text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
কোভিড-১৯ সারা বিশ্বের শ্রমবাজারকে অস্থির করে ফেলেছে। এতে বৈশ্বিক জনশক্তির সংকট তৈরি হয়েছে। নয়াদিল্লি ও ঢাকার মতো বড় বড় শহর থেকে কাজ হারিয়ে লাখ লাখ মানুষ গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি বিদেশি বংশোদ্ভূত শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (আসিয়ানভুক্ত) দেশগুলোতেও শ্রমিকসংকট দেখা দিয়েছে। হো চি মিন সিটির ওপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার পর শহর থেকে রেকর্ড সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক বেরিয়ে গেছে। ফলে সেখানে শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উচ্চ আয়ের কিছু দেশ এশিয়ার শ্রমিকদের আবার কাজে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো আসিয়ানভুক্ত কিছু দেশ এখন বিদেশি দক্ষ শ্রমিক ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। কেননা তাঁদের মজুরি দেওয়া চাকরিদাতাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর কৃষিশ্রমিকদের জন্য একটি বিশেষ ভিসা স্কিম ঘোষণা করায় অনেক দেশ, বিশেষ করে মালয়েশিয়া বড় ধরনের চিন্তায় পড়ে গেছে। এ স্কিমের আওতায় অস্ট্রেলিয়ার জনশক্তি আমদানিকারকেরা এশিয়া থেকে দক্ষ, আধা দক্ষ এবং সম্পূর্ণ অদক্ষ শ্রমিক দীর্ঘ মেয়াদে আনতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে শ্রমিক সুরক্ষার মান বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এশিয়ার শ্রমিকেরা অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে যেতে আগ্রহী হবেন। প্রথম দফায় এশিয়া থেকে আগামী মাসেই অস্ট্রেলিয়ায় শ্রমিকেরা যাবেন। দ্বিতীয় দফায় যাবেন আগামী বছরের মার্চে। মালয়েশিয়ার নতুন নির্বাচিত সরকার প্রাথমিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার এ স্কিমে যোগ দিতে রাজি হয়নি। তাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনা হয়। বিরোধী দলগুলো সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানানোর পর সরকারের তরফে জানানো হয় মালয়েশিয়ার কোনো শ্রমিক যদি বিদেশে চাকরি করতে যেতে চান, তাহলে তারা তাতে বাধা দেবে না। অস্ট্রেলিয়ার এ ভিসা প্রকল্পে মালয়েশিয়ার দুশ্চিন্তায় পড়ার বেশ কিছু কারণ আছে। প্রথমত, মালয়েশিয়ার নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, এতে মালয়েশিয়ার শ্রম খাত মেধাসংকটে পড়ে যাবে। কারণ, এমনিতেই মালয়েশিয়ার ২০ লাখের বেশি শ্রমিক বিদেশে কাজ করছেন। এই ২০ লাখের একটা বড় অংশ কাজ করছেন প্রতিবেশী দেশ সিঙ্গাপুরে। যেহেতু অস্ট্রেলিয়া এখন আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর শ্রমিকদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি ও নাগরিকত্ব দিতে চেয়েছে, সে কারণে মালয়েশিয়া তার কৃষিশ্রমিকদের একটি বড় অংশ হারানোর চিন্তায় পড়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, কোভিড-১৯-এর কারণে মালয়েশিয়ায় অদক্ষ শ্রমিক আমদানি কমানোর জন্য দেশটিতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। স্থানীয় নাগরিকেরা বিদেশি অদক্ষ শ্রমিক ঢুকতে দিতে চাইছেন না। অথচ অস্ট্রেলিয়া সরকার আসিয়ানভুক্ত দেশের দক্ষ এবং অদক্ষ শ্রমিক নিচ্ছে। সর্বশেষ দিক হলো, মালয়েশিয়ার খামারিরা দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের খামারিরা বিদ্যমান মজুরিতে এ খাতে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। তবে তাঁরা অস্ট্রেলিয়ার আকর্ষণীয় বেতনে এ খাতে কাজ করতে রাজি আছেন। এতে মালয়েশিয়া চাপে পড়েছে। মালয়েশিয়ার মতোই আসিয়ানভুক্ত অন্য উচ্চ আয়ের দেশগুলোর অবস্থা। এ অঞ্চলের দেশগুলোর শ্রমিকদের অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে যাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া এবার যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তাতে বিদেশি শ্রমিকদের সম্পূর্ণ অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এটি মালয়েশিয়ান শ্রমিকদের অস্ট্রেলিয়ায় যেতে আগ্রহী করছে। এই শ্রমিকেরা চলে গেলে শ্রমিকশূন্যতা তৈরি হবে-এটি মাথায় রেখেই মালয়েশিয়া সরকার নতুন করে বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সম্প্রতি সরকার ঘোষণা করেছে, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশ থেকে কৃষিশ্রমিক নেবে। তাঁরা শিগগিরই দেশটির বিভিন্ন খামারে যোগ দেবেন বলে সরকার জানিয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়ার জন্য বড় সমস্যা হলো, দেশটি থেকে যে দক্ষ শ্রমিকেরা অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাবেন, তা পূরণ করা তার জন্য সংকটে পড়তে হবে। এ সমস্যা শুধু মালয়েশিয়ার জন্য নয়, আসিয়ানভুক্ত অন্য সচ্ছল দেশকেও প্রভাবিত করেছে। ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ কুয়ালালামপুরের ইউনিভার্সিটি অব মালয়-এর উন্নয়ন অর্থনীতি বিষয়ের অধ্যাপক
8
টেসলার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) বিষয়ে দক্ষ প্রকৌশলী পেতে একবার টুইট করেছিলেন ইলন মাস্ক। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক টুইটে জানান, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এআই দিয়ে করতে হবে। আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বিষয়ে দক্ষতা যাচাইয়ে কোডিং বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই কাজের জন্য পিএইচডির প্রয়োজন নেই। হাইস্কুল পাস হলেও চলবে।২০১৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, বিখ্যাত কোনো ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করেছে মানেই সে সব জানে, তা নয়। বিল গেটস ও স্টিভ জবসেরও ডিগ্রি ছিল না। কোনো কোম্পানি তাঁদের নিয়োগ দিলে ভালো কিছুই হতো।মাস্ক নিজেও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিখেছেন ম্যানুয়াল দেখে। তা-ও আবার ১২ বছর বয়সে। নিজের বানানো ভিডিও গেম 'ব্লাস্টার' প্রযুক্তিবিষয়ক এক ম্যাগাজিনের কাছে ৫০০ ডলারে বিক্রিও করেছিলেন।অবশ্য তিনি ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে পদার্থবিদ্যা ও অর্থনীতিতে ডিগ্রি নিয়েছেন। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু দুদিনের মাথায় পিএইচডি প্রোগ্রাম থেকে নাম কেটে ইন্টারনেট স্টার্টআপ তৈরিতে মনোযোগ দেন।সেই থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সফল স্টার্টআপ দাঁড় করিয়েছেন। নিজের প্রতিটি কোম্পানির দৈনন্দিন কাজে তাঁর নজর থাকে। টেসলা ও স্পেসএক্সের ইন্টারভিউ বোর্ডেও থাকেন তিনি।২০১৭ সালে ইলন মাস্ক জানিয়েছিলেন, প্রত্যেককে ইন্টারভিউ বোর্ডে একই প্রশ্ন করেন। এক. কাজ করতে গিয়ে কোন কোন সমস্যা কঠিন বলে মনে হয়েছে?দুই. সমস্যার সমাধান কীভাবে হয়েছে?প্রশ্ন দুটির উত্তর দিয়ে তবেই চাকরি পেয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্স কোম্পানির প্রকৌশলীরা। চাকরিপ্রত্যাশী ব্যক্তি ছোট ছোট বিষয় বিস্তারিত জানেন কি না, তা যাচাই করতেই এ প্রশ্ন বেছে নিতেন মাস্ক। যাঁরা আসলেই কাজ জানেন, তাঁরা একটি বিষয়ের অনেক দিক নিয়ে বিস্তারিত বলতেন। এ বিষয়ে ইলন মাস্ক বলেন, যারা সমস্যার সমাধান করে, তারা বিষয়টি বোঝে। ধাপে ধাপে কী করতে হবে, তা কখনো ভুলে যায় না।২০১৫ সালের দিকে মহাকাশ যান তৈরির কোম্পানি স্পেসএক্সের চাকরিপ্রত্যাশীদের তিনি আরেকটি প্রশ্ন করতেন। প্রশ্নটা হলো, পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে আছেন। এক মাইল দক্ষিণে হাঁটলেন, এক মাইল পশ্চিমে গেলেন এবং উত্তর দিকেও এক মাইল হাঁটলেন। যেখানে শুরু করেছিলেন, সেখানেই পৌঁছালেন। আপনার অবস্থান এখন কোথায়?সঠিক জবাব উত্তর গোলার্ধ। দ্বিতীয় সঠিক জবাব দক্ষিণ গোলার্ধ।জবাব পেলে উত্তর সহজ মনে হতেই পারে। তবে আদতে প্রশ্নটি সহজ নয়। কারণ, জবাবে অনেক প্রকৌশলীই বলেছেন, তাঁরা পৃথিবীতেই থেকে যাবেন, ভাঙা কম্পাসের কারণে তাঁরা যে কোনো জায়গায় পৌঁছাতে পারেন ইত্যাদি।মাস্ক এমনভাবে প্রশ্ন করেন যাতে চাকরিপ্রত্যাশীরা নিজের সম্পর্কে জানানোর সুযোগ পান। কোম্পানি কেন আপনাকে নিয়োগ দেবে? আমি কেন আপনার ওপর আস্থা রাখব?-এ ধরনের প্রশ্নও তিনি করেন।তবে মাস্কের কোম্পানিতে কাজ করতে হলে শুধু দক্ষতাই শেষ কথা নয়। আচরণও ভালো হতে হবে। যত বড় রকেট বিজ্ঞানীই হোক না কেন, আচরণ খুব রূঢ় হবে-এটা বুঝতে পারলে মাস্ক তাকে চাকরি দেন না। মাস্কের মতে, সহকর্মীদের পছন্দ করা জরুরি। নয়তো চাকরিতে এসে আপনার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। যাঁদের সঙ্গে কাজ করা কঠিন, তাঁদের চাকরিচ্যুত করারও নজির রেখেছেন তিনি।বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক এখন বিশ্বের ৫টি নামীদামি প্রযুক্তি কোম্পানি পরিচালনা করেন। এর মধ্যে আছে টেসলা, স্পেসএক্স, নিউরালিংক, দ্য বোরিং কোম্পানি ও ওপেনএআই।সূত্র: ডাইস ইনসাইটসঅনুবাদ: আনিকা জীনাত
1
করোনা সংক্রমণ রোধে আজ রাত ৮টার পর থেকে রাজশাহীর সব দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। শনিবার রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নতুন করে চারজন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে দুজন নারী ও পুরুষ ছিলেন দুজন। আর রামেকে করোনা পরীক্ষার হার ছিল সাড়ে ৬৪ শতাংশ। এর আগে শুক্রবার রাজশাহীতে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৭৪. ৮৪ শতাংশ। শনাক্তের এ উর্ধ্বগতি রোধ করতেই নতুন এই নির্দেশ জারি করা হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় জেলা করোনা ব্যবস্থাপনা কমিটি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। জেলা প্রশাসক জানান, করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের যেসব বিধিবিধান চালু আছে তা বহাল থাকবে। স্বাস্ব্যবিধি মেনে সবাইকে স্বাভাবিক কাজ করতে হবে। এর সঙ্গে নতুন এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।
6
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন,পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ সরকারের কাছে দেশ চালানোর মতো টাকাই নেই। হয়তো আল্লাহ পরিবর্তন চেয়েছেন বলেই এই সমস্যায় ফেলেছেন। দেশটির আমলাদের সাথে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইমরান খান বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাকেই সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার যেমন জনগণের পাশে আছে তেমনি জনগণকেও সরকারের পাশে থাকতে হবে। সরকার যেমন সাধারণ মানুষের দায়িত্ব নেবে, ঠিক তেমনই সাধারণ মানুষকেও সরকারকে আপন করে নিতে হবে। ইমরান খান বলেন,পাকিস্তান বর্তমানে ঋণের বোঝায় ডুবে আছে। পাকিস্তানকে ঋণের বোঝা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। আমাদের নিজেদের ও দেশের দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন। ধর্ম অবমাননা : মুসলিম দেশগুলোর সমালোচনায় ইমরান খানদ্য ডন, ২৭ আগস্ট ২০১৮ ধর্ম অবমাননামূলক বিষয়গুলো বন্ধ করতে না পারাকে মুসলিম দেশগুলোর 'সম্মিলিত ব্যর্থতা' হিসেবে অভিহীত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ধর্ম অবমাননা বন্ধে কোন যথাযথ আন্তর্জাতিক নীতি না থাকার কারণেই তা কমছেনা বলে মনে করেন ইমরান।পার্লামেন্টে দেয়া বক্তৃতায় এসব কথা বলেন এই নেতা। বিষয়টি জাতিসঙ্ঘে উত্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সোমবার পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সিনেটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেয়া প্রথম বক্তৃতায় ইমরান খান বলেন, আমার সরকার বিষয়টি জাতিসঙ্ঘে উত্থাপন করবে। তবে আমার মনে হয় না সেটিই যথেষ্ট হবে। এদিন পাকিস্তান সিনেটে ডাচ নেতা গ্রিট উইল্ডার্সের ধর্ম অবমাননামূলক কার্টুনের প্রতিযোগীতার বিষয়টি জাতিসঙ্ঘের নজরে আনার জন্য একটি প্রস্তাব পাস হয়। নেদারল্যান্ডের ফ্রিডম পার্টির ইসলাম বিদ্বেষী ওই নেতা এ ধরনের একটি প্রতিযোগীতা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। এর আগে গত সপ্তাহে উইল্ডার্সের ঘোষণার বিষয়ে পাকিস্তানের নিয়োজিত নেদারল্যান্ডের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইমরান খান তার বক্তৃতায় বলেন, 'আমারদের সরকার বিষয়টি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিতে বিষয়টি তুলবে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে গ্রহণযোগ্য হয় এমন একটি নীতি গ্রহণ করতে মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানাবে'। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আরো আগেই এটি করা উচিত ছিলো'। এসময় তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার কর্তৃক ইহুদি নিধনের বিষয়ে ভুল তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে চারটি ইউরোপীয় দেশের কঠোরতার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
3
নেছারাবাদের স্বরূপকাঠি পৌরসভায় স্বামী আব্দুল হাকিমের (৪২) চেয়ে তাঁর স্ত্রী সালমা ৬১ বছরের বড়। আব্দুল হাকিম পৌরসভার জগৎপট্টি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল আজিজ মিয়ার ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর।জানা যায়, সালমার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম তারিখ ১৯১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর। তাতে সালমার মোট বয়স ১০৩ বছর ১৪ দিন। আর স্বামী আব্দুল হাকিমের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম তারিখ ১৯৭৯ সালের ১৬ মার্চ। সে হিসেবে আব্দুল হাকিমের বয়স দাঁড়ায় ৪২ বছর ৯ মাস ৩ দিন। তাঁদের পরিচয়পত্র অনুযায়ী স্ত্রী সালমা বেগমের থকে স্বামী আব্দুল হাকিম ৬১ বছরের বড়। বিষয়টি নিয়ে ওই দম্পতিকে গ্রামের প্রতিবেশীরা হাস্যরস করে বেড়াচ্ছেন।ভুক্তভোগী গৃহবধূ সালমা জানান, ওতে তাঁর কোনো সুখ-দুঃখ নেই। প্রকৃতপক্ষে তাঁর বয়স ২২ বছর। সে হিসাবে ওই মহিলার জন্ম তারিখ ১৯৯৮ সালের ৯ ডিসেম্বর।আইডি কার্ড সংশোধন করার প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে ওই গৃহবধূ বলেন, পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য অফিসে গিয়েছিলাম। তিন চার হাজার টাকা লাগবে বলছে। অত টাকা আমাদের নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে অযথা চিন্তা করছি না। লোক যে যা বলুক কিছু করার নেই।এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইউসুফ হারুনের অফিসে গেলে মো. সাবেরুল ইসলাম নামে এক কম্পিউটার অপারেটর বলেন, স্যার ভারতে গেছেন। আগামী মাসের ৫-৬ তারিখের মধ্যে আসবেন।পরিচয়পত্র পরিবর্তনের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই মহিলার আইডি কার্ডের বয়স সংশোধনের জন্য পৌরসভার মেয়রের প্রত্যয়ন, সালমা বেগমের অনলাইন জন্মসনদ কপি ও স্বামীর আইডি কার্ড লাগবে। এ জন্য ব্যাংকে ৩৫০ টাকার পে-অর্ডার দিতে হবে। এ ছাড়া সঠিক বয়স প্রমাণের জন্য সিভিল সার্জনের একটা প্রত্যয়ন লাগতে পারে।নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারেফ হোসেন বলেন, আইডি কার্ড সংশোধনে নিয়ম অনুযায়ী যদি কোনো টাকা পয়সা লাগে তবে তা সংশোধন করে নেওয়া দরকার। নির্বাচন অফিসার ছুটি থেকে কর্মস্থলে ফিরলে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
6
২৮ জানুয়ারি শুক্রবার ছিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। সেদিন সকাল থেকেই এফডিসিতে উপস্থিত ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও নিপুণ পরিষদের প্রার্থীরা। নিপুণের দাবি, সকালে ভোটের মাঠে তাঁর দুই নারী প্রার্থীর সামনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হন। এই সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহীদুল হারুন তাঁর কাছে চুমুর আবদার করেন। নিপুণ বলেন, 'আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হারুনের ব্যাপারে একটা কথা বলতেই হয়। সেই ঘটনার সময় আমাদের দুজন নারী প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। আমি অনেক সকালবেলায় উপস্থিত হয়েছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলছিলেন, আমার কাছ থেকে দুই গালে দুইটা কিস চাচ্ছিলেন। তাঁর ওই গালের মধ্যে দুইটা চড় লাগানো উচিত ছিল।' সংবাদ সম্মেলনে এই চিত্রনায়িকার এমন কথায় সবাই একটু নড়েচড়ে বসেন। মুহূর্তেই নীরবতা। অবাক হয়ে সবার নজর ছিল নিপুণের দিকে। নিপুণ বলতে থাকেন, 'আমাদের নারী প্রার্থী জেসমিন ও শাহানুর তখন ওই খানে ছিলেন। তাঁরা দেখছেন, এই কথাটা যখন আমাকে বলেন। তখনই ওর গালে থাপ্পড় দিয়ে ইলেকশন বন্ধ করে দেওয়া উচিত ছিল। আমরা এই প্রমাণগুলো সব পরে দেখাব। আমার মনে হলো এগুলো সবাইকে জানানো উচিত, কত নোংরামি আমাদের এখানে হচ্ছে।' নিপুণ দাবি করেন, জায়েদ খান একাই ৭৬টি পাস নিয়ে নিজের লোকদের প্রবেশ করিয়েছেন। অথচ ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ পরিষদের খাবার পর্যন্ত ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নিপুণ বলেন, 'আমাদের কোনো সহকারী ছিল না। অথচ জায়েদ, মৌসুমি আপু, মিশা ভাইদের একাধিক সহকারী সঙ্গে এসেছিল। পীরজাদা হারুনের নিয়মকানুন শুধু আমাদের জন্যই ছিল। পীরজাদা হারুন আপনি একজন সরকারি চাকরিজীবী। আমি বলব, তাঁর ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত করতে। পীরজাদা হারুনকে এফডিসির অভিনয়শিল্পীগোষ্ঠী থেকে বাদ দেওয়া উচিত। তাঁকে কোনো অভিনয়ে আর নেওয়া উচিত না।' এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য রোববার সন্ধ্যায় পীরজাদা শহীদুল হারুনকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। নির্বাচনী ফলাফলে অসন্তোষ প্রকাশ করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে আপিল করেছেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী চিত্রনায়িকা নিপুণ। আপিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিপুণ জানান, যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে কারচুপির আশঙ্কা করছেন তিনি। ভোটের হিসাবেও গরমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন। পরে আজ তিনি সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বাতিল চান।
2
রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকায় ইমপিরিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থীকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে রাইদা বাসের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা রাইদা বাস আটকে প্রতিবাদ জানায়।ইমপিরিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানায়, রামপুরা ব্রিজের ওপর তাদের কলেজের একজন আপুকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এক এক করে রাইদা বাসগুলোকে রামপুরা ব্রিজে আটকানো শুরু করে। বাসের চাবি শিক্ষার্থীরা নিজেরদের হেফাজতে রাখে। শিক্ষার্থীদের দাবি, রাইদা বাসের মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তারা তাদের আচরণের কৈফিয়ত চাইবে এবং লিখিত নেবে যে, এমন আচরণ তারা এরপর আর করবে না। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রামপুরা থানার ওসি মো রফিফুল ইসলাম বলেন, 'শিক্ষার্থীরা আমাদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করেই রাস্তায় বাস থামানো শুরু করে। তারা যেভাবে রাস্তার ওপর উঠে আসছিল তাতে কোনো দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারত। আমরা তাদের বলেছি রাইদার মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা করব। বাসের নম্বরটা তারা যদি বলতে পারত, তাহলে আমরা সেই বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। কিন্তু তাদের কাছে সেই বাসের নম্বর নেই।'ঘটনাস্থলে কলেজের পক্ষ থেকে দুজন শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। ইমপিরিয়াল কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. দেলওয়ার হোসেন মৃধা বলেন, 'আমরা শিক্ষার্থীদের বলেছি তোমাদের দাবি যৌক্তিক, তোমাদের সঙ্গে আমরা একমত। তবে এভাবে রাস্তা বন্ধ করে বাস আটকে রেখে কোনো সমাধান আসবে না। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। পুলিশ তাদের সাহায্য করবে।'এ সময় শিক্ষার্থীদের পুলিশের কথা শোনার পরামর্শ দেন উপাধ্যক্ষ।বাস আটকে রাখার ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষার্থীরা বলে, 'আমরা বাসগুলোকে সাইড করে রাখছি। যারা রামপুরা ব্রিজ থেকে আরও দূরে যাবে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারেও আমরা লক্ষ রেখেছি।'রাইদা বাসের চালক হাফিজুল বলেন, 'আমাদের বাসে এমন কোনো ঘটনা ঘটে নাই। আমাদের চাবিগুলা ফিরায় দেউক। আমরা তো জানিই না কোন বাস এমন করছে।'প্রায় ১১টি বাস আটকে রাখার পর রাইদা বাসের মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য পুলিশ শিক্ষার্থীদের রামপুরা থানায় নিয়ে যায়।
6
করোনার অমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তাঁর স্ত্রী। তবে মারাত্মক কোনো শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন না তাঁরা। স্থানীয় সময় আজ শনিবার এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন এরদোয়ান নিজেই। খবর এএফপির টুইটারে ৬৭ বছর বয়সী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, 'হালকা উপসর্গ অনুভব করছিলাম। পরীক্ষার পর আমার ও স্ত্রীর করোনা পজিটিভ এসেছে। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের মৃদু সংক্রমণ হয়েছে। এটা অমিক্রন ধরন বলে জানতে পেরেছি।' করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর সবার কাছে প্রার্থনা চেয়েছেন এরদোয়ান। জানিয়েছেন, করোনা শনাক্তের পরও নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন তাঁরা। টুইটে তিনি লেখেন, 'আমরা বাসা থেকে আমাদের কাজ করব। আপনাদের প্রার্থনা প্রত্যাশা করছি।' মহামারি শুরুর পর থেকে তুরস্কে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার জনের। এদিকে শনিবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের ৮ কোটি ৫০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৫ কোটি ২৫ লাখ মানুষ করোনা টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন। আর টিকার তিনটি ডোজ নিয়েছেন ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ। গত জুনেই টিকার তৃতীয় ডোজ নিয়েছিলেন এরদোয়ান। তুরস্কে কেউ করোনা পজিটিভ হলে প্রথম সাত দিন তাঁকে আইসোলেশনে থাকতে হয়। এর মধ্যে পঞ্চম দিন পরীক্ষা করে নেগেটিভ এলে তাঁকে আর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয় না।
3
পাবনা, নাটোর, কুষ্টিয়া ও সিরাজগঞ্জ-এই চার জেলা মিলে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল চক্রটি। তারা বুঝে-শুনেই লক্ষ্য স্থির করত। তারপর চালককে খুন করে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ছিনতাই করত। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব ইজিবাইক পাঠিয়ে দিত পার্শ্ববর্তী অন্য যেকোনো জেলায়। পাবনা জেলা পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ছিনতাইকারী চক্রের এমনই সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের কাছ থেকে ১২টি ছিনতাই করা ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। আজ শুক্রবার সকালে পাবনা সদর থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার হেলালপুর গ্রামের সুমন শেখ (৩০), পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার অভিরামপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৪৫), দেবত্তর গ্রামের বজলুর রহমান (৩৫), অভিরাম গ্রামের হাসান আলী (২৫), নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা সদরের শামীম মিয়া (২৫), শরিফুল ইসলাম (৩০) ও বাজিতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৫)। তাঁদের মধ্যে সুমনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে। পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি ডোবায় জাহাঙ্গীর আলম (৬০) নামের এক ইজিবাইকচালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর দুই মাস পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সদরের মনোহরপুর এলাকার একটি মসজিদের পাশ থেকে রইচ উদ্দিন (৬০) নামের আরও এক ইজিবাইকচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। এর পর থেকেই পুলিশ হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যার পেছনের বিভিন্ন সূত্র উদ্ধার করা হয়। সেই সূত্র ধরেই গত বুধ ও গতকাল রাতে বিশেষ অভিযানে নামে জেলা পুলিশের একটি দল। অভিযানে পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ১২টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আশপাশের চার জেলা মিলে একটি ছিনতাই চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তাঁরা চালককে খুন করে ইজিবাইক ছিনতাই করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা সবাই ছিনতাই চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। বিস্তারিত তথ্যের জন্য তাঁদের তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তথ্যপ্রাপ্তি সাপেক্ষে চক্রের সব সদস্যকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রোকনুজ্জামান ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
6
ঢাকার দোহারে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় জালাল মাতবর নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিলাশপুর ইউনিয়নের পূর্বচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপজেলার পূর্বচর এলাকায় পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানায়, বিকেল ৫টায় বিলাশপুর ইউনিয়নের পূর্বচর এলাকায় বিজয়ী ইউপি সদস্য আবুল হোসেন জয় লাভ করার পর এলাকায় বিজয় মিছিল ও রং উৎসব কালে পরাজিত প্রার্থী আলাল মাতবরের সমর্থকদের সাথে বাক বিতণ্ডা ঘটে। পরে আলাল মাতবরের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে জালাল মাতবরসহ পরিবারের ১২ জন গুরুতর আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জসিম উদ্দিন ও ডা. ওয়ায়েছ মারুফ জালাল মাতবরকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল করিম ভূইয়া জানান, দোষীদের সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ দক্ষিণ) গোলাম আজাদ খান বলেন, 'বিলাশপুর এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।' দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'বিজয় উৎসবের কারণে প্রতিপক্ষের সাথে কথাকাটির জের ধরে এ ঘটনা ঘটে।'
6
চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দৈনিক গড়ে ৭টি কোম্পানি নিবন্ধন করেছে। আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩৩। হঠাৎ কোম্পানি নিবন্ধনে ধস নেমেছে। কোম্পানি গঠনে উদ্যোক্তাদের যেন আগ্রহ একেবারে তলানিতে নেমে গেছে। অথচ এক বছর আগেও বিপরীত চিত্র ছিল। তখন যেন কোম্পানি গঠনের হিড়িক পড়েছিল। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) দৈনিক গড়ে ৭টির মতো কোম্পানি নিবন্ধন করেছে। আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে দৈনিক ৩৩টি কোম্পানির নিবন্ধন নিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা, যা এখনকার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সব মিলিয়ে মাত্র ১ হাজার ৩৬৫টি কোম্পানির নিবন্ধন হয়েছে। তবে কোম্পানি নিবন্ধন করার মানেই কিন্তু তা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনা নয়। কারণ, অনেক উদ্যোক্তা বা শিল্পগোষ্ঠী সহযোগী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন নিলেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিচালনায় যায় না কিংবা দেরিতে যায় বলে জানা গেছে। করোনার কারণে আগের দুই বছরে ব্যবসা-বাণিজ্যে চাঙাভাব নেই। তা সত্ত্বেও অনেক উদ্যোক্তা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কোম্পানি খুলে রাখেন। অর্থাৎ ওই সময়ে যেন কোম্পানি গঠনের হিড়িক পড়েছিল। কাগজপত্রের ঝামেলা এড়াতে পরামর্শক বা আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নামে অনেকে কোম্পানি গঠন করেন। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যবসা করার জন্য ১২ হাজার ১২৫টি কোম্পানির নিবন্ধন নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ছুটির দিন বিবেচনায় নিলেও প্রতিদিন গড়ে ৩৩টির বেশি কোম্পানি নিবন্ধন দিয়েছে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর। কোম্পানি গঠনে নিবন্ধন নেওয়াসহ যাবতীয় কাজ করার জন্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করে থাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আরজেএসসির প্রধান কার্যালয়ের আশপাশের ভবনগুলোয় এমন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তেমনই একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হলো সাইফুল অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। এই প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রহীতার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মো. রিপন মিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে অনেকেই এখন বিনিয়োগে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এই সময়ে ঝুঁকিতে পড়তে চান না কেউ। এ ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তারা তুলনামূলক সচেতন হওয়ায় সব কাগজপত্র ঠিকঠাক করেই নিবন্ধনের আবেদন করছেন। এদিকে কোম্পানি গঠনের পরিবর্তে তরুণ উদ্যোক্তারা এখন ছোট আকারে ব্যবসা পরিচালনায় বেশি আগ্রহী বলে জানান ব্রেন স্টুডিও ২৩ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাইসুল কবির। তরুণ এ উদ্যোক্তা প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে ব্যবসায় ঝুঁকি বেড়েছে। আবার তহবিল সংকটও আছে। সে জন্য এখন নিবন্ধন কমতে পারে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। চলতি অর্থবছর থেকে এক ব্যক্তির কোম্পানি খোলার জন্য নিবন্ধন দেওয়া শুরু হয়েছে। কোনো উদ্যোক্তা কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন দেখিয়েই নিজ নামে কোম্পানি নিবন্ধন নিয়ে চালাতে পারবেন। এক ব্যক্তির কোম্পানি নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে বেশ আগ্রহও ছিল। আরজেএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসে এ ধরনের মাত্র ৩৯টি কোম্পানি নিবন্ধন নিয়েছে। এর মধ্যে কোনো ডাকসাইটের ব্যবসায়ী এমন কোম্পানির নিবন্ধন নেননি। কোনো বড় শিল্পগোষ্ঠীর অধীনেও এমন কোম্পানি নিবন্ধিত হয়নি। আরজেএসসি সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর অর্ধেকই কারওয়ান বাজার ও আশপাশের এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধন নিয়েছে। নিবন্ধন নেওয়া এসব উদ্যোক্তা তেমন পরিচিত নন। আরজেএসসির সহকারী নিবন্ধক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, 'চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই কোম্পানি খোলার জন্য আবেদন বেশ কমেছে। আবেদন না পড়লে তো আমরা নিবন্ধন দিতে পারি না। আবার আমরা আবেদন আটকেও রাখি না। করোনার দীর্ঘ মেয়াদের কারণে হয়তো উদ্যোক্তারা এখন নতুন কোম্পানি খোলায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।' তিনি আরও বলেন, কাগজপত্র ঠিক থাকলে কোনো উদ্যোক্তা কোম্পানি খোলার আবেদন করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিবন্ধন পেয়ে যান। তবে ব্যাংকের কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে আবেদনপত্র সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়। আরজেএসসির সর্বশেষ হিসাবমতে, বর্তমানে দেশে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি আছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৫০টি। এর মধ্যে গত ছয় বছরেই নিবন্ধন নিয়েছে ৫০ হাজারের বেশি কোম্পানি। কয়েক মাস আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি দল তদন্ত করে দেখেছে যে সব কোম্পানির টিআইএন ও রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও মাত্র ৭৮ হাজার কোম্পানির টিআইএন আছে। মাত্র ২৮ হাজার কোম্পানি নিয়মিত রিটার্ন দেয়। অনেক কোম্পানি খুলে পরে আর পরিচালনায় আসেনি। এসব কোম্পানি কাগুজে কোম্পানি হিসেবেই রয়ে গেছে। এনবিআরের ওই তদন্ত দল দেখতে পায়, কারওয়ান বাজারের দুটি ঠিকানায় প্রধান কার্যালয় হিসেবে দেখিয়ে নিবন্ধন নিয়েছে ১ হাজার ৪০০ কোম্পানি। বাস্তবে ওই দুটি ঠিকানায় ওই সব কোম্পানির অস্তিত্ব নেই।
