text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
মাদারীপুরে প্রতিদিনি সন্ধ্যা ৭টার পর অভিভাবক ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী বা উঠতি বয়সী ছেলেরা বাড়ির বাইরে বের হতে পারবে না এবং চায়ের দোকানগুলোতে কোনো টিভি রাখা যাবে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবচর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যাক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. রহিমা খাতুন এ নির্দেশনা দিয়েছেন। ড. রহিমা খাতুন বলেন, বর্তমান দেশব্যাপী করোনা পরিস্থিতি, কিশোর গ্যাং তৈরি, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সন্ধ্যা ৭ টার পরে কোনো শিক্ষার্থী বা উঠতি বয়সী ছেলেরা বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না। যদি একান্তই প্রয়োজন হয় তাহলে অভিভাবকের সঙ্গে বের হতে পারবে। তিনি বলেন, আমরা দেখি বিভিন্ন চায়ের দোকানে অধিক রাত পর্যন্ত টিভি চলে। আর সেই সাথে দোকানগুলোতে জমে ওঠে আড্ডা। এই আড্ডাতে দেখা যায় বয়ষ্কদের চেয়ে তরুণ ও উঠতি বয়সের যুবকরাই বেশি। চায়ের দোকানে টিভি দেখে চা পান করতে করতে শিক্ষার্থীরা অধিক রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরেই সময় পার করে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অধিক রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই মাদকের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। দিন দিন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে জুয়া খেলাসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত হচ্ছে। ড. রহিমা খাতুন বলেন, এছাড়া যারা বয়ষ্ক লোক রয়েছে তারাও কিন্তু অধিক রাতে বাড়ি ফেরার কারণে নিজের সন্তানের লেখাপড়ার কোনো খোঁজখবর নিতে পারছে না। তাই পৌরসভার মধ্যে রাত ১০ টা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে রাত ৯ টার মধ্যে সকল দোকানপাট বন্ধ করতে হবে। এসময় শিবচর পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান ডিসিকে জানান- শিবচরে দোকানপাট রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। জেলা প্রশাসক বলেন, চায়ের দোকানগুলোতে অবশ্যই টিভি চালানো বন্ধ থাকবে। বর্তমানে প্রতিটি ঘরেই টিভি রয়েছে। তাই চায়ের দোকানে বসে টিভি দেখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমাদের এই যুবসমাজই হচ্ছে শক্তি। এই যুবশক্তি যদি অযথা সময় নষ্ট করে অকালে জীবন ধ্বংস করে দেয় তাহলে সেটা আমাদের দেশের জন্য শুভকর না। তাই আমরা যারা সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি রয়েছি সকলে যদি উদ্যোগ নেই তাহলেই এসকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি আরো বলেন, মাদারীপুরের মধ্যে শিবচরের সৌন্দর্য এখন স্বপ্নের মত। পদ্মা নদী বা পদ্মা সেতুর জন্য এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেক সুন্দর। কাজেই এই সৌন্দর্য নিয়ে আমরা যদি পর্যটনের দিকে জোর দেই তাহলে এটি সুন্দর একটি পর্যটন এলাকা বা একটি উপজেলায় রুপ নেবে। সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান আ. লতিফ মোল্লা, পৌরসভার মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম রাকিবুল হাসান, আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মোল্লা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএম আতাউর রহমান, ফাহিমা আক্তার, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ইলিয়াস পাশা, প্রেস ক্লাব সভাপতি একেএম নাসিরুল হক, প্রেস ক্লাব ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদ্যুৎ কুমার সরকারসহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলর, শিক্ষক, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জেলা প্রশাসক উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের শুভ উদ্বোধন করেন।
6
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি আর্মারড ভ্যান থেকে হঠাৎই রাস্তায় পড়ে যায় কয়েকটি ডলার ভর্তি ব্যাগ। ব্যাগ ছিঁড়ে ছড়িয়ে পড়ে ডলার। এগুলো কুড়াতে রীতিমতো উন্মত্ত হয়ে ওঠেন পথচারীরা। খবর বিবিসির। খবরে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই কাজে নামে পুলিশ। যারা টাকা নিয়েছিল তাদের আটক করে ডলার ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
5
রাজধানীর লালবাগ থেকে তরুণীকে তুলে নিয়ে চারদিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছে জাতীয় নারী আন্দোলন। একইসঙ্গে ধর্ষণকারী প্রধান অভিযুক্ত মনির হোসেন শুভসহ সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মিতা রহমান, সহ-সভাপতি জীবন নাহার, সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারা বেগম ও সাংগঠনিক সম্পাদক কাকলি রহমান এই দাবি জানান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে ও রাষ্ট্রের শাসকগোষ্টির ব্যর্থতায় চারদিকে চলছে যৌন হয়রানি। চলছে যৌন সন্ত্রাসীদের হামলা। খবরের কাগজে ফেসবুকের টাইমলাইনে একই খবর-ধর্ষণ। মহামারি করোনা ভাইরাসের পর পরই এ যেন আরেক ভাইরাসে ভাসছে দেশ। তারা বলেন, প্রায় প্রতিদিনই চোখে পড়ে ধর্ষণের নানা ঘটনার খবর। গ্রামে কিংবা শহরে, বাড়িতে কিংবা রাস্তায়, অফিসে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনকি চলমান বাসে পর্যন্ত, একথায় বলা চলে প্রায় সর্বত্রই ঘটছে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা। ধর্ষণ এখন ডালভাতের মত হয়ে উঠেছে। তারা আরও বলেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকে লঘুকরণ করা বন্ধ হোক। ধর্ষণ অসামাজিক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধী শাস্তি না পেলে সে বারবার অপরাধমূলক কাজ করে, তাতে অপরাধ বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে অন্যরা অপরাধে জড়াতে উৎসাহিত হয়। তাই ধর্ষণকারীকে বিচরের মাধ্যমে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যাতে অন্যেরা ভবিষ্যতে এমনটি করার সাহস না পায়।
6
মূল্যস্ফীতিই চ্যালেঞ্জসামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ২০২১ সালে আমরা ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ রেকর্ড ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। যদিও ক্লিয়ারিং হাউজের পেমেন্টের কারণে এটা মাঝে মাঝে কমে-বাড়ে। রপ্তানিও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যেটা ৩৪ বিলিয়নে নেমে গিয়েছিল, সেটা আবার ৩৯ বিলিয়ন পর্যন্ত উঠেছে। রেমিট্যান্স ১৮ বিলিয়ন থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উঠেছে। যদিও গত কয়েক মাসে কিছুটা কমেছে, তবে বছর হিসাবে বললে সেটাও আমাদের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। কৃষিও আমাদের যথেষ্ট সহায়তা দিয়েছে। ফসল বৈচিত্র্যকরণ, শাকসবজির উচ্চ ফলন, পোল্ট্রি ও মৎস্য চাষ ব্যাপক বেড়েছে। আমাদের বনায়ন বেড়েছে ৪ শতাংশ হারে। সুতরাং মোটাদাগে অর্থনীতি কোভিড-পরবর্তী বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছি।এখন প্রশ্ন উঠবে আগামী দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে। আমি মনে করি, আমাদের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জটা গৌন। রাজস্ব বাড়ানোর প্রচেষ্টা ছাড়া তেমন চ্যালেঞ্জ নেই। মূলত সামনের দিনগুলোয় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। যাতায়াত খরচ বেড়েছে। কৃষি উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বলছে, গত এক বছরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে সাড়ে ৩২ শতাংশ। প্রায় ১৮ শতাংশের মতো বেড়েছে চিনির দাম। ডেইরি পণ্যের দাম বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশের বেশি। ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে অনেক বেশি। এসব পণ্যই আমাদের আমদানি করতে হয়। যেহেতু বিশ্ববাজার থেকে বেশি দাম দিয়ে কিনে আনতে হয়েছে, তাই দেশেও দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। ফলে দেশে এখন মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের কাছে চলে গেছে। আমাদের কৃষি, সেবা, শিল্প ভালো করলেও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতাই মূল্যস্ফীতির ৯০ শতাংশ কারণ। মাত্র ১০ শতাংশ কারণ হতে পারে অভ্যন্তরীণ। ঝুঁকি ঠেকানো জরুরিআমরা এখন করোনা-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের মধ্যে আছি। বিভিন্ন সূচক থেকে যেটা বোঝা যায় তা হলো, ছয় মাস ধরে একটা উত্তরণ ঘটছে। রাজস্ব, রপ্তানি, বেসরকারি ঋণপ্রবাহ-সব কটি সূচকই ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। চ্যালেঞ্জ হলো এটা ধরে রাখা। না হলে হোঁচট খাওয়ার শঙ্কা আছে। বৈশ্বিক কিছু ঝুঁকি আছে। ওমিক্রন বাড়ছে। প্রথমত, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটা হলো ভাইরাস চলে যাবে না। চ্যালেঞ্জটা হলো এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা। এটা মেনে নিয়েই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে।প্রবৃদ্ধি বাড়লেও এর সুবিধা সবাই সমানভাবে পাচ্ছেন না। করোনায় যাঁরা খাদে পড়েছেন, এঁদের কেউ উঠেছেন, কেউ উঠতে পারেননি। যাঁরা দুর্বল তাঁরা খাদে পড়েই আছেন। যেমন, গত দুই বছরে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র শিল্পগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা তাঁরা সবাই কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাঁরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সে রকম সহায়তা দিতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে আরও সহায়তা দরকার। প্রয়োজনে আসছে বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে।এ ছাড়া ব্যষ্টিক অর্থনীতিতে কিছু ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এটা বৈশ্বিক ব্যাপার। তারপরও একে সহনীয় রাখতে হবে। জ্বালানির দাম বেশি হলেও এখন আবার কমছে। মূল্যস্ফীতি বাড়তি ধারা সামনেও থাকবে। কমাতে হবে খেলাপিবাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। কতিপয় ব্যক্তি নানা প্রভাব খাটিয়ে ঋণ নিয়ে থাকেন। তাঁদের একটা বড় অংশ ঋণ নিলে তা পরিশোধে গড়িমসি। ক্ষেত্রবিশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও শিথিলতা দেখায়। এতে খেলাপি আদায় কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজ শর্তে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি উদ্যাক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বাড়তি শর্তারোপ করা যাবে না। আর কৃষি ঋণ বিরতণ করতে হবে প্রকৃত চাষিদের মধ্যে। আর যাঁদের জামানত রাখার কিছু নেই, তাঁদের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় ঋণ দিতে হবে। কৃষির উৎপাদন বাড়বেকৃষি পুরোপুরি নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তাহলে কৃষির উৎপাদন ভালো হয়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর সব দেশেই আবহাওয়া খারাপ হলে উৎপাদন বিঘ্নিত হয়। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তাহলে আমাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন ৫০ বছর ধরে ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। আর গত ১২ বছর আমাদের কৃষির উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ হারে।কাজেই আগামী বছর এই হারে কৃষির উৎপাদন বাড়বে-এটাই আমরা স্বাভাবিকভাবে ধারণা করতে পারি। খাদ্য উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অন্যান্য ক্ষেত্রেও উৎপাদন বাড়বে। কৃষকেরা এবার পাটের দাম ভালো পেয়েছেন। কাজেই সামনের বছর পাটের উৎপাদন হয়তো আরও বাড়বে। পাটের সুদিন ফিরে আসছে। সামাজিক সুরক্ষায় মনোযোগ দরকারকরোনার কারণে অর্থনীতিতে একটা অভিঘাত হয়েছে। সেই অভিঘাতের ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ এবং যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বড় ধরনের সংস্কার এনে তার আওতায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি।আরেকটা বিষয় হলো নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চ্যালেঞ্জটা মোকাবিলা করা এবং সেটার জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাজার মনিটরিং খুব কঠোর হস্তে করা জরুরি। এ ছাড়া কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা করা প্রয়োজন। এ জন্য ব্যক্তি খাতে যে বিনিয়োগ, সেটাকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে শ্রমঘন শিল্পগুলোতে কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং বিপণনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নীতির ধারাবাহিকতা লাগবেবিশ্বে বর্তমান যে প্রেক্ষাপট, তাতে আমার মনে হয় আবার একটা ধাক্কা আসতে পারে। যেটা ইউরোপ-আমেরিকায় এখন হচ্ছে। আমাদের দেশেও এই ঝুঁকি আছে। সরকারি প্রণোদনার কারণে এখন আমরা হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমরা ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে বিষয়গুলো বলেছি।ঋণের কিস্তি পরিশোধে আমরা বলেছি, আগের মতো করে ২৫ শতাংশ দিয়ে যে ব্যবস্থা চালু আছে সেটা অব্যাহত রাখা। আমরা আশঙ্কা করছি, যদি করোনার কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়, তাহলে পোশাক রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে। এরই মধ্যে অর্ডার কমছে। বাস্তবচিত্রটা কী হবে সেটা হয়তো দেড়-দুই মাস পর বোঝা যাবে। আমি মনে করি, করোনাকে মেনে নিয়েই চলতে হবে। পোশাকে চ্যালেঞ্জ ওমিক্রনআমি যতই উৎপাদন করি, তাতে কোনো লাভ নেই। ক্রেতারা দোকানপাট চালু না করলে আমাদের রপ্তানি হবে না। আমরা শঙ্কায় আছি। তবে আশাবাদী ওরা ওমিক্রনের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, যেভাবে আগেরবার করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে।আমাদের পুরো রপ্তানিনির্ভর করে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ওপর। তাদের দেশের বর্তমান অবস্থার ওপর। ফলে সেখানে কোনো সংকট সৃষ্টি হলে আমাদের এখানে তার প্রভাব পড়ে। এর আগে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারের কাছে অনুরোধ করেছিলাম, এ ব্যাপারে সহায়তা করতে। সরকার তাতে সাড়া দিয়েছে। তার ফলেই আমাদের উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। নইলে ভিয়েতনাম এবং ভারতে সঙ্গে আমরা পিছিয়ে পড়তাম। চট্টগ্রামের সমস্যা কমাতে হবেচট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্য খাতুনগঞ্জ, আছদগঞ্জের ব্যবসায়িক জৌলুশ দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। চট্টগ্রাম অঞ্চলের উৎপাদনের জন্য শিল্প-কারখানায় গ্যাস-সংযোগ অত্যন্ত জরুরি।চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আমদানি-রপ্তানি অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসে প্রয়োজনীয় সমস্যার সমাধান করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা। একইভাবে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় সব সময় ব্যবসায়ীদের ঢাকায় যেতে হয়। এ ক্ষেত্রে তফসিলি ব্যাংকের কিছু প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হলে ভালো হয়।
6
চার বছর ধরে দেশ থেকে হস্তশিল্পপণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্যটির রপ্তানি বেড়েছে ৬৪ শতাংশ নগদ প্রণোদনার ওপর ভর করে বাড়তে থাকা হস্তশিল্পপণ্য রপ্তানির ওপর হঠাৎ করেই বিরাগভাজন হয়ে যায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই করোনাকালে খাতটির নগদ সহায়তা অর্ধেক করে দেয় সংস্থাটি। ফলে মহামারিতে বিপদের মধ্যে পড়েন হস্তশিল্প খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। তাই প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দাবি করেছেন তাঁরা। হস্তশিল্পপণ্য রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ হস্তশিল্প প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বা বাংলাক্রাফট এবারের বাজেট প্রস্তাবনায় নগদ সহায়তা বৃদ্ধিসহ ৯টি দাবি জানিয়েছে। এগুলোর মধ্যে অবশ্য বাজেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয়ও রয়েছে। হস্তশিল্প রপ্তানিতে দীর্ঘদিন ধরে ১৫-২০ শতাংশ নগদ সহায়তা বিদ্যমান ছিল। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সেটি কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। এখন আবার সেটি ২০ শতাংশে উন্নীত এবং তা ২০২৫ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাক্রাফট। তাদের যুক্তি, হস্তশিল্পজাত পণ্য দেশীয় কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদন করা হয়। আর কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যায়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সরাসরি জড়িত। সব মিলিয়ে হস্তশিল্পে মূল্য সংযোজনের হার শতভাগ। তাই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নগদ সহায়তা দরকার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, চার বছর ধরে হস্তশিল্পের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ২ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বা ২৪১ কোটি টাকার হস্তশিল্প রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৪ শতাংশ বেশি। করোনার কারণে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয় ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। বাংলাক্রাফট আধুনিক নকশা উদ্ভাবনের মাধ্যমে হস্তশিল্পে বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে ও রপ্তানি বাড়াতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, রপ্তানিসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির অষ্টম সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাক্রাফটকে কাকরাইলে সরকারি খাসজমি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তা দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রতিবছরের মতো চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবেও বিষয়টি উল্লেখ করেছে বাংলাক্রাফট। এ ছাড়া একটি কারুপল্লি স্থাপনের জন্য ৩০ বছর ধরে দাবি করে আসছে বাংলাক্রাফট। সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিলেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। ফলে নতুন করে আবারও বাজেট প্রস্তাবে দাবিটি তুলে ধরেছে সংগঠনটি। তারা বলছে, প্রতিবেশী ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও নেপালে সরকারের সহায়তায় কারুপল্লি গড়ে উঠেছে। এসব দেশের কারুপল্লিকে বিদেশি ক্রেতারা লাখ লাখ ডলারের ক্রয়াদেশ দিয়ে থাকেন। তাই এ দেশেও কারুপল্লি স্থাপিত হলে পণ্যের গুণমান ও রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। কারুপল্লির জন্য বিসিক শিল্পনগরে জায়গা বরাদ্দ চায় বাংলাক্রাফট। জানতে চাইলে বাংলাক্রাফটের সভাপতি গোলাম আহসান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, 'করোনাকালেও আমরা হস্তশিল্প রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাচ্ছি। তবে গত এক বছরে স্থানীয় বাজারে কাঁচামাল ও পরিবহন খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়লেও ক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে নগদ সহায়তা না বাড়ালে রপ্তানিকারকদের লোকসান গুনতে হবে। তা ছাড়া আমাদের সব সময় ভিয়েতনাম ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হয়। প্রণোদনা না বাড়ালে সেটি সম্ভব হবে না।' গোলাম আহসান আরও বলেন, মহামারির কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আর্থিক সংকটে আছে। সবারই বর্তমানে কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য বিপুল অর্থ দরকার। তাই এ খাতে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য বাজেটে একটি নির্দেশনা প্রয়োজন। অন্যথায় ক্রয়াদেশ পেয়েও রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন করতে পারবে না অনেকে। তিনি জানান, করোনাকালে এই খাতের মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পেয়েছে। বাকিরা চেষ্টা করেও পায়নি।
0
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছে এক স্কুলছাত্রী। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেছে ওই কিশোরী। পালিয়ে বিয়ে করায় ছেলের পরিবার মেনে না নেওয়ায় কিশোরী এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।তানজিলা (১৭) নামে ওই স্কুলশিক্ষার্থী উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের তোতা মাতবরের (মৃত) ছোট মেয়ে। সে মীর আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, তানজিলার মেজো বোনের বিয়ে হয় গোসাইরহাট উপজেলার সাত্তার সরদারের ছেলের সঙ্গে। বোনের দেবর শাকিলের সঙ্গে তানজিলার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শবে বরাতের দিন তাঁরা গোপনে বিয়েও করেন। এই কথা জানালে ছেলের পরিবার তা মেনে নিতে চায়নি। এ ঘটনায় শাকিলের সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলার সময় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে তানজিলা।শাকিল পরে তানজিলার চাচাতো ভাই বায়েজিদকে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সবাই ঘরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তানজিলাকে উদ্ধার করে ডামুড্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আত্মীয় বলেন, গত শবে বরাতের আগে গোসাইরহাট এলাকার বোনের দেবরের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করে তানজিলা। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। বিয়ের কয়েক দিন পরই শাকিল তাকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু তাতে রাজি হচ্ছিল না তানজিলা।তানজিলার মা ফাহিমা আকতার আজকের পত্রিকা বলেন, 'আমার মেয়েরে দেখলাম ওর স্বামীর লগে কথা কইতাছে। কিছুক্ষণ পরে কথা কইতে কইতে ঘরে গেল। আমি আর কিছুই জানি না। আমি আর কিছুই কইতে পারি না রে, ও আমার আল্লাহ আল্লাহরে! ওরা আমার মাইয়াডারে বাঁচতে দিল না। আমি আমার আল্লার কাছে বিচার দিলাম।'ধানকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা রতন বলেন, 'আমি ঘটনা শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে ওইখানে ছুটে যাই। জানতে পারি সে আর বেঁচে নেই। আমি সব অভিভাবককে বলব, আপনার সব সময় আপনাদের ছেলে-মেয়েদের ওপর নজর রাখবেন। আপনারা যদি আগে থেকে সজাগ থাকেন তাহলে এমন করুণ দৃশ্য আমাদের আর দেখতে হবে না।'ডামুড্যা থানার ওসি শরীফ আহমেদ বলেন, 'আমরা লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
সরকারি আদেশ অমান্য করে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাহিন এক্সেসরিজ নামের একটি কারখানা চালু রাখায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবে না বলে কারখানা কর্তৃপক্ষের মুচলেকা নিয়েছে প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা সুলতানা নাসরীনের নেতৃত্বে মঙ্গলবার বন্দরের অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। সেখানে শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বন্দর উপজেলার মাহিন এক্সেসরিজ, রাজ টেক্সটাইল এবং গজারিয়া ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা সুলতানা নাসরীন। এ সময় মাহিন এক্সেসরিজ খোলা পাওয়া যায়। পরে সরকারি আদেশ অমান্য করায় মুচলেকা নেয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়। তবে অন্য দুটি কারখানা বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা সুলতানা নাসরীন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানে গিয়ে দেখতে পেয়েছি, মাহিন এক্সেসরিজ নামের কারখানায় বাহির দিয়ে বড় তালা ঝুলানো। কিন্তু ভিতরে শ্রমিকদের দিয়ে কারখানা পরিচালনা করছিল। ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ না করার জন্য মুচলেকা নেয়া হয়েছে।
6
গলায় সব সময় চারটির বেশি সোনার চেইনসহ নানা অলংকার পরতেন বাপ্পি লাহিড়ী। তবে এসব শখে নয়। এগুলোকে তিনি 'আশীর্বাদ' মনে করে ব্যবহার করতেন। তিনি মনে করতেন, সোনা-রুপা ব্যবহারের পর তাঁর ভাগ্য খুলতে থাকে; অর্থাৎ এগুলো ব্যবহার করলে তাঁর গান সুপারহিট হবে। সেই থেকেই তাঁর সোনা-রুপার ব্যবহার বাড়তে থাকে। সোনার প্রতি তাঁর অনুরাগ নিয়ে চর্চা হতো। এক অনুষ্ঠানে বলিউড তারকা রাজ কুমারের সঙ্গে দেখা হয় বাপ্পির। সুরকারের গলায় ভারী ভারী সোনার গয়না দেখে হেসে ওঠেন রাজ। বলেছিলেন, 'শুধু মঙ্গলসূত্রের অভাব রয়ে গেল দেখছি।' সোনার অতিরিক্ত ব্যবহার কারও কাছে আবার ঠাট্টার বিষয়বস্তু ছিল। কিন্তু নিজেকে কোনো দিন বদলে ফেলার চেষ্টা করেননি বাপ্পি লাহিড়ী। আপনি কি জানেন, সদ্যপ্রয়াত এ সংগীতশিল্পীর রেখে যাওয়া সোনার পরিমাণ কত? ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ব্যবহৃত সোনা-রুপার পরিমাণ ৫ কেজি ৩৫৪ গ্রাম। ২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এই গায়ক। সেই সময় মনোনয়নপত্রে সোনা-রুপার পরিমাণ উল্লেখ করেন। তখন জানা যায়, ভারতীয় এই গায়ক ৭৫৪ গ্রাম সোনা ও ৪ কেজি ৬২০ গ্রাম রুপার মালিক। এই সবই তাঁর গলার চেইন, ব্রেসলেট, হাতের ঘড়িসহ অন্যান্য ব্যবহৃত অলংকার বা গয়না। এসব গয়না ব্যবহার প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বাপ্পি বলেন, 'আমার স্রষ্টার নাম সোনা! যখন থেকে সোনার গয়না পরা শুরু করেছি, আমার একের পর এক গান হিট করা শুরু করেছে। সোনা আসলে আমার জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক। তাই এত সোনার গয়না কিনি আর পরি।' বাপ্পির এসব গয়না তাঁর স্ত্রী চিত্রাণী লাহিড়ীও পরতে ভালোবাসেন। তবে বাপ্পি লাহিড়ীর থেকে তাঁর স্ত্রীর সোনার গয়নার পরিমাণ আরও বেশি। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চিত্রাণী ৯৬৭ গ্রাম সোনা, ৮ কেজি ৯০০ গ্রাম রুপার গয়না রয়েছে।এলভিস প্রিসলির ভক্ত ছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী। প্রিসলি সোনার হার পরতেন। সেটা দেখেই উৎসাহিত হন বাপ্পি। প্রিয় গায়ককে দেখে তরুণ বাপ্পি ইচ্ছা পোষণ করতেন, যদি কোনো দিন সফল হন, তাহলে তিনিও গয়না পরবেন। পরে সত্তর দশকে সফলতার মুখ দেখতে থাকেন। তখন কিছুটা স্বর্ণ ব্যবহার করলেও, পরে আশির দশকের পর থেকে নিয়মিত সোনা ও রুপার ব্যবহার শুরু করেন। তবে এসব গয়না নিয়ে অনেকেই নানা রকম সমালোচনা করতেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'একসময় মানুষ ভাবত, আমি সবাইকে দেখানোর জন্যই সোনার গয়না পরি; কিন্তু সেটা ঠিক নয়। সোনা আমার কাছে সৌভাগ্যের বাহক, আমার এগিয়ে যাওয়ার সাহস।' মঙ্গলবার মধ্যরাতে মুম্বাইয়ের জুহুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। গত বছর এপ্রিল মাসে তাঁর করোনা ধরা পড়ে। সেই সময় মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী। কিছুদিন পর সুস্থ হয়ে বাড়িও ফেরেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় (ওএসএ) আক্রান্ত হয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
2
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুটি ওয়ান শুটারগানসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম রাকিবুল ইসলাম ওরফে শান্ত (২৮)। তিনি একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী বলে আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র্যাব।র্যাব-৫ এর রাজশাহীর মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের একটি দল এই অভিযান চালায়।র্যাব জানায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাঘার গোকুলপুর গ্রামের আমবাগানে অস্ত্রসহ রাকিবুলের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। এরপর র্যাব সদস্যরা অভিযানে গেলে রাকিবুল পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে দুটি ওয়ান শুটারগান পাওয়া যায়।র্যাব আরও জানায়, এ ব্যাপারে রাকিবুলের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। আসামি রাকিবুলের বাড়ি রাজশাহীর বেলপুকুর থানার ছোটধাদাস গ্রামে। তিনি একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী।
6
সাধারণ মানুষের মতো তারকার হৃদয়ও কাঁপে ভালোবাসার জন্য। শুধু ব্যক্তিজীবনেই নয়, ভালোবাসার বিস্তার গণমাধ্যমজুড়ে। গান, নাটক, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন- সবখানেই ভালোবাসাবাসি। চারপাশে জয়জয়কার শুধু ভালোবাসার। ভালোবাসা- এক এমন অনুভব, যা পরিভ্রমণ করায় কল্পলোকে। ভবিষ্যতের দৃশ্যপট আঁকতে শেখায় স্বপ্নের রঙতুলিতে। প্রেমিক-প্রেমিকারা তাই নকশিকাঁথার মতো বুনে চলেন প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ, যার পরতে পরতে মিশে থাকে কান্না-হাসির অজস্র গল্প। সেসব গল্পের আলোকেই যুগ যুগ ধরে বিশ্বব্যাপী চলছে সঙ্গীত, টেলিছবি ও চলচ্চিত্রের নির্মাণ। ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই দিবসটি ঘিরে এদেশেও আয়োজনের কমতি নেই। সেসব আয়োজনে একাত্ম হয়ে যাওয়া ছাড়াও মুঠোফোনে চিঠি, ফুলের তোড়া কিংবা অন্য কোনো উপহার নিয়ে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে দেখা করা যেন প্রেমিক-প্রেমিকাদের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখটি শুধু একটি দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, হয়ে উঠেছে ভালোবাসা প্রকাশের এক অনন্য উৎসব। সেই উৎসব উপলক্ষে একাধিক নাটক, টেলিছবিতে ভালোবাসার গল্প তুলে ধরেছেন তারকা জুটি আফরান নিশো ও মেহজাবিন চৌধুরী। এই জুটির কাছে তাই প্রশ্ন ছিল, তাদের কাছে ভালোবাসার সংজ্ঞা কী? এর উত্তরে আফরান নিশো বলেন, 'ভালোবাসার সংজ্ঞা এক কথায় তুলে ধরা সম্ভব নয়। এটা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ- এমনও বলা যাবে না। নিজের প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই নিজস্ব ভালোলাগা প্রাধান্য পায়। নির্দিষ্ট কোনো কিছু বা কাউকে একান্ত আপন করে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা বড় হয়ে ধরা দেয়। তখন যে অনুভূতি মনকে নাড়া দেয়- সেটাকেই ভালোবাসা বলতে চাই।' মেহজাবিনের কথায়, 'ভালোবাসা হলো একপলকের মুগ্ধতা, যার রেশ ধরে চলে স্বপ্নের বুনন।' নিশো ও মেহজাবিনের এ কথায় স্পষ্ট যে যারা মানুষের স্বপ্ন ও কল্পনায় বসবাস করেন সেই তারকাদের ভালো লাগা ভালোবাসার অনুভূতি অন্য আট-দশটা সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা নয়। যে জন্য এই দুই তারকার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পর্দায় তারা যেসব ভালোবাসার গল্প তুলে ধরেন, নানা চরিত্রের মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে আঁচড় কাটেন, সেখানে কখনও বাস্তব জীবনের ছায়া খুঁজে পান কি-না? এর জবাবে নিশো বলেন, 'শিল্পী বা তারকারা যে কাজটি করেন, সেখান চেনাজানা মানুষের ছায়া না থাকলে তা দর্শকের মনে আঁচড় কাটত না। এমনও হয়, চরিত্রই নানাভাবে দর্শককে কখনও কখনও প্রভাবিত করে। আবার কখনও চলমান জীবনের ঘটনা গল্পের মতো পর্দায় উঠে আসে, যেখানে দর্শক তার চেনাজানা মানুষের ছায়া খুঁজে পান। ভালোবাসার গল্পও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানেও মানুষের অনুভবের বিষয়টি ঘটনাবহুল হয়ে প্রকাশ পায়।' এ কথার রেশ ধরে মেহজাবিন বলেন, 'অনুভবের বিষয়টি জাত, ধর্ম, বর্ণ, পেশা কিংবা অর্থের মাপকাঠিতে কমে বা বাড়ে না। তাই মানুষের অনুভূতির প্রকাশে বিষয় সবারই প্রায় একই রকম। প্রিয়জনের জন্য হৃদয় কাঁপে কখনও, আবার রক্তক্ষরণ হয়। দূরত্বও কখনও ভালোবাসা জোরালো করে তোলে, কখনও আবার মনের ক্যানভাস থেকে মুছে ফেলতে চায় প্রিয়মুখের ছায়া। ভালোবাসা এমনই। অভিনয় করতে গিয়ে উপলব্ধি করেছি, ভালোবাসার প্রকাশ একেক জনের একেক রকম। কিন্তু অনুভূতির জায়গাটা সবারই এক।' নিশো ও মেহজাবিনের কথায় বোঝা গেল, ভালোবাসার সংজ্ঞা যতভাবেই দেওয়া হোক না কেন, এর অস্তিত্ব হৃদয়ের অনুভবজুড়ে। কিন্তু এ কথা মেনে নিলেও একটা প্রশ্ন থেকেই যায়- হৃদয়ের অনুভূতিকে নিয়ে যুগের পর যুগ কীভাবে এত গল্প লেখা হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে সঙ্গীত মূর্ছনা, চিত্রকলা, নাটক, টেলিছবি, চলচ্চিত্র-সব জায়গাতেই কেন ভালোবাসার জয় জয়কার? এর উত্তরে নিশো বলেন, 'কোনো কিছুই ভালোবাসার বাইরে নয়। ভালোবাসাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। এটাই চিরন্তন সত্য। প্রেমিক-প্রেমিকা শুধু নয়, ভালোবাসা ছড়িয়ে আছে সর্বত্র। আমি আমার পরিবারের প্রতিটি মানুষকে দারুণ ভালোবাসি। ভালোবাসা মানে যে শুধু একজনকে ভালোবাসতে হবে, এটা আমি মনে করি না। ভালোবাসার বন্ধন প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্ন রকম। কখনও তা রক্তের সম্পর্কের, কখনও বন্ধুত্বের, কখনও আবার একান্ত আপনজন হয়ে ওঠার। যেজন্য যুগ যুগ ধরে ভালোবাসার প্রকাশ নানাভাবে তুলে ধরা হয়েছে নানা মাধ্যমে। কখনও গানে, কখনও চিত্রকলায়, কখনও গল্প-উপন্যাস, আবার কখনও তা সেলুলয়েডের পর্দায়। সময়ের সঙ্গে পৃথিবীর রূপ, সমাজ ও শাসন ব্যবস্থা, রীতিনীতি অনেক কিছুই বদলেছে। সেইসঙ্গে ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হয়েছে নানা ঘটনা, যার আদ্যোপান্ত ঘটলে দেখা যাবে, একান্ত নিজের করে কোনো কিছু বা কাউকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সেসব ঘটনার জন্ম। মনের আকুতি, প্রিয়জনকে নিজের করে পাওয়া- এই বিষয়গুলো হয়ে উঠেছে গান, নাটক, টেলিছবি নয়তো চলচ্চিত্রের বিষয়। দর্শক-শ্রোতার মনে সেসব আয়োজন দাগ কেটেছে বলেই ভালোবাসার গল্প, গান, নাটক, চলচ্চিত্রের আবেদন কখনও ম্লান হয়ে যায়নি। নিশোর এ কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেন মেহজাবিন। তাদের এ কথা যে অবান্তর নয়, তার বহু প্রমাণ খুঁজলেই পাওয়া যাবে। নিশো-মেহজাবিন জুটির নাটক, টেলিছবিগুলো দেখলেও প্রমাণ পাওয়া যায় ভালোবাসার গল্প কতভাবে পর্দায় উঠে এসেছে। 'অ্যাপয়েনমেন্ট', 'ঋণী', 'রেড রোজ', 'তুমি না', 'দ্বৈরথ', 'রঙবদল', 'নীরবতা', 'নেগেটিভ পজেটিভ'সহ আরও বেশ কিছু টেলিছবিতে ও নাটকে নানা চরিত্রে তারা দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন ভালোবাসার ভিন্ন ভিন্ন গল্প। এবারের ভালোবাসা দিবসেও দর্শক দেখতে পাবেন এ জুটির আরও কিছু নাটক, টেলিছবি, যার গল্পগুলো আবার প্রমাণ করে দেবে ভালোবাসার কাছে সবকিছুই ম্লান। যেজন্য শতাব্দী পেরিয়েও থেমে থাকবে না ভালোবাসার গল্প, কবিতা লেখা; সুর-সঙ্গীতের আয়োজন আর চিত্রকলা, নাটক, সিনেমায় ভালোবাসার দৃশ্যপট তুলে ধরা।
