text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
দোহারে নতুন করে আরও ছয়জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১২৩ জনে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন।ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা থেকে ৩৩টি নমুনা পাঠানো হয়। এ থেকে ছয়জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৮৮৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ১২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩৭ জন মারা গেছেন।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে বাসায় থেকে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ১৬০ জন। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে উপজেলার চারজন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। | 6 |
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে শক্ত অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে '১৫ আগস্ট ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব' শীর্ষক এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় একথা বলেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শক্ত অবস্থানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সেদেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাজি করাতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল করার দায়িত্ব মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের- উল্লেখ করে মোমেন বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কথা শুনেছি। মানবিক দিক থেকে আমাদের যা যা করার ছিল, সব করেছি। এখন রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব মিয়ানমারের এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বুঝিয়ে দেশে ফেরত নেওয়ার দায়িত্ব মিয়ানমারের, কারণ তারা তাদের নাগরিক। ভিয়েতনাম, চীন, রাশিয়া এমনকি ভারতও এখন আমাদের অবস্থানের সঙ্গে একবাক্যে সমর্থন দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোর দাবি জানানো হবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলব তারা যেন মিয়ানমারে যায়। এজন্য একটি কমিশন করা যেতে পারে। কমিশন, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং অন্যান্য সবার এখন কাজ হচ্ছে মিয়ানমার যাওয়া। সেখানে গিয়ে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। আমাদের এখানে তাদের আর কাজ নেই। সেখানে যদি তাদের প্রবেশ করতে না দেয় তাহলে আমি বলব তারা মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা করে কেন? যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমার এখনো জিএসপি সুবিধা পায়। কেন? আমি বলব জাতিসংঘ রোহিঙ্গা ইস্যুতে কিছু ভুল করেছে। তবে এখন সবাইকে নতুন করে ভাবতে হবে। মিয়ানমারের উদ্দেশে তিনি বলেন, মিয়ানমারকে তাদের লোকদের মধ্যে আস্থা আনাতে হবে। এই দায়িত্ব মিয়ানমারের, আমাদের না। আমরা অনেক করেছি। নিজেদের এবং এ অঞ্চলের শান্তি শৃঙ্খলা স্বার্থে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে। ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল না হলেও প্রক্রিয়া চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। | 6 |
কিছুদিন আগেও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মরণব্যাধি 'ক্যান্সার সচেতনতা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান' কর্মসূচি করেছিল সে। নিজেও একাধিকবার মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দেয়। ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত ছিল স্বেচ্ছায় রক্তদাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাঁধনের কার্যক্রমে। কিন্তু সেই শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানাই আজ মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। অসহনীয় ব্যথা ও ক্যান্সারের যন্ত্রণায় কিছুক্ষণ পরপর ছটফট করছে। সাদিয়ার বাঁচার আকুতি ও বাবা মায়ের বুকফাটা আর্ত-চিৎকারে ভারি হচ্ছে রাজধানীর মিরপুরের আলোক হেলথ কেয়ারের পরিবেশ। রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া। গত ২০১৮ সালে মে মাসে পরীক্ষার কেন্দ্রে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে উত্তরা মহিলা মেডিকেল ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন সেখানে চিকিৎসা নেয়া হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে উত্তরার আর এম সি হাসপাতালে জরুরি অপারেশন করা হয়। অপারেশনে কোলন ক্যান্সার ধরা পড়ে। মাঝে কিছুদিন ভালো ছিলও সাদিয়া। নিয়মিত নিজের ক্লাস ও টিউশনিও করেছে। কিন্তু ফের রমজানের আগে আবার ব্যথা শুরু হলে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান বিদ্যুতের তত্ত্বাবধানে এখন আলোক হাসপাতালে বিশোর্ধ সাদিয়ার চিকিৎসা চলছে। সাদিয়ার মা কামরুন নাহার জানান, ৮টি কেমোথেরাপির পর আরও একটি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ক্যান্সার সমস্ত পেটে ও জরায়ুতে ছড়িয়ে পড়ছে। এর মাঝে আমরা কোলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় আবার দেশে চলে আসি। এখন মেয়ের পা ফুলে মোটা হয়ে গেছে। পেটও ফুলে গেছে। ব্যথ্যায় অস্থির হয়ে গেছে। পানি ছাড়া কিছুই খেতে পারছে না। আমার মেয়েটা সব সময় মানুষের সেবায় কাজ করেছে। মানা করলেও অন্যকে রক্ত দিত। শুক্রবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ফুপিয়ে কাঁদছেন সাদিয়া বাবা মঈন উদ্দিন হেলালী। বাসা রাজধানীর বিমানবন্দরের কাওলা এলাকায়। সেকানেই একটি দোকান আছে তার। তিনি বলেন, আল্লাহ যাতে কোনও মেয়েকে এমন রোগ না দেয়। মেয়ের কষ্ট দেখে আর থাকতে পারছি না। কয়েকদিন আগে আবারও দু'টি টেস্ট করিয়েছি। প্রায় ১ লাখ টাকা লেগেছে। এ পর্যন্ত মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজের ভিটে মাটিটাও বিক্রি করে দিয়েছি। আর কোলাতে পারছি না। বাধ্য মেয়ের জীবনের জন্য সবার দারস্থ হতে হচ্ছি। ক্যান্সারে আক্রান্ত সাদিয়া সুলতানাকে আর্থিক সহায়তায় ব্যাংক হিসাবনং- কামরুন নাহার (সাদিয়ার মা)- আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক (খিলক্ষেত শাখা) ৯৯০১১৮০৫৯৯৫৬৭। বিডি প্রতিদিন/২০ আগস্ট, ২০১৯/মানিক মুনতাসির/আরাফাত | 1 |
পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনের উত্তাপ শেষ হতে না হতেই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশের নির্বাচনের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। করোনা মহামারির মধ্যেও নির্বাচনী মহড়ায় বের হয়েছেন রাজ্যটির জনপ্রিয় দল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাবদ। নির্বাচনী মহড়ায় ক্ষমতাসীন সরকারকে হারানোর হুংকার দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ২০২২ সালের নির্বাচনে ৪০০ আসনে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অখিলেশ।অখিলেশ বলেন, 'করোনা মহামারি মোকাবিলায় কেন্দ্র বিজেপি সরকার ও রাজ্যে যোগী আদিত্য নাথ চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। জনগণ তাঁদের ওপর ব্যাপক ক্ষুব্ধ। ফলে আগামী নির্বাচনে তাঁদের পরাজয় নিশ্চিত। নির্বাচনে আমরা ৪০৩টি আসনের মধ্যে ৪০০টি পাব।'এ ছাড়াও মহামারির সময় জনগণকে সঠিক পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া, ওষুধের কালোবাজারি বন্ধ করতেও আদিত্য নাথের সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। | 3 |
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের অনিয়ম ও দুর্নীতিবিষয়ক অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধান করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নির্দেশে এ কমিটি আজ গঠন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আজ বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের অনিয়ম ও দুর্নীতিবিষয়ক অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (সার্বিক) মো. আবদুর রহমান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (অর্থ ও উন্নয়ন) মো. মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর আগে দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে গত ৩১ ডিসেম্বর শপথ নেন আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এরপর ২ জানুয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে নতুন প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা জানানো হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছিলেন, 'বিচার বিভাগে কোনো দুষ্ট ক্ষতকে আমরা ন্যূনতম প্রশ্রয় দেব না।' মামলাজট নিরসন, বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা-গতিশীলতা আনা ও অনিয়ম অনুসন্ধানে পৃথক কমিটি গঠন করার কথাও সেদিন বলেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টে, হাইকোর্ট বিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়মসংক্রান্ত অভিযোগগুলো সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য একটি প্রিলিমিনারি ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করা হবে। এর চার দিনের মাথায় আজ প্রাথমিক অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা হলো। | 6 |
জনতা ব্যাংক লিমিটেডের 'অফিসার (ক্যাশ) ' পদের এমসিকিউ পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করেছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি)। নতুন সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা হবে আগামী ৩১ অক্টোবর (শনিবার)। আর সংশোধিত কেন্দ্র তালিকার ১৩ নম্বরে ক্রমিকে ফজলুল হক মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ঠিকানা অভয় দাস লেন ঢাকা-১২০৪ এর পরিবর্তে ১২, অক্ষয় দাস লেন ঢাকা ১২০৪ হবে। রাজধানীর ঢাকার ১৩ টি কেন্দ্রে ওই দিন সকাল ১০ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা হবে। ২০১৬ সাল ভিত্তিক ৬৩৩টি শূন্য পদে আবেদনকারী প্রার্থীরা ১ ঘণ্টা ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা দেবেন। ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি জানিয়েছে, পরীক্ষার হলে প্রবেশের পূর্বে প্রয়োজনীয় চেকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ (ত্রিশ)মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস, প্রবেশপত্রের একাধিক কপি বা কোনো অতিরিক্ত কাগজ নিয়ে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন না। মাস্ক পরিধান ছাড়া কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। | 1 |
করোনা মহামারিতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লার হেফাজতে থাকা ত্রাণ সামগ্রী নষ্ট হওয়ার রেশ না কাটতেই এবার ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার পর ব্যবসায়ীকে লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে। ইউএনও'কে স্যার না বলে আপা সম্বোধন করায় তপন চন্দ্র দাশ (৪৫) নামে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে লাঠিপেটা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকা আইন শৃংখলা বাহিনীর এক সদস্য। বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের জায়গীর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার তপন চন্দ্র দাস উপজেলার জয়মন্টপ গ্রামের গুরু চন্দ্র দাসের পুত্র। জানা গেছে, চলমান কঠোর লকডাউনের ৮ম দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বের হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা। বৃহস্পতিবার বিকেলে জায়গীর বাজারে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন তিনি। এ সময় ওই বাজারে প্রিতম জুয়েলার্স নামের স্বর্ণের দোকান খোলা থাকায় দোকানটিতে ঢুকে মালিক তপন চন্দ্র দাস ও একাধিক ক্রেতাকে জরিমানা করেন। এক পর্যায়ে তপনকে শাসানো হলে ইউএনওকে আপা বলে ক্ষমা চান তিনি। ঘটনাস্থলে ইউএনও'র সঙ্গে থাকা আইন শৃংখলা বাহিনীর এক সদস্য তখন ওই ব্যবসায়ীকে লাঠিপেটা করেন। ভুক্তভোগী তপন দাস অভিযোগ করেন, লকডাউনের শুরু থেকেই আমার দোকান বন্ধ ছিল। ক্রেতাদের পূর্বের অর্ডার করা স্বর্ণালংকার ডেলিভারী দিতে গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হন। আদালত নির্ধারিত জরিমানার ২'হাজার টাকা পরিশোধ করি। লকডাউন অমান্য করায় ইউএনওকে আপা বলে ক্ষমা চাওয়ার পরও কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে লাঠি দিয়ে ৩টি বারি মারে এক সদস্য। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। দোকানে অনেক লোকের সমাগম থাকায় মালিকসহ ক্রেতাদের জরিমানা করে দোকানটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। | 6 |
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ২২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের ১৬৫ জনই ঢাকার। এ সময় কেউই মারা যাননি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।বৃষ্টি হওয়ার দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার। বাশার আজকের পত্রিকাকে বলেন, চলতি মাসের শুরুতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাত হওয়ার ১৫ দিন পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি হলে আবারও জন্ম নেবে এডিস মশা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৯ হাজার ৯১৮ জন। এঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮ হাজার ৮৭২ জন। এ সময় মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের। আর চলতি মাসের ৯ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭২১ রোগী। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মোট রোগী ভর্তি রয়েছেন ৯৭৩ জন। এঁদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ১৬৫ জন। এঁদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৯০ জন। | 6 |
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে। বঙ্গবন্ধুর দেওয়া পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক কথা হলো- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান। বাংলাদেশ এখনও সেই নীতির ওপর রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার নীতিই বাস্তবায়ন করছেন। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট আয়োজিত 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন' শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনার বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, সুখবর হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা ভালোমতো দেশে ফিরে এসেছেন। আর খারাপ খবর হচ্ছে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে কত হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছি এটা বেড়ে আট হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও বাংলাদেশ মিশন নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি বলেন, নিহতদের লাশ দেশে আনতে চাইলে সে খরচ সরকার বহন করবে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন স্টাডি ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ূয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত একেএম আতিকুর রহমান। স্টাডি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বঙ্গবল্পূব্দ শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন ও ডা. নুজহাত চৌধুরী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এরপর থেকে আমাদের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা বিদেশের মাটিতে খেলতে গেলে সে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করা হবে। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ক্রিকেটারদের পাঠানো হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমেই এদেশ পরিচিতি লাভ করেছে। পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক ছিল মধুর। | 6 |
স্বেচ্ছায় প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়েছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন অপহৃত সেই ইতালিপ্রবাসী কিশোরী। গত সোমবার তাঁর পোস্ট করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে তিনি জানান, স্বেচ্ছায় প্রেমিক শাওনের সঙ্গে ঘর ছেড়েছেন। কোর্ট ম্যারিজও করেছেন। তবে তাঁর পরিবারের দাবি জোর করে এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে।এদিকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আফজাল হোসেন শাওনের পরিবারের দাবি, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে।গত শুক্রবার রাতে মাদারীপুর থেকে অপহৃত হন ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে আসা ইতালিপ্রবাসী এক কিশোরী। অপহরণের দুই দিন পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে অবস্থান ট্র্যাক করে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের দুই দিন পর আদালতের মাধ্যমে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগেই ওই কিশোরীর একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে স্বেচ্ছায় বাড়ি ছাড়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।ভিডিওতে ওই কিশোরী বলেন, 'আব্বু ও আম্মু তোমরা আমাকে খুঁইজো না। আমি নিজের ইচ্ছায় শাওনের সঙ্গে এখানে এসেছি। শাওন ও তাঁর পরিবারের কারও কোনো দোষ নেই। তাঁদের (শাওনের পরিবার) ওপর চাপ দেওয়া বন্ধ করো। আমি শাওনকে জোর করে এখানে নিয়ে এসেছি। আমাকে বাসা থেকে বের হতে তোমরাই বাধ্য করেছো। আমি তোমাদের অনেক বুঝিয়েছি। যাঁর সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক করেছো, তাঁকে আমি বিয়ে করব না। তা ছাড়া আমরা এখন কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করে ফেলেছি। আমরা ভালো আছি।'তবে ওই কিশোরীর পরিবার বলছে, জোর করে এমন বক্তব্য দেওয়ানো হয়েছে।ওই কিশোরীর চাচা বলেন, 'অপহরণকারীরা বাঁচতে তাকে দিয়ে এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছেন। সে অবুঝ মেয়ে। তাকে বলা হয়, তুমি এমন বক্তব্য দিলে তোমার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেব। মেয়ে উদ্ধার হলেও এখন আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।'এদিকে অপহরণের মামলা মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন শাওনের মা। তিনি বলেন, 'বর্তমান ছেলে-মেয়েরা প্রেম করলে তো বাবা-মাকে জানিয়ে করে না। তারা তাঁদের মেয়েকে অন্য আরেকটি ছেলের কাছে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এ জন্য ওই মেয়ে আমার ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যায়। সে বিষয়টি স্বীকার করেছে। কিন্তু ওই মেয়ের পরিবার আমাদের নামে মিথ্যা অপহরণের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।'মাদারীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছালাউদ্দীন আহমেদ বলেন, 'আমরা কিশোরীকে উদ্ধার করেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ওই কিশোরীর দেওয়া বক্তব্য আমরা সেভাবে পাইনি। তা ছাড়া একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরীর এমন বক্তব্য কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা খতিয়ে দেখা হবে।' | 6 |
বাংলাদেশ স্কুল মাস্কাটের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিলম্ব হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে কিছুটা সময় লেগে যায়। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষে গত সোমবার (৮ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওমানের পরিচালক (আন্তর্জাতিক স্কুল) ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ স্কুল মাস্কাট ও শাখাসমুহের নির্বাচিত বোর্ড অফ ডাইরেক্টরদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নলিখিত পোর্ট ফোলিও নির্ধারণ করে বিওডি বিএসম এন্ড ব্রাঞ্চেস গঠন করা হয়। নতুন কমিটির চেয়ারম্যান ডাক্তার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ স্কুল মাস্কাটের কমিটিকে ঢেলে সাজানো ওমানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। নতুন এই কমিটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ওমান প্রবাসীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, আমার উপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে আমি আমার সর্বশক্তি মেধা প্রজ্ঞা ও সততা দিয়ে চেষ্টা করব সেই দায়িত্বকে পালন করার। বাংলাদেশ স্কুল মাস্কাটসহ যে শাখা স্কুলগুলি রয়েছে সবগুলো শাখায় যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে ওমান প্রবাসী বাংলাদেশীদের ছেলে মেয়েদের জন্য সময় উপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপহার দেয়া হবে আমার লক্ষ। প্রবাসে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে ওমানের বাংলাদেশ স্কুল মাস্কাটকে সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতার পাশাপাশি ওমান প্রবাসীদের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রত্যাশা করেন নবনির্বাচিত এই চেয়ারম্যান। বিডি-প্রতিদিন/ তাফসীর আব্দুল্লাহ | 4 |
মিয়ানমারের ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চিসহ দলটির অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের ছেড়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, সু চিসহ অন্যদের ছেড়ে না দিলে মিয়ানমারের দায়ী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে জেন সাকি বলেছেন, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার যেকোনো ধরনের চেষ্টার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টারও বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপগুলোর ব্যত্যয় ঘটলে মিয়ানমারের দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চিসহ দলটির অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের সোমবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এনএলডির এক মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। একজন জেনারেলকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেনাবাহিনী আবার ক্ষমতা দখল করবে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। প্রায় পাঁচ দশক ধরে মিয়ানমারের ক্ষমতায় ছিল দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি জয় পায়। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী। | 3 |
দিনাজপুরেবিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামিসহ ২ জনকে আটক করেছে র্যাব। শুক্রবার দিবাগত রাতে জেলার সদর উপজেলার সুন্দরা মংলা প্রাইমারী স্কুলের মাঠ থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- সুন্দরা জুলকাপাড়া গ্রামের লাল মোহাম্মদের ছেলে মোকসেদুল ইসলাম টুকলু (৩১) ও সুন্দরা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মাসুদ রানা ওরফে রানা (২৪)। র্যাব-১৩ দিনজপুর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী-১ এর অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইমরান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মোকসেদুল ইসলাম টুকলু হলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ রানা ওরফে রানা গণধর্ষণের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে জানানো হবে। আটককৃতদের পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ জানান, র্যাব ২ জনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদেরকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ধর্ষণের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। বাকি যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদেরকেও আটক করার চেষ্টা চলছে। বিকেলে আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফিরছিলো দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী। এ সময় মঙ্গলার বাজার এলাকায় আলতাফ নামে এক ব্যক্তির সারের দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে তিনজন তাকে জোরপূর্বক ধরে একটি পুকুরপাড়ে ধরে নিয়ে যায়। রাস্তা থেকে প্রায় ৩০০ গজ উত্তরে পাথারিয়া নামক ওই পুকুরের পাড়ে ভিকটিমের মুখে ওড়না দিয়ে মুখ ও হাত-পা বেধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। পরে ওই তিনজন স্কুলছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এতে স্কুলছাত্রী জ্ঞান হারালে ধর্ষণকারীরা তাকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মৃত ভেবে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পুকুরে ফেলার পরে জ্ঞান ফিরলে সে সাঁতার কেটে কোনো রকমে ওই ছাত্রী বাড়িতে আসে। পরে সে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। রাতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে এবং মারধরে গুরুত্বর আহত হওয়ায় পরের দিন ১৭ ডিসেম্বর ওই স্কুলছাত্রীকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১৮ ডিসেম্বর বুধবার রাতে স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরা জুলকাপাড়া গ্রামের লাল মোহাম্মদের ছেলে মোকছেদুল ইসলাম টুকলু (৩১) ও অজ্ঞাতনামা আরও ২ জনসহ মোট ৩ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। | 6 |
আগুনের লেলিহান শিখায় এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে । এ সময় ৫টি গবাদিপশু পুড়ে আঙ্গার হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) মধ্যরাতে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নে। পরিবারটি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ এর বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে আগুনের সুত্রপাত ঘটে। চারিদিকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে গৃহকর্তার মায়ের আগুনে পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এসময় চারটি গরু ও একটি ছাগল পুড়ে অঙ্গার হয় । আগুনে গোয়াল ঘর, বৃদ্ধার থাকার ঘরসহ দুটি আধাপাকা ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। গোয়াল ঘরে মশা তাড়ানোর জন্য লাগানো কোয়েল থেকে অগ্নিপাতের সূত্রপাত ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির বাড়ি পরিদর্শন করেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুন্নবী চৌধুরী খোকন, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কুমার দেব শর্মা ও ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি আতিয়ার রহমান। অগ্নিকাণ্ডের শিকার পরিবারটিকে নগদ ১০ হাজার টাকা, দুই বস্তুা চাল ও শুকনো খাবার প্রদান করা হয়েছে। | 6 |
'গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাতে পাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আবার এলাকায় শ্রমিকসংকট রয়েছে। ধান ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছি।' গতকাল সোমবার এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের বর্গাচাষি মো. ওমর ফারুক।তাঁর মতো ফটিকছড়ির বেশির ভাগ চাষির খেতের পাকা আমন ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, ফটিকছড়িতে এবার ২১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ করা হয়েছে। এবার ফলনও ভালো হওয়ার আশা করেছিল কৃষক ও কৃষি অফিস। কিন্তু শ্রমিকসংকটের কারণে বেশির ভাগ ধান ঘরে তুলতে পারেননি কৃষকেরা।এ সময় ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে খেতের পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলার দৌলতপুর, রোসাংগিরী, হারুয়ালছড়ি, লেলাং, সুয়াবিল, বক্তপুর, ধর্মপুর, নারায়ণহাট, নানুপুর ও কাঞ্চননগর ইউনিয়নে পাকা ধানের বেশি ক্ষতি হয়েছে।সরেজমিন দেখা গেছে, বৃষ্টিতে খেতের পাকা ধানগাছ মাটিতে পড়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও কাটা ধান পানিতে ভাসছে। এ ছাড়া পানিতে ডুবে গেছে মাঠের অন্য সব ফসলও।কুম্ভারপাড়া গ্রামের কৃষক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, 'গত কিছুদিন থেকে ধান পাকলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় পিছিয়ে যাচ্ছে ধান মাড়াইয়ের কাজ। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।রোসাংগিরী গ্রামের কৃষক মুহাম্মদ আলী বলেন, 'বৃষ্টির ফলে ধানের ক্ষতি হওয়ায় এলাকার চাষিদের মধ্যে বেশ হতাশা বিরাজ করছে। সবার চোখে-মুখে দেখা এখন দুশ্চিন্তার ছাপ।'পূর্ব ফরহাদাবাদ গ্রামের কৃষক মো. হারুন বলেন, বৃষ্টিতে এভাবে ধানের ক্ষতি হবে ভাবিনি। আমার ৮ কানি ধানের মধ্যে পাঁচ কানি জমির ধান এখনো ঘরে তুলতে পারেনি। ঘরে তুলতে পারব কী জানি না।ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, এবার আমন ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ধান ঘরে তোলার সময় বৃষ্টি না হলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হতেন। তিনি ক্ষতি পোষাতে চাষিদের সর্বাত্মক সহায়তা করার আশ্বাস দেন। | 6 |