0
ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো পুলিশের উপ-পরিদর্শক মজিবুর রহমান তালুকদারের দাফন বগুড়ার শাজাহানপুরে সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাকপালা এলাকায় দীঘিরপাড় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত এই উপ-পরিদর্শকের মরদেহ। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ১১ মে মজিবুর রহমানের করোনা পজিটিভ হওয়ার পর তাকে ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তারা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সোমবার সকালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান এই পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় সন্ধ্যায় তার লাশ বগুড়ায় পৌঁছায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা এলাকায় মজিবুর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে প্রয়াত এই পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তার নিকটাত্মীয়রা জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে শাকপালা দীঘিরপাড় কবরস্থানে দাফন করা হয় মজিবুর রহমান তালুকদারকে। মজিবুর রহমানের স্থায়ী ঠিকানা সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানার তারাকান্দি গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তার বরিবার বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা গ্রামে বসবাস করে আসছেন। এই নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ৯ সদস্য করোনা যুদ্ধে প্রাণ হারালেন।
6
ঢাকা: ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাতিলের দাবিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেই সঙ্গে আরও পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেছেন তাঁরা। আগামী ১০ জুনের মধ্যে দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর ১৫% কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনটি আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মধুর ক্যানটিনে অনুষ্ঠিত হয়।প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারসহ শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য অভিন্ন বেতন কাঠামোর নীতিমালা প্রণয়ন; অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি প্রণয়ন; করোনাকালীন সব ধরনের বেতন-ফি হ্রাস এবং প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা। এছাড়া অবিলম্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার রোডম্যাপ ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৮ জুন বিকেল ৪টায় শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
1
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, কেককাটা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে 'নিরাপদ সড়ক চাই'য়ের (নিসচা) ২৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ বছর নিসচা ২৯ বছরে পদার্পণ করল। এই উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ।পরে উপজেলা মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নিরাপদ সড়ক চাই ভৈরব শাখার সভাপতি এস এম বাকি বিল্লাহর সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুলহাস হোসেন সৌরভ, ভৈরব থানার প্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন।আলোচনাসভা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।
6
উদ্বোধনী আয়োজনে রেড কার্পেট থেকে দূরে ছিলেন সাদ-বাঁধনরা। তবে চার দিনের মাথায় ৯ জুলাই বিশেষ আমন্ত্রণে লাল গালিচায় পা রাখলেন তাঁরা। মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে থাকা 'দ্য ডিভাইড' ছবির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে রীতিমতো 'রেহানা মরিয়ম নূর' ছবির কলাকুশলীদের মাইক্রোফোনে ডেকে লাল গালিচায় হাঁটার আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় নির্মাতা সাদ, অভিনেত্রী বাঁধন, প্রযোজক জেরেমি চুয়া, নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবুসহ দলের আট সদস্যকে। এ সময় আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় তাকিয়ে ভক্তদের উদ্দেশে চুম্বন উড়িয়ে দেন আজমেরী হক বাঁধন। সাদের হাত ধরে হেঁটে যান কান উৎসবের লাল গালিচায়। কান উৎসবের ৭৪তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছবির নায়িকা আজমেরী হক বাঁধন ও নির্মাতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন লাল গালিচায় হাঁটার। কিন্তু টিমের বাকিদের ছেড়ে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। আঁ সার্তে রিগায় 'রেহানা মরিয়ম নূর'সহ প্রতিযোগিতা করছে ২০টি ছবি। আগামী ১৬ জুলাই পুরস্কার বিতরণ করবেন এই বিভাগের বিচারকদের প্রধান ব্রিটিশ নারী নির্মাতা আন্দ্রেয়া আর্নল্ড। ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এখন 'রেহানা মরিয়ম নূর' বন্দনা চলছে। ছবিটি নিয়ে ইতিবাচক পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে।
2
করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও দেশে টিকা নেওয়ার সুযোগ হচ্ছে না। তাই লাতিন আমেরিকার অনেক দেশের নাগরিকেরা ছুটছেন যুক্তরাষ্ট্রে। পর্যটক হিসেবে গিয়ে বিনা মূল্যে টিকা পাচ্ছেন তাঁরা। সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি সমুদ্রসৈকতের একটি অস্থায়ী টিকা দান বুথে পর্যটক ভিসায় আসা বিদেশি নাগরিকদের টিকা নেওয়ার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রোববার দুপুরের পর সৈকতে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন একদল পর্যটক। ঘামে ভিজে উঠছিলেন তাঁরা। টিকার জন্য একে একে অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধিত হন। তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতির কাগজ তাঁদের দরকার হচ্ছিল না। নিবন্ধিত হওয়ার কিছুক্ষণ পর বিনা মূল্যে জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের টিকা নেন তাঁরা। টিকা নেওয়ার তথ্যসংবলিত একটি কার্ডও তাঁদের ধরিয়ে দেওয়া হয়। ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ভেনেজুয়েলাসহ লাতিন আমেরিকার সব জায়গা থেকে মানুষ টিকা নিতে আসছেন। এসব দেশে টিকার সংকট এবং টিকাদান কর্মসূচির ধীরগতির কারণে টিকা পাচ্ছেন না বহু মানুষ। গত শনিবার হন্ডুরাস থেকে আসেন মারিয়া বোনিলা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, 'আমার দেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। কিন্তু শিগগিরই সেখানে আমাদের টিকা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।' টিকা নিতে বয়স্ক বাবা-মাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন ৪০ বছর বয়সী এই নারী। মাস্ক পরে তিনজনই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন টিকা নিতে। বোনিলা বলেন, 'দেশের বাইরেই সমাধান খুঁজতে হলো।' গত শুক্রবার মেক্সিকো থেকে এসেছেন ৫০ বছর বয়সী ব্লানসা ডায়াজ। তিনিও বললেন একই কথা। ব্লানসা ডায়াজ জানান, তাঁদের দেশে সবে বয়স্ক লোকদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এদিকে টিকা নিতে লাতিন আমেরিকার মানুষ উড়ে আসতে থাকায় বেড়ে গেছে বিমানের টিকিটের দাম। স্বাভাবিক সময়ে বুয়েনস এইরেস থেকে মিয়ামির টিকিটের দাম পড়ে এক হাজার ডলার, সেটি এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ডলার। মিয়ামি বিচ সিটি কমিশনার ডেভিড রিচার্ডসন এই টিকাদান কার্যক্রমের তদারক করছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, 'আমি মনে করি, আমাদের মার্কিন সরকারের উচিত যত বেশি সম্ভব মানুষকে সহায়তা করা। আমার উদ্বেগ বিষয় একটাই, শুধু যাঁরা বিমানের টিকিট কিনতে পারছেন, তাঁরাই কেবল টিকা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারছেন।' গতকাল রোববার মিয়ামি সৈকতের বুথ থেকে ১৭৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়। তাঁদের সবাইকে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা দেওয়া হয়েছে। কারণ, এক ডোজের টিকা হওয়ায় এটার প্রতিই আগ্রহ বেশি পর্যটকদের।
3
শিক্ষার মানোন্নয়নে 'সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম' শীর্ষক একটি মেগাপ্রকল্প হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার, যার মেয়াদ ৫ বছর। বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় দেশের ষষ্ঠ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর পাবলিক পরীক্ষার ফি, টিউশন ফি, বইকেনা ও উপবৃত্তি দেবে সরকার। থাকছে স্টকহোল্ডারদের প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টশন কর্মসূচিও। টেকসই শিল্পোন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি শুভ উদ্যোগ, যা বাস্তবায়িত হলে হয়তো আমাদের শিক্ষার মান বাড়বে আর কমবে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষা কার্যক্রম কখনোই বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হতে পারে না। যদিও দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ হয়েছে, বসেছে শিক্ষার ওপর করও। এরই ধারাবাহিকতায় ভর্তি পরীক্ষা হয়ে উঠেছে একটি অতিবাণিজ্যিক প্রক্রিয়া। আমরা যখন গুচ্ছপদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার কথা বলছি, তখন তার প্রত্যুত্তরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিদিন ভর্তি ব্যয় বাড়িয়ে এবং নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে পুরো প্রক্রিয়াকে জটিল ও অমানবিক করে তুলছে। আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসনের দোহাই দিয়ে সেই গুচ্ছপদ্ধতির ভর্তিপ্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না। যদিও আশার কথা হলো, এবারই প্রথমবারের মতো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমন্বিতভাবে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই এই সামান্য আশার আলো শিগগিরই ছড়িয়ে পড়বে দেশের সমগ্র ভর্তিপ্রক্রিয়ায়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপ্রক্রিয়া অতি নিষ্ঠুর ও অতিবাণিজ্যিক, যা দেখার কেউ নেই। স্বায়ত্তশাসনকে কাজে লাগিয়ে যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য অসংখ্য মঙ্গলচিন্তা করা যেত, সেখানে প্রতিদিন তাঁদের এক কণ্টকাকীর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ভর্তিপ্রক্রিয়াকে করে তুলছে জটিল ও ব্যয়বহুল। এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ টাকা, গত বছর যা ছিল ৩৫০ টাকা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রাথমিক আবেদনমূল্য গত বছর ছিল ৫৫ টাকা এবং চূড়ান্ত আবেদনমূল্য ১ হাজার ৯৮০ টাকা, যা এবারও অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বছর ভর্তির আবেদনমূল্য ছিল ৩৫০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল ৫৫০ টাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের প্রাথমিক মূল্য ছিল ১০০ টাকা ও চূড়ান্ত মূল্য ৫০০ টাকা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছিল ৯০০-১ হাজার ১০০ এবং মেডিকেলে ভর্তির আবেদনমূল্য ছিল ১ হাজার টাকা। অন্যদিকে, এ বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ টাকা। যদি একজন শিক্ষার্থী ওপরে উল্লিখিত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল একটি ইউনিটে আবেদন করেন, তবে তাঁকে শুধু ফি বাবদই গুনতে হচ্ছে ৬ হাজার ১৮০ টাকা, যা অনেকাংশেই পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের, যা আমাদের আর্থসামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে অতি অসংগতিপূর্ণ এবং আমাদের প্রকৃত মেধাবীদের উচ্চশিক্ষা থেকে পিছিয়ে রাখার একটি দুষ্ট প্রক্রিয়ামাত্র। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীকে যাতায়াত, থাকা ও খাওয়া বাবদ আরও একটি মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। পরীক্ষাপ্রতি সেটিও প্রায় হাজার দুয়েক টাকার কম নয়। যদি তাঁরা একাধিক ইউনিটে কিংবা আরও অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে চান, তাহলে ব্যয়টা আরও বাড়ে। কখনো কখনো তা গিয়ে দাঁড়ায় ২০-২৫ হাজার টাকা। এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে একজন স্বল্প আয়ের মানুষ তাঁর সন্তানকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগান দেবেন? প্রশ্ন জাগে, কবে আমাদের ভর্তিপ্রক্রিয়া বাণিজ্যের থাবা থেকে মুক্তি পাবে? ধরে নেওয়া যাক, কোনো একটি ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র ১০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন এবং ভর্তির আবেদনমূল্য ৫০০ টাকা। তাহলে মোট আয় দাঁড়াবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। ব্যয়ের খাতগুলো খুবই সুস্পষ্ট। ওএমআর ক্রয় ও রিডিং জনপ্রতি বাবদ ১০ টাকা, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও পরিদর্শন ব্যয় জনপ্রতি ৪০ টাকা, বিবিধ ক্রয় ও আপ্যায়ন ৫০ হাজার টাকা (জনপ্রতি হার ৫ টাকা), ২০ জন শিক্ষককে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা হারে ৫ দিন ঘণ্টায় ১ হাজার ৫০০ টাকা করে সম্মানী প্রদান করা হয়, তাহলে ১৫ লাখ টাকা (জনপ্রতি হার ১৫০ টাকা)। যদি ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা হারে ৫ দিন ঘণ্টায় ২০০ টাকা করে প্রদান করা হয়, তাহলে ২ লাখ টাকা (জনপ্রতি হার ২০ টাকা) এবং বিজ্ঞাপন, প্রচার, আইটি ও বিবিধ খাতে সর্বোচ্চ জনপ্রতি ১০ টাকা ব্যয় হতে পারে। অতএব, খরচগুলো সাকল্যে দাঁড়ায় ২৩৫ টাকা। উদ্বৃত্ত ২৬৫ টাকা। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরও বাড়বে। কোথায় যাচ্ছে এই উদ্বৃত্ত ২৬৫ টাকা? কেন আমরা একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছি? চাইলেই কী একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ভর্তি পরীক্ষার নামে এ ধরনের নিকৃষ্ট বাণিজ্য করতে পারে? প্রশ্নের উত্তরগুলো দীর্ঘদিন ধরে অজানা। বিষয়টি আরও দুঃখজনক হয় যখন ইউজিসির নির্দেশনায় ভর্তি পরীক্ষার আয়ের ৪০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। কিন্তু কেন? তাহলে কী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সরকার স্বীকৃত একটি লাভজনক ব্যবসা? প্রশ্নগুলো যখন আমাদের তাড়িত করে, ব্যথিত করে, তখন আমাদের সামনে উদাহরণ হতে পারে সরকারের 'সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম', যার আওতায় সরকার উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যয় বহন করতে যাচ্ছে। তার মানে, সরকার চাইলেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে বিনা ফিতে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আওতায় আনতে পারে। আর যত দিন সেটা সম্ভব হচ্ছে না, তত দিন ভর্তি পরীক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ হাত থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার শিক্ষকদের বেতন দিতে পারে, বিনা মূল্যে বই প্রদান করতে পারে, শিক্ষাকে অনেকাংশেই অবৈতনিক করতে পারে, আবাসিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয় বহন করতে পারে, তবে কেন বাণিজ্যিক ভর্তিপ্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারবে না? কেন আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপ্রক্রিয়াকে শুল্কমুক্ত করতে পারি না? কেন আমরা ভর্তিপ্রক্রিয়াকে অলাভজনক প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য করতে পারি না? সরকার কি পারে না ভর্তিপ্রক্রিয়াকে ব্যয়মুক্ত করতে অথবা ন্যূনতম মূল্যে সবার কাছে পৌঁছে দিতে? একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মস্থলের নিয়মিত কাজ, যেমন উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পারিতোষিক পান, যার অর্থ আসে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। তাহলে ভর্তি পরীক্ষার ব্যয় কেন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা সম্ভব নয়? কেন ভর্তিপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পারিতোষিক রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা সম্ভব নয়? সরকার চাইলেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা করে থোক বরাদ্দ দিতে পারে। এতে ভর্তি ব্যয়ের অপচয় কমবে আর শিক্ষার্থীরা পাবেন একটি অবাণিজ্যিক ভর্তিপ্রক্রিয়া, যার মধ্য দিয়ে আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রকৃত মেধাবীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। তবে অযাচিত পরীক্ষার্থী এড়াতে ছোট্ট একটি নামমাত্র মূল্য থাকতে পারে, যা হবে অতি নগণ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিক ভর্তিপ্রক্রিয়া কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে ভর্তিপ্রক্রিয়া অধিকতর যুক্তিযুক্ত ও শিক্ষার্থীদের অধিকার। উমর ফারুক: শিক্ষক, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগবেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরই-মেইল: []
8
বলিউড তারকা রাধিকা আপ্তেকে বলা হয় 'কুইন অব ওটিটি'। তাঁর মা-বাবা দুজনই ডাক্তার। রাধিকা পড়াশোনা করেছেন গণিতে। তারপর হয়েছেন অভিনেত্রী। ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের ভায়োলা ও ভায়োলিনবাদক বেনেডিক্ট টেইলরকে বিয়ে করেন। কাজের বাইরে এখন তাই তাঁর বেশির ভাগ সময় কাটে লন্ডনে। সেখান থেকেই করোনাকাল আর কাজ নিয়ে তাঁর আলাপ হলো ভারতীয় একটি দৈনিকের সঙ্গে। সেখান থেকে খবর প্রকাশ করেছে বলিউড চলচ্চিত্র সাময়িকী 'ফিল্মফেয়ার'। এক জায়গায় নাকি 'বলিউড বাদশাহ' শাহরুখ খান আর রাধিকা আপ্তের খুবই মিল। তাঁদের দুজনের কারও হাতেই ওঠেনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ৩৫ বছর বয়সী রাধিকাকে নিয়ে ভারতের চলচ্চিত্র সমালোচকেরা এ আক্ষেপ প্রায়ই করেন। যদিও জাতীয় পুরস্কার নিয়ে বিশেষ ভাবনা নেই 'মাঝি: দ্য মাউন্টেইন ম্যান', 'বদলাপুর', 'পার্চড', 'লাস্ট স্টোরিজ', 'দ্য ওয়েডিং গেস্ট', 'রাত আকেলি হ্যায়', 'প্যাডম্যান', 'আন্ধাধুন'খ্যাত রাধিকার। এই করোনাকালে তিনি ১০ মাস ধরে আছেন লন্ডনেই। সেখান থেকে মহামারিকালের বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, 'হারিয়ে যাওয়ার ভয় আর অনিরাপত্তাবোধে আমরা অনেক কিছু করি। কিন্তু এই দুই আশঙ্কা থেকে শিল্প হয় না। নিজের অস্তিত্ব তৈরির জন্য জীবনের চলার পথে সামনে এসে দাঁড়ানো নানা কিছুকে "না" বলা জরুরি। অন্যরা করছে, তাই আমাকেও করতে হবে, এর কোনো মানে নেই। লকডাউনে আমি ভাবার সময় পেয়েছি। আমার মনে হয়েছে, শিল্পের জন্য মুক্তি দরকার। আর মুক্তির জন্য নিজের সব ভয় আর অনিরাপত্তাবোধকে বিদায় করা জরুরি।' রাধিকার ব্যক্তিগত অভিধানে 'অসম্ভব' শব্দটি নেই। তাই যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে সদা প্রস্তুত তিনি। লকডাউনে বেশ কিছু চিত্রনাট্যও লিখেছেন রাধিকা। শিগগিরই সেই চিত্রনাট্যকে সিনেমায় রূপ দিতে হাতে তুলবেন ক্যামেরা, হবেন পরিচালক।
2
নজরুলের গানে ও কবিতায় অনেক রকম ফুল এসেছে নানা মাত্রায়। কখনো নারীর অলংকার, কখনো-বা উপমা হিসেবে। আগামীকাল ১১ জ্যৈষ্ঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী। কবি নজরুলের গান-কবিতায় থাকা ফুল নিয়ে নকশার বিশেষ আয়োজন। এই ফুলগুলো সাজসজ্জাতেও অনন্য। এ আয়োজনে নজরুলের কয়েকটি ফুল দিয়ে এই সময়ের মডেলকে সাজানো হয়েছে। নজরুল 'বিদ্রোহী' কবিতায় লিখেছেন:'আমি দুর্বার,আমি ভেঙে করি সব চুরমার!আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,...' কিন্তু তাঁর এই বিদ্রোহের আড়ালে আছে দরদমাখানো নরম-নিসর্গের আলাপচারিতা। নরম সৌন্দর্যের বর্ণনা। আছে নন্দনকানন থেকে পারিজাতকে পাওয়ার বাসনা। তাই তিনি বইয়ের নামকরণে বেছে নিয়েছেন অনবদ্য ফুলদল। দোলনচাঁপা, ঝিঙেফুল, ফণীমনসা, রাঙা-জবা, মহুয়া-আরও কত নাম। এসব পুষ্পসৌরভ তাঁর রচনাকে সুরভিত করেছে বারবার। তাঁর রচনাসম্ভারে নানাভাবে পুষ্প-বৃক্ষের প্রসঙ্গ এসেছে। কখনো উপমায়, কখনো সরাসরি। যেমন নার্গিস কখনো প্রিয়তমা, কখনো ফুল হিসেবে এসেছে। তিনি গেয়েছেন:'বুলবুলি নীরব নার্গিস-বনেঝরা বন-গোলাপের বিলাপ শোনে।...' নার্গিস মূলত ফুলের নাম। আমাদের দেশে গুলনার্গিস নামে একটি কন্দজ ফুল আছে। সেটি নজরুলের সেই নার্গিস নয় বলেই মনে করা হয়। তবে এই উপমহাদেশে নার্গিসের আগমন ও কদর সম্ভবত মোগলদের হাত ধরে, যা পৃথিবীজুড়ে নার্সিসাস নামেই বেশি পরিচিত।গভীর ভাবনা-বোধ থেকে কোনো নারীর পরনে কবি দেখেছেন কানে অর্জুনের ফুল আর গলায় কদম ফুলের মালা।'অর্জুন মঞ্জরী কর্ণেগলে নীপ-মালিকা...'অর্জুনকে বলা হয় নিগৃহীত সুন্দর। ঔষধি গুণ থাকায় অর্জুনের বাকল তুলে নেওয়ার কারণে গাছটি শ্রীহীন হয়ে পড়ায় এমন নামকরণ। অর্জুনের ফল দেখতে কামরাঙার মতো। কবিতায় উল্লিখিত 'নীপ' মানে আমাদের বহুল পরিচিত কদম।বাংলার অবহেলিত বুনোফুলও তাঁর কবিতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তিনি ফুলকে মেখলা সাজিয়ে দেখতেই বেশি আনন্দ পান। বাবলা ফুলের নাকছাবি আর নীল অপরাজিতার শাড়ি তাই উপমায় মূর্ত হয়ে ওঠে।'বাবলা ফুলের নাকছাবি তারগায়ে শাড়ি নীল অপরাজিতারচলেছি সই অজানিতারউদাস পরশ পেতে।'আবার খোঁপায় পরিয়েছেন অবহেলিত ধুতরা ফুল। ধুতরা ফুলের সৌন্দর্যও তিনি উপেক্ষা করতে পারেননি। তিনি গান বেঁধেছেন:'কে দিল খোঁপাতে ধুতুরা ফুল লো।খোঁপা খুলে কেশ হ'ল বাউল লো।..'কোনো এক অভিসারের পথে কবি তাঁর প্রিয়তমার জন্য পুষ্পার্ঘ্য কামনা করেছেন। তিনি চেয়েছেন তাঁর মানসপ্রিয়া হেঁটে আসুক পুষ্পবিছানো পথ ধরে।'দিও ফুলদল বিছায়ে পথে বধূর আমার পায়ে পায়ে দলি ঝরা সে ফুলদলআজি তার অভিসার।' সাত ভাই চম্পার পারুল কিন্তু একটি দুর্লভ ফুলের নাম। এই বিখ্যাত এবং দুর্লভ ফুলটি নিয়ে তিনি কাব্য করেছেন। রবীন্দ্রনাথও তাঁর রচনায় পারুলের প্রসঙ্গ এনেছেন অনেকবার। 'সাত ভাই চম্পা জাগোরেকেন বোন পারুল ডাকোরে'নজরুল কিশোরী রাধার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বলেছেন:'তুমি অপরাজিতার সুনীল মাধুরীদু চোখ আনিলে করিয়া কি চুরি?তোমার নাগকেশরের ফণী- ঘেরা মউপান করাল কে কিশোরী?'এখানে নজরুল অপরাজিতা এবং নাগেশ্বরের কথা বলেছেন। নীল, সাদা এবং বেগুনি রঙের অপরাজিতা মূলত বর্ষজীবী লতানো গাছ। এর মধ্যে নীল অপরাজিতাই বিখ্যাত। আর নাগেশ্বর এই অঞ্চলের প্রাচীন ফুল। আমাদের কাব্য-কলা-উপমায় এর প্রসঙ্গ এসেছে বারবার।খানিক স্পর্শে নুয়ে পড়া লজ্জাবতীও কবির দৃষ্টি এড়ায়নি। তিনি লিখেছেন:'লজ্জাবতীর লুলিত লতায়শিহর লাগে পুলক-ব্যথায়মালিকা সম বঁধূরে জড়ায়বালিকা-বধূ সুখ-স্বপনে'নজরুল অসংখ্য গানে পুষ্প-বৃক্ষের কথা বলেছেন। বলেছেন তাদের রূপ-মাধুরীর কথা। তিনি গেয়েছেন:'পরো কুন্তলে, ধরো অঞ্চলেঅমলিন প্রেম-পারিজাত।'এই পারিজাত মানে মান্দার। স্বর্গীয় ফুল। অন্যত্র তারই ব্যবহার লক্ষ করা যায়:'আনো নন্দন হতে পারিজাত কেশরতীর্থ-সলিল আনো ভরি' মঙ্গল-হেম-ঝারি।...'অশোকের বর্ণাঢ্য রঙের কথা পাওয়া যাবে এখানে:'অশোক ফুটেছে যেন পুঞ্জে পুঞ্জেরং পিয়াসী মন-ভ্রমর গুঞ্জে,ঢালো আরো ঢালো রং প্রেম-যমুনাতে।'রঙ্গন ফুলও এসেছে চমৎকারভাবে-কৃষ্ণচূড়ার সাথে রঙ্গন অশোকেবুলাল রঙের মোহন তুলিকা লো..। নজরুল তাঁর লেখনীতে তুলে এনেছেন আমাদের চারপাশের সমস্ত চেনা ফুল, যেসব ফুলের সঙ্গে আমাদের প্রায় প্রতিদিনই দেখা হয়। যেমন চামেলি, জুঁই, শিউলি, চাঁপা, মালতী, টগর, বকুল, বেলি, শাপলা, পদ্ম, বঁইচি, পলাশ, কেয়া, হাসনাহেনা ইত্যাদি।'বনে মোর ফুটেছে হেনা চামেলিযুথী বেলি।'এই চেনা ফুলগুলোর আবেদন যেমন চিরন্তন, তেমনি এ যুগের সাজে, এই সময়ে তরুণীদের পছন্দের সঙ্গে মানিয়েও যায় বেশ ভালোভাবে।
4
বগুড়ার শেরপুরে প্রতিবেশী ফুফুর বাড়ি থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের পরিবারের ধারণা, ওই যুবক গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুর রহিম (৩৫)। তিনি উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা। রহিম বিবাহিত হলেও তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জে থাকেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান নূরনবী (১৫) নবম শ্রেণিতে পড়ে। শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম বলেন, আবদুর রহিমের বাড়ির পাশে প্রতিবেশী আবদুর রশিদের বাড়ি। এই বাড়ির বারান্দার বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আবদুর রহিমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ ভোররাতে আবদুর রহিম প্রতিবেশী আবদুর রশিদের বাড়িতে সাহ্রি করেছেন। এরপর সকালে ওই বাড়ির বারান্দায় তাঁর লাশ পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার জানিয়েছে, আবদুর রহিম মাদকাসক্ত ছিলেন। এ জন্য বেশ কিছুদিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবদুর রশিদের পরিবার জানায়, আজ সকালে তাঁরা ঘুম থেকে উঠে আবদুর রহিমের লাশ বারান্দায় ঝুলতে দেখেন। তাঁরা ধারণা করছেন, আবদুর রহিম আত্মহত্যা করেছেন। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, আবদুর রহিমের মৃত্যু নিয়ে পুলিশের অনুসন্ধান চলছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিবারের এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই। পরিবারের লোকজনও ধারণা করছেন, আবদুর রহিম আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য নিহত ব্যক্তির লাশ বেলা ১১টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
6
দুর্ভাগ্যই যেন বলতে হয়! ম্যাচের ফলে লেখা থাকবে তুর্কমিনিস্তানের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু যা লেখা থাকবে না তা হলো গোল করার অভ্যাস থাকলে সেই ম্যাচে হয়তো হার নয়, তুর্কমিনিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে অসাধারণ একটা জয় পেতেন জামাল ভূঁইয়ারা।লক্ষ্যই ছিল তুর্কমিনিস্তানকে চমকে দিয়ে ম্যাচ জিতে নেওয়া। দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবলে বাংলাদেশ তুর্কমিনিস্তানকে নিঃসন্দেহে চমকে দিয়েছে সেটা আর বলার অবকাশ রাখে না। শুধু পাওয়া হলো না জয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে আট মাস পর গোল আর কমপক্ষে হাফ ডজন গোলের সহজ সুযোগ নষ্টে বাংলাদেশ পেল আক্ষেপের এক হার।তবে হারলেও ফুটবলারদের খেলায় আশার আলো দেখতে পারেন বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। তাঁর অধীনে সম্ভবত সেরা ম্যাচটাই আজ খেলেছে বাংলাদেশ। রক্ষণের খোলস থেকে বেরিয়ে বল দখলেও ছিল যথেষ্ট মনোযোগ। র্যাঙ্কিংয়ে ৫৪ ধাপ এগিয়ে থাকা তুর্কমিনিস্তানের সঙ্গে লড়াইটাও হলো হাড্ডাহাড্ডি। শুধু আক্ষেপটা বাড়াল ফিনিশারের অভাব।বাহরাইনের বিপক্ষে দুই গোলই হয়েছিল সেট পিস থেকে। বুকিত জলিল স্টেডিয়ামে আজ তুর্কমিনিস্তানের বিপক্ষে সতর্ক থাকার পরও সেই সেট পিস থেকেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ছয় থেকে সাত মিনিটের মধ্যে টানা তিনটি কর্নার পায় তুর্কমিনিস্তান। আর এই তৃতীয় কর্নার থেকেই হয়েছে গোল। কর্নারে আন্নাদুরদিয়েভ আলতিমিরাতের কোনাকুনি প্লেসিং শট জিকোকে দর্শক বানিয়ে জড়ায় জালে।শুরুতে গোল হজম করেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। রক্ষণের খোলসে না ঢুকে আক্রমণাত্মক ফুটবলে এল সমতাও। ১২ মিনিটে বিশ্বনাথ ঘোষের লম্বা থ্রো থেকে তুর্কমিনিস্তানের জালে হেড নেন রাকিব হোসেন। রাকিবের হেড প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ফিস্ট করলেও অরক্ষিত অবস্থায় বল পান মো. ইব্রাহিম। হেডে বল জালে জড়িয়ে কোচ হাভিয়ের কাবরেরাকে প্রথম গোল উপহার দেন ইব্রাহিম।২০ মিনিটে বল নিয়ে সাজ্জাদ বক্সে ঢুকে পড়লেও শেষ পর্যন্ত গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডারের সঙ্গে পেরে ওঠেননি। ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান এই ফরোয়ার্ড। ২৩ মিনিটে দলীয় আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু বক্সের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন ফরোয়ার্ডরা। নষ্ট হয় সুযোগ।৩৬ মিনিটে আবারও তুর্কমিনিস্তানের রক্ষণ কাঁপায় বাংলাদেশ। বিশ্বনাথের লম্বা করে নেওয়া থ্রো ইন সাজ্জাদের ব্যাক হেড গোল মুখে ইয়াসিন আরাফাত মাথা লাগানোর চেষ্টা করলে তার আগে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার বল বাইরে পাঠিয়ে দেন। সুযোগ এসেছিল তুর্কমিনিস্তানেরও। ৪০ মিনিটে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন জিকো। খালমামমেদোভের কোনাকুনি শট পোস্ট ছেড়ে এসে আটকে দেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক।৪৩ মিনিটে আনাগুলিয়েভের দুর্দান্ত ডিফেন্ডিংয়ে গোল পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। গোছানো আক্রমণে উঠে ডান প্রান্ত থেকে রাকিব বল পাঠান অপর প্রান্তে সাজ্জাদের দিকে কিন্তু তাঁর আগেই দারুণ স্লাইডিংয়ে ক্লিয়ার করে আনাগুলিয়েভে। প্রথমার্ধের বাকি সময় আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে চলতে থাকে। তবে কোনো দলই পারেনি ব্যবধান বাড়াতে।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দলকে এগিয়ে দেওয়ার ভালো সুযোগ নষ্ট করেছেন সাজ্জাদ। ৪৯ মিনিটেই নিজেদের অর্ধ থেকে রাকিবের রক্ষণচেরা পাসে তুর্কমিনিস্তানের গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টে শট নিতে পারেননি সাজ্জাদ। ৫৪ মিনিটে ইব্রাহিমের ক্রস থেকে সাজ্জাদের হেড লক্ষ্যে থাকলেও গোল পেতে পারত বাংলাদেশ।৭২ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আরেকটি সুযোগ নষ্ট বাংলাদেশের। প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে দ্রুত ওপরে উঠে গিয়েছিলেন বিপলু আহমেদ। বাঁ প্রান্তে বল বাড়ান বদলি ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে। গোলরক্ষক বরাবর শট না নিয়ে ফাহিম যদি কোনাকুনি শট করতেন তাহলে দ্বিতীয় গোলটা পেতেই পারত বাংলাদেশ।অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়েই দ্বিতীয় গোলটা হজম করে বাংলাদেশ। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বাংলাদেশের অর্ধে বাঁ প্রান্তে বল পান আন্নাদুরদিয়েভ আলতিমিরাত। গায়ে লেগে ছিলেন রিমন হোসেন, ঠেকাতে পারেননি আলতিমিরাতকে। অন্য প্রান্তে ফাঁকায় ছিলেন অধিনায়ক আমানভ আরসালান। আলতিমিরাতের পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান তুর্কমিনিস্তান অধিনায়ক।৯০ মিনিটে শেষ সুবর্ণ সুযোগটাকে নষ্ট করেছেন টুটুল হোসেন বাদশা। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি-কিক ফাঁকায় দাঁড়ানো বাদশার ভলি বাংলাদেশকে হতাশ করে চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে।অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে অবশ্য আরেকবার বল জালে জড়িয়ে ছিল তুর্কমিনিস্তান। অফসাইডের কারণে সেই গোল রেফারি বাতিল করেছেন ঠিকই কিন্তু ম্যাচটা আর জেতা হলো না বাংলাদেশের।
