text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
অস্ত্র আইনের মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেকের (৬৩) বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ৫, ৬, ৭ ও ৮ এপ্রিল সাক্ষ্য নেয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। আদালতে মালেকের পক্ষে তার আইনজীবী আব্দুল মান্নান অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল এর বিরোধিতা করে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য নেয়ার দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালত মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন। গত ১১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১ এর এসআই মেহেদী হাসান চৌধুরী অভিযোগপত্র দাখিল করেন। প্রসঙ্গত, অবৈধ অস্ত্র, জাল নোট ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে ড্রাইভার মালেককে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। | 6 |
লোকাল বাসে হরহামেশাই সবচেয়ে বেশি সমস্যা নারীদের হয়। নিয়মিত যেসব নারী অনেক ভোগান্তি সহ্য করে যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে তাঁদের তিক্ত অভিজ্ঞতা শুনতে চাইলে তাঁরাও হয়তো অনেক বাজে অভিজ্ঞতা আর হয়রানির কথা বলবেন।'প্রতিবন্ধী ও নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৬টি আসন'-এ কথা নিয়ে কতজন কত যে ঠাট্টা করে, তা শুনে শুনে কান পচে গেছে অনেকের। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া ছেলেরাও যখন এ ধরনের কথা বলেন, তখন বিস্মিত হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।কেউ কেউ বলেন, 'প্রতিবন্ধী আর নারীদের সিট! এরা তো একই ধরনের, তাই নারীদেরও আলাদা সিট, হাহাহাহা!'কেউবা বলেন, 'এত্ত সম-অধিকার সম-অধিকার কইরা চিল্লায়, তাইলে বাসে আলাদা সিট লাগে ক্যান? খাড়াইয়া যাইতে পারে না আমগো মতো?'অথবা নারী সিটে বসে কোনো তরুণ বা পূর্ণবয়স্ক পুরুষ নিজের বানানো যুক্তি দিয়ে বলেন, '৬টা সিট নারীদের, বাকি সিট পুরুষদের, আমরা তো আমাদের (সংরক্ষিত আসন বাদে অন্য আসন) সিটে বসতে দিচ্ছি, তাহলে আমি নারীর সিটে বসলে কী সমস্যা!'দেখা যায়, কোনো বয়স্ক নারী বা বৃদ্ধ লোক দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁদের দেখে অনেক সময়ই ছেলে বা নারীরা সিট ছেড়ে বসতে দেন। অপরদিকে অন্য কোনো পুরুষ নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে গাঁট হয়ে বসে থাকেন, সবাই উঠতে অনুরোধ করলেও দিব্যি তা না শুনে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়েবসে থাকেন।অনেক সময় দেখা যায় খালি বাস, দু-একজন উঠেছে। কোনো আসনে কোনো নারীকে দেখে তাঁর পাশের আসনেই কিছু লোক এসে বসে পড়ে। বললেও সরতে চায় না, বাকি ফাঁকা সিটে যেতে বললেও যায় না।বেশি ভিড় যে সময়গুলোয়, তখন বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সময় ধাক্কা লাগলে (অনেক সময় ইচ্ছে করে ধাক্কা দেয় যা বোঝা যায়) একজন নারী যদি বলে বসেন, 'সরে দাঁড়ান, গায়ের ওপর পড়ে যাচ্ছেন তো।'জবাবে শুনতে হয়, 'এটা লোকাল বাস, ধাক্কা লাগতেই পারে বাস ব্রেক করলে, এত সমস্যা হলে নিজে গাড়ি কিনে চলাফেরা করেন।'এ ছাড়া গায়ে হাত দেওয়া, খোঁচা দেওয়া, বাজেভাবে তাকানো, সারা পথ তাকিয়ে থেকে অপ্রস্তুত অনুভব করানো-এসব যেন নিত্যদিনের চিত্র। আরও কষ্টদায়ক ব্যাপার হলো, নারীরা প্রতিবাদ করলে বাসে উপস্থিত অন্য পুরুষেরা পারতপক্ষে কোনো কথা বলেন না, যেন কিছুই হয়নি বা কেউ কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না।এ ধরনের পরিস্থিতিতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেই বরং লজ্জা পেতে হয়, মাথা নত করে থাকতে হয়। চারপাশের মানুষগুলো এমনই অনুভব করায়।নিয়মিত একই সময় একই রাস্তায় যাতায়াতের ফলে অনেক সময় কিছু বিকারগ্রস্ত মানসিকতার পুরুষ নির্দিষ্ট কিছু নারীকে ফলো করেন এবং তাঁর বাসের পেছনের সিটে বসে সিটেরপাশ দিয়ে গায়ে হাত ছোঁয়ানোরচেষ্টা করেন।এসব পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং কোনো নারী প্রতিবাদ করলে তাঁকে সহায়তা করতে হবে। এতে করে বিকারগ্রস্ত বা অসুস্থ মানসিকতার মানুষগুলো এত সাহস দেখাতে বা অন্যায় করতে পারবেন না। আর করলেও পরবর্তীকালে ফলাফলের কথা একবার হলেও ভাববেন। নারী-পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক, তাই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে বাংলাদেশের রাস্তায় নারীরা নিশ্চিন্তে যাতায়াত করতে পারবেন।নাফিসা চৌধুরী, আবৃত্তিকর্মী | 6 |
নরসিংদীর রায়পুরার বাঁশগাড়িতে নির্বাচনী সহিংসতায় ৩ জন নিহতের ঘটনায় বর্তমান নির্বাচিত চেয়ারম্যান রাতুল হাসান জাকিরসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪ রাউন্ড গুলি, ২টি বিদেশি ওয়ানশুটারগান ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রায়পুরার বালুয়াকান্দি এলাকার হাসান আলীর ছেলে ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রাতুল হাসান জাকির (৩২) ও বটতলী কান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে ফয়সাল আহমেদ সুমন (৩৫)।আজ সোমবার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।নরসিংদীতে ইউপি নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ৩পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নরসিংদীর রায়পুরার বাঁশগাড়িতে নির্বাচনী সহিংসতায় ৩ জন নিহতের ঘটনায় গত শুক্রবার মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার। এ ছাড়া বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রাতুল হাসান জাকির ও তাঁর বন্ধু ফয়সাল আহম্মেদ সুমনের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ ১০-১৫টি করে মামলা রয়েছে। এই ঘটনার জেরে গতকাল রোববার রাতে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন অফিসের ফটকের সামনে অভিযান চালায়। সেখান থেকে রাতুল হাসান জাকির ও তাঁর সহযোগী ফয়সাল আহমেদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি এলাকার একটি বালুর মাঠে মাটির নিচ থেকে বস্তার ভেতরে থাকা ২টি ওয়ানশুটারগান, ৪ রাউন্ড গুলি ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়। | 6 |
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পূর্ব বিরোধের জেরে ইখতেখার হাসান ইমন (১৭) হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তারা হলো দাউদকান্দি থানার মালাখালা গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে নাছির (৪০), আ. মান্নানের ছেলে ইয়াছিন (২২) ও বশিরের ছেলে হৃদয় (২৩) এবং নারিকেলতলা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মাইনুদ্দিন (১৮)। বৃহস্পতিবার র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার উপপরিচালক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য জানান। তাদের দুপুরে দাউদকান্দি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব কর্মকর্তা জানান, নিহত ইমন একই উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের পিপিয়াকান্দি গ্রামের আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি বরকোটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। তার সঙ্গে পাশের গ্রামের নাছির ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। গত ২০ ডিসেম্বর ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে গ্রেপ্তারকৃতরা ইমনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই দিন রাতে তার মৃত হয়। এ ঘটনায় নিহতের চাচা জামাল হোসেন বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে দাউদকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেন। | 6 |
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল বিক্রির সময় ওজনে কম দেয়ায় ভাতগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম বাচ্চুকে দেড় লাখ জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তার চাল বিক্রির লাইন্সেসও বাতিল করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার দুল্যামুনসুর বাজারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস জানায়, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর অধীনে ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ৮৪২ জন হতদরিদ্রের জন্য দুই জন ডিলার রয়েছেন। কার্ডধারীরা সেখান থেকে ১০ টাকা কেজি দরে সপ্তাহে তিন দিন ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন। ইউনিয়নটির ডিলার আশরাফুল আলম বাচ্চু সোমবার সকালে দুল্যামুনসুর বাজারের চাল বিক্রির সময় ৩০ কেজির স্থলে ২-৩ কেজি করে ওজনে কম দিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক সেখানে যান। তার সঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাব্বির আহমেদ মুরাদও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে আদালত ডিলার বাচ্চুকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন। একই অপরাধে তার নামে থাকা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর লাইন্সেসও বাতিল করা হয়। পরে বাচ্চু জরিমানার টাকা দিয়ে মুক্তি পান। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাব্বির আহমেদ মুরাদ বলেন, যেহেতু তার লাইন্সেস বাতিল করা হয়েছে সেহেতু খাদ্য বিভাগের লোকজনের উপস্থিতিতে ইউনিয়নের অপর ডিলারের মাধ্যমে ওই এলাকায় চাল বিক্রি কার্যক্রম চালু রাখা হবে। | 6 |
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত সফর বাতিল করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আজ সোমবার ভারত ও ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে এমনটি জানানো হয়।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটভির প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২৫ এপ্রিল ভারতে আসার কথা ছিল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর। ভারত এবং যুক্তরাজ্যের যৌথ বিবৃতিতে বলা হযেছে, বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ভারতে যেতে পারবেন না। পরিবর্তে ব্রিটেন এবং ভারতের মধ্যে ভবিষ্যতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নিয়ে চলতি মাসের শেষের দিকে আলোচনার বিষয়ে একমত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং জনসন।যৌথ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলবেন মোদি এবং জনসন। চলতি বছরের পরের দিকে মুখোমুখি সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত সফরের কথা ছিল বরিস জনসনের। তখন যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সেই সফর বাতিল করেন জনসন। | 3 |
- , . ! ../ | 3 |
অ্যাথলেট-কোচদের বের করে খালি স্টেডিয়ামে নিজের পোষ্য কুকুর নিয়ে ঘুরে বেড়ান দিল্লির রাজস্ব দপ্তরের মুখ্যসচিব সঞ্জীব খিরওয়ার। গত কয়েক মাস ধরেই তিনি এমনটি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন দিল্লির ত্যাগরাজ স্টেডিয়ামে অনুশীলন করা অ্যাথলেট ও তাঁদের কোচরা।ভারতীয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ায় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।আজ বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে বলা হয়, ২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমসের জন্য ত্যাগরাজ স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়। অ্যাথলেটরা এখানে নিয়মিত অনুশীলন করেন। কিন্তু দিল্লির এক সরকারি কর্মকর্তা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুকুর নিয়ে স্টেডিয়ামে ঘুরতে আসেন। তাই অ্যাথলেট-কোচদের সন্ধ্যা ৭টা বাজতেই বের হয়ে যেতে হয়। এতে অনুশীলনের ব্যাঘাত ঘটে। এ বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমিদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।এক কোচ বলেন, 'আগে আমরা রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতাম। কিন্তু এখন ৭টা বাজতেই বের হয়ে যেতে হয়। এতে অনুশীলনের ব্যাঘাত ঘটছে।'অ্যাথলেট সম্পর্কিত খবর পেতে - এখানে ক্লিক করুনঅভিযোগ প্রসঙ্গে সরকারি ওই কর্মকর্তা বলেন, 'স্টেডিয়াম খালি করার যে অভিযোগ সেটি সত্য নয়। তবে ওই মাঠে মাঝে মাঝে কুকুর নিয়ে যাওয়া হয়।'এদিকে সরকারের অধীনস্থ সকল স্টেডিয়াম রাত দশটা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।বিশ্বেরনানা প্রান্তের খবর পড়ুন:খেরসন-জাপোরিঝিয়ায় পাসপোর্ট চালু করতে যাচ্ছে রাশিয়াপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পিটিআইয়ের ৫ কর্মী নিহতনির্বাচনের ঘোষণা দিতে ৬ দিনের সময় বেঁধে দিলেন ইমরানযুক্তিসংগত আগ্নেয়াস্ত্র আইন তৈরিতে কংগ্রেসকে বাধ্য করা উচিত: বাইডেনটেক্সাসে গুলিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি জেলেনস্কির সমবেদনাস্কুলে ঢোকার আগে হামলাকারী নিজের দাদিকেও গুলি করেনযুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে ১৯ শিক্ষার্থীসহ ২১ জন নিহত | 3 |
ইসরায়েলি যে স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মুঠোফোনে আড়িপাতা হয়েছে, সেই পেগাসাস স্পাইওয়্যারের শিকার হয়েছেন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। তাঁদের তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে আভনের নেতানিয়াহুও রয়েছে। এ ছাড়া শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ও অধিকারকর্মীদের ফোনেও এটা দিয়ে আড়িপাতার খবর এসেছে। হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত ইসরায়েলের সংবাদপত্র কেলকালিস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য এসেছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে এই সংবাদপত্রের অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত বছর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভের সময় ইসরায়েলের পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর পেগাসাস ব্যবহার করে নজরদারি চালিয়েছিল। আজ সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, কয়েক ডজন প্রভাবশালী ব্যক্তির মুঠোফোন হ্যাক করতে পেগাসাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েলের পুলিশ। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড ছিল না। এ জন্য আদালতের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে এ তথ্যের উৎস সম্পর্কে কিছুই জানায়নি সংবাদপত্রটি। পেগাসাস ব্যবহার করে নেতানিয়াহুর ছেলে আভনের নেতানিয়াহু এবং অর্থ, বিচার ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোন হ্যাক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে কেলকালিস্ট। প্রতিক্রিয়ায় আভনের নেতানিয়াহু সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বলেন, 'এই ঘটনায় আমি সত্যিই বিস্মিত।' গোপন নজরদারির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ওমের বারলেভ বলেছেন, এই অভিযোগ গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলের পুলিশ কমিশনার কোবি সাবতাই বলেন, আইন অনুযায়ী একজন বিচারকের নেতৃত্বাধীন কমিশন এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করবে। পুলিশের ব্যর্থতা থাকলে, সেটাও চিহ্নিত করা হবে। সমালোচনার মুখে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার জানিয়ে সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'এটা গুরুতর অভিযোগ। আমরা প্রমাণ না করে ছেড়ে দিতে পারি না।' যদিও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে চলমান লড়াইয়ে পেগাসাস গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। আড়িপাতার আলোচিত স্পাইওয়্যার পেগাসাসের উদ্ভাবক ইসরায়েলের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ। ধারণা করা হয়, ২০১৬ সাল থেকে পেগাসাস কখনো 'কিউ সুইট', কখনোবা 'ট্রাইডেন্ট' নামে ব্যবহার করা হয়েছে। গোপন নজরদারির জন্য এটি সহজেই আইওএস, অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে অনুপ্রবেশ করতে পারে। এটা এতটাই ভয়ংকর যে একবার স্পাইওয়্যারটি ইনস্টল হয়ে গেলে সহজেই যে কারও হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজিং ও কথা বলা, ভয়েস কল, পাসওয়ার্ড, কন্টাক্ট তালিকা, বিভিন্ন ইভেন্টের ক্যালেন্ডার, ফোনের মাইক্রোফোন, এমনকি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণও পেগাসাস ব্যবহারকারীর হাতে চলে যায়। গত বছরের মাঝামাঝি বিশ্বজুড়ে পেগাসাস ব্যবহার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে তথ্য প্রকাশিত হয়। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে পেগাসাস কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়। ওই সময় এনএসও গ্রুপ জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার বৈধ লাইসেন্সের মাধ্যমে পেগাসাস ব্যবহার করছে। ২০১৯ সাল থেকে সীমিত পরিসরে এই হ্যাকিং প্রযুক্তি বিক্রি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এনএসও গ্রুপের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অনুসন্ধান ও বৈশ্বিক অপরাধ প্রতিরোধের মাধ্যমে হাজারো মানুষকে রক্ষায় সরকারি সংস্থাকে সহায়তার করে তারা। তবে তারা পেগাসাসের ক্রেতাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। | 3 |
ঘটনার পরমুহূর্তেই ক্রিস রক টের পেয়েছিলেন, এ বছর অস্কারে উইল স্মিথের সঙ্গে তাঁর ঝগড়ার বিষয়টি সংবাদের শিরোনাম হতে যাচ্ছে, যাকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন টেলিভিশনের ইতিহাসের স্মরণীয় রাত। ঘটনার ভিডিওটি যাঁরা দেখেননি, তাঁদের জন্য বলে নেওয়া যাক। অস্কার মঞ্চে দাঁড়িয়ে উইল স্মিথের স্ত্রী জাডা পিংকেট স্মিথকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন রক। তাঁর চুলঝরা টেকো মাথাকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, 'জিআই জেন টু' দেখার অপেক্ষায় আছেন। অ্যালোপেশিয়ায় আক্রান্ত জাডাকে দেখতে লাগছিল 'জিআই জেন' ছবির ন্যাড়া মাথার অভিনেত্রীটির মতো। মুহূর্তের মধ্যে স্মিথ মঞ্চে গিয়ে তাঁকে থাপ্পড় মারেন। মুখে বলেন, 'তোমার নোংরা মুখে আমার স্ত্রীর নাম নেবে না।' কিছু লোক স্মিথের এই কাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, স্ত্রীর সম্মান বাঁচাতে তিনি এটা ঠিকই করেছেন। কিন্তু এই কথাও অনেকের ভালো লাগেনি। অনেকেই একমত পোষণ করেছেন যে, শারীরিক আক্রমণ না করে অন্য উপায়েও প্রিয় মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেত। আবার এ প্রশ্নও উঠেছে, জাডার সম্মান কি স্মিথকেই বাঁচাতে হতো? অর্থাৎ নারীর 'সম্মান' বাঁচাতে কি পুরুষকেই দরকার? স্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য বহু লোক স্মিথের প্রশংসা করেছেন। আবার আরেকটি পক্ষ বলছে, জাডা পিংকেট স্মিথ একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং ঘটনার জবাব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম। চাইলে তিনি নিজেই জবাব দিতে পারতেন! পরে সন্ধ্যায় অস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতলেন উইল স্মিথ। তিনি অভিনয় করেছিলেন রিচার্ড উইলিয়ামসের জীবনীচিত্র 'কিং রিচার্ড'-এ, ভেনাস ও সেরেনা উইলিয়ামসের বাবার ভূমিকায়। প্রতিক্রিয়া জানাতে এসে স্মিথ একাডেমি কর্তৃপক্ষ ও মনোনয়ন পাওয়া সহশিল্পীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। সঙ্গে এ-ও বলেন, 'আমি আসলে পাগলাটে ওই বাবার (রিচার্ড উইলিয়ামস) মতো। কিন্তু ভালোবাসাই মানুষকে এসব পাগলামি করিয়ে নেয়।' তাঁর এ বক্তব্য আরও সমালোচনার জন্ম দেয়। আবার বহু লোক মত দিয়েছেন, দুই অভিনেতাই ভুল করেছেন। কিন্তু একটা জিনিস পরিষ্কার। খবরের শিরোনামগুলো স্মিথ ও রকের ওপর আলো ফেলেছে। মূল কাহিনি থেকে প্রায় মুছে গেছেন জাডা স্মিথ। | 2 |
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও ১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেন। এসময় তিনি তার বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি-আদর্শের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। এর আগে, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি ও আধা-সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে অর্ধনমিতভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ঠাকুরগাঁও রিপোর্টর্স ইউনিটির নেতারাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া দিনব্যাপী আলোচনা সভা, কবিতাপাঠ, রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শন, হামদ নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের উপর আলোচনায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, মন্দির-গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা, সরকারি শিশু সনদে কোরআন তিলাওয়াত, আলোচনা অনুষ্ঠান, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, হামদ নাত ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
মহামারি কাঁধে নিয়ে কয়েক দিন আগে এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বলা হচ্ছে, ঘরে থাকা শিক্ষার্থীরা যখন কলেজের মুখ দেখতে পারেনি, সেসব শিক্ষার্থীরাই এবার স্মরণকালের সেরা ফলাফল করেছে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে লিখিত ও সেমি অটোপাসের আদলে পাওয়া জিপিএ ফলাফল স্বস্তি দিলেও মূল প্রতিযোগিতা শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায়। প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, যেখানে কেবল জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। আর এই বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থী দেশের ৫২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য লড়বেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীন ৮৮১টি কলেজে স্নাতকে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৮৫টি আসন রয়েছে। প্রতিবছর এসব ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে একক কোনো নিয়ম না থাকায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব ভর্তি যোগ্যতা ও নিয়মের বলয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে হলে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্রের কাঠামো ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিতে হয়। তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ এসব ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরে মাত্র ০ দশমিক ১ পার্থক্য থাকলেই কেউ সুযোগ পাচ্ছেন আবার কেউ ছিটকে পড়ছেন (অকৃতকার্য)। টিকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আমাদের এই একাডেমিক সমাজ মেধাবী বলছে, আর মেধাতালিকা থেকে ছিটকে যাওয়াকে তুলনামূলক কম মেধাবী বলে শ্রেণিকরণ করে বসছে। অধিকাংশ সময় দেখা যায়, এসব ভর্তি পরীক্ষায় টিকে যাওয়া শিক্ষার্থীরা মূল পরীক্ষায় ছিটকে পড়া শিক্ষার্থীর চেয়ে কম নম্বর পেয়েও মেধাক্রম স্কোরকে এগিয়ে নেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীন ও বৈষম্যপূর্ণ আচরণের খেসারতে প্রতিবছর হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত উচ্চশিক্ষালয়ে ভর্তি হতে ব্যর্থ হচ্ছেন। হাতে গোনা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যতীত আমাদের দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষার স্কোরে যোগ হচ্ছে। ফলে কম জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থী মূল ভর্তি পরীক্ষায় অনেক সময় বেশি নম্বর পেয়েও মেধা স্কোরে টিকতে পারছেন না। কিন্তু কেন এই নিয়ম, তার সুনির্দিষ্ট সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আমি কোথাও পাইনি। বরং এসব জিপিএ স্কোর থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একটি নির্দিষ্ট গ্রুপকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমেই অসাড় হতে চলছে। দেড় দশক আগেও যেখানে জিপিএ-৫ দশ হাজারের ঘরে থাকত, সেটি প্রায় ২০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ঘরে ঘরে জিপিএ-৫ এ ঠেকছে, যা দেশের শিক্ষার মানকে সংকুচিতই করছে না, বরং রাষ্ট্রকে ভুল পথে পরিচালিত করার প্রয়াস জোগাচ্ছে। ব্যাপারটি এমন দাঁড়িয়েছে, পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পেলে তাঁকে ছাত্র হিসেবে গণ্যই করা হচ্ছে না। বিষয়টি আসলে সেদিকে যাওয়ার কথা ছিল না। জিপিএ-৫ কে যে বা যাহারা মেধার ওজনস্কেল মনে করছেন, তাঁরা হয়তো জানেন না, এই জিপিএ-৫ পাওয়া মানেই তুখোড় মেধাবী নয়। এটি কেবল একটি প্যারামিটার অথবা নির্দেশক হতে পারে, সেটি কিছুতেই একজন শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের মাধ্যম হতে পারে না। সৃজনশীল চিন্তাধারায় বিশ্বাসী শিক্ষার্থী গড়ায় নজর না দিয়ে কেবল নিয়মতান্ত্রিক প্রশ্ন আয়ত্ত করে পরীক্ষার খাতায় উগরে দিয়ে জিপিএ-৫ বাগিয়ে নেওয়া গেলেও আমাদের শিক্ষার্থীরা কতটা কম জানেন, তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন থাকছে, তেমনি দেশের বাইরে যখন উচ্চশিক্ষায় আসছেন তখন তাঁরা ঠিকই টের পাচ্ছেন। জিপিএ-৫ যখন ক্রমেই আমাদের কাছে অভিশাপ হয়ে উঠছে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টনে পূর্ব থেকে সংরক্ষিত থাকায় আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার মানোন্নয়নের চেয়ে জিপিএ বাড়ানোয় প্রত্যক্ষভাবে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। ফলে যত্রতত্র জিপিএ-৫-এর ছড়াছড়িতে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তাঁদের মধ্যেই অন্তত সাড়ে তিনজনের মতো প্রতিযোগিতায় লড়তে হচ্ছে, তখন অন্য জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাপটে পেরে উঠছেন না। এই ধরুন, মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ার কথা। প্রতিবছর দেশের নির্দিষ্টসংখ্যক পরীক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের নিমিত্তে এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ স্কোর থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে মূল ভর্তি পরীক্ষার স্কোরের চেয়ে দ্বিগুণ স্কোর রাখা হয়েছে সেই জিপিএতে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বলছে, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএকে ১৫ গুণ, এইচএসসিকে ২৫ গুণ করে মোট জিপিএতে নম্বর রাখা হয়েছে ২০০। আর মূল ভর্তি পরীক্ষায় নম্বর রাখা হয়েছে মাত্র ১০০। মোট ৩০০ নম্বরের এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষায় কেউ যদি কেবল ভর্তি যোগ্যতার জন্য প্রাপ্ত এসএসসি এবং এইচএসসির জিপিএ-৯ (৪ দশমিক ৫ করে) হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে একজন শিক্ষার্থী জিপিএতে প্রাপ্ত ২০০ নম্বরের মধ্যে তাঁর থাকছে (৬৭ দশমিক ৫ + ১১২ দশমিক ৫) = ১৮০। অর্থাৎ মূল ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা যদি ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮২ নম্বর পান, তাহলে ওই শিক্ষার্থীকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পেতে হবে ১০০ মধ্যে ১০২, যা কখনোই সম্ভব নয়। ঠিক কী কারণে, কারা নিয়ম চালু করেছেন, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়, তবে মনে হচ্ছে, এটি শুধু বৈষম্যমূলক হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করেও কেবল জিপিএর দোহাই দিয়ে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী টিকে থাকতে পারছেন না অথবা তাঁদের ছাড়া কেবল জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মেডিকেল কলেজের উঠানে দেখতে চায় আমাদের রাষ্ট্র। মেডিকেল ছাড়াও এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন নিয়মের মারপ্যাঁচে স্কুল-কলেজের প্রাপ্ত জিপিএকে মেধা স্কোরে ঠাঁই দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ১০০ মধ্যে হলেও এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএতে (দ্বিগুণ করে) রাখা হয়েছে ২০ নম্বর। অর্থাৎ ১২০ নম্বরের এই প্রতিযোগিতায় কেবল জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের বোনাস হিসেবে এই ২০ নম্বর জোগাড় করতে একজন জিপিএ-৩ দশমিক ৫ প্রাপ্তকে ৬ নম্বর বেশি তুলতে হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের সঙ্গে ২০ নম্বর যোগ হয়েছে স্কুল-কলেজের জিপিএ। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএসসি জিপিএকে ১ দশমিক ৫ গুণ এবং এইচএসসিতে ২ দশমিক ৫ গুণ করে মোট স্কোরে যোগ হয়ে মেধাক্রম নির্ণয় করা হচ্ছে। গুচ্ছভিত্তিক যে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে, তারাও এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএকে ২ গুণ করে সেখানে ২০ নম্বর সংরক্ষিত রেখেছে। ফলে অনেকটাই ঘোষিত যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এই ধরনের প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় বড় ধরনের সফলতা পাচ্ছে।পাবলিক পরীক্ষায় বিভিন্ন কারণে একজন শিক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হতে পারে, তবে মেধায় সে খারাপ নয়। তবে আমাদের বর্তমান ভর্তি ব্যবস্থা সেই কম জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর মেধার যাচাই করতে ব্যর্থ হচ্ছে। জিপিএ-৫ না পাওয়া শিক্ষার্থীরাও কঠিন পরিশ্রম করেন, ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার চেষ্টা করলেও আমরা তাঁদের সুযোগ দিতে পারছি না। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএর মূল্যায়ন কী হবে? কেন একজন শিক্ষার্থী জিপিএ বেশি পাবে? কেন তার পরিশ্রমের মূল্যায়ন করা হবে না? এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো, জিপিএ মূল্যায়ন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশই করা হয়। সেটি বাংলাদেশের মতো মেধা স্কোরে প্রভাব দেখিয়ে নয়, বরং সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয় জিপিএকে মূল্যায়ন করে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে, প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের মানদণ্ড হিসেবে, আবার নির্দিষ্ট বিভাগে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতার মাপকাঠি এসব জিপিএ। আর সেটিই হয়ে আসছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটে। তারা জিপিএকে দেখছে কেবল ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন ও বিভাগগুলোতে ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে। ঠিক একই ধরনের নিয়ম অনুসরণ করে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতও তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করায়। ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট ইন্ট্রান্স এক্সাম (ডব্লিউবিজেইই) অধীন প্রদেশটির বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ২০২২-২৩ সেশনে স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। আর ভর্তি পরীক্ষা হবে দুই ধাপে (গণিত; রসায়ন ও পদার্থ) ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় প্রাপ্ত স্কোর থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়ার জন্য সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে কেবল সেকেন্ডারিতে (দশম শ্রেণি) ও উচ্চ মাধ্যমে (দ্বাদশ শ্রেণি) ৪৫ শতাংশ মার্কস পেয়ে পাস করতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে গেলে ভর্তি পরীক্ষায় শতকরা ৬০ (কিছু ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ) ওপর থাকতে হবে। চুয়াল্লিশ পৃষ্ঠার এই ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে দেখতি পাইনি, স্কুল-কলেজে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির মেধাতালিকায় কোনো প্রভাব ফেলবে। একই ধরনের নিয়মের বলয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয় নেপাল। দেশটির বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ভর্তির প্রক্রিয়া তথ্য ঘেঁটে যা পেলাম, তা হলো দেশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে স্কুল-কলেজের ফলাফলে ন্যূনতম জিপিএ-ডি পেতে হবে আর ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরই প্রার্থীর মেধাক্রম নির্ধারণ করবে। শুধু ভারত বা নেপাল নয়, বিশ্বের সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় পূর্বের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাপ্ত জিপিএ মূল ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত স্কোরে ঢুকিয়ে দেয় না। অথচ আমাদের দেশে বছরের পর বছর এই বৈষম্যমূলক নিয়ম চালু রেখেছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেউ এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেনি। পরিষ্কার ভাষায় জানায়নি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ভর্তি পরীক্ষায় ঠিক কেন জিপিএ কে প্রাধান্য দিয়ে মেধাক্রম সাজায়। এর মধ্য দিয়ে আমরা এক শ্রেণি শিক্ষার্থীদের সুবিধা প্রদান করছি, অন্যদিকে বঞ্চিত করছি কম জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের। অথচ এই উচ্চশিক্ষালয়গুলোতে প্রতিযোগিতা করার অধিকার সব শিক্ষার্থীদের হওয়া উচিত। যত বেশি ছেলেমেয়ে প্রতিযোগিতায় আসবে, সেখানে তত বেশি মেধার সম্ভার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। মাঠে নামার আগেই যদি একপক্ষকে গোল দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেই খেলায় কখনো নিরপেক্ষতা থাকে না, বরং পক্ষপাত দুষ্টে ভরা থাকে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে সেটিই ঘটছে। আমরা জিপিএ-৫ চাই না, জিপিএ-৪ চাই না, আমরা দেখতে চাই ভর্তি পরীক্ষায় কে, কতটা মেধাবী। এভাবে জিপিএ-৫ মুখী অন্তঃসারশূন্য প্রজন্ম আমরা দেখতে চাই না। সৃজনশীল প্রশ্নে গড়া ভর্তি পরীক্ষায় কতটা মেধার স্বাক্ষর রাখছে, তা বের করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার মূল মানবণ্টনে যদি এভাবে জিপিএ প্রভাব রাখা হয়, তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েদের জিপিএ-৫ পাওয়ার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, আমাদের অভিভাবকদের যে আকুতি, প্রশ্নব্যাংক চর্চায় জিপিএ বাড়ানোয় শিক্ষকদের স্বস্তির ঢেকুর আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। এভাবে একটি দেশ কখনোই শিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারে না। এটি নিঃসন্দেহে পরিকল্পিত আত্মঘাতী পথ। আমি জিপিএ পাওয়াকে নিরুৎসাহী করছি না, আমি বলতে চাচ্ছি, আমাদের প্রকৃত মেধাবীদের বের করে আনার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিক। তারা যে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করে, সেই প্রতিযোগিতার আরও একটু আধুনিকায়নের সুযোগ নিক। এভাবে জিপিএ-নির্ভর মেধাবী যাচাইয়ের দায়িত্ব অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। বরং সৃজনশীল ও মানসিক বিকাশে উদ্ভাসিত শিক্ষার্থীদের সামনে এনে আরও বেশি শাণিত করা হোক। এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ প্রভাবমুক্ত থাকুক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মেধা স্কোর। জিপিএ হোক কেবল প্রাথমিক আবেদন যোগ্যতার মাপকাঠি। আমার বিশ্বাস, নীতিনির্ধারক পর্যায়ে যাঁরা আছেন কিংবা যাঁরা এই লেখাটি পড়েছেন তাঁদের মনে অন্তত একটি প্রশ্ন তৈরি হোক এবং আগামী ভর্তি পরীক্ষায় এই ধরনের বৈষম্য দূর হোক। ড. নাদিম মাহমুদ জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। [] | 8 |
