text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের তিন দিনের ভারত সফর বাতিল করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার দিল্লী যাওয়ার কথা ছিল। শনিবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা ছিল।
6
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লাটভিয়াকে ২০-০ গোলে বিধ্বস্ত করে নতুন এক রেকর্ড গড়েছে ইংল্যান্ড নারী দল। এত বড় ব্যবধানে এর আগে কোনো দলই নারীদের ফুটবলের কোনো প্রতিযোগিতায় জিততে পারেনি। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার এলেন হোয়াইট। এনিয়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৪৬ গোল করে কেলি স্মিথকে পিছনে ফেলেছে হোয়াইট। কালকের ম্যাচের বিরতির পরপরই তিনি হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। ম্যাচে হোয়াইট ছাড়াও আরো হ্যাটট্রিক করেছেন লুরেন হেম্প, বেথ মিড ও বদলী খেলোয়াড় আলেসিয়া রুসে। এর মধ্যে হেম্প হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেচেন। স্কোরশিটে নাম লেখানো অন্য খেলোয়াড়রা হলেন এলা টুনে, জর্জিয়া স্ট্যানওয়ে, জেস কার্টার, জিল স্কট ও জর্ডান নোবস। এর আগে ২০০৫ সালে হাঙ্গেরিকে ১৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল থ্রি লায়নেন্সরা। কাল সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেল হোয়াইট বাহিনী। গত মাসে এই বাছাইপর্বে রিগাতে স্বাগতিক লাটভিয়াকে ১০-০ গোলে পরাজিত করেছিল ইংল্যান্ড। এনিয়ে ডি-গ্রুপে ছয় ম্যাচে ষষ্ঠ জয় তুলে নিল ইংল্যান্ড। এই ম্যাচগুলোতে ইংল্যান্ড ৫৩ গোল করলেও একটি গোলও হজম করেনি। বাছাইপর্বে তারা অস্ট্রিয়া ও নর্দান আয়ারল্যান্ডকে পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধানে পিছনে ফেলে শীর্ষে রয়েছে। সূত্র : বাসস
12
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকাকে ভেনিস বা সান্তোসার মতো করে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখেছেন সে অনুযায়ী নগরীকে বিনির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, আমরা সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ভেনিস, সিঙ্গাপুর অথবা সান্তোসা বেড়াতে যাই। এমন একটি শহর গড়ার স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই মেয়রকে নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শহরে রূপান্তরিত করতে হাতিরঝিল থেকে বনানী পর্যন্ত এবং ইউনাইটেড হাসপাতাল পর্যন্ত ওয়াটা ট্রান্সপোর্ট চালু করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ দিতে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ডেমোগ্রাফিক সাইজ অর্থাৎ শহরে কত মানুষ বসবাস করবে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পূর্বাচল ১০ লাখ মানুষের বসবাসের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে যদি ৫০ লাখ মানুষ বসবাস করে তাহলে তা আর বাসযোগ্য থাকবে না। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ড. আকতার মাহমুদ, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টের চেয়ারম্যান এম এনামুল হক, স্থপতি ইকবাল হাবিব, পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান এবং ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, ডিএসসিসির প্যানেল মেয়র ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদুল্লাহ মিনু প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
9
'নাসির প্রথম দিন আমাকে ১০০ টি গোলাপ দিয়েছিল'- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমনটাই লিখেছেন সদ্য বিয়ে করা ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সাবেক প্রেমিকা শাহ হুমায়রা সুবাহ। নাসিরের এই নতুন জীবনে পদার্পণে শুভ কামনাও জানিয়েছেন সুবাহ। তবে বিভিন্ন সময় এও বলেন, নাসির বিষয় নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না। নাসিরের বিয়ের পর প্রচুর মানুষ তাকে বিরক্ত করছিলেন বলে জানান সুবাহ। বিরক্ত না করার অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে সুবাহ বলেন, 'আমি লাইভে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। কারণ হচ্ছে আমি অতিষ্ঠ হয়ে গেছি।' 'আমি লাইভে আসতাম না। নোংরা একটা বিষয়ে নিয়ে কথাও বলতাম না। নাসির ও নাসিরের ফালতু বউ তাম্মিকে নিয়ে আমি কিছুই বলতাম না। কিন্তু কোথাও গিয়ে শান্তি পাচ্ছি না। শুটিংয়ে গিয়েও আমাকে এ বিষয়ে কথা শুনতে হচ্ছে। মার্কেটে গেলেও নিস্তার নেই। বিভিন্ন মানুষ বলছে, আপু নাসির ভাই ফালতু একটা মেয়েকে বিয়ে করছে। এ বিষয়ে আপনি কিছু বলেন। আমি কি বলবো। আমি আগেও বলেছি নাসিরের সঙ্গে তিন বছর আগে আমার সবকিছু শেষ হয়েছে। এখন পেপার পত্রিকায় টিভিতে আমাকে জড়ানো হচ্ছে। কেনরে ভাই? আমি সাংবাদিক ভাইদের বলছি ফালতু একটা বিষয়ে আমাকে কেন জড়াচ্ছেন।' তিনি আরো বলেন, 'নাসিরের সঙ্গে এই মেয়ের সম্পর্ক বহু আগের। আমার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার সময়েও নাসির এই মেয়ের সঙ্গে প্রেম করেছে। আমি ওর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেছিলো জাস্ট ফ্রেন্ড। শুধু এই মেয়ে নয়। নাসিরের অনেক মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক আছে। ও যেমন তেমন বউ পেয়েছে। আমি নাসিরকে ছেড়ে এসেছি তিন বছর আগে। গত দুই বছর আমি খুব ভালো ছিলাম। আমার একটা জীবন আছে। আমি মডেলিং করছি, ছবি করছি। এসব নোংরা বিষয়ের কারণে আমি সামাজিক ভাবে ছোট হয়ে যাচ্ছি।' এসময় তিনি আরো বলেন, 'নাসির যেমন চরিত্রে নাসিরের বউও তেমনই। নইলে ১১ বছরের সংসার ফেলে আট ব্ছরের মেয়ে ফেলে কেউ বিয়ের পিড়িতে বসার আগে এমন নাচোন কোদন দিতে পারে? গত শনিবার ক্রিকেটার নাসির ও সাব্বির নামের এক যুবকের কথোপকথনের অডিও ক্লিপস, ভিডিও আকারে ভাইরাল হয়। সেখানে সাব্বির নামের ওই যুবক দাবি করেন তার স্ত্রী তামিমা, যার সঙ্গে ইতোমধ্যে নাসির পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন। নাসিরের স্ত্রীর নাম তামিমা তাম্মি। এই তাম্মি নাকি সাব্বিরের স্ত্রী যাদের মধ্যে এখনো বিচ্ছেদ ঘটেনি। এমনকী ৮ বছরের একটি বাচ্চাও রয়েছে তাদের। বিচ্ছেদ না দিয়েও অন্যকে বিয়ে করায় সাব্বির থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন।'
2
নড়াইল-২ আসনের এমপি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার রাতে নড়াইল জেলা প্রশাসক আনজুমান আরাকে ফোন করে তিনি এ আহ্বান জানান। এদিকে মে মাসের তিন সপ্তাহ চলে গেলেও সদর ও লোহাগড়া উপজেলায় সরকারীভাবে এখনও ধান ক্রয় শুরু হয়নি। ত্রিদেশীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জয়ের পর শনিবার রাতেই দেশে ফেরেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দেশে ফিরে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের উৎপাদন খরচও উঠছে না। বিষয়টি জানার পর তিনি রোববার রাতে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরাকে ফোন করে সরাসরি যাতে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন মাশরাফি। তিনি আরও বলেন, কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় করা হচ্ছে এমন তথ্য-প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যেই হোক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা মাশরাফির ফোনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও চাই কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান। কোনো অসাধু কৃষক যেন কারো মাধ্যমে ধান বিক্রি না করে সরাসরি খাদ্য গুদামে বিক্রি করে। এ জন্য সবার সহযোগীতা চান ডিসি। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনুতোষ কুমার মজুমদার বলেন, এমপির নির্দেশনা আমরা পেয়েছি। প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকেই ধান ক্রয় করা হবে। সদর উপজেলায় মঙ্গলবার এবং লোহাগড়া উপজেলায় দু'এক দিনের মধ্যে ধান সংগ্রহ শুরু হবে। কালিয়া উপজেলায় রোববার থেকে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। তিনি জানান, জেলার তিন উপজেলায় এক হাজার ৪৫৯ মে.টন ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা করে ক্রয় করা হবে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। এ ছাড়া জেলার ৫৪ জন মিল মালিকের কাছ থেকে প্রতি কেজি সিদ্ধ ৩৬ টাকা ও আতপ ৩৫ টাকা দরে এ বছর মোট ৪ হাজার ১ শত ৯১ মেট্রিক টন (সিদ্ধ-৩৯০৮ ও আতপ-২৮৩) বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে। ৬ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে।
6
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের ওপেনিং করছেন তিনি। অথচ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে টানা ব্যাট হাতে ব্যর্থ নাঈম। ফর্মহীনতা কিংবা শট খেলার দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে এই ব্যাটারের মাঝে। আর তাতেই তার টি-টোয়েন্টি দলে থাকা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।চলতি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ৮ ম্যাচের ৭টিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন নাঈম। এই সাত ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৫ রানসহ ৬৫.৭৮ স্ট্রাইক রেটে মোট সংগ্রহ ৫০। ২০ পার হয়নি কোনো ইনিংস।নাঈমের আসলে কী হয়েছে? কেন তার ব্যাটে রান নেই এই নিয়ে প্রশ্নেরও কোনো শেষ নেই। শুরুতে মিনিস্টার ঢাকা দলের হয়ে তিনে নামেন তিনি। এরপর চারে জায়গা হয় তাঁর। শেষ পর্যন্ত আটে নেমেও ব্যর্থ হয়েছিলেন নাঈম, বাদ পড়েন পরের ম্যাচে।ওপেনার হয়েও অন্য পজিশনে নামায় নাঈনের এমন অধঃপতন কী না এমন প্রশ্নে ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম আজকের পত্রিকাকে বলছিলেন, 'পজিশনের জন্য এমন হতে পারে। কিন্তু বিশ্বকাপ থেকে টানা এমন খারাপ করারটা পারফরম্যান্সে ঘাটতিও হতে পারে। তার ফর্মহীনতা দলের জন্যও ক্ষতিকর।'বিপিএলের প্রথম ধাপের দশ ম্যাচ শেষ হয়েছে ঢাকার। শেষ ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে ঢাকা-শিবিরে। ম্যাচ শেষে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে আসা সাকিবের সঙ্গে দেখা হয় নাঈমের।টুর্নামেন্টের শুরুতে ব্যাটিং নিয়ে খানিকটা ধুঁকলেও টানা পাঁচ ম্যাচে দুর্দান্ত সাকিব। তাইতো সাকিবকে সামনে পেয়ে হয়তো নিজের দুর্বলতার কথা জানান নাঈম। সাকিবেরও জাতীয় দলের সতীর্থের ব্যাটিং সমস্যার কথা জানার কথা। তাই মাঠের এক কোণে নাঈমকে শট খেলার বিভিন্ন টিপস দেন তিনি। ভেসে আসা বল কিংবা স্লোয়ারকে কীভাবে খেলবে কিংবা টার্ন করা বলে কীভাবে রান করতে হয় এই টিপসগুলোই দিতে দেখা যায় সাকিবকে। তারপর নাঈমও সাকিবের দেখাদেখি চেষ্টা করেন।
12
পোশাক খাত থেকে ভারী শিল্পে বিনিয়োগ কম হচ্ছে। প্রবাসী আয়ে জনসংখ্যাগত সুবিধাও বেশি দিন থাকবে না। নতুন করে ভাবার সময় এখনই। দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাড়তি খাদ্য উৎপাদন ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক উন্নতির কেন্দ্রে রাখা হয় গ্রামীণ অর্থনীতিকে। বিগত ৫০ বছরে দেশের রাজনীতিতে অনেক পালাবদল হয়েছে, কিন্তু গ্রামীণ অর্থনীতিকে সব সরকারই কমবেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে দারিদ্র্য কমেছে। স্বাধীনতার পর দেশে দানাদার খাদ্যের উৎপাদন দ্রুত বেড়েছে। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে বিশ্বজুড়ে যখন সবুজ বিপ্লবের সূত্রপাত হয়, তখন বাংলাদেশও ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা হয়। কাজটি করা হয়েছিল বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কুমিল্লার মাধ্যমে। তখন উচ্চফলনশীল জাতের ধানবীজ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার শুরু হয়। সেচের মাধ্যমে জমি চাষের আওতায় আনা হয়। তবে এই চেষ্টা তখন খুব একটা কার্যকর হয়নি। কুমিল্লা ছাড়া দেশের অন্য জেলাগুলোতে দারিদ্র্য বিমোচনে তা তেমন একটা ভূমিকা রাখতে পারেনি। কারণ, বড় বড় সেচ প্রকল্প নেওয়া হলেও তা সারা দেশে সমানভাবে বিস্তৃত করা যায়নি। আশির দশকে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনসহায়ক অনেকগুলো ঘটনা একসঙ্গে ঘটে। প্রথমত, বাণিজ্য উদারীকরণের ফলে দেশে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে ছোট আকারের সেচ পাম্প আমদানি শুরু হয়। একসময় সার, কীটনাশক ও বীজ সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ছাড়া আর কেউ আনতে পারত না। এ ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। ফলে কৃষকের কাছে এসব উপকরণ সহজলভ্য হয়। এ কারণে ওই সময়েই মূলত সারা দেশে প্রকৃত সবুজ বিপ্লবের সূত্রপাত হয়। ফলে কৃষকেরা ফসল উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের সুযোগ পান। আমদানিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা নিয়ে নব্বইয়ের দশকে দেশে অনেক বিতর্ক হয়। বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের চাপে সরকার এগুলো করছে। এতে দেশের দরিদ্রশ্রেণির মানুষের খুব বেশি উন্নতি হবে না, সুফল পাবেন মূলত ধনীরা। কিন্তু পরে হিসাব করে দেখা গেছে, দেশে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর মধ্য দিয়ে কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন সবচেয়ে বেশি হয়েছে। দেশের পুষ্টি পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক যাওয়া শুরু হয় স্বাধীনতার পর থেকে। এর সুফল আসতে শুরু করে আশির দশকে। প্রবাসী আয় দিয়ে কৃষক পরিবারগুলো সেচযন্ত্র, সার, বীজসহ অন্যান্য উপকরণ কেনার সামর্থ্য অর্জন করে, যা একই সঙ্গে দেশের প্রধান ফসলগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমায়। আবার গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতি হয়, দারিদ্র্য কমতে থাকে। আশির দশক থেকেই বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ব্যবসা আসতে থাকে। কারখানা হতে থাকে। এসব কারখানায় গ্রামীণ নারীরা শ্রমিক হিসেবে যোগ দিতে শুরু করেন। প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে পুরুষের পাঠানো অর্থ আর পোশাক কারখানায় কাজ করে নারীর অর্জিত আয়-এই দুই খাতের অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে যুক্ত হতে থাকে। এই অর্থ যেমন ফসল উৎপাদন বাড়ানোর পেছনে ব্যয় হয়, তেমনি অকৃষি খাতেও বিনিয়োগ হতে থাকে। নব্বইয়ের দশক থেকে গ্রামপর্যায়ে পুকুর ও বিলে আধুনিক মৎস্য খামার হতে শুরু করে। পোলট্রি ফার্ম ও গবাদিপশুর খামার গড়ে উঠতে শুরু করে। গ্রামীণ অর্থনীতির এই বহুমুখী প্রবণতাকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ বড় ভূমিকা রেখেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান স্বল্প আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লে দারিদ্র্য বিমোচন হবে-এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে এত দিন ধরে দারিদ্র্য বিমোচনের চেষ্টা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় যে সাফল্য আসেনি, তা বলা যাবে না। প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক সুফল দেশের উদ্যোক্তা শ্রেণির কাছে যায়, এটা যেমন সত্য, তেমনি দীর্ঘ মেয়াদে দেশের দারিদ্র্য বিমোচনেও তা ভূমিকা রেখেছে। দারিদ্র্য বিমোচনের এই মডেল শুধু বাংলাদেশে নয়, পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে দেখা যায়। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে কৃষির উন্নতির পর শিল্পের উন্নতি দেখা গেছে। এভাবে তারা নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ কিছুটা দেরিতে হলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন করে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অবশ্য পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর উন্নয়নের মডেলের একটি ভিন্ন দিকও আছে। যেমন ওই দেশগুলো ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় থেকেও ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারেনি। দারিদ্র্য বিমোচনও একটি পর্যায়ে উন্নীত হয়ে থেমে আছে। অনেক বছর ধরে দেশগুলো আর সামনে আগাতে পারেনি। কিন্তু জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ অনেক দেশ কৃষিতে উন্নতির পর দ্রুত ভারী ও মাঝারি শিল্পে উন্নতি করেছে। তাদের শিল্পের উন্নয়ন দারিদ্র্য বিমোচন ও মাথাপিছু আয় বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। কৃষি থেকে শিল্পে এই রূপান্তরের সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ কোন পথে দারিদ্র্য বিমোচন করবে, সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। শুরুতে কৃষি খাতে উন্নয়নের যে পথটি বাংলাদেশ বেছে নিয়েছে, তা অনেকটা ভারতের মতো। ভারত কৃষি থেকে রূপান্তরের পথে শিল্পের পাশাপাশি সেবা খাতকেও গুরুত্ব দিয়েছে। মানবসম্পদের উন্নতির মধ্য দিয়ে ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণি আর্থিকভাবে অনেক এগিয়েছে। বিশ্বজুড়ে সেবা খাতে তারা মানবসম্পদকে বিনিয়োগ করে আয় বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি কৃষির পর তৈরি পোশাক খাত ও প্রবাসী আয় ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নতি ও দারিদ্র্য বিমোচনের বড় কোনো উৎস তৈরি হয়নি। আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি, উন্নয়নের কৌশল ও দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে এই দুই খাত ছাড়া অন্য খাতগুলো গুরুত্ব কম পাচ্ছে, যা দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং উন্নতির পরবর্তী ধাপে পৌঁছানোর জন্য অনেক বড় অন্তরায়। আমাদের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু সেই খাদ্য নিরাপদ করার পেছনে উদ্যোগ কম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের নিরাপদ খাদ্যের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে ধনীদের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ খাদ্য বিক্রিতে সুপারশপ ও প্যাকেটজাত নিত্যপণ্যের বাজার তৈরি হচ্ছে, সেখানে পণ্যে দাম ও তদারকি-দুটিই বেশি। অন্যদিকে গরিব মানুষদের জন্য থাকছে সাধারণ গ্রামীণ বাজার। কৃষি উৎপাদনে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা হয়। এ কারণে উৎপাদিত ফসলের মধ্যে কীটনাশকের অবশেষ থেকে যায়, যা গ্রামীণ দরিদ্রদের নানা জটিল রোগের কারণ। সরকার একসময় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে অনেক উদ্যোগী ছিল। কিন্তু চেষ্টাটা মনে হচ্ছে কমে আসছে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে এক করোনার (কোভিড-১৯) কারণেই কয়েক কোটি মানুষের আয় কমে গেছে। এর বাইরে দরিদ্র পরিবারগুলোর কোনো সদস্যের বড় কোনো রোগবালাই হলে তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। পরিবারগুলো দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। আর নিম্নমানের ও অনিরাপদ খাবারও তাদের অপুষ্টির মুখে ফেলছে, দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে সব মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম পূর্বশর্ত হতে হবে। সরকার এ জন্য একটি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। কিন্তু তাদের জনবল ও ক্ষমতা খুব বেশি দেওয়া হয়নি। আর সরকারি অন্য সংস্থাগুলোকে বাজার তদারকিতে খুব বেশি আগ্রহী হতে দেখা যায় না। তাই সামগ্রিকভাবে খাদ্য নিরাপদ করার জন্য আমাদের উদ্যোগ বাড়াতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে অন্য খাতে, অর্থাৎ ভারী ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ কম হচ্ছে। নব্বইয়ের দশকে আমরা চামড়াশিল্প খাতকে বড় করার একটি সুযোগ পেয়েছিলাম। ওই সময়টায় তাইওয়ান তাদের চামড়াশিল্প খাতকে অন্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে দিতে চাইছিল। অনেক দেশে তারা এই খাতে বিনিয়োগ করেছে, আমরা সেটা নিতে পারিনি। এখন আবারও সেই সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো এখন চামড়া ও পাদুকাশিল্প কারখানাগুলো তাদের দেশ থেকে অন্য দেশে সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশে চামড়ার একটি স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থা থাকায় আমাদের বাড়তি সুবিধা ছিল। এটাকে কাজে লাগিয়ে আমরা চামড়াশিল্পের এই নতুন সুযোগ নিতে পারি। কিন্তু এখনো সাভারের নতুন চামড়াশিল্প নগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের সমস্যা রয়ে গেছে। ভালোমতো উদ্যোগ নিলে এগুলো দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। কারণ, চামড়াশিল্পের উন্নতি হলে সঙ্গে গ্রামীণ পর্যায় থেকে অনেকগুলো স্তরে মানুষের আয় বাড়ার সুযোগ আছে। ফলে তা দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর কাজটি এখনো অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। তিন দশক ধরে আমরা বিদেশে শ্রমিক পাঠাচ্ছি, কিন্তু তাঁদের বড় অংশ এখনো অদক্ষ। তাঁদের আয় কম। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক, ব্যবস্থাপক ও প্রযুক্তিবিদ পাঠানোর ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। এই খাতকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে উদ্যোগও খুব একটা চোখে পড়ছে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রবাসী শ্রমিকদের বড় অংশ তরুণ। তাঁরা তাঁদের জীবনের কর্মক্ষম সময়টা প্রবাসে কাটিয়ে আয় করে মধ্যবয়সে দেশে ফিরে আসেন। আর বাংলাদেশ ২০৩০ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যাগত সুবিধা পাবে, জনসংখ্যার মধ্যে তরুণেরা বেশি থাকবেন। এরপর কিন্তু দেশে বয়স্ক মানুষদের সংখ্যা বাড়বে। ফলে তখন আমরা চাইলেও এই জনসংখ্যার সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রবাসী আয় বাড়াতে পারব না। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু এই উন্নতি করতে হলে আমাদের জ্বালানি তেল প্রক্রিয়াজাত শিল্প, রাসায়নিক শিল্প ও সংযোজন শিল্পে বিনিয়োগ করতে হবে। দেশের অনেক উদ্যোক্তা এই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন। দেশের উদ্যোক্তাদের নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। তবে একটি দিক থেকে তাঁরা বেশ এগিয়ে, তা হচ্ছে তাঁরা পারিবারিক ব্যবসায়িক ঐতিহ্য না থাকার পরও রাষ্ট্রীয় বড় ধরনের প্রণোদনা ছাড়াই অনেক বড় বড় শিল্প স্থাপন করেছেন। তৈরি পোশাক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, সিমেন্ট, রড, কাগজ-অনেক খাতে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পকারখানা রাষ্ট্রীয় আয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখছে। আমাদের উদ্যোক্তাদের একটি বড় দুর্বলতা হচ্ছে, তাঁরা বেশির ভাগই প্রথম প্রজন্মের। নিজস্ব চেষ্টায় তাঁরা অনেক দূর এগিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকের মধ্যে উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং বহুমুখী করার চেষ্টা কম দেখা যাচ্ছে। অনৈতিক চেষ্টার বাইরেও দেশের মুদ্রানীতি, সুদের হার এবং বিনিয়োগের সুযোগের অভাবের কারণেও অনেকে অর্থ বিদেশে সরিয়ে ফেলছেন। এটা দেশের অর্থনীতির জন্য বেশ বিপজ্জনক দিক। এই প্রবণতা থেকে উদ্যোক্তাদের ফেরাতে হবে। এ জন্য দেশে তাঁদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও সম্ভাবনা বাড়াতে হবে। দেশ থেকে অর্থ পাচার হতে থাকলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি ও দারিদ্র্য বিমোচনের অর্জন ভেঙে পড়তে পারে। আজ ১৭ অক্টোবর, রোববার জাতিসংঘ ঘোষিত দারিদ্র্য বিমোচন দিবস। দারিদ্র্য কমানোর পরবর্তী পর্যায়ে যেতে নতুন করে ভাবার সময় এখনই। লেখক: সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)
0
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ ও মাদারীপুর-৩ আসনে তৃণমূল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা যায়, সোমবার বিকেলে শিবচর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে বর্ধিত সভার আয়োজন করে দলটি। সভায় উপজেলা বিএনপি ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় নেতৃবৃন্দ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সমাজসেবক ইয়াজ্জেম হোসেন রোমানকে একক প্রার্থী হিসেবে সর্বসম্মত ভাবে মনোনয়ন দেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জহের গোমস্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শহীদুল ইসলাম দিপু হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি মো: শাহাদাত হোসেন শফিক প্রমুখ। এছাড়াও সভায় উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান তাকে একক প্রার্থী হিসেবে সর্বসম্মতভাবে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর আগে গত রোববার রাতে কালকিনি উপজেলা বিএনপির কার্যালয় বর্ধিত সভায় মাদারীপুর-৩ আসনের বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বর্ধিত সভায় উপস্থিত সকলে একমত হয়ে এ আসনে আলহাজ্ব আনিসুর রহমান তালুকদারকে (খোকন তালুকদার) সমর্থন করেছেন। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতৃবৃন্দ মাদারীপুর-৩ আসনে (সদরের আংশিক-কালকিনি-ডাসার) খোকন তালুকদার দলীয় মনোনয়ন দিতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান। কালকিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: ফজলুল হক বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাহাবুব হোসেন মুন্সী, আ: সালাম, অ্যাড. মিজানুর রহমান, ছাত্রদল সভাপতি আ: হাই, শিকদার মামুন, নজরুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলার তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। খোকন তালুকদার আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানান।
6
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দরে নির্মাণাধীন ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার হয়নি বলে দাবি করেছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্বের কারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনা সাজানো হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তার দায় এ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নেবে না। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার্স কনসোর্টিয়ামের এ অবস্থান তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সাত্তার। লিখিত বক্তব্য আবদুস সাত্তার বলেন, বাংলাদেশ ফাইটো স্যানিটারি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অধীনে দর্শনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের অধীনে এ ধরনের ভবন নির্মাণে আমরা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারীদের বিরোধ থেকে এ ঘটনা সাজানো হয়েছে। বাস্তবের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার কোনো মিল নেই। সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পরপরই তদন্ত করে দেখা হয়েছে দাবি করে আবদুস সাত্তার বলেন, ১৭০টি লুবারসের কোথাও কোনো বাঁশ ব্যবহার হয়নি। ভবনের ছাদ, কলাম, বিম পরীক্ষা করা হয়েছে; কোনো সমস্যা নেই।
6
বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা কারাগার থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় অঝোরে কাঁন্নাকাটি করেছেন। বরগুনা জেলা কারাগার থেকে পিতা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে মুঠো ফোনে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। মোজাম্মেল হোসেন আরও বলেন, সারা দেশের মানুষ ভিডিওতে দেখেছে আমার মেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর স্বামী রিফাত শরীফকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। আহত রিফাতকে একাই হাসপাতালে নিয়ে গেছে। অথচ এই মামলায় আমার মেয়েকে ফাঁসানো হলো। এসময় তিনি বলেন, আমার মেয়ে নির্দোষ। একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে আমার মেয়েকে এই মামলায় ফাঁসিয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহলকে আড়াল করার জন্যই এটা করা হয়েছে। আমি রায়ের কপি পাওয়ার আবেদন করেছি। এটি হাতে পেলে দ্রুত উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। আমি আশাবাদী আমার মেয়ে উচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হবে। জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী ছয় বন্দীকেই কনডেম সেলে থালা, বাটি ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি আসামিকে কারাগারের পক্ষ থেকে দুই সেট পোশাক দেওয়া হয়েছে। এখানে তাঁরা কারা বিধি অনুযায়ী এই পোশাক পরবেন। কারা সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৪৯ জন নারী আসামি কনডেম সেলে আছেন। বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান বুধবার এই মামলার রায়ে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে খালাস দেন। বাকি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৪ আসামির বিচার কার্যক্রম চলছে শিশু আদালতে। কারাগারে মিন্নিই একমাত্র নারী : আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিই বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেলের একমাত্র নারী আসামি। এ ছাড়াও ফাঁসির দন্ডাদেশ পাওয়া অন্য পুরুষ আসামিদেরকেও পুরুষ ওয়ার্ডের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, কারাবিধি অনুযায়ী ছয় বন্দীকেই কনডেম সেলে থালা, বাটি ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতি আসামিকে কারাগারের পক্ষ থেকে দুই সেট পোশাক দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে বরগুনা জেলা কারাগারে নারী বন্দীদের মধ্যে একমাত্র মিন্নিই কনডেম সেলে আছেন। মিন্নি ব্যতীত বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে অন্য কোনো নারী বন্দী নেই। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে স্ত্রী আয়শার সামনে কুপিয়ে জখম করেন সন্ত্রাসীরা। পরে ওই দিন বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তাঁকে কোপানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে এটি আলোচিত হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯) ও রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নি (১৯)। খালাস পাওয়া চার আসামি হলেন মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)। মুসা এখনো পলাতক। রায়ে খালাস পাওয়া বাকি তিনজনকে বুধবার রাতেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