ইউক্রেন সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতার পর এবার নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটল পশ্চিমা বিশ্ব। এরই মধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এবার নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার তিনি এ ঘোষণা দেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেনে যদি আরও হামলা চালায় তবে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাইডেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার বড় দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এবং রাশিয়ান সোভেরিন ডেবটের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে তাঁর সরকার। এ ছাড়া রাশিয়ার ধনকুবের ও তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং রুশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র।এর গত সোমবার পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর সেখানে শান্তিরক্ষী মোতায়েনের নির্দেশ দেন তিনি। এরপর পরই মূলত নিষেধাজ্ঞা আসা শুরু করেছে পশ্চিমা বিশ্বের পক্ষ থেকে। প্রথমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। এরপর যুক্তরাষ্ট্রও একই পথ হাঁটল। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলছে। এ প্রসঙ্গে বাইডেন বলেন, ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতে শুরু করেছে রাশিয়া। এই দুটি অঞ্চলকে দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে অনস্বীকার্যভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনে সংকটের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, দেশটিতে আক্রমণ চালানো হলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সীমান্তে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেটাই হলো। রুশ সেনারা ওই সব এলাকায় প্রবেশের পরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। এই নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটি ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার ভিইবি ব্যাংক ও রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ব্যাংক প্রোমসভায়াজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। সামরিক বাহিনীর এই ব্যাংকটি বিভিন্ন সামরিক চুক্তিতে কাজ করে থাকে। এ ছাড়া যেসব ধনকুবেরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের থাকা ওই ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দ করা হবে। বাইডেন বলেন, 'রাশিয়া পরবর্তী পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে। আমাদেরও পরবর্তী পদক্ষেপ প্রস্তুত রয়েছে। রাশিয়া যদি তার আগ্রাসন অব্যাহত রাখে তবে মাত্রাতিরিক্ত মূল্য দিতে হবে।' দেশটির বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলেও মন্তব্য করেছেন বাইডেন।এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বাইডেন ভাষণ দিয়েছেন তা দেখেননি প্রেসিডেন্ট পুতিন। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করার আগে নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো মূল্যায়ন করবে রাশিয়া। রাশিয়ার পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। তবে রাশিয়ার সরাসরি লড়াইয়ে জড়ানোর ইচ্ছে নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুনিয়ায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। | 3 |
আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হোসেন রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি ফের পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন আদালত। আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার এ তারিখ ঠিক করেন। মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা ফাহাদ বিন ওয়াজেদ শাহীন ওরফে ফাহিম ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদিন তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করা হয়। আদালত ওই আবেদনের শুনানির জন্য আসামিকে ফরিদপুর কারাগার থেকে হাজির করার জন্য ওয়ারেন্ট ইস্যু জারি করেন। এদিন মামলার আসামি বরকত-রুবেল, খন্দকার নাজমুল হাসান লেভী ও আসিবুর রহমান ফারহানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। গত বছরের ৭ জুন রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলা মামলার আসামি হিসেবে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শহর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত, তার ভাই ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের বহিস্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসানসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ২৬ জুন বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় অর্থ পাচারের মামলায় চলতি বছর ৩ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। | 6 |
মোবাইল অপারেটরদের কার্যক্রম তদারকিতে কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান টিকেসি টেলিকম এবং বিটিআরসি'র মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সোমবার বিটিআরসি কার্যালয়ে কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান টিকেসি টেলিকমের সঙ্গে বিটিআরসির টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ক্রয় সংক্রান্ত একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আফজাল হোসেন বক্তব্য প্রদান করেন। বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার এতে সভাপতিত্ব করেন। বিটিআরসির পক্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক গোলাম রাজ্জাক ও টিকেসি টেলিকমের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামির তালহামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে চুক্তি স্বাক্ষরের ১৮০ দিনের মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ক্রয়ের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। বিটিআরসি বলছে, সিস্টেমটি বাস্তবায়িত হলে মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং রিপোর্টিং প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হবে। একইসাথে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য বাস্তব সময়ে (রিয়েল টাইম) পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে ভয়েস ও ডাটা ট্রাফিক, নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং মান সম্পর্কিত তথ্য সর্বোপরি বিটিআরসির প্রাপ্য রাজস্ব সম্পর্কে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। ফলে বিটিআরসি'র নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে এবং সরকারের নিকট প্রতিবেদন পেশ ব্যবস্থা আরও দক্ষ এবং দ্রুত হবে। শহর এলাকার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল, দ্বীপ, হাওড়-বাওড়, উপকূলীয় অঞ্চল ও দূর্গম এলাকার টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের প্রকৃত অবস্থা তাৎক্ষনিক যাচাই করা সম্ভব হবে। অপারেটরদের নেটওয়ার্কের লাইভ মনিটরিং এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সেবার মান আরও সুচারুভাবে যাচাই করা যাবে এবং গ্রাহক সেবার প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। অপারেটররা বাস্তবে যেসকল ট্যারিফ বাস্তবায়ন করছে এবং এসব ট্যারিফ প্যাকেজ বিটিআরসি কর্তৃক অনুমোদিত কি না অথবা গ্রাহকরা অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন কি না তা যাচাই করা সম্ভব হবে এবং এ বিষয়ক অভিযোগসমূহের নিষ্পত্তি কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নানাবিধ অবকাঠামোগত ব্যবস্থা ও সেবার সঠিক মান উন্নয়নে সিস্টেমটি কার্যকরি ভূমিকা পালন করবে বলে দাবি করেছে বিটিআরসি। | 11 |
জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে প্রবল বর্ষণ ও এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ১৮০ জনেরও মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ আছেন আরও অনেকে। এই প্রাণহানির ঘটনা এবং দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জার্মানির ফেডারেল মিনিস্টার ফর ফরেন অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী হাইকো মাশকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এই শোক প্রকাশ করেন। বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন
| 6 |
ডিজিটাল হেলথ কেয়ার সলিউশান্স (ডিএইচ) এবং ডিজিটাল হসপিটাল দেশ জুড়ে চালু করছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের ৩০টি ডিজিটাল বুথ। যার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার মানুষ খুব সহজেই তাদের স্থানীয় ডিজিটাল হেলথ সেন্টার (ডায়াগনস্টিক/ফার্মেসি/ক্লিনিক) থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবেন। মেডিসিন, স্ত্রীরোগ, ত্বক, শিশু, হৃদরোগ ও এন্ডোক্রিনোলজিসহ ২০ টিরও বেশি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকবেন এই সেন্টারগুলোতে। অক্টোবরের শেষের দিকে নিজ এলাকা থেকে রোগীরা ভিডিও কলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এই সেবা পাবেন।মঙ্গলবার ডিজিটাল হাসপাতালের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসে, ডিজিটাল হসপিটাল স্ত্রীরোগ, হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ৫ হাজারেরও বেশি কনসালটেশন দিয়েছে।বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ডিজিটাল বুথ চালু করার মাধ্যমে এই সেবাটি এখন আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণসহ যাতায়াত ও থাকতে গড়ে একটি পরিবারের ৫ হাজার ৩৩৮ টাকা খরচ হয়। এগুলো চালু হলে খরচ কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া, রোগীদের যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতার জন্য উপস্থিত থাকবেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহায়তাকারী। পাশাপাশি, ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা সকল টেস্ট রোগীরা সেই ডিজিটাল হেলথ সেন্টার থেকেই বিশেষ ছাড়ে করাতে পারবেন।২০২১ সালের শেষে সবার জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ধনী-গরিব ও গ্রামাঞ্চল-শহরাঞ্চল ব্যবধান দূরীকরণে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মোট ৩০টি ডিজিটাল বুথ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, খুলনার ডুমুরিয়া, দিনাজপুরের বিরামপুর ও কুমিল্লার বুড়িচং এর মতো বিভিন্ন এলাকায় চালু করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চর এলাকায়ও ডিজিটাল হসপিটাল এর সেবা পৌঁছে দেবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।ডিজিটাল হেলথ কেয়ার সলিউশান্সের সিসিও অ্যান্ড্রু স্মিথ বলেন, 'বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষেরই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার জন্য ঢাকায় আসতে অনেক লম্বা ও ব্যয়বহুল সফর করতে হয়। কিন্তু আমরা এখন এই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তাদের বাসার কাছের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিংবা ফার্মেসিতে নিয়ে যাচ্ছি। ফলে, এখন অনেক মানুষই খুব সহজেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারবেন। পাশাপাশি, ডিজিটাল হসপিটালের এই উদ্যোগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির ক্ষেত্রেও একটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।' | 6 |
গাড়িতে ব্যবহার করতেন তিনি জাতীয় পতাকা! সচিব পরিচয় দিয়ে ভূমিদস্যুতা, মামলার তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর থেকে। অভিযোগ আছে, পাথরঘাটা থানার সাবেক এক ওসিকে মিথ্যা জানালি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পরিচয় দিয়ে তিনি ঢাকায় নিয়ে বিলাসবহুল গাড়িতে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করান। কিন্তু তারও তখন তাকে সন্দেহ হলেও কিছু বলতে পারেননি। শনিবার বরগুনা পুলিশ সুপারের কাছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (ভুয়া) পরিচয় দিয়ে পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের দুলাল এখন শ্রীঘরে। জানা গেছে শনিবার দুপুরে দুলাল বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে নিজেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পরিচয় দেন এবং একটি মামলা তদবির করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর পুলিশ সুপারের বিষয়টি সন্দেহ হলে তিনি এই ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে সটকে পড়ার চেষ্টাকালে পুলিশ তাকে আটক করে। দুলালের পুরো নাম মো: সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। পিতা মৃত সুলতান হাওলাদার। গ্রাম দক্ষিণ জ্ঞানপাড়া, ৩ নং চরদুয়ানী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড। সে এর আগে বরিশাল বিভাগসহ বিভিন্ন জায়গায় সচিব পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন তদবির করেছে এবং অনৈতিক উপায়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। চরদুয়ানী ইউনিয়নের তাফালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সমাজসেবক আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, দুলালের বিরুদ্ধে সচিব পরিচয় দেয়ার বিষয়টি আমরাও শুনেছি। আমরাও জানি সে ভুয়া সচিব পরিচয় দিয়ে এলাকার একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সাথে আঁতাত করে ভূমিদস্যুতা করে যাচ্ছিলেন ঢাকায় বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা আদায় করে যাচ্ছিলেন ।নিজ এলাকাতেও তার প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছিলেন ওই দুলাল। ভুয়া ওই সচিব দুলালের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, সে পাথরঘাটা পৌরশহরের ৪ নং ওয়ার্ডে তাসলিমা মেনশন নামে একটি ব্যয়বহুল বাড়ি করেছে অবৈধ অর্থ দিয়ে। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি যখন এলাকায় ঢুকতেন সাদা একটি গাড়িতে ;ওই গাড়িটিতে (ঢাকা মেট্রো গ ৩৯৮৮) জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হতো। যাতে এলাকাবাসী তাকে সচিব পদমর্যাদার ভিআইপি (!) এই বিষয়টি বিশ্বাস করাতে পারেন। সে কারণেই দুলালের এই কৌশল বলে এলাকাবাসীর ধারণা। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে তিনি এলাকায় বীরদর্পে ঘোরাফেরা করতেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। প্রতারক দুলালের বিরুদ্ধে এরিপোর্ট তৈরিকালে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে এবং বরগুনা ডিবি পুলিশ তার প্রতারণায় ব্যবহৃত ওই সাদা গাড়িটিও জব্দ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। | 6 |
ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হয়ে মারা গেলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার গ্রায়েম ওয়াটসন। মৃত্যুকালে সাবেক এই ক্রিকেটারের বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। খেলোয়াড়ি জীবনে লড়াকু এই চরিত্র ক্যান্সারের সঙ্গে পেরে ওঠেননি। জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে বলার মতো কিছু ছিলো না। তবে বর্ণিল ছিলো ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যারিয়ার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বসাকুল্যে খেলেছেন পাঁচটি টেস্ট ও ২টি ওয়ানডে। (১৯৬৭-১৯৭২) পাঁচ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে করেছেন সর্বসাকুল্যে ১০৮ রান। আর মোট উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৮টি। তবে বারবার চোটে পড়ে ছিটকে যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। সবচেয়ে বাজে চোটের শিকার হয়েছেন ১৯৭২ সালে। রেস্ট অব দা ওয়ার্ল্ড সিরিজের ম্যাচে টনি গ্রেইগের এক বিমার এসে আঘাত হানে তার নাকে। অবস্থা ছিলো সঙ্কটাপন্ন। ডাক্তাররা মাঠে আর না নামার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু ছয় সপ্তাহ পরই আবার মাঠে ফেরেন তিনি। তবে সে ফেরাও মধুর হয়নি। পরে দল থেকে বাদ পড়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সেখানে ইতি টানতে হয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভিন্ন রাজ্য দলের হয়ে ১০৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৭ সেঞ্চুরি ও ২৫ হাফ সেঞ্চুরিতে রান করেছেন ৪ হাজার ৬৭৪ রান। আর ২৫.৩১ গড়ে নিয়েছেন ১৮৬ উইকেট। সবচেয়ে সফল ছিলেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। দলটির হয়ে জিতেছেন তিনটি শেফিল্ড শিল্ড শিরোপা। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
বেতন স্কেল স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তারা মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন হয়। এ সময় ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি আতিকুল হক, সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমানসহ অনেকে বক্তব্য দেন।বক্তারা বলেন, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার আমাদের বেতন স্কেল এবং পদোন্নতির আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমাদের উচ্চতর বেতন স্থগিত করা হয়। সেই কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন স্কেলে বেতন পাচ্ছি। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। এ ছাড়াও আমাদের লোকবল অর্ধেকে নেমে এসেছে। সে জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও ৩ মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ এবং ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে হবে।পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি সচিব বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। | 6 |
পাকিস্তান সুপার লিগে ভুলে যাওয়ার মতো একটা মৌসুম কাটাচ্ছে করাচি কিংস। এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি দলটি, হেরেছে আট ম্যাচের আটটিতে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে টানা ম্যাচ হারের তালিকায় করাচি অবস্থান ছয়ে। দলের এই দুঃসময়ে সমালোচনার তির ছুটছে অধিনায়ক বাবর আজমের দিকে। তবে বাবর পাশেও পাচ্ছেন কাউকে কাউকে, যেমন সাবেক অধিনায়ক সালমান বাট।বাবরের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে অবশ্য বাংলাদেশকে খোঁচা দিয়েছেন সালমান। করাচির একের পর এক হারে তলানিতে ঠেকা দলটির অধিনায়ক বাবরকে আগামী মৌসুমে সরানোর দাবিও দাবি তুলেছেন অনেকে। তবে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রিকি পন্টিংয়ের উদাহরণ টেনে বাবরের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন বাট।বাটের মতে, করাচি আসল সমস্যা দলীয় ভারসাম্যহীনতা। এ জন্যই তারা বাজে পারফর্ম করছে মনে করেন তিনি। করাচির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন আছে এমন প্রশ্নে বাট জানান, 'আমি সেটা বলছি না। সে (বাবর) পাকিস্তানেরও অধিনায়ক। এখন আপনি যদি মহেন্দ্র সিং ধোনি কিংবা রিকি পন্টিংকে বাংলাদেশের অধিনায়ক বানান, তারপরও তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না। কিছু পরিবর্তন আনতে হলে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে।'ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দলীয় ভারসাম্যকে সবার ওপরে রাখছেন বাট। তাঁর মতে, 'ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যদি দলের সঠিক ভারসাম্য না থাকে, তাহলে বেশি কিছু করতে পারবেন না। টুর্নামেন্ট শুরুর এক সপ্তাহ আগে এই খেলোয়াড়দের পেয়েছিল বাবর। দলে যদি বিশেষজ্ঞ খেলোয়াড় না থাকে, তাহলে আপনি যতই বিচক্ষণ হন না কেন, লাভ নেই।' | 12 |
অনেক বড় মুখ। এ জন্য সবসময় হীনমন্যতায় ভুগতেন। কিন্তু এই বিব্রতকর মুখের কারণে এখন তার নাম উঠল গিনেস বুকে। তিনি হাঁ করে ২ দশমিক ৫৬ ইঞ্চি পর্যন্ত মুখ ফাঁকা করতে পারেন। গিনেস বিশ্ব রেকর্ডের নারী ক্যাটাগরিতেসবচেয়ে বড় মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই মার্কিন টিকটক তারকা। তার নাম সামান্থা রামসডেল। এই বিশাল মুখের কারণে টিকটকে সামান্থার ১০ লাখের বেশি ফলোয়ার। মুখের ফাঁকার মধ্যে একটা আস্ত আপেল পুরে ফেলতে পারেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের বেশকিছু ভিডিও আপলোড করেছেন তিনি। 'যার জন্য সবসময় হীনমন্যতায় ভুগেছি। সব সময় চেয়েছি যে এটা যদি একটু ছোটো হত। তবে এখন এটাই আমার জন্য সবচেয়ে সেরা অর্জন হয়ে দাঁড়িয়েছে', বলেন সামান্থা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর আইজ্যাক জনসন ৪ ইঞ্চি মুখের ফাঁকা নিয়ে গিনেস বিশ্ব রেকর্ডে পুরুষ ক্যাটাগরিতে শীর্ষে আছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 5 |
নেপালে ইউএস বাংলা বিমান বিধ্বস্তে বিলকিস আরা মিতু'র মৃত্যুতে নিউইয়র্কের আপস্টেট হাডসন সিটির পুরো কমিউনিটিতে শোক আবহ বিরাজ করছে। হাডসন সিটির কাউন্সিলম্যান শেরশাহ মিজানও ভেঙ্গে পড়েছেন মিতুর মৃত্যু সংবাদে। মিজান বলেন, '২০১৫ সালে ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর স্বামী আজিজুল হকের সাথে হাডসন সিটিতেই বসবাস করছিলেন মিতু। পড়ছিলেন নিকটস্থ একটি ভার্সিটিতে। এমন অবস্থায় স্বামীর অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে যান। সেখান থেকে নেপালে রওনা দেন তার সাবেক সহপাঠিদের সাথে। ১৪ মার্চ নেপাল থেকে বাংলাদেশে ফিরে ঢাকায় স্বজনের সাথে নিজের জন্মদিন পালনের পরিকল্পনা ছিল মিতুর। এখন সবকিছুই স্মৃতির আয়নায় বন্দি।' রাজশাহীর সপুরার নওদাপাড়া রোডের গোলাম কিবরিয়া এবং মনোয়ারা বেগমের একমাত্র কন্যা ছিলেন মিতু।
বিডি প্রতিদিন/১৭ মার্চ ২০১৮/হিমেল | 4 |
রাজধানীর গুলিস্থানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউএলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। রোববার সংস্থার প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিনের তত্ত্বাবধানে সংস্থার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সামাদ শিকদারের নেতৃত্বে এ অভিযান চলে। ডিএসসিসি জানায়, রাস্তা, ফুটপাত ও ডিএসসিসির মার্কেটের জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা ও দোকানপাট গড়ে উঠেছিল। সেগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে হকার্স মার্কেটে বৈধভাবে বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সেখানে নতুন একটি আধুনিক ও বহুতল মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা করে আসছিল। তাদের স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য কয়েকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছিল। তারা নিজ উদ্যোগে সেগুলো অপসারণ না করায় অভিযান চালিয়ে সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। | 6 |
সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শফিউদ্দিন আহমেদকে ব্যাজ পরিয়ে দেন নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন ইকবাল ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বভার গ্রহণ করে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনগণ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে আগামীতে কোনো দূরত্ব থাকবে না। নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে যোগ্য করে পরিচালিত করতে সবার সহযোগিতা চাই। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে আগামী ২৪ জুন অপরাহ্ণ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের (নিয়োগ, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা) আইন, ২০১৮ অনুসারে তিন বছরের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সেনাসদর দপ্তরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। কিউএমজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে জিওসি, অ্যার্টডক হিসেবে কর্মরত ছিলেন শফিউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া তিনি জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, লজিস্টিকস এরিয়া, একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, একটি পদাতিক ব্রিগেড ও সেনাসদর প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল শফিউদ্দিন উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সালে মোজাম্বিকে ১৬ মাস শান্তিরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এ ছাড়া ২০১৪-১৬ পর্যন্ত সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক-এ ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অসামান্য কর্মদক্ষতা প্রদর্শনের জন্য এসআরএসজি কর্তৃক সাইটেশন প্রাপ্ত হোন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল শফিউদ্দিন, বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিফেন্স স্টাডিজে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমআইএসটি হতে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজে এমফিল সম্পন্ন করেন। জেনারেল শফিউদ্দিন বর্তমানে বিইউপিতে পিএইচডিতে অধ্যয়নরত রয়েছেন। তার কর্মজীবনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়াদি, শান্তিরক্ষী বাহিনী এবং ডিফেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সম্পর্কিত বিভিন্ন সেমিনার, সম্মেলন, কর্মশালা ইত্যাদিতে অংশ নিয়েছেন। | 6 |
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে সোমবার (১ জুন) বিকাল ৪টা থেকে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টা পর্যন্ত চার নারী ও এক শিশুসহ ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনের শরীরে করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। বাকিরা করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এনিয়ে গত ১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ৩৩ দিনে ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে ৩৪৪ জনের মৃত্যু হল। | 4 |
দেশের অবকাঠামো, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। রোববার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে 'কোরিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম'- এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ন্যাক-ইয়ন। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও কেআইটিএ (কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন) যৌথভাবে এ ফোরামের আয়োজন করে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আরও বেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অত্যন্ত ইতিবাচক। তাই এ দেশের অবকাঠামো, জ্বালানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী আমরা। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনসহ দেশর বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের সদস্য ও শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা উপস্থিত ছিলেন। ফোরামের শুরুতে 'কোরিয়া সরকারের নতুন দক্ষিণ নীতি ও কোরিয়া-বাংলাদেশ সহযোগিতা কৌশল' এবং 'কোরিয়া-বাংলাদেশ সহযোগিতার সর্বোত্তম চর্চা' বিষয়ে দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সেশনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য নাভাশ চন্দ্র মন্ডল এবং কোরিয়ার পক্ষ থেকে একটি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডল সুন জু প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। দ্বিতীয় সেশনে কেইপিজেডের সভাপতি জাহাঙ্গীর সাদাত এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল কবির প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ব্যবসা পরিচালনা সহজে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যেহেতু দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে তাই কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে এফবিসিসিআই সভাপতি কয়েকটি সম্ভাবনাময় খাত তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে- ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, টেলিযোগাযোগ, জাহাজ নির্মাণ, রাসায়নিক ও স্টিল শিল্প। এসব শিল্পে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহায়তা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি। হালকা, মাঝারি ও ভারী শিল্পের জন্য যৌথ উদ্যোগে উচ্চ প্রযুক্তির গবেষণার পাশাপাশি তৃতীয় শিল্প বিপ্লব থেকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে উন্নীতকরণের এ লগ্নে প্রয়োজনীয় জ্ঞান বিনিময়েরও প্রস্তাব দেন এফবিসিসিআই সভাপতি। প্রকৌশল ও কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী তৈরি এবং সমুদ্র অর্থনীতির বিকাশে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও কেআইটিএ (কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন)- এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৯৩.৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি করে এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৯৮১.২০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রফতানিযোগ্য পণ্যগুলো হচ্ছে- নিটওয়্যার, ওভেন গার্মেন্টস, ফুটওয়্যার, চামড়া ও চামড়া জাতীয় পণ্য। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মূলত যানবাহন, বিমান, জাহাজ এবং এ সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ, ধাতু, মেশিনারিসামগ্রী, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল পণ্য আমদানি করা হয়। | 0 |
