text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে গ্রেপ্তার প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। রবিবার (১৫ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ' শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারে পি কে হাওলাদারের গ্রেপ্তারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জেনেছি পি কে হাওলাদার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে আমাদের কাছে এখনও তার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানতে পারিনি। আমাদের যে কাজ আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে গ্রেপ্তার পি কে হালদারের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় শনিবার অর্থসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অভিযানে গ্রেপ্তার হন বহুল আলোচিত পি কে হালদারসহ ছয়জন। গত বছরের ৮ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। তখন তার সম্ভাব্য অবস্থান জানানো হয়েছিল কানাডা। গ্রেপ্তারের পর পি কে হালদার ও অন্যদের পশ্চিমবঙ্গের ব্যাঙ্কশালের আদালতে নেন ইডির কর্মকর্তারা। আদালত পি কে হালদারকে তিন দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয়। গ্রেপ্তারের পরদিন পি কে হালদারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, পি কে হালদার বাংলাদেশের ওয়ান্টেড ব্যক্তি। আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে অনেক দিন ধরেই চাচ্ছি।
6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ফেরিঘাট পুনর্বাসন মার্কেট ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা রক্ষা কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আশুগঞ্জ ফেরিঘাট পুনর্বাসন মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিক কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে এ আলোচনা সভা হয়।গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় পুনর্বাসন মার্কেট প্রাঙ্গণে আশুগঞ্জ ফেরিঘাট পুনর্বাসন মার্কেট ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হাজি সাইদুর রহমান।এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন সহ সভাপতি মো. জাকির হোসেন, হাজি মিজানুর রহমান, মো. বাবুল সরকার, মো. জালাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান কবির, কোষাধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম বকুল, দপ্তর সম্পাদক মো. মোশারফ মুনশি, সদস্য গোলাম হোসেন ইপটি, মজিবুর রহমান সরকার, মো. নোমান মিয়াসহ আরও অনেকে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেরিঘাট পুনর্বাসন মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিক কর্মচারী বৃন্দ।
6
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি কর্মচারীদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে বিন্দুমাত্র অসুবিধার সম্মুখীন না হন সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শনিবার বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ৭২তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী এ সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকারি কর্মচারীদের দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সুষম ও সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ আমাদের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। দেশের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, নিয়মানুবর্তিতা এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বিপিএটিসি'র রেক্টর রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আযম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। দেশের মোট ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৬টি ক্যাডারের ৬২২ জন প্রশিক্ষণার্থী এই কোর্সে অংশ নেন।
6
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রথম ইনিংস শেষ করেছি। ইনশাআল্লাহ এবার দ্বিতীয় ইনিংস খেলব। দ্বিতীয় ইনিংসে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সড়কে ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। আজ রোববার সচিবালয়ে প্রায় আড়াই মাস পর সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর রোববারই প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নিজ দফতরে যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কা্র্যালয়ে গিয়ে প্রথমেই রুটিন ফাইল ওয়ার্ক করেন। পরে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান উন্নয়ন প্রকল্পবিষয়ক সভায় যোগ দেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সড়কে ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করা। আশা করি, সবার সহায়তায় সেটি পারব। তিনি বলেন, জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলাম। যানজটমুক্ত দেশ ও নগর গড়া এখন আমার মূল কাজ হবে। নতুন জীবন পেয়ে সরকারে ও দলে সক্রিয় হতে পেরে ভালো লাগছে। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, আমার অনুপস্থিতিতেও আপনারা কাজে কোনো ঘাটতি তৈরি করেননি। এটা আমি সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায়ই প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুনেছি। তিনি আমায় বলেছেন, তোমার মন্ত্রণালয় ঠিকঠাক মতো চলেছে। চিকিৎসার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৬ জুলাই চেকআপ করাতে যাব। ভারী কাজ করতে চিকিৎসকরা নিষেধ করেছেন। দুই মাস পরপর চেকআপ করাতে হবে। আগের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে রোদ-বৃষ্টি একাকার করে কাজ করতে হয়তো পারব না। তবে ধীরে ধীরে দুই-চার মাস পর আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠব, ইনশাআল্লাহ। সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, মানসিকভাবে আমি সবল আছি। আরও কিছু দিন ধীরে সুস্থে কাজ করতে হবে। আশা করছি, দেড় মাস পর পুরোপুরিভাবে কাজে মনোযোগ দিতে পারব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কাউন্সিল যথাসময়েই হবে। তিন বছর পর সম্মেলন অক্টোবরে কাউন্সিল ধরে নিয়েই দলের যাবতীয় কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। দলের বিষয়ে পার্টি অফিসে কথা বলব। সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমি নতুন করে পথ চলতে চাই। বাকি জীবনটা দেশের ও মানুষের সেবায় কাটিয়ে দিতে চাই।
6
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বাবরি মসজিদ ধ্বংসমামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করতে যাচ্ছে ভারতের আদালত। লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতে রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি সুরেন্দ্রকুমার যাদব রায়। ২০১৯ সালেই অবসর নেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু এই মামলার রায়দানের জন্য তার অবসরের দিনক্ষণ পিছিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে, এ মামলায় অভিযুক্ত বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশী, কল্যাণ সিং, উমা ভারতীসহ ৩২ জন। আগে আদালতের নির্দেশ ছিল আডবাণী, জোশী, কল্যাণ সিং, উমা ভারতীদের সশরীরে আদালতকক্ষে হাজির থাকতে হবে। কিন্তু বয়সের কথা ভেবে নব্বই পার হয়ে যাওয়া আডবাণী ও ৮৬ বছর বয়সী মুরলী মনোহর জোশী জানিয়েছেন, তারা আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। উমা ভারতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে এইমসে ভর্তি। কল্যাণ সিং-ও অসুস্থ। তারা কেউই আদালতে থাকবেন না। তবে আডবাণী, জোশী, কল্যাণ সিংয়ের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে, তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাজিরা দেবেন। বাকিরা আদালতে হাজির থাকবেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপবলয়ের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।বুধবার (১৭ নভেম্বর) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল তেঁতুলিয়ায়। মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি।তবে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ দশমিক ১ থেকে কমে বুধবার হয়েছে ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
7
ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির তৃতীয় দিনে শুক্রবার রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। আজ বিক্রি করা হচ্ছে ১৯ আগস্টের টিকিট। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হলেও টিকিটের জন্য লোকজন আগের রাত থেকেই কাউন্টারে ভিড় জমান। সরেজমিনে দেখা যায়, ৯-১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই টিকিট পেয়েছেন। আবার কেউ ফিরেছেন শূন্য হাতে। নারী যাত্রীদের লাইনও ছিল দীর্ঘ। নীলসাগর ট্রেনের টিকিট পেতে গত রাত থেকে স্টেশনে অপেক্ষা করছেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, সড়কপথের যানজট এড়াতে ট্রেনের টিকিট কাটতে এসেছি। রাত এখানেই কাটিয়েছি। তবুও লাইন শেষ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত টিকিট পাবো কিনা সে নিশ্চয়তাও নেই। কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, রেলওয়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী বহন করে। তবে ঈদুল আজহার সময় প্রতিদিন ৩ লাখ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। যে কোনো ধরনের ঝামেলা এড়াতে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আছেন। প্রতিবারের মতো এবারও একজন চারটি টিকিট অগ্রিম কিনতে পারবেন। কমলাপুরের ২৬টি কাউন্টারের মধ্যে দুটি কাউন্টার নারীদের জন্য। প্রতিদিন দুই লাখ ৬০ হাজার যাত্রী রেলে ঢাকা ছাড়তে পারবেন।
6
নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি বেড়েছে উল্লেখ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।আজ সোমবার সকালে রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন।শফিকুল ইসলাম বলেন, 'নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি বেড়েছে। আইন-শৃঙ্খলার যাতে অবনতি না ঘটে সে দিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ঢাকা মহানগর এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যাতে কেউ কোনো আগুন সন্ত্রাস বা নাশকতা করতে না পারে সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।'পবিত্র রমজান মাস ও ঈদ-উল-ফিতরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় ডিএমপির সব স্তরের কর্মকর্তা ও ফোর্সদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ডিএমপির ক্রাইম বিভাগ ও ট্রাফিক বিভাগকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।'ঢাকা শহরের অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে আরও নিরলসভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঢাকা মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।এপ্রিল মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রথম হয়েছে তেজগাঁও বিভাগ ও শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে রমনা থানা। সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মুজিব আহম্মেদ পাটওয়ারী।অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কৃষ্ণপদ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) একেএম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
6
ময়মনসিংহের নান্দাইলে মনির মিয়া (৪৫) নামের এক অটোচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নান্দাইল মডেল থানার পুলিশ। আজ বুধবার সকাল ৮টায় উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশে চরশ্রীরামপুর বড়ডোবা বিলের বোরো ধানখেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।নিহত মনির মিয়া নান্দাইল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাকচর নলুয়াপাড়া গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মনির মিয়া ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতেন। গত মঙ্গলবার রাতে অটোরিকশা নিয়ে বের হলে আর বাড়িতে ফিরে যাননি। পরে আজ কানুরামপুর-ত্রিশাল সড়কের চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুর বড়ডোবা বিলের ধানখেতে তাঁর মরদেহ পাওয়া গেল। সকালে বিলে মরদেহটি দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে গেছে বলে ধারণা পুলিশের। স্থানীয়রা বলছেন, রাতে যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা গাড়িতে উঠে চালককে হত্যা করে অটো ছিনতাই করে নিয়ে গেছে।নিহত মনির মিয়ার স্ত্রী কুলসুম আক্তার বলেন, 'আমার স্বামী ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতেন। তা দিয়ে সংসার চলত। আমার তিন সন্তানকে এখন কে দেখবে? যারা আমার স্বামীকে হত্যা করে অটোরিকশা নিয়ে গেছে, তাদের বিচার চাই।'নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, খবর শুনে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীরা হামলা চালিয়ে প্রচার মাইক ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মহিউদ্দিন আহম্মেদ লাবু মৃধা বুধবার দুপুরে মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় তিনি ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৭০ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা দিতে যান। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, মামলা নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। তাতেও কাজ না হলে ইসলামী আন্দোলন মঠবাড়িয়া শাখার উদ্যোগে হরতালের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মঠবাড়িয়া শাখার নেতা সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান উদ্দিন, মুজাহিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বেলায়েত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলীল মুন্সী, সেলিম মৃধা, উপজেলা ইসলামী যুব আন্দোলন সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম, পৌর ইসলামী যুব আন্দোলন সভাপতি মো. ইসমাইল শিকদার প্রমুখ। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. নুরুল ইসলাম বাদল জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
আগামী সপ্তাহ থেকে পুরান ঢাকার রাসায়নিক কারখানায় অভিযান চালানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেছেন, কেমিক্যাল কারখানার ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের আগে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, এফবিসিসিআই, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে। কমিটি সরেজমিন যাচাই-বাছাই করবে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ২০টি কেমিক্যাল যাদের কাছে পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার নগর ভবনে 'ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও কেমিক্যাল পল্লীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর' শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাঈদ খোকন এসব কথা বলেন। মেয়র বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চাই না। ব্যবসা চলবে, মানুষের জান ও মালেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি তদারকি করা সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সব সংস্থাকে তদারকি করতে হবে। আমরা কেমিক্যাল কারখানার ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে চাই। তবে যেসব কেমিক্যাল কারখানা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিংবা অগ্নিকাণ্ডের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলোকে আমরা নবায়ন করতে চাই না। কমিটি এসব বিষয় পর্যালোচনা করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। আগামী সপ্তাহে এ লক্ষ্যে অভিযান শুরু হবে। এ সময় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ ডিএসসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
6
দেশের শত শত শিল্পকারখানা যখন গ্যাসের অভাবে ধুকছে, তখন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন থেকে মিটারের বাইরে চোরাই সংযোগ দিয়ে দেদারসে গ্যাস চুরি হচ্ছে। চোরাই এসব গ্যাস যাচ্ছে সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে। অভিযোগ রয়েছে, বাগরাবাদ গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ওইসব ষ্টেশন থেকে মাসে কমিশন হিসেবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। একইসঙ্গে অবৈধভাবে একত্রে থাকা অর্ধশতাধিক সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তির কারণে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দেশের লাইফ লাইন হিসেবে খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় সড়কের দুই পাশে নয়টি সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন রয়েছে। এরমধ্যে আমজাদের বাজারে অবস্থিত 'চিওড়া সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন লি.' থেকে প্রতিদিনই চোরাই সংযোগ দিয়ে কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকে থাকা অর্ধশতাধিক ছোট-বড় সিলিন্ডার ভর্তি করে গ্যাস পাচার হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ভারত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন উপজেলায়। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সরেজমিন দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকে বিভিন্ন আকারের ছোট-বড় অর্ধশতাধিক সিলিন্ডার বোঝাই রয়েছে। সিলিন্ডারভর্তি ট্রাকগুলোর পিছনের অংশ ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো। সবগুলো সিলিন্ডার আবার একটি লাইনে সংযুক্ত থাকে। ওই লাইনের মাধ্যমে সিলিন্ডারগুলোতে অবৈধভাবে গ্যাস ভর্তি করা হচ্ছে। চিওড়া সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনের অবৈধ লাইনটি দক্ষিণ পাশে দেয়ালের সাথে ঢাকনা দিয়ে ঢাকা। পূর্ব থেকে যোগাযোগ থাকা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানগুলো আসলে ষ্টেশনের কর্মচারীরা ওই অবৈধ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস ভর্তি করে। বিষয়টি যাতে অন্যান্য চালকরা ও সাধারণ মানুষ বুঝতে না পারে সেজন্য নজেলের পাশে একটি ঢাকনা দেওয়া থাকে। অবৈধভাবে গ্যাস ভর্তির কারণে ওই ফিলিং ষ্টেশনে প্রকাশ্যে থাকা দুইটি বৈধ নজেলের মাধ্যমে গ্যাস নিতে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস , যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে গ্যাস ভর্তি করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অবৈধভাবে গ্যাসভর্তি কাভার্ডভ্যানগুলো রাঙ্গামাটি, ফকিটছড়ি ও বান্দরবনসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের ভারতীয় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন উপজেলার সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে মিটার টেম্পারিংয়ের কারণে বাগরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমজাদের বাজারস্থ 'চিওড়া ফিলিং ষ্টেশন লিমিটেড' ও কালিবাজারস্থ 'খালেক সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন' নামের দুটি সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন বন্ধ করে দেয়। পরে উভয়টির মালিক ষ্টেশন বন্ধের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন(১৬৯৪৪/২০১২) দাখিল করলে ছয় মাসের জন্য বন্ধ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আদেশের সময় পেরিয়ে গেলেও ষ্টেশন দুটির কার্যক্রম চলছে পুরোদমে। বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ
6
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দেশে নিত্যপণ্যের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, মূল্যস্ফীতি নেই, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই, আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি নেই। তারপরও নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক। সরকারকেই যেকোনো মূল্যে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে হবে। গ্যাস ও ওয়াসার দুর্নীতি ও অপচয়ের দায় জনগণের কাঁধে চাপাতে বারবার গ্যাস ও ওয়াসার পানির দাম বাড়ানো হচ্ছে। তিনি গ্যাস ও পানির দাম না বাড়িয়ে দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করার জন্য শক্ত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং গ্যাস ও পানির দাম না বাড়ানোর দাবিতে জাসদ আজ শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। এ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর কমিটি শনিবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জাসদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে সাবেক মন্ত্রী ইনু এসব কথা বলেন।সমাবেশে হাসানুল হক ইনু বলেন, বাজার সিন্ডিকেট, কালোবাজারি, মুনাফাখোররা কারসাজি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়েই চলেছে, জনগণের পকেট কাটছে, সরকারের রাজস্ব ফাঁকিও দিচ্ছে। মন্ত্রী বা দায়িত্বশীলদের দায়দায়িত্বহীন বক্তব্য বাজার সিন্ডিকেট, মুনাফাখোর, কালোবাজারিদেরই উৎসাহিত করছে। সরকার ও প্রশাসনের নাকের ডগায় বাজার সিন্ডিকেট, কালোবাজারি, মুনাফাখোররা বাজার কারসাজি করে নিত্যপণ্যের লাগামহীন অযৌক্তিক অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করছে। সরকারকেই যেকোনো মূল্যে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে হবে। গ্যাস ও ওয়াসার দুর্নীতি ও অপচয়ের দায় জনগণের কাঁধে চাপাতে বারবার গ্যাস ও ওয়াসার পানির দাম বাড়ানো হচ্ছে। তিনি গ্যাস ও পানির দাম না বাড়িয়ে দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করার জন্য শক্ত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার টিসিবির ওএমএস কার্যক্রমকে বাজার সিন্ডিকেট ও কালোবাজারিদের প্রভাবমুক্ত করা এবং ওএমএস কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য শ্রমিক-কর্মচারীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রেশন কার্ড চালুর দাবি জানান। বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাসদের সহসভাপতি ফজলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা, উম্মে হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান, ওবায়দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নরুন্নবী, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসদের সভাপতি ইদ্রিস ব্যাপারী, জাসদ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শাজাহান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসদের সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান, জাসদের আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. সেলিম, ঢাকা মহানগর পশ্চিম জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জাতীয় কৃষক জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (ন-মা) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাশিদুল হক প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি
9
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রার্থী হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় সদস্য এবং কুমিল্লা জেলার (দক্ষিণ) যুগ্ম-আহ্বায়ক আলমগীর কবির মজুমদার। মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতিতে জাপার প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় তাঁকে পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।আজ বুধবার জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম আজকের পত্রিকাকে এ খবর জানান। তিনি জানান, পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১ (১) ক ধারা মোতাবেক জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে জানান তিনি।আলমগীরকে অব্যাহতির কারণ প্রসঙ্গে মাহমুদ আলম বলেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন আলমগীর। এমনকি ওই প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়েই নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
9
জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বাসের ভাড়া কমানোর দাবিতে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। গতকাল সোমবার বিকেলে নগরের সিটি পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার সভাপতি ও বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলার সমন্বয়ক সিরাজ আহমদের সভাপতিত্বে ও বাসদ সিলেট জেলার সদস্য প্রণব জ্যোতি পালের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার আহ্বায়ক উজ্জ্বল রায়, বাসদ জেলা সমন্বয়ক আবু জাফর ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিলেট জেলার নেতা মো. নাবিল এইচ।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাসদ নেতা জুবায়ের চৌধুরী সুমন, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. হরিধন দাস, বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার নেতা মখলিছুর রহমান, যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সদস্য মতিউর রহমান প্রমুখ।সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার গত সাত বছরে জ্বালানি থেকে ৪৩ হাজার ৫২ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। কিন্তু উল্টো ভর্তুকি না দিয়ে মূল্য আরও বাড়িয়েছে। জনগণের প্রতি বর্তমান সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা না থাকায় তারা বারবার তেল-গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করছে।বক্তারা আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পাতানো খেলার মাধ্যমে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। বর্তমানে এমনিতেই প্রতিটি পণ্যের দাম মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। মানুষ এখন একদিন বাঁচলে আরেকদিন কীভাবে বাঁচবে তা জানা নেই তাদের। এমন অবস্থায় ঘরপোড়ার মধ্যে আলুপোড়া দিয়ে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছে।অবিলম্বে জ্বালানি তেল, বাস ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম না কমানো হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
6
প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় পানি ঢুকে পড়ায় বিমানের ফ্লাইট বন্ধের পর এবার ট্রেন ও বাস যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শনিবার (১৮ জুন) দুপুরে পৃথকভাবে ওই জেলার রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনাল বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও স্টেশন থেকে ট্রেন চলবে বলে জানিয়েছে সিলেট রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ। এদিকে বাস চলাচল বন্ধের বিষয়ে সিলেটের পরিবহন নেতা আবদুল গফুর বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে সিলেটের কদমতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে জলাবদ্ধতার দেখা দিয়েছে। সিলেটগামী বিভিন্ন সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এখনও বেশ কিছু যানবাহন চলতে দেখা গেছে। কিন্তু যে কোনো সময় তাও বন্ধ হয়ে যাবে। আরও পড়ুন : সুনামগঞ্জের পর এবার সিলেট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকার ফলে দুপুরে দিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সব বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে দুই জেলার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন।
6
তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর মোহাম্মদ নবী-রশিদ খানদের ক্রিকেট উন্নয়নে ইতিবাচক আশ্বাস দিলেও শঙ্কায় দেশটির নারী ক্রিকেট। এদিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, আফগানিস্তানে নারী ক্রিকেট বন্ধ হলে নভেম্বরে রশিদদের বিপক্ষে টেস্টটি খেলবে না অস্ট্রেলিয়া।অস্ট্রেলিয়ার এক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তালেবান সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আহমেদউল্লাহ ওয়াসিক ইঙ্গিত করেছেন, বন্ধ হয়ে যেতে পারে আফগান নারী ক্রিকেট। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'আমি মনে করি না যে নারীদের ক্রিকেট খেলার অনুমতি দেওয়া হবে, কারণ নারীদের ক্রিকেট খেলাটা জরুরি নয়। খেলতে গিয়ে অনেক সময়ই তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে, ইসলামে যা বারণ করা হয়েছে। শুধু ক্রিকেট নয়, অন্য যে খেলাগুলোতে শরীর দেখা যায়, সব খেলায় ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে নারীদের অনুমতি নেই।'ওয়াসিকের এই কথাগুলো হিতে বিপরীত হতে পারে দেশটির সামগ্রিক ক্রিকেটের জন্য। এই সাক্ষাৎকারের জের ধরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আফগানিস্তানে নারী ক্রিকেট না চললে হোবার্টে ২৭ নভেম্বর যে টেস্ট হওয়ার কথা, সেটি তারা আয়োজন করবে না। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়েই নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট খেলা সবার জন্য এবং সব স্তরেই নারীদের ক্রিকেট খেলাকে আমার সমর্থন করি।
12
আপাতত কোনো সিরিজ নেই। বিশ্বকাপের ক্যাম্পও শুরু হয়নি। ক্রিকেটাররা রয়েছেন তাই অবসরে। এই সময়ে ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব গেলেন বাংলাদেশের সাত ক্রিকেটার। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেন তারা। এই সাত ক্রিকেটারের মধ্য পাঁচজন আছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা হলেন- তাসকিন আহমেদ, নাঈম শেখ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নুরুল হাসান সোহান ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। তাদের সাথে ওমরাহ পালনে গেছেন তাইজুল ইসলাম ও জাকির হাসান। তাইজুল টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য আর জাকির দেশের হয়ে খেলেছেন একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
12
জালাল ভাইয়ের (জালাল আহমেদ চৌধুরী) সঙ্গে সর্বশেষ কথা গত ২৭ আগস্ট। ঢাকা প্রথম বিভাগের ক্রিকেটার শহীদ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে শহীদকে জালাল ভাই চিনতেন।ফোনের এ প্রান্তে স্পষ্ট বুঝতে পারছি, জালাল ভাই কাশির দমকে কথা বলতে পারছেন না ঠিকঠাক! তাঁর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বুঝতে পেরে উদ্বেগভরা কণ্ঠে জানতে চাইলাম, 'আপনার শরীরটা ভালো আছে?' হাল ছেড়ে দেওয়া কণ্ঠে বললেন, 'আর শরীর...!' শরীরের ওপর জালাল ভাই নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে হারাচ্ছেন, বুঝতে পারছিলাম কয়েক মাস ধরেই। গত জুনের মাঝামাঝি তাঁকে ফোন করেছিলাম একটা লেখা চেয়ে। আজকের পত্রিকা বাজারে আসছে ২৭ জুন, একটা লেখা দিতেই হবে-বলতেই খুব অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন জালাল ভাই। বললেন, 'শরীরটা ভালো যাচ্ছে না! একটু সুস্থ হয়ে নিই, দেব।'জালাল আহমেদ চৌধুরী, আমাদের প্রিয় জালাল ভাই-দেশের খেলার লেখকদের কাছে এক সম্মানীয় ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, যিনি একইভাবে সম্মানিত দেশের ক্রিকেটাঙ্গনেও। ষাট ও সত্তরের দশকের খেলোয়াড়িজীবন কেটেছে ওপেনিং ব্যাটসম্যান ও উইকেটকিপার হিসেবে। পরে কোচ আর ক্রীড়ালেখক-দুটি পরিচয় সমান্তরালে এগিয়ে নিয়েছেন। কোচ হিসেবে কাজ করেছেন জাতীয় ও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের আবাহনী, মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া, সাধারণ বীমা, আজাদ স্পোর্টিং, পিডব্লিউডি, ধানমন্ডি ক্লাব ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে। 'কাজ করেছেন' বলা হলেও নিরহংকার, সদালাপী, মিশুক মানুষটির অর্থবিত্তের প্রতি বিন্দুমাত্র আকর্ষণ ছিল না। সাধারণ এক জীবনযাপনে অভ্যস্ত জালাল ভাই তাঁর বিপুল ক্রিকেট প্রজ্ঞায় খেলোয়াড়দের যেমন শিখিয়েছেন, একইভাবে মুগ্ধ করা সব লেখায় শিখিয়েছেন খেলার লেখকদের। শেষ দিকে তাঁর একাকিত্ব জীবনে ফেসবুক ছিল বড় সহায়। মনের ভেতরে গুঞ্জরিত সব ভাবনা, কথা নান্দনিকভাবে তুলে ধরেছেন 'নীল বই'য়ের পাতায় পাতায়। আর তাতে মিলেছে নতুন নতুন কত শব্দ; তা দিয়ে শিরোনামও হয়েছে সংবাদপত্রে। কখনো কখনো ক্রিকেট বোর্ডের অসংগতি, অনিয়ম দেখে চুপ থাকতে পারেননি। শৈল্পিক লেখনীতে উচ্চকণ্ঠে জানিয়েছেন কড়া প্রতিবাদ।সেই জালাল ভাইয়ের একটা লেখা দিয়েই যাত্রা শুরু করতে চেয়েছিল আজকের পত্রিকার খেলা বিভাগ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে লেখাটা আর পাওয়া হয়নি। লেখাটা না দিতে পেরে নিজের ভেতরও হয়তো অস্বস্তি কাজ করছিল তাঁর। এটি নিয়ে ফেসবুকে এক সন্ধ্যায় লিখলেন, 'রানা, দিনের বেলা অভিনন্দন জানাইনি। তোমার কাছে খানিকটা লজ্জা জমা আছে, সে লজ্জা ঢাকতে সন্ধ্যার আড়ালে অভিনন্দিত করছি। কামনা করি তোমার যোগ্য হাতে আজকের পত্রিকার নিত্যদিনের খেলার পাতা গুণে মানে আমাদের দৈনিক পত্রিকার জগৎকে প্রতিযোগিতা কাতর করে তুলুক। অচিরেই যুক্ত হবার বাসনা রাখি।'বাসনা থাকলেও 'যুক্ত' আর হতে পারলেন না জালাল ভাই। গতকাল সূর্য যখন মধ্যগগনে, তখন নিভেছে তাঁর জীবনের আলোটা।
12