6
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে যোগ দেন বিজেপিতে, এরপর প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েই সাংসদ নির্বাচিত হন। এখন তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠতম সদস্যও, দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। তবে কোচবিহারের নিশীথ প্রমাণিক কি ভারতের নাগরিক? বিস্ফোরক দাবি করলেন আসাম থেকে মনোনীত রাজ্যসভার সাংসদ, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রিপন ভোরা। চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রীকে। শুক্রবার লেখা সেই চিঠি সংযুক্ত করে আবার টুইট করেছেন পশ্চিমবঙ্গের দুই মন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ইন্দ্রনীল সেন, ব্রাত্য বসু। তাদের মন্তব্য, কোনও বিদেশি নাগরিক দেশের মন্ত্রী হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এর পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, কুৎসা না রটিয়ে প্রমাণ দিক তৃণমূল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু এ বিষয়ে বলেছেন, তর্কের খাতিরে মেনে নিলেও এটা তো সত্যি যে নিশীথ একজন হিন্দু। আর বিজেপির কাছে সব হিন্দুই ভারতীয়। রিপুন বোরা মোদীকে পাঠানো চিঠিটি টুইট করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, নিশীথ বাংলাদেশের পলাশবাড়ির হরিনাথপুরের বাসিন্দা। ভারতে কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনা করার নামে এসে কোচবিহারে থেকে যান। যে নথি নিশীথ দেখিয়ে নিজেকে কোচবিহারের বাসিন্দা বলে দাবি করেন সেটাও ভুয়া। উল্লেখ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদে সম্প্রতি রদবদল এনেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে স্থান পান বিজেপি এমপি নিশীথ প্রামাণিক। তাকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, শপথ গ্রহণের পরপরই তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। দেশের নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের নাগরিক এমনই গুরুতর অভিযোগ করছে বিরোধী শিবির। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, জি নিউজ ও এই সময়। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
3
১০০ শয্যার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে রোগীর চাপ। ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাই বেশি। জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন রোগীরা। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীই বেশি। হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। এ কারণে মেঝে ও বারান্দায় থেকে অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গত দুই দিনে হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় দুই হাজার রোগী। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন ১৯৭ জন। এর মধ্যে মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি ৯৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২০ জন ও পুরুষ ও অন্যান্য ওয়ার্ডে ৭৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এ ছাড়া জরুরি বিভাগ থেকে গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোট ৪৬ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। বিপুল সংখ্যা রোগীর সিট সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।সোমবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় অসুস্থ শিশু ও নবজাতককে নিয়ে বসে আছেন মায়েরা। শয্যা সংকটের কারণে নারী ও শিশু ওয়ার্ড, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনের বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ভর্তি হওয়া অনেক রোগী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কিছু সংখ্যক শয্যা (বেড) বাইরে স্থাপন করা হয়েছে। সেই সেব বেডে স্থান দেওয়া হয়েছে হাসপাতালের নিয়মিত শয্যা না পাওয়া জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীদের।নড়িয়া থেকে ৩ বছরের শিশু মিনহাজকে জ্বর, ঠান্ডা ও কাশি নিয়ে গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করেন মিলন ব্যাপারী। দুদিন ধরে হাসপাতালের করিডরের মেঝেতে চিকিৎসা নেওয়ার পর সোমবার হাসপাতালের একটি শয্যা পেয়েছেন মিলন। তবে শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় হাসপাতালের করিডরে থাকা ওই সিটে আপাতত চিকিৎসা নিচ্ছে শিশু মিনহাজ। অসুস্থ মিনহাজের বাবা মিলন ব্যাপারী বলেন, 'এই শীতের মধ্যে ২ দিন হাসপাতালের মেঝেতে কোনো রকমের বিছানা পেতে শিশুটির চিকিৎসা করাতে হয়েছে। আজ দুপুরের দিকে একটি সিট পেলেও এখনো বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রাতে প্রচুর শীত পড়ে। ঠান্ডা বাতাসে ছেলে সুস্থ হওয়ার বদলে আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।'সদর উপজেলার বিনোদপুর থেকে গত শনিবার হাসপাতালে আসেন অন্তঃসত্ত্বা নাদিয়া বেগম। ওই দিন সিজারে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন নাদিয়া। কিন্তু নবজাতক শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডে জায়গা হয়নি তাঁর। শনিবার থেকেই হাসপাতালের বারান্দায় একটি অস্থায়ী শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ওই মা ও শিশুটি। আক্ষেপ করে নাদিয়া বলেন, 'আমরা গরিব মানুষ, ক্লিনিকে যাইতে অনেক বেশি টাহা পয়সা লাগে। কোনো উপায় না থাহোনে আমরা সরকারি হাসপাতালে আহি। দুই দিন ধইরা জন্ম নেওয়া এই শিশুটি লইয়া বারান্দায় চিকিৎসা নিতাছি। ছিট নাই, ডাক্তারেরা দিবো কোনহানতোনে? শীতে আমাগো অনেক কষ্ট হইতাছে।'শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, 'হঠাৎ করে কিছুটা ঠান্ডা পরায় হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি। হাসপাতালে শয্যা সংকট থাকায় রোগীদের মেঝেতে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকায় এই বিপুল সংখ্যা রোগীর চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।'
6
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিজেএমসি ও মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি-ভুলনীতির কারণে যে লোকসান হচ্ছে, তার দায় নিষ্ঠুরভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে শ্রমিকদের ওপর। এই খেলা বন্ধ করতে হবে। খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিক আন্দোলনের নেতা নূরুল ইসলাম ও ওলিয়ার রহমানকে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়া ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশে সাকি এ কথা বলেন। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। জোনায়েদ সাকি বলেন, এই করোনাকালে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিক এবং আরও ২৫ হাজার বদলি শ্রমিককে কর্মহীন করার নিষ্ঠুর খেলা চলছে। সরকার বলছে, মিলগুলো খোলা থাকলে প্রতিবছর ২০০ কোটি টাকা লোকসান হয়। অথচ এই সরকারের আমলেই ৪৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে রেখে হাজার হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। অথচ বিজেএমসি ও মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও ভুলনীতির কারণে যে লোকসান হচ্ছে, তার দায় নিষ্ঠুরভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে শ্রমিকদের ওপর। এই খেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এ ছাড়া বক্তব্য দেন গণসংহতির নির্বাহী সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, মনিরুদ্দীন পাপ্পু, জুলহাসনাইন বাবু প্রমুখ। বক্তারা নূরুল ইসলাম ও ওলিয়ার রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, এই সরকার ভোট ছাড়া পুলিশ ও প্রশাসনের ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্ষমতায় বসে আছে। ফলে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলেই, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই, তাকে আর সহ্য করতে পারছে না। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখলে, একটি কার্টুন তৈরি করলে বা সরকারবিরোধী কথা বললেই মাথা গরম হয়ে যায়। রাতের আঁধারে সাদা পোশাকে ধরে নিয়ে আসা হচ্ছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে জেলে পোরা হচ্ছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা লোকসান দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। পিপিপির নামে প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ভূমি এবং যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা মিলে আরও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ সরকারের ঘনিষ্ঠজনেরা দখল করার ষড়যন্ত্র করছে।
9
ক্যান্সার যুদ্ধে প্রায় ছ'মাস গৃহবন্দি ছিলেন মনীষা কৈরালা। তাই করোনার জন্য লকডাউনে ঘরবন্দী হয়ে থাকতে তার তেমন কষ্ট হচ্ছে না। কারণ বিষয়টা তার কাছে মোটেও নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনীষা বলেন, ছয় মাস যখন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছি তখন ওষুধ কাজ করবে কি না সেটাও জানতাম না! সেই গৃহবন্দি দশা থেকেই আমি এক দিনের জন্য বাঁচতে শিখেছি। পরের দিনের কথা ভাবি না। তাই এ বারের লকডাউন আমায় অবাক করেনি। তিনি মনে করেন, ক্যান্সার যাকে আক্রমণ করেছে তার কাছে করোনা ভয়ের নয়। কারণ তারা লড়াই করতে জানে। তারা করোনা জয়ের মন্ত্র জানে। তবে লকডাউন নিয়ে অবাক না হলেও ভয় পেয়েছিলেন মনীষা। বাড়ির বয়স্কদের কথা ভেবে। নিজের ছাদের ছোট বাগানেই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে দিচ্ছেন তিনি। বললেন, লকডাউনে আর দূষণ নেই। আকাশ পরিষ্কার। ভোর হলেই শুনছি চড়ই পাখির আওয়াজ। সে দিনই দেখলাম আমার বাগানে দুটো চড়াই বাসা বাঁধছে। আমি বাগানে শুয়ে আকাশ দেখে সময় কাটাচ্ছি।
2
জৈব পদ্ধতিতে আগরগাছের নির্যাস সংগ্রহ করে লাভবান হচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের শরিফ বিন রব্বানী। তিনি দাবি করেছেন, এ পদ্ধতিতে রস সংগ্রহ করলে আগরের মান ঠিক থাকে। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সমতল ভূমিতে প্রথম আগর চাষ করেছেন।শরিফের বাড়ি সদর উপজেলার ইয়াকুবপুর গ্রামে।২০১০ সালে শখের বশে সিলেট থেকে শতাধিক আগরের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির পাশে পরীক্ষামূলকভাবে আগরবাগান গড়ে তোলেন শরিফ। এখন তাঁর বাগানে দুই শতাধিক আগরগাছ আছে। আগর চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগরগাছের চারা উৎপাদনও করছেন তিনি।সাধারণত আগরের রস সংগ্রহের জন্য গাছে লোহার পেরেক মেরে ও ড্রিল করে ক্ষত তৈরি করে রাসায়নিক কীট ঢুকিয়ে ছত্রাক তৈরি করা হয়, যা বেশ ব্যয় সাপেক্ষ। শরিফ দাবি করেছেন, এ পদ্ধতিতে আগরের মান ঠিক থাকে না, রসে আয়রন ও রাসায়নিক মিশ্রণ পাওয়া যায়।এদিকে শরিফ বিশেষ প্রক্রিয়ায় ছত্রাক তৈরি করেন। এরপর ওই ছত্রাক বাঁশের কাঠির মাধ্যমে কম ছিদ্র করে আগরগাছের ভেতর ঢুকিয়ে দেন, পরে এ ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি যত হয়, ততই আগরের নির্যাস পাওয়া যায়। তাঁর পদ্ধতিতে আগরের রস সংগ্রহ করা হলে মান ঠিক থাকবে বলে তিনি দাবি করেছেন।বাগান পরিদর্শনের সময় শরিফ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'অন্যান্য গাছের তুলনায় আগরগাছের বাগান করা সহজ, খরচ তুলনামূলক কম এবং লাভ অনেক বেশি। এক কেজি আগর আতরের দাম পাঁচ লাখ টাকার কাছাকাছি। এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল। আগরগাছের নির্যাস থেকে মূল্যবান সুগন্ধি ও তেল পাওয়া যায়। যা থেকে আতর, আগরবাতি, বডি স্প্রেসহ বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধিপণ্য তৈরি করা হয়। আগরগাছের কাঠ ওষুধ কারখানার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়।'শরিফের আগর সংগ্রহের কাজে সহযোগিতা করছেন তাঁর স্ত্রী রোজিনা আকতার। তিনি বলেন, 'আগর ব্যবসায়ীরা যদি ন্যায্যমূল্যে আগর ক্রয় করাসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পান। তবে, আগর শিল্পের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি দেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক হবে।'ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আগর আতরের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় আগর চাষ করে বদলে যেতে পারে এ জেলার মানুষের ভাগ্য। আগর চাষে আগ্রহীদের কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
6
পাবনা সদর উপজেলার ভাউডাঙ্গা গ্রামের কৃষক ইছহাক প্রামাণিক ওরফে আলক সরদার ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১০০ বিঘা জমিতে কলার বাগান করেছিলেন । এবারের রোজায় কলা বিক্রি করে সব ঋণ পরিশাধ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু তার সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে এলো। রোববার রাতে পাবনা সদর উপজেলায় প্রায় ৫০ বিঘা জমির কলার গাছ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার কলাগাছ নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. ইসলাম জানান, সোমবার সকালে খবর পান- কে বা কারা তার কলার বাগানে আগুন দিয়েছে। এ সময় তিনি লোকজন নিয়ে বাগানে ছুটে যান। ততক্ষণে বাগানের প্রায় ৫০ বিঘা জমির কলার গাছ পুড়ে ছাই হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। তিনি আরও জানান, আগামী রমজান মাসকে সামনে রেখে ১৫ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে ১০০ বিঘা কলার আবাদ করেছিলাম। এরমধ্যে ৫০ বিঘা পুড়ে ছাই হলো। পাবনার পরিবেশবিদ ড. নরেশ চন্দ্র মধু বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু পরিবেশ ধ্বংস নয়, মারাত্মক অপরাধও। এ বিষয়ে পাবনার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনও কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
6
নিয়মিত অধিনায়ক না থাকায় ভারত সফরের টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার অধীনেই চলমান সফরে জয় দিয়ে দারুণ শুরু সূচনা করে বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়ার জন্য নেতৃত্বের প্রশংসা পাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। ভারতীয় সাবেক পেসার ইরফান পাঠান তো এরই মধ্যে বাংলাদেশ অধিনায়কের মধ্যে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বগুণের ছাপ দেখতে পাচ্ছেন। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে ভারতীয় চ্যানেল স্টার স্পোর্টসকে ইরফান বলেন, বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে জিতলে আত্মবিশ্বাস এমনিতেই বেড়ে যায়। ম্যাচের মধ্যে বিভিন্ন পরিবর্তন করে মাহমুদউল্লাহও অসাধারণ নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়েছে। তার অধিনায়কত্বে মহেন্দ্র সিং ধোনির ছাপ রয়েছে। পাওয়ার প্লে শেষে সে পার্ট-টাইম স্পিনারদের ব্যবহার করেছে যেটা ধোনিও করে থাকে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সাত উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে আট উইকেটের জয়ে সমতায় ফিরেছে ভারত। আগামীকাল রবিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচটি জিততে হলে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে বলে মনে করেন আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং। হরভজন বলেন, মুশফিকুর রহিমের মতো খেলোয়াড়ের প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে। স্পিন ও পেস বোলিংয়ের বিরুদ্ধে তার খেলার দক্ষতা অসাধারণ। দলের জয়ে তাকে ও মাহমুদউল্লাহকেই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
12
ছোট পর্দার অনেক অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী জ্বর, ঠান্ডা, হাঁচি-কাশি নিয়ে শুটিং করছেন। তাঁদের কারও কারও পরিবারের সদস্য আবার করোনায় আক্রান্ত। অন্যদের ছিল নানা অজুহাত। কেউ বলছেন, এসব কিছু নয়, ঋতু পরিবর্তনজনিত ঠান্ডার সমস্যা। কেউ বলছেন, আইসক্রিম, ঠান্ডা পানি খাওয়া ও শুটিং থেকে ফিরে রাতে গোসলের কারণে অসুস্থ। কেউ অসুস্থতার কথা নির্মাতাকে জানিয়ে লুকিয়ে শুটিং করছেন। এদিকে প্রায় শতভাগ শুটিং বাড়ি ও ইউনিটে নেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা। এগুলো দেখভাল করার জন্য নেই তদারকি। গত ২৩ মার্চ থেকে শারীরিক দুর্বলতা ও কাশি অনুভব করছিলেন অভিনেতা শফিক খান দিলু। বাড়িতেই বিশ্রামে ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই ৩১ মার্চ 'বিবাহবিচ্ছেদ' ধারাবাহিক নাটকের শুটিংয়ের যেতে হয় তাঁকে। ইউনিটের বেশ কিছু অভিনয়শিল্পী বুঝতে পারেন, তিনি অসুস্থ। এই অভিনেতা তাঁদের জানিয়েছিলেন, ঋতু পরিবর্তনের জন্য এমনটা হয়েছে। পরে তিনি নিজেই নাটকের নির্মাতা রওনক হাসানকে অসুস্থতার কথা জানান। রওনক আলাদা একটি ঘরে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত শুটিং করতে হয় তাঁকে। পরের দিন দিলু নমুনা পরীক্ষা করে জানতে পারেন, তাঁরা সপরিবার কোভিড-১৯ পজিটিভ। এই অভিনেতা বলেন, 'আগে থেকেই শরীর খারাপ ছিল। নাটকের কিছু দৃশ্যে আমাকে দরকার ছিল। সে জন্য বাধ্য হয়েই শুটিংয়ে যেতে হয়েছিল। আমি আলাদা থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দৃশ্য ধারণে অংশ নিয়েছি। করোনায় আক্রান্ত জানার পর ঘর থেকে বের হইনি।' শামীম ভিস্তি নামের এক অভিনেতা ফেসবুকে লিখেছেন, 'অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে জানলাম, আপনি ও ভাবি দুজনে ২ এপ্রিল করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন এবং আপনাদের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আপনারা এখন হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৩ এপ্রিল শুটিংয়ে এসে আপনি বললেন যে শুধু ভাবির পজিটিভ এসেছে এবং আপনার নেগেটিভ। তাহলে সেদিন কি আপনি সঠিক তথ্যটি সবার কাছে লুকিয়েছিলেন?' এই পোস্টদাতা শামীম সেদিন অভিনয় করেন শহীদুজ্জামান সেলিমের সঙ্গে ঈদ ধারাবাহিক 'রূপকথা' নাটকে। সেদিনের শুটিং প্রসঙ্গে নাটকটির নির্মাতা তারিক মোহম্মদ বলেন, 'সেলিম ভাই (শহীদুজ্জামান সেলিম) শুটিংয়ে এসে বলেছিলেন, তোর ভাবির (রোজী সিদ্দিকী) একটু জ্বর। তাঁর করোনার কোনো লক্ষণ ছিল না। তিনি নিজে থেকেই অন্যদের দূরত্ব বজায় রাখতে বলেছিলেন। আমরা সচেতন হয়েই শুটিং করেছিলাম। পরে জানতে পারি, তাঁরা করোনায় আক্রান্ত। আমাদের পরবর্তী শুটিং বাতিল করে ইউনিটের সবাই ১০ দিন, কেউ ১৪ দিন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলাম।' গত বছর লকডাউনের পর শুটিং শুরু হলে যথাযথ নিয়ম না মানায় অনেক অভিনয়শিল্পী করোনায় আক্রান্ত হন। গত বছরের জুলাইয়ে মিজানুর রহমান আরিয়ানের সেটে করোনা হানা দিলে নির্মাতা, শিল্পীরা হোম কোয়ারেন্টিনে চলে যান। সেই সময় বেশির ভাগ কলাকুশলী তথ্য গোপন করে শুটিং করেছেন। আরিয়ানের ইউনিটের একজন প্রোডাকশন বয় শারীরিক অসুস্থতার কথা গোপন করে 'বাকের খনি' ধারাবাহিকের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ঘটনাটি জানিয়ে নাটকের নির্মাতা মাতিয়া বানু শুকু প্রথম আলোকে বলেছিলেন, সেই প্রোডাকশন বয়কে তাঁরা পারিশ্রমিক দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।শারীরিক অসুস্থতার তথ্য লুকিয়ে শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার ঘটনা এখনো ঘটছে বলে জানান অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। তিনি জানান, গত ২৯ মার্চ শুটিংয়ের জন্য মেকআপ নিচ্ছিলেন তিনি। এমন সময় সেই মেকআপম্যান জানান, তাঁর করোনা হয়েছিল। বাবু জানতে চান, কত দিন বাসায় ছিলেন? অবাক করে দিয়ে সেই মেকআপম্যান জানান, নির্মাতা কাউকে কিছু না বলে তাঁকে শুটিং করতে বলেছিলেন। বাবু প্রথম আলোকে বলেন, 'তাদের নাম বলছি না। সেই মেকআপম্যানের বয়স ২৫ বছর। তার কারণে কতগুলো মানুষের করোনা হতে পারে! ধরলাম, তার শুটিং বাতিল করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু একজন নির্মাতা জ্ঞানী, শিক্ষিত মানুষ! তিনি মূর্খের মতো কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় কীভাবে দিলেন। সবার পরিবারে বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ আছেন। তাঁদের কথা ভাবলেন না। নাট্য অঙ্গনে কিছু মানুষ শুধু টাকা আয় করার প্রতিযোগিতা করছেন। তাঁদের কোনো নৈতিকতা নেই, অন্য মানুষের প্রতি কোনো সহমর্মিতা নেই।' ঢাকা ও পুবাইলের শুটিং বাড়িগুলোতে খবর নিয়ে জানা যায়, সেসব হাউসে নেই তাপমাত্রা মাপার মেশিন। গত বছর 'খলিলের বাড়ি' শুটিং হাউসে থার্মাল স্ক্যানার রাখা হলেও এখন সেটা নেই। তবে কিছু ইউনিট ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব রাখছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আছে কেবল মাস্ক ও স্যানিটাইজার। শিল্পী, কলাকুশলীদের শারীরিক অসুস্থতাকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বেশির ভাগ জায়গায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিনয়শিল্পী বলেন, 'অসুস্থ থাকার পরও অনেকে শুটিং করছেন। সাধারণ সমস্যা বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। এতে অন্যরা ঝুঁকিতে পড়ছেন।' স্বাস্থ্যবিধি মানছে কি না, দেখভাল করার জন্য নাটকের আন্তসংগঠনের চারজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের একজন সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'আমরা স্পষ্ট বলে দিয়েছি, অসুস্থতা নিয়ে শুটিং করা যাবে না। কেউ সামান্য অসুস্থ থাকলে, সেটা ইউনিট আমাদের জানাবে। আমরা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেব। কেউ তথ্য গোপন করে শুটিং করলে আমাদের কিছু করার থাকে না। শিগগিরই আমরা প্রতিটি হাউসে তাপমাত্রা পরিমাপের মেশিন দিতে সংগঠন থেকে বাধ্য করব।'
2
চলিত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরির বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ভর্তি, টিকা গ্রহণ, পাসপোর্টসহ নানা কাজে এখন জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তবে গফরগাঁওয়ে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কাগজপত্রের নানা জটিলতায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে জন্মনিবন্ধনের সনদ পেতে।ভুক্তভোগীরা বলছেন, শুরুতে হাতে লেখা নিবন্ধনে খরচ হতো ১০০ থেকে ২০০ টাকা। কিছুদিন পর কম্পিউটারে প্রিন্ট নিবন্ধন করতে বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। এখন করতে হবে অনলাইন নিবন্ধন। তবে ২০০০ সালের পরে যাদের জন্ম এটি করতে তাঁদের মা-বাবার জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন হচ্ছে। সঙ্গে প্রয়োজন হচ্ছে নানা ধরনের কাগজপত্র। উপরন্তু এ সব সংগ্রহ করতে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। সঙ্গে জন্মনিবন্ধন সনদ পাওয়ার খরচ তো রয়েছেই।সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ডিজিটাল সেন্টারে সরকার নির্ধারিত ফি'র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সনদ নিতে হচ্ছে। এখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ছাড়া জন্মনিবন্ধন মিলছে না। দত্তেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে ৫০০-৭০০ টাকা ছাড়া মেলে না অনলাইন জন্মনিবন্ধন। একই চিত্র সালটিয়া, পাঁচবাগ, উস্থি ও টাংগাব ইউপির ডিজিটাল সেন্টারে। অথচ জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ৫০ টাকা। কিন্তু নানা অজুহাতে ৫০০-৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে হয়রানি।রসুলপুর ইউপি ডিজিটাল সেন্টার থেকে ৬০০ টাকার নিচে কেউ জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন আলালপুর গ্রামের শিক্ষার্থী মবিন শেখ। তিনি বলেন, 'টাকা দিয়েও হয়রানির শেষ নেই। দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে।'একই গ্রামের বেসরকারি চাকরিজীবী খলিল উদ্দিন সন্তানের ভর্তির জন্য কর্মস্থল কিশোরগঞ্জ থেকে ছুটি নিয়ে তিনবার এসেছেন জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য। এখনো পাননি সনদ। তিনি বলেন, জন্ম নিবন্ধন সনদ না পেলে সন্তানের ভর্তির জন্য হয়তো আবেদন করতে পারব না।তবে হয়রানি ও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন রসুলপুর ইউপির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুই ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সময় দিতে সমস্যা হচ্ছে। সনদের জন্য বেশি টাকা নেওয়া হয় না।টাংগাব ইউপির ডিজিটাল সেন্টারে এসে প্রায় পনেরো দিন ধরে ঘুরছেন সায়রা খাতুন। অনেক দিন আগে এখান থেকে জন্মনিবন্ধন করেছেন। এখন বাস করেন নরসিংদীতে। লাগবে ডিজিটাল সনদ। এটি পেতেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি।টাংগাব ইউপির চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, 'অনেক সময় সনদে নামের ভুলের কারণে দেরি হয়। তা ছাড়া নির্বাচনী ব্যস্ততায় পরিষদে গিয়ে বসতে পারছি না।'দত্তেরবাজার ইউপির সচিব সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, 'জন্মনিবন্ধন করতে সরকারি ফির বাইরে টাকা লাগে না। সেন্টারের বাইরে কাউকে টাকা দিলে সেই দায়িত্ব আমাদের না।'দত্তেরবাজার ইউপির চেয়ারম্যান মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, 'অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কেউ সনদ নিচ্ছে, এমন অভিযোগ নেই। তবে কাজের চাপ থাকায় সময় লাগছে।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, 'ইউপি ডিজিটাল সেন্টার থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অতিরিক্ত টাকা নিলে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সনদ পেতে সময় লাগার কারণ সার্ভার জটিলতা। একসঙ্গে সবাই আবেদন করায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।'
6
যখন তার বয়স ছিল ১৩, তখন শেষবার চুল কেটেছিলেন। এখন তিনি ৩০ বছর বয়সী নারী। ১৭ বছর ধরে দীর্ঘ করে তোলা চুল অবশেষে কাটলেন, দান করলেন এবং রেকর্ড গড়লেন এক পাকিস্তানি নারী। নাম তার জাহাব খান। দেড় যুগেরও বেশি পরে এসে কেটে ফেললেন তার চুল। কিন্তু গল্পের আরও কিছু বাকি আছে। শুধু তাই নয়, ওই সযত্নলালিত চুল তিনি শিশুদের কল্যাণে দান করেছেন। আর তার এই কাজই তাকে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। সবচেয়ে লম্বা চুল দান করার বিশ্ব রেকর্ড এখন জাহাবের দখলে। কিন্তু নিজের এই দীর্ঘলালিত সুন্দর চুল কাঁচির নিচে সঁপে দিতে দ্বিধা করেননি। জাহাবের মাথা থেকে ৫ ফুট ১ ইঞ্চি দীর্ঘ চুল কেটে ফেলা হয়। পরে কেটে ফেলা ওই চুল তিনি শিশুদের কল্যাণে দান করেন। বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে যেসব শিশু মাথার চুল হারিয়েছে, তাদের বিনামূল্যে চুল প্রতিস্থাপনে ব্যবহার করা হবে জাহাবের দান করা এই চুল। আর মহৎ এই কাজ করেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠে গেছে জাহাবের। বিডি-প্রতিদিন/ আব্দুল্লাহ আল সিফাত
3
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জঙ্গি 'আশ্রয়দাতা' মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনের (৪৮) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রোববার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক এসএম তাসকিনুল হক এ আদেশ দেন। আনোয়ার হোসেন গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের পান্থাপাড়ার মৃত হাকিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি গোবিন্দগঞ্জের খলসী ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শাখার প্রধান। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের কাছে জঙ্গি হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে শফিউল ইসলাম ওরফে শরিফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল ইসলামকে (২২) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই গত শুক্রবার রাতে র্যাব-১৩-এর একটি দল জঙ্গি 'আশ্রয়দাতা' হিসেবে আনোয়ারকে আটক করে। পরে শনিবার দুপুরে তাকে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জঙ্গি 'আশ্রয়দাতা' আনোয়ার হোসেনের রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, আনোয়ার হোসেনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ। পরে শুনানি শেষে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। তিনি আরও জানান, পৌর এলাকার খলসি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে জেএমবির দুর্ধর্ষ জঙ্গি শফিউল ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান নেয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে ওই বাড়িতে উত্তরাঞ্চলের শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের আসা-যাওয়া ও বৈঠক করার ব্যাপারটি নিশ্চিত হওয়া এবং শফিউলের জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে আনোয়ার হোসেনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না তা জানতেই তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, জঙ্গি শরিফুল পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যায় সরাসরি জড়িত। এ মামলায় আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে শফিউল ইসলাম হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ী তরুণ দত্ত ও একই উপজেলার মহিমাগঞ্জের জুতা ব্যবসায়ী দেবেশ চন্দ্র প্রামাণিক হত্যার সঙ্গেও জড়িত। পুলিশ কর্মকর্তারা আশা করছেন, আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে শরিফুলসহ উত্তরাঞ্চলের জঙ্গি নেতা ও ক্যাডারদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি গাইবান্ধার সাঘাটা, ফুলছড়ি গোবিন্দগঞ্জসহ রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও নীলফামারীসহ বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি প্রশিক্ষণের ব্যাপারেও রিমান্ডে নেওয়া আনোয়ারের কাছে তথ্য প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