দুর্দান্ত ফর্মে আছেন লিটন দাস। দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরির পর তৃতীয় ম্যাচে এসে পেলেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। আজমতুল্লাহর বলে সিঙ্গেল নিয়ে নিজের ৫০তম ওয়ানডেতে চতুর্থ অর্ধশতক পেয়ে গেলেন লিটন। ৬৩ বলে এল অর্ধশতক, চার ৬টি। এই অর্ধশতকের পথে ৩৫ রানে থাকার সময়ই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪ হাজার রানও হয়ে গেছে লিটনের। এর আগে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। এ ছাড়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেটি ছিল প্রথম সেঞ্চুরি। ১০৭ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে শতরান তুলে নেন। | 12 |
দেশীয় শিল্পের জন্য এবারের বাজেট ভালো হয়েছে। কর কমানো হয়েছে এবং বিভিন্ন পণ্য দেশে উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। করোনার মধ্যে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সরকার এই বিশেষ ছাড় দিল। এটা শিল্পের জন্য সুফল বয়ে আনবে। বাজেটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লেন্ডার, জুসার, রাইসকুকার ইত্যাদি গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদনে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে দেশে শিল্পায়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশে এসব গৃহস্থালি পণ্যের উৎপাদন বাড়বে। ভ্যাট ছাড় দেওয়ায় উৎপাদন বাড়বে। আমরা ওয়ালটনের পক্ষ থেকে এ খাতে বড় চিন্তা করছি। সার্বিকভাবে গ্রাহকও সুফল পাবে। কারণ, দেশে উৎপাদন ব্যয় কমলে দাম নাগালের মধ্যে আসে। সরকার কর ছাড় দিলে আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে সাধারণ মানুষের কাছে সুফলটুকু পৌঁছে দেওয়ার। করের ক্ষেত্রে একটি ছাড় শুধু নতুন শিল্প করার ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। আমরা চাইব এটা সবাইকে দেওয়া হোক। পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রেফ্রিজারেটর বিক্রি বাড়ে। আশঙ্কা ছিল, করোনার মধ্যে ব্যবসা পরিস্থিতি অনেকটা খারাপ হয়ে যায় কি না। কিন্তু আমরা দেখছি, যতটা আশঙ্কা করা হচ্ছিল, ব্যবসার ওপর ততটা প্রভাব পড়েনি। | 0 |
প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক দেবে সরকার। মাতৃভাষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবছর দুই জন দেশী নাগরিক, একজন বিদেশি নাগরিক ও একটি প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হবে। রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো এই দুই ক্যাটাগরিতে পদক দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেনের দেওয়া অনুষ্ঠান সূচিতে পদক দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে কাদেরকে পদক দেওয়া হবে তিনি তা নিশ্চিত করেননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এ পদক দেওয়া হচ্ছে। দুই বছর অন্তর এ পদক দেওয়া হবে। 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক-২০২১' ও 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক পদক-২০২১'-এ দুই ক্যাটাগরিত পদক দেওয়া হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, পদক হিসেবে ১৮ ক্যারেট মানের ১৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক,সম্মাননাপত্র এবং চার লাখ টাকা বা পাঁচ হাজার ডলার দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদকপ্রাপ্ত দেশীয় দুই জন হলেন- জাতীয় অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। বিদেশি ব্যক্তি হলেন- উজবেকিস্তানের নাগরিক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ। আর প্রতিষ্ঠানটি হলো বলিভিয়ার অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস। | 6 |
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে ফরমায়েশি রায়ের প্রতিবাদ ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। সোমবার সকালে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিলটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের গোকর্ণ রোডের কালীবাড়ি মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে জেলা ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতা-কর্মীরা মুহুর্মুহু শ্লোগানের মাধ্যমে সাজানো রায় বাতিল এবং দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দিলীপ এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রানা প্রমুখ। | 6 |
রাজশাহী নগরীতে বাড়তি দামে তেলের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য কিনতে বাধ্য করার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১২ মে) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ এই জরিমানা করেন। অভিযানে রাজশাহী নগরীর ভদ্রা বউ বাজার এলাকার রাব্বি স্টোরকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য কিনতে বাধ্য করায় ৫ হাজার টাকা এবং তালাইমারি এলাকায় মেসার্স মো. আব্দুল কাইয়ুম স্টোরকে একই ধরনের অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। হাসান-আল-মারুফ জানান, ওই দুই দোকন অন্য পণ্য না কিনলে তেল বিক্রি করছিলেন না।এমন অভিযোগে সেখানে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। এ কারণে দুই প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা আইনে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। এদিকে, বৃহস্পতিবার রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীদের ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্বিক সহকারী পরিচালক মাসুম আলী। এ সময় বাজারের দোকানে মূল্য তালিকা না রেখে তেল বিক্রি করায় ৩ ব্যবসায়ীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া, কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বেশি দাম রাখছেন, খুচরা ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে রুপচাঁদা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। | 6 |
যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্লাইমাউথ শহরে গোলাগুলির ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্লাইমাউথের কিহ্যাম এলাকায় গোলাগুলিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। তবে এটাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে হচ্ছে না।আজ শুক্রবার ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ জানায়, দুজন নারী এবং দুজন পুরুষ ঘটনাস্থলে মারা যান। আরেকজন পুরুষ ঘটনাস্থলে মারা যান। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি সন্দেহভাজন হামলাকারী।এ ছাড়া আহত আরেকজন নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।ওই হামলাকারীর সঙ্গে ভুক্তভোগীদের কীভাবে যোগসূত্র ছিল তা এখনো জানা যায়নি। তবে এই ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ।যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল এই ঘটনাকে ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। একটি টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, আমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি আমার সমর্থন রয়েছে। | 3 |
বরগুনার তালতলী উপজেলায় মাঘের হঠাৎ বৃষ্টিতে তরমুজখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে প্রায় ১৫ হেক্টর জমির তরমুজের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। বেশির ভাগ চাষি বেসরকারি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ শুরু করেছিলেন। আগাম তরমুজ চাষাবাদের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে।জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে চাষিরা তরমুজখেত করেন। গত শুক্রবার রাতের আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে তরমুজখেত তলিয়ে গেছে। খেতে পানি জমে উঠতি গাছগুলো পচে যাচ্ছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। মুনাফার বিষয় বাদ দিয়ে কীভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। আবার নতুন করে খেতে তরমুজের চারা বপন করলেও তেমন ফলনের আশা দেখছেন না। সরকারি সহযোগিতা পেলে কিছুটা ক্ষতিপূরণ হবে বলেও জানান কৃষকেরা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২০ জন তরমুজচাষি ৭২০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করেন। গত শুক্র ও শনিবার দুই দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার ২৫ তরমুজচাষির ১৫ হেক্টর জমির উঠতি তরমুজ চারার ক্ষতি হয়েছে।সরেজমিন দেখা গেছে, কৃষিখেতজুড়ে তরমুজের বীজতলা ও চারাগাছ পানিতে ডুবে আছে। খেত থেকে পানি সরাতে চাষিদের কেউ নালা কাটছেন, কেউ সেচ করছেন। পানি নিষ্কাশন করে গাছগুলো বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছে। তবে গত দুই দিনে রোদ থাকায় সেই কষ্ট অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তা হলো বৃষ্টির পর রোদ থাকায় পাতাগুলো শুকিয়েছে ও অধিকাংশ উঠতি গাছ মারা যাচ্ছে।ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজচাষি ইদ্রিস ফকির বলেন, 'ঋণের ৫০ হাজার টাকায় তরমুজ চাষ শুরু করেছিলাম। মাঘের অকাল বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুনভাবে তরমুজ চাষ শুরু করার সামর্থ্য নেই।' তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'আমি ১০ বছর ধরে বিভিন্ন চাষাবাদ করে আসছি, কিন্তু সরকারিভাবে সার, ওষুধ ও কোনো ধরনের বীজ পাইনি।'উপজেলার সোনাকাটা এলাকার তরমুজচাষি সোবাহান মিয়া বলেন, 'গত বছর ভালো ফলন দেখে এ বছর আগাম তরমুজ চাষ শুরু করেছিলাম। মাঘের বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। আমি ঋণ নিয়েই এই তরমুজ চাষ শুরু করেছি। নতুনভাবে চাষাবাদ করার সেই টাকা আমার নেই। তাই সরকারিভাবে এখন যদি কিছু সহযোগিতা করা হয়, তাহলে কিছুটা ক্ষতিপূরণ পোষানো যাবে।'তালতলী কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সি এম রেজাউল করিম বলেন, 'তরমুজচাষিদের জন্য সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা করার সুযোগ নেই। চাষিদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।' তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সার-ওষুধ ও বীজ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে দেওয়া হয়। তাঁরা কীভাবে দেন, সেটা আমরা জানি না।' | 6 |
স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে প্রায় একমাস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নিবন্ধিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার শেষ দিনে মন্ত্রীসভায় নির্বাচন কমিশন আইনের খসড়া অনুমোদন আশাব্যঞ্জক। তবে সাংবিধানিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন এ ধরণের জনগুরুত্বপূর্ণ একটি আইন পাশের আগে পূর্ণাঙ্গ যাচাই বাছাইসহ নাগরিক সমাজ তথা সকল অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। আর সে লক্ষ্যে আইনটির খসড়া অবিলম্বে সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও নাগরিক সমাজের মতামত ও যাচাইবাছাই ছাড়া আইনটি পাশ করা হলে এর গ্রহণযোগ্যতা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, তেমনি কার্যকরিতা নিয়েও নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না। তাই জনপ্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সর্বজনের মতামতের ভিত্তিতে আইনটি পাশের বিকল্প নেই। মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও আপামর জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের পথে অনেকটা আকস্মিকভাবে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা ইতিবাচক। নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে নিবন্ধিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মাহামান্য রাষ্ট্রপতির গতকাল সমাপ্ত আলোচনা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই নাগরিক সমাজ নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের তাগিদ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আলোচনায় অংশ নেয়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলও কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি জানায়। আলোচনায় অংশ নেয়ার আগ মূহুর্তে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচন কমিশন আইনের খসড়া মন্ত্রীসভায় অনুমোদন করে। গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, বরাবরের মতো সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে আইনটিতে, যা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু সার্চ কমিটির জন্য কিছু সাধারণ মানদন্ড নির্ধারণ করার বাইরে খসড়া আইনে কি আছে তার বিস্তারিত এখনো সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও নাগরিক সমাজের অজানা। তিনি বলেন, বিশেষ করে সার্চ কমিটিতে নারী প্রতিনিধি থাকবে কিনা, কমিটিতে যে দু'জন নাগরিক প্রতিনিধির কথা বলা হচ্ছে তাদের যোগ্যতার মাপকাঠি কি হবে, কমিটির কর্মপদ্ধতি কিরূপ হবে, কমিটি কর্তৃক প্রস্তাবিত নামসমূহ প্রকাশ করা হবে কিনা, সর্বোপরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান সমুন্নত রাখার মতো সৎসাহস ও দৃঢ়তাসম্পন্ন হবেন, এই নিশ্চয়তা বিধানের পদ্ধতি আইনে অন্তর্ভূক্ত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে অবিলম্বে আইনটির খসড়া উন্মুক্ত করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনসহ নাগরিক সমাজের মতামতের ভিত্তিতে আইনটি চূড়ান্ত করতে হবে। অন্যথায় দেশের আপামর জনগণের বহুল প্রত্যাশিত স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের সম্ভাবনা আবারো নস্যাৎ হবে। ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও নাগরিক সমাজের মতামত ও যাচাইবাছাই ছাড়া আইনটি পাশ করা হলে এর গ্রহণযোগ্যতা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, তেমনি কার্যকরিতা নিয়েও নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না। তাই জনপ্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সর্বজনের মতামতের ভিত্তিতে আইনটি পাশের বিকল্প নেই। | 6 |
ইরান ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যে দাবি করেছেন তার জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি। তিনি বলেছেন, মার্কিন সরকারের ভিত্তিহীন বক্তব্য ইরান ও ইরাকের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারবে না। সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স অজ্ঞাত ইরানি ও ইরাকি সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করে, ইরান ইরাকে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে এবং এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের সমর্থক ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই খবরের জের ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় বাহরাম কাসেমি ইরানের বার্তা সংস্থা ইলনাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, পম্পেও যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তা হাস্যকর এবং তিনি বিশ্ব জনমতকে ধোঁকা দেয়ার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন, তার দেশ ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে না বরং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় কাজ করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অগ্রভাগে রয়েছে ইরান।মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কাসেমি বলেন, বর্তমানে ভ্রাতৃপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ ইরান ও ইরাকের মধ্যে ঘনিষ্ঠতম সম্পর্ক বিরাজ করছে এবং আমেকিরার এ ধরনের বিভেদ সৃষ্টিকারী বক্তব্য দু'দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারবে না। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর খবর বাগদাদেরপ্রত্যাখ্যান ইরান ইরাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স যে দাবি করেছিল এবার তা নাকচ করে দিয়েছে খোদ বাগদাদ সরকার। ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের খবরকে 'বিস্ময়কর' আখ্যায়িত করে বলেছে, 'অনির্ভরযোগ্য দাবি'র ভিত্তিতে খবরটি সাজানো হয়েছে। ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার রাতে এক বিবৃতিতে বলেছে, 'সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন ছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে যে দাবি করা হয়েছে বাগদাদ তার জবাব দিতে বাধ্য নয়। তবে ইরাকের সব সরকারি বিভাগ দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, তৃতীয় কোনো দেশে হামলার জন্য কেউ ইরাকের ভূমি ব্যবহার করতে পারবে না। এর আগে ইরান কঠোর ভাষায় ইরাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর খবর প্রত্যাখ্যান করে রয়টার্সের এ সংক্রান্ত খবরকে 'মিথ্যা, কল্পনাপ্রসূত ও হাস্যকর' বলে অভিহিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার অজ্ঞাত ইরানি ও ইরাকি সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করে, ইরান ইরাকে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে এবং এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের সমর্থক ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বার্তা সংস্থাটি দাবি করে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরাকের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে মোতায়েন করলে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে হামলা করা সম্ভব। | 3 |
বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের একের পর এক অভিযান চললেও থামছে না চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের তিশরী, পূর্ব হেটিখাইন, বরকল সেতু এলাকা, বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ সেতু এলাকা, বরুমছড়া ইউনিয়নের কানু মাঝির হাট, ভরা শঙ্খ খাল, ভরাচর, জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের খুরুস্কুল, গোদার ঘোড়া, রায়পুর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলনের মহাৎসব। এসব স্থানে উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, থানা পুলিশ অভিযান চালালেও থেমে নেই বালু উত্তোলন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বরকল সেতুর পশ্চিম পাশে কোটি টাকার বেঁড়িবাধের উপর অবাধে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ ঘেঁষে নদী থেকে বালু তোলে অন্যত্র বিক্রি করে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্রে আরো জানা যায়, হাইলধর ইউনিয়নে নয়ন, জয়নাল, মাহফুজ, মুফিজ, লিটন, আনোয়ার, খোরশেদ, জাহাঙ্গীর, খোকন, জাহেদুল, পারভেজ, হাসান, সোহেল, আলমগীর, মান্নানসহ একাধিক সিন্ডিকেটের সদস্যরা বালু বিক্রি করছে বলেও জানা যায়। তবে প্রভাবশালী এসব ব্যক্তিদের ভয়ে এলাকাবাসীর কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না স্থানীয়রা। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের গোদার ঘোড়া এলাকায় খননযন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে শঙ্খ নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে বালু ব্যবসায়ী আব্বাস ও গফুরের সিন্ডিকেট। রবিবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে উপজেলা প্রশাসন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের শঙ্খ নদীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. তানভীর হাসান চৌধুরী অভিযান চালিয়ে আবছার হায়দার নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫০ হাজার জরিমানা করেন। তিনি বলেন, যারা এভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। উপজেলায় কোনো বালু মহল নেই। উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে সাঙ্গু কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ি-সাদুল্যাপুর) আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান। ফজলে রাব্বী চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে সংক্রমণ ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর। জাপা চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রবীণ এই রাজনীতিবীদ দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ভোটের মাঠেও যেতে পারেননি। হঠাৎ করে ঢাকার নিজ বাসায় বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১৯৩৪ সালে ১ অক্টোবর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুকজামিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফজলে রাব্বী চৌধুরী। তিনি জাতীয় পার্টি থেকে গাইবান্ধা-৩ আসনে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পারিবারিক জীবনে তিনি ৩ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তানের জনক। ৬ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবা মরহুম আহসান উদ্দিন চৌধুর ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। ১৯৮৪ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন ফজলে রাব্বী। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। ফজলে রাব্বী ভূমিমন্ত্রী, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ও সংস্থাপন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। | 6 |
ভোলায় একটি গোডাউন থেকে রূপচাঁদা, ফরচুনসহ বিভিন্ন কোম্পানির ছয় হাজার ২০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডিলার রাশেদুল আমিনকে জরিমানা এবং গোডাউন সিলগালা করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ভোলা শহরের আবহাওয়া অফিস রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভোলা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মোস্তফা সোহেল ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মো. মোস্তফা সোহেল জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে আবহাওয়া অফিস রোড এলাকায় স্টুডেন্ট কেয়ার কোচিং সেন্টারের পাশে একটি গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে রূপচাঁদা, ফরচুনসহ বিভিন্ন কোম্পানির ছয় হাজার ২০০ লিটার সয়াবিন তেল মজুত করা ছিল। তিনি আরও জানান, অভিযানে ডিলার মো. রাশেদুল আমিনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে গোডাউনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। বেশি দামে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন তেল মজুত করে রেখেছিলেন ডিলার রাশেদুর আমিন। | 6 |
খুলনায় দমকা হাওয়ায় গাছের চাপায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যার দিকে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা ঝোড়ো বাতাসের সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষ্ণা পাল (৫০) রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের নারকেলি চাঁদপুর গ্রামের নিখিল পালের স্ত্রী। নিখিল পাল বলেন, ঝড় শুরুর পর তাঁর স্ত্রী বাড়ির উঠানে নলকূপে গিয়েছিলেন পানি আনতে। এ সময় হঠাৎ দমকা হাওয়ায় নলকূপের পাশে থাকা নারকেলগাছ হেলে কৃষ্ণার গায়ের ওপর পড়ে। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, হাসপাতাল থেকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঝড়টি মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ছিল কি না, এমন প্রশ্নে খুলনা আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, এটাকে আসলে কালবৈশাখী বলা যাবে না। এটার স্থায়িত্ব ছিল কম। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর প্রভাবে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। | 6 |
করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রভাবের মধ্যে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ না চালু থাকবে, সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে আবদুল মতিন খসরুর জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। করোনায় একের পর এক আইনজীবীর মৃত্যুর পরও আদালত খোলা থাকবে কিনা তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, করোনার এই অবস্থায় আদালত বন্ধ বা চালু রাখার এখতিয়ার প্রধান বিচারপতির। কিন্তু আমার বিশ্বাস, করোনা ভাইরাসের তীব্রতা বা কমে যাওয়া বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। এ সময় আবদুল মতিন খসরু প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, আবদুল মতিন খসরু আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগ করার সময় থেকে তাকে আমি চিনি। সিনিয়র আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম তিনি আইন প্রতিমন্ত্রী হন। এর ছয় মাস পর তিনি পূর্ণমন্ত্রী হন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমাকে স্নেহ করতেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সময় তিনি তখন মন্ত্রী ছিলেন, কাজ শেষ করে তিনি সন্ধ্যাবেলা আসতেন, আমাদের কাজ শেষ হলে তিনি বাড়ি ফিরতেন। ১৯৯৬ সালে ইনডেমনিটি আইন বাতিলের সময় তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা আজও স্মরণীয়। সেদিন তার বক্তব্যে দেশের মানুষ কেঁদেছে। তার মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। | 6 |
মাত্র ১০ টাকায় ভর্তির পর শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে বিনা মূল্যে পোশাক, বইখাতাসহ বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী। রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা। এমনই একটি ব্যতিক্রম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আদিনা দরবার শরিফ হেফজুল কোরআন মাদ্রাসা। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার আদিনামুড়া পাহাড়ের চূড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মাদ্রাসাটি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করা, সন্তানের শিক্ষাকে অভিভাবকের কাছে সহজলভ্য করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের আদিনামুড়ায় অবস্থিত আদিনা মসজিদ ও হযরত শাহ কামাল ইয়েমেনী (র.) মাজার রয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় আদিনা দরবার শরিফ হেফজুল কোরআন মাদ্রাসা। আদিনামুড়া পাহাড়ের চূড়ায় ২০১৩ সালে এ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কিবরিয়া। আদিনামুড়ার মাজার ও মসজিদের সাবেক মোতয়াল্লি খন্দকার মো. মনিরুল ইসলামের অনুরোধে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মুসাফিরখানা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়।প্রতিষ্ঠার পর সাবেক মোতয়াল্লি খন্দকার মো. মনিরুল ইসলামের মৃত্যুর পর নানা প্রতিকূলতায় এ মাদ্রাসাটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরে চলতি বছরের ১ মার্চ মাদ্রাসাটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে নুরানি ও হাফেজিয়া শাখার কার্যক্রম চলছে।নুরানি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতিহা নূরের অভিভাবক সুমি আক্তার বলেন, এ মাদ্রাসায় ১০ টাকায় ভর্তি করা হয়। আরবির পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় করা হয়েছে। বিনা মূল্যে পোশাক, শিক্ষার সকল সামগ্রীসহ বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। তাই আমার সন্তানকে এখানে ভর্তি করাই।আরেক শিক্ষার্থী নাফিজা আরার বাবা শিপন খন্দকার বলেন, আরবি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিনা মূল্যে সকল ব্যবস্থা এ মাদ্রাসায় রয়েছে। সত্যিই একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে এ অঞ্চলের অভিভাবকেরা বেশ উপকৃত হবেন।মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, আমরা আরবি, বাংলা, ইংরেজি শিক্ষাদান করে থাকি। প্রতি সপ্তাহে খেলাধুলা, হামদ-নাত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিচর্যার বিষয়ে বিশেষ তদারকি করা হয়।আদিনা দরবার শরিফ হেজজুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ শিক্ষায় একটু উদাসীন। তাদের উজ্জীবিত করতে ১০ টাকার ভর্তি ফরমে ভর্তি করাই। ভর্তির পর বাকি দায়িত্ব আমাদের। | 6 |
