text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী পাভেল রহমান। ইতিহাসের বহু ঘটনার ছবি উঠে এসেছে তার ক্যামেরায়। বাংলাদেশের বহু ঘটনা-দুর্ঘটনা-দুর্যোগের সাক্ষী তিনি। উপকূলের ঘুর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া মানুষ, ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের ঘরোয়া পরিবেশে পাইপ মুখে লুঙ্গি পরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি- এভাবে তার ক্যামেরায় ধরা পড়া অনেক ছবিই এখন ইতিহাসের অংশ।এরশাদবিরোধী আন্দোলনে পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক' লেখা নূর হোসেনের বিখ্যাত ছবিটিও এই গুণী আলোকচিত্রীরই তোলা। আজ (১০ নভেম্বর) নূর হোসেন দিবস। তাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনের সেই বিখ্যাত ছবি তোলার স্মৃতিচারণা করে কয়েক ঘণ্টা আগে ফেসবুকে স্টাটাস দিয়েছেন পাভেল রহমান।পাভেল রহমান। ছবি: তার ফেসবুক থেকে নেওয়াএতে তিনি লিখেছেন,''নূর হোসেন, গণতন্ত্র মুক্তি পাক আর আমি।১০ নভেম্বর ১৯৮৭ সাল।সন্ধ্যার পর দৈনিক ইত্তেফাকের ডার্ক রুমে মহাব্যস্ত বিখ্যাত দুই ফটোগ্রাফার রশিদ তালুকদার, মোহাম্মদ আলম। সারাদিনের উত্তপ্ত ঢাকার রাজনৈতিক আন্দোলনের ছবি ডেভেলপ করছিলাম আমি আর মোহাম্মাদ আলম। এনলারজারে ছবি প্রিন্ট করছেন রশিদ তালুকদার। আমাদের তিন জনের তোলা ১২টা ৩৫ মিলিমিটারের ফিল্ম। ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা- প্রায় ১২ ঘণ্টায় ঢাকার রাজপথে আমরা ছিলাম সবাই ক্লান্ত।প্রেস ফটোগ্রাফির এই এক বড় চ্যালেঞ্জ। ছবি তোলার পর সারাদিন যতো ক্লান্তি আসুক না কেন, ছবি প্রিন্ট করে ক্যাপশন লিখে সাবমিট করতে হবে, তারপর ছুটি। আর আজ তো কথাই নাই।রশিদ তালুকদার দেখে শুনে বুঝে ছবি প্রিন্ট করছেন। আজ অনেক ঘটনা। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছবি যেন মিস না যায় সেই দিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি। আমরা দু'জনই রশিদ ভাইকে সহযোগিতা করছি। এমন সময় ডার্ক রুমের কড়া নড়ে উঠলো।'কে, কে', রশিদ ভাই জানতে চাইলেন। বাইরে নিউ নেসানের জুনিয়র রিপোর্টার তারেকের আওয়াজ। 'পাভেল ভাই, আপনি যে ছেলেটার কথা বলেছিলেন, শরীরে লিখে এসেছিলো, সেই ছেলেটি মারা গেছে। ছবিটা অবশ্যই প্রিন্ট করবেন তো। তারেকের কথায় রশিদ ভাই চমকে উঠলেন, আলম ভাইও, 'কোন ছেলেটা মারা গেছে পাভেল?'আমি অন্ধকারে নিজেকে লুকাতে চেষ্টা করি। আমি ভাবছিলাম, ওটা আমার এক্সক্লুসিভ ছবি। তাই কাউকে বলতে চাইনি। যদিও আমরা একই গ্রুপের কাগজ। ইত্তেফাক আর নিউ নেসান। তারপরও আমার ইংরেজি দৈনিকে ছবিটি এক্সক্লুসিভ থাকুক ভেবেছিলাম। কিন্তু তারেক একি করলো? এমনভাবে হাটে হাড়ি ভাঙল! রশিদ ভাইকে কি উত্তর দেই? আমতা আমতা করে বললাম, 'ঐ যে একটা ছেলে শরীরে লিখে এসছিলো, আমি ছবি তুলছিলাম। ও নাকি মারা গেছে। তারেক তাইতো বলল।' আমি খুব সতর্ক হয়ে দায়সারাভাবে বললাম ব্যাপারটা। রশিদ ভাই বললেন, 'সে যাই হোক, নেগেটিভ কোথায়?' বললাম, 'এখানেই আছে। আপনি ছবি প্রিন্ট করতে থাকেন, আমি দিচ্ছি।'আমার মাথায় তখন ছবিটাকে বাঁচানোর চিন্তা। ইত্তেফাক যেন না পায়। ওটা আমার নিউ নেসানের এক্সক্লুসিভ! ১০/১২ মিনিট কেমিক্যালে কাজ করার পর আমি বললাম, 'আমি একটু ওয়াসরুমে যেতে পারি?' রশিদ ভাই বিরক্ত হলেন, বললেন, 'এতো কাজ আজ, তোমার আবার ওয়াসরুমে যাবার সময় হলো?' আমি বললাম, 'যাবো আর আসবো।' রশিদ ভাই বললেন, 'তাড়াতাড়ি আয়।' আমি ছুটলাম ৩ তলায় নিউ নেসানের নিউজরুমে।তারেককে সামনেই পেলাম, ''তারেক আপনি তো আমার এক্সক্লুসিভের বারোটা বাজিয়েছেন। 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক' ছবিটা তো ইত্তেফাকে চলে যাচ্ছে! রশিদ ভাই আপনার কথায় জেনে গেছেন, ঐ ছবিটা আমি তুলেছি।''তারেক লজ্জিত হলেন, বললেন, 'কী করা যায়?' আমি বললাম, ''আপনি একটু অভিনয় করতে পারবেন? আপনি আবার আসেন ডার্ক রুমে এবং জোরে জোরে বলবেন, 'ঐ ছেলেটা মরেনি, খবরটা ভুল ছিল।''তারেক আমি ফিরে যাবার পরই এলেন ডার্ক রুমে, আর জোরে জোরে আওড়ে চললেন আমার বানানো বুলি। তাঁর কথা শুনে রশিদ ভাই হাফ ছেড়ে বললেন, 'থাক আর লাগবে না। আজ এতো ছবি। ছেলেটা না মরে থাকলে বাদ দে। দরকার নাই।'রশিদ ভাই যত না বাঁচলেন তার চেয়ে যে আমি বাঁচলাম!! রাতে একটু পরের দিকে আমি একা ডার্ক রুমে এসে ছবিটা প্রিন্ট করে নিউজরুমে নিয়ে এলাম। সে সময়ের বার্তা সম্পাদক ছিলেন আমানউল্লাহ কবীর। পুরো অফিস স্টাফ ছবিটির সামনে ভিড় জমিয়ে তুলল। স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ছবিটি ছাপা হবে কিনা- এই নিয়ে বাধার সম্মুখীন হলো বেশ কিছু সময়।কোনভাবেই ছাপানো যাবে না- এমনই যখন পরিস্থিতি তখন আকস্মিক রাত ১টার দিকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ছবিটি প্রকাশে সম্মতি দিলেন। তবে প্রথম পাতার ফোল্ডার নিচে। মাত্র দুই কলামব্যাপী ছাপার অনুমতি মিলল। লিড করা যাবে না।১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর ছবিটি ঢাকায় নিউ নেসান পত্রিকায় এক্সক্লুসিভ ছবি হিসেবে (এককভাবে) ছাপা হলো।ছাপার পর একটি ছবি লক্ষ শব্দের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠলো। বিদ্যুৎ গতিতে সেই বার্তা সারাদেশে ছড়িয়ে গেল এবং স্বৈরাচারের পতনের ঘণ্টা বেজে উঠেলো।আর আমি নিজেকে বাঁচাতে পালিয়ে বেড়িয়েছিলাম ঘর থেকে ঘরে। কারণ স্বৈরাচার আর তাঁর গোয়েন্দা বাহিনী খুঁজছিল আমাকে। প্রচার করছিলো ছবিটি 'বায়নোয়াট'আমার এই ছবি এখন জীবন্ত কিংবদন্তি!'''
| 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লেখা এক চিঠিতে আগামী ৫০ বছরে ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছরের মাইলফলক পালন উপলক্ষে লেখা ওই চিটিতে তিনি বলেন, 'আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমাদের অংশীদারিত্ব আগামী ৫০ বছর এবং তার পরও বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।' বাইডেন বলেন, 'উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে আমাদের অংশীদারিত্ব নিয়ে আমরা গর্ব করি।' তিনি আরও বলেন, 'এ দুই দেশ জলবায়ু সংকট মোকাবিলায়, গণহত্যার হাত থেকে রোহিঙ্গাদের প্রাণ বাঁচাতে সহায়তায় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি রক্ষার সমর্থনে একসাথে কাজ করে।' তিনি বলেন, 'বাংলাদেশি নাগরিক ও আমেরিকানরা গণতন্ত্রের আদর্শ, সমতা এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর বিষয় একইভাবে শেয়ার করেন। এসব একটি ভালো, নিরাপদ ও সমৃদ্ধশালী সমাজের ভিত্তি।' বাইডেন বলেন, '১৯৫৮ সাল থেকেই এই দুই দেশ শিক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরস্পরের সাথে যুক্ত রয়েছে। ওই সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ৩০ দিনের এক মতবিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।' তিনি বলেন, 'আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, 'বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও নেভী হচ্ছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবাধ চলাচল ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মূল্যবান অংশীদার। তারা মানব ও অবৈধ মাদক পাচার বন্ধে আঞ্চলিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে অবদান রাখছে।' বাইডেন বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ মহামারি কভিড-১৯ মোকাবিলায় একত্রে কাজ করে এবং ওয়াশিংটন ঢাকাকে ৬১ মিলিয়নেরও বেশি ভ্যাকসিন ডোজ ও ১৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে।' সূত্র : বাসস বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
জিনস প্যান্ট ও হালকা নীল শার্টের ওপর জলপাই রঙের সোয়েটার পরা ফরসা চেহারার গোঁফওয়ালা মানুষটি দোকানে চা বানাচ্ছেন। পরে সেই বানানো চা কয়েকজনকে খাওয়ালেন তিনি। চা খাওয়ানো শেষে দোকানিকে উল্টো ৮০০ টাকাও দিলেন নতুন এই 'চা বিক্রেতা'। সোমবার রাজধানীর আফতাবনগর এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে। যিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তিনি হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে স্থানীয় ইয়াসিনের চা-শিঙাড়ার দোকানে বসে বড় সসপ্যান থেকে দুধ আর কেটলি থেকে লিকার ঢেলে চা বানান তিনি। পরে তাঁর বানানো চা স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও তাঁর দলীয় নেতা-কর্মীকে খাওয়ান। সোমবার বিকেলে বাড্ডা আলাতুন্নেছা মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয়ে সভা শেষ করে আফতাবনগর এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যান আতিকুল ইসলাম। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় করেন এই মেয়র প্রার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচনী প্রচার শেষে বের হয়ে আফতাবনগরে সড়কের পাশে একটি ছোট চায়ের দোকানে গিয়ে চা বানিয়ে খাওয়ান কয়েকজনকে। এ সময় চা বিক্রেতার মতো 'এই চা হবে, চা...চা..., চা খাবেন চা...' বলে আশপাশের লোকজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের চা পানের আহ্বান জানান আতিকুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুম গণি ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। তাঁরাও মেয়র প্রার্থীর বানানো চা পান করে বেশ আনন্দ অনুভব করেন। নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রার্থী নানা নাটকীয়তার আশ্রয় নেন। এতে বেশ আনন্দও পায় সাধারণ মানুষ। চা দোকানি ইয়াসিনের কাছেও বিষয়টি অভিনব। মেয়র প্রার্থী আতিকুল দোকানে বসে চা বানাতে চাইলে নিজের জায়গাটি ছেড়ে দেন ইয়াসিন। আর এ ঘটনায় তিনি বেশ আপ্লুত বোধ করেন। আরও বেশি খুশি হন যখন চা বানিয়ে, খেয়ে ও খাইয়ে আতিকুল ইসলাম তাঁর দাম মেটান অনেক বেশি। আট কাপ চায়ের জন্য দোকানিকে ৮০০ টাকা দিয়েছেন মেয়রপ্রার্থী। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের তালতলায় নির্বাচনী প্রচার চালান আতিকুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী লিয়াকত আলী (মিষ্টি কুমড়া প্রতীকে) এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শাখাওয়াত হোসেন (রেডিও প্রতীকে) ভোট চান। এ সময় আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। দেশের বাইরে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন তার নেই। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে মোহাম্মদ নাসিমের মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, উনার (মোহাম্মদ নাসিম) শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি এখন তার অবস্থা খুবই খারাপ তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এদিকে মোহাম্মদ নাসিমের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে চিকিৎসার নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো অগ্রগতি নেই এজন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজেবেথ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাস সেখানে যোগাযোগ করছে। এরই মধ্যে সেখানে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, মোহাম্মদ নাসিমের বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থারও এখন নেই বৃহস্পতিবার তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় সিঙ্গাপুর নেওয়ার ব্যাপারেও অগ্রগতি নেই করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ১ জুন রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। পরে রাতে তার করোনা ভাইরাস পজিটিভ আসে। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থা উন্নতি হলেও গত ৫ জুন তিনি স্ট্রোক করেন। পরে জরুরিভিত্তিতে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর চিকিৎসকরা তাকে ৪৮ ঘণ্টা এরপর সময় বাড়িয়ে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। সোমবার (৭ জুন) ওই সময় পার হওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থান উন্নতি না হওয়ায় তার মেডিক্যাল বোর্ড নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে গত ৯ জুন পুনরায় তার করোনা পরীক্ষায় হয় পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসে | 6 |
করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন মৃধা। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র, ২ কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। এরপর থেকেই সে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। লোকমান হোসেন মৃধার মৃত্যুতে ফরিদপুর শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর | 6 |
