text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
মারাত্মক খরা এবং শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের বাড়িঘর ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। আগামী কয়েক দশকে তাঁদের আধুনিক দাসত্ব ও পাচারের হুমকির মুখে পড়তে হবে। নীতি ও কর্ম গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইইডি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান-এর। আইআইইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু সংকট, তীব্র বন্যা, খরা, দাবানলসহ চরম আবহাওয়ার বিপর্যয়ের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলছে এবং তাঁদের আরও বেশি দাসত্বের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। আইআইইডি ও অ্যান্টি-স্লেভারি ইন্টারন্যাশনালের গবেষকেরা বলেন, উত্তর ঘানায় তীব্র খরার কারণে তরুণ জনগোষ্ঠী শহরের দিকে চলে এসেছে। কুলির কাজ করা অনেক নারী পাচার, যৌন নিপীড়ন ও দেনার বন্ধকির শিকার হতে পারে। দেনার বন্ধকি আধুনিক দাসত্বের একটি রূপ, যেখানে বিপুল দেনা শোধ করার জন্য কর্মীকে কাজের চক্রে বেঁধে রাখা হয়। ঘানা থেকে আক্রায় চলে আসা এক নারী বলেন, বন্যায় জমি নষ্ট হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি কৃষিকাজ করতেন। এরপর সাত বছর ধরে তিনি কুলি (কায়ায়ি) হিসেবে কাজ করছেন। তিনি মাথায় করে বিভিন্ন পণ্য বহন করে। ওই নারী বলেন, মাথায় করে পণ্য বহন করা তাঁর জন্য সহজ কাজ ছিল না। তিনি যখন ঘানায় আসেন, তখন এ কাজ সম্পর্কে জানতেন না। পরে একজন তাঁকে পাত্র, খাবার ও থাকার জায়গা দেন। এর বদলে তাঁর সব উপার্জন নিয়ে নেন। তাঁকে একবার এক গ্রাহকের পণ্য তাঁর কাছ থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল। গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সুন্দরবনের সীমান্ত এলাকার কথাও বলা হয়েছে। সেখানে কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট বন্যার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকেরা দেখেছেন, দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে চোরাচালানকারী এবং পাচারকারীরা কর্মসংস্থান ও আয়ের লোভ দেখিয়ে বিধবা এবং সীমান্ত অতিক্রম করতে মরিয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। পাচার করা লোকজনকে তাঁরা জোর করে কাজ করাতে বা বাধ্যতামূলক যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করায়। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অ্যান্টি-স্লেভারি ইন্টারন্যাশনালের আধুনিক দাসত্ববিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফ্রান উইট বলেন, 'আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু সংকটের প্রভাব লাখো মানুষের ওপর পড়ছে। চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি পরিবেশ ধবংস, মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার পাশাপাশি পাচারের ঝুঁকি ও দাসত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।'বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ু সংকটের প্রভাব যেমন ফসলহানি, পানির অভাব এবং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধিতে আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকার ৬টি অঞ্চলে ২ কোটি ১৬ লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করবে। | 3 |
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ও দুই হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে উপজেলার তারাব পৌরসভার রসুলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকেরা হলেন- রসুলপুর এলাকার ইউনুছ মৃধার ছেলে জামাল হোসেন, মোস্তফা কামাল ও প্রতিবেশী মানিক মিয়া। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যরাতে রসুলপুর এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানকালে দুই হাজার পিস ইয়াবা ও ট্রাঙ্কের মধ্যে রাখা এক কোটি ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাড়ির মালিক জামাল হোসেন, মোস্তফা কামাল ও প্রতিবেশী মানিক মিয়াকে আটক করা হয়। ওসি আরও জানান, জামাল হোসেন ও মোস্তফা কামালের বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার ধাসুরা এলাকায়। আট বছর আগে তারা রসুলপুর এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন। তারা অবৈধ কয়েল কারখানা ও গরুর খামারের আড়ালে ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিলেন। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আটক জামাল টাকার বৈধ উৎস এবং এত টাকা কোথা থেকে এনেছেন সে তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেছেন, কয়েল ফ্যাক্টরির ব্যবসা করেন কিন্তু সেটিরও কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে আর তার বিরুদ্ধে আমরা মানি লন্ডারিংয়ের মামলাও করতে পারবো। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। | 6 |
শনিবার বৈঠকে অংশ নেওয়া সেই ৪০ জন রোহিঙ্গা প্রতিনিধির সঙ্গে রোববার আবারও বৈঠক করেছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে সকাল ১০টায় উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনে এ বৈঠক শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলে এ বৈঠক। এ বিষয়ে দুপুরের দিকে ব্রিফ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার একই স্থানে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল। এ সময় রোহিঙ্গাদের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা রোহিঙ্গা নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বৈঠকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দশটি রাষ্ট্র নিয়মে গঠিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানের পাঁচজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ওইদিন ফলপ্রসু কোনো আলোচনা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের কাছে রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিভিন্ন দাবি- তুলে ধরেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. মুহিব উল্লাহ। বৈঠকে আগে তিনি বলেন, গতকালের (শনিবার) আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। আজ (রোববার) আবার তারা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরবো। মুহিব বলেন, গতকাল (শনিবার) তারা সেই পুরনো প্রস্তাবগুলোই আমাদের দিয়েছেন। মিয়ানমারে গিয়ে আগে এডিপি ক্যাম্পে থাকতে হবে। আমরা তাদের এসব প্রস্তাবে রাজি নই। এর আগে শুক্রবার রাতে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ পৌঁছে। শনিবার সকালে প্লেনে কক্সবাজার যান তারা। সেখান থেকে ইনানীর হোটেল রয়েল টিউলিপে যান মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর বেলা একটার দিকে উখিয়ায় পৌঁছে সেখানে বিকেল চারটা পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। | 6 |
দীর্ঘ ১৪ বছরেও হয়নি রাঙামাটির সাংবাদিক মো. জামাল উদ্দীন হত্যার বিচার। তাই বিচার বিভাগের উপর আস্থাহীনতায় পরেছে তার পরিবার। ১৪ বছরেও কোন কুলকিনার হয়নি জামাল হত্যা মামলার। গ্রেফতার করা হয়নি আসামিও। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাঙামাটির সাংবাদিক সমাজ। আগামীকাল শনিবার সাংবাদিক জামাল উদ্দীনের ১৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। এ উপলক্ষে জামালের পরিবার আয়োজন করেছে কবর জিয়ারত, দোয়া, কোরআন খতম ও মিলাদ মাহফিলের। মুমু বলেন, এ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা। ২০০৭ সালে ৫ মার্চ অপহরণ হয় আমার ভাই। ৬ মার্চ লাশ মিলে জঙ্গলে। কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছে, হত্যা করেছে। কেন করেছে? কিছুই জানতে পারিনি আজও। শুধু এটা জানি আমার ভাই কখনো কারো রক্ত চক্ষুকে ভয় পেত না। কখনো আপোষ করেনি কোন অপরাধ-অপরাধীর সাথে। তাই হয়তো তাদের ক্ষোভের শিকার হতে হয়েছে তাকে। বিচার না পেয়ে আমি আস্থাহীনতায় পরেছি। তবে সরকার চাইলে আমি আমার ভাই সাংবাদিক জামাল হত্যার বিচার পাবোই। অন্যদিকে, প্রতিবছর এ দিনে সাংবাদিক সমাজ জামাল হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সামাবেশের আয়াজন করে থাকলেও এ বছর তা করা হয়নি। কারণ দীর্ঘ বছরেও বিচার না পেয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে সাংবাদিক মহলের মধ্যে। তারা বলছেন, দীর্ঘ বছর ধরে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার কারণে আইনের উপর আস্থাহীনতায় পরেছেন তারা। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে ৫ মার্চ নিখোঁজ হয় রাঙামাটির সাংবাদিক মো. জামাল উদ্দীন। এপর ৬ মার্চ রাঙামাটি পর্যটন এলাকার হেডম্যান পাড়ার জঙ্গলে তার রক্তাত্ব মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাংবাদিক জামাল সে সময় পার্বত্যাঞ্চলের একজন আলোকিত সাংবাদিক ছিলেন। তিনি মৃত্যুর আগর পর্যন্ত দৈনিক বর্তমান বাংলা, বার্তা সংস্থা আবাস ও বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভিতে কর্মরত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেইসঙ্গে নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে সব রাজনৈতিক দলই অংশ নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে তারা। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এসব কথা বলেন। সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নুরুল হুদা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই দলীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে ওই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। এদিকে তফসিল ঘোষণাকে অভিনন্দন জানিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক দলগুলোসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। তফসিল ঘোষণার পর পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। সব রাজনৈতিক দল উৎসবমুখর পরিবেশে এ নির্বাচনে অংশ নেবে, এটিই প্রত্যাশা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পুনঃতফসিলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলই চায় জনগণের সেবা করতে। সেজন্য নির্বাচনে আসতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় বসতে হবে। ঐক্যফ্রন্ট জনগণের সেবা করতে চাইলে নির্বাচনে আসবে- এমনটাই প্রত্যাশা করি। বিভিন্ন দলের অভিনন্দন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। দলের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সব হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে তফসিল ঘোষণা করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ-সংশয়ের অবসান হলো। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ এমপি এক বিবৃতিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনকে অভিন্দন জানিয়েছেন। আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ: তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তারা আনন্দ মিছিল বের করেন। এসব মিছিল থেকে নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়। তফসিল ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় সমবেত নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সেখানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেন। এ সময় একে অন্যকে মিষ্টিমুখও করান তারা। সেখানে মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনও আনন্দ মিছিল করে। একই ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় ও এর আশপাশের সড়কেও। তফসিল ঘোষণা উপলক্ষে যুবলীগ সন্ধ্যায় ধানমণ্ডি বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতি এগিয়ে নিতে ও সব অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শপথ নেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, আতাউর রহমান, সুব্রত পাল, বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ইসমাইল হোসেন, মাইনুদ্দিন রানা, রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ। | 6 |
পৃথিবীর ইতিহাসে উষ্ণতম মাস ছিল গত জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, ভূপৃষ্ঠ ও সমুদ্র মিলিয়ে বিংশ শতাব্দীর গড় তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত জুলাইয়ে তা শূন্য দশমিক ৯৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড হয়েছে।গতকাল শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের তাপমাত্রারহিসাব রাখা শুরু হয় ১৪২ বছর আগে। সেখান থেকে এ পর্যন্ত মাসিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে গত মাসে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) এ হিসাব জানিয়েছে।এর আগে ২০১৬ সালের জুলাই মাস ইতিহাসে সর্বোচ্চ উষ্ণ মাসের রেকর্ড গড়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ ও ২০২০ সালেও একই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়, তবে এ বছরের জুলাই সেটিকেও ছাড়িয়ে গেল।বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণেই এমনটি হচ্ছে। এনওএএ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুলাইয়ের এ ধরনের উষ্ণতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এনওএএ-র প্রশাসক রিক স্পিনরাড এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ বিষয়ে প্রথম হওয়া মানে সবচেয়ে খারাপ ঘটনাই ঘটেছে। নতুন এ রেকর্ড বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিরক্তিকর ও বিঘ্ন সৃষ্টিকারী পথ তৈরি করেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে ভূ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের সমন্বিত তাপমাত্রা ছিল ২০১৬ সালের রেকর্ডের চেয়ে ০.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এ সময় উত্তর গোলার্ধে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অভূতপূর্ব গতিতে গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা ২০১২ সালের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। | 7 |
বাংলাদেশে ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ। বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প সত্যি চমকপ্রদ। বিশেষ করে গত এক দশকে বাংলাদেশের সাফল্য উল্লেখ করার মতো। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে তাকে দেওয়া বিদায় সংবর্ধনায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল সন্ধ্যায় ভারতীয় হাইকমিশনে আয়োজিত এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ছাড়াও নবনিযুক্ত মন্ত্রীবর্গ, বিভিন্ন রাজনীতিক, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সাংবাদিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের বিদায়ী এই হাইকমিশনার বলেন, 'আমি আমার মেয়াদের তিন বছরে বাংলাদেশের প্রায় সব জেলা পরিদর্শন করেছি। আমি দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত উদার, পরিশ্রমী এবং সহযোগিতাপূর্ণ। সব সময়ই আমার মনে হয়েছে আমি আমার নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছি। তাই এ দেশ ছেড়ে যাওয়াটা আমার কাছে যেন নিজ বাড়ি ছেড়ে যাওয়া।' ভারতের এই দূত এ সময় নিঃশর্ত সহযোগিতা এবং দুই দেশের বন্ধন জোরদারে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। ভারতীয় হাইকমিশনারের পত্নী হেমাল শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তার প্রতি যে ঔদার্য দেখিয়েছেন এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। তিনি বলেন, 'আমি কখনো এমন আদর ও ভালোবাসা কোনো দেশ থেকে পাইনি, যা বাংলাদেশ থেকে পেয়েছি।' তিনি বলেন, তার দেশ ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই মিল রয়েছে। তাই এখানে তিনি নিজের বাড়ির মতোই অবস্থান করেছেন। হেমাল শ্রিংলা বলেন, 'আমি কখনই বাংলাদেশের আতিথেয়তার কথা ভুলব না।' বাংলাদেশে তিন বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে গতকাল বিদায় নেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শ্রিংলা আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। ২০১৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকায় দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার প্রচেষ্টায় দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় এবং সোনালি যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। এ সময় সীমান্ত বাণিজ্য থেকে শুরু করে নানা অবকাঠামো ও ব্যবসা খাতে দুই দেশের বিনিয়োগ বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে দেশের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়ানো শ্রিংলার সময়ই দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করেন। তিন বছরে দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ১০টি বৈঠক, ছয়টি ভিডিও কনফারেন্স ও পাঁচবার টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্প যৌথভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৯৪৭ সাল থেকে জিইয়ে থাকা দুই দেশের স্থল ও সমুদ্রসীমা মীমাংসা হয়েছে। এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে ৯০টি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। শ্রিংলার আমলেই ভারতের অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জ্বালানিমন্ত্রী, বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী ঢাকা সফর করেছেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের নেপথ্যে কাজ করেছেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। এদিকে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার স্থলে বাংলাদেশে পরবর্তী ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের (আইসিসিআর) মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ভারতীয় কূটনীতিক রিভা গাঙ্গুলি দাস। তিনি শিগগিরই দায়িত্ব বুঝে নেবেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিডি-প্রতিদিন/০৭ জানুয়ারি, ২০১৯/মাহবুব | 6 |
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ঢুকতে শুরু করেছে তালেবান। আফগান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বিদ্রোহী বাহিনী-উভয় পক্ষই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে আজ রোববার জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবান কাবুলে প্রবেশ করেছে। তাদের নেতারা যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যে কেউ কাবুল ছেড়ে যেতে চাইল তাদের যেন নিরাপদে চলে যেতে দেওয়া হয়।আজ রোববার আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহর জালালাবাদ দখলে নেয় তালেবান। একই সঙ্গে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা কাবুলে প্রবেশ করল।এদিকে দোহায় আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানের শান্তি আলোচনার জন্য আসা এক তালেবান নেতা বলেছেন, তাঁদের যোদ্ধাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আজ রোববার যেন তারা যেকোনো ধরনের সহিংসতা থেকে দূরে থাকে এবং কাবুল ছেড়ে যেতে ইচ্ছুকদের নিরাপদ প্রস্থানের সুযোগ করে দেয়।এই পরিস্থিতিতে কাবুলে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি সরকার কী করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তারা পাল্টা হামলা করবে, নাকি কোনো সমঝোতার চেষ্টা করবে, তা পরিষ্কার নয়।তবে আফগান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির চিফ অব স্টাফ এক টুইটার পোস্টে লিখেছেন, 'ভয় পাবেন না। কোনো সমস্যা নেই। কাবুলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।'এই টুইট এমন সময় করা হয়েছে, যখন কাবুলের চারপাশ থেকে তালেবান যোদ্ধারা রাজধানীটিতে প্রবেশ করছে। এই পরিস্থিতিতে এখনো নীরব রয়েছেন আশরাফ ঘানি। গতকাল শনিবার বিকেলে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য রাখেননি। | 3 |
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ৮৫ নম্বর বিষ্ণুবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বেশ পুরোনো। ১৯৫৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের পাকা ও সেমিপাকা ভবনে চলে পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়টির উত্তর পাশে রয়েছে সরকারি পুকুর। সেই পুকুরের কারণে বিদ্যালয়টি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু বিদ্যালয়ই নয়, সরকারি সড়কটিও পড়েছে ঝুঁকিতে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের খেলার যে মাঠটি রয়েছে, সেটি পুকুরের পেটে চলে যাচ্ছে। খেলার মাঠ দিনকে দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে। পুকুরটিতে মাছের চাষ করা হয়। এলাকাবাসী পুকুরে গবাদিপশু গোসল করায়। এতে ক্রমেই পুকুরের পাড় ভেঙে যাচ্ছে। মাঠের সীমানায় লাগানো বিশাল মেহগনি গাছ ভেঙে পুকুরে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের ভবনের সীমানা ও সরকারি সড়ক ধসে পুকুরের পানিতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।খেলার মাঠ পুকুরের পেটে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, পুকুরটি ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত হওয়ায় গত দুই বছর ধরে উপজেলা ভূমি অফিস লিজ প্রদান করে আসছে। একসময় এ মাঠে ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হতো। কিন্তু মাঠটি ভেঙে পুকুরে চলে যাওয়ায় খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে এলাকার যুবসংঘের সদস্য আল আমিন মণ্ডল বলেন, 'আগে বিদ্যালয় মাঠে আমরা ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার আয়োজন করতাম। শত শত দর্শক উপস্থিত থাকত। বর্তমানে মাঠ ভেঙে পুকুরে যাওয়ায় কোনো প্রকার খেলার আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।'এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেনা পারভিন বলেন, 'মাছ চাষের কারণে মাটি সরে গিয়ে বিদ্যালয় ভবন হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া করোনার সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা গবাদিপশু পুকুরে গোসল করিয়েছে। এতে ধীরে ধীরে পুকুরের পাড় ও বিদ্যালয় মাঠ ভেঙে গেছে।'স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল মোল্লা বলেন, 'সড়ক ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে আমাদের বিদ্যালয়ের সীমানা ধসে পুকুরে যাবে। সড়ক, বিদ্যালয় ও খেলার মাঠ রক্ষার্থে পুকুরে মাছের চাষ বন্ধ করা উচিত।'উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, 'আমরা পুকুর ও বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। মাঠ ভরাটের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বরাদ্দ চেয়েছি। পুকুরে পড়া গাছটি সরকারি বিধি অনুযায়ী কাটার চেষ্টা চলছে।'এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জামাল আহমেদ বলেন, 'সরকারি পুকুরে মাছ চাষে সড়ক ও বিদ্যালয়ের ক্ষতি হলে পুকুরটির লিজ বাতিল করা হবে।' | 6 |
সংক্রমণ বাড়লেও বড় ক্ষতির কারণ হওয়া করোনাভাইরাসকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে সক্ষম হবে বিশ্ব। এমন দিন আসবে যখন করোনা আর মহামারি থাকবে না, সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না এবং রোগীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাবে না হাসপাতালগুলো। বিশেষজ্ঞের ধারণা, করোনাভাইরাস শেষ পর্যন্ত হয়ে যাবে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই।সম্প্রতি মার্কিন বিশেষজ্ঞ ড. ওফার লেভি সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, 'চলতি জানুয়ারির শেষের দিকে ওমিক্রন সংক্রমণের শীর্ষে পৌঁছাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০২২ সালেই এটি (করোনা) আমাদের সাধারণ জীবনযাত্রার অংশ হয়ে যেতে পারে, যা যাওয়া-আসার মধ্যেই থাকবে।'বোস্টন শিশু হাসপাতালের টিকাদান কার্যক্রমের পরিচালক ড. লেভি আরও বলেন, 'ধীরে ধীরে করোনা সংক্রমণের হার কমে আসবে এবং এরপরের শীতকালে আবার ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ বাড়তে থাকবে। অর্থাৎ করোনা হয়ে যাবে এন্ডেমিকের (মহামারির শেষ পর্যায়) মতো।'কিন্তু করোনাভাইরাস ঘন ঘন রূপ পরিবর্তন করায় কবে এই মহামারি শেষ হবে এবং মানুষ 'নিউ নরমাল' বা নতুন স্বাভাবিকে ফিরতে পারবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা।মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের টিকা সম্পর্কিত কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডা. আর্নল্ড মন্টো সিএনএনকে বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিকে প্যানডেমিক (মহামারি) বা এন্ডেমিক বলার নির্দিষ্ট কোনো পরিমাপ নেই। সুতরাং, নিয়মের ওপর ভিত্তি করে নয়, এটি সাধারণত প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তার ওপর নির্ভর করে। এখানে যা ভিন্ন তা হলো, আমরা সাধারণত যা দেখি করোনার টিকাগুলো তার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। আর এটি একটি ভালো খবর। কারণ, করোনা পরিস্থিতি আগের বছরগুলোর মতো ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা কম।''অপেক্ষা করুন এবং দেখুন'ডা. আর্নল্ডের মতে, এন্ডেমিক মানে কোনো জনগোষ্ঠীর মাঝে একটি রোগের স্থির উপস্থিতি থাকে। তবে এটি উদ্বেগজনকভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রভাবিত করে না।২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন করোনা আরও একটি সাধারণ ভাইরাসে পরিণত হতে পারে, যা কখনোই পুরোপুরি নির্মূল হবে না।মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. ফিলিপ ল্যান্ডরিগান সিএনএনকে বলেন, প্যান্ডেমিককে এন্ডেমিকে রূপান্তরিত করতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তুলতে হবে, অর্থাৎ আরও বেশি মানুষকে টিকা নিতে হবে।সম্ভাব্য ভবিষ্যৎযুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ, বিভিন্ন ল্যাব, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের ফ্লু শনাক্তের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে সিডিসি। হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং তাদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা সৃষ্টিকারী ভাইরাসগুলোর প্রভাব কেমন, তা বিশ্লেষণ করছে সংস্থাটি। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, করোনাভাইরাস সাধারণ ফ্লুতে পরিণত হলে তখন এটি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নির্ধারণ করা।মার্কিন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. স্টিফেন প্যারোডি বলেন, 'আমরা যেখানে যেতে চাই সেখানে পৌঁছানোর জন্য আরও অনেক কাজ বাকি। আমি মনে করি, ২০২২ সালের মধ্যেই আমরা বড় পরিবর্তন দেখতে যাচ্ছি।' | 6 |