ভারতে রাজ্যসংখ্যা ২৯। তার পাঁচটিতে বিধানসভার ভোট হলো গত সপ্তাহে। ৫৪৫ আসনের লোকসভার ৮৩টি আসন রয়েছে এই পাঁচ রাজ্যে। শতাংশের হিসাবে যা ১৫ ভাগ। এই অর্থে পাঁচ রাজ্যের এই ভোটকে বলা যায় 'মিনি জাতীয় নির্বাচন'। আগামী এপ্রিল-মে মাসে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন হবে। উত্তেজনার ব্যাপকতায় যাকে ইতিমধ্যে বলা হচ্ছে 'মাদার অব অল ইলেকশন ব্যাটল'। তার আগে পাঁচ প্রদেশের এই ভোটযুদ্ধ ছিল স্বাভাবিকভাবেই বড় আকারের এক রাজনৈতিক শক্তিপরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের খুদে মহড়াও বলা যায় একে। এই মহড়ায় বিজেপি খারাপ করেছে। বহু কারণে বিজেপির জন্য এই ফল উদ্বেগের। প্রধান কারণ, আলোচ্য পাঁচ রাজ্যের অন্তত তিনটি (মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়) বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এসব অঞ্চলে লোকসভার ৬৫টি আসন রয়েছে এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি একচেটিয়াভাবে ৬৫-এর মধ্যে ৬২টি আসন পেয়েছিল। বিজেপি তখন সারা দেশে ২৮২টি আসন পায়। এই অর্থে বলা যায়, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড় তার বর্তমান ও ভবিষ্যতের এক-পঞ্চমাংশ। সুতরাং একই অঞ্চলে তাদের এখনকার খারাপ ফলের অর্থ ২০১৯ সালের লোকসভায় আসন কমে যাওয়ার শঙ্কা। ইতিমধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে মোদি-অমিত শাহ জুটি কেন হারছেন? তাঁরা কি কংগ্রেস ও রাহুলের কাছে হারছেন? নাকি ভারতের রাজনীতিতে ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে কোনো ভিন্ন ধাঁচের প্রতিরোধ গড়ে উঠছে? আসনে হারলেও ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে বিজেপিবাংলাদেশের প্রচারমাধ্যম সর্বশেষ ভারতীয় নির্বাচনের যে চিত্র তুলে ধরছে, তাতে মনে হতে পারে, বিজেপি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। বিষয়টা সে রকম নয়। পাঁচ রাজ্যের প্রধান দুটিতে (মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে) বিজেপি আসনের হিসাবে হারলেও ভোটের হিসাবে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস পেয়েছে ১১৪টি আসন, বিজেপি পেয়েছে ১০৯টি। উভয় দল প্রদত্ত ভোটের ৪১ শতাংশ করে পেয়েছে। একে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাই বলতে হবে। রাজস্থানেও তা-ই। উভয় দলের ভোটের হিস্যা ৩৯ শতাংশ করে। যদিও কংগ্রেস পেয়েছে বিজেপির চেয়ে ২৬টি বেশি আসন। তেলেঙ্গানাতেও বিজেপির ভোটের হিস্যা গত নির্বাচনের মতোই রয়েছে ৭ শতাংশ। মিজোরামে তাদের ভোট শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ থেকে উন্নীত হয়েছে ৮ শতাংশে। ছত্তিশগড়ে কেবল বিজেপির পরাজয় সিদ্ধান্তসূচক। এখানে তারা ভোট পেয়েছে প্রদত্ত ভোটের ৩৩ শতাংশ। কংগ্রেস পেয়েছে ভোটের ৪৩ শতাংশ এবং আসনের ক্ষেত্রেও পার্থক্যটা অনেক: কংগ্রেস ৬৮, বিজেপি ১৫। অর্থাৎ যে পাঁচ রাজ্যে ভোট হয়েছে, তাতে বিজেপি কেবল একটিতে মোটাদাগে খারাপ করেছে। চারটিতে তারা এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছে। তবে ভোটের হিস্যা তাদের কমেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে মিজোরাম ব্যতীত বাকি চারটিতেই ভোটের হিস্যা বাড়িয়েছে। কিন্তু বিজেপির হারানো ভোট সব কংগ্রেস পায়নি; যদিও আসনের হিসাবে তারাই বিজয়ী। বিজেপিবিরোধী ভোট কে কতটা পাচ্ছেসর্বশেষ নির্বাচনে বিজেপির হারানো আসন কংগ্রেস পেলেও হারানো ভোটগুলো কংগ্রেসের বাইরেও গেছে। আগেই বলা হয়েছে, মিজোরামে তাদের ভোট বেড়েছে এবং তেলেঙ্গানায় স্থিতিশীল রয়েছে। অন্য তিন রাজ্যে তাদের ভোট কমেছে: ছত্তিশগড়ে ৮ শতাংশ, রাজস্থানে ৬ শতাংশ এবং মধ্যপ্রদেশে ৪ শতাংশ। লক্ষ করার মতো ব্যাপার, ওই তিন রাজ্যে কংগ্রেসের ভোট বেড়েছে যথাক্রমে ৩, ৬ ও ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিজেপির হারানো ভোট কংগ্রেস সব পাচ্ছে না। যাচ্ছে আঞ্চলিক দলগুলোর দিকেও। বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম পাঁচ রাজ্যের ভোটে বিজেপির 'পরাজয়' নিয়ে যতটা উচ্ছ্বসিত, ততটাই নীরব মিজোরাম ও তেলেঙ্গানায় আঞ্চলিক দুটো দলের বিজয়ে। কংগ্রেস ও বিজেপির এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের প্রায় সব মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবিতা যখন তাদের পাশে, তখন পাঁচ রাজ্যের দুটিতেই ভোটে জিতে যাচ্ছে দুটি আঞ্চলিক দল। এটা বিপুল বিস্ময় বৈকি। লক্ষ করার মতো ব্যাপার, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি (টিআরএস) ভোটে জিতেছে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ৭০ আসন বেশি পেয়ে। মিজোরামেও মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ) নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে চার গুণ বেশি আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। সেখানে এমনকি দ্বিতীয় স্থানও পেয়েছে আরেকটি আঞ্চলিক দল। ভোটেরও হিস্যাও এমএনএফ গত নির্বাচনের ২৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে নিয়েছে ৩৮ শতাংশে। তার মানে তেলেঙ্গানা ও মিজোরামে আঞ্চলিক দলগুলোর কাছে জাতীয় দুই দল বিজেপি ও কংগ্রেস পাত্তা পায়নি। ছত্তিশগড়ে অজিত যোগীর নেতৃত্বে গঠিত 'জনতা কংগ্রেস' (জেসিসি) নামে গঠিত নবীন একটা আঞ্চলিক দল বিজেপি ও কংগ্রেসকে মোকাবিলা করেই এই প্রথম পাঁচটি আসন পেয়ে গেল। আবার প্রায় সব প্রদেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট বেড়েছে। রাজস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট পেয়েছে প্রদত্ত ভোটের ১০ শতাংশ, ছত্তিশগড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মধ্যপ্রদেশে ৫ শতাংশ। সর্বত্র বিজেপি-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করেই স্বতন্ত্ররা ভোট বাড়িয়েছে। এসব দৃশ্য ২০১৯ সালে কেন্দ্রে একটা জোট সরকারের ইঙ্গিত দেয়। মায়াবতী কংগ্রেসকে সাহায্য করছেনপ্রচারমাধ্যম ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে কংগ্রেস সরকার গঠন করছে। কিন্তু সামান্যই উল্লেখ করছে যে ভোটে এবং সরকার গঠনে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে কংগ্রেসকে বিশেষভাবে সহায়তা করছেন দলিত নেত্রী মায়াবতী ও তাঁর দল বহুজন সমাজবাদী পার্টি। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস ১১৪ আসন পেলেও সরকার গঠনের চেয়ে তা দুই আসন কম ছিল। মায়াবতীর দল সেই ব্যবধান পূরণ করে দিয়েছে। রাজস্থানেও বহুজন সমাজবাদী পার্টি ছয়টি আসন পেয়েছে এবং সরকার গঠনে কংগ্রেসকে সহায়তা করছে। যেকোনো মূল্যে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার নীতি নিয়েছেন মায়াবতী। ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশে তিনি বিজেপিকে মোকাবিলায় ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে কংগ্রেসের কাছ থেকে সহায়তা চাইবেন বলেই মনে হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে দলিত ও মুসলমানরা যে একসুরে একজোট হয়ে লড়তে চাইছে, মায়াবতীর ভূমিকা তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মায়াবতী ও অন্য দলিত নেতারা এই অবস্থান বজায় রাখলে বিজেপির জন্য দলিতপ্রধান রাজ্যগুলোয় সংকটের সৃষ্টি হবে। উত্তর প্রদেশ, বিহার, গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে দলিতদের বিরাট অঙ্কে ভোটের হিস্যা রয়েছে। দলিতরা বরাবর কংগ্রেস-সমর্থক হলেও মায়াবতীর দল এ ক্ষেত্রে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। বিজেপি ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলিত ভোটব্যাংকে ভাগ বসিয়েছিল, যা মায়াবতী ও কংগ্রেস উভয়ের ক্ষতি করে। মায়াবতী কংগ্রেসকে পাশে নিয়ে এবার বিজেপিকে দলিত সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। উত্তর প্রদেশ সে কারণেই বিজেপির জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ এ মুহূর্তে। কেবল উত্তর প্রদেশেই রয়েছে লোকসভার ৮০টি আসন এবং এখানে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, সচরাচর তারাই কেন্দ্রে সরকার গঠন করে। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের চিত্র বলে দিচ্ছে, ভারতের আগামী নির্বাচনে বিজেপি ও বিজেপিবিরোধী শিবিরের ভাগ্য নির্ধারিত হবে মূলত উত্তর প্রদেশে। গরু ও মন্দিরের রাজনীতিকে মোকাবিলায় কৃষক রাজনীতিএ সপ্তাহের নির্বাচনী ফল বিজেপি শিবিরের জন্য প্রায় অচেনা এক দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে। গত চার বছর এই দলের নেতৃত্বকে ঘিরে প্রায় অপরাজেয় এক ইমেজ তৈরি হয়। মোদি-অমিত শাহ জুটি গরু নিয়ে দলিত ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যেরূপ অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য বর্বরতা। এই দুজন তৃতীয় যাঁকে নির্বাচনের প্রচারদূত বিশেষভাবে ব্যবহার করেছিলেন, যেই যোগী আদিত্যনাথ ছিলেন উগ্রতায় আরও এক কাঠি বাড়া। বিজেপির মধ্যকার মধ্যপন্থীদেরও এই ত্রয়ী কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন। এই তিনজন ভাবছিলেন, গরু, মন্দির এবং বিভিন্ন শহরের নাম পরিবর্তনের রাজনীতি দিয়েই হিন্দুবলয়ের ভোটারদের মন জয় করা যাবে। আদিত্যনাথ সর্বশেষ নির্বাচনকালে মধ্যপ্রদেশ-রাজস্থান-ছত্তিশগড়জুড়ে প্রায় ১০০ সমাবেশ করেছিলেন। মুখরোচক কিছু ধর্মবাদী স্লোগান ও উত্তেজক মুসলমানবিরোধিতাই থাকত তাঁর বক্তব্যের মূল অংশ। নির্বাচনী প্রচারকালে বিজেপি সরকার ভারতজুড়ে অনেক শহরের নাম (ফয়েজাবাদ, এলাহাবাদ ইত্যাদি) পরিবর্তন করেছিল মুসলমানবিরোধী ঘৃণাকে উসকে দিতে। এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনী এলাকাগুলোয় মূলত কৃষিপণ্যের দাম পড়ে যাওয়ায় ভোটের অঙ্ক প্রভাবিত হয়েছে। অর্থাৎ ধর্ম নয়, মোদির ব্যক্তিত্বের জাদুও নয়, কৃষিপ্রশ্নই ভোটের হিসাবে মধ্যভারতে গোপনে মূল প্রসঙ্গ হয়ে গেছে। গত কয়েক মাসে ভারতের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে কৃষকদের বিশাল লংমার্চগুলো রাজনীতির এজেন্ডায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছে। মূলত, বামপন্থী ও পরিবর্তনবাদী কৃষক-শ্রমিক সংগঠনগুলো এসব লংমার্চের আয়োজক। ভোটের ময়দানে তারা সরাসরি খুব বেশি ফায়দা না পেলেও এমন একটি এজেন্ডা সামনে আনতে পেরেছে, যা সরাসরি আঘাত করছে মোদি মিথে। মোদি অপরাজেয়-আপাতত এই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন মধ্য ও উত্তর ভারতের কৃষিজীবীরা। পাশাপাশি শহরে কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি নিয়েও তরুণেরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। মোদির সামনে বিকল্প কীপাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের পরই ভারতজুড়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে, মোদি-অমিত শাহ-আদিত্যনাথ ত্রয়ী এখন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কী কৌশল নেবেন। করপোরেট স্বার্থের প্রায় অন্ধ পতাকাবাহী হিসেবে মোদির পক্ষে এ ক্ষেত্রে একটাই বিকল্প খোলা রয়েছে, তা হলো অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের রাজনীতিকে জোরেশোরে সামনে আনা এবং ভারতীয় সমাজকে আরও বেশি সাম্প্রদায়িক ধারায় বিভক্ত করা। অর্থাৎ মন্দিরের রাজনীতি বিজেপি-আরএসএস পরিবারের জন্য আসন্ন দিনগুলোয় একমাত্র ভরসা হিসেবে থাকছে। কিন্তু তা কতটা কাজে দেবে, সে প্রশ্নের এখন আর নিশ্চিত কোনো উত্তর নেই। পাঁচ রাজ্যের ভোটের পর ভারতীয় পুঁজিপতিরা নিশ্চয়ই এখন আর পুরো বাজি কেবল বিজেপির ওপর ধরবেন না। আলতাফ পারভেজ: দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ে গবেষক। | 8 |
পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জাতীয়করণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন 'এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোট'। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন তারা।এর আগে ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে দাবি আদায় না হলে ১০ জানুয়ারি লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষক নেতারা।অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাঠ্যক্রম, আইন এবং একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হলেও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য।অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকেরা বৈষম্য তুলে ধরে বলেন, গাড়ি ভাড়া, উৎসবভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পদোন্নতি না থাকা, সন্তানের শিক্ষা ভাতা, হাউস লোন, বদলি প্রথা, চাকরি শেষে নেই পেনশনের সুবিধা। অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে প্রতি মাসে ১০ শতাংশ করে কেটে রাখলেও বৃদ্ধ বয়সে যথাসময়ে এ টাকা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নেই। অনেক শিক্ষক-কর্মচারী টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। অধিকাংশ শিক্ষক নিজ জেলার বাইরে চাকরি করেন তাদের জন্য বদলি ব্যবস্থা চালু জরুরি বলে মনে করেন তারা।এ ছাড়া অধ্যক্ষ থেকে কর্মচারী পর্যন্ত নামমাত্র ১০০০ টাকা বাড়িভাড়া, ৩৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও একজন শিক্ষক ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। বিশ্বের কোনো দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন বৈষম্য আছে বলে মনে হয় না বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।এ সময় বৈষম্য দূরীকরণে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক আয় থেকেই কোনো ভর্তুকি ছাড়াই জাতীয়করণ সম্ভব।অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোটের আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি তালুকদার আব্দুল মান্নাফ, মহাসচিব মো. মেজবাহুল ইসলাম প্রিন্সসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অন্যান্য শিক্ষকেরা। | 6 |
আর্সেনাল অ্যারন রামসির কাছে ঘরের মতো। আর্সেনালের সাবেক কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের মাঝমাঠের ভরসা ছিলেন তিনি। গত এক দশকের বেশি সময় আর্সেনাল এবং অ্যারন রামসি সমার্থক হয়েই ছিলেন। তবে এবার বাঁধন ছিন্ন হলো। এবার বদলাচ্ছে তার ঠিকানা। যাচ্ছেন ইতালির ক্লাব জুভেন্টাসে। বেলের পর এই ওয়েলস তারকা এবার জুটি গড়বে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে। তবে তার জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। আগামী এপ্রিলে তিনি যোগ দেবেন সিরি আ চ্যাম্পিয়রদের দলে। জানুয়ারিতেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, রামসির আর্সেনাল অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে। এবার সত্যি হলো সেটাই। কিন্তু দলবদলের জানুয়ারি কিংবা জুনে বাজারে নতুন ক্লাবে না গিয়ে এপ্রিলে কেন জুভেন্টাসে যাচ্ছেন তিনি। কারণ আর্সেনালের সঙ্গে তার চুক্তি।আগামী এপ্রিলেই আর্সেনালের সঙ্গে রামসির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এই মিডফিল্ডারের সঙ্গে আর চুক্তি করতে চাচ্ছে না ইংলিশ ক্লাবটি। ওদিকে জুভেন্তাসও কিছুদিন ধরেই এই মিডফিল্ডারের দিকে চোখ রাখছিল। তুরিনের আগ্রহেই শেষ পর্যন্ত ইতালিতে আসছেন রামসি। চুক্তি শেষ হওয়ায় রামসিকে কিনতে আর্সেনালকে কোনো অর্থ দিতে হবে না জুভদের। তবে বেতন হিসেবে জুভেন্তাসে প্রতি সপ্তাহে রামসি পাবেন প্রায় ৪ কোটি টাকা। আর্সেনাল ছাড়ার খবর নিশ্চিত করে রামসি বলেন, 'একজন তরুণ ফুটবলার হিসেবে আর্সেনাল আমাকে স্বাগত জানিয়েছিল। সবসময়ই আমার পাশে ছিল এই ক্লাব। ১১ বছর পর ব্যথিত মন নিয়ে আমি ক্লাব ছাড়ছি।' | 12 |
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বোরো চাষে পর্যাপ্ত সেচ ও পানির ব্যবস্থা থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তবে কিছু এলাকায় আগাম বোরো চাষ করায় সেসব খেতে ধান কালো রং ধারণ করেছে। এমন অবস্থায় ভালো ফলনের সম্ভাবনার পাশাপাশি উৎকণ্ঠায় রয়েছেন চাষিরা।কৃষকেরা জানান, যাঁরা আগাম বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন তাঁদের ফসল কালো রং ধারণ করেছে। ধানে মাজরা পোকা দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য কীটনাশক স্প্রে করছেন তাঁরা। এদিকে সেচে খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক কৃষক পর্যাপ্ত পরিমাণে বোরো চাষ করতে পারেননি।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লাখ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চলতি মৌসুমে লাখ মাত্র ছাড়িয়ে গেছে। কিছু এলাকায় এখনো বোরো ধানের আবাদ কারা হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।আলীনগর ইউনিয়নের কৃষক শাহিন মিয়া বলেন, 'আমি দুই একর জমিতে বোরো চাষ করেছি। কয়েক দিন আগে পোকা আক্রমণ করেছিল, কৃষি ঘর থেকে কীটনাশক স্প্রে করার পর পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা পেয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় সেচে অনেক খরচ বেড়ে গেছে।'উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'প্রায় দুই একর জমিতে বোরো চাষ করেছি। একর প্রতি সেচ খরচ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা হচ্ছে।' পোকার আক্রমণ ও রোগ বালাই যদি না আসে তা হলে ধানের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন এই কৃষক।পতনঊষার ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, 'কেওলার হাওরে বোরো ধানের চারা রোপণ করা প্রায় শেষের দিকে। মৌসুমের শুরুতে নদীতে পানি বাড়ার কারণে হাওরে চারা রোপণ করতে আমাদের কিছু বিলম্ব হয়েছে।'তিনি আরও বলেন, 'আমি ১ একর জমিতে বোরোধান চাষ করেছি। বারী বৃষ্টি, আগাম বন্য ও পোকায় আক্রমণ না করলে আশা করছি আমাদের বোরোধান ভালো হবে।'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান জানান, বোরো চাষে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে উপজেলায় আমাদের লাখ মাত্র ছাড়িয়ে গেছে, মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ইউনিয়ন ভিত্তিক কাজ করছে আমাদের টিম। তবে তাঁরা পোকার আক্রমণের খবর পাননি বলে জানান। | 6 |
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঘুষের টাকা আনতে গিয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তা ইসরাফিল হোসেন স্থানীয়দের হাতে আটক হন। তিনি বিএডিসির তাড়াশ অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের মাঝদক্ষিণা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস মুচলেকা নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেন। চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস জানান, ইসরাফিল হোসেন বৈদ্যুতিক সেচ যন্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার নাম করে ৯৬ হাজার টাকা ঘুষ নেন বলে স্থানীয় কৃষক ফিরোজ মাহমুদ দাবি করেন। পরে ওই কর্মকর্তাকে গ্রামের রাস্তা দিয়ে যেতে দেখে ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন তিনি। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। পরে বিষয়টির বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে ইসরাফিল হোসেন ঘুষের টাকা নিতে ও তাগাদা দিতে গ্রামে কৃষকদের কাছে গিয়েছিলেন বলে কয়েক কৃষক অভিযোগ করেছেন। ওই কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে পরে জানানো হবে জানিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, ঘটনাটি শুনেছেন। পরে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। ওই উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সেচ যন্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। | 6 |
পাকিস্তান পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজনের আগে বিদেশী ষড়যন্ত্র ইস্যুতে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। পাকিস্তান পার্লামেন্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে যে বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে তা নিয়ে আলোচনা হবে। ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজনের আগেই এ বিদেশী ষড়যন্ত্র ইস্যুতে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দল চায় দূতাবাসের মাধ্যমে আসা ওই বিদেশী হুমকি ও ষড়যন্ত্র বিষয়ক চিঠির বক্তব্য প্রমাণ করতে। কারণ, এ চিঠির মাধ্যমে পাকিস্তানকে হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, আমরা সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আয়োজিত এ অনাস্থা ভোটকে প্রতিরোধ করব। এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলোর সাথে ষড়যন্ত্র করে যুক্তরাষ্ট্র তাকে সরিয়ে দিতে চাইছে। এ কারণেইঅনাস্থা ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। সূত্র : আল-জাজিরা, ডন | 3 |
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (বিটেক) শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে সেশনজট নিরসনের দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে। বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা সেশনজট নিরসনে দাবিগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেনের সাথে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারকে অফিসকক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজ প্রশাসনের গাফিলতির কারণে তারা মারাত্মক সেশনজটে পড়েছে। চলতি বছর ১১তম ব্যাচের বের হওয়ার কথা থাকলেও তাদের এখনো দ্বিতীয় বর্ষই শেষ হয়নি। তারা অধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করার নিয়ম থাকলেও ৮৫ দিন পার হয়ে গেলেও ফল প্রকাশ করার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। বিক্ষোভের খবরে সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী অধ্যক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানান। পরে শিক্ষার্থীরা ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর অধ্যক্ষের অফিসের তালা খুলে দেন। আলোচনায় কোনো সমাধান না আসলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 1 |
বলিউডের সেলিব্রেটি দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি'সুজার ঘরে ফের নতুন অতিথির আগমন ঘটছে বলে গুজব ছড়িয়েছে। নতুন বছরের কোনো এক সময় তারা দ্বিতীয়বারের মতো বাবা-মা হচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেননি বা অস্বীকারও করেননি তাদের কেউই। বছর দু'য়েকের প্রেম শেষে ২০১২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন এ দম্পতি। রিয়ান নামে তাদের এক বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর রিয়ানের জন্ম হয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার
বিডি-প্রতিদিন/১২ ডিসেম্বর ২০১৫/শরীফ | 2 |
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে না জানিয়ে বিয়ে করায় পদ্ম দাশ (৩৫) নামে এক যুবকের লিঙ্গ কর্তন করেছে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোলা নামের এক বন্ধু। আজ মঙ্গলবার সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পদ্ম দাশকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এর আগে গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার ছোট শিমুলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পদ্ম উপজেলার আমলাগাছী হাট এলাকার অনন্ত দাশের ছেলে।স্থানীয়রা জানায়, পদ্মর সঙ্গে তৃতীয় লিঙ্গের ভোলার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্ব চলে আসছে। বেশ কিছুদিন আগে পদ্ম তাঁর বন্ধু ভোলাকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। এতে ভোলা মনে মনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।গতকাল সোমবার রাতে ভোলার নানার বাড়ি ছোট শিমুলতলা গ্রামে পদ্মকে দাওয়াত করেন। এ সময় পরিকল্পিতভাবে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে খাওয়ানো হয়। কিছুক্ষণ পর পদ্ম অচেতন হলে তাঁর বিশেষ অঙ্গ কর্তন করেন ভোলা। এতে পদ্ম চিৎকার শুরু করলে অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে আজ সকালে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।বিষয়টি নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী থানার পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরই ভোলা বাড়ি থেকে পালিয়েছেন। আহত পদ্ম দাশকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষে কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি বলেও জানান তিনি। | 6 |
মার্কিন সরকারের কাছে ভারতীয়দের জন্য ভ্যাকসিনের আর্জি করলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেক'টা ভ্যাকসিনের প্রয়োজন ছিল, তার তুলনয়া বেশি ভ্যাকসিনের অর্ডার দিয়েছে। তাই অনায়াসে তাদের ভাগ করে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। টুইট করে প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, "আমার মনে ভেঙে গেছে ভারতকে এইভাবে করোনার সঙ্গে লড়াই করতে দেখে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যতটা প্রয়োজন ছিল,তার চেয়েও ৫৫০ মিলিয়ন বেশি ভ্যাকসিন অর্ডার করেছে ধন্যবাদ বিশ্বজুড়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভাগ করে নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমার দেশের পরিস্থিতি খুব জটিল। তোমরা কি আমার দেশের সঙ্গে ভ্যাকসিন ভাগ করে নিতে পারবে? '। অনেকে সমর্থন জানিয়ে অভিনেত্রীকে লিখেছেন, "ইউএস ইতিমধ্যে ভারতকে ভ্যাকসিন সরবরাহে উদ্যোগ নিয়েছে।" 'দেশি গার্ল'এর এই সাহসী পোস্টকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অনেকেই। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 4 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজ ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তিনি অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজের অগ্রগতি (প্রথম পর্যায়/ প্রথম সংশোধিত) উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করে এই নির্দেশনা দেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজের মোট অগ্রগতি ৩২ শতাংশ। ২০২৩ সালের নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই কাজগুলো এগিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারপ্রধান বাংলাদেশ বিমানের আয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনসচিব মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ রুখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা যেখানে বাস করি, তার আশপাশের অবস্থা কী, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আয়োজিত 'জঙ্গিবাদবিরোধী' র্যালির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব কে কোথায় আছে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এখন সময় এসেছে কারও বিষয়ে সন্দেহ থাকলে বা হলে সেই তথ্য জানাতে হবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বনানী সোসাইটি, গুলশান সোসাইটি কাজ করছে। এভাবে দেশের সব জায়গায়, ইউনিয়ন পর্যায়েও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক। র্যালিটি গুলশান থানা চত্বর থেকে শুরু হয়ে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ঘুরে থানা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে গুলশান বিভাগের সব থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা অংশ নেন। | 6 |
স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কৃষকদের। এ ছাড়া উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার ও বীজ প্রণোদনা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কৃষকেরা।কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ভুট্টা আবাদের জন্য তিন হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাদ হয়েছে ৩২ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। গত ২০-২১ অর্থবছরেও তিন হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, এতে ফলন হয়েছিল ৩০ হাজার ২১৮ মেট্রিক টন।জানা যায়, মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি মাছ, হাঁস-মুরগির খাবার ও গো-খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে। বাড়তি চাহিদার কারণে দাম ভালো পাচ্ছেন কৃষক। ভুট্টাগাছের পাতা সুষম গো-খাদ্য এবং কাণ্ড জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।সরেজমিন দেখা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলায় বেশি সংখ্যক জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। ভুট্টা চাষে এ এলাকার কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে। উপজেলার শিবনগরন, খয়েরবাড়ী, লালপুর, দৌলতপুর, আমডুঙ্গীহাট, আলাদীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা উচ্চ ফলনশীল এনএইচ ৭৭২০, পালওয়ান ৯১২০, পেসিফিক ৯৯৯, মুকুটসহ হাইব্রিড জাতের ভুট্টা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করেন।শিবনগর ইউনিয়নের কৃষক মশিউর রহমান জানান, 'এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ১২ টন পর্যন্ত ভুট্টা ফলন হয়, এতে প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। যা প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। জমিতে পানি সেচও কম দিতে হয়। সে কারণে তিনি ভুট্টা চাষে আগ্রহী হন।'শিবনগর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম বলেন, 'ভুট্টা মাছ ও মুরগির খাবার হিসেবে ব্যাপক ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া ভুট্টা বাজারে বিক্রি করার পরও শুকনো গাছ ও মোচা বাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এ কারণে ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে তাঁদের।'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা রুম্মান আক্তার জানান, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উপজেলার ৯৮০ জন কৃষককে সার ও বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এবং ফসল রোগ বালাই মুক্ত রাখতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বছর তিন হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, আবাদ হয়েছে ৩২ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা রাখেন। | 6 |