সকালে ঘুম থেকে উঠে চুলা জ্বালাতে গিয়ে অনেকে জানতে পেরেছেন গ্যাস না থাকার বিষয়টি। এরপর নাস্তা করতে হোটেলে গিয়েও আরেকবার ব্যার্থ হতে হয়েছে অনেককেই। তেমনই একজন রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসিন্দা মো. হাসান। তিনি বলেন, সকালে নাস্তার জন্য হোটেলে গিয়ে খাবার পাইনি। কোনো হোটেলে খাবার শেষ, আবার কোনটাতে উপচেপড়া ভিড়সহ দীর্ঘ সারি। পরে বাধ্য হয়ে শুকনো খাবার কিনে ঘরে ফিরতে হয়েছে। শুধু সকালেই নয়, দুপুরেও একই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে রাজধানীর অনেক এলাকার বাসিন্দাদের। মোহাহাম্দপুর বাসস্ট্যান্ড এলকারার 'ক্যাফে বাগদাদ' রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার দোলন জানান, সারা দিনের জন্য রান্না করা খাবার দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। শুধু তার হোটেলেই নয়, আশপাশের বিভিন্ন হোটেলেও একই অবস্থা। দোলন বলেন, দুপুর ২টার আগেই সব খাবার শেষ। অনেক মানুষ খাবার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। একটার পর একটা হোটেলে ঘুরেও প্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছেন না তারা। লালবাগ বিরিয়ানী হাউসে আসা তানজিনা জান্নাত নামে এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলার কোনো মানে হয় না। সকালে গ্যাস থাকবে না, এটা রাতে জানিয়ে দিলেই সবাই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতো। এর আগে শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশে কয়েকটি এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই অবস্থা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, ধানমন্ডি, আগারগাঁ এবং ঢাকার মানিকগঞ্জ, ধামরাই, সাভার, আমিনবাজার ও আশুলিয়ার আশপাশে এই অসুবিধা তৈরি হয়েছে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) আশুলিয়া প্রান্তের একটি ট্রান্সমিশন লাইনের ভালভ পরিবর্তন করার কারণে এসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জিটিসিএল সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট অপারেশন বিভাগের (উত্তর) উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শফিকুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে আজ পুরো দিন লাগতে পারে। রোববার হয়তো গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। | 6 |
ঢাকা: দীর্ঘ ১৬ বছর পর র্যাবে পুলিশ সুপার পদের ৪৮ কর্মকর্তার পদায়ন হয় চলতি মাসের ১৬ তারিখ। মিশ্র বাহিনীটিতে পুলিশের জন্য উপপরিচালক পদে মাত্র নয়টা পদ খালি থাকায় বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হয়। সেই ঘটনার দুই সপ্তাহের মধ্যে ৫০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট কাজী জিয়া উদ্দিনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ৪০ জন সহকারী পুলিশ সুপারকে জনস্বার্থে বদলি অথবা পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব কর্মকর্তারা সবাই র্যাবের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন।চিঠিতে বলা হয়, আগামী ৩ জুনের মধ্যে সবাইকে নিজের দপ্তরের কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় ৪ জুন থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হবে।বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে চাননি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানা যায়, র্যাবে কমতে থাকা পুলিশের রেশীয় এবং ইউনিট হিসাবে শক্তি বাড়াতেই এ পদক্ষেপ।সিদ্ধান্ত পুলিশ সদর দপ্তরের তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় র্যাব সদর দপ্তর।২০০৪ সালে র্যাব গঠনের পর থেকেই ঠান্ডা লড়াই চলে আসছে র্যাবের ভেতরে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী থেকে আসা সদস্যদের মধ্যে। পুলিশ সুপার (এসপি) পদের কর্মকর্তারা র্যাবে অধিনায়কত্ব পান না বলে এলিট ফোর্সে চাকরি করতে চান না। সশস্ত্রবাহিনী থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আর পুলিশ থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যাটালিয়ন কিংবা কোনো বিভাগের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পুলিশ সুপার পদের কর্মকর্তাদের অধিনায়ক বা পরিচালকের নির্দেশে চলতে হয়। ১৬ মে পুলিশের ৬৩ জন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তার পদায়নের নির্দেশ আসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। যার মধ্যে ৪৮ জনকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে র্যাবে। এরপরই উসকে ওঠে প্রায় দেড় যুগ সময় ধরে চলমান অমীমাংসিত বিতর্ক।২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের জন্য কোটা ব্যবস্থা জারি করে সরকার। বিধি অনুসারে ৪৪ শতাংশ সশস্ত্র বাহিনী, ৪৪ শতাংশ পুলিশ বাহিনী, ৬ শতাংশ বিজিবি, ৪ শতাংশ আনসার ও ভিডিপি, ১ শতাংশ বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং সিভিল প্রশাসন থেকে ১ শতাংশ এভাবে মোট ১০০ ভাগ জনবল নিয়ে র্যাব কাজ করার কথা।দীর্ঘদিন পুলিশ সুপার পদের কারও পদায়ন না হওয়ায় বিষয়টি একেবারেই হিসেবের বাইরেই ছিল বাহিনীটির। এ মুহূর্তে পুরো র্যাবে উপপরিচালক বা কোম্পানি কমান্ডার পদ রয়েছে ১০৮ জন। ৬৪ জন আছেন পদে, ১৪ জনের সম্প্রতি সশস্ত্র বাহিনী থেকে পদায়নের নির্দেশ হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০৮টি ডিডি পদের মধ্যে ৯৭টি পদে বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তা বহাল আছেন। খালি আছে ১১ টি। এর মধ্যে পুলিশের জন্য রেশীয় হিসাবে বরাদ্দ আছে মাত্র ৯টি পদ। সেখানে ৪৮ জনের পদায়ন কীভাবে হবে, তার কোনো সমাধান করতে পারছে না র্যাব সদর দপ্তর। | 6 |
টেস্ট সংস্করণে বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিমের দাপট নতুন কিছু নয়। সাদা পোশাকে ব্যাট হাতে ক্রিজে আসলে প্রতিপক্ষের বোলারদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় তার। তেমনি শনিবার (২৭ নভেম্বর) পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ক্যারিয়ারে অষ্টম সেঞ্চুরির বেশ কাছে ছিলেন মুশফিক। তবে গড়েছেন সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ২২৫ বলে ৯১ রান করে আশরাফের বলে আউট হন তিনি। এর আগে আউট হন লিটন দাস। এ সময় তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল ১১৪ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি দেখা পেলেন না মুশফিক। এদিন ৯১ রানে ফাহিম আশরাফের বলে উইকেট রক্ষকের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মিস্টার ডিফেন্ডেবল ব্যাটসম্যান। এ ছাড়া আরও একটি রেকর্ড ভাঙা হলো না মুশফিকের। ৪,৭৮৮ রান নিয়ে টেস্টে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের মালিক তামিম। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনে সেই রেকর্ড ভাঙতে তার প্রয়োজন ছিলে ১৬ রান। গতকল ৮৫ রান নিয়ে খেলতে নাম মুশফিক করেন মাত্র ৬ রান। | 12 |
ইউএস-বাংলা গ্রুপে 'সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার' পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগামী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।প্রতিষ্ঠানের নাম: ইউএস-বাংলা গ্রুপপদের নাম: সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারপদসংখ্যা: ১০ জনশিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স/সমমানঅভিজ্ঞতা: ১-৫ বছরবেতন: আলোচনা সাপেক্ষেচাকরির ধরন: ফুল টাইমপ্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেনবয়স: নির্ধারিত নয়কর্মস্থল: ঢাকাআবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা .. এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।আবেদনের শেষ সময়: ২৩ নভেম্বর ২০২১ | 1 |
ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেই বেছে নিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিন। মঙ্গলবার ইসরাইলে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই দেশটির দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে আবার সরকার গঠনের আহ্বান জানালেন তিনি। এর আগে ইসরাইলি আইন পরিষদে নেসেটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেন রিভলিন। তিনি বলেন, কোনো দলীয় প্রধানই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন লাভ করতে পারেননি। ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য ১২০ আসনবিশিষ্ট আইন পরিষদ নেসেটের ৬১ সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। গত ২৩ মার্চ দুই বছরের মধ্যে চতুর্থ দফার সাধারণ নির্বাচনের পরও কোনো পক্ষ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় নেসেটে আসন পাওয়া দলগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করেন ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্টের সাথে এই আলোচনায় নেসেটের ৫২ সদস্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেই সমর্থন করেন। অপরদিকে ইয়েশ আতিদ দলের প্রধান ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ইয়ায়ির লাপিদের নাম প্রস্তাব করেন ৪৫ সদস্য। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ইয়ামিনা দলের প্রধান নাফাতলি বেনেট সাত সদস্যের সমর্থন লাভ করেন। নেসেটে ১৬ আসন পাওয়া অন্য তিনটি দল প্রেসিডেন্ট রিভলিনের সাথে বৈঠক প্রত্যাখ্যান করে। ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে বলেন, যদি আইন তাকে অনুমতি দিতো, তবে তিনি এই বিষয় মিমাংসার জন্য নেসেট সদস্যদের হাতে ছেড়ে দিতেন। তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্টের উচিত নয় এমন প্রার্থীর কাছে দায়িত্ব দেয়ার, যিনি ফৌজদারী অভিযোগের মুখোমুখি।' কিন্তু আইন তাকে তা করতে বাধ্য করেছে জানান প্রেসিডেন্ট রিভলিন। তিনি বলেন, 'বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের কিছুটা বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। আমি তার ওপরই দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' এদিকে সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহু বেনেট ও সাবেক অপর সহযোগী নিউ হরাইজন পার্টির গিদিওন সারকে তাকে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কারো সাথেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না থাকা বেনেটের নেতানিয়াহুর সাথে সংঘর্ষপূর্ণ সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে আবার সহযোগিতার প্রায় সম্ভাবনা নেই। অপরদিকে সার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির মামলার ইঙ্গিত করে জানান, নেতানিয়াহুর অধীনে তিনি আর দায়িত্ব পালন করবেন না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইয়ায়ির লাপিদকে সমর্থন দেন। নির্বাচনের পর সোমবার থেকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার শুনানি আবার শুরু হয়েছে। নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অস্বীকার কলে দাবি করছেন, এই মামলা একটি 'অভ্যুত্থান চেষ্টা' যার উদ্দেশ্য 'দৃঢ় রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রীকে' ক্ষমতাচ্যুত করা। সোমবার লাপিদ এক টেলিভিশন ভাষণে জানান, তিনি বেনেটকে এক জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই প্রস্তাব অনুসারে বেনেট প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরে লাপিদ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। লাপিদের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বেনেট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেননি। এখন নেতানিয়াহুকে আগামী ২৮ দিনের মধ্যে ইসরাইলের নতুন সরকার গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে দুই সপ্তাহের অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করতে পারবেন। তবে এর মধ্যে সরকার গঠন না হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো প্রার্থীকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। সূত্র : আলজাজিরা | 3 |
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৫ জন নারীকে 'বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পদকের' জন্য চূড়ান্ত করেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সম্মেলনকক্ষে 'বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন' ও 'বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পদক' প্রদানের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। তিনি বলেন, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাহসিকতা, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণার উৎস বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিবসকে (৮ আগস্ট) 'ক' শ্রেণির জাতীয় দিবস ঘোষণা করেছে সরকার। বঙ্গমাতার অবদানকে চিরস্মরণীয় করার লক্ষ্যে এ বছর থেকে নারীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ 'ক' শ্রেণিভুক্ত সর্বোচ্চ জাতীয় পদক 'বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব' পদক প্রদান করা হবে। এ অনুষ্ঠানে এ বছরই প্রথম স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন এবং রাজনীতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে এই পদক প্রদান করা হবে। 'স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ'ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মমতাজ বেগম (মরণোত্তর), শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে টাঙ্গাইলের জয়া পতি (মরণোত্তর), 'কৃষি ও পল্লীউন্নয়ন'ক্ষেত্রে পাবনার কৃষি উদ্যোক্তা মোছা. নুরুন্নাহার বেগম, 'রাজনীতি'ক্ষেত্রে কুমিল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ জোবেদা খাতুন পারুল এবং 'গবেষণা'ক্ষেত্রে নেত্রকোনার লেখক ও গবেষক নাদিরা জাহান (সুরমা জাহিদ)। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের চেক ও সম্মাননাপত্র তুলে দেবেন। প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৮ আগস্ট বেলা সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে অনলাইনে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে 'বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন'ও 'বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পদক প্রদান'অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নারীদের আর্থিক সাহায্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে ৬৪ জেলায় চার হাজার অসচ্ছল নারীকে সেলাই মেশিন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দুই হাজার নারীকে দুই হাজার টাকা করে মোট ৪০ লাখ টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন অনলাইনে বঙ্গমাতার জন্মস্থান গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নগদ অর্থ ও সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। অনলাইনে আরও সংযুক্ত থাকবে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক। | 6 |
ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পরে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার অর্থনীতিই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, দেশটি এখন ঋণখেলাপিতেও পরিণত হতে যাচ্ছে। অথচ ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর কখনোই বিদেশি ঋণ খেলাপি হতে হয়নি দেশটিকে। কিন্তু এবার যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জেরে রাশিয়ার ঋণখেলাপি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, যদি রাশিয়া বিদেশি ঋণ খেলাপি হয়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেবে দেশটি। রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ সম্প্রতি এ কথা বলেছেন। খবর রয়টার্সের গত সোমবার সংবাদপত্রে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুশ অর্থমন্ত্রী বলেন, 'অবশ্যই আমরা মামলা করব। কারণ, ঋণদাতাদের ঋণ ফেরত দিতে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। এরপরও যদি আমরা ঋণ শোধ করতে না পারার কারণে খেলাপি হই, তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হব।' তবে কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে রাশিয়া-এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এমনকি সমস্যা সমাধানে আইনি পদক্ষেপের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও কিছু বলেননি সিলুয়ানভ। রাশিয়ার মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২০ শতাংশই বিদেশি ঋণ। ৪ এপ্রিলের মধ্যে দুটি সার্বভৌম বন্ডের বিপরীতে প্রায় ৬ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার সুদ বা দায় পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করে সেই দায় বা সুদ পরিশোধ করতে দেয়নি। পরে বিশেষ হিসাব খুলে সেখানে সমপরিমাণ রুশ মুদ্রা রুবল জমা রেখে বন্ডের সুদ অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করে রাশিয়া। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়ার অর্থ পরিশোধের ক্ষমতা আছে। কারণ, জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে দেশটি বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। কিন্তু সাম্প্রতিক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় দেশটির প্রায় অর্ধেক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জব্দ অবস্থায় আছে।সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী সিলুয়ানভ বলেন, ডলার ও রুবল উভয় মুদ্রা ব্যবহার করে আমরা দায় পরিশোধের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু পারছি না। পশ্চিমা দেশগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের ঋণখেলাপি করতে চাচ্ছে। | 0 |
সাগরে ট্রলিং জাহাজের ধাক্কায় ২১ জেলেসহ ট্রলার ডুবির ঘটনায় ১জন উদ্ধার হলেও গত দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি বাকি ২০ জেলের। নিখোঁজ হওয়া ২০ জেলেকে উদ্ধারে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই বলেও অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ স্বজনরা। মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় নিখোঁজদের সন্ধানে ট্রলার নিয়ে স্বজনরা সাগরে রওয়ানা করে। এদিকে ট্রলার ডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া জেলে হাফিজ উদ্দিন (৪০) বলেন, গত রবিবার রাত ১০টায় আমরা সোনার চর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীর সাগরে জাল ফেলে বোটের উপরে দাঁড়িয়ে ছিলাম এসময় চট্টগ্রামের এফবি এসআরএল-৫ নামের একটি ট্রলিং জাহাজ আমাদের ট্রলারটিকে ধাক্কা মেরে চলে যায়। আমরা সবাই পানিতে পড়ে যাই। আমি সারারাত হাবুডুবু খেয়ে পানিতে ভেসে ছিলাম। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার সময় মহিপুরের একটি ট্রলার আমাকে দেখে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ওই জেলে ট্রলার মালিক কামাল খন্দকারের ভাই। আবদুল্লাহপুরের বাসিন্দা ট্রলার মালিক কামাল খন্দকার বলেন, গত শনিবার আমার ট্রলারটি বাচ্চু মাঝিসহ ২১ জেলেকে নিয়ে দক্ষিণ আইচা থানার চরকচ্ছপিয়া মৎস্যঘাট থেকে ইলিশ শিকারে গভীর সাগরে যায়। গত রবিবার রাতে চট্টগ্রামের ট্রলিং জাহাজ এফবি এসআরএল-৫ আমার ট্রলারটিকে ধাক্কা মেরে চলে যায় বলে উদ্ধার হওয়া হাফিজ উদ্দিন আমাদের জানিয়েছেন। আর এতেই আমার ট্রলারটি কাত হয়ে ডুবে যায়। উপজেলা সিনিয়ির মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড কাজ করছে। কোসটগার্ড দক্ষিণ কমান্ডার হারুনর রশিদ বলেন, ট্রলারটির নাম এফবি মা শামসুন্নাহার। আমরা পায়রা থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে এবং ঢালচর থেকে ৩১ কিলোমিটার দক্ষিণের সাগরে ট্রলার ডুবির স্থানে পর্যবেক্ষণে রয়েছি। আমাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ সংযুক্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান বলেন, এসআরএল-৫ নামের জাহাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উদ্ধার হওয়া জেলে হাফিজ মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে। ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিখোঁজদের কোনো সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে এবং উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। প্রশাসন ঘটনাস্থলে নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে। নিখোঁজ জেলেরা হলেন- আবুল বাশার, আবদুল খালেক, সুমন, সাহিন, মিজান, হারুন মাঝি ও বাচ্চু মাঝি, আল আমিন, ফারুক, জাবেদ, খালেক, ইউসুফ, জসিম জমাদার, রফিক, মাকসুদ, বাচ্চু, নুরুল ইসলাম, নুরে আলম, দিন ইসলামসহ মোহাম্মদ আলী ও নাগর। এ জেলেরা আবদুল্লাহপুর ও রসুলপুর এবং চর মানিকা ইউনিয়নের বাসিন্দা। | 6 |
২০১৮ সালে বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও সেই বিচ্ছেদ কাটিয়ে তখনও উঠতে পারেননি নেহা কক্কর। অভিনেতা হিমাংশু কোহলির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর বেশ কয়েকমাসের মধ্যেই দু'জনের ব্রেকআপের খবর সামনে আসতে থাকে। তবে ঠিক কী কারণে বিচ্ছেদ হয়েছিল তা কখনই স্পষ্ট করে জানানি গায়িকা বা অভিনেতা। তবে এবার নেহার সাবধান বার্তা, 'কেউ যেন আমার নাম ব্যবহার করে জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা না করে।' গায়িকার এই পোস্টের পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ইনস্টাগ্রামে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, 'ঈশ্বরের কৃপায় অনেক ভাল আছি এবং যে ভাল করবে তার সঙ্গে ভাল কিছুই ঘটবে।' নেহা আরও জানান, 'যদি আমি নিজের মুখ খুলি. আমি তোমার মা-বাবা ও বোনের কর্মকাণ্ড ফাঁস করে দেব। তারা আমাকে কী বলেছেন আমার সবকিছু মনে আছে। তোমার সাহস কী করে হয় আমার নাম ব্যবহার করার। আর দুনিয়ার সামনে বেচারা হওয়ার নাটকটা বন্ধ করো। আমাকে ভিলেন না বানিয়ে নিজের কাজ করো। সাবধান!!! আমার পরিবার থেকে দূরে থাকো।' সূত্র : ফিল্মিবিট। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 2 |
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৯৮১ জনে। গতকাল সোমবার করোনায় দুইজন মারা যান। এ ছাড়া নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৭৩ জনের। গতকাল ছিলেন ২২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ২৮৪ জনে।আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩৬৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৫ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৯২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৯ হাজার ৮০২টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫১টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। প্রতি ১০০ জনে সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী। এই সময়ে ঢাকা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি বিভাগগুলোতে মৃত্যু হয়নি।উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে। | 6 |
সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে রায়হান আহমদ হত্যা মামলার পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমানের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু হবে। এজন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আমিরুল ইসলাম। বুধবার চাঞ্চল্যকর এই মামলার ধার্য তারিখে অপর পাঁচ আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশ দেন। এদিন সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই (বরখাস্তকৃত) আকবর হোসেনসহ পাঁচ আসামিকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবুল ফজল বলেন, আদালতের নির্দেশে পুলিশ পলাতক আসামি নোমানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মালামাল পায়নি। এ অবস্থায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালতের বিচারক শুনানি শেষে রায়হান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। পাশাপাশি পলাতক আসামি নোমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে নোমান ছাড়া সবাই কারাগারে আছেন। এসআই আকবর ও নোমান ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন, এএসআই আশেক এলাহি, কনস্টেবল মো. হারুণ অর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস, ফাঁড়ির টু-আইসি এসআই মো. হাসান উদ্দিন। এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ৫ ডিসেম্বর পলাতক নোমানের মালামাল ক্রোকের বিষয়ে পরোয়ানার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। সেদিন ক্রোক পরোয়ানা তামিল হয়ে না আসায় আদালত ২২ ডিসেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। অবশেষে নোমানের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আদালতের বিচারক। ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর ভোরে নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার যুবক রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে এনে নির্যাতন করা হয়। গুরুতর অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। গত ৫ মে এসআই আকবর হোসেনকে প্রধান আসামি করে আদালতে ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। | 6 |
দলবেঁধে নৌপথে এল ডাকাতেরা। তাদের সবার হাতে অস্ত্র। অস্ত্রের মুখে বাজারের লোকজনের হাত-পা বেঁধে সোনার দোকানে ডাকাতি করে। ভরি-ভরি সোনা, আর লাখ-লাখ টাকা লুট করে চম্পট দেয়।মাত্র ১০ দিন আগে এভাবেই ডাকাতি হয়েছিল ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায়। এবার সেই কায়দায়ই ডাকাতেরা হানা দিল মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে। গত বুধবার দিবাগত রাতে এই বাজারের মনুনাগ স্বর্ণশিল্পালয় ও নিখিল বণিক স্বর্ণশিল্পালয় নামের দুটি সোনার দোকান থেকে ডাকাতেরা প্রায় ১০০ ভরি সোনা ও ৪০ লক্ষাধিক টাকা লুট করেছে বলে দাবি করেছেন দোকান দুটি মালিক।স্থানীয় ও ডাকাতির শিকার ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকেরা জানান, রাত আড়াইটার দিকে নদীপথে স্পিডবোট করে চিতলিয়া বাজারে আসে ১৮-২০ জনের একটি ডাকাত দল। এরপর অস্ত্র দেখিয়ে প্রথমে বাজারের দুই নৈশপ্রহরী ও পরে বণিক স্বর্ণশিল্পালয়ে নামের একটি দোকান ও তার পেছনে থাকা দোকান মালিকের বাড়ির লোকজনকে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে বণিক স্বর্ণশিল্পালয় লুট করে।এরপর পার্শ্ববর্তী মনুনাগ নামের আরও একটি স্বর্ণশিল্পালয় লুট করে। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন চিৎকার শুরু করলে এবং এলাকার মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ডাকাতেরা একই পথে পালিয়ে যায়।নিখিল বণিক স্বর্ণশিল্পালয়ে হিসাবরক্ষক প্রিয়া দাস বলেন, 'রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। প্রথমে দোকানে ও পরে আমাদের বাসায় আসে ডাকাতেরা। তাদের সবার কাছেই অস্ত্র ছিল। আমরা দীর্ঘদিনের পুরোনো স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তাই আমাদের দোকানে এলাকার লোকজন ছাড়াও বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে যায়। তাই দোকানে অনেক স্বর্ণ ছিল ও টাকা ছিল। ডাকাতেরা সব লুট করে নিয়ে গেছে। প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণ ও ৩৫-৪০ লক্ষাধিক টাকা লুট হয়েছে।'মনুনাগ স্বর্ণশিল্পালয়ের মালিক রনি নাগ বলেন, 'আমার দোকান থেকে ৬-৭ ভরি স্বর্ণ ডাকাতেরা নিয়ে গেছে। দরজা ভাঙতে না পারায় বাড়িতে আর ঢুকতে পারেনি।'জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুমন দেব আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'নদীপথে মধ্যরাতে অন্য আসামি ধরার জন্য কাজ করছিল পুলিশ। এ সময় একই পথে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ট্রলার দেখে বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মারে ডাকাত দলের সদস্যরা। তবে সেটি কোনো পুলিশ সদস্যের শরীরে লাগেনি। ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারের আশুলিয়ার নয়ারহাট বাজারে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়। ৮০ থেকে ১০০ জনের ডাকাত দল দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মাঝরাতে হানা দেয় বাজার। অস্ত্রের মুখে লোকজনকে বেঁধে তারা ১৮টি সোনার দোকান লুট করে। | 6 |
চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী পরীর পাহাড় থেকে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা কালুরঘাটে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে বলে জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন।জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এক বছর আগে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। পরীর পাহাড় থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কালুরঘাটে আমাদের ৮০ একর জায়গা খালি রয়েছে। সেখানে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম এক জায়গায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।'জেলা প্রশাসক জানান, সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন, হাসপাতাল, শপিং মল, কনভেনশন সেন্টারসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বিভিন্ন স্থাপনা নিয়ে একটি নান্দনিক শহর হিসেবে এটি গড়ে তোলা হবে। জেলা প্রশাসক আরও জানান, বর্তমানে পরীর পাহাড়ে যেসব সরকারি দপ্তর রয়েছে সেগুলোও কালুরঘাটে নেওয়া হবে। তবে আদালত ভবনসহ জুডিশিয়ারি বিভিন্ন ভবন এখানে (পরীর পাহাড়) থেকে যেতে পারে। অন্যান্য স্থাপনার মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি অফিস, ভূমিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর সেখানে সরিয়ে নেওয়া হবে।মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, পরীর পাহাড় ঘিরে বিভিন্ন সময় স্থাপনা গড়ে ওঠায় পাহাড়টি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আজ বা কাল হোক পরীর পাহাড়ের এসব স্থাপনা সরিয়ে ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে। পাহাড়টিতে নতুন করে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না।জেলা প্রশাসক বলেন, একটা সময় পরীর পাহাড় হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এ জন্য আগেভাগেই পাহাড়টি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করতে হবে। এসব চিন্তা থেকেই পরীর পাহাড়ের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা সরিয়ে কালুরঘাটে নেওয়া হচ্ছে।জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালুরঘাটে বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির পাশে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামে আসছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সার্কিট হাউসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ এবং ডিজাইন উপস্থাপনের কথা রয়েছে। আগামী বছর প্রকল্পটির অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শুরু করার কথা রয়েছে।এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমে প্রচার করা সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে পরীর পাহাড়ে নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেন।পরীর পাহাড়ে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান জেলা প্রশাসক। এ লক্ষ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। | 6 |
শুরুটা দুরন্ত ছিল। একেবারে সাঁই সাঁই বেগ যাকে বলে। কিন্তু লম্বা রিলে রেসে শুধু গতি থাকলেই হয় না। হতে হয় কৌশলী ও কুশলী। তা না হলে দেখা যায়, টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ভালো শুরুর পরও কিছু ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতছাড়া হয়ে যায়। দৌড়েও বিষয়টা তেমনই।গভীর রাতে একটা দৌড়ের শুরু। দৌড় মানেই তো প্রতিযোগিতা। আজকালের দুনিয়ায় মূল লড়াই করতে হয় সেনাদের, কোচ বসে থাকেন আড়ালে। সেখান থেকে সুতো নাচে, নাচে পুতুল। তবে কখনো কখনো সেনাপতিকেও রথ থেকে নামতে হয় যুদ্ধক্ষেত্রে। সেনাদের পা হড়কানোর ভয় থাকলে, ব্যাটন নিয়ে এগোতে হয় সেনাপতিকেই।এমনই এক গভীর রাতেই রুহুল আমিনকে সেনাপতি হয়ে যুদ্ধ জয়ে নামতে হয়। আপাত সমাধানও হয়। কিন্তু এরপরই ঘটতে থাকে একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা, যাতে কিনা সেনাপতিকেই মুহূর্তের জন্য বনে যেতে হয় অসহায় দর্শক। তাঁর সাজানো রণক্ষেত্র তখন পাগলা হাতির দাপটে ছন্নছাড়া হওয়ার জোগাড়! কিন্তু পাগলা হাতিকে বশে আনবে কে?ঈদের দিনে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হইচই উপহার দিয়েছে ওয়েব সিরিজ 'দৌড়'। রায়হান খানের পরিচালনায় এ সিরিজে মুখ্য চরিত্রে মূলত আছেন মোশাররফ করিম (রুহুল আমিন), ইন্তেখাব দিনার (আকমল) ও তারিক আনাম খান (হায়দার)। দৌড়ে জয়ী হওয়ার প্রতিযোগিতায় এঁরা সবাই আছেন। ৯ পর্বের সিরিজে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে একেক চরিত্রের একেক রূপ। তাতে যেমন যখন-তখন মেজাজ হারানো ঠিকাদারের দেখা মেলে, তেমনই চূড়ান্ত বাজে ব্যবহারেও মেজাজ না হারানো একান্ত বাধ্যগত কর্মীকে পাওয়া যায়। আবার কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের করে ফেলা সৎ পুলিশ অফিসারকে যে কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়, সেই বয়ানও উঠে আসে অবলীলায়। রাখঢাক ছাড়াই বড় কর্তাদের বলতে শোনা যায়, সত্য না পেলে সত্যের মুখোশধারী মিথ্যাই সই! রুহুল আমিন নামের এক ঠিকাদারের কাজ বাগানোর প্রবল তাড়না থেকে দৌড়ের শুরু। রাজনীতিক কাম ব্যবসায়ীর মৃত্যু তাতে প্রথম অস্বস্তির জানান দেয়। তা প্রবল হয় দামি গাড়ির দিনে-দুপুরে উধাও হয়ে যাওয়ায়। আর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে উধাও হওয়া গাড়িতে পরম আকাঙ্ক্ষিত পুত্র সন্তানের অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থানের খবরে। রুহুল আমিনের অবস্থা তখন দিগ্ভ্রান্ত পথিকের মতো। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে কোনোভাবেই যেন কম্পাসে ঠিক-বেঠিকের হদিস পাচ্ছে না সে! কখনো প্রবল পরাক্রমে সব বাধা ডিঙোতে চাইছে, তো পরক্ষণেই ভেঙে পড়ছে তাসের ঘরের মতো! আর এর মধ্যেই খেলার নিয়ম পাল্টাচ্ছে অবিরত।'দৌড়' ওয়েব সিরিজটির প্রথম পর্ব থেকেই উত্তেজনার পারদ ক্রমশ উঁচুতে উঠেছে। গল্পটা টান টান, তাতে সন্দেহ নেই। ওয়েব সিরিজে এমন 'কী হয়, কী হয়' ঘরানার গল্পেরই কদর বেশি। 'দৌড়' সেদিক থেকে সফল। গল্পের বিন্যাস এমনভাবেই করা যে, এক পর্বের শেষে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার লোভ সামলানো কঠিন। কিন্তু তা করতে গিয়ে কি তালগোলও কিছুটা পাকেনি? কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্তত লজিক্যাল কনক্লুশন টানা যায়নি। হ্যাঁ, ফিকশনে সব সময় যুক্তি খুঁজতে নেই বটে। তবে সাত বছরের শিশু কতক্ষণ একটা বদ্ধ জায়গায় চেঁচামেচি না করে থাকবে, তার একটা আন্দাজ থাকা উচিত ছিল। উচিত ছিল গল্পে দেখানো সময়ের একটা বিশ্বাসযোগ্য ঘড়ি। আর কে না জানে, একটা সম্ভাবনাকে আফসোসে পরিণত করতে কিছু ছোট ছোট ভুলই যথেষ্ট। অভিনয়ের দিক থেকে মোশাররফ করিম এই সিরিজে নিজেকে বারবার ভেঙেছেন, গড়েছেন। ঠিক 'মহানগর'-এ যেমনটা দেখা গিয়েছিল। বরং এ সিরিজে তাঁর অভিনয় ছিল আরও গভীর। চরিত্রের মুড সুইংয়ের সঙ্গে যেভাবে তিনি তাল মিলিয়েছেন, সেটি সত্যিই বিস্ময়কর। কখনো একজন ঠিকাদার হয়ে লাভ-ক্ষতির হিসাব কষেছেন, তো কখনো হারিয়ে যাওয়া ছেলের খোঁজে হন্যে হয়ে থাকা এক পিতা হিসেবে কেঁদেছেন অসহায়ের কান্না। এ দুইয়ের কোনোটাতেই দর্শকদের অবিশ্বাসী হওয়ার সুযোগ দেননি মোশাররফ করিম।আর তাতে যোগ্য সংগত দিয়েছেন ইন্তেখাব দিনার। পর্দায় একান্ত বাধ্যগত সর্বংসহা 'ম্যানেজার' চরিত্রের সার্থক রূপায়ণ ঘটিয়েছেন তিনি। আবার প্রয়োজনমতো অত্যন্ত মসৃণভাবে বদলে দিয়েছেন চরিত্রের গতিপথ। অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে তারিক আনাম খান ছিলেন অনবদ্য। বড় কর্তা হিসেবে আজাদ আবুল কালাম ও একগুঁয়েমির কারণে উন্নতি না হওয়া অফিসার তারিক আনাম খানের পর্দার কথোপকথন সত্যিই উপভোগ্য। কিন্তু হ্যাঁ, একটা কিন্তু থেকেই গেছে। আর সে কারণেই আফসোস। কারণ চ্যাম্পিয়নের ট্রফিটা যে তুমুল দৌড়ের পরও স্পর্শ করা গেল না। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি ওয়েব সিরিজের ক্যামেরার কাজে ও ভিডিও সম্পাদনাতেও ভিন্নতা আনা জরুরি, নইলে ইউটিউবের নাটকের সঙ্গে ঠিক পার্থক্য চোখে পড়ে না। আর তারকা অভিনয়শিল্পীরা মূল চরিত্রে থাকলেও, অন্যান্য ছোট বা তথাকথিত অগুরুত্বপূর্ণ চরিত্রাভিনেতা নির্বাচনেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, লম্বা দৌড়ে সবাইকেই দৌড়াতে হয় একই গতিতে, নইলে যে বিজয়ীর মালা অন্যকেই দিয়ে দিতে হবে।দৌড়-এর আরেক সিজনের স্পষ্ট সংকেত প্রথম সিজনে দেওয়া হয়েছে। থাকবে আরও চমক, আরও শিহরণ। আশা রাখি, ভালো শুরুর সেখানে আর ছন্দপতন হবে না। আমরা নিশ্চয়ই সত্যিকারের ট্রফি জেতা 'দৌড়' দেখতে পাব তখন, রুহুল আমিনের ভাষায় 'দাঁত উড়িয়ে' দেওয়া দৌড়! | 2 |
করোনা টিকা গ্রহণের লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের পঞ্চমবারের মতো রেজিস্ট্রেশনের নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিবন্ধন করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে রেজিস্ট্রেশনে বিড়ম্বনার কারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না বলে জানা যায়। টানা চার বার সময়সীমা বৃদ্ধি করার পরেও টিকা নিতে ৫৭ ভাগ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৬ হাজার ৬০৭ জন শিক্ষার্থী। আর এর পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থীদের সচেতনতার অভাব এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা কারণ দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি আবাসিক হল রয়েছে। এসব হলে ৩ হাজার ৫৯৪ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা আছে। যার মধ্যে ১ হাজার ৯৪৬ জন ছাত্র ও ১ হাজার ৬৪৮ জন ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ হাজার ৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা আছে। আর বাকি ৭৬ শতাংশের জন্য নেই কোনো আবাসনের ব্যবস্থা।অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুরক্ষা অ্যাপে শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়েছে। অনাবাসিকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ক্লাস শুরু হলে এক রুমেই ক্লাস করব। এমনকি মেসগুলোতেও হলের চেয়ে বাজে অবস্থা। এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তাহলে কেন শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে? আবাসিকদের পাশাপাশি অনাবাসিকদেরও দ্রুত টিকার আওতায় আনার সুব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সুরক্ষা অ্যাপের রেজিস্ট্রেশন ফরমে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই।এর আগে চারবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের তথ্য নিয়েছ। সেই তথ্য মোতাবেক আবার সুরক্ষা অ্যাপে আবেদন করতে গেলে শিক্ষার্থীদের আবেদন সাবমিট করা যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য চাইলে আমার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় জন্মসনদের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করি। এখন সুরক্ষা অ্যাপে লগইন করতে পারছি না।'শেখ রাসেল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হাসিব সজিব বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকার জন্য কয়েকবার নিবন্ধন করেছি। ইউজিসির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবার সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু নিজের সব তথ্য প্রদান করেও নিবন্ধন করতে পারছি না। বিড়ম্বনা এবং প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আমরা নিবন্ধন করে দ্রুত টিকা নিতে চাই।'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা নেছা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইশরাত শায়লা বলেন, আমার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। এর আগে প্রথমদিকে নিবন্ধন করতে পারিনি। পরবর্তীতে জন্মসনদ দিয়ে নিবন্ধন করেছিলাম। তবে সুরক্ষা অ্যাপে জন্মসনদের কোনো অপশন নেই। টিকা নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আবেদন করতে পারছি না।'ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক জি কে সাদিক জানান, টিকার রেজিস্ট্রেশন আরও সহজ প্রক্রিয়ায় হওয়া দরকার। নয়তো শিক্ষার্থীদের অনেকেই ঠিকমতো রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে না। ভোগান্তি আর নানাবিধ জটিলতায় শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের আওতায় হল কার্ডের মাধ্যমে যদি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় তাহলে তা বেশি ফলপ্রসূ হবে বলে জানান তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। টিকা দেওয়ার জন্য ইউজিসি আমাদের চিঠি দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে ইউজিসির সাথে কথা বলব।'বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। এ জন্য আমরা আবার নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। এর আগেই অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কাছে তালিকা পাঠিয়েছে। আমরা তাঁদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। যারা তালিকা পাঠিয়েছে তাঁদের রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই। তালিকা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবার মোবাইলে মেসেজ চলে যাবে। আগে আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। ৩০ লাখ টিকা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ আছে।'উল্লেখ্য, ২২ ফেব্রুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে ২ মার্চ ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিশ্চিত করতে তালিকা চেয়েছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ১৪ মার্চ আবাসিক ও অনাবাসিক সকলের তালিকা চেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে রেজিস্ট্রেশন কম সম্পন্ন হওয়ায় তৃতীয়বার ২৫ মে পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করে। সর্বশেষ চতুর্থ বারের মত ৩০ মে পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। | 1 |
চট্টগ্রামের হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজে ছাত্রলীগের ২৪ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এমন বিতর্কিত একজনকে- যিনি মাত্র কিছুদিন আগে কলেজের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর ব্যানার ছিঁড়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। তারও আগে মোবাইল চুরি করে খেয়েছিলেন গণপিটুনিও। এই আহ্বায়কের নাম কাজী নাঈম। বুধবার কাজী নাঈমকে আহ্বায়ক করে হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর। কাজী নাঈমের বিরুদ্ধে শুধু বঙ্গবন্ধুর ব্যানার ছেঁড়াই নয়, রয়েছে মোবাইল চুরির অভিযোগও। ২০১৭ সালে মোবাইল চুরির অপরাধে গণধোলাই খেয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতেও দেখা যায় এই নেতাকে। কলেজে বহিরাগতদের নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি ও শিবির কর্মীদের ছাত্রলীগ বানিয়ে নিজের গ্রুপে অনুপ্রবেশের জন্য একাধিকবার খবরের শিরোনামও হন এই ছাত্রলীগ নেতা। এ বিষয়ে কথা বলতে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দস্তগীরকে একাধিকবার ফোন দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।কমিটি নিয়ে এমন কাণ্ডে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি ক্ষোভের সুরে বললেন, 'মহসিন কলেজ শিবিরমুক্ত করার সময় যারা ছিলো কিন্তু আজ বাদ দেওয়া হয়েছে, আবার যাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে তাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার জন্য তোমাদের আজ এ পরিণতি।' ক্ষোভের সুরে মহসিন কলেজ কমিটির সদ্য নির্বাচিত এক সদস্য বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে অপমান করার মত একটি গুরুতর অপরাধ করেও ন্যূনতম শাস্তি না দিয়ে উল্টো তাকে ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেওয়া হল, এতে ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশই হয়েছেন। নিজেদের কমিটি ভেঙে যাওয়ার আভাস শুনে একদিনেই তড়িঘড়ি করে টাকার বিনিময়ে মহসিন কলেজসহ থানা, ওয়ার্ড মিলে ১৩টি কমিটি অনুমোদন দিয়েছে মহানগর ছাত্রলীগ। একদিনে এতগুলো কমিটি অনুমোদন দেওয়াটাও একটা রেকর্ড।' এর আগে চট্টগ্রাম কলেজে মাহমুদকে সভাপতি ও সুভাষ মল্লিক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি দিয়ে বির্তকের মুখে পড়ে মহানগর ছাত্রলীগ। অছাত্র, বহিরাগত ও বিএনপি কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করার অভিযোগ ওঠে ইমু-দস্তগীরের বিরুদ্ধে। ইয়াবা ব্যবসার দায়ে জেল খাটা ও চট্টগ্রাম কলেজে না পড়েও সেই কমিটিতে স্থান হয়েছিলো একাধিক বিতর্কিত নেতার। ওপর মহলের নেতাদের ও 'মাই ম্যান'দের কমিটিতে আনতে বিতর্কিত কমিটি দিয়ে এবার অগ্রহণযোগ্য কমিটি দেওয়া হল মহসিন কলেজে- এমন অভিযোগ নেতাকর্মীদের। সূত্র : চট্টগ্রাম প্রতিদিন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 1 |
একদিকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের দোরগোড়ায় চোখ রাঙাচ্ছে তালেবান। অন্যদিকে, আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির পদত্যাগ চাইছে পাকিস্তান। এরই মধ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন তিনি। গতকাল শনিবার (১৪ আগস্ট) ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘানি। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বিগত ২০ বছরে ফিরে পাওয়া গৌরব হারাতে দেবেন না তিনি। এর আগে, গত বুধবার প্রেসিডেন্টকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল মাজার-ই-শরিফে। ইতিমধ্যে সেই মাজার-ই-শরিফও চলে গেছে তালিবানের দখলে। ভাষণে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীকে নিজেদের অবস্থানে ফেরানোই যে মূল লক্ষ্য, সে কথাও সাফ জানিয়েছেন ঘানি। যখন তালেবান একদমই আফগানিস্তানের রাজধানীর দরজায় এসে কড়া নাড়ছে, সেই পরিস্থিতিতে আশরাফ ঘানি এদিন বলেন, আমাদের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সেনাবাহিনীকে নিজেদের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা। আমি কখনও যুদ্ধ হতে দেব না, যাতে আফগানিস্তানের আরও মানুষের মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, গত ২০ বছর ধরে আমরা যা গড়ে তুলেছি, তা ধ্বংস হয়ে যেতে দেব না। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হতে দেব না। ঘানি জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদী শাসন রুখতে তিনি বর্ষীয়ান নেতা, রাজনীতিবিদ, জনসাধারণের প্রতিনিধি ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি তালেবানদের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করার জন্য আফগান সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন তিনি। জানা যায়, আফগান সরকার তালেবানের কাছে নতিস্বীকার করার কথাও ভাবছে। সূত্রের খবর, ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিতে পারে আফগানিস্তান সরকার। তবে এ দিন তেমন কোনও বার্তা দেননি ঘানি। এ দিকে, একের পর এক প্রাদেশিক রাজধানী দখল করার পর বাকি রয়েছে শুধু কাবুলই। গত শুক্রবার আফগানিস্তানের কান্দাহার, হেরাত সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করে ফেলেছে তালেবান। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল তালেবানরা। শুক্রবার লোগহার প্রদেশের রাজধানী পুল-ই-আলম শহরও দখল করে নেয় তালিবানরা, যা কাবুল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত | 3 |
ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে বিক্রির চেষ্টাকালে এক তরুণীকে (১৯) উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই তরুণী মাগুরার একটি বিউটি পারলারে কাজ করতেন। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মো. রফিক সরদার (৩৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার রফিক সরদার গোয়ালন্দের তাহের কাজীপাড়ার উম্বার সরদারের ছেলে। এ সময় রফিকের সহযোগী রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার নাদুরিয়া বাস্তুপুর এলাকার মজিবর ওরফে মজিবর কসাই (৫০) পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ওই তরুণী গতকাল মঙ্গলবার রাতে ওই দুজনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেছেন। ওই তরুণী জানান, তাঁর নানাবাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বন্দেখালী এলাকায়। তিনি পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী। পলাতক ২ নম্বর আসামি মজিবর কসাইও একজন গরু ব্যবসায়ী। পেশার কারণে তাঁরা উভয়ে পূর্বপরিচিত। দুই সপ্তাহ আগে নানাবাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখানে মজিবর কসাইয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এ সময় পারলারে সামান্য বেতনে চাকরির কথা শুনে তিনি অনেক ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। তরুণী বলেন, গত রোববার সকালে নানাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি (তরুণী) টাঙ্গাইলে খালার বাড়িতে বেড়াতে যান। তাঁরা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালে মজিবর কসাই গ্রেপ্তার রফিকের সঙ্গে মুঠোফোনে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁর কথার প্রলোভনে পড়ে টাঙ্গাইল থেকে দুই দিন পরে নানা-নাতি মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছান। এ সময় রফিক তাঁদের দৌলতদিয়া বাজারের দিকে এগিয়ে যেতে বলেন। কথামতো তাঁদের সঙ্গে দৌলতদিয়া রেলস্টেশনে দেখা হলে রফিক তাঁদের যৌনপল্লির প্রবেশপথের কাছে নিয়ে যান। এ সময় নানা পাশের দোকানে পান কিনতে গেলে রফিক তাঁকে বাসায় নেওয়ার কথা বলে যৌনপল্লিতে নিয়ে যান। এ সময় অনেক মেয়ের সমাগম দেখে সন্দেহ হয় এবং ভেতরে প্রবেশে আপত্তি জানালে জোরপূর্বক ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় বেসরকারি সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির লোকজন হাতেনাতে তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার ও রফিককে আটক করে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার জানান, এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া তরুণী মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে হাতেনাতে আটক রফিক সরদার ও পলাতক মজিবর কসাইকে আসামি করে মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ৩০। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রফিককে আজ বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই তরুণীকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। | 6 |
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো (বেসরকারি) অনার্স ও মাস্টার্সের যেসব বিষয়ের শিক্ষকদের বেতন দিতে পারবে না, সেসব বিষয়ের অধিভুক্তি বাতিল করা হবে। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) 'মিট দ্য রিপোর্টার্স' অনুষ্ঠানে এ কথা জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান। উপাচার্য বলেন, শিক্ষকদের বেতন কলেজ থেকে (মূল আয় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি) দেওয়া হবে- কলেজ কর্তৃপক্ষ স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে এমন শর্তে সম্মত হওয়ায় কলেজগুলোকে অধিভুক্ত করা হয়েছে। এখন শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারলে অধিভুক্তি বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে কলেজগুলোকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। যেসব বিষয়ের শিক্ষকদের বেতন দিতে কলেজ পারবে না, কেবল সেসব বিষয়ের অধিভুক্তি বাতিল করা হবে। তবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে এটি করা হবে। তিনি বলেন, কলেজ থেকে বেতন দেওয়ার শর্ত থাকলেও করোনাকালে বহু কলেজ শিক্ষকদের কোনো বেতন দিচ্ছে না বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অনেকে কাগজে-কলমে বেতন দেওয়ার বিষয়টি দেখান, অথচ তা সত্য নয়। দেশের যত্রতত্র অনার্স কোর্স চালু করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, গত দুই বছর থেকে নতুন করে আর অনার্সের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। তার আগে তৃণমূলে উচ্চশিক্ষার বিস্তার ও নারীশিক্ষাসহ নানা বিষয় চিন্তা করে অনার্স কোর্স চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, তারা অনার্স প্রথম বর্ষে অনলাইনে ভর্তির কাজটি শেষ করে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এখনও সুনির্দিষ্ট সময় ঠিক হয়নি। অন্যান্য বর্ষের ক্লাসও অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষাগুলো করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সশরীরে নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, সারাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মোট কলেজ দুই হাজার ২৬০টি। এগুলোতে মোট শিক্ষার্থী ২৯ লাখের মতো। শিক্ষক আছেন ৬০ হাজার। ৫৬০টি কলেজে অনার্স চালু রয়েছে। দুর্নীতিসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু দুর্নীতিবাজ ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষক সততার সঙ্গে জীবনযাপন করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ সেল গঠিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নীতিগতভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে এটি করা হয়েছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষে উঠিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন দেওয়া হয়নি। তারা যেন এক বর্ষে আটকে না থাকে এ জন্য তাদের শর্তসাপেক্ষে উন্নীত করা হয়েছে। তাদের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিতে হবে পরে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান। | 6 |
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জমিতে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের রফিক ও বরাত আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে রফিক সকালে তার দলবল নিয়ে বরাত আলীর জমি থেকে জোর করে ধান কাটতে গেলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সলঙ্গা থানার ওসি জেড জেড এম তাজুল হুদা জানান, তারুটিয়া গ্রামে দুই পক্ষের মারামারির বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো পক্ষ থানায় মামলা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সুতা ও চিনি আমদানির সঙ্গে জড়িত মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে আজ শনিবার এ ঘোষণা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের খবরে বলা হয়েছে, প্রথমে পাকিস্তানের ইকোনমিক কোঅরডিনেশন কমিটির (ইসিসি) কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইসিসি এসব প্রস্তাবের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে তাদের পর্যালোচনা জানানোর পর এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সরকার।ভারত থেকে দুই বছর ধরে সুতা ও চিনি আনছে না পাকিস্তান। পাকিস্তানে নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী হামাদ আজহার ইসিসির কাছে এই আমদানি চালুর প্রস্তাব করার দুই দিনের মাথায় এমন সিদ্ধান্ত জানাল দেশটির সরকার।ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জম্মু-কাশ্মীরের 'বিশেষ মর্যাদা' ২০১৯ সালে বাতিল করে নয়াদিল্লি। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বাণিজ্য বন্ধের এ সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন ইমরান।প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান। চিনি, সুতাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানির জন্য তাদের সাশ্রয়ী উৎস খোঁজার নির্দেশনাও দেন তিনি।তবে ভারত বলছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে তারা শত্রুতা ও সন্ত্রাসমুক্ত সম্পর্ক চায়। তাদের মতে, 'আলোচনা ও সন্ত্রাস' একসঙ্গে চলতে পারে না। সন্ত্রাস দমনে ইসলামাবাদকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বানও জানায় নয়াদিল্লি।'বিশেষ মর্যাদা' বাতিলকে কেন্দ্র করে এর আগেও বাণিজ্য বন্ধ করেছিল পাকিস্তান। তবে করোনার কারণে ২০২০ সালের মে মাসে ভারত থেকে ওষুধ আমদানি শুরু করে দেশটি। | 3 |
করোনার এই পরিস্থিতিতেই দুবাইতে উড়ে গেলেন 'আশিকী', 'বস টু', 'শাহেনশাহ'খ্যাত নায়িকা নুসরাত ফারিয়ার। শুক্রবার ফারিয়ার ইনস্টাগ্রামে চোখ পড়তেই দেখা যায় দারুন কিছু ছবি। যাতে দেখা যায় উড়ুজাহাজ করে কোথায় যেনো যাচ্ছেন এ নায়িকা। শনিবার কোথায় গেলেন, জানতে চাইলে ফারিয়া জানান অলরেডি দুবাইতে পৌছেছেন তিনি। শনিবার দুবাইয়ের ফাইভ পাম জুমেইরাহ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট থেকে চেকইনও দিয়েছেন তিনি। হুট করে দুবাই সফর? হোয়াটস অ্যাপে এমন প্রশ্ন করলে ফারিয়া জানান, পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর দেশের বাইরে বের হয়েছেন তিনি। এর আগে একটি বিজ্ঞাপনের কাজে মুম্বাইতে যাওয়া হয়েছিলো তার। সেটা ১০ মার্চ। ফারিয়ার দুবাই সফরে সঙ্গী আছেন বর রনি রিয়াদ রশিদ। পছন্দের বিছারে দুবাই ফারিয়ার প্রিয় শহরে বলেই জানালেন। ঘুরাঘুরির জন্য এ শহরের জুড়ি নেই বলেই মন্তব্য ফারিয়ার। দুবাইয়ের ফাইভ পাম জুমেইরাহ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে উঠেছেন ফারিয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো এ রিসোর্টটি দুবাইয়ের সবচেয়ে বড় আর বিলাসবহুল রিসোর্টের একটি। জীবনযাপনের সব অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে এতে। ৪৭০টি ঘর, পাঁচটি সুইমিং পুলসহ নানা কিছুর আয়োজন রয়েছে এতে। সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয় হচ্ছে এ রিসোর্ট থেকে আরব উপসাগর আর দুবাই স্কাইলাইন লাইন। আপাতত কোন ছবির শুটিং নেই ফারিয়ার। তাই শুটিংয়ের তাড়াও নেই। কিছুদিন ইচ্ছেমতো ঘুরাঘুরি করবেন ফারিয়া। এরপর ঢাকায় ফিরবেন ৩ অক্টোবর। | 2 |
দেশে করোনার টিকা কেনায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার গরমিল পাওয়া গেছে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে। আজ মঙ্গলবার 'করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় সুশাসন: অন্তর্ভুক্তি ও স্বচ্ছতার চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় টিআইবি।প্রতিবেদনে টিআইবি বলছে, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে করোনা টিকা ক্রয়ে ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ২৯ কোটি ৬৪ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যে, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সরকারিভাবে ক্রয় করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডোজ টিকা, কোভ্যাক্স কস্ট শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ৮ কোটি ৭০ লাখ ডোজ, বিভিন্ন দেশের সরকার ও কোভ্যাক্স থেকে অনুদানের মাধ্যমে প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ডোজ টিকা বিনা মূল্যে পাওয়া গেছে।এ ক্ষেত্রে কোভিশিল্ড প্রতি ডোজ ৫ ডলার হিসেবে ৪২৫ টাকা, সিনোফার্ম ১০ ডলার হিসেবে ৮৫০ টাকা এবং কোভ্যাক্স কস্ট শেয়ারিংয়ের টিকা সাড়ে ৫ ডলার হিসেবে ৪৬৭ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে ধরে আনুমানিক টিকার খরচ দাঁড়ায় ১১ হাজার ২৫৪ কোটি ৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৮ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকার হিসাবে গরমিল রয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টিকা কার্যক্রমে জবাবদিহির ঘাটতি ছিল। গবেষণায় পর্যবেক্ষণ করা ৪৫টি স্থায়ী টিকাকেন্দ্রের মধ্যে ৩৫টি কেন্দ্রে অভিযোগ বাক্স ছিল না, ৪০টি কেন্দ্রে অভিযোগ কেন্দ্র ছিল না এবং ৩৯টি কেন্দ্রে অভিযোগ জানানোর নম্বর প্রদর্শন করা ছিল না। অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার হওয়া টিকা গ্রহীতাদের দেড় শতাংশ অভিযোগ করেছেন। যাঁরা অভিযোগ করেননি, তাঁদের ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন, অভিযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা নেই। ৩০ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন, কেন্দ্রে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা ছিল না।গবেষণা জরিপে আরও জানানো হয়, টিকা ব্যবস্থাপনায়ও ছিল অনিয়ম-দুর্নীতি। টিকাকেন্দ্রে টিকা গ্রহণের সময় ২ শতাংশ সেবাগ্রহীতা অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ, টিকাকেন্দ্রে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধা দেওয়া, দুর্ব্যবহার এবং কিছু কেন্দ্রে টিকা থাকা সত্ত্বেও টিকাকেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহীতাদের ফিরিয়ে দেওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০২১ সালের জুলাই মাসে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে টিকা প্রতি ৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১০ মার্চ গণমাধ্যমে টিকা কার্যক্রমে মোট ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। | 6 |
গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের দায়ে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ইউনিপেটুইউ-এর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মোট ছয়জন কর্মকর্তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ২৭০২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে, এবং প্রতিষ্ঠানটির ৪২০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে এর আগে আরো কয়েকটি মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও, এই প্রথম এ ধরণের কোন প্রতিষ্ঠানের কারো সাজা হলো। দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির ছয়জন কর্মকর্তাকে ১৩৫১ কোটি টাকা দুর্নীতির দায়ে মানি লণ্ডারিং আইনে সাজা দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনতাসীর হোসেন, পরিচালক আরশাদ উল্লাহ এবং জেনারেল ম্যানেজার এএম জামশেদ রহমান এই তিনজন ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি তিনজন পলাতক। দুদক ২০১১ সালের ২৫শে জানুয়ারি ইউনিপেটুইউ -এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ডেসটিনি ও যুবকসহ আরো কয়েকটি মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সেসব ঘটনায় একাধিক মামলা হবার পর সেগুলো এখনো বিচারাধীন রয়েছে। মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, এ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকিং রেজিস্ট্রেশন না নিয়ে শুধুমাত্র সমবায়ের লাইসেন্স দিয়ে ব্যাংক সমতুল্য কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। শুরুতে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানগুলো সমবায়ের লাইসেন্স দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতো এবং কখনো তারা ঋণও প্রদান করতো। কিন্তু সমবায়ের লাইসেন্সের আওতায় সেটি করার জন্য তাদের অনুমতি নেই। যদিও সেসময় এ ধরনের কার্যক্রম তদারকি করার মতো লোকবল সমাজ কল্যাণ বা সমবায় অধিদফতরের ছিল না। এ ধরণের কয়েকটি অর্থ কেলেংকারির পরে ২০১৩ সালে সরকার মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। | 9 |
ইরানের ইসলামী বিপ্লবি গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে এখনসর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি রয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির এই সাফল্য অর্জনের জন্য তিনি সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধন্যবাদ জানান। জেনারেল সালামি বলেন, ইরান এখন বিশ্বের শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অধিকারী একটি দেশ। তিনি বলেন, "অপ্রত্যাশিত যেকোনও ঘটনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে এই মহড়ায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রপাতি এবং সামরিক সরঞ্জাম আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে বিরাট বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা উপলব্ধি করেছি।" জেনারেল সালামি বলেন, আল্লাহর রহমতে এ মহড়া চলাকালে কল্পিত শত্রুর প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুতে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে প্রথম প্রচেষ্টাতেই আঘাত করতে সক্ষম হয়েছি। এর কারণ হচ্ছে- আইআরজিসি'র অ্যারোস্পেস ডিভিশন এবং সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ফোর্স সর্বাধুনিক ও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। মহড়ার দ্বিতীয় দিনে বুধবার শত্রুর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের খাতামুল আম্বিয়া বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাদের রাহিমজাদে বলেছেন, বুধবার জওশান ও খাতাম নামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানো হয়েছে। দুটি ব্যবস্থাই নিখুঁতভাবে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, এই প্রথম এই দুই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানো হলো। জওশান নামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি ইরানের 'ফিফটিন খোরদাদ' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নত সংস্করণ বলে তিনি জানান। ইরানের এ কমান্ডার বলেন, নানা হুমকি পর্যালোচনার ভিত্তিতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এমন কোনও হুমকি নেই যা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। সূত্র: প্রেসটিভি বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ, কার্নিশ, ড্রাম বা রিজার্ভার, ফুলের টব, ছাদবাগানে পানি জমে থাকলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করবে। দুই-একদিনের মধ্যেই এ অভিযান শুরু হবে। রোববার বিকেলে চসিক সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে আয়োজিত সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন একথা বলেন। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, লিফলেট বিলি করছি, মাইকিং করছি, চসিক জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাচ্ছি। কিটস শেষ হওয়ায় দুদিন বন্ধ ছিল। সোমবার থেকে আবার চালু করছি। এডিস মশা রোধে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ছিটানো অব্যাহত থাকবে। এ কার্যক্রম জোরদার করতে আরও ফগার মেশিন ও ওষুধ কেনা হচ্ছে। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহসিন উদ্দীনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাদেক হোসেন খোকার মতো 'সাহসী ও দেশপ্রেমিকের' রাজনীতিকের খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। দেশে রাজনৈতিক যে সংকট চলছে সেই সংকটে খুব বেশি প্রয়োজন সাহস, ধৈর্য ও দেশপ্রেমের। আর এই গুণগুলোর অধিকারী ছিলেন খোকা ভাই।" প্রয়াত এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক স্মরণসভায় বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সাদেক হোসেন খোকা মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বক্তব্য দেন। গত বছরের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্নোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আটদিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সাদেক হোসেন খোকা স্মৃতি পরিষদ। এর মধ্যে সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয়তলায় আবদুস সালাম হলে তার জীবনীর ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র 'গেরিলা থেকে জননেতা' প্রদর্শিত হয়। পরে নিচতলায় ক্লাব মিলনায়তনে খোকার ওপর দুইদিনের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার পর থেকে নতুন এক দৃশ্য দেখা যায় সেখানকার বিমানবন্দরে। কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আফগানদের ঢল নামে। রানওয়েতে উড়োজাহাজের পেছনেও ছুটতে দেখা যায় অনেককে। কারণ, তারা দেশ ছাড়তে চায়। আফগানদের এই দেশ ছাড়ার ঘটনা নতুন নয়। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলা শুরুর পর থেকে শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছে আফগানরা। তবে বর্তমানে এই প্রবণতা বেড়েছে। সব মিলিয়ে ২২ লাখ আফগান প্রতিবেশী দেশগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে। তালেবানের সঙ্গে দেশটির সরকারি বাহিনী এবং বিদেশি বাহিনীগুলোর সংঘর্ষে ৩৫ লাখ আফগান গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তবে কাবুল তালেবানের দখলে চলে যাওয়ার পর ঠিক এ পর্যন্ত কতজন আফগানিস্তান ছেড়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আফগানিস্তানের সব সীমান্ত ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। সশস্ত্র এই গোষ্ঠী বলছে, তারা চায় না কোনো আফগান দেশ ছেড়ে চলে যাক। খবরে বলা হচ্ছে, যেসব আফগান ব্যবসা করেন এবং যাঁদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, তাঁরা শুধু সীমান্ত পাড়ি দিতে পারছেন। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বলছে, অধিকাংশ আফগান সীমান্ত পাড়ি দিতে পারছে না। যারা আফগানিস্তান ছাড়ছে, তাদের একটি বড় অংশ যাচ্ছে পাকিস্তানে। তবে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার পর পাকিস্তান যেতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে অনেক আফগান। এ ছাড়া প্রায় দেড় হাজার মানুষ উজবেকিস্তানে পাড়ি জমিয়েছে। সেখানে সীমান্তবর্তী এলাকায় তাঁবু টাঙিয়ে থাকছে তারা। অনেকেই কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে আফগানিস্তান ছেড়েছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন আফগান, সেটা নিশ্চিত নয়। দেশ ছাড়ার পাশাপাশি অনেক আফগান বাড়ি ছাড়তেও বাধ্য হচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের দেওয়া তথ্য অনুসারে, চলতি বছর আফগানিস্তানে সংঘর্ষে সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির গত জুনে দেওয়া তথ্য অনুসারে, দেশটির ১ কোটি ৪০ লাখ ক্ষুধা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। আফগানিস্তানের শরণার্থীরা গত বছর যে দেশগুলোয় বেশি গেছে তার মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান ও ইরান। ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০২০ সালে শুধু পাকিস্তানে গেছে ১৫ লাখ আফগান। আর ইরানে গেছে ৭ লাখ ৮০ হাজার। এর পরের অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। দেশটিতে গেছে ১ লাখ ৮০ হাজার আফগান। আর তুরস্ক নিয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার। এই আফগানদের মধ্যে শরণার্থী রয়েছে, আবার রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীও রয়েছে। তবে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার সংখ্যা হিসাব করলে এই চিত্রটা একটু বদলে যাবে। হিসাব অনুসারে, যেসব দেশে আফগানরা রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছে, সেই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে তুরস্ক, জার্মানি ও গ্রিস। তুরস্কে আশ্রয় চেয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার আফগান। আর জার্মানি ও তুরস্কে আশ্রয় চেয়েছে যথাক্রমে ৩৩ হাজার ও ২০ হাজার আফগান। ইরানে কেউ রাজনৈতিক আশ্রয় চায়নি। দেশটিতে যেসব আফগান শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পেয়েছে, তারা কেউ দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবা কিংবা শিক্ষার সুযোগ পাবে না। আফগানদের সাহায্যে বেশ কিছু দেশ এগিয়ে এসেছে। আবার অনেক দেশ বলছে তারা আফগানদের সাহায্য করবে না। এ নিয়ে কোন দেশের অবস্থান কেমন, তা দেখে নেওয়া যাক একনজরে। আফগানদের সাহায্যে যারা এগিয়ে এসেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ইরান। আফগানিস্তানের সঙ্গে লাগোয়া সীমান্তের তিনটি প্রদেশে শিবির স্থাপন করেছে ইরান। সেখানে তাঁবু স্থাপন করে আফগানদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে। তবে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তাঁরা বলেছেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাঁদের ফেরত পাঠানো হবে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ইরানে রয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ আফগান শরণার্থী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত জুনে বলেছিলেন, তালেবান যদি আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তবে তিনি সীমান্ত বন্ধ করে দেবেন। কিন্তু এটা আসলে সম্ভব হয়নি। কারণ, ইতিমধ্যে হাজারো আফগান দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছে। এ ছাড়া একটি সীমান্ত ক্রসিং খোলা রাখা হয়েছে। আর তালেবান বলছে, তারা সীমান্ত ক্রসিংয়ে কড়াকড়ি আরোপ করবে। তাজিকিস্তানে কতজন আফগান গেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ধারণা করা হচ্ছে, শত শত আফগান দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছে। তাদের মধ্যে আফগান সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। গত জুলাইয়ে তাজিকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তারা প্রায় এক লাখ আফগান শরণার্থী নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার আফগান দেশটিতে অবস্থান নিয়েছে। উজবেকিস্তান সীমান্তে শিবির স্থাপন করা হয়েছে। তবে এই সীমান্তে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করেছে তালেবান। তারা বলছে, যারা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সীমান্তে যাচ্ছে, তাদেরই শুধু যেতে দেওয়া হচ্ছে উজবেকিস্তানে। প্রায় ২০ হাজার আফগানকে আশ্রয় দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাজ্য। প্রথম বছরে পাঁচ হাজার আফগানকে পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা ব্রিটিশ সরকারের। তবে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু, তাদেরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি তহবিল ছাড় দিয়েছেন। জরুরি অভিবাসন এবং শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া আফগান সরকার ও তালেবানের সংঘর্ষে যারা ক্ষতিগ্রস্ত, আফগানিস্তান সংকটের কারণে যারা ঝুঁকিতে এবং যারা বিশেষ ভিসা আবেদন করেছেন তাদের জন্য এই অর্থ ব্যয় হবে। তবে ঠিক কতসংখ্যক আফগান শরণার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয় দেবে, এটা এখনো স্পষ্ট নয়। শরণার্থী নেবে কানাডাও। দেশটির সরকার বলছে, তারা ২০ হাজার আফগানকে পুনর্বাসিত করবে। তালেবানের ক্ষমতা দখলের কারণে যারা ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা এ ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। এ ছাড়া আফগান সরকারের কর্মী ও নারীনেত্রীরা কানাডায় পুনর্বাসনে প্রাধান্য পাবেন। শরণার্থী নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে অবৈধ অভিবাসীর যে ঢল আসছে, তা থেকে নিজ দেশকে রক্ষ করবেন তিনি। মাখোঁ বলেন, আফগানিস্তানে যারা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের রক্ষায় কাজ করবে ফ্রান্স। তিনি বলেন, বর্তমান যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার ফল একা ভোগ করবে না ইউরোপ। এ ছাড়া জার্মানি বলেছে, তারাও কিছু শরণার্থী আশ্রয় দেবে। তবে ঠিক কতজনকে নেবে, সেটা নিশ্চিত নয়। কারণ, ২০১৫ সালে শরণার্থী আশ্রয় দিতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সরকার। অস্ট্রেলিয়া বলেছে, তারা আফগানিস্তান থেকে আসা তিন হাজার মানুষকে নেবে। মানবিক ভিসা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই তিন হাজার আফগানকে নেবে তারা। আফগান শরণার্থী নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। এই ইউনিয়নভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁরা ২০১৫ সালের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি করতে চান না। ওই বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ শরণার্থী নিয়েছিল। তবে এ নিয়ে কর্মসূচির জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছিল দেশগুলো। এ ছাড়া অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নর্থ মেসিডোনিয়া, আলবেনিয়া, কসোভো, তুরস্ক শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে খুব বেশি আগ্রহী নয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, তিনি নতুন শরণার্থী ঢুকতে দেবেন না। আর আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা আনতে পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করবে তাঁর সরকার। এর বিপরীতে উগান্ডা দুই হাজার আফগান শরণার্থী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিবিসি অবলম্বনে প্রতিবেদন তৈরি করছেন মোজাহিদুল ইসলাম মণ্ডল | 3 |
কে এম নূরুল হুদা কমিশনের 'সাফল্য' হলো, আগের নির্বাচন থেকে পরের নির্বাচনটি আরও খারাপ করা। কোনো নির্বাচনে যদি অনিয়ম-দুর্নীতি কিছুটা কম হয়ে থাকে, পরেরটিতে তারা সুদাসলে উশুল করে নেয়। ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকেই কমিশনের পদাধিকারী ব্যক্তিরা শপথ ভাঙতে শুরু করেন। নিজেদের অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও খামখেয়ালিপনা দেখাতে দেখাতে তাঁরা নির্বাচনী ব্যবস্থাটি ধ্বংসের কিনারে নিয়ে এসেছেন। এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পদাধিকারীরা নিজেদের এতটাই খেলো করে ফেলেছেন যে কেউ মনে করেন না তাঁরা সুষ্ঠু ও অবাধ দূরে থাক, মোটামুটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে পারবেন। সাম্প্রতিক কালে নির্বাচন কমিশন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন মিলিয়ে যেসব নির্বাচন করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনের প্রচারকালে দুজন ও ভোট গ্রহণের দিন আরেকজন প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে আওয়াজ তোলা হয়েছিল, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যা যা প্রয়োজন, তা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে। তাহলে সেখানে কীভাবে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল? নির্বাচন কমিশন কাদের নিরাপত্তা দিল? তিন সপ্তাহব্যাপী উত্তেজনাপূর্ণ প্রচারণার পর ইসি যে নির্বাচন 'উপহার' দিয়েছে, তা নিয়ে চট্টগ্রামের মানুষ এখন হাসি-ঠাট্টা করেন। নগরে কোন প্রার্থীর কেমন ভাবমূর্তি ছিল, তা তাঁদের অজানা নয়। ১৯৯৪ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ছয়বার নির্বাচন হয়েছে। প্রথম চারটি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন-মহিউদ্দিন চৌধুরী তিনবার ও মন্জুর আলম একবার। এমনকি ২০১৫ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনেও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ৩ লাখ ৪ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। আর এবার বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ৫২ হাজার ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও ভাবতে পারেননি এ রকম ফলাফল হবে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের নির্বাচন করার জন্য তো নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজন হয় না। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনাররা এই বলে শপথ নিয়ে থাকেন, 'আমি...প্রধান নির্বাচন কমিশনার (বা ক্ষেত্রমতে নির্বাচন কমিশনার) নিযুক্ত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ (বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা) করিতেছি, আমি আইনানুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত আমার পদের কর্তব্য পালন করিব। ...আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব।' এখন দেশবাসীই বিচার করুন, তাঁরা সেই কাজটি করেছেন কি না। সংবিধানে আছে, নির্বাচনের সময় ইসি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার যেকোনো সদস্যকে তার অধীনে নিয়ে আসতে পারে। যে কমিশনের পদাধিকারীরা বরাবর অন্যের অধীনে থাকতে পছন্দ করেন, তাঁরা কীভাবে জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবেন। বরং তাঁরাই নির্বাচনের সময় পুরোপুরি তাঁদের হুকুমবরদার হয়ে যান। আরেকটি বিষয় লক্ষ করা যায়, জাতীয় কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে যত অন্যায়-অপকর্ম হোক না কেন, কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের জবাব মুখস্থ থাকে। নির্বাচনের হাঙ্গামা হলে তাঁরা বলেন, 'এটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষণ।' কম ভোট পড়লে বলেন, 'দেশ যত উন্নত হচ্ছে, ভোট দেওয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ তত কমছে।' যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণও তাঁরা দেন। কিন্তু সাম্প্রতিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল সে কথা বলে না। সেখানে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নানা কারসাজি করেও নির্বাচন কমিশন ২২ দশমিক ৫০ শতাংশের বেশি ভোট দেখাতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনে যাঁরা হর্তাকর্তা হয়ে বসেন, তাঁরা সম্ভবত দেশের মানুষকে বেকুব ভাবেন; না হলে লাগাতার এভাবে অসত্য ভাষণ দিতে পারতেন না। সিইসি একবার বাংলাদেশের নির্বাচন থেকে আমেরিকাকে শিক্ষা নিতে বলেছিলেন। ভাগ্যিস, তারা শিক্ষাটা নেয়নি; নিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকতেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উত্তাপ গত বুধবার সংসদ ভবন পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিএনপির দুই সাংসদ নির্বাচনের নামে এ ধরনের প্রহসন বন্ধের কথা বলেছেন। জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, যাঁরা ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করেছেন, তাঁদের মুখে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা শোভা পায় না। মানলাম, ২৫ বছর আগে বিএনপি একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কথা বলার অধিকার হারিয়েছে। কিন্তু দেশের সাড়ে ১০ কোটি ভোটার কী দোষ করেছেন? তাঁরা কেন ভোট দিতে পারবেন না? বিচারপতি খায়রুল হকের যে রায়কে ভিত্তি করে আওয়ামী লীগ সরকার তার আন্দোলনের ফসল তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছিল, সেই রায়েও দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক রাখার কথা ছিল। তিনি বলেছিলেন, জাতীয় সংসদ চাইলে এটি করতে পারে। তবে কোনোভাবে বিচার বিভাগকে সম্পৃক্ত করা যাবে না। ২০০৭-২০০৮ সালে সেই মডেলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। কে এম নূরুল হুদা কমিশন দায়িত্ব নিয়েছে ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি চার বছর পূরণ হবে। এই চার বছরে নির্বাচনী ব্যবস্থাটিকে যেভাবে তারা ধ্বংস করেছে, অতীতে কোনো কমিশন পারেনি। এমনকি তাদের সদ্য পূর্বসূরি রকিব কমিশনের অধীনেও বেশ কিছু ভালো নির্বাচন হয়েছিল। আর এ টি এম শামসুল হুদা, আবু হেনা ও এম এ সাঈদ কমিশন জাতীয় নির্বাচনকে একটি উন্নত স্তরে নিয়ে গিয়েছিল, যা দেশের ভেতরে ও বহির্বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। আওয়ামী লীগের নালিশ ছিল এম এ আজিজ কমিশন ভোটার তালিকায় ১ কোটি ২০ লাখ ভুয়া ভোট যোগ করে একটি সাজানো নির্বাচনের পাঁয়তারা করেছিল। কিন্তু তারা তো শেষ পর্যন্ত নির্বাচনটি করতে পারেনি, আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। ছবিযুক্ত বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির পরও কে এম নূরুল হুদা কমিশন কেন একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে পারল না, সেই প্রশ্নের জবাব একদিন না একদিন তাদের দিতে হবে। বর্তমান কমিশনের আয়ু আছে মাত্র এক বছর। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনই ছিল তাদের বড় পরীক্ষা। চলমান পৌরসভা নির্বাচনের পর ইউপি নির্বাচন হবে। আমরা যদি টাইম মেশিনে সময়কে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির পরে নিয়ে যাই, তখন দেশবাসী পেছনে তাকিয়ে একটি নির্বাচনী রেখাচিত্র দেখতে পাবেন, যেখানে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন (অপর সদস্যরা হলেন মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার শাহাদত হোসেন চৌধুরী) ভোটারদের নির্বাচনমুখী না করে নির্বাচনবিমুখ করেছে, যারা জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার যেই শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তা ভঙ্গ করেছে। জাতির কাছে দেওয়া ওয়াদা বরখেলাপ করেছে। জনগণের ভোটাধিকারের সুরক্ষা দিতে পারেনি। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নিশ্চয়ই নূরুল হুদা কমিশনের আমলনামাও লিপিবদ্ধ হবে। সেই আমলনামা পড়ে নির্বাচন কমিশনের পদাধিকারীদের উত্তরসূরিরা আনন্দিত না লজ্জিত হবেন, মাননীয়দের একবার সেই কথাটি ভেবে দেখার অনুরোধ জানাই। সোহরাব হাসান প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি [] | 8 |
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা। তবে বর্তমানে কর্তব্যরত আছেন ১০ জন। চিকিৎসক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে একজন মাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। শিশু বিভাগে কোনো চিকিৎসক না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে এ বিভাগের চিকিৎসাসেবাও। এ ছাড়া অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) না থাকায় অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। গাইনি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই। এ কারণে প্রসূতিসহ নারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। তাই তাঁর যাচ্ছেন প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সদর হাসপাতালে।জুনিয়াদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা একরাম হোসেন বলেন, 'আমার স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ব্যথা উঠলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। পরে জানতে পারি এই বিভাগের চিকিৎসক নাই। পরে আমার স্ত্রীকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই।'গতকাল শুক্রবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা হালিমা খাতুন বলেন, 'ডাক্তার দেখাতে এসেছি সকাল ৯টায়। ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর ডাক্তার দেখাতে পেরেছি।'তাপসী রানী নামের আরেকজন বলেন, এখানে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় তাঁর দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে যান।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এখানকার ২৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে কর্তব্যরত আছেন ১০ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে অর্থোপেডিক ছাড়া বাকি সব পদই শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক সপ্তাহে মাত্র দুদিন রোগী দেখেন।আরও জানা গেছে, গাইনি চিকিৎসক ও অবেদনবিদ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। অস্ত্রোপচার, মেডিসিন, শিশু, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক-কান-গলা ও কার্ডিওলজি চিকিৎসকসহ ১৭ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিজানুর রহমান বলেন, ১০ জন চিকিৎসকের মধ্যে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আরএমও এবং করোনা ও ইপিআর নিয়ে কাজ করেন একজন। ডেন্টাল ও আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগে একজন করে চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি বিভাগে কাজ করেন তিনজন চিকিৎসক। বাকি দুই চিকিৎসক আউটডোরে নিয়মিত রোগী দেখেন। আউটডোরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন অন্যান্য দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় আউটডোরের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এ অবস্থায় প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা শত শত রোগীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আমিন জানান, 'স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপে কোনো বেড ও কেবিন খালি নেই। শূন্য পদে জনবল নিয়োগসহ হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ১০০ করা দরকার। পাশাপাশি নার্স ও আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী সংযোজন করা জরুরি। জনবলের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুতই সমাধান হবে।' | 6 |
কথা ছিল ২৮ মার্চ শুরু হবে শাকিব খান ও মাহি অভিনীত 'নবাব এলএলবি' ছবির শুটিং। এর আগে করোনাভাইরাস সংক্রমণে দেশের পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বেশির ভাগ মানুষ ঘরবন্দী। এর মধ্যে স্থগিত করা হয় ছবির শুটিংও। শুটিং থেমে গেলেও এই ছবির দেড় কোটি টাকা বাজেটের পুরোটা করোনাভাইরাস থেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক পিপিই বাবদ, স্বল্প আয়ের চলচ্চিত্র প্রোডাকশন বয়, সহকারী প্রোডাকশন বয়সহ অসহায় মানুষের জন্য খরচ করা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সেলিব্রিটি প্রোডাকশন। 'নবাব এলএলবি' ছবিতে শাকিব খান, মাহি ছাড়া অভিনয় করবেন স্পর্শিয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার জানান, করোনার এই সময়ে আমরা এরই মধ্যে ২৫ হাজার পিপিই এবং ১০০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করেছি। সামনে আরও করা হবে। বেশির ভাগ পিপিই ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, আল বারাকা হাসপাতাল এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো বিভিন্ন জায়গায় দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, 'এই পরিস্থিতে আমরা সিনেমাটির শুটিং করতে পারছি না। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তখন ভাবব। দেশে করোনা-আতঙ্কের মধ্যে হাসপাতাল, সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যক্তিগত সুরক্ষার পোশাকের ঘাটতি আছে। পাশাপাশি করোনা-আতঙ্কে দেশের মানুষ গৃহবন্দী থাকার কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ বিপদে পড়েছেন। তাই সিনেমার বাজেটের টাকায় এ ধরনের বিপদগ্রস্ত মানুষের পেছনে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' এই প্রযোজক আরও বলেন, 'পিপিই অনেক হাসপাতাল ও সরকারি বাহিনীকে প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যদ্রব্যাদি দেওয়াও শুরু করেছি।'ছবির পরিচালক অনন্য মামুন জানান, চাল, ডাল, লবণ, ময়দা, পেঁয়াজ, আলু, তেল, ডিম ও সাবান একসঙ্গে করে প্রায় এক হাজার প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আজ সোমবার প্রায় আড়াই শ প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। সামনের এক সপ্তাহ প্রতিদিনই এই বিতরণ অব্যাহত রাখব আমরা।'প্রযোজকের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ছবির নায়ক শাকিব খান, বললেন পরিচালক অনন্য মামুন। তিনি বলেন, 'দেশের পরিস্থিতি যখনই স্বাভাবিক হবে, তখন আমরা শুটিংয়ে যাব। এর আগে দেশের এই সংকটের সময়ে ছবির যে বাজেট রাখা হয়েছিল, ওই অর্থ পুরোটাই ধাপে ধাপে ব্যয় করা হচ্ছে। শাকিব ভাই খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে এতে সমর্থন দিয়েছেন।'ছবির অভিনয়শিল্পী শাকিব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, 'করোনাভাইরাসের এই সংকটের সময় প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি উচিত তার কাছের মানুষদের পাশে থাকা। প্রয়োজনমতো সহায়তা করা। আমি শুরু থেকে করোনা পরিস্থিতির খবর রাখছি। একই সঙ্গে আমার অবস্থান থেকে যা কিছু করার করে যাচ্ছি। এখন যেহেতু দেশের সবচেয়ে সংকটময় সময়, তাই এই সময়ে এই ছবির কোনো অভিনয়শিল্পী, টেকনিশিয়ানরা কোনো টাকা নেননি। এই টাকা করোনার কারণে যাঁরা অহসায় অবস্থায় আছেন, তাঁদের সাহায্যার্থে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আপাতত যেহেতু দেশের সংকটসময় পরিস্থিতি, এখন সবকিছু বাদ দিয়ে এটা মোকাবিলা নিয়ে ভাবা উচিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তবেই সিনেমা নিয়ে ভাবা যাবে। বাজেটের টাকায় যা করার উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে, তাতে চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরাসহ সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে, এটা সবচেয়ে স্বস্তির। আমি সবাইকে আরেকটি বিষয় বলেছি, সাহায্য যেন কোনো অবস্থায় লোক দেখানো নয়, প্রচারণার মাধ্যম না হয়। মানুষকে যেন নিঃস্বার্থভাবে উপকার করা যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতেও বলেছি।' | 2 |
