text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভারত এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না যা বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চমৎকার 'সোনালী অধ্যায়'-এ ফাটল ধরাতে পারে। সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মোমেনের সাথে সাক্ষাৎ করার পর তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তারা এমন কোনো ঘটনাও দেখতে চায় না যা বাংলাদেশ-ভারতের (সোনালী অধ্যায়) সম্পর্কে কোনো ধরনের (ফাটল) ধরাতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি সৌজন্য বৈঠক ছিল কারণ আজ সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শ্রিংলা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সাথে সকল দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড. মোমেন বলেন, সংক্ষেপে তারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত হত্যা ও পানি বণ্টনসহ বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি আরো বলেন, তারা আমাদের সীমান্তের অবাঞ্ছিত ঘটনা রোধে একটি ফর্মুলা দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে পরবর্তী যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক আয়োজনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্যও ঢাকা ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে। ড. মোমেন বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের চলমান 'সোনালী অধ্যায়' কিভাবে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে নেয়া হবে সে বিষয়েও তারা আলোচনা করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের এই সম্পর্কটি দৃঢ় করতে হবে ... এটি উভয় দেশের জনগণের কল্যাণের জন্য প্রয়োজন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে মধুর বলে অভিহিত করে ড. মোমেন বলেন, দুই দেশ এটিকে আরো উন্নত করতে চায়। শ্রীংলা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে এবং আগামী ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তুতিতে সহায়তা করার জন্য দুই দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী গত মার্চে বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে যোগ দেন এবং ভারতীয় রাষ্ট্রপতির আগামী ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ৫০তম বিজয় দিবসে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, এই সফরগুলো আমাদের সম্মানিত করেছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব আগামীকাল নয়াদিল্লীতে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। সূত্র : বাসস
9
বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ সিংড়া উপজেলা ও পৌর শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সম্মেলনে শামিমা হক রোজিকে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পারভিন খাতুনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া জয়তুন বেগমকে পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাশিদা খাতুনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১টায় সিংড়া গোল-ই আফরোজ সরকারি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ সিংড়া উপজেলা ও পৌর শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কোহিনূর খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাত আরা হেনরী, মিনা মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক দিলরুবা জামান শেলি, সুলতানা রাজিয়া পান্না, সুরাইয়া বেগম ইভা, সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, নাটোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রত্না আহমেদ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক বিউটি আহমেদ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছা. শামীমা হক রোজি। আর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জ্যোতি সরকার। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি চত্বরে একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকারের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম শান্ত হাসান। সে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।ক্যান্টনমেন্ট থানার ডিউটি অফিসার সহকারী পরিদর্শক আবদুল মান্নাফ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'রাত আনুমানিক নয়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতের ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।'ঘটনার পর থেকে ইসিবি চত্বরে জড়ো হয়েছে শান্তর বন্ধুরা। হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা। গাড়িটি আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, গাড়িটি গৃহায়ণ লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের।ক্যান্টনমেন্ট থানার সহকারী পরিদর্শক শাহীন মো. আমানুল্লাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'নিহতের যথাযথ পরিচয় এখনো জানতে পারিনি। গাড়িটি আটক করা হয়েছে। তবে গাড়িটি গৃহায়ণ লিমিটেডের কিনা এ বিষয়টি নিশ্চিত নয়।'
6
১৬ জুলাই থেকে কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। ফ্লাইটটি এখন থেকে প্রতি শুক্রবার কুয়ালালামপুরের থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে এবং বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকার ন্যূনতম ভাড়া সব ধরনের ট্যাক্স ও সারচার্জসহ ৩০ হাজার ৬৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, যাত্রীদের যাত্রা শুরু করার পূর্বের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষাপূর্বক কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে এবং ঢাকা আসার পর নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক অথবা সরকার নির্ধারিত হোটেলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে জানান, ১৬৪ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর ও সৈয়দপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকা রুটের ফ্লাইট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে +৮৮০ ১৭৭৭৭৭৭৮০০-৬, +৮৮০ ৯৬১৩৭১৩৬০৫ (বাংলাদেশ) অথবা +৬০ ১১ ৫১১৬ ৮৪৪৬ (মালয়েশিয়া) নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
0
বিয়ের দুই মাস পর পবিত্র ওমরাহ পালন করতে দ্বিতীয় স্বামী রাকিব সরকারের সঙ্গে ঢাকা ছাড়লেন ঢালিউড নায়িকা মাহিয়া মাহি। আজ বুধবার সন্ধ্যায় মাহি নিজেই এক ফেসবুক পোস্টে এখবর নিশ্চিত করেছেন। তিনটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, জীবনে প্রথমবার পবিত্র ওমরাহ করতে যাচ্ছি। এই অনুভূতি প্রকাশের ঊর্ধ্বে। রাকিব সরকার তোমার জন্য অন্তর থেকে অনেক অনেক দোয়া... সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।' উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ব্যবসায়ী রাকিবকে বিয়ে করেন মাহি। এর আগে, ২০১৬ সালে সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন মাহি। চলতি বছরের ২২ মে পাঁচ বছরের সেই সংসারের ইতি টানার ঘোষণা দেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
2
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, জেরুসালেম শুধু কিছু সাহসী মুসলমানেরই নয়, পুরো ইসলামি দুনিয়ার সাধারণ ভিত্তি। শুক্রবার ইস্তাম্বুলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ১৬তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এই কথা বলেন তিনি। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, জেরুসালেমকে রক্ষার অর্থ মানবতাকে রক্ষা করা। একইসাথে ওআইসির সদস্য দেশগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান করেন এমন সব পদক্ষেপ থেকে দূরে থাকার, যা ফিলিস্তিন ইস্যুর ক্ষতি করবে। তিনি বলেন, 'এটি অন্যায় ও অবিবেচনামূলক যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপে ইহুদিদের গণহত্যার মূল্য ফিলিস্তিনিদের শোধ করতে হবে।' এরদোগান জানান, পূর্ব জেরুসালেম ও মসজিদুল আকসার মর্যাদা সম্পর্কে তুরস্কের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে ১৯৬৭ সালের সীমানায় জেরুসালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে জানান তিনি। সূত্র : ডেইলি সাবাহ
3
স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক শহীদ নূর হোসেনকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠন। রোববার (১০ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের নূর হোসেন স্কয়ারে (জিরো পয়েন্টে) সর্বসস্তরের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ফুল দিয়ে শহীদ নূর হোসেনকে স্মরণ করেন ও শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ শ্রদ্ধা নিবেদন চলে। সকাল সাড়ে ৯ টায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরে নেতৃত্বে নুর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। আওয়ামী লীগ ছাড়া শহীদ নূর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্ট, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটি, বাম গণতান্ত্রিক জোট। এছাড়াও আওয়ামী যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানায়। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে রাজধানীর রাজপথে আন্দোলনে সামিল হয়ে নূর হোসেন নিহত হন। তার এই আত্মত্যাগে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন বেগবান এবং পাবর্তীতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
6
হোমনায় অপহৃত মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণে ছাড়া পেয়েছে। গত রোববার রাতে হবিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অপহরণকারীরা তাঁকে রেখে যান। সেখান থেকে হবিগঞ্জ থানা-পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হোমনা থানায় হস্তান্তর করে। পরে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।শিহাব উদ্দিনের বাবা উপজেলার ঘাড়মোড়া একেএম ফজলুল হক মোল্লা উচ্চবিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, 'আমার ছেলে বুড়িচং উপজেলার কংশনগরে মনোহরপুর মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। গত শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঘাড়মোড়া গ্রামের বাসা থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য ঘাড়মোড়া বাজারে একটি অটোরিকশায় উঠিয়ে দিই। দুপুরের মধ্যেই সে মাদ্রাসায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও সন্ধ্যায়ও মাদ্রাসায় পৌঁছায়নি খবর পাই। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিতে থাকি। কোথাও সন্ধান না পেয়ে পরে হোমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। এরপর গতকাল আমার মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল করে শিহাব উদ্দিনকে ফিরে পেতে হলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দিতে বলেন। পরে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা পাঠালে তাঁরা শিহাবকে হবিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ফেলে চলে যান।হোমনা থানার ওসি আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, 'শিহাব উদ্দিনকে তাঁর পরিবারের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'
6
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভোট আগামী ৩ বা ৪ এপ্রিল তারিখে হতে পারে। শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব এনে বরং ইমরান খানের উপকার করেছেন। এর মাধ্যমে আগের চেয়ে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বেড়ে গিয়েছে। শেখ রশিদ বলেন, রাজধানীতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে সবাই সমাবেশ করতে পারবে কিন্তু কেউ রেড জোনের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। ইসলামাবাদে দেশটির পার্লামেন্ট, প্রেসিডেন্টের দফতর, প্রধানমন্ত্রীর দফতর, সুপ্রিম কোর্ট, সেক্রেটারিয়েটসহ বিবিধ সরকারি দফতরের অবস্থানের এলাকাটি রেড জোন হিসেবে পরিচিত। শেখ রশিদ সতর্কতা জানান, কাউকেই আইন হাতে নেয়ার অনুমতি তিনি দেবেন না। রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই পালন করবে। গত ৮ মার্চ পাকিস্তানের সংবিধানের ৫৪ ধারার অধীনে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত এক প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতি অনাস্থা ভোটের জন্য ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি সেক্রেটারিয়েটে প্রস্তাব জমা দেয়। সংবিধানের ৫৪ ধারা অনুসারে, ২৫ শতাংশ সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত কোনো প্রস্তাব যদি জমা দেয় হয় তবে স্পিকারকে ১৪ দিনের মধ্যে ওই বিষয়ে অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। এই ধারা অনুসারে ২২ মার্চ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অধিবেশনের আহ্বানের শেষ দিন ছিলো। এর একদিন আগেই ২১ মার্চ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সেক্রেটারিয়েট থেকে শুক্রবার অধিবেশন আহ্বান করা হয়। শুক্রবার নির্ধারিত সময় সকাল ১১টায় অধিবেশন শুরু হলেও স্পিকার আসাদ কায়সার সোমবার সকাল ৪টা পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত করেছেন। সূত্র : জিও নিউজ
3
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ময়মনসিংহে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেনি ৭৭টি চালকল। এ কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। যে চালকলগুলো চুক্তি করেছে, তারাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এদিকে কৃষকেরা বাজারে ধানের দাম ভালো পাওয়ায় সরকারি খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষের কাছে ধান বিক্রি করছেন না।জানা গেছে, জেলার ১৩ উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদাম রয়েছে ১৮টি। জেলায় হাসকিং মিল ৩২৪টি এবং অটো রাইস মিল ৭৮টি। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমে ২৫২টি হাসকিং ও ৭৪টি অটো রাইস মিল চুক্তি করেছে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় সেদ্ধ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন। কিন্তু খাদ্য বিভাগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি করতে পেরেছে ২৯ হাজার ৭২৯ দশমিক ২৩০ মেট্রিক টন চালের। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৭ টাকা ও চালের ৪০ টাকা নির্ধারণ করে ক্রয়ের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ৭ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।এদিকে ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনার পরিপত্র জারি করা হলেও চাল কেনা হয় তালিকাভুক্ত চালকলগুলো থেকে। কিন্তু চার মৌসুম ধরে বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় এবং চাল উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ক্ষতির মুখে সরকারি গুদামে চাল দিচ্ছে চালকলগুলো।আর সরকারি গুদামে একটি নির্দিষ্ট আর্দ্রতার ধান কেনা হয়। পাশাপাশি গুদামে ধান বিক্রিতে কৃষককে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। তাই ধান বেশি দামে স্থানীয় পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে পারায় খাদ্য বিভাগের কাছে যাচ্ছে না কৃষক। ফলে ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যাহত হচ্ছে কয়েক মৌসুম ধরেই।খাদ্য বিভাগ গত বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ অভিযানে সফলতা এলেও ব্যর্থ হয় ধান সংগ্রহে। তখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান সংগ্রহ হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ। ওই মৌসুমে ৩৭ হাজার ২৭ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয় ৭ হাজার ৫১৫ টন।সদর উপজেলার বোরোরচর গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলী জানান, স্থানীয় বাজারে ১ হাজার ১০০ টাকা মণে তাঁরা ধান বিক্রি করতে পারছেন। আর সরকার কিনছেন ৯৫০ টাকা ধরে। বোরোরচর থেকে খাদ্যগুদামে এক মণ ধান নিয়ে যেতে খরচ পড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অনেক সময় আর্দ্রতা কমের কারণে ধান ফেরতও নিয়ে আসতে হয়। সুতরাং এত ঝামেলার চেয়ে স্থানীয় বাজারে স্বাচ্ছন্দ্যে ধান বিক্রি করা যায়।বাংলাদেশ অটো মেজর ও হাসকিং রাইস মিল মালিক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ২৮৮ মেট্রিক টন চাল সরকারি গুদামে দেওয়ার জন্য তাঁদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। সে অনুযায়ী ৫০ কেজি চালের বস্তা বাবদ ১২০ টাকা, ৩০ কেজি চালের বস্তা বাবদ ৮০ টাকা এবং বরাদ্দকৃত চাল বাবদ ২ শতাংশ টাকা সিকিউরিটি হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।খলিলুর রহমান আরও বলেন, 'কিন্তু বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় নতুন চালের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। মোটা ধান প্রায় ১ হাজার টাকা মণে কিনতে হচ্ছে আমাদের। প্রসেসিং খরচ রয়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। ১ মণ ধানে চাল হয় ২২ থেকে ২৩ কেজি। এ হিসেবে উৎপাদন খরচ হয় ৪৪-৪৬ টাকা। 'জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, যেসব মিল চুক্তি করেছে, তাদের কাছ থেকে দ্রুত চাল সংগ্রহ করা হবে। তাদের চাল দিতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ধানের দাম বেশি হওয়ায় অনেক মিল চুক্তি করেনি। বাজারে ধানের দাম কৃষকেরা ভালো পাওয়ায় ধান কেনাও সম্ভব হচ্ছে না।
6
পাগলা সমর্থক কিংবা সমাধি চুরি চক্রের হাত থেকে ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃতদেহকে বাঁচাতে কঠোর পুলিশি পাহারা বসিয়েছে আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। আর্জেন্টিনার বুয়েনস অ্যাইরেসের উপশহরে সমাধিস্থল ভেলা ভিস্তায় মা-বাবার পাশে শায়িত হন ম্যারাডোনা। সেখানেই এখন ২০০ সশস্ত্র পুলিশের পাহারার ব্যবস্থা করেছে আর্জেন্টিনা সরকার। খবরটি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ মিডিয়া দ্য সান। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, অন্ধ সমর্থকরা ম্যারাডোনার সমাধি ভেঙে ফেলতে পারে। প্রিয় তারকাকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে নিজের কাছে মমি করে রাখতে চুরি করতে পারে তাঁর দেহ কিংবা দেহের কোনো অংশবিশেষ। এ কারণে অন্তত এক সপ্তাহ ভেলা ভিস্তা সমাধিস্থলকে কঠোর পাহারার মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করেছে আর্জেন্টিনা কর্তৃপক্ষ। ম্যারাডোনার সমাধিতে চুরির ব্যাপারে শঙ্কা তৈরির কারণও রয়েছে। ১৯৮৭ সালে সাবেক আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরনের সমাধি ভেঙে তাঁর দেহ চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল কিছু অন্ধভক্ত। হুয়ান পেরন ছিলেন আর্জেন্টিনায় তুমুল জনপ্রিয় একজন প্রেসিডেন্ট। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে আর্জেন্টিনাজুড়ে। তাঁর শেষযাত্রায় ভক্তরা মাতম করতে শুরু করেন। ফুল আর চোখের পানিতে বিদায় দিয়েছিলেন তাঁরা তাঁদের প্রিয় প্রেসিডেন্টকে। পরে দেখা গেল, কোনো এক অন্ধভক্ত প্রিয় প্রেসিডেন্টের দেহখানা চুরি করে নিয়ে গেছে।
12
টেলিভিশন অভিনেত্রী অঙ্কিতা লোখান্ডে আর ব্যবসায়ী ভিকি জৈন ১৪ ডিসেম্বর ধুমধাম করে বিয়ে করলেন। মুম্বাইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন তাঁরা। বিয়ের পর এই নবদম্পতি এক গ্র্যান্ড পার্টির আয়োজন করেছিলেন। তাঁদের বিয়েতে মুম্বাইয়ের বিনোদনজগতের অনেকে উপস্থিত ছিলেন। আর অঙ্কিতা আর ভিকিকে দামি দামি উপহারে ভরিয়ে দেন টেলি দুনিয়ার তারকারা।জানা গেছে, স্ত্রী অঙ্কিতাকে এক বিশেষ উপহার দিয়েছেন ভিকি জৈন। অঙ্কিতাকে তিনি মালদ্বীপে এক বিলাসবহুল বাংলো উপহার দিয়েছেন। এই বাংলোটির দাম ৫০ কোটি রুপির বেশি বলে জানা গেছে। এদিকে অঙ্কিতা তাঁর স্বামীকে এক ব্যক্তিগত প্রমোদতরি কিনে দিয়েছেন। যার দাম আট কোটি রুপি। ভিকি এই উপহার দারুণ পছন্দ করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ভিকি আর অঙ্কিতার বন্ধুরা তাঁদের দামি দামি নানান উপহার দিয়েছেন। চিত্রনির্মাতা একতা কাপুর অঙ্কিতাকে ৫০ লাখ রুপির একটি হিরের সেট উপহার দিয়েছেন। অভিনেত্রী মাহী ভিজ নববধূকে খ্যাতনামা ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের কালেকশন থেকে একটি শাড়ি দিয়েছেন। জানা গেছে, এই শাড়ির দাম ১৫ লাখ রুপি। টেলিভিশন তারকা হৃতিক ধনজানি ভিকিকে এক লাক্সারি ঘড়ি দিয়েছেন। আর অঙ্কিতাকে তিনি হিরের চোকর উপহার দিয়েছেন। হৃতিকের দেওয়া এই চোকরের দাম ১৫ লাখ রুপি। এদিকে বলিউড তারকা টাইগার শ্রফ টেলিভিশন দুনিয়ার এই নবদম্পতিকে 'মিনি কুপার' ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি উপহার দিয়েছেন। টেলি অভিনেত্রী সৃষ্টি রোড়ে অঙ্কিতা লোখান্ডেকে একটি সোনার চেইন উপহার দিয়েছেন। অঙ্কিতা নিজের বিয়ে নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহিত ছিলেন। এই টেলিতারকা অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিক ভিকি জৈনকে বিয়ে করলেন। দুজনের প্রেমের সফর শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। তাঁদের বিয়ের নানান মুহূর্তের ছবি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সবাই এই নবদম্পতিকে ভালোবাসা আর শুভকামনা জানাচ্ছেন।
2
২০২৩ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেছেন, ১৯০টি ইউনিয়ন ছাড়া ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল, দ্বীপ, চর ও হাওর এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিতে শত-শত বছর পিছিয়ে থাকা এই জাতি আগামী দশ বছরে পৃথিবীর কোনো দেশ থেকে এক চুলও পিছিয়ে থাকবে না। মোস্তাফা জব্বার বলেন, 'আমরা ইতোমধ্যে ফাইভ-জি উদ্বোধন করেছি। কৃষি, মৎস্য চাষ ও শিল্প-বাণিজ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ফাইভ-জি হবে এগিয়ে যাওয়ার বড় হাতিয়ার।' -বাসস। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
9
করোনার লকডাউনের বিধি ভেঙে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কার্যলয়ে একাধিক পানাহারের আয়োজনের ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা সু গ্রে বলেছেন, 'নেতৃত্বের গুরুতর ব্যর্থতার' কারণে এমন পানাহারের আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। পানাহারের এসব আয়োজনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমালোচনার মুখে ছিলেন বরিস। তাঁর পদত্যাগ চাইছেন বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা। সু গ্রের এমন বক্তব্যের পর সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এমন ১৬টি পানাহারের আয়োজন নিয়ে তদন্ত করছিলেন সু গ্রে। এসব আয়োজন সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন পার্টির আয়োজন করা উচিত হয়নি। এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সু গ্রে এমন পানাহার আয়োজনের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, সরকার যেসব কর্মকাণ্ড করেছে, তা 'বৈধতা দেওয়া কঠিন'। বরিসের ২০২০ সালের জন্মদিনে একটি পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। ক্যাবিনেট রুমে ওই বছরের ১৯ জুন এ পার্টির আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ২০২০ সালের ২০ মে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাগানে আয়োজিত যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে মদ্যপানের আসরে বরিস জনসন ও তাঁর স্ত্রী ক্যারি সিমন্ডস উপস্থিত ছিলেন। অতিথি ছিলেন শতাধিক। ওই সময় যুক্তরাজ্যে কোনো আয়োজনে একসঙ্গে এত মানুষের উপস্থিতি আইনত নিষিদ্ধ ছিল। এখানেই শেষ নয়। ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ও ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্যের আগের সন্ধ্যায়, অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল এমন দুটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এসব নিয়ে তদন্ত করছিলেন সরকারের আমলা সু গ্রে। তবে এ নিয়ে এখনো 'অর্থবহ কোনো প্রতিবেদন' সু গ্রে আপাতত দিচ্ছেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশ এসব আয়োজন নিয়ে আলাদা করে তদন্ত করছে। তবে নতুন আরেকটি তথ্য সামনে এনেছেন তিনি। তিনি বলেন, বরিস জনসনের কার্যালয়ের বাইরে তাঁর বাসায় একটি পানাহারের আয়োজন করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়েও করোনা বিধিনিষেধ ভাঙা হয়েছে। এ নিয়েও তদন্ত করেছেন গোয়েন্দারা। সু গ্রে এমন তথ্য জানানোর পর আবারও তোপের মুখে পড়েছেন বরিস। দেশটির আইনপ্রণেতারা আবারও তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তবে বরিস জনসন সব দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, এ তদন্তে যা উঠে এসেছে, তা সবই তিনি মেনে নিচ্ছেন। বরিস বলেন, 'আমি এ জন্য দুঃখিত যে আমি কাজটি ঠিক করিনি। এ ছাড়া আমি যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি, সে জন্যও ক্ষমা চাইছি।' তবে দেশটির বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা কেইর স্টারমারও বরিসের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এ ছাড়া তাঁর অপরাধ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
3
আমাদের কাজ হচ্ছে একটি সুন্দর, উদার, দ্রুত অগ্রসরমাণ দেশকে এর এগিয়ে চলার যে গতি তাকে সচল রাখা-সব ভুল-বোঝাবুঝি ভুলে গিয়ে, ধর্ম-বর্ণ, জাত-পাতনির্বিশেষে, অসুস্থ রাজনৈতিক হানাহানি, সাম্প্রদায়িক রক্তারক্তি থেকে বের হয়ে আসা।কয়েক দিন ধরে খবরের কাগজে একটি ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। ছবিটি যেন কিছুক্ষণ পর পর আমার চোখের সামনে এসে উঁকি দিচ্ছে! যখনই ছবিটি দেখি বা ছবিটি মনে পড়ে, তখনই মনটা ভালো হয়ে যায়। শুধু ছবিটি দেখতে সুন্দর বলে নয়; এ ছবিটির মধ্যে আমি আসলে বাংলাদেশকেই দেখি। একটি অন্য রকম বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ একটি রূপান্তরের গল্প বুনে যাচ্ছে!বলছি পায়রা-লেবুখালী সেতুর কথা। সেতুটি দুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন। তবে উদ্বোধনের আগে থেকেই এর একটি সুন্দর ছবি প্রকাশ হয় খবরের কাগজে। পায়রা নদীর এপার আর ওপারকে সংযুক্ত করা দৃষ্টিনন্দন সেতুর ছবিটি দেখে মনে হচ্ছে ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য এর চেয়ে খুশির খবর আর কী হতে পারে! ভাবি, সেতু হওয়ার আগে তাঁদের কত না ভোগান্তি সইতে হয়েছে! সেতুটি এখন শুধু দুই অঞ্চলের মানুষের চলাচলের পথ সহজ করেনি; বরং এটি বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার অসংখ্য গল্পের একটি। হাজারো সমস্যা, কষ্ট, সংগ্রাম পেরিয়ে একটি দেশের আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা তুলে দাঁড়ানোর গল্প তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন। আমি মনে করি এটিই বাংলাদেশের আসল সৌন্দর্য।এখন দেশজুড়ে চলছে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনার প্রতিক্রিয়া। শান্তির ধর্ম ইসলামকে ভুল ব্যাখ্যা করে একটি চক্র বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি ধ্বংস করে এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করছে না, এটা বলা যায় না। ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ধর্মীয় উগ্রপন্থা, উন্মাদনা, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ খুন-এসবই একটি সুন্দর, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রগতিশীল ও সার্বিকভাবে এগিয়ে চলা একটি দেশকে বিশ্বদরবারে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।কিন্তু এটিই বাংলাদেশ নয়। কারও ঘরে ঢিল ছুড়ে রক্তের নেশায় ছুরি হাতে নেওয়ার এমন ছবি বাংলাদেশের ছবি নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে শিকারে পরিণত করা-বাংলাদেশের আসল চিত্র নয়; বরং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মুসলমান বন্ধুর মৃত্যুতে তার কবরের পাশে গিয়ে কান্নারত এক মনভাঙা হিন্দুর গল্পই আসল বাংলাদেশ। অথচ এ ছবি নিয়ে শোরগোল কম। পাকিস্তানের অত্যাচার, নির্যাতন আর শোষণ থেকে লাখো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে বাংলাদেশের জন্ম, ধ্বংসস্তূপের ওপর গোলাবারুদের ছাইভস্মে যে বাংলাদেশ, তার স্বরূপ অনেক উঁচুতে।গত ৫০ বছরের বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত। ভাঙা সড়ক, সেতু, কুপির আলোয় ঘুটঘুটে অন্ধকারের দেশ নয় এখন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন পদ্মা সেতুর দেশ। যে সেতু তৈরিতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো ছিল সুনিপুণভাবে। শত ষড়যন্ত্র, সমালোচনা, বিতর্ক, প্রতিবন্ধকতার মুখে চুনকালি দিয়ে নিজের টাকায় পদ্মা সেতু এখন বাস্তব। এ সেতু যেন শুধু এপার-ওপারই জুড়ে দেয়নি; বরং মিলন ঘটিয়েছে ভালোবাসা ও বিরহেরও! এ সংযোগ যেন আস্থা, আত্মবিশ্বাস আর সক্ষমতার। নদীর ওপর মাইলের পর মাইল যেন রূপকথার বিমূর্ত ছবি! অথচ রূপকথা নয় এটি; বরং এটিই আসল বাংলাদেশ।বাংলাদেশের কাজ-কর্মহীন জনপদে এখন ব্যস্ত মেশিনের শব্দ। দল বেঁধে অবহেলিত নারীদের কাজে যোগ দেওয়ার মনোরম ছবি। ফসলের মাঠে মনজুড়ানো ধান, গম, সরিষা, আলু, টমেটোসহ নানান জাতের শাকসবজির বিপুল সমাহার। ধর্ম-বর্ণ-জাত-পাতনির্বিশেষে মিলেমিশে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ছবি বাংলাদেশ। নিজের চেষ্টায় হাঁস-মুরগি পালন, পোলট্রি, ডেইরি খামার করে লাখো নারী, পুরুষ-তরুণের জীবন বদলে দেওয়ার গল্প বাংলাদেশ। শূন্য থেকে শুরু করা লাখো তরুণের চোখের সামনে তার সোনা ফলানো মৎস্য খামারে রুপালি মাছের ছবির চেয়ে সুন্দর ছবি আর কী হতে পারে!রূপপুরের আকাশে উঠে যাচ্ছে পারমাণবিক চুল্লির চিমনি। যে পদার্থে বিশ্বময় বোমা আর বিস্ফোরক বানিয়ে রক্তারক্তির আয়োজন চলে পরাশক্তিদের; তা দিয়ে ঘরে ঘরে আলো আর অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার গল্প বাংলাদেশ। প্রতিটি গ্রামে যার যা কিছু আছে তাই দিয়ে নিজেরাই লিখছে নিজেদের ভাগ্যবদলের গল্প। কে ভেবেছিল বাংলাদেশের নারীদের হাতের স্পর্শে তৈরি হওয়া ইউনিফর্ম পরবেন ন্যাটোর সেনাসদস্যরা? আর কারই-বা ধারণায় ছিল আমাদের রাবেয়া, আলেয়া, সালেহাদের নিপুণ হাতের তৈরি জামা উঠবে ইউরোপ-আমেরিকার সুন্দরীদের গায়ে?মার্কিন নিরাপত্তা বিশ্লেষক হেনরি কিসিঞ্জারের দম্ভভরা বুলি 'তলাবিহীন ঝুড়ি' নয় এখন বাংলাদেশ। প্রায় শতবর্ষী এ মার্কিন বেঁচে আছেন। নিশ্চয় তিনিই দেখছেন, জানছেন তাঁর দেশের গণমাধ্যমই বাংলাদেশকে কীভাবে ছাইভস্ম থেকে ফিনিক্স পাখি হয়ে নীল আকাশে উড়ে চলা বাংলাদেশের ছবির গল্প বলছে। তিনি হয়তো এ-ও দেখছেন তাঁরা যে পোশাক পরছেন, তার বেশির ভাগ ধ্বংসস্তূপ থেকে ফুল হয়ে ওঠা বাংলাদেশের তৈরি।বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা ক্যানভাসে মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এটা বিশ্বময় রূপান্তরিত বাংলাদেশের ছবি। জীবনসংগ্রামের সাফল্য আর মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার প্রতীক এই স্যাটেলাইট। আর এটিই আসল বাংলাদেশ।বাংলাদেশ যখন সাবমেরিন কেনে, তখন অনেকের গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছিল। প্রতিবেশী অনেক দেশের টিভির পর্দায় সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। পত্রিকার পাতাজুড়ে টিপ্পনী আর নানান ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা! পানির নিচে সমরাস্ত্রবাহী যান শুধু একটি সাবমেরিন নয়; এটি বাংলাদেশের আরেক পরিচয়। এর মধ্য দিয়ে ফিনিক্স পাখির পালকে যুক্ত হয় আত্মবিশ্বাস আর সক্ষমতার নতুন স্বীকৃতি।কে ভেবেছিল কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে এপার-ওপার করা যাবে? হ্যাঁ, এমন স্বপ্ন হয়তো দেখেছেন কেউ কেউ। কিন্তু সেটা স্বপ্ন। আসলে এটা কি এখন স্বপ্ন? না, স্বপ্ন নয়, সত্যি। দেশের প্রথম টানেলটির একাংশ পুরো তৈরি। আরেক অংশও তৈরি হয়ে যাচ্ছে। একদা অপরিকল্পিত শহর ঢাকার যানজট নিরসনে বিপুল অঙ্কের বাজেটে নির্মিতব্য মেট্রোরেলও এখন বাস্তবতা। ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে একের পর এক। একটি-দুটি নয়, একে একে তৈরি হচ্ছে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। সারা দেশে আমূল বদলে যাচ্ছে সড়ক নেটওয়ার্ক। সর্বত্র অবকাঠামো খাতে বিপুল রূপান্তর চলছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে অবিশ্বাস্য অগ্রগতি। দেশে বসেই তরুণেরা আয় করছেন বৈদেশিক মুদ্রা। শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতি, আর প্রগতিশীল এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ, পরিমিত উদার দেশের ছবিই বাংলাদেশ।একটি দেশ যখন এগিয়ে যাওয়ার রসদ নিয়ে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত; একদল একে টেনে নামানোর হীনস্বার্থে ব্যস্ত। যে দেশটি রোহিঙ্গাদের মতো ১১-১২ লাখ বাড়তি মানুষকে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, বছরের পর বছর তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে, তাদের সঙ্গে মানুষ হিসেবে মানুষের মতো আচরণ করছে, সেই দেশটি আর যা-ই হোক সাম্প্রদায়িক হতে পারে না।আমাদের কাজ হচ্ছে একটি সুন্দর, উদার, দ্রুত অগ্রসরমাণ দেশকে এর এগিয়ে চলার যে গতি, তাকে সচল রাখা-সব ভুল-বোঝাবুঝি ভুলে গিয়ে, ধর্ম-বর্ণ, জাত-পাতনির্বিশেষে, অসুস্থ রাজনৈতিক হানাহানি, সাম্প্রদায়িক রক্তারক্তি থেকে বের হয়ে আসা। কোনো ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের কাজ, আয়, মর্যাদাহানি আর বিশ্বে নিজেদের খাটো করার যেকোনো অপচেষ্টা থেকে দূরে থাকতে হবে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় উগ্রপন্থাকে না বলে রূপান্তরের বাংলাদেশকে সঙ্গী করে এগিয়ে যেতে হবে।ফারুক মেহেদী, সহকারী সম্পাদক, আজকের পত্রিকা