ফ্যাশনে ছেলেদের পোশাক নিয়ে তো কম নিরীক্ষা হচ্ছে না। প্রতিবছর কিছু না কিছু যুক্ত হচ্ছে। আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে কোথায় কী চলছে, সেটা সহজেই জানা যায়। আন্তর্জাতিকভাবে যেসব ফ্যাশন ব্র্যান্ড বেশি জনপ্রিয়, তারা প্রতিবছর ফ্যাশনের নতুন নতুন ধারা তৈরি করে। সাধারণত আমাদের দেশে সেই ধারা এক বছর পর দেখা যায়। তবে এই দূরত্ব আরও কমে এসেছে। ২০১৯ সালের ফ্যাশন বা স্টাইল নিয়ে তো আরও ছয় মাস আগে থেকেই কাজ চলছে। অনেকের মনই কৌতূহলী, কী আসছে নতুন বছরে?তাদের জন্য বলে রাখা ভালো, ছেলেদের ফ্যাশনে এ বছরের পুরোটা সময় দাপিয়ে বেড়াবে সত্তর দশকের ফ্যাশন আর স্টাইল। সত্তর দশকে বনেদি পরিবারের পুরুষদের প্রধান আকর্ষণ ছিল তৈরি করে নেওয়া পোশাকে। সেই 'টেইলারিং' অর্থাৎ মাপমতো বানিয়ে নেওয়া পোশাক এবার বড় জায়গা দখল করে নেবে ছেলেদের ফ্যাশনে। অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেও এই ধারা বেশ বড়সড় আকারে দেখা যাবে। বাংলাদেশের অনেক জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড তাই 'টেইলরিং' অংশ যুক্ত করছে তাদের বুটিকের সঙ্গে। আমাদের দেশের পোশাকও এখন আন্তর্জাতিক ধারার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি হয়। আর এই মেলানোর প্রচলনটা বেশি দেখা যায় শীতের সময়। গরমে কিছুটা কম। তবে গরমের সময়েও টি-শার্ট জাতীয় পোশাক মিলিয়ে তৈরি হয়। এখন যেমন আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে ছেলেদের সুটে ডাবল ব্রেস্ট প্লেট খুব চলবে। একই সঙ্গে চেকের নকশা এখন ঢুকে গেছে পুরোপুরি। আজকাল নানা ধরনের মোটিফ দেখা যায় ছেলেদের পোশাকে। পোশাকে যেসব মোটিফের সঙ্গে আমাদের দেশের ডিজাইনাররা খুব কম পরিচিত ছিল। কুমির, বিড়াল, প্রজাপতি, বাঘসহ নানা রকম পশুপাখি, ফুল ইত্যাদি। যেটা সাধারণত চীন বা জাপানের মতো দেশে দেখা যেত। অথচ এসব মোটিফ নিয়ে এখন বিশ্বের বড় বড় সব পোশাক প্রতিষ্ঠানই নকশা করছে। এর মূলে একটি অঞ্চল বা দেশের 'ডমিনেটিং পাওয়ার' অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। যেমন অর্থনৈতিক শক্তি (নিউ মানি) হিসেবে চীনকে এখন সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে অধিকাংশ দেশ। তাই পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলো সেই দেশের বাজার দখলে তাদের মোটিফকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে কাজ করছে। ফ্যাশনের ভূগোলে অর্থনীতি ও রাজনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ছেলেদের পোশাকে রং খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক। গত বছর যেমন বেশি চলেছে সবুজ রং। এবারও সেখানে থেকে খুব বেশি সরেনি। এবার সবুজেরই নানা শেড বেশি দেখা যাবে পোশাকে। এর মধ্যে বটল গ্রিন, অলিভ গ্রিন, সি গ্রিন, লিফ গ্রিন, টার্টেল গ্রিন, লাইম গ্রিন, ডার্ক গ্রিন, ফরেস্ট গ্রিন ইত্যাদি থাকবে। এর বাইরে যে রংই ব্যবহৃত হোক, সেটা সরাসরি না করে, তার একটি শেড বেছে নিয়ে তৈরি হবে। বিশ্বের বেশ কিছু ব্র্যান্ড যেমন লম্বা পোশাকের ধারণা নিয়ে এগোচ্ছে, কিছু ব্র্যান্ড আবার এগোচ্ছে খাটো থেকে খাটোর দিকে। আমাদের দেশেও পাঞ্জাবিতে পাশপাশি দুটি ধারা চলছে। একটি লম্বা আর ঢিলেঢালা, আরেকটা হচ্ছে খাটো ও ফিটিং। পাঞ্জাবির সঙ্গে কটির ধারা এবারও থাকবে। শার্টের সঙ্গেও পরা হবে কটি। তবে পাঞ্জাবির প্যাটার্নে থাকবে পরিবর্তন। টি-শার্ট ও শার্টের নকশায় তেমন কোনো পরিবর্তন নেই এ বছর। গত বছরের ধারাতেই পশুপাখির প্রিন্ট চলবে। তবে শার্ট বা টি-শার্টের কাপড় নিয়ে নানা ধরনের নিরীক্ষা চলবে বছরজুড়ে। শীতে কতটা মোটা করা যায় এবং গরমে তা কতটা আরামদায়ক হবে-এ নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলবে। এর একটি পরিবর্তনও দেখা যাবে পোশাকে।সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এবার ছেলেদের ফ্যাশনে বেশি গুরুত্ব পাবে জুতা। আমাদের দেশি চামড়া দিয়ে তৈরি হচ্ছে এসব জুতা। শুধু চামড়ার জুতা নয়, কাপড় বা মখমলের মতো আরও নানা উপকরণে জুতা তৈরি হচ্ছে। মখমলের ওপর জরদৌসি কাজ করে জুতার জমকালো ভাব আনা হচ্ছে। প্যান্টের কাপড় ওয়াশ করে রং হালকা বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। জিনস বা গ্যাবার্ডিনের কাপড়ে হচ্ছে নানা রকম ওয়াশ। নরম আর আরামদায়ক প্যান্ট চলবে পুরো বছর। আরেকটি পরিবর্তন বেশ চোখে পড়বে, সেটা ছেলেদের ব্যাগে। ওয়ালেট বা মানিব্যাগ নয়, এই ব্যাগ মানে হাতব্যাগ। মাঝারি আকারের এই ব্যাগ হাতে ছাড়াও কাঁধ থেকে পেছনে ঝুলিয়ে নেওয়া যাবে। লেখক: ফ্যাশন পরামর্শক, ওটু | 4 |
মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ফতুল্লার থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা করবেন- এমন ঘোষণার ১৫ ঘণ্টার মধ্যে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মেয়রের বক্তব্যের ব্যাপারে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, 'আমরাও বক্তব্যটি শুনেছি। প্রতিটি বিষয়ই আমরা তদন্ত করছি। এ বিষয়টিও আমরা তদন্ত করছি। ঘটনাটি কিভাবে এলো? কে প্রচার করল? পুরোটি জিনিসই আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত করে আমরা রিপোর্ট দেব।' রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে সোনারগাঁয়ের কাচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে পুলিশ সুপার এসব কথা জানান। পুলিশ সুপার বলেন, এটি একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে। আশা করি নিরপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। পুলিশ সুপার পরিশেষে বলেন, 'পুলিশের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ থেকে থাকে, তবে অভিযোগ প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব। নয়া দিগন্ত অনলাইন রোববার সকালে সংবাদটি প্রকাশ করে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর দেওভোগ দুই নং বাবুরাইল এলাকায় জনকল্যাণ সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মেয়র আইভী বলেন, আমি আমার বাবার কথা বলবই। আমি ওই ওসির (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বিরুদ্ধে মামলাও করবো। জামাতের এক আমিরকে নিয়ে এই শহরের নির্দেশদাতা, শহরের সবচেয়ে সবচেয়ে বড় স্টুপিড লোক যিনি শহরে অরাজকতা তৈরী করার চেষ্টা করেন, সেই ভদ্র লোকের নির্দেশে যদি একজন ওসি বলেন, আলী আহম্মদ চুনকার জামাতের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল! মেয়র বলেন, আলী আহম্মদ চুনকাকে এই শহরের এমন কোনো মানুষ নেই যে, না চিনত! আমার নামে বিভিন্ন কথা বলা হয় 'বলুক'। কিন্তু আলী আহম্মদ চুনকাকে নিয়ে যখন বলে যে, তিনি রাজাকারের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তখন তো এই শহরের দুই চার, পাঁচজন মানুষের উচিৎ নয় কি এ বিষয়ে কথা বলা! এত ভয় কেন? মেয়র আক্ষেপ করে বলেন, ৪০ বছর আগে আমার বাবা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি এ মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। যারা মুক্তিযোদ্ধা আছেন, তারা তো দেখেছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কত রক্তপাত ঠেকিয়েছেন। আজ তার বিরুদ্ধেই কথা বলা হয়! আর আমরা চুপ করে থাকি! আমার বাবা তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাকে রাজাকারের সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়! তাহলে তো আমি মনে করি এই শহরের সকল মুক্তিযোদ্ধার রাজাকারের সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর মেয়র আইভীর নাম ও তার বাবা আলী আহম্মদ চুনকাকে সংযুক্ত করে জামায়াতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমেদের ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় দেয়া জবানবন্দির অডিও প্রচার নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়। পুলিশের হেফাজতে আসামির দেয়া বক্তব্য কী করে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হলো, কে কোন উদ্দেশ্যে জামায়াত নেতার সাথে আইভীকে জড়ানোর চেষ্টা করেছেন এসবের কোনটির সদুত্তর দিতে পারেনি জবানবন্দি নেয়া ফতুল্লা থানার ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো: মঞ্জুর কাদের। তিনি বলেন, 'এটা তো আপনারা ভালো জানেন, কি করে লিক হলো? কেমনে এডা লিক হইলো এইডা আপনারা ভালো জানেন, আমরা জানি না। যারা জবানবন্দি নিয়ে লিক করে প্রচার করছে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন। এ ঘটনা আইনশৃঙ্খলবাহিনীর গোপনীয়তা রক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করেন কিনা এমন প্রশ্নে ওসি মঞ্জুর বলেন, 'আমি কিছুই মনে করি না। কেমনে করছে, যারা করছে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারবেন।' | 6 |
গ্ল্যামার আর অভিনয়ে বরাবরই দর্শকদের মাতিয়েছেন অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। নতুন ছবি 'শেরনি'র ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হলো না। এবার বন কর্মকর্তার ভূমিকায় হাজির হলেন এই অভিনেত্রী। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আমাজন প্রাইমে মুক্তি পাবে ছবিটি। গতকাল প্রকাশ্যে এল 'শেরনি'র ট্রেলার। পরিচালক অমিত মাসুর করের পরিচালনায় ছবিতে বন কর্মকর্তা চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা বালান। এতে জঙ্গলের কাহিনী তুলে ধরেছেন পরিচালক। ট্রেলারে দেখা যায়, মানুষখেকো এক বাঘিনীকে ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যাকে। আর তা করতে গিয়ে অনেক অজানা সত্যের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। ছবিতে বিদ্যা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন বিজয় রাজ, নীরজ কবি, ব্রীজেন্দ্র কালরা, ইলা অরুণ, শরৎ সাক্সেনা, মুকুল চড্ডা। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে নিজের এই নতুন ছবির কথা প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন বিদ্যা। এবার ১৮ জুন আমাজন প্রাইমে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এটি। | 2 |
পৌষ মানে পিঠা-পুলির মাস। শীতের এই সময়ে মজার সব পিঠা নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠে গ্রামবাংলা। খেজুর রসের ম-ম গন্ধ ছড়ানো পৌষের সকাল গ্রামে বড় হওয়া নগরবাসীর কাছে এখন শুধুই শৈশবের স্মৃতি। তবে এখানেও রাস্তার পাশে পিঠা পাওয়া যায়। তাতে কি আশ মেটে? মন পড়ে থাকে মাটির চুলায় মায়ের হাতে বানানো সেই ভাপা, চিতই কিংবা পুলিতে।ইটপাথরের শহরে সে পিঠার অভাব কি আর পূরণ করা যাবে? মনের গহিনে থাকা এই অতৃপ্ত আশাকে পূর্ণতা দিতেই রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ব্যতিক্রমী এক পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদ। এখানে পাওয়া যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সব আঞ্চলিক পিঠা। গত বুধবার থেকেই বাহারি পিঠার গন্ধে ভরে উঠেছে শিল্পকলা একাডেমির মাঠ। এই পিঠা উৎসব চলবে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।কি নেই এখানে! নাড়ির টানে নিজের এলাকার পিঠার ঘ্রাণ নিতে ছুটে আসা দর্শনার্থীদের মুখ থেকেই বরং শোনা যাক।'অনেক দিন বাড়ি যাওয়া হয় না। মা পিঠা খাওয়ার জন্য বারবার ফোন করে ডাকছেন। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে যাওয়া হয়ে উঠছে না। তাই বাচ্চাদের নিয়ে এসে দেখলাম আমার এলাকা বরিশালের পিঠাও সাজিয়ে রাখা হয়েছে।' এভাবেই বলছিলেন দুই সন্তানকে নিয়ে আসা আরিফা হোমায়রা। বরিশাল মুলাদী পিঠাঘরে পিঠা বিক্রিতে ব্যস্ত আসিফ জানালেন, তাঁরা বরিশালের ঐতিহ্যবাহী পিঠাগুলোই বিক্রি করছেন। অনেকে নিজের এলাকার নাম দেখে আগে সেই স্টলের কাছেই যাচ্ছেন। এরপর অন্যান্য স্টলে ঘুরছেন।পিঠাপুলির মন মাতানো গন্ধে পাশে তাকিয়েই দেখা গেল নোয়াখালীর স্টল। নোয়াখালীর কবিরহাট পিঠাঘরের মুন্নি আহমেদ বললেন, 'এখানে নোয়াখালীর কিছু ঐতিহ্যবাহী পিঠা রয়েছে। হাঁসের মাংস দিয়ে চিতই পিঠা আপ্যায়ন করছি আমরা। এ ছাড়া নকশি পিঠা, খোলাজা পিঠা, পানতোয়া, চিতই পিঠা, ডিম পিঠা ও মুঠ পিঠা রয়েছে। এ সময় দেখা গেল পাশেই বানানো হচ্ছে গরম গরম পুলি পিঠা। মুন্নি জানালেন, এই পুলি পিঠার ভেতরে রয়েছে নারিকেলের পুর। এই নারিকেল নোয়াখালী থেকে আনা হয়েছে।নাতনিকে নিয়ে আসা মিরপুরের সালাউদ্দিন আলী ফিরে গেলেন তাঁর শৈশবে। চুলার পাশে বসে মায়ের হাতের গরম পিঠার স্মৃতিচারণা করলেন। গরম পিঠায় হাত দেওয়ায় মায়ের বকুনি, সে তো ভোলার নয়। সালাউদ্দিন বললেন, 'এখন বাসাবাড়িতে পিঠা তেমন একটা বানানো হয় না। খেতে হলে মূলত বাইরে থেকেই নিয়ে আসি। তবে হাতে তৈরি পিঠা আর মেশিনের পিঠার মধ্যে তো অনেক তফাত। তৃপ্তিরও ব্যাপার থাকে। এই পিঠাগুলো আসলেই সেই স্বাদ ফিরিয়ে দিয়েছে আমাকে।'এই ঘ্রাণ আর স্বাদ পেতে চলে আসুন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে। | 6 |
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। তিনি আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিব বর্ষ ২০২০) উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত এক কোটি বৃক্ষের চারা রোপণের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ শেষে এ কথা বলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, বৃক্ষ প্রকৃতির একটি শ্রেষ্ঠ উপহার এবং পরিবেশ ও জীবজগতের পরম বন্ধু। সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী বৃক্ষের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। এসময়, দেশের সকল মানুষকে বিভিন্ন জাতের বৃক্ষের চারা রোপণ করে একটি সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান মোঃ তাজুল ইসলাম। | 6 |
সুনামগঞ্জের ছাতকে করোনা আক্রান্ত হয়ে আব্দুল হক নামের এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। জেলায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। সোমবার সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব চক্রবর্তী। উল্লেখ্য, আব্দুল হক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 4 |
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১৮২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে এবছরে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫১৮ জনে। যার মধ্যে অক্টোবর মাসে রোগী ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩২১ জন। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৮০ জন। যার মধ্যে মধ্যে অক্টোবর মাসে মারা গেছেন ১১ জন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬২ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ জন। নতুন ১৮২ জন নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৬ জনে। ঢাকার ৪৫টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭৪২ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৭৪ জন। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনা থামছেই না। এবার দেশটির আইওয়া রাজ্যের একটি গির্জার পার্কিং লটে দুই নারীকে গুলি করে হত্যার পর নিজেকেও গুলি করে হত্যা করেছেন এক বন্দুকধারী। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার পরপরই আইওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।গত কয়েক সপ্তাহে বাফেলো সুপার মার্কেট, টেক্সাসের স্কুল ও টুলসার হাসপাতালে বন্দুকধারীর হামলার পর আইওয়ায় হামলা হলো। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর হামলা যেন যুক্তরাষ্ট্রে নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।রয়টার্স আরও জানিয়েছে, গতকাল বিকলে উইসকনসিনের রেসিনে একটি কবরস্থানে এক ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করার সময় আরেকটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কাউকে আটক করা হয়নি।আইওয়ার কাউন্টি শেরিফের অফিসের প্রধান ডেপুটি নিকোলাস লেনি বলেছেন, 'আইওয়ার অ্যামেস শহরের পূর্ব দিকের একটি খ্রিষ্টান গির্জার বাইরে বন্দুকধারী হামলা চালিয়েছে। গির্জার ভেতরে তখন অনুষ্ঠান চলছিল।'হামলার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর নিকোলাস লেনি তিনজনকেই মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'নিহতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাঁদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না-এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।'এ হামলার কিছুক্ষণ আগেই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অস্ত্র নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'যথেষ্ট হয়েছে! যথেষ্ট!' | 3 |
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি তথ্যসন্ত্রাস করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'খালেদা জিয়ার পুরনো শারীরিক সমস্যাকে বড় করে দেখিয়ে বিএনপি প্রতিনিয়ত তথ্যসন্ত্রাস করছে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে রিজভী আহমেদের বক্তব্য তথ্যসন্ত্রাস ছাড়া আর কিছুই নয়।' ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'বেগম খালেদা জিয়ার যে শারীরিক সমস্যা রয়েছে সেগুলো বহু পুরনো। তার হাঁটুর ব্যথা, কোমরের ব্যথা নতুন নয়। এগুলো নিয়েই তিনি দুইবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুইবার বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। বিএনপির মতো একটি দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন।' দলের নতুন কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. হাছান মাহমুদ। আর এই দায়িত্বপালনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়ে তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। সেই কাজে আমি যাতে সফল হই সেজন্য প্রথম থেকেই চেষ্টা করবো। প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন আমি তার মর্যাদা রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করবো।' সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ সালাম, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান প্রমুখ। | 6 |
খাগড়াছড়িতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার খাগড়াছড়ি শিশু একাডেমী হল রুমে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিচালক মো. শাহবুদ্দিন। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামানসহ আনসার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে আনসার ভিডিপি সদস্যদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সামনের রাস্তা ওপর বড় একটি গাছ ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এতে ওই সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গাছটি অপসারণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি ইউনিট।আজ রোববার রাত সাড়ে ৯টায় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের স্টেশন অফিসার (মিডিয়া সেল) মো. রায়হান আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।স্টেশন অফিসার রায়হান বলেন, রাত ৮টা ৫ মিনিটে গাছটি রাস্তার ওপরে ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস। পরে ৮টা ১০ মিনিট থেকে গাছ অপসারণের কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট।রায়হান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে গতকাল থেকে হালকা বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় গাছটি ভেঙে রাস্তায় পড়েছে। গাছটি অনেক পুরোনো ছিল। | 6 |
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন না চেয়েও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলাউদ্দিন। অথচ নির্বাচন করতে ইচ্ছা বা প্রস্তুতি কোনোটিই নেই তার।
নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আলাউদ্দিন বলেন, ভুল করে তার নাম এসেছে। দল থেকে তিনি ফরমও সংগ্রহ করেননি, জমাও দেননি।
আলাউদ্দিন এমন দাবি করলেও আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে দক্ষিণ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নে দলের মনোনয়ন দিতে সাধারণত তিনজনের নাম কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব করে থাকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। কিন্তু চরপাথরঘাটা ইউপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে হয়েছে ব্যতিক্রম। এ ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিতে মাত্র দু'জনের নাম প্রস্তাব করেছে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ; তারা হলেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক ও তার অনুসারী যুগ্ম সম্পাদক আলাউদ্দিন।
যদিও চরপাথরঘাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহ দেখান অন্তত ৬ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন। তারা হলেন- দক্ষিণ জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহেদুর রহমান ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ছাবের আহমদ। এলাকায় তাদের জনসমর্থনও বেশ ভালো। কিন্তু সেলিম হকের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তাদের নাম কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়নি। এ ক্ষেত্রে সংশ্নিষ্টদের ধারণা ছিল, চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আলাউদ্দিন তুলনামূলক কম উপযুক্ত। তাই সেলিমই পেয়ে যাবেন মনোনয়ন।
গত শুক্রবার গণভবনে স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে অষ্টম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৪০ ইউপিতে নৌকা প্রতীকের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়, যার মধ্যে কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা ইউপিও ছিল। একই দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চরপাথরঘাটা ইউপির প্রার্থী হিসেবে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম হকের নাম ছড়িয়ে পড়ে। তখন নেতাকর্মীরা তাকে অভিনন্দনও জানান।
কিন্তু একই দিন রাত ১টার দিকে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে সারাদেশের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হলে সেখানে চরপাথরঘাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলাউদ্দিনের নাম দেখা যায়।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হলেও সেলিমের বিরুদ্ধে বিগত সময়ে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে সখ্যের অভিযোগ আছে। গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্নভাবে এ তথ্য আসার কারণে তার নাম বাদ পড়তে পারে।
শুক্রবার রাতে আলাউদ্দিনের নাম প্রকাশ হওয়ার পর তিনি নিজেই ফেসবুকে পোস্টে লেখেন, 'কেউ বিভ্রান্তি হওয়ার কিছু নেই। প্রিন্টিংয়ে ভুল হয়েছে, নৌকার মাঝি প্রিয় ভাই সেলিম হক।'
আলাউদ্দিন বলেন, 'আমি নৌকার প্রার্থী নই। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করিনি, জমাও দিইনি।'
আলাউদ্দিনের এসব দাবির পর কর্ণফুলীসহ পুরো দক্ষিণ জেলায় চলছে তোলপাড়। মনোনয়নপ্রত্যাশী ও দক্ষিণ জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম আহমেদ বলেন, 'আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু অদৃশ্য কারণে আমার ফাইল দপ্তর থেকে গায়েব হয়ে যায়। জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মূলত ৪-৫ জনের নাম পাঠানোর কথা থাকলেও নাম পাঠিয়েছে দু'জনের। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিমের সঙ্গে বিগত সময়ে জামায়াত-বিএনপির সখ্যের অভিযোগ থাকাতে তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।'
কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনির দাবি, চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম হক। টাইপিংয়ের ভুলে আলাউদ্দিনের নাম এসেছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী সমকালকে বলেন, নৌকা প্রতীক পাওয়া আলাউদ্দিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন, আবার মুছেও দিলেন। তিনি নৌকা প্রতীক পাওয়ার পরও কেন স্ট্যাটাস দিলেন, কী কারণে দিলেন- তা তাদের বোধগম্য নয়। তার দাবি, তারা উপজেলা থেকে বেশ কয়েকজন যোগ্য প্রার্থীর নাম জেলায় পাঠিয়েছেন।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপির ভাষ্য, উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে যাদের নাম পাঠানো হয়েছে, তারা সেভাবে কেন্দ্রে নাম পাঠিয়েছেন। শুধু দু'জনের নাম কেন পাঠানো হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্যান্য উপজেলার ইউপি নির্বাচনে তারা ৫-৬ জনের নামও পাঠিয়েছেন। মূলত উপজেলা থেকে যেভাবে পাঠানো হয়েছে, তারা সেভাবেই পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রে পাঠানোর সময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরের পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর রয়েছে।
আগামী ১৬ মে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। বাছাই হবে ১৯ মে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে। প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে। ভোট গ্রহণ হবে ১৫ জুন। | 6 |
বরিশালের উজিরপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে মাসব্যাপী আসবাব মেলা বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ ওটরা আহম্মদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদালয়ের খেলার মাঠ দখল করে আসবাব মেলা চালাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের অলিউল হোসেন। বিদ্যালয়ের মাঠে নানা ধরনের আসবাব নিয়ে বসানো হয়েছে মেলা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। বিদ্যালয়ের মাঠের চারপাশে তাঁবু টানিয়ে ও বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণ মাঠ দখল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, খেলার মাঠ দখল হওয়ার কারণে নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারছে না।অভিযুক্ত অলিউল জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শামসুদ্দিন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম লিটুর অনুমতি নিয়ে স্কুল মাঠে ব্যবসা করছেন। তবে তিনি ফার্নিচারের মেলা বসাননি।ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।জাহিদুল ইসলাম লিটু বলেন, 'স্কুল বন্ধ থাকায় আমি তাকে ব্যবসা করার সুযোগ দিয়েছি। তবে বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় ৩-৪ দিনের মধ্যে তাকে অন্যত্র চলে যেতে বলেছি।' বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ফার্নিচারের দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন প্রধান শিক্ষকের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম বলেন, 'বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে।' | 6 |
ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি শুধু ভারতের ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন নন। বিশ্ব ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন তিনি। মাঠের খেলা দিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছেন। আর সেই জনপ্রিয়তা মাঠের বাইরেও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তাও শুধু ভারতীয় তরুণীদের কাছে না বাইরের দেশের তুরণীদের কাছেও সমান জনপ্রিয় কোহলি। তার খেলা দেখে ভিন দেশি নারী ক্রিকেটারও তাকে বিয়ে করার পোস্টার হাতে ধরেছেন। কোহলি এবার তেমনই এক ভক্তের প্রস্তাবের কথা জানালেন। প্রস্তাব তো নয় জানালেন পাগলামীর কথা। আর সেই পাগলামীর কারণে বিরাট নাকি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন। অতীতের সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে কোহলি বলেন, 'রক্ত দিয়ে লেখা এক চিঠি পেয়েছিলাম আমি। ওটা ছিল খুব বাজে একটা ঘটনা। গাড়িতে করে যাওয়ার পথে অটোগ্রাফ দিতে জানালার কাচ নামিয়েছিলাম। হঠাৎ চিঠিটা হাতে এসে পড়লো। কে দিয়েছিল বুঝতে পারিনি। তাতে কেবলমাত্র নাম লেখা ছিল। সেটা পেয়েই আমি নিরাপত্তারক্ষীকে দিয়ে দেয়। ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ছিল ওটা।' এছাড়া কোহলি একটি দারুণ মজার ঘটনার কথাও জানিয়েছেন। রোদ চশমা পরে ঘুমানোর সময় কোন এক ভক্ত তিনি জেগে আছেন মনে করে নাকি সেলফি তুলছিলেন। কোহলি বলেন, 'আইপিএলের সময়কার ঘটনা সম্ভবত। আমি কানে হেডফোন গুজে ঘুমাচ্ছি। ঘুম ভেঙে দেখলাম কেউ একজন আমার কাঁধ বরাবর ঝুঁকে আছে।' তার সঙ্গে কোন এক ভক্ত সেলফি তোলার জন্য ঝুঁকে ছিলেন উল্লেখ করে কোহলি বলেন, 'তিনি ভেবেছিলেন আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু আমি রোদ চশমা পরে ঘুমিয়েছিলাম।' | 12 |
