text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
লোকসভার পর এবার ভারতের রাজ্যসভাতেও পাস হয়েছে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ১২৫টি এবং বিপক্ষে পড়েছে ৯৯টি। বুধবার বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। খবর এনডিটিভির। বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধী দল ও দক্ষিণপন্থী দলগুলির অভিযোগ, এই বিল মুসলিমদের প্রতি পক্ষপাতমূলক এবং সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা বিরোধী। সোমবার বিলটি লোকসভায় পাস হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ৩৩৪টি ভোট এবং বিপক্ষে ১০৬টি। রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দেশের মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ, তারা দেশের নাগরিক ছিলেন এবং থাকবেন। 'ভুল তথ্য ছড়ালে পদক্ষেপ' বলে অভিযোগ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বিলটি শুধু প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘুদের জন্য, ভারতের মুসলিমদের নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই।' বিলটি নিয়ে আবেগপূর্ণ আবেদন জানিয়ে কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, 'বিলটি ভারতের সংবিধানের ভিত্তিতে আঘাত। এটি ভারতের সংবিধানের আত্মাকে আঘাত করবে। এটি সংবিধানের প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে।' রাজ্যসভাকে সতর্কবার্তা দিয়ে তৃণমূল সংসদ সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, 'গণতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভারত।' বিলের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ চলছে ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। | 3 |
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের টেস্কারকানা শহরে বৃষ্টির সময় আকাশ থেকে মাছ পড়তে দেখা গেছে। গত বুধবারের ওই বৃষ্টিতে শহরটির মানুষ চমকে গিয়েছেন তো বটেই, অনেকে ভয়ও পেয়েছেন প্রকৃতির আজব খেয়াল দেখে। শুধু মাছই নয়, ওই বৃষ্টিতে ছিল ব্যাঙ, কাঁকড়াও। তবে মাছের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।টেস্কারকানা শহরের বহু বাসিন্দা মাছ ও ব্যাঙের বৃষ্টির সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। টেস্কারকানা শহরের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও আজব বৃষ্টির ছবি দিয়ে পোস্ট করা হয়। সঙ্গে লেখা হয়, ২০২১-এ এটাই বাকি ছিল। টেস্কারকানায় আজ মাছবৃষ্টি হল। ভাববেন না যে এটা কোনো কৌতুক।ওই পোস্টে আরও লেখা হয়, তখনই এমন প্রাণিবৃষ্টি হয়ে থাকে, ঝড়ের সময় জলস্তম্ভ তৈরি হওয়ায় কোনোভাবে ব্যাঙ, কাঁকড়া ও ছোট মাছ ভূপৃষ্ঠের ওপরে উঠে যায়। তারপর বৃষ্টির মতো করেই মাটিতে পড়তে শুরু করে।টেস্কারকানার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে আরও লেখা হয়, বিষয়টি কম ঘটলেও আজ তা-ই হয়েছে। টেস্কারকানার বিভিন্ন জায়গায় এদিন প্রাণিবৃষ্টিপাত দেখা গিয়েছে। অতএব, সবার ভালোর জন্য বলা হচ্ছে, বিষটিকে নিয়ে হল্লা না করে চুপচাপ ২০২২-এর দিকে এগিয়ে যান আপনারা।টেস্কারকানার মাছবৃষ্টি নিয়ে মার্কিন পরিবেশবিদেরা চিন্তিত হলেও অনেকে আবার মজা পেয়েছেন। তাঁরা টেস্কারকানার অফিশিয়াল পেজের পোস্টের তলায় মজা করে নানা রকম কমেন্টও করেছেন। একজন লিখেছেন, আমার ইচ্ছে মাঝে মাঝে টাকার বৃষ্টি হোক। এমনটা হতে পারে না? | 3 |
কক্সবাজারের উখিয়ায় ৪ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টায় দিকে উপজেলার সদর রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের করইবনিয়া থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, একদল পাচারকারী সীমান্ত থেকে ইয়াবা প্রবেশের সংবাদে আগে থেকেই অবস্থান নেয় বিজিবির একটি বিশেষ দল। প্রবেশের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবার বস্তা ফেলে পালিয়ে যান তাঁরা। পরে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে গণনা করে ওই সব ইয়াবা পাওয়া যায়। | 6 |
ওয়্যারলেস টু ক্যাশ লেস নিয়ে গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে জানানো হয়, রাজধানীর গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে 'ওয়্যারলেস টু ক্যাশ লেস: এ জার্নি অব এ মার্কেটার' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে 'ক্যাশ লেশ বাংলাদেশ' গড়ে উঠবে বলে অভিমত দিয়েছেন উপস্থিত বক্তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন বিজনেস স্কুল আয়োজিত এই সেমিনার বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।বিভাগীয় চেয়ারম্যান মাহমুদ ওয়াহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ তারেক আজিজ। অনুষ্ঠানে ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিডেটের (উপায়) এমডি ও সিইও রেজাউল হোসেন মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রাজ্জাক বলেন, ক্যাশ লেস সোসাইটি প্রতিষ্ঠায় গোটা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও অনেকটা এগিয়ে গেছে। এখন দেশীয় নাগরিকদের বড় একটি অংশ মুদি দোকানেও ক্যাশ লেস পদ্ধতি অনুসরণ করছে। শুধু তাই নয়, করোনাকালীন সময়ে কোরবানির পশু থেকে শুরু করে অনেক ধরনের লেনদেন কাগুজে টাকায় হয়নি। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের বড় পাওয়া। এ সময় ক্যাশ লেস লেনদের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সেক্টরের উদাহরণ টানেন তিনি।মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, ক্যাশ লেস পদ্ধতির সুবিধা অনেক। এর মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান যেমন উন্নত হয়, তেমনি এর সিকিউরিটিও বেশি। তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গোটা বিশ্বে ১ হাজার ৪০০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ লেনদেন অনলাইনের মাধ্যমে হয়েছে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই এই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, ভবিষ্যতেও আরও পড়বে।অনুষ্ঠানে ক্যাশ লেস লেনদেনে বাংলাদেশের দীর্ঘ অগ্রযাত্রা তুলে ধরেন মূল বক্তা মো. রেজাউল হোসেন। তিনি বলেন, এক সময় ক্যাশ লেস লেনদেন নিয়ে মানুষ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল, এখন সেটা নেই। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি উন্নত থেকে উন্নততর হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঠিক ক্যারিয়ার গঠনের ওপর দীর্ঘ বক্তৃতা করেন তিনি। | 6 |
সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের দেহরক্ষীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত দেহরক্ষীর নাম মেজর জেনারেল আব্দুল আজিজ আল ফাঘাম। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রোববার সকালে এক টুইট বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, জেদ্দায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। খবররয়টার্সের। তবে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ফাঘামকে হত্যা করা হয়েছে। মেজর জেনারেল আল ফাঘাম সৌদি বাদশাহর খুবই বিশ্বস্ত দেহরক্ষী ছিলেন। শনিবার জেদ্দায় নিজের বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন ফাঘাম। সেখানেই তাকে গুলি করে হত্যা করে এক দুর্বৃত্ত। তবে সৌদি প্রেস এজেন্সি বলছে, শনিবার জেদ্দায় এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যানফাঘাম। সেখানে আল ফাঘামের সঙ্গে মামদুহ বিন মিশাল আল-আলী নামের এক ব্যক্তির বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মামদুহ একজন ভাড়াটে অস্ত্রধারীকে নিয়ে আসেন। মামদুহের নির্দেশে ওই অস্ত্রধারী ব্যক্তি আল ফাঘামকে গুলি করে। তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। | 3 |
যশোরের মনিরামপুরে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পেয়ে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা।গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পলাশী আদর্শ কলেজের পরীক্ষার্থীরা এই আন্দোলন করে।তাদের অভিযোগ, প্রবেশপত্র বাবদ ১৫০ টাকা করে চেয়েছেন শিক্ষকেরা। টাকা ছাড়া প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে না।শিক্ষকদের দাবি, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়ানোর সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে কলেজ কর্তৃপক্ষকে টাকা দিতে হয়েছে। সেই টাকাসহ প্রবেশপত্র বাবদ ১৫০ টাকা করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে।আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। পলাশী আদর্শ কলেজ থেকে এবার তিন বিভাগে ১৮০ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে কলেজে যায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ১৫০ টাকা ছাড়া কাউকেই প্রবেশপত্র দিচ্ছে না।গত ২২,২৩ ও ২৪ নভেম্বর উপজেলার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়া হয়। উপজেলাটিতে ১৮টি কলেজের ২ হাজার ৭৮৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।এ দিকে মঙ্গলবার কলেজে উপস্থিত ছিলেন না ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সন্তোষ কুমার মণ্ডল।সকালে কলেজে গিয়ে প্রবেশপত্র না পেয়ে মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থী খলিলুজ্জামান অধ্যক্ষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে। এ সময় ওই পরীক্ষার্থী টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, 'টাকা কেন নিচ্ছি সেটা ইউএনও বলতে পারবেন। পারলে সেখানে গিয়ে জেনে এসো।'অধ্যক্ষের সঙ্গে ওই পরীক্ষার্থীর কথোপকথনের অডিও রেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে।এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মোবাইলে কল করা হয়েছে অধ্যক্ষকে। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।তবে প্রবেশপত্র বাবদ টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন কলেজের শিক্ষক মোশারেফ হোসেন। তিনি বলেন, 'পরীক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়ানোর সময় কলেজের কিছু খরচ হয়েছিল। প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় সেই খরচ ধরে আমরা ১৫০ টাকা করে চেয়েছি।'মোশারেফ হোসেন বলেন, 'উপজেলায় টিকা দেওয়ানোর সময় যশোর থেকে যাঁরা টিকা দিতে এসি গাড়িতে করে এসেছেন তাঁদের যাতায়াত খরচসহ সব আয়োজন করতে কিছু টাকা খরচ হয়েছে। ইউএনও বলেছেন, এ খরচ কলেজকে বহন করতে হবে।'এ দিকে শাওন হোসেন নামে কলেজের এক পরীক্ষার্থী বলে, 'আমরা টাকা চাওয়ার বিষয়টি ইউএনওকে মোবাইলে জানিয়েছি। তিনি লিখিত অভিযোগ করতে বলেছেন।'এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, 'কলেজে টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমাকে ফোনে জানানো হয়েছে। আমি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি।'ইউএনও বলেন, 'স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে যাঁরা উপজেলায় টিকা দিতে এসেছেন তাঁদের মাইক্রো ভাড়াসহ সব আয়োজন করে দিতে হয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষকে। বিষয়টি আমি জানি।'যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্রো বলেন, 'প্রবেশপত্র বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।'এ বিষয়ে যশোর জেলা সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহিন বলেন, 'অন্যদের মতো এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও করোনার টিকা বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে। কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকেও টিকাদানকর্মীরা কোনো টাকা নেননি।' | 6 |
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের জামশেদপুর, ধলীপাড়া, মাখরগাঁও ও আমতৈল মিলে বৃহত্তর আমতৈল গ্রাম নামে পরিচিত। বৃহৎ এই গ্রামে প্রতিবন্ধিত্বের হার সিলেটের সামগ্রিক হারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বোন শেখ রেহানা এ খবরটি নজরে আনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি তৎক্ষণাৎ আমলে নিয়ে তাদের জন্য ঈদ উপহার পাঠান। রামপাশা ইউনিয়নের সাড়ে চার শতাধিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ঈদের উপহার পাঠিয়ে দিয়েছেন মহানুভব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এলাকার ৪৬১ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জনপ্রতি দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রতি পরিবারের জন্য একটি লুঙ্গি ও একটি শাড়ি বরাদ্দের জন্য ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উপহার পাঠানো ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিশুদের সুস্থতা এবং ভবিষ্যতে সুস্থ প্রজন্ম নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো হলো- ১. গ্রামের সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমস্যা যথাযথভাবে চিহ্নিত করে বিশেষ প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে হবে। ২. সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাউন্সেলিং করা। ৩. নিজ বাসস্থানসহ আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ৪. খাদ্যের সব পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে ভিটামিন সাপ্লিমেন্টারি ওষুধ সরবরাহ এবং সুপেয় পানির সুব্যবস্থা করা। ৫. গ্রামে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ সিস্টেম চালু এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে। ৬. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদা মোতাবেক বহুমাত্রিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করে বিশেষ স্কুল স্থাপন ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা। ৭. চাহিদামাফিক প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ, যেমন- হুইলচেয়ার, ট্রাইসাইকেল, হেয়ারিং ডিভাইস ও দৃষ্টি সহায়ক উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। | 6 |
কতগুলো কৌতুক আগে পরপর বলে নিই। রিডার্স ডাইজেস্টের কতগুলো কপি হাতে নিয়ে বসেছি। সেখান থেকে ভাবানুবাদ করে দেব কিছু কৌতুক। ১. প্রশ্ন: ছয়টা চোখ আছে, কিন্তু কিছুই দেখতে পারছে না-জিনিসটা কী? উত্তর: তিনজন পুরুষ আছে একটা বাড়িতে, থালাবাসন হাঁড়িকুড়ি পড়ে আছে নোংরা, কাপড়চোপড় ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখতে হবে, বাচ্চাগুলোর ডায়াপার বদলাতে হবে। ২. একজন কিপটে লোক মৃত্যুশয্যায়। ডাক্তার বলে দিয়েছেন, বড়জোর তিন মিনিট, তারপরেই তাঁর মৃত্যু হবে। মৃত্যুপথযাত্রীর চোখে ছানি, ভালো করে দেখতে পান না। তিনি শুধোলেন, 'আমার স্ত্রী কি আমার পাশে আছে?' 'হ্যাঁ গো, এই তো আমি এখানে।' স্ত্রী বললেন। 'আমার ছেলেমেয়েরা?' 'আছি বাবা। এই যে আমি, এই যে আমি...' ছেলেমেয়েরা চোখে দেখতে না পাওয়া পিতাকে নিজেদের অবস্থান জানাল। 'আমাদের গৃহপরিচারক?' 'স্যার। আমি আছি, স্যার।' 'সবাই আছ তাহলে আমার পাশে?' 'জি। আমরা সবাই আছি।' 'সবাই এখানে থাকলে তো রান্নাঘরে কেউ কাজ করছে না। তাহলে রান্নাঘরের বাতিটা জ্বলছে কেন?' ৩. একজন আমেরিকান পর্যটক গেছেন ইংল্যান্ডে। তাঁকে একটা পুরোনো দুর্গ ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছেন একজন গাইড। বাড়িটা বেশ পুরোনো, শেওলা-ধরা, দুর্গন্ধযুক্ত, ভেতরে চামচিকা ওড়াউড়ি করছে, বহু জায়গা বেশ অন্ধকার। গাইড বললেন, 'কেমন দেখছ দুর্গটাকে?' পর্যটক বললেন, 'বেশ গা ছমছম করা! মনে হচ্ছে এটা একটা ভূতের বাড়ি। আচ্ছা কেমন হবে যদি আমাদের সামনে এখন একটা ভূত এসে হাজির হয়!' গাইড বললেন, 'আমি এত দিন ধরে এই কাজ করছি। কোনো দিনও তো ভূত আসেনি।' 'আপনি কত দিন হলো এই গাইডের কাজ করছেন?' 'তা প্রায় সাড়ে চার শ বছর তো হবেই!' ৪. আয়রনম্যান আরাফাতের কাহিনি পড়ার পর ও কাহিনিচিত্র দেখার পর এই কৌতুকটা পরিবেশন করা যায়। ট্রায়াথলন-বিষয়ক। ট্রায়াথলনে দৌড়াতে হয়, সাঁতার কাটতে হয় এবং সাইকেল চালাতে হয়। 'হাঙর আমার চেয়ে অনেক দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে। আমি হাঙরের চেয়ে জোরে দৌড়াতে পারি। এখন বাকি থাকল সাইকেল চালানো। সাইকেলের পাল্লায় যে জিতবে, সেই হবে ট্রায়াথলন বিজয়ী। দেখা যাক, হাঙরটা কী করে?' ৫. ডাক্তার: আপনি কি জানেন, আপনি একদম ঠিক সময়ে আমার কাছে এসেছেন? রোগী: ডাক্তার সাহেব, অবস্থা কি সিরিয়াস? ডাক্তার: আপনি জানেন না এক দিন পর এলে কী হতো। রোগী: কী হতো ডাক্তার সাহেব? ডাক্তার: আপনি আগামীকাল আপনা-আপনিই সুস্থ হয়ে যেতেন। ৬. দুই বন্ধু হাঁটছে একটা নির্জন রাস্তা দিয়ে। এই সময় একজন ছিনতাইকারীর আবির্ভাব। অস্ত্র উঁচিয়ে ছিনতাইকারী বলল, 'তোমাদের পকেটে যা আছে, তা দিয়ে দাও ঝটপট।' দুজনেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিরসবদনে মানিব্যাগ বের করল। এক বন্ধু সেখান থেকে এক হাজার টাকার একটা নোট বের করে দ্বিতীয়জনের হাতে দিয়ে বলল, দোস্ত, তুই আমার কাছে এক হাজার টাকা পাস। ধার নিয়েছিলাম। এই যে শোধ করে দিলাম। ৭. একটা গ্রামে ছিলেন একজন মাত্র কামার। তাঁর কাছে এল একজন নবীন শাগরেদ। বলল, 'ওস্তাদ, আমাকে লোহার কাজ শেখান। কেমন করে দা-ছুরি বানাতে হয় আমি শিখতে চাই।' প্রবীণ কামার শাগরেদকে শেখাতে লাগলেন। বললেন, 'এই যে দেখছ লোহার টুকরা। এটাকে আমি আগুনে দিলাম। এটা যখন টকটকে লাল হয়ে যাবে, এটাকে চিমটা দিয়ে ধরে আমি এই পাটাতনে রাখব। তারপর যেই এটা ঠিকঠাকমতো রাখা হবে, আমি মাথা নাড়ব, অমনি তুমি হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দেবে।' শাগরেদ ওস্তাদের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করল। শাগরেদ এখন ওই গ্রামের একমাত্র কামার। দুদিন ধরেই মনটা বেশ খারাপ, ভাইরাল হয়ে যাওয়া একটা টেলিফোনালাপ শুনে! মনের মধ্যে প্রশ্ন, এই রকম রুচির একজন মানুষ আমাদের নেতা? মন্ত্রী? আর গতকাল ৯ ডিসেম্বর ২০২১ প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় অন্য নেতাদের দুশ্চিন্তার খবরও প্রকাশিত হয়েছে, টেলিফোনালাপ ফাঁস হতে শুরু করলে অন্য নেতাদের কী হবে? আমাদের দেশে আইনানুগ কর্তৃপক্ষ আইনানুগ অনুমতি নিয়ে কারও কারও ফোন রেকর্ড করতে পারেন, সেই আইন হওয়ার কথা আমরা জানি! কিন্তু সেটা অনলাইনে প্রকাশ করে দেওয়ার আইন আছে বলে তো শুনিনি! এ নিয়ে উচ্চ আদালতের আদেশ আছে। 'আনুষ্ঠানিক লিখিত চাহিদা ছাড়া ও গ্রাহককে অবহিত না করে সরকারি-বেসরকারি মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানি থেকে কললিস্ট বা কল রেকর্ড (কথোপকথন) সংগ্রহ অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চের দেওয়া এক রায়ে ওই অভিমত এসেছে। রায়ে আদালত বলেছেন, 'অডিও-ভিডিওসহ নাগরিকদের মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগ প্রায়ই ফাঁস হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এসব প্রকাশিত হয়, যা এখনকার সাধারণ অভিজ্ঞতা। অথচ এটি ভুলে গেলে চলবে না যে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও অন্যান্য যোগাযোগের অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো আগ্রহী গোষ্ঠীর জন্য সহজেই লঙ্ঘন করা যাবে না। যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষায় সাংবিধানিক অঙ্গীকার (ম্যান্ডেট) যথাযথ বাস্তবায়নে বিটিআরসি ও ফোন অপারেটর কোম্পানিগুলোর একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে।' (প্রথম আলো, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০) এত দিন সরকারবিরোধীদের ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। এবার হলো একজন নিম্ন রুচির প্রতিমন্ত্রীর। কৌতুক নম্বর ১ স্মর্তব্য। ২০২০-এর ফোনালাপের এত দিন পরও তিনি প্রতিমন্ত্রী থাকলেন কী করে? ছয়টা চোখ আছে, কিন্তু কর্তব্যগুলো কেউই দেখতে পাচ্ছে না। আনিসুল হক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক | 8 |
আগামী মে মাসে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে নেয়ার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড প্রশাসন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা শুক্রবার একথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দূতাবাসের বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারি তেল আবিবে থাকবেন। তিনি বলেন, আগামী মে মাসে আমরা রাষ্ট্রদূত ও ছোট একটি টিমকে বায়তুল মুকাদ্দাসে সরিয়ে নেব। মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, মে মাসে যা ঘটবে তা হচ্ছে বর্তমান কনস্যুলেট ভবনকে আমেরিকার দূতাবাস বলে ঘোষণা করা হবে। অন্য এক মার্কিন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, পরে বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে নতুন দূতাবাস ভবন নির্মাণ করা হবে। গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইসরায়েলকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এরপর তিনি ঘোষণা করেন, তেল আবিব থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়া হবে। ট্রাম্পের এ ঘোষণার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ নিয়ে ভোটাভুটি হয় এবং আমেরিকা তাতে ব্যাপকভাবে পরাজিত হয়। বিডি প্রতিদিন/২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/আরাফাত | 3 |
সিলেটে তিনজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গত রোববার রাত আটটার দিকে ওসমানীনগর থানাধীন শেরপুর টোলপ্লাজার উত্তরে যাত্রীছাউনির সামনে থেকে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় একটি মাইক্রোবাস ও ১৮ কেজি গাঁজা জব্দের দাবি করেছে পুলিশ।গতকাল সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান।আটককৃতরা হলেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পূর্ব নোয়াগাঁও গ্রামের রাজু মিয়া (২৮), পাইকপাড়া গ্রামের মো. সোহেল আলী (১৯) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের কামাল (৫০)।পুলিশ জানায়, জেলা গোয়েন্দা শাখার (দক্ষিণ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকতিয়ার উদ্দিনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওসমানীনগর থানাধীন শেরপুর টোলপ্লাজার উত্তরে যাত্রীছাউনির সামনে পরিচালনা চালায়। এ সময় সিলেটগামী একটি নোহা মাইক্রোবাস তল্লাশি করে দুটি ব্রিফকেস থেকে ১৮ কেজি গাঁজা জব্দসহ তিনজনকে আটক করা হয়। | 6 |
বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব (অবসরপ্রাপ্ত) ও বাংলাদেশ স্কাউটের সাবেক নির্বাহী সচিব আব্দুল মান্নান চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ১৮ এপ্রিল (শনিবার)। এ উপলক্ষে আত্মীয়স্বজন, পরিচিত মানুষ ও গুণগ্রাহীদের কাছে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার। ঢাকাস্থ বৃহত্তর ফরিদপুর সমিতির সেক্রেটারি হিসাবে আব্দুল মান্নান চৌধুরী বৃহত্তর ফরিদপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন এবং সমাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদে নির্বাহী সচিব হিসেবে অনেক বছর দায়িত্ব পালন করেন। | 6 |
চোটের জন্য আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেন প্যাট কামিন্স। কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) এই অস্ট্রেলীয় তারকা ক্রিকেটার আর খেলতে পারবেন না এই প্রতিযোগিতায়। কামিন্স কোমরের পিছনের অংশে চোট লেগেছে। বল এবং ব্যাট করতেও সমস্যা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়কের। চিকিৎসার জন্য তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিডনিতে তিনি চিকিৎসা করাবেন বলে জানা গেছে। ফলে প্রতিযোগিতার বাকি ম্যাচগুলোতে কামিন্সকে আর পাবে না কেকেআর। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
দিন দিন বেড়েই চলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এখন নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও হিমশিম খাচ্ছেন পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে। অনেকে দৈনিক প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে না পারায় পরিবারের নারী ও শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তবে শীতকালীন সবজি বাজারে আসলে দাম কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।দাপুনিয়া মহল্লার নাজিফা আক্তার বলেন, 'সংসারের আয় বাড়েনি, অথচ জিনিসপত্রের দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। চাহিদামতো এখন আর বাজার করা যায় না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের এখন না খেয়ে মরতে হবে।'গতকাল বুধবার গৌরীপুর পৌরসভার বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। কাটারিভোগ ও নাজিরশাইল প্রতিকেজি ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বিআর ২৮ চাল ৫০-৫৫ টাকা, মোটা ৪৫-৫০, আঁটা খোলা ৩৫-৪০, প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।সবজির মধ্যে ফুলকপি প্রতিকেজি ৯০-১০০ টাকা, বাঁধাকপি ৭০-৭৫, বরবটি ৮০, শিম ১৬০, গাজর ১৬০-১৮০, টমেটো ১৪০-১৫০, বেগুন ৪০-৫০, শসা ৩০-৩৫, কাঁচামরিচ ১২০, পেঁপে ২০, আদা ১২০-১৪০, আলু ২৫-৩০, মিষ্টি কুমড়া ৪০, করলা ৮০-১০০, পেঁয়াজ ৫০-৬০, রসুন ১২০-১৪০, কাচাকলা ২৫-৩৫, ঝিঙে ৫০, চাল কুমড়া ৩০-৪০, লাউ ৩০-৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল।ব্রয়লার মুরগিও বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৬৫ টাকায়। এ ছাড়া সোনালি ও কক ৩০০-৩২০, গরুর মাংস ৫৮০ ও খাসি ৮৮০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। তেল প্রতি লিটার সয়াবিন খোলা ১৫০, বোতল ১৬০, সরিষা খোলা ২২০-২৫০ টাকা। ডিম প্রতি ডজন ৯৬-১০০ টাকা।দাম বেড়েছে মাছেরও। প্রতিকেজি রুই ২২০-২৫০, কালবাউশ ২০০-২২০, গুলশা ৪০০-৫০০, পাবদা ৩৫০-৪০০, শিং ৩০০-৩২০, বড় শোল ৫৫০-৬০০, তেলাপিয়া ১৪০, কই ১৪০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া প্রায় সব ধরনের মশল্লার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০-৪০ শতাংশ।নওয়াগাঁও গ্রামের বাবুল মিয়া বলেন, 'বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।'এ বিষয়ে গৌরীপুর কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার লিপি বলেন, 'এ অঞ্চলে সবজির চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত উৎপাদন রয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত পণ্য উপজেলার বাইরের বাজারে চলে যাওয়ায় দাম বেড়ে যায়। শীতকালীন সবজি বাজারে আসলে দাম কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।গৌরীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মারুফ বলেন, 'নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। মনিটরিং আরও বৃদ্ধি করা হবে।'গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, 'গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য ডিম, মাছ, মাংস ও সবুজ শাকসবজি খাওয়া অপরিহার্য। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে এসব খেতে না পারলে মায়ের স্বাস্থ্যের অবনতি ও শিশু অপুষ্টিতে ভোগাসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।' | 6 |
আফগানিস্তানে আইএসের হামলা বৃদ্ধি ও আল-কায়েদার উপস্থিতি বজায় থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার আফগানিস্তান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি টম ওয়েস্ট এসব কথা বলেন। মার্কিন প্রতিনিধি টম ওয়েস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমের সামনে ন্যাটো জোটের মিত্রদেরকে আফগানিস্তান ও তালেবান ইস্যুতে বিভিন্ন বিষয় অবহিত করেন। তলেবান কর্তৃপক্ষের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তলেবান সরকারকে কোন রোডম্যাপ বা কর্ম পরিকল্পনা অনুসারে চলতে হবে তার বিষয়েও ন্যাটোকে অবহিত করেন তিনি। আগস্টে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করার পর তালেবান কর্তৃপক্ষ সমগ্র আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। এরপর তালেবান কর্তৃপক্ষ একটি সরকার গঠন করে। এ সরকার একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তিনি বলেন, তালেবান সরকার খুব সহজে ও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায়। এর মাধ্যমে তারা চায় যে পুনরায় তাদের দেশকে সাহায্য করা হোক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা কাবুলে ফিরে আসুক এবং আফগানিস্তানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একা তেমন কোনো সাহায্য করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তান ইস্যুতে তালেবানের সাথে দোহায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু, কবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে তা জানাননি। এদিকে আদর্শগত দিক নিয়ে তালেবান সরকারের শত্রু আইএস- খোরাসানের হামলা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে টম ওয়েস্ট বলেন, মার্কিন সরকার আইএস- খোরাসানের হামলা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা চাই আইএস দমনে তালেবান সরকার সফল হোক। এছাড়া আফগানিস্তানে আল-কায়েদার উপস্থিতি বজায় থাকার বিষয়েও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সূত্র : তোলো নিউজ | 3 |