ভাসানচরের ৭ ও ৮ নম্বর ক্লাস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে গতকাল শনিবার সকালে হাস্যোজ্জ্বল মুখে ভিডিওকলে কথা বলছিলেন মধ্যবয়সী এক নারী। তখন তার কোলে একটি শিশু। তার স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ছোট-বড় তিন-চারজনের ছবি ভেসে উঠছিল। পারভীন আক্তার নামের ওই নারী রোহিঙ্গা হলেও তার ভাষা বুঝতে তেমন সমস্যা হচ্ছিল না। নতুন পরিবেশে তার চোখে নতুন স্বপ্ন। তিনি যা বলছিলেন তার প্রমিত বাংলা দাঁড়ায় এ রকম- 'কক্সবাজারের চেয়ে ভাসানচর অনেক ভালো। এখানে পাকা ঘর। সবকিছু পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। বাচ্চাদের খেলার মাঠ আছে। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও অনেক ভালো। রান্নার জন্যও সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। আমরা ভালো আছি। তোমরাও দ্রুত চলে আসো। এখানে এলে দিন বদলে যাবে।' ওই রোহিঙ্গা নারী সমকালকে জানান, কক্সবাজারের লেদা ক্যাম্পে থাকা তার খালা সকিনাকে ভাসানচরের অবস্থা সম্পর্কে ফোনে জানাচ্ছিলেন। ভিডিওকলে থাকার ঘরসহ আশপাশের সব স্থাপনা এরই মধ্যে খালাকে দেখিয়েছেন তিনি। এমনকি কক্সবাজারে থাকা স্বামীকেও ভিডিওকল করে ভাসানচর সম্পর্কে অবহিত করেছেন। শুক্রবার এক হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গার সঙ্গে পারভীনও কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে এসেছেন। প্রথম রাত নতুন আবাসে কাটানোর পর ভাসানচর সম্পর্কে পারভীনের অভিব্যক্তি হলো, 'ভাসানচর সম্পর্কে এত দিন যা শুনেছি, এখানে এসে দেখি সার্বিক ব্যবস্থাপনা তার চেয়েও ভালো। কক্সবাজারের ক্যাম্পের তুলনায় ভাসানচরের সুযোগ-সুবিধা আকাশ-পাতাল ফারাক। এখানে আমাদের জন্য যে এত কিছু করে রাখা হয়েছে, তা আগে ভাবতেও পারিনি। যারা এখনও কক্সবাজারে রয়েছে, তারা দ্রুতই ভাসানচরে চলে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।' প্রথম দফায় রোহিঙ্গাদের যে দলটি ভাসানচরে এসে অবস্থান করছে, তাদের অভিব্যক্তি জানতে অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা হয় সমকালের এই প্রতিনিধির। তাদের সবার বক্তব্য মোটামুটি এ রকম- কক্সবাজারের তুলনায় ভাসানচর তাদের কাছে স্বর্গ। খোলামেলা জায়গা। বাচ্চারা এক শেল্টার হাউস থেকে অন্য শেল্টার হাউসে দৌড়াদৌড়ি করতে পারছে। স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ, মাঠসহ কী নেই এখানে! এ ছাড়া পাকা ঘর। ঝড়-বাদলায় ঘরের মধ্যে পানি ওঠার কোনো আশঙ্কা নেই। ভাসানচরের নতুন বসতিতে এসে নতুন এক জীবনের স্বাদ পাচ্ছেন তারা। রোহিঙ্গা যুবক আমির হোসেন। নিজের ঘরের বারান্দায় সন্তানদের নিয়ে গতকাল সকালে গল্প করছিলেন। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর আমির হোসেন বললেন, 'বাংলাদেশ সরকার আমাগো লইগ্যা এত বড় জায়গা দিল। গোডা এলাকায় বিল্ডিং বানাইয়্যা দিল। আমি সরকারের প্রতি খুবই খুশি। বলতে গেলে কক্সবাজারে জঙ্গলে বাস করতাম। এখানকার পরিবেশ পুরো শহরের মতো। এখন অনেক অনেক ভালো আছি, ভাই। অনেক নিরাপদে আছি।' আমির হোসেন আরও জানান, তিন মেয়ে, চার ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাসানচরে এসেছেন তিনি। কক্সবাজারে এখনও তার শ্বশুর, স্ত্রীর বড় বোনসহ পরিবারের ৫০ সদস্য রয়েছেন। তারা ভাসানচর সম্পর্কে খুব বেশি জানতেন না। এ জন্য প্রথম দফায় আসেননি। এখানে আসার পর ফোন করে ভাসানচরের সুন্দর পরিবেশ সম্পর্কে তাদের জানিয়েছি। এখন তারা আফসোস করছেন। এখানে আসতে চাচ্ছেন। কক্সবাজারের ক্যাম্পে নানা ঝুট-ঝামেলা লেগেই থাকত। ভাসানচরে এমন কিছু নেই। এটা দেখে ভালো লাগছে। সমকালের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় আমিরের ফোনের রিংটোন বেজে ওঠে। আমির বেশ উচ্চ স্বরেই কক্সবাজারে থাকা স্বজনদের উদ্দেশে বলছিলেন, 'ঘর থেকে বের হওয়ার পর ভাসানচর আসা পর্যন্ত এক পয়সাও খরচ লাগবে না। পথে নানা ধরনের খাবার দিয়েছে। আসার পর খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে যা যা দরকার, সবকিছুর ব্যবস্থা আছে। নিরাপদে শান্তিতে বসবাস করতে পারবি। আরামে ঘুমাতে পারবি। আমিরের পাশে দাঁড়ানো কিশোরী জয়নবাও বলছিল যে তারা সবাই খুব ভালো আছে। খোলা মাঠে খেলাধুলাও করা যাচ্ছে। ভাসানচরের ক্লাস্টার হাউসে কথা হয় আরেক রোহিঙ্গা কিশোরী সকিনা বেগমের সঙ্গে। বৃদ্ধ নানি নজিবা খাতুনকে নিয়ে নিজের ঘরটা ধোয়ামোছা করছিলেন সকিনা। এই কিশোরীর জীবনের গল্প আসলেই করুণ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে বাবা জামাল হোসেন ও মা সকিলা বেগমকে হারিয়েছেন তিনি। এরপর আত্মীয়দের সঙ্গে সকিনা, তার বড় বোন ও এক ভাই বাংলাদেশে চলে আসেন। সকিনার বড় বোনকে দেখভাল করছেন তাদের খালা শওকত আরা। তিনিও একই ক্লাস্টার হাউসের একটিতে উঠেছেন। সকিনার ভাই তখন বাসায় ছিলেন না। কক্সবাজার থেকে আলাদা জাহাজে করে আসা পরিবারের মালপত্রের বাক্স বুঝে নিতে গেছেন সকিনার ভাই। পিতা-মাতা হারানোর কারণে সকিনা ও তার ভাইবোনের প্রতি আলাদা দরদ অনুভব করেন প্রতিবেশীরা। সকিনা বললেন, কক্সবাজারের ক্যাম্পের পরিবেশ ছিল ঘিঞ্জি। অনেক গরম ছিল। ভাসানচরে প্রশস্ত ঘর। আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। এখন এখানে পড়াশোনাটা বেশ ভালোভাবে করতে চান সকিনা। গতকাল সকালে ভাসানচর ঘুরে দেখা যায়, রোহিঙ্গা শিশুরা মনের আনন্দে খোলা মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত। ১০ বছরের রোহিঙ্গা শিশু জাকির হোসেন তার ছোট্ট ভাই ইব্রাহিমকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে ভাসানচর ঘুরে দেখছিল। এ রকম আরও অনেককে দেখা গেল ঘুরে ঘুরে নতুন এই এলাকা দেখছে। তাদের চোখে-মুখে যেন নতুন আশা। নতুন স্বপ্ন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, নির্যাতিত-নিপীড়িত বাস্তুহারা এই মানুষগুলো নতুন করে জীবনকে সাজাতে চান। ভাসানচরে হাঁটতে হাঁটতেই নূর উদ্দিন নামের আরেক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে দেখা হয়। কমিউনিটি ক্লিনিক-১-এ স্ত্রী, শ্যালিকা ও ছোট্ট শিশুসন্তানকে নিয়ে এসেছেন তিনি। নূর উদ্দিন জানান, তার তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। মাত্র চার দিন আগে ফুটফুটে আরও এক মেয়ের বাবা হয়েছেন তিনি। ছোট্ট মেয়েকে নিয়েই ডাক্তারের কাছে এসেছেন তারা। ভাসানচরে এরই মধ্যে চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নোয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের একটি টিম ভাসানচরে রয়েছে। গণস্বাস্থ্যও কাজ করছে। ভাসানচরে দায়িত্ব পালন করছেন গণস্বাস্থ্যের ডা. আরফিন রহমান। তিনি সমকালকে বলেন, দু-এক দিন পার হলে জানা যাবে, ভাসানচরে কী ধরনের রোগী বেশি। শীতে অবশ্য অনেক বাচ্চার সর্দি-জ্বর হয়। সর্দি-জ্বরে আক্রান্তরা ওষুধ নিতে আসছেন। ভাসানচরে স্থানান্তর হওয়া রোহিঙ্গার মধ্যে খাবার সামগ্রী সরবরাহ, চিকিৎসা এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ২২টি এনজিও। প্রতিটি এনজিওর একাধিক প্রতিনিধি ভাসানচরে অবস্থান করছেন। সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা স্কাসের চেয়ারপারসন জেসমিন প্রেমা বলেন, রান্না করা খাবার, শীতবস্ত্র, চাল-ডালসহ ২৭টি আইটেম আমরা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সরবরাহ করছি। তার মধ্যে টুথপেস্ট ও নখ কাটার মেশিনও রয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের নিরাপদ জীবনের কথা চিন্তা করে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাব। আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীসহ একটি ক্লিনিক ভাসানচরে তৈরি করা হয়েছে। গতকাল একাধিক এনজিও প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গাদের খাবারদাবারসহ সব ধরনের সহায়তার জন্য তারা প্রস্তুত। আগামীতে এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আরও যারা আসবে, তাদের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| 6 |
দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। তবে এজন্য তাকে আদালতে আপিল করতে হবে এবং আদালতে তা গৃহীত হতে হবে বলেও জানান তিনি। সোমবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম এসব কথা জানান। এরপর রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'আদালত যদি খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন গ্রহণও করেন, তাহলেও উনাদের মতো লোকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে বলে আমার মনে হয়। তবে সব কিছু নির্ভর করবে আদালতের উপর। আদালত যেভাবে আদেশ দিবেন, আমরা সেভাবে কাজ করব।' বিডি-প্রতিদিন/২৯ অক্টোবর, ২০১৮/মাহবুব | 6 |
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ফের দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার মামলার তদন্ত সংস্থা র্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস নতুন করে এ দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে গত সাত বছরে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৭০ বার পেছালো। ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানার মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়। এরপর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা হিসেবে এর তদন্ত ভার মহানগর ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে হত্যা মামলাটির তদন্ত ভার র্যাবের ওপর ন্যস্ত করা হয়। মামলায় রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আটজন। মামলার অপর আসামিরা হলেন- বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল, তানভীর ও আবু সাঈদ। | 6 |
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে দ্রুতগতিতে বাড়ছে ধনু নদের পানি। আজ রবিবার দুপুরে নদের পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে খালিয়াজুরী উপজেলার ফাটলকৃত কির্তনখোলাসহ বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বেরি বাঁধ। যে কোনও সময় বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। এই সাত কিলোমিটার কির্তনখোলা বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে শুধু নেত্রকোনাই নয়, সুনামগঞ্জের শাল্লার হাওরের ফসলও তলিয়ে যাবে বলে জানান কৃষকরা। যে কারণে ৫ কিলোমিাটর হেঁটে এসে প্রতিদিন বাঁধে মেরামতের কাজ করছেন বলে জানান শাল্লা থেকে আসা কৃষকরা। তারা বলেন- ৩০ থেকে ৪০ জন প্রতিদিন আসছেন বাঁধে কাজ করতে। এতে কিছু পারিশ্রমিকও পাচ্ছেন। অন্যদিকে, নিজেদের কষ্টের ফসল রক্ষার চেষ্টাও করছেন। এমন অবস্থায় গত কয়েকদিন ধরেই তারা এই বাঁধ রক্ষায় আবারো প্রাণপ্রণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও বাঁধগুলো এখানো অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। কারণ এই বাঁধ শুধুমাত্র নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল-মদন-মোহনগঞ্জ খালিয়াজুরী ছাড়াও সুনামগঞ্জের দিরাই, শাল্লার বেশ কিছু হাওরের জমি রক্ষা করে। কৃষকরা জানান, আগাম জাতের ব্রি ২৮ ধান পাকলেও হাইব্রীড ২৯ সহ অন্যান্য ধান পরিপক্ষ হতে এখনো সময় লাগবে আরো ৮ থেকে ১০ দিন। এরপরও ইতিমধ্যে তারা কাঁচা ধানই কেটে ফেলছেন। খালিয়াজুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুল ইসলাম জানান, তারা বাঁধের উপরই রয়েছেন। পানি ছুঁই ছুঁই করছে। বাঁধ এখনো টিকিয়ে রেখেছেন। বাকি চেষ্টাও করে যাচ্ছেন। জেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এবার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মাঝে শুধুমাত্র হাওরেই আবাদ হয়েছে ৪১ হাজার হেক্টর। ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত কাঁচা পাঁকা প্রায় ৫৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে দাবি করেন তারা। অন্যদিকে মাঠের বাস্তবতায় এখনো ধান পরির্পূর্ন হতে এক সপ্তাহের উপরে লাগবে বলে কৃষকরা জানান। তারপরও কাঁচা ধানই কাটছেন তারা। যে কারণে ধানের দাম কমসহ ওজনে কম হচ্ছে। সব মিলিয়ে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে রযেছে বলে জানান মল্লিকপুর গ্রামের জলি তালুকদার, নিবারুন তালুকদারসহ হাওরের কৃষকরা।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 6 |
গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। তাই এসময় বিভিন্ন সংক্রাক ব্যাধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়, তার মধ্যে কোভিড-১৯ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। করোনা আক্রান্ত হয়ে গর্ভবর্তী মা অনেক সময় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং করোনা আক্রান্ত হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শেষ তিন মাসে গর্ভবতীর মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় কোভিড ১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতীর হয়ে তৈরি হয়ে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এজন্য গর্ভবতীকে অবশ্যই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন : সন্তান একজন মায়ের জীবনের পরিপূর্ণতা এনে দেয়। সন্তান ধারণ থেকে শুরু করে সন্তানের প্রসব পর্যন্ত মায়ের শরীরের বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন হতে থাকে। এসময় একজন মায়ের শারীরিক ও মানসিক যত্নের একান্ত প্রয়োজন। গর্ভবতী মায়েদের অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আরামাদায়ক টিলাঢালা পোশাক এবং মাপ অনুযায়ী নরম জুতো পরা উচিত। খাদ্য তালিকা : গর্ভবতী মায়েদের সুষম খাদ্য তালিকা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ আবশ্যক। এতে করে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত ও খাদ্যঘাটতি দূর করা সম্ভব। এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, প্রচুর পরিমানে শাক সবজি ও মৌসুমি ফল খেতে হবে। প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। খাদ্যাভাসে সতকর্তা : অতিরিক্ত পরিশ্রম না করে হালকা হাঁটাচলা করা উচিত। ভারী জিনিস উত্তোলন বা বহন করা যাবে না। সিড়ি বেয়ে উঠার সময় এবং পিচ্ছিল স্থানে হাঁটার সময় সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে। বিশ্রাম : গর্ভকালীন সময়ে দিনের বেলা অন্তত দুই ঘণ্টা এবং রাতে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক। ভ্রমণকালীন সতকর্তা : গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস ও শেষ তিন মাস দীর্ঘ ভ্রমণের পরিকল্পনা বাদ দেওয়াই স্রেয়। উঁচু নিচু পথ কিংবা ঝাঁকির আশঙ্কা আছে এমন যানবাহনে ভ্রমণ পরিহার করতে হবে। সকালে ও বিকালে কিছু সময়ের জন্য ফুলের বাগান, লেকের পাড় ও পার্ক এসব স্থানে ভ্রমণ কলে গর্ভবতীর মন প্রফুল্ল ও শরীর সুস্থ থাকবে।
শরীরের বিশেষ যত্ন ও রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ : প্রতিনিয়ত সাবান পানি দিয়ে ভালভাবে গোসল করতে হবে এবং হাত পায়ের নখ কেটে ছোট রাখতে হবে। গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের দাঁতগুলো বেশ নরম হয়ে যায়, তাই নিয়মিত দু'বেলা দাঁত ব্রাশ করতে হবে। ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে টিটেনাসের টিকা নিতে হবে।
গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। তাই বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম, চিকেন পক্স ইত্যাদি ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত রোগী থেকে দূরে থাকতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য : গর্ভকালীন সময়ে শরীরের বিভিন্ন হরমোনের তারতম্য ঘটতে থাকে। তাই এই সময় মায়েরা বিভিন্ন মানসিক চাপ ও দুশ্চিতার মধ্যে দিয়ে যায়। যা তাদের জন্য এবং অনাগত সন্তানের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই অতিরিক্ত আবেগ, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা-ভয় ও রোগ-শোক ইত্যাদি গর্ভবর্তী মায়ের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, তাই এসব এড়িয়ে ভালো চিন্তা করতে হবে। বিশেষ সতর্কতা : প্রথম তিন মাস ও শেষ তিন মাস স্বামীর সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা যাবে না। সব ধরনের ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়া আবশ্যক। লেখক : কনসালটেন্ট, ব্রাক আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, ঢাকা। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 4 |
দোষী একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও দোষ চিহ্নিত করা হয়নি। তবে প্রতিমন্ত্রী মশাই যে 'উল্টো-পাল্টা' করেছেন, তা মোটামুটি নিশ্চিত। নইলে কি আর এ দেশে কাউকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আসে? কিন্তু তাতেই কি সব মুরোদওয়ালা সোজা হয়ে যাবে?সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। সেসবের মধ্যে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও তাঁর পরিবারের নারী সদস্যদের বিরুদ্ধে কটূক্তি আছে, আছে একজন চিত্রনায়িকাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও। আর এসব নিয়ে মাঠ গরম হতে না হতেই আসতে থাকল একের পর এক অভিযোগ।পদত্যাগের পুণ্যস্নান সেরে উঠলেন মুরাদ, এবার কী হবেধারাবাহিকভাবে জানা গেল, সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও নাকি মুরাদ হাসানের খারাপ ব্যবহারে অতিষ্ঠ। তাঁর নির্বাচনী এলাকা জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকেও একই খবর এল। বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মুরাদ হাসানকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে বদলির পেছনেও নাকি তাঁর বাজে ব্যবহার প্রভাবক ছিল। আর এসব খবর মিলে যেতে লাগল মুরাদ হাসানের সেই বক্তব্যের সঙ্গে, 'আমার মুখ ভীষণ খারাপ'।এ দেশে গত কয়েক বছরে একটি বিষয় লক্ষণীয়। কেউ ভালোভাবে ফেঁসে গেলে, সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যায়। অনেকটা কারেন্ট জালে আটকানোর মতো বিষয়টা। যতই মাছ নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করুক না কেন, জালে আরও আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে যেতে হয়। বের হতে থাকে একের পর এক বিতর্কিত ভিডিও, অডিও, কল রেকর্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। বিষয়টি এমন যে, সবাই সব বিতর্ক পকেটে পুরে বসেছিলেন। আর যে-ই না ম্যাচের কাঠি জ্বলল, অমনি দাবানল বনে গেল!এখন যদি প্রশ্ন ওঠে যে, শুধু কি মুরাদ হাসানেরই মুরোদ ছিল অভিযোগ তোলানোর মতো অপরাধ করার? নাকি আরও অনেকেরই এমন আছে? হয়তো সেসব কীর্তিকলাপ কোথাও না কোথাও জমা হয়ে তা দিচ্ছে, একদিন আলোর মুখ দেখবে। কারণ এ দেশে সবকিছুরই যে সময় ঠিক করা আছে! যেদিন গায়েবি আদেশ হবে, সেদিনই লাগবে গন্ডগোল।মুরাদ ফেসবুকে ক্ষমা চেয়ে যা বললেনআর এই জায়গাতেই আছে সমস্যার মূল। আমরা হরহামেশা পত্রপত্রিকায় হাজারো অভিযোগ-অপরাধের খবর পাচ্ছি। চলমান ইউপি নির্বাচনের কথাই ধরুন। কেউ নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে ক্রসফায়ারের হুমকি দিচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন 'লাইনে' না থাকলে বা অনুগত না থাকলে কড়কে দেওয়ার সতর্কতা। কেউ আবার সরকারি চাকরি করে প্রশাসনিক পদে থেকে কারও ছাল-চামড়া তুলে নেওয়ার কথা বলছেন প্রকাশ্যে, অবলীলায়। সবই কিন্তু হচ্ছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ছত্রচ্ছায়ায়। আরও স্পষ্ট করে বললে, এসব কিছুর মূলে আছে ক্ষমতার চর্চা। সেই সর্বগ্রাসী ক্ষমতা তৈরিই হয়েছে রাজনীতি ভুল পথে যাওয়ায়, ভুল প্রক্রিয়ায় একক আধিপত্য তৈরি করায়। কারণ, একাধিপত্য তৈরি না হলে ক্ষমতা একচ্ছত্র হয় না। ঠিক তেমন ক্ষমতার ছায়াতেই একেকজন দলীয় ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় পদে থেকেও একজন স্বাধীন নাগরিককে 'তুলে' নেওয়ার হুমকি দিতে পারেন।সরকারি ওয়েবসাইটে এখনো প্রতিমন্ত্রী মুরাদরাষ্ট্রীয় পদ এখন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা গেছে চলমান ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা দেখে। ক্রমান্বয়ে সংসদ সদস্য পর্যন্ত সব পদেই আছে এ তালিকা, যাঁরা যেকোনোভাবে ক্ষমতায় যেতে ইচ্ছুক। আসলে এ দেশের প্রশাসনিক পুরো কাঠামোই ক্ষমতাবান্ধব হয়ে গেছে। পাঠক, আপনারা কি কেউ বলতে পারবেন সর্বশেষ কবে শুধু নাগরিক হিসেবে কর্তৃপক্ষের শ্রদ্ধা পেয়েছেন? সেটি নেই বলেই সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন নাগরিকের মুখে 'স্যার' ডাক না শুনলে ক্ষেপে যান। কারণ, সাংবিধানিকভাবে জনগণের প্রতি নিবেদিত সরকারি কাঠামো এখন বাস্তবে ক্ষমতার প্রতি নিবেদিত। আর সামাজিকভাবে প্রতিটি মানুষ যখন এসব দেখেই অভ্যস্ত হয়ে যান, তখন তাঁরাও টিকে থাকার জন্য ধীরে ধীরে হতে থাকেন ক্ষমতার পূজারি। সেই পূজা তখনই শেষ হয়, যখন ক্ষমতা আর উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটির পকেটে থাকে না। সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও কি বিষয়টি তেমনই?না বলে হোটেল ছেড়েছেন মুরাদযদি তা-ই হয়ে থাকে, তবে ক্ষমতার বাড়বাড়ন্ত এ দেশের যত কোনায় আছে, সেসব স্থানে মুরোদওয়ালা এমন মানুষ মিলবে টনকে টন। হিসাব করে লিখে রাখাও কঠিন হবে। শুধু একবার চোখ বন্ধ করে চারপাশের কথা ভাবুন তো! কী, পাচ্ছেন না?মুরাদ হাসান 'মুখ খারাপ' করে হুমকি দেওয়ার পর এখন অবশ্য ক্ষমা চাইছেন। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, 'আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি অথবা আমার কথায় মা-বোনদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।' ক্ষমা যখন চেয়েছেন, তখন অবশ্যই তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, ভুল কিছু না কিছু হয়েছে। কিন্তু মুখ খারাপ করার পর একটি স্ট্যাটাসে ক্ষমা চাইলেই কি সব দোষ মাফ হয়ে যায়? যদিও এই বঙ্গীয় ব-দ্বীপের অধিকাংশ নাগরিক তেমন স্মৃতিধর নন। নানা ঝঞ্ঝাট, সময়ও কম। ফলে কিছু ভুলে যেতে খুব একটা সময় লাগে না। নইলে কি আর 'মুখ খারাপ' রাজনীতিক তিন তিনবার সংসদে পা রাখেন? হয়তো সেই সুযোগটাই সংশ্লিষ্টরা নিতে মরিয়া।নাকি এ দেশের নাগরিকদের ক্ষমা করতেই হবে? কে জানে, অদূরভবিষ্যতে সেই ক্ষমা করতে বাধ্য হওয়ার ধমকিও আসে কি না!লেখক: সহকারী বার্তা সম্পাদক, আজকের পত্রিকা | 8 |
প্রথমবার ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে খেলেছিল কানাডা। সেবার গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচই হেরেছিল তারা। এরপর কেটে গেছে ৩৬ বছর! আর কোনো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পায়নি তারা। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাতার বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে সক্ষম হয়েছে কানাডা। রবিবার (২৭ মার্চ) রাতে কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বে জ্যামাইকাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কানাডা। এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চল থেকে সবার আগে কাতারের টিকিট কাটলো তারা। এদিন অবশ্য ড্র করলেও চলতো তাদের। কিন্তু ঘরের মাঠের দর্শকদের হয়তো হতাশ করতে চাননি দলটির ফুটবলাররা। প্রতিপক্ষের জালে চারটি গোল দিয়েছেন। কনকাকাফ অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোরও বিশ্বকাপ খেলা প্রায় নিশ্চিত। তবে কাগজে-কলমে তারা এখনো কোয়ালিফাই করেনি। আরও একটি ম্যাচ বাকি, সেটির পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। রবিবার পানামাকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, হন্ডুরাসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে মেক্সিকো। দুই দলেরই পয়েন্ট এখন ২৫। আর কোস্টারিকার পয়েন্ট এখন ২২। | 12 |
কারা নির্যাতিত ভাষা সৈনিক ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রথম নারী শিক্ষক প্রফেসর লায়লা নূর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় কুমিল্লার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর। তিনি দীর্ঘদিন যাবত বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।শুক্রবার বাদ আসর নগরীর ধর্মপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাযা শেষে গাজীবাড়ি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। লায়লা নূর ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্বব্যিালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী থাকাকালিন সময়ে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে মিছিল করায় গ্রেফতার হন এবং ২১ দিন কারাভোগ করেন। তিনি ১৯৫৭ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে প্রথম নারী শিক্ষক হিসেবে ইংরেজি বিভাগে যোগ দেন ও ১৯৯২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। প্রফেসর লায়লা নূর ১৯৩৪ সালের ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০১৪ সালের অনন্যা শীর্ষ দশ নারী পদক পান। | 6 |
মৌলভীবাজার শহরে এক মাসের অধিক সময় ধরে গ্যাসের সংকট থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নিভু নিভুভাবে জ্বলে চুলা। ফলে রান্নায় ব্যাঘাত ঘটছে শহরজুড়ে। এ অবস্থা শুধু বাসাবাড়িতে নয়; হোটেল, রেস্তোরাঁতেও।শহরের চৌমুহনী, কোর্ট রোড, শমশেরনগর রোড, কুসুমবাগ, চাঁদনীঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকাতে গ্যাসের স্বল্প চাপ রয়েছে, ফলে ঠিকমতো রান্না করা যাচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওইসব এলাকার বাসিন্দা। রান্না করতে হলে অবলম্বন করতে হচ্ছে ভিন্ন উপায়। দুপুরের বেলাটা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই সময় দুর্ভোগ বাড়ছে বেশি। বাসাবাড়ি, হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, কটেজ সর্বত্রই এ সমস্যা।বাসাবাড়িতে রান্নায় যুক্ত নারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শহরের গীর্জাপাড়ার বাসিন্দা শিক্ষিকা চৈতী ভট্টাচার্য বলেন, 'স্কুলে যাওয়ার আগে তাড়াহুড়ো করে ভোরেই রাঁধতে হয়। সকালের পরই গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকে।'গৃহিণী রীনা দত্ত বলেন, 'আমাদের বড় পরিবার। সকাল, দুপুর ও রাতে তিনবেলা রান্না করতে হয়। এখন সকালের পর থেকে ৩টা পর্যন্ত গ্যাসের চুলার আগুন কম থাকে। ফলে রান্না করা অনেক কষ্টের। বড় পরিবার থাকায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার ও চুলার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এই গ্যাসসংকট আমাদের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানাই।'বেশ কয়েক দিন ধরে গ্যাসের স্বল্প চাপ রয়েছে; যা দিয়ে রান্নাবান্না করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান, চাঁদনীঘাটের বাসিন্দা ফৌজিয়া বেগম। ফৌজিয়া বেগম বলেন, 'আমাদের এলাকার সবাই এখন ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের খাবারের সমস্যা হচ্ছে।'শহরের এক রেস্তোরাঁর মালিক অপূর্ব দেব বলেন, 'গ্যাসের এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে। বাসাবাড়ি, হোটেলে একই সমস্যা। গ্যাসের কার্যালয়ে জানানোর পর কোনো সমাধান পাচ্ছি না। সংকটে ঠিকমতো রান্নাও করা যাচ্ছে না। বেশ সকাল থেকে রান্নার কাজ শুরু করতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রান্না করা খাবার ঠান্ডা হয়ে যায়। গ্রাহকেরা নানা মন্তব্য করেন। এই দুর্ভোগের নিরসন চাই।'মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, 'গ্যাসের কারণে শহরবাসী ভোগান্তিতে রয়েছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে সংকট আরও বাড়বে। জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাই দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।'এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আঞ্চলিক প্রধান আওলাদ হোসেন জানান, সারা দেশে গ্যাসের সংকট রয়েছে। মৌলভীবাজারও এই সংকটের বাইরে না। তবে জেলায় বর্তমানে দু-তিন ঘণ্টা অধিক চাপ থাকায় গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণ সবাই একসঙ্গে গ্যাস ব্যবহার করছেন।এ সমস্যা সমাধানে মৌলভীবাজারে আরও একটি পাইপলাইন টানা হবে। নতুন পাইপলাইন সংযুক্ত হলে সমস্যার সমাধান হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। | 6 |
শুভ্রনীল আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে সরিষার খেত। মাঠে মাঠে হলুদ রঙা সরিষা ফুলের হাসি। সাদা বক দল বেঁধে ধানখেতে ব্যস্ত মাছ শিকারে। ধানের খেত প্রস্তুত করে চলেছেন কৃষকের দল। রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের সড়ক ধরে নবাবগঞ্জের দিকে এগোলে এমন নৈসর্গিক দৃশ্যের ছবি চোখের সামনে ভাসবে এখন। লাল রঙের দেয়ালে খোদাই করা মহাকবি কায়কোবাদের ছবি। নবাবগঞ্জের কায়কোবাদ গেট দিয়ে ঢোকার পর প্রথম দেখা গেল, সালমা ইসলাম আর সালমান এফ রহমানের নির্বাচনী পোস্টার। রাস্তার দুই ধারে কেবল এই দুজনের পোস্টারই বলে দেয়, লড়াই হবে সালমা আর সালমানের মধ্যেই। কে হবেন ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনের সাংসদ? জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সাংসদ হওয়া সালমা ইসলাম এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী। যমুনা গ্রুপের পরিচালক ও দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশক এই নারী প্রার্থীর প্রতীক মোটরগাড়ি। আর বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালমান এফ রহমানের প্রতীক নৌকা। বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়ন উচ্চ আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ভোটারদের আলোচনায় এখন কেবল সালমা আর সালমান।তবে এর বাইরে অন্য দলগুলোর প্রার্থীও রয়েছেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কালাম হোসেন ও সিপিবির আবিদ হোসেনের কিছু পোস্টারও চোখে পড়েছে। ভোটারের মন শুক্রবার বিকেলে দোহারের চা-দোকানি বাদশা মিয়া চুপচাপ বসেছিলেন। পরিচয় দিয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, 'ভাই, এখানে ভোটের কী খবর?' জবাবে বাদশা মিয়া বলেন, 'ভোটের আর কী খবর হবে, ভাই। এখানে বিএনপির প্রার্থী নেই। তাই লড়াই হবে গাড়ি আর নৌকায়।' বাদশা মিয়ার সঙ্গে যখন এই আলাপ চলছিল, তখন মোটরগাড়ির আদলে সাজানো একটি ভ্যান চলে যায় সালমার নির্বাচনী গান বাজাতে বাজাতে। চা-দোকানে বসে থাকা মালেক তখন বাদশার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন, দোহারের ভোটার দোহারের ছেলে সালমানকে জেতাতে চাইবেন। বাদশা তখন বলেন, দোহারের লোক চাইলে তো আর হবে না, চাচা। নবাবগঞ্জের ভোটাররাও চাইবেন সালমা জিতুক। লড়াই হবে লড়াই, তুমুল এক লড়াই। সালমানের বাড়ি দোহারের বেথুয়ায় আর সালমার বাড়ি নবাবগঞ্জের কামারখোলা গ্রামে। দোহারের তুলনায় নবাবগঞ্জের ভোটারের সংখ্যা বেশি। দোহার-নবাবগঞ্জের প্রায় পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য বিদেশে আছেন। যে পরিবারের সদস্য বিদেশে আছেন, সেই পরিবার যথেষ্ট সচ্ছল। মিনি কক্সবাজার খ্যাত দোহারের মৈনটঘাটের দিকে সালমানের পোস্টার সালমার থেকে বেশি চোখে পড়ে। নবাবগঞ্জ-দোহারের বাজারে বাজারে সালমানের নৌকার নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র দেখা গেল। অবশ্য সালমার নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্রও আছে বাজারগুলোতে। সমান তালে চলছে নির্বাচনী প্রচার আর গান। দোহার ঘুরে এলাম নবাবগঞ্জে। মোসলেম উদ্দিনের চায়ের দোকানে বসে কয়েকজন ভোটার নির্বাচনী আলাপে ব্যস্ত। একজন বলছিলেন, বিএনপির ভোট যার পকেটে বেশি পড়বে, তাঁর জেতার সম্ভাবনা বেশি। চা-দোকানি মোসলেম বললেন, কে জেতে ভাই, আগে থেকে কেউ বলতে পারবে না? ভোটের দিন যতই কাছে আসছে, ভোটের উত্তাপ ততই বাড়ছে দোহার-নবাবগঞ্জে। ভোটারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সালমা আর সালমান। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সারা দিন ঘুরে সন্ধ্যার পর নবাবগঞ্জ হয়ে যখন ঢাকার পথে রওনা হলাম, তখন চা-দোকানি বাদশা মিয়ার কথাটা মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। বাদশা মিয়া বলেছিলেন, 'যে যা-ই বলুক ভাই, এখানে যুদ্ধ হবে দোহার বনাম নবাবগঞ্জের মধ্যে।' এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪০৭। ভোটারের মন জয় করে কে হবেন তাঁদের প্রতিনিধি তা জানার জন্য আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। | 9 |
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বলেছেন, নাগোরনো-কারাবাখ পার্বত্য অঞ্চল থেকে আর্মেনিয়া সেনা প্রত্যাহার করে নিলে তিনি ওই অঞ্চলে তার দেশের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবেন। বুধবার সীমান্ত সংঘর্ষে আহত আজারি সেনাদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে এ শর্তের কথা বলেন তিনি। নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে আজারি প্রেসিডেন্ট বলেন, আজারবাইজান তার দেশের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া সব ভূমি পুনরুদ্ধারের কাজে নেমেছে এবং এই কাজ করার অধিকার তার দেশের রয়েছে। গত রবিবার সকাল থেকে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমান্তবর্তী বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত দু'পক্ষের বেসামরিক নাগরিকসহ শতাধিক ব্যক্তি নিহত ও কয়েকশ' মানুষ আহত হয়েছে। কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ১৯৮৮ সালে উত্তেজনা শুরু হয় যা ১৯৯১ সালে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। বিদেশি হস্তক্ষেপের কারণে বর্তমানে আবার সে সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
