি। তাই তার স্মৃতিগুলোই আমাদের জীবদ্দশায় সম্বল হয়ে থাকবে।' বৃহস্পতিবার সকালে হোটেলে ব্রেকফাস্টের পর হোটেলেই সহকর্মীদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন জোন্স। এমন সময়েই হঠাৎই করেই পড়ে যান জোন্স। জোন্সকে মাটি থেকে তোলার চেষ্টা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ব্রেট লি। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় জোন্সকে। সেখানে চিকিৎসকরা জোন্সকে মৃত ঘোষণা করেন। তাই লির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং উপমহাদেশের প্রতি ভালোবাসা জানিয়েছেন জেন, 'জোন্সের মৃত্যুর পরে অনেকে আমাদের খোঁজ নিচ্ছেন। সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আমরা সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ ব্রেট লির কাছে। জোন্সকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন ব্রেট লি। তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো। এছাড়া আমরা উপমহাদেশ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমরা আবেগে-আপ্লুত। আমি বলতে চাই, জোন্স উপমহাদেশের ক্রিকেটকে খুব ভালোবাসতেন।' ১৯৮৬ সালে জেনকে বিয়ে করেন জোন্স। মৃত্যুকালে স্ত্রী জেন জোন্স ছাড়াও দুই কন্যা রেখে যান অস্ট্রেলিয়ার এই কিংবদন্তি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ১৬৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন জোন্স। ৭ সেঞ্চুরি আর ৪৬ ফিফটিসহ প্রায় ৪৫ গড়ে রান করেছেন ৬০৬৮। এছাড়া ৫২টি টেস্টে প্রায় ৪৭ গড়ে তার সংগ্রহ ৩৬৩১ রান। 'প্রফেসর ডিনো' নামে পরিচিত জোন্স ওয়ানডেতে নিজের মারমুখি ব্যাটিংয়ের জন্যই বিখ্যাত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জায়গা পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের 'হল অব ফেমে'ও। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
12
ঢাকা: 'কমলা লেবুর খোসা বেটে মুখে মাখলে পরে/ ত্বক তোমার থাকবে পরিষ্কার'-অঞ্জন দত্ত গেয়েছিলেন কিছুটা শ্লেষ ভরেই। কিন্তু জানেন তো, কমলা লেবুর খোসার মতো ফেলে দেওয়া ঘরোয়া জিনিসপত্র দিয়ে এখন রূপচর্চা করা হয়। এই ঘরোয়া রূপচর্চার বিষয়টি এখন বেশ ট্রেন্ডি। এই ট্রেন্ড কিন্তু এখনকার নয়। রূপ, গুণ, বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিজের সময়ের সেরা পুরুষদের মন জয় করে নিয়েছিলেন যে রানি, তাঁর নাম ক্লিওপেট্রা। চোখ, ত্বক, চুল, ঠোঁট সবকিছুই নাকি ছিল তাঁর দশে দশ। তাঁর এই ভুবনভোলানো রূপের রহস্য ছিল ভেষজ এবং একেবারে হাতের কাছে পাওয়া জিনিসপত্র। তাঁর চর্চিত ভেষজ রূপচর্চার কৌশল আধুনিক বিশ্বে আজও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সামনের দিনগুলোয় বাড়িতে থাকতে হবে সবাইকে। চাইলে বাড়িতে বসে ক্লিওপেট্রা চর্চিত উপাদানে আপনিও করতে পারেন রূপচর্চা।স্নানের জলে হলুদ ও দুধরানির স্নান বলে কথা, তাই শুধু জলই যথেষ্ট নয়! ক্লিওপেট্রা তাঁর স্নানের আয়োজনও করতেন ঘটা করে। স্নানের জলে মেশাতেন দুধ। এ ছাড়াও বাড়তি উপকারিতার জন্য যোগ করতেন কাঁচা হলুদ। দুধের মধ্যকার ল্যাক্টিক অ্যাসিড ক্লিওপেট্রার ত্বককে পরিচ্ছন্ন, কোমল ও দীপ্তিময় রাখতে সহায়তা করত। এই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে স্পাগুলোয় মিল্ক বাথে যোগ করা হয় দুধ ও ল্যাভেন্ডার অয়েলের মতো এসেনশিয়াল অয়েল। তা ছাড়া প্রাচীনকাল থেকে ভারতীয় নারীদের সৌন্দর্যচর্চায় প্রাধান্য পেয়ে আসছে কাঁচা হলুদ। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।ত্বকে সামুদ্রিক লবণক্লিওপেট্রা মৃত সাগর ও গুহা থেকে লবণ আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর সৌন্দর্যচর্চায় এসব লবণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তিনি বিশ্বাস করতেন, খনিজে পরিপূর্ণ সামুদ্রিক লবণ ত্বকের মরা কোষ ঝরাতে ও দাগ দূর করতে অতুলনীয়। তাঁর রাজকীয় স্নানে এক্সফলিয়েটর হিসেবে ব্যবহার হতো এই লবণ। এখন বিউটি স্যালনগুলোয় পরিষ্কারক ও এক্সফলিয়েটর হিসেবে সামুদ্রিক লবণের ব্যবহার দেখা যায়। তা ছাড়া ঘরোয়া রূপচর্চায় স্ক্র্যাবিংয়ের জন্য সাধারণ লবণও ব্যবহৃত হয়। হাত ও পায়ের ত্বকের কোমলতার জন্য পরিমাণমতো লবণের সঙ্গে নারকেল তেল ও কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করে স্ক্র্যাব করাযেতে পারে।উপযোগী ময়েশ্চারাইজাররূপচর্চায় ময়েশ্চারাইজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্লিওপেট্রা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে মৌ-মোম ব্যবহার করতেন। এটি ত্বকে ভিটামিনের জোগান দিত। পাশাপাশি ত্বকের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখতে এবং ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।চোখ সাজাতে সুরমাক্লিওপেট্রার সাজে প্রাধান্য পেত তাঁর চোখ। চোখ সাজাতে তিনি কালো গ্যালেনা ও সবুজ ম্যালাকাইট দিয়ে সুরমা তৈরি করতেন। সুরমা তৈরিতে যোগ করা হতো দারুচিনি গুঁড়ো, প্রাকৃতিক তেল বা পশুর চর্বি। এই সুরমা তৈরিতে আরও যোগ করা হতো জিংক অক্সাইড, যাতে সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষিত থাকত ক্লিওপেট্রার চোখ।
4
সুযোগ মিললে টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী স্বাগতা চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি অভিনয় করছেন সরকারি অনুদানে তৈরি চলচ্চিত্র 'অসম্ভব'-এ। এই চলচ্চিত্রে তাঁকে চারটি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। এরই মধ্যে ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জে টানা আট দিন এই চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন স্বাগতা। শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে তেমনটাই জানালেন স্বাগতা। স্বাগতা অভিনীত 'অসম্ভব' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন অরুণা বিশ্বাস। এই সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন আবুল হায়াত, অরুণা বিশ্বাস, শতাব্দী ওয়াদুদ, সোহানা সাবা, গাজি আব্দুন নূর, শাহেদ শরীফ খান, স্বাগতা, জ্যোৎস্না বিশ্বাস প্রমুখ। 'অসম্ভব' চলচ্চিত্রের গল্প প্রসঙ্গে বেশি কিছু জানাতে না চাইলেও স্বাগতা শুধু এটুকই বললেন, যাত্রাপালার নানা দিক এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এই চলচ্চিত্রের গল্প সাজানো হয়েছে কয়েকটি যাত্রাপালা নিয়ে। স্বাগতা বললেন, 'এসব যাত্রাপালার মধ্যে দেবী সুলতানায় আমার চরিত্রের নাম দেবী সুলতানা, মাইকেলে আমি দেবকী, মা-মাটি-মানুষে আদুরি এবং আরেকটি চরিত্রের নাম পুষ্পিতা। এক চলচ্চিত্রে চার ধরনের চরিত্র পেয়ে আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত। একসঙ্গে চার ধরনের চরিত্র পাওয়াটা ভাগ্যেরও ব্যাপার। আমি চরিত্রগুলো যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। এই চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে আমি অনেক কিছু শিখছি। সবচেয়ে বেশি শিক্ষা যাঁর কাছ থেকে পাচ্ছি, তিনি জ্যোৎস্না বিশ্বাস। আমাদের দেশের যাত্রাপালার একজন কিংবদন্তিতুল্য তিনি, চরিত্রগুলো হয়ে উঠতে তিনি আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।' এদিকে চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে পরিচালক ও অভিনয়শিল্পী অরুণা বিশ্বাস বলেন, 'অভিনয়শিল্পীরা সবাই ভীষণ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছেন। প্রথমবারের মতো সিনেমা বানাতে এসে বাবার কথা বেশি মনে করছি। মা সার্বক্ষণিক সঙ্গে আছেন। তিনি আমাকে শক্তি ও সাহস জোগাচ্ছেন। চেষ্টা করছি, একটি সুন্দর গল্পের সিনেমা বানাতে। শিল্পী ও কলাকুশলীদের আন্তরিকতা আমাকে সেই কাজটি করতে সহযোগিতা করছে।' টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী স্বাগতার প্রথম নায়িকা হিসেবে অভিষেক ঘটে 'শত্রু শত্রু খেলা' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি একে একে অভিনয় করেন 'কোটি টাকার ফকির', 'অশান্ত মন', 'ডুব সাঁতার', 'ফিরে এসো বেহুলা', 'সূচনা রেখার দিকে', 'পাপ-পুণ্য', 'মানুষের বাগান' ও 'লাল মোরগের ঝুঁটি' চলচ্চিত্রে।
2
বিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮ হাজার ৬৩২ জন, যা আগের দিনের তুলনায় ৭২৬ জন কম। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ১২ হাজার ৮৮৩ জনের, যা আগের দিনের তুলনায় ১৭ হাজার ৮১০ জন কম।পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩ কোটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৭ জনের। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৫৬২ জন। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ২০ কোটি ৮০ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত ও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৫৩ জনের। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১ হাজার ৯৬২ জন। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ কোটি ৩৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৮১ জনের। মোট মারা গেছে ৭ লাখ ২ হাজার ৯৬৬ জন।দৈনিক মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮২০ জনের এবং নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ৪৩৮ জনের।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে 'বৈশ্বিক মহামারি' হিসেবে ঘোষণা করে।
3
বিরোধী দল দমন করতেই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২৬টি মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেক মামলায় মিথ্যা চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আজ এটা পরিষ্কার, সরকার দেশে কোনো বিরোধী দল বা মত রাখতে চায় না।' শুক্রবার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মিলনায়তনে জমিয়ত আয়োজিত ইফতার-পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, 'সারাদেশে আইনবহির্ভূতভাবে গণগ্রেফতার চলছে। দেশ অবরুদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে। জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।' তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে রহস্যজনকভাবে গুম-হত্যা শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনোটির রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি সরকার। এর কারণ কী জনগণ তা জানতে চায়। সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন ফখরুল। বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, ৯২ ভাগ মুসলমানের ধর্ম-বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে বর্তমান শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসূচি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ভোটের অধিকার, রাজনীতির অধিকার, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্ম পালনের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহসভাপতি আল্লামা মোস্তফা আযাদ। এ সময় জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মাওলনা ফজলুল করীম কাসেমী, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান, এ এইচ এম কামরুজ্জামান, মাওলানা এম এ রকীব, আহসান হাবীব লিংকন, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
9
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় সরিষা চাষের অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়নি। এই অবস্থা বহাল থাকলে সরিষার ভালো ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।সরিষা চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার চাষিরা সময়মতো তাঁদের জমিতে সরিষার বীজ বপন করেছেন। সতেজ গাছগুলো এখন বড় হয়ে সেগুলোতে হলদে ফুল ধরেছে।উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে সরিষা খেতে হলুদ ফুলের সমারোহ। ফুলের অপরূপ দৃশ্য আকৃষ্ট করে সবাইকে। অনেকেই সরিষা ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে ফসলি জমিতে নেমে পড়েছেন। সেই সঙ্গে ফুল থেকে মৌমাছির মধু সংগ্রহের চিত্রও চোখে পড়ে।উপজেলার মীরনগর গ্রামের সরিষাচাষি আব্দুর ছামাদ বলেন, প্রতিবছরের মতো এ বছরও জমিতে সরিষা বুনেছি। এবার বাজারে ভোজ্যতেলর দাম বেশি। এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আছে। আশা করছি তাতে ভালো লাভ হবে।উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের পোষ্টকামারী গ্রামের সরিষাচাষি আওয়াল মিয়া বলেন, 'এ বছর আমি ৭০ শতক জমিতে সরিষা বুনেছি। ১ বিঘা জমিতে সরিষা বুনতে খরচ হয় ৮ হাজার টাকা। ফলন আসে ১০-১২ মণ। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছি।'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, উপজেলার ১২ ইউনিয়নে চলতি রবি মৌসুমে ১০ হাজার ৭২ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। উপজেলায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষার উৎপাদনে খরচ কম হয়। বাজারে ভালো দাম থাকায় চাষিদের এই ফসল চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে আছে। উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
6
কয়েকদশক ধরে ভারতীয় সিনেমার সংগীত জগতে রাজ করছেন লেজেন্ডারি সংগীত পরিচালক বাপ্পি লাহিড়ী। আজও তার গানের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ১৯৫২ সালের ২৭ নভেম্বর জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সকলের পছন্দের বাপ্পি। বলিউডের রক ও ডিস্কো মিউজিকের প্রবর্তক তিনিই। বাপ্পি লাহিড়ীর প্রথম ভালোবাসা গান হলেও তার অন্যতম প্রেম স্বেণের গয়না। গয়নার প্রতি তার ভালোবাসা নজরকাড়া। সংগীতের সঙ্গে বাপ্পির প্রেম একেবারে ছোটবেলা থেকে। মাত্র তিন বছর বয়সে তবলা বাজানো শেখা শুরু করেন তিনি। ১৭ বছর বয়সে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ডেবিউ করেন এই লেজেন্ডারি মিউজিক কম্পোজার। তার অনুপ্রেরণা ছিলেন শচীন দেব বর্মন। তবে শুধু সংগীতের মাধ্যমেই নয়, লুকেও তিনি অনন্য। স্বর্ণের গয়না পরতে ভালোবাসেন বাপ্পি লাহিড়ী। তার জুয়েলারি কালেকশন যেকোনো গয়নাপ্রেমীর কাছে ঈর্ষণীয়। তবে কেন এতো গয়না পরতে ভালোবাসেন তিনি? একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তার গয়নার প্রতি ভালোবাসার কারণ। হলিউডের মিউজিশিয়ান এলভিস প্রেসলির দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত। তিনি বলেন, 'এলভিস প্রেসলি সোনার চেন পরতেন। আমি সেটা খুবই পছন্দ করতাম। সেইসময় আমি ভাবতাম, যখন আমি প্রতিষ্ঠিত হব তখন আমি নিজের একটা আলাদা ইমেজ তৈরি করব। এরপর আমি যখন সফল হই, স্বর্ণ কেনার আর্থিক ক্ষমতা অর্জন করি, তখন আমি একের পর এক গয়না কিনি। স্বর্ণ আমার জন্য খুবই লাকি।' সূত্র : জি নিউজ বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
2
'ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল, সুস্থ দেহে সুন্দর মন' এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পুলিশ বিভাগের আয়োজনে ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নড়াইল পুলিশ লাইনসে ১২ দলীয় পুলিশ সুপার ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট-২০২১ অনুষ্ঠিত হয়।টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ কনি মিয়া ও নড়াইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক শিমুল কুমার দাসের দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ কনি মিয়ার দলকে ২-১ সেটে হারিয়ে ওসি শিমুল কুমার দাসের দল চ্যাম্পিয়ন হয়। টুর্নামেন্ট শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন।প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জনাব প্রবীর কুমার রায় পুলিশ সুপার, নড়াইল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) জনাব মো. রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব তানজিলা সিদ্দিকা প্রমুখ।
6
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিবোধকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ দস্পতিকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে ওই দম্পতির ছেলে ও দুই নাতির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাদেরকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন- বিমল চন্দ্র হাওলাদার(৬৫) ও তার স্ত্রী ঊষা রানী(৬০)।অভিযুক্তরা হলেন- ভুক্তভোগী দম্পতির ছেলে গোবিন্দ হাওলাদার ও তার দুই ছেলে। তবে গোবিন্দ হাওলাদার তার বাবা-মাকে মারধর কথা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ জানায়, বৃদ্ধ দস্পতিকে মারধরের সাথে নাতিরা জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আহত বিমল হাওলাদার ও ঊষা রানী জানান, তার তিন ছেলের মধ্যে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে মেজ ছেলে গোবিন্দ তার মায়ের নামের সম্পত্তি কৌশলে লিখে নেয়। বড় ছেলে গোপাল দ্বিতীয় বিয়ে করে দুই ছেলে ও প্রথম স্ত্রীকে রেখে অন্যত্র চলে যায়।ওই দম্পতি আরও জানান, ঘটনার দিন তাদের ছোট ছেলে মধুসুদন তার বড় বৌদি কল্পনা রানীর কাছে জমি কেনার জন্য দেওয়া ৫২ হাজার টাকা ফেরত চায়। দুই বছর আগে মধুসুদন তার নামে জমি কেনার জন্য এ টাকা দিলেও জমি দলিল করে না দেয়ায় মধুসুদন ও তার বৌদির মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় বিবাদ থামাতে বৃদ্ধ বিমল হাওলাদার এগিয়ে এলে মায়ের পক্ষ নিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে দুই নাতি লিমন ও মিলটন। ছেলে গোবিন্দও তাতে যোগ দেয়। তারা বিমল হাওলাদারকে ঘুষি মেরে চোখ ও নাক ফাটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। স্বামীকে মারধর থেকে বাঁচাতে স্ত্রী ঊষা রানী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে তারা। অভিযুক্ত নাতি লিমন দাদু-দিদাকে মারধরের কথা স্বীকার করলেও ছেলে গোবিন্দ বাবা-মাকে মারধরের কথা অস্বীকার করেছে। গোবিন্দের দাবি, তাকে মামলায় ফাঁসানোর জন্য ছোট ভাই মধুসুদন বাবা-মাকে দিয়ে তার নামে মিথ্যা কথা বলাচ্ছে। থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।এ ব্যাপারে কলাপাড়া থানার এস আই নজরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ দস্পতিকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষ থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের করলেও প্রাথমিক তদন্তে বৃদ্ধ দস্পতিকে মারধরের সত্যতা পেয়েছেন। সঠিক তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
6
মেঘনার সাত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছে। গতকাল রোববার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়।এতে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান চেয়ারম্যানদের শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কুমিল্লার উপপরিচালক মোহাম্মদ শওকত ওসমান উপস্থিত ছিলেন।শপথ পাঠ করা চেয়ারম্যানেরা হলেন উপজেলার রাধানগর ইউপির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, গোবিন্দপুরের মাইনুদ্দিন মুন্সি তপন, মানিকারচরের মো. জাকির হোসেন, ভাওরখোলার মো. সিরাজুল ইসলাম, বড়কান্দার ফারুক হোসেন, চন্দনপুরের আহসান উল্যাহ ও চালিভাঙ্গার হুমায়ুন কবির সরকার।গোবিন্দপুর ইউপির চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মুন্সি তপন বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, খুবই ভালো লাগছে। আগামী দিনে দায়িত্ব পালনে আরও বেশি গুরুত্ব দেব। জনগণের সেবা করতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।'রাধানগর ইউপির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, 'জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। আমি যেন কাজের মাধ্যমে ভালোবাসার মূল্যায়ন করতে পারি সে জন্য দোয়া ও সহযোগিতা চাই।'ভাওরখোলা গ্রামের শিক্ষক গোলাম মোস্তাফা বলেন, 'বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার। যাঁরা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের। আমি আশা করি, আগামী দিনে উন্নয়নের গতি বাড়বে।'টিটির চর গ্রামের মো. জুয়েল রানা অভি বলেন, 'এবারের চেয়ারম্যানদের অধিকাংশই তরুণ। আশা করি, তরুণদের জন্য তাঁরা কাজ করবেন।'ঠাকুর কান্দি গ্রামের শিক্ষার্থী সাথী আক্তার বলেন, 'এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখতে চেয়ারম্যানেরা সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।'
6
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন নিশ্চিতে ঢাকা ওয়াসায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সব ধরনের চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগে আইনের যথাযথ অনুসরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় সংস্থাটি। বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিতর্কিত নিয়োগের পর প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় টানা পাঁচ মেয়াদে ১১ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে ও অন্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রতিবারই তার নিয়োগ নবায়নের ক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে আইন ও নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে। এমনকি প্রথমবার নিয়োগের সময়ই অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী নিয়োগে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য দালিলিক নির্দেশ দেয়া হয়। তারপরও কখনো বয়সসীমা বাড়িয়ে, আবার কখনো বোর্ডের সাম্প্রতিক সভার সুপারিশ পাশ কাটিয়ে পুরনো সভার সুপারিশ ব্যবহার করে, এমনকি বোর্ডের মতামত গ্রহণেরই তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে সরাসরি চাপিয়ে দেয়া মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তবলে পুনর্নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। এটি শুধু আইনেরই সুস্পষ্ট ব্যত্যয় নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের সংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের দৃষ্টান্ত। পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬ উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইন অনুযায়ী ঢাকা ওয়াসা বোর্ডকে নীতিমালা প্রণয়ন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগসহ নানাবিধ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে ২০১৩ সালে বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে বোর্ডের সম্মতি না থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের ১৯৮তম বোর্ড সভার তামাদি সুপারিশ আমলে নিয়ে তার পুনর্নিয়োগ নিশ্চিত করে। আইন অনুযায়ী বোর্ডই প্রার্থী চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ের নিকট অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কথা। কিন্তু ২০১৭ সালেও বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়। এ সংক্রান্ত অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ টিআইবির 'ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়' শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। কিন্তু তারপরও কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে বারবার আইনের ব্যত্যয় করে প্রতিবারই তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন উল্লেখ করে নির্বাহী পরিচালক বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালীন মেয়াদে ওয়াসার ছোট-বড় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সেবা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভূতপূর্ব বিস্তারের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে এবং তার কোনো কোনো বিষয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ওয়াসার সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত করে অনিয়ম ও দুর্নীতির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসাকে অধিকতর সেবাধর্মী, গ্রাহকবান্ধব ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে সচেষ্ট হবে বলে আশা করে টিআইবি।