২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে যক্ষ্মামুক্ত করার লক্ষ্যে পৌঁছতে টিকা নিয়ে কাজ শুরু করেছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে দুটি টিকা নিয়ে কাজ করছে। একটি ইমিউভ্যাক, অন্যটি ভিপিএম ১০০২। এই দুই টিকার তৃতীয় পর্বের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালাচ্ছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন এই দুই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হলে বিশ্বব্যাপী নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার দুটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য আইসিএমআর ১২ হাজার ব্যক্তিকে বেছে নিয়েছে। ভারতের সাতটি স্থানে এই পরীক্ষা চলবে। চূড়ান্ত ছাড়পত্র এবং বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগের আগে তিন বছর ধরে এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর দৃষ্টি রাখবে আইসিএমআর। এ প্রসঙ্গে একজন বিজ্ঞানী বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মানুষকে যক্ষ্মা রোগের ব্যাপারে সচেতন করা ও যক্ষ্মা রোগীকে ডটস কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে এই টিকা নিয়ে আসার জন্য অনুপ্রাণিত করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ। মূলত ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইমিউভ্যাক কুষ্ঠরোগ প্রতিরোধের জন্য তৈরি হয়েছিল। একে 'মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম ইন্ডিকাস প্রানাই' বলা হয়। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এই টিকা কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। অন্যটি ভিপিএম ১০০২। ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজের পালমোনারি বিভাগের অধ্যাপক চিকিৎসক ডিজে ক্রিস্টোফার বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ধনী ও গরিব সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু যক্ষ্মা রোগের কারণে শুধু গরিব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ এ রোগ প্রতিরোধে এখনও আমাদের হাতে কার্যকরী টিকা নেই। যারা ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্যই এই টিকা তৈরি করা হচ্ছে। এটি বাজারে আসতে কয়েক বছর সময় লাগবে। | 3 |
চট্টগ্রামে বুধবার (১৮ মে) সকালে বৃষ্টি শেষে সূর্যের দেখা পেয়েছিল টাইগাররা। এরপর ব্যাট হাতে গা গরম করার জন্য প্রস্তুত হন মমিনুল বাহিনী। তবে বৃষ্টি তাদের বেশীক্ষন মাঠের টিকতে দেয়নি। চট্টগ্রামে কিছুক্ষণ পরপর থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া কব্জিতে ইনজুরি আক্রান্ত তামিম ইকবালের খেলা নিয়ে এখনো জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের শঙ্কার মেঘ কাটেনি। তিনি এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিওর পরিচর্যায় আছেন। তাছাড়া তামিম খেলবেন এমনটাই জানা গেছে বিসিবির ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে। চট্টগ্রামবাসীর একই প্রত্যাশা আজ টাইগার এই ওপেনার খেলবেন। মঙ্গলবার দ্বিতীয় সেশনে ৫৮তম ওভারে রমেশ মেন্ডিসের একটি বল মুকাবিলা করতে গিয়ে তামিমের কব্জি ঘুরে যায়। নন-স্ট্রাইক প্রান্তে আসতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা এসে টাইগার ওপেনারকে সহায়তা করেন। হাত টেনে দিয়ে তাৎক্ষণিক তামিমকে সারিয়ে তোলার কাজ করেন। পরে তাকে বিসিবির ফিজিও ফিট করার চেষ্টা চালান। যাইহোক চট্টগ্রামের ছেলে এখন খেলবেন এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমীদের। তাছাড়া বুধবার চতুর্থ দিন টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ আছে তামিমের। এই ওপেনার ১৩৩ রান নিয়ে রিটার্ড হার্ট হয়েছেন। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে ৭৯ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শুরু করবে স্বাগতিকরা। উইকেটে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। অবিচ্ছিন্ন ৯৮ রানের জুটি নিয়ে দিন শুরু করবেন তারা। এছাড়া তামিমের আগেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পাঁচ হাজার রানের ক্লাবে পৌঁছে যেতে পারেন মুশফিক। তিনি ৫৩ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। বুধবার ১৫ রান করলেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়বেন। তৃতীয় দিন শেষে মুশফিকের টেস্ট রান ৪ হাজার ৯৮৫। আর তামিমের ৪৯৮১ রান। এছাড়া চট্টগ্রামের প্রচণ্ড গরমে ১৫০ ওভারের বেশি ফিল্ডিং করার পর ৫ ঘণ্টা ৯০ মিনিট ব্যাটিং করার প্রভাব পড়েছে তামিমের শরীরে। ফলে চা বিরতিতে গিয়ে আর মাঠে ফেরেননি বাংলাদেশের দুর্দান্ত ওপেনার। বুধবার অবশ্য সুযোগ আছে বাকি ১৯ রান করে ৫ হাজার ক্লাবের সদস্য হয়ে যাওয়ার। কিন্তু বৃষ্টি যেভাবে চোখ রাঙাচ্ছে তাতে কি হবে তা কেউ জানে না। | 12 |
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, 'বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাত্রা কমিয়ে আনতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এগিয়ে আছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে, তথ্যপ্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা এরই মধ্যে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে কারখানা স্থাপন ও পণ্য উৎপাদন করছেন। বিশ্বের সেরা ১০টি গ্রিন পোশাক কারখানার প্রথম ৭টিই বাংলাদেশের।' বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়াতে শুক্রবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এফবিসিসিআই ও ফ্রান্স-বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এফবিসিসিআই। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের ঘোষিত নানা প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশকে তাদের পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করতে ফরাসি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। একই সঙ্গে ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও দেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংস্থা হিসেবে এফবিসিসিআই বাংলাদেশে ব্যবসায়িক স্বার্থের সুবিধার্থে সর্বদা উন্মুক্ত। অন্যদিকে ফ্রান্সের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান এফবিসিসিআই'র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। এসময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত নেটওয়ার্কিংয়ের ওপর জোর দেন এফবিসিসিআই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এ মোমেন। বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই-এর পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী ও মো. সাইফুল ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই'র সহ-সভাপতি মো. আমিনুল হক শামীম, সাবেক সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। এফবিসিসিআই'র পরিচালক শমী কায়সার, খান আহমেদ শুভ, ডা. ফেরদৌসী বেগম, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকবৃন্দ, এফবিসিসিআই'র, বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক জেসমিন আক্তার এবং ফ্রান্স-বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী ব্যবসায়ীরা। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 0 |
নির্বাচনের প্রচারে বস্তু বা প্রতীক নিয়ে অনেক প্রার্থীকেই ঘুরতে দেখা যায়। কিন্তু তাই বলে একেবারে জীবন্ত উটপাখি! এমনই ঘটনার জন্ম দিয়েছেন গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচনের এক কাউন্সিলর প্রার্থী সোহেল হোসেন। নির্বাচনে তিনি উটপাখি প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। সোহেলের এমন কাণ্ডে শহরজুড়ে শোরগোল পড়েছে। উৎসুকদের অনেকেই উটপাখি দেখতে ভিড় জমিয়েছেন তার বাসায়। আগামী ২৮ নভেম্বর কালিয়াকৈর পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। নির্বাচনকে সামনে রেখেই মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন। জানা গেছে, ওই পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সোহেল হোসেন। উটপাখিটি তার বাসায় আছে। তবে উটপাখি নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্য প্রাণী আইন ও নির্বাচনী আইনে জীবন্ত প্রাণী নিয়ে প্রচার চালানোয় বিধিনিষেধ আছে। এ প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বলেন, জীবন্ত উটপাখি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা আচরণবিধির লঙ্ঘন। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা হতে পারে। | 5 |
প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নতুন ছবি দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক। সদ্য এর ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। এই ট্রেলারের একটি সংলাপের কারণে সম্প্রতি মহারাষ্ট্র পুলিশের নজরে পড়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও ফারহান আখতার । সিনেমায় প্রিয়াঙ্কা ও ফারহানের অনস্ক্রিন কন্যা আয়েশা (জায়রা ওয়াসিম অভিনীত) দুরারোগ্য ব্যাধি -আক্রান্ত এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে তার পরিবার আর্থিক সমস্যা নিয়ে লড়াই করে চলেছে বলেও দেখা গেছে ট্রেলারে। মহারাষ্ট্র পুলিশের নজরে এসেছে এই ডায়লগ এবং একটি টুইটে মজার ছলে এই ডাকাতির পর তাদের কী হতে পারে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন তারা। মহারাষ্ট্র পুলিশ মজা করে ওই টুইটে লিখেছে, "আইপিসি ধারা ৩৯৩ এর অধীনে জরিমানাসহ সাত বছরের কারাদণ্ড।" প্রিয়াঙ্কাও কম যান না। বুধবার সকালেই প্রিয়াঙ্কা চোপড়া প্রায় স্বীকারোক্তির ঢঙে একটি টুইট লিখে মহারাষ্ট্র পুলিশকে এর প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, "ওফফ! হাতেনাতে গ্রেফতার!...প্ল্যান বি সক্রিয় করার সময় এসেছে ফারহান আখতার।" এদিকে, ফারহান আখতারও পালটা টুইটে লিখেছেন, "হাহাহাহা। আর কখনও ক্যামেরার সামনে এইসব পরিকল্পনা করব না।" বিডি প্রতিদিন/কালাম | 2 |
একটি অপরাজিত সেঞ্চুরির সঙ্গে তিন হাফ সেঞ্চুরির মেলবন্ধন দেখার পর মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের কথাই মাথায় আসে সবার আগে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টপ অর্ডার এবং মিডল অর্ডার ব্যাটাররা এভাবেই রান করে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। বোলিংও ভালো হয়েছিল সে ম্যাচে। আপাতদৃষ্টিতে চট্টগ্রাম টেস্টেও বোলিংয়ের পর ব্যাটিং ভালো করছে বাংলাদেশ। তবে সেই টেস্ট এবং এই টেস্টের মধ্যে বড় পার্থক্য উইকেটে। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ছিল স্পোর্টিং উইকেট, চট্টগ্রামে খেলা হচ্ছে ব্যাটিং স্বর্গ। যেখানে ব্যাটার চাইলে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে পারেন।
বাজে শট না খেললে আউট করা কঠিন। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের পর তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি করে সেটা দেখালেনও। মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাসরা 'ক্যারি' করতে পারলে স্কোর বোর্ডে ৫০০ রান যোগ করা কঠিন নয়, খুবই সম্ভব। ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সের বিশ্বাসও তাই। সবকিছু বিবেচনায় নিলে চট্টগ্রাম টেস্টের তিন দিনের দুই দিনই লিড করে বাংলাদেশ। স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি না দিলে ম্যাচের চতুর্থ দিনও হয়তো দাপট দেখাবে স্বাগতিকরা। শ্রীলঙ্কার ৩৯৭ রানের জবাবে বাংলাদেশ তৃতীয় দিন শেষ করে ৩ উইকেটে ৩১৮ রান। হাতের মাসলে ক্র্যাম্প করায় তামিম গতকাল চা বিরতির পর ব্যাটিংয়ে না নামলেও অপরাজিত। তিনি আজ ব্যাটিং করবেন বলে জানান জেমি সিডন্স। মুশফিকুর রহিম আর লিটন কুমার দাস তো জুটিতে অপরাজিত আছেনই। এই জুটি চতুর্থ দিন এক সেশন টিকে গেলে স্কোরবোর্ড রানে ফুলে ফেঁপে উঠবে। সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল সেটিকে টেনে কিছুটা লম্বা করতে পারবেন নিশ্চয়ই। প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের লিড নেওয়া গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিকদের হাতেই থাকবে। তখন পঞ্চম দিনের উইকেটের সুবিধা কাজে লাগাতে চেষ্টা করবেন স্পিনার ত্রয়ী- সাকিব, তাইজুল ও নাঈম। আরও একটি বড় লাভ, পাঁচশ রান করা গেলে টেস্ট ম্যাচ হারের শঙ্কা কম থাকবে। প্রথম ইনিংসে ৭৯ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শুরু করে বাংলাদেশ। বোলিংয়ের পর ব্যাটিং ভালো হওয়ায় স্বাগতিক দলের ড্রেসিংরুমকে দেখাচ্ছে সুখী পরিবার। সুখের সংসারেও এক দু'জন দুঃখী মানুষ তো থাকেই। মুমিনুল হক আর নাজমুল হোসেন শান্ত তেমনই দু'জন। চট্টগ্রামের ব্যাটিং স্বর্গে তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস যেখানে রান উৎসব করলেন, সেখানেই শান্ত ১ আর মুমিনুল ২ রানে উইকেট উপহার দেন সফরকারীদের। এ মুহূর্তে মুমিনুলের কাছে মনেই হতে পারে, ক্রিকেট স্বর্গের দেবতা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করেননি। সতীর্থদের নামের পাশে এত এত রান দেখে অধিনায়কের আক্ষেপ হতেই পারে- কিছু রান তাঁকে দিলে এমন কী ক্ষতি হতো? ইনিংসের পর ইনিংস রান না পাওয়া মুমিনুল কল্পনায় আরও অনেক কিছু ভাবলেও ভাবতে পারেন। কিন্তু তাঁকে নিয়ে সমর্থকরা যে খুব ভালো কিছু ভাবছেন না, সেদিকটায় হয়তো খেয়ালই নেই তাঁর। শেষ ১৩ ইনিংসের ১০টিতেই এক অঙ্কের রানে আউট তিনি। এর পরও ব্যাড-প্যাচকে অবলীলায় অস্বীকার করছেন। দ্বিতীয় দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার তামিম ও জয় এদিন জুটি অক্ষত রাখেন মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত। তামিম ৮৯, জয় ৫৮ রানে ছিলেন তখন। নতুন সেশন শুরু হলেই ঘটে বিপত্তি। কোনো রান যোগ না করেই আউট জয়। ওপেনিং জুটি টিকে ছিল তিন ঘণ্টা ৩৮ মিনিট। শান্ত-মুমিনুলের সঙ্গে তামিম এক ঘণ্টা কাটালেও রান উঠেছে সামান্যই। ১৮৪ রানে ৩ উইকেট হারালেও তামিম-মুশফিক চা বিরতি পর্যন্ত টিকে থেকে জুটি গড়েন। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরেই দশম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান তামিম। ৯৯ রানে পৌঁছান বাউন্ডারি মেরে। শতক স্পর্শ করেন এক রান নিয়ে। ৩৯ মাস পর সেঞ্চুরি পেলেন বাঁহাতি এ ওপেনার। তাঁর নবম সেঞ্চুরিটি ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৯ সালে হ্যামিলটনে। আরেকটি সেঞ্চুরির দেখা পেতে বাঁহাতি এ ওপেনারের এত সময় লাগার কারণ হলো, ইনজুরিতে পড়ে একটা লম্বা সময় টেস্টে বিরতি দিয়েছেন। তামিম শতকের ঘরে পৌঁছাতে ১৬২ বলে ১২টি চার মারেন। দু'বার আউট হতে গিয়েও বেঁচে যাওয়া টাইগার এ ওপেনার ১৩৩ রানে অপরাজিত। বিশ্রামে যাওয়ার আগে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ক্রিজে ছিলেন তিনি। যদিও ১০২ রানে আম্পায়ার সৈকত আউট দিলে রিভিউ নিয়ে বাঁচেন। ১১৪ রানে ক্যাচ ফেলেন ধনাঞ্জয়া। তার ওপেনিং সঙ্গী জয় জীবন পান ৫২ রানে। ওপেনিং জুটির পর পঞ্চম উইকেটে মুশফিক ও লিটন স্বচ্ছন্দ দেখান। লিটন একবার জীবন পেলেও কোনো জড়তা ছিল না ব্যাটিংয়ে। মুশফিক-লিটনের অপরাজিত জুটি ২১১ বলে ৯৮ রানের। ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে তামিম-জয়ের ১৬২ রানকে ছাপিয়ে যেতে পারবেন তাঁরাও। মুশফিক ৫৩, লিটন ৫৪ রান নিয়ে নতুন শুরু করবেন আজ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই টেস্ট দিয়ে একটি মাইলফলের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশি দুই ব্যাটার তামিম-মুশফিক। টেস্টে পাঁচ হাজারি রান ক্লাবে পৌঁছাতে মুশফিককে আর ১৫, তামিমকে ১৯ রান করতে হবে। বাংলাদেশের এমন ঝলমলে দিনে কৌশলগত একটি সুবিধা কাজে লাগাতে চতুরতার আশ্রয় নেয় সফরকারীরা। বিশ্ব ফার্নান্দোর মাথায় বল লাগার একদিন পর কনকাশন সাব নামায় কাসুন রাজিথাকে। মূলত ফার্নান্দো বোলিং ভালো না করায় কাসুনকে নামানো। সাব হিসেবে নেমে ভালোও করেন। তিন উইকেটের দুটিই গেছে লঙ্কান এ পেসারের দখলে। যদিও ব্যাটাররা সফরকারীদের টেকনিক্যাল কৌশল গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন রানের পর রান জমা করে।
| 12 |
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। দেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অর্জন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে স্যাটেলাইট ক্লাবের ৫৭তম গর্বিত সদস্য। | 11 |
করোনা মহামারীর সময়ে সারাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যাপক অপব্যবহার চলছে অভিযোগ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শনিবার (৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। ফখরুল বলেন, বিএনপি সুস্পষ্ট ভাষায় সরকারকে জানাতে চায়, বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেবল সরকারকে জনরোষের আগুন থেকে রক্ষার জন্যই অপব্যবহার চলছে। এই মুহুর্তেই রাষ্ট্রের এই অন্যায় বন্ধ করতে হবে। এই গণবিরোধী আইন বাতিল করতে হবে। আমরা চলমান বৈশ্বিক করোনা মহামারীর সময়ে সারাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের অপপ্রয়োগ করে গ্রেপ্তার ও হয়রানির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নতুন করে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, লেখক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মানুষজন গ্রেপ্তারের ঘটনা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, দেশে একটি কার্য্করী মানহানি আইন থাকা সত্বেও নির্যাতন ও হয়রানি উদ্দেশ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকেই বার বার ব্যবহার করছে সরকার। মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে পেছনে হাতমোড়া অবস্থায় হ্যান্ডকাফ পড়া সাংবাদিকের (শফিকুল ইসলাম কাজল) ওই ছবিসহ সংবাদ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সরকার কিভাবে সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে চলছে তার এ্কটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার তো দূর থাকুক মানুষ তার কষ্টের কথাও যাতে ভার্চুয়াল জগতে প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য একের পর এক পরিপত্র জারি করে চলেছে সরকার। বিটিআরসির মতো একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে পরিণত করেছে ডিজিটাল জগতে সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠার প্রধান পুলিশি প্রতিষ্ঠানে। শুধু বিএনপি নয়, সকল রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদপত্র সম্পাদকদের সম্মিলিত সংগঠনও ওই গণবিরোধী আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে বারবার। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলার বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হরদম গ্রেপ্তার করা হচ্ছে ও আতংকের মধ্যে রাখা হয়েছে। অথচ ত্রাণের চাল চোর ও গম চোররা নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসবের মধ্য দিয়ে সরকারের নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং ফ্যাসিবাদী চরিত্রে মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। দুর্ণীতিকে প্রশ্রয় দিতেই কী পরিপত্র জারি হচ্ছে এমন প্রশ্ন রেখে ফখরুল বলেন, সরকারের জারিকৃত পরিপত্রগুলো কী রকম ডিকটেটোরিয়াল চিন্তা করা যায় না। এখন চুরি হচ্ছে এক জায়গায়, চাল চুরি হচ্ছে, গম চুরি হচ্ছে, সয়াবিন তেল চুরি হচ্ছে, রিলিফ চুরি হচ্ছে -এসব সম্পর্কে যদি লেখতে যান তাহলে কি সেটা অন্যায় হবে? সত্য উৎঘাটন করাই তো সাংবাদিকদের কাজ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই যে সত্য খবর লুকানোর কারণটা কী, হাইড করার কারণটা কী? কেনো এই ধরণের দমন-নির্যাতন চলছে? তার অর্থ সত্য কথা যাতে বেরিয়ে না আসে। এটা কার স্বার্থে যাচ্ছে? সরকারের স্বার্থে কিন্তু যাচ্ছে না আল্টিমেটলি। ফখরুল বলেন, এই সত্য গোপন করার ফলে ইনফর্ম না হওয়ায় সেই কাজগুলো করতে পারবে না। এমনিতে তো বিচ্ছিন্ন সবাই। তার পরে যদি সোশ্যাল মিডিয়ার খবরগুলো যদি না পায় তাহলে খবর জানবে কোত্থেকে। | 6 |
ঘুরতে গিয়ে ট্রলার থেকে মধুমতী নদীতে পড়ে শিশুপুত্রসহ এক পুলিশ সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলা সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত মধুমতী নদীর কালনা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজরা হলেন- পুলিশ কনস্টেবল আবু মুসা রেজওয়ান (২৮) ও তার ছয় মাস বয়সী শিশুপুত্র আনাস। আবু মুসা ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। তিনি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামের আজাদ মোল্লার ছেলে। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকেলে মুসা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কালনা ফেরিঘাট এলাকায় ট্রলার ভাড়া করে নদীতে ঘুরতে বের হন। ট্রলারে স্ত্রী, পুত্র, আত্মীয়স্বজনসহ আটজন ছিলেন। কালনা ঘাটের দিকে ফিরে আসার সময় নির্মাণাধীন সেতু এলাকায় ট্রলারের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। নদীতে প্রচণ্ড স্রোত ছিল। স্রোতের তোড়ে নির্মাণাধীন সেতুর পিলারের সঙ্গে ট্রলারের ধাক্কা লাগলে কোলে থাকা আনাসসহ মুসা নদীতে পড়ে যান। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন। নড়াইলের লোহাগড়া ফায়ার সার্ভিসের তত্ত্বাবধায়ক মাসুদ রানা জানান, তাদের উদ্ধারে নৌবাহিনীর খুলনা অঞ্চলের সাত সদসস্যের ডুবুরি দল এবং বরিশাল থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের ডুবুরি দল সকাল থেকে কাজ করছে। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। | 6 |
প্যারিস হামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সালাহ আব্দেসালামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে বেলজিয়ামের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ ব্রাসেলসের মোলেনবেক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে বলে শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গত নভেম্বরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ভয়াবহ ওই হামলার পর থেকেই গত চারমাস ধরে ইউরোপজুড়ে সালাহ আব্দেসালামকে খুঁজছিল পুলিশ।
শুক্রবার রাতে অভিযানে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির এক পর্যায়ে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন আব্দেসালাম। অভিযানে মনির আহমেদ আলাজ নামের আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার নামও পুলিশের তালিকার ছিল।
আব্দেসালামকে ধরতে শুক্রবার বিকেলে শুরু হওয়া বেলজিয়াম পুলিশের অভিযান চলে গভীর রাত পর্যন্ত। সেখানে একাধিক বোমা বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এই খবর জানার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন-তুরস্ক সম্মেলন ছেড়ে দেশের পরে রওনা হয়েছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন, তার দেশ আশা করে, যত দ্রুত সম্ভব আব্দেসালামকে ফ্রান্সের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই গ্রেফতারকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করলেও চূড়ান্ত নয় বলে তিনি মনে করেন।
কারণ হিসাবে ওলাঁদ বলছেন, প্যারিস হামলার যারা পরিকল্পনা করেছে, সহায়তা করেছে, অর্থ দিয়েছে বা যারা প্রশ্রয় দিয়েছে, তাদের সবাইকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত লড়াই চলবে। হয়তো আরো অনেকে গ্রেফতার হবে, কারণ এই চক্রটি অনেক বেশি বিস্তৃত।
গত নভেম্বরে প্যারিসের ভয়াবহ ওই সন্ত্রাসী হামলায় ১৩০ জন নিহত হয়। আহত হয় অনেকে। এরপর থেকেই সালাহ আব্দেসালামকে খুঁজছিল ইউরোপের পুলিশ।
২৬ বছর বয়সী সালাহ আব্দেসালাম ফরাসি নাগরিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে বেলজিয়ামে বসবাস করছেন। সেখান থেকে গিয়েই তিনি প্যারিসে হামলা চালিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলার পর সে আবার ব্রাসেলসে ফিরে একটি ফ্লাটে লুকিয়ে ছিল বলে পুলিশের ধারণা।
এর আগে সালাহ আব্দেসালামকে গ্রেফতার করতে ব্রাসেলস এবং প্যারিসে কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও তাকে আটক করা যায়নি।
| 3 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইভিএমে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন। আজ সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা যা বলেন, তিনি তা বাস্তবায়ন করেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূলে ভোট বেড়েছে, জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইভিএমে স্বচ্ছ, সুন্দর ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। যেন সেই নির্বাচন নিয়ে কেউ প্রশ্ন ও কারচুপির অভিযোগ তুলতে না পারে। কারণ এই নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণায় দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।'স্বপন আরও বলেন, 'তৃণমূলে আমাদের সাংগঠনিক ভিতকে আরও মজবুত করতে হবে। নিজেদের মধ্যে যত সমস্যা আছে তা সাংগঠনিকভাবে সমাধান করতে হবে।'জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে সভায় সংরক্ষিত আসনের সাংসদ উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলি আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, সিনিয়র সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, পৌর মেয়র নায়ার কবির সহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মিনি পিকআপের চালক ও হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার ভোর ৬টায় দিনাজপুর-ফুলবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের ফুলবাড়ীর ফকিরপাড়া এলাকার ব্র্যাকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিকআপের আরও তিনজন শ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-দুর্ঘটনাকবলিত মিনি পিকআপের চালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার আড্ডা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে খায়রুল ইসলাম (৩০) ও হেলপার একই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট গ্রামের এনামুল হকের ছেলে মো. মামুন (২৮)।এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন-ওই পিকআপের শ্রমিক নবাবগঞ্জ উপজেলার হিলিরডাঙ্গার হঠাৎপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে আজিবর রহমান (৩৫), পার্বতীপুর উপজেলার আকন্দপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে তসকিব (৪০) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া শুকুরডাঙ্গা গ্রামের আদম আলী (৪৫)।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর থেকে বরই আনলোড করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফেরার পথে শুক্রবার ভোর ৬টায় ফুলবাড়ীর ফকিরপাড়া ব্র্যাকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে অপর দিক থেকে আসা অজ্ঞাত যানের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চালক খায়রুল ইসলামের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা হেলপারসহ আহত চারজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হেলপার মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পিকআপটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, নিহতদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দুটো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। | 6 |