6
বগুড়ার আদমদীঘিতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আনন্দ পাহান (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এসময় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী সঞ্জয় পাল গুরুতর আহত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টায় উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম-আদমদীঘি সড়কের ডহরপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আনন্দ উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউপির ইসবপুর গ্রামের মুক্তা পাহানের ছেলে। এতে মোটরসাইকেল চালক আনন্দ ট্রাকের চাকার নিচে পড়ে যায়। এসময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। আর একই গ্রামের কার্তিক পালের ছেলে সঞ্জয় পাল গুরুতর আহত হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। ট্রাকটি পালিয়ে যায়। আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। তবে ট্রাকটিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
রংপুর-দিনাজপুর হাইওয়ে সড়কে সেদ্ধ আমন ধান শুকানো হচ্ছে। এতে সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যানবাহনের চালক ও সচেতন ব্যক্তিরা।গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর ব্যস্ততম এলাকা মডার্ন ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে মহাসড়কের অর্ধেক অংশজুড়ে চার-পাঁচজন কৃষক-কৃষাণী ধান শুকাচ্ছেন। আর এই ধান শুকানোর কাজে সহযোগিতা করছে শিশুরা।ধান শুকানো কৃষকদের একজন নজরুল ইসলাম জানান, ধান শুকানোর জন্য তাঁদের অন্য কোনো জায়গা নেই। উপায় না পেয়ে মহাসড়কেই দান শুকানোর জন্য এনেছেন।আরেক কৃষক ওমর ফারুক বলেন, 'কি করমো কন? অল্প এনা ধান আবাদ করি। সেকনা শুকপার জাগা নাই। আস্তাত (রাস্তা) ধান না শুকাইলে আর আবাদ করায় হবা নায়।'ঢাকা থেকে আসা দূরপাল্লার বাসচালক রফিক মিয়া বলেন, 'এইভাবে ধান শুকানোর জন্য আমাদের অনেক রিস্ক হয়ে যায়। আমরা ঠিক জায়গা মতো ব্রেক করতে পারি না। অন্য গাড়িগুলোরে ঠিকমতো সাইড দিতে পারি না। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।'ওই সড়কে যাতায়াতকারী ট্রাকচালক আজম আলী বলেন, 'সড়কের অর্ধেক অংশজুড়ে ধান শুকাতে দেওয়া হচ্ছে। ধান নেড়ে দেওয়ার সময় অনেকে গাড়ির সামনে এসে যায়। হর্ন দিলেও শোনে না। নিষেধ করলে মানে না, উল্টাপাল্টা কথা বলে। এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।'ইজিবাইক চালক তোজাম আলি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বড় গাড়িগুলোকে সাইড দিতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।'বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, 'রংপুর নগরীর প্রবেশ ও বহির্গমন পথ হিসেবে পরিচিত মডার্ন মোড় একটি ব্যস্ততম সড়ক। ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, রংপুর জেলার মানুষ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। এমন একটি ব্যস্ত মহাসড়কে ধান শুকানোটা ঝুঁকিপূর্ণ।'ট্রাফিক সার্জেন্ট বদিউল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এটা আসলে ঠিক না। তবে আমরা বিষয়টা দেখছি। কৃষকদের এভাবে ঝুঁকি নিয়ে ধান শুকনোর কাজ না করার বিষয়ে সচেতন করা হবে।'তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, 'বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে ধান শুকানো ঠিক নয়। খোঁজ নিয়ে দেখব। এমনটি ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
নিজের ফেসবুক পেজকে সকলেই প্রোমোট করতে চান। ফেসবুক পেজকে প্রোমোট করার জন্য পেজের সেটিংস এবং কনটেন্টের দিকে কিছু কৌশলী উদ্যোগ নিলে উপকার পাওয়া যায়। এখানে এ ধরনের কিছু কৌশল তুলে ধরা হলো।১. ফেসবুক পেজকে অন্যদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য প্রথমেই একটি ভালো প্রোফাইল পিকচার নির্বাচন করুন। এভাবে প্রথম ধাপেই পেজ সেটিংস ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার ফেসবুক পেজ প্রোমোট করতে পারেন। কারণ আপনার ফেসবুক পেজে ঢোকার সময় প্রথমেই প্রোফাইল পিকচারের দিকে নজর যাবে সকলের।২. ভালো প্রোফাইল পিকচার নির্বাচন করার পরই মনোযোগ দিন কভার ফটোর দিকে। কারণ আপনার ফেসবুক পেজে ঢোকার সময় প্রোফাইল পিকচারের পাশাপাশি কভার ফটোর দিকে নজর যাবে সকলের।৩. ফেসবুক পেজের ইউজারনেম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটির ওপর নির্ভর করবে আপনার পেজের ইউআরএল কীরূপ হবে। [] এ ক্লিক করে ইউজারনেম সেট করতে হয়।৪. পেজ টেমপ্লেট ও ট্যাব ফেসবুক পেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস। পেজকে ভালোভাবে উপস্থাপন করার জন্য এই সেটিংসটার প্রয়োজন পড়ে। আপনার পেজের ধরন মাথায় রেখে পেজ টেমপ্লেট ও ট্যাব নির্বাচন করুন।৫. আপনার ফেসবুক পেজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন অ্যাবাউট সেকশনে। আপনার পেজে যারা প্রবেশ করবেন তারা এই অংশ পড়ে আপনার পেজ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবে।৬. আপনার পেজে প্রবেশকারীরা যাতে আপনার সঙ্গে মেসেজে যোগাযোগ করতে পারে পেজ সেটিংসে সেই ব্যবস্থা রাখুন।৭. ফেসবুক পেজের রিভিউস ট্যাবটির মাধ্যমে আপনার পেজের কনটেন্টের রিভিউ এর পরিমাণ বাড়াতে পারেন।৮. আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা বন্ধুদের আপনার পেজে লাইক দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।৯. ভালো কনটেন্ট আপ দিন।১০. বিভিন্ন গ্রুপে আপনার কনটেন্ট শেয়ার দিন। আর অন্যদের আপনার কনটেন্ট শেয়ার দিতে উৎসাহিত করুন।১১. নিয়মিত কনটেন্ট আপ দিন।১২. আপনার কনটেন্টগুলোতে কমেন্টস ইন্টারেকশন যাতে বাড়ে সেদিকে মনোযোগ দিন।এগুলো হলো অর্থ খরচ না করে আপনার ফেসবুক পেজ প্রোমোট করার উপায়। এছাড়া কনটেন্ট বুস্টের মাধ্যমে অর্থ খরচ করে আপনার ফেসবুক পেজ প্রোমোট করতে পারেন।
11
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায় বলেন, প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধুর মতো জেলে গিয়েও 'জয় বাংলা' স্লোগান দেব। রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে ফোনে হ্যালো না বলে বলুন 'জয় বাংলা'। পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে হোক 'বাংলা' অনুষ্ঠানে এই দাবিও তুলেন। ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে মমতা বলেন, বাংলা ভাষার প্রতি মানুষের আলাদা আকর্ষণ আছে। এটা আমাদের অহংকার। যতদিন দেহে প্রাণ থাকবে বীরের মতো লড়াই করব, প্রয়োজনে জেলে যাব। জেলে গিয়েও বঙ্গবন্ধুর মতো স্লোগান দেব 'জয় বাংলা'। বাঘের বাচ্চা আমরা। বাংলাকে আঘাত করার চেষ্টা করবেন না। আমরা কাউকে পরোয়া করি না। মমতা বলেন, ভাগাভাগির রাজনীতি আমরা বরদাস্ত করব না। বাংলাকে যারা ভালোবাসেন, সেইসব বুদ্ধিজীবী মানুষও সজাগ আছেন। আমার সোনার ভারতবর্ষ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
3
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় অবস্থিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেফমুবিপ্রবি) প্রথম বর্ষের পাঁচটি অনুষদের অধীনে ছয়টি বিভাগে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার হবে ২৯ ডিসেম্বর।গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে প্রথম বর্ষে ভর্তির প্রাথমিক ফল প্রকাশ করা হয়।মেধাক্রম অনুসারে 'এ' ইউনিটে ৭২০ জন, 'বি' ইউনিটে ১৮০ জন ও 'সি' ইউনিটে ১৮০ জন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার আগামী (২৯ ডিসেম্বর) বুধবার সকাল ১০টা হতে ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মেধাক্রম প্রস্তুতের ক্ষেত্রে -ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ব্যবহৃত হয়েছে।ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের মোট সমান হলে 'এ' ইউনিটের ক্ষেত্রে পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নে, 'বি' ইউনিটের ক্ষেত্রে বাংলা এবং ইংরেজি, 'সি' ইউনিটের ক্ষেত্রে হিসাব বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম প্রস্তুত করা হয়েছে।
6
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে উপজেলার বারবাজার হাসিলবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই প্রিন্স ও রাসেল নামে অভিযুক্ত ২ জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে মেয়েটির বাদি হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরেই শারীরিক পরিক্ষার জন্য ওই ছাত্রীকে ঝিনাইদহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, বুধবার রাত ৮ টার দিকে তার মেয়ে বাড়ির পাশেই ফুফু বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ওই গ্রামের প্রিন্স ও রাসেলসহ তিন যুবক জোরপূর্বক তাকে পার্শবর্তী একটি কলাবাগানে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ শেষে ফেলে রেখে যায়। সে সময় গ্রামেরই এক ব্যাক্তি অভিযুক্ত যুবকদের পালিয়ে যেতে দেখে মেয়েটির পরিবারকে জানায়। খবর পেয়ে মেয়েটির স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাতেই কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুচ আলী বলেন, বুধবার রাতে ঘটনার পরই নির্যাতিতার বাবা বারবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে মুল অভিযুক্ত প্রিন্স হোসেন ও নয়ন হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
6
ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছিলো, শুধু জানানো হয়নি সুনির্দিষ্ট তারিখ। এবার আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজস নিজেই জানিয়ে দিলেন, আগামী ৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সিইও পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। দীর্ঘ তিন দশকের নেতৃত্বে যিনি আমাজনকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কম্পানিতে পরিণত করেছেন, একইসঙ্গে নিজেও হয়েছেন শীর্ষ ধনী। তবে আমাজনের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি থাকবেন। খবর সিএনএনের। গত বুধবার কোম্পানির বার্ষিক বৈঠকে সিইও পদ ছাড়ার এ ঘোষণা দেন বেজস। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা অ্যান্ডি জেসি। বর্তমানে আমাজনের ওয়েব সার্ভিসের দায়িত্বে আছেন তিনি। ইতিপূর্বে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বার্ষিক আয় প্রতিবেদন প্রকাশকালে কোম্পানির নেতৃত্বের পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানিয়েছিলো। জানানো হয়, রাজস্ব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যান্ডি দায়িত্ব নেবেন। তখন সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। এবার বেজস নিজেই দিনক্ষণ বলে দিলেন। তিনি বলেন, ৫ জুলাই দিনটি আমার কাছে আবেগের, কারণ এ দিন আমাজনের যাত্রা শুরু হয়েছিলো ১৯৯৪ সালে। তিনি বলেন, আমি খুবই আনন্দিত যে নির্বাহী চেয়ারম্যানের পদে যাচ্ছি। এখানে থেকে আমি আমার সক্ষমতা ও মনোযোগকে নতুন পণ্য আনার ক্ষেত্রে কাজে লাগাবো। অনেক উদ্যোগ নিয়ে আগেই কাজ করতে পারবো। আর কোম্পানির দীর্ঘ ২৪ বছরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা অ্যান্ডি অসাধারণ নেতৃত্বের সঙ্গেই কোম্পানি চালাতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কোম্পানির বাইরেও বেজস আর্থ ফান্ড ও ব্লু ওরিজিনে সময় ব্যয় করবেন বলে জানান। মার্চে অ্যামাজন জানিয়েছে, জেসি যখন অ্যামাজনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস-এর শীর্ষ পদ ছেড়ে দেবেন, তখন তার জায়গাটি নেবেন সেলসফোর্স মালিকানাধীন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ট্যাবলোর সিইও অ্যাডাম সেলিপস্কি। জেসি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিচ্ছেন যেটি একদিকে যেমন ক্রমশ জটিল পরিচালনায় যাচ্ছে তেমনি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের তীক্ষ্ন নজরেও রয়েছে। বুধবারই অ্যামাজন জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ৮৪৫ কোটি ডলারে এমজিএম কিনছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আমেরিকান নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরফ থেকেই অভিযোগ উঠেছে এবং তদন্ত হয়েছে। বিগ টেক নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম আমাজন। আমাজন পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভায় প্রশ্ন উঠলে বেজোস বলেন, আমি বলব যে আমরা যেখানেই ব্যবসা করি, প্রতিটি ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলির তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হই। অ্যামাজন নতুন যেসব প্রকল্পের ওপর বাজি ধরেছে সেগুলোও জেসিকে পরিচালনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে টেলিহেলথ অফার, আমাজন কেয়ার এবং এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প- প্রজেক্ট কুইপার।
3
এখন পর্যন্ত কোনো দেশ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরত যায়নি। স্বাভাবিকতা সূচকের সামগ্রিক মান ৬৬। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে সারা পৃথিবীতে একটাই প্রশ্ন, কবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে মানুষ। প্রথমে মানুষ ভেবেছিল, দিন ১৫ ঘরে কাটিয়ে দিলেই ঝামেলা শেষ। কিন্তু আজ দেড় বছর অতিক্রান্ত হতে চলল, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এমন কথা বলার সময় এখনো আসেনি। এতে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হচ্ছে। রোগে ভুগে মারা যাওয়ার পাশাপাশি অনেকে ক্ষুধায়ও মারা গেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট নরমালসি ইনডেক্স বা স্বাভাবিকতা সূচক প্রণয়ন করেছে। আটটি উপসূচকের সাপেক্ষে তারা দেখানোর চেষ্টা করেছে, কোন দেশ কতটা স্বাভাবিকতা ফিরে পেয়েছে। ৫০টি দেশ নিয়ে তারা এ জরিপ করেছে। তবে তাতে বাংলাদেশ নেই। ২০২০ সালের মার্চ মাসে পুরো পৃথিবী এক রকম স্থবির হয়ে পড়ে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রায় সব দেশেই তখন লকডাউন চলছিল। দ্য ইকোনমিস্ট-এর হিসাব অনুসারে, স্বাভাবিকতার সূচক তখন ৩৫-এ নেমে আসে। এরপর ধীরে ধীরে এই সূচকের উন্নতি হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন যা দাঁড়িয়েছে ৬৬। অর্থাৎ, পৃথিবী এখনো শতভাগ স্বাভাবিকতা ফিরে পায়নি। আটটি সূচকের মধ্যে মহানগরে ট্রাফিক জ্যাম এবং মানুষের ঘরের বাইরে সময় কাটানোর সূচকের অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। অন্যান্য সূচকের তুলনায় এই সূচকের উন্নতি অনেক বেশি। তবে বিমান পরিবহন ও খেলা দেখতে যাওয়ার মতো সূচক স্বাভাবিকতা থেকে এখনো যোজন যোজন দূরে। সব দেশের অবস্থা আবার এক নয়। দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, এখন পর্যন্ত কোনো দেশ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরত যায়নি। ফেব্রুয়ারি মাসে চান্দ্র নববর্ষ উদ্যাপনের সময় চীন কিছুদিনের জন্য প্রাক্-মহামারি পর্যায়ে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা ৫০টি দেশের মধ্যে মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে। সূচকে সবার ওপরে আছে হংকং। তার পরেই আছে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও ইউক্রেন। মারাত্মক সংক্রামক ডেলটা ভেরিয়েন্টের আঘাতে জেরবার ভারত আছে তালিকার শেষের দিকে। সবার শেষ আছে মালয়েশিয়া। যে আটটি উপসূচকের ভিত্তিতে এই স্বাভাবিকতা সূচক প্রণয়ন করা হয়েছে সেগুলো হলো ১. ঘরের বাইরে সময় কাটানো, ২. খুচরা কেনাবেচা, ৩. অফিস ব্যবহার, ৪. গণপরিবহন, ৫. সড়কে যানবাহন, ৬. বিমান পরিবহন, ৭. সিনেমা, ৮. খেলা দেখতে যাওয়া। দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ঘরের বাইরে সময় কাটানোর দিক থেকে মানুষ প্রায় আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। এই সূচকের মান ৯৫। মূলত উন্নয়নশীল দেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে সিংহভাগ মানুষ কাজ করায় তাদের ঘরের বাইরে না গিয়ে উপায় নেই। সে জন্য এই সূচক প্রাক্-মহামারি পর্যায়ের কাছাকাছি চলে গেছে। এ ছাড়া কার্যালয় ব্যবহার, গণপরিবহন, সড়কে যানবাহন চলাচল-এসব সূচকের মানও ঊর্ধ্বমুখী। যথাক্রমে ৮০, ৮০ ও ৭২। অর্থাৎ, দেশের ভেতরে মানুষের চলাচল প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসছে। অন্যদিকে বিমান পরিবহন, সিনেমা ও খেলা দেখতে যাওয়ার মতো সূচকে পৃথিবী এখনো স্বাভাবিকতা থেকে অনেক অনেক দূরে। শেষ তিনটি সূচকের মান যথাক্রমে ২৯, ২৩ ও ১৭। মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতটি হচ্ছে বিমান পরিবহন। অনেক দেশ এখনো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নানা বিধিনিষেধ দিয়ে রেখেছ। এই পরিস্থিতিতে বিমান পরিবহনে ভয়াবহ মন্দা চলছে। এখনো সিংহভাগ বিমান অচল বসে আছে। এই খাতের সঙ্গে পর্যটন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বলা বাহুল্য, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের মধ্যে পর্যটন অন্যতম। হোটেল-মোটেলও সে কারণে মন্দার কবলে। অন্যদিকে করোনার প্রভাবে খেলাধুলা গত বছর প্রায় বন্ধই ছিল। এ বছর অনেক টুর্নামেন্ট শুরু হলেও দর্শকের উপস্থিতি সীমিত করা হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টের কেবল ফাইনালে সীমিত সংখ্যক দর্শক উপস্থিতি ছিল। স্বাস্থ্যবিধির কারণে মানুষের বিনোদনের জগৎ সীমিত হয়ে গেছে। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে মানুষের ঘরের বাইরে সময় কাটানোর পরিমাণ ২০ শতাংশ হ্রাস পায়। সিনেমা হল ও খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যায়। তাতে এসব কর্মকাণ্ড একদম বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার উপায় একটি, টিকা। এ ব্যাপারে আবার সবাই একমত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, উন্নত দেশগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি টিকা মজুত করে রেখেছে। উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলো প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়েমা হক একটু ভিন্নভাবে বিষয়টিতে আলো ফেলেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার সাপেক্ষে ও অর্থনৈতিক কাঠামোর বিচারে এই চিত্র ভিন্ন হবে। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সূচকে পার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়। এর ফলে সূচকের মানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এ ছাড়া মনে রাখা প্রয়োজন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে জীবনযাত্রা স্বাভাবিকে ফেরত এলে ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার হলেও নিম্ন আয়ের কিংবা হতদরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান এ ধরনের সূচকে অনেক সময়ই সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। তালিকায় ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান পর্যন্ত আছে যথাক্রমে ইউক্রেন, রোমানিয়া, ডেনমার্ক, মিসর, ইসরায়েল ও মেক্সিকো। শেষ ১০-এ আছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনস, আর্জেন্টিনা, ভিয়েতনাম, চিলি, ভারত, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়া।
0
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে কক্সবাজার-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার সকাল ১১টার দিকে এ রায় দেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের আদালত। রায় ঘোষণার আগে চার্জশিটের ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বদি। বদির আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকা বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা। গত ১৯ অক্টোবর এই মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর আদালত রায় ঘোষণার তারিখ ২ নভেম্বর ধার্য করেন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে সাংসদ বদির বিরুদ্ধে এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বছরের ৭ মে দুদক এই মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। মামলার রায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে বদিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, এমপি বদি আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখাতে কমমূল্যে সম্পদ ক্রয় দেখিয়ে বেশি দামে তা বিক্রির মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। বদি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যের সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন। অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখানোর জন্য কম মূল্যে সম্পদ ক্রয় দেখিয়ে এক কোটি ৯৮ লাখ তিন হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি দেখানোর অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান রমনা থানায় ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মামলাটি করেন। ২০১৫ সালের ৭ মে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আদালতে বদির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত বছরের ৭ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মঞ্জিল মোর্শেদ ঢাকার সিএমএম আদালতে আওয়ামী লীগ এমপি বদির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে বদির ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৪২ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়। এই মামলায় ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর বদিকে কিছু দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর এমপি বদিকে ছয় মাসের জামিন দেন বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।
6
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পিকআপের চাপায় একই পরিবারের দুশিশু নিহত হয়েছে। নিহত শিশুরা হলো উপজেলা পশ্চিম বাস্তা গ্রামের ইস্রাফিলের কন্যা সুবর্ণা (৯) ও ইশা (২)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিংগাইর-হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ধল্লা ইউনিয়নের বাস্তা-গাজিন্দা মাদরাসার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিংগাইর থেকে ছেড়ে আসা পিকআপ মাদরাসার কাছে পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক সংলগ্ন ইস্রাফিলের বাড়িতে ফেলে দেয়। এ সময় বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গৃহকর্তার দু'মেয়ে সুবর্ণা ও ইশাকে পিকআপটি চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে বড়বোন সুবর্ণা মারা যায়। ছোট বোন ইশাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভারস্থ একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় সেও মারা যায়। নিহত বড় বোন সুবর্ণা স্থানীয় মর্নিং গ্লোরি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।
6
খুলনার কয়রা উপজেলায় ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজের সময় শেষ হয়ে গেলেও শুরুই করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সাংসদ মো. আকতারুজ্জামান বাবুর পছন্দের ঠিকাদার কাজ না পাওয়ায় তিনি কাজ করতে দিচ্ছেন না।ঠিকাদারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সাংসদ মো. আক্তারুজ্জামান বাবু গতকাল শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'জিনিস-পত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদার এখন কাজ করতে চাইছেন না, এ জন্য এমন অভিযোগ তুলছেন। উনি তো নির্মাণস্থলে কোনো সামগ্রী নিয়ে যাননি, কেউ বাধাও দেয়নি। আর এমন অল্প টাকার কাজে কে বাধা দেয় বলেন? তা ছাড়া, ঠিকাদারের উচিত স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করে কাজটা করা।'কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রেইনবো এন্টারপ্রাইজের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. খুরশিদ আলম অভিযোগ করেন, 'এমপির পছন্দের ঠিকাদার কাজটি পায়নি বলে কাজ করতে দিচ্ছেন না। আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে বলেছি জমির লে-আউট (কোথা থেকে সীমানা-প্রাচীর হবে, তা ঠিক করে দেওয়া) করে দেন। তিনি বলছেন এমপির নিষেধ আছে। ফলে কাজ করতে পারছি না।'নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার কাজ শেষের জন্য আরও কিছু সময়ের আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম আলী শেখ। সাংসদ কাজে বাধা দিচ্ছেন কি না -জানতে চাইলে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'অনেকে এমন বলছেন শুনেছি, তবে কেউ অভিযোগ করেননি।'স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কয়রা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৪ প্রকল্পের আওয়ায় তিনটি গুচ্ছ প্রকল্পের ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা-প্রাচীর নির্মাণের জন্য ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয় গত বছরের ২৩ জুলাই। ১ কোটি ২৬ লাখ ২৫১ টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়। কাজটি পায় জেলার দিঘলিয়া উপজেলার মেসার্স রেইনবো এন্টারপ্রাইজ। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজ শেষ করার সময় ছিল চলতি বছরের ২২ এপ্রিল।স্থানীয় বাসিন্দা, ঠিকাদার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, ৩ নম্বর কয়রা, বামিয়া, মসজিদকুড়, শিমলার আইট আদর্শ, কালনা, লোক, আন্তাবুনিয়া, খড়িয়া, খিরোল রওশানারা আহম্মেদ ও উত্তর মদিনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে শিশুশিক্ষার্থীরা যখন-তখন বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আশপাশের রাস্তার ওপর চলে যায়। এতে ঘটে দুর্ঘটনা। তা ছাড়া, স্কুলে অবাধে ঢোকে মানুষসহ নানা রকম যানবাহন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়। সমস্যা সমাধানে সীমানাপ্রাচীর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ই-টেন্ডার আহ্বান করা হলে সাংসদ বাবুর পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়নি। কাজটি পায় রেইনবো এন্টারপ্রাইজ। তখন সাংসদ এই কাজে বাদ সাধেন। একপর্যায়ে খিরোল রওশানারা আহম্মেদ বিদ্যালয়ের কাজটি সাংসদের ঘনিষ্ঠ একজনকে দিয়ে দেন ঠিকাদার। এতে খড়িয়া বিদ্যালয়ের কাজ ঠিকাদার শুরু করতে পেরেছেন। এই দুটি কাজ কিছুটা এগিয়েছে। বাকি ৮টি কাজ শুরুই করা যায়নি।মসজিদকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইবাদুল হক বলেন, 'আমার বিদ্যালয়টি পাইকগাছা-কয়রা প্রধান সড়কের পাশেই। বাচ্চারা কারণে-অকারণে, যখন-তখন সড়কে চলে যায়। প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। ফলে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ খুবই জরুরি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়রা উপজেলা যুবলীগের এক সহসভাপতি বলেন, 'ঠিকাদারির সব কাজ বেশ কয়েটি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেন এমপি। তাঁদের মাধ্যমে তিনি এই কাজ করেন। ই-টেন্ডার হওয়ায় এবার তাঁর পছন্দের ঠিকাদার কাজ পাননি। যে ঠিকাদার কাজ পেয়েছেন তিনি এমপিকে টু পাইস (টাকা) দিচ্ছেন না। ফলে এমপি কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।'খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেম কুমার মন্ডল আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বাবু ভাই এলজিইডির দ্বিতীয় শ্রেণির ঠিকাদার ছিলেন। ফলে তিনি ঠিকাদারি কাজটা ভালো বোঝেন। তা ছাড়া, এলজিইডির প্রায় ঠিকাদার তাঁর আগের থেকে পরিচিত। তিনি যদি মনে করেন কোনো কাজ তিনি করবেন, তাহলে ওই ঠিকাদারকে কাজটা দিয়ে নিজে করেন। পরে ঠিকাদারকে কিছু দেন।'