2
নাগরিক সংগঠন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক হয়নি-এমন ঘটনা বিরল। সংস্থাটির দুর্নীতির সূচক, পার্লামেন্টে সময়ের অপচয়, পুলিশের দুর্নীতির মতো বিষয়গুলোর কথা এখানে স্মরণ করা যায়। গত তিন দশকে তাদের দুর্নীতির সূচককে ঘিরে কত রাজনীতিই না হয়েছে। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য যে তাদের সাম্প্রতিক একটি বিবৃতি নিয়ে কোনো আলোচনাই নেই। ১২ ডিসেম্বরের ওই বিবৃতিতে টিআইবি 'প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সব কমিশনারের আশু অপসারণ ও নির্বাচন কমিশনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই' উল্লেখ করে বিষয়টিতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। কারণ হিসেবে টিআইবি বলেছে, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেভাবে একের পর এক কেলেঙ্কারির জন্ম দিচ্ছে, তা অভূতপূর্ব ও গোটা জাতির জন্য বিব্রতকর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে নিশিরাতের নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তির আগে এই বিবৃতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কিংবা সরকার কোনো প্রতিবাদ করেনি। কমিশন এবং সরকারের নীরবতার কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া অন্যায় হবে না যে এসব গুরুতর অভিযোগের কোনো জবাব তাদের কাছে নেই। অবশ্য, বিরোধী দলগুলোও যে ট্রান্সপারেন্সির বক্তব্যের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে, তা-ও নয়। বিরোধী দলগুলো সম্ভবত দম হারিয়ে ফেলায় এ বিষয়ে নীরবতা পালনের বিকল্প কিছু ভাবতে অক্ষম। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় একজন কমিশনারের অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের খবরের পটভূমিতে টিআইবি এই বিবৃতি দেয়। তবে বিবৃতিতে তারা বলেছে, এই নির্বাচন কমিশন দেশকে এক অভূতপূর্ব নির্বাচনের দায় চাপিয়ে দিয়েছে, যার পরতে পরতে অনিয়মের অভিযোগ সত্ত্বেও কোনো তদন্ত হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা এবং সচিবালয়ের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণের নামে জনগণের করের টাকা লুট করেছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তারপরও ছিল অস্বস্তিকর নীরবতা। ব্যর্থতা এবং নৈতিক স্খলনের দায় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা অন্য কমিশনাররা যে সরে যাবেন না, সেটা এত দিনে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। টিআইবি রাষ্ট্রপতির প্রতি এই বিতর্কিত ব্যক্তিদের দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা ও খোলামেলা পক্ষপাতে একমাত্র ক্ষমতাসীন দল ছাড়া সবারই রয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। এমনকি তাদের জোটসঙ্গীদের অনেকেই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে একাধিকবার মুখ খুলেছেন। একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে জোট শরিক রাশেদ খান মেনন 'রাষ্ট্রযন্ত্রের অংশ' কোনো এক 'অশুভ শক্তি' নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে অভিযোগ করে নির্বাচনকে তার যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আরেক শরিক জাসদ সংসদেই রাতের বেলায় ভোট হওয়ার কথা বলে তার জন্য 'অতি উৎসাহীদের' দায়ী করেছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অবশ্য এ কথাও সত্য যে দেশের প্রধান বিরোধী দল এতটাই রক্তশূন্যতায় ভুগছে যে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর সামর্থ্যও তারা হারিয়ে ফেলেছে। গত এক বছরে এই কমিশনের পদত্যাগের দাবিটাও তারা যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেনি। মানুষের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিকে অগ্রাধিকার না দিয়ে দলটি বরং একের পর এক নির্বাচনী প্রহসনে অংশ নিয়ে চলেছে। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটবে, এমন আশা করা কঠিন। ভোটের পবিত্রতা রক্ষায় ব্যর্থতার দায় নিয়েও তাঁরা কী আশায় নাগরিকদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন, তা-ও বোঝা ভার। নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ নিয়ে তাঁরা যে একটা কার্যকর আইনি লড়াই করতে পেরেছেন, তা-ও নয়। রকিব কমিশনের অধীনে ঢাকার গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও যে কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের উৎসব হয়েছিল, তা নিয়ে বিএনপি আইনি লড়াইয়ের কথা বলেছিল। ওই নির্বাচনের মেয়ররা তাঁদের মেয়াদ পূরণ করেছেন, কিন্তু নির্বাচনী বিরোধের আইনগত প্রতিকারের কোনো চেষ্টাই দেখা গেল না। ভোটের পবিত্রতা রক্ষায় ব্যর্থ কমিশন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন ব্যবস্থার যে সর্বনাশ সাধন করেছে, তার স্বীকারোক্তিগুলো আমরা ধীরে ধীরে তাদের মুখ থেকেই শুনেছি। শুরুটা অবশ্য করেছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। সেটাও ৩০ ডিসেম্বরের মহড়া হিসেবে অনুষ্ঠিত খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ দিয়ে। পরে উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতির সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনাররা একটু একটু করে মুখ খুলতে শুরু করেন। ৮ মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তাদের এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বলেন, যদি ইভিএমে ভোটের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে আর আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না। সেদিন তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে কারা সে জন্য দায়ী, তাদের কী করা যাবে...সেই দীক্ষা-শিক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা, যোগ্যতা আমাদের কমিশনের নেই এবং সেভাবে বলারও সুযোগ কোনো নেই যে কী কারণে হচ্ছে, কাদের কারণে হচ্ছে, কারা দায়ী। (বিডিনিউজ২৪.কম, ৮ মার্চ ২০১৯)। সেই অনুষ্ঠানেই কমিশনার শাহাদাত হোসেন বলেছিলেন যে উপজেলা নির্বাচনে আগের রাতে ভোট চলবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশি ভোট বিশেষণ চালু হওয়ার বিষয়টি যে মোটেও ভিত্তিহীন নয়, এগুলো তারই সাক্ষ্য। নির্বাচনের ছয় মাস পর গত জুলাইয়েও নির্বাচন কমিশন যখন তার ওয়েবসাইটেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায়, ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোট পড়েছে শতভাগ। তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সংবাদমাধ্যমগুলোকে বলেন, শতভাগ ভোট পড়া স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তবে আগে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি। গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর আর কিছু করার থাকে না (ডয়চে ভেলে, ১০ জুলাই, ২০১৯)। গত এক বছরে কমিশনের অন্য সদস্যরাও কিছুটা সরাসরি এবং কিছুটা পরোক্ষে নানা অনিয়মের কথা বলতে গিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছেন। সম্প্রতি মাহবুব তালুকদার আবারও বলেছেন, নির্বাচন কমিশন আইনতভাবে স্বাধীন হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে সেই স্বাধীনতা নির্বাচন-প্রক্রিয়ার কাছে বন্দী। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে বলেছেন, 'নির্বাচন যদি গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হয়, তাহলে গণতন্ত্রের পদযাত্রা অবারিত করতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হতে হবে। অবৈধভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি বা গণতন্ত্রের প্রতি কোনো কমিটমেন্ট থাকে না।' প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময়ে বলেছেন, 'নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমরা নেব। তাঁরা ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন, সেই নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করব। তাই আহ্বান করব, ভোটাররা যেন ভোট দিতে আসেন।' তাঁর এই কথাতেই স্বীকারোক্তি মেলে অতীতে তাঁরা ভোটারদের নিরাপত্তাও দেননি, নির্বাচনও নিরপেক্ষভাবে করতে পারেননি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন-বিকৃতির পটভূমিতে উপজেলা নির্বাচন আয়োজনের সময়ে ২ মার্চ বাম জোট এক বিবৃতিতে 'জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করে নির্বাচনের নামে তামাশা বন্ধ করার' আহ্বান জানিয়ে বলেছিল, ভোটের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। তবে বিএনপি ও তার জোট সহযোগীদের মতোই বাম জোটও নির্বাচন ব্যবস্থার পবিত্রতা ও তার প্রতি জন-আস্থা পুনরুদ্ধারে কোনো অর্থবহ কার্যক্রম গ্রহণে সক্ষম হয়নি। ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারে যে ধরনের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ছিল, তা অর্জনে বিরোধী দলগুলোর এই ব্যর্থতার দায় কেউ গ্রহণ করুক বা নাই করুক, নির্বাচন কবে আবার বিশ্বাসযোগ্য হবে, তার কোনো উত্তর তাদের কাছে নেই। প্রশ্ন হলো, নির্বাচন ব্যবস্থায় আস্থা পুনরুদ্ধারে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতার পটভূমিতে নাগরিক সমাজের তরফে যে উদ্বেগ ও দাবি জানানো হয়েছে, তার আলোকে আদৌ কি কোনো নাগরিক আন্দোলন গড়ে উঠবে? কামাল আহমেদ: সাংবাদিক
8
কালিকাপুরে আবদুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন (১৯)। করোনাকালে কলেজ বন্ধ থাকায় সে বাবা আবদুল মোমিনের ব্যবসার কাজে সহযোগিতা করে আসছিল। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু তিন মাস আগে হঠাৎ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে আলাউদ্দিন। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ায় তাকে ঘরের ভেতরে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। ঘরের চারদেয়ালের মধ্যেই কাটছিল তার জীবন। সেই ঘরেই গতকাল মঙ্গলবার রাতে আগুনে পুড়ে প্রাণ গেছে আলাউদ্দিনের। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের খারেরা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে খারেরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আলীয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মো. মোমিন মিয়ার বশতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে দুটি ঘর ভস্মীভূত হয়। ঘরে থাকা নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও মালামাল আগুনে পুড়ে যায়।বুড়িচং থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঘরের বৈদ্যুতিক মিটার থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনে পুড়ে আলাউদ্দিন নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।' দমকলকর্মী জহিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন প্রায় নিভিয়ে ফেলে। আগুনে দুটি ঘর পুড়ে যায়। ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় আজ বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াছমিন ও বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল করিম। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও খাবার প্রদান করা হয়।
6
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল খুন হওয়ার পর মৃত্যুজনিত কারণে পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এই ওয়ার্ডে সোহেলের উন্নয়নকাজ সমাপ্ত ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কাজ করতে চান তাঁর স্ত্রী, ভাইসহ আরও অনেকে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে এরই মধ্যে নিজেদের জানান দিচ্ছেন তাঁরা।তাঁদের মধ্যে নিহত সোহেলের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রোনা, ভাই যুবলীগ নেতা সৈয়দ রোমন, আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ মাহমুদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. জহিরুল ইসলামসহ অনেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হতে চান।নিহত সোহেলের অসমাপ্ত কাজ শেষ করাসহ একটি আধুনিক ওয়ার্ড গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে রয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে নিহত কাউন্সিলর সোহেলের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রোনা বলেন, 'একটি অবহেলিত ও অনুন্নত ওয়ার্ডে উন্নয়নকাজ করেছেন আমার স্বামী। আমার স্বামীর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করে একটি মডেল ওয়ার্ড করতে চাই। ওয়ার্ডের উন্নয়ন বজায় রাখতে ওয়ার্ডবাসী আমাকে কাউন্সিলর হিসেবে চাচ্ছেন।'জাপান শাখা আওয়ামী লীগের নেতা মো. হানিফ মাহমুদ বলেন, 'আমার বাবা মরহুম ইদ্রিস মিয়া এই ওয়ার্ডে চারবার কমিশনার ছিলেন। তিনি অবহেলিত এ অঞ্চলের শিক্ষার আলো ছড়াতে, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এলাকা গড়ার জন্য কাজ করে গেছেন। সবাইকে একটি সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ করে সুন্দর ওয়ার্ড গড়তে চাই।'ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া বলেন, 'শুরুতেই এই ওয়ার্ডে আমার নির্বাচন করার কথা ছিল। কাউন্সিলর সোহেলকে সমর্থন দিয়ে আমি তখন করিনি।ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, 'আমার পরিবারে জনপ্রতিনিধি ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আমিও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।' নিহত কাউন্সিলর সোহেলের ছোট ভাই ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা সৈয়দ রোমন বলেন, 'আমি সব সময় ভাইয়ের সঙ্গে থেকে ওয়ার্ডবাসীর সেবা করেছি। ভাইয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের তদারকি করেছি। ওয়ার্ডবাসীর দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। ওয়ার্ডবাসীর চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এই ওয়ার্ডে নির্বাচন করতে চাই।'ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, 'মাদক ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হন কাউন্সিলর সোহেল। আমি ওয়ার্ডের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড করতে কাজ করতে চাই।'কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সফিকুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলর সোহেল নিহত হওয়ায় এ পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এই ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর নেহার বেগমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় যেহেতু হয়েছে, তাই এই ওয়ার্ডে আর উপনির্বাচন হচ্ছে না। মূল নির্বাচনই হবে।
6
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩২ রানে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এবার নারী বিশ্বকাপের ১২তম আসর বসেছে নিউজিল্যান্ডে। ডুনেডিনে আজ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রথম ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করেছে নিগার সুলতানারা। টাইগ্রেস বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪৯.৫ ওভারে ২০৭ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। বল হাতে লাল সবুজের প্রতিনিধিদের হয়ে জাহানারা আলম ২৮ রানে ২ উইকেট, ফারিয়া আক্তার তিশা ৩৫ রানে তিনটি, রিতু মনি ৩৬ রানে ২টি উইকেট লাভ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ২০৭ রানের জবাবে খেলতে নেমে ৪৯.৩ওভারে ১৭৫ রানের গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। ফলে ৩২ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়ারা। ২০৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে শামীমা সুলতানা ও শারমিন আক্তার ৬৯ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। ৫০ বলে ২৭ রান করে শামীমা সাজঘরে ফিরলেন লড়াই চালিয়ে যান শারমিন। ১১৩ রানের মাথায় বাংলাদেশের মেয়েরা ছয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। দলের চরম বিপদের সময় রিতু মনিকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে জুটিতে ৫৩ রান যোগ করেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। এই জুটির দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল টাইগার সর্মথকরা। ৩৮ বলে ২৭ রান করে রিতু মনি সাজঘরে ফিরে গেলে সে স্বপ্ন মলিন হয়ে যায়। রিতু মনি আউট হলে বেশিক্ষন ক্রিজে টিকতে পারেননি জ্যোতি ২৯ রান করে আউট হন তিনি। প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে আয়াবঙ্গা খাখা ৩২ রান দিয়ে ৪ উইকেট দখল করেন।
12
চট্টগ্রামের রাউজানে একটি অজগর উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের উনসত্তর পাড়ার শাহাদুল্লাহ্ কাজীর বাড়ির পাশের কবরস্থান থেকে ৮ ফুট লম্বা ওই অজগরটি উদ্ধার করা হয়। পরে সাপটি রাউজানের গিরি ছায়া পর্যটন এলাকার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন কবরস্থান পরিষ্কার করার সময় অজগরটি দেখতে পেয়ে এলাকার লোকজনকে খবর দেয়। পরে এলাকার লোকজন সাপটিকে উদ্ধার করেন। প্রায় ৮ ফুট দৈর্ঘ্যের ওই সাপটির ওজন প্রায় ১৪ কেজির কাছাকাছি হবে বলেও জানান স্থানীয়রা।এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাজি আমির হোসেন জানান, এলাকার লোকজন দেখতে পেয়ে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছেন বলে জানতে পারি। পরে সাপটি রাউজানের গিরি ছায়া পর্যটন এলাকার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে দর্শনার্থীদের জন্য অবমুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
7
ইমরুল কায়েস নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থী ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত ৩ টায় নিজ বাসায় ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার বিষয়টি ইমরুলের বাবা শহীদুল্লাহ নিজে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, 'বৃহস্পতিবার রাত ৩ টার দিকে নিজ রুমে গলায় ফাঁস দেয় ইমরুল। ঘটনার কিছুদিন আগে তার মায়ের কাছে মোটরসাইকেল চেয়েছিলো সে। কিনেও দেয়া হয়েছিল সেটা। কিন্তু ঘটনার আগেই সে একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা চেয়েছে। কিন্তু মধ্য রাতে ক্যামেরা কিনতে যাওয়া যাবে না বলে মা তাকে বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এরপর সে রুমের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেয়। পরে রুমের দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।' আরিয়ান নামে তার এক সহপাঠীর সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইমরুল মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিল। রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারেও ছিল কিছুদিন। এরমধ্যে বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলে সহপাঠীদের সাথে কথা বলে ভর্তিও হয়েছে সে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি মুসতাক আহমেদ বলেন, 'বিষয়টি আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তার পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এই ধরনের মানসিক হতাশা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে তাদের নিয়ে বসা, ক্লাস করা উচিত, যোগ করেন তিনি।' বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
1
এক নারীর সাথে আপত্তিকর আচরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাজধানীর সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চিত্ত রঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী নারী নিজেই। শনিবার সন্ধ্যায় সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. মুরাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, একজন নারীর একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে ভুক্তভোগী নারী থানায় এসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চিত্ত রঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান ওসি। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া দুই মিনিট ছয় সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, চিত্ত রঞ্জন দাস আনুমানিক ২০ থেকে ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে আপত্তিকর আচরণ করছেন। জাপটে ধরার পর ওই তরুণী চিত্ত রঞ্জন দাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় ওই কক্ষে থাকা অন্য কেউ তা গোপনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
9
খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামে মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িঘরে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। একইসঙ্গে দোকানপাটে হামলা ভাঙচুর, লুঠপাট, মারধর এবং সাভারে অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্ বর্মনকে নৃশংসভাবে হত্যা, পিরোজপুরের নাজিরপুরে তন্ময় তরুণয়াকে হত্যাসহ বগুড়া ও টাঙ্গাইলে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ শুক্রবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানান হয়। মানববন্ধনে এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিধান বিহারী গোস্বামী, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়, সহসভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয়কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, যুগ্ম মহাসচিব শ্যামল কান্তি নাগ, অ্যাডভোকেট লাকি বাছাড়, আর্ন্তজাতিক সম্পাদক নরেশ হালদার, অর্থসম্পাদক দীলিপ মণ্ডড প্রমুখ। সংগঠনটির মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্ প্রামাণিক বলেন, করোনা দুর্যোগের মধ্যেও দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বস্তি নেই। গত ৭ আগস্ট খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার শেয়ালী গ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্ধ শতাধিক বাড়িঘর, মন্দির ও প্রতিমা এবং দোকানে ভাঙচুর করা হয়। তারা শুধু ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি লুঠপাট করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। মহাজোটের নেতারা সাভারে অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন, পিরোজপুরের নাজিরপুরে তন্ময় তরুয়াকে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের জমি দখল, দেশত্যাগের হুমকি, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘটনার আসামিদের মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
6
যমজ বোন। তাদের খরচ ১২০ টাকা করে সর্বমোট ২৪০ টাকা। আর তাতেই মিলল সাফল্য। পুলিশে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারা চাকরি পেয়েছেন। একই সঙ্গে খেলাধুলা, লেখাপড়া করে তারা বেড়ে ওঠেন। এখন একসঙ্গে ফারজানা জাহান ও ফারহানা জাহান পুলিশে চাকরি পাবেন, এটা স্বপ্নেও ভাবেননি। টাকা ছাড়াই চাকরি, এ কথা যেন বিশ্বাস করতে পারছে না এলাকাবাসীও। ফারজানা জাহান ও ফারহানা জাহান সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকড়াবাদ গ্রামের আসাদুল ইসলামের মেয়ে। তাদের মা রেহেনা পারভীন গৃহিণী। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান গত বৃহস্পতিবার ২০২২ সালের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পরীক্ষায় সাতক্ষীরার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে সাধারণ নারী কোটায় মেধাতালিকায় ফারজানা জাহান চতুর্থ এবং ফারহানা জাহান পঞ্চম হয়েছেন। যমজ বোনের চাকরি পাওয়ায় পরিবারটিতে বইছে আনন্দের বন্যা। তবে সন্তানদের বেড়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন মা রেহেনা পারভীন। তিনি বলেন, আমি দর্জির কাজ করি। ওই টাকায় চলে সংসার। মেয়েদের লেখাপড়াও শিখিয়েছি। আমার তিন মেয়ে। বড় মেয়ে আফসানা জাহান সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে গণিতে অনার্স পড়ছে। ছোট দুইটা যমজ। ২০২০ সালে গোয়ালডাঙ্গা ফকিরবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তারা জিপিএ ৪.০৬ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে তারা আশাশুনি মহিলা কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। রেহেনা পারভীন জানান, তাদের পরিবারে আগে এত দুর্দিন ছিল না। তার স্বামী আসাদুল ইসলাম বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। দেশে তখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ ছিল। ২০১৩ সালের নভেম্বরে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা তার স্বামীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়, মুখ থেঁতলে দেয়। এরপর মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। সেই থেকে আজও তার চিকিৎসা চলছে। এখন চলাফেরা করতে পারলেও কোনো কাজ করতে পারেন না। তিনি বলেন, দর্জির কাজ থেকে উপার্জিত অর্থ ও সরকারি বিভিন্ন সহায়তায় সংসার চলে। দুই মেয়ের পুলিশে চাকরি হওয়ায় আমরা খুব খুশি। সংসারে আর অভাব-অনটন থাকবে না। ফারজানা জাহান বলেন, ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল পুলিশ হব। এখন পুলিশে চাকরি পেয়েছি। এবার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব। ফারহানা জাহান বলেন, পুলিশে আবেদন করার পর অনেকেই বলেছিল, চাকরি পেতে টাকা লাগবে। কিন্তু আমাদের টাকা নেই। তবুও মাঠে গেলাম। পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছি। টাকা ছাড়াই আমরা পুলিশে চাকরি পেয়েছি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। বাবা আসাদুল ইসলাম বলেন, আমি এখন কোনো কাজকর্ম করতে পারি না, বাড়িতেই থাকি। গরিব পরিবারে সরকারি চাকরি খুব একটা হয় না। সেখানে দুই মেয়ে একসঙ্গেই পুলিশে চাকরি পেয়েছে, এর থেকে আনন্দের কিছু হতে পারে না। গ্রামের মানুষের ধারণা- ঘুষ ছাড়া পুলিশে চাকরি হয় না। কিন্তু এখন আমার পরিবারের সেই ধারণা পাল্টে গেছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ২০২২ সালে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগে সাতক্ষীরায় ৫৫ জন নতুন পুলিশ সদস্য পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ নারী কোটায় আটজন ও পুরুষ ৪৭ জন। পুরুষদের মধ্যে সাধারণ কোটায় ২৯, পোষ্য কোটায় চার ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন ১৪ জন। এছাড়া নারী-পুরুষ মিলে আটজনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত ৫৫ জনের মধ্যে যদি কেউ পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিকেল থেকে বাদ পড়েন, তবে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ফারহানা জাহান ও ফারজানা জাহান সাধারণ নারী কোটায় পুলিশ সদস্য পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। যারাই প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন সবাই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছেন।
6
ভারতে কৃষকদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার বিতর্কিত কৃষি আইন সংশোধনের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা ফিরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সেইসঙ্গে আবারও জানিয়ে দিয়েছেন, সংশোধন নয়, নতুন এই কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে সরকারকে। নয়তো আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বুধবার আন্দোলনরত কৃষক সংগঠনগুলোর কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠায় কেন্দ্র সরকার। তাতে বলা হয়, নতুন কৃষি আইন নিয়ে সব রকম ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত সরকার। শুধু তা-ই নয়, কৃষকদের কথা ভেবে আইন সংশোধন করতেও সম্মত তারা। কিন্তু এই প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দেন কৃষকরা। খবর এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষকরা এই পাঁচ দফা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তাদের দাবি না মানা হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন করার কথা বলেছেন। আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার কথাও জানিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, কৃষকদের ক্ষোভ মেটাতে পাঁচ দফা প্রস্তাব রেখেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। বুধবার সকালে পাঁচটি প্রস্তাব লিখিত আকারে কৃষকদের কাছে পাঠানো হয়। এরপর এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনায় বসেন কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে কৃষকদের ভাষ্য, কেন্দ্রের প্রস্তাব আমরা আলোচনা করে দেখতে পারি। কিন্তু এই কৃষি আইন প্রত্যাহার করতেই হবে। নয়তো আন্দোলন চলবেই। প্রস্তাবগুলো হলো: ১. ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাতিল করা হবে না, কেন্দ্র এই নিয়ম মেনে চাষিদের কাছ থেকে ফসল কিনবে। ২. কৃষিমান্ডি আরও উন্নত ও মজবুত করা হবে। ৩. চাষিদের কাছ থেকে ফসল কিনতে হলে ব্যবসায়ীদের নাম নথিভুক্ত করতে হবে। ৪. চুক্তিভিত্তিক চাষের ক্ষেত্রে সমস্যা হলে সাধারণ আদালতে যেতে পারবেন চাষিরা। ৫. ফসলের আগাছা জ্বালানো সম্পর্কিত কঠোর আইনে পরিবর্তনের আশ্বাস। নতুন কৃষি আইনের প্রতিবাদে দেশটিতে টানা ১৪ দিন ধরে চলছে কৃষকদের বিক্ষোভ। যত দিন যাচ্ছে, বিষয়টি ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে মোদি সরকারের ওপর। এরমধ্যে সরকার নিজেদের অবস্থান থেকে সরে কিছুটা নরমও হয়েছিল প্রস্তাব দিয়ে। কিন্তু এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে পারে। কৃষকরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের আল্টিমেটাম দিচ্ছেন।
3
ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবন ক্রেমলিন জানিয়েছে, ইউক্রেনের একাধিক বড় শহরে নিকটবর্তী এলাকাগুলো রাশিয়ার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এখন চাইলেই রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বড় শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।শহরগুলোর নিকটবর্তী হলেও রাশিয়ার বাহিনী বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতেই রুশ প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা মেনে শহরগুলো এখনই দখল করা থেকে বিরত রয়েছে উল্লেখ করে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, 'পুতিন বড় শহরগুলোতে যে কোনো হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তাতে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হবে।'পেসকভ আরও বলেন, 'তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বড় শহরগুলো (যা এরই মধ্যে সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে রেখেছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী) সেগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দখল করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।'পেসকভ বলেন, 'মানবিক করিডরের জন্য ব্যবহৃত এলাকাগুলোর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসবে না।'এ দিকে, চীনের কাছে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা চায়নি বলে জানিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনে লক্ষ্য যথাসময়ে ও সম্পূর্ণরূপে অর্জনে রাশিয়ার পর্যাপ্ত সামরিক ক্ষমতা রয়েছে। সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবন ক্রেমলিন বিষয়টি জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ বিবৃতিতে এই বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেছিলেন-রাশিয়া চীন থেকে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। তার জবাবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই বিবৃতি দেওয়া হলো।এর আগে, একই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন। দেশটি-ইউক্রেন যুদ্ধে চীন যে ভূমিকা পালন করছে সে সম্পর্কে 'বিভ্রান্তিমূলক তথ্য' ছড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছে। বেইজিং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য নিয়ে ইউক্রেন ইস্যুতে এসব বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে।সোমবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নিয়মিত বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এমন এক সময়ে চীনের পক্ষ থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হলো যখন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চীন-যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত দ্বয়ের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
3
