text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
হোমিওপ্যাথি ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত স্পিরিট, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, রঙ, সুগন্ধি, কোমল পানীয় ও ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তৈরি করা হয় 'মদ'। বার ও ক্লাব থেকে সংগ্রহ করা আমদানি করা মদের খালি বোতলে এই ভেজাল মদ ঢুকিয়ে বিদেশি ব্র্যান্ডের মদ হিসেবে বিক্রি করা হয়। 'মদ' পান করে সম্প্রতি তিনজনের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। বুধবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ভেজাল মদ তৈরি চক্রের পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে তারা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে ভেজাল মদ তৈরির এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার পাঁচজন হলো-মো. নাছিম উদ্দিন, মো. ইকরামুল হক, স্বপন পাল, মো. ইমরান ফয়সাল ও জাহেদুর রহমান আরজু। তাদের মধ্যে ইকরামুল নগরের লালদীঘির পাড়ের পুরাতন গির্জা এলাকার ইকরা হোমিও ফার্মেসির মালিক, স্বপন পাল নগরের হাজারী গলির মুখে বিএস হোমিও সেন্টারের মালিক, ইমরান ফয়সাল নগরের নজির আহমদ চৌধুরী রোডের বন্দর প্রোডাক্টস নামে একটি প্রেসের মালিক, জাহেদুর রহমান আরজু নগরের পাহাড়তলী এলাকার সাগরিকা প্রেসের মালিক। তাদের কাছ থেকে স্পিরিট, নকল লেভেল, ভেজাল মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ও বোতলের কর্ক জব্দ করা হয়েছে। নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) ফারুকুল ইসলাম জানান, গত ১৩ আগস্ট মদপান করে তিনজনের মৃত্যু হয়। একজন অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। অসুস্থ উজ্জ্বলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা কার কাছ থেকে মদ কিনেছিল তার অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। এরপর একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে মদ নকল করার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। আকবর শাহ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ভেজাল মদ খেয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা নাছিমের কাছ থেকে মদগুলো কিনেছিল। তাকে গ্রেফতারের পর এই চক্রের আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া আকবর শাহ থানার এসআই ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নাছিম জানিয়েছে, সে চার বছর ধরে ভেজাল মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তারা বাসায় বসে ভেজাল মদ তৈরি করে। নাছিম ও তার এক আত্মীয় মদের ক্রেতাদের কাছে অভিজাত ক্লাব ও বারের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত।
6
লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে হোঁচট খেয়েছে বার্সেলোনা। কাম্প নউয়ে রবিবার লা লিগার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। লুক ডি ইয়ং সেভিয়াকে এগিয়ে নেয়ার পর সমতা ফেরান ফিলিপে কৌতিনিয়ো। অষ্টম মিনিটে এগিয়ে যায় সেভিয়া। সুসোর ক্রস হেডে ঠিকমতো বিপদমুক্ত করতে পারেননি ফ্রেংকি ডি ইয়ং। বল পেয়ে বুলেট গতির শটে জাল খুঁজে নেন ডি ইয়ং। নতুন মৌসুমে বার্সেলোনার জালে প্রথম গোল। দুই মিনিটের ভেতর সমতা ফেরায় বার্সেলোনা। এতে মিশে ছিল ভাগ্যের ছোঁয়াও। লিওনেল মেসির ক্রস সেভিয়া ডিফেন্ডার হেসুস নাভাস ঠেকাতে গিয়ে তুলে দেন কৌতিনিয়োর পায়ে। জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। নতুন মৌসুমে তার প্রথম গোল। ২১তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন অঁতোয়ান গ্রিজমান। আনসু ফাতির কাছ থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রতি আক্রমণ থেকে সুযোগ আসে গ্রিজমানের সামনে। দূরূহ কোণ থেকে সেভাবে গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারেননি তিনি। ৮১তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে আচমকা শটে চেষ্টা করেছিলেন মেসি; কিন্তু ফাঁকি দিতে পারেননি সেভিয়া গোলরক্ষকে। প্রথম মিনিটে দারুণ সুযোগ এসেছিল ত্রিনকাওয়ের সামনে। মেসির কাছ থেকে বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন তরুণ পতুর্গিজ ফরোয়ার্ড। দারুণ দক্ষতায় তাকে ব্যর্থ করে দেন সেভিয়া গোলরক্ষক। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। গোল পার্থক্যে পিছিয়ে তাদের পরেই সেভিয়া। দিনের অন্য ম্যাচে লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
12
নেত্রকোনায় করোনার টিকা নিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের টিকা নিতে হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হয়।সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ জুড়ে নেত্রকোনা সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুলের ১ হাজারের বেশি ছাত্র-ছাত্রী লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে।টিকাদানের ধীরগতির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদেরকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কেউ কেউ স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে লাইনে না দাঁড়িয়ে টিকা নিয়ে চলে গেছে।ঠাকুরাকোণা রহিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহিম জানায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। টিকাদানের সময় শেষ হয়ে আসছে। টিকা নিতে পারব কি না জানি না।একই রকম বিরক্তি প্রকাশ করে দক্ষিণ বিশিউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী পিউ, লক্ষীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সোহেল রানা, মারাদিঘী গোলাম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী মিম জান্নাত।তারা জানায়, সেই সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। লাইন ফুরাতেই চায় না। কখন টিকা দিতে পারব জানি না। তারা অভিযোগ করে, অনেকেই লাইন ছাড়াই টিকা দিয়ে চলে যায়। এর ছবি তোলার কারণে রেডক্রিসেন্টের এক লোক দু্ই ছাত্রকে মারধর করেছে।তবে নেত্রকোনা জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে টিকাদানরত চিকিৎসক, নার্স, রেডক্রিসেন্টের কর্মীরা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। কোনো ধরনের তথ্য দিতেও চাননি। তারা সাংবাদিকতের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করনে।এদিকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সহায়তাদানকারী রেড ক্রিসেন্টের এক কর্মী দুই ছাত্রকে মারধর করে। এতে বিক্ষুদ্ধ হয় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।তবে রেড ক্রিসেন্টের ওই কর্মী ইমরান জানিয়েছেন, আমাকে গালিগালাজ করার কারণে একটু তর্কবিতর্ক হয়েছে। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।মারধরের বিষয়টি অনেকে দেখলেও এ বিষয়ে কোনো কথা বলেনি।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একটি স্কুলের শিক্ষক বলেন, আমার নাম দিয়ে কি করবেন। স্কুলের নাম জানারই বা কি দরকার? দেখতেই পারছেন এখানে কি অবস্থা।এ বিষয়ে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন সেলিম মিয়া বলেন, টিকাদানকারি সেবিকার তুলনায় টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা অনেক বেশি।যে কারণে শিক্ষার্থীদের টিকা নিতে এসে একটু কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। মারধরের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। এরকম কোনও ঘটনা ঘটে থাকলে তা খুবই দুঃখজনক ও অনাকাঙ্খিত।
6
সৌদি আরবের মক্কায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাওলানা জিয়াউর রহমান জাহেদ (৪৫) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষক নিহত হয়েছেন। গত শনিবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায়) মক্কা নগরীর হেরা গুহা নামক স্থানে রাস্তা পারাপারের সময়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।জাহেদ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া শাহ মজিদীয়া মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন। তিনি গারাংগিয়া হাতিয়ার কুল এলাকার মধন মাওলানা সাহেবের বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।জিয়াউর রহমান জাহেদের জ্যাঠাতো ভাই মো. কামাল উদ্দিন জানান, ১৬ মার্চ পবিত্র ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে যান জাহেদ। ৩০ মার্চ দেশে ফেরার কথা ছিল। শনিবার বাদ আছর পবিত্র মক্কা নগরীর উঁচু পাহাড় হেরা গুহায় ওঠেন। সেখানে উঠে নিজ মোবাইলে থেকে ফেসবুক লাইভে এসে ভিডিওতে হেরা গুহার দৃশ্য দেখান। এর কিছুক্ষণ পর হেরা গুহা থেকে নিচে নেমে রাস্তা পার হয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলে জাহেদ নিহত হন।
6
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বুধবার (১৭ মার্চ) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এক মনোজ্ঞ উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান প্রদর্শন করেছে। খবর আইএসপিআর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বিবিপি, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি এর দিক নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন স্থানের আকাশে বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের বিমানের মাধ্যমে ১০০ তৈরির এই উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শন করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী উদযাপনে উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত বাংলার আকাশ ও বাতাস। এই উচ্ছ্বাসের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দক্ষ বৈমানিকগণ এই মনোজ্ঞ উড্ডয়ন শৈলীর মাধ্যমে বাংলার আকাশে অতি মমতায় এঁকে দিয়েছে 'একশত'। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭, মিগ-২৯, ইয়াক-১৩০, কে-৮ডব্লিউ ও পিটি-৬ বিমান ও হেলিকপ্টার এর সমন্বয়ে এই মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনীতে বিমান বাহিনীর দক্ষ বৈমানিকগণ বাংলাদেশের নীলাকাশে ফরমেশন ফ্লাইং-এর মাধ্যমে ১০০ তৈরি করে সমগ্র জাতির উৎসব ও উচ্ছ্বাসের রঙে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। ১০০ তৈরির উড্ডয়ন শৈলীটি দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমান মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সম্বলিত ব্যানার ফ্লাই করা হয়। জাতির এই আনন্দঘন মাহেন্দ্রক্ষণে সকলের সাথে একাত্ম থাকবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
6
ইকুয়েডরে সান্তো দোমিঙ্গো শহরের বেলাভিস্তা কারাগারে এক দাঙ্গায় অন্তত ৪৩ জন বন্দী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় সময় সোমবার (৯ মে) কারাগারে বন্দী থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর সদস্যদের মধ্যে এই দাঙ্গার ঘটনা ঘটে।দেশটির সরকারের বরাত দিয়ে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিসিও ক্যারিলোর বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পালিয়ে যাওয়া ১১২ জন বন্দীকে আটক করা হয়েছে এবং এখনো ১০৮ জন বন্দী পলাতক রয়েছে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি আদালতের আদেশের পরে এক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতাকে সান্তো ডোমিঙ্গো শহরের কারাগারটিতে স্থানান্তর করার পর দাঙ্গা শুরু হয়।দেশটির সরকারের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছর কারাগারে মাদক পাচারকে কেন্দ্র করে চক্রগুলোর সংঘর্ষে অন্তত ৩১৬ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।
3
নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আগে দলের ব্যাটিং ত্রাতা হিসেবে আবারো অবতীর্ণ হলেন ডেভিড ওয়ার্নার। বলতে একাই ব্যাটিংয়ের একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান এই ওপেনারের ঝড়ো ব্যাংটিং শেষ পর্যন্ত লড়াই করার পুঁজি পেয়েছে সিলেট সিক্সাস। হোম গ্রাউন্ড ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৫৮ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছে সিলেট সিক্সার্স। অস্ট্রেলিয়ান এই ওপেনার ৪৩ বলে ৬৩ রান করেছেন। এক প্রান্ত আগলে রেখে করেছেন দলকে সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া লিটন দাস ২৭ ও জাকির আলি ২৫ রান করেন। কনুইয়ের চোটের চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার কথা রয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারের। যাওয়ার আগে দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। চোট নিয়ে খেলছেন কিন্তু তার ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি চোটে আক্রান্ত। বিপিএলের আজকের খেলায় মুখোমুখি হয়েছে সিলেট সিক্সার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটস। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিলেটের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। চলতি আসরে এই প্রথম টস জিতলেন ওয়ার্নার। চলতি আসর খুব একটা ভালো যাচ্ছে না সিলেটের। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুই জয় নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে আছে তারা। অবশ্য সর্বশেষ ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে তারা। রান পেয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নারও। যদিও ২১ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ফিরে যাচ্ছেন তিনি। এদিকে ঢাকা ডায়নামাইটস দুই উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান করেছে।
12
তারকাদের দেখতে কার না ভালো লাগে। ভালো লাগে তাঁদের জীবনযাপনও। তারা কী খান, কী পরেন, কোথায় থাকেন-সবই আগ্রহের কেন্দ্রে ভক্তদের। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় বেশির ভাগ তারকা থাকেন। শাহরুখের বাড়ি মান্নাতের সামনে তো ভিড় লেগেই থাকে! সম্প্রতি বলিউড মহাতারকা অমিতাভ বচ্চন এক দারুণ খবর দিয়েছেন। যাঁরা মুম্বাই যেতে পারেননি, শাহেনশাহর বাড়ি জলসা দেখেননি, তাঁদের জন্য হতে পারে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। অমিতাভ জানিয়েছেন কোন সিনেমা দেখলে দেখা হয়ে যাবে অমিতাভের 'জলসা'। ৯ এপ্রিল ছিল জয়া বচ্চনের জন্মদিন। জয়া ও অমিতাভ একসঙ্গে প্রচুর সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অভিনয় থেকেই তো প্রেম, তারপর ঘর বাঁধা। এই দম্পতির অন্যতম ছবি 'চুপকে চুপকে'। অমিতাভ ও জয়া ছাড়াও ধর্মেন্দ্র ও শর্মিলা ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। ছিলেন ওম প্রকাশ, আসরানি ও কেষ্ট মুখোপাধ্যায়ের মতো শক্তিশালী অভিনেতা। ভারতীয় হিন্দি ভাষার সিনেমা ছবিটি ধ্রুপদি কাতারের। কিংবদন্তিতুল্য পরিচালক ঋষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি এটি। ছবিটি পা দিল মুক্তির ৪৬তম বছরে। এই সুন্দর মুহূর্তেই এমন উচ্ছ্বসিত খবর জানালেন শাহেনশাহ। ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে অমিতাভ এই ছবির কতগুলো স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন। তারপর লিখেছেন, 'আমাদের ছবি "চুপকে চুপকে"-এর আজ কাজ শেষ হয়েছিল। ছবিটি পা দিল ৪৬ বছরে। এই যে ঘরটি দেখছেন, এটি প্রযোজক এন সি সিপ্পির। আমরা এটি কিনেছিলাম। তারপর বিক্রি করে দিই। আবার কিনি এবং ঘরটি নিজেদের মতো সাজাই। এটা এখন আমাদের বাড়ি জলসা!' অমিতাভ জানান, শুধু 'চুপকে চুপকে' নয়, অনেকগুলো সিনেমা এই বাড়িতে শুটিং হয়। 'আনন্দ', 'নমক হারাম', সাত্তে পে সাত্তে'সহ অনেক ছবির শুটিং হয়েছিল এই বাড়িতে। অমিতাভের এই পোস্টে উচ্ছ্বসিত ভক্তরা। শুধু তা-ই নয়, তারকারাও মন্তব্য করেছেন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। শিল্পা শেঠি লিখেছেন, 'ওয়াও!' দিয়েছেন লাভ ইমোজি। তা ছাড়া এই পোস্ট ভক্তদের লাইকসংখ্যা দেখেই বলে দেওয়া যায়, ভক্তরা কতটা রোমাঞ্চিত। মন্তব্য করেছেন 'হাম তুম', 'ফন' ছবিখ্যাত পরিচালক কুণাল কোহলিও। তিনি লিখেছেন, 'এত অসাধারণ সব ছবির শুটিং ও মিটিংয়ের স্মৃতিঘেরা এই বাংলো কেনা অমিতাভের কাছে নিশ্চয়ই দারুণ ব্যাপার ছিল।'করোনার কারণে বিপর্যস্ত পৃথিবী। অমিতাভ বচ্চনও আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন তিনি সুস্থ। কাজ করছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বয়স আশির কাছাকাছি হলেও অভিনয়ে বিরতি নেই। এ বছরও ঝুলিতে আছে 'চেহরে', 'ঝুন্ড', 'ব্রহ্মাস্ত্র', 'বাটারফ্লাই', 'মেডে' ও 'গুডবাই' সিনেমাগুলো।
2
আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গঠন করার পর তাদের স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আঙ্কারা। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু। তিনি বলেন, তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্নে তুরস্ক মোটেই তাড়াহুড়ো করছে না। তালেবানকে স্বীকৃতি এখনই নয়, এটি আরো পরের বিষয়। এর আগে তুরস্কের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছিল, কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে আঙ্কারা। আফগানিস্তানের ওপর তালেবান পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার পর দেশটিতে যে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছিল তারপর তুরস্ক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তুরস্ক আরো জানিয়েছে, কাবুল বিমানবন্দরে প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ব্যাপারে আঙ্কারাকে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তা নিয়ে আমেরিকার সাথে নতুন করে আলোচনা করা হবে। গত সপ্তাহে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়্যেব এরদোগান বলেছিলেন, তিনি তালেবান নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত রয়েছেন। তুরস্ক বলছে, বিষয়টিতে তালেবান এ পর্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে তাদের ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে। সূত্র: পার্সটুডে ও ডেইলি সাবাহ। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য ও ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান আজকের পত্রিকাকে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।মোজাম্মেল হক খান বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের কোনো অভিযোগ থাকলে দুদক তা তদন্ত করবে।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় বিদেশি মদ, ওয়াকিটকি, বিদেশি মুদ্রা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম, হরিণের চামড়াসহ আটক করা হয় তাঁকে। পরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়। এক খুদে বার্তায় হেলেনাকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া মাদক, বিদেশি মুদ্রা ও বন্য প্রাণীর চামড়া জব্দের ঘটনায় আলাদা আলাদা মামলার প্রস্তুতি চলছে।পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও তথ্য মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন ছাড়া জয়যাত্রা নামক টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনার কারণে আলাদা মামলা হওয়ার কথা রয়েছে।আরও পড়ুন:হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় র্যাবের অভিযানর্যাবের হাতে আটক হেলেনা জাহাঙ্গীর
6
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চলতি মৌসুমে দেশি আলুর ভালো ফলন হয়েছে। তবে বাজারমূল্য কম হওয়ায় হতাশ চাষিরা। পাইকারি বাজারে ললিত আলুর পাশাপাশি দেশি জাতের আলুর দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। দাম কম থাকায় খুচরা বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করলেও চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামেই আলু বিক্রি করছেন।আলুচাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে হঠাৎ করে আলুর দাম কমে যাওয়ায় বাজারের পাইকারেরা দেশি জাতের আলুর দামও কমিয়ে দিয়েছেন। ভরা মৌসুমে বাজারে আলুর দাম পাচ্ছেন না তাঁরা। খুচরা বাজারে দেশি আলুর কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর সেই আলু তাঁরা বিক্রি করছেন ১৫ থেকে ২০ টাকা।উপজেলার শমশেরনগর, মুন্সিবাজার, শহীদনগর বাজার ঘুরে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে খোলাবাজারে দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাল আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২৫ টাকায়। আর চাষিরা মাঠ থেকে দেশি আলু মণপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, লাল আলু ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতি মণ বিক্রি করছেন। আর সাদা ললিত আলু বিক্রি করছেন প্রতি মণ ২৫০ টাকা।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫২৫ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে। তবে শেষ সময়ে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় কৃষকেরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল ওয়াজিদ বলেন, 'বাজারে আলুর দামের পরিস্থিতি খারাপ। যে টাকা দিয়ে আলু তোলা হয়েছে সে দামও বাজারে মিলছে না। এবার আলু চাষ করে সংকটে পড়েছি।'উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের কৃষক বেলাল মিয়া জানান, তিনি এক একর জমিতে দেশি ও ললিত আলু চাষ করেছেন। আলু বড় হওয়ার সময় পোকার আক্রমণে কিছু গাছ মরে যায়। চাষাবাদে যে টাকা খরচ করেছেন তা তুলতে পারেননি।তিনি বলেন, 'এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছি। কীভাবে ঋণ শোধ করব তা জানা নেই।'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এবার আলু চাষ ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম আলুর ফলনও ভালো হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল না হওয়ায় কৃষকেরা কিছুটা হতাশ। এখনও মাঠে পড়ে রয়েছে আলু, লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু পূরণ হয়েছে কয়েক দিনের মধ্যে জানা যাবে বলেও জানান তিনি।
6
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের গাঁ ঘেঁষে সিভিল এভিয়েশনের আবাসিক এলাকা। ওই এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কয়েকটি গরুর খামার। এসব খামারের জন্য ঘাস কাটতে অনেকেই ঢুকছেন রানওয়েতে। সেই সঙ্গে ওই আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে কিছু ঝুপড়ি ঘর। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকা এ আবাসিক এলাকায় অন্তত ৬টি গরুর খামার দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দরের সিভিল এভিয়েশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে বস্তিও। এসব বস্তি অনেক সময় ভাড়া দেওয়া হয় বহিরাগতদের মধ্যেও। এ ছাড়া বস্তিতে অবৈধভাবে সরকারি বিদ্যুৎ, পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি সিভিল এভিয়েশনের বিদ্যুতের সরকারি লাইন পার্শ্ববর্তী পাড়ায়ও ভাড়া দেওয়া হয়।গরুর খামার ব্যবসায় সিভিল এভিয়েশনের কিছু কর্মকর্তাও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে আবাসিক এলাকার ভেতরে একটি গরুর খামার দেখা যায়। সেখানে তিনটি গাভি,২টি বাছুরসহ মোট পাঁচটি গরু ছিল। খামারটির মালিক সিভিল এভিয়েশনের সম্পত্তি বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. হাবিব উল্যা বলে একটি সূত্র জানায়। তবে আজকের পত্রিকার পরিচয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে খামারটি তাঁর নয় বলে দাবি করেন।ওই এলাকায় সোহরাব হোসেন ও বদিউল আলম নামের দুজন বহিরাগতের মালিকানায় গরুর খামার রয়েছে বলে জানা যায়। এসব খামারের গরুর জন্য ঘাস কাটতে অনেকে রানওয়েতে ঢুকে পড়েন। এতে করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।এদিকে সরকারি আবাসিক ভবনগুলো খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিছু ডরমেটরিতে পরিবার নিয়ে অল্প কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকেন। এখান থেকে সরকারি পানি-বিদ্যুতের লাইনে চোরাইপথে পার্শ্ববর্তী চরবস্তি এলাকায় সংযোগ দেওয়া হয়।মাসিক হিসেবে বিদ্যুৎ সংযোগ ভাড়ার বিষয়টি সিভিল এভিয়েশনের বিদ্যুৎ বিভাগের মেকানিক দেবপ্রিয় সিংহ তদারকি করেন। একটি সূত্র জানায়, তিনি ঢাকার সিভিল এভিয়েশনের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার দাপট দেখিয়ে এই কাজে যুক্ত। অবশ্য জানতে চাইলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন মেকানিক দেবপ্রিয় সিংহ।এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, 'মসজিদ গেট দিয়ে আমরা কম কড়াকড়ি আরোপ করি। ফলে এখান দিয়ে কিছু বহিরাগত আসা-যাওয়া করে।'গরুর খামার স্থাপনের কথা স্বীকার করে সহিদুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের কিছু স্টাফ কোরবানি উপলক্ষে কিছু গরু পালন করেন। আমরা অবৈধ ঝুপড়িগুলো ভেঙে দিয়েছি।' তাঁর দাবি, রানওয়েতে যাঁরা ঘাস কাটতে যান, তাঁদের পাস আছে।এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও বলেন, আবাসিক এলাকায়ও বহিরাগতদের প্রবেশ বেআইনি। রানওয়ের ১৩ নম্বর গেট কেউ অতিক্রম করতে পারবেন না।তবে সরেজমিনে বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের আবাসিকে অবৈধ বসত ঝুপড়ি দেখা যায়। বহিরাগতদেরও নির্বিঘ্নে সেখানে চলাচল করতে দেখা যায়। বিশেষ করে আবাসিক এলাকার মসজিদ সংলগ্ন ৩ নম্বর গেট দিয়ে জনসাধারণকে অবাধে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।চট্টগ্রাম শাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের পরিচালক উইং কমান্ডার মো. ফরহাদ হোসেন খান আজকের পত্রিকার কাছে আবাসিক এলাকায় গরুর খামারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এ বিষয়ে বলেন, 'এগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদ গেট দিয়ে চলাচলে একটু শৈথিল্য দেখানো হয়।'
6
জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অধিবেশন শুরু হয়। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত এই অধিবেশন চলবে ১২ কার্যদিবস। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করবেন। আলোচনা শেষে ৩০ জুন সংসদে বাজেট পাস হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বাজেট অধিবেশন ঘিরে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধিতে। অধিবেশনে যারা থাকবেন, করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বাজেট অধিবেশনের কোন কার্যদিবসে কোন সংসদ সদস্য যোগ দেবেন, তা হুইপের দফতর থেকে জানানো হয়েছে। বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একজন সংসদ সদস্য তিন থেকে চার কার্যদিবস অধিবেশনে যোগ দেবেন। এ জন্য করোনার 'নেগেটিভ' সনদ লাগবে। অধিবেশন কক্ষে আসন বিন্যাস করা হয়েছে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে। দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে বাজেটের নথি সংগ্রহে সাংবাদিকরা ৩ জুন সংসদে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। জানা গেছে, আগামী বাজেটের আকার ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি। চলতি অর্থবছরের ছিল পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। আর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট, অর্থাৎ ১৯৭২-৭৩ সালে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা।
9
গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী এক হাজতির সঙ্গে মামলার বাদিনীর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারের ভেতরে তাদের বিয়ে হয়। হাজতি ওই বরের নাম কে এম আক্কাস (৪৫)। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানাধীন পূর্ব খাটিয়া এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে। কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার গিয়াস উদ্দিন জানান, ঢাকার পল্টন থানায় দায়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার কে এম আক্কাস এ কারাগারে বন্দী রয়েছেন। হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলার বাদিনীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারের ভেতর হাজতি কে এম আক্কাসের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষের একজন করে অভিভাবকের উপস্থিতি ও সম্মতিতে ২০ লাখ ১ টাকা দেনমোহর ধার্য করে মামলার বাদী ও আসামির বিয়ে সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের প্রথম থেকে কে এম আক্কাস কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদের এপিএস পরিচয়ে ভুয়া ফেইসবুক আইডি খুলে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় রাজশাহীর রাজপাড়ার ডাবতলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তাররা হলেন, আতিক হোসেন ওরফে জয় ও মোছা মলি আক্তার ওরফে শান্তা চৌধুরী। তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী।আজ মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ ও ডিবি-উত্তর) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদের সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শান্তা চৌধুরী নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেখতে পান। সেখানে লেখা ছিল, 'ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপিকে। আমাকে ২ বছরের জন্য এপিএস হিসেবে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার জন্য।'হারুন অর রশীদ জানান, শান্তা চৌধুরী নামের কাউকে মন্ত্রী চিনেন না এবং তার এপিএস হিসেবে নিয়োগও দেননি। তিনি বলেন, 'সেই আইডি থেকে মন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বিভিন্ন লোকজনের কাছে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করতেন তাঁরা।'এ ঘটনায় মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মো. রাশেদুজ্জামান বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। হারুন অর রশীদ বলেন, 'বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে রাজশাহী থেকে আতিক ও শান্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী।'গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন পর্যালোচনা ও জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তাঁরা প্রতারণার উদ্দেশে ফেসবুক বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দাবি করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাইতেন। তাদের মোবাইলে কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন নামের ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়। এসব ভুয়া আইডি দিয়ে তারা বিদেশ যেতে ইচ্ছুক আগ্রহী প্রার্থীদের টার্গেট করত। এ ধরনের প্রতারণা করে তারা লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।