12
বছর ঘুরে আবারো আসছে পবিত্র রমজান মাস আর এই উপলক্ষ্যে দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন শপ দারাজ বাংলাদেশ আয়োজন করেছে রমজান পূর্ববর্তী সেল ক্যাম্পেইন ২০১৯। এই ক্যাম্পেইনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ৭০% পর্যন্ত বিশাল মূল্যছাড়, আই লাভ ভাউচার, শেক শেক ভাউচার সহ আরও অনেক আকর্ষণীয় রমজান ডিল। ২৫শে এপ্রিল থেকে ৪ই মে পর্যন্ত চলাকালীন ইভেন্টটির কো-স্পন্সর হিসেবে আছে ভিম, তাজা, সার্ফএক্সেল, নর, এসিআই পিউর, এসিআই ফান ও শেভার শপ বিডি এবং ব্র্যান্ড পার্টনার হিসেবে রয়েছে স্যাভলন, ফগ ও মোজাম্মেল রাইস। ক্যাম্পেইনে রোজার নিত্য প্রয়োজনীয় হোম অ্যাপ্লায়েন্স সামগ্রী সমূহ পাওয়া যাবে আকর্ষণীয় মূল্যে, যার মধ্যে রয়েছে রুটি মেকার, রাইস কুকার, জুসার, ব্লেন্ডার ইত্যাদি। এছাড়াও গ্রোসারি পণ্য কেনাকাটায় থাকছে ফ্রি ডেলিভারির সুবিধা এবং টুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেল ক্যাটাগরিতে থাকছে আকর্ষণীয় মূল্যে উমরাহ প্যাকেজ। ক্রেতাদের জন্যে আরও থাকছে টুটি ফ্রূটি ও ফ্রূট ক্রাশের মত মজাদার গেম, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্কোর করে গ্রাহকরা জিতে নিতে পারেন ৫০০০ টাকার গিফট ভাউচার। এছাড়াও ক্যাম্পেইন জুড়ে থাকবে কুইজ প্রতিযোগিতা। কেনাকাটার সুবিধার জন্যে দারাজ অফার করছে পেমেন্ট পার্টনারদের মাধ্যমে ব্যাংক ডিসকাউন্ট, যেখানে ২৫শে এপ্রিল থেকে ৯ই জুন পর্যন্ত সাউথ ইস্টব্যাংকের প্রি-পেইড কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রি-পেমেন্টে থাকছে ১০% পর্যন্ত মূল্যছাড় (ক্যাপ: ২০০০ টাকা)। ফোনে দারাজ অ্যাপ ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন://./এই লিঙ্কে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
11
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাঞ্ছারামপুরে গতকাল বৃস্প্রতিবার বিকেলে দুস্থ অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন করা হয় । ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত ৫ হাজার ৫শ কম্বল বিতরন করা হয় । উপজেলা আইয়ুবপুর ইউপি পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান ছিলেন ক্যাপ্টেন (অব) এবি তাজুল ইসলাম এমপি । অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জলি আমির,মিন্টুরঞ্জন সাহা, উপজেরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পবিত্র চন্দ্র মন্ডল ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমূখ।
6
দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভিন্নধর্মী সংগীতানুষ্ঠান কানসূতা। আগামী শুক্রবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে গানশালা'র আয়োজনে 'কানসূতা ০০২' শিরোনামের শ্রোতা ও শিল্পীদের এ গান-কথার আসর অনুষ্ঠিত হবে। এতে এনামুল করিম নির্ঝরের লেখা ও সুরে কামরুজ্জামান সুজনের সংগীতায়োজনে পরিবেশিত হবে ফাহমিদা নবী, সুজন এবং সুকন্যা'র গান। শিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, 'গান এবং কানের একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে। এই গান এবং কানের মাঝখানে যে মেলবন্ধন, সেটাকেই বলা হচ্ছে কানসূতা। গান শুনার একটা আসর। আমরা সবাই গান শুনবো। যারা শ্রোতা এবং আমরা যারা গাইছি। এই দ্বিতীয়বারের মতো হচ্ছে কানসূতা। আমার সঙ্গে আরও দু'জন নতুন প্রজন্মের শিল্পী আছেন। তারাও গাইবেন।' এনামুল করিম নির্ঝর বলেন, 'আমার কাছে সময়টা হচ্ছে আত্মোপলব্ধির মতো ব্যাপার। গানের কথায় বোধের দরজার যতটুকু যতটুকু টোকা যায় বরাবরের মতো সে চেষ্টাই থাকছে গানগুলোতে। আর আয়োজন নিয়ে বলতে গেলে, গান প্রকাশের আগে শ্রোতা এবং শিল্পীকে মুখোমুখি করে দেয়া, জবাবদিহিতার একটা জায়গা তৈরি হওয়া আর আড্ডা। ভালো গান তৈরিতে শ্রোতা এবং শিল্পীর এ মতবিনিময় খুব জরুরি।' এর আগে, 'কানসূতা ০০১' এ প্রকাশিত হয়েছিলো অর্ক সুমনের সংগীতায়োজনে আরমিন মুসা, অর্ক ও জয়ীতা মহলানবীশের গান। চার পর্বের 'কানসূতা' প্রকল্পে প্রকাশিত হবে আরও ছয় শিল্পীর গান। গান প্রকাশের আগে শ্রোতা সংযোগে শ্রোতাদের সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানতে অনুষ্ঠিত হবে গানের আসর। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম
2
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ।আজ শুক্রবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. এহছানে এলাহীর হাতে চেক তুলে দেন বিএটি বাংলাদেশ এর মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান সাদ জসিম, এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ, কোম্পানির দুই জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক-মেহেদী আরিফ মোজাম্মেল এবং আখতার আনোয়ার খান।বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন প্রবর্তনের পর থেকেই বিএটি বাংলাদেশ এই তহবিলে নিয়মিতভাবে টাকা দিয়ে আসছে। বিগত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রমের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।গত ১০ বছরে এই তহবিলে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৬৯ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা দিয়েছে বিএটি বাংলাদেশ।করোনা মহামারির মধ্যেও এই বছর বিএটি বাংলাদেশ ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে দিয়েছে যা গত বছরের তুলনায় ২ কোটি টাকা বেশি।এখন পর্যন্ত শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে জমা হওয়া অনুদানের প্রায় ১৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ) অর্থ এককভাবে দিয়েছে বিএটি বাংলাদেশ।অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বেগম জেবুন্নেছা করিম ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
0
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাস থেকে তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বাস চালক সেলিম আজমল এ তেল চুরি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে মেট্রোপলিটন পেট্রল পাম্পে তিনি এ তেল বিক্রি করেছেন।গতকাল দৈনিক সময়ের খবরের সিনিয়র রিপোর্টার আশরাফুল ইসলাম নূর এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে তেল চুরির ঘটনা ক্যামেরাবন্দী করেন নূর।জানা যায়, গতকাল দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে মেট্রোপলিটন পেট্রল পাম্পের ওয়াশ রুমে যাচ্ছিলেন ওই প্রতিবেদক। এমন সময় তিনি দেখেন, পাম্পের গ্যারেজে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'খুলনা মেট্রো ঝ ১১-০০০৬' নম্বরের বাসটি একজন শ্রমিক পানি দিয়ে পরিষ্কার করছেন। আরেকজন বাসের নিচে পাইপ ঢুকিয়ে ত্রিশ লিটারের ড্রামে বাস থেকে তেল বের করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে তেল বের করার দৃশ্য দেখেই মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও করা শুরু করেন ওই প্রতিবেদক। মুহূর্তেই বাসটির চালক সেলিম আজমল এগিয়ে এসে ভিডিও করার কারণ ও প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। প্রতিবেদকের ফোনটি কেড়ে নেবারও চেষ্টা করেন ওই বাস চালক। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে চালক ওই প্রতিবেদককে বলেন, 'বাসটি ওয়াশ করতে এক লিটার তেল প্রয়োজন, তাই ওরা তেল বের করছে।' তবে ৩০ লিটারের ড্রামটিতে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি তেল ভরা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন নূর।এ বিষয়ে ওই পেট্রল পাম্পের ম্যানেজার বলেন, রোববার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি বাস ওয়াশ করা হয়েছে। তবে বাস থেকে তেল চুরির অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক প্রফেসর ড. শেখ জুলফিকার হোসাইন বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি থেকে এক বিন্দু তেল বের করার অধিকারও কারও নেই। আজকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। ওই বাস চালককে তাঁর রুটিন দায়িত্ব থেকে আপাতত বিরত রাখা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।'এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস বলেন, 'আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
1
ঢাকা: যুক্তরাজ্যে গাড়ির একটি মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি বেড়েই চলেছে। দুই বছরে চুরি ১০০ শতাংশ বেড়েছে। দ্রুত এ যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়ার উপায় বের করেছে চোরেরা। পুলিশ, প্রশাসন অনেক চেষ্টার পরেও এ চুরি থামাতে পারেছ না।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্বন মনোক্সাইডের মতো ক্ষতিকর গ্যাসগুলো শোধন করে কম ক্ষতিকারক গ্যাসে রূপান্তরিত করে ক্যাটালাইটিক কনভারটার। পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ গাড়িতেই এখন এই যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। এতে রয়েছে প্লাটিনাম, প্যালাডিয়াম এবং রোডিয়ামের মতো মূল্যবান ধাতু। এ কারণেই চোরদের টার্গেট হয়েছে যন্ত্রাংশটি।এ ছাড়া, এই যন্ত্রাংশ তৈরির ধাতু মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসে। লকডাউনের কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আসতে না পারায় যন্ত্রাংশটির দাম আরও বেড়ে গেছে। গাড়ি, কনভারটারের আকার ও ধাতু ভেদে একেকটির মূল্য ২০০ থেকে ৬০০ পাউন্ড হয়ে থাকে। যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এ অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ২৩ হাজার থেকে ৫৯ হাজার টাকার মতো।লন্ডনের নিকি নামের একজনের গাড়ি থেকে তিনবার এ যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। চোরদের আটকাতে গিয়ে একদিন রাতে তিনি হামলার শিকারও হয়েছেন। লন্ডনের মার্ক নামেরও একজনের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি, যিনি নিজের চোখে কনভারটার চুরি হতে দেখেছেন।এ বিষয়ে অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এডমন্ড কিং বলেন, এ চুরির ঘটনা এখন একটা সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের জন্য এটি খুবই হতাশার।ক্যাটালাইটিক কনভারটার চুরির জন্য চোরেরা প্রথমে সুবিধামতো গাড়ি টার্গেট করে। পরে সুযোগ বুঝে গাড়ির নিচ থেকে পাইপ কেটে যন্ত্রাংশটি নিয়ে যায়। হাসপাতাল, সমাধিস্থল, এমনকি জেলখানার গাড়ি পার্কিং থেকেও কনভারটার চুরির ঘটনা ঘটছে। দিনের চেয়ে রাতে চুরি হয় বেশি। বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে পাইপ কেটে মাত্র ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে কনভারটারের নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে চোরেরা। এই চুরি চক্রে তিন বা চারজন লোক থাকে।ব্রিটিশ পুলিশ সম্প্রতি উত্তর সাগর থেকে একটি জাহাজ আটক করে। এ জাহাজে করে যুক্তরাজ্য থেকে চুরি যাওয়া ক্যাটালাইটিক কনভারটার পশ্চিম আফ্রিকাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশ জানায়, এ যন্ত্রাংশ চুরি শুধু যুক্তরাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো অপরাধ নয়। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ এ ধরনের অপরাধের তদন্ত করছে।এ চুরি ঠেকাতে নানা পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ আসছে। কেউ আইন পরিবর্তন, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহিত করার মতো পরামর্শ আসছে।অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিটিশ ইন্স্যুরেন্স নীতিমালার ম্যানেজার লরা হাফস বলেন, বিদ্যমান আইনগুলোর ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে সরকার এবং পুলিশ অপরাধীদের এই যন্ত্রাংশ বিক্রয় কঠিন করতে পারে।লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, এ চোরদের আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। ডেট সিএইচ ইন্সপেক্টর জেমস স্ট্যানিয়ার বলেন, মার্চ মাসে ৫০০ জন কর্মকর্তা একটি বড় অভিযান পরিচালনা করেন। এ অভিযানে তাঁরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রকে টার্গেট করে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। তাঁদের ধাতু ব্যবসার সঙ্গে আফ্রিকায় ধাতু পাঠানোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।চুরি থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ গাড়ি মালিকদের কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। এ জন্য সিসি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত কোনো জায়গায় পার্কিং, যন্ত্রাংশটিকে একটি ধাতব খাঁচার মধ্যে রেখে দেওয়া, চুরি শনাক্তে সুরক্ষা ডিভাইস লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুচ্চালিত গাড়িই এই সমস্যার সবচেয়ে ভালো সমাধান বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
3
বিজ্ঞানকে জানা ও বিজ্ঞানচর্চা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে টাঙ্গাইলের 'বোসন বিজ্ঞান সংঘ'। প্রতিষ্ঠার সাত বছরে আয়োজন করেছে অসংখ্য বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা। একঝাঁক তরুণের নিরলস চেষ্টায় এ সংঘের পরিচিতি ও পদচারণ এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এ সংঘকে দেশের সেরা গণিত ক্লাবের স্বীকৃতি দেয়।বোসন বিজ্ঞান সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান পরামর্শক তাশদিদ শিহাব বলেন, 'মাধ্যমিকে পড়ার সময় কয়েক সহপাঠী ও সমমনা বন্ধু মিলে ২০১৪ সালে বোসন বিজ্ঞান সংঘ প্রতিষ্ঠা করি। তখন থেকেই আমরা নিয়মিত স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয়ভাবে বিজ্ঞানভিত্তিক নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি।'বোসন বিজ্ঞান সংঘের আয়োজন: ২০১৪ সালে ৬০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজন করা হয় বোসন গণিত অলিম্পিয়াড। ২০১৫ সালে জেলার সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজন করা হয় সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা। ২০২১ সালে সারা দেশ থেকে ২১টি আলাদা আলাদা প্রতিযোগিতায় প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ ছাড়া দেশের ২৮টি ক্লাবকে একাডেমিক সহায়তা দিয়ে থাকে এই সংঘ।২০১৬ সালে ছয় মাসে ২৮টি গণিত কর্মশালার আয়োজন করা হয়। টাঙ্গাইলের ৮টি উপজেলায় আলাদাভাবে গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজনও উল্লেখযোগ্য। চলতি বছরে জেলার ৮টি বিদ্যালয়কে নিয়ে আয়োজন করা হয় 'বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব।' সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয় বোসন থেকে।বোসন বিজ্ঞান সংঘের অর্জন: ২০১৫ সালে আঞ্চলিকভাবে গণিত অলিম্পিয়াডে বিজয়ী ৩০ জনের ১৮ জনই ছিলেন এই সংঘের। জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হন একজন। একই বছর 'ভাষা প্রতিযোগে' সারা দেশে প্রথম স্থান অধিকার করেন এই সংঘের সদস্য। ২০১৬ সালে গণিত অলিম্পিয়াডে টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পর্বে ২৩ জন এবং জাতীয় পর্যায়ে ৫ জন বিজয়ী হন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্বে ২৩ জন এবং জাতীয়ভাবে তিনজন বিজয়ী হন।একই বছর গণিত অলিম্পিয়াডে আঞ্চলিক পর্বে ছয়জন ও জাতীয় পর্যায়ে একজন বিজয়ী হয়। ২০১৮ সালে একই প্রতিযোগীতায় আঞ্চলিক পর্বে আটজন বিজয়ী হয়। ২০১৯ সালে ১১ জন, ২০২০ সালে ১৩ জন ও ২০২১ সালে ৮ জন আঞ্চলিক পর্যায়ে বিজয়ী হয়। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক সম্মাননা হিসেবে ইরানিয়ান জিওমেট্রি অলিম্পিয়াডর 'ব্রোঞ্জ' পদক অর্জন করেন বোসন সদস্য ফাহিম মোহিতামিম। এ ছাড়া ২০১৭, ১৮, ১৯, ২০ ও ২০২১ সালে আরও কিছু প্রতিযোগীতায় বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে এ সংঘের সদস্যরা।সংঘের সভাপতি মোহাম্মদ মাজেদুর রহমান বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য জ্ঞানের আলো গণিত ও বিজ্ঞানপ্রেমীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ম্যাগাজিনসহ নানা প্রকাশনার কাজ করছি। এ ছাড়া আমাদের নিয়মিত আয়োজন অলিম্পিয়াড, কর্মশালা, বিতর্কসহ অন্যান্য আয়োজন অব্যাহত থাকবে।'সংঘের উপদেষ্টা ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিপিএস বিভাগের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, এ ধরনের সংগঠন ও তাঁদের কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে-যা শিশু, কিশোর, যুবকদের ভার্চুয়াল আসক্তি থেকে বিরত রেখে সৃজনশীল মনন বিকশিত করে। তাঁদের কার্যক্রম পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে দেশ ও জাতি লাভবান হবে।
6
১৯০৩ সালে উড়োজাহাজ উড়িয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন দুই ভাই। ১০০ বছরের বেশি সময় পর বিশ্ব সম্ভবত আরেকটি বিস্ময়কর ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে। গত বছর লাল গ্রহ মঙ্গলে পাঠানো হয়েছিল একটি মহাকাশযান। 'ইনজেনুইটি' নামের ওই যানটি আগামী বৃহস্পতিবার মঙ্গলপৃষ্ঠে অবতরণ করতে পারে। তবে অভিযানটি সফল করতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, মঙ্গলে গ্যাসের স্তর পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি পাতলা। আবহাওয়াও বেশ বৈরী। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ইনজেনুইটিকে হেলিকপ্টার বলা হলেও এটি আসলে দেখতে ছোট আকারের ড্রোনের মতো। ওজন ১ দশমিক ৮ কিলোগ্রাম (৪ পাউন্ড)। হেলিকপ্টারটিতে চারটি কার্বন ফাইবার পাখা রয়েছে। পাখাগুলো অনেক বেশি বড় এবং সাধারণ হেলিকপ্টারের পাঁচ গুণ বেশি দ্রুত ঘোরে, প্রতি মিনিটে ২ হাজার ৪০০ বার। মহাকাশযানটি মঙ্গলের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ইনজেনুইটির চারটি পা রয়েছে। যানটির মূল কাঠামো বাক্সের মতো দেখতে। এতে দুটি ক্যামেরা, কম্পিউটার ও দিকনির্দেশনার (নেভিগেশন) সেন্সর রয়েছে। মঙ্গলে রাতের পরিবেশ অনেক ঠান্ডা থাকে। ওই সময় তাপমাত্রা মাইনাস ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। তাই যন্ত্রটি সচল রাখতে রাতে অনেক বেশি জ্বালানি শক্তির প্রয়োজন হয়। সে জন্য ব্যাটারি রিচার্জ করতে মহাকাশযানটিতে সোলার সেল লাগানো রয়েছে। হেলিকপ্টারটি পারসিভারেন্স রোভারের ভেতরে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রোভারটি মঙ্গলপৃষ্ঠে নামার পর হেলিকপ্টারটি ওড়ানোর চেষ্টা করা হবে। ইনজেনুইটিকে ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু দিয়ে ওড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি সর্বোচ্চ ১৬০ ফুট (৫০ মিটার) ভ্রমণ করবে। এরপর আবার ভ্রমণ শুরুর স্থানে ফিরবে। প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য সময় লাগবে দেড় মিনিট। ১৯০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় দুই ভাই অরভিল রাইট ও উইলবার রাইট প্রথমবারের মতো ১২ সেকেন্ড উড়োজাহাজ উড়িয়েছিলেন। সেই তুলনায় মঙ্গলে এত সময় হেলিকপ্টার ওড়ানোর সাফল্য মোটেও কম হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা ইনজেনুইটি অভিযানকে 'প্রযুক্তির যুগান্তকারী' অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এ অভিযান মহাকাশ গবেষণায় নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলেও আশা করছে সংস্থাটি। ইনজেনুইটি মহাকাশযানটির প্রধান প্রকৌশলী বব বলরাম বলেছেন, 'যদি এ অভিযান সফল হয়, তাহলে তা মঙ্গল অভিযানের নতুন দিক ব্যাপকভাবে উন্মোচন করবে।'
3
এবার রিজেন্ট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের মাধ্যমে তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে। কমিশনের উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে সোমবার তিন সদস্যেরে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। এ দলের অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী পরিচালক মো.নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা। দুদক সূত্র জানায়, মাইক্রোক্রেডিট ও এমএলএম ব্যবসার নামে জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ, বহুমাত্রিক জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এর আগে কমিশনের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি, গণমাধ্যম, ভার্চুয়াল মাধ্যমসহ বিভিন্ন্ উৎস হতে মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সংগ্রহ করে। এসব তথ্য-উপাত্তসহ অভিযোগ কমিশনের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল কমিশনে উপস্থাপন করলে কমিশন তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।
6
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি প্রোগ্রামের অধীন চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। পদের নাম: এরিয়া ম্যানেজারপদসংখ্যা: অনির্ধারিতযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যোগাযোগে পারদর্শী হতে হবে।কর্মস্থল: বান্দরবানবেতন ও সুযোগ-সুবিধা: বেতন আলোচনা সাপেক্ষে। এ ছাড়া উৎসব বোনাস, স্বাস্থ্যবিমাসহ প্রতিষ্ঠানের নীতি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। আবেদন যেভাবেআগ্রহী প্রার্থীদের ব্র্যাকের ক্যারিয়ার-বিষয়ক ওয়েবসাইটের এ লিংকে লগইন করে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ২২ ডিসেম্বর ২০২১।
1
টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের ১২২ বছরে হারের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ। ওয়েলিংটন টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এত বেশি রান করে কোনো দলের হারের রেকর্ড নেই। এমনভাবে টাইগাররা হারবে তা হয়তো কেউই ভাবেনি। সবচেয়ে বেশি রান করে হারের আগের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ১৮৯৪-৯৫ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৮৬ রান করেও ১০ রানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। সাকিবের ডাবল সেঞ্চুরি, মুশফিকের অনবদ্য ১৫৯ আর দুই ইনিংসে সাব্বিরের হাফ সেঞ্চুরিও জেতাতে পারল না টাইগারদের। কেন উইলিয়ামসনের শতক আর রস টেলরের হাফ সেঞ্চুরিতে দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। ওয়েলিংটন টেস্টে বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড মিলে প্রথম ইনিংসে মোট রান করেছে ১১৩৪। যা ফল হয়েছে প্রথম ইনিংসে দু'দল মিলে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান। গত মাসেই ভারত এবং ইংল্যান্ড চেন্নাই টেস্টে ১২৩৬ রান করেছিল; শেষ পর্যন্ত হেরেছিল ইংলিশরা। বাংলাদেশের দুই ইনিংসের রানের মধ্যে পাথর্ক্য ছিল ৪৩৫। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করে ৫৯৫। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পার্থক্যের তালিকায় এটা সপ্তম। দুই ইনিংসের মধ্যে আগের পার্থক্যেও আছে বাংলাদেশ। ২০১২-১৩ সালে মিরপুরে প্রথম ইনিংসে ৫৫৬ রান করা টাইগাররা দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিল ১৬৭ রান। দুই ইনিংসের মধ্যে ব্যবধান ছিল ৩৮৯। আগামী শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
12
বিপিএলের তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে কোনো জয় পেলো না সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। দুই ধাপে মোট চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় তৃতীয় ধাপের দুটি ম্যাচেই হেরেছে তারা। আজ ছিল চট্টগ্রাম ধাপের দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয়টিতেও হারলো তারা। টানা চার ম্যাচে হার। আজ চিটাগং ভাইকিংসের কাছে ১১ রানে হেরেছে তারা। ফলে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে চিটাগং আর চতুর্থ স্থানেই রয়েছে ঢাকা। দুপুরে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা শুভ হয় চিটাগংয়ের। ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদের চার-ছক্কায় দ্রুত রান তোলে মুশফিকরা। কিন্তু পঞ্চম ওভারেই ১৫ বলে ২১ রান করে সাজঘরে ফিরেন শেহজাদ। তবে অপর ওপেনার ডেলপোর্ট ঠিকই ক্রিজে ঠাঁয় ছিলেন। অর্ধশত করে শেষ ওভারে সাজঘিরে ফিরেন। তখন তার সংগ্রহ ৫৭ বলে পাঁচটি বাউন্ডারি ও চারটি ছক্কায় অনবদ্য ৭১ রান। তিনি ছাড়া ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ২৪ বলে চার বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ৪৩ রান করে। ঢাকার অ্যান্দ্রে রাসেল হ্যাটট্রিক করেছেন।শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে মুশফিকুর রহিম, ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও দাসুন শানাকাকে শিকার করেন তিনি। ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরু থেকেই বেসামাল ঢাকা। প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরেন সুনীল নারাইন। আবু জায়েদের বলে শূন্যেতে ফিরে যান। এর ওভার পরেই রনি তালুকদার বিদায় নেন ছয় রানে। আর পরের ওভারে ওপেনার মিজানুর রহমান ১১ রানে। এরপর নুরুল হাসানকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন সাকিব আল হাসান। কিন্তু দলীয় ৭৩ রানে নুরুল ফিরে গেলে একপ্রান্ত আগলে রাখেন সাকিব। ক্রিজে এসেই রান আউট হয়ে শূন্যহাতে ফিরেন কাইরন পোলার্ড। এরপর অ্যান্দ্রে রাসেলের সাথে কিছুটা পথ এগিয়ে গেলেও দলীয় ১৩৯ রানে রাসেলও বিদায় নেন। তবে সাকিব ঠিকই অর্ধশত করেছেন। ১৮তম ওভারে শানাকার বলে ফিরে যাওয়ার আগে সংগ্রহ ছিল ৫৩ রান। এরপর টেলএন্ডারদের পক্ষে দলকে জয়ের বন্দরে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। ১১ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। চিটাগংয়ের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন আবু জায়েদ। আর দুটি নেন শানাকা।
12
হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহীন অরণ্য থেকে মর্টারশেল ও বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে কাউন্টার টেররিজমের একটি ইউনিট। সোমবার বিকেলে চুনারুঘাট থানায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, অভিযানে ১৫টি রকেটচালিত গ্রেনেড, লরেঞ্জ অটোমেটিক মেশিনগানের গুলি ৫১০ রাউন্ড ও ২৫টি গ্রেনেড বুস্টার উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি ও ১টি ম্যাগাজিনসহ আবেদ ত্রিপুরা ওরফে অমিত নামে একজনকে আটক করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। একপর্যায়ে তার দেওয়া তথ্যমতে তাকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার রাত ৩টা থেকে চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ১৫টি রকেট প্রফেল গ্রেনেড, লরেঞ্জ অটোমেটিক মেশিনগানের গুলি ৫১০ রাউন্ড ও ২৫টি গ্রেনেড বুস্টার উদ্ধার করা হয়েছে। মো. আসাদুজ্জামান জানান, আটককৃত অমিতের বাড়ি খাগড়াছড়ির পানছড়ি এলাকায়। বর্তমানে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযান চলমান রয়েছে। আটক অমিতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে চলতি বছরের গত ২ মার্চ অভিযান চালিয়ে ১৮টি কামান বিধ্বংসী রকেট সেল উদ্ধার করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। ২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৩৩৪টি কামান বিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, একটি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, একটি বেটাগান, ছয়টি এসএলআর, একটি অটোরাইফেল, পাঁচটি মেশিনগানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল, প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড বুলেটসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে র্যাব। এরপর আবারো ওই বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে চতুর্থ দফার প্রথম পর্যায়ে উদ্যানের গহিন অরণ্যে মাটি খুঁড়ে তিনটি মেশিনগান, চারটি ব্যারেল, আটটি ম্যাগাজিন, ২৫০গুলির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আটটি বেল্ট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়। পরে ১৭ অক্টোবর দুপুরে এসএমজি ও এলএমজির ৮ হাজার ৩৬০ রাউন্ড, ত্রি নট ত্রি রাইফেলের ১৫২ রাউন্ড, পিস্তলের ৫১৭ রাউন্ড, মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করা হয়। পঞ্চম দফায় ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাতছড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ১০টি হাই এক্সক্লুসিভ ৪০ এমএম অ্যান্টি-ট্যাংক রকেট উদ্ধার করা হয়। ষষ্ঠ দফায় ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১৩টি রকেট লঞ্চারের শেলসহ বেশকিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
6
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ বৃহস্পতিবার বিজয় দিবসে সারাদিন ১৬ জন ক্রীড়াবিদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৭১ কিলোমিটার 'বিজয় পদযাত্রা' কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'হাঁটাহাঁটি'- ' ' নামে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও শরীর চর্চাবিষয়ক সংগঠনের উদ্যোগে ১৬ ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে (রাত ১২:০১ মিনিটে) ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে রাজধানীর মহাখালী-উত্তরা-গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটার হাঁটার এই কর্মসূচি শেষ হয়। জিরো পয়েন্ট থেকে ভালুকায় পৌঁছাতে তাদের ১৭ ঘণ্টা সময় লাগে। একজন নারীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী মিলে মোট ১৬ জন এথলেট এই পদযাত্রায় অংশ নেন। ৭১ কিলোমিটার পদযাত্রা শেষে ভালুকায় ৭১টি মোমবাতি জ্বালিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়। এসময় ভালুকার বিপুল সংখ্যক স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের স্বাগত জানান। হাঁটা শেষে ক্রীড়াবিদরা চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতির বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে পথচারীদের মাঝে ৭১০টি ফেসমাস্ক বিতরণ করেন এবং সুস্থ ও নিরাপদ থাকার বিষয়ে সচেতনতা বার্তা পৌঁছে দেন। এছাড়াও তারা পরিবেশের প্রতি যত্নবান থেকে পদযাত্রা কর্মসূচিতে ব্যবহৃত সব পানির বোতল, প্যাকেট ইত্যাদি রাস্তায় না ফেলে বস্তায় ভরে ঢাকায় এনে ডাস্টবিনে ফেলেন। উল্লেখ্য, 'হাঁটাহাঁটি'-' ' এর উদ্যোগে হাঁটার প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা বিষয়ে তথ্য বিনিময় এবং দীর্ঘ দূরত্বের পদযাত্রা আয়োজন করা হয়ে থাকে। এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গত ১৯ নভেম্বর ৪ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার পদযাত্রার একটি কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)