6
ইসরাইলে জোট সরকার গঠন ঠেকাতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ক্ষমতা হারানোর আভাস পেয়ে জোট সরকার নিয়ে সতর্ক করে নেতানিয়াহু বলেছেন, প্রস্তাবিত এই জোট সরকার ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি হবে। সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে সংসদে যে দল থেকে মাত্র ৬টি আসনে বিজয়ী হয়েছে সেই দল থেকেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে ইসরাইলে। জোট সরকারের গঠন নিয়ে নানা আলোচনার পর ইসরাইলের মধ্যপন্থী দল ইয়েস আতিদের নেতা ইয়ার লাপিড জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা নাফতালি বেনেটের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করতে যাচ্ছে। সেই চুক্তি অনুসারে আগামী দুই বছরের জন্য উগ্রপন্থী নেতা বেনেট ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর মেয়াদের বাকি দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন লাপিড। এ খবর জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট। খবরে বলা হয়, ইসরাইলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে নামাতে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। রোববার এই চুক্তির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে বেনেটের দল, যাদের ছয়টি আসন ইসরাইলে জোট সরকার গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এখন জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন জোগাড়ে লাপিডের (৫৭) হাতে ছিল আর মাত্র দুই দিন। শেষ সময়ে এসে উগ্র জাতীয়তাবাদী বেনেটের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন তিনি। সম্ভাব্য এই চুক্তি অনুযায়ী ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্টে মাত্র ছয় আসন নিয়েই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বেনেট (৪৯)। বিবিসির খবরে বলা হয়, এক যুগ ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল খুব সামান্য হলেও একটি জায়গায় তারা সবাই মিলেছেন। প্রত্যেকেই নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান চাইছেন। শনিবার রাতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বেনেট ও অন্যান্য দলের নেতাদের ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দেয়। তিন দফায় প্রধানমন্ত্রিত্ব ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় তারা। কিন্তু সেই প্রস্তাবে আর সাড়া মেলেনি। গত মার্চে অনুষ্ঠিত ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে আসনের দিক দিয়ে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী দল লিকুদ পার্টির পরেই রয়েছে লাপিডের দল ইয়েস আতিদ। লাপিডকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ১১ দিনের হামলায় ওই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়। বিবিসির খবরে বলা হয়, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি আসন পেয়েছে বেনেটের দল যা প্রস্তাবিত বিরোধী জোট গঠনে নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিতে সক্ষম। ইসরায়েলের নির্বাচন পদ্ধতি অনুযায়ী, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার শর্ত থাকায় কোন একটি দলের পক্ষে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন লাভ করা সম্ভব নয়। জোট সরকার গঠনের জন্য ছোট ছোট দলগুলোকেও দরকার হয়।
3
১৪ বছর আগে বাবা সোমু মুখার্জিকে হারিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কাজল। গত ১০ এপ্রিল ছিল তাঁর বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। আজও বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা তাড়া করে তাঁকে। সম্প্রতি কাজলের এক পোস্টে তাঁর এই যন্ত্রণা ফুটে উঠেছে। কাজল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বাবার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ছবিতে কাজলের চোখে মুখে উপচে পড়ছে হাসি। এই ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, '১৪ বছর আগে তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেছ। মনে হচ্ছে যেন আজকের ঘটনা। তোমাকে মিস করি। সব সময় তোমার ছোট্টটি হয়ে থাকব।' সোমু মুখার্জি বলিউডের একজন নামকরা নির্মাতা ছিলেন। কাজলের মা বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেত্রী তনুজা। কাজল প্রায় তাঁর বাবা আর মাকে নিয়ে নানান কথা তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের এক শোতে মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, 'আমার বয়স যখন সাড়ে চার বছর, তখন আমার অভিভাবকেরা একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যান। আমার সেই সব বাচ্চাকে দেখে অবাক লাগত যারা তাদের মা-বাবার সঙ্গে থাকত। কিন্তু আমি আমার মা-বাবার থেকে আলাদাভাবে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আর ওনারা যখন একসঙ্গে থাকতেন তখনো ভালোবাসা পেয়েছি। আমার বেড়ে ওঠা খুব ভালোভাবে হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি। আধুনিক মনস্ক কিছু মানুষের মধ্যে আমার বড় হয়ে ওঠা।' বলিউডের সাবেক অভিনেত্রী তনুজার সঙ্গে বাঙালি চিত্র নির্মাতা তথা পরিচালক সোমু মুখার্জির ১৯৭৩ সালে বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দুই কন্যা সন্তান কাজল আর তনিষা। বিয়ের কিছু বছর পর তনুজা আর সোমু মুখার্জির ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
2
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।শনিবার দুপুরে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছে তিনি বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে সেনাপ্রধান বেদীর পাশে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। সেই সঙ্গে বিউগল বাজানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেনাপ্রধান সুরা ফাতেহা পাঠ করে বঙ্গবন্ধুসহ সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।পরে সেনাপ্রধান টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধিতে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন। এ সময় যশোর সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল নূরুল আনোয়ার, অ্যাডজুটেন্ট (জেনারেল) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, মিলিটারি সিকিউরিটি (এসইউ) মেজর জেনারেল খালেদ আল মামুন, সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিম, সামরিক গোয়েন্দা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ. ফ. ম. আতিকুর রহমান, ৮৮ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনোয়ার হোসেন, ১০৫ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজুর রহমান, গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইলিয়াছুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেদারুল ইসলামসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
6
'গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড' পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। আর 'পারসন অব দ্য ইয়ার' হয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। এছাড়া এশিয়া ওয়ান 'গ্লোবাল লিডার অব দ্য ইয়ার' খেতাব পেয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরাকে গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড হিসেবে বেছে নেওয়া হয় দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান, ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎকর্ষ সাধন ও মানোন্নয়নের জন্য। বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে পারসন অব দ্য ইয়ার মনোনীত করা হয় ভোক্তা ও শিল্প পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য। আর তাঁকে মনোনীত করে ইউনাইটেড রিসার্চ সার্ভিসেস অ্যান্ড এশিয়াওয়ান ম্যাগাজিন। এদিকে বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহানকে শিল্প ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান ও প্রতিনিধিত্বের জন্য মনোনীত করে এশিয়া ইউরোপ বিজনেস অ্যান্ড সোশ্যাল গ্রুপ। বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর উপদেষ্টা মো. নাজমুল হক। অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বসুন্ধরা গ্রুপের নানা কার্যক্রম। আগত অতিথিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় গ্রুপের বিশেষ দিক এবং বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে। এতে স্থান পায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, বসুন্ধরা গ্রুপের শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্য, গুণগত মান ও মানবিক কার্যক্রম। মেগা এই শীর্ষ সম্মেলনটি পারস্পরিক কল্যাণ ও সহযোগিতার জন্য এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার ব্যবসায়ী এবং সামাজিক নেতাদের একটি বিশাল সমাবেশে পরিণত হয়। কেউ কেউ আবার ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, সিঙ্গাপুর, দুবাই, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, চীন, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ওমান, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়িক ও সরকারি খাতের প্রধান ব্যবসায়ী ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে ইউরেশীয়, উপসাগরীয় এবং আফ্রিকান অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নেটওয়ার্কিং এবং বিনিয়োগের সুযোগের নতুন উপায় খুঁজে নেন। এশিয়াওয়ান মিডিয়া গ্রুপ ১৭তম এশিয়া-আমেরিকা-আফ্রিকা বিজনেস অ্যান্ড সোশ্যাল ফোরামের মধ্য দিয়ে মূলত ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অর্জন তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। একইসময়ে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে সরকারি কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত, ব্যবসার মালিক, বিনিয়োগকারী, রাজকীয় গণমান্য ব্যক্তি এবং পেশাদার, ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিইও, সিএফও, সিটিও এবং সিএইচআরওসহ বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
6
লন্ডনের পালাডিয়াম হলে ফিফা'র বর্ষসেরা ফুটবলার, বর্ষসেরা কোচ, নারী ফুটবলার এমনকি সেরা একাদশও ঘোষিত হচ্ছে। যদিও এরইমধ্যে সেরা একাদশ মনোনয়ন জেনে গেছে ফুটবলবিশ্ব। জানা যায়, স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ থেকেই ৫ জন মনোনীত হয়েছেন ফিফা'র এবারের বর্ষসেরা একাদশে, ৩ জন মনোনীত হয়েছেন বার্সেলোনা থেকে। বাকি ৩ জন জুভেন্টাস, মিলান ও পিএসজি থেকে। তালিকা অনুযায়ী, মিডফিল্ডার হিসেবে থাকছেন রিয়ালের ক্রোয়েশিয়ান তারকা লুকা মডরিচ ও একই ক্লাবের জার্মান তারকা টনি ক্রুস। তাদের সঙ্গে আছেন বার্সেলোনার স্পেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। আর বর্ষসেরা একাদশের আক্রমণভাগে আছেন অনুমিতভাবেই তিন বিশ্বসেরা। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, রিয়ালের ইউরোজয়ী পর্তুগিজ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং সম্প্রতি বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে চলে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক নেইমার (পিএসজি)। বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার
12
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, লঞ্চে ধূমপান না করতে সতর্কীকরণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উন্নত দেশে মানুষ আইন, বিধিনিষেধ সহজেই মেনে চলে। আইন ও নিয়ম-কানুন মানাতে আমাদের দেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের সে ধরনের প্লাটফর্ম নেই। আমরা সেটা তৈরি করতে পারিনি। ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে 'তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে নীতি-নির্ধারকদের কাছে প্রত্যাশা' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পূয়র 'ডরপ' ও লক্ষ্মীপুর জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। এখন খাদ্যের অভাব নেই, মঙ্গা নেই। গ্রামের বাড়িতে চা-কফি পাওয়া যায়। অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন যেকোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারে - সে সক্ষমতা হয়েছে। আগে এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরির জন্য বিদেশিদের কাছে ধরনা দিতে হতো; অর্থমন্ত্রীরা বিদেশি সাহায্যের জন্য বছরের বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকতেন- এখন সে অবস্থা নেই। অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা পারমাণবিক ক্লাবে যুক্ত হয়েছি। আগে ১০ হাজার টনের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়াতে হিমশিম লাগত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশে দু'টি পক্ষ আছে। একটি অগ্রগতির পক্ষে; অন্যটি টেনে ধরার পক্ষে। আমাদের পজিটিভ নিউজ নিয়ে আসতে হবে। 'ডরপ' এর চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হেলাল উদ্দিন, ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি জাকির হোসেন লিটন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী হোসেন আলী খন্দকার, সাংবাদিক আহমেদ ফয়েজ, টাঙ্গাইলের বিড়ি শ্রমিক নেতা জীবন সাহা, ভোলার নাগরিক কমিটির সদস্য মো. হারুন অর রশীদ, ঢাকার যুব প্রতিনিধি তাবাসসুম খানম রাত্রি, ডরপ এর পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেন। যমুনা ট্টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
6
বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য কাজ করে এসেছে। আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যারা এদেশের মানুষের ভাষার অধিকার ও স্বাধীনতা দিয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশের মানুষকে কিছু দিতে পেরেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। সেই স্বপ্নের পথেই দেশ এগিয়ে চলেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ত্যাগের আদর্শে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, জাতির পিতা তার 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে বলেছেন, 'নীতিবিহীন নেতা নিয়ে অগ্রসর হলে সাময়িকভাবে কিছু ফল পাওয়া যায়। কিন্তু সংগ্রামের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।' এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। যিনি ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে পারেন, তিনি সফল হতে পারেন। দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারেন। শুক্রবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশের সবচাইতে প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ২১তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বিকেলে দলের দু'দিনের এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ভাষণে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের সব গণতান্ত্রিক ও মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে দলটির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়ে। আওয়ামী লীগ জন্ম থেকেই মানুষের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছে। এই দলটি ক্ষমতায় থেকে গড়ে ওঠা দল নয়। বরং মাটি ও মানুষের ভেতর থেকে মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত দল। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে গত ৭০ বছরে নানা প্রচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ দলের ওপর আঘাত এসেছে বারবার। এই দলকে শেষ করার চেষ্টাও হয়েছে বারবার। জাতির পিতাকেও কতবার হয়রানি করা হয়েছে, মিথ্যা মামলা হয়েছে, ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তারপরও তিনি সততার সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিলেন বলেই বাঙালি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যখনই আঘাত এসেছে, সবার আগে এসেছে আওয়ামী লীগের ওপর। ইয়াহিয়া, আইয়ুব খান, জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া- যে যখন ক্ষমতায় এসেছেন, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস করতে বারবার আঘাত হেনেছেন, নানা ষড়যন্ত্র করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের সাময়িক কিছু ক্ষতি করতে পারলেও জাতির পিতার হাতে গড়া এই সংগঠনকে কেউ ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। বরং সব আঘাত ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আওয়ামী লীগ এখন দেশের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী সংগঠন। এবারের সম্মেলনের স্লোগান হচ্ছে 'শেখ হাসিনার নেতৃত্বে/বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ/এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ।' সম্মেলনকে ঘিরে সারাদেশ থেকে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে নয়নাভিরাম সম্মেলনস্থলে এসে পৌঁছলে অভূতপূর্ব জাগরণ দেখা যায় গোটা প্যান্ডেলে। বিপুল করতালি এবং 'জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান সমবেত কাউন্সিলর, ডেলিগেটসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। পরে মঞ্চের ডান পাশে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এ সময় ৫০ জন শিল্পী সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন জাতীয় সংগীত। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও। এরপর শান্তির প্রতীক কবুতর এবং রং-বেরঙের বেলুন ওড়ান শেখ হাসিনা। তাকে অনুসরণ করে কবুতর ও বেলুন ওড়ান সাংগঠনিক জেলার প্রধান নেতারা। পরে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। পদ্মার বুকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে তৈরি মঞ্চ থেকে হাসিমুখে হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা। এরপর দলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের উপস্থাপনায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। এতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পাশাপাশি দেশবরেণ্য শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়েছে, 'সাড়ে সাত কোটি মানুষের আরেকটি নাম মুজিবর, মুজিবর', 'বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার খ্রিষ্টান, বাংলার মুসলমান- আমরা সবাই বাঙালি' এবং 'জয় বাংলা বাংলার জয়, হবে হবে হবে নিশ্চয়' শীর্ষক সংগীত। পরে 'তোমারই হোক জয়' শীর্ষক ২৮ মিনিটের গীতিনৃত্যালেখ্যের মাধ্যমে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম, ইতিহাস-ঐতিহ্য, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, বঙ্গবন্ধু সরকারের দেশগড়ার সংগ্রাম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য তুলে ধরা হয়। লিয়াকত আলী লাকীর গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নীপা ছাড়াও প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পীরা অংশ নেন। পরে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট-বরেণ্য ব্যক্তিসহ দলের নেতাকর্মীদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। এ সময় তাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিমের স্বাগত বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপন করেন ওবায়দুল কাদের। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলনমঞ্চ থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন হবে। এই অধিবেশনেই আগামী তিন বছরের জন্য দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। বিকেল ৩টায় সম্মেলন উদ্বোধনের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাউন্সিলর, ডেলিগেট, আমন্ত্রিত অতিথিসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সম্মেলনস্থলে আসতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্মেলনস্থল জনারণ্যে রূপ নেয়। গোটা সম্মেলনস্থল ছিল জাঁকজমকপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ। নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিকভাবে বিভিন্ন রকম স্লোগানে মুখর ছিলেন। উদ্বোধনী ভাষণে সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে সরকারের উন্নয়ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত এক দশক ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এই এক দশকেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ ভাগে নেমেছে। জাতির পিতা স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এটাকে ধরে রাখতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য সামনে আরও এগিয়ে যাওয়া। যে ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, সেই সফল হয়। এ কাজটা আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি করেছে। এজন্যই জনগণ কিছু পেয়েছে। সারাদেশে দলকে সুসংগঠিত করে তোলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সম্মেলনের পর যেসব জেলার সম্মেলন বাকি আছে সেগুলোও শেষ করা হবে। জেলা, উপজেলা, থানা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সর্বস্তরে সম্মেলন করা হবে। কাউন্সিলের মধ্য দিয়েই সংগঠন চাঙ্গা হয়, সংগঠন শক্তিশালী হয়। সেভাবেই দলকে গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী তার আধা ঘণ্টার ভাষণের শুরুতে সম্মেলনে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ সমবেত কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও অতিথিদের অভিনন্দন এবং বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদ, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশসহ দলের প্রয়াত নেতাদের স্মরণ করেন। ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পঁচাত্তরে বাবা-মা সবাইকে হারিয়েছি। আমরা দু'বোন শুধু বেঁচে ছিলাম। ছয়টি বছর দেশে ফিরতে পারিনি। এরপর দেশে ফিরেছি নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে। কিন্তু দেশে ফিরে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এ প্রসঙ্গে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনীতি তার কাছে নতুন কিছু নয়। স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন তিনি। স্কুলের দেয়াল টপকে মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। কলেজ জীবনেও ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। কলেজ সংসদের ভিপিও ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। কখনও চিন্তাই করেননি এত বড় একটি দলের নেতৃত্ব দিতে হবে, এত বড় একটি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তিনি। তবে দায়িত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেছেন। সারাদেশে ঘুরে ঘুরে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করে তুলেছেন তিনি। আজকে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের জন্য কিছুই করতে পারেনি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে গড়ে ওঠা বিএনপিও জনগণের জন্য কিছু করতে পারেনি। বরং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, হত্যা-খুন সবই করেছে। তাদের আমলে এই দেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, গ্রেনেড-বোমা হামলা, দুই সংসদ সদস্যকে হত্যা, আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন কিছুই বাদ রাখেনি তারা। তিনি বলেন, যারা একাত্তরে গণহত্যা করেছে, যারা যুদ্ধাপরাধী- তাদের নিয়ে জোট করে বিএনপি সন্ত্রাস করেছে। তারা ক্ষমতায় থাকতে সন্ত্রাস করে, বিরোধী দলে থাকলেও সন্ত্রাস করে। তাদের এই সন্ত্রাস ছিল অগ্নিসন্ত্রাস। পাঁচ শতাধিক মানুষকে তারা আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, আহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। অনেক মানুষের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। তারা নিজেরা নির্বাচনে আসবে না। আর আসবে কীভাবে? ২০০৮ সালের নির্বাচনে তারা মাত্র ২৯টি সিট পেয়েছিল। এ কথা বিএনপি ভুলে যায়। কিন্তু ওই নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারেনি। বর্ণাঢ্য আয়োজনের এই সম্মেলনে ১০২ ফুট লম্বা এবং ৪০ ফুট চওড়া মূল মঞ্চটি নির্মাণ করা হয় পদ্মার বুকে পাল তোলা নৌকার আদলে। মঞ্চের পেছনে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি ছাড়াও প্রদর্শিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় চার নেতা, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সভাপতি মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের ছবি। সম্মেলন প্রাঙ্গণেও ছিল অসংখ্য ছোট-বড় নৌকা, নেতাদের প্রতিকৃতি এবং দলের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রদর্শন। মঞ্চ ও আশপাশের ২৮টি এলইডি পর্দায় সম্মেলন প্রদর্শিত হয়। সম্মেলন উপলক্ষে খোলা ওয়েবসাইটে পুরো কার্যক্রম সরাসরি প্রচার করা হয়েছে। বিশালাকার সম্মেলন মঞ্চে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আরও ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা এবং সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা। সামনের বিশাল প্যান্ডেলে ছিলেন কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসহ সম্মানিত অতিথিরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ১৪ দলীয় জোট নেতা, বুদ্ধিজীবী, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও পেশাজীবীসহ বরেণ্য ব্যক্তিরা সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তারা ছিলেন বেশ হাস্যোজ্জ্বল। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াসহ মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যরাও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশিদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, গণফোরামের সাবেক নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ প্রমুখ। আমন্ত্রণ সত্ত্বেও বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেননি। সম্মেলন প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। কঠোর তল্লাশির পর সবাই সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করেন। সম্মেলনস্থলের ভেতরে-বাইরে দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি এসএসএফ, পিজিআর, র্যাব, পুলিশসহ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তাসহ শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সঙ্গে ছিল বেশ কয়েকটি মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সিসি টিভি ক্যামেরা বসানো হয়।
9
বরিশালের উজিরপুর থানায় রিমান্ডে নিয়ে এক নারী আসামিকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ওই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং পরিদর্শক (তদন্ত) কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে বিভাগীয় মামলা। অপরদিকে এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে প্রত্যাহার হওয়া দুই কর্মকর্তাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। নারীর দায়ের করা মামলার অপর ৩ আসামি শনাক্ত করতে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান। ওই নারীর আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, থানায় রিমান্ডে নিয়ে তার মোয়াক্কেলকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন করেছে পুলিশ। আবার আদালতের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তও করছে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে পুলিশের অপরাধ প্রমানিত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান তিনি। এ কারণে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী জানান আইনজীবী মজিবর রহমান। গত ২৬ জুন বরিশালের উজিরপুরের জামবাড়ি এলাকায় এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মৃতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় ওই নারীকে আসামি করা হয়। ওই দিনই ওই নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ব্যক্তির মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে গ্রেফতার ওই নারীকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে গত ৩০ জুন ও পহেলা জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ করে উজিরপুর থানা পুলিশ। রিমান্ড শেষে ২ জুলাই তাকে বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উজিরপুর আমলী আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে এ সময় ওই নারী তাকে যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালত ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন শের-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালককে। একই সাথে আদালত নির্যাতিতাকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুযোগ দেয়ার জন্য বরিশালের পুলিশ সুপার এবং রেঞ্জ ডিআইজি'কে নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় কারান্তরীন অবস্থায় সোমবার দুই পুলিশ কর্মকর্তা সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ওই নারী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয় উজিরপুর থানার ওসি এবং পুলিশ পরিদর্শককে (তদন্ত)। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
