text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
১৯৮৩ সালের ১৮ জুন ইংল্যান্ডের টানব্রিজ ওয়েলস স্টেডিয়ামের নেভিল গ্রাউন্ডে ১৩৮ বলে ১৭৫ রানের একটি অপরাজিত দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ভারতের অধিনায়ক কপিল দেব। কিন্তু বিবিসির কর্মীরা সেদিন ধর্মঘট করায় টেলিভিশনে দেখানো হয়নি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচ। আজ পর্যন্ত সেই আফসোস ঘোচেনি ভারতীয় ক্রিকেটভক্তদের। সেই অভিজ্ঞতাই এবার সিনেমার পর্দায়। ১৯৮৩ সালে কপিল দেবের নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয়ের পুরো ঘটনা নিয়েই ছবি বানিয়েছেন কবির খান।'৮৩' নামের ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে ২১ ডিসেম্বর। রণবীর সিং অভিনয় করছেন কপিল দেবের চরিত্রে।এগিয়ে খেলোয়াড়দের বায়োপিকসংখ্যার হিসাবে খেলোয়াড়দের বায়োপিকই বলিউডে এগিয়ে। কপিল দেবের বায়োপিক ছাড়াও বলিউডে একাধিক খেলোয়াড়ের জীবন নিয়ে ছবি তৈরি হয়েছে। সামনে মুক্তি পাবে 'ময়দান', ছবিতে ফুটবল কোচ সাইদ আবদুল রহিমের চরিত্রে অভিনয় করছেন অজয় দেবগন। ক্রিকেটার মিতালি রাজের বায়োপিক নিয়ে আসছেন তাপসী পান্নু। এই অভিনেত্রী এর আগে অভিনয় করেছেন অ্যাথলেট পিংকি প্রামাণিকের চরিত্রে। এর আগে মুক্তি পাওয়া 'শচীন: অ্যা বিলিয়ন ড্রিমস' ছবিটি খুব একটা ব্যবসায়িক সফলতা না পেলেও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। আজহার উদ্দিন, এম এস ধোনি, মিলখা সিং, পান সিংহ তোমার-এর মতো ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের নিয়ে তৈরি হয়েছে ছবি।নতুন করে পরিচয়বলিউডে এমন কজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নতুন করে পরিচয় করে দেওয়া হয়েছে, যাঁদের নিয়ে বিশেষ প্রচার ছিল না। যেমন 'প্যাডম্যান'। অরুণাচলম মুরুগানাঁথমকে নিয়ে বহু লেখালিখি হলেও অক্ষয় কুমার অভিনীত 'প্যাডম্যান' ছবির সুবাদেই ভারত কিংবা বাংলাদেশের মানুষের কাছেও পরিচিতি পেয়েছেন এই উদ্যোক্তা। নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত 'মাঝি: দ্য মাউনটেন ম্যান'-এর সুবাদেই পরিচিতি মিলছে দশরথ মাঝির।জনপ্রিয় ও আলোচিত মুখরাজকুমার হিরানি বানিয়েছেন অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের বায়োপিক। নন্দিতা দাস ছবি বানালেন লেখক মান্টোকে নিয়ে। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ভারতের প্রথম নারী নভোচারী কল্পনা চাওলার বায়োপিক। এই চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে। মির্জা গালিবকে নিয়েও নির্মাণ হয়েছে বায়োপিক। মহাকাশচারী রাকেশ শর্মার বায়োপিক 'স্যালুট' ছবিতে অভিনয় করছেন ফারহান আখতার। টি সিরিজ কর্ণধর গুলশান কুমারকে নিয়ে তৈরি হবে 'মুঘল'।বায়োপিকে নারীবিদ্যা বালান অভিনীত স্মিতা পাতিলের বায়োপিক 'দ্য ডার্টি পিকচার', সোনম কাপুর অভিনীত এয়ার হোস্টেজ নীরজা ভানোটের বায়োপিক 'নীরজা'-জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত বক্সার মেরি কমের বায়োপিক 'মেরি কম' বক্স অফিসে না হাসলেও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। মণিকর্ণিকা, ফুলন দেবী, শকুন্তলা দেবী, মালাবাত পূর্ণা, সাইনা নেহাল, লক্ষ্মী আগারওয়ালদের মতো নারী ব্যক্তিত্বদের নিয়ে তৈরি হয়েছে ছবি। রাজনীতিবিদেরা সিনেমায়রাজনীতিকদের নিয়েও তৈরি হয়েছে বেশ কিছু বায়োপিক। মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস, মনমোহন সিং, নরেন্দ্র মোদি, বাল ঠাকরে, জয়ললিতাদের নিয়ে ছবি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া অনেক ছবিতে নানাভাবে এসেছেন ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্র। | 6 |
মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তার দেয়া এক বক্তব্যের কারণেই এই সমালোচনা মঙ্গলবার মাদারীপুরে একটি অনুষ্ঠানে শাজাহান খান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার পক্ষে বক্তব্য দিলে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের রোষে পড়েন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৯ সেপ্টেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় মাদারীপুরে সাত নেতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন শাজাহান খান অন্যদের নিয়ে সভার উদ্যোগ নিলেও তা এখনো ফলপ্রসূ হয়নি মঙ্গলবারের সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, 'তৃণমূল আওয়ামী লীগ এখন শক্তিশালী তাই আপনি (শাজাহান খান) ভয় পাচ্ছেন? যদি নৌকা জিতে যায়, তাহলে বাহাদুরি থাকবে না বাহাদুরি থামান! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে নৌকার পক্ষে অবস্থান নিতে হবে আপনাকে তা না হলে আপনি যখন সংসদ নির্বাচনে নৌকা চাইবেন, তখন কী হবে সেটা একবারও কি চিন্তা করেছেন?' শাহাবুদ্দিন মোল্লা আরো বলেন, 'নৌকা মার্কা দিয়ে ছয় বার এমপি হয়ে আপনি (শাহাজান খান) তার বিরোধিতা করছেন! এর রহস্য কী? এটা আমাদের জানা দরকার' তিনি বলেন, 'নৌকার এমপি হয়ে গাড়ি-বাড়ি, ধন-দৌলত কম হয়নি আপনার আপনার পরিবার ছাড়া আপনি কিছুই বোঝেন না এখন দেখছেন নৌকা আপনার পরিবারের লোকজন আর আপনার দালালেরা পাবে না, তাই নৌকার বিরোধিতা শুরু করেছেন' জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে সভায় বলেন, 'আপনার লোকজন নৌকা পাবে না সেটা ভেবে আপনার কাছে নৌকা এখন দুর্গন্ধ হয়েছে' সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ চৌকিদার বলেন, তৃণমূলের ভোটে ও সমর্থনে তিনি বার বার নৌকায় নির্বাচিত এমপি, দুবারের মন্ত্রী তার ভুল না শোধরালে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে ক্ষমা করবেন না শাজাহান খান জাসদ থেকে দীর্ঘদিন আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেন মাদারীপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের আগে থেকেই তাকে নিয়ে সমালোচনা ছিল, যে কারণে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছেসূত্র : ডয়চে ভেলে | 6 |
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) ২০২২ সাল পর্যন্ত এশিয়া কাপকে স্থগিত করেছে। রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণায় হতাশ হয়েছেন ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনাকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার দেখার অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেট ভক্তরা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি বোর্ড অব গর্ভনরসকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নির্দেশনার বিষয়ে জানানোর সাথে সাথে এই বছর আইসিসির টি-২০ বিশ্বকাপ ও এসিসি এশিয়া কাপ ২০২২ সাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। গতবছর ২০২০ সালের এশিয়া কাপ করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত করা হয়। পরে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল ২০২১ সালের জুনে এ টুর্নামেন্টটি আয়োজন করতে চেয়েছিল। টুর্নামেন্ট আয়োজনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডকে দায়িত্ব হস্তান্তর করে। উপমহাদেশের চার দলের (বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান) সাথে আফগানিস্তান ও একজন এশিয়ান কোয়ালিফায়ারের অংশগ্রহণে শ্রীলঙ্কায় এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল। সূত্র : দ্যা নিউজ ইন্টারন্যাশনাল | 12 |
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন।আজ প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা র্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত আবার নতুন তারিখ ধার্য করেন। এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ এ নিয়ে ৮১ বার পেছাল।২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হন। ফ্ল্যাটে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়।সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাঁদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ।সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে এসে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হবে। সেই ৪৮ ঘণ্টা এখন সাড়ে নয় বছর পেরিয়ে গেছে।সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র্যাবকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকে র্যাব মামলাটি তদন্ত করছে।দীর্ঘ সাড়ে ৯ বছরেও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ না হওয়ায় পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও সাংবাদিক নেতারা হতাশ-ক্ষুব্ধ-ব্যথিত। | 6 |
জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দুপুর। রাজধানীর পল্লবীর আলীনগরের বুড়িরটেক এলাকায় নিজ ভিটার বিশাল বটবৃক্ষের নিচে গতকাল শনিবার নির্বাক বসে ছিলেন আকলিমা বেগম। পেছনে তাদের প্রায় ১০ একর জমি। সেই জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে কুনজর ছিল সাবেক এমপি এমএ আউয়ালের। নিজেদের জমি রক্ষায় শেষ পর্যন্ত জীবন দিতে হয়েছে আকলিমার ছেলে মো. সাহিনুদ্দিনকে। এ হত্যা মামলায় আউয়াল এখন রিমান্ডে। আকলিমার আশঙ্কা- ছেলে হত্যার বিচার পাবেন না তিনি। সাক্ষীদের ভয় দেখিয়ে দূরে রাখা হবে। এরই মধ্যে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেছেন প্রভাবশালীরা। আলীনগরে হ্যাভেলি প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট নামে একটি হাউজিং কোম্পানি রয়েছে আউয়ালের। পুলিশ, র্যাব ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, জমি দখলে বাধা দেওয়ার কারণেই ১৬ মে পরিকল্পিতভাবে সাহিনুদ্দিনকে প্রকাশ্যে তার সন্তানের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, আউয়ালের নির্দেশে এই হত্যা মিশন সম্পন্ন হয়। কিলিং মিশনে সরাসরি যুক্ত মো. সুমনকে সাবেক এমপি আশ্বস্ত করে বলেন, 'লাশ চাই- ১০, ২০, ৩০ লাখ যা লাগে দেব।' হত্যা মিশনের আগে অগ্রিম খরচ হিসেবে আউয়ালের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছে সুমন। সাহিনুদ্দিনকে খুন করার পর জড়িতদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা দিয়ে বাকি অর্থ নিজের কাছে রেখে দেয় সে। পুলিশ ও র্যাবের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে এ তথ্য জানান। জানা গেছে, পল্লবীতে দীর্ঘদিন ধরে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এমএ আউয়াল। জমি দখল ও পরবর্তী সময়ে তার নিয়ন্ত্রণ নিতে ওই এলাকায় বড় ক্যাডার বাহিনী রয়েছে তার। আউয়ালের ওই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের বাসিন্দা ও স্থানীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমন। এখন পর্যন্ত নৃশংস এ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক এমপি আউয়ালের পাশাপাশি তার ম্যানেজার আবু তাহের ও মো. টিটুর নাম উঠে এসেছে। তারা মিশন সম্পন্ন করার জন্য সুমনকে দায়িত্ব দেন। তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছে অন্তত আটজন। তাদের মধ্যে ভিডিওতে দু'জনকে স্পষ্ট দেখা যায়। তারা হলো- মো. মানিক ও মো. মনির। মানিক বৃহস্পতিবার র্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছে। এ হত্যা মামলায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গতকাল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে দীপু ও মুরাদ। হত্যা মিশনে জড়িত ইকবাল ও টিটু গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। গতকাল পল্লবীর আলীনগরে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু খালি প্লটের ওপর হ্যাভেলি প্রপার্টিজের সাইনবোর্ড। সেখানে ইটের ছোট প্রাচীর দিয়ে প্লট ভাগ করা হলেও কোনো ভবন তৈরি করা হয়নি। আলীনগরেই দীর্ঘকাল বসবাস করছে সাহিনুদ্দিনের পরিবার। তার মা আকলিমা জানান, সাহিনুদ্দিনের দাদা মো. আলীর নামে ওই এলাকার নাম আলীনগর। আলী দুটি বিয়ে করেছিলেন। দুই পক্ষে তার ১৪ সন্তান। ওই এলাকায় তার অনেক সম্পদ রয়েছে। অনেক অংশীদার এরই মধ্যে সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে আকলিমাদের অনেক সম্পদ বিক্রি করা হয়নি। আকলিমা জানান, আলীনগরের বেশ কিছু জমিজমা হ্যাভেলি নিয়েছে। তাই তারাও আউয়ালের কাছে কিছু সম্পদ বিক্রির প্রস্তাব দেন। প্রতি কাঠা ৩০ লাখ টাকা চান। তবে আউয়াল এতে সাড়া দেননি। জোর করে তাদের জমির ওপর ঘর তোলেন। এ নিয়ে স্থানীয় এমপির কাছেও তারা নালিশ দেন। বছর দুয়েক আগে ওই এমপি নির্দেশ দেন, যাতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত না হই। তবে তাতে আউয়াল কর্ণপাত করেননি। আকলিমার ভাষ্য, জমিজমা তার ছেলে সাহিনুদ্দিন দেখভাল করতেন। জমির বিরোধ নিয়ে একাধিক দফায় তার ওপর আউয়ালের ভাড়াটে লোকজন হামলাও করে। এ নিয়ে মামলা-জিডির পরও তারা ছিল বেপরোয়া। সাহিনুদ্দিনের নানি জাহানারা বেগম বলেন, মামলা করলেও লাভ কী! আউয়ালের টাকা খেয়ে পুলিশ সব চেপে যায়। জমির জন্য শেষ পর্যন্ত নাতির প্রাণ গেল। পুলিশ তৎপর হলে জীবনটাও অন্তত বাঁচত ওর। মিথ্যা মামলায় পুলিশ তার দুই নাতিকে গ্রেপ্তারও করে। স্থানীয় বাসিন্দা মেজর (অব.) মোস্তফা কামাল সমকালকে বলেন, হ্যাভেলি প্রপার্টিজের দক্ষিণ পাশে তার ৮৪ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর তার ঘর সুমন বাহিনীকে দিয়ে কয়েকবার ভাঙচুর করেছেন আউয়াল। থানায় মামলা হলেও পুলিশকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছেন আসামিরা। হ্যাভেলি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৮ একর ৬২ শতাংশ জায়গাও দীর্ঘদিন দখল করে আছে। সরকারের জমি প্লট বানিয়ে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আউয়াল। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ আরও জোরালো ভূমিকা রাখলে অনেকে এসব কোম্পানির প্রতারণা থেকে বাঁচত। সেখানে জমি দখল নিয়ে হ্যাভেলি একাধিক লোককে খুন ও গুম করেছে। হত্যার শিকারদের অনেকে জমির মালিক ছিলেন। আরেক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি সাগুফতাও সেখানে সরকারি জমি দখলে রেখেছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (মিরপুর বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ার্দার তাবেদুন নবী দখলের কথা স্বীকার করেন। তিনি সমকালকে বলেন, হ্যাভেলি ও সাগুফতা মিলে সরকারি ১৯ একর জায়গা দখল করে রেখেছে। এ নিয়ে মামলাও চলছে। হ্যাভেলির সঙ্গে একটি মামলায় আমরা জিতেছি। আইন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে হ্যাভেলির দখল থেকে ওই জায়গা উদ্ধার করা হবে। আলীনগরের স্থানীয় যুবক মো. রিপন বলেন, সুমন এলাকায় দীর্ঘদিন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। জমি দখল করতে সহায়তা ও চাঁদাবাজি ছিল তার পেশা। একসঙ্গে স্কুলে পড়লেও সে আমার গ্যারেজ থেকে চাঁদা দাবি করে। কয়েক দিন আগে হঠাৎ এলাকার বেশকিছু জমির ওপর হ্যাভেলি প্রপার্টিজের ১২টি সাইনবোর্ড ও ঘর তুলে দেয় সুমন। সে আউয়ালের লোক, এটা এলাকার সবার জানা। এখানকার জমির আরেক মালিক জনি হোসেন বলেন, পল্লবীতে জমির বিরোধ নিয়ে এর আগে একাধিকবার খুনোখুনি হয়েছে। ছয়-সাত বছর আগে মোমিন বকশ নামে একজনকে হত্যা করা হয়। সাহিনুদ্দিনের আরেক অংশীদার বানেছা বেগম বছর চারেক ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তার জমির ওপর অনেক আগেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছিল হ্যাভেলি। বানেছাকে গুম করে জাল কাগজপত্র তৈরি করে তার জমির দখল আউয়াল নিয়েছে বলে বিশ্বাস তার স্বজনের। জনি হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন খাজনা না দেওয়ায় তাদের কিছু জমি সরকার নিয়ে নেয়। পরে তা অবমুক্ত করতে সাহিনুদ্দিনের আরেক ভাই মাইনুদ্দিন সহায়তা চান আউয়ালের। এর বিনিময়ে তার কাছে কিছু জমি বিক্রির কথা ছিল। তবে অবমুক্ত করতে এসে পুরো জমি দখলের পাঁয়তারা করেন আউয়াল। স্থানীয়রা বলছেন, সাহিনুদ্দিন খুনে জড়িত সুমন ওই এলাকার ত্রাস। তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনীর অধিকাংশ মাদকাসক্ত। সুমনের চাঁদাবাজির একটি ভাগ পায় স্থানীয় বিহারি যুবক আড্ডু। শুধু অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে তাদের মাসিক আয় কোটি টাকার ওপর। আড্ডুর মাধ্যমে সুমন স্থানীয় এক কাউন্সিলরের প্রশ্রয় পেয়ে আসছে। ওই কাউন্সিলর আড্ডুর গুরু। এ ছাড়া আড্ডুর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সখ্য রয়েছে। পল্লবী থানা পুলিশের একটি অসাধু চক্র জমিজমা ও অন্যান্য অনৈতিক বাণিজ্যে জড়িত এই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মাসোয়ারা পায় বলে অভিযোগ আছে। জমি দখল করতে গিয়ে কোনো প্রভাবশালী মহল কারও ওপর হামলা করলে সেই ঘটনায় যথাযথ ধারায় মামলা হয় না। ছোটখাটো অভিযোগ দিয়ে অনেক তথ্য আড়াল করা হয়। উল্টো আবার প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে পাল্টা মামলা নেয় পুলিশ। নিহত সাহিনুদ্দিন ও তার ভাই মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে গত ঈদুল ফিতরের আগে হ্যাভেলির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। পল্লবী থানার এসআই অনয় চন্দ্র পালের সঙ্গে এই চক্রের অনৈতিক সখ্য আছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অনয়ের ভাষ্য- 'এ ব্যাপার ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।' র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পল্লবীর এই দুষ্টচক্র ভেঙে দিতে সামনে আরও বড় অপারেশন চালানো হবে। অপরাধীর কোনো পরিচয় দেখা হবে না। গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি মানস কুমার পোদ্দার বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বের করা হচ্ছে। আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে। আউয়ালকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আউয়াল তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিব থাকাকালে ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে এমপি হন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর পরই তিনি ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তিনি এর চেয়ারম্যান। | 6 |
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপ্লব ব্যাপারী (৪০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম করে কবজির অনেকাংশ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের আলগী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম বিপ্লবকে রাতেই বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিপ্লব ধানীসাফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুন অর রশিদের সমর্থক। অভিযোগ উঠেছে, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের লোকজন বিপ্লবকে কুপিয়ে জখম করে বাঁ হাতের কবজির অনেকাংশ কেটে দিয়েছেন। তাঁর মাথা, পিঠ ও দুই হাতে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। বিপ্লব ব্যাপারী উপজেলার সাফা গ্রামের নূর উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। তিনি ধানীসাফা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি। বিপ্লবের বড় ভাই বাচ্চু ব্যাপারী ধানীসাফা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ধানীসাফা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেন, গতকাল বুধবার রাতে বিপ্লব ব্যাপারী ধানীসাফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদের পোস্টার নিয়ে আলগী বাজারে দলীয় কার্যালয়ে যান। রাত সাড়ে নয়টার দিকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের সমর্থক আলগী গ্রামের ফরিদ আকনের নেতৃত্বে একদল লোক বিপ্লব ব্যাপারীর ওপর হামলা করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ধানীসাফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের লোকজন তাঁর সমর্থক বিপ্লবকে কুপিয়ে জখম করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর আহমেদ বলেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে বিপ্লব ব্যাপারীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথা, পিঠ ও দুই হাতে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। তাঁর বাঁ হাতের কবজি অনেকাংশে কেটে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা নেওয়া হবে। আগামী ৫ জানুয়ারি মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফাসহ চারটি ইউপিতে ভোট হবে। | 9 |
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় আগুনে ৫২ জন নিহতের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। মামলাটি তদন্ত কাজের দায়িত্ব পেয়ে শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলন করে সিআইডি। এদিকে এই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত নাগরিক কমিটিও একই দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট ড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ডা. মো হারুন -রশিদ, স্থপিত মোবাশ্বের হোসেন প্রমুখ। ঘটনাস্থল থেকে ছবি পাঠিয়েছেন সমকালের আলোকচিত্রী মেহদী হাসান সজীব হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায়সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দল-সমকালকারখানার ভেতর ঘুরে দেখেন প্রতিনিধিরা -সমকালসংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন সিআইডির ডিআইজি ইমাম হোসেন-সমকালঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন সিআইডির প্রতিনিধি দল হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায়সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দল-সমকাল | 6 |
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারও অনুকম্পায় মুক্তি চান না জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া জামিন না পেলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করা হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতেবৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগেঅনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার যে আইনি হক, যে ন্যায্য অধিকার সেভাবেই তিনি মুক্ত হবেন। বেআইনি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে আটক রাখা যাবে না। জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রীকে অবশ্যই আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করবে। খালেদা জিয়া আর দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন পেশাজীবীদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে-এমন মন্তব্য করেতিনি বলেন, এই গণবিরোধী সরকার জনগণের অধিকার নিয়ে সব সময় খেলা করেছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যারা সবসময় গণতন্ত্রের সঙ্গে বেইমানি করেছে তারা খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রেখেছে। এর একটি মাত্র কারণ, খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তাদের এই দুর্নীতির যে, স্বর্গরাজ্য, লুটপাটের যে স্বর্গরাজ্য, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেওয়া-এটা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার নীল নকশা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। সেজন্যই খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে তছনছ করে দিয়ে সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে। জনগণের কাছে আবেদন- এই সমস্যা শুধু বিএনপির নয়, এই সমস্যা শুধু পেশাজীবীদের নয়, এই সমস্যা পুরো দেশের মানুষের। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল গণতন্ত্র।এরা সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আজকে ক্যাসিনো নিয়ে খুব লাফালাফি হচ্ছে। কিন্তু ক্যাসিনোর থেকেও বড় সম্পদ জনগণের ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এই সরকার লুট করেছে। সেই লুট করা জিনিস ফিরিয়ে আনতে আবারও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে নাকি এই সরকারের সুউচ্চ সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী যতবার ভারত যান ততবার হতাশ হই। আসার পর দেখি দেশের মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হয় না। আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শামসুল আলম, চিকিৎসক অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, কৃষিবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, শামীমুর রহমান শামীম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জাকির হোসেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রফিকুল ইসলাম, নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের জাহানারা বেগম প্রমুখ বক্তব্য দেন। | 9 |
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইনের দুই দিনে ৭৮ লাখের বেশি মানুষ টিকার আওতায় এসেছে। আগের দিন রেকর্ড ৬৬ লাখের বেশি টিকা দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, ক্যাম্পেইনের বর্ধিত অংশে গতকাল বুধবার ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩ জনকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দুই দিনে মোট ৭৮ লাখ ১১ হাজার ২১৬ জনকে নতুন করে টিকার আওতায় আনা হলো। যারা নিবন্ধন করেও দীর্ঘদিন ধরে টিকার অপেক্ষায় ছিলেন। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রথম দিনে টিকা দেওয়া হয়েছিল ৬৬ লাখ ২৫ হাজার ১২৩ জন নারী ও পুরুষকে। দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর যা এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ।প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ তম জন্মদিনকে ঘিরে দেওয়া হয় এই টিকা। পরিকল্পনা ছিল ৮০ লাখ টিকা দেওয়ার। নানা জটিলতায় প্রথম দিনে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দিতে না পারায় একদিন সময় বাড়ানো হয়।এসব টিকা অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, মডার্না ও ফাইজারের।এ ছাড়া বুধবার নিয়মিত টিকার অংশ হিসেবে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১১৫ জনকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে।দেশের ৮০ শতাংশ জনগণকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সরকারের কেনা, উপহার ও টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬০৭ ডোজ টিকা হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ।উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় দেশে টিকাদান কর্মসূচি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯৬ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৩ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ১১০ জন। আর পূর্ণ ডোজ পেয়েছেন এক কোটি ৬৭ লাখ ৮১ হাজার ৮৮৬ জন।টিকা পেতে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৪ কোটি ৮১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে এখনো কোনো টিকাই পাননি এ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬৮ জন। | 6 |
করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্র সবসময়েই নাগরিকদের টিকা নিতে আহ্বান জানিয়েছে। মাঝে টিকা নিলে নগদ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছিল দেশটির সরকার। কিন্তু তবুও অনেকেই টিকা নেওয়ার ব্যাপারে উদাসীন। ডিজে ফার্গুসন এমনই একজন। তার দেশ করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ৩১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক এখনও কোভিড টিকা নেননি। তবে এতে তারই ক্ষতি হয়েছে। কোভিড আক্রান্ত না হলেও টিকা না নেওয়ায় তার হৃৎপিণ্ডের অস্ত্রোপচার করতে রাজি হননি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের এক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ডিজে ফার্গুসন দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছেন। গত বছরের নভেম্বরের শেষদিক থেকেই তিনি হাসপাতালে ছিলেন। দুই সন্তানের জনক ফার্গুসন হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের জন্য বোস্টনের ব্রিগহাম অ্যান্ড ওমেন্স হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোভিড টিকা না নেওয়ায় চিকিৎসকরা তার অস্ত্রোপচার করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে চিকিৎসা ছাড়াই হাসপাতাল ছাড়তে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজেদের নিয়ম-নীতি অনুযায়ীই তারা এ কাজ করেছে। এক বিবৃতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অঙ্গের যথেষ্ট পরিমাণ মজুত না থাকায় আমরা সেসব রোগীদের বাঁচাতেই প্রাণপণ চেষ্টা করি যাদের শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করলে যাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। কোভিড প্রতিরোধক টিকা নিলে সেটি রোগীর নিজের জন্যই ভালো। কারণ এতে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানান, হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের সফল অস্ত্রোপচারের জন্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধক টিকা এবং তাদের সুন্দর জীবনযাপনের অভ্যাস খুবই প্রয়োজনীয়। যেহেতু এ দুটি জিনিস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, তাই অস্ত্রোপচারের পর রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। এছাড়া, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য এক লাখ রোগী হাসপাতালের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অঙ্গের মজুত না থাকায় কারণে তাদের অধিকাংশকেই আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাদের পক্ষে প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে না। প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬৩% টিকার দুই ডোজের আওতায় এসেছেন। আর বুস্টার ডোজ নিয়েছেন মাত্র ৪০% মার্কিন নাগরিক। এদিকে, ফার্গুসনের বাবা ডেভিড জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধক টিকায় বিশ্বাস নেই বলে সে টিকা নেয়নি। তাছাড়া, এটি তার মূল নীতির বিরুদ্ধেও। অস্ত্রোপচার না করিয়ে হাসপাতালের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ফার্গুসনের পরিবার জানায়, তার হাতে সময় খুবই কম। এছাড়া, এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থাও তার নেই। তবে করোনাভাইরাসের টিকা না নেওয়ায় চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো মার্কিন নাগরিকের বাধার সম্মুখীন হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম না। টিকা না নেওয়ায় এ মাসের শুরুতে দুই মাস ধরে লাইফ সাপোর্টে থাকা এক ব্যক্তিকে ভেন্টিলেটর সুবিধার বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল মিনেসোটা রাজ্যের এক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। পরে সেই ব্যক্তির স্ত্রী ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। | 3 |
নোয়াখালীতে নানা আয়োজনে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিসব পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলার বিভিন্নস্থান থেকে উদ্ধারকৃত পাঁচটি পাখি মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পাখিগুলো অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তাসহ উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা। উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞার সভাপতিত্বে ও হাবিবিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা নাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান। আলোচনা সভায় মূখ্য আলোচক ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
স্প্যানিশ লা লিগায় এ মৌসুম মোটেও ভাল যাচ্ছে না বার্সার। পয়েন্ট হারাতে হারাতে এখন টেবিলের তৃতীয় স্থানের রয়েছে মেসিবাহিনী। আজ রবিবার কাদিজের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পরে অন্তিম সময়ে এসে সেই পেনাল্টি গোলের মাধ্যমেই কাতালান ক্লাবটিকে রুখে দেয় পুচকে কাদিজ। বার্সা পয়েন্ট হারানোয় অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ল রিয়াল মাদ্রিদের। এই ম্যাচের মাধ্যমে লা লিগার ৩৮টি আলাদা দলের বিপক্ষে গোল করার অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন মেসি। ৫০৬ ম্যাচ খেলে তিনি এখন বার্সার হয়ে লিগে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়ও। আজ রবিবারের আগে ৫০৫ ম্যাচ খেলে এই রেকর্ডটি দখলে রেখেছিলেন সাবেক বার্সা তারকা জাভি হার্নান্দেজ। আজ ম্যাচের ৩২ মিনিটের সময় পেনাল্টি থেকে গোল করে বার্সেলোনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে নিয়েছিলেন মেসি। কাদিজের দুই ডিফেন্ডার বার্সার পেদ্রিকে ডি বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বার্সা। আর পেনাল্টি থেকে গোল করতে কোন ভুলই করেননি লিওনেল মেসি। লা লিগায় একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে আলাদা ৩৮টি দলের বিপক্ষে গোল করেন ফুটবলের এ ম্যাজিক ম্যান। মনে করা হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত আরো গোল পাবে। কিন্তু তা মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে ম্যাচ ড্র করে কাদিজের খেলোয়াড়রা। ৮৯তম মিনিটে ম্যাচে সমতা সূচক গোলটি পায় কাদিজ। ২৩ ম্যাচে টেবিলে বার্সার পয়েন্ট এখন ৪৭। সবার শীর্ষে থাকা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ৫৫। এক ম্যাচ বেশি খেলা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৫২। | 12 |