6
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কেশবপুরের পাঁজিয়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র পূর্ব নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।বর্তমান ভোটকেন্দ্রের মাঠ পানিবন্দী হওয়ার কারণে ভোট দেওয়ার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।স্মারকলিপি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের বেলকাটি ও সাগরদত্তকাটি গ্রাম নিয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। ওই ওয়ার্ডে প্রায় ৩ হাজার ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হিসেবে ওই ওয়ার্ডের বেলকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ব্যবহার হয়ে আসছিল। কিন্তু ওই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজের জন্য গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের স্থান সাগরদত্তকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টির খেলার মাঠ পানিবন্দী হওয়ায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।এ দিকে পূর্ব নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র বেলকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কার্যক্রম অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এ কারণে ওই ওয়ার্ডবাসীর ভোটদানের সুবিধার্থে ও কেন্দ্রটি ওয়ার্ডের মাঝখানে থাকায় পূর্ব নির্ধারিত জায়গায় স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বজলুর রশিদ বলেন, পূর্ব নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র বেলকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
6
ইউক্রেনে চালানো সামরিক অভিযান রাশিয়ার জন্য এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভুক্তভোগী দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্থানীয় সোমবার গভীর রাতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাশক্তি রাশিয়া। আজ মঙ্গলবার অভিযানের ত্রয়োদশতম দিন। ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি নগরী দখল করে নিয়েছে রুশ সেনারা। এতে দেশটির বিভিন্ন নগরীতে হতাহত হয়েছে বহু সংখ্যক মানুষ। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের তাদের সামরিক অভিযানের অর্থ যুদ্ধ নয়। বরং বিশ্বব্যাপী একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ প্রতিহত করার লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনকে নাৎসিমুক্ত করা, দেশটির নিরস্ত্রিকরণ ও ন্যাটো জোটে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তি প্রতিহত করার জন্য তিনি এই অভিযান চালাচ্ছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের ৬ষ্ঠ দিন, কিস ডে। ভালবাসার বিশেষ এই দিনে প্রিয়জনকে কীভাবে স্নেহের আবেশে ভরিয়ে তুলবেন তা জেনে নিন। এঞ্জেল কিস: এই চুমুর অভিব্যক্তিতে গভীর ভালবাসা ও স্নেহ জড়িয়ে রয়েছে। চোখের পাতায় আলতো চুমু। এসকিমো কিস: কিস করার সময় যদি পরস্পরের যখন নাক ঘষাঘষি হয়। এটি খুবই স্নেহপ্রবণ। বাটারফ্লাই কিস: এ সময় পরস্পরের চোখের পাতা একে অপরকে ছুঁয়ে থাকে। একে বলা হয় বাটারফ্লাই কিস। এমন চুমু খেয়ে সঙ্গীকে মোহাচ্ছন্ন করে দিতে পারেন। স্পাইডার ম্যান কিস: স্পাইডার ম্যান ছবি দেখেছেন? ঠিক ধরেছেন। দুই সঙ্গীর মধ্যে একজন আপসাইড ডাউন থাকলে তাকে বলা স্পাইডার ম্যান কিস। ফ্রেঞ্চ কিস: প্যাশন ও রোমান্স বোঝানোর জন্য সবচেয়ে ভাল ফ্রেঞ্চ কিস। ধরন যেমনই হোক, আন্তরিকতাটাই কিন্তু সবচেয়ে জরুরি, তাই দেরী না প্রিয়জনকে ভালবাসুন প্রাণ ভরে। সূত্র: আনন্দবাজার
5
দুর্গাপূজায় অনেক বছর পর এবার নোয়াখালী গিয়েছিলাম। মাইজদী, আমাদের ছোট শহর। পাড়ায় পূজার বয়স ৭২ বছর। খুব সাধারণভাবেই পূজার আয়োজন হয়। কোনো বড় পৃষ্ঠপোষকতা নেই। সবার সাধ্যমতো সামান্য টাকায় পাঁচ দিনের পূজার আয়োজন।এটুকুতেই পাড়ার ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আনন্দের জোয়ারে ভেসে যায়। গান, নাচ, আরতি-সব হতে থাকে একের পর এক। পুরো পাড়া আক্ষরিক অর্থেই হয়ে ওঠে একটি পরিবার। এমনই অন্তরঙ্গ প্রাণের যোগ। আমি এ-বাড়ি ও-বাড়ি ঘুরে কাকিমা, পিসিমা, জেঠিমাদের সঙ্গে দেখা করি, প্রণাম করি, মিষ্টিমুখ হয়। আমাদেরও বয়স হচ্ছে, আর প্রণাম করার মানুষও কমে আসছে। এবার তাই ভেবেছিলাম, যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে দেখা করে সময়টুকু কাটাব। কে জানে, আগামী বছরে আর কারও সঙ্গে দেখা হয় কি না-হয়! কিন্তু এই আনন্দের মধ্যে ছায়া পড়ে গেল। মা যেদিন এলেন, তার পরদিন সপ্তমী থেকেই শুরু হয়ে গেল আতঙ্ক। কুমিল্লায় কোন এক দুর্বৃত্ত কী করেছে, সেই থেকে শুরু হলো গন্ডগোল। আতঙ্কের ছায়া ছড়িয়ে গেল সবখানে। প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাওয়া হলো। এলেন দুজন পুলিশ। কয়েক ঘণ্টা থেকে মধ্যরাতে চলে গেলেন তাঁরা। আমার দুই ভ্রাতুষ্পুত্র আর তাদের বন্ধুরা সারা রাত পাহারা দিল দুর্গা প্রতিমাকে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপে দাঁড়িয়ে আমি আরতি দেখছিলাম। আর অপরিসীম বেদনা নিয়ে শুধু অনুভব করছিলাম, আনন্দের মধ্যে কীভাবে বিষ ঢুকে যায়। ওরা পাহারা দিচ্ছে। সবার ভেতরে ভয় আর সন্দেহ। অচেনা কাউকে দেখলেই অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে উঠছে। তিন তরুণ মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করেছেন, পরিবেশটা বদলে গেল মুহূর্তে। সবার মধ্যে সংশয় আর টানটান উত্তেজনা। কিন্তু না, তরুণেরা নিজেদের মতো করে কিছুক্ষণ পূজা দেখে চলে গেলেন। নবমীর রাতে খবর এল, নোয়াখালীর রাজগঞ্জে প্রতিমা আক্রান্ত হয়েছে। রামগতিতে চরসীতার মন্দিরেও। আমার ছোট ভাই এবার পাড়ার পূজা কমিটির সভাপতি। পরের দিন শুক্রবার আবার কিছু হয় কি না, সেই ভয়ে নবমীর রাতেই সে সিদ্ধান্ত নিল, পাড়ার সামনের পূজার গেট তুলে নেওয়া হোক, খুলে ফেলা হোক আলোকসজ্জা। ১৫ অক্টোবর, শুক্রবার। দশমীর দুপুরে আমি ঘরে। হঠাৎ চিৎকার। বাইরে বেরিয়ে দেখি, দুপুরে নামাজ শেষে মানুষের একটি জটলা আমাদের পাড়ার সামনে দিয়ে মিছিল করে যাচ্ছে। আমাদের পাড়ায় ঢোকার মুখে একটি বড় গেট আছে। সেই গেটে তালা মারা হয়েছে। আমাদের ছোটবেলায় সেটি ছিল না। বছর দুই আগে নতুন এই ব্যবস্থাপনা। যা হোক, পাড়ার ছেলেরা সবাই গলিতে দাঁড়িয়ে আছে। সবার চোখেমুখে আতঙ্ক। পাড়ার সামনের চলমান মিছিলটা বাইরে থেকে কিছুক্ষণ ঢোকার চেষ্টা করল। ঢুকতে না পেরে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়ল। একসময় চলে গেল। নিমেষে পুরো পাড়া শ্মশান। সবার মধ্যে এখন দুশ্চিন্তা, দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন কীভাবে হবে? পাড়ার ভেতরে একটি পুকুর ছিল, কিছুদিন আগে সেটি বিক্রি করে দেওয়ার পর সেই পুকুরটি ভরাট করে ফেলা হয়েছে। পাড়ার পেছনের দিকে আরেকটি পুকুর আছে, সেখানে বিসর্জন দেওয়া যায়। কিন্তু সেই পুকুরে যাওয়ার পথটা একেবারেই সংকীর্ণ।আমার ভাই বলল, সকাল থেকে পিকআপ ভাড়া করার জন্য চেষ্টা চলছে, কিন্তু ভয়ে কেউ আসতে চাচ্ছে না। সে সময়ই খবর এল, চৌমুহনীতে মন্দিরে ভাঙচুর চলছে। কোনো প্রতিমাই রেহাই পাচ্ছে না। সঙ্গে চলছে লুটপাট-হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের দোকানপাট আর বাড়িঘর সর্বত্র। পাড়ার গেটে তালা দিয়ে দুরুদুরু বুকে আমরা সবাই ঘরবন্দী। চৌমুহনী থেকে ভিডিও পাঠাচ্ছে বন্ধুরা। ভিডিওগুলো দেখে সবার অন্তরাত্মা শুকিয়ে গেছে। আমার ভাইয়ের ছোট ছেলের তো কান্নার সীমা-পরিসীমা নেই। শুনলাম, আমাদের চেনা একজন মারা গেছেন। তাঁর স্ত্রীও গুরুতরভাবে জখম।আমার মনে হচ্ছিল, যেন একাত্তর ফিরে এসেছে। ১৯৭১ সালে আমার বাবা ভারতে যাননি। আমাদের পুরো পরিবার এই বাড়িতেই মৃত্যুভয়ে এভাবে তটস্থ হয়ে কাটিয়েছিলাম। খোঁজ নিয়ে জানতে পেলাম, প্রশাসন থেকে বলার মতো কোনো সাহায্য পাঠানো হয়নি। মাইজদী পুলিশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে তো পুলিশ কম নেই। ফেনীতেও বিজিবির মূল অফিস। খোলা আকাশের নিচে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চলল। ততক্ষণে সব তছনছ। রামঠাকুরের সমাধি আশ্রম ভেঙেচুরে গেল। অথচ বাবরি মসজিদের দুর্ঘটনার সময়ে সেখানে ফুলের টোকাও পড়েনি। কত পরিবার টাকা, অলংকার আর সারা জীবনের সম্বল হারিয়ে পথে বসে গেল। ঘর, দোকান বা মন্দির ভেঙেছে, সেসব হয়তো গড়ে উঠবে আবার; কিন্তু এতজন মানুষের মন যে চুরমার হয়ে গেল, তার কী হবে! আমাদের প্রতিমা বিসর্জন তখনো হয়নি। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় উঠল। নোয়াখালী শহরের বিদ্যুৎ চলে গেল। আমার ভাইয়ের চেষ্টা কোনোমতে সফল হলো। ওর এক বন্ধু পিকআপ নিয়ে হাজির। চোরের মতো ভয়ে ভয়ে পিকআপে দুর্গাপ্রতিমা তুলে অন্ধকারে পেছনের পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হলো। আতঙ্ক আর অপরাধীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে নিজের দেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করলাম। এত ধুমধামে মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করা বাংলাদেশের এটাই কি উত্তরাধিকার? এই বর্তমানকেই কি আমরা মেনে নেব আমাদের ভবিষ্যৎ বলে? ধরে নেওয়া যাক, একদিন সব সংখ্যালঘু চলেই গেল দেশ ছেড়ে। তবে এই মনটা তো থেকে যাবে দেশেরই মধ্যে। সে দেশ নিয়ে আমরা কোথায় এগোব? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার সময় আমাদের এসেছে। ড. মালবিকা সরকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক
8
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর চরমোনাই বলেছেন, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীন ছাড়া কোনো তামাশার নির্বাচনে তার দল অংশ নেবে না। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইভিএম ও আওয়ামী লীগের অধীন আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি। আগামী সংসদ নির্বাচন ইভিএমে ভোটগ্রহণ নিয়ে আলোচনা আছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ইভিএম আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত। আর ইভিএমের মাধ্যমে সারাদেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে-এমন কথা প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন তা ঠিক করবে-এটাই জনগণের প্রত্যাশা। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
জাহ্নবী কাপুর খেতে ভালোবাসেন। বন্ধুদের আবদার, তাঁকে একবার যেতে হবে রসুইঘরে। আর রান্না করে খাওয়াতে হবে তাঁদের। কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব? সুযোগ করে দিল ডিসকভারি প্লাসের 'স্টার ভার্সেস ফুড'। মুম্বাইয়ের জুহুর জে ডব্লিউ ম্যারিয়টের রান্নাঘরে ছুরি, কড়াই হাতে নেমে পড়লেন জাহ্নবী। তাঁকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এলেন ম্যারিয়টের এক্সিকিউটিভ শেফ অভিষেক বসু। কী রান্না করা যায়? জাহ্নবী বন্ধুদের জন্য রান্না করতে চান কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার। অভিষেক বসু তাঁর কোরিয়ান বন্ধু অ্যালেক্সের কাছ থেকে জেনে নেন কোন দুটি খাবার রান্না করা সহজ আর স্বাদে হবে অনন্য। অ্যালেক্স বাতলে দিলেন বিবিম্বাপ ও হেমুল পাজং। শুরু হলো জাহ্নবীর রান্না। বাঁধাকপি ও গাজর কাটা, চাল ধোয়া-সবই পাকা রাঁধুনির মতো করতে থাকেন ধড়ক অভিনেত্রী। ছিল সামুদ্রিক মাছ কোটার কাজও। এবারে ভড়কে গেলেও সামলে নেন শ্রীদেবীকন্যা। তারপর জ্বাললেন চুলা, সঙ্গে চলল আড্ডা। কড়াই তুলতে গিয়ে ভয় পেয়ে গেলেন। এত ওজন কেন! আগুনের তাপ কি ঝলসে দেবে চোখমুখ, শঙ্কিত ছিলেন অভিনেত্রী। তবু রান্না তাঁকে করতেই হবে। কারণ, বন্ধুরা কেবলই বলেন, জাহ্নবী শুধু খান আর খান। রান্না ঘরে যান না। তাই একবার বিবিম্বাপ বানিয়ে সারা জীবন বলা যাবে, 'কোরিয়ান খাবার রেঁধে খাইয়েছি তোদের।' আড্ডায় জাহ্নবী জানান, তাঁর পছন্দ দক্ষিণ ভারতীয় খাবার। কাপুর পরিবার নিয়েও নানা কথা বলেন তিনি। জাহ্নবী জানান, কাপুর পরিবার মানেই নাকি ঝাঁজালো এক ব্যাপার। ঝাল না খেলে তিনি কেমন কাপুর! এই অভিনেত্রী বলেন, 'আমাদের বাসায় যদি ঝাল কিছু না খান, তবে আপনি কাপুরের মধ্যেই পড়বেন না। আপনাকে লজ্জা পেতে হবে। এমনকি বসতে হবে আরেক টেবিলে।' অভিষেক বলেন, 'এমা, তাই নাকি?' জাহ্নবী বলেন, 'অতটা নয়, তবে সবাই আপনাকে নিয়ে মজা করতে ছাড়বে না।' রান্নার এ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় মৌসুমের প্রথম পর্বে হাজির হয়েছিলেন জাহ্নবী। দ্বিতীয় মৌসুমে সেখানে রাঁধতে দেখা যাবে অনন্যা পান্ডে, অনিল কাপুর, বাদশা, নোরা ফাতেহি ও জাকির খানকে। প্রথম মৌসুমে এসেছিলেন কারিনা কাপুর, করণ জোহর, মালাইকা অরোরা, অর্জুন কাপুর ও প্রতীক গান্ধী।
2
মিষ্টি মেয়ের মিষ্টি সাজ 'মিষ্টি মেয়ে' অভিনেত্রী কবরী পরেছিলেন কালো চেকের সিল্ক শাড়ি। এটি ভারতের বেনারস থেকে কেনা। তার সঙ্গে কানে রুপার দুল আর হাতে নিয়েছিলেন কালো রঙের ব্যাগ। জাপানি জুতা পরা এই নায়িকা সেজে ছিলেন নিজেই। কাতানে শর্মিলী হালকা সোনালি রঙের কাতান শাড়ি পরেছিলেন অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদ। শাড়ির জমিনজুড়ে বড় বড় কলকার নকশা। গলায় পরেছিলেন সোনালি হার। এক হাতে চুড়ি আরেক হাতে ঘড়ি। তালা ঝোলানো হাতের ব্যাগটাও ছিল ফ্যাশনেবল। হাসি মুখে দিলারা ঘিয়ে রং জমিনের জামদানি শাড়িতে লাল কালো রঙের পাড় আর লাল বুটি। কানে কালো টপ, গলায় কালো মালা। হাতে পরেছিলেন সোনালি ঘড়ি। ক্যামেরার সামনে অভিনয়শিল্পী দিলারা জামান দাঁড়ালেন সব সময়ের মিষ্টি হাসি দিয়ে। কাতানে বন্যা বেগুনি রঙের কাতান শাড়ি পরেছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। পরেছিলেন হালকা সোনালি গয়না। খোঁপা করা চুলে পরেছিলেন সাদা ফুল। পাহাড়ি গয়নায় প্রাচী আড়ং থেকে কেনা মেরুন রঙের শাড়ি পরেছিলেন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। কপালে ছিল হাতে আঁকা টিপ, হাতে কাচের চুড়ি। তবে গলায় পরেছিলেন বন্ধুর দেওয়া উপহার পাহাড়ি গয়না। রুপালি এই গয়নাতে দ্যুতি ছড়ান প্রাচী। গ্রন্থনা: রয়া মুনতাসীর, হাসান ইমাম, তারিকুর রহমান খান, রাফিয়া আলম, অলকানন্দা রায় ও তানজিনা আকতারী।
4
২০১৪ সালে বর্ডার-গাভাস্কর ট্রফিতে মেলবোর্ন টেস্ট ড্র হওয়ার পরেই আচমকা বিশ্বক্রিকেটকে স্তম্ভিত করে অবসরের ঘোষণা করেছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু ভারতের সর্বকালের অন্যতম সফলতম অধিনায়কের এই সিদ্ধান্ত প্রথম দিকে মানতে চাননি রবি শাস্ত্রী। ৯০ টেস্টে ৩৮.১০ গড়ে ৪৮৭৬ রান করে আলবিদা জানিয়েছিলেন ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফর্ম্যাটকে। আর ১০টা টেস্ট খেললেই তো শততম টেস্ট খেলা হয়ে যেত। রবি শাস্ত্রী বারবার বুঝিয়ে ছিলেন মাহিকে। কিন্তু ধোনি শোনেননি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এ বার ধোনির টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন শাস্ত্রী। ভারতের হেড স্যার সম্প্রতি নিজের বই, 'স্টার গেজিং : দ্যা প্লেয়ার্স ইন মাই লাইফ'-এ বলেছেন, 'এমএস ওই সময় ভারতের এমনকি বিশ্বের সবথেকে বড় ক্রিকেটার ছিল। তিনটি আইসিসি শিরোপাসহ। দুটি বিশ্বকাপ তো বটেই আইপিএল থেকে মনিমানিক্য কিছু কম ছিল না তার। দারুণ ফর্মে ছিল, সেইসাথে ১০০ টেস্ট ম্যাচ থেকে মাত্র ১০ ম্যাচ দূরে ছিল।' শাস্ত্রী জানিয়েছিলেন, 'দলের সেরা তিনজন ফিট প্লেয়ারের একজন ছিল এমএস। ও চাইলেই নিজের কেরিয়ারের পরিসংখ্যান উন্নত করতেই পারত। হ্যাঁ তার বয়স কমছিল না। তবে এতটাও বয়স হয়ে যায়নি তার। সেই সময় তার সিদ্ধান্ত যুক্তিহীন মনে হয়েছিল।' তবে বর্তমানে ধোনির এই সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করছেন শাস্ত্রী। তিনি নিজের বইয়ে লিখেছেন, 'অনেক ক্রিকেটারই বলেন, ক্রিকেটের ব্যক্তিগত নজির, মাইলস্টোন তাদের স্পর্শ করে না। তবে কিছু কিছু বিষয় তো তাদের ছুঁয়ে যায়। আমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ধোনির মন ভাঙানোর চেষ্টা করেছিলাম। তবে তার কন্ঠস্বরে এমন কাঠিন্য ছিল, যে আমি আর এগোতে পারিনি। আমার মনে হয় তার সিদ্ধান্ত একদম ঠিকঠাক ছিল- সাহসী এবং নিঃস্বার্থ। ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পজিশন ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত মোটেই সহজ নয়।'সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
12
বরগুনার পাথরঘাটায় করোনার টিকা নিয়ে ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। এদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার খালেদ মাহমুদ আরিফ।অসুস্থ শিক্ষার্থীর হচ্ছে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাতিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির সীফা, নবম শ্রেণির সাদিকা, অষ্টম শ্রেণির ইশরাত জাহান, সাদিয়া, মিম ১ ও মীম ২। এ ছাড়া সপ্তম শ্রেণির ফাতিমা, তামান্না, মিম ও জুঁই অসুস্থ হয়।হাতেমপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শামীম আহমেদ জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার জন্য পাথরঘাটা কলেজ ক্যাম্পাসে আমরা সকাল থেকে অবস্থান নেই। সেখান থেকে টিকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার খালিদ মাহমুদ আরিফ জানান, সকাল থেকে না খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এবং আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আশা করি কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে।
6
টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্মীদের দুই দফা নিবন্ধন কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে জাতীয় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পরিকল্পনার সদস্য সচিব শামসুল হক এ কথা জানিয়েছেন। জনশক্তি উন্নয়ন ব্যুরো রেজিস্ট্রেশন করার পরে অভিবাসী কর্মীকে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে ভ্যাকসিন নিতে হবে। সুরক্ষা অ্যাপ থেকে পাওয়া ভ্যাকসিন কার্ড ছাড়া কেন্দ্রে গেলে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হবে না। প্রতিটি জেলার জনশক্তি উন্নয়ন ব্যুরোর অফিস আগামীকাল শুক্রবার ও পরশু শনিবারও খোলা থাকবে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও খোলা থাকবে। ইতোমধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর তালিকা পেয়েছেন জানিয়ে শামসুল হক বলেন, রবিবারের মধ্যে সেই তালিকা যাচাই শেষ হবে। সোমবার রাত থেকে এসএমএস যাবে এবং মঙ্গলবার থেকে তারা টিকা নিতে পারবেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
4
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের সংখ্যা কমে আসছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মানব পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, একটা সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার করা হতো। তবে এখন প্রলোভিত হওয়ার মতো মানুষদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। আমরা এখন একটি ভালো জায়গায় আছি। অনেকে এখন নিজেদের ভাগ্য বদলাতে বাংলাদেশে আসছেন। ইউএনডিপির সহযোগিতায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত 'কমবেটিং ট্র্যাফিকিং :রিপ্যাট্রিয়েশন অব ভিকটিমস অব ট্র্যাফিকিং' শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে এখন জোর করে নয়, প্রলুব্ধ করে লোকজনকে বিদেশে নিচ্ছে পাচারকারীরা। এতে তারা ভিকটিম হচ্ছে, অনেকে বিভিন্ন দেশে আটকে রয়েছে। প্রলুব্ধ হয়ে কেউ যেন দেশ ছেড়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে সুশীল সমাজসহ সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে করণীয় সবকিছু করবে সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশের কারাগারে বিভিন্ন দেশের ৪৯৫ জন নাগরিক বন্দি রয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে ৫৭ জন বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিপ্রাপ্ত। এ ছাড়া ৮৬ জন বিদেশি মুক্তি পেলেও তাদের কোনো দেশ ফিরিয়ে নিতে আসছে না। ফলে বাধ্য হয়েই তারা বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি রয়েছে। ভারতের আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বাদল ফরাজির ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও সে কারাগারে বন্দি রয়েছে। তার বিষয়টা নিয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ছাড়া তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করা যাচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে রয়েছে। মিয়ানমার থেকে জোর করে তাদের যখন বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ডার খুলে না দিলে নাফ নদী রক্তে লাল হয়ে যেত বলেও মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান খান। তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালে নৌকায় করে বিদেশে যাওয়ার জন্য যারা চেষ্টা করছিল, যে ঘটনাটি অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তখনকার বেশিরভাগই ছিল রোহিঙ্গা নাগরিক। এখনও যারা নৌপথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের ৮০ শতাংশই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নাহিম রাজ্জাক এমপি, ভারতের এটিএসইসির জাতীয় সমন্বয়কারী ও মহাসচিব মানবেন্দ্রনাথ মণ্ডল, আইওএম-এর বাংলাদেশ মিশনের প্রধান জর্জি গিগাওরি প্রমুখ। দিনব্যাপী সেমিনারে চারটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, পাচারের শিকার হয়ে বিভিন্ন দেশে যারা দুঃসহ জীবন যাপন করছে, তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করে ফিরিয়ে আনতে হবে। পাচার ঠেকাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ২০১২ সালে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হলেও সাত বছরে আলাদা কোনো ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়নি। ফলে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অবিলম্বে ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান তিনি। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান আইওএম-এর বাংলাদেশ মিশনের প্রধান জর্জি গিগাওরি বলেন, কেন, কীভাবে পাচার হচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে। সবাই মিলেই বাংলাদেশ থেকে এবং বিশ্ব থেকে মানব পাচার বন্ধ করতে হবে।