মধ্যাহ্নের বিরতির আগে বাংলাদেশ ২৯৬ রানের লিড নিয়েছে। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন না করিয়ে সকালে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। আর শুরুতেই বিপদে পড়ে। ১০ রানে হারায় দুই ওপেনার ইসরুল কায়েস ও লিটন দাসকে। এরপর প্রথম ইনিংসের দুই সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমকে। এরপর মোহাম্মদ মিথুন ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ জুটি দলের হাল ধরেন। ইতোমধ্যে অর্ধশত রানের পার্টনারশিপ গড়েছেন তারা। প্রশ্ন উঠেছে, জিম্বাবুয়েকে কত রানের টার্গেট দিবে তারা? ক্রিকইনফোর এক ধারাভাষ্যকার বলেন, 'বাংলাদেশের চা বিরতি পর্যন্ত ব্যাট করা উচিত। টার্গেট দেয়া উচিত ৪৩০ থেকে ৪৫০ রান।' আরেকজন জানান, 'চা বিরতির আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের আরো ১০০ থেকে ১২০ রান প্রয়োজন। এরপর চার শ'র বেশি টার্গেট দিলে ভালো হবে।' | 12 |
স্থগিতকৃত পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে আন্দোলন আগামী রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে কয়েক দফায় পুলিশের বাধা পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন তারা। এদিকে কর্মসূচি শুরুর আগেও আন্দোলন চলাকালে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। আগামী রোববারের মধ্যে এসব শিক্ষার্থীর মুক্তি ও পরীক্ষার স্থগিতাদেশ বাতিল না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের 'ভিপি নুরুর লোক' অ্যাখ্যা দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে সরিয়ে দিয়েছে। যদিও তারা কোনো দলের হয়ে আসেননি। তাদের অনার্স-মাস্টার্সের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা বাকি আছে। এমন পর্যায়ে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। সাত কলেজের চলমান পরীক্ষা নেওয়া গেলে তাদের পরীক্ষা নিতে সমস্যা কোথায়? এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। শাহবাগ থেকে সরে এসে রাজু ভাষ্কর্যে আরেক দফা সমাবেশের চেষ্টা করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরতদের পুলিশ বাঁধা দেয়। পরে সেখানে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে রোববার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, শাহবাগ অনেক ব্যস্ত একটা জায়গা। এখানে হাসাপাতাল রয়েছে। জনদুর্ভোগ এড়াতে এ রাস্তায় যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে চেষ্টা করি। শিক্ষার্থীদের উঠে যেতে বলেছি। তাদের কিছু বলার থাকলে প্রেসক্লাবে গিয়ে বলবেন। সেখানে অনেক সাংবাদিক থাকেন। | 6 |
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে তাদেরকে অবশ্যই এ অঞ্চল ছাড়তে হবে। রবিবার ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের মহাসচিব জিয়াদ আন-নাখালার সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, প্রতিরোধ সংগ্রামের পথ হৃদয়গ্রাহী ও বর্ণনাতীত অর্জন এনে দিয়েছে এবং নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জাতি ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য বিজয় এনে দিয়েছে। ড. বেলায়েতি বলেন, প্রতিরোধ ফ্রন্ট মর্যাদা এবং সম্মানের এই পথচলা অব্যাহত রাখবে। বৈঠকে জিয়াদ আন-নাখালা বলেন, ইরান সবসময় ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোকে সমর্থন দিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রতিরোধকামী সংগঠন বিশেষ করে ইসলামি জিহাদ আন্দোলন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি শক্তিশালী এবং তারা তাদের সে শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের বর্বরতার মুখে ইরান ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সাহসের সঙ্গে সবসময় যে সমর্থন দিয়ে এসেছে তার প্রশংসা করেন জিহাদ আন্দোলনের মহাসচিব। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আমাদের এই লড়াই হচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে, কিছু নীতিহীন-আদর্শহীন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এবারের নির্বাচন হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোটের সেই দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ লালন করেছেন তাদেরকে চিরতরে বয়কটের নির্বাচন। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের পর মানুষ দেখতে চায়, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশে থাকবে না। এই লক্ষ্যে আমরা সবাই একসাথে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। শেখ হাসিনা যেই আলো ছড়িয়েছেন, যেভাবে জঙ্গিবাদ দমন করেছেন বাংলাদেশের মানুষ তাকে বিজয়ী করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে চায়। এজন্য আসুন আমরা একসাথে কাজ করি যাতে কোনো বিচ্যুতি আমাদেরকে পরাজয়ের দিকে নিয়ে না যেতে পারে। শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ১৪ দলের মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মোহাম্মদ নাসিম একথা বলেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে বাঙালির বিজয় ছাড়া অন্য কিছু চিন্তা করা যায় না। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ ছাড়াও যে কোনো আন্দোলনে আমরা বিজয়ের মাসে বিজয় অর্জন করেছি। এবার জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে। এজন্য আমরা বিশ্বাস করি, বাঙালি জাতি অপশক্তির বিরুদ্ধে আবারও বিজয় অর্জন করবে। নির্বাচনের পর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে মানুষ রাজনীতিতে দেখতে চায় না। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়-য়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি মো. সামাদ, প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি এসএম মাকসুদ কামাল, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম সম্পাদক ডা. জামাল উদ্দীন চৌধুরী প্রমুখ। | 9 |
বাইকে করে ছেলে-মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কায় আহত বিমান বাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মাকসুদুল কায়ছার রয়েল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রাজধানীর হাইকোর্ট মাজারের সামনের রাস্তায় ট্রাক ধাক্কায় আহত বিমান বাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মাকসুদুর রহমান রয়েল (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তার মৃত্যু হয়। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃতদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। একই ঘটনায় তার মেয়ে স্কুলছাত্রী রাজমি জাহান রাফাও (১৩) আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে। এর আগে বুধবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে গেছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদার জানান, বুধবার সকালে হাইকোর্ট মাজার গেটের সামনে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থাকা মাকসুদুর রহমান রয়েল (৪৫), তার মেয়ে স্কুলছাত্রী রাজমি জাহান রাফা (১৩) ও ছেলে তানভির হোসাইন (৯) আহত হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাদের তিনজনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়। মাকসুদুর ও তার মেয়ে বিএফ শাহীন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রাফার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাদেরকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তবে তার ছেলে একই স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্র তানভীরের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। স্বজনরা জানায়, সকালে যাত্রাবাড়ী বিবির বাগিচার বাসা থেকে দুই সন্তানকে মোটরসাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। | 6 |
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ এখনও রক্ত কণিকায় কাঁপন ধরায়। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভার সূচনা বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, 'মুগ্ধ মনোযোগে এখনও কোটি বাঙালি শোনে 'রাজনীতির কবি'র সেই অমর কাব্যগাঁথা- যা অর্ধশত বছর পরও কত জীবন্ত, কত কাব্যিক। রক্ত কণিকায় এখনও কাঁপন ধরায় সেই ভাষণ, সেই শব্দমালা।' ওবায়দুল কাদের বলেন, 'দেশ-কালের সীমানা পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে জাতিসঙ্ঘের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন নয়, ৭ই মার্চের ভাষণে এমন অনেক উপাদান রয়েছে যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবিক ঔদার্য, সামরিক কৌশল ও রাজনৈতিক আন্দোলন সংঘটন ইত্যাদি ক্ষেত্রে চিরকালীন ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত।' আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এবারের এই মার্চ জাতি পালন করেছে হৃদয়ের সবটুকু আবেগ, উচ্ছ্বাস আর শপথের বলিষ্ঠতায়। জাতি স্মরণ করেছে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের সেই অবিনাশী কণ্ঠের বজ্রনিনাদ।' ওবায়দুল কাদের বলেন, 'জয় বাংলা সতের কোটি মানুষের প্রাণের স্লোগান। জয় বাংলা স্লোগানের মাধ্যমে বাঙালি পেয়েছিল স্বাধীনতার শক্তি। আজ এই স্লোগান ধারণ করে এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানুষ দেশ গঠনে উজ্জীবিত হবে ' সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, 'এখনো বাতাসে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আরেকটি কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। আলোচনা সভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এতে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ,সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ,ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। সূত্র : বাসস | 9 |
এক মাস পর সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বসবে। দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব (মন্ত্রিসভা অধিশাখা) মো. রাহাত আনোয়ার জানান। তিনি বলেন, সীমিত সংখ্যক সদস্যকে নিয়ে দূরত্ব রেখে বসার ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এই বৈঠক হবে। মহামারির বিস্তার রোধে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে 'সাধারণ ছুটি' ঘোষণার পর ৬ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছিল। এরপর গত ৭ মে গণভবনে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়; প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মাত্র ৩ জন মন্ত্রী তাতে অংশ নেন। তখনও দূরত্ব রেখে বসার ব্যবস্থা হয়েছিল, সবার মুখে ছিল মাস্ক। সাধারণত প্রতি সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক হয়। সোমবার বাদে অন্য যে কোনো দিন বৈঠকে বসতে পারে মন্ত্রিসভা। তবে প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয় না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চাইলে যে কোনো সময় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক আহ্বান করতে পারেন। | 6 |
সৌদি আরবে অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে ২৮ হাজার ৫৫৯ জন স্পেশাল এক্সিট নিয়েছেন। এর মধ্যে আকামার মেয়াদ পেরিয়ে গেছে এমন প্রবাসী রয়েছেন ১৬ হাজার ৮৬১ জন এবং অথবা কর্মস্থলে অনুপস্থিত বা পলাতক (হুরুব) এমন প্রবাসী রয়েছেন ১১ হাজার ৬৯৮ জন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর 'স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রাম' শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচি শুরু করে সৌদি আরব। এর আওতায় অবৈধ প্রবাসীদের দেশে ফেরার সুযোগ দেয় সৌদি আরব। এ কর্মসূচির আওতায় জেল-জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন মেয়াদোত্তীর্ণ ইকামাধারীরা। তবে শুধু বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরতরাই এ সুবিধা পাবেন। হুরুব (কর্মস্থল থেকে পলাতক) ঘোষিত যেসব শ্রমিকের নামে কোনো মামলা নেই, তাঁদেরও এ কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে দিচ্ছে সৌদি সরকার।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি আরবে বাংলাদেশি যেসব কর্মীর আকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ অথবা যাঁদের নামে কর্মে অনুপস্থিতির অভিযোগ বা হুরুব রয়েছে, তাঁদের মধ্যে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এমন প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে বিশেষ এক্সিট সেবা প্রদান কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ রোববার এটি উদ্বোধন করেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা অনলাইনে দেওয়া হবে জানিয়েছেন তিনি।আজ সকালে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এই সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সেবা নিতে আসা কয়েকশ অভিবাসী ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কাউন্সেলর মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।রাষ্ট্রদূত বলেন, 'সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত প্রবাসী যাঁদের আকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ অথবা যাঁদের নামে কর্মে অনুপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে তাঁরা দেশে ফিরতে চাইলে বাংলাদেশ দূতাবাসের ওয়েবসাইটে (...) গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের পর যে কেউ তাঁর আবেদনের আপডেটও দেখে নিতে পারবেন। এ ছাড়া ওয়েবসাইটে অন্যান্য সেবার জন্যও আবেদন করা যাবে।'মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, 'সৌদি আরবের প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন শহরে দূরদূরান্তে বসবাস করেন। তাঁদের কষ্ট করে সেবার নেওয়ার জন্য আর দূতাবাসে আসার প্রয়োজন হবে না। সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে স্থাপিত প্রবাসী সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমেও প্রবাসীদের পাসপোর্টসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে।'এ সময় দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের পক্ষ থেকে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের অনলাইনে আবেদনের জন্য সহায়তা করা হয়। অনুষ্ঠানে অনলাইনে আবেদন ও আপডেট বিষয়ে একটি টিউটোরিয়ালও প্রদর্শন করা হয়। | 6 |
জাতীয় দলের বর্তমান কোচিং স্টাফদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকার চাকরি না পাওয়া কোচগুলো বাংলাদেশে একসঙ্গে রিহ্যাব সেন্টার খুলে বসেছেন। আগামীকাল বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তাই আজ ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের হয়ে এসেছেন টাইগারদের বোলিং কোচ ওটিস গিবসন। মাশরাফির মন্তব্য নিয়ে তার মতামত জানতে চাওয়া হলে গিবসন জানান, 'এই ব্যাপারে আমার কোন মতামত নেই। এটা আমার আগ্রহে বা উদ্বেগের বিষয় না। আমাদের দলের বাইরে যে কেউ যা কিছু সোশ্যাল মিডিয়ায় বলতে পারেন। সেটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা শুধু দলের ভেতরে কে কী বলল সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমরা জানি কোচিং গ্রুপ হিসেবে এখানে আমরা কী করছি।' সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একাধিক ক্যাচ মিস করেন ওপেনার লিটন দাস। এছাড়া অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ক্যাপ্টেনসি নিয়েও চলেছে নানান বির্তক। ফলে জয়ের খুব কাছে গিয়েও লঙ্কার বিপক্ষে হেরেছে টাইগাররা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই হারের মাশরাফি আঙুল তুলেছেন কোচিং স্টাফদের দিকে। অধিনায়কের মতে এই হারের দায় এড়াতে পারে না টাইগারদের কোচিং স্টাফরা। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এ নিয়ে মাশরাফি বিশাল এক পোস্ট দেন। যেখানে একধিক প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিলো 'কোচরা কি তাদের কাজটা ঠিকঠাক মতো করতে পারছেন?' | 12 |
একজন মানুষের নানান সত্তা থাকে, থাকে নানান পরিচয়। এই যে আমি, আমি তো একজন বহুধা সত্তাসম্পন্ন মানুষ। আমি দক্ষিণ এশীয়, আমি বাঙালি, আমি একটি নির্দিষ্ট বয়ঃক্রমের, আমি পুরুষ, আমি একজন শিল্প-সাহিত্যরসিক, আমি দুই কন্যার জনক ইত্যাদি ইত্যাদি।আমার এই বহুধা পরিচয়ের নানান মাত্রিকতা আছে। তার অন্যতম হচ্ছে যে এ সত্তাবলয় আমি যত প্রসারিত করব, তত আমার সত্তার বৈচিত্র্য বাড়বে, সন্দেহ নেই। সেই বৈচিত্র্য যদি আমরা মেনে নিই, তার প্রতি যদি আমরা প্রত্যেকে শ্রদ্ধাশীল হই, তাহলে ওই বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের বহুধা সত্তার একটিকেই বেছে নিই আমাদের একক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে, তখন আমার বহুধা সত্তাকে আমি খর্বিত করি এবং বহু মাত্রিকতার মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ আমি হারাই।তাতেও অসুবিধে নেই। কিন্তু মুশকিল হয়, যখন আমি আমার নির্বাচিত সত্তাটিকে মানুষের শ্রেষ্ঠতম সত্তা হিসেবে মনে করি এবং অন্য যাঁরা সে সত্তার অনুগামী নন, তাঁরা আমার চেয়ে নিকৃষ্টতর বলে বিবেচনা করি এবং ভাবি যে তাঁরা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নন। সে অবস্থায় বিভাজন, বিরোধ, সংঘর্ষ এবং সহিংসতা অবশ্যম্ভাবী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জার্মানিতে নাৎসিদের বিশুদ্ধ জাতিগত কৌলীন্য ও শ্রেষ্ঠত্বের দাবি ও ইহুদি নিধন এর উল্লেখযোগ্য প্রমাণ। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের কার্যকলাপও এর প্রমাণ।উপর্যুক্ত চিত্রটি সবচেয়ে প্রকট হয়ে ওঠে ধর্মসত্তার ক্ষেত্রে। ধর্মসত্তা মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও বোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ কথা মেনে নিয়ে অন্য সবার ধর্মসত্তার প্রতি আমরা প্রত্যেকে যদি শ্রদ্ধাশীল, সহিঞ্চু ও সহনশীল থাকি ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, তাহলে যেকোনো সমাজে বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব এবং আমাদের সমাজে সনাতন চিরায়তভাবে সেটাই তো হয়ে এসেছে।কিন্তু কালক্রমে বিভিন্ন সমাজে এ-জাতীয় ধর্মীয় সহিষ্ণু শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা লুপ্ত হয়েছে এবং তার বদলে স্থান করে নিয়েছে ধর্মীয় উন্মাদনা, অসহিষ্ণুতা এবং অসহনশীলতা। তবে একটা প্রশ্ন থেকে যায়, বিভাজন তো অন্যান্য ক্ষেত্রেও আছে, কিন্তু তা তো একটা উন্মাদনাময়, অসহিঞ্চু সংঘর্ষে গিয়ে পৌঁছায় না। কই, অধূমপায়ীরা নানান পার্থক্য সত্ত্বেও ধূমপায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন না? কিংবা কখনো কিন্তু শুনিনি যে উচ্চাঙ্গসংগীতপ্রেমীরা অন্যান্য সংগীতের রসিকজনদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছেন। তাহলে ধর্মের ক্ষেত্রে এলেই ব্যাপারটা একটা উন্মাদ, অসহিঞ্চু ও অসহনশীল রূপ নেয় কেন?কারণ, বোধ করি অনেক আছে-কিন্তু তিনটি কারণ হয়তো বেশ জোরালো। যেমন ধূমপায়ী বনাম অধূমপায়ী প্রশ্নে যুক্তি, বিচারবুদ্ধি, তথ্য-উপাত্ত কিংবা বিজ্ঞানমনস্কতা একটা ক্ষেত্র প্রস্তুত করে, যেখানে কোনো চরম অবস্থান না নিয়েই একটি অর্থবহ বিতর্ক প্রায়ই ঘটে। সেখানে ধূমপায়ী কিংবা অধূমপায়ী কেউই তাদের ধূমপান সত্তাকে তাদের একক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করে না, তার শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা তো দূরের কথা। ফলে একটা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সেখানে সম্ভব।দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় বিশ্বাস ভিন্ন অন্য সবকিছুকে আমরা যদি বাদ দিয়ে দিই, তাহলে ধর্মীয় অনুশাসন আমাদের জীবনের নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সেসব অনুশাসনই আমাদের জীবনধারা, শিক্ষা-সংস্কৃতির নির্ণায়ক হয়ে পড়ে। সে অবস্থায় আমাদের জীবনে অন্য কোনো কিছুই আর গ্রহণযোগ্য হয় না। ফলে আমাদের বিশ্বাসের বাইরে যাঁদের বিশ্বাসবলয়, তাঁদের আমরা আর মেনে নিতে পারি না।তাই ধর্মীয় সত্তার ক্ষেত্রে অনেকেই তাঁদের অন্য সব সত্তাকে গৌণ করে ধর্মীয় সত্তাকেই তাঁদের একমাত্র ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করেন। ফলে এসব ব্যক্তি তাঁদের নিজ নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব, খাঁটিত্ব, কৌলীন্য সম্পর্কে অনড় দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন একটি চরম অবস্থান নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্যদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের প্রতি তাঁদের নমনীয়তা, শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দিয়ে একটি ধর্মীয় উন্মত্ততা, অসহিঞ্চুতা ও সংঘর্ষের সূচনা হয়।এ-জাতীয় ধর্মীয় উন্মত্ততা আমরা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে দেখেছি। এ দেশেও নানান সময়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তার একটি বড় প্রমাণ। এসব দাঙ্গা ও সংঘর্ষের মূল লক্ষ্য থাকেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। তবে ধর্মীয় বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ এসব দাঙ্গার আপাত কারণ মনে হলেও এর পেছনে এক গূঢ় রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনীতি কাজ করে।রাজনৈতিক দিক থেকে এ-জাতীয় ক্রিয়াকলাপের মূল লক্ষ্য থাকে একটি ধর্মান্ধ সমাজ তৈরি করে মধ্যযুগের দিকে সমাজকে ঠেলে দেওয়া। এর মাধ্যমে দুটো উদ্দেশ্য সাধিত হয়। এক. নারীদের সব অধিকার হরণ করে তাঁদের অবদমিত করা যায় ও দুই. সমাজে বিজ্ঞানমনস্কতা নষ্ট করে মৌলবাদী ধ্যান-ধারণাকে শক্তভূমির ওপরে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।অন্য সবকিছুকে গুঁড়িয়ে দিয়ে সংখ্যাগুরুর ধর্মসত্তার উন্মাদনা যখন প্রবল হয়ে ওঠে, তখন সমাজে একটি ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করা হয়। ফলে একদিকে যেমন সংখ্যালঘুদের কণ্ঠরোধের ব্যবস্থা করা হয়, তেমনি তাঁদের দেশছাড়া করার একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে সংখ্যাগুরুদের ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণকে নিরঙ্কুশ করার ব্যবস্থা করা হয়। এত সব করার পেছনে একটি অর্থনৈতিক প্রণোদনাও কাজ করে। সংখ্যালঘুদের বিতাড়নের ব্যবস্থা করে সংখ্যাগুরুরা তাঁদের ভূমি, অন্যান্য সম্পদ ও সম্পত্তি বেদখল করে নিতে বা নামমাত্র মূল্যে কিনে নিতে পারে। কিন্তু ধর্মসত্তা বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে, যখন সেটা ব্যক্তিগত অঙ্গন পেরিয়ে রাষ্ট্রের সীমারেখায় চলে আসে। 'ধর্ম' শব্দটির দুটো মাত্রিকতা আছে-একটি হচ্ছে 'বৈশিষ্ট্য' ও অন্যটি হচ্ছে 'বিশ্বাস'। ধর্ম শব্দটি যেমন বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তেমনি বোঝায় বিশ্বাস।এই যেমন পাঠ্যপুস্তকে লেখা থাকে, 'জলের ধর্ম হচ্ছে যে পাত্রে রাখা হয়, তার আকার ধারণ করা' কিংবা 'আগুনের ধর্ম হচ্ছে জ্বালানো'। অথবা আমরাও কথা প্রসঙ্গেই বলি,'গাছের ধর্ম হচ্ছে ছায়া প্রদান' কিংবা 'বিড়ালের ধর্ম হচ্ছে চুরি করে খাওয়া'।এসব কথাতেই ধর্ম শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে 'বৈশিষ্ট্য' অর্থে এর সঙ্গে 'বিশ্বাসের' কোনো সম্পর্ক নেই। তাই আমরা যখন বলি, 'আগুনের ধর্ম হচ্ছে জ্বালানো', এর মানে হচ্ছে আগুনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রজ্বালিত করা। এ কাজটি আগুনের বিশ্বাস-উদ্ভূত নয়। জল, আগুন, গাছ কিংবা বিড়ালের কোনো 'বিশ্বাস' থাকতে পারে না। আসলে মানুষবহির্ভূত প্রাণীর কিংবা বস্তুর ধর্ম বলতে শুধু তাদের বৈশিষ্ট্যই বোঝায়।কেবল মানুষের ক্ষেত্রেই ধর্ম শব্দটির দুটো মাত্রিকতাই কাজ করে-'বৈশিষ্ট্য' ও 'বিশ্বাস'। তাই যখন বলি, 'শিক্ষকের ধর্ম হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানদান' কিংবা 'চিকিৎসকের ধর্ম হচ্ছে মানুষকে সেবাদান', তখন আমরা বোঝাতে চাই যে এগুলো হচ্ছে তাঁদের পেশার বৈশিষ্ট্য।কিন্তু 'বৈশিষ্ট্যকেন্দ্রিক' ধর্মের বাইরেও মানুষের বিধাতা, জীবনবোধ, পরলোক বিষয়ে একটি ব্যক্তিগত বিশ্বাস থাকে। সেটাও মানুষের ধর্ম; তবে 'বৈশিষ্ট্য-উদ্ভূত' নয়, সেটা 'বিশ্বাস-উৎসারিত'। সেই ব্যক্তিগত বিশ্বাস-উৎসারিত ধর্মের নানান বিভাজনের ভিত্তিতে কেউ খ্রিষ্টান, কেউ হিন্দু, কেউ মুসলমান হিসেবে চিহ্নিত। বিশ্বাস-উৎসারিত ধর্ম শুধু মানুষেরই থাকতে পারে।এসব কথার পরিপ্রেক্ষিতে এটা সুস্পষ্ট যে সংজ্ঞাগত, কাঠামোগত দিক থেকে রাষ্ট্র সত্তাটির 'বৈশিষ্ট্য-উদ্ভূত' ধর্ম থাকে, কিন্তু কেমন করে তার 'বিশ্বাস-উদ্ভূত' ধর্ম থাকে? প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী একটি রাষ্ট্রের ধর্ম হচ্ছে তার 'ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা করা, তার 'নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সমানাধিকার সুনিশ্চিত করা' ইত্যাদি। এগুলো রাষ্ট্রের সাংগঠনিক কাঠামো-উৎসারিত।মানুষের মতো রাষ্ট্রের কোনো বিশ্বাস-উদ্ভূত ধর্ম অপ্রাসঙ্গিক, কারণ নানান জনগোষ্ঠী একটি রাষ্ট্রে বাস করলেও রাষ্ট্র কোনো মানুষ নয়। রাষ্ট্র যদি মানুষের মতো ধর্ম বিশ্বাসী হয়, তখন রাষ্ট্রের মতো সত্তাটির পক্ষে ধর্মীয় অনুশাসনে আবদ্ধ হওয়া ভিন্ন আর কোনো যৌক্তিক পথ খোলা থাকে না।এ অনভিপ্রেত অবস্থাটা এড়াতে হলে তিনটি বিষয় বোধ হয় করা যেতে পারে। এক. আমরা শিকড়ে ফিরে যেতে পারি। 'মানুষই প্রথম এবং প্রথমেই মানুষ' এই ভিত্তিভূমি থেকে আমরা বলতে পারি যে মানবিকতাই সব মানুষের মৌলিক পরিচয় এবং সব সত্তার ন্যূনতম যোগসূত্র। দুই. উপর্যুক্ত কথাগুলোকে আমরা যদি মেনে নিই, তাহলে অন্যের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, তাকে মেনে নেওয়া, তার প্রতি সহিষ্ণু হওয়া সহজ হয়ে যায়। তিন. আমাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসটিকে আমরা যদি আমাদের ব্যক্তিগত নিজস্ব বলয়ে ধারণ করি, তাহলে ধার্মিক হয়েও আমরা ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারব। এ তিনটি পন্থাকে অনুসরণ করলেই সব বিভাজন এবং সব সংঘর্ষ থেকে উত্তরণ সম্ভব হতে পারে।আমি মনে করি, চূড়ান্ত বিচারে যা আমি ধারণ করে আছি এবং যা আমাকে ধারণ করে আছে, তা-ই আমার ধর্ম। আমি ধারণ করে আছি সর্বজনীন মানবতা বোধ, মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তবুদ্ধি এবং মুক্তচিন্তা। আমাকে ধারণ করে আছে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, আমাদের সংস্কৃতি ও জীবনবোধ, আমাদের সমাজ ও তার পরিমণ্ডল। আমার ধর্ম এসব কিছু নিয়েই আর সেখানে মানুষ হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় ধর্ম আমার মানবিকতা। | 6 |
টানা পাঁচ কার্যদিবস উর্ধ্বমুখী থাকার পর সোমবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক কিছুটা কমেছে। সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। তবে সিএসইতে লেনদেন কিছুটা কমেছে। সূচকের পতন হলেও এদিন লেনদেনের শুরুতে পুঁজিবাজারে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু লেনদেনের প্রথম ঘণ্টার পর লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হতে থাকে। ফলে নিম্নমুখী হয়ে পড়ে সূচক। লেনদেনের শেষে পর্যন্ত সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা থাকায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৯ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ ৪ পয়েন্ট কমে ৯৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন অংশ নেওয়া ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দিম কমেছে ১২৭টির। আর ১৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সূচকের এই পতনের দিনে ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৭৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আগে কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৪৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস শেয়ার। কোম্পানিটির ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কেপিসিএল'র ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে এর পরের স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৫ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২০১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৩টির, কমেছে ৬৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯২টির। | 0 |
নিখোঁজ হওয়ার ১০৩ বছর পর পাওয়া গেলো অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'এইচএমএএস এই-১' ( -) প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া যৌথবাহিনীর প্রথম সাবমেরিন। ১৯১৪ সালে পাপুয়া নিউগিনি'র রাবাউল থেকে ৩৫ জন অস্ট্রেলিয়ান ও বৃটিশ ক্রু সহ উধাও হয়ে যায় এটি। হারিয়ে যাওয়ার ১০৩ বছর পরপাপুয়া নিউগিনির ডিউক অব ইয়র্ক দ্বীপের কাছে সাবমেরিনটি খুঁজে পায় এরখোঁজে নিয়োজিত ১৩ নম্বর সার্চ টিম।অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাবমেরিনটি খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির নৌযান সংক্রান্ত সবচেয়ে পুরোনো রহস্যের সমাধান হয়েছে।বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যারাইস পেইন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক নৌযানের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এটি।প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রয়েল অস্ট্রেলিয়ান নেভি ও যৌথ বাহিনীর প্রথম সাবমেরিন হারানেোর ঘটনা ছিল এটি।সমুদ্রের নিচে অনুসন্ধান চালাতে সার্চ টিম একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করে, যেটি সমুদ্রের তলদেশের ৪০মিটার (১৩১ ফুট) ওপরে ভেসে অনুসন্ধান চালায়। ৩০০ মিটারের বেশি গভীর পানিতে পাওয়া যায় ডুবোজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ।প্রতিরক্ষামন্ত্রীম্যারাইস পেইনজানান, ডুবোজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের উদ্দেশ্যে একটি সংক্ষিপ্ত স্মরণসভা আয়োজন করে সার্চ টিমের সদস্যরা।তিনি জানান, সাবমেরিনের ক্রু'দের বংশধরদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার স্থানে স্মৃতিস্মারক স্থাপনের বিষয়ে পাপুয়া নিউগিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করবে তারা।
| 3 |
উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে আজ। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজ থেকে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ঢালিউডের এ সময়কার আলোচিত নায়িকা পূজা চেরী ও স্ট্যামফোর্ড কলেজ থেকে অংশ নিয়েছেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। পূজা মানবিক বিভাগ থেকে ৪.০৮ (এ গ্রেড) ও দীঘি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩.৭৫ (এ মাইনাস) পেয়েছে। এই ফলাফলে ভীষণ খুশি হয়ে তিনি বলেন, আমি এই রেজাল্টে খুশি। আমার মা এবং পরিবারের সদস্যরা প্রত্যেকেই অনেক খুশি হয়েছেন। পরীক্ষার সময়টাতে পূজার শুটিং করে কেটেছে। একবার সুনামগঞ্জ আরেকবার জামালপুর। তিনি জানান, হৃদিতা ও গলুই দুই সিনেমার শুটিং ছিল পরীক্ষায় সময়টাতে। শুটিং করেছেন আবার পরীক্ষা দিয়েছেন। এতে যে রেজাল্ট হয়েছে সেটা অনেক বেশি। পূজা বলেন, কেউ বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা, তবে আমি ও আমার পরিবার জানে পরীক্ষার আগের রাতে যতটুকু পেরেছি পড়েছি। এর আগে একটিবারের জন্যই বই হাতে নিইনি। সবসময় শুটিং করে কাজের মধ্যে কেটেছে। পরীক্ষার আগের রাতে পড়েও যে 'এ গ্রেড' পেয়েছি এটাই আমার কাছে অনেক। ভেবেছিলাম টেনেটুনে পাশ করব। যা পেয়েছি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। দীঘি নিজেই এইচএসসি পাসের খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমি এ মাইনাস পেয়েছি, আমার প্রাপ্ত জিপিএ ৩.৭৫। এতেই আমি অনেক খুশি। সারাদিন শুটিং শেষ করে পড়াশোনা, তার মধ্যে করোনার প্রভাব। তারপরও যে ফল পেয়েছি তা আমার জন্য ভালোই বলতে হবে। | 2 |
আর্থিক জরিমানা বা কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন (আরডিএ)-২০১৬ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন এই আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