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন এক নারী। নিহত নারীর নাম আনোয়ারা বেগম (২৮)। আজ শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের নতুন পাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।আনোয়ারা উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নলবনিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল্লাহর স্ত্রী।নিহতের স্বামী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, তাঁর স্ত্রী ৫-৬ দিন আগে চার সন্তানসহ তাঁর শ্যালিকার বাড়ি মানিকপুরে বেড়াতে যান। আনোয়ারার ভাই মো. আরিফ তাঁর ভগ্নিপতি মনির আহমদের বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা পান। পাওনা টাকা চাইতে গেলে মনিরের স্ত্রীর সঙ্গে আনোয়ারার কথা-কাটাকাটি হয়। আনোয়ারা মনির আহমদের বাবার কাছে তাঁর ভাই আরিফের পাওনা টাকা কখন দিবে জানতে চান। এ সময় মনিরের দুই ভাই জমির ও মিজানুর রহমান তেড়ে আসেন।মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, 'একপর্যায়ে দুজন মিলে দা দিয়ে অতর্কিতভাবে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা আনোয়ারাকে দা দিয়ে কোপ দেন। এ সময় আনোয়ার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পর তাঁকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।'খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন চকরিয়া থানার এসআই গোলাম সরোয়ার। তিনি বলেন, 'নিহত আনোয়ারার ঘাড়ে ধারালো দায়ের কোপের চিহ্ন রয়েছে।'চকরিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, 'পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে কাজ করছে। নিহতের পরিবার এজাহার দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা বাজারের হাইস্কুল রোডের প্রবেশদারের কালভার্টের একপাশ ভেঙে গেছে। ভেঙে যাওয়ার এক বছর পার হলেও সংস্কার করা হয়নি কালভার্টটি। এতে ঝুঁকি নিয়েই অপর পাশ দিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা।সরেজমিনে দেখা গেছে, কালভার্টটির এক পাশ ভাঙা। পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে কোনোমতে যাতায়াত করছেন। যেকোনো সময় বোঝাই মিনি ট্রাক বা ভ্যান উল্টে পড়ে যেতে পারে ভেঙে যাওয়া অংশে। এতে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।স্থানীয়দের অভিযোগ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এখনো সংস্কার করা হয়নি ভাঙা অংশটি। ফলে সড়কটিতে পূর্বে প্রতিদিন অনেক যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে অচল হওয়ার উপক্রম।স্থানীয় বাসিন্দা ইন্তাজ আলী বলেন, 'ব্যস্ততম এ সড়কটির কালভার্টটি প্রায় এক বছর আগে একাংশের ঢালাই ভেঙে যায়। এরপর থেকে এলাকাবাসী কোনো রকমে অপর পাশ দিয়ে চলাচল করে আসছে। কিন্তু বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বর্তমানে কালভার্টটি পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অপর অংশও ভেঙে যেতে পারে যেকোনো দিন।'ইন্তাজ আলী আরও বলেন, 'প্রতিদিন শত শত মানুষ উপজেলা সদরে চলাচল করাসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া সন্ধ্যার পরে অপরিচিত লোকজন এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ নিতেন তাহলে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না জনগণের।'পাটকেলঘাটার সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই জানান, জনগণের দুর্দশা লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি কালভার্টসহ রাস্তার কাজ শুরু হবে।তালা উপজেলা প্রকৌশলী রথীন্দ্রনাথ হালদার জানান, ব্যস্ততম সড়কটির ভাঙা অংশটির জন্য বরাদ্দ হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
6
তালেবানের দখলে থাকা আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে শনিবার হাজারো সরকারি সেনা গর্ভনর দপ্তরে জড়ো হয়েছিলেন। তবে তাঁরা তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নয়, উল্টো ক্ষমা চাইতে জড়ো হন তারা। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাতকে গত বৃহস্পতিবার দখল করে তালেবান। এরপর সেখানকার অন্যতম স্থানীয় কমান্ডার ইসমাইল খানকে আটক করে তালেবান। গত জুলাইয়ে হেরাতে যখন লড়াই তীব্র আকার ধারণ করে, তখন সম্মুখসমরে অংশ নেন এ আফগান কমান্ডার। তাঁকে 'লায়ন অব হেরাত' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। গভর্নর দপ্তরের ভেতরে তালেবান সদস্যরা সোফার ওপর বসা ছিলেন। কারও কারও হাতে ছিল মার্কিন সেনাদের ফেলে যাওয়া রাইফেল। কফির টেবিলের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা কাগজে নামের (যাঁরা ক্ষমা চেয়েছেন) তালিকা পর্যালোচনা করেছিলেন। এরপর একজন সেখানে থাকা নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে ক্ষমা করা হয়েছে, এমন নোট লিখছিলেন। কারও কারও জন্য এই ক্ষমা ছিল দীর্ঘমেয়াদি, আর কারও কারও জন্য কয়েক দিন মেয়াদি। একজন আফগান সেনা ওই কম্পাউন্ডে এএফপিকে বলেন, শহরের পতনের আগেই তাঁর ইউনিট আত্মসমর্পণ করে। এখন শুধু তিনি নিরাপত্তা চান। আহমেদ শাহিদি বলেন, 'শহরের বাইরে যাওয়ার জন্য আমি ক্ষমা পেয়েছি, এই মর্মে চিঠি নিতে এসেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি আমার জন্য নিরাপদ বসবাসের স্থান খুঁজে পাই।' তালেবান সদস্য নাজিবুল্লাহ কারোখি বলেন, প্রায় তিন হাজার ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'অন্যান্য প্রদেশ থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের তিন দিনের সাময়িক ক্ষমা প্রদর্শন চিঠি দেওয়া হয়েছে। যাতে তাঁরা নিজেদের প্রদেশে ফিরে যেতে পারেন। সেখানে গিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতনদের কাছ থেকে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমার অনুমতি নিতে হবে। তালেবানের হাতে আটক স্থানীয় কমান্ডার ইসমাইল খানের মুখপাত্র বলেন, তালেবানের সঙ্গে আলোচনার সাপেক্ষে তাঁকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তাঁদের মধ্যে কী চুক্তি হয়েছে, তা জানা যায়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে বলেন, 'শহরটিকে আর ধ্বংস হতে না দেখতে চাইলে আমাদের এই শহর ছাড়তে হবে।'
3
ঢাকা: মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গত কদিন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অনুশীলনে জুটি বেঁধে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং তো করেছেনই। কথা হলো এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বড় জুটির দেখা বাংলাদেশ পাবে কি?নিউজিল্যান্ডকে দুবার বাংলাওয়াশ, তারকাখচিত ধোনির ভারতকে উড়িয়ে সিরিজ জয়, পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকাকেও একই পথ দেখিয়ে দুর্দান্ত সিরিজ জয়-গত এক যুগে নিজের মাঠে কত ইতিহাসই লিখেছে বাংলাদেশ। সেখানে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার তুলনায় লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান যেন বড্ড মলিন। সিরিজ জয় দূরের স্বপ্ন, ওয়ানডেতে লঙ্কার বিপক্ষে মাঝেমধ্যে জেতাও বড় কঠিন! ঘরের মাঠে দুই দলের মধ্যে যে ১৭টি ওয়ানডে হয়েছে, তার মধ্যে ১৪ বারই বিজয়ের মুকুট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লঙ্কানরা।চেনা কন্ডিশন, হাতের তালুর মতো পরিচিত মাঠ, তবুও কুশাল পেরেরা-হাসারাঙ্গাদের বিপক্ষে সাকিবদের ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ, ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস না খেলতে পারা, বড় জুটি গড়তে না পারা। ঘরের মাঠে লঙ্কানদের পেলে যেন বড় রান করতে ভুলেই যান তামিম-সৌম্যরা! রান তো উঠছেই না, উইকেটে জুটির রসায়ন গড়তেও ব্যর্থ লিটনরা। এখনো লঙ্কানদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানই ছুঁতে পারেননি তিন অঙ্ক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে বাংলাদেশের দুজন ব্যাটসম্যান মিলেও শত রানের জুটি গড়াও এখনো স্বপ্ন। শত রানের জুটি গড়তে না পারলেও অবশ্য নব্বই রানের জুটি আছে তিনটি-৯৯, ৯৫, ৯১।জুটি বড় হয়নি, স্কোরবোর্ডও তাই সমৃদ্ধ হয়নি। সেটি বলছে লঙ্কানদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে একবারই তিন শর ওপর রান তুলতে পারার ইতিহাস। স্কোরবোর্ডে বড় রান উঠলে যে জেতা যায়, তারই প্রমাণ যেন ওই ওয়ানডেটা। ২০১৮-এর জানুয়ারিতে আগে ব্যাটিং করে ৭ উইকেটে ৩২০ রান করেছিল মাশরাফির দল। বড় লক্ষ্যের চাপ সামলাতে না পেরে সেদিন ১৫৭ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল দিনেশ চান্দিমালের দল।অথচ ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে দশের ভেতর থাকা প্রতিটি দলের বিপক্ষেই ঘরের মাঠে শত রানের জুটি আছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। ভারতের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষেই সাতবার শত রানের জুটি গড়েছেন মুশফিক-ইমরুলরা। চারটি শত রানের জুটি আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান-এই তিন দেশের বিপক্ষে একটি করে শত রানের জুটি থাকলেও নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আছে তিনটি করে। তবে সবচেয়ে বেশি আছে 'প্রিয়' প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।ধীরে ধীরে ক্রিকেট মানচিত্রে দুর্বল থেকে দুর্বলতম হতে থাকা জিম্বাবুয়ের দুর্বল বোলিং লাইনআপ যে তামিমদের কোনো পরীক্ষাই নিতে পারেনি, তারই প্রমাণ যেন তাদের বিপক্ষে ২১টি শত রানের জুটি! গত বছর লিটন-তামিম ওপেনিং জুটিতেই প্রায় তিন শ (২৯২) রান তুলে ফেলেছিলেন। অন্য দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি, শত রানের জুটি গড়া নিয়মিত ঘটনায় রূপ দেওয়া তামিমদের এবার 'লঙ্কা কুফা'টাও কাটাতে হবে। আর সেটি করতে হলে জমতে হবে জুটি।
12
খেলা চলাকালে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনার তামিম ইকবালকে গালি ও অশোভন অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালীন সময় এ ঘটনা ঘটে। তামিম ইকবালকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ ও অশোভন আচরণের অভিযোগে আটককৃত দর্শকের নাম হামিদুর রহমান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিরাপত্তা প্রধান হোসেন ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, বাংলাদেশ ইনিংসের ব্যাটিংয়ের সময় ২৪ রান করে আউট হওয়ার পর ওপেনার তামিম ইকবাল যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন তখন এক দর্শক তামিমকে উদ্দেশ্য করে গালি দেন ও অশোভন অঙ্গভঙ্গি করেন। বিসিবি নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ইমাম বলেন, তামিম যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন তখন গালি দেয় একজন দর্শক। তামিম ঘটনাটি নীরবে প্রত্যক্ষ করেন। এরপর বিসিবির নিরাপত্তা ইউনিট একজনকে আটক করে। তবে তামিম ইকবাল এতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি বলে জানান হোসেন ইমাম। বিসিবির নিরাপত্তা আইন মেনে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অভিভাবক ডেকে ম্যাচ শেষে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবির নিরাপত্তা বিভাগ। অভিযুক্ত ওই দর্শক গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে বসে খেলা দেখছিলেন। ওই ম্যাচে তামিম ইকবাল ৪৩ বল মোকাবিলায় ২ চারে ২৪ রান করেন। তামিম ইকবাল মাধেভেরের বলে এলবিডব্লিউ আউট হবার পর রিভিউ নেন এবং পরে থার্ড আম্পায়ার আউটের পক্ষেই চ,ড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। সাম্প্রতিক ব্যাটিং ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না তামিম ইকবালের। পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে তামিমের সংগ্রহ ছিল ৩৭ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪১ রানে আউট হন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। বাঁহাতি এই ওপেনার বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবশেষ হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। ওয়ানডেতে শেষ ৭ ইনিংসেই অর্ধশতকের নিচে (সর্বোচ্চ ৩৬ রানে) থেমেছে তামিমের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একই ভেন্যু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিবা-রাত্রির ম্যাচে মাঠে নামবে টাইগাররা। দুপুর ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি গাজী টিভি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
12
দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত করোনার নতুন ধরন আরও ১২টি দেশে ছড়িয়েছে। যাদের শরীরে এই ধরন শনাক্ত হয়েছে তারা সম্প্রতি আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে এই ধরনটি যে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে তা বোঝা যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা এই নতুন ধরনটির পুরো প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। এদিকে বিভিন্ন দেশের সরকার দক্ষিণ আফ্রিকা ও এর আশপাশের দেশগুলোতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের আশঙ্কা, করোনার এই ধরনটির সুরক্ষা হিসেবে বর্তমানের করোনা ভ্যাকসিন কার্যকর নাও হতে পারে এবং এতে করে ফের করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। খবর এনডিটিভির। দক্ষণ আফ্রিকা ছাড়াও বাকি যে ১২ দেশে ওমিক্রমন সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে সেগুলো হলো- বতসোয়ানা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, ইসরায়েল, চেক প্রজাতন্ত্র, হংকং এসএআর, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গসহ কয়েকটি অঞ্চলে গত সপ্তাহের মাঝামাঝিতে ১১০০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই নতুন ধরনের সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বতসোয়নায় নতুন ধরনের ১৯টি সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রত্যাগত তিন জনের শরীরে পাওয়া গেছে এই ধরনটি। জার্মানিতেও দুটি সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যারা সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিলেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডসে ১৩, ডেনমার্কে ২, বেলজিয়ামে ১, ইতালিতে ১, চেক প্রজাতন্ত্রে ১, হংকংয়ে ২, অস্ট্রেলিয়ায় ২ ও কানাডায় ২ জনের শরীরে নতুন ওই ধরনটি শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
3
৪৩তম বিসিএসের আবেদনের যোগ্যতায় সংশোধনী আনা হয়েছে। এ বিসিএসের আবেদনের সময়সীমা পেছানো হয়েছে আরও তিন মাস। এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখও পেছানো হয়েছে। এ বিসিএসের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে আগামী ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (পিএসসি) বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪৩তম বিসিএসের আবেদনের যোগ্যতায় সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, স্নাতকের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত না হলেও অ্যাপিয়ার্ড হিসেবে ৪৩তম বিসিএসে আবেদন করা যাবে। তবে তা সাময়িকভাবে গ্রহণ করা হবে। সংশোধিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, 'যদি কোনো প্রার্থী এমন কোনো পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন, যে পরীক্ষায় পাস করলে তিনি ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন এবং যদি তাঁর ওই পরীক্ষার ফলাফল ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদনপত্র দাখিলের শেষ তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিত না হয়, তাহলেও তিনি অবতীর্ণ প্রার্থী (অ্যাপিয়ার্ড) হিসেবে অনলাইনে আবেদনপত্র দাখিল করতে পারবেন। তবে তা সাময়িকভাবে গ্রহণ করা হবে। কেবল সেই প্রার্থীকেই অবতীর্ণ প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যার স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সব লিখিত পরীক্ষা আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ, অর্থাৎ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়েছে।' বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ১৫ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার হল, আসনব্যবস্থা এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশাবলি যথাসময়ে সংবাদমাধ্যম ও কমিশনের ওয়েবসাইটে (...) প্রকাশ করা হবে। ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৮১৪ জন কর্মকর্তা নেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০, পুলিশ ক্যাডারে ১০০, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫, শিক্ষা ক্যাডারের জন্য ৮৪৩, অডিটে ৩৫, তথ্যে ২২, ট্যাক্সে ১৯, কাস্টমসে ১৪ ও সমবায়ে ১৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। তবে ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে দশমিক ৫০ (শূন্য দশমিক পাঁচ শূন্য) নম্বর কাটা যাবে। প্রিলিমিনারির বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস পিএসসির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
1
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল অনেক বেশি নোংরা ও দুর্ঘন্ধযুক্ত পরিবেশ উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, 'ঠাকুরগাঁওয়ের সদর হাসপাতালের চেয়ে রেলস্টেশন অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সদর হাসপাতালে যে গন্ধ ও নোংরা পরিবেশ তা আমাকে হতাশ করেছে। অথচ রেলস্টেশন তার থেকে শতগুনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক সেবা দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে।' আজ সোমবার বিকালে পঞ্চগড়ের নিজ বাসভবন থেকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে রোগী দেখা শেষে রেল স্টেশনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। দোঁলনচাঁপা ও রামসাগর নামে দুটো ট্রেন ঈদের পরেই চালু করা হবে সুখবর দিয়ে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, 'এই দুটো ট্রেন অনেক আগেই উদ্বোধন করা হয়েছে চালুর জন্য। তবে আমাদের বগি সংকট ছিল তাই এতদিন চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে ঈদের পরেই এই দুটো ট্রেন ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় রুটে চালু করা হবে।' এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল হুদা শাহ্ অ্যাপোলো, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মুজাহিদুর রহমান শুভ, সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াফু তপু প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
9
বিভিন্ন বিপণিবিতান, ব্যাংক ও সোনার দোকানে চুরি করাই তাঁদের লক্ষ্য। চুরির নিশানা নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাঁরা বাসা ভাড়া নেন। লক্ষ্যবস্তুর আশপাশে নেন দোকান ভাড়া। দলের এক বা একাধিক সদস্য পরিচয় গোপন করে ভবনে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি নেন। চাকরি নিতে তাঁরা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও নাগরিকত্ব সনদ দেখান। সময় নিয়ে পুরো এলাকা 'রেকি' করেন তাঁরা। তারপর 'মিশন' বাস্তবায়ন করেন। একেকটি 'মিশন' বাস্তবায়নে তাঁরা মাসখানেক সময় নেন। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই কৌশলে চুরি করে আসছে। রাজধানীর একটি জুয়েলার্সে চুরির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই চক্র সম্পর্কে জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ৫ ফেব্রুয়ারি কাফরুলের কচুক্ষেত এলাকার রজনীগন্ধা মার্কেটের রাঙাপরী জুয়েলার্সে এই চুরির ঘটনা ঘটে। মালিক দাবি করেন, তাঁর দোকান থেকে ৩০২ ভরি সোনা, ৩০ লাখ টাকার হীরা ও নগদ ৫ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। চুরির এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরুল হাসান ওরফে শামীম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। চক্রটির ব্যাপারে র্যাবও অনুসন্ধান করছে। র্যাব-৪-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'এই চক্রের কয়েক সদস্য সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, শিগগির তাঁদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।' ভগ্নিপতি-শ্যালকের চক্র অনুসন্ধানে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, চোর চক্রটির প্রধান নাসির হোসাইন। তিনি জার্মানিপ্রবাসী। জার্মানিতে বসে তিনি চুরির পরিকল্পনা করেন। চুরির প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় খরচ জোগান দেন। প্রবাসী নাসিরের পরিকল্পনা দেশে বসে বাস্তবায়নে মূল দায়িত্ব পালন করেন তাঁর শ্যালক শামীম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, নাসির দেশে থাকা অবস্থায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি করতেন। চুরি করতে গিয়েই নাসিরের সঙ্গে শামীমের পরিচয় হয়। পরে তিনি শামীমের বোনকে বিয়ে করেন। চুরির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের মালিক হন নাসির। চার বছর আগে তিনি জার্মানি যান। সেখানে গিয়ে চুরির পরিকল্পনার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে অর্থায়ন শুরু করেন। তাঁর পরিকল্পনা দেশে বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করেন শামীম। চুরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নাসির জার্মানি থেকে শামীমের কাছে টাকা পাঠান। আবার চুরির মালামালসহ অর্থের দুই ভাগ নাসিরকে পাঠিয়ে দিতেন শামীম। অন্তত আটজন চিহ্নিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, নাসির ও শামীম ছাড়াও চোর চক্রটির আরও ছয় সদস্য ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাউসার মাস্টার ওরফে বাচ্চু, রাজা মিয়া, শ্রীকান্ত ওরফে বাদল, আবুল আকাল আহাদ, খায়রুল ওরফে মনির ও মাসুদ খান। তাঁদের মধ্যে কাউসার দেশে পরিকল্পনা-সংশ্লিষ্ট কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চক্রের সদস্যদের নিয়োগ পেতে সহায়তা করেন। রাজা তালা ভাঙায় দক্ষ। শ্রীকান্ত সোনা যাচাইয়ে পারদর্শী। তাঁরা ছবি তোলেন না চক্রটির কোনো কোনো সদস্য ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের ভাষ্য, চুরির নতুন পরিকল্পনার পর চক্রের সদস্যরা নতুন মুঠোফোন নেন। তাঁরা অন্যের নামে নিবন্ধন করা সিম ব্যবহার করেন। চুরির পর সেই মুঠোফোন ও সিম নষ্ট করে ফেলেন। এরপর চলে যান আত্মগোপনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এড়াতে এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের ছবি তোলেন না। পরিবার বা স্বজনের কাছে তাঁদের কোনো ছবি নেই। 'মিশন' রাঙাপরী জুয়েলার্স আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় এক মাসের বেশি সময় আগে কাফরুলের কচুক্ষেতের রজনীগন্ধা মার্কেটের রাঙাপরী জুয়েলার্সে চুরির পরিকল্পনা করা হয়। নাসিরের পরিকল্পনায় 'মিশন' বাস্তবায়ন করেন শামীম। সঙ্গে ছিলেন কাউসার। শুরুতে ভুয়া পরিচয়ে চক্রের দুই সদস্যকে মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি নেন মাসুদ ও খায়রুল। ভুয়া পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্বের সনদ তৈরি করে তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা করেন কাউসার। চাকরি হওয়ার পর মাসুদ ও খায়রুল একসঙ্গে রাতে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করতেন। মার্কেটের নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য সংগ্রহ করে তা তাঁরা শামীম ও কাউসারকে সরবরাহ করেন। কাউসার 'নুর ইসলাম' নাম নিয়ে রজনীগন্ধা মার্কেটে দোকান ভাড়া নেন। দোকানে আসবাব আনার নাম করে তিনি চুরির উপকরণ, তালা ভাঙার সরঞ্জাম আনেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১৪ নম্বর গোলচত্বরে আসেন শামীম, কাউসার, রাজা, শ্রীকান্ত ও আহাদ। সেখান থেকে শামীম মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মাসুদ ও খায়রুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। মাসুদ ও খায়রুল দিবাগত রাত একটার দিকে তাঁদের মার্কেটে যেতে বলেন। মার্কেটে যাওয়ার পর কাউসারের ভাড়া দোকানে রাজা ও শ্রীকান্তকে নেওয়া হয়। কাউসার ও শামীম মার্কেটের বাইরের চারপাশ নজরদারির দায়িত্ব নেন। দিবাগত রাত দুইটার দিকে কাউসারের দোকান থেকে তালা ভাঙার যন্ত্রপাতি নিয়ে রাঙাপরী জুয়েলার্সের সামনে যান রাজা। পরে তিনি তালা ভাঙেন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্বে থাকা মাসুদ ও খায়রুল রাঙাপরী জুয়েলার্সের বাইরে পাহারায় থাকেন। তালা ভেঙে দোকানে ঢোকার এক ঘণ্টার মধ্যে সেখান থেকে অলংকারসহ নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান চোর চক্রের সদস্যরা। চুরির শেষে চক্রের সব সদস্য কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের ভাড়া বাসায় যান। চুরি করা সোনার একটা অংশ এক ব্যক্তির কাছে ৩৬ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। সোনা বিক্রির ৩৬ লাখ টাকা, চুরি করা নগদ ৫ লাখ টাকা, বিক্রি না হওয়া সোনা ও অন্যান্য অলংকার মোট নয় ভাগে ভাগ করা হয়। দুই ভাগ দেওয়া হয় নাসিরকে। তাঁর ভাগ শামীম নিজের কাছে রাখেন। মালামাল বুঝে পাওয়ার পর যে যাঁর মতো নিজেদের গ্রামের বাড়িতে চলে যান। আরও চুরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র বলছে, ২০২০ সালের আগস্টে রাজধানী ডেমরার হাজি হোসেন প্লাজায় নিউ কেয়া জুয়েলার্সের ২০০ ভরি সোনা ও দেড় লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা যাচ্ছিল না। কিন্তু রাঙাপরী জুয়েলার্সের চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্ঘাটন করে যে দুটি ঘটনার সঙ্গেই একই চোর চক্র জড়িত। ২০১৮ সালের মার্চে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের হাজি আহসান উল্লাহ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় নাভী ও ক্রাউন জুয়েলার্স নামের দুটি দোকান থেকে ৩৪২ ভরি সোনা ও ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা চুরি হয়। এই মামলায় রাজা ও মাসুদ গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দেড় বছর কারাগারে ছিলেন। পরে তাঁরা জামিনে বেরিয়ে আবার চুরি শুরু করেন। ২০১৪ সালে জয়পুরহাট সদরের একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা চুরি হয়। দেয়াল কেটে ব্যাংকে প্রবেশ করেছিলেন চোর চক্রের সদস্যরা। তাঁরা ব্যাংকের পাশের একটি ঘরের কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। এই মিশনে ১০ জন অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে রাজা অন্যতম। এ ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে তিন বছর কারাগারে ছিলেন।
6
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একেবারে কেন্দ্রে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এটি কি ধরনের বিস্ফোরণ সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তারা। ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক বলেছেন, দূর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখেছেন। কিন্তু কারফিউ থাকায় তিনি বিস্ফোরণ স্থলে যেতে পারেননি। সরকারি সূত্র থেকে এ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিয়েভ ঘিরে গত কয়েকদিনে লড়াই জোরদার হয়েছে। রুশ বাহিনী পুরো কিয়েভ শহর ঘিরে রেখেছে। সাধারণ নাগরিকদের রাজধানী ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর কিয়েভের ৩০ লাখ বাসিন্দার অর্ধেকেরও বেশি শহর ছেড়ে চলে গেছে। রুশ বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জেলেনস্কির রুশ বাহিনীর হামলার মধ্যেই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান দিয়েছেন। ইউক্রেনের জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের একটি সুযোগ দিচ্ছি। বাঁচার সুযোগ। আপনারা যদি আমাদের বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে আমরা আপনাদের সঙ্গে শোভনীয় আচরণ করবো। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের প্রতিনিধি হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র, পোল্যান্ড ও স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীরা ইউক্রেন সফরে যাচ্ছেন।
3
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেছেন, গুলশান ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় অতিরিক্ত ট্যাক্স দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে হবে। শনিবার সকালে রাজধানীর মালিবাগ-খিলগাঁও এলাকায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ কর্তৃক বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক পদযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। ডিএনসিসি মেয়র বলেন, এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় "গণপরিবহনে ও হেঁটে চলি, ব্যক্তিগত গাড়ি সীমিত করি" যা সময়োপযোগী ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার করে যানজট এবং বায়ু দূষণ কমানো সম্ভব। ডিএনসিসি মেয়র আরও বলেন, সুস্থতার জন্য লোকজন যাতে নির্দিষ্ট জায়গায় সাইকেল চালাতে পারে এবং ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারে সেজন্য সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। মেয়র কিংবা কাউন্সিলর কারও একার পক্ষেই শহরকে রক্ষা করা সম্ভব নয়, দলমত নির্বিশেষে সকলকে জনকল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, সবাই মিলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতেই হবে। ডিএনসিসি মেয়র বলেন, রুট পারমিট এবং ফিটনেসবিহীন কোন গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না। সবাই মিলে দখল, দূষণ ও দুষ্ট লোকের কবল থেকে ঢাকাকে মুক্ত করে একটি সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলতে হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে নিজের গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা শেষে ডিএনসিসি মেয়র পদযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে মালিবাগ বাজার থেকে খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেট পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দৃষ্টিনন্দন পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াকাথন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান এবং স্থানীয় কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ
6
নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হ্যাস নতুন দায়িত্ব নিয়ে আগামী ১ মার্চ ঢাকা সফরে আসছেন। মার্চের প্রথম সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি। এদিকে ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে দুই দেশের বেশ কিছু সফর বিনিময় ও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বিষয়টি জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওপর মার্কিন সরকারের এখন কোনো চাপ নেই। বরং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই যোগাযোগ আরও বাড়বে। তিনি আরও বলেন, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর র্যাব-পুলিশের ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আর বাড়বে না বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কাজ শুরু করেছে। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, শিগগিরই ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে পার্টনারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স) ভিক্টোরিয়া ন্যুরাল্ড এতে নিজ নিজ দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আগামী ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপ এবং অর্থনৈতিক আলোচনা হবে। পিটার হ্যাস একজন পেশাদার কূটনীতিক। তিনি সর্বশেষ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান উপ-সহকারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পাঁচ ভৌগলিক ব্যুরোর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের মুম্বাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি লন্ডন, জাকার্তা, বার্লিন, রাবাতে মার্কিন মিশনে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
6