6
ফেনীর পরশুরামের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মির্জানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ভুট্টুকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর এলাকার টঙ্গীর চেরাগআলী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানায়, চলতি বছরের ২৩ ডিসেম্বর ফেনীর পরশুরাম উপজেলার দক্ষিণ কোলাপাড়া গ্রামে শাহজালাল বেকারীর সামনে দোকানের পাওনা টাকা চাওয়ায় শাহীন চৌধুরীকে কতিপয় দুস্কৃতকারী ক্ষিপ্ত হয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনায় মৃত শাহীন চৌধুরীর স্ত্রী মোছাঃ ফিরোজা বেগম (৫০) থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামি নুরুজ্জামান ভুট্টু পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সদ্য নির্বাচিত ও সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি মির্জানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ফেনী র্যাব এর কোম্পানি কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার জাবের ইমরান জানান, আসামির বিরুদ্ধে ফেনী জেলার পরশুরাম থানায় হত্যা মামলাসহ মোট ২টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফেনীর পরশুরাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে ভুট্টু চেয়ারম্যানকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় আওয়মী লীগের নেতৃবৃন্দ। তার ফাঁসির দাবিতে ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
6
আন্ত:সীমান্ত যাত্রী চলাচল ও পণ্য আমদানি-রপ্তানির উদ্দেশ্যে মেহেরপুরের মুজিবনগরকে স্থল কাস্টমস স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৭ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশক্রমে, সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। গেজেটে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার মাঝপাড়ার ৩০.৩০ একর জমির উপর স্থল কাস্টমস স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মুজিবনগরকে স্থল কাস্টমন স্টেশন হিসেবে গেজেট প্রকাশ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেহেরপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাসহ সকল স্তরের জনগণ। সেই সঙ্গে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের দোয়ার খুলে গেলো এমনটিই আশা করছে মেহেরপুরবাসী।
6
ভারতে বিজেপি তথা মোদিবিরোধী জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন, সে প্রশ্নে না গিয়ে সোজা হাত বাড়ালেন কংগ্রেসের দিকে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া হয়েছিল আগেই। গতকালই কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুল আলোচিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর দিল্লির মসনদ থেকে মোদিকে সরাতে বিরোধী জোটের প্রক্রিয়া আরও শক্ত হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।জানা গেছে, মমতার সঙ্গে বৈঠকে সোনিয়া ছাড়াও রাহুল গান্ধী ছিলেন। পেগাসাস, করোনা থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, 'বৈঠক খুব ভালো হয়েছে। আমি নেতা নই। রাস্তায় লড়াই করা মানুষ।'কংগ্রেস ছাড়াও অন্যান্য বিরোধীদলগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করছেন মমতা। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে চান ভারতের মোদিবিরোধীরা।বিরোধী জোটের নেতৃত্বের প্রশ্নে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, 'জোটের নেতা কে হবেন তা আমি জানি না। কারণ আমি রাজনৈতিক জ্যোতিষী নই।'খুব শিগগিরই জোটের ছবি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তৃণমূল সভানেত্রী। বিরোধী জোট গঠনে আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে তাঁর খুবই সুসম্পর্ক রয়েছে। জোট গঠনের বিষয়ে সবাই আন্তরিক। তবে বামেদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'ওরা ঠিক করে নিক, আসল শত্রু কারা।'ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস আগে থেকেই জোটের বার্তা দিয়ে রেখেছিল তৃণমূলকে। সম্প্রতি তৃণমূলের ভার্চুয়াল সভায় কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা পি চিদাম্বরম ও দিগ্বিজয় সিং উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেসের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে পেগাসাস নজরদারির প্রতিবাদ জানানো হয়। গতকাল সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠকের আগে মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতা কমলনাথ ও আনন্দ শর্মাও বৈঠক করেন মমতার সঙ্গে।সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর বিজেপিবিরোধী জোটের রাস্তা আরও প্রশস্ত হলো বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুধু কংগ্রেসই নয়, মমতার সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সম্পর্কও খুব ভালো। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সময় অখিলেশ যাদব তাঁর দলের নেত্রী ও অমিতাভ বচ্চনের স্ত্রী জয়া বচ্চনকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের হয়ে ভোটের প্রচার চালান। আম আদমি পার্টির নেতা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের বহু নেতার সঙ্গেও বৈঠক করছেন মমতা। বিরোধীদের ছুড়ে দেওয়া বল এখন কীভাবে সামলাবেন তা নিয়েই ছক কষছেন মোদি ও তাঁর সঙ্গীরা।
3
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেছেন, করোনার টিকা নেওয়ার পর মানুষের মধ্যে এক ধরনের বেপরোয়া মনোভাব দেখা দিয়েছে। তাদের ধারণা হয়েছে 'আমি করোনা মুক্ত, আমার আর করোনা হবে না'। বিষয়টি আসলে তা নয়। টিকা নেওয়া হলেই সঙ্গে সঙ্গে করোনা মুক্ত হওয়া যায় না। শনিবার (১৩) দুপুরে মানিকগঞ্জ শুভ্র সেন্টারে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা নিলে সঙ্গে সঙ্গে করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় না। টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর করোনার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গাইড লাইন অনুযায়ী সকলেই করোনা মোকাবিলায় কাজ করেছি। প্রথমত মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে বলেছি। কিন্তু মানুষ এখন আর মাস্ক ব্যবহার করে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি না। যার ফলে সংক্রমণের হার বেড়ে যাচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদ ফটো, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম সুলতানুল আজম খান আপেল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফছার উদ্দিন সরকার প্রমুখ।
6
ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম (১৯১১-১৯৮৯) অবহিত ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি একটি অন্যতম উপায় হতে পারে। এমতাবস্থায় স্বাস্থ্যের নীতিনির্ধারক, সমাজপতি ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিসহ সমাজের সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ডায়াবেটিস সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি একান্ত আবশ্যক বলে বুঝতে পেরেছিলেন তিনি।১৯৫৫ সালের শেষ দিকের কথা। ডা. ইব্রাহিমের চোখে পড়ে নামকরা একটি মেডিকেল জার্নাল। সেই জার্নালে ডায়াবেটিসের ওপর একটি আর্টিকেল দেখতে পান তিনি । এতে তিনি দেখলেন বিলেতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। তাতে তিনি বেশ উদ্বুদ্ধ হলেন। এভাবে তিনি যখন দেখলেন উন্নত বিশ্বে ডায়াবেটিসের জন্য রয়েছে সমিতি, বিশেষ ব্যবস্থায় এসব সমিতি ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা করে। তখন থেকে তিনি নিজের চেম্বারে বিশেষভাবে ডায়াবেটিস রোগী দেখা আরম্ভ করেন। এসব রোগীর মধ্যে অনেকেই ছিলেন উচ্চ শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ। তাঁদের ডা. ইব্রাহিম ডায়াবেটিক সমিতি প্রতিষ্ঠা এবং ডায়াবেটিস রোগীদের পুনর্বাসনের জন্য কিছু করার কথা মাঝেমধ্যে বলতেন তিনি।১৯৫৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ডা. ইব্রাহিম তাঁর সেগুনবাগিচার বাসায় দেশের কিছু বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজসেবকদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। উদ্দেশ্য, ডায়াবেটিক সমিতি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বয়ান। ডাক্তার ইব্রাহিম নিমন্ত্রিতদের জানালেন যে, যেদিন ডায়াবেটিস হবে সেদিনই বুঝতে হবে যে ওই লোকটা অন্ধ হয়ে যাবে কিংবা প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে বা তার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কিন্তু যদি যথারীতি চিকিৎসা ও পরিচর্যার ভেতরে একে রাখা যায়, তাহলে আজীবন সে সুস্থ থাকবে। রোগীর হয়তো ৩০-৪০ বছর বয়স, কিন্তু ডায়াবেটিসে ১০ বছরের মধ্যেই তার সবকিছু অকেজো হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যথারীতি চিকিৎসা ও পরিচর্যা করলে এবং নিয়ম মেনে চললে সে ষাট বছর পর্যন্ত সুস্থ থাকবে এবং প্রায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে। উপস্থিত সমাজদরদিদের সেদিন ডা. ইব্রাহিম তাঁর নিজস্ব আবেগের সঙ্গে আরও জানিয়েছিলেন যে, যদি একটি ডায়াবেটিক সমিতি গঠন করা যায়, তাহলে এই সমিতির মাধ্যমে যত রোগীর চিকিৎসা হবে, তা তিনি নিজেই করবেন একেবারেই বিনে পয়সায়। তা ছাড়া এই চিকিৎসার জন্য যেসব যন্ত্রপাতির প্রয়োজন, তার কিছু কিছু, যা ডাক্তার ইব্রাহিমের নিজস্ব রয়েছে, তা-ও তিনি এই প্রকল্পের কাছে দিয়ে দেবেন। সেই রাতেই বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ডায়াবেটিক সমিতি গঠিত হয়। পরদিন ১ মার্চ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সমিতি প্রতিষ্ঠার খবর ছাপা হয়েছিল।আজ ৬৭ বছরে পা দিল বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। সমিতি সর্বার্থেই একটি বিশাল সম্মিলিত (করপোরেট) স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য মডেলে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে, দরিদ্র মানুষের জন্য উপযোগী একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজটা খুব সহজ নয়। কিন্তু সমিতি সরকারের সহায়তায় এবং সমাজকর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে আজ স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সরকারের পর সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এটি। সমিতির পরিধি অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি সমিতির কার্যপরিধি বিস্তৃত হয়েছে স্বাস্থ্য জনশক্তি সৃষ্টির ক্ষেত্রেও। সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হয়েও এই সমিতি বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবায় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে এসেছে। সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের যোগ্য নেতৃত্বেই দায়িত্ব অর্পণ করে যেতে পেরেছিলেন, যাঁরা সফলতার সঙ্গে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করে যাচ্ছেন। সমিতিতে যাঁরা এত দিন নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁরা তা করে চলেছেন স্বপ্রণোদিত হয়ে, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে।বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি বিশ্বের অপরাপর ডায়াবেটিক সমিতিসমূহের মতো নয়। এর বড় ব্যতিক্রম হচ্ছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি একই সঙ্গে ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ গবেষণায় এবং ডায়াবেটিক সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা প্রদান করে আসছে। এই বিশেষ ব্যতিক্রমের কারণে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি বিশ্বে একটি অনন্য ও অন্যতম বৈশিষ্ট্যময় সমিতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০০৬ সালে সমিতির প্রস্তাবে, বাংলাদেশ সরকারের উত্থাপনে জাতিসংঘ ১৪ নভেম্বরকে বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৫ সালে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফেডারেশন থেকে গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির স্বপ্নদ্রষ্টা ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং বর্তমান সভাপতি ড. এ কে আজাদ খান দুজনই চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পদবি জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে সম্মাননা লাভ করেছেন। তাঁরা দুজনই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব 'স্বাধীনতা পদক'-এ ভূষিত হয়েছেন। এটি বিরল এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির জন্য অনন্য স্বীকৃতি। সমিতির প্রথম বছরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৯। ১৯৮৫ সালের অক্টোবর মাসে শাহবাগে স্থানান্তরিত সমিতির কেন্দ্রীয় গবেষণা ইনস্টিটিউট 'বারডেমে' কেন্দ্রীয়ভাবে নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৪৮ হাজারে। ২০২১ সালের শেষে শুধু বারডেমেই ৭ লাখ ৬ হাজার ৫১৫ জন এবং দেশের ৬৩টি জেলা, ১৪টি উপজেলা এবং ৩টি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে (ইব্রাহিম কার্ডিয়াক, এনএইচএন এবং বিআইএইচএস) রেজিস্টার্ড সর্বমোট ৫৬ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৮ রোগীর নিয়মিত চিকিৎসা চলছে।স্বাধীনতার পর পাকিস্তান মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের আর্থিক প্রকল্প দুটি অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর অধীনে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন, তাঁদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। অন্যদিকে পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে এই সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও কোনোরূপ আর্থিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব ছিল না। ডা. ইব্রাহিমকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সরকার। মরহুম তাজউদ্দিন আহমেদের সরাসরি হস্তক্ষেপে বাংলাদেশের প্রথম দিকে ডায়াবেটিক সমিতি আসন্ন বিপর্যয় থেকে শুধু রক্ষাই পায়নি, তিনি একে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরাসরি সহায়তাও করেছিলেন। এমনি অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর সরকার সমিতিকে সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রকল্প আকারে অনুদান হিসেবে দিয়েছিলেন। ডা. ইব্রাহিম ম্যানিলা যাচ্ছিলেন একটি কনফারেন্সে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য। যাওয়ার পূর্বে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বঙ্গবন্ধু ডা. ইব্রাহিমকে নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছিলেন, 'আপনাকে আরও উন্নত জায়গা দেওয়া হবে, আপনি আপনার প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যান।'১৯৭৬ সালে ডা. ইব্রাহিম জায়গা পেয়েছিলেন, তৎকালীন সরকার বর্তমান শাহবাগে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির জন্য যে জায়গা বরাদ্দ করেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বর্তমানের সুরম্য বারডেম কমপ্লেক্স । ১৯৭৬ সালে ডা. ইব্রাহিম বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড রিহেবিলিটেশনের নাম বাদ দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেন বারডেম (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ, রিহেবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস এন্ডোক্রিন অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডাস)। ১৯৫৬ সালে টিনশেডে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, বর্তমানে সেটা শত বাধার বিন্ধ্যাচল পাড়ি দিয়ে ১৫ তলার এক আকাশচুম্বী ভবন হয়ে জাতীয় অধ্যাপক মরহুম ডা. ইব্রাহিমের মহিমা কীর্তন করে চলেছে।লেখক: ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। সরকারের সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য।
8
দায়িত্ব গ্রহণের আগে দুধ ও গোলাপ জল দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)কার্যালয়ধুয়ে, পরিষ্কার করে নিলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রজব আলী বাবলু। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে ইউনিয়ন পরিষদে। কেউ ছবি তুলে কেউবা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। আর এতেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রজব আলী বাবলু বলেন, এই পরিষদে আগে অনেক অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তাই পরিষদকে পবিত্র করতে আমার কর্মী-সমর্থকদের পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে বলেছিলাম। তারা উৎসাহি হয়ে আনন্দ করে দুধ ও গোলাপ জল দিয়ে ধুয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বুধবার সকালে প্রথম পরিষদে যাওয়ার আগে আমি সেখানে ক্বারী, মুসল্লি দিয়ে মিলাদ পড়িয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে পরিষদের প্রথম কর্মদিবস শুরু করেছি। যেহেতু আমি মুসলমান, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। তাই পরিষদকে পবিত্র করে নতুনভাবে শুরু করেছি। আশা করছি, এখন থেকে এই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে কোনো অনৈতিক বা খারাপ কাজ হবে না। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণ করা অনুষ্ঠানে তিনি আমাকে ডাকেননি। সচিব এসে স্বাক্ষর করে নিয়ে গেছেন। শুনলাম, আমি নাকি খারাপ মানুষ ছিলাম, পরিষদে খারাপ কাজ হতো, তাই দুধ আর গোলাপজল দিয়ে ধুয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। দুইবার হেরে এবার জিতেছেন।তাই আনন্দে গদগদ হয়ে এটা করেছেন তিনি। এটা নিচু মানসিকতার পরিচয়। নুরুল ইসলাম বলেন, আমিও দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি কখনো অতীত চেয়ারম্যানদের অসম্মান করিনি। ওই পরিষদের জমি আমার আর সাবেক চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনের দেওয়া। নতুন ভবন নির্মাণ, রঙ করা ও ফার্নিচার সব আমার হাতে করা। সেখানে আমি খারাপ কাজ করবো এমন প্রশ্নই ওঠে না। বর্তমান চেয়ারম্যানও সারাজীবন থাকবেন না। একদিন যেতে হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রজব আলী বাবলু তার আপন ভায়রা দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের এক কর্মীকে মারধর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে এ হামলা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী ছাত্রদল কর্মী ইরফান শিকদার ঢাকা কলেজের ১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী।ওই ছাত্রদল কর্মী বলেন, 'আমি টিএসসিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ এফ রহমান হলের সভাপতির নেতৃত্বে ওই হল ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে আমার ওপর হামলা চালায়। আমি কারো নাম জানি না। তবে হামলাকারীরা সবাই এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের কর্মী।'প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রদলের ওই কর্মী টিএসসিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ কিছু ছাত্রলীগের লোকজন এসে তাঁর ওপর হামলা চালায়।ঘটনার একটি ভিডিও আজকের পত্রিকার হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগকর্মী ইরফানকে মারধর করছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হাসান শান্ত, একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কাওসার আহমেদ, একই শিক্ষাবর্ষে ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের ফারহান তানবীর নাসিফ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ওবায়দুর রহমানসহ আরও অনেকে। পরে তাঁরা টিএসসিতে শোডাউন করেন।তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এই ছাত্রলীগ নেতা। তিনি বলেন, 'এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি ওইসব বিষয়ে কিছু জানি না।'এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ মে) ঢাবি ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে ছাত্রদলকে বাধা দেয় ছাত্রলীগ। পরে ছাত্রদলের একটি মিছিল হাইকোর্টের মাজার গেট পেরিয়ে দোয়েল চত্বরের দিকে অগ্রসর হতে গেলে বাধার মুখে পড়ে। তখন উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের একটি গ্রুপ সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে ঢুকে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানেই তাঁদের ওপর চড়াও হয়।এ ঘটনার জেরে গত বৃহস্পতিবার (২৬ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় ফের সংঘাতে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ।এসব ঘটনায় পরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে।