ব্রিফিংয়ে সচিব বলেন, ১৯৭৬ সালের অর্ডিনেন্স অনুযায়ী আরডিএ চলে আসছিল। সামরিক শাসনামলে জারিকৃত আইন-অধ্যাদেশকে সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করায় নতুন করে এই আইন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন আইনে আরডিএ কর্তৃপক্ষকে ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং শহরের জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মহাপরিকল্পনার বাইরে কোনো কাজ করা যাবে না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও একই ধরনের কাজ করবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন আইনে ১৫ সদস্যের কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ ও পুকুর খনন করা যাবে না। অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ ও পুকুর খনন করা হলে কর্তৃপক্ষ তা বন্ধের নির্দেশ দেবে। এই নির্দেশের পরেও নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকলে কর্তৃপক্ষ সেগুলো উচ্ছেদ করবে।
তিনি বলেন, আরডিএ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করা যাবে না। আইন অমান্য করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধে অথোরাইজড অফিসার নোটিশ দেবেন। নোটিশ না মানলে কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলবে।
১৯৭৬ সালের অর্ডিনেন্সে আইন ভঙ্গের জন্য শুধুমাত্র পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
| 6 |
বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মী ছাঁটাই এবং বেতন হ্রাস করা হচ্ছে অভিযোগ করে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। ২০ এপ্রিল সোমবার সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করার পর থেকেই চিকিৎসকগণ (সরকারী ও বেসরকারী) চিকিৎসাসেবা প্রদান করে সারা বিশ্বের অনেক দেশে জাতীয় বীর, বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন আংগিকে সম্মানিত হচ্ছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসকগণ যথাযথ ব্যাক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যাতীত সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে করোনা ভইরাস এর বিরুদ্ধে নিরলসভাবে লড়াই করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় দুাইশতাধিক চিকিৎসক রোগীর সেবা করতে গিয়ে ভাইরাসটির সংক্রমনের শিকার হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনে আছেন। অবশেষে রাষ্ট্র এদের অবদানকে স্বীকার করে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সরকারী চিকিৎসকগণের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকগণের বেতন কর্তন, চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ছাঁটাই করার সংবাদ গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে-যা খুবই উদ্বেগজনক, অসম্মানজনক। ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) উক্ত দায়িত্বহীন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. মো: আব্দুস সালাম এক যৌথ বিবৃতিতে চিকিৎসকগণের বিরুদ্ধে এমন অসম্মানজনক, দায়িত্বহীন কর্মকান্ডের সমালোচনা করেছেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকগণ স্বল্প সুযোগ সুবিধায় ন্যুনতম ব্যাক্তিগত সুরক্ষায় যেভাবে দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে নিরলসভাবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন এমতাবস্থায় তাদের উৎসাহ প্রদান, ব্যক্তিগত সুরক্ষা প্রদান, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান আমাদের দায়িত্ব। অথচ জোরপূর্বক, বেআইনীভাবে চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের ছাঁটাই বা চিকিৎসকদের বেতন হ্রাস করা হচ্ছে। চিকিৎসক, কর্মচারীদের ছাঁটাই বন্ধ করণ ও চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন হ্রাসকরণ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থকর্মীদের কাজের স্বীকৃতি প্রদানপূর্বক তাদের যথাযথ সম্মানিত করার জোর দাবী জানানো হয়। | 6 |
একটি সেতুর অভাবে দুই উপজেলার ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ যেন কাটছেই না। স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও আজও যেন অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে না। দিনাজপুরের বিরামপুর ও হাকিমপুর উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া 'শাখা যমুনা' নদীবিরামপুরের চৌঘুরিয়া দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও চৌঘুরিয়া নদীর ঘাটে 'শাখা যমুনা' নদীতে একটি সেতু নির্মাণ হয়নি। বিরামপুর চৌঘুরিয়া গ্রামের ঘাটে নৌকায় পানের গাট্টি নিয়ে পারাপারের সময় কথা হয় ষাট বছরের বৃদ্ধ তকিমুদ্দিন (ফেলু)-এর সাথে। তিনি বলেন,'ছোট 'শাখা যমুনা' নদী। এই ছোট নদীত হাত চল্লিশেক একটা সেতু, তাই কেউ তৈরি করে না। হামার জীবনে মনে হয়, আর এই সেতু দেখে যেতে পারব না। মেলা এমপি গেল, চেয়ারম্যান গেল কিন্তু হামার সেতুটা আলো (আসলো) না।' স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশ স্বাধীনের পর থেকে অনেক এমপি, উপজেলা ওইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। কাটলা ইউপির মেম্বার খলিলুর রহমান জানান, শাখা যমুনা নদীর পশ্চিম অংশে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ঘাসুড়িয়া বিজিবি ক্যাম্প। ঘাসুড়িয়া, চৌঘুরিয়া, বাসুপাড়া, দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর, রণগাঁও গ্রামে রয়েছে ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৩০০ পানের বরজ রয়েছে। তবে ওই এলাকায় নেই কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়। নদীটির পূর্ব অংশে রয়েছে, হাকিমপুর থানার মাধবপাড়া, মংলা ও নায়নগর বাজার। এই দুই উপজেলার মাঝের দূরত্ব ৫০০ মিটার। অথচ এই ৫০০ মিটার রাস্তা পার হতে ঘুরতে হয় ৭ কিলোমিটার রাস্তা। এদিকে, নদী পারাপারে ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়। নদী পারাপারে জন প্রতি ৫ টাকা, সাইকেল ১০ টাকা এবং মোটরসাইকেলে ২০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া কাঁচামালের পরিমাণ অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়। স্থানীয় চৌঘুরিয়া গ্রামের পান ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, হাটে যেতে হলে ৫০০ মিটার রাস্তার বদলে ৭ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। এতে তাদের সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। বিরামপুরের কাটলা ইউপির চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, ওই এলাকায় একটি সেতু খুবই প্রয়োজন। স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও এলাকার ১০ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষের যাতায়াতের কথা চিন্তা করে সেতুটি নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
সাভারের আশুলিয়ায় ম্যাগপাই গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার দুপুরে ২টার দিকে আশুলিয়ার কাঠগড়ার আমতলা এলাকার ম্যাগপাই কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড পোশাক কারখানার ১ নম্বর বিল্ডিংয়ের ৭ তলা ভবনের ৭ তলার গোডাউনে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আগুনে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিকেলে ২টা ৩৫ মিনিটে ওই কারখানায় আগুন লাগার খবর পায় ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিস। তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ২টা ৫৫ তে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সাভার ফায়ার সার্ভিসের আরও দুই ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।কারখানার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মজুমদার আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর পতিরাম মণ্ডল বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়নি। গোডাউনে নিট ফ্যাব্রিক ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো বলা যাচ্ছে না। কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবু আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তাকারী কারখানার শ্রমিকেরা টুকটাক আহত হতে পারে। | 6 |
'বিচারের বাণী কাঁদে', শুনতে একটু ক্লিশে লাগে না? এই সময়ে দাঁড়িয়ে মনে হতেই পারে, এভাবে বলা কিছুটা গতানুগতিক। তবু এই শিরোনামে আমার একটি সিরিজ রিপোর্ট পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছিল বিচারবঞ্চিত মানুষের হাহাকার।তার আগে একটু বলি, যেকোনো প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রে আমি সব সময় সেই ঘটনাকে নিরাপদ দূরত্ব থেকে দেখার চেষ্টা করেছি। এটা অনেকটা দুটি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী তার যতটা নিরাপদ দূরত্বে থাকে, ততটুকু। এতে সুবিধা আছে, ঘটনার সঙ্গে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে যে তা-ই হবে, তেমন কোনো কথা নেই। অনেক ঘটনা টেনে নিয়ে যেতে হয় অনেক দূর অবধি। আজ সে রকম একটা ঘটনা বলি।২০০৫ সালের ২৪ জুন, শুক্রবার। সকালের দিকে তেমন কোনো কাজ ছিল না। বিকেলে একটু দেরি করে অফিসে যাওয়ার ইচ্ছে। কিন্তু জুমার নামাজ শেষ হতে না হতেই একের পর এক ফোন। শুনলাম, ঢাকা মহানগর যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ছগির আহমেদ ছগির (৪২) খুন হয়েছেন। কিসের আরাম-বিরাম! বাইক নিয়ে দিলাম ছুট।যাঁর জন্য প্রাণ যায় সালমান শাহরঢাকা জজকোর্টের উল্টো দিকের গলি ধরে কয়েক পা গেলেই রঘুনাথ দাস লেনের সোনা মিয়া আল ফালাহ জামে মসজিদ। সেই মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে এসেছিলেন সে সময়ের নামকরা সন্ত্রাসী ও যুবদল নেতা ছগির। মসজিদের অদূরে নাসির উদ্দিন সরকার লেনের গলির ভেতরে তাঁর পাঁচতলা বাড়ি। এদিন তাঁর মায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। নামাজ পড়ে খাবার বিতরণের কথা বলে তিনি মসজিদে আসেন। সঙ্গে শিশুসন্তান তৌসিফ এবং তারই সমবয়সী গৃহকর্মী জালাল।জালাল আমাকে বলেছিল, মসজিদ থেকে বের হয়ে ছগিরের ছেলে তৌসিফ ও সে একসঙ্গে বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। তৌসিফ ছিল তার পেছনে। রায়সাহেব বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গলিতে তিন যুবক দাঁড়িয়ে। ছগিরকে দেখেই তারা এগিয়ে আসে। এরপর কোনো কথা না বলে সোজা গুলি করে। গুলির শব্দে দুজনেই দেখতে পায়, ছগির রাস্তায় পড়ে যাচ্ছেন। তারা দৌড়ে গিয়ে বাসায় খবর দেয়। ছুটে আসেন ছগিরের স্ত্রী নাসিমা আক্তার রুবী। এ ঘটনার পর সেখানে অনেক মানুষ জড়ো হয়। তারা সন্ত্রাসীদের পালাতে দেখে ধাওয়া করে। সে সময় টহল পুলিশের হাবিলদার রফিক একজনকে জাপটে ধরেন। ছেলেটার নাম শাওন। পরে সে র্যাবের হাতে প্রাণ হারায়। তখন শোনা যায়, এই শাওন বিএনপির তৎকালীন এমপি প্রয়াত নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টুর ছোট ভাই মনিরের ঘনিষ্ঠ। শাওনের মৃত্যু নিয়েও নানা আলোচনা হয়।দুপুরের পর ছগিরের লাশ নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে। সেখানে গিয়ে দেখি, ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, বিএনপির মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী আমানুল্লাহ আমান, গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস, সংসদ সদস্য মোসাদ্দেক আলী ফালু, সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টুসহ শত শত নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছেন।অপরাধ রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির বায়োগ্রাফিটা সব সময় খুব জরুরি। এতে পাঠক সেই ব্যক্তি সম্পর্কে একটি ধারণা করতে পারেন। খোঁজ করতে গিয়ে দেখি, ছগিরের পিতার নাম হাজি আফতাব উদ্দিন। তাঁরা সূত্রাপুরের নাসির উদ্দিন সরদার লেনের স্থায়ী বাসিন্দা। চার ভাই, এক বোনের মধ্যে ছগির দ্বিতীয়। তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা ছিল। ১০ বছর আগে তিনি বিয়ে করেন নাসিমা আক্তারকে। ছগিরের দুই সন্তান-তৌসিফ ও রামিশা। এদের একজনের বয়স পাঁচ বছর, আরেকজনের তিন।অভির সঙ্গে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন তিন্নিছগির নিহত হন বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। সে সময় জগন্নাথ কলেজের ছাত্রদলের কমিটি এবং একটি ভবন দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল। ছগিরের মত উপেক্ষা করে কমিটি করা হয়। এ নিয়ে সেদিন সকালে তিনি ঢাকার মেয়রের সঙ্গে বৈঠকও করেন। সেই বৈঠক শেষ করে বাসায় ফিরে আসার পর খুন হন ছগির। ছগিরের বিরুদ্ধে সে সময় সার্জেন্ট ফরহাদ হত্যাসহ ১২টি মামলা চলছিল। পুরান ঢাকায় ছগিরের পরিচিতি ছিল ত্রাস হিসেবে।২৫ জুন বেলা ১১টার দিকে ছগিরের লাশ নেওয়া হয় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানে তাঁর কফিন দলীয় পতাকা দিয়ে মোড়ানো হয়। এ সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ বিএনপির প্রায় সব মন্ত্রী ও দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছগিরের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।ছগিরের মতো সন্ত্রাসীর মরদেহে প্রধানমন্ত্রীর ফুল দেওয়া দেখে জনকণ্ঠে প্রকাশিত আমার সেই 'বিচারের বাণী কাঁদে' সিরিজের কথা মনে পড়ে যায়। সেই সিরিজের ১৯৯৯ সালের ৩১ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ছিল সার্জেন্ট ফরহাদ হত্যা নিয়ে। ফরহাদ খুনের মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ছগির আহমেদ। ফরহাদ ছিলেন কোতোয়ালি থানার এসআই। তখন জগন্নাথ কলেজ ছাত্রদলে ছগির ও কাজলের দুটি গ্রুপ ছিল, যাদের মধ্যে প্রায়ই গোলাগুলি হতো। কাজলের বাসা ছিল কলেজের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গার তীরে, আর ছগিরের বাসা আদালত ভবনের কাছে। ১৯৯৪ সালের ১৫ মার্চের সকালে দুই পক্ষের গোলাগুলির সময় সেখানে পুলিশ নিয়ে যান এসআই ফরহাদ। তিনি ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করেন ছগির।এ ঘটনা নিয়ে কোতোয়ালির ওসি মুজিবুল হক ছগির, কাজলসহ ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তাঁদের মধ্যে ছগির ও কাজল ভারতে পালিয়ে যান। কিছুদিন পর ফিরে এসে জামিন নেন। জামিন পেয়ে আবার বিদেশে পালিয়ে যান কাজল। সেই থেকে তিনি বিদেশেই আছেন। ছগির মূল দলে মিশে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেন। অবশ্য বিএনপি ক্ষমতায় থাকতেই ডিবির এসি আখতারুজ্জামান রুনু এ মামলার অভিযোগপত্র দেন। যথারীতি জজ আদালতে মামলা শুরু হয়। মামলার ৩০ সাক্ষীর ২১ জনই ছিলেন পুলিশ সদস্য। বাকি ৯ জন জব্দ তালিকার। কিন্তু পুলিশ সদস্যদের কেউই তাঁদের সহকর্মী খুনের বিচারের জন্য আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাননি। সাক্ষ্য না দেওয়ায় অতলে তলিয়ে যায় মামলাটি।আমার মনে আছে, এই মামলার ফলোআপ করার সময় ফরহাদের স্ত্রী শারমিন আক্তার যোগাযোগ করতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে রাজারবাগ স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তিনি রাজারবাগ কোয়ার্টারেই থাকতেন।বোকা বানানোর কারিগরছগির খুনের পরের দিন রাজারবাগ স্কুলে গেলাম শারমিনকে খুঁজতে। শুনি তাঁর চাকরি নেই। তাঁকে কোয়ার্টার থেকেও বের করে দেওয়া হয়। এক সহকর্মী আমাকে শারমিনের বাসার ঠিকানা দিলেন। ২০০৫ সালের ২৭ জুন সকালে গেলাম শারমিনের চামেলীবাগের বাসায়।ফরহাদ যেদিন খুন হন, পরের দিন তাঁর ছোট ছেলে সিয়ামের জন্ম হয়েছিল। আমি যখন তাদের বাসায় গেলাম, তখন সিয়াম মতিঝিল আইডিয়ালে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। শারমিনের বড় ছেলে সানি পড়ত ঢাকা সিটি কলেজে। শারমিন বললেন, 'ফরহাদ মারা যাওয়ার চার বছর পর নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমি বিয়ে করি। বিয়ে করার অপরাধে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মতিউর রহমান আমাকে চাকরিচ্যুত করেন। চাকরির অব্যাহতিপত্রে লেখেন, দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হলো। চাকরির সঙ্গে বাসাও ছাড়তে হলো। এমনকি পুলিশ কল্যাণ তহবিলের টাকাও বন্ধ হয়ে গেল।'বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছগিরের মরদেহে প্রধানমন্ত্রীর ফুল দেওয়ার দৃশ্য সেদিন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হয়েছিল। শারমিনের পরিবারের সবাই তা দেখেছেন। বললেন, টিভির খবরে ছগিরের মরদেহে প্রধানমন্ত্রীর ফুল দেওয়ার দৃশ্য দেখেছে সানি। এরপর সারা দিন কারও সঙ্গে কথা বলেনি, কিছু মুখেও দেয়নি। বাবার খুনিকে সরকারের বড় বড় নেতার সম্মান দেখানোর দৃশ্য কোনো সন্তান কি মেনে নিতে পারে ভাই? যে সন্ত্রাসী আমার জীবন তছনছ করেছে, দুই সন্তানসহ আমাকে পথে বসিয়েছে, সে কী করে এত মর্যাদা পায়! তার জন্য দেশের মন্ত্রীদের এত মায়া কেন?'সানি এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে কথা শুনছিল। হঠাৎ বলে উঠল, সন্ত্রাসীর হাতে বাবার মৃত্যুর কথা শুনে আমার মা খুব কেঁদেছিলেন, কাল আবার কাঁদলেন তাঁর স্বামীর খুনির মরদেহে প্রধানমন্ত্রীর ফুল দেওয়ার দৃশ্য দেখে। শুধু মা নন, আমরাও কেঁদেছি। ছেলের কথা শুনে আমি শারমিনের দিকে তাকাই, তিনিও কাঁদছেন। মায়ের কান্না দেখে পাশে থাকা ছোট ছেলেটাও কেঁদে ওঠে।এ মুহূর্তে শারমিন যেন আমার স্বজন হয়ে যান। মা আর সন্তানদের ভেজা চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি, আমারও গলা ধরে আসে। কিছুই বলতে পারি না। যে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রের, রাষ্ট্রের কর্তাদের, তা আমার মতো নিতান্ত ছাপোষা সংবাদকর্মী দেবে কীভাবে?আরও পড়ুন:ক্ষমা করবেন জ্যোতিকাবালাফাঁসির সেল থেকে ফিরে আসাভেস্তে যাওয়া এক 'আষাঢ়ে গল্প'পিচ্চি হান্নানকে দিয়েই 'হাতেখড়ি' র্যাবেরবোকা বানানোর কারিগরনবজাতকের সূত্রে মিলল বাংলা ভাইয়ের খোঁজআমি তো শীর্ষ সন্ত্রাসীর মা...কই শহীদ হলেন না যেকর্নেলের সঙ্গে শেষ ফোনালাপমুরগি মিলনের সম্পদ অন্যের হাতেসোনার খোঁজে আদার ব্যাপারীতিনি অধরাই থেকে গেলেননিশ্চিন্তে দেশ ছাড়লেন টোকাই সাগরআতঙ্কের নাম মেজর জিয়া৪০০ কিমি হাঁটার সেই দুঃসহ গল্পরঙিন জীবন অন্ধকারেই শেষ১০১টা খুন করতে চেয়েছিলেন তিনি | 6 |
২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আজকের পত্রিকার অনুসন্ধানে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের কয়েক গুণ বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত একটি প্রকল্পের কাজও শতভাগ সম্পন্ন হয়নি। বারবার সময় নিয়েও কাজ শেষ না করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সময় বাড়িয়ে চলেছে। এসব প্রকল্পের কাজ কখন শেষ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও।২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর ১৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক-এর আর এম ইঞ্জিনিয়ার। সাড়ে ২৩ মাসে কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু ৫৬ মাসেও সম্পন্ন হয়নি। ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ছয়বার সময় বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।২০১৭ সালের ২০ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের টেন্ডার পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঢালী কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২২ কোটি টাকার এ কাজ ২২ মাসে শেষ করতে বলা হয়, কিন্তু ৪৮ মাসে অগ্রগতি মাত্র ৬৫ শতাংশ। কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিনবার।২০১৭ সালের ২৩ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট ও হাউস টিউটর কোয়ার্টারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ কাজ ১১ মাসে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু কয়েকবার মেয়াদ বাড়ানোর পর ৪৮ মাসেও তা শেষ হয়নি।২০১৮ সালের ১৩ মে শুরু হয় অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ। শেষ করার কথা সাড়ে ৬ মাসে, অথচ ৩৯ মাসেও শেষ হয়নি। সময় বাড়ানো হয়েছে পাঁচবার।ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ ১৪ মাসে শেষ হওয়ার কথা কিন্তু তা ৩৯ মাসেও হয়নি।বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ৬ মাসে। পার হয়েছে ৩৯ মাস। সময় বাড়ানো হয়েছে চারবার।২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের সামনে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৯ মাসের এ কাজে পার হয়েছে ৩৩ মাস।একইভাবে প্রকৌশল দপ্তরের ভবন নির্মাণে ১০ মাসের জায়গায় পার হয়েছে ৩৫ মাস, জীববিজ্ঞান অনুষদের চতুর্থ পর্যায়ের নির্মাণকাজে ১৪ মাসের জায়গায় পার হয়েছে ৩৯ মাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিকে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে ১ বছর লাগার কথা, পার হয়েছে ছয় বছর। দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নির্মাণকাজ ২২ মাসের জায়গায় পার হয়েছে ৫৬ মাস।হিসাব করে দেখা গেছে, ১১ প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকার কাজ আটকে আছে।জননেত্রী শেখ হাসিনা হল ও অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের নির্মাণকাজের ঠিকাদারি করছেন মেসার্স মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল আলম। তিনি বলেন, 'লকডাউনে ঠিকভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। আমাদের দুটি কাজই প্রায় শেষের দিকে।'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও প্রকৌশল দপ্তরের ভবন নির্মাণকাজের তদারকি করছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, 'জায়গা বুঝিয়ে দিতে দেরি হওয়ায় কাজ ঠিক সময়ে শেষ করা যায়নি। আমরা ৬ মাসের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করছি।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, 'আমি যে প্রকল্পগুলো দেখাশোনা করি, সেগুলোর কত শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, তা এ মুহূর্তে বলতে পারব না। আনুমানিক সবগুলোরই ৬০ শতাংশের বেশি কাজ হয়েছে।'নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বারবার কেন সময় বৃদ্ধি করা হচ্ছে-জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, 'আগে যা হওয়ার হয়ে গেছে। আপনি যে প্রশ্নটা করেছেন তা আমি নিজেকেও করছি। সামনে যেন প্রশ্নের উত্তর আর না দিতে হয়, সে ব্যবস্থা করছি। প্রকল্পের মেয়াদ যেন আর বাড়াতে না হয় সে ব্যবস্থা করব।' | 6 |
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দুলালপুর ইউনিয়নের বড়ুরিয়া বাঁধের খাল পাড়া এলাকা সংলগ্ন গড়াই নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় আধ কিলোমিটার পাড় ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। এতে গাছপালা, ফসলি জমি, বসত বাড়ি ও নদী পাড়ের সরু রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎ নদী ভাঙন শুরু হওয়ায় খালপাড়া এলাকায় গড়াই নদীতে প্রায় আধ কিলোমিটার অংশের গাছপালা, ফসলি জমি, বসত বাড়ি, রাস্তা নদীগর্ভে চলে গেছে। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের বসত বাড়ি ও আবাদি জমি।ভাঙন এলাকার বাসিন্দা কালোন শেখ বলেন, নদী ভাঙনের কারণে ভীষণ বিপদে আছি। দ্রুত ব্লক দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক। নইলে সব শেষ হয়ে যাবে আমাদের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এখানে অধিকাংশ জমিতে আম ও লিচু বাগান ছিল। পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বালু উত্তোলন করে। ফলে প্রতি বছরই ভাঙন লাগে। তবে এ বছর অতিরিক্ত পানি বেড়ে যায় নদীতে। তাই পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও বাড়ছে।ভাঙনের বিষয়ে জানতে নন্দনালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশের আলীকে ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সালাহ্ উদ্দিন বলেন, গড়াই নদী ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সকল ভাঙন স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মণ্ডল বলেন, ভাঙনের বিষয়টি মাত্রই জানতে পেরেছি। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। | 6 |
রেস্টুরেন্ট ও হোটেলবিষয়ক একটি বাণিজ্য মেলা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সেখানে হঠাৎই একজন দর্শনার্থী তাঁর মুখবরাবর ডিম ছুড়ে মারলেন। স্থানীয় সময় সোমবার ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের লিও শহরে এ ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ছুড়ে মারা ডিমটি মাখোঁর কাঁধে আঘাত করে। তবে সেটি ভাঙেনি। ঘটনার পরপর ডিম ছুড়ে মারা ব্যক্তিটিকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এ সময় মাখোঁ জানান, তিনি ডিম ছুড়ে মারা ওই ব্যক্তির সঙ্গে পরে কথা বলবেন। এ বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, 'যদি তিনি (ডিম ছুড়ে মারা ব্যক্তি) আমাকে কিছু বলতে চান, তবে তাঁকে বলতে দেওয়া হবে।' প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ফ্রান্সে রাজনীতিকদের ওপর ডিম ছুড়ে মারার ঘটনা আগেও দেখা গেছে। মাখোঁর ওপর এর আগেও ডিম ছুড়ে মারা হয়েছিল। ২০১৭ সালে মাখোঁ তখন ফরাসি প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য লড়ছিলেন, প্যারিসে জাতীয় কৃষি মেলা পরিদর্শনের সময় তাঁর ওপর ডিম ছুড়ে মারা হয়। ওই সময় ডিমটি মাখোঁর মাথায় আঘাত করে ভেঙে যায়। চলতি বছরের জুনে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় ভ্যালেন্স শহরে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে করমর্দনের সময় হঠাৎই এক ব্যক্তি মাখোঁকে সপাটে চড় মারেন। ওই ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী একজনকে আটক করা হয়। ওই ব্যক্তি ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন। পরে তাঁর চার মাসের কারাদণ্ড হয়। | 3 |
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ির সিডস্টোর বাজারে সোমবার সন্ধ্যায় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কয়েক দফা হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এ সময় পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কমপক্ষে ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। সংবাদ পেয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউএনও ও ভালুকা মডেল থানার ওসি রাত সোয়া ৯টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ইফতারের পাঁচ মিনিট আগে ওই বাজারে সাদা পোশাকে শিল্প পুলিশের দুই সদস্য নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে রাস্তা পরিস্কারের কথা বলে ইফতার নেওয়ার জন্য থামানো বেশ কয়েকটি গাড়ির কাগজপত্র তল্লাশির নামে চালকদের কাছ থেকে টাকা নেয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় শ্রমিক লীগের নেতারা ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ওই দুই পুলিশকে তাদের দলীয় অফিসে নিয়ে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে ওই বাজারের শিল্প পুলিশের ক্যাম্প থেকে ১৪-১৫ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আকস্মিক শ্রমিক লীগের অফিসসহ আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর ও ব্যবসায়ীসহ বাজারের লোকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে ওই বাজারের কয়েকশ' ব্যবসায়ী ও উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ ঘটনার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে শিল্প পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকে। সংবাদ পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যার্থ হয়। এ সময় শিল্প পুলিশের সদস্যরা ফের ঘটনাস্থলে এসে মারধর ও ভাংচুর চালাতে থাকলে ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। সংঘর্ষে ভালুকা মডেল থানার এসআই কাজল হোসেন, শিল্প পুলিশের এএসআই গৌতম, নাজিম উদ্দিন ও কনস্টেবল অভিজিত ধরসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। রাত সাড়ে ৯টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা অবরোধ তুলে নেন। ভালুকা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাজাহারুল ইসলাম সমকালকে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থার পরবর্তী সিনেমা 'যুগ যুগ জিও' ফার্স্ট লুক প্রকাশ করলেন করণ জোহর। ফার্স্ট লুকের একাধিক ছবিতে দেখা গেছে বরুণ ধাওয়ান, কিয়ারা আডবানি, অনিল কাপুর এবং নীতু কাপুরকে । ফার্স্ট লুক সিরিজের প্রথম ছবিতেই লাল রঙের লেহেঙ্গা চোলি পরে কনের সাজে ধরা দিয়েছেন কিয়ারা। আর তাকে সস্নেহে বুকে জড়িয়ে কপালে স্নেহ চুম্বন এঁকে দিচ্ছেন বারুণ ধাওয়ান। ছবিতে সাদা রঙের শেরওয়ানির সঙ্গে মাথায় সুন্দর পাগড়ি পরা বড়বেশী বারুণকে এককথায় বেশ মানিয়েছে কিয়ারার পাশে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। সিনেমায় বারুণের বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অনিল কাপুর। ছবিতে দেখা গেছে তাকেও। ছবিতে তিনিও একেবারে সাবেক সাজে ধরা দিয়েছেন। ফার্স্ট লুকের এই সিরিজের সব ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে 'যুগ যুগ জিও' মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেছেন করণ। ২০২২ এর ২৪শে জুন বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি। তবে এই ছবির গল্প যে বারুণ-কিয়ারার পরিবারকে কেন্দ্র করেই আবর্ত হবে সেকথারও ইঙ্গিত পাওয়া গেল কারাণের ক্যাপশনেই। লেখাই বাহুল্য, এই পোস্ট ইতিমধ্যেই হু হু করে ভাইরাল হওয়া শুরু হয়েছে ইন্টানেটে। ফ্যানেরাও যে তাদের প্রিয় অভিনেতা, অভিনেত্রীদের প্রথম লুক দেখে দারুণ উচ্ছ্বসিত সেকথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একজন পোস্টের কমেন্টে লিখেই ফেললেন, কী ভালো যে লাগছে সবাইকে , আমি তো রীতিমতো চিৎকার জুড়ে দিয়েছি। | 2 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপকে অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছেন। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমরা তো এই সংলাপকে অর্থহীন মনে করছি। আমরা মনে করি, বর্তমান যে রাজনৈতিক সঙ্কট, সেই সঙ্কটটা নির্বাচন কমিশন গঠনের সঙ্কট নয়। আর আইন তৈরি করারও সঙ্কট নয়। প্রধান যে সংকট সেটা হলো, নির্বাচনকালীন কোন রকম সরকার থাকবে? সেটাই হচ্ছে প্রধান সঙ্কট। নতুন বছরে বিএনপির প্রত্যাশা কী, এই প্রশ্নের জবাবে এই নেতা বলেন, ইংরেজি নতুন বর্ষে বিএনপি, ছাত্রদল, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আর আশা করছি, এই নববর্ষে জনগণ ও গণতন্ত্র মুক্ত হবে এবং খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। আর দেশে অবশ্যই আমরা একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো। এর আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল। এসময় ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সিনিয়র সহসভাপতি কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, যুগ্ম সম্পাদক তানজিল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 6 |
যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনার জন্যই লন্ডনে এসেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব এ কথা জানান।এ সময় অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। ফখরুল তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, 'শুধু একটি মাত্র কারণে আমি লন্ডনে এসেছি। নেতার সঙ্গে কথা বলার জন্য, নেতার দিকনির্দেশনা নেওয়ার জন্য।'কারাগারে বন্দী বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, 'তিনি পড়ে গিয়েছিলেন, হোঁচট খেয়ে পড়ে যাননি। অসুস্থতার কারণে পড়ে গিয়েছিলেন।' খালেদা জিয়াকে পুরোনো নির্জন কারাগারের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে আটকে রেখে, চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পূর্ব লন্ডনের রয়্যাল রিজেন্সি হলে অনুষ্ঠিত ওই ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন মির্জা ফখরুল। এতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক। সাধারণ সম্পাদক কয়সর আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আয়োজনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বক্তব্য দেন। বাংলাদেশে প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'খালেদার মামলাটি এমন কোনো মামলা নয় যে তাঁকে জামিন দেওয়া যাবে না। অথচ সম্পূর্ণ গায়ের জোরে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে।' ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি চরম অন্যায় করা হয়েছে। তাঁকে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেই মামলা মোকাবিলা করতে গিয়েও তিনি ন্যায়বিচার পাননি। সরকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর ৭৮ হাজার মামলা। ১৮ লাখ লোককে আসামি করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীসহ পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। কোন খবর যাবে না যাবে, টক শোতে কারা কথা বলবে, সেসবও ঠিক করে দিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশের মানুষ এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ধৈর্য, সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গঠনের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। ফখরুল বলেন, 'বহু চেষ্টার পরও আজ পর্যন্ত বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে পারেনি তারা। দলের একজন নেতা-কর্মীকেও নিতে পারেনি।' দলের ঐক্য অটুট আছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, হতাশার কোনো কারণ নেই। রাত্রির পরেই হবে নতুন সূর্যোদয়। | 9 |
কুড়িগ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৭০ হাজার টাকায় দফারফা করে ধর্ষককে ছেড়ে দিয়েছে স্থানীয় মেম্বারসহ সালিসকারীরা। গত মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে।জানা যায়, পরিবারের সদস্যরা ওই ভুক্তভোগী শিশুটিকে বাড়িতে রেখে কোভিড-১৯ এর প্রথম ডোজের টিকা নিতে যান। এই ফাঁকে প্রতিবেশী নরেশ চন্দ্র (৫৫) শিশুটিকে একা পেয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার আর্তচিৎকারে আশপাশের বাড়ির লোকজন এসে নরেশ চন্দ্রকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত লোকজন নরেশ চন্দ্রকে উঠানে দড়ি দিয়ে বেঁধে ভিকটিমের বাবা-মাকে খবর দেয়। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় কিছু দালাল শ্রেণির লোকজন ভিকটিমের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা না করার জন্য চাপ দেয়। পরে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার বাবু ও কালাম মাস্টার ৭০ হাজার টাকায় ধর্ষণের মামলা ধামাচাপা দিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক নরেশ চন্দ্রকে ছেড়ে দেয়। পরে বাবু মেম্বারসহ সালিসকারীরা ৭০ হাজার টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেয়।ভিকটিমের দাদা জানান, মঙ্গলবার সকালে আমরা বাড়ির সকল সদস্য ইউনিয়ন পরিষদে করোনার টিকা নিতে যাই। টিকা নিয়ে ফিরে এসে দেখি নরেশ চন্দ্রকে এলাকাবাসী আমার বাড়ির উঠানে খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছে। পরে প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে জানতে পারি আমার স্কুল পড়ুয়া তৃতীয় শ্রেণির নাতনিকে ধর্ষণ করেছে নরেশ চন্দ্র। পরে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবু মেম্বার ও কালাম মাস্টার গ্রাম্য সালিস বসিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নরেশ চন্দ্র পলাতক রয়েছে।এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার বাবু সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, 'দু'পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। আপনারা এত বাড়াবাড়ি করছেন কেন। ৭০ হাজার টাকা কে নিয়েছে কী করেছে এত কিছু জেনে কি করবেন। বেশি মাথাচাড়া দেবেন না, তাহলে সমস্যায় পরবেন।'এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু সরকার জানান, ভিকটিমের পরিবার থেকে এখনো কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ফেসবুকের বাংলাদেশি এজেন্ট এইচটিটিপুল গেল আগস্ট মাসে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন বিক্রি করেছে। এর বিপরীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) তারা ৯১ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ভ্যাট জমা দিয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল হক। তবে এইচটিটিপুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা যথাসময়ে ভ্যাট পরিশোধ করেছিল না। এ কারণে ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা করেছিল। মলার রায়ে ফেসবুকের এই এজেন্ট ৭৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা বকেয়া ভ্যাট এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করে। অধিদপ্তর সূত্রমতে, এইচটিটিপুল গেল ১৫ সেপ্টেম্বর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই আগস্ট মাসের ভ্যাটের অর্থ পরিশোধ করে। তিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলজোসা জেংকো ৯১ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ভ্যাট পরিশোধের চালানসহ আগস্ট মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেছেন। | 0 |
গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁর দল গণফোরাম বলছে, তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিচ্ছেন। তা ছাড়া দলের প্যাড 'চুরি' করে মোকাব্বির স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।আজ সোমবার বেলা তিনটায় গণফোরামের প্যাডে পাঠানো চিঠিতে দু-এক দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান মোকাব্বির। স্পিকার তাঁকে আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শপথ গ্রহণের জন্য সময় দিয়েছেন। শপথের বিষয়ে মোকাব্বির খান প্রথম আলোকে বলেন, 'দলীয় সিদ্ধান্তেই আগামীকাল শপথ নিচ্ছি।'এ বিষয়ে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, 'দলীয় সিদ্ধান্ত হচ্ছে শপথ না নেওয়ার। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত এটা। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির আরেকটি মিটিং আছে। তার আগেই উনি এটা কেন করলেন, বুঝলাম না। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেই তিনি শপথ নিচ্ছেন। উনি যা বলছেন তা সঠিক না।'শপথ নিতে গণফোরামের প্যাডে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে সুব্রত চৌধুরী বলেন, মোকাব্বির খান গণফোরামের প্যাড 'চুরি' করে সেই কাগজে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। মোকাব্বিরের বিষয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরে বৈঠক করে তা জানানো হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোকাব্বির খান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্যে নির্বাচন করেন। এবারের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আটটি আসনে জয়লাভ করে। তাঁর মধ্যে বিএনপি ছয়টি ও গণফোরাম দুটি আসন পায়। গণফোরামের আরেক সদস্য সুলতান মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে নির্বাচিত হন। গত ৭ মার্চ তিনি শপথ নেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেওয়ায় তাঁকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়। ৭ মার্চ মোকাব্বির খানেরও শপথ নেওয়ার কথা ছিল। তবে তাঁর আগের দিন তিনি সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। | 9 |
বগুড়ায় দরিদ্র ও অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সাতমাথায় মুজিব মঞ্চে আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বগুড়ার আয়োজনে আলোচনা সভা, শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ করা হয়। প্রায় ১২০০ জন মানুষের মধ্যে এসব বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শফিক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, অধ্যক্ষ ফারুক আহম্মেদ, অধ্যক্ষ মইনুল হোসেন, ডিজি এম প্রকাস কুমার সাহা, অধ্যক্ষ তানসের আলী, অধ্যক্ষ জাফর আলী, ব্যাংকার সাবিনা ইয়াসমিন, অধ্যাপক সুজাউদ্দৌলা, প্রভাষক মনিরুজ্জামান মনির, প্রভাষক এম এ বাশার রানা, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট প্রিন্স, ব্যাংকার দিলিপ কুমার ও আবু জোবায়ের হোসেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
ভারতে টানা বর্ষণে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় মুম্বাই শহরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ৭শ' যাত্রী নিয়ে আটকা পড়েছে একটি ট্রেন। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাবে বিপদে পড়েছেন যাত্রীরা। তাদের উদ্ধারে এরই মধ্যে হেলিকপ্টার ও নৌকা নিয়ে কাজ শুরু করেছে উদ্ধারকারী বাহিনী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, মুম্বাই-কোলাপুর চলাচলকারী মহালক্ষী এক্সপ্রেস থানে জেলার ভাঙ্গানি এলাকায় শুক্রবার রাত থেকেই আটকে আছে। সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে দুর্দশার ভিডিও-ছবি পোস্ট করে সাহায্য চাচ্ছেন ট্রেনের অসংখ্য যাত্রী। বার্তাসংস্থা আইএএনএস'কে যাত্রীরা জানান, ১৫ ঘণ্টার বেশি আটকে থাকায় সেখানে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবারের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ারও উপায় নেই। কারণ, বাইরে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় ফুট উচ্চতায় পানি বয়ে যাচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিচে না নামার পরামর্শ দিয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ধৈর্য সহকারে ট্রেনে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বদলাপুর, উলহাসনগর, ভাঙ্গানির বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে। রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে মুম্বাইয়ে সড়ক, রেল ও আকাশ পথে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। | 3 |
তালেবানের দখলে যাওয়ার পর প্রতিদিনই পাল্টে যাচ্ছে আফগানিস্তানের চেহারা। তালেবানের ভয়াবহ বর্বরতার মধ্যে দিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত পার করছে সেখানকার মানুষ। বেশি আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে সময় পার করছেন আফগানিস্তানের নারীরা। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় ছোট একটি শহরে তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন নাজিয়া। তালেবান জঙ্গিরা হঠাৎ এক দিন তার দরজায় কড়া নাড়ল। নাজিয়ার মেয়ে মনিজা (২৫) মাকে জানালেন তালেবান এসেছে। তার মা তাকে বললেন, গত তিন দিন ধরে তারা একই কাজ করছে। ১৫ জনের বেশি তালেবানের জন্য খাবার রান্না করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে তারা। গত দিনগুলোতে ভয়ে মা দরজা খোলেননি। এদিন মা দরজা খুলে তাদের বললেন, আমি দরিদ্র, কীভাবে তোমাদের এতগুলো লোকের খাবার দেব। মনিজা বলেন, তালেবান মায়ের এই কথা শুনেই তাকে মারতে শুরু করল। মা নিস্তেজ হয়ে পড়লেন। তারা তাদের 'একে৪৭এস' বন্দুক দিয়ে সমানে মাকে আঘাত করতে থাকল। তাদের থামানোর জন্য মনিজা এ সময় চিৎকার করছিলেন বলে জানান। পাশের ঘরে গ্রেনেড নিক্ষেপের আগে কিছুক্ষণের জন্য থেমে যান তারা। এরপর যখন চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ল তখন তারা পালিয়ে গেলো। অতিরিক্ত আঘাতে মারা গেলেন মা, আমরা চার ভাইবোন এতিম হয়ে গেলাম, বলেন মনিজা।খবর সিএনএনের। ফারিয়াব প্রদেশে নাজিয়ার বাড়িতে ১২ জুলাই ভয়াবহ এ হামলা চালায় তালেবান। রাজধানী কাবুল দখলের পর সেখানকার নারীরা যে কতটা হুমকির মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন তা এ চিত্র থেকেই বোঝা যাচ্ছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে নাজিয়া ও মনিজার ছদ্ম নাম ব্যবহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ১০ দিনের মধ্যে তালেবান দেশটির কয়েক ডজন প্রদেশ দখল করে নেয়। তাদের দ্রুত এ উত্থান স্থানীয় নাগরিকদের সতর্ক করে দেয়। কয়েকজন নারী বলেন, তালেবানের জারি করা নিয়ম অনুযায়ী তাদের এখনও বোরকা কেনা হয়নি। কারণ তালেবান আরও নিয়ম জারি করেছে যেখানে একজন নারী একা বাইরে বের হতে পারবে না। তার সঙ্গে এ সময় অবশ্যই একজন পুরুষ থাকতে হবে। কিন্তু ভয়ে পুরুষরাও এখন বাইরে বের হতে চাইছে না। গত ২০ বছর ধরে নারীরা সেখানে অবাধে চলাফেরা করেছে। এ সময় তারা বোরকা ব্যবহার করত না। তাদের বাইরে কাজ করার অধিকার ছিল, পড়ালেখা করার অধিকার ছিল। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তারা অবাধে চলাফেরা করত। তবে সে সময় আর ফিরে আসবে না ভেবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নারীরা। | 3 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১৬৩ শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ডিজিটাল জালিয়াতি ও অবৈধ পন্থায় ভর্তিসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১২ শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে এবং পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১৫১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১ মার্চ) ঢাবি জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগের দিন রোববার ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সিনেট ভবনে সিন্ডিকেট সভায় শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা পরিষদের এক সভায় তাদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছিল। | 6 |
বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান। আজ দুপুরে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করে।তাকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি আইন ২০১৩ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে তার কার্যকাল। এর আগে তিনি একটানা ১০ বছর বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় জাদুঘর ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন শামসুজ্জামান খান। ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ওর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ড. আনিসুজ্জামান। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান ড. আনিসুজ্জামান। গত ১৪ মে তার মৃত্যুর পর এই পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
ছেঁড়া জিন্স নিয়ে ভারতের উত্তরাখণ্ডের নতুন মুখ্যমন্ত্রী তিরথ সিং রাওয়াতের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদেদেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাফপ্যান্ট পরা একটি ছবি টুইটারে শেয়ার করে কটাক্ষ করলেন তিনি। খবর জিনিউজের। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আরএসএসের পুরনো পোশাক সাদা জামা ও খাকি হাফ প্যান্ট পরে আছেন নরেন্দ্র মোদি, নিতিন গডকড়ি ও মোহন ভাগবত। এই ছবিগুলি শেয়ার করে প্রিয়াঙ্কার খোঁচা, 'হে ঈশ্বর! এদের হাঁটু দেখা যাচ্ছে তো!' উল্লেখ্য, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তিরথ সিং রাওয়াত। গত মঙ্গলবার রাজ্য শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের একটি কর্মশালায় তিনি বলেন, 'ছেঁড়া জিন্স পরে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালাচ্ছেন নারীরা। এটা দেখে বিস্মিত হয়েছি। এই ধরনের নারী সমাজে গিয়ে সমস্যার সমাধান করলে কী বার্তা পৌঁছাবে শিশুদের কাছে? মূল্যবোধ ঘরে শেখাতে হয়। কী ধরনের সংস্কার! ছেঁড়া জিন্সে হাঁটু দেখা যাচ্ছে। এটা কি ভালো?' তিরথ সিংয়ের এই মন্তব্যের পরই সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভারতীয় নারীরা ছেঁড়া জিন্স পরে ছবি দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। সমালোচনায় সরব হয়েছেন জয়া বচ্চনও। তবে তিরথের স্ত্রী রশমি ত্যাগী সাফাই গেয়েছেন স্বামীর পক্ষে। তিনি বলেন, 'উনি (তিরথ) বলতে চেয়েছেন, পশ্চিমী সংস্কৃতির পেছনে অন্ধের মতো দৌড়চ্ছি আমরা। আমাদের হাজার বছরের প্রাচীন সংস্কৃতি অনুকরণ করছি না। ওর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে।' | 3 |
আগামি ২০ মে ২৬ রমজানের আগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীদের বকেয়াসহ বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। রবিবার (১৭ মে) ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এক বিবৃতিতে প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদ এবং টেলিভিশন মালিকদের প্রতি এ দাবি জানান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি পত্রিকা এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করলেও বেশির ভাগ প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদ এবং টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ এখনও এপ্রিল ও তার আগের কয়েকমাসের বেতন বকেয়া রেখেছে। আবার এক/দুটি সংবাদ প্রতিষ্ঠান এপ্রিলের বেতন দিলেও বোনাস পরিশোধ করেনি, যা উদ্বেগজনক। রমজান ও করোনা দুর্যোগের মত কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামাদি ছাড়া কর্মক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাওয়ার পরেও যে সব প্রতিষ্ঠান এখনও বেতন ও বোনাস পরিশোধ করেনি, তাদের আগামি ২০ মে ২৬ রমজানের আগেই বকেয়াসহ বেতন-বোনাস প্রদানের দাবি জানান নেতারা। অন্যথায়, এবার ঈদেরদিনে প্রত্যেকটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাড়ির সামনে সাংবাদিক-কর্মচারীরা অবস্থান গ্রহণের মত বেদনাদায়ক কর্মসূচী নিতে বাধ্য হবে। এছাড়াও নেতারা অবিলম্বে আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলাদেশের খবর, জনতাসহ যে সংবাদপত্র নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করে প্রিন্টভার্সন বন্ধ রেখেছে, তাদের প্রকাশনা চালু এবং বকেয়া বেতনাদি দ্রুত পরিশোধের আহবান জানান। | 6 |
খুব শিগগিরই বাগদান পর্ব সেরে ফেলবেন বলে জানিয়েছেন বলিউড অভিনেতা ভিকি কুশল। তবে হবু বাগদত্তা কে, সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি তিনি। রবিবার (১৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ভিকি বলেন, ''যখন সঠিক সময় আসবে, তখন খুব শিগগিরই বাগদান সেরে ফেলব। সেই সময়টিও আসবে।'' যদিও এই বলিউড অভিনেতা নিজের সঙ্গিনীর নাম প্রকাশ করেননি। তবে সঙ্গিনীর নাম মুখে না আনলেও সবার ধারণা, অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গেই তিনি বাগদান পর্ব সারতে যাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে বলিউডে। ক্যাটরিনার সঙ্গে ভিকি কুশলের সম্পর্কের বিষয়টি বহুল চর্চিত। গোপনে এই দুই তারকা বাগদান সেরে ফেলেছেন এমন গুজবও ছড়িয়েছিল। যদিও কখনোই তারা কেউই এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। ক্যাটের সঙ্গে বাগদানের গুঞ্জন প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ভিকির হাস্যরসাত্মক জবাব, ''খবরটি আপনার বন্ধুদের (গণমাধ্যম) ছড়ানো।'' বিশেষ করে আগস্টে যখন দুই তারকার বাগদানের খবর ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে তখন জুম টিভিকে ক্যাটরিনার এক মুখপাত্র বলেন, ''বাগদানের কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। তিনি শিগগিরই 'টাইগার ৩'-এর শুটিংয়ের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন।'' বিদেশের বিভিন্ন লোকেশনে ''টাইগার ৩''-এর শুটিং শেষ করে তিনি গত মাসে ভারতে ফিরেছেন। ভিকি-ক্যাটের এই সম্পর্কের গুঞ্জনে আরও হাওয়া লাগে পরস্পরের বাড়ির বাইরেও পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর। মুম্বাইয়ে শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) ভিকির নতুন চলচ্চিত্র ''সরকার উদম'' এর স্ক্রিনিংয়েও দেখা যায় ক্যাটকে। এমনকি আগস্টে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং কিয়ারা আদভানি অভিনীত ''শেরশাহ'' স্ক্রিনিংয়েও তারা দুজন একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামেও পরস্পরের পোস্টে প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মন্তব্য করেন ক্যাটরিনা কাইফ এবং ভিকি কুশল। | 2 |
বহুল আলোচিত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই মামলার বাদী লিটনের বোনফাহমিদা বুলবুল কাকলী। বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা দ্রুত এই রায় কার্যকরের দাবি জানাই।' এমপি লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদা জাহান স্মৃতিএ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এদিন গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ দিলীপ কুমার ভৌমিকের আদালত এমপি লিটন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক এমপি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবদুল কাদের খানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন লিটনের বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী। তদন্ত শেষে কাদের খানসহ আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল আলোচিত এ হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় ৩১ অক্টোবর। এ পর্যন্ত আদালতে মামলার বাদী, নিহতের স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার বাসা থেকে কাদের খানকে গ্রেপ্তারের পর থেকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন তিনি। এ ছাড়া আসামি কাদের খানের পিএস মো. শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক আবদুল হান্নান, সহযোগী মেহেদি হাসান, শাহীন মিয়া ও আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে রানা জেলা কারাগারে রয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে আসামি কসাই সুবল কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া ভারতে পলাতক রয়েছেন অপর আসামি চন্দন কুমার সরকার। | 6 |
উঁচু ভবনগুলোর উল্টো দিকে সারি সারি দোকানে বাংলার সঙ্গে রুশ নাম দেওয়া হয়েছে বাণিজ্যিক কারণেই। নাম দেখেই যেন রাশানরা বুঝতে পারেন, এই দোকানে কী পাওয়া যায়। আস্তে আস্তে নতুন ব্যবসায়ীরাও ঢুকছেন এই বাজারে। অর্থনীতি যে তার আপন নিয়মে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসে জীবনযাত্রায়, সেটা এখানে এলে টের পাওয়া যায়।পাকশীর গ্রিন সিটির সামনে 'রুস্কায়া মোদা' বা 'রাশিয়ান ফ্যাশন' দোকানের নিচে দাঁড়িয়ে দুজন রুশ নাগরিক কথা বলছিলেন। আমরা যে চারজন বাঙালি এসেছি এখানে, তারা সবাই রাশিয়ায় পড়াশোনা করেছি। ফলে রুশ ভাষা আমাদের জন্য অবোধ্য কোনো ভাষা নয়। বন্ধু সুকান্ত মুখার্জি এগিয়ে যান তাঁদের দিকে। আমাদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানালে সহাস্যে রাজি হয়ে যান তাঁরা। তাঁদের একজন রাশিয়ার ইভান, অন্যজন বেলারুশিয়ার সের্গেই।রূপপুরে প্রতিদিন যে রুশ রূপকথার জন্ম হচ্ছে, এ আলোচনা তারই একটি অংশ। পরিচয়পর্বে আমাদের সঙ্গী একজন ডাক্তারি পড়ে এসেছেন শুনে জিজ্ঞেস করলেন ইভান, 'কোন শহরে আপনি পড়েছেন?'-ক্রাসনাদারে।-আমার স্ত্রী পড়েছে ভলগাগ্রাদ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ড. পেত্রোভ ছিলেন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।-এখন তিনি কী করছেন?-ও এখন একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে কাজ করে।-তাহলে প্রশ্ন করতে হয়, আপনার স্ত্রী ওখানে আর আপনি এখানে কেন? কেন একসঙ্গে নয়?-এখানে আসার ইচ্ছে ছিল আমার। মূল কারণ অবশ্যই অর্থনৈতিক। টাকা রোজগারের জন্য যেকোনো দেশে যাওয়া যেত। কিন্তু আমার মনে হলো, এ দেশে আসাই ভালো।-কেনাকাটা করতে গিয়ে সমস্যা হয় না? আঙুরের দাম হয়তো ২০০ টাকা কেজি, আপনার কাছে চাইল ৩০০ টাকা। দরদাম করতে হয় না?-হ্যাঁ, হ্যাঁ, দরদাম করতে হয়। পৃথিবীর সব দেশেই এই ধরনের ব্যক্তিমালিকানাধীন দোকানে দরদাম করতে হয়।-রাশিয়ায় তো কালবাসা (একধরনের সসেজ), স্মিতানা (ঘন দই) ছাড়া জীবন অচল। এখানে সেগুলোর জন্য মন কাঁদে না?ইভান বলেন, 'আমাদের তো দুই বছর সেনাবাহিনীতে সময় কাটাতে হয়। সে সময় সব ধরনের কষ্ট সহ্য করে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা হয়। তাই খাওয়া নিয়ে সমস্যা হয় না।'তাঁর কথা টেনে নিয়ে আন্দ্রেই বলেন, 'আমরা ভাগ্যবান। এখানে মাংস তো পাওয়া যাচ্ছে!'-আপনারা কোথায় খান?-পারমাণবিক কেন্দ্রের স্তালোবায়াতে (ক্যানটিন), ক্যাফেতে। এখানে কত কিছু খাই, গ্রিল মুরগি, শিঙাড়া, মুড়ি, ভেড়া, বিরিয়ানি...এখানে রুশ খাবারের পাশাপাশি স্থানীয় খাবার, চীনা খাবার পাওয়া যায়, যখন যা মন চায়, খাই।-বাড়ির জন্য মন কাঁদে না?ইভান বলেন, 'এটা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।' বলে হাসতে থাকেন। আন্দ্রেই বলেন, 'হ্যাঁ, হ্যাঁ, মন তো কাঁদেই।'আন্দ্রেই বললেন, 'আমি আমার লেখা একটা কবিতা পড়তে চাই।' বলে শুরু করলেন কবিতা পাঠ। বড় কবিতা। তার শুরুটা এই রকম:কল্পনার মতোই গল্পটা আমারস্বপ্ন দেখেছিলাম রাতেউড়ে যাচ্ছি আমিঅনেক ওপরে আকাশের কাছাকাছি ওঠার পরটের পেলাম ডানা খুলে গেছেএরপর ধীরে ধীরে পতনের শুরুচারদিকে নিস্তব্ধ নীরবতাকেউ শুনতে পাচ্ছিল নাআমি চিৎকার করে বলছিলাম, 'বাঁচাও বাঁচাও'।কবিতার নির্যাস হয় না, পুরোটা শুনে ব্যঞ্জনাটা ধরতে হয়। আন্দ্রেই-এর কবিতায় ফুটে উঠছিল একজন শান্তিবাদী মানুষের আর্তি। 'স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে হলে ডানা হারিয়ো না'-এই ছিল মোদ্দা কথা। এটাই নাকি আন্দ্রেইয়ের স্বপ্ন।তখন পড়ন্ত বিকেল। বাজার এলাকায় রুশদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। ফলের দোকানের দিকে যাচ্ছেন অনেকে। দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সেখানে দরদাম করা হচ্ছে। বাঙালি বিক্রেতা অবলীলায় কথা বলে যাচ্ছেন রুশদের সঙ্গে। দু-একটা রুশ শব্দ ভেসে আসছে। দেখা যাচ্ছে, আঙুর, আপেল, নাশপাতি, ডালিমের প্রতি রুশদের আগ্রহ বেশি। আর মাল্টা-কমলা তো ওদের প্রাণপ্রিয় ফল। সেগুলোও বিকোচ্ছে দেদার।একটু একটু করে বোঝা যাচ্ছে, রুশদের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারটা মাথায় রেখে রেস্তোরাঁগুলো সাজিয়েছে তাদের মেন্যু, ফলের দোকানগুলো আনছে ফল, সবজির দোকানে আলু, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপির আধিক্য।খাদ্যাভ্যাস একটা দারুণ ব্যাপার। আমরা যখন রাশিয়ায় গিয়েছিলাম, তখন ওদের মসলাহীন খাবার দেখে থমকে দাঁড়াতাম। প্রথম প্রথম তা মুখ দিয়ে পেটে নামত না। তারপর একসময় সে খাবারের স্বাদ বুঝতে শিখলাম। এখানে এসেও মসলার প্রাবল্যে বাঙালি খাবারের ব্যাপারে বিস্ময় জাগে রাশানদের। তবে ধীরে ধীরে মসলার সঙ্গে পরিচিত হয়। তবে মূলত বাড়িতে যখন রান্না করে, তখন নিজেদের খাবারের দিকেই মনোযোগী হয়। রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে বেছে নেয় সেই খাবারের ঘরগুলো, যেখানে মিলবে তাদের পছন্দের খাবার।প্রজেক্টের মধ্যে 'পাপা রোমা' নামে দুটো রেস্তোরাঁ ছিল। সেখানে শেফ হিসেবে কাজ করতেন মো. আলমগীর। একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি আর নিজের ভাই ওয়েস্টিনের শেফের কাছে শিখে নিয়েছিলেন রুশ রান্না। পরে এক বন্ধুর সঙ্গে মিলে গ্রিন সিটিতে 'হেলদি ফুড' নামে একটি রেস্তোরাঁ দিয়েছেন। তাঁর ৯৫ শতাংশ অতিথিই রাশান। রুশ খাবারের মধ্যে বোর্শ, এগ সালাদ, ভেনিগ্রেৎ সালাদ, খারচো, পিলমিনি রান্না করেন। রুশদের প্রিয় কাৎলেত আর প্লোফও বাদ যায় না। গ্রিল চিকেন করেন রাশান স্টাইলে। গ্রিল চিকেনগুলো আকারে বড়। ঢাকায় যে ছোট ছোট ব্রয়লার মুরগি দিয়ে গ্রিল চিকেন তৈরি করা হয়, তাতে রুশদের মন ভরে না। তারা বিক্রেতাকে বলে, 'বালশোই দাভাই। নি নাদা ওস্ত্রি।' অর্থাৎ 'বড়টা দাও, ঝাল দিয়ো না।' বাঙালিরা খেতে এলে তাদের জন্য ঝাল-মসলা আলাদা দেওয়া হয়।কে না জানে, রুশদের প্রিয় খাবার বোর্শ। কালো রুটি দিয়ে বোর্শের মজাই আলাদা। হাড়সহ গরুর মাংস, বাঁধাকপি, বিট, আলু, ক্যাপসিকাম, গাজর আর টমেটো দিয়ে তৈরি এই খাবারটি খুবই শক্তিদায়ক। মো. আলমগীর সেই রান্নাটা খুব ভালো করেন বলে অনেক রাশানই তাঁর নিয়মিত খদ্দের। মো. আলমগীররা এখানে রুশ খাবারের জন্য কারখানাও বানিয়েছেন, যেখানে লুলিয়া কাবাব, পিলমিনি, বার্গারের বানসহ নানা কিছুই তৈরি করেন। গ্রিন সিটির ভেতরে যে দোকান রয়েছে, সেখানেও পাওয়া যায় প্যাকেটজাত এই খাবারগুলো।অর্থনীতির চাহিদা আর জোগানের সূত্রটা যে খাঁটি, সে কথা এখানে এসে আরেকবার মনে হয়। আমরা এগিয়ে যাই একটা ফলের দোকানের দিকে। এরপর যাব একটা ফ্যাশন হাউসে, একটু আগেই কয়েকজনকে সেখানে ঢুকতে দেখেছি। | 6 |
কিয়েভের এক সিনিয়র কর্মকর্তা ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রসের (আইসিআরসি) বিরুদ্ধে বুধবার অভিযোগ করে বলেছেন, তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। তবে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তার এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে রেডক্রস। অভিযোগের বিষয়ে নারী তদন্ত কর্মকর্তা লিউডমিলা ডেনিসোভা গত মাসে আইসিআরসি'র ঘোষণার নিন্দা করে বলেছেন, এ সংস্থা রাশিয়ার দক্ষিণে রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনের উদ্বাস্তুদের সহায়তার জন্য একটি উদ্বাস্তু ক্যাম্প খোলার পরিকল্পনা করেছিলো। কিয়েভ বলছে, সেখানে জোর করে তাদের রাশিয়ায় নির্বাসিত করা হয়েছে। আইসিআরসি ইউক্রেন শাখার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পরে বুধবার ইউক্রেন টেলিভিশনে বলেন, 'আমি নিশ্চিত যে আন্তর্জাতিক রেডক্রস তার দায়িত্ব পালন করছে না।' জাতিসংঘের তথ্য উদ্ধৃত করে ডেনিসোভা বলেন, যুদ্ধকালে ১ লাখ ২১ হাজার শিশুসহ প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ইউক্রেনীয়কে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ কিয়েভের কাছে তাদের নাম-পরিচয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই; এই লোকেরা কারা এবং কোথায় তাদের রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, তারা কোথায়? সংশোধনী ক্যাম্পে? অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে? ওই কর্মকর্তা বলেন, তিনি তার রাশিয়ান প্রতিপক্ষ তাতায়ানা মোসকালকোভা এবং আইআরসির কাছে এই উদ্বাস্তুদের সম্পর্কে তথ্য চেয়েছেন যাতে তাদের ইউক্রেনে ফিরিয়ে আনা যায়, কিন্তু তিনি তাতায়ানা অথবা রেডক্রসের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাননি। রেডক্রস রাশিয়ার সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করছে টেলিভিশন উপস্থাপকের এই প্রশ্নের জবাবে ডেনিসোভা বলেন, 'হ্যাঁ, আমি সন্দেহ করছি তারা সেটাই করছে।' আইসআরসি দৃঢ়ভাবে এই অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে। সূত্র : বাসস | 3 |
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার আইএসএসএফ গ্রাঁ-প্রিঁ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় দিনে পদকের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। নারীদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ব্রোঞ্জ উপহার দিয়েছেন নাফিসা তাবাসসুম।এই ইভেন্টের নাফিসার সঙ্গে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছেন বাংলাদেশের আরেক নারী শুটার সাজিদা হক। সাজিদার দৌড় সেমিতে থামলেও পদক জিতেই থেমেছেন নাফিসা।ফাইনালে চার প্রতিযোগীর মধ্যে কম্পিটিশন রাউন্ডে ভালোই করেছিলেন নাফিসা। এলিমিনেশন রাউন্ড মোট ৩৭ স্কোর গড়ে ছিটকে যান সোনা জয়ের লড়াই থেকে। এই ইভেন্টের সোনা জিতেছেন রোমানিয়ার জর্জিটা-লরা। রুপা জিতেছেন ইন্দোনেশিয়ার খায়রুন্নেসা সালসাবিলা।আজকের দিনের শুরুতে বাংলাদেশকে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই শুটার শোভন চৌধুরী ও রাব্বি হাসান মুন্না। দুজনেই উঠেছিলেন ছেলেদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের সেমিফাইনালে। বাছাইপর্বে ৬২০.৮ স্কোর করে পঞ্চম হয়েছেন শোভন। ৬২০.৩ স্কোরে ষষ্ঠ হয়েছেন রাব্বি। কিন্তু সেমিতেই থেমেছে শোভন-রাব্বির দৌড়। দুজন না পারলেও শেষ পর্যন্ত পদকের হাসি হেসেছেন নাফিসা। | 12 |