রাফায়েল নাদাল কি ডোপিং করে ফরাসি ওপেন জিতেছেন? এমনই প্রশ্ন উঠছে খোদ ক্রীড়াবিদদের থেকে। ফ্রান্সের কয়েকজন সাইক্লিস্টের তোলা এই প্রশ্নকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ফরাসি ওপেন জয়ের পরেই নাদাল জানান, পায়ের অসহ্য যন্ত্রণা কমাতে ইঞ্জেকশন নিতে হয় তাকে। চিকিৎসক তার পায়ের চোট লাগা জায়গা ইঞ্জেকশন দিয়ে অসাড় করে রাখেন। সেই ইঞ্জেকশন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক ক্রীড়াব্যক্তিত্ব। তারা সবাই সাইক্লিস্ট। তাদের দাবি, সাইক্লিংয়ে ব্যথা কমানোর এমন ইঞ্জেকশন নিষিদ্ধ। এই ধরনের ওষুধে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির (ওয়াডা) নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, তবে কি বিভিন্ন খেলার জন্য ওয়াডার ডোপিংয়ের সূত্র ভিন্ন? না কি নাদাল ডোপিং করেই ১৪তম ফরাসি ওপেন জিতেছেন? ফরাসি ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডের পর থেকেই পায়ে ইঞ্জেকশন নিয়ে খেলেন নাদাল। ফ্রান্সের প্রথম সারির সাইক্লিস্ট গুইলাম মার্টিন প্রশ্ন তুলেছেন, 'যদি কোনো সাইক্লিস্ট এমন করত, তা হলে কী হতো! সাইক্লিংয়ে এই ধরনের ইঞ্জেকশন অনেক আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ এমন ইঞ্জেকশন নিলে বলা হবে, সে ডোপিং করেছে। কারণ আমাদের খেলাটায় এরকমই একটা সংস্কৃতি বা আবহ গড়ে তোলা হয়েছে।' কটাক্ষের সুরে মার্টিন আর বলেছেন, 'সকলেই নাদালের প্রশংসা করছেন। বলছেন, তীব্র যন্ত্রণা নিয়েও কতদূর পর্যন্ত গিয়েছে ও। আশা করব ইব্রাহিমোভিচও এবার তার হাঁটুর ব্যথার ইঞ্জেকশন নিয়ে কিছু বলবে।' মার্টিনের যুক্তি, 'সাইক্লিং এবং টেনিস প্রায় একইরকম শারীরিক পরিশ্রমের খেলা। একই রকম সহনশীলতা প্রয়োজন হয়। সুতরাং একই রকম ওষুধ কেন ডোপিংয়ের আওতাভুক্ত হবে না!' ফ্রান্সের আরো এক খ্যাতনামী সাইক্লিস্ট থিবাট পিনোট টুইটে লিখেছেন, 'নাদাল সর্বত্রই নায়কের মর্যাদা পাচ্ছে। কিন্তু ব্যথা কমানোর জন্য নাদাল যা করেছে, সেটা তো আমাদের খেলায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দুর্ভাগ্যজনক এই বিষয়টা কি নিন্দনীয় নয়? আমার কাছে বিষয়টা অত্যন্ত হতাশার।' ফ্রান্সের সাইক্লিস্টরা নাদালের বিরুদ্ধে ডোপিংয়ের অভিযোগ তোলার চেষ্টা করলেও, তা নাকচ করে দিয়েছে ওয়াডা। সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল অলিভিয়ার নিগলি বলেছেন, ব্যথা কমানোর ইঞ্জেকশন নিষিদ্ধ তালিকায় নেই। ১৩টা ফরাসি ওপেন যে ইঞ্জেকশন ছাড়াই জিতেছে, ১৪তম খেতাবের জন্য তার ডোপিং করার দরকার নেই। নিগলি বলেছেন, 'নিষিদ্ধ তালিকায় সেই ওষুধগুলোকেই রাখা হয়, যেগুলো পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে। ওষুধগুলো শুধু শরীরের জন্যই ক্ষতিকর নয়, খেলাধুলোর নীতির বিরোধী। অবশ করার ইঞ্জেকশন কখনই নিষিদ্ধ তালিকায় নেই। এই ধরনের ইঞ্জেকশন শরীরে কোনোরকম উত্তেজনা তৈরি করে না। তাই এই প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক। অবশ করার ইঞ্জেকশন পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে না।' ওয়াডা কর্মকর্তা আরো বলেছেন, 'নীতি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। এক জন সেরা মানের ক্রীড়াবিদের কি ইঞ্জেকশন নিয়ে খেলা উচিত? এই প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। সেটাও চিকিৎসক এবং চিকিৎসা নীতির বিষয়। ইঞ্জেকশনই নাদালকে ১৪তম ফরাসি ওপেন জিতিয়েছে, এটা মনে করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।'সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা | 12 |
কুড়িগ্রামের 'উত্তরবঙ্গ জাদুঘর'র নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রালয়ের বরাদ্দ করা দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ শতাংশ জমিতে চারতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বুধবার বিকেল ৩টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। জাদুঘরটি দেখতে সময়ে-অসময়ে নানা বয়স-পেশার মানুষ সেখানে ছুটে যান। ঘুরে ফিরে দেখেন। জাদুঘরটি দেখতে পদস্থ কর্মকর্তাসহ দেশের অনেক গুণিব্যক্তি এসেছেন বিভিন্ন সময়ে। আব্রাহাম লিংকন মূলত মুক্তিযুদ্ধের গবেষণায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক দুর্লভ স্মারক সংগ্রহ করেন। এগুলো নিয়ে নিজের বাড়িতে একক প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছিলেন জাদুঘরটি। ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল যাত্রা শুরু হয়েছিল জাদুঘরটির। দীর্ঘ ৯ বছর পর জাদুঘরটি নিজস্ব ঠিকানায় যাচ্ছে। জমিটি দান করেছেন প্রতিষ্ঠাতা লিংকন নিজেই। এর নকশা করেছেন ঢাকার 'নকশাবিদ' নামে একটি ফার্মের পক্ষে প্রকৌশলী বায়েজীদ মাহবুব খন্দকার। এ জাদুঘরের কাজ আাগামী দুই বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। জাদুঘরটিতে রয়েছে বৃহত্তর রংপুর জেলার পাঁচ হাজার ৮৬৫ জন রাজাকারের তালিকা। তাদের ক্ষমা প্রার্থণার দলিল, শান্তি কমিটির সদস্যদের তালিকা, রৌমারী রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত কিছু ডামি রাইফেল, ভূরুঙ্গামারী রণাঙ্গণে পাকিস্তানি বাহিনীর ছোঁড়া বিস্ফোরিত মর্টার শেল, গ্রেনেড-গোলার বাক্স ও নানা দলিল রয়েছে এই জাদুঘরে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
সরকার নিজেদের ব্যর্থতা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন আড়ালের উদ্দেশ্যে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সুপরিকল্পিতভাবে ঢাকায় গণপরিবহনে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এখন সেই ঘটনার দায়-দায়িত্ব বিএনপি'র ওপর জবরদস্তিমূলক চাপিয়ে দিতে ষড়যন্ত্রমূলক বানোয়াট মামলা দায়েরের মাধ্যমে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের সহস্রাধিক নেতা-কর্মীকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করছে এবং গ্রেপ্তারের নামে বাসাবাড়ীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুরসহ পরিবারের সদস্যদের সাথে অশালীন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে। মঙ্গলবার দুপুরে দলটির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যখন নিন্দা ও ধিক্কারের ঝড় উঠেছে, তখন সরকার স্বভাবসূলভভাবে মিথ্যাচার ও নাটক সাজিয়ে আবারও জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে। সরকার বলছে, সিসি টিভি ফুটেজ দেখে মামলা হয়েছে, অথচ একটি মামলার বাদী হিসেবে যাকে দেখানো হয়েছে তিনি নিজেই অস্বীকার করেছেন যে, তিনি মামলা দায়ের করেননি। মির্জা ফখরুল বলেন, ভুয়া বাদীর সেই মামলায় বিএনপি'র নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে করোনাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে-বিদেশে হাসপাতালে বা বাসায় দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসাধীন, কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেশনে থাকা এমনকি দুই বছর যাবত পঙ্গুত্ববরণকারী নেতাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী নেতাকর্মীদের এহেন মিথ্যা অভিযোগে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন,সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী সিসি টিভি ফুটেজ অনুযায়ীই যদি আসামি করা হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন-বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ অসুস্থ, আহত, চিকিৎসাধীন কিংবা ঢাকার বাইরে ও বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদেরকে মামলায় আসামি করা হলো কিসের ভিত্তিতে? প্রকৃত অর্থে এই মামলাগুলো যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট তা সুনিশ্চিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই ফ্যাসিবাদী সরকারের এই অপতৎপরতা। বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ এবং গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি ও দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। | 6 |
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. শাহনেওয়াজ শাহানশাহকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই সিদ্ধান্ত কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।এ সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ওয়াজিউল্লাহ্। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শাকিরুল আলম ও মেছবা উদ্দীন শরীফ।বহিষ্কারের পর বরখাস্ত মেয়র শাহানশাহএর আগে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষা কর্মকর্তাকে থাপ্পড় দেওয়ার অপরাধে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় শাহনেওয়াজ শাহানশাহকে। পরে গত ২১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে ওই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন শাহনেওয়াজ।আরও পড়ুন:শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছনার দায়ে দেওয়ানগঞ্জের পৌর মেয়র সাময়িক বরখাস্ত | 6 |
প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া এই ভাইরাসটি বর্তমানে বিশ্বের ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত সারা বিশ্বের ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ লাখ ৩ হাজার ৯৬৩ জন এবং মারা গেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ২২৭ জন। করোনা সংক্রমণে শীর্ষ ১০ দেশ হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, চীন, তুরস্ক, ইরান ও রাশিয়া। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও বেশি মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে। সোমবার পর্যন্ত দেশটিতে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৪০ হাজার ৬৭৭ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত স্পেনে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭৪ জন এবং মারা গেছে ২০ হাজার ৪৫৩ জন। তবে মৃতের সংখ্যার দিক দিয়ে তৃতীয় স্পেনে। তৃতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে ইতালিতে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭২ জন এবং মারা গেছে ২৩ হাজার ৬৬০ জন। মৃত্যুর সংখার দিক দিয়ে ইতালি দ্বিতীয়। | 3 |
ব্যবস্থাপনাপত্র ছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের বড় একটি অংশ বিক্রি হচ্ছে। গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ মাত্রাতিরিক্ত খাবার ফলে ৪৫ শতাংশ গ্যাস্ট্রিক আলসার হয়। এতে মাইক্রো নিউক্রিয়েন্ট লস হয়ে দেহের ফ্রাকচার হয়। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বিটামিন -১২, আয়রন এই পিপিআই ব্যবহারের ফলে ডিফিসিয়েন্ট হচ্ছে। তাই যত্রতত্র গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের ব্যবহার কমাতে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। রবিবার (২২ মে) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এ ব্লকের মিলনায়তনে এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা যদি নিয়মমাফিক চলাফেরা করি তাতেও এসিডিটি হবে না। এসিডিটি না হলে ওষুধ খাওয়া লাগবে না। ওষুধ খাওয়া হলে আরেকটি রোগ তৈরি করা হয়। একটি রোগের জন্য ওষুধ খেলে আরেকটি রোগের সৃষ্টি হতে পারে। প্রোটন-পাম্প ইনহিবিটর হচ্ছে এমন ধরনের ওষুধ যার প্রধান কাজ হলো পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষ থেকে এসিড নিঃসরণ কমানো। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাজীবুল আলম বলেন, গ্যাস্ট্রিকের ওষুদের বড় অংশ বিক্রি হচ্ছে ব্যবস্থাপনাপত্র ছাড়া। রোগীর একটু পাতলা পায়খানা, মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথাসহ নানা জটিলতা দেখা দিলে ফার্মেসি দোকানীরা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দিচ্ছেন। এই ক্ষেত্রে একটু পানি পান করালে বা হালকা কিছু ওষুধ ব্যবহার করলে এই সমস্যা সমাধান করা যেত। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থাপনা পত্র ও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনের কারণে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে। গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনের কারণে গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার, স্মৃতিভ্রমের মতো ঘটনা ঘটতে পারে এমনকি ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম কমে আসতে পারে। তিনি বলেন, রোগীর প্রয়োজন পড়লে অবশ্যই এ ধরনের ওষুধ ব্যবস্থাপনায় লিখতে হবে কিন্তু অপ্রয়োজনীয়ভাবে ও অতিমাত্রায় এর ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। যত্রতত্র এবং অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের ব্যবহার কমাতে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ইউএসএ ও ইউকে যখন ইচ্ছা তখন ওষুধ বিক্রি এবং কিনা সম্ভব নয়। বছরে তিনবার গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ কিনতে পারবেন। আপনি কিনতে পারবেন না। কারণ ওখানে সবকিছু রেকর্ড থাকে আর এর বিল পে করে কোনো বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠান। যদি আমাদের দেশে স্বাস্থ্যবীমা থাকতো। ওষুধ বিক্রি ও কেনা এবং তদারকি করা সম্ভব হতো তাহলে এই অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্যাস্ট্রোএন্টারলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাজিবুল আলম, ফার্মাকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শরবিন্দু কান্তি সিনহা। নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সবুজের সঞ্চালনায় প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররাফ হোসেন, উপ- উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। | 4 |
পদোন্নতি পেয়ে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হয়েছেন মো. নূরুল আজীম। এর আগে তিনি ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) হিসেবে প্রিন্সিপাল শাখার ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন। মো. নূরুল আজীম ২০০১ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর তিনি ২০০৫ সালে সাউথইস্ট ব্যাংকে যোগদান করেন এবং গুলশান শাখায় ক্রেডিট, ফরেন ট্রেডসহ বিভিন্ন বিভাগের সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১০ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগদান করেন এবং শাখার অপারেশন্স ম্যানেজার ও ম্যানেজার পদে স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের মে মাসে মো. নূরুল আজীম এসবিএসি ব্যাংকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে যোগ দেন এবং গুলশান শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে অত্যন্ত সফলতা সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে পদোন্নতি পান। এরপর ২০১৯ সালের মার্চ থেকে তিনি সাউথ বাংলা ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দীর্ঘ ২২ বছরের ব্যাংকিং পেশায় তিনি সর্বক্ষেত্রে দক্ষতা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন। চাকুরি জীবনে তিনি পরিকল্পনা গ্রহণ, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, নেতৃত্ব প্রদান, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাসহ সম্পদের গুণগত মানসম্পন্নে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকের এই শীর্ষস্থানীয় পদে আসীন হন এবং কয়েকবার সেরা ব্যবস্থাপকের স্বীকৃতি অর্জন করেন। তিনি ক্রেডিট, ইন্টারন্যাশনাল, ক্রেডিট এডমিনিস্ট্রেশন, অডিট, ফাইন্যান্সিয়াল এডমিনিস্ট্রেশন ডিভিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে সাফল্য রেখেছেন। মো. নূরুল আজীম কলকাতার রবীন্দ্র ভারত বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে বি.এ. (সম্মান) এবং এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দেশের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, গ্রিন ব্যাংকিং ও গ্রিন ফাইন্যান্সিং, এনভায়রনমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজমেন্ট, ফাইন্যান্সিং স্মল এন্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ, ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট, ইনভেস্টমেন্ট এন্ড মার্চেন্ট ব্যাংকিং, লেন্ডিং রিস্ক এনালাইসিস ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিতে সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড সফল করেন। তিনি ক্রেডিট ও ফরেন ট্রেড বিষয়ে প্রশিক্ষক হিসেবেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্লাশ নেন। | 0 |
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার উৎসব-২০২০ উদযাপিত হবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এই উৎসবের আয়োজন করছে। ১১ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উৎসবে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও অস্ট্রেলিয়ার শতাধিক অংশগ্রহণকারী মাউন্টেইন বাইকিং, কায়াকিং, ক্যানিওনিং, হাইকিং, ট্রেইল রান, রোপ কোর্স, টিম বিল্ডিং, টি ট্রেইল হাইকিং, সেইলিং বোটসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেবেন। এর মধ্যে পার্বত্য এলাকা থেকে ৩১ জন, দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে ৫৩ এবং ১৬ জন বিদেশি অংশগ্রহণকারী রয়েছেন। উৎসবে মোট ২৭ জন নারী অংশ নেবেন। প্রথম নারী এভারেস্ট বিজয়ী হিসেবে নিশাত মজুমদারকে 'বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার সম্মাননা' দেওয়া হবে। ১১ জানুয়ারি কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসবের উদ্বোধন করবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সমাপনী অনুষ্ঠান ১৫ জানুয়ারি বিকেলে রাঙামাটির পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহীনুল ইসলাম, তরুণ কান্তি ঘোষ, নির্বাহী পরিচালক মশিউর খন্দকার প্রমুখ। | 6 |
রংপুরের বদরগঞ্জে এবার চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত ১৫ দিনে কেজিতে বেড়েছে ৪-৫ টাকা। এতে ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।আজ বুধবার বদরগঞ্জের চালের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল' আঘাত হানার পর থেকে। ওই ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে দেশে ফসলহানির সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন অটো রাইস মিলের মালিকেরা।কয়েকজন চাল ব্যবসায়ীর ভাষ্য, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজি ওজনের বস্তাপ্রতি (মিনিকেট সেদ্ধ) চালে প্রথমে ১০০ টাকা পরে ১৫০ টাকা, গতকাল মঙ্গলবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকায়। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবে এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। ১৫ দিন আগে ৫০ কেজি ওজনের মিনিকেট চালের বস্তা বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে দুই হাজার টাকায়। অর্থাৎ পাইকারি বাজারেই কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে চার টাকা। খুচরা চাল ব্যবসায়ী নিতাই চন্দ্র রায় বলেন, মোকামেই চালের দাম বেশি। এ কারণে কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে। এমনকি গুটিস্বর্ণা জাতের মোটা চালেরও দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। বাজারে এই চালের তেমন চাহিদা ছিল না। বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ খুচরা বাজারে বিআর ২৮ জাতের চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৩৪-৩৫ টাকা, গুটিস্বর্ণা (মোটা চাল) ২৫-২৬ টাকা এবং মিনিকেট ৪১-৪২ টাকা। ১৫ দিন আগে ২৮ জাতের চালের দাম ছিল ৩০ টাকা, গুটিস্বর্ণা ২০-২১ এবং মিনিকেট ৩৬-৩৭ টাকা। তবে চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে খুচরা বা পাইকারি ব্যবসায়ীরা কেউই নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কথা বলার সময় সবার মধ্যেই একধরনের ভীতি লক্ষ করা যায়।বদরগঞ্জ স্টেশন সড়কের বাসিন্দা সুমন রায় (৪৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন আড়াই শ টাকা। এখন আবার চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। জনগণ চুপ মেরে আছে। ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। রিকশাভ্যানচালক শওকত হোসেন (২৮) বলেন, 'দাম বাড়ি যাওয়াতে পেঁয়াজ খাওয়া ছাড়ি দিচি। এ্যালা চাউলের দাম বাড়োচে। ১৫ দিন আগোত গুটিস্বর্ণা চাউল কিনচি ২১ টাকা কেজি। সেই চাউল আইজ (গতকাল) কিননো ২৬ টাকা কেজি। শুননো চাউলের দাম বোলে (নাকি) আরও বাড়বে।' আমরুলবাড়ি গ্রামের কৃষক বরকত আলী সরকার বলেন, 'ধান কাটিয়া বাজারোত বেচাচি খরচে ওটে নাই। এ্যালা যখন হামার ঘরোত ধান নাই তখন দাম খালি বাড়োওচে। হামার কেষকের পোড়া কপাল!' সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বদরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আফজাল হোসেন প্রামাণিক বলেন, এবার ধান বিক্রি করে কৃষক উৎপাদন খরচ ওঠাতে পারেননি। অনেকে ধান বাজারে নিয়ে এসে ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। সেই ধানের পরিবহন খরচ দিতে গিয়ে অনেক কৃষক চোখের পানি পর্যন্ত ফেলেছেন। এই ধানই রয়েছে ব্যবসায়ীদের গুদামে। এখন ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। কয়েক বছর ধরে অব্যাহত লোকসানের কবলে কৃষকের মেরুদণ্ডই অনেকটা ভেঙে গেছে। সরকারের উচিত কৃষকের দিকে নজর দেওয়া। | 0 |
মুলাদীতে জ্বলছে না পৌরসভার তিন কিলোমিটার সড়ক বাতি। লাইট পোস্ট দাঁড়িয়ে থাকলেও সড়ক বাতির সুবিধা পাচ্ছেন না পৌরবাসী। নির্মাণ ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়ক বাতিগুলোর এই অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।জানা গেছে, মুলাদী পৌরসভাটি ২য় শ্রেণি থেকে ১ম শ্রেণিতে উন্নীত হলে ২০১৫ সালের দিকে সড়ক বাতি বসানো হয়। প্রথম পর্যায়ে তেরচর বেইলি ব্রিজ থেকে চরডিক্রী নয়াভাঙনী খাল (বড় ব্রিজ) পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে বাতি স্থাপন করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। নিম্নমানের খুঁটি, তার ও এনার্জি বাল্ব দিয়ে বাতির ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ আছে।বাতি স্থাপনের পর কিছুদিন সড়কে আলো জ্বললেও এখন কোনো বাতি জ্বলছে না। বাতি ভাঙা, লাইট পোস্ট হেলানো, বিদ্যুৎ সংযোগ ছিঁড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কে বাতি জ্বালানো হচ্ছে না। ফলে পৌর বাসিন্দাদের রাতে আঁধারের চলাচল করতে হচ্ছে।পৌরসভার হোল্ডিং করের সঙ্গে সড়ক বাতির জন্য নির্ধারিত বিদ্যুৎ বিল নেওয়া হয়। রাতের আঁধারে সড়ক বাতির সুবিধা না পেয়েও বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে পৌর বাসিন্দাদের।তেরচর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জানান, সড়ক বাতিগুলো ভাঙা এবং সংযোগ তার ছিঁড়ে যাওয়ার পর আর সংস্কার হয়নি। পৌর করের সঙ্গে ৩% বিদ্যুৎ বিল নেওয়া হচ্ছে।পৌরসভার চরডিক্রী গ্রামের বাসিন্দা মোহসীন উদ্দীন জানান, এলইডির পরিবর্তে সড়ক বাতিগুলো এনার্জি বাল্ব দিয়ে স্থাপন করায় কিছুদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া সরু ও নিম্নমানের খুঁটির (লাইট পোস্ট) অনেকগুলো ভেঙে গেছে।পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, চরডিক্রী বড় ব্রিজ থেকে খেজুরতলা বাজার পর্যন্ত সড়কে দ্বিতীয় পর্যায়ে সড়ক বাতি বসানো হয়েছে। এগুলো তুলনামূলক ভালো মানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। তাই মাঝে মধ্যে জ্বলছে। কিন্তু বেইলি ব্রিজ থেকে চরডিক্রী বড় ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের বাতিগুলো ২-৩ বছর ধরে অকেজো পড়ে আছে।মুলাদী পৌরসভার সচিব মো. শফিউল আলম জানান, পৌর বাসিন্দাদের সুবিধার্থে দৃষ্টিনন্দন সৌর পদ্ধতির সড়ক বাতির ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ না থাকলেও পৌরবাসী আলোর সুবিধা পাবেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় সাংসদ সুপারিশপত্র দিয়েছেন। শিগগিরই বাতি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। | 6 |
রাজধানীর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি নেতা মকবুল হোসেনের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। মকবুল হোসেন নিউ মার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সাম্প্রতিক সংঘর্ষে উসকানি দেয়ার অভিযোগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ বাসা থেকে মকবুলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেয়া, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা করে পুলিশ। সে মামলায় মকবুল এক নম্বর আসামি। গোয়েন্দা তদন্ত রিপোর্ট বলছে, ঘটনা শুরুর পর থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে দিতে ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থী দুই মহলকেই উসকে দিয়েছেন মকবুলসহ বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী। যে দুই ফাস্টফুডের দোকানের কর্মচারীদের বিবাদে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, সেগুলোর মালিক মকবুল। গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বলেন, বিএনপি নেতা মকবুল আইন পেশায় নিযুক্ত থাকায় ওই মামলায় নিজের ও অন্য আসামিদের আগাম জামিন করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ জন্য মামলার কয়েকজন আসামির সঙ্গে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় একটি বৈঠকও করেছেন মকবুল। গত সোমবার মধ্যরাতে নিউ মার্কেটের দোকানমালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এর জেরে মঙ্গলবার দিনভর ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে ডেলিভারিম্যান নাহিদ ও দোকান কর্মচারী মুরসালিনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। | 6 |
গত এক মাস ধরে করোনা সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে মানুষের জীবনযাত্রা। খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ দিকে করোনা সংক্রমণ কমতে থাকায় আবারও জমে উঠছে জামালপুরে দেশের একমাত্র ঘোড়া হাট। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় থাকলেও ঘোড়ার দাম নিয়ে হতাশা বিক্রেতারা। ক্রেতারা যে দাম হাঁকছেন তাতে খরচও উঠছে না বলে দাবি করছেন ঘোড়া বিক্রেতারা।জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের তুলশীচর ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ঘোড়ার হাট বসে। এই হাটে বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্রেতারা ঘোড়া আনেন। ঘোড়া পাশাপাশি পাওয়া যায় ঘোড়ার গাড়ি। করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এত দিন বন্ধ ছিল ঘোড়ার হাট। তবে হাটে ঘোড়ার দাম অনেক কম। ফলে বিক্রেতারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন মালিক ও ব্যবসায়ীরা।বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘোড়া আসে এই হাটে। গাইবান্ধার থেকে আসা বিক্রেতা লিয়াকত আলী বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে এই হাটে ঘোড়া বিক্রি করছি। এ বছর করোনার কারণে বেচা কেনা ভালো না। এ ছাড়া খাদ্যের দাম বেড়েছে। ভুসির দাম বেশি। এখন ঘাস কিনে ঘোড়া লালন পালনে অনেক খরচ। ফলে লোকসানে পড়তে হচ্ছে।'রহিম বলেন, 'ঘোড়ার দাম একেবারে পড়ে (কমে) গেছে। ২০ হাজার টাকার ঘোড়া ৫ হাজার টাকা দাম হাঁকছে।'রাজধানীর সদর ঘাট থেকে আসা বিক্রেতা সুরুজ মিয়া বলেন, 'ঘোড়াসহ গাড়ি বিক্রির জন্য হাটে এসেছি। যে দাম হাঁকছেন তাতে খরচও উঠবে না। ঘোড়া বিক্রি না করেই চলে যেতে হচ্ছে।'জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের তুলশীচর ডিগ্রি কলেজ মাঠে ঘোড়ার হাটে শতাধিক ঘোড়া বাজারে এসেছে। প্রতি হাটে ২০ থেকে ২৫টি ঘোড়া কেনা বেচা হয়।হাটের ইজারাদার ফারুক আহম্মেদ বিএসসি বলেন, 'হাটে প্রচুর ঘোড়া কেনা বেচা হয়। সকালে থেকেই দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ঘোড়া নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। তাঁদের নিরাপত্তাসহ সব ব্যবস্থা হাট পরিচালনা কমিটি করে থাকে। ক্রেতা বিক্রেতারা সবাই এই হাটের ব্যবস্থাপনায় খুশি। প্রতি হাটে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টি ঘোড়া বিক্রি হয়। যার মোট বিক্রয় মূল্য ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।'জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম খান বলেন, 'ক্রেতা বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পুলিশ সব সময় কাজ করে।' | 6 |
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তৃণমূল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) তনুশ্রীসহ চার বিধায়ক। তাছাড়া পদ্মশিবিরে যোগ দিলেন একঝাঁক নারী। খবর হিন্দুস্তান টাইমস। তৃণমূল সাংসদ নুসরাত-মিমির ঘনিষ্ট বান্ধবী বলে পরিচিত তনুশ্রী চক্রবর্তী। এতদিন তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে গুঞ্জণ চলছিল। অবশেষে সোমবার (৮ মার্চ) সে গুঞ্জণ সত্য করে দিয়ে তনুশ্রী যোগ দিলেন বিজেপিতে। পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনের প্রচার যখন রমরমা হয়ে উঠছে,তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপ্যাধ্যায়কে তীব্র ঝাকুনি দিল বিজেপি। গতকাল নতুন যোগদান করা নেতা নেত্রীদের বরণ করে নিতে মঞ্চে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। ছিলেন সব্যসাচী দত্ত। ঘোষকের ভূমিকায় ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সাদা সালোয়ার আর হলুদ দুপাট্টায় সেজে অনু্ষ্ঠানে শামিল হন তনুশ্রী। ঠিক এর একদিন আগেই মমতাকে নির্বাচনি মাঠে কামান দাগেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গের বিগ্রেড মাঠে এসে বড় ধরনের চমক দেখান তিনি। এদিন বিজেপির মঞ্চে নিয়ে আসেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ডিস্কো ড্যান্সার খ্যাত মিঠুন চক্রবর্তীকে। পশ্চিমবঙ্গের জনগণও বেশ চমকে যান বিজেপিতে এই অভিনেতার যোগদানের দৃশ্য দেখে। তৃণমূল ছেড়ে নেতাদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দিন কয়েক আগেই বিজেপিতে যোগ দেন শ্রাবন্তী। এর আগে যশ দাশগুপ্ত, যুব তৃণমূলের পরিচিত মুখ হিরণ চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী পায়েল সরকার, জনপ্রিয় অভিনেতা কৌশিক রায়ও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। | 2 |