9
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় 'মুক্তি সোপান' নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। কাপ্তাই থানা সংলগ্ন নির্মাণাধীন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশেই এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে এই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুইছাইন চৌধুরী, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল হক, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির জাহান, কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশন আরা রব, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. মঈনুল হোসেন চৌধুরী, কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন।অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, শিক্ষক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনসহ নানা শ্রেণী পেশার লোকজন।
6
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে নিখোঁজ জেলে মিলন আকনকে (৩০) দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফিরে পেয়েছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার দুপুর দিকে তাকে কুয়াকাটার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। ঝড়ের কবলে মাছধরা ট্রলারসহ সাগরে ডুবে নিশ্চিত মারা যাবার খবরকে বিশ্বাস করার এক যুগ পর জেলে মিলন পরিবারের লোকজনের চোখেমুখে এখন আনন্দাশ্রু বইছে। তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার খবরে কৌতুহলী প্রতিবেশিসহ স্বজনরা একনজর দেখার জন্য এখন ভিড় করছে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে মিলন তার দুই সহযোগী জেলে ফারুক (১৩) ও খোকনকে (২৫) নিয়ে একটি মাছধরা নৌকায় ইলিশ শিকারের জন্য গভীর সমুদ্রে যায়। ওইদিন সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি। এরপর থেকে তাদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজ তিন জেলে পরিবারের ধারণা ছিল এদের সকলের সলিল সমাধি ঘটেছে। সর্বশেষ দু'দিন আগে মঙ্গলবার তালতলী উপজেলায় একটি সড়কে তার স্বজনরা মিলনকে চিনতে পায়। মিলনের মা মিনারা বেগম জানান, সাগরের পারে পারে ছেলেকে খুঁজেছি। কোথাও পাইনি। দীর্ঘ ১৩ বছর পর আমার বুকে পাইছি। এতেই আমি আল্লার কাছে হাজার শুকরিয়া জানাই। কুয়াকাটা পৌরসভার কাউন্সিলর মনির শরীফ বলেন, মিলন নামের ওই ছেলেটি ১৭ বছর বয়সে গত ২০০৮ সালে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। বর্তমানে মিলন অসুস্থ থাকায় তার নিখোঁজ থাকার বিষয় কিছুই জানা যায়নি। তবে মিলনের সাথে অপর নিখোঁজ দুই জেলের এখনো কোন সন্ধান মেলেনি। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন
6
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদসহ দুটি মসজিদে হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৮ বাংলাদেশি। আরও দুজন বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম সুফিউর রহমান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। তাকে উদ্ধৃত করে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডসহ স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিউজিল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি যোগাযোগের নম্বর দেওয়া হয়েছে। অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান +৬৪২১০২৪৬৫৮১৯, ক্যানবেরায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার তারেক আহমেদ +৬১৪৫০৬৫৭০৪৬। এছাড়া জরুরি যোগাযোগের আরও দু'টি নম্বর দেওয়া হয়েছে। নম্বরগুলো হলো, +৬১৪২৪৪৭২৫৪৪ ও +৬১৪৫০১৭৩০৩৫। জানা গেছে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের স্থায়ী দূতাবাস নেই, অনারারি কনসাল ইঞ্জি. শফিকুর রহমান থাকেন অকল্যান্ডে। বাংলাদেশি দুজন নিহত ও আটজন গুলিবিদ্ধের তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানান, শুক্রবার অনেকেই জুমার নামাজ পড়তে আল নূর মসজিদে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কযেকজন না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। পরে হাসপাতালে ১০ বাংলাদেশির গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। নিহতদের পরিচয় জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন- কৃষিবিদ ড. আবদুস সামাদ ও হোসনে আরা। তিনি লিংকন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করতেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহে। একসময় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। আর হোসনে আরা একজন গৃহবধূ। এদিকে নিউজিল্যান্ডে সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা অল্পের জন্য রক্ষা পান। তারা হামলার সময় আল নূর মসজিদে গিয়েছিলেন জুমার নামাজ পড়তে। ভেতরে গোলাগুলির বিষয়টি জানতে পেরে তারা বাইরে থেকেই দ্রুত নিরাপদে সরে যান।
6
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ও বেতারের যশোর প্রতিনিধি এবং যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রিমন খান ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তাকে ঢাকায় ল্যাবএইড হাসপাতালে ডাক্তার এএফএম কামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে কেমো থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি রিমন খান যশোরে ছড়াকার ও সমাজকর্মী হিসেবেও পরিচিত। তার স্ত্রী রিনি খান বলেন, চিকিৎসকরা আশা করছেন যে ছয়টি কেমো দেওয়ার পর তার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে রিমনের বোনমেরু পরীক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা শুরু করা যাবে। তবে তিনটি কেমো দেওয়ার পর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলেও ডাক্তাররা আশা করছেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
বৃহস্পতিবার লাহোরে বিশাল জনসভা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেখানেই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, পুরো দেশ যেন প্রস্তুত থাকে, তিনি এবার দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবেন। ইমরান সেই বিদেশি চক্রান্ত ও পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও স্বাভিমান রক্ষার দাবি তুলেই একের পর এক জনসভা করে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের সংবাদপত্র 'ডন' জানায়, লাহোরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া ছিল মনোরম। হালকা বৃষ্টি হয়। ইফতারের পর দলে দলে মানুষ সপরিবারে ইমরানের জনসভায় যোগ দেন। ইমরান যখন মঞ্চে ওঠেন, ততক্ষণে পুরো মাঠ ভরে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইমরান বর্তমান শাসকদের একটা বার্তা দিতে চেয়েছেন। সেটা হলো, তাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করে তারা ভুল করেছেন। সেই ভুল শুধরানোর একটাই উপায়- দ্রুত নির্বাচন ঘোষণা। সূত্র জানায়, ঈদের পরই সম্ভবত দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবেন ইমরান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জনসভায় বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত। তারা রাষ্ট্রদূতের চিঠি নিয়ে কোনও কমিশন গঠন করলে তা মানার প্রশ্ন নেই। আর সুপ্রিম কোর্টে প্রকাশ্যে এই কূটনৈতিক বার্তা নিয়ে শুনানি হোক। ইমরান বলেছেন, যখন এই কূটনৈতিক বার্তা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হবে, তখন পাকিস্তানিরা বুঝতে পারবেন, কীভাবে চক্রান্ত করা হয়েছিল। ইমরান খান আরও বলেন, তার লড়াই সবেমাত্র শুরু হয়েছে। আন্দোলন আরও তীব্র হবে। সমর্থকরা যেন তার ডাকের জন্য অপেক্ষা করেন। তিনি এখন নির্বাচন ছাড়া আর কিছু চাইছেন না। সূত্র: ডন, ডয়েচে ভেলে বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
কোভিড-১৯ প্রতিরোধের কারণে নড়াইলে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস সীমিত আকারে পালিত হচ্ছে। আজ বুধবার দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, বধ্য ভুমি, গণকবর ,বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুস্পমাল্য অর্পন, গণকবর জিয়ারত ও মোনাজাত এবং বঙ্গবন্ধু মঞ্চে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে, বধ্য ভুমি ,গণকবর, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও ম্যুরালে পুস্পমাল্য অর্পন করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড: সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম, জেলা আওয়মী লীগের সভাপতি অ্যাড: সুবাস চন্দ্র বোস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন(সার্বিক) মো: ইয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম,জেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন, বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি,নড়াইল পৌরসভা,নড়াইল প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি,জেলা শিল্পকলা একাডেমি, পাসপোর্ট অফিস,সরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র প্রদর্শন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা ।
6
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, আওয়ামী দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে এবং গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে অন্যান্য নির্বাচন ও উপ-নির্বাচনের মতোই জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অতীতে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। তারপরেও নির্বাচনে যতটুকু স্পেস পাওয়া যায়, তা ব্যবহার করে ভোটারদের সামনে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রার্থনাসহ নির্বাচনী কর্মকান্ড চালিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিন্স বলেন, সীমিত নির্বাচনী প্রচারাভিযানেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মাধ্যমে হামলা চালিয়েছে এবং সাধারণ ভোটার'রা ভোটকেন্দ্রে আসলে তাদের ভরাডুবি হবে এই আশঙ্কায় ভীত হয়ে তারা নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশকে পুরোপুরি বিনষ্ট করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের দ্বারা সংঘটিত অব্যাহত নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং হামলা-মামলা ও হুমকির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা সত্ত্বেও তারা তা আমলে না নিয়ে বরং উল্টো বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদেরকেই নাজেহাল ও হয়রানী করেছে। বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন,প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের কাছে উক্ত আসন দ্বয়ের বিএনপি'র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ বারংবার স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ জানালে আশ্বাস দেয়া সত্বেও বাস্তবে কোন কার্যকর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই কমিশন। তাদের এই নির্লিপ্ত আচরণে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের অনুগত প্রশাসনকে আরও উস্কে দেয়া হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবীতে যুগে যুগে দুই একজন গণবিরোধী বিশ্বাসঘাতকদের সৃষ্টি হয়েছে যাদের কারনে একটি জাতি স্বাধীনতা হারিয়েছে অথবা করুণ দশার মুখোমুখি হয়েছে। এই বিশ্বাসঘাতকরা শুধুমাত্র নিজেদের পদ ও ক্ষমতার স্বার্থে পুরো জাতিকে ভয়াবহ বিপদের মুখে ফেলে দেয়। তাদেরই মতোই নতুন এক দলকানা ও সেবাদাস প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার। তিনি বলেন, নুরুল হুদার আচার-আচরণ কাজ-কর্ম কথাবার্তায় মনে হয় তিনি নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক কোন পদে নয় বরং তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিশনের প্রধান দায়িত্ব পালন করছেন।
6
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন লোকবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি একটি পদে মোট ছয়জনকে নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে পদের যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে যোগ দিতে পারবেন যে কেউ। পদের নাম ও পদসংখ্যা সহকারী প্রকৌশলী (পুর)-৬ ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশলে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএতে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে আগ্রহী প্রার্থীর। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের সদস্য হতে হবে প্রার্থীকে। আবেদনের বিস্তারিত জানা যাবে বিজ্ঞপ্তিতে। আবেদনের বয়সপ্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা /শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর। আবেদনপত্রের সঙ্গে সত্যায়িত সদ্য তােলা তিন কপি পাসপাের্ট আকারের ছবি, জাতীয়তা সনদপত্র, অভিজ্ঞতা (প্রযােজ্য ক্ষেত্রে), শিক্ষাগত যােগ্যতা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়ন করে সংযুক্ত করতে হবে। আবেদন ফিআবেদন ফি ১০০০ টাকা। মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বরাবর এক হাজার টাকা মূল্যমানের পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট (অফেরতযোগ্য) আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। আবেদনের নিয়মআগ্রহী প্রার্থীরা আবেদনপত্র পূরণ করে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
1
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করেছেন হেফাজত ইসলাম। মহাসচিব নূরুল ইসলাম জেহাদীকে নিয়ে সোমবার রাত ৮টা ৩৭ মিনিটে ধানমণ্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান হেফাজত আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁরা সেখান থেকে বের হয়ে আসেন। বৈঠকের বিষয়ে এখনো কিছুই বলেননি তাঁরা। সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলে যান হেফাজত নেতারা।এদিকে হেফাজত নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারাও মন্ত্রীর বাসায় প্রবেশ করেন জানা গেছে। এর আগে বৈঠকে অংশ নিতে একই দিন দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন জুনায়েদ বাবুনগরী।স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করতে গিয়ে নানা কর্মকাণ্ডে চাপে পড়ে হেফাজত। গ্রেপ্তার ও মামলা থেকে রেহাই পেতে ১৯ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সংগঠনটির নেতারা। এরপর আরও এক দফায় বৈঠক হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে আবারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন হেফাজতের নেতারা।২৫ এপ্রিল রাতে কমিটি বিলুপ্ত করার পরে ৭ জুন নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে হেফাজত। নতুন কমিটি করার পর এটাই সরকারের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে হেফাজত নেতাদের প্রথম বৈঠক।আরও পড়ুন:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় বৈঠকে হেফাজত নেতারা
9
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডো অভিযানের বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখা কমান্ডো মো. খলিলুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।সোমবার রাত পৌনে ৮টায় রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। গত ২০ ডিসেম্বর মো. খলিলুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তার শরীরের ডান পাশ অসাড় এবং কথা বলাও বন্ধ হওয়ার পর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। সোমবার তাকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি লেখালেখি করতেন। মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের বীরত্বপূর্ণ অবদান নিয়ে প্রচুর লিখেছেন। তার রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ৬।
6
পার্বত্য অঞ্চলে করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি। প্রতিদিনই এখানে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এতে আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কোনো শয্যা খালি নেই।৫০ শয্যার করোনা ইউনিট এখন রোগীতে ঠাসা। এ জন্য হাসপাতালে ছাদে টিনশেডের আরও ৩০ শয্যার করোনা ইউনিট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পরিষদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন নূপুর কান্তি দাশ।এদিকে গতকাল সোমবার জেলায় ৫০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে শনাক্তের হার দাঁড়ায় ৪০ দশমিক ৩২ শতাংশ। এর আগের দিন এ হার ছিল ৬১ শতাংশ।খাগড়াছড়ি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর হাসপাতালে ৫০ শয্যার করোনা ইউনিট প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে ৫০ বেডের করোনা ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫৩ জন। ভর্তি রোগীর মধ্যে ৩০ জন করোনায় আক্রান্ত। এ ছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন ২৩ জন। রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।এদিকে বাড়তি রোগী সামাল দিতে হাসপাতালের ছাদে টিন দিয়ে ৩০ শয্যার করোনা ইউনিট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। সোমবার হাসপাতাল পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুপ্রুই চৌধুরী অপু এ সিদ্ধান্ত জানান।মংসুপ্রুই চৌধুরী বলেন, 'খাগড়াছড়িতে আশঙ্কাজনকহারে করোনা রোগী বাড়ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে হাসপাতালের ছাদের ওপর করোনা ইউনিট নির্মাণ করা হবে।'ডা. নূপুর কান্তি দাশ বলেন, 'করোনা ওয়ার্ডে কোনো শয্যা খালি নেই। প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে টিনশেড করোনা ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নতুন ইউনিটে রোগীর সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা হবে।'
6
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শূকরের মাংস খাওয়া হয় চীনে। শূকরের মাংস উৎপাদনেও শীর্ষে দেশটি। গরুর মাংসও সেখানে বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু ভাইরাসের ভয়ে চীনারা এখন খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনছেন। অনেকেই ঝুঁকছেন উদ্ভিদ থেকে তৈরি বিকল্প মাংসের দিকে। ইউরোপও আমেরিকাতে এই উদ্ভিদজাত মাংস অবশ্য আরও আগে থেকেই খাওয়া শুরু হয়েছে। আদ্রে জিয়াং নামে এক ক্রেতা বলছিলেন, আমি সবসময় গরুর মাংস পছন্দ করতাম। এখন এটা খেলে আপনি বুঝতে পারবেন না যে, এটা সত্যিকারের মাংস নয়। কিন্তু স্বাদটা গরুর মাংসের চেয়ে একেবারে আলাদাও না। আর উদ্ভিদজাত আমিষ গরুর মাংসের চেয়ে স্বাস্থ্যকরও বটে। করোনায় চীনের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। চারা নামে এক আইনজীবী বলেন, আমার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। বাইরে খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। বাসায় রান্না করছি। তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছি। সূত্র : ডয়চে ভেলে বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
5
যে লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠ আমার মতো কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে, নিশ্চয়ই এখন তিনি যেখানে আছেন, শান্তিতেই আছেন। লতাজির সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হওয়ার মুহূর্তটি এখনো আমার কাছে জ্বলজ্বলে। ১৯৭৪ সালের নভেম্বরে ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টার ফর রিলেশনস আমাকে আমন্ত্রণ জানায়। তাদের আমন্ত্রণে আমি ভারতে যাই। সেখানে তিনটি অনুষ্ঠান করেছিলাম। প্রথম অনুষ্ঠান ছিল দিল্লিতে, দ্বিতীয়টি মুম্বাইয়ে, আর শেষটা কলকাতায়। সে সময় আয়োজকেরা আমার কাছে জানতে চান, এমন কেউ কি এখানে আছেন, যাঁর সঙ্গে আমি দেখা করতে চাই? কারও প্রতি কি বিশেষ আগ্রহ আছে আমার? যদি থাকে, তবে সেটা তাঁদের বললে তাঁরা ব্যবস্থা করে দেবেন। আমি বললাম, আমার একটা প্রত্যাশা আছে। কোনোভাবে কি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দেখা করা যায়? তাঁরা জানালেন, 'তিনি তো কোথাও যান না। তা ছাড়া তিনি খুবই চুজি। তবু আমরা চেষ্টা করব।' তাঁদের কথা শুনে ধরেই নিয়েছিলাম, দেখা হবে না। মুম্বাইয়ের শানমুখানন্দ হলের ব্যাক স্টেজে মহড়া করছিলাম। আমার সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন খ্যাতনামা সংগীত পরিচালক দেবুদা, দেবু ভট্টাচার্য। তিনি কি-বোর্ড বাজাচ্ছিলেন আর পুরো সংগীত ব্যবস্থাপনাটা দেখছিলেন। তিনি ছাড়া স্থানীয় সংগীতজ্ঞরাও ছিলেন। অবাক করা একটা ব্যাপার ঘটল। হঠাৎ দেখি, ব্যাক স্টেজের দরজা দিয়ে কয়েকজন ভদ্রমহিলা ঢুকলেন। এর মধ্যে একজন সাদা শাড়ি পরা। তিনি আমার দিকে আসছেন। তাঁকে দেখে লতাজি লতাজি মনে হচ্ছিল। কিন্তু তা কী করে সম্ভব? তিনি কেন ব্যাক স্টেজ দিয়ে ঢুকবেন? এরপর দেখি লাল গোলাপ হাতে সত্যি সত্যি লতাজিই আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি গিয়ে তাঁকে সালাম করলাম। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। ফুল দিলেন। এর মধ্যে সাংবাদিকেরা খবর পেয়ে গেছেন। তাঁরা এসে ছবি তুললেন। পরদিন পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছিল, 'ওয়ান নাইটিঙ্গেল মিটস অ্যানাদার'। আমরা সেদিন অনেকক্ষণ বসে কথা বলেছিলাম। আমি লতাজিকে বললাম, 'আপনি তো আমার গান কখনো শোনেননি বোধ হয়।' তিনি বললেন, 'আমি আপনার গান অনেক শুনেছি। পাকিস্তান রেডিওতে আপনার গান বাজানো হয়। আমরা নিয়মিত আপনার গান শুনি। আপনি এসেছেন। আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। শুনে নিজেই চলে এসেছি।' এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া ছিল। লতাজির সঙ্গে সেটাই আমার প্রথম দেখা। বছরের পর বছর ধরে আমরা ভালোবাসা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলাম। সর্বোপরি আমরা বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। প্রায়ই আমাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে এসএমএস (খুদে বার্তা) বিনিময় হতো। মাঝেমধ্যে আমাদের দীর্ঘ টেলিকথোপকথনের বিষয় ছিল সংগীতকে ঘিরেই। এর বাইরে মাঝেমধ্যে তাঁর অনুমতি নিয়েই সাহস করে আমি তাঁকে খুদে বার্তায় মজার মজার কৌতুক পাঠাতাম। তিনি সেই সেসব খুবই উপভোগ করতেন। দিদির রসবোধ ছিল প্রবল। তাঁর কিছু অভিজ্ঞতাও আমার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেন। শুনে আমার খুবই ভালো লাগত। তাঁর কিন্নরকণ্ঠ আমার কানে সব সময় সংগীতের মতোই মনে হতো। কখনো কখনো খুদে বার্তায় তাঁকে 'শুভ সকাল' জানালে উত্তরে তিনি আমাকে তাঁর পছন্দের জিনিসগুলোর ছবি, ফুল, শিশুদের ছবি পাঠাতেন। কখনো কখনো তাঁর গানের অডিও ও ভিডিও পাঠাতেন, শুনে শুনে যার বেশির ভাগ তত দিনে আমার শেখাও হয়ে গেছে। এগুলো আমার জন্য ছিল তাঁর কাছ থেকে পাওয়া একটি অতিরিক্ত বোনাস। প্রতিবছর আমার জন্মদিনে তিনি আমাকে একটা শাড়ি পাঠাতেন। এ বছর আমাকে বললেন, 'আপনি তো লন্ডন যাচ্ছেন। ঢাকায় ফিরে গেলেই আমি আপনার উপহার পাঠিয়ে দেব।' লন্ডনে আসার ঠিক আগে তাঁর সঙ্গে আমার শেষ কথা হলো। আমাকে বললেন, আমার সঙ্গে কথা বলতে তিনি ভীষণ পছন্দ করেন। আমাকে তাঁর পরিবারের খুব কাছের একজন সদস্য বলেই মনে করেন। বলেছিলেন, আমি তাঁর ছোট বোন। আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন। আমার প্রতিভাকে সম্মান করেন। কথায় কথায় তিনি বলেছিলেন যে, আমাকে ভীষণ মিস করছেন। শিগগিরই যেন তাঁকে দেখতে যাই। বলেছিলাম, করোনার এই বৈশ্বিক বিপর্যয় কাটলেই আমি তাঁকে দেখতে যাব। কিন্তু তা তো আর হলো না। আমি হঠাৎ গভীর এক নির্জনতা আর শূন্যতার মধ্যে ডুবে গেছি। কিন্তু তাঁর সব স্মৃতিই আমার সঙ্গে চিরকাল থাকবে। আর কোনো দিন শুনতে পাব না সেই কিন্নরকণ্ঠ, 'রুনাজি, আপনি কেমন আছেন?' দিদি, আপনি আমাকেসহ অগণিত মানুষকে বহু কিছুই দিয়েছেন। তবে অনেকের চেয়ে আপনি আমাকে বেশিই দিয়েছেন। এ জন্য আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আপনি আমাকে আপনার শেষ খুদে বার্তাগুলোতে যে আশীর্বাদ পাঠিয়েছেন, তার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি আপনার আশীর্বাদ আর ভালোবাসা শেষ অবধি লালন করব।