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারের কাছে এককালীন অর্থ বরাদ্দ চেয়েছিলেন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি)। কিন্তু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় তাদের এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ বুধবার ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন শেষে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।১৩ জেলায় নিয়োগ পেলেন নতুন ডিসিএনামুর বলেন, জেলা প্রশাসকেরা প্রস্তাব করেছিলেন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আমরা এককালীন অর্থ বরাদ্দ দিতে পারি কিনা। আমরা সেখানে দ্বিমত পোষণ করেছি। আমরা বলেছি, দুই বা তিন কিস্তিতে দিলে কাজের গতি ঠিক থাকে। কাজের মনিটরিং ভালো হয়, কাজের ফলাফলও ভালো হয়।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সুপারিশে কয়েকটি উপজেলায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি বা ইজিপিপি প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেখানে দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশের নিচে সেই উপজেলাগুলো আমরা তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি। ডিসিরা সেগুলো তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ করেছিলেন। আমরা বলেছি, দেশ ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। যে উপজেলাগুলো উন্নত হবে সেগুলো থেকে আমরা ক্রমান্বয়ে ইজিপিপি প্রকল্প বাদ দেব। পিছিয়ে পড়া উপজেলায় আমরা বেশি করে বিনিয়োগ করব।সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে ডিসিদের নির্দেশপাহাড় ধসের বিষয়ে আগাম সতর্কতা সংকেত দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে ডিসিরা প্রস্তাব করেছিলেন। এ বিষয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এটা আমরা গ্রহণ করছি। আমরা এটা নিয়ে কাজ করব। যাতে পাহাড় ধসে মানুষের মৃত্যু না হয়।'ত্রাণমন্ত্রী জানান, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে যারা নিখোঁজ হন তাদের আইনি কাঠামো অনুযায়ী যাতে মৃত ঘোষণা করা যায়, সেই প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ডিসিরা ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং মুজিব কেল্লার সংখ্যা বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে ৭ হাজারের বেশি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। আরও এক হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি।উন্নয়ন তদারকির ক্ষমতা পাচ্ছেন না ডিসিরাকরোনার সময়ে প্রায় ৭ কোটি মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩৩৩ নম্বরের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর। | 6 |
মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে মোহাম্মদ মুরসিকে ইতিহাস স্মরণে রাখবে। মুরসির মৃত্যু অনেক অর্থ বহন করে। কেউ চাইলে সাদামাটাভাবে দেখতে পারেন। মুরসি অসুস্থ ছিলেন। মারা গেছেন। কিন্তু মুরসির মৃত্যু অন্য অর্থও বহন করে। যেমন বরার্ট ফিস্ক বলেছেন, মুরসির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মিসরীয় গণতন্ত্রেরও মৃত্যু হয়েছে। কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, গোটা আরবের গণতন্ত্রেরই মৃত্যু হলো। মুরসি অনেকের জন্যই শিক্ষা। কেউ যদি মিসরে গণতন্ত্রের কথা বলেন, ইসরায়েলি স্বার্থের বিরুদ্ধে যান, তবে মুরসির মতোই পরিণতি নিশ্চিত। আরবের অন্যান্য দেশের জন্যও এটা প্রযোজ্য। ইসরায়েলের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়া মানেই মুরসির মতো মৃত্যু। আরব বসন্তের ঢেউয়ে মুরসি রাজনীতির ময়দানে সামনে চলে এসেছিলেন। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মুরসিকে সারা বিশ্ব তেমন চিনত না। হতে পারে ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্কিত রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে জানতেন। ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার পরপরই মুরসি আলোচনায় আসেন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরুদ্ধপক্ষের ব্যাপক সমালোচনার শিকার হতে থাকেন। মুরসি মিসরকে ইরানের ধাঁচে ইসলামিক রিপাবলিকে পরিণত করবেন। শরিয়াহ আইন চালু করবেন। নারীর অধিকার থাকবে না। গণমাধ্যমের অধিকার থাকবে না। মুরসি বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন। ইত্যাকার অভিযোগ তুলে মুরসির বিরুদ্ধে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়। সঙ্গে যোগ দেন মিসরের প্রগতিশীল ব্যক্তিরা। মোদ্দাকথা, পশ্চিমা প্রগতিশীলতার নিক্তিতে মুরসি উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এটা ঠিক, মুরসি মিসরকে ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারেননি। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল। একের পর এক কপটিক ক্রিশ্চিয়ানদের গির্জায় হামলা হয়েছে। অবশ্য কেউ কেউ বলে থাকেন, মুরসির বিরুদ্ধে জনসাধারণকে খেপিয়ে তুলতে সৌদির অর্থ ও ইসরায়েলের তত্ত্বাবধানে এসব হামলা হয়েছে। এতে মিসরীয় গোয়েন্দা সংস্থার একাংশও জড়িত ছিল। মুরসির ব্যর্থতা হচ্ছে, গির্জায় হামলা বন্ধ করতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, মুরসি বিচার বিভাগে ব্রাদারহুডের লোকজন ঢুকিয়ে দখলের চেষ্টা করছিলেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও ব্রাদারহুডের লোকজনকে নিয়োগ দিচ্ছিলেন। তবে মিসরের অনেকেই মনে করেন, মুরসির আমলে গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানের থেকে অনেক অনেক ভালো ছিল। মুরসি সব থেকে বেশি সমালোচিত হয়েছেন এক সাংবাদিককে আদালতে তুলে। ওই সাংবাদিক টিভি অনুষ্ঠানে মুরসিকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন। প্রগতিশীলরা অভিযোগ করেন, মুরসি ইরানের খোমেনির মতোই বিপ্লব ছিনতাই করেছেন। কিন্তু ইরানের মতোই প্রগতিশীলেরা চিন্তা করেন না, কেন তাঁরা ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় হতে পারছেন না। ভোটের মাঠে পারলাম না, আমরা ক্ষমতায় যেতে না পারলে ব্রাদারহুডকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না, অনেকটা এমন মনোভাব নিয়েই প্রগতিশীলেরা মাঠে নামেন। অভিযোগ রয়েছে, মিসরের প্রগতিশীলেরা ইসরায়েল-মার্কিন-সৌদি সহায়তায় এসব বিক্ষোভের আয়োজন করেন। মুরসি তো মরেই গেছেন। ব্রাদারহুডও আর মিসরের ক্ষমতায় নেই। কিন্তু মিসরের সেই সব প্রগতিশীল এখন কী করছেন? যাঁরা তাহরির স্কয়ারে সমবেত হয়ে মুরসির বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানকে উসকে দিয়েছিলেন। জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ সিসির আমলে এখন মুরসির সময় থেকে বেশি সাংবাদিক জেলে। মিসরে জেলখানাগুলো এখন আসামিতে টইটুম্বুর। বিরুদ্ধমতের সবাইকেই জেলে পোরা হচ্ছে। গুম সেখানে নিত্য ঘটনা। টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সিসির বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ তো দূরের কথা, সাধারণ সমালোচনা করারও সুযোগ কারও নেই। ব্রাদারহুডকে ঠেকাতে গিয়ে মিসরের প্রগতিশীলেরা এখন ইসরায়েলের কাছে বশীভূত। প্রগতিশীলদের নড়াচড়া খুব বেশি চোখে পড়ছে না মিসরে। মুরসির শাসনকাল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, মৃত্যু অনিবার্য ছিল মুরসির জন্য। মুরসি ফিলিস্তিন বিশেষ করে গাজাবাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। হামাসের সঙ্গে তার সখ্য ছিল, মার্কিন-ইসরায়েল-সৌদি জোটের কাছে যা বিরাট অপরাধ। হামাসের সঙ্গে আঁতাত করে মিসরে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে বিচার চলাকালেই মুরসি আদালতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল কেউ মিসরের ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। কারণ, মিসরের ভৌগোলিক অবস্থান ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিসরকে বাগে রাখতে পারলে গাজা পুরোটাই ইসরায়েল দখল করতে পারে। অন্তত হামাসকে দুর্বল করে দেওয়া যাবে, গাজার ওপর অবরোধ অব্যাহত রাখা যাবে। কেননা মিসর সীমান্ত বন্ধ না করলে ইসরায়েলের গাজা অবরোধ ব্যর্থ হয়। অথচ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই মুরসি মিসরের সঙ্গে গাজার রাফাহ সীমান্ত খুলে দেন। এই রাফাহ সীমান্ত দিয়েই হামাস নেতা খালেদ মেশাল কয়েক দশক পর গাজা সফর করেন, যাঁকে কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করে ইসরায়েল বিফল হয়েছে। এ ছাড়া মিসরে ইসরায়েল দূতাবাসেও বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা করে। এটা ইসরায়েল কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। এসব ঘটনা মুরসির ক্ষমতাচ্যুতি ও মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে। ১৯৭৯ সালে মিসর-ইসরায়েল শান্তিচুক্তি অনুসারে মিসর গাজার রাফাহ সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। ওই চুক্তিতে মিসর ও ইসরায়েলের সম্পর্কে শান্তি স্থাপিত হলেও গাজাবাসীর জীবনে নেমে আসে চরম অশান্তি। রাফাহ সীমান্ত উন্মুক্ত হলে গাজাবাসী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মিসর থেকে সহজেই আমদানি করতে পারে। অন্যথায় গাজা-ইসরায়েল সীমান্তের কেরেম সাহলম সীমান্ত দিয়ে আমদানি করতে হয়। কার্যত এই সীমান্ত ইসরায়েল বন্ধই রাখে। ইসরায়েলের লক্ষ্য, অবরোধ আরোপ করে গাজাবাসীকে নিঃশেষ করে দেওয়া। রাফাহ সীমান্ত বন্ধ করে দিলে ইসরায়েলের ইচ্ছার ষোলোকলা পূর্ণ হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মিসরের শাসকেরা এই কাজটিই করছিলেন। কিন্তু মুরসি ক্ষমতায় এসে রাফাহ সীমান্ত বিষয়ে বাগড়া দিয়ে বসেন। এ বিষয়ে মার্কিন-ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ১৯৭৯ সালের চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলেও মুরসি কথা শোনেননি। ১৯৭২ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে মার্কিন ও ইসরায়েলের পুতুল শাসকেরাই মিসরের ক্ষমতায় ছিলেন। বিপরীত স্রোত থেকে মুরসি আসায় তাঁকে হটাতে মার্কিন-ইসরায়েল জোট সক্রিয় হয়ে যায়। এদের সঙ্গে যোগ দেয় সৌদি আরব। সৌদি মূলত দুটি কারণে মুরসির বিপক্ষে। প্রথমত, মুরসি কাতার, ইরান ও তুরস্কের সমন্বয়ে নতুন এক আঞ্চলিক রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টির জন্য সক্রিয় ছিলেন। দ্বিতীয়ত, আশঙ্কা ছিল ইরান, তুরস্ক ও মিসর মিলে সৌদির গণতান্ত্রিক আন্দোলন উসকে দিতে পারে। মূলত মুরসির বিরুদ্ধে মার্কিন, ইসরায়েল, সৌদি আরব, প্রগতিশীল, নারীবাদী সব পক্ষ নিজ নিজ স্বার্থের জায়গা থেকে এক হয়ে গিয়েছিল। সবাই মিলে মুরসিকে হটিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে আরব থেকে গণতন্ত্রকেও নির্বাসনে পাঠিয়েছেন। ইসরায়েলকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম কাজ হচ্ছে আরবে গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করে দেওয়া। এটা নিশ্চিত, আরবের অধিকাংশ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলে ইসরায়েলের টিকে থাকা মুশকিল হবে। তাই মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে অনেক পাখি মারা হলো। কখনোই গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করা যাবে না। ইসরায়েলের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়া যাবে না। যদি কেউ যান, তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত। মিসরের মতো দেশ হলে তা অনিবার্য। বিশেষ করে যখন কোনো দেশের গণমাধ্যম, প্রগতিশীল সমাজ, শিক্ষিত শ্রেণি জাতীয় স্বার্থের চেয়ে নিজ নিজ মতাদর্শ ও স্বার্থকে বড় করে। মুরসি পপুলার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু এরপরও মুরসি রাজনৈতিক 'হত্যারই' শিকার হলেন। ড. মারুফ মল্লিক, ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো, ইনস্টিটিউট অব অরিয়েন্ট অ্যান্ড এশিয়ান স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অব বন। | 8 |
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং পল্লী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের দ্বিতীয় দফার প্রণোদনার আওতায় মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের আরো ২০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান। মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খান এবং মো. সিরাজুল হায়দার এনডিসি। প্রকৃত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মোট ঋণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের অর্ধেকই যেন ২০ লাখ টাকার কম ঋণ পান, নারী-উদ্যোক্তাদের মধ্যে মোট ঋণের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ, এসএমই ক্লাস্টার উদ্যোক্তাদের ১০ শতাংশ, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বেশি এবং ট্রেডিং খাতের উদ্যোক্তাদের ৩০ শতাংশ ঋণ বিতরণে নজর দেয়ার পরামর্শ দেন ড. মো. মফিজুর রহমান। প্যাকেজের সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকায় কমিয়ে আনা হতে পারে বলেও তিনি ধারণা দেন। এছাড়া আগে প্রণোদনার ঋণ না পাওয়া উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, আগামী ২ সেপ্টেম্বর এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের পরবর্তী সভায় ঋণ বিতরণের সংশোধিত নীতিমালা অনুমোদনের পর শিগগিরই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করা হবে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ঋণ বিতরণ শুরু করার ব্যপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ফাউন্ডেশনের ঋণ কর্মসূচি বিতরণ বিষয়ক নীতিমালা ও নির্দেশিকার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, করোনা মহামারীর কারণে গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত অতিক্ষুদ্র (মাইক্রো), ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রাধান্য দেয়া হবে- যারা সরকারের প্রথম দফার প্রণোদনার আওতায় ঋণপ্রাপ্ত হননি; অগ্রাধিকারভূক্ত এসএমই সাব-সেক্টর এবং ক্লাস্টারের উদ্যোক্তা; নারী-উদ্যোক্তা; নতুন উদ্যোক্তা অর্থাৎ যারা এখনো ব্যাংক ঋণ পাননি; পশ্চাদপদ ও উপজাতীয় অঞ্চল, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তা। এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে জানানো হয়, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় উদ্যোক্তারা ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৪টি সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। ব্যাংকের চাহিদাকৃত ডকুমেন্টসহ 'সম্পূর্ণ/পরিপূর্ণ ঋণ আবেদনপত্র' ব্যাংকের নিকট দাখিলের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ মঞ্জুর করে গ্রাহকের অনুকূলে বিতরণের উদ্যোগ নিবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। সাধারণভাবে একক ও যৌথ মালিকানাধীন উদ্যোগের অনুকূলে ঋণ বিতরণ করা হবে। তবে প্রান্তিক ক্ষুদ্র, বিশেষ করে নারী-উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনার লক্ষ্যে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৫জন উদ্যোক্তার অনুকূলে গ্রুপভিত্তিক ঋণ বিতরণ করা যাবে। গত অর্থবছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এসএমই ফাউন্ডেশন অংশীদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক এক/একাধিক শাখায় ফোকাল কর্মকর্তা নির্ধারণ করবে। উদ্যোক্তারা ফোকাল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ফোকাল কর্মকর্তা এসএমই ফাউন্ডেশন, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখা এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। | 0 |
জুলুম বড় গুনাহের কাজ। কাউকে অকারণে কষ্ট দেওয়া জুলুমের অন্তর্ভুক্ত, যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ তাআলা জালিমদের পছন্দ করেন না। তাই সব ধরনের জুলুম নিষিদ্ধ করে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, 'যেসব লোক বিনা দোষে মুমিন পুরুষ ও নারীকে কষ্ট দেয়, তারা অতি বড় একটা মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট গুনাহের বোঝা নিজেদের মাথায় তুলে নেয়।' (সুরা আহজাব: ৫৮)মহানবী (সা.) প্রকৃত মুসলমানের পরিচয় বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দিয়েছেন। ব্যক্তি মুসলমান হতে হলে এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাসের পাশাপাশি উত্তম কাজ করতে হবে। আল্লাহর জন্য মানুষকে ভালোবাসতে হবে। জিহ্বা সংযত রাখতে হবে। অনর্থক কারও ওপর হাত তোলা যাবে না। মানুষকে কোনোভাবেই কষ্ট দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। মহানবী (সা.) বলেন, 'সে-ই মুসলমান, যার জিহ্বা ও হাতের অনিষ্ঠতা থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।' (বুখারি)এমন কোনো ক্ষুদ্র আচরণও গ্রহণযোগ্য নয়, যার কারণে কেউ অহেতুক কষ্ট পায়। মহানবী (সা.) বলেন, 'যখন তোমরা তিনজন একত্র হও, তখন দুজন ব্যক্তি তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে চুপিচুপি কথা বলবে না। কেননা এতে তৃতীয় ব্যক্তি মানসিকভাবে কষ্ট পায়।' (বুখারি ও মুসলিম) তাই আলেমরা বলেন, 'অন্যের মনে আঘাত আসে-এমন সব কথা, কাজ, ইশারা ও আচরণ ইসলামে নিষিদ্ধ।' (ফাতহুল বারি)জুলুম অসংখ্য অন্যায়ের পথ খুলে দেয়। মানুষের অধিকারের পথ রুদ্ধ করে দেয়। তাই জুলুম জান্নাতে যাওয়ার অন্তরায়। হাদিসে এসেছে, 'যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভ করতে চায়, সে যেন আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর বিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। এবং মানুষের সঙ্গে এমন ব্যবহার করে, যা সে নিজে অন্যের কাছে আশা করে।' (মুসলিম) | 6 |
ঈদের পরপরই ভোট হবে দেশের চার বড় শহরে। মাস ছয়েকের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই চার সিটি করপোরেশন তো বটেই, সারা দেশেও নির্বাচনের ঢেউ লাগছে এই ঈদে। ঈদ সামনে রেখে নিজ নিজ গ্রামে ছুটছেন কর্মজীবী মানুষ। আর নানাভাবে তাঁদের কাছে যাওয়া, নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।ঈদের পরপর গাজীপুরে ভোট হবে ২৬ জুন। আর ৩০ জুলাই রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে ভোট। তাই এই চার সিটিতে ঈদ-রাজনীতিও তুলনামূলক বেশি জমজমাট। রমজানজুড়েই ছিল ইফতারকেন্দ্রিক কর্মসূচি। বাড়তি মাত্রা যোগ করছে বিভিন্ন ধরনের 'ঈদ শুভেচ্ছা'। শুভেচ্ছা বিনিময়ের নামে গণসংযোগও চালাবেন অনেকে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ উৎসবে যোগ হচ্ছে নির্বাচনী আমেজ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে লড়তে ইচ্ছুকদের প্রায় সবাই রঙিন পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন দিয়ে সংসদীয় আসনের মানুষদের ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। অনেকে আবার ঈদ শুভেচ্ছা হিসেবে বিতরণ করছেন সেমাই-চিনি, জামা-কাপড়সহ বিভিন্ন ঈদ উপহার। আর আছে গরিবদের জাকাত দেওয়া। প্রতি রোজা বা ঈদে এসব কাজ করেন রাজনৈতিক নেতারা। তবে সিটি ও জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এবার এই প্রবণতা বেশি। সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে মনোনয়নপত্র বিক্রি। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে ঈদের পর ১০ জুলাই থেকে। কিন্তু সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। রোজা-ঈদকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছে যেতে ব্যস্ত তাঁরা। ঈদ শুভেচ্ছার পোস্টার-ব্যানার দিয়ে, ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নানাভাবে চালাচ্ছেন প্রচার। অবশ্য আগামী ২০ জুনের মধ্যে এই তিন সিটিতে সব প্রচারণার সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সাংবাদিকদের জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ঈদের পর প্রচার জমবে গাজীপুরে ঈদের পর ১৮ জুন থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। অবশ্য প্রার্থীরা এখন থেকেই প্রচার চালাচ্ছেন। তবে ঈদের ছুটি কিছুটা চিন্তায় ফেলছে এখানকার প্রধান দুই প্রার্থীকে। কারণ, এই সিটিতে প্রায় এক লাখ ভোটার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পোশাকশ্রমিক। ঈদের ছুটিতে সবাই গেছেন বাড়িতে। তারপরও ঈদেই জমবে নির্বাচনী প্রচার। বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান সরকার বলেন, ঈদের ছুটিতে ভোটারদের অনেকে বাড়ি গেছেন। ঈদের পর নির্বাচনী মাঠ আবার সরব হবে। ১৮ জুন থেকে তাঁরা সর্বাত্মক প্রচারে নামবেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঈদের দিন ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। ১৮ জুন থেকে তাঁরা পুরোদমে মাঠে নামবেন। সিলেটে এক মঞ্চে সম্ভাব্য চার প্রার্থী সিলেট নগরের কেন্দ্রস্থল চৌহাট্টা, আম্বরখানাসহ নগরের প্রায় সব মোড় ও দর্শনীয় স্থানগুলো ছেয়ে গেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার-পোস্টারে। এসবের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন আহমদ ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিমের প্রচারও চোখে পড়ছে। তাঁরা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। গত বুধবার রাতে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ছিলেন সম্ভাব্য এই চার মেয়র প্রার্থী। সিলেট ক্রীড়া লেখক সমিতি জেলা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের নিয়ে ওই খেলার আয়োজন করে। আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের নেতৃত্ব দেন কামরান, ব্রাজিল সমর্থক দলের আরিফুল। ব্রাজিলে খেলেছেন আসাদ। ১-১ গোলে ড্র হওয়া খেলা শেষে দুই দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন সেলিম। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনও বিএনপির মনোননয়ন পেতে আগ্রহী। এ ছাড়া বিএনপির জোটমিত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সমর্থনেও নগরের বিভিন্ন স্থানে ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত মেয়র পদে কেউ মনোননয়পত্র নেননি। গতকাল ১৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। রাজশাহী ছেয়ে গেছে লিটনের পোস্টারে রাজশাহীতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন অনেকটা চূড়ান্ত। বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে গেলে তিনিই দলের প্রার্থী, এটা দলের ওপর মহল থেকে তাঁকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর বাইরে জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও সিপিবি স্থানীয়ভাবে তাদের প্রার্থী ঠিক করেছে। খায়রুজ্জামানের ঈদ শুভেচ্ছার রঙিন পোস্টারে ছেয়ে আছে রাজশাহী শহর। বিপরীতে মোসাদ্দেক হোসেনও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে কিছু বিলবোর্ড লাগিয়েছিলেন। তার প্রায় সবগুলোই কে বা কারা গত মাসে সরিয়ে ফেলে। রাজশাহীতেও মেয়র পদে গতকাল পর্যন্ত কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। তবে ২৬ জন কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। বরিশালে বিএনপি চুপচাপ বরিশাল নগরেও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনেকে নগরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সরব নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এ ছাড়া আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহিদ শামীম ফারুক। তিনি বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের কাছে দোয়া প্রার্থনা এবং সামাজিক নানা অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কারও ব্যানার-পোস্টার দেখা যায়নি। অবশ্য তাঁরা দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে ইফতার আয়োজন করে পরোক্ষভাবে নির্বাচনী প্রচারে আছেন। বরিশাল নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, জুলাইয়ে সিটি ও আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নগরজুড়ে নির্বাচনী আমেজ চলে এসেছে। ঈদের পর এটা আরও জমজমাট হয়ে উঠবে। তৎপর সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও ঈদ সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশির ভাগই ছুটছেন নিজ নিজ এলাকায়। তবে ঈদের তৃতীয় দিন থেকে বসবে সংসদ অধিবেশন। তাই সাংসদদের অনেকে এলাকায় বেশি সময় দিতে পারবেন না। বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না, তা নিশ্চিত করে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা না এলেও বসে নেই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। নানাভাবে তাঁরাও চেষ্টা করছেন নেতা-কর্মী-ভোটারদের কাছে যেতে। তবে আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা তুলনামূলক কম। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মনোনয়নপ্রত্যার্শীরা ভোটারদের শাড়ি, লুঙ্গি, নগদ টাকা ও সেমাই-চিনি বিতরণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সাংসদেরা। তাঁদের পাশাপাশি অন্য মনোয়নপ্রত্যাশীরাও নানাভাবে সরব মাঠে। বিশেষত ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার, ব্যানার দিয়ে সংসদীয় এলাকার মানুষজনকে নিজের বিষয়ে জানান দিচ্ছেন তাঁরা। মন্ত্রী-সাংসদেরা যেমন আছেন, তেমনি ঈদ ঘিরে সরব হয়েছে অনেক নতুন মুখ। আবার ঈদ ঘিরে এমন অনেকে সরব হয়েছেন যাঁরা এত দিন রাজনীতির মাঠে ছিলেন না। | 9 |
২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়নে বাস্তবতা আমলে নেওয়া হয়নি। প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের হিসাবের মধ্যেও মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। কোভিডের বাস্তবতায় এটা কীভাবে সম্ভব, তার রূপরেখা বাজেটে নেই। আজ ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। সংবাদ সম্মেলনে সেলিম রায়হান বলেন, বাজেটে বর্তমান অবস্থার মূল্যায়ন থাকা উচিত। সমস্যা খাটো করা হলে সমাধানও যথাযথ হবে না। দারিদ্র্য, শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার-এসব বিষয়ে কোভিডের বাস্তবতা অস্বীকার করা হয়েছে এবারের বাজেটে। তিনি মনে করেন, নীতিপ্রণেতারা আত্মতুষ্টিতে থাকতে চান। এ সময় তথ্য-উপাত্ত যখন খুব জরুরি, তখন সরকারি সংস্থাগুলো অতটা সক্রিয় নয়। মাঠবাস্তবতা নীতিপ্রণেতাদের কাছে পৌঁছেছে বলে মনে করেন না সেলিম রায়হান। বিশেষ করে দারিদ্র্যের পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। সানেম, বিআইজিডি, পিপিআরসি সবার জরিপেই দেখা গেছে, এ সময় আড়াই থেকে সাড়ে তিন কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। কিন্তু তাদের কথা বাজেটে উঠে আসেনি। এমনকি এই পরিস্থিতিরি স্বীকৃতিও নেই। এটা নীতি প্রণয়নের জন্য ভালো নয় বলেই মনে করেন তিনি। অন্যদিকে বাজেটে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির ফারাক আছে বলে মন্তব্য করেন সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়েমা হক। কৃষি খাত বা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় কর ছাড় দেওয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা ইতিবাচক হলেও নিম্ন আয়ের মানুষ তার কতটা সুবিধা পাবে, সেটা পরিষ্কার নয় বলে মনে করেন তিনি। ব্যবসাবান্ধব বাজেটের কথা বললেন অর্থমন্ত্রী, কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সুবিধা পাবে, তা-ও স্পষ্ট নয়। সায়েমা হকের মত, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি রোডম্যাপ থাকা উচিত। তবে এই বরাদ্দ বৃদ্ধি উন্নয়নের অভিযাত্রার সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আর এবার বাজেটে যে বড় ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হলো না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সায়েমা হক। এদিকে চাহিদা না বাড়লে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা কতটা এবং ব্যবসাবান্ধব বাজেট মানুষের কতটা কাজে আসবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম রায়হান বলেন, 'সরবরাহের দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, কিন্তু চাহিদার দিকেও তা থাকা দরকার। উন্নত দেশের মতো সক্ষমতা আমাদের নেই, অত প্রণোদনা আমরা দিতে পারব না, কিন্তু এই পরিস্থিতির স্বীকৃতি থাকা দরকার। তা না হলে পুনরুদ্ধার শ্লথ হয়ে যাবে। আবার সব ব্যবসাও সমানভাবে প্রণোদনা পাচ্ছে না।' অর্থনীতিবিদেরা সাধারণত কখনো একমত হন না। তবে এবার সব অর্থনীতিবিদই একমত, বাজেট ঘাটতি বাড়ানো উচিত। নতুন বাস্তবতায় এই ঐকমত্য গড়ে উঠেছে বলে মনে করেন সেলিম রায়হান। | 0 |
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মেহেদী হাসানকে (ডালিম প্রতীক) নিখোঁজের পাঁচদিন পরউদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে গাজীপুরের যোগিরতলা ধান গবেষণা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল আলম জানান,বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর বাড়ি থেকে বের হন মেহেদী। তার পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তৎপরতা চালিয়ে রোববার মেহেদীকে উদ্ধার করে। সাইফুল আলম জানান, মেহেদীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মেহেদী নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। | 6 |