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে 'সিভিয়ার ডেঙ্গু রোগী কর্নারের' ৪৭-ক নম্বর শয্যা ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা। ছয় দিন আগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সন্তানসম্ভবা শারমিন আক্তার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গত বুধবার তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা এই নবজাতককে নিয়ে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নোমান-শারমিন দম্পতির এই প্রথম সন্তান। একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে ডেঙ্গুর আতঙ্ক। পুরো ওয়ার্ডের রোগী আর স্বজনের একমাত্র প্রার্থনা- 'আহারে ফুটফুটে শিশুটার যেন ডেঙ্গু না হয়।' রোগ শোক মহামারি যাই আসুক না কেন, জীবন থেমে থাকে না। ডেঙ্গুও নবজীবনকে ঠেকাতে পারেনি। ডেঙ্গু বহু জীবন কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু নবজীবনকে সে থামাতে পারেনি। এটাই জীবনের নিয়ম। নবজাতককে নিয়ে এই ওয়ার্ডে এখন ভিন্ন আমেজ। সবার একই প্রত্যাশা- বাচ্চাটি যেন ভালো থাকে। সুস্থ হয়েই বাড়ি ফিরবে মা-মেয়ে। আশার বাণী শোনালেন ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক আর নার্সরাও। তারা জানালেন, মা শারমিনের শরীরের রক্ত কণিকা কমতে কমতে ৭৫ হাজারে ঠেকেছিল। এখন এক লাখ ২৫ হাজারে স্থিতিশীল। শিশুটির শরীরে যাতে ডেঙ্গু ছড়াতে না পারে, সে জন্য আপাতত মায়ের বুকের দুধ খেতে দেওয়া হচ্ছে না। শিশুটির বাবা মো. নোমান কারওয়ান বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি সারাক্ষণই চোখেমুখে উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে থাকেন স্ত্রী আর মেয়ের শয্যাপাশে। গতকাল শুক্রবার সেখানেই তিনি বলছিলেন, প্রথম সন্তান, ওকে ঘিরে এখন পুরো পরিবারের আনন্দের বন্যা বয়ে যেত। কিন্তু সবাই চিন্তায় আছেন কী হয়! তিনি দোয়া চাইলেন মেয়ে আর স্ত্রীর জন্য। ওই শয্যার বাইরে গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড আর শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের শয্যা ছাড়িয়ে বারান্দা আর করিডোরের মেঝেতেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের। শিশু ওয়ার্ডের একেকটা শয্যায় দুইথেকে তিনজন করে শিশু রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগী আর স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এতকিছুর পরও চিকিৎসক আর নার্সদের আন্তরিকতায় তারা খুশি। এর বাইরে শয্যা বরাদ্দ আর রক্ত পরীক্ষার সিরিয়াল নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ আছে তাদের। একজন রোগী মারা গেলে বা সুস্থ হয়ে কেউ ঘরে ফিরে গেলে শূন্য শয্যা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ চলে। রোগীর চাপে প্যাথলজি বিভাগে রক্তের নমুনা দিতেই দিন পার হয়ে যায় বলে জানালেন ডেঙ্গু আক্রান্তদের সঙ্গে থাকা স্বজনরা। মেডিসিন বিভাগের ৭০২ নম্বর পুরুষ ওয়ার্ডে ৪২ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছে ১৭ বছর বয়সী মিলন মিয়া। সে যাত্রাবাড়ীর অদূরে চিটাগাং রোডে সামিরা গার্মেন্টের কর্মী। ১০ দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর আর কর্মস্থলে যেতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। মিলন মিয়া বলছিল, সে দ্রুত সুস্থ হয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে সুনামগঞ্জের গ্রামের বাড়ি যেতে চায়। তার আর হাসপাতাল ভালো লাগে না। তবে তার পাশেই বসা মা হনুফা বেগম রাজ্যের দুশ্চিন্তা নিয়ে বলছিলেন, 'বাড়ি গিয়ে কী হবে, ঈদ তো আর করা গেল না।' এই মায়ের ভাষ্য, মিলন তার সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন। জ্বরে পড়ে কর্মস্থলে যেতে পারেনি। এজন্য ঈদের বোনাসও পায়নি। বেতনের টাকা চিকিৎসাতেই শেষ হয়েছে। এখন ঈদে আর খরচ করার টাকাও নেই। ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডের সিভিয়ার ডেঙ্গু রোগী কর্নারের ৩৫ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ থেকে সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করা শাকিল চৌধুরী। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খোঁজখবর আর ভাইয়ের কাছে বেড়াতে এসে আক্রান্ত হয়ে যান ডেঙ্গুতে। এখন বাড়ি যেতে ছটফট করছেন এই তরুণ। শাকিলের বড় ভাই শাখাওয়াত হোসেন বলছিলেন, বেড়াতে এসে ভাই রোগী হয়ে গেল। যাত্রাবাড়ীর যে এলাকায় তিনি থাকেন, সেখানে মশা মারার ওষুধ দিতে কখনও দেখেননি। এলাকায় নিয়মিত ওষুধ দিলে ঈদের আগে তাদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। শিশু ওয়ার্ডে একজনের শয্যায় তিনজন :নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে প্রাপ্ত বয়স্ক ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও পুরনো ভবনে শিশু ওয়ার্ডে চলছে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা। ওই ওয়ার্ডে একজনের শয্যায় দুই থেকে তিনজন করে শিশুকে শয্যা ভাগাভাগি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে বারান্দা আর করিডোরেও শয্যা পাতা হয়েছে। তবে ওয়ার্ডজুড়েই ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করে শিশু রোগী ও তাদের স্বজনরা। গরম থেকে রক্ষা পেতে কেউ কেউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাইরে নিজেরাই ফ্যানের ব্যবস্থা করেছেন। শিশু ওয়ার্ডের ১ নম্বর ইউনিটের ৮নং শয্যায় চিকিৎসা চলছে দোলাইরপাড় স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ১১ বছর বয়সী রশ্মীমনির। একই শয্যায় কদমতলী এলাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র ১০ বছরের নাঈমেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই ছোট্ট বিছানায় দুই শিশুর স্বজনরাও অবস্থান করায় গরমে ঘামছিলেন সবাই। রশ্মীমনির মা সুমি আক্তার বলছিলেন, একদিন আগে এই শয্যায় আরও একটি ছোট্ট শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। তবে শয্যা না পেলেও চিকিৎসকরা সব সময়ই তাদের খোঁজ রাখছেন- এটা তাদের কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। তখন মেয়ে রশ্মীমনি কেঁদে কেঁদে শুধু বাসায় যাওয়ার কথা বলছিল। করিডোরে বিছানো অতিরিক্ত ৪ নম্বর শয্যায় ডেঙ্গুর চিকিৎসা চলছে সাত বছর বয়সী মাহিনুরের। তার মা শাহনাজ পারভীন সন্তানসম্ভবা হওয়ায় বাসাতে বিশ্রামে রয়েছেন। মাহিনুরের নানি সালমা বেগমই হাসপাতালে নাতির দেখভাল করছেন। সালমা বেগম বলছিলেন, নাতি বারবার মায়ের কাছে ফিরতে চাচ্ছে। কিন্তু ওর মা বিশ্রামে থাকায় হাসপাতালে আসতে পারছে না। মাহিনুরের বাবা মোয়াজ্জেমও মালয়েশিয়া প্রবাসী। তিন মাস আগে বাড়ি এলেও প্রবাসে চলে গেছেন। এমন অবস্থায় তিনি ছোট্ট নাতিকে নিয়ে কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন, তা বোঝাতে পারবেন না। হাসপাতালে ওই কয়েকজন ছাড়া আরও অন্তত ১৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তারা দ্রুত সুস্থ হতে চান। ঈদের আগেই বাড়ি ফিরতে চান। হাসপাতালের যন্ত্রণা আর সহ্য হচ্ছে না তাদের। জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. নাছির উদ্দিন বলেন, তারা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সবাইকে শয্যায় রাখা যায়নি। এজন্য বার্ন ইউনিটের নতুন ভবনে আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। | 6 |
প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাম না-জানা সাধকদের গান সংগ্রহ ও তাঁদের সান্নিধ্যে এসে নিজেদের সমৃদ্ধ করে চলেছেন 'নকশীকাঁথা' ব্যান্ডের সদস্যরা। তাঁদের লক্ষ্য বাঙালি ও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে লোকগানের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের রূপটি তুলে ধরা। নকশীকাঁথা প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি।নকশীকাঁথার ভোকাল সাজেদ ফাতেমী বলেন, 'নিজের গড়া ব্যান্ডের দেড় দশক পূর্তি অনেক বড় ঘটনা। এ উপলক্ষে আমরা উৎসব করতে চেয়েছিলাম। গত এক মাস আগে থেকে পরিকল্পনাও করছিলাম। আগামী এক সপ্তাহে চারটা টেলিভিশনে লাইভ করার কথাও পাকা ছিল। কিন্তু গত ছয়-সাত দিনে আমাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এই কয়েক দিনে আমিসহ ব্যান্ডের তিন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। কাজেই সব ধরনের আয়োজন ও কনসার্ট থেকে বিরত আছি।' তিনি বলেন, দেড় দশক পূর্তি উদ্যাপন করতে না পারার জন্য একটা বেদনাবোধ কাজ করছে ঠিকই। ১৫ বছরে নকশীকাঁথার অ্যালবাম বেরিয়েছে দুটি। ২০০৮ সালে 'নজর রাখিস' প্রকাশিত হয়েছে ডেটলাইন মিউজিক থেকে। ২০১৬ সালে নকশীকাঁথার গান শিরোনামে দ্বিতীয় অ্যালবাম প্রকাশিত হয় লেজারভিশন থেকে। অ্যালবাম ও একক গান মিলিয়ে এ পর্যন্ত তাদের ৫০টির বেশি মৌলিক গান প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের আগস্টে বন্ধু দিবসে 'তোর জন্য' শিরোনামে একটি গান প্রকাশিত হয়েছে নকশীকাঁথার ইউটিউব চ্যানেল থেকে। শৈশবের বন্দিত্ব নিয়ে সাজেদ ফাতেমীর লেখা ও সুরের একটি গান শিগগিরই প্রকাশ করছে ধ্রুব মিউজিক। তিনি বলেন, সবকিছুতে ভাঙা-গড়া থাকে। ব্যান্ডেও আছে। এটি আমাদের মানসিকতার সংকট। সেই সংকট আমরা তিনবার মোকাবিলা করার পর গত প্রায় সাত বছর থেকে আমাদের বর্তমান লাইনআপ বহাল আছে।বর্তমানে নকশীকাঁথার লাইনআপ ভোকাল ও দলপ্রধান সাজেদ ফাতেমী। কাহন ও ড্রামস-বুলবুল সাহা। লিড গিটার, রাবাব, ম্যান্ডোলিন ও দোতারা-জে আর সুমন। বেইজ গিটার-ফয়সাল। কি-বোর্ড, হারমোনিকা ও অ্যাকোর্ডিয়ান-রোমেল হাসান। | 2 |
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাশার আল-আসাদ ৯৫.১ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এক কোটি ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে এক কোটি ৪২ লাখ ৩৯ হাজার। নির্বাচনে বাশার আসাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন সরকার বিরোধী নেতা মাহমুদ আহমাদ মারেয়ি এবং সাবেক মন্ত্রী ও এমপি আব্দুল্লাহ সাল্লুম আব্দুল্লাহ। নির্বাচনে মারেয়ি চার লাখ ৭০ হাজার ২৭৬ ভোট এবং আব্দুল্লাহ দুই লাখ ১৩ হাজার ৯৬৮ ভোট পেয়েছেন। সিরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাত বছরের জন্য দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট পান। ২০০০ সালে আসাদের পিতা হাফেজ আল-আসাদ মৃত্যুবরণ করার পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বাশার আল-আসাদ। তার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের মাঝামাঝি সময়ে সিরিয়ায় বিদেশি মদদে সন্ত্রাসবাদ চাপিয়ে দেয়া হয়।প্রায় এক দশকের সহিংসতা ও গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়ায় বর্তমানে তুলনামূলক শান্তি বিরাজ করছে এবং জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বুধবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।সূত্র : পার্স টুডে | 3 |
দৌলতখানে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতবিনিময় সভা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক সকলকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, 'ভোট বানচালের চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'ইউএনও মোহাম্মদ তারেক হাওলাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ভোলা জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, 'দৌলতখানে ৭টি ইউপি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করলে শক্ত হাতে দমন করা হবে। অনেক প্রার্থী মাঠে বলপ্রয়োগ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।' | 6 |
জনতা ব্যাংকের ভুয়া এলসির বিপরীতে ৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ টাকা আত্মসাতের মামলায় হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মীর আহম্মেদ সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ১৬ জুন হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিল করে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ। ভুয়া এলসির বিপরীতে জনতা ব্যাংকের ৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ টাকা আত্মসাতের মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ গত ১০ মার্চ তাকে জামিন দেন। এর বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আপিল বিভাগ তার জামিন বাতিল করে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। | 6 |
শিরোনামের প্রশ্নটা আমার নয়। ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী, যার সঙ্গে আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যখনই সর্বোচ্চ পর্যায়ে কোনো সফর হয়, তখনই এ প্রশ্ন সামনে আসে। তা পথেঘাটে যেমন, তেমনি পত্রপত্রিকায় এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে। চার দিনের সফর শেষে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন। সফর চলাকালে এবং শেষ হওয়ার পর এবারও এ প্রশ্ন চলছে। এ শিরোনাম সে কারণেই। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে সফরের সময় তাঁরা বসে দর-কষাকষি করেন না। সে কাজটি তাঁদের অধস্তন কর্মকর্তারা সফর শুরুর আগেই সেরে রাখেন, তাঁদের পূর্বানুমতি নিয়েই। সফরের সময় দুই নেতা মুখোমুখি বসে এর আগে সম্মত সেই বিষয়গুলোতে তাঁদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন। সফরের তাৎপর্যকে দৃশ্যমান করার জন্য কিছু আনুষ্ঠানিকতারও আয়োজন করা হয়। যেমন জনাব মোদি তাঁর বিগত সফরে দুই দেশের মধ্যে বাস চলাচল উদ্বোধন করেছিলেন। কর্মকর্তা এবং মন্ত্রীপর্যায়ে দর-কষাকষির এ পদ্ধতি চলে দীর্ঘদিন ধরে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় থাকলে তার খসড়া বিনিময়, দূতদের যাতায়াত এসব নিয়ে খবর প্রকাশ থেকে জল্পনাকল্পনা চলতে থাকে। ফলে সফর শুরুর আগেই কী হতে যাচ্ছে তার একটা ধারণা পাওয়া যায়, তার খুঁটিনাটি নিয়ে গোপনীয়তা যদি বজায়ও থাকে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের আগে এ ধরনের তৎপরতা তেমন দৃশ্যমান হয়নি। সফর ঘিরে প্রত্যাশাও তাই পাখা মেলেনি। প্রত্যাশার পারদ বরং কিছুটা চড়িয়ে দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সফর-পূর্ব বক্তব্যে। এ সফরের বড় অংশ জুড়ে ছিল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিট। সামিটে অংশগ্রহণ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কান্ট্রি স্ট্র্যাটেজি ডায়ালগ অন বাংলাদেশে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি ভারতীয় এবং উপস্থিত অন্য বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সফরের দ্বিপক্ষীয় অংশ ছিল শুধু ৫ অক্টোবর। কিছু সমঝোতা স্মারক সই হবে এটা জানা গিয়েছিল আগেই, তবে তার সংখ্যা আট হবে না আঠারো, তা নিয়ে মতভেদ ছিল। অবশেষে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর বাইরে যে দুটো বিষয়ে মানুষের আগ্রহ ছিল তা হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত কতটা সাহায্য করবে, আর আসামের নাগরিক তালিকা নিয়ে উদ্বেগ। সাতটির মধ্যে তিনটি চুক্তি বাংলাদেশের মানুষের নজর কেড়েছে এক. বাংলাদেশ থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে এলপিজি রপ্তানি, দুই. চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর, তিন. ত্রিপুরার সাবরুম শহরের জন্য ফেনী নদী থেকে পানি প্রত্যাহার। বাংলাদেশে ব্যবহৃত এলপিজির বড় অংশ আমদানি করা, ব্যবসায়ীরা আমদানি করে তা বাজারজাত করেন। তাঁরা যদি এলপিজি আমদানি করে তার কিছু উত্তর-পূর্ব ভারতে রপ্তানি করে কিছু লাভ করেন, তাতে আমি দোষের কিছু দেখি না। ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছে। এ সুযোগ কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তার জন্য এই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের প্রয়োজন ছিল। ফেনী নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের যে চুক্তি তার পরিমাণ খুব বেশি নয়, এ পানি সীমান্তবর্তী সাবরুম শহরের মানুষের পানীয় পানির চাহিদা মেটাবে। আপাতদৃষ্টিতে তিনটি বিষয়ের কোনোটাই খুব বড় কিছু নয়। তবে সমস্যাটা অন্যখানে। পরিমাণ যা-ই হোক, তিনটি বিষয়েই ভারতের স্বার্থ জড়িত। মানুষের যা চোখে পড়ছে তা হলো, যেসব বিষয়ে ভারতের স্বার্থ আছে অগ্রগতি হচ্ছে শুধু সেগুলোতেই, বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কোনো অগ্রগতি নেই। সবচেয়ে দৃষ্টিকটু লেগেছে ফেনী নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের বিষয়টি। তিস্তা তো বাদ পড়ে গেছে সেই কবেই, সফরের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ছোট ছোট কয়েকটি নদীর বিষয়ে একটি রূপরেখা চুক্তি, তারও কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। মাঝখানে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো এই ফেনী চুক্তি। ঠিক এ সময়ে এ রকম একটা চুক্তি কেন করতে হবে, তা আমার কাছে এক বিস্ময়। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে আবার। সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বিষয়টি উঠেছিল। সমর্থন করে পক্ষে ভোট দিয়েছে ৩৭টি দেশ। চীন যথারীতি বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। ভারত ভোটদানে বিরত থেকেছে। ভারতের এই ভোট এবং আশ্বাস তার দুই বছরের পুরোনো অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাই ভারতের পক্ষ থেকে কোনো প্রকৃত সহায়তা আশা না করাই যুক্তিযুক্ত। আসামের নাগরিক তালিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে নিজে আশ্বাস দিয়েছেন, অতএব তিনি এটা নিয়ে অন্য কিছু ভাববেন না। ভারতের মতো রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী যদি কিছু বলেন, তাতে তো আস্থা রাখাই স্বাভাবিক। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আশ্বস্ত করেছেন যে এটা তাঁদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বাংলাদেশের উদ্বেগের কিছু নেই। এই আশ্বাস আমরা শুরু থেকেই শুনে আসছি। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর যা-ই বলুন না কেন, বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু এ ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে পারছে বলে মনে হয় না। জনাব মোদি এবং তাঁর পূর্বসূরি দুজনেই তিস্তার ব্যাপারে খুব শক্ত আশ্বাস দিয়েছিলেন। সে আশ্বাসে কোনো ফলোদয় হয়নি। এর বিপরীতে নাগরিক তালিকা নিয়ে ভারতের নেতাদের পক্ষ থেকে বরং আগাগোড়াই বিপরীতমুখী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি থেকে শুরু করে রাজ্যের নেতারা স্পষ্টভাবে বারবার বলেই চলেছেন যে এই 'বিদেশি'রা বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী এবং এঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এ বক্তব্য প্রদানকালে ভাষা ব্যবহারে অনেক সময় তাঁরা শালীনতার সীমা অতিক্রম করতেও দ্বিধা করেননি। এ সফরটার কী প্রয়োজন ছিল তাহলে-গতকাল থেকে এ প্রশ্ন অনেকবার শুনতে হয়েছে আমাকে। আমি বলেছি, এর উত্তর আমি জানি না। তৌহিদ হোসেন:সাবেক পররাষ্ট্রসচিব | 8 |
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ১ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আজ বুধবার এই আদেশ দেন। প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত। আদালত সূত্র জানায়, এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানিকালে আদালতে পরীমনিসহ তিন আসামি উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান। মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আসামিরা আবেদন করেছিলেন। এই আবেদন নাকচ করেন আদালত। আদালতের অভিযোগ গঠনের আদেশের মধ্যে দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হলো। মামলার অপর দুই আসামি হলেন আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেন। গত বছরের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। পরে রাজধানীর গুলশান থানায় করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার দুই মাসের মাথায় গত বছরের ৪ অক্টোবর আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগপত্রে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গত বছরের ১৫ নভেম্বর আমলে নেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ বদলি করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পরীমনির বাসা থেকে জব্দ মাদকদ্রব্যের বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সিআইডিকে জানানো হয়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে পরীমনির নামে মদজাতীয় পানীয় সেবনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ৩০ জুন ওই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। মামলার দুই আসামি আশরাফুল ও কবিরের মাধ্যমে পরীমনি বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বাসায় রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য রাখার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরীমনি তাঁর গাড়িটি মাদকদ্রব্য বহনের কাজে ব্যবহার করতেন। | 6 |
কক্সবাজারের পেকুয়া বাজারের হকার্স মার্কেটের সরকারি খাস জমিতে চারতলা ফাউন্ডেশনের দ্বিতল একটি ভবন (মার্কেট) নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ কোটি ২০ লাখ ৭৩ হাজার ২৫০ টাকা। ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি টেন্ডারের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ আর করপোরেশন এর কার্যাদেশ পায়। একই বছরের ৯ মার্চ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখনো ভবনের নির্মাণকাজ শুরুই করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। হকার ব্যবসায়ীরা নিজেদের দখলে থাকা জমি ছাড়ছে না। তাই তিনবার লিখিত আবেদন করেও জমি বুঝে না পাওয়ার নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি বলে দাবি করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পেকুয়া অফিস সূত্রে ও সংশ্লিষ্ট নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রকল্পের নির্মাণ স্থান নিজেদের কাছে হস্তান্তর করতে ২০২০ সালের ২০ জুলাই নির্বাহী প্রকৌশলী কক্সবাজার বরাবরে লিখিত আবেদন করে এ আর করপোরেশনের ম্যানেজিং পার্টনার আব্দুল রাজ্জাক। স্থান বুঝে পেয়ে নির্মাণকাজ শুরুর আগেই একই বছরের ২৬ আগস্ট হকার্স ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান বরাদ্দ ও অস্থায়ী পুনর্বাসনের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন দেন পেকুয়া বাজার দোকান মালিক সমিতি। এদিকে নিজেদের অফিস বরাদ্দের দাবিতে ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন দেন পেকুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। তবে ঠিকাদারের পত্র মোতাবেক ৪ অক্টোবর উপজেলা প্রকৌশলীকে কাজের স্থান (সাইট) হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী। যা আজ অবদি বাস্তবায়ন হয়নি।পরে গত ১২ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজের কার্যালয়ে পেকুয়া বাজারের ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে একটি সভা করেন। এতে নতুন ভবন নির্মাণ স্থানে অস্থায়ী শেড অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। ১৬ নভেম্বর নির্মাণ স্থানে খুঁটি দিয়ে লাল পতাকা টাঙান এলজিইডি কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী। কিন্তু সরকারি জমি না ছেড়ে উল্টো হকার ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসনে দাবিতে ২১ নভেম্বর মানববন্ধন করেন। ২৬ নভেম্বর পেকুয়া বাজার হকার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শফি হকার্স ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও দোকান বরাদ্দের দাবিতে উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে একটি লিখিত আবেদন দেন। এভাবে চিঠি চালাচালিতে কেটে যায় আরও সময়। কিন্তু কোনোভাবে জমির দখল ছাড়ে না হকার ব্যবসায়ীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে হাইকোর্টের আইনজীবী প্রবীর হালদার এলজিইডির সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি ও পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলীকে আইনি নোটিশ দেন। এতে সময়ক্ষেপণের কারণে তাদের আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ফের উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে নির্মাণকাজের স্থান হস্তান্তরের জন্য লিখিত আবেদন দেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং পার্টনার মো. আব্দুল রাজ্জাক। জমি হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২৬ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত আবেদন করেন তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম। পরে গত ৭ এপ্রিল একই আবেদন করেন বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) কমল কান্তি পাল।এত আবেদন, চিঠি চালাচালি। কিন্তু ফলাফল শূন্য। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ কার্যাদেশের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ আর করপোরেশনের দায়িত্বশীল এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শক্তিশালী একটি চক্র স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভবন নির্মাণের স্থানটি দখল করে রেখেছে। নির্মাণকাজের জন্য মালামাল, যন্ত্রপাতি কিনে ও জনবল বসিয়ে রেখে আমাদের কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। আমাদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনকে জমি বুঝিয়ে দিতে একাধিকবার বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নির্মাণ স্থান বুঝে পেলে আমরা যেকোনো মুহূর্তে কাজ শুরু করতে পারতাম।পেকুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন বলেন, হকার মার্কেটের ঝুপড়ির স্থানে ভবনটি নির্মাণ হলে বাজারের অবকাঠামোগত উন্নতি হবে। এর সুফল হকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা পাবেন। কিন্তু হকার্স সমিতির কতিপয় নেতা পুনর্বাসনের দাবি তুলে ভবনটি হতে দিচ্ছে না বা নির্মাণকাজে আরম্ভে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) কমল কান্তি পাল বলেন, করোনাকালীন সময়ে বিষয়টি নিয়ে যথাযথভাবে আগানো যায়নি। আমাদেরও একটু সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। যদিও ওই সময়টায় আমি পেকুয়ার দায়িত্বে ছিলাম না। ঠিকাদার আবেদন করলে ভবন নির্মাণকাজটির কার্যাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হবে। জমির দখলও দ্রুত তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূর্বিতা চাকমা বলেন, পেকুয়ায় আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি জানা ছিল না। তারপরও খোঁজখবর নিয়ে জটিলতা নিরসনে কাজ করব। | 6 |
ইসরাইলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাস আগামী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হচ্ছে। ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হ্যারজগের উপস্থিতিতে তেলআবিবে অবস্থিত এই দূতাবাস ভবন উদ্বোধন করা হবে। আমিরাতের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল খাজা অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। দায়িত্ব প্রাপ্তির পর গত ১ মার্চ থেকেই ইসরাইলে অবস্থান করছেন তিনি। এর আগে গত ২৯ ও ৩০ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে যান ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ায়ির লাপিদ। সফরে তিনি আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইসরাইলের দূতাবাস ও বৃহত্তম শহর দুবাইয়ে কনস্যুলেটের উদ্বোধন করেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত বছরের আগস্টে পারস্য উপসাগরীয় দুই দেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইলের সাথে স্বাভাবিক কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে সম্মতি জানায়। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউজে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইলের সাথে কথিত 'ইবরাহীমি চুক্তির' মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তায় চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইলে তাদের কূটনীতিক মিশন প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসরাইলের দখলদারিত্বের শিকার ফিলিস্তিনি আরবরা এই চুক্তিকে তাদের পিঠে ছুরিকাঘাতের সাথে তুলনা করছেন। সূত্র : আই টোয়েন্টি ফোর নিউজ | 3 |
আমাদের শৈশবে ঈদের আনন্দ শুরু হতো অনেক আগে থেকে। মা বাসায় হাতে সেমাই বানানোর দিন থেকে। বা হয়তো তারও আগে থেকে। আমরা ঈদের অপেক্ষা করতাম হাতের কড়ায় দিন গুনে গুনে। আকাশে চাঁদের দিকে লক্ষ্য রাখতাম ২৭ রোজারও আগে থেকে। তখন দেশ স্বাধীন হয়েছে মাত্র। চাঁদ দেখার জন্য কষ্ট করে কমিটি গঠন করতে হয়নি সরকারকে। পরিবেশদূষণ বলে ছিল না কিছু। নিজের চোখে আকাশে অতি সরু সোনালি একটা বাঁক খুঁজতাম সবাই মিলে। এর মধ্যে কোথাও একটা শোরগোল শুরু হতো। সেটা শুনে 'হোয়, কালকে ঈদ!' বলে ছোট্ট একটা লাফ দিয়ে হাত ছুড়তাম বাতাসে। এই লাফালাফিটা চলত অনেক রাত ধরে। সাভার রেডিও কলোনিতে থাকতাম। আমার মতো আরও ছোট ছোট বাচ্চা ছিল সেখানে। একজন আরেকজনকে দেখে 'হোয়, কালকে ঈদ!' বলে বাতাসে হাত ছুড়ে লাফ দিতাম। অন্যজন একইভাবে তার খুশি জানাত। 'হোয়, কালকে ঈদের দল' তারপর সারা পাড়া দল বেঁধে ঘুরে বেড়াতাম। কেন ঈদ এত আনন্দের, তা কি আমরা চিন্তা করতাম? করার কি বয়স বা পরিবেশ ছিল? ছিল না। কিন্তু আনন্দিত হওয়ার মতো মন ছিল। আনন্দিত হওয়ার ক্ষুধা ছিল। আমাদের বাবা-চাচারা ছিলেন স্বৈরাচারী ধরনের। ঈদের কাপড় কিনে আনতেন নিজের পছন্দে। বাসায় নিয়ে আসার পর দেখার সুযোগ হতো আমাদের। যে রং হোক, যে ডিজাইন হোক, তাতেই খুশি থাকতাম। একমাত্র টেনশন থাকত ঈদের কাপড় কেউ যেন আগে না দেখে ফেলে সেটা নিয়ে। ঈদের দিন আনকোরা নতুন একটা কিছু পরে সাইনবোর্ডের মতো হয়ে ঘুরে বেড়াতাম। তবে ঈদের কাপড় নিয়ে কোনো বিপত্তি হয়নি তা নয়। যখন একটু বড় হয়েছি, নয়-দশ বছর বয়স, সাভার থেকে পুরান ঢাকায় এসে থাকার দিন শুরু হয়েছে। তখন ছিল লম্বায় জুতো ঢেকে ফেলা বেলবটম পরার ফ্যাশন। বেলবটমের নিচের দিক থাকত মহা ঢোলা, এখন মেয়েরা যে পালাজ্জো পরে, তার চেয়েও বেশি। বেলবটম প্যান্টওয়ালা কয়েকজন একটা রাস্তা দিয়ে হাঁটলে সেই রাস্তায় নাকি আর ঝাড় দিতে হতো না কাউকে! আমার বাবা ফ্যাশন বুঝতেন কি না জানি না। তবে দোকানে তখন বেলবটম ছাড়া আর কিছু থাকত না বোধ হয়। আমিও তাই বেলবেটম পেলাম এক ঈদে। রোগাপটকা শরীরে প্রায় বুক থেকে পায়ের ডগা পর্যন্ত বেলবটম পরলাম। বেলবটম যথেষ্ট ঢোলা হয়েছে। মহাখুশিতে বাসা থেকে বের হলাম। গলিতে পা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে আমাকে দেখে ভিড় জমে গেল। আমাদের গলির মুলুক খান, হোলা (আসল নাম বারেক), হেলালরা তো আছেই, দেখি পাশের গলিগুলো থেকে দলে দলে ছুটে আসছে মানুষ। তারা আমার প্যান্ট ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে, কেউ আবার নিচটা ধরে টানে। মুলুক খান আমাদের ফুটবল ক্যাপটেন। সে মোটা গলায় বলে, 'লঙ্গি পিনছ, না প্যান!' মানে লুঙ্গি পরছ নাকি প্যান্ট! লক্ষ্য করে দেখি, আমার বেলবটম ফুলে লুঙ্গির মতো হয়ে আছে। প্যান্টের দুটো পা থাকে। যত ঢোলা হোক, পাগুলোর মাঝামাঝি ভাঁজ (আমরা বলতাম কিরিচ) থাকে বলে তা লম্বালম্বি দেখায়। আমার বেলবটমের কাপড়টা এত মোটা যে তাতে কিরিচ পড়েনি। এর যে দুটো পা, তা বোঝা যাচ্ছিল না। কাজেই 'লুঙ্গি' দুহাতে উঁচু করে তুলে বাসায় ছুটে এলাম। লুকিয়ে কাপড় বদলে আগের বছরের হাফপ্যান্ট পরলাম। হাফপ্যান্টে বেলবটম বা চিপাবটমের ব্যাপার নেই। কাজেই কেউ আমাকে দেখতে ছুটে এল না। কেউ পুরোনো প্যান্ট পরা নিয়ে প্রশ্ন করল না। আমি খুশিমনে ঈদ করলাম পুরোনো কাপড়ে। আমাদের সুখবোধ ছিল এমনই। ঈদ মানে একটা কাপড়, কখনো একটা স্যান্ডেল, হাতে বানানো সেমাই, জর্দা, মুরগির মাংসের একটা টুকরো, আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে চার আনা-আট আনা সালামি (ঈদি)। বছরে এক দিন কোকাকোলা বা ইগলু আইসক্রিম খেতাম ঈদের সালামির টাকায়। ভাবতাম বড় হলে, টাকা হলে, একদিন সারা দিন শুধু কোক খাব, শুধু কোক। এটা চিন্তা করেই মন ভরে যেত। 'হোয়, কালকে ঈদ'-এর মতো আনন্দ লাফিয়ে উঠত বুকের ভেতর ক্ষণে ক্ষণে। আমরা ছিলাম অতি অল্পতে খুশি। আমাদের সন্তানদের অনেক বেশিতেও এত খুশি দেখি না। ওরা হলো জিডিপি জেনারেশন। এত জিডিপি, তবু তেমন আনন্দ নেই। আর আমাদের শৈশব ছিল ভুটানের মতো 'হ্যাপিনেস ইনডেক্স' ঘরানার। ঈদ ছিল খুশির পাহাড়চূড়া। সেই চূড়াটায় যদি নিতে পারতাম আমাদের শিশুদের! ঈদ এলে ওরাও যদি লাফিয়ে বলত: 'হোয়, কালকে ঈদ!' আসিফ নজরুল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক | 10 |