2
ভাগ্যিস দিল্লি হাইকোর্টের এক বিচারপতি উদ্যোগী হয়েছিলেন, না হলে ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) এমন নির্দেশিকা জারি করত কি না সন্দেহ। আজ শনিবার জারি হওয়া সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে ঢোকার সময় থেকে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত কোভিড-সংক্রান্ত যাবতীয় আচরণবিধি কঠোরভাবে পালিত না হলে যাত্রীদের বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়া হবে। এমনকি বিমানে ওঠার পরও যদি দেখা যায় নাক-মুখ ঢাকা মাস্ক চিবুকে ঝুলছে, অথবা নাকের নিচে শুধু মুখ ঢাকা, বলা সত্ত্বেও মানা না হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে। ভারতে করোনার সংক্রমণ কিছুদিন ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বলে ডিজিসিএর এই নির্দেশিকা জারি, এমন মনে করার কোনো কারণ অবশ্য নেই। তাদের এই নির্দেশিকা দিতে বাধ্য করেছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সি হরিশঙ্কর। তিনি উদ্যোগী না হলে কড়াকড়ির এই নতুন হুকুম দেওয়া হতো কি না, সন্দেহ। ঘটনাটা এ রকম। ৫ মার্চ বিচারপতি সি হরিশঙ্কর কলকাতা থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে দিল্লি আসছিলেন। যাত্রাকালে তিনি দেখেন, টার্মিনাল থেকে উড়োজাহাজে পৌঁছানোর বাসে এবং ফ্লাইটের অভ্যন্তরে বহু যাত্রীর মাস্ক হয় নাকের নিচে, নয়তো চিবুকে লটকাচ্ছেন। ঠিকভাবে মাস্ক পরার কথা বললেও কোনো কোনো যাত্রীকে চরম অবাধ্য হতেও তিনি লক্ষ করেন। তাঁর চোখে ধরা পড়ে ফ্লাইটের কর্মীদের অসহায়তাও। এ বিষয়ে ডিজিসিএর ওয়েবসাইটে কোনো নির্দেশিকাও তিনি খুঁজে পাননি। এ কারণে দিল্লি ফিরে তিনি ডিজিসিএকে কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে করোনা বিধি কঠোরভাবে মানা না হলে যাত্রীদের পরিণতি বিপজ্জনক হতে পারে। কিছু মানুষের অসাবধানতা ও অনড় মনোভাবের ফল ভোগ করতে হয় অনেক যাত্রীকে। তিনি বলেন, ডিজিসিএকে এ বিষয়ে কড়া মনোভাব নিতে হবে এবং প্রয়োজনে অবাধ্য যাত্রীদের বিমানবন্দর থেকে বের করে বা ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দিতে হবে। অবাধ্যদের বিরুদ্ধে নিতে হবে আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। বিচারপতির ওই নির্দেশের পরেই আজ ডিজিসিএর নতুন নির্দেশিকা। সেই অনুযায়ী, ফ্লাইটের অভ্যন্তরে প্রকৃত কোভিড বিধি না মানা যাত্রীকে 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করা হবে। বন্দরের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা কর্মী বা অন্যরা কাউকে বিধি ভাঙতে দেখলে প্রথমে সতর্ক করবেন। তারপরেও অবাধ্য হলে যাত্রীকে বের করে দেওয়ার অধিকার থাকবে। কর্তব্যে গাফিলতির জন্য দায়ী থাকবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উড়াল চলাকালে অবাধ্য যাত্রীর বিরুদ্ধে অসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। তাতে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে 'বিপজ্জনক ও অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করে তাঁর ভবিষ্যৎ বিমানযাত্রা বন্ধ করে দেওয়াও যেতে পারে। ভারতে আজও করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার। সবচেয়ে খারাপ হাল মহারাষ্ট্রের। এই রাজ্য ছাড়াও সংক্রমণ বাড়ছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটে। মহারাষ্ট্রের কিছু শহরে নতুন করে চালু হয়েছে লকডাউন। পাঞ্জাবে জারি হয়েছে নৈশ কারফিউ।
3
ঢাকা-১৮ আসনের উপ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, ভোট সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ সরকার ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালে যেভাবে ভোটার। বিহীন নির্বাচন করেছে ঠিক একই ভাবে ঢাকা-১৮ আসনেও ভোটার বিহীন নির্বাচন করে বিজয়ী হতে চায়। তার জন্য যা যা করা দরকার সব করছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা ৪০ মিনিটে আবদুল্লাহপুর আদর্শ বিদ্যা নিকেতনে ভোট প্রধান শেষে তিনি এসব কথা বলেন। জাহাঙ্গীর বলেন, এ উপ নির্বাচন ছিলো আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা যাচাই করার একটা উত্তম সুযোগ কিন্তু তারা সেটা করেনি। এ উপ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা যাচাই করতে পারতো তারা কতটা জনপ্রিয়, কিন্তু সে পথে না গিয়ে তারা ভোটার বিহীন নির্বাচনের পথে গেছে। বিএনপির এ প্রার্থী বলেন, এ নির্বাচনে ভোটের কোনো পরিবেশ নেই। তারা তাদের দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে, জনগণের গণতন্ত্র হরণ করেছে, ভোটাধিকার হরণ করেছে। জাহাঙ্গীর অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামীলীগ যেভাবে বাহির থেকে সন্ত্রাসীদের জড়ো করেছে, ঢাকার বাহির থেকে, গাজীপুর, সাভার থেকে সন্ত্রাসী এনে জড়ো করেছে। ভোটাররা ভোট কোন্দ্রে যেতে পারছেনা, তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। শুধু আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নয় সাথে সাথে পুলিশও তাদের সহযোগীতা করছে, আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করে বের করে দিচ্ছে। ভোটারতো দূরের কথা আমাদের এজেন্ট ও ঢুকতে দিচ্ছেনা। তিনি বলেন, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত একটা কেন্দ্রেও আমাদের এজেন্ট কে ডুকতে দিচ্ছে না। দুই একটা কেন্দ্রে এজেন্ট গেছে তাদের বের করে দেয়া হচ্ছে, পুলিশ গিয়ে ধমকাচ্ছে আর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গিয়ে বের করে দিচ্ছে। বিএনপির এ প্রার্থী আরো বলেন, মালেকা বানু আদর্শ বিদ্য নিকতেনে আমাদের ১০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থককে ধরে নিয়ে গেছে। দুইজন এজেন্টকে বের করে দিয়েছে, এখন এ কেন্দ্রে কোনো এজেন্ট নেই। যুবদলের এ নেতা বলেন, তারা কোনো ভাবে চায়না জনগণ ভোট দিতে আসুক, জনগণ ভোট দিতে আসলো আওয়ামী লীগের পরাজয় হবে তারা ধানের শীষে ভোট দিবে। সেজন্য তারা ঢাকার বাহির থেকে সন্ত্রাসী এনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ক্যাম্প করেছে। অথচ আইনে বলা আছে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা থাকবে অথচ আওয়ামী লীগ প্রতিটা কোন্দ্রের সামনে ক্যম্প বসিয়েছে। কারণ তারা চায়না কোনো ভাবে ভোটাররা ভোট দিতে আসুক।
9
ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। ইসলামের ইতিহাসে এই মাসটি সকরুণ স্মৃতিবিজড়িত। আশুরা হলো মহররমের দশম তারিখ। ৬২ হিজরিতে (৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে) এই আশুরার দিনেই শুক্রবার অপরাহ্ণে কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় নাতি হজরত হোসেইন (রা.) নির্মমভাবে শহীদ হন। কারবালা ইরাকের অন্তর্গত কারবালা প্রদেশের রাজধানী শহর। এটি বাগদাদের ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। 'কারবালা' আরবি 'কারব+বালা' দুটি শব্দের সম্মিলিত রূপ। 'কারব' অর্থ দুঃখ, সংকট; 'বালা' অর্থ বিপদ, মুসিবত। দশম হিজরিতে প্রিয় নবী (সা.)-এর ওফাতের পর প্রথম খলিফা হিসেবে অভিষিক্ত হন হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। তিনি প্রায় আড়াই বছর খেলাফত পরিচালনা করার পর ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে যান দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ফারুককে (রা.)। তিনি ১০ বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। ফজরের নামাজে ইমামতিরত অবস্থায় আততায়ী আবুলুলুর খঞ্জরের আঘাতে শহীদ হন উমর ফারুক (রা.)। মদিনার জান্নাতুল বাকিতে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। ইন্তেকালের আগে তিনি হজরত আবদুর রহমান ইবনে আওফকে (রা.) প্রধান করে খলিফা নির্বাচনের জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি করে দিয়ে যান। সে কমিটিতে সদস্য ছিলেন হজরত উসমান (রা.), হজরত আলী (রা.), হজরত তলহা (রা.), হজরত জুবায়ের (রা.) ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)। হজরত উমর (রা.) এ-ও বলে যান, আবদুল্লাহ ছাড়া এই পাঁচজনের মধ্য থেকেই একজন খলিফা হবেন; আবদুর রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। এই মজলিশে শুরা বা উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তেই হজরত উসমান (রা.) তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন। খলিফা উমরের ছোট ছেলে উবায়দুল্লাহ পিতৃহত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আততায়ী আবুলুলু ও তাঁর সহযোগী সন্দেহে আরও দুই নারী-পুরুষকে খুন করেন। খলিফা উসমান (রা.) ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে এই বিচারবহির্ভূত তিন খুনের রক্তপণ দিয়ে বিচারকার্য সমাধা করেন। তিনি সর্বোচ্চ একটানা ১২ বছর খলিফা ছিলেন। জান্নাতুল বাকিতে তাঁর সমাধি অবস্থিত। ইহুদি ও মুনাফিকদের চক্রান্তে ৪০ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর হজরত উসমান (রা.) শুক্রবার দিন আসরের নামাজের পর রোজা অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াতকালে নিজ ঘরে বিদ্রোহীদের হাতে শহীদ হন। তাঁর শাহাদতের পর হজরত আলী (রা.) চতুর্থ খলিফা নিযুক্ত হন। এই সময় চতুর্দিকে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকে। হজরত আলী পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় খলিফা হত্যার বিচার করতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় হজরত উমর (রা.) কর্তৃক নিযুক্ত সিরিয়ার দীর্ঘদিনের গভর্নর হজরত মুআবিয়াসহ (রা.) অনেকেই এই খেলাফতের আনুগত্যে অস্বীকৃতি জানান। একটা অংশ হজরত মুআবিয়াকে (রা.) খলিফা হিসেবে ঘোষণা করলে খেলাফত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়। তখন হজরত আলী (রা.) প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় খেলাফতের রাজধানী মদিনা থেকে ইরাকের কুফা শহরে স্থানান্তরিত করেন। তিনি প্রায় তিন বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনামলে জঙ্গে জামাল (উষ্ট্র যুদ্ধ) ও জঙ্গে সিফফিন (সিফফিন যুদ্ধ) সংঘটিত হয়। হজরত আলী (রা.) ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে চরমপন্থী খারেজিদের নিয়োজিত গুপ্তঘাতক আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম কর্তৃক তরবারির আঘাতে আহত হয়ে শাহাদতবরণ করেন। ইরাকের নজফে তাঁর মাজার অবস্থিত। চতুর্থ খলিফার শাহাদতের পর তাঁর ছেলে হজরত হাসান (রা.) পঞ্চম খলিফা নির্বাচিত হন। তখন অপর অংশে খলিফা হজরত মুআবিয়া (রা.)। হজরত হাসান (রা.) ছয় মাস খেলাফত পরিচালনা করেন। তিনি অনৈক্যের কুফল ও যুদ্ধের বিভীষিকা অবলোকন করে শান্তির জন্য নিজের খেলাফত ত্যাগ করে অপর অংশের খলিফা হজরত মুআবিয়ার (রা.) সঙ্গে ঐক্যের চুক্তি করেন এবং হজরত মুআবিয়ার (রা.) মৃত্যুর পর তিনি পুনরায় খলিফা হবেন, এই শর্তে তাঁকে খেলাফতের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেন। এই সুবাদে হজরত মুআবিয়া (রা.) পূর্ণাঙ্গরূপে পঞ্চম খলিফারূপে পরিগণিত হন। তখন তিনি হজরত হাসান ও হজরত হোসেইনকে নিয়মিত মাসোহারা ও বার্ষিক সম্মানী প্রদান করতেন। এরই মধ্যে হজরত হাসান (রা.) খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ইন্তেকাল করেন। এর দ্বারা হজরত মুআবিয়ার (রা.) সঙ্গে করা চুক্তির অবসান হওয়ায় তাঁর মৃত্যু নিয়ে সন্দেহের ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়। অতঃপর হজরত মুআবিয়া (রা.) তাঁর খেলাফতের শেষ দিকে এসে ৫৬ হিজরিতে নানান বিষয় চিন্তা করে তাঁর উপদেষ্টাদের পরামর্শক্রমে নিজপুত্র ইয়াজিদকে পরবর্তী খলিফা নিযুক্ত করার পূর্বঘোষণা দিলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তখন তিনি তা আপাতত স্থগিত রাখেন; বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। ৬০ হিজরি সনে হজরত মুআবিয়ার (রা.) ওফাতের পর ইয়াজিদ খলিফা হয়ে সবার আনুগত্য ও নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে চাইলে হজরত হোসেইনসহ (রা.) অনেকে তাতে অস্বীকৃতি জানান। ইয়াজিদ সিরিয়া থেকে কুফা এবং মক্কা থেকে মদিনা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। এই অবস্থায় জুলুম-নির্যাতন থেকে মুক্তির আশায় কুফাবাসী হজরত হোসেইনকে (রা.) মদিনা থেকে আসতে অনুরোধ জানান। হজরত হোসেইন (রা.) ইয়াজিদের শোষণ-নিপীড়ন থেকে জনসাধারণকে রক্ষা ও ইসলামের মূল ধারা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে এ আহ্বানে সাড়া দেন। অনূর্ধ্ব ৮০ জন সহযাত্রী নিয়ে কারবালার ফোরাতের তীরে এসে ইয়াজিদের অনুচর ইবনে জিয়াদ কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হন এবং সত্য ও ন্যায়ের পতাকা সমুন্নত রেখে শাহাদতবরণ করেন। ইমাম দারিমি (রা.) লিখেছেন, হোসেইনের (রা.) হত্যাকারী সিমার ইবন জিলজাওশান। কেউ কেউ বলেছেন, তাঁর হত্যাকারী সিনান ইবন আনাস নাখয়ি, খাওলা বিনতে ইয়াজিদ আসবাহির ও শিবল ইবন ইয়াজিদ। ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর ৬ মাস ১৫ দিন। মুহাম্মদ ইবনে সাআদ বলেন, ইয়াজিদ হজরত হোসেইনের (রা.) শির মোবারক মদিনার গভর্নর আমর ইবন সাঈদের কাছে পাঠালে তিনি তা 'জান্নাতুল বাকি' কবরস্থানে ফাতেমা (রা.) কবরের পাশে দাফন করেছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে সালিহর রেওয়ায়াত অনুযায়ী তাঁকে দাফন করা হয় দামেস্ক শহরের বাবুল ফারাদিসে। হোসেইনের (রা.) শির মোবারক নিয়ে আরও প্রচলিত আছে, তাঁর পবিত্র শির ইয়াজিদের নির্দেশে গোলাপজল দিয়ে কয়েকবার ধোয়া হয় এবং কয়েকটি কাপড় দিয়ে কাফন পরানো হয়। তখন ইয়াজিদের রাজদরবারে আসকালান (দক্ষিণ ফিলিস্তিনের অঞ্চল) একদল লোক ছিলেন, তাঁরা তা দাফন করার আগ্রহ ব্যক্ত করলে তাঁদের দেওয়া হয়। তাঁরা তা দামেস্কের আসকালানে দাফন করেন। ১০৯৬ থেকে ১২৯০ সনের মাঝামাঝি ইউরোপীয় খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চালালে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে অচিরেই ক্রুসেডাররা আসকালান নগরীতে অবস্থিত হজরত হোসেইনের (রা.) শির উত্তোলন করবে। তাই ফাতেমি শাসকেরা তাঁর মস্তক উত্তোলন করে ৪৫৯ হিজরিতে কায়রো 'মসজিদে হোসেইন'-সংলগ্ন স্থানে দাফন করেন। 'মাজমুআ ফাতাওয়া' ২৭তম খণ্ডে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে। সেখানে দৃঢ়ভাবে বলা হয়েছে, বিশুদ্ধ মত হলো, তাঁর শির মোবারক মদিনা মুনাওয়ারার জান্নাতুল বাকিতে তাঁর ভাই, চাচা ও মায়ের পাশে দাফন করা হয়েছে। জুবায়ের বিন বাক্কার 'কিতাবুল আনসাব' প্রণেতা, মুহাম্মাদ বিন সাদ 'তবকাত' রচয়িতা প্রমুখ উল্লেখ করেছেন যে তাঁর শির মদিনায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে হজরত হাসানের (রা.) পাশে দাফন করা হয়েছে। অনেকের মতে, হজরত হোসেইনের (রা.) কবর হজরত আলীর (রা.) কবরের পাশের ফোরাত নদীর তীরে উঁচু ভূমিতে অবস্থিত। ইবনে জারির তাবারি (রা.) ও অন্য ইতিহাসবিদেরা উল্লেখ করেন, হোসেইনের (রা.) শাহাদতের জায়গার চিহ্নটুকু মুছে গেছে, এমনকি কেউ এ নির্দিষ্ট জায়গাটির কোনো তথ্য দিতে পারেননি। যাঁরা হোসেইনের (রা.) কবরের স্থান সম্পর্কে জানেন বলে ধারণা করেন, আবু নুয়াইম ও ফজল ইবনে দিকান তাঁদের দাবি নাকচ করে দেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির (রা.)। মাওলানা মুহাম্মদ আলী জাওহার বলেছেন: 'কতলে হোসেইন দর হাকিকত মারগে ইয়াজিদ বুদ, ইসলাম জিন্দা হোতা হায় হার কারবালা কি বাদ।' অর্থাৎ 'হোসেইনের (রা.) শাহাদত প্রকৃতপক্ষে ইয়াজিদেরই মৃত্যু (পরাজয়), প্রত্যেক কারবালার পরই ইসলাম সঞ্জীবিত হয়।' মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম। []
10
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সিয়াম (১০) নামে এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা শিশুটিকে হত্যা করেছে তা জানা যায়নি। আজ শনিবার দুপুরে বাড়ি সংলগ্ন বিল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সিয়াম উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের সুলতানাবাদ গ্রামের শাহজাহান গাজীর ছেলে ও খাটাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মাছুমুর রহমান বিশ্বাস বলেন, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে একটি মাদরাসায় মাহফিল শুনতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি সিয়াম। শনিবার তার বাবা থানায় জিডি করতে আসেন। পরে গলা ও হাত-পা কাটা অবস্থায় বিল থেকে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
6
সকাল সকাল সুসংবাদটি দিলেন বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর। তিনি মা হতে যাচ্ছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম রীতিমতো হিসাব-নিকাশ করে বের করে ফেলেছে, সোনম অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন প্রায় তিন মাস। কাপুর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সোনম চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আগামী আগস্ট মাসে কাপুর পরিবারে আসছে নতুন সদস্য। এরই মধ্যে বেশ কিছুদিন তাঁকে কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি, এর অন্যতম কারণ এটাই। বন্ধু ও স্বজনদের অনেকেই এ নিয়ে কানাকানি করেছেন, কিন্তু মুখ বন্ধ রেখেছিলেন সোনম। আজ সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিসহ নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানালেন তিনি। ২০১৮ সালের ৮ মে বিয়ে করেন সোনম কাপুর ও ব্যবসায়ী আনন্দ আহুজা। আজ সকালে সাদাকালো কয়েকটি ছবি পোস্ট করে নিজের বর্তমান অবস্থার জানান দিয়েছেন সোনম। সেখানে দেখা যাচ্ছে, স্বামী আনন্দের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছেন সোনম। দুজনে আগলে রেখেছেন সোনমের গর্ভ। সোনম সে ছবির সঙ্গে লিখেছেন, 'চারটি হাত। তোমার যতটা সম্ভব মঙ্গলের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছি।' ই-টাইমস জানাচ্ছে, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে তাঁদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। এর আগে বেশ কবার গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে সোনম হয়তো এবার পরিবার পরিকল্পনা শুরু করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই সেসব জল্পনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এবার কোনো সুযোগ দেননি সোনম, নিজেই সুসংবাদ জানিয়ে দিয়েছেন। ই-টাইমস জানিয়েছে, সোনমের বাবা অনিল কাপুর, মা সুনীতা ভাই হর্ষ, বোন রেহা ইতিমধ্যে সোনমের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা উদ্যাপন করেছেন। () সোনমকে শেষ দেখা যায় 'দ্য জয়া ফ্যাক্টর' ও 'এক লাড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লাগা' ছবিতে।
2
দক্ষিণ আফ্রিকার বলুমপয়েন্ট শহরে ইয়াছিন আরাফাত (৪৬) নামে এক বাংলাদেশিকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) সকালে ইয়াছিনের অন্য এক সহকর্মী মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর আগে গত ১ জুলাই (সোমবার) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াছিন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজারামপুর গ্রামের হাজী মুজাফফর আলী বাড়ীর ফজলুল হকের ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ইয়াছিন সবার বড় ছিলেন। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানা যায়, ইয়াছিন টিএসএফ একটি কোম্পানিতে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের সঙ্গে একটি পার্টিতে অংশ নেন তিনি। পার্টিতে কোমল পানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেয় সহকর্মীরা। আর সে পানি পান করে ইয়াছিনের মৃত্যু হয়। নিহতের ছোট ভাই নূরুল আমিন বলেন, পরিবারের স্বচ্ছলতার ইয়াছিন ১৪ বছর আগে আফ্রিকায় যান। তার দু'টি মেয়ে রয়েছে। এবার ছুটিতে দেশে আসার কথা ছিলো। ইয়াছিনের মরদেহ দেশে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
6