6
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। জাবির জনসংযোগ কার্যালয়ের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজ সোমবার সকালে জাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের কাছে মোবাইল ফোনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান তিনি। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
1
সংক্রমণ কমে গেলেও করোনা এখনো ভাবাচ্ছে মানুষকে। গত প্রায় দুই বছরে অনেকেই হারিয়েছেন কাছের মানুষদের। গড় বয়স স্পর্শ করার অনেক আগেই করোনার কারণে বিদায় নিতে হয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা বলছে, মানুষের জীবন থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ বছর কেড়ে নিয়েছে এ ভাইরাস। সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।৩৭টি দেশের করোনার তথ্য নিয়ে করা গবেষণাটি এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত সবচেয়ে বড় গবেষণা। তবে আসল চিত্র আরও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন গবেষক দলের প্রধান নাজমুল ইসলাম। এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অনেক দেশের তথ্য পাননি তাঁরা। গড় বয়সের ঠিক কত বছর আগে করোনা আক্রান্তরা মারা গেছেন, সেটি হিসাব করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে।
6
আনারসের সালাদ উপকরণ আনারসের টুকরা ৩ কাপ, আনারসের রস ১ কাপ, বিট লবণ আধা চা-চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ ও কাঁচা মরিচ/শুকনা মরিচ ২টা। প্রণালি সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন। পেঁপের সালাদ উপকরণ পাকা পেঁপে ২ কাপ, পেঁপের রস ১ কাপ, লেবুর রস ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি আধা চা-চামচ, বিট লবণ আধা চা-চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ ও গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ। প্রণালি পেঁপের খোসা ও বিচি ফেলে টুকরো করে নিন। ১ কাপ পেঁপে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। পেঁপের রসে সব উপকরণ মিশিয়ে সালাদ তৈরি করুন। ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন। ফলের যুগলবন্দী উপকরণ আম সিকি কাপ, আনারস সিকি কাপ, পেঁপে সিকি কাপ, কলা আধা কাপ, আমের পাম্প ১ কাপ, চিনি আধা কাপ, লবণ ১ চিমটি, লেবুর রস ১ চা-চামচ, পুদিনা পাতা ১ টেবিল চামচ ও শুকনা মরিচ ১টা। প্রণালি সব ফল এক মাপে কেটে নিন। আমের রসের সঙ্গে চিনি, লবণ, পুদিনা, শুকনা মরিচ, লেবুর রস মেশান। এবার টুকরা করা ফল দিন। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন। দই-কলার সালাদ উপকরণ কলা ৬টা, মধু ২ টেবিল চামচ, টক দই আধা কাপ ও পুদিনা কুচি ২ টেবিল চামচ। প্রণালি কলার খোসা ফেলে টুকরা করে লেবুর পানিতে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। টক দই ভালোভাবে ফেটে রাখুন, পুদিনা কুচি ও মধু মেশান। টুকরা করা কলা দিয়ে নরমাল ফ্রিজে রাখুন। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন। পেয়ারার সালাদ উপকরণ পেয়ারা ১টা (১ কাপ), তেঁতুলের ক্বাথ ৩ টেবিল চামচ, বিট লবণ আধা চা-চামচ, শুকনা মরিচ ১টা, চাট মসলা ১ চা-চামচ ও ধনেপাতা ২ টেবিল চামচ। প্রণালি পেয়ারা ছোট ছোট টুকরা করে নিতে হবে। তেঁতুলের বিচি ফেলে ক্বাথ বের করে নিন। শুকনা মরিচ টেলে ভেঙে রাখুন। এবার সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে সালাদ তৈরি করে নিন।
4
উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে ২ হাজার ৩০০ বছরেরও আগের মন্দির আবিষ্কার করেছেন পাকিস্তান ও ইতালির একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দল। ভারতীয় হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বৌদ্ধ যুগের অ্যাপসিডাল মন্দির ছাড়াও আরও কয়েকটি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার করেছেন দলের সদস্যরা। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলার বারিকোট তহশিলের বাজিরা শহরে বৌদ্ধ আমলের এই আবিষ্কারকে পাকিস্তানের প্রাচীনতম বৌদ্ধ মন্দির হিসেবে বর্ণনা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। "পাকিস্তান এবং ইতালির প্রত্নতাত্ত্বিকরা এক যৌথ খনন প্রক্রিয়ায় বৌদ্ধ যুগের অ্যাপসিডাল মন্দিরটি আবিষ্কার করেছেন। সোয়াতে আবিষ্কৃত এই মন্দিরটি পাকিস্তানের তক্ষশীলায় আবিষ্কৃত মন্দিরের চেয়েও পুরানো," এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন। মন্দির ছাড়াও, প্রত্নতাত্ত্বিকরা বৌদ্ধ যুগের ২,৭০০টিরও বেশি নিদর্শন উদ্ধার করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে মুদ্রা, আংটি, পাত্র এবং গ্রিসের রাজা মেনান্ডারের আমলের খরোস্তি ভাষার কিছু লেখাও। ইতালির প্রত্নতাত্ত্বিক দলের প্রধান ড. লুকা মারিয়া অলিভেরি বলেন, "বৌদ্ধ আমলের মন্দিরের আবিষ্কার প্রমাণ করেছে সোয়াত তক্ষশীলার চেয়েও প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের আবাসস্থল।" তিনি সোয়াত জেলার ঐতিহাসিক বাজিরা শহরে খননের সময় আরও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন। জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক ড. আব্দুস সামাদ বলেন, "বারিকোট সোয়াতের বাজিরা শহর তক্ষশীলার থেকেও প্রাচীন এবং সোয়াত ছয় থেকে সাতটি ধর্মের পবিত্র স্থান ছিল।" প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থীরা বাজিরা শহরে এই স্থানগুলোর খননে সহায়তা করেছে। ড. সামাদ বলেন, কেপি সরকার চারটি ধারার অধীনে ১৪টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান কিনেছিল। সেই স্থানগুলোতেই খনন চলছিল। এ বিষয়ে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস ফেরারেস সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তানের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলি বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ইতালির প্রত্নতাত্ত্বিক দল খাইবার পাখতুনখোয়া প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের সহযোগিতায় পাকিস্তানে গত সত্তর বছর ধরে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর রক্ষণ ও খনন করছে।
3
করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার পর সুস্থ হওয়ার দাবি করেছেন একজন প্যারালাইজড রোগী। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সুস্থ হওয়া ওই ব্যক্তির নাম দুলারচাঁদ মুণ্ডা। ৫৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সালগাইধ গ্রামের বাসিন্দা।দুলারচাঁদ মুণ্ডার আত্মীয়রা জানান, চার বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় দুলারচাঁদ প্যারালাইজড হন। এরপর থেকে হাঁটাচলা ও কথা বলতে পারতেন না তিনি।দুলারচাঁদ মুণ্ডা জানান, গত ৪ জানুয়ারি কোভিশিল্ডের করোনার টিকা নিয়েছেন তিনি। এর পরদিন থেকেই তিনি হাঁটাচলা ও কথা বলতে পারছেন।সুস্থ হওয়ার বিষয়ে দুলারচাঁদ গতকাল শুক্রবার এনডিটিভিকে বলেন, 'টিকা নিতে পেরে আনন্দিত। ৪ জানুয়ারি টিকা নেওয়ার পর আমি আমার পা নাড়াতে পারছি।স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি গবেষণার বিষয়।ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার ডা. জিতেন্দ্র কুমার এ ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন। এ ঘটনা বিশ্লেষণের জন্য একটি মেডিকেল টিম গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।ডা. জিতেন্দ্র কুমার বলেন, এটা দেখে অবাক। তবে এটি বিজ্ঞানীদের দ্বারা নিশ্চিত করা দরকার।ঝাড়খণ্ডের পেটারওয়ার হেলথ সেন্টারের কর্মকর্তা আলবেল কেরকেতা বলেন, দুলারচাঁদ মুণ্ডার অসুস্থতা এবং তাঁর সুস্থতা নিয়ে বিজ্ঞানীরা যখন গবেষণা করবেন, তখন সঠিক তথ্য ও উত্তর পাওয়া যাবে।সালগাইধ গ্রামের শিক্ষক রাজু মুণ্ডা বলেন, অবাক করার মতো ঘটনা এটি। প্যারালাইজড হওয়ার পর দুলারচাঁদ প্রায় চার লাখ রুপি ব্যয় করে চিকিৎসা করিয়েছিলেন সেরে ওঠার জন্য। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। একটি ভ্যাকসিন কীভাবে তাঁকে সারিয়ে তুলল?
3
কাঁটাতারের এপার থেকে/ দেখছি তুমি আছোই সুখে/ রাজত্বটা তোমার শাসনে/ বসে আছো সিংহাসনে- ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এদিকটায় বসে গিটার হাতে এভাবেই আক্ষেপের সুর ছুঁড়ে দিলেন ঢাকার সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আলতাফ। এর জবাবে পশ্চিমবঙ্গের কিংবদন্তি নচিকেতাও কম নন। সুরে সুরে বললেন- দূর থেকে মনে হয়/ সুখেই আছি আমি বোধয়/ সুখ আসলে কার চরণে/ জানে খোদা জানে ভগবানে! এমন অসাধারণ সওয়াল-জবাবের মধ্যদিয়ে দুই বাংলার দুজন শিল্পীর কণ্ঠে উঠে এলো বাংলাভাগের আফসোস আর সীমান্তে কাঁটাতারের ক্ষোভ। 'কাঁটাতার' নামে বিশেষ এই গানটি সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে ইউটিউবে। কণ্ঠের পাশাপাশি যার কথা ও সংগীত পরিচালনা করেছেন আসিফ আলতাফ নিজেই। সহশিল্পী হিসেবে এতে কণ্ঠ দিয়েছেন নাচিকেতা। গানটি প্রযোজনা করেছে 'চিরকুট' সদস্য পাভেল আরিনের বাটার কমিউনিকেশন। গানটি তৈরি ও প্রকাশ প্রসঙ্গে আসিফ আলতাফ বলেন, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী, কখনও অহংকারী, বেপরোয়া সত্যভাষী একজন সঙ্গীতজ্ঞ নচিকেতা। সেজন্যই বহুদিন ধরে একটা গান মাথায় ঘুরছিল তাকে নিয়েই। তিনি গাইবেন নাকি গাইবেন না এটা ছিল সবচেয়ে বড় সংশয়। বন্ধু পাভেল আরিন গানটি শোনার সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত নিলো- আমি আর নচিকেতা নাকি একসাথে গাইবো সেটা! আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, গাইবার জন্য আলোচনা থেকে শুরু করে রেকর্ডিং শেষ হওয়া পর্যন্ত নচিকেতার আন্তরিকতা আর পেশাদারিত্ব ছিল লক্ষণীয়। আমার লেখা-সুরে, আমায় সঙ্গে নিয়েই তিনি গাইলেন- এটা আমার জন্য একটা বিশাল পাওয়া। তবে এর থেকেও আমি বেশি অবাক হয়েছি তার সাহসিকতা দেখে। তার অবস্থানে বসে এমন লিরিক উচ্চারণ করতে আমি নিজেও দ্বিধা করতাম। এই সাহসী উচ্চারণ নচিকেতাকে দিয়েই সম্ভব। 'কাঁটাতার' গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন মোমিন বিশ্বাস। এতে দেখা যাচ্ছে আসিফ-নচিকেতা দু'জনকেই। দু'জনার পাশাপাশি ভিডিওতে রয়েছে কথার রেশ ধরে পঙ্কজ বর্মণের প্রাসঙ্গিক চিত্রকর্ম। শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে আসিফ বলেন, 'গানটি আমার মনের কথা, ক্ষোভের কথা। সঙ্গে নচিকেতার সাহসিকতা, ভালো লাগলে সাথেই থাকবেন বিশ্বাস করি।'
2
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার ৪ নম্বর কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আগামী ২৬ ডিসেম্বর। নির্বাচনে কে জয়ী হবে তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।এ ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ আজিজুল ইসলাম দলীয়ভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও ভোটে ভাগ বসাবেন আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল ইসলাম রেজা ও মো. শাহাবাজ আলী।এদিকে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাওয়ায় সুবিধাটা কাজে লাগাচ্ছেন জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক ইদ্রিস আলী। নির্বাচনে তিনি রয়েছেন বেশ সুবিধাজনক স্থানে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ৩৩০০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন।কুমিরার একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম একজন ভালো মানুষ। তাঁরা আবারও তাকে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চান। অপরদিকে জামায়াতের ভোটাররা জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারলে অধ্যাপক ইদ্রিস আলীর জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।এ ছাড়া সদস্য পদে ৩৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০ জন প্রার্থী জয়লাভের লক্ষ্যে পাড়া মহল্লা ও বাড়ি বাড়ি ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন।তালা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাহুল রায় জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত।
6
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের তারিখ নির্ধারণে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ সোয়া ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন। কমিশনের বৈঠকে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের পর জাতির উদ্দেশে দেয়া সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হবে। এরপর সন্ধ্যায় ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে সিইসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। বৈঠকে নির্বাচনের উপকরণ সরবরাহ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্র ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে সিদ্ধান্ত হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতিও শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। আনুষ্ঠানিকভাবে আজ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি জানাতে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। সন্ধ্যা ৭টায় তার ওই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচার করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এদিকে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাড়তি র্যাব-পুলিশ ও সাঁজোয়া যানসহ শেরেবাংলা নগরে ইসি এবং বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের আশপাশে মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইসির প্রধান ফটকে পুলিশি পাহারার পাশাপাশি বসানো হয়েছে আর্চওয়ে।
9
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার ঘটনা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পটুয়াখালী-২ আসনের এই সাংসদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী আদালতে নালিশি মামলা করেছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। ১৯ ডিসেম্বর আদালত মামলাটি গ্রহণের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন।বাউফল উপজেলার বাউফল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদুল হক (৪৬) বাদী হয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, ৯ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের সময় বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় অফিসে বসে স্থানীয় সাংসদ ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, 'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর ছবিতে জুতা-ঝাঁটা লাগিয়ে আনন্দমিছিল করেছি। তাতেই কিছু হয়নি, আর বাউফল আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা যারা আমার বিরুদ্ধে করে, তাদের ডজনখানেক খুন করিলেও আমার কোনো ক্ষতি হবে না।'ওই দিন বাদী সেখানে উপস্থিত থেকে এই কথা শুনে শিউরে ওঠেন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি পঁচাত্তর সালের সেই ঘটনা-সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এরপর ১২ ডিসেম্বর বাউফল থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ আদালতে মামলাটি করেন।এই মামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, ১৯৭৫ সালে বরিশাল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আলতাফ হোসেন ভুলু, বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ফরাজীসহ ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদীপক্ষে আইনজীবী হিসেবে মামলাটি পরিচালনা করছেন মো. জাহাংগীর হোসেন এবং সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম।এ বিষয়ে জানতে চাইলে আ স ম ফিরোজ বলেন, 'আমি ৪০ বছর ধরে সংসদ সদস্য। নেত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে জানেন। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিব না।'
6
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মো. শাহ আলী নামের একজনকে অস্ত্র এবং মাদকসহ আটক করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন)। সংস্থাটির দাবি, আটক ব্যক্তি মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ভাই। রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নৌকার মাঠ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাইমুল হক। এপিবিএন জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা শিবিরের ৬ নম্বর ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে মো. শাহ আলী (৫৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, সে মিয়ানমারে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আরসার প্রধান নেতা আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ভাই। গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে, উক্ত এলাকায় কিছু দুষ্কৃতকারী অবস্থান নিয়েছে এবং তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে। পরে ড্রোন দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর তাকে আটক করা হয়। এ সময় সাদিকুল নামে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, তাকে সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং টাকা দাবি করা হয়। নাইমুল হক জানান, আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবাসহ আরসা নেতা আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ভাইকে আটক করা হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবির ঘিরে কোনো ধরনের অপতৎপরতা আছে কিনা এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে উখিয়া থানায় পাঠানো হয়েছে। এদিকে রোহিঙ্গা শিবিরে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও অস্থিরতার জন্য জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করছেন নিহতের স্বজনেরা। তবে সরকারের মতে, বাংলাদেশের আরসার অস্তিত্ব নেই।
6
শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের ভারী যানবাহন গ্রামীণ সড়কে চলাচল করায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। এতে স্থানীয়রা সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছেন। কিন্তু মাত্র ৪ বছর আগে শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের সংস্কার করা হয়েছিল।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার শাজাহানপুর এলাকা থেকে ভেদরগঞ্জ টেকের বাজার ও নারায়ণপুর হয়ে কাশিমপুর পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়কটি একেবারে খানাখন্দে ভরে গেছে। গত ৪ বছর আগে শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের সংস্কার করা হয়েছিল। ঠিকাদার ঢিলেঢালাভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় বছর না পেরোতেই আবার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। তাই এলজিইডির নির্মিত সড়ক দিয়ে ভারী ট্রাক এবং গণপরিবহনগুলো ভেদরগঞ্জ টু সখিপুর গ্রামীণ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। গাড়িগুলো ভেদরগঞ্জ থেকে সখিপুর হয়ে কাশিমপুর এলাকা দিয়ে আবার মহাসড়কে উঠে।সম্প্রতি গত ১১ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে মাছ নিয়ে কাভার্ডভ্যান এ পথ দিয়ে আসার সময় ডিএমখালি ইউনিয়নের পায়াতলী গ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে চালকের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সখিপুর থানা-পুলিশ। পরে কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কোড়ালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কটির অর্ধাংশ ভেঙে গিয়েছে।শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চার লেনে নির্মাণ করা হচ্ছে শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়ক। জমির অধিগ্রহণের জটিলতায় সড়কটির কাজ শতভাগ করা সম্ভব হচ্ছে না। থমকে আছে অধিকাংশ সড়কের কাজ। চার লেন সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় শরীয়তপুর-চাদপুর মহাসড়কের মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দও নেই। মহাসড়কটির সংস্কারের অভাবে বেহাল সড়ক দিয়েই পাড়ি দিচ্ছে গাড়িগুলো।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ভেদরগঞ্জ উপজেলার পূর্বদিকে বড় ব্রিজে সব সময় দীর্ঘ লাইনে গাড়ির যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়ি ওভারপাস করতে গিয়ে ব্রিজের উত্তর পাশের রেলিংটি অনেকাংশ ভেঙে গেছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।স্থানীয় বাসিন্দা মামুন দালাল বলেন, এই চিকন সড়ক দিয়ে যদি ভারী গাড়ি চলে তাহলে কি তা ভালো থাকে? আর গাড়িগুলোও বেপরোয়া গতিতে চালায়। এতে ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটেই থাকে। গত কয়েক দিন আগেও একজন মারা গেছেন। তাই এই চিকন সড়ক দিয়ে গাড়ি যেন না চলতে দেওয়া হয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ দাবি জানাচ্ছি।ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা (এলজিইডি) অনুপম বলেন, 'আমাদের অর্থায়নে নির্মিত ভেদরগঞ্জ টু সখিপুর সড়কের ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০ টন। তবে শরীয়তপুর-চাঁদপুরের মহাসড়কে যে যানবাহনগুলো চলে সেগুলো সর্বনিম্ন ৪০ টন ওজন নিয়ে যাতায়েত করে। তাই আমাদের তৈরি গ্রামীণ সড়কে এ যেন মশার ওপর হাতির পারা বলে মনে হয়। আমরা দুই-তিন মাস ধরে সড়কটির মুখে লোহার পাইপ দিয়ে ব্যারিকেড দেই। তবে ব্যারিকেড ভেঙে চালকেরা ঢুকে পড়ছে। তাই সড়ক রক্ষার্থে আগামীতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করব।এ বিষয়ে শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, শরীয়তপুর-চাঁদপুর চার লেনের সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। তাই পুরোনো সড়কটিতে কোনো বরাদ্দ নেই। এ কারণে সড়কটির বেহাল দশা।নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, ভেদরগঞ্জ সখিপুরের এলজিইডির সড়ক দিয়ে মহাসড়কের গাড়ি যাওয়ার এখতিয়ার নেই। আর চার লেনের সড়কটি হয়ে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
6
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা সিটি কলেজ ভোটকেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করবেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর বাসসের। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে নিবন্ধিত প্রত্যেক নাগরিক একটি ভোটের মালিক। এবার ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১০ কোটি। যার মধ্যে একটি ভোট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। নিয়ম অনুযায়ী রোববার রাজধানীর ধানমণ্ডির কুদরত-ই-খুদা রোডে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে তিনি তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সংসদ নির্বাচনে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্ধারিত হয় কোন রাজনৈতিক দল বা জোট দেশ পরিচালনা করবে। সে হিসাবে আজ দেশের সব ভোটার একদিনের 'বাদশা'। আগামী পাঁচ বছরের জন্য তারাই নির্বাচন করবেন ভবিষ্যতের সরকার। এবার আওয়ামী নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হবেন টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী এবং সব মিলিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী।
6
ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দুই মাস হলো। এখনো থামেনি প্রতিবাদ। তবে কিছুটা থমকেছে। এই প্রতিবাদ একই সঙ্গে নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) বিরুদ্ধেও। কিন্তু এর শেষ কোথায়? এর ভবিষ্যৎ কী? এই প্রতিবাদ কীভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে? না পারলে পরিণতি কী হবে তার? সংগঠক ও অংশগ্রহণকারী ছাড়িয়ে এসব প্রশ্ন ভাবাচ্ছে ভারত সীমান্তের বাইরে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের মানুষকেও। অনেক অর্জন, অনেক দুর্বলতাবিশ্বজুড়ে মনোযোগ পাওয়া এই আন্দোলনের প্রধান দিক তার অহিংস চরিত্র। প্রায় ৫০টি বড় জমায়েত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতা ছাড়াই দেশটির সব প্রান্তে ছড়িয়েছে প্রতিবাদের এই ঢেউ। আন্দোলনকারীরা নিজস্ব শ্রেণি-পেশার কোনো বিষয়ে নয়, দেশের জন্য নীতিগত বিষয়ে কথা বলছে। সবই হচ্ছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে, নিজ নিজ খরচে। সমকালীন দক্ষিণ এশিয়ায় অনন্য নজির এটা। বিশ্বের 'বৃহৎ গণতন্ত্র'-এর 'সেক্যুলার' রাজনৈতিক আবহে সংখ্যালঘুরা কতটা দুঃসহ অবস্থায় আছে, সেটাও জানাল এই আন্দোলন। একই আন্দোলন এ-ও দেখাল, সংখ্যালঘুদের জন্য সংখ্যাগুরুরা অনেকে রাস্তায় মার খাওয়ার ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত। এ রকম দৃশ্য সংখ্যালঘুদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নামতে উৎসাহিত করেছে। এই আন্দোলন গণতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমের অনন্য এক মঞ্চ হিসেবে তৈরি করতে পেরেছে নিজেকে। ধর্ম ও রাজনীতির সর্বগ্রাসী মিশ্রণের যুগে সেক্যুলারিজম তরুণদের এতটা আকৃষ্ট করতে পারবে, এটা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিস্মিত করেছে। আন্দোলনকারীদের গায়ের রং, পোশাক, বর্ণ ও ধর্মবিশ্বাসের বৈচিত্র্যও এর আরেকটা শক্তির দিক। এতে নেতৃত্বের কোনো কর্তৃত্ববাদী কাঠামোও ছিল না এবং এখনো নেই। এ রকম আরও অনেক অর্জন আছে এই আন্দোলনের। পাশাপাশি এ-ও মনে রাখা দরকার আন্দোলনের প্রতিপক্ষ আরএসএস পরিবার। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক গোত্রের একটি তারা। এই আন্দোলনকে পরাস্ত করতে, এর শেষ দেখতে আরএসএস সবকিছুই করছে। ইতিমধ্যে কিছু কিছু স্থানে আন্দোলনে ফাটল ধরানো গেছে। তরুণদের কাউকে কাউকে 'দেশবিরোধী শক্তি' হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। আন্দোলনের কৌশলগত একটা ভুল, প্রতিবাদ সমাবেশগুলোতে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রার্থনায় লিপ্ত হতে দেওয়া। ভারতের মুসলমান তারুণ্য বিপুল সংখ্যায় আন্দোলনে শামিল ছিল এবং আছে। কিন্তু সেক্যুলার সংগঠকেরা অনেক সময় অতি উৎসাহের পরিচয় দিয়েছেন। সংখ্যাগুরু তোষণ যেমন গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি সংখ্যালঘু তোষণ গণতন্ত্রের সংগ্রামের আয়তন কমায়। 'সিএএ-এনআরসি'বিরোধী সমাবেশগুলোতে নামাজের দৃশ্য আন্দোলনকে সংখ্যালঘুদের আন্দোলন হিসেবে দেখানোর কাজে বিজেপিকে সাহায্য করেছে। সমাবেশগুলোকে 'সংখ্যালঘুর মর্যাদা রক্ষা'র আন্দোলন প্রমাণ করার চেয়েও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দেখানো বেশি জরুরি ছিল। আন্দোলন হচ্ছে শহুরে মধ্যবিত্তের চৌহদ্দিতেআন্দোলনের সংগীতময় মিছিলগুলো শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের কাছে যতটা আবেদনময়-গ্রামীণ ভারতের দরিদ্র মানুষের জন্য ততটা নয়। ভারত রাষ্ট্র সেক্যুলার থাকা না-থাকায় মুসলমানদের স্বার্থ আছে। কিন্তু কোটি কোটি দরিদ্র ভারতবাসী হিন্দুর চোখে তার দৃশ্যমান আবেদন কম। নতুন করে 'অবৈধ মুসলমান'দের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ার মতো কিছু ঘটেনি তাদের জীবনে। নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনগুলো এ রকম মানুষদের কাছে সামান্যই অন্যায্য মনে হচ্ছে। কারণ, ছাত্র-তরুণেরা কেউ তাদের কাছে যায়নি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে। এ রকম অবস্থায় চলতি আন্দোলনকে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে এবং শহুরে চৌহদ্দির বাইরে নিতে মাটি ও মানুষের আরও স্বার্থ যুক্ত করতে হবে এতে। অন্তত বেকারি ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিপর্যয়কে আন্দোলনের দাবিতে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। কৃষক ও শ্রমিকেরা যদি সরাসরি তাদের স্বার্থ এই আন্দোলনে খুঁজে না পায়, 'আজাদি'র স্লোগানের প্রতি ইতিমধ্যে সৃষ্ট মনোযোগ দ্রুতই হারিয়ে ফেলবে তারা। আন্দোলনের 'শেষ লক্ষ্য' সম্পর্কে বুঝতে চাইছে নিচুতলার মানুষ এবং সেখানে রুটি-রুজির কোনো স্বার্থ আছে কি না, সেটাও দেখতে ইচ্ছুক। বিশ্বের সেসব স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন সম্প্রতি সফল হয়েছে, যেগুলো কৃষক-শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করতে পেরেছে। মোদি সরকারের সমর্থক ভিত্তি থেকে দরিদ্র হিন্দুদের বের করে আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ প্রতিবাদকারীদের সামনে। আপাতত সেটা ঘটেনি। ১৭টি ভারতীয় রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। তাদের সমর্থক গোষ্ঠীতে বড় কোনো ধসের আলামত দেখা যায়নি। দরিদ্র উত্তর প্রদেশে যেসব ঝাঁজালো বিক্ষোভ হয়েছে তার মূলশক্তি ছিল সংখ্যালঘু তরুণেরাই। স্বতঃস্ফূর্ততাকে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে রূপ দিতে নেতৃত্ব দরকারশহুরে তরুণদের এই আন্দোলন নিজেকে অতিমাত্রায় সংবিধানবাদী দেখাতেও তৎপর। নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনকে সংবিধানবিরোধী দেখিয়ে উচ্চ আদালতের সহানুভূতি পেতেই এই কৌশল। আন্দোলনকারীরা হয়তো ভেবেছিলেন 'সংবিধান রক্ষা'র আওয়াজ কিছু বিজেপি সমর্থককেও তাদের মিছিলে শামিল করবে। কিন্তু অন্ধ সংবিধানবাদ এ-ও দেখায়, জনস্বার্থে তাতে পরিবর্তন-সংশোধন করা যাবে না। সংবিধানকে চির অপরিবর্তনীয় ধর্মগ্রন্থে পরিণত করছে ভারতীয় এই আন্দোলন। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্বিকার মূর্তি আন্দোলনের সংবিধানবাদিতার কৌশলকে অসফল প্রমাণ করছে। বহু সংস্কৃতির ভারতে বহুত্ববাদের স্বার্থেই এই আন্দোলনকে সংবিধানবাদিতার কাঠামো থেকে বের করা জরুরি। সে জন্য দরকার সাহসী নেতৃত্ব। নেতৃত্বহীনতা এত দিন এই প্রতিবাদযাত্রার শক্তির দিক ছিল। নেতা না থাকায় মোদি সরকার কাউকে চট করে আটক করে আন্দোলন থামাতে পারেনি। বিজেপির কর্মীরাও চরিত্রহননের জন্য দল বেঁধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেনি। কিন্তু গত দুই মাসের প্রতিবাদকে এখন রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত করার সময় এসেছে। যার জন্য প্রয়োজন আন্দোলনের ভেতর থেকে আসা শক্তিশালী নেতৃত্ব কাঠামো। প্রতিদিন সময় দেওয়ার মতো হাজার হাজার কর্মীও দরকার এই সংগ্রামকে সফল করতে। আরএসএস-বিজেপি এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষায় ছিল। তারা জানে, হাজার হাজার মাইলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নানা বর্ণ, জাত, ধর্ম ও আদর্শের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে এক সুতায় গাঁথার মতো গ্রহণযোগ্য ছাত্রনেতা দুর্লভ। স্মরণ করা যেতে পারে, ১৯৭৫-৭৭ সময়ে ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জন আন্দোলনের কথা। মোরারজি দেশাই ও জয়প্রকাশের মতো সংগঠক পেয়েছিল ওই আন্দোলন। চলতি আন্দোলন তেমন কাউকে পায়নি। আজকে কানাহিয়া কুমার বা চন্দ্রশেখর আজাদের মতো নেতারা সেটা পারবেন কি না বা করবেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়। চলতি আন্দোলনে এককভাবে এই দুজনই বেশি আবেদন ও মনোযোগ টানছেন। এটা সত্য নয় যে একক দাবিনির্ভর আন্দোলন সরকার হটাতে পারে না। কংগ্রেসের মনোমোহন সিংহ সরকারের মূল সর্বনাশ হয় আন্না হাজারেদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে। কিন্তু দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন যতটা অর্থনৈতিক চরিত্রের এনআরসি-সিএএবিরোধী আন্দোলন তেমন নয়। সেক্যুলার রাজনীতি নিঃশেষের ঝুঁকিচলতি আন্দোলনের প্রতি বিদ্যমান বিরোধী দলসমূহের সমর্থনেরও ঘাটতি রয়েছে। যে কারণে রাজ্যসভায় বিজেপি সংখ্যালঘু হয়েও সিএএ পাস করাতে পেরেছে। জাতীয় কংগ্রেস ছাত্র-তরুণদের সমর্থনে সব দলের যে বৈঠক ডেকেছিল তাতে মায়বতীর বহুজন সমাজবাদী দল ও মমতার তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেয়নি। যায়নি আম-আদমি পার্টিও। তবে তৃণমূল স্বতন্ত্রভাবে এই আন্দোলনের পক্ষে সবচেয়ে সরব রাজনৈতিক দল। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ছাত্র শাখা আন্দোলনে থাকলেও দলের মূল নেতা রাহুল গান্ধী টুইটারের বাইরে আন্দোলনে সামান্যই সক্রিয়। তাঁর ভগ্নি প্রিয়াঙ্কা একদিন রাস্তার প্রতিবাদে শামিল হন কিছু সময়ের জন্য। কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরুদ্ধে যেভাবে সমালোচনামুখর কংগ্রেসের হাতে থাকা সাত রাজ্যের মাত্র দুটির (পাঞ্জাব ও রাজস্থান) বিধানসভায় তেমন দেখা গেছে। কংগ্রেস এই আন্দোলনে পুরো শক্তি দিয়ে নিজের মুসলমানবান্ধব ইমেজ তৈরি করতে চাইছে না। অন্য দলগুলোর মধ্যে শিবসেনা, আসাম গণপরিষদ, বিজু জনতা দল নিজ নিজ রাজ্যে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে মৃদুস্বরে বললেও লোকসভায় তার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। চলতি গণপ্রতিবাদে জনবল শামিল করে একে আরও সামনে এগিয়ে নিতে অনিচ্ছুক তারা। কোনো দলই 'মুসলমান সমর্থক' ইমেজ গড়তে চায় না। তারা নিশ্চিত নয়, ছাত্র বিক্ষোভ বিজেপির তৈরি আইন বদলাতে বা থামাতে পারবে। দক্ষিণ ভারতের দলগুলোও একই বিবেচনায় নীরব। কেবল বামেরা সীমিত শক্তির পুরোটা দিয়ে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে আছে। কিন্তু সব মিলে ছাত্র-তরুণদের প্রতিবাদকে সাংগঠনিক ছায়া দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার মতো অভিভাবকত্বের ঘাটতি থাকছেই। চলমান আন্দোলনের ব্যর্থতা মানেই মোদি ও অমিত শাহর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি। ব্যর্থ আন্দোলন মধ্যপন্থী হিন্দুদেরও এই জুটির পেছনে শামিল করবে। যার প্রতিক্রিয়ায় ভারতে সেক্যুলার রাজনীতি নিঃশেষ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও তা হতাশা ও বিপদের আবহ তৈরি করবে। ছাত্র-তরুণদের আজকের প্রতিবাদ তখন পরাজিত এক গণতান্ত্রিক আন্দোলন হিসেবে ইতিহাসের সামান্য ফুটনোট হয়েই থাকবে কেবল। আলতাফ পারভেজ: গবেষক