সন্ধ্যা নামতেই ঘরে আলো জ্বালাতে হয় অজিফা খাতুনের। বাড়ির প্রাত্যহিক কাজকর্ম ও ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ায় একমাত্র ভরসা ছিল কেরোসিনের কুপিবাতি কিংবা হারিকেন। কারণ এ চরে কোনো বিদ্যুৎ ছিল না। তবে এখন আর কুপিবাতি বা হারিকেনের আলো জ্বালাতে হবে না এ গৃহবধূর। তার ঘর আলোকিত করছে বিদ্যুতের আলো। এ ব্যাপারে খুশি অজিফা খাতুন বলেন, বিদ্যুৎ পেয়ে আমাদের চেয়ে বেশি খুশি হয়েছে ছেলে-মেয়েরা। তারা বিদ্যুতের আলোয় স্বচ্ছন্দে লেখাপড়া করতে পারছে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ইউনিয়ন চর এলাহী। এই ইউনিয়নের একটি অংশ উড়িরচর ও চর বালুয়া। মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জনবসতি গড়ে ওঠার পর থেকে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলো ২৫ হাজার মানুষ। অবস্থা সম্পন্ন হাতেগোনা কিছু বাড়িতে নিজস্ব সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলেও সেখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাদের রাত কাটতো প্রায় অন্ধকারে। সম্প্রতি মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে সাব মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেছে এ চরে। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের অংশ হিসেবে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে এ চরকে আলোকিত করেছে নোয়াখালীপল্লী বিদ্যুত সমিতি। বিদ্যুৎ পেয়ে খুশি এ চরের বাসিন্দারা। এখন বিদ্যুতের আলোয় নিজেদের সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন দেখছেন তারা। সন্ধ্যার পর ঘুমিয়ে পড়া চর এখন জেগে থাকে মধ্য রাত পর্যন্ত। বেড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। গতি আসতে শুরু করেছে মানুষের জীবনে। সারাদিন ক্ষেত-খামার আর গৃহস্থালীর কাজ শেষে রাতে বিদ্যুতের আলোয় কাজ করে বাড়তি রোজগার করছেন অনেকে। নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে চার কিলোমিটার নদীর তলদেশ পাড়ি দিয়ে চরবালুয়ায় ১০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন করে সংযোগ দেয়া হয়েছে সাড়ে তিন হাজার পরিবারকে। তবে সক্ষমতা রয়েছে ১ লাখ পরিবারকে বিদ্যুতের আওতায় আনার। নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সরেজমিনে দেখা গেছে, চর বালুয়ার সমিতি বাজার ও বারো আউলিয়া বাজারে প্রবেশের মুখেই সড়কের পাশে বসানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য টানানো হয়েছে বিদ্যুতের তার। বাজারের দোকানগুলোতে চলছে টিভি। কম্পিউটারে কাজ করছে কয়েকজন যুবক। চর বালুয়ার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন ও বারো আউলিয়া বাজারের দোকানিরা জানান, তারা কোনোদিন ভাবেননি তাদের ঘর আলোকিত হবে বিদ্যুতের আলোয়। চরবাসীর স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নোয়াখালীর কৃর্তি সন্তান সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিদ্যুৎ সুবিধার কারণে এখন তারা কৃষিসহ সব সেক্টরে উন্নতি করতে পারবেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক মীর বলেন, বিদ্যুতের কারণে চরের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। ডিজিটাল সুবিধাসহ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবন-মান উন্নয়নের আওতায় আসবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত গ্রাম হবে শহর সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে সারমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়েছে উড়িরচরে। গত ১৫ নভেম্বর পুরো চরকে আলোকিত করার কাজ শেষ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।
6
বসবাসের জন্য ফ্ল্যাট ভাড়া দিলে মাসে যে টাকা পাওয়া যায়, কেমিক্যালের গোডাউন ভাড়া তারচেয়ে অন্তত পাঁচগুণ বেশি। অধিক ভাড়া আদায়ের লোভই হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতালা কেমিক্যালের গোডাউন হিসেবে ভাড়া দিয়েছিলেন হাসান ও সোহেল। তারা আপন দুই ভাই। পৈত্রিক সূত্রে এ ভবনের মালিক তারা। গত ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ভবনটির দোতলার কেমিক্যালের গোডাউন থেকে, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের মামলার আসামি হাসান ও সোহেলকে ১৩ দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তারা গ্রেফতার না হওয়া রহস্যজনক বলে মনে করছেন হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা। তবে পুলিশের গতানুগতিক ভাষ্য-গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কিন্ত তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে সমকালকে বলেন, 'হাসান ও সোহেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।' অগ্নিকাণ্ডে নিহত জুম্মনের ছেলে আসিফ বাদি হয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় হাসান ও সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনসহ আশপাশের ভবনে লাগা আগুনে এ পর্যন্ত ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার চুড়িহাট্টায় গিয়ে দেখা যায়-এখনও উৎসুক মানুষ পোড়া ভবনগুলো দেখতে ভিড় করছে। ওয়াহেদ ম্যানশন লাগোয়া সেই রাজমহল হোটেলটির ধোঁয়া মোছার কাজ চলছে। আগুনে হোটেলের ভেতরে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সেটির ম্যানেজার রাকিব সমকালকে জানালেন, অগ্নিকান্ডের পর অনেকেই অভিযোগ তোলে-রাজমহল হোটেলের সিলিন্ডার বিষ্ম্ফোরিত হয়েছে। যদি তাই হত তাহলে কী হোটেল অক্ষত থাকতো। সিলিন্ডারও অক্ষত দেখেছে আগুনের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটি। রাকিব বলেন, 'এক সপ্তাহের মধ্যে আবার হোটেল চালু করবো।' আলী হোসেন নামে আজগর লেনের এক বাসিন্দা সমকালকে জানালেন, এই এলাকায় ফ্ল্যাট অনুসারে মাসে ভাড়া ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্ত কেমিক্যালের গোডাউন হিসেবে ভাড়া দিলে অন্তত পাঁচগুণ বেশি টাকা পাওয়া যায়। একারণে বাড়ির মালিক পক্ষ গোডাউন ভাড়া দিতে বেশি আগ্রহী। হাসান ও সোহেল অতিরিক্ত টাকায় বাড়িতে কেমিক্যাল গোডাউন ভাড়া দিয়েছিলেন।
6
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি বাসায় আরহাম আহমেদ সাদ (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। সে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।আজ শনিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলিফ্যান্ট রোডের ৩৫৫/এ নম্বর বাসায় এই ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক বেলা পৌনে ২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।সাদের বাবা ব্যবসায়ী আহমেদ হোসেন শামীম জানান, তাঁদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। এলিফ্যান্ট রোডে নিজেদের ছয়তলা বাড়ির চারতলায় থাকেন তাঁরা। সকালে সাদের মা নাশতা করার জন্য ডাকে সাদকে। নাশতা করতে না চাওয়ায় তার মা তাকে বকাঝকা করেন। এতে অভিমান করে সে রুমের দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তার মা তাকে আবার ডাকতে গেলে কোনো সাড়াশব্দ পায় না। তখন দরজা খুলে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মায়ের সঙ্গে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে স্বজনেরা দাবি করছেন। বিস্তারিত তদন্তের জন্য নিউমার্কেট থানা-পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।
6
কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ বলেছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৩০০ আসন পাবে বলে আমার মনে হচ্ছে না। জম্মু-কাশ্মির থেকে ধারা ৩৭০-এর অবলুপ্তি নিয়ে কথা বলার সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। জম্মু-কাশ্মির থেকে ধারা ৩৭০-এর অবলুপ্তি নিয়ে কথা বলার সময় গুলাম নবি আজাদ বলেন, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। একমাত্র সুপ্রিম কোর্ট ও কেন্দ্রীয় সরকারই বিষয়টির পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারই ৩৭০ ধারা বাতিল করেছে, তাই এটির পুনরুদ্ধার তারা করবেন না। পুঞ্চের কৃষ্ণঘাটি এলাকায় একটি সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। উপত্যকার বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকেই মোদি সরকারে সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। জম্মু -কাশ্মির থেকে ধারা ৩৭০ বিলোপের পর সুপ্রিম কোর্টে মামলা পর্যন্ত হয়েছে। কংগ্রেস বলে আসছে, কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলেই কাশ্মীরের হারানো মর্যাদা ফেরানো হবে। এ কাশ্মির উপত্যকারই কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ। তাকেও উপত্যকার বাসিন্দাদের সাথে ধারা-৩৭০ অবলুপ্তির বিষয়ে কথা বলতে হয়। পুঞ্চের একটি সমাবেশে জম্মু-কাশ্মির থেকে ধারা ৩৭০ বিলোপ নিয়ে এবার এমন মন্তব্য করেন তিনি। তবে এমন বক্তব্য দিয়ে কংগ্রেস দলের বিড়ম্বনা বাড়িয়েছেন গুলাম নবি আজাদ। তিনি বলেন, কবে আমাদের ৩০০ জন এমপি নির্বাচিত হবেন? আমি (ধারা ৩৭০-এর পুনরুদ্ধার) এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। ২০২৪-এর নির্বাচনে আমারা ৩০০ জন এমপি পাব বলে মনে হয় না। আল্লাহ আমাদের ৩০০ জন এমপি দিক, তবে বর্তমান পরিস্থতিতে তা হবে বলে আমার অন্তত মনে হচ্ছে না। ওই কারণেই ধারা ৩৭০ নিয়ে আমি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
3
গরিব দেশগুলো এই টিকা না পেলে বিশ্বের সিংহভাগ মানুষ অরক্ষিত থেকে যাবে। তাতে এই মহামারি আরও প্রলম্বিত হবে বলেই ধারণা করা যায়। অভাবনীয় গতিতে কোভিডের টিকা উদ্ভাবিত হয়েছে। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততার সঙ্গে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা মিললে কী ঘটতে পারে। তবে এই টিকা সমানভাবে সব দেশ না পেলে আখেরে লাভ হবে না। এখন মূলত ধনী দেশগুলোর মানুষেরা টিকা পাচ্ছে। অনেকটা কাজও হচ্ছে। তবে গরিব দেশগুলো এই টিকা না পেলে বিশ্বের সিংহভাগ মানুষ অরক্ষিত থেকে যাবে। তাতে এই মহামারি আরও প্রলম্বিত হবে বলেই ধারণা করা যায়। এর মধ্যে আবার ভাইরাসের নতুন রূপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে টিকাদানে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, ততটুকু আবার হুমকির মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে সমাধান হচ্ছে জনগণের টিকা নিয়ে আসা-সবাই পাবে এবং সবার নাগালের মধ্যে থাকবে। বর্তমানে টিকা প্রাপ্তি নিয়ে বৈষম্য বা একধরনের জাতিবিদ্বেষ তৈরি হচ্ছে, তা সমাধানের পথ করে দিতে পারে এই জনগণের টিকা। আমরা মনে করি, টিকার স্বল্পতা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। কথা হচ্ছে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের দাবি না থাকলে সারা বিশ্ব একসঙ্গে এই টিকা উৎপাদন করতে পারত। তাতে এ বছরের মধ্যেই বিশ্বের ৬০ ভাগ মানুষ এবং ২০২২ সালের মধ্যে যারা চায় তাদের সবাইকে এই টিকা দেওয়া সম্ভব ছিল-এক হিসাবে দেখা গেছে। কিন্তু ধনী দেশগুলো টিকা এবং ওষুধ কোম্পানিগুলো প্রযুক্তি মজুত করে রাখায় এই স্বল্পতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে কানাডার মতো দেশের অনেক কোম্পানি এই টিকা বানাতে প্রস্তুত, কিন্তু অপেক্ষা শুধু সূত্রের। সে কারণে তারা কাজ শুরু করতে পারছে না। সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এরা টিকা উৎপাদন করতে পারছে না। তারা টিকা বানাতে পারলে আরও অনেক মানুষ টিকা পেত এবং ধনী দেশগুলোর ওপর গরিবদের নির্ভরশীলতা কমত। স্বাস্থ্যগত এই জরুরি অবস্থায় এটা দরকার ছিল। ওষুধ কোম্পানিগুলো অবশ্য বলছে যে তারা নিজেরাই উৎপাদন বাড়াতে পারবে। কিন্তু তাদের এই প্রতিশ্রুতির কথার ফানুসে পরিণত হয়েছে। ধনী দেশগুলোতেই তারা কথামতো সরবরাহ দিতে পারছে না। অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জনসন অ্যান্ড জনসন উৎপাদন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং ইউরোপে ও উত্তর আমেরিকায় সরবরাহ দিতে পারছে না। ফাইজার ও মডার্না মূলত মার্কিন বাজারে টিকা দিচ্ছে, অন্যরা পাচ্ছে অতি সামান্য। এখানেই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের বিতর্ক চলে আসে। পেটেন্টের কারণে টিকার উৎপাদন বাড়ছে না, কারণ ওষুধ কোম্পানিগুলো টিকার সূত্র কিনে রেখেছে। উৎপাদনের ওপর তাদের একচেটিয়া অধিকার। যারা আবার তাদের কাছে থেকে লাইসেন্স কিনেছে, তারা উৎপাদন করতে পারবে, অন্যরা নয়। ফলে টিকার উৎপাদন ও বণ্টন এদের হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। মূলত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) পৌরহিত্যে স্বাক্ষরিত ট্রেড রিলেটেড আসপেক্টস অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস (ট্রিপস) চুক্তির আলোকে এই মেধাসম্পদ ব্যবস্থাপনা হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর এখন দাবি, বিশেষ পরিস্থিতিতে এই চুক্তির শর্ত শিথিল করা হোক। তারা বিশেষ ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করেছে। অনেকে আবার যুক্তি দিচ্ছেন, ট্রিপসের মধ্যে এই শর্ত এমনিতেই আছে-যাদের উৎপাদনের সক্ষমতা আছে, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স দেওয়া। কিন্তু এর পরিসর অনেক ছোট এবং তা অনেক সময়সাপেক্ষও বটে। ফলে ছাড় দেওয়া হলে উন্নয়নশীল দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো অনেক কম খরচে টিকা উৎপাদন এবং বিতরণ করতে পারবে। অভিযোগ, এই দুঃসময়ে উন্নত দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো অনেক বেশি টাকা দাবি করছে। এতে গরিব দেশগুলোর বিরুদ্ধে ধনী দেশগুলো বাণিজ্য বিরোধের অভিযোগও আনতে পারবে না। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ, উগান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের চেয়ে বেশি দামে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কিনছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে তো অক্সফোর্ড আছে, অন্যান্য কোম্পানি আরও বেশি দাম নিচ্ছে। ফাইজার বলে রেখেছে, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে টিকার দাম বাড়ানো হবে। এরপর হয়তো দেখা যাবে, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। টিকার পাশাপাশি চিকিৎসাসামগ্রীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য-মেধাসম্পদের শর্ত শিথিল করা হোক। মাস্ক, পিপিই, গ্লাভস-সবকিছুর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কথা হলো, এই জ্ঞান তৈরিতে বিভিন্ন দেশের সরকার এত টাকা বিনিয়োগ করল, অথচ তা বেসরকারি খাতের হাতে থেকে গেল। ব্যাপারটা অনৈতিক। এই টাকা তো জনগণের কর থেকে এসেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই জ্ঞানের ওপর জনগণের কর্তৃত্ব থাকা উচিত। ব্যাপারটা হলো, কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা। সারা বিশ্ব এর সঙ্গে লড়ছে। পরিস্থিতির উত্তরণে জ্ঞান বিতরণের নতুন সমাধান বের করতে হবে। তা নাহলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। খুঁজতে হবে সহযোগিতার নতুন দিক। সবচেয়ে বড় কথা, মানবতার ভিত অনেক গভীরে প্রোথিত করতে হবে। অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, লেখক তিনজন ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পিপলস ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সদস্য।
0
যেকোনো সময় ইউক্রেনে হামলা চালাবে রাশিয়া। আর এ নিয়ে মার্কিন স্থানীয় সময় রোববার বৈঠকে বসছে মার্কিন নিরাপত্তা কাউন্সিল। মার্কিন স্থানীয় সময় শনিবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়।হোয়াইট হাউস জানায়, মার্কিন নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকে অংশ নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা চলছে রাশিয়ার। এর মধ্যেই শনিবার রাশিয়ার মহড়ায় পরমাণু অস্ত্র পরিবহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মহড়াটি পর্যবেক্ষণ করেন।এদিকে গতকাল শনিবার বাইডেন বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস, রাশিয়ান বাহিনী আগামী সপ্তাহে ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা করছে। এই মুহূর্তে আমি নিশ্চিত যে পুতিন হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।'
3
২০১৮ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। টেস্টকে বিদায় বললেও চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলেছেন এই পাকিস্তান অলরাউন্ডার।১৮ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষে অবশেষে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন হাফিজ। দুবাইয়ের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে ৪১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের।টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ১১৯ ম্যাচ খেলে ২৬.৪৬ গড়ে ২৫১৪ রান করেছেন হাফিজ। ফিফটি রয়েছে ১৪টি। টেস্ট ছেড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে গেলেও ওয়ানডে দলে নিয়মিত ছিলেন না। এই সংস্করণে ২০১৯ বিশ্বকাপে লর্ডসে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন।সব মিলিয়ে ২১৮ ওয়ানডেতে ৩২.৯০ গড়ে ৬ হাজার ৬১৪ রান করেছেন হাফিজ। ১১ সেঞ্চুরির পিঠে ফিফটি ৩৮টি। ৫৫ টেস্টে ৩৭.৬৪ গড়ে ৩৬৫২ রান করেছেন। ১২ ফিফটির সঙ্গে সেখানেও রয়েছে ১০ সেঞ্চুরি। তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।তবে জিততে পারেননি একটা বিশ্বকাপও। ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী দলে ছিলেন না হাফিজ। তবে দেশের হয়ে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছেন সব সংস্করণে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়া এই অলরাউন্ডার।
12
কয়েক দিন আগে জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন তাঁর ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে পাশে নিয়ে ৯০তম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান পালন করছিলেন, তখন কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে দুদিন পরই তিনি এই ভাইকে 'কতল' করবেন। 'কতল' মানে দুই-দুটি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া। ওই অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেছিলেন, 'এটাই সম্ভবত আমার শেষ ভাষণ।' সেটি সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে বলেছেন, না জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে, সে কথা স্পষ্ট করেননি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টির শিবিরেও আনন্দের হিল্লোল বয়ে যেতে থাকে। আওয়ামী লীগের পর তারাই দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পাওয়ার মতো জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়ে গেল। আগেরটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন। এবার রীতিমতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নাকি তাদের নেতারা জাতীয় সংসদের আসন অলংকৃত করেছেন। এখন আর এরশাদ সংসদে শুধু জাতীয় পার্টির সদস্যদের নেতা নন, ১৪ দলের সাংসদদেরও নেতা বনে গেছেন। যদিও ১৪ দলের নেতারা তাঁকে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে মানতে ইচ্ছুক নন; কিন্তু সংসদীয় রীতিতে হয় সরকারি দলে, না হয় বিরোধী দলে থাকতে হবে। মাঝামাঝি কোনো পথ নেই। ১৪ দলের নেতাদের যুক্তি হলো, তাঁরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছেন, একসঙ্গে নির্বাচন করেছেন, তাহলে একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করবেন না কেন? কিন্তু আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবারের সরকারটি হবে খাঁটি আওয়ামী লীগের। এখানে বাইরের কারও অংশীদারত্ব থাকবে না। আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদে যখন নেতা থাকেন, তখন একজন বিরোধীদলীয় নেতাও থাকতে হয়। জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই প্রথমবারের মতো সংসদে বিরোধী দলের নেতা হলেন। এর আগে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসলেও এরশাদ নেতা ছিলেন না। রওশন এরশাদ নেতা ছিলেন। এরশাদ যখন একাদশ সংসদে বিরোধী দলের নেতা হলেন, তখন প্রশ্ন এল উপনেতা কে হবেন। এরশাদ তাঁর ছোট ভাই গোলাম মোহম্মদ কাদেরকে উপনেতা করলেন। অসুস্থতার জন্য এরশাদ সংসদে উপস্থিত থাকতে পারেন না। উপনেতাই সংসদের কাজ চালান এবং সরকার বা বিরোধী দল কারও পক্ষ থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা হলেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ। জাতীয় পার্টিতে এ রকম একের ভেতরে একাধিক সত্তার বহু নেতা আছেন। কিন্তু জন্মদিনের অনুষ্ঠানের দুদিন পর এরশাদ প্রথমে যুগ্ম চেয়ারম্যানের পদ থেকে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে সরিয়ে দেন। এরপর সংসদে বিরোধী দলের উপনেতার পদটিও কেড়ে নিলেন। এখন গোলাম কাদের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাত্র। অনেকে বলেন, ২০১৪ সালে গোলাম কাদের ভাইয়ের প্রতি যে অবিচল আস্থা রেখেছিলেন, তারই প্রতিদান দেওয়া হলো দুটি পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে। সেই নির্বাচনে এরশাদের নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। আর অন্যরা তাঁর নির্দেশ অমান্য করে সাংসদ হয়েছিলেন। গত বছর এরশাদ তাঁর ভাইকে যুগ্ম চেয়ারম্যান করলে জাতীয় পার্টি মহলে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কয়েক দিন পরই রওশন এরশাদকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম চেয়ারম্যান করা হয়। জাতীয় পার্টিকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা আছে। অনেক দিন ধরেই দলে দুটি গ্রুপিং ছিল। এরশাদ বনাম রওশন এরশাদ। একসময় রওশন বিএনপিপন্থী ও এরশাদ আওয়ামী লীগপন্থী বলে পরিচিত ছিলেন। দশম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশ নেওয়ার পক্ষে রওশন শক্ত অবস্থান নিলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো হয়। এই নির্বাচনকে ঘিরে এরশাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে আওয়ামী লীগ তাঁর প্রতি নাখোশ হয়। মাঝেমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোও সচল হয়ে ওঠে। একবার এরশাদ আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তিনি দেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত নেতা। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। এ অবস্থায় তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে জাতীয় পার্টির দুই গ্রুপের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। সম্প্রতি দলের ও সংসদে রদবদল সেই টানাপোড়েনেরই অংশ। এখন রওশন এরশাদ সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম চেয়ারম্যান। গোলাম মোহাম্মদ কাদের শুধুই প্রেসিডিয়াম সদস্য। মহাসচিব পদেও রদবদল হতে পারে বলে দলের নেতারা মনে করেন। এর আগে রুহুল আমিন হাওলাদার মহাসচিব ছিলেন। নির্বাচনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগ এলে তাঁকে সরিয়ে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে বসানো হয়েছিল। এখন প্রশ্ন, তিনি কত দিন থাকবেন? জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রটি এমন যে দলীয় চেয়ারম্যান পুরুষকে নারী ও নারীকে পুরুষ ছাড়া সবই করতে পারেন। তাই দলের এই রদবদলই যে শেষ কথা নয়, সেটি জোর দিয়ে বলা যায়। এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় থাকতে তাঁর সিএমএলএ পদবির নতুন নাম ছিল 'ক্যানসেল মাই লাস্ট অ্যানাউন্সমেন্ট'। পরবর্তী অ্যানাউন্সমেন্ট, তথা ঘোষণার জন্য দেশবাসীকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সোহরাব হাসান: কবি ও সাংবাদিক
8
ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। শিগগিরই তেলের ঘাটতি পূরণ হবে এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।সিনিয়র সচিব বলেন, 'বিশ্বে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে। এক দিনের তেল, গ্যাস দিয়ে দুই দিন রান্না করতে হবে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা তৈরি হয়েছে। এখন থেকেই আমাদের সতর্ক হতে হবে। দেশবাসীকে বিষয়টি বুঝতে হবে। নয়তো সবাইকে বিপদে পড়তে হবে।'গতকাল শনিবার দুপুরে শরীয়তপুর পুলিশ লাইনসে উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশীজনের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এসব কথা বলেন।এ সময় সিনিয়র সচিব আরও বলেন, 'রাশিয়া ও এর আশপাশের দেশগুলো খাদ্য এবং জ্বালানি উৎপাদনে পৃথিবীতে শীর্ষে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থা বেশি দিন চললে বিশ্বকে ভুগতে হবে। বিষয়টি আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে। জনগণকে বোঝাতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের তো কিছু করার নেই, পৃথিবীর কারও কিছু করার নেই।'এ সময় মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বিষয়টি সবার সঙ্গে আলোচনা করার অনুরোধ করেন সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এ ছাড়া পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'পৃথিবীর সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শতভাগ স্বচ্ছতায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে পদ্মা সেতু যানবাহনবোঝাই অবস্থায় থাকলেও কোনো ক্ষতি হবে না। এমনকি ৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজের ধাক্কায়ও পদ্মা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আগামী জুনের শেষ সপ্তাহের আগেই পদ্মা সেতু ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হবে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করবেন। পদ্মা সেতু চালু হলে প্রথম দিকে দেশের জিডিবি ১ দশমিক ৩ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে জিডিবি ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ২৫ বছরের প্রয়োজন হবে না, আগামী ১৫-১৬ বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর খরচ উঠে আসবে।'বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প ও কাউন্টার টেররিজম ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের আয়োজনে বেলা ১১টায় শরীয়তপুর পুলিশ লাইনসের মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা শুরু হয়। শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকতার হোসেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, র্যাবের প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান।বেনজীর আহমেদ বলেন, 'বাংলাদেশকে জঙ্গিদের আস্তানা হিসেবে প্রচার করতে চেয়েছিল পশ্চিমা বিশ্ব। তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, বাংলাদেশে আইএসএস হচ্ছে। আইএসএসের বিজনেস করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে, যেখান থেকে আর বের হতে পারবে না। অনেক পশ্চিমা দেশ এবং অ্যাম্বাসি ঢাকাকে অনিরাপদ ঘোষণা করেছিল। বলা হচ্ছিল, দেশ শিগগিরই মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে। কিন্তু সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে দেশে আজ কেউ জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাবে না।'আইজিপি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ ও দেশের নাগরিকদের সঙ্গে উগ্রবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। উগ্রবাদ একটি বিজাতীয় সংস্কৃতি। দেশটাকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানাতে পারলে অস্ত্র ব্যবসা, আঞ্চলিক রাজনীতি, রক্তপাত ঘটত। কত সুবিধা হতো কিছু মানুষের। কিন্তু আমরা সৌভাগ্যবান, বঙ্গবন্ধু দেশ দিয়ে গেছেন আর তাঁর কন্যা সেই সময় দেশের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর পরামর্শ ও দূরদর্শিতায় দেশ থেকে জঙ্গিবাদকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হয়েছে।'
6
আগেই প্রকাশ পেয়েছিল হলিউডের তারকা অভিনেতা ক্রিস হেমসওয়ার্থের "এক্সট্রাকশন" এর দ্বিতীয় কিস্তির টিজার। এবার তিনি ইন্সটাগ্রামে তুলে ধরলেন সেই শুটিং এর একটি ছবি। ছবিতে হেমসওয়ার্থকে দেখা গেছে টেইলর রেইক চরিত্রে। "এক্সট্রাকশন-২" এর শ্যুটিং অস্ট্রেলিয়াতে করার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ এর জন্য তা প্রাগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তির চিত্রনাট্য এবং লোকেশনে যে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে এখনই তার কিছুটা ইঙ্গিত পাচ্ছে ভক্তরা। সিনেমার প্রথম পর্বে দেখা যায়, টেইলর গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যাচ্ছেন। এখান থেকে কিভাবে বেঁচে ইউরোপের প্রাগ শহরে চলে আসেন তারই গল্প বলা হবে দ্বিতীয় কিস্তিতে। সিনেমাটির জন্যে কঠোর অনুশীলন এবং ডায়েট মেনে চলতে হচ্ছে ক্রিসকে। ইনস্টাগ্রামের ভিডিওতে ক্রিস বলেন, "দুটি বিষয়ে পরিবর্তন দেখা যাবে। প্রথমত, এখানে ভীষণ ঠান্ডা, আর দ্বিতীয়ত, আমি বেঁচে আছি।" উল্লেখ্য, ২০২০ সালের এপ্রিলে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় নন-স্টপ অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র "এক্সট্রাকশন"। আর "এক্সট্রাকশন-২" মুক্তি পাবার কথা রয়েছে ২০২২ সালে।
2
করোনা আতঙ্কের মধ্যেও ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ষষ্ঠদফা ভোট। ভোট নিয়েও শঙ্কা বিরাজ করছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে। গত কয়েক দফা ভোটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় এখনও আতঙ্ক রয়েছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) ষষ্ঠদফায় ৪ জেলার ৪৩ আসনে ভোট সম্পন্ন হবে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে শেষ দুই দফার ভোট একসঙ্গে করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ভোটের আগে বাকি আছে মাত্র একদিন। এই দফার ভোটেও আছে একের পর এক হাইভোল্টেজ আসন। এর আগে প্রতিটা ভোটেই বিজেপি ও তৃণমূলে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এবারের ভোট কেন্দ্র করে বদলি করা হয়েছে বেশকিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে। ষষ্ঠ দফা ভোটের আগেও নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটের আগে বীরভূমের পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে চারদিকে চলছে আলোচনা। সেখানে নতুন পুলিশ সুপার করা হয়েছে নগেন্দ্র ত্রিপাঠিকে। অপরদিকে অপসারণ করা হয়েছে বোলপুরের এসডিপিওকেও। এছাড়াও পূর্ব বর্ধমানের এসপি, আসানসোল-দুর্গাপুরের সিপিকেও বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। আসনগুলো হলো- উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ১৭টি আসন (বিধানসভা কেন্দ্র ৯৪ থেকে ১১০), নদিয়া জেলার ৯টি আসন, পূর্ব বর্ধমান জেলার ৮টি আসন (বিধানসভা কেন্দ্র ২৬৭ থেকে ২৭৪), উত্তর দিনাজপুর জেলার সব আসন (বিধানসভা কেন্দ্র ২৮-৩৬)। যেসব আসনে ভোট হচ্ছে- ২২ এপ্রিল যে সমস্ত বিধানসভা আসনে ভোট হবে সেগুলো হল চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, করণদিঘি, হেমতাবাদ (এসসি), কালিয়াগঞ্জ (এসসি), রায়গঞ্জ, ইটাহার, করিমপুর, তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, কৃষ্ণনগর উত্তর, নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, বাগদা (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), বাদুড়িয়া, হাবরা, অশোকনগর, আমডাঙা, বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া. বারাকপুর, খড়দহ, দমদম উত্তর, ভাতার, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, পূর্বস্থলী উত্তর, কাটোয়া, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম (এসসি), গলসি (এসসি)। নজরকাড়া কেন্দ্র প্রসঙ্গত ,ষষ্ঠদফার ভোট অনুব্রতগড় ও মুকুলগড়ের বেশ কয়েকটি জায়গায় হচ্ছে। তবে মুকুল রায় নিজে বিজেপির পক্ষে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী। এদিকে, এই দফার ভোটে ভাগ্য পরীক্ষা হবে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের। যেসব কেন্দ্রগুলো আলোচনায় রয়েছে সেগুলো হলো- হেমতাবাদ, কৃষ্ণনগর উত্তর, ব্যারাকপুর, বিজপুর,মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম, কাটোয়া, ইসলামপুর, আউশগ্রাম,কালিয়াগঞ্জের মতো কেন্দ্র।
3
কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার গড়াই নদীতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের জয়নাবাদ ইজতেমা মাঠ এলাকার গড়াই নদী মরদেহটি পাওয়া যায়। এ সময় দেখতে নদী পাড়ে ভিড় করে শত শত উৎসুক জনতা।পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ঘটনাস্থলে মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সন্ধ্যায় পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।
6
একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফারুক। গতকাল বুধবার বিকেলে এফডিসিতে জামে মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সমাজ সেবক আবদুল কাদির মোল্লার অর্থায়নে এফডিসির ঝর্ণা শুটিং স্পট সংলগ্ন জামে মসজিদ আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাইরের মানুষ মনে করেন চলচ্চিত্রে যারা কাজ করেন তারা ধর্মভীরু নয়, ধার্মিক নয়। কিন্তু এটা পুরোপুরি ভুল ধারনা। বরং চলচ্চিত্রের মানুষ আল্লাহকে বেশি ডাকে। ধর্ম পালনে সচেতন থাকে। এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আবদুল কাদির মোল্লা, চিত্রনায়ক ফারুক,পরিচালক বদিউল আলম থোকন, চিত্রনায়ক জায়েদ খান, বাপ্পি চৌধুরী, সনি রহমানসহ আরো অনেকে। মসজিদ পুনঃ নির্মাণের কাজ তদারকি করছেন অভিনেতা সনি রহমান। তিনি জানান, মসজিদটি নতুনভাবে নির্মাণ করতে ব্যয় হবে ২ কোটি ৯ লাখ টাকা। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