ইসি গঠনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ে সার্চ কমিটি আজ শনিবার বেলা ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সপ্তমবারের মত বৈঠকে বসতে চলেছে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার শাখার সচিব মো. সামসুল আরেফিন এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে গত বুধবার সার্চ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকের পরে রাত সাড়ে আটটা নাগাদা কমিটির তরফ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। তবে আজকের বৈঠকে সার্চ কমিটিতে আসা নামের তালিকা যাচাই বাছাই করে আরো সংক্ষিপ্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এমনকি এ বৈঠকে চূড়ান্ত ১০ জনের তালিকাও প্রস্তুত করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করা হতে পারে বলেও সার্চ কমিটি সূত্র জানিয়েছে। কারণ ইতিমধ্যে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কমিশনার শূন্য হয়ে আছে ইসি। এর আগে সার্চ কমিটি নিজেদের মধ্যে দুই বার এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে চার বার বৈঠকে বসে। গত শনিবার, রবিবার ও মঙ্গলবার মোট তিন দিনে চার দফায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মোট ৪৭ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করে সার্চ কমিটি। এর মধ্যে তারা দুই বার নিজেদের মধ্যেও বৈঠক করে। পরে গত সোমবার রাতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যক্তি পর্যায় থেকে প্রস্তাবিত ৩২২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ গত বুধবার বিকেলে সার্চ বৈঠকে বসে ৩২২ জনের নাম থেকে যাচাই বাছাই করে ৫০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করে বলে কমিটি সূত্রে জান যায়। গত বুধবার সচিব মো. সামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, আইনে বর্ণিত যোগ্যতা অনুসরণ করে ইসি গঠনে অনুসন্ধান চলছে। তালিকা সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। প্রতিটি বৈঠকে সার্চ কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সভাপতিত্বে উপস্থিত থাকছেন সার্চ কমিটির সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। সাচিবিক দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের মুখ্য সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যরা। সর্বশেষ কে এম নূরুল হুদার ইসির মেয়াদ গত সোমবার ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম আইন অনুযায়ী ইসি গঠিত হচ্ছে। এ জন্য গত ২৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এরপর আইনানুযায়ী ইসি গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সভাপতি করে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে নাম সুপারিশের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে ১৫ কার্যদিবস। এর মধ্যে ১০ জনের নাম বাছাই করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে সার্চ কমিটি। সেখান থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি। | 6 |
প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশে আমেরিকার একটি বি-৫২এইচ বোমারু বিমানকে বাধা দিয়েছে রাশিয়ার তিনটি এসইউ-৩৫ জঙ্গিবিমান। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন বোমারু বিমান প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশ দিয়ে রাশিয়ার সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল। মন্ত্রণালয় গতকাল (রোববার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাশিয়ার রাডারব্যবস্থায় মার্কিন বিমান ধরা পড়ে এবং তার পরপরই মার্কিন বিমানকে রুশ জঙ্গিবিমানগুলো বাধা দেয়। রুশ জঙ্গিবিমানগুলো মার্কিন বোমারু বিমানকে এস্কর্ট দিয়ে নিয়ে যায়। পরে রাশিয়ার এসব বিমান নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে আসে। রুশ মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে বলেছে, দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। রাশিয়ার সাথে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকার সম্পর্ক আবার উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ রুশ সীমান্তের আশপাশে প্রায়ই ঘোরাঘুরি করে। সূত্র : পার্সটুডে | 3 |
বলিউডি ছবি মুক্তি নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিটাউনে জোর রব, একগুচ্ছ হিন্দি ছবি মুক্তি পেতে চলেছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। লকডাউনের কারণে প্রায় তিন মাস কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। দুই মাস ধরে তালাবদ্ধ সব প্রেক্ষাগৃহ। দেশের পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নন। এর মধ্যে গুলাবো সিতাবো এবং শকুন্তলা দেবী ছবি দুটি ওটিটিতে আসতে চলেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্মাতারা। আগামী ১২ জুন অমিতাভ বচ্চন ও আয়ুষ্মান খুরানা অভিনীত গুলাবো সিতাবো আসতে চলেছে আমাজন প্রাইম ভিডিওতে। শকুন্তলা দেবী ছবিটিও আমাজন প্রাইমে মুক্তি পাবে। তবে বিদ্যা বালান অভিনীত এ ছবির মুক্তির দিন এখনো ঘোষণা হয়নি। শোনা গিয়েছিল, জাহ্নবী কাপুরের গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল ছবিটিও ডিজিটালে মুক্তি পাবে। তবে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ জাহ্নবী। আসল সত্য ফাঁস করেছেন এই বিটাউনকন্যা। বিটাউনে জোর গুঞ্জন ছিল যে জাহ্নবী কাপুর অভিনীত দুটি ছবি গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল এবং দোস্তানা টু ওটিটিতে আসতে চলেছে। জাহ্নবী নিজেই এ খবর ভুল বলে জানিয়েছেন। এই বলিউড অভিনেত্রী বলেছেন, 'আমার কানেও এ ধরনের খবর আসছে। ছবির শুটিংই যদি সম্পন্ন না হয়, তাহলে তা রিলিজ হবে কি করে? গুঞ্জন সাক্সেনার বায়োপিকের প্রায় ৩০ দিনের ভিএফএক্সের কাজ বাকি। আর দোস্তানা টু ছবির অর্ধেক শুটিং এখনো বাকি। তাই এখনই এই ছবি দুটির মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই কোথায় ছবি মুক্তি পাবে, সেই প্রশ্ন অবান্তর।' জাহ্নবী ডিজিটাল দুনিয়ায় পা রেখেছেন আগেই। ১ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের ঘোস্ট স্টোরিজ-এ দেখা গিয়েছিল তাঁকে। জোয়া আখতার পরিচালিত এই ছবিতে জাহ্নবীর অভিনয় রীতিমতো প্রশংসিত হয়। | 2 |
নতুন মঙ্গলযান প্রিজারভেন্স উৎক্ষেপণ করেছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। মঙ্গলে আদি প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজবে প্রিজারভেন্স। বৃহস্পতিবার সকালে ফ্লোরিডার কেপ কানাভেরাল থেকে মঙ্গলযানটির যাত্রা শুরুর সময় নির্ধারণ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি লাল গ্রহ মঙ্গলে পৌঁছানোর কথা প্রিজারভেন্সের। সফল হলে দুই যুগের মধ্যে প্রিজারভেন্স হবে মঙ্গলে যাওয়া পঞ্চম মার্কিন মহাকাশযান। নাসার প্রধান জিম ব্রাইডেনস্টাইন বুধবার বলেন, একটা প্রশ্নাতীত একটা চ্যালেঞ্জ। তবে কীভাবে মঙ্গলে অবতরণ করতে হয়, তা তাদের জানা আছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ৩০০ বছর আগে এই গ্রহ এখনকার চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ ছিল। গ্রহে নদী ও হ্রদ ছিল। এমন পরিবেশে সেখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণের অস্তিত্বও থাকতে পারে। গ্রহটি কীভাবে শীতল ও অনুর্বর হলো, তা পুরোপুরি জানা যায়নি। প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেন ফারলে বলেন, আমরা যা খুঁজছি, তা হলো একেবারে প্রাচীন প্রাণ। নাসা যানটি অবতরণের জন্য হ্রদের খাদকে বেছে নিয়েছে। ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি বছর আগে সেখানে নদী ছিল বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। বিশ্বের ৩৫০ জনের বেশি ভূতাত্ত্বিক, ভূরসায়নবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বায়ুমণ্ডল বিশেষজ্ঞ ও অন্য বিজ্ঞানীরা এই মিশনে অংশ নেবেন। | 11 |
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের 'বীর উত্তম' খেতাব বাতিলের চেষ্টার প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে যেতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্দ্যোগে মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিলসহ প্রেসক্লাবে জড়ো হতে শুরু করেন। সমাবেশ শুরু হওয়ার একটু পর থেকেই নেতা কর্মীদের প্রেসক্লাবেরসামনে প্রবেশ করতে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তারপরে সমাবেশস্থলে আসতে দিচ্ছে পুলিশ। এর আগে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে ডুকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয় বলে নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন। নেতা কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, আমারা স্বাধীন দেশে বাস করেও আজ আমরা পরাধীনতার মত। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছি। কিন্তু পুলিশ আমাদেরকে যেতে দিচ্ছে না বাধা দিচ্ছে। এ সময় দেখা যায় সচিবালয়ের লিংক রোডের মাথায় পুলিশ কাউকেই সমাবেশস্থলে ঢুকতে দিচ্ছে না। অপরদিকে কদম ফোয়ারার পাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে সেখানেও কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল হাবিব-উন-নবী খান সোহেল সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন। | 6 |
সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলামে সেলিম বলেছেন, রাতের অন্ধকারে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকারকে পদদলিত করা হয়েছে। ভুয়া ভোট করে সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এখন সরকার জনগণের ভাতের অধিকারও কেড়ে নিচ্ছে। গণবিরোধী রাজনীতি এখন অন্ধকারের অর্থনীতির জন্ম দিচ্ছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সমাবেশে সেলিম সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন : সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহ আলম, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা: ফজলুর রহমান ও ডা: সাজেদুল হক রুবেল। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন। চালসহ নিত্যপণ্যের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল এ কর্মসূচি পালন করে সিপিবি। সমাবেশে সেলিম আরো বলেন, জনসমর্থনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে লুটেরা ধনিক শ্রেণীকে সুবিধা পাইয়ে দিতে সরকার বিভিন্ন গণবিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে দুর্নীতিবাজ, লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করছে সরকার। সরকারের সক্রিয় সহযোগিতায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, সরকার বলেছে যেভাবে 'শান্তিপূর্ণভাবে' ভোট হয়েছে, তেমনি 'শান্তিপূর্ণভাবে'ই আগামীতে তারা দেশ চালাবে। সরকারের এই কথা থেকেই বোঝা যায়, যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে তেমন করেই সরকার আগামীতে জনগণের সম্পদ ডাকাতি করতে চায়। সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সেলিম বলেন, জনগণকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে। জমি বন্ধক রাখা যায়; কিন্তু স্বার্থ কখনো বন্ধক রাখা যায় না। লড়াইয়ের মাধ্যমেই সরকারকে যথাযথ জবাব দিতে হবে।মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অর্থনীতির বিপরীতে দেশ এখন চলছে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে। মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে ফিরিয়ে আনতে হবে। ভোট ও ভাতের অধিকার আদায় করতে নীতি ও ব্যবস্থার বদল ঘটাতে হবে।সমাবেশে নেতারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো এবং জনস্বার্থে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য মজুদদার-মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সাথে তারা রেশনিং ও গণবণ্টনব্যবস্থা চালুরও দাবি জানান। | 9 |
বরিশাল নগরের আমানতগঞ্জে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটিই খেলার মাঠ। সেটিতে বিশাল প্যান্ডেল টানিয়ে করা হয়েছে বিয়ের আয়োজন। বিদ্যালয়ের মূল ফটকটিও কাপড় ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। মাঠের একাংশে করা হয়েছে রান্নাবান্নার ব্যবস্থা।নগরের ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর আমানতগঞ্জ মোফাজ্জল হোসেন খান সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখের মাঠে এভাবেই আজ বৃহস্পতিবার দিনভর ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠান চলে।আজ বেলা ১২টার দিকে স্কুলমাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি বন্ধ। আশপাশে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘোরাফেরা করছে। আর গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পাঠদানে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মোফাজ্জেল হোসেন খান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, সকালে স্কুলে এলে শিক্ষকেরা বাসায় ফিরে যেতে বলেন। ক্লাস না হওয়ার কোনো কারণ তারা জানে না।আয়োজনের জন্য আজ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়ার ঘটনাটি জানাজানি হলে টনক নড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষের। তড়িঘড়ি করে কোনো রকম পাঠদান অব্যাহত রাখেন তাঁরা।বিদ্যালয় দুটির সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ইয়ার হোসেন সিকদারের মেয়ের সঙ্গে পশ্চিম চর হোগলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলের বিয়ের আয়োজন এটি। ইয়ার হোসেন সিকদার বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি নিয়েই তিনি স্কুল মাঠে বিয়ের আয়োজন করেছেন।এ প্রসঙ্গে জানতে মোফাজ্জেল হোসেন খান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী হারুন অর রশিদকে কল করা হলে তিনি সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এরপর আর কল ধরেননি প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ।বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক মনে করেন, এটি অনুচিত হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নির্দেশে বিয়ের আয়োজনের জন্য রুটিন পরিবর্তন করে মর্নিং শিফট করা হয়েছিল। প্রধান শিক্ষকও তেমন আপত্তি তোলেননি।অপরদিকে মোফাজ্জেল হোসেন খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্চনা রানী বণিক বলেন, তাঁরা স্কুল মাঠে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে অনুমতি দেননি। তাঁদের পাঠদান চলেছে। তিনি স্বীকার করেন, এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অসুবিধা হয়েছে। মনোযোগ তেমন ছিল না। তবে কমিটির সভাপতির চাপে এটি করতে হয়েছে। জানতে চাইলে মোফাজ্জেল হোসেন খান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফুজ্জামান খান রনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বৃহস্পতিবার হাফ ডে ছিল। যে কারণে মর্নিং ক্লাস নেওয়া হয়েছে।'বিদ্যালয়ের মাঠে বিয়ের আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বলেন, 'গরিব মানুষের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান, তাই বিশাল মাঠের একাংশে দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পাত্রীও এ বিদ্যালয়ের এক সময়ের ছাত্রী।'এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলদার নাহার বলেন, তিনি বিষয়টি শুনে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন। মাঠে বিয়ের আয়োজন করতে তাঁদের অনুমতি নেওয়া হয়নি।এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত করে স্কুলমাঠে বিয়ের আয়োজন করা ঠিক হয়নি। তিনি এ কারণে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। | 6 |
বিদ্যমান ভৌত অবকাঠামো-সংকট থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বমূলক উদ্যোগের (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি) ওপর সরকার গুরুত্ব আরোপ করে আসছে। এ লক্ষ্যে ২০১০ সালে পিপিপি পলিসি প্রণয়ন করা হয়েছে, পিপিপি আইন গৃহীত হয়েছে ২০১৫ সালে। পিপিপি আইনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে সংযুক্ত করে পিপিপি অফিস খোলা হয়েছে। পিপিপি অফিসের ওয়েবসাইটে ৭৪টি প্রকল্পের একটি দীর্ঘ তালিকা আছে, সেগুলোর মধ্যে একটি অতি ক্ষুদ্র কিডনি ডায়ালাইসিস (দুটি ইউনিট) প্রকল্প চালু আছে। নির্মাণাধীন প্রকল্পের সংখ্যা ৫, চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ৭টি, ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে, সংগ্রহাধীন ১৪টি, প্রস্তুতি পর্যায়ে আছে ২৯টি প্রকল্প এবং নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে ১৪টি প্রকল্প। তালিকা দীর্ঘ হলেও কিন্তু অর্জন খুবই সামান্য। এত ঢাকঢোল পেটানোর পরও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাব্যঞ্জক বলা চলে। কেন এমন হলো? বাংলাদেশে পিপিপি নীতি ও আইন হওয়ার আগে থেকেই পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ভিত্তিতে বড় প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০০০ সালের প্রথম দিকে মেঘনাঘাট ৪৫০ ও হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প এর উদাহরণ। তারও আগে স্থাপিত কর্ণফুলী সার কারখানাকেও অনেকে পিপিপি প্রকল্প বলে থাকেন, যদিও এটাকে জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রকল্প বলা সমীচীন হবে। মেঘনা ঘাট ৪৫০ ও হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প আদর্শ পিপিপি অর্থায়ন প্রকল্প হিসেবে 'ইউরোমানি'পদক লাভ করে। এই প্রকল্পগুলোর বিদ্যুতের দাম এত কম ছিল যে এগুলোকে ভিত্তি ধরে পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়। শুধু বিদ্যুতের সাশ্রয়ী মূল্য নয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ২০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দেশের প্রধান বেসলোড প্ল্যান্ট হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। সারা বিশ্বের নামকরা মার্কিন, জাপানি, কোরিয়ান বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো যেমন এইএস, মারুবেনি, হুন্দাই এ উদ্যোক্তা নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল। আজকাল কেবল চীন ও ভারতের নিম্নমানের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে টেন্ডার-প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। তখন আশা করা হয়েছিল যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থায়ও পিপিপির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের বাইরে সড়ক, পানি, পয়োনিষ্কাশন, বিমানবন্দর প্রভৃতি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে। স্পষ্টতই সে প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রথমেই স্বীকার করে নিচ্ছি যে এশীয় আর্থিক সংকটের পর থেকেই এ অঞ্চলে পিপিপি প্রকল্পের খরা চলছে। যা কিছু পিপিপি প্রকল্প হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে চীন, ভারত, ব্রাজিল, তুরস্ক ও মেক্সিকো-এ পাঁচ বড় দেশে। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে অনেক কম। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত ছাড়াও এর দেশজ কারণ আছে। প্রথমত, পিপিপি পলিসি, আইন, অফিস স্থাপন করা হলেও সরকারের বিশাল অংশ এটাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেনি। এর কারণ হলো ভৌত অবকাঠামো প্রকল্প আমাদের দেশে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের অর্থায়নের অন্যতম উত্স। তাঁরা এ ধরনের প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ হারাতে চান না। দ্বিতীয়ত, পিপিপি মডেলকে বিকৃত করে আপত্কালীন ব্যবস্থা রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টকে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের আবরণে প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোক্তা নির্বাচনের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও বেশি ব্যয়ের অদক্ষ অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা যোগ হয়েছে; এর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে একক ক্রেতা বিপিডিবির রক্তক্ষরণ হচ্ছে। দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েও এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার বিদ্যুৎ খাতের এ ধরনের বিপণন ঝুঁকিমুক্ত বিজনেস মডেল ও অতিরিক্ত প্রণোদনার কারণে উদ্যোক্তারা আর সড়ক, খাওয়ার পানি, পয়োনিষ্কাশন, বিমানবন্দর-এ ধরনের প্রকল্প পিপিপি প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী হচ্ছে না। কী করতে হবে? এ ব্যবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদের কী করতে হবে? প্রথমেই পিপিপির পক্ষে ন্যায্য ও অসার যুক্তি কোনগুলো বুঝতে হবে। প্রধানত পিপিপির পক্ষে বেসরকারি পুঁজি ও অর্থায়নকে প্রধান যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়ে থাকে। অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, এটা একটা অসার যুক্তি। কেননা, সরকার আরও কম দামে এ অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বর্তমানে টাকা কম লাগলেও ভবিষ্যতে এর জন্য ব্যয় বাড়ে বা ভবিষ্যৎ আয় কমে। পিপিপির পক্ষে ন্যায্য যুক্তি হচ্ছে উৎপাদন, বণ্টন ও ব্যক্তি খাতের ডায়নামিক দক্ষতা বৃদ্ধি, যা কেবল প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোক্তা নির্বাচনের মাধ্যমেই সম্ভব হতে পারে। এ ছাড়া এ জন্য প্রয়োজন হবে ব্যক্তি খাতে ঝুঁকি গ্রহণে সক্ষম ও আগ্রহী উদ্যোক্তা নির্বাচন। এটা করতে হলে- প্রথমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ বাতিল করতে হবে। প্রণীত হওয়ার পর চারবার মেয়াদ বাড়িয়ে বর্তমানে ২০২১ সাল পর্যন্ত এর কার্যকারিতা বহাল রাখা হয়েছে। একসময় সাময়িক প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে এর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ খাতে আমাদের দেশের মতো ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার বা আইপিপি এখন আর বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে মার্চেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার পদ্ধতি বা এমপিপি ব্যবহৃত হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে উদ্যোক্তা বিপণনঝুঁকি গ্রহণ করে, বড় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ক্রেতার সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহারের সরকার-নির্ধারিত হারের জন্য হুইলিং চার্জ প্রদান করে। মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে বিপিডিবির আর্থিক কোনো দায় থাকবে না। ফলে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশে এ ধরনের একটি নীতিমালা ২০০৮ সালেই তৈরি করা হলেও অজ্ঞাত কারণে এটা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তৃতীয়ত, অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে দলীয় তহবিল সংগ্রহ বন্ধ করার জন্য, রাজস্ব আয় থেকে রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন করে বর্তমান পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্নীতিতে লাগাম টেনে ধরতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশেই তা করা হয়ে থাকে। এটা করা হলে রাজনৈতিক দল ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজিও হ্রাস পাবে বলে আশা করা যায়। চতুর্থত, বর্তমানে কেবল শহুরে বড় ভৌত অবকাঠামো প্রকল্পকে পিপিপির আওতায় ভাবা হয়। কিন্তু বৃহত্তর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থে সৌরবিদ্যুৎ-ভিত্তিক সেচ প্রকল্প, মিনি গ্রিড-এসবও পিপিপির আওতায় আনতে হবে। এসব প্রকল্প আর্থিকভাবে লাভজনক করার জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তুকি প্রদান করতে হবে, যাতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে। উল্লেখ্য, সরকারি অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান ইডকল পিপিপি ভিত্তিতে সৌরশক্তির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৪০ লাখের বেশি গ্রাহককে বিদ্যুৎ-সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে। পঞ্চমত, সড়ক ও অন্যান্য খাতে পিপিপি সফল করার জন্য সরকারকে এসব প্রকল্পের অন্তত আংশিক ঝুঁকি গ্রহণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে টোল সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকার একটি ন্যূনতম পরিমাণের চেয়ে যানবাহন চলাচল কম হলে সরকার প্রকল্পের উদ্যোক্তাকে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। ষষ্ঠত, পিপিপি অফিসকে গতিশীল ও এর সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য অন্যান্য দেশের মতো পিপিপি অফিসকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করে এখানে আর্থিক, চুক্তি আইন ও কারিগরি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিতে হবে। সপ্তমত, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন পাওয়ার সেলের মতো সড়ক, রেলপথ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পেশাদারদের নিয়ে বিশেষ সেল গঠন করতে হবে, যারা পিপিপি প্রকল্প প্রক্রিয়াজাত করবে। এ ধরনের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার অভাবে একজন বেসরকারি উদ্যোক্তা ঢাকা-জামালপুর-ঢাকা লাইনে দ্রুতগতির ট্রেন চালু করার প্রস্তাব দিয়েও সাড়া পাননি। সবশেষে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির আধুনিকায়ন, ও পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে হবে। মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান: বাংলাদেশ সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ-সচিব | 8 |
ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মরিয়ম বেগম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার ঢাকার সোহওরায়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিবসাবেক মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার স্ত্রী। মরিয়ম বেগমের ছোট ছেলে ভুঁইয়া নন্দিত নাহিয়ান জানান, মরদেহ মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে তাদের বাসায় রাখা হয়েছে। এশার নামাজের পর জানাজা শেষে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হবে। অধ্যাপক মরিয়ম বেগম ২০০২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা কলেজ এর অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এর পূর্বে তিনি ঢাকা কলেজের ইংরেজি বিভাগে দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন। অধ্যক্ষ থাকাকালীন তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হলেও ব্যবহারে ছিলেন অমায়িক ও মাতৃসূলভ। নিজ প্রচেষ্টায় তিনি ঢাকা কলেজে অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। তার মৃত্যুতে ঢাকা কলেজ পরিবার শোকা প্রকাশ করেছে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 1 |
জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কুমিল্লার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, 'দেশে নানা সমস্যা রয়েছে। সেখান থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।' আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদ সমবায় দলের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এই অভিযোগ করেন। বিএনপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, সরকার দেশের স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে তার সংস্থা দিয়ে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে।বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'আমাদের সংকট কী? সংকট গণতন্ত্রের, সুষ্ঠু নির্বাচনের, ভোটাধিকারের, যা তারা হরণ করছে, একনায়কতন্ত্র কায়েম করে ক্ষমতা দখল করে আছে।' জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'ক্রমেই সরকার গণতান্ত্রিক স্পেস সংকুচিত করছে। পল্টন ময়দান, মানিক মিয়া এভিনিউ, মুক্তাঙ্গনসহ সভা-সমাবেশের জায়গা সংকুচিত করে ফেলছে সরকার। এখন প্রেসক্লাবও বন্ধ করে দিল।' বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কোভিড-১৯-পরবর্তী জটিলতায় ভুগছেন বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। চিকিৎসকেরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন, তবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিশ্বের উন্নত হাসপাতালে হওয়া দরকার বলে জানান তিনি।মির্জা ফখরুল বলেন, 'খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। তাঁকে সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া দরকার।' তিনি আরও বলেন, 'খালেদা জিয়ার জামিন প্রাপ্য। তাঁকে মুক্তি দিতে হবে, যাতে তিনি সুচিকিৎসা নিতে পারেন।' সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি। বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারসহ সংগঠনের নেতারা। | 9 |
ভ্যাট কর্মকর্তারা অশালীন ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে সিলেট চেম্বার নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভায় এই অভিযোগ করেন তাঁরা। বিকেল চারটায় চেম্বার কনফারেন্স হলে মতবিনিময় সভা শুরু হয়।সভায় ব্যবসায়ী নেতারা ভ্যাট আদায়ে তাঁদের প্রতি ভ্যাট কর্মকর্তাদের বিরূপ ব্যবহারের কথা তুলে ধরে বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ীরা সরকারের আইনের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু ভ্যাট কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায়শই অশালীন ব্যবহার করে থাকেন, যা কখনোই কাম্য নয়।ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, ভ্যাট কর্মকর্তারা অহেতুক ব্যবসায়ীদের খাতাপত্র জব্দ করেন। ইচ্ছামাফিক ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপ করেন এবং জরিমানা করে থাকেন। কিন্তু ভ্যাট মূলত পরোক্ষ কর, যা ক্রেতাসাধারণের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা সরকারের কোষাগারে জমা করেন।তাঁরা উল্লেখ করেন, চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা বিরাজ করছে, যা অনুধাবন করা এবং বিবেচনা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। ব্যবসায়ীরা ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধে সিলেট চেম্বারের সহযোগিতা কামনা করেন।সিলেট চেম্বারের সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা কখনই সম্ভব নয়। ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নিয়মিত ভ্যাট প্রদানকারী ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে ভ্যাটের পরিধি বৃদ্ধির জন্য সিলেট চেম্বার সব সময়ই দাবি জানিয়ে আসছে।এ ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, ভ্যাট সংক্রান্ত অনেক আইন স্পষ্ট নয়, যার ফলে অনেক অসাধু ভ্যাট কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের হয়রানির সুযোগ পান। তিনি ভ্যাট আদায়ে ব্যবসায়ীদের যেন কোনোভাবেই হয়রানি এবং অসম্মান না করা হয় সে ব্যাপারে ভ্যাট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি ভ্যাট প্রদানে ব্যবসায়ীদের সমস্যাসমূহ নিয়ে অচিরেই কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট সিলেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন।সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, আলীমুল এহছান চৌধুরী, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী (রাজিব) প্রমুখ। | 6 |
অনেক দিন ধরেই দূরত্ব রাখছিলেন ৯৬-এর বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুন রানাতুঙ্গা। দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বনিবনা নেই বহুদিন। তাই মন্ত্রী হয়েও মন দিতে পারেননি দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য। তবে ব্যক্তিগতভাবে যেসব ক্রিকেটার তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন, তাদের সুপরামর্শ দিয়েছেন। এবার বিশ্বকাপের আগে বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কার বিশেষ সুযোগ নেই। তবু শ্রীলঙ্কা হারিয়ে দিয়েছে অন্যতম ফেবারিট ইংল্যান্ডকে। শনিবার সকালে মিডিয়াকে প্রথমে বললেন, 'প্রতিযোগিতাটা জমল। শ্রীলঙ্কা যদি আরেকটা বড় দলকে হারিয়ে দেয়, তাহলে, সেমিফাইনালে যাওয়ার অঙ্কটা গুলিয়ে যাবে কয়েকটা ম্যাচের জন্য। চাইব শ্রীলঙ্কা যেন আরো ক'টা ঝটকা দেয়।' হিসেবের মধ্যে বাংলাদেশকেও তো রাখতে হবে? শুনে রণতুঙ্গা বললেন, 'বাংলাদেশ তো উন্নতির রাস্তাতেই আছে। সাকিবরা ভালো ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলছে। সাহস দেখাচ্ছে। শ্রীলঙ্কাকে আরেকটু আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখাতে হবে। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর দলটার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে।' ইংল্যান্ডকে হারানো মানেই কি ট্রফি জিতে ফেলা? রানাতুঙ্গাও হেসে ফেললেন, 'বুঝতে পারছি মজা করছেন। এর সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। আপনারা কি বলেই দিচ্ছেন ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হবে? আর সেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিলো শ্রীলঙ্কা? শুনেছি, ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ে এসব বলেন দু'দেশের সমর্থকরা। বিশ্বকাপ চাই না। পাকিস্তানকে হারাতে হবে। আর পাকিস্তানিরা বলে ভারতকে হারাতে হবে। আমাদের দলটা অগোছালো হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিভা আছে। একটু সময় দিলে দলটা অদূর ভবিষ্যতে দাঁড়িয়ে যেতে পারে।' পাশাপাশিই বললেন, 'মালিঙ্গা যেভাবে দুনিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদের নাকানিচুবানি খাইয়েছে, সেটা দেখে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুশি। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ এমন ব্যাটসম্যান যে ওর দিনে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ম্যাথুজের ৮৫ রান তফাতটা গড়ে দিয়েছে। ২৩২ রানে অল আউট হওয়ার পর ২০ রানে জেতাটা সত্যিই বড় জয়। ভালো মোমেন্টাম পেল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বাংলাদেশ আরো ঝাঁকুনি দিতে পারে। সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশ শেষ দিকে আরো মরিয়া চেষ্টা করবে। এমনিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড জাঁকিয়ে বসে আছে। আগামী ১০ দিনে অঘটন ঘটলে এই বিগ ফোরের সামনে অবাঞ্ছিতভাবে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হবে।' ৯৬-এর বিশ্বকাপ সম্পর্কে রানাতুঙ্গা বলেন, 'সেবার আমাদের দলে অন্তত ৬ জন ম্যাচ উইনার ছিল। তাই বিশেষ কারো ওপর নির্ভর করতে হয়নি। শুরুতে জয়াসুরিয়া-কালুভিথারানা, মাঝখানে অরবিন্দ ডি'সিলভা, বোলিংয়ে চামিন্ডা ব্যাস, মুরলিথরন- কাকে ছেড়ে কার নাম করি? আর ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খিদে। অস্ট্রেলিয়া তখন ফেবারিট। মুরলিথরনের বল-ছোঁড়া বিতর্ক নিয়ে আমরাও পাল্টা দিচ্ছিলাম। শেন ওয়ার্নকে যেখানে পেয়েছি, মেরে পাট পাট করে দিয়েছি। অস্ট্রেলিয়াকে বেগ দিচ্ছিলাম সর্বত্র। দ্যাট ওয়াজ আ ড্রিম ইলেভেন। আমি এখনকার দলের সঙ্গে তুলনা করতে চাই না। সাবেক অধিনায়ক হিসেবে শুভেচ্ছা জানাই। সবাই যেন দেশের সম্মানের কথা ভেবে খেলে।' | 6 |
যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ইমন (৩৩) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে করা সংবাদ সম্মেলনে উভয় পক্ষই খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।দলীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলা আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্বে স্থানীয় সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ ও অপর অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্ব শাহীন চাকলাদার এবং যুবলীগের সদর উপজেলা ও শহর কমিটি নাবিল আহমেদের অনুসারী বলে পরিচিত। দুপুর ১২টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহমেদ জিসান। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় স্থানীয় সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ তাঁর পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ছাত্রলীগের নেতা ইমনকে হত্যা করেছেন। এ সাংসদের নির্দেশে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, শহর যুবলীগের আহ্বায়ক মেহবুব ম্যানসেল, এলাকার মাদক ব্যবসায়ী খুরশিদসহ কয়েকজন মিলে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। অবিলম্বের খুনিদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি।' সংবাদ সম্মেলন থেকে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৪ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে শহরে মানববন্ধন, ৫ নভেম্বর জেলার সব উপজেলা ও পৌর এলাকায় এবং ৬ নভেম্বর যশোর জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন করা হবে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসন ব্যর্থ হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, বর্তমান সভাপতি রওশন ইকবাল, সাবেক সহসভাপতি নেয়ামতউল্লাহ, এমএম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান প্রমুখ। এদিকে বেলা তিনটায় কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা ও শহর যুবলীগের নেতারা একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে লিখিত বক্তব্যে শহর যুবলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান বলেন, 'যশোর-৩ আসনের সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ ও মোহিত কুমার নাথের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দলীয় প্রতিপক্ষ মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ইমন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথা বলে প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।' এ সময় জেলা যুবলীগের সহসভাপতি সৈয়দ মুনীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অশোক কুমার বোস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে যশোর শহরের বেজপাড়া গোলগোল্লার মোড়ে লুডু খেলার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ছাত্রলীগের নেতা মনোয়ার হোসেন ইমন নিহত হন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। | 9 |
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, 'খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁকে মুক্ত করার এখতিয়ার আদালতের কাছেই। এটা বিএনপিও জানে। তবে তিনি (খালেদা জিয়া) দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে সাজা মওকুফ চাইতে পারেন। তাঁকে ক্ষমা করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির আছে।' সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধনের আগে স্থানীয় সরকারের অধীন সংস্থা ও দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এসব কথা বলেন। উপজেলার বিন্নাকুলী মাদ্রাসায় মিলনায়তনে এই সভা হয়। এরপর তিনি তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাদা নদীতে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে 'শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু'র নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, 'তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও একটি দলের প্রধান হিসেবে কারাগারে খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি এখন যেসব কথা বলছে, সেটা বিরোধী দলের কথা। ক্ষমতার বাইরে থাকলে এসব বলতে হয়।' হাওর এলাকার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ আন্তরিক উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কাজ হচ্ছে। তিনি হাওর এলাকার উন্নয়নে খুবই আন্তরিক। হাওরের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সরকারের আমলে হাওর এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে, অতীতে তা হয়নি। সেতুর কাজের উদ্বোধনের পর বেলা দুইটায় মন্ত্রী স্থানীয় বিন্নাকুলী বাজারে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। | 9 |
বিশ্বকাপ রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছে ভারত। কলকাতার ইডেন গার্ডেনের লড়াইয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি কিউইরা। সফরকারীদের অসহায় আত্মসমর্পণে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে রোহিত শর্মার দল জিতেছে ৭৩ রানে।এদিন টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান সংগ্রহ করে ভারত। নিউজিল্যান্ড অলআউট হয় ১১১ রানে।লক্ষ্য তাড়ায় মার্টিন গাপটিল এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অন্যপ্রান্তে চলছিল উইকেট বৃষ্টি। ৫ রান করে আউট হন ডেরিল মিচেল। রানের খাতায় খুলতে পারেননি মার্ক চ্যাপমান ও গ্লেন ফিলিপস। তিনজনকেই ফেরান অক্ষর প্যাটেল। দলীয় ৬৯ রানে ফেরেন গাপটিলও। ৩৬ বলে ৫১ রান করেন এই কিউই ওপেনার। ১৭ রান করে রানআউট হন টিম সেইফার্ট। স্কোরবোর্ডে ৩ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি জিমি নিশামও। ৭৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ততক্ষণে নিউজিল্যান্ড একরকম ম্যাচের বাইরে। এরপর নিয়মিত উইকেট হারিয়ে কিউইরা থামে ১১১ রানে।এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে দারুণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও ঈশান কিষান। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথম ৬ ওভারে এ দুজন সংগ্রহ করেন ৬৯ রান। এরপর ঈশানকে (২৯) ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন মিচেল স্যান্টনার। রানের খাতা খোলার আগে সূর্যকুমার যাদবকেও ফেরান স্যান্টনার। দলীয় ৮৩ রানে স্যান্টনারের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন ঋষভ পন্ত (৪)। সেখান থেকে জুটি গড়েন রোহিত ও শ্রেয়াস আইয়ার। দলীয় ১০৩ রানে রোহিতের বিদায়ে ভাঙে এ জুটি। ফেরার আগে ৩১ বলে ৫৬ রান করেন ভারত অধিনায়ক।দ্রুত ১৫ বলে ২০ রান আউট হন ভেঙ্কাটেশ আইয়ার। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শ্রেয়াসও (২৫)। ১৪০ রানে ভারত হারায় ৬ উইকেট। তবে শেষ দিকে ঝোড়ো গতিতে রান নিয়ে ভারতকে ১৮৪ রানে পৌঁছে দেন হার্শাল প্যাটেল ও দীপক চাহার। ১১ বলে অপরাজিত ১৮ রান করেন হার্শাল। দিপক টিকে থাকেন ৮ বলে ২১ রান করে। | 12 |
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাইয়ের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অনলাইন কপি দেওয়ার বিধান না থাকলেও এই বাবদ প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। এই টাকার বিপরীতে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।গত বুধবার ছিল ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ। নির্বাচনে ৮ ইউপিতে মোট ৪৫৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।বেশ কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম মনোনয়নপত্রের সঙ্গে তাঁদের এনআইডি কার্ডের অনলাইন যাচাই কপি জমা দিতে বলেন। প্রতিটি যাচাই কপির জন্য তাঁর কার্যালয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দিতে হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিরাজপুর ইউপির এক সদস্য প্রার্থী বলেন, প্রস্তাবকারী, সমর্থনকারী ও তাঁর এনআইডির অনলাইন কপি সংগ্রহ করতে ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে। এ হিসাবে ৪৫৫ জন প্রার্থীর কাছ থেকে ২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।প্রার্থীরা জানান, এ টাকার বিপরীতে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি। এভাবে সব প্রার্থীকে টাকা দিয়ে এনআইডির যাচাই কপি সংগ্রহ করতে হয়েছে।এনআইডির প্রতিটি অনলাইন যাচাই কপির জন্য চালানের মাধ্যমে সরকারি নিয়ম মোতাবেক ১১৫ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়। কিন্তু কোনো চালান কপি ছাড়াই নির্বাচন অফিসের কর্মচারীরা নিজেরাই যাচাই কপি বের করে ২০০ টাকা হারে প্রার্থীদের কাছ থেকে নিয়েছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন অফিসের এক ব্যক্তি জানান, এনআইডি যাচাই কপি বাবদ ১৫০ টাকা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশনা ছিল। এর মধ্যে ১০০ টাকা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বাকি টাকা কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়। তবে ১৫০ টাকা হারে আদায় করা ওই টাকা সরকারি চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা হয়েছে কি না তাঁদের জানা নেই।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, স্মার্ট কার্ডে ১০ সংখ্যা থাকায় ১৩ বা ১৭ সংখ্যার এনআইডি নম্বরের জন্য যাচাই কপি নিতে বলা হয়েছিল। যাচাই কপির জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন জানলাম। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম বলেন, এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি দিতে বলা হয়নি। শুধু ফটোকপির সঙ্গে ভোটার তালিকার অংশবিশেষ জমা দেওয়ার নিয়ম। কেউ অন্যায়ভাবে টাকা আদায় করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোম্পানীগঞ্জে আট ইউপিতে চেয়ারম্যান ৪৩ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৮৬ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে সদস্য পদে ৩২৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সপ্তম ধাপে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এই উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। | 6 |
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিক শিক্ষকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক তরুণী। অনশনে বসার সময় অভিযুক্ত শিক্ষক সুকান্ত মণ্ডলের মা তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে জানান ওই তরুণী। শুধু তাই নয়, অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত সুকান্ত মণ্ডল ঘরের বেড়া ভেঙে পালিয়ে যান এবং সেই সঙ্গে ঘরে তালা মেরে অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবারের লোকজনও পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই তরুণী।আজ শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গুয়াদানা গ্রামে। অভিযুক্ত যুবক ওই গ্রামের সুনীল মণ্ডলের ছেলে এবং উপজেলার ঘোষেরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।বিয়ের দাবিতে অনশনরত ওই তরুণী বলেন, 'আমি সুকান্ত মণ্ডলের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে চাইনি। তখন সুকান্ত তাঁর বন্ধু পূর্ণেন্দু ও রমেনকে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। তখন তাঁরা আমাকে অনেক বুঝিয়ে প্রেম করতে রাজি করায়। তারপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা ও সুন্দরবনের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে আমি রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। আমার সাথে যোগাযোগও বন্ধ করে দেয় সুকান্ত। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে গিয়েও এর কোনো সমাধান পাইনি। তাই আমি বিয়ের দাবিতে অনশন করছি।'এ বিষয়ে জানতে আজ অভিযুক্ত শিক্ষক সুকান্ত মণ্ডলের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ ছাড়া তাঁদের বাড়িতে গিয়েও ঘরটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।গতকাল অভিযুক্ত শিক্ষক সুকান্ত মণ্ডল ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, 'সে তার পড়াশোনা সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে আমার সাথে প্রেম করেছে। আমার গ্রামের মুরব্বিরা যেটা ভালো বুঝবেন সেটা করবেন। তাঁদের সাথে কথা না বলে আমি আর কিছু বলতে পারব না।'উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কল্পনা রানী ঘোষ বলেন, 'আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তরুণী কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তন্ময় মণ্ডল বলেন, এ বিষয়ে ওই তরুণী থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
করোনা ভাইরাসের কারণে আপাতত সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ রয়েছে। যেহেতু খেলা নেই তাই ক্রিকেটাররা নিজ বাসায় পরিবারের সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাই টাইগার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম একমাত্র ছেলে শাহরুজ রহিম মায়ানের সঙ্গে মেতেছেন খুনসুঁটিতে। হোম কোয়ারেন্টাইনে বেশ মজা করে সময় কাটাচ্ছেন পিতা-পুত্র। ছোট্ট মায়ান দুষ্টুমি করে মজা যেমন পাচ্ছে, তেমনি আবার বাবার কথাও শোনার চেষ্টা করছে শতভাগ। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন মুশফিক। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বাবার মাথাসহ মুখমণ্ডল মাসাজ করে দিচ্ছে ছোট্ট মায়ান। বাবা-ছেলের ভালোবাসার এই মধুর ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সারা বিশ্বে। ইতোধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু খেলা বন্ধ তাই অনুশীলনও নেই। তবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেটরক্ষক মুশফিকুর একটু ব্যাতিক্রম। করোনার কারণে খোলা মাঠে ব্যাটিংয়ের সুযোগ না থাকলেও, ঘরের মধ্যেই অনুশীলন চালিয়ে নিচ্ছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবলখ্যাত এই ব্যাটসম্যান। নিজের শোবার ঘরকে বানিয়েছেন ছোটখাট জিম আর ঘরের করিডোরকে বানিয়েছেন নেট। সেখানেই চলছে নিয়ম করে মুশফিকের ফিটনেস এবং ব্যাটিং অনুশীলন। | 12 |
দুর্বল ঘূর্ণিঝড় 'গুলাব' ভারতের ওডিশা প্রদেশে আঘাত করেছে। ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতি নিয়ে বাংলাদেশ সময় রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ কলিঙ্গপট্টম এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে। এর প্রভাবে সন্ধ্যার পর থেকেই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ মেঘলা হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সোমবার দেশের উপকূলীয় এলাকা ছাড়া অন্যত্র ওই ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে সোমবার বিকেল নাগাদ বঙ্গোপসাগরে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি দ্রুত নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে সোমবার দেশের বেশির ভাগ এলাকায় তেমন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় গুলাবের আঘাতের স্থানটি বাংলাদেশ থেকে বেশ দূরে ছিল। এর প্রভাবে ঝোড়ো বাতাস বা বৃষ্টি কোনোটাই তীব্র হয়নি। তবে আজকালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তার প্রভাবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টি বাড়তে পারে। রাজধানীতে রোববার রাত সোয়া আটটা থেকে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। চলে রাত নয়টা পর্যন্ত। দুপুরের দিকেও রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আকাশ মেঘলা হয়ে সামান্য বৃষ্টি হয়। তবে ঘূর্ণিঝড় গুলাবের প্রভাবে নয়, এই বৃষ্টি হয়েছে মূলত দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট বজ্রমেঘের কারণে। সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ জায়গায় প্রখর রোদ ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, আকাশে মেঘ বেড়ে যাওয়ায় সোমবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। রোববার দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে ১৪ মিলিমিটার। আর ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে এক মিলিমিটার। দেশের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল রংপুরে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। | 3 |
রাজধানী কিয়েভের ওপর রাশিয়া সর্বাত্মক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। ইউক্রেন সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানান, মস্কোর বাহিনী কিয়েভের ওপর হামরঅর জন্য তাদের সবকিছু জড়ো করতে শুরু করেছে। গ্রাউন্ডওয়ার্ক তৈরীর জন্য কাছের শহরে তাদের ট্যাঙ্ক ও যান্ত্রিক পদাতিক ইউনিটগুলোকে নিয়ে আসতে শুরু করেছে। তিনি আরো জানান, রুশ কমান্ডাররা চেরনোবিল বিশেষ জোনের মাধ্যমে বেলারুশ থেকে আসা জ্বালানি সরবরাহ করছেন। এদিকে রুশ সামরিক বাহিনী খারকিভ, চেরনিহিব, সুমি ও দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী মাইকোলায়িভ ঘিরে ফেলার কাজ করছে বলেও জানা গেছে। কিয়েভের কাছের তিনটি শহরে অব্যাহত বোমাবর্ষণইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজধানী কিয়েভের উত্তরপশ্চিম দিকের তিনটি শহর বুচা, হোস্টোমেল এবং ইরপিনে অব্যাহতভাবে রুশ বোমাবর্ষণ চলছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী কিয়েভে পরিখা খনন করে এবং রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে সম্ভাব্য রুশ অগ্রাভিযান ঠেকিয়ে দেবার চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলছেন, রুশ সৈন্যরা পশ্চিম ইউক্রেনের ভিনিৎসিয়া বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি আরো হুঁশিয়ার করে দেন যে রুশবাহিনী কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ওডেসাতে বোমাবর্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেশ কিছু দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা খারকিভ শহরে আবারো বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলে খবর আসছে। ওডেসা শহরে যেকোনো সময় হামলা হতে পারে : জেলেনস্কিইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে রুশ বাহিনী এখন দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর ওডেসাতে বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই শহরে বেশ কিছু সামরিক তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে রাস্তা একেবারে শান্ত এবং জন-মানবহীন। কৃষ্ণসাগরের তীরের এই ঐতিহাসিক শহরে প্রায় দশ লাখ মানুষ থাকে। ওডেসা বন্দর মলদোভা সীমান্তের বেশ কাছে। শহরের একজন কর্মকর্তা মাইখাইলো শুমুশকোভিচ বলছেন, এর মধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ শহর ছেড়ে পালিয়েছে। তবে তিনি বলছেন, তারা লড়াইয়ের জন্যও প্রস্তুত। 'যেকোনো সময় এটা ঘটতে পারে', বলছেন তিনি।সূত্র : বিবিসি | 3 |
ফেনীর সোনাগাজীতে অধ্যক্ষের শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার পর অগ্নিদগ্ধ মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় চাকরি হারিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তার নাম নাম মামুন বিল্লাহ। কেবল চাকরি যাওয়াই নয়, সেইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে বহিষ্কার করার দাবিও উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মামুন বিল্লাহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৭ সালে স্নাতক শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিলেন। স্নাতকোত্তরে তার রাবিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিহত নুসরাতের বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। পরে খবরটি তাদের ফেসবুক পাতায় শেয়ার দেয়া হয়। সেখানে মামুন বিল্লাহ'র ফেসবুক আইডি থেকে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। গত ৬ এপ্রিল সকালে সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে পরীক্ষা কেন্দ্রের ছাদে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে বলা হয়। নুসরাত মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে মুখোশ পরা লোকজন তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাত মারা যান। অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় যৌন নির্যাতন মহামারী আকার ধারণ করেছেঅনলাইন প্রতিবেদক ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে "জীবনের জন্য সামাজিক আন্দোলন" নামে সামাজিক সংগঠন। শনিবার জীবনের জন্য সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মজুমদার তৌহিদের সঞ্চালনায় ও সংগঠনটির সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান খোকন, স্টার্মফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান সেলিনা আক্তার, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর, জীবনের জন্য সামাজিক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, দৈনিক যুগান্তরের সিটি রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন, দৈনিক আমার সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহিম প্রমুখ। মানববন্ধনে সাবেক সংসদ অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমান খোকন বলেন, দেশে যৌন নির্যাতন মহামারী আকার ধারণ করছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নুসরাত হত্যার সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সাথে সাথে সকলকে যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলার আহ্বান জানাচ্ছি। ড. সেলিনা আক্তার বলেন, নুসরাতের সাথে যে নির্মম আচরণ করা হয়েছে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই যে তিনি নুসরাতের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নুসরাতের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। | 6 |
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঠিকাদার হাশেম আলীর দায়ের করা মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক।গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন তাকে স্থায়ী জামিনের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের আইনজীবী শেখ আবু সাদাত মোহাম্মদ খায়ের।আবু সাদাত মোহাম্মদ খায়ের বলেন, জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলাল উদ্দিনের আদালতে দীর্ঘ সময় শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত দুই সিনিয়র আইনজীবীর বক্তব্য শুনে খায়রুল আলম রফিকের স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক জানান, আমি বিজ্ঞ আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি ন্যায় বিচার পাবো।মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিচালক (তদন্ত) নুর খান জানান, মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিককে শায়েস্তা করা দুর্নীতিবাজদের এক বড় হাতিয়ার। ঠিকাদার হাশেম আলীর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক আর্থিক ও মানসিকভাবে যে ক্ষতির শিকার হয়েছেন, এর দায় কে নেবে?সাংবাদিক খাইরুল আলম রফিকের পক্ষে জামিন শুনানি করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. আব্দুল্লাহ আল বাকী। | 6 |
দরজায় কড়া নাড়ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্ব। আর ৩ দিন পরেই মাঠে গড়াবে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট আসর।আইপিএল খেলতে এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত পৌঁছে কোয়ারেন্টাইনে আছেন বাংলাদেশের দুই প্রতিনিধি সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। তবে দুজনের কারোর দলই পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে নেই।মোস্তাফিজের দল রাজস্থান রয়্যালস এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে ৩ জয়ের বিপরীতে হেরেছে ৪ টিতে। ৬ পয়েন্ট নিয়ে রাজস্থানের অবস্থান পাঁচে। নিজেদের সর্বশেষ দুই ম্যাচেও হেরেছে মোস্তাফিজের রাজস্থান।সাকিবের কলকাতা নাইট রাইডার্সের তো আরও করুণ দশা। ৭ ম্যাচে কলকাতা জিতেছে মাত্র দুটিতে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান সাতে। নিজেদের শেষ তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরেছে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের দল।কলকাতা-রাজস্থান দুদলই প্রথম পর্বে ৭টি করে ম্যাচ খেলেছে। লিগ পর্বে বাকি আছে আরও সাত ম্যাচ। সেরা চারে উঠতে হলে কমপক্ষে ৫টি ম্যাচ জিততেই হবে কলকাতাকে। পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলগুলোর দিকেও। আর মোস্তাফিজের রাজস্থান বাকি সাত ম্যাচের চারটিতে জিততে পারলে পরের পর্ব অনেকটাই নিশ্চিত। | 12 |
ছেলেবেলায় বড়দের কাছে শোনা একটি গল্প মনে পড়ছে। গল্পটি হলো এমন-একদিন রাস্তার দুদিক থেকে দুজন লোক হেঁটে এক জায়গায় এসে থামেন। এমন সময় আলাপে আলাপে একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করেন, 'ভাইসাব, আপনার বাড়ি কোথায়?' উত্তরে লোকটি বলেন, তাঁর বাড়ি রসুলপুর। তখন প্রশ্নকর্তা তাঁকে বলেন, 'তাহলে আপনাকে একটা কচুরফুল।' এবার যে লোকটির বাড়ি জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি উল্টো প্রশ্নকর্তার বাড়ি জানতে চেয়ে জিজ্ঞেস করেন, 'ভাইসাব, আপনার বাড়ি কোথায়?' উত্তরে প্রথম প্রশ্নকর্তার জবাব, তাঁর বাড়ি বলেশ্বর। এবার দ্বিতীয় প্রশ্নকর্তা প্রথম প্রশ্নকর্তাকে বলেন, 'তাহলে আপনাকে একটা ঢেঁকি।' প্রথম প্রশ্নকর্তা চোখ বড় করে বিস্ময়ের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রশ্নকর্তার দিকে তাকান। বলেন, 'ভাইসাব, আপনার বাড়ি রসুলপুর, তার সঙ্গে আমি মিলিয়ে আপনাকে দিলাম কচুরফুল। আর আপনি আমার বাড়ি বলেশ্বরের সঙ্গে মিলিয়ে কিছু দিতে পারতেন! বলেশ্বরের সঙ্গে তো ঢেঁকি যায় না! যেটা দিলেন, এটা কোনোভাবেই মিলল না! কেমনে কী?' দ্বিতীয় প্রশ্নকর্তা মুচকি হেসে মুখে বাহাদুরি ভাব নিয়ে বলেন, 'মিললে মিলুক না মিললে নাই, দিতে তো পারলাম!' এই বলেই তিনি সামনে হাঁটতে শুরু করলেন। গল্পটি এখানেই শেষ হলে ভালো হতো!কিন্তু সরকার আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়াবে-এ খবরটি পড়ার পর আমার মাথায় ওই গল্পটিই কিলবিল করতে লাগল। কেন? সে কথাই বলব আজ। তার আগে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে নতুন খবরটি একটু বলে নিই। গণমাধ্যমে এসেছে যে গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন। দাম বাড়াতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুতি নিতে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের গত মাসের সমন্বয় সভায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও খবরে জানা যায়। যদি দাম বাড়ানো হয়, তবে চার বছরের মধ্যে এটি তিনবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘটনা হবে। আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বিইআরসি।বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন, ঠিক আছে। দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারের টাকার প্রয়োজন আছে। এ খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। বিদ্যুৎ খাত উন্নত হলে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা উন্নত হবে। দেশ এগিয়ে যাবে-এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে দেশের পরিস্থিতি কি তা সমর্থন করে? দেশ কি এখন স্বাভাবিক অবস্থায় আছে? করোনা সংক্রমণের পর থেকে গত দেড় বছরে বলতে গেলে মানুষ বেঁচে থাকার লড়াই করছে। একদিকে জীবন বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে জীবিকা বাঁচানোর সংগ্রাম। করোনার প্রভাবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২০-২২ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। হকার, দিনমজুর, লাখো কর্মী চাকরি হারিয়ে পথে বসেছেন। অসংখ্য ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এসএমই খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বড় শিল্পের মালিকেরা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন, এখন ঋণখেলাপি হওয়ার পথে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পর্যটন, রিসোর্ট, পরিবহন খাত রীতিমতো বিপর্যস্ত। করোনার আঘাত দেড় বছরের, কিন্তু ক্ষতির প্রভাব তৈরি করেছে কয়েক বছরের।এখনো করোনা চলে যায়নি। সামনে পরিস্থিতি কি আরও ভালো হবে না মন্দ, তা কেউ জানে না। ধনী, শিল্পপতি, বিত্তশালী থেকে শুরু করে রাস্তার দিন আনে দিন খায়-এমন মানুষও করোনার কারণে কমবেশি আক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত। এখন লকডাউন তুলে দেওয়া হলেও পুরো স্বাভাবিক হয়নি ব্যবসা-বাণিজ্য। ধারদেনায় জর্জরিত একেকজন। মাসের পর মাস চাকরি হারিয়ে সঞ্চয় ভেঙে খেয়ে অনেক মধ্যবিত্তের নিত্য দিনযাপন এখন একেকটি ভয়াল গল্প। সবার কথা গণমাধ্যমে আসে না। প্রতিটি পরিবারে সংকট, অভাব আর টানাটানির হাহাকার। এসব কজন জানে?কথায় বলে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা! যেখানে মানুষ প্রতিদিনের খাবার জোটাতে মরিয়া। লোকসান আর দেনার ভারে জর্জরিত। বন্ধ কারখানা কীভাবে খুলবেন এই চিন্তায় ঘুম হারাম। যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন তাঁরা আবারও কাজে ফিরতে পারবেন কি না, জানেন না। হাতে টাকা নেই। কাজ নেই। আবার প্রতিদিনের অপরিহার্য খরচ মেটাতে হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। চাল-ডাল-তেল-চিনি-পেঁয়াজ-মাছ-মাংস-কোনটির দাম সহনীয় আছে? এ রকম অবস্থায় আর কোনো বাড়তি খরচের বোঝা কি মানুষ সইতে পারবে? এই করোনাকালে মধ্যবিত্তের আয় তো বাড়েইনি; বরং কমেছে বা বন্ধ হয়েছে। বাচ্চার স্কুল বন্ধ, কিন্তু অনলাইন ক্লাসের ইন্টারনেট খরচ, স্কুলে ক্লাস হয়নি কিন্তু প্রতি মাসে বেতন দিতে হচ্ছে। এভাবে সবার খরচের পাল্লা ভারী হয়েছে।এমন ত্রাহি অবস্থায় যদি আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়, তখন কী হবে? মধ্যবিত্তের সংসারে খরচের আরও একটি পালক যুক্ত হবে! যাঁরা কারখানার মালিক তাঁদের খরচের খাতা লম্বা হবে। তাতে কী হবে? তাঁরা যেসব পণ্য উৎপাদন করেন, সেবা দেন-এই সবকিছুর দাম বাড়বে। ধরা যাক, বিদ্যুতের দাম বাড়ল। তখন রেস্টুরেন্ট তার খাবারের দাম বাড়াবে। যাঁরা চিপস, ব্রেড, চিনি, তেল উৎপাদন করেন, তাঁরা এসবের দাম বাড়াবেন। দোকানদার আবার দামের অজুহাতে আরেক দফা বাড়াবেন; অর্থাৎ যা কিছুই নিত্যপ্রয়োজন প্রায় সবকিছুতে বাড়তি টাকা দিতে হবে ভোক্তাকে। এভাবে ঘরে বিদ্যুতের বাড়তি বিল, দোকানে পণ্যের বাড়তি দাম, রেস্টুরেন্টে খাবারের বাড়তি বিল-এসব করতে করতে ভোক্তার খরচের সঙ্গে বাড়তি কত টাকা যোগ হবে, এটা এখন একটু আন্দাজ করা যেতে পারে।আসলে সরকার কখন কী করবে, তার একটা পরিকল্পিত হোমওয়ার্ক থাকা দরকার। এখন অগ্রাধিকারে কী করা উচিত? সবার আগে দরকার দেশের অর্থনীতিতে করোনার নেতিবাচক প্রভাব কতটা পড়ল, তার একটা বাস্তবসম্মত হিসাব বা জরিপ। ক্ষতি যে হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখতে হবে কোন কোন খাতে কতটুকু ক্ষতি হলো? কোন খাতে কত মানুষের চাকরি গেল? কত প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলো? তাদের জন্য কী করা যায়? আবারও প্রণোদনা দিতে হবে কি না? মানুষের কর্মসংস্থান দিয়ে, কাজে ফিরিয়ে তাঁদের নিত্যখরচ মেটানোর সুযোগ তৈরি করে একটা স্থিতিশীল স্বাভাবিক অবস্থা যখন ফিরবে, তখনই সরকার নতুন কোনো কর, মাশুল আরোপ করতে পারে।ভোক্তা, বিশেষ করে দরিদ্র, অতিদরিদ্র ও মধ্যবিত্তের ওপর যাতে চাপ না পড়ে, তা দেখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সুযোগ আছে বলেই একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া বা চাপিয়ে দেওয়া ভালো কথা নয়। আসলে সরকারের কাজের ভেতরে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর গবেষণার অভাবেই এমনটি হতে দেখা যায়। কখন কী করতে হবে, কোনটা আগে করা উচিত, এটা যাচাই-বাছাই না করেই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। কোনোটার সঙ্গে কোনোটা মিলিয়ে করা হয় না। যার ফল হয় উল্টো। যে কারণে আমার ওই গল্পটার কথা মনে হলো। সরকারও বিষয়টি সময়ের সঙ্গে যায় কি না, এটা এ সময়ে উপযুক্ত কি না, তার বাছবিচার না করে কে কী মনে করল তা না ভেবে, শুরুতে যে গল্পটি বলেছিলাম, তার দ্বিতীয় প্রশ্নকর্তার মতো 'মিললে মিলল না মিললে নাই'র মতো অবস্থায় আছে!এখন সরকারের আয়ের সময় নয়, বিনিয়োগের সময়। এমনিতেই কল্যাণমূলক রাষ্ট্র মানুষের স্বার্থ দেখবে আগে। এমন সরকারের উদ্দেশ্য আয় করা নয়; বরং ধারদেনা করে হলেও অপরিহার্য সেবা দেওয়াই সরকারের মূল কাজ। আরেকটি বিষয় করতে পারে তা হলো, বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণে সিস্টেম লস রয়েছে, তা কমিয়ে আনা। টাকার অঙ্কে সিস্টেম লস কিন্তু কম নয়। নিশ্চয় সরকারের কাছে এ হিসাব রয়েছে। এদিকে জোর মনোযোগ দেওয়া দরকার। প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, দুর্নীতি আর অপচয় রোধ করে সরকার এ কাজে দক্ষতা আনতে পারে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে। এ থেকেও সরকার চাইলে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে পারে।সত্যি কথা হলো, বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার একটি সুন্দর পথে রয়েছে। এখানে আরও সরকারি বিনিয়োগ দরকার। আর বিদ্যুৎ খাত হলো উন্নয়নের মূল শক্তি। এ খাতে আরও বিনিয়োগ হলে স্বাভাবিকভাবেই সার্বিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এখন ভোক্তা বা দেশের সাধারণ নাগরিকদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানোর সময় নয়। সময় হলে শুধু বিদ্যুৎ কেন; গ্যাস, পানিসহ সব বিলই বাড়াতে পারবে সরকার। সুযোগ তো রয়েছে। ওই সময় আসেনি। আগে গাছ বাঁচাতে হবে, গাছ টিকে গেলে, ফল ধরলে এটা খাওয়া যাবে, আবার বিক্রিও করা যাবে। কিন্তু গাছই যদি না বাঁচে, তাহলে ফল আসবে কোথা থেকে?লেখক: সহকারী সম্পাদক, আজকের পত্রিকা | 8 |