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে চল্লিশ দিনের কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় চলমান প্রকল্পে শ্রমিকের বদলে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। উপজেলার দিগদাইড় ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই কাজ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অতি দরিদ্রদের জন্য চল্লিশ দিনের কর্মসূচিতে (ইজিপিপি) শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও খননযন্ত্র দিয়ে নামমাত্র খরচে মাটি কাটার কাজ করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস বলছে, আইনে আছে শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটাতে হবে। তবে খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটলে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।খোঁজ জানা গেছে,২০২১-২২ অর্থ বছরের কাজের কাজের বিনিময়ে টাকা প্রকল্পের ২য় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে। দিগদাইড় ইউনিয়ন ইজিপিপির মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে শ্রমিকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে খনন যন্ত্র।সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া শহীদ মিয়ার বাড়ি থেকে হারুন মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে এই কাজের জন্য ৪১ জন শ্রমিকের জন্য চল্লিশ দিনের কাজ বাবদ ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প এলাকার হত দরিদ্রদের কাজ না দিয়ে প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য এরশাদ উদ্দিন খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার কাজ করাচ্ছেন।এ ব্যাপারে প্রকল্প সভাপতি এরশাদ উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, দিগদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া আসাদের নির্দেশে শ্রমিকের বদলে খনন যন্ত্র দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। চেয়ারম্যানের।এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা বিআরডিবির অফিসার লিটন মোহন দে বলেন, 'আমি শুনেছি ওই প্রকল্পের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। তবে ওইখানে কাজ হচ্ছে কী না বা কবে থেকে কাজ শুরু হয়েছে তার কিছুই আমি জানি না। কাজ শুরু হয়ে থাকলে আমাকে জানানো হয়নি। সুতরাং এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না।'এ নিয়ে জানতে দিগদাইড় ইউপির চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া আসাদ ফোন করা হয়। সামনাসামনি কথা বলবেন জানিয়ে তিনি ফোন কেটে দেওয়ায় তাঁর মন্তব্য জানা যায়নি।এ নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম আবু মোতালেব বলেন, 'আইনে আছে শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটাতে হবে। তবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটলে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
এতদিন গুঞ্জণ ছিল প্রভাসের বিয়ে। আর সেই গুঞ্জনে এসেছিল নার্গাজুনের মেয়ে ও অনুশকা শেট্টির কথাও। আর এবার যবে থেকে বাহুবলি প্রভাসের 'সাহো' ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শ্রদ্ধা কাপুর। তবে থেকেই ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে আর কাউকেই নাকি নয়, শ্রদ্ধা কাপুরকে বিয়ে করতে চলেছেন প্রভাস! আবার সেই গুঞ্জনেই এবার বারুদ দিলেন খোদ শ্রদ্ধা কাপুরের বাবা শক্তি কাপুর। তবে সোজাসুজি নয়, হালকা করে ইশারা দিলেন শ্রদ্ধা কাপুরের বিয়ে নিয়ে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শক্তি কাপুর জানান, শ্রদ্ধা আপাতত ক্যারিয়ার নিয়েই বেশি ভাবছে। তবে বাবা হিসেবে মেয়ের বিয়ে নিয়ে একটু উৎসাহ তো থাকবেই। তবে আমি জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ব্যাপারে শ্রদ্ধাকে পুরো স্বাধীনতা দিয়েছি। শ্রদ্ধা নিজের পছন্দের পুরুষকেই বেছে নেবে। বিডি প্রতিদিন/১৬ মে ২০১৮/আরাফাত | 2 |
সদ্য সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম সেলিমকে আহ্বায়ক করে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমোদনক্রমে এই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।ঘোষিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন শিহাব উদ্দিন শাহীন ও সহিদউল্লাহ খান সোহেল।সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীকে সদস্য হিসাবে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটিতে রয়েছেন জেলার আওয়ামী লীগ দলীয় সকল সাংসদের। কমিটিতে রাখা হয়েছে একরাম চৌধুরীর স্ত্রী ও কবিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান বেগম কামরুন্নাহার শিউলীকে। একরামের বড়ভাই হাজী ইব্রাহিম মিয়া ও ভাগিনা জহিরুল হক রায়হানকেও কমিটিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আয়েশা আলীর সঙ্গে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন তাঁর স্বামী ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীও।কমিটিতে রাখা হয়নি ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জাকে। তবে কোম্পানীগঞ্জের জন্য চারটি পদ ফাঁকা রাখা হয়েছে। | 9 |
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় ঐক্য আরও সুসংহত করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশে শ্রেণিবৈষম্য দূর করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে, দেশের মালিকানা জনগণের মধ্যে ফিরিয়ে দিতে হবে। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও তিনি সোমবার পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে শিখিয়েছিলেন। তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন বলে কখনও এই জাতি পরাজিত হয়নি। তার দেখানো পথ ধরে দেশ স্বাধীন হয়েছে। ওই সময় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। আজ ষোলো কোটি মানুষও ঐক্যবদ্ধ হবে। জনগণের ক্ষমতায়ন চাইলে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে। ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখার মতো কোনো শক্তি নেই। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এ দেশে একটি সংবিধান দিয়েছেন। তার সেই সংবিধানে উল্লেখ আছে যে দেশের মালিক জনগণ। মালিকের যেমন অধিকার থাকে, তেমনি মালিকানা ধরে রাখার জন্য তাদের দায়িত্ববোধও থাকতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশে আজ দুর্দিন চলছে। এই সরকারের পাশে কেউ নেই। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পাশে অনেকে আছেন। ড.কামাল বলেন, এর আগে বলেছিলাম সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই সরকার ২০টির বেশি আসন পাবে না। এখন তা আরও কমেছে। কয়েকদিন আগেও ড. কামাল হোসেন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচিত হতে পারতেন না। কিন্তু এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তিনি এখন সারাদেশের নেতা। দেশের যে কোনো স্থান থেকে নির্বাচন করলে তিনি নির্বাচিত হবেন। তিনি আরও বলেন, সংলাপের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিশাল বিজয় অর্জন হয়েছে। কারণ এই সরকার বলেছিল তারা সংলাপে বসবে না, তবে বসেছে। সরকার ওই সংলাপে গোলাপের সুবাতাস পায়নি, জনগণের রাগ-ক্ষোভের গন্ধ পেয়েছে। সরকার যার সঙ্গে সংলাপে বসেছে সেই ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পাকিস্তানি শাসক ইয়াহিয়ার সঙ্গে সংলাপ করেছেন। আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা তার সঙ্গে সংলাপে বসেছেন। এই সরকার মুখে জোর চালালেও তাদের আত্মার জোর নেই। এখন সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি না মানলে তাদের ছালাও যাবে, মালও যাবে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জেলহত্যার ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকেই দায় নিতে হবে। কারণ তাদের নেতা খন্দকার মোশতাকের নির্দেশেই সেদিন তাদের জেলখানায় হত্যা করা হয়েছিল। আর সেই জেলহত্যার সঙ্গে সেদিন যারা জড়িত ছিল তাদের প্রেতাত্মারা এখনও এই সরকারের আশপাশে অবস্থান করছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সব দায়-দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে। জাতি যদি কোনো সংকটে পড়ে তাহলে এর দায়-দায়িত্বও প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে। জনগণ মাঠে নামলে তারা আন্দোলনের ফসল নিয়েই ঘরে ফিরবে। কাদের সিদ্দিকীর সহধর্মিণী ও দলের নেতা নাসরিন সিদ্দিকী বলেন, তার স্বামী মহান মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও দেশের যে কোনো পরিস্থিতিতে অবদান রেখেছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকবেন বলে বিশ্বাস করি। গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, এই সরকারের লাইসেন্স নেই, ফিটনেস নেই। তাই এই সরকারকে রাস্তার ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, সংলাপের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর দূরত্ব কমছে বলে এই উদ্যোগকে তারা সাধুবাদ জানান। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ। | 9 |
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় আবারও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ লঘুচাপের প্রভাবে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে পটুয়াখালীতে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। টানা বৃষ্টির মাঝে গতকাল ২৭ জুলাই রাত ৯টার থেকে ১২টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় চলে।পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, গতকাল সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৫১.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত বলে নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া অফিস।এ বৃষ্টিপাত ও বন্যায় সাগর ও নদীর পানির উচ্চতা ৩ থেকে ৪ ফুট বেড়েছে। দুমকি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অনেক গাছ উপড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও তার ছিঁড়ে গেছে, গতকাল থেকে বন্ধ রয়েছে উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগ। বৃষ্টিপাতের কারণে আমনের বীজতলাসহ বহু ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠানে পানি জমেছে, সবজির খেত সহ বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের ডুবে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু গাছ উপরে ঘরের ওপর পড়লেও কেউ হতাহত হয়নি। মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছিদ্দিক ও ইব্রাহীম মোল্লা বলেন, কপালের জোরে বেঁচে গেছি। গাছটি আমাদের ঘর নিয়েছে; আমরা তো মরি নাই। আরেকটু হলে গাছের চাপায় ঘরের সঙ্গে পিষ্ট হয়ে যেতাম।পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিম্নচাপ, ভারী বর্ষণ ও ঝড়ের ফলে নদীর পানি তিন ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া পায়রা-লোহালিয়া ও তেঁতুলিয়া প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যার ফলে উপকূলের নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পটুয়াখালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এখনো বেশ উত্তাল রয়েছে। বাতাসের চাপও আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তাই পায়রা বন্দরকে স্থানীয় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।এদিকে সাগর উত্তাল থাকায় মাছধরা ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে জেলার মৎস্য বন্দরগুলোতে বহু মাছ ধরার ট্রলার নোঙর করেছে। | 6 |
আজ শুক্রবার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাত থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে নামবেন উপকূলীয় এলাকার তিন লাখ জেলে। বিগত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ইলিশ মাছ বড় হতে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা বলে মৎস্য অধিদপ্তরের ডেপুটি চিফ মো. তানভীর হোসেন চৌধুরী জানান। তিনি আরো জানান, উপকূলীয় ১৪ জেলা, ৩৫ উপজেলা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের মৎস্য বিভাগের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান তালুকদার বলেন, 'ইলিশ মাছের বংশ বৃদ্ধির জন্য এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্যে সফল হয়েছে।' বরিশাল বিভাগে নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে এক লাখ ৪৩ হাজার ৮৭ জন সমুদ্রগামী জেলেকে ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। বরিশালের মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস বলেন, 'এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান উদ্দেশ্য ইলিশ মাছকে নিরাপদে মা মাছে রূপান্তর করা, যাতে করে তারা নিরাপদে নদীতে ডিম ছাড়তে পারে।' ভোলা সদর উপজেলার তুলাতলি এলাকার জেলে আলাউদ্দিন মাঝি বলেন, 'বর্তমানে নদী ও সাগরে কোনো ইলিশ নেই, এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও আমাদের তেমন লাভ নেই।' | 6 |
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ আগামী ২৩ মার্চ বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের বেলমার্শ কারাগারে। গত বছরের নভেম্বরের শুরুতে বন্দী অ্যাসাঞ্জকে কারাগারে বাগ্দত্তা স্টেলা মরিসকে বিয়ে করার অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। তবে বিয়েতে মাত্র চারজন অতিথিকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জনপ্রিয় ব্রিটিশ ডিজাইনার ভিভিয়েন ওয়েস্টউড স্টেলা মরিস ও অ্যাসাঞ্জের বিয়ের পোশাকের ডিজাইন করছেন। অ্যাসাঞ্জের বাবা ও তাদের পূর্বপুরুষেরা স্কটল্যান্ডের হওয়ায় বিয়েতে অ্যাসাঞ্জ পরবেন সামরিক ধাঁচে তৈরি স্কার্টের মতো স্কটল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাক। বিয়ে নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত স্টেলা মরিস। রবিবার অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে স্টেলা মরিস বলেন, 'সামগ্রিক পরিস্থিতি বিরূপ হলেও আমরা অবশ্যই বিয়ে নিয়ে খুবই উত্তেজিত। আমাদের বিয়ের পরিকল্পনায় বেআইনি হস্তক্ষেপও করা হচ্ছে।' স্টেলা আরও বলেন, 'জুলিয়ান বিয়ের জন্য মুখিয়ে আছে, কারণ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানোর অনেক দিন পর অবশেষে আমাদের পরিণয় হচ্ছে। সে বিদেশি একটি শক্তির (যুক্তরাষ্ট্র) ইশারায় এখন বন্দী। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও গঠন করা হয়নি। এটা সম্পূর্ণরূপে একজনের জন্য অসম্মানজনক।' যুক্তরাজ্যের বিবাহ আইন ১৯৮৩-এর আওতায় বন্দীরা কারাগারে বিয়ের জন্য আবেদনের সুযোগ পান। আবেদন মঞ্জুর হলে সম্পূর্ণ খরচ নিজেদের মিটিয়ে বিয়ে করতে হবে তাদের। ২০২১ সালের শেষ দিকে কারাগারে বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে কারা গভর্নরের কাছে আবেদন করেন অ্যাসাঞ্জ। নভেম্বরে তার আবেদন মঞ্জুর হয়। | 3 |
করোনাভাইরাসে স্পেনে একরাতে নতুন করে আরও ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে এখনো করোনা সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরও অনেক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ২০৯। এমন অবস্থায় দেশটিতে জরুরি অবস্থার তিন ধাপের প্রথমটি জারি হয়েছে। খবর দ্যা লোকাল স্পেনের স্পেনের একটি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটিতে আশঙ্কাজনক হারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি অবস্থার তিন ধাপের প্রথমটি অর্থাৎ 'জরুরি রাষ্ট্রীয় সতর্কতা' (স্টেট অব এলার্ট) জারি করেছে দেশটির সরকার। স্টেট অব এলার্ট জারি থাকবে ১৫ দিন। এছাড়া এই জরুরি সতর্কতা জারির কারণে দেশটির সরকার দেশব্যাপী বিস্তৃতি নানা পদক্ষেপ নিতে পারবে এবং প্রয়োজনে মানুষকে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়াও হতে পারে। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে রাজধানী মাদ্রিদে সকল ধরনের রেস্তোরাঁ, পানশালা এবং দোকান বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। শুধু সুপারমাকের্ট এবং ওষুধের দোকানগুলোই খোলা থাকবে। টিভিই নামের একটি গণমাধ্যম বলছে, এটা শুরু হতে পারে শনিবার। তবে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভা এ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। বিশ্বের মধ্যে পঞ্চম সর্বোচ্চ করোনাভাইরাস আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। ইউরোপে ইতালির পর দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটিতে করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়েছিল মাদ্রিদ এবং বাস্ক কাউন্টি থেকে। | 3 |
বিবিসি রাশিয়ায় তার সাংবাদিকদের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করছে। 'ভুল খবর' ছড়ালে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের আইনের প্রতিবাদে বিবিসি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে রাশিয়ান ভাষায় বিবিসি সংবাদ এখনও দেশের বাইরে থেকে করা হবে।বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি বলেছেন, 'এই আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে হচ্ছে।'ক্রেমলিন ইউক্রেনে সংঘাতকে 'বিশেষ সামরিক অভিযান' বলে অভিহিত করার পরিবর্তে যুদ্ধ বলায় আপত্তি জানায়। রাশিয়ায় বিবিসির ওয়েবসাইটের প্রবেশাধিকার আগেই সীমাবদ্ধ ছিল।এছাড়া ডয়চে ভেলে, মেডুজা এবং রেডিও লিবার্টিও তাদের পরিষেবা সীমিত করেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা আরআইএ।রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পাস করা আইনের প্রতিক্রিয়ায় মহাপরিচালক টিম ডেভি বলেছেন, 'এটি আমাদের কাছে অস্থায়ীভাবে রাশিয়ান ফেডারেশনের বিবিসি নিউজের সমস্ত সাংবাদিক এবং তাদের সহায়তা কর্মীদের কাজ স্থগিত করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। তবে রাশিয়ান ভাষায় আমাদের বিবিসি নিউজ সার্ভিস রাশিয়ার বাইরে থেকে কাজ চালিয়ে যাবে।'টিম ডেভি বলেছেন, 'আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা আগে, আমরা শুধুমাত্র তাদের কাজ করার জন্য তাদের ফৌজদারি মামলার ঝুঁকির মুখে ফেলতে প্রস্তুত নই আমি তাদের সকলকে তাদের সাহসিকতা, দৃঢ়তা এবং পেশাদারিত্বের জন্য শ্রদ্ধা জানাতে চাই'বিবিসির মহাপরিচালক বলেছেন, 'লক্ষ লক্ষ রাশিয়ানসহ যারা আমাদের সংবাদ পরিষেবাগুলি ব্যবহার করে তাদের জন্য সঠিক, স্বাধীন তথ্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছি।'রুশ সেনাদের নিয়ে 'ভুল খবর' ছড়ালে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে বিল পাস করেছিল রাশিয়ার সংসদ। আজ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই বিলে স্বাক্ষর করেছেন। প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে তা আইনে পরিণত হয়েছে। বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আইনে বলা হয়, সামরিক বাহিনী সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হলে জেল-জরিমানা হতে পারে। মিথ্যা তথ্যের কারণে গুরুতর পরিণতি হলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। | 3 |
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নিখোঁজের পর ডোবা থেকে হেলাল উদ্দিন (২২) নামের এক সিএনজিচালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আরো তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার নবীপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে মুরাদনগর থানা পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (২৪), একই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে জাহাঙ্গীর (২১) ও আবু তাহেরের ছেলে এরশাদ (২৯)। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাদেকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে এজাহারনামীয় ৪ ও ৫ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ২ ও ৩ নম্বর আসামিসহ ঘটনায় জড়িত অপর এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল সড়কের নিউ থ্রি-স্টার ব্রিকস ফিল্ডের পাশের একটি ডোবা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর হেলাল উদ্দিন (২২) নামের এক সিএনজিচালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হেলাল উদ্দিন উপজেলার রহিমপুর গ্রামের হিরন মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ওইদিনই পাঁচজনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহতের বড় ভাই জালাল উদ্দিন। | 6 |
এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন 'দ্য রক'খ্যাত হলিউড তারকা ডোয়াইন জনসনের একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে দেখা হয়েছে ৭৫ লাখবার। ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই ভিডিও। যদিও সেই ভিডিওতে নেই দ্য রক। তবে কী সেই ভিডিও? সেই ভিডিও চিটমিলের। চিটমিলে কী খান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনকারী হলিউড তারকাদের একজন-দ্য রক, দেখে নেওয়া যাক। এই খাবার খাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে দ্য রক লিখেছেন, 'জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন আর শব্দের দরকার পড়ে না। শব্দকে মনে হয় বাহুল্য। আমার এই চিটমিল তেমনই এক অনুভব দিয়েছিল। আপনারাও স্বাস্থ্যকর খাবার খান। আর চিটমিল উপভোগ করুন।' () রক খেয়েছেন শেফ পুটির বানানো বিখ্যাত প্যানকেক। সুস্বাদু এই প্যানকেক নিয়ে পিপল ম্যাগাজিনে হয়েছে ফিচার। রকের ব্রেকফাস্টের জন্য কৃষ্ণাঙ্গ জনপ্রিয় এই শেফ বানিয়েছিলেন মূলত কলা দিয়ে তৈরি এই বিশেষ প্যানকেক। সেই প্যানকেকে রক মাখিয়ে নিয়েছেন বিশেষ পিনাট বাটার। সঙ্গে ছিল মিষ্টি ক্রাঞ্চি গ্রানোলা। গ্রানোলা হলো ওটস, বিভিন্ন বাদাম, মধু, লাল চিনি, ভাজা চাল দিয়ে তৈরি এক ধরনের মজাদার খাবার। এখানেই শেষ নয়। এর সঙ্গে আরও ছিল ম্যাপল সিরাপ। এই খাবারের ভিডিও দেখে রকভক্তরা দারুণ খুশি। অনেকেই এটাকে বিশ্বের সেরা ব্রেকফাস্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন। খাওয়া বাবদ প্রতিদিন রকের খরচ কিন্তু বেশি নয়। প্রতিদিন তিনি ৪২ ডলার বা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ করেন খাওয়ার পেছনে। এর একটা বড় অংশ খরচ হয় সামুদ্রিক কড মাছ আর ডিমের পেছনে। প্রতিদিন তিনি ২ কেজি ৩০০ গ্রাম কড আর ১২টা ডিম খান। এ ছাড়া স্টেক, চিকেন-এগুলো তো আছেই। পেশির জন্য তাঁকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ প্রোটিন খেতে হয়। রক দিনে ৫ হাজার ১৬৫ ক্যালরি গ্রহণ করেন। তাঁর বয়সী সাধারণ পুরুষ গড়ে আড়াই হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। | 4 |
উত্তর থাইল্যান্ডের একটি গুহার ভেতর আটকে থাকা বাকি আট জন এবং তাদের কোচ এখন অপেক্ষায় আছে গুহার বাইরে বের হওয়ার জন্য। উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন এই উদ্ধার অভিযান রাতভর স্থগিত করা হয়। রবিবার চারজনকে নিরাপদভাবে উদ্ধার করে আনা হয়। গুহার মধ্যে বন্যার পানি অব্যাহত প্রবাহ এবং এয়ার ট্যাং প্রতিস্থাপন করার জন্য উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ সোমবার সকালে গুহার মুখে কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে উদ্ধার অভিযান আবারো শুরু করার জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কখন শুরু হবে এ ব্যাপারে কোন নিশ্চিত খবর পাওয়া যায় নি। গুহার মুখে সাতটা অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রবিবার বৃষ্টির গতি কিছুটা থামলে উদ্ধার কর্মীরা সেই সুযোগটা গ্রহণ করে। কিন্তু রাতের বেলা আবারো তুমুল বৃষ্টিপাত হয়। এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলছে সামনের দিনগুলোতে আরো বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেভাবে এদের বাইরে আনা হচ্ছে গুহার যে জায়গায় এই ছেলেরা আটকে পড়েছে, সেখানে যাওয়া এবং সেখান থেকে আবার গুহামুখ পর্যন্ত ফিরে আসতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ডুবুরিরও প্রায় এগারো ঘণ্টা সময় লাগছে। এর মধ্যে কিছুটা পথ হাঁটতে হয়, কিছুটা পথ পানির ভেতর দিয়ে হেঁটে আগাতে হয়। অনেক চড়াই-উৎরাই আছে। আর অনেক জায়গা পানিতে ডুবে আছে। সেখানে ডুব সাঁতার ছাড়া উপায় নেই। আর এই পুরো যাত্রাটাই ঘুটঘুটে অন্ধকারে। প্রত্যেক ছেলেকে পুরো মুখ ঢাকা অক্সিজেন মাস্ক পড়তে হচ্ছে। প্রতিজনের সামনে এবং পেছনে দুজন ডুবুরি থাকছে গাইড হিসেবে। এরা তাদের এয়ার সিলিন্ডারও বহন করছে। সবচেয়ে কঠিন অংশটা মাঝামাঝি জায়গায়। এটিকে একটা টি-জাংশন বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। এই জায়গাটা এতটাই সরু যে সেখানে ডুবুরিদের তাদের এয়ার ট্যাংক খুলে ফেলতে হচ্ছে। এরপর ক্ষণিকের যাত্রাবিরতির জন্য গুহার মধ্যে একটা ক্যাম্প মতো করা হয়েছে। সেখান থেকে বাকীটা পথ পায়ে হেঁটে তাদের গুহামুখে আসতে হচ্ছে। বেরিয়ে আসার পর তাদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। | 3 |
চৌগাছার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকঘন্টার ব্যবধানে কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে ৫ শিশু। পাশাপাশি অন্তত ১০টি গরু-ছাগলকে কামড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো। গত শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। আহত শিশুদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তাদের পরিবারের সদস্যরা।কুকুরের কামড়ে আহত মারিয়ার বাবা পৌরসভার বাকপাড়া গ্রামের মামুন হোসেন বলেন, গত কিছুদিন যাবৎ পৌর এলকায় বে-ওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়ে গেছে। কুকুরগুলো গবাদিপশুসহ শিশুদের উপর আক্রমণ করছে। তিনি বলেন, আমার মেয়ে শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলছিল। এসময় একটি বে-ওয়ারিশ কুকুরে কামড়ে তাকে আহত করে। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের উপ-সহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (এসএসিএমও) লিয়াকত হোসেন বলেন, হাসপাতালে আনার পর আমরা কুকুরে কামড়ানো রোগিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকি। পরে তাঁদের জলাতঙ্ক রোগের টিকা নিতে হয়। চৌগাছা পৌরসভায় ককুরে কামড়ানো রোগিদের টিকা দেয়া হয়ে থাকে। রোগিরা বাইরে ফার্মেসি থেকেও টিকা নিতে পারেন।স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিককালে চৌগাছা পৌর এলাকায় বে-ওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণ বেড়ে গেছে।পৌরসভার সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর সাইবি বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে একটি কুকুরে আমার একটি ছাগলের বাচ্চাকে কামড়ে দেয়।চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনার জন্য কুকুর মারা অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছেনা। | 6 |
রংপুরে নার্সারি ব্যবসায়ীকে অপহরণের ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রোববার সন্ধ্যায় রংপুর র্যাব-১৩'র পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন- রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের ফুলবাড়ি চওড়া গ্রামের বাচ্চু চন্দ্র (৫২), স্বপন রায় (২২) ও খাদিজা বেগম (৩৭)। রংপুর র্যাব-১৩'র সহকারী পরিচালক মাহমুদ বশির আহমেদ জানান, খুলনা খালিশপুর গোয়ালখালীতে বিশুদ্ধ এগ্রো নার্সারির মাধ্যমে চারা গাছ উৎপাদন ও বিক্রি করে আসছিলেন নার্সারি ব্যবসায়ী খন্দকার শাহাবুল ইসলাম (৫৭) ও মো. ফারুক হোসেন (৩২)। শাহাবুল ফেসবুকে একটি পেজ খুলে ওই নার্সারির চারা বিক্রি করে আসছিলেন। সম্প্রতি অপহরণকারী চক্রের সদস্য গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিরত ইউনিয়নের ফুলবাড়ি চওড়া গ্রামের শাকিবুল ও সাহাবুদ্দিন চারা কেনার উদ্দেশে ওই নার্সারিতে যায়। তারা চারাগুলো পছন্দ করে তাদের বাগান দেখতে শাহাবুল ও ফারুককে রংপুরে আসতে বলেন। পরে নার্সারি দেখতে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় খুলনা থেকে বাসে করে রংপুর নগরীর মর্ডান মোড়ে আসেন তারা। এরপর অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা তাদের মোটরসাইকেলে করে গঙ্গাচড়া ফুলবাড়ি চওড়া গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে শাহাবুল ও ফারুকের চোখ, হাত-পা বেঁধে একদিন আটকে রাখে এবং তাদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে র্যাবের একটি দল পরদিন রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণের সঙ্গে জড়িত তিন জনকে আটক করে এবং অপহৃতদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারী দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। অভিযানে র্যাব রুহুল আমিনের বাড়িতে তল্লাশি করে একটি দেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, তিনটি তরবারি, একটি মাইক্রোবাস ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। | 6 |