6
এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ব্যাটার কে? যাঁরা নিয়মিত ক্রিকেটের খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা নির্দ্বিধায় বলবেন বাবর আজম। পাকিস্তান অধিনায়কের বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে।ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাতে থাকা বাবর তিন সংস্করণ মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ ইনিংসে করেছেন ৮৩৫ রান। টানা তিন ওয়ানডেতে পেয়েছেন তিন অঙ্কের দেখা।মুলতানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কুমার সাঙ্গাকারার টানা চার সেঞ্চুরির কীর্তি ছুঁয়ে ফেলার সুযোগ ছিল বাবরের সামনে। ফিফটি ছাড়িয়ে সে পথেই ছিলেন তিনি। কিন্তু লেগে ফ্লিক করতে গিয়ে বোলার আকিল হোসেনকে ফিরতি ক্যাচ দেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ২৩ রানের জন্য হাতছাড়া করেন সেঞ্চুরি। আগের তিন ওয়ানডেতে বাবর উপহার দিয়েছিলেন ১০৩,১০৫* ও ১১৪ রানের ইনিংস। লঙ্কান গ্রেট সাঙ্গাকারা টানা চার সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০১৫ বিশ্বকাপে। শুরুটা করেছিলেন বাংলাদেশকে দিয়ে, শেষটা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। মাঝের দুটি সেঞ্চুরি করেছেন সর্বশেষ দুই ওয়ানডে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।তবে টানা সেঞ্চুরিতে সাঙ্গাকারার পাশে নাম লেখাতে না পারলেও একটি জায়গায় অনন্য কীর্তি গড়ে ফেলেছেন বাবর। বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে দুইবার টানা তিন ইংনিসে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন তিনি।আইসিসি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ব্যাটার বাবর টেস্টে আছেন চার নম্বরে। তাঁর এমন অবিশ্বাস্য ফর্ম মুগ্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান রমিজ রাজাকে। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে মারনাস লাবুশেন-জো রুট-স্টিভেন স্মিথদের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও পাকিস্তান অধিনায়ককেই সেরা দাবি করেছেন রমিজ, 'বাবর আরেকবার বুঝিয়ে দিয়েছে, কেন সে সব সংস্করণে বিশ্বের সেরা ব্যাটার।'
12
দরিদ্র পিতা-মাতার শিশু সন্তান সামিউল পুষ্টির অভাবে দু'চোখ হারাতে বসেছে। এদিকে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে ব্যর্থ হচ্ছে শিশুটির পরিবার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পৌরএলাকার ইসমাইল মোড় মহল্লার বাসের সহকারী শুকচান ও গৃহিণী রীমার একমাত্র সন্তান সামিউল (৪) জন্মের প্রায় ৩ বছর পর পুষ্টির অভাবে চোখের অসুখে পড়ে। এরপর থেকেই সে চোখে দেখছে না। প্রায় এক বছর থেকে তার বাম চোখের মনি বাইরে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে এবং ডানচোখ ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় শিশুটির পিতা-মাতা ধার-দেনা করে ঢাকা ও রাজশাহীতে চিকিৎসা করিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকরা চোখের উন্নত চিকিৎসা করানোর জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু অভাবের সংসারে ছেলের চিকিৎসার বিষয়ে তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না। ফলে শিশুটির অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই অবস্থায় শিশুটির চিকিৎসার জন্য তার পিতা শুকচান ও মা রীমা সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। বিকাশ সহায়তা পাঠাতে ০১৭৭০৭৮৩৬৪৮ এবং ইসলামী ব্যাংক শিবগঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার হিসাব নং-২২৩০২। বিডি-প্রতিদিন/৯ জুন ২০১৬/শরীফ
6
ইউক্রেন ভূখণ্ডে রাশিয়ার হামলার আশঙ্কা এখনও খুব প্রবল বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি আবারও বলেছেন, ইউক্রেনে হামলা করলে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন তিনি। খবর বিবিসির বাইডেন বলেন, 'সীমান্ত থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহার খুব ভালো খবর, তবে আমরা এখনো এর সত্যতা যাচাই করতে পারিনি। রাশিয়ার সেনা ইউনিটগুলো নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে যাচ্ছে কিনা, তা যাচাই করতে হবে।' এদিকে ইউক্রেন বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও দুটি ব্যাংকে সাইবার হামলা হয়েছে। এর আগেও ইউক্রেনের অনলাইন অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। এজন্য তখন রাশিয়াকে দায়ী করেছিল ইউক্রেন। ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বে আরও একটি উদ্বেগ রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইউক্রেনে প্রকাশ্যে হামলা না চালালেও দেশটিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে রাশিয়া।
3
করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যে ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন। এবার আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে কাজী সালাউদ্দিনের বিপক্ষে লড়াই করবেন সাবেক ফুটবলার সফিকুল ইসলাম মানিক ও বাদল রায়। এরপর নির্বাচনের গরম হাওয়া বইতে শুরু করে। কিন্তু করোনা থেকে সুস্থ হবার পর শারীরিক সমস্যার কারণে বাদল রায় সরে দাঁড়ান। এতে ফের সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কুরুচিপূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মানহানিকর, আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক পোস্ট দেয়া শুরু করেছে। এর মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে হেয় করার চেষ্টা করছে একটি মহল। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বাফুফের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস জারি করেছে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। জানা গেছে, নোটিস জারির পর কেউ তানা মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। বাফুফের পক্ষে এই নোটিস জারি করেছেন তাদের আইন উপদেষ্টা সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট এম এইচ তানভীর। নোটিস গ্রহীতারা হচ্ছেন যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব, ফেসবুক আইডি, গ্রুপ, পেইজ এবং ওয়েবসাইট ব্যবহার করে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার ও পরিবেশন করছেন তারা। পাঁচ পৃষ্ঠার নোটিসের সারমর্ম হলো, বাংলাদেশের ফুটবল ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি ফিফায় আছেন। এছাড়া ফিফা ও এএফসির বিভিন্ন কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে, সেহেতু আমার মক্কেলের (বাফুফে) আগামী নির্বাচনে কার্যকরী কমিটি গঠনের নিমিত্তে সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। নোটিসে আরো বলা হয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর বাফুফের ভেরিফায়েড পেজে বাফুফে নির্বাচন নামক শিরোনামে প্রকাশিত হওয়ার পরই কিছু যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী কুরুচিপূর্ণ অসৌজন্যমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানিকর আক্রমণাত্মক ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন। যা তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কৃতকর্মের সামিল। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর হতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেরা ফেসবুক গ্রুপ, ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এডমিন হয়ে বাফুফের নাম ও লোগো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ অনুমতি ছাড়া যত্রতত্র ব্যবহার করে বাফুফের বিরুদ্ধে নানাভাবে অপপ্রচার করে যাচ্ছেন। যার সঙ্গে আমার বাফুফে কোনোভাবেই জড়িত নয়। ফিফা অফিসিয়াল পেজে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে হেয় করা হয়েছে। এই আইনগত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দায়িত্বশীল হয়ে গঠনমূলক সৌজন্যমূলক উপদেশমূলক মন্তব্য করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধও করা হলো। এই নোটিস প্রদানের পর থেকে যেকোনোভাবে মানহানিকর পোস্ট, বিবৃতি ভিডিও বার্তা প্রদান করে থাকলে বা এই কাজকে উৎসাহিত করে থাকলে কিংবা আসন্ন বাফুফের নির্বাচনে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুযায়ী ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে নোটিসের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে পুলিশের আইজি, ঢাকার পুলিশ কমিশনার, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক, র্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন (সিটিটিসি) ও মিডিয়ার প্রতিনিধিদের কাছে।
12
বছরের এই সময়টা আমার সবচেয়ে প্রিয়। শীত আসি আসি করছে, ঢাকার বাইরে এখন কোথাও কোথাও শীত নাকি পড়েও গেছে। শরতের শিউলি হেমন্তেও আছে। বছরের এই সময়টায় আকাশ থাকে নীল, নীল আকাশে কে যেন ভাসিয়ে দেয় সাদা মেঘের ভেলা। এ বছরের এই সময়টায় আমাকে পেয়ে বসে নস্টালজিয়া; মনে হয়, এমনি করে হেমন্ত আসত আমাদের ছোটবেলায়; রংপুর পিটিআইয়ের মাঠে বিকেল হওয়ার আগেই তেরছা হয়ে পড়ত হলুদ রোদ। একটা ফিরোজা রঙের কাঁটাগুল্মে ফুটত হলুদ ফুল, আর তার ওপরে উড়ত হলুদ প্রজাপতি। এ রকম একটা মন কেমন করা মৌসুমে হঠাৎ করে মন-ভালো করা সব খবর আসতে লাগল। ড. কামাল হোসেন চিঠি দিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করতে চান। পরম বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, প্রধানমন্ত্রী সংলাপে রাজি। আন্তরিক পরিবেশে সংলাপ অনুষ্ঠিত হলো গণভবনে। তারপর ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা দিল, তারা নির্বাচনে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শক্তি প্রদর্শনের মহড়া। প্রচণ্ড ভিড় সেই পথে। ধানমন্ডিতে থাকি, তার ধকল আমাদের ওপর দিয়ে গেছে। ৩০০ আসনের জন্য চার হাজারের বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ, আসনপ্রতি প্রায় ১৪ টি। ৩০ হাজার টাকা করে বিক্রি হয়েছে একেকটা ফরম, কোটি কোটি টাকা আয় হয়েছে পার্টির। মাশরাফি বিন মুর্তজা সংগ্রহ করেছেন মনোনয়ন ফরম, আর সাকিব আল হাসানকে নাকি প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন খেলায় মন দিতে। এই নিয়ে ফেসবুক উত্তাল; মাশরাফির কি নির্বাচন করা উচিত, নাকি উচিত না। সাকিবের উচিত খেলায় মন বসানো, প্রধানমন্ত্রীর এই উক্তি অনেকেরই মনে ধরেছে। বেশ একটা উৎসবেরই কিন্তু পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আরও দল-জোট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করেছে, জোটে দল ভেড়ানোর কাজ চলছে। আর বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে মিছিল করে যাচ্ছেন মনোনয়নপ্রার্থীরা। সেখানেই ছন্দপতনের শুরু। আওয়ামী লীগ অফিসের ভিড়ের সময়ই শোনা যাচ্ছিল এ রকমের মন্তব্য, মনোনয়ন ফরম কি ডিজিটালি দেওয়া যেত না? তারপর ইসির পক্ষ থেকে শোনা গেল, মনোনয়ন ফরম তোলা বা জমা দেওয়ার সময় মিছিল করা, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করা সংগত নয়। সেটার বুঝ শুরু হলো আওয়ামী লীগের সময়, সেটা পুলিশ কার্যকর করতে গেল বিএনপির সময়। নয়াপল্টনের মতো জায়গায় এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তো অচল হতে দেওয়া যায় না। পুলিশের অ্যাকশন। বিএনপির কর্মীদের পাল্টা অ্যাকশন। গতকালের সংবাদপত্রের পাতায় পাতায় আগুনের ছবি, পুলিশের গাড়িতে হামলার ছবি। আমরা ঘর পোড়া গরু। আমরা সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পাই। কাজেই আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের দাবি, যে উৎসবমুখর পরিবেশটা দেখা দিতে শুরু করেছে, তা যেন অটুট থাকে। পুলিশের দিক থেকেও সংযম চাই, দলগুলোর দিক থেকেও সংযত আচরণ চাই। আপনারা নির্বাচন করছেন, করুন, আমরা যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারি, কাজকর্ম করতে পারি, আমাদের সন্তানেরা যেন স্কুল-কলেজে যেতে পারে নিরাপদে, নির্ভয়ে। লোকে বলতে শুরু করেছে, আবার শুরু হলো রাজনীতির দিন! ওই যে দেখুন ডেমোক্রেসি শুরু হয়ে গেছে! আগুন, কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জের দিকে তাদের আঙুল। এরপরের প্রশ্ন, আচ্ছা, সারা বছর রাজনীতি করলাম না; না গেলাম পার্টি অফিসে, না গেলাম নিজ নির্বাচনী এলাকায়; যথাযথ প্রক্রিয়ায় দিনের পর দিনের সাধনায় একটা একটা করে পার্টির পদ ধারণ করে, একটা একটা স্তর অতিক্রম করে সামনের দিকে এগোলাম না; একদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে মনে হলো, আরে তাই তো, আমারও ৩০ হাজার টাকা আছে, আমি কেন একটা মনোনয়নপত্র কিনব না! এটা কি হয়? হয় না, তা বলতে পারব না। আমার সামনে এই মুহূর্তে একটা বই খোলা, ইউপিএল প্রকাশিত, মফিজ চৌধুরীর লেখা-বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায়। ১৯৭০-এর নির্বাচনের আগে বগুড়ার জয়পুরহাটে মফিজ চৌধুরী ছয় দফার পক্ষে সভা-সমিতি করে বেড়াচ্ছেন। একদিন এক কর্মী এসে বলল, 'শেখ সাহেবের লোক ঢাকাত্তে আসিচে তোমার কাচে।' সেই শেখ সাহেবের লোক মফিজ চৌধুরীকে ঢাকা যেতে বললেন, শেখ সাহেব তাঁকে ডেকেছেন, নমিনেশনের ইন্টারভিউ চলছে ঢাকায়, তাতে যোগ দিতে। তিনি তিন দিন পরে ঢাকা অফিসে গেলেন। তিনি লিখেছেন, আওয়ামী লীগ অফিসে গেলাম। বেলা সম্ভবত ৯ টা-১০ টা। শেখ সাহেব চোখ তুলে আমাকে দেখে মৃদু হাসলেন, পরে তাজউদ্দীনের দিকে তাকালেন। তাজউদ্দীন পাশেই বসা, তাঁর পাশে সৈয়দ নজরুল, কামরুজ্জামান হেনা বোধ হয় লম্বা টেবিলটির এপাশে বসা ছিলেন। তাজউদ্দীন মিষ্টি হেসে বললেন, 'ওনার ইন্টারভিউ লাগবে না।' আমাকে বললেন, 'আপনার নমিনেশন হয়ে গেছে।' ...গালিব বলেছেন, 'এক হি নেগাহ, কে বস হম খাক হো গেয়ে। তিনি শুধু একবার চোখ তুলে তাকালেন, চোখের জ্যোতিতে আমি পুড়ে খাক হয়ে ছারখার। শেখের সঙ্গে এটাই আমার পহেলি মোলাকাত।' ডেকে এনে নমিনেশন বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন, তবে যাঁকে দিয়েছেন, তিনি মাঠে-ঘাটে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই। এসব নিয়ে বহু কথা হয়েছে-সরকারি কর্মকর্তা অবসর নিয়েই বলেন, দিন একটা; সেনাকর্তা, পুলিশকর্তা অবসর নেওয়া মাত্র বলেন, দিন একটা; ব্যবসায়ীরা দেখেন অনেক টাকা হয়েছে, বিয়ে করি নাকি মামলা করি, দিন একটা! এখন নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, খেলোয়াড়েরা খেলতে খেলতে, গাইতে গাইতে, অভিনয় করতে করতে বলছেন, দিন একটা! আমি ছোটখাটো মানুষ, আপাতত ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত নেইও যে একটা নমিনেশন পেপার কিনে তার ফটো ফেসবুকে দেব, আমি বরং মহামান্য রাষ্ট্রপতির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তৃতা থেকে উদ্ধৃত করি: 'আমাদের গ্রামে একটা প্রবাদ আছে, গরিবের বউ নাকি সবারই ভাউজ। অহন যাঁরা শহরে থাকেন, তাঁরা তো ভাউজ চিনবেন না, ভাউজ হইল ভাবি। ভাইয়ের বউকে ভাবি বলি আমরা, গ্রামে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাবিদেরকে ভাউজ ডাকা হয়। আর গরিবের বউ হইলে মোটামুটি পাড়া বা গ্রামের সবাই আইস্যা ভাউজ ডাকে। অহন রাজনীতি হইয়া গেছে গরিবের বউয়ের মতন। এখানে যে কেউ, যেকোনো সময় ঢুইকা পড়তে পারে।...কিন্তু রাজনীতি গরিবের ভাউজ। সবাই ইঞ্জিনিয়ার কইন, আর ডাক্তার কইন, এই ভিসি সাবও ৬৫ বছর হইলে কইব, আমিও রাজনীতি করুম। যারা সরকারি চাকরি করে, জজ সাবরা যারা আছে ৬৭ বছর চাকরি করব। রিটায়ার্ড কইরা কইবো "আমিও রাজনীতি করিব''। আর্মির জেনারেল অয়, সেনাপ্রধান অয়, অনেকে রিটায়ারমেন্টে গিয়াই কয়, "আমিও রাজনীতি করিব''। সরকারি সচিব, প্রিন্সিপাল, সেক্রেটারি, কেবিনেট সেক্রেটারি বা জয়েন্ট সেক্রেটারি প্রত্যেকেই রিটায়ার কইরা বলে "আমি রাজনীতি করিব''।...ডাইরেক্ট রাজনীতির মধ্যে আইসা তারা ইলেকশন করবে, মন্ত্রী হয়ে যাবে, এটা যেন কেমন-কেমন লাগে।' রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, 'পুলিশের এমন ঊর্ধ্বতন ডিআইজি, আইজিরাও রাজনীতি করে। মনে মনে কই, আমরা রাজনীতি করার সময় এই পুলিশ তোমার বাহিনী দিয়া কত পাছার মধ্যে বাড়ি দিছ। তুমি আবার আমার লগে আইছ রাজনীতি করতা। কই যামু?...যার জন্যে আমার মনে হয়, আমাদের দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে না। শিল্পপতি-ভগ্নিপতিদের আগমন এভাবে হয়ে যায়। এগুলো থামানো দরকার। সবাই চাকরি শেষ করে রাজনীতিতে ঢুকতে চায়-এটা বন্ধ হওয়া উচিত।' এতটুকুন বলে, শেষ করি আশা দিয়ে। প্রথম আলো স্লোগান নিয়েছে-ভালোর সাথে, আলোর পথে। বাংলাদেশ ভালোর সাথে চলুক, আলোর পথে চলুক। সামনের দিনগুলো কাটুক ভালোয় ভালোয়, ভবিষ্যৎ ভরে উঠুক আলোয় আলোয়। আগামী দুটি মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, শান্তিশৃঙ্খলা যেন বজায় থাকে, মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা যেন বজায় থাকে। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয়। বাংলাদেশে ভোট একটা উৎসব। তা যেন এবার উৎসবের মতোই নির্বিঘ্ন হয়। আর যা ঘটে তা যেন বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসে। আনিসুল হক: প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক
8
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ -আল নোমান বলেছেন, জিয়াউর রহমান না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা হতো না। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এদেশের কৃষক-মজুর সর্বশ্রেণির নেতা।বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও মাহে রমজান উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।সংগঠনের সভাপতি এম. গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু,সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এখন কৃষক ধানের উৎপাদন খরচ না পেয়ে ধানে আগুন দিচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কারণ তিনি উপলব্ধি করতেন, এদেশের কৃষক বাঁচলে এদেশ বাঁচবে, এদেশের মানুষ বাঁচবে।
9
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বছরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এবারের আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে 'হৃদয়ে পিতৃভূমি'। এর আয়োজন করছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতার সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবেন। ওই দিন একটি শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেবেন। বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ফিরে আসবেন বলে জানা গেছে।১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে টুঙ্গিপাড়ায় একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় অংশ নেবেন। সেদিন প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন কর্মসূচিতে।১৭ মার্চ সকালে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং সারা দেশের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে আওয়ামী লীগ।
6
ইউরো ২০২০ চলার সময়ে সবাইকে ধাক্কা দিয়েছিল ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মাঠ ছাড়ার দৃশ্য। এমন নয় যে খেলাধুলার ইতিহাসে এটিই প্রথম হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। এর আগে মাঠে ঢলে পড়ে মারাও গিয়েছেন অনেক খেলোয়াড়। তবে বড় মঞ্চে এমন ঘটনা ঘটার উদাহরণ এর আগে খুব একটা ছিল না।অবশ্য এমন বিভীষিকাময় চিত্র গত কিছুদিনে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। গত মাসেই মাঠে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ফুটবলকে বিদায় বলে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি সার্জিও আগুয়েরো। বাংলাদেশের বিপক্ষে দারুণ ব্যাটিং করা পাকিস্তানি ওপেনার আবিদ আলীও ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচ চলার সময় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গেছেন। এর মধ্যে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে খেলার মাঠে প্রাণ হারিয়েছেন দুই ফুটবলার। ওমানের ফুটবলার মুখালিদ আল রাকাদি এবং আলজেরিয়ান ফুটবলার সোফিয়ান লুকার খেলার মাঠেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। সুপার অ্যাথলেটদের এভাবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেশ আলোড়ন তুলেছে ক্রীড়া বিশ্বে। আর কেনই-বা স্বাস্থ্যসচেতন এই মানুষগুলো মাঠে ঢলে পড়ছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মনে।সুপার অ্যাথলেটদের এভাবে অসুস্থ হওয়া নিয়ে কানাডীয়ান স্পেশালিস্ট হসপিটালের কার্ডিওলজিস্ট ড. আমাল এ লুইস বলেন, 'বর্তমান সময়ে শারীরিকভাবে ফিট, স্বাস্থ্যবান এবং সুন্দর জীবনধারা মেনে চলা মানুষদেরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এর কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত পরিশ্রম। যদি আপনার হৃদ্যন্ত্রের নির্দিষ্ট স্তরের পরিশ্রম নেওয়ার ক্ষমতা থাকে, কিন্তু আপনি তার বেশি পরিশ্রম করেন, তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। খেলোয়াড়েরা প্রতিনিয়ত প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শ্রম দেয়, যেটা তাদের হৃদ্রোগের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।'হৃদ্যন্ত্রের কাঠামোগত অস্বাভাবিকতা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে, যেটা অনেক সময় একজন মানুষ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে এর কারণ জানা যায় না। হৃদ্যন্ত্রের অস্বাভাবিক অবস্থা যাদের থাকে, অনেক সময় ব্যায়াম করাও তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। খেলার সময় বুকে জোরে আঘাত পেলেও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ঘটতে পারে।আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির একটি পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার সময় অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ জন খেলোয়াড় আকস্মিকভাবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।২০১৭ সালে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের করা একটি গবেষণামতে, প্রতি ১ লাখ অ্যাথলেটের মধ্যে আকস্মিকভাবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার ০.৭৬ শতাংশ। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ঝুঁকি বেশি।আকস্মিকভাবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার এমন ঘটনা এড়াতে আগে থেকে পূর্বাভাষ পাওয়ার সুনির্দিষ্ট উপায় এখনো জানা যায়নি। তবে ক্রীড়াবিদদের এ বিষয়ে অনেক সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
6
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সেচের পানি না পেয়ে দুই সাঁওতাল কৃষকের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীর কঠোর শাস্তিসহ ১৬ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জাতীয় কৃষক সমিতি এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে।সকালে এই তিন সংগঠনের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রথমে সমাবেশ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন। পরে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসের সামনে যান তাঁরা। এরপর একটি প্রতিনিধিদল ১৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারিয়া পেরেরার হাতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি তুলে দেয়।তাদের ১৬ দফা দাবির মধ্যে আছে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের 'আদিবাসী' হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া; সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন করা; দখলি শর্তে খাসজমি, বসতভিটা, কবরস্থান, পুকুর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নামে দেওয়া; প্রাকৃতিক বনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রথাগত অধিকারকে নিশ্চিত করা এবং গোদাগাড়ীতে সেচের পানি না পেয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করা কৃষক অভিনাথ মারান্ডি ও রবি মারান্ডির মৃত্যুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের খাস পুকুরগুলো উদ্ধার করে কৃষকদের সেচের পানি নিশ্চিত করা।এ ছাড়া ১৬ দফার মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জমির বিনা অনুমতিতে তৈরি করা দলিল বাতিল করা; নিজস্ব ভাষায় প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা ও শিক্ষক নিশ্চিত করা; দিনাজপুর ও নওগাঁয় প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমিতে দ্রুত জনবল নিয়োগ করা; রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমির উপপরিচালক পদে এই সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া এবং জাতীয় বাজেটের অংশ হিসেবে সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য পৃথক বাজেট প্রণয়ন করা।সেই সঙ্গে সংসদে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। আরও দাবি জানানো হয়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় করা, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং চর্চার অনুকূল পরিবেশ, গবেষণার ক্ষেত্র প্রস্তুতসহ আদিবাসী একাডেমি গঠন করা। দাবির মধ্যে রয়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের জমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া; পুলিশের গুলিতে নিহত তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ চিরতরে বন্ধ করতে আইন প্রণয়ন ও সরকারি গেজেটে বাদ পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা।স্মারকলিপি দেওয়ার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়। বক্তব্য দেন জেলা কৃষক সমিতির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গণেষ মার্ডি, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য রাজ কুমার শাও, দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম প্রমুখ।
6
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস (পরশ) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাঁর করোনা শনাক্ত হয়। এর আগে দুপুরে তিনি করোনা পরীক্ষা করাতে নমুনা জমা দেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক আছে। তিনি বাসাতেই আইসোলেশনে আছেন। দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। আজ বুধবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী। তিনি বলেন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় গতকাল নমুনা জমা দেন চেয়ারম্যান। তবে তাঁর কোনো ধরনের উপসর্গ নেই। এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক আছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে ব্যাপক বিতর্কিত হয়ে পড়ে যুবলীগ। ভাবমূর্তি উদ্ধার করতে ওই বছরের নভেম্বরে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে যুবলীগের দায়িত্ব পান যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে শেখ ফজুলল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস।
9
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারা দেশে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। সবাই মাস্ক পরতে হবে। এসব বিষয় তদারকির জন্য টহলে থাকবে র্যাব। রবিবার (১ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রবিবার সকালে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে শোকের মাসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ আগস্ট শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদলের শ্রদ্ধা নিবেদন। এ ছাড়া ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় শোক দিবসের আলোচনাসভা। ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনাসভা। ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন। বিকেল সাড়ে ৩টায় ঘরোয়াভাবে আলোচনাসভা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক পরিধান করে সীমিত পরিসরে এসব কর্মসূচি পালনে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে দলের সভাপতির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