নরসিংদীর মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মনসুর সরকারকে অপসারণের দাবিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চরদিঘলদী বাজারে স্থানীয় লোকজন এই সভা করেন।প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন চরদিঘলদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ছাফির উদ্দিন প্রধান। এ সময় বক্তব্য দেন চরদিঘলদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, মাধবদী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহীন প্রমুখ।প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান আবু মনসুর সরকার সন্ত্রাসীদের গডফাদার, জুয়াড়ি, ও টেঁটা যুদ্ধবাজ। তাঁর কারণে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। তাঁর ছেলেও সন্ত্রাসী। এলাকাবাসী ভবিষ্যতে আর এমন সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান দেখতে চান না। ওই সভায় বিভিন্ন অপকর্মের মদদদাতা চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মনসুর সরকারের বিচার ও অপসারণ দাবি করা হয়।প্রতিবাদ সভায় উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মনসুর সরকার বলেন, 'এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া। আমি কোনো ঝগড়া ও সন্ত্রাসী কমর্কান্ডের মধ্যে ছিলাম না।' | 6 |
অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত আলোচিত ও ব্যবসাসফল 'আয়নাবাজি' ছবিটি এবার দেখানো হবে টেলিভিশনে। ঈদের আগের দিন রাত ৮টা ৪০ মিনিটে জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিতে প্রচারিত হবে ছবিটি। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাওয়া 'আয়নাবাজি'র বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, পার্থ বড়ুয়া, মাসুমা রহমান নাবিলা, লুৎফুর রহমান জর্জ প্রমুখ। কনটেন্ট ম্যাটারস লিমিটেড প্রযোজিত এ ছবির কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন গাউসুল আলম শাওন ও অনম বিশ্বাস। বিডি প্রতিদিন/৩১ আগস্ট, ২০১৭/ফারজানা | 2 |
দেশের আইসিটি খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজি (বিডি) লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. সারোয়ার জাহান চৌধুরী। তিনি সনির ইলেকট্রনিকস পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিষেবার বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে কাজ করবেন।গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে তাঁকে স্বাগত জানান স্মার্ট টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাফর আহমেদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মহিবুল হাসান, মহাব্যবস্থাপক (মানব সম্পদ বিভাগ) এ কে এম শফিক উল হকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।স্মার্ট টেকনোলজিতে যোগ দেওয়ার আগে মো. সারোয়ার জাহান চৌধুরী ইলেকট্রনিকস পণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রো মার্ট লিমিটেডে সিনিয়র ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার ছিলেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশে সনির হয়ে টানা ২০ বছর নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। | 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নৌমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বারবার ক্ষমাও চেয়েছেন। স্যরি বলেছেন, অ্যাপোলোজাইজ (দুঃখ প্রকাশ) করেছেন। মন্ত্রী যখন ক্ষমা প্রার্থনা করছেন, তাঁকে কি মাফ করা যায় না? ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আজ বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা সাবওয়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, 'সবাইকে সবিনয় অনুরোধ করব, অভিভাবকদের অনুরোধ করব-সবার সহযোগিতা চাইছি। দাবিগুলো মেনে নিয়েছি, পূরণ করার ব্যাপারে। আজকে রাস্তার যানবাহন পুড়িয়ে ফেলবে বা ভাঙচুর করবে-এ ভয়ে গাড়ি বের হচ্ছে না, যাত্রীদের কষ্ট হচ্ছে। এগুলো বিবেচনা করবেন।' বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের জামায়াত-শিবির উসকে দিচ্ছে কি না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, যৌক্তিক দাবিতে যদি রাজনীতির কূটকৌশল জড়িয়ে পড়ে, তাহলে আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ রকম রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটছে কি না, কেউ তাদের অতীত আন্দোলনে ব্যর্থতার কারণে কখনো কোটার ওপর, কখনো শিক্ষার্থীদের ওপর সওয়ার হচ্ছে কি না-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিনামা যৌক্তিক। দাবিনামা মেনে নেওয়ার পর যদি আন্দোলন হয়, সেটা কিন্তু অযৌক্তিক হবে। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'দাবিনামা মেনে নেওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছি। অনেকগুলো দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। যেটা বাকি আছে, সেটা সড়ক পরিবহন আইন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সে আইনটি অনুমোদন হওয়ার পর সংসদে যাবে। আশা করা হচ্ছে, এ আইনটি পাস হবে।' সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, অপরাধীদের দ্রুততার সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকিগুলো সড়ক পরিবহন আইনের মধ্য আছে। সংসদে পাস হলে প্রয়োগ করা যাবে। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের বিচারও সময়ের ব্যাপার। বিষয়টি কোমলমতিরা উপলব্ধি করবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অনেকগুলো দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এ বিষয়ে বলেছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে আহ্বান জানাব, যারা আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, তারা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেবে। সবকিছু দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হবে এবং যৌক্তিক সমাধানে যাওয়া হচ্ছে। | 9 |
রোনালদোর বয়স ৩৩ পেরিয়ে ৩৪ বছর চলছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তার বয়স হয়ে যাবে ৩৭ বছর। তখন রোনালদোকে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা হবে এক প্রকার অসম্ভব ব্যাপার। তবে পর্তুগাল কোচ সান্তোস চান রোনালদো খেলে যাক। অন্তত কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত না হোক পর্তুগাল দলের তরুণদের বেড়ে ওঠা পর্যন্ত রোনালদো দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাক। রোনালদো এবং তার দল পর্তুগাল এক কাভানির কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। দ্যাস কুইনাসরা নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে গেছে। কিন্তু উরুগুয়ের রক্ষণে ফাঁটল ধরাতে পারেননি রোনালদোরা। কাভানির জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে পর্তুগাল শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে। তবে পর্তুগালের হয়ে ১৫৪ ম্যাচ খেলে ৮৫ গোল করা রোনালদোকে এখনও পর্তুগালের দরকার বলে মনে করেন পর্তুগাল কোচ সান্তোস। তিনি বলেন, 'রোনালদোর এখনও ফুটবলে অনেক কিছু দেওয়ার আছে।' চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে উয়েফা ন্যাশনাল লিগ নামে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা আছে। পর্তুগাল কোচ অন্তত চান এর মধ্যে রোনালদো অবসর ঘোষণা করবেন না। তিনি বলেন, 'সেপ্টেম্বরে উয়েফার ন্যাশনাল লিগ ফুটবল টুর্নামেন্ট আছে। আমি আশা করবো রোনালদো দলের সঙ্গে থাকবে। দলের তরুণ খেলোয়াড়দের বেড়ে উঠতে সে অবশ্যই সহায়তা করবে। তাদের দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা হবে প্রকৃতিগত। কিন্তু তাদের জন্য দলের অধিনায়কের উপস্থিতির খুব দরকার। আমি আশা করছি রোনালদো তাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকবে।' বিশ্বকাপে পর্তুগালের খেলা নিয়ে দলটির কোচ বলেন, 'আমরা আমাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা পর্তুগালের মানুষের জন্য খুবই দুঃখিত যে তাদের জন্য লক্ষ্যটা পূরণ করতে পারিনি।' উরুগুয়ে দারুণ ফুটবল খেলে পর্তুগালের কাছ থেকে ম্যাচটি ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও মনে করেন পর্তুগাল কোচ সান্তোস। | 12 |
১৯৯৯ সালের গ্রীষ্মে ঢালিউডে পা রেখেছিলেন এক সম্ভাবনাময় তরুণ। ২১ বছর পর যিনি শাসন করছেন সেই চিত্রজগৎ। এত লম্বা সময় খুব কম নায়কের হাতেই ঢাকার চলচ্চিত্রশিল্পের শাসনক্ষমতা ছিল। প্রতিবছরই কোনো না কোনো সুপারহিট ছবিতে তিনি পোক্ত করেছেন তাঁর অবস্থান। তাঁর কিছু ছবি ব্যবসায় নজির গড়েছে, কিছু ছবি দর্শকের মন জয় করেছে, আর কিছু ছবি পেয়েছে সমালোচকদের প্রশংসা। তিনি শাকিব খান। আজ তাঁর জন্মদিন। এ উপলক্ষে আমরা পাঠকদের জানাব তাঁর অভিনীত ১০টি সিনেমার কথা। করোনার দিনগুলোতে দেশি ছবি দেখে সময় কাটানোর চিন্তা করছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য রইল আমাদের এই তালিকা: আমার স্বপ্ন তুমি (২০০৫)শাকিবের ক্যারিয়ারে এক টার্নিং পয়েন্ট এ ছবিটি। এতে শাকিব খানের অভিনয়ে তাক লেগে যায় ইন্ডাস্ট্রি। তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হন। 'আমার স্বপ্ন তুমি' গ্রামের এক অবুঝ তরুণী শাবনূরের গল্প। যাঁকে জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন মাস্তান স্বভাবের শাকিব। কিন্তু শহর থেকে এসে ধনী পুত্র ফেরদৌস তাঁকে বিয়ে করে উড়াল দেন। পিছু ধাওয়া করে বঞ্চিত প্রেমিকও। কীভাবে সেই ত্রিভুজ প্রেমের পরিণতি ঘটে, তা জানতে দেখতে হবে ছবিটি। শ্রুতিমধুর গানের ছবিটি পরিচালনা করেছেন হাসিবুল ইসলাম। কোটি টাকার কাবিন (২০০৬)এ ছবি থেকে বদলে যায় শাকিব খানের সংগ্রামী জীবন। ছবিটির ব্যাপক সাফল্য ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর মজবুত আসন গড়ে দেয়। প্রথমবারের মতো অপু বিশ্বাসের সঙ্গে জুটি বাঁধেন শাকিব। দুই শত্রু পরিবারের বিরোধের মধ্যে ভুল করে প্রেম করে বসেন শাকিব ও অপু। তাঁদের প্রেমকে শত্রুতার গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চান দুই পরিবারের প্রধান রাজ্জাক ও ফারুক। কীভাবে সেই শত্রুতা বন্ধুত্বে রূপ নেয়, তাই নিয়ে ছবির গল্প। পরিচালনা করেছেন এফ আই মানিক। চাচ্চু (২০০৬)শাকিবের ক্যারিয়ারে অন্যতম জনপ্রিয় ছবি 'চাচ্চু'। গল্পে শাকিব খানের ভূমিকা এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পুলিশ অফিসারের। বড় অফিসারের মেয়ে অপু তাঁর প্রেমে পড়েন। কিন্তু শাকিবের মিশন দুর্ধর্ষ অপরাধী ডিপজলের কবল থেকে ভাতিজি দিঘীকে উদ্ধার করা। আলীরাজের ভুলের কারণে কি মাশুল গুনবে নিষ্পাপ দিঘী? নাকি ভাইয়ের মেয়েকে ঠিক ঠিক রক্ষা করতে পারবেন শাকিব? এমন গল্পের ছবিটি পরিচালনা করেছেন এফ আই মানিক। প্রিয়া আমার প্রিয়া (২০০৮)শাকিবের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি এটি। মাসের পর মাস প্রেক্ষাগৃহ থেকে নামেনি 'প্রিয়া আমার প্রিয়া'। শাকিব এক হাবিলদারের ছেলে। কিন্তু প্রেমে পড়েন এসপি মিশা সওদাগরের বোন সাহারার। মিশার সঙ্গে দ্বন্দ্ব লেগে যায় শাকিবের। শাকিব বেপরোয়া। বন্ধুদের সাহায্যে সাহারাকে পেতে মরণখেলায় মেতে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কি দুজনের মিলন হয়? ছবিটি পরিচালনা করেছেন বদিউল আলম খোকন। মনে প্রাণে আছো তুমি (২০০৮)শাকিব-অপু একসঙ্গে অর্ধশতাধিক ছবিতে অভিনয় করলেও সব ছবিতে তাঁদের রসায়ন জমেনি। যে অল্প কিছু ছবিতে তাঁদের অভিনয় দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি 'মনে প্রাণে আছো তুমি'। বড় ব্যবসায়ী আহমেদ শরীফের মেয়ে অপু নিঃসঙ্গ জীবনে কীভাবে নিম্নবিত্ত রাজ্জাকের ছেলে শাকিবের আগমন ঘটে , আর তারপর শ্রেণির ব্যবধান ঘুচিয়ে কীভাবে তাঁদের মিলন ঘটে, তাই নিয়ে ছবির গল্প। শ্রুতিমধুর গানের ছবিটি পরিচালনা করেছেন জাকির হোসেন রাজু। ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না (২০১০)এ ছবিতে প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শাকিব খান। এ ছবিতে কাজী হায়াতের ছেলে শাকিব। তাঁদের বাসায় মেয়ের মতো বড় হয়েছেন আশ্রিতা অপু। শাকিবকে ভালোবাসেন রুমানা। উপযুক্ত হয়েও কেন রুমানা ঘর বাঁধতে পারেন না শাকিবের সঙ্গে? কেন অপুর মতো গরিবকে কাছে টেনে নিতে হয় শাকিবের, কোন সে রহস্য, তা জানতে হলে দেখতে হবে ছবিটি। পরিচালনা করেছেন জাকির হোসেন রাজু। খোদার পরে মা (২০১২)এ ছবিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন শাকিব খান। আর কেন তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হলো, তা জানতে হলে দেখা প্রয়োজন ছবিটি। মা ববিতা থেকে ছোটবেলায় আলাদা হয়ে যায় কিশোর শাকিব। এক অপরাধের দায়ে সংশোধনাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে ফিরে মাকে খুঁজে পায় না শাকিব। যখন সে মায়ের খোঁজ পায়, তখন তার বড় বিপদ। খোদার পরে যে মায়ের স্থান, তাকে কি রক্ষা করতে পারে শাকিব? প্রশ্নের উত্তর আছে শাকিব-সাহারা জুটির ছবিটিতে। পরিচালনা করেছেন শাহিন সুমন। হিরো দ্য সুপারস্টার (২০১৪)এটি শাকিব খানের প্রথম প্রযোজনা। ছবিতে খরচ করতে কমতি করেননি শাকিব। এতে শাকিব এক রহস্যময় যুবক। অপুর সঙ্গে পরিকল্পনা করে প্রেম করেন শাকিব। একই সঙ্গে ববির প্রেমেও পড়েন শাকিব। সেখানেও আছে বিশেষ উদ্দেশ্য। কেন শাকিব একের পর এক খুন করছেন, কেন দুই নারীকে নিয়ে তাঁর ছলাকলা, তারই মোড়কে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় 'হিরো দ্য সুপারস্টার'-এ। ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি পরিচালনা করেছেন বদিউল আলম খোকন। শিকারী (২০১৬)শাকিব খানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে প্রশংসিত ছবি। যৌথ প্রযোজনার এ ছবিতে শাকিব এক সন্ত্রাসী। সব্যসাচীকে খুন করার জন্য তার বাড়িতে এসে ওঠে চাকর বেশে। বাড়ির প্রতিটি সমস্যা চুটকি বাজিয়ে সমাধান করে ফেলে সে। তাকে দেখে সন্দেহ হয় সে বাড়ির মেয়ে শ্রাবন্তীর। একপর্যায়ে জানা যায় তার আসল পরিচয়। সব্যসাচীরই পালিয়ে যাওয়া ছেলে সে। তবে কেন বাবাকে খুন করতে চায় শাকিব? পরিচালনা করেছেন জয়দীপ মুখার্জি। নবাব (২০১৭)ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যবসাসফল ছবি 'নবাব'। এতে শাকিব খান এক পুলিশ অফিসার। শুভশ্রী তাঁর নাছোড়বান্দা প্রেমিকা। তাঁর আরেকটি পরিচয় তিনি সাংবাদিক। শাকিব একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ধরতে মরিয়া। তাঁর আছে একটা বেদনাঘন অতীত। যার সঙ্গে তাঁকে নিরন্তর লড়াই করতে হয়। ব্যক্তিগত লড়াইকে কীভাবে পেশাগত লড়াইয়ে পরিণত করেন শাকিব, তারই গল্প 'নবাব'। পরিচালনা করেছেন জয়দীপ মুখার্জি। | 2 |
ঘাটাইলে নিখোঁজের দুই মাস পর মোবাইল ফোনের সূত্রধরে শাকিল খান (১৫) নামের এক অটোরিকশা চালকের কংকাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার দুপুরে মধুপুর উপজেলার অরণখোলার শাল বনের ভেতর থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে। এ সময় পরনের কাপড় দেখে শাকিলের কংকালটি শনাক্ত করেন তার বাবা রহিজ খান। পুলিশ জানায়, গত ১১ অক্টোবর বিকেলে উপজেলার কামারচালা গ্রামের রহিজ খানের ছেলে অটোরিকশা চালক শাকিল খান বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এর পরের দিন তার বাবা ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর শাকিলের খোঁজে নামে পুলিশ। এক সপ্তাহ আগে শাকিলের ব্যবহৃত মোবাইলফোনটি ব্যবহার করা হচ্ছে জানার পর পুলিশ ফোন ব্যবহারকারীকে খুঁজে বের করে। তার দেওয়া তথ্যানুসারে, শনিবার রাতে উপজেলার নলমা গ্রাম থেকে মোতালেবের ছেলে জমির উদ্দিন (৩০), মজিদের ছেলে আমীর আলী (৩২) ও পাড়া কুশারিয়পা গ্রাম থেকে সালামের ছেলে শাহ আলম (৩৫) ও সিরাজ খানের ছেলে শফিককে (২৫) আটক করে পুলিশ। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রোববার মধুপুর উপজেলার অরণখোলা শাল বনের ভেতর থেকে শাকিলের কংকাল উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ওসি (তদন্ত) এনামুল হক চৌধুরী জানান, আটক চারজনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শাকিলের কংকাল উদ্ধার করা হয়। অটোরিকশাটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। | 6 |
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে (বিআরআই) চ্যালেঞ্জ জানাতে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি ইউরোর (৩৪ হাজার কোটি ডলার) বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপের এই জোট একে বলছে চীনের বিআরআইয়ের 'সত্যিকারের বিকল্প'।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্লোবাল গেটওয়ে স্কিম নামের এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বেশ আশাবাদী ইইউ। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলছেন, এটি একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হয়ে উঠবে।চীন তাদের বিআরআই প্রকল্প নিয়ে অনেক আগে থেকেই কাজ শুরু করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীন রেল, সড়ক, বন্দর ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাণিজ্য সঙ্গী হিসেবে দেশগুলোকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে নিচ্ছে বেইজিং। যদিও চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, এর মাধ্যমে ঋণের জালে বিভিন্ন দেশকে জড়িয়ে ফেলছে তারা।গ্লোবাল গেটওয়ে সম্পর্কিত ঘোষণায় ইসি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশগুলোর এমন এক অংশীদার দরকার, যারা টেকসই অগ্রগতি এনে দিতে পারবে।এখন ইইউ এই পরিকল্পনায় ঘোষিত অর্থ সংস্থানের পথ নিয়ে ভাবছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সদস্য দেশের কাছ থেকে যেমন, তেমনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাত থেকেও অর্থপ্রবাহের আশা করছে জোটটি। আর বিভিন্ন দেশে এই তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া হবে; অনুদান নয়।ভন ডার লিয়েন বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় রেখে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক পন্থায় বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব। প্রকল্পগুলো হতে হবে উচ্চমানের, যেখানে থাকবে উচ্চ মাথার স্বচ্ছতা ও সুশাসনের নিশ্চয়তা। যেসব দেশ এর সঙ্গে যুক্ত হবে, তারা যেন এর যথাযথ সুফল পায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে।কারা এর লক্ষ্য হবে? ইইউর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, আফ্রিকা নিশ্চিতভাবে এই তহবিলের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হবে।বলা প্রয়োজন, আফ্রিকা, এশিয়া অঞ্চলে চীনও বিনিয়োগ করেছে ব্যাপকভাবে। ইইউও একই দিকেই নজর রেখেছে। ফলে এ ক্ষেত্রে আরেক দ্বৈরথ সামনে হাজির হচ্ছে বলা যায়। | 3 |
হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে গৌতম গম্ভীরকে। ভারতের সাবেক ওপেনার ও বর্তমান সাংসদ গম্ভীরকে এই হুমকি দিয়ে দুটি ই-মেইল এসেছে পাকিস্তান থেকে। বৃহস্পতিবার এমন দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। এরই মধ্যে গম্ভীরের বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।অবশ্য আগেই জানা গিয়েছিল, গম্ভীরকে এই হুমকি দিয়েছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কাশ্মীর শাখা। আজ বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, গুগলের কাছে ওই ই-মেইল অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছিল তারা। গুগল জানিয়েছে, ই-মেইলটি পাকিস্তান থেকে এসেছে। আইপি অ্যাড্রেসও পাকিস্তানের।গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় প্রথম ই-মেইল পেয়েছিলেন গম্ভীর। সেখানে লেখা ছিল, 'আমরা তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে মেরে ফেলব।' বুধবার বেলা আড়াইটায় দ্বিতীয় হুমকির ই-মেইল পান সাবেক এই ভারতীয় ওপেনার। সেখানে লেখা ছিল, 'আমরা তোমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু গতকাল তুমি বেঁচে গেলে। যদি নিজের জীবন এবং পরিবারকে ভালোবাস, রাজনীতি ও কাশ্মীর সমস্যা থেকে দূরে থাকো।'এবারই অবশ্য প্রথম নয়, এর আগেও হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন গম্ভীর। ২০১৯ সালে অজ্ঞাত এক ফোনকলে সেই হুমকি এসেছিল তাঁর কাছে। | 12 |
বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তে নজরদারি এলাকা বাড়ালেও তাদের ক্ষমতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি আরও বলেছেন, বিএসএফ কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয়, সীমান্তে তাদের ক্ষমতা সীমিত। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি এলাকা ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলেমিটার করার নির্দেশনা জারি করে। গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ভোটাভুটিতে বিএসএফের নজরদারির এখতিয়ার বাড়ানোর প্রস্তাব খারিজ হয়। আজ বুধবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার লর্ড সিনহা রোডে বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ওয়াই বি খুরানিয়া বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিএসএফের ক্ষমতা বাড়ায়নি। ওয়াই বি খুরানিয়া বলেন, তাদের নজরদারির এলাকা বাড়ানো হলেও বাকি সবকিছু একই থাকবে। বিএসএফের কাজ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা তাদের কাজ নয়। তাই নজরদারি বাড়ানো হলেও তাদের ক্ষমতা বাড়ছে না। এ ছাড়া বিএসএফের এফআইআর বা মামলা করারও ক্ষমতা নেই উল্লেখ করে খুরানিয়া বলেন, বিএসএফ যেভাবে সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত, ভবিষ্যতেও সেভাবেই থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার নজরদারি এলাকা বাড়ালেও তাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে বিএসএফ অতীতে সীমান্তে যেভাবে কাজ করে আসছে, এখনো সেভাবেই কাজ করবে। গত ১১ অক্টোবর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিএসএফের এখতিয়ার এলাকা ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বর্ধিত করে। এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চুন্নী। মমতা ও চরণজিৎ সিং এই প্রস্তাব খারিজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকেও চিঠি দিয়েছেন। | 3 |
একাদশ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদের 'সাহসিকতার সাথে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট যুদ্ধে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। গতকাল শুক্রবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটারদের বলব আপনার ভোট নিজে দেবেন। আর যদি আপনার ভোট অন্য কেউ দিয়ে গেছে মনে করেন তাহলে আপনি সেখানে অবস্থান নেবেন, আপনার ভোট আপনি দিয়ে তারপর সেখান থেকে যাবেন। আপনার ভোট অন্য কেউ নিয়ে নেবে এটা যেন না হয়। আমরা জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ যদি নিজের ভোট নিজে দিতে পারে তাহলে শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত বিএনপি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ। নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'একই সাথে জনগণ সজাগ দৃষ্টি রাখবেন যাতে করে ভোটের আগের রাতে কেউ ভোটের বাক্স বোঝাই করতে না পারে, জাল ভোট দিতে না পারে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ভোটারদেরকে সন্ত্রস্ত্র ও ভোট প্রদান বিলম্বিত করতে না পারে। আমরা মনে করি এটা হলো জনগণের দায়িত্ব, ভোটারদের দায়িত্ব।' এজেন্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'যারা আমাদের এজেন্ট হয়েছেন তারাও সাহসী হবেন এবং সচেতন থাকবেন। এজেন্টদেরকে ভালো করে বুঝিয়ে দিতে হবে যেন ভোট গ্রহণের আগে ভোট বাক্সে কিছু নেই, কয়টা বাক্স দেয়া হয়েছে তা যেন তারা বুঝিয়ে নেন। ভোট সঠিকভাবে গণনা করে নির্দিষ্ট শিটে লিখে প্রিজাইডিং অফিসার স্বারের পর যেন আমাদের এজেন্টরা তাতে সই করেন। কোনো এজেন্ট সাদা কাগজে কিংবা খালি ফরমে সই করবেন না। এটা আমাদের প্রত্যেক এজেন্টের কাছে পরামর্শ বা নির্দেশ। কোনো অবস্থাতেই সেই নির্দিষ্ট কাগজে কোন প্রার্থী কত ভোট পেলেন এটা লেখার আগে আমাদের কোনো এজেন্ট সই করবেন না। বাজারে গুজব আছে, প্রিজাইডিং অফিসারের সাইন করা কাগজ আগেই সংগ্রহ করা হবে। যাতে করে কে কত ভোট পাইল নিজের মতো কইরা লিখে নেয়া যায়। প্রিজাইডিং অফিসাররা সরকারি বা বেসরকারি কর্মচারী তাদেরকে ভয় দেখিয়ে এটা করানো কোনো ব্যাপার না। কন্ট্রোল রুম স্থাপনভোট গ্রহণের দিন ও ফলাফল সংগ্রহে গুলশানে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান জানান, আমরা এই অফিসে কন্ট্রোল রুম করেছি। এখান থেকে আমরা সার্বণিক মনিটরিং করব। একইভাবে এই কার্যালয়ে আলাদা মিডিয়া সেন্টারও স্থাপন করা হয়েছে বিদেশী সাংবাদিকদের তথ্য প্রদানের জন্য।সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল খান, হায়দার আলী লেলিন, আমিরুজ্জামান শিমুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
নারায়ণগঞ্জের কোভিড ডেডিকেটেড খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে হাসপাতালের বেডে একটি কুকুর বসে আছে। রবিবার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের পরিচালক আবুল বাশার জানান, করোনা হাসপাতালের ভেতর এমনটা হওয়ার কথা না। আমি আপনার কাছে এটা প্রথম শুনলাম। অন্য কোনো বিষয় থাকতে পারে। তবে তারপরও আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি যথাযথ পদক্ষেপ প্রহণ করব। সবাইকে সতর্ক হতে বলব। ছবিটি আপনার হোয়াটস অ্যাপে পাঠাই এ কথা বললে তিনি বলেন, না দরকার নেই। এর আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই হাসপাতালের করােনা ইউনিটে কুকুরের অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন সেই সময়কার হাসপাতাল সুপার গৌতম রায়। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা-ময়দা ও পেঁয়াজের দাম আগে থেকেই চড়ে আছে। অনেক মধ্যবিত্তও এখন বাধ্য হচ্ছেন টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইনে দাঁড়াতে। এর মধ্যেই অস্থির হয়ে উঠেছে সবজির বাজারও। শীত মৌসুমের নানা ধরনের সবজির সরবরাহ থাকলেও ৪০ টাকার কমে মিলছে না কোনো সবজি। এদিকে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রতিটি সবজির দামে রয়েছে বিরাট ফারাক। সব মিলিয়ে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে মোটেই স্বস্তিতে নেই নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তার আয় বাড়ানো ছাড়া বিকল্প কোনো পথ দেখছে না জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ভোক্তাদের আয় বাড়াতে হবে। অথবা তাদের না খেয়ে থাকতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।রাজধানীর হাতিরপুলের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা কবির হোসেন গতকাল শুক্রবার কারওয়ান বাজার থেকে সবজি কিনছিলেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে জানালেন, এক কেজি ক্ষীরা ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা ও একটি ছোট ফুলকপি ৪০ টাকায় কিনেছেন তিনি। অথচ গত সপ্তাহেও তিনি প্রতি কেজি ক্ষীরা ৫০ টাকা ও ফুলকপি ৩০ টাকায় কিনেছিলেন। তাঁর হিসাব মতে, এক সপ্তাহে সবজির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ২০ শতাংশ।হাতিরপুলের বাসিন্দা হয়ে ওই বাজারে না গিয়ে কেন কারওয়ান বাজার থেকে সবজি কিনছেন-জানতে চাইলে কবির হোসেন বলেন, কারওয়ান বাজার থেকে চার-পাঁচ ধরনের সবজি কিনলে ২০০-২২০ টাকা সাশ্রয় হয়।কারওয়ান বাজারের সবজির আড়তদার ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানালেন, এ বছর শীতকালে কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কম। গতকাল তিনি গোল বেগুন প্রতি কেজি ২২-২৩ টাকা এবং আলু ৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করেছেন। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রতি কেজি গোল বেগুন খুচরা পর্যায়ে ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। আর আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়।রাজধানীর আজিমপুর ছাপরা মসজিদের পাশে অস্থায়ী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। শিম ৬০-৮০ টাকা, উচ্ছে ১২০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, মটরশুঁটি ১০০-১২০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা, গাজর ৪০-৪৫ টাকা, টমেটো ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ কারওয়ান বাজারে আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৫০-৬০ টাকা, উচ্ছে ও করলা ৮০ টাকা, মটরশুঁটি ৭০ টাকা, শিম মান ও প্রকারভেদে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ও গাজর ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে এই বাজারে।কারওয়ান বাজারে খুচরা সবজি বিক্রেতা সোহেল জানান, আট-নয় দিন আগেও তিনি প্রতি কেজি মটরশুঁটি ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন সরবরাহ সংকটের কারণে ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। বৃষ্টিতে শিমের ফুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ বছর দাম চড়া। তবে গাজর, শালগম ও বাঁধাকপির দাম তেমন বাড়েনি।রাজধানীর বাজারে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চাল, খোলা আটা, ময়দা খোলা ও প্যাকেট, খোলা সয়াবিন তেল, ৫ লিটারের বোতল সয়াবিন তেল, পাম ও সুপার পাম তেল, দেশি-বিদেশি পেঁয়াজ, জিরা, ব্রয়লার মরগি, গরুর মাংস ও ডিমের দাম বেড়েছে। তবে দাম কমার তালিকায় রয়েছে রসুন ও হলুদ। | 6 |
চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে স্পেনে বসবাস করছেন। নিজেই রান্না করেন। ঢাকায় এসেও তা-ই। তাঁর রান্নার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কম তেল আর কম মসলার ব্যবহার। অল্পস্বল্প জলপাই তেলে তেমনই কয়েকটি স্প্যানিশ খাবারের পদ রাঁধলেন মনিরুল ইসলাম। গাসপাচ্চো আন্দালুসউপকরণ: পাকা টমেটো ৬টা, ক্যাপসিকাম ১টা, শসা ১টা, ছোট পেঁয়াজ ১টা, রসুন ১টা, রুটি ১ স্লাইস, জলপাই তেল ৪ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, ভিনেগার ১ চা-চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ ও কালো গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ।প্রণালি: কিউব করে ক্যাপসিকাম, টমেটো, শসা ও পেঁয়াজ কেটে ব্লেন্ডারে দিন। রুটির স্লাইসটা টুকরা করে দিন। এবার বাকি সব উপকরণ মিশিয়ে একটু পানিসহ ব্লেন্ড করুন। পুরোপুরি মিহি না করে একটু দানা দানা থাকতে নামিয়ে একটা পাত্রে ভরে ফ্রিজে রাখুন। এরপর বরফের টুকরা দিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।ঝটপট সালাদ উপকরণ: পাকা টমেটো ৪টা, শসা ছোট ২টা, রসুনের কোয়া ২টা, জিরা গুঁড়া এক চিমটি, কালো গোলমরিচের গুঁড়া ১ চিমটি, কাঁচা মরিচ ৫টা, ক্যাপসিকাম দুই রঙের অর্ধেকটা করে। গাজর ১টা, জলপাই তেল ৩ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, অরেগানো ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো। চাইলে আনারস ও আপেলের টুকরা দিতে পারেন।প্রণালি: সব ধুয়ে বড় বড় করে কেটে নিন। এরপর লবণ, লেবুর রস ও তেল ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন। তাপাসউপকরণ: ছোট চিংড়ি (শুঁড় ছাঁটা) ২৫০ গ্রাম, জলপাই তেল ২ টেবিল চামচ, রসুন ১টা থেঁতলানো, শুকনা মরিচ ৫টা, পার্সলি ২ চা-চামচ ও লবণ স্বাদমতো।প্রণালি: কড়াইতে তেল দিয়ে রসুন নেড়ে নিন। রসুন বাদামি হলে তার মধ্যে চিংড়ি দিয়ে ভেজে নিন। মরিচগুলো ছুরিতে কেটে চিংড়ির মধ্যে দিন। পার্সলি ছড়িয়ে দিন। একটা পাত্রে তুলে নিয়ে ওপরে আবার অল্প একটু জলপাই তেল ছড়িয়ে দিয়ে ব্রেড টোস্টের সঙ্গে খেতে পারেন। আলাদা জলপাই তেল দেওয়ার কারণ রুটিতে চুবিয়ে অনেকে খেতে পছন্দ করেন। পাইয়াউপকরণ: মোটা সেদ্ধ চাল ৫০০ গ্রাম, মাঝারি আকারের ১টা মুরগি, ছোট ফুলকপি একটা, গাজর ১টা, সবুজ বরবটি বা শিম আধা কাপ, টমেটো ২টা, জাফরানের কয়েকটা আঁশ, এক্সট্রা ভার্জিন জলপাই তেল আধা কাপ, বড় রসুন ২টা, চার থেকে পাঁচ ইঞ্চি আকারের চিংড়ি মাছ ৪০০ গ্রাম, পানি ১ লিটার ও লবণ স্বাদমতো।প্রণালি: চিংড়ির শুঁড় কেটে পরিষ্কার করে নিন। মুরগি কেটে ছোট ছোট করে নিন। এবার চিংড়ি ধুয়ে একটা পাত্রে ১ লিটারের বেশি পানি দিয়ে সেদ্ধ হতে দিন। এই পানিতে কিছুটা লবণ দিয়ে দিন। অন্য একটি পাত্রে তেল ও রসুনের কুচি দিয়ে নেড়ে নিন। রসুন বাদামি হলে মুরগিটা ঢেলে দিন। দুই মিনিট পর টমেটো টুকরা করে দিন। এবার আলাদা পাত্রে সেদ্ধ হতে দেওয়া চিংড়ি তুলে রেখে পুরো পানিটা মুরগিতে ঢেলে দিন। জাফরান দিন। এবার চাল ধুয়ে মাংসের মধ্যে ঢেলে দিন। গাজরের টুকরা দিন। চাল ফুটে ভাত হয়ে এলে আলাদা সেদ্ধ করে রাখা শিম ও ফুলকপি মিশিয়ে দিন। এরপর বরবটি ওপরে ছড়িয়ে দিয়ে ঢেলে রাখুন। কয়েক মিনিট পর ওপরে চিংড়ি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। রসুনের স্যুপউপকরণ: পাউরুটি ১ স্লাইস, ১টা রসুন, ৩ টেবিল চামচ জলপাই তেল, জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ, পাপড়িকা ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, পানি ৫ কাপ ও ডিম ১টা। প্রণালি: কড়াইতে তেল দিন। এবার রসুনের কুচি ও রুটির টুকরা দিয়ে নেড়ে নিন। পুড়ে যাওয়ার আগেই পানি ঢেলে দিন। এবার লবণ দিন। জিরা গুঁড়া ও পাপড়িকা দিয়ে নেড়ে নিন। মিনিট পাঁচেক পরে একটা ডিম ভেঙে মিশিয়ে দিন। গরম-গরম নামিয়ে পরিবেশন করুন। তরতিয়া স্পানিওলাউপকরণ: ডিম ৫টা, আলু ৪টা (পাতলা করে কাটা), পেঁয়াজ কুচি ১টা, জলপাই তেল আধা কাপ ও লবণ স্বাদমতো।প্রণালি: একটা ননস্টিক প্যানে তেল দিয়ে আলু ও পেঁয়াজ দিয়ে নেড়ে ও ঢেকে সেদ্ধ করে নিন। ডিমগুলো আলাদা একটা পাত্রে ভেঙে ফেটে নিন। এবার আলু সেদ্ধ হলে নামিয়ে তেল ঝরিয়ে আলুগুলো ডিমের মধ্যে মিশিয়ে দিন। এবার প্যানে আধা চা-চামচ পরিমাণ তেল দিয়ে ডিম-আলুর মিশ্রণটি ঢেলে দিন। কয়েক মিনিট পর পুরোটা উল্টে দিন। দুই পাশ ভাজা ভাজা হলে নামিয়ে কেটে পরিবেশন করুন। প্রতিটি রেসিপি চারজনের হিসাবে দেওয়া হয়েছে। ছবি: সুমন ইউসুফ। | 4 |
বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জিয়াউর রহমান, খন্দকার
মোশতাকরা জড়িত ছিল। বঙ্গবন্ধু মানুষকে বিশ্বাস করতেন। তাই তিনি নিজের
নিরাপত্তার কথা ভাবেননি। ফলে খুব সহজে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা
হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের এসব মদদদাতার বিচার করতে হবে। স্বাধীনতার প্রায়
অর্ধশত বছর পর যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জননেত্রী শেখ হাসিনা করতে পারেন,
তাহলে তাদের বিচারও অসম্ভব কিছু নয়। এর জন্য যে তদন্ত কমিশনের কথা বলা
হচ্ছে, সেটি করতে হবে।
শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট
ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে 'স্মরণে শপথে ১৫ আগস্ট' শীর্ষক আলোচনা সভায়
বক্তারা এসব কথা বলেন। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। এতে
প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব
রঞ্জন কর্মকারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের
সাবেক গভর্নর ও বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ফরাসউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত
অন্যতম সহযোগী হাজী গোলাম মোর্শেদ, কবি নির্মলেন্দু গুণ, অ্যালামনাইয়ের
সিনিয়র সহসভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার, সহসভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী
পারভেজ প্রমুখ। সভায় আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু কেবল একটি নাম নয়, এটি একটি
ইতিহাস ও সংগ্রামের নাম। আর তার জীবনাদর্শকে আমরা একটি দর্শন হিসেবে
বিবেচনা করি। জাতিসংঘের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'বিশ্ব আজ দুভাগে
বিভক্ত, একদল শোষক আরেক দল শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।' এর মাধ্যমে তিনি
প্রমাণ করেছেন, তার নেতৃত্ব শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্ব পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে
গেছে। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির জন্য একটি কলঙ্কিত দিন। এদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার
উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত ছিল না। একটি জাতিকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে
মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিরা তৎপর হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে জিয়া-মোশতাক
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। তার প্রমাণ তাদের পরবর্তী কর্মকাণ্ড এবং
আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশি ও বিদেশি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে পাওয়া
যায়। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
পদে পুনর্বাসিত করেছিল জিয়াউর রহমান। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে
বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে রেখেছিল। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর রক্তকে কুচক্রীরা ভয় পায়। সেই রক্তকে শেষ করে
দেওয়ার জন্য জিয়া পরিবার ও কুচক্রীরা আগেও তৎপর ছিল, এখনও আছে। তাদের রুখে
দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা
গড়ার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মধ্যে
নেই। তবে তার জীবনাদর্শ আমাদের মধ্যে আছে, সেগুলো আঁকড়ে ধরতে হবে। আমরা
বঙ্গবন্ধুর ঋণ তখনই শোধ করতে পারব, যখন আমরা তার আদর্শকে ধরে স্বপ্নের
সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে পারব। এ দেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে
দিতে পারব। ফরাসউদ্দিন বলেন, যেসব মিলিটারি ও সিভিল আমলা বঙ্গবন্ধুর লাশ ধানমণ্ডি
৩২-এর সিঁড়িতে রেখে মোশতাকের অভিষেক অনুষ্ঠান পালন করেছিল, তারা আজও
বিদ্যমান। তাদের ব্যাপারে তৎপর থাকা প্রয়োজন। অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষকে বিশ্বাস করতেন। তাই তিনি
নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবেননি। ফলে মোশতাকের মতো চাটুকাররা এত সহজে
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। সপরিবারে তাকে হত্যার মাধ্যমে ভেবেছিল
বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ ও বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে দেবে। কিন্তু যতই দিন
গড়াচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকে নতুন রূপে আমরা আবিস্কার করছি। কাজেই তাদের আকাঙ্ক্ষা
সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, আমার সৌভাগ্য যে, আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা
লিখেছি। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল, তারা আমাকেও বিভিন্নভাবে নির্যাতন
করেছিল। ১৯৬৭ সালে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রভাবিত হয়ে তাকে উৎসর্গ
করে কবিতা লিখেছিলাম। হাজী গোলাম মোর্শেদ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিচারণ
করেন। এর মধ্যে ১৫ আগস্ট, ৭ মার্চের ভাষণ এবং ২৫ মার্চের কাল রাতের ঘটনা
উল্লেখযোগ্য।
সভাপতির বক্তব্যে এ. কে. আজাদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি
হাতে নিচ্ছে। তেমনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনও বেশকিছু
কর্মসূচি নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের যুব সমাজ নিয়ে ভাবতেন। কারণ এই যুব
সমাজই রাষ্ট্রের প্রাণশক্তি। এই যুব সমাজকে যদি আমরা কাজে লাগাতে না পারি,
তাহলে দেশ সমৃদ্ধিশালী হবে না, দেশ আত্মনির্ভরশীল হবে না। তাই সেই যুব
সমাজের জন্য আমরা কতটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি, বেকারত্ব কতটা
কমাতে পারি- সে ব্যাপারে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই কর্মসূচি নেবে। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার ব্যাপারে
আমাদের জোর দিতে হবে। কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষিত কোনো
বেকার যেন না থাকে সে ব্যাপারেও আমরা কর্মসূচি হাতে নেব। ৮ শতাংশেরও বেশি
জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার আমাদের বিরাট সাফল্য। এ দেশের অর্থনীতিকে আরও
গতিশীল করার ব্যাপারেও আমরা কাজ করব। শিশু স্বাস্থ্যের ব্যাপারেও সারাদেশে
আমাদের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যে তাদের মাধ্যমে মাদক ও বাল্যবিয়ে বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান
পরিচালিত হয়েছে। আমরা সেসব শিক্ষার্থীকে সেভাবেই প্রশিক্ষিত করছি। জাতির
পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে তাদের কাজে লাগাব। এ. কে. আজাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও
চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। রাষ্ট্র এ মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেবে। তাই
বঙ্গবন্ধু সবার প্রথমে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে জোর দিয়েছিলেন। এর আগে মাত্র
সাত কোটি মানুষের জন্য খাদ্যের নিশ্চয়তা ছিল না। কিন্তু আজ প্রায় ১৮ কোটি
মানুষের এই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর এটি তখনকার সময়ে বঙ্গবন্ধুর
ভাবনারই ফসল। তার সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে সেই ভাবনা আজ বাস্তবে পরিণত
হচ্ছে। আমরা এখন বিভিন্ন দেশে খাদ্য রফতানি করছি। এ ধারা অব্যাহত রাখতে
হবে। | 6 |
বেইজিংয়ের বেধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার আগেই চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংডু কনস্যুলেট ছাড়তে শুরু করেছেনমার্কিনকূটনীতিকরা। সোমবার সকালের আগে এই কনস্যুলেট খালি করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল বেইজিং। এর আগেই সেখানকার কর্মীদের ফাইলের বক্স এবং আবর্জনার স্তূপ বহন করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। খবর বিবিসির বাণিজ্য যুদ্ধ, দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ, হংকংয়ে চীনের নিরাপত্তা আইন জারিসহ নানা বিষয় নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চেংডুর কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বেইজিং। গুপ্তচরবৃত্তি ও দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানোর অভিযোগ তুলে হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হোয়াইট হাউস। কনস্যুলেট খালি করতে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ার সময়সীমা শেষ হয় গত শুক্রবার। এরপর রিপোর্টারদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ভবনের দরজা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করেন। চেংডুতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট প্রাঙ্গণের বাইরে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে এবং সেটির সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মার্কিন কনস্যুলেট থেকে ট্রাক বেরিয়ে যাচ্ছে এবং কর্মীরা ভবন থেকে কূটনীতিক প্রতীকগুলো সরিয়ে ফেলছেন। স্থানীয় মানুষজন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়ে চীনের পতাকা নাড়াচ্ছেন, অনেকে সেলফি তুলছেন। পুলিশ দর্শনার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং যেকোনো ধরনের উস্কানি ঠেকাতে চেষ্টা করছে। ১৯৮৫ সালে চেংডুর এই কনস্যুলেটটি স্থাপিত হয়েছিল, যেখানে থেকে তিব্বতসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা হতো। এই কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার পর বেইজিংয়ে দূতাবাসের বাইরে মেইনল্যান্ড চীনে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি কনস্যুলেট থাকছে। পাশাপাশি হংকংয়েও একটি কনস্যুলেট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেরও ওয়াশিংটনে দূতাবাসের পাশাপাশি চীনের আরও চারটি কনস্যুলেট রয়েছে। | 3 |
রাশিয়ার একটি অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধজাহাজ কৃষ্ণসাগরে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বুধবার জাহাজটিতে বিস্ফোরণজনিত কারণে আগুন লাগার পর গতকাল বৃহস্পতিবার এটি ডুবে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ইউক্রেন দাবি করেছে, মস্কোভা নামের জাহাজটিকে লক্ষ্য করে তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। সে জন্যই জাহাজটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং অবশেষে ডুবে যায়। তবে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয়নি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আগুন লাগার পর মস্কোভা গতকাল ডুবে গেছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্স রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগুন লাগার পর মস্কোভাকে বন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় ঝোড়ো আবহাওয়ার মধ্যে সেটি ডুবে যায়।রাশিয়া এর আগে বলেছিল, গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লাগার পর সোভিয়েত যুগের ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার মস্কোভায় থাকা পাঁচ শতাধিক ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা নেপচুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুদ্ধজাহাজটিতে আঘাত করেছিলেন।এ ব্যাপারে রাশিয়া বলেছে, তারা বিস্ফোরণের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। এদিকে রয়টার্স লিখেছে, জাহাজটি ডুবে গেছে কি না এবং এ সংক্রান্ত তথ্যগুলো এখনো তারা যাচাই করতে পারেনি।গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আগ্রাসনের প্রথম দিনেই মস্কোভা যুদ্ধজাহাজ থেকে কৃষ্ণসাগরে স্নেক আইল্যান্ড রক্ষাকারী ইউক্রেনীয় সীমান্ত সৈন্যদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিস্ফোরকবোঝাই সেই জাহাজ অবশেষে ডুবে গেল। | 3 |
পাবনার সুজানগর উপজেলার চাঞ্চল্যকর রবিউল হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। রবিউল প্রথমে নিখোঁজ ও পরে হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় জড়িত নিহত রবিউল ইসলামের বন্ধু মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পরে পুলিশি জিঞ্জাসাবাদে বন্ধু রবিউলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন মামুন।মাটি খুঁড়ে রবিউলের মরদেহ তোলার সময়পাবন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবীর পিপিএম বলেন, রবিউল নিখোঁজের বিষয়ে সুজানগর থানায় একটি জিডি করা হয়। এ হত্যা রহস্য উদঘাটনে দায়িত্ব দেওয়া হয় আইটিতে দক্ষ ডিবির এসআই অসিত কুমারকে। অদম্য কৌতূহলী অসিত সব শুনে মনোযোগ দিলেন রবিউলের জীবনযাপনের ওপর। গভীর অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তিনি জানতে পারলেন রবিউলের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল মামুন নামে তার এক বন্ধুর। কিন্তু মামুন কোথায়? ঘটনার ১০-১৫ দিন পরই ঢাকায় চলে গেছেন চাকরির খোঁজে। তাই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মামুনকে ডেকে নেওয়া হয় এলাকায়। টকবগে তরুণ, সুশ্রী চেহারা, মুখ ভর্তি দাড়ি ও হাস্যোজ্জ্বল মুখ তার। হাদিস-কোরআনেও জানা শোনা।রবিউল যেদিন নিখোঁজ হন, সেদিন তার মোবাইলের শেষ কলে তিনি মামুনকে কী বলেছিলেন? আর তাকে পাঠানো এসএমএসটা কী ছিল? এমন দুই প্রশ্নের জালেই ফেঁসে গেলেন মামুন। পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় মামুন বলেন সেই ভয়ংকর রাতের কথা'- যোগ করেন তিনি।রবিউল হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশজিহাদুল কবীর সমকালকে জানান, পাবনার সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের উলাট গ্রামের রবিউল ইসলাম আর মামুন হোসেন পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দু'জনই সুজানগর উপজেলার সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজের বিবিএ দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র। মামুন ও রবিউল দু'জনই একটি মেয়েকে পছন্দ করতেন। তবে মেয়েটি পছন্দ করতেন রবিউলকে। ফলে রবিউলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মামুন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে রবিউলকে মামুন তার বাসায় ডেকে আনেন। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কৌশলে রবিউলকে কড়া ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি খাওয়ান মামুন। এরপর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় রবিউলকে। তারপর যা ঘটেছে তা কল্পনারও অতীত।রবিউলকে হত্যার পর তার মরদেহের জানাজা শোয়ার ঘরে একাই পড়েছেন মামুন। বন্ধুকে তার শোয়ার চৌকির পাশে মেঝের মাটিতে পুঁতে লেপ্টে দেন। ওই রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে বন্ধুর জন্য দোয়াও করেন মামুন। পরের দিন খুব স্বাভাবিকভাবে রবিউলের বাবা ও ভাইদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজি করেছেন। আবার ফাঁকে-ফাঁকে পরিচয় গোপন করে মোবাইল ফোনে রবিউলের ভাইয়ের কাছে মুক্তিপণের টাকাও চেয়েছেন মামুন। এর কিছুদিন পর তিনি চলে যান ঢাকায়। এর মধ্যে ৫ অক্টোবর হৃদয় নামে একজনকে আসামি সুজানগর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করে রবিউলের বড় ভাই। পুলিশ হৃদয়কে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক গ্রেফতার হয় আরো পাঁচজন। তারা টাকা চাওয়ার কথা স্বীকার করলেও রবিউলের কোনো হদিসই দিতে পারেননি।তাহলে রবিউল গেলেন কই? গোয়েন্দা পুলিশের এসআই অসীত কুমার এবং জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেলাল ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং মোবাইল কলের সূত্র ধরে মামুনকে আটক করে এবং তার স্বীকারোক্তি নিয়ে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় রবিউলের কঙ্কাল সারের মতো মরদেহ।জিহাদুল কবীর বলেন, 'লাশের চেহারা এত উৎকট, বোটকা পচা গন্ধে পেট গুলিয়ে আসে। তার চেয়েও বড় কথা, একটা মানুষের লাশের সঙ্গে একই ঘরে ৫৬ দিন ঘুমালোই বা কীভাবে? একদিন নয়, দুদিন নয়, গুণে- গুণে ছাপান্ন দিন ঘরের মেঝের নিচে লাশটা লুকিয়ে রাখা সহজ কথা নয়। তাও আবার নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধুর লাশ।'রবিউল হত্যায় অভিযুক্ত মামুনতিনি বলেন, ৫৬ দিন পর গত ১৭ নভেম্বর শুক্রবার সকালে শত-শত গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে মামুনের থাকার ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে বের করে আনা হয় রবিউলের লাশ।পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর, গত ৬ মাসে পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় সাতটি ক্লুলেস বা গুপ্ত হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এসব ঘটনায় দক্ষতার সঙ্গে রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছে।। স্বস্তির বিষয় এই যে, এসব হত্যাকাণ্ডে একজন নিরীহ মানুষও হয়রানি শিকার হয়নি। পুলিশের দক্ষতায় প্রকৃত খুনিরা ধরা পড়েছে। যা পাবনা পুলিশের বড় সাফল্য।
| 6 |
বার্সেলোনাকে বিদায় জানিয়ে লিওনেল মেসি এখন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের(পিএসজি) খেলোয়াড়। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকতা সারতে মেসি এখন পৌঁছে গেছেন প্যারিসে। ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই মেসির বন্ধু নেইমার ঠিকিই ঘোষণা দিয়ে দেন।গত কয়েক মৌসুম ধরে এক সঙ্গে খেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মেসি ও নেইমার। মেসি চেষ্টা করেছিলেন নেইমারকে বার্সায় ফিরিয়ে নিতে। এরপর নেইমারও চেয়েছেন পিএসজিতে মেসির সঙ্গে জুটি বাঁধতে। নেইমারের চাওয়াই এবার পূরণ হলো। এমন ইচ্ছা পূরণে নিজের উচ্ছ্বাসও লুকোতে পারেনি এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নিজের সঙ্গে মেসির সঙ্গে ভিডিও শেয়ার করে নেইমার লিখেছেন, 'আবার এক হচ্ছি।'এর আগে গতকাল বিকেলে মেসির সঙ্গে পিএসজির চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। মেসির চুক্তিতে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।ঘোষণা আসার পরই প্যারিসের উদ্দেশে উড়াল দেন মেসি। পিএসজিতে সব মিলিয়ে প্রতি মৌসুমে মেসির আয় হবে ৩৫ মিলিয়ন ইউরো। আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর আজ সংবাদ সম্মেলনের কথা রয়েছে মেসির। | 12 |
সম্পত্তির জন্য স্ত্রী ও ছেলের নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা কফিল উদ্দিন। চারটি বাড়ির মালিক হওয়া সত্ত্বেও এখন পথে পথে ঘুরছেন কুয়েতফেরত এই ব্যক্তি। আজ মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সম্পত্তির জন্য স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ও ছেলে সাইফুল ইসলামের করা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন কফিল উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে কফিল উদ্দিন বলেন, ১৯৮৯ সালে আমার বড়ভাই আব্দুল মজিদ মারা যাওয়ার পর ১৯৯২ সালে তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে আমি বিয়ে করি। ভাইয়ের মৃত্যুর সময় তার চার ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। তাদের আদর-স্নেহ দিয়ে বড় করেছি আমি। এরমধ্যে, আমারও এক ছেলের জন্ম হয়। আমার ভাইয়ের চার ছেলেকেই আমি নিজের টাকায় বিদেশে পাঠিয়েছি। দীর্ঘ ২৬ বছর কুয়েতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০১৯ সালে দেশে চলে আসি আমি। প্রবাসে থাকা অবস্থায় প্রতিবারই দেশে ছুটিতে এসে আমি জমি কিনেছি। ২৬ বছর প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে এলাকায় চারটি বাড়ি, স্থানীয় ধারিয়ারচর বাজারে একটি দোকান এবং ১৭ কাণি জমি কিনেছি। দেশে স্থায়ীভাবে থাকার মানসে সর্বশেষ যখন ছুটিতে আসি, তখন একটি জমি কেনার জন্য আমার স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। তিনি বলেন, আমি দেশে আসার পর ব্যবসার জন্য টাকা দিতে চাপ দিতে শুরু করে আমার ছেলে সাইফুল ইসলাম। পরে ১২ লাখ টাকা খরচ করে স্থানীয় একটি বাজারে তাকে কাপড়ের দোকান করে দিই। এদিকে, স্ত্রীর কাছে জমি কেনার জন্য গচ্ছিত রাখা ১০ লাখ টাকার হিসাব চাইলে উল্টো তার এবং ছেলে সাইফুলের নামে সম্পত্তি নিবন্ধনের চাপ দিতে থাকে। এসময় সব সম্পত্তির দলিল নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেয় তারা। আমি তাদের বলি, আগে আমার সম্পদের দলিল বুঝিয়ে দাও, এরপর আমি সেগুলো বণ্টন করে দেবো। কিন্তু তারা রাজি না হয়ে আমাকে শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। বিদেশে থাকা আমার ভাইয়ের চার ছেলের পরামর্শে তারা আমার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে। তিনি আরও বলেন, আমি খেলাম কিনা, শরীর ভালো কিনা- সেটার খবর নেয়ারও প্রয়োজন মনে করে না আমার স্ত্রী-ছেলে। সাড়ে ৫ মাস আগে আমাকে আমার ভাগিনার বাড়ি থেকে আমাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসে। এরপর আমাকে ঘরে আটকে রেখে সস্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য শারীরিক নির্যাতন চালয়। এক পর্যায়ে আমাকে ট্যাংকের সাথে মেশানো ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। পরে অচেতন অবস্থায় আমার টিপসই নিয়ে কিছু সম্পদ তাদের নামে লিখে নেয়। আমি বাঞ্ছারামপুর থানায় এ বিষয়ে জিডি করি। এরপর থেকেই আমি বাড়িছাড়া অবস্থায় রয়েছি। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে আমার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করি। মামলার পর থেকে আমাকে হত্যার জন্য খুঁজছে তারা। আমার নিজের ঘরবাড়ি থাকা সত্ত্বেও পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে আমাকে। আমি আমার ওপর যে অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতন হয়েছে, তার বিচার চাই। আমার সারা জীবনের কষ্টার্জিত অর্থে গড়া সম্পত্তিগুলো ফেরত চাই। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা চাই আমি। তবে বাবাকে নির্যাতন করে সম্পত্তি লিখে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কফিল উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, বাবা স্বেচ্ছায় আমাদের সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন। বাবাকে কখনোই সম্পত্তির জন্য নির্যাতন করা হয়নি। | 6 |
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান তখনই বন্ধ হবে যখন ইউক্রেন লড়াই বন্ধ করবে এবং মস্কোর চাহিদাগুলো পূরণ হবে। এই ব্যাপারে ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানায়, এরদোয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন পুতিন। রোববার বিবিসি অনলাইন এই খবর প্রকাশ করেছে। স্থল, জল এবং আকাশ- তিন দিক থেকে ইউক্রেনে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। নিজেদের অভিযান সম্পর্কে পুতিন আবারও বলেছেন, পরিকল্পনা এবং সূচি অনুযায়ীই আক্রমণ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধ চলার এই বক্তব্য গত কয়েকদিন ধরেই দিচ্ছেন পুতিন। যদিও পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান পরিকল্পনা মাফিক চলছে না। ক্রেমলিনের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুতিন বলেছেন তিনি আশা করছেন রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনীয়ান আলোচকরা আরও বেশি গঠনমূলক পন্থায় অংশ নেবেন। এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট অফিস বলেছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে সাধারণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন এরদোয়ান। | 3 |
একসময় মালদ্বীপকে বলে কয়ে হারাতো বাংলাদেশ। ৮ গোলে জেতার রেকর্ডও আছে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে রাজত্ব করেছে। এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও মালদ্বীপের বিপক্ষে জিততে পারেনি লাল-সবুজের দল। তবে শ্রীলঙ্কায় মহেন্দ্র রাজাপাকসে টুর্নামেন্টে সেই ভুল করেনি বাংলাদেশ। মালদ্বীপকে ২-১ হারিয়েছে জামাল-তপুরা। জামাল ভূইয়া দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর সমতা ফেরান মোহামেদ উমাইর। শেষদিকে গোল করে দলকে জয়ের আনন্দে ভাসিয়েছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। এই জয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ ফুটবলের ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ১৮ বছর মালদ্বীপের বিপক্ষে এই জয়খরা আজ কাটাল বাংলাদেশ। কলম্বোর রেসকোর্স মাঠে ম্যাচের ১১তম মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। জাতীয় দলের জার্সিতে এই প্রথম গোলের দেখা পান বাংলাদেশ অধিনায়ক। এর আগে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে দুটি গোল আছে তার। তবে সেটি ছিল বয়সভিত্তিক দলে। মালদ্বীপের বিপক্ষে এই লড়াই দিয়েই তাই মূল দলের হয়ে প্রথম গোলের দেখা পেলেন ৫৮তম ম্যাচে এসে। যদিও এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে উমাইয়ের গোলে সমতায় ফেরে মালদ্বীপ। প্রথমার্ধে সমতায় দেখেই বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতির পর মালদ্বীপ দাপট দেখানোর চেষ্টা করে। বেশ কয়েকবার বালাদেশের সীমানায় আক্রমণ করে মালদ্বীপ। মায়চের ৮৭ মিনিটে জুয়েল রানাকে নিজেদের সীমানায় ফেলে দেন মালদ্বীপ গোলকিপার আলী নাইজ। শ্রীলঙ্কান রেফারি পেনাল্টি দেন। স্পট কিকে লক্ষ্যভেদ করে ৩ পয়েন্ট এনে দেন তপু। এরই সঙ্গে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে মারিও লেমসও পেয়ে যান প্রথম জয়। ১৬ নভেম্বর রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। | 12 |
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পুলিশ পরিচয়ে পিকআপ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে মো. হৃদয় খাঁন ভূট্টু (৩২) এবং মো. শাহিন আলম (৩১) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পৌর শহরের উত্তর সুজাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার মো. হৃদয় খাঁন ভূট্টু গাজীপুর জেলার গাছা থানার টঙ্গী চেরাগ আলী বড় দেওরা মদুফা এলাকার সুরত আলীর ছেলে এবং মো. শাহিন আলম রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার রামকৃষ্ণপুর এলাকার মো. নওশাদ আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলবাড়ী পৌর শহরের উত্তর সুজাপুর এলাকায় মো. হৃদয় খাঁন ভূট্টু এবং মো. শাহিন আলম নামে দুই যুবক মোটরসাইকেল দিয়ে রাস্তা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি পিকআপ ছিনতায়ের চেষ্টা করেন। এসময় সন্দেহ হলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, পিকআপ ছিনতাইয়ের সময় স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। পরে পিকআপ চালক মো. আরিফুল ইসলাম আপেল বাদী হয়ে শুক্রবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আটক দুজনকে এরপর গ্রেপ্তার দেখানো হয়। | 6 |
সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় তারেক ও মাহফুজের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশের কাছে ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন মিয়া এবং আইনুদ্দিনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় পুলিশি পাহারায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তারিকুল ইসলাম তারেক ও শাহ মাহবুবুর রহমান মাছুমকে। এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তিন আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মিসবাউর রহমান রাজন ও আইনুদ্দিন। আজ পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে তাদেরকে আদালতে নেয়া হলে তারা এ জবানবন্দি দেন। এদিন দুপুর ১টায় কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যদিয়ে তাদেরকে আদালত প্রাঙ্গণে হাজির করে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানা পুলিশ। পরে তাদেরকে সিলেট এমএম-১ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে রাজনকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আর রনি ও আইনুদ্দিনকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান ও শারমিন খানম নীলার আদালতে নেয়া হয়। সেখানে পৃথকভাবেই তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। | 6 |
কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে মাগুরায় শনিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের চৌরঙ্গী মোড় সেগুন বাগিচায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ফাত্তাহ'র সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর। সমাবেশে বক্তারা বলেন, যারা উন্নয়ন চায় না, গণতন্ত্র চায় না, তারাই পচাঁত্তরের হুমকি দেয়। হুমকিদাতাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান বক্তারা। এর আগে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থল সেগুন বাগিচায় এসে শেষ হয়।
বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন মামলার বাদী। সাক্ষ্য শেষে আগামী ২০ আগস্ট জেরার জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (৩১ জুলাই) বিশেষ জজ-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জবান্দবন্দি গ্রহণ করা হয়। এর আগে আসামি মোয়াজ্জেমের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ ফারুক আহম্মেদ সাক্ষীর সাক্ষ্য না নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। তিনি বলেন, মামলাটি উচ্চ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ ধারা আবেদন করা হয়েছে সেহেতু সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রাখার অনুরোধ করছি। অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, উচ্চ আদালতের কোনো আদেশ না থাকায় সাক্ষ্য নিতে কোনো বাধা নেই। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আবেদন নামঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেন আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত। চলতি বছরের ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ১৭ জুন তাকে ফেনীর সোনাগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে করা হয়। ওইদিনই ফেনী সোনগাজী থানার এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম মোয়াজ্জেমকে আদালতে হাজির করে। পরে জামিন আবেদন করলে আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে 'অসম্মানজনক' কথা বলায় ও তার জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গত ১৫ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে গত ২৭ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানার পক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই দিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি সংক্রন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেন আদালত। ওইদিনই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পিবিআই-এর প্রতিবেদনে বাদীসহ ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে সোনাগাজী থানার চারজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী নুসরাতের মা। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে যাওয়ার পর থানার ওসির কক্ষে ফের হয়রানির শিকার হতে হয় নুসরাতকে। 'নিয়ম না মেনে' জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার আগ মুহূর্তে বান্ধবীকে মারধরের কথা বলে নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয় দুর্বৃত্তরা। মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ওইদিন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন নুসরাতের মৃত্যু হয়। | 6 |