8
অনেক চেষ্টা করেও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারেননি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বহু নাটকীয়তার পর প্রায় তিন সপ্তাহ আগে অনাস্থা ভোটে হেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদ খুইয়েছেন তিনি। সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার এখন ব্লাসফেমি মামলার মুখেও পড়েছেন। ইমরান খান অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র করে তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তাকে সরাতে চেষ্টা করছে। যদিও এর পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ তিনি দিতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিবিসির খবরে বলা হয়, ক্ষমতা হারিয়ে ইমরান খান ঘোষণা দিয়েছিলেন, পাকিস্তানে তিনি কোনো পুতুল সরকার মেনে নেবেন না। তার আহ্বানে দেশজুড়ে বিক্ষোভও হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর এখন কী করছেন ইমরান খান? তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কোন দিকে এগোচ্ছে? জানা গেছে, ক্ষমতা হারানোর পর থেকে খুবই ক্ষেপে আছেন ইমরান খান। সেই সময় থেকেই তিনি তার সমর্থকদের জড়ো করার চেষ্টা করছেন, যাতে সরকারকে দেখানো যায় যে, তার অনেক সমর্থন আছে, চাইলে তিনি জনগণকে রাস্তায় নিয়ে আসতে পারবেন। তার প্রধান দাবি হলো, পাকিস্তানে দ্রুত আগাম নির্বাচন দিতে হবে। ক্ষমতা হারানোর পর পাকিস্তানের একাধিক শহরে মিছিল-সমাবেশ করেছেন ইমরান খান। এর মধ্যে রয়েছে করাচি, পেশাওয়ার, লাহোর। সব জায়গাতেই তিনি বলছেন- বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে তার সরকারকে সরানো হয়েছে। এটা আসলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র। সুতরাং সবাইকে পথে নেমে আসতে হবে, সবাইকে বিক্ষোভে অংশ নিতে হবে এবং আগাম নির্বাচনের দাবি তুলতে হবে। মে মাসের শেষ নাগাদ ইসলামাবাদ অভিমুখী বিশাল একটি মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন ইমরান খান। তিনি বলেছেন, তার এই মিছিল হবে পাকিস্তানের ইতিহাসে 'সর্বকালের সবচেয়ে বড়।' এর আগে বিভিন্ন সময় তিনি বলেছেন, তার ডাকে ইসলামাবাদে ২০ লাখের বেশি মানুষ জমায়েত হবে বলে তিনি আশা করেন। এই সমাবেশের মাধ্যমে তিনি এমন পরিবেশ তৈরি করতে চান, যাতে পাকিস্তানের সরকার আগাম নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ইমরান খান বলেন, 'আমি পাকিস্তানকে দেখিয়ে দিতে চাই, এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় আন্দোলন। মানুষজন প্রস্তুত আছে, আমরা ডাকলে তারা আজই পথে নেমে আসবে। কিন্তু আমি চাই, এটা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড়।' তবে ইমরান খানের পরিকল্পনার বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে প্রচণ্ড গরম পড়ে। এই সময় বেশ কয়েকটি তাপদাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার মধ্যে লাখ লাখ মানুষের পক্ষে মিছিল সমাবেশ করে সরকারকে বাধ্য করার মতো কর্মসূচি সফল করার কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ক্ষমতা হারানোর পর মিছিল সমাবেশ আর বিক্ষোভ প্রকাশের ওপরে জোর দিয়েছেন ইমরান খান। যেদিন ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন ইমরান, সেদিনই তার আহ্বানে পাকিস্তানের রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ। পরদিন পিটিআই রাজনৈতিক কমিটি একটি বৈঠক করেছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এখন থেকে তারা সভা-সমাবেশ করার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মসূচী অব্যাহত রাখবে। পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান বলেছেন, তিনি পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করেছেন, তাই সেখানে আর যাবেন না। বরং পিটিআই এখন তৃণমূল পর্যায় থেকে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করবে। এভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা হবে। কিংস কলেজ লন্ডনের ওয়ার স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক আয়েশা সিদ্দিকা বলছেন, ইমরান খান এখন চেষ্টা করছেন জনগণের সামনে এমন একটা চিত্র তুলে ধরার যে, আন্তর্জাতিক এবং আমেরিকান ষড়যন্ত্রের কারণেই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।
3
বিয়ের পর একসঙ্গে আট বছর কাটিয়ে দিলেন জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান ও সাকিব উম্মে আল হাসান শিশির। আজ ১২ ডিসেম্বর তাদের ৮ম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে আবেগময় একটি ছবি এবং ক্যাপশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সাকিবপত্নী। স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো: আমরা প্রতিদিন একে অপরকে ভালোবাসি বলি কিন্তু আমার প্রিয় হলো যখন তুমি আমার কানের কাছে ফিসফিস করো। আজ আমাদের বিয়ের বছর পূর্ণ হল কিন্তু আমরা একে অপরকে অনেক দিন ধরে চিনি। আমরা খুব অল্প বয়সেই দেখা করেছিলাম এবং যাই হোক না কেন একে অপরকে ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা মোটা এবং পাতলা মধ্যে দিয়ে একসাথে বেড়ে উঠছি। বৃদ্ধ বয়সে আমরা একে অপরের ধূসর চুল ছিঁড়ে ফেলতে চাই, তাই চোখে আমরা এখনও ২০ বছর বয়সী দম্পতি, শুরু যেন শেষ না হয়! এটা আমার ডায়েরির একটি ছোট অংশ, এটা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে... শুভ বিবাহ বার্ষিকী স্বামী আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে আমাদের তৈরি ছোট্ট পৃথিবী! আলহামদুলিল্লাহ বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
12
রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো 'মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া-২০২১'-এর দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোয়ার চৌধুরী। তিন মাস ধরে চলা এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে মঙ্গলবার রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।দুই দিনের এই প্রতিযোগিতায় প্রথম দিন কিশোয়ারের ঝুড়িতে আসে ৫১ পয়েন্ট, অন্যদিকে পিট ৫৩ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে ছিলেন; জাস্টিন পেয়েছিলেন মাত্র ৫০ পয়েন্ট। শেষ দিনে ঘুরে যায় পয়েন্টের খাতা। ১১৪ পয়েন্ট আসে আমাদের কিশোয়ারের ঝুলিতে আর পিটের ১২৪। জাস্টিন ১২৫ পয়েন্ট পেয়ে অর্জন করেন শীর্ষস্থান। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জাস্টিন পান দুই লাখ ৫০ হাজার ডলার, ৩০ হাজার ডলার পান পিট এবং কিশোয়ার পান ২০ হাজার ডলার। এটি ছিল মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম আসর। কিশোয়ার প্রতি পর্বেই রান্না করেছেন মজার মজার বাঙালি খাবার। যার মধ্যে ছিল মাছের ঝোল, শিমভর্তা, গলদা চিংড়ি ভাজা, সবজি, মাছ ভাজা, ফুচকা, চটপটি, তেঁতুলের চাটনি, খিচুড়ি, বেগুনভর্তা, খাসির রেজালা, পরোটা, নেহারিসহ মজার সব বাঙালি খাবার। অস্ট্রেলিয়াররিয়েলিটি শোতেবাঙালি খাবার রান্না করে বাংলাদেশে ও ভারতের দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন কিশোয়ার। সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বাঙালি কমিউনিটিতে আলোচিত হয়েছেন তিনি; সেই আলোচনার খবর দেশটির গণমাধ্যমেও এসেছে। কিশোয়ারের জন্ম মেলবোর্নে। মা লায়লা এবং বাবা কামরুল চৌধুরীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বাঙালি কমিউনিটিতে তিনি বেড়ে ওঠেন। তার বাবা বাংলাদেশি এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি মূলত পড়াশোনার উদ্দেশে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানেই দেখা হয় ভারতীয় লায়লার সঙ্গে। কিশোয়ার তার ব্যাচেলর ডিগ্রি নেন মনাশ ইউনিভার্সিটি থেকে এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন ইউনিভার্সিটি অব আর্ট ইন লন্ডন থেকে। তিনি চাকরি সূত্রে পাঁচ বছর বাংলাদেশে ছিলেন। সেই সময় তিনি দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১৫ সালে মেলবোর্নে ফিরে গেলেও দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন সবসময়।
4
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বালু বোঝাই ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী অন্তর মনি (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আশুগঞ্জ তালশহর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-আঞ্চলিক সড়কের বড়তল্লা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অন্তর মনি নবীনগর উপজেলার বীরগাও ইউনিয়নের আমতলী পূর্বপাড়া এলাকার সোহেল মিয়ার মেয়ে। সোহেল মিয়া আড়াইসিধা ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে অটোরিকশা চালায়। এ ঘটনায় নিহতের খালাসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম জানা যায়নি। এতে তার মুখ-মণ্ডলসহ সমস্ত মাথা থেঁতলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে। এসময় ট্রাকটির চালক ইকবাল মিয়া পালিয়ে যেতে চাইলে এলাকাবাসী তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাদ রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটির চালক ইকবালকে আটক করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকটটি জব্দ করা হয়। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাষিরা পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এখন মাঠে মাঠে পড়েছে পেঁয়াজের চারা রোপণের ধুম। কৃষকেরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পেঁয়াজের চারা রোপণের কাজ করেছেন। এ বছর পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের খরচ পূর্বের থেকে দুই থেকে তিন গুণ কমেছে।সরেজমিন উপজেলার যদুবয়রা, বাগুলাট, পান্টি, চাপড়া ও চাঁদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে, বিভিন্ন মাঠে ১৫ থেকে ২০ জন দলবদ্ধভাবে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন। একজন লোহার ছোট লাঙল দিয়ে সারি কাটছেন আর অন্যরা সেই সারিতে চারা রোপণ করছেন।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেল বছর পেঁয়াজের খোলা বীজ প্রতিকেজি ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকায়। আর পেঁয়াজের চারা গেল বছর প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।আরও জানা গেছে, বীজ, চারা, সার, পরিচর্যাসহ এবার বিঘা প্রতি পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকের খরচ হবে ২৮ থেকে ৩২ হাজার টাকা। এ বছর মাঠেমাঠে বিদেশি কিং জাতীয় চারা রোপণ করা হচ্ছে। এ জাতের পেঁয়াজ বিঘায় ৪৫ থেকে ৬০ মণ উৎপন্ন হয়। যার বাজার মূল্য ৪০ থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা হতে পারে।এ বিষয়ে যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, 'তিন বিঘা জমির জন্য বীজ কিনেছিলাম দুই কেজি ১৬ হাজার টাকা দিয়ে। এবার চারা ভালো হয়েছে। আশা করছি গত বছরের চেয়ে অর্ধেক খরচে পেঁয়াজ ঘরে তুলতে পারব।'একই গ্রামের কৃষক আকমল হোসেন বলেন, 'পেঁয়াজ চাষে খরচ কমেছে দ্বিগুণের বেশি। বিঘা প্রতি খরচ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছি। প্রায় নয় হাজার টাকার চারা লেগেছে। বরইচারা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজই কৃষকের সবচেয়ে লাভজনক ফসল। এবারও তিনবিঘা জমিতে চারা লাগিয়েছি। ভালো দাম ও ফলন পাব আশা করছি।'নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন কৃষক বলেন, 'কৃষি অফিস থেকে এবার সময়মতো বীজ পেয়েছি। তাঁদের দিকনির্দেশনায় চারা ভালো হয়েছে। এখন রোপণের কাজ চলছে। এবারও ভালো ফলন হবে।'উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট কৃষিজমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। গত বছর পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৯৯০ হেক্টর এবং পেঁয়াজ চাষ হয়েছিল ৫ হাজার ৫৯০ হেক্টরে। যা কৃষিজমির ১৯ শতাংশেরও বেশি। এ বছরও লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫৯০ হেক্টর।উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, 'এ অঞ্চলের মাটি পেঁয়াজ চাষে উপযোগী। কৃষি কর্মকর্তারা সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে। আশা করছি এবারও ভালো ফলন ও কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাবেন।'
6
ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ক্রেতাদের বিশেষ সুবিধা দিতে সারা দেশে আবারও শুরু হলো মার্সেলের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন।মার্সেল পণ্য কিনে ঘণ্টায় ঘণ্টায় টিভিসহ বিভিন্ন পণ্য ফ্রি পেতে পারেন ক্রেতারা।সম্প্রতি রাজধানীর মার্সেল করপোরেট অফিসে 'ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-১৩' শীর্ষক ডিক্লারেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
6
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাজধানী তেহরানে রাশিয়া, সিরিয়া ও ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে যোগ দেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল সের্গেই শোইগু, সিরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল ফাহাদ জাসেম আল-ফ্রেইজি এবং ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকান। বৈঠকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির সুযোগে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালী হয়ে ওঠার সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না। তিনি সিরিয়ায় সহিংসতার লাগাম টেনে ধরতে 'সমন্বিত' যুদ্ধবিরতি চুক্তির আহ্বান জানান। ইরানের মন্ত্রী কথিত 'মধ্যপন্থি বিরোধীদল'র নামে সন্ত্রাসীদেরকে সমর্থন দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, 'সন্ত্রাসবাদ দমনে মিথ্যা চেষ্টার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।' সৌদি আরব এবং ইসরাইলের মধ্যকার বন্ধুত্ব সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে উৎসাহ দিচ্ছে বলেও কঠোর ভাষায় রিয়াদ ও তেল আবিবের সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, 'মুসলিম উম্মাহ ও পুরো মানবতার শত্রু ইসরাইলের হাতের পুতুল হিসেবে সৌদি সরকার বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠেছে।' বৈঠকে সিরিয়া এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের জন্য তারা ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেন। বিডি-প্রতিদিন/১০ জুন ২০১৬/শরীফ
3
ফাইনালের মীমাংসাটা প্রথম দুই সেটেই নির্ধারণ হয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ান দুই আরচার রিও সু জাং ও লি সিউয় ইউন নিশানা ভেদ করে প্রমাণ করেছেন কেন তাদের দেশ আরচারিতে সেরা। তীর মারলেই যেন স্কোরটা ১০ হয়ে যায় তাদের! বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে গতকাল এশিয়ান আরচারিতে রিকার্ভ মিশ্র দ্বৈতে ইভেন্টের ফাইনালে তা দেখা গেছে। বাংলাদেশের দুই আরচার দিয়া সিদ্দিকী ও হাকিম আহমেদ রুবেল তৃতীয় সেটে এসে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন। কোরিয়ার সমান স্কোর করে এ সেটটি টাইও করেন তারা। কিন্তু পার্থক্যটা তো প্রথম দুই সেটেই হয়ে গেছে। দিয়া ও হাকিম প্রত্যাশানুযায়ী স্কোর তুলতে পারেননি। তাতে করে সোনার পরিবর্তে রুপালি হাসিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের দুই তীরন্দাজকে। শুক্রবার এই ইভেন্টে কোরিয়ার কাছে ৫-১ সেট পয়েন্টে হেরেছে স্বাগতিকরা। স্বর্ণ জিততে না পারলেও এই রৌপ্য জয়, বাংলাদেশের আরচারির জন্য নতুন ইতিহাস। কারণ অতীতে কখনোই এই প্রতিযোগিতায় কোনো পদক জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার দুটি ব্রোঞ্জ এবং একটি রুপা জিতে দিয়া-রুবেলরা প্রত্যাশার পারদটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। কোরিয়ার আধিপত্যে শেষ হয়েছে এবারের এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ। ৯টি স্বর্ণ, সমান ৩টি করে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ মোট ১৫টি পদক জিতে সবাইকে ছাপিয়ে কোরিয়া। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত একটি স্বর্ণসহ মোট ৭টি পদক জিতেছে। বাংলাদেশ ও কাজাখস্তান ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৩টি পদক জিতেছে। ফাইনালে উঠে স্বপ্ন দেখছিলেন আরচারিতে দেশের হয়ে প্রথম সোনার পদক জয়ের। সেই স্বপ্ন ভেঙে গেলেও হতাশ নন দিয়া ও হাকিম। শুরুর দিকে ভুল না করলে হয়তো অন্য কিছুও হতে পারত। এটা নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ দিয়া ও হাকিমের। তবে দেশকে ভালো কিছু এনে দিতে হলে এই খেলার প্রতি সরকারের সহযোগিতা চাইলেন দিয়া সিদ্দিকী, 'এই প্রথম বাংলাদেশ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের কোনো ইভেন্টে ফাইনালে খেলল। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। রুপা এসেছে, এর আগে ব্রোঞ্জ এসেছে দুটো, এরপর আমরা সোনাও জিতব ইনশাআল্লাহ। আমাদের যে সুযোগ-সুবিধাগুলো দিচ্ছে, সেটা যথেষ্ট। তবে হ্যাঁ, আমাদের দিকে আরেকটু নজর দেওয়া উচিত। স্কুল বা কোথাও যদি আরচারির কথা বলি, তাহলে আজ একটু চিনবে, এরপর চিনবে না, আরচারির প্রতি গুরুত্বটা আরও বেশি দেওয়া উচিত এবং চাই সরকার যেন আরচারিকে সেভাবে সাপোর্ট করে। শুধু আরচারি নয়, যেসব খেলা উঠছে, সেদিকে সরকারের আরেকটু নজর দেওয়া উচিত। আমাদের কিন্তু সরকার থেকে তেমন একটা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় না, সাধারণত যেটা ক্রিকেট, ফুটবলকে দেওয়া হয়।'
12
ব্যবসাকে উপার্জনের বৈধ মাধ্যম হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে ইসলাম। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ব্যবসায় অংশগ্রহণ করা বৈধ। এ ব্যাপারে নারীদের জন্য পৃথক কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, 'আল্লাহ তাআলা ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন' (সুরা বাকারা: ২৭৫)। আয়াতে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করা হয়নি। তবে এ ক্ষেত্রে ইসলামের অন্যান্য বিধান যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।একজন পুরুষ হালাল পন্থায় যেসব ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন, একজন নারীও সেসব ব্যবসা করতে পারেন। তিনি বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত হোন এবং সেই সঙ্গে তিনি তাঁর অর্জিত সব সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী। কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই তিনি তাঁর সম্পত্তির ব্যাপারে সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন, যা একজন পুরুষের জন্যও প্রযোজ্য। নারীর অর্জিত অর্থে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারও হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'যা কিছু পুরুষেরা অর্জন করবে, তা তাদেরই অংশ হবে; আবার নারীরা যা কিছু উপার্জন করবে, তা তাদেরই অংশ হবে।' (সুরা নিসা: ৩২)মহানবীর (সা.) যুগেও নারীরা শালীনতা ও পর্দা রক্ষা করে ব্যবসা-বাণিজ্যে অংশগ্রহণ করেছেন। স্বয়ং তাঁর জীবনসঙ্গিনী হজরত খাদিজাও (রা.) মক্কার বিখ্যাত ব্যবসায়ী ছিলেন। পবিত্র কোরআন ও মহানবীর (সা.) হাদিসে অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে, যা নারীর ব্যবসা-বাণিজ্যের বৈধতার পক্ষেই অবস্থান করে। এর বিপক্ষে কোনো আয়াত বা হাদিস পাওয়া যায় না।লেখক: কুরানিক সায়েন্স অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
6
বাবা ঋষি কাপুরের শেষ ছবি 'শর্মাজি নামকিন' ছবির প্রচার করছেন রণবীর কাপুর। সেই ছবির প্রচারে তার বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জবাবে রণবীর জানিয়েছেন, শীঘ্রই আলিয়া ভাট ও তিনি বিয়ে করবেন। 'ব্রহ্মাস্ত্র' ছবির কাজ করতে গিয়ে সম্পর্কে জড়িয়েছেন রণবীর ও আলিয়া। ২০১৮ সালে শুরু হওয়ার সেই ছবির কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। রণবীর বলেছেন, 'আমি বিয়ের তারিখ প্রকাশ করবো না। তবে আলিয়া ও আমি খুব দ্রুতবিয়ে করতে চাই। আশা করি, দ্রুতই বিয়ে সেরে ফেলবো আমরা।' সূত্র : এনডিটিভি বিডি প্রতিদিন/ফারজানা
2
ঈশ্বরগঞ্জে ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে জালাল উদ্দিন (৩৮) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশাসন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জালাল উদ্দিন ওই গ্রামের মৃত কসুম উদ্দিনের ছেলে।পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জালাল আগে থেকেই মৃগীসহ নানান রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আজ সকালে বাড়ি থেকে খেয়ে নিজের ধানখেতে কাজ করতে গেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবার ধারণা করছে, খেতে কাজ করার সময় মৃগীরোগ শুরু হলে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের মিয়া, মাইজবাগ ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ।জালাল উদ্দিন পেশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে আছে; স্ত্রী ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সরেজমিনে দেখা যায়, ছেলে হারিয়ে মা, স্বামী হারিয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং বাবাকে হাররিয়ে ছোট ছেলেমেয়েদের আহাজারি।জালাল উদ্দিনের অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার পারভেজ। চেয়ারম্যান বলেন, 'জালাল উদ্দিন অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিল। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। তবে তার অকালমৃত্যুতে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেল।' সর্বদা এই পরিবারের পাশে থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন চেয়ারম্যান।ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, 'নিহত জালাল উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর দাবিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'
6
চট্টগ্রাম: সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহান শুনানি শেষে মো. শাহজাহান নামের ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন। এর আগে শাহাজাহানকে নতুন এ মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাব উদ্দিন আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, আসামি শাহজাহানকে মিতু হত্যার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।এর আগে গত ১৬ মে কারাগারে থাকা আগের মামলার আরও দুই আসামি মো. ওয়াসিম ও মো. আনোয়ারকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ২০১৬ সালের ৫ জুন মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আক্তার তিন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। তিনি সেসময় এসপি হিসেবে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দেন। বাবুল আক্তার মিতু হত্যার সাথে জড়িত থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে ২০১৬ সালের ২৪ জুন ডিবি কার্যালয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বাবুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেওয়া বলে উল্লেখ করা হয়। শাহজাহান এর আগে বাবুলের দায়ের করা মিতু হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন।বাবুলের দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত ১২মে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দেন। একইদিন বাবুলের শ্বশুর পাঁচলাইশ থানায় বাবুলসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মিতু হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বাবুল আক্তার ছাড়া বাকি সাত আসামি হলেন-মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসা (৪০), এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলাইয়া (৪১), মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম (২৭), মো. আনোয়ার হোসেন (২৮), মো. খায়রুল ইসলম ওরফে কালু (২৮), সাইদুল ইসলাম সিকদার (৪৫) ও শাহজাহান মিয়া (২৮)।একই দিনে বাবুলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাঁকে ৫ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করা হয়। পিবিআই ১৭মে তাঁকে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিতে আদালতে হাজির করে। কিন্তু জবানবন্দির উদ্দেশ্যে আদালতের খাস কামরায় ঢোকানোর পর তিনি জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকাল সোয়া ৭টায় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে মিতু খুন হন। তিনি ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে জিইসির মোড় যাচ্ছিলেন। সে সময় মোটরসাইকেলে করে তিন দুর্বৃত্ত মিতুকে ঘিরে ধরে গুলি করে। এরপর কুপিয়ে মিতুর মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। ওই সময় বাবুল আক্তার পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।তার আগে বাবুল চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন বাবুল আক্তার। মামলাটি প্রথমে চট্টগ্রামের নগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। পরে পিবিআই তদন্ত শেষে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়।
6
সৌদি আরবে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে সেদেশের ভিন্নমতাবলম্বীরা। বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত সৌদি নাগরিকেরা 'ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্টি' নামে ওই দল গঠনের ঘোষণা দেন। এই দলের নেতৃত্বে আছেন লন্ডনে অবস্থানকারী বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ইয়াহিয়া আসিরি। এছাড়া আরও যেসব ব্যক্তিত্ব এই দলের সঙ্গে রয়েছেন তারা হলেন শিক্ষাবিদ মাদায়ি আল-রশিদ,গবেষক সাঈদ বিন নাসের আল-গামদি, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত আবদুল্লাহ আলাউদ এবং কানাডায় থাকা ওমর আবদুল আজিজ। নতুন দলের নেতারা বলেছেন, তারা নিজেদের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবেন। তবে এখন পর্যন্ত সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি। রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরব একটা নিখুঁত রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। কোনও ধরনের রাজনৈতিক বিরোধিতার সুযোগ নেই সেখানে। সম্প্রতি ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমনপীড়ন আরও বেড়েছে। এর আগে ২০০৭ ও ২০১১ সালেও বিরোধী দল গঠনের প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল। তবে গ্রেফতারসহ বিভিন্ন ধরনের বলপ্রয়োগের মধ্য দিয়ে তা দমন করা হয়। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
3
দেশের ওষুধ দেশীয় চাহিদার ৯৮ ভাগ পূরণ করছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বাংলাদেশের ওষুধ এখন বিশ্বের ১৪৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই ওষুধ রপ্তানি করে গত ছয় বছরে পাঁচ বিলিয়ন থেকে ৩১ বিলিয়ন আয় করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রায় ৯৮ ভাগ মানুষের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে করোনা মহামারি চলাকালেও কোথাও ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়নি। এমনকি গ্রাম পর্যায়েও ওষুধ ছিল পর্যাপ্ত।গতকাল রোববার দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুরে ডিবিএল ফার্মাসিউটিক্যালসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির পর দেশের অন্যতম বড় একটি আয়ের উৎস হতে যাচ্ছে ওষুধ কোম্পানি। তবে দেশে যেন কোনো ভেজাল ওষুধ না থাকে ও মানসম্পন্ন এবং সাশ্রয়ী ওষুধ হয় তার জন্য আমরা একটি নতুন ওষুধ নীতিমালা করতে যাচ্ছি। এতে করে দেশের বাজারে অকারণে কেউ আর দাম বাড়াতে পারবে না।দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই দাবি করে জাহিদ মালেক বলেন, এই মুহূর্তে হাতে এক কোটির ওপরে টিকা আছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব মানুষকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। সে জন্যই আমরা ২১ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কিনে রেখেছি। সেখান থেকে এ মাসে অন্তত তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আসবে। আগামী মাসেও একই হারে আসার কথা রয়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিমধ্যেই সাত কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী বছর জানুয়ারি মাসের মধ্যেই অন্তত ১২ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হবে। সেটি করা গেলে করোনায় মৃত্যুহার শূন্যের কোটায় নামানো সম্ভব হবে।এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সাংসদ ডা. হাবিবে মিল্লাত, কেন্দ্রীয় ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহাবুবুর রহমান, ডিবিএল ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ উপস্থিত ছিলেন।