যৌন হয়রানির অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেনযুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা স্টিভ উইন, যিনি দেশটিতে পরিচিত ক্যাসিনো মোঘল। রোববার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, যৌন হয়রানির অভিযোগের মুখেরিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির অর্থনীতি বিষয়ক চেয়ারম্যানস্টিভ উইন পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত শুক্রবারওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৬ বছর-বয়সী স্টিভ উইন মেসেজ থেরাপিস্টদের যৌন হয়রানি করতেন এবং একজনকে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে স্থাপনে বাধ্য করেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তারা ডজন-খানেক লোকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে যারা স্টিভ উইনের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের বক্তব্যে উইনের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ এসেছে। প্রায়ই উইন তার ব্যক্তিগত অফিসে মেসেজ থেরাপিস্টদের হয়রানি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মেনিকিউর করার কাজ করতেন এমন একজন নারী যিনি স্টিভ উইনের বিরুদ্ধে জোর করে যৌন সম্পর্কে স্থাপনে বাধ্য করার অভিযোগ তুলেছেন, তাকে সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন এই ক্যাসিনো মোঘল। আদালতে দাখিল করা দলিলে এমন তথ্যই উঠে এসেছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়। উইন অবশ্য কোনো ধরনের অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে এ গুলোকে 'হাস্যকর' বলে মন্তব্য করেছেন। উইন রিপাবলিকান দলের একজন অর্থ-দাতা এবং তহবিল সংগ্রাহক। এই বিষয়টিতে রিপাবলিকানদের নীরবতার কারণে তারা ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির তোপের মুখে পড়েছে। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির প্রধান রন্না ম্যাকড্যানিয়েল জানিয়েছেন স্টিভ উইনের পদত্যাগপত্র তিনি গ্রহণ করেছেন। এদিকে উইন তার ভাষায় এসব 'অপবাদ' তৈরির জন্য তার প্রাক্তন স্ত্রীকে দোষারোপ করেছেন যার সঙ্গে তার আইনি লড়াই চলছে।
3
শ্রীনগরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে করে উপজেলার বাঘড়া, ভাগ্যকুল ও রাঢ়ীখাল এলাকায় প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বাঘড়া ইউনিয়নের প্রায় রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির উঠোনে এখন হাঁটু ও কোমর পানি। অপরদিকে ভাগ্যকুল ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষা ভাগ্যকুল বাজারসহ আশপাশের রাস্তা ও বাড়িঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়াও রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের কবুতর খোলাসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি এলাকাগুলোতে হঠাৎ বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে। বন্যায় ঘরবন্দি মানুষগুলো এখন প্রায় দিশেহারা। লক্ষ্য করা গেছে, গত বুধবার থেকে বাঘড়া ও ভাগ্যকুল এলাকার পানিবন্দি পরিবার গুলোতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের বন্যার পানি দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নটি এখন প্রায় কোমর পানির নিচে। ইউনিয়নের ১নং ও ৪নং ওয়ার্ডে তালুকদার বাড়ি নামক খালের ওপর ২০/২৫ বাঁধ দিয়ে চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করায় খালের পানি এখন লোকালয়ে ঢুকে পরে বলে অভিযোগ উঠে। মধ্য বাঘড়া, তালুকদার বাড়ি, কাদির কান্দা, মাঘঢাল, কাঁঠাল বাড়ি, বইচার পাড়া, উত্তর কামারগাঁও, নয়াবাড়িসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও এখানকার কাঁচা/পাকা রাস্তাগুলোতে বন্যার হাঁটু/কোমর পানি দেখতে পাওয়া গেছে। যদিও বন্যা মোকাবেলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের নির্দেশে গত শনিবার তালুকদার বাড়ির খালের বেশ কয়েকটি বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। পদ্মায় পানির বৃদ্ধি থাকায় এখনও বাঘড়ায় বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বাঘড়ায় পানি বৃদ্ধি হওয়ায় বাড়িতে বাড়িতে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন নারী পুরুষসহ শিশুরাও। বন্যায় বাঘড়াবাসীর দুর্ভোগ চরমে। এ সময় ওই এলাকার মাছ চাষী স্বপন বলেন, তার বেশ কয়েকটি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ব্যাপক লোকসানের মুখে পরেছেন তিনি। অপর দিকে ভাগ্যকুল বাজার ও এর আশপাশের বেশ কিছু স্থানে বন্যার পানি দেখতে পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীর তীরবর্তী ঐতিহ্যেবাহি ভাগ্যকুল বাজারের এখন হাঁটু পানি। এছাড়াও বাজার এলাকার বেশ কিছু বসতবাড়ি ও কয়েকটি পাকা রাস্তায় বন্যার পানি দেখা গেছে। ওই এলাকার কয়েক হাজার বসবাসকারি মানুষের এখন স্বাভাবিক চলা ফেরায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে রাঢ়ীখাল এলাকার কবুতর খোলাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় এখানকার বসবাসকারী মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছে। স্থানীয় পানিবন্দিরা জানান, করোনা ও বন্যার সার্বিক পরিস্থিতিতে তারা এখন দিশেহারা! বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা একেবারেই কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। ভাগ্যকুলের স্থানীয় ইউপি সদস্য পারভেছ কবির বলেন, ভাগ্যকুল বাজারটি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বাজার। এখানে রয়েছে বিভিন্ন নামিদামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনেক মানুষের বসবাস। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ও বন্যার পানি মোকাবেলায় এখানে একটি বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার পানি মোকাবেলায় একটি বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
6
কলকাতায় নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন নুসরাত ফারিয়া। সিনেমার নাম 'রকস্টার'। ১৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় শুটিং শুরু হয়েছে। সিনেমার চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক অংশুমান প্রত্যুষ। 'বাজি', 'এসওএস কলকাতা', 'প্যানথার'- এর মতো বড় বাজেটের একাধিক সিনেমা পরিচালনা করেছেন তিনি। তাঁর পরিচালনায় এবারই প্রথম কাজ করছেন ফারিয়া। এর আগে অংশুমানের চিত্রনাট্যে যৌথ প্রযোজনার 'বস', 'বস ২', 'ইন্সপেক্টর নটি কে', 'ধ্যাততেরিকি', 'শাহেনশাহ'সহ বেশ কিছু সিনেমায় কাজ করেছেন ফারিয়া। তিনি বলেন, 'অংশুমানের সঙ্গে আগে থেকেই আমার পরিচয়। তাঁর সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা ও বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আশা করছি, তাঁর পরিচালনায় এই কাজটাও ভালো হবে।'কলকাতার জিৎ, অঙ্কুশ, রুদ্রনীলদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ফারিয়া। 'রকস্টার' সিনেমায় প্রথমবারের মতো অভিনয় করছেন যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে। সিনেমার রকস্টার যশ এরই মধ্যে গিটার বাজানো প্র্যাকটিস করছেন। রাখছেন লম্ব চুল। ফারিয়া বলেন, 'যশ কলকাতার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ। কলকাতার কলাকুশলীদের সঙ্গে এর আগে কাজ করলেও যশের সঙ্গে পরিচয় ছিল না। লুকটেস্টের দিন আমাদের প্রথম দেখা ও পরিচয়। অল্প আড্ডায় মনে হয়েছে আমাদের এই সিনেমার জার্নিটা ভালো হবে।'সিনেমাটির প্রযোজনায় যুক্ত আছে বাংলাদেশের শাপলা ফিল্ম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি দেশে সিনেমাটি পরিবেশনাও করবে। অনেক দিন ধরেই কাজটি নিয়ে ফারিয়ার সঙ্গে কথাবার্তা চলছিল। গত সপ্তাহে কলকাতায় সিনেমাটি চূড়ান্ত হয়। এরপর চুক্তি ও নায়কের সঙ্গে লুকসেট শেষে শুরু করেছেন শুটিং।ছবির গল্প সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে চাইলেন না ফারিয়া। বললেন, 'এখনই গল্প নিয়ে কিছু বলা বারণ। তবে এতটুকু জানিয়ে রাখি, এটি একটি লাভ স্টোরি। একজন রকস্টারের গল্প। গল্পে অনেকগুলো স্তর আছে।'কলকাতায় 'ভয়' নামে ফারিয়ার আরও একটি সিনেমার শুটিং চলছে। রাজা চন্দ পরিচালিত এই সিনেমার শুটিং এখনো কিছুটা বাকি। ফারিয়ার অভিষেক হয়েছিল ২০১৫ সালে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা 'আশিকী' দিয়ে। যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন কলকাতার নায়ক অঙ্কুশ হাজরা।
6
অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য সোমবার রাতে তিন ফরম্যাটের দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় নির্বাচকরা। তবে দলে রাখা হয়নি রোহিত শর্মাকে। সীমিত ওভারের ম্যাচ থেকে ঋষভ পন্ত বাদ পড়লেও টেস্ট স্কোয়াডে আছেন তিনি। তবে রোহিত নেই পুরো সিরিজে। ওজন বেড়ে যাওয়ায় প্রথমে নির্বাচকরা ঋষভকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দলে নিতে আগ্রহ দেখাননি। টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। রাখা হয়েছে কেবল সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। পিঠের চোট থেকে সেরে ওঠার পর হার্দিক কেবল ব্যাটিং করছিলেন। বোলিং করতে দেখা যায়নি তাঁকে। সেই হিসেবে অনেক নির্বাচকই হার্দিককে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে রাখতে চাননি। তবে ব্যাট হাতে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে ভালো খেলার সুবাদে হার্দিক ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নিয়েছেন। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে জায়গা পানননি রোহিত শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার ও ইশান্ত শর্মা। বোলিংয়ে তিন ফরম্যাটেই খেলবেন জসপ্রীত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি ও নভদীপ সাইনি। এই দলে বড় চমক বরুণ চক্রবর্তী। কলকাতার হয়ে বল হাতে দারুণ ফর্মে থাকার কারণেই টি-টোয়েন্টি দলে নেওয়া হয়েছে তাঁকে। অজিঙ্কা রাহানে খেলবেন কেবল টেস্টে। অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারত চারটি টেস্ট, তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলবে। টি-টোয়েন্টি দল : বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, কেএল রাহুল, শ্রেয়াস আইয়ার, মণীষ পান্ডে, হার্দিক পান্ডিয়া, সঞ্জু স্যামসন, রবীন্দ্র জাদেজা, ওয়াশিংটন সুন্দর, যুজবেন্দ্র চাহাল, জসপ্রীত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, নভদীপ সাইনি, দীপক চাহার ও বরুণ চক্রবর্তী। ওয়ানডে দল : বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান, শুভমান গিল, কে এল রাহুল, শ্রেয়াস আইয়ার, মণীষ পান্ডে, হার্দিক পান্ডিয়া, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, রবীন্দ্র জাদেজা, যুজবেন্দ্র চাহাল, কুলদীপ যাদব, জসপ্রীত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, শার্দুল ঠাকুর ও নভদীপ সাইনি। টেস্ট দল : বিরাট কোহলি, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, পৃথ্বী শ, কে এল রাহুল, চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্কা রাহানে, হনুমা বিহারি, শুভমান গিল, ঋদ্ধিমান সাহা, ঋষভ পন্ত, জসপ্রীত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, উমেশ যাদব, নভদীপ সাইনি, কুলদীপ যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, আর অশ্বিন ও মোহাম্মদ সিরাজ।
12
ভিন্ন কৌশলে বর্তমান সরকার আরেকটি প্রতারণামূলক নির্বাচন করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেছেন, 'আন্দোলন ছাড়া কোন পথ নেই। দু: শাসনের কবল থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। কারণ বর্তমান সরকার ভিন্ন কৌশলে আরেকটি প্রতারণামূলক নির্বাচন করার চেষ্টা করছে। তা আর হতে দেওয়া হবে না।' ডু অর ডাই' আন্দোলনের প্রস্তুত নিন।'গতকাল রোববার রাতে নগরীর আল বারাকা কনভেনশন সেন্টারে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আয়োজনে সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, 'নেতা-কর্মীদের নামে শত শত মামলা। নিজের জীবন বাঁচাতে, বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে রাজপথে কঠোর আন্দোলন ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই।'সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন, 'সরকারের পায়ের তলায় মাটি সরে গেছে। মাথার ওপর ছায়া নেই। তাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কৌশল পরিবর্তন করে আন্দোলনে যেতে হবে। এ জন্য গ্রামে গঞ্জে জনগণের কাছে যেতে হবে।'সরকার পতন আন্দোলনের ডাক আসবে উল্লেখ করে বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, 'ঘরে বসে কমিটি করলে হবে না। প্রতিবন্ধকতা আসবে। প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করেই কাজ করতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের সকল কমিটির পুনর্গঠন শেষ হবে এবং ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশের কমিটি গঠন কাজ শেষ করে সরকার পতন আন্দোলনের ডাক আসবে। প্রস্তুতি নিন, জীবন দিয়ে হলেও আন্দোলন সফল করে হবে। তবেই সাবেক প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের স্বপ্ন পূরণ হবে।'এ সময় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, আকতারুজ্জামান বাচ্চু, মোফাখার হোসেন রানা, আকতারুল আলম ফারুক, অ্যাডভোকেট ফাত্তাহ খান, মাহাবুব আলম, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নূরুল হক প্রমুখ।স্মরণ সভা শেষে একেএম মোশাররফ হোসেনের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।
9
স্বাগত ২০২২! ২০২০ সালের করোনা মহামারির ধাক্কা ভুলে ২০২১ সাল ক্রীড়া দুনিয়ার জন্য ছিল উৎসবের। ফুটবল, ক্রিকেট, অলিম্পিক ও টেনিস-সব ক্ষেত্রেই ছিল জমকালো সব আয়োজন। খেলাধুলার উৎসবের সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে নতুন বছরেও।ফুটবল বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপসহ একাধিক মহাযজ্ঞ অপেক্ষা করছে এই বছরে। তবে এই আয়োজনগুলোর জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে করোনা মহামারি। নতুন রূপ নিয়ে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী আরেকবার আঘাত করেছে। ইউরোপজুড়ে বাড়তে থাকা করোনার প্রকোপ ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করেছে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলকেও। তবে দ্রুত এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে ক্রীড়া দুনিয়ার জন্য উৎসবের এক বছরই অপেক্ষা করছে।কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ২০২২ সালের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজনটি বসবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে। ফুটবলে বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মাঠে নামবে ৩২ দল। এবারই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। আবহাওয়ার কারণে এবার বদলেছে বিশ্বকাপের সময়ও। ২১ নভেম্বর শুরু হবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। বিভিন্ন দিক থেকে এবারের বিশ্বকাপ গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম দুই সেরা তারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য এটিই হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। তবে রোনালদোর জন্য বিষয়টা আরেকটু জটিল। বিশ্বকাপ খেলতে হলে রোনালদোকে পেরোতে হবে বাছাইপর্বের কঠিন এক বাধা। তবে রোনালদো বিশ্বকাপ খেললে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকতে হবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে।ক্যাঙারুর দেশে টি-২০ বিশ্বকাপ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেই খেতাব এক বছরের বেশি ধরে রাখার সুযোগ পাচ্ছে না অজিরা। এ বছর তাদের দেশেই আয়োজিত হবে টি-টোয়েন্টির আরেকটি শ্রেষ্ঠত্বের আসর। নিজ দেশে আয়োজিত সেই বিশ্বকাপ জিতে শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ অবশ্য আছে ফিঞ্চ-ওয়ার্নারদের। এ বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ক্রিকেটের এই উৎসব।টেনিসসেরার খোঁজেপুরুষদের টেনিসে গত বছর এককভাবে রাজত্ব ছিল নোভাক জোকোভিচের। বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লামটি হাতছাড়া না হলে অনন্য সব মাইলফলক নিজের দখলে নিতে পারতেন এই সার্বিয়ান মহাতারকা। ২০২০ সালে চার গ্র্যান্ড স্লামের ৩টি জিতে শীর্ষ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ে রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালকে ছুঁয়েছেন জোকোভিচ। এখন এই বছরে তিন তারকার চ্যালেঞ্জ থাকবে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।সেরেনার হবে তো?গ্র্যান্ড স্লাম এলেই সবার চোখ থাকে সেরেনা উইলিয়ামসের দিকে। সবার একটাই প্রশ্ন, এবার হবে তো? কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে মার্গারেট কোর্টকে ছোঁয়ার অপেক্ষা কেবলই বাড়ছে সেরেনার। ২৪তম গ্র্যান্ড স্লামটি এরপর আর জেতা হয়নি এই মার্কিন টেনিস তারকার। কে জানে, ২০২২ সালে হয়তো শেষবারের মতো সুযোগ পাবেন শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করে সবার ওপরে ওঠার। বয়স ৪০-এর কোটা পেরিয়ে গেছে, কাজটা তাই সেরেনার জন্য একেবারে সহজ হবে না।আফ্রিকান নেশনস কাপজানুয়ারির ৯ তারিখ থেকে শুরু হবে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ফুটবল আসর আফ্রিকান নেশনস কাপ। ক্যামেরুনে বসতে যাওয়া এই আয়োজনে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে মোহামেদ সালাহ-সাদিও মানেদের।যুব ক্রিকেট বিশ্বকাপ২০২০ সালে যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেটি ধরে রাখার লড়াইয়ে এই জানুয়ারিতেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের শিরোপা হাতছাড়া হলেও বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে উন্মুখ হয়ে থাকবে যুব ক্রিকেটারেরা।নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপআগামী মার্চে শুরু হবে নারীদের ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। কদিন আগে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।শীতকালীন অলিম্পিকফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ থেকে শুরু হবে শীতকালীন অলিম্পিক। এবারের আয়োজনটি বসবে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে।কমনওয়েলথ গেমস২৮ জুলাই থেকে শুরু হবে কমনওয়েলথ গেমসের আসর। এবারের কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক ইংল্যান্ড। আয়োজনটি বসবে বার্মিংহাম শহরে। গেমসে আছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণও।
6
ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ফেনী-২ আসন থেকে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন হাজারী আর নেই। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৫টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ল্যাবএইড হাসপাতালের গণসংযোগ কর্মকর্তা চৌধুরী মেহের এ খোদা জানান, ৭৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ কিডনি হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। জয়নাল হাজারী ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ফেনী-২ (সদর) আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে টানা তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০১ সালের ১৭ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান জয়নাল হাজারী। সংসদ সদস্য হিসেবে তার শেষ মেয়াদে নানা বিতর্কে জড়ান তিনি। এ কারণে ২০০৪ সালে তিনি দল থেকেও বহিষ্কৃত হন। এরপর দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন জয়নাল হাজারী। ফেনী থেকে হাজারিকা নামে প্রকাশিত একটি দৈনিকের সম্পাদকও তিনি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ফিরেন জয়নাল হাজারী। পাঁচটি মামলায় ৬০ বছরের সাজা হয় তার। এরপর ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করলে আট সপ্তাহের জামিন পান হাজারী। পরে ১৫ এপ্রিল নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। চার মাস কারাভোগের পরে ২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হন তিনি।
6
রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ৫২ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ৩৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক। বিবৃতিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অসংখ্য শ্রমিক এবং এখনও অগণিত নিখোঁজ রয়েছেন বলে গণমাধ্যম সূত্র থেকে জানা গেছে। আমরা এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার এবং শাস্তি দাবি করছি। পাশাপাশি সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান 'অগ্নিকাণ্ডের দায় কি আমার' শীর্ষক যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা তার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাচ্ছি। একই সাথে আমরা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