6
অস্ট্রেলিয়ার দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্নোবোর্ডার অ্যালেক্স পুলিন মারা গেছেন। স্পেয়ারফিশিং করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করছে স্থানীয় কর্মকর্তারা। বুধবার কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টের সমুদ্র সৈকতে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। ডাকনাম 'চাম্পি' ২০১৪ সালে সোচিতে শীতকালীন অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার পতাকাবহন করেছিলেন। কুইন্সল্যান্ডের এক অ্যাম্বুলেন্সের লোক এ বিষয়ে বলেন, 'তিনি পাম সৈকতে স্পেয়ারফিশিং করছিলেন। তাকে স্থানীয় মানুষ উপকূলে নিয়ে এসে লাইসেভার্স ও প্যারামেডিকস দেয়। স্থানীয় একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, একটি স্নোকারকিলার কৃত্রিম পাথরের ওপরে পুলিনকে অচেতন অবস্থায় ডুবে থাকতে দেখা যায়। পরে লাইফগার্ডরা তাকে কিনারায় নিয়ে আসে ও স্থানীয় সময় ১০টা ৩০ মিনিটে প্যারামেডিকস দেয়। পুলিন অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের ম্যানসফিল্ড শহরে বেড়ে উঠেছেন। আর মাত্র ৮ বছর বয়সেই স্নোবোর্ডের দীক্ষা পান তিনি। পরবর্তীতে ২০১১ ও ২০১৩ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব জেতেন। এছাড়া তিনি দেশের হয়ে স্নোবোর্ডে ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
12
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানে নামার আগে প্রস্তুতির প্রথম পরীক্ষায় ভালোভাবেই নিজেদের পরখ করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ওমান 'এ' দলকে ৬০ রানে হারিয়েছেন লিটন দাস-মুশফিকুর রহিমরা।মাসকাটের আল আমেরাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশের দেওয়া ২০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ওমান। প্রথম ওভারেই দলকে সাফল্য এনে দেন নাসুম আহমেদ। রানের খাতা খোলার আগেই বাঁহাতি স্পিনারের বলে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন অক্ষয় প্যাটেল (০)।শুরুর এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি ওমান 'এ' দল। ৪৩ রান করা শোয়াইব খান এক প্রান্ত আগলে রাখলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে মরুর দলটি।ওমান 'এ' পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করা শোয়াইব ফিরে যান রানআউটে কাটা পড়েন।এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন খররুম নাওয়াজকে (১১) বোল্ড করলে ৭৬ রানে ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা। তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তখনই।বাকি ব্যাটাররা পরে শুধু ব্যবধান কমিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ওমান 'এ' ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ১৪৭ রানে।এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করা বাংলাদেশকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন এ ম্যাচের অধিনায়ক লিটন দাস (৫৩) ও মোহাম্মদ নাঈম (৬৩*)। তাঁদের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ১০২ রান। শুরুর মতো শেষটা রাঙিয়েছেন নুরুল হাসান সোহান আর শামীম পাটোয়ারী। এই দুজনের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ২০৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।সোহান ১৫ বলে ৪৯ আর শামীম ১০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। দুই ওপেনার ও সোহান শামিমের প্রস্তুতিটা ভালো হলেও এদিন ব্যর্থ হয়েছেন মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা।সব পাওয়ার প্রস্তুতি ম্যাচে না পাওয়া বলতে এটাই।দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেনিনি সৌম্য সরকার (৮) , মুশফিকুর রহিম (০) আর আফিফ হোসেন (৬)। মুশফিক তো ফিরেছেন প্রথম বলেই।মূল পর্বের আগে বাংলাদেশ আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে অবশ্য মুশফিক সৌমরা আরও একবার নিজেদের ঝাকিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
12
মুলাদীতে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার পরেও রোধ করা যাচ্ছে না ভাঙন। নদীভাঙন রোধে নেওয়া কোনো ব্যবস্থাই কাজে আসছে না। উপজেলার আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীর মোহনায় বাটামারা ইউনিয়নের আলীমাবাদ এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।নদীভাঙনে ভুক্তভোগীরা জানান, সাধারণত বর্ষা মৌসুমের শুরু এবং শেষের দিকে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু চলতি বছর আলীমাবাদ রামচর এলাকায় শীতকালেও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এই এলাকায় ইতিপূর্বে কয়েকবার জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই কাজে আসছে না। ভাঙনে বাটামারা ইউনিয়নের এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে।আলীমাবাদ গ্রামের আবুল হোসেন জানান, বাটামারা ইউনিয়নে এই গ্রামটি অনেক বড় ছিল। কয়েক বছর নদীভাঙনে বেশ কিছু অংশ বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গত বর্ষা মৌসুমে আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছিল। বর্ষার পরে কিছুটা কমে যায়। এখন আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।একই গ্রামের শামীম খান জানান, বালু উত্তোলনের ফলে নদীতে ভাঙন সৃষ্টি হয়। বালু ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করেন। অধিকাংশ বালু উত্তোলনকারী দিনের বেলায় পাশের কালকিনি উপজেলায় চলে যান। রাত হলেই আলীমাবাদ এলাকায় ঢুকে বালু কেটে নেন। রাতের বেলায় এসব নদীতে অভিযান চালালে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হতো। এ ছাড়া এসব বালু উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁরা তাঁদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বালু ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও নদীভাঙনে কয়েকশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।রামচর এলাকার আবদুল হান্নান বলেন, নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে জিও ব্যাগ ফেলেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশগাছ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে নদীভাঙন রোধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নদীভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। কয়েক জায়গা দিয়ে জিও ব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হলে হয়তো ভাঙন রোধ করা সম্ভব হতো।পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাবুগঞ্জ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, মুলাদী উপজেলার আলীমাবাদ এলাকায় ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এ বছরও ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিয়াজুর রহমান জানান, মুলাদী উপজেলায় কোনো বালুমহাল নেই। তাই যেকোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলন অবৈধ। প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে নাজিরপুর এলাকায় একটি ড্রেজার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরেও কেউ বালু উত্তোলন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মনোনয়নপত্র বাতিল নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের কারণেই হয়েছে। এটা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যাপার। এখানে আওয়ামী লীগের কিছুই করার নেই। সোমবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনও অবস্থাতেই আমরা একতরফা অবস্থা সৃষ্টি করে নির্বাচনে লড়াই করতে চাই না। এটা একপেশে খেলা হোক, একপেশে ম্যাচ হোক- এটা আমরা চাই না। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে দুই চাকার বাইসাইকেল। একটা চাকার অপজিশন আরেকটা চাকা। এখানে কে অপজিশন হবে সেটা গণমানুষ ঠিক করবে। কিন্তু এখানে অন্যদের ঠেকিয়ে, আটকে রেখে আমরা একা নির্বাচন করব, ফাঁকা মাঠে গোল দেব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোটেই এ ধরনের ইচ্ছে পোষণ করেন না। এটা আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ দলগুলো ও জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের তো এই দেশেই থাকতে হবে। জনগণের মাঝেই থাকতে হবে। আজকে একটা কথা বললাম রাজনীতিবিদ হিসেবে, একটা রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে, কিছুদিন পর সেই কথার যদি ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে মানুষ তো এটা মনে রাখবে। তিনি বলেন, কাজেই ফাঁকা বুলি, প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। যা সত্য তাই বলছি, আমরা একটা ক্রেডিবল ইলেকশন করতে চাই, একটা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আমরা কতে চাই। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশে-বিদেশে সবার দৃষ্টি রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই এই নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হোক সেটা আমরা চাই না।
9
বীর নারীর খেতাবপ্রাপ্ত ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর হাতে নির্যাতিত বীরাঙ্গনা আফিয়া খাতুন চৌধুরী ওরফে খঞ্জনী বেগমকে (৮০) স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বাগিচাগাঁওস্থ বাসা সংলগ্ন মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা হয়। পরে দুপুর ২টায় স্বামীর বাড়ি কিং সোনাপুর গ্রামে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন ও দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে স্বামীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
বাতাসে দুলছে সরিষা ফুল, মেঠো পথের দুই পাশজুড়ে হলুদের সমারোহ। দূর থেকে দেখে মনে হয় মাঠে বিশাল আকৃতির হলুদ চাদর বিছানো। এবার সরিষার ভালো ফলনে বেজায় খুশি কৃষক।এবার রবিশস্য হিসেবে মাগুরার মহম্মদপুরে গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এখন ভালো দামের আশায় সরষে খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে পুরোপুরি ফুল আসতে আরও সময় লাগবে। বিভিন্ন উপজেলায় জমির পর জমিতে সরিষার আবাদ দেখা গেছে। ফুলে ফুলে মধু আহরণে ভিড়ছে মৌমাছি। সব মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা।সাধারণত রবি মৌসুমে কার্তিকের মাঝামাঝি থেকে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সরিষার বীজ বপনের সময়। শীতকালে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি সরিষা ফুলে ছেয়ে থাকে চার দিক।উপজেলার বাবুখালী, দিঘা, বিনোদপুর, নহাটা, রাজাপুর, বালিদিয়া, পলাশবাড়ীয়া ও মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নে এ মৌসুমে সরিষার আবাদ লক্ষ্য করা গেছে। আমন ধান ঘরে তোলার পরই কৃষকেরা ওই জমিতে সরিষা চাষ করেন। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার মহম্মদপুর অঞ্চলে সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। বারি-১৪,১৭, ১৮ ও বিনা-৪ ও ৯ জাতের সরিষা চাষ হয়েছে বেশি। আর দেড় থেকে দুই মাস পর সরিষা ঘরে তোলার সময় বর্তমান বাজার অনুযায়ী দাম পেলে এ অঞ্চলের সরিষার চাষাবাদ আরও বাড়বে।উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের কৃষক রতন মোল্যা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার তার ৩০ শতাংশ জমিতে সরিষার ভালো চাষ হয়েছে। আর দেড় থেকে দুই মাস পরই এ ফসল ঘরে উঠবে। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবারও সরিষা আবাদ করেছেন তিনি। অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা উৎপাদনে খরচ অনেক কম ও লাভ বেশি।উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের সুরুজ মোল্লা, লিয়াকত মোল্যা, জিবলু মিরাজসহ একাধিক কৃষক জানান, উপজেলার অধিকাংশ জমিতে সরিষা আবাদ শেষ হয়েছে। আগাম চাষিদের গাছে ফুল এসেছে। তবে সব জমিতে পুরোপুরি ফুলে ফুলে ভরে উঠতে সময় লাগবে আরও কিছুদিন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সোবহান বলেন, দেশি জাতের সরিষা চাষে ফলন কম হওয়ার কারণে কৃষকেরা তেমন লাভের মুখ দেখছেন না বলে হাইব্রিড সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। চাষিরা বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮, ও বিনা-৪, বিনা-৯ জাতের সরিষা আবাদ করেন। বপন থেকে শুরু করে এ ফসল ফলনে সময় লাগে ৮০-৯০ দিন। এরই মধ্যে জমিতে সরিষা আবাদ শেষ। সরিষার ফলন অনেক ভালো হয়েছে।
6
অভিজ্ঞতা ছাড়াই তরুণ, দক্ষ ও সৃজনশীল লোকবল চেয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।পদের নাম: ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি/এক্সিকিউটিভ অফিসার।পদের সংখ্যা: নির্ধারিত নয়।বেতন: ব্যাংকের নীতিমালা অনুসারে আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা প্রদান করা হবে।অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: প্রথম এক বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। এরপর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে পদোন্নতি।শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে গণিত, পরিসংখ্যান, ফিজিকস, অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট, এমআইএস, এইচআরএম, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, ইকোনমিকস, হেলথ ইকোনমিকস, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইংলিশ, আইন বা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এমবিএ/এমবিএম/মাস্টার্স পাস হতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসিতে কমপক্ষে জিপিএ ৪.৫০ থাকতে হবে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ থাকতে হবে।বয়স: ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে।আবেদন প্রক্রিয়া: প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করা যাবে।আবেদনের শেষ তারিখ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২সূত্র: ://.-./
1
২৫০ মিটার প্রস্থ আর ১৮ মিটার গভীরতা সমুদ্রবন্দর চ্যানেল। চ্যানেলের সঙ্গে লেগে আছে পণ্য খালাসের জন্য দুটি জেটি। যেখানে ভেড়ানো আছে ব্যাংকক আর গ্রিনল্যান্ডের মালবাহী দুটি জাহাজ। পাশেই যতদূর চোখ যায়, চলছে মহাকর্মযজ্ঞ। প্রথম দেখায় ঠিক বোঝার উপায় নেই জায়গাটি কোথায়। মনে হয় উন্নত বিশ্বের প্রথম সারির কোনো এক সমুদ্রবন্দর। কিন্তু না, এটি আসলে সাগরবক্ষের দ্বীপ মহেশখালীর মাতারবাড়ী।এই তো কয়েক বছর আগেও এখানকার হাজার হাজার একর জমিতে লোনাপানি জমিয়ে লবণের চাষ হতো। দিনভর মাছ শিকার করত। আজ সেই লবণমাঠেই বাস্তবায়ন হচ্ছে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর। শুধু মাতারবাড়ীই নয়। পুরো মহেশখালীতে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার ৬৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজগুলো শেষ হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভাগ্য বদলাবে এখানকার মানুষের। মহেশখালী হবে দেশের অর্থনীতির অন্যতম এক চালিকাশক্তি। সম্ভাবনাকে অস্বীকার করছেন না এখানকার সাধারণ মানুষও। তাঁদেরও ইচ্ছে, সময়ের পরিবর্তনে লবণ উৎপাদন আর মাছ শিকার বাদ দিয়ে শামিল হবেন উন্নয়নের এই বিপ্লবে।কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল, তেল রিজার্ভ ট্যাংক, পণ্য খালাসের জেটি, গভীর সমুদ্রবন্দর, সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টসহ প্রায় ৬৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৩১টি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। ৯টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের, ৮টি সড়ক ও সেতু বিভাগের, ৯টি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের।কক্সবাজার শহর থেকে সমুদ্রপথে উত্তর দিকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার গেলে মহেশখালীর দ্বীপ ইউনিয়ন এই মাতারবাড়ী। ইউনিয়নের ৮০ হাজার জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশের পেশা সমুদ্রের মাছ শিকার এবং খোলা মাঠে লোনাপানি জমিয়ে লবণ উৎপাদন করা। কিন্তু আজ সেখানে নির্মাণকাজে ব্যস্ত ১৭ দেশের ৫৫৪ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের নির্দেশনায় কাজ করছেন বাংলাদেশি আরও সাড়ে ৬ হাজারের মতো শ্রমিক।মহেশখালী থেকে সড়কপথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভাঙা রাস্তা পেরিয়ে পৌঁছাই মাতারবাড়ীর ধলঘাটা। এই মহা প্রকল্পে উত্তর পাশে কুতুবদিয়া চ্যানেল, পশ্চিম ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, আর পূর্ব পাশে কুহেলিয়া নদী। মধ্যভাগের জমিতে দেশি-বিদেশি সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিক-প্রকৌশলীর ঘামে-শ্রমেমাথা তুলেছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল অবকাঠামো। বড় বড় ক্রেন, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে দিনরাত চলছে নির্মাণকাজ। জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার (জাইকা) সহযোগিতায় ১ হাজার ৪১৪ একর জমিতে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমিতমো, তোশিবা ও আইএইচআই করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। ২০১৮ সালে এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, শেষ হবে ২০২৪ সালে।সার্বিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'দুটি পাওয়ার প্ল্যান্টে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এগুলোর ৪৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম ইউনিট ২০২৪ সালের জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ইউনিট একই বছরের জুলাইয়ে চালু হবে বলে আশা করছি। সামগ্রিক অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ।'সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ এলাকা হবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির হাব। এ হাবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে নতুন শহর। যা এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটাবে।স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন শেখ বলেন, সত্যিই এলাকার চেহারা ধীরে ধীরে পাল্টে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎতে এ-কেন্দ্রিক নানা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে বলে এলাকাবাসীর বিশ্বাস। এ মাসে গভীর সমুদ্রবন্দরের টেন্ডারদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০০৯ সালে। শুরুতে পরিকল্পনায় ছিল কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে। এরপর আসে পটুয়াখালীর পায়রায়। কিন্তু সর্বশেষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতেই হবে গভীর সমুদ্রবন্দর। আর এটাই হবে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর।মাতারবাড়ী ধলঘাটার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে ১ হাজার ৮০ একর ভূমিতে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বন্দর নির্মাণ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান।সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালে এ বন্দরটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দরের সঙ্গেই গড়ে তোলা হবে কনটেইনার রাখার অবকাঠামো। ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোও (আইসিডি) গড়ে তোলা হবে।সমুদ্রবন্দর চ্যানেলে বিদেশি জাহাজ ভিড়ছেপ্রকল্প এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে চার কিলোমিটার সড়কের শেষ প্রান্তে ১৪ কিলোমিটারের মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর চ্যানেল। চ্যানেলের সঙ্গে তৈরি হয়েছে পণ্য খালাসের দুটি জেটি। বঙ্গোপসাগর থেকে এই চ্যানেলে ঢুকে বিদেশি জাহাজগুলো সেখানে পণ্য খালাস করছে। ১৫ অক্টোবর শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, জেটি দুটিতে দুটি বিদেশি জাহাজ ভিড়ে রয়েছে। জাহাজ থেকে ক্রেনের মাধ্যমে নামানো হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্টিল সরঞ্জাম। কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত ৩০টি বিদেশি জাহাজ এসেছে। বর্তমানে একটি তেলের, আরেকটি কয়লার জেটিতে নোঙর করেছে।তেল খালাসে বাঁচবে বছরে ৮০০ কোটি টাকাগভীরতা কম হওয়ায় তেলবাহী মাদার ভেসেল চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে না। আবার এক লাখ টন তেল নিয়ে কুতুবদিয়া দ্বীপের কাছে আসতে পারে না বড় জাহাজ। তাই ছোট ছোট অয়েল ট্যাংকারে করে তা ইস্টার্ন রিফাইনারির জেটিতে আনা হয়। এ প্রক্রিয়ায় একটি ট্যাংকার থেকে তেল খালাস করতে ৩ থেকে ৭ দিন সময় লেগে যায়। আর অতিরিক্ত সময়ের জন্য সরকারকে জরিমানা গুনতে হয় জাহাজ কোম্পানির কাছে।তাই মহেশখালীর নিকটবর্তী সমুদ্র এলাকায় নির্মিত হচ্ছে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল খালাসের পাইপলাইন। জ্বালানি বিভাগের এই প্রকল্পের নাম সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন (এসপিএম)। এই প্রকল্পের জন্য কালারমারছড়ার সোনারপাড়ায় তেল মজুতের জন্য বিশাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে গিয়ে বলেন, ৬ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ হবে। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।জ্বালানি হাবমহেশখালীতেই গড়ে উঠছে জ্বালানির বড় হাব। এখানে হবে ভাসমান ও স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল। যাকে বলা হবে দেশের সবচেয়ে বড় এলপিজি টার্মিনাল। মহেশখালীর ধলঘাটা দুটি এলএনজি টার্মিনাল হবে স্থলভাগে। আবার এখানকারই নিকটবর্তী সমুদ্রে হবে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। এই তিন টার্মিনাল থেকে দিনে মিলবে ৩৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।যোগাযোগেও আসবে পরিবর্তনবিদ্যুৎ প্রকল্প ও সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে হচ্ছে সড়ক উন্নয়ন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত চার লেনের ২৭ কিলোমিটার সড়ক ও ১৭টি সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বন্দরের সঙ্গে ২৬ কিলোমিটার রেলপথ সরাসরি যুক্ত করতে চায়। এটি চকরিয়ার হারবাং থেকে সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত যাবে। ২০২৪ সালের মধ্যে এসব অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সোনাদিয়ায়দেশের পর্যটন বিজ্ঞাপনের পোস্টার গার্ল 'কক্সবাজার'। প্রতিবছর ৬০-৭০ লাখ পর্যটক আসেন। এবার বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে সোনাদিয়া দ্বীপ। এ দ্বীপে গড়ে উঠবে পর্যটননির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চল। যেটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বেজার চেয়ারম্যান শেখ ইউছুপ হারুন বলেন, ট্যুরিজম পার্ক বাস্তবায়ন হলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হবে।অন্যদিকে সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞকে কেন্দ্র করে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন হচ্ছে দ্বীপ অঞ্চলের রাস্তাঘাট, মানুষের জীবনধারা। পুরো মহেশখালীতেই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। স্থানীয় সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, 'দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুতের হাব, অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি।'মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম আবু হায়দার বলেন, প্রকল্পের জন্য এই এলাকার মানুষ জায়গা দিয়েছেন। তাঁরা শুধু উন্নয়ন চান। আর এই উন্নয়নের মাধ্যমে কাজের সুযোগ চান তাঁরা। বদলাতে চান নিজেদের ভাগ্য।রিকশাচালক রহিমের প্রশ্ন, এত উন্নয়নে হয়তো শিক্ষিতরা অনেক কিছু পাবেন। কিন্তু আমাদের কী হবে? এর জবাবে কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী অবশ্য বলেছেন, এ উন্নয়নযাত্রায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হতদরিদ্রদের সম্পৃক্ত করতে হবে। না হলে একশ্রেণির মানুষ পিছিয়ে পড়বেন। তাঁদের সঙ্গে রাখার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
6
'ক্ষমতা সাধারণত দুর্নীতিমুখী হয় আর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা সবকিছুকেই নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলে'-এই প্রাচীন প্রবাদের সত্যতা একাডেমিক গবেষণাতেও পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ ক্ষমতাসম্পন্ন অবস্থানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের লঙ্ঘন তাদের জীবনে প্রাত্যহিক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত তালেবান সরকারের ক্ষেত্রে এই বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। এর জের ধরে তালেবান সরকার একটা অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। আইনের শাসনের অনুপস্থিতি, কর্তৃত্ববাদী আচরণ এবং বিরোধীদের ওপর নিপীড়ন গোটা তালেবান সরকারের ভাবমূর্তিকে ভূলুণ্ঠিত করছে। এই মুহূর্তে তালেবানের সামনে তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কোন্দল সামাল দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাবুল দখলের আগে দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া শীর্ষস্থানীয় তালেবান নেতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদার, মোহাম্মাদ আব্বাস স্তানিকজাই, মোল্লা আবদুল সালাম জাহিফসহ আরও অনেক নেতা অন্তর্কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন। এই অন্তর্কোন্দলের মূল কারণ হলো হাক্কানি নেটওয়ার্কের যোদ্ধাদের কর্তৃত্ববাদী মনোভাব। হাক্কানি নেটওয়ার্কের ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্তৃত্ববাদী আচরণ নিয়ে গত মাসে কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান ও উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে মোল্লা গনি বারাদারের ঝগড়া হয়। হাক্কানি নেটওয়ার্কের ওপর বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বিশেষ করে সিরাজুদ্দিন হাক্কানিকে বিভিন্ন দেশ কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি তালেবান সরকারের জন্য এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বাইরে ইসলামিক স্টেট খোরাসান বা আইএস-কের বিধ্বংসী পুনরুত্থানও তালেবানের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগে তালেবান ক্ষমতায় ছিল না। এখনকার মতো দায়দায়িত্বও তখন তাদের কাঁধে ছিল না। তারা তখন মার্কিন সেনা ও সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস পন্থায় নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারত। এখন রাষ্ট্রক্ষমতা তাদের কাঁধে, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক স্বীকৃতি অর্জনের দায় তাদের ওপর। এ অবস্থায় তারা চাইলেই আগের মতো হঠকারী কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে পারে না। আইএস-কে এখন রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরের শক্তি হিসেবে সেই সুবিধা নিচ্ছে এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। কাবুল পতনের পর থেকে এ পর্যন্ত আইএস-কে কাবুল, জালালাবাদ, কুন্দুজ ও কান্দাহারে ভয়াবহ কিছু হামলা চালিয়েছে। এ কারণে আইএস-কে তালেবানের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। তালেবানের জন্য আরেকটি সমস্যার বিষয় হলো মেধাবী ও শিক্ষিত বহু আফগান দেশ ছেড়ে চলে গেছেন এবং দেশটি মেধাশূন্য প্রজন্মে ভরে যাচ্ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এবং নিপীড়নের শিকার হয়ে আফগানিস্তান থেকে ৬০ লাখের বেশি মানুষ বিদেশে পালিয়ে গেছে। এ বছরের শেষ নাগাদ আরও পাঁচ লাখ মানুষ আফগানিস্তান ছাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া এসব নাগরিকদের একটি বড় অংশ শিক্ষিত। এ কারণে দক্ষ জনশক্তির অভাব দেশটিতে প্রকট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ করতে যে শিক্ষিত জনবল দরকার, তা পাওয়া যাচ্ছে না। এটি তালেবান সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। বৈশ্বিক বৈধতা পাওয়া তালেবান সরকারের প্রথম এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এখন পর্যন্ত তালেবান সরকারকে কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এই স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত সরকারের কূটনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তৎপরতা-কিছুই তারা চালাতে পারছে না। তালেবান ক্ষমতায় এসেছে সামরিক শক্তি দিয়ে এবং তারা সব সময়ই তাদের কট্টর ইসলামি শাসন জারি রাখতে চায়। নারী ও শিশুদের ওপর তাদের নিবর্তনমূলক আচরণ, নারীশিক্ষায় বাধা দেওয়া, বাক্স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা-ইত্যাদি তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথে বড় অন্তরায় হয়ে আছে। এর বাইরে তালেবান সেই সব লোককে খুঁজে খুঁজে বের করছে, যারা ন্যাটো বাহিনীকে কোনো না কোনোভাবে সহায়তা করেছিল কিংবা এর আগের সরকারগুলোর জন্য কাজ করেছে। এসব লোকের একটি বড় অংশ শিক্ষিত এবং তারা এখন তালেবানের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। অনেকে আগেই চলে গেছে। এসব সমস্যা আফগানিস্তানের জন্য মহাসংকট বয়ে আনতে পারে। দেশটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। সেটি হলে গোটা অঞ্চল আবার অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তালেবানকে তাদের কট্টর মতাদর্শ থেকে সরে আসতেই হবে। সব দল-মতের মানুষকে ডেকে একটি জাতীয় সমঝোতার চেষ্টা করতে হবে। জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত রহিম নাসের ইসলামাবাদভিত্তিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