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় লকডাউন অমান্য করে যাত্রী বহন করায় ৪০টি বাস আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। শুক্রবারসকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উত্তরবঙ্গগামী এসব বাস আটক করা হয়। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেশি ভাড়া নিয়ে লকডাউন অমান্য করে মহাসড়কে রাতে যাত্রবাহী গণপরিবহন চলাচল করে। চন্দ্রা এলাকায় শুক্রবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট দিয়ে বাস অতিক্রম করার সময় গাজীপুর রিজিয়ানের পুলিশ সুপার আলী আহমেদ খানের নির্দেশনায় ৪০টি উত্তরবঙ্গগামী বাস আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সালনা হাইওয়ে পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় বিএনপির আহ্বায়ক জি এম নজরুল ইসলামের ওপর হামলা হয়েছে। আজ রোববার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের মরণমোড় এলাকায় রাস্তার ওপর এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব টিপু সুলতানকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বেলা দেড়টার দিকে মোটরসাইকেলে নজরুল ইসলাম শালনগর থেকে লোহাগড়া যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি মরণমোড় এলাকায় পৌঁছালে ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত নজরুল ইসলামের পথ রোধ করে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা দেশি অস্ত্র দিয়ে নজরুল ইসলামের কোমরের অংশে উপর্যুপরি কোপ দেয়। এরপর স্থানীয় লোকজন তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপিতে দুটি পক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে জি এম নজরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সেলিম কাজীসহ আরও কয়েকজন নেতা একপক্ষের নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে আরেক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন উপজেলা বিএনপির আরেক সদস্যসচিব ও জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক টিপু সুলতান। হামলার প্রসঙ্গে সেলিম কাজী প্রথম আলোকে বলেন, 'শুনেছি, টিপু সুলতানের নেতৃত্বে তাঁকে (নজরুল ইসলামকে) কোপানো হয়েছে। আমরা মুরব্বিরা ভদ্র রাজনীতি করি। অন্যপক্ষে কিছু বেয়াদব ছেলেপেলে আছে, তারা বিএনপির রাজনীতি নোংরা করছে।' এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিপু সুলতানের দুজন সহযোগী প্রথম আলোকে বলেন, টিপু সুলতানকে বাদ রেখে আজ ওই এলাকায় উপজেলা বিএনপির নেতারা বৈঠক করেন। ওই সভায় টিপুর বিপক্ষে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কারা হামলা করেছে, এ বিষয়ে ওই দুজন কিছু জানাননি। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু হেনা বলেন, বিএনপির লোকজনের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে টিপু সুলতানকে আটক করা হয়েছে। হামলার শিকার বিএনপির নেতা এখন আশঙ্কামুক্ত। এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে মামলা হবে।
9
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়ে আগামীকাল রবিবার (৬ মার্চ) তিনি এই কথা বলবেন বলে তার মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন জানিয়েছেন। ইব্রাহিম কালিন বলেন, তুরস্ক এই সংকট সমাধানে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র : রয়টার্স বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
3
গঙ্গা নদীতে দেওয়া ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে ভাটিতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২ কোটি মানুষ সেচের পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের আরও প্রায় ৪ কোটি মানুষ ও এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সেচের পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ এলাকায়ও সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর্থিক হিসাবে বছরে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।সোমবার (১৬ মে) ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে ৪৬তম ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উদ্যাপন কমিটি আজ রোববার (১৫ মে) সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছে। রাজশাহী নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক ও নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী।মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, পদ্মার উজানে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে মরণবাঁধ ফারাক্কা অভিমুখে লাখো জনতার লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক চাপে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি করে। কিন্তু পরে আন্তর্জাতিক সব আইন লঙ্ঘন করে ভারত একাই গঙ্গার পানি নিচ্ছে। এতে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে।তিনি জানান, ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের মাটির উর্বরাশক্তি কমে গেছে। দেশের প্রায় ২১ শতাংশ অগভীর নলকূপ ও ৪২ শতাংশ গভীর নলকূপ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। গঙ্গার পানি চুক্তির পর বাংলাদেশে গঙ্গার পানির অংশ দাঁড়িয়েছে সেকেন্ডে ২০ হাজার ঘনফুটের কম। অথচ ফারাক্কা বাঁধ চালুর আগে শুষ্ক মৌসুমেও বাংলাদেশ ৭০ হাজার কিউসেকের চেয়ে বেশি পানি পেত। এখন ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে। আর্সেনিকের বিষাক্ত প্রভাবে পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলায় টিউবওয়েলের পানি খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় প্রচলিত ধান উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। নদীতে মাছ না থাকায় হাজার হাজার জেলে বেকার। লবণাক্ততার কারণে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের প্রায় ১৭ ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। মাহবুব সিদ্দিকী আরও বলেন, বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের সার্বিক ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তখন থেকে আজ অবধি প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এই অবস্থার জন্য যারা দায়ী তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় এবং গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারসহ সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এই নদী গবেষক।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর পাঠানপাড়ায় লালন শাহ মুক্তমঞ্চে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের রাজশাহীর সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন পিয়ারা, রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহীর সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াসিম হোসেন, বাসদের রাজশাহীর সদস্য শামসুল আবেদীন ডন, ব্যবসায়ী নেতা ফরিদ মামুদ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
6
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান বলেছেন, 'যখন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের র্যাবের সাত কর্মকর্তাকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, ঠিক তখন বিএনপির মির্জা ফখরুল ও মাহমুদুর রহমান মান্না এমন বক্তব্য দিয়েছেন যে, মনে হয়েছে তাঁরা আনন্দে মরে যাচ্ছেন। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে আমেরিকা আর তারা (বিএনপি) খুশিতে বগল দাবাচ্ছে।'আজ শুক্রবার সকালে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।ফারুক খান বলেন, 'নির্বাচন এলে এখনো আমাদের দেখতে হয় মিরজাফরদের পদচারণা। মিরজাফররা শেষ হয় না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এরাই বিরোধিতা করেছিল। এরাই আমাদের মা-বোনদের পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছে। এদের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশে আলবদর, আলশামস তৈরি হয়েছে।'আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, 'যখনই বাংলাদেশ এগিয়ে যায়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরি, তখনই তারা পেছন থেকে ষড়যন্ত্র শুরু করে। বিভিন্নভাবে তারা দেশের মানুষকে পেছন দিকে নিয়ে যায়। খুবই দুঃখজনক ব্যাপার হলো, যখন দেখি আমাদের দলের বিভিন্ন পদে যাঁরা বসে আছে, তাঁরাও এর সঙ্গে জড়িত থাকে।'ফারুক খান বলেন, 'আমাদের জন্য ভালো খবর হচ্ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে পেরেছি। আপনারা তাদের এমনভাবে পরাজিত করেছেন যে, তাদের ষড়যন্ত্র ধূলিসাৎ হয়েছে। কিন্তু তারা আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে, তাদের ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে হবে।'নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে ফারুক খান বলেন, 'উন্নয়নের আগে হচ্ছে রাজনীতি। আপনারা সেদিকেও খেয়াল রাখবেন। আপনারাই আমাদের আগামীর সম্বল। আপনাদের তৃণমূলের নেতৃত্বই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।'মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুকসুদপুর পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম শিকদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান টুটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সাব্বির খান, সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য রেহানা আক্তারসহ মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
6
দুঃখিত, আমরা রাজনীতিবিদদের দায়ী করছি। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অন্তত ২৬ জন ছাত্রের পরিবারে, মা-বাবা-ভাই-বোন-চাচা-মামা-খালা-ফুপু আরও কত নিকটাত্মীয় কত শত জনের অন্তরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে; ওই গৃহগুলো কান্নায়, হাহাকারের দীর্ঘশ্বাসে বাষ্পায়িত হয়ে আছে; অনেক গৃহ আলো না জ্বালিয়ে অন্ধকারে ডুবে আছে- আমরা কি সবাই সমানভাবে উপলব্ধি করছি? অবশ্যই অগণিত মানুষ তা করছেন। কারণ আমরা জানি, সব ছাত্রই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না; মেধাবীরাই পারে। এতজন মেধাবী ছাত্র প্রকৌশলী হতে পারল না; জীবনের মাঝপথে হারিয়ে গেল! এ তো শুধু অনেক পরিবারের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাওয়া নয়। অনেক অর্থমূল্য দিয়ে মানবসম্পদ তৈরির পথে বিঘ্ন- এ যে দেশ ও সমাজের বিরাট ক্ষতি। কে বা কারা দায়ী? বুধবার দ্বিপ্রহরে ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের একটিতে বিচারক আবু জাফর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান রায় পড়লেন। প্রায় তখনই টেলিভিশনের খবরে আমরা জানলাম- ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা ছাত্রাবাসে গভীর রাতে আবরার ফাহাদ নামে তড়িৎ ও বৈদ্যুতিন প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রকে যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, সেই অপরাধে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। আবরার ও এই ২৫ জনকে নিয়ে ২৬ জন তাজা তরুণ। আবরার মারা গেছেন। মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত হতে উচ্চ আদালতের অভিমত লাগবে; কেউ কেউ হয়তো রেহাই পেতে পারেন। তবে তারা যে সবাই প্রকৌশলী হতে পারলেন না; জীবন হয় অবসান, না-হয় বিপর্যস্ত হয়ে গেল- এটা সত্য। দায়ী কে বা কারা? আবরারের দুঃখী পিতা-মাতা বাকি পাঁচজনেরও ফাঁসি হলে খুশি হতেন; রাষ্ট্রপক্ষ ও বুয়েটের শিক্ষক-ছাত্রগণ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। তারা রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চান- এমন প্রতিক্রিয়া সংবাদমাধ্যমে দেখেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের আবেগ বোধগম্য। তবে ২৫ জন তরুণকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার রায় অনেক বড় তাৎপর্য বহন করে। তার মানে এই নয় যে, অপরাধীদের শাস্তির গুরুত্ব কম বা শাস্তি লঘু হোক। এই ২৫ জনই প্রাপ্তবয়স্ক। অপরাধের শাস্তি তাদের প্রাপ্য। যথাযথ প্রমাণ হাজির করলে বিচারক শাস্তি না দিয়ে পারেন না। তবে আমরা সেই মহাজনবাক্যও ভুলতে পারব না- 'দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান আঘাতে, সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার।' এই দণ্ড দিয়ে হয়তো বিচারকও কাঁদছেন। বিচার সঠিক হয়েছে মেনে নিয়ে আমরা সমাজও কাঁদছি। কাঁদতে হয়, কারণ আমরা জানি, পাপকে ঘৃণা করতে হয়, পাপীকে নয়। কোনো মানবশিশু পাপী হয়ে জন্মায় না। এই ২৫ তরুণ সব সময় পাপী ছিলেন না। পিতা-মাতা তাদের শিক্ষালয়ে পাঠিয়েছেন লেখাপড়া শিখতে; অপরাধী হতে নয়। বুয়েট বা অন্য যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের অপরাধী বানায় না। ব্যক্তিগতভাবে উচ্চশিক্ষিত দু-চারজন অপরাধী হতে পারে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে দল বেঁধে অপরাধী হওয়ার এমন নজির তো আমাদের দেশে কয়েক দশক আগে ছিল না। গত ৩০-৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা জানি, সব ছাত্র নয়, তবে অনেকের জন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বড় একটি 'শিক্ষালয়' হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল; বিশেষত যেসব দল ক্ষমতায় থেকে দেশ শাসন করেছে, করবে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রবল খবরদারিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনও যে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে চালানো যায় না- তা কি অজানা? উপাচার্য নিয়োগ কীভাবে হয়, তা থেকে শুরু করে ছাত্রাবাসের ডাইনিং হলের ম্যানেজার নির্ধারণ পর্যন্ত কী হ্যাপা, তা কার অজানা আছে? ডাইনিং হল ম্যানেজার কেলেঙ্কারিতেই সবেমাত্র ৩০ নভেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেনের হূৎপিণ্ডের স্পন্দন থেমে গেল বলে সন্দেহ ও তদন্ত ঘুরপাক খাচ্ছে। এজন্য দোষারোপের তীর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দিকে নির্দেশিত। আর আবরার হত্যায় সাজাপ্রাপ্ত সবাই বুয়েটের ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। ছাত্রলীগ বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভিভাবকত্বে পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন। যে তিনটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন নিকট-অতীতে দেশে এমন সব ভয়ানক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়েছে, সেগুলোর বাকি দুটি হচ্ছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। ক্ষমতার রাজনৈতিক দলগুলো। তাই বলছিলাম, সমাজে অপরাধীর উদ্ভব ও অপরাধমূলক কাজে জড়িত হওয়ার অনেক কারণ থাকে। ছাত্রদের এ-ধরনের অপরাধমূলক কাজের জন্য আমরা দুঃখের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ও প্রধানত ক্ষমতা চর্চাকারী রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের দায়ী করতে পারি। ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন মহান ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত জাতির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ের গৌরব গায়ে মাখা ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন; দেশের ইতিহাসের অনেক আদরের ধন। সাবেক উপনিবেশ ও শিক্ষার হার যেসব দেশে কম সে দেশগুলোতে অপেক্ষাকৃত সচেতন নাগরিক হিসেবে ছাত্ররা এই ভূমিকাই পালন করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে, বিশেষত ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতাদের শাসনামলে আর সেই বাস্তবতা নেই। ক্ষমতা চর্চাকারী রাজনীতিবিদরা ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিজ নিজ দলের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করেছেন। চাঁদাবাজিসহ বহু রকম অপরাধ করার সুযোগকে পরিণত করেছেন ওই লাঠিয়ালদের অঘোষিত বেতন হিসেবে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন বহু বছর বন্ধ রাখা হয়েছে। সেগুলোতেই ছাত্রদের পাঠ-অতিরিক্ত ক্রীড়া-সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা হতো এবং চরিত্র ও নেতৃত্ব গঠনের অনুশীলন হতো। এ চর্চা ধ্বংস করার জন্য কারা দায়ী? কেন? রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে বছরের পর বছর আমরা লিখে চলেছি। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যার আর প্রয়োজন নেই। এখন শিক্ষাঙ্গনে প্রতিনিয়ত হত্যা-সন্ত্রাস, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সব নির্বাচনে অনিয়ম-সন্ত্রাসে দুর্বৃত্তায়ন ও কলুষিত রাজনীতির চেহারা প্রকট হয়ে উঠেছে। বুয়েটের আবরার হত্যার রায়ে আমি যতখানি ন্যায়বিচার দেখি, তার চেয়ে বেশি দেখি কলুষিত রাজনীতির পরিণাম ও মূল্য কতখানি! রাজনীতিবিদদের কাছেই আমাদের জিজ্ঞাসা ও প্রত্যাশা- এই কলুষ থেকে মুক্ত হয়ে পরিশীলিত রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতি গড়ার আনন্দ আমরা কীভাবে, কবে পাব? লেখক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
8
সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষার্থীর দ্বন্দ্বের জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। এ সময় অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে প্রায় এক ঘণ্টা সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার তাজপুর বাজারে সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের কারণে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি আটকা পড়ে। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটার মাধ্যমে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারও দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়াতে পারে এই আশঙ্কায় ইউএনও'র নির্দেশে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত তাজপুর বাজার এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।সংঘর্ষ চলাকালে উপজেলা ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মীদের দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পাল্টাপাল্টি হামলা চালাতে দেখা গেছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, কলেজের দুই শিক্ষার্থীর দ্বন্দ্বকে ঘিরে বাজার এলাকায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই সংঘর্ষ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃত সংঘর্ষকারীদের এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, তাজপুর ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষার্থীর দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাজপুর বাজারে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষটি এলাকা ভিত্তিক ছড়িয়ে পড়লে বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিপেটার মাধ্যমে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।সংঘর্ষ চলাকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহনসহ কয়েকটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ঝুঁকি নিয়ে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স তাজপুর বাজার পার হয়।ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এস মইন উদ্দিন বলেন, 'খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাজার এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকা শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে থানা-পুলিশ তৎপর রয়েছে।'
6
পদ্মায় নির্মিত সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন পারাপারের জন্য সরকার ঘোষিত টোলের পরিমাণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান।বিবৃতিতে বলা হয়, সমগ্র বাংলাদেশ যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ, সাহসী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপে নির্মিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণের প্রহর গুনছে, তখন সেতু পারাপারে নির্ধারিত অস্বাভাবিক টোল হার জাতিকে হতাশ করেছে। সাধারণ জনগণের আর্থিক সঙ্গতির কথা বিবেচনায় নিয়ে টোল হার নির্ধারণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় বিবৃতিতে।সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে 'নির্ধারিত টোল হারকে অসহনীয়' উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ যাত্রী এবং পণ্যবাহী সব ধরনের যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত টোল সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেবে। সেতু বিভাগের এই সিদ্ধান্তের কারণে জনগণের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।স্বপ্নের পদ্মা সেতুসম্পর্কে সবশেষ খবর পেতে - এখানেক্লিককরুননদ-নদী, নৌ যোগাযোগ, গণপরিবহন, পরিবেশ ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উচ্চহারের এই টোল পদ্মা সেতু ব্যবহারকারী যাত্রীদের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে পরিবহন ব্যয়বৃদ্ধির কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবে। যার খেসারত দিতে হবে সারা দেশের সব শ্রেণির মানুষকে। আগামী মাসে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগেই টোলের পরিমাণ সহনীয় মাত্রায় নির্ধারণ করে সরকার সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় বিবৃতিতে।পদ্মা সেতুসম্পর্কিত আরও পড়ুন:পদ্মা সেতু, স্যাটেলাইট ও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রীপদ্মা পাড়ে স্বপ্ন জয়ের প্রস্তুতিবাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করলে তাদের গায়ে লাগে: প্রধানমন্ত্রীপদ্মা সেতু শাস্তি প্রয়োগের কোনো স্থাপনা নয়: আ স ম রববিএনপি-জামায়াত দেশকে শ্রীলঙ্কার অবস্থায় দেখতে চায়: হানিফপদ্মা নদীর নামেই সেতু, উদ্বোধন ২৫ জুনসর্বজনীন পদ্মা সেতুতে ওঠার আগে অপপ্রচারকারীদের ক্ষমা চাওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রীনগরের আয়তন বৃদ্ধির প্রস্তাবপদ্মা সেতু নিয়ে টিকটকে অপপ্রচার, তরুণ গ্রেপ্তার
6
বাসাইলে একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক উল্টে পুকুরে পড়ে গেছে। এ সময় চালক ও তাঁর সহযোগী আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পাঠান স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল রোববার সকালের দিকে পশ্চিমপাড়া রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। রাস্তার সিসি ঢালাইয়ের জন্য সিমেন্ট নিয়ে ট্রাকটি আসার সময় উল্টে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। এতে প্রায় কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
6
শিশু হইচই করে ঘুরে বেড়াবে, দুষ্টুমি করবে, এটাই তো স্বাভাবিক। ছুটোছুটি, দৌড়ঝাঁপ তো থাকবেই। প্রাণোচ্ছল আর হাসি-আনন্দের মধ্যে পোশাকও ময়লা হয় রোজ। মা-বাবার বকুনিও হয়তো জোটে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! তবে যে শিশুরা স্কুল যায়, তাদের স্কুলপোশাক পরিপাটি ঝকঝকে রাখতে তো হবেই। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইসমাত রুমিনা বলেন, 'নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য পরিচ্ছন্ন পোশাক জরুরি। সবার সঙ্গে মেলামেশা ও খেলাধুলা করতে ভালোবাসে স্কুলের শিশুরা। পরিবেশ ও বন্ধুদের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য পরিচ্ছন্ন পোশাক অবশ্যই প্রয়োজন। সবার সঙ্গে চলতে পারলে শিশু আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।' পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে-এমনটাই মনে করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. রশিদুল হক। নোংরা পোশাকের কারণে বারবার শিশুর শরীরে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিশুর মন খারাপও হয়। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষিকা কামরুন নাহার বলেন, প্লে গ্রুপ থেকেই শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়। শারীরিক শিক্ষা ক্লাসে হাতে-কলমে পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন দিক শেখানো হয়। এমনকি নিজের কাপড় পরিষ্কার করতে মাকে সাহায্য করতেও শেখানো হয় এ বয়স থেকেই। পরিচ্ছন্নতার জন্য আলাদা নম্বরও বরাদ্দ থাকে।একটি পোশাক দুই দিনের বেশি পরা উচিত নয় শিক্ষার্থীদের। হাত, নখ, চুল, পোশাক, জুতা, মোজা আর নিজের চারপাশটাকে পরিচ্ছন্ন রাখার দেখভালের দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও। তবে এসবের বাইরেও রয়ে যায় অনেক বিষয়। পোশাকে ধুলা-ময়লা বা কাদা লেগে থাকলে সহপাঠীরা তার সঙ্গে মিশতে বা খেলতে না-ও চাইতে পারে, শিক্ষকেরা বকাঝকা করতে পারেন। এমনটা হলে শিশু হীনম্মন্যতায় ভুগতে শুরু করে। পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, এমনকি স্কুলে যেতে ভয়ও পেতে পারে। শিশুটি ভাবে, সবাই যা পারে, সে তা পারে না। সে সহজেই রেগে উঠতে পারে। একসময় সে সাধারণ বিষয়গুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু করতে পারে। এখন বৃষ্টির দিন, তাই স্কুলের পোশাকের জন্য একটু বাড়তি যত্ন নিতে হবে। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়নশিল্প বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহজাদা আক্তার জানালেন কিছু সমাধান। * স্কুলের পোশাকের একাধিক সেট তৈরি করিয়ে রাখুন। একটি ধুয়ে ফেললে যেন পরদিন অন্য একটি পরিষ্কার পোশাক পরে শিশু স্কুলে যেতে পারে। কোনো কোনো স্কুলে শরীরচর্চা ক্লাসের দিন আলাদা পোশাক পরার নিয়ম থাকে। সেটির একাধিক সেট রাখুন। * পোশাকে কাদা-ময়লা লেগে গেলে বাড়ি ফিরেই সেই পোশাক ধুয়ে ফেলতে হবে। পরিষ্কার করতে দেরি করলে দাগ ওঠাতে আরও ঝক্কিতে পড়তে হয়। * বাড়ি ফিরেই পোশাক বদলে দিন এবং রোদে বা বাতাসে রাখুন। জুতা-মোজা খুলে রাখুন। * বৃষ্টির মৌসুমে শিশুকে রেইনকোট দিতে পারেন; খেয়াল রাখুন রেইনকোটের ভেতরে যেন তার স্কুলব্যাগটিরও জায়গা হয়। * প্রতিদিনের ব্যবহৃত মোজা অবশ্যই প্রতিদিন ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। বাড়ি ফিরে জুতা খুলে শু-র্যাকে না উঠিয়ে প্রথমে রোদে বা বাতাসে রেখে দিন। ভালোভাবে শুকিয়ে যাওয়ার পর গুছিয়ে রাখুন। জুতা ময়লা হলে বাড়ি ফেরার পর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করুন এবং না শুকানো পর্যন্ত রোদে বা বাতাসে রাখুন। * স্কুলের পোশাকের নিচে গেঞ্জি বা এজাতীয় কিছু পরানো হলে সেটিও প্রতিদিন ধুয়ে ফেলতে হবে। * খেলাধুলার পোশাক হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ঢেকে থাকলে তা শিশুর জন্য ভালো। এতে শিশু পড়ে গেলেও কম আঘাত পাবে। এ পোশাকগুলো সহজেই ময়লা হয়ে যায়, তাই নিয়মিত ধুতে হবে। অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা নূর নাহার শারমিন সুলতানা জানালেন, শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য বিষয়। তাই এ বিষয়ে স্কুল থেকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়। পোশাক, জুতা-মোজাসহ সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার জন্য শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা নম্বর বণ্টনেরও নিয়ম রয়েছে।
4
আত্রাইয়ে হিঙ্গলকান্দী- লালপাড়া সড়কে নিয়ম না মেয়ে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগে মানহীন ইট অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নওগাঁ জেলা এলজিইডি অধিদপ্তর থেকে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক-২ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার হিঙ্গলকান্দী থেকে লালপাড়া পর্যন্ত ৮০০-১৩০০ মিটার রাস্তা প্রশস্তকরণে টেন্ডার দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ইট থেকে শুরু করে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। তবে ঠিকাদার আপত্তি উপেক্ষা করলে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় যেসব ইট ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিম্নমানের। এতে রাস্তা টেকসই নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামের মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘব করে সোনার বাংলা বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। হিঙ্গলকান্দী গ্রামের আলতাফ হোসেন জানান, রাস্তায় ব্যবহৃত ইটগুলা একবারে নিম্নমানের। বালুর কাজও দায়সারা। কাজ শেষ হওয়ার আগেই অনেক জায়গা ভেঙে যাচ্ছে। লালপাড়া গ্রামেরর আব্দুস ছাত্তারসহ এলাকাবাসী অসাধু ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। আত্রাই উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ নওয়াজ খান বলন, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। মানহীন ইট অপসারণ করে টেন্ডার মোতাবেক কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
6
গ্যালারির দুই প্রান্তে সমর্থকদের লাল ঢেউ। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার খানেক দর্শকের প্রায় সবাই যেন বসুন্ধরা কিংসের সমর্থক। এমন ভরপুর সমর্থনে স্নায়ুচাপে যেন তাল হারাল লিগজয়ী বসুন্ধরা। বাংলাদেশ পুলিশের বিপক্ষে তাদের জয়টা এল পেনাল্টি থেকে পাওয়া একমাত্র গোলে।কষ্টার্জিত ১-০ গোলের জয়ে স্বাধীনতা কাপের 'ডি' গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বসুন্ধরা। গতকাল দিনের আরেক ম্যাচে শেষ সময়ের গোলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফুটবল দলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। শেষ আটে ওঠার স্বস্তির সঙ্গে অস্বস্তিও মিশে আছে বসুন্ধরা শিবিরে। পুলিশের বিপক্ষে গতকাল চোটে পড়ে ম্যাচের পুরোটাও শেষ করতে পারেননি দলটির দুই তারকা ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ও তারিক কাজী। ম্যাচ শেষে তারিক কাজী ড্রেসিংরুমে ফিরলেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে!গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নৌবাহিনীকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বসুন্ধরা। দলের তিন বিদেশিই আলো ছড়িয়েছেন সেই ম্যাচে। গতকাল এই বিদেশিদের স্বাভাবিক খেলাটা নষ্ট করে বসুন্ধরাকে বেশ ভুগিয়েছেন পুলিশের রক্ষণ সেনারা। বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট না হলে হয়তো বসুন্ধরার কাছ থেকে পয়েন্টও কেড়ে নিত পুলিশ!কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৬ মিনিটেই গোল পেয়ে বসুন্ধরা ইঙ্গিত দিচ্ছিল আগের ম্যাচের মতো বড় জয়ের আভাস। নিজেদের ডি-বক্সে ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ফার্নান্দেজকে ফাউল করে দলকে বিপদে ফেলেন বসুন্ধরা ডিফেন্ডার ইশা ফয়সাল। স্পট কিকে বল জালে জড়ান আরেক ব্রাজিলিয়ান রবসন রবিনহো।স্নায়ুর উত্তেজনায় শেষ দিকে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। দুই দলের খেলোয়াড়কেই হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি।দিনের পরের ম্যাচে ১৪ মিনিটে চট্টগ্রাম শিবিরকে চমকে দিয়ে লিড নেয় নৌবাহিনী। বাঁ-প্রান্ত থেকে রহমত মিয়ার উড়িয়ে দেওয়া ক্রসে মাথা ছুঁয়ে বল জালে জড়ান ফরোয়ার্ড জুয়েল রানা। সেই গোলেই যখন জয় দেখছে নৌবাহিনী, তখনই ৮৯ মিনিটে ম্যাচে সমতায় ফেরে চট্টগ্রাম আবাহনী। কামরুল হাসানের ফ্রি-কিক থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার কেহিন্দে ইসা আনিফৌসি।এই ড্রয়ে দুই ম্যাচ থেকে চট্টগ্রাম আবাহনীর পয়েন্ট ২। দুই জয়ে বসুন্ধরার পয়েন্ট ৬। শেষ আটে খেলতে হলে আগামী বুধবার বসুন্ধরার বিপক্ষে জয় পেতেই হবে মারুফুল হকের দল চট্টগ্রাম আবাহনীকে।
6
করোনাভাইরাসের কারণে সব খেলা বন্ধ। কবে খেলা শুরু হবে তা কেউ জানে না। গত ১২ মার্চ থেকেই বন্ধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। তাই বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট বন্ধ হয়ে থাকায় লোকসান গুনছে ক্রিকেট বোর্ডগুলো। তবে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডে- ইসিবি'র লোকসানের পরিমাণ হয়ত একটু বেশিই হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসিবির প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন জানিয়েছেন এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন পাউন্ড যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ হাজার ৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকারও বেশি। আর যদি পুরো বছরেই ক্রিকেট খেলা সম্ভব না হয়, তাহলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হবে আকাশচুম্বী। বৃটিশ মেম্বার অব পার্লামেন্ট এবং ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ৮০০ দিনের ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইসিবি। আমরা ধারণা করছি এই বছরে ক্রিকেট স্থগিত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন পাউন্ড হবে। তবে আশা করছি আসছে দিন গুলোতে আমরা বেশি বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারবো এবং ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠতে পারবো। ইংল্যান্ডে আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সে দেশের সরকার। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট লিগ দ্য হান্ড্রেডের প্রথম আসর স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ইসিবি। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল ১০০ বলের ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি। এর ফলে ইসিবি'র লোকসানের পরিমাণ বেড়ে গেছে বহুগুণে। কারণ এ বছর দ্য হান্ড্রেডের ১ লাখ ৭০ হাজার টিকিট ইতোমধ্যেই বিক্রি করে ফেলেছিল ইসিবি। আর সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টের বাজেট ছিল ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড। আর এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ১১ মিলিয়ন পাউন্ড লাভ করার পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছেন হ্যারিসন। তিনি বলেন, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ছাড়া আর কোনো টুর্নামেন্টের টিকিটই এত দ্রুত কখনোই আমরা বিক্রি করতে পারিনি, যেমনটা বিক্রি হয়েছে দ্য হান্ড্রেডের। এই সময়টা ছিল আমাদের ক্রিকেটের দর্শক বাড়ানোর সময়। আর এই টুর্নামেন্ট দিয়েই আমরা ১১ মিলিয়ন পাউন্ড লাভ করার পরিকল্পনা করেছিলাম। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ, পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার কথা রয়েছে ইংল্যান্ডের। এর মধ্যে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজটি আগামী গ্রীষ্মে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
12
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী সামাজিক বনায়ন এলাকায় ছিনতাইকারী ও শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ইকবাল হোসেন নামে এক ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সামাজিক বনায়ন এলাকায় বহিরাগত এক প্রেমিকযুগল ঘুরতে এলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর দুইটা ৩০ মিনিটে সামাজিক বনায়ন এলাকায় ঘুরতে আসেন মুন্সিগঞ্জের বাহরাইন প্রবাসী রাসেল দেওয়ান ও কুমিল্লার চান্দিনার এক ছাত্রী। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় ওই ছাত্রী তাকে কুমিল্লায় এসে দেখা করতে বলেন। ওই ছাত্রী তার ছোটবেলার বন্ধু আজহারুল ইসলামকে নিয়ে রাসেলকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আজহার ও তার বন্ধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাকিবসহ সাত-আট জন মিলে রাসেলের ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মারধর করেন। এসময় সালমানপুর এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইকবাল হোসেন ওরফে টারজান ইকবাল, নয়ন, মিজান ও আলাউদ্দিন এসে রাসেলের ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এসময় বাঁশ ও লাঠি দিয়ে তাদের তাদের মারধরও করা হয়। পরে কুবি শিক্ষার্থীরা এসে টারজান ইকবাল ও আলাউদ্দিনকে মারধর করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়। প্রক্টর অফিসে মুচলেকা দিয়ে ওই ছাত্রী ও রাসেল ছাড়া পান। আর ইকবাল ও আলাউদ্দিনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অধিকাংশ ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে টারজান ইকবাল জড়িত। এ বিষয়ে বাহরাইন প্রবাসী রাসেল জানান, ওই মেয়ের সাথে আমার পাঁচ-ছয় বছরের সম্পর্ক। আমাদের উভয়ের পরিবার বিষয়টি জানে। কিন্তু কেন এমন হলো সেটি বুঝিতে পারছি না। অভিযুক্ত আজহার ওই ছাত্রীর বিষয়ে জানান, সে আমার বাল্যবন্ধু। তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে আমাকে এখানে নিয়ে আসে। ঘটনাটি এতদূর গড়াবে বুঝতে পারিনি। টারজান ইকবাল বলেন, কয়েকজন মিলে একজন ছেলে ও মেয়ে মারছে দেখে আমি, নয়ন ও মিজান তাদের বাঁচাতে ছুটে যাই। আমার গাছের ডাল নিয়ে তাদের বাধা দেই। আমি কারো মোবাইল নেইনি। এ প্রসঙ্গে কোটবাড়ি থানার ইনচার্জ মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা একজন ছিনতাইকারীকে আটক করেছে শুনে আমি সেখানে যাই। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল। আমরা তাকে থানায় সোপর্দ করেছি।