খুন্তি আমাদের, মানে বাংলাদেশের জনগণের কাছে খুবই পরিচিত একটি জিনিস। বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে রয়েছে খুন্তি। কিন্তু রান্নার কাজ ছাড়াও খুন্তির অন্য ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে আজকাল। কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য খুন্তি এখন একটি মোক্ষম অস্ত্র। এ জন্য খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না শাস্তিদাতাকে। একটু আগুনে গরম করে নিয়ে খুন্তি শরীরে চেপে ধরলেই হলো। দামও নাগালের মধ্যেই। তাই তো মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সাবিনা বেগম তাঁর সৎমেয়ে সেতু আক্তারকে শাস্তি দেওয়ার জন্য খুন্তিকেই বেছে নিয়েছেন। লোহার খুন্তি গরম করে হাত-পাসহ সেতুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে মনের বিকৃত ঝাল মিটিয়েছেন। গত ৩১ মার্চ প্রথম আলো অনলাইনে সেতুর খুন্তির ছ্যাঁকায় পুড়ে যাওয়া হাত ও ঘাড়ের ছবি দেখে আঁতকে উঠি। ভাবি, কী করে মানুষ এত নির্মম হতে পারে? একজন মানুষ যত বড় অপরাধই করুক না কেন, এমন শাস্তি তার প্রাপ্য নয়। প্রথম আলোর অনলাইনের খবর অনুযায়ী, সৎমায়ের নির্যাতনের শিকার সেতু আক্তারের বয়স মাত্র ১০ বছর। স্থানীয় একটি স্কুলে সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সেতুর মা জীবিত থাকতেই তার বাবা সাবিনা বেগমকে বিয়ে করেন। নয় বছর আগে সেতুর মা মারা যান। এরপর থেকেই নানা ছুতোয় তাকে মারধর করতেন সাবিনা বেগম। এক বছর ধরে এই নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। সাবিনা বেগম তাঁর মায়ের প্ররোচনায় সেতুকে খুন্তি গরম করে ছ্যাঁকা দেওয়া শুরু করেন। এ কাজে সাবিনাকে সাহায্য করত তাঁর ১৪ বছর বয়সী ছেলে। ছেলেটি সেতুর হাত-পা চেপে ধরে রাখত। আর সাবিনা গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিতেন। কী ভয়াবহ! খুন্তির ছ্যাঁকায় সেতুর শরীরের কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে মারাত্মক ঘা। মাথার ওপর থেকে ছাদ হারিয়ে ফেলার ভয়ে সেতু কাউকে এ ব্যাপারে কিছু বলেনি, এমনকি নিজের বাবাকেও নয়। কিন্তু পাড়াপড়শির চোখকে ফাঁকি দেবে কী করে! তাদের চোখে ঠিকই ধরা পড়ে সেতুর শরীরের নির্যাতনের চিহ্ন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয় এক মানবাধিকারকর্মী। পুলিশের সহযোগিতায় সেতুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে সেতুই একমাত্র শিশু নয়, যাকে শাস্তি দিতে খুন্তির ব্যবহার করা হয়েছে। আরও অনেক শিশু খুন্তি-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় এক দম্পতি মাহি নামের তাদের শিশু গৃহকর্মীটিকে শাস্তি দিতেন শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে। ওই দম্পতি নিয়মিতভাবে এই কাজ করতেন। গত বছরের জুলাই মাসে তাঁদের এই অপকর্মের খবর প্রকাশিত হয়। একই ঘটনা ঘটেছে গৃহকর্মী সোহেলের বেলায়। ১০ বছরের সোহেল লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি বাড়িতে কাজ করত। কাজে ভুলত্রুটি হলে তাকেও গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিতেন গৃহকর্ত্রী। ২০১৭ সালে রাজধানীর পল্লবীতে এক সেনা কর্মকর্তার বাসায় এ রকম খুন্তি-নির্যাতনের শিকার হয়েছিল সাবিনা নামের এক শিশু গৃহকর্মী। একটু ভুল হলেই সাবিনার ওপর নেমে আসত অকথ্য নির্যাতন। পরে সে পালিয়ে বাঁচে। শুধু যে শিশুরা খুন্তি-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তা নয়। বড়দের ওপরও এই অস্ত্রের প্রয়োগ ঘটেছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় তিন লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ায় এক গৃহবধূর মুখমণ্ডল এবং দুই হাত গরম খুন্তি দিয়ে ঝলসে দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। এটা ২০১৬ সালের ঘটনা। এভাবে যাঁরা নৃশংস কায়দায় নির্যাতন চালাতে পারেন, তারা কি মানুষ? না, আমার তা মনে হয় না। মানুষ হলে তো মনুষ্যত্ববোধ থাকার কথা। কিন্তু এদের যে তা নেই, সে তো বোঝাই যাচ্ছে। যার ন্যূনতম মনুষ্যত্ববোধ আছে, তার পক্ষে এ ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়। মানুষের চেহারায় অমানুষেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের চারপাশে। এদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। আমার এই বাক্যটি পড়ে হয়তো অনেকে হাসবেন। যে দেশে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি হয় না, যেখানে খুনের মতো ভয়াবহ অপরাধ করেও পার পাওয়া যায়, সেখানে সামান্য খুন্তি দিয়ে নির্যাতনের জন্য শাস্তি হবে? অনেকে হয়তো বলবেন, খুন্তি তৈরি বন্ধ করে দেওয়া হোক। রান্নার কাজে খুন্তির ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই। আসলে সমস্যা তো খুন্তিতে নয়, সমস্যা হচ্ছে মানসিকতায়। হাতের কাছে খুন্তি না পেলে তারা অন্য কোনো কিছুকে নির্যাতন করার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেবে। তাই নির্যাতনকারীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। শাস্তি না দিলে তো এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। শাস্তি তো অপরাধ হওয়ার পরের জরুরত, কিন্তু যে নির্যাতনী মানসিকতা আমাদের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে, তা দূর করা তো সামাজিক আন্দোলনের বিষয়। একজন মা, একজন গৃহিণী এ রকম হয়ে গেলে সমাজের কী অবস্থা? প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, সেতু আক্তারকে নির্যাতনের ঘটনায় রাজৈর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ তার সৎমা ও সৎভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা যেন যথোপযুক্ত শাস্তি পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সরকার, সর্বোপরি রাষ্ট্রের। আর খুন্তির ব্যবহার হোক রান্নার কাজেই, নির্যাতনের অস্ত্র হিসেবে নয়। রোকেয়া রহমান: সাংবাদিক | 8 |
ডলার ও সৌদি রিয়ালের ফাঁদ পেতে সহজসরল পথচারীদের সর্বস্ব লুটে নেয়া চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়েব বেজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আজাদুর রহমান মাফুজ ও জাহাঙ্গীর আলম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নীলক্ষেত গিয়াস উদ্দিন আবাসিক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ সৌদি রিয়াল ও একটি গামছার ভিতরে কাগজ দিয়ে পেঁচানো বেশ কয়েকটি সাবান উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েব বেজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের প্রধান এডিসি আশরাফউল্লাহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোরের কাগজকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রথমে টার্গেটকৃত পথচারীকে ডলার কিংবা সৌদি রিয়াল দেখিয়ে সেটি ভাঙানো যাবে কিনা বা চলবে কিনা বলে জিজ্ঞেস করে। তখন টার্গেটকৃত ব্যক্তি বলে তাতে তার কি লাভ? তখন গ্রেপ্তারকৃতরা বলেন, যা পাওয়া যাবে অর্ধেক আপনার অর্ধেক আমার। এভাবে এক/দুটি নোট ভাঙিয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তিতে অর্ধেক টাকা দিয়ে লোভের বশীভূত করে ফেলে। পরে টার্গেটকৃত ব্যক্তি মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা নিতে আসে। এসময় প্রতারকরা সাবান, কাগজ ও গামছা দিয়ে তৈরি ডলার বা সৌদি রিয়ালের বান্ডিল দিয়ে ওই টাকা হাতিয়ে নেয়। মূলতো তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা অবৈধ পন্থায় বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এনে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৩টি প্রতারণার মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এডিসি আশরাফউল্লাহ আরো জানান, এ চক্রের সুজন ও একরাম নামে আরো দুই সদস্য রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের শুক্রবার আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান ডিবির এ কর্মকর্তা। | 6 |
ইসরাইলে নতুন সরকার গঠনের প্রশ্নে আগামী ১৪ জুনের মধ্যে দেশটির আইন পরিষদ নেসেটে আস্থাভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেসেটের স্পিকার ইয়ারিভ লেভিন এই তথ্য জানান। তবে আস্থাভোট অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট কোনো দিন বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করে নতুন সরকার গঠনে নেসেট সদস্যদের আস্থাভোট নেয়া হচ্ছে। ভোটে নতুন সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারলে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসনামলের অবসান হবে। বিবৃতিতে নেসেট স্পিকার জানান, বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ায়ির লাপিদ তাকে ও ইসরাইলের প্রেসিডেন্টকে একটি জোট গঠনের কথা জানিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন নির্ধারিত সময়সীমায় ১৪ জুনের মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আস্থাভোটে জোটের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত হলে আগের সমঝোতা অনুযায়ী রক্ষণশীল ইয়ামিনা দলের প্রধান নাফতালি বেনেতের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করা হবে। অপরদিকে লাপিদ-বেনেতের জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে দুই বছরের মধ্যে পঞ্চম দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকে যাবে ইসরাইল। আরো পড়ুন >>ইসরাইলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে কী ভাবছেন ফিলিস্তিনিরা? এর আগে ইসরাইলে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় গত ২৩ মার্চ দুই বছরের মধ্যে চতুর্থ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই নির্বাচনেও কোনো দল বা জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। দেশটিতে সরকার গঠনের জন্য ১২০ আসনবিশিষ্ট আইন পরিষদ নেসেটের ৬১ সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। প্রথম দফা আলোচনার পর নেসেটের ৫২ সদস্য প্রধানমন্ত্রী পদে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সুপারিশ করায় এপ্রিলের শুরুতে তাকে সরকার গঠনের জন্য প্রথম মনোনয়ন দেন রিভলিন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত না হলেও ওই সময় এটিই ছিল সর্বোচ্চ মনোনয়ন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন করা জিউনিস্ট পার্টি কোনো আরব দলের সাথে সরকার গঠনের অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি সরকার গঠনে ব্যর্থ হন। নেতানিয়াহুর ব্যর্থতার পর ৫ মে নতুন করে নেসেট সদস্যদের সাথে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট রিভলিন। নতুন আলোচনায় রক্ষণশীল ইয়ামিনা পার্টির প্রধান নাফতালি বেনেতের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগির এক প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে মোট ৫৬ সদস্যের সুপারিশ পান ইয়েশ আতিদ দলের প্রধান ইয়ায়ির লাপিদ। ২ জুন সরকার গঠনে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার সামান্য আগে ইয়ায়ির লাপিদ সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। নাফতালি বেনেত ছাড়াো অন্য আরো ছয়টি দলের প্রধানের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের এই ঘোষণা দেন তিনি। সমঝোতা অনুসারে ইসরাইলের নতুন গঠিত হতে যাওয়া সরকারের প্রথম দফায় বেনেত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। পরে ইয়ায়ির লাপিদ তার কাছ থেকে সরকারের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে লাপিদ-বেনেতের জোট সরকার গঠনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি একে নির্বাচনী জালিয়াতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইসরাইলে সরকার গঠনের এই নাটকিয়তার মধ্যেই ১২ বছরের ক্ষমতাসীন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলার শুনানি চলছে। মার্চে নির্বাচনের কারণে স্থগিত থাকার পর এপ্রিলে এই শুনানি আবার শুরু হয়। ২০১৯ সালে গঠিত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির এই মামলার অভিযোগে বলা হয়, সম্পদশালী বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার ও মিডিয়া টাইকুনদের কাছে প্রশংসামূলক কভারেজের বিনিময়ে তিনি তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন। নেতানিয়াহু এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন। সূত্র : আলজাজিরা | 3 |
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের বিড় জেলায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে "ছয় মাস ধরে ৪০০ জন ধর্ষণ" করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিশের কাছেও যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ওই কিশোরী। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। রবিবার (১৪ নভেম্বর) বিড় জেলা পুলিশ সুপার রাজা রামাসামি জানান, ওই ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ সপ্তাহে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে সে। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যৌন নির্যাতন দমন ও বাল্যবিয়ে আইনে মামলা হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, কয়েক বছর আগে কিশোরীর মা মারা যান। প্রায় আট মাস আগে তার বিয়ে দিয়ে দেন বাবা। স্বামীর ঘরে গিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির হাতে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে এসে বাবার সঙ্গে থাকতে শুরু করে। স্বামী ফিরিয়ে না নিলে আম্বাজোগাই বাসস্ট্যান্ডে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করে সে। সেখানেই তার ওপর টানা যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। বিড় জেলা পুলিশ সুপার রাজা রামাসামি আরও জানিয়েছেন, কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। শিশুকল্যাণ কমিটির লোকজনের সামনে কিশোরীটি বলেছে, "বহু মানুষের নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমি। আম্বাজোগাই থানায় অভিযোগ জানাতে কয়েকবার গেছি আমি। পুলিশ কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। আমি একজন পুলিশের কাছেও নির্যাতনের শিকার হয়েছি।" | 3 |
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে নিখোঁজের দুইদিন পর মাসুদা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে ইউনিয়নের ঢ়ঢগাছ গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মাসুদা ওই গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার গরুর জন্য ঘাস কাটতে বাড়ির পাশের মাঠে গিয়ে নিখোঁজ হন গৃহবধূ মাসুদা বেগম। পরদিন শুক্রবার তার পরিবার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শনিবার স্থানীয়রা বাড়ির পাশের পাটক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে ওই গৃহবধূর মরদেহ পরে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। | 6 |
১২ দিনের ব্যবধানে ফের স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস)। ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতিতে ভরি প্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে ১১৬৬ টাকা। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে নতুন দামে বিক্রি হবে অলংকার তৈরির এই ধাতু। আজ সোমবার বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর খবর জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৫২৯ টাকা। সোমবার পর্যন্ত এমানের স্বর্ণের দাম রয়েছে ৫৩ হাজার ৩৬৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৫২ হাজার ১৯৬ টাকায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি ভরির দাম রয়েছে ৫১ হাজার ৩০ টাকা। মঙ্গলবার থেকে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ৪৭ হাজার ১৮১ টাকা। বর্তমানে দাম রয়েছে ৪৬ হাজার ১৪ টাকা। সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৯৯৩ টাকা। বর্তমানে এমানের স্বর্ণের দাম রয়েছে ২৬ হাজার ৮শ ২৭ টাকা। স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে রূপার দাম। অলংকার তৈরির এই ধাতু বিক্রি হচ্ছে ৯৩৩ টাকা ভরিতে। | 0 |
গোটা বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে চমকে দিয়েছিল রাশিয়া। এমন কি, খোদ নিজের মেয়ের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাড়াহুড়োর করে তৈরি এই ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর এবং নিরাপদ, তা নিয়ে গোটা বিশ্বে প্রশ্ন উঠলেও নিজেদের দাবিতে অনড় ছিল রাশিয়া। তবে এবার নিজেদের তৈরি সেই ভ্যাকসিন নিয়েই অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হলো পুতিন সরকারকে। তৃতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগেই রাশিয়ার সরকার ঘোষণা করেছিল, চিকিৎসক, শিক্ষক সহ যাঁরা সামনে থেকে করোনার মোকাবিলা করছেন, তাদেরকেই প্রথম ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। কিন্তু এবার রাশিয়ার সেই করোনা যোদ্ধাদের একাংশই নিজেদের দেশের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। এই করোনা যোদ্ধারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রায়াল পর্ব পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে ভ্যাকসিন নেবেন না তারা। তবে এখনও ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য কোনো শিক্ষককে জোর করে হয়নি বলেই খবর। তবে ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে শিক্ষকদের উপর শাস্তির খাঁড়া নেমে আসারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 4 |
ঢাকা: বয়স ২০ বছর। শরীরে এখনো কৈশোরের ছাপ। কিন্তু ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ ইউরোতে বিলি গিলমোর এখন আলোচিত নাম। কাল তাঁর নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে রুখে দিয়েছে স্কটল্যান্ড। গোলশূন্য ড্র ম্যাচে হ্যারি কেনদের ছাপিয়ে ম্যাচ-সেরা হয়েছেন এই স্কটিশ মিডফিল্ডার। ম্যাচ-সেরার পুরস্কার নিয়েই নানিকে ফোন দেন গিলমোর। তাঁর ক্যারিয়ারের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যে নানি আলিসন কিলফোর্ডের।ম্যাচের আগে থেকে রোমাঞ্চ ছিল ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ড লড়াই নিয়ে। দুটি দেশই ব্রিটেনের অংশ হওয়ায় সমর্থকদের মাঝেও ছিল উত্তেজনা। শক্তি-সামর্থ্যে পিছিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে স্কটল্যান্ড। ম্যাচটি ড্র করেই মাঠ ছেড়েছে তারা। ড্র ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন গিলমোর। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই আলোচনার কেন্দ্রে তিনি। অভিষেকেই ম্যাচ-সেরার পুরস্কার পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন গিলমোর। সতীর্থদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই ফোন দেন নানিকে। গিলমোরের ফোন পেয়ে কেঁদেছেন নানি কিলফোর্ড। কাঁদারই কথা! তাঁর ছোট্ট গিলমোর যে এখন বড় দলের তারকাদের সঙ্গে মাঠে পাল্লা দিয়ে দেশের হয়ে লড়ছেন।গিলমোরের বয়স যখন দুই-তিন বছর, তখন থেকেই নানির সঙ্গে থাকতেন গিলমোর। কিলফোর্ড বলেছেন, 'আমার চার নাতির মধ্যে বয়সে সে (গিলমোর) সবচেয়ে বড়। এখনো সে আমার কাছে ছোটই আছে। মাঝে মাঝে মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে যেত। আবার আমার কাছেই ফিরে আসত। ছোটবেলায় বল নিয়ে আমার পাশে ঘুমাত। এখন সে ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে ওয়েম্বলিতে বল নিয়ে দৌড়ায়। এটা যে আমার জন্য কতটা গৌরবের, বলে বোঝাতে পারব না।'এ মৌসুমেই চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছেন গিলমোর। বড় মঞ্চের চাপ কীভাবে সামাল দিতে হয়, ভালোই বোঝেন এই মিডফিল্ডার। নানি কিলফোর্ডের কথাতেই তা স্পষ্ট। বলেছেন, 'গিলমোরের সামর্থ্য নিয়ে আমাদের কোনো সংশয় ছিল না। আমাদের পরিবারের সবাই ফুটবল-পাগল। আগ্রহের কারণে আমরা ছোট থেকেই তাকে খেলার কোচিংয়ে পাঠিয়েছি। কোচরা তার খেলার খুব প্রশংসা করত।'করোনার ভয়ে ওয়েম্বলিতে গিয়ে নাতির খেলা দেখতে পারেননি কিলফোর্ড। তবে টিভিতেই পরিবারের সবাই মিলে গিলমোরের খেলা দেখেছেন। স্কটল্যান্ডের জার্সি গায়ে নাতিকে দেখেই কেঁদেছেন ৬১ বছর বয়সী কিলফোর্ড। একদিন স্কটল্যান্ডকে অনেক বড় কিছু উপহার দেবেন বলে মনে করেন তাঁর নানি।গিলমোরকে নিয়ে স্বপ্ন বুনছেন সাবেক স্কটল্যান্ড ফুটবলার ও কোচ ব্যারি ফার্গুসন। গ্লাসগো টাইমস নামে স্কটল্যান্ডের একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফার্গুসন বলেছেন, 'গিলমোর প্রতিভাবান খেলোয়াড়। তাকে ঘিরে আগামী ১০-১৫ বছর পর স্কটল্যান্ড দলের একটা পরিকল্পনা সাজানো যায়।' | 12 |
কর্মব্যস্ত জীবনকে বিদায় জানিয়ে, চোখ ও মন শীতল করতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ুন। ঘুরে আসুন দেশের যেকোনো একটি ঝরনা থেকে। বান্দরবানের প্রকৃতি দেখার জন্য এ সময়টা দারুণ। এ সময় বান্দরবান গেলে একই সঙ্গে দেখা যাবে স্নিগ্ধ প্রকৃতি আর ঝরনা। সমতল থেকে আড়াই-তিন শ ফুট ওপর থেকে নূপুরের মতো ছন্দ তুলে পানি পড়ছে। চারদিকে সবুজ পাহাড়ের বুকে এ এক মোহনীয় দৃশ্য। এ দৃশ্য অনুভবের, এ দৃশ্য ভালো লাগার।জাদিপাই ঝরনাবান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত জাদিপাই ঝরনা দেশের প্রশস্ততম ঝরনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের দ্বিতীয় উচ্চ পাহাড় চূড়া কেওক্রাডং থেকে জাদিপাই ঝরনা হেঁটে যেতে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে। ঝরনাটি প্রায় আড়াই শ ফুট ওপরে অবস্থিত। এত উঁচু থেকে অবিরাম পানি পতনের দৃশ্য দেখা সত্যি এক অনন্য অভিজ্ঞতা আমাদের দেশে। উঁচু থেকে ঝরে পড়া পানির ওপর সূর্যের কিরণ পড়লে বর্ণিল রংধনু সৃষ্টি হয়। অন্য সব ঝরনার পানি পড়ে লম্বালম্বিভাবে। তবে জাদিপাই ঝরনায় পানি পড়ে অনেক স্তর পেরিয়ে। এ জন্য দেখলে মনে হয় সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে ওপর থেকে পানি পড়ছে।তাড়া খাওয়া হরিণীর মতো ওপর থেকে পানি পড়তে পড়তে নিচের দিকে কুয়ার মতো সৃষ্টি হয়েছে। আর এ কুয়ায় স্নানে মাতেন দর্শনার্থী ও ভ্রমণপিপাসুরা। এ পানি এতটাই স্বচ্ছ যে নিচের পাথরও দেখা যায়। এ পানি গড়িয়ে মেশে সাঙ্গু নদীতে। জাদিপাই গেলে চারদিকে সবুজের সমারোহ, সুউচ্চ পাহাড় আর ঝরনাধারার মোহমায়ায় মুগ্ধ হবেন আপনি। ডুবে যাবেন অন্য এক ভালো লাগার জগতে। শুধু তা-ই নয়, জাদিপাই ঝরনায় মুগ্ধ হতে হতে আপনি দেখতে পাবেন বানর, কাঠবিড়ালিসহ বুনো পাখির দল। তবে এ দৃশ্য দেখতে আপনাকে পাড়ি দিতে হবে বেশ খানিকটা বিপৎসংকুল পথ। কাজেই সাবধান থাকতে হবে।যেভাবে যাবেনবাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে আপনাকে বান্দরবান যেতে হবে। ঢাকার কলাবাগান, সায়েদাবাদ ও ফকিরাপুল থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে বাস ছাড়ে। নন-এসি ও এসি বাসের জনপ্রতি ভাড়া ৫৫০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। সময় লাগবে ৮-১০ ঘণ্টা। বান্দরবান থেকে যেতে হবে রুমা বাজার। সেখান থেকে যেতে হবে বগা লেক পর্যন্ত। বগা লেক থেকে হেঁটে হেঁটে কেওক্রাডং যেতে হবে। তারপর পাসিং পাড়া, সেখান থেকে হেঁটে যেতে হবে জাদিপাই ঝরনা।ঋজুক ঝরনাএটি বান্দরবানের আরেকটি মোহনীয় ঝরনা। হাতে সময় নিয়ে একবার বান্দরবান গেলে কয়েকটি ঝরনায় নয়ন জুড়াতে পারবেন। এ ঝরনাটি সাঙ্গু নদীর পাড়ে অবস্থিত বলে সুউচ্চ পাহাড়ের বুক থেকে গড়িয়ে পড়া পানি এ নদীতেই মেশে। প্রায় ৩০০ ফুট ওপর থেকে লম্বালম্বিভাবে পানি পড়তে থাকে এ ঝরনার পাদদেশে। প্রায় সারা বছর এ ঝরনা পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। তবে বর্ষাকালে তার রূপ ও সৌন্দর্য অনেকগুণ বেড়ে যায়। বেড়ে যায় পানির পতনও। বর্ষাকালে সাঙ্গু নদীতেও পানি বেশি থাকে। নদী আর ঝরনা সে সময় মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। আর এখন চলছে হেমন্তকাল। এ সময় সন্ধ্যা ও রাতের দিকে হালকা শীতের অনুভূতি থাকে পাহাড়ে। ভ্রমণের জন্য এ সময়টা মন্দ নয়।যেভাবে যাবেনপ্রথমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে বান্দরবান যেতে হবে। বান্দরবান শহর থেকে জিপে বা লোকাল বাসে চড়ে যেতে হবে রুমা বাজার। সেখান থেকে হেঁটে কিংবা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যেতে পারবেন ঋজুক ঝরনা।বাকলাই ঝরনাবান্দরবানে আরও একটি মায়াবতী ঝরনা রয়েছে। ধারণা করা হয়, এটি দেশের সবচেয়ে উঁচু ঝরনা। এটি থানচি উপজেলার নাইটিং মৌজার বাকলাই গ্রামে অবস্থিত বলে গ্রামের নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন একে বাক্তলাই ঝরনা নামে ডাকে। আনুমানিক ৩৮০ ফুট উঁচু এ ঝরনা অনেক বছর ধরে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষের কাছে জনপ্রিয়। এখানে একটি আর্মি ক্যাম্প রয়েছে। সুনসান নীরবতা, সবুজ সুউচ্চ পাহাড়ের বুক থেকে গড়িয়ে পড়া রাশি রাশি পানি আপনাকে নিয়ে যাবে এক অপার্থিব জগতে। অন্য রকম মাদকতায় দুলবেন আপনি।যেভাবে যাবেনপ্রথমে বান্দরবান পৌঁছাতে হবে আপনাকে। এরপর থানচি ও রুমা দুই দিক থেকে যেতে পারবেন বাকলাই ঝরনা। থানচি হয়ে গেলে বোর্ডিংপাড়ায় যেতে হবে। সেখান থেকে কাইথনপাড়া হয়ে বাকলাইপাড়ায় যেতে হবে। বাকলাইপাড়া থেকে বাকলাই ঝরনায় যেতে ১ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগবে। সময়টা নির্ভর করবে আপনার হাঁটার গতির ওপর। রুমা বাজার হয়ে বাকলাই ঝরনায় গেলে বান্দরবান থেকে রুমা বাজার যেতে হবে। সেখান থেকে বগা লেক, সেখান থেকে কেওক্রাডং, সেখান থেকে জাদিপাই ঝরনা পার হয়ে বাকলাই ঝরনা।এই তিনটি ঝরনা ছাড়াও বান্দরবানে রয়েছে লামোনাই ঝরনা, তিনাপ সাইতার, অমিয়াখুম, নাফাখুম, চিংড়ি ঝরনা, নীলগিরি ইত্যাদি। বান্দরবান বেড়াতে গেলে হাতে বেশ কয়েক দিন সময় নিয়ে যাবেন। এতে অনেক ঝরনা ও দর্শনীয় স্থান দেখতে পারবেন।সতর্কতাযেখান থেকেই যান না কেন, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে প্রথমে বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন ভ্রমণ গ্রুপ কিংবা ওয়েবসাইট থেকে খোঁজখবর নিন। তারপর যান।অবশ্যই সঙ্গে একজন গাইড রাখবেন। প্রথমবার গেলে বান্দরবান থেকেই গাইড নেওয়া ভালো। তাতে নিরাপদ থাকতে পারবেন। অবশ্যই গাইডের সঙ্গে তাঁর পারিশ্রমিক বিষয়ে আলাপ করে নেবেন।পাহাড়ে সমতলের মতো থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা পাবেন না। কাজেই সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।বান্দরবান পাহাড়ি এলাকা। পাহাড়ে ভ্রমণ শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ পরিশ্রমসাধ্য কাজ। তাই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে পাহাড়ে ভ্রমণ না করাই ভালো।পাহাড় মানে এক ভিন্ন সংস্কৃতি। সেখানকার সংস্কৃতি ও মানুষকে সম্মান করুন। | 4 |
ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়াতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নির্দেশনা অনুযায়ী সব পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক এবং যেসব ব্যাংকের ইসলামি শাখা ও উইন্ডো রয়েছে, তার যাবতীয় হিসাব একক পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।এ ছাড়া ইসলামি ধারার ব্যাংক, শাখা ও উইন্ডোসমূহের আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় তথ্য ও হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশিত 'ডেটা টেমপ্লেট' সফটওয়্যারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।প্রতিষ্ঠানের শাখা, সম্পদ, জনবল, মুদরাবা, মুরাবাহ, মুশারাকাহ, ওয়াকালাহ, কাফালাহ, পণ্য ও সেবার ধরন, ক্রয় ও বিক্রয়, বিনিয়োগ, নিরীক্ষা ফি, মুনাফা, সিকিউরিটিজ, সুকুক, আমদানি ও রপ্তানি এবং প্রকাশনা প্রভৃতির সব তথ্য যথাযথভাবে দাখিল করতে হবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ইসলামিক ব্যাংক ও উইন্ডোসমূহের যেকোনো মাসের বা ত্রৈমাসিক লেনদেন ও যাবতীয় হিসাবের বিবরণী পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে দাখিল করতে হবে। | 6 |
নরসিংদীর পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার নতুন ফ্যাক্টরি ভবনের পাইলিং কাজের সময় তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন ফুটো হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘোড়াশাল, পলাশ ও নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ইতোমধ্যে তিতাস গ্যাস কোম্পানির লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বাল্ব স্টেশন থেকে সংযোগ বন্ধের মাধ্যমে অচিরেই আগুন নেভানো সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে ফায়ার সার্ভিসের দল কাজ করছে। বিকাল ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে নি। নরসিংদীর ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সূত্রে জানা যায়, সকাল ১২টা থেকেই পলাশ সার কারখানা অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন ফ্যাক্টরি ভবনের পাইলিংয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। ওই সময় তিতাস গ্যাসের পাইপ লাইনে পৌঁছলে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এ সময় আশরাফ ট্রেড প্রতিষ্ঠানের একটি পাইলিং মেশিন পুড়ে যাওয়া ছাড়া বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। | 6 |
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মধ্যরাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসার বিষয়ে শনিবার (১১ জুন) সিদ্ধান্ত নেবে তার পরিবার। শুক্রবার (১০ জুন) রাত ৩টা ২০ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী চিকিৎসা বিষয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে, রাতেই সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এমনটি জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে গুলশানের বাসা ফিরোজা ত্যাগ করেন খালেদা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মির্জা ফখরুল এবং দলটির প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান। জানা গেছে, দলের চেয়ারপারসন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মধ্যরাতে দ্রুত তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। তাকে অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে রাত ৩টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে হাসপাতালে আসেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, চেয়ারপারসনের একান্ত সহকারী এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, খালেদার ভাইপো অভিক ইস্কান্দার এবং গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম। 'বিদেশে যাওয়া যাবে না এবং বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হবে'- এ দুই শর্তে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তিতে রয়েছেন খালেদা জিয়া। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ 'দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর'-এর ধারা-৪০১ (১)-এর ক্ষমতাবলে সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রথমবারের মতো শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি পান খালেদা জিয়া। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। এরপর দফায় দফায় বাড়ে তার মুক্তির মেয়াদ। সবশেষ গত মার্চ মাসে শর্ত অপরিবর্তিত রেখে আরও এক দফা তার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে সায় দেয় সরকার। ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে গুলশানে তার বাসা 'ফিরোজায়' রয়েছেন। তিনি আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে টানা ৮১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি গুলশানে নিজের বাসভবন ফিরোজায় ফিরেন খালেদা জিয়া। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর করোনা ভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হলে একই হাসপাতালে ৫৪ দিন চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর আবারও এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। ওই বছরের ৩০ অক্টোবর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার সাত বছরের সাজা হয়। | 6 |
ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এক হিন্দু প্রৌঢ়ার শেষকৃত্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন দীর্ঘদিনের মুসলমান পড়শিরাই। শেষকাজের যাবতীয় খরচও বহন করলেন তারা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সমশেরগঞ্জের এক গ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ ছবিই দেখা যায় শুক্রবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সমশেরগঞ্জ থানার বোগদাদনগর গ্রামে পবিত্র রবিদাস নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। ৫৫ বছরের ওই নারী দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার স্বামী বিনোদ রবিদাস জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে গ্রামের একমাত্র হিন্দু পরিবার হলেও সব সময় মুসলমান পড়শিদের পাশে পেয়েছেন। স্ত্রী অসুস্থ থাকাকালীনও তাদের যাবতীয় সাহায্য করেছেন এই পড়শিরাই। শুক্রবার সকালে বিনোদের পরিবারে মৃত্যুর খবর শুনে ছুটে আসেন এলাকার মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজন। স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা ফেকারুল ইসলাম, গ্রামের বাসিন্দা মুহাম্মদ সাদেমান আলি, সফিকুল ইসলাম, নুর ইসলামেরা। ওই প্রৌঢ়ার শেষকৃত্যের যাবতীয় বন্দোবস্তও করেন তারা। আর্থিকভাবে অনটনে থাকা পরিবারের ওই সদস্যার শেষকৃত্যের খরচও বহন করেন এলাকাবাসী। নিজের দুঃসময়ে পড়শিদের পাশে পেয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিনোদ। তিনি বলেন, 'এলাকার বাসিন্দাদের সাথে বরাবরই আমাদের সদ্ভাব রয়েছে। স্ত্রীর শেষকাজ করার বিষয়ে তারাই আশ্বাস দিয়েছেন। আমাকে টাকাপয়সা দিয়েও সাহায্য করেছেন। সে জন্য সকলকেই ধন্যবাদ জানাই।' পড়শির বিপদে পাশে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ সাদেমান আলিও। তিনি বলেন, 'এই মুসলমান এলাকায় গত পাঁচ দশক ধরে মাত্র এক ঘর হিন্দু পরিবার রয়েছে। এত বছরে এ অঞ্চলে কখনোই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দিইনি। দীর্ঘদিন ধরেই বিনোদের স্ত্রী ক্যান্সারে ভুগছিলেন। জীবিত থাকাকালীন আমাদের গ্রামের ছেলেরা তার পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছে। তার শেষকাজের জন্য যাবতীয় খরচও বহন করেছে গ্রামের ছেলেরাই।' সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা | 3 |
কেউ ভিক্ষা চাইলে আমাদের সাধারণ বুলি হচ্ছে, 'কাজ করে খেতে পারো না?' জবাবে তাঁদের কেউ যদি বলে বসেন, 'পারি, কাজ দেন,' তাহলে আমাদের অনেকেরই হয়তো আর মুখে বুলি ফুটবে না। কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ ওই পথে হাঁটেনি। আগে তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, তারপর ভিক্ষাবৃত্তি পরিত্যাগ করতে বলেছে। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে কাজে যোগ দিয়েছেন ওই এলাকার ৪৩ জন ভিক্ষুক। অনেক দিন থেকেই কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের চৌরখুলী গ্রামের এসব মানুষের পেশা ভিক্ষাবৃত্তি। প্রশাসন এই পথ থেকে তাঁদের ফিরিয়ে আনার অনেক চেষ্টাই আগে করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি, কদিন পর আবার আগের পেশায় ফিরে গেছেন। তখন থেকেই তাঁদের জন্য স্থায়ী কিছু, বিকল্প কিছু করার চিন্তা করছিল উপজেলা প্রশাসন। বেশি জটিল কাজ করার মতো শিক্ষাগত বা কারিগরি দক্ষতা এসব মানুষের অধিকাংশেরই নেই। এসব নানা চিন্তাভাবনা থেকেই প্যাকেট তৈরির কারখানাকেই মনে হয়েছে জুতসই। কারণ, স্থানীয় বাজারেই পণ্যটির চাহিদা রয়েছে। মুদিদোকান থেকে শুরু করে ফলপট্টি-সবখানেই পণ্য বিক্রি করতে হলে প্যাকেট লাগবে। এত দিন জেলার বাইরে থেকে আসত এই পণ্য। তাই এই প্যাকেট তৈরির কারখানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। কাজটা করতে লেখাপড়া লাগে না, প্রশিক্ষণও সহজেই দেওয়া যায়। এ জন্য ২০ বছরের জন্য ৩৫ শতাংশ জায়গা ইজারা নিয়েছে তারা। ভিক্ষুক পুনর্বাসন তহবিল থেকে টাকাটা নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরেই শুরু হয় কারখানা তৈরির কাজ। গত মাসের শুরুতে শেষ হয় কাজ। তারা কারখানাটির নাম দিয়েছে 'অবলম্বন'। সব গোছগাছ করে ভিক্ষুকদের এখানে কাজ করার প্রস্তাব করে। ৪৩ জন রাজি হন। ২০ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের প্যাকেট তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর ১ মে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই কাজে যোগ দেন তাঁরা। তাঁদের মাসিক বেতন হবে তিন হাজার টাকা করে। এ ছাড়া লাভের ২০ শতাংশ পাবেন তাঁরা। কাজ জোগাড় করে দেবে প্রশাসন, আর সবকিছু দেখভাল করবেন উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কর্মকর্তা। শুধু কোটালীপাড়া নয়, ভিক্ষাবৃত্তি সারা দেশেরই একটি বড় সমস্যা। চৌরখুলী মডেল সফল হলে সারা দেশেই ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। | 8 |
পুলিশ সদস্যদের 'জনগণের পুলিশ' হওয়ার শপথ নিয়ে দেশ ও জনগণের সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। নতুন নিয়মে বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ পাওয়া তিন হাজার কনস্টেবলের মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল রোববার বিকেলে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে 'চাকরি নয়, সেবা' শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, '২০২৫ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ। ২০৪১ সালে হবে উন্নত দেশ। উন্নত বিশ্বের উপযোগী করে বাংলাদেশ পুলিশকে গড়ে তোলা হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ পুলিশকে নিয়ে বিশ্বে গর্ব করি। আমাদের পুলিশ বাহিনীর মান এখন বিশ্বমানের কাছাকাছি।' আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, নতুন নিয়মে স্বচ্ছতা ও পেশাদারির সঙ্গে কনস্টেবল নিয়োগের মাধ্যমে পুলিশে নিয়োগে এক নবযাত্রা সূচিত হয়েছে। ১৯৮০ সালের পর বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগে প্রথম পরিবর্তন এনেছে সরকার। দীর্ঘ ৪০ বছর পর নতুন পদ্ধতিতে কনস্টেবল নিয়োগ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সব খাতে এখন উন্নয়নের সুবাতাস বইছে। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে 'চাকরি নয়, সেবা' স্লোগানে সৎ, সাহসী ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম তিন হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে নিয়োগ পাওয়া এসব কনস্টেবলের মৌলিক প্রশিক্ষণেও পরিবর্তন এসেছে। তাঁদের জন্য প্রতিটি কক্ষে চারজনের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ হ্যান্ডবুক পরিবর্তন ও প্রশিক্ষণ প্রায়োগিক ও বাস্তবভিত্তিক করা হয়েছে। আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, পরিবর্তিত আধুনিক বিশ্বে অপরাধের ধরনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বর্তমানে সাইবার অপরাধ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও ট্রান্সন্যাশনাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দক্ষ পুলিশের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ পুলিশের বেশির ভাগ সদস্য কনস্টেবল। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায়, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত, আসামি গ্রেপ্তার, টহল, বেআইনি সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ, পরোয়ানা তামিল ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পুলিশ। তাই তাদের বহুমাত্রিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, নতুন নিয়োগবিধিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সবচেয়ে যোগ্য জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর সুফল জনগণ শিগগিরই পাবে। সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। | 1 |
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের ২০২২-২৩ সেশনের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে আব্দুল্লাহ আল রাহাতকে সভাপতি ও মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।আজ শুক্রবার ক্লাবের মডারেটর ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মো. মহিউদ্দীন এবং ক্লাবের ২০১৯-২০ সেশনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।কমিটিতে অন্য সদস্যরা হলেন সহসভাপতি জয় চৌধুরী এবং সাদিয়া হাসান, কোষাধ্যক্ষ মো. এনামুল করিম রাফি, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান এবং তাসপিয়া ইসলাম, হেড অফ ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট মো. শাহরিয়ার কবির রিসাত, হেড অফ ক্রিয়েটিভ সুমাইয়া পিথী, কো-হেড অফ ক্রিয়েটিভ আব্দুল্লাহ আবরার, হেড অফ আইটি মো. তাহসিন ফাহাদ, কো হেড অফ আইটি মো. সাদিয়া বিনতে সানোয়ার, হেড অফ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট আদিব মাহমুদ, হেড অফ কন্টেন্ট অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ রাইটিং আফরিদা তাবাসসুম, হেড অফ মেম্বারশিপ সার্ভিস রেজমিন আক্তার, হেড অব ব্র্যান্ডিং শাহরিয়ার চৌধুরী বর্নীও, হেড অফ ক্রিয়েটিভ ভিজুয়ালাইজেশন শাফকাতুল আজম, হেড অফ ডিজিটাল কমিউনিকেশন শাফায়াত আরদিত নাবিল, হেড অফ অপারেশন রানা ইসলাম, হেড অফ পি আর এন্ড মিডিয়া মো. নাইমুল হাসান সুপ্ত।নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, 'জবি ক্যারিয়ার ক্লাবের মূল লক্ষ্য হলো কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। আমরা এ কাজটি করতে চাই পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রফেশনাল জগতের বাস্তব সমস্যা সমাধানে দক্ষ করে তুলতে ক্লাবের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করব।' | 6 |
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মা-মেয়ে। ঘটনাটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে। এ নিয়ে বিপাকে স্বজনেরা। প্রকাশ্যে তাঁরা কারও পক্ষে কাজ করতে পারছেন না।মা-মেয়ে দুজনই একই পদে বামনডাঙ্গা ইউপির ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে লড়ছেন।বাবা মো. মন্তাজ আলী স্ত্রী মজিদা বেগমকে সমর্থন দিয়ে বলেন, 'স্ত্রীসহ দিনরাত মাঠে কাজ করছি। ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি আমরা। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমাদের বিজয় ঠেকাতে পারবে না কেউ।'এক প্রশ্নের জবাবে মো. মন্তাজ আলী আজকের পত্রিকাকে জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে মায়ের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন মেয়ে মোর্শেদা বেগম।স্থানীয় ভোটার ফজলুর রহমান বলেন, 'হামরা মুছিবতে আছি। মা মজিদা বেগমকে ভোট দেব নাকি তাঁর মেয়ে মোর্শেদা বেগমকে ভোট দেব। কারণ, দুজনই আমাদের কাছের লোক। ওমরা ভোটে দারে বসি আছে। সকল মুসিবত এখন হামার।'স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, 'দুজনই আমাদের আপনজন। ইচ্ছা থাকার পরও কারও পক্ষ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামতে পারছি না। এটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের।'শেষ পর্যন্ত মা-মেয়ে এভাবে থাকলে একজনও নির্বাচিত হতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন স্বজনেরা। তাঁরা আরও বলেন, এখনো শোধরানোর সময় আছে। তা না হলে বড় বিপদ তাঁদেরই হবে। কিন্তু তাঁরা (মা-মেয়ে) বিষয়টা বুঝতে পারছেন না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, 'মাঝে মাঝে চিন্তা হয় মা-মেয়ের কাউকে এবার ভোট দেব না। কারণ, ভোটের আগেই তাঁরা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন।'মা মজিদা বেগম বলেন, 'জাতীয় মহিলা পার্টির ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি আমি। দীর্ঘদিন ধরে এ দলের সঙ্গে যুক্ত আছি। সে কারণে বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়েছে আমাকে। কিন্তু সেখানে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয়নি। আর এ কারণেই আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সবাইকে দেখিয়ে দেব টাকা ছাড়া পরিষদে কাজ হয় কি না।' মানসিকতা থাকলে সব সম্ভব বললেন প্রার্থী মজিদা বেগম।অপর এক প্রশ্নের জবাবে মেয়ের সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'বিজয় আমার নিশ্চিত। নির্বাচনী মাঠে আমার জনপ্রিয়তায় ক্ষুব্ধ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। তাঁরাই আমার মেয়েকে দিয়ে আমার বিরোধিতা করছেন। পারিবারিক দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন অন্য প্রতিপক্ষরা।'মেয়ে মোর্শেদা বেগম বলেন, 'বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও দিবসে শুভেচ্ছা-সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে আসছি এলাকায় অনেক দিন ধরে। আমি নির্বাচন করার জন্য এ ধরনের কাজগুলো করে আসছি। জনপ্রিয়তাও আছে আমার। তারা আমাকে ছাড়ছে না এ নির্বাচনে। তাদের কথায় নির্বাচনে লড়ছি। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।' মায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আছে বিষয়টি স্বীকার করে বলে মোর্শেদা বলেন, 'মায়ের ভোট মা করবেন, আমার ভোট আমি করব। জনপ্রিয়তা যার বেশি জনগণ তাকে ভোট দেবে।' তবে তিনিও আশাবাদী জনগণ তাঁকেই বিজয়ী করবেন।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউপি ভোটে নিযুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সেকান্দার আলী বলেন, ভোটে একই পরিবারে একাধিক প্রার্থী হতে পারেন। এতে বিধিতে কোনো সমস্যা নেই।উল্লেখ্য, উপজেলার ১৩ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে মোট ১০৪ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য ২২০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৫৭১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৮ নভেম্বর। | 6 |
কক্সবাজারের উখিয়া থেকে অস্ত্র-গুলিসহ মোস্ট ওয়ান্টেড রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সৈয়দুল আমিনকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ এর পশ্চিম এলাকা থেকে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এপিবিএন-১৪ এর একটি টিম।গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে দেশীয় তৈরি রিভলবার ও আট রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে।গ্রেপ্তার হওয়া ওই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হলেন, রকিম গ্রুপের টাইগার ইউনিটের প্রধান এবং উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-ই/২ এর মো. নাজেরের ছেলে সৈয়দুল আমিন।এ বিষয়ে এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মাদ জিয়াউল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে দেশীয় তৈরি রিভলবার ও আট রাউন্ড গুলিসহ মোস্ট ওয়ান্টেড 'আরসা' এর রকিম গ্রুপের 'গান' শাখার প্রধান অস্ত্র চালনাকারী সৈয়দুল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন-১৪ এর একটি টিম। সৈয়দুল আমিন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ একাধিক অভিযান চালিয়েছে।মোহাম্মাদ জিয়াউল বলেন, রকিম গ্রুপের এই সৈয়দুল আমীন ও লালুরা মিলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টাইগার ইউনিটের 'গান' গ্রুপ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। এ ছাড়াও এই গ্রুপের নেতৃত্বে শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, এই মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
স্বস্তিতে নেই মার্কিন ভোক্তারা। বেড়েই চলেছে মূল্যস্ফীতির হার। গতকাল বুধবার মার্কিন শ্রমবিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরেও দেশটিতে ভোক্তা মূলকসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। আবারও উঠে এসেছে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সেপ্টেম্বরে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ অর্থনীতির ভোক্তারা খাদ্য ও সেবার জন্য ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি দিচ্ছে। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। এ মাসে পেট্রলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। খাদ্যের দাম গত মাসের তুলনায় বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ ও বাসাভাড়া বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৮ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি যদি ২ শতাংশের মধ্যে রাখা যায়, তাহলে তা ভালো অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকেই নির্দেশ করে। ফেডারেল রিজার্ভ সে লক্ষ্যই নেয়। তবে সে লক্ষ্য ছাড়িয়ে যায় গত এপ্রিলেই। এপ্রিলে এটি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছিল ৩ শতাংশ। অবশ্য ২০২০ সালের আগস্টে এক বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছিল যে সর্বাধিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারলে মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশের ওপরে যেতে পারে। তবে শ্রমিকসংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেছেন যে সেপ্টেম্বরে, তাদের যে পরিমাণ চাকরি খালি হয়েছে, তারা তা পূরণ করতে পারবে না। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়ায় ৫ শতাংশে। জুনে আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশে। আগস্টে পণ্যের মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেপ্টেম্বরে আবার বাড়ল মূল্যস্ফীতি। | 0 |
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার নওপারা এলাকায় সোমবার রাতে কর্তব্যরত অবস্থায় আলমগীর হোসেন আলম নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেন আলম ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার গুলবাহার ইউনিয়নের উমর নগর এলাকার গোলাম সরওয়ার মোল্লার ছেলে। পাংশা থানার ওসি মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে পুলিশের একটি দল নওপারা এলাকায় টহল দিচ্ছিলো। এসময় নওপাড়া এলাকায় মাইক্রোবাসটির চাকা কাদায় আটকে যায়। পুলিশ কনস্টেবল আলম ভয়ে মাইক্রোবাস থেকে লাফ দিলে মাইক্রোবাসটি অকস্মিক উল্টে তার গায়ের উপর পড়ে। আহতাবস্থায় তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই রাজবাড়ী ২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিম তাকে হাসপাতালে দেখতে যান। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি জানান, নিহত পুরিশ কনস্টেবল আলগীরের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর সাড়ে ১২ টায় পুলিশ লাইনে নামাজের জানাযা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা পুলিশের তথ্যমতে, নিহত আলমগীর হোসেন আলম ২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল হিসেবে যোগদান করেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি গাজীপুর থেকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় বদলী হয়ে আসেন। | 6 |
রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েবিএনপিরাজনীতি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।শনিবার কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যারা রাজনীতি করছেন তারা বাংলাদেশের ক্ষতি করছেন এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করছেন।''ভাসানচরহবে আত্মঘাতী' বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, 'রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু হিসেবে বাংলাদেশে রাখা হয়েছে। সুতরাং রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যাক বা অন্য জেলাতে পুর্নবাসনে যাক সেটার জন্য প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা দুর্বল হয়নি। এক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।'জেলা জাসদের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপনসহ জাসদ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
| 9 |
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ষোল বছর বয়সী এক কিশোরকে গলায় ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার উপজেলার জানেরচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে কালিয়াকৈর থানার এসআই আব্দুল হাকিম জানান। নিহত সফিক কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বোয়ালিচর গ্রামের মো.কালম মিয়ার ছেলে। এসআই আব্দুল হাকিম বলেন, ভোরে ওই কিশোরকে গলায় ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সফিকের মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেন নি পুলিশ। এসআই বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। | 6 |
ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে চার কোটি টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ দিন ধার্য করেন। এদিন ১১ আসামির মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এমডি এ কে এম শামীম ও সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন আত্মপক্ষ সমর্থনের লিখিত বক্তব্য দেন। এরপর বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। এরআগে গত ২৯ আগস্ট এ মামলার সাত আসামি আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন। এসময় তারা আদালতে লিখিত বক্তব্য দিতে চাইলে আদালত তাদের লিখিত বক্তব্য দাখিলের জন্য ৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। উল্লেখ্য, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ভুয়া ঋণ তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পরে একই বছরের ডিসেম্বরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। এরপর ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচারকাজ শুরু করেন। তবে আসামিদের মধ্যে এসকে সিনহাসহ চারজন পতালক, একজন কারাগারে আটক এবং বাকি ছয়জন জামিনে রয়েছেন। এ মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়। | 6 |
খুলনার বটিয়াঘাটায় অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তা ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ দেওয়ার জন্য কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বলেও জানা গেছে।তেমনি একটি প্রতিষ্ঠান র্যাপিড ক্যাশ। যাদের নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। তাঁরা স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঋণগ্রহীতা।এ প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া ভূক্তভোগী তৃপ্তি পাল টুকটুকি বলেন, 'র্যাপিড ক্যাশ থেকে আমি এক হাজার টাকা লোন নিয়েছিলাম। লোনটি পরিশোধের কথা ছিল ৭ দিনের মধ্যে। আমি যখন ৭ দিন পর টাকা পরিশোধ করতে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করি তখন তাঁরা বলে দুই হাজার টাকা দিতে হবে। কারণ জানতে চাইলে নানাবিধ ভয়ভীতি দেখায় তাঁরা।'ভুক্তভোগী একাধিক ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি আইন না মেনেই এসব অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের মাঝে ঋণ দিয়ে হয়রানি করে চলেছে। তাঁদের ঋণের টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারলে পরের দিন থেকে শতকরা ৮০ শতাংশ করে লভ্যাংশ নিচ্ছে ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে।ঋণের ব্যবসা করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক এবং মাইক্রোক্রেডিট অথরিটির অনুমোদন ও কাগজপত্র নিতে হয়। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কাগজপত্র বা অনুমোদন নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম নীতিবহির্ভূত এসব প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।এইভাবে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার গ্রাহককে প্রচারণার মাধ্যমে ভুল বুঝিয়ে প্রথমে সদস্য করে তাঁদের। অনলাইনে স্বল্প সুদে ঋণের কথা বলে টাকা দেওয়া হয়। ঋণ দেওয়ার পর শুরু হয় এসব অনলাইনে অবৈধ লাইসেন্সবিহীন রিপেইড ক্যাশ কোম্পানির বাণিজ্য।এসব প্রতিষ্ঠান প্রথমে একজন গ্রাহককে অনলাইনে তাঁদের সাইটের সদস্য করে। এরপর সদস্যকে জানানো হয় ৭ দিন, ৯০ দিন ও ১২০ দিনসহ বিভিন্ন মেয়াদে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে অনলাইনে ঋণ নিতে পারবেন।কিন্তু ঋণ দেওয়ার পর হঠাৎ তাঁদের কথা আর কাজের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না। অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা। গ্রাহকদের ঋণের তারিখ শেষ হওয়ার পরের দিন থেকে ঋণ পরিশোধ না করতে পারলে শতকরা ৪৫ টাকা প্রতিদিন আসল টাকার সঙ্গে লভ্যাংশ যোগ করা হয়। এত টাকা কেন সুদ বললে তারা বলে, এটা তাঁদের কোম্পানির নিয়ম।এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অমিত সমাদ্দার বলেন, 'এই ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নাই। তবে শুনেছি এক ধরনের প্রতারক চক্র বিভিন্ন প্রলোভনের কথা বলে জন সাধারণকে প্রতারণায় ফেলছে।' | 6 |
ভালোবাসা দিবস ও বসন্তবরণ উৎসবে যখন মেতেছে সারাদেশ। প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে যখন ব্যস্ত সারাবিশ্ব। তখন প্রেমবঞ্চিত সংঘ ও চিরকুমার সভার পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশে উত্তাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)! শুক্রবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পিছনের আমতলা থেকে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী প্রেমবঞ্চিত সংঘের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। একই সময় শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে থেকে চিরকুমার সংঘের ব্যানারে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শতাধিক শিক্ষার্থী। দু'টি মিছিলই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা বলেন, অর্থবিত্ত বা সুন্দরের মোহে নয়, প্রেম হবে আত্মিক ও স্বর্গীয়। প্রেমের বণ্টন হবে সুষ্ঠু, হবে শ্বাশত। প্রেমবঞ্চিত সংঘের সভাপতি মনির মণ্ডল বলেন, আমরা প্রেমের বিরোধী নই। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেমের নামে যে ভণ্ডামি চলে তার প্রতিবাদ করছি। আমরা প্রেমের সুষম বণ্টন চাই। একজন চার-পাঁচটা প্রেম করে আমরা সেটার প্রতিবাদ জানাই। সমাবেশ ছাড়াও দিনব্যাপী কবিতা উৎসব, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 1 |
অতিরিক্ত তেল শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ তেলে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি, কিন্তু সে অনুযায়ী পুষ্টিগুণ নেই বললেই চলে। বেশি তেলে রান্না করা খাবার খেলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, হৃদ্রোগ, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সুস্থ থাকতে তেলবিহীন রান্নার দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই।তেল ছাড়া রান্নার উপায়ননস্টিক প্যানে অল্প তেল অথবা তেল ছাড়া খাবার রান্না করা যায়। ননস্টিক প্যানে খাবার পুড়ে গিয়ে পোড়া দাগ লেগে যাওয়ারও ভয় নেই।ভাজাপোড়া খাবার তেল ছাড়া রান্না করতে চাইলে তেলের পরিবর্তে দুই টেবিল চামচ পানি ব্যবহার করতে পারেন। পেঁয়াজ ভাজতে চাইলে তেলের পরিবর্তে পানি দিন। এরপর পেঁয়াজগুলো ছেড়ে দিন।যাঁরা ওভেনে শাকসবজি কিংবা অন্যান্য খাবার রোস্টিং বা সেঁকার সময় তেল ব্রাশ করে নেন, তাঁরা তেলের বদলে ব্যবহার করতে পারেন ভেজিটেবল স্টক কিংবা সয়া সস।তেল ছাড়া রান্নার কয়েকটি রেসিপি সি স্ক্যালেপ উইথ প্রনউপকরণ: ২০০ গ্রাম সি স্ক্যালেপ, ৩০০ গ্রাম প্রন, গ্রিন টি, ১০০ গ্রাম সুগন্ধি চাল, লো ফ্যাট মেয়োনেজ ৪ টেবিল চামচ, ১২টি জাফরান, ৪০০ গ্রাম মুখিকচু, ১০০ গ্রাম ফ্রেসি, ৫০ গ্রাম আখরোট, ১০ গ্রাম এডিবল ফুল, ৫০০ গ্রাম ময়দা, ডিম ৩টি, ডিমের কুসুম ২টি, অলিভ অয়েল ১ টেবিল চামচ।প্রণালি: প্রথমেই সব উপকরণ একটি পাত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর সি স্ক্যালেপ অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে গরম পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে। সি স্ক্যালেপের ওপরের খোলস ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত ফুটন্ত পানিতে রাখতে হবে। ভেজিটেবল স্টক, লেবু ও হার্বের সঙ্গে প্রন দুই মিনিট রান্না করে নিতে হবে। গ্রিন টি ও সুগন্ধি চাল একসঙ্গে জ্বাল দিতে হবে ধোঁয়া ওঠা না পর্যন্ত। এরপর উপকরণগুলো সাজিয়ে পরিবেশন করুন। স্টিমড স্যামনউপকরণ: স্যামন স্টেক ৪ টুকরা প্রতিটি ১৬০ গ্রাম, লেবুর রস, সি সল্ট, ২০০ গ্রাম অ্যাসপ্যারাগাস, ১০০ মিলি পুদিনা রাইতা, ২০০ গ্রাম মুরগির মাংস, ক্যারামেল পেস্ট ৪ টেবিল চামচ, ২০০ গ্রাম ক্যাপসিক্যাম, পার্সলে, ধনেপাতা, ২০০ গ্রাম বিট রুট, পাপরিকা ১ টেবিল চামচ, স্যামন ক্যাভিয়ার ১ টেবিল চামচ।প্রণালি: ক্যারামেল পেস্ট একটি গরম পাত্রে জ্বাল দিতে হবে যতক্ষণ না সুবাস ছড়ায়। এর সঙ্গে পেঁয়াজ এবং পরিমাণমতো পানি যোগ করতে হবে। পানি ফুটতে শুরু করার পর মুরগির মাংস ঢেলে দিতে হবে। একটি ট্রেতে মুরগির মাংস ছড়িয়ে দিয়ে তার ওপর স্যালন মাছের টুকরো বসিয়ে দিতে হবে। অ্যাসপ্যারাগাস দিয়ে স্যামন মাছের ওপরের অংশ পেঁচিয়ে দিতে হবে। ট্রেটিকে হালকা আঁচে রাখতে হবে বেশ কিছুক্ষণ। এরপর মিন্ট রাইতা, বিট রুট ও হার্বস দিয়ে পরিবেশন করুন। চিলড মিসো সুপ উইথ বিট রুটউপকরণ: হলুদ মিসো পেস্ট ১ টেবিল চামচ, ভেজিটেবল স্টক ১ টেবিল চামচ, লো সোডিয়াম সয়াসস ১ টেবিল চামচ, ২০০ গ্রাম অর্গানিক টফু, ২০০ গ্রাম শসা, ১০০ গাম ওয়েস্টার মাশরুম, ১০ গ্রাম শুকনো ওয়াকাম, এডিবল ফ্লাওয়ার, ৫ গ্রাম পিক ডিল, ৫ গ্রাম চারভিল, ২০০ গ্রাম বিট রুট, ১৫০ মিলি পানি, ৫০ গ্রাম স্টেভিয়া।প্রণালি: একটি পাত্রে মিসো পেস্ট ও ভেজিটেবল স্টক একসঙ্গে নিয়ে ২০ মিনিট জ্বাল দিতে হবে। অন্য একটি পাত্রে বিট রুট ২০ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। দুই পাত্রের উপকরণগুলো একসঙ্গে করে অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে একসঙ্গে কিছু সময় জ্বাল দিতে হবে। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। ড্রাই রোস্টেড অস্ট্রেলিয়ান য়োয়েলউপকরণ: অস্ট্রেলিয়ান য়োয়েল-এর মাংস চার টুকরো ১৮০ গ্রাম প্রতিটি, ২০০ গ্রাম পোলেন্টা, ২ লিটার দুধ, ২০০ গ্রাম শসা, ৩০০ গ্রাম কচি গাজর, ২০০ গ্রাম অ্যাসপারাগাস, ২০০ গ্রাম টমেটো, ২০০ গ্রাম বাটন মাশরুম, ১০০ গ্রাম ফ্রেসি, ১০০ গ্রাম ফেনিল, ৪০ গ্রাম হার্ব এবং এডিবল ফ্লাওয়ার, ২০ মিলি সাদা তফু ওয়েল, ১০ গ্রাম সি সল্ট, ১০ গ্রাম গোলমরিচ।প্রণালি: য়োয়েল-এর মাংস লবণ এবং গোলমরিচ দিয়ে মেয়নেট করে নিতে হবে। এর পর ওভেনে ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রেখে দিতে হবে, যতক্ষণ মাংস সিদ্ধ না হয়। দুধ জ্বাল দিয়ে মাখন বানিয়ে নিয়ে এর সঙ্গে তফু অয়েল ও লবণ মিশিয়ে নিতে হবে। সব উপকরণ একসঙ্গে একটি পাতলা ট্রেতে য়োয়েল-এর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। মাংস বাদামি বর্ণ ধারণ করলে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।উপকারিতাতেল ছাড়া রান্না করা খাবার খেলে খাবারের সঠিক স্বাদ পাওয়া যায়।বদহজম, পেটে অস্বস্তি, গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি সমস্যা কমে।তেল ছাড়া রান্না করা খাবার খেলে হার্ট ভালো থাকে। ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি কমে। তেলমুক্ত খাবার খেলে ত্বক ভালো থাকে, ব্রণের সমস্যা কমে। কম তেলে রান্না করা খাবার খেলে কিংবা তেলমুক্ত খাবার খেলে ওজন বাড়ারও শঙ্কা নেই। | 4 |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের ছোট্ট তিন শহরে মধ্যরাতের ভোটে হিলারি ক্লিনটেনের চেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউএসএ টুডে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিক্সভিলি নচ, হার্টস লোকেশন ও মিলসফিল্ড-এই তিন শহরে ভোটার ১০০ জনের কম। এর মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প পেয়েছেন ৩২ আর ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি পেয়েছেন ২৫ ভোট।