কান উৎসবের লালগালিচা মাতিয়ে দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তার অপরূপ সৌন্দর্য উদ্ভাসিত করেছে উৎসব। কাঁধখোলা ছাইরঙা গাউনে তাকে দেখতে মনোমুগ্ধকর ও জমকালো লাগছিল। সবমিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেন বাংলাদেশি সৌন্দর্যের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেই বাঁধনের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। এপার-ওপার; দুই বাংলায় তাকে নিয়ে মাতামাতি। এরই রেশ টেনে ভক্তদের কথা ভেবে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে কলকাতার সংবাদ প্রতিদিন। সংবাদমাধ্যটি বাঁধন সম্পর্কে বলেছে, সদ্য কান চলচ্চিত্র উৎসব থেকে ফিরেছেন ঢাকায়। তার ছবি 'রেহানা মরিয়ম নূর' প্রশংসার ঝড় তুলেছিল ফ্রান্সের শহরে। আজকাল সেই স্বপ্নেই ডুবে রয়েছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সিরিজ 'রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি'র রহস্যময়ী অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন, যাকে নিয়ে তুমুল আলোচনা এখন এপার বাংলাতেও। এরপরই সাক্ষাৎকার পর্ব শুরু। প্রশ্ন: কান সফর কেমন ছিল? বাঁধন: অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমার দেশের প্রথম একটা সিনেমা, যা কান চলচ্চিত্র উৎসবে গেছে। সেই ছবির লিড কাস্ট হিসেবে আমি কানে যেতে পেরেছি। পুরো ব্যাপারটাই স্বপ্নের মতো। যখনই ছবিগুলো দেখছি, বিশ্বাসই হচ্ছে না! আমি ওখানে ছিলাম! একজন শিল্পী হিসেবে ওখানে যে সম্মান পেয়েছি, সেটা সারাজীবন মনে রাখার মতো। প্রিমিয়ারে 'রেহানা মরিয়ম নূর' ছবিটা দেখার পর সবাই দাঁড়িয়ে প্রশংসা করছিলেন। সেটা সত্যিই না ভোলার মতো একটা ঘটনা। প্রশ্ন: কার কার সঙ্গে দেখা হল সেখানে? বাঁধন: শ্যারন স্টোন, বিল মারি। প্রচুর বিখ্যাত সব মানুষদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এদের তো আমরা সিনেমার পর্দায় দেখেই অভ্যস্ত। তারাই চোখের সামনে। এখানে একটা ঘটনার কথা বলতে চাই। বিল মারিকে দেখে আমার খুব ইচ্ছে করছিল, তার সঙ্গে আলাপ করার। তারপর হঠাৎ বিল নিজে থেকে এসেই আমাদের সঙ্গে আলাপ করেন। এত বড় একজন স্টার, অথচ এত মাটির মানুষ। বিল আমাকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। একসঙ্গে আমরা ছবিও তুলেছি। আমি কান চলচ্চিত্র উৎসবের বিচারকদের সঙ্গেও দেখা করে কথা বলেছি। 'রেহানা' নিয়ে কথা হয়েছে। বিচারকরা বার বার বলছিলেন, আমার কাজ খুব ভালো লেগেছে তাদের। এটা অনেক বড় পাওয়া। প্রশ্ন: কানের রেড কার্পেটে তো আপনার জামদানি শাড়ি সুপারহিট। ওখানে যাওয়ার আগে থেকে পোশাক নিয়ে কোনো প্ল্যান ছিল? বাঁধন: কোনো কিছু প্ল্যান ছিল না। কানে যাওয়াটাই এক প্রকার হুট করে। করোনা আবহে বিদেশ যাত্রার ব্যাপারে প্রচুর বিধিনিষেধ ছিল। আমরা যেদিন ভিসা পেলাম, তার পরের দিন সকালেই ফ্লাইট ছিল। তাই প্ল্যান করার সময়ই ছিল না। জামদানি পরব কি-না, তা নিয়েও বিশেষ কোন প্ল্যান ছিল না। যেহেতু এ ছবি রেহানাকে নিয়েই। বলা যায়, এই ছবির ফেস আমি। তাই অতিরিক্ত চাপ তো কাঁধের ওপর ছিলই। তার ওপর বাংলাদেশের প্রথম কোনো ছবি কানে। আবার প্রথম কোনো অভিনেত্রী কানের রেড কার্পেটে। সবার তো নজর থাকবেই, আমি কী পরব? কী পরব না? জামদানি ছাড়া আমার আর কিছুই মাথায় আসেনি। এটা তো আমার দেশের ফেব্রিক। 'আড়ং' ব্র্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। ওরা দ্রুত আমাকে তৈরি করে দিয়েছিল পোশাক। বিশেষ করে ব্লাউজ। তবে আমি মসলিনও পরেছি। সেটাও আমার দেশের ফেব্রিক। আমি সচেতনভাবেই দেশকে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। বিশেষ করে নারী ডিজাইনারদের কাজকে। প্রশ্ন: কানে এমন কোনো মুহূর্ত? যা সারাজীবন সঙ্গে রাখবেন.. বাঁধন: 'রেহানা মরিয়ম নূর' দেখে কানের দর্শকরা প্রশংসা করেন, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। চোখের সামনে পুরো জীবনটা উঠে এসেছিল। আমার পরিশ্রমের দাম ঈশ্বর আমাকে দিয়েছেন। ছবি দেখে একজন বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। এ পাওনা সারাজীবনের। প্রশ্ন: বাংলাদেশের মানুষ কী বলছে? বাঁধন: দেখুন, যখন দেশের কোনো বিষয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশাল সম্মান লাভ করে, তখন ওই বিষয় একটা টিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বাংলাদেশের মানুষ তো বাহবা দিয়েছেই। তবে আমার দেশের পাশাপাশি ভারত থেকেও খুব প্রশংসা পেয়েছি। আসলে, ছবিটা দেশ, কাল, সীমানা ছাড়িয়ে বাংলা ভাষার ছবির সাফল্যই হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন: রেহানার অফার কীভাবে পেয়েছিলেন? বাঁধন: অফারটা অদ্ভুত সময়ে আমার কাছে আসে। তখন আমি ব্যক্তিগত এক বড় সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার মেয়েকে নিয়ে আদালতে যাই। আমি একাই নিজের সন্তানকে বড় করতে চেয়েছিলাম। মা হিসেবে সন্তানের প্রতি আইনের অধিকার চেয়েছিলাম। কিন্তু ইসলামিক আইনে এটা একেবারেই নেই। তবে সিভিল আইনে সন্তানের ওয়েলবিয়িংয়ের জন্য শেষমেশ আমাকে গার্ডিয়ানশিপটা দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকেই আমার দর্শন, জীবন বাঁচার নিয়মগুলো বদলে যায়। বিশেষ করে আমার কাজ করার স্টাইলেও পরিবর্তন আসে। আসলে, এ দেশে সেভাবে নারীকেন্দ্রিক গল্প নিয়ে কাজ হয় না। তার ওপর এদেশে বয়স ৩০ হয়ে গেলে আর কিচ্ছু করার থাকে না। আমার ততদিনে ৩৪ হয়ে গেছে। এখন তো আমার ৩৭। সেখানে দাঁড়িয়ে আমি নতুন করে, অন্যরকম কাজ করতে চাই। সেটা অনেককে হতবাক করেছিল। আমি কাজটা তখন টাকার জন্যই করছিলাম। আর যাদের কাছে ভালো কাজ চেয়েছিলাম, তারা কেউই সিরিয়াসলি নেননি। তবে রেহানা মরিয়ম নূর-এর সময় আমি অডিশন দিই। এ ছবির পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ এবং গোটা টিমের মধ্যে একটা সততা দেখতে পেয়েছিলাম, যেটা আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। প্রশ্ন: সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সিরিজ 'রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি'র জন্য ইতোমধ্যেই কলকাতায় আপনাকে নিয়ে কথা হচ্ছে বাঁধন: এর পেছনে মজার একটা গল্প আছে। সৃজিতের সঙ্গে আমার আগে কোনোদিন পরিচয়ই হয়নি। কখনও যোগাযোগই হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমাকে যোগাযোগ করেন। প্রথমে তো আমি ভেবেছিলাম সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নাম করে কেউ ফেক প্রোফাইল থেকে এমনটা করছেন। হঠাৎ করে কেনই বা সৃজিতের মতো একজন পরিচালক আমাকে চিনবেন, কেনই বা আমাকে তার ওয়েব সিরিজে নেবেন? ব্যাপারটা ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়। চটজলদি পিডিএফ ডাউনলোড করে বইটা পড়ে ফেলি। সৃজিতের মতো পরিচালক এ চরিত্রে আমাকে ভেবেছেন, আমি খুব অবাক হয়েছিলাম। আমাকে ভীষণভাবে সাহায্য করেছেন সৃজিত, এ চরিত্রটাকে ঠিক করে বোঝানোর ক্ষেত্রে। আসলে আমার কাছে ভালো অভিনেতা বলে কিছু নেই, ভালো পরিচালকে আমি বিশ্বাস করি। একজন ভালো পরিচালক, অভিনেতার কাছ থেকে সেরাটা বের করে নেন। আমি তাই পুরোটাই বিশ্বাস করেছি সৃজিতের ওপর। সৃজিত অনলাইনে আমার সঙ্গে ছবি নিয়ে আলোচনা করতেন। ওখানেও যখন গিয়েছিলাম, তখন সারাদিন হাতে চিত্রনাট্য থাকত আমার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সৃজিত আমার সঙ্গে রিহার্সাল করেছেন। আসলে আমি নিজেকে ভালো অভিনেত্রী বলব না। বরং পরিশ্রমী অভিনেত্রী বলব। প্রশ্ন: তাহলে এ ছবির জন্য হ্যাঁ করার কারণ, শুধুই সৃজিত? বাঁধন: অবশ্যই সৃজিত একটা প্রধান কারণ। দ্বিতীয়টা হল, গল্প। মুস্কান জুবেরির চরিত্রটা করার লোভ কোনো অভিনেত্রী সামলাতে পারবেন কি-না, জানি না। তার ওপর আমাদের এখানে নারী প্রধান গল্প নিয়ে একদম ছবি হয় না। হলেও সেটা নয় তো খুব আদর্শবাদী নারী চরিত্র বা ডাইনি নেগেটিভ চরিত্র। এর মাঝে যে একটা গ্রে পার্ট থাকে, সেটা নিয়ে কোনো কাজই হয় না। লেখক মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন এ রকম একটা গল্প লিখেছেন, এ রকম একটা চরিত্রে জন্ম দিয়েছেন, সেটার জন্য আমি তাকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রশ্ন: ট্রেলার দেখে যা বোঝা যাচ্ছে, সৃজিতের সিরিজে আপনিই রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু। চরিত্রটা নিয়ে যদি একটু বলেন। বাঁধন: হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। এ সিরিজের গল্প একেবারেই আমাকে কেন্দ্র করে। তাই বাড়তি একটা চাপ তো ছিলই। প্রচুর রিহার্সাল করেছি। এছাড়াও আমার মনে হয়, মুস্কান চরিত্রটাকে আমি অনেক বেশি বুঝতে পেরেছি। আমি আসলে মুস্কানকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। এ কারণেই হয়ত মুস্কান চরিত্র আমার কাছে সহজ হয়ে গিয়েছিল। প্রশ্ন: ভারতের বাংলা বা হিন্দি ছবিতে কাজ করতে চান? কার কার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে? বাঁধন: শুধু বাংলা বা হিন্দি ছবি নয়। আমি চাই ভালো, সৎ, পরিশ্রমী পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে। ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। প্রশ্ন: নতুন কোনো প্রজেক্ট বাঁধন: একটা অডিশনের কথা হয়েছে। তবে তা খুব প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে এখানে আমি একটা কথা বলতে চাই, আমার যখন ৩৪ বছর বয়স ছিল, তখন থেকেই আমি নিজের মতো করে বাঁচব বলে ঠিক করেছিলাম। এখন তো আমার বয়স ৩৭। এ বয়সে, এক নারী কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের মতো করে বেঁচে আছে, সেটা যদি অন্যকে অনুপ্রাণিত করে, তাই একটু অন্যরকম কাজ করতে চাই। সেই কাজের মধ্যে দিয়েই লড়াইটা জিততে চাই। এখন আমার সাফল্য লোকে দেখছে। এর নেপথ্যে যে, একটা না পাওয়ার সংগ্রাম আছে, সেটা যেন সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। আপাতত, এটাই আমার দর্শন। | 2 |
গুঞ্জন নয়, শোনা যাচ্ছে নয়, এমনকি কোনো সূত্রের বরাতেও নয়। পিয়া জান্নাতুল নিজেই খবরটি নিশ্চিত করলেন। তিনি বললেন, মাসুদ রানায় আমিও আছি, আর অভিনয় করছি 'ক্যাপ্টেন রূপা' চরিত্রে। তিনি বলেন, সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা সম্পন্ন হয়েছে ছবিটির প্রডাকশন হাউজের সঙ্গে। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে পিয়া আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি মাসুদ রানা সিরিজের ভক্ত। আর এর 'ক্যাপ্টেন রূপা' চরিত্রটি আগে থেকেই মনে দাগ কেটে আছে। আশা করি এই চরিত্রে অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি নিতে পারবো। | 2 |
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) সপ্তাহব্যাপী বিশেষ "মশক নিধন অভিযান" শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান আগামী ১৬ মার্চ (বুধবার) পর্যন্ত চলবে। ডিএনসিসির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সকালে অভিযানের শুরুতে মিরপুর ৪ অঞ্চলের আওতাধীন ইব্রাহিমপুর খাল এলাকায় এ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, "সপ্তাহব্যাপী বিশেষ এই অভিযানের লক্ষ্য হলো মশার পরিমাণ ব্যাপভাবে কমিয়ে আনা।" ডিএনসিসি জানিয়েছে, উত্তর সিটি করেপোরেশনের প্রতিটি অঞ্চলের সব ওয়ার্ডে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৮৯৬ জন মশককর্মী এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। সকাল ও বিকাল দুইবেলাই বিশেষ এই অভিযান চলবে। তাছাড়া একজন মশককর্মী ৯০ সিসি কীটনাশক ব্যবহার করবেন। সাধারণত অন্য সময়ে একজন মশককর্মী ৬০ সিসি কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। প্রসঙ্গত, ১০ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী "বিশেষ মশক নিধন অভিযান" পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। | 6 |
ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে হেফাজতে ইসলামের হরতালে পুলিশের মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।রিভার্স সার্চ করে দেখা গেছে, ছবিটি এ বছর বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতার।বাংলাট্রিবিউনে ২৭ জানুয়ারি ২০২১-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ছবিটি পাওয়া গেছে। 'ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১৫ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক আহত' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে এই ছবি পাওয়া যায়। এছাড়া গত ২৬ জানুয়ারি যমুনা টিভি অনলাইনে এই ছবিটি দেখা গেছে। তাদের খবরের শিরোনাম ছিল, 'পাথরঘাটায় নির্বাচনী সহিংসতায় রণক্ষেত্র, ওসি সাংবাদিকসহ আহত শতাধিক'।একইসময়ে ঢাকাটাইমস২৪ ডটকম নামের অনলাইন পোর্টালের একটি প্রতিবেদনেও ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত পাথরঘাটা পৌরসভার নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে সেখানে সাংবাদিকসহ বেশ কিছু পুলিশ সদস্য আহত হন।সাম্প্রতিক মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে ডাকা কর্মসূচিতে কোথাও পুলিশ নিহত হওয়ার কোনো খবর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি, মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও এমন কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি।রাজ আশিক ও এইচ এম সিদ্দিকুর রহমান নামের আইডি থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয় যার ক্যাপশন ছিল, 'আলহামদুলিল্লাহ, ১ উইকেট পরে গেছে। সরাইল বিশ্বরোডে ১জন পুলিশের দেহ থেকে মাথা আলাদা'। ছবিটিতে বেশ কিছু পুলিশকে শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে হেফাজতে ইসলামের কোন কর্মসূচির নয়। | 6 |
চীনের ভেতরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যসনদ পরিদর্শনের একটি কর্মসূচি চালু করেছে দেশটি। একে বলা হচ্ছে 'ভাইরাস পাসপোর্ট'। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিশ্বে প্রথম এমন পদক্ষেপ নিল চীন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, গতকাল সোমবার এই ডিজিটাল সনদ চালু করা হয়। এ সনদে যাত্রীর টিকাদান এবং ভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্টবিষয়ক তথ্য থাকবে। চীনা নাগরিকেরা তাঁদের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটের মাধ্যমে এটি পাবেন। ডিজিটাল পদ্ধতি ছাড়াও কাগজে ছাপানো সনদও চাইলে সংগ্রহ করতে পারবেন ভ্রমণকারীরা। বলা হচ্ছে, এটিই এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রথম 'ভাইরাস পাসপোর্ট'। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, 'বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আন্তসীমান্ত ভ্রমণের সহায়তায় এই সনদ চালু করা হলো।' যদিও ভ্রমণের সময় এত দিন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসনদই দেখিয়ে আসছিলেন চীনা নাগরিকেরা। তবে সেটি বাধ্যতামূলক ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ আরও কয়েকটি দেশ এ ধরনের পাসপোর্ট চালু করার কথা ভাবছে। টিকা গ্রহণকারীদের জন্য একই ধরনের 'গ্রিন পাস' নিয়ে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যা দিয়ে জোটভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকেরা সদস্য দেশগুলোর এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন। গতকাল দেশটির সরকারি গণমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, এই ডিজিটাল সনদে একটি কিউআর কোডও যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো দেশ চাইলে কোনো ভ্রমণকারীর স্বাস্থ্য নিয়ে তথ্য জানতে পারবে। অভ্যন্তরীণ যাতায়াত এবং জনসমাগমস্থলে প্রবেশের জন্য ইতিমধ্যে উইচ্যাটের মাধ্যমে কিউআর কোডের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ উদ্যোগে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে সরকারের নজরদারি কার্যক্রম বাড়তে পারে। কোনো যাত্রীর অবস্থান শনাক্ত করে যদি দেখা যায়, তিনি কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিলেন না বা ভাইরাসের হটস্পট এলাকা ভ্রমণ করেননি, তাহলে তাঁর ক্ষেত্রে 'সবুজ' কোড আসবে, যার মানে এই যাত্রী সুস্থ। | 3 |
প্রতি বছর কোরবানিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বসে অস্থায়ী পশুর হাট। এসব হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা গরু-ছাগল নিয়ে আসে। অনেক সময় দেখা যায় অতিরিক্ত গরমে বা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসার কারণে পশুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় এসব পশু মারাও যায়। তাই রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।গতকাল সোমবার রাজধানীর আফতাবনগর হাটে গিয়ে দেখা যায়, চার সদস্যের একটি চিকিৎসক দল পশুর বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। বুথে আসা ব্যাপারী আকমল হোসেন বলেন, আমি পাবনা থেকে ১৩টি গরু আনছি। কিন্তু আসার পথে গাড়িতে দীর্ঘসময় থাকার কারণে দুইটি গরুর পায়ে সমস্যা হয়। হাটে এসে অনেক ঘোরাঘুরির পর জানতে পারি এখানে গরুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখানে আনার পর ডাক্তাররা কিছু ওষুধ এবং পরামর্শ দেন। আমার গরুগুলো এখন মোটামুটি সুস্থ আছে।আফতাবনগর হাটে চিকিৎসকদলের প্রধান ওসমান গনি বলেন, অস্থায়ী হাটগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পশু আসে। এসব পশু অনেক ক্ষেত্রে আসার সময় আঘাত পায় বা ক্লান্ত থাকে যা প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে সারানো যায়। তাই আমরা পশুর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। অনেকেই সেবা নিতে নিজেদের গরু-ছাগল নিয়ে এখানে আসছেন।ওসমান গনি আরও বলেন, রাজধানীর প্রত্যেকটি পশুর হাটেই আমাদের টিম আছে। আফতাবনগর হাটে আমরা সোমবার ১৪৭টি গরু এবং ১৯টি ছাগলকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। আমাদের এই সেবা আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। | 6 |
আশুলিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের কর্মবিরতিকে 'বেআইনি ও অযৌক্তিক' বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে বুধবারের মধ্যে কাজে যোগ দিতে শ্রমিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
শ্রমিকদের দাবি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'আপাতত মজুরি বোর্ড গঠনের কোনো সুযোগ নেই।'
'পোশাক খাতে সামাজিক সংলাপ, নারী-পুরুষ সমতা ও বাঁচার মতো মজুরি' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ডেইলি স্টার ভবনে 'ফেয়ার ওয়ার ফাউন্ডেশন' এ বৈঠকের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'পোশাক খাতের রফতানি বাজারে এখন ভরা মৌসুম। এ মুহূর্তে বেতন বাড়ানোর আন্দোলন গভীর ষড়যন্ত্র। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ন্যূনতম মুজরি বাড়ানোর সময় হয়েছি কি-না তা আরও ভাবতে হবে। আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর পর মজুরি বোর্ড গঠন করার কথা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার পর মাত্র তিন বছর পার হয়েছে।'
পোশাকের বিদেশি ক্রেতাদের সমালোচনা করে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, '৯২ ডলারের পোশাকে মাত্র ১২ ডলার পায় কারখানা কর্তৃপক্ষ। মাঝখানে ৮০ ডলারই নিয়ে যায় ক্রেতারা। ক্রেতারা মুনাফা করবেন বেশি কিন্তু দর কম দেবেন-এ দ্বিমুখী নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।'
বৈঠকে বাংলাদেশ লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণ সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পর সরকারের উচিত বেসরকারি খাতে মজুরি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া। শোভন কাজের শর্তই হচ্ছে শোভন মজুরি।'
ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, 'সামাজিক সংলাপে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ থাকে না। মালিকদের ইচ্ছামতোই হয়। শুধু বৈধতা দিতে শ্রমিকদের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে সামাজিক সংলাপ অর্থপূর্ণ হবে না।'
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন 'নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের' নির্বাহী পরিচালক মাসুদা খাতুন শেফালি, শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার, নাহিদুল হাসান নয়ন প্রমুখ।
| 0 |
'আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা যেন বিজয়ী হতে পারে-সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সবাইকে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। যাঁরা আওয়ামী লীগ করেও নৌকার প্রার্থীদের হারানোর চেষ্টায় বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে করোনার কারণে আওয়ামী লীগের অনেক জেলা, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন শেষ করা যায়নি। অনেক কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। এই মুহূর্তে করোনার সংক্রমণ অনেকটা কমে এসেছে, এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ শুরু করতে হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করে দলকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। অসৎ, সুযোগসন্ধানী ও সুদিনের মৌমাছির মতো যাঁরা দলে ভিড়েছেন, তাঁদের কোনোভাবেই কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না বলে জানান আব্দুর রাজ্জাক। কমিটিতে তৃণমূলের পরীক্ষিত, নিবেদিত ও দুঃসময়ে যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদেরই জায়গা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপজেলার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সম্মেলন এবং কমিটি গঠনের কার্যক্রম দ্রুত করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। এদিকে বিএনপির উদ্দেশে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'আন্দোলন-সংগ্রামের নামে গাড়িতে, বাড়িতে, রাস্তায় নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মারা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ড থেকে আপনারা বিরত থাকুন। আগামী ২০২৩ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। দেশের জনগণ আপনাদের ভোটে বিজয়ী করলে আমরা আপনাদের স্বাগত জানাব। কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রামের নামে সন্ত্রাস-নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো যাবে না, সে শক্তি বিএনপির নেই।' মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে হাউজিং কোম্পানির জায়গা ভরাটের জন্য মাটি বহনকারী গাড়ি চলাচল করায় নষ্ট হয়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা রাস্তা। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। বাড়ছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি।উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের শুলপুর উচ্চবিদ্যালয়ের গেটের সামনে থেকে ওয়েস্টার্ন সিটি প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা রাস্তা একেবারে নষ্ট করে ফেলেছে এশিয়ান টাউন ও ওয়েস্টার্ন সিটি নামের দুটি হাউজিং কোম্পানির মাটি বহনকারী গাড়ি। এতে করে ওই রাস্তা দিয়ে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, এশিয়ান টাউন ও ওয়েস্টার্ন সিটি নামের দুটি হাউজিং কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে জমি ভরাট করছে। এতে প্রতিদিন শতাধিক মাটি বহনকারী মাহিন্দ্রা ও ড্রামট্রাক চলছে এ সড়ক দিয়ে। ট্রাকের বড় বড় চাকা প্রতিনিয়ত পাকা রাস্তায় চলাচল করায় পিচ ও পাথর গুঁড়ো হয়ে ধুলোবালিতে পরিণত হচ্ছে। পরে সেগুলোই উড়ে পথচারীদের চোখেমুখে পড়ছে। যার কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ছাড়া মাটি বহনকারী গাড়ি থেকে কাদামাটি পাকা রাস্তায় পড়ে হরহামেশাই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এর ফলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হাউজিংয়ের গাড়ি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।শুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জয়নাল বলেন, 'হাউজিং কোম্পানির জমি ভরাট করার জন্য শত শত গাড়ি এ রাস্তায় মাটি বহন করে। এসব গাড়ি আমাদের পাকা রাস্তা একেবারে নষ্ট করে ফেলেছে। গাড়ি থেকে মাটি পড়ে রাস্তার ওপর এক ফুট উঁচু হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা। অনেক সময় কাদার কারণে মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই উপজেলা প্রশাসনের কাছে এর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।'ওয়েস্টার্ন সিটি প্রকল্পের হেল্প নম্বরে ফোন দিলে এক কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা এই রাস্তার ক্ষতি করিনি। এ রাস্তা এশিয়ান টাউন নষ্ট করেছে। এই রাস্তার বিষয়ে আপনাকে আরও জানাতে পারবেন আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তা।'এ বিষয়ে এশিয়ান টাউন নামের হাউজিং কোম্পানির কেউ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।কেয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আশরাফ আলী এ বিষয়ে বলেন, 'এশিয়ান টাউন নামের হাউজিং কোম্পানির শত শত গাড়ি মাটি বহন করে তাদের জমি ভরাট করছে। এর কারণে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে করা রাস্তাটি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং বিভিন্ন দপ্তরকে জানিয়েছি। এ ছাড়া হাউজিং কোম্পানির লোকজনকেও জানিয়েছি। যাতে করে তাঁরা এ রাস্তাটি নষ্ট না করেন। তাঁরা যেহেতু কথা না শুনে রাস্তা নষ্ট করেছেন, সে জন্য আমাদের দাবি তাঁরা যেন রাস্তাটি ঠিকঠাক করে দেন।'এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এই রাস্তাটি আমি সরেজমিন দেখে তারপর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।' | 6 |
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলার উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ আবুল কাশেম আজাদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. শাহাদুজ্জামান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১০/১২ দিন আগেআবুল কাশেম আজাদকরোনায় আক্রান্ত হন। তিনি ছুটি নিয়ে ময়মনসিংহে নিজের বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন। বাসায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এক সপ্তাহ আগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান তিনি। আবুল কাশেম আজাদের বাড়িসিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায়। তিনি স্বপরিবারে ময়মনসিংহ জেলায় থাকতেন। | 6 |
শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহত শিশু জায়ান চৌধুরীর লাশ মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি আট বছরের জায়ান চৌধুরী পরিবারের সাথে বেড়াতে গিয়ে শ্রীলঙ্কায় রোববারের বোমা হামলায় নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় শিশুটির বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সও আহত হন বলে গণমাধ্যমকে জানান শিল্পমন্ত্রী। শেখ সেলিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই। সোমবার শেখ সেলিমের বাসায় গিয়ে তাকে সান্ত্বনা জানানোর পর শিল্পমন্ত্রী মি. হুমায়ূন বিবিসি বাংলাকে জানান, জায়ান চৌধুরীর লাশ মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। তবে জামাতা মশিউল হক চৌধুরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এখনই তাকে দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না এবং তাকে হয়তো আরো কয়েকদিন সেখানে থাকতে হবে। তবে শিশুটির মৃত্যুর খবর এখনো তার বাবা-মাকে জানানো হয়নি বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন। মি. হুমায়ূন বলেন, প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল যে শিশুটি হয়তো নিখোঁজ রয়েছে, তবে পরে পরিবারের সদস্যরা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে তার লাশ সনাক্ত করেন। শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া তার স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তারা একটি হোটেলে ছিলেন। সকালে বোমা হামলার কিছু আগে বড় ছেলে জায়ানকে নিয়ে মশিউল হক চৌধুরী সকালের নাস্তা করার জন্য নিচের রেস্তোরাঁয় যান। ছোট ছেলে জোহানকে নিয়ে শেখ সোনিয়া তখনো হোটেলে নিজেদের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। জায়ান চৌধুরী ঢাকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করতো বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বাসস জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনেই সফরের সময় রোববার একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, 'সেলিমের মেয়ে-জামাই ও নাতি এ সময় একটি রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলেন। সেখান একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মেয়ে-জামাই আহত হন এবং (গতকাল) বিকেল পর্যন্ত নাতির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।' শ্রীলঙ্কায় হামলার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে এক শিশুসহ দুই বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তিনি কারো পরিচয় জানাননি। শাহরিয়ার আলম বলেন, "আমরা জেনেছি একটি পরিবারের চারজনের মধ্যে দুজন 'রিপোর্টেড' (খোঁজ পাওয়া গেছে)। বাকি দুজনের একজন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিখোঁজ। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো কিছুই জানা যায়নি। আমরা আশা করছি তাদের কোনো হোটেল বা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আমরা জানতে পারলেই জানিয়ে দেয়া হবে।" রোববার ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানমালা চলার সময় শ্রীলঙ্কার অন্তত ছয়টি স্থানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। | 6 |