আটাশে আগস্ট ছিল কবি শহীদ কাদরীর চলে যাওয়ার দিন। মনটা বিষণ্ন ছিল খুব। এর মধ্যে ফেসবুকে ভেসে এল জ্যেষ্ঠ রম্যলেখক আতাউর রহমানের মৃত্যুসংবাদ; 'দুই দুগুণে পাঁচ' নামে তাঁর রম্য-কলামের সূত্রে পাঠক নিশ্চয়ই তাঁকে জানেন। এর একটু পর এল শেখ আবদুল হাকিমের প্রয়াণ-সংবাদ। পল্টনে এক দ্বিপ্রাহরিক আড্ডা বিষাদিত হয়ে গেল মুহূর্তেই; আমরা ক'জন শেখ আবদুল হাকিমের সূত্রেই বলাবলি করছিলাম হাকিম-সখা বুলবুল চৌধুরীর কথা। কালরোগ কর্কট তাঁকে বিধ্বস্ত করে রেখেছে বেশ কিছুদিন। ভাবছিলাম, বুলবুল চৌধুরী কীভাবে গ্রহণ করবেন তাঁর 'ভাই' হাকিমের হুটহাট মিসিং রিপোর্ট! ভাবনার পিঠে অন্য ভাবনা আসতে দেরি হতে পারল না; চলে এল বুলবুল চৌধুরীর শেষ শ্বাসের সংবাদ। দুই আড্ডাতো ভাই হাকিম ও বুলবুল তবে একত্রে যাত্রা করলেন অনন্তের রেলগাড়িতে!দুজনের পরিচিতিটা পড়ে দেখছি-বছর দুয়ের ছোটবড়; শেখ আবদুল হাকিমের ৭৫ আর বুলবুল চৌধুরীর ৭৩ কিন্তু আমাদের সাহিত্যে তাঁরা উভয়েই নট আউট। মানুষী আয়ুসীমার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সাহিত্যে তাঁরা যেন অনন্ত আয়ুশীল।শেখ আবদুল হাকিম কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক। মূলত কালের কথক। নামে-বেনামে কত বিচিত্র লেখা লিখে যে আমাদের সাহিত্যের সীমানা তিনি বাড়িয়েছেন-তার ইয়ত্তা নেই কোনো! আজ বাংলাদেশের সাহিত্য নিজের শক্তি ও স্বাতন্ত্র্যে যে পলিময়তা লাভ করেছে, তার পেছনে শেখ আবদুল হাকিমদের অবদান তো কম নয়। অথচ সাহিত্য-গবেষণায় তাঁর মতো লেখক খুব একটা আলোচনা পেয়েছেন কী? এর কারণ বোধ করি আমাদের সাহিত্যচিন্তার স্থূল একগামিতা। হাকিম সাহেব এ নিয়ে যে সচেতন ছিলেন না, তা তো নয়। কিন্তু আমার মনে হয় তাঁর মূল পরিতৃপ্তি ছিল পাঠকের উদার দরবার। তাই হয়তো শেষজীবনে নিজের সুপ্রচুর লেখার স্বত্ব প্রতিষ্ঠায় প্রয়াসী হয়েছেন। এ নিয়ে কপিরাইট অফিসে লড়াই করেছেন এবং জিতেছেনও। তাঁর এ জয়ের ব্যক্তিগত লাভক্ষতির আলোচনায় না গিয়েও বলা যায়, শেখ আবদুল হাকিমের কপিরাইট-কেন্দ্রিক লড়াই আমাদের মতো লেখক অধিকার-হীন সমাজে-দেশে একটি মাইলফলক। লেখকের পাশাপাশি একজন লড়াকু মানুষ হিসেবেও তিনি আমাদের অভিবাদন প্রাপ্য। শেখ আবদুল হাকিমের বিপুল লেখাপত্র নিয়ে গবেষণা হওয়া যেমন প্রয়োজন তেমনি তাঁর নামে-বেনামে প্রকাশিত রচনার সংকলনও প্রকাশিত হতে পারে। তাহলে অনুধাবন করা যাবে কী বিচিত্র সৃষ্টিতে সারা জীবন মগ্ন ছিলেন তিনি। আমি শুধু তার বৈচিত্র্য-পিপাসার উদাহরণ হিসেবে বলব, পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক আবদুল কাদির খানকে নিয়ে লেখা ডগলাস ফ্র্যাঞ্জ এবং ক্যাথরিন কলিন্সের বই 'দ্য ম্যান ফ্রম পাকিস্তান' বইয়ের অনুবাদও করেছেন শেখ আবদুল হাকিম। থ্রিলার-অন্বেষায় তিনি যে কত দূর-দূরান্তের জ্ঞান-দ্বীপদেশে যাত্রা করতেন-এটা এমন একটা উদাহরণ মাত্র।বুলবুল চৌধুরী আর শেখ আবদুল হাকিমের জগৎ এক নয়। বুলবুলের সাহিত্যে চাঞ্চল্য, উত্তেজনা, ঘটনার ঘনঘটা ইত্যাদি সুবিরল। পল্লি আর প্রকৃতির ঘ্রাণ-মুগ্ধ তিনি। এটা ঠিক 'টুকা কাহিনি' গল্পের ভারী সাফল্যের তলায় হালকা-পলকা মানুষটি চাপা পড়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি 'টুকা'-তেই থেমে থাকেননি। গল্পে তো অসামান্য কিছু কাজ করেছেন; 'মাছ'-এর মতো আরও বেশ কিছু গল্পের স্রষ্টা তিনি, যেসব পাঠ করলে মানুষ আর তার যাপিত জীবনের যাবতীয় শ্রমঘাম, জয়-পরাজয়ের গন্ধ পাঠকের নাকে এসে লাগে। উপন্যাসে তিনি উচ্চাভিলাষী; ভাওয়াল রাজার পুরোনো আখ্যান পুনর্নির্মাণ যেমন করতে জানেন, তেমনি বাংলাদেশের গ্রামগহীনের টুটাফাটা মানুষ, ঘাটের সরদার, পতিতালয়ের পঙ্কে আটকে পড়া হতভাগিনী মেয়ে-সবার অন্তর-উপাখ্যান যেন দারুণ দরদে আঁকতেন তিনি। তাঁর গল্প-উপন্যাস পড়তে পড়তে মনে হয় সত্যি 'এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে', ওই তো আগুনে হেঁটে যাচ্ছে 'জলবউ', ওই তো ঘন হচ্ছে 'মাছের রাত'।বুলবুল চৌধুরী সারা দেশ ঘুরে বেড়াতেন। এক পঙ্খিরাজ বসত করত তাঁর ভেতরে; তিনি সে ঘোড়ায় চড়ে দেখতেন সবার দৃষ্টি প্রদীপের বাইরে থাকা মানুষটার মুখ। সম্ভবত, এ দেখা-শোনারই ফল তাঁর নন-ফিকশন বই 'মানুষের আঁকিবুঁকি'। শিশুকিশোরদের জন্য লিখেছেন রূপকথা ও লোককথার গল্প মিলিয়ে-মিশিয়ে নতুন ধরনের গল্পগাছা। সম্পাদনা করেছেন নটী বিনোদিনীর রচনাসমগ্র। জীবনে স্থির কোনো পেশা ছিল না। সংবাদপত্রে কাজ করেছেন, প্রেস ব্যবসা করেছেন, আর সাহিত্যে নিমগ্ন থেকেছেন রাতদিন। শেষদিকে তাঁর অকালপ্রয়াত আত্মহনক বন্ধু কথাকার কায়েস আহমদকে নিয়ে একটি বই লেখার কথা ভেবেছেন। কিন্তু তা আর সম্পন্ন হলো না। যেমন শেষ হলো না তাঁর ঘোষণা দেওয়া আত্মকথা 'আপননামা'। অবশ্য বুলবুল চৌধুরীর মতো লেখকদের সব লেখাই তো আপননামা। কারণ, জীবন ও সাহিত্যে তাঁরা কোনো ফারাকের সাধনা করেন না।শেখ আবদুল হাকিম ও বুলবুল চৌধুরীর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সাহিত্যজগতে এক যুগ্ম-যুগাবসন ঘটল। এই ঢাকা শহরে গত শতকের ষাটের দশকের বেশুমার আড্ডার স্মৃতিবাহক ছিলেন তাঁরা। রেক্স, ক্যাপিটাল কিংবা বিউটি বোর্ডিংয়ের উন্মাতাল সাহিত্যিক আড্ডার অংশ ছিলেন তাঁরা। পুরোনো আড্ডাধারীদের ক্রম-প্রয়াণে ব্যথিত এই দুজন তবু নিজ গৃহকে একমাত্র গন্তব্য মানেননি। আড্ডার আভায় স্নাত করে রেখেছেন বাংলাবাজার, পুরানা পল্টন, শাহবাগ। তাঁদের প্রয়াণে তাই আমাদের সাহিত্যিক ক্ষতির সমান্তরালে ঢাকার আড্ডা-সংস্কৃতিতেও চলে এল অপরিমেয় শূন্যতা।শেখ আবদুল হাকিমের শেষ শয্যা হলো নন্দীপাড়ায়, বুলবুল চৌধুরীর মিরপুরে। ঢাকার এ মাথা থেকে ও মাথা কিন্তু সমাধি-দূরত্ব চুরমার করে এই দুই অভিন্ন আত্মা তাঁদের স্মৃতি ও সৃষ্টির সুবাসে আমাদের জাগিয়ে রাখবেন নিরবধি। বুলবুল চৌধুরীর বইয়ের শিরোনাম ধার করে বলি, শেখ আবদুল হাকিম আর বুলবুল চৌধুরী তো এই মরচে-পড়া সময়ে আমাদের 'অপরূপ বিল ঝিল নদী'।
8
নেত্রকোনায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাতে ৪৪ কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে আটক করেছে মডেল থানার পুলিশ। আটক ওই যুবক হলেন ঢাকার গাজীপুর জেলায় জয়দেব ভুরুলিয়া গ্রামের কুরবান আলী (২৬)। তিনি ওই এলাকার মৃত নবাব মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের খবরে পারলা বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ঢাকাগামী একটি গেইটলক বাসে যাত্রী বেশে থাকা ওই যুবককে সন্দেহ হয়। পরে তাৎক্ষণিক তাকে চেক করে তার পিঠের ব্যাগ থেকে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার হলে পুরো বাস তল্লাশি চালিয়ে ৭টি লাগেজ ও ব্যগে ২ কেজি করে মোট ২২ টি প্যকেটে ৪৪ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। গাঁজা বহনকারী আটক ওই যুবকের সাথে আরও চার থেকে পাঁচ যুবক থাকলেও পুলিশের তল্লাশি দেখে তারা আগেই পালিয়ে যায়। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিনব কায়দায় এই মাদক পাচারকারীরা যাত্রী সেজে গাঁজা বহন করছিল। আটক এই পাচারকারীর সাথে সাধন (২৮), আসাদুল (২৩), তমিজ (২৬) ও আব্দুল্লাহ (২৫) নামের যুবকরাও ছিলো। তারা সবাই এই মাদক ব্যবসায় জড়িত। নিয়মিত আইনে মামলা দিয়ে সাথে থাকা অন্যদেরকেও আটক করা হবে। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ
6
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশে তামাতের কারণে ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অকালে মারা যান। আমরা কোভিডের জন্য কত কিছু করলাম, বাংলাদেশ বিশ্বের ৫-৬টি দেশের মধ্যে থেকে এটা প্রতিরোধ করলো। এই কোভিডে এদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ হাজারের নিচে রাখতে সমর্থ হয়েছি আমরা। অথচ তামাকের কারণে বছরে ১ লাখ ৬০ হাজার লোক মারা যাচ্ছে। আমাদের এইট ফাইভ ইয়ার প্লানে তামাকের নিয়ন্ত্রণের কথা বলছি। এটা অর্থ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানবেন। মঙ্গলবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের কবাজেট প্রস্তবণার ওপর বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তামাকের কারণে ক্ষতি হচ্ছে বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা, আর তামাকের ট্যাক্স পাচ্ছি ২২ হাজার কোটি টাকা। এখানে জীবনের মূল্যের বিষয়টি ধরছে না কেউ। ২০১৭ থেকে এ বছর পর্যন্ত একই রকম হয়ে আসছে। বাজেটে আমরা সিগারেটের মূল্য ১ টাকা বাড়িয়ে তার ওপর কর বাড়াই। তা হবে কেন, আমরা সুনিদ্দিষ্ট কর বাড়াতে চাই। এখানে সংসদে নিশ্চয় আসেনি তামাক কোম্পানীর মুনাফা বাড়ানোর জন্য নয়। তাহলে বিগত বছরে আমরা তিন হাজার কোটি আমি তামাক কোম্পানীকে দিয়ে দিলাম। আমি দাম বাড়াচ্ছি। তাদের তো উৎপাদন খরচ বাড়ছে না। তাদের বিনিয়োগ খরচও বাড়ছে না। এ ৩ হাজার কোটি টাকা তো সরকারের কাছে আসতো। আমরা তাহলে কি করলাম। আমাদের যে পলিসি টা আছে সেটা হচ্ছে সেশন পলিসি। এটাতে আমরা ডিফার করতে পারি না।
6
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র হচ্ছে। ভাঙনে ইতিমধ্যে শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর নদে চলে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরও ৫ শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর। ভাঙনে বাড়িঘর হারানো শতাধিক পরিবার দিশেহারা হয়ে পরেছেন।জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ শতাধিক পরিবার। বাড়িঘর হারানো পরিবারের সদস্যরা রাস্তার পাশের অন্যের জমিতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।চরশৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান দুলাল বলেন, 'ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে চরশৌলমারী ইউনিয়নের ঘুঘুমারী, খেদাইমারী, সুখেরবাতি, খাউরিয়া, বন্দবেড় ইউনিয়নের গোয়ালেরচর, ফলুয়ারচর, উত্তর ফলুয়ারচর, পালেরচর, কুটিরচর, চরবাঘমারা, রৌমারী ইউনিয়নের কান্তাপাড়া, কাশিয়ারচর, চাক্তাবাড়ি, যাদুরচর ইউনিয়নের দুবলাবাড়ি, ধনারচর পশ্চিমপাড়া ও কাঠিয়ামারী গ্রাম।যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, 'আমার ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলার কর্তিমারী বাজার রক্ষা বাঁধ ও ধনারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আমি উপজেলা সমন্বয় সভায় এ বিষয়টি তুলে ধরার পরেও এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।'বন্দবেড় ইউনিয়নের ফলুয়ারচর গ্রামের আসরাফ আলী বলেন, 'আমাদের বসতভিটা নদীতে ভেঙে গেছে। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে অন্যের জমিতে কোনো মত ঠাঁই নিয়ে বেঁচে আছি।'একই ইউনিয়নের পালেরচর গ্রামের ছোরমান মাঝি বলেন, 'জমি জমা ঘড়বাড়ি আমার সব নদীতে ভেঙে গেছে। রাস্তার পাশে ছাপড়া দিয়ে পোলাপান নিয়ে কোনো মতে জীবন যাপন করছি। কত দিনে আমার বসত ভিটা জেগে উঠবে আল্লাই জানে। সরকার যদি একটু খাস জমি দিতো সেখানে বউপোলাপান নিয়ে থাকতে পারতাম।'উত্তর ফলুয়ারচর গ্রামের মকুল, শানু, সভা দাশ, মঞ্জু, কুতুব আলী, জহেরা, তুলসী, হনুফা, জামাল শেখ, ছামছুল, তারাফুল, ছমেদ বলেন, 'দিনের পর দিন নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হলেও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে প্রতিবছরে নদী ভাঙনে আমাদেরকে আতঙ্কে থাকতে হয়।'বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের বলেন, 'বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে। পানি বৃদ্ধির শুরুতে ফলুয়ারচরে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। সেগুলোও এখন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পরবে নদী পারের মানুষদের'কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'
6
মনে আছে প্রিয়া প্রকাশ ওয়ারিয়রের কথা? যার চোখের ইশারায় কাত হয় লাখো তরুণ। সেই প্রিয়া এবার পড়েছেন মহা ঝামেলায়।প্রয়াত বলিউড অভিনেত্রী শ্রীদেবীর জীবনিভিক্তিক সিনেমা 'শ্রীদেবী বাংলো'র ট্রেলার সম্প্রতি প্রকাশিত হয়। ছবিটির পরিচালক প্রশান্ত মাম্বুলি। এ ছবিতেই বলিউডে অভিষেক ঘটে দক্ষিণী অভিনেত্রী প্রিয়ার। কিন্তু অভিষেকেই বিপাকে প্রিয়া! টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, এই সিনেমায় তার বিপরীতে রয়েছেন অভিনেতা প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায়। 'শ্রীদেবী বাংলো'র ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ট্রেলারে তুলে ধরা হয়েছে প্রয়াত শ্রীদেবীর জীবন কথা। একজন সফল অভিনেত্রী হয়েও তিনি কীভাবে নি:সঙ্গ জীবন কাটান এবং শেষ পর্যন্ত হতাশায় ডুবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, তাই দেখানো হয়েছে ছবিতে। বলিউডের প্রথম নারী সুপারস্টার শ্রীদেবী দুবাইতে গিয়ে কিভাবে বাথটাবে মারা যান তাও দেখানো হয় ছবিতে। এনিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ট্রেলার দেখে অনেকে মন্তব্য করেন, শ্রীদেবী জীবন ছবিতে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। এনিয়ে শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুর নির্মাতাকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রিয়াকে নিয়েও শুরু হয়েছে সমালোচনা। শেষ পর্যন্ত প্রিয়া পরিস্থিতি কীভাবে সামলান সেটাই এখন দেখার।
2
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যেতে থাকা রেগিস চাকাবাকে ফিরিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। এটি আজকের ম্যাচে তাসকিনের প্রথম শিকার। চাকাবা আউট হয়েছেন ৮৪ রান করে। তার এ সংগ্রহ ৯১ বলে। এর মাঝে আছে ৭টি চার ও একটি ছয়ের মার। হারারের এ ম্যাচে এর আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি নিয়েছেন ব্রেন্ডন টেইলর (২৮) ও ডিয়ন মায়ের্সের (৩৪) উইকেট দুটি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৩৬ ওভারে ১৭৬। বাংলাদেশের হয়ে বাকি দুটি উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসান। সিরিজের আগের দুটি ম্যাচে জয় নিয়ে ইতোমধ্যেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছেন টাইগাররা।
12
এত কাছে, তবু কত দূরে-মাথায় হাত দিয়ে বাংলাদেশ দলের স্টাফ মহসীনের হাহুতাশের দৃশ্যটি যেন সে কথায় বলছে!মাঝমাঠের সৈনিক রাকিব হোসেনের কান্না তো থামানো যাচ্ছিল না কিছুতেই। এক অফিশিয়াল ও দলের ফিজিওর কাঁধে ভর দিয়ে তাঁকে নেওয়া হয়েছে মাঠের বাইরে।'দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ' খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ১৬ বছর পর ফাইনালে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের। স্বপ্নটা প্রায় বাস্তবায়ন করেই ফেলেছিলেন জামাল ভূঁইয়া-তপু বর্মণরা। কিন্তু রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সব স্বপ্নের সমাধি। ১-১ গোলে ড্র হলো ম্যাচ। আবার কান্নাভেজা বিদায় সঙ্গী হলো লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের।মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ বিকেলে নেপালের বিপক্ষে 'অঘোষিত সেমিফাইনালে' নেমেছিল বাংলাদেশ। শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে পা রাখতে হলে জয়ই ছিল একমাত্র সমীকরণ।ম্যাচের নবম মিনিটেই অধিনায়ক জামালের ফ্রি কিকে দুর্দান্ত হেডে বাংলাদেশকে এগিয়েও দিয়েছিলেন সুমন রেজা। দেশের জার্সিতে প্রথম গোল করে ফরোয়ার্ডদের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবটাও দিয়ে দেন ২৬ বছর বয়সী স্ট্রাইকার।লিডটা ধরে রেখে ফাইনালের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৭৯ মিনিটে গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। অগত্যা জিকোর জায়গায় নামতে হয় দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে। তাঁকে নামাতে বাধ্য হয়ে উঠে যেতে হয় মিডফিল্ডার বিপলু আহমেদকে।দশ জনের বাংলাদেশ তবু শেষ ১৫ মিনিট অনায়াসেই কাটিয়ে দিতে পারত। কিন্তু এদিন 'খলনায়কের' ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন উজবেক রেফারি রিসকুলায়েভ আখরোল।বাংলাদেশের বক্সে ভেসে আসা ক্রসে হেড করতে চেয়েছিলেন নেপালের অঞ্জন বিস্টা। তাঁর দুই পাশে ছিলেন সাদ উদ্দিন ও বিশ্বনাথ ঘোষ। দুজন বিস্টাকে সামান্য ট্যাকল বা চ্যালেঞ্জ জানানোরও চেষ্টা করেননি। বরং বিস্টাই নিজের ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান বক্সে। সেটিকেই ফাউল ধরে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে জাল কাঁপিয়ে বাংলাদেশের হৃদয় ভাঙেন বিস্টাই।শেষ বাঁশি বাজতেই মেজাজ হারান বাংলাদেশের ফুটবলাররা। তেড়ে যান রেফারি আখরোলের দিকে। মাঠে পুলিশ এসে শান্ত করেন জামাল-তপুদের। ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়েই গেছে। আরও একবার কান্নাভেজা চোখে, আক্ষেপ নিয়ে শেষ হয় বাংলাদেশের সাফ অভিযান।
12
সিলেটে সিটি করপোরেশনের বর্ধিত পানির বিল, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য বিল কমানোর দাবিতে ১ নম্বর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর পূর্ব সুবিদবাজারে মিয়া ফাজিলচিস্ত এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করা হয়।ডা. আরিফ আহমদ রিফার সভাপতিত্বে ও এজহারুল হক চৌধুরী মন্টুর পরিচালনা মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাহবুব চৌধুরী, লল্লিত আহমদ চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন মানিক এম মখলিছ খান, মুসাদ্দিকুন নবী, মানিক মিয়া, জামাল উদ্দিন, মো. আজমল আলী, সলমান আহমদ চৌধুরী, আব্দুল বারী, মুকিত খান, রকিব মিয়া, মাওলানা জাকারিয়া আহমদ, কালা মিয়া, আতাব, ময়নুল ইসলাম, আব্দুল করিম, আনোয়ারুল ইসলাম। এছাড়াও এলাকায় মুরব্বি, যুবক ও মহিলা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।মানববন্ধন উপস্থিত বক্তারা বলেন, সিলেটে সিটি করপোরেশনের বর্ধিত পানির বিল, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য বিল প্রত্যাহার করতে হবে। পানির বিল বাড়ানোর বিষয়টি সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে সহ সব মহলে নাড়া দিয়েছে। হঠাৎ পানির বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও অমানবিক।
6
তীর-ধনুক হাতে ক্রীড়াঅঙ্গনে দেশকে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছেন রোমান সানা। তাই ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক সাফল্য পাওয়ার পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশ আনসার রোমান সানাকে ল্যান্সনায়েক পদ দিয়ে সম্মানিত করেছেন। ৬ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছি তিনি। আজ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে খিলগাঁও বাংলাদেশ আনসারের হেড কোয়ার্টারে রোমান সানাকে ল্যান্সনায়কের ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয়। তীর-ধনুক হাতে আরচারিতে খুলনার ছেলে রোমান সানার অভিষেক হয় ২০১০ সালে। ওই বছরই তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমসে দুটি স্বর্ণ জিতে প্রথম লাইমটাইটে আসেন। এরপর আর পেছনে তাকাননি খুলনার এই তীরন্দাজ। সর্বশেষ গত বছর জুনে ওয়ার্ল্ড আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পেয়ে অলিম্পিক গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দেশের জন্য বয়ে আনেন দারুণ সম্মান। কয়েকদিন আগে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
12
১৯ দিন হল ঘরে নেই শাহরুখ খানের বড় ছেলে আরিয়ান খান। আর্থার রোড জেলে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। বার বার খারিজ হয়ে যাচ্ছে তার জামিন। তবে ছেলে বাড়ি ফিরলে কী করবেন শাহরুখ খান ও গৌরি খান, তা জানিয়ে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, কিং খান এবং গৌরী খান আরিয়ানকে বাড়িতে আটকে রাখবে জামিনের পর। দুই মাস তাকে কোনও পার্টিতে যেতে দেবেন না। কারণ জামিন পেয়েই বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হবেন আরিয়ান। একথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন শাহরুখ-গৌরীর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত
2
আইফোন ১৩ আনছে দেশের অন্যতম বড় রিটেইলার ও অ্যাপল পণ্যের অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটর গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার। ২৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ১৩-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছে। ২২ অক্টোবর থেকে প্রি-বুকিং নেওয়া শুরু করেছে তারা। প্রি-বুকিং দেওয়া গ্রাহকেরা পণ্য পাবেন ২৯ অক্টোবর থেকে। এ নিয়ে গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরে আলম শিমু জানান, আইফোন ১৩-এর প্রি-বুকিং বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাসাধারণের জন্য থাকবে আকর্ষণীয় কিছু অফার ও পুরস্কার। জিরো ইন্টারেস্টে ২৪ মাসের ইএমআই সুবিধা থেকে শুরু করে ব্যাংকভেদে রয়েছে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক, ১৬ হাজার পর্যন্ত রিওয়ার্ড পয়েন্ট অথবা জিঅ্যান্ডজি গিফট, এক্সচেঞ্জ বা ট্রেড-ইন সুবিধা এবং বিটিআরসি অনুমোদিত এক বছরের অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি। এবারের আইফোন ১৩-এর লাইনআপে চারটি মডেল থাকছে। আইফোন ১৩ মিনি, আইফোন ১৩, আইফোন ১৩ প্রো ও আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স। ১২৮ থেকে শুরু করে ৫১২ গিগাবাইট মেমোরিসহ পাওয়া যাবে আইফোন ১৩-এর এসব মডেল। এ বছর থেকে দেশের অন্যতম অ্যাপল অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করছে গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার। অনলাইন ও অফলাইন সেবা, দ্রুত ডেলিভারি, ট্রেড-ইন সুবিধা, অফিশিয়াল ওয়ারেন্টির বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
0
দক্ষিণ কোরিয়ার ছবি 'আ ডার্টি কার্নিভ্যাল'-এর বেশ কয়েকটি রিমেক হয়েছে ভারতে। এবার হলো হিন্দি রিমেক। নাম 'বচ্চন পাণ্ডে'। আগের সিনেমাগুলোর চেয়ে কিছুটা আলাদা এই সিনেমা। অন্য সিনেমাগুলোয় দুটি প্রধান চরিত্রই পুরুষ ছিল। এখানে একটি পুরুষ চরিত্র বদলে নারী করা হয়েছে। সেই চরিত্রে আছেন কৃতি শ্যানন। কারণ অক্ষয়কে যেভাবে 'লার্জার দ্যান লাইফ' ধাঁচে সাজিয়েছেন পরিচালক, সেখানে দ্বিতীয় পুরুষ অভিনেতা কোণঠাসা হয়ে যেতেন। তার চেয়ে নারী চরিত্র বরং গল্পের স্বাদ বদলেছে কিছুটা।মায়রা (কৃতি শ্যানন) পরিচালক হতে চায়। প্রযোজক তাকে গ্যাংস্টার নিয়ে সিনেমা বানাতে বলে। বচ্চন পাণ্ডের (অক্ষয়) খোঁজ পায় মায়রা। উত্তর প্রদেশের এক কাল্পনিক জায়গা বাগওয়া। বচ্চন ওই এলাকার ডন। পুলিশ পেটানো, সাংবাদিককে পুড়িয়ে দেওয়া, বিরোধী গ্যাংস্টারদের একের পর এক বিনাশ করা-এমনই তার চরিত্র। বচ্চনের ডন হয়ে ওঠার গল্প জানতে হাজির হয় মায়রা। সঙ্গী হয় তার বন্ধু বিশু (আরশাদ ওয়ার্সি)। আড়াই ঘণ্টার সিনেমায় বন্ধুত্ব, প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা-সব মিলিয়েছেন পরিচালক। চরিত্রটি নিয়ে কৃতি বলেন, 'মেয়েটি সাহসী। সে জানে সে কী চায়, কীভাবে সেটা করতে হয়। তবে এই চরিত্রের জন্য আমার কোনো প্রস্তুতি ছিল না। পরিচালক আমাকে বলেছেন কী চরিত্র বলব না, সেটে আসবে, মজায় মজায় আমরা শুটিং করব।'কৃতি শ্যানন এই সময়ে বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী। মুক্তির অপেক্ষায় আছে একাধিক বলিউড সিনেমা। কৃতি বলেন, '২০২০ সালে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি সিনেমায় যুক্ত হয়েছি। সময় মিললে আমি সব ধরনের সিনেমা করতেই রাজি আছি। সব সিনেমা হয়তো সব দর্শকের ভালো লাগবে না। তবে এতগুলো ভিন্ন গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি, এটাও কম কী?'কৃতির পাইপলাইনে রয়েছে 'আদিপুরুষ', 'বেধিয়া', 'গানপথ', 'শেহজাদা'র মতো আলোচিত সিনেমা। কৃতি বলেন, 'একজন পরিচালক আমার কাছে সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন, এটা যে একজন শিল্পীর কত বড় মানসিক প্রশান্তি, সেটা শিল্পীরাই জানেন। অনেকেই জানতে চান আমি কেমন সিনেমা করতে চাই। কেমন সিনেমা করতে চাই, সেটা বলার যোগ্যতা আমার হয়েছে বলে মনে করি না। আমি এখনো কাজ করতে চাই। তবে আমি চাই চরিত্রটা যেন সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বারবার রূপ পরিবর্তন করে।'
6
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আওয়ামী লীগ কর্মী উকিল মৃধা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে দামুকদিয়া গ্রামে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। নিহত আওয়ামী লীগ কর্মী রাশিদুল ইসলাম উকিল উপজেলার দামুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।মনোহরপুর ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে এ কর্মসূচিতে নিহতের স্বজন, জনপ্রতিনিধি, দলীয় কর্মী-সমর্থকসহ এলাকার হাজারো মানুষ অংশ নেন। দীর্ঘ লাইন ধরে মানববন্ধনে অংশ নেন শত শত নারীও। তাঁরা খুনিদের গ্রেপ্তার দাবি সংবলিত ব্যানার-প্লাকার্ড হাতে দাঁড়ায়।এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নায়েব আলী জোয়ারদার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুন্নবী কালু, নিহতের স্ত্রী ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর তানিয়া খাতুন প্রমুখ।
6
হাঙ্গেরিতে ৩০তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (আইবিও) কৃতিত্বপূর্ণ ফল লাভ করা বাংলাদেশ দল দেশে ফিরেছে। সোমবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে তাদের সমকাল ও বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের (বিডিবিও) পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। মেধাবী মুখগুলোর আলোয় শুধু বিমানবন্দর নয়, পুরো রাজধানীই যেন ঝলমল করে ওঠে। প্রথমবারের মতো আইবিওতে তিনটি ব্রোঞ্জপদক বিজয়ী বাংলাদেশ দলকে স্বাগত জানাতে সকাল ৮টা থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন সমকাল ও বিডিবিওর জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে প্রতিযোগীদের অভিভাবকরাও। তাদের যেন আর তর সই ছিল না। ঘড়ির কাঁটা কি একটু ধীরে চলছে? সবার চোখ বারবার ঘড়ি বা সেলফোনের ওপর। না, সময়ের কাঁটা ঠিকই চলেছে আর খবর আসে, প্লেনও নির্ধারিত সময় ৮টা চল্লিশেই এসে স্পর্শ করেছে বিমানবন্দরের রানওয়ে। শেষ হয় অপেক্ষার পালা। লাল-সবুজ পতাকার রঙ ও নকশার টি-শার্ট গায়ে একে একে ভেতর থেকে টার্মিনালে এসে দাঁড়ায় ব্রোঞ্জ বিজয়ী অদ্বিতীয় নাগ, রাফসান রহমান রায়ান, মাধব বৈদ্যন শঙ্করণ, বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সভাপতি ও দলনেতা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া এবং উপনেতা ও কোচ সামিউল আলম রাজিবের সঙ্গে টিম বাংলাদেশের অপর প্রতিযোগী আহনাফ তাহমিদুর রহমান। টিম বাংলাদেশকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিডিবিওর সাধারণ সম্পাদক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী, সমকালের সহকারী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ, বিডিবিওর সমন্বয়ক কৃষিবিদ মো. মোর্শেদুল ইসলাম, জি এম মশিউর রহমান প্রমুখ। বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের সাফল্য প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, মাত্র চতুর্থবারের মতো অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের এত ভালো ফল লাভ সবাইকে বিস্মিত করেছে। তা ছাড়া ইউরোপ বা অন্য উন্নত দেশের শিক্ষার্থীরা ল্যাবসহ যে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পড়াশোনা করে, আমাদের ছেলেমেয়েরা বলতে গেলে তার কিছুই পায় না। তারপরও এত ভালো রেজাল্ট করার অর্থ একটাই দাঁড়ায়, এরা এক্সট্রা অর্ডিনারি ব্রিলিয়ান্ট। অনুভূতি জানাতে গিয়ে অদ্বিতীয় নাগ বলে, আমরা দলগতভাবে যে ভালো করতে পেরেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় ভালো লাগার জায়গা। স্যারদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই এটা সম্ভব হয়েছে। রাফসান রহমান রায়ান বলে, সব দেশের প্রতিযোগী আমরা একসঙ্গে আনন্দ করছি, আবার প্রতিযোগিতাতেও এসেছি, এটা একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা। তবে এত বড় মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ, এটা পদক জয়ের চেয়েও বড় আনন্দের ছিল। মাধব বৈদ্যন শঙ্করণ বলে, এই অলিম্পিয়াডের মধ্য দিয়ে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পেরেছি, যা আগামী অলিম্পিয়াডে আমাদের কাজে লাগবে। ১৪ থেকে ২১ জুলাই হাঙ্গেরির যেগেদে অনুষ্ঠিত এবারের আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ৭২টি দেশের প্রায় তিনশ' প্রতিযোগী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। যেখানে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয় চার সদস্যের দল। বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব ছাড়াও অলিম্পিয়াডে জুরির দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া ও সামিউল আলম রাজিব। সমকাল ও বিডিবিওর আয়োজনে এ বছর মার্চে অনুষ্ঠিত হয় বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসব। যার স্লোগানই ছিল 'হাঙ্গেরিতে গর্জে ওঠো আরেকবার'। প্রায় ১০ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিভিন্ন পর্বের প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে অদ্বিতীয়, রায়ান, মাধব, আহনাফ জায়গা করে নেয় টিম বাংলাদেশে। শেষ পর্যন্ত তারা ঠিক গর্জে উঠেছে।
6
ঢাকার ধামরাইয়ের একটি মসজিদের মাইক সেট ও দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালের দিকে উপজেলার বাথুলী বাস স্ট্যান্ড এর পাশে বাইতুন নূর জামে মসজিদ থেকে ৪০ হাজার টাকা মূল্যের মাইক সেট ও দানবাক্সে থাকা প্রায় ১০ / ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, লুঙ্গি ও টি শার্ট পরা এক যুবক মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তার কয়েক মিনিট পর হাতে অগোছালো টাকা নিয়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর আবার মসজিদের মাইক সেট নিয়ে চলে যান ওই যুবক।পরে স্থানীয় লোকজন দেখতে পায় মসজিদের মাইক সেট ও দানবাক্সের সব টাকা নেই। পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সবাই নিশ্চিত হয় মসজিদের মাইক সেট ও দানবাক্সের সব টাকা চুরি হয়ে গেছে।বাইতুন নূর জামে মসজিদ এর সভাপতি মো. এমদাদুল হক বলেন, শনিবার সকালে ৪০ হাজার টাকা মূল্যের মসজিদের মাইক সেট ও দানবাক্সে থাকা ১০ / ১৫ হাজার টাকা চুরি হয়ে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। কিন্তু সিসিটিভিতে চুরের চেহারা সম্পূর্ণ বোঝা যায় না।এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রশিদ উদ্দিন জানান, এ রকম চুরির বিষয়ে আমাদের জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