ফক্স নিউজে সকালের হেডলাইন, 'ফাইজার কোম্পানির ভ্যাকসিন তৈরির কৃতিত্ব ট্রাম্প নিচ্ছেন।' সংবাদে উদ্ধৃতিসহ দ্বিতীয় লাইনটি, 'আমরা ভ্যাকসিন তৈরিতে অনেক এগিয়ে আছি।' হোয়াইট হাউসের প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্প বলেন, 'এ যদি আমার জন্য না হতো, তাহলে তোমাদের আরও চার বছর ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো।' মার্কিন প্রেসিডেন্টরা অনেক বুঝেশুনে কথা বলেন। কিন্তু এই প্রেসিডেন্টের কথার মর্ম সত্য প্রমাণ করা তাঁর নিজ পক্ষের সংবাদমাধ্যমেরও সম্ভব হয়ে উঠছে না। এ কতটুকু অসম্ভব দাবি, একটু বুঝিয়ে বলি। সেপ্টেম্বর মাসে ফাইজার কোম্পানির সিইও সিবিএস নিউজে 'ফেস দ্য নেশনে' এসে বলেছেন, 'আমরা সরকারের কোনো অর্থ নিইনি। কারণ, আমরা প্রশাসন থেকে বিজ্ঞান এবং গবেষণাকে আলাদা রাখতে চেয়েছি।' (সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, নভেম্বর ৯, ২০২০) ফাইজার কোম্পানি নিজেদের দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে, বিদেশি এক গবেষণা কোম্পানি বায়োএনটেকের সঙ্গে একযোগ হয়ে এই ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে। তারা বারবার বলছে, 'আমরা ট্রাম্পের টাকা নিইনি, ট্রাম্পের কোনো প্রজেক্টের অংশও আমরা নই।' কারণ, তারা জানে, যারা ট্রাম্পের আশপাশে আছেন, তাঁরা সবাই জানেন কীভাবে তিনি দিনকে রাত, রাতকে দিন করতে পারেন। ফাইজারের ভ্যাকসিন গবেষণার প্রধান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, 'আমরা কখনোই অপরারেশন ওয়ার্পের অংশ ছিলাম না, জনগণের করের টাকাও আমরা এই গবেষণায় নিইনি।' (সূত্র: ফোর্বস, নভেম্বর ১৩, ২০২০) আমেরিকার হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস কয়েকটি ভ্যাকসিন কোম্পানির সঙ্গে আগাম চুক্তি করে রেখেছে। চুক্তি হলো, তোমাদের ভ্যাকসিন এফডিএ অনুমোদন পেলে আমরা ১০ কোটি ডোজের ভ্যাকসিন এই অর্থমূল্যে প্রথম পাব। অর্থমূল্যটি হচ্ছে, ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। এর একটি পয়সাও ফাইজারকে দেওয়া হয়নি। চুক্তিটি করেছে আমেরিকার একটি প্রধান সরকারি সংস্থা, ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউস নয়। না হয় ধরেই নিলাম ফাইজারের ভ্যাকসিন আগাম কিনে রাখার বিস্ময়কর বুদ্ধি, জনদরদি ও ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন বর্তমান 'অনড়' মার্কিন প্রেসিডেন্টের মাথা থেকেই এসেছে। এখন দেখুন অন্য দেশগুলো কী করেছে। ফাইজার এবং বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন বিতরণের চুক্তিসমূহ: ইউরোপীয় ইউনিয়ন-২০০ মিলিয়ন ডোজ জাপান-২০ মিলিয়ন ডোজযুক্তরাষ্ট্র-১০০ মিলিয়ন ডোজযুক্তরাজ্য-৩০ মিলিয়ন ডোজ তাঁর চার বছরে ভালো মানুষদের কুপোকাত করে বিদায় করে দেওয়ার পরও যে কজন ভালো মানুষ এখনো বহাল আছেন, তাঁরাই নিশ্চয় এই বুদ্ধি দিয়েছেন। তাঁরা ছয়টি সম্ভাবনাময় কোম্পানির ভ্যাকসিন আগাম কিনে রাখার 'ডিল' করেছেন। একটা না হলে আরেকটা, যেটাই সফল হোক, আমরা পাব, এই তরিকা আরকি। এই তরিকা তাঁর নিজের মাথা থেকে বের হলেও ওপরের তালিকায় তিনি তৃতীয় হয়েছেন। তদুপরি ফাইজার কোনো সরকারের কাছ থেকে একটি পয়সাও নেয়নি। এসব হলো চুক্তিপত্র মাত্র। হলে টাকা দিয়ে নেব, নাহলে একটি পয়সাও পাবে না।ফাইজার নিজেদের অর্থায়নে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। আরেকটি কথা খেয়াল করবেন, ফাইজারের সঙ্গে গবেষণায় কিন্তু বায়োএনটেক নামের কোম্পানিটিও আছে। তার কথা, হোয়াইট হাউস বা অতি বুদ্ধিমান মানুষটি কেন উল্লেখ করছেন না জানেন? কারণ, সেই কোম্পানি আমেরিকান কোম্পানি নয়, জার্মান কোম্পানি। তাঁর দম্ভোক্তি শুনে মনে হয়, তিনি তৃতীয় নন, তিনি নিজেই ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে রাত-দিন চোখ রেখে ভ্যাকসিনটি অতিদ্রুত আবিষ্কার করে ফেললেন। আপনি যদি মডার্নার ভ্যাকসিনের কথায় আসেন, একই বিষয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য মনে হচ্ছে, তিনি এখনো বুঝতে পারেননি মডার্নার আবিষ্কারটি আরও বৃহৎ, সেই ভ্যাকসিনের সম্ভাবনা সংরক্ষণের অনুচ্চ তাপমাত্রার কারণে আরও বেশি উজ্জ্বল। সেটাই হয়তো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হবে। বুঝলে ফাইজার ছেড়ে মডার্না নিয়ে দম্ভোক্তি শুরু করতেন। এই যে এত দ্রুত আগে কখনো ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি, সেই কৃতিত্ব ট্রাম্প কীভাবে নেবেন বুঝে পারছেন না, হয়রান হয়ে যাচ্ছেন যে মানুষেরা এই ধ্রুব সত্য দেখতে পাচ্ছে না কেন? আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার বছর আগে এই নতুন ভ্যাকসিনের বীজ বপন হয়েছিল বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই যুগান্তকারী ভ্যাকসিন প্রযুক্তির নাম এম-আরএনএ () ভ্যাকসিন। সনাতন ভ্যাকসিন থেকে সম্পূর্ণই ভিন্ন, অনেক দ্রুত তৈরি করা যায়, কম খরচে, এমনকি বিপদ ঘটার সম্ভাবনাও অনেক কম। সনাতনটিতে সেই রোগের (কোভিড-১৯) একটি দুর্বল বা মৃত জীবাণু শরীরে প্রবেশ করানো হতো। তাকে বলে 'লাইভ ভেক্টর' ভ্যাকসিন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার যখন হয়েছে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দলের কাউকে লায়ার, কাউকে জোকার এবং ভিন্ন দলের কাউকে 'ক্রুকেড' নাম দিতে ব্যস্ত ছিলেন। মানুষ, যাঁরা বোঝেন, তাঁরা শ্বাসবন্ধ করে অপেক্ষা করছিলেন নির্বাচনের ফলাফলের জন্য। এ শুধু ট্যাক্স বাড়াবে, যুদ্ধ লাগাবে, অবৈধ অভিবাসী প্রশ্রয় দেবে, এসব নয়। এমনকি ডেমোক্র্যাট/ রিপাবলিকান কোনোই বিষয় নয় এখানে। একজন ডাহা মিথ্যাবাদী মানুষ! একজন মানসিক অসুস্থ, ভয়ংকর মানুষ! আরও কত কিছু সর্বনাশ ঘটিয়ে ফেলতেন। একটি গাড়ি গভীর খাদে পড়ে যাচ্ছিল। কোনোমতে ব্রেক কষে রক্ষা হয়েছে। শেষ রক্ষা হয়েছে কি না, সেটা এখনো দেখার বিষয়। সেই গাড়িতে মনুষ্য সমাজের সবাই রয়েছে। এমনকি পৃথিবীর পরিবেশ, অন্যান্য প্রাণী, গাছপালাও রয়েছে। সবচেয়ে গা শিউরে ওঠার মতো ব্যাপারটি হচ্ছে, মার্কিন দেশের প্রায় ৭ কোটি ভোটার এবং তারও থেকে বেশি মানুষ মানবতার হুমকি মানুষটির প্রেমে পড়ে গেছেন। ভয়াবহ কী হতে যাচ্ছিল, তা তাঁরা কিছুই দেখতে পান না। মনে করছেন, একটি বাচ্চার কাছ থেকে শখের খেলনা কেড়ে নেওয়া হলে সে তো কাঁদবেই? চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলবে, এর থেকে বেশি আর কী? হায় রে ভয়ংকর সর্বনাশা প্রশ্রয়! মোস্তফা তানিম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি লেখক | 8 |
করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায়, কর্মহীন, সাময়িক বেকার মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুইটি হটলাইন চালু করেছে। হটলাইনগুলো হচ্ছে- ০৯৬০২২২২৩৩৩ এবং ০৯৬০২২২২৩৩৪ । ডিএনসিসি এলাকায় বসবাসরত অসহায় ও দুঃস্থ যে কোনো ব্যক্তি এই হটলাইন দুইটির যে কোনোটিতে ফোন করে ত্রাণসামগ্রী চাইতে পারবেন। হটলাইন দুইটি সার্বক্ষণিক খোলা আছে। হটলাইনে যোগাযোগকারী প্রকৃত দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী ঠিকানা অনুযায়ী পৌঁছে দেয়া হবে। | 6 |
প্লট বা ফ্ল্যাট- যেকোনো একটা কিনলেই টিভি, ল্যাপটপ, আইফোন ফ্রি। আছে বুকিং দিলেই ওমরাহ করা আর বিদেশ ভ্রমণের সুযোগও। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত আবাসন মেলায় এ রকমই নানা ছাড় ও উপহার দিচ্ছে আবাসন কোম্পানি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।ইউএস এসেটস লিমিটেডের পূর্বাচল আমেরিকান সিটির প্লট কিনলে পাওয়া যাচ্ছে ২৫ শতাংশ ছাড়। সারা বিল্ডার্স লিমিটেডে ফ্ল্যাট বুকিং দিলেই মিলছে আইফোন। আর কমার্শিয়াল ফ্লোর বুকিংয়ে পাওয়া যাচ্ছে আস্ত গাড়ি।ফ্ল্যাট কিনলে মাস্টার বিল্ডার লিমিটেড দিচ্ছে ল্যাপটপ। সঙ্গে থাকছে ১০ শতাংশ মূল্যছাড়। এসঅ্যান্ডডি সুইট হোম ডেভেলপার্স লিমিটেডের অফারটি আরও লোভনীয়। আবাসন মেলায় তাদের ফ্ল্যাট বা প্লট বুকিং দিলেই মিলছে ওমরাহ করার সুযোগ। এ প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্পে বুকিং দিলেই ১০ দিনের জন্য সৌদি আরব ভ্রমণ ও ওমরা করতে যেতে পারবেন ক্রেতা। সব খরচ বহন করবে তারা।এসঅ্যান্ডডি সুইট হোম ডেভেলপার্স লিমিটেডের প্রকল্প ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহিন আলম আজকের পত্রিকাকে জানান, ৫ লাখ টাকা দিয়ে তাদের প্লট বা ফ্ল্যাট বুকিং দিতে হয়। বুকিং দিলেই ক্রেতারা ১০ দিনের জন্য বিনা খরচে ওমরাহ করতে যেতে পারবেন। থাকা-খাওয়া এবং বিমানভাড়া সবকিছুই বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু মেলার সময়েই থাকবে এই অফার।পদ্মা মেরিন সিটিতে প্লট কিনলে পাওয়া যাচ্ছে ৪২ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি।শুধু প্লট বা ফ্ল্যাট নয়, নির্মাণসামগ্রী আর আনুষ্ঠানিক জিনিসপত্রেও মিলছে লোভনীয় ছাড়ে। বিআরএস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ইলেকট্রনিক পণ্য কিনলেই পাওয়া যাচ্ছে ৪০ শতাংশ ছাড়।এবারের মেলায় মোট ২২০টি স্টল রয়েছে। এতে ১৫০টি আবাসন প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলা চলবে আগামী ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৫টি নির্মাণসামগ্রী এবং ৩০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এ আবাসন মেলায়। | 0 |
উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর। তার গানের জাদুতে মুগ্ধ লাখ লাখ শ্রোতা। সেইজনপ্রিয়সংগীতশিল্পীকেইএকটা সময় বিষ প্রয়োগে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। এ তথ্য তিনি নিজেইজানিয়েছেন। বিষ প্রয়োগে তিনি অসুস্থ হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুশয্যায় চলে গিয়েছিলেন। ১৯৬৩ সালে তার সঙ্গে এমনটিঘটেছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে লতা মঙ্গেশকর বলেন, ওই সময়হঠাৎ কিছুদিন ধরে খুব দুর্বল লাগছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায় চলে যায় যে কারও সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে ওঠতে পারতাম না। ইন্ডাস্ট্রিতে খবর ছড়িয়ে পড়ে লতা মঙ্গেশকর নিজের কণ্ঠ হারিয়েছেন। কিন্তু এমন কোনো আশঙ্কাই ছিল না। সংগীতসম্রাজ্ঞী এও বলেন,প্রায় তিন মাস শয্যাশায়ী ছিলাম। আমাদের পারিবারিক চিকিৎসক ডা. আরপি কাপুরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সুস্থ জীবনে ফিরতে পেরেছি। আরও দুইজনের অবদান কোনোদিন ভুলতে পারব না। প্রথমজন কবি তথা গীতিকার মজরুহ সুলতানপুরী । প্রতিনিয়ত তিনি শয্যাশায়ী লতা মঙ্গেশকরের পাশে এসে বসতেন। কবিতা শোনাতেন।আর দ্বিতীয়জন ছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় অর্থাৎ হেমন্ত কুমার। তার জন্যই গানের জগতে দ্বিতীয় ইনিংস আমার। আমার বাড়িতে এসে মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে, 'বিশ সাল বাদ' সিনেমার জন্য গান গাওয়াতে নিয়ে যান। কথা দিয়েছিলেন, সামান্যতম অসুবিধা হলেই নিজে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যাবেন। তার জন্যই গাইতে পেরেছিলাম 'কহি দীপ জ্বলে কহি দিল গানটি'। কিন্তু কে বিষ দিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে লতা মঙ্গেশকর বলেন, আমার পরিবার সেই মানুষটির নাম পরে জেনেছিল। কিন্তু প্রমাণের অভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। নিজের কর্মজীবনে ফিরে অতীতের স্মৃতি ভুলে যেতে চেয়েছিলাম।সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা | 2 |
ক্ষমতাসীনরা জনসমর্থন হারিয়েছে দাবি করে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তিকে ক্ষমতায় আনার সময় এসেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির দ্বাদশ কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, 'গোষ্ঠীগত লুটপাটের স্বার্থে এবং তাদের করা অপরাধের বিচার থেকে রেহাই পেতে ক্ষমতাসীন দল জবরদস্তিমূলকভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। জনসমর্থনের বদলে আমলাতন্ত্র ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে অবলম্বন করে তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালাকানুন জারি করে মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। গুম, খুন, জেল, জুলুমের সন্ত্রাসী শাসন কায়েম করা হয়েছে। দেশে এখন ভয় ও লোভের রাজত্ব চলছে। ফলে সমাজ ও রাজনীতিতে বিকল্প বাম গণতান্ত্রিক শক্তির সংগ্রামী ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা আজ জরুরি কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ সময় এসেছে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা এবং সেই কাজটি সুনির্দিষ্টভাবে ও গুরুত্বের সঙ্গে করা।'কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি বলেন, 'আমরা রক্ত দিয়ে সামরিক শক্তিকে প্রতিহত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলাম। গণতন্ত্রকে আজ আবারও হরণ করা হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচনকে আজ প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। জনগণের সামনে এখন চারটি প্রধান বিপদ-সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, লুটপাটতন্ত্র ও গণতন্ত্রহীনতা। এর থেকে উত্তরণ জরুরি।'ভোটাধিকারের সংগ্রাম করেই দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল জানিয়ে উদ্বোধনী অধিবেশনে সিপিবির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান বলেন, 'আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে। তাদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা, নিরঙ্কুশ দুর্নীতির জন্ম দিয়েছে। দেশের সর্বক্ষেত্রে ওপর থেকে নিচে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। গোটা সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি ঘুণে ধরেছে। ভোটের আগের রাতেই বাক্স ভরে আওয়ামী লীগ নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছে। ভুয়া ভোটে নির্বাচিতরা দেশ শাসনের নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা করতে হলে সর্বপ্রথম ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করেই আমরা বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যেতে পারব। এই কংগ্রেসের মাধ্যমে সেই পথেই আসর হওয়ার সূচনা হবে।'অধিবেশনে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, 'ক্ষমতাসীনদের মতোই সরকারের বাইরে যে বুর্জোয়া দলগুলো রয়েছে, তারাও একই বাজার সর্বস্ব পুঁজিবাদী পথ এবং লুটপাটতন্ত্রের নীতির অনুসারী। এ জন্য শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত ও দেশপ্রেমিক মানুষের স্বার্থের অনুকূলে বিকল্প রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়তে হবে।'শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তনে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বাদশ কংগ্রেস। জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম। উদ্বোধনের পর কাজী বশির মিলনায়তনে উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে সিপিবি নেতাসহ আরও উপস্থিত আছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যান্য নেতারা। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে কংগ্রেসের সাংগঠনিক অধিবেশন শুরু হবে। এটি চলবে আগামী সোমবার বিকেল পর্যন্ত। | 9 |
করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে দাবি করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, টিকা নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে টিকা সরবরাহের মাধ্যমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি টিকায় প্রায় ১১ ডলার মুনাফা করবে। তাঁর মতে, 'এর চেয়ে বড় ডাকাতি আর হতে পারে না।' করোনা টিকা কারা আগে পাবে, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি দাবি করেন, কেবল সরকারকে যারা ক্ষমতায় রাখবে, তারাই আগে টিকা পাবে। 'ভোট ডাকাত'দের আগে টিকা দেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক শহীদ আসাদ স্মরণে আলোচনা সভাটির আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মান্না আরও বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শহীদ আসাদ আলোর বাতির মতো। যাঁরা ক্ষমতায় (সরকার) আছেন, তাঁরা আসাদকে স্মরণ করবেন না, তাঁরা ইতিহাস গিলে খাচ্ছেন। দেশে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার নেই দাবি করে তিনি বলেন, 'ভোটের নামে নাটক আছে।' বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করার মধ্যেই মান্না অভিযোগ করেন, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। তিনিসহ মঞ্চে উপস্থিত আরও কয়েকজন বক্তার নাম উল্লেখ করে বলেন, এখান থেকে বড় রাস্তায় নামার পর যদি তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, কিছু বলার নেই। এর আগে তিনি বর্তমান সরকারের আমলে মানুষের জীবনকে কচুপাতার পানির সঙ্গে তুলনা করেন। আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, শহীদ আসাদ একটি ইতিহাস, বিপ্লব, আন্দোলন ও সংগ্রামের নাম। তাঁর রক্তের ধারাবাহিকতাতেই গণ-অভ্যুত্থান ও স্বাধীনতা এসেছে। শোষণহীন সমাজব্যবস্থা, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য তিনি জীবন দিয়েছিলেন। এখন দেশে স্বৈরশাসন চলছে দাবি করে তিনি বলেন, 'স্বাধীন দেশে আমরা পরাধীন।' শহীদ আসাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য শুধু বিবৃতি না দিয়ে রাজপথে আন্দোলন করার পরামর্শ দেন বিএনপির এই নেতা। শহীদ আসাদ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. নুরুজ্জামান। সভায় বিএনপি নেতা ও সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন, শহীদ আসাদ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান মিলন প্রমুখ বক্তব্য দেন। | 9 |
যশোরের মনিরামপুরে সম্পত্তির লোভে নিজের মাকে মারধর করে আঙুল দিয়ে দুই চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন মেহেদী হাসান টিটো নামে এক যুবক। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে এ ঘটনার পর ছেলে টিটো পলাতক রয়েছেন। জানা গেছে, মা হসিনা খাতুন তার স্বামীর রেখে যাওয়ার সম্পত্তির অধিকাংশ ইতোমধ্যে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দিয়েছেন। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তার নিজের নামে বসতবাড়িসহ কিছু সম্পত্তি থাকা নিয়ে। খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী জানান, ছোট ছেলে মেহেদী হাসান টিটো বসতবাড়ির সব জমি দাবি করেন মায়ের কাছে। কিন্তু মা ভাগ অনুযায়ী, তাকে আট শতক জমি দিতে রাজি হন। এ নিয়েই মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হন টিটো। এর আগেও টিটো তার মাকে কয়েকবার মারপিট করেছেন। এমনকি হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। কোনো উপায় না পেয়ে টিটোর বিরুদ্ধে থানা এবং আদালতে তিনটি মামলাও করেছেন মা হসিনা খাতুন। এছাড়া এ নিয়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কয়েক দফা সালিশও হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে টিটো মায়ের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করেন। এসময় তিনি আঙুল দিয়ে মায়ের দুই চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এতে মা রক্তাক্ত হন। টিটোর বড় মামা মাসুদুর রহমান জানান, ইতোপূর্বে হসিনার বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বাদলও তার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। তবে ছোট ছেলে এ নিয়ে কয়েক দফায় তার মাকে মারপিট করেছেন। এ ব্যাপারে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, তার বোন হাসিনা খাতুনের দুই চোখের অবস্থা ভালো নয়। তিনি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. হিমাদ্রী শেখরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখনও কেউ মামলা করেনি। মামলা হলে ওই ছেলেকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। | 6 |
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড পরিচালনার জন্য ইসরাইলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা 'দ্যা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন' (ওআইসি)। শনিবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে ইয়েনি শাফাক। ওআইসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৭ নভেম্বর তারিখে পূর্ব জেরুসালেমে ছুরি হামলা চেষ্টার অভিযোগে ১৬ বছরের ওমর আবু আসাবকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি পুলিশ। এছাড়া আরো বলা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের ওপর নিপীড়ন ও তাদের চিকিৎসায় অবহেলার কারণে বহু ফিলিস্তিনি মারা যাচ্ছেন। উদাহরণ স্বরূপ সংগঠনটি বলেছে, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে সামি উমার নামের এক ফিলিস্তিনি কারাবন্দী মারা গেছেন। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বিভিন্ন অপরাধের নিন্দা করে ওআইসি জোর দিয়ে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সহিংসতা ও আক্রমণের কারণে এ অঞ্চলে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে। এছাড়া ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলকে এসব অপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ওই দু'ফিলিস্তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কমিটি গঠন করে তদন্ত করার জন্য জাতিসঙ্ঘ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনকে আহ্বান জানিয়েছে ওআইসি। এছাড়া ওআইসির পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে ইসরাইলের কারগারে বন্দী থাকাবস্থায় অনশনরত ফিলিস্তিনিদের বাঁচাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ করতে হবে। সূত্র : ইয়েনি শাফাক | 3 |
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদা নাসরিন বাবলী (৩৫) মারা যাওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছে তার শিশুপুত্র ইউজারসিফ মাহমুদ বর্ণভ (৫) । মায়ের মৃত্যুকে অবহেলাজনিত দাবি করে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে এই রিট করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। বর্ণভের বাবা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার রিটের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই রিটে শিশু বর্ণভের 'লিটিগেশন ফ্রেন্ড' হচ্ছেন তারা মামা গোলাম হাফিজ। আর রিটের পক্ষের আইনজীবী হচ্ছেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে সানজিদা মোস্তফা সুমি (৩২) নামে এক শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ক্যাডেট কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমি শৈলকুপা উপজেলার ডাঙ্গিপাড়া গ্রামের বাবু মিয়ার স্ত্রী ও ঝিনাইদহ বঙ্গবন্ধু কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, দুপুরে গাড়াগঞ্জ এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে ঝিনাইদহ আসছিলেন সুমি। ক্যাডেট কলেজের সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি বাস হর্ন দিলে সুমি মোটরসাইকেল থেকে লাফ দেন। এতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরতর আহত হন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি। | 6 |
জাটকা রক্ষায় বরগুনার পাথরঘাটায় সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানছেন না জেলেরা। প্রতিদিন নিষিদ্ধ জালে জাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিধন করছেন। অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে মৎস্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।সরকারের মৎস্য আইনানুযায়ী সাড়ে ৬ সেন্টিমিটারের ছোট ব্যাস বা ফাঁসের জাল সারা বছরই অবৈধ। আকারে ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা ইলিশ জাটকা নামে অভিহিত; যা অবৈধ। ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অবাধে চলছে জাটকাসহ ইলিশের পোনা নিধন।দেশের বৃহত্তর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য বাজারে সরেজমিন দেখা যায়, ঘাটে ট্রলার থেকে ঝুড়িভর্তি ইলিশ নামানো হচ্ছে। তার ৮০ থেকে ৯০ ভাগ জাটকা বা এর কাছাকাছি আকারের ইলিশ। আড়দারেরা নিলাম হেঁকে তুলে দিচ্ছে পাইকারদের ট্রাকে। জাটকা ধরার বিষয়ে একাধিক ট্রলার মালিক স্বীকার না করলেও তাঁদের ছোট ফাঁসের জাল আছে বলে জানান।বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, সাগরে মাছের চরম সংকট। দেশের বৃহত্তর এই বিএফডিসি পাইকারি বাজারে গতকাল রোববার মাত্র ২০ মণ ইলিশ উঠেছে; যার ৮০ থেকে ৯০ ভাগ জাটকা। প্রতিদিনের চিত্র একই রকমের। একই কথা বলেন মৎস্য পাইকার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসাইন। এ ছাড়া সব জাটকা স্থানীয় বাজারে আসে না। বিক্রি হয় গ্রামে ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার ছোট বাজারে।পাথরঘাটা শহরে জাল বিক্রির দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাল বিক্রি কম, তবে ছোট ফাঁসের (জাটকা ধরার জাল) বেশি বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জাল বিক্রেতা এ কথা স্বীকার করেন।বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ম্যানেজার লেফটেন্যান্ট মো. লুৎফুর রহমান জানান, পাইকারি বাজারে যে মাছ বিক্রির জন্য আসে, তার অধিকাংশ ছোট। যার ২০০ পিচ ওজন করলেও এক মণ হয় না। গ্রেড বা এলসির মাছ ৩০ থেকে ৩২টায় এক মণ ওজন হয়ে যায়। ছোট মাছের বাজারমূল্য কম, অপরিণত আকারের ইলিশ শিকার করায় লাভের মুখ দেখছে না জেলেরা। ভরা মৌসুমে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় অবৈধ উপায় অবলম্বন করছে। অনেকে কারেন্ট জালও ব্যবহার করে থাকে।বিসিজি দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম মনজুরুল করিম চৌধুরী গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পাথরঘাটা বিসিজি স্টেশন কার্যালয়ে এ প্রান্তিক জেলেদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন।এ সময় মৎস্যজীবীরা জোনাল কমান্ডারকে জানান, বঙ্গোপসাগরে সুন্দরবন লাগোয়া বলেশ্বর, বিষয়খালী ও পায়রা নদী মোহনায় অসংখ্য ডুবোচর ইলিশের চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে। এই অসংখ্য ডুবোচরে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ বেহুন্দি, চরঘেরা ও ঘোপ জাল দিয়ে নির্বিচারে ইলিশের বাচ্চাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ ও ডিম নিষিক্ত হওয়ার আগেই ধ্বংস করা হচ্ছে। যা প্রশাসন দেখেও যেন না দেখার ভান করছে।পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, 'নিকটবর্তী বিস্তীর্ণ চরে পাহারায় যেতে যে লোকবলসহ লজেস্টিক দরকার, তা আমাদের নেই। নিকটবর্তী সুন্দরবনের তিন দিকে চরগুলো অবৈধ বেহুন্দি ও ঘোপ জাল দিয়ে পোনা ধ্বংস করলেও আমাদের এখতিয়ারের বাইরে।'দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম মনজুরুল করিম চৌধুরী বলেন, 'প্রান্তিক জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আমরা অনেক তথ্য পেয়েছি। এগুলো বাস্তবায়নে শিগগিরই কোস্টগার্ড অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।' | 6 |
গত পাঁচ বছরে পঞ্চগড়-১ আসনের বর্তমান সাংসদ ও বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানের বার্ষিক আয় বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি। এই সময়ে তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আগে না থাকলেও তিনি এখন দুটি বাগান ও একটি মৎস্য খামারের মালিক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা ঘেঁটে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাজমুল হক প্রধান পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন খাত থেকে সাংসদ নাজমুল হক প্রধানের বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৫২ হাজার ৩৬০ টাকা এবং অস্থাবর সম্পত্তি ১ কোটি ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৯ টাকা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই সময় তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৯ লাখ ৪ হাজার ৭৩৩ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে ৭৫ হাজার, ব্যবসা থেকে ৬ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৩ টাকা এবং শেয়ার থেকে ২ লাখ টাকা। এবারের হলফনামায় তিনি পেশায় নিজেকে একজন মৎস্যখামারি উল্লেখ করেছেন। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৫১ লাখ ৫২ হাজার ৩৬০ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৩ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র-ব্যাংক আমানত থেকে ২০ হাজার ৫৭৭ টাকা, পেশা হিসেবে বার্ষিক আয় ২৫ লাখ ৭ হাজার ২৯০ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০১৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় নাজমুল হক প্রধান অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছিলেন ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯২ টাকার। এর মধ্যে নিজের কাছে নগদ অর্থ ৩ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯২ টাকা, শেয়ার ২ লাখ টাকার, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ২ লাখ টাকা, আসবাব ২ লাখ টাকা, স্ত্রীর কাছে নগদ অর্থ ২০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর কাছে ১০ ভরি স্বর্ণ, যার মূল্য ৫ লাখ টাকা। এবারের হলফনামায় তিনি অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন ১ কোটি ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৯ টাকা। এর মধ্যে নিজের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ৯৪৯ টাকা। নিজ নামে শেয়ার ২ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্র ১ লাখ টাকার, একটি মোটরগাড়ি, যার মূল্য ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা, আসবাব ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাজমুল হক প্রধান তাঁর হলফনামায় স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে নিজ নামে ৩৭ বিঘা ও স্ত্রীর নামে ৫ বিঘা কৃষি জমি দেখিয়েছিলেন। তবে তার মূল্য নির্ধারণ করে দেখাননি।এবারের হলফনামায় তিনি স্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩ লাখ ৩০ হাজার ২৭০ টাকা। এর মধ্যে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩৭ বিঘা জমির মূল্য ৬৫ লাখ টাকা, নিজের নামে অকৃষি জমির মূল্য ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যৌথ মালিকানার টিন শেড বাড়ি, যার মূল্য ৫ লাখ টাকা, নিজ নামে চা-বাগান, রাবারবাগান ও মৎস্য খামার, যার মূল্য ২২ লাখ ১৯ হাজার ৭৭০ টাকা। | 9 |