6
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদ। জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির মহাসচিব আমজাদ আলী খান।একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মতো সব দপ্তরে পোষ্য কোটা চালুর দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ ছাড়া দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১১ মে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেবেন বলেও জানানো হয়।সংহতি পরিষদের সভাপতি মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা মহিউদ্দিন, বরকত খান, কার্যকরী সভাপতি আসকার ইবনে শায়েখ খাজা ও সহসভাপতি মো. ইব্রাহীম।সংগঠনটির অন্য দাবিগুলো হলো-নবম পে-স্কেল দেওয়ার আগ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয় বিবেচনা করে ৫০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান, আগের মতো তিনটি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও বেতন সমতাকরণ পুনর্বহাল করা এবং জীবনযাত্রার মান সমুন্নত রাখার স্বার্থে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয় বিবেচনা করে পেনশনের হার ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ ও গ্র্যাচুইটির হার ১ হাজার ২৩০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪০০ টাকায় উন্নীত করা। এ ছাড়া এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি চালুসহ সচিবালয়ের মতো সচিবালয়ের বাইরে সব সরকারি কর্মচারীর সিলেকশন গ্রেডসহ পদবি ও বেতনবৈষম্য দূর করা এবং ব্লক পোস্টধারীদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি।আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিল করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীদের হয়রানিমূলক বদলি আদেশ, অত্যাচার-নির্যাতনমূলক ও মিথ্যা মামলা বন্ধ প্রত্যাহার করা, ক্যাডারে কর্মরত কর্মচারীদের মতো প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারীদের বিনা সুদে ৩০-৫০ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর এবং অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর করার দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের উপদেষ্টা মো. মহিউদ্দিন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। যতক্ষণ দেহে প্রাণ থাকবে ততক্ষণ লড়ে যাব কর্মচারী বন্ধুদের দাবি আদায়ে। দাবি আদায়ের জন্য আগামী ১১ মে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। আমাদের বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সকল হতাশা থেকে মুক্তি দেবেন।
6
কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের জন্য রাজধানীর মতিঝিলস্থ বিসিক ভবনে পাঁচদিনব্যাপী ''বিসিক শরৎ উদ্যোক্তা হাট'' আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। রবিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বিসিকের চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান এ হাটের উদ্বোধন করেন। বিসিক বিপণন বিভাগ এবং পিপলস ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডসের স্বত্বাধিকারী রেজবিন হাফিজের সহযোগিতায় এ হাটের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত হাটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিক মহাব্যবস্থাপক অখিল রঞ্জন তরফদার, বিসিক সচিব মো. মফিদুল ইসলাম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হওয়া পাঁচদিনব্যাপী ''বিসিক শরৎ উদ্যোক্তা হাট''-এর ৭১টি স্টলে বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী উদ্যোক্তাগণের তৈরি হস্ত ও কুটির শিল্পজাত বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর স্থান পেয়েছে। উদ্যোক্তা হাট থেকে ক্রেতা সাধারণগণ কারুপণ্য, নকশিকাঁথা, পাটপণ্য, বুটিকস পণ্য, জুয়েলারি, লেদারগুডস, অর্গানিক ফুডস, ইলেকট্রনিকস পণ্য, মধুসহ নিত্য ব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারবেন। উক্ত হাট আজ ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
0
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে নতুন করে যে রোহিঙ্গারা দেশে প্রবেশ করছে তারা যেন কোনভাবেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হতে পারে সেজন্য নির্বাচন কমিশন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।বুধবার টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিইসি একথা বলেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশে অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ, স্থগিত ও উপনির্বাচন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, 'নতুন রোহিঙ্গাদের যে বায়োমেট্রিক করা হবে, সেখানে নির্বাচন অফিস যেন সম্পৃক্ত থাকতে পারে সে ব্যপারে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়াও ৩০টি উপজেলায় যেখানে রোহিঙ্গারা রয়েছে বা তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে সেখানে আমাদের বিশেষ কমিটি নজরদারি করছে।'কে এম নুরুল হুদা, 'বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে। এমনকি বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা জানিয়েছে। তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমও বলে দিচ্ছে তারা নির্বাচনে অংশ নিবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না এমনটা কেউ বলেনি।'আগামী সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'অধিকাংশ রাজনৈতিক দল সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সব দলের সাথে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সব দলের সাথে আলোচনা হলে জানা যাবে কিভাবে কোন পদ্ধতিতে তারা সেনাবাহিনী মোতায়েন দাবি করছে।'এ ছাড়াও আগামী নির্বাচনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।ইসি সচিব হেলালুদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমীন ও পুলিশ সুপার মাহবুব আলম প্রমুখ।
6
সপ্তাহজুড়ে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে নীলফামারীতে চলতি মৌসুমের বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চারার গোড়া বা পাতা পচা রোগ এবং হলুদ বর্ণ ধারণ করে দুর্বল হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। তবে বোরোর চারা রক্ষায় কৃষকদের পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।নীলফামারী সদর ও ডিমলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেকেই বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। এতে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে বলে মনে করছেন তাঁরা। গত সপ্তাহে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। তীব্র শীতের পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারদিক। এ অবস্থায় জেলার কৃষকেরা বোরো ধানের বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা করছেন।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চারার বৃদ্ধিতে নিম্ন তাপমাত্রার প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য ঘন কুয়াশা ও বেশি শীতের সময় বীজতলা সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। সন্ধ্যায় পানি সেচ দিয়ে বীজতলার চারা ডুবিয়ে দিতে হবে, সকালে সেই পানি বের করে দিতে হবে। প্রতিদিন সকালে দড়ি বা কঞ্চি টেনে বীজতলার চারায় জমা হওয়া শিশির ঝরিয়ে দিতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার আলী জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা হলদে হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। এ ছাড়া ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ ও ৬০ গ্রাম জিপসাম সার মিশিয়ে বীজতলায় স্প্রে করতে বলা হয়েছে।তিনি জানান, অতিরিক্ত শীতে বীজতলার চারার গোড়া বা পাতা পচা রোগ দেখা গেলে ব্যাভিস্টিন বা মেনকোজেব গ্রুপের যেকোনো একটি ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। যত দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকে, তত দিন এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে।নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাদিখোল গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, 'তীব্র শীত ও কুয়াশায় বীজতলার চারাগুলো হলুদ রং ধারণ করেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বীজতলা পরিচর্যা করছি, কিন্তু চারা সেভাবে বড় হচ্ছে না।'কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কৃষি বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে কৃষকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদানসহ সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শীতের কারণে কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলার তেমন একটা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরিচর্যার পদ্ধতি অনুসরণ করায় কৃষকদের প্রশংসা করেন তিনি।উল্লেখ্য, এ বছর নীলফামারীতে বোরো বীজতলার জন্য ৪ হাজার ২৮২ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বীজতলা করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে, বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৪ মেট্রিক টন ধান।
6
পূর্ব ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এরই মধ্যে রুশ বাহিনী নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিয়ামে পাল্টা হামলা শুরু করেছেন ইউক্রেনীয় সেনারা। শনিবার স্থানীয় একজন গভর্নর বলেছেন, পুরো দোনবাস নিয়ন্ত্রণে নিতে মস্কোর পরিকল্পনার জন্য এটি গুরুতর ধাক্কা হতে পারে। কিন্তু ইউক্রেনের সেনারা নিজেদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে শুরু করেছেন। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ থেকে রুশ সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন বলে কিয়েভের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ইজিয়াম শহর ও রুশ বাহিনীর রসদ সরবরাহ লাইনের ওপর চাপ বজায় রাখলে দোনবাসের পূর্বাঞ্চলের ফ্রন্টে শক্তিশালী ইউক্রেনীয় সেনাদের ঘিরে রাখা মস্কোর জন্য কঠিন হয়ে উঠবে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দোনবাসসহ ইউক্রেনের একাধিক সামরিক স্থাপনায় আঘাত করার দাবি করে বলেছে,এতে অন্তত ১০০ ইউক্রেনীয় 'জাতীয়তাবাদী' নিহত হয়েছেন। তবে রয়টার্সের পক্ষ থেকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দোনবাসের পরিস্থিতি এখনো অনেক কঠিন। রুশ বাহিনী এলাকাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সূত্র: রয়টার্স বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল
3
বিকট সাইরেনের শব্দ। এক টানা সেই শব্দে কান বন্ধ হয়ে আসছে। কাজ সেরে যখন নিজের বাড়ি ফিরছিলেন, তখনই কিছু একটা আঁচ করেছিলেন বলিউড কুইন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তবে সেসময়ে বোঝেননি ঘটনার ভয়াবহতা। যখন পুরো ঘটনা শুনলেন, তখন আকস্মিকতা আর বিভীষিকায় স্তম্ভিত প্রিয়াঙ্কা। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জঙ্গি হামলার সাক্ষী থাকলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এদিনের ভয়াবহতা তার ভক্তকুলের কাছে শেয়ার করলেন টুইটে।নিউ ইয়র্কের যে স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে, তার থেকে মাত্র পাঁচটি ব্লক দূরে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বাড়ি। টিভি শো 'কোয়ান্টিকো'র তিন নম্বর সিজনের শ্যুটিংয়ের জন্য নিউইয়র্কে রয়েছেন তিনি। ঘটনার সময় তিনি শ্যুটিং স্পটে ছিলেন। তার কথায়, কাজ সেরে যখন বাড়ি ফিরছিলেন, তখনই সাইরেনের শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। জঙ্গি হামলার কড়া নিন্দা করেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। মৃত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন। কোয়ান্টিকোর শ্যুটিংয়ের একটি দৃশ্যও টুইটে শেয়ার করেন তিনি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা রয়েছে। তাকে পেছন থেকে কেউ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে কোয়ান্টিকোর তিন নম্বর সিজনের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সোয়া ৩টার দিকে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে জঙ্গি হামলায় আট জনের মৃত্যু হয়েছে। রাস্তায় ট্রাক ঢুকে পিষে দিয়েছে পথচলতি সাধারণ মানুষকে।
2
সারা দেশ ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের স্বাদ পেলেও দেশের সর্বশেষ অঞ্চল হিসেবে হানাদারমুক্ত হয় উত্তরের জেলা নাটোর। ১৯৭১ সালের ২১ ডিসেম্বর নাটোরের উত্তরা গণভবনে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার রঘুবীর সিং পান্নুর কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার নওয়াব আহমেদ আশরাফ সৈন্য, অস্ত্র তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।দিনটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নাটোর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে।সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাদিম সারওয়ার, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনারা।
6
আপনি তো এত কাজ করেন না। বড়জোর প্রতি ঈদে একটা নাটক বানান। এবার কি বড় পরিসরে কাজের ইচ্ছে হলো?রানা: সাতটি কাজ করতে হবে এক ঈদে, আমাকে দিয়ে তা কিভাবে সম্ভব! ধরলাম আর যা ইচ্ছে করলাম, সেটা তো পারব না। আমার এত ক্ষুধাও নেই। তবে শাহরিয়ার শাকিল ভাই (প্রযোজক) উৎসাহ দিলেন। একটা সময় আমিও চ্যালেঞ্জ নিলাম যে এমন কিছু করি যা আগে হয়নি।গল্পগুলো নির্বাচন করেছেন কীভাবে?রানা: এই সাতটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমায় কোনো ভালোবাসার গল্প নেই। কোনো গানও নেই। সাধারণত যে ধরনের বিনোদন দেওয়া হয় টিভির পর্দায়, তেমন কিছু দিতে চাইনি। সম্পূর্ণ একটা গল্প ২০ মিনিটে দেখানো কিন্তু কঠিন। ৪০ মিনিটের নাটক বানানো আমাদের অভ্যাস। এখানে স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার চর্চা কম। ওই জায়গা থেকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তো ছিলই।দেখুন রানা নির্মিত 'এক ভাই চম্পা' এর ট্রেলার:সব গল্পের প্রতি কি সমান নজর দেওয়া সম্ভব হয়েছে?রানা: এটা আসলে নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধ। ঈদের দিনেরটা ভালো হলো। তাহলে পরদিনেরটা কী হবে? দর্শকও আগ্রহ নিয়ে থাকেন কি হবে! কিন্তু কোন একটায় নিরাশ করলে, পরবর্তী গল্পগুলো আর দেখবেই না। গল্পের ধরন কী হবে, একটা থ্রিলার করবো নাকি একটা ড্রামা করব- এসব নিয়ে প্রচুর মানসিক চাপে ছিলাম। তবে শেষপর্যন্ত সব গল্পের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছি।দেখুন রানা নির্মিত 'টিকটক' এর ট্রেলার:শুধুই বিনোদন, নাকি বৃহৎ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে গল্পগুলো বলতে চেয়েছেন?রানা: রূপকধর্মী কিছু গল্প দেখাতে চেয়েছি। জানি না কয়জন বুঝেছে। ১০ জনের মধ্যে হয়তো দুই জন বুঝেছে। সেটাও আমার স্বার্থকতা। দর্শকের রুচি খানিকটা বদলে দিতে চেয়েছি এ স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাগুলো দিয়ে। দর্শক যেটা দেখে অভ্যস্ত, সেটাই বানাতে হবে; আমি তা মনে করি না। তথাকথিত প্রেম-ভালোবাসা-হাসি-ঠাট্টার বাইরেও, আমরা যে আরও অনেক কিছু দেখাতে পারি, সেই উদাহরণ দিতে চেয়েছি। অনেক অভিনয়শিল্পী নিয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে আগে কখনও কাজ করেননি। তাঁদের নিয়ে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?রানা: এত এত অভিনয়শিল্পী- আমার তো মনে হয়েছিল, একটা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান চালাচ্ছি। পরিকল্পনা ছিল, কিছু নিয়ম বদলে দেব। গতানুগতিক পথে হাঁটব না। সাবিলা নূরকে নিয়ে একটা রিস্ক নিলাম। অবশ্যই সে প্রতিভাবান অভিনেত্রী। পুরো একটা গল্প সে-ই টেনে নিয়ে গেছে। সোহেল মন্ডলকে নিলাম। ওকে তাকদিরে দেখে ভালো লেগেছিল। মনে হয়েছিল, একটা ভালো চরিত্র তাঁর প্রাপ্য। নাজিবাকে নিলাম। তাঁকেও দর্শক পছন্দ করেছেন।
2
বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের তৃতীয় প্রকৌশলী হাদিসুর রহমানের মরদেহ রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় তাঁর মরদেহ মলদোভা সীমান্তে রোমানিয়া রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনাম চৌধুরী।আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, 'সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার তার্কিশ এয়ারলাইন্সে করে হাদিসুরের মরদেহ দেশে আনা হবে। রোববার রাত ৮টার দিকে মরদেহ ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। আজ রাত ৮টার দিকে তাঁর মরদেহ মলদোভা সীমান্তে রোমানিয়া রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে শনিবার সকালে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে নিয়ে যাওয়া হবে।'দেশে ফিরেছেন 'বাংলার সমৃদ্ধি'র ২৮ নাবিকগত ২ মার্চ রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ইউক্রেনের মলদোভা বন্দরে আটকা পড়া জাহাজটিতে রকেট হামলা হয়। হামলায় হাদিসুর রহমান নিহত হন। এ ঘটনায় জাহাজে থাকা বাকি ২৮ নাবিকের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তাঁরা ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি জানাতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে গত ৩ মার্চ অক্ষত ২৮ নাবিক এবং হাদিসুরের মরদেহ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইউক্রেনের একটি বাংকারে নেওয়া হয়। সেখানে হাদিসুরের মরদেহ রেখে বাকি নাবিকদের নিরাপদে রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। গত ৯ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা দেশে ফিরেছেন।
6
ময়মনসিংহে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় এ উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা ১৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে স্মারকলিপি পেশ করেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও জেলা শাখার সভাপতি ইকরাম এলাহি খান সাজ, কেন্দ্রীয় কমিটির গবেষণা সম্পাদক কৃষিবিদ নিতাই চন্দ্র রায়, সাধারণত সম্পাদক এটিএম মাহবুবুল আলম, এমএ আজিজ, মতিউল আলম, সরফরাজ নেওয়াজ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, নাসিরাবাদ কলেজের সাবেক জিএস মোকলেছুর রহমান তপন, সুইটি, সাফিয়া ও অ্যাডভোকেট লিপি প্রমুখ।এ সময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আগে নদী বাঁচাতে হবে। আর নদী বাঁচাতে হলে নদী বাঁচাও আন্দোলনের ১৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই কেবল বাংলাদেশে নদী টিকে থাকবে।
6
হাসিটা তখনই কানে এল।মানুষহীন শহরে রাস্তাগুলো একেবারে ফাঁকা। চলছে লকডাউন। সন্ধ্যাবেলাতেই চারদিক সুনসান। হলুদ-কালোয় মেশানো ভৌতিক আবহ। এক সহকর্মীর বাইকের পেছনে উঠে পাড়ি দিতে শুরু করলাম সুনসান এক নীরব শহরের জনশূন্য পথ। এগুলোকে রাজপথই বলা হয়। যখন মিছিলের যুগ ছিল, তখন এসব রাজপথ ছেড়ে না যাওয়ার একটি গল্প ছিল। এখন নীরব।অফিস থেকে বেরিয়ে একটা ইউ টার্ন নিয়ে বাইক পৌঁছে গেল হাতিরঝিলের কোনায়। সেখানে একটা পুলিশ চেকপোস্ট। কায়দা করে সেটা পেরিয়ে যাওয়ার পর ফাঁকা সুদৃশ্য রাস্তা। দুদিকে গাছের সারি। রাত নটা। এ সময় এখানে মানুষ গিজগিজ করার কথা। এখন পিনপতন নীরবতা। একটা মেটে রঙের কুকুর হেলতে দুলতে পার হলো রাস্তাটা। মনে কু ডেকে গেল। কুকুর-বেড়ালকে বিশ্বাস নেই। এরা ডান দিক থেকে আড়াআড়ি বাম দিকে গেলে অমঙ্গল হয়। মেটে রঙের কুকুরটা তাই গেল। আমি ভেতরে-ভেতরে ভীষণ চমকে উঠলাম। পুরো রাস্তায় আমরা দুজন বাইক যাত্রী ছাড়া আর কেউ নেই। গাছের ফাঁকে ফাঁকে নিয়ন বাতির পোস্ট। শ্রাবণের কালো মেঘের প্রেক্ষাপটে ফাঁকা রাস্তায় হলুদ নিয়ন আলো যথেষ্ট ভৌতিক। সামনে একটা ব্রিজ। ব্রিজের আগে বেশ কিছু গাছ, কালো হয়ে আছে জায়গাটা। এখানে আসতেই হাসিটা কানে ঢুকল।খ্যাক খ্যাক খিক খিক বা হা হা করে অট্ট হাসি নয়। বুঝলাম আমার পূর্বপুরুষ পূর্ণচন্দ্র খাচুয়া আমার আশপাশেই আছেন। ব্রিজটা পার হতেই একটা হলুদ আলোর ল্যাম্পপোস্ট। হাসিটা আর শুনতে পেলাম না। ল্যাম্পপোস্টটা পেরোতেই সামনে আর আলো নেই। সম্ভবত এখানকার বাতিগুলো খারাপ হয়ে গেছে। এই অন্ধকার জায়গাটাতে আবার হাসির শব্দ পেলাম। আমার সহকর্মী কি শুনতে পাচ্ছেন হাসির শব্দ? শুনলে বিতিকিচ্ছিরি একটা ব্যাপার হয়ে যাবে। আমি ওপরের দিকে চাইলাম। হ্যাঁ, যা ভেবেছি তাই। আমার মাথার ওপর দিয়ে শূন্যে ভেসে চলেছেন আমার পূর্বপুরুষ।সহকর্মীর বাইকটাও চলছে ধীরে। পুরোনো বাইক। তার ওপর আমার আবার বদনাম আছে ওভার ওয়েটের জন্য। যদিও আমার ওজন নিয়ে আমার কোনো কমপ্লেইন নেই। তারপরেও কেন যে লোকজন আমার ওজন নিয়ে ভাবে, আমি জানি না। যা হোক, আমার সহকর্মীর বাইকটা চলছে বেশ ধীরে। আমার মাথার ওপর আমার পূর্বপুরুষের ভূত শূন্যে ভেসে চলেছেন ঠিক শরতের স্বচ্ছ আকাশে পেঁজা তুলো মেঘের মতো। বুঝলাম আজ রাতের বড় একটা সময় ফালতু যেতে বসেছে।সাত রাস্তা ধরে বিজয় সরণির দিকে চলেছি। সেই নিস্তব্ধ নিঝুম রাজপথ। মাঝে মাঝে এক আধটা বাইক বা গাড়ি হুসহাস করে বেরিয়ে যাচ্ছে। আর আমার পূর্বপুরুষ পূর্ণচন্দ্র খাচুয়া আমার মাথার ওপর বসে তালি দিয়ে উঠছেন। আমি একবার তাঁর দিকে, আরেকবার বাইক চালক আমার সহকর্মীর দিকে তাকাচ্ছি।'শাওন মাসের এইরাম একটা দিনে আমি প্রেমে পড়ছিলাম।''আচ্ছা। তারপর?''কী যে সুন্দরী আছিল। আহা!''আরে রাখেন। আমি শুনছি তিনি ছিলেন কালো কুচকুচে। চোখ দুইটা বড় বড়।''মোর চোউখ দুইটা যদি তোর চউখে বসায় দিতে পাত্তাম, তাইলে বুঝতি সোন্দর কারে কয়।''আরে রাখেন'কথা শেষ হওয়ার আগেই হার্ড ব্রেক কষে থেমে গেলেন আমার সহকর্মী।'ভাই, এটা তো চন্দ্রিমা উদ্যান। বাগান। এখানে নামবেন ক্যান।''সেটা তো আমারও প্রশ্ন। এখানে দাঁড়ালেন ক্যান?''আপনি তো রাখতে বললেন ভাই!'আমার সহকর্মীর চোখে বিস্ময়। আমি তার বিস্ময় আরও বাড়িয়ে তুলে বললাম, 'নাহ, আপনারে বলি নাই। বলছি আমার পূর্বপুরুষরে। তার নাম পূর্ণচন্দ্র খাচুয়া। আর খাচুয়া মানে খচ্চর।'বাইক স্টার্ট দিতে দিতে আমার সহকর্মী আগের চেয়ে বিস্মিত হয়ে বললেন, 'মানুষের টাইটেল খাচুয়া, মানে খচ্চর!''ক্যান ভাই, খচ্চর টাইটেল হইতে পারে না?''ক্যামনে কমু ভাই!' বাইকটা আবার চলতে শুরু করে। ওপরে চলতে শুরু করেন আমার পূর্বপুরুষ। এ এক অদ্ভুত ব্যাপার। দুই প্রজন্মের দুই মানুষ চলেছি সমান্তরাল-ওপরে আর নিচে।'নিলোর ডাঙার নাম মনে আছে না?' প্রশ্নটা ধেয়ে এল আমার দিকে।'হুম। এখন সেখানে স্কুল।''ওইখানেই ছিল নিলোর বাড়ি। আহা!''আপনার চরিত্র যে খুব ভালো ছিল না, ও আমি জানি।''ভাই, আপনি কার লগে কথা কন!' সহকর্মী বিস্মিত কণ্ঠে জানতে চান।'কইলাম না ভাই, আমার পূর্বপুরুষের লগে।''ভূত!''মনে হয়।''বলেন কী! আপনি ভূত দেখতে পান?' দ্বিধা আর শঙ্কা মিশ্রিত কণ্ঠে জানতে চান আমার সহকর্মী।'না। ভূত দেখতে পাই না।''তাইলে কথা কন কার লগে!''আপনে গাড়ি চালান মিয়া।'বাইক ব্রেক কষে থেমে যায়। সহকর্মী বলেন, 'আমি আপনারে নিতে পারব না। কাছাকাছি আসছি। আপনি যানগা। নামেন ভাই।'আমি আমতা-আমতা করতে করতে বলি, 'মানে?''মানে কিছু না। আপনি ভূত পোষেন। যানগা। আমি আপনার লগে যামু না।'ভদ্র মানুষের এক কথা। আমি নেমে দাঁড়ালাম এক জনশূন্য রাজধানীর রাজপথে। স্বাভাবিক সময়ের ভীষণ জ্যামের এ রাজপথকে এখন মনে হচ্ছে রাক্ষসের জাদুতে আচ্ছন্ন ঘুমন্তপুরীতে যাওয়ার পথ। এ পথে দাঁড়িয়ে আমি একা এক রাজকুমার। সুনসান নীরব এ ঘুমন্তপুরীর কোনো এক রাজপ্রাসাদে বন্দী রাজকন্যার ঘুম ভাঙাতে চলেছি। হাতে আমার জিয়নকাঠি। ডান হাতে সোনার, আর বাম হাতে রুপার কাঠি। কিন্তু ভুলে গেছি কোন কাঠির ছোঁয়ায় রাজকন্যার ঘুম ভাঙবে। এদিকে মাথার ওপর পূর্বপুরুষের ভূত। বাসায় বউ। মোবাইলে সিনড্রেলা বেল বেজেই যাচ্ছে।দুই হাতে দুই জিয়ন কাঠি নিয়ে এগিয়ে চলেছে রাজকুমার। একটু ওজন বেশি তার। হঠাৎ একটা পঙ্খীরাজ ঘোড়া উড়ে এল কোত্থেকে যেন। বলল, উঠে পড়েন পিঠে।রাজকুমার উঠে পড়ল। পঙ্খীরাজ উড়তে শুরু করল। চোখের নিমিশেই সে হাজির হলো ঘুমন্তপুরীর সিংহ দরজায়। ঘোড়া বলল, নামেন ভাই। আইসা গেছি।হেলমেট খুলতে খুলতে বললাম, ধন্যবাদ।আরও পড়ুনপূর্ণচন্দ্র খাচুয়া আমার পূর্বপুরুষ
5
লিওনেল মেসির শরীরী ভাষায় চাপে থাকার লক্ষণ দেখে চিন্তিত পাবলো সাবালেতা। তবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি জ্বলে উঠবেন বলে বিশ্বাস আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের। এরমাঝেইনাইজেরিয়ার বিপক্ষে 'ডু অর ডাই' ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত দল হিসেবে ঘোষণা করল রাশিয়া বিশ্বকাপের 'জ্যোতিষী বিড়াল' অ্যাকিলিস! বাংলাদেশ সময় রাত আজমঙ্গলবার ১২টায় শুরু হতে চলাম্যাচে মুসাদেরই এগিয়ে রাখছে রাশিয়ার সেই বিড়াল; যে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ম্যাচের সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। ২০১০বিশ্বকাপের জ্যোতিষী ছিল অক্টোপাস 'পল'। ব্রাজিল বিশ্বকাপে সেবার একের পর এক ম্যাচে বিজয়ীদের নাম মিলিয়ে দিয়ে মেসি-নেইমার-মুলারদের জয়প্রিয়তায় ভাগ বসিয়েছিল এই জ্যোতিষী। সেই 'পল' এখন আর নেই। বয়সজনিত কারণে বিশ্বকাপের পর মারা গেছে সেটি। রাশিয়া বিশ্বকাপে পলের অভাব ঢেকে দিচ্ছে উত্তরসূরি চার পেয়ে অ্যাকিলিস।অ্যাকিলিস রাশিয়ার রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গের হার্মিটেজ যাদুঘরের পোষা সাদা পুরুষ বিড়াল। রাশিয়ার রণভূমিতে আর্জেন্টিনা বনাম নাইজেরিয়া ম্যাচে আফ্রিকান জায়েন্টদেরই চ্যাম্পিয়ন বেছে নিয়েছে অ্যাকিলিস। ভবিষ্যদ্বাণী করাতে সেই পুরনো প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে।নাইজেরিয়া ও আর্জেন্টিনা পতাকা দেওয়া দুটি বাটিরমধ্যে একই ধরণেরখাবার রেখে তার সামনে অ্যাকিলিসকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর নাইজেরিয়ার বাটিথেকে খাবার বেছে নিয়ে মুসাদের দলকেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন বলে জানিয়েছে সে! গ্রুপের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষেমেসিরা জিতলে তবেই আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোয় যাওয়ার সুযোগ আছে। তবে এই ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট তুলে নিলেও আইসল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। ক্রোয়াশিয়া আইসল্যান্ডকে হারালে তবেই সুবিধে পাবে মেসিরা। সেই ম্যাচ ড্র হলে আইসল্যান্ডের পয়েন্ট দাঁড়াবে ২। নাইজেরিয়াকে হারানোর সুবাদে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে চলে যাবে লিওনেল মেসির দল।
12
জিতলে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে টিকে থাকবে, হারলে দেশে ফেরার টিকিট কেটে ফেলা যাবে। এমন কঠিন সমীকরণকে সামনে রেখেই আজ শারজাতে নেমেছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাঁচামরার সেই লড়াইয়ে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪২ রানে থামিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।দুই বাঁহাতি ব্যাটারকে ওপেনিং করতে দেখে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বোলিংয়ের উদ্বোধন করালেন মেহেদী হাসানকে দিয়ে। বাঁহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে সব সময় সফল মেহেদী প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে এনে দিতে পারতেন সাফল্য। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে ব্যাটের কানায় লাগায় এলভিডব্লু থেকে বেঁচে যান এভিন লুইস। দ্বিতীয় ওভারে গতির ঝড়ে লুইস ও ক্রিস গেইলকে কাঁপান চোটে পড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের পরিবর্তে দলে ঢোকা তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে রান আউট থেকে বাঁচেন গেইল। পয়েন্টে বল ঠেলে দিয়ে রান নিতে দৌড় দিয়েছিলেন 'ইউনিভার্স বস'। কিন্তু সাকিবের সরাসরি থ্রো স্টাম্পের নাগাল পায়নি। সেই দুঃখ ভুলে দিতে দেরি করলেন মোস্তাফিজ। ওই ওভারের শেষ বলে রানের চাকা বাড়াতে উড়িয়ে মারতে চাইলেন লুইস। ব্যাট-বলের মিলনটা ঠিকঠাক না হওয়ায় বল উঠে গেল স্কয়ার লেগের আকাশে। অনেকটা দৌড়ে এসে ক্যাচটি তালুবন্দী করেই মুশফিকের গর্জন।পঞ্চম ও সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে এসে মেহেদী গেইল ও হেটমায়ারকে ফেরালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরবোর্ড হয়ে যায় ৩২-৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই চাপটা আরও বাড়ত যদি রোস্টন চেজের রিটার্ন ক্যাচটা ধরতে পারতেন। সেটি না হলেও আঁটসাঁট বোলিংয়ে ক্যারিবিয়ানদের বেশ চেপেই ধরেন বাংলাদেশের বোলাররা। ১০ ওভার শেষে মাত্র ৪৮ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।চেজ আর পোলার্ড উইকেট বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু রানই বের করতে পারছিলেন না। সেই হতাশা থেকেই কিনা ১৬ বলে ৮ রান করা পোলার্ড রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। কিন্তু এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাজঘরে যেন নেমে আসে চূড়ান্ত হতাশা। চার-ছক্কার ঝড় তোলার জন্য নামা রাসেল কিনা কোনো বল না খেলেই আউট। তাসকিনের বলটা সোজা ব্যাটে সামনে ঠেলে দিয়েছিলেন চেজ। সেই বল তাসকিনের পা ছুঁয়ে ভেঙে দেয় অপর প্রান্তের উইকেট। আগেভাগে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে পড়া রাসেলকে আউট দিতে থার্ড আম্পায়ারের সহায়তাও লাগল না মাঠের আম্পায়ারের।শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে দুটি ক্যাচ ছেড়ে সমালোচিত হয়েছিলেন লিটন। কাল নিকোলাস পুরানকে স্ট্যাম্পিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন এই উইকেটকিপার। তবে সাকিবের নিচু হয়ে যাওয়া বলে লিটন স্টাম্পিং মিস করলে বেঁচে যান পুরান। দুর্দান্ত বোলিং করার দিন মেহেদী হতাশ করলেন ফিল্ডিংয়ে। চেজকে দুবার জীবন দেন এই অলরাউন্ডার। সেই মূল্য চুকাতে হলো মেহেদীকে ১৮ তম ওভারে। ওই ওভারে দুই ছক্কাসহ এই অফ স্পিনার দিলেন ১৬ রান। তবে পরের ওভারে শরীফুল টানা দুই বলে উইকেটে জমে যাওয়া পুরান ও চেজকে ফিরিয়ে ক্যারিবিয়ানদের শেষের দিকের ঝড় তোলার স্বপ্নকে থামিয়ে দেন। ওই ওভারে এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা হোল্ডারকেও ফেরাতে পারতেন যদি না দলের সেরা ফিল্ডার আফিফ হোসেন সহজ ক্যাচটা সহজভাবেই না ছাড়তেন। সেটি না হলেও বাঁহাতি পেসারের বোলিং ফিগারটা দুর্দান্তই হলো,৪-০-২০-২।শেষের দিকে আরও এক দফা হতাশ করলেন মোস্তাফিজ। শেষ ওভারে তিন ছক্কা দিয়ে এই মন্থর পিচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পৌঁছে দেন ১৪২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে।
