text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনে নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি। ঝুঁকিতে আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদ, বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনো কাজ হচ্ছে না। উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, বালু উত্তোলনে অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জানা যায়, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল চর খোর্দ্দা ও লাটশালা এলাকায় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কাজ চলছে।বেক্সিমকো পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এবং চীনের টিবিইএ জিনজিয়াং সানওয়েসিস কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান তিস্তা সোলার লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে।এ বিষয়ে কোম্পানির প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বালু তোলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওখানে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ করা হবে। সে কারণে ওখানে একটি পুকুর দরকার। তাই এটি করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনে অনুমোদন আছে কি না, জানতে চাইলে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি তিনি।ইউএনও মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, 'অভিযোগ পেয়েছি। দু-এক দিনের মধ্যে অভিযান চালানো হবে।' | 6 |
প্রখ্যাত সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নামে মামলা ঠুকে দিয়েছেন খাসোগির বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিস। মামলায় যুবরাজকে হত্যাকাণ্ডের 'নির্দেশদাতা' বলে অভিযোগ এনেছেন তিনি। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মামলাটি করেন হাতিস। মামলায় খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজের ব্যক্তিগত ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ এনেছেন এই তার্কিশ। ২০১৮ সালে সৌদি আরবের ইস্তানবুল কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর খাসোগিকে হত্যা করে একদল সৌদি এজেন্ট। অভিযোগ রয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিল সালমান। তবে এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন যুবরাজ। সৌদি সরকারের চরম সমালোচক জামাল খাসোগি মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টে কলাম লিখতেন। লেখনীতে সৌদি সরকারের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন খাসোগি। তার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তুর্কি নাগরিক হাতিস চেঙ্গিসের। | 3 |
ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে নাগরিকদের ঘরেও মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। বাসায় অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা করোনাভাইরাস মহামারির সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থাগুলোর একটির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশটিতে সোমবার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৯১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৮১২ জনের। রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। অক্সিজেনের অভাব সংকটকে তীব্রতর করেছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত সরকারের থিংকট্যাঙ্ক নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) ডা. ভি কে পাল বলেছেন, ঘরের মধ্যে একজন কোভিড পজিটিভ ব্যক্তি থাকলে পরিবারের অন্যদের সংক্রমিত হওয়া প্রতিরোধে তাঁকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। 'আমি বলব যে সময় এসেছে তা না হলেও আমাদের ঘরের মধ্যে মাস্ক পরা শুরু করতে হবে। আমরা ঘরের বাইরে এটা পরতে বলতাম। কিন্তু যেভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, তাতে ঘরের মধ্যে অন্য কারও সঙ্গে বসে থাকলে সে সময়ও মাস্ক পরাটা ভালো হবে।' প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং বাসায় অতিথি না ডাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গবেষণায় দেখা গেছে শারীরিক দূরত্ব মানা না হলে একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ দিনে ৪০৬ জন সংক্রমিত হতে পারেন। আক্রান্ত ব্যক্তির অন্যদের কাছাকাছি আসা অর্ধেকে নামানো গেলে ওই সময়ে তাঁর থেকে ১৫ জনের মতো সংক্রমিত হতে পারেন। আর তাঁর অন্যদের সংস্পর্শে আসা ৭৫ শতাংশ কমানো গেলে এই সংখ্যা গড়ে আড়াই জনে নেমে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতে অক্সিজেনের ঘাটতি নেই, সমস্যা পরিবহনে। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সরকার চেষ্টা করছে। অক্সিজেনের যৌক্তিক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে সরকার বলেছে, শুধু চিকিৎসকের পরামর্শেই অক্সিজেন ব্যবহার এবং ওষুধ সেবন করতে হবে। অনেকে আতঙ্ক থেকে হাসপাতালের শয্যা দখল করে রাখছেন। | 3 |
উজানে ভারী বৃষ্টি কারণে দেশের পাঁচটি নদীর পানি আটটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। আজ রবিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদী সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ও ধলেশ্বরী নদী এলাসিন পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আইসিসির অদ্ভূত নিয়মের বলি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেবার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল কিউইরা। দুই দলের ইনিংস শেষে ম্যাচ টাই হয়, ফলাফল নিশ্চিতে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেটাও টাই হয়। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী নির্ধারণ করতে আইসিসি নিয়ম করে ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি মেরেছে যে দল, তারাই জিতবে শিরোপা। এমন অদ্ভূত নিয়মের বলি হয়ে হৃদয় ভাঙে নিউজিল্যান্ডের। ব্ল্যাক ক্যাপসদের কাঁদিয়ে সেবার শিরোপা উৎসব করেছিল ইংলিশরা। সেই অবিস্মরণীয় ফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালেই মুখোমুখি ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। আবুধাবিতে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় মাঠে গড়াবে সেই ম্যাচ। এবার কী টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুঃসহ সেই স্মৃতি ফিরবে? ফের যদি ম্যাচ টাই হয়? আইসিসির অদ্ভূত নিয়মের বলি হবে কিউইরা? না, এবার সেই নিয়মকে দূরে ঠেলে আইসিসি নতুন নিয়ম চালু করেছে। ২০১৯ সালের সেই আইন নিয়ে তুমুল সমালোচনায় পড়েছিল আইসিসি। সেসব সমালোচনা আর শুনতে রাজি নয় তারা। বাউন্ডারির সেই নিয়মই তুলে দিয়েছে আইসিসি। আইসিসি জানিয়েছে, আজ আবুধাবিদে দুই বছরে আগের সেই টাই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে যথারীতি ম্যাচ গড়াবে সুপার ওভারে। সুপার ওভারও টাই হলে কোনো বাউন্ডারি গণনা হবে না। হবে আরেকটি সুপার ওভার। সেখানেও যদি টাই হয়? তাতে কি? অফুরন্ত সময় আছে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে থাকায় সময় নিয়ে চিন্তা নেই! আবারও সুপার ওভার। এভাবে চলতেই থাকবে। ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সুপার ওভার চলতেই থাকবে। আইসিসির এমন নিয়মে হাফ ছেড়ে বাঁচতে পারেন কেন উইলিয়ামসনরা। ছেলেদের মাঝে সেই দুঃসহ স্মৃতি জাগাতে চান না কিউই কোচ গ্যারি স্টিডও। মঙ্গলবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, '২০১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে কাউকে কিছু বলতে শুনিনি আমি। ওই ম্যাচের কিছুই এখানে বয়ে আনিনি আমরা।বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে খেলার চ্যালেঞ্জ নিয়েই ভাবছি এখন।' তবে সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে প্রার্থনায় রত ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আথারটন। বললেন, '২০১৯ সালের জুলাইয়ের সেই অবিস্মরণীয় সন্ধ্যায় লর্ডসে যে ক্লাসিক লড়াই উপহার দিয়েছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড, সেই নাটকীয়তার এক শতাংশও যদি এবার থাকে, টি ২০ বিশ্বকাপ ধন্য হয়ে যাবে।' | 12 |
দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেছেন, এ ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটিকে আজকের (শনিবার) মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া দ্বিতীয় গোমতী সেতুর পিয়ার ২ এর স্টিল পাইল ড্রাইভিং এর উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
আবদুল হাকিম শিমুলের বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ওবায়দুল কাদের।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ ফরাজী, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সুমন, বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মিজানুর রহমান প্রধানসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের মনিরামপুরে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তিনি শুক্রবার দুপুরে যান।
| 6 |
প্রদীপ পোদ্দার। বয়স প্রায় ৪১। গজীপুরের টঙ্গীতে একটি জুয়েলারি দোকানের মালিক তিনি। এ ব্যবসার আড়ালেও তার ভয়ঙ্কর একটি পরিচয় রয়েছে। দিনে পরিচয় ব্যবসায়ী হলেও রাতে তার পরিচয় হয়ে যায় ভিন্ন। তিনি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের সর্দার। চক্রটিকে পরিচালনা করেন তিনি। তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা রাতের অধারে চুরি ডাকাতি করে স্বর্ণালঙ্কার তার কাছে অল্পমূল্যে বিক্রি করতো। পরবর্তীতে তিনি তার স্বর্ণের দোকান গ্রহকদের কাছে বিক্রি করতেন। যদি কখনও চক্রের সদস্যরা ধরা পড়লে বা গ্রেফতার হলে তাদের আইনি সহায়তার জন্য উকিলও ঠিক করে দিতেন চক্রের মূলহোতা প্রদীপ পোদ্দার। অবশেষে প্রদীপ পোদ্দারকে আটক করে র্যাব। গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রদীপসহ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্য গ্রেফতার করে র্যাব-১। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- দুলাল হোসেন, রাসেল, জাকির হোসেন, কোকিলা বেগম ও হাজেরা বেগম। এদের মধ্যে প্রদীপ এই ডাকাতচক্রের মূল হোতা বলে জানিয়েছে র্যাব। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১ এর অধিনায়ক সারওয়ার বিন কাশেম এ তথ্য জানান। তাদের কাছ থেকে পাঁচ ভরি সোনার গয়না, চারটি মোবাইল সেট এবং ১১ হাজার টাকা উদ্ধার করার কথা জানানো হয় র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে। র্যাব অধিনায়ক সারওয়ার বলেন, কয়েক দিন ধরে খবর আসছিল উত্তরা ও টঙ্গীর বিভিন্ন বাসায় ও দোকানে ডাকাতি হচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে ওই ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানায়, গ্রেফতার প্রদীপ পোদ্দার এই ডাকাতচক্রের হোতা। টঙ্গীর আলতাব প্লাজার পোদ্দার জুয়েলারির মালিক তিনি। প্রদীপ জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে ১০/১২ জন ডাকাত পালতো এবং ডাকাতির মালামাল ওই দোকানে রেখে বিক্রি করত। দলের কেউ গ্রেফতার হলে উকিল আর তার সংসারর খরচও প্রদীপ দিত। সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, গ্রেফতার দুলাল পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। সে উত্তর বাড্ডা থেকে গার্মেন্টস পণ্য কিনে গাজীপুর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করতো। এই সুযোগে বিভিন্ন বাসায় ঢুকে বাসার সদস্যদের গতিবিধি লক্ষ করতো। বাসার দরজা ভেঙে চক্রের অন্য সদস্যদের সহায়তায় ডাকাতি করতো এবং মালামাল লুট করে নিতো। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে টঙ্গীর একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দুলালকে দেখা গেছে। দুলাল এর আগেও একাধিকবার গ্রেফতার হন এবং প্রায় আড়াই বছর কারাভোগ করেছিলেন। এরপর জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজ শুরু করেন। চক্রের অপর সদস্য রাসেল ও জাকির তার সঙ্গে অসংখ্যবার চুরি-ডাকাতির কাজে অংশ নেন। এদিকে দুলালের স্ত্রী কোকিলা এবং দুলালের মা হাজেরা ডাকাতির মালামাল নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতো। এই চক্রের আরও সদস্য রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা। | 6 |
রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপির শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। শনিবার সাহারা খাতুনের ব্যক্তিগত সহকারী মজিবর রহমান সমকালকে জানান, সাহারা খাতুনের শারীরিক অবস্থা আগের মতই আছে। শুক্রবার সকালে আইসিইউতে নেওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকরা তাকে অক্সিজেন দিচ্ছেন। তার প্রেসারও কম ছিল। শনিবার সকালেও একই অবস্থা রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এদিকে সাহারা খাতুনের একান্ত সহকারী অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টেলিফোনে বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তার সর্বোচ্চ চিকিৎসার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ৭৭ বছর বয়সী সাহারা খাতুন জ্বর ও অ্যালার্জির সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় অসুস্থ হয়ে গত ২ জুন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তবে তার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন গত তিন মেয়াদে ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে স্বরাষ্ট্র এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। | 6 |
নাগা চৈতন্য আর সামান্থা রুথ প্রভুর বিবাহবিচ্ছেদের খুব বেশিদিন হয়নি। এরই মাঝে দক্ষিণ ভারতে ভেঙে গেল আরও এক সংসার। দীর্ঘ ১৮ বছরের বিবাহিত জীবনের অবসানের ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণি অভিনেতা ধানুশ এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ঐশ্বরিয়া রজনীকান্ত। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের কথা নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। টুইটারে নিজ বিবৃতিতে ধানুশ বলেন, ''বন্ধু, জুটি, অভিভাবক এবং পরস্পরের শুভাকাঙ্খী হিসেবে আমাদের ১৮ বছরের একসঙ্গে পথযাত্রা ছিল। উন্নতি, বোঝাপড়া, সমঝোতা ও গ্রহণ করার মাধ্যমে আমরা এ যাত্রাপথ পাড়ি দিয়েছি। আজ আমরা দুজন এমন এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে যেখানে আমাদের পথ আলাদা হয়ে গিয়েছে। ঐশ্বরিয়া এবং আমি আলাদা হয়ে যাওয়ার এবং ব্যক্তি হিসেবে নিজেদের আরও কিছুটা চেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনুগ্রহ করে আমাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবেন এবং প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ দেবেন।'' ../ ইনস্টাগ্রামে একই বিবৃতি জানিয়েছেন ঐশ্বরিয়াও। ক্যাপশনে লিখেছেন, ''কোনো ক্যাপশনের প্রয়োজন নেই। শুধু আপনাদের বোঝাপড়া আর ভালোবাসা দরকার।'' ২০০৪ সালে কিংবদন্তি অভিনেতা রজনীকান্তের মেয়ে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন নামী প্রযোজক কস্তুরি রাজার ছেলে ধানুশ। যাত্রা রাজা ও লিঙ্গ রাজা নামে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। মূলত দক্ষিণি অভিনেতা হলেও বলিউডেও সমান জনপ্রিয় ধানুশ। আনন্দ এল রাই পরিচালিত ''রাঞ্ঝানা'' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। সর্বশেষ তাকে দেখা গিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া একই পরিচালকের ''আতরাঙ্গি রে'' সিনেমায়। এখানে তার সঙ্গে ছিলেন অক্ষয় কুমার ও সারা আলী খান। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র নির্মাতা ঐশ্বরিয়া পরিচালনা করেছেন তামিল রোমান্টিক থ্রিলার ''থ্রি'' ও ব্ল্যাক কমেডি ''ভাই রাজা ভাই''- এর মতো ছবি। | 2 |
নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে বিএনপির কোনো মাথাব্যথা নেই জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'আমাদের মাথা ব্যথা একটা বিষয় নিয়ে, সেটি হলো নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারটা কার? কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার যদি ক্ষমতায় থাকে তাহলে নিশ্চিত থাকতে পারেন কোনো নির্বাচন হবে না।' আজ রবিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট আয়োজিত 'কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আব্দুস সালামের সাম্প্রদায়িক উক্তি ও নিপুণ রায় চৌধুরীর ওপর হামলার প্রতিবাদে' এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ড প্রমুখ বক্তব্য দেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 6 |
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। এজন্য যা যা করা দরকার আমরা সব ব্যবস্থা নিয়েছি। আজ শনিবার বিকেলে নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। হুমায়ুন কবীর বলেন, কাল রবিবার চতুর্থ ধাপে ৩৪টি জেলায় ৫৫টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনিয়ম রোধে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে ২৭টি স্থানে র্যাব, বিজিবির টিম বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নতুন সচিব আরও বলেন, ল' অ্যান্ড অর্ডারসহ ভোটের সার্বিক বিষয় নিয়ে আজ (শনিবার) আমরা বৈঠক করেছি। ইসির বিশেষ নির্দেশনা যেটি রয়েছে, তা হলো- ল' অ্যান্ড অর্ডার যেন ঠিক থাকে। জেলা প্রশাসক, এসপি এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে- নির্বাচনটা যেন ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা যা দরকার আমরা সব ব্যবস্থা নিয়েছি। | 6 |
নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরেরঅভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রের বন্ধুসহ ৭জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত মাদ্রাসা ছাত্র রূপগঞ্জ উপজেরার শান্তিনগর এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন (১৪)। সে রওজাতুল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক শওকত হোসেন সুমন (২৬), জোবায়ের আহম্মেদ (২৬) ও আব্দুল আজিজ (৪২)। ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় ৪ সহপাঠীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এ এস এম শাহীন বলেন, '১০ মার্চ ১১টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষক জোবায়ের নিহতের পরিবারকে জানায় সাব্বির মাদ্রসার ছাদে উঠার সিড়ির পাশে রডের সাথে গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে স্বজনরা পুলিশে কোন অভিযোগ না দিয়ে মাদ্রাসা থেকে লাশ নিয়ে রূপগঞ্জে নিজ এলাকায় দাফন করে। কিন্তু দাফনের আগে গোসলের সময় নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। এজন্য নিহতের বাবা অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে ৩ মাদ্রাসার শিক্ষক ও নিহতের ৪ বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়।' সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, 'শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে আত্মহত্যার নাম দিয়েছে। বিষয়টি ময়নাতদন্তের পরই বলা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা। কবর থেকে লাশ তোলা হবে। তিন শিক্ষককে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ৪ বন্ধুকে কিশোর আইনে পাঠানো হয়েছে।' নিহত সাব্বির হোসেনের বাবা জামাল হোসেন বলেন, '১০ মার্চ সকাল সোয়া ৯টায় আমার ছেলে মাদ্রাসার শিক্ষক জোবাইয়েরর মোবাইল থেকে তার মাকে ফোন দেয়। ওই সময় সে সুস্থ ছিল। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফোন দিয়ে ওর মাকে শিক্ষক জোবায়ের বলে সাব্বির আত্মহত্যা করছে দ্রুত মাদ্রাসায় আসেন।' তিনি আরও বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা মাদ্রাসায় যাই। সেখানে যাওয়ার পর আমার সন্তানের লাশ দেখতে দেওয়া হয়নি। তার আগে (মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি) আমাদের একটি আলাদা রুমে নিয়ে হুমকি দেন। এরপর লাশ এনে বাড়িতে গোসল করানোর সময় আমরা, মহল্লাবাসীসহ সবাই সাব্বিরের মাথায়, চোখের উপরে কপালে, ঠোঁঠে ও দাড়ির নিচে, গলায় আঘাতের চিহ্ন, পায়ে মারধরের চিহ্ন এবং শরীরটা থেথলানো।' তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার ছেলেকে পিটিয়ে কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে। তারা আমার ছেলেকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে দিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।'
বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 6 |
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে সরকার মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, তাঁকে যদি অতি দ্রুত বিদেশে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে না নেওয়া হয়, তাহলে তাঁর জীবন রক্ষা করা মুশকিল হয়ে যাবে। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়বাদী শ্রমিক দলের এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে সংগঠনটি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'তিনি বিএনপির ভুল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পান না। সারাক্ষণ শুধু দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকেন। শুধু বিএনপি বিএনপি বিএনপি। আপনারা বলে থাকেন বিএনপি নাকি নাই, বিএনপি যদি না-ই থাকে, তাহলে বিএনপিকে নিয়ে এত দুঃস্বপ্ন দেখেন কেন?' ফখরুল বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা যে ভাষায় কথা বলেন, তা কোনো সুস্থ-সভ্য মানুষ বলতে পারে না। শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য দেন। | 9 |
পরিবর্তিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশে সাব ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট ও কনস্টেবল নিয়োগের ফলে জব মার্কেট থেকে 'বেষ্ট অব দা বেষ্ট' লোক আসবে বলে জানিয়েছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। এতে আগামী দুই বছরের মধ্যে পুলিশে পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন তিনি।শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ পুলিশ এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে পরিবর্তিত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।সম্প্রতি নতুন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়া কনস্টেবল নিয়োগ প্রসঙ্গে দেশের জনগণকে নিশ্চয়তা দিয়ে আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, 'কনস্টেবল পদে জব মার্কেট থেকে 'বেষ্ট অব দি বেষ্ট' প্রার্থী নিয়োগে আমরা সক্ষম হয়েছি। আমরা মেধার পাশাপাশি শারীরিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করেছি। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখবেন।'আইজিপি বলেন, 'নতুন প্রক্রিয়ায় কনস্টেবল নিয়োগ ছিল একটি দুঃসাহসিক কাজ। আপনারা বাংলাদেশ পুলিশে এক নব যাত্রার সূচনা করেছেন, সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস। আপনারা এ ইতিহাসের অংশ হয়ে রইলেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে জানিয়ে আইজিপি বলেন, 'বাংলাদেশ পুলিশকে উন্নত দেশের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশোধনের মধ্য দিয়ে এ পরিবর্তনের সূচনা করা হয়েছে।' এ সময় তিনি সহকারী পুলিশ সুপার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে বলে উল্লেখ করেন।কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. খলিলুর রহমান, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন, অতিরিক্ত আইজি মো. মাজহারুল ইসলামসহ প্রমুখ। | 6 |
বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত সারা বছর ব্যস্ত থাকেন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছিলেন বেশ কিছুদিন আগে। এদিকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বলিউডেও প্রভাব পড়েছে। সিনেমার শুটিং বন্ধ হওয়ার কারণে কঙ্গনাকে বাড়িতেই দিন কাটাতে হচ্ছে। তবে এই লকডাউনের সময় সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন এ অভিনেত্রী। এতে তার জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন কুইন সিনেমাখ্যাত এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি জানান, একটা সময় মাদকাসক্ত ছিলেন তিনি। ভিডিওতে তিনি বলেন, 'এটি খারাপ সময় নয়, এভাবে চিন্তা করবেন না। খারাপ সময়ই প্রকৃতপক্ষে ভালো সময়। বন্ধুরা, আমার বয়স যখন ১৫ অথবা ১৬ তখন বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই। মনে করতাম, হাত দিয়ে আকাশের তারা ধরে ফেলতে পারব। বাড়ি থেকে পালানোর পর সিনেমা তারকা হই এবং দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমার জীবন তছনছ হয়ে যায় এবং আমি এমন কিছু মানুষের সাহচর্যে ছিলাম, যাদের হাত থেকে শুধু মৃত্যুই আমাকে রক্ষা করতে পারত। এসব কিছুই হয়েছে যখন আমি কিশোরী ছিলাম।' তারপর এক বন্ধুর পরামর্শে তার জীবন পাল্টে যায় বলে জানান কঙ্গনা। আধ্যাত্মিক শিক্ষা নেন তিনি এবং খারাপ সময় কাটিয়ে ওঠেন। এই অভিনেত্রী বলেন, 'আমার জীবনে যদি ওই চ্যালেঞ্জিং সময় না আসত আমি মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যেতাম। আমার শক্তির উন্নয়ন করতে পারতাম না। আমার জ্ঞান বৃদ্ধি, প্রতিভার চর্চা ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারতাম না।' | 2 |
ঢাকার ধামরাই পৌরসভার তালতলা কমিশনার মোড় এলাকায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৪ বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার দুপুরে কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই। এ সময় তিনি মেয়ের বাবাকে ৫০ হাজার ও বরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা তাঁর কিশোরী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেন। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ হাই। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে হবু বর ও তাঁর বাবার হাতে হাতকড়া পরায় পুলিশ। এরপর তিনি মেয়ের বাবাকে ৫০ হাজার ও বরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে তাঁদের হাতকড়া খুলে দেন। ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ হাই বলেন, অভিযানে মেয়ের বাবা ও বরকে জরিমানা করা হয়। এ সময় মেয়ের বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। | 6 |
দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৩ জন চিকিৎসক পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর গ্রেড-৩ টাকা ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০/- বেতনক্রমে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে ২৩ জন কর্মকর্তাকে অধ্যাপক পদে নিয়োগ প্রদানপূর্বক তাঁদের নামের পার্শ্বে বর্ণিত কর্মস্থলে পদায়ন করা হলো।' নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে পদায়ন করা কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ আদেশ জনস্বাস্থ্যে জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদেশের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিবের একান্ত সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব ও সচিবের একান্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে পাঠানো হয়েছে। | 1 |
করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রধান হ্যান্স ক্লুগ বলেছেন, 'আমরা দেখতে পাচ্ছি আরেকটি ঝড় আসছে। সরকারগুলোর উচিত প্রস্তুতি নেওয়া।' আজ বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।হ্যান্স ক্লুগ বলেছেন, 'ইউরোপে ওমিক্রনের সংক্রমণ বৃদ্ধি এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেবে।'বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইউরোপের দেশ জার্মানি অনুষ্ঠান সংক্ষেপ করাসহ বড়দিন-পরবর্তী নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পর্তুগাল ২৬ ডিসেম্বর থেকে পানশালা ও নাইটক্লাবগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেছেন, 'করোনার পরবর্তী ঢেউ আমাদের ওপর আছড়ে পড়তে শুরু করেছে। পরবর্তী ঢেউ থেকে আমরা অবশ্যই দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখতে পারি না।'সবাইকে সতর্ক করে ওলাফ শলৎস মনে করিয়ে দেন, করোনা ভাইরাস কিন্তু বড়দিনে ছুটিতে থাকবে না।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বড়দিনের আগে নতুন করে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেননি। তবে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে সামাজিক মেলামেশার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।উল্লেখ্য, গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় অঞ্চলের ৫৩টি দেশের মধ্যে অন্তত ৩৮টি দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও তুরস্কে এই ধরন নিয়ে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও। পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৭ কোটি ৬৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৫ জনের। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার ১৬ জনের। করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৪ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ৬৩৯ জন। | 3 |
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপবন এক্সপ্রেসের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতেবেদন দিতে বলা হয়েছে। রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্বাঞ্চল) মো. মিজানুর রহমানকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে রেলওয়ে সচিবমো. মোফাজ্জেল হোসেন এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাইনচ্যুত হয়ে খালে পড়ে যাওয়া বগি উদ্ধারের কাজ এখনও চলছে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের সমন্বয়ে উদ্ধারকাজ চলছে। নিহত চারজনের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ফাহমিদা ইয়াসমীন ইভা। তিনি সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজের নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, বাড়ি সিলেটে। অপরজন মনোয়ারা পারভীন (৪৫)। বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া এলাকায়। সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ট্রেনটির দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খালে পড়ে যায় এবং একটি বগি উল্টে যায়। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে কালা মিয়া বাজার সংলগ্ন ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। | 6 |
গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ১ হাজার ২৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ২৪। গত ১৩ জানুয়ারির পর থেকে এটাই বিভাগে এক দিনে সর্বনিম্ন শনাক্তের হার। আজ শুক্রবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা, শনাক্তের সংখ্যা, শনাক্তের হার ও মৃত্যু-সবই কমেছে। এর আগের দিন বিভাগে ১ হাজার ৩২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক শূন্য ১। ওই দিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে যশোর ও খুলনায় একজন করে মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ১১৫ জনের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলায় সর্বোচ্চ ২৪ জন আছেন। এ ছাড়া সাতক্ষীরায় ২১, খুলনায় ১৯, যশোরে ১৫, মেহেরপুরে ১০, ঝিনাইদহে ৫, নড়াইলে ৩ এবং বাগেরহাট, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গায় ৬ জন শনাক্ত হয়েছেন। খুলনা বিভাগে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ২৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৪ জন। খুলনা বিভাগে বর্তমানে ৬ হাজার ৭৪৩ করোনা রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ১৩৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, বাকিরা বাড়িতে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন ও সুস্থ হয়েছেন ৮৩৪ জন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুরুল মুরশিদ বলেন, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে। পাঁচ সপ্তাহ পর আজ শনাক্ত ১০ শতাংশের নিচে নেমেছে। চিকিৎসাধীন রোগীও কমছে। তবে এখনো করোনা প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। | 6 |
দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (এসিসিএ) বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (বিটিইবি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে ৩ মে ভার্চ্যুয়ালি এ সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং টেকনিক্যাল ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. মোরাদ হোসেন মোল্লা, এসিসিএ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর স্টুয়ার্ট ডানলপ, এসিসিএ দক্ষিণ এশিয়া প্রধান নিলুশা রানাসিংহে, এসিসিএ মার্কেট পার্টনারশিপ প্রধান জারিফ লুদিন এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এসিসিএ বাংলাদেশের এডুকেশন ম্যানেজার প্রমা তাপসী খান দুটি প্রতিষ্ঠানের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ এবং সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেন। ভার্চ্যুয়াল এ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ড. ইন্দ্রানী ধর। এখন থেকে এসিসিএ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনার হিসেবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক বিভিন্ন পদক্ষেপে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টিং সেক্টরের ক্ষেত্র তৈরি এবং মানোন্নয়নে এনটিভিকিউএফের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। সমঝোতা অনুযায়ী এসিসিএর সিলেবাস অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএম) অ্যাকাউন্টিং সিলেবাসের আধুনিকীকরণে এসিসিএ সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এসিসিএর প্রাথমিক পেপারগুলো এইচএসসি (বিএম) সিলেবাসে যুক্ত হবে, যা পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের এসিসিএ বা সিএটি করে দক্ষ পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া অ্যাকাউন্টিং ও ফাইন্যান্স সেক্টরে সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন জ্ঞানবিন্যাস এবং আন্তর্জাতিক রিসোর্স সরবরাহসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসিসিএ সহযোগিতার করবে। অনুষ্ঠানে এসিসিএ বাংলাদেশ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার (লার্নিং) শাহ ওয়ালিউল মনজুর, সিনিয়র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার (ইএমএ) মো. শাফায়াত আলী চয়ন, মার্কেটিং ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল হাসান এবং বিজনেস সার্ভিস ও কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার জি এম রাশেদ। বিজ্ঞপ্তি | 0 |
বছর ঘুরে এল ১ ফেব্রুয়ারি। এক বছর আগে এই দিনে নতুন বই পাওয়ার আনন্দে বিভোর ছিল মহরমী খাতুন (১২)। বেলা ১১টায় বিদ্যালয় থেকে ফিরে বইয়ের মধ্যেই বুঁদ হয়ে ছিল। এক বইয়ের পর আরেক বইয়ের পাতা উল্টে কোথায় কী আছে দেখে যাচ্ছিল। সারা দিন আনন্দেই কাটছিল। বিকেল পাঁচটার দিকে বাড়ির পাকা দেয়ালঘেরা খোলা জায়গায় কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল মহরমী। মুহূর্তেই হাতের মধ্যেই ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার এক হাতের কবজি ও দুই চোখ নষ্ট হয়ে যায়। মহরমীর মা মানসুরা বেগম গত রোববার বিকেলে দুঃসহ সেই স্মৃতিচারণা করে প্রথম আলোকে বলেন, ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে উঠেই মহরমী তাঁকে দিনটির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। বলেছে, 'মা আমি এক বছর থেকে চোখে দেখতে পাই না। আমি কী আর কোনো দিনও দেখতে পাব না?'সেদিন সোমবার ছিল তাও বলল। তারিখ ছিল ১ ফেব্রুয়ারি। সেটাও তো মনে আছে মেয়ের। এক হাতের কবজি ও দুই চোখ হারানো মহরমী খাতুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার গনকা মহল্লার প্রবাসীশ্রমিক আশরাফুল আলিমের মেয়ে। ঘটনার আগের দিন আলিনগর মহল্লার স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এলাকায় অনেক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাদের ফেলে যাওয়া একটি অবিস্ফোরিত ককটেলই পরদিন মহরমীর হাতে বিস্ফোরণ হয়। এতে তার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, দুই চোখে স্প্লিন্টার ঢুকে অন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীদের নামে মামলা করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন আগে মামলার ১৯ আসামির নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আসামিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। কাতর কণ্ঠে মানসুরা বেগম বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকায় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ আই হসপিটালে মহরমীর চিকিৎসা করানো হয়েছিল। হাসপাতালগুলো থেকে বলা হয়, চোখের দৃষ্টি ফিরে পাওয়া যাবে না। তবুও মনে হয়, ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করালে যদি কিছু হতো। কিন্তু টাকার অভাবে তা আর সম্ভব হয়নি। মেয়েটির বাবা ধারদেনা করে বিদেশে গেছেন। এখনো সেই দেনা শোধ হয়নি। মেয়ের ওই ঘটনার কথা জেনে দেশে এসেছিলেন, দুই মাস আগে আবারও গেছেন। ধারদেনা করেই যেতে হয়েছে। মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখনো মহরমীর চোখ খচখচ করে, যন্ত্রণা হয়। ঘুমাতে পারে না ঠিকমতো। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই কাঁদে। গভীর রাতে ঘুম থেকে ওঠে জাগিয়ে তোলে, নানা গল্প করে। হতাশার কথা বলে। মানসুরা বলেন, এখনো মহরমীর পড়ালেখা করার ইচ্ছে আছে। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জ বা রাজশাহীতে অন্ধ মেয়েশিশুদের জন্য পড়ালেখার কোনো ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছে সমাজসেবা বিভাগ। তারা জানিয়েছে, ঢাকায় গেলে হয়তো পড়ালেখার সুযোগ হতে পারে। কিন্তু ঢাকায় পাঠিয়ে পড়ালেখা করানোর মতো অবস্থা তাঁদের নেই। মহরমীও মাকে ছেড়ে যেতে সাহস পায় না। মেয়েকে সব সময় কাছে কাছে রাখতে হয়। রান্না করার সময়ও সে পাশে বসে থাকে। তাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারেন না। মায়ের সঙ্গে এসব কথা হওয়ার সময় পাশেই বসে ছিল মহরমী। কোনো প্রশ্নেরই জবাব দেয়নি সে। অব্যক্ত বেদনায় তার মুখমণ্ডল পাথরের মতো নিশ্চল ছিল। | 6 |
শাহরুখ খানের ফেরার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন তাঁর ভক্তরা। 'জিরো' ছবির অসফলতার পর এই বলিউড সুপারস্টারের আর কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। এমনকি তিনি নতুন কোনো প্রজেক্ট হাতে নেননি। আসলে শাহরুখ কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। ভেবেচিন্তে পা ফেলতে চেয়েছেন তিনি। তাই হয়তো 'পরিচালক হিসেবে শতভাগ সফল' রাজকুমার হিরানির ছবির মাধ্যমে কামব্যাক করাই নিরাপদ মনে করছেন কিং খান। 'টেড টক'-এর সংবাদ সম্মেলনে শাহরুখ খান বলেছিলেন যে তাঁর হাতে এক ডজন চিত্রনাট্য আছে। তবে তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি যে কোন ছবিতে কাজ করবেন। শোনা গিয়েছিল, বলিউডের বাদশার কাছে বড় বড় ব্যানারের প্রস্তাব আছে। ভালো ভালো চিত্রনাট্য আছে। তবে শাহরুখ একটু ব্যতিক্রমী চিত্রনাট্যের সন্ধানে ছিলেন। এমন এক চিত্রনাট্য, যা তাঁর ভেতরের অভিনেতাসত্তাটা জাগ্রত করতে পারবে। এমন এক চরিত্র তিনি চেয়েছিলেন, যা সবার অন্তরে চিরকাল বেঁচে থাকবে। আসলে শাহরুখ বুঝেছেন যে এবার ভুল করলে তাঁর ক্যারিয়ার ভরাডুবি হতে পারে। তাই আর ভুল নয়। সবার প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিলেও রাজকুমার হিরানিকে ফেরাতে পারেননি। তাই দীর্ঘ সময় ধরে বিটাউনের গুঞ্জন যে হিরানির ছবিতে কাজ করতে চলেছেন শাহরুখ। এখনো পর্যন্ত হিরানির সব ছবি বক্স অফিস কাঁপিয়েছে। তাই এই মুহূর্তে হিরানির থেকে নিরাপদ আর কিছু হতে পারে না। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে হিরানিও শাহরুখের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছেন। 'মুন্নাভাই এমবিবিএস' আর 'থ্রি ইডিয়টস' ছবি দুটির জনপ্রিয় এই পরিচালক কিং খানের সঙ্গে ছবি বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে এবার হিরানি আর শাহরুখকে হাতছাড়া করতে চান না। এদিকে কিং খানের জন্য এই মুহূর্তে হিরানির থেকে ভালো অবলম্বন আর কেউ হতে পারে না। রাজকুমার হিরানির আগামী এই ছবির গল্পের কিছুটা আভাস পাওয়া গেছে। তাঁর ছবিটি সেই মানুষদের নিয়ে, যাঁরা উপার্জনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমান। পাঞ্জাব থেকে প্রচুর তরুণ কানাডায় গেছেন। কানাডা এখন মিনি পাঞ্জাবে পরিণত হয়েছে। পাঞ্জাবি মেয়েরাও কানাডার ছেলেকে বিয়ে করতে চায়। জানা গেছে, শাহরুখ এক পাঞ্জাবি যুবকের চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন। আর সে জন্য তিনি ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁর বড় চুল হতে হবে। আর তাই লকডাউনকে কাজে লাগাচ্ছেন শাহরুখ। শোনা গেছে, তিনি চুল বড় করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। হিরানির এই ছবির শুটিং হবে পাঞ্জাবে ও কানাডায়। এই পরিচালকের বিশেষত্ব যে তাঁর ছবিতে ভরপুর বিনোদনের সঙ্গেও সামাজিক বার্তা থাকে। হিরানির আগামী ছবিতেও এসব কিছু থাকবে। জানা গেছে, চিত্রনাট্যের কাজ প্রায় শেষের পথে। এরপর শাহরুখ ও হিরানি একটা বৈঠক করবেন। ইতিমধ্যে লোকেশন দেখার কাজও শুরু হয়ে গেছে। আগামী আগস্টে ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। জানা গেছে, বছরের শেষের দিকে ছবিটির শুটিং শুরু হতে পারে। | 2 |
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ লুটেরা দলে পরিণত হয়েছে। তাই দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করছে। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রথম থেকে সরকার করোনার টিকা নিয়ে দুর্নীতি করেছে। এমন কোনো জায়গা নেই যে এই সরকার লুটপাট করছে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লুটেরা দলে পরিণত হয়েছে। লুটপাট করে বিদেশে টাকা পাচার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। সবাইকে গণপেনশনের কথা বলা হচ্ছে। এটার মাধ্যমে আরেকটি লুটপাটের ব্যবস্থা করছে। মানুষ আওয়ামী লীগকে তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করছে।' তিনি বলেন, 'সরকার নিজে এবং সমস্ত প্রশাসনযন্ত্রকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়ে ফেলেছে। ওয়াসার এমডিকে তিনবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। ব্যক্তিবিশেষকে দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। এই দুর্নীতির কারণে পানির মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুইক রেন্টাল প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। এদের জন্য আবার সংসদে দায়মুক্তি আইন করা হয়েছে।' তিনি আরো বলেন, আইনমন্ত্রী এবং উপদেষ্টার টেলিফোন আলাপ ফাঁস হয়েছে। আমরা জানতে চাই, এই সমস্তগুলো পরিষ্কার করে বলতে হবে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দূর করতে সরকার জনগণের করের টাকার অপচয় করছে- মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলতে মাসে ২০ লাখ ডলার খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করেছে সরকার। কেন লবিস্ট নিয়োগ করেছেন? ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। চতুর্দিকে নড়বড়ে অবস্থা।' তিনি বলেন, 'এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে বেশ কিছু দিন ধরে। আমরা রাস্তায় নেমে গেছি। তরুণ সমাজের প্রতি বলতে চাই, আপনারা জেগে উঠুন। সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান- আসুন আমরা একসাথে আন্দোলন করি এবং আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত করি।' চলমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংকট উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'এখনো সময় আছে খালেদা জিয়াসহ সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করুন। তাহলেই কেবলমাত্র এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।' ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন প্রমুখ। | 9 |
সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আজ যদি মহাজোট ভোটে হেরে যেত,তাহলে দেশ খুব বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতো। নেতৃত্বশূন্য,মেধাহীন ঐক্যফ্রন্টের ছায়ায় বিএনপি দেশকে আবার বহু বছর পেছনে নিয়ে যেত। সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি, জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতো দেশ। মহাজোটের এই বিজয়ে দেশ খুব বড় একটি বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার যে বিশাল বিজয় এসেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার ফসল নয়। এ বিজয় গত ১০ বছরের উন্নয়ন ও পরিশ্রমের ফসল। বর্তমান সরকারের গত ১০ বছরের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ কেবল তুষ্টই থাকেনি, ভোটের মাধ্যমেই তাদের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ আলী আকবরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুছা চৌধুরী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব সরকার, কর্মচারী সমিতির সভাপতি সারওয়ার হোসেন,সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। | 9 |
রাজধানীর কড়াইলে সরকারি জায়গায় এক বস্তিতে ৬৪টি ঘর ও দোকানের মালিক বনানী থানার ওসির সাবেক গাড়িচালক কনস্টেবল গোলাম রহমান দিদারসহ তিন পুলিশ সদস্য। অপর দু'জন হলেন কনস্টেবল সামছুদ্দিন ও আব্দুল মালেক। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বস্তির মাস্তান ও স্থানীয় অসাধু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পাশাপাশি বস্তির বাড়ি কেনাবেচায় অংশ নেন তারা। কর্মসূত্রে কড়াইল বস্তি এলাকায় থাকার সুবাদে তারা ওই ঘর ও দোকান ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে লাখ টাকা কামাচ্ছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, দীর্ঘ দিন বস্তির এই অবৈধ ঘরের মালিক ছিলেন অন্যরা। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের প্রভাব ও পরিচয় ব্যবহার করে বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে এই ঘরগুলো কিনে নেন। বিক্রেতারাও দীর্ঘ দিন সেগুলো অবৈধভাবে দখলে রেখেছিলেন। কড়াইল বস্তি এলাকায় গুচ্ছ গুচ্ছ ঘরের সমন্বয়ে একটি 'বাড়ি' হয়ে ওঠে। এমন চারটি বাড়িতে পুলিশের তিন সদস্যের মালিকানায় পাকা, আধাপাকা ও টিনের ঘর রয়েছে। এর মধ্যে দুটি দোতলা বাড়ি। বস্তির লোকজন বলছেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে এসে পুলিশ সদস্যরা বস্তির ঘরবাণিজ্য করলে সমাজে ভুল বার্তা যায়। বস্তি ঘিরে নানা অবৈধ কারবারে জড়িতদের সঙ্গে পুলিশের অনৈতিক সখ্য গড়ে ওঠে। এতে সাধারণ হাজারো বস্তিবাসী বঞ্চনার শিকার হন। সরেজমিন জানা যায়, মাদক কেনাবেচার অন্যতম স্থান কড়াইল বস্তি। নানা কৌশলে মাদকের হাতবদল হয় সেখানে। অবৈধ গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎও রয়েছে এ বস্তিতে। অথচ সেই অবৈধ কারবারের মধ্যেই বাড়ি কিনে ভাড়া দিচ্ছেন আইনের রক্ষক এই পুলিশ সদস্যরা। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গোলাম রহমান দিদার বর্তমানে গুলশান থানায় কর্মরত। তার দোতলা দুটি বাড়ি রয়েছে কড়াইলের বেলতলা ভাঙাওয়াল বস্তিতে। বনানী থানার বর্তমান গাড়িচালক কনস্টেবল সামছুদ্দিনের রয়েছে একটি বাড়ি। তিনি টিনের বাড়ি কিনলেও সেটি ভেঙে পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। তিনি কড়াইলে সামছু পুলিশ নামে পরিচিত। পুলিশের বিশেষ শাখার কনস্টেবল আব্দুল মালেকের রয়েছে একটি বাড়ি। তিনিও এক সময় বনানী এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন। বনানী থানার ওসি মো. নুরে আযম মিয়া সমকালকে বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য বস্তিতে ঘর কিনেছেন কিনা তা তার জানা নেই। যদি কেউ কিনে থাকেন সেটা পুলিশের বিধিবিধান-বহির্ভূত। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, প্রায় তিন বছর আগে কড়াইল বস্তিতে তৎকালীন স্টুডিও ব্যবসায়ী জনৈক রাজুর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকায় বেলতলা ভাঙাওয়াল বস্তিতে ২১টি ঘর ও ৪টি দোকান কেনেন পুলিশ কনস্টেবল দিদার। দিদার সে সময় বনানী থানার ওসির গাড়ি চালাতেন। বর্তমানে গুলশান থানায় কর্মরত। সম্প্রতি ঘর ভাড়া নেওয়ার কথা বলে সমকালের এই প্রতিবেদক দিদারের ওই বাড়িতে যান। এক নারী বাড়িটি ঘুরিয়ে দেখান। দোতলাবিশিষ্ট বাড়িটির একাংশের নিচতলা ছাদের। নিচে মোট ঘর সংখ্যা ১০টি। দোতলা পাকা দেয়ালের ওপরে টিনের চারটি এবং সাতটি টিনের ঘর। ওই নারী জানালেন, পাকা ও আধাপাকা প্রতিটি ঘরের ভাড়া পাঁচ হাজার টাকা। টিনের ঘরের ভাড়া আড়াই হাজার টাকা। বাড়িটি কার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, 'বাড়ি কার সেটি জেনে আপনার কোনো লাভ নেই।' জানা যায়, বাড়িটি দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত হোমিও চিকিৎসক জনৈক মীর জাহিদুল হক। দিদারের দোকান ঘরেই তার হোমিও ফার্মেসি। মাঝেমধ্যেই সন্ধ্যার পর দিদার সেখানে যান বাড়ির খোঁজখবর নিতে। বস্তিতে দিদারের পাকা ও আধাপাকা দোতলা আরও একটি বাড়ি আছে। এটি কিনেছেন নিশি নামে এক নারীর কাছ থেকে। বেলতলা বস্তি থেকে বউবাজার বস্তির দিকে যেতে রাস্তা-সংলগ্ন বাম পাশে এর অবস্থান। নিচতলা পাকা। দোতলায় পাশে ইটের দেয়াল, ওপরে টিন। দোতলায় তিনটি ঘরই ভাড়া দেওয়া আছে। নিচতলায় তিনটি দোকান ঘর। ফার্মেসি. হলুদ-মরিচ ভাঙানোর কারখানা এবং অপরটি কামারের দোকান। জানতে চাইলে কনস্টেবল দিদার সমকালকে বলেন, বাড়ি দুটি আমার না। বনানী থানায় চাকরির সূত্রে কড়াইল আমার চেনাজানা। বাড়ি দুটি আমার দুই বন্ধু উজ্জ্বল ও বিল্লাল কিনেছেন। কিন্তু সবাই জানে এটা আমার। তাই আমি নিজেও বলি বাড়ি আমার। একবার বলছেন যে বাড়ি নিজের না, আরেকবার বলছেন নিজের- এমন প্রশ্নের জবাবে তার ভাষ্য- পুলিশের বাড়ি বললে বস্তিতে আমার বন্ধুদের ঝামেলায় পড়তে হবে না। ওরা মিরপুরে ব্যবসা করে। অবশ্য একটি বাড়ির বিক্রেতা রাজু এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে পুলিশ কনস্টেবল দিদারের কাছে বাড়িটি বিক্রি করেছেন। মালিক হিসেবে দিদারের নামেই স্ট্যাম্প করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বাড়ি বিক্রেতা রাজু বর্তমানে গ্রামের বাড়ি জামালপুরে থাকেন। বাড়ি বিক্রির পর তিনি গ্রামে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে মাঝেমধ্যে আসেন কড়াইলে। পুলিশ ও প্রভাবশালীরা নানাভাবে হয়রানি করেছেন তাকে। পেন্ডিং মামলার আসামি করে বনানী থানার তৎকালীন এসআই আবু তাহের ভুইয়া গ্রেপ্তারও করেছিলেন রাজুকে। তাহের তখন কড়াইল বিট ইনচার্জ ছিলেন। বস্তিতে রাজুর বসবাসের বাড়ির রাস্তা বের করে দেওয়ার নামে তার কাছ থেকে এসআই তাহের অবৈধভাবে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজুর সঙ্গে ফোনে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ভয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে বলেন, 'আপনি লিখলেই আপনার কাজ শেষ। আমাকে তো মাঝেমধ্যে কড়াইলে যেতে হয়। আমার বিপদ হতে পারে।' একপর্যায়ে রাজু আরও জানান, বেলতলা ভাঙাওয়াল বস্তি ও বউবাজার বস্তিতে তার কয়েকটি বাড়ি ছিল। দিদারের কাছে যেটি বিক্রি করেছেন, সেই দোতলা আধাপাকা বাড়িটি প্রায় ১১ বছর আগে তার কেনা। তিন বছর আগে ১৬ লাখ টাকায় তিনশ টাকার স্ট্যাম্প করে দিদারের কাছে বিক্রি করেন তিনি। এটি সরকারি জায়গা হওয়ায় রেজিস্ট্রি বা দলিল করার কোনো সুযোগ ছিল না। যে কারণে স্ট্যাম্পের ওপর ভিত্তি করেই বস্তির বাড়ি বা ঘর বেচাকেনা হয়। ওই বাড়ি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করলে অন্তত ৩০ লাখ টাকায় তিনি বিক্রি করতে পারতেন। বাড়িটির পাশেই আরও একটি টিনের বাড়ি ছিল তার। সেখানে ঘর সংখ্যা ১৫টি। ভাড়াটেদের পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাসও করতেন সেখানে। এসব ঘরের বাসিন্দাদের বের হওয়ার রাস্তা দিদারের বাড়ির পূর্ব পাশে। দিদার বাড়িটি কেনার পরই পুলিশের সহায়তায় ওই রাস্তা বন্ধ করে দেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জুনায়েদ ও তার সহযোগীরা। রাজুর অভিযোগ- রাস্তা বন্ধে সহায়তা করেছিলেন এসআই আবু তাহের। পরে রাস্তা বের করে দেওয়ার নামে তার কাছে আবু তাহের ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। রাজু রাস্তা পাওয়ার প্রত্যাশায় নগদ ২০ হাজার টাকা দেন আবু তাহেরকে। পরে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। এই টাকা না দেওয়ায় রাস্তা আর পাননি রাজু। বাড়িটির দখল নিতে এসআই আবু তাহেরকে হাত করেন জুনায়েদ। আবু তাহের নানাভাবে হয়রানি করতে থাকেন রাজুকে, যাতে তিনি বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। শুধু তাই-ই নয়, রাজুকে বাড়ি ছেড়ে দিতে হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাড়িটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন রাজু। বছর দুই-এক আগে দুই লাখ টাকায় ১৫টি ঘর জুনায়েদ নিজের নামে স্ট্যাম্প করে নেন রাজুর কাছ থেকে। অভিযোগের বিষয়ে এসআই আবু তাহের ভুইয়া সমকালকে বলেন, প্রায় এক বছর আগে তিনি বনানী থানা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হয়েছেন। রাজু নামে তিনি কাউকে চেনেন না। রাস্তা বের করে দেওয়ার নামে কারোর কাছ থেকে তিনি টাকা নেননি। পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়ও তার মনে নেই। জুনায়েদকে তিনি চেনেন। তবে বাড়ি কেনায় জুনায়েদকে তিনি কোনো প্রকার সহায়তা করেননি বলে দাবি করেন। বলেন, 'এতদিন পর আমার বিরুদ্ধে সব মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।' বউবাজার রোডে দুই পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি দুটি টিনের বাড়ির তথ্য বেরিয়ে আসে। একটি কনস্টেবল আব্দুল মালেকের এবং অপরটি কনস্টেবল সামছুদ্দিনের। বস্তিবাসী মালেক পুলিশ ও সামছু পুলিশের বাড়ি হিসেবেই চেনে ওই দুটি বাড়ি। ৪-৫ বছর আগে দুলাল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে আব্দুল মালেক ১৬টি টিনের ঘর ও রাস্তা-সংলগ্ন দুটি দোকানঘর কেনেন চার লাখ টাকায়। প্রতিটি ঘর থেকে বর্তমানে মাসে ভাড়া তুলছেন দুই হাজার আটশ টাকা এবং দুটি দোকানের ভাড়া ১২ হাজার টাকা। মালেক যখন বাড়ি কেনেন তখন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি গোয়েন্দা ইউনিটে চাকরি করতেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত। বাড়ি কেনার কথা স্বীকার করে কনস্টেবল আব্দুল মালেক সমকালকে বলেন, ৪-৫ বছর আগে বাড়িটি তিনি দুলাল নামে একজনের কাছ থেকে কিনেছেন। বস্তির ঘর ও রাস্তার পাশের দুটি দোকান ভাড়া দিয়েছেন। বাড়ি কেনা অনিয়মের কিছু নয় বলে দাবি করেন তিনি। আব্দুল মালেকের পাশের বাড়িটি ছিল ইয়াছিন নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর। মাস দুই-এক আগে সাত লাখ টাকায় রাস্তা-সংলগ্ন একটি দোকান, ১৪টি ঘরসহ সাত লাখ টাকায় ক্রয় করেন কনস্টেবল সামছুদ্দিন। তিনি টিনের ঘর খুলে দোতলা পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। সামছুদ্দিন বনানী থানার গাড়িচালক। কনস্টেবল সামছুদ্দিন বস্তিতে বাড়ি কেনার কথা স্বীকার করে সমকালকে বলেন, 'সবাই কেনে, আমিও কিনেছি। সরকার যখন বস্তি উচ্ছেদ করবে তখন আমারটাও উচ্ছেদ হবে। এতে সমস্যা কিসের।'
| 6 |
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছেন চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত মহাসমাবেশে আন্দোলনকারীরা বলেন, এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করার জন্য দশম জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রালয় সম্পর্কিত সরকারের স্থায়ী কমিটি পর পর তিনবার বাস্তবায়নের সুপারিশ এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার, চাকরিতে আবেদনের বয়স বৃদ্ধি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সাধারণ ছাত্র পরিষদের মুখপাত্র ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, 'সংসদে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি পরপর তিনবার সুপারিশের পরও কেন উপেক্ষা করা হচ্ছে? সরকার ২৮ লাখ তরুণের দাবি কেন অবহেলা করছে? আমরা বলতে চাই দ্রুত সময়ে আমাদের দাবি মেনে নিন। সমাবেশে সরকারের উদ্দেশে আন্দোলনকারী এম এ আলী বলেন, 'সরকার আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায় করছে। আমরা চাকরির বয়স ৩০ থেকে ৩৫ করার লক্ষ্যে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আজ পর্যন্ত আন্দোলন করে আসছি।' এ সময় তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আমাদের দাবিটি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে বাংলার ৬৪ জেলাতে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করব। তিনি আরও বলেন, 'আমরা বর্তমান সরকারকে বড় আশা নিয়ে ক্ষমতায় এনেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা দিয়েছিলেন বাংলাদেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমার ব্যাপারে যৌক্তিক সমাধান দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা এখনও এর যৌক্তিক সমাধান পাইনি।' আরেক আন্দোলনকারী আলামিন রাজু বলেন, 'আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ৩৩ পৃষ্ঠায় বয়স বৃদ্ধির ঘোষণা ছিল। কিন্তু জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেনের কথায় আমরা বেকার যুব-ছাত্রসমাজ হতাশাগ্রস্ত।' সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি হারুন-অর-রশিদ, এমএ আলী, ইউসুফ জামিল, রফিকুল ইসলাম কিরন, মহাদেব সরকার, নাছির হোসেন, কামাল হোসেন, জসিম উদ্দিন, নাসরিন সুমি, অরুণিমা, নাহিদা আক্তার প্রমুখ। সমাবেশে ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি জেলা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ বছর প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা 'চাকরি নয় সুযোগ চাই, ৩৫ ছাড়া গতি নাই', '৩০ নিপাত যাক ৩৫ এর জয় হোক', 'বয়সের ফ্রেমে মেধাকে বন্দি করা চলবে না', ইত্যাদি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। | 6 |
নদীর পাড়ে খোঁড়াখুঁড়ি করলেই নাকি মিলছে স্বর্ণ ও রূপার মুদ্রা! এমন খবরে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলায়। স্থানীয় পার্বতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় রীতিমতো তাবু খাটিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছেন বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। নদীর পাড়েমাটি খোঁড়ার কাজও চলছে দিনরাত। যদিও গুজবের কারণে এই ঘটনা ঘটছে বলে দাবি প্রশাসনের। ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, কয়েকদিন আগে পার্বতী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পাড় থেকে পুরনো কিছু মুদ্রা খুঁজে পেয়েছিলেন রাজগড় জেলার শিবপুরা ও গরুড়পুরা গ্রামের মৎস্যজীবীরা। ওই মুদ্রাগুলো মোঘল আমলের বলে জল্পনা শুরু হয়। এদিকে এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই পার্বতী নদীর পাড়ে দলে দলে লোক জমে যায়। শুরু হয় নদীর পাড়ে মাটি কোপানোর কাজ। খবর পেয়ে ভোপাল শহর থেকে ১৪১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই এলাকায় আসতে শুরু করেন অন্য জেলার লোকও। এখনও সেখানে লোকজন এসে মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন খোঁজার চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে রাজগড়ের পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা বলেন, আমরা ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনো অবনতি না হয় তার জন্য কড়া নজরদারি চালাচ্ছি। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টাও খেয়াল রাখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মৎস্যজীবীরা যে প্রাচীন মুদ্রাগুলো পেয়েছে সেগুলো ব্রোঞ্জের বলে জানা গেছে। কিন্তু, তারপরও মানুষ স্বর্ণ ও রূপার মুদ্রাসহ গুপ্তধনের খোঁজে মাটি খুঁড়ছে। প্রচুর ভিড় হওয়ায় করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও আছে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 5 |
কাভার্ড ভ্যানে গার্মেন্টসের কাঁচামাল সরবরাহের আড়ালে হবিগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা হতো গাঁজার বড় চালান। কাভার্ড ভ্যানে বোঝাই করা ওই কাঁচামাল পৌছে দেয়া হতো ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টসে। পথিমধ্যে গাঁজার চালান তুলে দেয়া হতো মাদক কারবারিদের হাতে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই গাঁজার বড় বড় চালান হাত বদল করে আসছিল একটি চক্র। অবশেষে গাঁজার চালানসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) হাতে ধরা পড়েছে চক্রের ২ সদস্য। তারা হলেন মো. শাহিন মিয়া ও মো. তোফাজ্জল। শনিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সায়েম গার্মেন্টসের কাভার্ড ভ্যান ও ১৬ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা কাভার্ড ভ্যানটির চালক ও হেল্পার। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি মামলা (নম্বর-৮৩) দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসির সহকারী পরিচালক (ঢাকা মেট্রো উত্তর) মো. মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ সায়েম গার্মেন্টসের কাঁচামাল সরবরাহের আড়ালে হবিগঞ্জ হতে ঢাকায় নিয়মিত গাঁজা সরবরাহ করছে। চক্রটি গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে কাঁচামাল সরবরাহের আড়ালে একইভাবে গাঁজার একটি চালান নিয়ে ঢাকায় আসবে বলে জানতে পারি। পরে শনিবার সকাল ১০টার দিকে মেরাদিয়া এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে সায়েম গার্মেন্টসের কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-উ-১১-২৬৪১) থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এসময় চালকের কেবিনের ভেতর থেকে ১৬ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডিএনসিকে জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ থেকে গাঁজা সংগ্রহের পর তারা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে সরবারহ করতেন। এ চক্রের অন্য কারা আছে সে বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান মো. মেহেদী হাসান। | 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপি নেতারা রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছেন। আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'মহামান্য রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই শুভ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকে বিএনপি নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে চিরাচরিতভাবে বিষোদ্গার করে চলেছেন।' 'নির্বাচনের সময়ে নিরপেক্ষ সরকার না থাকলে, সে নির্বাচন কোনো দিন অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে না'-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, 'মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা সকলেই জানি, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন অনুষ্ঠান ও তা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।' বিএনপির যেকোনো উপায়ে নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা এবং পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারার মানসিকতাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রধান অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, 'বিএনপি নেতারা নিরপেক্ষতার কথা বলছেন। কিন্তু তাঁদের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষতার মানদণ্ড কী? তার প্রমাণ তাঁরা ক্ষমতায় থেকে বারংবার দেখিয়েছেন। বিএনপি নেত্রী একসময় বলেছিলেন, দেশে শিশু আর পাগল ছাড়া কেউই নিরপেক্ষ নয়। দেশবাসী জানেন, যতক্ষণ বিএনপির ক্ষমতা দখলের পথ নিরাপদ না হবে, ততক্ষণ তাদের নিরপেক্ষতার মানদণ্ড নিশ্চিত হবে না।' রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, জনগণের মতামত প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম হলো নির্বাচন। সেই নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অধিকতর গণতান্ত্রিক ও আধুনিক করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আশা করি, মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক ক্ষণে গৌরবোজ্জ্বল সময়ে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে চলমান সংলাপে দেশে জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিকব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে। | 9 |
৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাসহ পাঁচদফা আদায়ে গণকর্মচারীদের নিয়ে সচিবালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব নোমানুজ্জামান আল আজাদ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পাঁচদফা দাবি আদায়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। নোমানুজ্জান আল আজাদ বলেন, আমাদের দাবি ১০ ধাপে বেতন নির্ধারণসহ নবম বেতন কমিশন গঠন, সচিবালয়ের মতো পদবি পরিবর্তন, টাইমস্কেল সিলেকশন গ্রেড, শতভাগ পেনশন পুনর্বহাল, মূল বেতনের ২০ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রদান এবং পেনশন গ্রাচুইটির হার ১ টাকায় ৫০০ টাকা নির্ধারণ। পরিষদের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ রনির পরিচালনায় এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সৈয়দ সারোয়ার হোসেন, বদরুল আলম সবুজ, কুতুব উদ্দীন সেলিম, এম এ আউয়াল, নাজমা আকতার, এনামুল হক মজুমদার, মো. মানিক মিয়া, মো. শাহ আলম, মো. নজরুল ইসলাম, আব্দুল আহাদ শিপন, আবুল হোসেন, মোহাম্মদ আলী, আমির হোসেন ও মো. ইউসুফ আলী। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
গত কয়েকটি বছর নিজেকে অনেক পরিবর্তন করেছেন তাসকিন। চেহারার মধ্যে আগের সেই কিউট ভাবটা নেই। চেহারাদের মধ্যে কঠোর পরিশ্রমের ছাপ। বল হাতে ক্রিজে মাঝে মধ্যে ঝড় তোলেন। উঠান গতির ঝড়। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে নিজের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন এই পেসার। দলীয় সাফল্যের সঙ্গে নিজেও রাঙাতে চান বল হাতে। হতে চান বিশ্বের সেরা বোলার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সবসময় প্রক্রিয়ায় মনোযোগটা বেশি থাকে। আমি ভালো খেলি না খারাপ খেলি, নিজের প্রক্রিয়াটা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্বপ্ন অনেক বড়। আমি বিশ্বের সেরা বোলার হতে চাই। এ জন্য সবসময় নিজের ফিটনেস ও বোলিং যদি উন্নতি হয় সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছি। আজকেও নিজে ওয়ার্কলোডে মেন্টেইন করলাম। যেহেতু টেস্ট খেলি, তাই আমার বোলিং ওয়ার্কলোড ঠিক রাখতে হয়। একই সঙ্গে সাদা বলে মাঝের ওভারের বোলিং করছিলাম। সেদিন তামিম ভাইর সঙ্গে নতুন বলের বোলিং করছিলাম।' তিনি আরও বলেন, 'প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করছি। আমার দুর্বলতাগুলোকে কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। নিজের শক্তিকে আরও ধারালো করার চেষ্টা করছি। সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সবাই আসলে পেস বোলিং ইউনিট। সবার মধ্যে বন্ডিং অনেক ভালো। সবাই এক সঙ্গে চেষ্টা করছি। আশা করি রিভার্স সুইং, ডেথ ওভার, এসবও আমাদের উন্নতি হবে।' 'গত এক-দেড় বছর ধরে পেস বোলিং বিভাগটা ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। এবং সবাই ধারাবাহিক। আশা করছি এটা ধরে রাখতে পারব। সামনে এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ, ২৩ এর বিশ্বকাপ আছে। আমরা যদি সিরিজ ধরে ধরে নিজেদের উন্নতির ধারাটা বজায় রাখতে পারি, তাহলে আমাদের ভালো সুযোগ থাকবে।' সাকিব নেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। বিসিবি তাকে ছুটি দিয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। তারকা এই অলরাউন্ডারকে মিস করবেন তাসকিন। তিনি বলেন, 'অনেক মিস করব। সাকিব ভাই তো সবসময় এক্স ফ্যাক্টর। উনি থাকলে যে কোনো দলের জন্য ভালো হয়। কিন্তু যদি না খেলে থাকে তাহলে আমরা অনেক মিস করব।' | 12 |
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), মেডিকেলসহ সব পরীক্ষাতেই মেধা তালিকায় প্রথম দিকেই ছিলেন আবরার ফাহাদ। চেয়েছিলেন প্রকৌশলী হতে। কিন্তু রাজনৈতিক সচেতনতা আর স্বভাবজাত প্রতিবাদী মানসিকতাই কাল হয়ে দাঁড়ালো আবরার ফাহাদের জন্য। ফাহাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মিলেছে এমন তথ্য। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেশের স্বার্থ আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে সব সময়। যার শেষ হয়েছে তার মৃত্যু দিয়ে। বিডি প্রতিদিন/০৭ অক্টোবর, ২০১৯/আরাফাত | 1 |
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিংহাই প্রদেশে ছয় দশমিক ছয় মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূমিকম্পবিজ্ঞানীদের সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। মার্কিন ভূমিকম্পবিজ্ঞানীরা জানান, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল জিনিং শহরের প্রায় ১৪০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে ১০ কিলোমিটার গভীরে। এ ভূমিকম্পে তেমন 'ক্ষয়ক্ষতি হয়নি'। তবে মার্কিন ভূমিকম্পবিজ্ঞানীরা বলেছেন, 'উল্লেখযোগ্য ক্ষতি' হতে পারতো। | 3 |
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী। নৌকা প্রতীক নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ফজলে নূর তাপস। উত্তর সিটির (ডিএনসিসি) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আতিকুল ইসলাম। এর মধ্যে ফজলে নূর সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেন। আর আতিকুল ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে ৯ মাস মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি। গতকাল শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দুই সিটিতে ভোট গ্রহণ করা হয়। বাসস জানায়, ভোট গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে নয়টার দিকে শেখ ফজলে নূর ও আতিকুল ইসলাম গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রী দুজনকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিজয় দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। এবার দুই সিটির সব কেন্দ্রেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোট গ্রহণ হয়েছে। গত রাত পৌনে একটায় ঢাকা দক্ষিণের ১ হাজার ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে সব কটি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়। তাতে শেখ ফজলে নূর পেয়েছেন ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট। তাপস ক্ষমতাসীন দলেরই বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে মেয়র পদে মোট ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণের সাত মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবদুর রহমান পেয়েছেন ২৬ হাজার ৫২৫ ভোট। গণফ্রন্টের প্রার্থী আবদুস সামাদ পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৯৩ ভোট। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী বাহারানে সুলতান পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৫ ভোট। বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আকতারুজ্জামান পেয়েছেন ২ হাজার ৪২১ ভোট। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটিতে মোট ১ হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে গত রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত ১২০৫টির ফল ঘোষণা করা হয়। তাতে আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ লাখ ১৫ হাজার ৮০২ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তাবিথ আউয়াল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ লাখ ৪২ হাজার ৮৪১ ভোট। বাকি ১১৩টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা বাকি আছে। তবে এসব কেন্দ্রের শতভাগ ভোট তাবিথ পেলেও তাঁর জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের 'বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র' থেকে। গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আতিকুল ইসলাম বলেন, 'আমরা সবাই মিলে ঢাকা গড়ব। তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক চাচা-ভাতিজার। আমি মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাবিথকে ডাকব। তাঁর ইশতেহারে ভালো কিছু থাকলে আমরা সেটি নেব। যানজট, জলজট ও এডিস মশা নির্মূলে কাজ করব।' ইভিএমে ভোট হওয়ায় ভোটে দুই নম্বরি করার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। গতকাল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ভোট পড়ার হার ৩০ শতাংশের বেশি হবে না। আরেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ভোট পড়ার হার ২৫ শতাংশের নিচে হবে। এবার ঢাকা দক্ষিণে মোট ভোটার ছিলেন ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ এবং উত্তরে মোট ভোটার ছিলেন ৩০ লাখ ১ হাজার ২৭৩ জন। রাতে ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন জানান, ভোট পড়ার হার ২৯ শতাংশ। ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ট্যাবে রেজাল্ট পাঠাতে ভুল করেছেন, অনেকে ম্যানুয়ালি পাঠিয়েছেন। যাঁরা ভুল করেছেন, তাঁদের আলাদা আলাদাভাবে ফোন করে ম্যানুয়ালি রেজাল্ট নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর ঢাকা উত্তরে ভোট পড়েছিল ৩৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগেই গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি। এর প্রতিবাদে আজ রোববার ঢাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে দলটি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও ভোট শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি-সমর্থক প্রার্থীরা। | 9 |
বিতর্কিত হওয়ায় নরসিংদীর রায়পুরার অলিপুরায় দলীয় মনোনয়ন জমা দেয়ার একদিনের মাথায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়াসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য তার প্রার্থিতা পরিবর্তন করা হয়। আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম ওবায়দুল হক বাবলু এবার দলের মনোনয়ন দেয় দলটি। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ ও আপত্তির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে সেখানকার প্রার্থিতা পরিবর্তন করে দলটি। নতুন করে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান আলামিন ভুইয়া মাসুদকে। এরপরও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, আলামিন ভুইয়া মাসুদ রায়পুরা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। একই সাথে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সু-সময়ে দলে অনুপ্রবেশকারী এই সাবেক ছাত্রদল নেতাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকার মাঝি হিসেবে মেনে নিতে চাইছেন না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ ওই এলাকা ও এলাকার বাইরে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ১০ ইউনিয়নসহ সদর উপজেলার ২টিসহ মোট ১২ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সবকটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, রায়পুরার অলিপুরায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল হক বাবলুকে প্রথমে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিতর্ক তৈরি হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তার মনোনয়ন বদল করে বর্তমান চেয়ারম্যান আল আমিন ভুইয়া মাসুদকে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। বর্তমানে আল আমিন ভুইয়া মাসুদকে নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ একসময় তিনি রায়পুরা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। একই সাথে বিএনপির রাজনিতিতে সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সু-সময়ে দলে অনুপ্রবেশকারী এই সাবেক ছাত্রদল নেতাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকার মাঝি হিসেবে মেনে নিতে চাইছেন না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ ওই এলাকা ও এলাকার বাইরে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। জানতে চাইলে প্রথমে মনোনয়ন পাওয়া ওবায়দুল হক বলেন, 'গত নির্বাচনে আমি বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলাম না। নেতাকর্মীদের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও আমার প্রতীকে কিছু ভোট পড়েছিল। এই বিষয়টিকে পুঁজি করেই আমার প্রতিপক্ষরা আমার মনোনয়নের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে এখন যাকে মনোনয়ন দেওয়া হল তিনি আওয়ামী লীগের একজন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পরিচিত। এমন সিদ্ধান্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কষ্ট পেয়েছে।' পুনরায় মনোনয়ন পাওয়া বর্তমান চেয়ারম্যান আল আমিন ভুইয়া মাসুদ জানান, 'তৃণমূল থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আমাকে একক প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিল। তবুও কেন একজন বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন তা আমার জানা নেই। কেন্দ্রীয় কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আমি পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছি।' তবে ছাত্রদলের কমিটিতে নাম থাকার বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের সত্যতা নিশ্চিত করে রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসেন জানান, 'দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গত ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় ওবায়দুল হকের মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আপিল কমিটি যাচাই-বাছাই করে মনোনয়ন বাতিল এবং প্রদানের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। এ ব্যাপারে আমাদের মন্তব্য করা ঠিক হবে না।'
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
ইসির প্রতি এখনো বিএনপি আস্থাশীল জানিয়ে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন দাবি জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। তারা বলেন, আমরা এখনো নির্বাচন কমিশনের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা হারাইনি। আশা করি ভালো নির্বাচন দিয়ে তারা মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করবেন। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। সিইসির সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। মঈন খান বলেন, আমরা এখনো নির্বাচন কমিশনের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা হারাইনি এটা বলতে হবে। রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা রয়েছে। আমরা কমিশনকে আবারো বলেছি, অবিলম্বে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হোক। আশা করি ভালো নির্বাচন দিয়ে তারা মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করবেন। গণতন্ত্রের যে ভিত্তি, তা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নির্বাচনকে ঘিরে নয়। স্থানীয় নির্বাচনেও তার গুরুত্ব রয়েছে। সে কারণে স্থানীয় নির্বাচনও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো জানান, তিন সিটি নির্বাচনের বিষয়ে ৬টি সুনির্দিষ্ট লিখিত দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দিয়েছি। চার সদস্যের এ প্রতিনিধি দলে বিএনপির সহ-সভাপতি কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলে পরিমাণ ১ কোটি ১২ লাখ টাকা। দীর্ঘদিনেও পরিশোধ না করায় পৌর এলাকার একাধিক পানির পাম্পের সংযোগ কেটে দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ফলে ভেঙে পড়েছে পৌর এলাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি থেকে একে একে পৌর এলাকার সাতটি পানির পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট লাইনে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবানের সহকারী প্রকৌশলী মো.মতিউর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য অফিসিয়ালি নোটিশ দেওয়া হলেও জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর বকেয়া পরিশোধ করেনি। তাই রাজস্ব আদায়ের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাতটি পানি সরবরাহ কেন্দ্রের ১ কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে- ক্যাচিং ঘাটা ওয়াটার পাম্পে ৭৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭২৫ টাকা, পৌর ওয়াটার সাপ্লাইয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬৮ টাকা, বালাঘাটা ওয়াটার পাম্পে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, উজানী পাড়া পাম্পে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৩ টাকা, টেক্সটাইল ভোকেশনাল পাম্পে ৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা, রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন পাম্পে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১০৪ টাকা এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনের ৪২ হাজার ৮৪১ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ বান্দরবানের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মতিউর রহমান বলেন, "বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য বারবার তাগিদ দিলেও তারা তা পরিশোধ করেনি। তাই তাদের সাতটি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।" এদিকে, পাহাড়ি এলাকা বান্দরবানে প্রাকৃতিক উৎস কম থাকায় পৌর এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ সাপ্লাই পানির ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু চলমান পরিস্থিতিতে পানি সরবরাহ দিতে পারছে না জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এত টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিস্মিত সাধারণ গ্রাহকরা। জেলা শহরের বালাঘাটার বাসিন্দা রাশেদ ইসলাম বলেন, "আমাদের লাইনে দীর্ঘদিন ধরে পানি আসছে না, আমার পানির বিলও বকেয়া নেই। আর এমনিতেও পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম।" শহরের রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে পানি আসছে না, বাসায় খাবার পানিও নেই, দ্রুত আমরা এর সমাধান চাই।" জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে গত ১৮ জানুয়ারি ইস্যুকৃত অগ্রণী ব্যাংকের একটি ৫ লাখ ১ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। কিন্তু, গত ৩০ জানুয়ারি ব্যাংকে উপস্থাপন করলেও অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যান করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মিষ্ঠা আচার্য জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে পার্বত্য জেলা পরিষদ। এছাড়া চেকও ইস্যু করেছে পার্বত্য জেলা পরিষদ। কেন বা কী কারণে এত টাকা বকেয়া বা চেক প্রত্যাখ্যান হয়ে গেলো তা জেলা পরিষদ ভালো বলতে পারবে। যোগাযোগ করা হলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা বলেন, "অসুস্থতার কারণে কিছুদিন খোঁজ খবর নিতে পারিনি, বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। প্রতি বার সমন্বয় করে এসব সমস্যার সমাধান করা হয়। তবে জনগণকে জিম্মি করে বিদ্যুৎ বিভাগের এ ধরনের বকেয়া আদায়ের সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক। জনগণ যাতে পানির জন্য কষ্ট না পায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" | 6 |
স্টাইলিশ কাটের টপ যাঁরা পরতে চান, তাঁদের জন্য হাতে ফ্রিল দেওয়া টপ। শাড়ির সঙ্গে ক্রপ টপগুলো এখন বেশ জনপ্রিয়। সেটা যেকোনো কাটের হতে পারে। সুতির হলুদ শাড়িতে পোলকা ডটের প্রাধান্য। ব্লাউজেও আছে একই নকশা। চুলে হালকা কোঁকড়ানো ভাব। শাড়ি: আইরিসেস, টপ: সাবেরা আনোয়ার, পানাশে হাব হলুদ শাড়ি আর কমলা ব্লাউজ। বোট নেকের ব্লাউজের হাতার শেষ দিকটা বেশ ঢিলেঢালা। মাঠে খুঁজে পাওয়া ফুলগুলো হয়েছে মাথার মুকুট। শাড়ি: হ্যান্ড টাচ, ব্লাউজ: যাত্রা শাড়ি ও জ্যাকেট: আইরিসেস গয়না: স্বাক্ষর বাই নওরিন শাড়ি: হ্যান্ড টাচ, ব্লাউজ: যাত্রা শাড়ি ও টপ: শাড়ি ক্লাব শাড়ি: হ্যান্ড টাচ ব্লাউজ: বিবি প্রোডাকশনস | 4 |
আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেছেনআওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে 'সম্প্রীতি বাংলাদেশ' আয়োজিত 'বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ: অভিন্ন সত্ত্বা' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন,আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেই বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হতে পেরেছে। দু'টি লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা-দেশের স্বাধীনতা ও দারিদ্র্যমুক্তি। তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা এনে দিতে পারলেও দারিদ্র্যমুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। তার কন্যা শেখ হাসিনার হাতে এখন দেশের পতাকা। বঙ্গবন্ধুর সেই অসমাপ্ত কাজটি এখন তিনিই করে যাচ্ছেন। তার চেষ্টায় বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাশালী দেশ, উন্নয়নের রোল মডেল।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার পথে অনেকখানি এগিয়ে গেছেন। আজ আমরা মধ্যম আয়ের দেশ, উন্নয়নশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ।' স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বাজেটের আকার ছিল ৭৮৭ কোটি টাকা-একথা উল্লেখ করেতোফায়েল আহমেদ বলেন, এ বছর বাজেট ঘোষণা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার। ৩০০ মিলিয়ন ডলার ছিল দেশের রফতানি আয়, এখন তা ৪১ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। মাথাপিছু আয় ছিল ৭০ ডলার, এখন তা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৯তম ও ২০৫০ সালের মধ্যে ২৩তম অর্থনীতির দেশ হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যখন পুনর্গঠন করছিলেন, ঠিক তখনই তাকে হত্যা করা হয়। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করেছিলেন। তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় গিয়ে সেটাই করেছিলেন। এটা দেশ ও জাতির জন্য কলঙ্ক। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সাল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে জানিয়ে প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি। বিশ্বাস করি, এদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেই।' সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যয়ের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, ড. মিল্টন বিশ্বাস, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শরীফুল ইসলাম শরীফ প্রমুখ। | 9 |
করোনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও বাচ্চাদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত স্কুল খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। জাকির হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম যথা শিগগিরই শুরু হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমাদের সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগের মতামত নিয়ে করোনা পরিস্থিতি শেষ না হলে আমাদের বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে চাই না। | 6 |
নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল আশা করেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে সব দল আসবে। এতে নির্বাচন সুন্দর হবে। আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লাভ লেইন এলাকায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, 'সব দলের অংশগ্রহণ চাইব না কেন? আমরা আশা করি, সব দল অংশগ্রহণ করবে। একটি রাজনৈতিক দল কেন আহ্বানে সাড়া দেয়নি, সেটি বলতে পারব না। আমরা চাই সব দল আসুক। এতে নির্বাচন সুন্দর হবে।' নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে সুন্দরভাবে নির্বাচনের আয়োজন করা। স্থানীয় হোক কিংবা জাতীয় সংসদসহ সব নির্বাচন। আমাদের ওপর যে দায়িত্ব, তা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী সাধ্যমতো আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ শুক্রবার চট্টগ্রামে আসেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, কাল শনিবার তিনি গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপে যাবেন। সেখানে রোববার স্মার্ট কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সোমবার চট্টগ্রাম ফিরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন। আজ বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করতে আসেন। সভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে পাঁচজনকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। | 9 |
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে এখন সর্বাধিক আলোচিত ফরিদপুর-৪ নির্বাচনী এলাকাটি। সেখানে বাঘে-সিংহে না হলেও কাজী ও চৌধুরীর মধ্যকার লড়াই বেশ জমে উঠেছে। একদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, অন্যদিকে স্বতন্ত্র সাংসদ মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন (যিনি নিক্সন চৌধুরী নামেই বেশি পরিচিত)। নিক্সন পর পর দুবার জাফর উল্যাহকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনিও আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। তাঁর বড় ভাই নূরে আলম চৌধুরী বর্তমানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ। ২০০১ সালে যখন আওয়ামী লীগের চরম দুঃসময় ছিল তখন কাজী জাফর উল্যাহ বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সংসদে আওয়ামী লীগের সদস্যসংখ্যা ছিল ৬২। ২০০৮ সালে মামলার কারণে তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। তাঁর স্ত্রী নিলুফার চৌধুরী সাংসদ হয়েছিলেন। সম্প্রতি চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংসদের মধ্যে যে বিরোধ তার পেছনে রাজনৈতিক বা আদর্শগত কোনো দ্বন্দ্ব নেই। দ্বন্দ্বটা হলো ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির। নেতার সঙ্গে নেতার। ফরিদপুরের এই আসনটি ২০০১ সাল থেকে বিএনপির হাতছাড়া। আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য। চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত মার্চ মাসে। করোনার কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। সে সময়ে কাজী জাফর উল্যাহর সমর্থক মো. কাউসারকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। কাজী সাহেব আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থীর কথা এলাকায় ঘোষণাও করেছিলেন। এর মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। কাউসার মনোনয়ন পাওয়ার পর পক্ষ ত্যাগ করে নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে হাত মেলান। দলের আরও অনেক নেতা-কর্মী তাঁকে অনুসরণ করেন। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে বহিষ্কার করে। জেলা কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটিকে নালিশ জানায়। তারপরও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. কাউসারের জয় নিশ্চিত ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে শক্ত কোনো প্রার্থী ছিলেন না। অবস্থা বেগতিক দেখে বিএনপির প্রার্থী আগেই রণেভঙ্গ দেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন এটিও কেউ মনে করেননি। কিন্তু প্রশাসন নিয়ে কিছুটা ভয় ছিল। ফলে কাজী চৌধুরীর দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ে প্রশাসনেও। ফরিদপুর জেলা প্রশাসন কাজী সাহেবের প্রতি এবং পুলিশ সুপার নিক্সন চৌধুরীর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। ফলে নিক্সন অনুসারীদের ভয় ছিল, প্রশাসন তাঁদের প্রার্থীকে হারিয়ে দিতে পারে। এ জন্য তাঁরা জোরালো রণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামেন। আবার প্রশাসন নির্বাচন জবরদস্তি বন্ধ করতে ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে। এরপর দ্রুত ঘটনা ঘটতে থাকে। ইউএনওর সঙ্গে সাংসদের টেলিফোন সংলাপ ভাইরাল হলে জেলা প্রশাসন নালিশ জানায় জনপ্রশাসন বিভাগে। তারা অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনকে। ত্বরিত মামলা হয় সাংসদের বিরুদ্ধে। প্রশাসন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। সাংসদ হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনের আবেদন করেন এবং জামিন পেয়েও যান। তবে শর্ত থাকে যে তিনি প্রশাসনকে হুমকি দিতে পারবেন না। এর আগে সাংসদ জেলা প্রশাসককেও 'রাজাকার' করে গালমন্দ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিক্সন চৌধুরীর অনেকগুলো বক্তৃতা ভাইরাল হয়েছে। এসব বক্তৃতায় তিনি কাজী জাফর উল্যাহকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন। তাঁকে 'রাজাকার' 'আলবদর' বলে গালাগাল করেছেন। কাজী জাফর উল্যাহর মন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জন নিয়েও ঠাট্টা করেছেন নিক্সন। বলেছেন, পাঁচ বছর ধরেই শুনে এসেছি তিনি মন্ত্রী হচ্ছেন। দুর্বল খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলে তিনি আনন্দ পান না মন্তব্য করে নিক্সন বলেন, 'মন্ত্রী হয়ে আসুন। খেলাটা জমবে'। কাজী জাফর উল্যাহ দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্য। যে আওয়ামী লীগ রাজাকার-আলবদরদের বিচার করেছে, সেই দলে রাজাকার আলবদর আছেন, তা-ও দলের প্রেসিডিয়ামে! আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে সাংসদের এই বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ করেছে বলে আমাদের জানা নেই। তাহলে কি দল নিক্সন চৌধুরীর অভিযোগ মেনে নিয়েছে? সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে কেবল নিক্সন চৌধুরীর বক্তৃতা ভাইরাল হয়নি। ভাইরাল হয়েছে কাজী জাফর উল্যাহর বক্তৃতাও। তিনি বলেছেন, নিক্সন আওয়ামী লীগের কেউ নন। যিনি নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করেন, তিনি আওয়ামী লীগের কেউ হতে পারেন না। জাফর উল্যাহর সহযোগীরা নিক্সনকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও খালাসি বলে গালমন্দ করেছেন। আবার নিক্সনের সহযোগীরা কাজী জাফর উল্যাহকে এলাকায় না আসার জন্য হুমকি দিয়েছেন। দুই পক্ষই কোমর বেঁধে নেমেছে। দুই পক্ষ একে অপরকে 'নকল আওয়ামী লীগার এবং নিজেদের 'আসল আওয়ামী লীগার' বলে প্রচার চালাচ্ছে। কাজী জাফর উল্যাহ পত্রিকান্তরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সাংসদ নিক্সন শুধু প্রশাসনের কর্মকর্তা নন, আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, এমনকি মন্ত্রীদেরও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। তিনি বলেন, 'ইউএনওকে গালাগালের বিষয়ে কিছু বলার নেই। আমাকেই তো এ রকম অকথ্য ভাষায় অনেক গালাগাল করেছে। এগুলোও ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু আমরা তো কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি। অনেক মন্ত্রীকে নিয়েও অকথ্য ভাষায় কথা বলে।' তিনি আরও বলেন, সে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট করে আবার অনুষ্ঠানের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সভাপতির ছবি ব্যবহার করে। এটা তো সে পারে না। কিন্তু তাকে থামাবে কে? সম্প্রতি সে ব্যানার, পোস্টার ছাপিয়েছে, তাকে যুবলীগের ১ নম্বর প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন দেশজুড়ে যুবলীগের কমিটি গঠনের কাজে সে তৎপর হবে। (কালের কণ্ঠ, ২০ অক্টোবর, ২০২০) নিক্সন চৌধুরী গত জাতীয় নির্বাচনের পর জাফর উল্যাহর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বলেছিলেন, তিনি (কাজী জাফরউল্লাহ) এখন জনবিচ্ছিন্ন একজন নেতা। তার খামখেয়ালিপনা ও নমিনেশন বাণিজ্যসহ দুর্নীতির কারণে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের শত শত নেতা-কর্মী তাকে প্রত্যাখ্যান করে আমার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর তিনি নৌকায় উঠবেন। এখন ফরিদপুর-৪ আসনে যা হচ্ছে, সেটি নৌকায় ওঠার প্রতিযোগিতা মাত্র। নৌকা দুজনকে নিতে পারবে না। নতুন চড়নদার এলে পুরোনোকে নামতে হবে। ফলে এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফল দেখতে এলাকাবাসীকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সোহরাব হাসান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক | 8 |