প্রতিদিনই জেতার আশা নিয়ে খেলা দেখতে বসি, আর খেলা শেষে হতাশ হয়ে টিভি বন্ধ করি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আমাদের বাঁচা-মরার লড়াই। সেখানেই কিনা আমরা জিততে জিততে ম্যাচটা হেরে গেলাম।বাংলাদেশ ম্যাচটা হারল কোথায় সেটি বের করতে বড় বিশ্লেষক না হলেও চলবে। সাফ কথা, আমরা হেরেছি বাজে ফিল্ডিংয়ে। ফিল্ডিংটা এমন কেন হচ্ছে আমি বুঝে উঠতে পারছি না। এখন যিনি ফিল্ডিং কোচ আছেন তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন দীর্ঘদিন ধরে। এরপরও ফিল্ডিংয়ের কোনো উন্নতি হচ্ছে না? ক্রিকেটাররা কি আলাদা করে ফিল্ডিং অনুশীলন করেন না, না কোচ অনুশীলন করান না? বুঝে উঠতে পারছি না। এমন গরিবি ফিল্ডিং দিয়ে বিশ্বকাপে ম্যাচ জেতা খুবই কঠিন। পাপুয়া নিউগিনি পর্যন্ত ফিল্ডিংয়ে ছেড়ে কথা বলেনি। ক্যাচ মিস মানে ম্যাচ মিস-স্টিভ ওয়াহ অনেক দিন আগেই বলে গিয়েছেন। আমাদের ম্যাচটাও মিস হয়ে গেছে ক্যাচ ড্রপেই।বিশ্বকাপে সবার আগে আমরাই গিয়েছিলাম। ওমানে ক্যাম্প করেই কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমেছিল বাংলাদেশ। এখন সবার আগে সুপার টুয়েলভ থেকে বিদায় নিলাম। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খেলায় আমি পরিকল্পনাহীনতার ছাপ দেখতে পাচ্ছি। সাকিব আল হাসান প্রথমবারের মতো ওপেনিং করল। ওপেনিং জুটি জমছিল না, তাই হয়তো সাকিবকে দিয়ে চেষ্টা করা হলো। কিন্তু আমার কথা হলো পরিবর্তন আনলে বেসিকের মধ্যে থেকেই সবকিছু করতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে পরিকল্পনায় একটি বিশাল সমস্যা দেখছি।মুশফিকুর রহিমকে এভাবে আউট হতে দেখে আরেক দফা হতাশ হলাম। মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের হাতে যদি শট না থাকত তাহলে বলতাম, উদ্ভাবনী শটে রান বের করার চেষ্টা করছে। ওর হাতে সব ধরনের শটই আছে। আর সেট হলে বড় বড় ছক্কাও মারতে পারে। সেই মুশফিক কেন এভাবে আউট হবে? ওর আরও দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করাটা উচিত।মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএলে দুর্দান্ত করলেও বিশ্বকাপে কিছুই পারছে না। গতকালও শেষ ওভারে তিনটা ছয় দিল। সে এত রান না দিলে কিন্তু আমরা জিততে পারতাম। কেননা এই উইকেটে ১৪০ও ভালো স্কোর। যেহেতু উইকেট একটু মন্থর ছিল।এখন আমি বলব আমাদের বড় বড় আসরগুলো নিয়ে ভাবার সময় চলে এসেছে। আমরা দেশের মাটিতে ভালো খেলব, জিতব-তা ঠিক আছে। কিন্তু ১২০-১৩০ রান তাড়া করার যে মন-মানসিকতা, তা থেকে তো বেরিয়ে আসতে তো পারছে না। গতকাল ১৪৩ রানও তাড়া করতে পারল না। কারণ আমরা আরও কম রানা তাড়া করতে অভ্যস্ত। আমাদের এমন পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যে দলই আসুক না কেন ভালো উইকেটে খেলার চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে। আমি দুবাই গিয়ে আমার মতো উইকেট পেলাম না, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াতে গিয়েও আমাদের মতো উইকেট পাব না। বিশ্ব আসরগুলো বিভিন্ন দেশে হবে, সেই চ্যালেঞ্জ নিতে আমাদের তৈরি হওয়ার এখনই সময়।আর আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার বের করার দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। সিনিয়রদের শেষের শুরু হয়ে গেছে। তরুণদের তৈরি করার পথটা শুরু করতে হবে এখন থেকেই। | 6 |
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় মো. মশিউর রহমানের খেতে ড্রাগনের ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন মণ ড্রাগন ফল তুলছেন তিনি। তবে এ বছর এক শ মণ ড্রাগন তুলতে পারবেন বলে জানান মশিউর।জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলায় মো. মশিউর রহমান ২০২২ সালে ৬৬ শতাংশ জমিতে ড্রাগনের চাষ করেন। প্রথম বছর কিছু ফলন হলেও বিক্রি করার মতো হয়নি। তবে চলতি বছরে তাঁর খেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর খেতে এক শ মণ ফলন হবে বলে তিনি ধারণা করছেন।মো. মশিউর রহমান বলেন, 'প্রতি কেজি ড্রাগন ফল তিন শ টাকা থেকে পাঁচ শ টাকা বিক্রি করছি। এ ফল স্থানীয় বাজারসহ বরিশাল ও ঢাকায় পাঠাই। এ বছর ফল বিক্রি করে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারব বলে আশা করছি।'তিনি জানান, ড্রাগন চাষের জন্য খেতে সার, ওষুধ, বেড়া, শ্রমসহ এ পর্যন্ত প্রায় দশ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে খেত থেকে প্রায় দুই থেকে তিন মন ফল তুলছেন। এ পর্যন্ত ড্রাগন ফল বিক্রি করে তিনি পঁচিশ হাজার টাকা পেয়েছেন। ড্রাগন ফলের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে ওই খেতে তিনি পুঁই গাছ চাষ করেন। পুঁই শাক বিক্রি করে এ পর্যন্ত দশ-বার হাজার টাকা পেয়েছেন। এতে পঞ্চাশ হাজার টাকা বাড়তি আয় করতে পারবেন বলে আশা তাঁর। মশিউর বলেন, 'উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার, বীজ ও ওষুধ না দিলেও বিভিন্ন সময় পরামর্শ পেয়েছি।'এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল্লাহ বাহাদুর বলেন, 'এ বছর রাজাপুর উপজেলায় ১ হেক্টর ড্রাগন চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। এ ফলটি আমাদের কৃষি দপ্তরের তালিকায় নেই। তাই ওই কৃষককে কৃষি বিভাগ থেকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সময় তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়।' | 6 |
বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বসেরা এনজিওর স্বীকৃতি পেয়েছে। জেনেভাভিত্তিক স্বাধীন গণমাধ্যম সংস্থা এনজিও অ্যাডভাইজার এ স্বীকৃতি দিয়েছে। বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, পরিচালন কাঠামো এবং পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে অব্যাহত অঙ্গীকারের জন্য ব্র্যাক তার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। আজ শুক্রবার ব্যাকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এনজিও অ্যাডভাইজারের প্রধান সম্পাদক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জন-ক্রিস্টফ নথিয়াস বলেন, 'এ বছর বিশ্বের এনজিও র্যাঙ্কিংয়ে ব্র্যাকের প্রথম স্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মূল ভূমিকা পালন করেছে, তা হলো উদ্ভাবন এবং ফলাফল বা প্রভাব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পুনর্ব্যক্ত অঙ্গীকার এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ও পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণের ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত পূর্বপ্রস্তুতি।' ক্রিস্টফ নথিয়াস লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, '২০২০ সালের এই তালিকা প্রকাশকালে আমরা উৎফুল্ল এ কারণে যে, সামাজিক মুনাফার ক্ষেত্রগুলো বিশ্বের রূপান্তর ও বিকাশে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১৯ সালেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি ছিলেন মর্যাদা ও মানবিকতায় অনন্য একজন ব্যক্তি। যে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আমাদের আরাধ্য, তিনি ছিলেন সেই প্রচেষ্টার পুরোভাগে। আমরা বিশ্বাস করি ব্র্যাক তার প্রতিষ্ঠাতার প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন অক্ষুণ্ন রেখে সামাজিক মুনাফা খাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে।' এই স্বীকৃতিলাভের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ব্র্যাক গ্লোবাল বোর্ডের চেয়ারপারসন আমিরা হক বলেন, 'এই সম্মান পেয়ে আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ২০২০ সাল হচ্ছে প্রথম বছর, যখন আমাদের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর উত্তরাধিকারের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে এবং সব ধরনের শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত পৃথিবী গড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে-এই দৃঢ় অঙ্গীকারের স্মারক হিসেবে আমরা এই স্বীকৃতিকে গ্রহণ করছি।' বাংলাদেশ ও দেশের বাইরে প্রায় পাঁচ দশকের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি ব্র্যাক ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর্মকৌশল ঘোষণা করেছে। এই কর্মকৌশলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কার্যক্রমের বিস্তার, সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সেবা প্রদান এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা ও জ্ঞান-অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের শক্তিশালীকরণের ওপর। এই কর্মকৌশল পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯ সালেই ব্র্যাকের গ্লোবাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আমিরা হক বলেন, 'ব্র্যাকের বৈশ্বিক কর্মকৌশলে স্যার ফজলে হাসান আমাদের জন্য দুঃসাহসী লক্ষ্য স্থির করে দিয়ে গেছেন, তা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২৫ কোটি মানুষের ক্ষমতায়ন ঘটানো, যাতে তাঁরা নিজেদের জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আমরা প্রতিদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছি।' এনজিও অ্যাডভাইজার প্রতিবছর বিশ্বের ৫০০ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এই তালিকা তৈরি করে। এই র্যাঙ্কিংয়ে বিবেচ্য বিষয়গুলো হচ্ছে সবার জন্য উন্মুক্ত তথ্য-উপাত্ত, কার্যক্রমের প্রভাব ও নতুনত্ব, পরিচালন কাঠামো এবং স্থায়িত্ব। অর্থাৎ যেসব সংগঠনের উদ্ভাবনী কর্মসূচি বা উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব রেখেছে, তাদেরই এই র্যাঙ্কিংয়ে বিবেচনা করা হয়। এই বছর শীর্ষ পাঁচে স্থান পাওয়া অন্য এনজিওগুলো হচ্ছে মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ারস (ডক্টর উইদাউট বর্ডারস), ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিল, ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনস ও মার্সি কোর। | 0 |
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় রাখাইল বেগুন বা বারি-১২ বেগুন চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। বেগুনের ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হওয়ার আশা করছেন তাঁরা।সরেজমিন জানা গেছে, দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শাহ-আলম পটুয়াখালীর দুমকি কৃষি ইনস্টিটিউট থেকে রাখাইল বেগুন বা বারি-১২ বেগুনের দুই হাজার চারা সংগ্রহ করেন। তিনি প্রায় এক একর জমিতে এ চারা রোপণ করেন। শাহ-আলম বলেন, 'আমি একজন সবজিচাষি। শীত মৌসুমে বিভিন্ন সবজি চাষ করি। আমি ব্যবসার কারণে বান্দরবান যাই। সেখানে রাখাইল বেগুন দেখি এবং আমিও বেগুন চাষের জন্য মন স্থির করি। প্রথমবার আধা একর জমিতে বেগুন চাষ করি। ভালো ফলন পাই এবং বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। তাই এ বছর দুমকি কৃষি ইনস্টিটিউট থেকে দুই হাজার চারা এনে এক একর জমিতে রোপণ করি। এ বছর ফলন অধিকতর ভালো হবে আশা করছি।' তিনি বলেন, 'আমার বেগুন বিক্রি করতে বাজারে যেতে হয় না। পাইকারেরা খেত থেকে এসে নিয়ে যান।'আরেক সবজিচাষি অমল বলেন, 'আমি এ বছর ২৫ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ পেয়ে থাকি এবং তাঁরা এসে খোঁজখবর নেন। এ বছর গাছে ফলন অধিক হয়েছে; বাজারজাত শুরু করছি। আগামী বছর তিন-চার একর জমিতে বেগুন চাষ করব।'উপজেলার কাটাখালী গ্রামের আলম বলেন, 'এ বেগুন আকারে বড় ও বাজারে চাহিদা ব্যাপক। তাই আমি এ বছর পটুয়াখালী গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এক হাজার চারা এনে রোপণ করেছি। গাছের চারার মান ভালো। আশা করছি ফলন ভালো হবে।'উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের আবদুর রফিক বলেন, 'এ বেগুনের চাহিদা ব্যাপক। অল্প সময়ের মধ্যে ফলন ও বাজার জাত করা যায়। লাভও বেশি। তাই আমি এক হাজার চারা রোপণ করেছি।'উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু জাফর আহমেদ বলেন, 'বারি-১২ বা রাখাইল বেগুন প্রথম উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের সবজিচাষি মো. শাহ-আলম চাষ করে সফলতার পেতে যাচ্ছে। তাঁর বেগুন চাষে সফলতা দেখে আগ্রহী হচ্ছে উপজেলার দেড় শতাধিক চাষি। আমাদের অফিস থেকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করা হচ্ছে। এ বেগুন আকারে বড় হয়, খেতে সুস্বাদু ও মজাদার। প্রথমবার দশমিনা উপজেলায় রাখাইল বেগুন বা বারি-১২ বেগুন উৎপাদনের জন্য সফল সবজিচাষি হিসেবে মো. শাহ-আলমকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।' | 6 |
অবশেষে বিয়ের কাজ সেরে ফেললেন দক্ষিণ ভারতের সুপারস্টার অভিনেত্রী কাজল আগারওয়াল। ৩০ অক্টোবর সন্ধার পর শুরু হয় তার বিয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। গোলাপি মণ্ডপে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন এ বলিউড মাতানো তেলেগু সিনেমার এ নায়িকা। ব্যবসায়ী গৌতম কিচলুর সঙ্গে লাল লেহেঙ্গা পরে বসে পড়েন বিয়ের পিঁড়িতে। আর তাদের এই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের জন্য দেয়া হলে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায় নেট দুনিয়ায়। এর আগে গায়ে হলুদের ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা হলে তা ছড়িয়ে য়ায়। চলতি বছরের আগস্টে বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী গৌতমের সঙ্গে গোপনে আংটিবদলের খবর রটে কাজল আগরওয়ালের। তখন মুখ না খুললেও সব গুঞ্জনের অবসান ঘটান গায়ে হলুদের ছবি পোস্ট করে। কাজল আগারওয়ালের জন্ম ১৯৮৫ সালের ১৯ জুন ভারতের মুম্বাইয়ে। তিনি কোলাবা, মুম্বাইয়ের সেন্ট অ্যান উচ্চবিদ্যালয়ে এবং জয় হিন্দ কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর মুম্বাইয়ের কেসি কলেজ থেকে স্নাতক শেষে গণমাধ্যম বিষয়ে ডিগ্রি নেন। তার বাবা বিনয় আগরওয়াল পেশায় একজন উদ্যোক্তা এবং মা সুমন আগরওয়াল একজন ময়রা (মিঠাইত্তয়ালা)। বলিউড চলচ্চিত্রে অভিনয় আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০০৪ সালে "কিউ! হো গায়া না" চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তেলুগু চলচ্চিত্র শিল্পে তার আত্মপ্রকাশ ঘটান ২০০৭ সালে, তেজা পরিচালিত "লক্ষ্মী কালিয়ানাম" চলচ্চিত্রে কল্যান রামের পাশাপাশি একটি প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। | 2 |
দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার ভবিষ্যত প্রজন্মের 'ভয়ংকর ক্ষতি' করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে দলের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দেখেন- হঠাৎ করেই কঠোর লকডাউন-টকডাউন সমস্ত উদাও হয়ে গেলো। এখন খুললাম-যে যেমন খুশি চলো। হাজার হাজার মানুষ একসাথে চলছে, ফিরছে-সব কিছুই করছে। একটা জিনিসই চলছে না, এটা হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন শিক্ষা না পায় সেই ব্যবস্থা তারা(সরকার) করছে। পৃথিবীর সব দেশেই করোনার একটা পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেমন তারা টিকার জন্য পরিকল্পনা করেছেন, টিকা ভ্যাকসিনেশনের জন্য পরিকল্পনা করেছে, তেমন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জীবন-জীবিকার পরিকল্পনা করেছে এবং একই সঙ্গে কিভাবে শিক্ষা প্রদান করা যায় সেটার জন্য তারা পরিকল্পনা করেছে। আমাদের এখানে কোনো পরিকল্পনা নাই। এই যে একটা ভয়ংকর ক্ষতি হচ্ছে প্রজন্মের, ক্ষতি করছে প্রজন্মের। অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, অনলাইনে কারা পড়ে? একমাত্র যারা বিত্তশালী মানুষ তারাই অনলাইনে পড়া-শুনা করতে পারে, আর তো কারো পক্ষে সম্ভব নয়। একটা কম্পিউটার যোগাড় করা, একটা মোবাইল সেট যোগাড় করা- সারা দেশে সেটা নাইও। গ্রামে স্কুল যেগুলো আছে সেগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ। পত্রিকায় দেখেছেন যে, ছেলেরা এখন বেলুন বিক্রি করছে, বাদাম বিক্রি করছে। স্কুল বন্ধ এখন তারা বাবা-মাকে সাহায্য করার জন্য এগুলো করছে। অর্থাৎ দে হেভ বিন অলরেডি ডাইভার্টেড। এই যে একটা ভয়ংকর ক্ষতি হচ্ছে প্রজন্মের, সেই ক্ষতিটা সরকারকে মোকাবিলার করার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা তারা সেভাবে গ্রহন করতে পারেনি। তারা আছে শুধু বিভিন্ন রকম ভুল ব্যাখ্যা ও তথ্য দিয়ে জনগনকে বিভ্রান্ত করতে। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির পরিচালিত কোভিড-১৯ হেল্প সেন্টারের জন্য ঔষধ সামগ্রি হস্তান্তর উপলক্ষে জিয়া পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। করোনায় ঔষধপত্র দেয়ার জন্য জিয়া পরিষদকে ধন্যবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, করোনা মোকবিলায় সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে সব দিক দিয়ে। না পেরেছে তারা চিকিৎসা দিতে, না পেরেছে তারা আমাদের জনগণকে আগাম একটা প্রিভেনটিভ ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে, না পেরেছে তারা মানুষের মধ্যে একটা আস্থা তৈরি করতে যে, আমি এখানে চিকিৎসা পাবো। পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে শুধু দুর্নীতির কারণে। জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জিয়া পরিষদের নেতাদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আবু জাফর খান, দেলোয়ার হোসেন, শহীদুল ইসলাম, নীলিমা রহমান লিলি, নুরুন নবী, ইদ্রিস আলী প্রমূখ নেতারা ছিলেন। | 6 |
মনিরামপুরে একসময় শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহে গাছিদের তৎপরতা দেখা যেত। সকাল হলে বাড়ি বাড়ি রস জ্বাল করে গুড় তৈরি করা হত। তবে এ বছর কিছুটা ভিন্ন চিত্র চোখে পড়েছে।রস সংগ্রহের ভরা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত খেজুর গাছ থাকলেও রস সংগ্রহে গাছিদের কোনো তৎপরতা নেই। অনেকেই বলছেন মনিরামপুরে কোনো প্রশিক্ষিত গাছি নেই তাই এমন দশা। জেলার অন্য উপজেলায় বিভিন্ন সংস্থা গাছিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও মনিরামপুরে তেমনটি দেখা যায়নি।উপজেলার রোহিতা, মাহমুদকাটি ও রঘুনাথপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত খেজুর গাছ পরিত্যক্ত পড়ে আছে। আবার অনেক গাছ মালিকেরা খেজুর গাছ বিক্রি করে জমি খালি করছেন। গাছ মালিকেরা বলছেন, অনেক গাছি এখন তাঁদের আগের পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। তাই সময়মতো গাছি পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য খেজুর গাছ পড়ে থাকছে। শুধু শুধু গাছ ফেলে রেখে জমি নষ্ট করার দরকার কি। এ জন্য ফুট ১০ টাকা দরে গাছ বেঁচে দিয়ে জমি খালি করছি।স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক বছর আগে খেজুর গাছ কাটতে উঠে রোহিতা এলাকার বাবু দাস নামে এক গাছি গাছ থেকে পড়ে আহত হন। পরে দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে তিনি মারা যান। এরপর থেকে অনেক গাছিরাই এখন খেজুর গাছ কাটা ছেড়ে দিয়েছেন।রঘুনাথপুর গ্রামের আবদুল ওয়াদুদ বলেন, 'গাছি পাওয়া যাচ্ছে না। ৫-৭টা খেজুর গাছ আছে। ফুট ১০ টাকা হিসেবে গাছ বেঁচে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিছি।'আবদুল ওয়াদুল বলেন, 'কয়েক বছর আগে খেজুর গাছ থেকে পড়ে রোহিতার বাবু নামে এক গাছি মারা যায়। এরপর আর গাছিরা আর গাছে উঠতে চাচ্ছে না।'তবে কয়েকজন গাছির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামে রস চোরের উৎপাত বেড়েছে। গাছ কেটে রেখে গেলে রাতে এসে রস নিয়ে ভাঁড় নিচে ফেলে যায়। সকালে এসে এ অবস্থা দেখলে আর গাছ কাটতে মনে চায় না।মাহমুদকাটি গ্রামের গাছি আবদুল মজিদ বলেন, 'খেজুর গাছে ওঠা অনেক কষ্ট। তাই গাছ কাটা ছেড়ে মাঠের কাজ করছি।'মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, 'খেজুরের রস ও গুড় সংরক্ষণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি পাইলট প্রকল্প আছে। মনিরামপুরে সেটার কার্যক্রম নেই। শুনেছি এ অঞ্চলেও প্রকল্পটি আসবে।' | 6 |
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের মা ফৌজিয়া মালেক ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এ এম জেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তার এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকার জানান, ফৌজিয়া মালেক আগে থেকেই বাধ্যক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত কিছুদিন ধরে অ্যাজমার সমস্যা বেড়েছিল। তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে এ এম জেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ গড়পাড়া হাইস্কুল মাঠে প্রথম জানাজা শেষে মরহুমার পৈত্রিক নিবাস জেলার সাটুরিয়া উপজেলার হরগজে দ্বিতীয় দফা নামাজে জানাজা শেষে গড়পাড়া পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। সূত্র : ইউএনবি | 6 |
লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার ইউপি নির্বাচনে জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন দুই নারীসহ চার জন। এ সময়ে কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পশ্চিম বালুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাদের আটক করা হয়।প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক মসুনুর বেগম, আসমা বেগম, দিদার হোসেন ও আবু জাহেরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয়রা জানায়, পশ্চিম চর আলেকজান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের প্রভাবিত করাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য প্রার্থী নুর ছলেমান হাওলাদার ও ফিরোজ কবির বাবুল হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় উভয়পক্ষ লাঠি সোটা হাতে নিয়ে ছুটাছুটি করলে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এর আগে সকাল থেকে উৎসাহ উদ্দীপনায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি দেখা গেলেও নারী ভোটারদের উপস্থিতি রয়েছে চোখে পড়ার মতো। এছাড়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তায় নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন।
| 6 |
সম্প্রতি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ট্রেইনি সহকারী (ক্যাশ) পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।প্রতিষ্ঠানের নাম: ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড।পদের নাম: ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশ অফিসার।পদের সংখ্যা: নির্ধারিত না।কাজের ধরন: পূর্ণকালীন।অভিজ্ঞতা: প্রয়োজন নেই।বয়স: সর্বোচ্চ ৩০ বছর।বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে।কর্মস্থল: ঢাকার বাইরে।আবেদনের যোগ্যতা:১. এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ এর মধ্যে কমপক্ষে ৩ পয়েন্ট থাকতে হবে।২. স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ-৪ এর মধ্যে কমপক্ষে ২.৫০ থাকতে হবে।৩. শুধুমাত্র প্রকাশিত ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে।যেভাবে আবেদন করবেন:আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ভিজিট করুন ট্র্যাস্ট ব্যাংকরে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।আবেদনের শেষ সময়: ২ অক্টোবর, ২০২১। | 1 |
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন সভাপতি হয়েছেন কাজী রওনাকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ জুয়েল। রবিবার (১৭ এপ্রিল) বিএনপির রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন কমিটির ঘোষণা আসে। এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন রাশেদ ইকবাল খান, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় হয়। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সকল নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে ছাত্রদলের গঠন-পূণর্গঠন বিষয়ে সব ক্ষমতা সংগঠনের অভিভাবক তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেন। পরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন এই আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীরগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট না দেওয়ায় হযরত আলী নামে এক যুবলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রোববার (২৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ওই ইউনিয়নের বাইশমৌজা বাজার ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।হযরত আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী কবির আহমেদের সমর্থক। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন সরকার তাঁকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন আলী।হযরত আলীর অভিযোগ, বুথের ভেতরে ঢুকে আওয়ামী লীগ সভাপতি হোসেন সরকার ভোটারদের নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে আমাকেও নৌকায় ভোট দিতে বলেন। কিন্তু আমি নিজের ইচ্ছামতো ভোট দেব বলে তাঁকে জানাই। এরপর ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর সে আমাকে মারধর করে।তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বীরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।বাইশমৌজা বাজার ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আশরাফুল আজিজ বলেন, অভিযোগ ওঠার পর হোসেন সরকারকে সতর্ক করে কেন্দ্র থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কোনো অভিযোগ পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেন্দ্রে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও অবস্থান করছেন। | 6 |
ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে নিহত নাহিদ মিয়া হত্যা মামলায় ঢাকা কলেজের ছাত্র মাহমুদুল হাসান সিয়ামকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে মামলাটির তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অন্যদিকে নিউমার্কেটের দুই দোকানের কর্মী মোয়াজ্জেম হোসেন সজীব ও মেহেদী হাসান বাপ্পিকে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ তিনজনকে র্যাব আটক করে। নিউমার্কেট থানায় হস্তান্তরের পর তাদের মধ্যে সিয়ামকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে ওই হত্যা মামলায় ডিবি ঢাকা কলেজের পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে। ওই পাঁচজনই কারাগারে রয়েছেন। সংঘর্ষে কুরিয়ার সার্ভিস কর্মী নাহিদ মিয়া ছাড়াও দোকানকর্মী মুহাম্মদ মোরসালিন নিহত হন। হত্যা মামলা দুটি ডিবির রমনা বিভাগ তদন্ত করছে। এ ছাড়া সংঘর্ষে ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক আরও তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো নিউমার্কেট থানা পুলিশ তদন্ত করছে। হত্যা মামলা দুটির তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ডিবির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলে এলাহী সমকালকে বলেন, সিয়ামকে শুক্রবার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই কর্মকর্তা বলেন, নাহিদ হত্যাকাণ্ডে আরও কয়েকজন জড়িত। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ও অন্যদের ভূমিকার বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে। গত ১৮ এপ্রিল নিউমার্কেটে খাবারের দুটি দোকানের কর্মী সজীব ও বাপ্পির মধ্যে ঝামেলা হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষই ঢাকা কলেজের একদল শিক্ষার্থীকে নিজেদের পক্ষে ডেকে নেয়। এরপর সেখানে ভয়াবহ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। নিউমার্কেট থানার ওসি স. ম কাইয়ুম বলেন, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার দোকানকর্মী সজীব ও বাপ্পিকে গতকাল আদালতে হাজির করে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিল, তাদের কাছ থেকে তা জানার চেষ্টা চলছে। | 6 |