6
ইরাকের দক্ষিণের জি কার প্রদেশের আল-রাফায়ি শহরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মাটি খুঁড়ে বের করেছেন উমাইয়া খেলাফতকালীন সময়ের এক মসজিদ। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের এক প্রত্নতাত্ত্বিক দল স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিকদের সহায়তা নিয়ে এই খননকাজ করে। মসজিদটির প্রস্থ আট মিটার (২৬ ফুট) ও দৈর্ঘ্য পাঁচ মিটার (১৬ ফুট)। মোট ২৫ জন মুসল্লি একত্রে এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে খননের সাথে জড়িত প্রত্নতাত্ত্বিক দল জানায়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, মসজিদটি ৬০ হিজরী তথা ৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করা হয়েছিলো। মাটির তৈরি মসজিদটি কালের প্রবাহে পানি ও বাতাসের সংস্পর্শে ক্ষয়ে গিয়েছে। .... ../ প্রদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন বিভাগের প্রধান আলী শালকম মসজিদটির আবিষ্কারকে 'গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ ঘটনা' বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইসলামের প্রাথমিক যুগের মাটির নির্মিত এই মসজিদটি প্রাকৃতিক কারণে ক্ষয়ে যাওয়ায় এর থেকে বেশি কোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে তিনি বলেন, 'আমরা এর সম্পর্কে খুব কম তথ্য পেয়েছি যা প্রকাশ করছে, স্থাপনাটি ইসলামের সূচনালগ্নের।' সূত্র : আলজাজিরা
3
শুরুতে একটা পরিস্থিতি কল্পনা করা যাক: আপনার শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স হলো। আপনি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় তাকে ভর্তি করালেন রাজধানীর এক ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে। প্রথম দিনই বিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ আপনাকে বলল, 'আপনারা বাসায় বাচ্চার সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলবেন না; সব সময় বাংলায় কথা বলবেন, বাংলা বইপত্র পড়তে উৎসাহিত করবেন। বাংলা ভাষাটা ভালো করে শেখানোর চেষ্টা করবেন ইত্যাদি।' এ রকম অপ্রত্যাশিত পরামর্শ যদি সত্যিই আপনি পান, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে? সম্ভবত প্রথমে আপনি অবাক হবেন। তারপর হয়তো ভাববেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন অদ্ভুত পরামর্শের কারণ কী হতে পারে। আপনার মনে হতে পারে, তারা আপনাকে এই পরামর্শ দিয়েছে এটা ভেবে যে আপনারা যদি বাসায় বাচ্চার সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলেন, তাহলে হয়তো সে ভুলভাল শিখবে; ব্যাকরণ, উচ্চারণ কিছুই ঠিক থাকবে না। আপনারা বরং বাংলাটাই তাকে ভালোভাবে শেখানোর চেষ্টা করুন, কারণ ওটাই আপনাদের ভাষা। বাচ্চাকে ইংরেজি ভাষা শেখানোর দায়িত্ব বিদ্যালয়ের, সেটা তাদের হাতেই ছেড়ে দিন। কিংবা আপনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইবেন, বাসায় বাচ্চার সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলতে নিষেধ করার কারণ কী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই তাদের ওই পরামর্শের কারণ আপনাকে ব্যাখ্যা করে বোঝানোর চেষ্টা করবে। তারা আপনাকে যা বোঝানোর চেষ্টা করবে, তার মোদ্দাকথাটা অনেক আগেই বলে গেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অগ্রজ হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ তাঁর স্মৃতিকথা আমার ছেলেবেলার এক জায়গায় লিখেছেন, তখন আমাদের ঐ সময়টা কাটত চাকরদের মহলে। তখনও ইংরেজি শব্দের বানান আর মানে-মুখস্থর বুক-ধড়াস সন্ধেবেলার ঘাড়ে চেপে বসে নি। সেজদাদা বলতেন, আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তার পরে ইংরেজি শেখার পত্তন। তাই যখন আমাদের বয়সী ইস্কুলের সব পোড়োরা গড়গড় করে আউড়ে চলেছে আমি হই উপরে, তিনি হন নীচে, তখনও বি-এ-ডি ব্যাড, এম-এ-ডি ম্যাড পর্যন্ত আমার বিদ্যে পৌঁছয় নি।' রবীন্দ্রনাথের শৈশবে তাঁর সমবয়সী ছেলেরা যখন ভিনদেশি ভাষা ইংরেজি শেখার অমন কসরত করছিল, তিনি তখন মন দিয়ে শিখছিলেন মাতৃভাষা বাংলা। ইংরেজি তিনি শিখেছিলেন আরও পরে, বাংলা ভাষার গাঁথুনি বা ভিত শক্ত হওয়ার পর। ওই বিদেশি ভাষা তিনি বেশ ভালোভাবেই শিখতে পেরেছিলেন; নিজের লেখা বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন নিজেই। সেই সব লেখা পড়েই সুইডিশ নোবেল কমিটি তাঁকে সাহিত্যে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার দিয়েছিল। এখন, এতকাল পর ভাষাবিজ্ঞানী, মস্তিষ্কবিজ্ঞানী ও শিক্ষা গবেষকেরা গবেষণা করে বলছেন, রবীন্দ্রনাথের সেজদাদা হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাতলানো পদ্ধতিটাই বিদেশি ভাষা শেখার সবচেয়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি। প্রথমে মাতৃভাষার ভিতটা মজবুত করতে হবে, তাহলে বিদেশি ভাষা শেখার কাজটা সহজ হয়ে আসবে। কারণ, শিশু যখন মাতৃভাষায় পড়া ও লেখা শিখতে শুরু করে, তখন থেকে ভাষার মাধ্যমে চারপাশের জগৎ সম্পর্কে জানা ও বোঝার ক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি আরও অনেকগুলো সক্ষমতা বা দক্ষতা তৈরি হতে থাকে; বিশেষ করে, যুক্তি-বুদ্ধি খাটিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ক্রিটিক্যাল থিংকিং। এই সমস্ত ক্ষমতা নিয়েই সে পড়াশোনার পরবর্তী ধাপে যায়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বলছেন, মাতৃভাষার মাধ্যমে অর্জিত কোনো সক্ষমতাই হারিয়ে যায় না; বড় হয়ে দ্বিতীয় কোনো ভাষায় পড়াশোনা করতে গেলে মাতৃভাষায় রপ্ত করা বিষয়গুলো আর নতুন করে শিখতে হয় না। যেমন, যদি কোনো শিশু তার মাতৃভাষার কোনো অজানা শব্দের মানে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা কনটেক্সট থেকে অনুমান করার সক্ষমতা অর্জন করে, কিংবা মাতৃভাষায় কোনো কিছু পড়ে তার আক্ষরিক অর্থ ছাড়িয়ে নিহিতার্থটা বুঝে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে যখন সে বিদেশি কোনো ভাষায় পড়াশোনা শুরু করে, তখন তার এই দুই সক্ষমতা সহজেই স্থানান্তরিত হয়। অর্থাৎ মাতৃভাষায় সে যা পারে, বিদেশি ভাষায়ও তা পারে। কিন্তু এ ধরনের বিমূর্ত সক্ষমতাগুলো সরাসরি বিদেশি ভাষায় গড়ে তোলা অনেক কঠিন। গবেষকেরা আরও বলছেন, শিশুর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়বোধ গঠনে মাতৃভাষার ভূমিকা ব্যাপক। যে শিশুর মাতৃভাষার ভিত মজবুত, সে নিজেকে গভীরভাবে বুঝতে পারে, তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়, সে সমাজে নিজের অবস্থান সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে। এই সক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই তার শিক্ষাগত অর্জনসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজে লাগে। এই কারণে পৃথিবীজুড়ে দ্বিভাষিক শিক্ষাপদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে; ইন্টারন্যাশনাল স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ মাতৃভাষার ভিত শক্ত করে গড়ে তোলার ওপর বেশি বেশি জোর দিচ্ছে। তারা শিক্ষার্থীদের মা-বাবাদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করছে; তাঁদের বোঝাচ্ছে যে বাচ্চারা বিদ্যালয়ে যে ভাষায় পড়াশোনা করছে, তাদের সঙ্গে বাসায়ও সেই ভাষায় কথা বললে তারা সেই ভাষা তাড়াতাড়ি এবং ভালোভাবে রপ্ত করতে পারবে-এই ধারণা ভুল। এতে বরং উল্টো ফল হয়, শিশু মাতৃভাষা বা বিদ্যালয়ের ভাষা-কোনোটাই ভালোমতো রপ্ত করতে পারে না। এই লেখার শুরুতে যে কল্পিত পরিস্থিতি বর্ণনা করেছি, তা পুরোপুরি কল্পিত নয়। শিক্ষাবিষয়ক ব্রিটিশ মাসিক ম্যাগাজিন ইনডিপেনডেন্ট এডুকেশন টুডের ওয়েবসাইটে (-..) কম্বোডিয়ার কিছু বিদ্যালয়ে 'ইংলিশ অ্যাজ অ্যান অ্যাডিশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ' (ইএএল) কর্মসূচির আওতায় এ ধরনের উদ্যোগের বিবরণ রয়েছে। সে দেশে বিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে সান্ধ্য কর্মশালা পরিচালনা করে; শিশুদের মা-বাবাদের সেখানে আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে তাঁদের দেখান, শিশুরা কীভাবে ভাষা শেখে, বিদ্যালয়টি কী পদ্ধতিতে তাদের ভাষা শেখায়। তারা বিশেষভাবে ব্যাখ্যা করেন শিশুর মাতৃভাষার মজবুত গাঁথুনির গুরুত্ব, এবং সেটা গড়ে তোলার জন্য মা-বাবা কত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। 'আমাদের মাতৃভাষার অনাদর কাটবে কবে' শিরোনামে এই লেখকের একটি নিবন্ধ প্রথম আলোয় ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার পর এক বন্ধুর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ হচ্ছিল। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বললেন, তিনি তাঁর সন্তানের ইংরেজি ভাষার ভিত শক্ত করার জন্য প্রথম দুই বছরের জন্য তাকে একটি ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। তাঁর ইচ্ছা, সন্তানের ইংরেজির ভিত মজবুত হলে তাকে বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনবেন। এতে বোঝা যায়, বন্ধুটির মাতৃভাষা বাংলার প্রতি ভালোবাসা এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা আন্তরিক। কিন্তু যে পদ্ধতিতে তাঁর এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে বলে তিনি ভেবেছেন, আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সেই পদ্ধতিকে সমর্থন করছে না। বরং গবেষণায় উল্টো ফলই পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে শিশুর মাতৃভাষা বা বিদেশি ভাষা কোনোটার গাঁথুনিই শক্ত হয় না। শুধু তা-ই নয়, এই পদ্ধতিতে শিশুর যুক্তি-বুদ্ধি খাটিয়ে চিন্তা করার সক্ষমতা গড়ে ওঠা ব্যাহত হয়, সে হয়ে ওঠে মুখস্থনির্ভর। তা ছাড়া মাতৃভাষায় শিক্ষার ভিত শক্ত হলে আরও যেসব দরকারি ও উপকারী দক্ষতা বা সক্ষমতা গড়ে ওঠে, সেগুলো থেকেও শিশু বঞ্চিত হয়। সুতরাং, মাতৃভাষায় শিক্ষার ভিত রচনার গুরুত্ব নিছক দেশপ্রেম বা ভাষাপ্রেমের মতো বিমূর্ত ভাবের বিষয় নয়, ফেব্রুয়ারি মাসের 'গালভরা বুলি' নয়; এই গুরুত্ব বাস্তবিক, ব্যবহারিক, প্রায়োগিক এবং বৈষয়িক। আমরা যারা বৈষয়িক বিবেচনায় সন্তানের 'উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ' চাই, অর্থাৎ পেশাজীবী হিসেবে সন্তানের সাফল্য দেখতে চাই এবং একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই তাকে লেখাপড়া শেখাই, তাদের চিন্তাভাবনা বদলানোর সময় এসেছে। আমাদের সরকার দেশের প্রতি জেলায় ইংরেজি মাধ্যমের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে-সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের এই বক্তব্য সত্য হলে আমরা বলব, এই দুর্বুদ্ধি অবিলম্বে ত্যাগ করা উচিত। মশিউল আলম প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক। []
8
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বিএনপির বিজয় দিবসের মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের বাসায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। অন্যদিকে বাজিতপুর পৌরসভার মেয়র বলছেন, বিএনপির মিছিল থেকে কুরুচিপূর্ন শ্লোগান দেওয়া হয়। তাই আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করেন।সংবাদ সম্মনেলনে বিএনপি নেতা মনির বলেন, '১৬ ডিসেম্বর স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার জন্য কয়েক হাজার নেতাকমী স্লোগান দিয়ে বাজিতপুর বাজার হয়ে ডাকবাংলায় যাচ্ছিলাম। পথে টিঅ্যান্ডটি কার্যালয়ের ও পশু হাসপাতালের কাছে গেলে পেছন থেকে মিছিলের মধ্যে ইট পাটকেল ছুঁড়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। তাঁদের এই হামলায় বিএনপির ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে তাঁরা উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির অফিস ভাংচুর করে।বাজিতপুর পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন বলেন, 'বিএনপির নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা থেকে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেয়। এর প্রতিবাদ করেছে আমাদের নেতাকর্মীরা। তখন সামান্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তাঁদের হামলায় আমাদের চার জন আহত হয়েছেন।'বাজিতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, দুদলের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
6
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শুধু আমলাদের ওপর নির্ভর করে সরকার আজ করোনা পরিস্থিতিকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে যে অব্যবস্থাপনা, দলীয়করণ ও দুর্নীতি পুরো ব্যবস্থাটাকে গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার 'সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে' এবং সত্যিকার অর্থেই জনগণের জীবন-জীবিকাকে বিপন্ন করে ফেলেছে। আজ সোমবার সকালে দলের প্রয়াত নেতা ফজলুর রহমানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'আমরা প্রথম থেকে সরকারকে সতর্ক করে বলেছিলাম, একটা জাতীয় কনভেনশন করে অথবা সব রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, সামাজিক সংগঠন-এনজিওর সমন্বয়ে একটা কমিটি গঠন করা হোক প্রতিটি লেভেলে, যাতে করে জনগণকে সম্পৃক্ত করে এই সংক্রমণকে মোকাবিলা করা যায়। দুর্ভাগ্য, সরকার কর্ণপাতই করেনি।' এই সরকার একদিকে যেমন করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে তারা মানুষের যে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, তারও সুরক্ষা দিতেও ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কখনো বলে লকডাউন, কখনো বলে সরকারি ছুটি, কখনো বলে কঠোর লকডাউন, কখনো বলে আরও কঠোর লকডাউন। এই যে একটা অবস্থা তৈরি করেছে-এটা তামাশা। তাদের কাছে মানুষের জীবন-জীবিকা 'একটা তামাশা'। জনগণ এগুলো কখনো মেনে নিতে পারে না। যদিও একটা ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসনের মধ্য দিয়ে জনগণকে দমন করে রাখা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'তারপরও জনগণ একদিন জেগে উঠবেই। আমরা বিশ্বাস করি, ফজলুর রহমানের যে আদর্শ, যে সাহস ছিল, সেই আদর্শ নিয়ে আমরা সবাই যদি কাজ করি, তাহলে অবশ্যই এই দানবীয় শক্তিকে পরাজিত করতে পারব। যাঁরা তরুণ-যুবক আছেন, তাঁদের সাহস নিয়ে রাজপথে আসতে হবে।' রাজপথ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'নিজেদের মধ্যে দলাদলিটা একেবারে বন্ধ করুন। ঐক্য ছাড়া কোনো উপায় নেই। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের একসঙ্গে যেতে হবে। আমাদের বাম-ডান, দক্ষিণ-পশ্চিম সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এই ভয়াবহ দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।'বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের প্রয়াত সদস্য ফজলুর রহমানের পরিবার এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এ সময় ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী কামরুন্নাহার শিরিনসহ তাঁর সন্তানদের তত্ত্বাবধানে থাকা নাটোরের লালপুরের বাগাতিপাড়ায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। ফজলুর রহমানের মেয়ে ফারজানা শারমিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কদ্দুস তালুকদার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত প্রমুখ।
9
বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরাফাত রহমান (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আরাফাত বগুড়ার সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।গতকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৮৮ জন। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে জেলায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ। আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওই ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনায় নতুন একজনসহ মোট ৮০২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে শুধু বগুড়া জেলার বাসিন্দা রয়েছেন ৬৯৪ জন। বাকিরা অন্য জেলার বাসিন্দা। তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে বগুড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে মৃত্যুর এই তালিকায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতদের নাম নেই।জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনা থেকে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৪৩ জন। বর্তমানে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯৯ জন। তাদের মধ্যে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ৩৯, মো. আলী হাসপাতালে ৪৪, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন চিকিৎসাধীন।
6
মিয়ানমারের মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের সাহায্যবিষয়ক প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস। গত সোমবার সতর্ক করে গ্রিফিথস বলেন, মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং পতনের মুখে থাকা অর্থনীতির কারণে ৩০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষাকারী সহায়তার প্রয়োজন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল মিয়ানমার নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে। বৈঠকটি মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির সরকারের পুনর্নির্বাচনের প্রথম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যায়। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেয় জান্তা। আটক হন এনএলডির নেত্রী সু চিসহ মিয়ানমারের প্রভাবশালী গণতন্ত্রকামী নেতারা। মিয়ানমারের গত বছরের নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা ওই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে গণ্য করেছেন। জাতিসংঘ জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করতে এবং দেশকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জেমস কারিউকি সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকে অনুরোধ করা হয়। কারণ, মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জান্তা সেনা জড়ো করার বিষয়ে উদ্বেগে ছিল যুক্তরাজ্য। ঘটনাটিকে চার বছর আগে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রাখাইনে সংঘটিত নৃশংসতার আগে কার্যকলাপের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন কারিউকি। রোহিঙ্গাদের ওপর ২০১৭ সালে দমনপীড়নের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে মিয়ানমারকে। গ্রিফিথস এক বিবৃতিতে আরও বলেছেন, মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ চিন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং চিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে লড়াই বেড়েছে। এর পাশাপাশি জান্তা সেনার সঙ্গে পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের সঙ্গে মাগওয়ে ও স্যাগাইন অঞ্চলেও সংঘর্ষ বেড়েছে। এতে ৩৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ১৬০টির বেশি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার্চ ও মানবাধিকার সংগঠনের অফিসও রয়েছে। গ্রিফিথস বলেন, মানবাধিকারকর্মী ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে নিষিদ্ধ। এ ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে।
3
করোনার দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, করোনার নতুন ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল খুব শিগগির শুরু হতে পারে। গতকাল রোববার দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। খবরে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গবেষণাগারে (ল্যাব) করোনার দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা তৈরির জন্য জোরকদমে কাজ চলছে। এসব টিকা তৈরির লক্ষ্য হলো করোনার বিরুদ্ধে সুরক্ষা আরও জোরদার করা। বিজ্ঞানীরা এখন টিকার এমন সংস্করণ তৈরি করতে যাচ্ছেন, যা করোনার নানান ধরনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে। এক ব্যক্তির থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে করোনার সংক্রমণ রোধ করবে-এমন টিকা নিয়েও কাজ চলছে। এ ছাড়া করোনার টিকার আরও কিছু প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। তার মধ্যে এমন টিকা রয়েছে, যার একটি ডোজই করোনার ভিন্ন ভিন্ন ধরন মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে যে টিকাগুলো রয়েছে, তা এক ব্যক্তির থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে করোনা সংক্রমিত হওয়া ঠেকাতে কার্যকর কি না, সে বিষয়টি অজানা। যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ভাইরোলজিস্ট জনাথন বল বলেন, সম্প্রতি শনাক্ত করোনার নতুন ধরনগুলো মূল ভাইরাসের চেয়ে মারাত্মক রোগের কারণ হয়ে ওঠার কোনো ইঙ্গিত নেই। তা সত্ত্বেও কিছু নতুন ধরন অধিকতর সংক্রামক হতে পারে বলে প্রমাণ রয়েছে। জনাথন বলের মতে, দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকা আরও অধিক প্রতিরোধ ক্ষমতা দিতে সক্ষম হবে বলে তাঁর আশা। যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের টিকার একটি প্রকল্প অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে বলে খবরে জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে জনাথন বল বলেন, এই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল খুব শিগগির শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
3
রাজশাহীর বাগমারায় ৪৫ টি গাঁজা গাছসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তারের পর বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামান চঞ্চলের (৫০) বাড়ি উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া গ্রামে। তিনি মৃত খন্দকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চঞ্চল তার বাড়িতে গাঁজা চাষ করে বাড়িতেই বিক্রি করে আসছিলেন। এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, চঞ্চলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে পুলিশ। বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
6
জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করার দায়ে সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে দায় স্বীকার করে নেওয়ায় এর মধ্যে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে এক বছর পরই খেলতে পারবেন সাকিব, কিন্তু এক্ষেত্রে আইসিসির দেওয়া নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। কিন্তু আবারও অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। সাকিব আল হাসানের দুই বছরের নিষেধাজ্ঞায় স্তম্ভিত সারাদেশের মানুষ। পাশাপাশি এমন ঘটনা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বর ধাক্কা। কারণ এই সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই মাঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে হবে টাইগারদের। আসন্ন ভারতের বিপক্ষে ছাড়াও যেসব সিরিজ খেলা হবে না সাকিব আল হাসানের- পাকিস্তান সফর : জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০২০ (সম্ভাব্য) অস্ট্রেলিয়া সিরিজ : ফেব্রুয়ারি ২০২০ (পরিবর্তিত সূচিতে এটি হবে জুন মাসে) জিম্বাবুয়ে সিরিজ : মার্চ, ২০২০ আয়ারল্যান্ড সফর : মে-জুন, ২০২০ শ্রীলঙ্কা সফর : জুলাই-আগস্ট, ২০২০ নিউজিল্যান্ড সিরিজ : আগস্ট-সেপ্টেম্বর, ২০২০ নিউজিল্যান্ড সফর : অক্টোবর, ২০২০ টি-২০ বিশ্বকাপ : অক্টোবর, ২০২০ বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ
12
বিশ্ব শান্তি সূচকে (জিপিআই) বাংলাদেশ বর্তমানে ৯১তম স্থানে থাকা দেশ। অস্ট্রেলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) প্রকাশিত এই সূচক বলছে, ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক শান্তিপূর্ণ দেশ। নিরাপত্তা ও সুরক্ষাব্যবস্থা, সামরিকায়ন এবং চলমান সংঘাতের মাত্রার হারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে আইইপি।তবে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ভুটান ও নেপাল। জিপিআইতে ভুটান ২২তম আর নেপাল ৮৫তম অবস্থানে আছে। ভারত ও পাকিস্তান আছে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। দেশ দুটির অবস্থান যথাক্রমে ১৩৫ ও ১৫০। এমন প্রেক্ষাপটেই সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আজ ২১ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছেআন্তর্জাতিক শান্তি দিবস। তবে দেশের সাধারণ জনগণের বেশির ভাগই জানেন না শান্তি দিবস কী আর শান্তি সূচকে বাংলাদেশ আছেই-বা কোথায়।গতকাল সোমবার কথা হয় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাশরিক অভিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'শান্তি সূচক আর শান্তি দিবস দিয়ে হবেটা কী, শান্তি তো নাই। জীবনটা টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছি আমরা। দিবস পালন করে কী হবে?' রিকশাচালক আবদুল হালিমের বক্তব্য, 'ছোডকালে খাওনের অভাব আছিল। কিন্তু শান্তিতে আছিলাম। এহন খাওনের অভাব নাই। শান্তিডাও নাই।' শান্তি কেন নেই-জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সবাইর মইদ্দেই কেমন একটা অসুখী ভাব। আমার রিকশায় এত মানুষ ওডে, এত কথা কয়, কারও মুখে একটু শান্তির কথা হুনি না।'সাধারণ মানুষ শান্তি খুঁজে না পেলেও বিশ্ব শান্তি সূচক বলছে, গত এক দশকে বাংলাদেশে শান্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত জুনে প্রকাশিত এই সূচকে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে পজিটিভ পিস ডেফিসিটে (ইতিবাচক শান্তির ঘাটতি) থাকা ৩৯টি দেশের মধ্যে ২৭টি, অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশেরই অবনতি ঘটেছে। মাত্র ১২টি দেশেরই এ ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু বলেন, রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থা রয়েছে দেশে। এই স্থিতিশীল অবস্থা বজায় থাকলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এবং সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।
6
আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে চায় বিশ্বব্যাংক। এই অর্থ কারা খরচ করবে, তা নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টানাটানি। ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বে কে থাকবে, তা নিয়ে এখন স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রশি-টানাটানি চলছে। বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকা নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। বহুজাতিক সংস্থাটি বাংলাদেশের নগর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিতে চায়, যা স্থানীয় মুদ্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি। এ টাকা কার মাধ্যমে খরচ হবে, সেটি নিয়েই দেখা দিয়েছে জটিলতা। গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বে আছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যার আওতায় রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অন্যদিকে ২০০৯ সাল থেকে সিটি করপোরেশন আইনের মাধ্যমে নগর স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে। সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে দেওয়া হয় নগর স্বাস্থ্যসেবা। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে নগর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক যুগে গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে নগর স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। বিষয়টি খোদ স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেন। তাঁরাও মানেন, শহরের দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে কিংবা স্থানীয় কোনো ফার্মেসিতে যেতে হয়। এ অবস্থায় বিশ্বব্যাংক ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দিতে চায়, যা দেশীয় মুদ্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার মতো। এ নিয়ে দুই মাস ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রধান ড্যানড্যান চেন। এসব বৈঠকে তাঁরা জানতে চেয়েছেন কোন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নগর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গ্রামের মতো শহরেও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে চায়। কিন্তু বিদ্যমান সিটি করপোরেশন আইনে সে সুযোগ নেই। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হলে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা আইন সংশোধন করতে হবে। তা করা সম্ভব না হলে বর্তমানে ঢাকা শহরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা ১৭টি সরকারি ফার্মেসির (জিওডি) কার্যক্রম বাড়িয়ে সেবা দেওয়া যেতে পারে। অথবা ঢাকায় বড় যেসব হাসপাতাল আছে, সেগুলোর পাশে আলাদা অবকাঠামো নির্মাণ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যায়। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলছে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য তারা অবকাঠামো নির্মাণ করে দেবে। আর চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শহরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কিছুতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যাওয়া ঠিক হবে না বলে মত দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে এখন দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সারা পৃথিবীতে সিটি করপোরেশন সড়কবাতি, পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করার মতো নগর স্বাস্থ্যসেবাও দিয়ে থাকে। আইনে এসব কাজ করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বড় বড় হাসপাতাল, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। তাদের নগর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুযোগ নেই। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, 'গত এক যুগে নগর স্বাস্থ্যসেবার ততটা উন্নতি হয়নি, এটা ঠিক। তবে এ নিয়ে কাজ চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক অবকাঠামো নির্মাণ করে দেব। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যসেবা দেবে।' জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নগর স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব কার কাছে থাকবে, এটি ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি। আমলাতন্ত্র এমন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, দুই মন্ত্রণালয় চাইলে সহজেই শুধু দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সমস্যাটির সমাধান করতে পারে। কারণ, এখানে কাজের পরিধি এত বিশাল যে দুই মন্ত্রণালয়ই কাজ করতে পারে। নগর স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব নিয়ে গত এক যুগে কী করতে পেরেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তথ্য বলছে, ১৯৯৮ সাল থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় 'আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি' শীর্ষক একটি প্রকল্প চলমান। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় তেমন সুফল মেলেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে দুই কোটি মানুষের বসবাস। বিশাল এ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা দিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্য ইউনিট নেই। কারিগরি জ্ঞান, অবকাঠামো ও জনবল নেই। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য পৃথক আর্থিক খাত নেই। জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হেলাল উদ্দিন বলেন, নগরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নিজেদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে এখানে আইনকানুনের জটিলতা আছে। সে জন্য নগর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
6
বরিশালের গৌরনদীতে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার ও অপহরণের ১১ দিন পর অপহৃতাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, উপজেলার শাওড়া গ্রামের বাসিন্ধা ও গৌরনদী আল হেলাল দাখিল মাদ্রাসার ১০ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে তার সহপাঠী ও প্রতিবেশি মো. জুলহাস সরদারের মেয়ে মুনিয়া আক্তার গত ২ মে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর সে ওই বাড়ির উত্তর পাশের সড়কে আগে থেকেই মাহিন্দ্রা নিয়ে অপেক্ষায় থাকা অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেয়। পরে অপহরণকারীরা ওই ছাত্রীকে উপজেলার নাঠৈ গ্রামের আমিনুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে রাসেল হাওলাদারের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়। পরে রোববার গভীর রাতে ওই ছাত্রী একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে তার বাবাকে ঘটনাটি জানায়। একই সঙ্গে নিজের অবস্থান জানিয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করার জন্য বাবার কাছে আকুতি জানায়। পরে তার বাবা সোমবার ভোরে ঘটনাটি গৌরনদী মডেল থানাকে জানালে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আমিনুল ইসলাম হাওলাদারের বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার এবং রাসেল হাওলাদার (২০) ও এবং তার সহযোগী জুলহাস সরদারকে গ্রেফতার করে। গৌরনদী মডেল থানার এসআই মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় সহপাঠি মুনিয়া আক্তারসহ ৬ জনকে আসামি করে সোমবার দুপুরে ওই ছাত্রীর বাবা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ গ্রেফতার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠান। ওই ছাত্রীকে বরিশাল ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।