শুধু কমিউনিটি জবসের নামেই ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ২১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে সামাজিক নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম রিং আইডি। শনিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আজাদ রহমান। রিং আইডির পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে (৪১) গ্রেফতারের পর, তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ আত্মসাতের এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে সিআইডি। 'সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রিং আইডিতে বিনিয়োগ করে প্রতারিত একজন ভুক্তভোগী ভাটারা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। রিং আইডির ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই ভুক্তভোগী। শিডিউলভুক্ত হওয়ায় এ মামলাটি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় সাইবার পুলিশ সেন্টার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম গুলশান থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে', বলেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। এতে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের সাধারণ অধিবেশনে ৫ ইস্যুতে জোর দেবে ঢাকা।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এবার স্মরণকালের সবচেয়ে ছোট প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। যাঁদের না গেলেই নয়, সেই মানুষগুলোকে প্রতিনিধিদলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘ দেড় বছর পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সফর শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের আগামী ১ অক্টোবর দেশে ফেরত আসার কথা রয়েছে। ২৪ অথবা ২৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে পারেন।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সফর নিয়ে এ মুহূর্তে কেউ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। ১৬ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।নাম না প্রকাশ করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে জানান, এবারের সাধারণ অধিবেশনে করোনা ও টিকা, রোহিঙ্গা, জলবায়ু আফগানিস্তান এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ নিয়ে জোর দেবেন প্রধানমন্ত্রী।ওই কর্মকর্তা বলেন, এ মুহূর্তে আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণে আফগানিস্তান ইস্যুটি গুরুত্ব পাবে। করোনা মহামারিতে বিশ্বের সবার জন্য টিকার অধিকারের বিষয়টিও অগ্রাধিকারে থাকতে পারে। তবে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়, বর্তমানে ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রয়েছে। ইস্যু থেকে শুরু করে সফরের যাবতীয় বিষয়ে কিছু সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। তবে মোটাদাগে এগুলোই থাকার কথা।সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আঞ্চলিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণে আফগানিস্তান ইস্যুটিতে জোর দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ ও ইইউর সংলাপে পক্ষ হতে রাজি রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এর সুষ্ঠু সমাধানে জোর দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ শুরু থেকেই করোনার টিকা ইস্যুতে সোচ্চার। এখন পর্যন্ত মোট টিকা উৎপাদনের ৯৭ শতাংশের বেশি ধনী দেশগুলো পেয়েছে। ফলে এর ন্যায্য বিতরণ এবং টিকার ওপর যাতে মেধাস্বত্ব না দেওয়া হয় এবং টিকা বিশ্বের সব মানুষের অধিকার, সেই বিষয়টি ৭৬তম অধিবেশনে তুলে ধরা হবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। অধিবেশনে প্রতিবারের মতোই রোহিঙ্গা নিয়ে সোচ্চার থাকবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হওয়ায় এ জনগোষ্ঠীর ভোগান্তিসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আনবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে সংকট সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ৫টি পয়েন্টে জাতিসংঘসহ বিশ্বের ভূমিকার বিষয়টি সামনে আনবে ঢাকা। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশে বিরূপ প্রভাব ও জলবায়ু তহবিলের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি তুলে ধরবে। আর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশি পণ্য শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার-বিষয়ক সুবিধা আরও কয়েক বছর রাখার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হবে। কারণ, করোনা মহামারি অর্থনীতিতে যে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে তা কাটিয়ে উঠতে বাড়তি সময় চাওয়া হবে।জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে স্বল্পসংখ্যক দেশকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার বিষয়টিতে স্বাস্থ্যবিষয়ক কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এবারের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে সাক্ষাৎ করবেন। তবে তিনি কোনো সমাবেশ বা নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন না। এবারের সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে কয়েকটি দেশের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, কোন কোন নেতা এবারের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন, তা নিশ্চিত হতে আরও দুই-এক দিন সময় লাগবে। | 6 |
ভারতের আসামে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা গুলি করার পর আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে পাঁচজনকে হত্যা করেছে। হত্যার শিকার ব্যক্তিরা সবাই ট্রাক ড্রাইভার। তারা মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকগুলো আটকে ড্রাইভারদের গুলি করার পর ট্রাকগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ডিমা হাসাও জেলায় এ ঘটনা ঘটে। ডিমাশা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ডিএনএলএ) এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, কয়লা ও অন্যান্য সামগ্রী বোঝাই ছয়টি ট্রাকে আক্রমণ করে সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে পাঁচটি ট্রাকের চালক নিহত হয়েছেন। ডিমা হাসাও জেলার পুলিশ সুপার জয়ন্ত সিং বলেছেন, 'পাঁচটি দগ্ধ লাশ উদ্ধার হয়েছে। তারা সকলেই ট্রাকের চালক বলে জানা গেছে।' গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুসারে, ডিএনএলএ এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, কয়লা ও ছাই বোঝাই ট্রাকগুলো উমরাংসো থেকে লঙ্কার দিকে যাচ্ছিল। সেই সময়ই সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীরা প্রথমে বেশ কয়েকটি ট্রাককে দাঁড় করায়। তারপর সেগুলিতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনটি ট্রাক পালিয়ে যায়। ফলে ওই ট্রাকগুলোর চালক ও সহযোগীরা প্রাণে বাঁচতে পারে। সন্ত্রাসীদের খুঁজতে পাহাড়ি এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ২০০৮ সালে এমন আরেকটি হামলা চালিয়েছিল আসামের আরেকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ ডিএইচডি(জে)। তখনও ট্রাকে আগুন লাগিয়ে ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। স্বাধীন ও সার্বভৌম ডিমাসা রাষ্ট্রের দাবিতে ২০১৯ সাল থেকে আন্দোলন চালাচ্ছে ডিএনএলএ। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় আদিম জনজাতি বলেই পরিচিত এই ডিমাসারা। বর্তমানে এদের ঠাঁই হয়েছে ডিলমা হাসাও, কারবি, তাছাড়, নওগাঁও ও নাগাল্যান্ডের কয়েকটি অংশে। ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল অনুসারে ডিলমা হাসায়ের প্রশাসন পরিচালনার ভার রয়েছে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিলের। উত্তর-পূর্বের যে রাজ্যগুলোতে নয়ের দশকজুড়ে যে বিচ্ছিন্নতাকামী হামলা চলেছিল তার মধ্যে আসাম অন্যতম। তবে ২০০০ সালের পর থেকে অপেক্ষাকৃত শান্ত এইসব রাজ্যের পরিস্থিতি। ১৯৯১ সালে ডিমারাজি পৃথক রাজ্যের দাবিতে ডিলমাসা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্স গঠিত হয়। ২০০০ সালের পর দাবি পূরণের লক্ষ্যে ডিমাসা অধ্যুষিত এলাকায় এরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০১৯ সালের এপ্রিলের কেন্দ্রের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে আন্দোলনকারীরা। যদিও ডিমাসা জাতির সার্বভৌম, স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি থেকে সরে আসেনি এই বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তি। চলতি বছর মে মাসে ডিমাসা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির ছয় শীর্ষ ক্যাডার অসম পুলিশ এবং আসাম রাইফেলসের উগ্রবাদবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছিল। তারই বদলা বৃহস্পতিবার রাতের হামলা বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। সূত্র : এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস | 3 |
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মাদ ফয়সাল বলেছেন, তার দেশ কখনোই দখলদার ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গোপন যোগাযোগের কোনও ঘটেনি। কারণ পাকিস্তান ইসরায়েলকে কখনোই স্বীকৃতি দেবে না। খবর আনাদোলু এজেন্সির। এ সময় তিনি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের বিশাল অংশকে ইসরায়েলের অংশ করার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ফিলিস্তিনের মজলুম জনগণের প্রতি ইসলামাবাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং ইসলামাবাদ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, যেসব ইউরোপীয় দেশ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র মাধ্যমে ইরানবিরোধী প্রস্তাব পাস করিয়েছে তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করছে। শুক্রবার আইএইএ'র নির্বাহী পরিষদ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পক্ষ থেকে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবে ইরানের এমন দু'টি পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে যেখানে ওই তিন দেশ মনে করছে, প্রায় দুই দশক আগে ইরান অঘোষিত পরমাণু তৎপরতা চালিয়েছিল। জারিফ তার বার্তায় বলেন, এসব দেশ গোপনে আমেরিকার চাপের কাছে নিজেদের অক্ষতার যে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সেগুলো তাদের উচিত প্রকাশ্যে স্বীকার করা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাজেই ইরানকে তার কর্তব্য নির্ধারণ করে দেওয়ার অধিকার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত এসব ইউরোপীয় দেশের নেই। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
মাস দুয়েক আগেও ট্রাকের জট লেগে থাকত। কিন্তু বর্তমানে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যানবাহনই পাচ্ছে না। পাবনার বেড়া উপজেলার কাজীরহাট ফেরিঘাট চালুর সবে এক বছর হলো। ২০ বছর বন্ধ থাকার পর গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ফেরিঘাটে যানবাহন পারাপার ফের চালু হয়। শুরুর দিকে এই ফেরিঘাটের মাধ্যমে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল ক্রমেই বাড়ছিল। বঙ্গবন্ধু সেতুর যানজট এড়াতে এই ফেরিঘাট হয়ে ঢাকায় যাত্রীবাহী বাসও চলাচল শুরু হয়। কিন্তু বছর ঘুরতেই যানবাহন কমতে কমতে এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। যানবাহনের চালকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) অবহেলার কারণে গত এক বছরে এই ফেরিঘাটের কোনো উন্নয়ন তো দূরের কথা, উল্টো পন্টুন ও ফেরি নিয়ে সমস্যা বেড়েই চলেছে। ফলে এই ঘাটের ভবিষ্যৎ ভালো না। যানবাহনের চালকদের সূত্রে জানা যায়, গত বছর চালুর পর দুটি বড় ও দুটি ছোট মিলিয়ে মোট চারটি ফেরি দিয়ে এই নৌপথটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই সেগুলোর পরিবর্তে দুর্বল ও ত্রুটিযুক্ত দুই থেকে তিনটি ফেরি নৌপথে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনটি ধীরগতির ছোট ও দুর্বল ফেরি এই নৌপথে থাকলেও প্রায়ই সেগুলোর এক বা একাধিক ফেরি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। ফলে এই ফেরিঘাটে পারাপারের জন্য এসে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে প্রায়ই দুই থেকে তিন দিন ধরে আটকে থাকতে হয়। ঘাট চালুর সময় বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে ঘাট ও পন্টুনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ফেরির সংখ্যাও বাড়ানো হবে। কিন্তু পন্টুন ও ঘাট আগের মতো একটিই রয়ে গেছে। যে পন্টুনটি দেওয়া হয়েছে, সেটি দুর্বল ও পুরোনো হওয়ায় প্রায়ই এর বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তখন ঘাটে আটকে থাকা ট্রাকসহ কয়েক শ যানবাহনের ভোগান্তির শেষ থাকে না। বঙ্গবন্ধু সেতুর যানজট এড়িয়ে ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ পেয়ে যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের আগ্রহ বাড়ছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফেরিসংকটের কারণে বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিআইডব্লিউটিসির কাজীরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বললেন উল্টো কথা। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য এই মৌসুমে কম থাকে বলে এখন পারাপারের জন্য ঘাটে ট্রাক কম আসছে। ফলে বিআইডব্লিউটিসির দেওয়া তিনটি ফেরিতেই এখন চলে যাচ্ছে। কোনো ট্রাককেই ঘাটে বসে থাকতে হচ্ছে না। এ ছাড়া আরও দুটি ঘাটের নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণ শেষে সেখানে পন্টুন এলেই পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। গতকাল সোমবার ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাকসহ যানবাহন আসছে খুব কম। ঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, মাস দুয়েক আগেও ফেরিঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার ট্রাকের জট লেগে থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেই জট দূরের কথা, কখনো কখনো ফেরিগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যানবাহনই পাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, আগে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০০ ট্রাক পারাপারের জন্য ঘাটে আসত। কিন্তু এখন তা ১০০-এরও নিচে নেমে গেছে। কাজীরহাট ট্রাকচালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. রইজউদ্দিন বলেন, যানবাহনের শ্রমিকদের সীমাহীন দুর্দশার কারণে অনেকেই এখান দিয়ে পারাপারের ব্যাপারে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। | 6 |
'ভোর ৫টায় গ্যাস যায়। আসে রাত ১১টায়। গ্যাস এলেও চুলা পিট পিট করে জ্বলে। এ জন্য প্রতিদিন ভোরে উঠে রান্না করতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ভয়ে নিয়মিত বিল পরিশোধ করে যাচ্ছি।' কথাগুলো বলছিলেন কচুয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পূজা পোদ্দার।তাঁর মতো চাঁদপুরের কচুয়ায় বহু পরিবারে চুলা জ্বলছে না। ফলে অনেকেই মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এই তীব্র গ্যাসসংকটের কারণে ভোগান্তি চরমে উঠেছে।পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে পৌর এলাকার কোয়া, কোয়া চাঁদপুর, বালিয়াতলী, কড়ইয়া, মাসিমপুর, করইশ, লক্ষ্মীপুরের আশপাশের আড়াই হাজার পরিবারে এই ভোগান্তি চলছে। এসব এলাকার অনেক স্থানে সকালেই গ্যাস উধাও, রাতে এলেও থাকে অল্প সময়।গতকাল বুধবার পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বাখরাবাদের গ্যাস-সংযোগ আছে। কিন্তু লাইনে গ্যাস সরবরাহ নেই। রান্নার কাজ চলছে মাটির চুলা আর সিলিন্ডার গ্যাসে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কচুয়া পৌরসভার আড়াই হাজার গ্রাহক দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে গ্যাসসংকটে ভুগছে। তবুও নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে এসব গ্রাহককে। বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ আছে, কিন্তু লাকড়ি দিয়ে মাটির চুলায় অথবা সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করছেন কচুয়া পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। কিন্তু প্রতি মাসে নিয়মিত গ্যাস বিল দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।পৌর এলাকার ভুক্তভোগী শিক্ষক পূজা পোদ্দার বলেন, পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য বাধ্য হয়ে মাটির চুলা ও সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে।একই এলাকার আরেক ভুক্তভোগী শামীমা মজুমদার মৌসুমী বলেন, 'নিয়মিত বিল পরিশোধ করছি, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। এভাবে আমাদের আর কত গচ্চা দিতে হবে-জানতে চাইলে বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয় না। গ্যাস না দিয়ে বিল নেবে, এটা অন্যায়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামা দরকার।'গ্যাসের সরবরাহ চালু না করা পর্যন্ত বিল আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন ওই এলাকার ভুক্তভোগীরা।পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন জানান, তাঁর বাড়িতেও গ্যাসসংকট চরমে। রাত ১১টায় গ্যাস আসে আবার ভোর ৫টায় চলে যায়। অল্প যে পরিমাণ গ্যাসের সরবরাহ থাকে তাতে রান্না করা যায় না। রান্নার জন্য তাঁদের সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। বাখরাবাদের কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বলার পরও তাঁরা নিয়মিত গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়নি।এ ব্যাপারে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গৌরীপুরের ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহর কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি। | 6 |
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে প্রায় ১০ হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং ওই আগুনে দুই শিশুসহ আটজন নিহত হন। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে চরম দুভোর্গে দিন কাটাচ্ছেন ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা। সঙ্কটে রয়েছে খাবার, পানি ও মাথা গুজে থাকার যায়গার। ভয়াবহ আগুনে প্রায় ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঘর হরিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা। ঘর বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব এসব শরণার্থীরা অনেকেই রাত অতিবাহিত করেছেন আশেপাশের এলাকায়। এদিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী ঘর নির্মাণ, খাবার, পানি ও স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। খবর বিবিসির। এদিকে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় ও নিজ উদ্যোগে অনেকে নিজেদের থাকার জায়গা কাপড় বা বড় পলিথিন দিয়ে চারপাশ বেঁধে মোটামুটি থাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, আগুনে অনেকেই জীবন বাঁচাতে এদিক-ওদিকে গিয়েছিল এবং তাদের অনেকেই ফিরে এসেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হাসপাতালগুলোতে আজও চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের ভিড় ছিল। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, বিপুল সংখ্যক ঘরবাড়ি পুন:নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তারা আশা করছেন কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। পুনর্বাসন শুরু হয়েছে। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি দ্রব্যাদি দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে। এগুলো চলমান থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল আজ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে নাশকতার কোনো সম্পর্ক আছে কি-না খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। | 6 |
শেয়ারবাজারে নতুন আরেকটি সপ্তাহ শুরু হচ্ছে আজ রোববার। নতুন বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহ এটি। নতুন বছরটি শেয়ারবাজারে বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২১ সালের শেষের দিকে শেয়ারবাজারে ছিল বেশ মন্দা ভাব। সেই মন্দা কাটিয়ে নতুন বছরে ফিরেছে চাঙা ভাব। বছরের প্রথম সপ্তাহের সেই চাঙা ভাবের নেতৃত্ব ছিল হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি। তার মধ্যে সরকারি কোম্পানির আধিপত্য ছিল বেশি। ঢাকার বাজারে গত সপ্তাহ শেষে লেনদেনে আধিপত্য বিস্তারকারী ৫ কোম্পানির মধ্যে দুইটিই ছিল সরকারি মালিকানাধীন। সেগুলো হলো বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) ও বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড। লেনদেনে শীর্ষে না থাকলেও গত সপ্তাহে মূল্যবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল সরকারি খাতের বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, তিতাস গ্যাস, ডেসকোরও। এ কারণে সপ্তাহ শেষে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে, সরকারি কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির এ দাপট কি নতুন সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে? বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা ছিল বিএসসির। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় একটানা সর্বোচ্চ বাড়ছে। বিএসসির শেয়ারের এমন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরকারি অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারের ওপরও পড়েছে। বিএসসির শেয়ারের দাম বাড়ছে মূলত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ইপিএসের বড় উত্থানের খবরে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস প্রায় সাড়ে ৬০০ শতাংশ বেড়েছে। তাতে মাত্র ১০ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২৩ ডিসেম্বরের ৪৯ টাকার শেয়ারের দাম এখন ১০৫ টাকা। ইপিএসের বড় উত্থানে বিএসসির শেয়ারের দাম বাড়লেও সরকারি অন্য কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্য নেই। তবে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, সরকারি অন্য কোম্পানিগুলোর আয়ও হয়তো বাড়তে পারে। সেই সম্ভাবনা থেকে সরকারি কোম্পানির শেয়ারে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোম্পানিটির আয় বেড়েছে মূলত জাহাজের ভাড়া ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়। সেই তুলনায় সরকারি অন্য কোম্পানিগুলোর আয় কি বেড়েছে? যদি তা নয়, তাহলে বিএসইসির প্রভাবে অন্যগুলোর মূল্যবৃদ্ধি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। যদিও সদ্য বিদায়ী বছরের শেষ ভাগে দরপতনের কারণে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছিল। সেখান থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে কিছুটা মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক হয়তো বলা যাবে না। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া একটির দেখাদেখি অন্যটির মূল্যবৃদ্ধি আদৌ কি টেকসই হবে, প্রশ্ন থেকেই যায়। | 0 |
গোলটেবিলে অংশগ্রহণকারী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সঞ্চালনা:লরেন্স হাদ্দাদ, নির্বাহী পরিচালক, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)মো. মুজিবুল হক এমপি, সভাপতি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিমো. জাকির হোসেন আকন্দ, সদস্য (সচিব), কৃষি পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান, পরিকল্পনা কমিশনহ্যারি ভারউয়ে, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতপিয়ালি মুস্তাফি, পুষ্টি বিভাগের প্রধান, ইউনিসেফমো. রুহুল আমিন তালুকদার, অতিরিক্ত সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়মো. আবদুস সাত্তার, অতিরিক্ত সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়মো. শাহ নেওয়াজ, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদমো. বদরুল আরেফীন, মহাপরিচালক, খাদ্য পরিধারণ মূল্যায়ন ইউনিট, খাদ্য মন্ত্রণালয়এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, লাইন ডিরেক্টর, জাতীয় পুষ্টি সেবারিচার্ড রেগান, কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিইফেতখার রশিদ, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্বব্যাংকমানফ্রেড ফার্নহলজ, টিম লিডার, ইউরোপীয় ইউনিয়নরবার্ট সিম্পসন, কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ, জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থাযেবা মাহমুদ. কান্ট্রি ম্যানেজার, অ্যালাইভ অ্যান্ড থ্রাইভজয়নাল আবেদিন. সহকারী পরিচালক, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানমুহাম্মদ খালেদুজ্জামান তালুকদার, ব্যবস্থাপক (প্রযুক্তি উন্নয়ন), এমএসই ফাউন্ডেশনআব্দুল কাইয়ুম, সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলোফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো আলোচনাআবদুল কাইয়ুম আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন দরকার গুণগত মান বাড়ানো, যা পুষ্টি নিশ্চিত করবে। গ্রামপর্যায়ে বয়স্ক ভাতা চালু রয়েছে, তবে এর পরিমাণ যথেষ্ট নয়। বিধবা ও স্কুলগামী শিশুদের জন্যও ভাতা আছে। পুষ্টিমান বাড়াতে অনেক এলাকায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিফিন দেওয়ার মতো চমৎকার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে আমাদের কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নে আরও গবেষণা জরুরি। লরেন্স হাদ্দাদপুষ্টি খাতে বাংলাদেশের অর্জন সতি্যই প্রশংসনীয়। প্রতিবছর ১ শতাংশ হারে অপুষ্টি কমানোর এই প্রবণতা স্বাভাবিক মানদণ্ডের চেয়ে বেশি। তবে বাইরে থেকে যাওয়া ৩১ শতাংশ এখনো অনেক বেশি। পার্বত্য চট্টগ্রামে অপুষ্টির হার ৫১ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে অনেক কাজ করতে হবে। গত এক দশকে ওজন ও উচ্চতার ঘাটতির সমস্যা প্রায় অর্ধেক কমেছে। কিন্তু যে হারে আমরা খাদ্যে বৈচিত্র্য দেখতে চাই তেমনটি হচ্ছে না, বিশেষ করে শিশু ও নারীদের বেলায়। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণের মাত্রা বেড়েছে। প্রক্রিয়াজাত সব খাবারই খারাপ নয়, তবে অত্যধিক পরিমাণে লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত ক্ষতিকর খাবার গ্রহণের হার বেড়েছে। অপুষ্টি নিরাময়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ সহজতর হয়। এর ফলে ক্ষুধা নিবারণ ও স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। বিশ্বজুড়ে রোগের প্রকোপ সৃষ্টির কারণ হিসেবে ১০টি বড় ঝুঁকির মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৬টি খাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। দূষিত পানি বা দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা তৈরি করে, এসবের প্রভাব একজন ব্যক্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি। অপুষ্টির মূল কারণ সঠিক পরিমাণ ও সঠিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য খেতে না পাওয়া। ক্ষুধা নিবারণের হার ও ভাত গ্রহণের মাত্রা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হচ্ছে, তবে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে বৈচিত্র্য আনা জরুরি। খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে ডিম, দুধ, ফলমূল ও ডালজাতীয় শস্য গ্রহণের মাত্রা বাড়াতে হবে, যা বর্তমানে কাঙ্ক্ষিত মাত্রার ১৫-৩০ শতাংশ। গত তিন বছরে চিনি গ্রহণের মাত্রা দ্রুতগতিতে বেড়েছে। গেইন-এর মাধ্যমে আমরা সরকারি-বেসরকারি খাতসহ সুশীল সমাজের সঙ্গে কাজ করছি, যেন সব মানুষের খাদ্যব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য গ্রহণের নিশ্চয়তা অর্জিত হয়। এ জন্য আমরা ভোক্তার দিকেও নজর দিচ্ছি। কেননা, দুর্বল বা পর্যাপ্ত পুষ্টিগুণহীন খাদ্যাভ্যাস কেবল ব্যক্তির সীমিত আয়ের কারণেই গড়ে ওঠে না, এ ব্যাপারে ব্যক্তির অজ্ঞানতা বা অসচেতনতাও অনেকাংশে দায়ী। পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে ভোক্তাদের এমনভাবে সমন্বয় ঘটাতে হবে, যেন নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্য সবার জন্য সুলভ করা যায়। এ জন্য আমরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও কাজ করছি। মনে রাখতে হবে, খাদ্য উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে ব্যবসার সম্পর্ক রয়েছে, আর এখানে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তার ব্যাপারও জড়িত। জনশক্তিকে শক্তিশালী করে তুলতে পারলে তা দেশের পক্ষে উপকারী। বাংলাদেশের উদাহরণ দিয়ে আইএলও বলেছে, একজন কর্মী মনে করেন, যদি চাকরিদাতা বা নিয়োগকর্তা তাঁর কর্মীর খাদ্যমান নিয়ে ভাবেন, এর অর্থ হলো, তিনি তাঁর কর্মীকে একজন ব্যক্তি হিসেবে গুরুত্ব দেন। কাজেই কর্মক্ষেত্রের খাদ্যব্যবস্থায় পুষ্টির ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে দেখেছি, এ ধরনের ব্যবস্থা নিলে কর্মীদের মধ্যে রক্তশূন্যতা পূরণে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কর্মক্ষেত্রে পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য বা কোথাও কোথাও কোনো ধরনের খাদ্যব্যবস্থাই নেই। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা নিলে দীর্ঘ মেয়াদে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষই নানাভাবে লাভবান হয়। সমস্যা রয়েছে, তবে এর পাশাপাশি উদ্যোক্তাকে সমাধানেরও অংশ হতে হবে। আর অবশ্যই জবাবদিহিতা থাকতে হবে। সুশীল সমাজও গুরুত্বপূর্ণ, তারা এ ধরনের বিষয়ে সবাইকে নজরদারির মধ্যে রাখে ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। তবে বিশ্বজুড়েই আমরা এমন অভিযোগ পাই, সবকিছু শেষ পর্যন্ত কেবল পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এমন হলে হবে না, সবাইকে সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে হবে, যেন সঠিক উদ্দেশ্য পূরণ হয়। আমরা প্রায়ই দাবি করি, পুষ্টি খাতে কাজের জন্য আরও অর্থ দরকার। ফলে সরকার ও দাতাগোষ্ঠী অনেক সময় পিছিয়ে যায়। কিন্তু সত্যিকার অর্থে, এই খাতে যে বরাদ্দ আছে, সেটুকু কি সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে? যে ফল পাওয়ার কথা, আমরা কি তা পাচ্ছি? এই খাতে ব্যয়িত অর্থ কি স্বচ্ছ? কেবল বড় বাজেটের পেছনে ছুটলে হবে না, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের বিষয়ে যত্নশীল হতে হবে। আমার ধারণা, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে অপুষ্টির ব্যাপারে লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। তবে আমাদের অপুষ্টি, অতিপুষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সেগুলোও মোকাবিলা করতে হবে। আর এসব অর্জিত হতে পারে কেবল সমন্বিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়েই। (মূলপ্রবন্ধের সংক্ষেপিত পাঠ) মো. রুহুল আমিন তালুকদারটেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা (এনপিএএন-২) দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতির বহিপ্রকাশ। এখনো খাদ্যব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থাপনা, খাদ্যনিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জগুলো বুঝে সীমিত সম্পদের ব্যবহার করে দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও অগ্রাধিকারগুলোকে চলমান রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা হলো শ্রম উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ করা, যা খাদ্যের উৎপাদক, জোগানদাতা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের পুষ্টির কার্যক্রম ত্বরান্বিত রাখতে সহায়ক। আরেকটি দিক হলো কৃষি ওরিয়েন্টশন সূচক, যা জিডিপির সামগ্রিক ব্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিতে ব্যয়ের সঙ্গে তুলনীয়। ফসল সংগ্রহ পরবর্তী ক্ষতি, বিশেষ করে তাজা সবজি ও ফলমূলের ক্ষেত্রে ২০-৩০% কমানোর লক্ষ্যে আমরা বেসরকারি খাত থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছি। সরকার গ্রামাঞ্চলে কৃষিজাত পণে্যর গুণগত মান ও উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় যুবকদের কৃষি উদ্যোগে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। এস এম মুস্তাফিজুর রহমানদারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য পূরণে এনজিও, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, সুশীল সমাজ ও গবেষকদেরকে সরকারের সঙ্গে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি ২-এর কথা যদি বলি, আমরা শস্য উৎপাদনে এগিয়ে আছি কিন্তু প্রোটিনসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি ও মনো-সামাজিক বিকাশের দিকে নজর দিতে হবে। কেননা এর মাধ্যমে শিশুদের মস্তিষ্কের সার্বিক গঠন নিশ্চিত করা যাবে। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ কিশোর-কিশোরীর পুষ্টি অবস্থার উন্নয়নে আমাদের কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। আয়রনের ঘাটতি বা রক্তশূন্যতা আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা। তাই সব বয়সেই পুষ্টির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার ৬৫ শতাংশ হলেও বাকি ৩৫ শতাংশকে এর আওতায় আনা যাচ্ছে না। কেবল মায়ের দুধই যথেষ্ট নয়-এ ধরনের নানা ভুল ধারণার কারণে এমনটি হচ্ছে। এসব ধারণা দূর করতে হবে। এ ছাড়া বাজারের অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবারের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি সম্পর্কে আমাদের আরও সতর্ক থাকা দরকার এবং সে সম্পর্কে নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মো. বদরুল আরেফীনখাদ্য মন্ত্রণালয় এসডিজি ২০৩০ লক্ষ্য অর্জনে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার নতুন খসড়া নীতিমালা করেছে। পুষ্টি পরিস্থিতি বেশ নাজুক বা জনসাধারণ অপুষ্টির শিকার-এমন ১২টি জেলায় আমাদের একটি প্রকল্পের কাজও চলছে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত অপুষ্ট জনগোষ্ঠীর বাড়িতে ছোট পুকুরে মাছ উৎপাদনের জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে।ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউকেএইডের আর্থিক সহায়তায় এবং ইউএসএইডের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প চলছে। অতিদরিদ্র শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী নারী ও মাতৃদুগ্ধদানকারী মায়েরা এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। গবেষণায় আমরা দেখেছি, টেকসই উপায়ে তথ্য তুলে ধরা গেলে শিশুরা তা দীর্ঘ সময় মনে রাখতে পারে। লিফলেট বা পোস্টারের মাধ্যমে উপস্থাপিত তথ্য তারা দ্রুত ভুলে যায়। তাই আমরা এসব পুষ্টিতথ্য শিশুদের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করেছি। ৪ কোটি ২৭ লাখ শিশুকে প্রতিবছর নতুন বই দেওয়া হয়। বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদের ১০ শতাংশ জায়গাতেও যদি এসব তথ্য রঙিন কার্টুনের মতো দৃষ্টিনন্দন উপায়ে তুলে ধরা যায়, সেটি ভালো ফল দেবে। মো. আবদুস সাত্তারপার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের মোট ভূমির ১০ শতাংশ, কিন্তু জনসংখ্যা মাত্র ১ শতাংশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেছিলেন শুধু উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য। উন্নয়ন বোর্ড পার্বত্য চট্টগ্রামে বেশ কিছু আবাসিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়া হয়। কৃষি বিভাগ সেখানে ফলমূল চাষের প্রকল্প চালু করেছে, যা ওই সব এলাকার অধিবাসীদের রোজগারে সহায়তা করছে। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল ছিল।পার্বত্য চট্টগ্রামে ফলের উদ্বৃত্ত উৎপাদন হয়। কিন্তু এগুলো সংরক্ষণ করা যায় না বলে রপ্তানি করাও সম্ভব হয় না। আম, কাঁঠাল, আনারস ও কলার মতো পুষ্টিকর ফল বাজারজাত হচ্ছে না। খামারের অভাবে সেখানকার মানুষ দুধ ও ডিম পাচ্ছে না বলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে না। তাই এসব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি; আমাদের মন্ত্রণালয় এ জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। মানফ্রেড ফার্নহলজঅপুষ্টি কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করছে বলে আমাদের বিশ্বাস। এ ধারাকে আরও বেগবান করতে বহুখাতভিত্তিক পদ্ধতিতে এগিয়ে যেতে হবে। এ রকম একটি বহুখাতভিত্তিক পদ্ধতির জন্য এফপিএমইউ এবং বিএনএনসির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাজ করছে। কেবল প্রত্যক্ষ পুষ্টি পদ্ধতিতে নয়, বরং পুষ্টি সংবেদনশীল পরোক্ষ পদ্ধতির ওপর জোর দিতে আমরা কাজ করছি।আমাদের বুঝতে হবে, এ কাজে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন দাতা বা সরকারি কোষাগার থেকে আসবে না। পুষ্টির ক্ষেত্রে প্রকৃত বিনিয়োগ আনতে এবং বাংলাদেশে আরও কার্যকর ও দক্ষ সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করার প্রবণতা থেকে দ্রুত বের হয়ে আসতে হবে। আমরা স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলো আরও সাশ্রয়ী করার জন্য ভ্যালু চেইন নিয়ে কাজ করতে হবে। এমনকি পুষ্টিমান সমৃদ্ধ খাবারের জন্য ভর্তুকি বিষয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। অংশীদারত্ব নিয়েও ভাবতে হবে। স্থানীয়, জাতীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের গণমাধ্যম থেকেও সমর্থন প্রয়োজন। কারণ, তারা আমাদের সঠিক বার্তা প্রচারে ও জনগণকে সংবেদনশীল করতে সহায়তা করবে। পুষ্টি যেন রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা কেবল সংসদেই নিশ্চিত করা সম্ভব। সঠিক আইন ও বিধিমালা কার্যকর করার পাশাপাশি যথাযথ বাজেট বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। খাদ্য সুরক্ষার পাশাপাশি আমাদের এটিও স্বীকার করতে হবে যে অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াই সত্যিকার অর্থেই জটিল কাজ। সুতরাং একটি বহুখাতভিত্তিক পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আমরা হয়তো অপুষ্টি হ্রাস করার ক্ষেত্রে বেশ ভালো অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। তবে ভুলে গেলে চলবে না, আমরা দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্যের চক্রে থাকা ৫০ লাখ শিশুর কথা বলছি। তারা তাদের নিজ পরিবারের জন্যই বড় সমস্যা হতে চলেছে। পরিবারগুলোর ঘাড়ে চাপছে স্বাস্থ্য ব্যয়ের বোঝা এবং এ চক্র পুনরাবৃত্ত হতে থাকবে। সুতরাং, এ নিয়ে আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার। আমি আরও মনে করি, শিক্ষা ও শিশুদের জন্য বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সত্যিই পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করি, তাহলে এটা বলা যায়, পরবর্তী প্রজন্ম যথাযথ পুষ্টির সুবিধা সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে যাচ্ছে। রবার্ট সিম্পসনকৃষিক্ষেত্র নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। যদিও বর্তমানে লোকজন শহরে চলে যাওয়ার কারণে কৃষি বর্তমানে ১৪ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে, তারপরও কৃষিই এখনো পুষ্টির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কীভাবে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে এবং তা ভোক্তার কাছে যাচ্ছে, এর ওপর নির্ভর করছে পুষ্টিমান। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আমরা যে বার্তাটি দিতে চাই, তা হলো এসডিজি অর্জনে 'সমন্বিত খাদ্যব্যবস্থা কর্মসূচি'।আমরা যে গ্রহে বাস করি, তাকে যেভাবে দূষিত করছি, এখন প্রশ্ন তুলতে হবে, আমাদের সন্তানদের জন্য আমরা কী রেখে যাচ্ছি। আমরা যে পরিবেশে বাস করি, তার থেকে খাদ্যব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন করা উচিত হবে না। এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কার্বন শোষক হচ্ছে সমুদ্র। আমরা দেখতে পাচ্ছি, সমুদ্রের গভীরতম অঞ্চলগুলোয় তাপমাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে। এর মানে, কার্বন শোষণ করার আর ক্ষমতা নেই সমুদ্রের। তাই দূষণ নিয়ে ভাবনা খুবই জরুরি। পুষ্টির ক্ষেত্রে অর্থায়ন, সমন্বিত খাদ্য সুরক্ষাব্যবস্থার মতো পদক্ষেপ এবং ফেলে রাখা সম্পদ কাজে লাগানোর উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুতরাং, সামনে এগোনোর সময় জলবায়ু-মানানসই ও জলবায়ু-সংবেদনশীল কৃষির শক্তিশালী সমন্বয় দরকার। মাংস, ফলমূল ও শাকসবজিতে আমাদের আরও বৈচিত্র্য প্রয়োজন। প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যাপারে যুবক ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে চাহিদা বাড়ছে। আমাদের পুষ্টিনীতিতে এই বিষয়গুলোর সমাধান থাকা উচিত। বেসরকারি উদে্যাক্তা, বিশেষত ছোট ও মাঝারি পরিসরের কৃষকদের জন্য কোন কোন বিষয় সহায়ক, আমাদের তা নিয়েও ভাবতে হবে। যেবা মাহমুদপুষ্টি নীতিমালা ও এর বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা রয়েছে-এমন গুটিকয় দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য পুষ্টিকেও একটি নিয়ামক হিসেবে দেখার এখনই সময়। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন অংশীজন, যেমন সরকার, নীতিনির্ধারক, মন্ত্রণালয়, সুশীল সমাজ, উন্নয়ন অংশীদার ও দাতাগোষ্ঠীদের এখন আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা দরকার। বেসরকারি খাতের একটি বড় সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এই খাতটি সাধারণভাবে উপেক্ষিতই থেকে যায়। আমাদের মতো সুশীল সমাজের কর্মীরা নির্দিষ্ট পরিমণ্ডলে কাজ করছি। এভাবে আমরা বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে কৌশলগত কাজের সমন্বয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিচ্ছি। অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে আমরা সরকারকে বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করতে পারি। রিচার্ড রেগানপাবলিক সেক্টরের একজন ব্যক্তি হিসেবে হয়তো কথাটা বলা বেমানান হতে পারে, কিন্তু আমি সত্যিই মনে করি না যে পুষ্টির ক্ষেত্রে একমাত্র সরকারি খাতই সমাধান। এটা এখন বেসরকারি খাত দ্বারা ত্বরান্বিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সময় ডব্লিউএফপির মতো সংস্থাগুলো পুষ্টি খাতে যে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে, তা সত্যিই অনেক পরিবর্তন সাধন করছে।চালের পুষ্টিমান বৃদ্ধি নিয়ে আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি। চালের পুষ্টি সুরক্ষার উদ্যোগটি যদি বাংলাদেশে সফল হয়, তাহলে এই দেশই হবে অন্যতম নেতৃত্বস্থানীয় দেশ। আয়োডিনযুক্ত লবণ উদ্যোগের মতো এটাও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গেও কাজ করেছি। স্বাস্থ্যকর ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে যে বড় রকমের পার্থক্য আছে, আমরা তা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। খাদ্যাভাস পরিবেশ দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং প্রতিদিন তা পাল্টে যেতে পারে। পুষ্টিমান সরবরাহের পাশাপাশি পরিবর্তিত জলবায়ুতে কীভাবে আমরা টিকে থাকব, এ নিয়ে বড় পরিসরে ভাবতে হবে। অন্যথায় শিশুদের বাঁচার জন্য কোনো পৃথিবী থাকবে না। মো. শাহ নেওয়াজবাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ (বিএনএনসি) ২২টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করে, যেগুলো পুষ্টি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সম্প্রতি আমরা পুষ্টি খাতে আর্থিক ব্যয়ের ওপর এক মূল্যায়নে দেখেছি, শতকরা ৯৮ ভাগ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে পুষ্টি-সংবেদীর পরোক্ষ কর্মকাণ্ডে, আর মাত্র ২ শতাংশ খরচ হয়েছে পুষ্টি প্রত্যক্ষ কাজের পেছনে। দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনার (এনপিএএন-২) ৬৪টি সূচকে মোট ২৩০টির মতো কার্যক্রম রয়েছে। তার মধ্যে ২০২৫ সালের মধ্যে অর্জনের লক্ষে্য আমরা ২৫টি সূচককে প্রাধান্য দিয়েছিলাম, যা অনেকটাই এখন আমাদের নাগালের মধ্যে। পিয়ালি মুস্তাফিখর্বতার হার কমিয়ে আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চা-বাগানগুলোয় খর্বতার সমস্যা এখনও রয়েছে; চা-বাগানে এ হার এখনও ৪৫ শতাংশ। শহুরে বস্তিগুলোতেও অপুষ্টির হার খুব বেশি। এগুলো মোকাবিলা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে অনেক কথাই বলছি। কিন্তু মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকে। ১৮ বছর বয়সের আগেই প্রায় ৫১ শতাংশ মেয়ে শিশুর বিয়ে হয়ে যায়। এটা চিন্তার ব্যাপার। কেননা, এতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ এবং মাতৃমৃত্যুহার ও কম ওজনের শিশুজন্মের ঝুঁকি বাড়ে। সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশু সারা জীবন অপুষ্টিতে ভোগে। সুতরাং, যেকোনো মূল্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতেই হবে। আমরা ভালো করছি, আমরা খর্বতা নিয়ে এসডিজির লক্ষ্য পূরণ করতে পারব। কিন্তু উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে আমাদের কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি মায়ের পুষ্টি এবং অনূর্ধ্ব তিন ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর পুষ্টি, কৈশোর-পুষ্টি বিষয়ে আমরা যদি খেয়াল রাখি এবং এক হাজার দিবস কর্মসূচিকে আরও জোরদার করি, তাহলে অবশ্যই তা বড় অর্জন নিয়ে আসবে। ইফতেখার রশিদআমরা শহর এলাকাগুলোকে কম গুরুত্ব দিয়েছি। বিগত আড়াই দশকে সরকারের কর্মসূচিগুলো মূলত গ্রামীণ এলাকানির্ভর ছিল। এর কারণ হলো শহর এলাকাগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং এসব এলাকা স্থানীয় সরকারের আওতাভুক্ত।শহুরে বস্তিগুলোতে খর্বকায়তার হার অনেক বেশি, বিশেষত গত সাত বছরে এর পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হার দুর্গম পল্লি অঞ্চলে যেসব এলাকায় পৌঁছানো কঠিন, সেসব এলাকার থেকেও বেশি। জীবনযাত্রার ধরন, পানি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, রান্নার সুবিধার অভাবই এর পেছনে প্রধান কারণ। সুতরাং, আমাদের শহুরে অঞ্চলকে প্রাধান্য দেওয়া এবং খর্বকায়তা হ্রাস করার জন্য একটি বহুক্ষেত্রবিশিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করা প্রয়োজন। মো. খালেদুজ্জামান তালুকদারবিভিন্ন বিভাগের কাজকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সরকার ২০১৯ সালে এসএমই নীতি প্রণয়ন করে । ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির ৫০ শতাংশ এসএমই থেকে আসবে বলেও সরকার অঙ্গীকার করেছে। খাদ্য ও পুষ্টি এসএমই ফাউন্ডেশনের বিশেষ ক্ষেত্র। এই ফাউন্ডেশন ১১৭টি ক্লাস্টার প্রতিষ্ঠা করেছে, যার মধ্যে ৩৪টি কৃষিভিত্তিক। এ ক্লাস্টারগুলোর মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও অর্থায়ন। বাণিজ্যিক খাতগুলো থেকে অর্থ পাওয়া সম্ভব হলেও এদের সুদের হার বেশ চড়া। তবে এসএমই ফাউন্ডেশন ২০০৮ সাল থেকে তুলনামূলক কম সুদে ঋণসুবিধা দিয়ে আসছে। জয়নুল আবেদিনপুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হলে আমাদের পানিসম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সরকারের উচিত নদীগুলো খননের মাধ্যমে শুকনা মৌসুমে পানির জোগান নিশ্চিত করা। এ ছাড়া খাদ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা দরকার, যেন তা থেকে আমরা বেশি মাত্রায় প্রোটিন ও ফ্যাট পেতে পারি। ধান ছাড়াও আমাদের নানা ধরনের ডাল, সূর্যমুখী ও শর্ষে উৎপাদন করতে হবে। হ্যারি ভারউয়েবেসরকারি খাত নিয়ে সাধারণ কিছু অভিমত তুলে ধরতে চাই। এই দেশের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, অন্য বড় সংস্থা এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। জাতিসংঘ, নেদারল্যান্ডস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র-এসব পক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা আমাদের সবার বুঝতে হবে।এ সম্পর্ক এখন আর দাতা ও অনুদানগ্রহীতার সম্পর্ক নয়, বরং এটা এখন সমান অংশীদারত্বের সম্পর্ক। কিন্তু সমান অংশীদার মানে বাণিজ্যিক ও বাণিজ্য সম্পর্কে সমান ভূমিকা রাখা। আমরা বন্ধু হিসেবে ৫০ বছর সময় পার করছি। এখন এমন বন্ধু হতে চাই, যেন বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারি। কৃষিক্ষেত্রেও পরিবর্তন দরকার। প্রত্যেক কৃষকই একজন উদ্যোক্তা। বাংলাদেশে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে অনেক খামার আছে। এদিকে আমাদের নজর দেওয়া উচিত। কৃষিতে সেচব্যবস্থাটিও গুরুত্বপূর্ণ। বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বড় বন্ধু আমরা। জলবায়ু পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশে কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে এটা পানিকেন্দ্রিক বিশাল এক উন্নয়ন পরিকল্পনা। এটা কৃষিতে নতুন জাত ও চাষাবাদের নতুন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলে। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বলব, আমরা সংযোগ তৈরির চেষ্টা করছি। আমরা প্রযুক্তি ও দক্ষতার ক্ষেত্রগুলোর আদান-প্রদানকে সহজ করি। আমাদের দক্ষতা ব্যবহার করে আমরা নতুন কিছু প্রবর্তন করতে চাই। বেসরকারি খাত, কর্মসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বড় উদ্যোক্তাদের অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাদের কাছে অর্থ আছে, তাদের বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। কৃষি ও পানি খাতে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। সামনের দিনগুলোয় বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। আমি বলব, আরও বেশি প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আনার চেষ্টা করা উচিত। এখানে এফডিআই জিডিপির শতকরা ১ ভাগের কম। তুলনার জন্য বলছি, ভিয়েতনামে এটা ১৫ শতাংশ। এর মানে, এখনো অনেক সুযোগ সৃষ্টির কাজ বাকি আছে। দেশকে যত বেশি ব্র্যান্ড করবেন, তত বেশি এফডিআই আসবে। কথাগুলো আমি বাংলাদেশের ভক্ত হিসেবেই বললাম। মো. জাকির হোসেন আকন্দদারিদ্র্য দূরীকরণে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দরিদ্রতা ও অপুষ্টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সরকার দেশ থেকে অপুষ্টি দূরীকরণে বদ্ধপরিকর। আর এসব কমিয়ে আনা মানেই স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টিখাতে সময়, শ্রম ও অর্থ বাড়ানো। পুষ্টি অবস্থার উন্নতিতে আমাদের সরকার প্রতিশ্রতিবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ বাজেট আগের বছরের চেয়ে তিন গুণ বাড়ানো। সরকার গত বছর একটি জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা নীতি অনুমোদন দিয়েছে। এসবই অপুষ্টি ও এ-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে অবদান রাখছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অপুষ্টি বলতে আমরা মূলত প্রাণিজ প্রোটিনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। এটি মাথায় রেখেই সরকার এ ঘাটতি পূরণে সহায়ক নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমরা মাংস উৎপাদনে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ, তবে দুধ উৎপাদনে এখনো পিছিয়ে আছি। কৃষি খাতে সরকার ডাল ও তৈলবীজের মতো উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন শস্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে। সুতরাং, সরকার যেভাবে দারিদ্র্যের মাত্রা হ্রাস করছে, আমরা বিশ্বাস করি, আমরা অপুষ্টি কমাতেও সক্ষম হব এবং মানসম্পন্ন ও পুষ্টিকর খাবার নিয়ে আসতে পারব। আমি উন্নয়নসহযোগী, সুশীলসমাজ ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে অপুষ্টি হ্রাসের জন্য এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাই। সরকার এ কাজ একা করতে পারে না। এর জন্য চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মো. মুজিবুল হক এমপিবাংলাদেশ সরকার খাদ্য ও পুষ্টি খাতের আইন ও নীতিমালাগুলো বাস্তবায়নে অত্যন্ত আগ্রহী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দূরদর্শী নেতা জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। খাদ্য ও পুষ্টি খাতে সরকারের অঙ্গীকার প্রণীত আইন ও নীতিগুলোর মধ্যেই দৃশ্যমান। এর সবই এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পুষ্টিমান ও খাদ্য সুরক্ষা উন্নত করার কথা থাকবে। মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে আমাদের দৃঢ় ও কার্যক্ষম জনবল দরকার হবে। আর পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন না ঘটলে তা বাস্তবায়িত হবে না। আমি খুব খুশি যে গেইন ও অন্যান্য সংস্থা বাংলাদেশে পুষ্টি ঘাটতি কমিয়ে আনতে, নারী ও শিশুর কল্যাণের জন্য এবং তৈরি পোশাক খাতে কর্মশক্তির ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, আমরা খাদ্যব্যবস্থা ও পুষ্টির অবস্থা পরিবর্তন করতে সক্ষম হব। বেশ আগের একটা কথা বলি, ১৯৭৫ সালে এমআইটিতে ১০ জন অধ্যাপক তৃতীয় বিশ্বের দেশ নিয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। তাঁরা মন্তব্য করেছিলেন, বাংলাদেশ যেন ক্যানসারে আক্রান্ত এক রোগী, যার চিকিৎসা করা যায় না। তাঁরা উন্নয়নসহযোগীদের অন্যত্র তাঁদের কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। চার দশক পর ২০১৫ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর-এর সম্পাদক লিখেছেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০৩০ সালের মধ্যেই পুষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে আমাদের সরকার। ইংল্যান্ডের মতো দেশ মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ করতে ৭০ বছর পার করে দিয়েছে। আর আমরা মাত্র ৪০ বছরের মধ্যেই মাথাপিছু আয় তিন গুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছি। আমাদের সরকার নীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে দেশের অপুষ্টিজনিত ঘাটতি দূরীকরণের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে আমি আশাবাদী। ফিরোজ চৌধুরী আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। [এ ছাড়া গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রুদাবা খন্দকার, ইউএসএআইডির কৃষি কর্মকর্তা রয় ফেন, এফএওর জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ ললিতা ভট্টাচার্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সিকিউরিটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার আসুন্তা তেস্তা প্রমুখ।] | 8 |
বরিশালের হিজলা উপজেলার ঘোসেরচর লঞ্চঘাট সংলগ্ন নয়াভাঙ্গনী নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নদীতে গোসল করতে গিয়ে তারা পানিতে ডুবে যায়। নিহতরা হলো- উপজেলার ঘোসেরচর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৮) ও একই এলাকার সজিব চৌকিদারের ছেলে মো. হুমায়ুন (৮)। স্থানীয়রা জানান, দুপুর ২টার দিকে গোসল করতে আসাদুল ও হুমায়ুন লঞ্চঘাট সংলগ্ন নয়াভাঙ্গনী নদীর ঘাটে যায়। এরপর হঠাৎ হুমায়ুনকে ডুবতে দেখে আসাদুল তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়। এ সময় আসাদুলও ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা নদীতে তল্লাশি শুরু করে। বিকাল ৩টার দিকে এক শিশুর ও সন্ধ্যা ৬টার দিকে আরেক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হিজলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাকসুদুর রহমান জানান, নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। | 6 |
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবাই হট ফেবারিটের তালিকায় রেখেছিলেন ভারতকে। কিন্তু পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে আসরে তাদের আশা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। পাকিস্তানের সেমিফাইনাল নিশ্চিত, ভুল না করলে সেমিতে পৌঁছে যাবেন ব্ল্যাক ক্যাপসরাও। এমন সমীকরণে আবুধাবিতে আজ বুধবার (৩ নভেম্বর) টসে হেরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। তবে এদিন আর কোনো ভুল নয়। ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে রাহুল-রোহিতের ওপেনিং ১৪০ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহ পায় ভারত। নির্ধারিত ওভার শেষে ভারত ২ উইকেট হারিয়ে ২১০ রান সংগ্রহ করে। যা এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান। এ ম্যাচে আফগানিস্তানকে জিততে হলে ২১০ রান করতে হবে। এর আগে আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। ব্যাট হাতে নেমেই তান্ডব চালাতে থাকেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল। দুই জনের ঝড়ো গতির ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৩ রানে। এরপর আরো মারমুখো হয়ে ওঠেন রাহুল-রোহিত। চার আর ছয়ের মারে দিশেহারা করতে থাকেন আফগান বোলারদের। ১০ ওভার শেষেও সাফল্যের দেখা পাননা রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিরা। বিনা উইকেটে তখন ভারতের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ৮৫ রানে। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৩৭ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কার মারে ফিফটি তুলে নেন রোহিত। ফিফটি হাঁকাতে ভুল করেননি রাহুলও। তিনি ৩৫ বলে ৮ চার ১ ছক্কার মারে ফিফটি তুলে নেন। ফলে ১১.৪ ওভারেই ১০২ রানের বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় ভারত। প্রথম উইকেটে দুই জনের ১৪০ রানের জুটি ভাঙেন আফগান ফাস্ট বোলার করিম জানাত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি পাকিস্তানের বাবর আজম ও রিজওয়ানের। ভারতের বিপক্ষে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এই রেকর্ড গড়েন বাবররা। ৪৭ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন রোহিত। এর আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ ছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে গোল্ডেন ডাক এবং দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪ বলে ১৪ রান করেন তিনি। এরপর ঋষভ পন্তকে নিয়ে রানের চাকা সচলের চেষ্টা চালান রাহুল। কিন্তু দলের খাতায় ৭ রান যোগ করতেই গুলবাদিন নাইবের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন রাহুল। সাজঘরে ফেরার আগে ৬ বাউন্ডারি ও ২ ওভার বাউন্ডারির সাহায্য ৪৮ বলে ৬৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮ বলে তিন এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬ বলে ১৮ রান করেন তিনি। | 12 |
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের নিজ বাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। আজ রোববার বাদ জোহর এলাহাবাদ গ্রামে চতুর্থ জানাজা শেষে 'চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ' কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষ, রাজনৈতিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এলাহাবাদের জন্মভূমির মাটিতেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর রাজনৈতিক অনুজ সহযোদ্ধা ও ন্যাপের নেতা-কর্মীরা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লার দেবীদ্বারের এলাহাবাদ গ্রামের স্কুলশিক্ষক কেয়াম উদ্দিন ভূঁইয়া ও আফজারুন্নেছার ঘরে জন্ম নেন এই কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের বোনের ছেলে কুমিল্লার ইতিহাসবিদ ও আইনজীবী গোলাম ফারুক জানান, আজ সকাল ১০টায় কুমিল্লা টাউন হলে মোজাফফর আহমদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ আলী, ন্যাপ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি জাকির হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রবীণ নেতা মফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি ওমর ফারুক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হাসান, কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সফিউল আহমেদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল্লাহ আল কাফী, কুমিল্লা শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার আবদুল হান্নান ও কুমিল্লা জেলা বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাসান ইমাম মজুমদার। জানাজায় সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বলেন, 'বাংলাদেশের একজন আত্মত্যাগী মানুষ ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। তিনি সদালাপী মানুষ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ এক বিশাল হৃদয়ের মানুষকে হারাল।' পরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কুমিল্লার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁর কফিনে ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়। এদিকে আজ বাদ জোহর অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের গ্রামের বাড়ি এলাহাবাদে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাংসদ রাজী মো. ফখরুল, সাবেক সাংসদ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইকবাল হোসেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় সভাপতি হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলার সভাপতি এ বি এম আতিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নুল আবেদীন, ন্যাপ উপজেলা সভাপতি অনিলচন্দ্র ঠাকুর, সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান, যুব ইউনিয়ন কুমিল্লা জেলা সভাপতি এ কে এম মিজানুর রহমান ও গ্রামবাসীর পক্ষে মুরাদনগরের শ্রীকাইল সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক আক্তার হোসেন সরকার। জানাজা শুরুর আগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর পরে একজন মানুষই ছিলেন সম্মান করার মতো। তিনি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। এখন তিনিও চলে গেলেন। এখন আর সম্মান করার মতো কেউ রইল না।'দেবীদ্বারের এলাহাবাদেও প্রয়াত নেতাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। | 9 |
সাবেক চিকিৎসক ল্যারি নাসেরের যৌন হয়রানির ঘটনায় গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সাক্ষ্য দিয়েছেন অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ী জিমন্যাস্ট সিমন বাইলস। এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমি ল্যারি নাসেরকে দোষী দাবি করছি, একই সাথে পুরো সিস্টেমটাকেও। এই সিস্টেমের জন্যেই আমরা এমন দুর্ভাগ্যজনক আচরণের শিকার হয়েছি এবং নাসেরের মতো দুর্বৃত্ত তার অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করে গেছে দিনের পর দিন।' সিনেটে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সিমনের পাশে ছিলেন তার সাবেক সতীর্থ আলি রেইসমান ও ম্যাককাইলা ম্যারোনি। এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস্টোফার রে সিনেটে হাজির ছিলেন। যৌন হয়রানির অভিযোগ পেয়েও এফবিআইয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিয়ে কালক্ষেপণ করেছেন- এমন অভিযোগ রয়েছে। এতে আরও কয়েকমাস অপকর্ম চালিয়ে যেতে সমর্থ হন নাসের। এ ঘটনায় এক অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত কর্মকর্তা বহু আগে অবসর নিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন ২০১৭ থেকে এফবিআইয়ের পরিচালকের দায়িত্বে থাকা ক্রিস্টোফার রে। সূত্র : বিবিসি বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 12 |
রেস্তোরাঁর মালিকদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, 'আপনারা প্রতিজ্ঞা করেন মানুষকে ভেজাল খাদ্য পরিবেশন করবেন না, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আপনাদের কাছে আর যাবে না। যদি তা না হয়, তবে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।'গতকাল সোমবার বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আয়োজিত 'নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ ও বিধি-প্রবিধি সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।সেমিনারে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, 'হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রায়ই বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান চালাচ্ছে, জেল-জরিমানা করছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।' এমন অভিযোগের উত্তরেই খাদ্যমন্ত্রী ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার কথা বলেন।সাধন চন্দ্র আরও বলেন, জাইকার সহযোগিতায় নিরাপদ খাদ্য পরিবেশনে একটি ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশকে বাঁচাতে হলে দেশের জনগণকে বাঁচাতে হবে। এ জন্যই ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, 'নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, বিপণন এবং খাবার হিসেবে গ্রহণের সুঅভ্যাস তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। | 6 |