6
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পাথুরিয়াপাড় বাজারে শুক্রবার ভোরে আগুনে ৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা জানান, পাথুড়িয়াপাড় বাজারে বেশির ভাগ দোকানের মালিক রাতে দোকানে থাকেন না। ভোরে কয়েকজন দোকান মালিক ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে দেখেন বাজারে আগুন জ্বলছে। এরপর এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই বাজারের মের্সাস সরদার স্টোর, হাওলাদার ইলেকট্রিক, ইমরান কসমেটিক, সজিব স্টোর, ঝন্টু স্টোর, শিপন স্টোর, কুদ্দুস ইলেকট্রনিক্স, সামচু ফল ভান্ডারের সকল মালামালসহ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর মধ্যে ঝন্টু দাসের দোকানে থাকা নগদ ৭ লাখ টাকা ও অন্যান্য দোকানদারদের ৪০ লাখ টাকা পুড়ে গেছে। পাথুরিয়ারপাড় বাজার কমিটির সভাপতি মতিন হাওলাদার বলেন, আমরা বাজারের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অফিস থেকে লোন নিয়ে ব্যাবসা করছি, আমরা তো পথে বসে গেলাম। আমরা বাঁচবো কিভাবে, আমাদের লোনগুলি কিভাবে পরিশোধ করবো, আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই। মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভোর ৫টার দিকে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে এসে দেখেন বাজারে আগুন লেগেছে। তখন তারা খবর দিলে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ায় আগুন সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে তার আগেই ৯টি দোকান পুড়ে গেছে। ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শটসার্কিটের কারণে আগুন লাগতে পারে। কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রহস্ত্র ব্যবসায়ীদের সরকারিভাবে সকল প্রকার সহযোগীতা করা হবে।
6
চীন প্রথমবারে মতো প্রশান্ত মহাসাগরে পরমাণু ডুবোজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপড়েন যখন তুঙ্গে তখন এ পরিকল্পনা নেয়া হলো। এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসকে দেয়া পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের কোনো এক সময় থেকে পরমাণু অস্ত্র প্রতিরোধকারী টহল ব্যবস্থা শুরু করবে চীন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের কবে থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে টহল শুরু হবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন চীনা কর্মকর্তারা। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করায় এ পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়েছে বেইজিং। দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন যে সব অস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করছে তার মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ব্যবস্থা রয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/২৭ মে ২০১৬/শরীফ
3
নাটোরে ১৩ জুয়াড়িকে আটক করেছে র্যাব-৫ এর একটি দল। শনিবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার পন্ডিতগ্রামের বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় নগদ ১১হাজার ৮৮৪ টাকা ও ২টি মোটরসাইকেলসহ জুয়া খেলার উপকরণ জব্দ করা হয়। সিপিসি-২, র্যাব-৫ এর নাটোর ক্যােপর এলাকায় কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোঃ সানরিয়া চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে র্যাবের একদল সদস্য সদর উপজেলার পন্ডিতগ্রাম বটতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ
6
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের ১ দিন আপনাদের, বাকি ৩৬৪ দিন আমাদের। নির্বাচনের দিন আপনারা (প্রার্থীরা) ভালো থাকলে, বাকি দিনগুলো একসঙ্গে ভালো থাকব। নির্বাচনের দিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বাকি দিনগুলো সম্পর্ক ঠিক থাকবে না।তিনি বলেন, 'নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা প্রার্থীদের মধ্যে কেউ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করলে তা ভুলে যান। বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'গতকাল রোববার বিকেলে তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ও সাধারণ ইউপি সদস্যদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দলিল উদ্দীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।সভায় উপজেলার ৩০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৬৪ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থী ও ২৬৪ জন সাধারণ ইউপি সদস্য প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।
6
দেশের সর্বদক্ষিণের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে কেউ এখনো করোনায় আক্রান্ত হননি। এছাড়া পুরো কক্সবাজার জেলা জুড়ে করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। জেলার সর্বাধিক আক্রান্ত এলাকা হলো কক্সবাজার পৌরসভা। পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো টেকনাফ উপজেলার অন্তর্গত সেন্টমার্টিন দ্বীপে ছোবল হানতে পারেনি করোনা। এই দ্বীপের লোকসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। সেখানকার মানুষের জীবনযাপনও স্বাভাবিক রয়েছে। খোলামেলা পরিবেশ ও বাইরের লোকজনের দ্বীপে যাতায়াত বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতি বলে দাবি করেন সেন্ট মার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মাসুদুর রহমান। সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলার আট উপজেলা ও তিন পৌরসভায় ৩১ মে পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯৮ হাজার ৮৯০ জনের (এর মধ্যে ৪৩ হাজার ৫৩০ জন রোহিঙ্গা)। তাঁদের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩৪৮ জনের (রোহিঙ্গা ১ হাজার ২১৭ জন)। করোনায় মারা গেছেন ১১২ জন (রোহিঙ্গা ১৬ জন)। রোহিঙ্গা ছাড়া জেলায় ৯ হাজার ১৩১ জন করোনা রোগীর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভাসহ সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৫৪৫ জন, উখিয়ায় ১ হাজার ২৫০ জন, টেকনাফে ৯২৫ জন, চকরিয়ায় ৭৬৫, রামুতে ৬৩৭, মহেশখালীতে ৬২৫, পেকুয়ায় ২৭৪ ও কুতুবদিয়ায় ১১০ জন। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, জুন-জুলাই মাসে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকে। এ সময় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলও বন্ধ থাকে। বাইরের লোকজনের দ্বীপে আসা-যাওয়া বন্ধ থাকলে দ্বীপের সুরক্ষা আরও নিশ্চিত হবে।
6
ভিডিও-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে রুশ নাগরিকদের বিরুদ্ধে হুমকি ছড়ানো বন্ধের জন্য গুগলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। গতকাল শুক্রবার দেশটির যোগাযোগ তদারকি সংস্থা রোসকোমনাদজোরের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউটিউব ব্যবহার করে রুশ নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে রোসকোমনাদজোর। প্রতিষ্ঠানটি রুশ-বিরোধী অবস্থান থেকে এই মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইউটিউবের কোন কোন অ্যাকাউন্ট থেকে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে তা জানায়নি রোসকোমনাদজোর।রাশিয়ার এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, ইউটিউবের কার্যক্রম সন্ত্রাসীদের মতো। তাদের কার্যকলাপ রুশ নাগরিকদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। খুব দ্রুত এসব প্রচারণা বন্ধে গুগলের প্রতি দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।রুশ-বিরোধী প্রচারণা চালানোয় ইতিমধ্যেই রাশিয়া মেটা প্ল্যাটফর্মের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রাশিয়ায় নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। আরআইএ ও স্পুটনিকসহ রাশিয়ার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে আগামী সপ্তাহে ইউটিউব নিষিদ্ধের পরিকল্পনা চলছে।
11
ব্রিজটাউনে রোভম্যান পাওয়েলের তাণ্ডব দেখল ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০ রানের জয়ে আসল নায়ক রোভম্যান। ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে একাই করছেন ৫৩ বলে ১০৭ রান।রোভম্যানের ব্যাটিং তাণ্ডব ও নিকোলাস পুরানের ঝোড়ো ইনিংসে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২২৪ রানের পুঁজি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ৯ উইকেটে ২০৪ রানে থেমে যায় ইংল্যান্ড।টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ৪৮ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। সেখান থেকে নিকোলাস পুরান ও রোভম্যান মিলে গড়েন দারুণ এক জুটি। এ দুজন দলকে নিয়ে যান ১৭০ রানে। পুরানের বিদায়ে ভাঙে এ জুটি। ৪৩ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৭০ রান করেন পুরান। তবে অন্য প্রান্তে ঝড় অব্যাহত রেখে সেঞ্চুরি তুলে নেন রোভম্যান। দলীয় ২১০ রানে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২০১ স্ট্রাইক রেটে ১০৭ রান। তাঁর ইনিংসে ৪টি চারের পাশাপাশি ছিল ১০টি ছয়ের মার। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ২২৪ রানে।জবাব দিতে নেমে ৩৩ রানে ফেরেন জেসন রয় (১৯)। এক প্রান্তে উইকেট পতন অব্যাহত থাকলেও অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন টম ব্যান্টন। ৩৯ বলে ৭৩ রান করেন এই ব্যাটার। নিচের দিকে ফিল সল্ট করেন ২৪ বলে ৫৭ রান। এর পরও শেষ পর্যন্ত ২০৪ রানের বেশি করতে পারেনি ইংল্যান্ড। উইন্ডিজ ম্যাচ জিতে নেয় ২০ রানে। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল উইন্ডিজ।
12
দক্ষিণ আফ্রিকার আর্চবিশপ শান্তিতে নোবেলজয়ী ডেসমন্ড টুটু মারা গেছেন। আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এই নেতার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। বর্ণবৈষম্যের প্রথা বিলুপ্ত করার সংগ্রামে ভূমিকা রাখার জন্য ১৯৮৪ সালে ডেসমন্ড টুটুকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। টুটু ছিলেন দেশ-বিদেশের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার সমসাময়িক ছিলেন ডেসমন্ড টুটু। বর্ণভিত্তিক বিভাজনের নীতির অবসান ঘটানোর আন্দোলনের পেছনের অন্যতম চালিকা শক্তি ছিলেন ডেসমন্ড টুটু। সিরিল রামাফোসা বলেছেন, আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু স্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা অর্জনে সহায়তা করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ডেসমন্ড টুটু একটি স্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা দান করতে সাহায্য করেছিলেন। সিরিল রামাফোসা বলেন, টুটু ছিলেন একজন আইকনিক আধ্যাত্মিক নেতা। তিনি ছিলেন বর্ণবাদবিরোধী কর্মী ও বিশ্ব মানবাধিকারের প্রচারক। টুটুকে একজন নীতিমান ও বাস্তববাদী নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট। সিরিল রামাফোসা বলেন, বর্ণবাদের শক্তির বিরুদ্ধে অসাধারণ বুদ্ধি, সততা ও অপরাজেয় একজন মানুষ ছিলেন টুটু।
3
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের কষ্ট বুঝতে পারেন। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির মিলনায়তনে 'প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (এলআইইউপিসি)' প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ সিটির ১৪ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিক্ষা অনুদান' বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। শেখ তাপস বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একজন মমতাময়ী মা। মায়ের মমতায় তিনি বাংলাদেশকে আগলে রেখেছেন। তিনি সব নারীর কষ্ট, হাহাকার বুঝতে পারেন। এজন্যই ঢাকা শহরে বসবাসকারীদের মধ্যে যারা দরিদ্র, যারা নিম্ন আয়ের এবং প্রান্তিক তাদেরকে সহযোগিতার জন্য তিনি এই কর্মসূচি দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই কর্মসূচি নিয়েছে। এই কর্মসূচিতে নারীর ক্ষমাতায়নকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ডিএসসিসির আওতাধীন এলাকায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ বাসবাস করে। তাদের সেবা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি। ৭৫টি ওয়ার্ডে যেসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আছেন, তাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য, তাদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য, তাদেরকে ব্যবসায়িকভাবে সহযোগিতা করার জন্য, তাদের সন্তানদের শিক্ষা প্রসারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো আমাদের ভোটারদের প্রতি, আমাদের এলাকার জনগণের প্রতি। প্রকল্পের আওতায় যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে তারা যেন ঢাকাবাসী হয়, সেটা আমরা নিশ্চিত করবো। প্রকল্পের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম তুলে ধরে শেখ তাপস বলেন, আমরা প্রায় ৮৮ হাজার দরিদ্র লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। চার হাজার ৯৩৬টি কমিউনিটি হিসেবে ৪৫ হাজার ৫০০ পরিবারকে সহযোগিতা করতে চাই। ৬০ হাজার পরিবারের ভাগ্য উন্নয়নে আমরা কাজ করতে চাই। এই প্রকল্প যদি সফল হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রী আরও বৃহদাকারে এ ধরনের প্রকল্প অনুমোদন দেবেন। তাই প্রকল্প বাস্তবায়ন আমাদেরকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানে এককালীন ১০ হাজার টাকা করে ১০৮ জন ব্যক্তির মধ্যে এককালীন ব্যবসায়িক অনুদান ও শিক্ষা অনুুুুদান হিসেবে প্রতিজন শিক্ষার্থীকে ৯ হাজার টাকার অর্ধেক সাড়ে হাজার টাকা করে ৪৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ কর হয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অনুদানের বাকী সাড়ে চার হাজার টাকা আগামী মাসে দেওয়া হবে। এর আগে, মেয়র ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) উদ্বোধন করেন।
6
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে একই জায়গায় কবরস্থান ও শ্মশান হওয়াকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম ধর্মাবলম্বী দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলার কাজিহালের পুখুরীহাট নীলপুকুর গ্রামের বাসিন্দারা ফুলবাড়ী থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাজিহালের পুখুরী মৌজার নীলপুকুর গ্রামের ১১৪১ নম্বর দাগের সরকারি খাস জমিতে মদন পুকুর নামে একটি পুকুর পাড়ের জমি শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন পুখুরী হাট ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী। অপরদিকে, ওই পুকুরের অপর পাড়ে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন নীলপুখুর গ্রামের একাংশের মুসলিম ধর্মাবলম্বী গ্রামবাসীরা। এ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার নীলপুখুর গ্রামের মজিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মায়ের মৃত্যু হলে তাঁকে দাফন করতে গেলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শ্মশানের জমি দাবি করে সেখানে কবর দিতে নিষেধ করেন। এতে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পক্ষে পুখুরি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কাজল চন্দ্রর ছেলে দুলাল চন্দ্র বাদী হয়ে নীলপুখুর গ্রামের বাসিন্দা মুসলিম ধর্মাবলম্বী মজিদুলসহ ৪ জনকে বিবাদী করে ফুলবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। একই ঘটনায় এর আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী দুলালসহ কয়েকজনকে বিবাদী করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন নীলপুখুর গ্রামের মো. মজিদুল ইসলাম।পুখুরী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাসিন্দারা জানান, পুকুরটি সরকারি খাস জায়গায় এবং কাগজে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই তাঁরা দীর্ঘদিন থেকে ওই পুকুরটির পাড় শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।নীল পুকুর গ্রামের মুসলিম ধর্মাবলম্বী মজিদুলসহ গ্রামবাসীরা জানান, ওই জায়গাটি সরকারি খাস খতিয়ানের জায়গা এবং জায়গায়টি তাঁরা দীর্ঘ ৫০ বছর থেকে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি যেহেতু ধর্মীয়, তাই উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছি।উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জমির মাঝখানে একটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে বিষয়টি চিরস্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করব।
6
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আবেদন আগের দুইবার আইনিভাবেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল। আর বর্তমান আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং সার্বিক বিষয়ে আইনে কোনো উপায় আছে কি না, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। আজ রবিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রীএ কথা বলেন। এসময় আইনমন্ত্রী বলেন, এর আগের দুইবার (আবেদন) প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং আইনিভাবেই তা করা হয়েছে। এখন অনেক পক্ষ থেকেই আবেদন এসেছে। আইনের কোনো ফাঁক, উপায় আছে কি না এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করার পরেই এটার মনে হয় সিদ্ধান্ত আসা উচিত। সেই ক্ষেত্রে এবং আপনারা দেখেছেন, সব সময় প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক দেখেছেন। আমাদের কথা হচ্ছে- আইনের যেন কোনো ব্যত্যয় না হয়। আইন যেন সঠিকভাবে থাকে। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত
9
ড. সেলিম রায়হান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের (সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং) নির্বাহী পরিচালক। বৃহস্পতিবার রাতে যখন এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, তখন তিনি একটি সেমিনারে অংশ নিতে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছিলেন। প্রথম আলোর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন শ্রীলঙ্কার শোচনীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, এর পেছনের কারণ, সেখান থেকে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য শিক্ষণীয় বিভিন্ন দিক, বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর এর চাপ এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে নেওয়া সরকারের উদ্যোগ ও করণীয় প্রসঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে এম জাকারিয়া প্রথম আলো: আপনি এখন শ্রীলঙ্কায় আছেন। সেখানকার শোচনীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের বিষয়। কেমন দেখছেন সেখানকার পরিস্থিতি? সেলিম রায়হান: একটি সম্মেলনে যোগ দিতে আমি কলম্বোয় এসেছি। এখানকার অবস্থা বেশ খারাপ। জ্বালানির সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। পাম্পগুলোয় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলো জরুরি সার্জারির কাজ পর্যন্ত করতে পারছে না। এখানকার পত্রপত্রিকায় এসব নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। খাবারের দাম অনেক বেড়ে গেছে এবং সংকটও রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে ১০ দিনের আমদানি মূল্য পরিশোধের ক্ষমতাও নেই। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তা পরিশোধেরও সক্ষমতা হারিয়েছে। একে শোচনীয় পরিস্থিতিই বলতে হবে। প্রথম আলো: হঠাৎ করে কোনো দেশের অবস্থা কি এতটা খারাপ হতে পারে যে জ্বালানির মতো একেবারে জরুরি পণ্য কেনার সক্ষমতাও আর থাকে না? এমন পরিস্থিতি যে হতে পারে, সেটা কি আগে টের পাওয়া যায়নি? সেলিম রায়হান: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাই সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল। এমন একটি ভিত্তি তৈরি হওয়ার পর এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক যে আর পতনের সুযোগ নেই। কিন্তু ভুল অর্থনৈতিক নীতি, ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনীতি, গোষ্ঠীতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতি একটি দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, তার প্রমাণ শ্রীলঙ্কা। আজ দেশ চালানোর মতো অর্থ শ্রীলঙ্কার হাতে নেই। আমাদের সঙ্গে কাজ করেন, এমন অনেক অর্থনীতিবিদ বিভিন্ন সময় সরকারকে সতর্ক করেছেন, নানা পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে আজ শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি এমন এক বিপর্যয়কর জায়গায় এসেছে। তবে চূড়ান্ত পরিণতি যে এতটা খারাপ হবে, সেটা হয়তো আগে অনুমান করা যায়নি। প্রথম আলো: অনেকে মনে করেন, শ্রীলঙ্কার কার্যত এ দেউলিয়া পরিস্থিতিতে চলে আসার পেছনে বিদেশি ঋণে অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পগুলো ভূমিকা রেখেছে। আপনার মন্তব্য কী? নাকি অন্যান্য কারণও রয়েছে? সেলিম রায়হান: অনেক কিছু মিলেই আজকের সমস্যা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে তারা একের পর এক ভুল করেছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও ভুল করেছে। শ্রীলঙ্কা দেশটি এখন চলছে একটি পরিবারের শাসনে। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী সব এক পরিবারের। পার্লামেন্টেও এই পরিবারের অনেক সদস্য রয়েছেন। অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিবেচনার চেয়ে গোষ্ঠীতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্র প্রাধান্য পেয়েছে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেওয়ার পর নীতিগত পদক্ষেপ না নিয়ে ঋণের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হয়েছে। কখনো চীনের কাছ থেকে, না পেলে ভারতে কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে। বড় বড় অবকাঠামো তৈরি করেছে। এসব মেগা প্রকল্পের দায় রয়েছে বর্তমান সংকটের পেছনে। বড় বড় অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যাচাই-বাছাই ছাড়া। সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও রাস্তাঘাট বানানো হয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে তা কতটা লাভজনক হবে, সেই বিবেচনা করা হয়নি। ফলে অনেক প্রকল্প শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছে। এসব প্রকল্প যেহেতু ঋণ করে করা, তাই সুদসহ এই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চয়ই জরুরি। কিন্তু তা করতে হয় মূলধারার যে অর্থনীতি অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ কমানো, শিল্পায়ন ও রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে মূলধারার অর্থনীতি খুব বিবেচনার মধ্যে ছিল না। রপ্তানি বহুমুখী করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে এ ক্ষেত্রে আমি এ ধরনের প্রকল্পে যারা ঋণ দিয়েছে, সেসব দেশকেও দায়ী করব। চীনের অর্থে তৈরি করা হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দরের ঋণের অর্থ দিতে না পারায় বন্দরটি এখন চীনের কাছে লিজ দিতে হয়েছে। প্রথম আলো: একে কি চীনের ঋণের ফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করবেন? সেলিম রায়হান: চীনের ঋণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তারা সাধারণত এমন সব প্রকল্পে অর্থসহায়তা দেয়, যার একটি ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। অন্যদিকে ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর অদক্ষতা ও মূলধারার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কহীন অর্থনৈতিক নীতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ খাতে ঋণের ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় না। চীনের অর্থায়নে শ্রীলঙ্কায় যে বন্দর হয়েছে, তা শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি, কিন্তু চীনের লাভ হয়েছে। ঋণগ্রহীতা দেশের অগ্রাধিকার কী, সেটা অনেক সময় যথাযথভাবে যাচাই করা হয় না। জমকালো কিছু করা, বড় প্রকল্প করা-এর মধ্যে অনেকটা লোকদেখানো ব্যাপার রয়েছে। চীনের অর্থায়নে কলম্বোতে একটি টাওয়ার হয়েছে-লোটাস টাওয়ার। বড় এই টাওয়ার দৃশ্যমান, দেখানোর জন্য হয়তো ঠিক আছে কিন্তু দেশের অর্থনীতিতে এর কোনো অবদান নেই। ঋণ নেওয়ার অর্থ, তা ফেরত দিতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভ হবে না, এমন প্রকল্প যদি ঋণ নিয়ে করা হয়, তাহলে এর ফাঁদে তো পড়তেই হবে। প্রথম আলো: শ্রীলঙ্কার এই পরিণতি থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার কিছু আছে কি? সেলিম রায়হান: প্রথমত, আমি মনে করি অর্থনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলো রাজনৈতিক অর্থনীতির জায়গা থেকে দেখতে হবে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় রাখতে হবে। দেশের অর্থনীতি যদি পরিবার বা গোষ্ঠীতন্ত্রের স্বার্থ রক্ষায় পরিচালিত হয়, তাহলে পরিস্থিতি খারাপ হতে বাধ্য। শ্রীলঙ্কা ২০১৯ সালে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে নেমে গেছে। তার মানে শ্রীলঙ্কা যে উন্নতি করেছিল, তা তারা ধরে রাখতে পারেনি। শ্রীলঙ্কার দৃষ্টান্ত থেকে আমরা বুঝতে পারছি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে, এমন নয়। দেশের অর্থনীতি স্বজনতোষী অর্থনীতিতে রূপ নিলে কী বিপদে পড়তে হয়, শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে সে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। দ্বিতীয়ত, অবকাঠামোর উন্নয়ন ও বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের নিশ্চয়ই প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেটা অর্থনৈতিকভাবে কতটা প্রয়োজনীয়, সেই বিবেচনা জরুরি। আমাদের দেশে অপ্রয়োজনীয় বড় প্রকল্প হয়তো এখনো নেওয়া হয়নি, কিন্তু খরচ যদি বেশি হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি সময় বেশি লাগে, তাহলে সেগুলো বোঝা হয়ে যেতে পারে। আমাদের এটা মনে রাখা জরুরি যে বড় প্রকল্প ঋণ নিয়ে করা হয় এবং এর জন্য সুদ গুনতে হয়। তৃতীয়ত, আমাদের অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে বড় দুই খেলোয়াড় হচ্ছে চীন ও ভারত। আমাদের প্রতিবেশী ও কাছের দেশ। দুটি দেশের সঙ্গেই আমাদের জোরালো বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। কোনো দেশকেই উপেক্ষা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এখানে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি খুব জরুরি। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে আমরা যা দেখেছি, তা হচ্ছে দেশটি কখনো এদিকে, কখনো ওদিকে ঝুঁকে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রাজনীতির কারণে এমনটি হয়েছে। দুটি বড় দেশের পাশে থেকে ভারসাম্য রক্ষা করার পরিপক্বতা সেখানকার রাজনীতিবিদেরা দেখাতে পারেননি। এই দিকটিতে আমাদের সতর্ক অবস্থান নিতে হবে। ভারসাম্য রক্ষা করে পথ চলতে হবে। প্রথম আলো: করোনা আমাদের দেশে নতুন দরিদ্র তৈরি করেছে। আপনারা এ নিয়ে কাজও করেছেন। বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কত বলে মনে করেন? সেলিম রায়হান: এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কত, সেটা বলা কঠিন। পরিসংখ্যান ব্যুরোর উচিত ছিল এখন একটি জরিপ করা। আমরা সানেমের পক্ষ থেকে জরিপ করেছিলাম ২০২০ সালের শেষের দিকে। তখন ৪০ ভাগ জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। বর্তমান হিসাব জানি না। সরকারের দলিলে অবশ্য ২০ ভাগ উল্লেখ করা আছে। প্রথম আলো: করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি? সেলিম রায়হান: এখানে কয়েকটি দিক রয়েছে। মানুষ নিজে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে বিষয়টি নির্ভর করবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সচলতা ও প্রাণচাঞ্চল্যের ওপর। সেটা থাকলে মানুষের আয় বাড়বে। করোনার সময় অনেক মানুষ টিকে ছিলেন তাঁদের নিজের সঞ্চয় ভেঙে। ফলে আয় বাড়লে বা শুরু হলেও আগের জায়গায় যেতে সময় লাগবে। এ ছাড়া আছে সরকারের তরফে সহযোগিতার বিষয়টি। সরকার দরিদ্র জনগণকে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে এটা স্পষ্ট, সরকার অন্তত মেনে নিয়েছে যে মানুষ কষ্টের মধ্যে আছে। বলা যায়, সংকটের একটি স্বীকৃতি পাওয়া গেছে সরকারের কাছ থেকে, যদিও দারিদ্র্যের হার নিয়ে সরকার কিছু বলছে না। প্রথম আলো: বাংলাদেশের বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি আমাদের নিম্ন আয়ের জনগণের জন্য কোন মাত্রার চাপ সৃষ্টি করছে বলে আপনি মনে করেন? এটা কি সহ্যের বাইরে? সেলিম রায়হান: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যে চাপটা জনগণের ওপর পড়েছে, তা সহ্যের বাইরের চাপ। কারণ, দেশের জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ আগে থেকেই চাপের মধ্যে ছিল। এটা তাদের জন্য বাড়তি বোঝা। জীবনযাত্রার অনেক খরচ মানুষকে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। বিশেষ করে খাবারের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হচ্ছে। প্রোটিন গ্রহণ কমাতে হচ্ছে, কার্বোহাইড্রেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমরা যখন উন্নতির কথা বলছি, তখন দেশের একটা বড় অংশকে জীবনযাপনের মানের ক্ষেত্রে আপস করতে হচ্ছে। সরকারে হিসাবে মূল্যস্ফীতি ৬ ভাগ ধরা হলেও সানেমের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জনগণ বিশেষ করে খাদ্যমূল্যের ক্ষেত্রে এর দ্বিগুণ মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হচ্ছে। সরকার খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করে ২০০৫ সালের সার্ভের ওপর ভিত্তি করে। গত ১৭ বছরে শহর ও গ্রামের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে। যে খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করা হয়, দরিদ্র মানুষ তা কেনেই না। সরকারের মূল্যস্ফীতির হিসাব দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা যাবে না। প্রথম আলো: সরকার এক কোটি পরিবারকে টিসিবির কার্ড দিয়েছে। এই উদ্যোগকে কীভাবে দেখছেন? এর আওতা সম্প্রসারণ বা এ ব্যাপারে আপনার কোনো পরামর্শ রয়েছে কি? সেলিম রায়হান: এক কোটি পরিবারকে কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য সুলভে বিক্রির যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আমি মনে করি এই উদ্যোগের পরিধি আরও বাড়ানো দরকার। অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার এমনকি অনেক দরিদ্র পরিবার এই টিসিবির কার্ডের তালিকার বাইরে রয়েছে। টিসিবির ট্রাকের পেছনে এই সব মানুষের লাইন কিন্তু ছোট নয়। যাঁরা কার্ড পেয়েছেন, তাঁদের জন্য টিসিবির ট্রাকের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে এফবিসিসিআই বা বিজিএমইএর মতো ব্যবসায়ী সংগঠনের সহযোগিতায় এই সব বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। এই সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অভাব ও সংকটে আছেন, অথচ কোনো কার্ড পাননি, তাঁদের জন্য অবশ্যই টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কেনার সুযোগ উন্মুক্ত রাখতে হবে। প্রথম আলো: ইউক্রেন সংকট শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। এই অনিশ্চিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের কিছু করার আছে কি? সেলিম রায়হান: আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সামনে কী হবে, সেটা বলা কঠিন। পরিস্থিতি অনেকটাই অনিশ্চিত। এমন একটি অবস্থায় আমাদের উচিত বছরজুড়ে বিশ্ববাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। বিশ্বজুড়ে চলমান নানা ঘটনার কারণে কোনো না কোনো পণ্যের ওপর এর চাপ পড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা বা সেল গড়ে তোলা জরুরি। এতে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। অবস্থা খারাপ হলে তোড়জোড় করে খুব ফল পাওয়া যায় না। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরতাও কমিয়ে ফেলা উচিত। প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ। সেলিম রায়হান: আপনাকেও ধন্যবাদ।