কক্সবাজারের মোটেল শৈবালের পর্যটন গলফ ক্লাব বার (অপটিমা ট্যুরিজম) থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৭৬.২১ লিটার বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে বিদেশী মদ ৬৪১ বোতল (৬২৯.৭৫ লিটার) এবং বিভিন্ন ব্রান্ডের ২২৬২ ক্যান (৭৪৬.৪৬ লিটার) বিয়ার রয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বারের ইনচার্জ শামীম উদ্দিনকে (৫৬) আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) চাঁন মিয়া বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আটক শামীম উদ্দিন ছাড়াও বাকি আসামিরা হলেন-বার তথা মেসার্স অপটিমা ট্যুরিজমের মালিক এমএ আউয়াল চৌধুরী (ভুলু) এবং বারের ম্যানেজার শফিউল বারী চৌধুরী। তারা দু'জনই পলাতক রয়েছেন। কক্সবাজার সদর মডেল ওসি সৈয়দ আবু শাহজাহান কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
দেশের আইনজীবীদের শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে জটিলতা কাটছে না। ২০২২-২০২৩ সেশনের নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ভোট হয়েছে ১৫ ও ১৬ মার্চ। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘোষণা হয়নি সেই নির্বাচনের ফল। কবে ঘোষণা করা হবে, সেই বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না কেউই। এই অবস্থার মধ্য দিয়েই আজ শেষ হচ্ছে বারের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ।১৫ দিনেও নির্বাচনের ফল ঘোষণা করতে না পারার এই ঘটনাকে সুপ্রিম কোর্ট বারের ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইনজীবীরা। সেই সঙ্গে দ্রুত এই বিব্রতকর অবস্থার অবসানও চান তাঁরা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, চলমান জটিলতার অবসান কীভাবে হবে, সেটা কমিটি বসে ঠিক করবে। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পরবর্তী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান কমিটি কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করায় কমিশনের অন্য সদস্যদের মধ্য থেকে একজন বা নতুন করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যাবে। তবে এ রকম ঘটনা এর আগে কখনো হয়নি।জানা গেছে, বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বুধবার দীর্ঘ সময় বৈঠক করেছে বারের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আগামী সাত দিনের মধ্যে বারের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকেরা বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকেই ফলাফল ঘোষণার বিষয়ে চলমান জটিলতার অবসান ঘটবে। সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকদের চিঠি দেওয়ার কাজ শুরু হবে বৃহস্পতিবার (আজ) থেকেই। আর বিষয়টি সমন্বয় করবেন বারের বর্তমান দুই সহসভাপতি।সুপ্রিম কোর্ট বারের এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৮ হাজার ৬২৩ জন। আর দুই দিনে ভোট দিয়েছেন ৫ হাজার ৯৮২ জন। নির্বাচন শেষে ভোট গণনার পর ১৬ মার্চ রাতে ফল ঘোষণার কথা। কিন্তু সম্পাদক পদে ভোটের হিসাব নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় সেই ফল এখনো ঘোষণা করা যায়নি।জানা যায়, ১৭ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ হয়। তাতে দেখা যায়, সভাপতিসহ ৬টি পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাদা প্যানেল এগিয়ে। আর সম্পাদকসহ ৮টি পদে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেল। ওই সময় নির্বাচন কমিশনআনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতি নিলে সম্পাদক পদে ভোট পুনরায় গণনার দাবি তোলেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা।ভোট গণনার সময় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের সাদা প্যানেলের প্রার্থী আব্দুন নূর দুলালের সমর্থকেরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ ওয়াই মশিউজ্জামানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে ওই সময়ই পদত্যাগপত্র দেন তিনি। আর এতেই আটকে যায় ভোটের ফল ঘোষণা।জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত উপকমিটির প্রধান এ ওয়াই মশিউজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল ঘোষণা বা দায়িত্ব হস্তান্তর না হলে কী হবে, সেই বিষয়ে গঠনতন্ত্রে কিছু বলা নেই। শুনলাম সাবেক সভাপতিরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁরা বসে এসব অসভ্যতার নিরসন করলে তখন সেটা চিন্তা করব। আমাকে কথা দ্বারা আঘাত করা হয়েছে, কমিশনের অন্য সদস্যদের প্রতি বোতল, কাগজ ছুড়ে মারা হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী অনেক বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসেছিল। দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্ব পালন করলেও এবার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের আচরণেই পদত্যাগপত্র দিয়েছি।' | 6 |
বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ীর বিকাশে খোয়া যাওয়া ১৪ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। গত বৃহস্পতিবার বিকাশ ব্যবসায়ী মুকুল হোসেনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর উদ্ধার হওয়া টাকাগুলো তুলে দেওয়া হয়।জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার পাঁচকমলাপুর গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে মুকুল হোসেন গত ১২ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশে অভিযোগ দেন। তার বিকাশ থেকে টাকা পাঠানোর সময় ১৪ হাজার টাকা ভুলক্রমে অন্য বিকাশ নম্বরে চলে যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলেও বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা শেষে মোবাইল নম্বরটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের বিকাশ ব্যবসায়ীর টাকাগুলো উদ্ধারের জন্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল টিমকে নির্দেশ দেন। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল টিমের আন্তরিক চেষ্টা ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে টাকাগুলো উদ্ধার করা সম্ভব করা হয়। পরে, আনুষ্ঠানিকভাবে মুকুলের হাতে টাকাগুলো তুলে দেওয়া হয়।এ সময় মুকুল হোসেন হারানো টাকা পুলিশের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় দ্রুত ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পুলিশ সুপারসহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল টিমকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তারেক, পুলিশ পরিদর্শক জামিল হোসেন, উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রজিবুল হক, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রমেন কুমার সরকার, কনস্টেবল মো. মিঠুন হোসেন প্রমুখ। | 6 |
সাভারে করোনার টিকা গ্রহীতা দুই জাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে তিনজন রেডক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।আজ সোমবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে সাভার মডেল থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল রোববার দিবাগত রাতে সাভারের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল রোববার রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় আধা ঘণ্টা বিক্ষোভ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তাঁরা।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাভারের কাতলাপুরের অশোক কুমার দাসের ছেলে অর্ঘ্য অর্পন দাস (২১), সাভারের ব্যাংক কলোনির এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের ছেলে মো. আকিব হোসেন নুর (১৯) এবং একই এলাকার আসাদুল হকের ছেলে মো. সাব্বির হোসেন (২২)।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর একটার দিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কেন্দ্রে টিকা নিতে যান শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হোসাইন ইমন ও মাজেদুল ইসলাম। তাঁরা দুজনেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। টিকা নেওয়ার জন্য লাইনে থাকা অবস্থায় বেলা ১টায় টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় অপেক্ষারত টিকা প্রত্যাশীদের অনেকে লাইন শেষ হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানান। টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা এতে রাজি না হলে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী মিলে শিক্ষার্থী ইমন ও মাজেদকে মারধর করেন। পরে তাঁদের সাভার মডেল থানায় নিয়ে যান তাঁরা। সেখান থেকে ইমন ও মাজেদ অসুস্থ অবস্থায় সাভারে একটি হাসপাতালে ভর্তি হন।এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, 'অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা দুঃখিত। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনায় জড়িত টিকা বুথে থাকা রেডক্রিসেন্ট কর্মীদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁরা মূলত স্বেচ্ছাসেবক, তাঁরা কোনো সরকারি কর্মী নয়। তাঁদের বাদ দিয়েই আমাদের স্বাভাবিক টিকা কার্যক্রম চলমান আছে।'বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন বলেন, 'টিকা কেন্দ্রের সময় শেষ হয়েছে বলে তাদের মারধর করেছে। বিষয়টি নিয়ে মিটমাটের জন্য বসা হয়েছিল। কিন্তু কোনো মীমাংসা হয়নি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ভিসির আদেশে আমি নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি।'মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শাহারিয়ার বলেন, গতরাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় তিনজনসহ আরও অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। | 6 |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি তালেবানকে বিশ্বাস করেন কি করেন না। জবাবে বাইডেন বলেছেন, 'আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।' বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। আফগানিস্তানে ১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আশরাফ গনির সরকারের পতন ঘটে। তালেবানের কাবুল দখলের মুখে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। তালেবান এখন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তারা তাদের বৈধতা চাচ্ছে। এই লক্ষ্যে তালেবান নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানান, তালেবান কী বলছে, আর কী করছে, তার দিকে নজর রাখবে ওয়াশিংটন। তালেবানকে বিশ্বাস করেন কি করেন না-রোববার হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, তিনি কাউকেই বিশ্বাস করেন না। এমনকি প্রশ্নকারীকেও নয়। বাইডেন বলেন, তালেবানকে একটি মৌলিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা কি আফগান জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়? তাই যদি হয়, তাহলে তাদের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে সার্বিক সহায়তা দরকার হবে। তালেবান যা বলছে, তা করছে কি না, তা দেখা হবে। আফগানিস্তান তালেবানের দখলে যাওয়ার পর সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এখন পর্যন্ত সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানান বাইডেন। আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সহায়তাকারী আফগান নাগরিকদেরও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরটি বর্তমানে মার্কিন সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৪ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ব্যক্তিকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। | 3 |
মেহেরপুরে জেনারেল হাসপাতালে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ১০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর প্রদান করেছে ঢাকাস্থ মেহেরপুর জেলা সমিতি। বৃহস্পতিবার দুপুরে জুমের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের হলরুমে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর ফরহাদ হোসেনের পক্ষে কনসেনট্রেটর গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খাঁন। এ সময় ঢাকাস্থ মেহেরপুর জেলা সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. আতিয়ার রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহাবুব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার মো. রাফিউল আলম, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. পল্লভ ভট্টাচার্য, মেহেরপুর জেলা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী এ.এল.এম জিয়াউল হক, সহ-সভাপতি প্রকৌশলী একরামুল হক, সহ-সভাপতি অ্যাড মো. শাহাবুদ্দিন, অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী মো. শহীদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম কুদরত-ই খুদা, জহিরুল ইসলাম, অ্যাড. ইমানুর রহমান প্রমুখ। | 6 |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর আদালতে তার একটি মামলার হাজিরা রয়েছে। কারা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গত সপ্তাহেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এরপর বিষয়টি গোপনই রাখা হয়। তবে বৃহস্পতিবারের হাজিরা উপলক্ষে আগের দিন বুধবার থেকেই আদালতে নিরাপত্তা জোরদার করা হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ ব্যাপারে মোবাইলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে কারা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই মাওলানা সাঈদীকে রাজশাহীতে আনা হয়েছে। কিন্তু কোন থানার কী মামলায় তাকে রাজশাহীর আদালতে হাজির করা হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সূত্রটি জানাতে পারেনি। অপর একটি সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মামলায় জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরও অভিযুক্ত করা হয়। এই মামলাতেই বৃহস্পতিবার রাজশাহীর আদালতে মাওলানা সাঈদীর হাজিরা দেয়ার কথা রয়েছে। | 9 |
পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় তারুণ্যের অহংকার। সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি সজীব ওয়াজেদ জয়। বাংলাদেশের এমন একজন তরুণ আইকন, যিনি বদলে দিয়েছেন দেশের বেকার যুবকদের ভাগ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথে দুর্বার গতিতে আমাদের ছুটে চলা যার হাত ধরে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি একজন স্বপ্নচারী মানুষ। তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেনই না, বাস্তবায়ন করেন। স্বপ্নাতুর এই মানুষটির জন্মদিনে শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন। আজ মঙ্গলবার সকালে নড়িয়া ও সখিপুর থানা যুবলীগ আয়োজিত জাতির পিতার দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। পানি সম্পদ উপমন্ত্রী শামীম বলেন, বেকারত্ব ছিল বাংলাদেশের তরুণদের জন্য অভিশাপ। সেই অভিশপ্ত জনশক্তিই এখন বাংলাদেশের সম্পদ। এখন তরুণ প্রজন্ম চাইলে নিজেকে চাকরির বাজারে না নিয়েই ঘরে বসে টাকা উপার্জন করতে পারে। হতে পারে উদ্যোক্তা। এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হচ্ছে সুলভ মূল্যে বেশি গতির ইন্টারনেট। সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে এবং দিকনির্দেশনায় কমতে থাকে বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য। করোনাকালে অনেক তরুণ আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে আয় করছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল শামীম বলেন, করোনা মহামারি গৃহবন্দী করেছে বিশ্বের মানুষকে। এ সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক যোগাযোগের সব দরজা। কিন্তু আইসিটির জানালা রয়েছে খোলা। এ খোলা জানালা দিয়েই আমরা ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে সামাজিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিংসহ সব খাতে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। ঘরে বসেই জীবনযাপনের সব উপাদান সচল রেখেছি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অব্যাহত উন্নতির কল্যাণে। এটাই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। এটাই দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারিশমা। আর এ আইসিটি সক্ষমতার রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়। তাঁর দক্ষ একদল সহকর্মী কোটি কোটি মানুষের জীবনে স্বস্তি এনে দিতে, জীবনকে সহজতর করতে শেখ হাসিনার হাতকে করছেন শক্তিশালী। জয়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শামীম বলেন, আপনারা নড়িয়াতে আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। আমি ঢাকায় আছি। আপনাদের সঙ্গে মিটিংয়ে যুক্ত হতে পেরেছি সজীব ওয়াজেদ জয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণেই। তারুণ্যের অহংকার জাতির পিতার দৌহিত্রের ৫১তম জন্মদিন উপলক্ষে আমি ডিজিটাল বাংলাদেশের নেপথ্য নায়ক, নিঃশব্দে ঘটে যাওয়া আইসিটি বিপ্লবের স্থপতি, বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সুযোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক কর্ম বীর, কোটি তরুণের স্বপ্নসারথি সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তার পরিবারের সব সদস্যকে জানাচ্ছি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। কামনা করছি দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য। এসময় নড়িয়া ও সখিপুরে যুবলীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাসির উদ্দিন, উজ্জল মালত, খালেক খালাসী, রাসেল আহমেদ পলাশ প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 9 |
আসামের মানুষ। আসামের লোকজগানগুলো খুব প্রিয় ছিল তাঁর। আসামেই পড়াশোনা, এরপর বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি।গান তো ছিল প্রাণেই। তবে মোহিত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে পল রোবসনের কথা শুনে। আর তাঁকে দেখার পর একেবারে তাঁর ভক্ত হয়ে যান ভূপেন। রোবসন রাষ্ট্রযন্ত্রের চোখের শূল ছিলেন। হলিউড থেকেও তাঁকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। স্টেজ শো পেলে সেগুলো যেন না হতে পারে, তার সব ধরনের চেষ্টা করেছে সরকার। রেকর্ডিং কোম্পানিগুলো বলেছে, 'সরি, তোমার গান রেকর্ড করতে পারব না।' এ রকম নাজেহাল অবস্থায় তিনি এসেছিলেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে শোনান তাঁর 'ওল' ম্যান রিভার, হি ডোন্ট সে নাথিন' গানটি। এই গানের সুরের ওপরই ভূপেন বসিয়েছিলেন তাঁর অসাধারণ 'বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও...' গানটির শব্দগুলো।পল রোবসন ছাড়া পিট সিগারেরও অনুরক্ত ছিলেন ভূপেন। বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন ভূপেন। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে দাঙ্গাবিধ্বস্ত আসামে বিপ্লবী সংস্কৃতি সংগঠকদের সঙ্গে সারা আসাম ঘুরে গান করেছেন, দাঙ্গাবিরোধী গান করে দাঙ্গা থামিয়েছেন। এ ছাড়া প্রগতিশীল সংস্কৃতিসেবী জ্যোতিপ্রসাদ আগারওয়াল, আব্বাসউদ্দীন, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় প্রমুখের ছিলেন সহযাত্রী। জীবনের শেষ প্রান্তে বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়েছিলেন। পরে ভুলটাও স্বীকার করেছিলেন। তিনি মূলত মানবতাবাদী একজন শিল্পী হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন। 'জীবনতৃষ্ণা' ছবিতে ভূপেন একটি অসমিয়া ছবির বিখ্যাত গান 'সাগর সঙ্গমে কত না হাতিরুনু' গানটি ব্যবহার করেছিলেন। বাংলায় 'সাগর সঙ্গমে সাঁতার কেটেছি কত' গানটি লিখেছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিতে দেখা গিয়েছিল গানটি গাইছেন উত্তমকুমার। গানটি গেয়েছিলেন ভূপেন হাজারিকা। ওটাই ছিল অসমিয়া থেকে বাংলায় রূপান্তরিত প্রথম গান।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গেয়েছিলেন 'জয় জয় নবজাত বাংলাদেশ,/ জয় জয় মুক্তিবাহিনী/ ভারতীয় সৈন্যের সাথে রচিলে/ মৈত্রীর কাহিনি।' ২০১১ সালের ৫ নভেম্বরতিনি মারা যান।সূত্র: জাহীদ রেজা নূর, ভূপেন হাজারিকার অজানা ১০ | 2 |
'বয়স তখন ১৩। পড়া-লেখার সুযোগ পায়নি। দরিদ্র পরিবারের রুজির (আয়) জন্য বাবার পেশা কামারের কাজে লেগে পড়ি। কিন্তু তেমন আয় না থাকলেও ৬২ বছর বয়সেও আছি বাবার পেশায়।' এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভূজা গ্রামের মো. রবিউল ইসলাম।পেশায় রবিউল একজন কামার। কিশোর বয়সে কামারের পেশায় নিয়োজিত হয়ে অর্ধ-শতক পার করেছেন। এই বয়সে এসেও এখনো সেই বাপ-দাদার পেশাতেই আছেন। পেশায় কামার হলেও ছন্দ কবিতা বলায় ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন ধরনের মানুষ তাঁকে চেনেন। উপজেলার মানুষের কাছে ছন্দ কবি নামেও পরিচিত তিনি। ছন্দে ছন্দে কবিতার মধ্য দিয়ে সারাটা দিন পার হয় তাঁর। বর্তমানে ভোলাহাট মেডিকেল মোড় ফায়ার সার্ভিসের পাশে কামারের কাজ করে সামান্য আয় দিয়ে তাঁর সংসার চলছে।রবিউল বলছিলেন, 'বাপ-দাদার কামারের পেশায় কাজ করতে করতে মাজা নুয়ে গেছে। হাতুড়ি দিয়ে আগুনে পোড়ানো লাল শক্ত লোহা পিটিয়ে চলতে চলতে হাঁপিয়ে উঠেছি। তবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে একমাত্র ছেলেকে রাজশাহীতে রেখে বাংলাদেশ পলিটেকনিকে ইলেক্ট্রনিক্সে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করিয়েছি। এ ছাড়া দুই মেয়েকে এসএসসি পাশ করিয়ে বিয়ে দিয়েছি। নিজে আলোর মুখ দেখতে না পেলেও তিনটি সন্তানকে কিছুটা হলেও সাধ্যমতো পড়িয়েছি।'কান্না জড়িত কণ্ঠে রবিউল বলছিলেন, গেল মহামারি করোনায় কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হয়েছে। সেই ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। নিজের অসচ্ছলতার কথা কাউকে সম্মানের ভয়ে বলতে পারি না। সরকার বিভিন্ন মানুষকে করোনার সময় সহযোগিতা করেছে। কিন্তু আমার ভাগ্যে কানা-কড়িও জোটেনি। শুনেছি কামারদের জন্য সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি কোনো সহযোগিতা পায়নি।স্থানীয় বাসিন্দা আলি হায়দার বলেন, তিনি ছন্দে ছন্দে বাস্তব পরিস্থিতির ওপর কবিতা তৈরি করে মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। এলাকায় কামারের চেয়ে ছন্দ কবি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত রয়েছে তাঁর।স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. রৌশন বলেন, তিনি একজন ভালো মানুষ। তাঁকে ভোলাহাটের সবাই ভালোবাসেন। তাঁর আর্থিক অবস্থা ভালো না হলেও চলাফেরা শিক্ষিত মানুষের মত। তাঁকে সরকারিভাবে-বেসরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা করা উচিত। | 6 |
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে হটিয়ে ধনী ব্যক্তিদের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন ফ্রান্সের ফ্যাশন টাইকুন বার্নার্ড আর্নল্ট। সোমবার সকালে শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য আর্নল্টের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার। এ সময় দ্বিতীয় স্থানে থাকা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। ইউরোপের বিলাস পণ্য প্রস্তুত কোম্পানি এলভিএমএইচ গ্রুপের মালিক ফ্রান্সের ফ্যাশন টাইকুন বার্নার্ড আর্নল্ট। বিশ্বের শীর্ষ ব্র্যান্ড লুইস ভিট্টন, মোয়েট, হেননেসে, ফেন্ডি, ক্রিস্টিয়ান ডায়র ও গিভেনচি তারই কোম্পানি। করোনাভাইরাসের মহামারি সত্ত্বেও আর্নল্টের সম্পদের পরিমাণ গত বছর মার্চ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
পাইকগাছায় ডাকাতি মামলার ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের নিকট থেকে ডাকাতি হওয়া লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।উল্লেখ্য গত বুধবার রাতে উপজেলা রাড়ুলী গ্রামের আবুল হোসেন শেখের বাড়িতে রাত ১ টার দিকে বাড়ির সবাইকে বেঁধে দেশীয় অস্ত্রের মুখে দুর্বৃত্তরা ডাকাতি করে। বাড়ির আলমারি ভেঙে রক্ষিত নগদ ৫৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, ও মোবাইলসহ ৪ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে চলে যায়। এ সময় বাড়ির লোকজন একজনকে চিনে ফেলে।এ ঘটনায় বাড়ির মালিক শেখ আবুল হোসেন বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ৬ জনকে আসামি করে ডাকাতি মামলা করেন। সহকরী পুলিশ সুপার (ডি সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম, ও থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি রাড়ুলী গ্রামের আকবর শেখের ছেলে সিদ্দিক শেখকে গত বুধবার দুপুরে আটক করে।তাঁর দেওয়া তথ্যে গত বৃহস্পতিবার রাড়ুলী গ্রামের আবুল সরদারের ছেলে সামাদ সরদার, রাড়ুলী গ্রামের মৃত রহমত গাজীর ছেলে খুদু (৬০), চাঁদখালী ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামের হায়দার সরদারের ছেলে কালাম সরদার(৪০) একই এলাকার পচা সরদারের ছেলে মন্টু সরদার গ্রেপ্তার করা হয়।মামলার তদন্তকরী কর্মকর্তা পুলিশ উপপরিদর্শক তাকবির হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত টাকা, গয়না ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, 'ডাকাতি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের গতকাল শুক্রবার পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তাঁরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।'তিনি আরও জানান, পাইকগাছা থানার সিডি এম এস যাচাই করে দেখা গেছে তাঁদের প্রত্যেকের নামে থানায় চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। | 6 |
বিশ্বের উন্নত, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে। প্রতিবার এই দিবস পালিত হয় হতাশা, আশা-নিরাশা কিংবা সফলতা ও ব্যর্থতার চুলচেরা বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে এবং সেই সঙ্গে প্রত্যাশার দাবি তোলে। মানবাধিকারকর্মী বলে একধরনের পেশাশ্রেণি সক্রিয় থাকছে বছরজুড়ে। মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে মানবাধিকার সংস্থা প্রতিবেদন উপস্থাপন করছে, তা-ও নিয়ম করে। মানবাধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীলদের কেউ কেউ ওসব মেনে নিচ্ছেন, কেউবা মানছেন না। কানেও দিচ্ছেন না। যা হোক, এসবের মধ্য দিয়েই মানবাধিকার ভোগের ঘটনার চেয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাই বাড়ছে দিন দিন এবং তা বিশ্বজুড়ে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং কমছে তা কোনোভাবেই বলা যাবে না। মানবাধিকার রক্ষায় আইন প্রণয়ন হলেও তার বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ তেমনভাবে হতে দেখা যায় না। আবার মানবাধিকার বিষয়টি সংবিধানেই শুধু লিপিবদ্ধ রয়েছে। সম্প্রতি দুর্গাপূজায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংস হামলা, খুব দ্রুত এই ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ও তাদের ঘরবাড়ি, আসবাব, সম্পদ পুড়িয়ে ফেলা ইত্যাদি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ততা তাদের মানবাধিকার সুরক্ষিত হওয়ার কথা বলে না। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, সক্রিয়তা, ব্যতিব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ই নয়, বৌদ্ধ, সাঁওতাল, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধ্বংসাত্মক আচরণ ও মনোভাব দৃশ্যমান হয়।যা হোক, প্রত্যেক মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্ব মানবাধিকার সনদ ঘোষিত হয়েছিল। এই সনদে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছিল। এত বছর পরও মানবাধিকার ভোগের সন্তোষজনক চিত্র নেই কোথাও। উন্নত দেশগুলোয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়েছে বটে, সেই সুবাদে জীবনযাত্রায় আধুনিকতা, আভিজাত্যের ছাপ পড়েছে তা-ও সত্য, কিন্তু মানবাধিকারের বিষয়টি কতটা সুরক্ষিত হয়েছে বা হচ্ছে, সেই আলোকসজ্জিত উন্নয়নে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে উন্নত দেশগুলোয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলমান, যেটা অনুমান করা যায় তাদের জীবনযাপনের সহজ ব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে।আভিধানিক অর্থে একটি রাষ্ট্রে ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ব্যক্তির মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যে সমাজব্যবস্থা আবার রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে 'সুশাসন' দ্বারা নিশ্চিত হতে হয়। সুতরাং সুশাসন ছাড়া জনগণের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না, হয়ওনি। হওয়ার কথাও নয়। সুশাসন একক কোনো চর্চা, প্রত্যয় বা চেতনা নয়। সুশাসনে দুটো পক্ষ থাকে। একটি হলো সরকার অর্থাৎ শাসক এবং অপরটি হলো জনগণ অর্থাৎ শাসিত। সুশাসনের জন্য শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকতে হয়। থাকতে হয় পারস্পরিক স্বচ্ছতা ও সমন্বয় এবং জবাবদিহি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার গঠন হয় জনগণের ভোটে। ভোটের মাধ্যমে নাগরিক সরকারকে ক্ষমতা প্রদান করেন তাঁদের অধিকার ও নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। সেই অর্থে সরকার জনগণ দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত একটি সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সেই দৃষ্টিকোণে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি থাকার কথা জনগণের কাছে। অথচ চর্চা অন্য রকম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকার জনগণের কাছ থেকে জবাব নেয়, দেয় না। ফলে সরকার ও জনগণের ভেতর দূরত্ব এবং মালিক-ভৃত্যের সম্পর্ক রচিত হয়। সরকারের ভেতর কারও কারও মাঝে রাষ্ট্রের মালিকানা বোধ জন্মে। জনগণ তখন হয়ে পড়ে দাস এবং তার ভেতর একধরনের দাসত্ববোধ জন্মে। জনগণ রাষ্ট্রে তার অবস্থান, ভূমিকা ও ক্ষমতা সম্পর্কে হয়ে পড়ে অসচেতন, কিছু ক্ষেত্রে উদাসীন। এই সুযোগে সমাজে একটা শ্রেণি গড়ে ওঠে, যারা জনগণকে সঠিক পথে পরিচালিত হতে বাধা দেয় এবং নিজস্বার্থ উদ্ধার করতে তৎপর থাকে। এতে জনগণ নিজ অধিকার সম্পর্কে ততটা সচেতন হয়ে উঠতে পারে না। এমন নাগরিকও আছেন, যাঁরা জানেন না, জানতেও পারেন না যে রাষ্ট্রে তাঁদের জন্য কী কী সামাজিক ও আইনি অধিকার আছে। ভাগ্য বা নিয়তির কারণে তাঁরা অসহায়, এটাই তাঁদের বিশ্বাসে পরিণত হয়। ফলে অধিকার বঞ্চনার কথা তাঁদের মাথায় ঢোকে না, আসে না।আগেই বলেছি, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কিংবা প্রতিবছর অতি ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধিও কিন্তু সেই দেশের মানবাধিকারের বিষয়কে সুনিশ্চিত করে না। সরকারপ্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, উঠছে না। অন্যের ন্যায্যতা, অধিকার লঙ্ঘন করে দুর্নীতিবাজেরা প্রভাব খাটায়, লাভবান হয় এবং নিজেরাই বহু ধরনের অধিকারপ্রাপ্ত হয়। রাজনৈতিক সংগঠন থেকে শুরু করে প্রশাসন, মন্ত্রণালয়, শিক্ষাঙ্গন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচারব্যবস্থায় সর্বত্র দুর্নীতি হয় অন্যের ন্যায্যতা ও অধিকার হরণ করে। দুর্নীতি এমন এক অপকর্ম, যাতে করে আইন ও সংবিধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ব্যক্তির প্রাপ্যতা বিনষ্ট হয়। সাধারণ মানুষ অধিকারহীন হয়ে পড়েন। এমন দৃষ্টান্ত আছে যে ব্যক্তির আইনি অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্বে থেকে আইন ও সংবিধানবিরোধী কাজ করেছেন কোনো কোনো বিচারক, প্রশাসক। এ ধরনের ধৃষ্টতা ও দুঃসাহস তাঁদের মাথার ওপর কারও না থাকার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে। এ ধরনের আচরণ দ্বারা রাষ্ট্রে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার কথা ভাবা কিংবা বলা রীতিমতো যুক্তিহীন কি না, ভাবতে হবে।আবার সমাজের প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের পকেটে মানবাধিকার ভোগের যাবতীয় সুবিধা থাকে বলে অনেকেই মনে করেন। অর্থ ও প্রভাব হলো এই ভোগের অন্যতম অবলম্বন। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সব ধরনের সেবা ভোগে তাঁরাই শীর্ষে থাকেন। বৈষম্যের শিকার জিনিসটা কী, তা তাঁরা জানেন না। জানতে হয় না। ফলে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রাষ্ট্রে তাঁর ভোগ করার কী কী আছে, তা যেমন সহজেই বুঝে নেন, একজন সাধারণ দরিদ্র মানুষ তা জানতে পারেন না কিংবা জানার আগ্রহবোধ করেন না। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের কর্তব্য হলো প্রত্যেক নাগরিককে তাঁর অধিকার সম্পর্কে অবগত করা, সচেতন করা। এতে নাগরিক যেমন তাঁর অধিকার জেনে সচেতন হয়ে অধিকার ভোগ করতে উদ্বুদ্ধ হবেন, তেমনি যিনি বা যাঁরা এই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকবেন, তাঁরাও সক্রিয় থাকবেন, দায়বদ্ধ থাকবেন। এ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে সরকারের প্রতিটি বিভাগে যোগ্য মনিটরিং থাকা দরকার। দুঃখ করে বলতে হয়, অবকাঠামোগত স্থাপনার গুণগত মান যাচাই করার জন্য বিভিন্ন স্তরে লোকবল, কর্মকৌশল থাকলেও জনগণের মানবাধিকার ভোগের গুণগত মান, অবস্থা কিংবা পরিস্থিতি দেখার লোকবল ও পরিকল্পনা নেই, প্রয়োজনবোধও নেই।সংবিধান ও আইনের কোথায় কোথায় এবং কীভাবে নাগরিকের অধিকার সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে, তার ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন বিভাগকে তা বাস্তবায়নে দায়বদ্ধ করে তুলতে হবে। নতুবা মানবাধিকার কথাটি বক্তৃতা ও কাগজ-কলমেই রয়ে যাবে।স্বপ্না রেজা: কথাসাহিত্যিক। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনী সহিংসতা সব নির্বাচনেই হয়। কোন নির্বাচনে সহিংসতা হয়নি বলেন। তবে আমরা এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি চাই না। বুধবার (১৭ নভেম্বর) যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে তার সদ্য সমাপ্ত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে কি হয়নি? নারীরা ধর্ষণ পর্যন্ত হয়েছে। কত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আপনি লন্ডনে দেখেন পকেটে হাত ঢুকিয়ে হাটলেই মেরে ফেলে। আমার বোনের মেয়ে এতো বছরের এমপি হয়েও হামলার স্বীকার হলো আপনারা জানেন। আমি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। তবুও আমরা এমন সহিংসতা চাই না। প্রাণহানি চাই না। প্রধানমন্ত্রী ৩১ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিসে সরকারি সফরকালে কপ২৬-এ বিশ্ব নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন ২০২১, ইউনেস্কো সদর দপ্তরে সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ইউনেস্কোর ৪১তম সাধারণ সম্মেলন, প্যারিস শান্তি ফোরাম, ইউনেস্কোর ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী ১৪ নভেম্বর দেশে ফিরেন। | 6 |
বলিউড 'আইটেম গার্ল রাখি' সাওয়ান্ত। এছাড়া বলিউডের বিতর্কের রাণীও বলা হয় তাকে। এবার ভক্তকে বিয়ে করে আবারও আলোচনায় এলেন তিনি। জিনিউজ জানায়, গত ২৮ জুলাই মুম্বাইয়ের একটি পাঁচতারকা হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ওই ভক্তকে বিয়ে করেন রাখি সাওয়ান্ত। নাম রীতেশ। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। ক্ষুদেবার্তা চালাচালি করতে গিয়েই ব্যবসায়ী রীতেশের সঙ্গে পরিচয় এরপর প্রেমের সম্পর্কও চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে বলে জানান তিনি। রীতেশের সঙ্গে কীভাবে পরিচয় এর জবাবে রাখি বললেন, 'প্রতিদিন ভক্তদের কাছ থেকে প্রচুর মেসেজ পাই। সব সময় তা পড়া হয় না। একদিন মনটা ভালো ছিল না। তখন একটা মেসেজ আমাকে অবাক করে। একজন লিখেছেন, "আপনার মন খারাপ? আমি লিখলাম, কীভাবে বুঝলেন? তিনি লিখলেন, "আমি আপনার ভক্ত। অনেক দিন থেকে আপনাকে ফলো করছি। তাই অনেক কিছু বুঝতে পারি।' সত্যি বলতে, আমি সেদিন ওর প্রেমে পড়ে যাই। মনে মনে স্থির করি, ওকেই বিয়ে করব।' এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ হারানোর ভয়ে বিয়ের খবরটি লুকাতে চেয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, 'ইন্ডাস্ট্রিতে আগে আমি দেখেছি, বিয়ের পরে মেয়েরা কাজ পায় না। দীপিকা বা প্রিয়াঙ্কার মতো বড় তারকাদের কোনো সমস্যা হয় না। ওরা কাজ পাবেই। কিন্তু আমি আইটেম ডান্সার। আমার ক্ষেত্রে ভিন্ন। কিন্তু এখন আমি আর সেসব নিয়ে ভাবছি না। আমি খুব সুখী।' তবে বিয়ের খবর দিলেও তাদের বিয়ের কোনো ছবি প্রকাশ করেননি তিনি। রাখি সাওয়ান্ত আরও বলেন, 'রীতেশ এখনই মিডিয়ার সামনে আসতে চান না। ২০২০ সালে আমি মা হতে চাই। রীতেশ কথা দিয়েছেন, তখন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একসঙ্গে ফোটোশুট করব।' এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে দীপক কালালকে বিয়ে করতে গিয়ে বলিউডে শোরগোল ফেলে দেন রাখি। | 2 |
দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে কেন বিনিয়োগ করবেন, তারও একটা ধারণা দিয়েছেন মন্ত্রীরা। আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সপ্তাহব্যাপী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা জানান, এখানে বিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন জানান, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন। কৃষি খাত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অর্জন অভাবনীয়। সারা দেশে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন দৃশ্যমান। সারা দেশে সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে, ২৮টি হাইটেক পার্ক হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিরাজমান। তিনি বলেন, এখানে বিনিয়োগ করবেন, আপনি বিজয়ী হবেন। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, গত এক দশকে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। মাথাপিছু জাতীয় আয় ২ হাজার ২০০ ডলারের বেশি। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হচ্ছে। করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে ৫ শতাংশের ওপরে। এসব চিত্র তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে যেখানে সংস্কার দরকার, সরকার সেসব জায়গায় সংস্কার করেছে। আগের চেয়ে দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি। অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে।ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান জানান, অর্থনীতির প্রাণ হলো বেসরকারি খাত। করোনার মধ্যেও বাংলাদেশে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বেসরকারি খাতের অবদানে। রিজওয়ান রাহমান জানান, বিনিয়োগ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশের ৫০০ প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। | 0 |
ভোরের সূর্যটা এখনো পুব আকাশে উঁকি দেয়নি। বেশির ভাগ পেশার মানুষ এখনো বিছানায়। কেউ কেউ হয়তো বা ঘুম থেকে উঠে নিজ নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু ভোরের লাল সূর্য পূর্ব আকাশে উঁকি দেওয়ার আগে নিজের জমিতে পানি সেচ দিতে শুরু করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের কৃষকেরা। তবে আধুনিক সেচযন্ত্র দিয়ে নয়, সেচ দিচ্ছেন সনাতন পদ্ধতিতে।ইদানীং যেখানে সব ক্ষেত্রে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। সেখানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ব্যবহার হচ্ছে মান্ধাতা আমলের দোন বা দোংগার ব্যবহার। তবে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নে এটি ব্যবহৃত হয়। এলাকাভেদে এটিকে ভিন্ন ভিন্ন নামে চেনেন কৃষকেরা।কাওরাইদ ইউনিয়নে নান্দিয়া সাঙ্গুন, ধামলই, সোনাব, নয়াপাড়া আর গলদাপাড়া গ্রামের কৃষকেরা বেশি ব্যবহার করেন দোন বা দোংগা। বেশ কয়েক জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষকদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু কৃষক এখন সেচ দিতে দোন ব্যবহার করছেন। দোন দিয়ে সেচ পদ্ধতিতে কোনো ধরনের খরচ নেই বলে জানান তাঁরা। কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়ার পরও খাল ও নালা খনন, বাঁধ নির্মাণ, সংরক্ষিত জলাধার থেকে এখনো দোন দিয়ে পানি ওঠানোর কাজ করেন।দোন দিয়ে ফসলের খেতে পানি ওঠানোর সময় কথা হয় কাওরাইদ ইউনিয়নের সোনাব গ্রামের সফি উদ্দিনের ছেলে কৃষক মো. কবির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও কিছু কিছু জমিতে এখনো দোনের ব্যবহার চলছে। দোন দিয়ে পানি সেচ দেওয়া সহজ।'কবির বলেন, 'এতে খরচ নাই বললেই চলে। একবার একটি দোন কিনে নিতে পারলে অনায়াসে চলে চার বছর। দোনের ব্যবহার বর্তমান কৃষিতে নেই বললেই চলে। তবু কিছু কিছু এলাকার কৃষকেরা দোন ব্যবহার করেন নিজেদের খেতে সেচ দেওয়ার জন্য।'অনেকটা ঐতিহ্য ধরে রাখতেও দোনের ব্যবহার করেন বলে জানান কৃষক মো. কবির হোসেন। তিনি বলেন, 'বাবা সব সময় কৃষি জমিতে দোন দিয়ে সেচ দিতেন। এর ধারাবাহিকতা আমিও বেশ কিছু জমিতে দোনের মাধ্যমে পানি সেচ দিই। সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে দোন দিয়ে পানি তোলা শুরু করেছি। দুই বিঘা জমিতে সেচ দিতে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।'কবির আরও জানান, পার্শ্ববর্তী বরমী বাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে একটি দোন কিনে এনেছেন। এরপর বাঁশ দিয়ে পানির ওঠানোর ব্যবস্থা করেছেন।দোন দিয়ে পানি ওঠানো একই ইউনিয়নের ধামলই গ্রামের কৃষক মো. সুলতান মিয়া বলেন, কিছু কিছু জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে পানি সেচের সুযোগ নেই। আর দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও তা অনেকটা ব্যয়বহুল। এ জন্য বাধ্য হয়ে দোন দিয়ে পানি উঠান।কবির হোসেন আরও জানান, নদীর তীর, খালপাড়ের জমিতে দোন দিয়ে সেচ দেওয়া যায়। এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এস এস এম মুহিদুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি সেচে দোন ব্যবহার হয়ে থাকে। উপজেলার বেশির ভাগ কৃষি জমিতে আধুনিক সেচ পদ্ধতির ব্যবস্থা রয়েছে। | 6 |