করোনা ভাইরাসের বিপর্যয়ে দেশের নির্মাণাধীন একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না। এসব প্রকল্পের মালামাল সংগ্রহ, কারিগরি সহযোগিতায় চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নিতে হচ্ছে। বিদেশি প্রকৌশলীরাও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনার বিপর্যয়ের কারণে নির্মাণে শতভাগ সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ থেমে নেই। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এই মুহূর্তে জ্বালানি বিভাগের কোনো প্রকল্পে বিদেশিরা আসতে পারবে না। তারপরও জরুরি প্রয়োজনে যদি কেউ আসে তাহলে তাকে অবশ্যই কাজে যোগদানের আগে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে অনেক বিদেশি কর্মী কাজ করছে। এদের মধ্যে চীনা কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পায়রা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ধীর গতিতে কাজ চলছে। আরো কিছু প্রকল্পেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক চীনা কর্মী কাজ করছেন। এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটটি ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে চীন থেকে সব কর্মী না আসায় এখনো এই ইউনিটটি 'আনুষ্ঠানিকভাবে' চালু করা সম্ভব হয়নি। চীনা কর্মীরা না আসায় একইভাবে গতি হারাচ্ছে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে কাজের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজের এ অবস্থার কারণে অনেক কোম্পানি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কাছে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে তারা তাদের প্রকল্পের বিদেশি কর্মীদের বাংলাদেশে আসতে অনুমতি দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু জালানি বিভাগ করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার বিষয়টি চিন্তা করে অবাধে বিদেশি কর্মীদের আসার অনুমতি দিচ্ছে না। তবে প্রকল্পের জরুরি প্রয়োজনে কোনো বিদেশি কর্মী বাংলাদেশে আসলে তাকে অনুমতি দেয়া হবে। আর অবশ্যই তাকে এখানে আসার পর কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বেশ কিছু বিদ্যুৎ প্রকল্পে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যেই দুটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রমে চরমভাবে ব্যাঘাত ঘটেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন 'টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্স প্রজেক্ট ফর ইনস্টিটিউশনাল স্ট্রেংদেনিং অব রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন প্রোগ্রাম' এবং 'মিরসরাই ১৫০ মেগাওয়াট ডুয়েল বিদ্যুৎকেন্দ্র' নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজে চীনের সহযোগিতা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে অর্থাৎ আগামী জুন মাসের মধ্যে এই দুই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য অনেক মালামাল চীন থেকে আসার কথা। কিন্তু এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেসব মালামাল আনা সম্ভব হচ্ছে না। আবার প্রকল্পের কারিগরি সহযোগিতার দায়িত্বে থাকা চীনের প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতির কারণে তাদের সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে চলতি অর্থবছরের মধ্যে এই দুই প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উপপ্রধান (পরিকল্পনা) ড. শাহ মো. হেলাল উদ্দীন জানান, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৯৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এসব প্রকল্পের মধ্যে ১৬টি প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে ২টি প্রকল্পের কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে সে পরিকল্পনা পরে ঠিক করা হবে।
6
ভারতের কেরালা রাজ্য এখন বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। যতদূর চোখ যায় শুধু পানি। এ বন্যায় ইতোমধ্যে মারা গেছেন অর্ধশতাধিক মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু সম্পদের। এমন অবস্থায় রাজ্যটির থালাবাদী গ্রামে মহা ধুমধামে বিয়ে হয়েছে এক জুটির। আকাশ ও ঐশ্বরিয়া নামে ওই নবদম্পতির তাদের বিশেষ দিনটিকে কোনোভাবেই মাটি করতে চাননি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির জানায়, মহা ধুমধামে সোমবার (১৮ অক্টোবর) বিয়ে করেন তারা। বিয়ের সাজসজ্জায় কোনো ত্রুটি না রেখে, দামি শাড়ি আর দামি গয়না পরে, বিশাল এক অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রের ওপর চেপে বসে ভাসতে ভাসতে তারা হাজির হন বিয়ের মন্ডপে। বিশাল আকৃতির এ রান্নার পাত্রটি তারা ধার নিয়েছিলেন কেরালার একটি স্থানীয় মন্দির থেকে। আর সেই বিশাল পাত্রটি ঠেলে নেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিল দুইজন। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল থালবাদির গ্রামের একটি ছোট মন্দিরে। সেই মন্দিরটিও বন্যায় আংশিকভাবে প্লাবিত ছিল। নবদম্পতি জানান, তারা প্রাথমিকভাবে সীমিত আকারে শুধু পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ছোট্ট অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু বিয়ের ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। বিশেষ দিনটির আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে তারাও খুবই আনন্দিত। জানা যায়, নবদম্পতি আকাশ-ঐশ্বরিয়া দুজনই পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী।
5
পুরোনো পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে মুহাম্মদ আবদুল হান্নানের প্রতি আমার বিশেষ টান ছিল। কাজের ফাঁকে সময়-সুযোগ পেলেই তাঁর কাছে ছুটে যেতাম গল্প শুনতে। একনিষ্ঠ শ্রোতা পেয়ে তিনিও বৈঠকি ঢঙে গল্প চালিয়ে যেতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তাঁর গল্পগুলো সাধারণ কোনো গল্প ছিল না, ছিল হিরের কুচির মতো, যার পরতে পরতে ছড়ানো থাকত খবরের উপাদান। সংবাদকর্মী হিসেবে সেই গল্প আমাকে আঠার মতো বেঁধে রাখত।আবদুল হান্নান পান খেতেন কড়া জর্দা দিয়ে। গালে পান না থাকলে তাঁর আলাপই জমত না। আমি সামনে গেলে 'বও মিয়া' বলেই একটা পান এমনভাবে মুখে গুঁজে দিতেন, যেন এর চেয়ে সুখ আর কোনো কিছুতে নেই। তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললে মনে হতো, হুমায়ূন আহমেদের নাটকের চরিত্র সামনে বসা।প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসা বিএনপি আমলের শেষের দিকে (১৯৯৬) তিনি ছিলেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার। এরপর আসেন এসবিতে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তাঁর পোস্টিং হয় ডিবিতে, ডিসি ডিবি হিসেবে। ডিবিতে তখন একজনই ডিসি ছিলেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রথম যে ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়, তিনি ছিলেন সেই তালিকায়। যেদিন অবসরে গেলেন, সেদিনও মুখে একটা পান পুরে হাসতে হাসতে অফিস ছাড়লেন।নিশ্চিন্তে দেশ ছাড়লেন টোকাই সাগরএকদিন তিনি আমাকে একটি অস্ত্রের চালানের গল্প বললেন। তাঁর কাছে তখন কোনো কাগজপত্র ছিল না, স্মৃতিতে যতটুকু ছিল। সেই গল্প শোনার পর লেগে পড়লাম ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতে। দিন দশেকের মধ্যে সব তথ্য মোটাতাজা হয়ে গেল। ফিরে এসে তাঁকে যখন সবকিছু খুলে বললাম, শুনে খুব খুশি হলেন। কিন্তু কী কারণে যেন পত্রিকায় সেই রিপোর্টটা ছাপা হলো না। বছর পাঁচেক পর (১৮ মে ২০০৫, প্রথম আলো) সেই রিপোর্ট ছাপা হলো নতুন কর্মস্থলে। আজ 'আষাঢ়ে নয়'-এ সেই ঘটনা বলি।১৯৯৬ সালের ২৪ মার্চ। কক্সবাজারে পরিবেশ হঠাৎ গুমোট। বড় একটি অস্ত্রের চালান আসছে এমন একটি আলোচনা চলছে ভেতরে-ভেতরে, কিন্তু পরিষ্কার করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। পুলিশ ও গোয়েন্দারা নানা দিক থেকে ভাসা ভাসা তথ্য পাচ্ছেন, কিন্তু কিনারা করতে পারছেন না। হঠাৎ স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান ফোন করলেন পুলিশ সুপারের অফিসের নম্বরে। বললেন, চোফলদণ্ডি ইউনিয়নের জেটিঘাটে গভীর রাতে একটি অস্ত্রভর্তি জাহাজ ভিড়ছে। ট্রলার থেকে সেই অস্ত্র ট্রাকে তোলা হবে। এ খবর পেয়েই পুলিশ সুপার যোগাযোগ করেন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে। শুরু করেন অভিযানের প্রস্তুতি।আবদুল হান্নান আমাকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থল ছিল কক্সবাজার শহর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তরে, মহেশখালীর পূর্ব পাশে। রাত দেড়টার দিকে ঘাটে ভেড়ে অস্ত্রভর্তি দুটি ট্রলার। এর একটু পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একটি ট্রাক আগে থেকেই সেখানে রাখা ছিল। ট্রলার দুটি ঘাটে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল অস্ত্রধারী চারদিকে দাঁড়িয়ে অস্ত্র খালাস শুরু করে। হঠাৎ চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলা হয়। উপায় না দেখে আত্মসমর্পণ করেন ১৩ যুবক, এঁরা কেউ বাংলা জানেন না। জিজ্ঞাসাবাদে বললেন, তাঁরা সবাই নাগাল্যান্ডের বাসিন্দা।যাঁর জন্য প্রাণ যায় সালমান শাহরআবদুল হান্নানের সূত্র ধরে কক্সবাজারে গিয়ে সেই ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীকে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম। তাঁরা আমাকে বলেছিলেন, অস্ত্র পরিবহনের জন্য আনা আটক ট্রাক দুটির মালিক ছিলেন বাবুল ও কবির কোম্পানি নামের দুই ভাই। তখনকার স্থানীয় বড়শি বোট মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের এবং জিপ-মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মো. কামাল বান্দরবানে চালের বস্তা নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ট্রাক দুটি ঈদগাহ এলাকা থেকে ভাড়া করেছিলেন। সে সময় কাদের ও কামালের মধ্যস্থতায় জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের জন্য ভাড়া করা হয় মাছ ধরার ট্রলার। আর সামনে থেকে অস্ত্রের চালান খালাসের কাজ তদারক করছিলেন ভারতের নাগাল্যান্ডের বিদ্রোহী নেতা সম্বুয়েং। অস্ত্রের চালান ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্বুয়েং পালিয়ে যান। সে সময় অনেকে আমাকে বলেছিলেন, অস্ত্রের চালান আটকের ৮-৯ মাস আগে থেকে তিনি কক্সবাজারের রাখাইনপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে বিয়েও করেন। পরে ২০০৩ সালে নাগাল্যান্ড পুলিশের গুলিতে সম্বুয়েং মারা যান বলে শুনেছিলাম।এই অভিযানে থাকা অনেকে আমাকে বলেছিলেন, আটক হওয়া যুবকেরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছিলেন, তাঁরা সবাই নাগাল্যান্ডের উগ্রপন্থী গ্রুপের সদস্য। পুরো টিমের নেতৃত্বে ছিলেন গ্রুপের ব্রিগেডিয়ার পদবিধারী জেমস। নাগাল্যান্ডের উখায় তাঁর বাড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও ১২ জন, যাঁরা নাগা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানতেন না।তখন আটক উগ্রপন্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছিল যে তাঁরা এই অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন কম্বোডিয়ার খেমাররুজ বিদ্রোহী গ্রুপের কাছ থেকে। এরপর অস্ত্রভর্তি জাহাজটি গভীর সমুদ্রবন্দরে নোঙর করা হয়। এটি তখন পর্যন্ত ছিল দেশের ইতিহাসে প্রথম বড় অস্ত্রের চালান। অস্ত্রভর্তি জাহাজটি থাইল্যান্ডের একটি বন্দর থেকে এসেছিল।উদ্ধার করা অস্ত্র প্রথমে নিয়ে আসা হয় কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইনসে। সেই চালানে ছিল এসএমজি ৩১২টি, রাইফেল ১১২টি, এলএমজি ৪৮টি, পিস্তল ১৬৮টি, ম্যাগাজিন ৩ হাজার ৫১৫টি, আরআর চায়নিজ ২০টি, মর্টার-৯টি, মর্টার সাইট ৯টি, এলএমজি ড্রাম ম্যাগাজিন ২৪০টি, এসএমজি ম্যাগাজিন ১৭৯টি, এএমজি ৩ হাজার ৯৩৪টি, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ২ বস্তা, এলএমজি-এসএমজি অ্যাম্যুনেশন ৭৬ বস্তা, এসএমজি ম্যাগাজিন ১১ বস্তা, আরআর গোলা ৬৯ বস্তা, হ্যান্ডগ্রেনেড ১৩ বস্তা এবং ৮ বস্তা বিস্ফোরক।অস্ত্র উদ্ধারের পর চট্টগ্রামের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দেখে উপস্থিত সবার সামনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি তখন উপস্থিত পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, এসব অস্ত্র দিয়ে সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড সাজানো সম্ভব। ওই চালান আটকের সময় উপস্থিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে বলেছিলেন, অস্ত্র খালাসের সময় ১৩ জন উগ্রপন্থীকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের হাতে তখন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াকিটকি ছিল।রহস্যঘেরা, চমকে মোড়া ধনকুবেরঅনুসন্ধানের সময় কক্সবাজার আদালতের সাবেক এপিপি নূরুল ইসলাম আমাকে বলেন, ১৩ জন নাগা বিদ্রোহীকে তখন ৫৪ ধারায় কক্সবাজার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।মেজর জেনারেল (অব.) এম আজিজুর রহমান ২০০৫ সালে আমাকে বলেছিলেন, চোফলদণ্ডির আগে আরও একটি চালান ধরা পড়েছিল। তবে সেটা তত বড় নয়।অস্ত্রের চালান আটকের পর ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কক্সবাজার শহরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিএনপি সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর এ নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি করেননি। এরপর ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান ধরা পড়ে।১০ ট্রাক অস্ত্রের চালানের তদন্তে বেরিয়ে আসে, সেই চালানের অর্থ জুগিয়েছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। আর তাদের হয়ে চালানের টাকা অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিকে পরিশোধ করেছিলেন দুবাইয়ের এআরওয়াই টিভির মালিক আবদুর রাজ্জাক ইউসুফ। আমার ধারণা, এই চালানের সঙ্গেও তারা থাকতে পারে।আবদুল হান্নানের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়েছিল বছরখানেক আগে। কথায় কথায় তাঁকে বলেছিলাম, আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু জেনেছি, শিখেছিও। তিনি হাসতে হাসতে বললেন, শুধু পান খাওয়াটা শিখলেন না।আরও পড়ুন:ক্ষমা করবেন জ্যোতিকাবালাফাঁসির সেল থেকে ফিরে আসাভেস্তে যাওয়া এক 'আষাঢ়ে গল্প'পিচ্চি হান্নানকে দিয়েই 'হাতেখড়ি' র্যাবেরবোকা বানানোর কারিগরনবজাতকের সূত্রে মিলল বাংলা ভাইয়ের খোঁজআমি তো শীর্ষ সন্ত্রাসীর মা...কই শহীদ হলেন না যেকর্নেলের সঙ্গে শেষ ফোনালাপমুরগি মিলনের সম্পদ অন্যের হাতেসোনার খোঁজে আদার ব্যাপারীতিনি অধরাই থেকে গেলেননিশ্চিন্তে দেশ ছাড়লেন টোকাই সাগরআতঙ্কের নাম মেজর জিয়া৪০০ কিমি হাঁটার সেই দুঃসহ গল্পরঙিন জীবন অন্ধকারেই শেষ১০১টা খুন করতে চেয়েছিলেন তিনি
6
দিনাজপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর ওপর অভিমান করে সুরাইয়া বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। আজ রোববার (৫ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার মহতুল্লাপুর দিঘিপাড়ার শ্বশুর বাড়িতে নিজ ঘরের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। চার সন্তানের জননী নিহত সুরাইয়া ওই এলাকার আমিনুর রহমানের স্ত্রী। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম বলেন, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠান হয়েছে। পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সুরাইয়ার সঙ্গে তার স্বামী আমিনুরের পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। সকাল থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। এসময় স্বামীর ওপর অভিমান করে নিজ শয়ন কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ সুরাইয়া। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
6
শাহরুখ-পুত্রের প্রেমে মজেছেন নেটিজেনরা। শাহরুখের সঙ্গে তার ছেলে আরিয়ানেরমিল দেখে একই সঙ্গে অবাক এবং মুগ্ধ নেটিজেনদের একাংশ। আরিয়ানের তাকানো, শারীরিকঅভিব্যক্তি, সব কিছুতেই শাহরুখের ছাপ দেখতে পাচ্ছেন তারা। বৃহস্পতিবারআইপিএল নিলামে আরিয়ান খানেরকফি খাওয়ার একটি ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শাহরুখ অনুরাগীদের দাবি, হুবহু বাবার মতো করেই কফি খাচ্ছিলেন আরিয়ান। দুজনের ছবির কোলাজ করে চিহ্নিত করা হলো একইভাবে কাপ ধরার ভঙ্গি, একদৃষ্টে গম্ভীরভাবে তাকিয়ে থাকার ধরন। বাবা-ছেলের এতমিল দেখে একজন লিখেছেন, 'শাহরুখের রেপ্লিকা হলেন আরিয়ান খান', অন্যজন আবার লেখেন, 'আরিয়ান খান তার বাবার কার্বন কপি'। সব মিলিয়ে শাহরুখ-পুত্রের প্রেমে বিভোর নেটিজেনদের একাংশ। সচরাচর জনসমক্ষে আসেন না আরিয়ান। কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ কাল নিলামের সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাই বাবার পরিবর্তে আরিয়ান উপস্থিত ছিলেন সেখানে। সূত্র : আনন্দবাজার বিডি প্রতিদিন/এমআই
2
ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান ইমানুয়েল মাখোঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মারি লো পেনের বিরুদ্ধে তহবিল তছরুপের একটি অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রোববার ফরাসি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, মারি লো পেনের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অ্যান্টি-ফ্রড এজেন্সি (ওএলএএফ) আনীত একটি অভিযোগের তদন্ত করছেন। অ্যান্টি-ফ্রড অর্গানাইজেশন আনীত অভিযোগে বলা হয়েছে, মারি লো পেন ও তাঁর দলের সদস্যরা ইইউ তহবিলের কয়েক লাখ ডলার অপব্যবহার করেছেন।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলি অফিস নিশ্চিত করেছে যে-তাঁরা গত ১১ মার্চ ইইউ এর জালিয়াতি বিরোধী সংস্থা ওএলএএফ থেকে প্রাপ্ত একটি অভিযোগপত্র তদন্ত করে দেখছেন। ওএলএএফের অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, লো পেন তাঁর দলের সদস্যদের সঙ্গে মিলে জনসাধারণের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৪০ হাজার ইউরো অপব্যবহার করেছেন এবং মোট ৬ লাখ ১৭ হাজার ইউরো অন্যত্র স্থানান্তর করেছেন। তবে, ওই অভিযোগপত্রে কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনা হয়নি। তবে কর্মীদের জন্য এবং দলীয় ইভেন্টে ব্যয়ের জন্য ইইউ তহবিল ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।তবে, লো পেনের দল ন্যাশনাল র্যালি পার্টির সভাপতি জর্ডান বারডেলা ইউরোপ ওয়ান রেডিওকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, 'প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় হস্তক্ষেপ করার ও লো পেনের ক্ষতি করার যে প্রচেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় এজেন্সির (ওএলএএফ) অভিযোগের মাধ্যমে করা হচ্ছে তার মাধ্যমে ফরাসিদের বোকা বানানো সম্ভব হবে না।'বারডেলা এ সময় বলেন, তাঁর দল এরই মধ্যে ওএলএএফ-এর বিরুদ্ধে দুটি আইনি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং লো পেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় প্রয়োজনে তৃতীয় অভিযোগটিও দায়ের করবে।এদিকে, লো পেনের আইনজীবী রুডলফ বসেলুট জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।উল্লেখ্য, পার্লামেন্টারি অ্যাসিস্ট্যান্টদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে ২০১৭ সাল থেকেই লো পেন তদন্তের অধীনে রয়েছেন। তবে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপে লো পেন ইমানুয়েল মাখোঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
3
'বিএনপি বেগম জিয়ার লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে চায়' বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩টি ইউনিট কমিটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, 'বেগম জিয়ার শারীরিক সুস্থতার জন্য বিএনপির মাথাব্যথা নেই। তাঁর সন্তানেরও মায়া নেই। তারেক রহমান তার অসুস্থ মাকে দেখতে আসবে না। কারণ, তার কাছে মায়ের মমতার চেয়ে ক্ষমতার লোভটাই বেশি।'হানিফ বলেন, 'বিএনপি চায়, খালেদা মারা যাক। দেশের ভেতর একটা অস্থিতিশীলতা করে, জ্বালাও-পোড়াও করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা তাদের উদ্দেশ্য। একজন লন্ডনে বসে স্বপ্ন দেখেন, আর মির্জা ফখরুল প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখেন। এই দেশে এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।'খালেদা জিয়ার প্রাণের জন্য বিএনপিই এখন বড় হুমকি উল্লেখ করে হানিফ বলেন, 'আন্দোলন করে সরকার পতন ঘটানোর ক্ষমতা বিএনপির নেই। তাই মিথ্যাচার করে তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর ওনার ব্যক্তিগত পরিচারিকা ছিলেন, বাসায় আসার পর নেতা-কর্মীরা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। মির্জা ফখরুল সাহেবকে জিজ্ঞেস করতে চাই, হঠাৎ করে স্লো পয়জনিং আসলো কেন? নাকি আপনারা নতুন করে ষড়যন্ত্র করছেন?'মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, 'জনগণকে বিভ্রান্ত করে, আন্দোলন করে সরকার পতন করা যাবে না, বিষয়টি বুঝতে পেরে বিএনপি এখন বেগম জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে আন্দোলন করতে চায়। উন্নয়নের ফিরিস্তি দেখে বিএনপি এখন বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে।'রাষ্ট্রপতির কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে দণ্ড মওকুফ হলে তিনি দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।এ ছাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সালাউদ্দিন আহমেদ খোকার সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন লাভলুর সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ হাবিব হাসান ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি।
9
সিলেটে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালে বোমা বিস্ফোরণে নিহত র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুমার নামাজের পর সেনাসদরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা হয়। জানাজায় তিন বাহিনীর প্রধানসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রথম জানাজা শেষে আবুল কালাম আজাদের মরদেহ নেওয়া হবে উত্তরা র্যাব সদর দফতরে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে র্যাবের এ কর্মকর্তা ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান। লে. কর্নেল আজাদ সাহসী ও পেশাদার নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মকর্তা ছিলেন। শেষ সময় পর্যন্ত তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকর্মীদের সঙ্গেও তার আচরণ ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। সদা হাস্যোজ্জল ও বন্ধুবাৎসল এই মানুষটির অকালে মৃত্যুর খবর শুনে রাতেই সহকর্মী, বন্ধু ও আত্মীয় স্বজন হাসপাতালে ছুটে যান। গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যার পর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার 'আতিয়া মহলে' জঙ্গি আস্তানার অদূরে পুলিশ চেকপোস্টের কাছে পরপর দুই দফা বোমা বিস্ফোরণে মারা যান দুই পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন। আহত হয়েছিলেন অর্ধশতাধিক মানুষ। আজাদকে নিয়ে ওই ঘটনায় সাতজনের প্রাণ গেল। আজাদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান তাৎক্ষণিক সমকালকে বলেন, 'দীর্ঘদিনের এক বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধুকে হারালাম। জাতি হারালো একজন দেশপ্রেমিকেকে।' আহত হওয়ার পর আবুল কালাম আজাদকে ঢাকায় সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ২৬ মার্চ রাতে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় চিকিৎসকদের পরমর্শে গত বুধবার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ভর্তি করা হয় সিএমএইচে। জানা গেছে, আজাদের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৩০ অক্টোবর। তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের সাহাপাড়ায়। তার বাবা রেজাউল করিম, মা সায়েদা বেগম। স্ত্রী-দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তিনি ঢাকায় থাকতেন। ৩৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন আজাদ। তিনি ৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে আইও, অ্যাডজুটেন্ট এবং কোয়ার্টার মাস্টারসহ নানা দায়িত্ব পালন করেন। সেনা কমান্ডো আজাদ সেনাসদর, ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন এবং ১৯ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর র্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে এই বাহিনীতে আসেন। তিনি র্যাবে ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর আজাদকে ওই বছর শেষেই র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে আনা হয়। দুই বছর উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে উইংয়ের পরিচালক হন তিনি।