8
আসিয়ানাপোলের অবজারভার স্ট্যাটাস লাভ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। গত মার্চ মাসে কম্বোডিয়ার নমপেনে আসিয়ানাপোলের ৪০ তম বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশকে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের নির্দেশনায় পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি শাখা থেকে অবজারভার স্ট্যাটাসের জন্য আসিয়ানাপোল সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার পর এ স্বীকৃতি মেলে।আজ বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ ও আসিয়ানাপোলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। যা সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে আসিয়ানাপোলের সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং এ অঞ্চলের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রিয়েল টাইম ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিংয়ের একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।বর্তমানে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দি রেডক্রস (আইসিআরসি), রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এবং বাংলাদেশ পুলিশসহ নয়টি সংস্থার আসিয়ানাপোলের অবজারভার স্ট্যাটাস রয়েছে।আসিয়ান দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রসমূহের (ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম) মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত একটি সংগঠন। আসিয়ান সদস্যভুক্ত দেশসমূহ নিজেদের মধ্যে পুলিশি সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ ও মোকাবিলার জন্য ১৯৮১ সালে আসিয়ানাপোল গঠন করে।
6
আজ ঈদের দিন গান শোনাবেন বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। এক সঙ্গে ১১টি গান পরিবেশন করবেন তিনি। বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় এটিএন বাংলার পর্দায় সংগীতানুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে। চ্যানেলটির পক্ষ থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ড. মাহফুজুর রহমানের ঈদের বিশেষ এই একক সংগীতানুষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছে 'তোমাকে চাই'। ১১টি গানের শিরোনাম হলো 'বাঁচতে পারবো না', 'তোমাকেই চাই', 'খুব বেশি ভালোবাসি', 'এ বুকে শুধু তুমি', 'কেন দূরে থাকো', 'খুব সহজে, ভাবি আমি যতবার', 'সুখের রঙ', 'তুমি আমার', 'ভেবেছিলে তুমি', 'চাঁদ রুপসী'।
2
টি-২০ বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের হোম সিরিজটা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় জাতীয় দলের ব্যস্ততা নেই। তাই সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল খেলতেও বাধা থাকছে না। আরব আমিরাতে আইপিএলের ১৪তম আসরের বাকি অংশ শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। এ পর্বে অনুষ্ঠিত হবে অবশিষ্ট ২৯ ম্যাচ। গত মে মাসে ভারতে করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল আইপিএল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের হোম সিরিজ শেষ হয়ে যাবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর। হোম সিরিজ শেষেই উড়াল দিতে পারবেন বাংলাদেশি দুই ক্রিকেটার। ইতোমধ্যে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে বিসিবিকে চিঠি দিয়েছেন মুস্তাফিজ এবং তার ছাড়পত্র পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রসঙ্গত, এ বছর টি-২০ বিশ্বকাপও আমিরাতেই হবে। সেক্ষেত্রে আইপিএল খেলাটা বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে মুস্তাফিজকে। বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ
12
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যটির সমস্ত মাদ্রাসায় দেশটির জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করল যোগী আদিত্যনাথের সরকার। সেক্ষেত্রে ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী- সকলকেই 'জন গণ মন অধিনায়ক জয় হে...' এই জাতীয় সংগীত গাইতে হবে। এক সরকারি নির্দেশিকায় একথা জানিয়েছেন 'উত্তরপ্রদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড'। সেখানে সরকার স্বীকৃত, সহায়তা প্রাপ্ত, সরকারি সহায়তা প্রাপ্ত নয়-এমন সব ধরনের মাদ্রাসাগুলিকেই এই নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক ভাবে পালন করতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় আরও জানানো হয় 'রমজান মাসের কারণে ৩০ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত মাদ্রাসাগুলিতে ছুটি ঘোষণা ছিল। ফলে ১২ মে বৃহস্পতিবার থেকে নিয়মিত ভাবে ক্লাস শুরু হয়। আর সেই কারণেই ওই দিন থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে সকালে ক্লাস শুরুর আগেই মাদ্রাসাগুলিতে জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়ম ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না তা সুনিশ্চিত করতে জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন কর্মকর্তাদের দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাদারিক আরবিয়া শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিওয়ান সাহেব জামান খান জানান 'সাধারণত মাদ্রাসাগুলিতে ক্লাস শুরুর আগে হামদ ও সালাম জানানো হয়। কিছু কিছু জায়গায় মাদ্রাসাগুলিতে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়, তবে সেটা বাধ্যতামূলক নয়। এখন সেটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।' বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে ১৬,৪৬১টি মাদ্রাসা রয়েছে, এর মধ্যে ৫৬০ টি সরকারি স্বীকৃত। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
3
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকে সবাইকে নজর দিতে হবে এবং তাদেরকে তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে হবে। সোমবার সকালে কম্বোডিয়ার নমপেনে চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এসময় কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন সহ দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কম্বোডিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ১ টি চুক্তি ও ৯ টি সমঝোতা স্মারক সই করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্তে এবং দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। চুক্তি সাক্ষরের পর শেখ হাসিনা ও হুন সেন যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। উল্লেখ্য, তিন দিনের সফরে রবিবার কম্বোডিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফর শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/৪ ডিসেম্বর ২০১৭/হিমেল
6
দেশের মর্যাদা বা সম্মান বৃদ্ধি যেমন প্রতিটি নাগরিককে গৌরবান্বিত করে, তেমনি সুনাম নষ্ট হলে এর দায়ভার সবার ওপর পড়ে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। আজ শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইঞ্জিনিয়ার্স রিক্রিয়েশন সেন্টার (ইআরসি) আয়োজিত এক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তাজুল ইসলাম। সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, 'আমরা যে যে পেশায় থাকি না কেন, আমাদের বড় পরিচয় আমরা বাঙালি। আমার দেশ যত উন্নত, সমৃদ্ধ ও সম্মানিত হবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে সে সম্মানের অংশীদার হব। পক্ষান্তরে আমার দেশ যদি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও কলঙ্কিত হয়, দেশের সুনাম নষ্ট হয়, তাহলে এর অংশীদারও আমি হব। আমরা এর দায়ভার এড়াতে পারি না।' ছেলেমেয়েদের অভিভাবকদের উদ্দেশে তাজুল ইসলাম বলেন, ছেলেমেয়েদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ হবে না। তাদের আগামী দিনের মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। এ জন্য খেলাধুলা, শারীরিক কসরতসহ মানসিক ও সৃজনশীল চিন্তাচেতনার বিকাশ ঘটিয়ে সামাজিক অবক্ষয় থেকে তাদের রক্ষা করতে হবে। খেলাধুলা মানসিক বিকাশ ঘটায়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিপ্লবের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ এখন আর 'ফকির-মিসকিনের' দেশ নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে আঙুল তুলে বা চোখ রাঙিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। কেউ আঙুল বা চোখ রাঙিয়ে কথা বললে তার জবাব দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে। দেশ নিজস্ব ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। শেখ হাসিনার জন্য বাঙালি বিশ্বে নতুন পরিচয় পেয়েছে।' আয়োজক সংগঠন ইআরসির নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সভাপতি মো. নূরুল হুদা ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদৎ হোসেন।
9
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে বিশ্ববাসীর সমর্থন চাওয়া হবে। খবর ইউএনবির। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবাসন যেন হয় এবং রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদ ও সুরক্ষায় থাকে, তাদের চলাফেরায় যেন স্বাধীনতা থাকে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অধিবেশনে কথা বলতে পারেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের উদ্যোগে রোহিঙ্গা শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন। এই ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের শিগগিরই নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে মুসলিম বিশ্বের সহযোগিতা ও করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। আমরা আশাবাদী, কারণ অনেক দেশ আমাদের প্রস্তাবগুলো সমর্থন করেছে। ভারতের ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সংসদ একটি আর্টিকেল তৈরি করেছিল এবং তাদের সংসদ এটি বিলোপ করেছে। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে নীতিগতভাবে আমরা সবার উন্নয়ন চাই। এছাড়া ইউনিসেফ আয়োজিত একটি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন, যেখানে তাকে চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট অব ইয়ুথ সম্মাননা দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরওউপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক।
6
গাজীপুরের শ্রীপুর রেঞ্জের অধীনে বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার একর। এর মধ্যে শ্রীপুর রেঞ্জের অধীনে ইতিমধ্যে জবরদখল হয়েছে ৬ হাজার ৩৪৯ একর। বাকি বনভূমির অর্ধেকই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। মূলত বছরের ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বনের ভেতর জ্বলে আগুন। আগুনে পুড়ে যায় বনের ভেতর নতুন করে গজিয়ে ওঠা গজারিগাছের চারা।বনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কারণে একদিকে জ্বলে পুড়ে ছাই হচ্ছে বনের গাছপালা, অপরদিকে হুমকিতে জীববৈচিত্র্য। স্থানীয় সচেতন সমাজ ও বনসংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠনগুলো বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতাকে এ জন্য দায়ী করছেন। অবিলম্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীপুর রেঞ্জের অধীনে শিমলাপাড়া বিট অফিসের ২০০ গজের মাথায় শত শত একর বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যত দূর চোখ যায় শুধু আগুনে পোড়ার ছাপ। অপরদিকে শ্রীপুর রেঞ্জের সাতখামাইর বিটের সিসিডিবি, পোষাইদ গ্রামের শত শত একর বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাস্তার পাশ থেকে শুরু হয়ে বনের গভীর জঙ্গল পর্যন্ত বন পুড়ে গেছে।শ্রীপুর সদর বিটের গাজীয়ারনে আগুনে পুড়ে গেছে কয়েক হাজার একর বনভূমি। এখনো সেখানে জ্বলছে আগুন। এ ছাড়া কাওরাইদ, গোসিংগা, রাথুরা সিংড়াতলী বিটের অধীনে বেশির ভাগ বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।স্থানীয় পরিবেশকর্মী সাঈদ চৌধুরী বলেন, এখানে অনেক ধরনের অপরাধী থাকতে পারে। কিন্তু করণীয় ঠিক না করতে পারলে কী হবে, তা বনভূমির দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়। যে-ই অপরাধী হোক, তাকেই আইনের আওতায় আনা এবং বনে আগুন দেওয়া বন্ধ করার দায়িত্ব বন বিভাগেরই।আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, 'বনভূমি বাঁচাতেই হবে। প্রয়োজনে বনভূমির জন্য আমরা রাস্তায় দাঁড়াব।'ভাওয়ালগড় বাঁচাও আন্দোলনের মহাসচিব ড. এ কে এম রিপন আনসারী বলেন, প্রতিবছর ফাল্গুন আর চৈত্র মাস এলেই গজারি বন জ্বলতে শুরু হয়। বনে আগুন লাগানোর পেছনে বনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জড়িত থাকার অনেক কারণ রয়েছে।বনে আগুন দেওয়ার কারণ হিসেবে রিপন আনসারী বলেন, বনভূমি পরিষ্কার হলে সেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক অথবা স্থানীয় প্রভাবশালীরা সহজে দখলে নিতে পারে। এ জন্য বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, বনে ঘুরে দেখা যায় বেশির ভাগ রাস্তার অংশের বন বেশি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।শ্রীপুর রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা সদর বিট কর্মকর্তা মীর বজলুল রহমান বলেন, বনের পাশে জমির মালিকেরা অনেক সময় বনে আগুন দেন। কারণ বনের গাছের ডালপালা পাতা পড়ে জমিতে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়, এ জন্য তাঁরা সুপরিকল্পিতভাবে বনে আগুন দিয়ে গাছপালা পুড়িয়ে দেন। সম্প্রতি বনে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত প্রবীণ কয়েকজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছিল। এরপর বয়স বিবেচনায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।মীর বজলুল রহমান বলেন, বনের আয়তন বিশাল। তাই বনে একবার আগুন ধরিয়ে দিলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া বন বিভাগের জনবল কম থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। আর জবরদখলকৃত ভূমি উদ্ধার অব্যাহত রয়েছে। বনভূমি উদ্ধার করে কৃত্রিম বনায়ন করা হচ্ছে।
6
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, সৎ ও সততা নিয়ে আগামী দিনে পথ চলতে হবে। নম্র-ভদ্র নেতাকর্মীরা দলের জন্য এগিয়ে আসুন। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। আগামী দিনের নেতৃত্বে প্রমাণিত হবে আসল নেতার পরিচয়। শুক্রবার পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পীরগাছা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রামনিক। প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ধনজিৎ ঘোষ তাপস। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন লিটনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তছলিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মিলনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। সম্মেলনে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ সভাপতি ও মো. সুমন ওয়াহিদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নতুন সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ এর আগে উপজেলা ইউপি সদস্য ফোরামের সভাপতি ছিলেন। আর সাধারণ সম্পাদক সুমন ওয়াহিদ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য। আগামী এক মাসের মধ্যে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান নতুন সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। বিডি প্রতিদিন/এমআই
9
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ তাঁর ফেসবুকে এই ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, 'টুডেজ মেকআপ আর্টিস্ট।' ছবিতে সিয়ামকে মেকআপ করে দিচ্ছেন সহধর্মিণী শাম্মা রুশাফি অবন্তী। কিন্তু নায়ক-নায়িকাদের সাজানোর জন্য বেতনভুক মেকআপশিল্পী থাকেন। তাহলে রহস্যটা কী? জানতে যোগাযোগ করা হলে সিয়াম জানালেন, বাসায় বসে অনলাইনে একটি অনুষ্ঠানের শুটিং করার আগে তাঁকে সাজিয়ে দিয়েছেন অবন্তী। সিয়াম বলেন, 'কিছুক্ষণ আগে অনলাইনে একটি সেলিব্রিটি শোতে অংশ নিয়েছিলাম। করোনাকালে মা-বাবার কথা ভেবে বাসায় বাইরের লোকজন ঢুকতে অনুমতি দিচ্ছি না। এ কারণে মেকআপশিল্পীকে আসতে মানা করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর অবন্তী নিজেই আমাকে মেকআপ করে সাজিয়ে দিয়েছে।' প্রকাশের দুই ঘণ্টার মধ্যে ছবির নিচে ২২ হাজার লাইক ও প্রায় ৪০০ মন্তব্য পড়েছে। এক ভক্ত লিখেছেন, 'করোনাকালে ভাবিই ভরসা।' আরেকজন লিখেছেন, 'সিয়াম ভাই, ভাবিকে ব্যক্তিগত মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন।' অন্য আরেকজন ভালোবাসার ইমো ব্যবহার করে মন্তব্যে লিখেছেন, 'ঘরে মেকআপ করার লোক আছে, আপনার অনেকগুলো টাকা বেচে যাবে। ভাবি কিন্তু লক্ষ্মী বউ।' সিয়াম জানান, আগেও কয়েকবার সিনেমার প্রচার ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তাঁকে মেকআপ করিয়ে দিয়েছিলেন অবন্তী। তবে মেকআপ করার সময় প্রতিবারই অবন্তীর বকা খেতে হয়েছে। সিয়াম বলেন, 'আজও বকা খেয়েছি। কারণ, মেকআপ করার সময় নড়াচড়া করলেই বকা দেয় অবন্তী। আর আমি তো নড়াচড়া ছাড়া থাকতে পারি না। হা হা হা...।' মেকআপ করার ব্যাপারে বেশ পারদর্শী অবন্তী। তাঁর নিজেরই 'শাম্মা শ্যাডোজ' নামে একটি হাউস আছে, জানালেন সিয়াম।
2
বিসিএস (পরিসংখ্যান) ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে বিবিএস-এর উপমহাপরিচালক ঘোষ সুবব্রত এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবেপুনরায়উপপরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার রাজধানী আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) অডিটোরিয়ামে বিসিএস (পরিসংখ্যান) ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ নির্বাচন-২০২১ অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সহ-সভাপতি পদে যুগ্মপরিচালক আমজাদ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক উপপরিচালক মোবারক হোসেন ও আরিফ হোসেন। এছাড়া সাংগাঠনিক সম্পাদক উপপরিচালক নাজমুল হক, অর্থ সম্পাদক হয়েছেন উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম সরকার। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, নয়ন কান্তি রায়, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক)। মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। স্বপন কুমার, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, দফতর ও আইন বিষয়ক সম্পাদক। মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, উপপরিচালক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। আকলিমা খাতুন, উপপরিচালক, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গবেষণা সম্পাদক। জাহিদ হাসান, উপপরিচালক, নির্বাহী সদস্য। সালমা হাসনায়েন, যুগ্মপরিচালক, নির্বাহী সদস্য, মো. গোলাম মোস্তফা, যুগ্মপরিচালক, নির্বাহী সদস্য, প্রণব পাল, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, নির্বাহী সদস্য। রেশমা জেসমিন, উপপরিচালক, নির্বাহী সদস্য, নাঈমা রহমান, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, নির্বাহী সদস্য। ফারহানা সুলতানা, উপপরিচালক, নির্বাহী সদস্য। মো. আব্দুর রাজ্জাক, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, নির্বাহী সদস্য। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, নির্বাচনসহ অন্যান্য ইস্যু নিয়ে বৈঠক করলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বিদেশি কূটনীতিকদের বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। তারপরও তারা ভুল তথ্য দিয়ে কূটনীতিকদের বিভ্রান্ত করতে চাইলে রাজনৈতিকভাবে তা প্রতিরোধের সক্ষমতাআওয়ামী লীগেররয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়ার জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ও গবেষকদের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কৃষিমন্ত্রী। এর আগে এদিন সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নেতা ড. মঈন খানের বাসায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতারা ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক নিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগের আশঙ্কা কিংবা উদ্বেগ কোনোটিই নেই। সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ জন্য বিএনপি রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে বৈঠক করতে পারে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, কূটনীতিকরা কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সমর্থন করেন না। তারা বাংলাদেশে কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ দেখতে চান না। তারা বিনা বিচারে হত্যা ও আইনের লঙ্ঘন হলে সেটাকেও সমর্থন করেন না। তিনি বলেন, কূটনীতিকরা এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা দেখতে চান। আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে- এ কথা বলে থাকে বিএনপি। প্রথমত খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কারণে নয়, দুর্নীতির কারণে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে গেছেন। তার ব্যাপারে আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন। আর তাকে আইনের মাধ্যমেই জেল থেকে বের করতে হবে। আন্দোলন করে তারা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবে না। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার বিষয় তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তারা মূলত বাংলাদেশে ডাল নিয়ে গবেষণার কাজ করেন। গবেষণার জন্য বছরে তিন মিলিয়ন ডলার তারা বাংলাদেশকে দিয়েছেন। সরকার পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায়। ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পরিচালক অধ্যাপক ড. উইলিয়াম এরসকিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন ড. এরিক হাটনার, ড. রিচার্ড জেমস, ড. এম. জি নিয়োগী প্রমুখ।
9
সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালে তৎকালীন সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ওই সময় আওয়ামী লীগের খুব দুর্দিন ছিল। আওয়ামী লীগের নাম শুনলেই আঁতকে উঠতো। আমার সঙ্গে তখন আওয়ামী লীগের গভীর সম্পর্ক ছিল তলে তলে। কারণ, তখন মহামান্য এরশাদ, মহামান্য জিয়া-এই সমস্ত স্বৈরশাসকরা আওয়ামী লীগের নাম শুনতে পারতো না। রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনের ২য় তলার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে শনিবার রাতে অষ্টগ্রাম ইটনা মিঠামইন উপজেলা উন্নয়ন ও কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে রাষ্ট্রপতির ৭৯তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী তার কিশোরগঞ্জের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭৮ সালে আমি এসডিও হয়ে কিশোরগঞ্জে গেলাম। সেখানে আমি ৪-৫ মাস ছিলাম। ওই সময় আমার সঙ্গে হামিদ সাহেবের (বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা) পরিচয় হলো। মনে একটা অতৃপ্তি ছিল-আসলাম আর গেলাম দেখলাম না কিছুই। পরে যখন কিশোরগঞ্জকে জেলা করা হয় তখন আমি সেখানে প্রথম ডিসি করা হয়। আমার তখন হামিদ সাহেবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ময়মনসিংহের প্রিন্সিপ্যাল মতিউর রহমান সাহেবের সঙ্গে আমার খুব পরিচয় হয়ে ওঠে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে খুব পরিচিত ছিলেন। সেই অবস্থায় প্রিন্সিপ্যাল মতিউর রহমান সাহেব আমাকে স্নেহ করতেন। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। মতিউর রহমান সাহেব তখন আওয়ামী লীগের হামিদ সাহেবকে বলে দিলেন-মান্নান সাহেব যাচ্ছেন ডিসি হয়ে, এই মান্নান সাহেবের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক। এই কথা বলার পর হামিদ সাহেব আমার বাসায় আসতেন। তখন থেকে তার সঙ্গে আমার কত আলোচনা। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ভৈরবের সঙ্গে সংযোগের প্রথম সেতু আমরাই করেছিলাম। করিমগঞ্জের সঙ্গে ইটনা-মিঠামইনের সংযোগস্থল চামটাঘাটে আমি অনেকবার গিয়েছি। ওখানে প্রথম দালান নির্মাণ করি আমি। ওখানে সড়ক নির্মাণ করে কাঁটাওয়ালা গাছ লাগালাম। এসব কাজ এখনও আমার মনে আছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
9
চট্টগ্রাম নগরীর চট্টেশ্বরী পল্টন রোডে গাড়ির হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে মো. অনিক (২৬) নামে এক চালককে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার নিহতের বাবা মো. নাছির উদ্দিন বাদি হয়ে নগরীর চকবাজার থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন মহিউদ্দীন তুষার (৩০), মিন্টু (৩২), ইমরান শাওন (২৬), ইমন (১৬), শোভন (২৪), রকি (২২), অপরাজিত (২২), অভি (২১), বাচা (২২), এখলাস (২২), দুর্জয় (২১) ও অজয় (২১)। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (চকবাজার জোন) নোবেল চাকমা সমকালকে বলেন, গাড়িচালক অনিককে খুনের ঘটনায় বাবা নাছির উদ্দিন বাদি হয়ে ১২ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এর আগে রোববার রাতে নগরীর চট্টেশ্বরী পল্টন রোডে গাড়ির হর্ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে নিহত হন গাড়ি চালক মো. অনিক। বিকেল ৫টার দিকে গাড়ির হর্ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রাত ৮টার পর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. অনিককে ছুরিকাঘাত করেন মহিউদ্দীন তুষার ও তার সহযোগিরা। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় অনিককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই অনিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
6
বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা আাগেই ঘরে উঠেছে। লিগ টেবিলে এই ম্যাচ বিশেষ কোন ভূমিকা রাখবে না। কিন্তু ম্যাচের আগে থেকে এ ম্যাচ নিয়ে উত্তাপ কম ছিল না। রিয়াল দ্বিতীয় এল ক্লাসিকো ম্যাচে বার্সাকে গার্ড অব অনার দেবে কিনা তা নিয়ে আগেই বেশ আলাপ- সালাপ হয়েছে। বার্সাকে জিনাদের দল গার্ড অব অনার দেয়নি। তবে মাঠে নামার আগে ইনিয়েস্তাকে বিশেষ সম্মান জানিয়েছে রিয়াল। কিন্তু মাঠে বার্সা-রিয়ালের এক অপরের প্রতি সেই সম্মান ছিল না বললেই চলে। শেষ পর্যন্ত ক্যাম্প নূতে ঘটনা বহুল এল ক্লাসিকো ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ বার্সার বিপক্ষে ২৩৮ তম এল ক্লাসিকো ম্যাচে এসে ৪০০তম গোল পূর্ণ করেছে। সংখ্যাটা মোট ৪০১ এ নিয়ে গেছে। কিন্তু ক্যাম্প নূ'তে ৫০তম জয়ের দেখা পেল না। আর বার্সা পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জনের দল নিয়েও লা লিগায় অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা ৪২ ম্যাচে নিয়ে গেল। অপরাজিত থেকে লিগ জেতার বড় বাঁধাটাও পেরিয়ে গেল। ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণ করে খেলে বার্সেলোনা। ১০ মিনিটের মাথায় সার্জিও বরার্তোর দারুণ এক মাপা ক্রসে গোল করেন লু্ইস সুয়ারেজ। কিন্তু গোল শোধ করতে বেশি সময়ে নেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ১৪ মিনিটের মাথায় রোনালদো পাস বেনজেমাকে ক্রস দেন টনি ক্রুস। বেনজেমা হেড করে রোনালদোকে বল দিলে গোল শোধ করেন রোনালদো। এমন আক্রমণ প্রতি আক্রমণ পুরো ম্যাচ জুড়েই হয়েছে। কিন্তু রোববার রাতের এল ক্লাসকো নজর কেড়েছে দুই দলের খেলোয়াড়দের আচরণের কারণে। ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের মোট নয়টি কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। এরমধ্যে ৪৫ মিনিটে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সাজিও রবার্তো। খেই হারিয়ে মার্সেলোকে হাত দিয়ে আঘাত করায় লাল কার্ড দেখেন তিনি। এর আগে জর্ডি আলবা ও রাকিটিচের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে একবার। রামোসের সঙ্গে সুয়ারেজের ঝামেলা বেঁধেছে।মেসি,বেল, মার্সেলো, সুয়ারেজ, রামোস, মডরিচরা লাইন দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেছেন এই ম্যাচে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় অবশ্য কিছুটা স্বাভাবিক গতি আসে। ১০ জনের দল নিয়েও দারুণ আক্রমণ শানতে থাকে বার্সা। রিয়ালও পাল্টা আক্রমণ করতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রোনালদোর বদলি নামা মার্কো অ্যাসেনসিও গোল করার দারুণ এক সুযোগ পান। তবে তিনি সুযোগ মিস করলেও ৫২ মিনিটে মেসি কোন ভুল করেননি। রিয়ালের বিপক্ষে ২-১ গোলের লিড এনে দেন দলকে। এরপর ৭২ মিটিনে গোল করে সমতায় ফেরে রিয়াল। ওইসমতা নিয়েই মাদ্রিদে ফিরতে পথ দেখলো জিদান এবং তার শিষ্যরা। ১০ জনের দল পেয়েও বার্সাকে হারাতে পারলো না রিয়াল।
12
করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন দরিদ্র মানুষের জন্য সরকার যে পরিমাণ চাল বিতরণ করছে তা মোটেও পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এক্ষেত্রে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হিসাবে যোগ হয়েছে চাল চুরির মহোৎসব। এমতাবস্থায় অবিলম্বে ত্রাণ বিতরণে আবারও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। রবিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাভোকেটর রুহুল কবীর রিজভী নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস থেকে এক ভিডি কনফারেন্সে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলবাহিনীকে দায়িত্ব দিলে হতদরিদ্র, বেকার শ্রমিকরা উপকৃত হবে এবং জনগণের মধ্যে স্বস্তি আসবে। কেননা এখন রাজনীতি করার সময় নয়। বরং ভেদাভেদ ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সময়। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
ভারতের প্রখ্যাত নারীবাদী লেখক, প্রশিক্ষক ও অধিকারকর্মী কমলা ভাসিন মারা গেছেন। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সোয়া ৩টায় তিনি মারা গেছেন। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। স্থানীয় অধিকারকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব শনিবার এক টুইট বার্তায় এ খবর নিশ্চিত করেন। তিনি টুইটে জানান, 'আমাদের প্রিয় বন্ধু, কমলা ভাসিন, ২৫ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টার দিকে মারা গেছেন। ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে নারী অধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্রে এটি একটি বিশাল ধাক্কা। তিনি পুরো জীবনটাকে উদযাপন করেছিলেন। কমলা, আপনি আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।' ১৯৭০ সালের দশক থেকে ভারতসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন কমলা ভাসিন। ২০০২ সালে নারীদের জন্য একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। লিঙ্গ তত্ত্ব, সমতা, মানবাধিকার, পুরুষতন্ত্র নিয়ে লেখা কমলার বইগুলি ৩০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সতরঙ্গি লাড়কে, সতরঙ্গি লাড়কিয়া ইত্যাদি। কমলা ভাসিনের জন্ম ১৯৪৬ সালের ২৪ এপ্রিল। দেশভাগের পর তার পরিবার ভারতের রাজস্থানে চলে আসে। রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করে কমলা চলে গিয়েছিলেন পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। জার্মানির ফাউন্ডেশন ফর ডেভলপমেন্ট ওরিয়েন্টেশন কেন্দ্রে বেশ কিছুদিন কাজ করে কমলা দেশে ফিরে আসেন।
3
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বিরল প্রজাতির একটি চিতা বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা করেছে কচুয়া গ্রামবাসী। এ নিয়ে দুই সপ্তাহে দুটি বন্যপ্রাণীকে হত্যা করেছে গ্রামবাসীরা। আজ শনিবার দুপুরে কচুয়া গ্রামবাসী 'চিতা বিড়ালটি'কে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা মৃত বিড়ালটিকে উদ্ধার করেছে।স্থানীয়রা জানান, সকালে হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি চিতা বিড়ালটিকে গ্রামের পাশে একটি ঝোপে দেখতে পান। এ সময় তারা এটিকে বাঘের বাচ্চা বলে গ্রামবাসীর মধ্যে প্রচার করলে শত শত গ্রামবাসী বিড়ালটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তারা এটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা মৃত বিড়ালটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।এ ব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'স্থানীয়রা এটিকে বাঘ আখ্যা দিয়ে মেরে ফেলেছে। আবার অনেকে এটিকে মেছো বিড়ালও মনে করবে। কিন্তু এর প্রকৃত নাম হচ্ছে 'চিতা বিড়াল'। যার ইংরেজি নাম . এটি মেছো বিড়ালের চেয়ে একটু ছোট এবং সাধারণ বিড়ালের চেয়ে একটু বড় আকারের। ওজন প্রায় ৪ কেজি হয়ে থাকে। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চলে এটি কিছু রয়েছে। এটি কখনো কোন মানুষকে আক্রমণ করে না।'তিনি বলেন, 'কিছুদিন আগে শিয়ালের কামড়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছিলেন। এরপর আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্যও স্থানীয়দের বলেছি। এরপরও তারা গত ৯ জানুয়ারি একটি শেয়ালকে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় বন আদালতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। এরপর ১৩ জানুয়ারি গ্রামবাসী বিরল প্রজাতির একটি গন্ধগোকুলকে ধরে নিয়ে আসে। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে এটিকে উদ্ধার করি।'মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'চিতা বিড়াল হত্যার ঘটনায় আমরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছি। সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনায় মামলা হবে। তবে মামলাটি বন আদালত নাকি থানায় হবে এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫ জানুয়ারি উপজেলার রাজারবাজার ও রাণীরকোট এলাকার ৬ জনকে কামড়ায় একটি শেয়াল। এরপর থেকে ওই দুটি গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে অচেনা প্রাণী আতঙ্ক দেখা দেয়। এই প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে নিজ নিজ ঘরে অবস্থানের জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণাও দেওয়া হয়। এমনকি গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে রাতভর গ্রাম পাহারা দেন।গত ৮ জানুয়ারি (শনিবার) বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার সারেরকোণা গ্রামে কবরস্থানের গর্ত থেকে এলাকাবাসী মেছো বিড়ালের দুটি শাবক ধরে আনেন। এ সময় মা বিড়ালটি পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুনরায় বাচ্চাগুলোকে আগের স্থানে রেখে দেয়। এদিন রাতেই মেছো বিড়ালটি নিজের শাবক দুটিকে নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যায়।এ ছাড়া ৯ জানুয়ারি (রোববার) কচুয়া গ্রামবাসী একটি শেয়ালকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে ১৩ জানুয়ারি আবারও বিরল প্রজাতির একটি গন্ধগোকুলকে ধরে আনেন স্থানীয়রা। যদিও বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এটিকে উদ্ধার করে।এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, 'আমি এ ব্যাপারে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করব। যেহেতু স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়েই বন্যপ্রাণী ধরছে এবং মারছে, সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করা হবে। এ ছাড়া যে দুটি প্রাণীকে হত্যা করা হয়েছে সে ব্যাপারে মামলা হবে।'
7
গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে মার্কিন নৌবাহিনীর এক ইঞ্জিনিয়ার ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা গোপনীয় তথ্য বিক্রি করার চেষ্টা করছিল। রোববার প্রকাশিত আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, জোনাথন তোবে ও তার স্ত্রী ডায়ানা তোবেকে অ্যাটোমিক এনার্জি অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, বিদেশী শক্তির প্রতিনিধি এক ব্যক্তির কাছে তারা পরমাণু-চালিত যুদ্ধজাহাজের নক্সা বিক্রি করার চেষ্টা করছিলেন। বিচার বিভাগ জানায়, ওই ইঞ্জিনিয়ার প্রায় এক বছর ধরে এই কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তবে তিনি কোন দেশের হয়ে কাজ করছিলেন, তা জানা যায়নি। সূত্র : আলজাজিরা
3
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লুহানস্কে রাশিয়ার সামরিক হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সেভেরোদোনেতস্কে ১২ জন এবং গিরস্কে বসতিতে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া লুহানস্কের আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং লিসিচানস্কের দিকে আরও অগ্রসর হয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (২০ মে) লুহানস্কের গভর্নরের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। লুহানস্কের গভর্নর সেরহি হাইদাই টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর হামলায় সেভেরোদোনেতস্ক ও গিরস্কে বসতিতে এই ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া রুশ সেনাদের হামলায় লুহানস্ক অঞ্চলে ৬০টিরও বেশি বাড়ি-ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া এসব বাড়ি-ঘর জোলোট, ভ্রুবিভকা এবং রুবিঝন এলাকায় অবস্থিত। হাইদাই আরও বলেন, তোশকিভকা এলাকায় এখনও সংঘর্ষ চলছে এবং সেসব এলাকার ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ করা অসম্ভব। এদিকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাধারণ কর্মীরা জানিয়েছেন, সেভেরোদোনেতস্কে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ হামলা ব্যর্থ হয়েছে এবং সেখানে রাশিয়া সেনা হারিয়েছে। এরপর সেখান থেকে রুশ সেনারা পিছু হটে বলেও দাবি করেছে তারা।
3
করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অল্প সুদে আরো ঋণ দেয়ার জন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'সরকার প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোও যেন এ বিষয়ে আরেকটু আন্তরিকতা দেখায়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন, আমাদের প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অল্প সুদে আর্থিক সহায়তার একটি পদক্ষেপ রয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে আমি মনে করি, আমাদের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আরেকটু আন্তরিক হওয়ার দরকার। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) ৩৫টি ব্যাংকের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে আসন্ন শীতকালে অসহায়দের সহায়তা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার পিস কম্বল প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এ অনুদান গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি এতে কিছুটা চাপ হবে, ব্যয় বাড়বে আমরা সরকারিভাবে দিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমাদের বেসরকারি ব্যাংকগুলোও যদি এগিয়ে আসে তাহলে শুরুতে হয়তো একটু সমস্যা হবে, তবে ব্যবসা-বাণিজ্য যদি শুরু হয়ে যায় বেসরকারি ব্যাংকগুলোও লাভবান হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আমাদের দেশে এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আবারও করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। তিনি বলেন, আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। সরকার এ বিষয়েও বেশ কিছু প্রস্ততি নিয়ে রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেকে সুরক্ষিত করুন এবং অন্যকেও সুরক্ষিত রাখুন। প্রদানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে এবং জীবনযাত্রায় যাতে করোনার দ্বিতীয় ডেউয়ের কোনো প্রভাব না পড়ে পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা চলতে থাকে যেজন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। এসময় সরকার প্রধান জানান, সরকার সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে এবং সেখানে বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। দেশে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সরকারের দেশের রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বাড়ানোর লক্ষ্য কাজ করছে।
6
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ। শুক্রবার (২৯ মে) ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি ল্যাবের নমুনা পরীক্ষায় তিনি করোনা পজিটিভ রোগী হিসেবে শনাক্ত হন। চট্টগ্রাম ওয়াসায় আরও একজন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। তবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওয়াসা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহর মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরেই করোনার নানা উপসর্গ দৃশ্যমান ছিল। এরপর গত ২৩ মে তিনি করোনার নমুনা দেন।
4
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও একটি দেহাবশেষের পুড়ে যাওয়া মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বিএম ডিপোর দক্ষিণ পাশের পুড়ে যাওয়া কনটেইনারের পাশ থেকে মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৬ জনে।ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আনিসুর রহমান মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।আনিসুর রহমান বলেন, গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় আগুন লাগা ও বিস্ফোরণের প্রায় ৮৬ ঘণ্টা পর আগুন নেভাতে সক্ষম হন তাঁরা। আগুন নিভে গেলে এখনো ড্যাম্পিংয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। বুধবার সন্ধ্যায় ডিপোর দক্ষিণ পাশে পুড়ে যাওয়া কনটেইনারের ড্যাম্পিং কাজ করার সময় একটি দেহাবশেষের পুড়ে যাওয়া মাথার খুলি ও কিছু হাড়গোড় দেখতে পান। এ সময় তাঁরা সেগুলো উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) মো.আশরাফুল করিম আজকের পত্রিকাকে জানান, সন্ধ্যায় কনটেইনারের পাশ থেকে একটি মরদেহের মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আরেকটি কনটেইনারের পাশ থেকে আরেকটা দেহাবশেষের মাথা ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়ালো ৪৬ জনে। বুধবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা দুটি মরদেহের দেহাবশেষ চমেক হাসপাতালে র মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।প্রসঙ্গত গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কাশেম জুট মিল গেট এলাকায় অবস্থিত বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাতে যান। আগুন নেভানোর কাজ করার সময় রাসায়নিক ভর্তি একটি কনটেইনারের বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এঘটনায় এখন পর্যন্ত সীতাকুণ্ড ও কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের ৯ জন ফায়ার ফাইটারসহ ৪৫ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিকেরও অধিক মানুষ।
6
জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুটি বিষয়ের নিস্পত্তি করতে হবে। প্রথমত দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত কিছু নতুন মুখ আছে যারা আগামী নির্বাচনে এমপি হয়ে সংসদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলবে। নারীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা রাখবে। রাজধানীর ডেমরা আমুলিয়া মডেল টাউন মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান। সারাদেশে নির্বাচনী জনসভার অংশ হিসেবে ঢাকা-৫ আসনে জাসদের এমপি প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলামকে জোটের এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে এ নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি আমরা সুশাসনের বাংলাদেশ চাই। যাতে বৈষম্য কমাবে, দারিদ্রতা কমবে। জঙ্গি-সন্ত্রাস দমন করতে হবে। এগুলো করতে হলে ঢাকা-৫ আসনে জাসদের প্রার্থী শহীদুল ইসলামকে দরকার, তিনিই করতে পারবেন। এগুলো হাবিবুর রহমান করতে পারবেন না। গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কড়া সমালোচনা করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন অংশগ্রহণ না করে চুপ থাকলেন। তার মতে, আমরা নাকি খারাপ লোক। এখন দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বিএনপি, দুর্নীতিবাজ খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের সাথে নির্বাচনী জোট করছেন। ড. কামাল হোসেনের এ কোন ডিগবাজি! জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জাসদ ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি ও ঢাকা-৫ আসনের ১৪ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম। সভায় আরো বক্তব্য দেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, সহ সভাপতি শফিউদ্দিন মোল্যা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক চুন্নু, জাসদ নেতা আজিজুর রহমান, মোখলেছুর রহমান মুক্তাদির, মহানগর পূর্বের সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম, যাত্রাবাড়ী থানার সভাপতি মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। সমাবেশ থেকে আগামী নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে শহীদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
9
করোনার সময় বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজে দস্যুতা বা ডাকাতির ঘটনা কমেছে। এরপরও প্রতিবেশী ভারত, সিঙ্গাপুর প্রণালি, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের জলসীমায় ৬৮টি সশস্ত্র ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই তালিকায় নেই বাংলাদেশ। দস্যুতা পর্যবেক্ষণকারী দুটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় সমুদ্রগামী জাহাজে এ বছর প্রথম ছয় মাসে কোনো ডাকাতির ঘটনা বা ঘটনার চেষ্টা হয়নি। গত বছর একই সময়ে তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। সম্প্রতি সংগঠন দুটি আলাদাভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বন্দর জলসীমায় চলাচলরত দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে চুরি-ডাকাতির মতো ঘটনা না ঘটায় বহির্বিশ্বে এ বন্দরের জলসীমা নিরাপদ হিসেবে সুনাম বাড়বে। বিদেশি জাহাজের নাবিকেরাও এ জলসীমাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করবে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, বন্দর,কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর তদারকি বৃদ্ধির কারণেই মূলত বন্দর জলসীমায় এবার কোনো দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। এর ফলে বন্দরপথে চলাচলরত জাহাজের ইনস্যুরেন্সের প্রিমিয়াম কমবে। তাতে পণ্য পরিবহনের খরচও কমবে। বন্দরের বেতার নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বা ভিটিএমআইএসের মাধ্যমে সচিত্র তদারক করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক কোনো নৌযানের উপস্থিতি দেখলে বন্দর থেকে কোস্টগার্ডকে জানানো হয়। এরপর কোস্টগার্ড দ্রুতগতির নৌযানে করে ঘটনাস্থলে গিয়ে তা প্রতিরোধ করে। দেশের জলসীমার উপকূল থেকে সাগরের দিকে ১২ নটিক্যাল মাইল এলাকা পর্যন্ত নজরদারি করে কোস্টগার্ড। আর ১২ নটিক্যাল মাইলের পর থেকে দেশের সমুদ্রসীমানা পর্যন্ত নজরদারি করে নৌবাহিনী। শুধু বন্দরই নয়, বন্দরের বাইরেও বাংলাদেশের জলসীমায় দস্যুতা বা চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। মূলত বন্দর, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর তদারকিতে এবার সাগরে দেশি-বিদেশি জাহাজে চুরি-ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। জলদস্যুতা পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরো বা আইএমবি তাদের অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, গত বছর প্রথম ছয় মাসে বিশ্বে বাণিজিক জাহাজে ৯৮টি চুরি-ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এ বছর প্রথম ছয় মাসে তা কমে হয়েছে ৬৮টি। এর মধ্যে বাংলাদেশের জলসীমা বা চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় একটি ঘটনাও ঘটেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দস্যুতা পর্যবেক্ষণকারী অপর আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য রিজিওনাল কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট অন কমব্যাটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি অ্যাগেইনেস্ট শিপস ইন এশিয়া বা রিক্যাপের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে বাণিজ্যিক জাহাজে ৫৭টি ডাকাতি ও ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছিল। এ বছর তা ৩৫ শতাংশ কমে হয়েছে ৩৭টি। বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ চীন সাগর এবং সুলু সাগরে কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।
0
প্রায় তিন মাস ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে দুই পক্ষেরই হতাহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকার দখল নিতে রাশিয়া প্রচুর উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার ইতোমধ্যেই করে ফেলেছে। আর কিছু অস্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষা তারা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে। এবার নতুন এক ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা করেছে দেশটি। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী ইউরি বরিশফ জানিয়েছেন, তারা এক নতুন লেজার অস্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। অস্ত্রটির নাম 'দ্য পেরেসভেট সিস্টেম'। রুশ বাহিনীকে ইতোমধ্যেই এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই অস্ত্র খুব সহজেই প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের ড্রোনকে ধ্বংস করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, পৃথিবী থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার ওপরে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহকে অচল করতেও সক্ষম এই অস্ত্র। ২০১৮ সালে বেশ কয়েকটি নতুন অস্ত্রের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যার মধ্যে ছিল আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ছোট পারমাণবিক অস্ত্র, পারমাণবিক ড্রোন, সুপারসনিক অস্ত্র ও লেজার অস্ত্র। ধারণা করা হচ্ছে, 'দ্য পেরেসভেট সিস্টেম' এর নাম করা হয়েছে রাশিয়ার মধ্যযুগীয় সন্ন্যাসী আলেকজাণ্ডার পেরেসভেটের নামে। যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াইরত অবস্থায় নিহত হন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বরিশফের এই ঘোষণার পর আমেরিকা এবং চীনের মতো পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোও এই অস্ত্র তৈরিতে উদ্যোগী হয়ে উঠবে। বরিশফের বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, রাশিয়ায় তৈরি এই অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বিচ্ছিন্ন করতে ব্যবহৃত হতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার অন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউক্রেন সীমান্তে সেনাবাহিনীর অবস্থানের ওপর ক্রমাগত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
3
বর্তমানে বলিউডে আইটেম গানেডান্সার হিসেবে তালিকার উপরেই রয়েছেনোরা ফাতেহির নাম। কাজ করেছেন রুপালি পর্দাতেও। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ফটোশুটের ছবি আপলোড করেছেন তিনি। মুক্তা দিয়ে তৈরি অন্তর্বাস পরানোরার এই ছবি আপলোডের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিটি রীতিমতো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ঝড় তুলেছে। ইনস্টাগ্রামেই লাইক পেয়েছে ছবিটি প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ ৬০ হাজার। নোরা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি 'হৃদয়ে ভারতীয়' বলে নিজেকে অভিহিত করে থাকেন। রোয়ার : টাইগার্স অব দ্য সুন্দরবনস চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার বলিউডে অভিষেক ঘটেছিল। বিডি প্রতিদিন/এমআই
2
ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেছেন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি শোষণহীন সমাজ চেয়েছিলেন। যেখানে জনগণ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পাবে। শিক্ষা শেষে প্রত্যেকে একটি চাকরি পাবে- এমনই একটা সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল অডিটোরিয়ামে 'ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন'র উদ্যোগে আয়োজিত 'আমার বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃহল বক্তৃতা প্রতিযোগিতার অষ্টম পর্বের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শাহ্ মো. মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের মুজিব শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার, সদস্য সচিব সুভাষ সিংহ রায় এবং চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র নিউজ এডিটর মীর মাসরুর জামান রনি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতার সমন্বয়ক কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ. কে. আজাদ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, 'এই হলে এসে আবার যেন আমি ৩৭ বছর আগে ফিরে গেছি। হল প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এই হলের আবাসিক সঙ্কট কীভাবে দূর করা যায় সেই বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা করবো। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলে কী কী সমস্যা রয়েছে- সেটি খুঁজে বের করে আমাকে জানালে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারের সহায়তায় সেই সমস্যা দূর করার চেষ্টা করবো।' তিনি বলেন, 'তিন মিনিট কিংবা পাঁচ মিনিটের মধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বক্তৃতা দেওয়া সম্ভব না। তিনি ছিলেন অনেক বড় মাপের মানুষ। তিনি তার জীবনের ৮৪ শতাংশ সময় মানুষের জন্য ব্যয় করেছেন। মানুষের জন্য ও দেশের জন্য অনেক বাঙালিই আত্মত্যাগ করেছেন। তবে বঙ্গবন্ধুর মতো কেউ এতটা সময় পরিবার থেকে দূরে থেকেছেন বলে আমার মনে হয় না।' এ. কে. আজাদ বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর জীবনকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি সারাজীবন মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। সেই স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। তবে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।' বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তাদের ভাবনা, তাদের ধারণ করা চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন কীর্তি তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতার এই পর্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের মমতাজ জিন্নাত সাগর ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আনোয়ার ইব্রাহিম বিপ্লব। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গত ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে এই বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ধারাবাহিকভাবে চলছে। প্রত্যেক হল থেকে প্রথম স্থান অধিকার করা শিক্ষার্থী আগামী ১১ ডিসেম্বর প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
6