ফের অশান্তি শ্রাবন্তীর সুখের সংসারে? রেশন সিংয়ের সঙ্গে শ্রাবন্তী আর থাকছেন না! এমন খবরেই তোলপাড় পেজ থ্রির পাতা। বিষয়টির খোঁজ করতেই দেখা যায়, অভিনেত্রীর নিজের ইনস্টাগ্রাম থেকে উধাও স্বামী রোশন সিংয়ের সমস্ত ছবি। অন্যদিকে রোশন সিংয়ের সোশ্যাল হ্যান্ডেল খুঁজলেও মিলছে না স্ত্রী শ্রাবন্তীর কোনো ছবি। শ্রাবন্তীর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে রোশন সিংয়ের কোনও ছবি না মিললেও, অভিনেত্রী এখনও নিজেকে 'শ্রাবন্তী সিং' হিসেবেই পরিচয় দিচ্ছেন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল খুঁজলে দেখতে পাবেন শ্রাবন্তী সিং-এর নাম। যদিও এই মুহূর্তে টলিউডের এই প্রথম সারির অভিনেত্রী স্বামী রোশন সিংয়ের সঙ্গে থাকছেন না বলেই সূত্রের খবর (২০১৮ সালে রোশন সিংয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন শ্রাবন্তী)। শ্রাবন্তীর সঙ্গে এক ছাদের নীচে না থাকলেও, রোশন বা অভিনেত্রী নিজে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি নন বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শ্রাবন্তীর সঙ্গে সম্পর্ককে 'অতীত সম্পর্ক' বলে মন্তব্য করেন রোশন সিং। প্রসঙ্গত, প্রথম স্বামী রাজীব বিশ্বাসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মডেল কৃষ্ণ ব্রজর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান শ্রাবন্তী। তাঁদের বাগদান থেকে আইনি বিয়ে হয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত টেকেনি সেই সম্পর্ক। ফলে মডেল কৃষ্ণ ব্রজের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায় শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের। কৃষ্ণ ব্রজর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৮ সালে রোশন সিংয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন শ্রাবন্তী। পঞ্জাবে গিয়ে রোশনের বাড়িতে চুপচাপ বিয়ে সেরে ফেলেন এই অভিনেত্রী। শ্রাবন্তী-রোশনের বিয়েতে হাজির হন দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠরা। বিয়ের এক বছর কাটতে না কাটতেই ফের দুজনের সংসারে অশান্তির কালো মেঘ ঘনাচ্ছে বলে খবর। | 2 |
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফির স্কুল-কলেজে মেয়েদের না পাঠানো ও ক্লাস ফোর-ফাইভ বেশি না পড়ানোর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, মেয়েদের স্কুল-কলেজে না পাঠানোর জন্য হেফাজতে ইসলামের আমিরের বক্তব্যে হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি। আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিব্রত করবে। নারী-শিক্ষার সাথে ধর্মের কোনো বিরোধ নেই। বিএনপি মনে করে নারী সুশিক্ষায় আলোকিত না হলে তাদের বিকাশ ও প্রকৃত ক্ষমতায়ন হবে না। বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষিত হওয়া ছাড়া সমাজকল্যাণ, অর্থনেতিক ও মানবিক সাম্যসহ ইসলামের অন্তর্নিহিত মর্মবাণী বুঝতে সক্ষম হবে না। সন্তানের প্রাথমিক শিক্ষালাভ ঘটে মায়ের কাছ থেকেই। নৈতিক ও অক্ষর পরিচয়ের প্রথম পাঠশালাই হলো মায়ের সাহচর্য। সুতরাং মা সুশিক্ষিত না হলে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানটি ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত হয় না। বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, সামাজিক অন্যায় ও বৈষম্য দূর করার জন্য অবশ্যই নারীর শিক্ষা অপরিহার্য। জাতীয় অর্থনীতিতে যথার্থ ভূমিকা পালনের প্রধান শর্ত হচ্ছে নারী শিক্ষা। নারীরা শিক্ষিত না হলে তারা সমাজে অমানবিক নষ্টবুদ্ধির মানুষদের প্রতারণা, লাঞ্ছনা ও শোষণ-বঞ্চনা থেকে রক্ষা পাবে না। নিগ্রহ ও অসম্মানের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের অক্ষরহীন নারীদের অবশ্যই পড়ালেখা করতে হবে। তা না হলে আমাদের দেশ ও সমাজ অগ্রসরমান পৃথিবী থেকে অনেক পেছনে অবস্থান করবে। আল্লামা শফি নারীদের শিক্ষাবিরোধী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। | 1 |
বিয়ের দু বছর হয়েছে মাত্র। বড় ব্যবসায়ী স্বামীকে তেমন একট কাছেও পাওয়া যায় না। কারণ, ব্যবসার কাজে বেশি সময়ই বাইরে থাকতে হয় তার। কথায় আছে কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। সোনম কাপুরের ক্ষেত্রেও বুঝি তাই ঘটল। করোনা ভাইরাসের কারণে চলছে লকডাউন। বন্ধ প্রতিষ্ঠান। বন্ধ ভ্রমণ। এমন সময়টাকে বর আনন্দ আহুজার সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন সোনম। আনন্দের মুহূর্তটা যেন একটি ছবির মাধ্যমেই ভক্তদের বুঝিয়ে দিলেন তিনি। বন্ধ সিনেমা, তাই শুটিংও বন্ধ। অন্য সময়গুলোতে অবসর কাটালেও করোনা আতঙ্কের মতো এত বড় প্রভাব পড়েনি আগে কখনও। সম্পূর্ণ সময়টা থাকতে হচ্ছে ঘরে বন্দি। এমন সময় পরিবারকে যতটুকু সময় দেয়া হচ্ছে তা আগে কখনো হয়ে উঠেনি। ঘুম থেকে উঠে সাঁঝ সকালেই স্বামীর কপালে চুমু খেলেন সোনম কাপুর। নিজের ইনস্টাগ্রামে এমন একটি ছবি শেয়ার করেন তিনি। ছবিটি এক দিনে ৩ লাখ ২৪ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার লাইক দিয়েছেন। | 2 |
ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে পুলিশের এক এএসআইসহদু'জন নিহত হয়েছে।মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রায়মনি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দু'জন হলেন- ফুলবাড়িয়া থানা থেকে সম্প্রতি ক্লোজড হওয়া পুলিশের এএসআই আমিনুল ইসলাম (৩২) এবং তার শ্যালক জাহিদুল ইসলাম (২২)।জাহিদুল ভালুকার ডাকাতিয়া এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে। | 6 |
ময়মনসিংহ শহর থেকে 'জঙ্গি' সন্দেহে একটি বাড়ি থেকে এক মেডিকেল শিক্ষার্থীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে শহরের কালিবাড়ী এলাকায় একটি বাড়ি ঘিরে রাখার পর ওই বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এক ব্রিফিংয়ে জানান, কালিবাড়ী এলাকায় একটি বাড়িতে জঙ্গিরা অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে দরজা ভেঙে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পুলিশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রসহ সাতজনকে আটক করে।
তিনি জানান, আটক সাতজন গত চারমাস ধরে এই বাড়িতে অবস্থান করছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে আল আরাফা ব্যাংকের ৭০ লাখ টাকার চেক, জিহাদি বই ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
| 6 |
ফেনীর পরশুরাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি কামাল উদ্দিন মজুমদারের বিরুদ্ধে এক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে অশালীন আচরণে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে যাচ্ছেতাই বলে হুমকি ধামকি দেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।ওই অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, পরশুরাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিনকে হুমকি দেওয়া হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল মজুমদার বলেন, আপনি আইন তৈরি করেন? আপনি একজন মহিলা কর্মকর্তা হয়ে বেঁচে গেলেন। অন্য কেউ হলে দেখে নিতাম।'তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, 'ভয়েস সম্পাদনা পরিকল্পভাবে এ সব করা হয়েছে। উপজেলার কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।'উপজেলা শিক্ষা অফিসের একটি সূত্র জানায়, চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ অনলাইনে ব্যাংকের মাধ্যমে বণ্টন করায় চেয়ারম্যান এমন আচরণ করেন।এদিকে নারী কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, আমি একজন নারী। 'বিষয়টি নিয়ে কথা বললে নিজের ক্ষতি হবে। অর্থ সংক্রান্ত কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তিনি মাঠপর্যায়ে গিয়ে তদারকি করে দেখতে পারেন।' | 6 |
কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮৪ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ। এ সড়ক ধরে যেতেই দুই পাশে চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ তরমুজের খেত।চাষিরা বলছেন, এখন অসময় হলেও তরমুজ বেশ সুস্বাদু। ফলনও ভালো হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তরমুজ পাঠানো হচ্ছে। ভালো মুনাফা পাচ্ছেন তাঁরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে পরামর্শ দেওয়ায় তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন।সাধারণত তরমুজ গরমের ফল হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এপ্রিল-মে মাসে এ ফলের উৎপাদন বেশি হয়। কিন্তু দু-তিন বছর ধরে টেকনাফ ও উখিয়ায় সাগরতীরবর্তী এলাকায় তরমুজ চাষের ব্যাপকতা বেড়েছে; পাশাপাশি রামু ও সদর উপজেলায় হচ্ছে আগাম তরমুজের চাষ।সরেজমিন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়ার মনখালীতে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তরমুজের আবাদ হয়েছে। খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা। কেউ তরমুজ তুলছেন, আবার কেউ পানি দিচ্ছেন।ফল ব্যবসায়ী আবু বক্কর (৪০) কক্সবাজার শহর থেকে এসেছেন তরমুজ কিনতে। তিনি চাষিদের কাছ থেকে তরমুজ সংগ্রহ করে শহরে নিয়ে বিক্রি করেন। আবু বক্কর বলেন, এ সময় তরমুজ চাষ হয়, তা অনেকেই জানেন না। যাঁরা চাষের খবর জানেন, তাঁরা কিন্তু তরমুজ খুঁজে কেনেন। একেকটি তরমুজ আকারভেদে ৭০ থেকে ২০০ টাকায় কিনছেন।চাষি ছৈয়দ আলম (৪৫) বলেন, এক একর জমিতে তিনি তরমুজের চাষ করেছেন। এখন ফল ওঠানোর মাঝামাঝি সময়। ইতিমধ্যে তিনি ১ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন।তরমুজ চাষে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কের বেশির ভাগ জায়গায় এখন তরমুজ পাওয়ায় পর্যটকেরাও বেশ উৎফুল্ল। কারণ তাঁরা সরাসরি মাঠ থেকে নিয়ে তরমুজ খেতে পারছেন।কৃষি অধিদপ্তরের হিসাবমতে, উখিয়া ও টেকনাফে ৪০০ একর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। দুই উপজেলার তিন শতাধিক চাষি তরমুজের চাষ করছেন।টেকনাফের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, 'আগাম তরমুজ চাষ বাড়ানোর জন্য চাষিদের সরেজমিন পরামর্শ দিই। প্রতিনিয়ত রোগবালাই ও পরিচর্যার খবর নিই।'কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. এখলাছ উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, আগাম তরমুজ চাষে চাষিরা বেশ সাফল্য পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক দেখভাল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।' | 6 |
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলে মঙ্গলবার (৩ মে) দেশে ফিরেছে টাইগাররা। বিকেলে একটি চাটার্ড বিমানে করে দেশে ফেরে ২১ সদস্যের টেস্ট দল ও কর্মকর্তারা। আগে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে ক্রিকেটারা যার যার বাড়িতে চলে যেত। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের কারণে আর সেটি হচ্ছে না। তাদের থাকতে হচ্ছে কোয়ারেন্টাইনে। জানা গেছে বিসিবির নির্ধারিত একটি হোটেলে দেশে ফেরা সকল ক্রিকেটার তিনদিনের কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। আর তিনদিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন শেষে তারা বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। এদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে ব্যাটিং নৈপুণ্যতা দেখিয়ে ড্র করে বাংলাদেশ। আর তাই দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে টাইগারদের সামনে সুযোগ ছিল সিরিজ জেতার। কিন্তু সেটি আর হয়নি। বাংলাদেশ উল্টো দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হেরে বসে সিরিজ হেরে তবেই দেশে ফিরেছেন। এখন লঙ্কানদের বিপক্ষে এই মে মাসের শেষ দিকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে খেলবে বাংলাদেশ। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই সিরিজ খেলতে লঙ্কান দল বাংলাদেশে আসবে। | 12 |
চট্টগ্রামের কোর্ট হিলের আদালত ভবনসংলগ্ন ১ দশমিক ৮ একর টিলা শ্রেণির ভূমিতে নতুন করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়। ১৫ ডিসেম্বর এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।আদালত ভবনের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য রক্ষার্থে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কার্যালয়ের উপপরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, 'আদালত ভবনসংলগ্ন জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে তিনটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার আলোকে আমরা টিলাশ্রেণি ভূমিতে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য একটা বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি।'একই কার্যালয়ের পরিচালক মো. নুরুল্লাহ নুরী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের গত ২৮ ডিসেম্বরের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য রক্ষায় অপরিকল্পিত ও অনুমোদনহীন স্থাপনাসমূহ অপসারণ করতে তিনটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে 'ঘ' অনুচ্ছেদে কোর্ট বিল্ডিংয়ের সামনের ফাঁকা জায়গাটিতে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ না করার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিকে জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। | 6 |
কক্সবাজারের প্রধান নদী বাঁকখালী অবৈধ দখল, ভরাট ও দূষণের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার কমিশনের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাস খবরটি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, কক্সবাজারের প্রধান নদী বাঁকখালী। পর্যটন নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক ভূমিকা রেখে আসছে এ নদী। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে বাঁকখালী। নদীর এ দূরাবস্থা দেখতে বুধবার বাকখালী নদী পরিদর্শন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাসের নেতৃত্বে একটি দল এ পরিদর্শন করে। দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, পরিদর্শনে বাকখালী নদী দখল ও দূষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিশেষ করে পৌরসভার পক্ষ থেকে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দায়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাঁকখালী নদীর দৈর্ঘ্য ৯০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২৫ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে অবৈধ দখলদারদের বিভিন্ন স্থাপনা। কক্সবাজার জেলার প্রধান নদী হওয়ায় বাঁকখালীর ওপর অন্তত সাত লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ এ নদী অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলছে প্রভাবশালীরা। আবার অনেকেই নদী ভরাট করে আবাসন প্লট তৈরি করে বিক্রিও করছে। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচ করতে যে পরিমাণ ভোট প্রয়োজন, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে প্রথম দুই অভিযোগের ভোট গণনায় ওই পরিমাণ ভোট পড়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের চেয়ারের অনুমোদন দেয়ার পর। তার বিরুদ্ধে দু'টি অভিযোগের ক্ষেত্রেই অভিশংসনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পড়েছে প্রতিনিধি পরিষদে। প্রথম অভিযোগের ক্ষেত্রে ২৩০ ভোট পড়েছে অভিশংসনের পক্ষে এবং ১৯৭ ভোট পড়েছে বিপক্ষে। দ্বিতীয় অভিযোগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ২১৬ ভোটের বেশি সংখ্যক ভোট পড়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্প হলেন অভিশংসিত হওয়া তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর ফলে এখন উচ্চকক্ষ সেনেটে ট্রাম্পের বিচার হবে - তবে সিনেটে যেহেতু রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত তাই সেখানে এটি পাস হবার সম্ভাবনা প্রায় নেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দুটি হলো, তিনি তার পদ ব্যবহার করে তার ডেমোক্র্যাট রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেছিলেন, এবং দ্বিতীয়টি হলো অভিশংসনের তদন্তকাজে সহায়তা করতে অস্বীকার করে তিনি কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন।সূত্র : বিবিসি | 3 |
ইউক্রেনকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার (১ মার্চ) ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে ভিডিও বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমরা সদস্য হলে ইইউ আরও শক্তিশালী হবে। এখন আপনাদের পালা। আপনাদের প্রমাণ করতে হবে যে, আপনারা আমাদের পক্ষে আছেন এবং আপনারা আমাদের ছেড়ে যাবেন না। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে আমি ভুলে গেছি মানুষকে কিভাবে শুভেচ্ছা জানাতে হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি কাউকে বলতে পারি না, আপনার জন্য দিনটি শুভ হোক। কিংবা সন্ধ্যায় বলতে পারি না রাতটি আপনার জন্য শুভ হোক। কারণ কারও কারও জন্যেএটি জীবনের শেষ দিন কিংবা শেষ রাত। জেলেনস্কির বক্তব্য শেষ হলে তাকে ইউরোপীয় নেতারা স্ট্যান্ডিং ওভেশন দেয়। জেলেনস্কি বলেন, আমরা রূঢ় বাস্তবার মুখোমুখি হয়েছি। প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। আমি মনে করি আজকে মূল্যবোধ, অধিকার, স্বাধীনতা এবং সাম্যের জন্য সেসব জীবন বলি হচ্ছে, তা থেকে আপনারা লাভবান হন। তিনি বলেন, ইউরোপীয়ানরা যে পথ পছন্দ করে সেই পথেই আজ ইউক্রেন হাঁটছে। আমি সেই বার্তাই আপনাদের কাছ থেকে শুনতে চাই। আমি শুনতে চাই যে, ইউক্রেনকেও আপনাদের একজন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দিলে রুশ সেনারা তিন দিক থেকে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। ইউক্রেনের সেনারাও প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। | 3 |
পোশাকে সাদাকালো রঙে আভিজাত্য প্রকাশ পায়। এই দুটি রং চিরকালের ক্ল্যাসিক। তাই সাদাকালো পোশাকের প্রতি ফ্যাশনসচেতন মানুষের আগ্রহ থাকে সব সময়। এ জন্য গ্রামীণফোন জিপি স্টারদের জন্য দিচ্ছে বিশেষ ডিসকাউন্ট সুবিধা। আর তারা এটা উপভোগ করতে পারবেন দেশের অন্যতম শীর্ষ ফ্যাশনহাউস সাদাকালোর যেকোনো পণ্য কিনলে। গ্রামীণফোনের জিপি স্টার গ্রাহকেরা বিশেষ এই অফারে সাদাকালো থেকে যেকোনো পণ্য কিনলে ১৫ শতাংশ ফ্ল্যাট ছাড় পাবেন। এ অফারে পাওয়া যাবে পুরুষ, নারী ও শিশুদের পোশাক, হাউসহোল্ড পণ্য, ফ্যাশন অ্যাক্সেসরিজ, ক্র্যাফট ও উপহারসামগ্রী। অফারটি পেতে জিপি স্টার গ্রাহকদের কোড ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য গ্রামীণফোন ব্যবহারকারীদের লিখতে হবে <>মোট বিলের পরিমাণ এবং পাঠিয়ে দিতে হবে নম্বরে। অফারটি দেশিদশসহ ধানমন্ডি, বেইলি রোড , গুলশান, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বগুড়া আউটলেটে পাওয়া যাবে। শুধু সাদা আর কালো রং নিয়ে সাদাকালো বাংলাদেশের একটি ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড। বাংলাদেশের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে ধারণ করে অনন্য স্বকীয়তায় বছরের পর বছর ক্রেতাদের উপহার দিয়ে চলেছে বৈচিত্র্যময় সাদাকালো সংগ্রহ-পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রীর। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসগুলোতে সাদাকালো বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে থাকে তাদের পণ্যের নকশায়। ঈদ, পূজা আর বৈশাখ উদযাপনের ব্যাপারেও সাদাকালো বিশেষভাবে জোর দিয়ে থাকে। এ ছাড়া মা দিবস, বাবা দিবস, ফ্রেন্ডশিপ ডে এবং ভালোবাসা দিবস উদযাপনেও থাকে সাদাকালোর বিশেষ গুরুত্ব। আপনার গ্রামীণফোন নম্বরটি জিপি স্টার কিনা সেটা চেক করতে ক্লিক করুন ://./ লিংকে। | 4 |
চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে হয়রানি ও বিরক্ত করার অভিযোগ উঠেছে অভিনেতা জায়েদ খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করেছেন মৌসুমীর স্বামী ওমর সানী। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন জায়েদ খান। তিনি বলেছেন, 'ওমর সানী মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে শিল্পী হিসেবে অসম্মান করছেন। এতে মৌসুমীকেও ছোট করা হচ্ছে।' বাংলাদেশ শিল্পী সমিতিতে জায়েদের বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওমর সানী। তিনি বলেছেন, চার মাস ধরে তার স্ত্রীকে হয়রানি করছেন জায়েদ। সেই প্রমাণ তার কাছে আছে। জায়েদ তাদের সংসার ভাঙার চেষ্টা করছেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় ইটবাহী ট্রাক চাপায় সাবরিনা আক্তার মিতু (২২) নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। কিন্তু ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি।আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনাইমুড়ী পৌরসভার রামপুর মোল্লা বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাবরিনা আক্তার মিতু সোনাইমুড়ীর বজরা ইউনিয়নের শীলমুদ গ্রামের মর্তুজা ভূঁইয়ার মেয়ে। তিনি জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঢাকার উদ্দেশে আল বারাকা বাস কাউন্টার থেকে একটি টিকিট নেয় মিতু। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নানার বাড়ি রামপুর থেকে বের হয়ে বাস কাউন্টারের উদ্দেশে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির একটি ইটবোঝাই মিনি ট্রাক তাঁকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করতে পারলেও পালিয়ে যায় চালক।সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহীম খলিল বলেন, 'আটককৃত ট্রাক ও নিহতের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হবে। এ ছাড়া পলাতক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।' | 6 |
আফগানিস্তানে পশ্চিমা-সমর্থিত, দুর্নীতিবাজ প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকারকে হটিয়ে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত, দুর্দশাগ্রস্ত দেশটিতে ত্রাণসহায়তা পাঠিয়েছে সৌদি আরব। খবর এএফপির সৌদির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কিং সালমান হিউম্যানেটিরিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুটি বিমানে করে এ সহায়তা পাঠানো হয়। ৬৫ টনের বেশি এ সহায়তার মধ্যে ১ হাজার ৬৪৭ প্যাকেট খাবারও রয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক জেনারেল আবদুল্লাহ আল-রাবিয়া বলেছেন, মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ৬টি বিমানে করে ১৯৭ টনের বেশি খাদ্যসহায়তা আফগানিস্তানে পাঠানো হবে। এ ছাড়া দেশটিতে আরও ২০০ ট্রাক ত্রাণ পার্শ্ববর্তী পাকিস্তান থেকে স্থলপথে পাঠানো হতে পারে। গত বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে উপসাগরীয় দেশগুলোর এক সম্মেলনে আফগানিস্তানের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি উঠে আসে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়িয়ে দেশটির জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, আফগানিস্তানের ৩ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে অর্ধেক মানুষ 'তীব্র' খাদ্যসংকটে ভুগছে। শীতের কারণে দেশটির লাখ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। | 3 |
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হওয়ার জন্য তার ছোট ছেলে এরিক এরশাদকে নিয়ে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির। এরিকের মা বিদিশা সিদ্দিক এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে গড়া দল এখন সার্কাসে পরিণত হয়েছে। দলীয় চেয়ারম্যানের একমাত্র উত্তরসূরী প্রতিবন্ধী সন্তানকেও এখন রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতির কাছে আমার প্রশ্ন, যারা এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের বিবেক বুদ্ধি কি সব লোপ পেয়ে গেছে? গত ১৪ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এতে রংপুর-৩ আসনটি শূন্য হয়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর এ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। ভোট হতে পারে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে।উপ-নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে জাতীয় পার্টি। মঙ্গলবার এরিক রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরের পক্ষে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। এদিকেএরশাদের বড় ছেলে রাহাগির আল মাহি সাদ এরশাদও জাপার প্রার্থী হতে চান। অটিস্টিক এরিককে নিয়ে ইয়াসিরের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের ছবি ফেসবুকে এলে শুরু হয় সমালোচনা। এরিক ছাড়াও এস এম ইয়াসিরের পক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জাপার যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়। এছাড়াএরশাদের ভাতিজা শাহারিয়ার মকবুল আসিফ ও ভাগ্নি জেবুন্নেসা টুম্পাও জাপার মনোনয়নপ্রত্যাশী। | 9 |
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দানকারী প্রতারক আব্দুল কাদেরকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নিতে আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন চার দিনের রিমান্ড শেষ আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার প্রতারণার মামলায় তাকে ফের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী তা বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৭ অক্টোবর শেখ আলী আকবর তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার একটি মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন তিনি। এ মামলায় অপর আসামিরা হলেন- আব্দুল কাদেরের স্ত্রী সততা প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছোয়া এবং ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম। এ মামলার অভিযোগে পরদিন আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাকে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। | 6 |
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি ও তার তদন্ত নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এই সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও প্রথমে তা পিছিয়ে দুপুর আড়াইটায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
এরপর তা বাতিলের তথ্য সমকালেকে নিশ্চিত করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তর্থ কর্মকর্তা শাহেদ-উর-রহমান।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে চাপের মুখে গভর্নরের পদ ছেড়েছেন ড. আতিউর রহমান। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
ফিলিপাইনের ডেইলি ইনকোয়েরারে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সে দেশে ১০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। এ অর্থ বাংলাদেশের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর ৭ মার্চ সমকালে এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে হ্যাকাররা ফিলিপাইনে স্থানান্তর করে।
জানা গেছে, চুরির এ ঘটনা ঘটে গত ৪ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট বার্তা সিস্টেম হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই অর্থ ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকে সরিয়ে ফেলা হয়। শ্রীলংকার একটি ব্যাংকে আরও ২ কোটি ডলার সরানো হলেও পরে তা বাংলাদেশে ফেরত আসে।
এর আগে সকালে রাজধানীর গুলশানে গভর্নরের বাসভবনে সাংবাদিকদের আতিউর রহমান বলেন, 'আমি চলে গেলে যদি দেশের ভালো হয় তবে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি যদি বলেন তাহলে যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করব।'
রিজার্ভের টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনা কেন সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়নি-এ প্রশ্নের জবাবে ড. আতিউর বলেন, 'আমি যা করেছি দেশের স্বার্থে করেছি। এ বিষয়ে প্রথম দিকে আমার কাছে কিছু বিষয় অস্পষ্ট ছিল, তাই সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়নি।'
| 6 |