6
আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় ৮৮ বার তারিখ পেছাল। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা র্যাব প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তাই ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজেদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ আট জনকে আসামি করা হয়। বাকি আসামিরা হলেন- বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদকে আসামি করা হয়। আসামিদের সবাইকে একাধিকবার রিমান্ডে নেয়া হলেও কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এ মামলায় প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার একজন উপপরিদর্শক বা এসআই। চারদিন পর দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি পুলিশকে। ডিবি পুলিশ দুই মাসে ব্যর্থ হলে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার যায় র্যাবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।
6
১৬ বছরের জেমস ওয়াকার রাগবি ভক্ত ও পপ গান শুনতে ভালোবাসে। ব্রিটিশ এই কিশোরের একজন মেয়ে বন্ধুও আছে। কিন্তু সে কথা বলতে পারত না। বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খুব ছোটবেলায় একটি অসুখে পরে জেমস ওয়াকার প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। হাঁটতে বা চলাফেরা করতে পারে না। তবে তার কথা বলতে না পারার অবসান হয়েছে। 'হ্যালো মম' নামের একটি যোগাযোগ যন্ত্রের সাহায্যে প্রথমবার কথা বলেছে এই কিশোর। যন্ত্র ব্যবহার করে এতদিনের নীরবতা প্রসঙ্গে জেমস বলছে, এটা মজার ছিল। আর কথা বলার বিষয়টি তার কাছে 'নতুন কিছু শেখার মতো'। যুক্তরাজ্যের হলে পরিবারের সঙ্গে বাস করে জেমস। নিজের চোখ কার্সরের মতো ব্যবহার করে সে কম্পিউটারে শব্দ আর ছবির ওপর ক্লিক করে করে বাক্য গঠন করে। এভাবেই এখন সে অন্যদের সঙ্গে কথা বলে। টোবি আই গেজ নামের এই কম্পিউটার সে ব্যবহার করতে পারে, এতে কয়েক হাজার শব্দ আছে।
3
শীতের শুরুতেই টান টান হয়ে ওঠে ত্বক। উৎসবের দিনগুলিতে প্রচুর সাজগোজ-মেকআপ করতে হয়। ত্বককে সুন্দর তরতাজা আর উজ্জ্বল রাখতে, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত সূর্যরশ্মি অর্থাৎ অতিবেগুনি রশ্মি এড়িয়ে চলতে হবে। তা না হলে ত্বক বুড়িয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে একটি ছাতা বা টোকাজাতীয় টুপি ব্যবহার করা যেতে পারে। খবর জি নিউজের। শুরু হোক ত্বকের বাড়তি যত্ন প্রথমেই আপনার ত্বকের রং বিবেচনায় আনতে হবে। যে ত্বকের রং যত সাদা, সে ত্বক সূর্যালোকে তত বেশি নাজুক। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে ত্বকের নানাবিধ সমস্যা। তাই এখন থেকেই শুরু হোক ত্বকের বাড়তি যত্ন। এতে শীতের শুষ্কতা কমিয়ে ত্বককে করবে মসৃণ এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। ভালো ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন শীতে ত্বকের যত্নের শুরুতে একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। বাজার থেকে বাদাম তেল বা এভাকাডোসমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার কিনুন। এগুলো ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যতবার ত্বক শুষ্ক মনে হবে ততবার ব্যবহার করুন। নিয়মিত চুলের যত্ন নিন। শীতকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন শীত আসছে বলে ভাববেন না যে, সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজনীতা কমে গেছে। শীতকালেও বাইরে বের হওয়ার ৩০ মিনিট আগে এসপিএফ ১৫-৩০ সম্পন্ন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতা বজায়ে মাঝে মাঝে মুখে পানির ঝাপটা দিন। সহজে ত্বক শুষ্ক হবে না। ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করুন নিয়মিত স্নানের পর প্রতিবার মুখ ধোয়ার ভেজা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
4
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন দুর্বার হয়ে উঠেছে এটা আওয়ামী লীগ সহ্য করতে পারছে না। তাই তারা দেশনেত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে আজেবাজে কথা বলে আমাদের দৃষ্টিকে অন্য দিকে ফেরাতে চায়। কিন্তু আমরা চাই দেশনেত্রীর মুক্তি ও সুচিকিৎসা। আজ সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বিএনপি সমর্থিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশনেত্রীর হাতে সময় কতদিন আছে আমি জানি না। ওইদিন ডা. জাফরুল্লাহর বক্তব্য হয়তো আপনারা শুনেছেন। আমি নিজেও ওনাকে দেখেছি, ইশারায় কথা হয়েছে। উনি আসলে খুব ভালো অবস্থায় নেই। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রীদের অশালীন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে খালেদা জিয়া অসুস্থ, তাকে নিয়ে তার পরিবারকে নিয়ে একটা শিশু বাচ্চাকে নিয়ে পর্যন্ত এই সরকারের মন্ত্রীরা কথা বলছে। এই অসভ্য, আমি কিছু দিন আগে এই লোকটার নাম ধরে একটু বকাবকি করেছিলাম। তারপর উনিও আমার নাম ধরে বকাবকি করেছে, করুক। কিন্তু কথা হলো রাস্তা থেকে ধরে এনে মন্ত্রী বানিয়ে দেবেন, সে লোকেরা পূজা করবে, মান্যগণ্য করবে এটা ভাবার কোনো কারণ নাই। এই লোকটার সম্পর্কে স্যোসাল মিডিয়ায় আসছে, ডিসকো বারে গিয়ে সে নাচতেছে। তাকে ধরে এনে মন্ত্রী বানিয়েছে। যেমন মা তেমন সন্তান। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আমরা গণতন্ত্রের মা বলি। আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার সুসন্তান। আর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যারা একজন মুমূর্ষু লোককে নিয়ে তার পরিবারকে নিয়ে আজে বাজে কথা বলেন। তারা কখনোই সভ্য মায়ের সভ্য সন্তান নয়। দোহার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ
6
ভোটার তালিকা হালনাগাদে আগামী ২৩ এপ্রিল দেশজুড়ে ভোটারযোগ্য নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহে নামছে নির্বাচন কমিশন; এ যাত্রায় প্রায় ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা যাবে বলে ইসি কর্মকর্তাদের ধারণা। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ২৩ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের এই কাজ চলবে। যাদের বয়স ১৮ হয়নি, কিন্তু ১৬ পেরিয়েছে (২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে জন্ম), তাদের তথ্য নেওয়া হবে। ভোটার হওয়ার বয়স হলে তাদের তালিকাভুক্ত করে নেওয়া হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পর ২৫ মে থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে নাগরিকদের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ ও নিবন্ধনের কাজ চলবে। ইসি সচিব জানান, ৫২ হাজার ৫০০ জন তথ্য সংগ্রহকারী; ১০ হাজার ৫০০ জন সুপারভাইজার ও ৭৮০ জন সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসার এই কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত থাকবেন। কবে কোন এলাকায় কোথায় নিবন্ধন হবে তা পরে জানানো হবে। হালনাগাদ কার্যক্রমে নতুন ভোটারের পাশাপাশি মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে ও ভোটার স্থানান্তরের আবেদন নেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন ভোটারের মধ্যে ৫ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ১০৫ জন পুরুষ আর ৫ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৬ জন নারী। অর্থাৎ, ভোটার তালিকায় পুরুষ ও নারীর অনুপাত- ৫০.৪২: ৪৯.৫৮। হালনাগাদের কাজে ৪২ হাজার ট্যাব ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ভোটকেন্দ্র থেকে ফলাফলের তথ্য ও দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহে ৪২ হাজার ২০০ ট্যাব কিনেছে নির্বাচন কমিশন। উপজেলা নির্বাচেনের তৃতীয় ধাপে চারটি উপজেলায় ইভিএমের ফলাফল পাঠাতে গিয়ে ইন্টারনেটে গতি কম থাকায় এবং সফটওয়্যারে জটিলতার কারণে সমস্যা হয়। পরে চতুর্থ ধাপে ইভিএমের ছয় উপজেলায় আর ট্যাব ব্যবহার করা হয়নি। হেলালুদ্দীন বলেন, 'সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বলা হয়েছে। ৫ মে ময়মনসিংহ সিটিতে ভালোভাবে ট্যাব ব্যবহার করতে পারব। ইন্টারনেটের গতি যাতে ভালো থাকে, সে ব্যবস্থাও রাখা হবে। পরে দেশের সব এলাকায় ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহেও এসব ট্যাব ব্যবহার করা হবে।' সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র ছিল। নতুন ভোটার নিবন্ধন কাজে এসব কেন্দ্র ব্যবহার করবে ইসি।
9
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খাঁনের বসত বাড়িতে রাতের আঁধারে ফের গুলি, হাতবোমা নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত পৌনে ৮ টার দিকে বসুরহাট পৌরসভা সংলগ্ন চরকাঁকড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা বসত ঘরে ছয়টি জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ১০-১২টি ককটেল ও ৫-৬ রাউন্ড গুলি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন খিজির হায়াত। এদিন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বসুরহাটের রাজনীতি নিয়ে খিজির হায়াতের বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে কাদের মির্জার নির্দেশে তার অনুসারীরা এ হামলা করেছে বলে তার অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এক মাস আগেও এই বাড়িতে একই কায়দায় হামলা হয়েছিল। খিজির হায়াত অভিযোগ করে বলেন, 'বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে চলমান রাজনৈতিক বিরোধের জেরে শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে কাদের মির্জার অনুসারীরা ৮-১০টি মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে আমার গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাসভবনের ফটক ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তারা ছয়টি জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে ১৫ মিনিট ধরে বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকতে পারলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলত। ' তিনি আরও বলেন, 'জেলা শহর মাইজদীতে শনিবার নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কাদের মির্জা যেতে পারেনি। প্রতিনিধি সভার কার্ডগুলো আমার কাছে দেওয়া হয়। কাদের মির্জা ১৫-২০টি হাইস গাড়ি ভাড়া করে। কিন্তু তার কোনো লোক প্রতিনিধি সভায় যেতে পারেনি। এসব ঘটনার জেরে আজকে আমার বাড়িতে আবার হামলা চালানো হয়। এর আগে গত ৮ মার্চ বসুরহাট বাজারে কাদের মির্জার নেতৃত্বে অনুসারীরা আমার ওপর হামলা চালিয়ে ছিলো। এছাড়াও তার অনুসারীরা একমাস আগে আরও একবার আমার বাড়িতে হামলা চালায়। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ নিয়ে দুইবার আমার বাড়িতে বোমা, গুলি ও হামলা চালায় কাদের মির্জার লোকজন।' অভিযোগের বিষয়ে জানতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি। মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আনোয়ার হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ' খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একদল দুর্বৃত্ত খিজির হায়াতের বাড়িতে এসে বোমা ফাটিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে গালমন্দ করে গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেছেন, আমরা কেউই আইনের উর্ধ্বে নই। আইনের যে ধারা আছে, সে ধারা অনুযায়ী দেশ চলে। আইন মানুষের জন্য, আইন মানুষকে কষ্ট দেওয়ার জন্য নয়। আইন দেশের বিশৃঙ্খলা থামিয়ে রাখে, আইন মানুষকে সাহায্য করে। একটি দেশ তখনই ভালো চলে যেই দেশে আইনের শাসন আছে। যে দেশে আইনের শাসন নাই সেই দেশ সোমালিয়া হবে। কাজেই আইনের প্রতি আমাদের আস্থাশীল হতে হবে। শনিবার (২২ মে) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ শুভ্র সেন্টারে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, সহসভাপতি আব্দুল মজিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদেব সাহা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাফিল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। তিনি আরো বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি ভালো ছিলো। কিন্তু আমাদের একটু অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরার কারণে দেশে আজ করোনায় মৃত্যু ও সংক্রামণ বেড়ে গেছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের বর্ডার করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে। যে পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতির উন্নয়ন না হবে ততদিন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে আমাদের বর্ডার বন্ধ থাকবে।
6
নাটোরের বাগাতিপাড়ার মালঞ্চি রেলস্টেশনটি জনবলসংকটে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে যোগাযোগে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ এবং কাদিরাবাদ সেনানিবাসের কর্মকর্তা, সৈনিক ও বাউয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।এদিকে স্টেশনটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাবগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা গেলে রেলক্রসিং সুবিধার পাশাপাশি শিডিউল বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন রেলসংশ্লিষ্টরা।স্থানীয়রা জানান, উপজেলাবাসীর রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রেল প্রধান মাধ্যম। সড়কপথে সরাসরি বাস যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। এ জন্য যেতে হয় ২০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদরে। সে কারণেই ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ রেলস্টেশন। কিন্তু জনবলসংকটে ২০১৩ সালে স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে টিকিট কাউন্টার, স্টেশনমাস্টারের কক্ষ এবং যন্ত্রপাতিগুলো বেহাল।রেলক্রসিংয়ের জন্য তিনটি লাইনের ব্যবস্থা থাকলেও পয়েন্টম্যান না থাকায় শুধু মেইন লাইনে ট্রেন চলাচল করে। আর বাকি দুটি লাইনে আগাছা জন্মে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার বেসরকারি উত্তরা এক্সপ্রেস এবং রকেট মেইল ট্রেন দুটি নিজ দায়িত্বে থেমে আবার চলে যায়। ট্রেন দুটি প্ল্যাটফর্মে না থামায় ওঠানামা করতে বিড়ম্বনার শেষ থাকে না যাত্রীদের। আর এই স্টেশন ঘিরে গড়ে ওঠা ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন বিপাকে। তাই অবিলম্বে স্টেশনটি চালুর পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামানোর দাবি জানান তাঁরা।৪০ বছর ধরে স্টেশনটিতে কুলির কাজ করা মতলেব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্টেশনের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাবগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার প্ল্যাটফর্মে ট্রেন না দাঁড়ানোয় ওঠানামা করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। এ জন্য উপজেলার মানুষ ট্রেন যাতায়াতে অনেক দূরে হলেও আব্দুলপুর ও লোকমানপুর স্টেশন ব্যবহার করেন।নাটোর স্টেশনমাস্টার অশোক কুমার চক্রবর্তী বলেন, স্টেশনটি বন্ধের বিষয়টি নিয়ে বারবারই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। শুধু স্থানীয় চাহিদার কারণে নয়, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে স্টেশনটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, জনবলসংকটের কারণে এমন ৭২টি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে স্টেশনমাস্টারসহ ৫৬২ জন নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ হয়ে গেলে আশা করা যায় বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা যাবে।
6
আশঙ্কাই সত্যি! করোনা আক্রান্ত গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। বর্ষীয়ান এই গায়িকার শরীরটা গত কয়েকদিন ধরেই ভালো যাচ্ছিল না, রয়েছে ফুসফুসে সংক্রমণ। বুধবার রাত থেকে পরিস্থিতির অবনতি হয়, জ্বর বাড়ছিল। ছিল শ্বাসকষ্টও। গতকালই করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল সেই রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।করোনা চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে এই গায়িকাকে দেখতে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয়। সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'সন্ধ্যাদি খুব অসুস্থ। মেয়ে এবং জামাই সকালে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করেন। উডবার্নে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বোর্ড তৈরি হয়। তাঁদের পর্যবেক্ষণেই চিকিৎসা চলছিল। ওনার হৃদযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে। ইতিমধ্যে অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর সঙ্গে কথা বলেছি আমি। ওখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারণ উনি কোভিড পজিটিভ। তার উপর হৃদযন্ত্রের ধাক্কা তো রয়েছে। এই অবস্থায় তাকে এই হাসপাতাল ভালো চিকিৎসা দিতে পারবে।'এর আগে মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে 'পদ্মশ্রী' পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করা এই শিল্পী। প্রবীণ এই শিল্পী 'জয় জয়ন্তী' এবং 'নিশিপদ্ম' সিনেমায় গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার তাকে ২০১১ সালে 'বঙ্গবিভূষণ' উপাধিতে সম্মানিত করে।
2
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির চরিত্র হচ্ছে- মুখে শেখ ফরিদ, বগলে ইট। তাদের কথায় পুষ্পবৃষ্টি হলেও অন্তর কদর্যে ভরা। বুধবার সকালে নিজ বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, ধর্মকে যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করে তারাই পরিকল্পিতভাবে বিভাজন তৈরি করতে চায়। যারা নিজেরা এদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি মেনে নিতে পারে না, তারাই জাতিকে বিভাজন করে দুর্বল এবং দেশের ইমেজ নষ্ট করতে চায়। আর এ বিভাজন রেখা তৈরি করতে চায় বিএনপি ও তার দোসররা। বিএনপি নেতারা মিথ্যাচারকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলায় নাকি সরকার জড়িত! আসলে ভিডিও ফুটেজে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে দেখে তারা একচোখা দৈত্যের আচরণ শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি নিজেরাই রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক। বিএনপি সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে- উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, তারা ভেবেছে পূজামণ্ডপে হামলা করলে সরকারের ওপর হিন্দু সম্প্রদায়ের অনাস্থা বাড়বে আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরাজমান বন্ধুত্ব নষ্ট হবে। মসজিদগুলো মন্দির হয়ে যাবে, মসজিদে উলুধ্বনি বাজবে- এসব অপপ্রচার বিএনপি অতীতেও চালিয়েছে। এসব অপকর্ম ও নির্জলা মিথ্যার পেটেন্ট একমাত্র বিএনপির। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের ওপর বিএনপির নির্মমতা '৭১ কেও হার মানিয়েছিলো মনে করে কাদের বলেন, এখনও তারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জন্মদিন ও ওফাত দিবস উপলক্ষে সেতুমন্ত্রী বলেন, মুসলিম উম্মার জন্য দিনটি পবিত্র এবং মহিমান্বিত। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে মহানবীর যে অমরবানী সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।
9
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, করোনা মহামারিকালে জনগণের দায়িত্ব নিতে না পারায় সরকার সবকিছু খুলে দেওয়ার হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংক্রমণ বিস্তারের বিপজ্জনক পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতার পরোক্ষ স্বীকৃতি। বৃহস্পতিবার বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে অনলাইন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সাইফুল হক আরও বলেন, 'করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা যখন বেড়ে চলেছে, তখনই ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত-গণপরিবহন চালু করার এই ঘোষণা দেশবাসীকে গভীরভাবে আতঙ্কিত করেছে।' তিনি বলেন, 'অনতিবিলম্বে করোনা মহামারি সংক্রান্ত সব সংস্থা, কমিটি, বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামত ও পরামর্শ নিয়ে সমগ্র পরিস্থিতির বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।' সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতা বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, আনছার আলী দুলাল, রাশিদা বেগম, সজীব সরকার রতন, মাহমুদ হোসেন, শাহাদাৎ হোসেন, স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, রইছউদ্দিন সরদার, খলিলুর রহমান, অরবিন্দু বেপারী বিন্দু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় করোনা দুর্গতদের জন্য দলের ত্রাণ কার্যক্রম পর্যালোচনা ও তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
9