6
খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়িতে ১০ বছরেও চালু হয়নি তিনটি ছাত্রাবাস। ২০১১ সালে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি দ্বিতীয় পর্যায়ের (পিডিইপি-২) আওতায় ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে খাগড়াছড়ির তিন উপজেলায় তিনটি ছাত্রাবাসটি নির্মাণ করে সরকার। দীর্ঘ দিনেও ছাত্রাবাসগুলো চালু না হওয়ায় আবাসিক সুবিধা না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়েছে। ছাত্রাবাসগুলো ব্যবহারের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। নষ্ট হচ্ছে ছাত্রাবাসগুলোর অবকাঠামো।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি ও পানছড়ি উপজেলায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাস নির্মাণ করে সরকার। ছাত্রাবাসটিতে প্রতি তলায় চারটি করে মোট ১২টি কক্ষ রয়েছে। ভবনটির ডানপাশে ছাত্র ও বাম পাশে ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেল হিসেবে ব্যবহার করার কথা ছিল। গত আট বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় ভবনের রং বিবর্ণ হয়ে গেছে। ছাত্রাবাসের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে ভবনে রাখা চেয়ার টেবিল। অনেক রুম ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নষ্ট হচ্ছে যাচ্ছে ছাত্রাবাসের ছাদে লাগানো লাখ টাকার সোলার প্যানেল। ছাত্রাবাসের শৌচাগার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।রাজবাড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, পাহাড়ি এলাকার অনেক শিক্ষার্থীর দুর্গম এলাকার। এসব শিক্ষার্থীরা নিজ বাড়ি থেকে দূরত্বের কারণে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে পারে না। অনেকের মাঝপথেই পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। আবার অনেকে উপজেলা এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে থাকে। ছাত্রাবাসগুলো চালু হলে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটা লাঘব হতো। ছাত্রাবাসটি চালু না হওয়া দুঃখজনক। এতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত ছাত্রাবাসটি চালু হলে অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাবে। এতে তাঁদের প্রাথমিক শিক্ষার পথ সুগম হবে।খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন বলেন, স্থাপনা নির্মাণের পরও তা চালু না হওয়া শিক্ষার্থীরা আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। ছাত্রাবাসগুলোর চালুর জন্য মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আবাসিক ভবন ও সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে ছাত্রাবাসগুলো খোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু জানান, জনবল নিয়োগ দিতে না পারায় ছাত্রাবাসগুলো চালু করা যাচ্ছে না। এই নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হলেও এ বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। ৩টি আবাসিক ছাত্রাবাস দ্রুত চালু করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
6
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইউক্রেনে সামরিক এবং মানবিক সহায়তা বাড়াবে ফ্রান্স। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্স। এ ছাড়া ম্যাক্রোঁ ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার বোমা বর্ষণ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর মারিওপোলের 'দুর্বিষহ পরিস্থিতির' ব্যাপারে 'গভীর উদ্বেগের' কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শনিবার ইউক্রেনে যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইনের দেওয়া লাইভ আপডেটে এই তথ্য জানানো হয়। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসে মস্কোর আক্রমণ প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং অন্য মিত্ররা কিয়েভকে দূরপাল্লার শত শত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ইউক্রেনে দেওয়া ফ্রান্সের ৬১৫ টনের বেশি সরঞ্জাম সহায়তার মধ্যে রয়েছে মেডিক্যাল সরঞ্জাম, হাসপাতালের জন্য জেনারেটর, খাদ্য এবং জরুরি পরিবহনের জন্য যান।
3
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই দেশের সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করে যাচ্ছে। তিনি গত রোববার বিকেলে রূপসা উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।সালাম মুর্শেদী আরও বলেন, সরকার দুর্গোৎসব পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্দিরে অনুদান বিতরণ করে যাচ্ছে। করোনা সহনীয় পর্যায়ে আসলেও মাস্ক পরিধানসহ সরকারের নির্দেশনাগুলো মেনে উৎসব পালন করতে হবে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া তাছনিমের সভাপতিত্বে এ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যক্ষ ফ ম আব্দুস সালাম, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: ফরিদুউজ্জামান, মৎস্য কর্মকর্তা বাপি কুমার দাস, থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন।আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মোতালেব হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বুলবুল, আলহাজ ইসহাক সরদার. উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা আ: মজিদ ফকির, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবি এম কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান কবির প্যারিস, মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান, উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গণেশ পাল, সুব্রত বাগচি, মনিরুজ্জামান মনি, আরিফুজ্জামান লিটন, মিজান সরদার, রুহুল আমিন রবি, রাজিব দাস, নাসির হোসেন সজল প্রমুখ।
6
শিমুলিয়ায় ৪ নম্বর (ভিআইপি) ফেরিঘাট পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে এবং ভাঙনের আশঙ্কায় বন্ধ রাখা হয়েছে দুই নম্বর ঘাট। ফলে একটি ঘাট দিয়েই সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোর রাত ৩টা থেকে ভাঙন শুরু হলে দুই ঘণ্টার মধ্যে ঘাটটি বিলীন হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক। ফেরি চলাচল সাড়ে ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫ টায় ৮ ফেরি দিয়ে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল শুরু হয়। এর আগে গত ২৮ জুলাই পদ্মার ভাঙনে শিমুলিয়ার ৩ নম্বর রো রো ফেরি ঘাট বিলীন হয়। এরপর ৯ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা ভাঙন আঘাত হানে। এখন মোট চারটি ফেরিঘাটের মধ্যে এখন বাকি থাকল একটি। বিআইডব্লিউটিএ থেকে বলা হয়, আমরা ভাঙ্গন আটকাতে পারবো না। যতটুকু পারছি জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। তবে সেটা খুব কঠিন। ১ নম্বর ফেরি ঘাট যাতে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায় সে চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ঘাট স্থানান্তর করা যায় কিনা সে চিন্তা করা হচ্ছে। আর না হলে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট দিয়েই চলাচল করতে হবে।
6
বরের বাড়িতে দু'দিন ধরে ধুমধাম আয়োজন। বরযাত্রী যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে হৈ-চৈ। কে কোন গাড়িতে যাবে তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বরের বাড়ির সামনের রাস্তায় ১৬টি মাইক্রোবাস কনের বাড়ি রাণীংশকৈল উপজেলার নেকমরদ যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট। বর ইউনুস আলী ডন (৩০) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। বৌ আনতে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এ সময় হঠাৎ পুলিশের গাড়ি বরের বাড়ি হাজির। পুলিশ আসার খবর শোনা মাত্রই ইউনুস আলী দৌড়ে পালিয়ে যায়। পণ্ড হয়ে যায় এত আয়োজনের বিয়ে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইউনুসের গায়ে হলুদের সময় পুলিশ তাকে ধরার জন্য অভিযান চালায়। ওই সময়েও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শটকে পড়ে সে। আজ শুক্রবার ইউনুস বর সেজে বর যাত্রী যাওয়ার সময় যখন প্রস্তত ঠিক সেই সময় পুলিশের একটি গাড়ি ইউনুসের বাড়ি সামনে দিয়ে যায়। এ সময় ইউনুস আবারো পুলিশের ভয়ে পালিয়ে যায়। বরযাত্রীরা প্রস্তুতি নিয়ে গাড়িতে উঠলেও রাত ৯টা পর্যন্ত বর ইউনুসকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সিরাজুল জানান, দীঘদিন ধরে ইউনুস মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। শুনেছি তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে। তাই ইউনুস পুলিশ আসার খবর শুনে পালিয়েছে। বরযাত্রী মানিক হোসেন জানান, একটা শুভ কাজে যাওয়ার সময় পুলিশ কেন আসল বুঝতে পাচ্ছি না। এতে বরসহ আমরা হয়রানি স্বীকার হলাম। এ ব্যাপারে বর ইউনুসের বাবা খাদেমুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুলিশের কারণে আমার ছেলের বিয়ে পণ্ড হয়ে গেছে। বরযাত্রীর যাওয়ার জন্য আনা গাড়িগুলো বিদায় দিয়েছি। আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ছোট হয়ে গেলাম। অপরদিকে কনের বাবা নেকমরদ এলাকার টেক্কার সাথে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, পুলিশ শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ এলাকা দিয়ে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে আটককৃত কয়েকজন জুয়াড়িকে আনতে গিয়েছিল। কিন্তু কোনো বিয়ে বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়নি। বিডি প্রতিদিন/৫ আগস্ট, ২০১৭/ফারজানা
6
ফেনী-১ আসনে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের জন্য সব প্রার্থী এক হয়ে মনোনয়ন পত্র নিয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খায়রুল বাশার তপন বলেন, এ আসনে নাসিম ভাইকে এমপি হিসেবে দেখতে চান জেলার সকল নেতাকর্মী। দলের সবাই এক হয়ে কাজ করে জয়ের বন্দরে পৌঁছতে চাই। ইনশাআল্লাহ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ফেনীর ৩টি আসনই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের নতুন ভবন থেকে এ মনোনয়নপত্র নেন আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
6
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকারও বেশি পুঁজি সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে দেশবন্ধু গ্রুপ। সুকুক বন্ডের মাধ্যমে এ তহবিল সংগ্রহ করা হবে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নিজের স্থানীয় ঋণ শোধ করার কথা ভাবছে। শনিবার (১৩ মার্চ) গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, দেশীয় ব্যাংকিং সোর্স ব্যয়বহুল। তাই শরিয়াহ ভিত্তিক সুকুক বন্ডের মাধ্যমে তারা তহবিল বাড়াতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, 'ব্যাংক ঋণের বিপরীতে বস্তুত ১৬ শতাংশের বেশি সুদ দিয়ে ব্যবসা করার সামর্থ্য আমাদের নেই। তহবিল বাড়িয়ে আমাদের ঋণ পরিশোধ করতে চাই। আমরা ঋণশূন্য কোম্পানি হিসেবে দাঁড়াতে চাই।' দেশবন্ধু গ্রুপের খাদ্য ও পানীয়, টেক্সটাইল, রিয়েল এস্টেট, শিপিং এবং পরিষেবাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। দেশবন্ধু গ্রুপের ওয়েবসাইটে বিদেশি বিনিয়োগ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিদেশি তহবিলের একটি অংশ সিরাজগঞ্জে একটি ফাইবার কারখানা স্থাপনে ব্যয় করা হবে। এ কারখানায় উৎপাদন হবে পলিয়েস্টার চিপস (পিইটি চিপস) এবং পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পিএসএফ)। এসব পণ্য ইউরোপীয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি করা হবে। কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে তিন লাখ টন। গ্রুপের চেয়ারম্যান আরও বলেন, 'আমরা এরই মধ্যে কারখানা স্থাপনের জন্য জমি তৈরি করেছি। আমরা পিইটি চিপস এবং পিএসএফ রফতানি করব। আমরা ইউরোপীয় বাজারগুলিতে শুল্কমুক্ত এবং কোটা-মুক্ত সুবিধা অর্জন করতে চাই। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজারে শুল্ক সুবিধা পেতে সক্ষম হবো। ' সুকুক বন্ডের সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির নাম লন্ডন ভিত্তিক আল ওয়াসিলাহ পিএলসি। তারা বেডফোর্ড রো ক্যাপিটাল (বিআরসি) নামে এক প্রতিষ্ঠানকে এই ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সুকুক বন্ড হলো একটি ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল সার্টিফিকেট। এটি ট্রেজারি বন্ডের সমতুল্য, এবং ইসলামী আর্থিক নীতিগুলির সঙ্গে সম্মতিক্রমে এটি পরিচালিত হয়। মধ্যপ্রাচ্য উত্তর আফ্রিকা ফাইনান্সিয়াল নেটওয়ার্কের (এমইএনএএফএন) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিআরসি'র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিআরসি আন্তর্জাতিক লিড ম্যানেজার ব্লুমাউন্ট ক্যাপিটালের পাশাপাশি দেশবন্ধু গ্রুপকে তার পরবর্তী বৃদ্ধির পর্যায়ে সহায়তা করার জন্য সুকুক গঠন করবে। সুকুক বর্তমান বকেয়া ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থায়ন করবে, নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করবে এবং গ্রুপের ব্যবসায়ের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। এটি ফ্র্যাঙ্কফুর্ট স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হবে, ২০২৮ সালে তা পরিপক্ক হবে। বিআরসি এবং ব্লুমাউন্ট ক্যাপিটাল দেশবন্ধু গ্রুপকে আইনগত দলিল, কাঠামো, খসড়া বিনিয়োগের মেমোরেন্ডাম এবং বিস্তৃত কর্পোরেট প্রেজেন্টেশন প্যাক প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে। দেশবন্ধু গ্রপের চেয়ারম্যান জানান, এই বছরের জুনের মধ্যে সুকুক ফ্র্যাঙ্কফুর্ট স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য পিইটি চিপস এবং পিএসএফ রফতানির মাধ্যমে ৬০ কোটি ডলার আয় করা। আমাদের প্রতিষ্ঠান রফতানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ করবে। আমাদের লক্ষ্য ২০২৩ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়া। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিআরসির প্রধান নির্বাহী স্কট লেভি বলেছেন, এই সুকুক ম্যান্ডেট প্রাপ্ত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
0
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেঁকি। বিভিন্ন ধরনের আধুনি যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকির পুরোনো ঐতিহ্য। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই। বাংলার ঐতিহ্যবাহি ঢেঁকি আগের মত এখন আর চোখে পড়ে না। একসময় ঢেঁকি ছিল গ্রামীণ জনপদের চাল ও চালের গুঁড়া বা আটা তৈরীর একমাত্র যন্ত্র। অগ্রহায়ন পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার পর কৃষাণীদের ঘরে ধান থেকে চাল ও চালের গুঁড়া করার ধুম পরে যেত। জামাই আদর করা হতো বিভিন্ন রকমের পিঠা, পুলি, ফিরনী, পায়েস দিয়ে। এছাড়াও নবান্ন উৎসব বিয়ে, ঈদ, পূঁজায় ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে আটা তৈরী করা হতো। আটা তৈরি করতে ঢেঁকিতে কাজ করত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত। ঢেঁকি ছাটা আউশ ধানের চালের পান্তা ভাত খেতেও খুব স্বাধ হতো। এক যুগ আগেও মানুষ ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে চিড়া, আটা তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করত। ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দে মুখোরিত ছিল বাংলার জনপদ। কিন্তু এখন ঢেঁকির সেই শব্দ শোনা যায় না। বর্তমানে আধুনিকতার শোয়াই ঢেঁকির শব্দ নেই। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীন জনপদের ঐতিহ্যবাহি কাঠের তৈরী ঢেঁকি। জ্বালানীর তৈল বা বিদ্যুৎ চালিত মেশিন দিয়ে ধান ও চাল তৈরীর কারণে ঢেঁকি আজ কদরহীন। এলাকার গ্রাম গুলোতে ঘুরে এখন ঢেঁকির দেখা মিলে না। ঢেঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলার বাঁশতলী গ্রামের ছফর উদ্দিন জানান, আগে বেশির বাড়িতেই ঢেঁকি ছিল। ঢেঁকি ছাঁটা চাল ও চালের পিঠার গন্ধ এখন আর নেই। পিঠার স্বাদ ও গন্ধ এখনও মনে পড়ে। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে গ্রাম বাংলার ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে।
6
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় গত কয়েক দিনে একের পর এক চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) একটি নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। 'কম্পিউটার অপারেটর' পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষাটি পরে অনুষ্ঠিত হবে। ১০ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০টায় 'কম্পিউটার অপারেটর' পদের নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. কামরুল হাসান আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, স্থগিত পরীক্ষার তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে।
1
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিজয়ের মাসে 'অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ' শীর্ষক মোটর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় জেলার বিভিন্ন দফতরের ৫২টি গাড়ি অংশগ্রহণ করে। গাড়িগুলোতে জেলায় বিভিন্ন এলাকায় কর্মকাণ্ড সম্বলিত ব্যানার, ফুল ও ফিতা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি শহীদ রেলওয়ে খুশি রেলওয়ে মাঠ থেকে শুরু করে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে ইউটার্ন নিয়ে ফিরে এসে বালিয়াকান্দির সোনপুর হয়ে কালুখালী ও পাংশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রাটি দেখতে রাস্তায় শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
দর্শকনন্দিত তারকা অভিনেত্রী জয়া আহসান। অনেক দিন থেকেই বাংলাদেশের পাশাপাশি সমান দাপট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন কলকাতা ইন্ডাস্ট্রিতে। কলকাতায় সাফল্যের পাল্লাও দিনদিন ভারি হচ্ছে তার। তারই ধারাবাহিকতায় আবারো কলকাতা থেকে আরেকটা সম্মাননা পেলেন এই গুণী অভিনেত্রী। সেখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় পুরস্কারে একের পর এক চমক দেখিয়ে হ্যাট্রিক করেছেন ফিল্মফেয়ারে। অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে আরও একবার ভারতের ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) রাতে কলকাতায় বসেছিল ফিল্মফেয়ারের বাংলা অঞ্চলের আয়োজন। সেখানেই সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ব্ল্যাক লেডি নিজের করে নেন জয়া। এর সুবাদে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে হ্যাট্রিক করলেন জয়া আহসান। ২০১৮ সালে 'বিসর্জন' এবং ২০২০ সালে 'রবিবার' সিনেমার জন্য এই পুরস্কার পান তিনি। মাঝে এক বছর ফিল্মফেয়ার দেওয়া হয়নি। যার ফলে টানা তিনবারই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারিণী হলেন এ অভিনেত্রী। ২০২১ সালের সিনেমা 'বিনিসুতোয়'তে দুর্দান্ত অভিনয়ের সুবাদে তৃতীয়বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন জয়া। এটি নির্মাণ করেছেন অতনু ঘোষ। সিনেমাটিতে জয়ার বিপরীতে অভিনয় করেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। অনন্য এই অর্জনের পর অনুভূতি প্রকাশ করে জয়া আহসান বলেছেন, পরপর তিনবারের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সম্মানিত হতে পেরে আমি আপ্লুত। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জনপ্রিয় বিভাগে 'বিনিসুতোয়' সিনেমার জন্য কৃষ্ণ সুন্দরী হাতে এলেন। ধন্যবাদ দর্শক এবং ফিল্মফেয়ার পুরস্কার কর্তৃপক্ষকে, এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে জয়া আরও লিখেছেন, আমার পরিচালক অতনু ঘোষ 'বিনিসুতোয়' সিনেমার মধ্য দিয়ে যে নাগরিক রূপকথা বুনেছেন, তার রেশ রয়ে গেল এই প্রাপ্তিতে। সিনেমার পুরো টিমকে অভিনন্দন জানাই ফিল্মফেয়ারের মঞ্চে সমালোচকদের পছন্দের সেরা সিনেমা, সেরা পরিচালক ও সেরা সম্পাদনার শিরোপা জয়ের জন্য। বিনিসুতোর বুনন আরও পোক্ত হলো আজ, শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা উজ্জ্বলতর হোক, সকলকে শুভেচ্ছা জানাই।
2
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে করোনা টিকার নিবন্ধনে টাকা নেওয়া এবং অর্থগ্রহণে সহযোগিতার অভিযোগে তিন স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।। তাঁরা হলেন-চরপাতা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী সুনীল চন্দ্র দেবনাথ, পরিবার কল্যাণ সহকারী চন্দনা রানী নাথ ও গাজিনগর কমিউনিটি সেন্টারের সিএইচসিপি নুরজাহান বেগম। অভিযোগ তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দুটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।একটি কমিটিতে ফেনীর দাগনভূঁইয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম ও ফেনী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান রয়েছেন। এটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে করা হয়েছে।কমিটির প্রধান ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকায় আগামী সোমবার নাগাদ আমাদের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করতে পারবে বলে আশা করছি। কারো ব্যক্তিগত অন্যায়ের কারণে পুরো বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্ন হোক এটা আমরা চাই না।তিন সদস্যের অপর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। কমিটির সদস্যরা হলেন-উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম, চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাক্তার মাহমুদ হাসান ও ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক শহিদুল হক।তদন্ত কমিটির প্রধান আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার বাহারুল আলম বলেন, অভিযুক্ত তিন জনকে স্ব-স্ব দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমি অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় রয়েছি। আগামী সোমবার ফিরে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করবো।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, কমিটির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।উল্লেখ্য, কমিউনিটি সেন্টার ও রমজান আলী পাটওয়ারী বাড়ির ইপিআই টিকাকেন্দ্রে টিকা নিবন্ধনের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ নিয়ে গত ৭ আগস্ট আজকের পত্রিকায় 'টাকা নিয়ে টিকার নিবন্ধন' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
6
'মানিকে মাগে হিতে' গানটি দিয়ে আলোচনায় আসা শ্রীলঙ্কান গায়িকা ইয়োহানির অভিষেক হলো এবার বলিউডে। সানি কৌশল ও রাধিকা মদন অভিনীত 'শিদ্দত' ছবির টাইটেল ট্র্যাকটি গেয়েছেন ইয়োহানি। 'শিদ্দত' গানটি লিখেছেন ও সুর করেছেন মনন ভরদ্বাজ। গানটি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শেয়ার করেছেন ইয়োহানি। 'মানিকে মাগে হিতে'র মতো হিন্দি ছবিতেও ইয়োহানি গেয়েছেন নিজস্ব স্টাইলে। একদিনে তার সেই গান শুনে ফেলেছেন দশ মিলিয়নেরও বেশি শ্রোতা-দর্শক। মানিকে মাগে হিতের পর আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন ইয়োহানি। তার প্রথম হিন্দি গানে মুগ্ধ ভারতীয় শ্রোতারা। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ পিছানো হয়নি। আগামী জুনেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার (৫ মে) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জের নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ১৩ বছরে বিএনপি ২৬ বার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনে মানুষ হাসে। ১৩ বছরে পারল না, কোন বছর পারবে? তাদের আন্দোলনে প্রশ্ন সবার- এই বছর না ওই বছর আন্দোলন হবে কোন বছর। তিনি বলেন, এলাকার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, আইসিইউ প্রতিস্থাপন, খাদ্য সামগ্রী, ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছি। বহুদিন মা-বাবার কবর জিয়ারত করতে পারিনি তাই মনটা বিষণ্ণ ছিল। যারা আমার ভোটার তাদের মাঝে আসতে পেরে ভাল লাগছে। নিজের বাড়িতে এসেছি, নিজের খাবার খেয়েছি, নামাজ পড়েছি। আমার আজকে অনেক ভাল লেগেছে। এটা অর্নিবাচনীয় যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। স্থানীয় রাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে অনেক ঘটনা ঘটেছে, আমি সেই বিষয়ে কিছু বলব না। শুধু বলবো, দলের স্বার্থে আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন। এ সময় জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক খায়রুল আনম সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, সহিদ উল্যাহ খান সোহেল, ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
6
জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার 'ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২১' এবং 'আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২১' এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন।শেখ হাসিনা বলেন, 'জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেলাম। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। এখানে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।'দেশের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দেশের মানুষ একটা উন্নত জীবন পাবে। একেবারে তৃণমূলে পড়ে থাকা মানুষটারও জীবনমান উন্নত হবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।'সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বসভায় মর্যাদা নিয়ে চলবে। সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করি।'সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী চলতে পারে। কারণ, জাতিসংঘের শান্তিবাহিনীতে আমাদের সেনাবাহিনী অংশগ্রহণ করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের চলতে হয়। তাই আধুনিক প্রযুক্তি, অস্ত্রশস্ত্র থেকে শুরু করে সকল ধরনের সরঞ্জামাদি সম্পর্কে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সব সময় প্রশিক্ষিত ও জ্ঞানলাভ করবে, সেটাই আমার চেষ্টা।'শেখ হাসিনা বলেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগে সদা প্রস্তুত থাকে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নানান কার্যক্রম করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো ও আর্থিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিশ্চিতকল্পে দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।পঁচাত্তর-পরবর্তী ২১ বছর সামরিক বাহিনীতে ১৯ বার ক্যু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কত সামরিক কর্মকর্তা, জওয়ান, সৈনিক, সাধারণ মানুষকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে, তা জানা নেই। অনেক পরিবার এখনো তাদের মরদেহের সন্ধান কিংবা আপনজনের সন্ধানও পায়নি। এমন একটি অস্থিরতার মধ্যে ২১টি বছর কেটেছে।ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, 'দেশে-বিদেশের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের জন্য একটি শীর্ষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা। আজ আমি সন্তুষ্টির সঙ্গে বলতে পারি, এই প্রতিষ্ঠান তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছে।'
6
পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। জাতীয় পরিষদে শাহবাজ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে ফোন করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে এরদোয়ান বলেন, শাহবাজ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তিনি 'খুবই খুশি'। জবাবে শাহবাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সময় দুই দেশের আরও ঘনিষ্ঠতা প্রত্যাশা করেন তিনি। অভিনন্দন জানিয়ে ফোন দেওয়ায় এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, সোমবার দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সভাপতি শাহবাজ শরিফ। তিনি দেশটির ২৩তম প্রধানমন্ত্রী। নানা নাটকীয়তার পর ৯ এপ্রিল জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান। এরপর বিরোধী জোটের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে সোমবার জাতীয় পরিষদে ১৭৪ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হন শাহবাজ। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে তার ১৭২ ভোটের প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, পিটিআই দলটির নেতা শাহ মাহমুদ কোরেশিকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন তিনি। জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ভোটাভুটি বর্জন করেন পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতারা। পার্লামেন্ট থেকে গণপদত্যাগেরও ঘোষণা দেন তারা। এতে শাহবাজ কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সূত্র: ডেইলি সাবাহ, আনাদোলু এজেন্সি বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, 'প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই। যারা রাজনীতি করছেন তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে করছেন। যারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা তা নিজেরাই তৈরি করেছেন। আমাদের দেখতে হবে আদালতের কার্যক্রম ঠিকমতো হচ্ছে কি না। কাজেই আমাদের এখানে উদ্বেগের কিছু নেই।'বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি একটি রাজনৈতিক দলের কবজা হয়ে গেছে। সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের নানা রকম কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।তিনি বলেন, 'আমি আগেও বলেছি, যারা রাজনীতি করছেন তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে করছেন। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার স্ত্রী-স্বজনদের নিয়ে বারের অডিটরিয়াম ব্যবহার করা এবং যুদ্ধাপরাধের মামলার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া- এটা কি কোনো সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ? এটাতো তারা করেছেন।প্রধান বিচারপতির শারীরিক অবস্থা জেনেছেন কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, 'এটা তো আমার দায়িত্ব না। প্রধান বিচারপতি কোথায় থাকবেন, কোথায় আছেন, সেটা জানা তো আমার দায়িত্ব না। এ বিষয়ে বেশি উৎসাহী যারা তারা খুঁজে দেখতে পারে।'
6
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতি, আমলা-প্রশাসন ও সাংবাদিকতা থেকে দেশ ও জাতি উপকৃত হয় না। তিনি অভিযোগ করেন, 'তিন ভাগনেকে ইউপি নির্বাচনে জেতানোর জন্য ওবায়দুল কাদের প্রশাসনকে দিয়ে ভোট ডাকাতি করে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। তাঁর এসব আচরণের জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি ও এখানকার জনগণ তাঁকে (ওবায়দুল কাদের) লাল-কার্ড দেখাব।'মেয়র আবদুল কাদের মির্জা গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর অনুসারীদের আয়োজনে সদ্য নির্বাচিত তিন ইউপি চেয়ারম্যানের সংবর্ধনা ও পরাজিত প্রার্থীদের সান্ত্বনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।এ সময় তিনি দুর্নীতিবাজ ইউএনও, ওসি, নির্বাচনী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টাকা খেয়ে তাঁর সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের হারিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, জনগণ তাঁদের পরাজিত করেনি। করেছে সেতুমন্ত্রী ও প্রশাসন।কাদের মির্জা বলেন, সেতুমন্ত্রীর এলাকায় ইউএনও-ওসি দুজন মিলে লুটেরা প্রশাসনসহ লুটেপুটে খেয়ে জনগণকে সেবার পরিবর্তে জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।ওসিকে উদ্দেশ করে মেয়র কাদের মির্জা বলেন, 'তোর মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আমার কিছুই করতে পারবে না। মানুষকে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, গ্যাস, প্রতি পরিবারে চাকরি দেবে বলে কিছুই দেয়নি। এর পরিবর্তে ঘরে ঘরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে আসামি করে অনেককে জেলে পুরে রেখেছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোট নিয়ে পালিয়ে গেছেন। আর এলাকায় আসেনি। আগামী নির্বাচনে তিনি (ওবায়দুল কাদের) কোন মুখে জনগণের কাছে ভোট চাইবেন? সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে প্রশাসন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে আমার প্রার্থীদের পরাজিত করেছে। ভাগনেকে জেতাতে না পেরে ওবায়দুল কাদের স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত প্রার্থীকে চরপার্বতীর চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। এ লজ্জা রাখব কোথায়! ওবায়দুল কাদের তাঁর তিন ভাগনেকে নির্বাচনে জেতানোর জন্য দলের জাতীয় প্রতীক নৌকাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন।'এ সময় মেয়র আরও বলেন, মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং অযোগ্য উপজেলা চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিনের অনুপস্থিতিতে প্রশাসন সীমাহীন দুর্নীতিতে লিপ্ত রয়েছে। টাকা না দিলে উপজেলা পরিষদে গিয়ে ও পুলিশের কাছ থেকে কোনো সেবা পাওয়া যায় না।এ সময় কাদের মির্জা গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, 'সাংবাদিকেরা সত্য কথা লিখে না। শুধু আমার বিরুদ্ধে কিছু পেলেই তা লিখে।'কাদের মির্জার অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুলের সভাপতিত্বে যুবলীগ নেতা শওকত আজিম জাবেদের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য দেন নবনির্বাচিত মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আইয়ুব আলী, চরহাজারী ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন সোহাগ, সিরাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মিকন, পরাজিত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ফখরুল সবুজ, হাসান ইমাম বাদল, সাবেক কাউন্সিলর আবুল খায়ের, মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী পারভীন মুরাদ প্রমুখ।
6