ডিক্সভিলি নচ শহরে অবশ্য ট্রাম্পকে হারিয়েছেন হিলারি। আট জন ভোটারের মধ্যে হিলারি ৪ ও ট্রাম্প ২ ভোট পান। হিলারির জয়ের ধারা অব্যাহত ছিল হার্টস লোকেশনেও। সেখানে হিলারি ১৭ ও ট্রাম্প ১৪ ভোট পেয়েছেন। কিন্তু মিলসফিল্ডে হিলারির চেয়ে চার গুণ বেশি ভোট পান ট্রাম্প। এই শহরে ট্রাম্প পেয়েছেন ১৬ ও হিলারি পেয়েছেন ৪ ভোট।
উল্লেখ্য, 'নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইন অনুযায়ী কোনো শহরের ভোটার ১০০ জনের কম হলে মধ্যরাতে ভোটগ্রহণ করা হয়। রাজ্যের হার্টসই প্রথম শহর যেখানে ১৯৪৮ সালে 'আর্লি ভোট' অর্থাৎ মধ্যরাতের ভোট প্রথা চালু হয়।
নিউ হ্যাম্পশায়ারে কে জিততে চলেছেন, তা অবশ্য ছোট ছোট এই তিন এলাকার ভোটগণনার ফল দেখে আঁচ করা সম্ভব নয়। তেমনি এ তিন এলাকার ফল দেখে পুরো নির্বাচনের ফলাফলের আঁচ পাওয়াও অসম্ভব। তবে ভোটগণনার একেবারে প্রারম্ভিক গতিবিধি বলছে, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ট্রাম্প তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হিলারির চেয়ে ৭ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যে ইলেক্টোরাল কলেজে নির্বাচক সংখ্যা ৪। এই অঙ্গরাজ্যের ভোট গণনায় এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প যেভাবে এগিয়ে রয়েছেন, সেই ধারাবাহিককতা বজায় থাকলে নিউ হ্যাম্পশায়ারের চারটি ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটই ট্রাম্পের ঝুলিতে চলে যাবে।
| 3 |
তামিল সুপারস্টার থালাপাতি বিজয়। সমগ্র ভারতে তার জনপ্রিয়তা বলিউড নায়কদেরও হারা মানায়। তার জনপ্রিয়তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। তিনি এখন ৬৫তম সিনেমা 'বিস্ট'-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। এই শুটিংয়েই মাঝেই খবর এলো তার ৬৬তম সিনেমার। আর নতুন সিনেমায় বিজয়ের পারিশ্রমিক নিয়েও জোর গুঞ্জন সিনেপাড়ায়। টাইমস অব ইন্ডিয়া, বলিউড বাবলসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর, 'মহর্ষি' পরিচালক বামশি পেডিপল্লি থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে বেশ কয়েক মাস ধরে নতুন সিনেমা নিয়ে আলোচনা করছেন। সেটিই হতে চলেছে বিজয়ের ৬৬তম সিনেমা। এ খবর সংগীতশিল্পী কৃশ নিশ্চিত করলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এ ব্যাপারে সামাজিক পাতায় একটি পোস্ট করলেও পরে তা মুছে দেন ওই সংগীতশিল্পী। নতুন খবর হলো, বিজয় নিশ্চিত করেছেন 'থালাপতি ৬৬' পরিচালনা করবেন বামশি পেডিপল্লি এবং প্রযোজনা করবেন দিল রাজু। গুঞ্জন চাউর, তামিল-তেলেগু ভাষার এ সিনেমায় চুক্তি সেরেছেন বিজয় এবং যে অঙ্কের পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, তা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে সর্বোচ্চ। যদি এ খবর বিশ্বাস করেন, তবে থালাপতি বিজয় তার ৬৬তম সিনেমার জন্য পারিশ্রমিক নিচ্ছেন ১২০ কোটি রুপি। এদিকে, তেলেগু সিনেমায় অভিষেকেরও জোর গুঞ্জন রয়েছে থালাপাতির। শোনা যাচ্ছে, বিজয়ের ৬৭তম সিনেমাও প্রযোজনা করবেন দিল রাজু। আর এ সিনেমা পরিচালনা করবেন তরুণ নির্মাতা দেশিং পেরিয়াসামি। সবশেষ বিজয় অভিনীত'মাস্টার' সিনেমা মুক্তি পায়। এতে আরও অভিনয় করেন বিজয় সেতুপতি। করোনা মহামারি ও প্রেক্ষাগৃহে ৫০ শতাংশ আসনের বিধি সত্ত্বেও এ সিনেমা ভারতের বক্স অফিসে সংগ্রহ করে ২১৭ কোটি রুপি। | 2 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) তাকে অর্ভ্যর্থনা জানানো হয়। এসময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এর আগে গতকাল বুধবার মালদ্বীপের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আহমেদ খলিল ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসিম, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ এবং সে দেশের প্রধান বিচারপতি উজ আহমেদ মুতাসিম আদনান সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপের পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া আজ সন্ধ্যায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজ সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। মালেতে আজ বৈঠক শেষে দুই দেশ দুটি চুক্তি ও দুটি সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে। সম্ভাব্য চুক্তি দুটি দ্বৈত কর পরিহার এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে। সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকগুলো বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা বিজ্ঞান (নবায়ন) এবং দুই দেশের যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়নে সহযোগিতা বিষয়ে। সফরসূচি অনুযায়ী শেখ হাসিনা আগামীকাল শুক্রবার মালেতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনায় ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আগামী সোমবার বিকেলে ঢাকা পৌঁছবেন। | 6 |
নিজের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপি-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শামছুল আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কেন্দ্রে তাঁর প্রতীক ঘুড়ির নামে যাঁরা এজেন্ট আছে, তাঁদের তিনি চেনেন না। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী রেডিও প্রতীকের নূরুল আমিন নিজের কর্মীদের ঘুড়ির এজেন্ট বানিয়ে কেন্দ্রে বসিয়ে রেখেছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ঘটনা এটি। কেন্দ্রের সামনে নিজের এজেন্টদের তালিকা নিয়ে অসহায়ের মতো ঘুরছেন সাবেক কাউন্সিলর শামছুল। টহলে আসা এক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজের এজেন্ট তালিকা দেখিয়ে অভিযোগ করেন তিনি। ম্যাজিস্ট্রেট ভেতরে গিয়ে কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে গাড়িতে ওঠেন। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এজেন্ট আছে। এটি বলেই দ্রুত গাড়ি নিয়ে চলে যান তিনি। তবে পরে ভেলুয়ার দীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ওই ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামানন্দের সঙ্গে দেখা হয় প্রতিবেদকের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ পেয়ে তিনি কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে দুটি কেন্দ্রে যাচাই করে দেখেছেন, ঘুড়ি প্রতীকের এজেন্ট আছে। এর আগে শামছুল আলম বলেন, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি তিনি। আগে তিনবার কাউন্সিলর ছিলেন। কোনো কেন্দ্রে তাঁর এজেন্ট ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাঁর সমর্থকেরা কেন্দ্রের সামনে ভিড় করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে কেন্দ্রের ভেতরে যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। ঈদগা কেন্দ্রের দায়িত্বরত পুলিশ বলেন, সাংবাদিকদের ভেতরে যাওয়া যাবে না। যা দেখার বাইরে থেকে দেখেন। এটা বলেই ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি অন্য দিকে চলে যান, তাঁর নাম জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল হককে ফোন করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ ঢুকতে না দিলে তাঁর কিছু করার নেই। আর কাউন্সিলর প্রার্থীর অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ তাঁর কাছে যায়নি। একই ওয়ার্ডের ভেলুয়ার দীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে এজেন্ট বের করে দেওয়ার একই অভিযোগ পাওয়া যায়। কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাবের আহম্মদের সমর্থকেরা অভিযোগ করেন, তাঁদের সব এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আবদুল মোনায়েম প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন প্রতীকের ছয়জন এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের এজেন্ট পরিচয়পত্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছিল না। তাঁর স্বাক্ষর ছাড়া কীভাবে পরিচয়পত্র পেল, তা তিনি জানেন না। | 9 |
রাজধানীর মহাখালীতে চালু হওয়া দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে দ্রুত বাড়ছে রোগীর চাপ। এ হাসপাতালে এখনও অক্সিজেনের সংকট না হওয়ায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোগীরা এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। এ অবস্থায় হাসপাতালে যোগ হচ্ছে আরও ৫০০ বেড। শনিবার (২৪ জুলাই) হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এখানে ৫১৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে রয়েছে প্রায় দুইশ রোগী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছুদিন আগেও হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু ঈদের পরদিন থেকে রোগী বাড়ছে। ২৪ জুলাই সকাল থেকে রোগীর চাপ আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় হাসপাতালে নতুন করে আরও বেডের সংখ্যা বাড়ানোর কাজ চলছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে প্রায় তিন মাস আগে রাজধানীর মহাখালীতে এ হাসপাতাল চালু করা হয়। এক হাজার শয্যার এ হাসপাতালে পাঁচ শতাধিক আইসিইউ ও এইচডিইউ শয্যা রয়েছে। দেশে করোনা ভাইরাসের দ্রুত ঊর্ধ্বগামী পরিস্থিতিতে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা লক্ষ করছি গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে করোনা সংক্রমণের হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এর একটা প্রভাব আমাদের হাসপাতালেও পড়েছে। এখানেও রোগী ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। অক্সিজেন সংকট আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই। তবে যে হারে রোগী আসছে তাতে চাপ সামলাতে ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালে যোগ হচ্ছে আরও ৫০০ বেড। | 4 |
৭৫ বছর আগে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছিল ভারত। গতকাল ১৫ আগস্ট ছিল ভারতের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস। ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসেই একফ্রেমে ধরা দিলেন ১৫ তারকা। ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে 'হাম হিন্দুস্তানি'। যা ১৫ জন তারকাকে একসূত্রে বেঁধেছে। এই মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন জয় করে নিয়েছে শ্রোতাদের। বিশ্বখ্যাত গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের কন্ঠ দিয়েই শুরু হয়েছে 'হাম হিন্দুস্তানি-র গানের ভিডিও। তারপরে বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের ভারী কন্ঠস্বর। এরপর রয়েছেন নবীণ-প্রবীণদের মেলবন্ধন।লতা মঙ্গেশকর থেকে শুরু করে, সোনু নিগম, কৈলাশ খের, অলকা ইয়াগনিক, শ্রদ্ধা কাপুর, সোনাক্ষী সিনহা, শ্রুতি হাসান, সিদ্ধান্ত কাপুর, পদ্মিনী কোলাপুর, অনিল আগরওয়াল, সাব্বির কুমার, জিন্নত জুবেইর, তারা সুতারিয়া, অঙ্কিত তিওয়ারি সকলেই রয়েছেন। ভোরের আলো, শস্য শ্যামলা ক্ষেত, শান্ত নদী, ট্রাফিকপূর্ণ রাস্তা, স্কুল, ফুটপাত থেকে দেশের বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন জায়গাও আরও অনেক টুকরো ছবি ধরা পড়েছে ভিডিওতে।গানের মূল মন্ত্র- 'এই পরিস্থিতিতে পুরো ভারত বলতে চায়, না হেরেছি। না হারব। একে অপরের ভরসায় আমরা ভারতবাসী আকাশের সেই তারা। আমরা আবার হাসব'। করোনাকালে ভারতে লড়াই করার ক্ষমতা জোগাতে এই গান। | 2 |
হোমনা উপজেলার হোমনা বাজার প্রধান সড়কের দুই পাশে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান সড়কটিতে প্রবেশ করলেই যানজট লেগে যায়। এ ছাড়া ফুটপাত ও সড়ক দখল করে রেখেছেন হকাররা। এতে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কের মাঝ দিয়ে হাঁটছেন। এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ-সড়কটি সরু। এতে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত যান চলাচল করে। এই পরিস্থিতিতে হোমনা পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে শিল্পকলার মোড় পর্যন্ত যানজট লেগে থাকছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারের প্রধান সড়কটি প্রয়োজনের তুলনায় সরু। এরপরও এর অর্ধেক অংশ দখল হয়ে থাকে। মোটরসাইকেলের চালকেরাও যত্রতত্র মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাখেন। এ ছাড়া ফুটপাত দখলে থাকায় বাজারে আসা লোকদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।বাজারের ব্যবসায়ী অসিত লাল পোদ্দার বলেন, 'হোমনা বাজারে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকের চাপ বেশি। এগুলো পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। যেখানে সেখানে যখন তখন যানবাহনগুলো পার্কিং করায় যানজট দেখাদিচ্ছে। বাজারের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড, ফ্রেন্ডস ক্লাবের পূর্ব পাশের সড়ক, জলিল সুপার মার্কেটের সামনে, হাজি নোয়াব আলী মার্কেটের সামনে, খোরশেদ আলম মার্কেটের সামনে, মধুমিতা সেলুনের সামনে ও পোস্ট অফিস মোড়ে সবসময় যানজট লেগে থাকে।'হোমনা সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী লিমা আক্তার বলেন, 'আমাকে প্রতিদিন বাজার পার হয়ে কলেজে যেতে হয়। আমার বাসা থেকে কলেজে যেতে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা সময় লাগত। কিন্তু আমি ১ ঘণ্টা আগে বাসা থেকে বের হয়েও যানজটের কারণে কলেজে যেতে দেরি হচ্ছে। আমার মতো অনেক শিক্ষার্থীই সময়মতো কলেজে যেতে পারছে না।'বাজারের যানজটে নিরসনে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই সড়কে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক কমিটির একাধিক সভায় আলোচনাও হয়েছে।হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, 'ট্রাফিক পুলিশ আমাদের থানায় নেই। আমরা সীমিত জনবল দিয়ে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম চালাচ্ছি। থানায় ৩৮ জন কনস্টেবল থাকার কথা থাকলেও আমার এ থানায় আছেন মাত্র ২২ জন।'এ বিষয়ে বাজার কমিটির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন সুবল বলেন, 'বাজারে এ রকম যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। বাজারের যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।'হোমনা পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 'ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজারের প্রধান সড়কটি পাকা করা হয়েছে। শিগগির নালা নির্মাণ করে বাজারের পুরোনো বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটা এবং শিল্পকলা মোড়ে আরেকটা ফটক নির্মাণ করা হবে। যাতে করে বাজারে দিনের বেলায় কোনো বড় যানবাহন প্রবেশ করতে না পারে। এ ছাড়া ফুটপাতগুলোও দখলমুক্ত করে জনগণের চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমন দে বলেন, 'বাজারের যানজট নিরসনের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি আধুনিক নগরী গঠনের লক্ষ্যে যানজন নিরসন করা হবে।' | 6 |
আকাশসীমা লঙ্ঘন করা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া আর চীনের মধ্যে বেশ রেষারেষি দেখা হয়েছে। রাশিয়া এবং চীনের যুদ্ধবিমান আকাশসীমা পেরিয়েছে দাবি করে তা প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়া। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে রাশিয়া এবং চীনের ওই অবস্থানের পর দক্ষিণ কোরিয়াও পাল্টা জবাবে দেয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রাশিয়া এবং চীনের পাঁচটি যুদ্ধবিমান তাদের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে সকাল ৯টার দিকে। এর প্রতিক্রিয়ায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান উড়িয়ে গুলি চালিয়েছে কোরীয় বিমান বাহিনী। কোরীয় সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের ডোকডো দ্বীপের আকাশে একটি রুশ সামরিক এ-৫০ বিমান উপর্যুপরি দুই দুইবার ঢুকে পড়ার পর সেটিকে তাড়াতে তাদের বিমান বাহিনীর এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। সে সময় বিমান থেকে দুই দফায় ৩৬০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। প্রথমবার ৮০ রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর রুশ বিমানটি সরে গেলেও আবারও ফিরে আসে। তখন নতুন করে ২৮০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান চুং ইউ-ইয়ং রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাছে কড়া প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে এক বিবৃতিতে চুংকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, আমরা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসাবে বিবেচনা করছি। আবার এ ধরনের লঙ্ঘন হলে, আমরা আরো কড়া ব্যবস্থা নেব। ডোকডো নামের ছোটো এই দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৯৫৪ সাল থেকে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার দখলে, কিন্তু জাপান দাবি করে এটি তাদের। জাপানে দ্বীপটি তাকেশিমা নামে পরিচিত। বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হঠাৎ হঠাৎ চীন এবং রাশিয়ার সামরিক পর্যবেক্ষণ বিমান বিতর্কিত এই দ্বীপটির আকাশসীমায় দেখা গেছে। তবে একে কেন্দ্র করে এই ধরনের উত্তেজনা এই প্রথম। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া এবং রাশিয়ার মধ্যে এ ধরনের উত্তেজনার ঘটনা এই প্রথম। গত বছর চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি প্রথমবারের মত রাশিয়ার সাথে ভোস্টক নামে ব্যাপক একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়। এখন আবার এই দুই দেশ মিলে কোরীয় উপদ্বীপের আকাশে বিমান মহড়া করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক গত ৫০ বছর ধরে অত্যন্ত নাজুক। সীমান্তে কার্যত যুদ্ধাবস্থা চলছে। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন সেনার উপস্থিতি, আমেরিকার সাথে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের বিষয়টি চীন এবং রাশিয়া কখনই পছন্দ করেনা। সঙ্গে সম্প্রতি শুরু হয়েছে জাপানের সাথে মনোমালিন্য। | 3 |
শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ যেদিন জাতীয় সংসদে বললেন, পেঁয়াজ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই, দাম নিয়ন্ত্রণেই আছে, সেদিনই পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় উঠেছে। এর আগে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হতো কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। বৃহস্পতিবার পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়। শিল্পমন্ত্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণের দর্শন কাজে লাগেনি। মানুষ এখন ভুলেই যাচ্ছে যে কিছুদিন আগেও পেঁয়াজের স্বাভাবিক দাম ছিল-কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, শিগগিরই পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার নিচে নামার সম্ভাবনা নেই। তারও আগে তিনি বলেছিলেন, সিন্ডিকেট পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। পণ্যের দাম বাড়লেই আমরা সব সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের কথা শুনি। কিন্তু সিন্ডিকেটে কারা আছেন, তাঁদের নাম জানা যায় না। আর জানা গেলেও তাঁরা এতটাই ক্ষমতাবান যে সরকার তাঁদের কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারে না। পেঁয়াজ নিয়ে মন্ত্রীদের এসব কথা শুনে স্বাধীনতার পর খাদ্যসংকটকালে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ফণীভূষণ মজুমদারের কথা মনে এল। যখন বাজারে চাল মণপ্রতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তখন খাদ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন, চালের মণ ১০০ টাকার ওপরে উঠতে দেওয়া হবে না। সঙ্গে সঙ্গে চালের মণ ১০০ টাকায় উঠে গেল। এরপর তিনি বললেন, ১২০ টাকার বেশি হতে দেওয়া যাবে না। পরদিনই চালের মণ ১২০ টাকার ওপরে উঠল। সে সময়ে খাদ্যসংকটের পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পাঠানো গমবাহী জাহাজের গতিপথ ঘুরিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যায়। কিউবার কাছে পাট বিক্রি করার অজুহাতে বাংলাদেশকে শাস্তি দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। তবে এখনকার পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার ক্ষেত্রে কারও ষড়যন্ত্র আছে-এমন কথা কোনো মন্ত্রী-নেতা বলেননি। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীদের বেফাঁস কথায় যে বাজার চড়ে যায়, তার অনেক উদাহরণ আছে। এরশাদ আমলে চিনির দাম এতটা বেড়ে গিয়েছিল যে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রীর নামের সঙ্গে 'চিনি' যোগ হয়ে গিয়েছিল। তাঁকে সবাই বলতেন 'চিনি জাফর'। এবারে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পেছনে বাজারের কারসাজির চেয়ে বেশি কাজ করেছে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হওয়া। বাংলাদেশে বছরে ২৬ লাখ টনের মতো পেঁয়াজের চাহিদা আছে। দেশে উৎপন্ন হয় ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন। বাকিটা বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। যোগাযোগের সুবিধার জন্য ভারত থেকেই বেশি পেঁয়াজ আসত। এ ছাড়া মিয়ানমার, মিসর ও পাকিস্তান থেকেও কিছু পেঁয়াজ আসে। তবে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার ভারতের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। ঘাটতির কারণ দেখিয়ে ভারত গত সেপ্টেম্বরে হঠাৎ বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। সেই থেকে বাজারে দফায় দফায় পেঁয়াজের দাম বেড়ে চলেছে। সমস্যাটি এতটাই গুরুতর যে গত অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরের সময়ও বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। ৪ অক্টোবর আইসিটি মৌর্য হোটেলের কামাল মহল হলে আয়োজিত ভারত-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের (আইবিবিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, 'ভারত রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় আর তাতে সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশ। ভারত এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বাংলাদেশকে আগে জানালে ঢাকা অন্য কোনো দেশ থেকে পেঁয়াজ আনার ব্যবস্থা করে নিত।' ইংরেজিতে দেওয়া বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হঠাৎ হিন্দি ভাষায় বলতে শুরু করেন, 'পেঁয়াজ মে থোড়া দিক্কত হো গিয়া হামারে লিয়ে। মুঝে মালুম নেহি, কিউ আপনে পেঁয়াজ বন্ধ কর দিয়া! ম্যায়নে কুক কো বোল দিয়া, আব সে খানা মে পেঁয়াজ বন্ধ করদো (পেঁয়াজ নিয়ে একটু সমস্যায় পড়ে গেছি আমরা। আমি জানি না, কেন আপনারা পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলেন। আমি রাঁধুনিকে বলে দিয়েছি, এখন থেকে রান্নায় পেঁয়াজ বন্ধ করে দাও)।' (ডেইলি স্টার বাংলা, ৪ অক্টোবর ২০১৯) ভারত ঘাটতির কারণে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলেও মালদ্বীপে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। ঘাটতির কারণে ভারতেও পেঁয়াজের বাজার চড়া। আবার দাম না পেয়ে কৃষকের পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার খবরও সে দেশের পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। বাংলাদেশের মতো ভারতেও বাজার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল। ভোক্তা উচ্চ দামে পণ্য কিনলেও উৎপাদক ন্যায্য দাম পান না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশে পেঁয়াজের সংকট থাকা সত্ত্বেও মালদ্বীপে পেঁয়াজ রপ্তানি করবে ভারত। এতে পরিমাণেরও কোনো হেরফের হবে না। আগে দেশটিতে যে পরিমাণ পেঁয়াজ রপ্তানি হতো, সেই পরিমাণই রপ্তানি করা হবে পেঁয়াজ। মালদ্বীপে নিযুক্ত ভারতীয় মিশন এক টুইট বার্তায় জানায়, 'আমরা আমাদের বন্ধু মালদ্বীপকে আশ্বস্ত করতে চাই যে টানা মূল্যবৃদ্ধি ও দেশে এক লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও মালদ্বীপে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে চায় ভারত।' ভারতে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে আফগানিস্তান, তুরস্ক, ইরান ও মিসর থেকে আমদানি করছে। তারপরও তারা মালদ্বীপে পেঁয়াজ রপ্তানি করছে। মালদ্বীপে পেঁয়াজ রপ্তানি অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্য ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ। মালদ্বীপের বাজারটি ভারত চীন বা অন্য কোনো দেশের হাতে ছেড়ে দিতে চায় না। নয়াদিল্লি ও ঢাকার নীতিনির্ধারকেরা প্রায়ই বলে থাকেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এমন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা অন্য দেশের জন্য রোল মডেল হতে পারে। কিন্তু সেই রোল মডেল সম্পর্কও বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি নিশ্চিত করতে পারেনি। এ বিষয়ে নিশ্চয়ই ভারতের নিজস্ব হিসাব-নিকাশ আছে, যাতে বাংলাদেশ নয়, মালদ্বীপ অগ্রাধিকার পেয়েছে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় বাংলাদেশ পেঁয়াজের খোঁজে এবার পুরোনো বাজারের পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের দ্বারস্থ হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেশটি থেকে ২০০ টন পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান, মিয়ানমার, চীন, মিসর, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকেও তো পেঁয়াজ আসছেই। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল খবর দিয়েছে, ১৫ বছর পর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আসছে। কিন্তু খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, পাকিস্তান থেকে কমবেশি পেঁয়াজ সব সময়ই আসত। ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় এবারে আমদানির পরিমাণ বাড়বে। বাংলাদেশি ভোক্তারা ভারতীয় পেঁয়াজের স্বাদ না পেলেও পাকিস্তানি পেঁয়াজের ঝাঁজ উপভোগ করবেন। ২০০৭ সালে ভারত থেকে চাল আমদানি নিয়েও একটি সমস্যা হয়েছিল। তবে সে সময়ে দিল্লির 'বাঙালি মন্ত্রী' (পরে দেশটির রাষ্ট্রপতি হন) প্রণব মুখার্জির হস্তক্ষেপে ভারত ঘাটতি সত্ত্বেও পাঁচ লাখ টন চাল বাংলাদেশকে দিয়েছিল। এবারে দিল্লিতে প্রভাবশালী 'বাঙালি মন্ত্রী' নেই বলেই কি আমরা পেঁয়াজ-কূটনীতিতে হেরে গেলাম এবং জয়ী হলো মালদ্বীপ? সোহরাব হাসান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি[] আরও পড়ুনপেঁয়াজের ডাবল সেঞ্চুরি | 8 |
প্রতিযোগী ও আয়োজকদের একটি বড় অংশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় আপাতত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে এবছরের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসর। জানা গেছে আয়োজনের ১৭ প্রতিযোগী আক্রান্ত এই ভাইরাসে। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে পুয়ের্তো রিকোয় মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ফাইনালের আসর বসার কথা ছিল। কিন্তু তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ৯০ দিনের জন্য। সিএনএনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আয়োজকদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুয়ের্তো রিকোয় ফাইনাল হবে, কিন্তু ৯০ দিন পর। কারণ আয়োজকদের একটা অংশ ও প্রতিযোগীদের একটা বড় অংশ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাই এই সিদ্ধান্ত। আয়োজকদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নানাবিধ নিরাপত্তার দিক খতিয়ে দেখে আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রতিযোগিতা পিছিয়ে দেওয়ার। প্রতিযোগী, আয়োজক ও দর্শকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। কারণ, এই সংক্রমণের মধ্যেও প্রতিযোগিতা চালিয়ে নিয়ে গেলে স্টেজ ও গ্রিন রুমে সংক্রমণের সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে যখন একাধিক করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়, তখন কথা বলা হয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে। সেই আলোচনার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রতিযোগিতা পিছিয়ে দেওয়ার। তবে এই ক'দিনে আক্রান্তরা নিজেদের দেশে ফিরতে পারবেন কী না, তা নিয়ে একটি সংশয় তৈরি হয়েছে। মিস ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের সিইও জুলিয়া মর্লে জানিয়েছেন, 'আমরা প্রতিযোগীদের জন্য অপেক্ষা করছি। কোভিডের ভ্রুকুটি কেটে গেলেই ফের আয়োজিত হবে প্রতিযোগিতা।' | 2 |
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মেয়েদের উত্যক্ত করার (ইভটিজিংয়ের) প্রতিবাদ করায় পলাশ মিয়া নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে রাজীব মিয়া নামের স্থানীয় আরেক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পলাশের বাবা বাদী হয়ে রাজীব মিয়াসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে গতকাল বুধবার বিকেলে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পলাশ কাজলা বগারবাইদ এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় কাজলা উচ্চবিদ্যালয়ের একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী। অভিযুক্ত রাজীব কাজলা মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কাজলা বগারবাইদ এলাকায় কাজলা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন রাজীবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পলাশ সাইকেলে স্কুলে যাচ্ছিল। পথে সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে পলাশের ওপর হামলা চালায় রাজীব। এ সময় পলাশকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটানো হয়। এ সময় চিৎকার করলে কাজলা উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষিকা রাবিয়া আক্তার লিপিসহ স্থানীয় লোকজন পলাশকে উদ্ধার করেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।জানতে চাইলে পলাশ বলেন, বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আসা যাওয়ার পথে বিভিন্ন সময় রাজীব কটূক্তি করত। তার প্রতিবাদ করায় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়।এদিকে মানববন্ধনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুবনা শারমীন এবং তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রাজীবকে শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দেন। | 6 |