8
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে ঢাকা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ডিজেএ)। শনিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টায় রাজধানীর জুরাইন এলাকায় অসহায়, দুস্থ ও শীতার্তদের মাঝে তারা তিন শতাধিক শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আজহার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কবীর চৌধুরী। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক আছাদুজ্জামান ও দফতর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস সোহেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি জহিরুল আলম পিলু, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুল ইসলাম চৌধুরী জিন্নাহসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
6
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তা অমান্য করে কানাডার আকাশসীমা ব্যবহার করেছে রাশিয়ার একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানায়। খবরে বলা হয়, ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় কানাডা তার আকাশসীমা রাশিয়ার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও রাশিয়ার একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ কানাডার আকাশসীমা হয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। কানাডার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, এরোফ্লটের ফ্লাইট ১১১ পরিচালনার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হবে এবং কোনো ধরনের সংকোচ ছাড়াই নেওয়া হবে যথাযথ ব্যবস্থা। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইট অ্যাওয়ারের মতে, রোববার ফ্লোরিডার মিয়ামি থেকে এরোফ্লটের উড়োজাহাজটি মস্কোর উদ্দেশে উড়াল দেয়। ইউক্রেনে রুশ হামলা বন্ধের জন্য চাপ দেওয়ার অংশ হিসেবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কানাডাও নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা এমন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে 'সামরিক অভিযানের' ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকে ভয়াবহ সংঘাত চলছে।
3
বসন্ত বাতাসে এলো ভালোবাসার দিন। পঞ্জিকার হিসাবে ফাল্গুন মাস শুরু হচ্ছে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে, আজই আবার বিশ্বব্যাপী ভালোবাসা দিবস। 'বসন্ত আজ আসলো ধরায়,/ফুল ফুটেছে বনে বনে,/ শীতের হাওয়া পালিয়ে বেড়ায় ফাল্গুনী মোর মন বনে।' বসন্তকে ঋতুরাজ বলা হয় বহুকাল ধরে, আর বসন্তের আগমনে 'বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ/ আমার বাড়ি আসে।' বসন্ত বাতাসে ভালোবাসার দিন আসায় ফুল নিশ্চয়ই এবার একটু বেশি বেশি গন্ধ ছড়াবে আকুল প্রেমিক-প্রেমিকার মনে। বরাবর বসন্ত উদযাপনের পরদিন ভালোবাসা দিবস পালিত হয়। সঙ্গে থাকে বইমেলার ভিড়। বৈশ্বিক দুর্যোগ চলমান করোনা মহামারির কারণে এবার সব আয়োজন বন্ধ হয়ে আছে। তাই বলে তো আজ ফাগুনের আগুনলাগা উচ্ছ্বাসে প্রিয়তমের হাতে হাত রেখে প্রিয়ার কোমল হৃদয় ব্যাকুল হয়ে উঠবে না, এমন নয়? বাসন্তী আবিরের সঙ্গে খোঁপায় হলুদ গাঁদা আর মাথায় ফুলের টায়রায় শৈল্পিকতা ফুটে উঠবে নিশ্চয়ই। বাসন্তী রঙের তরুণীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তরুণরাও কম যাবে না। সঙ্গে আবার মিলেছে ভালোবাসার দিন। 'ভালোবাসা'- মাত্র চার অক্ষরের এই শব্দের গভীরতা অনেক- 'ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়/যুদ্ধ আসে, ভালোবেসে/মায়ের ছেলেরা চলে যায়'। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে স্মরণে রেখে ভালোবাসা দিবস প্রবর্তিত হলেও দিবসটি এখন তরুণ-তরুণীর ভালোবাসার প্রস্তাব জানাবার দিনে পরিণত হয়েছে। রোমান বিশ্বাস মতে, আজ প্রেমের দেবতা কিউপিড 'প্রেমবাণ' বা শর বাগিয়ে ঘুরে ফিরবে হৃদয় থেকে হৃদয়ে। অনুরাগতাড়িত প্রেমিক-হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় হবে দেবতার বাঁকা ইশারায়। আজ হৃদয় গহিনে তারাপুঞ্জের মতো ফুটবে চণ্ডীদাসের অনাদিকালের সুর, 'দুঁহু তার দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/অর্ধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/সখি কেমনে বাঁধিব হিয়া...।' গল্প, কবিতা, গান আর উপন্যাসে, আখ্যানে-উপাখ্যানে আর মানুষের মুখে মুখে যুগ-যুগান্তর ধরে ভালোবাসার সংজ্ঞা আর ব্যাখ্যা খুঁজে ফিরেছে মানুষ। কেননা, ভালোবাসাই ধ্রুব। ভালোবাসা দিবস কবে থেকে, কীভাবে শুরু হয়েছে- ইতিহাসের পাতায় তা নিয়ে রয়েছে নানা কাহিনি। এগুলোর মধ্যে বহুল প্রচলিত কাহিনিটি হচ্ছে, রোমান পাদ্রি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ক্রিশ্চিয়ান ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুদ দেন রোমের দ্বিতীয় ক্লডিয়াস। তিনি কারাগারে বন্দি থাকার সময় ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে জানালা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিত। বন্দি সেন্ট ভ্যালেন্টাইন চিকিৎসা করে জেলারের মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। এভাবে মেয়েটির সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটে। মারা যাওয়ার আগে মেয়েটিকে লেখা একটি চিঠিতে তিনি জানান, 'ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন।' অনেকে মনে করেন, এই সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারেই প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে 'সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে' হিসেবে ঘোষণা করেন। আরও একজন ভ্যালেন্টাইনের নাম পাওয়া যায় ইতিহাসে। যুদ্ধের জন্য দক্ষ সৈনিক সংগ্রহের জন্য রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস যুবকদের বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিন্তু তরুণ ভ্যালেন্টাইন নিয়ম ভঙ্গ করে প্রেম ও বিয়ে করেন। ফলে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। বসন্তের দিনে ভালোবাসা পাবে দ্বিগুণ মাত্রা। বসন্ত নিয়ে গান-কবিতা বাংলা সাহিত্যে আবহমান কাল ধরেই রচিত হচ্ছে। একা রবীন্দ্রনাথই লিখেছেন বহু গান-কবিতা। বসন্তে ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে। এই উৎসবের অন্য নাম বসন্তোৎসব। শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব উদযাপিত হয়। বসন্ত আর ভালোবাসার মিশেলের এমন দিনকে বরণ করার লক্ষ্যে শাহবাগের ফুলের দোকান আর আজিজ মার্কেটের শাড়ি আর পাঞ্জাবির দোকানগুলোতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে উপচেপড়া ভিড়। সকাল ৭টায় বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে উদযাপন পরিষদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, চারুকলা, শিল্পকলা একাডেমি, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বলধা গার্ডেন, বেইলি রোডের ফাস্টফুডের দোকান, ধানমন্ডি লেক, রবীন্দ্রসরোবরেও নিশ্চয়ই দিবসটি উপলক্ষে অন্যান্যবারের মতো ভিড় হবে না। তাই শান্তি নেই ফুল বিক্রেতাদের মনে। করোনা মহামারির কারণে গত বছরের মার্চ থেকেই ফুল ব্যবসায়ীদের আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত বছরও দুই উৎসব এক দিনে হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফুল বাণিজ্য হয়নি বলে জানিয়েছেন শাহবাগ ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতারা। এখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর দুই উৎসবকে ঘিরে সারাদেশে প্রায় ১০ কোটি টাকার ফুলবাণিজ্য হতো একসময়।
6
খুলনায় গতকাল অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, এ বছর ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষামূলক চাষের অনুমতি দেওয়া হলেও ব্যাংকঋণ পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকার এ বছর ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষামূলকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ওই চিংড়ি চাষ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। স্বল্প মেয়াদে অনুমতি পাওয়ায় ভেনামি চিংড়ি চাষে ব্যাংকঋণ মিলছে না বলে জানিয়েছে চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। খুলনায় অবস্থিত বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে গতকাল শনিবার এসব কথা জানান রপ্তানিকারকেরা। যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফিশারি প্রডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল ও বিএফএফইএ। জানা যায়, গত বছর যশোরের এমইউ-সি ফুডসকে পরীক্ষামূলকভাবে ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমতি দেওয়া হয়। এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে আরও ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে চাষের অনুমতি দিয়েছে সরকার। সেমিনারে বক্তারা বলেন, ভেনামি চিংড়ি চাষের উপযোগী খামার তৈরি ও বিদেশ থেকে পোনা আমদানি করতে বেশ খরচের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এক বছরের জন্য অনুমতি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দিচ্ছে না ব্যাংক। ফলে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ মেয়াদে ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর খুলনার সাবেক উপপরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার। তিনি বলেন, একসময় দেশে ২ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ির চাষ হতো। কিন্তু বিভিন্ন কারণে চিংড়ি চাষের জমি অনেক কমে গেছে। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি কমেছে রপ্তানিও। কাঁচামাল সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে আশার আলো হয়ে উঠতে পারে ভেনামি চিংড়ি। কম জায়গায় কম খরচে ভেনামি চিংড়ির অধিক উৎপাদন হয়। এ কারণে চিংড়ি উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনে বেশি আগ্রহী। সেমিনারে জানানো হয়, সারা বিশ্বে চিংড়ির চাহিদা বেড়েছে ১০ শতাংশ। বিশ্বে চাহিদা বাড়লেও সেখানে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। কারণ, চিংড়ির উৎপাদন কম। এশিয়ার মধ্যে ১৫টি দেশ চিংড়ি উৎপাদন করে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ ছাড়া অন্য ১৪টি দেশ ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন করছে। অন্যান্য দেশ যেখানে ২০ বছর আগে ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন শুরু করেছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করতে যাচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, ২০২০ সালে চিংড়ির বিশ্ববাজার ছিল ১৮ দশমিক ৩০ বিলিয়ন (১ বিলিয়নে ১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের। ২০২৬ সালে এ বাজারের আকার দাঁড়াবে ২৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বর্তমানে চিংড়ির বাজারের ৭৭ শতাংশই ভেনামির দখলে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাদিকুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব কুমার পাল, বিএফএফইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম খলিলুল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফএফইএর সহসভাপতি এস হুমায়ুন কবির।
0
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে ছেলের বিরুদ্ধে নিজের বাবা নুর ইসলাম (৬০) কে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ছেলে হাসিবুলকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার সালান্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও হাসান মেম্বার পাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।সালান্দর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মুকুল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি ছেলেটি মানসিক রোগী। ঘটনার দিন ভোরে সে টিউবওয়েলের কাছে গিয়ে মলত্যাগ করে। এতে তার বাবা নুর ইসলাম তাকে ধমক ও বকাঝকা করে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে চলে যায়। মসজিদ থেকে বাড়িতে আসলে হাসিবুল তার বাবার পথরোধ করে। এ সময় হাতে থাকা ইট দিয়ে নুর ইসলামের মাথা থেঁতলে দেয়। পরে এলাকাবাসী ও পরিবারের সহায়তা তাকে চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় সেখান কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করেন। মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।স্থানীয় মেম্বারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল আলম বলেন, ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া হাসিবুল গত দশ বছর থেকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল। পরে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় বাড়িতে নিয়ে আসে তার পরিবার। আজ সে তার বাবাকে হত্যা করল। এটি খুব দুঃখ জনক।ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছেলেটিকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করে।আসলেই সে মানসিক ভারসাম্যহীন নাকি নেশাগ্রস্ত এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁর কথা ও আচরণ দেখে-শুনে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বা নেশাগ্রস্ত মনে হয়নি। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে যদি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে থাকে তাহলে এটি আদালতে প্রমাণ হবে। আজ মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
6
দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরাফাত রাহমানকে সভাপতি ও আজকালের খবর'র রিজভী আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (রুরু) নবম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনে সংগঠনটির কার্যালয়ে বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে ২০২০-২১ মেয়াদে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি হারুন-অর-রশিদ (বাংলা রিপোর্ট), খুর্শিদ রাজীব (দৈনিক জনকন্ঠ), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অন্তর রায় প্রণব (ফটো সাংবাদিক), জুয়েল মামুন (আমাদের কণ্ঠ ২৪ ডট কম), কোষাধ্যক্ষ ওয়াসিফ রিয়াদ (সোনার দেশ), দফতর সম্পাদক রাশেদ শুভ্র (সময়ের আলো), সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ইসলাম (দৈনিক বার্তা), প্রচার সম্পাদক শাহিনুর খালিদ (দৈনিক রাজশাহী সংবাদ), ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাজু আহম্মেদ (ডেইলি প্রজন্ম), সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মুজাহিদ হোসেন (দি বাংলাদেশ টুডে) এবং কার্যনিবাহী সদস্য রায়া রামিসা রীতি, জাহাঙ্গীর আলম, আসিফ আহমেদ দিগন্ত, তানভীর আহমেদ ও ফুয়াদ পাবলো। বিডি প্রতিদিন/হিমেল
1
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র (এসডিজি) অর্জনে বিচার বিভাগকে ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, এসডিজি অর্জনে সরকারের যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে বিচার বিভাগকেও বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনের শাসন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে একটি আধুনিক ও গণমুখী বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে করে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বিচার বিভাগের মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে।রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুগ্ন ও দায়রা জজ এবং সমপর্যাযের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক।প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিচারকদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে আমাদের সবাইকে সময়োপযোগী, আধুনিক এবং বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার কোন বিকল্প নেই। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচারিক সকল বিষয়ে এ কথা প্রযোজ্য। আইনের জটিল সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করে পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আরও দৃঢ় করার জন্য প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সরকার এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ প্রায় ৩৩ লাখ মামলার বোঝা নিয়ে যথাসম্ভব স্বল্প সময়ে ও স্বল্পখরচে বিচারিক সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ মামলার জট কমিয়ে আনা বিচারকদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং ন্যায় বিচারের দ্বার যেন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে সে দিকে বিচারকদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
6
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে চালকসহ পাঁচ আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, তাঁরা সবাই একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব নরহ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।শাহরাস্তি মডেল থানা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ১টার দিকে কুমিল্লা থেকে মনোহরগঞ্জ যাওয়ার পথে একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পূর্ব নরহ গ্রামের মোল্লারটেকে পুকুরে পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে।নিহতরা হলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান খোকনের ছেলে মো. শাহপরান তুষার (২২), একই এলাকার নরপাইয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে শাকিল (২৩), চাঁপা কেশতলা গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে রেজাউল করিম (২৩), যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের মো. আ. খালেকের ছেলে নয়ন (২৪) ও গাজীপুর সদর উপজেলার উত্তর খাইলকুর গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে মো. সাগর হোসেন (২৪)।পার্শ্ববর্তী পানচাইল গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। গাড়িটি পানিতে পড়ায় ভেতরের কেউ বের হতে পারেনি। গাড়ির কাচ ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হলেও কেউ বেঁচে ছিল না। শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোরশেদুল আলম ভুঁইয়া জানান, নিহতরা প্রাইভেট কারে করে কুমিল্লা থেকে চাটখিলে যাচ্ছিল। নিহতের স্বজনেরা জানিয়েছেন, তাঁরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে কুমিল্লা থেকে ফিরছিলেন।চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. শাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, নিহতদের মরদেহ উঘারিয়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
6
মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে সপ্তাহব্যাপী 'বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১' আয়োজন করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ শীর্ষ সম্মেলন আগামী ২৬ অক্টোবর শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ডিসিসিআই সূত্রে জানা গেছে, ২৬ অক্টোবর শুরু হয়ে এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলন চলবে আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত। বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এতে অংশ নেবেন। ভার্চ্যুয়ালি এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা বৃদ্ধিকল্পে এই বাণিজ্য সম্মেলন করা হচ্ছে।জানা গেছে, এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলন উপলক্ষে আগামীকাল রোববার বেলা ১২টায় মতিঝিলের ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা।
0
নতুন মৌসুমের আইপিএলের আগে নিজ নিজ সেরা খেলোয়াড়দের ধরে রেখেছে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল। তবে চমক দেখিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। নিলামের আগে একবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি ছেড়ে দিয়েছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম দুই সেরা ক্রিকেটার বেন স্টোকস ও জফরা আর্চারকে।রাজস্থানের এমন সিদ্ধান্ত জন্ম দিয়েছে বেশ কিছু প্রশ্নের। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকেও দলে রাখেনি রাজস্থান। কিন্তু বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দুই তারকাকে কেন ধরে রাখল না দলটি সেই প্রশ্নের জবাবে মুখ খুলতে হয়েছে রাজস্থানের ক্রিকেট পরিচালক কুমার সাঙ্গাকারাকে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাঙ্গাকারার একটি ভিডিও পোস্ট করেছে রাজস্থান রয়্যালস। দুই ইংলিশ তারকা স্টোকস ও আর্চারকে ছেড়ে দেওয়ার কারণ সেই ভিডিওতে ব্যাখ্যা করেছেন লঙ্কান কিংবদন্তি। সাঙ্গাকারা বলেছেন, 'সিদ্ধান্তটা খুব কঠিন ছিল। কারণ স্টোকস ও আর্চার এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা দুই ক্রিকেটার। বেন স্টোকস অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার যার মতো ক্রিকেটার আমি অনেক দিন দেখিনি। সে ম্যাচ জেতাতে পারে। রাজস্থানের হয়ে সেটা সে করেও দেখিয়েছে। দলের জন্য নিবেদিত, নেতৃত্ব গুণও অসাধারণ। আর্চারও তাই। টি-টোয়েন্টির মতো সংস্করণে সে ভয়ংকর এক বোলার।'২০২০ আইপিএলে রাজস্থানের হয়ে আট ম্যাচ খেলেছেন স্টোকস। ২৮৫ রানের সঙ্গে বল হাতে নিয়েছেন দুই উইকেট। ২০২১ আইপিএলে এক ম্যাচ খেলার পর চোটে পড়ে মাঠের বাইরে ছিলেন টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে । ২০২০ মৌসুমে আগুনে ফর্মে ছিলেন আর্চার। ১৪ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট। কিন্তু চোটে পড়ায় ২০২১ মৌসুমে ইংলিশ পেসারকে এক ম্যাচের জন্যও মাঠে পায়নি রাজস্থান। মৌসুম জুড়ে যাদের পুরোটা সময় মাঠে পাওয়া যাবে এমন ক্রিকেটারদের দিকেই এবার বেশি নজর রাখছে রাজস্থান। সাঙ্গাকারাও ইঙ্গিত করলেন সেদিকেই, 'খেলোয়াড় ধরে রাখার সময় আমরা চিন্তা করেছি যে তাকে টুর্নামেন্ট জুড়ে ঠিক কতটা সময় ধরে পাওয়া যেতে পারে। হয়তো তারা হতাশ হবে তবে আমি আশা করব স্টোকস-আর্চার আমাদের সীমাবদ্ধতা আর তাদের ধরে রাখতে না পারার কারণটা বুঝতে পারবে।'
12
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল-সউদ বলেছেন, ২০৬০ সালের মধ্যে সৌদি আরবে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সৌদি গ্রিন ইনেশিয়েটিভ ফোরামের আয়োজিত এক সম্মেলনে ভিডিও বার্তায় এই ঘোষণা দেন তিনি। সৌদি যুবরাজ বলেন, শূন্য অপচয়ের ভিত্তিতে কার্বন সার্কুলার ইকোনমি গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবছর ২৭ কোটি টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রায় ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবছরে ২৭ কোটি ৬০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। একইসাথে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ ভাগ মিথেন গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি। মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই সৌদি আরবে ৪৫ কোটি গাছ রোপন এবং ৮০ লাখ হেক্টর পতিত জমি আবাদ করা হবে, যা কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে। সৌদি যুবরাজ বলেন, কার্বন নিঃসরণের হার শূন্য নামিয়ে আনতে সৌদি আরবে নবায়নযোগ্য অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে হবে। এই লক্ষ্যে প্রথম ধাপে সাত হাজার কোটি সৌদি রিয়াল (এক লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা) প্রদান করা হবে। এদিকে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমান আল-সউদ বলেছেন, কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার ২০৬০ সালের লক্ষ্যমাত্রা আরো আগেই অর্জন করা সম্ভব যদি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, বিশ্বের উচিত সব উৎস থেকেই শক্তি ব্যবহার করা। সূত্র : আরব নিউজ ও আল-আরাবিয়া
3
চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট হাতে শুরুটা ভালোই করে শ্রীলঙ্কা। রবিবার (১৫ মে) টাইগার বোলারদের পাত্তা দেয়নি দুই ওপেনার ওশাদা ফার্নান্দো ও দিমুথ করুনারত্নে। তবে দলীয় ২৩ রানে লঙ্কান দলপতি দিমুথকে সাজঘরে পাঠিয়ে টাইগার শিবের স্বস্তি ফেরায় নাঈম হাসান। তিনি বল হাতে আলো ছড়ালেন চট্টগ্রামে। ২ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১ রান খরচায় উইকেটেও শিকার করেছেন তরুন এই বোলার। ইনিংসের অষ্টম ওভারে এই স্পিনারকে নিয়ে আসেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। তাতেই সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। নাঈমের স্পিনে কুপোকাত হন দিমুথ। এমনকি রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। নাঈমের দুর্দান্ত ডেলিভারিটি পেছনে গিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বল দিমুথের প্যাডে লাগে। টাইগারদের জোরলো আবেদনে সাড়া দিতে দেরি করেছেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েছিলেন দিমুথ, কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। ১৭ বলে ৯ রান করেন তিনি। রিপোর্ট লেখা পযন্ত ১ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১১ ওভারে ৩৩ রান। বাংলাদেশ একাদশ - তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, লিটন দাস, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, খালেদ হোসেন। শ্রীলঙ্কা একাদশ - দিমুথ করুনারত্নে (অধিনায়ক), ওশাদা ফার্নান্দো, কুশাল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, দিনেশ চন্ডিমাল, নিরোশান ডিকওয়েলা, রমেশ মেন্ডিস, লাসিথ এম্বুলডেনিয়া, বিশ্ব ফার্নান্দো এবং অসিথা ফার্নান্দো।
12
বার্সা কোচ রোনাল্ড কোম্যানের ভাগ্য এখন ঝুলে আছে সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা ও বোর্ডের অন্য কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনেফিকার বিপক্ষে হারার পর কোম্যানকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তারা। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এই ডাচ কোচকে সরিয়ে দেয়া হবে। ফলে এখন কোম্যানের বার্সা অধ্যায় শেষ হওয়ার বিষয়টি সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতোমধ্যেই তার জায়গায় নতুন কোচের সন্ধানে নেমেছে বার্সা। এ তালিকায় আছেন আন্দ্রে পিরলো, ক্লাব কিংবদন্তি জাভি ও রবার্তো মার্টিনেজ। তাদের মধ্যে যে কেউ একজন দায়িত্ব পেতে পারেন। নতুন কোচের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে জাভির নাম। সমর্থকরাও চান তিনি আসুক। এদিকে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা কোম্যানের কয়েকটি ব্যর্থতার কথা প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে এ কয়েকটি ব্যর্থতাই কোম্যানকে সফলতা পেতে দেয়নি। রোনাল্ড কোম্যান বার্সায় এসেছিলেন পরিবর্তন আনার বার্তা নিয়ে। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন বার্সাকে বদলে দেবেন। আর এর অংশ হিসেবে তিনি প্রথমেই দল থেকে বিদায় করে দিয়েছিলেন মেসির সবচেয়ে কাছের মানুষ ও বন্ধু লুইস সুয়ারেজকে। কোম্যান বার্সায় আসার পর এখন পর্যন্ত যদি কোনো ভুল করে থাকেন সেটি হলো সুয়ারেজকে বিদায় করা। বর্তমানে ধুঁকতে থাকা বার্সাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারতেন। যেটি তিনি এখন করছেন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে। গত মৌসুমে অ্যাথলেটিকোকে তো লা লিগার শিরোপাই জিতিয়ে দেন সুয়ারেজ। তার অন্যতম আরেকটি ভুল বা ব্যর্থতা হলো তিনি প্রকাশ্যে নিজ দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে সিনিয়র খেলোয়াড়দের সমালোচনা করেছেন। এই মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি বার বার বলেছেন দল অনেক বেশি দুর্বল। আর এর পেছনে কারণ হলো সিনিয়র খেলোয়াড়রা ভালো করতে পারছেন না। তা ছাড়া কোম্যান সিনিয়র ও জুনিয়র খেলোয়াড়দেরও মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন, জুনিয়র খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে। কোম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর বার্সার খেলার স্টাইল পরিবর্তন হয়ে যায়। তিনি বেশিরভাগ ম্যাচে দল সাজান ৪-২-৩-১ ফরমেটে। আবার মাঝেমধ্যে রক্ষণভাগে পাঁচজন খেলোয়াড়কেও রাখেন। আর দলের খেলার স্টাইলে পরিবর্তন আনার কারণে সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিজেদের মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়েছে। এক্ষেত্রে আবার কোম্যান উল্টো খেলোয়াড়দেরই দোষ দিয়েছেন। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তার সঙ্গে শুরু থেকেই ঝামেলা চলছিল কোম্যানের। লাপোর্তা সভাপতি হওয়ার আগেই কোম্যান কোচ হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু লাপোর্তার কোম্যানকে পছন্দ ছিল না। তিনি অনেকবার বলেছেন এই ডাচ কোচকে সরিয়ে দেবেন। লাপোর্তা চান একাদশ অন্যভাবে সাজাতে। কিন্তু কোম্যান লাপোর্তার কোনো কথাকেই পাত্তা দেন না। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেন সেই সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত করেন। কোম্যানের আরেকটি ভুল হলো তিনি বার্সার আর্থিক অবস্থার কারণে সবকিছুই মেনে নিয়েছেন। মেসি, গ্রিজম্যান ও এমারসন ক্লাব ছেড়ে গেছেন। কিন্তু এ বিষয়টির ব্যাপারে তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারেননি। তার কারণে দল আরো দুর্বল হয়ে গেছে। কোম্যানের আরেকটি বড় ভুল হলো তিনি বার্সায় নিয়ে এসেছেন ডি ইয়ংকে। কিন্তু এই ডাচ খেলোয়াড় দলের হয়ে এখনো বড় কোনো অবদান রাখতে পারেননি।