ইসলামি ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশি গ্রাহকদের সেবাদানে নতুন পোর্টফোলিও চালু করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ভিসা (এনওয়াইএসই: ভি)। শরিয়াহ নীতি অনুযায়ী নতুন ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড ইসলামিক ব্যাংকিং কার্ডধারীদের জন্য ডাইনিং, ভ্রমণ ও কেনাকাটার মতো বিষয়গুলোতে আকর্ষণীয় সুবিধা প্রদান করবে। শরিয়াহ নীতি অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংকগুলো (সাধারণ এবং ইসলামি), যদি ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্ড গ্রাহকদের দিতে চায়, সেক্ষেত্রে এখন তারা এটা ভিসার নানা সংস্করণের কার্ডের মাধ্যমে করতে পারবে; যেমন: ক্লাসিক, গোল্ড, প্ল্যাটিনাম ও সিগনেচার। এসব কার্ডেই রয়েছে বিস্তৃত পরিসরের নানা সুবিধা। কার্ডগুলো হজ ও ওমরাহ, অবসর ভ্রমণ, শপিং, স্বাস্থ্যসেবা এবং খুচরা কেনাকাটার ক্ষেত্রে ইসলামি ব্যাংকিং গ্রাহকদের দুর্দান্ত সব সুবিধা প্রদান করবে। গ্রাহকরা এই অফারগুলো অনলাইনের পাশাপাশি ভিসা কার্ড গ্রহণ করে দেশের এমন যেকোনো দোকানে গিয়েও উপভোগ করতে পারবেন। ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সৌম্য বসু বলেন, 'বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অন্যতম প্রধান একটি বাজার এবং এ পদ্ধতিতে ব্যাংকিং গ্রাহকদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদ্ধতি সেবাদান করে আসছে। স্থানীয় বাজারে ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে ভিসা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ইসলামি ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কার্ডগুলোর একটি অসাধারণ পোর্টফোলিও চালু করতে পেরে আনন্দিত। আমরা অধীর আগ্রহে ব্যাংকগুলোর অংশীদার হতে এবং আমাদের ইসলামি ভিসা কার্ড আরও বেশি বাংলাদেশি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা করছি। জীবনকে আরও সহজ করে তুলতে ইসলামি কার্ডধারীদের ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ডাইনিং, শপিং ও আরও অসংখ্য বিষয়ে জানতে ভিসা একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট চালু করেছে; এর মাধ্যমে গ্রাহকরা কার্ডের সঙ্গে থাকা অফারগুলো সম্পর্কেও জানতে পারবে। লাইফস্টাইলের সুবিধা ছাড়াও কয়েকটি ইস্যুকারী ব্যাংকের ইসলামি কার্ডধারীদের যাকাত অনুদানের বিধানও থাকতে পারে। গ্রাহকরা আন্তর্জাতিক অফারসহ আরও বেশি সুবিধাগুলো পেতে পারেন বিশাল ভিসা অফার পোর্টালে। বিশ্বের প্রায় ৩৫ শতাংশ ইসলামি ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক বাংলাদেশে এবং বর্তমানে দেশে এ খাতে ২৫ শতাংশেরও এরও বেশি আয় করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং। ইসলামি ব্যাংকিংয়ে ভিসা অনেকদিন ধরেই কাজ করছে; মধ্যপ্রাচ্য, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়ও ভিসার এ অফারগুলো রয়েছে। এ কার্ডগুলোর জন্য ইস্যুকৃত ব্যাংক জুয়া খেলা, ডেটিং ও মদ এ রকম কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি নিষিদ্ধ করতে পারে। জুলাইয়ের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিং কার্ড বাজারে আনতে ভিসা এখন একাধিক ইস্যুকারীদের সঙ্গে কাজ করছে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 0 |
চিত্র নায়িকা পরী মণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে হওয়া মামলায় অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গুলশানে কলেজছাত্রী মুশরাত জাহান মুনিয়ার ঘটনায় হওয়া মামলার প্রায় দুমাস হলেও অভিযুক্ত বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে এখনো গ্রেপ্তার না করায় প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বলছে আনভীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানা রিকুইজেশন দিলে তারা ব্যবস্থা নেবেন। সোমবার (১৪ জুন) উত্তরা থেকে চিত্র নায়িকা পরী মণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ডিবি উত্তর শাখা ও সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার হারুন-অর-রশীদ। এ সময় পরী মনির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামির বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া হলো। অথচ বসুন্ধরা এমডির আনভরের বিরুদ্ধে সেটা দেখা গেল না কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরী মনির ঘটনায় সাভার থানায় মামলা হলেও আসামি উত্তরায় থাকেন। সাভার থানা পুলিশ আমাদেরকে রিকুইজিশন দেয়ার ফলে আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা নিয়েছি। বসুন্ধরা এমডির ব্যাপারে গুলশান থানা পুলিশ রিকোজিশন দিলেও আমরা একই ধরনের ব্যবস্থা নিব। প্রসঙ্গত, গুলশান দুই নম্বর এভিনিউয়ের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর প্লটের বি/৩ ফ্ল্যাটে একা থাকতেন কলেজছাত্রী মুনিয়া। চলতি বছরের মার্চ মাসে এক লাখ টাকা মাসিক ভাড়ায় তিনি ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন। ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ওই বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার মধ্যেই মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনভীরের নাম আসে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সায়েম সোবহান তানভীর কলেজছাত্রী মুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন, গুলশানে ফ্ল্যাট ভাড়া করে তাকে রেখেছিলেন। কিন্তু বিয়ে না করে উল্টো হুমকি দেওয়ায় মুনিয়া আত্মহত্যা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মুনিয়া আসামি আনভীরের শত্রুর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বলে তাকে হুমকিও দেয়া হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে এসময় বলা হয়, মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের প্রমাণ তারা পেয়েছেন। মামলার পর পুলিশ তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করে। তাতে ঢাকার আদালত সাড়াও দেয়। তবে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি তাকে। | 6 |
ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করছেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ফয়েজ আহমেদ ও তার বাবা খাজা আহমেদ। কিন্তু একই এলাকার কামরুল হাসান পলাশের চাঁদাবাজির মুখে পড়েছেন তারা। গত ২০ জুলাই রাতে ফয়েজ আহমেদের কাছে পলাশ পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ অভিযোগে ২২ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেছেন ফয়েজ। পলাশের বাসা দনিয়ার রসুলপুরে। এক সময় যুবদল করতেন তিনি। পরে নাম লেখান পরিবহন শ্রমিক লীগে। এ সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বর্তমানে নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। শুধু ফয়েজ নন, অভিযোগ রয়েছে দনিয়া ও রসুলপুর এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে অনেককেই পলাশ ও তার বাহিনীর চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়। যাত্রাবাড়ী এলাকায় লেগুনা, অটোরিকশা ও ফুটপাত থেকেও চাঁদাবাজি করে এই বাহিনী। যদিও জীবনের ভয়ে মামলা করা দূরে থাক, মুখ খুলতেও সাহস করেন না ভুক্তভোগীরা। হুমকির মুখে কেউ কেউ মামলার পথে না হেঁটে আপস করে ফেলেন। শনিরআখড়া থেকে নীলক্ষেত রুটে লেগুনা ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন শেখ সমকালকে জানান, এসএসপি ব্যানারে তাদের ৮-১০টি লেগুনা চলে। গত অক্টোবরে পলাশ তার কাছে মাসে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সাহাবুদ্দিন আতঙ্কিত হয়ে পলাশের সঙ্গে বিষয়টি মিটমাট করে ফেলেন। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে দনিয়ার রসুলপুরের শফিউল্লাহর নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করেন দনিয়ার রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বাদশা। পলাশ ও তার লোকজন শফিউল্লাহর কাছে বাদশাকে নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করতে নিষেধ করেন। এক পর্যায়ে ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন পলাশ। বাদশাকে মারধরও করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল পলাশ, ইমতিয়াজ, মিঠু, নবীসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় বাদশা মামলা করেন। কিন্তু পলাশের হুমকিতে পরে মামলা চালানোর বদলে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি আপস করে ফেলতে হয় তাকে। বন্ধ করতে হয় ওই ভবনে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করা। এ বিষয়ে জানতে বাদশার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কিছু জানাতে আগ্রহী হননি। তিনি শুধু বলেন, 'আমরা নির্ভেজাল মানুষ। ব্যবসা করে খাই। জীবনের ভয়ে অনেক কিছুই মীমাংসা করতে হয়।' ২২ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানায় ফয়েজ আহমেদের করা চাঁদাবাজি মামলায় বলা হয়- ফয়েজ আহমেদ ও তার বাবা খাজা আহমেদদের বাড়ি (নম্বর ৮২) দনিয়ার রসুলপুরে। পুরাতন ভবন ভেঙে তারা ৮২ নম্বর হোল্ডিংয়ে ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে ১০ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ২০ জুলাই রাত সোয়া ৯টার দিকে রসুলপুরের অনাবিল হাসপাতালের সামনে ফয়েজের কাছে পলাশসহ অজ্ঞাত কয়েকজন পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দিলে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয় তাকে। ফয়েজের করা মামলায় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ২২ জুলাই রাতে পলাশ ও তার ছয় সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে। সহযোগীদের মধ্যে রয়েছেন- রাসেল আহম্মেদ (১৯), হৃদয় (১৯), সাব্বির হোসেন (১৮), সরোয়ার হোসেন সজিব (২১), সাগর আহম্মেদ (১৮) ও আবু বক্কর সিদ্দিক (১৯)। আদালতে পাঠানো পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়- আসামিরা দনিয়ার রসুলপুর এলাকার পেশাদার চাঁদাবাজ এবং একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের সক্রিয় সদস্য। এদিকে গ্রেপ্তারের কয়েকদিন পরই পলাশ জামিনে বেরিয়ে আসেন এবং ফয়েজকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর ফয়েজ যাত্রাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ফয়েজ বলেন, পলাশ তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এখন মামলা প্রত্যাহার করার জন্যে চাপ দিচ্ছেন। পলাশ হুমকি দিচ্ছেন, ফয়েজ ও তার বাবা খাজা আহমেদকে হত্যা করা হবে। তাদের বাড়ির সামনে প্রায়ই পলাশ ও তার লোকজন মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেন। এসবের মধ্যে বাবাসহ তিনি আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পলাশ সর্বশেষ গত ২১ নভেম্বর লালবাগ থানার একটি মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। ১৫ নভেম্বর পলাশ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় এ মামলা করেন লেগুনাচালক মজিবর রহমান। এজাহারে বলা হয়, মজিবর শনিরআখড়া-নীলক্ষেত রুটে লেগুনা চালান। প্রায়ই সহযোগীদের নিয়ে পলাশ ওই রুটে গাড়ি চালাতে তাকে বাধা দেন। লেগুনা চালানো বন্ধ না করায় ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাকে মারধর করা হয়। এই মামলায় ২১ নভেম্বর পলাশ গ্রেপ্তার হন। কয়েকদিন আগে তিনি আবারও জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, পলাশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি এসব মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। পলাশের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিক কল করা হয়। কিন্তু সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। | 6 |
ইউটিউবে একধরনের ভিডিও অনেক দেখা যায়, আপনি কী করে একজন ভালো বক্তা হবেন বা কোটিপতি হওয়ার উপায় বা ঘরে বসে লাখ টাকা উপার্জন করা যাবে কী করে। নেটফ্লিক্সে একটা সিরিজ দেখলাম, যার নাম 'হাউ টু বিকাম আ টাইরান্ট'। কী করলে একজন উৎপীড়ক শাসক হওয়া যাবে। এটাকে বলা হচ্ছে অত্যাচারী শাসক হওয়ার হ্যান্ডবুক। ৩০ মিনিটের ৬ পর্বের সিরিজ। একটা এপিসোডে একেকজন মহা-উৎপীড়কের উৎপীড়ক হওয়ার কৌশল সম্পর্কে বলা হয়েছে। 'একচ্ছত্র ক্ষমতা! দাঁড়ান, আপনি জানেন, আপনি এটা চান। শুধু আপনি জানেন না, কী করলে এটা আপনি পাবেন?' ধারাভাষ্যকার পিটার ডিঙ্কলেজের কথাটা শুনে আগ্রহই তৈরি হয়। যদিও আমি নিজে অ্যাবসলিউট পাওয়ার বা চরম ক্ষমতা অর্জনও করতে চাই না, প্রয়োগও করতে চাই না; কিন্তু আমাদের দুনিয়ার ইতিহাসের নৃশংস স্বৈরশাসকেরা কী করে তা অর্জন করলেন, তা দেখার জন্য কৌতূহল বোধ করি। তবে এই সিরিজের শুরুতে আছে আরেকটা কথা, 'স্বাধীনতা দুনিয়ার নিয়ম নয়। আমরা শাসিত হতে পছন্দ করি!' কথাটা ভাবার মতো! পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষ কি কঠোর শক্তপোক্ত শাসকের শাসনকেই পছন্দ করে? অত্যাচারীর নৃশংসতা নিশ্চয়ই মানুষ পছন্দ করে না। তবে শাসকের কাছে রাজদণ্ড হাতে শক্তপোক্ত শাসনই হয়তো জনতা চায়, চায় যে দেশে যেন নৈরাজ্য না থাকে, একটা 'সিস্টেম' থাকে। হয় তো! 'হাউ টু বিকাম আ টাইরান্ট'-এর ছয় পর্বে ছয়জন টাইরান্টের ক্ষমতা নেওয়া, ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করা, ক্ষমতা ধরে রাখা ও ক্ষমতা প্রয়োগ করার কৌশলগুলো আলোচনা করা হয়েছে। প্রথম পর্বে এসেছেন হিটলার। পর্বের নাম: 'সিজ দ্য পাওয়ার'! ক্ষমতা দখল করো! হিটলার ছিলেন সামান্য একজন সৈনিক, যাঁর হাতের তালু ঘামত। ১৯৩৪ সালের মধ্যে তিনি হলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান ও নৃশংস স্বৈরশাসক। জনগণের মধ্যে যে অসন্তোষ আছে, তা তোমার কণ্ঠে ধারণ করো, প্রকাশ করো, সব দুঃখের কারণ হিসেবে একটা শত্রুকে চিহ্নিত করো, ওই শত্রুর বিরুদ্ধে সবাইকে খেপিয়ে তোলো, একটা প্রতীক বানাও, ইউনিফর্ম বানাও, জনগণকে তোমার এই খ্যাপামির একটা অংশ করে ফেলো। এরপর সুযোগ বুঝে হামলে পড়ো। দ্বিতীয় পর্বের উপজীব্য সাদ্দাম হোসেন, এই পর্বের নাম 'ক্রাশ ইয়োর রাইভালস'। তোমার প্রতিদ্বন্দ্বীদের গুঁড়িয়ে দাও। ১৯৭৯ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের খুন করতে থাকেন। তাঁর পার্টির ভেতরে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি এমনভাবে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেন যে বাকি সবার জন্য এটা একটা ভয়াবহ শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। সবার সামনে থেকে ডেকে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সবাই দেখে, সবার মেরুদণ্ড দিয়ে ভয়ের সাপ নেমে যায়। নিজের আত্মীয়স্বজনকেও খুন করতেন সাদ্দাম, এমনকি খুন করেছেন নিজের জামাতাদের। শাসন করো ভয় দেখিয়ে-ইদি আমিনকে নিয়ে পর্বের শিরোনাম। সত্যকে নিয়ন্ত্রণ করো-জোসেফ স্তালিনের কৌশল ছিল। গাদ্দাফির পর্বের শিরোনাম-একটা নতুন সমাজ গড়ে তোলো। চিরদিনের জন্য শাসন করো-উত্তর কোরিয়ার কিমকে নিয়ে পর্ব। ধারাভাষ্যকার বর্ণনা দিচ্ছেন, সব স্বৈরশাসক একটা মন্ত্র প্রচার করে, আমি একাই কেবল সব সমস্যার সমাধান দিতে পারব। জনগণ তা অনেক সময় বিশ্বাসও করে। ইদি আমিনকে বলা হতো জেন্টল জায়ান্ট। এই টাইরান্টদের অনেকে ভীষণ জনপ্রিয়ও থাকে শুরুতে। (আমাদের সমাজবিজ্ঞানের ক্লাসে শিক্ষিকা পড়িয়েছিলেন, স্বৈরশাসক হওয়ার একটা উপাদান জনপ্রিয়তা।) এই ছবির সমালোচকেরা বলছেন, এটা দেখতে দেখতে আমরা আমাদের সময়ের সঙ্গে মেলানোর অবকাশ পাই। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সত্যকে অপছন্দ করেন, তা তো আর এমনি এমনি নয়। ভারতেও আমরা দেখি শত্রু চিহ্নিত করা, ক্ষোভ উসকে দেওয়া, ইউনিফর্ম ধারণ করা...। তো আপনি যদি সত্যি সত্যি একজন অত্যাচারী স্বৈরশাসক হতে চান, এই সিরিজটা দেখে অনুশীলন করা শুরু করতে পারেন। আপনাকে দয়ামায়াহীন হতে হবে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিশ্চিহ্ন করতে হবে, প্রচুর মানুষ মারতে হবে, সত্যের প্রকাশ বন্ধ করতে হবে, ক্ষমতা অর্জন করে তা স্থায়ী করতে হবে। তবে আপনি যদি একজন নারী হন, তাহলে আপনার পক্ষে টাইরান্ট হওয়া সম্ভব নয় বলে এই সিরিজের ধারাভাষ্যকার বলে রেখেছেন। ইতিহাসে সব নৃশংস স্বৈরশাসকই ছিলেন পুরুষ। এই সিরিজের ছয় টাইরান্টের মধ্যে একজনও নারী নেই। আমার সিরিজটা ভালোই লেগেছে। তবে একজন মানুষ তার ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার জন্য একের পর এক মানুষ মারছে, কখনো যুদ্ধ বাধাচ্ছে (যেমন ইরাকের কুয়েত দখল), হিটলার বা স্তালিনের মতো মানুষেরা কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছিলেন, এসব দেখলে মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়! মানুষ কি কোনো দিনও মানুষ হবে না! আমরা কি 'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির, জ্ঞান যেথা মুক্ত', সেই দেয়ালবিহীন পৃথিবী পাব না! আনিসুল হকপ্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক | 8 |
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বাসচাপায় সিএনজি আরোহী স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কের জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতির কাটাজাঙ্গাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রত্নাবতী গ্রামের আবু সাইদ ও রুমি আক্তার।বুড়িচংয়ের দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কুমিল্লা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লার ময়নামতি এলাকায় সিলেটগামী তিশা গোল্ডেন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩৬৯১) সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সিএনজিটিকে চাপা দেওয়ার পর বাসটির সড়কের পাশে থাকা গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।এ ঘটনায় বাস ও সিএনজির আরও অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়।ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি মো. আনিছুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত দুটি গাড়ি আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। | 6 |
সন্দেহভাজন চার অপহরণকারীকে গুলি করে হত্যার পর তাদের মৃতদেহ আফগানিস্তানের হেরাত শহরের রাস্তার মোড়ে ক্রেনে ঝুলিয়েছে তালেবান। তালেবানের একজন কুখ্যাত কর্মকর্তা মৃত্যুদণ্ড এবং অঙ্গহানির মতো কঠোর শাস্তি আবার শুরু হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার একদিন পর এই ঘটনা ঘটলো বলে জানিয়েছে বিবিসি। এক কর্মকর্তা বলেন, একজন ব্যবসায়ী এবং তার ছেলেকে জিম্মি করার অভিযোগের পর বন্দুকযুদ্ধে ওই ব্যক্তিরা নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহরের কেন্দ্রে একটি ক্রেন থেকে একটি মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ওয়াজির আহমাদ সিদ্দিকি নামে স্থানীয় এক দোকানদার বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, চারটি মৃতদেহ মোড়ে আনা হয়, একটিকে সেখানে ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং বাকি তিনটি লাশ প্রদর্শনের জন্য শহরের অন্যান্য মোড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। হেরাতের ডেপুটি গভর্নর মৌলভী শাইর বলেন, অপহরণের মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্যই মৃতদেহগুলি এভাবে ঝুলিয়ে প্রদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ী এবং তার ছেলেকে অপহরণের খবর পেয়ে তালেবান সদস্যরা তাদের গুলি করে হত্যা করে। পরে ওই ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে মুক্তি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, একটি পিকআপ ট্রাকের পিছনে রক্তাক্ত দেহ দেখা যাচ্ছে যেখানে একজনের মরদেহ ক্রেনের সাথে ঝুলে আছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে একজন ব্যক্তিকে ক্রেন থেকে ঝুলিয়ে দেয়ার পর তার বুকে একটি সংকেতে লেখা হয়েছে- 'অপহরণকারীদের এভাবে শাস্তি দেওয়া হবে।' গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তালেবানরা তাদের আগের শাসনামলের তুলনায় একটি কিছুটা নমনীয় শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। কিন্তু ইতিমধ্যে দেশজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গেছে। এরআগে ১৯৯৬ সালে যখন তালেবান ক্ষমতায় বসে তখন গোষ্ঠীটির ৫ বছরের শাসনামলে কাবুলের স্পোর্টস স্টেডিয়ামে বা ঈদগাহ মসজিদের বিস্তীর্ণ মাঠে প্রায়ই প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো। | 3 |
নাটোরের সিংড়ায় ছাগল চুরির অভিযোগ তুলে সাগর ও অন্তর (১৭) নামের দুই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়েছে দুই যুবক।রোববার দুপুরে উপজেলার বিলদহর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তফা সরদার ও সোহেল হোসেন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবক হিসেবে পরিচিত। বাজার করতে যাওয়ার পথে দুই কিশোর সাগর ও অন্তরকে বিলদহর বাজারে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন চালায় তারা। তাদের কাছে থাকা মোবাইল ও টাকা-পয়সা নিয়ে নেয়। এ সময় স্থানীয় যুবক রিপন ও তার মা প্রতিবাদ করলে তাদেরও পিটুনি দেয় বখাটেরা। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মোস্তফা ও সোহেল এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত মোস্তফা সরদার বিলদহর গ্রামের মৃত আজাহার আলীর ছেলে এবং সোহেল কালীনগর গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের ছেলে। নির্যাতিত দুই কিশোর পার্শ্ববর্তী গুরুদাসপুর উপজেলার হরদমা গ্রামের বাসিন্দা। সাগর ওই গ্রামের দিনমজুর আসাদের ছেলে এবং অন্তর শাহিন ইসলামের ছেলে। দু'জনই স্কুলছাত্র। সাগরের মা জানান, রোববার দুপুরে সাগর ও অন্তর কাঁচাবাজার করতে বিলদহর বাজারে যায়। পথে মাদক ব্যবসায়ী মোস্তফা ও সোহেল তাদের ধরে মারধর করে এবং তাদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এ সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বলা হয়, তারা এলাকার একটি ছাগল চুরি করেছে। তাই তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে তিনি সেখানে ছুটে গিয়ে তার সন্তানকে খুঁজে পাননি। সাগরের মা বলেন, তার ছেলেকে বিলদহর হাটে পাঠিয়েছিলেন বাজার করার জন্য। সে কখনও ছাগল চুরি করতে পারে না। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এলাকাবাসী জানায়, মোস্তফা সরদার সিএনজিস্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলে। সোহেল মাদক ব্যবসায়ী। এলাকার সবাই তাদের মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী হিসেবে জানে। সোহেলের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে। নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, তিনি মারধরের ঘটনাটি শুনেছেন। খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। | 6 |
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা চতুর্থ বিশ্ব নেতা তিনি। সফরসঙ্গীসহ তিনি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে শেরিংকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে লোটে শেরিংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। তাকে স্বাগত জানানো হয় ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে। এরপর ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে শেখ হাসিনা অভ্যর্থনা মঞ্চে পৌঁছালে তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল গার্ড অব অনার দেয়। বিমানবন্দরে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর থেকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন, সেখানে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করার পাশপাশি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন তিনি। এরপর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে সেখানে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বিকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন লোটে শেরিং। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক হবে। পরে তাদের নেতৃত্বে হবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। আলোচনার পরে দু'দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গভবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন লোটে শেরিং। পরে তিনি জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে যোগ দেবেন। সূত্র : ইউএনবি | 9 |
সরকারি ভার্চুয়াল সভায় উলঙ্গ অবস্থায় হাজির হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল এপ্রিলে, যা নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল বিস্তর। কানাডার ওই এমপি আবারও বিতর্কে জড়ালেন। এবার অনলাইনে সরকারি কার্যক্রম চলার সময়ই তাকে দেখা গেল, কপি কাপে প্রস্রাব করতে। যদিও গতবারের মতো এই কাজের পর ওই এমপির সাফাই, 'ক্যামেরা যে অন ছিল, তা খেয়াল করিনি।' কানাডার এই এমপির নাম উইলিয়াম অ্যামস। সরকারি সভার সময় তিনি একটু বিরতি নিচ্ছেন বলে জানান। এরপর তিনি কফি কাপের মধ্যেই প্রস্রাব করতে শুরু করেন। অ্যামস সে দেশের শাসকদলেরই এমপি। এ ঘটনার পর তারা ক্ষমা চেয়ে একটি টুইট করেছেন। অ্যামসও বলেছেন, 'হাউস অব কমন্সের ভার্চুয়াল কার্যক্রমে আমি উপস্থিত ছিলাম। আমি যখন প্রস্রাব করছিলাম, তখন বুঝতে পারিনি, ক্যামেরা অন ছিল। এ ঘটনায় আমি খুবই বিব্রত ও লজ্জিত।' বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, 'চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' আজ সোমবার দুপুরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'আমরা মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করি। আমাদের মূল কাজ হলো জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া। আমরা সেই কাজে মনোযোগী। আমরা তুলে ধরতে চাই যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। যারা এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নেওয়া হচ্ছে।' এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যের ডিজি অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলমসহ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্নের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালামসহ চিকিৎসক নেতারা। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাতে লাগা আগুনের ফলে একটি কনটেইনারে রাসায়নিক থাকায় রাত পৌনে ১১টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৪ কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের পর আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। এতে এখন পর্যন্ত ৪১ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। নিহতদের অধিকাংশের পরিচয় এখনো মেলেনি। সেই পরিচয় নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেলের সামনে চলছে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ পরিবারের ৩০ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএর নমুনা সংগ্রহে চুল, রক্ত ও লালা নেয়া হচ্ছে স্বজনদের। তবে মরদেহগুলোর পরিচয় জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১ মাস। এই সময়ে মরদেহগুলো ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে মরদেহগুলো। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 9 |
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ ও অভিষেক সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে পৌর সদরের প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলম।প্রধান অতিথি বক্তব্যে সাংসদ বলেন, সীতাকুণ্ডের সাংবাদিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই জনপদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকদের এমন ঐক্য দেশের খুব কম উপজেলায় দেখা যায়।প্রেসক্লাব সভাপতি সৌমিত্র চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ পাঠ করার ইউএনও মো. শাহাদাত হোসেন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড মো. আশরাফুল আলম, থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ, পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফোরকান আবু, সাবেক সভাপতি ও কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এম. হেদায়েত, সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শিহাব উদ্দিন প্রমুখ। | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজশাহীতে আজ শুক্রবার বিকেলে জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে জনসভায় আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। জুমার নামাজের পর থেকে বাড়ছে নেতাকর্মী-সমর্থকদের ভিড়। সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকার পর চতুর্থ জনসভাটি আজ রাজশাহীতে হতে যাচ্ছে। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই জনসভায় যোগ দিচ্ছেন না ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে রাজশাহী বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা আসছেন। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 6 |
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে আগাম ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। ওইসব গ্রামগুলোর লক্ষাধিক অনুসারী সৌদি আরবের সাথে একযোগে ঈদুল আযহাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে আসছে। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের পীর বাড়ির সাদ্রা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার সৌদি আরবে ঈদ। তাই সাদ্রাসহ চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাদ্রা দরবার শরীফের বর্তমান পীর মাওলানা আবু জোফার আব্দুল হাই জানান, সাদ্রা দরবার শরীফের তৎকালীন পীর মাও. ইসহাক আরব দেশসমূহের সাথে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ দুই উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের নিয়ম চালু করেন। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামে ১৯২৮ সাল থেকে একদিন আগে এই প্রথা চালু করলেও এখন ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ দেশের নিয়মের বাইরে অর্থাৎ একদিন আগে ঈদ উদ্যাপন করেন। সাদ্রা ছাড়া জেলার ৪০টি গ্রামের একাংশে ওই পীরের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদ্যাপন করেন। গ্রামগুলো হচ্ছে- হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ কচুয়া ও শাহরাস্তির বেশ কয়েকটি গ্রাম। এছাড়া চাঁদপুরের পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, শরীয়তপুর ও চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি স্থানে মাওঃ ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদ্যাপন করেন। এর আগে একদিন আগে ঈদের জামাত করা নিয়ে মতবিরোধে সৃষ্ট সংঘর্ষে ১৯৮৬ ও '৮৭ সালে দুই ঈদে দু'শতাধিক মানুষ আহত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর সাদ্রায় ঈদের দিন ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন হবে। সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা এ ঈদ পালন করে থাকেন। দরবার শরীফের অনুসারীরা হানাফি মাজহাবের মতে বিশ্বের যে কোন দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রায় দুইশত বছর পূর্ব হতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করে আসছেন। | 6 |
দলের প্রতিটি পর্যায়ে দূষিত রক্ত বের করে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, 'দল থেকে আজকে দূষিত রক্ত বের করে দিতে হবে, বিশুদ্ধ রক্তের সঞ্চালন করতে হবে। যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে, তা থেমে যায়নি। সবার রিপোর্ট আমাদের কাছে রয়েছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' আজ শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এর আগে কাউন্সিল অধিবেশন উদ্বোধন করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়। আজ বসে দ্বিতীয় অধিবেশন। সেখানে নবমবারের মতো শেখ হাসিনাকে সভাপতি ও দ্বিতীয়বারের মতো ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। অপরাধীরা নজরদারিতে রয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'যারা লুটপাট, জমি দখল, চাঁদাবাজি করে, তাদের আমাদের দরকার নেই। তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন সারা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। এ অভিযান চলবে। তারা নজরদারিতে আছে। দলের প্রতিটি পর্যায়ে দূষিত রক্ত বের করে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করা হবে।' ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের মধ্যে দলকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না, দল শক্তিশালী না হলে সরকার শক্তিশালী হবে না। কিছু কিছু জায়গায় মাঝেমধ্যে দ্বন্দ্ব-কলহ দেখা যায়। এসব বিরোধ বন্ধ করতে হবে। বিতর্কিতদের দলে জায়গা নেই উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমাদের হাজার হাজার, লাখ লাখ নেতা-কর্মী। বিতর্কিত লোকজন আমাদের দরকার নেই। শীতের অতিথি পাখিরা সুসময়ে আসে, দুঃসময়ে তারা থাকবে না। সেই মৌসুমি পাখিদের আমাদের দরকার নেই।' আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশ ও জনগণকে বাঁচাতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হলে দলের নেতা-কর্মীদের বাঁচাতে হবে। আর বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। কিন্তু কখনো ষড়যন্ত্র করেনি। দলে অপ্রয়োজনীয় কারও দরকার নেই। কোনো কোন্দল থাকলে তা দূর করতে হবে। | 9 |