গত কয়েক বছর ধরেই টিভি পর্দায় নেই মডেল-অভিনেত্রী আনিকা কবির শখ। তিনি এখন মা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর কোলজুড়ে এসেছে কন্যাসন্তান আনাহিতা রহমান আলিফ। প্রায় দুই মাস আলিফের বয়স। শখের সবটা ঘিরেই এখন সে। মেয়ের প্রতিটি মুহূর্ত, হাসি-কান্না-দুষ্টুমি-একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠা দারুণ উপভোগ করছেন মা শখ।এরই মধ্যে পরিকল্পনা করছেন কাজে ফেরার। তবে কোনো নাটক, ছবি কিংবা ওয়েব কনটেন্ট নয়; নাচ দিয়েই হবে শখের প্রত্যাবর্তন। শখ বলেন, 'শিগগিরই কাজ শুরু করব। এর মধ্যে নাচটা শুরু করে দিয়েছি। সামনে নাচের কিছু প্রোগ্রাম আছে। সেগুলোর জন্য আগামী সপ্তাহ থেকে মহড়ায় সময় দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই কাজে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছি।'প্রথমদিকে মডেল ও পরবর্তী সময়ে অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেলেও শখের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল নাচের মাধ্যমে। ক্লাসিক্যাল শিখতেন। মডেলিং আর অভিনয়ে জনপ্রিয়তা পেলেও নাচ কখনো ছাড়েননি তিনি। প্রতি ঈদে টিভি চ্যানেলের বিশেষ নাচের অনুষ্ঠানে দেখা যেত তাঁকে। শখ জানিয়েছেন, এখন নাচেই বেশি সময় দেবেন তিনি। অভিনয় শুরু করবেন আরও কিছুদিন পর।তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে শখ প্রাধান্য দেবেন টিভি নাটককে। চলচ্চিত্র কিংবা ওয়েব কনটেন্টের চেয়ে ছোট পর্দায় কাজ করতেই বেশি আরামবোধ করেন তিনি। শখ বলেন, 'ছবি করার ইচ্ছা কখনোই তেমন একটা ছিল না। দুটো ছবি করেছি-এমবি মানিকের ''বলো না তুমি আমার'' আর সানিয়াত হোসেনের ''অল্প অল্প প্রেমের গল্প''। আমার মনে হয়, ছবির জন্য আমি এখনো পারফেক্ট না। আমি ছোট পর্দাতেই বেশি কমফরটেবল।'গত কয়েক বছরে বদলে গেছে ইন্ডাস্ট্রির সমীকরণ। অনেক নতুন মুখ এসেছে। চলেও গেছে অনেকে। নাটক জনপ্রিয়তার অন্যতম মানদণ্ড হয়ে উঠেছে ফেসবুক-ইউটিউবের ভিউ। এই বদল শখকেও চিন্তিত করে। শখ বলেন, 'এখন লাইক, কমেন্টস, ভিউ-এসব দিয়েই সবকিছুর হিসেব চলে। সবাই অল্প সময়ে ফেসবুক সেলিব্রিটি হয়ে যাচ্ছেন। খুব অল্প সময়ে খ্যাতি পেয়ে গেলে, সেটা স্থায়ী হয় না। কারণ মানুষের শিখতে তো সময় লাগে। আমি এখনো সেই শখ হয়ে উঠিনি, যেভাবে আমি নিজেকে চিন্তা করি। আরও অনেক কিছু শেখার বাকি আমার।' | 6 |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবার পর প্রথমবারের মতো জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার সাথে বৈঠক করলেন জো বাইডেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউজে দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠত হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। খবরে জানানো হয়, বৈঠকে চীন ও উত্তর কোরিয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করতে দুই নেতা একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাদের আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন। উভয় নেতা যুক্তরাষ্ট্র-জাপান মৈত্রীর প্রতি তাদের অনমনীয় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশ একসাথে চীন ও উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় কাজ করে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের নেতারা বিশ্বজনীন ভ্যাকসিন উদ্যোগ, পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম গোয়েন্দাবৃত্তি ও 'কোয়ান্টাম কম্পিউটিং'সহ নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে একত্রে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। এছাড়া দুই দেশ করোনা সঙ্কট চলাকালেও 'জাপান গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের' খেলা এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা | 3 |
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পর তার খেলা শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) ভাইস প্রেসিডেন্ট মরিয়ম নওয়াজ। সোমবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বাইরে এ মন্তব্য করেন তিনি। মরিয়ম নওয়াজ বলেন, মুদ্রাস্ম্ফীতি ও সুশাসনের অভাবে আপনার (ইমরান) নির্বাচনী সম্ভাবনা শেষ। আপনি খেলায় হেরে গেছেন; আসন্ন নির্বাচনেও। আপনার ভাষণ শুনেছি আমি, সে শব্দ পরাজিত মানুষের। খবর দ্য ডনের বিরোধীদের গালমন্দ করায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে এ নেতা আরও বলেন, প্রতিটি দলই এমন কিছু কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যায়, তবে আপনি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা কোনো দলের কোনো নেতা ব্যবহার করেননি। বিরোধীদের উপহাস করেছেন আপনি। এ সময় ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান এই বিরোধী নেতা। ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের তারিখ ঘোষণার পর তার সরকারের ক্ষমতা হারানোর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য করেন মরিয়ম নওয়াজ। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সাড়ে তিন বছর যেতে না যেতেই ভাগ্য যাচাইয়ের মুখোমুখি ইমরান। বিরোধীদের চাপ ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে আগামী শুক্রবার তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উঠছে পার্লামেন্টে। এ ভোটে হারলে পতন হবে তার সরকারের। রোববার দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কাইসার অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের এ তারিখ ঘোষণা করেন। ওই দিন সকাল ১১টায় প্রস্তাবটি তোলা হবে। জোটের ও বিক্ষুব্ধ নেতাদের সমর্থন না পেলে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে। এ ভোটে পিটিআই ছেড়ে যাওয়া নেতারা বিরোধীদের পক্ষে মত দিলে হারতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। ইমরান খানের বিরুদ্ধে মূলত অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে অব্যবস্থপনার অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রস্তাব করেছেন বিরোধীরা। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রী পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। এরই মধ্যে শুক্রবার হচ্ছে ইমরানের ভাগ্য যাচাই। | 3 |
সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে। ভবিষ্যতে সব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। অনেক সন্দেহ ও সংশয় নিয়ে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্ত ইতোমধ্যেই তারা সেই সংশয় মিথ্যা প্রমাণিত করে নিজেদের প্রমাণ দিয়েছে। আগামীতে তারাও বিশ্ব র্যাংকিংয়ে স্থান পাবে- সেই বিশ্বাাস আমাদের আছে। শনিবার (১৯ জুন) অনলাইনে আয়োজিত গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ৪র্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত, সমাবর্তনে মোট ১ হাজার ৪৬৪ জনকে ডিগ্রি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬ জনকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল এবং ১৩ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তারাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে উত্তোরত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যেই আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে সফলতার প্রমাণ রেখেছে; যা সবসময় আমাদের অনুপ্রাণিত করে আসছে। গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু চাকরির চিন্তা করলে চলবে না। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চিন্তাও রাখতে হবে। দীপু মনি বলেন, জ্ঞানার্জনের পথ কখনও শেষ হয় না। নিজের জানার পথ সব সময় খোলা রাখতে হবে। পরিণতি ভালো কিংবা খারাপ হোক, নিজের শিক্ষার দ্বার সব সময় চালু রাখতে হবে। কারণ, মানুষের শিক্ষার সিংহভাগই প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে অর্জিত হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবনে যতগুলো স্মরণীয় দিন আসে, তার মধ্যে অন্যতম হলো এই সমাবর্তন। তিনি বলেন, ডিগ্রীপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা আমাদের ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। তবে প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে মনে রাখতে হবে- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হলেও জীবনের পাঠশালা তোমাদের প্রতিনিয়ত শেখাবে। তোমাদের নতুন নতুন চিন্তাধারাই সমাজ এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে সরকারের ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেন। সমাবর্ত বক্তা অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সমাবর্তনের মাধ্যমে শুধু গ্র্যাজুয়েশন পর্বের সমাপ্তির ঘটছে না, বরং আজ থেকে জীবনের আরও একটি পর্বের সূচনা হচ্ছে। আর তা হলো ব্যবহারিক জীবন, নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া ও নিজের অবস্থান তৈরি করার জীবন। গ্রিন ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গ্রিন ইউনিভার্সিটিকে উত্তোরত্তর এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির বলেন, সমাবর্তনের মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী বৃহত্তর কর্মজীবনে প্রবেশ করে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতাও বাড়ে এই সমাবর্তন থেকে। সুতরাং, গ্রিন ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গ্রিন ইউনিভার্সিটি এমন এক সময়ে সমাবর্তন আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি দিচ্ছে, যখন বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পদার্পণ করেছি। শুধু তাই নয়, একই বছরে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উৎসব করছি। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফয়জুর রহমান। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
প্রেস লেখা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে এক যুবক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করে আসছে বলে অভিযোগ পায় র্যাব-৩। পরে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রোববার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর মডেল থানা এলাকা থেকে ইয়াবাসহ সাদ্দাম সিকদার (৩৪) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে বাহিনীটি।আজ সোমবার বেলা ২টায় র্যাব-৩ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফারজানা হক এতথ্য জানান।এএসপি ফারজানা হক বলেন, সাদ্দামের কাছ থেকে এক হাজার পিছ ইয়াবা ও একটি প্রেস লেখা মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তবে ওই মাদক কারবারির কাছে কোনো প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড পাওয়া যায়নি।এ ছাড়া ওই ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে প্রেস লেখা মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করত বলে জানান এই র্যাব কর্মকর্তা।তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে বলে স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। | 6 |
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ৬০ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১ জন পরীক্ষার্থী। এ ছাড়া বাকিরা বিভিন্ন গ্রেডে পাস করেছে।গতকাল শুক্রবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডের ৬ হাজার ৮৬৩ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। এর মধ্য থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। 'এফ' গ্রেড থেকে ১১ জন 'এ প্লাস', ৪ জন 'এ' গ্রেড, ৮ জন 'এ মাইনাস', ৮ জন 'বি' গ্রেড, ৭ জন 'সি' গ্রেড, ২ জন 'ডি' গ্রেড পেয়েছে।এ ছাড়া 'ডি' গ্রেড থেকে 'এ প্লাস' পেয়েছে ১ জন। 'বি' গ্রেড থেকে ২ জন 'এ প্লাস', ১ জন 'এ' গ্রেড ও ৩ জন 'এ মাইনাস' পেয়েছে। 'এ মাইনাস' থেকে ৪ জন 'এ প্লাস' ও ৩ জন 'এ' গ্রেড পেয়েছে। 'এ' গ্রেড থেকে ৬ জন 'এ প্লাস' পেয়েছে। | 1 |
তুর্কি ড্রোনের সাহায্যে রাশিয়ার আর্টিলারি সিস্টেম ও সাজোয়া যানগুলোকে প্রতিরোধ করার পর তুরস্কের বেরাকতার টিবি২ ড্রোনের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ড্রোনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইস্তাম্বুলভিত্তিক বেকারের পরিচালনক সেলচুক বেরাকতার বলেন, ড্রোন আধুনিক যুদ্ধে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। যা করবে বলে আশা করা হয়েছিল বেরাকতার তা করেছে। বাকুতে এক প্রদর্শনীতে তিনি মিডিয়াকে বলেন, পুরো বিশ্ব এখন এই ড্রোনের ক্রেতা বনে গেছে। তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠান বছরে এ ধরনের ২০০ ড্রোন বানাতে পারে। ১২ মিটার ডানা-সমৃদ্ধ টিবি২ ড্রোন ২৫ হাজার মিটার উঁচুতে ওঠতে পারে। এই ড্রোন তার লেসার-গাইডেড আরমর-পারসিং বোমার সাহায্যে ট্যাঙ্ক ও আর্টিলারি ধ্বংস করতে পারে। এই ড্রোনের সাহায্যেই অনেক বেশি শক্তিশালী রুশ সামরিক বাহিনীকে প্রতিরোধ করে চলেছে ইউক্রেন। এই ড্রোন খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নজরেও এসেছে। আর ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অন্তত ৪৫ বার প্রকাশ্যে এই ড্রোনের কথা উল্লেখ করেছে। সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, কারাবাখ, এবং এখন ইউক্রেন যুদ্ধে তুরস্কের এই অস্ত্রটি তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করেছে ও করছে।সূত্র : ডেইলি সাবাহ | 3 |
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সামসুদ্দিন আজ শুক্রবার ভোররাত সাড়ে ৩টায় ইন্তেকাল করেছেন। বিসিএস (পুলিশ) ১৯৭৩ ব্যাচের এই কর্মকর্তা বার্ধক্যজনিত কারণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইজিপি বেনজীর আহমেদ।শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী 'সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান' সংকলন ও প্রকাশে সামসুদ্দিন আহমেদের ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।এ কে এম সামসুদ্দিন স্ত্রী, দুই পুত্রসহ, বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ১৯৪৪ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার পশ্চিম লতিফপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া সামসুদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। চাকরি জীবনে তিনি মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, ডিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান হিসেবে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।মরহুমের নামাজে জানাজা শুক্রবার বাদ জুমা রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা-সদস্যরা এবং মরহুমের আত্মীয়-স্বজন জানাজায় অংশ নেন।জানাজা শেষে আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রিটায়ার্ড পুলিশ অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি সামসুদ্দিনকে দাফন করা হয়েছে।শোক বাণীতে আইজিপি বলেন, 'এ কে এম সামসুদ্দিন সুদক্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।' | 6 |
নীলফামারীর সৈয়দপুরের ছয়টি বেসরকারি পাটকলের মধ্যে পাঁচটিরই উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন এসব মিলের প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক। পাটকলমালিকেরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে কাঁচা পাটের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অথচ উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। এ কারণে মিলগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। তাই কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিলমালিকেরা। বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা সৈয়দপুরের ছয়টি পাটকল হলো ইকু জুট প্রসেস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, এনবি জুট মিলস, রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, আফজাল জুট মিলস ও সেলিম জুট মিলস। কারখানা বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে ইকু জুট প্রসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিকুল আলম বলেন, 'স্থানীয় বাজারে হঠাৎ করেই তিন হাজার টাকার কাঁচা পাটের দাম বেড়ে হয়েছে ছয় হাজার টাকা। দুই মাস ধরেই এ অবস্থা চলছে। অথচ আমাদের উৎপাদিত পাটপণ্যের দাম মোটেই বাড়েনি।' স্থানীয় একাধিক পাটকলমালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে পাটের তৈরি সুতলি প্রতি মণ তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিটি পাটের বস্তার দাম ৬৫ টাকা। ১ মণ পাটে ৪৫টি বস্তা তৈরি হয়। ফলে এক মণ পাটে তৈরি বস্তা বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে তিন হাজার টাকার কম। একইভাবে পাটের চটও প্রতি মণ তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক মণ কাঁচা পাট কিনতেই খরচ হচ্ছে ছয় হাজার টাকা। তার সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ বিল, প্রশাসনিক ব্যয়সহ সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বাবদ আরও ৩০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়। সেখানে কাঁচা পাটের খরচই উঠছে না পণ্য বিক্রি করে। উৎপাদন খরচ বা লাভের হিসাব তো আরও দূরের বিষয়। ফলে আর্থিক ক্ষতি কমাতে পাঁচটি পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিলমালিকেরা। সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক রাজকুমার পোদ্দার বলেন, বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে পাট রপ্তানি হচ্ছে। এ কারণে দাম হু হু করে বাড়ছে। আর রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান সুশীল কুমার দাস মনে করেন, পাটকলগুলো চালু রাখতে হলে পাটের দাম কমানোর বিকল্প নেই। সৈয়দপুরের পার্শ্ববর্তী তারাগঞ্জ হাটের পাট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর অতিবৃষ্টির কারণে দেশে পাটের উৎপাদন কম হয়েছে। আবার রপ্তানিও বেড়েছে। এ কারণে হাটে পাটের সরবরাহ কম। এদিকে স্থানীয় কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক সুলতান হোসেন বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে হঠাৎ পাটের দাম বেড়েছে। এতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। তবে কৃষকেরা এখন পাটের উৎপাদন অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। | 0 |
এখনো কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার প্রস্তুত নয়। ডাম্পিং ইয়ার্ডের কাজ শুরুই হয়নি। বেশ কিছু রাস্তা ব্যবহারের অনুপযোগী। ঈদুল আজহা এসে গেছে। তাই আবার আলোচনায় সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়াশিল্প নগর। কিন্তু চামড়াশিল্প নগর কাঁচা চামড়া সংগ্রহে কতটা প্রস্তুত? গত বুধবার সরেজমিন ঘুরে সেখানে কাউকেই কিন্তু স্বস্তিতে দেখা গেল না। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), কারখানার মালিক, শ্রমিক, আড়তদার, ব্যাপারী-সবার কপালেই চিন্তার ভাঁজ। একেকজনের সমস্যা একেক ধরনের, এই যা। চামড়াশিল্প মালিকদের দুশ্চিন্তার কারণ হলো, ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হলে তাঁরা সারা দেশ থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে কারখানা পর্যন্ত নিয়ে আসবেন কীভাবে? কারণ, ওই দিন থেকে সব ধরনের শিল্পকারখানা ও যানবাহন বন্ধের কঠোর বার্তা দিয়ে রেখেছে সরকার। এই অবস্থায় চামড়ার দাম নির্ধারণ নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শিল্পমালিকেরা এই শিল্পকে কঠোর বিধিনিষেধের বাইরে রাখার দাবি জানালেও সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) অস্বস্তি চামড়াশিল্প নগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) দৈনিক বর্জ্য ধারণক্ষমতা নিয়ে। সিইটিপির বর্জ্য ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার কিউবিক মিটার। কিন্তু ঈদুল আজহার সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ থেকে ৪৫ হাজার কিউবিক মিটারে। কোরবানির ঈদে বাড়তি এই চাপ সামাল দেওয়ার উপায় খুঁজছেন বিসিকের কর্মকর্তারা। বর্জ্য ও পানি আলাদা করতে নয়টি ডি ওয়াটারিং ইউনিট পুরোপুরি কাজ না করায় বিকল্প করণীয় বের করতেও গলদঘর্ম অবস্থা কর্মকর্তাদের। চামড়াশিল্প নগরের প্রকল্প পরিচালক জিতেন্দ্রনাথ পাল প্রথম আলোকে বলেন, 'ঈদে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা বিকল্প চিন্তা করছি। সরকার এলাকাওয়ারি যেমন বিদ্যুতের রেশনিং করে থাকে, ঠিক তেমনি আমরা সিইটিপিতে একই পদ্ধতি চালু করব। ১৩২ কারখানার বর্জ্য একসঙ্গে সেখানে দেওয়া হবে না। অর্ধেক করে দেওয়া হবে।' সাভার শিল্পনগরে শ্রমিকেরাও ভালো নেই। সেখানে যেসব মালিক ভাড়ায় কারখানা চালাচ্ছেন, তাঁরা শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি দিচ্ছেন না। জুলাইয়ের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো জুন মাসেরই বেতন পাননি অনেক শ্রমিক। তা ছাড়া যাঁরা স্থানীয় বাজারে ওয়েট ব্লু (চামড়া পরিশোধনের প্রাথমিক ধাপ) ব্যবসা করেন, করোনার কারণে তাঁদের ব্যবসাও স্থবির। তাঁদের টাকা আটকে আছে স্থানীয় বাজারে। আড়তদার ও ব্যাপারীরা গতবারের টাকা এখনো হাতে পাননি। করোনাভাইরাস যে হারে ঊর্ধ্বমুখী, তাতে এবারও চামড়ার টাকা পাবেন কি না, তা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। হেমায়েতপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চামড়াশিল্পের কারণে ধলেশ্বরীতে আগের মতো মাছ মিলছে না। একসময় এই নদীর পানি দিয়ে ভাত রান্না করা হতো, অথচ এখন গোসল করাও যায় না। এমনকি হাত-পা ধুলেও চুলকানি শুরু হয়ে যায়। মোহাম্মদ নাসির নামের একজন গ্রামবাসী জানান, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া থেকে তিনি ১৫ জন জেলেকে মাছ ধরতে তিন মাসের জন্য ভাড়া করে এনেছিলেন। কিন্তু চামড়াশিল্প নগরের বর্জ্য পড়ে দূষিত হওয়ায় ধলেশ্বরী নদীতে আগের মতো আর জালে মাছ ধরা পড়ে না। ফলে ভাড়াটে জেলেদের নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন তিনি। বুধবার চামড়াশিল্প নগরের মোর্শেদ ব্রাদার্স ট্যানারিতে ঢুকে দেখা যায়, চামড়া সংরক্ষণের জন্য তারা লবণ মজুত করে রেখেছে। চামড়া রাখতে তিনতলা কারখানার নিচতলা পুরোটাই খালি রাখা হয়েছে। চামড়ার পশম দূর করার জন্য ড্রামও তৈরি। ভুলুয়া ট্যানারিতেও দেখা গেল, কাঁচা চামড়া সংগ্রহ থেকে সংরক্ষণে সবকিছু প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল বলেন, 'এবারে তিন লাখ পিছ কাঁচা চামড়া কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ থাকলে কাঁচা চামড়া কীভাবে সংগ্রহ করব? কীভাবে তা কারখানা পর্যন্ত নিয়ে আসব?' তিনি বলেন, 'এখন গরমের সময়। বেশি দিন চামড়া বাইরে রাখা যাবে না। যদি চামড়াশিল্পকে বিধিনিষেধের বাইরে রাখা না হয়, তাহলে আমরা চামড়া কিনব না।' সাভার চামড়াশিল্প নগরে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ডি ওয়াটারিং ইউনিট এবং ডাম্পিং ইয়ার্ড একসঙ্গে লাগোয়া। সিইটিপিতে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে পাম্প, জেনারেটর, ল্যাবের কাজ এখনো শেষ হয়নি। চামড়াশিল্প নগরে বর্জ্য ও পানি আলাদা করতে ডি ওয়াটারিং ইউনিট আছে নয়টি। কিন্তু দেখা গেল, তিনটি ইউনিট কাজ করছে না। অবশ্য প্রকল্প পরিচালক বলেন, তিনটি নয়, একটি ইউনিট অকার্যকর। অন্যদিকে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলছেন, তিনটি ইউনিট অকার্যকর। দুর্গন্ধের কারণে ডাম্পিং ইয়ার্ডের আশপাশ দিয়ে মানুষের যাতায়াত করা কঠিন। রাস্তাটিও ব্যবহারের অনুপযোগী। প্রকল্প পরিচালক জিতেন্দ্রনাথ পাল জানান, ডাম্পিং ইয়ার্ড বানানোর জন্য নতুন একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তার আগে আপৎকালীন হিসেবে দুটি ইনডোর ডাম্পিং ইয়ার্ড করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীকে বাঁচাতে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ২০১৭ সালে চামড়াশিল্পকে সাভারে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সিইটিপি কার্যকর না থাকায় সব বর্জ্য গিয়ে পড়ছে ধলেশ্বরী নদীতে। দূষণের কারণে ধলেশ্বরী নদীও এখন হুমকিতে। এদিকে হেমায়েতপুরের পাশে হরিণধরা বাজারে গত এক বছরে চামড়ার অন্তত ৭০টি আড়ত গড়ে উঠেছে। তাদের সংগ্রহ করা গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের কাঁচা চামড়া ট্যানারির মালিকেরা কিনে নেন। চামড়াশিল্প নগরে কথা হয় অন্তত ২০ জন শ্রমিকের সঙ্গে। তাঁরা জানান, চামড়ায় রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে তাঁদের শরীরে নানা ধরনের রোগ বাসা বেঁধেছে। ৩০ বছরের পুরোনো শ্রমিক মোহাম্মদ বাবুল জানান, হরিণধরা ইউনিয়নে এক মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে থাকেন। তারপরও যা টাকা বেতন পান, তা দিয়ে জীবন চলে না। চামড়াশিল্প নগরে শ্রমিকদের জন্য আবাসন ও বিনোদন এবং তাঁদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক ইত্যাদি করার কথা থাকলেও এসব সুবিধা এখনো অধরা। | 0 |
বায়ার্ন মিউনিখ কোচ হানসি ফ্লিক বাভারিয়ানদের দায়িত্ব নিয়েছেন এক বছরও হয়নি। এরই মধ্যে দুর্দান্ত দল গড়ে ফেলেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে সের্গি গিনাব্রি-লেভানডস্কিরা অসাধারণ খেলছেন। কৌশলে উড়িয়ে দিয়েছেন টটেনহ্যাম, চেলসি, বার্সেলোনার মতো দলকে। ওই কৌশল দিয়েই পিএসজিকে রুখবে বায়ার্ন। এমনই মত বায়ার্নের সাবেক ডিফেন্ডার ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ ডেমিচেলিসের। তিনি মনে করছেন, বায়ার্নের গতির সঙ্গে মানিয়ে নিতেই শেষ হয়ে যাবে পিএসজি। বায়ার্ন মিউনিখ তাদের দল সাজাচ্ছে ৪-৪-২ ফরমেশনে। মাঝ মাঠেই আটকে দিচ্ছে প্রতিপক্ষকে। আর ডিফেন্ডারদের তুলে আনছে ওপরে। হাই-লাইন ডিফেন্সে ঝুঁকি আছে। তারপরও বায়ার্ন তাদের ছক থেকে সরবে না বলেই মনে করছেন সাবেক ওই ফুটবলার। অন্যদিকে পিএসজি খেলছে ৪-২-২-২ ফরমেশনে। টমাস টুখেলের এই ছক বায়ার্নের আক্রমণের কাছে টিকবে না বলেই মনে করছেন ডেমি। তিনি বলেন, 'বায়ার্ন তাদের ছকে পরিবর্তন আনবে না। কারণ এরই মধ্যে তারা অনেক কঠিন ম্যাচ পার করে এসেছে। হাই-লাইন ডিফেন্সে ঝুঁকি আছে। কিন্তু তারা ওভাবেই অনেক গোল করেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড গড়েছে। সুতরাং তাদের কৌশল থেকে সরে রক্ষণাত্মক খেলার মানে নেই।' বায়ার্ন মিউনিখ এর আগে মেসি-সুয়ারেজদের বিপক্ষে পরীক্ষায় দুর্দান্তভাবে পাস করেছে। এবার তাদের খেলতে হবে নেইমার-এমবাপ্পে এবং ডি মারিয়ার মতো তারকাদের বিপক্ষে। রক্ষণকে তাই পরীক্ষা দিতেই হবে বায়ার্নের। এমনকি ডেমিচেলিস মানেন যে, সব সময় রক্ষণভাগ শতভাগ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে না বায়ার্নের। কোন দলই পারবে না। তারপরও ট্যাকটিকস বিবেচনায় পিএসজির থেকে বায়ার্ন অনেক এগিয়ে। বায়ার্নের কৌশলের বড় জায়গাজুড়ে থাকবেন টমাস মুলার। মিডফিল্ডে ডিপে নেমে খেলে তিনি পিএসজি ডিফেন্ডারদের তুলে আনার ভূমিকা পালন করবেন। আবার নিজেদের সেন্ট্রাল ডিফেন্স ও ফুল ব্যাককে হাই-লাইনে খেলতে সহায়তা করবেন। উইঙ্গে তিনি উইঙ্গ ব্যাকের সঙ্গে সমন্বয় করে 'ব্লাইন্ড লাইন' তৈরি করতে পারেন। ডেলিচেলিস মনে করেন, রক্ষণভাগের ফুটবলাররা উপরে উঠে খেলায় যেটুকু গ্যাপ তৈরি হবে তা পূরণ করতে বায়ার্নের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ার তো আছেনই। তার মতে, বায়ার্নের ক্ষীপ্রতার সঙ্গে ৯০ মিনিট পেরে ওঠা পিএসজির পক্ষে কঠিন হবে। | 12 |
ধর্ষণ মামলায় ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক-দুশ্চরিত্রা মন্তব্য করার বিধান আইন থেকে বাদ যাচ্ছে। এ ধরনের বিধান বাদ দেওয়াসহ বিদ্যমান সাক্ষ্য আইন সংশোধন করে সংসদের আগামী অধিবেশনে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল হক। আজ বুধবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের প্রক্রিয়ার সময় বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও গণফোরামের সদস্যরা ছাটাই প্রস্তাবেরও পর তাদের বক্তব্য দেন। এ সময় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানসহ একাধিক সংসদ সদস্য সাক্ষ্য আইনটিকে যুগোপযোগী করার প্রস্তাব তোলেন। এসময় আইনমন্ত্রী বলেন, 'সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধরা, এখানে রেপ কেসে (ধর্ষণ মামলা) ভিকটিমের চরিত্র নিয়ে কথা বলার একটা সাব সেকশন আছে। সেটাকেও পরিবর্তন করার জন্য আমি নির্দেশনা পেয়েছি। সেটাও পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা মনে হয় পূর্ণাঙ্গভাবে সেপ্টেম্বর মাসে যে সংসদ অধিবেশন হবে সেখানে আইন নিয়ে আসতে পারবো। সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ১৫৫ (৪) ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তি যখন বলাৎকার বা শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারিতে সোপর্দ হন, তখন দেখানো যেতে পারে যে অভিযোগকারী সাধারণভাবে 'দুশ্চরিত্রা'। সাক্ষ্য আইনে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার যুক্ত করা হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, 'সাক্ষ্য আইনের কথা বলা হয়েছে। এখানে একটু বলে রাখি, অ্যাভিডেন্স অ্যাক্ট যুগোপযোগী করার জন্য কাজ চলছে। আমার মনে হয় আগামী সংসদে আমরা এটা আনতে পারবো। বিশেষ করে এটা হবে ভার্চুয়াল। করোনকালে ভার্চুয়াল আদালত চালুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'করোনার কারণে গত বছর ২৫ মার্চ থেকে মে পর্যন্ত আদালত বন্ধ ছিল। যে কারণে অনেক মামলা জমে যায়। যার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলা পরিচালনার বিধান হয়। এ কারণে এক লাখ ৩৭ হাজার ৩৩০টি মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। এই ভার্চুয়াল কোর্ট না হলে আজকে ৩৯ লাখ মামলার জায়গায় আমাদের ৪১ লাখ মামলা পেন্ডিং থাকার কথা শুনতে হতো। বিভিন্ন আদালতে বিচারপকি নিয়োগর বিষয়ে তিনি বলেন, এটা একটি প্রক্রিয়া, বিচারক প্রশিক্ষণ ও উপযুক্তভাবে তৈরি করতে সময় লাগে। তবে সরকার বিচারক নিয়োগের চেষ্টা হচ্ছে। মামলা জট করোনা কেটে গেলে কমবে বলে আশ্বস্থ করেন তিনি। | 6 |
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বাঙালি ও করতোয়া নদীতে অবৈধ সুতি জাল ব্যবহার করে অবাধে চলছে মাছ ধরা। প্রশাসনের উদাসীনতায় অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা নদীতে অবাধে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরায় দেশীয় মাছের সংকট দেখা দেয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোড়গাছ-বেলগাছী ব্রিজ সংলগ্ন বাঙালি নদীতে সুতি জাল ব্যবহার করে মাছ ধরা হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, এই জালে ক্ষুদ্রাকৃতির মাছও ধরা পড়ে। ফলে পোনামাছ গুলো বড় হতে পারে না। সারাদিন জাল পাতা থাকে। ভোররাতে জাল থেকে মাছ তুলে বাজারে বিক্রি করা হয়। একইভাবে বাঙালি নদীর বিনোদপুরে ২টি ও ঝাঁজরে ১টি সুতিজাল এবং করতোয়া নদীর খাগা এলাকায় ১টি সুতিজাল দিয়ে অবাধে মাছ ধরা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা সরকার জানান, অবৈধ জালের বিরুদ্ধে ইতোপুর্বে দুইটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় জব্দকৃত অবৈধ জাল ১৫শ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরা হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। | 6 |
তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বর্তমান এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে করা দুদকের দুটি মামলা খালাসের রায় বাতিল চেয়ে লিভ টু আপিল করেছে দুদক। এ বিষয়ে দুটি মামলার মধ্যে একটির বিষয়ে লিভ টু আপিল করা হল। মঙ্গলবার (১০ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে দুদকের একটি মামলায় বিচারিক আদালত তিন বছরের সাজা দিয়েছিল। সেই সাজা বাতিল করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এ লিভ টু আপিল। তবে কবে নাগাদ এ আপিলের শুনানি হবে সেটি বলতে পারেননি দুদক আইনজীবী। খুরশিদ আলম খান আরও বলেন, এ মামলায় আত্মসমর্পণ করতে বলার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তা করেননি হাজী সেলিম। তার উচিৎ ছিলো এটা দ্রুত করা। তবে তাকে যে খালাস দেওয়া হয়েছে, সেটা সঠিক হয়নি। এর আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের অপর একটি মামলায় হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায়ের ৬৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করে হাইকোর্ট। এ রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। তবে এখনও আত্মসমর্পণ করেননি তিনি। আর ২০২১ সালের ৯ মার্চ হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। | 6 |
গত এক সপ্তাহে দেশে করোনা ভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত করোনা বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ-নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এ কথা জানান। তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা যদি সংক্রমণের চিত্র দেখি তাহলে সব থেকে বেশি রোগী গত জুলাই মাসে শনাক্ত হয়েছে। আর ডিসেম্বর মাসে এ পর্যন্ত এক হাজার ৭২৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। জেলা ভিত্তিক চিত্রে ঢাকা জেলায় সব থেকে বেশি রোগী পাঁচ লাখ ৩০ হাজার ৮২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর পরের অবস্থানে চট্টগ্রাম জেলায় ৯৯ হাজার ৮১১ জন শনাক্ত হয়েছেন। শীর্ষ ১০টি জেলার মধ্যে শেষের অবস্থানে রয়েছে কক্সবাজার, সেখানে ২৩ হাজার ২৭৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 4 |
বিপজ্জনক হয়ে ওঠা আফগান ওপেনার মোহাম্মাদ শাহজাদকে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি এনেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ২৬ রানে দুই উইকেট পড়ার পর হাসমতুল্লাহ শহিদীর সাথে তার ৬৩ রানের জুটিতে চালকের আসনে বসে আফগানিস্তান। কিন্তু ২৫ তম ওভারে প্রথমবারের মতো বলে হাতে নিয়ে সফলতা এনে দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।৮১ বলে ৫৩ রান করে বোল্ড হয়েছেন শাহজাদ। আফগান শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। দলীয় ২০ রানে ইনসানউল্লাহকে তুলে নেন কাটার মাস্টার। এর পর দলীয় ২৬ রানে রানআউট হন রহমত শাহ। ৩৩ ওভার শেষে তাদের রান ৩ উইকেট ১২৬। এ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল কায়েসের ব্যাটিং দৃঢ়তায় একটা চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়, গড়ে ২৪৯ রান। আজ রোববার আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অবশ্য বাংলাদেশের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। দলীয় দলীয় ১৬ রানের মাথায় ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তর (৬) উইকেট হারিয়ে বসে। দুই রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফিরেন ওয়ানডাউনে নামা মোহাম্মদ মিঠুনও (১)। এরপর মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস তৃতীয় উইকেট জুটিতে কিছুটা দৃঢ়তা দেখান। দুজনে মিলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন। পরে অবশ্য লিটন ৪১ এবং মুশফিক ৩৩ রান করে সাজঘরে ফিরেন। দ্রুত ফিরে যান সাকিব আল হাসানও (০)। দলীয় ৮৭ রানের মাথায় পাঁচ উইকেট হারিয়ে দল যখন কিছুটা চাপে পড়ে তখন রুখে দাঁড়ান অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল কায়েস। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১২৮ রানের চমৎকার একটা জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখান তারা। মাহমুদউল্লাহ ৮১ রানে ৭৪ চমৎকার একটি ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে গেলেও ইমরুল একপাশ আগলে রাখেন। তিন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে করেন ৭২ রান। অধিনায়ক মাশরাফি ৯ বলে ১০ রান করেন। গতকাল হঠাৎ দলের সঙ্গে যোগ দেন ইমরুল। আজ একাদশে সুযোগ পেয়ে তা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন। মুমিনুল হকের জায়গায় নেওয়া হয়েছে তাঁকে। এই ম্যাচের দল থেকে বাদ পড়েন পেসার রুবেল হোসেন। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয়েছে স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুকে। ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়েছে। আফতাব আলম ৫৪ রানে তিনটি এবং রশিদ খান ৪৬ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েও বাংলাদেশের এই চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ার ক্ষেত্রে খুব একটা বাধা হতে পারেননি। | 12 |
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মিরপুরের উইকেট ধরে রেখেছে তার স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য। যথারীতি আজও দিনের প্রথম ম্যাচটা হলো লো-স্কোরিং। কিছুটা লড়াই হয়েছে এই ম্যাচেও। ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও আন্দ্রে রাসেল। অবদান আছে শুভাগত হোমেরও। এই ত্রয়ীর ব্যাটিং দৃঢ়তায় সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশালকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে মিনিস্টার ঢাকা। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় ম্যাচে এসে প্রথম হারের স্বাদ পেলেন সাকিবরা।টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১২৯ রানের মান বাঁচানো সংগ্রহ তোলে বরিশাল। জবাব দিতে নেমে ঢাকা জিতেছে ১৫ বল হাতে রেখেই। এবারের টুর্নামেন্টে তারকা ঠাসা ঢাকার এটাই প্রথম জয়। আগের দুটো ম্যাচেই হেরেছে তারা। দুটো ম্যাচে ফিফটি করেও দলের হার ঠেকাতে পারেননি তামিম ইকবাল। আজ রানের খাতা খুলতেই পারেননি দেশসেরা ওপেনার। তাতে অবশ্য জয় আটকায়নি ঢাকার।তবে মামুলি পুঁজি নিয়েই ইনিংসের শুরুতে ঢাকাকে কাঁপিয়ে দেন সাকিবরা। ১০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে লড়াইয়ের আভাস দেন তাঁরা। পঞ্চম উইকেট জুটিতে শুভাগতকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন মাহমুদউল্লাহ। দুজনের ৬৯ রানের কার্যকর জুটি ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বরিশালকে। শুভাগত ২৯ রানে বিদায় নিলেও মাহমুদউল্লাহ দলকে জিতিয়েই ছাড়েন ২২ গজ। ৪৭ বলে ৪৭ রান করেন ঢাকা অধিনায়ক। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী রাসেল ১৫ বলে ৩১ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। এ ছাড়া বল হাতে ২ উইকটে নেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। ঢাকার আরেক বিদেশি ইসুরু উদানার শিকারও দুটি। মাহমুদউল্লাহ ১ উইকেট পেলেও বল হাতে ছিলেন উদার। তাই রাসেলকে ম্যাচ সেরা হিসেবে বেছে নিতে সমস্যা হয়নি নির্বাচকদের। ঢাকার প্রতিপক্ষ শিবিরেও আলো ছড়িয়েছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। ক্রিস গেইল এই আসরের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ৩০ বলে করেন ৩৬ রান। তিন চার ও দুই ছক্কায় গড়া তাঁর ইনিংসটি।অবাক করা বিষয় হচ্ছে, গেইল এদিন ব্যাটিং করেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে। পাঁচ নম্বরে নেমেছেন তিনি। গেইলের বিদায়ের পর তাঁর সতীর্থ ডোয়াইন ব্রাভোর ব্যাটে ওঠে ঝড়। ২৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন এই অলরাউন্ডার। বরিশাল অধিনায়ক সাকিব ১৯ বলে ২৩ রানে আউট হন। এ ছাড়া ১৮ বলে ১৫ রানে বিদায় নেন ওপেনার সৈকত আলি। ঢাকার হয়ে উইকেট পেয়েছেন ছয় বোলারই। | 12 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে যারা হত্যা করেছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যারা লিটনকে হত্যা করেছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে। প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করার কোনো প্রচেষ্টাই সফল হবে না।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন স্মরণে সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজ মাঠে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভায় একথা বলেন তিনি।
শোকসভার সভাপতিত্ব করেন সুন্দরগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা আহমেদ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এই হত্যাকাণ্ড সরকার ও আওয়ামী লীগের চেতনায় আঘাত হেনেছে। সুতরাং এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সুন্দরগঞ্জ আসনের উপ-নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে কাড়াকাড়ি করবেন না, শেখ হাসিনা যাকে চাইবেন, সুন্দরগঞ্জের মানুষ যাকে চাইবে সেইই মনোনয়ন পাবে। এই নিয়ে দলের মধ্যে কোনো কোলাহল সৃষ্টি করবেন না। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরগঞ্জের মানুষের পাশে আছেন এবং থাকবেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিশাল আন্দোলন গড়ে ওঠেছিল। তার ফলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সফল মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এ কারণে মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়ন এ সরকার সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাববী মিয়া, হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, ডা. ইউনুস আলী সরকার, এইচএম আশিকুর রহমান, টিপু মুন্সি, অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, রংপুর সিটি করর্পোরেশনের মেয়র শরিফ উদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, জেলা আ'লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ-শামস-উল আলম হিরু, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন প্রমুখ।
পরে মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ লিটনের বাড়িতে গিয়ে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।
| 9 |
সাত বছরের শিশু ফাইদ শামিমের ওজন মাত্র সাত কেজি। ইয়েমেনের রাজধানী সানাতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। সে পঙ্গু। সেই সঙ্গে মারাত্মক অপুষ্টির শিকার। রয়টার্সের খবরে জানা যায়, আল সাবিন হাসপাতালের অপুষ্টি ওয়ার্ডে ফাইদের চিকিৎসক রাগেহ মোহাম্মদ বলেন, 'মুমূর্ষু অবস্থায় ফাইদকে আনা হয়েছিল। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে আমরা তার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে পেরেছি। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।' চিকিৎসক রাগেহ মোহাম্মদ আরও বলেন, ফাইদ সেরিব্রাল পালসি ও অপুষ্টিতে ভুগছে। হাসপাতালের কম্বলের চার ভাগের এক ভাগ জায়গাজুড়ে রয়েছে ফাইদের হাড়জিরজিরে শরীরটি। সানা থেকে ১৭০ কিলোমিটার উত্তরে আল জাওয়াফ এলাকা থেকে ফাইদকে নিয়ে এসেছে তার পরিবার। বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকি ও ভাঙাচোরা রাস্তা পার হতে হয়েছে ফাইদকে। ফাইদের চিকিৎসা করার সামর্থ্য ছিল না তার পরিবারের। ফাইদের পরিবার তার চিকিৎসার জন্য অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে। ইয়েমেনের চিকিৎসক মোহাম্মদ বলেন, ইয়েমেনে অপুষ্টি বাড়ছে। দরিদ্র মা-বাবাকে সন্তানের চিকিৎসার জন্য অপরিচিতদের বা আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ইয়েমেনে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়নি। ছয় বছরের যুদ্ধে দেশটির ৮০ ভাগ জনগণ ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট চলছে ইয়েমেনে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে জাতিসংঘ ইয়েমেনের দুর্ভিক্ষ নিয়ে সতর্ক করে। ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে নানা বিধিনিষেধ, রেমিট্যান্স কমে যাওয়া, পঙ্গপালের হামলা, বন্যা ও অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। ইয়েমেনে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুতিদের যুদ্ধ চলেছে। এতে এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। ইয়েমেনও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। হুতিরা সানা এবং বড় বড় শহরগুলো নিজেদের দখলে রেখেছে। তবে তেহরান সরাসরি হুতিদের সহায়তা করার বিষয়টি স্বীকার করে না। | 3 |
এবার ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলো পাকিস্তানে। উনিশ শতকের শিখ শাসক মহারাজা রণজিৎ সিংয়ের ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহির নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তারকৃত আহির লাহরের রাজধানী হরবানসপুরা এলাকার বাসিন্দা। শহরের শাহী কিলার কাছে অবস্থিত ভাস্কর্যের একটি হাত ভেঙে ফেলেছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত আহির পুলিশের কাছে তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে আহির দাবি করেন, রঞ্জিত সিংয়ের মূর্তিটি তৈরি করা উচিত হয়নি। কারণ তিনি শাসক থাকাকালীন মুসলমানদের ওপর অত্যাচার করেছিলেন। | 3 |
দাকোপের কালাবগি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রটি আংশিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এ পর্যটন কেন্দ্রে নানা জাতের বৃক্ষরাজি রোপণের সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে মনোমুগ্ধকর সব স্থাপনা। এ কেন্দ্র থেকে সরকার যেমন বড় অঙ্কের রাজস্ব পাবে, তেমনি এ অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে যাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের ভেতরে থাকা সাতটি পর্যটন কেন্দ্রে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ পর্যটক ভ্রমণ করে থাকেন। প্রতিনিয়ত সুন্দরবনে পর্যটক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বর্তমানে থাকা সাতটি স্থানে এত বেশি সংখ্যক মানুষের যাতায়াতে ঝুঁকির মুখে পড়ে সুন্দরবনের সার্বিক পরিবেশ।বনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সুন্দর করার জন্য নতুন নতুন স্পট তৈরির উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২০ সালে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্ধা, চাদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগে খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কালাবগীতে মোট চারটি পর্যটন স্পট তৈরির কাজ শুরু করে।এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের কালাবগি স্টেশনে ইকো টুরিজম কেন্দ্রের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে কেন্দ্রটি আংশিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পর্যটক বা দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে সুন্দরবনের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।খুলনা শহর থেকে সড়ক পথে ৫০ কিলোমিটার দূরে দাকোপ উপজেলার কালাবগি গ্রাম। গ্রামটির শেষ প্রান্তের বিপরীত পাড়েই কালাবগি ফরেস্ট স্টেশনকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে কালাবগি ইকো টুরিজম কেন্দ্র।সরেজমিনে কালাবগি ইকো টুরিজম কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যটকদের জন্য সেখানে তৈরি করা হয়েছে নৌযান থেকে ওঠানামার পল্টুন, বসার জন্য গোলঘর ও বেঞ্চ এবং মানসম্মত ওয়াশ ব্যবস্থাপনা। পৃথক খাঁচায় রাখা আছে মায়াবী হরিণ ও কুমির। দেখা মেলে বানর, বুনো শূকর, গুইসাপ ও চিত্রল হরিণের।বন অভ্যন্তরে দেখা মেলে বাঘের পায়ের ছাপ। চলমান আছে দর্শনার্থীদের বনের মধ্যে ঘুরে দেখার জন্য ২ হাজার ৬০০ ফুট কংক্রিটের ফুট ট্রেইল, নির্মিত হচ্ছে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। যার ওপর দাঁড়িয়ে বনের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। এ ছাড়া পর্যটকদের কেনাকাটার জন্য দোকান ও ময়লা ফেলার স্থান নির্মাণ চলমান আছে। বনের নানা প্রজাতির বৃক্ষের সঙ্গে দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে গাছের গায়ে নাম লিখে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টানানো থাকবে বন্যপ্রাণীর নামের তালিকা ও বিস্তারিত বর্ণনার সাইনবোর্ড।কথা হয় কালাবগি এলাকার আসলাম গাজীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আমাদের কালাবগিতে পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে। এটা ভালো ব্যাপার। এই পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন ঘটবে। এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।' তিনি কালাবগীতে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় বন বিভাগসহ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান বলেন, দাকোপে পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে এটা আনন্দের বিষয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে বেড়াতে আসবে। এই ইকো টুরিজমকে ঘিরে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব পাবে। | 6 |
ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভায় বর্জ্য অপসারণ প্রায় ১৪ দিন বন্ধ রয়েছে। ফলে বিভিন্ন সড়কে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ময়লার স্তূপ। এতে দুর্গন্ধসহ বাড়ছে মশার উপদ্রব। ভোগান্তি বাড়ছে পৌরবাসীর।সরেজমিনে জানা গেছে, দাগনভূঞা পৌরসভায় ময়লা অপসারণ করার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় গত ৩ মে থেকে পৌর এলাকার ময়লা অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে দাগনভূঞা বাজারের বসুরহাট রোড, ফাজিলের ঘাট রোড, ফেনী নোয়াখালী রোড, চৌধুরীহাট রোডে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ময়লার ভাগাড়।পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বে পৌরসভার ময়লা ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়ক মাতুভূঞা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অপসারণ করত পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সড়কে চার লেনের কাজ চলার কারণে কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে ময়লার ভাগাড় তুলে রাস্তার কাজ আরম্ভ করে।এরপর পৌর কর্তৃপক্ষ ময়লা ফেলানোর জন্য দাগনভূঞা সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সামনে স্থান নির্ধারণ করে। সম্প্রতি ওই স্থানটিতে ময়লা ফেলা নিয়ে বিপাকে পড়ে পৌরসভা।পৌর এলাকার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঈদের পর থেকে দাগনভূঞা পৌরসভার বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। ফলে বাজারের বিভিন্ন সড়কে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ময়লার ভাগাড়। এতে করে মশার উপদ্রব বেড়েছে।দাগনভূঞা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. খোকন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'গত ১৪ দিন ধরে কাঁচাবাজারে বর্জ্য পৌর কর্তৃপক্ষ অপসারণ না করায় এখানে বড় ধরনের ভাগাড় তৈরি হয়েছে। ময়লার গন্ধের কারণে ফলে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। ময়লার দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা এখানে দাঁড়ালে বেশিক্ষণ স্থির থাকেন না।'দাগনভূঞা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ইস্কান্দার আজকের পত্রিকাকে বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ ময়লা জমাট করে রাখার কারণে বাজারজুড়ে দুর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়টি মেয়রকে জানিয়েছি। তিনি দ্রুতবাজার থেকে বর্জ্যসরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।আতাতুর্ক সরকারি মডেল বিদ্যালয়ের ছাত্রী ইলমা বিনতে ইমাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'গত কয়েক দিনে পৌরসভার ময়লা অপসারণ না করায়আমাদের বিদ্যালয়ের মার্কেটের সামনে ছোট একটি ময়লার ভাগাড় তৈরি হয়েছে। এতে করে ময়লার তীব্র গন্ধে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।'পৌর মেয়র ওমর ফারুক খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'দাগনভূঞা বর্জ্য ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার গত কিছুদিন বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের প্রতিদিন ২০ টন ময়লা উৎপন্ন হয়। ইতিমধ্যে আমরা ডাম্পিং করার জন্য দুটি জায়গা কিনেছি। আজ মঙ্গলবার থেকে দাগনভূঞা থানা সংলগ্ন মদিনা ব্রিকফিল্ডের পাশে আমাদের জায়গায় ময়লা অপসারণ করা হবে। কাল থেকে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।' | 6 |
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক এবং খেলাঘর ফরিদপুর জেলা কমিটির সাবেক উপদেষ্টা কাজী জায়নুল আবেদীনের স্মরণে সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলেফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে স্থানীয় অম্বিকা মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর আসনের এমপি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, 'রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাদের পথিকৃত ফরিদপুরের জায়নুল আবেদীন। দীর্ঘদিন তার নেতৃত্বে ফরিদপুরের আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং তারই ধারাবাহিকতায় আমরা সেই ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।' তিনি বলেন, 'জায়নুর আবেদীনের কর্মময় জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিলে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা কখনই বিপথগামী হবে না।' স্মরণ সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশার্রফ আলী, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ঝর্ণা হাসান, ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, মরহুমের পুত্র রাশেদুল আবেদীন আক্কাস, জেলা যুবলীগের সভাপতি এ এইচ এম ফোয়াদ প্রমুখ। স্মরণ সভায় বক্তরা কাজী জায়নুল আবেদীনের সুদীর্ঘ কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা করেন। | 6 |
স্বর্ণ ব্যবহারকারি ও স্বর্ণ প্রেমীদের জন্য সুখবর হচ্ছে চলতি মাসের শুরুতে অল্প ওঠানামার মধ্যে থাকলেও কয়েক দিন ধরে বিশ্ববাজারে পতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণের দাম। তবে, বড় ব্যবধানে স্বর্ণের দাম পতন শুরু হয় গত মাসেই (আগস্ট)। এর আগে করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল হয়ে পড়লে কয়েক দফা রেকর্ড ভেঙে গেল জুলাইয়ে এ যাবতকালের দাম বৃদ্ধির রেকর্ড করে ধাতুটি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণ হাত বদল হয় ১৯৪০.৪৩ ডলারে। যা শনিবারের চেয়ে এক ডলারের কম। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর প্রতি আউন্স স্বর্ণের সবশেষ দাম ছিল ১৯৪৬.৫৬ ডলার। ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫.২৩ ডলারে থামে স্বর্ণের লেনদেন। দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকে ১১ সেপ্টেম্বরও। আগের দিনের চেয়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৩.৭২ ডলার; দিন শেষ হয় ১৯৪১.৫০ ডলারে। ১২ সেপ্টেম্বর আরেক দফা দরপতনে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নামে ১৯৩৯.৩৬ ডলারে। বিশ্ববাজারে সোনার দরপতনের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা ডলারের দুর্বল অবস্থান ও করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের অগ্রগতিকে চিহ্নিত করছেন। | 3 |
যশোর জেলার অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর ও খুলনার ফুলতলার নিম্নাঞ্চল নিয়ে পরিচিত এলাকার নাম ভবদহ। যেখানে বছরের প্রায় ৬ মাস জলাবদ্ধ থাকে। তবে গত বছরের জলাবদ্ধতার ক্ষত এখনো ম্লান হয়নি। অনেকের উঠানে এখনো পানি, স্কুল-কলেজের মাঠগুলো ব্যবহার অনুপযোগী, সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য, বিলগুলোতে কোমরপানি।একের পর এক আন্দোলন, প্রতিশ্রুতি আর ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ভবদহবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের ফুলঝুরি। এর মাঝে ফের আকাশে মেঘের ঘনঘটা। মাস পেরোলেই আবার বর্ষাকাল।দিনের পর দিন যশোরের দুঃখখ্যাত ভবদহ অধ্যুষিত লাখ লাখ মানুষের উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। এবার তাঁদের দুর্গতি আরও ভয়াবহ হবে এমনটাই আশঙ্কা করেছেন ভবদহবাসী।এক যুগের অধিক সময় জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত এ অঞ্চলের হাজার হাজার বিঘার কয়েকটি বিলে ফসল ফলাতে ব্যর্থ কৃষকেরা। ফলে সব হারানো এ বৃহৎ অঞ্চলের মানুষের কান্নার যেন শেষ নেই।ভবদহ অধ্যুষিত জলাবদ্ধ এলাকার বাসিন্দা বিরাট চন্দ্র রায় বলেন, 'প্রতিবছর আমরা জলে ডুবি, আর নেতারা আশ্বাসের পর আশ্বাস দিয়ে যান। আমরা যেন খেলার পুতুল বনে গেছি। ভবদহকে একটা ব্যবসাকেন্দ্র বানিয়ে নিয়েছে কতিপয় নেতা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। আমরা প্রতিবছর ত্রাণের জন্য লাইন দিতে চাই না। ত্রাণ চাই না। আমরা জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী পরিত্রাণ চাই। এখনো গত বছরের পানি কমেনি। আর এক মাস পরেই বর্ষাকাল। এবার ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হবে।'একই আক্ষেপ প্রকাশ করেন আন্ধা গ্রামের শ্যামল বৈরাগী, চলিশিয়ার আব্দুর রব, ডুমুর তলার মৃণাল বৈরাগীসহ অনেকে।ভুক্তভোগীসহ ভবদহ জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় গঠিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলছেন, নদীতে জোয়ারাধার (টিআরএম) বাস্তবায়ন করতে পারলে ভবদহের লাখ লাখ লোক জলাবদ্ধতার হাত থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পেত। এ দাবিতে যুগ যুগ ধরে আন্দোলন করে আসছে বেশ কিছু সংগঠন ও জলাবদ্ধতার শিকার ভুক্তভোগী লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু অদ্যাবধি টিআরএম বাস্তবায়ন হয়নি। উপরন্তু টিআরএম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্বার্থান্বেষী একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবো কর্মকর্তারা।বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, তারপর থেকেই টিআরএম বাস্তবায়নে পাউবো কর্তাদের অনীহা দেখা দিয়েছে। তাঁরা রীতিমতো টিআরএমের পক্ষে যেতে নারাজ। গতানুগতিক সেচযন্ত্রের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান দেখছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি। আর এ কারণে দীর্ঘ দেড় যুগেও টিআরএম বাস্তবায়নের পথে বাঁধাগুলো চিহ্নিত করে প্রকাশ করা হয়নি। বা কারণ অনুসন্ধান করা হয়নি। ফলে ভুক্তভোগীদের পাউবোর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলনের নেতা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, 'যেকোনো মূল্যে ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। ভবদহের জলাবদ্ধ মানুষকে পুঁজি করে পাউবো ও কতিপয় স্বার্থান্বেষী নেতাকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য বানাতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচির মাধ্যমে ভবদহের জলাবদ্ধ মানুষকে রক্ষায় কাজ করে যেতে হবে।'বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টিআরএমের মাধ্যমে পরিকল্পিত উপায়ে নদীগুলোতে জোয়ার-ভাটা চালু হয়। জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি নির্দিষ্ট বিলে পড়ে। ফলে বিল উঁচু হয়। পাশাপাশি ভাটায় স্বচ্ছ পানির স্রোতে নাব্যতা ফিরে পায় নদীগুলো। এ ছাড়া দর্শনায় মাথাভাঙ্গা-পদ্মার সঙ্গে ভৈরব নদের সংযোগ পুনঃস্থাপন করে ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী নদী সংস্কার করতে পারলে নদীগুলো প্রবাহ ফিরে পাবে। নিরসন হবে জলাবদ্ধতার।পানি উন্নয়ন বোর্ড, যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, 'ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে গত বছরের জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০টি সেচযন্ত্র দিয়ে সেচ চলছে। প্রতিটি সেচযন্ত্রের ক্ষমতা ৫ কিউসেক। সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচ সফল হয়েছে।'তাওহিদুল ইসলাম বলেন, 'হরি নদে দুই থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত নাব্যতা বেড়েছে। বড় পরিসরে সেচের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।' | 6 |