12
ভর্তি এবং সেমিস্টার ফিসহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফি কমানোর দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ রাখার ঘোষণায় আগামী সোমবারের (১ নভেম্বর) "সি" ইউনিটভুক্ত বাণিজ্য অনুষদের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি মেনে নিয়ে তা নোটিশ আকারে প্রকাশ করতে হবে। এর আগে আন্দোলন বন্ধ হবে না এবং যথারীতি অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকবে। প্রশাসনকে তারা সব বিষয়ে সহযোগিতা করতে চাইলেও প্রশাসন তাদের দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাজু বলেন, "আমাদের দাবি অনুযায়ী প্রতি সেমিস্টারের বেতন ১২০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ টাকা, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ফি ২০০ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা, ছাত্র কল্যাণ ফি ১৫০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা, আইডি কার্ড ফি ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা, চিকিৎসা ফি ২০০ টাকার বদলে ৫০ টাকা, পরিবহন ফি ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা, রোভার স্কাউটস ও বিএনসিসি ফি ১০০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা, সিলেবাস ফি ১৫০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "কম্পিউটার ও ইন্টারনেট, স্টুডেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিং, বিভাগ উন্নয়ন, কেন্দ্র ফিসহ সকল অমূলক ফি বাতিল করতে হবে। এছাড়া, প্রতি ক্রেডিট ফি ৫০ টাকা, প্রবেশপত্র ফি ৫ টাকাসহ হলের সিট ভাড়া ৭৫ টাকা এবং সংস্থাপন ফি ৭৫ টাকা করতে হবে।" এদিকে, আগামী ১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমি ভবনে গুচ্ছের "সি" ইউনিটভুক্ত বাণিজ্য অনুষদের ৫৯০ শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের কারণে আন্দোলনের কারণে ভবনটি এখন তালাবদ্ধ থাকায় গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, "আমরা ভর্তি পরীক্ষা ব্যাহত করতে চাই না। আশা করি তার আগেই প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নেবে। তবে দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।" এ প্রসঙ্গে বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, "আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবো এবং মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বিস্তারিত আলোচনা করব। বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে উত্থাপন করতে হবে তাই পুরো বিষয়টি সমাধানে হয়তো দুই সপ্তাহের মত সময় লাগতে পারে।"
6
নরসিংদীতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে গ্রামে, শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে বই পৌঁছে দেন ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অন্য বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে নিজের কেনা বিভিন্ন লেখকের বই বিতরণ করে থাকেন তিনি। বই পড়া আন্দোলনের অংশ হিসেবে বই পড়ার জন্য নানাভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই শিক্ষাবিদ। তিনি নরসিংদী প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা।স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পাঠকেরা বলেন, নরসিংদী শহরে ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাঠকের কাছে বই পৌঁছে দেন মোয়াজ্জেম হোসেন। নিজের টাকায় বই কিনে এভাবে বিতরণ করে বই পড়ার আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। তিনি বই নিয়ে শহরের পথে পথে হাঁটেন। নরসিংদী শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে নিজে বই দিয়ে আসেন এবং এক সপ্তাহ পর আবার তা ফেরত নিয়ে অন্য বই দেন। এভাবে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত জ্ঞানের আলো বিতরণ করে চলেছেন। নরসিংদী শহরে পাঁচ-ছয়টি সেলুন লাইব্রেরিও গড়ে তোলেন তিনি।ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পাঠক বাড়ানো ও বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরতেই বই পড়া আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। নরসিংদী শহরের পশ্চিম ব্রাহ্মন্দীতে অল্পসংখ্যক বই দিয়ে নিজ উদ্যোগে ২০০০ সালে শুরু করেছিলেন নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরির। এখন সে লাইব্রেরিতে পাঁচ হাজারেরও বেশি বই রয়েছে।ড. মোয়াজ্জেম আরও বলেন, তাঁর লাইব্রেরিতে বিভিন্ন দুর্লভ বই, প্রাচীন পুঁথি, প্রাচীন ইতিহাস, রাজনীতি, বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের রচনাবলি, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, আত্মজীবনী, স্মৃতিচারণ, সম্মাননা, স্মারকগ্রন্থ, ইংরেজি সাহিত্য, বাংলা সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, দুর্লভ ম্যাগাজিন, অনুবাদ, ধর্ম-সংক্রান্ত বইয়ে আলাদা শেলফ রয়েছে। নরসিংদীর প্রায় ২০০ লেখকের বই রয়েছে এ লাইব্রেরিতে।অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শাহজাহান বলেন, নরসিংদীতে পাঠ্যর বাইরে অন্য বইয়ের পাঠকে জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরি। বইপ্রেমী ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের অদম্য আগ্রহ ও উৎসাহে নরসিংদীতে বই পড়ার পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রাহক ও লেখক হাবিবুল্লাহ পাঠান বলেন, 'মোয়াজ্জেম হোসেন শহরের বুকে নরসিংদী পাবলিক লাইব্রেরি নামে একটি বিশাল গ্রন্থভান্ডার গড়ে তুলেছেন। লাইব্রেরিটি আমি একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। এটি অত্যন্ত সুন্দর উদ্যোগ।
6
বিশ্বে ফাইভ-জি চালুর মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ ফাইভ-জি যুগে যাবে এটা হয়তো উন্নত দেশের কেউ চিন্তাভাবনা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। আজ শনিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, 'করোনার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকেরা ডিজিটাল প্রযুক্তি কাকে বলে তা ভালোভাবে অনুভব করেছে। এ সময়ে আমাদের জীবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমরা এখনো পিছিয়ে পড়িনি।'মোস্তফা জব্বার বলেন, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে মাতৃভাষার দিক দিয়ে একমাত্র চীনারা আমাদের ওপরে থাকবে। চীনাদের সঙ্গে আমরা পারব না। মান্দারিনের সঙ্গে লড়াই করে আমরা পারব না। কিন্তু পৃথিবীর কোনো ভাষা বাংলাদেশের মাতৃভাষার সমকক্ষ হবে না।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান বলেন, 'আমাদের বাংলাদেশের ৫০ বছরের যে অগ্রগতি তার প্রতিবন্ধকতাও আমরা চিহ্নিত করতে চাই। চিহ্নিত করে আমাদের আগামীর যে যাত্রা, যেখানে আগামী ৫০ বছরে শতবর্ষে বাংলাদেশ এক ভিন্ন ও মানবিক বাংলাদেশ হবে। পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়, সে আহ্বান আমরা সব সময় রাখতে চাই।'অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুস সালাম হাওলাদার, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্র সরকার, সংসদ সদস্য আরমা দত্ত প্রমুখ।
6
ঢাকা: নিজের খেলা শেষ করেও শান্তি পাচ্ছিলেন না গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। বারবার নজর রাখছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীবের বোর্ডে। শ্রীলঙ্কান প্রতিপক্ষের সঙ্গে তখন জমে উঠেছে রাজীবের লড়াই। জিতলেই নিশ্চিত হবে রাজীবের জুলাইয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার টিকিট।এশিয়ান জোনাল ৩.২ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের নিজের শেষ ম্যাচে ড্র করেছিলেন জিয়া। ৮ পয়েন্টে শীর্ষে থাকলেও তাঁর ঘাড়ে যেন নিশ্বাস ফেলছিলেন রাজীব। লঙ্কান ক্যান্ডিডেট মাস্টার লিয়ানানজে দিলশানের বিপক্ষে জিতলেই জোনাল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে পারতেন বিশ্বকাপে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপটা নিতে পারেননি রাজীব। ড্র করে সাত পয়েন্ট পেয়ে হয়েছেন টুর্নামেন্টের রানার্সআপ। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এখন সোচি বিশ্বকাপে খেলবেন জিয়া। টুর্নামেন্টে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ড্র হয়েছিল জিয়া-রাজীব ম্যাচ।বাংলাদেশি প্রতিপক্ষের ড্রয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন জিয়া। খানিকটা দুশ্চিন্তাতেও ছিলেন বলে জানালেন, 'আমার ম্যাচটা নিয়েও দুশ্চিন্তা ছিল, যে কারণে ড্র করেছি। রাজীবের ম্যাচটা অনেকক্ষণ ধরে হচ্ছিল। রাজীব জিতলেই তাঁর বিশ্বকাপ নিশ্চিত হতো। ম্যাচটা ড্র হওয়াতে খানিকটা স্বস্তি পাচ্ছি। চেষ্টা করব বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দেওয়ার।'বাংলাদেশ থেকে দুজন দাবাড়ু অংশ নেবেন রাশিয়ার সোচি বিশ্বকাপে। এশিয়ান ৩.২ জোনাল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলবেন জিয়া। আর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে আগেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছেন দেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ।
12
রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট (উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী) স্টিফেন ই. বিগান। ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর তিনি এই সফর করবেন। সফরের শুরুতে ১২ অক্টোবর তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে পৌঁছবেন। সেখান থেকে ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশে আসবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের ওয়েবসাইটে শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
করোনার প্রকোপ এখনো কমেনি। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে এখনো লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। এর মধ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। সতর্কতার অংশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও এর আশপাশের দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপের প্রভাবশালী বেশ কয়েকটি দেশ। ইউরোপের বাইরের দেশগুলোও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পথেই হাঁটছে। এই তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো দেশ। এমন পরিস্থিতি বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। এতে অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ার শঙ্কা জেগেছে।গতকাল রোববার এক বক্তব্যে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির সমালোচনা করে বলেছেন, 'এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কেবল এই দেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে। এছাড়া মহামারি মোকাবিলা এবং কাটিয়ে উঠতে আমাদের সক্ষমতাকেও এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে খাটো করা হয়েছে।'ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে 'বৈজ্ঞানিকভাবে অযৌক্তিক' উল্লেখ করে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, 'অনতিবিলম্বে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।'বিশ্বে টিকার যে বৈষম্য চলছে সেটি দূর করা জরুরি। করোনার ওমিক্রন ধরন সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার একটি সতর্ক বার্তা উল্লেখ করে সিরিল রামাফোসা বলেন, 'সবাইকে টিকার আওতায় আনার আগ পর্যন্ত করোনার নতুন নতুন ধরন ঠেকানো যাবে না। দক্ষিণ আফ্রিকায় টিকার কোনো ঘাটতি নেই। সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, করোনার অতিসংক্রামক ধরন ডেলটার চেয়েও বেশি সংক্রমণ ক্ষমতা ওমিক্রনের।উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার নতুন এই ধরন প্রথম শনাক্ত হয়। গত দুই সপ্তাহে দেশটির গৌতেং প্রদেশে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। প্রাথমিকভাবে করোনার নতুন এ ধরনটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয় বি.১. ১.৫২৯। পরে গত শুক্রবার এর নাম দেওয়া হয় 'ওমিক্রন'।
3
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি ছিল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মতুর্জার দুই শ'তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সেটি স্মরণীয়ও করে রেখেছেন তিনি। বল হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে হয়েছে ম্যান অব দ্য ম্যাচ। দ্বিতীয় ওয়ানডেও তার জন্য বিশেষ। কারণ আজ টস করতে নামলে তিনি হবেন বাংলাদেশের সর্বাধিক ওয়ানডে ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার নৈপুণ্যের অধিকারী। হ্যাঁ! তার সমান আছেন আরো একজন। তিনি হাবিবুল বাশার। তাকে স্পর্শ করবেন মাশরাফি। আর সিলেটের ম্যাচে টস করার অর্থ সবাইকে ছাড়িয়ে আকাশে উড়বে নড়াইল এক্সপ্রেস। হাবিবুল বাশার ৬৯টি ওয়ানডে ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সব ঠিক থাকলে আজ মাশরাফিরও অধিনায়কত্বের ম্যাচ সংখ্যা ওই ডিজিটে। ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন। যে বিসিবি তাকে এখন অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। এ বিসিবিই ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফিট থাকা সত্ত্বেও দলভুক্ত করেনি। সে দিন চোখের পানিতে ভেসেছেন তিনি। সাংবাদিকদেরও কাঁদিয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ দুপুরে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচের পার্থক্যটা যেন ওই মাশরাফিই। যার দুর্দান্ত ক্যাপ্টেনসিতে ক্যারিবিয়ানদের তাদের মাটিতে হারিয়ে এসেছেন। এখন ঘরের মাঠে তাদের হারানোর পালা। আজ জিতেই সিরিজটা পকেটে তুলে রাখতে চাচ্ছেন তিনি।
12
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ আপাতত না কাটতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অ্যাটর্নি জেনারেলকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ মে) বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে এ নির্দেশ দেন। আগামী ২০ মে এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সৌন্দর্য বাড়ানোর নামে গাছ কাটা বন্ধে গত ৯ মে হাইকোর্টে রিট করেছেন ছয় সংগঠন ও এক ব্যক্তি। ওই ৬ সংগঠন ও এক ব্যক্তির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী এ রিট দায়ের করেন। রিটকারী সংগঠন ও ব্যক্তি হলেন- বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফরমস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), নিজেরা করি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। এর আগে গত ৬ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সৌন্দর্য বাড়ানোর নামে গাছ কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠান তারা। রিট আবেদনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সচিব; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব; প্রধান বন সংরক্ষক; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান; পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে বিবাদী করা হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণের (তৃতীয় প্রকল্প) নামে পুরোনো ও ঐতিহাসিক গাছ কেটে প্রকল্প নির্মাণ কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, মূল নকশার বাইরে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
6
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষক নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক মো. তানভীর হাসানকে মারধর এবং ডিপার্টমেন্ট ভাঙচুরের হুমকিও দিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপ-গ্রুপ সিক্সটি নাইনের অনুসারী রাজু মুন্সি। নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক মো. তানবীর হাসান জানান, আমি কিছুদিন আগে বাংলা বিভাগে গেস্ট টিচার হিসেবে ওই বিভাগের পরীক্ষায় ডিউটি করতে গিয়ে এনজয় বড়ুয়া নামে এক শিক্ষার্থীকে নকল করার কারণে বহিষ্কার করি। মোবাইলটা জব্দ করে বাংলা বিভাগের পরীক্ষা কমিটির কাছে দিয়েছিলাম। তিনি বলেন, আজকে দুপুরে রাজু মন্সি নামে এক নেতা আমাকে মুঠোফোন হুমকি দেয়া শুরু করে। আমাকে মারার জন্য নাকি সে সুপারি নিয়েছে। আমার বিভাগ ভাঙচুর করবে। তার নাকি মুখ থেকে হাত বেশি চলে। আমি যখন জানতে চাই সে কেন এভাবে কথা বলছে। তখন বলে আমাকে নাকি সে শিক্ষক বানিয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রাজু মুন্সি বলেন, সে টিচার হওয়ার আগে সারাক্ষণ আমাদের পিছে পিছে ঘুরত। আমরাই তাকে টিচার বানিয়েছি। এখন টিচার হওয়ার পর সে আমাদের ছেলেদের বিরুদ্ধে কাজ করতেছে। ওকে মারব না তো কী করব? বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, আমি বিষয়টি আগে শুনিনি। খোঁজখবর নিচ্ছি। এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর সেলিনা আক্তার বলেন, একজন ছাত্র কিভাবে শিক্ষককে হুমকি দিতে পারে? এটা নিন্দনীয় অপরাধ। যাচাইয়ের মাধ্যমে এর বিচার করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছাত্রলীগ নেতা রাজু মুন্সির নামে হুমকির একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
1
সৌরভ গাঙ্গুলির চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার কলকাতা যাচ্ছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক দেবি শেঠি। শনিবার জিম করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে গেলে জানানো হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন সৌরভ। শনিবার চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, সৌরভের হার্টে তিনটি ব্লক আছে। রবিবার একটি স্টেন্টও বসানো হয়েছে। তবে বাকি ব্লক নিয়ে কী করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি চিকিৎসকরা। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবি শেঠিকে বেঙ্গালুরু থেকে চার্টার্ড বিমানে উড়িয়ে আনা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে পুরো টিম নিয়ে তার কলকাতায় পৌঁছানোর কথা। তারপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কলকাতার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সৌরভ এখন বিপদ থেকে মুক্ত। খাওয়া-দাওয়া করছেন, কথাও বলছেন। শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী সৌরভের খোঁজ নিয়েছেন। রবিবার তার খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌরভের স্ত্রী ডোনাকে ফোন করেছিলেন তিনি। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সৌরভের খোঁজ নেন। সোমবার তাকে দেখতে হাসপাতালে যেতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র জয় শাহ। জয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অন্যতম পদাধিকারী। বিজেপির এক সূত্র জানিয়েছে, জয়ের সঙ্গে সৌরভকে দেখতে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরও। আগে অনুরাগ ছিলেন বোর্ডের প্রধান। সৌরভের সঙ্গে তার সম্পর্কও ভালো। দীর্ঘদিন ধরেই সৌরভের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা চলছে। কোনও কোনও মহল মনে করছে, আগামী নির্বাচনে সৌরভ বিজেপির পক্ষে দাঁড়াতে পারেন। যদিও সৌরভ তা অস্বীকার করেছেন। তিনি অসুস্থ হওয়ার পরও রাজনীতি পিছু ছাড়ছে না। বিজেপি এবং তৃণমূল দু'পক্ষই নিয়মিত তার খোঁজ রাখছে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে বিডি প্রতিদিন/কালাম
12
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জিয়াউর রহমানের অম্লান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ। জীবিতকালে জাতির চরম দুঃসময়গুলোতে জিয়াউর রহমান দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। মহান স্বাধীনতার বীরোচিত ঘোষণা, স্বাধীনতাযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা এবং রাষ্ট্র গঠনে তার অনন্য কৃতিত্বের কথা আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। বৃহস্পতিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় জীবনের চলমান সংকটে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
রমজান মাস রহমতের মাস আর রহমতের সময় হলো তাহাজ্জুদের সময়। বছরের বিশেষ রাতগুলোতে সূর্যাস্তের পরে আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে আসেন। এ ছাড়া প্রতি রাতে তাহাজ্জুদের সময়ে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার প্রথম আসমানে এসে বান্দাদের ফরিয়াদ শোনেন। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিব (সা.)-কে উদ্দেশ করে বলেন, 'এবং রাত্রির কিছু অংশ তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, ইহা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে-মাকামে মাহমুদে।' (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ৭৯)। 'হে বস্ত্রাবৃত! রাতে দণ্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম অথবা তদপেক্ষা বেশি এবং কোরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। নিশ্চয় ইবাদতের জন্য রাত্রিতে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল। নিশ্চয় দিবাভাগে রয়েছে আপনার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। আপনি আপনার পালনকর্তার নাম স্মরণ করুন এবং একাগ্রচিত্তে তাতে নিমগ্ন হোন।' (সুরা-৭৩ মুজাম্মিল, আয়াত: ১-৮)। 'হে চাদরাবৃত! উঠুন, সতর্ক করুন, আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষণা করুন, আপন পোশাক পবিত্র করুন এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন। অধিক প্রতিদানের আশায় অন্যকে কিছু দেবেন না এবং আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে সবর করুন।' (সুরা-৭৪ মুদ্দাচ্ছির, আয়াত: ১-৭)। নবীজি (সা.) তাহাজ্জুদ সব সময় পড়তেন। তাই এটি সুন্নত, অতিরিক্ত হিসেবে নফল। নবীজি (সা.)-এর জন্য এটি অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'ফরজ নামাজসমূহের পর উত্তম নামাজ হলো রাতের তাহাজ্জুদ।' (মুসলিম, আলফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৯৭, হাদিস: ৪০৫)। মধ্যরাতের পর বা রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে, তথা রাত দুইটার পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত আরম্ভ হওয়ার আগপর্যন্ত তাহাজ্জুদের সময়। সাহ্রির সময় শেষ হলে, তথা ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত শেষ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জমানায় তাহাজ্জুদের জন্য আলাদা আজান দেওয়া হতো। এখনো মক্কা শরিফ ও মদিনা শরিফে এই নিয়ম প্রচলিত আছে। তাহাজ্জুদ একাকী পড়াই উত্তম; জামাতে পড়া অনেক মুজতাহিদ ফকিহ মকরুহ বলেছেন। তাই অন্য সব সুন্নত ও নফলের মতো তাহাজ্জুদ নামাজের সুরা কিরাআত নিম্ন স্বরে পড়তে হয় এবং এর জন্য ইকামাতেরও প্রয়োজন হয় না। কেউ কেউ মনে করেন, 'তাহাজ্জুদ অন্ধকারে পড়তে হয়' বা 'তাহাজ্জুদ পড়লে জিন আসে' অথবা 'তাহাজ্জুদ শুরু করলে নিয়মিত আদায় করতে হয়'-এসব ভুল ধারণা। তবে কারও ঘুমের ব্যাঘাত যেন না হয় এবং প্রচারের মানসিকতা যেন না থাকে, এ বিষয়ে যত্নশীল ও সতর্ক থাকতে হবে। তাহাজ্জুদ নিয়মিত আদায় করতে পারলে তা অতি উত্তম। স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যকে তাহাজ্জুদের জন্য ডেকে তোলা সুন্নত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'আল্লাহ তাআলা সেই স্বামীর প্রতি রহম করেছেন, যে নিজে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং তার স্ত্রীকে জাগায়। যদি সে উঠতে অস্বীকার করে, তবে তার মুখমণ্ডলে পানির ছিটা দেয়। আল্লাহ তাআলা সেই স্ত্রীর প্রতি রহম করেছেন, যে নিজে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং তার স্বামীকে জাগায়। যদি সে উঠতে অস্বীকার করে, তবে তার মুখমণ্ডলে পানির ছিটা দেয়।' (আবুদাউদ ও নাসায়ী, আলফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৯৭, হাদিস: ৪০৭)। সুন্নত ও নফল নামাজে কিরাআতে তিলাওয়াতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি নয়। নফল নামাজে রুকু, সিজদাসহ প্রতিটি পর্ব দীর্ঘ করা সুন্নত ও মুস্তাহাব। এ জন্য রুকু ও সিজদায় তাসবিহ অনেকবার পড়া যায় এবং অন্যান্য পর্বেও বেশি পরিমাণে বিভিন্ন দোয়া, যা কোরআন ও হাদিসে আছে পাঠ করা যায়। বছরের অন্যান্য সময় সাধারণত শেষ রাতে অনেকেরই ওঠা হয় না, তাই তখন তাহাজ্জুদ পড়া কঠিন হয়। রমজান মাসে যেহেতু ফরজ রোজা পালনের জন্য সহায়ক হিসেবে সাহ্রির সুন্নত আদায়ের জন্য আমরা সবাই উঠি এবং সাহ্রির সময়ই হলো তাহাজ্জুদের সময়; সুতরাং রমজানে তাহাজ্জুদ আদায় করা খুবই সহজ। তাহাজ্জুদ দুই দুই রাকাত করে আট রাকাত, বারো রাকাত বা আরও কম বা বেশিও পড়া যায়। রমজানের নফলের সওয়াব ফরজের সমান, ফরজের সওয়াব সত্তর গুণ। শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক[]
10
কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, কৃষিকে যে কোনো মূল্যে লাভজনক করতে হবে। আর এ জন্য যা-যা করণীয় তার সবকিছুই করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আমাদের দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হলো কৃষি ও কৃষক। কাজেই কৃষিকে আধুনিকীকরণ, যান্ত্রিকীকরণ এবং বাণিজ্যিকীকরণ করতে হবে। সোমবার টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত ও বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। দশ-এগারো বছর সাধনা করে আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা এক-একটা উন্নত জাতের ফসলের জাত উদ্ভাবন করে যাচ্ছেন। যার ফলে এখন বিঘা প্রতি পাঁচ-ছয় নয়, এখন ৩০/৩৫ মণ ধান উৎপাদন হয়। এক দেড় লিটার দুধ থেকে এখন প্রতিটি গাভী ২০/২২ লিটার দুধ দেয়। আর এগুলোই হলো কৃষিতে বর্তমান সরকারের সাফল্য। তিনি বলেন, আগে সারের জন্য লাইন ধরতে হতো। আমরা সারের দাম কমিয়ে সহজলভ্য করেছি। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমালে যে ডিএপি সার ছিলো ৯০ টাকা কেজি। সেই ৯০ টাকা কেজির ডিএপি সার এখন ১৬ টাকায় করা হয়েছে। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের জন্য চাষ-আবাদ, ফসল কাটা, মারাই বিশেষ করে ধান লাগানো এবং কাটার মেশিন কৃষক পর্যায়ে দেওয়া হচ্ছে। যা বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সাল থেকেই শুরু করে ছিলেন। ৫০ ভাগ ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়া। তারই কন্যা শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশটাকে শুধু ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্তই নয়, খাদ্যে উবৃত্তের দেশ বানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, উন্নত এই শান্তিপ্রিয় দেশে বিএনপি-জামায়াত অশান্তি করতে চায়। তিনি খালেদা-তারেকের নাম উল্লেখ করে বলেন, শেখ হাসিনার এই শান্তির দেশে কেউ অশান্তি করতে চাইলে তাদেরকে উচিত শিক্ষা দেয়া হবে। উপজেলা কৃষি বিভাগ আয়োজিত কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে কৃষক সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, কৃষি সম্প্রসাধণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মুঈদ, ধান গবেষণা ইনস্টিটিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিটের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হিরা, পৌর মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন, কৃষক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
6
ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ভারতের যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার মূলে ছিলেন তিনিই। নিমাইসাধন বসুকে ইন্দিরা গান্ধীর দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গত শনিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক 'আনন্দবাজার পত্রিকা', যে সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে মূলত বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। সমকালের পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি তুলে দেওয়া হলো:বাংলাদেশের ব্যাপার সম্পর্কে বলি, এটা যে হঠাৎ হয়ে গিয়েছিলো, তা নয়। এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত ও একেবারে তক্ষুনি তক্ষুনি নেওয়া হয়নি। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, আমরা... মানে নিজেদের সমস্যাতেই তো আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়েছিলুম, তার আগে ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস দলের মধ্যে নানান ঝঞ্ঝাট গিয়েছে, তারপর ছিল নির্বাচন, এবং এই রকমের আরোও সব ব্যাপার... তা আমরা জানতাম যে, বাংলাদেশ এ একটা কিছু ঘটছে, কিন্তু সত্যি বলতে কি, অবস্থার গুরুত্ব সম্পর্কে পরে আমরা সচেতন হই কি যে করবো, সে বিষয়ে মনস্থির করা যাচ্ছিল না, এদিকে শরণার্থীদের স্রোত এসে ঢুকে পরছিল আমাদের দেশে, অথচ এও আমাদের মনে হচ্ছিল যে, অন্য দেশের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা আমাদের উচিত হবে না। কিন্তু কিছু একটা যে আমরা করতে পারি, করা উচিত, সেটাও আমরা বুঝতে পারছিলুম। সেই কারণেই তখন আমি বিশ্ব সফরে যাই। কেননা আমার তখন মনে হচ্ছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড এবং অন্য কিছু দেশে হয়ত পাকিস্তানের ওপরে প্রভাব বিস্তার করতে পারে; হয়তো তারা বুঝতে পারে যে, বাংলাদেশের অবস্থাটা ঠিক কি। এত মামুলি একটা ব্যাপার নয়, একটা বিরাট একটা অসন্তোষ, অনেকদিন আগে থেকেই যা কিনা মর্মের একেবারে গভীরে তার শিকড় চালিয়েছে।১৯৬১ সালের একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেবারে একটা লেকচার ট্যুর ছিল। প্রধানত নানা কলেজে আমি বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছি। লক্ষ্য করেছিলুম যে, যেখানেই যাই, কিছু পাকিস্তানি আমাকে নাস্তানাবুদ করার চেষ্টা করে। কাজটা কখনো ও তারা নিজেরা করে, কখনো ও বা মার্কিনদের দিয়ে করায়। দেখতেই পাচ্ছিলুম যে, কাশ্মীর গোয়া কিংবা কৃষ্ণ মেননকে নিয়ে প্রশ্ন করবার জন্য তারা মার্কিন শ্রোতাদের তাতিয়ে তোলবার চেষ্টা করছে। এই তিনটিই ছিল তাদের প্রশ্নের প্রধান বিষয়। কিন্তু বক্তৃতার পরে থাকতো চায়ের বিরতি। অনেক ক্ষেত্রেই তখন পূর্ব পাকিস্তানের লোকেরা আমার কাছে আসতেন। আমি যে অল্প অল্প বাংলা জানি, সে কথা জানতেন বলে আমার সঙ্গে বাংলাতেই কথা বলতেন তারা। বলতেন, ''আপনি আমাদের দিদির মতো। অথচ এক দেশের মানুষ হওয়া সত্বেও এরা আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না। এইযে দূর দেশে এসেছি আমাদের সঙ্গে এরা বৈষম্যমূলক আচরন করে। ওদের ধারণা, মানুষ হিসেবে ওরা আমাদের চেয়ে অনেক বড়। আমাদের দিয়ে ওরা আজে বাজে কাজ করিয়ে নেয়।'' পূর্ব পাকিস্তানের লোকেরা তখনই আমাকে বলেছিলেন যে, ওদেশে পশ্চিম পাকিস্তানের লোকেরা যত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, পূর্ব পাকিস্তানের লোকেরা তা পায় না। আমাদের ন'টি শহর পাকিস্তানে বোমায় বিধ্বস্ত হওয়ার পরই আমরা বাংলাদেশে ঢুকেছিলুম। কিন্তু তার আগেই এখানে একটা প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়ে; বলা হচ্ছিল যে, একটা কিছু আমাদের করা দরকার। তা আমরা যথাসাধ্য করেছিলুম। শরণার্থীদের যতটা যত্ন নেওয়া যায়, নিয়েছিলুম। সেও একটা বিরাট কাজ।ইউরোপের কিছু মানুষ আমাকে বলেছিলেন যে, মহাযুদ্ধের পরে অল্প কিছু শরণার্থীর দেখা শোনার ব্যবস্থা করতেই তাদের বছরের পর বছর এতে গেছে। আর সে ক্ষেত্রে আমরা নিয়েছিলুম এক কোটি শরণার্থীর দেখাশোনার দায়িত্ব। তাহলেই বুঝতে পারছেন যে, একমাত্র তখনই আমাদের অস্ত্র ধারণ করতে হয়েছিল। অথচ পাশ্চাত্য দেশগুলোতে যেসব বিশ্বকোষ ছাপা হয়, সেগুলি করে দেখুন, দেখবেন যে, ১৯৬৫ আর ১৯৭১ ভারত বর্ষ পাকিস্তানকে আক্রমণ করেছিল বলে তাতে লেখা আছে। ওরা আরো বলে যে, আমরা যে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলুম, সেটার চাপে পড়ে কিনা আমাদের উপরে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ভারতবর্ষে একথা কেউ একথা বিশ্বাস করবে না, কিন্তু বিদেশীরা তো করবে। করছে ও। না, যুদ্ধবিরতি ঘটাবার জন্য কেউই কারও উপরে কোন চাপ দেয়নি। আমি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলুম, কেননা আমার মনে হয়েছিল যে, এটাই আমাদের পক্ষে ঠিক কাজ হবে। যুদ্ধ জয়ের আনন্দে জনসাধারণ যখন বিহ্বল, তখনও- যেমন ব্যক্তিগত আলোচনায়, তেমনি প্রকাশ্য ভাষণে- আমার কথায় ছিল সতর্কতার সুর। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলুম যে, নতুন নতুন সমস্যা দেখা দেবে। তাই যেটা করবার, সেটা তো করতেই হবে। তাকে এড়িয়ে যাবার উপায় তো নেই।ধরা যাক, বাংলাদেশের ব্যাপারে আমরা যদি হস্তক্ষেপ না-ই করতুম। কি হত তাহলে? বাংলাদেশ সে ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা পেত। কিন্তু যেমন তাদের, তেমনি আমাদেরও ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হত। এটা আমি স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলুম। একই সঙ্গে তখন এও বুঝেছিলুম যে, বাংলাদেশের ব্যাপারে আমাকে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে। একটা দেশ যে তখন কি করেছিল, তা তো কেউ মনে রাখেনি। সত্যি বলতে কি, এমন কাজ এর আগে আর কোথাও কোন দেশ করেছে কিনা, তাতে আমার সন্দেহ আছে। কী করেছিলুম আমরা তখন? না চূড়ান্তভাবে একটা যুদ্ধে জিতে বলেছিলুম, ''এবারে তোমরা তোমাদের মত থাকো, তোমাদের ব্যাপারে আমরা নাক গলাতে চাই না, আর আমাদের জন্যেও কিছু চাই না আমরা।''আমার জীবন দর্শন এটাই আমাকে শিখিয়েছে যে, মানুষ নিজে কিছু নয়, আসল ব্যাপার হচ্ছে নানা ঘটনা, নানা পরিবেশ, নানা আন্দোলন, যা তাকে তৈরি করে তোলে। সে যে একটা কিছুর অংশ, এটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমার এই জীবন দর্শনের উপরে বেদান্তের প্রভাব আমি স্বীকার করি। স্বামী বিবেকানন্দের প্রসঙ্গে বলি, আমার মা বস্তুত সেখানে দীক্ষাই নিয়েছিলেন, আর আমার উপরে আমার মায়ের প্রভাব অনেকখানি।[নিমাইসাধন বসু প্রণীত 'আমি: ইন্দিরা গান্ধী' গ্রন্থ থেকে নেওয়া। লেখাটি পুনঃপ্রকাশিত হল। সৌজন্য: আনন্দ পাবলিশার্স]
6
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে তাঁদের মৃত্যু হয়।মৃতদের মধ্যে ময়মনসিংহের চারজন ও কিশোরগঞ্জের একজন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন। তাঁরা হলেন ময়মনসিংহ সদরের বদিউজ্জামান (৬০), ফুলপুর উপজেলার রওশন আরা (৪৩), রাজু (১৬), ভালুকা উপজেলার নূরজাহান (৭৬) ও কিশোরগঞ্জের সুলতান উদ্দিন (৭৮)।এ নিয়ে চলতি অক্টোবর মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনা ও উপসর্গে ১ হাজার ২৬ জনের মৃত্যু হয়।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন মহিউদ্দিন খান বলেন, করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে নতুন ছয়জন ভর্তিসহ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৬১ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে আইসিইউতে একজন চিকিৎসাধীন আছেন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ছয়জন।সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৫টি নমুনা পরীক্ষায় ছয়জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত ২২ হাজার ৬৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২১ হাজার ৪৩৬ জন।
6
তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানজুড়ে ডামাডোল পরিস্থিতি। দেশটির অস্থিতিশীলতার প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও।কয়েক মাসের মধ্যে একাধিকবার বদলানো হয়েছে বোর্ড সভাপতি। নারীরা আদৌ আর মাঠে নামতে পারবেন কি না, সেটি নিয়েও রয়েছে সংশয়। এবার নতুন কোচের সন্ধানে নামতে হচ্ছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (এসিবি)।চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেই রশিদ খান-মোহাম্মদ নবীদের ছেড়ে চলে যাবেন প্রধান কোচ ল্যান্স ক্লুজনার। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ফিল সিমন্সের স্থলাভিষিক্ত হন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা অলরাউন্ডার। তাঁর অধীনে আফগানরা বেশ ভালো করেছে। জিতেছে একটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং নয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।আগামী ৩১ ডিসেম্বর (বছরের শেষ দিন) আফগান দলের সঙ্গে ক্লুজনারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপর আর চুক্তি নবায়ন করবেন না। তাঁর ওপর আস্থা রাখায় বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি, 'দুই বছরের বেশি সময় এই দলের সঙ্গে কাটিয়েছি। এখান থেকে অনেক ভালো স্মৃতি নিয়ে বিদায় জানাতে চলেছি।'কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনাও জানান ৫০ বছর বয়সী ক্লুজনার, 'এখান থেকে দূরে সরে গিয়ে কোচিং ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপের জন্য মুখিয়ে আছি। ভালো সুযোগ-সুবিধা পেলে অবশ্যই লুফে নেব।'
12
শুধু ব্রাজিল নয়; বিশ্ব ফুটবলের গর্ব পেলে। খেলাটার সবচেয়ে বড় দূতও তিনি।অতীতে বহু দেশের গৃহযুদ্ধ থেমে গেছে পেলের খেলা দেখার জন্য। ফুটবলের মাধ্যমেই তিনি দিয়েছেন শান্তির ডাক।এবার ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন পেলে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন ৮১ বছর বয়সী ফুটবল নক্ষত্র।পেলে চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন গত রাতে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইউক্রেনের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচের ঠিক আগে। তিনি লিখেছেন, 'আমি আজকের (গত রাতের) ম্যাচকে একটি অনুরোধ করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চাই। আগ্রাসন বন্ধ করুন। রক্তের খেলা আর নয়।'খেতে ও ঘুমাতে কষ্ট হচ্ছে পেলেরযুদ্ধের পরিণতি ভয়াবহ হতে চলেছে বলে মনে করেন পেলে, 'এই সংঘাত বিদ্বেষপূর্ণ ও অযৌক্তিক। ব্যথা, ভয়, সন্ত্রাস ও যন্ত্রণা ছাড়া কিছুই নিয়ে আসবে না। যুদ্ধ শুধু জাতিতে জাতিতে বিভেদ সৃষ্টি করতে জানে। এতে কোনো আদর্শ নেই। ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শিশুদের স্বপ্নকে সমাহিত করছে, পরিবারকে ধ্বংস করছে এবং নিরপরাধকে শাস্তি দিচ্ছে।'রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সর্বশেষ জানতে - এখানেক্লিককরুনইউক্রেনে হামলার পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। দেশটির অর্থনীতিতে ধস নামানোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তারা। তবু যুদ্ধ বন্ধ করতে নারাজ পুতিন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও হাল ছাড়তে নারাজ।খেলাসম্পর্কিত আরও পড়ুন:নতুন টেস্ট অধিনায়ক সাকিব, সহ-অধিনায়ক লিটনএই জয় ইউক্রেনের বীর সেনাদেরকোনো প্রতিপক্ষকে নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই নাফাইনালিসিমা জিতে রোনালদোকে ছুঁলেন মেসিটেস্টেই বেশি আগ্রহী সাকিবপাকিস্তানের কাছে ৮ গোল হজম করে ষষ্ঠ বাংলাদেশজীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা পেসারচাপেই নুইয়ে পড়লেন মুমিনুলএটা আমার জন্য ভীষণ মায়াবী রাতসিগাতেকের সাফল্যের রহস্য ডুয়া লিপার গান
12
স্কলাস্টিকা স্কুলের ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে মামলা নিয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার রাতে ইভানার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী শাহবাগ থানায় ডাকা হয়। এরপর তিনি মৃত ইভানার স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান ও ইমপালস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লাকে আসামি করে মামলা করেন।আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেন বলেন, গতকাল শুক্রবার মামলা না করে ফিরে যাওয়ার পর আজ থানা থেকে ডাকা হয়। ৩০৬ ও ১০৯ ধারায় দুই জনের নামে মামলা করা হয়েছে।গত ১৫ সেপ্টেম্বর শাহবাগের পাশে পরীবাগে দুটি নয়তলা ভবনের মাঝ থেকে ইভানার (৩২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ইভানার স্বামীর অন্য নারীতে আসক্তি ও নির্যাতনের অভিযোগ করেন মৃতের পরিবার।৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দেওয়ার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার বলেন, ইভানার মৃত্যুর ঘটনায় আজ রাতে তাঁর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় দুজনকে আসামি করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।ইভানার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী বলেন, গতকাল মামলা না নেওয়ায় হতাশ হয়ে বাসায় ফিরেছিলাম। আজ থানা থেকে ফোন করেছিলেন ওসি। থানা মামলা নিয়েছে। এখন আশা করছি আমরা সুষ্ঠু বিচার পাব।
6
২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি এ দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। সেই নীতিমালার আলোকে প্রথমবারের মতো এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে ব্যাংক এশিয়া। পরীক্ষামূলকভাবে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে চালু করা এ কার্যক্রম সফলতার মুখ দেখে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে দেশের ১৯টি ব্যাংক এ সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। দেশজুড়ে চালু হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার আউটলেট। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নানা দিক নিয়ে আজকের অর্থ-বাণিজ্যের বিশেষ আয়োজন বাংলাদেশ এগোচ্ছে। সমানতালে উন্নত হচ্ছে আর্থিক সেবাদান প্রক্রিয়াও। গত এক দশকে এ দেশের ব্যাংক খাতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এরপরও দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী রয়ে গেছে ব্যাংকিং সেবার বাইরে। ফলে তারা উন্নয়নস্রোতের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এ বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতেই আমরা ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করি। এর আগে ২০১২ সালে আমরা সরকারের 'একটি বাড়ি, একটি খামার' প্রকল্পের সঙ্গে ব্যাংকিং সহযোগী হিসেবে যুক্ত হই। এ প্রকল্পে বিনা মূল্যে একটি বিশেষায়িত সফটওয়্যার প্রদান করি, যাতে উপকারভোগী জনগোষ্ঠী অনলাইনে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সেবা পেতে পারেন। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষ যাতে হাতের কাছে, স্বল্প খরচে ও গুণগত মানের প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পান। আমাদের স্বপ্ন ছিল দেশের প্রতিটি মানুষের একটি করে ব্যাংক হিসাব থাকবে। আমরা সে পথেই সফলতার সঙ্গে এগোচ্ছি। আজ আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার পথচলার ষষ্ঠ বছর পূর্ণ হচ্ছে। মাত্র ৬ বছরে বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। সব মিলিয়ে সারা দেশে এখন ১০ হাজারেরও বেশি এজেন্ট বুথ স্থাপিত হয়েছে। ২১টি ব্যাংক এ সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় এসেছে কয়েক লাখ মানুষ, যাদের অধিকাংশই দেশের পিছিয়ে থাকা গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও নারী। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় ও নিরাপদ করতে আমরা এর সঙ্গে যুক্ত করেছি বেশ কিছু উদ্ভাবনী। যার মধ্যে রয়েছে ২৫৯ ধরনের লেনদেনে বায়োমেট্রিকের ব্যবহার, কৃষকের ঋণসেবায় এ-কার্ড, দ্রুত ঋণ প্রদানে ওকাস সফটওয়্যার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সেবায় মাইক্রো মার্চেন্ট মডেল, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সেবাদানে ইউডিসি ও ডাকঘর অন্তর্ভুক্তি, আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে পার্টনারশিপ মডেল এবং পোশাক কারখানার অভ্যন্তরে ডিজিটাল বুথ স্থাপন। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম এখন দেশের প্রতিটি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত। দেশজুড়ে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ এর সুফল ভোগ করছে। এদের ৮২ শতাংশই গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং ৬০ শতাংশ নারী। আমাদের এ বিশেষায়িত ব্যাংকিং চ্যানেলে সাধারণ মানুষের ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকারও বেশি জমা হয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আমরা তৈরি করেছি 'অবিরাম' নামের একটি পণ্য। দেশব্যাপী মাইক্রো-মার্চেন্টেরা এ সেবা সহায়তার মাধ্যমে উপকৃত হবেন। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দ্রুত সম্প্রসারণে ব্যক্তি, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সারা দেশে সাড়ে ৮ হাজার ডিজিটাল ডাকঘর রয়েছে। আমরা ৬৫টিরও বেশি উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করছি এ সেবাকে দ্রুত এগিয়ে নিতে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত প্রকল্পের উপকারভোগী, তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমরা এ চ্যানেল ব্যবহার করে সেবা দিচ্ছি। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে এজেন্ট আউটলেট হিসেবে ব্যবহার করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, যুব ভাতা, উপবৃত্তিসহ সরকারের নানা আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। গ্রাহকেরা এখানে সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, রেমিট্যান্সের টাকা উত্তোলন, পাসপোর্ট ফি জমা এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে পারছেন অতি সহজে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি গ্রামে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি ব্যক্তির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক ও শক্তিশালী প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অগ্রদূত হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত হবে বলে আমার বিশ্বাস। লেখক:এমডি, ব্যাংক এশিয়া
0
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে শুক্কুর আলী (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্ত্রী খোদেজা আক্তার শিল্পী ও ছেলে শাহিনকে হেফাজতে নিয়েছে। আজ রোববার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের পূর্বপাড়ার ভূঁইয়া বাড়িতে।এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা।স্থানীয় লোকজন বলেছেন, খোদেজা আক্তার শিল্পীর বাবার বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার মঠবাড়িয়ায় এবং স্বামী শুক্কুর আলীর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। প্রায় ২০ বছর আগে তাঁরা গজারিয়া গ্রামে জায়গা কিনে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় সময় পারিবারিক কলহ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি লেগে থাকত। রোববার দুপুরে হঠাৎ করে তাঁদের ঘরে চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। পরে এলাকাবাসী তাঁদের টয়লেটে গিয়ে গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। এ সময় শিল্পী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে এলাকাবাসী শিল্পীকে আটক করে কনকাপৈত পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে খবর দেয়। খবর পেয়ে থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার শেষে থানায় নিয়ে যায়।নিহত ব্যক্তির শাশুড়ি আয়েশা বেগম বলেন, 'শুক্কুর আলী অনেকটা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। আমি দুই দিন আগে তাদের বাড়িতে এলে সে আমাকে দেখে ভয় পায় এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। আমি আজ (রোববার) সকালে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুরে আমার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাই। পরে আমার মেয়ে খবর পাঠিয়ে বলে-শুক্কুর আলী ব্রেইন স্ট্রোক করেছে। আমি এসে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পাই।'স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাহাব উদ্দিন বলেন, 'শুক্কুর আলীর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে দেখি তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। স্থানীয়রা আমাকে জানান, প্রায় সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। আমি মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তাঁর স্ত্রী খোদেজা আক্তার শিল্পী আমাকে বলেন, শেভ করতে গিয়ে ব্লেডে গলা কেটে শুক্কুর আলীর মৃত্যু হয়েছে।'এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শুক্কুর আলীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী খোদেজা আক্তার শিল্পী, ছেলে শাহীন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে শুক্কুর আলীর মৃত্যু সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে জানা যাবে শুক্কুর আলী আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী খোদেজা আক্তার শিল্পী ও ছেলে শাহীনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
6
'অভিনয় শিল্পী সংঘ'র নির্বাচনে ২১টি পদে লড়াই করছেন ৪৮ জন প্রার্থী। তারা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ। তিনি জানান, বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এবার ভোটার সংখ্যা ৭৫২ জন। ভোট দেওয়ার পর নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা জিতু আহসান বলেন, 'নতুন কমিটিতে যারা আসবে তাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে আমাদের শিল্পীদের দাবি-দাওয়াগুলো নিয়ে কাজ করবে। আমাদের শিল্পীদের স্বার্থে কাজ করবে। এ ছাড়া সংগঠনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই করোনা পরিস্থিতিতে চাইব শিল্পীদের পাশে থাকবে।' শিল্পী সংঘের নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়াই করছেন গেল দুই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম। তার বিপরীতে রয়েছেন ড. শাহাদাৎ হোসেন (নিপু)। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রওনক হাসান ও আলমগীর কবীর (কবীর টুটুল)। সহ-সভাপতি পদের তিনটি পদের জন্য লড়াই আনিসুর রহমান মিলন, ইকবাল বাবু, তানিয়া আহমেদ, দিলু মজুমদার ও সেলিম মাহবুব। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নাজনীন হাসান চুমকী, শামীমা তুষ্টি ও জামিল হোসেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে লড়ছেন সাজু খাদেম, তুষার মাহমুদ ও জুলফিকার চঞ্চল। অর্থ সম্পাদক পদে সায়েম সামাদ ও মুহাম্মদ নূর এ আলম (নয়ন)। দপ্তর সম্পাদক পদে আছেন মামুন অর রশিদ (কবি মামুন) ও শেখ মেরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন নিথর মাহবুব ও রাশেদ মামুন অপু। আইন ও কল্যাণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর ও রওনক বিশাকা শ্যামলী। প্রচার ও প্রকাশনা পদে প্রার্থী হয়েছেন প্রাণ রায় ও মুকুল সিরাজ। তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ, মাহাদী হাসান পিয়াল ও সুজাত শিমুল। এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য ৭টি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন আইনুন নাহার পুতুল, আবুল কালাম আজাদ মিয়া, আশরাফ কবির, আশরাফুল আশীষ, গোলাম কিবরিয়া তানভীর, রাজীব সালেহীন, নূরুন নাহার বেগম, মিষ্টি মারিয়া, তানভীর মাসুদ, মাজনুন মিজান, মো. আবদুল হান্নান আখন্দ, মো. আমিনুল বারী, মৌসুমী হামিদ, রেজাউল রাজু, শামস সুমন, শ্যামল জাকারিয়া, স্মরণ কুমার সাহা, সংগীতা চৌধুরী, সূচনা সিকদার ও হিমে হাফিজ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
2
নিজেদের তৈরি করোনার টিকা 'কোভইরান বারেকাত' নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী হোসাইনি খামেনি। শুক্রবার এই টিকা নেওয়ার সময় খামেনি বলেন, এটা আমাদের নিজেদের তৈরি টিকা। আমি এটা নিয়ে গর্ববোধ করি। এটা আমাদের জাতীয় গৌরবের বিষয়। খবর আল জাজিরার। ৮২ বছর বয়সী খামেনি আগে থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তাকে আরও আগেই টিকা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তবে খামেনি বলেছিলেন, তিনি ইরান ছাড়া অন্য কোনো দেশে তৈরি টিকায় আস্থা রাখেন না। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমাদের বিজ্ঞানীরা টিকা উদ্ভাবন করতে পেরেছেন। ইরানের এই বর্ষীয়ান শীর্ষ নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের তৈরি টিকা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। বিশেষ করে ফাইজার ও মডার্নার তৈরি টিকাগুলোতে তিনি আস্থা রাখতে পারছিলেন না। কোভইরান বারেকাত নামের ভ্যাকসিনটির মানব শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবী এ টিকা নিয়েছেন। ভ্যাকসিনটি চলতি মাসের শুরুর দিকে জরুরিভাবে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে এটি ব্যাপক আকারে প্রয়োগ শুরু হবে। ভ্যাকসিন তৈরির দায়িত্বে থাকা প্রভাবশালী সংস্থা সেতাদ বলেছে, এখন এটি প্রতি মাসে ত্রিশ লাখ ডোজ উৎপাদন করে এবং শীঘ্রই মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক হিসেবে তারা এক মাসে এক কোটি ১০ লাখ ডোজ উৎপাদন করবে। যদিও ভ্যাকসিনের বিশদ বৈজ্ঞানিক তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে, তবু উৎপাদনকারীরা দাবি করেছেন, এটি পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮ থেকে ৭৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে সাড়ে ৯৩ শতাংশ কার্যকর ছিল। তারা বলেছে, এশিয়ার ১২টি ও দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ তাদের টিকা কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে কোন দেশ টিকা কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে সেটা উল্লেখ করা হয়নি। প্রসঙ্গত, ইরানে সম্প্রতি করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়েছিল। দেশটিতে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৮৩ হাজার। করোনায় মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ইরানেই। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ইরানে করোনার পঞ্চ ঢেউয়েরও আশঙ্কা করছেন।
3
আগৈলঝাড়ায় একটি রাস্তা দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। উপজেলা এলজিইডি থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।জানা গেছে, উপজেলার গৈলা বাজার থেকে গুপ্তেরহাট পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন গৈলা বাজারের ব্যবসায়ী, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার লোকজন যাতায়াত করছে। রাস্তাটির কিছু কিছু জায়গায় ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। ওই রাস্তায় চলাচলকারী অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন প্রায়ই।ব্যবসায়ী সবুজ ফড়িয়া বলেন, 'আমাদের দোকানের মালামাল নেওয়ার সময় গর্তে পড়ে ভ্যান উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এই রাস্তা ছাড়া মালামাল নেওয়ার আর কোনো রাস্তাও নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।'এলাকাবাসী এলজিইডি বিভাগে বারবার সংস্কারের দাবি জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। রাস্তার বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গুপ্তেরহাট, কুমারভাঙ্গা, রাংতাসহ গৈলা বাজার আসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক এটি।এই রাস্তায় চলাচলকারী বাদল হোসেন, জাকির হোসেন জানান, এ রাস্তাটি নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছিল। এতে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। উপজেলার সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৈলা দাখিল মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী ও গৈলা বাজারে আসা লোকজন এ ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। চলাচলের উপযোগী করার জন্য অতি দ্রুত এই রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন।ব্যবসায়ী মাসুদ সরদার জানান, রাস্তার অসংখ্য স্থানে কার্পেটিং উঠে ইটের খোয়া ও পাথর বেরিয়ে পড়েছে। রাস্তা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। এর মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান, ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল করছে।ইজিবাইক চালক আজিজ ফকির বলেন, 'রাস্তায় অনেক খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে সুস্থ-সবল মানুষও অসুস্থ হয়ে পরছে। এত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কেন সংস্কার করা হচ্ছে না তা আমাদের জানা নেই।'এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অহিদুর রহমান বলেন, 'রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য সরেজমিন গিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' রাস্তাটির সংস্কার কাজ খুব দ্রুত শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
6
নগরে বড় মহড়ার মাধ্যমে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর পুলিশি বাঁধা উপেক্ষা করে নগরীর সড়কপথে প্রকাশ্যে মিছিল করেছে তারা। সমাবেশ শেষে বেলা ১টার দিকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেছে।বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ নেতারা ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় ছাত্রদলের বিবাদে একাধিক গ্রুপ পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলেও এবার ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছেন।নগরীর সদর রোড অশ্বিনী কুমার হল সংলগ্ন বিএনপি কার্যালয় চত্বরে গতকাল রোববার সকাল ১০টায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবন।জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করীম রনির সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, যুগ্ম আহ্বয়ক আলী হায়দার বাবুল, সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির, জেলা (দক্ষিণ) সদস্যসচিব আক্তার হোসেন মেবুল প্রমুখ।
6