রয়টার্সের দুই সাংবাদিকেকে রাষ্ট্রের গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে মিয়ানমারের এক আদালত। এই অপরাধে তাদের ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বিবিসি, রয়টার্স। অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক তাদের নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করেছেন। অন্যদিকে এই মামলাটিকে মিয়ানমারে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরীক্ষা হিসাবে ব্যাপকভাবে দেখা হয়। রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন অ্যাডলার বলেন, আজ মিয়ানমারের জন্য দুঃখজনক দিন, রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কিয়াউ সয়ে ঊ যে কোনও জায়গায় স্বাধীনতার কথা বলছেন। ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সোয়ে ও (২৮)-কে আটক করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তারা রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক চালানো নিধনযজ্ঞ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। ব্রিটিশ শাসনামলের 'অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট' নামের ঔপনিবেশিক আইনে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শুনানিতে এই দুই সাংবাদিক বলেছেন, 'তারা আমাদের গ্রেফতার করেছে কারণ আমরা তাদের হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমরা সত্য প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।' আরো পড়ুন: মিয়ানমারে আটক রয়টার্সের ২ সাংবাদিকের জামিন নামঞ্জুর নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মিয়ানমারের একটি আদালত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিক কাইওয়া সোয়ে ও এবং ওয়া লোনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছে। এদের সর্ব্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। খবর এএফপি'র। বিচারক ইয়ে লোইন আদালতে বলেন, 'এ দু'জনকে আইন অনুযায়ী জামিন মঞ্জুর করা যায় না। আর আদালত তাদের জামিন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' মিয়ানমারের নাগরিক সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ে ও (২৮) রাখাইনের সঙ্কট নিয়ে কাজ করছিলেন। ২৫ শে আগস্ট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর দমন-পীড়ন শুরুর পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। এই রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে কাজ করছিলেন আটক দুই সাংবাদিক। কিন্তু ১২ই ডিসেম্বর তাদেরকে আটক করে পুলিশ। তাদেরকে ওই দিন নৈশভোজে ডেকে নেয় পুলিশ। এরপর তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। আরো পড়ুন: রোহিঙ্গাদের নির্মূল করতে চায় মিয়ানমার : জাতিসঙ্ঘ নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৪ নভেম্বর ২০১৬ মিয়ানমার তাদের ভূখণ্ড থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসঙ্ঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ম্যাককিসিক বলেন, রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী নির্মমভাবে রোহিঙ্গা গণহত্যা চালাচ্ছে, যার ফলে তারা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। গত ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলা জেরে ওই অঞ্চলে ব্যাপক সেনা অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমার। উগ্রবাদী দমনের নামে সেনাবাহিনী সেখানে নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কয়েকশো রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। এক দিনেই ৩৪ রোহিঙ্গাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ধর্ষণ, লুটপাট ও শিশুদের আগুনে নিক্ষেপের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। মংডু শহর ও আশপাশের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার ৪০ হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে সেনারা। হেলিকপ্টার গানশিপ থেকেও গুলি চালানো হয়েছে রোঙ্গিাদের বাড়িঘরে।
3
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে উদ্যাপন করা হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভ মধু পূর্ণিমা। গতকাল সোমবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ইয়ংডং বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।এ সময় বুদ্ধ পূজা, প্রদীপ পূজা, ফুলপুজা, ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশে মধু দান, সংঘ দান, অষ্ট পরিষ্কার দান, চীবর দান, ভিক্ষুদের পিণ্ড দানসহ সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলন ও আকাশপ্রদীপ উত্তোলন করা হয়। এ সময় বৌদ্ধ নর-নারীরা করোনা মুক্তিসহ দেশ জাতির মঙ্গল কামনায় বুদ্ধের নিকট বিশেষ প্রার্থনা করেন।এদিকে রাঙামাটির বৌদ্ধ বিহারগুলোতেও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সোমবার সকালে রাঙামাটি শহরের আনন্দ বিহারে সংঘ দান, অষ্ট পরিষ্কার দান, বুদ্ধ মূর্তি দান, মধু দান সহ নানা দান কার্য সম্পাদন করা হয়। পুণ্যার্থীরা ভিক্ষুর কাছ থেকে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন। এর আগে সবার সুখশান্তি কামনায় বুদ্ধ মূর্তির সামনে প্রদীপ প্রজ্বালন করেন পুণ্যার্থীরা।
6
মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান জানতে আলোচিত স্বর্ণব্যসায়ী মোহাম্মদ আসিফ হাফিজের সাহায্য চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ ইনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ডট কম ২৫ মে এ খবর প্রকাশ করেছে। আসিফের আইনজীবীরা আদালতের নথিপত্রে আরও জানিয়েছেন, বলিউড তারকাদের অনুষ্ঠানে দাউদের আসন থাকতো সামনের সারিতে। অনুষ্ঠানের শুরু করা হতো দাউদের অনুমতি নিয়ে। দাউদকে জিজ্ঞেস করা তো 'ইজাজত হ্যায়?' (আমরা কি অনুষ্ঠান শুরু করবো?) আসিফকে দাউদের বর্তমান অবস্থার পাশাপাশি ১৯৯৩ সালে মুম্বাইয়ে বোমা বিস্ফোরণ, তোরা বোরা, তালিবান, দাউদের ব্যবস্থাপক করাচির ব্যবসায়ী জাবির মোতিওয়ালার বিষয়েও জিজ্ঞেস করা হয়। আসিফ জানিয়েছেন, দুবাইয়ে তিনি ও দাউদ স্বর্ণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্টেডিয়ামে একসঙ্গে বসে ক্রিকেট দেখতেন। দাউদ ইব্রাহিম চিরতরে দুবাই ছাড়লে তার সঙ্গে আসিফের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে লন্ডনে আসিফ হাফিজ গ্রেফতার হন। এর এক বছর পর লন্ডন থেকেই গ্রেফতার হন দুবাইয়ে দাউদ ইব্রাহিমের ব্যবস্থাপক জাবির মোতিওয়ালা। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
3
ভারতে ৭২ দিন ধরে চলে আসা কৃষক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন স্তরের তারকারা। এই কাতারে আছেন রাজনীতিক, অধিকারকর্মী, পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে মঙ্গল ও বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন মার্কিন গায়িকা রিয়ানা, সুইডিশ পরিবেশবাদী কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের বোনের মেয়ে আইনজীবী ও অধিকারকর্মী মিনা হ্যারিস। প্রতিবাদকারীদের এই কাতারে আছেন, সাবেক পর্নো তারকা মিয়া খলিফাও। এসব তারকার মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্পর্শকাতর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের হুটহাট মতামত তথ্যপূর্ণ হয় নয়, দায়িত্বশীলও নয়। মন্তব্যের আগে এ বিষয়ে সম্যক ধারণার প্রয়োজন। মিনা হ্যারিস তাঁর টুইট বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটলের হামলার ঘটনার সঙ্গে ভারতের কৃষক আন্দোলনের একটি সামঞ্জস্যের ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয় যে এক মাসের কম সময় আগে (৬ জানুয়ারি) পৃথিবীর প্রাচীনতম গণতন্ত্রকে (যুক্তরাষ্ট্র) আক্রমণ করা হয়েছে। আর বর্তমানে সর্বাধিক জনবহুল গণতন্ত্র (ভারত) আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এটি সম্পর্কিত। কৃষক আন্দোলন দমাতে ভারতে ইন্টারনেট বন্ধ এবং আধা সামরিক বাহিনীর সহিংসতায় সবার ক্ষোভ জানানো উচিত। , , . . . ://./ ../ টুইটারে কৃষকদের ছবি দিয়ে গ্রেটা থুনবার্গ লিখেছেন, 'আমরা ভারতের কৃষকদের আন্দোলনে সমর্থন নিয়ে পাশে আছি।' একই ছবি দিয়ে টুইটারে রিয়ানা মন্তব্য করেন, 'এই নিয়ে কেন আমরা কথা বলছি না?' কৃষক আন্দোলনের ছবি নিজ টুইট অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে মিয়া খলিফাও কৃষকদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এর আগে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যরা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও ভারতের কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে মন্তব্য করেছিলেন। তখনো ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ভারতে নতুন কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ আন্দোলন ৭২ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে বুধবার। এর মধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি কৃষকদের ট্রাক্টর অভিযান ঘিরে দিল্লিতে তুলকালাম ঘটে যায়। এর জের হিসেবে দিল্লি সীমান্তে কৃষকদের ঘিরে ফেলা হচ্ছে। রাস্তা কেটে, কাঁটাতারের বেড়া বসিয়ে, ব্যারিকেড দিয়ে কৃষকদের এক জায়গায় আটকে রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে দিল্লি অভিযান না হয়। . ://./ ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনা ও বিতর্ক শেষে ভারতের সংসদ কৃষি ক্ষেত্রে এই সংস্কার এনেছে। এর ফলে বাজারের প্রসার ঘটবে। কৃষি ও কৃষকের উপকার হবে। বলা হয়েছে, দেশের একাংশের অল্প কিছু কৃষক অসন্তুষ্ট। তবু সরকার আলোচনা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, সরকার এক-দেড় বছরের জন্য আইন রূপায়ণ স্থগিত রাখতে প্রস্তুত। ?! ://./ কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনার দাবি বুধবারও সংসদের কোনো কক্ষে মানা হয়নি। সরকারের প্রস্তাব, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবেই কৃষক আন্দোলন তোলা যেতে পারে। বুধবার রাজ্যসভায় এ নিয়ে বিক্ষোভ দেখালে আম আদমি পার্টির তিন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়।
3
উয়েফা নেশন্স লিগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। রবার্তো মানিচিনির শিষ্যরা ম্যাচটি জিতেছে ২-০ গোলে। একটি করে গোল করেছেন আন্দ্রেয়া বেলোত্তি ও ডমিনিকো বেরার্দি। এ ম্যাচের আগে অবশ্য সেমিফাইনালে যেতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল ইতালির সামনে। বসনিয়ার মাঠে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলা ইতালি ২২তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায়। বাঁ দিক থেকে লরেন্সো ইনসিনিয়ের ক্রসে ডি-বক্সে ছুটে গিয়ে দারুণ ভলিতে বল জালে পাঠান বেলোত্তি। ইতালির দ্বিতীয় গোলের আগে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করায় সমতায় ফেরা হয়ে উঠেনি মিরালেম পিয়ানিচের বসনিয়ার। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় ইতালির এক গোলের এগিয়ে থাকাতে। বিরতি থেকে ফিরে গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোন দলই। কিন্তু ৬৮তম মিনিটে ঠিকই জাল খুঁজে পান ইতালির ডমিনিকো। এটাই ছিল ম্যাচের শেষ গোল। এ নিয়ে টানা ২২ ম্যাচে অপরাজিত রইলো ইতালি। ছয় ম্যাচে ৩ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল তারা। টেবিলের দুইয়ে থাকা নেদারল্যান্ডসের ১১ পয়েন্ট। দুই জয় ও এক ড্রয়ে পোল্যান্ডের পয়েন্ট ৭। ২ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা বসনিয়া অবনমিত হয়েছে 'বি' লিগে।
12
বিশিষ্ট বক্ষব্যাধি চিকিৎসক প্রফেসর মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেছেন, বায়ু দূষণ, ধূমপান এবং অন্যান্য নানা কারণে ফুসফুস আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে একই সাথে সমাজের সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। লাং ফাউন্ডেশন ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস্ লি. এর যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার গণসচেতনতামূলক এক বর্ণাঢ্য সাইকেল র্যালির আগে এক সমাবেশে তিনি একথা বলেন। তিনি ২০১৫ সালের এক সমীক্ষার উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, সিওপিডির কারণে বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ৩০ লক্ষ মানুষের মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। বাংলাদেশেও সিওপিডিতে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার দিন দিন বাড়ছে। 'ধূমপান মুক্ত জীবন-নির্মল বাতাস-নিরোগ ফুসফুস- এই শ্লোগানে র্যালিতে নগরীর প্রায় দুই শতাধিক সাইক্লিস্ট এবং বিপুল সংখ্যক বিশেষজ্ঞ বক্ষব্যধি চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি নগরীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউস্থ জাতীয় সংসদ ভবন থেকে শুরু হয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বেলুন উড়ানোর মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে আরো বক্তব্য প্রদান করেন লাং ফাউন্ডেশন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ডা. আসিফ মুজতবা মাহমুদ এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লি. এর এজিএম (মার্কেটিং) মিজানুর রহমান।
9
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে একটি বিতর্কিত বিল পাস হয়েছে। এতে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের পারস্পরিক সম্মতিতে নগ্ন ছবিসহ যে কোনো ধরনের যৌনতাপূর্ণ 'টেক্সট' লেনদেনের অনুমতি দ্য়ো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিলটি পাসের আগে নিউ মেক্সিকোর আইনসভায় পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক হয়। অবশেষে ভোটাভোটিতে বিলটি পাস হয়। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় গভর্নর সুসান মার্টিনেজ এরইমধ্যে বিলটি অনুমোদন করেছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আইনটির বিরোধী বলে জানিয়েছেন। আইনসভায় পাস হওয়ায় বিলের অনুমোদন দিতে হয়েছে জানিয়ে মার্টিনেজ বলেন, ''আমি তথাকথিত এই 'সেক্সটিং' আইন সমর্থন করি না। না জেনেই আইনটির পক্ষে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে এবং সতর্কভাবে এর পরিণতি বিবেচনা করা হয়নি।'' আগামী অধিবেশনে আইনটি সম্পর্কে রাজ্যে প্রতিনিধিদের আলোচনার আহ্বান জানাবেন বলেও জানিয়েছেন মার্টিনেজ। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলও আইনটির বিরোধীতা করেছেন। বিতর্কিত এ বিলেল পক্ষের আইনপ্রণেতাদের যুক্তি হচ্ছে, আইন সম্পর্কে না জানার কারণে অনেক শিশুই বড় ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে যায়। তাছাড়া প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আইনও পরিবর্তন করা উচিত। বিতর্কিত এ বিল পাসের আগে, শিশুদের নগ্ন ছবি, যৌনতা উস্কে দেয় এমন কোনো লেখা বা অন্য ধরনের আধেয় লেনদেন শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের কাজ শিশু পর্নোগ্রাফির কাতারে ফেলে জেল-জরিমানা, এমনটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও বিচার করা হত। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
3
হারিয়ে যাওয়ার পাঁচ বছর পর রিনা আক্তার (৪৬) ফিরে পেলেন তাঁর পরিবার। ২০১৭ সালে বাড়ি থেকে বের হয়ে হারিয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন রিনা। তিনি খুলনার ফুলতলা উপজেলার নাড়ীপাড়া গ্রামের মোহসীন আকন্দের স্ত্রী। ফারজানা আক্তার নামে তাঁর এক মেয়ে আছে। ফারজানা ঢাকার একটি নার্সিং কলেজে পড়াশোনা করছেন। রিনার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে রিনা আক্তার মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তখন থেকে কাউকে কিছু না বলে মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসতেন। ২০১৭ সালে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। স্বজনেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এক সপ্তাহ আগে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন তরুণ রিনা আক্তারকে ভবঘুরে অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাঁর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বজলুর রহমান ওই নারীর কথা জানতে পেরে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তিনিও তাঁর ফেসবুকে ওই নারীর ছবিসহ একটি পোস্ট দেন। গত সোমবার ফারজানা আক্তারের এক স্বজন ফেসবুকে ছবি দেখতে পেয়ে তাঁকে খবর দেন। পরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নিয়ামতপুরে আসেন ফারজানা এবং মাকে দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ফারজানা বলেন, 'মা নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। অনেক দিন পর মাকে খুঁজে পেয়ে আমি খুব খুশি। সবার দোয়া চাই, সেবাযত্ন করে যেন মাকে সুস্থ করে তুলতে পারি।' নিয়ামতপুর সদর ইউপির চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন একজন নারী নিয়ামতপুরে ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন-এটা জানতে পেরে তিনি ওই নারীকে খুঁজে বের করেন এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত থাকায় তাঁকে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। গতকাল মেয়ে এসে ওই নারীকে নিয়ে যান।
6
চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথমদিন রবিবার (১৫ মে) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বল হাতে ৪ উইকেট পেলেও ব্যর্থতায় দিন শেষ করলো মুমিনুল বাহিনী। ৪ উইকেট খুইয়ে ২৫৮ রান তুলে দিন পার করে সফরকারী ব্যাটসমানরা। ফলে আক্ষেপ নিয়ে প্রথম দিন শেষ করে টাইগাররা। তবে সোমবার (১৬ মে) দ্বিতীয় দিন ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাই ম্যাচ শুরুর আগে অনুশীলনে গা গরম করে মুমিনুল বাহিনী। নিজদের ব্যাট-বল শান দিয়েছেন তামিম-সাকিবরা। এদিকে প্রথম দিন শেষে উইকেটে অপরাজিত আছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ১১৪ ও দিনেশ চন্ডিমাল ৩৪ রান। এমনকি চমৎকার ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কার ম্যাথিউস নিজের ক্যারিয়ারে ১২ তম টেস্ট সেঞ্চুরিও পূরণ করেন। ম্যাথিউস-চন্ডিমাল বেশ ঠান্ডা মাথায় খেলে রানের চাকা সচল রাখেন। তাছাড়া লঙ্কানদের হাতে এখনো ৬ উইকেট আছে। সোমবার দ্বিতীয় দিন সাকিব-নাঈমরা বল হাতে কেমন খেলবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনায় ডুবে আছেন ভক্তরা। তাদের প্রত্যাশা লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় দিন দ্রুত ৬ উইকেট শিকার করতে পারবে। এছাড়া চার টেস্ট পর দলে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। করোনা মুক্ত হয়ে ফেরায় তার ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। কিন্তু তিনি মাঠে ফিরেই বল হাতে দেখিয়েছেন ভেল্কি। প্রথম দিন লঙ্কানদের চাপে রাখতে উইকেট তুলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সাদা পোশাকে নিজের ১১তম ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পান সাকিব। তার ঘূর্ণিতে কুপোকাত হন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের বলে মাহমুদুল হাসান জয় দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন। সাকিবের বল ধনাঞ্জয়ার ব্যাট ছুঁয়ে প্যাডে লেগে প্রথম স্লিপের দিকে উপরে উঠে যায়। আর সঙ্গে সঙ্গে জয় ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুবন্দি করেন, কিন্তু আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। ফলে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার রিভিউ নেন। সেই সিদ্ধান্ত মুমিনুলদের পক্ষে আসে। ধনাঞ্জয়া ২৭ বলে ৬ রান করে আউট হন।
12
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেছে ময়মনসিংহ ল্যাবএইড লিমিটেড ডায়াগনস্টিক। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর থানার ঘাট এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি মেডিকেল চেকআপে ছিল ডায়াবেটিস, রক্তচাপসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া।এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন, রেলওয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ডার মো. মোজাম্মেল হক, সাবেক কমান্ডার মো. আব্দুর রব, সহকারী কমান্ডার কামাল পাশা, সহকারী কমান্ডার মো. আলা উদ্দিন প্রমুখ।ল্যাবএইড লিমিটেডের ময়মনসিংহ ব্রাঞ্চের ম্যানেজার খন্দকার বাকী বিল্লা বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের ল্যাবএইড লিমিটেড ডায়াগনস্টিক সব সময় স্বল্প মূল্যে, ক্ষেত্রবিশেষ কখনো বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। ল্যাবএইড লিমিটেড আমাদের বীর সন্তানদের শ্রদ্ধার সঙ্গে ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়ে সব সময় তাঁদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
6
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা ও ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খলিলুর রহমান মোহন। মতবিনিময় সভা শেষে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও টেলিভিশনে কর্মরত মোট ৩২ জন সদস্যের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষ খাওয়া কমিয়েছে। খাবারের টং দোকানগুলোতে এখন খেটে খাওয়া মানুষের সেই ভিড় আর নেই। এসব দোকানে বিক্রীত খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেচাকেনা কমে গেছে। ফলে অনেক সময় কলা-রুটি বাসি বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে দোকানদারদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও যে বন রুটি বা কেকের দাম ১০ টাকা ছিল, তার দাম এখন হয়েছে ১৫ টাকা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চায়ের দোকানগুলোতে বিক্রি হওয়া বেকারির রুটি, বিস্কুট, কেকজাতীয় খাদ্যের দাম বেড়েছে। রিকশাওয়ালা, নির্মাণ শ্রমিকসহ স্বল্প আয়ের মানুষেরাই এগুলো বেশি খায়। কয়েক দিন আগেও যেই বন, রুটি, কেকের দাম ১০ টাকা ছিল, তার দাম এখন হয়েছে ১৫ টাকা। ৫-৭ টাকারটা হয়েছে ১০ টাকা। হঠাৎ এসবের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি আগের চেয়ে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা কামাল উদ্দিনসহ কয়েকজন।উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার চায়ের দোকানি মনির গাজী। তাঁর দোকানে চায়ের পাশাপাশি কেক, পাউরুটি, বন, বিস্কুটও পাওয়া যায়। এসব বেকারি পণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে মনির গাজী বলেন, কিছুদিন আগে থেকে বেকারির মালিকেরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর যেগুলোর দাম বাড়েনি, সেগুলোর আকার ছোট করা হয়েছে। আমার দোকানের কাস্টমার আগে সারা দিনে ৪-৫ বার চা-বন খাইলেও এখন দিনে সর্বোচ্চ দুইবার আসে। কারণ জিনিসপত্রের দাম বেশি।'মতলব উপজেলা সদরের রিকশাচালক জালাল খান বলেন, 'রিকশাচালকেরা কষ্ট করে বেশি। এ জন্য বারবার খিদে লাগে। আগে তো দিনে ৪-৫ বার রুটি-কলা খাইতাম। এখন দিনে ১-২ বারের বেশি নাশতা করি না। টাকা বেশি লাগে এ জন্য খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি।জালাল খান আরও বলেন, আগে একটি পাউরুটি, কেক বা বনরুটি খেতে খরচ হতো ১০ টাকা। আর চা ৫-৬ টাকা। কিন্তু এখন ১০ টাকারটার দাম হয়েছে ১৫ টাকা। চা হয়েছে কোথাও ৬ টাকা, আবার কোথাও ৭ টাকা। একবার নাশতা করতেই ১৫ টাকার জায়গায় লাগে ৩০ টাকা।উপজেলার বেকারী মালিক মো. সলেমান ব্যাপারী বলেন, 'এ বিষয়ে আমাদের করার কিছু নেই। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। রমজান মাসের আগেও ময়দার বস্তা ছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা। সেটা বেড়ে ২ হাজার ২০০, সেখান থেকে ২ হাজার ৮০০, পরে ৩ হাজার ২০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। চিনির বস্তা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, ডালডার কার্টন ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৩ তিন ৬০০ টাকা হয়েছে। সেই সঙ্গে মোড়ক পলিথিনের দামও বেড়েছে। সব মিলিয়ে আমরা যদি পণ্যের দাম না বাড়াই তাহলে আমাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই আমাদের দাম বাড়াতে হয়েছে।'
6
দেড় বছর আগে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সেদিন যা ঘটেছিল, তা উঠে আসে। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে সিনহাকে (৩৬) গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বোন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় টেকনাফ মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৫ আসামি রয়েছেন। আজ সোমবার এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। সিনহা হত্যার ঘটনার এক মাসের মাথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেয়। তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের তৎকালীন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেন। প্রতিবেদনে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে পুলিশের হঠকারী (অবিমৃশ্যকারী), প্রস্তুতিহীন ও অপেশাদারি আচরণ বলে উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহির অভাবে গুলিবর্ষণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মনে অসংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে। আত্মরক্ষার আইনি সুবিধার অপপ্রয়োগ হচ্ছে। এসব বন্ধে কমিটি ১৩ দফা সুপারিশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনহা তাঁর সঙ্গী সিফাতকে সঙ্গে নিয়ে মারিশবুনিয়ার টুইন্যার পাহাড়ে 'টাইম ল্যাপস' ভিডিও করতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার পর পাহাড়ে আলো দেখে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের ডাকাত বলে সন্দেহ করেন। লিয়াকত কাউকে জানাননি তদন্ত কমিটির কাছে লিয়াকত বলেছেন, মারিশবুনিয়া গ্রামের কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সেক্রেটারি নুরুল আমিন তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন যে পাহাড়ে ডাকাতেরা ছোট ছোট আলো ফেলে ঘোরাঘুরি করছে। লিয়াকত তখন মাদক উদ্ধার অভিযান থেকে ফিরছিলেন। নুরুল আমিন আবার ফোন করে বলেন, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা সেই লোকেরা গ্রামবাসীকে গুলি করেছেন। তাঁরা সিলভার রঙের গাড়িতে করে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছেন। নুরুল আমিনও কমিটির কাছে একই কথা বলেছেন। কমিটি বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ৩৫ জন পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, যাঁরা কেউই এ কথা জানতেন না। কথা হয়েছে শুধু লিয়াকত ও নুরুল আমিনের মধ্যে। প্রতিবেদনে বলা হয়, লিয়াকত সে খবর কাউকে জানাননি। এমনকি ওসি বা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তাকেও না। তিনি খবর যাচাই করার জন্য ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান বা স্থানীয় কাউকে ফোন করেননি। কোনো সহকর্মীকেও সেটা বলেননি। লিয়াকত কমিটিকে বলেছেন, খবর যাচাই করার সময় তিনি পাননি। মারিশবুনিয়ার মসজিদ থেকে যখন 'ডাকাত' বলে মাইকিং করা হচ্ছিল, তখন নিষেধ করেছিলেন ইমাম জহির আলম। তিনি বলেছিলেন, তাঁরা সেনাবাহিনীর লোক। পাহাড়ে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এভাবে লিয়াকতকে বারবার ফোন করা শুধু ডাকাতের ভয়, নাকি অন্য কোনো কারণে, তা জানতে অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত লিয়াকতের একার পাহাড় থেকে নেমে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে আসার আগে সিনহা বিজিবির একটি চৌকিতে থেমেছিলেন। বিজিবির সদস্যরা সিনহার পরিচয় জানার পর তাঁকে স্যালুট করেছিলেন। সেখান থেকে ছয় কিলোমিটার আসার পর শামলাপুর তল্লাশিচৌকি, যেখানে সিনহাকে গুলি করা হয়। এর এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে সেনাবাহিনীর তল্লাশিচৌকি। এপিবিএনের সদস্যরা কমিটিকে বলেছেন, লিয়াকত চৌকিতে এসে কিছু বলেননি। তিনি শুধু তল্লাশিচৌকির এসআই শাজাহানকে ফোন করেছিলেন। তা ছাড়া তিনি যখন ফোনে ডাকাতের খবর পেয়েছিলেন, তখনো তাঁর সঙ্গে পুলিশের একটি দল ছিল। কিন্তু তিনি কাউকে না জানিয়ে একাই অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন। কমিটি বলেছে, লিয়াকতের এমন কর্মকাণ্ড অপেশাদারি, খামখেয়ালি, রহস্যজনক ও প্রশ্নসাপেক্ষ। সিনহার কোন হাত কোথায় ছিল তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনহার গাড়ি তল্লাশিচৌকিতে এলে কনস্টেবল রাজীব সংকেত দেন। গাড়ি থেমে যায়। বাঁ দিকের কাচ নামিয়ে সিনহা পরিচয় দিলে এসআই শাজাহান পেছনে সরে যান। গাড়ি আবার চলতে শুরু করে। এরপর লিয়াকত এসে ব্যারিকেড দিয়ে পিস্তল তাক করেন। সিনহাকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। সিনহার সঙ্গী সিফাত কমিটিকে বলেছেন, সিনহার নির্দেশে তিনি গাড়ি থেকে নেমে যান। গাড়ির দুই সিটের মাঝখানে রাখা পিস্তলে সিনহাকে হাত দিতে দেখেন সিফাত। কিন্তু নামার সময় কী হয়েছিল, তা তিনি আর দেখেননি। সিনহার গাড়ি থেকে নামা নিয়ে পুলিশের একেক সদস্য কমিটির কাছে একেক রকম তথ্য দিয়েছেন। এসআই শাজাহান বলেছেন, সিনহাকে তিনি নামার সময় দেখেননি, দাঁড়ানোর সময় দেখেছেন। তিনি পিস্তল তাক করেননি। কনস্টেবল রাজীব বলেছেন, সিনহার এক হাত ওপরে, আরেক হাত নিচে ছিল। কনস্টেবল আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি সিনহাকে অস্ত্র তাক করতে দেখেননি। তাঁর পিস্তল খাপের মধ্যে ছিল। সেটা বের করতে গেলেই লিয়াকত গুলি করেন। এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত কমিটিকে বলেন, লিয়াকত ব্যারিকেড দিয়ে অস্ত্র তাক করে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। এরপর...শুট শুট বলেই গুলি করেন লিয়াকত। গুলিবর্ষণকারী লিয়াকত কমিটিকে বলেছেন, 'সিনহা গাড়ি থেকে নেমে উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে গুলি করেন।' তবে কমিটির জেরায় লিয়াকত বলেছেন, গাড়ি থেকে নামার সময় সিনহা ডান হাত কোমরে রাখেন, এরপর পিস্তল তাক করে গুলি করেন। কমিটি প্রতিবেদনে বলেছে, সবাই বলেছেন, সিনহার বাঁ হাত ওপরে ছিল। কিন্তু ডান হাত কোথায় ছিল, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। একেকজন একেক কথা বলেছেন। লিয়াকতের জীবনের শঙ্কা ছিল কি তদন্ত কমিটির কাছে লিয়াকত বলেছেন, তিনি জানমালের নিরাপত্তার জন্য গুলি করেছিলেন। কিন্তু এসআই শাজাহান বলেন, ওই সময় লিয়াকতের স্থলে তিনি হলে গুলি করতেন না। গুলি করার কারণ হিসেবে তিনি লিয়াকতের অনভিজ্ঞতা ও সোর্সের ওপর অতিনির্ভরশীলতাকে দায়ী করেছেন। কনস্টেবল রাজীব বলেছেন, লিয়াকত গুলি না করলে সিনহা গুলি করতেন কি না, তা তিনি বুঝতে পারেননি। আবার নন্দদুলালের কাছে কমিটি জানতে চেয়েছিল, ওই সময় লিয়াকতের জীবনের কোনো শঙ্কা ছিল কি না? জবাবে তিনি বলেছেন, 'আমি এ রকম চিন্তা করিনি।' সিনহাকে মেরে ফেলার জন্য গুলি অন্য সব সাক্ষী কমিটির কাছে যেসব কথা বলেছেন, তাতে কমিটি মনে করে, সিনহাকে মেরে ফেলার জন্য গুলি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক কমিটিকে বলেছেন, একটি গুলি দূর থেকে করা হলেও পরের সব গুলি খুব কাছ থেকে করা হয়েছিল। কমিটি লিয়াকতের কাছে জানতে চেয়েছিল, আত্মরক্ষার জন্য কটি গুলির প্রয়োজন? জবাবে লিয়াকত বলেছেন, তখন সেটা গোনার সময় ছিল না। কমিটি মনে করে, সঠিক তথ্য যাচাই করলে, অভিযানের আগে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিলে গুলিবর্ষণ এড়ানো যেত। দরকার হলে লিয়াকত বিজিবি ও সেনাবাহিনীরও সহযোগিতা নিতে পারতেন। একে 'অপেশাদারি, চরম সমন্বয়হীনতা ও ক্রেডিট হাইজ্যাকের কুফল' বলে মনে করে কমিটি। বিনা চিকিৎসায় মারা যান সিনহা সিনহাকে গুলি করার ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর প্রদীপ ঘটনাস্থলে আসেন। এর আগে সিনহাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রদীপ আসার ২২ মিনিট পর সিনহাকে ট্রাকে তোলা হয়। কমিটি বলেছে, হাসপাতালে যেতে অস্বাভাবিক দেরি হওয়ায় বিনা চিকিৎসায় সিনহা মারা যান। কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ফরিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষী ও উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। তাই আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলে আশা করে রাষ্ট্রপক্ষ।
6
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর ওপর নানা অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়। সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর বোমা হামলাসহ দেশের ৫ শতাধিক স্থানে বোমা হামলা, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির প্রতিবাদে আমরা যখন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সমাবেশ ও র্যালি করতে যাই, সেই সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। এই হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করাই ছিল তাদের প্রধান টার্গেট। গ্রেনেড হামলার ঘটনার ১৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা ঘটনা ঘটার আগে খালেদা জিয়া যে ভবিষ্যদ্বাণী ও বক্তব্য রেখেছিলেন, সেগুলোই তার প্রমাণ। কোটালীপাড়ায় বোমা হামলার আগে তিনি বলেছিলেন, ১০০ বছর ক্ষমতায় আসতে পারবে না আওয়ামী লীগ। আবার ২১ আগস্ট বোমা হামলার আগে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, শেখ হাসিনা কোনো দিন বিরোধীদলের নেতা হতে পারবেন না। এ বক্তব্যগুলো প্রমাণ করে যে এই গ্রেনেড হামলার সঙ্গে তারা জড়িত। তাছাড়া আলামত নষ্ট করা একটি প্রধান প্রমাণ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ১৯৭১, ১৯৭৫ ও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
9
সরকার যেভাবে সফলতার সঙ্গে করোনাভাইরাসের মোকাবিলা করেছে, তেমনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, 'দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে সরকার। রমজান মাসে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে। কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। আমরা ট্রাকে করে এলাকায় এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দেব।' আজ সোমবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় একটি কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এম এ মান্নান বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার। উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার। এখন দেশে কোনো মানুষ না খেয়ে থাকে না, কেউ অন্ধকারে থাকে না। সরকার সফলতার সঙ্গে করোনা মোকাবিলা করেছে। তাই দেশ থেকে করোনা বিদায় নিয়েছে। এবার দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতিও বিদায় নেবে। অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেবের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মধুসূদন ধর, স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছায়াদ আলী, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল মাসুদ, জাইকার উপজেলা সমন্বয়ক হোসাইন আহমেদ প্রমুখ।