প্রিয় তারকার কাছে ভক্তদের জানতে চাওয়ার শেষ নেই। প্রিয় তারকা কী করছেন, কী নিয়ে ব্যষ্ততা এখন, তার পছন্দের তালিকা কেমন, কীভাবে অবসর কাটান আরও নানা ধরনের প্রশ্ন। ভক্তদের এই প্রশ্নগুলো প্রায় সমই তারকারা জানতে পারেন না। ফলে ভক্তরা পায় না উত্তরও। 'সমকাল সন্ধ্যা'য় আজকে অতিথি হয়ে আসছেন গায়িকা সিঁথি সাহা। সঙ্গীত ও ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলবেন তিনি। এখানেই দর্শক শ্রোতারা প্রশ্ন করতে পারবেন সিঁথি সাহাকে। শিল্পী নিজেই সে প্রশ্নের উত্তর দেবেন। সমকালের ফেসবুক পেজ ও ওয়েব ভার্সনে প্রচার হবে অনুষ্ঠানটি। জুম্মাতুল বিদার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। সিঁথি সাহা ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। মাঝখানে গানে বিরতি দিয়েছিলেন তিনি। বসবাস করেছেন নিউজিল্যান্ডে। তবে সম্প্রতি গানে আবার ফিরেছেন। নিয়মিত প্রকাশ করছেন গান। করছেন স্টেজ শোও। চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকেও এখন নিয়মিত তিনি | 2 |
দেশে আরও ৩২ হাজার ৭০০ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগের দিন মঙ্গলবারও শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। ওই দিন বিকেলে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, 'ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমাদের আরও শ্রম দিতে হবে। আগামী ডিসেম্বরে আরও ৩২ হাজার হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা আমাকে জাতি গঠনের যে মহান দায়িত্ব অর্পণ করেছেন আমি সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি, শুধু আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।' | 6 |
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সমন্বিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অন্যজনের বদলি (প্রক্সি) পরীক্ষা দেয়ার সময় আটক হয়েছেন আরমান সাইদ নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বুয়েটের বস্তু ও ধাতব কৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। শনিবার শেখ কামাল ভবনের ৯০১নং কক্ষ থেকে আটক করা হয় আরমান সাইদ নামের ওই নকল শিক্ষার্থীকে। আটকের পর প্রথমে নিজের নাম-পরিচয় মিথ্যা বলে ওই শিক্ষার্থী। পুলিশি জেরায় পরবর্তীতে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার্থী তানভীর হাসানের পরিবর্তে পরীক্ষা দিতে আসেন মো. আরমান সাইদ। তিনি বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ২০৪ নাম্বার রুমের আবাসিক ছাত্র। তার বাড়ি নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থানার খোর্দ্দ নারায়ণপুর গ্রামে। পরীক্ষায় অংশ না নেয়া আসল পরিক্ষার্থী তানভীর হাসান। সে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র ছিল। তার বাড়ি রংপুর সদর উপজেলায়। প্রক্টরিয়াল বডি জানায়, পরীক্ষার হলে ভর্তি পরীক্ষার্থীর ছবির সঙ্গে আসামি আরমান সাইদের ছবির মিল না পাওয়ায় হলের দায়িত্বে থাকা শেকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খুরশিদা পারভিন আমাদের খবর দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান সাইদ সরকার প্রক্সির বিষয়টি স্বীকার করলেও নিজের নাম-পরিচয় ভুল দেন। ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে ভর্তি পরীক্ষায় বদলি হিসেবে অংশ নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন তিনি। প্রক্টর ড. হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা পুলিশে দিয়ে মামলা দিয়েছি; যা ব্যবস্থা নেয়ার তারা নেবে। | 6 |
নির্ধারিত ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন শেষ হলেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না পর্যন্ত হোম কোয়ারেইনটাইনে'ই থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রামণে এখন সারা বিশ্বের অবস্থা নাজুক। দিন দিন পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন লকডাউনের মতো হয়ে গেছে এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে (খালেদা জিয়া) অবশ্যই কোয়ারেনটাইনে থাকতে হবে। সেখানে উনি সেইফ আছেন। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টেলিকনফারেন্সে গণমাধ্যমকে একথা জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ হোম কোয়ারেন্টাইন পরিবেশেই থাকবেন। আমরা আশা করি, এর মধ্যে (কোয়ারেনটাইন অবস্থায়) উনি ভালো থাকবেন। যখন পরিস্থিতি উন্নতি হবে তথনই পরবর্তী অবস্থার কথা আমরা চিন্তা করবো বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি, ম্যাডাম খুব অসুস্থ। এখনো ইম্প্রুভমেন্ট খুব বেশি হয় নাই। আমাদের দাবি ছিল চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া। দূর্ভাগ্যজনকভাবে তারা বলেছেন যে, দেশের বাইরে যাওয়া যাবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের অভ্যন্তরে চিকিতসা সেবার যে অবস্থা, তাতে করে তো সব ডাক্তারাও সার্ভিস দিতে পারছেন না। তার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিতসকরা তাকে দেখেছেন, চিকিৎসা দিচ্ছেন। আমরা আশা করি, এর মধ্যে উনি ভালো থাকবেন। অপর এক টেলিকনফারেন্সে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামের চিকিৎসার সব কিছু লন্ডন থেকে তত্ত্বাবধান করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে। এখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরিবারের সদস্যরা তার সাথে দেখা-সাক্ষাত করতে পারবেন'- বলেন ডা. জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময়ে ধরে নির্জন কারাবাস এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা না হওয়া কারণে ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ পর্য়ায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। হাত-পায়ে আর্থারাইটিজের প্রচণ্ড ব্যথার কারণে উনি ভীষণ কষ্ট পাচ্ছেন। এই ব্যাথা উপশমের ফিজিও থ্যারাপি দেওয়া হচ্ছে। 'ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) ডায়েবেটিক এখনো যথাযর্থ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। উনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘ এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হবে- বলেন জাহিদ হাসান। | 6 |
'আমার মৃত্যুর জন্য দুই ব্যক্তি দায়ী। তাহাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দেওয়া হইল, ভেড়ামারা কাস্টমস অফিসের পাশে বামন পাড়ার মৃত ছবেদ মেম্বারের ছেলে আ. ছালাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জের বাবুপুরের মনিরুজ্জামান মনির। আ. ছামাদ ও মনির আমার সঙ্গে পাথরের ব্যবসার পার্টনার ছিল। আ. ছামাদের কাছে আমার ৩০ লক্ষ টাকার ওপরে পাওনা আছে। এই টাকা না দেওয়ার জন্য মনির ও ছালাম এক হয়ে আমার বিপক্ষে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এই ষড়যন্ত্রের কারণে অধৈর্য হয়ে মৃত্যুর পথ বেছে নিলাম।'এই সুইসাইড নোটে আ. ছামাদ ও মনিরের ফোন নম্বরও রয়েছে। নিচে রয়েছে সিরাজুল ইসলামের নামের স্বাক্ষর (৮ ডিসেম্বর) তারিখ। আজ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া পাথর ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের (৫৮) মরদেহের পকেটে এ নোট পাওয়া গেছে। আজ শহরের নওদাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় এ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশ, স্থানীয় ও পরিবারসূত্রে জানা গেছে, নিহত পাথর ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ভেড়ামারা শহরের নওদাপাড়ার (প্রাক্তন সজনী সিনেমা হল) পেছনে মৃত নবী শেখ ফোরম্যানের মেজো ছেলে। আগে তাঁদের লোহার ওয়ার্কশপের দোকান ছিল। সে ব্যবসা ছেড়ে পাথরের ব্যবসা শুরু করেন সিরাজুল। গতকাল সকালে তাঁর ঘরের আড়ার সঙ্গে কাপড়ে ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে তিনটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।নিহত সিরাজুল ইসলামের ছোট ভাই রসিদুল ইসলাম বলেন, 'আমার মেজো ভাই ভেড়ামারার আ. ছালাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনিরের সঙ্গে পার্টনারে পাথরের ব্যবসা করতেন। তিনি চিঠিতে মৃত্যুর কারণ লিখে গেছেন। যে দুজনকে তিনি অভিযুক্ত করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।' ভাইয়ের মরদেহের বুকপকেটে একটি, বিছানার ওপর ও নিচ থেকে আরও দুটি মিলে মোট তিনটি একই লেখার চিরকুট পাওয়ার কোথাও তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আ. ছামাদকে ফোন দিলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তবে মনিরুজ্জামান মনির মোবাইল ফোনে বলেন, 'বৃহস্পতিবার আমার সঙ্গে সিরাজুলের কথা হয়। তিনি জানান একটি দোকান বিক্রি করে আবার ব্যবসা শুরু করবেন। আমার কাছে তাঁর টাকা পাওনা নেই। আমি প্রায় এক কোটি টাকা তাঁর কাছ থেকে পাব। আমার কাছে সে ডকুমেন্টস রয়েছে। বরঞ্চ তাঁর মৃত্যুতে আমিই ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।'ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মজিবুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তাঁর লিখে যাওয়া চিরকুট জব্দ করা হয়েছে। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। | 6 |
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় এ ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৭১৭ জন। আজ সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।যেখানে গতকাল ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে ১৩৯ জনের মৃত্যু এবং ৪ হাজার ৮০৪ জন রোগী শনাক্তের তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া গত ১০ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল গত ৫ আগস্ট।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে ৭৩৩টি সক্রিয় ল্যাবে ৩৬ হাজার ৭৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করলে ৫ হাজার ৭১৭ টির ফল করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। সে হিসাবে রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।যেখানে গতকাল ৭৩২টি সক্রিয় ল্যাবে ৩১ হাজার ৬৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করলে ৪ হাজার ৮০৪ টির ফল করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। সে হিসাবে রোগী শনাক্তের হার ছিল ১৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।এই সময়ে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে গত এক দিনে মারা গেছেন ৪০ জন কোভিড রোগী। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯, রাজশাহীতে ১০, খুলনায় ১১, বরিশালে ১, সিলেটে ১৩, রংপুরে ৯ ও ময়মনসিংহে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।এক দিনে করোনায় মৃত ১১৭ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৯৭ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ১৭ জন, বাসায় ৩ জন কোভিড রোগী।গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৫৩ আর নারী ৬৪ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯১-১০০ বছর বয়সী ৩ জন, ৮১-৯০ বছর বয়সী ৯ জন, ৭১-৮০ বছর বয়সী ২১ জন, ৬১-৭০ বছর বয়সী ৪১ জন, ৫১-৬০ বছর বয়সী ২৬ জন, ৪১-৫০ বছর বয়সী ৬ জন, ৩১-৪০ জন বছর বয়সী ৯ জন, ২১-৩০ বছর বয়সী ১ জন, এবং ১১-২০ বছর বয়সী ১ জন কোভিড রোগীর মৃত্যু হয়েছে।এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন ৮ হাজার ৯৮২ জন রোগী। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ১৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৫৬ জন। যেখানে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ৩৯৯ জন করোনা রোগীর।২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম কোভিডে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে নভেল করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্তের খবর জানানো হয় গত বছরের ৮ মার্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রথম মৃত্যুর খবর জানায় ১৮ মার্চ। | 6 |
করোনা সংক্রমণ রোধে ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহণের সিদ্ধান্ত আসতে পারে শিগগিরই। মঙ্গলবার রেল ভবনে একটি চুক্তি সই অনুষ্ঠানে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এই কথা জানান। রেলমন্ত্রী বলেন, কবে থেকে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন শুরু করবে তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ১৩ জানুয়ারির অগ্রীম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ওই দিন থেকে ৫০ শতাংশ যাত্রী বহন করা সম্ভব হবে না।আমরা বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে শিগগিরই আপনাদের জানাবো। | 9 |
কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের পাঁচ সদস্যের ওপর হামলা চালিয়ে ৮০ হাজার পিস ইয়াবা ও হাতকড়াসহ আটক এক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ বখতিয়ার (৪২)। তিনি উখিয়ার পালংখালী পূর্ব ফাঁড়িরবিলের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। বিজিবির দাবি, গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পালংখালীতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালানসহ মোহাম্মদ বখতিয়ারকে আটক করে বিজিবির টহল দল। তিনি একজন মাদক কারবারী। এরপর বখতিয়ারকে হাতকড়া পরিয়ে সীমান্ত ফাঁড়িতে নেওয়ার সময় উখিয়ার বালুখালীর পূর্ব ফাঁড়িরবিল এলাকায় তাঁর লোকজন হামলা চালান। এ সময় ইয়াবা, হাতকড়াসহ আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ হামলায় বিজিবির পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারী ও শিশুদের ব্যবহার করে ইট, পাথর ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিজিবির টহল দলের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারী নারীরা বিজিবি সদস্যদের হাত ও শরীরে কামড় বসিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন। সামনে নারী ও শিশুরা থাকায় বিজিবি সদস্যরা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। একপর্যায়ে আটক বখতিয়ারকে হাতকড়া, ইয়াবাসহ ছিনিয়ে নিয়ে যান হামলাকারীরা। কক্সবাজার-৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মেহেদি হোসাইন কবির বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত বিজিবির সদস্যদের কক্সবাজার সদর ব্যাটালিয়নে এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। মেহেদি হোসাইন কবির আরও বলেন, আহত বিজিবির সদস্যদের কারও মাথা ফেটেছে, কারও হাত কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে, কারও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। তবে তাঁরা সবাই আশঙ্কামুক্ত। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। | 6 |
শক্তিশালী চিলিকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে। দুই দলের মুখোমুখী লড়াইয়ে শুক্রবার (২৫ জুন) প্যারাগুয়ে জিতেছে ২-০ গোলে। আগের ম্যাচে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা। তারও আগে বলিভিয়াকে দিয়েছিল ৩-১ গোলে হারের স্বাদ। ফিফা রেংকিংয়ে প্যারাগুয়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে চিলি। আর্তুরো ভিদালদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি রয়েছে ১৯তম স্থানে। যেখানে প্যারাগুয়ের অবস্থান ৩৫ নম্বরে। শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে থাকলেও মুখোমুখী দেখায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পাত্তা পায়নি ভিদাল বাহিনী। প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক মিগুয়েল আলমিরন। একটি অ্যাসিস্টসহ ম্যাচে একটি গোলও করেছেন তিনি। ৩৩তম মিনিটে তার পাস থেকে বল পেয়েই লক্ষ্যভেদ করেন মিডফিল্ডার ব্রাইয়ান সামুদিও। বিরতির পর পেনাল্টি থেকে প্যারাগুয়ের হয়ে আরেকটি গোল করেন আলমিরন। এ জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট প্যারাগুয়ের। আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল মিশ্চিত করা চিলির ৪ ম্যাচে পয়েন্ট ৫। চিলি 'এ' গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের তিনে ও প্যারাগুয়ে দুই নম্বরে রয়েছে। | 12 |
ঢাকা শহরে যে এলাকায় আমি থাকি, তার আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা। প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে গেটের সামনে অনেক তরুণ-তরুণীকে জড়ো হতে দেখা যায়। তাঁদের কারও কারও হাতে থাকে চলতি হাওয়ার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পত্রিকা, কাউকে দেখা যায় ফুটপাতে বসে কোনো একটা পত্রিকার কাটিংয়ে চোখ বুলিয়ে নিতে। দেখতে দেখতে আমি এত অভ্যস্ত হয়েছি যে দেখেই বুঝতে পারি কে সারা রাত জার্নি করে এসেছেন। কোনো কোনো তরুণীর সঙ্গে বাবা বা ভাইকেও দেখি। তাঁরা সবাই সোনার হরিণ ধরতে আসেন-চাকরি নামের সোনার হরিণ। কিন্তু কতজনই-বা সেটা পান? বিসিএসের কথাই ধরা যাক। অল্প দিনের ব্যবধানে সিলেট ও কুমিল্লা ঘুরে এসে টের পেয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া, সদ্য স্নাতকদের এক বড় অংশই বিসিএস নামক সোনার হরিণের পেছনে নিজের সর্বস্ব বাজি ধরে বসে আছে। ভাবছেনও না, এই চাকরি পেতে হলে তঁাকে দুই হাজার জনের মধ্যে একজন হতে হবে। সহজ নয় মোটেই। প্রতি ২ হাজার জনের মধ্যে ১ হাজার ৯৯৯ জনেরই কোনো চাকরি এখানে হবে না। আমাদের এখানে বিসিএস পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ব্রুনাইয়ের লোকসংখ্যার বেশি। এই হিসাব শুধু বিসিএসের নয়, ১৮ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা দিয়েছেন ২৪ লাখ! ২৪ লাখ সংখ্যাটা কত বড়, সেটা আন্দাজ করার জন্য বলতে পারি, বিশ্বের ৮৭টি দেশের জনসংখ্যা এর চেয়ে কম! এ রকম একটি দেশে গত ১০ বছরে আমাদের মাথাপিছু গড় আয় দুই গুণের বেশি হয়েছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। আমরা স্বপ্ন দেখছি ২০৪১ সালে আমাদের জিডিপি তিন ট্রিলিয়ন ডলার ছাপিয়ে যাবে। এসবই আশার কথা। কিন্তু ছোটবেলা থেকে যে শুনেছিলাম ১ শতাংশ জিডিপি বাড়লে ১৫ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়, তার প্রকাশ তো দেখছি না। ৪৭ শতাংশ স্নাতক নাকি চাকরি পান না। ১০ কোটি ৭০ লাখ কর্মী আমাদের দেশে, অথচ এর অর্ধেকই সে অর্থে কোনো কাজ করেন না বা করার সুযোগ পান না। ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। সেটা কেমন করে পূরণ হবে? একজন ৩০ বছর বয়সী তরুণ বা তরুণীর কাছে জীবনের পরাজয় হচ্ছে, এই বয়সে সেলুনে চুল কাটা কিংবা সিনেমা দেখার টাকাটা মা কিংবা ভাইয়ের কাছ থেকে নেওয়া। কিন্তু তাঁদের কথা কে ভাবে। সামান্য কিছু কাজ হলেই কিন্তু অনেক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। সব হিসাব বলছে, আমাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, এমন লোকের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কাজেই দেশের ১৬ কোটি লোকের চাহিদা মেটানোর জন্যই আমাদের অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। সে জন্য আমাদের প্রায়োরিটি ঠিক করা দরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি চার লেনের হয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আট লেনের করা হবে। কিন্তু সেটা না করে এই কবছরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল রেললাইন করতে পারলে কিছু সমীকরণ পাল্টে দেওয়া যেত। এর ফলে অনেক উদ্যোক্তা তখন ঢাকার বাইরে চলে যেতেন নিজের জোগাড়যন্ত্র নিয়ে। তার সঙ্গে যদি হাইস্পিড ইন্টারনেটকে জুড়ে দেওয়া যেত, তাহলে হতো সোনায় সোহাগা। হিসাব বলে, প্রতি এক হাজার ব্রডব্যান্ড কানেকশন নতুন ৮টি কর্মের সৃষ্টি করে। আপনি যদি ঢাকার বাইরে যান, তাহলে দেখবেন উদ্যমী তরুণেরা কতভাবে নিজের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন। ব্রডব্যান্ড আর জ্ঞান কী করতে পারে, তার উদাহরণ ভূরি ভূরি বিশ্বজুড়ে। মাত্র ৫৫ জন তরুণ-তরুণী মিলে হোয়াটসঅ্যাপ নামে অ্যাপ্লিকেশন বানাতে পারেন, যার মূল্য মাত্র ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা! আমাদের তরুণদের বানানো 'দোকান' নামের ই-কমার্স সলিউশনে বিশ্বের ২৫ হাজার ই-কমার্স সাইট চলে। মানে আমরাও পারি। চট্টগ্রামে নদীর ওপারে একটি কোরিয়ান ইপিজেড হয়েছে। সেখানে অনেক কারখানা হওয়ার কথা ছিল। কথা ছিল এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। ওই এক লাখ লোকের নানান সুবিধা দেওয়ার জন্য আরও ২০ হাজার লোকের নানান রকমের কর্মসংস্থান হতে পারে সেখানে। কর্ণফুলী নদীর নিচের টানেল চালু হলে সেখানে আমরা সরিয়ে নিতে পারি আমাদের গার্মেন্টস জোন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করেও চীনের তৈরি পোশাকমালিকদের পক্ষে আমাদের রেটে কাপড় বানানো কঠিন হয়ে উঠছে। যদি আমরা নজর দিতে পারতাম আমাদের পোশাককর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে, তাহলে সেটি আমাদের রপ্তানি আয় বাড়াতে যেমন সাহায্য করত, তেমনি ওই খাতের বিদেশি কর্মীদের প্রতিস্থাপন করতে পারত। রক্ষণশীল হিসেবে প্রতিবছর বিদেশিরা আমাদের দেশ থেকে নিয়ে যায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা দিয়ে কত তরুণের কর্মসংস্থান করা যাবে? শুধু কর্মসংস্থান কেন? নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও তো আমরা ভাবতে পারি। সরকারি উদ্যোগে লাখ লাখ ছেলেমেয়েকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগে দরকার নতুন উদ্যোক্তাদের জীবনকে সহজ করা। আজও এ দেশে ট্রেড লাইসেন্স করতে হলে উদ্যোক্তাকে মিথ্যা কথা দিয়ে শুরু করতে হয়। কারণ, এই একুশ শতকে ডিজিটাল বাংলাদেশে ব্যবসা করার অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে 'বর্গফুটের' অফিস থাকা। মিরপুর থেকে হাজারীবাগে অফিস স্থানান্তর করলে ভ্যাটের কাগজপত্র স্থানান্তর করতে কমপক্ষে এক মাস সময় লাগে, যথাযথ স্পিডমানি দেওয়ার পরও। কদিন আগে একটি কারখানার মালিকের দুঃখের কথা শুনে হাসব না কাঁদব, তা বুঝতে পারলাম না। কারখানা থেকে মালামাল নিয়ে চার জায়গায় পাঠানোর জন্য তাঁর কাভার্ড ভ্যান বের হয়েছে। রাস্তার জ্যাম ঠেলে তিন জায়গায় মালামাল দিতে দিতে রাত ১২টা পার হয়ে গেছে। ৪ নম্বর দোকানে পৌঁছার পথে ভ্যাট পরিদর্শক গাড়ি আটকে দাবি করেছেন, ভ্যাট চালানের তারিখ ঠিক নেই। কারণ, এটা গতকালের। কী করতে হবে? 'কারখানায় গিয়ে নতুন চালান করে আনেন অথবা আমারে টাকা দেন।'এমন সংস্কৃতি চালু রেখে আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন, তিন কোটি লোকের কর্মসংস্থান আমরা কখনোই করতে পারব না। আর তরুণেরাও যদি কেবল ভাবেন দক্ষতা না বাড়িয়ে কেবল মামা-চাচা দিয়েই কর্ম জোগাড় করে ফেলবেন, তা-ও কিন্তু হবে না। সব তরফের উদ্যোগ, আন্তরিকতা এবং সহায়ক নীতিমালাই কেবল তরুণদের কর্মে ও উদ্যোগে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। মুনির হাসান প্রথম আলোর যুব কার্যক্রমের প্রধান | 8 |
কাজ না করে পাঞ্চিং হাজিরা দিয়ে বেতন নেওয়ার ব্যাপারে অসাধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, কাজ করবেন না অথচ পয়সা তুলে নেবেন, এটি হবে না। কাজে যাবেন না, অন্য লোককে দিয়ে পাঞ্চিং করিয়ে হাজিরা দিয়ে দেবেন, এটা হবে না। প্রত্যেককে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করতে হবে। কাজের কোনো বিকল্প নেই। কাজ দেখিয়ে জনগণকে খুশি করতে না পারলে আউটসোর্সিংয়ে যেতে হবে। এটাই হলো সত্য। ভালো কাজ করলে কোনো আউটসোর্সিং হবে না। বুধবার রাজধানীর গাবতলী সিটি পল্লীতে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বহুতলবিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মেয়র মো.আতিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। ২২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় ১৫তলা বিশিষ্ট চারটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে ৭৮৪টি ফ্ল্যাট হবে। প্রতি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ৫৬২ বর্গফুট। দুটি বেডরুম, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট, একটি বাথরুম ও একটি বারান্দা থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটে আসবাবপত্রে সুসজ্জিত করে দেওয়া হবে। ২০২১ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসির যে কর্মী আছে, যে জনবল আছে, তা নিয়েই ঢাকা শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে সবাইকে কাজ করতে হবে। ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুজিব সরওয়ার আলম মাসুম, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা ইতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
মা-বাবা জমি বেচে ছেলেকে পড়িয়েছেন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে তিনি চাকরি নিয়েছিলেন দেশের নামকরা টেক্সটাইল কোম্পানিতে। সেই মেধাবী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম পুলিশের চোখে এখন 'মস্তবড়' ছিনতাইকারী। রাজধানীর ছিনতাই চক্রের হোতা। 'ঈগল বাহিনী' নামে তার রয়েছে ছিনতাইয়ের দল। রোজার আগে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় হওয়া বড় দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুলের অন্ধকার ভুবনের খোঁজ পায়। সম্প্রতি তিন সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডিবি জানতে পারে, ২০১৯ সাল থেকে প্রায় প্রতিদিনই আশরাফুলের দলের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পথচারী ও রিকশাযাত্রীদের কাছ থেকে টান দিয়ে ব্যাগ ছিনিয়ে নিচ্ছিল। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন- লেলিন শেখ, জিল্লুর রহমান খান ও সাইফুল ইসলাম শাওন। তাদের মধ্যে লেলিন আশরাফুলের সঙ্গেই টেক্সটাইল মিলের পিকআপ ভ্যানের চালক ছিলেন। জিল্লুর ও শাওন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক। ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ছিনতাইয়ের টাকা দিয়ে আশরাফুল তার শ্বশুরকে নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাটের ব্যবসা করতেন। সাইফুল ছিনতাইয়ের টাকা বিনিয়োগ করে রীতিমতো গ্রামের বাড়ি বরিশালে ঠিকাদারিও করতেন। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার থেকে যেভাবে ছিনতাই চক্রের হোতা: ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিবির গুলশান বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান সমকালকে বলেন, আশরাফুল ৩৫ হাজার টাকা বেতন পেতেন। ২০১৯ সালে করোনা শুরুর পর চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন আশরাফুল। এরপর নিজের কর্মস্থলের পিকআপ চালক লেলিনের প্ররোচনায় তিনি এই অপকর্মে নামেন। তারা দামি মোটরসাইকেলে ঘুরে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া বা টাকা উত্তোলন করে ফেরার সময়ে লোকজনকে টার্গেট করতেন। এরপর টান দিয়ে ব্যাগ নিয়ে নিতেন। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল দাবি করেছেন, চাকরির চেয়ে ছিনতাই করে আয় ভালোই হতো। এতে লোভে পড়ে যান তিনি। শুরুর দিকে ব্যাংককেন্দ্রিক টার্গেট থাকলেও 'নেশা' হয়ে যাওয়ায় ব্যাগ দেখলেই প্রায় প্রতিদিনই টান দিয়ে ছিনিয়ে নিতেন। ডিবি ডিসি মশিউর বলেন, আশরাফুলের তিন বছরের এক ছেলে রয়েছে। স্ত্রী-সন্তান ও অন্যান্য স্বজন জানতেন, তিনি টেক্সটাইল কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার। আড়ালে হয়ে উঠেছিলেন ভয়ংকর ছিনতাইকারী। আশরাফুলের বেশভুষা ভালো হওয়ায় একবার ব্যাগ টান দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে আড়ালে চলে যেতে পারলে তাকে আর কেউ সন্দেহ করত না। করোনাকালে চাকরি হারিয়ে ছিনতাইয়ে নামেন বলে আশরাফুল দাবি করলেও ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত বেশি টাকার লোভে মেধাবী আশরাফুল এই অপকর্মে নেমেছিলেন। তদন্ত করে তারা দেখেছেন, আসলে করোনা কোনো বিষয় ছিল না, এতে তার চাকরিতেও প্রভাব পড়েনি। অনেক আগে থেকেই লেলিনের মাধ্যমে ছিনতাই চক্রের সঙ্গে আশরাফুলের যোগাযোগ। লেলিন মূলত টেক্সটাইল কোম্পানির পিকআপ ভ্যান চালানোর ফাঁকে ফাঁকে সাইফুল ও শাওনের সঙ্গে বহু বছর ধরেই ছিনতাই করে আসছিল। ঈগলের মতো ছোঁ দেয় তারা: ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, আশরাফুলের চক্রের সদস্যরা সবাই দামি মোটরসাইকেল নিয়ে ছিনতাই করে আসছিল। দলের যে সদস্য মোটরসাইকেলের পেছনে বসত, তাকে তাদের ভাষায় 'ঈগল' আর মোটরসাইকেল চালককে 'পাইলট' বলা হতো। পেছনে বসা ব্যক্তি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশা আরোহী বা পথচারীর হাতে থাকা ব্যাগটি ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। আশরাফুল সব সময়েই ঈগলের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ডিবি ডিসি মশিউর রহমান বলেন, এরা মূলত সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবে ছিনতাই করত। তবে শুক্র ও শনিবার তারা সাধারণত 'কাজে' যেত না। রোজার আগে মিরপুরের পল্লবীতে আলাদা দুটি ঘটনায় ১১ লাখ টাকা ও চার লাখ টাকা ছিনতাই হয়। ওই দুটি ঘটনার ছায়া তদন্ত করতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তদন্তে সন্ধান মেলে এদের। এর মধ্যে ১১ লাখ টাকা ছিনতাইয়ে সরাসরি ঈগলের দায়িত্বে ছিল আশরাফুল। চার লাখ টাকা ছিনতাইয়ে ছিল সাইফুল ও শাওন। ডিবির গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের টিম লিডার এডিসি এস.এম রেজাউল হক সমকালকে বলেন, ওই চারজনকে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ঈদের ছুটি থাকায় তারা কারাগারে রয়েছে। শিগগিরই তাদের কারাগার থেকে এনে ছিনতাই বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চারজন দাবি করেছে, তিন বছরে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ছিনতাই করেছে। লেলিন, শাওন ও সাইফুলের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের কয়েকটি মামলাও রয়েছে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.