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ২২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। একই সময় এ ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৭৬৮ জন। যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। আজ সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।এর আগে গতকাল রোববার দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ২৩০ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছিল। যা একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। একই সময়ে ১১ হাজার ৮৭৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছিলেন। যা একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্ত।গত ২৪ ঘণ্টায় ২২০ জনের মৃত্যু নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ৬৩৯ জন আর আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৭ জন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত এক দিনে আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে ৬২৭টি সক্রিয় ল্যাবে ৪৬ হাজার ৪৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে ১৩ হাজার ৭৬৮টি। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এই সময়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে এক দিনে মারা গেছেন ৬৪ জন। আর খুলনা বিভাগে ৫৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন, বরিশালে চারজন, সিলেটে ছয়জন, রংপুরে ১৮ জন এবং ময়মনসিংহে ১৩ জন মারা গেছেন।মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬৭, বেসরকারি হাসপাতালে ৪০ জন। বাসায় মারা গেছেন ১৩ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১৪২ জন, আর নারী ৭৮ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত ২২০ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১২১ জন, ৫১-৬০ বছর বয়সী ৪৬ জন, ৪১-৫০ বছর বয়সী ২৬ জন, ৩১-৪০ জন বছর বয়সী ১৭ জন, ২১-৩০ বছর বয়সী ৯ জন।এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন ৭ হাজার ২০ জন রোগী। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৮ লাখ ৮১ হাজার ৫২১ জন।২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম কোভিড আক্রান্ত শনাক্তের পর দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে নভেল করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্তের খবর জানানো হয় গত বছরের ৮ মার্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রথম মৃত্যুর খবর জানায় ১৮ মার্চ।
6
সারাদেশের ন্যায় প্রাণ ফিরেছে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত হয় দীর্ঘদিনের নির্জীব ক্যাম্পাস। অনেকদিন পর সহপাঠীদের কাছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হয়েছে প্রাণের সঞ্চার। সরেজমিনে আজ রবিবার দেখা যায়, কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার মন্তলী হাই স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীপ্রবেশের সময় স্কুল গেটে একদল স্বেচ্ছাসেবক তাদের তাপমাত্রা পরিমাপ করছে। এরপর তাদের স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে স্কুলে প্রবেশ করানো হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে মাস্ক, সচেতনতার জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা দাঁড়িয়ে আছেন বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে। স্বেচ্ছাসেবক টিমের সমন্বয়ক জহিরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থার আয়োজন করেছি। শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে ক্লাস শেষ করে বাড়ি ফিরতে পারে তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। মন্তলী হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল বলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দিনে শিক্ষার্থীদের নিয়ম মেনে স্কুলে প্রবেশ করিয়েছি। বিডি প্রতিদিন/ অন্তরা কবির
6
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, 'আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে এখনো প্রায় ৪০ লাখ শিশু শ্রমিক কাজ করে। পুড়ে যাওয়া কারখানাটিতে ১০ বছর বয়সী শিশু শ্রমিকেরাও কাজ করেছে। তাদের অনেকেই পুড়ে মরেছেন। যদিও সরকার দাবি করছে আমরা অনেক উন্নত হয়ে গেছি। এতই যদি দেশের উন্নতি হবে, তাহলে কলকারখানাগুলোতে এত এত শিশু কাজ করছে কেন, দেশে এত শিশু শ্রমিক কেন?' আজ মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড লিমিটেডের পুড়ে যাওয়া ভবন দেখতে এসে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিএনপির প্রতিনিধিদলটি কারখানাটি ঘুরে দেখে। নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমুর আলম খন্দকার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান, ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম ও কার্যকরী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে কারখানা পরিদর্শন শেষে ফেরার সময় বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আসা নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় কারখানার বাইরে বেতনের জন্য অপেক্ষমাণ শ্রমিকেরা আতঙ্কিত হয়ে কারখানা এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ ও নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নজরুল ইসলাম খান বলেন, কেবল অবহেলা, ভুল ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে এতগুলো মানুষকে অকালে জীবন দিতে হয়েছে। দেশে-বিদেশে কারখানাটির পণ্যের যতটা সুনাম কারখানার কর্মপরিবেশ সে অনুযায়ী নিরাপদ নয়। একটি ভালো কারখানায় পরিবেশ যেমন থাকার কথা, তার কোনোটাই এখানে দেখা যায়নি। অথচ এগুলো দেখার জন্য, কর্মপরিবেশ নিরাপদ করার জন্য সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে একটাই অভিযোগ, এখানে শিশু শ্রমিক কাজ করে। কিন্তু এখানকার পরিবেশ যে কাজ করার উপযোগী নয়, এত বড় ফ্লোরে যে মাত্র দুটি সিঁড়ি, সেগুলো নিয়ে তারা কথা বলেনি। তিনি বলেন, 'আমাদের দেশের আইনে ত্রুটি আছে সত্য। কিন্তু যতটুকুই আইন আছে, সেটার বাস্তবায়ন নিয়েও অবহেলা। আইনের বাস্তবায়ন হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।' আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'রানা প্লাজায় মারা যাওয়া শ্রমিকদের আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এই কারখানার সঙ্গে বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের সম্পর্ক আছে। সেই ব্র্যান্ডগুলোরও দায়িত্ব আছে। সেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠানকেও দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া। আমরা সেখানে সহযোগিতা করতে রাজি আছি।' দেশের কারখানাগুলোতে লাখ লাখ শ্রমিক অনিরাপদ কর্মপরিবেশে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকের জীবন রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসায় তারা সেই দায়িত্ব পালনে নির্বিকার। এ কারণে সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোরও কোনো জবাবদিহি নেই।
9
হেফাজত ইসলামের বিভিন্ন সহিংস ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি থানাসহ মোট ২৭টি পয়েন্টে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। থানা গুলোর ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের সামনে বালির বস্তা ফেলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি জনবল বৃদ্ধি ও এলএমজি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। থানাগুলোর সঙ্গে সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। থানাগুলো হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা, বিজয়নগর, নবীনগর, আশুগঞ্জ, সরাইল, নাসিরনগর, কসবা, আখাউড়া ও বাঞ্ছারামপুর থানা। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ১নং শহর পুলিশ ফাঁড়ি, ২নং শহর পুলিশ ফাঁড়ি, বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ি ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার পুলিশ ফাঁড়ি, নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় তদন্ত কেন্দ্র ও বিজয়নগর উপজেলার আউলিয়া বাজার তদন্ত কেন্দ্র, আশুগঞ্জ সার কারখানা পুলিশ ক্যাম্প, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (পিডিবি) পুলিশ ক্যাম্প, আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা পুলিশ ক্যাম্প, নবীনগর উপজেলার শিবপুর পুলিশ ক্যাম্প ও ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্প, বিজয়নগর উপজেলার চম্পনগর পুলিশ ক্যাম্প, জেলা পুলিশ লাইন্সে ৪টি এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ১ টিসহ মোট ২৭টি এলএমজি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তা পোস্ট গুলোতে আধুনিক ও ভারি অস্ত্রসহ প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র ও পুলিশ ক্যাম্পে ইতোমধ্যেই জনবল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়েছে। অপ্রত্যাশিত যে কোন হামলা বা সহিংস ঘটনা এড়াতে ঊর্ধ্বতন অফিসাররা নিয়মিত মনিটরিং করছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র ও পুলিশ ক্যাম্পগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। সকল পুলিশি স্থাপনা গুলোতে বালির বস্তা ফেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
6
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে যুবলীগের সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক একরামুল হককে সংগঠন থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।আজ বুধবার যুবলীগের উপদপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশের নির্দেশে সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের এক স্বাক্ষরে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
9
ডুমুরিয়ার চুকনগর ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৭ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। খুলনা জেলা পরিষদের দায়ের করা এক মামলায় গত বুধবার খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গতকাল চুকনগর বাজারের দোকানপাট বন্ধ রেখে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।জানা গেছে, চুকনগর বাজারের যতিন-কাশেম সড়কের জায়গায় ঘর করাকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। একপর্যায়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন জেলা পরিষদের কর্মকর্তা মো. হাসান। ওই মামলায় চুকনগর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রহ্লাদ ব্রহ্ম, সাধারণ সম্পাদক সরদার অহিদুল ইসলামসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়।মামলার অন্য আসামিরা হলেন, পার্থ কুমার কুন্ডু, আজহারুল ইসলাম মোড়ল, এম এম সাঈদুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, তবিবুর রহমান মোড়ল, রিয়াদ মোড়ল, আতাউর রহমান, প্রহ্লাদ ব্রহ্ম, অহিদুল সরদার, বিশ্বাস আফসার আলী, দুলাল কৃষ্ণ পাল, অশিত কুমার পাল, বিধান তরফদার, পুলিন বিহারি পাল, অশোক রায়, খাদিজা বেগম, আজিজুল হক সরদার, বিল্লাল হোসেন সরদার, আশরাফ আলী সরদার, মো. মনিরুল হক, মো. নজিবর মোড়ল, মো. সিরাজ উদ্দিন সরদার, রেজাউল করিম সরদার, মো. আব্দুল্লাহ মোড়ল, মো. আব্দুল আলীম শেখ, তৈয়েবুর রহমান, আতাউর রহমান মোড়ল, মো. ফিরোজ উদ্দিন, বৈদ্যনাথ কুন্ডু, শেখ আনোয়ারুল কবির, জাহিদুর রহমান, কবির হোসেন ডাবলু এবং শরিফুল সরদার।উক্ত মামলায় বুধবার ৩২ জন আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত এম এম সাঈদুর রহমান, বিশ্বাস আফসার আলী, অশিত কুমার পাল, খাদিজা বেগম এবং মনিরুল হকের জামিন মঞ্জুর করেন। বাকি ২৭ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
6
রুনা লায়লার কাছে একবার জানতে চাওয়া হয়েছিল, সংগীতশিল্পী না হলে তিনি আর কী করতেন? উত্তরে রুনা লায়লা বলেছিলেন, 'আমাকে শিল্পী ছাড়া আর কোনো রূপেই পাওয়া যেত না। আমার জন্মই হয়েছে গানের জন্য। গান ছাড়া আমি আর কিছুই পারি না।'কথাটি অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। রুনা লায়লার বয়স এখন ৬৯ বছর। এর মধ্যে ৫৭ বছরই তিনি গান করছেন। এখনো সমানতালে মঞ্চ মাতান উপমহাদেশের এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী।গত ১৯ নভেম্বর লন্ডনে গিয়েছেন রুনা লায়লা। গান গাইতে নয়, সেখানে গিয়েছেন মূলত মেয়ে তানি লায়লা ও দুই নাতির সঙ্গে সময় কাটাতে। লন্ডনেই থাকেন তাঁরা।তবে পারিবারিক সফরে গেলেও গানের অনুরোধ তাঁর পিছু নেয় সব সময়। এরই মধ্যে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের ৫০ বছর উপলক্ষে মৈত্রী দিবস উদ্যাপন হয়েছে লন্ডনে। ওই অনুষ্ঠানে গান গাইতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল রুনা লায়লাকে। তিনিও সানন্দে অংশ নিয়েছেন। উপস্থিত দর্শকদের তিনি গেয়ে শোনান 'গঙ্গা আমার মা' ও 'দামা দাম মাস্ত কালান্দার' গান দুটো।রুনা লায়লা বলেন, 'এই দুটো গান গাওয়ার জন্য আমাকে বিশেষভাবে বলা হয়েছিল। তাই এ দুটি গানই পরিবেশন করেছি। সবাই মুগ্ধ হয়েছেন। এমন অনুষ্ঠানে গাইতে পেরে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ভীষণ সম্মানিত বোধ করেছি।'রুনা লায়লা জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানের। সেখানেও অংশগ্রহণের ব্যাপারে কথা চলছে তাঁর। শিগগিরই দেশে ফিরছেন না রুনা লায়লা। এ বছরের পুরোটা সময় তিনি লন্ডনেই থাকবেন। আগামী বছরের এপ্রিলে রুনা লায়লার দেশে ফেরার সম্ভাবনা আছে।
6
'কী অদ্ভুত উপায়ে আমি ভাসছি/নক্ষত্রগুলোকে আজ অন্য রকম মনে হচ্ছে/এখানে, আমি টিনের এক কৌটার ভেতর বসে আছি/পৃথিবী থেকে অনেক ওপরে/নিচে নীলরঙা পৃথিবী/আর আমার কিছুই করার নেই।' সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন যখন মহাকাশে বিচরণ করছিলেন, তখন তাঁর মনে হয়তো পপস্টার ডেভিড বউয়ির বিখ্যাত 'স্পেস অডিটি' গানের মতোই অনুভূতি হয়েছিল। আর তার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল প্রথমবার মহাকাশে যাওয়ার উত্তেজনা।মহাশূন্য প্রতিযোগিতায় ১৯৬১ সালে এগিয়ে যায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। কিন্তু এরপর থেকে মহাকাশ ভ্রমণে নেই উল্লেখ করার মতো তাদের কোনো অর্জন। সোভিয়েত ইউনিয়নের আগেই চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৬৯ সালে প্রথম চাঁদে পা রাখেন নীল আর্মস্ট্রং। মহাকাশে নিজেদের স্টেশন বানিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গেছে চীনও। রাশিয়া এখনো প্রথম অর্জন নিয়েই বসে থাকবে-এটা কি করে হয়? তাই প্রতিযোগিতায় গতকাল নতুন এক মাইলফলক যুক্ত করেছে রাশিয়া। এবারও লড়াইটা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই। কী সেই লড়াই?গত বছরই মহাকাশে সিনেমার শুটিং করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মিশন ইমপসিবল তারকা টম ক্রুজকে নিয়ে হবে সেই শুটিং। এতে সহায়তা করবে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স। কিন্তু শুটিংয়ের জন্য মহাকাশযাত্রার তারিখ ঠিক করা হয়নি এখনো।এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে নতুন মাইলফলক গড়েছে রাশিয়া। গতকাল প্রথমবার মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন দেশটির একজন নির্মাতা এবং অভিনেত্রী। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১২ দিন সিনেমার শুটিং করবেন তাঁরা। বাংলাদেশ সময় গতকাল বেলা ৩টায় বাইকোনার কসমোড্রোম থেকে সুয়োজের মহাকাশযানে করে শুরু হয় মহাকাশযাত্রা। 'সুয়োজ এমএস-১৯' নামের এ মিশন ধূলিসাৎ করে দেয় মিশন ইমপসিবল তারকাকে নিয়ে গড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন।যে সিনেমার জন্য এত আয়োজন তার গল্পটা হলো-মহাকাশ স্টেশনে একজন নভোচারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। যেকোনো সময় মারা যেতে পারেন। দ্রুত তাঁর চিকিৎসা প্রয়োজন। এ অবস্থায় পাঠানো হচ্ছে একজন চিকিৎসক। তাঁর সেই অভিযান এবং মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানের সময়টাই দেখানো হবে 'দ্য চ্যালেঞ্জ' শিরোনামের সিনেমায়।শুটিং করতে মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে এরই মধ্যে রওনা দিয়েছেন নির্মাতা ক্লিম শিপেনকো (৩৮) এবং অভিনেত্রী ইউলিয়া পেরেসিল্ড (৩৭)। কিন্তু তাঁদের তো মহাকাশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। যাবেন কি করে? তাই সঙ্গে গেছেন তিনবার লম্বা সময় ধরে মহাকাশে যাত্রা করা অভিজ্ঞ নভোচারী অ্যান্টন কাপলেরভ। তিনি কয়েক মাস সেখানে থাকলেও ১৭ অক্টোবর ফিরে আসবেন সিনেমার দুই কলাকুশলী। এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস।সিনেমার নাম দ্য চ্যালেঞ্জ। আর বাস্তবেও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে শিপেনকো ও পেরেশিল্ডকে। কেননা, সেখানে থাকছেন না অন্য কলাকুশলীরা। নির্মাতার কাজের অন্যতম সাহায্যকারী ক্যামেরাপারসন এবং প্রোডাকশন হাউসের লাইট নিয়ে কাজ করা কর্মীরা। কিন্তু নির্মাতা ক্লিম শিপেনকোতে কাজ করতে হবে একা। ক্যামেরা চালাতে হবে তাঁকেই। সঙ্গে আলোর (লাইট) ব্যবস্থাও করতে হবে। কিছুটা বিপাকে পড়তে পারেন অভিনেত্রী ইউলিয়া পেরেসিল্ডও। কেননা, সেখানে থাকছেন না কোনো মেকআপ আর্টিস্ট। ফলে নিজেই এ কাজ করতে হবে।বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী 'স্পেস' জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি নিয়েই তাঁরা মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছেন। এতক্ষণে হয়তো শুরু হয়ে গেছে সিনেমার শুটিং। এর মধ্য দিয়ে রাশিয়া যে মাইলফলকে পৌঁছে গেছে, সেটি তাদের পরবর্তী পদক্ষেপেও বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা রসকসমস।
3
করোনা মোকাবেলায় দরিদ্র্য দেশগুলোতে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি চালাতে সাময়িকভাবে মেধাস্বত্ত্ব ছাড় দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর চাপ বাড়ছে। নৈতিকতার দিক বিবেচনায় শুক্রবার আইনপ্রণেতা ও অলাভজনক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাইডেনের কাছে এমন একটি আবেদন করা হয়েছে, যাতে ২০ লাখ মানুষের স্বাক্ষর রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একদল সেনেটর, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সেখানকার প্রায় ১০০ সদস্য এবং ৬০ জন প্রাক্তন রাষ্ট্র প্রধান ও ১০০ জন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী একই আবেদন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে চিঠি দেন। সেনেটর বার্নি স্যান্ডারস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব যত বেশি সংখ্যক মানুষের টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে, যাতে ভাইরাসের বিবর্তনের সুযোগ কমে যায়। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রেও হয়তো আবারও কড়া লকডাউন আরোপের মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
3
শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচজন করে মোট ১০ জন আত্মপ্রত্যয়ী ও সংগ্রামী নারী। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা গতকাল রোববার সকালে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান করেন। রাজধানীর দোয়েল চত্বরে শিশু একাডেমির সভাকক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতা হলেন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বুলবুল নার্গিস, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ও এন এম সিদ্দিকা খানম, সফল জননী ক্যাটাগরিতে বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার সামছুন্নাহার, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা বরিশাল সদরের জেসমিন আক্তার এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় বরিশাল সদরের রহিমা সুলতানা কাজল।শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে নির্বাচিত প্রত্যেকেই সম্মাননা স্মারক, নগদ অর্থ ও সনদ পাবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, বাংলাদেশে আজ নারীরা প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। গত এক যুগে এ দেশে নারী উদ্যোক্তাদের অভাবনীয় বিকাশ হয়েছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নারী উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার জন্য।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, সরকারের নীতি, কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের অত্যন্ত সহায়ক। বাংলাদেশের আজ যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, তাতে নারীর রয়েছে অসামান্য অবদান।অনুষ্ঠানে আরও যুক্ত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।
6
মিয়ানমারে সেনাবাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই চলাকালীন দেশটির ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা চিন রাজ্যের থান্তলাং শহরের বেশির ভাগ বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় শহরটিতে বাস করা অন্তত ১০ হাজার মানুষের অধিকাংশই পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন ভারতের মিজোরাম রাজ্যসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়।অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে মিয়ানমারের জুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয়েছে আন্দোলন, ধর্মঘট এবং জান্তা বিরোধী বিক্ষোভ। এর মধ্যেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী।রয়টার্স জানায়, গত সপ্তাহে বিদ্রোহী এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই চলাকালীন থান্তলাং শহরের প্রায় ২০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ছবি দেখা গেছে।স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই শহরের একজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজককে গুলি করে হত্যা করেছে সেনারা। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ধর্মযাজকের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ওই অঞ্চলের শতাধিক সন্ত্রাসী' সেনা সদস্যদের ওপর প্রথমে হামলা চালায় এবং পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।থান্তলাং শহর থেকে পালিয়ে যারা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার আশায় রয়েছেন, তাদের বিষয়ে দিল্লি বা জান্তা সরকারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে আশ্রয়প্রার্থীরা বর্তমানে দুর্বিষহ দিন পার করছেন বলে জানিয়েছেন সালাই থাং নামে থান্তলাং সম্প্রদায়ের এক নেতা।
3
লন্ডন থেকে সিরিয়ায় গিয়ে ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগম তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়াকে 'অন্যায়' বলে উল্লেখ করেছেন। সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত ১৯ বছর বয়সী এ তরুণী বুধবার আইটিভি নিউজের কাছে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শামীমা বেগম বলেন, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত 'হৃদয়-বিদারক'। তবে তিনি তার ডাচ স্বামীর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন বলে জানান। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনে বসবাসরত শামীমার মায়ের কাছে চিঠি পাঠান যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ। শামীমা হোম অফিসের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বলেও চিঠিতে জানানো হয়। অন্যতম শীর্ষ ব্রিটিশ নিউজ চ্যানেল আইটিভি তাদের অনলাইন সংস্করণে শামীমার মায়ের কাছে লেখা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি প্রকাশ করেছে। চিঠিতে শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তার মাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, 'আপনার মেয়ের সর্বশেষ অবস্থা পর্যালাচনা করে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হোম সেক্রেটারি। চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত ডকুমেন্টটি এ বিষয়ক।' সিরিয়া রিফিউজি ক্যাম্পে অবস্থানরত শামীমাকে এ তথ্য জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয় চিঠিতে। চিঠির বিষয়টি উল্লেখ করে শামীমার আইনজীবী তাসনিম আখঞ্জি এক টুইট বার্তায় বলেন, শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে তার পরিবার মর্মাহত। তিনি জানান, বিষয়টি আইনগত চ্যালেঞ্জের জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগে গত রোববার শামীমার পরিবারের আইনজীবী মোহাম্মদ তাসনিম আখুঞ্জি জানান, তারা জানতে পেরেছেন সিরিয়ায় শামীমা একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এবং শিশুটি সুস্থ আছে। তাসনিম আখুঞ্জি বলেন, 'এখনও শামীমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়নি। তবে জেনেছি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছে শামীমা।' ১৯ বছরের শামীমার এটি তৃতীয় সন্তান। তার আগের দুটি সন্তানই অপুষ্টি এবং বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। সিরিয়ায় গিয়ে এই তরুণী নেদারল্যান্ডস থেকে আসা একজন আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেছিলেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকা থেকে আরও দু'জন বান্ধবীসহ আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন শামীমা বেগম। গত সপ্তাহে লন্ডনের দৈনিক দ্য টাইমসের একজন সাংবাদিক সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে শামীমা বেগমের খোঁজ পান। তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ওই সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেন যেন তার অনাগত সন্তানের কথা বিবেচনা করে তাকে ব্রিটেনে ফিরতে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ব্রিটেনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয় যে, নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়া তরুণীকে ফেরত আসতে দেয়া উচিত কি-না।
3
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নববধূ রুবিনা আক্তারকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. লিটনকে (৩০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত লিটন উপজেলার চরকাদিরা এলাকার প্রয়াত মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ইটভাটার শ্রমিক। লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বুধবার লিটনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের শেষের দিকে উপজেলার চরকাদিরা এলাকার চৌধুরী মাঝির মেয়ে রুবিনা আক্তারের সঙ্গে ফুফাতো ভাই লিটনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ছয় মাস পর ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল বিকেলে পুলিশ লিটনের বাড়ি থেকে রুবিনার মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় রুবিনা গলায় ফাঁস দিয়েছেন বলে পরিবারের লোকজন প্রচার করে। এ ঘটনায় পুলিশ থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই বছরের ২৯ মে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, রুবিনাকে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই বছরের ৮ জুলাই কমলনগর থানার এসআই মো. মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে রুবিনার স্বামী মো. লিটনকে অভিযুক্ত করা হয়। গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদে লিটন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এতে তিনি স্বীকার করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একটি আমের ডাল দিয়ে তিনি স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন। এতে স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে গেলে মারা গেছেন ভেবে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আম গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান তিনি। এদিকে মামলাটি কমলনগর থানার এসআই অনিমেষ মন্ডলকে তদন্তের জন্য দেওয়া হলে ৩১ আগস্ট তিনি রুবিনার স্বামী লিটনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
6
কারও উচ্চতা দু'ফুট, তো কারও আবার দেড় ফুট। এদের অনেকেই বিশ্বের খর্বকায় ব্যক্তি হিসেবে গিনেস রেকর্ড করেছেন। বিশ্বের এই খর্বকায় ব্যক্তিদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। জুনরি বালাউইং: গিনেজ রেকর্ড অনুয়াযী বিশ্বের খর্বকায় ব্যক্তি জুনরি বালাউইং। উচ্চতা প্রায় ১ ফুট ১১.৬২ ইঞ্চি। ১৯৯৩-তে ফিলিপিন্সের সিন্দানগানে এক কামারের ঘরে জন্ম জুনরির। চার ভাইবোনের মধ্যে জুনরিই বয়সে বড়। এক বছর বয়স থেকেই তার শারীরিক বৃদ্ধি থমকে যায়। অজয় কুমার: গিনেস পাকরু নামে পরিচিত মালয়ালম হাস্যকৌতুক অভিনেতা অজয়। খর্বকায় অভিনেতা হিসেবে গিনেস রেকর্ড রয়েছে তার। অজয়ের উচ্চতা ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। আদিত্য রোমিও জ্যোতি আমগে: ১৯৯৩-তে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে জন্ম। পেশায় অভিনেত্রী। ২০১১-তে বিশ্বের খর্বকায় মহিলা হিসেবে ঘোষণা করে গিনেস। তার উচ্চতা ২ ফুট ০.৬ ইঞ্চি। অ্যাকোন্ড্রোপ্লাসিয়া নামে জিনগত সমস্যার কারণে তার শারীরিক বিকাশ ঘটেনি। বিগ বস ৬-এর প্রতিযোগী ছিলেন তিনি। এডওয়ার্ড নিনো হার্নান্ডেজ: ২০১০-এ বিশ্বের খর্বকায় ব্যক্তি হিসেবে গিনেস রেকর্ড করেন। ২৪ বছর বয়সে তার উচ্চতা ছিল ২ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি। ওজন ছিল ১০ কেজি। ১৯৮৬-তে জন্ম কলম্বিয়ার বোগোটায়। নেপালের খগেন্দ্র থাপার আগে খর্বকায় পুরুষ হিসেবে রেকর্ড ছিল তার। খগেন্দ্র থাপা: এডওয়ার্ড নিনো হার্নান্ডেজের পর বিশ্বের খর্বকায় পুরুষ হিসেবে রেকর্ড ছিল নেপালের বাসিন্দা খগেন্দ্রর। তার উচ্চতা প্রায় ২ ফুট আড়াই ইঞ্চি। স্থানীয়দের কাছে তিনি 'লিটল বুদ্ধ' নামে পরিচিত। আদিত্য রোমিও: বিশ্বের খর্বকায় বডি বিল্ডার। উচ্চতা ২ ফুট ৯ ইঞ্চি। ওজন ৯ কিলোগ্রাম। পঞ্জাবের কাপুরথালার ফাগওয়ারায় ১৯৮৮-তে জন্ম। মাত্র ২৩ বছর বয়সে ২০১২-তে মৃত্যু হয় তার। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