6
কবুতর চুরির অভিযোগে ইসমাইল হোসেন নামে ১৭ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। সেই ভিডিও পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হলে অপমানিত কিশোর গ্যাস ট্যাবলেট (বিষাক্ত অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড ৫৭ %) সেবন করে আত্মহত্যা করেছে।এ ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বনতেঁতুলিয়া গ্রামে। ইসমাইল ওই গ্রামের বুলু প্রামাণিকের ছেলে। তার এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে ইসমাইল। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বনতেঁতুলিয়া গ্রামে বাসিন্দা আলাউদ্দিন। শখে কবুতর পালন করেন। পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা। বৃহস্পতিবার সকালে তার বাড়ি থেকে তিন জোড়া কবুতর হারিয়ে যায়। হারানো কবুতরগুলোর খোপের সামনে রক্তের দাগ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কবুতরের সন্ধান পাননি আলাউদ্দিন। তিনি কবুতর চুরির জন্য ইসমাইলকে সন্দেহ করেন। ওই দিন সকালে আলাউদ্দিনের ছেলে মেহেদী তাঁর চাচাতো-ফুফাতো ভাই শাকিল ও মানিককে সঙ্গে নিয়ে ইসমাইলের বাড়িতে যান। বাড়ি থেকে ইসমাইলকে তুলে নিয়ে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত দোকানে নিয়ে যান তাঁরা। সেখানে চুরির অপবাদ দিয়ে ইসমাইলকে বেধড়ক মারধর করেন।জানা গেছে, ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ইসমাইলের মা ফাতেমা বেগম ও স্বজনেরা। তাঁরা অনেক অনুরোধ করে ইসমাইলকে উদ্ধার করেন। পরে কবুতর চুরির বিষয়ে বেলা ১২টার দিকে আলাউদ্দিনের বাড়িতে সালিস বসানো হয়। সালিসে ইসমাইলের পরিবারের সবাই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আলাউদ্দিন কবুতর চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মনসুর আলীর মধ্যস্থতায় ১২ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত হয়। এতে দুই পক্ষই রাজি হয়। ওই সময় ইসমাইলের মা বিকেলের মধ্যে টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।সালিসে বিষয়টি ফয়সালা হওয়ার পরও আলাউদ্দিনের ছেলে মেহেদীসহ শাকিল ও মানিক চুরির অপবাদে ইসমাইলকে মারধরের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। এতে অপমানিত ইসমাইল বিকেলেই গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে। বাড়িতে গিয়ে বমি করতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে ইসমাইলের মৃত্যু হয়।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনসুর আলী বলেন, দুই পক্ষের সম্মতিতে সালিসে ফয়সালা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ইসমাইলকে মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই।দুপচাঁচিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সনাতন চন্দ্র সরকার বলেন, এই ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
সদ্য গ্রেফতার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। অসুস্থবোধ করায় আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢামেকে আনা হয় তাকে। ঢামেকে সম্রাটের সঙ্গে থাকা কারারক্ষী মুজাহিদুল সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, সম্রাট কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় কারারক্ষী ও পুলিশি পাহারায় তাকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরে তাকে নতুন ভবনের তিন তলায় হৃদরোগ বিভাগে নেয়া হয়। তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী আরমানকেও গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তাদেরকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
9
নিখোঁজ ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান রংপুরে তার শ্বশুরের বাসায় ফিরেছেন। শুক্রবার তার পরিবারের পক্ষ থেকে এতথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে উদ্ধার করা হয়েছে নাকি তিনি ফিরে এসেছেন, তা এখন বলা যাচ্ছে না। তাকে এখন থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত এই বক্তা গত ১০ জুন দিবাগত রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন।৩১ বছর বয়সী এই বক্তা নিখোঁজের পর থেকে সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, আদনানের গাড়িচালক আমির উদ্দীন এবং তার সঙ্গে থাকা আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ নামে দুজনও নিখোঁজ হন ওইদিন। ওই রাতের পর থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন তার মা আজেদা বেগম রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় জিডি করেন। রংপুরে ওয়াজ মাহফিল শেষে ঢাকার বাসায় ফেরার পথে তিনি নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ ছিল। আবু ত্ব-হার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, গাবতলী থেকে তারা নিখোঁজ হন। আদনানের মা আজেদা বেগম ও তার এলাকার লোকজনর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পেয়েছিলেন আদনান। একসময় রংপুরের ক্রিকেট অঙ্গনে সবার পরিচিত ছিলেন তিনি। রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের গন্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন রংপুর কারমাইকেল কলেজে। অনার্সে তার বিষয় ছিল ফিলোসফি। মাস্টার্সে ফিলোসফিতে ফার্স্টক্লাস পান তিনি। অনার্সে পাড়াকালীন ধর্মের দিকে ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়েন এই ক্রিকেটার। সদাহাস্যোজ্জ্বল ও মিশুক ছিলেন আদনান। তার বাবা মারা যাওয়ার পরে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে নানার বাড়িতে বড় হন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো আরবি প্রতিষ্ঠানে না পড়লেও ইসলাম ধর্মের প্রচুর বই পড়তেন এবং গবেষণা করতেন। ফিলোসফিতে মাস্টার্স করা ছাত্র অল্প দিনেই হয়ে ওঠেন একজন ভালো ইসলামি বক্তা। তিনি ধর্মীয় উগ্রবাদকে সমর্থন করতেন না। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, "অতীতে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপি যা করেছে আওয়ামী লীগ তা করবে না। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আওয়ামী লীগ সমর্থন করে এমন কোনো ব্যক্তি থাকবে না।" আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ২০নং ওয়ার্ডের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের ইচ্ছায় গঠিত ইসি খালেদা জিয়ার গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ খালেদা জিয়া আজিজ মার্কা ইসি গঠন করেছিলেন। সেই এম এ আজিজ বিএনপির সমর্থক ছিলেন। একে এম হাসানকে উপদেষ্টা করেছিলেন। তিনি কিন্তু বিএনপির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাহলে আজকে নিরপেক্ষতার কথা বলছেন কেন। আপনি ঠিক বলেছেন, সরকারের ইচ্ছায় গঠিত ইসির বিষয়ে আপনার বক্তব্যের সঙ্গে আমি সহমত কারণ ইসি গঠন সরকারের কোনো ইচ্ছায় নেই।" তিনি আরও বলেন, "আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি যে, ইসি গঠনে শেখ হাসিনা যাদের নাম প্রস্তাব করবেন, সেখানে কোনো আওয়ামী লীগের সমর্থকের নাম থাকবে না। আর রাষ্ট্রপতি ইসি গঠনে যে নাম নেবেন তাতেও বিএনপি বা আওয়ামী লীগের কারো নাম থাকবে না। যে কাজ বিএনপি করেছিলো আওয়ামী লীগ তা করবে না।" বিডি-প্রতিদিন/ ২২ জানুয়ারি, ২০১৬/ আব্দুল্লাহ সিফাত-১৫
6
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও পটিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও নয়জন। গত শুক্র ও গতকাল শনিবার এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, গতকাল পটিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও সাতজন।চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান সড়কের পটিয়ার শ্রীমাই ব্রিজ এলাকা এবং হাইদগাঁও বিওসি রোড এলাকায় এসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ওয়ার্কশপ গ্যারেজের শ্রমিক সুজন চৌধুরী ধনা (৪৫)।আহত ব্যক্তিরা হলেন আবু আহমদ (৬০), সালমা (১৫), সানজানা (১৮), সবুজ (১৫), তারেক (১৮), ইসমাইল (২০) ও ইমন (১৫)। এদের মধ্যে ইমন, সবুজ ও আবু আহমদকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো জব্দ করা হয়েছে।এদিকে বাঁশখালী থেকে ফেরার পথে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. আরমান হায়দার (২২) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে অপর দুই মোটরসাইকেল আরোহী।গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ সেতুর পুরাতন টোল বক্স এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।আরমান হায়দার কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ লোকমানের ছেলে। আরমান তাঁর দুই বন্ধুসহ বাঁশখালীতে একটি বিয়ে অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন।এ সময় দুই মোটরসাইকেল আরোহী রাউজান উপজেলার আকাশ দে (২৩) এবং জিইসি এলাকার ইমতিয়াজ মাহমুদ (২২) গুরুত্ব আহত হন।প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, শুক্রবার রাতে বাঁশখালী এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন তাঁরা। মোটরসাইকেলে তিনজন ছিলেন। কুয়াশার কারণে সড়কের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তাঁদের তৈলারদ্বীপ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতিতে আসা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন মারা যান। আহত হয় দুজন।ইমতিয়াজ আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
6
মাদারীপুর শহরের শকুনী লেকের পাড়ের রাস্তায় গভীর রাতে ফেলে যাওয়া বৃদ্ধ মা জোবেদা খাতুন (৭০) আর নেই (ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাহী রাজিউন)। মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুর পৌর কর্তৃপক্ষ বেওয়ারিশ হিসেবে শাহ্মাদার দরগা শরীফ কবরস্থানে তাকে দাফন করেছে। জানা গেছে, জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর গভীর রাতে তার সন্তানরা মাদারীপুর শহরের শকুনী লেকের উত্তর পাড়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরদিন সকালে সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী বিলাশ হালদার ও মেহেদী ইসলাম হাটার সময় বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যায়। তারা গিয়ে দেখে হাতে-মাথায় রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই বৃদ্ধা প্রথম দিন নিজের নাম আর সন্তান-বউ মিলে ফেলে রেখে যাওয়ার কথাটুকুই শুধু বলতে পেরেছিলেন। স্বামীর নাম অজয় মল্লিক, ছেলেদের নাম আলমগীর ও সোবাহান বলেছিলেন। তারপর থেকে তিনি আর কথা বলতে পারেননি। কিছুটা স্মৃতিশক্তি হারিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। ১২ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। রাত সোয়া ৮টার দিকে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদে সিভিল সার্জন, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও মাদারীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসে। মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. ফরিদ উদ্দিন মিয়া জানান, বৃদ্ধাকে সদর হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে যথাযথ প্রক্রিয়াতে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। যেসব ওষুধ হাসপাতালে নেই, সেসব সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে কিনে চিকিৎসা দেয়া হয়। সোমবার রাতে বৃদ্ধার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ নিবিড় পর্যাবেক্ষণ করেন। তবে তিনি আর ফিরে আসেননি। রাত আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে তিনি মারা যান। উদ্ধারকারী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানান, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি তার পরিচয় পাওয়ার জন্য। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তার মুখ থেকে কোন বাক্য বের করতে পারিনি। এখন তিনি সব কিছুর উর্ধ্বে, তার আর পরিচয়ের দরকার হবে না। যে সন্তানরা এমন বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে গেছেন, তারাও তো একদিন বৃদ্ধ হবেন। আমি দোয়া করি, তাদের সন্তানরা যেন এমন ব্যবহার না করেন। অপর উদ্ধারকারী বিলাস হালদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, উদ্ধারের করার পর থেকে প্রতিদিন সকাল-বিকেলে তার খোঁজ খবর নিয়েছি। নিজের মায়ের মতো যত্ম করেছি। তার মৃত্যুতে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। শুধু একটাই কথা বলবো, কোন সন্তান যেন এমন নির্মম না হয়। আর যেন কোন মাকে এভাবে অযত্ম অবহেলায় মরতে না হয়। মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, এই বৃদ্ধার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। তাই মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শাহমাদার দরগা কবরস্থানে তাকে যথাযথ ধর্মীয় প্রক্রিয়ায় দাফন করা হয়েছে।
6
তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র নদীর চরের বাসিন্দারা ভালো নেই। করোনাকালীন ও লকডাউনে গাইবান্ধার চরবাসীদের আর্থিক দৈন্যতার মধ্যে রীতিমতো কর্মহীন দিন যাপন করতে হচ্ছে। তাই ঈদ নিয়ে তাদের মনে কোন আনন্দ নেই।গাইবান্ধা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বদিকে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদী। সেখানকার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পোড়ার চর ও উজান বোচাগাড়ীর চর। তিস্তার মাঝ বরাবর জেগে ওঠা এই দুই চরে ৫ শতাধিক পরিবার বাস করে। এদের মধ্যে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাই বেশি। দিন মজুর পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মজুরের কাজ করে সারা বছরের খাবার জোগায়। কিন্তু গত করোনার সময় থেকে এখন পর্যন্ত দরিদ্র মজুররা কোথাও কাজে যেতে পারেনি। ফলে কেউ গবাদিপশু বিক্রি করে সংসার চালিয়েছে। অথবা কেউ দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দুবেলা খাবার জোগাড় করেছে। অধিকাংশ পরিবারের মধ্যে এবারও কোন ঈদের আনন্দ নেই। কোরবানি ঈদের প্রভাব পড়েনি তাদের মধ্যে। নতুন কাপড় তো দূরের কথা, ঈদে ভালো মন্দ খাবেন এ অবস্থাও তাদের নেই। ত্রাণ সাহায্য জোটেনি অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারে।পোড়ার চরের প্রবীণ বাসিন্দা গেনলা শেখ জানান, 'হামার আবার কিসের ঈদ বাহে? তিনটা সন্তান ও বউ আলেকজান বিবি আছে ঘরে। আগে সিলেট গিয়ে দিন মজুরের কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠাতাম। কিন্তু লডডাউনের কারণে দেড় বসর থাকি ঘরত বসনা। কাজ কাম নাই, ঘরে খাবারও নাই। যেদিন কাজ করতে পারি এখানে সেখানে সেদিন ভাত জোটে। সে কারনে হামর ঈদের দিনের কথা মনেই নাই।'কথা হয় ৭০ বছর বয়সের আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। গায়ে গতরে কমতি নেই। জমাজমি বলতে পোড়ার চরে ৪ বিঘা বালু মাটি। দুই ছেলে বাবু আর লাল মিয়া ঢাকার পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আর তিন মেয়ে ঘরে আছে, যারা বিয়ের উপযুক্ত।দুই ছেলে ঢাকায় কাজ করে যা রোজগার করেন আর তিনি নিজে হাত নেড়ে যা রোজগার করেন তাতে ৬ জনের পরিবার সুখেই চলছিল। কিন্তু গেল বছরের করোনায় বাড়ি এসে যানবাহন না থাকায় দেরি করে পৌঁছান কারখানায়। কিন্তু ততক্ষণে তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। খালি হাতে ফেরেন বাড়িতে। লকডাউনে কোন কাজ কর্ম করতে পারেনি। তাই পিতা আনোয়ার হোসেনের কৃষি মজুরের কাজ করে যা জোটে তাতে একবেলা খাবার জোটে কোনোমতে।আনোয়ার হোসেন জানান, ঈদের খবর আমরা জানি না। আয় রোজগার নাই, তাই কোরবানি তো দূরের কথা, ঈদের দিন নিজের ঘরের মুরগি জবাই দেওয়া লাগবে।পোড়ার চরের ইউপি মেম্বার রেজাউল করিম জানান, এবার ঈদে কোরবানি নেই। প্রতি বছর এই চরের ৪ /৫টা পরিবার কোরবানি দিত কিন্তু এবার তারা কোরবানি দিতে পারবে না। সরকারি সাহায্য আসে খুব কম। তাতে চরের কারও চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন জানান, কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না। আমরা প্রচুর রিলিফ দিচ্ছি। এবার ঈদের আগেই ১ লাখ ৬৫ হাজার মানুষের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।
6
ঐতিহ্যবাহী গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন ওল্ড ল্যাবরেটরিয়ানস অ্যাসোসিয়েশন (ওলসা) এবারও তাদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে।মোট ২৩টি প্রাক্তন ব্যাচ তিন মাসব্যাপী ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও ভলিবলের মতো ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ করে। সম্প্রতি ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সারা দিনব্যাপী প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক, অভিভাবক, প্রাক্তন ছাত্রদের অংশগ্রহণে মুখরিত ক্যাম্পাসে খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ওলসা প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসাদ্দেক আজম সিদ্দিকী।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক জনাব আবু সাঈদ ভূঁইয়া, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু (ল্যাব' ৮৪); বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুই পরিচালক সালাউদ্দিন চৌধুরী (ল্যাব' ৮৯) ও ইসমাইল হায়দার মল্লিক (ল্যাব' ৯২) এবং স্পোর্টস ইভেন্টের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক মীর গ্ুপের চেয়ারম্যান সামা-ই জহির (ল্যাব' ৯১)।
12
সময় গড়িয়েছে অনেক। এবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চাইছেন ক্লোজআপ তারকা সাজিয়া সুলতানা পুতুল। মনের মতো ভালো পাত্র পেলেই বিয়ে করবেন বলে জানান এ গায়িকা। কেমন পাত্র চান? জানতে চাইলে সমকাল অনলাইনকে পুতুল বলেন, 'আমি সাধারণ মানুষ। সাধারণ হয়ে চলতেই পছন্দ করি। একজন সাদা সিদে ভালো মনের ভালো পাত্র পেলেই বিয়ে করবো, খুঁজে দেন। তবে পাত্রকে অবশ্যই উচ্চশিক্ষিত হতে হবে। কারণ আমি নিজেও পিএইচডি করতে যাচ্ছি।' সংগীতে অনার্স, মাস্টার্স শেষ করেছেন পুতুল। এবার পিএইচডি করতে বিদেশে যাবেন তিনি। পুতুলের বাবা অবশ্য চান মেয়ে যেন দেশেই পিএইচডি শেষ করেন। কিন্তু পুতুলের লক্ষ্য দেশের বাইরের ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি দুবাই থেকে ফিরেছেন পুতুল। এখন ঈদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদের জন্য এরই মধ্যে বিটিভি ও আরটিভির দুটি অনুষ্ঠানের শুটিং শেষ করেছেন। অন্যদিকে গাজী টিভিতে নিয়মিত প্রচার হচ্ছে তার উপস্থাপনায় দ্বৈত গানের একটি অনুষ্ঠান। সেটা নিয়েও রয়েছে ব্যস্ততা। পাশাপাশি শিগগিরই নতুন একটি গানে কণ্ঠ দেবেন বলেও জানান পুতুল।
2
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, 'কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখাকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে। রংপুর ও নোয়াখালীর ঘটনায় গ্রেফতাররা ইন্ধনদাতাদের নাম জানিয়েছেন। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তারা এসব নাম জানিয়েছেন। তবে আমরা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তাদের নাম আপনাদের সামনে প্রকাশ করব। সেখানে বিএনপি-জামায়াত আছে কি না, সেটা এখনই বলতে চাচ্ছি না। আমরা নিশ্চিত হয়েই আপনাদের জানাতে চাই। গ্রেফতারদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে, শিগগিরই সেই ইন্ধনদাতাদের নাম প্রকাশ করা হবে।' আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত 'বিএসআরএফ সংলাপে' তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা শুরুতেই ধরে নিয়েছিলাম, কোরআন শরিফ রেখে দেওয়া... কোনো এক জায়গা থেকে এসেছে। আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম, আমাদের পুলিশের সব পর্যায়ের টিম সেখানে পাঠিয়েছিলাম, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হয়। আমরা দেখলাম, একটা মসজিদের পাশে একটা পুকুর ছিল, পুকুরে মাছ চাষ হতো, পুকুরের মাছচাষি মসজিদের বারান্দায় একটা ক্যামেরা বসিয়েছেন, যেখানে পরিষ্কার দেখা গেছে, কেউ মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে হনুমানের গদার স্থানে রেখে গদা নিয়ে বেরিয়ে চলে এলেন।' তিনি বলেন, 'যখন এ ঘটনা সামনে চলে এলো তখন তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি, তার নাম প্রকাশ করেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার সহিংসতায় ১০টি মামলা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।' 'আমাদের ধারণা ছিল, জুমার নামাজের পর অসুবিধা হতে পারে। আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বলেছিলাম, তার আগেই প্রতিমা বিসর্জন দেবেন এবং তারা তা করেছেন। আমাদের নামাজও ঠিকভাবে শেষ হলো। কিন্তু দুভাগে বিতর্ক শুরু হলো। একপক্ষ পুলিশের সামনে হল্লা শুরু করল। আরেকপক্ষ পুলিশকে ব্যস্ত রেখে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনল। সেখানে বেশকিছু ভাঙচুর হয়েছে। ওই সময় পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ায় একজন মারা যায়।' 'এ সহিংসতা সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য করেছে একটি মহল। এ ঘটনায় গ্রেফতারদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, এতে অনেকের নাম জানা গেছে। শিগগির কারা এসব ঘটিয়েছে তা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে',- বলেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
9
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাঁদের মৃত্যু হয়। আজ রোববার সকালে হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীর চারজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরের একজন করে মারা গেছেন। এর মধ্যে রাজশাহীর দুজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন করোনা নেগেটিভ থাকলেও শারীরিক নানা জটিলতায় করোনা ইউনিটে মারা গেছেন। আর অন্য চারজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।মৃত সাতজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। এ নিয়ে চলতি মাসে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মোট ৩৩৫ জনের মৃত্যু হলো। রোববার সকাল আটটার আগের ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৩ জন। রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে মোট রোগী ছিলেন ১৭৬ জন।এর মধ্যে রাজশাহীর ৭৯ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩২ জন, নাটোরের ২৪ জন, নওগাঁর ১৪ জন, পাবনার ১৭ জন, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের দুজন করে, জয়পুরহাটের তিনজন এবং চুয়াডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারীর একজন করে রোগী ভর্তি ছিলেন।সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসেবে, শনিবার জেলায় র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও আরটি-পিসিআর মিলে ৩৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৫৯ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। সংক্রমণের হার ১৫ দশমিক ০১ শতাংশ। আর শুধু দুটি আরটি-পিসিআর ল্যাবে সংক্রমণের হার ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ।
6
কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের সময় অর্ধেক বাস চলাচলের সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সড়কে অর্ধেক গাড়ি নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বললে ভালো হতো। অর্ধেক বাস চলবে, অর্ধেক চলবে না-এটির নিশ্চয়তা দেবে কে?গতকাল সোমবার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এক্সেল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের পূর্ত কাজ দুটি বাস্তবায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মধ্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাল বুধবার থেকে পর্যায়ক্রমে শিথিল করা হচ্ছে কঠোর বিধিনিষেধ। কাল থেকে চলবে গণপরিবহন। মোট সংখ্যার অর্ধেক বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।মোট সংখ্যার অর্ধেক বাস চলাচলের অনুমতির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, 'এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে সাজেশন দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ডিসি, এসপি, পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বসে ঠিক করে দেব, অর্ধেক বাস একদিন চলবে, পরদিন বাকিগুলো।'বিধিনিষেধ শিথিল করে বুধবার থেকে সব অফিস খুলে দেওয়া হচ্ছে। অফিস খুলে দিয়ে অর্ধেক বাস বন্ধ রাখলে ভোগান্তিতে পড়বে সাধারণ মানুষ।এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'এটি মূলত আন্তজেলা বাসের জন্য বলেছে। বাইরে থেকে যাতে কম আসে। আমরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।অর্ধেক পরিবহন চলবে বলে জারি করা প্রজ্ঞাপনের প্রতি ইঙ্গিত করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, 'সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি আমাদের মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে আলোচনা করে নিলে ভালো হতো। আগে আলাপ করলে আমরা আমাদের মতামত দিতাম। বিষয়টি এখন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তারা যদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে ভালো কথা। এটা আমাদের এখতিয়ার নয়।'বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'মালিকের কয়টি গাড়ি আছে বা কতটি গাড়ি চালাচ্ছে দেশব্যাপী সেটা নির্ণয় করা কঠিন। মোট গাড়ির অর্ধেক চলাচল করলে শ্রমিকেরা বেকার থাকবে, তাদের কষ্ট লাঘব হবে না। মালিকেরাও ব্যবসায়িকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দীর্ঘদিন পরে গাড়ি চালু হবে, যার একটি মাত্র গাড়ি আছে তার অবস্থা কী হবে?'এনায়েত উল্যাহ আরও বলেন, 'অর্ধেক গাড়ি চলাচল করলে পরিবহনসংকট দেখা দেবে এবং যাত্রীর চাপ বাড়বে। এতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এমন অবস্থায় অর্ধেক নয় সবগুলো গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি।'
6
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরনে ইব্রাহিমি মসজিদে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। রোববার চালানো এ সামরিক অভিযানে ইসরাইলি সেনারা ইব্রাহিমি মসজিদের ছাদে উঠে অবস্থান নেয়। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফা তাদের প্রতিবেদনে এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে। ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক গাসান আল-রাজাবি বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেছেন, হঠাৎ করে ইব্রাহিমি মসজিদে সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এরপর তারা এ মসজিদের ছাদে উঠে অবস্থান নেয়। এছাড়া ইসরাইলি সেনারা ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। তিনি বলেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এ ধরনের আগ্রাসন হলো তাদের প্রতিদিনের রুটিন। কারণ, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও দেশটির ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা সব সময় এমন আগ্রাসন চালিয়ে থাকে। গাসান আল-রাজাবি বলেন, জানুয়ারিতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইব্রাহিমি মসজিদের প্রবেশ করার স্থানে একটি নির্মাণ প্রকল্প চালু করেছে যাতে করে একটি লিফট স্থাপন করা যায়। এর মাধ্যমে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা সহজেই ইব্রাহিমি মসজিদের প্রবেশ করতে পারবে। এ সময় তিনি মুসলমানদের পবিত্র স্থানে এ ধরনের ইসরাইলি সেনা আগ্রাসনের নিন্দা করেন। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
3
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আজ বুধবার বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম এক ডলারের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দু-দুটি ঝড়ের পর তেলের চাহিদা বাড়ছে। তবে সেই তুলনায় সরবরাহ কম রয়েছে। ফলে পণ্যটির দাম বেড়েছে। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট চলছে। সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে এখন সরবরাহ কম থাকার পরিস্থিতিতে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের সদস্যদেশগুলো সরবরাহ বাড়াতে চায়। তারা বেশ কিছুদিন ধরে সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দৈনিক তেল উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ছাড়া চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম আবাসন প্রতিষ্ঠান এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের দেউলিয়া হওয়ার পথে রয়েছে, এমন খবরে এশিয়ার পুঁজিবাজারের পাশাপাশি তেলের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডেয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েল মানে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১ দশমিক শূন্য ৪ ডলার বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে ৭১ দশমিক ৫১ ডলারে উঠেছে। আর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল দশমিক ৯৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫ দশমিক ৩০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত ৬১ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে আরও বেশি কমার আশঙ্কা করা হয়েছিল। প্যারিসভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত জুলাইয়ের শুরুতে এক পূর্বাভাসে বলেছে, বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা আগামী বছরের শেষ দিকে আবার করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। সংস্থাটির (আইইএ) মতে, চলতি ২০২১ সালে বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা মোটামুটি বাড়বে। তবে আগামী বছর জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা বেড়ে ১০ কোটি ৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসও মাস তিনেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, কোভিড-১৯-এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা গিয়েছিল, তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। সূত্র: রয়টার্স
0
কাঁচা আমের মৌসুম চলছে। লবণ, মরিচ ও সরষের তেল মাখিয়ে আমভর্তা খাওয়া, আচার তৈরি, শরবত তৈরি আর ডালে দেওয়া ছাড়াও কাঁচা আম দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরনের পানীয়। কাঁচা আম দিয়ে তৈরি দুটি রেসিপি থাকছে আজকের আয়োজনে।উপকরণতিন কাপ ঝুরি করা কাঁচা আম, পানি ও টক দই দেড় কাপ করে, দুই টেবিল চামচ চিনি, এক চা-চামচ করে বিটলবণ, ধনেপাতাবাটা, লেবুর রস, ধনে ও জিরাগুঁড়ো, কাঁচা মরিচকুচি দুটি, এক টেবিল চামচ পুদিনাপাতাবাটা, এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়ো।প্রণালিকাঁচা আম, টক দই, চিনিসহ সব উপাদান একসঙ্গে ব্লেন্ডারে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। স্বাদমতো সব ঠিক থাকলে মিশ্রণটি ছেঁকে বরফকুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।
6
ইউপি নির্বাচনের গণসংযোগ চলাকালে প্রতিপক্ষের হামলায় আড়িয়াল খাঁ নদে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ থাকা লোকমান হোসেন মাতুব্বরের (৬৫) লাশ ৪৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার শিমরাইল ইউনিয়নের চরকাকর নতুন বাজার আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত লোকমান হোসেন চর নাসিরপুর ইউনিয়নের লতিফ মাতুব্বরের ছেলে। একপর্যায়ে রোকন মোল্যার সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় মজিবর মাতুব্বরের লোকজনের উপর। এতে ১০ জন আহত হয় এবং লোকমান মাতুব্বর নামে এক ব্যক্তি আড়িয়াল খাঁ নদে পড়ে ডুবে যায়। পরে খোঁজ করেও লোকমানকে উদ্ধার করা যায়নি। সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর মাতুব্বর জানান, গণসংযোগ চলাকালে রোকন মোল্যার ঢাল-সড়কি নিয়ে আমার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আমার লোকজন দ্রুতই ট্রলারে চরে আড়িয়াল খাঁ নদ পার হতে গেলে হামলাকারীরা ট্রলার লক্ষ করে ইট ও সড়কি নিক্ষেপ করে। এতে আত্মরক্ষার্থে লোকমান নদে ঝাঁপ দিলে সে তলিয়ে যায়। আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী রোকন মোল্যা জানান, আমার গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করে। আমার সমর্থকদের হামলার খবর পেয়ে আরো লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া করলে প্রতিপক্ষের লোকজনের বহন করা একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় ডুবে যায় বলে জানতে পেরেছি। শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন বলেন, ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর চর নাসিরপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সদরপুর থানার ওসি সুব্রত গোলদার জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষকরা। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০তম ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেয়া না হলে নতুন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন গ্রেড প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষক নেতারা এমন ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের পুরাতন পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির নীতি-নির্ধারণী কমিটির এক জরুরি সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন বৈষম্য নিরসনে শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। শিক্ষকদের অভিমত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেই তাদের বেতন বৈষম্য নিরসন হবে। অন্যথায় শিক্ষক নেতারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। বিডি প্রতিদিন/হিমেল