12
রাজধানীর চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা নিয়ে একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি সংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নিহতের সংখ্যা ৭০ বললেও পরে ঢাকা জেলা প্রশাসন ৬৭টি লাশ পাওয়ার দাবি করে। অপরদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ নিহত ৭৮ জনের তথ্য দিয়েছিলেন। ঢামেক হাসপাতালে লাশগুলোর জিম্মাদারের দায়িত্ব পালন করা ঢাকা জেলা প্রশাসন বলছে, নিহতের সংখ্যা মোট ৬৭। তারা ৬৭টি লাশ হাতে পেয়েছেন। এই বিভ্রান্তির একটা ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে ফায়ার সার্ভিস থেকে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনের দেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো গরম থাকায় তাড়াহুড়ো করে ব্যাগে ঢুকিয়ে ঢামেকে পাঠানো হয়। যেগুলোকে আলাদা লাশ ভাবা হয়েছিল। আসলে সেগুলো ছিল লাশের পৃথক অঙ্গ। তাই এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহম্মদ খান নিহতের সংখ্যা নিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সাথে একমত প্রকাশ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ৬৭টি লাশ উদ্ধার করেছি। তবে দুয়েকটি লাশ একটির সাথে একটি লেগে যাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে না সেখানে একটি না দুইটি লাশ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মেইনটেইনেন্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণের পর আমরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল থেকে টুকরো টুকরো লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠাই। প্রথমে ৭০ বললেও হাসপাতালে নিয়ে পুনরায় লাশগুলো মিলিয়ে দেখার পর এর সংখ্যা ৬৭টিতে দাঁড়িয়েছে। ৭৮টি মরদেহ উদ্ধারের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, সকালে হাসপাতালের মর্গে ১১ জনের লাশ ছিল। দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে যখন ব্যাগে করে লাশ আনা হয়, তখন সর্বশেষ ব্যাগটিতে ৬৭ সংখ্যাটি লেখা ছিল। দুটি সংখ্যা পৃথক ভেবে সকালের ১১টি আর সর্বশেষ ব্যাগের নম্বর ৬৭ যোগ করে ৭৮ বলেছিলাম। নিহত মোট ৬৭। বুধবার রাত ১০টার পর চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানসন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানানো হয়। আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে, জায়গাটা সংকীর্ণ হওয়ায় জনবল ও সরঞ্জামাদি নিয়ে কাজ শুরু করতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এছাড়া পানির সঙ্কটেও পড়তে হয়েছিল। তবে, আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, ওই ভবনের কারখানা থেকে আগুন ছড়িয়েছে। কারো কারো মতে, বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়ায়। ওয়াহিদ ম্যানসনের নিচতলায় প্লাস্টিকের গোডাউন ছিল। ওপরে ছিল পারফিউমের গোডাউন। খবর পেয়ে এ আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানায় ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম।
6
ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে ভাঙচুর করা হয়েছে প্রধামন্ত্রীর ছবিও। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে সিঙ্গাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভাটিরচর ঘেলেপাড়া ব্রীজের পূর্ব দিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ভূইয়ার নির্বাচনী ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (৬ নভেম্বর) জাহিদুল ইসলাম ভূইয়া বাদী হয়ে ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪২ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্যাহ নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সুরুজ (৪২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম ও শহিদুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে দুষ্কৃতিকারীরা মোটর সাইকেল মহড়া দিয়ে ওই নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালায়। শব্দ শুনে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় তারা ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং এলাকাবাসির উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ওই ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা নৌকা সমর্থিত কর্মী রাজুকে খবর দিলে আরো লোকজন জড়ো হয়। আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোঃ ইকবাল হোসেন শামীম প্রায় ৩০টি মামলার আসামি। পরাজয় নিশ্চিত জেনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন। সেই সাথে নিজে নেতৃত্ব দিয়ে ভাংচুর করেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে অভিযুক্ত আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন শামীম হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা আমাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে রাখতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমি নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছি। এ ঘটনায় শুক্রবার (৫ নভেম্বর) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার টিপু সুলতান সপন, সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) রেজাউল হক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্যা ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মো. আবু হানিফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (সিঙ্গাইর সার্কেল) রেজাউল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর খুবই দুঃখজনক। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।
6
চট্টগ্রামে একাধিক পরিচয়ে বিয়ে ও প্রতারণার মামলায় মিনু আক্তারের (৩৫) রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মো. রেজার আদালত পুলিশের করা ৫ দিন রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। অপরদিকে অভিযুক্তের জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়েছে।মিনু আক্তার গাজীপুর জেলার টঙ্গীর ৪০৩ হোল্ডিংয়ের শাহীনুর কুঞ্জের বাসিন্দা। তাঁর গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি বাঘাইছড়ি থানার উগলছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবার নাম আলি আহাম্মদ ও মা শামসুন্নাহার।মিনু আক্তার ওরফে নাসরিন আক্তার ওরফে শিমু গত ২৯ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর স্ত্রী মিনুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার কাতারপ্রবাসী ইমাম হোসেন (৩৮) আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত অভিযোগ এজাহার গণ্য করতে বায়েজিদ থানাকে নির্দেশ দেন।নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার কামরুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, আসামির রিমান্ড নামঞ্জুর করেছেন আদালত।বাদীর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, আমরা আসামির জামিনের বিরোধিতা করেছি।অভিযুক্তের আইনজীবী মো. বরকত উল্লাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বাদীর কাছ থেকে আসামি কত টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন? এবং বিয়ে-সংক্রান্ত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আসামির রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালতে আমরা বলেছি, আসামিকে বিদেশ থেকে কীভাবে কত টাকা দিয়েছে তাঁর দায় দায়িত্ব আসামির না। সেটা বাদীকেই প্রমাণ করতে হবে। তা ছাড়া বাদীর সঙ্গে আসামির বিয়ে হওয়ার কথা উভয় পক্ষ স্বীকার করেছে। আদালতে কাবিননামার কপিও দেওয়া হয়েছে। তাই আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করেছেন।'বাদীর আরজিতে বলা হয়, কাতারপ্রবাসী ইমাম ও মিনুর সঙ্গে পরিচয় হয় ফেসবুকে। ইমাম হোসেন দেশে আসার পর ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ১০ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ইমাম কাতারের কর্মস্থলে ফিরে গেলে বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলে মিনু ৭ লাখ টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পর মিনু ইমামকে অবহেলা শুরু করেন। আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিদেশে বসে ইমাম জানতে পারেন তাঁর রুবি গেটের বাসায় মানুষের অস্বাভাবিক আনাগোনা শুরু হয়েছে। পরে তাঁর সন্দেহ হলে দেশে ফিরে আসেন। এরপর খোঁজখবর নিয়ে একে একে খুঁজে পান মিনুর তিনটি আলাদা পরিচয়পত্র। আরও এক বিয়ের কাবিননামা এবং সামাজিক ফেসবুকে রাশেদ নামের এক যুবকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ের ছবি। গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারি জামিলের সঙ্গে বিয়ে করার কাবিনও খুঁজে পান ইমাম। ইমামের সঙ্গে সম্পর্ক বহাল থাকাকালেই ওই বিয়ে করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। একই মামলায় গত রোববার মিনুর আগের স্বামী রাশেদ কারাগারে রয়েছে।অভিযোগে মিনু আক্তারের আরও নাম হিসেবে এজাহারে ফাতেমা আক্তার রোমান এবং নাছমিন আক্তার উল্লেখ করা হয়।
6
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন। আব্দুল লতিফ নেজামীর মৃত্যুতে অনেকে শোক জানিয়েছেন। মৃত্যুকালে আবদুল লতিফ নেজামীর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, স্ত্রীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ২০১২ সালে মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ইন্তেকালের পর ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান হন মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী। দলটি আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক থাকলেও কয়েক বছর আগে ঘোষণা দিয়ে জোট ত্যাগ করেন তারা। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
6
শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি বলেছেন, দেশের জনগণ উন্নয়ন চায়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজমান থাকায় সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল জনগণ পাচ্ছে। শিল্প প্রতিমন্ত্রী আজ রাজধানীর মিরপুরের মনিপুরে অবস্থিত মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মূল বালক শাখায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বঙ্গবন্ধুর নবনির্মিত ভাস্কর্যের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও জাতির পিতার অবদান সম্পর্কে সচেতন হবে। প্রতিমন্ত্রী এসময় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বাংলাদেশ করোনা সংক্রমণ রোধ ও অর্থনৈতিক উত্তরনে সফলতার স্বাক্ষর রাখছে। প্রতিমন্ত্রী এসময় যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান। কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পরে, শিল্প প্রতিমন্ত্রী মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মূল বালক শাখার প্রবেশপথে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর নবনির্মিত ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন। পরে, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি একই স্থানে তাঁর ব্যাক্তিগত পক্ষ হতে মিরপুরের মনিপুরে ৫০০ দুঃস্থ-অসহায় শীতার্তের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও গণমান্য ব্যাক্তিবর্গ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
6
ইসরাইলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে শুক্রবার ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা সীমান্তে আয়োজিত সমাবেশের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এতে অন্তত ১৩০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৫টি শিশু রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ কিদরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে চারজন ডাক্তার ও সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। এর আগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে ইসরাইলের 'জিরো টলারেন্স' নীতির নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, তেল আবিবের এ অবস্থানের কারণে আরো বহু ফিলিস্তিনির মৃত্যু হতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, ইসরাইলের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে মারাত্মকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হবে যার ফলে অবৈধ হত্যা ও রক্তপাত বেড়ে যাবে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল অপ্রয়োজনীয় ও বাড়াবাড়ি রকমের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লজ্জানক লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি। গত ৩০ মার্চ থেকে গাজাবাসী ইসরাইলের দখলদারিত্ব অবসানের বিরুদ্ধে প্রতি শুক্রবার বিক্ষোভ-সমাবেশ করে আসছে। এসব বিক্ষোভ-সমাবেশে অংশ নেয়া নিরস্ত্র লোকজনের বিরুদ্ধে ইসরাইল তাদের সেনা লেলিয়ে দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ইসরাইলের বর্বরতায় অন্তত ১৯০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ ও ২০ হাজার আহত হয়েছেন।পার্স টুডে
3
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের কামারহেলা গ্রামে পরিবারের কাছে দাবিকৃত মোটর সাইকেল না পেয়ে নিজ শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছে ওমর মোল্লা (৩৫) নামে এক যুবক। নিহত যুবক গুনবহা ইউনিয়নের কামারহেলা গ্রামের মো. আজিজার মোল্লার ছোট ছেলে। সে বিবাহিত এবং তার এক মেয়ে রয়েছে। গত সোমবার বিকালে নিজ শরীরে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় ওমর। এরপর গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহতের বাবা আজিজার মোল্লা জানান, ওমর আমাকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দিতে বলেছিল। ওই মোটরসাইকেল সে ভাড়ায় চালিয়ে সংসার চালাতে চেয়েছিলো। কিন্তু অর্থের অভাবে আমি তাকে সেটি কিনে দিতে পারিনি। তিনি জানান, ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করতো ওমর । সেখানে ভালভাবে চলতে না পারায় বাড়ীতে চলে আসে।ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জিারি বিভাগের চিকিৎসক স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, গত শুক্রবার ওমর মোল্লা শরীরের প্রায় ৭৫ শতাংশ দগ্ধ হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। সে ঠিকমত শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে ও পারছিলো না। সাথে সাথে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে স্থনান্তর করা হয়েছিল।
6
নওগাঁর মান্দায় অতিরিক্ত মদ্যপান করে পুকুরে মাছ ধরতে নেমে পানিতে ডুবে এক জেলের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।মৃত জেলের নাম বেলাল হোসেন (৩০)। তিনি ভারশোঁ মৎস্যজীবী পাড়ার মৃত আহসান আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকে বেলালের সঙ্গীরা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে ভারশোঁ পশ্চিমপাড়া গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ বারিকের পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান একই এলাকার বেলাল হোসেন, মমতাজ হোসেন, সাইদুর রহমান ও আনিছার রহমান। প্রথম দফায় মাছ ধরে দিলে পুকুরমালিক সেগুলো নিয়ে দেলুয়াবাড়ি বাজারে বিক্রি করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, পুকুরটিতে দ্বিতীয় দফায় জাল নামানোর আগে পুকুরমালিক ধীরেন্দ্রনাথ বারিক নিজ বাড়িতে জেলেদের মদ্যপান করান। বেসামাল অবস্থায় পুকুরে আবারও জাল ফেলেন তাঁরা। জাল টান দেওয়ার একপর্যায়ে বেলাল হোসেন পানিতে ডুবে যান।গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, মৎস্যজীবী বেলালসহ তাঁর সঙ্গীরা এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেলাল পানিতে ডুবে মারা যান।পুকুরমালিক ধীরেন্দ্রনাথ বারিক জেলেদের মদ্যপান করানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্ধারিত পারিশ্রমিকে জেলেদের দিয়ে পুকুর মাছ ধরার কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। মাছ ধরার সময় হঠাৎ করেই পানিতে ডুবে যান বেলাল।মান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী মাসুদ বলেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে পানিতে ডুবে বেলালের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নওগাঁ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
6
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে গেছে ৩০টি ঘর ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি মাদ্রাসা। ২০২২ সাল শুরু হওয়ার পর চলতি জানুয়ারির ১৮ দিনের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এই নিয়ে তৃতীয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি-২ ব্লকে আগুনের সূত্রপাত হয়, মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এক ঘণ্টা পর স্থানীয় রোহিঙ্গা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত একজন কর্মকর্তা জানান, 'খবর পেয়ে আমাদের তিনটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। এক ঘণ্টার মধ্যে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।'ক্যাম্প প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ১৩৬ জন রোহিঙ্গা গৃহহারা হয়েছে। যাদের ২৭টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, ২টি ঘর ও ১টি মাদ্রাসা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও অগ্নিদুর্গত রোহিঙ্গা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।এ প্রসঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে ঘর হারানো ওয়াজিদ (৭০) নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, 'আমরা ঘরের সবাই ঘুমাচ্ছিলাম। আগুন লাগার পর চিৎকার শুনে কোনো রকমে বেরিয়ে পড়ি। এত রাতে কীভাবে আগুন লাগল বুঝতে পারছি না, হতে পারে কেউ লাগিয়ে দিয়েছে।'১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, 'প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা না গেলেও দুর্বৃত্তরা এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে এমন ধারণা থেকে আমরা অনুসন্ধান করছি। কোনো দুষ্কৃতকারী শনাক্ত হলে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।'অগ্নিদুর্গত ব্যক্তিদের বাসস্থান, খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।এদিকে, ৯ জানুয়ারি উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা ১৬ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে পুড়ে যায় প্রায় ৬০০ ঘর। তার আগে এ বছরের ২ জানুয়ারি ২০ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত একটি বিশেষায়িত হাসপাতালেও আগুন লাগে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাসপাতালটির ৭০ শয্যা। শফিউল্লাহ কাটার অগ্নিকাণ্ড গ্যাসের চুলা থেকে হয়েছে এমন দাবি ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা করলেও ওই অগ্নিকাণ্ডসহ সোমবার মধ্যরাতের অগ্নিকাণ্ড এবং হাসপাতাল পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে ক্যাম্পকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা বলছে অনেক সাধারণ রোহিঙ্গা।কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত তরুণ মোহাম্মদ আমিন (২৬) বলেন, 'আমরা রাতে ঘুমাতে পারছি না, বারবার আগুনের ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পকে অশান্ত করতে একটি চক্র বারবার পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আগুন লাগাচ্ছে, জানি না কখন এই আতঙ্ক শেষ হবে।'প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠছে। গত বছর ২২ মার্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন ক্যাম্পের ১০ হাজার ঘর পুড়ে যায়, ওই বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে।রোহিঙ্গা সম্পর্কিত আরও পড়ুন:রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখবে ভিয়েতনামরোহিঙ্গাদের অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশরোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবিঘরের অধিকার হারানোর ভয়ক্যাম্পে আগুন: খোলা আকাশের নিচে বহু রোহিঙ্গা পরিবার
6
ফিলিস্তিনের পবিত্র আল আকসা মসজিদ ইসরায়েলের সন্ত্রাসী হামলায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ইসরাইলি হামলায় হতাহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কে চিঠি পাঠিয়েছেন। আজ বুধবার (১২ মে) প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ইসরাইলি হামলায় হতাহতের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কে পত্র প্রেরণ করেছেন।
6
প্রতি মাসে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান, বিজ্ঞাপনের ১৯ শতাংশ বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে জমা প্রদান এবং মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিক পরিবারকে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ প্রবীণ ও কর্মাহত সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ। আজ রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেছে সংগঠনটি।মানববন্ধনে বক্তারা জানান, প্রবীণ সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিন দফা দাবি সরকার মেনে নিলে প্রবীণ ও নতুন সাংবাদিকদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে। শুধু কল্যাণ ট্রাস্ট দিয়ে সাংবাদিকদের সব সমস্যার সমাধান করা যাবে না। সাংবাদিকেরা যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল না থাকেন, তবে তিনি তাঁর সম্পূর্ণ মেধা কাজে লাগাতে পারবেন না। এ ছাড়া নবম ওয়েজবোর্ড সংশোধন করে ঘোষণা করারও আহ্বান জানান বক্তারা।সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম করম আলী বলেন, 'প্রবীণ সাংবাদিকেরা অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এর সঙ্গে কর্মাহত অনেক সাংবাদিক আছেন, যাঁরা পঙ্গু হয়ে আছেন বা বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারছেন না। তাঁদের পরিবারের বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে।'বাংলাদেশ প্রবীণ ও কর্মাহত সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম করম আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি।
6
রাজশাহীতে পদ্মা নদী ও বড়াল নদ এবং তীরবর্তী বাঁধ দখল করে নানা স্থাপনা গড়ে তুলেছেন ৬০১ জন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলার সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) প্রতিবেদনে দখলকারীদের এই সংখ্যা উঠে এসেছে।জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে দখলকারীদের তালিকা চেয়েছিল। এরপর পাউবো ও দুই উপজেলার সহকারী কমিশনারদের কাছ থেকে তালিকা সংগ্রহ করে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক তা নদী রক্ষা কমিশনে পাঠিয়েছেন।জেলা প্রশাসক জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছেও তালিকা চেয়েছিলেন। তবে গোদাগাড়ীর সহকারী কমিশনার তাছমিনা খাতুন একটি চিঠি দিয়ে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন, তাঁর উপজেলায় কোনো নদী দখলকারী নেই।জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসা তালিকায় দেখা গেছে, রাজশাহীর পাউবো দখলকারী হিসেবে ৫৮০ জনের নাম-ঠিকানা এবং স্থাপনার বিবরণ দিয়েছে। তাঁরা সবাই পদ্মা নদী এবং নদীতীরবর্তী বাঁধ দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। চারঘাট ভূমি অফিস ১৮ জন বড়াল নদ দখলকারীর তালিকা দিয়েছে। আর বাঘা ভূমি অফিস বড়াল নদ দখলকারী তিনজনের নামের তালিকা দিয়েছে। দুই উপজেলায় পদ্মা নদীর দখলদার নেই। মোট দখলকারীর সংখ্যা ৬০১ জন।তবে বাস্তবে তা আরও বেশি হবে।জেলার পবা উপজেলার হরিপুর এলাকা থেকে নবগঙ্গা, হাড়পুর, নবীনগর, নগরীর কেশবপুর, বুলনপুর, শ্রীরামপুর, দরগাপাড়া, বাজে কাজলা, সাতবাড়িয়া হয়ে কাটাখালী পৌরসভার শ্যামপুর পর্যন্ত এলাকার দখলদারদের তালিকা দিয়েছে পাউবো। এতে দেখা গেছে, হরিপুর এলাকায় ২৫ জন, নবগঙ্গা এলাকায় ৫২ জন, হাড়পুরে ৫১ জন, নবীনগরে ৩৪ জন, কেশবপুরে ১২ জন, বুলনপুরে ৪৫ জন, শ্রীরামপুরে ৩৭ জন, দরগাপাড়ায় ৩২ জন, বাজে কাজলায় ১৮৮ জন, সাতবাড়িয়ায় ৭৬ জন এবং শ্যামপুরে ১৬ জন নদী ও বাঁধ দখল করে স্থাপনা করেছেন।স্থাপনার মধ্যে বেশির ভাগই আছে টিনের কিংবা সেমিপাকা বাড়ি, দোকান, সেলুন, রিকশা-অটোরিকশার গ্যারেজ, গোয়ালঘর ও ক্লাবঘর। কিছু আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয় এবং নেতাদের ব্যক্তিগত কার্যালয়। তালিকার একেবারে শেষ নামটি কাটাখালী পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়েশা আক্তারের কার্যালয়। এটি শ্যামপুর এলাকায় বাঁধের জমি দখল করে নির্মাণ করা।পৌরসভার কোনো কাউন্সিলর কিংবা নারী কাউন্সিলরের কার্যালয় না থাকলেও আয়েশা আক্তার বানিয়েছেন। সম্প্রতি এক সকালে শ্যামপুরে গিয়ে কার্যালয়টি পাওয়া গেল। তবে সেটি তালাবদ্ধ। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে নারী কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার বলেন, 'আমি আমার শখের জায়গা থেকে সম্পূর্ণ নিজের খরচে এটা করেছি। সন্ধ্যার পর দুই ঘণ্টা সেখানে বসে মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলেছি, আপনারা চাওয়ামাত্র ভেঙে ফেলব।'রাজশাহী নগরীর একপাশ দিয়েই বয়ে গেছে পদ্মা নদী। নদীর পাড়ে শহরের প্রায় সবখানেই দখলদাররা সক্রিয়। নগরীর বড়কুঠি এলাকায় তো বহুতল ভবনও করা হয়েছে। আলুপট্টি এলাকায় মাটি এবং ভাঙা ইট ফেলে নদী দখল করা হচ্ছে। বুধবার সকালে সেখানেই রাস্তা করছিলেন সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মী। একজন জানালেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল হামিদ সরকার টেকন এভাবে নদী ভরাট করাচ্ছেন। নদীপাড়ের এই জায়গায় রেস্তোরাঁ বানানো হবে।জানতে চাইলে কাউন্সিলর আবদুল হামিদ সরকার টেকন বলেন, 'এটা আমি ভরাট করছি-এমন না। বিভিন্ন স্থানে কাজ চলছে। তার ময়লা-আবর্জনা ফেলার মতো কোনো ভাগাড় নেই। ঠিকাদারেরা সেগুলো এনে ফেলছে। জায়গাটা ভরাট হয়ে নদীর ধারে মানুষের হাঁটাচলার জায়গাও হচ্ছে। সে কারণে আমি অবশ্য বাধা দিই না।'রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, নদী ও বাঁধ দখলকারীদের চিহ্নিত করে তালিকা জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে যে ধরনের নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, 'দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হলে বড় অঙ্কের টাকা দরকার। বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারি না। আমরা বাজেট চেয়ে নদী কমিশনে লিখেছি। বাজেট পেলেই উচ্ছেদ শুরু হবে।'
6
ঈদের ছুটি শেষে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুট হয়ে রাজধানী ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবী মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি লঞ্চ, স্পীডবোট ও ফেরিতে অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ দেখা গেছে। যাত্রীরা দীর্ঘ সময় লাইন দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট কেটে লঞ্চ ও স্পীডবোটে উঠছেন। প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিসি ও লঞ্চ মালিক সমিতির দাবি, সঠিক নিয়মেই কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের পদ্মা নদী পার করা হচ্ছে। এদিকে যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কথা মাথায় রেখে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ, র্যাব, আনসার, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। এছাড়া যাত্রীসেবা নিবিঘ্ন করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক টিমও কাজ করছে। মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, দঞ্চিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যাতায়াতের জন্য কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুট ব্যবহার করেন। ঈদে যাত্রী সেবায় ১৮টি ফেরি, ৮৭টি লঞ্চ, দেড় শতাধিক স্পিডবোট রাখা হয়েছে। এছাড়া ৩ শতাধিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।
6
সোফিয়া কেনিন; দুই শব্দের প্রথমটা অনেকের কাছে পুরোনোই মনে হবে। ইতিহাস, ঐতিহ্য কিংবা বিখ্যাতদের জীবনী পড়তে গিয়ে এই শব্দের সঙ্গে পরিচয় হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এই 'সোফিয়া' নামে কিন্তু একটা ফুলও আছে। এশিয়ায় হয়তো তেমন জনপ্রিয় না; কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকায় এই নামের ফুল থেকে বানানো হয় সুগন্ধীও। শনিবার মেলবোর্নে যেন তেমনি এক সোফিয়া-সুবাসে মুগ্ধ হলেন টেনিসপ্রেমীরা। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে গারবিনে মুগুরুজাকে ৪-৬, ৬-২, ৬-২ গেমে হারিয়ে সোফিয়া তুলে নেন কাঙ্ক্ষিত শিরোপা। ক্যারিয়ারে এই প্রথম গ্র্যান্ডস্লামের স্বাদ পেলেন সোফিয়া কেনিন। তাও আবার প্রথমবারেই বাজিমাত। ২০১৭ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা এই আমেরিকানের এতদিন সর্বোচ্চ অর্জন ছিল ফ্রেঞ্চ ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে ওঠা। এবার এক লাফেই ছুঁলেন গ্র্যান্ডস্লাম মুকুট। সেইসঙ্গে নতুন রেকর্ডও। ২০০৮ সালে আনা ইভানোভিচকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন মারিয়া শারাপোভা। তারপর সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে মেলবোর্নের রানী হলেন কেনিন। প্রথম সেটে ভালোভাবেই সোফিয়াকে বিপাকে ফেলেন মুগুরুজা। কিন্তু পরের দুই সেটে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে জয়টা নিজের করে নেন সোফিয়া। অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হলো। টেনিসের সবচেয়ে আরাধ্যের অর্জনটা উঠল সোফিয়ার হাতে। এমন দিনে তো মহাখুশি হবেনই তিনি, 'অবশেষে আমার স্বপ্নপূরণ হলো। এ মুহূর্তের অনুভূতি আমি মুখে বর্ণনা করতে পারব না। সত্যিই এটি রোমাঞ্চকর। আমি যে পরিশ্রম করেছি তার ফল পেলাম। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে খুব ভালো লাগছে। আসলে আপনি যদি কোনো কিছুর স্বপ্ন দেখেন, তাহলে সেটা পূরণের জন্য চেষ্টা করেন, অবশ্যই তার দেখা পাবেন।' তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, 'এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে খেলাটাই অন্য রকম। গত দুই সপ্তাহ আমার জীবনের সেরা সময়। সবাইকে হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসা।' নাওমি ওসাকা, অ্যাশ বার্টি, বিয়াঙ্কা আন্দ্রিস্কুর পর সোফিয়া। একই পথের পথিক তারা। সাবেক নাম্বার ওয়ান মুগুরুজাও কিন্তু কম যাননি। দারুণ কিছুর আভাস দিয়ে নিভে গেলেও টুর্নামেন্টজুড়ে ছিলেন লাইমলাইটে। তাই তো এই হারে খুব একটা পোড়েনি তার মন, 'এই কোর্টটাই আলাদা লাগে। এখানকার উত্তাপ, হৈচৈ সত্যিই আপনার আত্মবিশ্বাস, আপনার শক্তি-সামর্থ্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে। ধন্যবাদ যারা এতদিন আমাকে সমর্থন দিয়েছেন।'