ভারতের উপকূলে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে রাজধানীসহ সারাদেশেই বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার যার প্রমাণ পেয়েছেন নগরবাসী। সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। কখনও তা মুষলধারায় রূপ নেয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। ঈদের আগে শেষ কর্ম দিবসে নগরবাসীর ভোগান্তিও ছিল অসহনীয়। যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি, সেখানে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় রাজপথ। দুর্ভোগে ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ। আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, মৌসুমি নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হওয়া পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে বর্ষা ঋতুতে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকে, অন্যদিকে এই নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা বাড়ে। এ কারণে সাগরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভারতের ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে দেশটির ঝাড়খণ্ডের আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত আছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বলা হয়েছে- ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়া ও সেই সঙ্গে বজ্রসহ ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর অনেক এলাকাতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক সড়কে পানি জমে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে। মেট্রোরেল প্রকল্প এলাকা কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টাখানেক লাগে। সেই সুযোগে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। রাইড শেয়ার কোম্পানি উবারও বৃষ্টির সময়ে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। শাহবাগ থেকে মিরপুর হয়ে পল্লবী পর্যন্ত সড়কে বৃষ্টির পানিতে নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়। মেট্রোরেলের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে পানি নিস্কাশনের মাধ্যমগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে পানিতে রাস্তা তলিয়ে যায়। এদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ওই তিনটি এলাকা ছাড়াও হাতিরপুল, মগবাজার, মালিবাগ-মৌচাক, নয়াপল্টন, শেওড়াপাড়া, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে। রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া থেকে মিরপুর ১০ নম্বর পর্যন্ত প্রধান সড়কও পানিতে সয়লাব। সচিবালয়ের সামনের রাস্তায়ও পানি জমে গেছে। এছাড়া নিচু এলাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অনেক এলাকার পানির সঙ্গে স্যুয়ারেজের লাইনের বর্জ্য যুক্ত হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মুষলধারায় বৃষ্টির পরপরই রাজধানীর জিগাতলা, ট্যানারি মোড়, শনিরআখড়া, রায়েরবাগ, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, মানিক মিয়া এভিনিউ, কাকরাইল, বাড্ডা, কুড়িল, ভাটারা, আজিমপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, বংশাল, লালবাগ, কমলাপুর, বাসাবো, মুগদাপাড়া, জুরাইনসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার দৃশ্য অহরহই চোখে পড়ে। পানির কারণে সিএনজিচালিত অনেক অটোরিকশা, প্রাইভেটকার রাস্তার মাঝে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওইসব সড়কে তীব্র যানজট লেগে যায়। অনেক স্থানে ম্যানহোলে চাকা ঢুকে রিকশা উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। কাঁচাবাজারগুলোয় উৎকট পরিবেশ তৈরি হয়। ঢাকা ওয়াসা জানায়, প্রতি ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার কথা নয়। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত বর্ষণ হলেই জলজট তৈরি হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার কিছু এলাকায় জলজট সৃষ্টি হলেও পরক্ষণেই তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেলের লোকজন সকাল থেকেই মাঠে ছিল। | 6 |
ভ্যালেরিয়া মাকসেতস্কা, জীবন বাঁচানোর জন্য সবাই যখন দেশ ছাড়ছে, তখনো এক বুক আশা নিয়ে থেকে গেছেন যুদ্ধকবলিত কিয়েভে। পরিবার নিয়ে নিরাপদে দেশ ছাড়ার সুযোগ পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন সেই প্রস্তাব। ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলায় হতাহতদের সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন এই মানবাধিকারকর্মী। কিন্তু মায়ের জন্য ওষুধ আনতে গিয়ে রুশ সেনাদের ট্যাংক থেকে ছোড়া গোলায় প্রাণ গেল ভ্যালেরিয়ার। একই সঙ্গে নিহত হয়েছেন তাঁর মা ও তাঁদের গাড়ির চালক।এনডিটিভি, ডেইলি মেইল, দ্য স্কটিশ সানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মর্মস্পর্শী এ ঘটনার খবর প্রকাশ পেয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কিয়েভের কাছের একটি শহরে রাস্তায় হন্যে হয়ে অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ খুঁজছিলেন মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএস এইডের সহযোগী একটি সংস্থার কর্মী ভ্যালেরিয়া মাকসেতস্কা। এ সময় শহরটি থেকে কিয়েভের পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল রুশ সেনাদের একটি গাড়িবহর। ভ্যালেরিয়াকে বহনকারী গাড়িটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় রাশিয়ার সেনারা। ট্যাংক থেকে ছোড়া গোলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ভ্যালেরিয়া, তাঁর মা ইরিনা এবং তাঁদের গাড়ির চালক ইয়ারোস্লাভ। মর্মান্তিক এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন ইউএস এইডের প্রশাসক সামান্থা পাওয়ার। তিনি বলেন, নিজের ৩২তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন আগেই রুশ সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ হারালেন ভ্যালেরিয়া। সামান্থা আরও বলেন, এর আগে একবার দোনেৎস্কে গোলাগুলি থেকে বেঁচে যান ভ্যালেরিয়া। এরপর তিনি চলে আসেন রাজধানী কিয়েভে এবং কাজ শুরু করেন ইউএস এইডের সঙ্গে। তিনি 'হৃদয়বান এক সাহসী নারী' হিসেবে পরিচিত ছিলেন।ভ্যালেরিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইউক্রেনের দোনেৎস্ক শহরে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়ান উপদ্বীপে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে একটি মানবাধিকার সংগঠনে কাজ করছিলেন ভ্যালেরিয়া। | 3 |
লিগ ওয়ানে রবিবার লেন্সের বিপক্ষে লিগের ৩৫তম ম্যাচ খেলেছে পিএসজি। দুই ব্রাজিলিয়ানের গোলে সফরকারী লেন্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। প্রথমার্ধে নেইমার জুনিয়রের গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে লক্ষ্যাভেদ করেছেন দলপতি মার্কুইনহোসও। লেন্সের গোলটি ইগনাতিয়াস গানাগোর। এ নিয়ে লিগে টানা চার ম্যাচে জিতল ফরাসি জায়ান্টরা। পার্ক দেস প্রিন্সেসে শক্তিশালী একাদশ নিয়ে মাঠে নামলেও পিএসজি দলে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেই দল ঘোষণা করেন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো। নিজেদের মাঠে ৩৩তম মিনিটের সময় দলের বড় তারকা নেইমার জুনিয়র স্বাগতিকদের লিড এনে দেন। হুলিয়ান ড্রাক্সলারের পাস থেকে বল পেয়ে এই গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে সেই নেইমারই অবদান রাখেন পিএসজির দ্বিতীয় গোলে। তবে এবার লক্ষ্যভেদ করেন অধিনায়ক মার্কুইনহোসে। পিএসজির গোলের দুই মিনিট পর ব্যবধান কমান লেন্সের ইগনাতিয়াস গানাগো। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ই নিশ্চিত হয় নেইমারদের । এ জয়ের ফলে ৩৫ ম্যাচে ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে পিএসজি। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চমস্থানে রয়েছে লেন্স। পিএসজির চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে রয়েছে লিলে। | 12 |
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণভবনে দলীয় প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রার্থীর সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন সরকার প্রধান। অথচ এরকম একটি রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ও সরকারি অর্থায়নে সম্পূর্ণরূপে নিয়মবহির্ভূত দলীয় কার্যক্রমের বিষয়ে নিশ্চুপ নির্বাচন কমিশন। এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার টু-শব্দটিও করেন না। গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নির্বাচনী আচরণবিধির ১৪ (২) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর অস্ত্র জমা দেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো নির্দেশনা দেয়নি নির্বাচন কমিশন। বিগত দশ বছরে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের হাতে প্রচুর পরিমাণ বৈধ-অবৈধ অস্ত্র দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বৈধ অস্ত্র জমাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি হলেও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এতে প্রমাণিত হয় নির্বাচন কমিশন বিশেষ দলের পক্ষেই নির্বাচনী মাঠ সমতল করছে। তিনি বলেন, 'কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সহিংসতা ও নাশকতা করা হয়েছে। প্রথমেই পুলিশ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মিছিলে গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত করে। এই গাড়িচাপায় অন্তত ২০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ কীভাবে জনগণের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেয় সেটি নির্বাচন কমিশনের নিকট জানতে চাই।' বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট জোটের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন জিজ্ঞাসার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রিজভী বলেন, 'জনগণ এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চায়। তারপর বিএনপির প্রধানমন্ত্রী কে হবে তা তারাই নির্ধারণ করবেন। গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়াই এদেশের জনগণের প্রধানমন্ত্রী হবেন।' সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ প্রমুখ। | 6 |
ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সহধর্মিনী গুলশান আরা সেলিম আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। রবিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাজী সেলিমের ব্যক্তিগত সহকারী মহিউদ্দিন বেলাল জানান, রবিবার রাতে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তিনি স্বামী, তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সোমবার তাকে দাফন করা হবে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
তালেবান গোষ্ঠী আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন দেশটির কান্দাহার প্রদেশের সাবেক পুলিশপ্রধান তাদিন খান। তিনিসহ প্রায় দুই শতাধিক আফগান গত রবিবার দিল্লিতে পালিয়ে আসেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউন ইন্ডিয়া ডট কমের খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ কান্দাহারের সাবেক পুলিশপ্রধান ৩৭ বছর বয়সী তাদিন খান জীবন বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। মানবিক কারণে তাকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারতে আফগান নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে ভারতের বিবেকানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক অরবিন্দ গুপ্ত বলেন, আফগানিস্তানে যেসব ব্যক্তিরা আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতা করতেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের এখনই ভারতে আশ্রয় দেওয়া উচিত। এছাড়াও যারা বৈধ ভিসায় এ দেশে আসতে চায়, তাদরে সহযোগিতা করা উচিত। যাতে তালেবান তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে না পারে। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর | 3 |
দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এই দরপতনের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রয়েছে ব্যাংক, বিমা ও বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর। এই তিন খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামে ধস নেমেছে। আজ বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৬৯ পয়েন্ট। সূচকটি অবস্থান করছে ৬ হাজার ৩৫ পয়েন্টে। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৯৫ পয়েন্ট। ডিএসইতে আজ লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৩০ কোটি টাকার, যা গতকালের চেয়ে ১৩ কোটি টাকা কম। গতকাল লেনদেন হয় ২ হাজার ১৭ কোটি টাকার। ডিএসই'র তালিকাভুক্ত ৫০টি বিমার মধ্যে দাম বাড়ার তালিকায় মাত্র ২টি। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৭টির। বাকি একটির শেয়ার লেনদেন হয়নি। অপরদিকে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১টির। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩টির। আর ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪২টির শেয়ারের দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে ১১টির। আর ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অবশ্য তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৫টির দামই বেড়েছে। বিপরীতে একটির দাম কমেছে। আর একটির লেনদেন হয়নি। এদিকে সব খাত মিলে ডিএসইতে ১৩৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দাম বেড়েছে ২১৭টির। আর ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিএসইতে আজ লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো- বেক্সিমকো, ন্যাশনাল ফিড মিল লিমিটেড, ম্যাকসন স্পিনিং, ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং মিল লিমিটেড, কাট্টালি টেক্সটাইল লিমিটেড, এসএস স্টিল, সি পার্ল, ওরিয়ন ফার্মা, কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ও কেয়া কসমেটিকস। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো মুন্নু সিরামিকস, মালেক স্পিনিং, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, সমতা লেদার, সি পার্ল, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড ও ফুয়াং ফুড। | 0 |
কুমিল্লায় ক্রিকেট খেলায় নো-বল নিয়ে দ্বন্দ্বে ব্যাটের আঘাতে আহত সাজ্জাদুল ইসলাম ওরফে অনিক (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শনিবার রাতে মারা গেছে। অনিক কুমিল্লা নগরীর ২০নং ওয়ার্ডের দিশাবন্দ পশ্চিমপাড়া এলাকার প্রবাসী শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং সে নগরীর নেউরা এমআই উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত শুক্রবার অণিকের বাড়ির পাশের একটি মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার পর থেকে নগরীর উত্তর চর্থা এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে অভিযুক্ত ইউসুফ পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে অনিক ও তার সহপাঠীরা দিশাবন্দ এলাকার একটি মাঠে ক্রিকেট খেলছিল। এসময় নো-বলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ইউসুফ ব্যাট দিয়ে অণিকের মাথায় একাধিক আঘাত করে। এতে সে ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ঢাকার কলাবাগান এলাকার গ্রীণভিউ নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাতে সে মারা যায়। এদিকে স্কুলছাত্র অনিক মারা যাওয়ার খবরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। রোববার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় জড়িত ইউসুফকে অবিলম্বে গ্রেফতারসহ বিচারের দাবি জানিয়ে নেউরা এমআই উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মামুন-অর রশীদ জানান, স্কুলছাত্র মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। পুলিশের একটি টিম নিহতের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে নিহতের পরিবার থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে এবং লাশ বাড়িতে আনা হলে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 6 |