6
অসহায় ও দুঃস্থদের মুখে হাসি ফোটাতে তাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে মাদারীপুর জেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি। শনিবার সকাল ১০টার দিকে জেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে তিন শতাধিক গবীর-অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। মাদারীপুর জেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা আকন্দের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ ও সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম.আর মুর্তজা। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি সুবল বিশ্বাস, সহ-সভাপতি শফিক স্বপন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বেলাল রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর হোসেন তামিম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সাব্বির হোসাইন আজিজ, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক নাজমুল হক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এমদাদ খান, সদস্য জাহিদ হাসান, এস.এম তানভীর, রাশেদ কামাল প্রমুখ।
6
সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে কিছু সময়ের জন্য কয়েকটি রাস্তায় হকারদের বসার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, উন্নত অনেক দেশে রাস্তার পাশে ফুড কোর্টের মতো আছে, সেটার বিষয়েও ভেবে দেখা হবে। বুধবার ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে ডিএনসিসি ও ব্র্যাকের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঢাকা শহরের স্ট্রিট ভেন্ডরদের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অংশীজন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তন ও উদ্বাস্তুর কারণে ঢাকার জনসংখ্যার ওপর চাপ বাড়ছে ও ঢাকা আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ঢাকায় ঢুকছে। আর এদের জায়গা হচ্ছে ফুটপাত ও বস্তিতে। ফলে নগরীর সার্বিক অবস্থা কিছুটা খারাপ ও ফুটপাত দখল হয়ে যায়। সবার আগে এটা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, 'আমি বেশ কয়েকজন হকারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। তাদের বিক্রির সময় শুরু হয় বিকেল ৪টার পর, কিন্তু তারা সকাল ১০টায় গিয়ে জায়গা দখল করে রাখে এবং এতে মানুষজনের চলাচলের ব্যাঘাত ঘটে। আমি তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম-এটা কেন করে তারা? তারা জানিয়েছে, ওই সময় না এলে অন্য কেউ ওই জায়গায় বসে যাবে। তাই আমরা চিন্তা করছি, তাদের এই দখল না হয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তাটুকু দিয়ে পথচারীদের যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেটা করা হবে।' ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, 'ঢাকাকে নিয়ে বাস্তবসম্মতভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে আশা করি এটির একটি বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছাতে পারবো।' ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ও সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় কাউন্সিলর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সন্ধ্যায় ডিএনসিসি মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মালদ্বীপের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ মাহলুফ। এ সময় তারা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি ও খেলাধুলা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন।
6
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ৫০৭টি ঘর পেয়েছেন ভূমি ও গৃহহীনেরা। দুই দফায় দেওয়া হয়েছে এই ঘর। বাকি ১১৮টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণাধীন। নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে ঘর ও জমির দলিল তুলে দেওয়া হবে ভূমি ও গৃহহীনদের কাছে।ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে তিন ধাপে ভেদরগঞ্জে ছয় শতাধিক ভূমিহীনদের দেওয়া হবে 'শান্তির নীড়'। সুবিধাভোগী ৬২৫টি পরিবারের মধ্যে ৫০৭টি ঘর ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১১৮টি গৃহের নির্মাণকাজ চলছে।এ ব্যাপারে ইউএনও তানভীর আল নাসীফ বলেন, 'মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার শনাক্ত করতে গিয়ে তৃণমূলে অসহায় হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা দেখে খুবই ব্যথিত হয়েছি। তৃণমূলের এসব সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।'২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্ত হয়ে উপজেলায় ২০২টি ঘর হস্তান্তর করেন। বাকি ঘরগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৯ মে ৩০৫টি ঘর বিতরণ করেন ইউএনও। মোট ৫০৭টি পরিবার এখন এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে বসবাস করছে।ঘর পাওয়া সাজু মুন্সি বলেন, 'স্ত্রীকে নিয়ে ছোট ঝুপড়িঘরে বসবাস করতে খুব কষ্ট হতো। প্রশাসনের লোকজন এমন অবস্থা দেখে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়। স্বপ্নেও ভাবিনি যে প্রধানমন্ত্রী আমাকে বাড়ি দেবেন। ঘর দেওয়ায় খুব খুশি হয়েছি।'মুন্সিকান্দি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পাওয়া মনোয়ারা বেগম ও আল আমিন জানান, টাকাপয়সার লেনদেন ছাড়া সরকার তাঁদের ঘর দেওয়ায় সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।স্ত্রী-সন্তানসহ পরিজন নিয়ে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারায় খুশি ঘর পাওয়া পরিবার।
6
ইউনেসকোর ভাষ্যমতে, যে দেশে শিক্ষকের মান যত ভালো, সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তত উন্নত। আমেরিকায় এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানসম্মত শিক্ষার ২০ শতাংশ নির্ভর করে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ওপর। কিন্তু ৮০ শতাংশ নির্ভর করে যোগ্য শিক্ষকের ওপর। একজন যোগ্য শিক্ষক গাছতলায় বসেও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, তবে মেধার আবেদন শিরোধার্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, মেধাবী মানুষকে শিক্ষকতা পেশায় সম্পৃক্ত করার জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা আমাদের দেশে নেই। আমাদের দেশের শিক্ষার মান ও শিক্ষা বাজেট দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। আন্তর্জাতিক স্কেলের মানদণ্ডে বাংলাদেশের শিক্ষার মান ২ দশমিক ৮, ভারত ও শ্রীলঙ্কার শিক্ষার মান ২০ দশমিক ৮ এবং পাকিস্তানের শিক্ষার মান ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব প্রতিযোগিতা থেকে আমরা ছিটকে পড়ব এবং জাতি হিসেবে আমরা পিছিয়ে পড়ব। যোগ্য শিক্ষক ও দক্ষ ব্যবস্থাপক তৈরি করতে প্রশিক্ষণের ভূমিকা কতটুকু? নিঃসন্দেহে প্রশিক্ষণের ভূমিকা অপরিসীম। তবে এ কথাও সত্য, রবীন্দ্রনাথকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আইনস্টাইন বানানো যেত না। প্রজ্বলিত সূর্যটাকে আলো ছড়াতে কোনো প্রশিক্ষণ দিতে হয়নি। কিং কোবরা জন্মগতভাবেই ভয়ংকর বিষধর। পক্ষান্তরে ঢোঁড়া সাপ পেকে লাল হয়ে গেলেও বিষধর হয় না। একই ফুল থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে কিন্তু বোলতা সংগ্রহ করে বিষ। ফুটো কলসিতে সকাল থেকে পানি ঢাললেও সে কলস কখনোই পূর্ণ হয় না। সুতরাং, মেধা আগে, প্রশিক্ষণ পরে। নীতিহীন, আদর্শহীন, অকর্মণ্য, অপদার্থ মানুষটিকে হাজারো প্রশিক্ষণ দিলেও ভালো শিক্ষক বানানো যায় না, দক্ষ প্রশাসক হতে পারে না। তাই তো বলা হয়, ভালো শিক্ষক জন্মায়, তৈরি করা যায় না। পক্ষান্তরে এ কথাও সত্য, মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রজ্বলিত সূর্যটাও আলো ছড়াতে পারে না, কাচের পাত্রে কোনো গোলাপের বীজ অঙ্কুরিত হয় না। গোলাপ ফোটানোর জন্য প্রয়োজন প্রথমে গোলাপের বীজ, তারপর মাটি, পানি, আলো ও বাতাস। পরিচর্যাকে যদি প্রশিক্ষণ বলি, তবে বীজ হিসেবে প্রশিক্ষণের আগে যোগ্য ও মেধাবী মানুষটিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। মো. ওমর ফারুকঅধ্যক্ষএম এস জোহা কলেজ, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা।
8
সম্প্রতি আমাদের দেশে করোনাভাইরসের তাণ্ডব বেড়েই চলেছে। অদৃশ্য এ শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য এখনো ঘর বন্দী হয়ে আছে টাইগার ক্রিকেটাররা। এই সময় তামিম-মুশফিকরা ঘরে কীভাবে ফিটনেসের কাজ করবেন, কীভাবে নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন, এসব নির্দেশনা আগেই দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখতে প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে বিসিবি। খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করার জন্য চমৎকার একটি অ্যাপ বা সফটওয়্যার তৈরি করেছেন বোর্ড। এটি করা হবে 'এজ টেন' নামক সফটওয়ার বা অ্যাপের মাধ্যমে। অ্যাপটি গতকালই দিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের। আপাতত জাতীয় পুলের ৪০ জন ক্রিকেটার থাকছেন এর আওতায়। পরে পরিধি আরও বাড়তে পারে। নতুন এই অ্যাপসটির বিষয়ে বিসিবির এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) ম্যানেজার নাসির আহমেদ বলেন, 'এতে আমরা ১৮টি প্রশ্ন রেখেছি। বেশির ভাগই কোভিডের উপসর্গবিষয়ক। কে কতক্ষণ ঘুমিয়েছে, জ্বর বা গায়ে ব্যথা আছে অথবা পাতলা পায়খানা হচ্ছে কিনা, কোভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে এসেছে কিনা, মানসিক অবস্থা কেমন সে তথ্য খেলোয়াড়েরা এখানে দেবে। প্রতিদিন তারা তথ্যগুলো জানাবে। তাদের উত্তরের ওপর লাল, নীল, হলুদ চিহ্নিত করা হবে। এ অ্যাপটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দেবে কে কোন জোনে পড়েছে। পরে বাকিটা মেডিকেল বিভাগ দেখবে।'
12
সম্প্রতি দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপতৎপরতা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়াসহ নানাবিধ সহিংসতার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সিএসও অ্যালায়েন্স। গতকাল বৃহস্পতিবার সিএসও অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক রাশেদা কে চৌধূরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে চলমান সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় দেশের নাগরিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত জোটের (সিএসও অ্যালায়েন্স) পক্ষ থেকে আমরা নিন্মোক্ত নাগরিকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং ঘটনার দ্রুত প্রতিকার দাবি করছি। সম্প্রতি দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপতৎপরতা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়াসহ নানাবিধ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার ওপর এটা একটা বড় আঘাত।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। উন্নয়নের নানা সূচকে আমাদের অব্যাহত অগ্রগতির দাবি সত্ত্বেও এ ধরনের অশুভ তৎপরতা ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষনির্বিশেষে সব মানুষের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা এসব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদনগুলো দ্রুত জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। আমরা চাই অতিসত্বর উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কঠোর হস্তে দমন করা হোক।বিবৃতিতে যাদের নাম আছে তাঁরা হলেন সিএসও অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক রাশেদা কে চৌধূরী, বাপার প্রেসিডেন্ট সুলতানা কামাল, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ওয়াটারএইডের আঞ্চলিক পরিচালক খায়রুল ইসলাম, দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক দিবালোক সিংহ, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা হোসেন প্রমুখ।
6
বায়তুল মোকাররম মার্কেটে কেনাকাটা তখনো জমেনি। নিচতলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাঠাগারে লোকজন কম। পাঠাগারের সিঁড়ি ও প্রবেশমুখে অচেনা হকার, টুপিবিক্রেতা, চশমার ফেরিওয়ালা।সবারই শিকারি চোখ। কার জন্য যেন অপেক্ষা করছেন। আশপাশের দোকানিদের উৎসুক দৃষ্টি। ফিসফাস শব্দ, 'এরা কারা?'২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির সকাল। অপেক্ষার জবাব মেলে একটু পরে। ক্লিন শেভ, রঙিন চশমা, সবুজ শার্ট পরা এক ব্যক্তি আসেন পাঠাগারের গেটে। হেঁটে চলে যান গেট অবধি। পেছন থেকে একজন চেনার চেষ্টা করেন, আরেকজন নাম ধরে ডাকেন। আগন্তুক কোনো কথা না বলে হাত বাড়ান। হাত মেলান একজন, কিন্তু তিনি থামেন না। সোজা চলে যান ওপরে পাঠাগারের ভেতরে। কী মনে করে আবার বেরিয়ে আসার জন্য পা বাড়ান।লিমনের মধুর প্রতিশোধপাঠাগারের প্রথম টেবিলে বসে ছদ্মবেশী দুজন ক্যাপ্টেন। একটু দূরে দাঁড়িয়ে কর্নেল। আর অপেক্ষা নয়। সঙ্গীদের দিকে ইশারা করেন কর্নেল। শিকার হাতছাড়া হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে একটি রিভলবার এসে ঠেকে যায় আগন্তুকের পিঠে। এতক্ষণে তাঁর আর বুঝতে বাকি থাকে না, ধরা পড়ে গেছেন। গোয়েন্দাগিরির খেলায় এভাবেই হেরে যান জেএমবির মজলিশে সুরার সদস্য হাফেজ মাহমুদ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া যায় গুরুত্বপূর্ণ ক্লু-শায়খ আবদুর রহমান সিলেটে আছেন। ব্যস, শুরু হয়ে যায় জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে পাকড়াওয়ের অভিযান।কই শহীদ হলেন না যেবেলা পড়তে না পড়তেই ১০-১২টি গাড়ির বহর পথের লোকদের দুপাশে সরিয়ে দিয়ে ঝড়ের গতিতে ছুটতে থাকে সিলেট হাইওয়ে ধরে। গাড়ি থেকে কর্নেল আমাকে ফোন করেন, সেই চেনা আওয়াজ-'ওস্তাদ ব্যাগ রেডি করেন। বড় কিছু হবে।' যেকোনো বড় খবরে এভাবেই তিনি আমাকে আগাম ক্লু দিয়ে রাখেন।রসিকতা করে 'ওস্তাদ' বলা সেই লোকটির নাম কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ, বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ। সেদিনও তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে। তবে বড় কোনো খবরের জন্য নয়, জীবন ও মৃত্যুর শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে, যখন বিডিআরের উন্মত্ত সৈনিকেরা নির্বিচারে গুলি করে কর্মকর্তাদের হত্যা করছিলেন।ভেস্তে যাওয়া এক 'আষাঢ়ে গল্প'সশস্ত্র বাহিনীর বেশির ভাগ সদস্যই খুব সোজাসাপ্টা। কথায় কোনো প্যাঁচগোজ নেই, যা বিশ্বাস করেন বলেন। আর বন্ধুর জন্য দিলখোলা, নিবেদিতপ্রাণ। সেই ভাবনা থেকেই গুলজার উদ্দিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, তাও ২৫-২৬ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে এক সফরে গিয়ে। তখন আমি জনকণ্ঠে।লম্বা ছিপছিপে এক মেজর। হাঁটলে মনে হয় যেন দূরের কাশবন। বাতাসে নুয়ে পড়ছে, তারপর আবার টানটান হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। খুবই হাসিখুশি, কোনো কিছুতেই রাখঢাক নেই। অল্পতেই ভাব জমে গেল। তারপর নিয়মিত যোগাযোগ, ফোনেই বেশি।২০০৪ সালের প্রথম দিকে একদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিচতলায় লিফটের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। পেছন থেকে সেই ডাক, ওস্তাদ।' তাকিয়ে দেখি পোশাক পরা গুলজার উদ্দিন আহমেদ। বললেন, র্যাব নামে নতুন একটি বাহিনী হচ্ছে, তিনি সেখানে আসছেন। তত দিনে তিনি মেজর থেকে লে. কর্নেল হয়েছেন। র্যাবে এসে ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়ে গেল। র্যাব-৩-এর অধিনায়ক হলেন। গণমাধ্যমের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।মুরগি মিলনের সম্পদ অন্যের হাতেসাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিকেলের দিকে চলে যেতাম উত্তরায়, কাজের ফাঁকে ফাঁকে গল্প করতাম। তাঁর জীবনের গল্প, বেড়ে ওঠার গল্প। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া মানুষটি কীভাবে ১৯৮৩ সালে পদাতিক রেজিমেন্টে কমিশন পেলেন, তারপর বিএমএ, সেনা সদর হয়ে মিশনে গেলেন-সেই সব গল্প। আর বলতেন স্ত্রী ফাতেমা সুলতানা, দুই মেয়ে তাসনিয়া ও লামিয়ার কথা। গল্পের সময় একটি সিগারেটের আগুন দিয়ে আরেকটি সিগারেট ধরাতেন। রিং করে ছুড়ে ফেলা সেই ধোঁয়ার সঙ্গে উড়ে যেত ফেলে আসা দিনের স্মৃতি।২০০৫ সালে র্যাব একটি গোয়েন্দা বিভাগ গঠন করে। গুলজার উদ্দিন সেই বিভাগের প্রথম প্রধান। হাটখোলায় র্যাব-৩-এর কার্যালয় ছেড়ে এলেন বিমানবন্দর এলাকায় র্যাব সদর দপ্তরে। আমারও যাতায়াত বেড়ে গেল। ২০০৬ সালে একদিন শুনি তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। র্যাবে আর থাকছেন না। চলে গেলেন বাংলাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর)। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে মন খারাপের কারণ উবে গেল, তিনি আবার ফিরে এলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক হয়ে।দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো এক সন্ত্রাসীসারা দেশে তখন জেএমবির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ব্র্যাক ও গ্রামীণ ব্যাংকে ডাকাতি শুরু করেছে জেএমবি। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬টি হামলায় ৭৩ জন নিহত আর প্রায় ৮০০ লোক আহত হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। শেষ পর্যন্ত দেশে-বিদেশের চাপের মুখে চারদলীয় জোট সরকার জেএমবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। জঙ্গি নির্মূলের দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামেন গুলজার উদ্দিন। জঙ্গি দমন অভিযানে তিনি যে সাহস দেখাতেন, তা ছিল শিউরে ওঠার মতো।নবজাতকের সূত্রে মিলল বাংলা ভাইয়ের খোঁজএর মধ্যে একদিন একটি মজার ঘটনা ঘটে। জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমান তখন রিমান্ডে। দুপুরের দিকে র্যাব সদর দপ্তরে গিয়ে দেখি সবার মুখ-চোখ শুকনো। পুরো অফিস থমথমে। একেবারে অন্য রকম একটি পরিবেশ। কী হয়েছে, কেউ বলছে না। খুব ঘনিষ্ঠ একজনকে অনুরোধ করতেই যা বললেন, শুনে পিলে চমকে গেল। তিনি বললেন, শায়খ আবদুর রহমান রিমান্ডে থাকা অবস্থায় র্যাব হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন। তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। কীভাবে তিনি পালালেন? বললেন, ফজরের নামাজের জন্য সেলের তালা খুলে দেওয়া হয়। তখন অজু করার নাম করে পালিয়ে যান। মাথায় যেন বাজ পড়ল। এত বড় খবর কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না। গেলাম তৎকালীন মহাপরিচালক আবদুল আজিজ সরকারের কাছে। তিনি যেন ভূত দেখলেন। গেলাম গুলজার উদ্দিনের কাছে। তিনি নিজের চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার পাশের চেয়ারে বসলেন। দুই হাত ধরে খুব অনুরোধ করলেন খবরটা যেন প্রকাশ না হয়। অনুরোধে মানুষ ঢেঁকিও গেলে। ছোটবেলায় শোনা সেই প্রবাদ আমার জীবনেও সত্যি হলো। পেশাদার সংবাদকর্মীরা হয়তো এখন এসে উচিত-অনুচিত নিয়ে বিতর্ক করতে পারেন। কিন্তু বন্ধুত্বের কাছে আমাকে হার মানতে হলো। অবশ্য সেদিন বিকেলেই টঙ্গীর একটি স্থান থেকে আবদুর রহমান ধরা পড়েন।পিচ্চি হান্নানকে দিয়েই 'হাতেখড়ি' র্যাবেরসবকিছুতেই ভালো-মন্দ দিক থাকে। এ ক্ষেত্রেও তাই হলো। তিনি আমাকে গভীরভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করলেন, একজন সংবাদকর্মীর জন্য যা খুবই জরুরি। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে গুলজার উদ্দিন কর্নেল পদে পদোন্নতি পেলেন। চলে গেলেন ২০০৯ সালের জানুয়ারির দিকে। সিলেট থেকে একদিন ফোন করে বেড়াতে আসতে বললেন। বললাম, বড় ঘটনা ঘটুক, নিশ্চয় যাব। শুনে হো হো করে হাসলেন।২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবারের সকাল। নাশতা করা শেষ হয়নি, ফোন দিলেন প্রথম আলোর টেলিফোন অপারেটর সুফলা। পিলখানা থেকে কে একজন অফিসের নম্বরে ফোন করে বলেছেন সেখানে খুব গন্ডগোল হচ্ছে।মা জানতেন, কালা জাহাঙ্গীর মারা গেছেপিলখানায় সেদিন বিডিআরের বার্ষিক দরবার হওয়ার কথা। বিডিআরের কয়েকজন পরিচিত কর্মকর্তা ছিলেন, তাঁদের ফোন দিলাম। কেউ ধরলেন না। গুলজার উদ্দিনের ফোন লাগাতার ব্যস্ত। একটু পর আবার সুফলার ফোন। বললেন, সেখানে গোলাগুলি শুরু হয়ে গেছে। আশপাশের বাসিন্দারা বারবার ফোন করছেন। অফিসে ফোন দিয়ে সবাইকে ঘটনা জানাতে বললাম। নিজেও বের হওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। হঠাৎ ফোন-গুলজার উদ্দিনের ফোন। ভয়ার্ত কণ্ঠ। বাঘের মতো সাহসী মানুষের এমন কণ্ঠস্বর শুনে চমকে গেলাম। কথা বলছেন নিচু গলায়-ফিসফিসিয়ে। বললেন, 'বিদ্রোহী সৈনিকেরা আমাদের ঘিরে ফেলেছে। বাঁচব কি না, জানি না। প্লিজ যাকে পারেন তাকে বলেন।' শুনে রক্ত ঠান্ডা হয়ে গেল। কী করব, কাকে ফোন দেব বুঝে উঠতে পারছি না। ফোন দিলাম ডিএমপির তখনকার কমিশনার নাঈদ আহমেদকে। তাঁর ফোন ব্যস্ত। র্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকারকে ফোন করতেই তিনি বললেন ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হচ্ছেন। ফোন দিলাম আইজিপি নূর মোহাম্মদকে।তাঁর গলা কাঁপছে। বললেন, তাঁর সদ্য বিয়ে হওয়া মেয়ে ও জামাতা আটকা পড়েছে। মেয়ে বারবার ফোন করে কাঁদছে। আইজিপির কথায় অসহায়ের সুর। এরপর থেকে গুলজার উদ্দিনকে আর ফোনে পাইনি। অপেক্ষায় থেকেছি, ফোন আর বাজেনি।আমি তো শীর্ষ সন্ত্রাসীর মা...পরের ইতিহাস সবারই জানা। বিদ্রোহের দুই দিন পর পিলখানার গণকবর থেকে অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে গুলজার উদ্দিনের লাশ পাওয়া যায়। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গুলজার উদ্দিনের বোন শম্পা আফরোজ আমাদের জানান, বিডিআর সদর দপ্তরের সামনে থেকে ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেছে। বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।পিলখানায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের দিন এলেই বনানীর সামরিক কবরস্থানে যাই, মনটা ভারী হয়ে আসে। কয়েক বছর আগে একবার দেখি ছোট মেয়েকে নিয়ে গুলজার উদ্দিনের স্ত্রী কবরস্থানে। সালাম দিতেই বললেন, 'আপনাকেও তো তিনি ফোন করেছিলেন, কই বাঁচাতে পারলেন না!' তাঁর দুই চোখে পানি। আমি তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি, কোনো জবাব দিতে পারি না।আসলেই, আমাদের মতো সাধারণ সংবাদকর্মীর বেশির ভাগ সময় চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। নিজেকে বড় অসহায় লাগে।
6
খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ছয় শতাধিক নারী। এতে মাশরুম, ভার্মি কম্পোস্ট, মৌ-চাষ, ফ্যাশন ডিজাইন, ব্লক-বাটিক ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তাঁরা। উপজেলা পর্যায়ে নারীদের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ (আইজিএ) প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাজস্ব খাতে নিয়মিত সেলাই প্রশিক্ষণ (ডব্লিউটিসি) চলছে কিশোরী ও গৃহিণীদের।উপজেলা মহিলা-বিষয়ক কার্যালয়ের সহকারী মো. আবু মুসা জানান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের পরিচালনায় নিয়মিত রাজস্ব খাতে সেলাই প্রশিক্ষণ (ডব্লিউটিসি) কর্মসূচি চলছে। পাশাপাশি নারীদের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ (আইজিএ) প্রকল্পে কিশোরী ও গৃহিণীরা প্রশিক্ষিত হচ্ছেন।আয়বর্ধক প্রকল্পের প্রশিক্ষক জার্মান চাকমা ও নন্দিতা তালুকদার চলমান প্রশিক্ষণ বিষয়ে জানান, আয়বর্ধক প্রকল্পে বিভিন্ন ট্রেডে দুই ব্যাচে ৫০ নারী তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এর আগে আরও ১২টি ব্যাচে ৫৭০ জন নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেছেন।প্রশিক্ষণার্থী জেসমিন আক্তার জানান, তিনি মাশরুম চাষের পদ্ধতি শিখছেন। এসব আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ নারীর জন্য সহায়ক ও পরিবারে অতিরিক্ত আয়ের একটা সুযোগ বলে মনে করেন তিনি।উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম বলেন, এখানে জনবলসংকট নিয়েও রাজস্ব খাতের নিয়মিত সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আয়বর্ধক প্রকল্পে বিভিন্ন ট্রেডে দুজন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বছরে ৪টি ব্যাচে ২০০ নারী-কিশোরীকে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ইতিপূর্বে প্রশিক্ষিতরা নিজে পরিবারে ছোট পরিসরে স্বাবলম্বী হওয়ার চিত্র এখন সমাজে দৃশ্যমান। প্রশিক্ষিতরা ৩ মাসে ৩৬০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে প্রশিক্ষণে দক্ষতার পাশাপাশি দৈনিক ২০০ টাকা হাজিরা সম্মানী পাচ্ছেন।
6
অভিনেত্রী প্রভা এখন গায়িকা। গান গাওয়ার পরিকল্পনা কবে থেকে?প্ল্যানিং কিছুই না। আমার কলিগরা জানেন, আমি প্রায়ই গুনগুন করে গান গাই। সবাই বলত, আমি নাকি ভালো গান করি। ছোটবেলায় মা অনেক চেষ্টা করেছিলেন আমাকে গান শেখানোর। কিন্তু আমি অনেক 'বান্দর' ছিলাম। ঠিকমতো রিহার্সেল করতাম না।এই গানটি রেকর্ড করলেন কবে?ইমরানের (মাহমুদুল) সঙ্গে একদিন আড্ডা দিচ্ছিলাম। ওরা গাইছিল। আমিও গুনগুন করে একটু ধরলাম। সবাই যেরকম বলে, আরে! তোর গানের গলা তো দারুণ! তুই তো ভালোই গাস। ওইভাবে ইমরানও বলল। আড্ডা মারতে মারতে আমিও ভাবলাম, দেখব তো একদিন স্টুডিওতে গিয়ে গাইলে কেমন শোনায়। গত মাসে ফাইনালি গানটিতে কণ্ঠ দিই। গান শুনে মনে হলো ভালো লাগছে।আম্মুকে শোনালাম। আম্মু খুবই ইমোশনাল হয়ে পড়লেন। কারণ, মা চেয়েছিলেন আমি গান গাই।গানের ভিডিও করেছেন কক্সবাজারে। এটাও কি হঠাৎ করে?গান গাওয়ার পর মনে হলো, গাইলাম যখন, হোয়াই নট এটাকে সুন্দর করে ভিজ্যুয়াল করি। কিছুদিন আগে শুটিংয়ে গিয়েছিলাম কক্সবাজারে। সহশিল্পী ছিল সজল। ওর সেদিন শরীর খারাপ ছিল। ঘুমাচ্ছিল। ওই ফাঁকে গানটির শুটিং করেছি। সময়টা কাজে লাগিয়ে ফেলেছি আরকি।'আমি শুনেছি সেদিন তুমি' গানটিই কেন গাইলেন? কোনো ব্যক্তিগত আবেগ জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে?আমি যখন মোহাম্মদপুরে কোচিংয়ে পড়তাম, সেখানে আমাদের কালচারাল প্রোগ্রাম হতো। ওই সময় ক্লাসের ফাঁকে আমার ফ্রেন্ডদের গান শুনিয়েছিলাম। ফ্রেন্ডরা সব সময় একটা কথা বলত, 'আমি শুনেছি সেদিন তুমি' আর 'ভালোবাসি ভালোবাসি' গান দুটি শুনলে নাকি মনে হয় এটা প্রভার গান। তা ছাড়া এই গান দুটো আমার মুখস্থ থাকে। লিরিক ভুল হয় না। অন্য গান গাইতে গেলে আমি লিরিক ভুল করি।কখনো কোনো অনুষ্ঠানে গাননি?আমার কোচিংয়ের সব ব্র্যাঞ্চের ছাত্রছাত্রীরা মিলে রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজে বড় করে অনুষ্ঠান করত। ২০০৬ সালে ওই রকম এক অনুষ্ঠানে আমি ইন্সট্রুমেন্টের সঙ্গে প্রথম গেয়েছিলাম ওপেন স্পেসে। ওটাই আমার প্রথম স্টেজ শো। প্রচুর ভিড় ছিল। কিন্তু যখন গাইতে শুরু করি, সবাই চুপ হয়ে আমার গান শুনতে শুরু করেন, দ্যাট ওয়াজ আ ভেরি ভিভিড মেমোরি।আপনাকে কল দিলেই ওয়েলকাম টিউনে অনুপম রায়ের 'এখন অনেক রাত' গানটি শোনা যায়। এটাও কি আপনি গাইবেন?না না, এটা আমি গাইব না। এটা বন্ধ করার খুব চেষ্টা করছি। কিন্তু আমি জানি না হাউ টু স্টপ দিজ থিং।গান নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা কী?গান আমি গাইব ডেফিনেটলি। আরও কিছু গান করার ইচ্ছা আছে। যেহেতু আমার মা বলেছেন আরও কয়েকটা গাইতে। আমি অবশ্যই চেষ্টা করব।অভিনয় কি কম করছেন এখন?সিলেক্টেড কাজ করছি। এখন অত কষ্ট করতে ভালো লাগে না। আগের মতো ধৈর্য নাই। ভালো গল্প পেলে কষ্ট করতে ইচ্ছা করে। যদি ভালো গল্প না পাই, ভালো টিম না পাই, তখন কাজ করতে আমার সমস্যা হয়। ভালো লাগে না।আমি তো শিল্পী, তখন মনে হয় আমি বোধ হয় নিজের সঙ্গে অন্যায় করছি।
6
ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশজ্যামাইকার সুন্দরী টনি-অ্যান সিং এ বছর 'মিস ওয়ার্ল্ড' খেতাব জিতে নিয়েছেন। শনিবার লন্ডনে জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০১৯ সালের 'মিস ওয়ার্ল্ডে'র নাম ঘোষণা করা হয়। খবর এএফপির মুকুট জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় টনি-অ্যান সিং বলেন, 'জ্যামাইকার সেন্ট থমাসের ছোট মেয়েরাসহ বিশ্বব্যাপী মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলছি- নিজের ওপর বিশ্বাস রাখ।' তিনি বলেন, 'সবাই জেনে রাখ যে, নিজেদের স্বপ্ন সত্যি করার সক্ষমতা তোমাদের রয়েছে। এই মুকুট আমার নয়, তোমাদের সবার।' চতুর্থ জ্যামাইকান হিসেবে 'মিস ওয়ার্ল্ড' হয়েছেন মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী টনি-অ্যান সিং।শনিবার ২৩ বছর বয়সী নতুন এই 'মিস ওয়ার্ল্ড'কে মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের খেতাবজয়ী মেক্সিকান সুন্দরী ভ্যানেসা পন্স ডি লিওন। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন যথাক্রমে ফ্রান্সের সুন্দরী ওফেলি মেজিনো ও ভারতীয় সুন্দরী সুমন রাও।
2
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রোববার বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় এবং সারাদেশের মহানগর ও জেলা সদরগুলোতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে দলটির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব। সরকারকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে তারা (সরকার) একটি জঘন্য নাটক করছে। এই নাটক বাদ দিয়ে খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষার্থে তার জামিনের ব্যবস্থা করুন এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। অন্যথায় এদেশের মানুষ কোনদিন আপনাদের ক্ষমা করবে না। কারণ তখন আপনারা ক্ষমার অযোগ্য হবেন।' বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'বিজয়ের এই মাসে আমাদের অফিসের সামনে আবার সেই অবস্থা ফিরে এসেছে। পুলিশ ও র্যাব ভয় দেখানোর প্রক্রিয়াগুলো অবলম্বন করছে। কিন্তু ভয়-টয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই এদেশের মানুষ তাদের অধিকার আদায় করে নেবে। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।' মির্জা ফখরুল বলেন, 'দুর্ভাগ্যের কথা বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক মহল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পরিকল্পিতভাবে বিকৃত করছে এবং অত্যন্ত কদর্যভাবে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তিকে বিকৃত করছে। আর মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে (গণতন্ত্র) যে তারা (আওয়ামী লীগ) বার বার ধ্বংস করেছে, সে কথা তারা একবারও বলে না ।' সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