'কোনো মাই চান না সন্তানরে হাতছাড়া করতে। সন্তান অইল একজন মায়ের বুকের ধন। একেবারে উপায় না দেইক্কা, হাসপাতালের পাওনা শোধ দেওনের লইগাই পোলাডারে বেইচা দিছিলাম।' অসহায়তার এ আর্তি ২৮ বছর বয়সী মা তামান্না আক্তারের। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার হানিরপাড় গ্রামের মো. আলমের স্ত্রী তিনি। প্রসববেদনা নিয়ে সম্প্রতি ভর্তি হন ওই উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। অস্ত্রোপচারে তাঁর ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। হাসপাতালের ২৭ হাজার টাকার বিল হয়। কিন্তু সেই টাকা শোধ করতে না পারায় বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না তিনি। হাসপাতালের পাওনা মেটাতে নিজের সদ্যোজাত সন্তানকে এক নারীর কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হলে প্রশাসনের সহায়তায় নিজের সন্তানকে কোলে ফিরে পান এই মা। তামান্নার এই সন্তান বিক্রির খবরে অনেকের সংবেদনশীল মনে হয়তো গভীর দাগ কেটেছে। অনেকে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা আমাদের দেশ যে অভিনব, তা কিন্তু নয়। গত ২০ জানুয়ারি প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে পিরোজপুরের এক দম্পতির সন্তান বিক্রির খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরিমল ব্যাপারীর নিজের জমিজমা নেই, তাই থাকেন অন্যের ঘরে। টুকটাক ঘটকালি আর এর-ওর কাছে চেয়েচিন্তে যা টাকা পান, তা দিয়েই কষ্টেসৃষ্টে চলে স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে সংসার। তাঁর ঘরে এসেছে নতুন অতিথি। কিন্তু তার মুখে খাবার তুলে দেবেন কীভাবে? অভাবের তাড়নায় ১৮ দিনের কন্যাশিশুকে বিক্রি করে দেন শহুরে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে। মেয়েটাও ভালো থাকবে, বেশ কিছু নগদ টাকাও পাওয়া যাবে, এ-ই ছিল আশা। তবে যে পরিমাণ টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তা তিনি পাননি। এক প্রতারক চক্র তাঁদের সন্তান বিক্রির সিংহভাগ টাকা নিয়ে যায়। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন আদালত। শিশুটির মা কাজল ব্যাপারী বলেন, 'আমার স্বামী অভাবে থাকায় ও মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে ধনী একটি পরিবারকে শিশুটিকে দত্তক দিয়েছিলাম। আমি তো মা। মায়ের মন সন্তানের জন্য ছটফট করে। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আমি খুশি।' ২.সম্প্রতি সারোগেসি পদ্ধতিতে মা হয়েছেন বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। জরায়ু ভাড়া নিয়ে এভাবে তাঁর মা হওয়া নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সন্তান ধারণে অক্ষম দম্পতির ক্ষেত্রে সারোগেসি পদ্ধতিতে মা হওয়াটা নিঃসন্দেহে বিজ্ঞানের একটা বড় আশীর্বাদ। কিন্তু সামাজিক প্রেক্ষাপটে যখন এর প্রয়োগ হয়, তখন বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে চলে আসে। ভারতকে বিশ্বের সারোগেসি হাব বলা হয়। একসময় বিশ্বের ধনী দেশগুলো থেকে দম্পতিরা ভারতের সারোগেসি ক্লিনিকগুলোয় আসতেন গরিব নারীদের জরায়ু ভাড়া নিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য। ভারতের নারী অধিকারকর্মীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিদেশিদের জন্য এটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ভারতে সারোগেসি থেকে বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার আয় হয়। ওই প্রতিবেদনে গর্ভ ভাড়া দিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া কয়েক নারীর জীবনের রূঢ় গল্প তুলে আনা হয়। কেরালার এক নারীর তিন সন্তান। দিনমজুর স্বামী। অভাব-অনটনের সংসার। শ্বশুরের চিকিৎসার খরচ মেটাতে পরিবারটি বেশ কিছু টাকা ঋণ করে ফেলে। সেই ঋণ শোধ করতে নিজের গর্ভ ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য তাঁদের সঙ্গে সারোগেসি ক্লিনিক থেকে চুক্তি করা হয়। কিন্তু কাদের ভ্রূণ তিনি গর্ভে ধারণ করছেন, তা কখনোই জানতে পারেননি। এমনকি সন্তান জন্মের পর তার মুখটাও তিনি একবারের জন্যও দেখতে পারেননি। অন্য আর তিন সন্তানের মতোই তাঁর একই মমত্ব রয়ে যায়। প্রতিবছর অদেখা সন্তানটির জন্মদিন উদ্যাপন করেন। সারোগেসি পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য সম্মতি ও সম্পর্কের প্রশ্নটি অনিবার্যভাবেই সামনে চলে আসে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ দুই প্রশ্নকে হাওয়া করে দিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতার মানদণ্ডটাই এখানে একমাত্র বিবেচ্য হয়ে ওঠে। দারিদ্র্যকে এখানে নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়। শুধু নিঃসন্তান দম্পতিই নন, সন্তান জন্মদানে সক্ষম ধনী ও সেলিব্রিটিরা এ স্রোতে শামিল হন। শাহরুখ খান, প্রীতি জিনতাসহ সেলিব্রিটিরা মা-বাবা হয়েছেন। সেই খবর মহাধুমধামে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সবচেয়ে পঠিত সংবাদের শীর্ষেও থেকেছে। অথচ সারোগেসি মা টিকে থাকার ভিত্তিই হচ্ছে সমাজে দারিদ্র্য টিকে থাকা। দারিদ্র্য নেই তো সারোগেসি নেই। ৩.তামান্না-কাজলের সন্তান বিক্রি আর সেলিব্রিটিদের অন্য মায়ের জরায়ু ভাড়া নিয়ে মা হওয়া-দুটো ঘটনায় দারিদ্র্য ও অসমতার সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম প্রকাশ। মা ও নবজাতকের সম্পর্ককে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রকৃতি সুশোভন সম্পর্ক বলে মনে করা হয়। সমাজ, ধর্ম ও সংস্কৃতিতে এ সম্পর্ক সবচেয়ে পবিত্র বলে বিবেচিত। অথচ সেই সম্পর্ককে অর্থনৈতিক বাস্তবতা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। কারও অর্থনৈতিক সামর্থ্য নেই বলে তিনি সন্তান জন্ম দিতে পারবেন না কিংবা পারলেও হাসপাতালের বিল শোধ করতে গিয়ে নবজাতককে বেচে দিতে হবে। আবার কারও অর্থনৈতিক সামর্থ্য আছে বলেই সদ্যোজাত সন্তানকে মায়ের বুক থেকে টেনে নিজেদের কুক্ষিগত করতে হবে। নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তানের আকাঙ্ক্ষাটাও স্বাভাবিক। কিন্তু অর্থনৈতিক সামর্থ্যের কারণে তাঁদের কেন মায়ের কোল খালি করে আনতে হবে! এস ও এস শিশুপল্লীর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে অভিভাবকহীন বা এতিম শিশুর সংখ্যা ৪৪ লাখ। তাদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ৮০ শতাংশ শিশু মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভোগে। মৃত্যুহার প্রতি ১ হাজারে ৪১ দশমিক ১ শতাংশ। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে ৭৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বাল্যবিবাহ হয়ে যায় ৬৪ দশমিক ৯০ শতাংশের। অন্যদিকে 'মেল ইনফার্টিলিটি ইন বাংলাদেশ: হোয়াট সার্ভ বেটার ফার্মাকোলোজিক্যাল হেল্প' শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিঃসন্তান দম্পতির সংখ্যা ৩০ লাখের মতো। দেশে অভিভাবকহীন শিশু ও নিঃসন্তান দম্পতিদের সংখ্যার যে অনুপাত, তাতে বিপুলসংখ্যক শিশুর আশ্রয় হতেই পারত এ পরিবারগুলো। কিন্তু এখানে ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা এবং রাষ্ট্রীয় আইনের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজ ও রাষ্ট্র মানবিক হলে এ সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তবে দারিদ্র্য কিংবা হাসপাতালের বিল শোধ করতে না পেরে সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক কোনো সমাজের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে না। চুইয়ে পড়া অর্থনীতি থেকে চুইয়ে সমাজের প্রান্তিক অংশের কাছে যৎসামান্যও কি পৌঁছাতে পারছে, যাতে নবজাতক বিক্রি করে দেওয়ার মতো অসহায় বাস্তবতার সামনে মায়েদের আর পড়তে না হয়? মনোজ দে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক
8
ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনায় গোটা দেশ। পিছিয়ে নেই রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলাও। ভিনদেশীয়দের প্রেমে পড়েছে তরুণ থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সের মানুষ। প্রিয় দলের সমর্থনে গোটা দেশের ন্যায় বালিয়াকান্দির বাজারসহ আনাচে-কানাচে ছেয়ে গেছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকায়। যদিও ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশীরা ক্রিকেট পাগল জাতি। কিন্তু প্রতি চার বছর পর যখন বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয় তখন খাওয়া-নাওয়া ভুলে অধিকাংশ মানুষ মেতে উঠে ফুটবল উন্মাদনায়। অথচ বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা'র অধিভুক্ত বিশ্বের ২০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ফুটবলের অবস্থান ১৯৭তম। বালিয়াকান্দি উপজেলার হাট-বাজার ও বাসা বাড়ীতে দেখা গেছে ফুটবলের উম্মাদনায় ক্রীড়া প্রেমীরা তাদের পছন্দের দেশের পতাকা বাড়ির ছাদে, আঙিনায়, দোকানে, রাস্তার পাশে, গাছের ডালেসহ বিভিন্ন জায়গায় উত্তোলন করেছেন। সমর্থকরা বিদেশী পতাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করছেন। সুর্যোদয় থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও তার কোন তোয়াক্কাই করছেন না কেউ। জাতীয় পতাকা অবমাননা হলেও সচেতনতা কিংবা ব্যবস্থা গ্রহণের কোন দৃশ্য দেখা যায়নি।বাংলাদেশে যতগুলো জনপ্রিয় খেলা আছে তার মধ্যে ফুটবল হল অন্যতম। দেশের গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে শহর অঞ্চলে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে পাগলামিটা অনেক দিন ধরেই চলছে। সেই সাথে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইতালিসহ প্রিয় দেশের পতাকা টানানোও একটা সংষ্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। কেউ বলছে বিদেশী পতাকা ওড়ানোর ফলে জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করা হচ্ছে আবার কেউবা বলছে আবেগের বশে মানুষ এমন করতেই পারে। জাতীয় পতাকা ব্যবহারের নিয়ম-নীতি সঠিক ভাবে জানা থাকলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না বলে দাবি বিশিষ্টজনদের। জানাগেছে, পৃথক পৃথক স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্যে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সেগুলো হল ভবনের জন্য পতাকা- ১০ ফুট বাই ৬ ফুট, ৫ ফুট বাই ৩ ফুট এবং ২.৫ ফুট বাই ১.৫ ফুট। এখানে উল্লেখ্য যে, পতাকার আকার ভবনের আকার অনুযায়ী হবে। সরকার প্রয়োজনে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ্যেও পরিমাপ বজায় রেখে বৃহদাকার পতাকা প্রদর্শনের জন্য অনুমতি দিতে পারেন। মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো ১৫ ইঞ্চি বাই ৯ ইঞ্চি এবং ১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি। আর্ন্তজাতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্মেলনের জন্য টেবিল পতাকার আকার ১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি। এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মতিন ফেরদৌস মনে করেন, জাতীয় পতাকার অবমাননাকর ব্যবহার একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে এদেশের লাল সবুজের পতাকা অর্জন করেছি। এক্ষেত্রে দেশের জাতীয় পতাকা অবমাননাকারীদের সচেতনতার পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তির দাবিও জানান তিনি। রাজবাড়ী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সদস্য আব্দুল খালেক মন্ডল বলেন, বাংলাদেশের লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা শুধু মাত্র একটি কাপড় নয়। স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক আমাদের প্রিয় লাল সবুজের পতাকা। এ পতাকা অবমাননার জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির বিধান করতে হবে। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপলক্ষে যা হচ্ছে এটি আমাদের কাম্য নয়। এ পতাকা একটি জাতির স্বাধীনতার প্রতীক, দেশ ও জাতির কাছে একটি পবিত্র আমানত। যে কেউ যে কোন দল কে সমর্থন করতেই পারে তাই বলে আমরা আমাদের নিজস্ব সত্তা যেন হারিয়ে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
6
বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছায় রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বটিয়াঘাটা উপজেলার চক্রাখালী মল্লিকের মোড়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এটি উদ্বোধন করেন বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রবিউল ইসলাম।এদিকে পাইকগাছার সোনাতন কাটিতে গত মঙ্গলবার এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. ফজলুল হক। বটিয়াঘাটায় ৫০ একর জমিতে সমলয় পদ্ধতিতে ধান রোপন উদ্বোধন করা হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কাজি জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইন, জলমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র রায়, অতিরিক্ত পরিচালক মহাদেব সানা, প্রকৌশলী দিপংকর বালা, বটিয়াঘাটা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শরিফুল ইসলাম ও আবু বক্কার সিদ্দিক, বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম শাহীন, প্রেসক্লাবের সদস্য রেজাউল করিম রেজা, আজিজুর রহমান শেখ, উপসহকারী কৃষি অফিসার সরদার আব্দুল মান্নান, আ. গফফার গাজী, মিহির কুমার বৈরাগী, পিন্টু মল্লিক, শিবানন্দ রায় প্রমুখ।এদিকে পাইকগাছায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধান রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম। স্বাগত বক্তব্য দেন পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, খুলনার কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. হাফিজুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার পোদ্দার, প্রকৌশলী দিপংকর কুমার বালা, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ধ্রুবজোতি সরকার।আরও বক্তব্য দেন উপসহকারী কৃষি অফিসার আবুল কালাম আজাদ, বিল্লাল হোসেন, শেখ তোফায়েল আহমেদ তুহিন ও কৃষক জি এম আব্দুস ছাত্তার।এ সময় প্রধান অতিথি বলেন, সমলয় চাষাবাদ পদ্ধতিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে ধান রোপণ করলে প্রতি ঘণ্টায় ১ জন শ্রমিকের মাধ্যমে ১ বিঘা জমি চাষ করা যায়। এভাবে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টায় ৮ বিঘা জমি চাষ করলে খরচ ও অর্থে অপচয় কমে যাবে। সনাতন পদ্ধতিতে ৮ বিঘা জমিতে ৩৫ জন শ্রমিক লাগবে। খরচ তিনগুণ বেশি হবে। এ এলাকায় সমলয় পদ্ধতির চাষ প্রথম। উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের সোনাতন কাটিতে এবার ১৫০ বিঘা জমিতে স্থানীয় কৃষকেরা কৃষি অফিসের সহায়তায় এ চাষ করছে।'সমলয়' চাষের এক নতুন পদ্ধতি। সবাই মিলে একটি ব্লকে/মাঠে একসঙ্গে একই জাতের ধান একই সময়ে যন্ত্রের মাধ্যমে রোপণ করা হয়। বীজতলা থেকে কর্তন, সব প্রক্রিয়া যন্ত্রের সাহায্যে সমসময়ে সম্পাদন করা হয়। এ পদ্ধতিতে ধান আবাদ করতে হলে চারা তৈরি করতে হয় ট্রেতে। ট্রেতে চারা উৎপাদনে জমির অপচয় কম হয়। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো যায়। কৃষক তার ফসল একত্রে মাঠ থেকে ঘরে তুলতে পারে। কারণ, একসঙ্গে রোপণ করায় সব ধান পাকবেও একই সময়ে। তখন ধান কাটার মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কর্তন ও মাড়াই করা যাবে।এসব কারণে সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষে সময়, শ্রম ও খরচ কম লাগবে। উৎপাদনও হবে বেশি। এতে লাভবান হবেন কৃষকেরা।
6
নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান জন ব্রেনান বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল বিপর্যয় ডেকে আনবে আর এটি হবে চরম বোকামির কর্ম। তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রতিশ্রুতগুলো নিয়ে ট্রাম্পের আরো উদ্বিগ্ন হতে হবে। 'আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিতহলে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করব। আর রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব।' নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প এই কথা বলেছিলেন। তাই ট্রাম্পের এই দুই পরিকল্পনার ব্যাপারে সতর্ক করে দিলেন দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান ব্রেনান।
3
বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনার শিরোনামে আছেন বলিউড অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান। করণ জোহরের ছবি 'দোস্তানা ২' থেকে বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে তাঁর আলোচনায় আসা শুরু। এরপর খবরে এসেছেন ধর্ম প্রোডাকশন তাঁকে ব্ল্যাক লিস্ট করেছে। তারপরে এল শাহরুখ খানের রেড চিলিজ চলচ্চিত্র 'ফ্রেডি' থেকে তাঁকে বহিষ্কারের খবর।সম্প্রতি কার্তিক নতুন ছবিতে অভিনয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ছবির নাম 'সত্যনারায়ণ কি কথা'। ছবির প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা। ছবিটি নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ছবির নাম নিয়ে বিরোধিতা করছে। সংগঠনগুলো দাবি করছে, প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা এমন শিরোনাম রেখে হিন্দু দেব-দেবীদের অপমান করছেন। এমনকি তারা হুমকি দিয়েছে, সাজিদ নাদিয়াদওয়ালাকে এর জন্য প্রকাশ্যে অপদস্থ করা হবে। এমন প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তবে নতুন নাম কী হবে, তা এখনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিষ্ণুর আর এক নাম সত্যনারায়ণ। তবে কি এই ছবি পৌরাণিক কাহিনির? এ বিষয়ে ছবির সঙ্গে যুক্ত কেউই কোনো কথা বলেননি। গণমাধ্যমগুলো আঁচ করছে, এটি একটি রোমান্টিক ছবি, যেখানে গানের বড় ভূমিকা আছে। পরিচালক সামির বলেছেন, 'ছবির গল্প ও চিত্রনাট্যের মতো ছবির নামও একটি সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। কিন্তু সেটা যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও অনুভূতি বা আবেগকে আঘাত করে, সেটা কাম্য নয়। তাই অনেক ভেবেচিন্তে ছবির নাম পাল্টে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছবির নতুন নাম কী হবে, সেটা খুব তাড়াতাড়ি জানিয়ে দেওয়া হবে।' ছবিটি নিয়ে আসল চমক অন্য জায়গায়। এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী পরিচালক সামির বিদওয়ানস। কার্তিক বাদে এই ছবির নির্মাণকৌশলে যুক্ত সবাই জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী। ছবির নাম পাল্টে দেওয়ার পর বলিউডের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, এই ছবিতে কার্তিকের বিপরীতে থাকবেন সাজিদের প্রিয়পাত্রী শ্রদ্ধা কাপুর। তাই এদিক-ওদিক না ঘুরে প্রথমে তাঁর কাছেই ছবির চিত্রনাট্য দেওয়া হয়। শ্রদ্ধার চরিত্র পছন্দ হয়েছে এবং তিনি মৌখিক সম্মতিও জানিয়েছেন।কিন্তু বলিউডের আবহাওয়া হলো পাহাড়ের মতো, যা ক্ষণে ক্ষণে পাল্টে যায়। আবারও নাকি বদলে যাচ্ছে ছবির কাস্টিং। বেশ কিছু গণমাধ্যম এরই মধ্যে খবর ছাপিয়েছে-শ্রদ্ধা নয়, এই ছবিতে কার্তিকের বিপরীতে থাকবেন কিয়ারা আদবানি। আবারও খবর। তবে এই খবর যদি সত্যি হয়, 'ভুল ভুলাইয়া ২'-এর পর এটি হবে কিয়ারা ও কার্তিকের দ্বিতীয় ছবি।
2
খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামের সাথে আলাপ করে এই কথা জানা যায় বলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার বোনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিতসকদের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিতসা চলছে। এইটুকু বলতে পারি যে, তার অবস্থা স্থিতিশীল, ভালো ইম্প্রুভ করছে। আপনারা উনার জন্য দোয়া করবেন। রমজান মাস বুঝতেই পারেন। এখন কোরআন তেলোয়াত, তজবীহ তাহরিমা, দোয়া দরুদ, নামাজ পড়ে সময় কাটছে তার। টেলিফোনে আমরা কথা-বার্তা বলছি নিয়মিত। ছোট ভাইয়ের বাসা থেকে ইফতারি যাবে বলে জানান তার বোন সেলিমা ইসলাম। করোনা আাক্রান্ত হওয়ার পর আত্বীয়-স্বজন কেউ বাসায় আসছেন না। তারা টেলিফোনে খালেদা জিয়ার সাথে কথা বলছেন নিয়মিত। ভাইদের বাসা থেকে তার জন্য খাবার নিয়ে আসা হয়। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে রোববার খালেদা জিয়ার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা 'ফিরোজায়' মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তার ব্যক্তিগত চিকিতসক একটি টিম চিকিতসা শুরু চলছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত চিকিতসক টিম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে চিকিতসার ব্যবস্থাপত্র দিয়েছে। নিয়মিতই তার ব্যক্তিগত চিকিতসক ডা. মো আল মামুন ফিরোজায় গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুলো মনিটরিং করেন এবং সেগুলোর রিপোর্ট চিকিতসক টিমের প্রধানকে অবহিত করেন। চিকিতসক টিমের সদস্যরা জুমে বৈঠক করে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেন। এসব বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও থাকেন। বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও গুলশানে 'ফিরোজা'র বাসায় তার গৃহকর্মীসহ আরো ৮ জন স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন বাড়ি চলে গেছেন এবং বাকীরা ফিরোজায় চিকিতসা নিচ্ছেন। ৭৫ বছল বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ডিত। দন্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ 'মানবিক বিবেচনায়; শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিতসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিতসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত।
6
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সারকারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সিবিএ নেতা তোফাজ্জল হোসেনকে (৪৫) মারধরের অভিযোগ উঠেছে সাবেক সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে।গতকাল শুক্রবার সকালে তারাকান্দি সংলগ্ন কান্দারপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।গুরুতর আহত অবস্থায় তোফাজ্জল হোসেনকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সিবিএ-এর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক।আহতের স্ত্রী মাসুমা পারভীন জানান, তাদের বাড়ি গাজিপুরের মাওনা এলাকায়। যমুনা সারকারখানায় চাকরির সুবাদে ২০০১ সাল থেকে তাঁরা সেখানে বসবাস করে আসছেন।নিজ বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে গতকাল শুক্রবার সকালে তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন কান্দারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে বাসের টিকিট আনতে যান। এ সময় তিনি হামলার শিকার হন।এ ব্যাপারে জেএফসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলীর নির্দেশে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তিনি জানেনই না।এ বিষয়ে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আব্দুল লতিফ সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ২০২০ সালের স্প্রিং সেমিস্টার থেকে ২০২২ সালের স্প্রিং সেমিস্টার পর্যন্ত ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গুলশান ক্যাম্পাসের খেলার মাঠে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গেস্ট অব অনার ছিলেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'এ সময়টা তোমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের সদ্ব্যবহার তোমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। তাই এক মুহূর্তও নষ্ট না করে শুধু পড় আর পড়। আর মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা কর যে, আমি অবশ্যই ভালো কিছু করতে পারব। তাহলে অবশ্যই ভালো কিছু করতে পারবে।' মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টের সদস্য সাবেক সচিব মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, ফজলুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এ টি এম ফজলুল হক, মানারাতের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মাহমুদ হাসান, মো. এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম উমার আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মানারাত ইন্টারন্যাশনাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, 'মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভালো মানুষ হতে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে।' অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী ও সাংবাদিক আমিরুল মোমেনীন। এ ছাড়া কৌতুক পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা আবদুল গণি।
6
ছয় দশকের খরা কাটিয়ে প্রানবন্ত পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিলো হাঙ্গেরি। শনিবার বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় ১-০ গোলে জেতে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান গড়ে দেন দমিনিক সোবোসলাই। এই জয়ে ৬০ বছর আর ১৫ ম্যাচ পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতল হাঙ্গেরি। সবশেষ চিলিতে হওয়া ১৯৬২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দুই দলের প্রথম ম্যাচে হাঙ্গেরি জিতেছিল ২-১ গোলে। তবে এই ম্যাচে ইউরো ২০২০ চলাকালীন হাঙ্গেরির সমর্থকদের বর্ণবাদী ও সমকামীদের বিরুদ্ধে আচরণের জন্য শাস্তি হিসেবে 'দর্শকশূন্য' স্টেডিয়ামে খেলতে হয় দেশটিকে। তবু মাঠে ছিল অনেক দর্শক। উয়েফার নিয়মে স্কুল অথবা ফুটবল একাডেমি থেকে ১৪ বা এর কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ম্যাচের জন্য আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে, যদি তাদের সঙ্গে একজন প্রাপ্তবয়স্ক থাকেন। সেই দর্শক অনুপ্রেরণার ওপর ভর করে জয়ের উৎসবে মাতল হাঙ্গেরি। নিজেদের পরের ম্যাচে আগামী মঙ্গলবার তারা খেলবে ইতালির মাঠে। একই দিন জার্মানির মাঠে খেলবে ইংল্যান্ড।
12
এ কথা এখন অনেকেই জানেন যে, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল একটি বেতার ঘোষণার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির বাগডোগরা নামক স্থান থেকে একটি গোপন ট্রান্সমিটারের মিডিয়াম ওয়েভে সম্প্রচারিত হয়েছিল এই ঘোষণা।ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারত সীমান্তের কাছে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামে আত্মপ্রকাশ করেছিল এই সরকার এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশ সরকারের পথ চলার একটি বড় মাইলফলক এই ১৭ এপ্রিল।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানিদের হাতে কারাবন্দী। মার্চ মাসজুড়ে গোলটেবিল আলোচনার যে পরিহাস সৃষ্টি করেছিল পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, তা যে সত্যিই ছিল আইওয়াশ, সেটা বোঝা গেল ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে। বাংলার মানুষ নয়, ইয়াহিয়া খান গংয়ের জন্য বাংলার মাটি ছিল আরাধ্য। তাই পৈশাচিক হত্যাই হয়ে উঠেছিল ইয়াহিয়ার ভাষা। রাও ফরমান আলী এবং জাহানজেব আরবাব ঢাকা শহর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিল। ঢাকার বাইরে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল খাদিম হোসেন রাজার নেতৃত্বে। রাত ১২টার পর বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তখন ২৬ মার্চ। এ কারণেই ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস।বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনী পড়লেই বোঝা যায়, তিনি কোনো দিন গ্রেপ্তার এড়াননি। একবারই শুধু ১৯৪৯ সালের অক্টোবর মাসে মওলানা ভাসানীর অনুরোধে গ্রেপ্তার এড়িয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু আর কখনোই গ্রেপ্তার এড়াননি। নিজ সততা ও ন্যায় দাবিতে অটল থেকে গ্রেপ্তার বরণ করেছেন। ২৬ মার্চ তার ব্যতিক্রম ছিল না। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করতে না পারলে পাকিস্তানি হায়েনারা দেশব্যাপী যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাত, তা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সহ্য করা কঠিন হতো। এ কারণেই তিনি গ্রেপ্তার বরণ করেছিলেন।কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হলেও মুক্তিযুদ্ধ চলেছে বঙ্গবন্ধুর নামেই। ১৯৬৬ সালে যে ৬ দফার আন্দোলন শুরু করেছিলেন তিনি, তারই ধারাবাহিকতায় ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচনের পথ বেয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত হয়েছিল বাংলাদেশ। তাই মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কারান্তরীণ থাকলেও তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের মূল অনুপ্রেরণা। এ কারণেই ১৭ এপ্রিল আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু উপস্থিত নেই কিন্তু সরকার পরিচালিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে গ্রহণ করেই।সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী। তিনি উপস্থিত মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করার পর তাঁদের শপথ পরিচালনা করেন। কর্নেল ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি হিসেবে শপথ পাঠ করানো হয়। মন্ত্রিপরিষদের নীতিনির্ধারণসহ সব কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বিন্যস্ত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য একটি সরকার গঠিত হওয়ার অর্থ, পাকিস্তানের সঙ্গে সবধরনের সম্পর্ক ছেদ হয়েছে এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই শুরু হয়েছে যুদ্ধ।পরবর্তী নয় মাস এই সরকারের নেতৃত্বে যুদ্ধ হয়েছে; ১১টি সেক্টরে বিন্যস্ত আমাদের মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানিদের আক্রমণ করে পর্যুদস্ত করে তুলেছিল। ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে মুক্তির লক্ষ্যে। ১৭ এপ্রিল শুধু নিছক একটি তারিখ নয়, এটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত একটি তারিখ। একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকার পরিচালনার মূল্যবান অনুপ্রেরণা।দিনটি বাংলাদেশের মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
8
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ইফতার উপলক্ষে বন্ধুরা মেতে ওঠেন অন্য রকম আনন্দে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, ক্যাফেটেরিয়া, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, শহীদ মিনার, স্টেশন চত্বর, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে ইফতারের আয়োজন করেন। একে অন্যের সঙ্গে ইফতারি ভাগ করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও অটুট করেন।সরেজমিনে দেখা গেছে, রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন আবাসিক হলের সামনে, বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন, বউবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ইফতারের অস্থায়ী দোকান বসেছে। সেখানে হরেক রকমের ইফতারসামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ছোলা, মুড়ি, জিলাপি, বুন্দিয়া, বেগুনি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন রকমের খাবার।' বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করেন চবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দীন। তিনি বলেন, 'করোনাভাইরাসের কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় গত দুই বছর ক্যাম্পাসে ইফতারের আয়োজন ছিল না। এবার বন্ধুদের নিয়ে ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসের ওপর পত্রিকা বিছিয়ে ইফতার করছি। এতে যেন সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়।'ক্যাম্পাসের এই ইফতার আয়োজন শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এতে অংশ নেন অন্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও। নাট্যকলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ধর্মরাজ বলেন, 'ইফতার করাটাকে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন হিসেবে দেখি। ক্যাম্পাস জীবনের শুরু থেকেই আমরা সব ধর্মের বন্ধুরা একত্রে ইফতার করে আসছি। এতে করে আমাদের সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় হচ্ছে।'ক্যাম্পাসে যে শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরা ইফতার করেন তা নয়, দূরদূরান্ত থেকে দল বেঁধে সাবেকরাও ছুটে আসেন একসঙ্গে ইফতার করতে। তেমনি দুই দিন আগে ক্যাম্পাসে ইফতার করতে এসেছেন বিভিন্ন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। তাঁদেরই একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের কাজী মাহমুদ হাসান অয়ন বলেন, 'আমরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছি। তবে ক্যাম্পাসে সবাই মিলে ইফতার করা, আড্ডা দেওয়ার সময়গুলো মিস করি। তাই এক দিনের জন্য আগের সে সময়ে ফিরে যেতে এবং বন্ধুদের মধ্যে বন্ধন মজবুত করতে আমরা ইফতারের আয়োজন করেছি।'কারও কারও এবারই ক্যাম্পাসে শেষ ইফতার। স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো এত দিনের মধুর সময়গুলো। ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রিপন সরকার বলেন, 'একাডেমিক পড়াশোনা প্রায় শেষের দিকে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব। ক্যাম্পাসে হইহুল্লোড় করে সবার সঙ্গে আর ইফতার করা হবে না। এ সময়টুকু খুব মিস করব।'
6
সর্বকনিষ্ঠ স্নাতক হিসেবে রেকর্ড গড়তে চলেছে বিস্ময় কিশোর। হল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামের বাসিন্দা এই বিস্ময় বালকের নাম লরেন্ট সিমন্স। বয়স মাত্র ৯ বছর। আসছে ডিসেম্বরে স্নাতক হয়ে যাবে সিমন্স। আইন্ডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে ফেলেছে ৯ বছরের কিশোর। এখন ফলপ্রকাশের অপেক্ষায়। যে বিষয় নিয়ে পড়াশুনো করতে আর পাঁচজন পড়ুয়ার যথেষ্ট ঝক্কি পোহাতে হয়। তা এই বয়সেই সামলে নিয়েছে লরেন্ট। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি'র পাশাপাশি চিকিৎসা বিদ্যার পড়াশুনা শুরু করবে লরেন্ট। লরেন্টের মা-বাবার মতে, তার দাদা নাতির মধ্যে অনন্য প্রতিভা লক্ষ্য করেছিলেন। লরেন্টের শিক্ষকদের মতে, এই শিশু একটি দামি উপহার। লরেন্টের বাবা আলেকজান্ডার জানিয়েছেন, 'আমার সন্তানের শিক্ষকরা প্রায়ই বলতেন বিশেষ দক্ষতা নিয়ে জন্মেছে লরেন্ট।' মা লিডিয়া জানায়, 'গর্ভবতী থাকাকালীন প্রচুর মাছ খেতাম। তাই ছেলের মাথায় হয়ত এত বুদ্ধি।' আইন্ডোহোভেনের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর জোয়ার্ড হালশফ বলেছেন, 'বিশেষ প্রতিভাসম্পন্ন পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা থাকে। আর লরেন্টতো অসাধারণ। এরকম ছাত্র আগে দেখিনি। মেধার সঙ্গে সহানুভূতি শক্তিও অসাধারণ লরেন্টের। বিস্ময় এই কিশোরের আই কিউ ১৪৫। সর্বকনিষ্ঠ স্নাতক হিসেবে রেকর্ড গড়তে চলেছে লরেন্ট। ১৯৯৪ থেকে এই রেকর্ড ছিল মাইকেল কিয়ার্নির। মাত্র ১০ বছর বয়সে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়েছিল কিয়ার্নি। যে রেকর্ড আগামী ডিসেম্বরেই ভেঙে দেবে লরেন্ট। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয় লরেন্টকে তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে লরেন্টের বাবার কথায়, 'শুধু পড়াশুনাই নয়। খেলাধুলাতেও মনোযোগী লরেন্ট। প্রিয় কুকুর ও মোবাইল নিয়ে খেলতে ভালবাসে।' বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ
5
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৩ জন মারা গেছেন। শনিবার (১২ জুন) সকাল ৮টা থেকে রবিবার (১৩ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মারা গেছেন এ ১৩ জন। অথচ আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় সর্বনিম্ন ৪ জনের। যদিও তার আগের দিন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ১৫ জনের। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত ১৩ জনের মধ্যে করোনা পজেটিভ ছিলেন ৬ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বাকি ৭ জন। মৃতদের মধ্যে ১২ জনই পুরুষ এবং বাকি একজন নারী। মৃতদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ জন। আর রাজশাহীর দুইজন, নওগাঁর তিনজন, নাটোর ও কুষ্টিয়ার একজন করে মারা গেছেন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন ৪২ জন এবং ছাড় পেয়েছেন ৩৫ জন। রামেকের করোনা ইউনিটে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ২৯৪। এদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগী ১৪১ জন। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানী এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে ২৭১ টি বেডে করোনা রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলমান। আগের দিনের তুলনায় মৃতের সংখ্যা তিনগুণ বেড়ে গেছে। পর্যাপ্ত সেবা দিতে শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তৎপর রয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা।
6
ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য-অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে খোলা আছে সংবিধানসম্মত পথ। সংবিধানেই সংসদ ভেঙে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিধান আছে। দ্রুততম সময়ে সেই প্রস্তাব দিতে চায় ঐক্যফ্রন্ট। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বহুল প্রত্যাশিত ধারাবাহিক সংলাপ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধানেই পথ খোলা আছে। সংবিধানেই সংসদ ভেঙে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিধান আছে। এসব বিষয় বাস্তবায়নের আশ্বাস পেলে দ্রুততম সময়ে একটি রূপরেখা দিতে চান। তবে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা বলেছেন, সাত দফার মধ্যে কয়েকটি দফা আছে, যা সংবিধান-সম্পর্কিত। কয়েকটি আছে আইন-আদালত ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। তারা সংবিধানের বাইরে যাবেন না। সংলাপে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া পায়নি ঐক্যফ্রন্ট। তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার দেওয়া এবং নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়ার দুটি দাবি তাৎক্ষণিকভাবেই মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মামলার তালিকা দিতেও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, 'সংলাপের আলোচনায় বিশেষ কোনো সমাধান আসেনি।' এর আগে গণভবন থেকে বের হয়ে আসার সময় তিনি অবশ্য সাংবাদিকদের বলেন, 'আলোচনা ভালো হয়েছে।' বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আলোচনায় বিএনপি সন্তুষ্ট নয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সংলাপ শুরু হয়েছে, এটা চলবে। ঐক্যফ্রন্ট চাইলে ৭ নভেম্বরের পর তারা আবার বসবেন। সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনের সংলাপ কক্ষে প্রবেশ করে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকে আপনারা এসেছেন গণভবন ও জনগণের ভবনে, আপনাদের স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের জন্য আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্র অব্যাহত রেখেছি। বাংলাদেশের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে আজকের এ আলোচনা বিরাট অবদান রাখবে বলে মনে করি। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এই দেশটা আমাদের সকলের। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন- এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি বিচারের ভার আপনাদের ওপর ছেড়ে দেব। নয় বছর ১০ মাস হতে চলল আমরা সরকারে আছি। এ সময়ের মধ্যে দেশে কত উন্নয়ন করতে পেরেছি, সেটা নিশ্চয়ই আপনারা বিবেচনা করে দেখবেন। এতটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভালো আছে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। দিনবদলের সূচনা করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই দিন বদল হচ্ছে, এটাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন করে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি; আমাদের মহান নেতা জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা এ স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকে সেই স্বাধীনতার সুফল যেন প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়, সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার সংলাপ শুরু হয়। মাঝখানে খাবার বিরতির সময় বাদে টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা এই সংলাপ চলেছে। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়ে সংলাপ চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। এতে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ঐক্যফ্রন্টের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ঐক্যফ্রন্টের ১৬ নেতা সংলাপে অংশ নেবেন বলে জানানো হলেও গতকাল সংলাপ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে আরও পাঁচজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তালিকায় নাম থাকলেও অসুস্থতার কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংলাপে অংশ নেননি। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুই জোটের নেতাদের আলোচনা হয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ঐক্যফ্রন্ট নেতারা নৈশভোজ না করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ নৈশভোজে অংশ নেন। চিজ কেকসহ ২০ পদের খাবার খেয়েছেন তারা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খাবার খাননি। তবে সবাই চা, বিস্কিট ও জুস খেয়েছেন। সংলাপের আগের দিন নৈশভোজে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। প্রথম দিনের সংলাপ ঘিরে গোটা দেশে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করে। আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের সংলাপে একই স্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশসহ যুক্তফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ক্ষমতাসীন দল ও জোটের নেতারা। সংলাপে যাওয়ার আগে বেইলি রোডে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে অংশগ্রহণকারী নেতারা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। নির্ধারিত সময়ের আগে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল নেতারাও একে একে গণভবনে পৌঁছান। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আমন্ত্রিত নেতাদের স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক সন্ধ্যা ৭টায় সংলাপের জন্য গণভবনের নির্ধারিত ব্যাঙ্কুয়েট হলে উপস্থিত হলে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। শুরুতেই স্মিত হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনেক নেতার কুশলাদি জানতে চান। এক সময়কার রাজনৈতিক সহকর্মী ড. কামাল হোসেনসহ অন্য নেতাদের সঙ্গেও আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই সংলাপের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর এক সময়কার আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা করলেন শেখ হাসিনা। সংলাপে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা তুলে ধরেন। প্রথম দিনের সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে সংলাপে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, সহসভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি এস এম আকরাম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোতাব্বির খান, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন। বহুল আলোচিত এই সংলাপের তথ্য সংগ্রহ করতে সন্ধ্যার আগে থেকেই প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক জড়ো হন গণভবনের ব্যাঙ্কুয়েট হলের সামনে। রুদ্ধদ্বার সংলাপের কারণে সাংবাদিকদের ওই হলের ভেতর প্রবেশের অনুমতি ছিল না। তবে টিভি চ্যানেলগুলোর ক্যামেরাপারসন ও সংবাদপত্রের ফটো সাংবাদিকরা ফুটেজ ও ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছেন। এ অবস্থায় সাংবাদিকরা গণভবন চত্বর ও মূল ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে সংলাপের তথ্য সংগ্রহ করতে সচেষ্ট ছিলেন। সংলাপ চলাকালে গণভবনের প্রধান ফটকের সামনেসহ আশপাশের এলাকায় ছিল উৎসুক নেতাকর্মীর ভিড়। আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দল ছাড়াও সংলাপে অংশ নেওয়া ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা সেখানে সমবেত হন। সরকার সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে রীতিমতো উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। একে অপরের সঙ্গে সংলাপ ও এর সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আলোচনায় মেতে ওঠেন তারা। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন সংলাপের খবরাখবর জানার জন্য। সংলাপে অংশ নেওয়া নেতারা জানিয়েছেন, রুদ্ধদ্বার আলোচনায় আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু করতে করণীয় বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে। এ সময় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে তাদের সাত দফা দাবি তুলে ধরে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। অবশ্য আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের পক্ষে এসব দাবির বেশিরভাগই সংবিধানসম্মত নয় বলে জানানো হয়। দলটির নেতারা বলেছেন, সাত দফার মধ্যে কয়েকটি দফা আছে, যা সংবিধান সম্পর্কিত। কয়েকটি আছে আইন-আদালত ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও সন্দেহ-সংশয়ের মধ্যেই সরকার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসার আগ্রহ দেখিয়ে গত রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠান ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। পরদিন সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসার সম্মতির কথা জানালে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। এদিকে সংলাপ শুরুর সময় গণভবনের সামনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সংলাপ অর্থবহ ও ফলপ্রসূ করার দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে। এ সময় ২০-২৫ জন নেতাকর্মী মোমবাতি হাতে নিয়ে ফলপ্রসূ সংলাপের দাবি জানিয়ে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণভবনে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর কর্মসূচি শেষ করে চলে যান তারা। কী আলোচনা হলো বৈঠকে :সংলাপে অংশ নেওয়া নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু হলে প্রথমেই ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ড. কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। পরে একে একে ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতারা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কয়েকজন নেতা একাধিকবারও কথা বলেছেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট সূত্র জানিয়েছে, ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তাদের সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। আর প্রতিটি দাবির জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তাদের দাবি আদায়ে শক্ত কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতা অবশ্য আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে তাদের দাবির বিষয়ে জোরালো অবস্থান তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এর মধ্যে তিনি তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত দিক যাচাই-বাছাই করার জন্য উভয় অংশের একটি সমন্বিত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তার এ প্রস্তাবে মাহমুদুর রহমান মান্না একমত পোষণ করে সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। কিন্তু সংবিধানের বাধ্যবাধকতার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন জোট নেতারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সংস্থা হিসেবে কাজ করবে নিশ্চয়তা দিয়ে ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আসুন, আমরা একসঙ্গে দেশের কল্যাণে কাজ করি। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিই। ঐক্যফ্রন্টের সভা-সমাবেশ করার অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবি মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। ঢাকায় সভা-সমাবেশের ক্ষেত্রে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি কর্নার নির্ধারিত করে দিয়ে প্রয়োজনে স্থায়ী মঞ্চ করে দেওয়া হবে, যাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া পরিশোধ করে সবাই সভা-সমাবেশ করতে পারেন। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল নিজেও ১৯৭৩ সাল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত ২০০১ সালের প্রশ্নবিদ্ধ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো ভোটে বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়নি। মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলছেন? আপনারা কি ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা ভুলে গেছেন? সে সময় তো আমাকেসহ অনেককেই মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল।' ওই সময়সহ বিএনপি আমলে নিজের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা দায়েরের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, সব মামলাই কিন্তু যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় খারিজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার ওপর হামলা-মামলা ও গ্রেনেড হামলাও হয়েছে। রাজনৈতিক মামলায় সরকারবিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, তালিকা দিলে বোঝা যাবে কোনগুলো রাজনৈতিক মামলা? এরপর যাচাই-বাছাই শেষে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খালেদা জিয়ার ছেলে কোকোর মৃত্যুর পর সহানুভূতি জানাতে তার বাসায় গিয়ে তালাবদ্ধ দরজার সামনে থেকে ফিরে আসার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও সেখানে ছিলেন। অথচ তাকে খালেদা জিয়ার বাসার ছোট গেট দিয়েও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মওদুদ আহমদ বাসাটির দোতলায় ছিলেন বলে জানালে ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা বলেন, 'তাহলে কি দোতলায় বসে থেকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেন আমাকে ঢুকতে দেওয়া না হয়?' নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের বিরোধিতার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন আধুনিক প্রযুক্তির ইভিএম পদ্ধতি নির্বাচনে সীমিত আকারে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা একে সমর্থন জানাই। নাম প্রকাশ না করে বিএনপির একজন নেতা সমকালকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সব বক্তব্যই ধৈর্যসহকারে শুনেছেন। তিনি বলেছেন, আপনারা নির্বাচনে আসেন- নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদসহ অন্য নেতারা একই বক্তব্য দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তোফায়েল আহমেদ বিনয়ী বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। তবে বিএনপি নেতারা প্রতিবাদ করেননি। এ সময় ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা ঝগড়া করতে আসিনি। মাহমুদুর রহমান মান্নাও বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সংলাপে এসেছি- এভাবে কথা বলা ঠিক নয়। নেতারা যা বললেন :নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সংলাপের ফল প্রসঙ্গে সমকালকে বলেছেন, এককথায় কিছুই হয়নি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, তাদের মধ্যে আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশের মতো কিছু হয়নি। নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। সংলাপ থেকে বের হয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক ও কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, আলোচনা ভালো হয়েছে। উভয়পক্ষই খুশি, সবাই হাসিমুখে বের হয়েছেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা আরও হবে। আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রথম দাবিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'আপনারা তো এখন পর্যন্ত নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করেননি। তাহলে কীভাবে বলছেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তাদের বলা হয়েছে- এটা বিচার বিভাগের কাজ। দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন। তাই স্বাধীন বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করতে চান না তিনি। আজ সংলাপ যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে :আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নেতারা আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গণভবনে বিকল্পধারাসহ যুক্তফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন। যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে এই জোটের ১৫ নেতা সংলাপে যোগ দেবেন। প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার মিলন, আবদুর রউফ মান্নান, প্রকৌশলী মুহম্মদ ইউসুফ, সহসভাপতি মাহমুদা চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সাবেক এমপি এইচ এম গোলাম রেজা, বিএলডিপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান (এনডিপি) খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা এবং বাংলাদেশ জনতা পার্টির সভাপতি শেখ আসাদুজ্জামান।
9
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।সরেজমিনে দেখা যায়, সরল ইউনিয়নের মোবারক আলী সড়ক, সরলিয়া বাজার সড়ক, মিনজিরীতলা সড়ক, হটতকিতলা-সাগরপাড় সিআরসি সড়ক ও হাজী ফজল আহমেদ সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে এসব সড়কে হাঁটুপানি হয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে যাতায়াতের পাশাপাশি যান চলাচলে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয়নি। ফলে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব উল্লাহ বলেন, সব এলাকার সড়কের উন্নয়নকাজ করা হলেও আমাদের ইউনিয়নে কোনো কাজ করা হয়নি। বারবার বিভিন্ন দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও কোনো কাজ হয়নি।এ ব্যাপারে সরল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, 'ইউনিয়নের প্রতিটি জায়গায় উন্নয়নকাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সব জায়গার রাস্তাঘাট মেরামত করা হবে।'বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, 'সরল ইউনিয়নের সব রাস্তা আমাদের এলজিইডির অন্তর্ভুক্ত নয়। ওই ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।'
6
রাস্তায় ঘুরছে বিশালদেহী হাতি। পিঠে বসা মাহুত। মাহুতের নির্দেশে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছে হাতিটি। তারপর শুঁড় সোজা করে এগিয়ে দিচ্ছে দোকানির দিকে। শুঁড়ের মাথায় টাকা গুঁজে না দেওয়া পর্যন্ত শুঁড় সরাচ্ছে না হাতি। এভাবেই চাঁদপুরের মতলব উত্তরে অভিনব কৌশলে হাতি দিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ছেঙ্গারচর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে হাতি দিয়ে টাকা তুলছেন মাহুতেরা। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে শুরু করে দোকানের ধরন অনুযায়ী একশ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে চাঁদা। শুধু দোকান নয় সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের গতি রোধ করেও এভাবে টাকা তুলতে দেখা গেছে।গতকাল শুক্রবার সকালে ছেঙ্গারচর পৌরসভার ঠাকুরের চৌরাস্তা এলাকার একটি চায়ের দোকানে হঠাৎ একটি হাতি এসে শুঁড় এগিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে চায়ের দোকানদার ১০ টাকা হাতিটির শুঁড়ে গুঁজে দিলেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই দোকানদার বলেন, 'টাকা না দিলে যাবে না। তা ছাড়া দেরি হলে অনেক সময় ভাঙচুর করে। এ জন্য ঝামেলা হওয়ার আগেই টাকা দিয়ে দিলাম।'ছেঙ্গারচর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাতি নিয়ে এসে চাঁদা আদায় করা হয়। বিষয়টি দেখার কেউ নেই। প্রতিটি দোকান থেকে হাতি দিয়ে টাকা তোলা হয়। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত দোকান থেকে হাতি সরানো হয় না। অনেক সময় মহিলা ক্রেতারা হাতি দেখে ভয় পান। এতে ব্যবসায়ের ক্ষতি হচ্ছে।এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা আরমান বলেন, 'হাতির কারণে অনেক সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। দোকান থেকে চাঁদা ওঠানো শেষ হলে হাতিগুলো রাস্তায় নামে। হাতিগুলো চলন্ত গাড়ি থামিয়ে দেয়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়।'এ বিষয়ে হাতির মাহুত সজিব বলেন, 'হাতির ভরণপোষণের জন্য সবাই খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়। কেউ খুশি হয়ে টাকা দিলে তা আবার চাঁদাবাজি হয় কীভাবে।'এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, 'হাতি দিয়ে টাকা তোলার বিষয়ে এখনো কেউ আমাদের কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
জেমি সিডন্সের সাথে চুক্তির সময়ই বিষয়টি আঁচ করা গিয়েছিল। তখন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ হিসেবে ছিলেন অ্যাশওয়েল প্রিন্স। সিডন্সের পদ ছিল ব্যাটিং কনসালটেন্ট। সব মিলিয়ে দায়িত্বটা একই। বিসিবি অ্যাশওয়েল প্রিন্সকে ভিন্ন দায়িত্ব দেয়ায় হয়েছে রদবদল। ব্যাটিং কোচ থেকে সরে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিন্স। সেই জায়গায় দায়িত্ব পালন করবেন এখন জেমি সিডন্স। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের উদ্ধৃতি দিয়ে ক্রিকইনফোও বলেছে, 'জেমি সিডন্স জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হতে যাচ্ছেন। সিনিয়র ক্রিকেটার ও বোর্ড ডিরেক্টরদের কাছ থেকে আমরা শুনেছি যে তিনি ভালো কোচ, এ কারণেই তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।' জেমি সিডন্স ২০০৭ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর তিনি পদত্যাগ করেন। সিডন্সের অধীনে বাংলাদেশ দল ১৯ টেস্টের মধ্যে ২টি জিতেছে, হেরেছে ১৬টি। ওয়ানডেতে ৮৪ ম্যাচে ৩১ জয়ের বিপরীতে পরাজয় ছিল ৫৩ ম্যাচে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ৮ ম্যাচে সবগুলোই হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সিডন্সের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল আজকের এই পঞ্চপাণ্ডব তৈরিতে ভূমিকা রাখা।
12
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পাশে আছে। তিনি বলেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, আগ্রাসী আচরণের কারণে স্বৈরশাসকরা যদি মূল্য না দেয়, তাহলে তারা আরো বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। তিনি বলেন, কোনো রকম উসকানি ছাড়াই রাশিয়া পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনে হামলা করেছে। বাইডেন বলেন, 'স্বাধীনতাকামী জাতিরা' একজোট হয়ে আমেরিকার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। 'পুতিন ভুল ছিল। আমরা তৈরি ছিলাম,' বলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে এসব কথা বলেন জো বাইডেন। তার এ ভাষণের পর মার্কিন জনপ্রতিনিধিরা দাঁড়িয়ে তার ভাষণের প্রতি সমর্থন জানান এবং তার প্রশংসা করেন। এ সময় অনেক মার্কিন জনপ্রতিনিধিরা চিৎকার দিয়ে ও ইউক্রেনের পতাকা দুলিয়ে বাইডেনের বক্তব্যকে স্বাগত জানান। স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আরো বলেছেন, পুতিন হয়তো (ইউক্রেন) যুদ্ধে জিততে পারেন। কিন্তু, এ যুদ্ধের জন্য তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রাশিয়ান শাসকগোষ্ঠীর যে সকল ইয়ট ও অ্যাপার্টমেন্ট আছে তা দখল করে নেয়ার কা্জ চলছে। সূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা
3
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ভোট স্থগিত করা হয়েছে দুই কেন্দ্রে কেন্দ্র দখল, বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও জাল ভোট প্রদানের চেষ্টার মধ্যে দিয়ে নেত্রকোনার ২৫ ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের প্রথম পাঁচ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে। এরইমধ্যে জেলা সদরের লক্ষিগঞ্জ ইউনিয়নের আতকাপাড়া ও বায়ড়াউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট প্রয়োগ ও ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রের বাহির থেকে শতাধিক ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। এই ইউনিয়নের লক্ষিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও কিছুক্ষণের জন্য নির্বাচন স্থগিত করে ভোট শুরু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নেত্রকোনার তিনটি উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নে ব্যালট পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। সকাল আটটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার সিংহের বাংলা, আটপাড়ার পে্য়াজকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইটাখেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাভুরকাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১০টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা মিলে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন এবং পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি কম। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ইউনিয়নে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং কর্মকর্তা আবদুল লতিফ শেখ জানান, দু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বেশ তৎপর রয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি উপজেলায় ২৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১১টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩ হাজার ১৯১ জন, বারহাট্টায় ৬৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৬১৬ জন এবং আটপাড়ায় ৬৭টি ভোটকেন্দ্রে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৫৩ জন ভোটার ভোট প্রদান করার কথা রয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে বেশ উৎসাহ বিরাজ করছে। ভোট শুরুর আগেই বেশিরভাগ কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের ভিড় চোখে পড়ার মত। আটপাড়া সদরের বানিয়াজান ইউনিয়নের ইটাখোলা কেন্দ্রে নারী ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে আর পুরুষ ভোটারে উপস্থিতি খুব কম। অন্যদিকে নেত্রকোণা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের কেন্দ্র স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
6
পিটার লরেন্স নামের কানাডার একজন লেখক অনেক আগে বলেছিলেন, 'অর্থনীতিবিদ হচ্ছেন এমন একজন বিশেষজ্ঞ, যিনি আগামীকাল জানবেন গতকাল যে ভবিষ্যদ্বাণী তিনি করেছিলেন, আজ কেন তা ঘটেনি।' এখন অবশ্য এ ধরনের কথা বলার সুযোগ কমে গেছে। কেননা, অর্থনীতিতে ভবিষ্যৎ বক্তা হিসেবে বিখ্যাত হয়ে আছেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক নুরিয়েল রুবিনি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক অনুষ্ঠানে ২০০৬ সালেই নুরিয়েল রুবিনি বলেছিলেন, অর্থনীতিতে সামনে ভয়াবহ মন্দা আসছে। গৃহায়ণ খাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধস দেখতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভোক্তাদের আস্থাও নেমে যাবে সর্বনিম্নে। গভীর মন্দায় পড়তে যাচ্ছে দেশটি। সে সময় অবশ্য মার্কিন অর্থনীতি ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি ভালো, মূল্যস্ফীতিও সর্বনিম্নে। ফলে হাসাহাসি হয়েছিল রুবিনিকে নিয়ে। নুরিয়েল রুবিনির সমালোচনা করেছিলেন অনেক নামীদামি অর্থনীতিবিদও। কিন্তু ২০০৮ সালে সত্যি সত্যি এ পথে বিশ্ব মন্দা দেখা দিলে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি। আরও একজন অর্থনীতিবিদ মন্দা আসার কথা বলেছিলেন। তিনি হচ্ছেন ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন। আবারও সেই নুরিয়েল রুবিনি। ২০১৮ সালেই তিনি লিখেছিলেন যে ২০২০ সালেই আরেকটি বিশ্বমন্দা আসছে। একটি দীর্ঘ লেখায় তিনি আসন্ন মন্দার পেছনে ১০টি কারণের কথা বলেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের কারণেই মন্দা আসছে বলে লিখেছিলেন। এর মধ্যে আছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ওপর ট্রাম্পের খবরদারি, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ, ইউরোপের অর্থনীতির শ্লথগতি ইত্যাদি। তবে রুবিনি যে কারণটির কথা বলতে পারেননি, তা হলো করোনাভাইরাসের প্রভাব। যদিও অন্য যেসব কারণের কথা বলেছিলেন, তা সত্য হতে শুরু করেছিল। মন্দার একটি শঙ্কার কথা সবাই বলছিলেন সেই ২০১৯ থেকেই। করোনাভাইরাস সেই শঙ্কাকেই যে দ্রুততর করে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এবারের মন্দার আশঙ্কা করার তালিকায় আরও কয়েকটি নাম আছে। যেমন ২০১৮ সালেই বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের পক্ষ থেকে ২০২০ সালের মন্দার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। আবার একই বছর ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান মুডির প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জানদি বলেছিলেন, '২০২০-এর দশক হবে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ বছর। এখন দেখা যাক, করোনাভাইরাস এই মন্দাকে কত দূর নিয়ে যায়।
0
টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে বিখ্যাত গড় বললেই ডন ব্র্যাডম্যানের কথায় সবার মাথায় আসে। ক্রিকেটের যে কটি রেকর্ড ভাঙা প্রায় অসম্ভব এর মধ্যে সবচেয়ে উপরের দিকে আছে ব্র্যাডম্যানের টেস্ট গড় ৯৯.৯৪।একইভাবে এই মুহূর্তে যদি টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে 'অখ্যাত' গড়ের তালিকা করা করা যায় তাহলে সবার উপরে থাকবে এক বাংলাদেশির নাম। খেলোয়াড়ের নাম ইবাদত হোসেন। যার টেস্ট গড় ১ এরও নিচে-০.৮০১৪ টেস্টে ২১ বার ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে ইবাদতকে। যদিও তাঁর মূল কাজটা বল হাতে। কিন্তু ব্যাটারদের বল হাতে না তুলে নিলেও চলে তবে বোলারদের ব্যাটিংয়ে নামতেই হয়। ইবাদতকেও তাই প্রায় প্রতিটি টেস্টেই ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে কখনো কখনো দুই ইনিংসেই নামতে হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ বারই খুলতে পারেননি রানের খাতা, খুলেছেন ৪ বার। এই চারবার মিলিয়ে রান করেছেন ৮, সর্বোচ্চ ৪।গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ছক্কা মারতে গিয়ে ফিরেছেন শূন্য রানে। ভাগ্যিস কয়েকটা ইনিংসে ০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। এরপরও এক বিরল রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন এই পেসার। ১০ টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে ইবাদতের চেয়ে কম গড় টেস্ট ইতিহাসে আর কারোর নেই।
12
অলিম্পিক গেমস মানেই তীব্র প্রতিযোগিতা। বহু প্রাচীন এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। শুরুর দিকেও পেশাদার খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু বংশ পরম্পরায় ক্রীড়াবিদ হওয়ার নজির খুব একটা নেই। তবে এবারের অলিম্পিকে সেই চমক আছে। টোকিও ২০২০ অলিম্পিকে প্রায় ৩০ জোড়া ভাই-বোন লড়ছেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। এর আগে এত ভাই-বোনের একসঙ্গে অলিম্পিক অংশ নেওয়ার ঘটনা সম্ভবত এর আগে ঘটেনি।শুধু অংশগ্রহণই নয়, এরই মধ্যে ভাই-বোন আলাদা ইভেন্টে মেডেল জেতার ঘটনাও ঘটেছে। জাপানি ভাই-বোন আবে হুফিমি এবং আবে উতা একই দিনে জুডোতে স্বর্ণপদক জিতেছেন। ওদিকে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ক্রোয়েশীয় প্রতিযোগী সহোদর ভাই মার্তিন সিনকোভিচ এবং ভ্যালেন্ত সিনকোভিচ পুরুষদের নৌকা বাইচে স্বর্ণ জিতেছেন।যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক টিমে আছে সাত জোড়া ভাই-বোন। আর যুক্তরাজ্যের টিমে আছে নয় জোড়া।ব্রিটিশ যমজ বোন জেনিফার এবং জেসিকা গাদিরোভা এরই মধ্যে নারী জিমন্যাস্টিকসে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইতালি এবং নেদারল্যান্ডসের দুই যমজ বোন।এদিকে, রাশিয়ার দুই যমজ লড়বেন রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে।ক্রোয়েশিয়ার আরও দুই সহোদর ভাই সেইলিংয়ে লড়ছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন তুর্কি দুই ভাই।পুল ইভেন্টগুলোতেও থাকছে বেশ কয়েক জোড়া সহোদর। সিঙ্ক্রোনাইজড সাঁতারে থাকবে ফরাসি দুই যমজ। ডুয়েট সিঙ্ক্রোনাইজড সাঁতারে অস্ট্রিয়ান দুই বোন। অস্ট্রেলিয়া থেকে দুই বোনও লড়বেন আলাদা ইভেন্টে। থাকছেন কেপ ভার্দের দুই ভাই-বোন।স্পেনের পুরুষদের বাস্কেটবল দলেও আছেন একজোড়া ভাই- পাউ এবং মার্ক গ্যাসোল, ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ) থেকেই তিনটি মেডেল জিতেছেন তাঁরা। আর ট্রায়াথলনে (সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়) দেখা যাবে নিউজিল্যান্ডের দুই ভাই এবং এক বোন।কীভাবে এমনটি হলো? সরাসরি এর কোনো জবাব নেই। তবে এই অ্যাথলেটরা তাঁদের অলিম্পিক পর্যন্ত আসার যে গল্প বলেছেন তাতে তাঁরা স্বীকার করেছেন ভাই বা বোনের মাধ্যমে একে অপরে কীভাবে প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে অনেকের অ্যাথলেটিকসের হাতেখড়ি হয়েছে বাবা-মার কাছেই!