12
মিশরের দক্ষিণাঞ্চলের সোহাগ শহরে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আহত হয়েছেন ৬৬ জন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, কায়রো থেকে ২৮৫ মাইল দূরের সোহাগ শহরে শুক্রবার ওই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় তিনটি যাত্রীবাহী বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ভেতরে যাত্রীরা আটকা পড়েন। অনেকে অচেতন হয়ে পড়েন। অনেকের রক্ত ঝরতে দেখা যায়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে অনেককে পাশের মাটিতে রাখা হয়। মিশরের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, সোহাগ শহরের কাছে অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি জরুরি ব্রেক চাপলে ওই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। ব্রেক চাপার ফলে একটি ট্রেন থেমে থাকে। তখন অন্য একটি ট্রেন এসে এর সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ।বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র বলেছে, দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেনের গতি খুব বেশি ছিল না। তাই মাত্র দুটি বগি ধ্বংস হয়েছে এবং আরেকটি ঘুরে গেছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেখানে ৩৬ টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে মিশরের সবচেয়ে পুরোনো ও দীর্ঘ রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে। সেখানে রেল দুর্ঘটনার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে থাকে। শুধু ২০১৭ সালেই দেশটিতে এক হাজার ৭৯৩ টি রেল দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছিলেন, দেশটির রেল ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে ১৪ দশমিক এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার দরকার। এর আগে গত বছরের দুটি ট্রেনের সংর্ঘষে দেশটিতে ৪৩ জন মারা যান। ২০১৬ সালেও কায়রোর কাছে এক রেল দুর্ঘটনায় ৫১ জন মারা যান। তবে ২০০২ সাল দেশটিতে দুটি দ্রুতগামী ট্রেনের সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
3
গায়িকার খাতায় নাম তুললেন সাদিয়া জাহান প্রভা। মৌসুমী ভৌমিকের বিখ্যাত গান 'আমি শুনেছি সেদিন তুমি' কভার করেছেন তিনি। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে গানটির ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছেন এই অভিনয়শিল্পী। প্রভা জানান, তাঁর প্রিয় শিল্পী মৌসুমী ভৌমিক। তাঁর গাওয়া 'আমি শুনেছি সেদিন তুমি' নতুন করে সংগীতায়োজন করেছেন গায়ক ও সংগীত পরিচালক ইমরান মাহমুদুল। প্রভা বলেন, 'ইমরান ও আমি খুব ভালো বন্ধু। একসঙ্গে আড্ডা দিই। এ রকম আড্ডায় গুনগুন করে গান গাইবার স্বভাব আমার। একদিন আমার গান শুনে ইমরান বলল, চল দোস্ত, তোর গান রেকর্ড করি। এভাবেই গানটিতে কণ্ঠ দেওয়া।' ২২ অক্টোবর গানটির ভিডিও চিত্র প্রভার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে গানটির ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। গানটিতে মডেলও হয়েছেন প্রভা। এই অভিনয়শিল্পী জানান, মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতেই গানটি গেয়েছেন তিনি। অভিনয়ে পরিচিতি পেলেও মায়ের ইচ্ছা ছিল সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাক। কিন্তু মেয়ের গানে খুব একটা মন টানত না। প্র্যাকটিসে বসে ফাঁকি দিতেন, অনুষ্ঠানে গানের চেয়ে উপস্থাপনা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। মাকে খুশি করতে এবার কণ্ঠে গান তুলে নিলেন তিনি। প্রভা আরও বলেন, 'গানটি রেকর্ড করার পর আম্মু শুনে খুশি হয়ে বাবাকেও শুনিয়েছেন। বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে।' প্রভা জানান, এটা পরীক্ষামূলক। কেবল নিজেকে যাচাই করার জন্য করা। স্টুডিওতে প্রথমবার গাইলেন, কেমন লেগেছে? 'স্টুডিওতে গিয়ে অন্যান্য ইনস্ট্রুমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে গাইতে নার্ভাস লাগছে। আমার মনে হয়, গানের ব্যাপারটা পুরোপুরি গড গিফটেড ব্যাপার। আগে মনে হতো, এক দিনে বুঝি অনেক গান রেকর্ড করে ফেলা যায়। কিন্তু মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে আমার সব ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তবে ইমরান ছাড়া অন্য কেউ রেকর্ড করলে ধৈর্য হারিয়ে ফেলত। বন্ধু হওয়ায় বেস্ট উপায়ে আমার গানটা রেকর্ড করিয়ে নিয়েছে।'
2
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসদের চলতি অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে এ অধিবেশন। অবশ্য এদিন সকাল বিকেল দুই বেলা বৈঠক চলবে।জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম আজকের পত্রিকাকে আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অধিবেশন শেষ হবে।এদিকে শেষ দিন সংসদে বহুল আলোচিত অপ্রত্যাশিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন পাস হবে। এই আইনের ভিত্তিতে এই নতুন কমিশন গঠিত হবে।গত ১৬ জানুয়ারি সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। পরদিন সংসদের বৈঠক চলার পর ৫ দিন বিরতি দিয়ে গত রোববার শুরু হয় বৈঠক। এরপর আবারও দুই দিনের বিরতি দিয়ে আজ বুধবার সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বৈঠকের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ অধিবেশন। সব মিলিয়ে চলতি অধিবেশন পাঁচ কার্যদিবসের চলছে।সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতেই চলতি অধিবেশন বেশ কিছুদিন চালানোর জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কয়েক দফায় মুলতবি দিয়ে এ অধিবেশন ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত পরিচালনার চিন্তা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের ব্যাপক বিস্তারের কারণে ওই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে প্রায় ৪০ জনের মতো সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
6
মাত্র ৪৫ মিনিটের আলোচনা। তার পরই পদত্যাগ করলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। ক্ষমতা বদল হল আফগানিস্তানে। প্রায় দু'দশক পর আফগানিস্তানে শুরু হচ্ছে তালেবানের শাসন। কাবুলে হামলা হবে না, এই শর্তে তালেবানের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে আফগানিস্তান সরকারের। ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্টের বাসভবনে গিয়েছিল তালেবান সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল। সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন তালেবান প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বরাদর। কাতার এবং আমেরিকার কূটনীতিবিদরাও ছিলেন সেখানে। প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, আফগানিস্তানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে পারেন বরাদর গনি। গায়ের জোরে বা রক্তপাত ঘটিয়ে নয়, শান্তিপূর্ণ ভাবেই ক্ষমতার হস্তান্তর চায় তালেবান নেতারা, কাবুলের মূল শহরে ঢোকার আগেই সংবাদ মাধ্যমে এ কথা জানিয়েছিলেন তালেবান গোষ্ঠীর এক মুখপাত্র। তার কথায়, ''সাধারণ মানুষ যেন সহিংসতার বলি না হন, সে দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। কাবুলের মানুষের জীবন বিপন্ন হোক, তা একেবারেই চাই না আমরা।'' শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরে রাজি আফগান সরকারও। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, জানিয়েছে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তালেবান আফগানিস্তান দখল করে নেয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। কেউ উদ্বিগ্ন, কেউ বা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে ব্যস্ত। এদিকে, দেশ থেকে পালিয়ে তাজিকিস্তানে চলে গেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। সেখানে গিয়ে তিনি তালেবানকেই বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। তালেবানের কাছে রাজধানী কাবুল 'পতনের' মুখে পালিয়ে যাওয়ায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন আশরাফ গনি। তা নিয়ে আবার সাফাই দিয়েছেন তিনি। তার দাবি, রক্তবন্যা এড়ানোর জন্য দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সূত্র: আনন্দবাজার ও আল জাজিরা। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
3
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় শাশুড়িকে হত্যার পর লাশ বাড়ির আঙিনায় পুঁতে রাখার অভিযোগে তারই দুই পুত্রবধূকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলারপ্রকাশনগর আদর্শগুচ্ছগ্রাম নিহতের বাড়ির আঙিনা খুড়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের নাম মোমেনা বেগম (৪৬)। তিনি ওই গ্রামের রমজান আলীর স্ত্রী। আটক পুত্রবধূর নাম সখিনা বেগম (২১)। তিনি নিহতের ছোট ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দুপুরে শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির আঙিনায় পুঁতে রেখেছিল তারই পুত্রবধূ সখিনা। বিকেলে ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে প্রতিবেশীরা নিহতের দুই পুত্রবধূকে আটক করে থানায় খবর দেয়। সন্ধ্যার পরে পুলিশ গিয়ে আঙিনা খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে। তানোর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল ইসলাম বলেন, ওই বাড়িতে মোমেনা বেগম ও তার ছোট ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী সখিনা বেগম ছিলেন। মোমেনা বেগমের ছোট ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ধান কাটার কাজে বর্তমানে খুলনায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, আটক পুত্রবধূ সখিনা বেগম নিজেই শাশুড়িকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, সকালে বাড়িতে ধান শুকানোর সময় মুরগি এসে ধান খায়। ওই ঘটনায় শাশুড়ি মোমেনা বেগম তাকে মারধর করেন। এরপর দুপুরে মোমেনা বেগম ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই সময়সখিনাবাঁশ দিয়ে শাশুড়ির মাথায় আঘাত করে। এতেই মোমেনা বেগমের মৃত্যু হয়। এরপর বাড়ির আঙিনায় বড় চুলার নিচে গর্ত করে মোমেনাকে মাটি চাপা দেয় সখিনা। পরিদর্শক রাকিবুল আরও জানান, শাশুড়িকে মাটি চাপা দেয়ার পর সখিনা পাশের বাড়িতে গিয়ে নিহতের আরেক ছেলে মমিনুলের স্ত্রী রীনাকে বিষয়টি জানায়। এরপর বিষয়টি প্রতিবেশীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর আবুল বাশারসহ প্রতিবেশীরা গিয়ে মোমেনা বেগমের দুই পুত্রবধূ সখিনা ও রীনাকে আটক করে থানায় খবর দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলাম বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক দুই পুত্রবধূকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
6
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন জানিয়েছে যে কাবুল বিমানবন্দরে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ার পেছনে ব্রিটেনের দায় আছে। সোমবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম মেইল অনলাইন। ব্রিটেনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত উষ্ণ সম্পর্ক থাকার পরেও মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন অভিযোগ করে বলেছে, বৃহস্পতিবার কাবুল বিমানবন্দরে ইসলামিক স্টেট খোরসানের বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ার পেছনে ব্রিটেনের ভূমিকা আছে। ব্রিটেনের ওই নেতিবাচক ভূমিকা না থাকলে মৃত্যের সংখ্যা এত বাড়ত না। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিভাগের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে মার্কিন কর্তৃপক্ষ কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি বিশেষ গেট বন্ধ রাখার জন্য আবেদন করেছিল। কাবুল বিমানবন্দরে মারাত্মক বোমা হামলার আগেই ওই অনুরোধ করেছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ব্রিটেন ওই আবেদনে সাড়া দেয়নি। তারা ওই বিমানবন্দরের বিশেষ গেটটি খোলা রেখেছিল এবং এয়ারলিফট কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের লোকদের সরিয়ে নেয়া অব্যাহত রেখেছিল। আরো একটি নতুন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যখন ওই মারাত্মক বোমা হামলায় বেঁচে যাওয়ারা দাবি করেছেন, বহু মানুষ মারা গেছেন মার্কিন সেনাদের গুলিতে। যখন ভয়াবহ বোমা হামলা হয় তখন শঙ্কিত মার্কিন সেনারা সমবেত সাধারণ মানুষদের ওপরেই গুলি বর্ষণ করে। ওই সাধারণ মানুষগুলো আফগানিস্তান থেকে চলে যাওয়ার জন্য কাবুল বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিল। মার্কিন সেনাদের গুলিতে নিহতদের মধ্যে অনেকের আত্মীয়রাও ছিলেন। নিহতদের মধ্যে দু'সন্তানের জনক এক বৃটিশ নাগরিকও ছিলেন। পেন্টাগনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ফাঁস হওয়া নথির বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম দ্যা পলিটিকো জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের কর্মকর্তারা আগে থেকেই কাবুল বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলার শঙ্কা করছিলেন। তারা কাবুল বিমানবন্দরের ওই গেটে হামলার শঙ্কা করছিলেন। তারা ওই ভয়াবহ বোমা হামলার ২৪ ঘণ্টা আগেই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন। রাত ১২টার সময় হওয়া দ্বিতীয় দফা সভায় তারা সিদ্ধান্ত নেন যে বিমানবন্দরের ওই গেটটি তারা বন্ধ রাখবেন। কিন্তু ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের শিথিলতার কারণে ওই স্থানে ইসলামিক স্টেট খোরসানের আত্মঘাতী বোমা হামলা হয় এবং ১৭০ সাধারণ নাগরিক আর ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়। সূত্র : মেইল অনলাইন
3
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেন, লোকজনকে এভাবে সরিয়ে আনতে গিয়ে সেনাবাহিনী ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কাজটি যথেষ্ট কঠিন। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার বেলা একটার দিকে হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দেন বাইডেন। সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন। খবর বিবিসি, রয়টার্সের। আফগানিস্তান ছেড়ে মানুষ পালানোর জন্য মরিয়া। যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে। এ ঘটনার উল্লেখ করে এমন মন্তব্য করেন বাইডেন। বাইডেন বলেন, আফগানিস্তান থেকে ১৩ হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উড়োজাহাজে যেভাবে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট কঠিন কাজ ছিল।বাইডেন আরও বলেন, মার্কিনদের মধ্যে যাঁরাই ঘরে ফিরতে চাইবেন, তাঁদেরই ফিরিয়ে নেওয়া হবে। বক্তব্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাইডেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিনদের সরিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যে ৫০ থেকে ৬৫ হাজার আফগান দেশ ছাড়তে চান, তাঁদেরও একইভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, 'আফগানিস্তান থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার এ প্রক্রিয়া বিপজ্জনক। লোকজনকে এভাবে সরিয়ে আনতে গিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কাজটি যথেষ্ট কঠিন।' তিনি বলেন, 'শেষ পর্যন্ত কী হবে বা লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ঝুঁকিমুক্তভাবে শেষ করা যাবে কি না, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি আমি দিতে পারছি না। তবে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আমি বলতে পারি, প্রয়োজনীয় সবকিছু আমি করব।' তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানে আটকে পড়া মার্কিনদের উদ্ধার করতে মার্কিন সেনাবাহিনী পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট থাকলে তালেবান বিমানবন্দরে সবাইকে ঢুকতে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে বাইডেন এমনটা বললেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা বিমানবন্দরে ঢুকতে সমস্যায় পড়ছেন। পলিটিকোর খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, যেসব মার্কিন আফগানিস্তান ছাড়ার চেষ্টা করছেন, তালেবান তাঁদের মারধর করছেন। আফগানিস্তান থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে সেখানে প্রায় ছয় হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। তবে আফগানিস্তান ছাড়তে চাইছেন-এমন মানুষের ভিড় বাড়ছে। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে তাঁদের তালেবানের তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে। ন্যাটোর এক কর্মকর্তা গতকাল রয়টার্সকে জানান, তালেবানের ক্ষমতা দখল নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কাবুল বিমানবন্দর থেকে ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখনো কাবুল ছাড়ার জন্য বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় জমে আছে। সবাই কাবুল ছাড়তে মরিয়া। ন্যাটোর ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশে রাজি হননি। গত রোববার কাবুল দখলে নেয় তালেবান। সে সময় থেকে এ পর্যন্ত আফগানিস্তান থেকে ৩ হাজার ২০০ জনের বেশি মার্কিনকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আফগানিস্তানে তালেবানের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে-এমন প্রায় দুই হাজার আফগানকেও যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জো বাইডেন আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা ও নাগরিককে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
3
ঢাকার হাতিরঝিলে একটি বাসার জানালার গ্রিল কেটে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মঙ্গলবার (৩ মে) দিবাগত রাতে ওই বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ঢাকা পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার সকালে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, বুধবার সকালে হাতিরঝিল থানার মহানগর প্রজেক্টের একটি বাসায় চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাসাটি থেকে স্বর্ণালঙ্কারসহ দামি মালামাল চুরি করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। সরেজমিনে সব তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। বাসাটি ফাঁকা ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বাসাটির একটি শোবার ঘরে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে অন্য রুমে বাসার মালিকের বাবা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বাসা খালি ছিল কি-না তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হয়ে পরে বলা যাবে।"
6
জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে ঘাতকদের হাতে নিহত স্বজনদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আজ রবিবার সকাল ৬টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। এরপর সকাল সাড়ে ৬টা ২০ মিনিটের দিকে বনানী কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী তার মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলসহ ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের অন্য নিহতদের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় ১৫ আগস্ট নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত
6
সারেগামাপাতে জনপ্রিয় শিল্পীদের কালজয়ী গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন মাঈনুল আহসান নোবেল। সেই জনপ্রিয়তার রেশ ধরে নিজে বেশ কিছু কালজয়ী গান কাভার করেছেন তিনি। পরে কলকাতার একটি ছবিতেও গান গেয়েছেন নোবেল। এবার নতুন খবর দিলেন এ শিল্পী। জানালেন নতুন মৌলিক গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। প্রস্তুতি শেষ। শুরু হয়েছে রেকর্ডও। নোবেলের নতুন গানের মিউজিক করতে ভারত থেকে এসেছেন দু'জন মিউজিশিয়ানস।তাই নোবেলের নতুন গান হতে যাচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের মিউজিশিয়ানদের এক দারুন সম্মিলন। সংগীতশিল্পী নোবেল বললেন, 'আমি সারেগামাপার মাধ্যমে দুই বাংলার মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। তাই আমার নতুন গানে চেষ্টা করেছি দুই বাংলার মিউজিশিয়ানদের সম্মিলন। সবার সহযোগিতা নিয়েই আমি সামনের দিনগুলিতে চলতে চাই।' তিনি আরও জানান, খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশিত হবে 'সুনন্দা' নামে একটি নতুন গান। এখানে বাংলাদেশের জাহিন রশীদ ও সাদমান মাতিস বাজিয়েছেন গিটার, কলকাতার বাচস্পতি চক্রবর্তী বাজিয়েছেন বেইজ এবং ফকিরা ব্রান্ডের সদস্য অভিরূপ দাস বান্টি বাজিয়েছেন ড্রামস। তবে গানের কাজ এখনো শেষ হয়নি বলে জানান নোবেল। আরও কিছু চমক আছে, যা সামনে সবাইকে জানানো হবে। শুধু একটি গানই নয়, আরও বেশ কয়েকটি মৌলিক গান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন এই শিল্পী। দেশি-বিদেশি শিল্পীদের দিয়ে মিউজিক করানো প্রসঙ্গে নোবেল বলেন, 'এখন অনেক গানে প্রোগ্রামিং করে মিউজিক করা হয়। কিন্তু আমি চাই একদম তরতাজা ও রিয়েল মিউজিকের স্বাদ দিতে। এ কারণেই এত কিছু করছি। তবে সব চেষ্টা সার্থক হবে যদি আমার ভক্ত ও শ্রোতাদের ভালো লাগে।'
2
পশ্চিমারা নয়, চীনারাই ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের তুলনায় চীনের বাজার বড় ও সৃজনশীল। সেখানে ই-কমার্স শুধু প্রচলিত ধারার ই-কমার্সে আটকে নেই। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বৈশ্বিক ই-কমার্সের সেই চিত্র এক দিকে চীন, আরেক দিকে পশ্চিমা বিশ্ব। ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ কোন পথে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে গত কয়েক মাসের অনলাইন কেনাকাটার ধরনের দিকে নজর দিতে হবে। মহামারিকালে অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, বিশ্বে তা আগে কখনো ঘটেনি। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর অধিকাংশ মানুষ অনলাইনে কেনাকাটায় রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন। আগে মানুষ শপিং মল বা স্টোরে গিয়ে যে পরিমাণ কেনাকাটা করতেন, মহামারিকালে সে চিত্র বদলে গেছে। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশকের তুলনায় গত বছরে অনলাইনে কেনাকাটায় মানুষ অর্ধেকের বেশি ব্যয় করা শুরু করেছে। বড়দিনের কেনাকাটার কথাই ধরা যাক। এবার শপিং মলে কেনাকাটার বদলে উপহার এসে পৌঁছেছে মানুষের দোরগোড়ায়। আমাজন, ওয়ালমার্টের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অতিমানবীয় প্রচেষ্টায় অনলাইনের পণ্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করেছেন। এতে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বেড়েছে তরতর করে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, পশ্চিমা এই ই-কমার্সের ধারা কি ভবিষ্যৎ ই-কমার্সের পথ নির্ধারণ করবে? ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিমারা নয়, চীনারাই ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের তুলনায় চীনের বাজার বড় ও সৃজনশীল। সেখানে ই-কমার্স শুধু প্রচলিত ধারার ই-কমার্সে আটকে নেই। ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিসেবা, সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কসহ নানা সেবা। এগুলোই চীনের ৮৫ কোটি ডিজিটাল গ্রাহকের জন্য কেনাকাটার বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের ই-কমার্সের অগ্রগতির পাশাপাশি নিয়ন্ত্রকদের ভূমিকার দিকেও চোখ রাখতে হবে। তারা কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এমনটাই দেখা গেছে আলিবাবার ক্ষেত্রে। আলিবাবা ও এর তারকা সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে চীনে। আলিবাবার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট গ্রুপ থেকে এই প্রতিষ্ঠানের অনলাইন আর্থিক সেবা দেওয়া বিভাগকে আলাদা করে ফেলারও নির্দেশ দিয়েছে তারা। অথচ কয়েক সপ্তাহ আগে এটি চীনের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠান ছিল। তারা কোনো ছাড় দেয়নি। গত ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে হালের ট্রেন্ড বা বর্তমান চলের বিষয়টি নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে চোখ রাখতে হয়েছে। কিন্তু এখন আর পশ্চিমে নয়, ট্রেন্ডের জন্য চোখ রাখতে হবে চীনের দিকে। কারণ, ই-কমার্সের ক্ষেত্রে চীনের শীর্ষে থাকার বিষয়টি একেবারে নতুন নয়। ব্যবসার আকার ধরলে ২০১৩ সালেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে ছাড়িয়েছে চীন। ডিজিটাল দুনিয়ায় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে চীনের ই-কমার্স গ্রাহক। এখন দেশটির অনলাইনে খুচরা বিক্রির বাজার ২ লাখ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের যোগফলের চেয়ে বেশি। পশ্চিমা ই-কমার্স ব্যবসার চেয়ে চীনের ই-কমার্সের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। চীনা ই-কমার্সের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর গতিশীলতা। দেশটির বড় ই-কমার্সের ভিড়ে নতুন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেটুয়ান ও পিনডুয়োডুয়োর মতো প্রতিষ্ঠান উঠে এসেছে। তারা বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, এখানকার প্রতিযোগিতা পশ্চিমা বিশ্বের মতো নয়। এখানকার ই-কমার্সগুলো প্রচলিত প্রযুক্তি বা ই-কমার্স ব্যবসার ধারা মানেনি। চীনা অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মগুলো ডিজিটাল পেমেন্টস, গ্রুপ ডিলস, সামাজিক যোগাযোগ, গেম, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং, সংক্ষিপ্ত ভিডিও, লাইভ স্ট্রিমিংসহ সব সেবা এক জায়গায় এনেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ই-কমার্সের চীনা এ মডেল বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য হবে কি না? কয়েক দশক ধরে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চীনা উদ্যোগগুলোকে খাটো করে দেখে আসছে। নিজেদের সুরক্ষানীতির কারণেই মার্কিন ও চীনা ই-কমার্স শিল্পের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক খুবই কম। পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার ধরন সহজে অনুমান করা যায়। যেমন ভিসা পেমেন্ট খাতে, আমাজন ই-কমার্স খাতে, ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ, গুগল সার্চে নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু চীনের মডেল ভিন্ন। ই-কমার্স খাতে প্রচলিত রিটেইলরা কতটা অগ্রসর হবে, তার ওপর নির্ভর করছে এ খাতের সফলতা। ধনী দেশগুলোতে পশ্চিমা ই-কমার্সের ধারা চলমান থাকলেও এর বাইরে চীনা পদ্ধতিই বেশি অনুসরণ করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গ্রাব অ্যান্ড সি, ভারতের জিও, লাতিন আমেরিকা মার্কাডো লিব্রার মতো প্রতিষ্ঠান চীনা কৌশল থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়েছে। তারা মূলত চীনের 'সুপার অ্যাপ' কৌশল গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ একটি অ্যাপের মধ্যে সব ধরনের সুবিধা। এতে একটি অ্যাপের মধ্যেই নুডলস ডেলিভারি থেকে শুরু করে আর্থিক সেবাও পাওয়ার সুবিধা পাওয়া যায়। ইকোনমিস্ট বলছে, বিভিন্ন গ্রাহক পণ্য নিয়ে কাজ করা বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো চীনা ধারণাকে ব্যবসা কৌশলে রূপ দিতে পারে। যেমন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার, এল'ওরেল, অ্যাডিডাস আমেরিকার চেয়ে এশিয়ায় বেশি আয় করে। তাই তাদের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্যালিফোর্নিয়া বা প্যারিসের চেয়ে এশিয়ার দিকেই বেশি ঝুঁকবেন। তাঁরা ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং, লজিস্টিকে এশিয়ার বাজারকেই বেশি গুরুত্ব দেবেন। পশ্চিমা দেশগুলোতেও ইতিমধ্যে চীনা ধাঁচের ব্যবসা মডেল দেখা যাচ্ছে। মহামারির সময়ে এই চল অনুসরণ করার হার বেড়েছে। পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। যার অনুপ্রেরণা চীন। যেমন ফেসবুক তাদের শপিং সেবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে এবং তাদের লাইভ স্ট্রিমিং ও হোয়াটসঅ্যাপকে ব্যবসার কাজে লাগানোর সুযোগ দিচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ওয়ালমার্ট চীনা ভিডিও অ্যাপ টিকটক প্ল্যাটফর্মে তাদের প্রথম লাইভশপিং আয়োজন করে। এটার শেয়ার কিনতেও আগ্রহী ওয়ালমার্ট। ফ্রান্সে গত প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া অ্যাপের মধ্যে ষষ্ঠ অবস্থানে আছে চীনা উদ্যোক্তার তৈরি ই-কমার্স অ্যাপ ভোভা। পিনডুয়োডুয়োর প্রতিষ্ঠাতা এ অ্যাপটি তৈরি করেছেন। চীনা ধাঁচের ই-কমার্স ব্যবসা বাড়লে ভোক্তাদের জন্য তা ভালো হতে পারে। এতে পণ্যের দাম কমতে পারে। চীনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার সুফল পাচ্ছেন গ্রাহক। তাঁরা বিভিন্ন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ছাড় পান। এ ছাড়া ক্রেতাদের পছন্দের জায়গা তৈরি হয়। দেখা যায় নতুন নতুন উদ্ভাবন। তবে চীনা ই-কমার্স মডেল আবার একেবারে ত্রুটিহীন নয়। এরও ত্রুটি বের হতে সময় লাগবে না। পশ্চিমা ই-কমার্স দুনিয়ায় এ প্রচলন ঘটলে জালিয়াতির মতো স্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে পারে। তখনই নাক গলাতে হবে অ্যান্টি ট্রাস্টকে। ইতিমধ্যে আলিবাবার জ্যাক মার ক্ষেত্রে সে বিষয়টি লক্ষণীয়। চীনের অ্যান্টি ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রকেরা প্রতিযোগিতা বাড়াতে তৎপর। এত দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিয়ন্ত্রকেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রভাব রেখেছেন। তাঁদের এখন চীন নিয়ে গবেষণা করার সময় এসেছে। বিশেষ করে চীনা ই-কমার্স খাত কোন দিকে যাচ্ছে এবং তাদের এ ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। চীনের উদ্ভাবন নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের চিন্তার একটি ধারা রয়েছে। ইলেকট্রনিকস থেকে সৌর প্যানেলের মতো নানা ক্ষেত্রে চীনা নির্মাতাদের অগ্রগতিকে তারা অবহেলার চেখে দেখে অথবা নকল বলে প্রত্যাখ্যান করে। তারা এ উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিতে চায় না। এরপর দেখা যায় সারা বিশ্বেই তা ধীরে ধীরে স্বীকৃতি পেতে থাকে। এখন ই-কমার্সের ক্ষেত্রে চীনা গ্রাহকদের স্বাদ ও অভ্যাস বৈশ্বিক হতে চলেছে। এটা দেখেই এখন শিখতে হবে।
3