ধান মজুত থাকার পরও কেন চাল আমদানি হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাঁর অভিযোগ, চাল আমদানির মাধ্যমে সরকার তাদের সমর্থক ব্যবসায়ীদের টাকা পাচারের সুযোগ করে দিয়েছে। আজ শুক্রবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ মন্তব্য করেন। বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করে বিএনপি। খন্দকার মোশাররফ আরও বলেন, 'গুঞ্জন আছে, বাংলাদেশ থেকে যারা টাকা বিদেশে পাচার করে দিতে চাচ্ছেন, তাদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য চাল আমদানির ঘটনা ঘটছে। ধান মজুত থাকার পরও কেন চাল আমদানি করা হচ্ছে? কারণ এখানে টাকা পাচারের ষড়যন্ত্র আছে। আর যারা এটা করছে, তারা বর্তমান সরকারের ব্যবসায়ী।' কৃষকদের ধান পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, কৃষকেরা তাদের ধানের মূল্য পাচ্ছে না। এ কারণে তাদের পাকা ধান পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এটা আমাদের বাংলাদেশের জন্য খুবই অশুভ সংকেত। আর এটা ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু সরকার এটা পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসনে আরও বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল বিদেশে রপ্তানি করার চেষ্টা করছে। অপরদিকে সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করছে। এখানে আমাদের প্রশ্ন, চাল তো মজুত আছে। আর যেখানে কৃষক পাকা ধান পুড়িয়ে ফেলছে, সেখানে কৃষকের কাছ থেকে যদি একটু উঁচু দামে ধান কেনা হতো, তাহলে তো কৃষক ধান পুড়িয়ে দিত না। বিএনপি সংকটে নয়। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর ইশারায় এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দল পরিচালনা করছি। মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদ নয়। মানুষের কোনো শান্তি ও কথা বলার অধিকার নেই। দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার নেই। একটি দেশে যদি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার না থাকে, তাহলে ধর্ম-কর্মের অধিকার কি থাকে? তাই আজকে ধর্ম-কর্মের অধিকারও নেই। কারণ আজকে বাংলাদেশকে ধর্মহীন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার কারাবাসের বিষয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, কোনো আইনের কারণে নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক জন গোমেজ প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সুভাষ চন্দ্র চাকমা, প্রধান চন্দ্র চাকমাসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
ঢাকার কদমতলীতে আগুন লেগে ২১টি বসত ঘর পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় দেলোয়ার নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ভোর পৌনে ৩টার দিকে শ্যামপুর বরইতলা এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা লিমা খানম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একতলা একটি ভবনের ছাদের ওপর টিনশেড ২১টি ঘর বানিয়ে নিম্নবিত্তের মানুষদের ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সোমবার ভোর পৌনে ৩টার দিকে কোনো একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ২১টি ঘর পুড়ে যায়। একটি কক্ষ থেকে দগ্ধ অবস্থায় দেলোয়ার নামে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। লিমা খানম জানান, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা। কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর জানান, দেলোয়ার স্থানীয় একটি মিলে কাজ করতেন। ওই ঘরে তিনি একাই থাকতেন। আগুন লাগার পর অন্য বাসিন্দারা বের হতে পারলেও দেলোয়ার পারেননি। ঘরের ভেতরেই আগুনে পুড়ে মারা যান তিনি। | 6 |
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকা ক্লাব। এই ক্লাবের সঙ্গে জড়িত আছে বঙ্গবন্ধু নানা স্মৃতি। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষণের সেই দিনের সাক্ষী এই ক্লাব। ১৬ ডিসেম্বর যে টেবিলে পাকিস্তানিবাহিনি আত্নসমর্পণ করে সেই টেবিলটি ছিল ঢাকা ক্লাবের। একসময় বাংলাদেশে ও ঢাকা ক্লাব দুটোই উপনিবেশিকতায় বন্দি ছিল। আজ বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বাংলাদেশ এবং ঢাকা ক্লাব স্বাধীন। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু ও বিজয় দিবসের সঙ্গে ঢাকা ক্লাবের পরম্পরা, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের চিত্র তুলে ধরেন আয়োজকরা। 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা ক্লাব' এই তিন বিষয়ের ইতিহাস তুলে ধরেন ঢাকা ক্লাব লি. এর সম্মানিত সভাপতি খন্দকার মশিউজ্জামান (রোমেল), সদস্য মাহবুব উদ্দীন আহমদ (বীর বিক্রম), মু্ক্তিযুদ্ধ যাদুঘর এর ট্রাস্টি ড.সারওয়ার আলী, অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক মঞ্চসারথি আতাউর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। দিনব্যাপি তিন পর্বে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। প্রথম পর্বে ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও 'বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা ক্লাবের' স্মৃতিচারণ। দ্বিতীয় পর্বে নবাগত দায়িত্বপ্রাপ্তদের পরিচিতি সভা ও ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবানি ভোজ। তৃতীয় পর্ব বিকেলে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্বাগত বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে মশিউজ্জামান (রোমেল)। তিনি বলেন, আমাদের জন্য স্বাধীন ভূখন্ডের স্বপ্ন দেখিয়েছে বঙ্গবন্ধু। তিনি না থাকলে স্বাধীন ভূখন্ড পেতাম না। পৃথিবীর অনেক দেশ বঙ্গবন্ধু স্মরণ করে। উনার ৭ মার্চ এর ভাষণ ইউনেস্কো স্বীকৃত। কিন্তু দুঃখের বিষয় বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়। হত্যা করেও বঙ্গবন্ধু ও উনার আদর্শকে পৃথীবি থেকে মুছে ফেলা যায়নি। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে বীর বিক্রম মাহাবুব বলেন, এই প্রজন্ম যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে চেনার জানার চেষ্টা করছে, তাতে আমি খুবই আনন্দিত। বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির স্রষ্টা। ঢাকা ক্লাবের ইতিহাসের সাথে জড়িত আছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ৭ ই মার্চের স্মৃতি। রেসকোর্স ময়দানে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্থানিবাহিনিরা যে টেবিলে আত্মসমর্পণ করে সেই টেবিলটি এই ঢাকা ক্লাবের। এইখানে যারা যুক্ত আছেন তারা ঢাকা ক্লাবের ঐতিহ্য লালন করবেন। ঢাকা ক্লাব ও বাংলাদেশের এতিহ্য অভিন্ন। তারা দুয়ের সম্মিলনে ঢাকা ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সরওয়ার আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সারাজীবন কেটেছে সাধারণ মানুষের সাথে। মানুষকে বুঝতে পেরেছে। মানুষ ভালোবেসেছে। তাই তিনি মানুষের মনে গেঁথে আছে। স্বাধীনত যুদ্ধের সময় উনি বিচ্ছন্নতাবাদী ছিলেন না। উনি বলতেন, আমি সংখ্যা গরিষ্ট, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হবো কেন। ৭ মার্চের ভাষণ আতাউর রহমান বলেন, তিনি আমাদের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছেন। ৭ মার্চের তুলনা হবে না। মার্টির লুথার কিং সহ অনেক বড় বড় বক্তৃতা আগে থেকে তৈরি করা ছিল। কিন্তু এটা হঠাৎ তৈরি। সংগ্রামের ফল। বঙ্গবন্ধুকে হার্বাট, অক্সোফোর্ট থেকে রাজনীতি শিখতে হয়নি। মানুষকে ভালোবেসেছেন। তাই তিনি মানুষের কাছ থেকে রাজনীতি শিখেছেন। আজ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিয়েছেন, ঢাকা ক্লাবও ঔপনিবেশিকতা মুক্ত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে ধারণ করে ঢাকা ক্লাব এগিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের। | 6 |
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে বুধবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন বুধবার তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে তারা সেখানে অবস্থান করছেন।নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারীরা বুধবার দিনভর কর্মসূচিতে অংশ নেন।সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায়ের নেতৃত্বে ফেডারেশনের নেতারা দিনভর তাদের বক্তব্যে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার এই কর্মসূচি চলবে। রাজপথ ছাড়া হবে না।আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আরও দু'দিন টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবেন।দেশে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পাঁচ হাজারের মতো নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা এক লাখের বেশি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থী শিক্ষা নিচ্ছে।আন্দোলনকারীরা বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই নিয়মে পরিচালিত হয়। একই কারিকুলাম, সিলেবাস ও প্রশ্নপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা বোর্ড থেকে একই মানের সার্টিফিকেট অর্জন করে। যে কারণে স্বীকৃতির সময় থেকে তাদের বেতন পাওয়ার কথা। অথচ এসব স্কুলের শিক্ষকরা বেতন পান না। কবে পাবেন তাও তাদের জানা নেই। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় সমকালকে জানান, দেশের ৫ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিষয়টি আন্দোলনরত প্রত্যেক শিক্ষকের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন সময় সরকার-সংশ্নিষ্টরা এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়েও তা রক্ষা করেননি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
| 6 |
কমলগঞ্জের পতনঊষার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী রাজিয়া ইসলাম নিছা। গতকাল রোববার ভোরে তার বাবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাড়িতে বাবার লাশ রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিতে যায় রাজিয়া ইসলাম নিছা।তার বাবা মিজানুর রহমান বাবু (৪৫) উপজেলার পতনঊষার এলাকার বাসিন্দা। তিনি সিলেট উইমেন্স হাসপাতালে মারা যান।এ বিষয়ে স্বজনরা জানান, আজ নিছার এসএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন। এরই মধ্যে তার বাবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ভোরে সিলেট উইমেন্স হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুর পর বাবা হারা নিছা ভেঙে পড়লেও স্বজন ও শিক্ষকেরা বোঝানোর পর সে সকালে পরীক্ষায় অংশ নেয়।পতনঊষার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফয়েজ আহমেদ বলেন, 'পরীক্ষার্থী নিছার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা শুনে সকালে তার বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নিয়ে আসি।'এ ব্যাপারে কালী প্রশাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল বলেন, নিছা সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দেয়। সার্বক্ষণিক আমরা তার খোঁজখবর রাখছি। | 6 |
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে ১৪১তম ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ) সম্মেলনের উদ্বোধনীতে অংশ নিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রোববার তিনি এতে অংশ নেন। এদিন একই ভেন্যুতে স্পিকারের সঙ্গে আলজেরিয়া পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট স্লিমানে চেনাইন বৈঠক করেন। এতে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, সংসদীয় চর্চা, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খবর বাসসের সোমবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্লিমানে চেনাইনের সঙ্গে বৈঠকে স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারাবাহিক নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ৫০টি সংসদীয় কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্পিকার আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্ক ঐতিহাসিক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই আলজেরিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। স্লিমানে চেনাইন বলেন, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে দু'দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হতে পারে। ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দুই দেশ আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, আইপিইউ সম্মেলন এমন এক মিলনমেলা যেখানে বিশ্বের সকল দেশ মত-বিনিময়ের সুযোগ পায়। সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। এ সময় বাংলাদেশ সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চীফ হুইপ নূর -ই-আলম চৌধুরী, হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ এমপি, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু এমপি এবং মো. হাবিবে মিল্লাত এমপি, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এমপি, আবদুস সালাম মূর্শেদী এমপি, পীর ফজলুর রহমান এমপি, সুবর্ণা মুস্তাফা এমপি, শবনম জাহান এমপি, সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান এবং ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
১৫ নভেম্বর 'রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ' (আরসিইপি) নামে এক নতুন আঞ্চলিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সারা বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে। এই চুক্তিকে একাধারে বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোট এবং বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে এটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলেছে। এই চুক্তির সদস্য এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৫টি দেশ। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সংস্থার (আসিয়ান) ১০ সদস্য-ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাও পিডিআর, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। এই দেশগুলো বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে আছে। চুক্তিটি ভূ-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বাণিজ্য সংকুচিত হয়েছে। এ কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই পরিপ্রেক্ষিতে আরসিইপি চুক্তিটি এর সদস্যদেশগুলোর জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে এই বাণিজ্য চুক্তিকে নতুন বিশ্বব্যবস্থার দিকে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে এশীয় অঞ্চলের আধিপত্য থাকবে। আরসিইপি চুক্তিতে স্বাক্ষরের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে পৃথিবী করোনাভাইরাস অতিমারির কারণে বিপর্যস্ত। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী এই দেশ রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুঃখজনকভাবে, অতিমারি এবং এর থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা-উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং আরসিইপিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব শক্তিশালী হওয়ার একটি উপায় মনে করা হচ্ছে। কেননা, এই অঞ্চলে অনুরূপ বাণিজ্য চুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনুপস্থিত। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা 'কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (সিপিটিপিপি)' নামক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ওই চুক্তি থেকে সরে এসেছিল। সিপিটিপিপির ১২টি দেশ হলো অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, কানাডা, চিলি, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দুটি চুক্তিতেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম-এ ছয়টি দেশ রয়েছে। তাই এ অঞ্চলে চীনের নেতৃত্বের পাশাপাশি টিপিপি একটি ভারসাম্য হিসেবে কাজ করতে পারে। শুরুর দিকে ভারত এই চুক্তির আলোচনায় থাকলেও ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারত এই চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় তার দেশীয় শিল্প রক্ষার যুক্তিতে। এর ফলে চীন ১৪টি আরসিইপিভুক্ত দেশে তার মূল্য শৃঙ্খল বা ভ্যালু চেইন সংহতকরণের মাধ্যমে আরও প্রভাবশালী হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক প্রভাব কমআরসিইপিভুক্ত দেশগুলোয় বাংলাদেশের রপ্তানির ধরন থেকে ধারণা করা যায়, বাংলাদেশের এ মুহূর্তে খুব চিন্তিত হওয়ার পরিস্থিতি হবে না। অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি আরসিইপিভুক্ত দেশে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বিভিন্ন ধরনের অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা পেয়ে থাকে। বর্তমানে আরসিইপি অঞ্চলে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি যায় ওই দেশগুলোয়। আরেকটি বিষয় হলো, এ ধরনের বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি থেকে সুবিধা আদায় করতে অনেক লম্বা সময় লেগে যায়। বস্তুত, আরসিইপিভুক্ত দেশগুলোয় ৯০ শতাংশ শুল্ক হ্রাস করা হবে দুই দশক ধরে। তা ছাড়া কমপক্ষে ছয়টি আসিয়ানভুক্ত দেশ এবং তিনটি আসিয়ানবহির্ভূত দেশকে এ চুক্তি অনুমোদন করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনের এ প্রক্রিয়া শেষ হতে ২০২১ সালের পুরোটাই লেগে যাবে। সুতরাং বাংলাদেশ তার কৌশল ঠিক করার জন্য কিছুটা সময় পাবে। তবে বাংলাদেশের যথেষ্ট চিন্তার কারণ আছে কম্বোডিয়া, লাওস ও মিয়ানমারের মতো তিনটি স্বল্পোন্নত দেশ এই চুক্তির সদস্য। এর মধ্যে লাওস ও মিয়ানমার উভয়ই বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তারা ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন এই বাণিজ্য চুক্তির অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে স্বল্পোন্নত এই দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পরও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা ভোগ করতে থাকবে, যেটি বাংলাদেশ পাবে না। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটার পর বাড়তি তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের প্রাপ্য সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারবে। কিন্তু তারপর আর সেই সুযোগ পাবে না। সুতরাং এ ধরনের বহুপক্ষীয় চুক্তির বাইরে থাকলে মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হচ্ছে ভিয়েতনামের বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ পাচ্ছে, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটলে বাংলাদেশের জন্য এই সুযোগ আর থাকবে না। অথচ ভিয়েতনাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে ভিয়েতনাম ইউরোপের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে। ভিয়েতনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন টিপিপিরও সদস্য, যদিও ওই চুক্তিটি এখন স্থগিত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেহেতু সরকার পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টিপিপি চুক্তিতে ফিরে আসতে পারেন। সুতরাং আরসিইপি, ইইউ এবং টিপিপির সঙ্গে সংযুক্ত থাকার ফলে ভিয়েতনামের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধার আওতা অনেক বেশি। তাই বাংলাদেশ এর ফলে প্রচণ্ড প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়বে। নতুন এই বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশকে অন্যান্য উপায়েও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করতে পারে। এ ধরনের মেগা বাণিজ্য চুক্তি কেবল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করে। তা ছাড়া আরসিইপিভুক্ত দেশগুলোয় 'রুলস অব অরিজিনের' ব্যাপারে অনেক ছাড় দেওয়া হবে। সহজ কথায় বলতে গেলে 'রুলস অব অরিজিন' হচ্ছে একটি পণ্য, যে দেশে উৎপাদিত হচ্ছে, পণ্যটিতে সে দেশের নিজস্ব অংশ কতখানি আর কতখানি আমদানি করে আনা হয়েছে। আরসিইপি সদস্যরা অনেক নমনীয় 'রুলস অব অরিজিনের' মাধ্যমে পণ্যের ওপর অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে। এটিও আরসিইপির সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যের মাধ্যমে সদস্যদের রপ্তানি বাড়িয়ে দেবে। তাদের কাছে বাংলাদেশ বা অন্য আরসিইপিবহির্ভূত দেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল হবে না। নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রস্তুতিযেহেতু বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) দোহা রাউন্ড বাণিজ্য আলোচনা এখনো অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে, তাই ডব্লিউটিওর সদস্যদেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হচ্ছে। আরসিইপি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির কারণে বাংলাদেশের যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোয় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনেকটা হ্রাস করা যাবে। বিমসটেকসহ একাধিক মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্য সংহতকরণ থেকে সুবিধা পাওয়ার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। আরসিইপির মাধ্যমে প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে রপ্তানি বাজার হারানোর আশঙ্কা থেকে বলা হচ্ছে যে বাংলাদেশের এই চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত। তবে এর পূর্বশর্ত হিসেবে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিতে হবে। নীতিনির্ধারকদের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা ছাড়া বিনিয়োগ ও রাজস্ব ক্ষেত্রে এই চুক্তির প্রভাব কেমন হবে, সে বিষয়ে বিশদ মূল্যায়নেরও প্রয়োজন। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আরসিইপি একটি পারস্পরিক চুক্তি। এর অর্থ হচ্ছে আরসিইপিভুক্ত সব দেশকে একে অপরের বাজারে অগ্রাধিকারমূলকভাবে ঢোকার সুবিধা দিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেলায় এটি প্রযোজ্য নয়। সুতরাং আরসিইপির মতো চুক্তিতে প্রয়োগ দেওয়ার আগে দেশীয় বাজারের ওপর তার প্রভাব সঠিকভাবে বুঝতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই চুক্তিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উন্নত মানের কার্যক্রম ও সেবার প্রয়োজন হবে। এই চুক্তিতে মেধাস্বত্ব অধিকার, ই-কমার্স, টেলিযোগাযোগ এবং আর্থিক ও পেশাজীবী সেবার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই চুক্তিগুলোয় অংশগ্রহণ করতে হলে বাংলাদেশকে বিভিন্ন নীতিমালার এবং অর্থনৈতিক সংস্কার করতে হবে। একটি কঠিন বাণিজ্য ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা করার জন্য দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ ধরনের প্রস্তুতি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে মসৃণ ও টেকসইভাবে উত্তরণ ঘটানোর জন্যও সহায়ক হবে। ড. ফাহমিদা খাতুন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক। মতামত লেখকের নিজস্ব। | 8 |
টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী নারী মমতা ব্যানার্জি। রাজনীতির মাঠে জনমানুষের কল্যাণে বেশ সক্রিয় বলে পরিচিত তিনি। নতুন করে শপথ নিয়েই তার ব্যতিক্রম ঘটতে দিলেন না। বেশ কয়েক দিনের নির্বাচনী ব্যস্ততা শেষে এবার করোনার দিকে মনযোগ দিতে চাচ্ছেন। তারই প্রমাণ দিলেন শপথের পর। শপথ ও ক্ষমতার মসনদে বসার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ করেই তিনি কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কোভিড টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্তও তিনি ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গেছে। যদিও কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও মমতা নিয়মিত কোভিড পরিস্থিতি নজরদারি করেছেন। ভোট পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি বৈঠক করতে পারেন। তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ গ্রহণ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকে নবান্নকে নতুন করে সাজানো শুরু হয়। ঝাড়পোঁছের পাশাপাশি বহু জায়গায় নতুন করে রংও করা হয়। কলকাতা পুলিশের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের বাজনদাররা মহড়াপর্ব চালান এদিন বিকেল থেকেই। | 3 |
বাংলাদেশে পত্রিকা অনেক। তার মধ্যে প্রথম আলোকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে পড়ি। কারণ, এখানে রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন প্রতিবেদন সবচেয়ে বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। তা ছাড়া থাকে বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ইস্যুগুলোর নিয়মিত ফলোআপ। তুলনামূলকভাবে অন্য পত্রিকাগুলোর চেয়ে প্রথম আলোতেই রাজনৈতিক বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়। এসব তথ্য আমার গবেষণায় ও লেখায় ব্যবহার করতে পারি। কোনো অনুষ্ঠান বা সেমিনার নিয়ে যখন কোনো প্রতিবেদন হয়, তখন তা অনেক সংক্ষেপে লিখতে হয়। আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, কাজটি প্রথম আলো সবচেয়ে সুন্দরভাবে করে। তারা একেবারে মূল বিষয়টি তুলে ধরতে পারে। দেশের সবচেয়ে ভালো উপসম্পাদকীয় রচনা পাই প্রথম আলোতে। সেখানে সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব ইস্যুতেই বিশিষ্ট লেখকদের বিশ্লেষণ ও মতামত পাই। প্রথম আলো একই সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সিরিয়াস পত্রিকা। সব ধরনের পাঠকের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা রয়েছে প্রথম আলোর। আমরা দেখি প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক পাতার মাধ্যমে সব ধরনের পাঠককে আকর্ষণের সুচিন্তিত উদ্যোগ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এবং নতুন প্রজন্মের রুচির সঙ্গে মিলিয়ে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। বহুল কাটতি ও একই সঙ্গে মান ধরে রাখার কাজটি কঠিন। প্রথম আলো এই দুয়ের মধ্যে সমন্বয় করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্বের বাংলাভাষী পাঠককে যুক্ত করে ফেলেছে প্রথম আলো। ছাপা পত্রিকা পড়া আমার অভ্যাস। সকালে নাশতার টেবিলে খাবার ও চায়ের সঙ্গে ছাপা প্রথম আলো আমার কাছে অপরিহার্য একটি উপাদান। সকালে উঠে পত্রিকাটি না পেলে মনে হয় কী যেন অপূর্ণ থেকে গেল। আসলে আমাদের জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ছাপা পত্রিকা। প্রথম আলোর ছাপা পত্রিকার পাঠকসংখ্যা ৫০ লাখ শুনে ভালো লাগল। আমিও এই পাঠকদের একজন। রওনক জাহান: রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং সিপিডির সম্মানিত ফেলো | 6 |
সম্প্রতি স্পেনের গবেষকরা মানুষসহ ১ হাজার ২৪টি স্তন্যপায়ী প্রজাতির প্রাণির মধ্যে ৪০ লাখ মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করেন। এর মধ্যে ২০১৫ সালে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ১৬ হাজার মানুষকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণ ছিল হিংসা, টাকা-পয়সা নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ এবং ভিন্ন ধরনের লোকদের প্রতি ঘৃণা। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণি জগতের মধ্যে নিজেদের প্রজাতির সদস্যদেরকে হত্যা করার ক্ষেত্রে শীর্ষ ৩০টি প্রজাতির মধ্যেও মানুষদের স্থান নেই। মানুষ ছাড়া নেকড়ে, সিংহ এবং বানর ও লেমুরসহ অন্যান্য প্রাইমেটরা আরো বেশি হারে নিজেদের মধ্যে খুনাখুনি করে। যেসব প্রজাতি নিয়ে গবেষণা চালানো হয়েছে তার মধ্যে অর্ধেকই নিজেদের প্রজাতির সদস্যদেরকে হত্যা করে। আর স্তন্যপায়ীদের মধ্যে প্রাইমেটরাই নিজেদের প্রজাতির সদস্যদের বেশি খুন করে। অন্যান্য স্তন্যপায়ীদের তুলনায় প্রাইমেটরা নিজের প্রজাতির সদস্যদের আটগুন বেশি হারে খুন করে। তবে মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ীদের মধ্যে খুনের পরিবেশ-পরিস্থিতি পুরোপুরি আলাদা থাকে। বেশিরভাগ স্তন্যপায়ীর মধ্যে বেশিরভাগ খুনের ঘটনা ঘটে শিশু শাবককে হত্যার মধ্য দিয়ে। মিরকাত প্রজাতির প্রাণিদের মধ্যে কর্তৃত্ববান নারী সদস্যরা তাদের অধীনস্থ নারীদের শাবক বা ছানাকে হত্যা করে। বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার | 5 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.