9
শেনজেন বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যোগে চীনের দংচাং সমুদ্রের পাড়ে বার্ষিক বনভোজন হয়েছে। ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী এ বনভোজন হয়। বনভোজনে সংগঠনটির উপদেষ্টা মো. সরয়ার খান, সাবেক দুই সভাপতি মাহবুব আলম ও ইমদাদুল হক; সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম কবির, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. হাসমত মৃধা, সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন ভূঁইয়া; তিনজন সহসাধারণ সম্পাদক নিপু, আসাদ মিয়া ও মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার, কোষাধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দীনসহ সংগঠনের সব সদস্য ও শেনজেনে বসবাসরত বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। বনভোজনে ছোটদের জন্য খেলাধুলা, যুবকদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাঁতার প্রতিযোগিতাসহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মো. হাসমত মৃধা বলেন, বনভোজনের দুই দিনের আয়োজন ছিল মনোমুগ্ধকর। এতে চীনে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলন মেলা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী সবাই উৎসাহ নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
3
নতুন বছরের প্রায় দেড় মাস চলে গেলেও এখনো গঙ্গাচড়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যের অনেক বই পায়নি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বইয়ের অভাবে তারা বাড়িতে ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না।উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে নতুন বই পেয়েছে। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সব বিষয়ের বই পৌঁছায়নি। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি মাত্র বই পেয়েছে। আর সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অর্ধেক বই দেওয়া হয়েছে।শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, মহামারি করোনা দুর্যোগের কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দারুণ বিঘ্ন ঘটেছে। নতুন বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও আবার বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে নতুন বছরের শুরুতেই বই পাওয়ার কথা থাকলেও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা শতভাগ বই পায়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করেছে। আর সন্তানদের পড়ালেখা নিয়ে অভিভাবকেরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।কোলকোন্দ ইউনিয়নের স্কুলপাড়া গ্রামের মমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমার ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ও এখন পর্যন্ত সব বই পায়নি। বই না পাওয়ায় সারা দিন শুধু মোবাইল ফোন নিয়ে পড়ে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে বাচ্চারা মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে যাবে। আমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বাচ্চারা যেন তাড়াতাড়ি বই পায়।'বড়বিল ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক নামে আরেক অভিভাবক জানান, তাঁর নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের বই না থাকায় সে পড়াশোনা করতে পারছেন না। তিনি বলেন, 'এমন হলে বাচ্চারা পড়ালেখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। কম্পিউটার ও মোবাইলের গেম নিয়ে ব্যস্ত থকবে।'গঙ্গাচড়া মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বি আল রোজ বলেন, 'এখন পর্যন্ত সব বই পাইনি। বই না পাওয়ায় বাড়িতেও পড়াশোনা করতে পারছি না।'একই কথা জানায় কোলকোন্দ এমএএম উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া। সে বলে, 'আমাদের মাত্র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বই দেওয়া হয়েছে। বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ আরও অনেক বই হাতে পাইনি।'উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। তাদের জন্য দাখিল পর্যায়ের ৯৭ শতাংশ, মাধ্যমিকে ৭০ শতাংশ, ইবতেদায়িতে ৬৪ শতাংশ ও ভকেশনালে শতভাগ বই এসেছে।ধামুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, 'সব শ্রেণির সব বিষয়ে বই পাইনি। এখন স্কুল বন্ধ। বই থাকলে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে দেখে পড়াশোনা করতে পারত।'গঙ্গাচড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক জানান, ষষ্ঠ শ্রেণি বাদে সব শ্রেণির বেশির ভাগ বই পাওয়া গেছে, কিছু বই বাকি আছে। ষষ্ঠ শ্রেণির শুধুমাত্র আইসিটি বই মিলেছে।এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহানাজ বেগম বলেন, 'বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। বই যেভাবে আসছে সেভাবেই বিতরণ করা হচ্ছে। আশা করছি চলতি মাসেই সব শ্রেণির সব বিষয়ের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।'
6
রানওয়েতে বিমান ঠেলে যাচ্ছেন যাত্রীরাই! আজব এই ঘটনা এবার ভাইরাল নেটদুনিয়ায়। রানওয়েতে অবতরণের পর চাকা ফেটে গিয়ে ঘটে চরম বিপত্তি। সেই বিপত্তি সামলাতে বিমানের যাত্রীরা নেমে আসেন। নেমে এসেই সকলে মিলে বিমানটিকে ঠেলে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এমন অস্বাভাবিক দৃশ্য যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হবে এ নিয়ে আর নতুন করে কিছু বলার নেই। বুধবার নেপাল বিমান বন্দরের ঘটনা। খবর অনুযায়ী, নেপালের বাজিরা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানের পিছনের টায়ারটি ফেটে যায়। চাকা ফেটে যাওয়াতে কোনোভাবেই সরানো যাচ্ছিল না বিমানটিকে। দিকে রানওয়ে আটকে থাকায় অন্য বিমান অবতরণেও অসুবিধে হচ্ছিল। অগত্যা নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে বিমান সরানোয় হাত লাগান যাত্রীরাও। ২০ জনের একটি দল ঠেলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বিমানটিকে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কিছুক্ষণ পর তা সরিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন তারা। ইয়োতি এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র সুরেন্দ্র বরতৌল জানান, এয়ার - বিমানটি হুমলার সিমকোট থেকে বাজুরা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল। তখনই হঠাৎ এই বিমানের টায়ার ফেটে যায়। অন্য একটি বিমান তখন রানওয়েতে নামার জন্য তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু এই ঘটনার জেরে সেই বিমানটিও অবতরণ করতে পারেনি। ওই বিমানটিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর তার চাকা সারানো হয়। তার পর অন্য বিমানটিও নিরাপদে অবতরণ করে। তবে এই ঘটনার জেরে কিছুক্ষণ বিমান ওঠা-নামা বন্ধ ছিল নেপাল বিমানবন্দরে। ! ../ সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
3
ফেনীর আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারীর এমপি পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটের রায় মঙ্গলবার ঘোষণার জন্য দিন ধার্য রয়েছে। বিচারপতি এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করেন। গত ২৮ নভেম্বর নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় ১৯৯১ সালের ২৪ জানুয়ারি দায়ের করা মামলার সর্বশেষ তথ্য জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১ ডিসেম্বর এ প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালতে নিজাম হাজারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এমপি। আর রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী ও সত্যরঞ্জন মণ্ডল। ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারী ২০১৪ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। 'সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ' শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের সঙ্গে যুক্ত করে তার ওই পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া রিট আবেদনটি করেন। রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের এই বেঞ্চে রুল শুনানি শুরু হয়। নিজামী হাজারী বর্তমানে ফেনী-২ আসনের এমপি।
6
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি' হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। করোনার ডেঞ্জার পিরিয়ড থেকে বের হয়ে আসছেন তিনি। জ্বর ও কাশি নেই। রবিবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার পরে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শাকিব খান এবং ল্যাবএইডের টেকনোলজিস্ট সবুজ খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনে প্রবেশ করেন। পরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, যেহেতু দ্বিতীয় সপ্তাহ, আমরা তাকে ক্লোজ মনিটরিং এ রেখেছিলাম। আজকে আলহামদুলিল্লাহ উনি অনেক ভালো আছেন। আজকে উনার জ্বর আসেনি। আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে উনি সেকেন্ড উইক টা ভালোভাবে পার করতে পারবেন। কালকে যে জ্বর ছিল আজকে আসেনি। খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, আমরা যদি দেখি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উনার জ্বর নেই তাহলেই আমরা নিশ্চিত হতে পারব সম্ভবত ম্যাডাম কোভিডের ডেঞ্জার পিরিয়ড থেকে বের হয়ে আসছেন। আজকে দশম দিন। আর ৪৮ ঘণ্টা পার হলে আমরা বলতে পারব ম্যাডামের চিকিৎসার নিরাপদ পর্যায়ে এসেছি। উনি হাঁটাহাঁটি করছেন। ব্লাড সুগারসহ অন্যান্য যে প্যারামিটার সবগুলো মনিটর করছি। আলহামদুলিল্লাহ উনার কাশি, গলা ব্যথা নেই। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে সবকিছু ভালোভাবে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ৪৮ ঘন্টা অন্তর অন্তর ব্লাডের প্যারামিটার মনিটর করি। ব্লাড দেখে বোঝা যায় যে করোনা খারাপ পর্যায়ে ঢুকেছে কি-না। রিপোর্টগুলো সব ভালো আছে। খাবারের রুচি ভালো আছে। মানসিকভাবে ভেরি স্ট্রং। উনি সময় যে নিজের কথা জানতে চান তা না। আমার মনে হয়েছে উনি নির্ধিদায় আমাদের ওপর আস্থা নিয়ে চিকিৎসা নিয়ে যাচ্ছেন। তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
6
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা সংক্রমণ মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তাছাড়া স্কুল কলেজের শিক্ষকদের দুই ডোজ কোভিড টিকাও দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় আমি তাড়াতাড়ি স্কুল কলেজ খুলে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে এমপি হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি স্কুল কলেজের অন্যান্য কর্মচারী, পিওন, তাদের পরিবারের সদস্য, ড্রাইভারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত টিকা দেওয়ার জন্য বলেছি। তবে স্কুল কলেজ খোলার বিষয়ে আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা ফাইজারের টিকা আনাচ্ছি। তাছাড়া ৬ কোটি টিকা যাতে দ্রুত দেশে আসে সেজন্য টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে দেখা যাচ্ছে সবাইকে টিকা দেবার পরে আবার করোনা হচ্ছে, তবে তা একটু কম। তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমরা যেভাবে কোভিড নিয়ন্ত্রণ করেছি তা কিন্তু বিশ্বের ধনী দেশগুলো পারছে না। তবে আমাদের ডেঙ্গু থেকে সাবধান হতে হবে।
6
মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে টানা তিন সপ্তাহের বিক্ষোভে শনিবার পুলিশের গুলিতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে বিক্ষোভকারীদের দমনে পুলিশ গুলি করলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিক্ষোভকারীদের দমাতে পুলিশ তাজা গুলি ব্যবহার করেছে। মান্দালায়ের শিপইয়ার্ডের কাছে শত শত বিক্ষোভকারী অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এই ঘটনায় বেশ কিছু বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে পুলিশের গুলিতে আহত তরুণ বিক্ষোভকারী মিয়া থোয়ে থোয়ে খাইনের মৃত্যুর এক দিন পর এই সহিংসতার ঘটনা ঘটলো। গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানী নেপিডোতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও গুলি ছুড়লে, মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি আহত হন। মিয়ানমারে সেনাবিরোধী বিক্ষোভে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, খাইনের জখম তাজা গুলি থেকে সৃষ্ট। তবে পুলিশ কোনোপ্রকার প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছে। ১ ফেব্রুয়ারি তাতমাদাও নামে পরিচিত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে এই অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী। সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সূত্র : বিবিসি
3
প্যারিস চুক্তির পর এটি ছিল সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের পরিবেশবাদীরা তাকিয়ে ছিলেন এই সম্মেলনের দিকে। আমেরিকা বা চীন এই সম্মেলনের ব্যাপারে উদাসীন থাকলেও শেষ পর্যন্ত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশ দুটিও। এটিকে একটি আশার দিক হিসেবে বলছেন সম্মেলনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের জলবায়ু গবেষকেরা। তাঁদের মতে, শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ না হলেও ব্যর্থ হয়নি এই সম্মেলন। স্কটল্যান্ড গ্লাসগোর একটানা ১৩ দিনের পর শেষ হয়েছে কপ ২৬ সম্মেলন।গত বুধবার সম্মেলনের খসড়া চুক্তি প্রকাশ হয়। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে থাকা বিশ্বকে নাড়া দিতে পেরেছে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো। বিশেষ করে ৪৮টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ফোরামের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পেরেছে। বাংলাদেশ ১০টি কয়লাভিত্তিক প্রকল্প বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্বের তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে দেওয়া যাবে না বলে প্রধানমন্ত্রী যে দাবি তুলেছেন তা অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশও সমর্থন দিয়েছে।পৃথিবীকে বাঁচাতে এই সম্মেলনের সূচনা বক্তব্যে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব গুতারেসে বলেছেন, পরিবেশ ধ্বংস করে আমরাই নিজেদের কবর খুঁড়ছি। পৃথিবীর তাপমাত্রা কমানো না গেলে বিশ্ব নেতাদের কখনো ক্ষমা করা হবে না।বিশ্ব উষ্ণতা আর বাড়তে না দেওয়া, মিথেন গ্যাসের ব্যবহার কমানো, বনাঞ্চল ধ্বংস না করা, কয়লার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনাসহ নানা অর্জন এসেছে এই সম্মেলন থেকে। ১২ নভেম্বর শেষ হওয়া এই সম্মেলন নতুন করে পৃথিবীকে মনে করিয়ে দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা। জলবায়ু গবেষকেরা বলছেন, এমন এক সময় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো যখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীবাসী নানাভাবে আক্রান্ত। দুনিয়ার এক প্রান্তে যখন তীব্র দাবদাহ অন্য দিকে তখন চলছে ঝড়, অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাংলাদেশও আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। এই সময় এমন একটি সম্মেলন খুব দরকার ছিল বলে মনে করছেন তারা।কয়েকটি যুক্তি দেখিয়ে এই সম্মেলনকে সফল বলছেন গবেষকেরা। কয়লা থেকে বিশ্বে মোট কার্বন নিঃসরণ হয় ৩৭ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বন্ধের আশ্বাস দিয়েছে শিল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলো। আর উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০৪০ এর মধ্যে এটি কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কিছু দেশ এতে রাজি নন। এদিকে মিথেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বিশ্বের ১০৩টি দেশ। চুক্তিতে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ মিথেন গ্যাস কমানোর উদ্যোগ নেবে দেশগুলো। কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ৮০ গুণ বেশি তাপ বাড়ায় মিথেন গ্যাস। এটি কার্যকর হলে বিশ্বের মোট তাপমাত্রার শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ কমে যাবে।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেম উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এই সম্মেলনের সফলতা নির্ভর করছে এটির বাস্তবায়ন কতটুকু হবে তার ওপরে। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির অনেক কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। এই সম্মেলনের পরিণতি তেমনটি হবে বলে আশা করছেন তিনি। পৃথিবীর সব নেতাদের এক মঞ্চে বসিয়ে পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা করতে পারাটাও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে জলবায়ু তহবিল দেওয়ার ব্যাপারে শিল্পোন্নত দেশগুলো কথা দিয়েছে-এটা বড় আশার দিক।জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এই অর্থ জলবায়ু পরিবর্তনসহ জলবায়ু পরিবর্তনে লিঙ্গবৈষম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতৃত্ব নারীর ক্ষমতায়নে ব্যবহার করা হবে।এ ছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের নতুন প্রোগ্রামও ঘোষণা করেছেন জলবায়ু সম্মেলনের সভাপতি এবং যুক্তরাজ্যের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক মন্ত্রী অলোক শর্মা। এই অর্থের মাধ্যমে অভিযোজন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, দূষণ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলবায়ু নেতা হিসেবে ক্ষমতায়নে ব্যবহার করা হবে।ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ১০০ বিলিয়ন জলবায়ু তহবিলের ব্যাপারে বাংলাদেশ জোরালো ভূমিকা রেখেছে। তহবিলের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সাল থেকে বছরে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো ১০০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা ছিল। এটি যেহেতু কার্যকর হয়নি। তাই আগামী ২০২৩ সাল থেকে এটি কার্যকর করা হবে সম্মেলনে বলা হয়েছে।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কথা বলার মতো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম থাকা জরুরি। এই সম্মেলন সেই সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসা কুড়িয়েছে। জলবায়ু তহবিল গঠনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো আশাবাদী হয়েছে। এমন সম্মেলন বারবার হলে পৃথিবীর মানুষ আরও সচেতন হবে।২০৩০ সালের মধ্যে বন ধ্বংস বন্ধ করা হবে বলে রাজি হয়েছে বিশ্বের ১১০টি দেশ। এ জন্য ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার তহবিলের অঙ্গীকার এসেছে। এটি করা গেলে বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ কমবে। অক্সিজেন বাড়বে। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ বা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা বাড়তে না দেওয়ার ব্যাপারে বেশির ভাগ দেশই একমত হয়েছে। যদিও এটি প্যারিস চুক্তিতে থাকার পরও বাস্তবায়ন হয়নি।জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, সারা বিশ্বের পরিবেশবাদীরা অনেক আশাবাদী ছিল এই সম্মেলন নিয়ে। তার সবটুকু পূরণ হয়নি। তবে যতটুকু হয়েছে তাও কম নয়। আসলে এই সম্মেলনের সফলতা নির্ভর করছে শিল্পোন্নত দেশের নেতাদের ওপর। তারা চাইলেই এই সম্মেলন সফল হবে। না চাইলে ব্যর্থ হবে।
7
মাদক পার্টি থেকে যিনি আরিয়ান খানকে আটক করেছিলেন, তিনি সমীর ওয়াংখেড়ে। নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তা। সমীর ছদ্মবেশ নিয়ে মুম্বাই থেকে গোয়াগামী সেই প্রমোদতরীতে ওঠেন। শুধু আরিয়ানই নয়, অতীতে সমীরের জন্য সমস্যায় পড়েছিলেন শাহরুখ নিজেও। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ১০ বছর আগে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরছিলেন শাহরুখ। কিন্তু বিমানবন্দরে পা রাখতেই ঘটে বিপত্তি। বলিউডের 'কিং'-কে আটকে দিয়েছিলেন শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা। সমীর তখন এনসিবি-র কর্মকর্তা নন। শুল্ক বিভাগের ডেপুটি কালেক্টর। বিমানবন্দরে শাহরুখকে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। শুধু আরিয়ান ও শাহরুখ নন, সমীরের কারণে বলিউড তারকাঅনুরাগ কাশ্যফ, বিবেক ওবেরয়, মিকা সিং, রাম গোপাল ভার্মাও সমস্যায় পড়েছেন। সুশান্ত সিং রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর মাদক মামলায় তার প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীর জেল হয়। সেই মামলায়ও যুক্ত ছিলেন সমীর। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
প্রশাসন অন্ধ, তাই কোম্পানীগঞ্জে শান্তি ফিরছে না বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা। যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ দিনের ফলোআপ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আজ বুধবার বিকেলে এসব কথা বলেন তিনি।বসুরহাট পৌর হলে দলীয় নেতা-কর্মীদের দেওয়া সংবর্ধনা সভায় কাদের মির্জা বলেন, 'অস্ত্র আর অর্থের কাছে রাজনীতি জিম্মি নয়। প্রশাসন অন্ধ থাকার কারণে এখনো কোম্পানীগঞ্জে শান্তি ফিরছে না।'কাদের মির্জা আরও বলেন, 'আমি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পর কোম্পানীগঞ্জের শান্তি বিঘ্নিত করা হয়েছে। এভাবে আর কত দিন চলবে। প্রশাসন আমার সঙ্গে অন্যদের তুলনা করে, এটা আমার খুবই কষ্ট লাগে। সন্ত্রাসী হামলা করে আমার দলের কয়েকজন নেতাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। কেউ কেউ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। কিন্তু পুলিশ অন্ধের ভূমিকায় রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন আমার কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। আমার দলের কর্মী নুর হোসেন খানসাবের বিরুদ্ধে ১৫টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।'আল্লাহ আছেন, তিনি বিচার করবেন উল্লেখ করে কাদের মির্জা বলেন, 'বিচার শুরু হয়ে গেছে, এদের কেউ কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, কেউ স্ট্রোক করছে, এরা রাস্তায় দুর্ঘটনায় মারা যাবে।'উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন কাদের মির্জা। ছয় মাস পর তিনি পুনরায় চিকিৎসা ফলোআপের জন্য আমেরিকা যাবেন।
6
ধাক্কা দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।তিনি বলেছেন, 'ধাক্কা দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলাদেশের মাটির অনেক গভীরে, ধাক্কা দিয়ে এই বটবৃক্ষের পতন হবে না।'মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'ধাক্কা দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেলা যাবে না। আওয়ামী লীগ বিএনপি নয়। ওই মেয়র হানিফের জনতার মঞ্চের এক ধাক্কায় বিএনপি সরকারের পতন হয়েছিল। মনে আছে আপনাদের?'তিনি আরও বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে। এই আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলাদেশের মাটিতে এখন অনেক গভীরে, ধাক্কা দিয়ে এই বটবৃক্ষের পতন হবে না।'ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণসভায় ওবায়দুল কাদের এ সব কথা বলেন।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বক্তব্য রাখেন।গণঅভ্যুথান শব্দটি এখন জাদুঘরে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'বিএনপি রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন-অর্জন দিয়ে গণঅভ্যুথান শব্দটিকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। গণঅভ্যুথান এখন জাদুঘরে, গণঅভ্যুথান স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নের নামান্তর। এই দুঃস্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই।'তিনি বলেন, 'দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নে এত খুশি যে সাড়ে আটবছর বার বার আন্দোলনের ডাক দিলেও জনগণ তাতে সাড়া দেননি। সাড়ে আট বছরে যখন জনগণ সাড়া দেননি, তখন আগামী এক বছরেও জনগণ বিএনপির ডাকে সাড়া দিবে না।'দলীয় নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষের ঘরে ঘরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'জেতার আগেই জিতে গেছি এই মন মানসিকতার পুনরাবৃত্তি যেন আগামী নির্বাচনে না হয়। এখন থেকে ভোটের জন্য মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হবে। ভোট চাইতে হবে।'কাদের বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় দেশে নব জাগরণ শুরু হয়ে গেছে। এই জাগরণের ঢেউকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাখতে হবে। ঘরে ঘরে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিন।'
9
মহিউদ্দিন আহমেদ মাসুদ (৩৮)। বরিশালের একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেই নেমেছেন চিকিৎসা পেশায়। বাসাবো জেনারেল হাসপাতালে দেড় বছর ধরে নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা দিতেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি মাসুদের।এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয়ে জনগণকে প্রতারিত করার অভিযোগে গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর সবুজবাগ থানার সেন্ট্রাল বাসাবো জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩।র্যাব-৩ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফারজানা হক আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিজেকে এমবিবিএস (ডিইউ), পি. জি. টি (মেডিসিন ও শিশু), মেডিসিন ও শিশু রোগে অভিজ্ঞ, চর্ম, যৌন, নাক, কান ও গলা রোগে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদান করে আসছিলেন মহিউদ্দিন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে রোগ শনাক্তকরণের নাম করে রোগীদের অযথা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দিতেন। তিনি বলেন, অভিযানে ভুয়া চিকিৎসক মহিউদ্দিন আহমেদ মাসুদের চেম্বার থেকে একটি নেমপ্লেট, ভিজিটিং কার্ড, ২৫টি বিভিন্ন প্রকার সিল, ২০০টি প্রেসক্রিপশন,২টি মোবাইল, একটি গোপন কলম ক্যামেরা ও নগদ ৪ হাজার ৮৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়।র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মহিউদ্দিন মূলত বরিশালের একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। এমবিবিএস বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিতেন কিন্তু তাঁর কোন বৈধ সনদ নেই। তিনি প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন জনসাধারণকে ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
6
ট্যাঙ্কার ফুটো হয়ে তেল ছড়িয়ে কর্ণফুলী নদী দূষণের অপরাধে তেলবাহী জাহাজ 'এমটি দেশ-১' কর্তৃপক্ষকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। রোববার পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে 'এমটি দেশ-১' মালিক পক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে এ জারিমানা করেন পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক। এমটি দেশ-১ নারায়ণগঞ্জের মেসার্স অগ্রগামী শিপিং লাইন্সের অধীন এবং প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সংযুক্তা দাশগুপ্ত জানান, গত শুক্রবার ভোরে জ্বালানিবাহী লাইটার জাহাজ এমটি দেশ-১ এবং ভোজ্য তেলবাহী অপর জাহাজ সিটি-৩৪ এর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে এমটি দেশ-১ এর ট্যাংকার ফুটো হয়ে কর্ণফুলী নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সরেজমিন পরিদর্শন করে তেল ছড়িয়ে কর্ণফুলী নদীর পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণ পায় পরিবেশ অধিদপ্তর। এ কারণে জাহাজ দুটির প্রতিনিধিকে রোববার শুনানিতে হাজির হতে নোটিস দেওয়া হয়। জ্বালানি তেল নদীতে ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির অপরাধে শুনানি শেষে এমটি দেশ-১ কর্তৃপক্ষকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে তা অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার ভোরে কর্ণফুলী নদীর জেটি-৩ সংলঘ্ন এলাকায় 'দেশ-১' নামের অয়েল ট্যাঙ্কারটি অন্য জাহাজ 'সিটি-৩৪' এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ফুটো হয়ে যায়। শনিবার বিকেল পর্যন্ত আট টনের মতো তেল নদী থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। এ ঘটনায় জাহাজ দুইটি আটক রয়েছে।
6
বাংলাদেশে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন থেকে শুরু করে অ্যাসেটের মূল্যমান, ক্রয়-বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সে লক্ষ্যে তৈরি হচ্ছে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন,২০২১। এ বিষয়ে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে অর্থমন্ত্রনালয়। বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন,২০২১' এর অধীনে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠন, অ্যাসেটের মূল্যমান, ক্রয়-বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধিমালা ও বিজনেস মডেল প্রণয়ন করা হবে। এতে কারিগরি সহায়তা করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। গঠিত ৩ সদস্যের কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মু: শুক্কুর আলী, যুগ্মসচিব (বাণিজ্যিক ব্যাংক)। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক সৈয়দ হীমঈয়ানউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান। অর্থমন্ত্রনালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
6