5
ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের বিদায়ী আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ডি ওয়াটকিনস বলেছেন, বাংলাদেশে এখন নির্বাচনের সুবাতাস বইছে। জাতিসংঘ প্রত্যাশা করে, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক হবে। নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংহত ও শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ। এ নিয়ে জাতিসংঘ কখনও হস্তক্ষেপ করে না, করবেও না।বৃহস্পতিবার কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত 'ডিক্যাব টকে' অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ডিক্যাব টকের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিক্যাব সাধারণ সম্পাদক পান্থ রহমান।জাতিসংঘের প্রতিনিধি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট হঠাৎ শুরু হওয়া কোনো সংকট নয়। আশির দশক থেকে এ সংকটের শুরু। তখন থেকে জাতিসংঘ এ সংকট সমাধানে নানা পর্যায়ে কাজ করছে। তবে গত ২৫ আগস্টের পর এ সংকট প্রবল আকার ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। এ অবস্থায় এই মুহূর্তে প্রবলতম শরণার্থী সংকট বাংলাদেশের ওপর কঠিন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই রোহিঙ্গাদের রাখাইনে প্রত্যাবাসন ছাড়া সংকটের কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। সংকট এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, স্বল্প সময়ে এর সমাধান সম্ভব নয়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিয়েছে।রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞ বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, এটা সত্য যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এখন পর্যন্ত রাখাইনে গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি; কিন্তু বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিন দফা আলোচনা হয়েছে। রাখাইনে গণনিষ্ঠুরতার নিন্দাও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জরুরি মানবিক সহায়তা নিয়ে রোহিঙ্গা সংকটে সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামোয় নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ প্রভাবশালী রাষ্ট্রের কাছে যেখানে সব ক্ষমতা, সেখানে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা রাখার বাস্তবতা কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতিসংঘ চলছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বাক্ষর করা সনদ অনুযায়ী। সদস্য রাষ্ট্রগুলো চাইলে কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে পারে; কিন্তু এখন বর্তমান কাঠামোর ভেতর থেকেই ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।আন্তর্জাতিক অনুদান পাওয়ার প্রত্যাশায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বিলম্ব করছে- মিয়ানমারের এক মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। মিয়ানমার জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের রাখাইন পরিদর্শনের সুযোগ না দিয়ে বরং অসহযোগিতা করছে। রাখাইনে বিপন্ন মানুষের জন্য ত্রাণ সরবরাহ কাজও সঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। আর বাংলাদেশ প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বিপন্ন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের সামনে উদার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
6
আগামী সোমবারের মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) ১০০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে গ্রামীণফোনের। আপিল বিভাগ এই অর্থ পরিশোধ করতে বলেছেন। একই সঙ্গে আগামী সোমবার গ্রামীণ ফোনের রিভিউ আবেদনের ওপর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এ দিন ধার্য করেন।এই রায়ের পর পুঁজিবাজারে দর বেড়েছে গ্রামীণফোনের শেয়ার। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টা পর্যন্ত টেলিকম খাতের এ কোম্পানির শেয়ারের দাম গতকালের চেয়ে ১০ টাকা বেড়েছে। বেলা ১টার দিকে শেয়ারটি লেনদেন হচ্ছে ২৯৬ টাকা ৫০ পয়সায়। গতকাল বুধবার দিন শেষে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম সাড়ে ২১ টাকা বা ৮ শতাংশের বেশি বেড়ে ২৮৬ টাকায় উঠে। তবে আজ সকালে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমতে দেখা যায়। নিয়ম অনুযায়ী, গতকাল ঢাকার বাজারে গ্রামীণফোনের সর্বোচ্চ ২৩ টাকা ১০ পয়সা বা পৌনে ৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ ছিল। একপর্যায়ে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। তাতে এটির শেয়ার বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির পাওনা দাবিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হতে যাচ্ছে-এ খবরে বাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দামের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে দেখা যায়। পরে গতকাল গ্রামীণফোন ১০০ কোটি টাকা নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) যায়। কিন্তু বিটিআরসি সেই টাকা নেয়নি। বিটিআরসি জানায়, আদালতের নির্দেশনার বাইরে তারা কিছু করবে না। এর প্রভাবে আজ সকাল থেকে শেয়ারটির দর কিছুটা কমতে থাকে। তবে আজ রায়ের পরও উত্থানে আছে শেয়ারটির দর। এর আগে গত বছরের ২৪ নভেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২০০০ কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে বিটিআরসিকে পরিশোধ করতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগের এই আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে গ্রামীণ ফোন আবেদন করে। আজ তা শুনানির জন্য ওঠে।
0
সিনিয়রকে নাম ধরে ডাক দেয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দু'গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম বাঁধন নিজের রুমে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিম হোসেন সোহাগের নাম ধরে ডাকেন। ওই রুমের বাসিন্দা সোহাগের বন্ধু ওয়াকিল বিষয়টি শুনলে ১২তম ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাফী, সোহাগ ও ওয়াকিল ২০০৩ নং রুমে বাঁধনকে ডেকে শাসান। একপর্যায়ে বাঁধনকে তারা চড় মারেন। পরে বাঁধন ১৩ তম ব্যাচের তার বন্ধুদের বিষয়টি জানালে ওই ব্যাচের সবাই একত্রিত হয়ে রাতে সাড়ে ১০টার দিকে ২০০৩ নম্বর রুম থেকে ১৩তম ব্যাচের সাদমানের মাধ্যমে ১২তম ব্যাচের শাফীকে ডেকে নিয়ে যান । এসময় ১৩তম ব্যাচের হানিফ, সাদমান, মিরাজ, রবিনসহ ৮ থেকে ১০ জন শাফীকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন। পরে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদেরকে ৩০৩ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে একদফা মারধর করেন। পরে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের রুমে (৩০১) ডেকে নিয়ে বিচারের নামে আধা ঘণ্টা ধরে ফের তাদেরকে মারধর করেন শাখা ও হল ছাত্রলীগের নেতারা। এতে ১৩তম ব্যাচের বেশ কয়েকজন আহত হন। এ বিষয়ে ১৩তম ব্যাচের কর্মী হানিফ ভূইয়া বলেন, আমাদের বন্ধুকে মারধরের বিষয়ে জানতে তাদের রুমে যাই। তবে সেখানে আমরা কাউকে আঘাত করিনি। তবে ১২তম ব্যাচের কর্মী শাফি হাসান বলেন, আমি হলের সিনিয়র হিসেবে জুনিয়রদের আচরণের বিষয়ে তাদের বুঝিয়ে বলি। কিন্তু তারা এসে আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে, আমি এর বিচার চাই। জানতে চাইলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত বলেন, হলের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়ে ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উচ্চাবাক্য বিনিময় হয়। আমিসহ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি। র্যাগিংকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'র্যাগিং-এর মতো তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।' শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, আজকের ঘটনায় জড়িত সকলে হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি থেকে হাতাহাতি হয়েছে। আমরা সিনিয়রদের সাথে বসে বিষয়টি সমাধান করেছি। পরে সভাপতির সাথে কথা বলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, আবাসিক হলের বিষয়গুলো প্রভোস্ট দেখভাল করেন। হল প্রভোস্টসহ হলের যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখব। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ জুলহাস মিয়া'র মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। এটি হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আমরা বসে বিষয়টি সমাধান করে দেব।
1
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এফ রহমান হলের পাশের পাহাড় থেকে পুরোনো ২৮টি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এগুলো ১০-১৫ বছর আগের। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে পানির ট্যাঙ্কির কাজ করার সময় শ্রমিকরা মাটি খুঁড়তে গিয়ে এসব অস্ত্র দেখতে পান। এ সময় তারা প্রক্টরকে বিষয়টি জানালে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিকরা কাজ করার সময় অস্ত্রগুলো খুঁজে পেয়েছেন। পাহাড়ের পাশে মাটির নিচে এগুলো খোলাভাবেই পুঁতে রাখা হয়েছিল। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, অস্ত্রগুলো বেশ পুরোনো। মরিচা ধরে গেছে এবং কাঠের অংশটি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো হাটহাজারী থানায় সোপর্দ করেছি।
6
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা দুটিতে দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। জুলাই মাসের ভয়াবহ বন্যায় নিচু ভূমিতে দীর্ঘদিন জলাবন্ধতা সৃষ্টি ও সংরক্ষিত ধানের খড় নষ্ট হওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় রোপা আমনের বীজ তলাও নষ্ট হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে রোপা আমন চাষ করতে পারছেনা দু'টি উপজেলার কৃষকরা। সরেজমিনে বলদমারা নৌকা ঘাটে দেখা যায়, ছোট ছোট খড়ের ১ শত আটি ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১ শত আটি খড়ের মূল্য আগে ছিল ১ শত টাকা। ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রম্মপুত্র নদ, সোনাভরী, জিঞ্জিরাম নদী, হলহলিায়া নদীর পানি উপচে জুলাই মাসে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৯০ শতাংশ এলাকায় বন্যার পানিতে নিমিজ্জিত হয়। ফলে গো-চারণ স্থানগুলো দীর্ঘদিন জলে ডুবে থাকে। বর্তমানে অনেক এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে আছে। নষ্ট হয়ে যায় উৎপাদিত ঘাস ও ধানের খড়। ওইসব এলাকার গবাদি পশুকে মাঠে চড়াতে না পেরে কৃষক ও খামারিদের নিকট সংরক্ষিত থাকা খড় খাওয়ানো শেষ হয়ে যায়। আকাশ ছোয়া খড়ের দামে বিপাকে পড়েছে কৃষক ও খামারিরা। উপজেলার বাইটকামারী গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন জানান, আমার ৫টি গরু রয়েছে। গবাদিপশুর ১ বছর খাদ্য খড় সংরক্ষণ করে রেখে ছিলাম। কিন্তু বন্যার পানিতে খড় নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো পতিত জমি ও মাঠে পানি ঘাস না থাকায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে আছি। উপজেলার পাখিউড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, নিম্নাঞ্চল দীর্ঘদিন থেকে পানি জমে থাকায় ঘাস নেই। বন্যায় খড় নষ্ট হওয়ায় খড়ের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। গরু বাঁচিয়ে রাখতে ৫ শত টাকার খড় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, উপজেলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় কৃষক ও খামারিদের সংরক্ষিত খড় ও ঘাস চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো কিছু কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি রয়েছে। যে কারণে গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা পরামর্শ দিচ্ছি ,পতিত জমিতে ঘাস চাষ করার জন্য। অন্যান্য বছর কিছু প্রকল্পে পশু খাদ্য বরাদ্দ থাকে। যা কৃষক ও খাামারিদের মাঝে বিতরণ করি। এবার আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই।
6
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে টি-টোয়েন্টি কাপ্তান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিং ঝড়। ২৪ বলে ফিফটি হাঁকানোর পর ৪৭ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেছেন দ্য সাইলেন্ট কিলার। তবে বিকেএসপি'র এই রিয়াদঝড়ে তেমন কোনও কাজ হয়নি।অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল মাশরাফি বিন মতুর্জার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে বড় জয়ই পেয়েছে। কিন্তু তাতেও ডিপিএলেরসুপার লিগে খেলা হচ্ছে না তাদের। শুক্রবারে খেলায় মোহামেডানের দেওয়া ৩০৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২২৭ রানে গুটিয়ে যায় মাশরাফির দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। মোহামেডানের হয়ে নাজমুল ইসলাম অপু ১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫টি উইকেট। বিডি প্রতিদিন/নাজমুল
12
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম রোববার থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ মে পর্যন্ত এ ভর্তি কার্যক্রম চলবে।এর আগে গত ১ এপ্রিল সকালে সারা দেশে একযোগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় এক লাখ ৩৯ হাজার ৭৪২ শিক্ষার্থী ও আবেদন করেন এক লাখ ৪৩ হাজার ৯১৫ জন শিক্ষার্থী, যা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ইতিহাসে সর্বাধিক। প্রতি আসনের বিপরীতে ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। গত ৫ এপ্রিল দুপুরে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে পাস করেছেন ৭৯ হাজার ৩৩৭ জন। পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।জানা গেছে, দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজ আছে মোট ৩৭টি। মোট আসনসংখ্যা চার হাজার ৩৫০ টি। এর মধ্যে মেধা কোটায় তিন হাজার ৮৪ জন, জেলা কোটায় ৮৪৬ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৮৭ জন, উপজাতি কোটায় ৩৩ জন ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম শেষে দেশের ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছয় হাজার ৩৮৯টি আসনের জন্য ভর্তির নির্দেশনা দেওয়া হবে।
1
আফগান নীতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বোকামিপূর্ণ কৌশল ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। প্রথমত, দেশটিতে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট তালেবানরা ক্ষমতায় এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা এবং পরের হানাহানি থেকে এটা নিশ্চিত যে আগের তালেবান আমলের চেয়ে এবারের তালেবান শাসন ভিন্ন হওয়ার আর কোনো আশা নেই। মন্ত্রিসভার উচ্চপদে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও মাদকসম্রাটেরা ঠাঁই পেয়েছেন। আফগানিস্তানে বিশ্বের ৮০ শতাংশ আফিম চাষ হয়, যা তালেবানকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসায়ীতে পরিণত করেছে। আফিম উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ ও সেখান থেকে কর আদায় করে তালেবান। আফিম পাচার তদারকি এবং পাচার নেটওয়ার্ককে নিরাপদ রাখে তারা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পপিভিত্তিক মাদক ও কৃত্রিম মাদক উৎপাদন ও পাচার তালবানের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। তালেবান মাদক ব্যবসার ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে তাদের নেতারা আয়ের ভাগাভাগি নিয়ে প্রায়ই নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত হন। মাদক থেকে আয় যতটা বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টায় এখন তালেবান করছে। তালেবান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আফগানিস্তানে আফিমের দাম তিন গুণ বেড়েছে। ভারতে গত কয়েক মাসে আফগানিস্তানে উৎপাদিত হেরোইন জব্দের পরিমাণ বেড়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা সতর্ক করেছে, আফগানিস্তানের চলমান অর্থনৈতিক সংকট দেশটির কৃষকদের পপির মতো অবৈধ শস্য আবাদে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে। সমস্যা শুধু আফিমে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তানে মেথামফেটামাইন উৎপাদন ভীষণভাবে বেড়েছে। এর একটি কারণ হচ্ছে, ক্রিস্টাল মেথ উৎপাদন হেরোইন থেকে অনেক বেশি লাভজনক। মাদক পাচারের জন্য তালেবান বেশ কয়েকটি পথ ব্যবহার করে। ককেশাস ও বলকান অঞ্চল দিয়ে তারা পশ্চিম ইউরোপে মাদক পাচার করে। উত্তর আমেরিকা তাদের মাদক পাচারের বড় ক্ষেত্র। উত্তর দিকে তাজিকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জামাত-আনসারুল্লাহের মাধ্যমে রাশিয়ায় মাদক পাচার করে। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পাচারের জন্য পাকিস্তান ব্যবহৃত হয়। ঘুষের (স্থানীয় ভাষায় তানজিম) বিনিময়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তালেবান ও পাচার চক্রকে এ কাজে সহায়তা করেন। মাদক বিক্রির মুনাফা থেকে অর্জিত টাকা তালেবান সরাসরি তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহার করে। মাদক চোরাকারবারি ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে সম্পর্ক অস্বীকার করা যাবে না। শুধু তালেবান নয়, বোকো হারাম, আল-শাবাব ও আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গেও মাদক কারবারের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএসআইএস-কে) মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে। এ কারণে তালেবান তাদের শত্রু মনে করে। আইএসআইএস-কে যখন আফগানিস্তানের সীমান্ত প্রদেশ নাঙ্গাহারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, তখন তারা পাকিস্তানে তালেবানের মাদক পাচারের পথটি বন্ধ করে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান সরকারের শক্ত অভিযানে আইএসআইএস-কে সেখান থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আবার মাদকের সেই পথ চালু হয়েছিল। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের ব্যর্থতাকে আরও বড় করে সামনে নিয়ে আসে। ২০০১ সাল আফগানিস্তানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মাদক পাচার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বেশ কয়েকজন তালেবান নেতার বিচার হয়েছিল। এতে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তালেবানের গ্রহণযোগ্যতা অনেক কমে গিয়েছিল। ২০১২ সালেও এ রকম একটা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ২৪০ পৃষ্ঠার ওই প্রস্তাবে মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা ২৬ জন উচ্চপদস্থ তালেবান নেতা ও মাদকসম্রাটকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিচারের সুপারিশ করেছিল। কলম্বিয়ার মাদক অর্থায়নে পরিচালিত বিপ্লবী গোষ্ঠী ফার্কের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের আগে কলম্বিয়ার সরকার এ ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু তালেবানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে সম্মত হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এটি ছিল কৌশলগতভাবে ভুল। এর মাশুল সবে দেওয়া শুরু হয়েছে। ২০ বছর ধরে মাদক ব্যবসার মুনাফা থেকে তালেবানকে হৃষ্টপুষ্ট হতে সহায়তা করার ফল হচ্ছে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিনিদের অপমানজনক বিতাড়ন। মার্কিন ফেডারেল আদালতে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে তালেবান নেতাদের বিচারের সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আফগানিস্তানে উৎপাদিত আফিমজাত মাদক যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় মাদকাসক্তি ও মাদকজনিত মৃত্যুর জন্য অনেকাংশে দায়ী। আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক দুর্দশা মাদক উৎপাদন ও পাচারে তালেবানকে আরও প্রণোদনা জোগাবে। আফগানিস্তানে আফিম ও মেথ উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র যদি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব না দেয়, তাহলে তালেবানের ক্ষমতা এবং তাদের নৃশংসতাই কেবল বাড়বে। তখন এই মাদকরাজ্য আল-কায়েদা এবং অন্যান্য সহিংস জিহাদি গোষ্ঠীর স্বর্গভূমি হয়ে উঠবে। ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট ব্রহ্ম চেলানি নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিষয়ের অধ্যাপক
8
চলতি বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের সময় বায়তুল মোকাররমে হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের ফের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ মে) সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
6
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনের সময় সংঘর্ষে কলেজের শিক্ষকসহ দুজন নিহতের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সাতজনের নামে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের ২ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি করেন কলেজ সরকারিকরণ আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এসএম আবুল হাশেম। মামলার আসামিরা হলেন-ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনের সাংসদ ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন, অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন খান, উপাধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন এবং ওসি রিফাত খান রাজিবসহ সাতজন। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট গোলাম হোসেন সমকালকে বলেন, 'আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল আলম মামলাটি গ্রহণ করেছেন। মামলাটি যাচাই-বাছাই করে বিজ্ঞ বিচারক পরবর্তীতে আদেশ দেবেন।' উল্লেখ্য, কলেজ সরকারিকরণের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত ২৭ নভেম্বর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কলেজের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদসহ দুজন নিহত ও আহত হয় অর্ধশত জন।
6
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বাড়ার প্রতিবাদে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এসব কর্মসূচি থেকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ): গতকাল শনিবার দুপুরে বিএনপির উপজেলা ও পৌর শাখার আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে পৌর পয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু হোরায়রা সাদ মাস্টারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন সুহেল। তিনি বলেন, দেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকার কোনোভাবেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এ জন্য এখনই সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি সরকারের পদত্যাগসহ বেগম খালেদা জিয়া মুক্তির দাবি জানান।জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহিম শাহিনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) জামাল উদ্দিন আহমেদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী হারুনুজ্জামান হারুন প্রমুখ।তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ): উপজেলা বিএনপির আয়োজনে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুনাব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল প্রমুখ।কুলাউড়া (মৌলভীবাজার): কুলাউড়া শাখার বিএনপির আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলে শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জমান প্রমুখ।চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ): দ্রব্যমূল্য বাড়ার প্রতিবাদে চুনারুঘাটে শনিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর সিরাজ আলী, আবু সালেহ মো. শফিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. রহিম তালুকদার শ্যামল প্রমুখ।
6
নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় একটি বাসা থেকে স্কুলশিক্ষিকা নাজমুন্নাহারের (৫২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।গত শুক্রবার রাতে মডেল থানা-পুলিশ তার কক্ষের দরজা ভেঙে লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মারা যাওয়া শিক্ষিকা শহরের রাজুর বাজার কলেজিয়েট স্কুলের বাংলার শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাবার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনার তাতিয়র গ্রামে। তিনি শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় দেওয়ান ভবন নামে একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় বাসা ভাড়া নিয়ে একা থাকতেন।এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাজমুন্নাহার গত বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গত শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পাশের ইউনিটের লোকজন দরজায় ধাক্কা দেন। পরে মুঠোফোনে চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে বিছানা থেকে রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।এ ব্যাপারে নেত্রকোনা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল রানা জানান, ওই শিক্ষিকার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে গতকাল শনিবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
6
খবরটি হলো, একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করা হয়েছে। তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা শিক্ষক সমিতি। তার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউপি চেয়ারম্যানেরছেলে। ব্যাপারটা কিছু বোঝা গেল?আরও পরিষ্কার করে বলি। ভোলার লালমোহনের দেবীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন হয়েছেন এই ঘটনার শিকার। বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আসাদ উল্লাহ মেলকারের ছেলে রাসেল মেলকার মিথ্যা অভিযোগ তুলে শিক্ষককে হুমকি দেন। দেবীরচর বাজারে তাঁকে ডেকে নেন কবির হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। এরপর সেই বাজারে প্রকাশ্যে শিক্ষককে জুতাপেটা করেন চেয়ারম্যানের ভাগনে-ভাতিজারা। শিক্ষক কবির হোসেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।রাসেল মেলকার তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর থানার পরিদর্শক জানিয়েছেন, শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনার কোনো অভিযোগ তাঁরা পাননি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দুটো ব্যাপারে খটকা যাচ্ছে না। ১. প্রধান শিক্ষক যদি প্রকাশ্যে বাজারের মধ্যে হামলার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে কি কোনো প্রত্যক্ষদর্শী থাকবে না? তাঁদের কাছে জিজ্ঞেস করলেই তো প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে পড়বে। নাকি ক্ষমতার কাছে নতজানু হয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা ইতিমধ্যেই গর্তে লুকিয়েছেন? ২. প্রধান শিক্ষক কী কারণে হাসপাতালে শুয়ে আছেন, সেই খোঁজ নেওয়া যায় কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে। তিনি নিশ্চয়ই অবকাশ যাপনের জন্য সমুদ্রতট কিংবা পাহাড়ে না গিয়ে হাসপাতালে একটা সিট বুক করবেন না। যদি মারপিটের কারণে হাসপাতাল বাস হয়, তাহলে নিশ্চয়ই কেউ বলবে না যে তিনি প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন!এই দুটো ব্যাপারে চাইলেই পুলিশ খোঁজ নিতে পারে এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারে।মুশকিল হলো, আমাদের দেশে শিক্ষকদের অসম্মান করার প্রবণতা বাড়ছে। অর্থনৈতিক বা বৈষয়িক দিক থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষকেরা যে জীবনযাপন করেন, তাতে পয়সাওয়ালা লোকেরা তাঁদের অবজ্ঞা করার ধৃষ্টতা দেখান। মেধা, যোগ্যতার চেয়ে পয়সাই সম্মানের মাপকাঠি হয়ে যাওয়ায় এ অঘটনগুলো ঘটছে। অতীতে শিক্ষকদের যে সম্মান করা হতো, তা ছিল অর্জিত মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ। সেই মূল্যবোধ এখন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে আইসিইউতে রয়েছে। কখনো তার ঘুম ভাঙলে শিক্ষকেরা সম্মান পান নতুবা তাঁদের হেয় করা, অবজ্ঞা করা এবং অপমান করা চলতেই থাকে। আর তাতে কারও হৃদয়তন্ত্রীতে এতটুকু আঘাত লাগে না। এই অবস্থা একটি জাতির নৈতিক স্থূলতার প্রমাণ দেয়।ভোলার লালমোহনে প্রধান শিক্ষক জুতাপেটার শিকার হয়েছেন কি হননি, সে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার আগে যে প্রশ্নটি ওঠা উচিত, তা হলো, এ রকম একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হলো কেন আমাদের? শিক্ষককে জুতাপেটা করা যায়, এ দৃশ্যটিই তো কল্পনা করা যায় না। এ তো বোধের অগম্য ব্যাপার!কেনইবা শিক্ষককে জনসমক্ষে অপমান করার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করতে হবে? শিক্ষককে মর্যাদার আসনে বসানোর কথা যাঁদের, তাঁরা কার জন্য ঘাস কাটছেন?