12
যুক্তরাজ্যে করোনা বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে আঘাত হানার কারণে দেশটির সঙ্গে অন্যান্য দেশ বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। অবিলম্বে ঢাকা-লন্ডন রুটে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান তিনি। ঢাকা-লন্ডন রুটে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের বিমান চালু রাখা বর্তমান গণবিরোধী সরকারের ধারাবাহিক অমানবিক ও বিবেকবর্জিত কর্মকাণ্ডেরই অংশ বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ ১০ মাসে সরকার করোনা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই সরকারের কাছে দেশের মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।
9
আচ্ছা, ফার্মের মুরগি আপনি কত টাকা দিয়ে কেনেন? একেক বাজারে তো দেখলাম একেক রকম দাম। আমার এক সহকর্মী শেষ কিনেছেন ১৮০ টাকা কেজি দরে। দামের হেরফের হয়। কোথাও ১৪২, তো কোথাও ১৩৩ টাকা। মোটকথা, ১৩০ থেকে ১৪৫ টাকার মধ্যে কেজি দরে ফার্মের মুরগি কিনতে পাওয়া যায় দেশের নানা প্রান্তে। কিন্তু সহকর্মীর কেনা ফার্মের মুরগিটির দাম একটু বেশিই মনে হলো। সে যা-ই হোক, হঠাৎ একটা খবর পড়ে ফার্মের মুরগির দাম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার ইচ্ছা হলো আরকি।খবরটা হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শহরে ফ্ল্যাট বাসায় বন্দী শিশুরা নাকি দিন দিন ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে। যথার্থ কথা। স্কুলের বাংলা পরীক্ষায় প্রশ্ন আসত-'অমুক কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো'। এই প্রশ্নের উত্তরের মতো প্রধানমন্ত্রীর কথাটিকেও ব্যাখ্যা করা যায়। যেমন, ফার্মের মুরগি শুধু খায়, ঘুমায় আর বিষ্ঠা বর্জন করে। ডিমও পাড়ে অবশ্য। তাদের 'নড়ে নাকো চড়ে না' অবস্থা একদম। একটা বদ্ধ খামারে বন্দী থেকে খেয়ে খেয়ে শুধু গতরের মাংস বাড়াতে থাকে। এমনিতেই বদ্ধ ঘরে থাকে, তার ওপর মোটা হতে হতে নড়াচড়া করার জায়গা সংকীর্ণ হয়ে যায়। বেচারা মুরগি! খোলা মাঠে ছেড়ে দিলে নাহয় হেসেখেলে দিনাতিপাত করতে পারত, শরীরচর্চা হতো, আকর্ষণীয় দেহাবয়বের অধিকারী হতো। তাহলে অবশ্য বাজারে কম মাংসল মুরগি হিসেবে তার চাহিদা কমে যেত।আজকালকার শহুরে শিশুদেরও এমন ফ্ল্যাট বাসায় বন্দী থাকতে হয়। কী করবে ওরা আর? ওদের তো খেলার মাঠ নেই। যা-ও কিছু এলাকায় আছে, সেগুলো আবার দখলের চেষ্টা চলে। তেঁতুলতলা মাঠ নিয়ে কী হাঙ্গামাটাই না হয়ে গেল! শেষমেশ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মাঠ থাকল শিশুদের খেলাধুলার জন্য। কিছু অভিভাবক আবার নিরাপত্তাজনিত কারণে শিশুদের বাসা থেকে বের হতে দেন না। বাবা-মায়ের ভয় তো স্বাভাবিক। কেননা, এই শহরে প্রীতির মতো মেয়েরাও বিনা কারণে প্রাণ হারায়, কিশোর গ্যাংয়ের খপ্পরে পড়ে ছেলেরাও বিপথে যায়।ঘরে বন্দী থাকা বাচ্চাটা যখন খেলাধুলার মর্ম না জেনে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তখন কখনো কখনো অভিভাবকেরা একরকম বাধ্য হয়ে শিশুর হাতে তা তুলে দেন। আকর্ষণ থেকে একটা সময় নেশায় পড়ে যায় শিশুরা। তখন তাদের অভিভাবক চাইলেও টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে খেলতে পাঠাতে পারেন না। আমার এক আত্মীয়র কথা বলি। ছেলেটা খুব ভালো ক্রিকেট খেলত। স্বপ্ন ছিল বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার। পড়াশোনা কম, খেলাধুলা নিয়ে বেশি মজে থাকত বলে তার মা বাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। 'মোবাইল দিলে বাসায় থাকব' শর্তে তার আবদার মেনে নেওয়া হয়। ফলাফল, পাবজি খেলার নেশায় আসক্তি এবং পড়ালেখাও উঠল 'চাঙের ওপরে'। তাকে আর খেলার মাঠে নেওয়া যায়নি। পরীক্ষায় পেল ডাব্বা, ক্রিকেটের স্বপ্ন মরে হলো ভূত! ফার্মের মুরগির মতো তার শরীরেও মাংস হয়েছে, জমেছে চর্বি।না, এখানে আমি প্যারেন্টিংয়ের জ্ঞান ঝাড়ব না। আমি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই; বরং বিশেষভাবে অজ্ঞ! প্যারেন্টিং শেখার জন্য অন্তর্জাল ঘাঁটলেই আশা করি ধারণা পাবেন। আমি বরং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করছি। বাকিটা আপনাদের ব্যাপার।একটা সময় অনেকে আমাকেও 'ফার্মের মুরগি' বলে ডাকতেন। আমার ভাই শহরের পথে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলেছিলেন, 'যা করবি, একা একা করবি। নিজে নিজে শিখবি।'এখন আমাকে কেউ দেশি মুরগি না হোক, পাকিস্তানি মুরগি বা সোনালি মুরগি ডাকলেও কিছু মনে করব না! দাম জানেন তো? কেজি ২৩০ থেকে ২৭০ টাকা। ফার্মের মুরগির চেয়ে দাম বেশি।এবার একটু গম্ভীর কথায় আসি। আমাদের শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ, তা আমরা জানি। তারা মুরগি না। দেশের ভবিষ্যৎ কী বা কেমন হবে, তা কিন্তু বড়দের হাতেই।
6
দ্বিতীয়বারের মতো মৌলভীবাজার জেলার সেরা করদাতা হয়েছেন বড়লেখা উপজেলার ব্যবসায়ী ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার জালাল আহমদ। গত বুধবার দুপুরে জেলা কর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে সেরা করদাতার পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী কর কমিশনার মিজানুর রহমান। সহকারী কর কমিশনার সৈয়দা নীলিমা আক্তারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, কর পরিদর্শক মোছাম্মাৎ জাকিয়া সুলতানা, আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফয়জুল করিম ময়ূন, সাধারণ সম্পাদক নিলিমেষ ঘোষ বলু, আয়কর আইনজীবী মাহমুদুর রহমান, সেরা করদাতা জালাল আহমদ ও মুহিবুর রহমান প্রমুখ।করদাতা সম্মাননা পাওয়া জালাল আহমদ বলেন, 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সেরা করদাতা হিসেবে সম্মানিত করায় ভালো লাগছে। এটা আমাকে আরও প্রেরণা জোগাবে। এ ধরনের আয়োজন নতুন করদাতাদেরও উৎসাহিত করবে।'
6
একে একে চারটি অলিম্পিক। সময়ের ব্যবধান ১৭ বছরের। ১৭ বছর পর টেবিল টেনিসে প্রথমবারের মতো চীনকে টপকে সোনা জিতল অন্য কোনো দেশ। টোকিও অলিম্পিকে এই অসাধ্য কাজটা করে দেখালেন জাপানের দুই তারকা জুন মিজুতানি ও মিমা ইতো।সোমবার মিশ্র দ্বৈত টেবিল টেনিসের ফাইনালে প্রথম দুটি গেমে জেতেন চীনা জুটি শু শিন ও লুই শিউয়েন। তৃতীয় গেমে চীনকে প্রথম ধাক্কা দেন জাপানি মিজুতানি-ইতো জুটি। ১১-৮ ব্যবধানে তৃতীয় গেম জিতে নেন এই জুটি। চতুর্থ ও পঞ্চম গেমও যায় জাপানের দখলে। ইতিহাস গড়ার থেকে মাত্র একটি গেম দূরে ছিলেন জাপানিরা। তবে ষষ্ঠ গেম ১১-৬ ব্যবধানে জিতে জাপানি জুটিকে চাপে ফেলে দেন শিন-শিউয়েন জুটি। বাজি তাঁদের পক্ষেই ছিল। কিন্তু টোকিও অলিম্পিকে যেন ভিন্ন কিছু দেখানোর জন্যই এসেছেন জাপানি মিজুতানি-ইতো জুটি।শেষ পর্যন্ত ৫-১১, ৭-১১, ১১-৮, ১১-৯, ১১-৯, ৬-১১ এবং ১১-৬ গেমে জিতে সোনা জেতেন মিজুতানি-ইতো জুটি। জাপানি দুই তারকা চীনা জুটির কাছেই ২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড ট্যুর গ্র্যান্ড ফাইনাল এবং ওয়ার্ল্ড ট্যুর সুইডিশ ওপেনের ফাইনালে হেরেছিলেন। পরের বছর ওয়ার্ল্ড ট্যুরের জার্মান ওপেনের ফাইনালেও এই চীনা জুটির কাছেই হেরেছিলেন মিজুতানি-ইতো জুটি। সোনা জিতে যেন সেই প্রতিশোধটাই নিলেন জাপানি দুই তারকা।সোনা জয়ের পর মিজুতানি বলেছেন, 'আমরা অলিম্পিক ও আরও কয়েকটি প্রতিযোগিতায় চীনের কাছে বারবার হারছিলাম। টোকিও অলিম্পিকে ভিন্ন কিছুর চিন্তা ছিল। স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় দারুণ খুশি আমরা।' ১৯৯৬ অলিম্পিক থেকে টেবিল টেনিসের সব সোনা জিতেছে চীন। শুধু ২০০৪ অলিম্পিকে পুরুষদের এককে সোনা জিততে পারেননি চীনারা। এবার সেখানে যোগ হলো টোকিও অলিম্পিকের মিশ্র দ্বৈত টেবিল টেনিস। দুই জাপানি তারকা মিজুতানি-ইতোর উচ্ছ্বাস ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য এর চেয়ে বড় তথ্য আর কী হতে পারে!
12
'ব্যাং ব্যাং' এবং 'ওয়ার'-এর দুর্দান্ত সাফল্যের পর আবারও পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন হৃতিক। সম্প্রতি বলিউড হাঙ্গামা তাদের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে, সিনেমাটির জন্য বেশ বড় অংকের বাজেট করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। আর এই সিনেমার মধ্য দিয়েই আবারও একে অপরকে আলিঙ্গন করতে যাচ্ছেন হৃতিক রোশন ও দীপিকা পাডুকোন। দীর্ঘদিন পর একত্র হচ্ছেন 'ফাইটার' ছবির মধ্য দিয়ে। প্রাথমিকভাবে সিনেমার বাজেট ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি রুপি (২৯০ কোটি টাকা)। সিনেমাটিতে থাকছে অসাধারণ সব অ্যাকশন সিকুয়েন্স। সিনেমাটির গল্পে ভারতীয় জাতীয়তাবোধ নিয়েও থাকছে নানা বিষয়। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। প্রসঙ্গত, বর্তমানে পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ তার 'পাঠান' সিনেমা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেই সিনেমাটিতেও শাহরুখের বিপরীতে অভিনয় করছেন দীপিকা পাডুকোন। অপরদিকে এ বছর বেশ কয়েকটি সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন হৃতিক। চলতি বছর বন্ধু প্রীতি জিন্তার একটি সিনেমায়ও কাজ করার কথা রয়েছে তার।
2
রাজধানী ঢাকা থেকে ৫৬০ গ্রাম ভয়ংকর মাদক ক্রিস্টাল মেথ বা আইস ও ইয়াবা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। জব্দ এই আইসের মূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা। আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ৫৬০ গ্রাম আইস ও ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত ঢাকায় জব্দহওয়া আইসের সবচেয়ে বড় চালান।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (বিপিএসসি)। করোনার কারণে এবার চার মাস পর আজ রবিবার এই ফল প্রকাশ করা হলো।প্রকাশিত ফলাফলে প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২১ হাজার ৫৬ জন। ফলাফল দেখতে এখানে ক্লিক করুন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুরোনো আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। এ জন্য বিচারিক কর্ম ঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহারও করতে হবে। পাশাপাশি মুজিববর্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বুধবার সন্ধ্যায় ৬৪ জেলার জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর এলাকার দায়রা জজদের উদ্দেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকদের এ দিকনির্দেশনা দেন তারা। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর এবং ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন ৬৪ জেলার জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজ। বিচারপ্রার্থী জনগণের বিরোধ যাতে স্বল্প সময়ে নিষ্পত্তি হয় সে বিষয়ে বিচারকদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এবং আইনমন্ত্রী বিচারকদের ও বিচার প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর মধ্যেই কীভাবে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এছাড়া মামলাজট নিরসনে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তারা। মামলাজট নিরসনে সব ধরনের সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বাস দেন তারা। স্ব স্ব জেলা জজের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে অধস্তন বিচারকদের তদারকির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রধান বিচারপতি ও আইনন্ত্রী। তারা স্মরণ করেন এদেশের মহান মুক্তি সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারী বীর শহীদদেরও।
6
ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের পথে সাইনবোর্ড মোড় পার হলেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের নানা 'কীর্তি' চোখে পড়ে। তিনি অতি উৎসাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভাস্কর্যও নির্মাণ করেছিলেন সাইনবোর্ড মোড়ে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন না করায় সেটি ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। সামনে এগোতে থাকলে চোখে পড়বে তাঁর নামাঙ্কিত বিভিন্ন ফলক। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে প্রার্থীদের সভা-সমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও শামীম ওসমান ও তাঁর ভাই সেলিম ওসমান সেসব নির্বিঘ্নেই চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধনের ছবিও ছাপা হয়েছে স্থানীয় পত্রিকায় (যুগের চিন্তা, ২৪ নভেম্বর)। নারায়ণগঞ্জে একটি কথা চালু আছে, এখানকার প্রশাসন সরকারের কথায় চলে না, চলে ওসমান পরিবারের কথায়। ডিসি-এসপি যে-ই আসুন না কেন, বক্তৃতা শুরু ও শেষ করেন তাদের বন্দনা দিয়ে। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভ্রাতৃ শিবিরে যখন সাজ সাজ রব, তখন বিএনপির শিবির একেবারে নীরব। গায়েবি মামলার ভয়ে বেশির ভাগ নেতা-কর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তফসিল ঘোষণার পর কোনো মামলা না হলেও পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আগে গ্রেপ্তার, পরে নাশকতার মামলা কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে মামলা হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বিএনপির জেলা সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। গত ৫ নভেম্বর বিকেল ৫টায় গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে আটক করে। আর যে কথিত নাশকতার মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী সেটি ঘটেছে ওই দিন রাত পৌনে আটটায়। মামলার এজাহার অনুযায়ী ৫ নভেম্বর বিএনপির ১৭৪ জন নেতা-কর্মী খালেদার মুক্তি ও তফসিল পেছানোর দাবিতে ফতুল্লার কাশিপুরে ভোলাইলের শেষ মাথায় নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির চার-পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে এবং বিএনপির নেতা সাখাওয়াত, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতা আবুল কালাম আজাদ, মহানগর বিএনপির নেতা মোহাম্মদ হাসানসহ ১২০-১৩০ জন পালিয়ে যান। দলীয় পরিচয়ের চেয়েও সাখাওয়াত হোসেনকে সারা দেশের মানুষ চেনে নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলার একজন সাহসী আইনজীবী হিসেবে। তাঁর দৃঢ় ভূমিকার কারণেই খুনিরা শাস্তি পেয়েছেন। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল যখন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের জালকুড়ি এলাকায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনের প্ররোচনায় সাত খুনের ঘটনা ঘটে, তিনি তখন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, নারায়ণগঞ্জের কোনো আইনজীবী খুনিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাবেন না। তিনি সভাপতির পদ থেকে চলে যাওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত রক্ষিত হয়নি; 'মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি' হিসেবে পরিচিত অনেক আইনজীবী খুনিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সাখাওয়াত হোসেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাদীর পক্ষে লড়াই চালিয়ে যান এবং আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করেন। হাইকোর্টের রায়ে নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ ১৫ জনের ফাঁসির দণ্ড হয়েছে। যে আইনজীবীর কারণে সাত খুনের বিচার হলো, তাঁকেই কিনা এখন গায়েবি মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছে। যদি সাখাওয়াত সত্যিই নাশকতা করে থাকেন, তাঁর বিচার হোক। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেনি, সেই গায়েবি মামলায় তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্য হলো ভোটের মাঠ থেকে তাঁকে দূরে রাখা, যাতে তিনি কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে না পারেন। এখানে মনে রাখা দরকার, মামলার ঘটনাস্থল ফতুল্লা-শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকা। ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাখাওয়াত ৯৬ হাজার ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে হেরে যান। নারায়ণগঞ্জের মানুষ মনে করেন, আইভী না হয়ে অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী হলে সাখাওয়াতই জিততেন। কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের নতুন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেছেন, 'অন্যায় মেনে নেব না, অন্যায়কারীদের প্রশ্রয় দেব না।' এটাই কি অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় না দেওয়ার নমুনা? আওয়ামী লীগ নির্ভার ও বিএনপি দোলাচলে নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি নির্বাচনী আসন। দশম সংসদে তিনটি আসন ছিল আওয়ামী লীগের, দুটি জাতীয় পার্টির। একাদশ সংসদেও মোটামুটি তা-ই থাকছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রচারকাজও শুরু করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেন আলাপ প্রসঙ্গে বললেন, 'আমরা আমাদের দল থেকে পাঁচটি আসনেই নৌকা চেয়েছিলাম। কিন্তু নেত্রী তিনটিতে নৌকা ও দুটিতে লাঙ্গল দিয়েছেন। আমরা তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।' নারায়ণগঞ্জে 'নৌকার ভাই লাঙ্গল'। এটি রাজনৈতিক অর্থে যেমন, তেমনি পারিবারিক অর্থেও। কিন্তু প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপি এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় আছে। প্রতিটি আসনে দুজন কিংবা তার অধিক প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে দল। চূড়ান্ত মনোনয়ন কে পাবেন, তা নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা জল্পনা। নারায়ণগঞ্জ-১, ২, ৩ ও ৪-এ বিএনপিই বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫-এ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুই সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন বিএনপির আবুল কালাম ও নাগরিক ঐক্যের এস এম আকরাম। দুজনই শক্তিশালী প্রার্থী। এস এম আকরাম ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করে সাংসদ হয়েছিলেন। আবুল কালাম বিএনপি থেকে তিনবার নির্বাচিত। নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে এস এম আকরাম সেলিম ওসমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। সুষ্ঠু ভোট হলে হয়তো আকরামই জিতে যেতেন। মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের মন্তব্য: যেখানে নেতার ঘাটতি থাকে, সেখানে অন্য দল থেকে নেতা আনার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সদর আসনে তো বিএনপির সেই সমস্যা নেই। তবে তাঁরা এ-ও বলেন, দল যাঁকে ধানের শীষ দেবে, তাঁর পক্ষেই নেতা-কর্মীরা কাজ করবেন। বিএনপি এই নির্বাচনকে দেখছে 'খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র উদ্ধারের' আন্দোলন হিসেবে। নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম বিএনপির নেতা আবুল কালাম ও আওয়ামী লীগের নেতা খোকন সাহার কাছে। তাঁরা বিপরীতমুখী বললেন। আবুল কালামের মতে, নির্বাচনের তো পরিবেশই নেই। দলের নেতা-কর্মীদের নামে এন্তার মামলা, মাঠে নামবে কীভাবে? আর খোকন সাহা মনে করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কেননা, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে দেখাতে চান, দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। নৌকা ধানের শীষ লাঙ্গল একাকার বামফ্রন্ট শাসনামলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি কথা বেশ চালু ছিল। তরমুজনীতি। বাইরে সবুজ, ভেতরে লাল। অনেক কংগ্রেস নেতাই তখন বাম জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে লুকোছাপার কোনো বিষয় নেই। এখানে বিএনপির অনেক নেতাই ওসমান পরিবারের সঙ্গে আপসরফা করে চলেন। এটি তাঁরা স্বেচ্ছায় করেন না, বাধ্য হয়ে। প্রথমে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। তারপর জেলখানা থেকে ছাড়িয়ে আনার শর্ত আসে ওসমান পরিবারের সব কাজকে সমর্থন দিতে হবে। বিরোধিতা করা যাবে না। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৫-এর সাংসদ সেলিম ওসমানের মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার সংস্থার জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউররহমান মুকুল অনুপস্থিত ছিলেন। সেলিম ওসমান তাঁর উদ্দেশে বলেন, 'মুকুল, তুমি কি লজ্জা পাও? তুমি দ্রুত আমার সঙ্গে যোগ দাও। না হলে ১ জানুয়ারি থেকে তোমাকে উপজেলা পরিষদে ঢুকতে দেওয়া হবে না।' স্থানীয় বাসিন্দারা সুলতানসহ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখ করে জানালেন, তাঁরা সেলিম ওসমানের সমাবেশে যান বাধ্য হয়ে। জেল-জুলুমের হাত থেকে বাঁচার জন্য। নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছেন, সবাইকে আচরণবিধি মানতে হবে। কিন্তু একজন সাংসদ ও প্রার্থী যখন আরেকজন জনপ্রতিনিধিকে উপজেলা পরিষদে ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দেন, তখন আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় কি না, সেই প্রশ্ন তাদের কাছেই রাখলাম। সাধারণ মানুষের নানা মত প্রথম আলোর নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি মুজিবুল হককে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ শহর ও শীতলক্ষ্যা নদীর ওপারে বন্দরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের যে মত পাওয়া গেল, তা মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়। বেশির ভাগ মানুষের মনে শঙ্কা, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। শহীদ মিনারে দেখা হলো নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজের তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনজনই অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রথম ভোটার হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা নিশ্চিত নন ভোট দিতে পারবেন কি না। গুদারাঘাট পার হয়ে বন্দরে পৌঁছাতেই দেখি নানা শ্রেণির মানুষের ভিড়। বেশির ভাগই ইজিবাইকচালক, নৌকার মাঝি ও খুদে ব্যবসায়ী। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করতেই তাঁরা পরস্পরবিরোধী উত্তর দিতে থাকেন। একজন যদি বলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, আরেকজন বলেন ভোটকেন্দ্রেই যাব না। গিয়ে দেখব, ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। ডকইয়ার্ডের একজন সাবেক শ্রমিকনেতা জোর দিয়ে বললেন, 'এবার সহজে ছেড়ে দেব না। ভোট দিয়েই বাড়ি ফিরব।' বন্দরে আরেকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলতেই তিনি হতাশার সুরে বললেন, আওয়ামী লীগ আমলে ব্যবসা-বাণিজ্য খুব খারাপ। তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করি, কেন, দেশের তো অনেক উন্নতি হয়েছে। তাঁর জবাব, যে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ছিল ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, সেটি এখন ১ হাজার ১৫০ টাকা। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। তাঁর দাবি, সরকারি কর্মচারী ছাড়া কেউ ভালো নেই। এক ভদ্রলোক নিজেকে চরমোনাইয়ের মুরিদ পরিচয় দিয়ে বললেন, 'নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল-কিছু বুঝি না। ভোট দেব পাখায়।' ভোটে পাখা জিততে না পারলেও বামদের চেয়ে অনেক বেশি ভোট পায়। এক বন্ধুকে িজজ্ঞেস করলাম কেন এমনটি ঘটে? তঁার উত্তর, 'বামদের মধ্যে ঐক্য নেই।' সোহরাব হাসান,প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি[]
8
পূজার কারণে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তারিখ আগানো বা পেছানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, 'সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকা সিটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা সরকারের একটি নীলনকশা। বর্তমান নতজানু নির্বাচন কমিশন সরকারের কনসার্ন ছাড়া নিশ্চয়ই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেনি! কোনো ষড়যন্ত্র বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্যই পরিকল্পনা করে এ কাজটি করা হয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্যই অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি দেশ। সরস্বতী পূজা সনাতন ধর্মের একটি বড় উৎসব। এই দিনে নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচনের তারিখ আগানো বা পেছানো উচিত।' বুধবার বিকেলে ডাকসু ভবনে নিজের কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। গত ২২ ডিসেম্বর ওই কক্ষে নুরুল ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার ২৪ দিন পর এদিন তিনি ডাকসু ভবনে আসেন। সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করে নুর বলেন, 'ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন চেয়ে করা একটি রিট হাইকোর্ট থেকে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। সেদিন মানুষ ভোট দেবে, নাকি তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করবে? তাই আমাদের দাবি, নির্বাচনের তারিখ হয় আগাতে হবে, নয়তো পেছাতে হবে। আমরা মনে করি, এখানে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কোনো ষড়যন্ত্র বা কারসাজি রয়েছে। পূজার দিনে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে।' ২২ ডিসেম্বর নিজের ও সহযোগীদের ওপর হওয়া হামলার বিষয়ে ভিপি নুরুল বলেন, 'ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাদের নেতৃত্বেই সেদিন আমাদের ওপর বর্বর হামলা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে হামলার বিচারের আশ্বাস দেওয়া হলেও আমরা দেখতে পাচ্ছি, হামলাকারীরা মধুর ক্যান্টিনে বসে চা খাচ্ছেন, ঘুরে বেড়াচ্ছেন।' ভিন্নমতের মানুষের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা ও সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করতে হলে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই বলেও এ সময় মন্তব্য করেন ডাকসু ভিপি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটির ভোট। একই দিনে দেশব্যাপী্ উদযাপিত হবে সরস্বতী পূজা। সরস্বতী পূজার কারণে একই দিনে সিটি নির্বাচনের ভোট না করার দাবিতে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে 'সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের' ব্যানারে বিক্ষোভ হয়েছে। এ ছাড়া এদিন শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগ মোড় অবরোধ করেও বিক্ষোভ করেন।
6
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মরদেহের পুনঃ ময়নাতদন্ত রোববার সম্পন্ন হয়েছে। এতে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ থেকে নেওয়া নমুনা (দাঁত, ভিসেরা, নেক টিস্যু) পরীক্ষা করা হবে। তবে সেটা কিসের আঘাত, কী ধরনের আঘাত সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। আদালতের নির্দেশে পুনঃ ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার কবর থেকে তোলা হয় দিয়াজের মরদেহ। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে সকাল সোয়া ৮টার দিকে দিয়াজের মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে। কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকায় আনা হয়। ২০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো অবস্থায় দিয়াজের মরদেহ দেখা যায়। পরে রাত সাড়ে ১২টায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। গত ২৩ নভেম্বর দিয়াজের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, দিয়াজ আত্মহত্যা করেছেন। তবে দিয়াজের পরিবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে। এরপর দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগে ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার দের আদালতে মামলা করেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। শুনানি শেষে আদালত সিআইডিকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।
6