শিক্ষা সংস্কার নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের কোনো শেষ নেই। শিক্ষার্থীদের ওপর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো চলছেই, রীতিমতো 'গিনিপিগ' বানিয়ে ফেলা হয়েছে তাদের। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য ও বাস্তবসম্মত করতে চাইলে, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম পর্যন্ত বর্ধিত করে তা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এখানে ভাষা, যোগাযোগ, গণিত, মূল্যবোধ প্রাধান্য পাবে। ভাষা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, গণিত, জলবায়ু-প্রাণ-পরিবেশের টেকসই জ্ঞান, পরিচ্ছন্নতা ও রিসাইক্লিং, বিভিন্ন খাতের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলাগত আইনি জ্ঞান ও চর্চা, সামাজিক ও মানবিক বোধ, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং মৌলিক বিজ্ঞান ইত্যাদি গুরুত্ব সহকারে পড়ানো হবে। তবে বাংলা ও ইংরেজিতে গতানুগতিক গদ্য ও পদ্য না পড়িয়ে ভাষা শিক্ষার বিষয়বস্তুতেই উপরিউক্ত থিমগুলো স্থান করে নেবে, যাতে বর্ধিত সিলেবাসের চাপ কমে আসে। কর্মমুখী দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাষা তৃতীয়তে না চালু করে পঞ্চমে চালু করা যেতে পারে। অষ্টমের পূর্বে কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না, তবে স্কুল মূল্যায়ন থাকবে। তবে পদ্ধতিটি চালুর আগের অতিরিক্ত কাজের জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক দরকার, মাথাপিছু সর্বোচ্চ ২০ জনের বিপরীতে একজন উচ্চতর ট্রেনিং প্রাপ্ত শিক্ষকের আয়োজন না করে স্কুল মূল্যায়ন চালু অর্থহীন। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা জেএসসি অষ্টম পর্যন্ত প্রাথমিকের সমাপনী হিসেবে থাকবে, সার্টিফিকেশনের পাশাপাশি স্কুল সফটওয়্যার ডেটাবেইস ভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হবে যা স্কুলশিক্ষক ও বহিরাগত শিক্ষক মিলে তৈরি করবেন পঞ্চম থেকে অষ্টমের সব শ্রেণিতে। পঞ্চম থেকে ওপরের প্রতি শ্রেণিতে প্রবর্তিত এই মূল্যায়ন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ডেটাবেইসেও রক্ষিত থাকবে। এটা এই জন্য যে, আমাদের সন্তানদের ঝোঁক, আগ্রহ ও বিষয়ভিত্তিক প্রতিভা'র আলোকে যাতে তাদের উচ্চশিক্ষার পথ তৈরি করা হয়, যাতে খুব জোরাজুরিতে প্রকৌশল প্রযুক্তি ও মেডিকেল শিক্ষা চাপিয়ে দেওয়া না হয়। মাধ্যমিক শিক্ষা নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত হবে। আলাদা নাম করে উচ্চ মাধ্যমিকের স্তর উঠিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ শিক্ষাকে বহু স্তর বিভাজনে দাঁড়া করানোর মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক বাঁধা সরানো হবে। দ্বাদশ পর্যন্ত ভর্তি ও পরীক্ষা ফি সব সরকার বহন করবে। মাধ্যমিকে জলবায়ু ও পরিবেশসহ সামান্য কিছু ওয়ার্ক-লাইফ স্কিলসহ মূলত উচ্চ শিক্ষার জন্য ফাউন্ডেশন কোর্স পঠিত হবে। গণিত, পদার্থ রসায়ন জীব বিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি, অ্যাকাউন্টিং, সামাজিক ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ও জলবায়ু নৈতিকতা বাধ্যতামূলক ভাবে শেখানো হবে সবাইকে। বিষয়গুলোতে বিজ্ঞান ব্যবসা মানবিক কলা নামক কোনো ভাগাভাগি থাকবে না। তবে বিজ্ঞান ব্যবসা মানবিক কলা'র বেশ কিছু নৈর্ব্যক্তিক বিষয়াদি থাকবে যেমন, উচ্চতর গণিত, উচ্চতর পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, কলা ও ব্যবসার বিষয়াদি যা উচ্চ শিক্ষা ভর্তির ঝোঁক ও যোগ্যতার বিচার হিসেবে শিক্ষার্থীকে এগিয়ে নিবে। গুরুত্বসহ কোডিং-প্রোগ্রামিং শেখানো হবে তবে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। সরকার একমুখী সিলেবাসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে স্কুল ও শিক্ষা অবকাঠামো ঠিক না করে, মাথাপিছু হারে যোগ্য ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকের বন্দোবস্ত না করে, শ্রেণিশিক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ভিত্তিক না করে, শুধু সিলেবাস সংকুচিত করা একমুখী শিক্ষা ব্যর্থ হতে বাধ্য। একমুখী শিক্ষার উদ্দেশ্য যাতে সিলেবাস কমিয়ে পাশের হার বাড়ানো হতে পারে না, বরং একমুখী শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে হবে শিক্ষার্থীদের একবার বিজ্ঞান ব্যবসা ও কলা বিষয়াদি নির্বাচন করে ফেলার পরেও তার ঝোঁক ও সক্ষমতা অনুসারে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া, পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষাশ্রেণীর আসন খালির সমস্যা সমাধান। বস্তুত একমুখী শিক্ষা নামটাই গোলমেলে, এটা হওয়া উচিত নৈর্ব্যক্তিক শিক্ষা, যাতে সিলেবাস একই কিংবা বরং বেশি হবে। মাধ্যমিকের পরে যাবতীয় ভাগাভাগি শুরু হবে। এই ভাগাভাগি গুলো এমন হতে পারে-ধারা-এক: খুব মেধাবী বলে বিবেচিতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক বিভাগে পড়বেন। মূল উদ্দেশ্য শিক্ষক ও গবেষক তৈরি করা। স্নাতকের শ্রেণিতেই অন্তত দুই বা তিনটি আন্তর্জাতিক পাবলিকেশন বাধ্যতামূলক থাকবে। এটা চার প্লাস দুই বছর মেয়াদি কোর্স হবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলে। এই শিক্ষার্থীরা দেশের ও ইন্ডাস্ট্রির সমস্যার তাত্ত্বিক মডেল ও বাস্তব সমাধান তৈরি করবেন। অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্রি ও শিক্ষা গবেষণার একটা যোগসূত্র তৈরি হবে এখানে। কঠিন মনে হলে শিক্ষার্থীরা চাইলেই শিক্ষাবছর শেষে নিচের ধারায় নামতে পারবেন। ধারা-দুই: খুব মেধাবী ও মধ্যমানের মেধাবীরা অ্যাপ্লাইড ইউনিভার্সিটিতে বা কলেজে পড়বেন যারা অর্ধেক তত্ত্ব (থিওরি), বাকি অর্ধেক শ্রমবাজারের উচ্চ দক্ষতা ভিত্তিক পড়ালেখা (ওয়ার্ক স্কিল) করবেন। মূল উদ্দেশ্য করপোরেট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সিকিউটিভ তৈরি করা। হাইটেক-ইন্ডাস্ট্রির কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা ট্রেনিং নেবেন, কেস-স্টাডি করবেন এবং শ্রমবাজারের সমস্যা সমাধান করবেন। এটা চার যোগ এক বছর মেয়াদি কোর্স হবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলে। শিক্ষার্থী কারিগরি, ব্যাংকিং, সফটওয়্যার কিংবা ইন্ডাস্ট্রিতে যেসব অতি দক্ষ মানবসম্পদ লাগে, কিংবা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কারিগরি ও ব্যবস্থাপনায় নতুন নতুন প্রযুক্তি খাতে যেসব অতি দক্ষ মানব সম্পদ লাগে তার জন্য আগেই তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এখানে এক বছর বা ২ বছরের ইন্ডাস্ট্রি এটাচমেন্ট থাকবে নিয়মিত ক্লাসের বাইরে, যেখানে শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত অবস্থাতেই ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা সমাধানের প্র্যাকটিক্যাল এপ্রোচগুলার সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্রি'র মানবসম্পদ চাহিদা ও শিক্ষার মধ্যে একটা চমৎকার যোগসূত্র তৈরি হবে এখানে, যাতে ইন্ডাস্ট্রি তার প্রয়োজনমতো মানব সম্পদ বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে তৈরি করে নিবে। এই স্তরের শিক্ষার্থীরা চাইলে শিক্ষাবছর শেষে ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম ধারার তাত্ত্বিক স্তরে উঠতে পারবেন, সেখানে তাঁদের এক বছর লস করে ফাউন্ডেশন কোর্স করে পুনরায় শুরু করতে হবে। চাইলেই প্রতি শিক্ষাবছর শেষে নিচের ধারায়ও নামতে পারবেন। ধারা-তিন: সাধারণ মেধাবীরা দ্বাদশের পরেই বিজ্ঞান-ব্যবসা-কলার কারিগরি স্কুলে পড়বেন যারা খুব কম থিওরি পড়বেন এবং মূলত প্রায়োগিক স্কিল নিয়ে কাজ করবেন, সাধারণ চাকরিতে গিয়ে করতে হবে তা স্কুলেই শিখবেন। এটা তিন বা চার বছর মেয়াদি হতে পারে। এই স্তরের শিক্ষার্থীরা চাইলে প্রতি দুই শিক্ষা বছর শেষ করে রেজাল্টের ভিত্তিতে উচ্চ স্তরে উঠতে পারবেন, যেখানে তাঁরা অন্তত এক বছর লস করবেন ফাউন্ডেশন কোর্সের জন্য। আবার চাইলে তিন বা চার শিক্ষা বছর শেষ করেও রেজাল্টের ভিত্তিতে উচ্চ স্তর উঠতে পারবেন। বাংলাদেশের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কলেজ ও বিষয় এই ধারায় আসবে। এখানে একদিকে দ্রুত কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে কিংবা চাইলে উচ্চ শিক্ষা কমিউনিটির ব্যবস্থাও থাকবে। প্রথম দুটি দুটি ধারায় চতুর্থ শিল্পবিপ্লব জাত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার বাজার চাহিদা কেন্দ্রিক তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক কোর্স পঠিত হবে। আর তৃতীয় ধারায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফিউশন প্রযুক্তি গুলোর অপারেশনস ও মেইনটেন্যান্স সাপোর্ট সক্ষমতা তৈরি হবে। প্রথম দুটি ধারায় ইঞ্জিনিয়ারিং ফাইনান্সিং ব্যাংকিং ব্যবসা ও শিল্পকলার মডেলার, ডিজাইনার তৈরি করা হবে। তৃতীয় ধাপে নকশা বাস্তবায়নকারী, বিজনেস অ্যাপ্লিকেশন চালানোর উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা হবে। ধারা-চার: যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অ্যাপ্লাইড কোর্সে যাওয়ার মতো মেধাবী বা সক্ষম নন, তাঁদের জন্য দ্বাদশের পরে এক বা দুই বছর মেয়াদি সার্টিফিকেশন কোর্স খুলতে হবে। তাঁদের সেমি-স্কিল কাজের জন্যও প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করতে হবে। আধুনিক গৃহশ্রম, যান্ত্রিক কৃষি, মাছ ধরা, কামার কুমার যে যে কাজই করেন না কেন, সবাইকে দ্বাদশ পর্যন্ত পড়তে হবে এবং সবারই একটা সার্টিফিকেশন থাকতে হবে। নির্মাণ শ্রম, প্লাম্বিং, কারপেন্টিং, পেইন্টিং, ওয়েল্ডিং, অটোমোবাইল, ইলেকট্রিশিয়ান, গৃহ শ্রম, গার্মেন্টস শ্রম, রাস্তা বানানো, মাছ ধরা, চাষ করা ইত্যাদি শত শত সব খাতে স্বল্প হলেও শুরু থেকেই দক্ষতা, কারিগরি সক্ষমতা ও পেশাদারির যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ লোকে যে কাজই করবে তার জন্যই কিছু না কিছু সার্টিফেকেশন কোর্স ও ট্রেনিং থাকবে। এই সার্টিফিকেশনের সঙ্গে বিদেশে শ্রম রপ্তানির প্রসেসকে ইন্টিগ্রেটেড করতে হবে। কম্পিউটার চালনা, অফিসের রিপোর্টিং বসের সঙ্গে মৌলিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে টয়লেট ব্যবহার, কাজের নিরাপত্তা, খাওয়া পোশাক পরিধান ঘুমানোর ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির ওপর দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। বর্তমানে ইনফরমাল ও সেমি-ফরমাল কর্মসংস্থান গুলোকে সহজ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সনদ সহ প্রতিষ্ঠানিকিকরণ করা হয়নি বলে এখানে কাজ করা লোকেরা দেশে-বিদেশে স্বীকৃতিহীন, আনুষ্ঠানিক নিয়োগ পাচ্ছেন না। এজেন্টের মাধ্যমে আউটসোর্স হয়ে কম বেতনে অভিজ্ঞ শ্রমিকরাও ঠকছেন। স্বীকৃতি না থাকায় খাতগুলো পেশা হিসেবেও জনপ্রিয় হচ্ছে না, সমাজেও সম্মানজনক হচ্ছে না। যোগ্য লোক না পাওয়ার অজুহাত সহ, বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও পেশাদার চাপ ও প্রলোভনে স্বল্প সংখ্যক সেমি স্কিলড শ্রমিককে দীর্ঘ শ্রম ঘণ্টায় রাত দিন কাজ করান হচ্ছে আমাদের শিল্পে। ব্যাপক কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছে এজেন্ট। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বহু স্বল্প মেয়াদি কারিগরি কোর্স এই খাতে আসবে, তবে আগে কোর্স কনটেন্ট, শিক্ষাদান পদ্ধতি, হাতে কলমে ট্রেনিং দেওয়ার উপকরণ, শিক্ষক মান ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে পেশাগত দক্ষতার বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এতে পেশার সঙ্গে পরিচিত বা দক্ষ রিসোর্স বা গ্র্যাজুয়েট তৈরি হবেন; যা দেশ ও প্রবাসের শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সমন্বয় ঘটাবে। যেহেতু বর্তমান প্রাথমিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা খুবই পশ্চাৎপদ (মাত্র পঞ্চম পর্যন্ত), তাই একধাপেই দ্বাদশ পর্যন্ত বাধ্যতামূলক শিক্ষার স্তরে পৌঁছার পদক্ষেপ বুমেরাং হবে। সরকারকে এখনই অষ্টম পর্যন্ত বাধ্যতামূলক শিক্ষা সম্প্রসারণ করে ফেলা উচিত যা মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই দশমে উন্নীত হবে। ঠিক কোন সালের মধ্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা কোন শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে তাঁর একটা বিধিবদ্ধ রোডম্যাপ চাই। ধারা-পাঁচ: আমাদের প্রতিবন্ধী নাগরিক, যাঁদের জন্য সাধারণ শিক্ষা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তাঁদের জন্য দরকার বিশেষ পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থা। প্রতিবন্ধী শিশুর বেলায় সমাজে বেশ কিছু কুসংস্কার আছে। এই সব কাটিয়ে পিছিয়ে পড়া নাগরিককে অক্ষম না ভেবে তাদের জন্য বিশেষ স্কিল তৈরির বিশেষ স্কুল তৈরি করতে হবে। প্রতিবন্ধী শিশু ঠিক দৃষ্টি, বুদ্ধি, বাক, শ্রবণ, স্বাস্থ্য, হাইপার অ্যাক্টিভিটি ইত্যাদি কোন বিষয়ে পিছিয়ে তা নির্ণয়ের জন্য প্রতিটি উপজেলায় রুটিন সহ অন্তত একজন করে পুষ্টিবিদ, চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট এবং একজন করে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগদান জরুরি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলশিক্ষকদের মতামত এবং এই বিশেষজ্ঞদের যাচাই বাছাইয়ের ভিত্তিতে একজন শিশুকে নেওয়া হবে বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে শিক্ষা পদ্ধতিতে শ্রবণ-বলন মেধা চিন্তা বা স্বাস্থ্য বা বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধীদের উপযোগী লার্নিং টুল বা শিক্ষা কাঠামো থাকবে। প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি সর্ব ফ্যাসিলিটি সম্পন্ন স্পেশাল স্কুল এবং স্পেশাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারও থাকা চাই। প্রতিবন্ধীদের পাশাপাশি প্রাথমিক স্কুলের সব শিক্ষার্থীর দৃষ্টি, বুদ্ধি, বাক, শ্রবণ, স্বাস্থ্য, হাইপার অ্যাক্টিভিটি ইত্যাদি এখানে যাচাই বাছাই হবে বছরে অন্তত একবার। এতে করে আমাদের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটা অনন্য মাত্রা আসবে। একজন পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীকে সীমিত সক্ষমতার আলোকে সরকারি ও বেসরকারি সব ক্ষেত্রের চাকরি বণ্টনে আনার চর্চা তৈরি করতে হবে, এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সমাজে দৃষ্টি,বুদ্ধি কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধীর মানবিক মর্যাদা তৈরির স্পেস তৈরি করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে বহু নতুন নতুন ভৌত ও মানবিক দৃষ্টিতে (ডেভেলপমেন্ট এবং হিউম্যানিস্টিক আসপেক্ট) বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে সাজাতে হবে। সিলেবাস পরিবর্তনই শিক্ষা সংস্কার নয়। দারিদ্র্য তিন শতাংশে না নামা পর্যন্ত শিক্ষায় রাষ্ট্রের বিনিয়োগ জিডিপির অন্তত দশ শতাংশ করতে হবে, স্বল্প বরাদ্দে দুর্নীতিমুক্ত মানসম্পন্ন কাজ করতে হবে। তবেই আমরা মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার যে কোনো ভবিষ্যৎ পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জের বিপরীতে ঝুঁকিমুক্ত থাকব, এবং ক্রমাগত ভাবে ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতায় নিজেদের উপযোগী করে তুলতে সক্ষম হব। ফয়েজ আমহমদ তৈয়্যব [] | 8 |
নেইমারের চেয়ে লিওনেল মেসিই বেশি ফাইনাল খেলেছেন। গত সাত বছরে এ নিয়ে চারবার ফাইনাল খেলা হলো মেসির। কিন্তু ফাইনাল খেলেই শেষ নয়, জিততে হবে শিরোপা। এই জায়গায় মেসির চেয়ে নেইমার কিছুটা এগিয়ে থাকবেন। নেইমার ২০১৩ কনফেডারেশনস কাপ জিতেছেন। এখন পর্যন্ত মেসির আন্তর্জাতিক কোনো শিরোপা নেই।মেসির আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক ২০০৫ সালে। এখন পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপ, পাঁচটি কোপা আমেরিকা খেলেছেন। কিন্তু এখনো জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জেতা হয়নি আর্জেন্টিনার এই মহাতারকার। মেসি অবশ্য একাধিকবার শিরোপার কাছাকাছি গেছেন, কিন্তু ছুঁতে পারেননি। ২০০৭ কোপা ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে তাঁর শিরোপা হারের হতাশাটা শুরু। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে মারিও গোটশের শেষ মুহূর্তের গোলে জার্মানরা মেসিদের শিরোপার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। এরপর ২০১৫, ২০১৬ কোপা। দুবারই প্রতিপক্ষ চিলি। দুবারই টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মেসিদের।আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে মেসিসাল টুর্নামেন্ট প্রতিপক্ষ ফলাফল২০০৭কোপাব্রাজিলরানার্সআপ২০১৪বিশ্বকাপজার্মানিরানার্সআপ২০১৫কোপাচিলিরানার্সআপ২০১৬কোপাচিলিরানার্সআপব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের অভিষেক হয় ২০১০ সালে। এখন পর্যন্ত নেইমার দুটি বিশ্বকাপ আর তিনটি কোপা খেলেছেন। তাঁর খেলা ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে ৭-১ গোলে হেরে সেমিতেই বিদায় ব্রাজিলের। ওই ম্যাচে অবশ্য নেইমার খেলতে পারেননি। তাঁর অভিষেকের পর ব্রাজিল ২০১৯ কোপা জিতলেও চোটে পড়ে টুর্নামেন্ট খেলতে পারেননি নেইমার। মেসির মতো বিশ্বকাপ, কোপা জিততে না পারলেও নেইমারের শোকেসে একটি আন্তর্জাতিক শিরোপা আছে। ৩০ জুন, ২০১৩ রিও ডি জেনিরোতে স্পেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে কনফেডারেশনস কাপের শিরোপা শোকেসে তুলেছিল ব্রাজিল। ফাইনালে নেইমার একটি গোলও করেছিলেন।রোববার রিও ডি জেনিরোতে কোপা আমেরিকার ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। বারবার শিরোপার কাছাকাছি এসে স্বপ্নভঙ্গের শিকার মেসির সুযোগ প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতার। আর নেইমারের সামনে সুযোগ থাকছে ক্যারিয়ারে আরও একটি শিরোপা যোগ করার।আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে নেইমারসাল টুর্নামেন্ট প্রতিপক্ষ ফলাফল২০১৩কনফেডারেশন্স কাপস্পেনচ্যাম্পিয়ন | 12 |
এক দিন আগের তুলনায় ভারতে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের সংখ্যা কমেছে, তবে বেড়েছে শনাক্তের হার। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ২ লাখ ৫৮ হাজারের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৮৫ জন মারা গেছেন। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ সোমবার এ হিসাব দিয়েছে। গতকাল রোববার ভারতে করোনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ১৬ দশমিক ২৮। আজ সেটা বেড়ে ১৯ দশমিক ৬৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। ভারতে মোট ৩ কোটি ৭৩ লাখ মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে অমিক্রন ধরনে আক্রান্ত ৮ হাজার ২০৯ জন। দেশটির ২৯টি রাজ্যে অমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে। ভারতে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর অন্যতম মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪১ হাজার ৩২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছেন আরও ২৯ জন। রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত ৭২ লাখ ১১ হাজার ৮১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০৮ জনের মৃত্যু দেখেছে মহারাষ্ট্র। গতকাল দিল্লিতে ১৮ হাজার ২৮৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছেন আরও ২৮ জন, শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৮৭। এক দিন আগে দিল্লিতে শনাক্তের হার ছিল ৩০ দশমিক ৬৪। আইসিএমআরের সুপারিশের চেয়েও দিল্লিতে তিন গুণ বেশি করোনা পরীক্ষার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দর জৈন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উপসর্গহীন মানুষের করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা লোকজনেরও করোনা পরীক্ষা করাতে হবে না। তবে অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত অথবা বয়স ৬০ বছরের বেশি হলে পরীক্ষা করতে হবে। | 3 |
পাকিস্তানি ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইসলাম ধর্মে মুগ্ধ ম্যাথু হেডেন। পাকিস্তানের ব্যাটিং পরামর্শদাতা হিসেবে চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাথে রয়েছেন ম্যাথু হেডেন। এবং সেখানেই রিজওয়ানের থেকে একটি বিশেষ উপহার পেয়ে আপ্লুত ম্যাথু হেডেন। হেডেন নিজেই জানান, রিজওয়ান তাকে কুরআনের একটি ইংরেজি সংস্করণ উপহার দিয়েছেন। এবং হেডেন সেই কুরআন রোজ পড়েন। হেডেন আরো জানান, তিনি ইসলাম ধর্মে আগ্রহী। উপহার পাওয়া প্রসঙ্গে হেডেন বলেন, 'এটা রিজি (মোহাম্মদ রিজওয়ান) এবং আমার কাটানো একটি সুন্দর মুহূর্ত। আমি কখনই ভুলব না এই মুহূর্ত। আমি খ্রিস্টান হওয়া সত্ত্বেও ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী। একজন খ্রিস্ট এবং অন্যজন মুহাম্মদকে অনুসরণ করে। তিনি আমাকে কুরআনের একটি ইংরেজি সংস্করণ উপহার দিয়েছিলেন। আমরা আধা ঘণ্টা মেঝেতে বসে গল্প করলাম। আমি প্রতিদিন একটু একটু করে পড়ছি। রিজি আমার প্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে একজন, একজন চ্যাম্পিয়ন মানুষ।' প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান তারকা আরো বলেন, 'এই ছেলেরা (পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা) কতটা নিরপেক্ষ এবং নম্র তা দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এটা দারুণ মজার অভিজ্ঞতা আমার। তারা সত্যিই কোচিং পাওয়ার যোগ্য ক্রীড়াবিদ। এটি আধ্যাত্মিকতার গভীর অনুভূতি থেকে উদ্ভূত তারা। একজন পশ্চিমা হিসেবে আপনি সেই প্রতিশ্রুতি এবং বিশ্বাসের প্রভাব বুঝতে পারেন না। এমনকি তাদের সালাত- তাদের দিনে পাঁচটি ভিন্ন প্রার্থনা সেশন। আপনি লিফটের বাইরে বা লিফটেও থাকতে পারেন এবং যদি সালাতের সময় হয়ে যায় তাহলে সেখানেই সেটা হবে। এই ছেলেরা একটি উচ্চ স্তরে সংযোগ স্থাপন করে।'সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 12 |
শহীদ মৌলভী সৈয়দ এর দুঃসাহসিক জীবন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার সশস্ত্র বিপ্লব ও আত্মদান নিয়ে লিখেছেন তাঁর আপন চাচাতো ভাই নুরুল ইসলাম হোসাইনী।১৯৪৪ সালের ১১ মার্চ বাঁশখালীর শেখেরখীলে জন্ম নেন শহীদ মৌলভী সৈয়দ। অবাক করা ব্যাপার হলো, বঙ্গবন্ধু এবং শহীদ মৌলভী সৈয়দের জন্ম, মৃত্যুর মাস একই। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সারা দেশে যে কজন বিপ্লবী অস্ত্র হাতে মাঠে নেমেছেন তার অন্যতম তিনি। শুধু তাই নয় তিনি ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর সাবেক মেয়র মরহুম এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ সশস্ত্র বিপ্লবীদের সংগঠিত করেছেন, ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, দেশে তৎকালীন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সফল অপারেশনও করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে যে কজন প্রাণ দিয়েছেন মৌলভী সৈয়দ তাদের মধ্যে প্রথম শহীদ।৬৯ এর গণ-আন্দোলন, ৭০ এর নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধসহ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন দেশ ও দলের প্রতি অনুগত এক বীর।১৯৭১ সালে তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোথায় কোথায় করতেন তা পরিবারের কেউ জানত না। অথচ তাকে ধরতে পুরো বাড়ি ঘেরাও করে পাক সেনারা। তাঁর বাবা, দুই চাচাসহ চারজনকে ধরে নির্যাতন করে।অথচ যুদ্ধের পর মৌলভী সৈয়দ এলাকায় এসেই রাজাকার, আল বদরদের এক বাক্যে ক্ষমা করে দেন। পরিবারের সবাইকে বলেন তাদের ক্ষমা করে দিতে।যোগ দেন দেশ গঠনে। ১৯৭৩ সালে তাঁকে বাঁশখালী সংসদীয় আসন থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেন বঙ্গবন্ধু। প্রচারণা, পোস্টার ছাপানোসহ সব কাজ করার পর তাঁর প্রার্থিতা বাদ দিয়ে শাহজাহান নামে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতি এতটাই অনুগত ছিলেন, বিনা প্রতিবাদে শাহজাহানের পক্ষে নির্বাচনে প্রচারণা শুরু করেন। শাহজাহান বিপুল ভোটে জয়ী হন।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর শুরু হয় তার অন্য জীবন। যুদ্ধের পর তখন তার বয়স ৩১ বছর, নগরীর দেওয়ানহাটে এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক করা হয়। তিনি চিঠি লিখে জানিয়ে দেন এখন আর বিয়ে সম্ভব নয়, আর ফিরবেন কিনা তাও নিশ্চিত নয়। সে বিয়ে আর করা হলো না তাঁর।বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অনেকেই যখন খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে হাত মেলান, তখন মৌলভী সৈয়দ ও মহিউদ্দিন চৌধুরী মিলে সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করেন।প্রশিক্ষণ নিতে ভারত যান, বেশ কয়েকটি সফল অপারেশনও বিভিন্ন জায়গায় করেন। কিন্তু ১৯৭৭ সালের ৬ আগস্ট যশোরে ধরা পড়েন তিনি। নিয়ে আসা হয় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে, সেখানেই নির্যাতনের মুখে শহীদ হন। পরে ১০ আগস্ট তার বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায়। ১১ আগস্ট তার মরদেহ বুঝে পান বাবা একরাম শিকদার। | 8 |
প্রথম যেদিন কারাগারে নিজের সেলে ঢুকলেন, সেদিন আয়নায় নিজেকে দেখে চিনতে পারেন নি তাতিয়ানা কোরেইয়া দ্যা লিমা। ২৬ বছর বয়সী এই নারী বলেন, আয়নায় নিজেকে দেখে এত অদ্ভুত লাগছিল! দেখে চিনতেই পারছিলাম না। ১২ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে দুই সন্তানের এই মা জেল খাটছেন। ব্রাজিলে কারাবন্দীর মোট সংখ্যা বিশ্বের চতুর্থ। কারাগারের ভেতরের শোচনীয় অবস্থা নিয়ে প্রায়ই তুমুল আলোচনা চলে। পাশাপাশি রয়েছে ধারণ ক্ষমতার বেশি বন্দী এবং কারাগারের ভেতরে গুণ্ডা দলের দৌরাত্ম্য, মাঝে মধ্যেই যা থেকে দাঙ্গা হাঙ্গামা তৈরি হয়। লিমাকে মূল কারাগার থেকে সরিয়ে ইটুয়ানার যে কারাগারে নেয়া হয়েছে সেটি পরিচালনা করে অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্যা প্রোটেকশন অ্যান্ড অ্যসিসটেন্স টু কনভিক্টস (এপ্যাক) নামের একটি সংস্থা। ব্রাজিলে অন্য কারাগারের চেয়ে এই কারাগারটি একেবারেই ভিন্ন। এখানে নেই কোন কারারক্ষী। নেই কোন অস্ত্র।-খবর বিবিসি বাংলার। মূল কারাগারে যেখানে বন্দীদের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট পোশাক, সেখানে এই কারাগারটিতে লিমা তার নিজের কাপড়ই পরতে পারেন। তার সেলে রয়েছে আয়না, মেকআপ করার সরঞ্জাম। ব্রাজিলের কারা সঙ্কটের পটভূমিতে এপ্যাক পরিচালিত কারাগারগুলো অনেক বেশি নিরাপদ, সস্তা এবং মানবিক বলে স্বীকৃতি পাচ্ছে। গত ২০ মার্চ ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের রনডোনিয়া এলাকায় এপ্যাক পরিচালিত একটি কারাগারের উদ্বোধন করা হয়। সারা দেশে এ ধরনের ৪৯টি কারাগার রয়েছে। এখানে যে ধরনের বন্দীদের আনা হয় তাদের বেশিরভাগই আসে মূল কারা ব্যবস্থা থেকে। এরা যে তাদের অপরাধের জন্য অনুশোচনা করছেন সেটা তাদেরকে প্রমাণ করতে হয়। নিয়মিত শ্রম দেয়া এবং শিক্ষা গ্রহণ করার ব্যাপারে এই কারাগারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা কঠোরভাবে পালন করা হয়। কারাগারে রয়েছে 'কনজ্যুগাল সুইট', যেখানে রয়েছে ডাবল বেড খাট। দেখা করতে আসা স্বামীদের সঙ্গে বন্দীরা এখানে 'ঘনিষ্ঠ সময়' কাটাতে পারেন। কারাগারের একপাশে গিয়ে দেখা গেল নারীরা সাবানের বোতলে লেবেল লাগাচ্ছেন। বন্দীদের তৈরি এই তরল সাবান বাইরে বিক্রি করা হবে। প্রথম এপ্যাক কারাগার স্থান করা হয় ১৯৭২ সালে। একদল ক্যাথলিক খ্রিস্টান এটি তৈরি করেছিলেন। এখন এভিএসআই ফাউন্ডেশন নামে ইতালির একটি এনজিও এবং ব্রাজিলের সাবেক কারাবাসীদের একটি প্রতিষ্ঠান এর অর্থায়ন করে থাকে। এভিএসআই ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি জ্যাকোপো সাবাতিয়েলো বলছেন, তাদের কারাগারের মূল নীতি হচ্ছে কঠোর পরিশ্রম এবং অন্যের প্রতি ভালবাসা। আমরা সব বন্দীকে তাদের নাম ধরে ডাকি। নাম্বার দিয়ে কোন বন্দীর পরিচয় দেই না। ব্রাজিলের একজন বিচারক আন্তোনিও দ্যা করাভালহো বলছেন, মূল কারা ব্যবস্থায় কাজ এবং শিক্ষার মাধ্যমে দণ্ড কমানোর প্রথা থাকলেও এটা প্রয়োগ করা হয় সামান্যই। তিনি এপ্যাক কারা ব্যবস্থার একজন সমর্থক। মূল কারা ব্যবস্থার বর্তমান হাল খুব দুঃখজনক। ব্রাজিলের বিচার ব্যবস্থার মধ্যে থেকে বন্দীর মানবাধিকার রক্ষা করতে চাইলে এপ্যাক ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকারী বলে তিনি জানান। তাতিয়ানা কোরেইয়া দ্যা লিমা যখন এপ্যাক কারাগারে ঢোকেন তখন তার সুযোগ সুবিধে ছিল কম। জেলের মধ্যে স্বাধীনতা ভোগ করতে হলে তাকে সেই সুবিধে অর্জন করতে হবে। এটা সব নতুন কারাবন্দীর জন্য প্রযোজ্য। কোন একজন বন্দী যখন ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়, তখন এক পর্যায়ে তাকে স্বল্প সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। এপ্যাকের এই কারাগারের দেয়ালে লেখা রয়েছে: ভালবাসা ত্যাগ করে কেউ পালায় না। | 3 |
'ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম' নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন একটি প্রবিধানের খসড়া পেশ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ৩ ফেব্রুয়ারি কমিশনের ওয়েবসাইটে সে খসড়া প্রকাশ করে পর্যবেক্ষণ, মতামত ও সুপারিশ আহ্বান করা হয়। মতামত প্রদানের সময় শেষ হয়েছে গত শুক্রবার। প্রস্তাবিত প্রবিধানটির উদ্দেশ্য মূলত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টের ওপর সরকারি সংস্থার নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করা। জরুরি প্রয়োজনে কোনো কনটেন্ট সরানোর জন্য যেন ফেসবুক-ইউটিউবের মতো সেবাগুলোর মালিকপক্ষের অপেক্ষায় না থাকতে হয়, তা নিশ্চিত করা। এর সঙ্গে আরও অনেক দিক উঠে এসেছে। প্রবিধানের মূল বিষয়গুলো আপনারা এখান থেকে দেখে নিতে পারেন। এ লেখা মূলত খসড়ার '৭.০৩' নম্বর অংশ নিয়ে। উল্লেখিত অংশে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও মেসেঞ্জারের মতো বার্তা আদানপ্রদানের সেবার ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। বলা হয়েছে, আদালত কিংবা বিটিআরসি নির্দেশ দিলে কোনো বার্তার প্রথম প্রেরকের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। ব্যাপারটা এমন-মনে করুন, কেউ একজন অনেক সদস্যের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে মিথ্যা তথ্য শেয়ার করেছেন। এরপর সেই তথ্য একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে-এভাবে বড় একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিঘ্ন হলো। এখন বিটিআরসি নির্দেশ দিলে মিথ্যা তথ্যের বার্তাটি প্রথম যিনি শেয়ার করেছেন, তাঁর পরিচয় প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে উপস্থাপিত খসড়ায়। সেই ব্যক্তি যদি দেশের বাইরে থাকেন, তবে দেশের ভেতরে যিনি বার্তাটি প্রথম শেয়ার করেছেন, তাঁকে চিহ্নিত করে দিতে হবে। গত বছর ঠিক এমনই একটি প্রবিধান যুক্ত হয় ভারতের ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায়। লম্বাচওড়া নাম থালেও সেটি 'আইটি রুলস, ২০২১' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সেটি প্রণয়ন করা হয়। ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রবিধানটি প্রকাশ করে বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয় সে অনুযায়ী কাজ করতে। সে প্রবিধানেও বিটিআরসির মতোই বলা হয়েছিল, আদালত কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে কনটেন্ট ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে। আর সে কাজ সমন্বয় ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু পদে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী নিয়োগ দিতে বলা হয়। এই কর্মীরা অবস্থান করবেন ভারতে। সেখানে বার্তা আদানপ্রদানের সেবা বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যাপারে হুবহু নির্দেশনা রয়েছে-আদালতের নির্দেশে কোনো বার্তার প্রথম প্রেরককে চিহ্নিত করে দিতে হবে। আপাতদৃষ্টে বিটিআরসির খসড়া প্রবিধানটির অনেকাংশ ভারতের আইটি রুলস, ২০২১ থেকে সরাসরি নেওয়া বলে মনে হচ্ছে। এতে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই রাকিব নিজেই বলেছেন, খসড়াটি তৈরির সময় ভারত, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের নীতিমালাগুলো দেখা হয়েছে। যা হোক, নতুন আইটি রুলস প্রচলনের পর সেটিকে 'অসাংবিধানিক' উল্লেখ করে গত বছরে মে মাসে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা ঠুকে দেয় হোয়াটসঅ্যাপ। মেটা প্ল্যাটফর্মসের মালিকানাধীন বার্তা আদানপ্রদানের সেবাটির বক্তব্য ছিল, কোনো ভাইরাল বার্তার প্রথম প্রেরককে চিহ্নিত করে দিতে হলে 'এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন' ভাঙতে হবে, যা ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। হোয়াটসঅ্যাপের দাবি অনুযায়ী, অ্যাপটির মাধ্যমে পাঠানো যেকোনো বার্তা কেবল প্রেরক আর প্রাপক ছাড়া কেউ দেখতে পান না। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও নয়। সে জন্যই এটাকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড বলা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো বার্তার উৎস শনাক্ত করতে হলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সব বার্তার এনক্রিপশন অকার্যকর হয়ে পড়বে। এতে ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে। সে সময় আরেকটি প্রশ্ন রাখে হোয়াটসঅ্যাপ। ভারত সরকার চাইলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকার তো উৎস সন্ধান বা ট্রেসেবিলিটি চালু করতে দেবে না। সে ক্ষেত্রে ইউরোপের কেউ কীভাবে নির্বিঘ্নে হোয়াটসঅ্যাপে তার ভারতীয় বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথন চালাবে? এক পক্ষের এনক্রিপশন আছে, অপর পক্ষের নেই, তা তো আর হতে পারে না। ভারতীয় সরকার অবশ্য বলেছে, এনক্রিপশন না ভেঙেও ট্রেসেবিলিটি চালু করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে হয়তো নতুন প্রযুক্তি চালু করতে হতে পারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। আর নতুন নিয়ম সাধারণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই। এর পাশাপাশি জনসাধারণের সচরাচর জিজ্ঞাসার উত্তর দেওয়া হয়েছে। তবে সেসব উত্তরে সবাই নিশ্চিন্ত হতে পারেননি। অনলাইনে বাক্স্বাধীনতা খর্বের আশঙ্কায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সাধারণ জনগণও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। | 6 |
এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন আব্দুল গনি। আব্দুল গনি মালদহ জেলার সুজাপুরের তৃণমূল প্রার্থী। তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার ১৬৩ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী ইশা খান চৌধুরীকে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, আব্দুল গনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইশা খান পেয়েছেন ২২ হাজার ২৮২ ভোট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটে জিতেছেন কলকাতার মেটিয়াব্রুজের তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল খালেক মোল্লা। তিনি বিজেপির প্রার্থী রামজি প্রসাদকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬০৪ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদলের একটা হিড়িক পড়েছিল। বিশেষ করে শাসকদল তৃণমূল ছেড়ে একটা অংশ বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল। দলবদলকারীদের ধারণা ছিল, রাজ্যে যেভাবে প্রচারে ঝড় তুলেছে বিজেপি, তাতে এই দলের জয় নিশ্চিত। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেওয়া ১০৭ প্রার্থীর মধ্যে ৭৬ জনই পরাজিত হয়েছেন। এই হার ৭১ শতাংশ। এই ঘটনার পর দলবদলকারীদের ব্যাপারে বিজেপি কড়া অবস্থান নিয়েছে। গতকাল সোমবারই তারা ঘোষণা দিয়েছে, এভাবে হুট করে বিজেপিতে যোগ দিলেই কাউকে আর বড় জায়গা দেওয়া হবে না। বিজেপিতে এসে একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে যোগ্য পদে বসানো হবে। রাজ্যে এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস-বাম-আইএসএফ দলকে নিয়ে গড়া সংযুক্ত মোর্চা বিধ্বস্ত হয়েছে। এই তিন দলের ৮৫ শতাংশ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। ২৯২ আসনের মধ্যে মোর্চা মাত্র ৪২ আসনে জামানত ধরে রাখতে পেরেছে। নির্বাচনে বামফ্রন্টের প্রার্থীরা মাত্র ২১টি আসনে জামানত বাঁচাতে পেরেছেন। কংগ্রেস ১২টি আসনে জামানত ধরে রাখতে পেরেছে। আর আইএসএফ ৯টিতে জামানত বাঁচাতে পেরেছে। বিজেপিও সব আসনে জামানত রক্ষা করতে পারেনি। তাদের ৩টি আসনে জামানত জব্দ হয়েছে। ৭৭ আসনে জয়ী বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে ১৯ জন মাত্র ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। তাঁদের মধ্যে ৪ জন ১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। | 3 |