নটরডেম কলেজছাত্র নাঈমকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়ির চালক হারুন গ্রেপ্তার হয়েছে। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব। এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি হারানোর পর রাসেল মিয়াকে ময়লাবাহী গাড়ি চালানোর সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগে দুই পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. হারুন মিয়া ও মো. আব্দুর রাজ্জাককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া বরাদ্দকৃত গাড়ি নিজে না চালিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যকে চালাতে দেওয়ায় করপোরেশনের গাড়ি চালক (ভারী) মো. ইরান মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর গুলিস্তান মার্কেটের সামনে নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী গাড়িটি। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন রাসেল। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, রাসেল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তিন বছর আগে তার দৈনিক মজুরিভিত্তিক চাকরিটি চলে যায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে চাকরি হারালেও তিনি সিটি করপোরেশনের গাড়ি চালাচ্ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশ্রয় ছিল বলে জানা গেছে। এদিকে সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র দাবি করছে, রাসেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। চালক সংকটের কারণে অনেক সময় এ ধরনের কিছু লোক কাজের সুযোগ পায়। সহপাঠী নিহত হওয়ার পর ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কর্মসূচি ছিল নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীদের। বুধবার বিকেলে তারা নগরভবনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস শিক্ষার্থীদের মাঝে এসে বলেন, 'যাদের কারণে নাঈমের এই মৃত্যু, সেই দোষী ব্যক্তিদের ফাঁসি চাই।' এতে শিক্ষার্থীরা এদিনের মতো কর্মসূচি স্থগিত করেন। নাঈমের বাবা শাহ আলম বৃহস্পতিবার পল্টন থানায় রাসেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নাঈম হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। | 6 |
নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে এবার ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুকের চরিত্রে দেখা যাবে। সিনেমায় নয়, একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে। 'অন্যরকম' নামে সেই অনুষ্ঠানের নতুন পর্বেই হযরত ওমর ফারুকের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে 'বেদের মেয়ে জোছনা' এ নায়ককে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন পাঞ্জাবি ও পাগড়ি পরা অবস্থায় একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। আজ শুক্রবার (২৫ মার্চ) বৈশাখী টিভিতে সম্প্রচার হবে অনুষ্ঠানটি। এইচ এম বরকতুল্লাহর পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় বৈশাখী টিভির বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'অন্যরকম' সাধারণত প্রতি মাসের শেষ শুক্রবার সম্প্রচার হয়ে থাকে। অপসংস্কৃতি ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে দর্শককে সচেতন করাই এ অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য। | 2 |
এই প্রশ্ন আমি অনেকবারই শুনেছি। জাতীয় পর্যায়ে খুলনা বিভাগ থেকে এত ক্রিকেটার উঠে আসার কারণটা কী? এর পেছনে কোন থিওরি কাজ করছে? খেলোয়াড় সরবরাহে শুধু ছেলেদের ক্রিকেটে নয়, মেয়েদের ক্রিকেটেও খুলনা বিভাগ অনেক এগিয়ে। সম্ভবত ৬০ শতাংশ ক্রিকেটারই খুলনা বিভাগ থেকে এসেছে।ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খুলনা বিভাগ সফল এক দল হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি কাজ করেছে, আমাদের ড্রেসিংরুম অনেকটা আন্তর্জাতিক দলের ড্রেসিংরুমের মতোই ছিল। প্রায় সবাই তো জাতীয় দলেরই খেলোয়াড়। দেখা গেছে একাদশের ৯-১০ জনই বাংলাদেশ দলের! ড্রেসিংরুমের পরিবেশটাও অন্যরকম ছিল। মাঠের বাইরে হইচই, আনন্দ, আড্ডা-এসব তো ছিলই। আমরা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতাম মাঠের খেলাটা।জাতীয় লিগে একটা সময় মাত্র ৪০০ টাকা দৈনিক ভাতা (ডিএ) পেতাম। টাকা-পয়সার চেয়ে তখন খুলনা বিভাগীয় দলে খেলাটা অন্যরকম মর্যাদার ব্যাপার ছিল। আমাদের ভেতরে একটা তাড়াই ছিল যে হারা যাবে না! ভাবনায় কাজ করত, অন্য বিভাগের চেয়ে আমরা অনেক ভালো দল। একটা সময় খুলনা দলে সুযোগ পাওয়াও কঠিন ছিল। আমরা তো কখনো কখনো অন্য বিভাগকে খেলোয়াড় ধারও দিয়েছি! ধারে পাঠাতে চাইলে অনেকে আবার যেতে চাইত না! আমাদের দলে অনেক বোলার থাকত। কারও কারও একাদশে ঠিকঠাক সুযোগ মিলত না। তবু তারা অন্য দলে ধারে খেলতে চাইত না। তাদের কাছে খুলনার ড্রেসিংরুম শেয়ার করাটাও অনেক বড় ব্যাপার মনে হতো।একটা সময় জাতীয় দলে প্রচুর খেলোয়াড় সরবরাহ করেছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম বিভাগ। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে আমাদের সময় থেকে। জাতীয় দলে খেলোয়াড় সরবরাহে গত তিন দশকে খুলনাই সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থেকেছে।সাধারণত সেখান থেকে বেশি ক্রিকেটার উঠে আসে, যেখানে প্রচুর খেলা হয়। টুর্নামেন্ট আয়োজন হয়। অনুশীলনের ভালো ব্যবস্থা থাকে। সত্যি বলতে, খুলনা বিভাগে ওরকম আলাদা কিছু হয় না। বিসিবির নির্বাচক হিসেবে আমার সব বিভাগ দেখারই সুযোগ হয়। সব বিভাগ, জেলাতেই কম-বেশি যাওয়া হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে খুলনা বিভাগে আলাদা কিছু হয়, এটা বলার সুযোগ নেই।খুলনা বিভাগের ক্রিকেট অবকাঠামো কিংবা প্রচুর ক্রিকেট একাডেমি আছে, তাও নয়। তবু কীভাবে যেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্রিকেটার এই অঞ্চল থেকে উঠে আসছে। একটা হতে পারে, এই বিভাগের ছেলে-মেয়েদের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ-প্যাশন অন্য বিভাগের চেয়ে বেশি। অন্য বিভাগের ছেলে-মেয়েরা হয়তো অন্য বিষয়ে আগ্রহী থাকতে পারে বেশি। তবে খুলনা বিভাগের ছেলেমেয়েরা একবার খেলাটার সঙ্গে জড়িয়ে গেলে সহজেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসে না।আগেই বলেছি, সুযোগ-সুবিধায় খুলনা খুব একটা এগিয়ে থাকবে না, বরং অন্য অনেক বিভাগ সুযোগ-সুবিধায় খুলনার চেয়ে যথেষ্ট এগিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এ বিভাগের ছেলেমেয়েরা খেলাটা একটু অন্যভাবে নেয়। অন্যভাবে বলতে প্যাশন, কঠোর পরিশ্রম, সিরিয়াসনেস-ক্রিকেটটা অনেকে শুধু শখের বসে খেলে না। এটাকে জীবন-জীবিকা হিসেবেই নিয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে খেলোয়াড় তৈরি হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, সামনে থাকা কোনো বড় খেলোয়াড়কে দেখে। পাকিস্তানে একটা সময় অনেক ফাস্ট বোলার তৈরি হতো। তাদের সামনে ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসের মতো বড় বড় ফাস্ট বোলার ছিলেন। তাঁদের অনুসরণ করে অনেকে উঠে এসেছে। আমাদের খুলনা বিভাগেও অনুসরণ করার মতো খেলোয়াড়ের কিন্তু অভাব নেই। প্রায় প্রতিটি জেলায় জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় আছে। তাদের সামনে আইকন থাকছে, যাকে দেখে তারা ক্রিকেটে জড়িয়ে থাকতে অনুপ্রাণিত হয়েছে।যদি আমার কুষ্টিয়া জেলায় দেখি, বর্তমান বিসিবির ন্যাশনাল সেট-আপেই তো দুই-তিনজন আছে। আমার সময়ে আমি ছিলাম। ধরুন, কুষ্টিয়া থেকে যদি একজন খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে, এই জেলার আরও ১০০ ক্রিকেটার তার মতো হতে চাইবে। জাতীয় দলে খুলনা বিভাগের প্রায় প্রতিটি জেলার প্রতিনিধিত্ব থাকে। নড়াইলের মাশরাফি বিন মুর্তজা খেলেছে। মাগুরার সাকিব আল হাসান আছে। সাতক্ষীরার মোস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার আছে। খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর-প্রতিটি জেলারই খেলোয়াড় আছে জাতীয় দলে। এসব জেলায় কিন্তু তেমন ক্রিকেটীয় সুযোগ-সুবিধা নেই। কিন্তু তাদের সামনে 'আইডল' বা 'আইকনের' অভাব নেই। ছোট জেলায় বড় আইকন আছে তাদের সামনে।এই আইকনরা আবার অনেকেই বড় খেলোয়াড় হয়ে যাওয়ার পরও এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখে। যেমন এলাকায় টেপ টেনিসে বড় একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন হয়েছে। সময়-সুযোগ পেলে অনেকে সেখানে খেলে আসে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাই বলি। কুষ্টিয়া থেকে যখন কেউ ডেকেছে, সময়-সুযোগ পেলেই খেলে এসেছি। আগে বেশির ভাগ দর্শকই ঢাকায় এসে খেলা দেখতে পারত না। আমরা যখন এলাকায় খেলতে গেছি, চোখের সামনে দেখে হয়তো অনেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে। মাশরাফির কথাই ধরুন, নড়াইলে সে যখন খেলেছে, চোখের সামনে তাকে দেখে অনেক ছেলেই অনুপ্রাণিত হয়েছে।এই আইকনদের দেখেই একটা সময় ক্রিকেটের প্রতি অনেকে আকৃষ্ট হয়েছে। এখনো সেই ধারা অব্যাহত আছে কি না, সেটি অবশ্য জোর দিয়ে বলতে পারছি না। প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার, হাতে হাতে ফোন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিসক্রিয়। খেলার চেয়ে এসবের প্রতি আসক্তি বাড়ছে। পাঁচ-ছয় বছর আগেও দেখেছি মাঠের প্রতি তাদের কী টান, তুমুল আগ্রহ। আগে খুলনা বিভাগে ক্রিকেটের যে চর্চাটা দেখেছি, সেটা ইদানীং কমতে দেখছি।আগে টেনিস, টেপ টেনিস, ফাইভ স্টার বলে এই টুর্নামেন্ট-ওই টুর্নামেন্ট প্রায় সারা বছরই হতে দেখেছি। এখন ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ যত সহজ হচ্ছে, ততই এ ধরনের ক্রিকেট কমে যাচ্ছে। সুযোগ পেলেই সবাই ঢাকায় চলে আসছে। আমাদের সময়ে আগে পাড়া, এলাকা, জেলা পর্যায়ে প্রচুর খেলতে হয়েছে। আর এখন ছেলেরা এলাকায় খুব একটা থাকছে না। দ্রুত ঢাকায় চলে আসছে। নিজেকে গড়ার সময় তো দিতে হবে। আমরা নিজের পাড়া, এলাকা কিংবা জেলায় খেলে এই প্রাথমিক ভিতটা গড়েছি। এটা এখন কমে যাচ্ছে।হাবিবুল বাশারবাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক | 5 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার লইসকা বিলে ডুবে যাওয়া সেই ট্রলারটি ঘটনার ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর উদ্ধার করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ চেষ্টায় রবিবার বেলা ১১টার দিকে ট্রলারটিকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে তীরে আনা হয়। ট্রলারের ভেতরে আর কোনো লাশ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেনসংশ্লিষ্টরা। শুক্রবার বিকেলে ট্রলার ডুবির ঘটনায় মোট ২২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১১ জন নারী ও ৯ জন শিশু। স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকোব জুমা তাঁর জন্মস্থান কাওয়াজুলু-নাতাল প্রদেশে এসটকোর্ট কারেকশনাল সেন্টারে কারাজীবন শুরু করেছেন। আদালত অবমাননার দায়ে স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর কারাজীবন শুরু হয়েছে। খবর এএফপির। জুমাকে নিয়ে একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে চলে যায়। জুমার মেয়ে ডুডু জুমা সামবুডলা টুইটে জানান, তাঁর বাবার মনোবল এখনো দৃঢ়। তিনি বলেন, 'বাবাকে স্যালুট জানাই।'দক্ষিণ আফ্রিকায় এই প্রথম সাবেক কোনো প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড হলো। ৭৯ বছর বয়সী জুমাকে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। চলতি বছরের শুরুর দিকে দুর্নীতির তদন্তে হাজির না হওয়ায় আদালত অবমাননার দায়ে তাঁকে গত মঙ্গলবার এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আত্মসমর্পণ না করলে পাঁচ দিনের মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কারাগারের আদেশের পরে জুমা বলেন, মহামারির সময়ে এই বয়সে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়ার অর্থ মৃত্যুদণ্ড। জুমাকে যাতে গ্রেপ্তার না করা হয়, সে জন্য তাঁর বাড়ির বাইরে 'মানবপ্রাচীর' গড়ে তোলেন তাঁর সমর্থকেরা। গত ২৯ জুন আদালতের রায়ে বলা হয়, পাঁচ দিনের মধ্যে জুমাকে নিজ থেকে পুলিশের কাছে ধরা দিতে হবে। যদি তিনি তা না করেন, তাহলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ব্যাপারে সাংবিধানিক আদালত কিছুই করতে পারেন না বলে রায়ে বলা হয়।ক্ষমতায় থাকাকালেই জুমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তদন্ত করছিলেন দেশটির উপপ্রধান বিচারপতি রেমন্ড জোনডো। গত ফেব্রুয়ারিতে তদন্তের জন্য জুমাকে তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। এ কারণে তিনি আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হন। ২০১৮ সালে জুমার প্রায় ৯ বছরের শাসনামলের অবসান ঘটে। তিনি দাবি করে আসছেন, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। | 3 |
বান্দরবানে সড়কের ওপর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের সুয়ালক ইউনিয়নের লম্বা রাস্তা এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, নিহত নারীর নাম তৈয়বা সুলতানা (২৭)। তিনি বান্দরবান সদরের বালাঘাটা এলাকার মৃত ছৈয়দ আহমেদের স্ত্রী। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার গ্রামের থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বান্দরবান ফিরছিলেন। তবে কীভাবে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।বান্দরবান সদর থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) গোবিন্দ দাশ জানান, বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের সুয়ালক ইউনিয়নের লম্বা রাস্তা এলাকায় এক নারী রাস্তায় পড়ে ছিলেন। স্থানীয়রা সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানা নিয়ে আসে।তিনি জানান, পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বান্দরবান সদরজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। | 6 |
হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে রাজধানীর পল্টনে হেফাজত ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এঘটনা ঘটে। এসময় দুপক্ষকে ইট-পাটকেল ছুড়তে দেখা যায়।সরেজমিনে দেখা যায়, গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে সকালের দিকে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে সেখানে অবস্থান নেয় হেফাজতে ইসলাম সমর্থকরা। তখন তারা পরস্পর বিরোধী স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে দুপক্ষের মধ্যে।এসময় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।সবশেষ পল্টন মোড়ে ডাকবাংলো ভবনের সামনে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আশেপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। | 9 |
'এই ভাইরাস থামাতে যদি অন্য কোনো উপায় না থাকে, তবে আমার উপোস থাকতে কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু এ কথা আমি আমার সন্তানদের কীভাবে বোঝাই?' আমরা এই মর্মভেদী কথাগুলো মাত্র দুদিন আগে শুনছিলাম। কথাগুলো বলছিলেন ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের লাতেহার জেলার দাম্বি গ্রামের নেমি দেবী। তাঁর স্বামী ও ছেলে দুজনই পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা লকডাউনের কারণে ফিরতে না পেরে বহু দূরে মাঝপথে আটকা পড়েছেন। আমরা লোকালয় ঘুরে দেখেছি, মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেছি, গ্রামের পর গ্রাম বহু মা-বোন আমাদের কাছে একই ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন। এমনকি এসব কথা প্রধানমন্ত্রী মোদির আকস্মিক ২১ দিনের লকডাউনের ঘোষণার আগে থেকেই। এটি গত বুধবারের (১৯ মার্চ) ঘটনা। ভারতের ওপর করোনাভাইরাসজনিত সংকটের সর্বাত্মক প্রভাবক্রমে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। আপনার কিংবা আমার জন্য এটি এখনো ভবিষ্যতের বিষয়। কিন্তু অনেক অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের ওপর ইতিমধ্যেই এই সংকটের প্রভাব পূর্ণমাত্রায় পড়েছে। সংকটগুলো হলো, একদিকে কাজ না পাওয়া, অন্যদিকে খাদ্যসামগ্রী যৎসামান্য যা ছিল, তা দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেল সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণির মানুষেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী মজুত করার ফলে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম গেল বেড়ে। আশা করি, কেন্দ্রীয় সরকার সমগ্র ভারতে যে ২১ দিনের লকডাউনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে, তা সঠিক ছিল বলে প্রমাণ করতে পারবে। কিন্তু এই লকডাউনের (কার্যত কারফিউ) কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি সশব্দে জানান দিচ্ছে যে এখনই ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। এ কার্যক্রমে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য নগদ সহায়তা অতি প্রয়োজন। সহায়তার মধ্যে রয়েছে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের (পিডিএস) অধীনে রেশন ব্যবস্থা চালু করা। জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা আইন অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ ভারতীয় পরিবারের খাদ্য সহায়তা পাওয়ার কথা। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ গ্রামের এবং ৫০ শতাংশ শহরের অধিবাসী পরিবার অন্তর্ভুক্ত। দরিদ্র রাজ্যগুলোসহ অধিকাংশ রাজ্যে দেখা যায়, পিডিএস কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কাজ না করলেও অন্তত বিশাল জনগোষ্ঠীকে অনাহারে থাকা থেকে বাঁচিয়েছে। বাড়তি মজুত করা খাদ্যের ব্যবহারবর্তমান পরিস্থিতিতে পিডিএস কার্যক্রম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে এটি সচল রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এটির সম্প্রসারণও জরুরি। তা দুভাবে হতে পারে: এর আওতা ও বরাদ্দের পরিমাণ দুটোই বাড়িয়ে। সৌভাগ্যবশত ভারতে বিপুল পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০ বছর ধরে এ দেশে অতিরিক্ত খাদ্য মজুত আছে। বর্তমানে মজুতের পরিমাণ স্বাভাবিক আপৎকালীন সঞ্চয়ের দ্বিগুণ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেই এটির সর্বোত্তম ব্যবহার সম্ভব। ভারত সরকার যদি আগামী তিন থেকে ছয় মাসের জন্য পিডিএস রেশনের পরিমাণ দ্বিগুণ করে, তবে এমন সিদ্ধান্ত থেকে কেউ তাকে সরাতে পারবে না। তবে এই সিদ্ধান্ত নিলেও অধিকাংশ দরিদ্র মানুষের আয়ের ক্ষতিপূরণ হবে না। কিন্তু এর ফলে তারা অন্তত স্বস্তি পাবে এ কারণে যে, তাদের ঘরে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় খাদ্য থাকবে। পিডিএসের খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার জন্য কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, আঙুলের ছাপের বায়োমেট্রিক যাচাইপদ্ধতি আপাতত মুলতবি রাখা দরকার। কারণ, এই পদ্ধতি অনেক প্রাপককে বাদ দেয় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিতরণব্যবস্থা ও তত্ত্বাবধান সুশৃঙ্খল হতে হবে, যাতে রেশন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় ও প্রতারণা এড়ানো যায়। যেসব পরিবেশক প্রতারণা করতে গিয়ে ধরা পড়বে, তাদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এসব বাস্তবায়ন করা এখন পর্যন্ত সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। আসল কাজ আর দেরি না করে মজুতগুলো থেকে সরবরাহ শুরু করে দেওয়া। ওপরের কথাগুলো বলার পরও বলতে চাই, পিডিএস কার্যক্রম যথেষ্ট নয়, কারণ অনেক দরিদ্র মানুষ এর থেকে বাদ পড়েছে। আরও যেগুলো এ কার্যক্রমে যুক্ত করা জরুরি সেগুলো হলো, বড় ধরনের নগদ অর্থ হস্তান্তর। এর যাত্রা শুরু হতে পারে পেনশনের টাকা অগ্রিম ছাড় এবং পেনশনের মাসিক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা দরকার, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পেনশন বাবদ মাথাপিছু মাসিক ২০০ রুপিতে আটকে আছে সেই ২০০৬ সাল থেকে। এ ছাড়া আরও একটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেটি হলো পেনশনের অর্থ ছাড়ের পদ্ধতি। অনেক পেনশনভোগী পেনশনের টাকা গ্রহণ করেন 'বাণিজ্যিক প্রতিনিধি'র মাধ্যমে, যারা এক ধরনের মানুষরূপী এটিএম মেশিন, তারা ব্যাংকের হয়ে গ্রহীতাদের অর্থ হস্তান্তর করে। এখানে সমস্যা হলো, স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পেনশনগ্রহীতার পরিচয় যাচাইয়ের বিকল্প থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিরা অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক যাচাই করে। অথচ আমরা হরহামেশাই টাকা তোলার ক্ষেত্রে এটিএম মেশিন ব্যবহার করছি, সেখানে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ে না। অধিকন্তু গণহারে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির ব্যবহার নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে তুলবে। অর্থ প্রদানের ব্যবস্থানীতিগতভাবে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পদ্ধতি এখন বাদ দেওয়া দরকার। যদি তা না-ও করা হয়, তবে বাণিজ্যিক প্রতিনিধিরা এই সময়ে করোনা সংক্রমণের ভয়ে উধাও হয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ বাণিজ্যিক প্রতিনিধি অত্যন্ত কম বেতনে চাকরি করেন ছোটখাটো ব্যক্তিমালিকানধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। সেগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি খুব দুর্বল। এই দুই পক্ষের চিত্রেই অন্তত এটি পরিষ্কার যে এমন কিছু করতে হবে, যার মাধ্যমে ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিরাপদে সামলানোর একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যায়। চাইলে পেনশনের টাকা দেওয়ার নতুন ব্যবস্থাও চালু করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, পেনশনের অর্থ নগদ প্রদান করা যেতে পারে মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে পঞ্চায়েত ভবনে। এটা সবাইকে ব্যাংকে দৌড়ানো থেকে রেহাই দিতে পারে। ভারতের ওডিশায় এ রকম কয়েক বছর থেকে করা হচ্ছে, তার বেশ ভালো ফল পাওয়া গেছে। নগদ অর্থ ছাড়ের পদ্ধতিতে আরও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা তৈরি করা যায় গ্রামাঞ্চলের শিশু যত্নকেন্দ্র অঙ্গনওয়ারি ও স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপগুলোর মাধ্যমে। নগদ অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা পেনশনভোগী পর্যন্তই সীমিত রাখা দরকার। পিডিএস ও সামাজিক সুরক্ষার পেনশন স্কিমের পুনর্গঠন একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। কিন্তু বেশ বড়সংখ্যক অরক্ষিত জনগোষ্ঠী এই পুনর্গঠন বাস্তবায়নের লম্বা সময়ের ফাঁকে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অধিকন্তু রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ একজনকে কেবল ক্ষুধা থেকে বাঁচাতে পারে, কিন্তু মনে রাখতে হবে, এ ছাড়া মানুষের অন্য অনেক মৌলিক চাহিদা রয়েছে। এই ব্যাপক কর্মহীনতার মুহূর্তে তাঁদের নগদ অর্থেরই বেশি প্রয়োজন পড়বে। পেনশন স্কিমের এই পদ্ধতি ছাড়াও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে নগদ সহায়তা পৌঁছানোর কয়েকটি পন্থা আছে। উদাহরণস্বরূপ, মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্টের (এমজিএনআরইজিএ) আওতায় কার্ডধারীদের হিসাবে সরাসরি টাকা পাঠিয়ে দেওয়া। আরও পথ আছে, যেমন প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধিভুক্ত (সংক্ষেপে পিএম-কিষান, এটি ভারতে পয়লা ফেব্রুয়ারি ২০১৯ থেকে চালু হয়, যেখানে কৃষক মাথাপিছু বছরে ন্যূনতম ছয় হাজার রুপি আয় সহায়তা পাবেন, যা তাঁদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি চলে যায়) কৃষকদের অথবা পিডিএস কার্ডধারীদের কাছে সুবিধা পৌঁছানো। এসব তালিকার সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে কিংবা এগুলো সম্মিলিতভাবে কীভাবে কাজে লাগানো যাবে, তা পরিবেশ-পরিস্থিতির বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার মতে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এটা শুরু করা যেতে পারে এমজিএনআরইজিএর আওতায় কার্ডধারীদের তালিকা ধরে। সম্ভাব্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের বিবেচনায় উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি নাম ওপরে উল্লেখ করা হলো। আরও অনেক পরামর্শের কথা বলা যায়। যেমন মিড-ডে মিলস, কমিউনিটি কিচেনস ও আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ত্রাণ ক্যাম্প। সংকট মোকাবিলার প্রথম পদক্ষেপ হতে হবে ত্রাণ কার্যক্রমকে লকডাউন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। এটি করতে না পারলে লকডাউনের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক প্রভাবের চেয়ে নেতিবাচক ফলই বেশি বয়ে আনবে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় বলি, একটি ক্ষুধার্ত ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর পক্ষে কার্যকরভাবে ভাইরাস মোকাবিলার সক্ষমতা কম। জনগণকে ভেড়ার পালের মতো বিবেচনা করা সম্পূর্ণ ভুল। একটি গঠনমূলক লকডাউনের সিদ্ধান্ত জনগণকে সম্মিলিতভাবে লড়াই করার সক্ষমতা দেয়। সবশেষে, কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক রাজ্যের সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অনেক মূল্যবান উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সেগুলো সার্বিক বিচারে অপর্যাপ্ত। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সিদ্ধান্তই এসব উদ্যোগকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। পর্যাপ্ত ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার থেকে দরকার বড় অঙ্কের অর্থ (এক লাখ কোটি রুপির প্রয়োজন)। যা-ই হোক, বরাদ্দের পর বাস্তবায়নের নেতৃত্ব রাজ্যগুলোকেই দিতে হবে। প্রতিটি রাজ্যের সেসব কাজে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে আলাদা ধরনের বাস্তবায়নপদ্ধতিও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের চেয়ে বেশি দক্ষ নয়। কেন্দ্রীয় সরকার যদি রাজ্যের বিলের পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়, তাহলেই এর শুভসূচনা হতে পারে। * জঁ দ্রেজ ভারতের রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অতিথি অধ্যাপক।ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন আহমেদ জাভেদ। (অনুবাদ আহমেদ জাভেদ দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি।)[ অধ্যাপক জঁ দ্রেজের ইংরেজি লেখাটি ছাপা হয় ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকায় ২৬ মার্চ ২০২০। আজ তাঁর লেখার দ্বিতীয় কিস্তি ছাপা হলো][প্রথম কিস্তিতে অধ্যাপক জঁ দ্রেজের ইংরেজি লেখাটি ছাপা হয় ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকায় ২৩ মার্চ ২০২০। ৩ পর্বের এই লেখা আগামী পর্বে সমাপ্ত হবে] | 8 |
দেশের জনপ্রিয় জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তার স্ত্রী ও মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মঙ্গলবার জুয়েল আইচকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্ত্রী বিপাশা আইচ জানান, জুয়েল আইচকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জুয়েল আইচের জ্বর ও কাশি রয়েছে। শ্বাসকষ্ট না থাকলেও অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। গত ৪ নভেম্বর থেকে জ্বরে আক্রান্ত হন জুয়েল আইচ। জ্বরের মাত্রা ক্রমেই বাড়তে থাকায় ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি কোভিড-১৯ পরীক্ষা করান। সে রিপোর্টে কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে। | 2 |
'মুজিব বর্ষের সফলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা'-স্লোগানে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবস উপলক্ষে ভোলা, মাদারীপুর, ঝালকাঠি ও শরীয়তপুরে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।মাদারীপুর ও রাজৈর প্রতিনিধি জানান, দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পরিচালনায় মহড়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। কালকিনি উপজেলার সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ মাঠে থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মুজিববর্ষের সফলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান সিরাজী, মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ শিকদার। পরে মাঠে মহড়া করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এদিকে রাজৈর উপজেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক বাবুল। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে উপজেলা পরিষদ মাঠে দমকল বাহিনীর কর্মীদের সহযোগিতায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পরিচালনায় এক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।চরফ্যাশন প্রতিনিধি জানান, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান, বিশেষ অতিথি সহকারী কমিশনার ভূমি আবু আব্দুল্লাহ খান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান আকলিমা ফারুক মিলা, নীলিমা জ্যাকব কলেজের অধ্যক্ষ মনির আহাম্মেদ শুভ্র প্রমুখ।গোসাইরহাট প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় দিবস উপলক্ষে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হুসাইনের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুজন দাশ গুপ্ত, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মো. আবুল খায়ের, গোসাইরহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু বকর মাতুব্বর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হোসেন বাচ্চু সৈয়াল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান সিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান মো. শাহজাহান প্রমুখ।কাঠালিয়া প্রতিনিধি জানান, দিবস উপলক্ষে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সরকারি কাঠালিয়া পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে শেষে হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. এমাদুল হক মনির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বদু সিকদার। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ইনচার্জ মো. শহীদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহম্মেদুর রহমান, সরকারি কাঠালিয়া পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ। | 6 |
ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথে চলন্ত ট্রেন থেকে নারী চোর চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) ঢাকাগামী চট্রলা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃত নারী চোর সদস্যরা হলেন সেলিনা আক্তার, আলেমা আক্তার, ময়না বেগম ও জোসনা বেগম। তারা সবাই হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ওসাইল চারনাও গ্রামের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে পরস্পর আত্মীয়। দুপুরে ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় কৌশলে এক যাত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে আটক করে যাত্রীরা। পরে ওই চার নারী চোরকে আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। ভুক্তভোগী ট্রেন যাত্রীরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলওয়ে স্টেশন থেকে মো. রাকিবুল হাসান তার মাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যেতে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। এ সময় পাঁচ-ছয় জন নারী সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের কাছে ভিড় সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে মা নাসিমা আক্তারের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন কৌশলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ওই নারী চিৎকার দিলে এই কোচে থাকা অন্যান্য ট্রেন যাত্রীদের সহযোগিতায় সংঘবদ্ধ চক্রটির চার চোরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ট্রেনটি আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিলে তাদেরকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি মাজহারুল করিম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন আটককৃতরা ট্রেনে চুরি চক্রের সক্রিয় সদস্য। ট্রেনে প্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন মালামাল চুরি করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে আখাউড়া রেলওয়ে থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে স্বর্ণের চেইন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে। | 6 |