ছেলে পালিয়ে বিয়ে করায় তার স্কুলশিক্ষক বাবাকে কান ধরে উঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের মধুখালী থানার ওসির বিরুদ্ধে। বিয়ে মেনে না নিতে পারায় আরও নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কনের পরিবারের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন ভুক্তভোগী দম্পতি। গত ১১ মার্চ ফরিদপুরের মধুখালীর বাসিন্দা সেতু ঘোষ পালিয়ে বিয়ে করেন একই এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সজীব বিশ্বাসকে। এই দম্পতির অভিযোগ, এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি বিত্তশালী সেতুর পরিবার। বিয়ের পর থেকেই সজীবের পরিবারের ওপর নানাভাবে হয়রানি করছেন তারা। হয়রানি থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন করেন সেতু বিশ্বাস ও সজিব বিশ্বাস হয়রানি থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী সেতু বিশ্বাস ও সজিব বিশ্বাস। সংবাদ সম্মেলনে সেতু বিশ্বাস জানান, 'তিনি সাবালিকা। নিজের ইচ্ছায় বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছেন।' সেতু আরও বলেন, 'সজিবের পরিবার বিত্তশালী না হওয়ায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।' এমনকি তার শ্বশুরকে থানায় ডেকে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি ওসি কান ধরে উঠবস করিয়েছেন বলে জানান সেতু। সজীব বিশ্বাস বলেন, 'থানায় উপস্থিত সকলের সামনে বাবাকে কান ধরে উঠবস করান থানার ওসি। এ সময় শারীরিক নির্যাতনও করেন ওসি।' সজিবের প্রশ্ন একজন শিক্ষকের সঙ্গে থানার ওসি কী এমন আচরণ করতে পারেন? সজীবের বাবা সুশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, থানায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে শার্টের কলার ধরে ওসির কক্ষে নিয়ে যায়। ওসির রুমে সেসময় বসা ছিলেন মেয়ের কাকা ও তার সহযোগীরা। তখন তিনি সকলের সামনে নানা অপমানজনক কথা বলার পাশাপাশি কান ধরে উঠবস করানোর পাশাপাশি লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। তবে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, 'মেয়েপক্ষের লোক অবস্থা সম্পন্ন আর ছেলেপক্ষ গরিব এটা সত্য। তারা দুই পক্ষ আসছিল। মাস্টার বলেন, আমাকে দুইদিন সময় দিন, এর মধ্যে হাজির করব। এখন যে সে উল্টাপাল্টা কথা বলে বেড়াচ্ছে। সত্য না, তারা যদি আকাশে উঠেও বলে, মঙ্গল গ্রহে গিয়ে বলুক, প্রমাণ করতে হবে তো তাই না।' এদিকে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর পাশাপাশি হত্যার হুমকি পাওয়ায় রাজধানীর সবুজবাগ থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন সেতু ও সজীব। খবর ডিবিসি নিউজের। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক মাসুদ রানার বাড়ি থেকে শনিবার হাসান আলী (৪৫) নামে এক জুতা ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু রবিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি। রবিবার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, মামলা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগ এই ঘটনায় অভিযুক্ত উপ-দফতর সম্পাদক মাসুদ রানাকে অব্যাহতি প্রদান করেছে। ঘটনায় ফুঁসে ওঠা গাইবান্ধাবাসী হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে বিচার দাবি করেছেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দেখবার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। ঘটনায় যারাই জড়িত থাক না কেন, সবাই অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসবেন। এদিকে, গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক মাসুদ রানার বাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে স্বপদ থেকে মাসুদ রানাকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। অন্যদিকে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে গাইবান্ধাবাসীর ব্যানারে রবিবার শহরের ডিবি রোডে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য আমিনুল ইসলাম গোলাপ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মিহির ঘোষ, জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মারুফ মনা প্রমুখ। বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সকলের বিচার দাবি করেন। প্রসঙ্গত, গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগে উপ-দফতর সম্পাদক মাসুদ রানার বাড়ি থেকে শনিবার দুপুরে পুলিশ হাসান আলী নামে এক জুতা ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে। সুদে টাকা লেনদেনের কারণে তাকে বাড়িতে আটকে রেখে মাসুদ রানা হত্যা করেন বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৪ অক্টোবর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হবে হজ ফ্লাইট। এবার যাঁরা হজে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রস্তুতি নিতে হবে এখনই।ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও পরিচালক হজ মো. মিজানুর রহমান জানালেন, এবার যাঁরা হজে যাচ্ছেন তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা দেওয়া, স্বাস্থ্যসনদ সংগ্রহ, হজের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র সংগ্রহ করা দরকার। হজের জন্য প্রশিক্ষণও নিতে হবে। হজ প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য তথ্য ঢাকার আশকোনা হজ কার্যালয় থেকে জানা যাবে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় বইপুস্তক বা পরিচিতদের কাছ থেকেও হজবিষয়ক তথ্য জানতে পারেন। আর হজের প্রয়োজনীয় তথ্য ... ঠিকানায় পাওয়া যাবে।হজে যাচ্ছেন, আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করুন, 'হে আল্লাহ! আমার হজকে সহজ করো, কবুল করো।' হজের দীর্ঘ সফরে ধৈর্য হারাবেন না। সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মানসিকতা রাখুন, তাহলে অল্পতেই বিচলিত হবেন না। হজে যাওয়ার আগেপাসপোর্ট, বিমানের টিকিট সংগ্রহ ও তারিখ নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে ভুলবেন না। নিয়ম মেনে টিকা নিন। হজের নিয়ম জানার জন্য একাধিক বই পড়তে পারেন। কেউ চাইলে প্রথম আলোর হজ গাইড সংগ্রহ করতে পারেন। এটি হজযাত্রীদের বিনা মূল্যে প্রদান করা হয়। যাঁরা পড়তে পারেন না, তাঁরা অন্য হাজিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে পারেন। হজের কোনো বিষয়ে বিভিন্নতা দেখলে ঝগড়া করবেন না। আপনি যে আলেমের ইলম ও তাকওয়ার ওপর আস্থা রাখেন, তার সমাধান অনুযায়ী আমল করবেন, তবে সে মতে আমল করার জন্য অন্য কাউকে বাধ্য করবেন না। প্রয়োজনে পরিচিত অথবা এলাকার দলনেতার (গ্রুপ লিডার) সঙ্গে আলাপ করতে পারেন। মানসিক প্রস্তুতি জরুরিহজ যাত্রার শুরুতে নিজেকে এমনভাবে তৈরি করে নিন, যেন দেহ-মনে কোনো কষ্ট না থাকে। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ হলো দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত এবং শ্রমসাধ্য ব্যাপার। আপনার মালপত্র হালকা রাখুন, কারণ আপনার মাল আপনাকেই বহন করতে হবে। আপনার সঙ্গীদের সম্মান করুন, তাঁদের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকৃত ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনার দলে (গ্রুপে) দুর্বল বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি খেয়াল রাখবেন। সৌদি আরবে গিয়ে বিভিন্ন ওয়াক্তের নামাজ কাবা শরিফে জামাতে আদায় করার চেষ্টা করবেন (অনেকে বাসায় অথবা মহল্লার মসজিদে নামাজ আদায় করেন)। যাত্রার শুরুতে ভালো সফরসঙ্গী খুঁজে নেবেন, যাতে নামাজ পড়তে ও বাসায় চলাফেরায় একে অন্যের সাহায্য নিতে পারেন।সৌদি আরবের মানুষ আরবি ভাষায় কথা বলে, সেখানকার রাস্তাঘাট আপনার অচেনা। এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। হজযাত্রীদের সেবা করার জন্য সৌদি আরব ও বাংলাদেশ সরকার নানা রকম ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। প্রয়োজনীয় মালপত্রহজের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র সংগ্রহ করা দরকার। যেমন: ১. বৈদেশিক মুদ্রা (ডলার অথবা রিয়াল) কেনা, ২. পাসপোর্ট, ভিসা, টাকা রাখার জন্য গলায় ঝোলানো ছোট ব্যাগ ৩. ইহরামের কাপড় কমপক্ষে দুই সেট (প্রতি সেটে শরীরের নিচের অংশে পরার জন্য আড়াই হাত বহরের আড়াই গজ এক টুকরা কাপড় আর গায়ের চাদরের জন্য একই বহরের তিন গজ কাপড়। ইহরামের কাপড় হবে সাদা। সুতি হলে ভালো হয়। নারীদের জন্য: সেলাইযুক্ত স্বাভাবিক পোশাকই ইহরামের কাপড় ) ৪. নরম ফিতাওয়ালা স্পঞ্জের স্যান্ডেল ৫. ইহরাম পরার কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হলে কটিবন্ধনী (বেল্ট) ৬. গামছা, তোয়ালে ৭. আপনার জন্য আরামদায়ক পোশাক যেমন: লুঙ্গি, গেঞ্জি, পায়জামা, পাঞ্জাবি সঙ্গে নিতে পারেন ৮. সাবান, টুথপেস্ট, টয়লেট পেপার, ব্রাশ, মিসওয়াক ৯. নখ কাটার যন্ত্র, সুই-সুতা ১০. থালা, বাটি, গ্লাস ১১. হজের বই, কোরআন শরিফ, ধর্মীয় পুস্তক ১২. কাগজ-কলম, ১৩. প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, চশমা ব্যবহার করলে অতিরিক্ত একটি চশমা (ভিড় বা অন্য কোনো কারণে ভেঙে গেলে ব্যবহারের জন্য) ১৪. বাংলাদেশি টাকা (দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার জন্য) ১৫. নারীদের জন্য বোরকা ১৬. মালপত্র নেওয়ার জন্য ব্যাগ অথবা সুটকেস (তালা-চাবিসহ); ব্যাগের ওপর ইংরেজিতে নিজের নাম-ঠিকানা, ফোন নম্বর লিখতে হবে। ১৭. মোবাইল সেট (সৌদি সিম কিনে ব্যবহার করতে পারবেন) বাইরে আরও কিছু প্রয়োজনীয় মনে হলে তা নিয়ম মেনে সঙ্গে নিতে হবে। ঢাকার হাজি ক্যাম্পবিমানে যাত্রার আগে হাজি ক্যাম্পে যত দিন অবস্থান করবেন, আপনার মালপত্র খেয়াল রাখবেন। একদল সুযোগসন্ধানী লোক মালপত্র চুরি করে। কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন নেওয়া বাকি থাকলে অবশ্যই তা নিয়ে নিন। ব্যাগেজ নিয়মকানুনবিমানে উড্ডয়নকালে হাত ব্যাগে ছুরি, কাঁচি, দড়ি নেওয়া যাবে না। হজযাত্রীর লাগেজে নিজের নাম, পাসপোর্ট নম্বর, হজ এজেন্সির নাম এবং সৌদি আরবে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির প্রতিনিধির মোবাইল নম্বরসহ ঠিকানা ইংরেজিতে লেখা বাধ্যতামূলক। বিমান কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা অনুযায়ী বিমানে কোনো হজযাত্রী সর্বোচ্চ ৩০ কেজির বেশি মালামাল বহন করতে পারবেন। নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো ওষুধ নিতে পারবেন না। চাল, ডাল, শুঁটকি, গুড় ইত্যাদিসহ পচনশীল খাদ্যদ্রব্য যেমন: রান্না করা খাবার, তরিতরকারি, ফলমূল, পান, সুপারি ইত্যাদি সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া যাবে না। জরুরি কাগজপত্র১০ কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, স্ট্যাম্প আকারের ৬ কপি ছবি, পাসপোর্টের ২-৩ পাতার সত্যায়িত ফটোকপি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, টিকা কার্ড। নারী হজযাত্রীর ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত মাহরামের সঙ্গে সম্পর্কের সনদ, ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ। প্রত্যেক হজযাত্রীর ৭ সংখ্যার একটি পরিচিতি নম্বর থাকে। এর প্রথম ৪ সংখ্যা এজেন্সির নম্বর আর শেষ ৩ সংখ্যা হজযাত্রীর পরিচিতি নম্বর। এই নম্বরটি জানা থাকলে হজযাত্রী ও তাঁর আত্মীয়স্বজন ওয়েবসাইটে ওই হাজির তথ্য পেতে পারেন সহজে। বাড়তি সতর্কতার জন্য নিজের নাম, পাসপোর্ট নম্বর, হজ এজেন্সির নাম এবং সৌদি আরবে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির প্রতিনিধির মোবাইল নম্বরসহ ঠিকানা ইংরেজিতে লিখে কাছে রাখুন। বাসস্থানের বাইরে গেলে হজযাত্রীকে পরিচয়পত্র, মোয়াল্লেম কার্ড ও হোটেলের কার্ড অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে। ইহরামইহরাম অর্থ সংকল্প বা নিয়মবিশেষ।মক্কার কাছে নিদিষ্ট স্থানে বিধি মেনে হজ করার সংকল্প করাকে ইহরাম বলে। আপনার গন্তব্য ঢাকা থেকে মক্কায়, নাকি মদিনায় তা জেনে নিন। যদি মদিনায় হয়, তাহলে এখন ইহরাম বাঁধা নয়; যখন মদিনা থেকে মক্কায় যাবেন, তখন ইহরাম বাঁধতে হবে। বেশির ভাগ হজযাত্রী আগে মক্কায় যান। যদি মক্কা যেতে হয়, তাহলে ঢাকা থেকে বিমানে ওঠার আগে ইহরাম বাঁধা ভালো। কারণ, জেদ্দা পেঁৗছানোর আগেই 'মিকাত' বা ইহরাম বাঁধার নির্দিষ্ট স্থান। বিমানে যদিও ইহরাম বাঁধার কথা বলা হয়, কিন্তু ওই সময় অনেকে ঘুমিয়ে থাকেন; আর বিমানে পোশাক পরিবর্তন করাটাও দৃষ্টিকটু। বিনা ইহরামে মিকাত পার হলে এ জন্য দম বা কাফফারা দিতে হবে। তদুপরি গুনাহ হবে। ইহরাম গ্রহণের পর সাংসারিক কাজ-কর্ম নিষেধ যেমন: সহবাস করা যাবে না, পুরুষদের জন্য কোনো সেলাই করা জামা, পায়জামা ইত্যাদি পরা বৈধ নয়, কথা ও কাজে কাউকে কষ্ট দেওয়া যাবে না, নখ, চুল, দাড়ি-গোঁফ ও শরীরের একটি পশমও কাটা বা ছেঁড়া যাবে না, কোনো ধরনের সুগন্ধি লাগানো যাবে না, কোনো ধরনের শিকার করা যাবে না। তবে ক্ষতিকারক সব প্রাণী মারা যাবে। ক্ষতি করে না এমন কোনো প্রাণী মারা যাবে না। বিমানবন্দরউড্ডয়নের সময় অনুযায়ী বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে লাগেজে যে মাল দেবেন, তা ঠিকমতো বাঁধা হয়েছে কি না, দেখে নেবেন। বিমানের কাউন্টারে মাল রেখে এর টোকেন দিলে তা যত্ন করে রাখবেন। কারণ, জেদ্দা বিমানবন্দরে ওই টোকেন দেখালে সেই ব্যাগ আপনাকে ফেরত দেবে। ইমিগ্রেশন, চেকিংয়ের পর হাতে থাকা নিজ মালপত্র যত্নে রাখুন। বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র, বিমানের টিকিট, টিকা দেওয়ার কার্ড, অন্য কাগজপত্র, টাকা, বিমানে পড়ার জন্য ধর্মীয় বই ইত্যাদি গলায় ঝোলানোর ব্যাগে যত্নে রাখুন। সময়মতো বিমানে উঠে নির্ধারিত আসনে বসুন। জেদ্দা বিমানবন্দরমোয়াল্লেমের গাড়ি আপনার জন্য জেদ্দা হজ টার্মিনালে অপেক্ষা করবে। সেখান থেকে তাঁরা আপনাকে মক্কায় যে বাড়িতে থাকবেন, সেখানে নামিয়ে দেবেন। মোয়াল্লেমের নম্বরসহ (আরবিতে লেখা) কবজি বেল্ট দেওয়া হবে, তা হাতে পরে নেবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র (যাতে পিলগ্রিম নম্বর, আপনার নাম, ট্রাভেল এজেন্টের নাম ইত্যাদি থাকবে) গলায় ঝোলাবেন। জেদ্দা থেকে মক্কায় পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। চলার পথে তালবিয়া পড়ুন (লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক...)। মক্কায় পৌঁছেমক্কায় পৌঁছে আপনার থাকার জায়গায় মালপত্র রেখে ক্লান্ত থাকলে বিশ্রাম করুন। আর যদি নামাজের ওয়াক্ত হয়, নামাজ আদায় করুন। বিশ্রাম শেষে দলবদ্ধভাবে ওমরাহর নিয়ত করে ওমরাহ পালন করুন। মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফ) বেশ কয়েকটি প্রবেশপথ আছে; সব কটি দেখতে একই রকম। কিন্তু প্রতিটি প্রবেশপথে আরবি ও ইংরেজিতে ১, ২, ৩ নম্বর ও প্রবেশপথের নাম আছে, যেমন 'বাদশা আবদুল আজিজ প্রবেশপথ'। আপনি আগে থেকে ঠিক করবেন, কোন প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকবেন বা বের হবেন। আপনার সফরসঙ্গীকেও স্থান চিনিয়ে দিন। তিনি যদি হারিয়ে যান, তাহলে নির্দিষ্ট নম্বরের গেটের সামনে থাকবেন। এতে ভেতরের ভিড়ে হারিয়ে গেলেও নির্দিষ্ট স্থানে এসে সঙ্গীকে খুঁজে পাবেন। কাবা শরিফে স্যান্ডেল-জুতা রাখার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকবেন। নির্দিষ্ট স্থানে জুতা রাখুন। অথবা ব্যাগে নিজের কাছে রাখুন। এখানে-সেখানে জুতা রাখলে পরে আর খঁুজে পাবেন না। প্রতিটি জুতা রাখার র্যাকেও নম্বর দেওয়া আছে। এই নম্বর মনে রাখুন। মসজিদের ভেতরে-বাইরে জমজমের পানি (স্বাভাবিক ও ঠান্ডা) রাখা আছে। প্রাণ ভরে পানি পান করতে পারেন। কাবা ঘরের চারটি কোণের আলাদা নাম আছে। যেমন: হাজরে আসওয়াদ, রকনে ইরাকি, রকনে শামি ও রকনে ইয়ামেনি। হাজরে আসওয়াদ বরাবর কোণ থেকে শুরু হয়ে কাবাঘরের পরবর্তী কোণ রকনে ইরাকি, (দুই কোণের মাঝামাঝি স্থান মিজাবে রহমত ও হাতিম)। তারপর যথাক্রমে রকনে শামি ও রকনে ইয়ামেনি। এটা ঘুরে আবার হাজরে আসওয়াদ বরাবর এলে তাওয়াফের এক চক্কর পূর্ণ হয়। এভাবে একে একে সাত চক্কর দিতে হয়। ওমরাহর নিয়মকানুন আগে জেনে নেবেন, যেমন: সাতবার তাওয়াফ করা, জমজমের পানি পান করা, নামাজ আদায় করা, সাঈ করা (সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানো), মাথা মুণ্ডানো অথবা চুল ছোট করা-এসব কাজ ধারাবাহিকভাবে করা। ওয়াক্তীয় নামাজের সময় হলে যতটুকু হয়েছে ওই সময় নামাজ পড়ে আবার বাকিটুকু শেষ করা। ওমরাহহিল (কাবা শরিফের সীমানার বাইরে মিকাতের ভেতরের স্থান) থেকে অথবা মিকাত থেকে ইহরাম বেঁধে বায়তুল্লাহ শরিফ তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়া সাঈ করা এবং মাথার চুল ফেলে দেওয়া বা ছোট করাকে ওমরাহ বলে।হজ তিন প্রকার-তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ। হজের মাসসমূহে (শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ) ওমরাহর নিয়তে ইহরাম করে, উমরাহ পালন করে, পরে হজের নিয়ত করে হজ পালন করাকে হজে তামাত্তু বলে।হজের মাসসমূহে একই সঙ্গে হজ ও ওমরাহ পালনের নিয়তে ইহরাম করে ওমরাহ ও হজ করাকে হজে কিরান বলে। আর শুধু হজ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে হজ সম্পাদনকে হজে ইফরাদ বলে। দোয়া কবুলের জায়গাপবিত্র মক্কায় কাবা শরিফের বিভিন্ন জায়গায় দোয়া কবুল হয়ে থাকে। ১. মাতাফ (তাওয়াফ করার স্থান)। ২. মুলতাযাম (হাজরে আসওয়াদ থেকে বায়তুল্লাহর দরজা পর্যন্ত)। ৩. হাতিমের মধ্যে। ৪. মিযাবে রহমতের মধ্যে। ৫. কাবাঘরের ভেতরে। ৬. জমজম কূপের কাছে (যদিও কূপ এখন বেজমেন্টের নিচে, চাইলেও এখন দেখা যায় না)। ৭. মাকামে ইবরাহিমের কাছে। ৮. সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ওপর। ৯. সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে। ১০. বায়তুল্লাহর দিকে যখন নজর পড়ে। ১১. রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে। ১২. আরাফাতের ময়দানে। ১৩. মুযদালিফার ময়দানে। ১৪. মিনার ময়দানে এবং মিনার মসজিদে খায়েফে। ১৫. কঙ্কর মারার স্থানে। সেসব জায়গায় খুব আদব, ভক্তি ও বিনয়ের সঙ্গে খাস দিলে দোয়া করা দরকার। দুনিয়ার যাবতীয় জায়েজ নেক মাকসুদের জন্য দোয়া করা উচিত। আরও কিছু পরামর্শভাষার ভিন্নতা, নতুন দেশ, নতুন পরিস্থিতি-বিবিধ কারণে পথ হারিয়ে দিশেহারা হতে পারেন। তাই সতর্ক থাকুন। পরিচয়পত্র, ঠিকানা সব সময় নিজের কাছে রাখুন। দলবব্ধভাবে বাইরে বের হলে ভালো। সৌদি আরবে অবস্থানকালে কোনো চাঁদা ওঠানো, সাহায্য চাওয়া, ভিক্ষা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং এগুলো থেকে বিরত থাকুন। ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, সিগন্যাল পড়লে রাস্তা পার হোন। রাস্তা পার হওয়ার সময় অবশ্যই ডানে-বাঁয়ে দেখেশুনে সাবধানে পার হবেন। কখনো দৌড় দেবেন না। নির্ধারিত স্থানে পশু কিনে অথবা ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবির) কুপন কিনে কোরবানি করা যায়। মনে রাখবেন, মসজিদে নববী ও কাবা শরিফের সীমানার মধ্যে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শরীরের কোনো স্থান কেটে গেলে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করুন এবং ক্ষতস্থানটি প্লাস্টার কিংবা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দিন। হাঁচি কিংবা কাশি দেওয়ার সময় অবশ্যই আপনার মুখ ঢেকে নিন। কোনো ধরনের অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় পড়লে বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের মেডিকেল সদস্যদের (চিকিৎসক) সঙ্গে যোগাযোগ করুন। হারানো হজযাত্রীদের খুঁজে পেতে বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ে অবস্থিত আইটি ডেস্ক সাহায্য করে। হজযাত্রীদের যাবতীয় তথ্য দেশের পরিবার-পরিজনের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে পৌঁছানো যায়। আপনার ট্রাভেল এজেন্সি আপনাকে যথাযথ সুবিধাদি (দেশ থেকে আপনাকে থাকা, খাওয়াসহ অন্য যেসব সুবিধার কথা বলেছিল) না দিলে আপনি মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ হজ কার্যালয়কে জানাতে পারেন। এতেও আপনি সন্তুষ্ট না থাকলে সৌদির ওজারাতুল হজকে (হজ মন্ত্রণালয়) লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। রোদ থেকে বাঁচতে দিনের বেলায় মিনা ও আরাফাতে ছাতা ব্যবহার করুন। আরাফাতের ময়দানে অনেক প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে খাবার, জুস, ফল ইত্যাদি দিয়ে থাকে। ওই সব খাবার আনতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়, তাই সাবধান থাকবেন। মুযদালিফায় রাতে থাকার জন্য প্লাস্টিকের পাটি পাওয়া যায়। এটি মক্কায়ও কিনতে পারবেন। আরাফাতের ময়দান থেকে যদি হেঁটে মুযদালিফায় আসেন, পথে টয়লেট সেরে নেবেন। কেননা, মুযদালিফায় টয়লেটে অনেক ভিড় লেগে যায়। মিনায় যে তাঁবুতে অবস্থান করবেন, সেসব তাঁবু চিহ্নিত করে নিন। মোয়াল্লেম অফিস থেকে তাঁবুর নম্বরসহ কার্ড দেওয়া হয়; তা যত্নে রাখুন। বাইরে বের হওয়ার সময় তা সঙ্গে রাখুন। হজযাত্রী সচেতন থাকলে হারিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই। মক্কায় ঐতিহাসিক স্থান হেরা গুহা, সওর পর্বত, মিনায় আল-খায়েফ মসজিদ, নামিরা মসজিদ, আরাফাতের ময়দান, মুযদালিফা, জামারা (শয়তানের উদ্দেশে পাথর ছোঁড়ার স্থান) জান্নাতুল মা'আলা (কবরস্থান), মসজিদে জিন, মক্কা জাদুঘর, গিলাফ তৈরির কারখানা, লাইব্রেরি। মদিনায় মসজিদে নববী, জান্নাতুল বাকি (কবরস্থান), ওহুদ পাহাড়, খন্দক, মসজিদে কুবা, মসজিদে কেবলাইতাইন, মসজিদে জুমআ, মসজিদে গামামাহ, মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাদশাহ ফাহাদ কোরআন শরিফ প্রিন্টিং কমপ্লেক্স ঘুরে আসতে পারেন। হজবিষয়ক তথ্যপরিচালক, হজ অফিস, আশকোনা, উত্তরা, ঢাকা (ফোন: ৮৯৫৮৪৬২,৭৯১২৩৯১) এবং.িযধলল.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে হজবিষয়ক যাবতীয় তথ্য পাবেন। একনজরে হজের কার্যক্রম১. ইহরাম বাঁধা ২. ৭-৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান ৩. ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পরে মিনা থেকে আরাফাতে অবস্থান, সূর্যাস্তের পরে মুযদালিফায় যাওয়া ৪. ৯ জিলহজ মুযদালিফায় রাত যাপন ৫. ১০ জিলহজ মিনায় বড় জামারাকে (শয়তান) কঙ্কর মারা, কোরবানি করা, মাথার চুল ফেলে দেওয়া ৬. ১২ জিলহজের মধ্যে তাওয়াফ জিয়ারত, সাঈ করা ৭. ১১, ১২ জিলহজ মিনায় জামারাকে (শয়তান) কঙ্কর মারা ৮. বিদায়ী তাওয়াফসূত্র: হজ মন্ত্রণালয়, সৌদি আরব হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ ইচ্ছা করা। এর পারিভাষিক অর্থ আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে শরিয়তের নিয়মানুসারে নির্দিষ্ট সময়ে পবিত্র কাবা শরিফ ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ জিয়ারত করা। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি স্তম্ভ হজ টিকা দেওয়াহজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সিভিল সার্জনের কার্যালয় এবং যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আছে, সেখান থেকে টিকা নিতে পারবেন। মাধ্যমএজেন্সি বা যে মাধ্যমে হজের টাকা জমা দিয়েছেন, তা জমা হয়েছে কি না, যাচাই করুন। ... ওয়েবসাইটে নিজের নাম-ঠিকানা ঠিক আছে কি না দেখুন। প্রয়োজনীয় মালপত্রহজের জন্য প্রয়োজনীয় মালপত্র সংগ্রহ করা এখন থেকেই শুরু করুন। আপনার মালপত্র হালকা রাখুন। কারণ, আপনাকেই তা বহন করতে হবে। নিয়মকানুনহজের নিয়মকানুন জানতে প্রয়োজনীয় বইপুস্তক পড়ুন।প্রথম আলোর হজ গাইড বিনা মূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন হজ ক্যাম্প অথবা প্রথম আলো কার্যালয় থেকে। একনজরে হজতামাত্তু কিরান ইফরাদ১. ওমরাহর ইহরাম (ফরজ) হজ ও ওমরাহর ইহরাম (ফরজ) হজের ইহরাম (ফরজ)২. ওমরাহর তাওয়াফ (ফরজ) ওমরাহর তাওয়াফ (ফরজ) -৩. ওমরাহর সাঈ (ওয়াজিব) ওমরাহর সাঈ (ওয়াজিব) -৪. - তাওয়াফে কুদুম (সুন্নত) তাওয়াফে কুদুম (সুন্নত)৫. - সাঈ (ওয়াজিব) -৬. মাথা মুণ্ডন করা বা চুলখাটো করা (ওয়াজিব) - -৮ জিলহজ জোহরের নামাজের পূর্ব থেকে৭. হজের ইহরাম (ফরজ) - -৮. মিনায় রাতযাপন (সুন্নত) মিনায় রাতযাপন (সুন্নত) মিনায় রাতযাপন (সুন্নত)৯. জোহর, আসর, মাগরিব, এশা, ফজর জোহর, আসর, মাগরিব, এশা, ফজর জোহর, আসর, মাগরিব, এশা, ফজরনামাজ মিনায় পড়া (মুস্তাহাব) নামাজ মিনায় পড়া (মুস্তাহাব) নামাজ মিনায় পড়া (মুস্তাহাব)৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর১০. আরাফাতে অবস্থান (ফরজ) আরাফাতে অবস্থান (ফরজ) আরাফাতে অবস্থান (ফরজ)আরাফার দিন সূর্যাস্তের পর মুযদালিফার দিকে রওনা১১.মুযদালিফায় অবস্থান (ওয়াজিব) মুযদালিফায় অবস্থান (ওয়াজিব) মুযদালিফায় অবস্থান (ওয়াজিব)১০ জিলহজ১২. বড় জামারাকে (শয়তান) বড় জামারাকে (শয়তান) বড় জামারাকে (শয়তান)কঙ্কর মারা (ওয়াজিব) কঙ্কর মারা (ওয়াজিব) কঙ্কর মারা (ওয়াজিব)১৩. কোরবানি করা (ওয়াজিব) কোরবানি করা (ওয়াজিব) -১৪. মাথার চুল পুরো ফেলে দেওয়া বা মাথার চুল পুরো ফেলে দেওয়া বা মাথার চুল পুরো ফেলে দেওয়া বাচুল খাটো করা (ওয়াজিব) চুল খাটো করা (ওয়াজিব) চুল খাটো করা (ওয়াজিব)শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া সবকিছু হালাল হবে১৫. তাওয়াফ (ইফাজা বা জিয়ারত) (ফরজ) তাওয়াফ (ইফাজা বা জিয়ারত) (ফরজ) তাওয়াফ (ইফাজা বা জিয়ারত) (ফরজ)সম্পূর্ণ হালাল হয়ে যাবে১৬. সাঈ (ওয়াজিব) - সাঈ (ওয়াজিব)১১-১২ জিলহজ জোহরের সময় থেকে শুরু করে কঙ্কর মারা১৭. ১১-১২ তারিখ ছোট, মধ্যম, বড় ১১-১২ তারিখ ছোট, মধ্যম, বড় ১১-১২ তারিখ ছোট, মধ্যম, বডশয়তানকে পাথর মারা (ওয়াজিব) শয়তানকে পাথর মারা (ওয়াজিব) শয়তানকে পাথর মারা (ওয়াজিব)১৮. বিদায়ী তাওয়াফ (ওয়াজিব) বিদায়ী তাওয়াফ (ওয়াজিব) বিদায়ী তাওয়াফ (ওয়াজিব)উল্লেখ্য, ইফরাদ ও কিরান হজকারী তাওয়াফে কুদুম করবেন। তাওয়াফে কুদুমের সঙ্গে সাঈ করলে তাওয়াফে জিয়ারতের পর আর সাঈ করতে হবে না। তবে কিরান হজকারীদের জন্য তাওয়াফে কুদুমের সঙ্গে সাঈ করা, ইফরাদ হজকারীদের জন্য তাওয়াফে জিয়ারতের সঙ্গে সাঈ করা উত্তম। তামাত্তুকারীরা হজের ইহরামের পরে নফল তাওয়াফ করে সাঈ করে নিলে তাওয়াফে জিয়ারত বা ইফাজের সময় আর সাঈ করতে হবে না। তালবিয়া'লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,ইন্নাল হাম্দা, ওয়ান্নি'মাতালাকা ওয়াল্মুল্ক, লা শারিকা লাকা।'
10
কাউখালীতে ৩য় ধাপে দুটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত।গতকাল মঙ্গলবার ইউনিয়ন দুটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা করেছেন পুলিশ প্রশাসন।উপজেলার ১ নম্বর সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে এবং ৪ নম্বর চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নে আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ১ নম্বর সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিঞার স্ত্রী বর্তমান চেয়ারম্যান এলিজা সাইদ জাতীয় পাট্টির জেপি মনোনিত বাই সাইকেল মার্কা প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদ। তিনি অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের দিয়ে ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ভোট জোর পূর্বক আদায় করার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে সংঘর্ষ এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত সোমবার বিকেলে এলাকাবাসী পোলেরহাট এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বলে দাবি পুলিশের। অপর দিকে ৪ নম্বর চিরাপাড়া ইউনিয়নে সাইকেল মার্কা ও নৌকা মার্কার প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে গত শনিবার রাতে এক রক্তক্ষয়ই সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে নৌকা মার্কার প্রার্থী মাহাম্মুদ খান খোকনের ভাইসহ উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়। এ নিয়ে এলাকায় ভোটাররা ভোট নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন। দিন যতই যাচ্ছে ততই এলাকা উত্তেজনা বিরাজ করছে।কাউখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বনি আমিন বলেন, 'ভোটাররা নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠলে বরিশাল পুলিশের ডিআইজি এসএম আখতারুজ্জামানের উদ্যোগে থানার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। দুই ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।'
6