ঢাকা: দেশে এবার চীনের সিনোভ্যাক টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এ টিকার পরিবেশক হিসেবে কাজ করবে ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড।আজ রোববার সকালে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিনোভ্যাক লাইফ সাইন্সেস কোম্পানির উৎপাদিত করোনার টিকা দেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এই টিকার পরিবেশক হিসেবে কাজ করবে ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড।এতে বলা হয়েছে, চীনের এনএমপিএ (ন্যাশনাল মেডিসিন্যাল প্রোডাক্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) গত ৯ ফেব্রুয়ারি এ টিকার অনুমোদন দেয়। যা আরও ২২টি দেশে জরুরি ব্যবহারে অনুমোদন প্রাপ্ত। ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য এই টিকা ব্যবহার উপযোগী।বাংলাদেশে পঞ্চম টিকা হিসেবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী সিনোভ্যাকের এ টিকা অনুমোদন পেলো। এর আগে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশে চারটি টিকার জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেয়।গত ৭ জানুয়ারি অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড, গত ২৪ এপ্রিল রাশিয়ার স্পুতনিক-ভি, গত ২৯ এপ্রিল চীনের সিনোফার্মের টিকা এবং গত ২৭ মে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেয় সরকার। | 6 |
নোয়াখালীর বসুরহাটের মেয়র আবুদল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে নিহত আলা উদ্দিনের ভাই এমদাদ হোসেন রোববার সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এসএম মোসলেহ উদ্দিন মিজানের ২/৪ আমলি আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিকেল ৩টায় আদালত আদেশ দেয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ হাওলদার। মামলার আবেদনে মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা ছাড়াও তার ছোট ভাই শাহাদত হোসেন, ছেলে তাসিক মির্জাসহ ১৬৫ জন এবং অজ্ঞাত আরো ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তার স্ত্রী আরজুমান পারভীন মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, কোম্পানীগঞ্জ আ'লীগের বিবদমান কাদের মির্জা ও বাদল গ্রুপের সংঘের্ষে গত ৯ মার্চ রাতে সিএনজিচালক আলা উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ভাই এমদাদ হোসেন বাদি হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু বাদীর অভিযোগ পুলিশ সেই মামলা নেয়নি। অন্যদিকে গত ৮ মার্চ বসুরহাট রূপালী চত্বরে আওয়ামী লীগের অফিস উদ্বোধন করতে গেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে লাঞ্ছিত করা হয়। খিজির হায়াত খানের অভিযোগ, কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে। | 6 |
চিলির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন গ্যাব্রিয়েল বোরিক। ৩৫ বছর বয়সী বোরিক চিলির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট। ছাত্র থাকাকালেই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এবার তিনি রাষ্ট্রের নেতৃত্বে এসেছেন। নির্বাচনে বামপন্থী আদর্শের অনুসারী বোরিক ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৪৪ ভাগ ভোট। ছাত্র আন্দোলনে যাদের সহকর্মী হিসেবে পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়েও তাদের পাশে পেয়েছেন বোরিক। আগামী মার্চে চিলির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি। বোরিক চিলিতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে চান, চিলিকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান। পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে
রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বাড়াতে চান। অগাস্তে পিনোশে যে একনায়কত্ব কায়েম করেছিলেন সেই জায়গা থেকে দেশকে বের করে আনতে চান। প্রাথমিকভাবে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর বোরিক বলেন, 'চিলি নব্যউদারতাবাদের জন্মভূমি, সেই আদর্শের কবরও এখানে হওয়া উচিত।' সূত্র : গার্ডিয়ান
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 3 |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। এ সময় তাকে আটকে বাঁধা দেওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে র্যাব। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে সাঈদীর রামপুরার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার ও আটকের বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন।খন্দকার আল মঈন বলেন, 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ব্যবহারকারী চাঁদাবাজ ও শীর্ষ সন্ত্রাসী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ আটক করা হয়েছে।'র্যাব সূত্রে আরও জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিল। এ ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাতে সাঈদীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব-৩। এ সময় সাঈদীকে গ্রেপ্তারে বাঁধা দেওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদকে আটক করা হয়।নেতাদের গ্রেপ্তার ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মেহেদী হাসান। তবে তিনি আজকের পত্রিকাকে জানান, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না। | 6 |
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর এলাকায় নানার বাড়ি বেড়াতে এসে করতোয়া নদীতে ডুবে লাশ হয়ে ফিরলো শিশু আব্দুল্লাহ (১৩)। বৃহস্পতির দুপুরে করতোয়া নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সে জেলার সোনাতলা উপজেলার কুসারঘোপ গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল্লাহর বাবা আবু তাহের নারায়ণগঞ্জে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। শিশুটি বাবা মায়ের সাথে নারায়ণগঞ্জে থাকত। সেখানে সে একটি বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। গত সপ্তাহে শিশুটি তার মা রাজিয়ার সঙ্গে রায়নগর সুদামপুর গ্রামে নানা আমজাদ হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় শিশুটি অন্য শিশুদের সঙ্গে নানার বাড়ির পাশে করতোয়া নদীর ধারে খেলা করতে যায়। খেলাধুলার একপর্যায়ে করতোয়া নদীর কিনারা থেকে হঠাৎ পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয় সে। এ সময় তার সাথে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান পানিতে পড়ে আবদুল্লাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। | 6 |
কালের বিবর্তনে প্লাস্টিক, সিরামিক, মেলামাইনের দাপটে হাড়িয়ে গিয়েছে মাটির তৈরী তৈজষপত্র। তবে দই'র জন্য এখনো টিকে আছে মানিকগঞ্জের মাটির পাতিল। তবে হাড়ি, পাতিল, ঢাকুন, কলস, পিঠা বানানোর সাঝসহ অন্যান্য সকল প্রকার মাটির তৈরী পণ্য অচল হয়ে পড়েছে। অন্য পণ্যের চাহিদা না থাকলেও দই তৈরীর পাতিলের চাহিদা কমেনি। তাই মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্বসানবান্ধা এলাকায় এই পাতিল তৈরীর কার্যক্রম আগের মতই আছে।। এলাকার প্রায় ৮০টি পাল পরিবার শুধু মাটি দিয়ে দই'র পাত্র তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সুবোধ পাল আরো বলেন, তবে মাটি থেকে শুরু করে লাকড়ি, খড়, রং শ্রমিক সকল কিছুর দাম বাড়ায় এখন আর আগের মতো লাভ হচ্ছে না। তাই সন্তানরা এ মাটির কাজ করতে চায় না। তারা বিভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন। মানিকগঞ্জের দই-মিষ্টি ব্যবসায়ী ও শহর বণিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান খান মিন্টু বলেন, অন্য কোন পাত্রে দই রাখলে বেশীক্ষণ মান ভাল থাকে না। তাই দই'র মান ঠিক রাখতে মাটির পাতিলের ব্যবহার অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, আগে এই পাল পরিবার হরেক রকম জিনিস তৈরী করতো। তবে অনেকেই এখন এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির | 5 |
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন মেরিনা জাহান কবিতা। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়। এদিন একটি সংসদীয় আসন, ১০ পৌরসভা ও দুই উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। | 6 |
খাদ্য অধিদপ্তরের নন-গেজেটেড বিভিন্ন পদের মধ্যে স্প্রেম্যান ও হিসাবরক্ষক কাম ক্যাশিয়ার পদের এমসিকিউ/লিখিত পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খাদ্য অধিদপ্তরের স্প্রেম্যান পদে আবেদনকারীদের এমসিকিউ/লিখিত পরীক্ষা ১৪ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া হিসাবরক্ষক কাম ক্যাশিয়ার পদে আবেদনকারীদের এমসিকিউ/লিখিত পরীক্ষা ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। দুই পদে আবেদনকারী প্রার্থীরা কাল থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত এ ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। প্রার্থীদের প্রবেশপত্রের রঙিন কপি প্রিন্ট করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে সমস্যা হলে এ দুটি মুঠোফোন নম্বরে (০১৭০৬৫০৪১৬৯, ০১৩০৫৭০৩৮৭৪) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। জটিলতা এড়াতে শেষ তারিখের জন্য অপেক্ষা না করে আগেই প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। | 1 |
মার্কিন ঘাটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইর হামলার পর ইরানেরওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে অন্য যে কোন বিকল্প প্রতিশোধের কথাও দেশটি ভবতেছে বলে জানায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটো জোটকে মধ্যপ্রাচ্যে আরো বেশী কার্যক্রম জোরদার আহ্বান জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের কোন তেল আমেরিকার দরকার নেই বলেও দাবি করে ট্রাম্প। তবে সংবাদ সম্মেলনের পর কোন প্রশ্নের জবাব না দিয়েই চলে যান ট্রাম্প। এরআগে ইরান মার্কিন সেনাদের ঘাটি লক্ষ্য করে ইরাকে ২২টি ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা চালায়। দেশটির জাতিয় বীর খ্যাত কাসেন সোলাইমানির হত্যার প্রতিশোধ নিতে এ হামলা চালায় ইরান। এর আগে এক ড্রোন হামলায় ইরানের কুর্দ ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল সোলায়মানিকে হত্যা করে করে আমেরিকা। এ হামলার পর এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোন মন্তব্য করেননি। ইরানেরপক্ষ থেকে পাল্টা মার্কিন হামলার জবাব দেয়া হবে বরেও হুশিয়ারি দেয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যে বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করে । অন্যদিকে জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে বিশ্বশেয়অর বাজারে দেখা দিয়েছে দর পতন। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা শংকা প্রকাশ করছেন বিশ্বনেতারা। | 3 |
কঠোর লকডাউনের নবম দিনে বিধিনিষেধ অমান্য করায় ময়মনসিংহে ২১৩ মামলায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে জেলা শহর ও উপজেলাগুলোতে অভিযান চালিয়ে ২১৩ মামলায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।আয়েশা হক আরও বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনী অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে স্কাউট, বিএনসিসি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করেছে। | 6 |
দেশের ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ এখনও ২জি'তে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত চাইল্ড পার্লামেন্টের অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, 'ফাইভজি নিয়ে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এটা নিয়ে কাজ চলছে। তবে স্বীকার করতে হবে, এখনো অনেকে ২জি'তেই রয়ে গেছে। বাস্তবতা হলো ২ জি বেশি মানুষ ব্যবহার করে। বেশির ভাগ মানুষই লিখতে পারেন না, পড়তে পারেন না, তারা এর বেশি চায়ও না। তাদের প্রয়োজনও নেই।'মন্ত্রী আরও বলেন, 'আমাদের সমাজে যেমন পাঁচ হাজার টাকা গড় আয়ের মানুষ আছে, তেমনি পাঁচ কোটি টাকা গড় আয়েরও মানুষ আছে। একইভাবে অনেকে ২জি ব্যবহার করছেন। আবার অনেকে ব্যবহার করছেন ফাইভজি। তবে আমরা কাউকেই ফেলে যাবো না, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবো। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মূলমন্ত্র সবাইকে নিয়ে সোনার বাংলা গড়তে হবে।'এ সময় বাংলা ভাষা ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, 'ভাষার ব্যবহার বাংলায় হতে হবে। ইংরেজি ভাষার প্রাধান্য দিতে হবে কেন? জাপান-রাশিয়া, চীন কয়টা ইংরেজি বলে। ইংরেজি ভাষায় কথা না বলেও পাহাড়-সমুদ্রসহ পৃথিবীর সবকিছু জয় করছে চীন-রাশিয়া। কেউ আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে ইংরেজি ছাড়া চলে না। বাংলা ভাষা ও জয় বাংলা আমাদের সংস্কৃতি।'বাল্যবিয়ে প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই বাল্যবিয়ে হয়। তবে অনেক দেশ এটাকে কমিয়ে এনেছে। আমাদের শহর ও গ্রামে চুপিসারে বাল্যবিয়ে দেওয়া হয়। এটার বিরুদ্ধে শিশু কিশোর সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। | 9 |
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে পরাস্ত হয়ে এবারের মতো ইউরোতে থেমে গেছে জার্মানির গাড়ি। আগেই এই টুর্নামেন্টের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন জার্ম ম্যানেজার জোয়কিম লো। এবার সম্ভবত সেই পথেই দলের তারকা মিডফিল্ডার টনি ক্রুস হাঁটতে চলেছেন বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। জার্মান দলের ভরসা এবং রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ক্রুস বরাবরই স্পষ্ট বক্তা। কিছু সময় আগেই ক্রুস জানিয়েছিলেন, তিনি ৩০-এর পর খুব বেশিদিন খেলতে আগ্রহী নন। এখনই ক্রুসের বয়স ৩১ বছর। ম্যাচ হারার পরই জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড দাবি করেন, জার্মান দলের আট নম্বর জার্সিধারী জাতীয় দলের জার্সি চিরতরে তুলে রাখতে চলেছেন। তবে কবে এবং কখন সেই বিষয়ে কোন স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। ক্রুস একা নন, শোনা যাচ্ছে ম্য়াঞ্চেস্টার সিটি তারকা ইলকাই গুন্দোয়ানও জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে পারেন। প্রায় একই বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের পরই দলের অধিনায়ক ফিলিপ লামও জাতীয় দল থেকে অবসর নেন। এরপর ৩৩-র আশেপাশে নিজের জুতো জোড়া চিরতরে তুলে রাখেন তিনি। ক্রুসের বর্তমান রিয়াল মাদ্রিদ চুক্তিও ২০২৩ সালে শেষ হবে। ঘটনাক্রমে তাঁর বয়সও তখন গিয়ে হবে ৩৩। হয়তো তখনই তিনিও নিজের জুতো জোড়া তুলে রাখবেন। তবে এখনও জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেননি তিনি। | 12 |
নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ। তাই অলস সময় কাটছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড-পতেঙ্গার সাগর উপকূলে বসবাস করা অর্ধলাখ জেলের। এই সময়ে জেলেদের সরকারিভাবে যে সহায়তা দেওয়া হয়, তাতে সর্বোচ্চ ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। বাকি ৫৫ দিন চলতে হয় মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে নেওয়া ঋণের টাকায়। এতে আবারও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ার শঙ্কায় আছেন কর্মহীন এসব জেলে।একদিকে কর্মহীন সময়ে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে সাগর থেকে জেলেদের জাল বসানোর খুঁটি কেটে নেওয়ার ঘটনায় অনেকটাই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা। এ বিষয়ে তাঁরা স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগও করেছেন।কুমিরা জেলেপাড়ার বাসিন্দা হীরালাল ও বাঞ্ছারাম জলদাশ জানান, তাঁরা বংশানুক্রমে সাগরের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এই পেশা ছাড়া অন্য কোনো পেশার কাজ না জানা থাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা সময়ে অনেকটা কর্মহীন হয়ে পড়েন তাঁরা। সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালে সরকারিভাবে যে সহায়তা দেওয়া হয়, তা ১০ দিনেরও কম সময় ফুরিয়ে যায়। ফলে পরিবারের ভরণপোষণ মেটাতে গ্রাম্য সমিতি ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে হয়। পাশাপাশি ঋণের টাকায় কর্মহীন সময়ে জাল বুনতে হচ্ছে তাঁদের।সরেজমিন উপজেলার কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড, সলিমপুর, ভাটিয়ারি, কুমিরা জেলেপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, সাগরের মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আলাপচারিতা ও খোশগল্পে কর্মহীন অলস সময় পার করছেন জেলেপল্লির অসংখ্য জেলে। কুমিরা জেলেপাড়ার জেলে সরদার নতুন জলদাশ বলেন, 'আদিকাল থেকে জুন-জুলাই-আগস্ট ছিল ইলিশ শিকারের মৌসুম। এ তিন মাস আয় করে আমরা সারা বছর সংসার চালাতাম। ২০২০ সাল থেকে সরকার মে থেকে জুলাইয়ের ৬৫ দিন মাছ শিকার বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধের সময় সংসার চালাতে প্রত্যেক জেলে এনজিও, মহাজন, দাদনদারসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়।'একই অভিযোগ জেলে সরদার বাচারাম দাশ এবং জেলে গোপাল জলদাশ, জয়দাশ, হৃদয় দাশসহ অনেকের। তাঁরা বলেন, বন্ধ রাখায় সরকার কিছু কিছু পরিবারকে মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেয়। যদিও অধিকাংশ জেলেই চালও পান না। তার ওপর পরিবারের যাবতীয় খরচ, বিদ্যুৎ বিল, ছেলেমেয়ের পড়ার খরচ, চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে আরও প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এনজিও এবং এলাকার মহাজন, দাদনদারের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়।তাঁরা আরও জানান, শুধু মহাজন নন, দাদন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি জেলেপাড়ায় গড়ে উঠেছে নামসর্বস্ব একাধিক সমিতি। ইলিশ মৌসুমের আগে সরকারি নিষেধাজ্ঞার সুযোগকে পুঁজি করে দাদন দেওয়াই তাদের কাজ। এ সময় তারা বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়ে শতকরা ১৫ থেকে ২০ টাকা হারে সুদে জেলেদের টাকা দেন।বাড়বকুণ্ড জেলেপাড়া প্রদীপ জলদাশ, হীরালাল জলদাশ বলেন, চড়া সুদে ঋণ নিলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের প্রতিনিয়ত দাদনদারের আতঙ্কে থাকতে হয়। যেসব জেলে সঠিক সময়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারেন, শুধু তাঁদের ঋণ দেন গ্রাম্য সমিতি ও মহাজনেরা। সুদে টাকা না পেয়ে অনেক জেলে পরিবার কষ্টে দিন যাপন করছেন।উত্তর চট্টলা জেলে কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লিটন জলদাশ বলেন, পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সাগর উপকূলে ৩৮টি জেলেপল্লিতে অর্ধলাখ জেলের বসবাস। মাছ ধরা বন্ধের ৬৫ দিনে অধিকাংশ পরিবারই ঋণগ্রস্ত হয়ে যায়।লিটন জলদাশ বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও প্রতিবছর সাগরে জাল আটকানোর ফাঁড়গুলো (খুঁটি) সাগরে পাতা থাকে। কারণ, এসব খুঁটি স্থাপন করা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি সময় সাপেক্ষও। তাই এগুলো জেলেরা সাগর থেকে তোলেন না। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে সেখানেই আবার জাল পাতা হয়। কিন্তু এবার নৌ পুলিশ হঠাৎ সব খুঁটি তুলে ফেলায় লাখ লাখ টাকার সম্পদহানি হয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় এমপিসহ সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, 'আমাদের তালিকাভুক্ত জেলে হলেন ৪ হাজার ৮০৫ জন। জীবিকার প্রয়োজনে সরকার তাঁদের নানাভাবে ভর্তুকি দিয়ে চাল, গরু, বাছুর ইত্যাদি দিচ্ছে। তবে এ কথা সত্যি যে এখানে মাছ ধরা বন্ধের সময়ে সাগর থেকে অন্য দেশের জেলেরা মাছ ধরেন। তাই এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে কথা চলছে যেন তাঁরাও মাছ না ধরেন।' সরকারি নির্দেশনা মানলে ভবিষ্যতে মাছ বৃদ্ধি পেলে জেলেরাই উপকৃত হবেন বলে মনে করেন তিনি। | 6 |
ঠাকুরগাঁও: মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে (১৮ জুন) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ছাত্রলীগের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। কিছুদিনের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দেওয়া হবে।ঠাকুরগাঁও শাখার নতুন কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে সরাসরি বা ডাকযোগে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারবেন।এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি মাহবুব হোসেন রনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার বিষয়টি ফেসবুকে দেখতে পেয়েছি। তবে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে পারলে ভালো লাগত। তবু ভালো থাকুক প্রাণের ছাত্রলীগ।'এদিকে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর থেকে পদ-পদবির জন্য নড়েচড়ে বসেছেন পদপ্রত্যাশীরা। তৃণমূলে দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগের অনেক কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের পছন্দের নেতা-কর্মীকে শীর্ষ পদে দেখতে চেয়ে পোস্ট দেন। | 9 |
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইউক্রেন। সময় যত যাচ্ছে, এই যুদ্ধের ভয়াবহতা তত বাড়ছে। এই যুদ্ধের ভয়াবহ ঘটনাপ্রবাহ উঠে এসেছে ইউক্রেনীয় এক বাবার ডায়েরিতে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান সেই ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেছে। আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য সেই ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হলো-২৪ ফেব্রুয়ারি-যুদ্ধের প্রথম দিনহামলার প্রথম দিনটি ছিল আমার ১৫ তম বিয়ে বার্ষিকী। আমরা বন্ধুদের সঙ্গে একটি পার্টির পরিকল্পনা করেছিলাম। আমরা একটি রেস্তোরাঁয় একটি টেবিলও বুক করেছিলাম। কিন্তু খুব সকালে ৫টার মতো হবে তখন-আমার পরিবার এবং ১০ বছরের শিশু রুশ রকেটের শব্দে ঘুম থেকে জেগে ওঠে। প্রথম চিন্তা ছিল, আমরা যা নিতে পারি, তা নিয়ে চলে যাব। কিন্তু সমস্ত রাস্তা যানবাহনে অবরুদ্ধ ছিল, এবং তারা সারাক্ষণ আমাদের ওপর গোলাবর্ষণ করছিল। এটা ভয়ংকর ছিল। পরে আমরা কাছাকাছি একটি আন্ডারগ্রাউন্ড কার পার্কে গিয়েছিলাম এবং সেখানে সারা দিন কাটিয়েছিলাম।ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় বিশ্বনেতাদের নিন্দাপ্রথম দিনে সেখানে প্রায় ৬০ জন লোক ছিল। সেখানে ঠান্ডা ছিল। সেখানে কোনো গরম হওয়ার উপায় ছিল না এবং মানুষ মেঝের ওপর শুয়ে ছিল। মাঝেমধ্যে আমরা বিভিন্ন জিনিস নিতে অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যাই। আমরা ১৪ তলায় থাকতাম এবং লিফটটি তখনো কাজ করছিল। সেই প্রথম দিন আমরা কুকিজ এবং ক্রিস্পের মতো জিনিস খাচ্ছিলাম। আমরা ওই দিন আমাদের গাড়িতে পার্কিংয়ে ঘুমিয়েছিলাম। আমার ছেলে পেছনের সিটে, আমার স্ত্রী এবং আমি সামনে, অর্ধেক বসে এবং অর্ধেক শুয়ে ঘুমিয়েছিলাম। আমি ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা। এটি আমার জন্য আরামদায়ক ছিল না।ওই সময় আমরা আমাদের বিয়ে বার্ষিকী সম্পর্কে চিন্তা করার চেষ্টা করেছি। আমাদের একসঙ্গে থাকা দুর্দান্ত ১৫ বছর সম্পর্কে ভাবছিলাম। আমাদের ঈশ্বরের আশীর্বাদপুষ্ট ১০ বছরের ছেলে রয়েছে, যাকে আমরা খুব ভালোবাসি। কিন্তু যুদ্ধের প্রথম দিনটি ছিল শুধু ভয়ের।২৫ ফেব্রুয়ারিগাড়িতে ঘুম থেকে উঠে ভয়ংকর অনুভূতি হয়েছিল। আমার পিঠে এমন ব্যথা হচ্ছিল, যা আগে কখনো হয়নি। সকালে বোমা বিস্ফোরণ ছিল না। প্রায় শান্তই ছিল। 'শান্ত' শব্দের অর্থ হলো-তখন ১০ টির বদলে মাত্র দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাওয়া যাচ্ছিল। এই সুযোগে আমরা বাড়িতে গিয়ে তাড়াতাড়ি সকালের নাশতা করে নিলাম। ইউক্রেনীয়রা বন্ধুভাবাপন্ন মানুষ এবং আমরা আমাদের প্রায় সব প্রতিবেশীকে খুব ভালোভাবে চিনি। তাই যারা খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেনি, তাদের জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা শুরু করি। এই কাজের মধ্যে ছিল অ্যাপার্টমেন্টে পানির বোতল ভর্তি করা, খাবার আনা, মায়েরা যাতে শিশুদের খাওয়াতে পারে, তার জন্য গাড়ির পার্কিংয়ে জায়গা তৈরি করা এবং নারীদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য জায়গা তৈরি করা।যুদ্ধে কী অস্ত্র ব্যবহার করছে রাশিয়া, ইউক্রেনের শক্তি কীসেওই দিনই আমরা বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু ট্রাফিকের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। আর আমরা ভাবছিলাম, হয়তো এই পাগলামি বন্ধ হবে। কিন্তু সেই রাতে আমরা আবার আন্ডারগ্রাউন্ডে ঘুমালাম। ২৬ ফেব্রুয়ারিতৃতীয় দিন কিছু বন্ধু গাড়ি পার্কে ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যাওয়ার এবং স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপনের চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমরা গোসল করতে, খাবার রান্না করতে, ছেলেকে পড়াতে এবং তাকে অনলাইনে দাবা খেলতে দিতে চেয়েছি। আমরা আমাদের জানালা টেপ দিয়ে আবৃত করে দিই। এদিন থেকে লিফট আর কাজ করছিল না। আমার ছেলে খুব সাহসী। সে কান্না না করার চেষ্টা করছে। সে সাহায্য করার চেষ্টা করছে। কিন্তু যতবারই জানালার বাইরে থেকে সাইরেন বাজছে, আমরা ততবারই আবার আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য ছুটছিলাম। আমি দেখতে পাচ্ছি আমার ছেলে ভয় পেয়েছে। কিন্তু সে আতঙ্কিত হচ্ছে না।ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার পর এশিয়ার শেয়ারবাজার নিম্নমুখীসেদিন আমি আমাদের উঠোনের বাইরে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমরা কাছাকাছি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলির শব্দ শুনতে পেলাম। পরে আমি টেলিগ্রামের মাধ্যমে খবরটি পড়লাম যে, রুশ সেনারা শহরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। তাতে বলা হয়েছিল যে, রুশ সেনারা শহরের চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে।যে মুহূর্তে আপনি গুলির শব্দ শুনতে পাচ্ছেন, আপনি ভয় পাচ্ছেন না। কারণ, আপনার ভয় পাওয়ার সময় নেই। আপনাকে কেবল আপনার ছেলেকে গাড়ির পার্কে নিরাপদে নিয়ে যেতে হবে।২৭ ফেব্রুয়ারিরোববার নাগাদ আশপাশের কিছু ছোট দোকান আবার খুলেছে। এই যুদ্ধ আমাদের বাস্তবতাকে রূপান্তরিত করেছিল। ওই সময় একটি খোলা দোকান বা গ্যাস স্টেশনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার মতো মনে হয়েছিল। কিন্তু আপনি এসব স্থানে যখন সারিবদ্ধ হন, তখন আপনাকে হত্যা করা হতে পারে।যেভাবে শেষ হতে পারে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধদোকানগুলোতে সরবরাহ কম ছিল। কিন্তু শেলফগুলো খালি ছিল না। পূর্ববর্তী গ্রাহকদের ধন্যবাদ। তবে যারা এখনো সারিবদ্ধ রয়েছে, তাদের জন্য চিন্তা হচ্ছে। আমি গাড়ির পার্কিংয়ে এসে আমাদের পরিবার এবং অন্যান্য লোকেদের মধ্যে খাবার ভাগ করে নিলাম। এখন মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। আমি প্রত্যেকের জন্য আরও খাবার, পানি, টয়লেট পেপার সরবরাহের ব্যবস্থা করতে শুরু করেছি।ওই রাতে আমরা আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের সবাইকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছি যে, তারা নিরাপদে রয়েছে কি না। আমার স্ত্রী এবং ছেলে আমাদের বেডরুমে শুয়েছিল, এবং আমি আমার ছেলের ঘরে শুয়েছিলাম। আমরা ছেলের ঘরের কাছেই সাইরেন ছিল। আমি যে এটি শুনছিলাম সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি ঘুমানোর সময় জানালা খোলা রেখেছিলাম। ঠিক আছে, কিন্তু আপনি এটিকে সত্যিই ঘুম বলতে পারবেন না। কারণ, তখন আপনি শুধু চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন। আপনি নথি এবং খাবারসহ একটি ব্যাগের পাশে ঘুমের পোশাক পরে ঘুমাচ্ছেন। এখানে সবাই ক্লান্ত।২৮ ফেব্রুয়ারিসোমবার শহরের কয়েকটি বড় দোকান কয়েক ঘণ্টা খোলা ছিল। আমি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলাম। একা গিয়েছিলাম। তবে আমার স্ত্রীর ফোনে সংযুক্ত ছিলাম, যাতে ক্রমাগত আমার ফোন থেকে আমার অবস্থান ট্র্যাক করতে পারে।বৈশ্বিক সংকটের জন্য দায়ী কে-ব্যক্তি, না রাষ্ট্র?প্রতিবারই পরিচয়পত্র পরীক্ষার জন্য একটি রাস্তার মোড়ে আমাকে থামানো হয়েছিল। আমি আমাদের সেনাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'আপনাদের কী দরকার?' আমি তাদের জন্য সিগারেট এবং পানি এনেছিলাম। এই লোকেদের আমি ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাদের রক্ষা করছেন, ইউক্রেনকে রক্ষা করছেন। ঠান্ডায় বাইরে ঘুম ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছেন।রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেন ছোট এবং আমাদের সেনাবাহিনী অনেক ছোট। তবে এখানকার মানুষের সাহস বেশি। তারা দেখিয়েছে যে, তারা শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত দেশকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। এটি আমার আশা জোগাচ্ছে। ১ মার্চমঙ্গলবার আমি যখন গ্যাস নিয়ে ফিরছিলাম, তখন আমার স্ত্রী আমাকে ফোন করে। সে আমাকে বলে, আমরা হলোকাস্ট মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স থেকে ধোঁয়া আসতে দেখেছি। আমি এ খবর শুনে একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ি। কারণ, আমি ইহুদি। আমার বাবার বয়স ৮৩। তিনি হলোকাস্ট থেকে বেঁচে গেছেন। ওই ঘটনায় আমার পরিবারের অর্ধেক সদস্যই মারা যান। আমরা প্রায়ই স্মৃতিসৌধে যেতাম কারণ, আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলে ইতিহাস জানুক।ইউক্রেনীয় শরণার্থী নিয়ে পশ্চিমাদের বর্ণবাদী পক্ষপাতিত্বআমার বাবার বোমা থেকে বাঁচার জন্য মাঠ পেরিয়ে দৌড়ানোর স্মৃতি রয়েছে। এখন আমার ছেলেরও এমন স্মৃতি হবে। তবে এবার হিটলার নয়, এবার মারছে পুতিন। আমি সম্পূর্ণ হতবাক এবং বিষণ্ন। এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, ইউক্রেনে আমাদের প্রেসিডেন্ট একজন ইহুদি। আমরা সবাই আমাদের প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করি। আমরা তাঁকে নিয়ে খুব গর্বিত।আমি রাশিয়ার লোকদের চিনি। তাদের অর্ধেকই আর আমার বন্ধু নয়। তাদের মধ্যে অনেকেই আমাকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, আমাদের জন্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আমি তাদের ব্লক করে দিয়েছি। তারা যে ফালতু লেখা লিখছে, তা আমি পড়তে চাই না। রাশিয়ার টিভি চ্যানেল তাদের মস্তিষ্ক ধুয়ে দিয়েছে। যেমন, এক বন্ধু আমাকে বলেছিল, 'এটি টিভি নয়, এটি বিকিরণ।'২ মার্চবুধবার রুশ সেনারা আমাদের বলে যে, কিয়েভ ছেড়ে গেলে ভালো হয়। আমি আর আমার স্ত্রী তখনো যাব কি না, ভাবছিলাম। আমাদের দুটি বিষয় আটকাচ্ছিল। প্রথমটি হলো-আমার স্ত্রীর বাবা-মা চেরনিহাইভে আছেন। আমরা তাদের সেই নরক থেকে বের করে আনার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছিলাম, যাতে তারা আমাদের সঙ্গে আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, আমি এখনো এখানে লোকেদের সাহায্য করতে চেয়েছিলাম।পুতিন-বাইডেনের যুদ্ধের আশ, তোমার-আমার প্রাপ্তি বাঁশআমি খুব শান্তিপ্রিয় মানুষ। তারা যদি আমার বাড়িতে আসে তবে আমার লড়াই করার একমাত্র উপায়-আমি আমার পরিবারকে রক্ষা করব। যারা আমাদের রক্ষা করে এবং যাদের সাহায্যের প্রয়োজন, তাদের সাহায্য করার জন্য আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করছিলাম।আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, যদি আমাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে যেতে আমরা যদি পশ্চিম ইউরোপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে আমাদের আলাদা পোশাক দরকার। সেখানে স্কিইং জ্যাকেট এবং শীতের জামাকাপড় লাগবে না। এগুলো আমরা প্রথম দিনে প্যাক করেছিলাম। লিফটটি অকেজো থাকায় আমাকে এক এক করে ১৪ তলায় সিঁড়ি বেয়ে চারটি স্যুটকেস নিয়ে যেতে হয়েছিল।৩ মার্চআমরা অবশেষে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি স্নায়ুচাপে পীড়িত ছিলাম। কিন্তু বৃহস্পতিবার (ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট) ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে (রুশ প্রেসিডেন্ট) ভ্লাদিমির পুতিনের কথোপকথনের পর এবং সমস্ত ইউক্রেনকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্য সম্পর্কে শুনে আমরা এখন বুঝতে পেরেছি যে, তিনি এই সমস্ত দেশকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত থামবেন না। আমরা পুতিনের রাশিয়ায় থাকতে প্রস্তুত নই।যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া: কার সামরিক শক্তি কেমনতবে সিদ্ধান্তটি বিশেষত আমার ছেলে এবং স্ত্রীর সুরক্ষার জন্য নেওয়া। আমরা তাকে আর যুদ্ধ দেখতে দিতে চাই না। আর চাই না যে, সে বোমা ও গোলার শব্দে ঘুম থেকে জেগে উঠুক। তার নানা-নানিকে ছাড়া চলে যাওয়ায় তিনি খুব দুঃখিত ছিলেন। আমরা তাদের ছেড়ে যেতে চাইনি, তবে আমার ছেলের যত্ন নেওয়া দরকার।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন ইয়াসিন আরাফাতআরও পড়ুন:ইউক্রেনে হামলার ঘোষণার পর বাড়ল তেলের দাম | 3 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.