নরসিংদীর শিবপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করেছেন এক ব্যক্তি; এ সময় এই খুন ঠেকাতে এসে খুন হয়েছেন এক দম্পতি। রোববার ভোরে উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কুমরাদী গ্রামের এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাদল মিয়াকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশ সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। নিহতরা হলেন- বাদলের স্ত্রী নাজমা বেগম (৪৮), বাড়িওয়ালা তাইজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৬)। হামলায় আহত হয়েছেন নিহত নাজমার ছেলে সোহাগ (১৫) ও বাড়িওয়ালার মেয়ে কুলসুম (২৬)। স্থানীয়রা জানান, আটক বাদল মিয়া কুমরাদী এলাকায় কাঠমিস্ত্রীর কাজ করেন। নাজমা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। নাজমার আগের সংসারের চার সন্তানকে নিয়ে কুমরাদী গ্রামে তাইজুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বাদলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে।আহত সোহাগ ও কুলসুম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে বাদল ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে নাজমাকে কুপিয়ে জখম করে বাদল। এ সময় তার ছেলে সোহাগ এগিয়ে গিয়ে বাড়িওয়ালা তাইজুল ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে খবর দেন। পুলিশ জানায়, এরপর বাড়িওয়ালা, তার স্ত্রী মনোয়ারা এবং মেয়ে কুলসুম কী হয়েছে জানতে ঘটনাস্থলে যান। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাদল মিয়া উত্তেজিত হয়ে সোহাগ, তাইজুল, মনোয়ারা ও কুলসুমকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলো কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমা বেগম ও মনোয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাইজুল ইসলাম, সোহাগ ও কুলসুমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে পথে তাইজুল ইসলাম মারা যান। নিহত নাজমা বেগম ঘাতক বাদলের দ্বিতীয় স্ত্রী ও শিবপুর উপজেলার কুমড়াদী গ্রামের মান্না মিয়ার মেয়ে। নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলাম বলেন, 'দুইজন নারীকে আমাদের হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। অন্যদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের পেটে, মুখে, গালে ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।' শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। বাদল একাই পাঁচজনকে কুপিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। এব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশের জন্য এ অঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সারাজীবন কাজ করেছেন। তিনি বলেন, 'গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও মানুষের কল্যাণে এ মহান নেতার জীবন ও আদর্শ আমাদের সাহস ও প্রেরণা জোগায়। জাতি তার অবদান সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।' গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। একজন প্রতিভাবান রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তার দক্ষ পরিচালনায় গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আরো বিকশিত হয়। তার সুযোগ্য উত্তরসূরী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -এর দূরদর্শী নেতৃত্ব পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।' তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উপমহাদেশের মেহনতি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি ছিলেন একজন উদার ও প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃত এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর ছিল অকৃত্রিম মমত্ববোধ।' তিনি বলেন, '১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষকে সোচ্চার ও সংগঠিত করেছিলেন। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলে আখ্যায়িত করা হয়।' বাণীতে প্রধানমন্ত্রী পরম করুণাময় মহান আল্লাহর কাছে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বরেণ্য রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বৈরুতে মৃত্যুবরণ করেন। হাইকোর্টের পাশে তিন নেতার মাজারে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।-বাসস বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
প্রায় তিন হাজার বছর আগে পৃথিবীতে প্রায় ১৮টি সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। তার মধ্যে গ্রিক সভ্যতার স্থান প্রথম। ইউরোপের দেশ গ্রীসে পাকিস্তানি অভিবাসীর সংখ্যা গরিষ্ঠতার কারণে বাংলাদেশিদের উপর কারণে-অকারণে জেল খানা বা ডিটেনশন সেন্টার গুলোতে পাকিস্তানীরা বাংলাদেশিদের উপর নির্যাতন চালায়। শনিবার রাতে গ্রীসের করিমতুস ডিটেনশন সেন্টারে তুচ্ছ ঘটনা কে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। অবৈধ অভিবাসীদের সাথে অ-মানবিক আচরণসহ বিনা অপরাধে মাসের পর মাস ডিটেনশন সেন্টার গুলিতে আটকিয়ে রাখছে। অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। উল্লেখ্য, ২৬-২৭ জুন ২০২০ সরকারবিরোধী কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে একত্রিত হয়ে বাংলাদেশিরা আন্দোলন করেছিল বৈধতার দাবিতে এরপর থেকে বর্তমান গ্রীস সরকার অভিবাসীদের ক্যাম্প গুলোতে সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখেছে বাংলাদেশি অভিবাসীদের। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 4 |
ঢাকা: আধুনিক মানুষের প্রাচীন নিকটাত্মীয় নিয়ান্ডারথালদের নতুন বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করেছেন গবেষকেরা। এ সম্পর্কিত নতুন এক গবেষণার তথ্য বলছে, মানুষের ভাষা উপলব্ধি করতে পারত তারা। এমনকি নিজেরা সেই ভাষা তৈরি ও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তা ব্যবহারও করতে পারত।এই গবেষক দলে ছিলেন বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রলফ কোয়াম ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী অ্যালেক্স ভেলেজ। নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন নামের একটি পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাঁরা এই দাবি করেছেন।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষ যে পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে নিয়ান্ডারথালরাও সেই একই পূর্বপুরুষ থেকেই এসেছে বলে ধারণা করা হয়। এদের বৈজ্ঞানিক নাম । ইউরোপে মানবজাতির আবির্ভাবের অনেক আগে থেকেই সেখানে বসবাস করে আসছে নিয়ান্ডারথালরা। প্রায় ৩০-৪০ হাজার বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে এই প্রজাতি। একটা সময় মানুষের সঙ্গেই বসবাস করত তারা। ফলে এদের নিয়ে গবেষণা করলে মানবজাতির বিকাশ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।গবেষক রলফ কোয়াম মনে করেন, এই গবেষণা জীবাশ্ম নিয়ে এবং এর ভাষা নিয়ে কাজ করতে সহায়তা করবে। মানবজাতির বিকাশ নিয়ে জানতে নিয়ান্ডারথালদের ভাষা এবং তাদের যোগাযোগের সংকেত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।সিএনএন জানায়, গবেষণাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির সিটি স্ক্যান। এই স্ক্যানের মাধ্যমে মানুষ, নিয়ান্ডারথাল এবং অন্যান্য কিছু জীবাশ্মের কানের গঠনের ভার্চ্যুয়াল থ্রিডি মডেল বানানো হয়েছে। এর পর এর তথ্যগুলো নিয়ে সেটি প্রবেশ করানো হয়েছে একটি বিশেষ সফটওয়্যারে। এতে দেখা গেছে, ৪-৫ কিলোহার্জ ছিল নিয়ান্ডারথালদের শ্রবণ ক্ষমতা, যা মানুষের কাছাকাছি। এই পদ্ধতিতে এমনকি সম্ভাব্য শব্দের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যও বের করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকেরা। ব্যান্ডউইডথের ক্ষেত্রেও নিয়ান্ডারথালরা মানুষের খুব কাছাকাছি। এ ক্ষেত্রে তারা তাদের নিকটতম অন্য প্রজাতির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। কোনো কিছু শোনার পর মানুষের মতোই কম সময়ে তারা বার্তা অন্যত্র পাঠাতে পারত।নিয়ান্ডারথালরা আধুনিক যুগের মানুষের মতোই নিজেদের মধ্যে জটিল ও কার্যকরী যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুসরণ করত বলে মনে করেন গবেষক দলের আরেক সদস্য স্পেনের আলকালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্চেডেজ কন্ডে-ভালভার্দে।মজার ব্যাপার হচ্ছে, নিয়ান্ডারথালরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় ইংরেজি বর্ণমালার ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ করত আধুনিক উপায়ে। তারা কীভাবে স্বরবর্ণ উচ্চারণ করত, সেটি নিয়ে এখন গবেষণা চলছে। কিন্তু গবেষক কোয়াম মনে করেন, এটি গবেষণার ভুল পথ। ব্যঞ্জনবর্ণ নিয়ে কাজ করলে এই গবেষণা আরও দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।নিয়ান্ডারথালদের কান পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এর গঠন এমন, যেন তা মানুষের তৈরি শব্দের কম্পাঙ্ক (ফ্রিকোয়েন্সি) সহজেই ধরতে পারে। কোনো কিছু শোনা ও শব্দ তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের যে দক্ষতা, সেই একই দক্ষতা ছিল নিয়ান্ডারথালদের। কিন্তু নিকটতম প্রজাতি অ্যাটাপোয়েরকা থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে তারা।ব্যাপারটি নিয়ে দুই দশক ধরে কাজ করে যাচ্ছেন এই গবেষক দল। অবশেষে চমকপ্রদ এই তথ্যটি পেলেন। তবে তাঁরা এ গবেষণা থামিয়ে রাখবেন না। বরং আরও নতুন নতুন দিক উন্মোচনের লক্ষ্যে তাঁরা এটি অব্যাহত রাখবেন। তবে গবেষকেরা মনে করছেন, নিয়ান্ডারথালদের ভাষা নিয়ে, দক্ষতা নিয়ে মানবজাতির যে জিজ্ঞাসা এবং আগ্রহ ছিল, তা পূরণ হয়েছে। | 11 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বলেছেন, জিয়াউর রহমান, এইচএম এরশাদ ও খালেদা জিয়া বাংলাদেশের উন্নয়নের ব্যাপারে আন্তরিক ছিলেন না, কারণ তাদের কারো জন্মই এ দেশের মাটিতে হয়নি। একমাত্র আমার বাবা (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) এবং আমি এ মাটির সন্তান। আামাদেরকে ছাড়া এখন পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা বাংলাদেশের বাইরে থেকে এসেছে। ইতালি সফররত প্রধানমন্ত্রী রোমের পার্কো দে প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেলে ইতালির শাখা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক এবং তিনি দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। 'সঠিক পরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা একটি দেশকে অবশ্যই বদলে দিতে পারে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা দেশের উন্নয়নের কথা কখনোই ভাবেননি। ক্ষমতাকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ বলে মনে করি। এটি জনগণের সেবা করার সুযোগ আর আমি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আর এটাই আমাদের লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু দেশের উন্নয়ন চায়। আমাদের আর কেউ পেছনে টানতে পারবে না। আমরা সামনে এগিয়ে যাবো। বাংলাদেশের সব উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০ শতাংশ এখন নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে বাংলাদেশকে ভিক্ষা দেয়ার কথা বলি না। তারা এখন (উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সহযোগিতা করতে) আমাদের কাছে আসে। বাংলাদেশের বিমানবন্দরে অনেকসময় প্রবাসীদের হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে আমাদের দেশের কিছু মানুষের চরিত্রই খারাপ। যেই শুনে বাইরে থেকে আসবে, তখনই ভাবে যে একটু চাপ দিলেই মনে হয় কয়েকটা ডলার পাওয়া যাবে। ঘুষ যে দেয় সেও যেমন অপরাধী, যে নেয় সেও অপরাধী। উভয়ই সমান অপরাধী। দিয়ে দিয়েই আপনারা এ অভ্যাসটা খারাপ করেছেন। আগামীতে এ কাজটা আর করবেন না।' অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, ইতালী আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো. ইদ্রিস ফরাজী এবং ইতালী প্রবাসী হোসনে আরা বেগম। সূত্র: ইউএনবি বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
চতুর্থে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন অনেক প্রার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের প্রতীক দাবি করে প্রচার প্রচারণা চালাতে দেখো গেছে। চালিয়ে যাচ্ছেন।এ উপজেলায় আগামী ২৬ ডিসেম্বর ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যাহারের শেষ সময় ৬ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ৭ ডিসেম্বর।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীরা স্ব স্ব ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবে না।প্রতীক বরাদ্দের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এই ধরনের প্রচার প্রচারণার বিষয়ে প্রার্থীদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হয়নিএদিকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন প্রার্থীরা।গত শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে নির্বাচনী প্রচারের চিত্র দেখা গেছে। গ্রামের মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানগুলোতে আলোচনার ঝড় উঠছে কে হচ্ছেন তাদের আগামীর প্রতিনিধি। দম ফেলার ফুরসত নেই প্রার্থীদের। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন তাঁরা।এবারের নির্বাচনে এই উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের বাইরে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টি। এ ছাড়া বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী, সাধারণ সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যসহ সব প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। পাড়া-মহল্লা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। কেউ কেউ দলের প্রভাব ও পারিবারিক ঐতিহ্য দিয়ে ভোটপ্রার্থনা করছেন।উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ১৪টি ইউপিতে চেয়ারম্যান ৭৪, ইউপি সদস্য ৪৫৮ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ১৩০ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এতে আওয়ামী লীগের ১৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১২ জন, লাঙল প্রতীকে ২ জন ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান ৪৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ৮ জন ও সাধারণ সদস্য ৪ জনের মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে বাতিল হয়।উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহিনা ইসলাম চৌধুরী বলেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহিনা ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'প্রতীক বরাদ্দের আগে এ ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ। এই ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমাকে অবহিত করলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।' | 6 |
যশ দাশগুপ্ত। জব্বলপুরের ছেলে যশের আসল নাম দেবাশিস দাশগুপ্ত। হলফনামায় এখনো এই নামটি জ্বলজ্বল করলেও লোকে তাকে যশ নামেই চেনেন। চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে 'বিজেপির বাজি' তিনি। সাধের বিএমডব্লিউ ছেড়ে হুডখোলা অটোয় চড়েচণ্ডীতলার ঘরের ছেলে হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন যশ। হলফনামায় সম্পত্তির যে হিসাব দিয়েছেন তিনি, ঢুঁ মারা যাক তাতে। এছাড়া একটি বিনোদন সংস্থায় ৬০ হাজার টাকা এবং শেয়ার বাজারে ১৯ হাজার ৪৫৯ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে তার। আড়াই লাখ টাকা এবং ১ লাখ ৫ হাজার টাকার দুটি জীবনবীমা রয়েছে। ডাকঘরে রয়েছে ৫৯৮ টাকা এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার আইসিআইসিআই প্রুডেন্সিয়াল লাইফ ইনস্যুরেন্স রয়েছে তার। দুটি গাড়ি রয়েছে যশের। ২০১৮ সালে ৩২ লাখ ৯০ হাজার ৬৪৭ টাকা টাকায় কিনেছিলেন একটি। সম্প্রতি ৩৫ লাখ টাকায় কেনেন আরেকটি। ২২০ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে তার কাছে। গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্যাদি মিলিয়ে তার ৯ লাখ ৯৬ হাজার ১২০ টাকার জিনিস রয়েছে। তার অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৪ টাকা। স্থাবর সম্পত্তিও রয়েছে কোটির উপর। ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার রয়েছে স্থাবর সম্পত্তি। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে হরিদেবপুরের ডায়মন্ড সিটিতে একটি ১২৭৪ বর্গ ফুটের ফ্ল্যাট। ২০১৭ সালে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ১৮ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন তিনি। এখন তার দাম রয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। হলফনামায় তার স্থাবর সম্পত্তি বলতে এটিই। দুটি গাড়ি ঋণ রয়েছে তার। একটি ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৪২ টাকার এবং অন্যটি ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫২২ টাকার। গৃহ ঋণ রয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ ২২ হাজার ৮৭১ টাকার। মোট ঋণ ১ কোটি ৫০ লাখ ৫৩ হাজার ১৩৫ টাকা। সূত্র : আনন্দবাজার বিডি প্রতিদিন/এমআই | 2 |
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীতে সেচ প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় যুবক মোর্শেদ আলীকে (৩৮) হত্যার ঘটনায় জড়িত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা আলালসহ দলের চার নেতাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চার নেতাকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে। বহিষ্কৃত অপর নেতারা হলেন আবদুল মালেক, জয়নাল আবেদীন ও আবু তাহের। সবার বাড়ি পিএমখালী ইউনিয়নে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মাহমুদুল করিম, যুগ্ম আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন, ছৈয়দ রেজাউর রহমান ও টিপু সুলতান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিএমখালীতে মোর্শেদ আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পিএমখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক, সদস্য জয়নাল আবেদীন, আবু তাহের ও সিরাজুল মোস্তফা আলালকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে দলে চার নেতাকে বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান টিপু সুলতান। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে পিএমখালীর চেরাং ঘরবাজার এলাকায় একদল লোক প্রকাশ্যে মোর্শেদ আলীকে রাস্তায় ফেলে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মোর্শেদ আলী পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার মৃত ওমর আলীর ছেলে। ৯ এপ্রিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোর্শেদ আলীর ভাই জাহেদ আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা আলাল, দলের নেতা আবদুল মালেক, জয়নাল আবেদীন, আবু তাহের, মাহমুদুলসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় চেরাংঘর বাজার কমিটির সভাপতি দিদারুল ইসলাম, হামলার অন্যতম মাহমুদুল হকের দুই ভাগনে জাহেদুল ইসলাম ও মো. ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গিয়াস বলেন, সেচ প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আত্মগোপনে থাকায় আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল মোস্তফা, আবদুল মালেক, মাহমুদুল হকসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। | 6 |
সিরাজগঞ্জের খাজা বাবা ইউনুছ আলী এনায়েতপুরী রহমতুল্লাহর মাজার শরীফ থেকে জামালপুরে নৌকা করে আসার পথে যমুনা নদীতে পড়ে দুজনের মৃত্যু এবং মা ও শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে নিখোঁজদের সন্ধান শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মেলেনি।নিহতরা হলেন, জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার পাতাসি গ্রামের জহির উদ্দিনের স্ত্রী ঝালিমন বেগম (৬০) ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খুড়মা মধ্য পাড়া গ্রামের জব্বার আলীর স্ত্রী ফুলজান বেগম (৫০)। তাঁদের মরদেহ স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচজন হলেন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের খুরমা তোতা মিয়ার ছেলে জাহিদ হোসেন (৮), ওমর আলীর স্ত্রী সুফি বেগম (৫০), মিন্টু হোসেনের স্ত্রী হেলেনা খাতুন (৩০) ও তাঁর ছেলে ইয়াসিন (৬) এবং আব্দুস সাত্তার (৬০)।এনায়েতপুর থানার ওসি তদন্ত জাকির হোসেন মোল্লা জানান, জামালপুর থেকে এনায়েতপুর পাক দরবার শরীফে নৌকা যোগে আসছিলেন জাকেরগন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে এনায়েতপুর স্পারবাধ সংলগ্ন যমুনা নদীতে আসার পরই নৌকা থেকে বেশ কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। তখন অন্যান্যরা তীরে সাঁতরে উঠলেও নিখোঁজ হয় মোট সাতজন। পরে এলাকার লোকজন তাদের মধ্যে দুজনের লাশ উদ্ধার করে।এনায়েতপুর থানার ওসি তদন্ত জাকির হোসেন মোল্লা আরও জানান, ভরা যমুনায় নিখোঁজ বাকি ৫ জনের লাশ দক্ষিণ দিকে ভেসে যেতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। | 6 |
২০১৮ সালের আগস্টে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নয় জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুর রউফ । গত ২০ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এ চার্জশিট জমা দেয়। ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নাইমুল হাসান, ফিরোজ মাহমুদ, মীর আমজাদ হোসেন, শহিদুল আলম খান, তানহা ওরফে মুজাহিদ, সাজু ইসলাম, রাজীবুল ইসলাম ও মো. সিয়াম ও অলি আহমেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে নয় আসামিকেই পলাতক দেখানো হয়েছে। তবে আদালত সূত্র জানায়, তাদের মধ্যে তিন আসামি প্রথম থেকেই পলাতক ছিলেন। আর ছয় জন চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামিন পান। মামলার এজাহার অনুসারে, ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাসায় নৈশভোজে অংশ নেন। নৈশভোজ শেষে বার্নিকাট রাত ১১টার দিকে ফেরার পথে অজ্ঞাত ৩০-৪০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গাড়িবহরকে ধাওয়া দেয় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা পিস্তল ও লাঠিসোটা বহন করছিল। বদিউল আলম মজুমদারের বাসায় হামলা করে বাসার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। | 6 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের 'ঘ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।'ঘ' ইউনিটে মোট আসন রয়েছে ১ হাজার ৩৩৬টি। এর বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন ৭৮ হাজার ২৯ জন। সেই হিসাবে আসনপ্রতি লড়বেন ৫৮ জন। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাতটি বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।এর আগে গত শুক্রবার (৩ জুন) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত 'গ' ইউনিট, শনিবার (৪ জুন) 'খ' ইউনিটের পরীক্ষা এবং সব শেষ ১০ জুন 'ক' ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। | 1 |
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মুঈনে মুহতামিম আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, তাবলিগ একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় জামাত। এখানে আল্লাহর পথে আসার ও নবীজী সা:-এর সুন্নাত মোতাবেক চলার তালিম দেয়া হয়। সন্ত্রাস মারামারির কোনো সম্পর্ক তাবলিগে নেই। যারা বিশ্ব ইজতেমার মাঠ দখলে নিতে সেখানে অবস্থানরত তাবলিগের সাথী, উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে শহীদ ও আহত করেছে, এরা দেশী বিদেশী কোনো অপশক্তির এজেন্ট। আলেম ও ছাত্রদের যারা রক্ত ঝরিয়েছে এদের গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। শহীদের রক্তের বদলা নিতে হবে। তিনি বলেন, এটা পরিকল্পিতভাবে হামলা। এ হামলার উসকানিদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দীন ও ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার মাঠে তাবলিগের সাথী, আলেম উলামা ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে গতকাল চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদি জনতার উদ্যোগে চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ফিরোজশাহ কলোনি মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন দারুল উলুম হাটহাজারীর মুহাদ্দিস ও তাবলিগের মুরুব্বি মাওলানা মুফতি জসিম উদ্দিন, মোজাহের উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা লোকমান হাকীম, হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ফোরকান আহমদ, নাজিরহাট মাদরাসার মুফতি হাবিবুর রহমান, শোলকবহর মাদরাসার মাওলানা লোকমান, লালখান বাজার মাদরাসার মুফতি হারুন ইজহার, হেফাজতের মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, নানুপুরের মুফতি শওকত, দারুল মাআরিফের মুফতি মাসুম, হালিশহর মাদরাসার মুফতি হাসান মুরাদাবাদী প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন মাওলানা শাহাদাত হোসাইন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়াসা মোড়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সিএমপি কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।এদিকে মাওলানা সাদপন্থীদের বিচারের দাবিতে গতকাল রাজধানীর আব্দুল্লাহপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল বের হয়। সমাবেশ থেকে ওয়াসিফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন ও নাসিমসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করা হয়। বিজ্ঞপ্তি। | 9 |
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরজন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিদিনই করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছেকরোনাভাইরাসের চলমান ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩০ মার্চ খোলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।যদি পরিবর্তন হয় তাহলে জানানো হবে। দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। বেশ কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর আগামী ৩০ মার্চ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার কথা জানালেন। করোনা মহামারির কারণে গত বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী, অষ্টমের সমাপনী ছাড়াও এইচএসসির পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হয়। | 6 |
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় অসহায় শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার ও নুর ভানু অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন। গত রোববার তাঁদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন সাংসদ আলী আজম মুকুল।জানা গেছে, পৌরসভার কলেজ রোড এলাকায় শিক্ষার্থী রোজিনা মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতে থাকেন। বেড়ায় পলিথিনের ছাউনি দিয়ে কোনো মতে থাকতেন তাঁরা। রোজিনার বাবা তাঁর মাকে ছেড়ে অন্যত্র সংসার পেতেছেন। অসহায় মা নাজমা বেগম দরজির কাজ করে সংসার চালান। রোজিনার নানা বয়সের ভারে ন্যুব্জ। শরীরে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে। ফলে নাজমা বেগমের পক্ষে তিন সদস্যের সংসার চালানো দায়। তার ওপর মেয়ের পড়ালেখার খরচ তো রয়েছে।সম্প্রতি ভাঙা ঘরে বৃষ্টিতে ভিজে পড়ালেখার খবর স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়। বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় সাংসদের। তখন তাঁদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাংসদ।রোজিনা আক্তার বলে, 'বাবা ২০০৪ সালে আমাদের ছেড়ে চলে যান। অসহায় নানার জরাজীর্ণ বাসায়ই রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এতটা দিন কাটিয়েছি। সাংসদ আমাদের ঘর দিয়েছেন, আমার পড়ালেখার খরচ দিচ্ছেন। এটা অনেক বড় পাওয়া।'শুধু রোজিনা নয়, ভিক্ষা করে আহার জোগানো নুরবানুকেও ঘর দিয়েছেন সাংসদ। নুরবানু বলেন, 'স্বামী মারা গেছেন ১৫ বছর আগে। এরপর থেকে ভিক্ষা করে পেট চালাই। থাহার ঘর আছিলো না, পলিথিন দিয়ে থাকতাম। আইজ এমপি সাব ঘর দিছে। আমাগো গরিবের জন্য হলেও আল্লাহ তাঁরে বাচাইয়া রাখেন।'ভোলা-২ আসনের সাংসদ আলী আজম মুকুল বলেন, 'অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটুক তা চাই। এ জন্য ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি।'এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোরহানউদ্দিন পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাসেল আহমেদ প্রমুখ। | 6 |