পেঁয়াজ নিয়ে নানা সমালোচনা আর বিতর্কের পরই হঠাৎ গুজবের পাখায় চড়ে লবণের দামের তাণ্ডব। আবার পরিবহন ধর্মঘটের অজুহাতে চালের বাজার চড়ে গেছে। ভারত হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় কয়েকদিনেই দাম লাফিয়ে কেজি প্রতি দুইশ আড়াইশ টাকা দাঁড়ায়। গুজবে ৩৫ টাকার লবণ গিয়ে ঠেকে একশ থেকে দেড়শতে। আবার পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরেও হঠাৎ চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। নিত্যপণ্যের বাজার হঠাৎ করেই সরকারের হাতছাড়া হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণের সুতো যেন কেউ কেড়ে নেয়। এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি, মজুদ, দাম নির্ধারণসহ বাজার ব্যবস্থাকে হাতে মুঠোয় আনতে নেয়া হচ্ছে জরুরি উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট বিভাগ, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্তকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন সরকারের তিন মন্ত্রী। শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার আজ রোববার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১২টায় জরুরি বৈঠকে বসছেন। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) ভবনে এ বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, প্রতিযোগিতা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে চাল, ডাল, গম, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস ও পোল্ট্রি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, মরিচ, গরম মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মজুত পরিস্থিতি ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। পণ্যের বছরব্যাপী চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি, মজুত-ব্যবস্থা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হবে।
0
শনিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের পাশাপাশি সারাদেশের ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতারাও হাজির হয়েছেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় ছাত্রলীগ। সকাল সাড়ে ৮টায় কার্জন হলে কেক কাটেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার (৫ জানুয়ারি) পালিত হবে রক্তদান কর্মসূচি। এরপর শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে।
6
রাজধানী ঢাকায় স্বামীর বাসায় জান্নাতুল মাওয়া দিশা নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জান্নাতুল মাওয়া দিশার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এস এম ফারুক হোসাইন। বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এস এম ফারুক হোসাইন জানান, করোনার মধ্যে দিশার বিয়ে হয়েছে। গত তিনদিন আগেও সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকায় তার স্বামীর বাড়িতে যান। সেখানে আজ দুপুরে তার মারা যাওয়ার খবর পাই। তবে এ মুহূর্তে তার মারা যাওয়ার বিষয়ে তেমন কিছু জানতে পারিনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিশার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। করোনার মধ্যে এ শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়। তার শ্বশুর বাড়ি যশোর। কিন্তু কাজের সুবাদে স্বামীর সাথে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন তিনি। সপ্তাহ শেষেই রাজশাহী থেকে ঢাকায় যেতেন দিশা। বর্তমানে তার মৃতদেহ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে হাসপাতালে রয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
1
করোনাভাইরাসের টিকা পেতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২১ সালের জানুয়ারিতেই পাওয়া যাবে কাঙ্ক্ষিত করোনা ভ্যাকসিন। সরকারের সব উদ্যোগের মাঝেও নতুন আশাবাদ জাগাল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ভারত থেকে করোনাভাইরাসের টিকা দেশে আনতে দেশটির সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছে বেক্সিমকো। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিনিয়োগ চুক্তি করায়, 'এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর' হিসেবে ভ্যাকসিন পেতে অগ্রাধিকার পাবে তারা। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এসআইই'র সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। দেশের ওষুধখাতের শীর্ষ এই কোম্পানি বলছে, চুক্তির আওতায় ভ্যাকসিনের জন্য এসআইই'তে বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুত ও এর কার্যকারিতা পরীক্ষায় বিশ্বব্যাপী চলছে নানা গবেষণা। এই কাতারে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে বাংলাদেশ সরকারও চালাচ্ছে নানা তৎপরতা। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার বাংলাদেশ সফরে ভারতে তৈরি টিকা প্রাপ্তি নিয়ে আলোচনা হয় ফলপ্রসূ। এছাড়া দেশে ট্রায়ালের অনুমতি পেয়েছে চীনের সিনোব্যাক কোম্পানির তৈরি ভ্যাকসিন। রাব্বুর রেজা আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য থাকবে, যত কম মূল্যে এটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রায়াল সফল হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আনোয়ারুল ইকবাল মিতু বলেন, যেটাই আসবে সেটাই ভালো। যেহেতু আমরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে সক্ষম নন। কিছু ভ্যাকসিন ডব্লিউএইচও আমাদেরকে ফ্রি'তে দেবে, এটা নিয়ম। করোনার টিকা আবিষ্কারে বিশ্বব্যাপী দেশের অন্তত ১৭০টি ভ্যাকসিন নিয়ে রিসার্স চলছে। এর মধ্যে ফেজ থ্রি পর্যায়ে রয়েছে ৩০টি। এছাড়া এডভান্স স্টেইজে আছে ৭টি।
6
মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি পদত্যাগ করেন।এর আগে একই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে না কি সামান্য আগে নির্বাচনকালীন ছোট মন্ত্রিসভা করা হবে, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনার মধ্যেই এ নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, ৭ নভেম্বরের পর কারো সাথে আর সংলাপের সুযোগ নেই। সংলাপ শেষে ৮ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবারের মন্ত্রিপরিষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাদের। বর্তমান মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি। এদের মধ্যে নূরুল ইসলাম বিএসসি সবার আগে পদত্যাগ করলেন।
9
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত ও বিদায়ী মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য করা হয়েছে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার ওই পদে মনোনয়ন দেন তাকে। রোববার দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, 'আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেছেন।' ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের বদলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর আগে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করার পর ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দক্ষিণের মেয়র পদে বিপুল ভোটে জয়ী হন সাঈদ খোকন। এবারও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে তিনি বঞ্চিত হন।
9
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় টাকার বিনিময়ে বাড়িতে গিয়ে করোনার টিকা প্রয়োগের অভিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পোর্টারম্যান (ভ্যাকসিন বাহক) জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান মিথেন বলেন, পোর্টারম্যান জাকিরের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ডিজি বরাবর পাঠিয়েছি। তদন্ত শেষে যদি জাকিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ১৯ আগস্ট ৩১টি টিকা চুরি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায় জাকিরের বিরুদ্ধে। পরে উপজেলার মরাদন গ্রামে ও ২২ আগস্ট ঠাকুরচর গ্রামে জাকির টাকার বিনিময়ে বাড়িতে গিয়ে করোনার টিকা দেন বলে জানা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে ২২ আগস্ট চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহর নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাইনুল ইসলাম মোনাসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মতলব উত্তর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ডা. নাইমুল ইসলাম মোনাস বলেন, প্রাথমিকভাবে জাকিরের বিষয়ে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্ল্যাহ বলেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আমার কাছে জমা দেবে। তদন্ত রিপোর্ট আসলে পুরো বিষয়টি ক্লিয়ার হবে। তিনি জানান, জাকির টিকাগুলো বহন করতেন। এটি ছিল তার দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কাজ। সবার অগোচরে তিনি কিছু টিকার ডোজ সরিয়ে একটি বাড়িতে গিয়ে টিকাগুলো দেন। আমরা জানতে পেরে তাকে বরখাস্ত করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মতে তার বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই ওই ব্যক্তি বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করবো।
6
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর স্কুলছাত্রীকে ৭ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্র ধর্ষণ করেছে। গতকাল শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাতে দিকে শৈলকুপা উপজেলার গাবলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা ভাটই মাধ্যমিক বিদ্যায়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী। । নির্যাতিত স্কুল ছাত্রী জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে পড়া শেষ করে বাড়ির পাশে তার বাবা-মাকে ডাকতে যাচ্ছিল। ওই সময় ওৎ পেতে থাকা একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ও ভাটই মাধ্যমিক বিদ্যায়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র রিফাত ও তার ৩ জন সহযোগি জোরপুর্বক স্কুল তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। শৈলকুপা থানার ওসি বজলুর রহমান বলেন, নির্যাতিতা স্কুলছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে। ধর্ষককে ধরার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ
6
অযত্ন অবহেলায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কান্দারপাড়া এলাকায় প্রতিরোধ যুদ্ধে নিহত শহীদ বেলাল হোসেনের স্মৃতিচিহ্ন। এখন আর কেউ যায় না শ্রদ্ধা জানাতে। শহীদ মিনারের সেই দেয়ালটি ভেঙ্গে ছোট্ট ও সরু তিনটি পিলার করা হয়েছে, যা একটু দূর থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটি একটি শহীদ মিনার। মিনারটি থেকে মাত্র ৪/৫ ফুট পূর্ব পাশে একটি পাঁকা মসজিদ, উত্তরে হাফিজিয়া মাদ্রাসা, দক্ষিণে টয়লেট ও প্রসাবখানা করা হয়েছে। পশ্চিম দিকে রেলওয়ের জমিতে করা হয়েছে পুকুর। যে কোন সময়ই পশ্চিম দিকে হেলে পড়ে পুকুরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে স্মৃতিচিহ্নটি। এমন পরিস্থিতিতে ছোট্ট হলেও একটি "শহীদ বেলাল স্মৃতি যাদুঘর" নির্মাণ ছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস রক্ষা করা সম্ভব হবেনা বলে মনে করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। অন্যদিকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অসংখ্য স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে অঞ্চলটিতে। উপজেলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সে সময়ে নির্মমভাবে নিহত শহীদদের স্মৃতি ও গণকবর। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ গণকবর গুলোর চিহ্নিত এখন আর নেই। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ এই চিহ্নগুলো চলে গেছে দৃষ্টিসীমার বাইরে। ওই সব স্থান এখন ঘাস, লতাগুল্মতে পরিপূর্ণ। অনেক স্থান পরিণত হয়েছে গো-চারণ ভূমিতে। যেন দেখার কেউ নেই। বর্তমান সরকারের আমলে বধ্যভূমি ও গণকবরগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি কিছু স্থানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হলেও যথাযথভাবে দেখাশোনার অভাবে তা অযত্ন অবহেলায় রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের বারইপটল, ভাটারা ইউনিয়নের পারপাড়া, পোষ্ট অফিস মোড়ের দক্ষিন পাশে ও সরিষাবাড়ী হাসপাতালে গণকবর রয়েছে। বর্তমান সরিষাবাড়ী হাসপাতাল ছিলো তৎকালীন সময়ে রাজাকারদের ক্যাম্প বা আস্তানা। সেখানে প্রতিদিন মুক্তিবাহিনী ও অসংখ্য সাধারণ মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন করে রাতে হত্যা করা হতো। হত্যার পর লাশ সামনের সূবর্ণখালী নদীতে ফেলে দিতো। সেখানেও নির্মিত হয়নি কোন মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের একটাই দাবি, সরকারিভাবে শুধু চিহ্নিত, স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করাই নয়, এগুলোকে আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই আগামী তরুণ প্রজন্ম এদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় ও দেশপ্রেমী মানুষের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারবে। ইভূ ইভূ ইভূ ইভূ
6
জোভানার বিয়ের পাঁচ মাস পর তিনি জানতে পারলেন তাঁর স্বামীর অন্য আরেক সংসার আছে। অতীত জীবনের কোনো বিষয় নিয়ে কখনো কথা বলা হয়ে ওঠেনি তাঁদের। একজন নতুন মানুষকে একটু একটু করে জানতে তো সময় প্রয়োজন। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার পরই জোভানার মা তাঁর কাছে জানতে চাইলেন কাউকে তাঁর পছন্দ আছে কি না। তিনি বলেছিলেন তেমন কেউ নেই; তবে একটা ছেলে তাঁর সঙ্গেই পড়েন, জোভানাকে প্রপোজ করেছিলেন। ছেলেটাকে জোভানারও পছন্দ। ব্যস! বন্ধু সেজে পেটের কথা জেনে নিয়েই ১০ দিনের মাথায় তাঁর বিয়ে ঠিক করে ফেললেন মা। আর এদিকে ক্লাসমেট ছেলেটা তো তাঁকে এখন বিয়ে করতে পারবেন না। তা ছাড়া, ভালো লাগা মাত্র শুরুই হয়েছিল।যাক! সেসব জোভানার অতীত। বর্তমান হচ্ছে, তিনি এখন বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা। জোভানার চেয়ে ১৬ বছরের বড় এক ধনী ব্যবসায়ী তাঁর স্বামী। গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ, তার ওপর বয়সে বড়, দরকারি কথা ছাড়া জোভানার সঙ্গে তাঁর তেমন করে কথাও হয় না। এর-ওর বাড়ি দাওয়াত খেয়েই পাঁচ মাস শেষ।একদিন ফোন এল অচেনা এক নম্বর থেকে। পরিচয় শুনে জোভানার পায়ের নিচের মাটি সরে গেল। যিনি কল দিয়েছিলেন, তিনি তাঁর স্বামীর প্রথম স্ত্রী দিপা। বিরাট ব্যবসায়ী এবং সমাজে মানি জোভানার স্বামীর পরিবার দিপার সঙ্গে তাঁদের ছেলের প্রেমের ব্যাপার কখনো মেনে নেয়নি। কারণ, দিপা তাঁদের বাড়ির আয়ার মেয়ে। এদিকে দিপার সঙ্গে এই ভদ্রলোক লুকিয়ে বিয়ে করে বসে আছেন দুই বছর ধরে। যে কথা জোভানার স্বামীর পরিবারের অজানা।জোভানা এ খবর পাওয়ার পর এক সপ্তাহ কাউকে কিছু বলেননি। জোভানা তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞেস করলে তাঁর গায়ে হাত তুলে তাঁর মুখ বন্ধ রাখতে বলে দেন! জীবনে প্রথম তাঁর গায়ে কেউ হাত তুলল। এ ঘটনা আর কেউ জানে না। জোভানা ভাবতে শুরু করেন কী হচ্ছে তাঁর সঙ্গে। কী করবেন তিনি? গর্ভের সন্তানকে তাঁর মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে, পাগল পাগল লাগছে।বিকেলে জোভানা তাঁর মা-বাবাকে ফোন করে ডাকান। এরপর শ্বশুর-শাশুড়ি আর বাবা-মায়ের সামনে একনাগাড়ে সব বলে যান। সবাই শুনে স্তম্ভিত। জোভানার স্বামী রাতে ফিরে বুঝতে পারেন সবাই জেনে গেছে বিষয়টি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে জোভানার বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁর স্বামীকে তেমন কড়া করে কিছুই বলেননি। তাঁদের চিন্তা জোভানার আগত সন্তানকে নিয়ে। এখন জোভানা মা হতে চলেছেন, যা হওয়ার তা তো হয়েছে, এর সুরাহা তাঁরা সবাই করবেন।জোভানা বাপের বাড়ি যেতে চাইলে মা তাঁকে বারণ করলেন। বিপদে পড়লে মানুষ নিজের বাড়ি যায়, সবচেয়ে আপন আশ্রয় বাবা-মায়ের কাছে যায়। তিনি কার কাছে যাবেন? তাঁর কি এটাই নিয়তি?জোভানা পরিবার ছাড়া এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাতে পারেননি। সংসার করছেন এখনো। প্রথম স্ত্রীকে তাঁর স্বামী তালাক দেবেন না। সেই স্ত্রী গরিব ঘরের মেয়ে, ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন, স্বামীকে ছাড়তে পারবেন না তিনিও।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের ছাত্রী ইলমা চৌধুরী মেঘলার হত্যাও এমন এক লজ্জাজনক ঘটনা। তাঁর স্বামী মেঘলার পড়াশোনা বন্ধ করার জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং এই অন্যায় আবদারে মেঘলার শ্বশুর-শাশুড়িও তাঁদের ছেলের পক্ষ নিয়েছিলেন। তাঁকে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। এ ব্যাপারে যদি মেঘলার বাবা-মা আরও আগে সচেতন হতেন, তাহলে হয়তো এই হত্যাকাণ্ড ঘটত না।নারীদের নিয়তি এমনই হয়-এ কথা বিশ্বাস না করে নিয়তিকে বদলানো খুব কঠিন কিছু না। ভালো থাকার জন্য আত্মবিশ্বাস জরুরি। নিয়তিকে মেনে নিয়ে ভালো থাকা যায় না। সব জোভানা আত্মবিশ্বাসী হোক, আর কোনো মেঘলার মৃত্যু না হোক, এটাই কামনা।
6
চলে গেলেন হলিউডের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ 'জেমস বন্ড'খ্যাত অস্কারজয়ী স্কটিশ অভিনেতা স্যার শন কনারি। ৯০ বছর বয়সে মারা গেলেন তিনি। এরই মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে চলচ্চিত্র দুনিয়ায় আরও এক নক্ষত্রের পতন ঘটল। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র বাহামার রাজধানী নাসাউতে নিজের আবাসস্থলে মারা যান তিনি। তার ছেলে জ্যাসন কনারির বরাত দিয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানায়। পর্দায় একজন শক্তিধর ও মারকুটে চরিত্র হলেও বাস্তব জীবন তো সম্পূর্ণ ভিন্ন। 'জেমস বন্ড' সিরিজের সাতটি সিনেমায় অভিনয় করা এই শন কনারি বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। গত আগস্টেই নিজের জন্মদিনে উদযাপন করেছিলেন তিনি। জ্যাসন কনারি জানান, স্যার শন কনারি কিছুদিন ধরে অসুস্থতায় ভোগার পর বাহামায় মারা গেছেন। এসময় তার আশপাশে পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট 'জেমস বন্ড'কে বড় পর্দায় প্রথম ফুটিয়ে তোলা শন কনারি ১৯৬২ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত একটানা এ সিরিজের সাতটি সিনেমায় অভিনয় করেন। বোদ্ধাদের মতে, তার মতো 'জেমস বন্ড'কে রূপালি পর্দায় আর কেউই ফুটিয়ে তুলতে পারেননি। জেমস বন্ড সিরিজের 'ড. নো' (১৯৬২), 'ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ' (১৯৬৩), 'গোল্ডফিঙ্গার' (১৯৬৪), 'থান্ডারবল' (১৯৬৫) এবং 'ইউ অনলি লাইভ টুয়াইস' (১৯৬৭) নামে প্রথম পাঁচটি সিনেমায় গুপ্তচর জেমস বন্ড হিসেবে দর্শক পেয়েছিল শন কনারিকে। এরপর 'ডায়মন্ডস আর ফরএভার' (১৯৭১) এবং 'নেভার সে নেভার অ্যাগেইন' (১৯৮৩) সিনেমায় ফের বন্ডের ভূমিকায় অভিনয় করেন কনারি। প্রায় পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে তিনি 'দ্য আনটাচেবলস', 'দ্য হান্ট ফর দ্য রেড অক্টোবর', 'হাইল্যান্ডার', 'ইন্ডিয়ানা জোনস অ্যান্ড দ্য লাস্ট ক্রুসেড' ও 'দ্য রক'র মতো তুমুল জনপ্রিয় সিনেমায়ও অভিনয় করেন। এর মধ্যে 'দ্য আনটাচেবলস' সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ১৯৮৮ সালে তিনি চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি 'অস্কার' লাভ করেন। এছাড়া তিনবার গোল্ডেন গ্লোব এবং দু'বার বাফটা পুরস্কারে সম্মানিত হন শন কনারি। ২০০০ সালে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ নাইটহুড সম্মাননা দেন তাকে।
2
আফগানিস্তানে পাঠানো কিছু মার্কিন সেনাবাহিনীকে একটি পকেট সাইজের নজরদারি ড্রোন দেয়া হবে। যাকে বলা হয় 'ব্ল্যাক হর্নেট পার্সোনাল রেকনায়শান্স সিস্টেম'। আফগানিস্তানে এই ড্রোনগুলো মোতায়েনের মাধ্যমে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের ৫০৮তম প্যারাশুট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়ন এটা পরীক্ষা করে দেখবে যে, কীভাবে এই ড্রোনগুলোর ব্যবহার করা যায়। 'স্টার্স অ্যান্ড স্ট্রাইপস'-এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে, সেই দিন বেশি দূরে নেই, যেদিন সব সেনাসদস্যের সঙ্গেই এই মিনি ড্রোন থাকবে। এই ড্রোনটির ডিজাইন করেছে ওরিগন-ভিত্তিক এফএলআইআর সিস্টেমস। ছয় ইঞ্চি লম্বা এই ড্রোনের ওজন মাত্র ৩৩ গ্রাম। প্রতিটি ড্রোনের দুটি ক্যামেরা এবং থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা রয়েছে। এই ড্রোনগুলো অপারেটরের কাছ থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত জায়গা পরীক্ষা করতে পারে এবং এক নাগাড়ে ২৫ মিনিট পর্যন্ত উড়তে পারে। এই সময়টাতে ড্রোনগুলো অপারেটরের কাছে ছবি পাঠাতে পারে। এই ড্রোনগুলো লুকিয়ে থাকা শত্রু ও বিস্ফোরক চিহ্নিত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। সার্জেন্ট রায়ান সুবার্স নামে এক সেনাসদস্য বিবৃতিতে বলেছেন, 'এই ধরনের প্রযুক্তি আমাদের জন্য জীবন রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করবে, কারণ এটা আমাদেরকে বিপদ থেকে সতর্ক করবে এবং আমাদের নিজেদের মিশন কার্যকর করতে সাহায্য করবে।' ২০১৬ সাল থেকে আমেরিকা তাদের বিশেষ বাহিনীতে ব্ল্যাক হর্নেটের পরীক্ষা শুরু করেছে । এবং ফরাসি ও ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীও এফএলআইআর-এর কাছ থেকে এই ড্রোন কিনেছে। মাত্র দু'মিনিটেই একজন সেনাসদস্য বুঝতে পারবেন কীভাবে এটা চালাতে হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই একজন ইন্সট্রাক্টর এটা পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন। এতে ওয়্যারলেস কমান্ড এনক্রিপ্ট করা আছে বলে এটা হ্যাক করাও যাবে না। গত বছর মার্কিন সেনাবাহিনী এফএলআইআরের সঙ্গে ২.৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেনাবাহিনীর সোলজার বর্ন সেন্সর কর্মসূচিতে এই ড্রোন সরবরাহের জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে তারা। এর অর্থ হল, ৯০০০ সিস্টেম কিনবে মার্কিন সেনাবাহিনী। প্রতিটি সিস্টেমে দু'টি করে ড্রোন রয়েছে।
3
দক্ষিণ কোরিয়া প্রথমে গ্রুপ 'এফ' এ মেক্সিকোর কাছে হেরেছে। হেরেছে সুইডেনের কাছেও। অথচ জার্মানি তাদের হারাতে পারলো না। উল্টো ২-০ গোলে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো। অন্যদিকে সুইডেনের কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেও শেষ ষোলোয় উঠে গেলে মেক্সিকো। সমান দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে মেক্সিকো-সুইডেন। কিন্তু গোল ব্যবধানে গ্রুপ সেরা হয়েছে সুইডেন। রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে উঠে গেছে মেক্সিকো। প্রথমার্ধে মেক্সিকো এবং সুইডেনের মধ্যে কোন দল প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল তা বলা মুশকিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মেক্সিকোকে অসহায় বানিয়ে ফেলল সুইডেন। ৫০ থেকে ৭৪ মিনিটের মধ্যে মেক্সিকোর জালে দিয়ে দিল ৩ গোল। প্রথমার্ধে ৬৪ ভাগ বল পায়ে নিয়ে খেলেছে মেক্সিকো। আবার আক্রমণ বেশি করেছে সুইডেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরতেই গোল করে এগিয়ে যায় সুইডেন। চিন্তায় ফেলে দেয় মেক্সিকো-জার্মানিকে। জার্মানির তবুও সুযোগ ছিল দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে মেক্সিকোকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় যাওয়ার। কিন্তু ২-০ ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে হেরে বিদায় নিয়েছে ২০১৪ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সুইডেনের বিপক্ষে অবশ্য সমতায় শেষ করতে পারলে লাভ হতো মেক্সিকোর। গ্রুপ সেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেত তারা।আর বিস্ময় জাগানিয়া ম্যাচে জার্মানি ম্যাচে ৮০ মিনিট পর্যন্ত গোল শূন্য সমতায় ছিল। কিন্তু ৯২ ও ৯৬ মিনিটে দুই গোল খেয়ে যায় তারা। সুইডেন প্রথমার্ধে মেক্সিকোর গোল মুখে মোট আটটি আক্রমণ করে। মেক্সিকোর আক্রমণ মাত্র ৫টি। ম্যাচের ৩১ মিনিটে ওচোয়া দারুণ এক সেভ করেন। ৩৯ মিনিটে আরেকটি আক্রমণ করে সুইডেন। ১৭ এবং ২২ মিনিটে মেক্সিকো ভালো দুটি সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু তা থেকে গোল না হওয়ার গোল শূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে আগুস্টিনসন গোল করে দলকে ১-০ গোলের লিড এনে দেন। ৬২ মিনিটে গ্রান্ট কুইভিস ব্যবধান ২-০ করেন। আর মেক্সিকোর আলভারেজ ৭৪ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে সুইডেনের ব্যবধান ৩-০ বানিয়ে দেন। 'এইচ' গ্রুপের দুই দল দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হবে 'ই' গ্রুপ থেকে আসা দুই দলের বিপক্ষে। 'ই' গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ আছে ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড এবং সার্বিয়ার। বুধবার রাতে 'ই' গ্রুপের চার দল ব্রাজিল-সার্বিয়া ও সুইজারল্যান্ড-কোস্টারিকা রাত ১২টায় মুখোমুখি হবে। কোস্টারিকা এরই মধ্যে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হয়ে গেছে।
12
৩৯ বছর বয়সে নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজের ঝুলিতে পুরলেন ৪০টা উইকেট। তাতেই নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন ভারতের এই বাঙালি কন্যা। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ায় জন্ম নেওয়া এ অভিজ্ঞ পেসার আজশনিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ১টি উইকেট নিয়েছেন। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে ভারত। ওয়ানডে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট (নারী) নাম দল ইনিংস ইউকেট ঝুলন ভারত ৩১ ৪০ ফুলস্টন অস্ট্রেলিয়া ২০ ৩৯ ক্যারল হজ ইংল্যান্ড ২৪ ৩৭ বিডি প্রতিদিন/নাজমুল
12
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। আমাদের দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর অবদান বলে বা লিখে শেষ করা যাবে না। বাবা শেখ মুজিবুরের কাছ থেকে তেমনি ক্রীড়া অনুরাগটা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী সব সময় ব্যস্ত থাকেন এটা সবাই জানেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শত ব্যস্ততার মাঝে খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগাতে ছুটে যান মাঠে। ক্রীড়াঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা ক্রীড়াবিদদের নানা সময়ে অর্থ এবং ফ্ল্যাট দিয়ে সহায়তা করেছেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের বাইরে থাকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের পরিবারকে গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে খাবার রান্না করে পাঠিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের প্রোফাইলে এটি জানিয়েছেন সাকিব ও তার স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির। যেখানে খাবারের ছবিতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে রান্না করা পোলাও, রোস্টসহ রসগোল্লা, গুড়ের সন্দেশ, ছানা ও শীতের পিঠা পাঠিয়েছেন সাকিব দম্পতির জন্য। দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পেয়ে সাকিব ও শিশির দুজনই আপ্লুত। কিছুদিন আগে ২০১৬ সালে সাউথ এশিয়ান গেমসে তিন স্বর্ণজয়ী ক্রীড়াবিদ-সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এবং শ্যুটার শাকিল আহমেদকে পুরস্কারের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি ২০১৯ সালে ডিসেম্বরে এসএ গেমসে বাংলাদেশের সেরা সাফল্যেও উচ্ছসিত দেশের সরকারপ্রধান। নেপালে পদক জয়ীদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী, দাওয়াত দেন গণভবনে। এমনকি এশিয়ান র্যাঙ্কিং আচারিতে সোনাজয়ী রোমান সানাকে মুখে মিষ্টি তুলে দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশকে ভবিষ্যতে যেন আরো বড় সাফল্য উপহার দিতে পারে, সে জন্য সব রকম সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশ সেরা এই আচারের মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট মিরপুরে ঐতিহাসিক টেস্টে টাইগাররা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে যে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন তা মাঠে বসে উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতে টাইগাররা। ওই ম্যাচে আফিফ হোসেন ৫২ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নোঙর করান। ম্যাচ শেষে প্রধানমন্ত্রী বিসিবি সভাপতিকে ফোন করে আফিফকে আগের ম্যাচে কেন নেয়া হয়নি জানতে চান। ফোনে আফিফের সঙ্গে কথা বলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্টে ১৯ উইকেট নেয়া মেহেদি হাসানকে মিরাজকে খুলনায় জমি দিয়েছেন। ফুটবলারদেরও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সদস্যদের নগদ অর্থ পুরস্কার দিয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মেয়েরা অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। তাই সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপ দলের ১০ নারী ফুটবলারকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
12