6
প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে 'বিজয় উল্লাস' প্রকাশের দুই মাস যেতে না যেতেই মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে ভারত। ক্রম ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। কিন্তু কেন? গতকাল সোমবার প্রকাশিত বিবিসির এক বিশ্নেষণে বলা হয়েছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে 'দম্ভ' প্রকাশ করে ভারতের নীতিনির্ধারকদের নানা 'অবাস্তব' সিদ্ধান্তই এমন পরিণতি এনেছে। ভারতে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে দৈনিক আক্রান্তের গড় ১০ হাজার ছাড়িয়ে এপ্রিলে এসে লাফিয়ে পার হয়ে যায় দুই লাখের ঘর। গতকাল যা ছিল পৌনে তিন লাখ। স্বজনদের স্তব্ধ করে দিয়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দেড় হাজার। পরিসংখ্যান আর ঘটনাপ্রবাহের তুলনা করে ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের এমন উল্লম্ম্ফনের পেছনের কারণগুলো অনুসন্ধান করেছে বিবিসি। মার্চের শুরুতেই ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন করোনা মহামারির বিরুদ্ধে 'শেষ খেলা' চলছে বলে ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, গত বছরের শেষ দিকে দেশটির রাজনৈতিক নেতা, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমের একটা অংশ ধরেই নিয়েছিল করোনাভাইরাস মহামারি থেকে বেরিয়ে এসেছে ভারত। ডিসেম্বরে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন, 'করোনা সংক্রমণের ঢেউকে অবনমিত করছে ভারত।' এরপর ফেব্রুয়ারির শেষে ভারতের নির্বাচন কমিশন পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা করে। এই নির্বাচনে ৮২৪টি আসনে ভোটার সংখ্যা ১৮ কোটি ৬০ লাখ। ২৭ মার্চ শুরু হয়ে এক মাসের এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে আট ধাপে। কোনো ধরনের সতর্কতা ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে এ সময় পূর্ণ মাত্রায় নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়। গুজরাটে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারত-ইংল্যান্ড ক্রিকেট খেলা দেখতে এক লাখ ৭০ হাজার মানুষকে অনুমোদন দেওয়া হয়। কুম্ভ মেলায় অংশ নিয়েছে প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। মাস্কহীন ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে উল্লাসের এ চিত্র এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পাল্টে যায়। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে করোনার দৈনিক আক্রান্তের গড় সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ও মৃত্যু ছাড়া দেড় হাজার। এসব নিয়ে দেশটির সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক শিব বিশ্বনাথন বলেন, 'যা ঘটছে তা যেন পরাবাস্তব।' ল্যানসেট কভিড-১৯ কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো না গেলে জুনের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ ভারতে করোনা আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃত্যু দুই হাজার ৩০০ ছাড়াবে। ভারতে করোনার সুবিশাল টিকা কর্মসূচিও এখন বেশ কসরত করে এগোচ্ছে। গত সপ্তাহের মধ্যে এক কোটি টিকা দেওয়া সম্পন্ন হলেও এরই মধ্যে টিকার ঘাটতির খবর পাওয়া গেছে। টিকা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বাড়তি অর্থ চেয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব পরিসংখ্যানবিদ ভ্রমর মুখোপাধ্যায় টুইটারে বলেন, 'যখন সংক্রমণের মাত্রা কম ছিল তখনই টিকা কর্মসূচি বাড়ানো দরকার ছিল।' কিন্তু যথাসময়ে এসব পরামর্শ আমলে নেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ জনসংখ্যা, স্থানীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বড় গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এই ধারণাগুলোর ওপর ভিত্তি করে করোনার বিরুদ্ধে বিজয় ঘোষণা ছিল নির্মমভাবে একটি অপরিপকস্ফ সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের কলামিস্ট মিহির শর্মা বলেন, 'ভারতে যে বিষয়গুলো সচরাচর দেখা যায়, কর্মকর্তাদের ঔদ্ধত্য, উগ্র জাতীয়তাবাদ, জনপ্রিয়তার জন্য মুখিয়ে থাকা এবং অনেক বেশি আমলাতান্ত্রিক অযোগ্যতা- এসব মিলেই এই সংকট তৈরি করেছে।'
3
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লেকের পাড় হয়ে উঠেছে অমর একুশে বইমেলায় আসা পাঠক-বইপ্রেমীদের প্রধান আড্ডা-বিনোদনের স্থান। মেলার দ্বার খোলা থেকে শুরু করে রাতে বন্ধ হওয়া অবধি এখানে চলে জমজমাট আড্ডা। সেই আড্ডাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন গানপাগল তরুণরা। লেকের ওপারে স্বাধীনতা স্তম্ভ আর চিরন্তন শিখা অন্যরকম এক ভাবনার জগতে নিয়ে যায় আড্ডাবাজদের। সোমবার (২২ মার্চ) সেখানে গিয়ে দেখা যায় একইরকম আনন্দমুখর চিত্র।
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশে নয়, এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়াই সংকটের একমাত্র সমাধান। শুক্রবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকু কংগ্রেস সেন্টারে এক সাধারণ আলোচনায় একথা বলেন তিনি। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-ন্যামের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এখন বাকুতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। খবর বাসস আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থসামাজিক সাফল্য সত্ত্বেও বাংলাদেশ বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকট- এ দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। রোহিঙ্গা সংকট একটি রাজনৈতিক সংকট এবং এর মূল গভীরভাবে মিয়ানমারে প্রোথিত। তাই এর সমাধানও মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই খুঁজতে হবে। তিনি বলেন, 'বর্তমানে আমরা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছি। রোহিঙ্গা সংকটে আমাদের দেশ এবং এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। আমরা এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করছি।' জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দায় খুবই নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানাতে হবে। এদিকে শুক্রবার সকালে বাকু কংগ্রেস সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যামের শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনস্থলে পৌঁছলে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তাকে স্বাগত জানান। অন্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদেরও স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ইলহাম। পরে অতিথিদের নিয়ে ফটোসেশন শেষে শুরু হয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যামের বিদায়ী চেয়ারম্যান ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এর পর বক্তব্য দেন নতুন চেয়ারম্যান ইলহাম আলিয়েভ। ইরানের প্রেসিডেন্ট, কিউবার প্রেসিডেন্ট, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, জিবুতির প্রেসিডেন্ট, ঘানার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, ভারতের উপরাষ্ট্রপতি, তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্সির চেয়ারম্যান, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন উদ্বোধন অধিবেশনে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের প্রধানদের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন শেখ হাসিনা। সন্ধ্যায় তিনি যোগ দেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের দেওয়া নৈশভোজে। মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠক : ন্যাম সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দুপুরে বাকুর কংগ্রেস সেন্টারে এ বৈঠকে দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্নিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং বিশ্ব ও মুসলিম উম্মাহর নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বলেন, এ সমস্যা সমাধানে যা প্রয়োজন মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্র তার সবকিছুই করবে। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে এবং এর বিচার হতে হবে।' বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, কক্সবাজারে তার দেশ হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ভাসানচরের যে দ্বীপে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হবে, সে সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান। শেখ হাসিনা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে দ্বীপটির নিরাপত্তা এবং সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বীপটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও তার কাছে ব্যাখ্যা করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার আরও বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তিনি মালয়েশিয়ায় নিয়োজিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার বিষয়েও কথা বলেন। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে অত্যন্ত গভীর আখ্যায়িত করে মাহাথির ভবিষ্যতে বাংলাদেশে তার দেশের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আশ্বাস দেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক : ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তেহরান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, 'আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এবং বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাব।' শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট এই আশ্বাস দেন। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। রুহানি প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ইরান রোহিঙ্গাদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। রোহিঙ্গা সংকটে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনা ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, সন্ত্রাসবাদ উচ্ছেদে তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে। রুহানি দু'দেশের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিকতাপূর্ণ সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ইসলামী বিশ্ব একটি বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, যদি নিজেদের মধ্যকার সংঘাতগুলো নিজেরাই মিটিয়ে ফেলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।
6
বর্তমানে সারা দেশেই আলোচিত এক নাম তামিমা সুলতানা তাম্মি। ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিয়ের পর তাকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন রাকিব নামে এক যুবক। এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তবে সারা দেশে তিনি তামিমা নামে পরিচিত হলেও নিজ গ্রামের লোকজন তাকে চেনেন শবনম নামে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তামিমার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামে। ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি. পশ্চিম দক্ষিণে লোকেরপাড়া গ্রামের অবস্থান। সেখানে গিয়ে দেখা মিলে তামিমার চাচা জাহিদুর রহমান বিপ্লবের। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, তারা চার ভাই। তামিমার বাবা সহিদুর রহমান স্বপন সবার বড়। তিনি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। মা সুমী আক্তার। এলাকাবাসি তামিমাকে চেনেন শবনম নামে। বিপ্লব বলেন, গ্রামে তামিমার খুব একটা আসা-যাওয়া নেই। বছর দুয়েক আগে একবার এসেছিল। তবে ওর বাবা আসেন। তামিমা বড় হয়েছেন টাঙ্গাইল শহরে। টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও কুমুদিনী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। একই কলেজে ভূগোল বিষয়ে অনার্সে অধ্যয়নরত তিনি। সম্রাট (২৫) ও অভি (১৭)নামে তার ছোট দুই ভাই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাকিব তামিমার প্রেমের বিয়ে শুরুতে ওর মা বাবা মেনে না নিলেও পরে মেনে নেন। ডির্ভোসের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা জানি পারিবারিকভাবেই তামিমা রাকিবকে তালাক দিয়েছে। পরে নাসিরকে বিয়ে করেছে। অন্যদিকে, নাসির-তামিমার বিয়ে নিয়ে এতো কিছু হয়ে গেলেও এখনো তেমন কিছুই জানেন না তার নিজ গ্রামের মানুষ। এদিকে তামিমা তার পাসপোর্টে ঠিকানা দিয়েছেন গ্রাম লোকেরপাড়া, পোস্ট অফিস সিঙ্গুরিয়া টাঙ্গাইল সদর। প্রকৃতপক্ষে এই ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব নেই টাঙ্গাইল সদরে। ওই ঠিকানাটি ঘাটাইল উপজেলায়। পাসপোর্ট ও ডিভোর্স কাগজে ভুল ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়ে মোবাইল ফোনে তামিমার বাবা সহিদুর রহমান স্বপন বলেন, যখন তামিমার এয়ারলাইনসে চকরি হয় তখন জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট করতে হয়েছে। সে সময় হয়তো ভুল হয়ে থাকতে পারে। তামিমার ভাই সম্রাট বলেন, ২০১৬ সালে রাকিবকে তামিমা তালাক দিয়েছেন এবং পাসপোর্টটা রি-ইস্যু করা হয়েছে ২০১৮ সালে। তালাকের প্রমাণপত্রও রয়েছে আমাদের কাছে। তারপরও তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে। জানা গেছে, তামিমা সুলতানা ঢাকা থেকে পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। পাসপোর্টটি ইস্যু হয়েছে ডেপুটি ডিরেক্টর নাদিরা আক্তারের স্বাক্ষরে।
6
ধর্ম অবমাননা মামলায়ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে ভারতের হরিদ্বারে গ্রেপ্তার হওয়া ধর্মগুরু যতি নরসিংহানন্দ গিরিকে। গত শনিবার নরসিংহানন্দকে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হলেও এবার তাকে ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগেও রিমান্ডে নেওয়া হলো। গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তরাখণ্ডের গাজিয়াবাদের দসনা মন্দিরের পুরোহিত যতি নরসিংহানন্দ গিরির উদ্যোগেই গত বছরের ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর হরিদ্বারে 'ধর্ম সংসদে'র আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর গণহত্যা চালানোর আহ্বান ও নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন নরসিংহানন্দসহ অন্যান্য আয়োজকেরা। তারই জেরে ২-৩টি মামলা করা হয়। সেসব মামলায় নরসিংহানন্দসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, নরসিংহানন্দকে নারী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তাঁর বিরুদ্ধে করা রিমান্ড আবেদনে ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।পুলিশ আরও জানিয়েছে, ধর্ম সংসদ মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১৫৩এ ধারা (ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, বাসস্থান, ভাষার ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং সম্প্রীতি বিনষ্টে নেতিবাচক কাজ) এবং ২৯৫এ ধারায় (কোনো শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করার উদ্দেশে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণ কাজ) অভিযোগ আনা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে 'ধর্ম সংসদ'-এ দেওয়া বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও উসকানির ঘটনায় যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, তাদের মধ্যে নরসিংহানন্দ অন্যতম। একই মামলায় গত ১৩ জানুয়ারি উত্তরাখণ্ডের রুরকি থেকে ওয়াসিম রিজভি ওরফে জিতেন্দ্র নারায়ণ ত্যাগী নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
3
পাবনার পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে পাওয়া গেছে ২৮ বোতল বিদেশি মদ। রোববার দুপুরে সুজানগর উপজেলার গোয়ালিয়া বাজারের পাশে পদ্মা নদী মাছ ধরার সময় জেলেদের জালে এই মদ পায় তারা। পুলিশের ধারণা, মাদক ব্যবসায়ীরা নদী পথে নতুন কৌশলে অভিনব কায়দায় মদ পাচার করছিল। সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা বাবু জানান, স্থানীয় জেলেরা পদ্মায় মাছ ধরার সময় তাদের জালে একটি প্লাস্টিকের ড্রাম পায়। ওই ড্রাম ভারি দেখে জেলেদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে এসআই গোপাল চন্দ্র মন্ডল টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে নদী থেকে ড্রামটি উদ্ধার করে সেটি খোলার পর ২৮ বোতল বিদেশি মদ ও একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা করছে, মাদক ব্যবসায়ীরা নদী পথে অভিনব পদ্ধতিতে মদ পাচার করছিল। পাচারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোনে ড্রামের অবস্থান শনাক্ত করে মদের বোতলগুলো উদ্ধার করতেন ওই মদ ব্যবসায়ীরা। পুলিশ বিদেশি মদ ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের পর বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন বলেও জানান ওসি। এই চালানের সঙ্গে কারা জড়িত তা বের করার চেষ্টা করছেন তারা। সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, পদ্মা নদীর এপারে পাবনা ওপারে রাজবাড়ি এবং একটু পশ্চিমেই কুষ্টিয়া জেলা। এলাকাটি সন্ত্রাসী, চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে বলে শুনেছি। নদীতে যেহেতু নৌ পুলিশি টহল কম, তাই তারা এই রুট ব্যবহার করেন।
6
এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন বিজ্ঞানী। এরা হলেন জাপানি বংশোদ্ভূত মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী শুকুরো মানাবে, জার্মানির পদার্থবিজ্ঞানী ক্লাউস হ্যাসেলম্যান ও ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী জর্জিও পারিসি। করোনা মহামারীর কারণে গত বছরের মতো চলতি বছরও সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ছোট আকারের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছরও অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির বাইরে অন্য কোনো অতিথি উপস্থিত ছিলেন না।
3
ভুল কিংবা অসাবধানতাবশত উবার যাত্রীদের যানবাহনে ফেলে যাওয়া জিনিসের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মোবাইল ফোন। এছাড়া টাকা, চাবি নিতেও বাংলাদেশিরা ভুলে যান। সোমবার (৭ জুন) ২০২১-২২ সালের জন্য 'লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ইনডেক্সের' ষষ্ঠ সংস্করণে এ তথ্য প্রকাশ করেছে উবার। গত বছর বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা কোন কোন জিনিস উবারে সবচেয়ে বেশি ফেলে গেছেন এবং দিনের কোন মুহূর্তে, সপ্তাহের কোন দিনে ও বছরের কোন সময়ে উবার যাত্রীরা হারানো জিনিস সম্পর্কে রিপোর্ট করেছেন- এসব তথ্যের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই ইনডেক্সে। ২০২১ সালের এক সমীক্ষায় বলা হয়, বাংলাদেশিরা শুক্রবারে সবচেয়ে বেশি তাদের জিনিসপত্র উবারে ভুলে ফেলে যান। এ প্রবণতা বিকেল চারটার দিকে ছিল সবচেয়ে বেশি। শুক্র ও রবিবার তারা ফোন হারিয়েছেন বেশি। গত বছর হারানোর তালিকার শীর্ষে ছিল ফোন, ক্যামেরা, হেডফোন ও চাবি। তালিকায় এর পরপরই ছিল ওয়ালেট ও ছাতা। উবারের বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের প্রধান আরমানুর রহমান বলেন, চলার পথে গাড়িতে কিছু হারিয়ে ফেললে কেমন উৎকণ্ঠার অনুভূতি হয়, সেটা আমরা সবাই জানি। যেসব জিনিস সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে বেশি হারিয়েছে ১. যাত্রীরা মোবাইল ফোন বেশি হারিয়েছেন শুক্র ও রবিবার। ২. যাত্রীরা হেডফোন বেশি হারিয়েছেন শনিবার। ৩. যাত্রীরা টাকা বেশি হারিয়েছেন সোমবার। ৪. যাত্রীরা ব্যাগ অথবা ব্যাকপ্যাক বেশি হারিয়েছেন বৃহস্পতিবার। দিনের যে তিনটি সময়ে যাত্রীরা বেশি জিনিস হারিয়েছেন ১. বাংলাদেশের উবার যাত্রীরা বিকেল চারটায় বেশি ভুল করে থাকেন। ২. বাংলাদেশের উবার যাত্রীরা দুপুর ১২টায় বেশি ভুল করে থাকেন। ৩. বাংলাদেশের উবার যাত্রীরা দুপুর দুইটায় বেশি ভুল করে থাকেন।
4
পাহাড়ে পুষ্টির অভাবে নারীর মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে সন্তান প্রসবের সময় বেশিরভাগ নারীর মৃত্যু হয়। যার মূল কারণ পুষ্টিহীনতা। কারণ, এখনও পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলের নারীরা সচেতন হতে পারেনি। তারা জানে না, কোন খাবার শরীরের শক্তি ও পুষ্টির অভাব পূরণ করে। তাই যেসব এনজিও সংস্থা রয়েছে তাদের এ বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। বিশেষ করে পাহাড়ে স্বাস্থ্য বিষয় নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের এ বিষয়ে বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সোমবার সকালে রাঙামাটি জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে লিডারশিপ টু এনসিউর এডইকুয়েট নিউট্রিশন (লীন) প্রকল্পের পুষ্টি কার্যক্রমে বাজেট বিশ্লেষণবিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বৃষ কেতু চাকমা এসব কথা বলেন। এ সময় রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নীতিশ চাকমা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা সমাজ সেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক রুপনা চাকমা, লিডারশিপ টু এনসিউর এডইকুয়েট নিউট্রিশন প্রকল্পের জেলা ট্রেইনিং কর্মকর্তা ডায়না, কর্মকর্তা রাজীব দাস গুপ্ত ও জেলা টেকনিক্যাল কর্মকর্তা মো. আজিজুল্লা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, মেডিকেল টিম এ রোগগুলো চিহ্নিত করার পর জানতে পারে যে, অসচেতনতা এবং পুষ্টির অভাবে এ সমস্ত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তাই এনজিওগুলোকে শহরকেন্দ্রিক প্রকল্প হাতে না নিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রত্যন্ত এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং বলেছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এবং তার নিজের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। শেখ হাসিনা বলেন, জাপানের শততম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনাকে নির্বাচিত করা হচ্ছে আপনার বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি এবং আপনার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও ডেয়েটের ওপর জাপানের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার বহিঃপ্রকাশ। এ সময় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে উভয় দেশের ভালো সম্পর্ক বজায় থাকার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। আর এই সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে, পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন, এই পরীক্ষিত মিত্রতা একটি 'বিস্তৃত অংশীদারিত্বে' পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে তার সরকারের মাধ্যমে 'কৌশলগত অংশীদারিত্ব' বৃদ্ধি পেয়ে আসছে। তিনি বলেন, আমরা গভীর আগ্রহ নিয়ে আগামী বছর আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কেও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আশা করেন যে দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে জাপানের বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উৎসাহ বোধ করেন। তিনি আনন্দের সাথে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশে অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ জাপানি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণে উভয়পক্ষ লাভবান হবে। তিনি এই কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালে জাপান সরকার ও জনগণের সাহায্য-সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণে উভয়পক্ষ লাভবান হবে। তিনি এই কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালে জাপান সরকার ও জনগণের সহযোগিতা ও সাহায্যের কথা কৃতজ্ঞতাসহকারে স্বীকার করেন। এই মহামারি কাটিয়ে ওঠার পর শেখ হাসিনা পারস্পারিক বিশ্বস্ত অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক পুনঃনিযুক্ত, পুনঃবিবেচনা এবং পুনরুজ্জীবিত করতে উভয়দেশের প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিশ্বস্ত অংশীদার এবং শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও জাপান আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অঙ্গনে এবং বৈশ্বিক শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে পরস্পরকে সহযোগিতায় সর্বদা একসাথে কাজ করে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধানে আমরা অভিন্ন অবস্থানে রয়েছি। তিনি রাখাইনে তাদের পৈতৃক বাসস্থানে এসব গৃহহীন ও পীড়িত মানুষের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য আমি আপনার সহযোগিতা চাই। প্রধানমন্ত্রী দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ফুমিও এবং তার মন্ত্রিসভার সঙ্গে তার পূর্বসূরি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং ইশিহিদি সুগাদের মতোই ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি ফুমিও কিশিদার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং মঙ্গল এবং জাপানের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
6
সরকারি তথ্য লুকানোর কিছু নেই বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।তিনি বলেছেন, সরকারের ৯৯ শতাংশ তথ্য প্রকাশে কোনো সমস্যা নেই। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মাত্র ১ শতাংশ তথ্যে গোপনীয়তা রয়েছে। এই ১ শতাংশ তথ্য প্রকাশ না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি পরিসংখ্যান সংক্রান্ত 'শব্দকোষ: ধারণা ও সজ্ঞা' প্রকাশনার মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে এই সবকথা বলেন মন্ত্রী।বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল স্ট্রাটেজি ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব স্ট্যাটিটিক্স (এনএসডিএস) প্রকল্পের পরিচালক দিলদার হোসেন। গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, 'সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছ। কোনো তথ্য লুকানোর প্রয়োজন নেই। আপনাদের জরিপে যদি কোনো ভয়ঙ্কর কিছু আসে, সে ক্ষেত্রে মহাপরিচালক ও সচিবকে জানাবেন। তারা মনে করলে আমাকে জানাবেন। আমি মনে করলে সরকার প্রধানকে জানাবো।' সরকারের তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিবিএসের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তথ্যের প্রয়োজনে সরকার বিবিএসের ওপর নির্ভর করে। পরিকল্পনা এবং নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য বিবিএস থেকেই নেওয়া হয়। এ জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিশুদ্ধতা দরকার। দক্ষতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। 'শব্দকোষ: ধারণা ও সজ্ঞা' প্রকাশনাটি সম্পর্কে আয়োজকরা বলেন, শুমারি ও জরিপ বা অন্যান্য পরিসংখ্যান কার্যক্রম একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে ব্যবহার হয়। ক্ষেত্র বিশেষে একটি বিষয়ের তথ্য ভিন্ন বিষয়ে সঠিকভাবে কাজে আসে না। এ সমস্যা দূর করবে প্রকাশনাটি।
6
মুলাদীতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোর করে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চর ডাকাতিয়া গ্রামের খলিল মোল্লার নেতৃত্বে কিছু ব্যক্তি জমিতে পাকা ঘরের কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। গতকাল সকালে এই ঘটনা ঘটে।জমি দখলের সংবাদ পেয়ে মুলাদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু পুলিশ চলে আসার পর দখলকারীরা পুনরায় কাজ শুরু করেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।জমিটির ভোগদখলকারী দেলোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, 'দক্ষিণ চরডাকাতিয়া মৌজায় আমাদের পূর্বপুরুষেরা এওয়াজ বদলের মাধ্যমে দুটি জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। পরে এওয়াজ বদল বাতিল করে যে যার জমিতে ভোগদখলে চলে যাই। ২০১৭ সালে খলিল মোল্লা এবং ইব্রাহিম মোল্লা আমাদের জমির মধ্যে ৪০ শতাংশ দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে ওই বছরই আদালতে মামলা করি।'দেলোয়ার হোসেন আরও জানান, জমি নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কায় আদালত ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সে থেকে জমিতে কেউ ঘর উত্তোলন কিংবা কাজ করছে না। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে খলিল মোল্লা ও তাঁর ভাই ইব্রাহিম মোল্লা দেড় শতাধিক লোক নিয়ে ওই জমিতে যান। তারা শতাধিক কলাগাছ, ফলদ ও বনজ গাছ কেটে সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ শুরু করেন। উপায়ন্তর না দেখে থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। পুলিশ চলে যাওয়ায় পুনরায় ঘর বানানোর কাজ শুরু করে প্রতিপক্ষ।এ ব্যাপারে খলিল মোল্লা কিংবা ইব্রাহিম মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।সহকারী উপপরিদর্শক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, 'ওই জমিতে ঘর উত্তোলন কিংবা কোনো কাজ করার বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জমি দখলের সংবাদ পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পরে আবার কাজ শুরু করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মাকসুদুর রহমান বলেন, জোরপূর্বক জমি দখলের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
6
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য শপথ নেওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মহলে চরম বিতর্ক চলছে। এরই মধ্যে দেশটির সর্বনিম্ন মজুরি ৩শ ভাগ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন মাদুরো। বছরের শুরুতেই এমন মজুরি বৃদ্ধি তার বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে সমালোচনা কিছুটা হ্রাস করতে পারে। খবর আল-জাজিরার। অর্থনৈতিক দ্বৈন্যদশার মধ্যেই দেশটির মজুরি বৃদ্ধির জন্য মাদুরো সোমবার একটি নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন। এতে দেশটির প্রচলিত সর্বনিম্ন মজুরি ৪হাজার ৫শ' থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজারে উন্নিত হচ্ছে। গত বছর সর্বমোট ৫ ধাপে সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছিলো। তেল উৎপাদনকারী এই দেশটির অর্থনীতির অবস্থাও স্থিরতায় ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন মাদুরো। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সংকটের শিকার হয়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দেশটি ছেড়ে পার্শবর্তী দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