ঝালকাঠিতে এমভি অভিযান-১০ নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সুগন্ধা নদীর গাবখান ধানসিঁড়ি এলাকায় লঞ্চটিতে আগুন লাগে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অনলাইন গণমাধ্যম জাগো নিউজ। লঞ্চের একাধিক যাত্রী জানান, রাত ৩টার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিনরুমে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। এ সময় অনেক যাত্রী দগ্ধ হন। প্রাণ বাঁচাতে বেশ কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, লঞ্চে পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিলেন। আগুনে ৭০-৮০ জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধ বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। অক্ষত যাত্রীদের বরাত দিয়ে দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণ জানিয়েছে, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে থাকা অবস্থায় লঞ্চটিতে আগুন লাগে। পরে লঞ্চটি তীরবর্তী দিয়াকুল গ্রামে ভেড়ানো হয়। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক কামাল হোসেন ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের মোট ৫টি ইউনিট আগুন নেভানোসহ উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লঞ্চটির ইঞ্জিন কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত।
6
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনের ঘটনায় তামিম হাসান (৮) নামে দগ্ধ আরও এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। শিশুটির মা এবং ছোট বোনও লঞ্চে দগ্ধ হয়েছিল। ঢাকায় আনার সময় রাস্তাতেই মারা যায় তামিমের ছোট বোন মাহিনুর (৬)। মা জিয়াসমিন এখনো শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। রবিবার (২ জানুয়ারি) শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তামিমের। ইনস্টিটউটের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেন তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রবিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তামিমের মৃত্যু হয়। এর আগে বুধবার এখানে শাহিনুর নামে ৪৫ বছর বয়সী আরও এক নারীর মৃত্যু হয়। নিহত শাহিনুরের শরীরের ৪০ শতাংশ আগুনে পুড়েছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৪৮ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া, রেড ক্রিসেন্ট বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলা কার্যালয়ের করা তালিকা অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত অন্তত ৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, মঙ্গলবার লঞ্চ টার্মিনালে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুম ৪১ জন নিখোঁজ যাত্রীর তথ্য দিয়েছে বলে জানান ঝালকাঠি সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন। স্মরণকালের ভয়াবহ এই লঞ্চ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রবিবার ঢাকার নৌ আদালত এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের দুই চালককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তারা হলেন- মামলার অষ্টম আসামি আবুল কালাম (ইনচার্জ চালক) ও সপ্তম আসামি মাসুম বিল্লাহ (দ্বিতীয় চালক)। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর লঞ্চের দুই মাস্টার রিয়াজ সিকদার (মাস্টার ইনচার্জ) ও ৬ষ্ঠ আসামি খলিলুর রহমানকে (২য় মাস্টার) আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠায় একই আদালত। নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রসিকিউটিং অফিসার অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন বলেন, ইঞ্জিন রুমের সার্বিক দায়িত্ব ইঞ্জিন চালকদের। তারা শুধু তাদের দায়িত্বে অবহেলাই করেনি, আগুনের পর তাদের ভূমিকা ছিল বেপরোয়া। তিনি আরও বলেছেন, তারা যদি নিখুঁত তত্ত্বাবধানে ইঞ্জিন রুমটি সঠিকভাবে পরিচালনা করত, তাহলে সম্ভবত এই ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো যেত অ্যাডভোকেট বিল্লাল বলেন, "প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিন রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।" গত ২৬ ডিসেম্বর নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শফিকুর রহমান লঞ্চের চার মালিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক আদালতে নৌ আইনে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত ২৪ ডিসেম্বর ভোররাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগে। সেসময় লঞ্চটিতে ৮০০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিল।
6
র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার সঙ্গে জেতার আশা না থাকলেও অন্তত লড়াইয়ের ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশ হকি দলের। তবে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়া শক্তিতেও এগিয়ে সেটাই জাকার্তায় টের পেল ইমান গোবিনাথানের দল।ওমানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার যতটুকু সম্ভাবনা বাংলাদেশের সেটাও উড়িয়ে দিয়েছে র্যাঙ্কিংয়ে ২০ ধাপ এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ হেরেছে ৮-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে। হ্যাটট্রিক করেছেন মালয়েশিয়ার রাজি রাহিম ও ফাইজাল সারি।পেনাল্টি কর্নার ও পেনাল্টি স্ট্রোক থেকেই প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে হ্যাটট্রিক করেছেন রাজি রাহিম। ৩ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোকের পর ১৩ ও ২৯ মিনিটে পেনাল্টি কর্নারে গোল পান রাহিম। ২৩,৩০ ও ৪৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক পাওয়া ফাইজাল সারির সবগুলো গোলই হয়েছে ফিল্ড গোল থেকে। বাকি দুই গোল করেছেন নাজমি জাজলান ও আশরান হামশানি। ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি আশরাফুল ইসলামের।এই হারে 'বি' পুল থেকে তৃতীয় হয়েছে বাংলাদেশ। ২৯ মে রোববার স্থান নির্ধারণী খেলায় 'এ' পুলের চতুর্থ দলের বিপক্ষে লড়বে খোরশেদরা।
12
ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গুলশানের বারিধারার নিজ বাসা থেকে রোববার (১ আগস্ট) রাতে মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে অভিযান চালিয়ে মৌ আক্তার নামে আরেক তরুণীকেও আটক করা হয়েছে।রোববার (১ জুলাই) রাতে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একটি দল বারিধারার ৯ নং রোডের ৩ নং বাসায় অভিযান চালিয়ে পিয়াসাকে আটক করে। পরে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে অভিযান চালিয়ে মডেল মৌকে আটক করা হয়।ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মহিদুল ইসলাম বলেন, সাইবার সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছে। অভিযানে পিয়াসার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবাসহ সিসা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও পিয়াসার কাছ থেকে চারটি স্মার্টফোনও উদ্ধার করা হয়।ডিবি পুলিশ জানায়, পিয়াসা ও মৌ নামের ওই তরুণীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ডিবি উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর রশীদ বলেন, তাঁরা দুজন সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা অনেক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পেয়েছি। সেসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তাঁদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। দুজনের বাসায় বিদেশি মদ, ইয়াবা ও সিসা পাওয়া গেছে। মৌয়ের বাড়িতে মদের বারও ছিল।হারুন-অর রশীদ আরও বলেন, 'আটক দুই মডেল হচ্ছেন রাতের রানি। তাঁরা দিনের বেলায় ঘুমান এবং রাতে এসব কর্মকাণ্ড করেন। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন তারা। বাসায় আসলে তারা তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। পরবর্তীতে তারা সেসব ভিডিও ও ছবি ভিকটিমদের পরিবারকে পাঠাবে বলে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন।'প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে নাম ছিল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার। প্রথমে মামলা করতে ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পিয়াসার বিরুদ্ধেই আবার মামলা তুলে নেওয়ার হুমকির অভিযোগে জিডি করেছিলেন ভুক্তভোগী। এছাড়া গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধারের পর যে মামলা দায়ের হয়, সেই মামলাতেও পিয়াসার নাম রয়েছে।আরও পড়ুন:মডেল পিয়াসা আটক, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার
6
বয়স হলে ত্বক কুঁচকে যাবে-এটাই স্বাভাবিক। বলিরেখার কথা উঠলে মাথায় খেলে যায় চেহারার কথাই। এতে যত্ন নেওয়ার বিষয়টি ওই চেহারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ভুল হয়ে যায় এখানেই। বলিরেখা শুধু চেহারাতেই পড়ে না; শরীরের অনেক জায়গায়ই কুঁচকে যায়। বাদ যায় না হাত দুটিও। সময় থাকতে যত্ন নিতে শুরু করলে সহজেই হাতে বলিরেখা পড়বে না। চোখ আর গলার পাশাপাশি হাতেও প্রথম থেকে বলিরেখা পড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের কোলাজেন হারিয়ে যায়। হাতের চামড়া এ কারণে মোটা ও ফ্যাকাশে হয়ে যায়। চামড়াও ঝুলে যায়। জেনে নিন সহজ কিছু টিপস: রোদ থেকে সুরক্ষাসারা দিন হাতে কাপড় পেঁচিয়ে বা গ্লাভস পরে ঘোরার দরকার নেই। হাতে ভালো মানের সানস্ক্রিন লাগালেই হবে। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে নিয়মিতভাবে হাত পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। ইউরোপিয়ান ডারমাটোলোজি লন্ডনের ডারমাটোলোজিস্ট ও মেডিকেল ডিরেক্টর স্টেফেনি উইলিয়ামস বলেন, 'ইউভি রেডিয়েশন নিয়মিতভাবে আমাদের হাতে লাগছে। এ কারণে সময়ের আগেই হাতে বলিরেখা পড়ে যায়। ইউভি রশ্মি ম্যাট্রিকস মেটালোপ্রোটিনিসেস এনজাইমকে উদ্দীপিত করে, যা কোলাজেন হারাতে সহায়তা করে।' পানির চাপবাসন ধোয়া, সন্তানকে গোসল করানো, বাসা পরিষ্কারের কাজ, যা-ই হোক, নানা কাজে হাতে পানির ছোঁয়া লাগেই। বারবার পানির কাজ করতে গেলে হাতের ত্বকে চাপ সৃষ্টি হয়। এ কারণে ত্বক থেকে লিপিড চলে যায়, যেটা অনেকটা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে ত্বকের জন্য। ফলাফল, হাত খসখসে হয়ে যায়। প্রতিদিন পানির কাজ বেশি করতে হলে হাতে গ্লাভস পরে নেওয়া ভালো। সামনে ঈদ, সারা দিন ধরে মাংস কাটাকাটির কাজ চলবে। হাত ধুতে হবে বারবার। হ্যান্ডক্রিমটা বেসিনে হ্যান্ডওয়াশের পাশেই রেখে দিন। হাত ধোয়ার পর একটু ক্রিম লাগিয়ে নেবেন। সকালের দিকে ভিটামিন 'ই' ও ভিটামিন 'সি' সিরাম ব্যবহার করার পরামর্শ দেন স্টেফেনি উইলিয়ামস। সাবানের প্রভাবকোন সাবান দিয়ে হাত ধুচ্ছেন, সেটাও জরুরি। সাবান একটা বড় প্রভাব ফেলে ত্বকের ওপর। বেশি ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহারে হাত খসখসে হয়ে যায়। কেমিক্যাল হাতের ময়লা দূর করে ঠিকই, কিন্তু হাতের কোনো সুরক্ষা দেয় না। বেশি ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার ত্বকের পিএইচের মাত্রা ভারসাম্যহীন করে দেয়। এতে ত্বকের শুষ্কতাও বেড়ে যায়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শুষ্কতার এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। ত্বক যে পরিমাণ কোমলতা হারায়, সেটা আর ফিরিয়ে আনতে পারে না। এ কারণে কম ক্ষারযুক্ত সাবান বা ক্ষারবিহীন সাবান দিয়ে গোসল বা হাত ধোয়ার কাজটি করুন। সূত্র: গুড হাউসকিপিং
4
দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে থেকে অ্যাডভোকেট মুরাদ রেজা ও অ্যাডভোকেট মো. মমতাজ উদ্দিন ফকিরের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা নিয়ে গতকাল সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'রাষ্ট্রপতি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির কর্তৃক দাখিলকৃত পদত্যাগপত্র দুটি গ্রহণ করেছেন।' বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ছাত্রী মেসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিস, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।ত্রিশাল বাজার রোডে অবস্থিত সুফিয়া আজিজ ভিলা নামের মেসের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের মোবাইল, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিস।ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেস সংলগ্ন বৈদ্যুতিক খুঁটির শর্ট সার্কিট থেকে ভোর ৫টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে পুড়ে গেছে ওই মেসের ৬টি কক্ষ। ওই মেসে মোট ৪৪ জন ছাত্রী থাকেন।এ ঘটনার পরপরই সকাল সাড়ে ৮টায় ক্যাম্পাসের উপাচার্য বাংলোর সামনে হল খুলে দেওয়া ও অন্যান্য দাবিতে আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা বলেন, নানা সময়ে এই মেসগুলোর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কথা বললেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। চুরি, আগুন যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আমরা আর হেলাফেলা চাই না, নতুন হল দুটো খুলে দিয়ে আমাদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আন্দোলন থেকে উঠব না।এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্ট। তাঁরা আজকের ঘটনার জন্য সমবেদনা জানিয়ে বলেন, 'তোমাদের দাবি যৌক্তিক। কিন্তু আমাদের হলগুলোতে বেশ কিছু সংকট আছে। গ্যাস নেই, লোকবল নেই। আমাদের কাজ চলমান। শিগগিরই চালু করতে পারব বলে আশাবাদী আমরা।'এ আশ্বাসের পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। হল চালু, আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
6
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জাতীয় একমুখী পাঠ্যসূচি প্রণয়ন বিষয়ক এক সভায় সোমবার (১৬ আগস্ট) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আফগানদের প্রশংসা করেছেন। ইমরান খান বলেন, আফগানরা 'দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙেছে'।সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইমরান খান তাঁর বক্তব্যে চাপিয়ে দেওয়া সংস্কৃতিকে মানসিক দাসত্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন।তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার একদিন পরেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কণ্ঠে আফগানদের প্রশংসা উচ্চারিত হলো।দেশে দুটি সমান্তরাল শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ইমরান খান বলেন, 'ইংরেজি মাধ্যম' বিদ্যালয় 'অন্য কারও সংস্কৃতি' গ্রহণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তানকে।ইমরান খান বলেন, 'যখন আপনি অন্য কারও সংস্কৃতিকে উন্নততর মনে করে তা গ্রহণ করবেন। তখনই আসলে আপনি ওই সংস্কৃতির দাসে পরিণত হবেন'। মানসিক দাসে পরিণত হওয়াকে প্রকৃত দাসত্বের চেয়েও নিকৃষ্ট বলে উল্লেখ করেন তিনি।
3
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেছেন। সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে এশিয়া-প্যাসিফিক ব্রডকাস্টিং ইউনিয়নের (এপিবিইউ) পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান শেষে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ শনিবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। খবর বাসসের রোববার সন্ধ্যায় তিনি সেখানে অবস্থানরত মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার সাময়িক নিবাসে সাক্ষাৎ করেন।সোমবার বিকেলে ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, তথ্যমন্ত্রী কুশলাদি বিনিময়কালে তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ওবায়দুল কাদেরের দ্রুত ও পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন। ড. হাছান মাহমুদের সোমবার রাতে দেশে ফেরার কথা।
6
গেলো ৯ অক্টোবর গাজীপুরের হোতাপাড়ায় শুরু হয়েছে 'জলরঙ' নামে নতুন একটি ছবির শুটিং। এটি পরিচালনা করছেন কবিরুল ইসলাম রানা ওরফে অপূর্ব রানা। পরিচালক জানালেন, মানবপাচারের গল্প নিয়ে 'জলরঙ'। একটি নৌকার নাম জলরঙ। যে নৌকাটি স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। বর্তমানে নৌকাটি ব্যবহার করে একটি চক্র মানব পাচার করে থাকে। ছবিটিতে নায়ক হিসেবে সাইমন সাদিককে আগেই চুক্তিবদ্ধ করিয়েছেন পরিচালক। তার বিপরীতে খোঁজা হচ্ছিলো নায়িকা। পরিচালক বলেছিলেন ছবিটি আসলে গ্ল্যামারবেজ নয়। গল্পই ছবিটির আসল কারিশমা। তাই সাইমনের বিপরীতে কোনো গ্ল্যামারগার্ল নয়। গল্পের শিউলি মালা চরিত্রের সঙ্গে যায় এমন একজনকেই নেবেন। অবশেষে জানা গেছে শিউলিমালা চরিত্রের জন্য সাইমনের বিপরীতে তরুণ নায়িকা উষ্ণ হককে নেওয়া হয়েছে। যিনি এর আগে রোশানের বিপরীতে সাইফ চন্দনের 'উস্তাদ' ও বাপ্পি চৌধুরীর বিপরীতে সাফি উদ্দিন সাফির 'সিক্রেট এজেন্ট' ছবিতে অভিনয় করেছেন। দুটি ছবিই রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। ৯ অক্টোবর এই উষ্ণকে দিয়েই 'জলরঙ' ছবির ক্যামেরা ওপেন করা হয়। তবে শুরুর কয়েকদিন শুটিংয়ে নেই নায়ক সায়মন। ১৮অক্টোবর থেকে তিনি শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক। প্রথম লটের শুটিং টানা সাতদিন হোতাপাড়ায় হলেও পরের লট শুরু হবে কক্সবাজারের শুটকিপল্লীতে। এছাড়া সেন্টমার্টিন ও বান্দরবানেও হবে শুটিং । ছবিটির একটি চরিত্র মালয়েশিয়ান প্রবাসী। তার চরিত্র দেখাতে তৃতীয় লটের শুটিং মালয়েশিয়াতে হবে বলে জানালেন অপূর্ব রানা। ছবিটি নিয়ে সাইমন সাদিক বলেন, 'অপূর্ব রানা ভাইকে নিয়ে আমার নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি আমার অনেক কাছের ভাই। তবে ছবিটির গল্পের প্রয়োজনেই তিনি আমাকে নিয়েছেন। আমি এখন নরসুন্দরী ছবির শুটিং করছি। এটার কাজ শেষ করেই জলরঙ এর শুটিং শুরু করবো।' নায়িকা হিসেবে প্রথম সাইমনের বিপরীতে অভিনয় করছেন উষ্ণ। তাও আবার গ্ল্যামারহীন গল্প নির্ভর ছবিতে। বিষয়টি নিয়ে উষ্ণ বলেন, 'ছবিটির জন্য মাস খানেক গ্রুমিং করতে হয়েছে আমার। কক্সবাজারের শুটকিপল্লীতে গিয়ে সেখানকার মানুষদের জীবন-যাপনের উপর ধারণা নিয়েছি। অবশেষে কাজ শুরু করেছি। এতে আমি শিউলিমালা চরিত্রে অভিনয় করছি। চরিত্রটিতে কোনো গ্ল্যামার নেই তবে অভিনয়ে করার দারুণ জায়গা রয়েছে। সবার কাছে দোয়া চাই। চরিত্রটি যেনো আমি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি।' এএইচএম এনামুল হকের গল্প 'জলরঙ' থেকে একই নামে ২০২০-২১ অর্থ বছরের সরকারী অনুদানে নির্মিত হচ্ছে 'জলরঙ'। ছবিটির প্রযোজক হিসেবে আছেন দোলোয়ার হোসেন দিলু । এতে আরও অভিনয় করছেন শক্তিমান অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম, আশীষ খন্দকার, খালেদা আক্তার কল্পনা, রাশেদা, মাসুম আজিজ, শতাব্দী ওয়াদুদ, শহিদুল আলম সাচ্চু, জয়রাজ, বড়দা মিঠু, রাশেদ মামুন অপু, এলিনা শাম্মী, পারভেজ সুমন, শরীফ চৌধুরী, কমল পাটেকর অভিনয় করেছেন। পরিচালক অপূর্ব রানা জানালেন, ছবিটি নতুন বছরর শুরুর দিকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
2
অবশেষে বিবাহবার্ষিকীতে মা হওয়ার কাঙ্খিত খবরটি প্রকাশ করলেন কোয়েল। এটি তাদের সাত বছরের বিবাহবার্ষিকী। স্বভাবতই এ খবরে প্রচণ্ড খুশি কোয়েল ও রানে-সহ গোটা পরিবার। কোয়েল বললেন, অনেক পুরস্কার। দারুণ চরিত্র। সব কিছুর চেয়ে আলাদা এই অনুভূতি। এটাই আমার জীবনের সেরা অনুভব। টেনশনও হচ্ছে, আনন্দও হচ্ছে। এখন আমরা এপ্রিলের অপেক্ষায়। তিনি বলেন, শুধু রানেই নয়, টেনশন করছেন বাবাও। সারা ক্ষণ বলছেন, 'এটা করিস না, ওটা করিস না, সাবধানে থাক। ২০১৯-এর শেষ থেকে শুরু হয়েছিল ভাল সময়। 'মিতিন মাসি'-র দুর্দান্ত সাফল্য এবং ঠিক তার কিছুদিন পরেই কোয়েলের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর। সোশ্যাল মিডিয়ায় সুখবরটি নিজেই পোস্ট করলেন কোয়েল। 'জীবনে ওঠাপড়ার মধ্যেই নতুন জীবনের শব্দ ভিতরে শুনতে পাচ্ছি আমি। এই গ্রীষ্মে আমাদের সন্তান আগমনের অপেক্ষায় আমরা।' এই উদ্ধৃতির পর একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন কোয়েল- আশীর্বাদ। বেশ কিছুদিন ধরেই কোয়েলেরমা হওয়া নিয়ে জল্পনায় ছিল টলি মহল।কেউ বলতেন 'মিতিন মাসি'-র সাফল্যের পর তিনি এ বার পুরোপুরি মন দেবেন কেরিয়ারে। কিন্তু ২০২০-তে কোয়েল-রানে রুপোলি পর্দায় নয়, দাম্পত্যে রূপকথা বুনবেন। তাহলে কি পিছিয়ে যাবে মিতিন মাসির শ্যুট? কী বলছেন পরিচালক অরিন্দম শীল? ''আমরা সেই মতোই প্ল্যান করেছি। কোয়েলের সব কিছু সুষ্ঠু ভাবে মেটার পর জুলাই মাস থেকে ওর আবার ফ্লোরে ফেরার কথা।''
2
ঢাকা টেস্ট খেলতে পারবেন না সাকিব আল হাসান। খবরটা আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। এবার চোটে পড়ে দল থেকে বেরিয়ে গেলেন চট্টগ্রাম টেস্টের অন্যতম পারফরমার সাদমান ইসলামও। চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন ফিল্ডিং করার সময় নিতম্বে চোট পান সাদমান। মনে করা হচ্ছিল, সেই চোট থেকে সেরে উঠতে পারবেন তিনি। বিসিবির মেডিকেল দলের পূর্ণ তত্ত্বাবধানেই ছিলেন তিনি। কিন্তু বিসিবির মেডিকেল দলই তাঁকে চট্টগ্রাম টেস্টে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার কথা বলেছে। ঢাকা টেস্টে খেলতে না পারায় এখন জাতীয় দলের জৈব সুরক্ষা থেকে বেরিয়ে যাবেন সাদমান। বিসিবি মেডিকেল দলের পরামর্শ অনুযায়ীই চলবে তাঁর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনই ওপেনার সাদমানের ব্যাট থেকে এসেছিল ৫৯ রানের এক ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য তাঁর ব্যাট সেভাবে কথা বলেনি।
12
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৩৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৮৯৭ জনের দেহে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৭ জনে। সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৯৭৬ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ১৪ হাজার ৬৬৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় ২৪ হাজার ৮৩৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২৪ হাজার ৬০৫টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের ৩.৬৫%। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। এদের মধ্যে ঢাকায় ২, চট্টগ্রামে ১ এবং খুলনায় ১ জন মারা গেছেন।
6
দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ তিন লেখকের নামে মামলার আবেদনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বুধবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোটের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা সিপিবির সভাপতি কমরেড মুজহাদিুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা শিশু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী) ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক কমরেড ফখরুদ্দিন কবীর আতিক ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি কমরেড হামিদুল হক এই বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, লেখকদের নামে মামলা দিয়ে মুক্তিবুদ্ধি, চিন্তা ও বাকস্বাধীনতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপের বহিপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। তারা বলেন, গণবিচ্ছিন্ন সরকার এখন গাছে পাতা পড়লেও ভয়ে চমকে উঠছে। ফলে মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়ায় তৎপর রয়েছে। বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতেই মুক্ত চিন্তার মানুষের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। চট্টগ্রামভিত্তিক লেখক-সাহিত্যিকদের সংগঠন চট্টগ্রাম একাডেমির প্রকাশনায় অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। ওই লেখায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তি করা হয়েছে অভিযোগ করে মঙ্গবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন কর্মী।
6
রাজধানী পানামা সিটির লা জয়িতা কারাগারে মঙ্গলবার নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ১২ বন্দী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পানামানিয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গোলাগুলির ঘটনা একটি ছোট কক্ষে হয় যেখানে স্থানীয় গ্যাংয়ের বন্দীদের রাখা হয়েছিল। বন্দুকযুদ্ধের পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি পিস্তল এবং তিনটি রাইফেল পাওয়া গেছে। অস্ত্রগুলো কারাগারে পাচার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতীয় পুলিশের সহকারী পরিচালক আলেকিস মুউজ বলেছেন, এ ধরনের পাচার দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং 'কারাগারের ভেতরে অস্ত্র পাওয়ার অনেকগুলো উপায় রয়েছে।' স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে কোনো প্রহরী বা কারাগারের কোনো সৈন্য আহত হননি এবং কোনো বন্দীর পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।সূত্র : ইউএনবি
3
চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জি কে শামীমের নাম দলের কোনো কমিটিতে নেই বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় সমবায়বিষয়ক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে জি কে শামীমের নানা অপকর্ম চালানোর খবর প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে এমন বক্তব্য দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। শুক্রবার আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ জেলা কিংবা মহানগর আওয়ামী লীগের তালিকায় জি কে শামীম নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই। ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট অনুমোদিত নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির অনুলিপি দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে জি কে শামীম নামে কেউ নেই। তাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতাই নেই। বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, জি কে শামীমকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য খবর পরিবেশিত হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সত্য নয়। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়-এমন কোনো তথ্য প্রকাশের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাই এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধও জানান তিনি। 'টেন্ডার শামীম' নামে পরিচিত জি কে শামীম শুক্রবার দুপুরে র্যাবের অভিযানে রাজধানীর নিকেতনের নিজ অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, মদ ও অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন। শামীমের সঙ্গে তার সাত দেহরক্ষীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। জি কে শামীম এক সময় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ডান হাত ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভোল পাল্টে যুবদল ছেড়ে যুবলীগের দিকে ভেড়েন। পরে নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পরিচয় দিতে শুরু করেন। ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে সরকারি কাজের টেন্ডার বাগিয়ে নিতেন তিনি। ছয়-সাতজন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে চলতে শুরু করায় আলোচনা-সমালোচনাও হয় তাকে নিয়ে।
9
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) পদ থেকে বিদায় নিচ্ছেন সামীম মোহাম্মদ আফজাল। তার স্থলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আঃ হামিদ জমাদ্দারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইফায় নিয়োগ পেয়েছিলেন জেলা জজ সামীম আফজাল। পরে দুই দফা তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। সোমবার ৩০ ডিসেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আরো এক মেয়াদে নিয়োগ পেতে তিনি আগ্রহী ছিলেন। সামীম আফজালের সময়ে দুর্নীতি, অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে বহুবার খবরে শিরোনাম হয় ইফা। গত ১০ বছরের নিরীক্ষায় (অডিট) প্রতিষ্ঠানটিতে ৭৯৬ কোটি অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের তীর সামীম আফজালের দিকে। ইতিমধ্যে ইফার ৯ সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বেতন ভাতার তথ্য তলব করেছে দুদক। চলতি বছরে সামীম আফজালের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিক্ষোভ করেন ইফার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ ছিল, ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন ডিজি। কর্মকর্তাদের কথায় কথায় শাস্তি দেন সামীম আফজাল। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পিলার ভেঙে ফেলা আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় একজন উপ-পরিচালককে বরাখাস্ত করা হয়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীও মুখ খোলেন ডিজির বিপক্ষে। পরে ইফা বোর্ড অব গভর্নরস সামীম আফজালের ক্ষমতা খর্ব করে। বিধি ভেঙে ভাগ্নে, ভাতিজা, শ্যালিকাসহ অর্ধশত আত্মীয়কে নিয়োগ, রাতের বেলায় পরীক্ষা নেওয়া, পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীকে বাদ দেওয়া, পরীক্ষা-বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ২৬৭ জনকে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ মাথায় নিয়ে বিদায় নিতে হচ্ছে সামীম আফজালকে। নিরীক্ষায় তার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরান না ছাপিয়ে টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সমকালকে বলেছেন, অডিট আপত্তি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ব্যাপারে আইন ও চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবসরে গেলেও ছাড় পাবে না।
6