6
রাজধানীর পশ্চিম কাফরুলের হালিম ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে সকাল থেকেই ভিড়। কলেজের ছোট্ট আঙিনায় শত শত মানুষের গাদাগাদি। সবাই গণটিকাদান কর্মসূচির আওতায় টিকা নিতে এসেছেন। এ জন্য নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অবস্থা বেগতিক দেখে কেউ কেউ টিকা না নিয়ে ফিরেও যাচ্ছেন। এ চিত্র কেবল ওই টিকাকেন্দ্রের নয়, গতকাল শনিবার গণটিকাদান কার্যক্রমের বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ছিল মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। টিকা নিতে দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে। ছিল না স্বাস্থ্যবিধির উপস্থিতি। ২৬ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের এক কোটি মানুষকে গণটিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রথম ডোজ টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। বলা হয়েছিল, এই গণটিকাদান কার্যক্রমের পর প্রথম ডোজের টিকা বন্ধ থাকবে। কিন্তু কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় হওয়ায় এ কর্মসূচি আরও দু'দিন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজের কার্যক্রমও চলবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গণটিকাদান কর্মসূচির আওতায় শনিবার এক কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হলে ১২ কোটি মানুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যাবে। দেশের ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি গণটিকা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি কেন্দ্রেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ভিড়। ইউনুস হোসেন নামে একজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, গণটিকার কথা শুনে সকালেই পশ্চিম কাফরুলের হালিম ফাউন্ডেশন স্কুলে যান টিকা নিতে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও টিকাদানকারীর কাছে পৌঁছাতে পারেননি। পরে সেখান থেকে যান শেরেবাংলা নগরের প্রবীণ হাসপাতাল কেন্দ্রে। সেখানে লাইনের দৈর্ঘ্য কিছুটা কম থাকলেও টিকা পেতে আরও প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায়। হালিম ফাউন্ডেশন স্কুল কেন্দ্রের টিকাদান ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনকারী স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক রাসেল দুপুর ২টার দিকে জানান, তাদের সারা দিনে এক হাজার মানুষের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু ওই টিকা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আরও ৫০০ ডোজ পাঠানোর জন্য খবর দেওয়া হয়েছে। এখানে লাইন দীর্ঘ হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, টিকাদানের জন্য অন্তত ছয়জন স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন ছিল। আছে দু'জন। এ জন্য সময় লাগছে। কেন্দ্রটির স্বাস্থ্যকর্মী আফরোজা জানান, একজন পুরুষদের, আরেকজন নারীদের টিকা দিচ্ছেন। তারা চেষ্টা করছেন দ্রুতই টিকা দেওয়া শেষ করতে। টিকাগ্রহীতা ও টিকাদানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রধারীদের সেগুলো দেখে টিকা দেওয়া হচ্ছে। যাদের কিছুই নেই, তাদের মোবাইল নম্বর ও নাম-ঠিকানা লিখে টিকা দিতে হচ্ছে। যাদের মোবাইল নম্বর নেই তাদের আত্মীয়দের মোবাইল নম্বর রাখা হচ্ছে। কারণ দ্বিতীয় ডোজের মেসেজ ওই মোবাইলে যাবে। সেটা টিকাগ্রহীতাকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দুপুরে শেরেবাংলা নগরের প্রবীণ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও দীর্ঘ সারি। হাসপাতালের সুপারভাইজার প্রিন্স জানান, কেন্দ্রটি থেকে ৭০০ জনের টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে আর ৫০টির মতো টিকা অবশিষ্ট ছিল। আরও ৫০০ টিকা সরবরাহ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রটির লাইনে জন্মনিবন্ধনের কাগজ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নবম শ্রেণির ছাত্র রিফাত আহমেদ বলেন, অনেক সময় হলো লাইনে আছি। আমার সামনে আরও ৩০ জন রয়েছেন। গফুর নামে একজনকে সকালে দেখা যায় তালতলা টিকাকেন্দ্রের লাইন ছেড়ে চলে যেতে। চলে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানান, একটি বেসরকারি অফিসে পিয়ন পদে চাকরি করেন। টিকার জন্য এক ঘণ্টা পর অফিসে যাবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন। দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টিকা না পেয়ে তিনি অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন। রাজধানীর শ্যামলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, টিকাপ্রত্যাশীর ভিড় সামলাতে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আখতার বলেন, সকাল ৭টার আগে থেকেই মানুষ টিকার জন্য আসতে শুরু করেছেন। সকাল সাড়ে ১০টার ভেতরেই তিন হাজার মানুষ এসেছেন। ভিড় সামলাতে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। প্রথম ডোজ ১২ কোটি: গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু করে সরকার। দুই মাস পর ৮ এপ্রিল শুরু হয় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম। আর গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার পর্যন্ত সারাদেশে প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৮১ হাজার ৩৩১ জন। আর ৮ কোটি ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭৮ জন নিয়েছেন দ্বিতীয় ডোজের টিকা। একই সঙ্গে বুস্টার ডোজের টিকা পেয়েছেন ৩৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮২৬ জন। গতকালের লক্ষ্যমাত্রার এক কোটি ডোজ দেওয়া সম্পন্ন হলে প্রায় ১২ কোটি মানুষ প্রথম ডোজের টিকার আওতায় চলে আসবে।
6
নারী নিরাপত্তা আজকের দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভীষিকার মতো উঠে আসে সে সব ভয়ঙ্কর ঘটনা। নতুন বছরকে আমন্ত্রণ জানাতে প্রায় গোটা বিশ্ব উদগ্রীব হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশেই বর্ষবরণকে ঘিরে মানুষজন আনন্দে মাতোয়ারা হয়। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই মেলোডি ম্যাক্সওয়েল শিকার হয়েছিলেন এক গভীর আতঙ্কের। জ্ঞান আসার পরে তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেছিলেন নিজের মায়ের গাড়িতে। আর দেখেছিলেন আশেপাশে রয়েছে স্থানীয় পুলিশ। সিসিটিভি ও পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছিল যে ওবি ফরগিভ নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি একটি পাবে গিয়েছিলেন বছর শেষের আনন্দে সামিল হতে। এছাড়াও ফরেনসিক পরীক্ষাতে প্রমাণিত হয়েছিল ওই তরুণীকে এক নেশার পানীয় খাওয়ানোর পরে ধর্ষণ করা হয়েছিল। যদিও ওই তরুণী জানিয়েছেন একজন নির্যাতিতা হিসেবে নয় এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ভুলে নতুনভাবে শুরু করতে চান। মানসিক ভাবে ওই তরুণী কতটা দৃঢ় তা তিনি প্রমাণ করেছেন এই মন্তব্যের মাধ্যমে। যদিও ২০১৯ সালের জুন মাসে অভিযুক্ত ওবি ফরগিভ কে ১১ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ক্রিসমাস নাগাদ ওই তরুণীর মা জানিয়েছিলেন ক্রিসমাস ও বর্ষবরণ উপলক্ষে ওই তরুণী এবং তার মা প্যারিসে গিয়েছিলেন। ওই তরুণী জানিয়েছিলেন তিনি প্যারিসের আইফেল টাওয়ার এবং ল্যুভর মিউজিয়াম দেখতে চেয়েছিলেন। মেলোডি জানান, ঘটনার আগে তিনি তার মাকে মেসেজ করে কোথায় যাচ্ছিলেন সে বিষয়েও জানিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট জায়গাতে পৌঁছে তিনি ভদকা এবং কোক খেয়েছিলেন। ওই জায়গাতে ছিল তখন আনন্দের মৌসুম। তারপরে এক বন্ধু তাকে অন্য একটি পানীয় খেতে দিয়েছিলেন। আর সেটুকুই তার মনে আছে বলে জানিয়েছেন। ভোর ৫টার দিকে মেলোডির যখন জ্ঞান ফিরেছিল তখন তিনি নিজেকে দেখেছিলেন তার মায়ের গাড়িতে। তার গায়ে একটি ব্ল্যাঙ্কেট জড়ানো রয়েছে। তার ব্যাগ ফোন পাওয়া যায়নি। তিনি জানিয়েছিলেন তাকে সেই সময়ে আগলে রেখেছিলেন তার মা। তিনি তার পড়নের পোশাক তদন্তকারী পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তারপরে তদন্ত করে পুলিশ অপরাধীকে শাস্তি দিয়েছিল।-কলকাতা২৪ বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
3
মাদারীপুরের কালকিনিতে প্রবাসী স্বামীকে ডিভোর্স দেয়ার জের ধরে এস এসসি পরীক্ষার্থী এক স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে শ্বশুরবাড়ীর লোকজন। আহত স্কুল ছাত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার সকালে কালকিনি পৌরসভার ঝাউতলা এলাকায়। আহত স্কুল ছাত্রীর নাম সুকতারা আক্তার (১৬)। সে কালকিনি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী ও এবারের এস এসসি পরীক্ষার্থী । স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল স্কুলছাত্রী সুকতারা। বাসা থেকে উকিল বাড়ীর পাশে রাস্তায় বের হলে একা পেয়ে কয়েকজন বখাটে যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা অজ্ঞান অবস্থায় ঐ ছাত্রীকে দেখে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। স্কুল ছাত্রীর মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুকতারাকে এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্কুল ছাত্রীর চাচী জানান, কালকিনির সাহেবরামপুর এলাকার সালাম আকনের ছেলে ইতালি প্রবাসী রুমন আকনের সাথে উত্তর রমজানপুর গ্রামের মোফাজ্জেল হাওলাদারের মেয়ে সুকতারা আক্তারের সাথে দেড় বছর পূর্বে উভয় পরিবারের সম্মতিতে মোবাইলে বিয়ে হয় । বিয়ের ৭/৮ মাস পরে সুকতারা রুমনকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শশুর বাড়ির লোকজন সুকতারাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে । আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। সুকতারার অল্প সময়ের জন্য একটু জ্ঞান ফিরেছিল। তখন সুকতারা আমাদের কাছে বলে, শামন ও আরেক ছেলে পিছন থেকে মাথায় হঠাৎ আঘাত করলে আমি মাটিতে পড়ে যাই এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। অভিযুক্ত প্রবাসী রুমনের ভাই শামন আকন বলেন, আমার ভাই সোমবার বিদেশ থেকে ঢাকা নেমেছে। এখনো আমারা ঢাকা। আমি বা আমরা এ কাজ কিভাবে করবো। আমাদের ফাঁসানোর জন্য এই কাজ করা হচ্ছে। এ ঘটনার সাথে আমাদের পরিবারের কেউ জড়িত নয়। কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, স্কুল ছাত্রীর মাথার আঘাতটা একটু গুরুতর। শরীরের বিভিন্ন অংশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দিয়েছি। পরিবারের লোকজন উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিয়ে যাচ্ছে। কালকিনি থানার ওসি মোফাজ্জেল হোসেন জানান, বিষয়টি বিয়ে সংক্রান্ত জেরে। এই মেয়ে তার স্বামীকে মেনে না নেয়ায় মারধর করেছে। মেয়ের পরিবার যদি মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নিতে চায়, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিব।
6
ভারতের প্রখ্যাত ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে) এখনই কোনো রাজনৈতিক দল গড়ছেন না। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিহারের রাজধানী পাটনায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি 'জন সূরয' বা 'জনতার জন্য সুশাসন'-এর ঘোষণা দেন।সংবাদ সম্মেলনে প্রশান্ত কিশোর জানান, আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন তিনি বিহারের চম্পারন থেকে শুরু করবেন পদযাত্রা। বিহারে অন্তত ৩ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মানুষের কথা শুনবেন তিনি। তার পর রাজনৈতিক দল করার কথা ভাবতে পারেন। তবে দল গড়লেও সেই দলের নেতা তিনি হতে চান না বলেও জানিয়েছে পিকে।কংগ্রেসে যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের পর অনেকেই ভেবেছিলেন পিকে রাজনৈতিক দল গড়বেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যগুলোও এ জল্পনাকে উসকে দেয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে পিকে সেই জল্পনায় জল ঢেলে দেন। তিনি জানান, বিহারের রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ১৮ হাজার মানুষকে তিনি চিহ্নিত করেছেন। আগামী দিনে তাঁদের পরামর্শ নিয়ে রাজনৈতিক দল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে সেই দলে তাঁর একক আধিপত্য থাকবে না।প্রশান্ত কিশোরের মতে, বিহারের ৯০ শতাংশ মানুষ পরিবর্তন চান। সেই পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করবেন তিনি। মানুষের কথা শুনবেন। চার বছর পর বিহারের ভোট। তাই হাতে যে প্রচুর সময় রয়েছে, সেটাও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর বক্তব্যে। কংগ্রেস সম্পর্কে এদিন একরাশ হতাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
3
মামলার জট কমাতে আদালতের খরচ বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। একই সঙ্গে তিনি সময় চেয়ে আবেদন না করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (২১ মে) দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দ্য দৈনিক ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, "বলা হতো সিভিল কেস বেগুন ক্ষেতের মতো। এটা প্রচলিত ছিল। আমি তো শুনে শুনে বড় হয়েছি। এই জিনিসটা পরিবর্তন করতে হবে। সিপিসি যখন করা হয়েছিল তখন প্রযুক্তি এত উন্নয়ন হয়নি। প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখান থেকে আমেরিকায় খবর পাঠাতে সময় লাগে কয়েক সেকেন্ড। পৃথিবী যখন এখানে চলে গেছে, আমার মনে হয় বলা আছে অমুকটার জন্য ৪৫ দিন সময় দিতে হবে, অমুকটার জন্য ৬০ দিন সময় দিতে হবে এগুলোর আর প্রয়োজন নেই।" আইনমন্ত্রী বলেন, "মামলার জট কমাতে আদালতের খরচ বাড়ানো হবে। খরচ বাড়ালে মানুষ চিন্তা করবে, আজ যদি আমি তারিখ নেই তাহলে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগবে। তখন মানুষ আর সময় নিতে চেষ্টা করবে না। এটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।" তিনি আরও বলেন, "আমরা সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারার ৪ উপধারা বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছি। আজকের পৃথিবীতে নারীদের এভাবে বেইজ্জত করতে আমরা পারি না। ১৪৬ ধারা ৩ উপধারা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটা যখন মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছিল, তখন আলোচনা হয়েছে। আমরা চিন্তা করছি, কতটা গেলে নর-নারী উভয়ের সমস্যার সমাধান করা যায়।" ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সমস্যারও সৃষ্টি হয়েছে। সেসব সমস্যা হলো সাইবার ক্রাইম। আমাদের এগুলো মোকাবিলা করতে হবে। দণ্ডবিধি অনুযায়ী অনেক অপরাধ আছে যেগুলো আর ফিজিক্যালি করা হয় না, কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়। সেটার বিচার করা হবে কীভাবে? সে জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করেছি। তবে এই আইন করার পর কিছু মিসইউজ এবং অ্যাবিউজ যে হয়নি তা নয়। মন্ত্রী বলেন, "১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট করেছিলেন। এটা করেছিলেন একটা বিশেষ কারণে। তখন মানুষ খাদ্য মজুত করতো, স্মাগলিং করতো। তখন প্রচলিত কাস্টমস আইনের স্মাগলিং ১৫৬ ধারার দিয়ে এই অপরাধ বন্ধ করা যাচ্ছিল না। স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্টের সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার হয়েছে ১৯৮৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। আজ একটা ডিটেনশনের মামলা নেই। কিন্তু স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট আছে। স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট কি খারাপ আইন? এটার ব্যবহার আপনারা কীভাবে করবেন এটাই বলে দেয় উদ্দেশ্য আপনাদের কী।" আইনজীবীদের বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, "আপনারা দেখবেন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে কোনো একটি ঘটনায় আদৌ মামলা হয় কি না। আগে দেখা যেত, থানায় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হলেই একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হতো। আমি বলেছি মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে কাউকে গ্রেপ্তার না করতে। আদালত যদি মনে করেন এটা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ, তাহলে সে রকম ব্যবস্থা নেবে। আর যদি মনে করেন, সমন দিলেই যথেষ্ট সমন দেবেন। তাই বলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে বাতিল করে ফেলতে হবে, আমি এটা সমর্থন করি না।"
6
করোনা পরিস্থিতিতে যখন দেশে দেশে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়, তখন অনেক কোম্পানি বিদ্যমান সুবিধাগুলো বহাল রেখে কর্মীদের বাড়তি সুবিধা দেয়। কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতিতে দেশে দেশে আতঙ্কের বশে কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। কোথাও ব্যাপক হারে, আবার কোথাওবা সীমিত পরিসরে কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি বেতন-ভাতা বা মজুরি-বোনাস কাটা হয়েছে। ছোট-বড়নির্বিশেষে লাভজনক বা লোকসানি-উভয় ধরনের কোম্পানির মধ্যেই কর্মী ছাঁটাই ও বেতন কাটার প্রবণতা দেখা গেছে। তবে পাইকারিভাবে সব নিয়োগদাতা বা মালিক-কর্তৃপক্ষই কর্মী ছাঁটাই করেছে বা কর্মীদের বেতন-মজুরি কমিয়েছে, সে কথাও কিন্তু ঢালাওভাবে বলা যাবে না। অনেক প্রতিষ্ঠানই এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী আচরণ দেখিয়েছে। তারা কর্মীদের বিদ্যমান সব সুবিধা বহাল রাখার পাশাপাশি বাড়তি কিছু দিয়েছে। এমনকি করোনাকালে কর্মীদের নিরাপদ ও চাঙা রাখতে তারা বিনোদনের ব্যবস্থাও করেছে। এ রকম সেরা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস। বিশ্বের ৫৮টি দেশের ৭৫০টি বহুজাতিক কোম্পানি ও স্থানীয় বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মীর ওপর জুন-জুলাই মাসে জরিপ চালিয়ে ফোর্বস তালিকাটি তৈরি করেছে। সদ্য প্রকাশিত এই তালিকার শীর্ষে আছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং। পরের চারটি স্থানে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের আমাজন, আইবিএম ও মাইক্রোসফট এবং দক্ষিণ কোরিয়ার এলজি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার সহায়তায় পরিচালিত এই জরিপে কর্মীরা কর্মক্ষেত্র নিয়ে নিজেদের সন্তুষ্টিসহ আর্থিক সুযোগ-সুবিধা, মেধা উন্নয়ন, নিয়োগদাতাদের ভাবমূর্তি, নারী-পুরুষের বৈষম্য ও সামাজিক দায়িত্বশীলতা-এসব বিষয়ে মত দেন। গত মার্চ-এপ্রিলের দিকে গোটা দুনিয়া যখন করোনার আতঙ্কে কাঁপছিল, আর কোম্পানিগুলোও কর্মী ছাঁটাই ও বেতন কাটতে শুরু করে। তখন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এইচপি বৈশ্বিক কর্মীদের জন্য ব্যতিক্রমী এক বিনোদনের ব্যবস্থা করে। ফোর্বস-এর তালিকায় ১৭তম স্থানে থাকা এইচপি এপ্রিলে আয়োজন করে ১২ ঘণ্টার এক ভার্চ্যুয়াল ড্যান্স পার্টি। অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য ভাড়া করা হয় রায়ান বেস্ট নামের এক ডিজেকে। এতে ভালো সাড়া পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে কোম্পানিটির দুই হাজার কর্মী জুমে যুক্ত হয়ে মাথায় পরচুলা পরে নিজেদের পোষা পশু নিয়ে বসদের সামনে নাচানাচি করেন। এ প্রসঙ্গে এইচপির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা ট্র্যাসি কিয়োঘ বলেন, 'কর্মীরা এই আয়োজনটা খুব পছন্দ করেছে।' করোনায় আর্থিক সংকটে পড়া কর্মীদের ১০ হাজার ডলার করে নেওয়ার অফারও দিয়ে রাখে এইচপি। অফিস চলাকালে কর্মীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে কোম্পানিটি। ফোর্বস-এর সেরা নিয়োগদাতার তালিকায় সর্বোচ্চ ২৪৭টি কোম্পানি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এ ছাড়া ইউরোপের ২২৪টি এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ২০৮টি কোম্পানি রয়েছে। করোনাকালে ভালো ব্যবসা করা তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), সফটওয়্যার ও টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানিই বেশি স্থান পেয়েছে তালিকায়। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা আমাজন কর্মীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সুবিধা দেয়নি এমন অভিযোগ মামলার মুখে পড়েছিল। কোম্পানিটির আটজন কর্মী কোভিডের কারণে মারা যান। তবে জরিপে অংশ নেওয়া আমাজনের কর্মীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটি কর্মক্ষেত্রে সম্মুখসারির কর্মীদের জুনে ৫০ কোটি ডলার বোনাস দিয়েছে, কোভিড মোকাবিলায় কর্মীদের মধ্যে ১০ কোটি মাস্ক বিতরণসহ ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এ ছাড়া আগামী নভেম্বরের মধ্যে দৈনিক ৬৫০টি জায়গায় ৫০ হাজার কর্মীর কোভিড টেস্ট করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আমাজনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গালেত্তি বলেন, 'বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতিতে আমাজনের কর্মীরা ভোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ সেবা দিয়ে চলেছেন। কর্মীদের এই নিবেদনের জন্য আমরা তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।' তিনি জানান, শুরু থেকেই আমাজন তার কর্মীদের নিরাপদ রাখার জন্য কোভিড টেস্ট করার ব্যবস্থা রেখেছে, সেই সঙ্গে কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনার সময়ে আর্থিক সমস্যায় পড়া নিয়মিত ও মৌসুমি কর্মীদের সহায়তার জন্য গঠন করা হয়েছে আড়াই কোটি ডলারের একটি রিলিফ ফান্ড বা ত্রাণ তহবিল। বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজোসের মালিকানাধীন বহুজাতিক কোম্পানি আমাজনে মোট জনবল হচ্ছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমাজন ১ লাখ ৭৫ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ করেছে। ৯ নম্বর স্থান পাওয়া জার্মান কোম্পানি সিমেন্স জুলাই মাসেই কর্মীদের স্থায়ীভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম, মানে বাড়িতে থেকে অফিসের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে কোভিডের পরে এই কোম্পানির কর্মীদের সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অফিসে হাজির হলেই চলবে। সিমেন্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জোচেন ওয়ালিশ্চ বলেন, 'অন্যান্য কোম্পানির সহকর্মীরা চিন্তাই করতে পারেননি, সিমেন্সের মতো একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এভাবে সুবিধা দেবে।' তিনি আরও বলেন, 'আপনি চাইলে বাসায় থেকেও কতটা উৎপাদনশীল ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারেন, সেটা আমরা সবাই করোনাকালে দেখেছি।' ১৮তম স্থান পাওয়া মার্কিন কোম্পানি সিসকোর সিইও চাক রবিনস ও চীফ পিপল অফিসার ফ্রান কাটসোডাস ২২ মে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সপ্তাহে এক দিন ডে অফ ঘোষণা করেন। ২৮ আগস্ট থেকে কোম্পানিটি আবার একই ধরনের আরেকটি ডে অফ ঘোষণা করে। এই কোম্পানি ভারতেও তার ১০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু করেছে।
0
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে যুবলীগ নেতাকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। অপহৃতের নাম- পাইওখ্যই মারমা (৪৫)। তিনি কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। শুক্রবার ভোর রাতে কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম মৈইদং পাড়ায় এঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএসকে দায়ী করেছেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ সংগঠনটির নেতারা। এদিকে যুবলীগ নেতা অপহরণের ঘটনার অভিযোগের পর অভিযানে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ ব্যাপারে রাঙামাটি কাপ্তাই চন্দ্রঘোনা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অপহরণের খবরের পর কাপ্তাই চন্দ্রঘোনা থানার (তদন্ত কর্মকর্তা) হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল অপহৃত যুবলীগ নেতা পাইওখ্যই মারমাকে উদ্ধারে এলাকায় তল্লাশি চালায়। একই সাথে কাপ্তাই জোনের সেনাবাহিনী অপহৃত ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদককে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে সকালে কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড এর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পাইওখ্যই মারমাকে উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ। বিক্ষোভ মিছিলটি চিৎমরম বাজার থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চিৎমরম বাজারে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী। এসময় কাপ্তাউ উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হানিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক থোয়াইচিং মারমা, সাবেক সহ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী, চিৎমরম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নেথোয়াই মারমা, সম্পাদক নুরুল আলম চৌধুরী ও চিৎমরম ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ওয়েশ্লিমং চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সামবেশে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য অংসুই ছাইন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনার পিছনের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপের হাত রয়েছে। তারাই চিৎমরম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পাইওখ্যই মারমকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় ফেরত না দিলে জেএসএসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে আওয়ামী লীগ। অবিলম্বে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপহৃত উপজেলা যুবলীগ নেতাকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসন প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6