সাতক্ষীরা জেলা শহরে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণ, শহরের চারপাশে ইচ্ছেমত বেড়িবাঁধ দিয়ে মাছচাষ এবং পৌরসভার ভিতর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তির্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭টি ওয়ার্ডেরই মানুষ জলবদ্ধতার কারণে নাকাল হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম আসলেই জেলা শহরের মানুষদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। সাতক্ষীরা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মুনজিতপুর, রাজারবাগান, মুন্সিপাড়া, পলাশপোল, কামালনগর, মাঠপাড়া, মাগুরা, বদ্দিপুর কলনীসহ আশপাশের এলাকা জলবদ্ধতার কারণে বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ স্থান কোমর পানিতে ডুবে আছে। স্থানীয়রা জানায়, শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত প্রাণ সায়র খাল। এই খালের একপ্রান্তে বেতনা নদী এবং অপরপ্রান্তে মরিচ্চপ নদী। কিন্তু এই নদী দু'টি পলিজমে ভরাট হয়ে যাওয়ার প্রাণ সায়ল খাল দিয়ে আর পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে গ্রামের পর গ্রাম সৃষ্টি হয়েছে জলবদ্ধতা। গত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে বছরের প্রায় ৩ মাস এসব এলাকা পানিতে ডুবে থাকে। এতে মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রান্না -খাওয়ার জায়গা থাকে না। পৌরসভার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে শহরের নিচু এলাকার মানুষের কষ্টের শেষ নেই। রাস্তার ওপর দুই থেকে তিনফুট পানি। কোথাও কোথাও এলাকাবাসি নিজ উদ্যোড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করে যতসামান্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে তারা জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মুনজিতপুর এলাকার বাসিন্দা আকম আমিনুল হক শান্টু জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা শহরের একাডেমি মসজিদ থেকে জেবুনেছা ছাত্রীনিবাস, মুন্সিপাড়া থেকে ফকির ময়ারার বাড়ি ও মুনজিতপুরের চৌধুরি বাড়ি হতে খোলার টালি পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছে। এসব রাস্তায় দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি। এসব এলাকার মানুষের ঘরের ভিতর ভিতর পানি। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। তিনি বলেন, আমরা এলাকাবাসী প্রথম থেকেই পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করে আসছি। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাসকীন আহমেদ চিশতি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ এবং পৌরসভার আশপাশে প্রভাবশালীদের ঘের নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করা হচ্ছে। | 6 |
এলিজাবেথ টেইলর। ব্রিটিশ-আমেরিকান অভিনেত্রী। হলিউডের স্বর্ণালি যুগের অন্যতম গ্লামার-আইকনের সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণামূলক অংশ অনুবাদ করেছেন শাহনেওয়াজ টিটু
প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রথাগত কোনো পাঠ কোনো দিনই নিইনি আমি। বলছি অভিনয়ের কথা। তবে স্পেনসার ট্রেসি, মারলন ব্র্যান্ডো ও জিমি ডিনের মতো অভিনেতাদের কাজ দেখে নিজের মতো করেই শিখে নিয়েছি কী করে অভিনয় করতে হয়। খুব অল্প বয়সেই বুঝে গিয়েছিলাম পুতুলের মতো অভিনয় আমি করব না; বরং অভিনয় জগতে আমাকে দৃঢ়ভাবে বাঁধতে পারে- এমন সব কাজ করব। আমার ধারণা, আমার ভেতরে একটা শিশুসত্তা রয়েছে- যে সঠিক পরিচর্যায় বড় ও বিকশিত হতে উন্মুখ। কেউ যদি আমাকে অভিনেত্রী বলতে চায়, তাহলে তাকে বলতে হবে, আমি স্বতন্ত্র ধারার অভিনেত্রী ছিলাম না। কেননা, আমি নিশ্চিতভাবেই কোনো পরিপাটি টেকনিশিয়ান নই।
প্রথম অভিনয়
৯ বছর বয়সে আমি হলিউডের সিনেমায় প্রথম অভিনয় করি। আমার যখন ১৫ বছর বয়স, একদিন লুইস বি. মেয়ার মানে আমেরিকান ফিল্ম প্রডিউসার এবং মেট্রো-গোল্ডওয়াইন-মেয়ার বা এমজিএম স্টুডিওর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা আমার মাকে এমন অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিলেন, যা আগে কখনোই শুনিনি আমি। আমিও জীবনের প্রথমবার বিশ্রী ভাষা ব্যবহার করলাম, মাকে নিয়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে গেলাম।
হলিউড একটা কারখানা
'হলিউড অভিনেত্রী'- এই পরিচয়টিকে আমার ঘৃণা লাগে। এমনকি 'স্টার' হলেও। আর 'সুপারস্টার' বললে তো কথাই নেই! হলিউডের সব কিছুই আমার কাছে জঘন্য লাগে। হলিউডকে আমার কাছে স্রেফ একটা ব্যাপক বিস্তৃত 'কারখানা' বলে মনে হয়। তবে আপনি যদি ধুমধাম পছন্দ করেন, সে ক্ষেত্রে এটি একটি ব্যাপক ফলদায়ক পরিবার। একজন অভিনেতার পরিচয় শুধু অভিনেতাই- তা তিনি হলিউডে কাজ করুন, কিংবা আফ্রিকার কোথাও। আর তা হোক মঞ্চ, টেলিভিশন কিংবা সিনেমায়।
মনোযোগের বিষয়
অন্য অভিনেতাদের অপেক্ষায় রেখে, শট নেওয়ার আগ মুহূর্তে অস্থির পায়চারী আর হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে ডিরেক্টরদের যারা বলে, 'আমাকে একটু সময় দিন, আমি রেডি হয়ে আসছি'- এমন ধরনের অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করতে আমার বিশ্রী লাগে। আমার কাছে অভিনয় হলো, একটা গভীর মনোযোগের বিষয়। ডিরেক্টর 'অ্যাকশন' বলার আগমুহূর্ত পর্যন্ত চাইলে আপনি হাসাহাসি, নাচানাচি করতেই পারেন। কিন্তু এরপর আপনাকে চরিত্রটির মধ্যে একেবারেই ঢুকে যেতে হবে। যাদের সঙ্গে যা নিয়ে এতক্ষণ হাসি-মশকরা করছিলেন, সব কিছু ভুলে যেতে হবে বেমালুম। এ একান্তই মনোজাগতিক পাঠ- যেটির শিক্ষা আপনাকে আপনি নিজে ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান দিতে পারবে না।
জীবন এক অভিযাত্রার মতো
আগুন যে কাউকে মুগ্ধ করতেই পারে। কিন্তু যখন সেটিকে পেরিয়ে যেতে পারব, তখনই আমার আসল শক্তি প্রকাশ পাবে বলে মনে করি আমি। এটিই আসলে মুগ্ধতা আর প্যাশনের মধ্যে পার্থক্য। যে বিষয় বা বস্তুর প্রতি আপনার কোনো সহানুভূতি নেই, সেটির প্রতি প্যাশন অনুভব করতে পারবেন না আপনি। আর কারও মধ্যে যদি প্যাশন কাজ না করে, তাহলে তার পক্ষে কাউকে ভালোবাসা মোটেও সম্ভব নয়। ভালোবাসার পরতে পরতে প্যাশন জড়িয়ে থাকে বলেই আমি বিশ্বাস করি। নিজের ভাবনার মধ্যে এখনও নানা বৈচিত্র্যের দেখা পেয়ে আমি শিশুদের মতো খুশি হয়ে ওঠি। কেননা, কোনো কিছুই ভয় পাই না আমি। জীবন আমার কাছে স্রেফ একটি অভিযাত্রার মতো। জীবনকে জীবনের মতো আলিঙ্গন করে, সেটির মোড়কে নিজেকে জড়িয়ে নিতে হয় বলেই বিশ্বাস করি আমি। | 5 |
সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি বানৌজা ঈসা খানকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'খুব শিগগিরই নৌবাহিনীতে সংযোজিত হতে যাচ্ছে দুটি সাবমেরিন। এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বর্তমান দ্বিমাত্রিক নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হবে।'
চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা খান ঘাঁটির কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য অপারেশনাল কাজে 'অসামান্য অবদান' রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদুল হামিদ এ ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দেন।
নৌবাহিনীতে বহর বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীটির নিজস্ব বিমান ও সাবমেরিন ঘাঁটিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, 'আমাদের বিশাল সমুদ্রাঞ্চলে রয়েছে মৎস্য, গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদসহ অনাবিষ্কৃত মূল্যবান সম্পদ। এসব সম্পদ রক্ষা, আহরণ ও সমুদ্র এলাকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য নৌবাহিনী গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। ব্লু-ইকোনমি জাতির ভাগ্য উন্নয়নে অপরিসীম অবদান রাখতে সক্ষম বলে সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।'
রাষ্ট্রপতি জানান, ২০০৯ সালে প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর সাথে বিরোধপূর্ণ সমুদ্র এলাকা নির্ধারণের জন্য উদ্যোগগ্রহণ করে বর্তমান সরকার। এরই ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিশাল এক সমুদ্র এলাকায় অধিকার অর্জন করেছে। নৌবাহিনীকে একটি কার্যকর ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, 'আমাদের রয়েছে ৭১০ কিলোমিটার উপকূল এলাকা, যেখানে প্রায় তিন কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল। বহির্বিশ্বের সাথে দেশের বাণিজ্যের ৯০ ভাগেরও বেশি সমুদ্রপথেই পরিচালিত হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিধান করা অপরিহার্য।'
মো. আবদুল হামিদ বলেন, 'আমাদের নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত অনেক প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আমাদের সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিধান করে আসছে। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ নৌবাহিনী এই বছর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় নৌবাহিনীর অংশগ্রহণ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে প্রশংসিত ও সম্মানিত করেছে।'
রাষ্ট্রপতি পরিবেশ রক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে নৌবাহিনীর সদস্যদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'বিগত দিনগুলোতে আপনারা দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌবাহিনীর তৎপরতা সকলের প্রশংসা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষাসহ অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে নৌবাহিনী বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আমি আশা করি।'
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, 'আপনারা উঁচুপেশাদারিত্ব, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং নৌবাহিনীর অর্জিত মর্যাদা সর্বদা সমুন্নত রাখবেন- এ আমার প্রত্যাশা।'
পরে কুচকাওয়াজে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানায়।
ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড কুচকাওয়াজে বিভিন্ন প্রকার ড্রিল প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্যরা, চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যবৃন্দ, সেনা, নৌ ও বিমাবাহিনী প্রধানসহ বেসমরিক-সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
| 6 |
সিলেটের জকিগঞ্জে চাচাতো বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসান আহমদ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার সকালে তাকে জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন হাসান। গ্রেফতার হাসান উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, নির্যাতিত তরুণী বাদি হয়ে সোমবার রাতে জকিগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন । মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার দুপুরে বাড়িতে লোকজন না থাকায় চাচাতো ভাই ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। জকিগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, হাসান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। | 6 |
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় চিত্রনায়ক জায়েদ খানের বাবা এম এ হক মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ক্যানসার, নিউমোনিয়াসহ বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বাবা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন জায়েদ খান। তিনি হাসপাতাল থেকে জানান, গতকাল রাত থেকে তাঁর বাবার বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা পরিবারের সদস্যদের জানান, তাঁর বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো না। জায়েদ বলেন, 'বাবার গলার ক্যানসারটা ভালোর দিকেই যাচ্ছিল। বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল, মুম্বাইয়ে গিয়ে চিকিৎসা নেবেন। ভিসাও প্রস্তুত ছিল। এর মধ্যে আবার তাঁর নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। আমরা অপেক্ষা করছিলাম, বাবার নিউমোনিয়াটা একটু কমলেই বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করব। এর মধ্যেই বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।' জায়েদ খান আরও জানান, তাঁর বাবার শারীরিক অবস্থা বেশ কিছুদিন ধরে ভালো ছিল না। তাঁকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হতো। মুম্বাইয়ে নেওয়ার জন্য চিকিৎসকেরা সুস্থ করার চেষ্টা করছিলেন। তাঁরা হাসপাতাল থেকে লাশ মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটিতে তাদের বাসায় নিয়ে যাবেন। সেখানে বাদ আছর মরহুমের প্রথম জানাজা হবে। পরে লাশ তাঁদের পিরোজপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। জায়েদ খান জানান, তাঁর বাবা মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছেন, তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাদা-দাদির পাশে যেন তাঁকে দাফন করা হয়। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই তাঁরা জানাজা শেষে লাশ নিয়ে পিরোজপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। এম এ হক মৃত্যুর আগে স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়েসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জায়েদ সন্তানদের মধ্যে সবার ছোট। তিনি জানান, আগামীকাল বাদ জুমা তাদের গ্রামের বাড়ির মসজিদে জানাজা হবে'। | 2 |
নড়াইলের লোহাগড়ায় যুবলীগ কর্মী ও ফল ব্যবসায়ী পলাশ মাহমুদ হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শনিবার বিকেলে উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চরমল্লিকপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান তাঁরা। গত সোমবার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে চরমল্লিকপুর গ্রামে পলাশকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত পলাশ (৩২) ওই গ্রামের খোকন শেখের ছেলে। এ ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত পলাশের মা পলি বেগম বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই ইউনিয়নের দোয়া মল্লিকপুর গ্রামের মো. শাহিদুর রহমানকে। তিনি গতবার মল্লিকপুর ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তাঁর অন্য দুই ভাই মো. শরিফুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামও আসামি হয়েছেন। এ ছাড়া লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিব মুসল্লি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৮-৯ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নিহত পলাশের স্ত্রী জেরিন আকতার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, শাহিদুর রহমান মল্লিকপুর ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। এ নির্বাচনে তাঁর পক্ষে পলাশকে প্রচারণা চালাতে বলেছিলেন। তাঁর পক্ষে প্রচারণা না চালালে পলাশকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোল্লার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বিরোধ হয়। এ নিয়েও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নিহত পলাশ আগামীতে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। শাহিদুর ও রাশেদ এলাকায় একই পক্ষ। নিহত পলাশ একসময় ওই পক্ষে ছিলেন। কিন্তু দেড় বছর আগে ওই পক্ষ ত্যাগ করেন। তিনি মল্লিকপুর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী এস এম ফরিদুজ্জামানের পক্ষে কাজ করছিলেন। এসব কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। জেরিন আকতার অভিযোগ করেন, 'এখনো পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মামলা তুলে নিতে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা আতঙ্কে আছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই।' সংবাদ সম্মেলনে পলাশের এক মাস বয়সী একমাত্র শিশুপুত্রও ছিল। জেরিন আকতার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'এই শিশু বাচ্চাকে নিয়ে এখন আমি কীভাবে বেঁচে থাকব?' সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পলাশের বাবা খোকন শেখ, মা পলি বেগম, বোন আন্নি ইসলাম, ছোট ভাই পিয়াস মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু হেনা জানান, আসামিরা পালাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রয়োজন হলে পরিবারের সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। | 9 |
অবশেষে আইনমন্ত্রী আনিসুলের হকের উপস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুই মেয়র প্রার্থীর সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার (৬ মার্চ) রাতে কসবা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও আড়াইশজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার (৭ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হলেন- হৃদয় খান (২২), মো. কাইয়ূম (২২), মো. রাসেল (৩০), মো. রবিন (২৫), সালাউদ্দিন (২৭) ও রবিউল্লাহ (৩২)। এদের মধ্যে রবিউল্লহর বাড়ি কসবা উপজেলার নোয়াপাড়া ও বাকিদের বাড়ি তেতৈয়া গ্রামে। কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নথিভুক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে মামলার এজহারভুক্ত ৬ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে গত শুক্রবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কসবা উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এদিন স্মার্ট কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিজ নির্বাচনী এলাকা কসবায় আসেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তাঁকে স্বাগত জানাতে কর্মী-সমর্থকদের মিছিল নিয়ে কসবা উপজেলা পরিষদে যান কসবা পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম এ আজিজ। তারা দুজনই আসন্ন কসবা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বেলা ১১টায় দুই মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে সংঘর্ষ থেমে গেলে বেলা সাড়ে ১১টায় আইনমন্ত্রী কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার সময় ওই দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা আবারও সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কসবা উপজেলা পরিষদের সামনের সড়ক। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও দোকান ভাঙচুর করা হয়। কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগও করে সংঘর্ষকারীরা। পরবর্তীতে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠান শেষ না করেই পুলিশি প্রহরায় অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন | 6 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, 'আমাদের প্রত্যেককে মানবিক হয়ে মানুষের সেবা করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোকে সাধারণ মানুষ যাঁরা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, তাঁদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য এগিয়ে আসতে হবে।' মঙ্গলবার বিকেলে নগরের আলী আহাম্মদ চুনকানগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে চলমান 'মমতাময় নারায়ণগঞ্জ' প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেবার নতুন সম্প্রসারিত প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ কথা বলেন। ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য শরফুদ্দিন আহমেদ, জেলা সিভিল সার্জন মশিউর রহমান, আয়াত এডুকেশনের চেয়ারম্যান তাহসিন আমান, মমতাময় নারায়ণগঞ্জের সমন্বয়কারী সাইফুল হক প্রমুখ। মমতাময় নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষ জানায়, পৃথিবীতে বর্তমানে নিরাময়ের অযোগ্য রোগ বিস্তার লাভ করছে, এ ধরনের নিরাময়ের অযোগ্য রোগে আক্রান্ত মানুষ ও তাঁদের পরিবারের সেবা সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত সার্বিক সেবার নামই প্যালিয়েটিভ কেয়ার। নির্দিষ্টভাবে রোগ নিরাময়ের কোনো চিকিৎসা না থাকলেও কষ্ট বা ভোগান্তি কমানোর অনেক উপায় আছে। এসব রোগীর কষ্ট বা ভোগান্তি কমিয়ে রোগী ও তার পরিবারের জীবনের মান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ২০১৮ সাল থেকে 'মমতাময় নারায়ণগঞ্জ' কাজ করে যাচ্ছে। | 6 |
পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। এ দিন অজিদের বোলিংয়ের সামনে ব্যাট হাতে লড়াইটা ভালো করতে পারেনি টাইগাররা। তবে সাকিব আল হাসান ও আসিফের ব্যাটে ভর করে দলীয় শত রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭উইকেট খুইয়ে ১৩১ রান তুলতে সক্ষম হয় টাইগাররা। এর ফলে বলা যায়, ঘরের মাঠে ব্যাট হাতে কোনো লড়াই করতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি টাইগাররা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন নাঈম শেখ। তবে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৯ বলে ২ রান করে ফিরেছিলেন সৌম্য সরকার এরপর নাঈমও ফেরেন ২৯ বলে ৩০ রান করে। এই দুইজনকে হারিয়ে চাপে পড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এরপর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব। কিন্তু তাড়াহুড়া করে খেলতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ ব্যক্তিগত ২০ রানে হ্যাজেল উডের বলে সাজঘরে ফিরেন। এরপর সাকিব ৩৬, নুরুল হাসান ৩ ও শামীম হাসান ৪রান করে আউট হন। বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেল উড ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মিচেল স্টার্ক ও অ্যাডাম জাম্পা একটি করে উইকেট নেন। | 12 |
জাতিসঙ্ঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানিয়েছে, ২০২০ সালে ইউরোপে যেতে সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে দুই হাজারের বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার সময় পানিতে ডুবে মোট দুই হাজার দুই শ' ৭৬ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়। এতে বলা হয়, ২০১৯ সালে এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিলো দুই হাজার ৯৫ জন এবং ২০১৮ সালে সংখ্যা ছিলো দুই হাজার তিন শ' ৪৪ জন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মোট ৮৬ হাজার চার শ' ৪৮ জন অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। অন্যদিকে সমুদ্রপথে আরো ৫২ হাজার ৩৭ জন অভিবাসীকে ইউরোপে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। গত বছর লিবিয়া উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগরের পথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে নয় শ' ৮৪ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ক্যানারি দ্বীপ থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত আট শ' ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। সূত্র : ডেইলি সাবাহ | 3 |
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েয়ে পুলিশ। তার সঙ্গে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান রুমিরও রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন সিএমএম আদালত। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলায় মঙ্গলবার আদালত তাদেরকে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সোমবার রাতে যাত্রাবাড়ীর কাজলা থেকে জুয়েল ও রুমিকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। মঙ্গলবার বিকেলে তাদেরকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। গত ১৭ আগষ্ট ঢাকা মহানগর বিএনপি কমিটির নেতাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়। এর একটি মামলায় জুয়েল ও রুমিকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। যদিও ওই মামলায় সাইফ মাহমুদ জুয়েলের নাম নেই। | 6 |
'ধূপখোলা আমাদেরই মাঠ, আমরা এখানেই খেলব। খেলার মাঠ দখল করে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ চলবে না। এরকম সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা রুখে দেবে।' ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পুরান ঢাকার ধূপখোলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধনে এই দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেদ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা । এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের একমাত্র খেলার মাঠ। এখানে বাণিজ্যিক কোনো স্থাপনা নির্মাণ চলবে না। খেলার মাঠ ধ্বংস করে কোনো স্থাপনা করা চলবে না। ডিএসসিসি আমাদের মাঠ দখল করে যে পিলার দিয়েছে তা অনতিবিলম্বে উঠাতে হবে। মাঠের দিকে কুনজর দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের মাঠ রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়বে। শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক আশরাফুল আলম টিটন মানববন্ধনে বলেন, যে কোনো মানুষের সুস্থ থাকতে খেলাধুলা দরকার। আমাদের একটি মাত্র মাঠ, সেটিও দখল হয়ে যাচ্ছে। দখলদাররা এসব দখল করে ব্যবসা করতে যাচ্ছে। তারা পিলার দিয়েছে। আমরা বলতে চাই দ্রুত এসব তুলে নেবেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানে কিভাবে তাদের অধিকার রক্ষা করতে হয়। তাই আমরা কঠোর হওয়ার আগে আপনারা খুঁটি তুলে নেবেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, মাঠ রক্ষার্থে যে সকল পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা আমরা নেব। কালকে আমাদের মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে মাঠের বিষয়ে সরাসরি বৈঠক রয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে সমাধান আসবে। মানববন্ধনে শাখা ছাত্রলীগের আশরাফুল আলম টিটন, সৈয়দ শাকিল, জামাল উদ্দীন, আকতার হোসেন, নুরুল আফসার, আসাদুজ্জামান আসাদ উপস্থিত ছিলেন | 6 |
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত ধারার দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'যে আইন মানু্যের উপকারে আসে না সেটি আইন নয়। এ আইন দেশের মানুষ মানে না।'
সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বিজিপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী, শওকত মাহমুদ।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'বিএনপি শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা চায়। কেন না ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে কমিশন বাধার সম্মুখীন হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে যাবে।'
| 9 |
হোক শোয়ার কিংবা বসার ঘর, কোণগুলোতে কোন জিনিসটি রাখলে অন্দরের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যাবে, তা নিয়ে ভেবেছেন কি?বসার ঘরের দুই সোফার মধ্যবর্তী দূরত্বে কিংবা সোফা সেটের কর্নারে একটি প্ল্যানটার স্ট্যান্ড রাখা যেতে পারে। যদি গাছপ্রেমী হন তাহলে এটি আপনার জন্য জুতসই পরামর্শ। একটি প্ল্যানটার স্ট্যান্ডে তিন, চার, পাঁচটি টবসহ গাছ রাখা যাবে। এতে আপনার বসার ঘরে সবুজের দেখা মিলবে। সেই সঙ্গে একটি স্ট্যান্ডে গাছ গোছানো আকারে থাকলে ঘরটি দেখতে পরিপাটি লাগবে। এই স্ট্যান্ডগুলো আয়রন রড দিয়ে তৈরি বলে খুব একটা ভারী নয়। সাধারণত সেগুলো ব্যয়বহুল নয়। আবার দেখতেও মানানসই। প্ল্যানটার স্ট্যান্ড শোয়ার ঘর কিংবা গেস্টরুমেও রাখতে পারেন।ঘরের কোণে কিংবা বিছানার আশপাশে ফেইরি লাইট ঝোলাতে পারেন। অন্ধকার ঘরে যখন লাইটগুলো জ্বলতে থাকবে, তখন অন্য রকম আবেশে আপনার মন জুড়িয়ে যাবে। খাটের একপাশে রাখতে পারেন ল্যাম্প স্ট্যান্ড। এগুলো লম্বায় ৪-৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে। কাঠ কিংবা আয়রন রট দিয়ে তৈরি করা হয় এসব ল্যাম্প স্ট্যান্ড। ল্যাম্প স্ট্যান্ডের ওপরে ল্যাম্প থাকে এবং নিচে একটি বা দুটি তাক থাকে। সেখানে আপনি রাখতে পারেন প্রিয় একটি গাছ কিংবা প্রিয় লেখকের বই। ঘুমানোর আগে চশমাটা খুলে তাকে রাখতে পারবেন।ঘরের কোণে বড় বড় অ্যান্টিক শোপিস রাখতে পারেন। অ্যান্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায় এমন দোকানে নান্দনিক কর্নার টেবিল পাওয়া যায়। সেসব দোকান থেকে পছন্দের কর্নার টেবিল কিনতে পারেন। আর টেবিলের তাকে চীনামাটি, মাটি কিংবা অন্য কোনো ধাতবের শোপিস রাখতে পারেন।প্রাপ্তিস্থান ও দরদামবিভিন্ন ধরনের কর্নার টেবিল যেকোনো আসবাবের দোকানে অর্ডার দিয়ে বানাতে পারবেন। অনলাইন থেকে কিনতে আর্ট অ্যান্ড ডেকোর, ভিটরা ফার্নিচার, ফার্নেশিং, নন্দিতা কুটির ইত্যাদি পেজে ঢুঁ মারতে পারেন। দাম ১ হাজার থেকে শুরু করে ৫-৭ হাজার হয়ে থাকে। অ্যান্টিকের দোকান থেকে শোপিস ও কর্নার টেবিল কিনলে দাম ৫-৭ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার, লাখ টাকা গুনতে হবে। | 6 |
১৮ বছর বয়সে ইউএস ওপেন জিতে আলোড়ন তুলেছেন ব্রিটিশ টেনিস সেনসেশন এমা রাদুকানু। তবে কৈশোরে গ্র্যান্ড স্লাম জেতাদের তালিকায় রাদুকানুই একমাত্র নন; এ তালিকায় আছেন টেনিস দুনিয়ার একাধিক কিংবদন্তি। কম বয়সে গ্র্যান্ড স্লাম জেতার তালিকায় আছেন মার্টিনা হিঙ্গিস, মনিকা সেলেস, মারিয়া শারাপোভারা। এমন পাঁচ মহাতারকাকে নিয়েই এই আয়োজন। ১৯৯৭ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে কৈশোরে মেরি পিয়েরসেকে হারিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন মার্টিনা হিঙ্গিস। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সবচেয়ে কম বয়সে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ডটা সুইস কিংবদন্তির অধিকারে। ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই টেনিস তারকা পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন। দুবার ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে উঠে না হারলে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারত। চোটও বেশ ভুগিয়েছে তাঁকে। টেনিস ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত তারকা মনিকা সেলেস। ৯ গ্র্যান্ড স্লামের আটটি তিনি জিতেছেন যুগোস্লাভিয়ার হয়ে। ১৯৯৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে শেষ গ্র্যান্ড স্লামটি জেতেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে। বয়স ২০ পেরোনোর আগেই আটটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতেন সেলেস। ১৯৯৩ সালে স্টেফি গ্রাফের ভক্ত ছুরিকাঘাত না করলে তাঁর গ্র্যান্ড স্লামের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত। ইউএস ওপেনে এখনো সর্বকনিষ্ঠ শিরোপা জেতা খেলোয়াড় ট্রেসি অস্টিন। ফ্লাশিং মিডোসে এখন পর্যন্ত কেউ তাঁর এই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। ক্যারিয়ারে মাত্র দুটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতেন অস্টিন। দুটিই ইউএস ওপেনে। তবে চোট ও দুর্ঘটনায় না ভুগলে মার্কিন এই তারকা আরও অনেক দূর যেতে পারতেন। ১৯৯৪ সালে টেনিসকে বিদায় জানান অস্টিন। ২০০৪ সালের উইম্বলডন ফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে টেনিস বিশ্বে আলোড়ন তোলেন মারিয়া শারাপোভা। নিজের সময়ে জনপ্রিয়তায়ও বাকিদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন শারাপোভা। দুবার ফ্রেঞ্চ ওপেনসহ সব মিলিয়ে পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন রাশিয়ান টেনিস তারকা। ২০০৫ সালে নারী এককের শীর্ষে উঠে আসেন তিনি। ২০২০ সালে টেনিসকে বিদায় জানান শারাপোভা। ১৯৮৯ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে স্টেফি গ্রাফকে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দেন আরান্তজা ভিকারিও। সে সময় অন্যতম সেরা তারকা ছিলেন গ্রাফ। ক্যারিয়ারে তিনবার ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের পাশাপাশি একবার ইউএস ওপেনও জেতেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও উইম্বলডনে দুবার রানারআপ হয়েছেন তিনি। ২০০২ সালে অবসরে যাওয়ার আগে ছয়বার ডাবলস শিরোপাও জেতেন তিনি। | 12 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.