সাইবেরিয়া থেকে ইউক্রেনের সীমান্তের স্ট্রাইকিং রেঞ্জ পর্যন্ত শত শত ট্যাঙ্ক, স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি ও স্বল্পমাত্রার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, আগামী জানুয়ারির শেষ নাগাদ ১০০ ব্যাটালিয়ন ট্যাকটিক্যাল গ্রুপস (বিটিজি'স) দিয়ে হামলা শুরু করতে পারে মস্কো। ১০০ ব্যাটালিয়নে এক লাখ ৭৫ হাজার সেনা রয়েছে, যাদের ৫০ বিটিজি'স ইতোমধ্যে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এটি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চুরমার করে দিতে পারে। রাশিয়া বর্তমানে আরও যুদ্ধংদেহী হয়ে উঠছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মূলত ইউক্রেন যাতে কোনো দিন ন্যাটোয় যোগ না দেয় বা তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তার নিশ্চয়তা চান। তবে সম্ভবত সেই নিশ্চয়তা পাবেন না তিনি। তার হাতে অফুরন্ত সময় নেই। তার সেনারাও অনন্তকাল ঘাঁটির বাইরে থাকতে পারবে না। তাই শীতের শেষ দিকে হয় ইউক্রেন আক্রমণ করতে হবে বা সেনাদের সরিয়ে নিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে হলে এক দশক আগের ঘটনা জানতে হবে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশভাষী অঞ্চল ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করতে সেনা পাঠিয়েছিলেন পুতিন। এ ছাড়া সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ উস্কে দিয়েছিল মস্কো, গোপনে সেখানে অস্ত্র ও সেনাও পাঠানো হয়েছিল। যার মাধ্যমে একটি বিরোধকে উস্কে দিয়ে একটি পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে পরিণত করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে সীমানা নির্ধারণ করে একটি শান্তিচুক্তি হয় এবং উভয় পক্ষকে ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তখন থেকে ওই অঞ্চল ঘিরে উত্তেজনা চলছে। মাঝেমধ্যে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ওই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সেটা এখন ভেঙে পড়েছে। মস্কো এখন আর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চায় না এবং তারা কিয়েভের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে অন্য উপায় খুঁজছে। বসন্তে ইউক্রেন সীমান্তে ট্যাঙ্ক, ভারী সামরিক অস্ত্রসহ এক লাখ ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকের পর গত মে মাসে সেনা বহরের কিছু অংশ ঘাঁটিতে ফিরে যায়। স্বাধীন নিরাপত্তা বিশ্লেষক কনরাড মুজিকার মতে, সীমান্তে বর্তমানে ছয় বা সাতটি বিটিজি'স মোতায়েন রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে মোটরচালিত পদাতিক বাহিনী, প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্ক, রকেট আর্টিলারি ও স্বল্পমাত্রার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্কেন্দার। সীমান্তে রয়ে যাওয়া সেনাদের মধ্যে অন্যতম গ্রুপ হচ্ছে ৪১ কম্বাইন্ড আর্মস আর্মি। তারা গত বসন্ত থেকে ভরোনেজের দক্ষিণ পগনোভো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৪১ সিএএ ফোর্সেস ইয়েলনিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, এটি বেলারুশের সীমান্তবর্তী স্লোনেস্কের কাছে। মুজিকার তথ্যমতে, এমনকি এখন ফার্স্ট গার্ডস ট্যাঙ্ক আর্মিও পগনোভোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ ছাড়া ৪৯ কম্বাইন্ড আর্মস আর্মি ক্রিমিয়া এবং ৫৮ কম্বাইন্ড আর্মস আর্মির পশ্চিম ক্রিমিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার স্যাটেলাইট চিত্র পাওয়া গেছে। আগে থেকে সেখানে স্থায়ীভাবে আছে ৮ ও ২০ কম্বাইন্ড আর্মস আর্মি। যারা ইউক্রেনের ডোনেটস্ক ও লুহানস্কের রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তা করছে। গত নভেম্বরে ভয়াবহ খারাপ পরিস্থিতির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। এতে দেখা যাচ্ছে, পূর্ব দিক দিয়ে ইউক্রেনের সীমান্ত অতিক্রম করছে রুশ বাহিনী এবং অধিকৃত ক্রিমিয়া থেকে হামলা চালানো হচ্ছে। ট্রান্সনিসট্রিয়ার রুশ সেনাদের সহায়তায় ওডেসায় আক্রমণ করা হচ্ছে এবং সেখানে বেলারুশ থেকেও সেনা পাঠানো হয়েছে। প্রথমে পূর্বাঞ্চল ও ক্রিমিয়ার মধ্য দিয়ে হামলা শুরু হতে পারে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রথমে আগ্নেয়াস্ত্রাগার ও পরিখায় বিমান ও রকেট হামলা চালানো হতে পারে। এটা সামরিক তৎপরতাকে অকার্যকর করে দিতে পারে। তবে এতে যদি রাশিয়ার উদ্দেশ্য সফল না হয়, তাহলে তারা পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করতে পারে। মূল কথা হচ্ছে, কিয়েভকে একটি 'ক্ষতিকর শান্তিচুক্তি'তে নিতে চায় রাশিয়া। এ ছাড়া তারা ওই অঞ্চলে ছদ্মবেশে সেনা পাঠিয়েও নতুন ভূখণ্ড দখল করতে পারে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের মতে, রোস্তভের কাছে ক্রিমিয়ার সঙ্গে ডোনেটস্ককে যুক্ত করতে স্থল সংযোগ করতে পারে মস্কো। এর মাধ্যমে ক্রিমিয়ার উত্তরের খেয়ারসন ও উত্তর ক্রিমিয়ার খালের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে রাশিয়া। এ ছাড়া বৃহৎ শহর মরিউপলও তারা দখলে নিতে পারে। সামরিক অভিযানের বিষয়ে মস্কোর ওপর অবরোধের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা। তাই সম্ভবত উত্তেজনা তৈরি করে মরিউপল দখলে নিতে পারে রাশিয়া। তা সত্ত্বেও বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনৈতিক বিজয় ছাড়া এই সংকটের যে কোনো পদক্ষেপ ক্ষতিকর হবে।
3
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, সারা দেশে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি আগের মতো আর নেই। মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কলকারখানা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষ চাঁদে বাড়ি বানাতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তাই আমরা ছোট দেশ হলেও বড় বড় দেশ যা করে, আমরা তাদের চেয়ে পিছিয়ে নেই। শেখ হাসিনার সরকার আছে বলেই এসব কিছু করা সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার মতিয়া চৌধুরী তার নির্বাচনী এলাকা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের ঈদগাহ মাঠে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের সময় সমাবেশে এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেলেনা পারভীন, সহকারী পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনীন, পৌরসভার মেয়র আবু বক্কর সিদ্দীক, কেন্দ্রীয় নেতা গোপাল চন্দ্র সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, ওয়াজকুরুনী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুল লতিফ, আছমত আরা আছমা, ফারুক আহমেদ বকুল, ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন পৃথক অভিযান চালিয়ে ৬২ হাজার পিস ইয়াবা ও ২৩০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস আটক করেছে। এসময় এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটককৃত মাদকদ্রব্যের মূল্য তিন কোটি এক লাখ টাকা। বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (দুজন বিজিবি) জানতে পারে জাদিমোড়া জুম্মাপাড়া মসজিদের সামনে একটি বাড়ি থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও ক্রিস্টাল মেথ আইস রয়েছে। এ খবর পাওয়ার পর গভীর রাতে বিজিবির বিশেষ টহলদল মো. রফিক মিয়ার (৩৩) বাড়িতে অভিযান চালায়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে ছয় লাখ টাকা দামের দুই হাজার পিস ইয়াবা এবং এক কোটি ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ২৩০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ করা হয়। অন্যদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই রাতে টেকনাফের সাবরাং পরিবেশ টাওয়ারের পাশের মো. সালাম প্রজেক্ট এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে পাচারের সময় বিশেষ টহলদল অভিযান চালায়। নাফ নদী পার হয়ে এক ব্যক্তিকে একটি ব্যাগসহ বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখতে পায়। বিসিবি তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সে ব্যাগ ফেলে সাঁতার কেটে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। টহলদল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ব্যাগের ভিতর থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ৬০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করতে সক্ষম হয়।
6
সোনালি আঁশের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় রাজশাহীর পুঠিয়ায় এ বছর রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাট চাষ করেছেন চাষিরা। সঠিক পরিচর্যার কারণে পাটের উৎপাদন বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পরেছেন অনেক চাষি। তাঁরা পুকুর ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। কৃষি বিভাগ চাষিদের ছোট ও অল্প পানিতে পাট প্রক্রিয়াকরণে রিবণ রেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা গোলাম সাকলাইন বলেন, চলতি বছর উপজেলার ছয়টি ইউপি এলাকায় ৩৮ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এ বছর উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন। এ বছর স্থানীয় কৃষকেরা ও-৯৮৯৭, জিআরও ৫২৪ জাতের পাটবীজ বেশি বপন করেছেন। এছাড়া ভারত থেকে আমদানি করা চাকা মার্কা জাতের পাটবীজও অনেকই বপন করেছেন। ধোপাপাড়া এলাকার পাট চাষি আয়েন উদ্দীন বলেন, এবার পাট বপন বেশি হয়েছে। আর এখন বৃষ্টিপাত কম। তাই চাষিরা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। পানির সংকটের কারণে অনেক চাষি পাট জাগ দিতে পুকুর ও জলাশয় মালিকদের টাকা দিয়ে এক মাসের জন্য ভাড়া নিচ্ছেন। অনেকেই আবার গাড়িতে করে দূরে বিভিন্ন নদী-নালায় পাট জাগ দিচ্ছেন।আবুল হোসেন নামের স্থানীয় একজন পাট চাষি বলেন, আমি এবার তিন বিঘা জমিতে পাট বপন করেছি। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট কাটতে পারছি না। তবে কৃষি অফিস থেকে আমাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে রিবন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে। কিন্তু একেতো শ্রমিক সংকট আরেকেতো অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে রিবণ রেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। পুকুর জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়া সহজ ও তুলনামূলক কম খরচ।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুনাহার ভূঁইয়া বলেন, আগে চাষিরা বৃষ্টিপাত নির্ভর ছিল। আর বর্তমানে চাষিরা জমিতে সেচ ব্যবস্থায় পাটের চাষাবাদ করছেন। যার কারণে উৎপাদন হচ্ছে অনেক বেশি। এবার তুলনামূলক বৃষ্টিপাত কম। যার কারণে উন্মুক্ত জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চাষিদের কিছুটা সমস্যায় পরতে পারেন। তবে চাষিরা রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট প্রক্রিয়া করতে পারেন। এতে অল্প পানিতে বেশি পরিমাণ পাট জাগ দিতে পারবেন। সাধারণত পাট জাগে ২০-২৫ দিন সময় লাগে। আর রিবন রেটিং পদ্ধতিতে ১০-১২ দিনে হয়ে যায়। এই পদ্ধতিতে পাটের রং ও মান অনেক ভালো হয়।
6
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ নগরের চাঁদমারী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত নাশকতার একাধিক মামলার আসামি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরফুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সদর থানায় নাশকতার একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তৈমুর আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।
6
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুর ইসলাম বিপ্লব। ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরুর মধ্য দিয়ে উচ্চশিক্ষায় পা রাখেন। নিয়মানুযায়ী ২০১৯ সালের মধ্যে চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্পন্ন করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ২০২০ গড়িয়ে ২০২১ সালের ৯ মাস শেষ হতে চললেও এখনো ৩য় বর্ষও শেষ করতে পারেননি এই শিক্ষার্থী। এতে ঠিক সময়ে চাকরির আবেদনও করতে পারছেন না তিনি।ইংরেজি বিভাগ ছাড়াও চবির ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স, মেরিন সায়েন্সেস, ফিশারিজ, ওশনোগ্রাফি, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, বন ও পরিবেশ বিদ্যা ইনস্টিটিউট, প্রাণিবিদ্যাসহ আরও কয়েকটি বিভাগ সাড়ে ছয় বছরেও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতকের সনদ দিতে পারেনি। এ জন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের রাজনীতি, সমন্বয়হীনতা এবং ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে উদাসীনতাকে দায়ী করছেন। সেই সঙ্গে চাকরিতে প্রবেশ নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা।ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী বিপ্লব আজকের পত্রিকাকে বলেন, '২৬ আগস্ট থেকে ৩য় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। যেভাবে চলছে, সামনের বছরেও স্নাতকের সনদ হাতে পাই কি না, জানি না। তখন পাস করার পর দেখব চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ পর্যায়ে। সরকারি চাকরিতে পরীক্ষায় পাস করেও নিয়োগ পেতে দু-তিন বছর চলে যায়। স্নাতক শেষ করতে অতিরিক্ত সময় লেগে যাওয়ায় ভাগ্যে কী আছে, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।'এ সমস্যা চবির শিক্ষার্থী বিপ্লবের একার নয়, তাঁর মতো বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ভর করেছে। সময়মতো সনদ না পাওয়ায় চাকরির আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন আরও অনেকেই।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বদিউজ্জামাল মিলনের স্নাতক শেষ করার কথা ২০২০ সালের আগেই। অথচ তিনি এখনো আটকে আছেন সপ্তম সেমিস্টারে।মিলন বলেন, 'জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের আমার শিক্ষাবর্ষের বন্ধুদেরও স্নাতক শেষহয়েছে। এত দিন পরিবারকে বলেছি, চার বছর পরেই পাস করে চাকরি নেব। অথচ সাড়ে ছয় বছরেও স্নাতক শেষ করতে পারিনি। আমাদের জীবন নিয়ে এভাবে খেলা করার মানে হয় না।'এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক বলেন, 'আমরা অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা করেছি, সে অনুযায়ী কাজও করছি। অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে যেন শিক্ষার্থীদের জট থেকে মুক্তি দেওয়া যায়, সে চেষ্টা করছি।' জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গত ৩১ আগস্ট অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার নীতিমালা অনুমোদন করেছে। তবে সশরীরে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার জন্য অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।পরীক্ষা আটকে থাকায় শিক্ষাজীবনে স্থবিরতা এলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৪ হাজার নিয়োগসহ বড় বড় নিয়োগ পরীক্ষার ঘোষণা এসেছে। কিন্তু সনদ না থাকায় শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ সেগুলোয় আবেদন করতে পারছে না। সরকারি চাকরির মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারছেন না তাঁরা।শিক্ষাজটের কারণে চাকরির পরীক্ষায় আবেদনবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এসব শিক্ষার্থীর বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে মিটিং করেছি। সেখানে আমরা তাঁদের বলে দিয়েছি, মেইন সিলেবাস ঠিক রেখে নন-মেজর বিষয়গুলো বাদ দিয়ে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরীক্ষাগুলো নিয়ে নিতে। স্ট্যান্ডার্ড রক্ষা করে সেমিস্টারের সময় কমিয়ে পরীক্ষাগুলো নেওয়ার ব্যবস্থা করতেও বলা হয়েছে, যাতে এসব শিক্ষার্থী দ্রুত জব মার্কেটে প্রবেশ করতে পারে।'
1
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে যদি দলের কেউ স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিতে চান, সেখানে কোনো বাধা থাকবে না। এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, 'জাতীয় কর্মসূচির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের খুব একটা আগ্রহ নেই। এই সরকারের হাতে পড়ে বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থাটাই এখন পুরোপুরি বিনষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে যেটা দেখেছি, নির্বাচনকালে যদি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন কোনো কিছুই করতে পারে না। সে কারণে বিগত দিনগুলোর সব অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা নির্বাচন বর্জন করেছি, নির্বাচনও করেছি। নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় মতামত দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এই সরকার কোনো কিছুই গ্রহণ করে না। তারা তাদের মতো করে নির্বাচন করার জন্য সবকিছু সাজিয়ে নেয়।' ইউপি নির্বাচনে দল অংশ না নিলেও তৃণমূল বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন-এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, 'এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান খুব পরিষ্কার। আমরা প্রথম থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলগতভাবে অনুষ্ঠানের বিপক্ষে ছিলাম। আমরা বলেছিলাম, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া সঠিক হবে না। এটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগই এখন দলীয় মার্কা বাদ দিয়ে নির্বাচন করার চিন্তাভাবনা করছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় মার্কায় নির্বাচন করতে গেলে গ্রামীণ সমাজ পুরোপুরিভাবে বিভক্ত হয়ে যায়। সে কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে অংশ নেব না। দলের কেউ স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিতে চাইলে বাধা থাকবে না।' ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের দল গঠন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'নতুন কোনো রাজনৈতিক দল যখন গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে, সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি, এই অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে তারা ভূমিকা রাখবে এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কাজ করবে।' জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বিএনপির রাজনীতিতে নেই-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'ওবায়দুল কাদের সাহেবের উচিত আয়নায় তাঁর নিজের চেহারা দেখা। একই সঙ্গে জনগণের চোখের ভাষা তাঁর পড়া উচিত। তারা সম্পূর্ণভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে আগের রাতে নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে।' সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, 'এটা তো সরকারই ঘটিয়েছে। এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে। রংপুরে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের ছেলেরাই ধরা পড়েছে। আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরেই কুমিল্লায় ওই ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীকালে সরকার জোর করে অন্যের ঘাড়ে এসব ঘটনার দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।' এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন ও সহসভাপতি নুর করিমসহ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
9
কণ্ঠশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল। ভারতীয় জি বাংলা চ্যানেলের 'সারেগামাপা' রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছেন তিনি। এই শিল্পী জীবনের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গেআমাকে গাইতে হবে, বেঁচে থাকতে হবে গানের মাধ্যমে। এ জন্য সবার সামনে তুলে ধরতে হবে নিজের সেরা গায়কি, তাই গান গাওয়া ছাড়া আলাদা করে কিছু ভাবি না। 'সারেগামাপা' সঙ্গীত প্রতিযোগিতার সুবাদে স্বল্প সময়ে দেশে ও বিদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। কেমন উপভোগ করছেন এই জনপ্রিয়তা? গানের সুবাদে এত মানুষের ভালোবাসা পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। এই প্রাপ্তি বা অনুভূতির কথা কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। নাচ, গান, অভিনয়- যে কাজই হোক না কেন, তা যদি জনপ্রিয়তা এনে দেয়, তাহলে সেটি কাজের অনুপ্রেরণা জোগায়। সেই সঙ্গে বাড়িয়ে দেয় কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ। এ জন্য 'সারেগামাপা' আমাকে যে পরিচিতি এবং দর্শক-শ্রোতার ভালোবাসা এনে দিয়েছে, তা ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়ে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। সে লক্ষ্যেই আমাকে গাইতে হবে নতুন গান এবং সঙ্গীতের নানা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে- এটাই আমি মনে করি। আজকের অবস্থান নিয়ে কখনও ভেবেছিলেন? 'সারেগামাপা'তে অংশ নেওয়ার পর কী হবে, কতদূর যেতে পারব, আমার গায়কি ক'জনের ভালো লাগবে, শিল্পী হিসেবে কোনো অবস্থান তৈরি হবে কিনা- তা নিয়ে সত্যিই ভাবিনি। প্রতিযোগিতায় নিজের সেরা গায়কি তুলে ধরব- এটাই ছিল লক্ষ্য। তাই বলে কোনো স্বপ্ন ছিল না তা নয়। এখনও আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখি। নিজের সেরা গায়কি আর দর্শক-শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়েই এই স্বপ্ন সত্যি করা সম্ভব বলেই মনে করি। 'সারেগামাপা'র বিচারকদের প্রশংসায় সিক্ত হয়েছেন। তারা কি আপনাকে নিয়ে কাজ করার কথা কখনও বলেছেন? সঙ্গীত পরিচালক এবং 'সারেগামাপা'র বিচারক শান্তনু মৈত্র একটা গান কম্পোজ করেছেন। সেটা আমার ও মোনালি ঠাকুরের দ্বৈত কণ্ঠে রেকর্ড করবেন বলে শুনেছি। কিন্তু এ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো কথা হয়নি। যারা এই রিয়েলিটি শোর বিচারক, তা সবাই বড় মাপের শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক। তাদের সঙ্গে কাজ করতে পারা যে কোনো প্রতিযোগীর জন্যই আনন্দের বিষয়। ক'দিন আগে অনুপম রায়ের সুরে কলকাতার 'ভিঞ্চি দা' ছবিতে প্লেব্যাক করলেন। কেমন ছিল সে অভিজ্ঞতা? অনুপম রায় ভারতের অসম্ভব জনপ্রিয় শিল্পী। সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। এমন একজন বড় মাপের সুরকারের সঙ্গে কাজ করছি- এটা ভুলেও মনে হয়নি। গান রেকর্ডিংয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার আচরণ ছিল কলেজের বড় ভাইয়ের মতো, যেন আমরা একে অপরের অনেক দিনের চেনা। এ কারণেই 'তোমার মনের ভেতর' গানটি রেকর্ড করার সময় বিন্দুমাত্র নার্ভাস লাগেনি। গান নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা কী? আমাকে গাইতে হবে, বেঁচে থাকতে হবে গানের মাধ্যমে। এ জন্য সবার সামনে তুলে ধরতে হবে নিজের সেরা গায়কি, তাই গান গাওয়া ছাড়া আলাদা করে কিছু ভাবি না।
2
বাস থেকে নেমে কাঁচা রাস্তায় খানিকটুকু হাঁটার পর চারদিকে তাকিয়ে মুহিব বলে, বেশ লাগছে। লাগবেই তো। শালা, তুই একটা ঘুণপোকা। তুই শালা শামুকের ডিম। তুহিনের মনে পড়ে, ছোটবেলায় ও আর নসু নিজেদের এভাবে গালাগাল করত। ওরা কখনো অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করতে পারত না। এখন সাংবাদিকতার কাজে এসে মুহিবের সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়ার পর ও মাঝে মাঝে ছোটবেলা ফিরে পায়। যেন একটা দারুণ খেলা, ঘুণপোকার মতো শৈশব কাটা। কাটতে কাটতে জমে ওঠা কাঠের গুঁড়ির স্তূপের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখা। ঠান্ডা বাতাস ছুটছে এলোপাতাড়ি। মাথার ওপর বর্ষার আকাশ। ছাই রঙের মেঘ। যেন ওগুলো মুখ তোবড়ানো হাজি বিবির চোখের কটা রঙের তারা, যাকে ওরা একটু আগে দেখেছে পথের ধারে গিমা শাক খুঁটে তুলতে। বুড়িকে দেখে তুহিন চেঁচিয়ে বলে, 'দেখ, দেখ মানুষের ফসিল।' আমার তো মনে হচ্ছে, ভিন্ন গ্রহের কেউ। তুহিন বুড়ির সামনে উবু হয়ে বসে বলে, 'আপনার নাম কী নানি?' হাজি বিবি। হাজি বিবি? কয়বার হজ করেছেন? বুড়ি মাথা নাড়ে। প্রশান্ত হাসি হেসে বলে, 'করি নাই। হজে য্যাবার আশা করছিলাম। তাই মানষে নাম দিছে হাজি বিবি। তোমরা কেডা নাতি? শহর থ্যাকা আসছ? ক্যান আসছ? কামডা কী?' বাব্বা, এত কিছু জানতে চাচ্ছেন! কই যাবি? দুইডা টেকা দে। মুহিব পকেট থেকে একটা টাকা বের করে দিয়ে বলে, 'কী করবেন?' বিস্তৃত হয়ে যায় দন্তবিহীন কোঁচকানো চামড়ার ভূগোল। বলে, বিড়ি, নাতি, বিড়ি। না টানলে বাঁচি না। হাজি বিবি খপ করে টাকাটা নিয়ে আঁচলের খুঁটে বেঁধে ধূসর দৃষ্টিতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অদ্ভুত লাগে দুজনের। মনে হয়, যে গ্রামটা খোঁজার জন্য ওরা শহর থেকে এসেছে, ওটা এমনই-গিমা শাক তোলা একজন বুড়ির রগ ওঠা হাতের শিরার মতো। ক্ষীণ প্রবাহে রক্ত বয়ে যায়, বেঁচে থাকার নমুনা হিসেবে জেগে থাকে কোটরাগত চোখ। মুহিব জিজ্ঞেস করে, 'তরিকুলকে চেনেন নানি?' চিনুম না ক্যান? কয়দিন আগে পুলিশে অরে বাইন্ধা নিল না? শুনেছি ঘটনার দিন ও গ্রামে ছিল না। মিছা কথা। যেই দিন ঘডনা ঘডছে, ওই দিন পোলাডা গেরামেই ছেলো। আমারে কইছিল, নানি তোমারে শহর থাইকা সিগারেট আইনা দিমু। বিড়ি খাওন লাগব না। আমি কইছিলাম, সিগারেট খামু না। বিড়িই ভালা। কড়া। ধুঁয়া বুকের মধ্যে পাক খায়। চোখ বুইজা আসে। হাজি বুড়ি আরও অনেক কথা বলতে চেয়েছিল ওদের সঙ্গে। ওদের শোনার সময় ছিল না। আজই ওদের ঢাকায় ফিরতে হবে। ওরা হাতিয়ার ধর্ষণ ঘটনার নেপথ্য সূত্র বের করার জন্য এ গাঁয়ে এসেছে। একসময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মুহিব বলে, 'আমরা যদি প্রমাণ করতে পারি যে হাতিয়ার ধর্ষণ পুলিশেরই অপকর্ম, তাহলে কী হবে রে?' কী আর, গিমা শাক! তাহলে যাচ্ছি কেন? শুঁটকি মাছের গন্ধে। শালা, তুই একটা ঘুণপোকা। ভাগ, পেঁয়াজি করিস না। এই সব গালাগালি ল্যাংটা বয়সে ছেড়ে এসেছি। দুজনে মনের সুখে খিস্তি-খেউর করতে থাকে। দুজনেরই মনে হয়, ঢাকা শহরের দম আটকানো পরিবেশ থেকে ওরা আচমকা যেন ছিটকে পড়েছে। এভাবেই দুজন নদীর পারে এসে দাঁড়ায়। খেয়ানৌকাটা অন্য পাড়ে চলে গেছে। লোক নামছে। পাঁচজন নারী, তিনজন পুরুষ। কোনো শিশু নেই। দুজনই আবার পরস্পরের দিকে তাকায়। কেন ওরা শিশু খুঁজছে? ওরা বুঝতে পারে, ঢাকার মহানগর হাকিমের আদালত প্রাঙ্গণে পাঁচ বছর বয়সী হাতিয়া ধর্ষিত হওয়ার পর থেকেই ওরা শিশু-সংক্রান্ত বিবেচনায় খানিকটা বিহ্বল হয়ে যায়। একটু আগে যে দলটি খেয়ানৌকা থেকে নেমে গাঁয়ের দিকে এগিয়ে গেল, তাতে শিশু নেই দেখে স্বস্তি বোধ করে ওরা। ওরা জানে, যখন ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে, তখন আদালত প্রাঙ্গণে কর্তব্যরত পুলিশ ছাড়া আর কেউ ছিল না। কিন্তু আসামি হয়েছে ধনুসার গাঁয়ের একজন, যে ওখানে বসে দিনের বেলা কলা বিক্রি করে। রাতে বারান্দায় ঘুমায় আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গাঁয়ে ফিরে যায়। লোকটাকে ওরা দেখেছে গাঁ থেকে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার পর। গালভাঙা বিধ্বস্ত চেহারা, এই গাঁয়ের এবড়োখেবড়ো সড়কের মতো। কেঁদেকেটে চোখ ফুলিয়েছে। দরুদ পড়ার মতো অনবরত আউড়েছে একটিই বাক্য, ওই তারিখে আমি গাঁয়ে ছেলাম। কেউ শোনেনি তার কথা। শুধু মুহিব আর তুহিনের মনে হয়েছে, নিজেদের চামড়া বাঁচাবার জন্য ওকে পুলিশের দরকার। মরণ ছাড়া ওর আর কোনো পথ নেই। তাই ওরা সরেজমিনে বিষয়টি জানতে এসেছে। খেয়ানৌকা ফিরে আসছে এ পাড়ে। ওপারের ছোট দলটি অনেক দূরে চলে গেছে। তুহিন কনুই দিয়ে মুহিবকে ঠেলা দিয়ে বলে, 'দেখ, দেখ, ওই দলে কোনো বালিকা নেই।' মুহিব ঘোঁত করে ওঠে, বালিকারা নদী পার হতে জানে না। তুহিন হা হা করে হাসে, বালিকারা কি কলা খেতে জানে? শালা। মুহিব আবার খিস্তি করে। নৌকা প্রায় ওদের কাছাকাছি চলে এসেছে। ছোট নদী। পাশে দাঁড়ানো একজন বলল, 'ছোট হলে হবে কী, নদীর স্রোত দেখেন! রাতে মনে হবে যে এইটুকু নদী তো হেঁটেই পার হওয়া যায়। কিন্তু নামলেই...' কথা শেষ না করে লোকটি জোর করে অদ্ভুত শব্দে হাসতে থাকে। নামলে কি স্রোত টেনে নিয়ে যাবে? তুহিন জিজ্ঞেস করে। লোকটি ঘাড় ঘুরিয়ে বলে, হ্যাঁ। এতে এত হাসির কী হলো? হাসব না? মনে পড়ল, একবার এক চোরকে ধরে এই স্রোতে ফেলে দিয়েছিলাম। বাব্বা! আপনি চোরও ধরতে পারেন! কী করেন? আমি গ্রাম পুলিশ। এতক্ষণে নৌকা পাড়ে ভিড়েছে। লোকজন ঠেলাঠেলি করে উঠছে। তুহিনের কানের কাছে মুখ নিয়ে মুহিব বলে, পুলিশ আর গ্রাম পুলিশের মধ্যে তফাৎ কী রে? তফাৎ রাত-দিনের। কেমন? এই বেটাদের পেটে ভাত নেই। ঠিকমতো খেতে পায় না। বুঝেছি। আর ওরা বেতনের টাকার বাইরেও সবচেয়ে বড় পাঙাশ মাছটা কিনতে পারে। বুঝে ঢোল হয়ে গেছিস। আয়। বলে তুহিন লাফিয়ে নৌকায় ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে নৌকা ছেড়ে দেয় মাঝি। বেশ লাগে দুলে ওঠার ঝাঁকুনি। দুজনই ভেবেছিল, বেশ একটা স্নিগ্ধ বাতাসের আমেজ পাওয়া যাবে, কিন্তু হলো উল্টোটা। নৌকার ওপরে ঘন হয়ে বসার জন্য মানুষের শরীর থেকে ঘামের গন্ধ আসছে। বমি পায় মুহিবের। ভাবে, গ্রাম পুলিশটা বুঝি সাত দিন গোসল করেনি। ওর পিঠে পিঠ লাগিয়ে বসেছে পুলিশটা। ছোট পরিসর। ঠাসাঠাসি অবস্থা। মুহিব দুহাতে নাক চেপে ধরে বসে থাকে। তুহিন অস্ফুট স্বরে গালি দিয়ে বলে, 'শালা, যেন ভিড়ের মধ্যে ঢুকিসনি কখনো। মনে হচ্ছে ধরে নদীতে আছাড় মারি।' মুহিব নাক থেকে হাত সরায় না। দূরে তাকিয়ে থাকে। দেখে কোথাও থেকে একটা ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে। তুহিন গ্রাম পুলিশকে বলে, 'ওখান থেকে ধোঁয়া উঠছে কেন জানেন?' কাউকে পোড়ানো হচ্ছে। ওখানে কি শ্মশান আছে? জানি না। তবে? তবে আবার কী? কারও পুড়ছে। আইজকাল কতভাবেই তো মানষে পুড়ে যায়। গ্রাম পুলিশের কণ্ঠ ঝাঁঝালো হলেও ভঙ্গি নির্বিকার। যেন বলতে চায়, হরহামেশা যা ঘটছে, তা নিয়ে এত প্রশ্ন কেন? মুহিব নিজেও গলায় ঝাঁঝ রেখে বলে, এই গাঁয়ের এই অবস্থা! গাঁয়ের নাম কী? আমার দাদার মুখে শুনেছিলাম যে অনেক কাল আগে গ্রামটাকে মানুষ একটা ভিন্ন নামে ডাকত। আস্তে আস্তে সেই নাম হারিয়ে অন্য একটা নাম হয়েছে। তারপর এক পয়সাওয়ালা লোক টাকাকড়ি দিয়ে, ওয়াজের মানুষজনকে এনে নিজের নামে গাঁয়ের নামটা বদলে দিয়েছে। এখন এটার নাম বরকতপুর। 'আপনি তো অনেক কিছু জানেন দেখছি।' তুহিন কপালে চোখ তুলে বলে। এ গাঁয়ের ওপর শকুনের দৃষ্টি আছে। কেমন? শকুন দুই রকম। ফতোয়াবাজ আর পুলিশ। শহর থেকে পুলিশ এসে গাঁয়ের মানুষ ধরে নিয়ে যায়। নিজেদের চামড়া বাঁচায়। ওরে বাব্বা! দুজন বিস্ময়ে তাকায়। গ্রাম পুলিশ ভ্রুক্ষেপ করে না। এতক্ষণে নৌকা ঘাটে ভিড়েছে। সে লাফ দিয়ে নেমে যায়। হনহনিয়ে হাঁটতে থাকে। মুহিব নামতে নামতে তুহিনকে খোঁচা দিয়ে বলে, 'তুই যে বললি, বেটাদের পেটে ভাত থাকে না। এখন তো দেখছি মগজেও ভাত আছে।' পেটে নেই বলেই মগজে আছে। কারণ ওটা তো সত্যিকারের ভাত না। চল, ধোঁয়া উড়ছে কেন দেখে আসি। ওই গ্রাম পুলিশ বেটা কোন দিকে গেল রে? যেদিকে খুশি যাক না, আমাদের কী দরকার? দরকার থাকলেও ও আমাদের দরকারে আসবে না। শুনিসনি কীভাবে কথা বলল? এভাবে কথা বললে ও বেশি দিন টিকতে পারবে না। ওকে মরতে হবে। অপঘাতে মৃত্যু। মুহিব ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলে। তাকিয়ে দেখে লোকটা বাম দিকে অনেকখানি চলে গেছে। ওরা যাবে ডানের পথে। যেতে যেতে ওরা একজনকে জিজ্ঞেস করে, 'ধোঁয়া উড়ছে কোথায় বলতে পারেন?' তরিকুলের বাড়ি পুড়ত্যাছে। মোল্লারা পোড়ানোর ফতোয়া দ্যাছে। কেন? আকাম করছে। ও তো ওই দিন গাঁয়ে ছিল। হ, আমি দেখছি। ছিলই তো। তাহলে? লোকটা ঠোঁট ওলটায়। 'জানি না' বলে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। ওরা যখন আরও খানিকটা এগিয়ে সেই পোড়া বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, তখন আগুন প্রায় নিভে এসেছে। তরিকুলের বাবা চোখে অশ্রু নিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। তার কোল ঘেঁষে বসে আছে তরিকুলের শিশু মেয়ে দুটি। দুজনেরই মনে হয়, ওদের দৃষ্টিতে হাজি বিবির দৃষ্টির ধূসরতা। বালিকারা বুড়িয়ে গেছে। মুহিব বিড়বিড় করে বলে, কেমন ভৌতিক মনে হচ্ছে গ্রামটাকে! পুলিশ আর ফতোয়াবাজরা গ্রামটার নিয়তি। তুহিনের কণ্ঠে ঘড়ঘড় শব্দ। ভিড়ের মধ্য থেকে একজন বুড়ো প্রশ্ন করে, 'তোমরা কেঠা বাবা?' পাশ থেকে আরেকজনের মন্তব্য, মনে হয় সাদা পোশাকের পুলিশ। ওরা দুজন দুজনের দিকে তাকায়। নিজেদের পরিচয় দিতে পারে না। ভয় করে। সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করে, কত অর্থহীনভাবে স্তব্ধ হয়ে গেছে বুকের ভেতরের সমুদয় শব্দ। আর একজনের কণ্ঠ থেকে ব্যঙ্গ বিচ্ছুরিত হয়, মানুষ দুইডা বোবা নাহি? মুহিব তাড়াতাড়ি বলে, 'আমার নাম মুহিব। ওর নাম তুহিন। আমরা তরিকুলের কথা জানতে এসেছি। ওকে যে কারণে আসামি করা হয়েছে, তা আমাদের কাছে একটু অবিশ্বাস্য ঠেকছে।' এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ের গুঞ্জন থেমে যায়। ডুকরে কেঁদে ওঠে তরিকুলের বাবা। সে শব্দ যেন নিভে যাওয়া আগুনের উত্তপ্ত ছাই। গরম সিসার মতো পুড়িয়ে দিচ্ছে কর্ণকুহর। মেয়ে দুটো দাদার গলা জড়িয়ে ধরলে ওদের খোলস বদলায়, যেন ওরা ফতোয়ার নিচে গলা পেতে দেওয়া যুবতী নারী। দুপুরের পর ফিরতে থাকে দুজন। খিদে পেয়েছে। গাঁয়ের বাজারের ভাঙা হোটেলটায় ঢুকে নলা মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খায়। হোটেলমালিক জানায়, সেদিন তরিকুল ওর দোকানে বসে অনেকক্ষণ আড্ডা দিয়েছিল। ওদের পাশের বেঞ্চে বসে পা দোলাচ্ছিল যে মেয়েটি, সে বারবার ওদের দিকে তাকাচ্ছিল। ওর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি, দৃষ্টিতে কৌতুক। ওরা দুজনই বুঝতে পারে যে মেয়েটি তরিকুলকে চেনে। মুহিব ওর দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলে, 'আমরা সাংবাদিক। তরিকুলের ব্যাপারটা নিয়ে কাগজে লিখব। আপনি ওকে চেনেন?' চিনুম না ক্যান? ওর শরীলের সব চিনি। সেই দিন সাঁঝের বেলা একবার আসছিল আমার কাছে। কইল খুব খারাপ লাগতাছে। মাইঝ রাইতে একবার আসুম। দরজা খোলা রাখিস। আসে নাই। মনে অয় বটতলায় ঘুমাইছিল। ক্যান যে অরে পুলিশ ধইরা নিল বুঝলাম না। মেয়েটি ওদের কাছে প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য অপেক্ষা করে না। হোটেলঅলাকে ভাতের দাম দিয়ে চলে যায়। ওরা বুঝে যায় যে মেয়েটি কে। ওরা হোটেলঅলাকে জিজ্ঞেস করে, ওর বিরুদ্ধে ফতোয়া হয় না? ক্যান হইব? ও তো সব্বাইর কামে লাগে। দুজনের মুখের ওপর কেউ বুঝি গরম সিসা ঢেলে দেয়। ওরা নিজেদের দিকে তাকাতে পারে না। দাম চুকিয়ে বেরিয়ে আসে। বাইরে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখে। অনেক দূরে ছোট কালো একটা পাখি উড়ে যায়। তুহিন ঠেলা দিয়ে বলে, 'আমার তো মনে হচ্ছে হাতিয়ার ধর্ষণের দিন তরিকুল গাঁয়েই ছিল।' মনে হচ্ছে মানে? মুহিব আগুনে দৃষ্টিতে তাকায়। ইয়ে মানে- ও ঢোক গেলে। মুহিব গলায় তপ্ত সীসা ঢেলে গনগনে কণ্ঠে বলে, ছিলই তো। সেই তারিখে ও এখানেই ছিল। এমন নির্দোষ মানুষটাকে পুলিশের কেন দরকার হলো রে? উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর জন্য। বেশ মজার খেলা না? হ্যাঁ, পাখি ধরা খেলা। দুজন খেয়া নৌকায় উঠে নদীর এ পাড়ে এসে নামে। হাজি বুড়ি খেয়াঘাটে বসে আছে। সারা দিনে বাড়ি ফেরেনি। আঁচলের খুঁটেতে গিমা শাক বাঁধা। কানে আধা পোড়া বিড়ি গোঁজা ছিল। ওদের দেখে বিড়িটা ঠোঁটে গুঁজে বলে, 'ম্যাচ দে।' আকস্মিক আনন্দে দুজনের মন ভরে যায়। মুহিব ম্যাচটা বুড়ির হাতে গুঁজে দিয়ে বলে, 'ইচ্ছেমতো বিড়ি টেনে দুনিয়াটা ফুঁকে দাও নানি!'
6