উপকূলীয় এলাকার জনগণকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২৫ মে) দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আবহাওয়াবিদরা যদিও বলেছেন ঘুর্ণিঝড় 'ইয়াস' গতিপথ পরিবর্তন করে ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবে এর প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চল বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষিরা, ভোলাসহ অন্যান্য এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস হতে পারে। এতে ক্ষয়-ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিবৃতিতে তিনি ঐসকল এলাকার জনগণের প্রতি নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার আহবান জানান। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি সর্তক থাকা ও উপকূলবর্তী এলাকার জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনার জন্য আহ্বান জানান। তিনি স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রেখে জনগণের সহযোগিতায় এগিয়ে আসারও আহবান জানান।
6
সড়ক দুর্ঘটনার একটি মামলা তদন্তে মোটরসাইকেল চালিয়ে উত্তরার দিকে যাচ্ছিলেন গুলশান থানার এসআই কামরুল ইসলাম। তবে তার আর গন্তব্যে পৌঁছা হয়নি। বিমানবন্দর এলাকায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। বুধবার রাতের ওই দুর্ঘটনায় ফাতিহা সুমি (৩৮) নামে এক নারীও নিহত হন। তবে পুলিশ বলছে, একই এলাকায় দুর্ঘটনা হলেও দু'জন একই মোটরসাইকেলে ছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে দুর্ঘটনায় দায়ী যানটিকে এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ জন্য ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ সমকালকে বলেন, দুর্ঘটনার ব্যাপারে সব তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তদন্ত এগিয়ে চলছে। শিগগিরই বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্ত্রী শিরীন আক্তার ও আড়াই বছরের মেয়েকে নিয়ে গুলশানের নর্দা এলাকার বাসায় থাকতেন এসআই কামরুল। বুধবার রাত ১১টার দিকে তিনি বিমানবন্দর এলাকায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) কার্যালয়ের পাশে দুর্ঘটনার শিকার হন। কোনো একটি যানের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়েন। যানটির চাকার নিচে পড়ে তার মাথা থেঁতলে যায়। পরে পুলিশ তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক জানান, আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে একই সময় একই এলাকায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত গৃহবধূ ফাতিহা সুমিকে বুধবার মধ্যরাতের পর ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিমানবন্দর থানার এসআই তাইজ উদ্দিন জানান, সুমি তার স্বামী কাজী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরা-৭ নম্বর সেক্টরে ৩৩ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর বাড়িতে থাকতেন। কোন যানের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান জানান, একই দুর্ঘটনায় দু'জনের মৃত্যু কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসআই কামরুল দুর্ঘটনার মামলা তদন্তের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। ওই নারী তার সঙ্গে ছিলেন বা পথে তাদের দেখা হয়েছে কিনা, জানা যায়নি। তবে আশকোনায় ওই নারী ও তার স্বামীর মালিকানাধীন একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে হয়তো কামরুল ওই নারীর সঙ্গে দেখা করে থাকতে পারেন। তদন্তে এসব বেরিয়ে আসবে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিহত কামরুলের খালাত ভাইয়ের স্ত্রী ছিলেন সুমি। সেই সূত্রে তারা পরস্পর পরিচিত ছিলেন। তারা ব্যক্তিগত কাজে একসঙ্গেই কোথাও যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সুমিকে প্রথমে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ কারণে দু'জন আলাদা দুর্ঘটনায় মারা যান বলে প্রথমে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কামরুলের ভাই জহুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, সুমি তাদের আত্মীয় নন। কামরুলের সঙ্গে হয়তো তার পরিচয় ছিল। এ ব্যাপারে তাদের বিস্তারিত জানা নেই। পুলিশ জানায়, কামরুলের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায়। বাদ জোহর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে জানাজার পর তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।
6
বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের ৬৬তম জন্মদিন ছিলো আজ বুধবার। তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফার অভিভাবক জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এএফসির সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও শুভেচ্ছা জানান বাফুফের সভাপতিকে। ইনফান্তিনো শুভেচ্ছা বার্তায় লিখেছেন, আজকের বিশেষ এই দিনে আপনার জীবন খুশিতে ভরে উঠুক। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে আপনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে তা কামনা করি। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
12
ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খাঁ দুটো জিনিসই জানতেন। দিনভর রেওয়াজ আর দমভোর খাওয়া। মসলাবিহীন ঘি-তেলবর্জিত রান্না খাওয়ার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয় বলে মনে করতেন। নিজ হাতে যে বিরিয়ানি রান্না করতেন, তা ধুর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছেলে কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে রামপুরের নবাবের বাবুর্চিখানার কথা মনে করিয়ে দিত। শাস্ত্রীয় সংগীত নিয়ে তাঁর লেখালেখি ধ্রুপদি বলে আখ্যা পেয়েছে।বড়ে গুলাম আলী খাঁর বাড়ির মেনুতে খাস আইটেম থাকত তাঁরই হাতের রান্না বিরিয়ানি। তাতে থাকত বাদাম, আখরোট, জায়ফল। ঘি আসত লুধিয়ানা থেকে।খাওয়া আর ঘুমানো ছাড়া যে সময়টা, তার সবটাতেই তাঁর হাতে থাকত স্বরমণ্ডল। সামনে যা কিছু দেখতেন, তা গানের উপমা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারতেন।মুম্বাইয়ে যখন থাকতেন, তখন নিয়মিত চৌপাটিতে গিয়ে পানের দোকানের সামনের বেঞ্চে বসে সূর্যাস্ত দেখতেন। দেওধর সাহেবের সঙ্গে দেখা হলে অবধারিতভাবে গানের কথা উঠত। সুর সাধলে জমা হয়ে যেত গোটা তিরিশেক মানুষ। তখন খাঁ সাহেব বলতেন, 'যারা আমাদের গান আর কথাবার্তা শুনছে, তারা তো কেউ এই পানওয়ালার কাছ থেকে কিছু কিনছে না। পানওয়ালার লোকসান হয়ে যাচ্ছে।' বলে নিজেই তিরিশ-চল্লিশজনের পানের অর্ডার করে খাইয়ে দিতেন।অ্যাকুয়ারিয়ামে ছোট ছোট লাল মাছ লেজ নেড়ে ভাসছে দেখে তিনি বলে উঠলেন: 'দেখো, দেখো, বিলকুল দেশি তোড়ি, মপ-রেগ-সারে-নিসা।'হায়দরাবাদে মৃত্যুর রাতে তাঁর ছেলে মুনব্বর ছিলেন শয্যাপাশে। গভীর রাতে দূরে কোথাও নেড়ি কুকুর ডেকে উঠেছিল। বড়ে গুলাম আলী খাঁ মুনব্বরকে বললেন, 'শোনো, শোনো, এই টেব্লফ্যানের আওয়াজকে ষড়জ ধরলে কুকুরের ডাকে তোড়ির রেখাব গান্ধার পাওয়া যাচ্ছে।'আল্লাহর নাম নিয়ে চোখ বোজার আগে এটাই ছিল ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খাঁর শেষ কথা।সূত্র: কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ম্যহ্ফিল, পৃষ্ঠা: ৪১-৪৪
2
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গত মৌসুমের ফাইনালে পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। হৃদয় ভেঙেছিল নেইমার-এমবাপেদের। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে এবার ওই হারের শোধটা কিছুটা তুলল পিএসজি। বুধবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্নের মাঠে ৩-২ গোলে জিতেছে ফরাসি জায়ান্টরা। ফিরতি লেগে হার এড়াতে পারলেই কিংবা ১-০ গোলে হারলেও সেমির খেলা নিশ্চিত হবে নেইমারদের। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় পিএসজির নেতৃত্ব দিলেন এমবাপে ও নেইমার। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে বার্সেলোনার মাঠে হ্যাটট্রিক করে পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন এমবাপে। এবার করলেন জোড়া গোল। দুটি গোলে অবদান রাখলেন নেইমার। তিন মিনিটেই এগিয়ে যায় পিএসজি (১-০)। ডি-বক্সের মুখে ডিফেন্ডারদের ঘিরে থাকা অবস্থায় ডান দিকে বল বাড়ান নেইমার। জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এমবাপে। ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলেও দারুণ অবদান আছে নেইমারের। ২৮ মিনিটে তার উঁচু করে বাড়ানো বল বাঁ পায়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস (২-০)। ৩৭ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় বায়ার্ন। জোরালো হেডে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এরিক ম্যাক্সিম চুপো মটিং (২-১)। গত অক্টোবরে পিএসজি থেকে বায়ার্নে যোগ দেন ক্যামেরুনের এই ফরোয়ার্ড। ৬০ মিনিটে জশুয়া কিমিচের ফ্রি কিকে চোখের পলকে এগিয়ে গিয়ে লাফিয়ে হেডে স্কোরলাইন ২-২ করেন বায়ার্নের তারকা ফরোয়ার্ড থমাস মুলার। এই সমতা অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি। ৬৮ মিনিটে আবারো দলকে এগিয়ে নেন এমবাপে (৩-২)। শেষ ১০ মিনিটে প্রচণ্ড চাপ বাড়ায় বায়ার্ন। দুই মিনিটের ব্যবধানে দারুণ দুটি সুযোগও পায় তারা; কিন্তু সমতায় ফেরা আর হয়নি তাদের। রোমাঞ্চকর এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি। আগামী মঙ্গলবার ফিরতি পর্বের ম্যাচ। সেমিতে যেতে হলে পিএসজির মাঠে কমপক্ষে দুই গোলের ব্যবধানে জিততে হবে বায়ার্নের।
12
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত প্রকৌশল অনুষদের একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি বিষয়ে এক কর্মশালা শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে দু'দিনব্যাপী এ কর্মশালা শুরু হয়। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় আইকিউএসি কনফারেন্স কক্ষে ' , ' শীর্ষক এই কর্মশালা উদ্বোধন করেন রাবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া। দুই পর্বের এই কর্মশালায় রিসোর্সপার্সন হিসেবে আছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি ঢাকার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর মো. আব্দুর রাজ্জাক। সেখানে রাবি প্রকৌশল অনুষদের পাঁচটি বিভাগের একাডেমিক প্রোগ্রামসমূহের এক্রিডিটেশন প্রাপ্তির জন্য সেল্ফ অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট তৈরি ও মূল্যায়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। কর্মশালায় দুই পর্বে প্রকৌশল অনুষদের বিভাগগুলোর ১০০ জন শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই
1
'মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার রক্ষা করবো ভোটাধিকার' এই শ্লোগানে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা চত্বরে বুধবার সকালে জাতীয় ভোটার দিবসের উপলক্ষ্যে র্যালি বের করা হয় । এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এম শামসুজ্জামান, উপজেলা প্রকৌশলী বিপ্লব পাল, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা।
6
কানাইঘাটে বন্য শুকরের আক্রমণে চারজন আহত হয়েছেন। গত শনিবার (১২ মার্চ) বেলা ১টার দিকে উপজেলার ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালিজুরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ একটি বন্য শুকর বেপরোয়াভাবে কালিজুরি গ্রামের নুরুল হকের ওপর আক্রমণ চালায়। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হন আরও তিনজন।আহতরা হলেন- উপজেলার কালিজুরি গ্রামের আব্দুল গফুরের (মৃত) ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল হক মড়া (৭০), একই গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে শাহীন আহমদ (২২), তাঁর ভাই শমসের আলম (৩২) ও পৌরসভার বায়মপুর গ্রামের বশির আহমদের (মৃত) ছেলে মোস্তফা কামাল (৫০)।আহতদের উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।স্থানীয়দের ধারণা, শুকরটি কোনো শিকারির ধাওয়া খেয়ে লোকালয়ে চলে এসে লোকজনের ওপর আক্রমণ করে। পরে এলাকার লোকজন শুকরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
7
ভারতীয় উপমহাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার বাপ্পি লাহিড়ি মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে অবসট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুরকার ও গায়ক বাপ্পি লাহিড়ি। হাসপাতাল সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, গত প্রায় একমাস তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সোমবারই বাড়ি ফেরেন বাপ্পি। কিন্তু মঙ্গলবার আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরিবারিক চিকিৎসক তাকে ফের ক্রিটিকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সেই হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গতবছর এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন এ সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ জানিয়েছে, চোখে সোনালি স্বপ্ন নিয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সে মুম্বাই যান গায়ক ১৯৭৩ সালে হিন্দী ভাষায় নির্মিত নানহা শিকারী ছবিতে তিনি প্রথম গান রচনা করেন। এরপর তাহির হুসেনের জখমী (১৯৭৫) চলচ্চিত্রে কাজ করেন। কিশোর কুমারের গলায় জালতা হ্যায় জিয়া মেরে অথবা লতার গলায় বাপ্পির সুরে আভি আভি থি দুশমানি... আজও অমলিন সেই সুর। ১৯৭৫-এ বাপ্পির হিট হিসেবে প্রথম বড় ছবি কিন্তু জাখমিকেই বলা যায়। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সুনীল দত্ত, আশা পারেখ, রাকেশ রোশন, রীনা রায়সহ অনেকে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক সুপার ডুপার হিট গান দিয়ে মন জয় করেছেন অগণিত ভক্তের।
2
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। এমনকি নতুন সেতু ও ওলিপুর এলাকায় সড়কগুলোতে গাড়ি পার্কিং আর সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়ছেন বাজারে আসা মানুষেরা। এদিকে সড়ক বিভাগ বলছে, ভোগান্তি নিরসনে শিগগির এসব অবৈধ দখলদাকে উচ্ছেদ করা হবে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার নতুন ব্রিজ পয়েন্ট একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান। মাধবপুর উপজেলা ছাড়া সিলেট বিভাগের মানুষের সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগের স্থান এই পয়েন্ট। এ কারণে প্রতিদিন এখানে কয়েক শ গণপরিবহন যাত্রী ওঠানামা করে। পাশাপাশি এখানে রয়েছে অন্তত চারটি অটোরিকশার স্ট্যান্ড।অথচ এ সড়কের দুই পাশে রয়েছে ফল ও ভ্যারাইটিজ দোকান। কোনো কোনো দোকানি আবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য বাইরে রাখার কারণে দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েক গুণ।অপর দিকে ওলিপুর পয়েন্টের অবস্থাও একই। সেখানে গড়ে উঠেছে অন্তত ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারখানা। এসব কারখানায় কাজ করেন অন্তত ৫০ হাজার শ্রমিক। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিকেরা সেখানে বাসাভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। এতে ওলিপুর হয়ে উঠেছে একটি পরিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। এত মানুষের জন্য সেখানে নির্দিষ্ট কোনো বাজার না থাকায় মহাসড়কের দুই পাশ দখল করে বসছে অস্থায়ী বাজার।সকালে শ্রমিকদের কারখানায় যাওয়া এবং বিকেলে ফেরার সময় ওই স্থানে সৃষ্টি হয় যানজট। এতে ভোগান্তির শিকার হতে হয় শ্রমিকদের। যানজটের কারণে ঠিক সময় কারখানায় পৌঁছতে পারছেন না অনেক শ্রমিক।শহরের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, 'প্রতিদিন প্রধান সড়কে সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকে। এ ছাড়া কোম্পানিরসহ আরও বিভিন্ন গাড়ি চলাচলের কারণে সকাল-বিকেল এখানে যানজট লাগে। এতে যাতায়াতে সমস্যা হয়। দ্রুত এসব অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড এখান থেকে উচ্ছেদ করার দাবি জানাই।'স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মঈনুল হক বলেন, 'সড়ক বিভাগ এর আগেও দুবার উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু কিছুদিন গেলেই আবারও অবৈধ দোকানপাট বসে যায়। প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়া উচিত। যেন একবার উচ্ছেদের পর আবার নতুন করে কেউ বসতে না পারে। প্রয়োজনে এখানে একটি স্থায়ী বাজার তৈরি করে দেওয়া হোক।'এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, 'এর আগেও আমরা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। কিন্তু নতুন করে আবারও সেই জায়গাগুলো দখল হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে নতুন করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানোর জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অচিরেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। ইতিমধ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকা করা হয়েছে।'শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল আরও বলেন, 'শিগগির ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হবে। তাহলে আর কেউ নতুন করে অবৈধ স্থাপনা বসাতে পারবে না।'
6
আগৈলঝাড়ায় রত্নপুরের একটি সেতুর মাঝে গর্ত হয়ে রড বের হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। জরাজীর্ণ সেতুটি বানানোর পর ত্রিশ বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের উদ্যোগে নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন।সেতু দিয়ে লোকজন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছেন। উপজেলা এলজিইডি অফিস এই সেতু সংস্কারের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রামের সরকার বাড়ি সংলগ্ন খালের ওপর ত্রিশ বছর পূর্বে এই সেতুটি বানানো হয়। নির্মাণের ৫-৬ বছর পর থেকেই বিভিন্ন স্থান ভেঙে রড বের হতে থাকে। এখন বেশ কয়েক জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।ওই গর্তের কারণে সেতু দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কখনো-কখনো ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে। ওই সেতু দিয়ে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন শত শত লোকজন চলাচল করছে। বিশেষ করে, রাতে সেতু পাড় হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছেন বেশি।সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুপাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওপরের ঢালাই ধসে পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা রনজিৎ বাড়ৈ জানান, কৃষি মৌসুমে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক শ একর জমির ফসল আনা নেওয়া করা হয় এই ভাঙা সেতু দিয়ে। এতে কৃষকদের বড় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।একই গ্রামের সুবল চৌধুরী ও অনিক বাড়ৈ জানান, সেতুটিতে মানুষ উঠলে কাঁপতে থাকে। অথচ এটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাথা ব্যথা নেই। কয়েক বছর যাবৎ শুনি সেতুটি মেরামত করা হবে, কিন্তু কবে হবে তা কেউই বলতে পারে না।রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা সরদার বলেন, পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রামের পাশে অবস্থিত এই সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি বেহাল। সেতুটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
গাজীপুরের টঙ্গীতে পথের কাটা এখন অটোরিকশা আর ইজিবাইক। সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ থাকার পরও ব্যাটারিচালিত এসব গাড়ি চলছে এলাকাজুড়ে। এসব গাড়ি শুধু সড়কে চলাচলে বাধা দেওয়া ছাড়াও অনেকের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে অনেক সময়। টঙ্গীতে কত হাজার গাড়ি রয়েছে এর সঠিক তথ্য কারো কাছে নেই। প্রতিদিন বাড়ছেই আর মানুষ সড়ক মহাসড়কে চলতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসন কর্তৃক এসব বন্ধে যথাযত ব্যবস্থা না নিলে এর ভয়াবহতা আরো বাড়বে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট মহল। স্থানীয় বাসিন্দা রাজিবুল হাসান রাজিব বলেন, এসব গাড়ি বিশৃঙ্খলভাবে চলাচলের কারণেরাস্তায় যানজট তৈরি হচ্ছে। নিয়মনীতির কোনো বালাই মানছেন কেউ। এ ব্যাপারে ট্রাফিক টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জয়জুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এসর গাড়ির সিট নিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ডাম্পিং করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না। এসব গাড়ি আটক করার সাথে সাথে স্থানীয় নেতাকর্মীদের তদবির শুরু হয়। যে কারণে আমরা কিছু করতে পারছি না। এসব বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
সিলেট জেলা পুলিশ লাইনসের বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এতে সভাপতিত্ব করেন।এইমস হেলথ কেয়ার বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতায় ক্যাম্পে ভারতের চেন্নাইয়ের কাভেরী হাসপাতালের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এলেনকুমারান, ইউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট জিবাগান মুরুগেসান ও নিউরোলজি অ্যান্ড স্পাইন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ভুবনেশ্বরী রাজেন্দারন এই সেবা দেবেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার নূরুল ইসলাম, সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মাহফুজ আফজাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান, বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পুলিশ সদস্য ও জনসাধারণকে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা দিতে আগামী দুই দিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রোগী দেখবেন। দুই দিনের এই ক্যাম্পে ৩৬০ জন পুলিশ সদস্য ও ২৫ জন সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা পাবেন।
6
জাতীয় সংসদের অধিবেশন আবার শুরু হয়েছে গত বুধবার। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকল্প কিছু আপাতত কেউ ভাবছেন না। সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই হলো প্রাণ। এটিই হবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনা এবং বিতর্কের কেন্দ্র-এ নিয়ে সমাজে দ্বিমত নেই। পরিপূর্ণ মানবদেহে যেমন দুটি চোখ থাকে, সাংসদদেরও তা-ই থাকার কথা, যদি সবকিছু স্বাভাবিক গতিতে চলে। এই দুটি চোখ হলো সরকারি দল এবং বিরোধী দল। দুটি চোখ দিয়ে সমাজের পুরো ছবিটা দেখা যায়। একটি চোখ না থাকলে ব্যবস্থাটি হোঁচট খায়, কার্যকর হয় না। আমাদের জাতীয় সংসদে বিরোধী দল আছে, আবার বিরোধী দল নেই। ২০১৪ সাল থেকেই এ অবস্থা চলে আসছে। কেউ কেউ বলেন, ভালোই তো। ঝগড়াঝাঁটি নেই, একে অন্যকে গাল দেয় না, শূন্যে ফাইল ছুড়ে মারে না। যখন-তখন ওয়াকআউট নেই। অর্থাৎ, আমাদের রাজনীতির যে অভ্যাসটি দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে তো মুক্তি পাওয়া গেল। তবে ঝগড়া বা গালমন্দ যে একেবারে থেমে গেছে, তা বলা যাবে না। সরকারি দলের সাংসদদের লক্ষ্য এখনো বিএনপি। দলটি এবং তার শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁরা অনবরত বলে যাচ্ছেন, বিএনপি সংসদে না থেকেও আছে। এটিকে বলা যায় ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ। বিএনপি থেকে যে ছয়জন সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বা যে ছয়জনকে জিততে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যেই শপথ নিয়েছেন। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও আরও কয়েকজন লাইনে আছেন বলে শোনা যাচ্ছে। সব হিসাব-নিকাশ ও পূর্বাভাস মিথ্যা প্রমাণ করে তাঁরা যদি সংসদে গিয়ে হাজির হন, তাহলেও দলটির অবস্থার হেরফের হবে না। বরং সংসদে না গিয়েও তাঁরা 'প্রকৃত বিরোধী দলের' যে 'মর্যাদা' পাচ্ছেন, সংসদে গেলে হয়তো সেটাও হারাবেন। রাজনীতিবিদেরাই তো আকছার বলে থাকেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। গত ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে আওয়ামী ও বিএনপি উভয় বৃত্তের অনেককেই দেখা গেছে পল্টি খেয়ে বিগত দিনের শত্রুকে আঁকড়ে ধরতে। তবে এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। অতীতেও এমনটি ঘটেছে বারবার। বাঙালি রাজনীতি অন্তঃপ্রাণ। রাজনীতি ছাড়া বাঙালির চলে না। পেটে ভাত না থাকলেও রাজনীতি ছাড়ে না। বাঙালির জীবন রাজনীতিময়। একটু এদিক-সেদিক হলেই চারদিকে শোরগোল ওঠে। 'বিরাজনীতিকরণ' হচ্ছে বলে মাতম শোনা যায়। এখন তো রাজনীতির রীতিমতো কৃষ্ণপক্ষ চলছে। ফুটবল খেলায় প্রতিপক্ষ না থাকলে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে সুখ পাওয়া যায় না। এখন অবস্থা অনেকটা সে রকম। যে রাজনীতি বাঙালির দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অংশ, সেটিই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। জনজীবনে সমস্যার অন্ত নেই। বেশির ভাগ সমস্যা হলো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার। খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায়, নানান সমস্যা নিয়ে সংবাদ শিরোনাম। অন্তহীন জনভোগান্তি। তো, এসবের প্রতিকার হবে কীভাবে? মানুষ আশা করে, তাদের হয়ে রাজনীতিবিদেরা এসব কথা বলবেন, সরকার ও রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করবেন। কিন্তু রাজনীতিবিদেরা জনদুর্ভোগ নিয়ে তেমন সোচ্চার নন। সরকার কিংবা বিরোধী দল, সবাই যেন ছায়ার সঙ্গেই যুদ্ধ করে চলেছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কহীন বায়বীয় সব কথাবার্তা বলে দায়িত্ব সারছেন। সরকারি দলের লোকদের কথা শুনলে মনে হয়, দেশে তেমন কোনো সমস্যা নেই। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দ্রুতগতিতে চলছে, আমরা বিশ্বের রোল মডেল হয়ে গেছি। এ নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন তাঁরা। বিরোধী দলের কথা শুনলে মনে হয়, তাদের সরকারে বসিয়ে দিলেই মুশকিল আসান হবে। তারা কখনোই তাদের অতীতের স্কোর কার্ড খুলে দেখে না। এখানে কেবল দল নয়, রাজনীতি যেন জবাবদিহির বাইরে চলে গেছে। এ রকম একটি প্রতিকূল অবস্থায় নাগরিকদের প্রতিবাদের ভাষা বদলে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলের ওপর ভরসা কমে যাওয়ায় তাঁরা নিজেরাই নিজেদের শক্তিতে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি জনবিক্ষোভে এর প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার কিংবা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্ররা দলে দলে বেরিয়ে এসেছে। রাজনীতির বাইরে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যূথবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রতিবাদের এই ভাষার প্রবল উপস্থিতি আমরা প্রথমে দেখেছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগের জমায়েতে। তবে আশঙ্কার কথা হলো, এ ধরনের বিক্ষোভ-আন্দোলনে রাজনৈতিক লাভালাভের জন্য দলগুলোর মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এসব আন্দোলনের সমর্থন বা বিরোধিতার মধ্য দিয়েই তারা তাদের রাজনীতির স্বরূপটি তুলে ধরে। নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানানোর একটা বড় মাধ্যম হলো সড়কের পাশে মানববন্ধন। বুকের কাছে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া। যার যা কথা, সে তো প্ল্যাকার্ডেই লেখা আছে। শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কটি তো এখন রীতিমতো 'মানববন্ধন চত্বর'। প্রশ্ন হলো, এ ধরনের প্রতিবাদের ভাষা কর্তৃপক্ষ বোঝে কি না, কিংবা আমলে নেয় কি না। কয়েক দিন হলো ঢাকার সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাঁদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে পথে নেমে এসেছেন। অভিযোগের তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সাতটি কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতামুক্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসার সময়ও টানাপোড়েন লক্ষ করা গিয়েছিল। তখন গুঞ্জন ছিল, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দ্বন্দ্বের বলি এই সাত কলেজের লাখের বেশি শিক্ষার্থী। মনে হয় সমস্যাটি এখনো রয়ে গেছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা দিন দিন বাড়ছে না কমছে, সেটিই একটি প্রশ্ন। গত কয়েক দিন গণমাধ্যম তোলপাড় ছিল ওয়াসা নিয়ে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিআইবির একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে বলে দিলেন, ওয়াসার পানি সুপেয়। তবে তিনি এটি সরাসরি পান করেন না, ফুটিয়ে পান করেন বা বোতলজাত পানি পান করেন। এ নিয়ে এক অভিনব প্রতিবাদের আয়োজন করেছিল ঢাকার জুরাইনের মিজানুর রহমানের পরিবার। তারা ওয়াসার কলের পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে ওয়াসা অফিসে নিয়ে এসেছিল এমডি সাহেবকে আপ্যায়ন করার জন্য। এমডি সাহেব আর অফিসমুখো হননি। কিন্তু বিষয়টি নাগরিক মনকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে এবং আমাদের সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির জায়গাটির দিকে বিরাট একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছুড়ে দিয়েছে। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জিতে ১৪-দলীয় জোট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠন করার পর মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। ভেবেছিল, জনজীবনে স্বস্তি আসবে। আসেনি। সব জায়গায় দুর্বৃত্তায়নের ছোবল দেখা গেছে। ওই সময় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান একটি মন্তব্য করেছিলেন-দেশ এখন বাজিকরদের হাতে। তিনি কোনো দল বা কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু 'ঠাকুর ঘরে কে রে', যেন এই সংকেত পেয়ে জনৈক মন্ত্রী গায়ে পড়ে বিচারপতি হাবিবুর রহমানকে লক্ষ্য করে অসৌজন্যমূলক কথা বলেছিলেন। কয়েক দিন আগে জাতীয় সংসদের সদস্য রাশেদ খান মেনন ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, দেশে এখন লুটেরাদের রাজত্ব। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ ট্রল হচ্ছে। এত দিনে তাঁর এ উপলব্ধি হলো? এ যেন 'অতি পুরাতন কথা নব আবিষ্কার।' মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক[]
8