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক জেলের মৃত্যুর ঘটনায় পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশের ৪ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন নৌ-পুলিশ পটুয়াখালী জোনের সহকারি পুলিশ সুপার মো.আহসান হাবীব। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বেলা এগারোটার দিকে উপজেলার চর বালিয়াতলী ঢোস এলাকা থেকে ৫ জেলে একটি মাছধরা ট্রলারসহ রাবনাবাদ নদীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এসময় ট্রলারে নিষিদ্ধ জাল রয়েছে সন্দেহে তাদের ধাওয়া করে পায়রা বন্দরের নৌ-পুলিশবাহী একটি ট্রলার। এরপর জেলেরা ফের ঢোস এলাকায় পৌঁছলে ৪ জেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সুজনকে ধরে ফেলে নৌ-পুলিশের সদস্যরা। পরে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে নৌ-পুলিশের এ.এসআই মামুনসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে এলাকাবাসি। প্রায় ৬ ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ৪ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে জেলা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 6 |
সরকারি-বেসরকারি সব দপ্তরে তথ্য চাওয়া ও পাওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধ পরিকর। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সকালে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও তথ্য কমিশন বাংলাদেশের আয়োজনে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স রুমে উপজেলা তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভায় প্রাধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ। তিনি বলেন, এমন কোন তথ্য দিতে দপ্তরগুলো বাধ্য নয়। যা রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ হতে পারে। আপনারা কোন দপ্তরে তথ্য চেয়ে যদি না পান, সেক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আপিলে যদি প্রমাণিত হয় যে, আপনি যে তথ্য চেয়েছেন তা দেয়ার মতো ছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা আপনাকে দেননি। তাহলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য অধিকার আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আজ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আসুন সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে আরো এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আক্তার, তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. বুরহান উদ্দিন, তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ তরফদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ-দৌলা, উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমা কান্ত বিশ্বাস, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আবুল খায়ের, দৈনিক সমকালের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম, দৈনিক ভোরের কাগজ তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি রমেন্দ্র নারায়ণ বৈশাখ, এনজিও প্রতিনিধি ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রোগ্রাম অফিসার দীপক বৈরাগী, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের টেকনিক্যাল অফিসার আসমা আক্তার, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মল্লিকা খাতুন প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কমিশনারের একান্ত সচিব আমিনুল এহসান খান, তথ্য কমিশনের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. সালাহ উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহিরপুর মো. আলা উদ্দিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান প্রমুখ। | 6 |
নেছারাবাদ উপজেলায় সমবায় সমিতির নামে আইন বহির্ভূতভাবে ঋণ দিয়ে কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা। শতকরা ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত সুদ আদায়সহ বার্ষিক মেয়াদের পরিবর্তে মাসিক মেয়াদে সুদাসল আদায় করা হচ্ছে।স্থানীয় গ্রাহকেরা এসব সমিতির খপ্পরে পড়ে অতিরিক্ত সুদ দিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। এসব সমিতির খপ্পরে পড়ে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। সমবায় সমিতির নামে এসব এনজিওর খপ্পরে পড়ে স্বল্প সময়ের ঋণ পরিশোধের ফলে পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন অনেকে।দেখা গেছে, সমবায়ের লাইসেন্স নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটবাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য এনজিও। তাঁরা মেয়াদি আমানতসহ চড়া সুদে তাঁদের সমিতির বাইরেও বিভিন্ন লোককে দিচ্ছেন ঋণ। খালি চেকে স্বাক্ষর রেখে তাঁদের ঋণ দেওয়ার ঘটনা এ উপজেলায় খোলামেলা।অভিযোগ রয়েছে সমবায়ের আদলে গড়ে ওঠা এসব এনজিওগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে সমিতি চালাচ্ছেন।কামারকাঠি মোল্লাবাড়ী বাজারে সমবায়ের লাইসেন্স নিয়ে লাখপতি অফারের ব্যানার টানিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ বছর, সাত বছর, দশ বছর মেয়াদি আমানত সংগ্রহ করছেন সজল নামে এক সুদি কারবারি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সজল লাখপতি অফার দিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত সংগ্রহ করে ডিপিএস করাচ্ছেন। তাঁর সমিতির ডিপিএস করা কোনো সদস্য বিপদে পড়ে তাঁর কাছে ঋণ চাইলে চড়া সুদের বিনিময়ে তা দিচ্ছেন। যদি কোনো সদস্য পর পর ২-৩ কিস্তি দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে নানান প্যাঁচ দেখিয়ে তাঁর ডিপিএস কেটে দিচ্ছেন।দেখা গেছে, উপজেলার জলাবাড়ী বাজারের সামনে নানান মনোহারী স্লোগান দিয়ে অফিস খুলে সুদের ব্যবসা চালাচ্ছে ন্যাশনাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি।সমেদয়কাঠি ইউনিয়নের রিপন মাঝি (৩৮) অভিযোগ করেন, তিনি এলাকার ন্যাশনাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির মালিক সঞ্জু ঘোষের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা সুদে এনে জাল কেনেন। এর জন্য তাঁকে প্রতি মাসে ৭০০ টাকা করে সুদ পরিশোধ করেন, আট মাস পর্যন্ত। দুই মাস তাঁকে কোনো সুদ দিতে না পারায় জোর করে একটা বইয়ে টিপসই নিয়ে তাতে ২০ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে লিখে নেন।উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা কামরুল হাসান এ বিষয়ে বলেন, 'সমবায়ের নামে যারা প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকিং স্টাইলে সমবায় সমিতি চালাচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয় ১২ বাংলাদেশিসহ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ১৬০ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৬ বাংলাদেশি কাতার থেকে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ ফিরেছেন। বাকি ৬ বাংলাদেশি বর্তমানে স্পেনে অবস্থান করছেন। তাঁদেরও পর্যায়ক্রমে ফেরত আনা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের সূত্র জানায়, কাবুল বিমানবন্দর থেকে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় গত শুক্রবার এশিয়ান ১৬০ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ৬ বাংলাদেশি আফগানিস্তান ছাড়েন। আর শনিবার দুপুরে আরও ৬ বাংলাদেশি আফগানিস্তান থেকে বের হন। শুরুতে উদ্ধার করে ১২ বাংলাদেশি ও ১৬০ শিক্ষার্থীকে সৌদি আরবের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে তাদের ৬ জনকে কাতারে এবং বাকি ৬ বাংলাদেশি ও ১৬০ শিক্ষার্থীকে স্পেনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৬ বাংলাদেশি বর্তমানে স্পেনে অবস্থান করছেন। সেখানে আফগানিস্তানের ১৬০ শিক্ষার্থীও রয়েছেন। ৬ বাংলাদেশিকে আমরা ফেরত নিয়ে আসব।তাঁদের কবে ফেরত নিয়ে আসা হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৬ বাংলাদেশি বর্তমানে মার্কিন তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তাঁদের মার্কিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে ফিরতে হবে। কবে ফেরত আসবেন তা সঠিক করে বলা যাচ্ছে না।১৬০ শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ১৬০ শিক্ষার্থীর বাংলাদেশের ভিসা রয়েছে। ফলে তাঁরা যদি বাংলাদেশে আসতে চায় তবে আসতে দেওয়া হবে। তবে তাঁরা আসতে চান নাকি অন্য কোন দেশে যেতে চান তা আমাদের জানা নেই। এটা তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়। এমনও হতে পারে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হলো, সেখানেই তাঁদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হলো। ফলে এ বিষয়ে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেই।ব্র্যাকের তিন কর্মী এখনো আফগানিস্তানে রয়েছেন। তাঁদের ফেরত নিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাক আজকের পত্রিকাকে জানায়, নতুন করে কোন তথ্য নেই। তবে তাঁদের ফেরত আনার বিষয়ে চেষ্টা চলছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশিদের ফেরাতে আমরা কাজ করছি। যারা এরই মধ্যে আফগানিস্তান ছেড়েছেন, তাঁদের তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যেখানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট রয়েছে, সেখান থেকে ফেরত নিয়ে আসছি। তাঁরা তো চলেই আসবে। আর এখনো ২ থেকে ৪ জন আফগানিস্তানে রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যেহেতু বর্তমানে তারা কোন ঝুঁকির মধ্যে নেই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বিচলিত না হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিনিরা চলে গেলেও অন্য একটি ব্যবস্থা হবে, এর মাধ্যমে তাঁদের ফেরত আনা হবে। তবে একটু সময় লাগতে পারে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাকি ৬ বাংলাদেশিকে পর্যায়ক্রমে করোনার পিসিআর পরীক্ষা করা হবে। করোনা নেগেটিভ আসলে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করিয়ে দেওয়া হবে। যে দেশে রয়েছেন সেই দেশের স্বাস্থ্য প্রটোকল মেনে তাদের আসতে হবে। | 6 |
ভোলার চরফ্যাশনে বঙ্গোপসাগরের মোহনার তারুয়া সমুদ্রসৈকতে ভেসে এসেছে একটি মৃত ইরাবতী ডলফিন। গত মঙ্গলবার বিকেলে সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে ডলফিনটি ভেসে এসে বালুচরে আটকা পড়ে।পরে বন বিভাগের সদস্যরা পর্যবেক্ষণ শেষে গতকাল বুধবার সকালে মৃত ডলফিনটি সৈকতের এক পাশে বালুচাপা দেয়। তবে কি কারণে ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি বন বিভাগ।ভোলা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকেলে প্রায় অর্ধগলিত ডলফিনটি তারুয়া সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসে। এ সময় স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে বন বিভাগে খবর দেন। বন বিভাগ জানায়, প্রায় সাড়ে চার ফুট লম্বা ইরাবতী প্রজাতির ডলফিনটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কি কারণে ডলফিনটির মৃত্যু হলো তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।এদিকে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির কো-অর্ডিনেটর ও বন্যপ্রাণী গবেষক সামিউল মেহেসানিন বলেন, 'গভীর সাগরে জেলেদের জালে আটকে প্রায়ই এভাবে ডলফিনের মৃত্যু হয়। পরে ভাসতে ভাসতে এসব ডলফিনের মৃতদেহ কোনো এক সৈকতের বালুচরে চলে আসে। বঙ্গোপসাগরে দিন দিন ডলফিনের সংখ্যা কমে আসছে। এ সম্পদ রক্ষা না করা গেলে সামুদ্রিক পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে।' | 6 |
টানটান উত্তেজনার থ্রিলার হোক কিংবা রোমান্টিক প্রেমের গল্প, কিছুটা হাসির খোরাক না থাকলে ছবিটা যেন ঠিক জমে না। আর নিপুণ দক্ষতার সঙ্গে যাঁরা পর্দায় দর্শকের হাসির রসদ জুগিয়ে চলেন, তাঁরাই কমেডিয়ান, মানুষের মন ভালো করার কারিগর।টালিউডে ইদানীং এমন কমেডিয়ান অনেকেই রয়েছেন। তবে নব্বইয়ের দশকে পশ্চিমবঙ্গের ছবি যে বাঙালি কমেডিয়ানকে ছাড়া অচল ছিল, তিনি শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। চেহারাটা দুই বাংলায় ব্যাপক পরিচিত। তিনি প্রসেনজিতদের মতো সুপারস্টার নন, তবে মানুষকে হাসানোর দক্ষতা তাঁকে অন্য অভিনেতাদের থেকে আলাদা করে রাখে। প্রায় তিন দশক ধরে পর্দায় তাঁর উপস্থিতি দর্শককে আনন্দ দিয়েছে।সময় বদলেছে, হাসির চরিত্র থেকে বের হয়ে সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন কেড়েছেন শুভাশিস। গেল কয়েক বছরে 'জড়োয়ার ঝুমকো' আর 'রাখিবন্ধন' টিভি সিরিয়ালগুলো তাঁর সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয়ের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তবে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া 'মহালয়া' ছবিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র চরিত্রে তিনি নতুনরূপে ধরা দিয়েছেন। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ একজন বেতার সম্প্রচারক, নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক। দীর্ঘকাল অল ইন্ডিয়া রেডিওতে সম্প্রচারকের কাজ করেছেন। বীরেন্দ্রকৃষ্ণের সর্বাধিক পরিচিতি তাঁর 'মহিষাসুরমর্দিনী' নামক বেতার অনুষ্ঠানটির জন্য। ১৯৭৬ সালে আকাশবাণী ঠিক করে, মহালয়ায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণর বদলে উত্তমকুমারের পাঠ সম্প্রচার করবে। কিন্তু বাঙালি শ্রোতা সেটা মেনে নেয়নি। হুলস্থুল পড়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটেই ছবিটা। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভাশিস। 'মহামায়া'র আগে 'হারবার্ট', 'শিল্পান্তর', 'মেঘে ঢাকা তারা', 'গোরস্থানে সাবধান' 'মিসেস সেন', 'দত্ত ভার্সেস দত্ত' ছবিগুলোকে জীবনের অন্য রকম প্রাপ্তি মনে করেন।পূর্ণেন্দু পত্রীর 'ছোটো বকুলপুরের যাত্রী' ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন শুভাশিস। সেটা ১৯৮৭ সালের কথা। এরপর বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, রাজা সেন, উৎপলেন্দু চক্রবর্তী হয়ে অপর্ণা সেন, সন্দীপ রায়, অঞ্জন দত্ত, অরিন্দম শীল, কমলেশ্বর আর সুমন মুখোপাধ্যায়। কিন্তু ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন স্বপন সাহার সঙ্গে। ৫৫টা ছবি করেছেন তাঁর পরিচালনায়। আর এর বেশির ভাগ ছবিতেই কমেডি করে প্রসেনজিতকে সঙ্গ দিয়েছেন।আরও এক নতুন ছবিতে অভিনয় করছেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। নাম 'শহরের উপকথা'। পরিচালক বাপ্পার এটাই প্রথম ছবি। বাদল সরকারের নাটক 'বাকি ইতিহাস' অবলম্বনে চিত্রনাট্য লিখেছেন বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনাট্যকার আশরাফ শিশির। ছবিতে বিভিন্নভাবে চলচ্চিত্র, নাটক, মঞ্চের মানুষ ঘুরেফিরে আসবে। এমনই এক চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভাশিস। | 2 |
বিগত তিন বছর ধরে বিল না পেলেও মিরপুরের তিনটি ওয়ার্ডে বসবাসরত প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ। তবে হঠাৎ করেই চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিল পরিশোধে ব্যর্থদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে এমন মাইকিং করা হলে হতভম্ব হয়ে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক। তা শুনে হতভম্ব হওয়ার কী রয়েছে এখন এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে ভুক্তভোগীরা সেই প্রশ্নর উত্তর খুঁজতে যাওয়ার পরই সামনে বেরিয়ে আসে মহা প্রতারণার খবর। বিগত কয়েক বছর ইণ্টার্ন ব্যাংকিং অ্যান্ড কমার্স নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিল নিলেও তা পরিশোধ করেনি। এছাড়াও সে বিলের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাত করে পালিয়েছে এজেন্ট ব্যাংকের কর্ণধার। তবে অবশেষে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার প্রতারক মো. ওমর ফারুক (৩২) র্যাবের জালে ধরা পড়লেও গ্রাহকদের বিল বকেয়া হওয়ার দায় কার তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সোমবার (৭ জুন) বিকালে ইন্টার্ন ব্যাংকিং অ্যান্ড কমার্স নামে এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার প্রতারক মো. ওমর ফারুককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এক ভুক্তভোগী বিষয়টি মিরপুর থানায় মামলা করে। তিনি আরো জানান, ওমর ফারুকের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কবিরহাটের সাগরপুর এলাকায়। সে ২০০৯ সালে এসএসসি পাশ করে ২০১৪ সালে ঢাকায় চলে এসে মগবাজার এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে চাকরি শুরু করে। অতপর ২০১৫ সালে মিরপুরের আহম্মেদনগর এলাকায় নিজে বিকাশের ব্যবসা শুরু করে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে সে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫ টির অধিক একাউন্ট খোলে। পরবর্তীতে সে ২০১৮ সালে মিরপুর-২ এর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬০ ফিট এলাকায় ইন্টার্ন ব্যাংকিং এন্ড কমার্স নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। ওমর ফারুক তার এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার গ্রাহকের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করত। সিও জানান, গত ২০১৮ সাল থেকে তিতাস গ্যাস, ওয়াসা ও ডেসকোর গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল সংগ্রহ করে জমা না দিয়ে বিলের টাকা আত্মসাৎ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সে এমএলএম ব্যবসা 'অটুট বন্ধন' নামে একটি এমএলএম সমিতি প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ জনগণকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রাহকের নিকট হতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সে প্রতারণার উদ্দেশ্যে বিকাশ, নগদ এবং অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং এর অনুরুপ বিল পরিশোধের জন্য 'নব ক্যাশ' নামক একটি সেবা চালু করে সাধারণ মানুষের নিকট হতে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয়। সে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন ছিল কিনা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সঠিক কাগজপত্র দিয়েই ইন্টার্ন ব্যাংকিং এন্ড কমার্সের এজেন্ট খোলা হয়েছে হয়েছিল। কিন্তু, ফারুক ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে মানুষের কাছে টাকা সংগ্রহ করত। পরে ওই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে সে নিজেই টাকা রেখে দিতো। এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা জড়িত আছে কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে তিতাস গ্যাসের কোন গ্রাহক জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ জড়িত হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। | 6 |
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় নেমে এসেছে। এর বিষাক্ত ছোবলে প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা, যেন এর কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে বিশ্ব। অপ্রতিরোধ্য এই ভাইরাসের চিকিৎসায় এখনও পর্যন্ত কোনও ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে আশার বাণী হচ্ছে, যুক্তরাজ্রের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি টিকা আবিষ্কার করেছেন। সেটি পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের শরীরে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাসের এই টিকা শরীরে গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি হলেন একজন নারী। তার নাম এলিসা গ্রানাটো। তিনি একজন বিজ্ঞানী। আগ্রহী হয়েই সবার আগে করোনার টিকা নিয়েছেন। গ্রানাটো বলেছেন, 'আমি একজন বিজ্ঞানী। সুতরাং আমি চেয়েছি যেভাবে পারি টিকার সায়েন্টিফিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে।' করোনাভাইরাসের টিকা পরীক্ষামূলকভাবে মানবদেহে প্রয়োগের জন্য ৮০০ স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০০ জনকে দেওয়া হবে করোনার টিকা। আর বাকি ৪০০ জনকে দেওয়া হবে মিনিনজাইটিস (মস্তিস্কের ঝিল্লি প্রদাহ) টিকা। অবশ্য স্বেচ্ছাসেবকরা কেউ-ই জানতে পারছেন না যে কাকে কোন টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে ডাক্তাররা জানবেন কাকে কোন টিকা দেওয়া হচ্ছে। যা পরবর্তীতে ডাটা সংগ্রহে ব্যবহৃত হবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ টিকাবিদ সারাহ ক্যাথেরিন গিলবার্টের তত্ত্বাবধানে একদল বিজ্ঞানী মাত্র ৯০ দিনে তৈরি করেছেন করোনার এই টিকা। তারা এই টিকা করোনার বিরুদ্ধে কাজ করবে বলে ৮০ শতাংশ আশাবাদী। অক্সফোর্ডের 'জেনার ইনস্টিটিউটের' টিকাবিদ গিলবার্ট এ বিষয়ে বলেছেন, 'ব্যক্তিগতভাবে এই টিকার সফলতার ব্যাপারে আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী। অবশ্যই আমাদের এটা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। মানবদেহে প্রয়োগের ডাটা সংগ্রহ করতে হবে। বড় মাত্রায় এই টিকার প্রয়োগ শুরুর আগে আমাদেরকে দেখতে হবে এটা প্রকৃতপক্ষে মানবদেহে কাজ করে কিনা। এটা মানুষকে করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে কিনা।' শুরুতে তিনি এই টিকার সফলতার বিষয়ে ৮০ শতাংশ আশাবাদী ছিলেন। মানবদেহে প্রয়োগ শুরুর পর তিনি অবশ্য সেটা জোর দিয়ে বলেননি। তবে সফলতার বিষয়ে তিনি যে খুবই আশাবাদী সেটা বলেছেন। শেষ পর্যন্ত এই টিকা সফল হলে বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষের আশার আলো হয়ে দেখা দেবে । তেমন কিছুরই প্রত্যাশায় প্রণাঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে গৃহবন্দি হয়ে থাকা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। তথ্যসূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/কালাম | 4 |
নির্বাচনী আইন সংস্কার বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মতবিনিময় সভা চলছে। সোমবার (৬ জুন) সকাল ১১টায় নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে আরও চার কমিশনার, ইসি সচিবসহ ইসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন। সভায় ইসির আমন্ত্রণে আইন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ হিসাবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের কান্ট্রি প্রধান নূর হোসাইন আল কাদেরী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের স্পেশাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (ডিভিশনাল হেড) মীর ইকবাল হোসেন, ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজিজুল হক পান্না, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুস, তিতাস গ্যাস লিমিটেডের পরিচালক (অর্থ) অপর্না ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বাজেট) মো. ফারুকুজ্জামান, বিটিসিএলের জেনারেল ম্যানেজার (ফিন্যান্স অ্যান্ড বাজেট) মাজহারুল ইসলাম, পূবালী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার দেওয়ান রুহুল হাসান, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি পরিচালক মাকসুদা বেগম, ডেসকোর প্রধান প্রকৌশলী রশিদুর রহমান এবং ড. সীমা জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ডিন। আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা নির্বাচনী আইন সংস্কারের কোনো প্রয়োজন আছে কিনা, কোনটি করলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সুবিধা হয় সে বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। পরে ইসি তাদের মতামত হয়ে গ্রহনযোগ্য ও প্রয়োজনীয় দিকগুলো নিয়ে বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন সিইসি। | 6 |
ঢাকা: ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশকে বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে, তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।রোববার সিলেট জোন,বিআরটিসি ও বিআরটির কর্মকর্তাদের সাথে ভার্চ্যুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন করোনাভাইরাসকে বোঝা বড়ই মুশকিল। প্রায় চলেই গিয়েছিলো। সেই করোনা এখন ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতের কি অবস্থা। একটি বেড ও অক্সিজেনের জন্য হাহাকার। হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মানুষ মারা যাচ্ছে। তাদের শ্মশান ও কবরস্থান সঙ্কট দেখা গেছে। পার্কে পর্যন্ত মরদেহ দাহ করা হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, আমাদের এখন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিবেশী ভারতের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারের বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে। এই বিপজ্জনক বার্তা থেকে বাংলাদেশকে শিক্ষা নিতে হবে। আমাদেরকে আরও মনোযোগী হতে হবে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। মাস্ক পড়তে হবে। হাত ধোয়া ও মাস্ক যথাযথভাবে পড়লে করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাবো।করোনা টিকার জন্য উদ্বেগের কোন কারণ নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, টিকা যেটা ঘাটতি পড়বে, সেটা পূরণেও সরকার ইতিমধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। আতঙ্কিত হওয়া কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন মানবিক নেত্রী যখন পাশে আছে তখন এই দুঃসময় একদিন কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ।পদ্মাসেতুর অগ্রগতি নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, গতকাল পদ্মাসেতুর মাওয়া প্রান্তে ভায়াডাক্টের সর্বশেষ গার্ডার স্থাপনের মধ্য দিয়ে পুরো সেতুর স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত মূলসেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি শতকরা ৯৩ দশমিক দুই পাঁচ ভাগ। আগামী ২০২২ সালের জুন মাসে পদ্মাসেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।ঢাকা - সিলেট ও সিলেট - তামাবিল মহাসড়ক প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই মূহুর্তে অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প হচ্ছে এটি, তাই সড়কটি চার লেনে উন্নিত করার বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে। দীর্ঘদিন এই প্রকল্পের কাজ ঝুলে থাকলেও সম্প্রতি গতি পেয়েছে এবং এরইমধ্যেই নির্মাণ তদারকি পরামর্শক নিয়োগের লক্ষ্যে এডিবির সম্মতিও পাওয়া গেছে।এই প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীকে এ ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। | 6 |
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত একটায় মুখোমুখি হচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুল। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের উপরে রাশিয়ার আক্রমণের পরে রাতারাতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে প্যারিসে নিয়ে আসার ঘোষণা করে দিয়েছিল উয়েফা। তবে নতুন মাঠ নিয়ে চিন্তা করার মতো পরিস্থিতি নেই দুই শিবিরে, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে ১-৩ গোলে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ফাইনালে হারের ক্ষত এখনও তাজা লিভারপুল শিবিরে। যে ম্যাচে রিয়ালের প্রাক্তন ডিফেন্ডার সার্জিও র্যামোসের কড়া প্রতিরোধে চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল মিশরীয় তারকাকে। যা নিয়ে উয়েফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিভারপুল তারকা বলে দিয়েছেন, "এবার আমাদের কাছে এই ফাইনাল সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার মঞ্চ।" দলের অন্যতম সেরা তারকার বক্তব্যে সায় দিয়ে ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপের মন্তব্য, "ফুটবলাররা এই ম্যাচের জন্য নিজেদের তৈরি করে ফেলেছে। আমার তো নতুনভাবে কিছু বোঝানোর প্রয়োজন নেই।" প্রতিশোধের ভাবনা কিন্তু সমানভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ড্রেসিংরুমেও। ম্যানেজার কার্লো আনচেলোত্তি যেমন উদাহরণ টেনেছেন ১৯৮১ সালের। সেবারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের সাক্ষী ছিল প্যারিস। লিভারপুলের কাছে পরাস্ত হয়েছিল রিয়াল। তিনি বলেছেন, "সালাহর বক্তব্যকে স্বীকৃতি দিয়ে যদি প্রতিশোধের তত্ত্বকে গুরুত্ব দিতে হয়, তাহলে বলব ১৯৮১ সালে রিয়ালকে হারতে হয়েছিল লিভারপুলের কাছে। তার চেয়ে আমি বলব, শনিবার ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের দুই সেরা দল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। যে দল সাহসী এবং ইতিবাচক ফুটবল উপহার দিতে পারবে, তারাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিয়ে দেশে ফিরবে।" শনিবারের মহারণের আগে সাদিও মানে আবার নতুন বিবৃতি দিয়ে অস্বস্তি বাড়িয়েছেন লিভারপুল ভক্তদের। গত সপ্তাহেই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানায়, নতুন মৌসুমে লিভারপুল ছেড়ে সেনেগাল তারকা পাড়ি দিতে চলেছেন বায়ার্ন মিউনিখে। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মানে বলেছেন, "উত্তরটা এখন দিতে পারলে হয়তো খুব ভাল হতো। তবে ফাইনাল খেলার পরই সেটা নিয়ে কথা বলব। এই মুহূর্তে লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়ন করা ছাড়া অন্য কোনও বিষয় নিয়ে ভাবতে চাই না।" যে মন্তব্য শোনার পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও গোলকিপার আদ্রিয়ান বলেছেন, "আমরা কিন্তু সকলেই ২০১৮ সালের সেই ফাইনালে হারের শোধ নেওয়ার জন্য মরিয়া। বলা যেতে পারে, এটা বক্সিং ম্যাচ দলের কাছে।" ফুঁসছে রিয়াল শিবিরও। এই মৌসুমে অনবদ্য ফর্মে থাকা ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা যেমন বলে দিয়েছেন, এবার তিনি যে ছন্দে রয়েছেন, তার সবচেয়ে সুন্দর সমাপ্তি হতে পারে একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারলেই। স্পেনীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, "এ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ৪৫ ম্যাচে ৪৪টি গোল করেছি। জানি না, রিয়ালের সুদীর্ঘ সাফল্যের ইতিহাসের কোন স্তরে আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি। তবে একটা কথা বলে দিতে চাই এবং তা হল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ না জিততে পারলে গোটা বছরের লড়াই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বলা যেতে পারে, নিজের জন্যই এই ট্রফি জিততে হবে আমাকে।" তিনি বলেন, ''মাঠে নামার আগে সকলের মতো আমার মধ্যেও উৎকণ্ঠা কাজ করে। কিন্তু মাঠে নামলেই আমি সব ভুলে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি গোলের জন্য। এবারও সেই লক্ষ্যেই খেলতে নামব।" বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত। প্রতি বছর ঋতুরাজ বসন্তবরণ উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান আয়োজিত হলেও করোনা মহামারির কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হয়েছিল 'ভার্চুয়াল বসন্তবরণ'। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ এবার আয়োজন করেছিল ভার্চুয়াল 'বসন্তবরণ ১৪২৮' অনুষ্ঠান।সোমবার বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমীর সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের 'জবিয়ানস' ফেসবুক গ্রুপ থেকে অনুষ্ঠানের ভিডিও সম্প্রচার করা হয়।উক্ত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমী বলেন, 'বসন্ত উৎসব আয়োজন বাংলা বিভাগের ঐতিহ্য। বিগত দিনের মতো সশরীরে উৎসবমুখর আয়োজন সম্ভব না হলেও আমরা ভার্চুয়ালে করেছি। বরণ করে নিয়েছি বসন্তকে। বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে বসন্তের শুভেচ্ছা।'অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, 'আমি যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার হয়ে আসলাম তখন আমি খেয়াল করেছিলাম জগন্নাথের ভালোবাসা ও ফাল্গুনের রং। করোনাকালীন সকল প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে ভালোবাসায় ভরে উঠুক সবার জীবন। বাঙালি প্রতি বছরের এই দিনের অপেক্ষায় থাকে। আমি আশা রাখব বাংলা বিভাগ তাঁর ঐতিহ্য ধরে রাখবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে।'উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'প্রতি বছরের মতো এবারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এই আয়োজনের জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা যেমন বলি বারো মাসে তেরো পুজো তেমনি ফাল্গুন উৎসব আমাদের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পয়লা বৈশাখ যেমন সারা দেশব্যাপী উদ্যাপন করা হয়ে থাকে তেমনি আরেকটি উৎসব ফাল্গুন। করোনার কারণে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। তারপরও বাংলা বিভাগের এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। আমি আশা রাখছি, পরবর্তী বছরে আমরা সশরীরে আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপন করব।'এ ছাড়া উক্ত ভার্চুয়াল বসন্তবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের নৃত্য, গান ও আবৃত্তি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বসন্তবরণ ১৪২৮ উদ্যাপিত হয়। | 6 |
কুমিল্লার নানুয়াদীঘি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেনকে আদালতে তোলা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ ম্যাজিস্ট্রেট মিথিলা জাহান নিপার আদালতে তোলা হয়।এর আগে শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ লাইনসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল নানুয়াদীঘি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার কথা স্বীকার করেন।আদালতে তোলা হয়েছে ইকবালকেনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের পর থেকেই ইকবাল অসংলগ্ন আচরণ করছেন। ইকবাল কোরআন রাখার এবং গদা সরানোর কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু কেন বা কার নির্দেশে তিনি এই কাজ করেছেন, সে ব্যাপারে কিছু জানাননি।বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ইকবালকে শুক্রবার দুপুর ১২টায় কুমিল্লা পুলিশ লাইনসে নিয়ে আসা হয়। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.