রাশিয়ার সামরিক হামলায় ইউক্রেনের আট বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন এলাকায় রাশিয়ান গোলায় তিন বর্ডার গার্ড সদস্য নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেন জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার এই খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এদিকে দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইন বলেছে, সামরিক স্থাপনা পোডিলস্কে বৃহস্পতিবার হামলা করেছে রাশিয়া। পোডিলস্কের পাশের ওডেসা এলাকায় বোমা হামলা মারা গেছে ৬ জন।এতে আহত হয়েছে সাতজন। নিখোঁজ রয়েছে ১৯ জন মানুষ।এছাড়া মারিয়ুপল এলাকায় বোমা হামলায় মারা গেছে একজন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলে 'সেনা অভিযান' পরিচালনার ঘোষণা দেন। এরপর থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। | 3 |
নিষেধাজ্ঞা জারির ৫ দিন পর অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ ঢুকতে শুরু করেছে। শনিবার বেলা সোয়া ১১ টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ঢুকতে শুরু করে পেঁয়াজের ট্রাক।ভারতের মাহদীপুর স্থল বন্দরে আটকে থাকা ৪ শতাধিক ট্রাকের মধ্যে মাত্র ৮টি ট্রাকে করে ১৯৯ মে টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে আটকে থাকা বাকী ট্রাকগুলো প্রবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।এ ব্যাপারে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের মের্সাস সায়া এন্টারপ্রাইজের এক কর্মকর্তা ক্ষোভের সাথে জানান, ভারতে আটকে পড়া তার একটি ট্রাকও দেশে প্রবেশ করতে পারেনি। এতে পেঁয়াজগুলো নষ্ট হওয়ায় সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ অনুমতি পেয়ে পণ্যগুলো দেশে আসবে তা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।ভারত থেকে আসা পেঁয়াজের ট্রাকের এক চালক জানান, ৪ দিন মাহদীপুরে আটকে থাকার পর দেশে পেঁয়াজ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তিনি আরও জানান, ভারতে অন্তত ৫ শতাধিক শুধু পেয়াজের ট্রাকই আটকে রয়েছে।এ ব্যাপারে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর ও কাষ্টমস অফিসের সহকারী কমিশনার সাইদুর রহমান জানান, ভারত আটকা পড়া পেঁয়াজ যখনই দিবে বিশেষ ব্যবস্থায় তখনই বাংলাদেশে ছাড় করা হবে।সোনামসজিদ স্থলবন্দর ব্যবহারকারী পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের পোর্ট ম্যানেজার মাঈনুল ইসলাম জানান, শনিবার আটকা পড়া পেঁয়াজের ট্রাকগুলোর মধ্যে মাত্র ৮টি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে । সবগুলো ট্রাকের পেঁয়াজ ইতিমধ্যে খালাস আরম্ভ হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ট্রাকগুলো ছাড় করে দেশের অভ্যান্তরে পাঠিয়ে দেয়া হবে।উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত আকস্মিক দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে সোনামসজিদের বিপরীতে ভারতের মাহদিপুরে আটকে যায় ৭০ টি পেঁয়াজের ট্রাক। বর্তমানে সেখানে কয়েকশ'ট্রাক আটকা পড়ে আছে। | 6 |
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নিজের বাল্য বিবাহ ঠেকিয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। বিয়ের মাত্র একদিন আগে মঙ্গলবার পালিয়ে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে চলে যায়। তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা বদরুন্নেছার কাছে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। খবর পেয়ে স্থানীয় নারান্দী ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হয়। সাহসী মেয়েটি নারান্দী আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বুধবার ওই ছাত্রীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বর একই উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের জাকির হোসেন। কিন্তু এখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চায় না ওই স্কুলছাত্রী। সে আরও পড়াশোনা করতে চায়। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে পালিয়ে স্কুলে গিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা বদরুন্নেছাকে জানায়, তাকে জোর করে বাল্যবিবাহ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে পরিবার। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও নারান্দী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে জানান। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন এবং সব শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক থেকে ইউএনও মো. নাহিদ হাসানকে বিষয়টি জানালে তার পরামর্শে ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে স্কুলে ডেকে আনা হয়। এসময় মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে দেওয়া হবে না বলে মুচলেকা দেয় ছাত্রীটির পরিবার। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রধান শিক্ষক ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সালাহ উদ্দিন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জোর করে ওই ছাত্রীকে বাল্য বিবাহ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। ছাত্রীটি খুবই সাহসী। নিজের চেষ্টায় তার বাল্যবিয়ে ঠেকাতে পেরেছে। | 6 |
দুবাইয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গেছেন সার্বিয়ান তারকা নোভাক জকোভিচ। আর এই পরাজয়ের মাধ্যমে রাশিয়ান দানিল মেদভেদেভের কাছে এটিপি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটিও হারিয়েছেন। শেষ আটে জকোভিচ চেক প্রজাতন্ত্রের ১২১ নম্বর র্যাঙ্কধারী জিরি ভেসেলির কাছে ৬-৪, ৭-৬ (৭/৪) গেমে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলতে না পারা জকোভিচ বছরের প্রথম টুর্নামেন্ট খেলতে দুবাইয়ে এসেছিলেন। শুরুটা ভালো করার মাধ্যমে তিনি ভালোভাবে কোর্টেও ফিরেছিলেন। টানা ৩৬১ সপ্তাহ র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে রেকর্ড গড়া জকোভিচকে নিজের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার জন্য দুবাইয়ে অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্ত টিকে থাকতে হতো। কিন্তু ভেসেলি তা হতে দেননি। এর মাধ্যমে ২০০৪ সালের পর 'বিগ ফোর' খ্যাত জকোভিচ, নাদাল, রজার ফেদেরার ও এন্ডি মারের পর নতুন কোনো খেলোয়াড় হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্থানটি দখল করলেন মেদভেদেভ। টুর্নামেন্টের শুরুতেই অবশ্য রাশিয়ান মেদভেদেভকে এই অর্জনের জন্য আগাম অভিনন্দন জানিয়ে রেখেছিলেন জকোভিচ। ইউএস ওপেন বিজয়ী মেদভেদেও বর্তমানে আকাপুলকো টুর্নামেন্টে খেলছেন। উয়েভগেনি কাফেলনিকভ ও মারাত সাফিনের পর তৃতীয় রাশিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে মেদভেদেভ র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান পেলেন। সাবেক জুনিয়র নাম্বার ওয়ান ভেসেলি এ সপ্তাহে দুবাইয়ে পাঁচটি ম্যাচ জিতেছেন। ২০২০ সালের পুনে ওপেনের পর প্রথম কোন এটিপি ট্যুরে তিনি সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেন। ২৮ বছর বয়সী এই চেক খেলোয়াড় গত বছর গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালে মন্টে কার্লোর ক্লে কোর্টে তিনি জকোভিচকে পরাজিত করেছিলেন। সূত্র : বাসস | 12 |
'প্রতিহিংসার রাজনীতি' বর্জন করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই প্রতিহিংসার রাজনীতির জন্ম দিয়েছিলেন। ইনডেমনিটি পাস করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করেছিলেন তিনি। তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিনের কেক কাটেন। তার সরকারের সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করে নেতৃত্বশূন্য করার চক্রান্ত হয়েছিল। বেছে বেছে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের হত্যা করা হয়েছিল। বিএনপির এসব প্রতিহিংসামূলক কাজের জন্য জাতির কাছে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত 'গণতন্ত্রের মানসপূত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী এবং গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হাছান মাহমুদবলেন, দেশের গণতন্ত্র ধ্বংসে বিভিন্ন সময় শকুনেরা খামচে ধরেছে। এর অন্যতম নায়ক জিয়াউর রহমান। জিয়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের ক্ষমতা দখলের পেছনে খালেদা জিয়ার সায় ছিল। তার প্রমাণ খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও তার স্বামী জিয়াউর রহমান হত্যার বিচার করেননি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির জনসভায় কোনো বোমা হামলা হয়নি। বিএনপি নেতাদের হত্যা করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কখনোই আপোষ করেননি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'অবান্তর কথা না বলে আয়নায় নিজেদের মুখ দেখুন। নিজেদের দল সংগঠিত করুন। আওয়ামী লীগ চায় বিএনপি দেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখুক।' এ সময় উপমহাদেশের রাজনীতি ও দেশের বিভিন্ন অর্জনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সারাহ বেগম কবরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আমিনুল ইসলাম আমিন, শাহে আলম মুরাদ, কামাল চৌধুরী, আখতার হোসেন, অরুন সরকার রানা, রফিকুল আলম, অরুনা বিশ্বাস প্রমুখ। | 9 |
জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।রোববার ভোর ছয়টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে তিনি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে তিনি সেখানে বিশেষ মোনাজাতে অংশ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবনের ভেতরে যান সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন।পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যান্যদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।সকাল ৭টা থেকে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। | 6 |
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য আবু সাইদ মুহাম্মাদ শাহাদৎ হুসাইনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ঝিকরগাছার পুরন্দরপুর গ্রামের নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। আবু সাইদ মুহাম্মাদ শাহাদৎ হুসাইন কেন্দ্রীয় জামায়াতের মজলিশ সুরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমির। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় নাশকতার অভিযোগে চারটি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিলেও পরে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। এ কারণে তার সেই জামিন বাতিল হয়ে গেছে। এ ছাড়া কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে আরও তিন-চারটি নাশকতার মামলা রয়েছে। ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গ্রেফতার আবু সাঈদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন তিনি গ্রেফতার এড়াতে পলাতক ছিলেন। শুক্রবার সকালে ঝিকরগাছার পুরন্দরপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে নেওয়া হবে। আবু সাঈদ ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জোটের শরিক হিসেবে জামায়াতের মনোনয়নে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে ২০০৮ সালে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলামকে হারিয়ে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় এবার তিনি বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন। | 6 |
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল কর্তনের ঘটনায় ২২ শিক্ষার্থীর সাক্ষ্য নিয়েছে তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ডেকেরোববারসকাল থেকে দিনভর শিক্ষার্থীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐহিত্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন শাখার প্রথমবর্ষের ভুক্তভোগী (ভিকটিম) পরীক্ষার্থী ১৩ জন ও একই শাখারপ্রত্যক্ষদর্শী ৯ জনসহ ২২ শিক্ষার্থী প্রথমে মৌখিক পরে লিখিত বক্তব্যসহসাক্ষ্য দেন। এদিকে, চুল কর্তনের ঘটনায় আলোচিত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনবাতেনের বহিষ্কারের দাবিতে আমারণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওই বিভাগেরপ্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বুধবার গুরুতর অসুস্থ হন।চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ বাড়িতে থাকায় তার স্বাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত দলের প্রধান রবীন্দ্র অধ্যয়নবিভাগের চেয়ারম্যান প্রভাষক লায়লা ফেরদৌস হিমেল রোববার বিকেলেশিক্ষার্থীদের সাক্ষ্যগ্রহণের বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেন। তিনিবলেন, তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ শিক্ষার্থীদেরসাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগে ক'জন শিক্ষক/স্টাফদের সাক্ষ্য নেওয়াহয়। এরপর ঘটনার দিন যারা সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান, তাদেরসহ শিক্ষকফারহানার মতামত নিয়ে সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐহিত্য ওবাংলাদেশ অধ্যয়ন শাখায় দ্বিতীয় দিনে পরীক্ষা শুরুর আগে জোরপূর্বক ১৪শিক্ষার্থীকে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের চেয়ারম্যান প্রভাষকফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা প্রথম থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেআসছেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট জরুরি সভা আহ্বান করেশিক্ষক ফারহানাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এর আগে শিক্ষক ফারহানা নিজ দাপ্তরিক চেয়ারম্যান,প্রক্টরিয়াল বডি ও সিন্ডিকেট সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। শিক্ষকফারহানার বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয় পড়েক্যাম্পাস। ভিসি ও শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক ফারহানাকেবহিষ্কারে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন।বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক ও প্রশাসনিককার্যক্রম বন্ধের ঘোষণাটিও বৃহস্পতিবার রাতে বাতিল করে শিক্ষামন্ত্রণালয়। | 6 |
আইসিসি টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন সাকিব আল হাসান। আজ টি-টোয়েন্টির র্যাঙ্কিং নতুনভাবে হালনাগাদ করেছে আইসিসি। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবীকে পেছনে ফেলে অলরাউন্ডারের শীর্ষ স্থান পুনরুদ্ধার করেছেন সাকিব।ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত কেটেছে সাকিবের। ব্যাট হাতে পাঁচ ম্যাচে ২২.৮০ গড়ে করেছেন ১১৪ রান। বল হাতে পাঁচ ম্যাচে নিয়েছেন ৭ উইকেট। সিরিজ সেরার পুরস্কারটাও উঠেছে তাঁর হাতে। সাকিবের রেটিং পয়েন্ট এখন ২৮৬। এক রেটিং পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আছেন আফগান অলরাউন্ডার নবী। সাকিব টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ৫৩ নম্বরে রয়েছেন। বোলারদের মধ্যে সাকিবের অবস্থান ১২তম স্থানে।টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। পাঁচ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে দশ নম্বরে আছেন। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ৩৩ নম্বরে রয়েছেন। পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন টি-টোয়েন্টিতে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ২৬ ধাপ এগিয়ে আছেন ৪৩ তম স্থানে। স্পিনার নাসুম আহমেদ উঠে এসেছেন ৬৬ তম স্থানে। | 12 |
বৈশাখী টিভি ফোক লাইভে অংশ নেবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রেখা সুফিয়ানা ও খায়রুল ওয়াসী। কিছু শেকড় সন্ধানী গান নিয়ে হাজির হবেন তারা। শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বৈশাখী ফোক লাইভে রাত ৯টা ৩০ মিনিটে সরাসরি পারফর্ম করবেন এই গুণী শিল্পীদ্বয় । তারা বলেন, আল্লাহ্র প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা এখনো তিনি আমাদের গান গাইবার শক্তি দিয়েছেন। দর্শকদের কথা মাথায় রেখে তাদের ভালো লাগা কিছু গান গাইব বৈশাখী টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান বৈশাখী ফোক অনুষ্ঠানে। গানগুলো দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আমাদের বিশ্বাস। গানগুলো তাদের ভালো লাগলেই আমাদের পরম পাওয়া।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 2 |
বাংলাদেশে কোভিড ১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে মোট সুস্থতার সংখ্যা গতকালের চেয়ে আজ অনেক বেশি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল মোট সুস্থতার সংখ্যা বলা হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩০। কিন্তু আজ বলা হয়েছে সংক্রমণ শুরুর পর থেকে মোট ৩৪,০২৭ জন হয়েছেন। গতকালের মোট সুস্থতার সংখ্যার সাথে একদিনে ১৫,২৯৭ বেশি যোগ হয়েছেন। দৈনিক স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা। তিনি জানিয়েছেন গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩,০৯৯ জন। আর এই সময়ে আরও ৩৮ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১,২০৯ জনে।
আর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৯০,৬১৯ জন। নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫,০৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করে এই তথ্য জানা গেছে। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫, ১৯, ৫০৩টি। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। বয়স বিচারে মৃতদের মধ্য ৬১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যেই রয়েছেন ২০ জন। ৪১ বছর থেকে ৫০ বছর বয়সী মারা গেছেন ৭ জন। মৃতদের মধ্যে বাকি ৬ জনের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর। ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ১৮ জন এবং চট্টগ্রামে ১২ জন, সিলেটে ৬ জন। বরিশাল ও রংপুরে একজন করে মারা গেছেন।-বিবিসি বাংলা বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 4 |
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আটকে থাকা বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এরপরে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও পরীক্ষা স্থগিত ছিল। এতে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের জীবন থেকে অনেকগুলা সময় বিফলে চলে যাচ্ছে। তাই গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষদের ডিনদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। পরীক্ষার ব্যাপারে স্ব-স্ব বিভাগে চূড়ান্ত নীতিমালা পাঠানো হয়েছে।উপ-উপাচার্য আরও বলেন, যেসব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছেন তারা চাইলে যেকোনো সময় পরীক্ষা শুরু করতে পারে।এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেকোনো উপায়ে পরীক্ষা দিতে চায়। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ নেই। তাই প্রশাসন অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনুষদের ডিনদের সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। | 1 |
ডিয়ার জিন্দেগি'র পর একই ছবিতে দেখা যাবে শাহরুখ খান এবং আলিয়া ভাটকে। করণ জোহরের পরবর্তী ছবিতে একসঙ্গে কাজ করবেন তারা। ছবিটিতে রণবীর সিংও রয়েছে। জি টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবিটি করণ জোহরের কাছে অত্যন্ত কাছের। ইতিমধ্যে শাহরুখের সঙ্গে একপ্রস্থ কথা সেরে ফেলেছেন করণ। 'কিং খান'-ও নাকি 'বন্ধু করণ'কে না বলতে পারেননি। এমনকী তিনি নাকি চরিত্র সম্পর্কেও জানতে চাননি। কোথায় শুটিং হবে তাও জানতে চাননি। করণের এককথায় 'হ্যাঁ' বলেছেন শাহরুখ খান। শোনা যাচ্ছে, করণ জোহরের 'রকি অর রানি কি প্রেম কাহানি' ছবিটিতে ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করবেন শাহরুখ খান। আলিয়া, রণবীরের সঙ্গে একটা গানের দৃশ্যে দেখা যাবে তাকে। | 2 |
সোশ্যাল মিডিয়ায় সুন্দর ছবি পোস্ট করতে চাইলে জেনে নিতে পারেন।ফলের ছবি তোলার আগে নান্দনিক ঝুড়ি খুঁজে নিন।র্যাপিং করা গিফট বক্সের ছবি তোলার আগে তাতে সুতলি বা ফিতা বো আকারে বেঁধে নিন। এরপর কয়েকটি পাতা দিয়ে সাজিয়ে ফেলুন। খুব সাধারণ কাগজ দিয়ে র্যাপ করলেও ফিতা ও পাতার কারণে ছবি ভালো আসবে।অর্ধেক প্লেট খাবারের ছবি তুলতে পারেন। তবে পুরোটা তোলার ক্ষেত্রে পেঁয়াজ, মরিচ, শসা বা টমেটো দিয়ে সাজিয়ে নিন।প্লেটের নিচে কী আছে সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাকগ্রাউন্ডে পাটের ম্যাট রেখে ছবি তুললে সেটা আরও আকর্ষণীয় দেখাবে।লাল, গোলাপি, হলুদ ও বেগুনি রং সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই রংগুলো প্রাধান্য দিয়ে ছবি তুলতে পারেন।লালের মধ্যে লাল, কালোর মধ্যে কালো অর্থাৎ একই রঙের কম্বিনেশনেও ভালো ছবি হয়। | 6 |
'ফ্যান' মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাদশা ভক্তদের মধ্যে ঝড় উঠেছিল। সবাই 'ফ্যান' গৌরবের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজছিলেন। ছবিতে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের অভিনয় সমালোচকদের নজর কেড়েছিল। আর ভক্তদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু একি! এবার তার নামেই আইনি নোটিস এলো! কে পাঠালো তার নামে আইনি নোটিস?
জানা গেছে, 'ফ্যান' ছবিতে একটা দৃশ্যে দেখা গিয়েছিল, ভক্ত গৌরব আরিয়ান খান্নার সঙ্গে একটি মিষ্টির প্যাকেট হাতে নিয়ে দেখা করতে যাচ্ছে। এখানেই হয়েছে যত গোলমাল।
মিষ্টির প্যাকেটের ওপর দিল্লির মিষ্টির দোকানের নাম 'ঘণ্টেওয়ালা' লেখা ছিল। দোকানের মালিক সুশান্ত জৈনের এখানেই আপত্তি হয়েছে। তার অনুমতি না নিয়েই কীভাবে তার দোকানের নাম ছবিতে ব্যবহার করা হল।
অনুমতি ছাড়াই দোকানের নাম ছবিতে ব্যবহার করার অভিযোগে শাহরুখ খান, প্রযোজকের নামে আইনি নোটিস পাঠায়।
জানা গেছে, 'ঘণ্টেওয়ালা সুইটস'-এর মালিক চান যে, ছবি থেকে ওই দৃশ্যটি মুছে দেওয়া হোক। কারণ, এতে নাকি ওই মিষ্টির দোকানের বহু বছরের ঐতিহ্যে আঘাত লাগছে। তাছাড়া, পরিচালক-প্রযোজকেরাও অনুমতি ছাড়া কারও নাম ব্যবহার করতে পারেন না। সূত্র: জিনিউজ
| 2 |
জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দুই দিন আগে এই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে আদাবর থানা-পুলিশ। প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আদাবর থানার পরিদর্শক মো. ফারুক মোল্লা। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মধ্যযুগীয় কায়দায় এএসপি আনিসুল করিমকে আঘাত করা হয়েছিল। মাইন্ড এইড হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অপেশাদার লোকদের দিয়ে আনিসুলের দুই হাত পিঠ মোড়া দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর আসামিরা ঘাড়ে, বুকে, মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর এএসপি আনিসুল করিমকে আদাবর থানাধীন মাইন্ড এইড হাসপাতালে ফেলে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে খুনের মামলা হয়। তবে ঘটনার পরপর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছিল, এই রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো পর্যায়েই চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন মাইন্ড এইড হাসপাতালের পরিচালক আরিফ মাহামুদ, ফার্মাসিস্ট তানভীর হাসান, কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, সাজ্জাদ আমিন ও ফাতেমা খাতুন, হাসপাতালের সমন্বয়ক রেদোয়ান সাব্বির, হাসপাতালের কর্মচারী মাসুদ খান, জোবায়ের হোসেন, তানিফ মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম কুমার পাল, লিটন আহম্মেদ, সাইফুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মামুন। আনিসুল করিম ৩১তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি সর্বশেষ বরিশাল মহানগর পুলিশে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি এক সন্তানের জনক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন তিনি। এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যুরহস্য নিয়ে আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদন বলছে, এএসপি আনিসুল করিম সময়মতো বিভাগীয় পদোন্নতি না পাওয়ায় তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে চুপচাপ হয়ে যান। বিষয়টি পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন এএসপি আনিসুল করিমকে মনোচিকিৎসক দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার আগের দিন আনিসুল করিমের একজন ভগ্নিপতি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি রোগীর স্বজনদের পরামর্শ দেন, সরকারি মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাব্যবস্থা তেমন উন্নত না। রোগীকে সেবা করার মতো পর্যাপ্ত জনবল সেখানে নেই। তাই রোগীকে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসা ভালো হবে। তিনি নিয়মিত সেখানে চেম্বার করেন। পরে ৯ নভেম্বর সকাল ৮টার সময় এএসপি আনিসুল করিমকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন আনিসুল করিমকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। নিজে হাসপাতালের পরিচালক আরিফ মাহমুদ জয়কে ফোন দেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার সময় আনিসুলকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অভিযোগপত্রের তথ্য বলছে, এএসপি আনিসুল করিম মাইন্ড এইড হাসপাতালে আসার পর সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করেন। তবে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের সময় হাসপাতালের পরিচালক আরিফ মাহমুদ সিগারেট খাওয়ার কথা বলে আনিসুলকে হাসপাতালের দোতলায় নিয়ে যান। আরিফ ছাড়াও রেদোয়ান, মাসুদ খান, জোবায়ের, তানভীর, তানিফ, সজীব, অসীম, লিটন ও সাইফুল চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে আনিসুলকে নিয়ে যান। কক্ষে নিয়ে যাওয়ার পরপরই আনিসুলকে মারধর করে ফেলে দেওয়া হয়। তখন আসামি মাসুদ খান ও তানভীর হাসান রোগীর পিঠের ওপর চেপে বসেন। আর অসীম আনিসুলের দুই হাত পিঠ মোড়া দিয়ে বেঁধে ফেলেন। সজীব আনিসুলের ঘাড়ে কনুই দিয়ে আঘাত করেন। তানিফ ঘাড় ও মাথায় আঘাত করেন ও আনিসুলের মাথার ওপর চেপে বসেন। লিটন, জোবায়ের ও সাইফুল রোগীর পা ও শরীর চেপে ধরে রাখেন। এর কিছুক্ষণ পর আনিসুল করিম নিস্তেজ হয়ে পড়েন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার পরিদর্শক আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে বলেন, এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যুর পর হাসপাতালের পরিচালক আরিফ মাহামুদ মুঠোফোনে চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুনকে এ ঘটনা জানান। তখন আবদুল্লাহ আল মামুন দ্রুত মাইন্ড এইড হাসপাতালে আসেন। নির্মম আঘাতে আনিসুলের মৃত্যুর কথা জানার পরও এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু প্রতিষ্ঠা করার জন্য আনিসুলকে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যুর বিষয়ে চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন ১৪ বার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আনিসুলের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, মাইন্ড এইড হাসপাতালটি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য মালিকপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার অনুমতি নেয়নি। হাসপাতালে অত্যাবশ্যকীয় কোনো জরুরি চিকিৎসা ও সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এএসপি আনিসুল করিমকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠান আবদুল্লাহ আল মামুন। স্বীকারোক্তিতে আরিফ মাহামুদ জয় ও তানিফ মোল্লা এই ঘটনার সঙ্গে চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রকাশ করেছেন। | 6 |
জামিনে মুক্ত হয়েছেন ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কারাবন্দী শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। আজ রোববার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুতাহারাত আক্তার ভূঁইয়া তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। বিকেলেই মুক্ত হন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গণিতের এ শিক্ষক।কারামুক্ত হয়ে মুন্সিগঞ্জের স্কুল সংলগ্ন কোয়ার্টারে যান হৃদয় মণ্ডল। সেখান থেকে আজই ঢাকায় এসেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।আজ সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে হৃদয় মণ্ডল বলেন, 'আমার প্রতি খুবই অন্যায় করা হয়েছে। একটা মিথ্যা মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। শিক্ষক ও ছাত্রদের একটা অংশ এর পেছনে উৎসাহ দিয়েছে। আমি আশা করব, এ রকম ঘটনা যেন আর কোনো শিক্ষকের সঙ্গে না ঘটে। মিডিয়া আমার মুক্তিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমি তাদের কী বলে যে ধন্যবাদ দিব ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।'ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে গত ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই দিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৩ ও ২৮ মার্চ আদালতে তাঁর জামিন আবেদন করলে দুবারই নামঞ্জুর করেন বিচারক।হৃদয় মণ্ডলের আইনজীবী শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, হৃদয় মণ্ডল তাঁর ন্যায়সংগত অধিকার ফিরে পেয়েছেন।জামিন আদেশের পর হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার বলেন, 'জামিন মঞ্জুর হওয়ায় অনেক খুশি। আমার ছেলে-মেয়ে দুটি এ কয়দিন এতিমের মতো ছিল। আমরা মহামান্য আদালতের মাধ্যমে স্বামীর জামিন পেয়েছি। আশা করি, আমরা ন্যায়বিচার পাব। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা থেকে তিনি সসম্মানে মুক্তি পাবেন বলে আশা করি।'ববিতা আরও বলেন, 'আমি চাই আমার স্বামী সম্মানের সঙ্গে তাঁর স্কুলের ক্লাসে ফিরুক। আমরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেন আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।'হৃদয় মণ্ডলের মুক্তি দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কেরবাবাকে কাছে পেয়ে যারপরনাই খুশি হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বড় সন্তান শ্রেষ্ঠ মণ্ডল। সে বাবার বিদ্যালয়েরই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। শ্রেষ্ঠ বলে, 'বাবার জামিন হয়েছে। আমরা আবার বাবাকে কাছে পাব। আমার খুব ভালো লাগছে। আমি আবার স্কুলে ফিরতে চাই।'মামলার জামিন শুনানি দেখতে পঞ্চগড় থেকে এসেছিলেন সাকোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক এবং ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, 'শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে আলোচিত ছিল। দুইবার জামিন শুনানি হয়েছিল। তখন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। আজকে পঞ্চগড় থেকে এসেছি। খুব আশা নিয়ে। আমাদের আশা পূর্ণ হয়েছে।'হৃদয় মণ্ডলের পরিবারের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরনাটোর থেকে এসেছিলেন মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, 'অনেক দূর থেকে জামিন শুনানি দেখতে এসেছিলাম। জামিন হওয়ায় কষ্টটা সার্থক হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'ওই শিক্ষককে মামলা এবং কারাগারে পাঠানোর পেছনে যারা আছে, প্রত্যেকে আইনের আওতায় আনা উচিত।'এর আগে গত ২০ মার্চ দশম শ্রেণির মানবিক শাখার বিজ্ঞান ক্লাস নিচ্ছিলেন হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। সেখানে বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের বিতর্ক হয়। এক শিক্ষার্থী ওই বিতর্কের ভিডিও ধারণ করেন। পরে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানানো হয়। প্রধান শিক্ষক সেদিনই হৃদয় চন্দ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকতে বলেন। তবে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানায়। পরের দিন সকালে তারা বিদ্যালয়ে এসে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.