ঢাকায় চাকরির সন্ধানে এসে সৎ বোনের বাসায় উঠেছিলেন এক তরুণী। ওই বাসাতেই চার ব্যক্তি রাতভর তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সকালে ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নির্যাতনের শিকার তরুণী তার সৎ বোনের বাসার ঠিকানা বলতে পারেননি। শুধু বলেছেন, গুলিস্তান এলাকায় ওই বাসাটির অবস্থান। রবিবার বিকেলে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে লঞ্চে তিনি ঢাকায় আসেন। এরপর বোনের বাসায় ওঠেন। তিনি বাসার ঠিকানা ঠিকঠাক বলতে না পারলেও দেখলে চিনবেন বলে জানান। গুলিস্তানের আশপাশে শাহবাগ থানা, ওয়ারী থানা ও বংশাল থানা অবস্থিত। খবর পেয়ে তিন থানার পুলিশই হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার শিকার তরুণীর সঙ্গে কথা বলে। তবে বাসার ঠিকানা পাননি তারা। তরুণী সুস্থ হলে তাকে নিয়ে বাসাটি চিহ্নিত করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ বক্সের এএসআই বাবুল মিয়া জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই তরুণী বসে ছিলেন। দ্রুত তাকে একটি চাদর দিয়ে ঢেকে জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তরুণী বলেছেন, ধর্ষকরা তাকে হাসপাতালে বসিয়ে রেখে চলে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী চিকিৎসক বিলকিস বেগম জানান, তরুণী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। অস্ত্রোপচার করতে হবে। এই চিকিৎসক বলেন, তরুণীর সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন- কয়েক মাস আগে তরুণীর স্বামী তাকে তালাক দেয়। তার একটি শিশু সন্তান রয়েছে। তাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে সৎ বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকায় চাকরির জন্য এসেছিলেন। সৎ বোনের পরিকল্পনাতেই তার বাসায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার পর তরুণী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, ধর্ষণের শিকার তরুণীকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতাল এলাকায় ফেলে রাখা হয়। তবে তার উন্নত চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, তরুণীর বিবরণ অনুযায়ী তারা ধারণা করছেন, ঘটনাস্থলটি কাপ্তান বাজার এলাকায় হবে; যেটি ওয়ারী থানার মধ্যে পড়েছে। তবে আশপাশের সব থানা পুলিশই বাসাটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। ঘটনার শিকার তরুণী কিছুটা সুস্থ হলে তাকে নিয়ে সৎ বোনের বাসাটি শনাক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, বিকেল পর্যন্ত তরুণীর কোনো স্বজন হাসপাতালে বা থানায় যোগাযোগ করেনি। তবে পুলিশ তার গ্রামের বাড়িতেও খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
6
সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখতে আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণ কেমন আছে-তা দেখতে এমপি-মন্ত্রীরা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। এসি রুমে বসে মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারছেন না ক্ষমতাসীনরা। তাঁতীদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আব্দুস সালাম আজাদ, সাবেক কৃষকদল নেতা সাধন মিয়া সম্রাটসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনরা বলছে-দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। সাধারণ মানুষের বার্ষিক আয় কিন্তু ১৫ হাজার টাকার বেশি নয়। তার থেকে ক্ষমতাসীনদের আয় অনেক বেশি। মাসে এক হাজার কোটি টাকা যাদের আয়, তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের গড় আয় মিলিয়ে জনগণকে বোকা বানাচ্ছে সরকার। মাথাপিছু আয়ের মিথ্যা বক্তব্য আর উন্নয়নের বুলি শুভঙ্করের ফাঁকি ছাড়া কিছু নয়। দেশের মানুষকে এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বোকা বানাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে-তখনই তারা এ দেশকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ফেলেছে। ১৯৭৪ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, তখন এ দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। তখন না খেয়ে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। আজকেও দেশে সেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। মা তার সন্তানকে খেতে দিতে না পারার কারণে সন্তানের মুখে বিষ তুলে দিয়ে নিজে বিষ খেয়ে মরছে। ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে মরছে। গলায় দঁড়ি দিয়ে মরছে। অহরহ ঘটছে এসব। এই অবস্থায় জনগণের সঙ্গে রসিকতা করে, মশকরা করে বলা হয় জনগণের আয় বাড়ছে। জনগণ ভালো আছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ইলেকশন কমিশনের নতুন নাটক শুরু হয়েছে। নাটক হচ্ছে। বিভিন্ন পেশার ও স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলছে। গত পরশু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ৩০ জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, এসেছে মাত্র ১৩ জন। সেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেছেন, এই তামাশাগুলো কেন করছেন? নির্বাচনকালীন সময়ে নিরেপক্ষ সরকার যদি না থাকে-তাহলে নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, এ অবস্থার নিরসনে এখন দরকার জনগণের সরকার। জনগণের সরকার করতে হলে অবশ্যই একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার লাগবে। যা আওয়ামী লীগের অধীনে কখনই হবে না। এক্ষেত্রে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। দেশের সব মানুষকে ঐকবদ্ধ করে একটা দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে এই কর্তৃত্ববাদী সরকারকে উৎখাত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
ভাত শুকিয়ে চাল বানাচ্ছেন ৭০ বছরের বৃদ্ধা সাবিয়া বেগম। এমন খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বৃদ্ধা সাবিয়া বেগমের বাড়িতে ত্রাণ নিয়ে ছুটে গেলেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) হারুন অর রশীদ। গভীর রাতে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তার হাতে একটি খাবারের বস্তা ধরিয়ে দেন ডিসি। যেখানে রয়েছে- চাল, ডাল, আলু, লবণ, তেলসহ অন্যান্য দ্রবাদি। এ সময় একটি কম্বলও দেয়া হয় তাকে। শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) দুপুরে উত্তপ্ত রোদে এই বৃদ্ধা একটি টিনের ওপর নষ্ট ভাত পানিতে পরিষ্কার করে শুকাচ্ছিলেন। আর সেই দৃশ্য নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াজ খান মোবাইলে ছবি তুলে তার ফেসবুকে পোস্ট করেন। আর সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভোরের কাগজে সংবাদ প্রকাশ হয় "নষ্ট ভাত ধুয়ে শুকিয়ে চাল বানাচ্ছেন সাবিয়া" শিরোনামে। সাথে সাথে অনেকগুলো গণমাধ্যমেও খবরটি প্রকাশ হয় ফলে সংবাদটি নজরে আসে জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদের। এরপর জেলা প্রশাসক রাতের আঁধারেই ওই কলোনির ২৫টি কর্মহীন পরিবারকে ঘর থেকে ডেকে ডেকে ত্রাণসামগ্রী দিয়েছেন। সেই সাথে বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ। জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক কাজের প্রশংসা করে বৃদ্ধা সাবিয়া বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আল্লাহ ডিসি স্যারকে অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখুক। সেই সাথে ডিসির কাছে জানিয়েছেন তার অসহায়ত্বের কথা। বৃদ্ধা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে একজন ভাত দিয়েছিল। সকালে কিছুটা নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট ভাত ফেলে না দিয়ে পরিষ্কার করে রোদে শুকাচ্ছিলাম। যাতে পরে অন্য চালের সঙ্গে রান্না করে খেতে পারি। হঠাৎ করেই শুক্রবার বিকেলে দুজন চাল, ডাল দিয়ে গেল। আবার রাতে এসে ডিসি স্যার বস্তায় করে বিভিন্ন ধরনের খাবার দিলেন।
6
দুর্দান্ত ফর্মেরয়েছে বাংলাদেশ 'এ' দল। সফরকারী আয়ারল্যান্ড 'এ' দলের বিপক্ষে জয়ের ধারা অব্যহত রেখেছে লাল-সবুজের দলটি। ঘরের মাঠে এই সিরিজে এ নিয়ে তৃতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। বুধবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকরা জিতেছে চার উইকেটে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ২০ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। আয়ারল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৭০ রান করে।আইরিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ সংগ্রহ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবার্নির। ৫১ বলে ৮৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। অন্য ম্যাচটি হওয়ার কথা বৃহস্পতিবার। বিডি-প্রতিদিন/ ২৫ অক্টোবর, ২০১৭/ ওয়াসিফ
12
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচারণা চালানোর সময় নিরাপত্তা শঙ্কায় হঠাৎই তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়েছিলেন নিরাপত্তা কর্মীরা। রোববার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শনিবার নেভাডা অঙ্গরাজ্যের রেনোতে একটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ করেই নিরাপত্তা কর্মীরা ট্রাম্পকে ঘিরে মানববর্ম তৈরি করে তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। সে সময় জনসভার ভিড়ের মধ্যে কারো একজনের কাছে বন্দুক রয়েছে এমন আশঙ্কাতেই মূলত ট্রাম্পকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পরে জানান, ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন 'বন্দুক' বলে চিৎকার করেছিল। এতে কারো কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে ভেবে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে পরে সেখানে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার সময় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর পুরো ঘটনা বুঝতে পেরে দ্রুতই মঞ্চে ফেরেন ট্রাম্প। শেষ করেন বক্তব্য। সেখানে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে ৭০ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, 'কেউ বলেনি যে এটা আমাদের জন্য সহজ হবে। তবে আমরা কখনোই থামবো না, কখনোই না।' নিরাপত্তা কর্মীদের ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, 'আমি সিক্রেট সার্ভিসকে ধন্যবাদ দিতে চাই। এই লোকগুলো অসাধারণ। তারা কখনোই যথেষ্ট কৃতিত্ব পায় না। তারা মানুষ হিসেবে অসাধারণ।' প্রসঙ্গত, আগামী ৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে মার্কিনীরা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এ নির্বাচনে লড়ছেন ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। নির্বাচনে আগে প্রায় সব জরিপে হিলারি এগিয়ে থাকলেও প্রধান দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
3
বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লাম ইউএস ওপেনে ২ নম্বর বাছাই সিমোনা হালেপকে হারিয়ে দিয়েছেন র্যাঙ্কিংয়ের ১৪৬তম স্থানে থাকা মারিয়া শারাপোভা (৩০)। ডোপিং ক্যালেঙ্কারিতে জড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে টেনিস থেকে দূরে ছিলেন শারাপোভা। ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে নিয়ে ১৫ মাস পরে টেনিসে ফিরেছেন সাবেক এ নাম্বার ওয়ান। নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোসে ২৪ হাজার দর্শকের সামনে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। দুই ঘণ্টা ৪৪ মিনিটের লড়াইয়ে রোমানিয়ার খেলোয়াড় হালেপের বিপক্ষে রুশ তারকা জিতেছেন ৬-৪, ৪-৬, ৬-৩ গেমে। আগামীকাল বুধবার ৫৯ বাছাই হাঙ্গেরির টিমিয়া ব্যাবুজের মুখোমুখি হবেন শারাপোভা। সূত্র : বিবিসি
12
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান ছয় নেতার নামে ঝিনাইদহ আদালতে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিন।মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার প্রতিবাদে এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপ। মামলার বাদী শামসুজ্জামান তুহিন বলেন, গত রোববার বিকেলে তিনি ক্যাম্পাস-পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজারের হাজি মার্কেটের সামনে বসে ছিলেন। তখন ইবি ছাত্রলীগের সাবেক ছয় নেতা এসে তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় প্রাণভয়ে তিনি তাদের ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক জোগাড় করে দেন। বাকি টাকা না দিলে জীবনের হুমকি দেয় তারা। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে বলে তুহিন জানান। আসামিরা হলো- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আলামিন জোয়ার্দ্দার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মাদ আলী শিমুল, নাজমুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির ইসলাম বাবু এবং সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন। এর মধ্যে তিনজন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শামসুজ্জামান তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের উন্নয়নমূলক কাজ দেখাশোনা করছেন। এ কাজটি করছে সনেপ ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। আসামিরা এ কাজেরই চাঁদা দাবি করেছে বলে তুহিন জানান। এদিকে মামলার খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপাচার্য তাদের বলেন, 'ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ কোনো উন্নয়নমূলক কাজে যদি কেউ চাঁদা দাবি করে, তাহলে অবশ্যই আগে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মামলা হলে বিষয়টি আমরা দেখব।' মামলার আসামি ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন বলেন, মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রক্টর অপসারণের আন্দোলন করায় এ মামলা করানো হয়েছে।
6
চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে চীনপন্থীদের ন্যাক্কারজনক পরাজয় হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, নগরীর ৪৫২টি স্থানীয় পরিষদ আসনের মধ্যে এ পর্যন্ত গণতন্ত্রপন্থী প্রার্থীরা ২৭৮টিতে জয় পেয়েছেন। আর চীনপন্থী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৪২টিতে। খবর বিবিসির। দিনের পর দিন ধরে চলা অস্থিরতা, সরকারবিরোধী প্রতিবাদ ও সংঘর্ষের পর এই নির্বাচনকে সরকারের পক্ষে হংকংবাসীদের সমর্থনের একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। হংকং সরকার ও বেইজিংয়ের ধারণা ছিল, এই নির্বাচন তাদের প্রতি তথাকথিত 'নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ' ভোটারদের সমর্থনকে তুলে ধরবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তার বদলে বেইজিংপন্থী উল্লেখযোগ্য কিছু প্রার্থীও তাদের আসন হারিয়েছেন। আসন হারানো এসব প্রার্থীদের মধ্যে বিতর্কিত বেইজিংপন্থী জুনিয়াস হো বলেছেন, "স্বর্গ-মর্ত্য ওলটপালট হয়ে গেছে।" প্রায় ৭৪ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রেকর্ড ৪১ লাখ লোক ভোটার হিসেবে নাম রেজিস্ট্রি করে। এর মধ্যে ২৯ লাখেরও বেশি লোক ভোট দেয়। এবার ভোট পড়ার হার ছিল ৭১ শতাংশ, যা আগেরবার ২০১৫ সালের ৪৭ শতাংশ থেকে অনেক বেশি। গত কয়েক মাসের মধ্যে রবিবারই ছিল প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন, যে দিনটিতে হংকংয়ে কোনও সংঘাত বা সহিংসতা দেখা যায়নি। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
নারীদের কমনওয়েলথ গেমস বাছাইয়ের দলে না থাকলেও ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেয়েছেন পেসার জাহানারা আলম। অভিজ্ঞ এই পেসারকে দলে পাওয়ায় বোলিং বিভাগ নিয়ে ভরসা পাচ্ছে নারী দল, আজ মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।শৃঙ্খলাভঙের অভিযোগে কমনওয়েলথ বাছাইয়ের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন জাহানারা। দলের অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার দলে ফেরায় বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক বলেন, 'অবশ্যই দলের একজন অভিজ্ঞ ও বাংলাদেশের সেরা একজন ফাস্ট বোলার। সুতরাং তার স্কোয়াডে থাকা মানে অন্যতম একটা ভরসা।'নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের চার ম্যাচে বোলিংয়ে দারুণ করেছেন জাহানারা। দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকলেও প্রতিপক্ষকে ভালোই ভুগিয়েছেন। তবে বাকি দুই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪ উইকেট নেন তিনি। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮ ওভারে ১.৭৫ ইকোনমি রেটে ৩ উইকেট নেন তিনি। জাহানারা দলে ফেরাতে এখন নারীদের বোলিং বিভাগ যে আরও শক্তিশালী হবে, সেটাই বলছিলেন জ্যোতি, 'বোলিং ইউনিটে তিনি আমাকে সব সময় সহায়তা করেন। আমি অত্যন্ত খুশি যে তিনি আবার দলে ফিরেছেন।'জিম্বাবুয়েতে নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দারুণ খেলে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন জাহানারা-সালমারা। আগামী মাসের মার্চে নিউজিল্যান্ডে হতে যাওয়া মেয়েদের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ নারী দল।
12
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে সহিংস হামলার এক বছর পূর্তি হতে চলছে ৬ জানুয়ারি। এমন প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত দুটি জনমত জরিপে বলা হয়েছে, গণতন্ত্রের ব্যাপারে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। সিবিএস নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্ট/ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পৃথকভাবে জরিপ দুটি চালিয়েছে। গতকাল রোববার জরিপ দুটির ফল প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রার্থী জো বাইডেন জয়ী হন। পরাজিত হন রিপাবলিকান দলের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে জালিয়াতির ভুয়া অভিযোগ তুলে ট্রাম্প তাঁর পরাজয় মানতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে তিনি বাইডেনের জয়ের সত্যায়ন ঠেকাতে নানা তৎপরতা চালান। বাইডেনের জয়ের সত্যায়নে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন বসে। এই প্রক্রিয়া ঠেকাতে ট্রাম্পের উসকানিতে তাঁর উগ্র সমর্থকেরা কংগ্রেস ভবনে (ক্যাপিটল হিল) সহিংস হামলা চালান। ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প-সমর্থকদের নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের মানুষকে হতবাক করে দেয়। এই হামলাকে মার্কিন গণতন্ত্রের ওপর চরম আঘাত বলে বর্ণনা করা হয়। ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন বাইডেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ক্ষত সারিয়ে তোলার পাশাপাশি বিভেদ-বিভক্তি দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু জরিপে দেখা যাচ্ছে, ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার এক বছর পরও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে গণতন্ত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। সিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতার পেছনে ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট/ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, আগের চেয়ে অনেক কমসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এখন নিজেদের দেশের গণতন্ত্র নিয়ে গর্ব করেন। ২০০২ সালে ৯০ শতাংশ মানুষ গণতন্ত্র প্রশ্নে গর্বিত ছিলেন। এখন তা কমে ৫৪ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। সিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, ২৮ শতাংশ মনে করে, নির্বাচনের ফলাফল অটুট রাখতে শক্তিপ্রয়োগ করা যেতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্ট/ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৪ শতাংশ মনে করে, সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপ কখনো কখনো ন্যায়সংগত হতে পারে। কয়েক দশকের মধ্যে এবারই এত বেশিসংখ্যক মানুষ সহিংসতাকে ন্যায্য মনে করছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করে, ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের ব্যাপক দায় রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্প-সমর্থকদের মধ্যে ৮৩ শতাংশই মনে করে এই ঘটনায় তাঁর দায় সামান্য কিংবা একেবারেই নেই। ট্রাম্প-সমর্থকদের দুই-তৃতীয়াংশ তাঁর ভিত্তিহীন অভিযোগ বিশ্বাস করে চলছে যে বাইডেন বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নন। সিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, ২৬ শতাংশ আমেরিকান চান ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। এই কমিটি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের কাছ থেকে খুব কমই সহযোগিতা পাচ্ছে। তবে তারা ইতিমধ্যে তিন শতাধিক মানুষের জবানবন্দি নিয়েছে। হাজারো নথি সংগ্রহ করেছে। রোববার এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যানেলটির চেয়ারম্যান বেনি থম্পসন বলেন, তদন্তে তাঁরা এমন কিছু বিষয় পেয়েছেন, যা সত্যিকার অর্থেই উদ্বেগের। যেমন-তাঁরা দেখেছেন, মানুষ মার্কিন গণতান্ত্রিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে। নির্বাচনের ভিত্তিকে দুর্বল করতে কিছুসংখ্যক মানুষের সমন্বিত তৎপরতা দেখা গেছে।
3
হিজরি সনের ১২ মাসের মধ্যে মহররম প্রথম। 'মহররম' অর্থ নিষিদ্ধ, অলঙ্ঘনীয় পবিত্রতা, সম্মানিত প্রভৃতি। মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। 'আশুরা' শব্দটি 'আশারা' শব্দ থেকে উৎকলিত, যার অর্থ দশম। আর এ দিনটি মহররম মাসের দশম দিবস হওয়ায় এ দিনকে আশুরা বলা হয়। অন্য মতে, এ দিনে আল্লাহ তাআলা তাঁর দশজন নবীকে দশটি বিশেষ দানে ভূষিত করেছেন বলে এ দিনকে আশুরা বলা হয়।১০ মহররম মুসলিম মিল্লাতের জীবনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিবস। এ দিবসটির যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, তা জানা আবশ্যক। অতীতকাল থেকেই এ দিবসটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত মনে করে সব যুগের উম্মতরা এই দিনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করতেন। এমনকি অন্ধকার যুগেও আরবরা এই দিনকে শ্রদ্ধা করত। এ প্রসঙ্গে আয়েশা (রা.) বলেন, অন্ধকার যুগে কুরাইশরা আশুরার দিনে রোজা রাখত। অতঃপর যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আগমন করলেন, তখন তিনি আশুরার রোজা রেখেছেন এবং অন্যকে এ রোজা রাখতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। এরপর যখন রমজানের রোজা ফরজ হলো, তখন তিনি আশুরার রোজা ছেড়ে দেন এবং বলেন, যে চায় সে যেন আশুরার রোজা পালন করে, আর যে চায় না, সে যেন তা পরিত্যাগ করে।' (বোখারি-মুসলিম)পৃথিবীর ইতিহাসে মহররমের ১০ তারিখে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তাআলা এই দিনে আসমান, জমিন, লওহ, কলম, সাগর-পর্বত, পৃথিবীসহ বিভিন্ন কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। আশুরার দিনে আদম ও হাওয়া (আ.)-এর তওবা কবুল হয় এবং আরাফাতের ময়দানে তাঁদের সাক্ষাৎ ঘটে, ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে পরিত্রাণ লাভ করেন, মুসা (আ.)-এর জন্য সাগর দ্বিখণ্ডিত হয়ে রাস্তা হলে সে রাস্তা দিয়েই তিনি ও তাঁর জাতি ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তিলাভ করেন। এই দিনেই আদম (আ.)-কে তৈরি করা হয় এবং ইব্রাহিম ও ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন।এই দিনে আল্লাহ তাআলা আইয়ুব (আ.)-কে তাঁর ১৮ বছরের দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আরোগ্য দান করেন। এই দিনেই নুহ (আ.)-এর নৌকা জুদি পাহাড়ে নোঙর করতে সক্ষম হয়। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নুহ (আ.) ও তাঁর উম্মতগণ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সব হিংস্র ও চতুষ্পদ জন্তু রোজা পালন করে।উল্লিখিত ঘটনাগুলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের আগে সংঘটিত হয়েছিল। তাঁর ইন্তেকালের পর যে হৃদয়বিদারক ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়, তা ছিল মুসলিম জাতির জন্য খুবই মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর। তা হলো, মহানবী (সা.)-এর প্রিয়তম দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদত। ৬১ হিজরির আশুরার দিনে অন্যায়কে প্রতিরোধ করতে এবং পৃথিবীময় সত্যের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার বজ্রকঠোর শপথ নিয়ে তিনি সপরিবারে কারবালার মরু প্রান্তরে শাহাদতবরণ করেন। তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-এর পুত্র ইয়াজিদের খেলাফত লাভকে ইসলাম পরিপন্থী সাব্যস্ত করে তা সমর্থন করেননি।মহানবী (সা.) পরামর্শভিত্তিক যে শাসনব্যবস্থা ও কার্যপদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তার বিপরীত শাসনপদ্ধতির বিরুদ্ধে ছিল তাঁর সংগ্রাম। কুসংস্কার, জুলুম-নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর জিহাদ। আশুরা দিবসের করণীয় হলো, মহররম মাসকে সম্মান প্রদর্শন করা। এ মাসে মারামারি, খুন-রাহাজানি বন্ধ করা এবং সারা বছরে তা চর্চা করা, আশুরার দিন ও তার আগের অথবা পরের এক দিনসহ মোট দুদিন রোজা রাখা।কেননা, মহানবী (সা.) মক্কায় অবস্থানকালে শুধু আশুরার দিন রোজা রাখতেন। কিন্তু মদিনায় আগমনের পর ইহুদিদের এই দিনে রোজা রাখতে দেখে তাদের বিপরীত করার জন্য তিনি দুদিন রোজা রাখার আদেশ করেন (বোখারি)। রোজার ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, 'আশুরার দিনের রোজা পালন দ্বারা আমি আল্লাহর নিকট বিগত বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমার প্রত্যাশা রাখি।' (তিরমিজি)বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা ও কোরআন তিলাওয়াত করা, পরিবারে উত্তম খাবার পরিবেশন করারও নির্দেশ আছে। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলেন, 'যে ব্যক্তি আশুরার দিন পরিবারের জন্য খরচ করতে হস্ত প্রসারিত করেন, আল্লাহ তাঁকে সারা বছর সচ্ছলতার ওপর রাখেন।' (বায়হাক্বি)এই দিনে গোসল করা ও চোখে সুরমা লাগানো, নবীদের ন্যায় বেশি বেশি তওবা করা, নুহ নবীর ন্যায় নিজে বাঁচার পাশাপাশি অন্যকে বাঁচানো, আল্লাহর ওপর ভরসা করা, রোগমুক্তির জন্য তাঁর কাছে দোয়া করার কথা বলা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, 'যে ব্যক্তি এই দিনে গোসল করে ও চোখে সুরমা লাগায়, সে ওই বছর আর রোগাক্রান্ত হবে না।'এই দিনের অন্যতম করণীয় হলো, ইমাম হোসাইনের মতো অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা, বজ্রকণ্ঠে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা। এই দিবসে অনেক কাজ রয়েছে, যা বর্জন করা আবশ্যক। ভারতীয় উপমহাদেশে কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহররম মাসটি শোকের মাস হিসেবে পালিত হয়। অথচ এটি শুধু শোকের মাস নয়, আনন্দেরও বটে।আশুরার দিন শিয়া-সুন্নি সবাই মিলে অগণিত শিরক ও বিদয়াতে লিপ্ত হয়। যেমন, হোসাইন (রা.)-এর ভুয়া কবর তৈরি করে রাস্তায় শোক মিছিল বের করা, রক্তের নামে লাল রং ছিটানো, রাস্তাঘাট রংবেরং সাজে সাজানো, লাঠি-তির-বল্লম নিয়ে যুদ্ধের মহড়া দেওয়া, সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল মিছিল করে কারবালা যুদ্ধের মহড়া দেওয়া, শোকের নামে 'হায় হোসেন' 'হায় হোসেন' বলে বিলাপ করা, বুক চাপড়ানো, মাতম করা, হোসাইন (রা.)-এর নামে কেক ও পাউরুটি বানিয়ে বরকতের পিঠা বলে বেশি দামে বিক্রি করা, হোসাইন (রা.)-এর নামে পুকুরে মোরগ ছুড়ে 'বরকতের মোরগ' মনে করে তা ধরার জন্য প্রতিযোগিতা করা, শোকের মাস ভেবে এই মাসে বিবাহ-শাদি না দেওয়া, হোসাইন (রা.)-এর কারণে আশুরার দিনে পানি পান না করা, শিশুকে দুধপান না করানো।এ ছাড়া, একটি সম্প্রদায় এই দিবস এলেই সাহাবিদের গালিগালাজ করে থাকে। তাদের দৃষ্টিতে কারবালার ঘটনার জন্য কোনো কোনো সাহাবি দায়ী। তাই তারা তাঁদের সমালোচনা করে থাকে, যা চরম নিন্দনীয়। আশুরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সামনে রেখে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করা এবং কারবালার ত্যাগ ও মর্মান্তিকতার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করাই হোক এই দিবসের প্রত্যয়।লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
8
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতাসহ দুজনকে অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চরলরেন্স এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।আটক দুজন হলেন চরলরেন্স ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাইনুল ইসলাম প্রদীপ এবং তাঁর চাচাতো ভাই নাদিম মাহমুদ।এলাকাবাসী ও পুলিশ জানিয়েছে, চরলরেন্স ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতার সৃষ্টির লক্ষ্যে তাঁরা অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁদের দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।তবে মাইনুল ইসলাম প্রদীপের চাচা ও নাদিম মাহমুদের বাবা হুমায়ুন কবির জানান, বাড়ির পাশে নাদিম মাহমুদ ও মাইনুল ইসলাম প্রদীপ চা খাওয়ার জন্য দোকানে যায়। এ সময় জেলা পরিষদের সদস্য গিয়াস মোল্লার নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক তাদের মারধর করে পুলিশে খবর দেয়। এটি একটি সাজানো নাটক। এই অস্ত্র গিয়াস মোল্লার বলে দাবি করেন তিনি। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত বিষয়টি বের করার দাবি জানান তিনি।জেলা পরিষদের সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, 'নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টির জন্যই মাইনুল ইসলাম প্রদীপ অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছিল। পরে স্থানীয়রা তাদের দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।' গিয়াস মোল্লার ভাই নাসির উদ্দিন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী।কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন জানান, স্থানীয়রা অস্ত্রসহ দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
6
স্প্রিন্টে পাঁচবার বিশ্বরেকর্ডধারী উসাইন বোল্ট বাবা হতে যাচ্ছেন। তার গার্লফ্রেন্ড কাসি বেনেটের গর্ভে আসছে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। ১০০ মিটারের বিশ্বরেকর্ডধারী বোল্ট পরশু এক পার্টিতে ঘোষণা করেছেন মেয়ের বাবা হওয়ার খবরটি। বেনেটের সঙ্গে ছয় বছরের সম্পর্ক বোল্টের। তবে এই সম্পর্কের কথা অনেকদিন গোপনই ছিল। ২০১৭ সালে স্প্রিন্টের জগত থেকে অবসর ঘোষণার পর বোল্ট-বেনেটের প্রেম জনসম্মুখে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও আপলোড করে জ্যামাইকার কিংবদন্তি স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট সুখবরটি দিয়েছেন এভাবে, অবশেষে সবাইকে জানাচ্ছি, আমি কন্যা সন্তানের বাবা হচ্ছি।
12