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর করিম আসাদ আহমেদ খানের বাংলাদেশ সফরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইউরোপ সফররত তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে করিম খান বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ ব্যক্ত করলে মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানান।তথ্যমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে এদিন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।গত মাসে নয় বছরের জন্য প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালনের শপথগ্রহণকারী ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদকে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচার প্রতিষ্ঠার কাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনের কথা তাঁরা জানেন। এই আদালত প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৭ সালে 'রোম চুক্তি' স্বাক্ষরে শেখ হাসিনার দৃঢ় ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন করিম খান।করিম খান কিউসি প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর আশ্রয় দেওয়াকে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের অপরাধের বিচারে তদন্ত অব্যাহত আছে।তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রেজিস্ট্রার পিটার লুইসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। মন্ত্রী এরপর নেদারল্যান্ডসের যুবসমাজের জন্য নিবেদিত ডিজিটাল গণমাধ্যম আরএনডব্লিউ দপ্তর পরিদর্শনে গেলে সংস্থার পরিচালক সাসকিয়া ব্রাম তাঁকে স্বাগত জানান।এদিন ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের দিন স্মরণে সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দিনটিকে গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস হিসেবে বর্ণনা করেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের পরিচালনায় ইউরোপ আওয়ামী লীগের নেতারা সংযুক্ত ছিলেন।ইউরোপ সফর শেষে আজ রোববার মন্ত্রীর ঢাকা ফেরার কথা। | 6 |
জামালপুরের মেলান্দহে জয়ফল বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে স্বপ্না বেগমের (২৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১ জানুয়ারি) পৌরসভার গোবিন্দপুর গাড়োয়ালপাড়া গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। জয়ফল বেগম মৃত আকমল চৌধুরীর স্ত্রী। প্রতিবেশীরা জানান, আকমল চৌধুরীর দুই ছেলে মিলন চৌধুরী ও মিস্টার চৌধুরী ওমান প্রবাসী। আরেক ছেলে জহুরুল ইসলাম বাড়িতেই থাকেন। বোন স্বপ্নার বিয়ে হয়েছিল যশোরে। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। জহুরুল ইসলামের সঙ্গে তার মা-বোনের কলহ হয়। এ নিয়ে একই বাড়ির আঙ্গিনায় বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। দুইদিন আগে জহুরুল ইসলাম স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর থেকে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ ছিল। এদিকে দুইদিন ধরে ওমান থেকে জয়ফলের ছেলেরা ফোনে না পেয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওমান থেকে দুই ভাই তাদের মামা মানিককে ফোন দেন। পরে মানিকসহ অন্য স্বজনরা এসে দরজা ভেঙে ঘরে মধ্যে গলাকাটা লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সস্ত্রীক জহুরুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। | 6 |
আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নির্মাণ করা হয় ২২টি কমিউনিটি ক্লিনিক। এগুলোর বেশির ভাগ এখন ঝুঁকিপূর্ণ।২২টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১২টিতেই নেই বিদ্যুৎ ও গভীর নলকূপ। কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিদ্যুৎ আছে আবার কয়েকটিতে নেই গভীর নলকূপ। বেশির ভাগ কমিউনিটি ক্লিনিকের দরজা-জানালা নেই। খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা। কোনো কোনোটার দেয়াল ও মেঝে দেবে গেছে।জানা যায়, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মোট ২২টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিদিন স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কারণে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কিংবা ওষুধের জন্য যেতে হয় না। এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কার না করায় এখন বেহাল। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।বাগধা ইউনিয়নের চাঁদত্রিশিরা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি তাজ তানিয়া বলেন, 'আমার ক্লিনিকটি প্রায় ১০ বছর জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ক্লিনিকে বিদ্যুৎ ও গভীর নলকূপ নেই। দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে অনেক আগেই। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আমি এই জরাজীর্ণ ক্লিনিকে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।'স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা চাঁদত্রিশিরা গ্রামের আমিরন বেগম, শিমু বেগম ও রুস্তুম মৃধা জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। কিন্তু ভবনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়।যেসব কমিউনিটি ক্লিনিকে গভীর নলকূপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই, তাদের মধ্যে রয়েছে পূর্ব গোয়াইল কমিউনিটি ক্লিনিক, রাজিহার কমিউনিটি ক্লিনিক, ফুল্লশ্রী, মধ্য বাকাল, কোদালধোয়া, স্বরবাড়ি, চাঁদত্রিশিরা, ভদ্রপাড়া, বারপাইকা, বেলুহার, ছয়গ্রাম এবং দত্তেরাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিক।সেরাল ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা সেরাল, টেমার, মুড়িহারসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা নুর জাহান বেগম, মঞ্জু বেগম, রিজিয়া বেগম, খাইরুন বেগম বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো স্থাপন করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার হচ্ছে না।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন বলেন, 'কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ জনগণ সমন্বিত স্বাস্থ্য, পরিবার-পরিকল্পনা সেবা পাচ্ছেন। আমাদের উপজেলার বেশ কিছু কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থা খুবই খারাপ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি শিগগিরই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।' | 6 |
ফ্রান্সের নিস শহরে বাস্তিল দিবসের উৎসবে জড়ো হওয়া জনতার ওপর ট্রাক নিয়ে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের কোনো নাগরিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্যারিসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, 'তাৎক্ষণিকভাবে আমরা যেটুকু জানতে পেরেছি, তাতে হতাহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই। আর ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের ওই অংশে বাংলাদেশি কেউ থাকেনও না।'
তিনি আরও জানান, বেড়াতে গিয়ে কেউ বিপদে পড়েছেন কি না- তা জানতে বাংলাদেশ দূতাবাসে হেল্প ডেস্ক (+৩৩১ ৪৬ ৫১ ৯০ ৩৩, .)) চালু করা হয়েছে। কারও তথ্য মিললে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস শহরে বাস্তিল দিবসের উৎসবে জড়ো হওয়া জনতার ওপর দ্রুত গতিতে ট্রাক তুলে দেওয়ার ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৮৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি। এ ঘটনায় শনিবার থেকে দেশটিতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
ফরাসি প্রেসডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, 'এটা যে সন্ত্রাসী হামলা, তা অস্বীকার করা যায় না।'
নিস নগরীতে বাস্তিল দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে বৃহস্পতিবার 'বর্বর ও কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলার' কঠোর নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বনেতৃবৃন্দ নিন্দা প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
| 3 |
অশনি সঙ্কেত চারিদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখন গদি হারানোর শঙ্কায়। জোটের মিত্ররাও কেউ ছেড়ে গেছেন, কেউ আবার যাই যাই করছেন। বিরোধীরাও তাকে হঠাতে আছেশক্ত অবস্থানে। ইমরানের জোট যখন নড়বড়ে, তখন বিরোধীদের অবস্থান শক্তপোক্ত। এমন দুর্দিনে ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী রেহাম খানও খোঁচা দিতে ভুল করেননি। তিনি এক টুইটে বলেছেন, 'আপনার প্রধানমন্ত্রীত্বের আগেই পাকিস্তানের অবস্থা ভালো ছিল।' সিরিজ টুইটে ইমরান খানের যোগ্যতা ও সক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রেহাম। তার দাবি, ইমরান কেবল আজীবন নাম প্রতিপত্তি আর সম্পদের পেছনে ছুটেছেন। সূত্র: এনডিটিভি, রেহামের টুইট বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 3 |
দাদা সাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ডের আসরে বর্ষসেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে আল্লু অর্জুন ও রাশমিকা মান্দানা জুটির 'পুষ্পা: দ্য রাইজ' ছবিটি। সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি অভিনীত 'শেরশাহ'। একই ছবির জন্য তারা সমালোচক বিভাগে সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন। সমালোচক বিভাগে সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে সুজিত সরকার পরিচালিত 'সরদার উধম'। জনপ্রিয় বিভাগে সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন রণবীর সিং (এইটি থ্রি) ও কৃতি শ্যানন (মিমি) সেরা পার্শ্বঅভিনেত্রী লারা দত্ত (বেল বটম) ও সেরা পার্শ্ব অভিনেতা সতীশ কৌশিক (কাগজ)। সেরা খল অভিনেতা আয়্যুশ শর্মা (অন্তিম: দ্য ফাইনাল ট্রুথ)। সেরা পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেনকেন ঘোষ (স্টেট অব সিজ: টেম্পল অ্যাটাক)। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
কানাডার ক্যালগেরিতে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।আলবার্টা বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগেস্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আলবার্টা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লা রফিক। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মাউন্ট রয়েল ইনিভার্সিটির প্রফেসর তাশফীন হোসাইন তপু এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কাদির। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লা রফিক বলেন, জাতির পিতা পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য দীর্ঘ ২৪ বছর সংগ্রাম করেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম সকল ক্ষেত্রেই তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 4 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমার নারায়ণগঞ্জের জনগণ কখনো কোনো সন্ত্রাসী, গডফাদার, চাঁদাবাজ, খুনীকে গ্রহণ করেনি, করবেও না। নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। রবিবার (৯ জানুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন বন্দর খেয়াঘাটে প্রচারকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ওই ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন ও ভোট চান। দলীয় নেতা শামীম ওসমানকে গডফাদার বলা প্রসঙ্গে আইভী বলেন, শামীম ওসমানকে গডফাদার উপাধি আমি দিইনি। এটা তার গত ৩০ বছরের উপাধি, শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষ তা জানে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় একটি দল। এখানে সবার স্থান আছে। জনপ্রিয় মানুষের স্থান আছে, তেমনি বির্তকিত মানুষেরও স্থান আছে। সব দলের মধ্যেই সবাই থাকে। আওয়ামী লীগ একটি বিশাল জনসমুদ্র, এখানে যে টিকে থাকার সে টিকবে, যে চলে যাওয়ার সে চলে যাবে। শেষ পর্যন্ত দলের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থন পাবেন কি না জানতে চাইলে আইভী বলেন, উনি (শামীম ওসমান) দিলে দেবে, না দিলে না দেবে। আমাকে উনি অপছন্দ করতেই পারেন, এটা কোনো ব্যাপার না। তিনি বলেন, আমি আমার বড় ভাইকে (শামীম ওসমান) সম্মান দেখিয়ে বহুবারই চেষ্টা করেছি। উনি যদি ওনার দায়িত্ব পালন না করেন তাহলে কিছু করার নেই। জনতা যে রায় দেবে, সেটাই রায়। নির্বাচনে ষড়যন্ত্র হবে কি না, জানতে চাইলে আইভী বলেন, নির্বাচন এলেই ষড়যন্ত্র হয়, ষড়যন্ত্র হবেই, কিন্তু জনগণ তা ধ্বংস করে দেবে। প্রধানমন্ত্রী জানেন, নারায়ণগঞ্জের জনগণ তার পাশে আছেন। সে কী করল, না করল, তাতে কিছু যায় আসে না। আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা তার কথা বলেন, ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও তার পক্ষে কথা বলেন। তবুও তার বিরুদ্ধে গত দিনে প্রচুর অপপ্রচার চালানো হয়েছে, বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। ধর্মীয় ব্যাপারে উসকানি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনোটাতেই কাজ হবে না। আগেও হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইভী আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি জনগণের। গত তিনবার পাস করার পর আমি বলেছি, আমি সবার ভোটে পাস করেছি। কিন্তু আমার পরিচয় আমি বংশগতভাবে আওয়ামী লীগ করি, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী। কিন্তু আমি সবার জন্য কাজ করব। আমি যখন রাস্তা করি তখন আওয়ামী লীগ, বিএনপি দেখি না। সুতরাং আমি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করব। এখনো করছি, ভবিষ্যতেও করব। কিন্তু আমার পরিচিতি আমার জয় বাংলা শ্লোগান। গণসংযোগকালে আইভীর সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কাদির, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত হচ্ছে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২। জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস বিভিন্ন কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উদ্যাপন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে মানসম্মত তথ্যের আদান-প্রদান নিশ্চিত করে উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত 'বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস' পালন হয়ে আসছে। পরিসংখ্যান আইন পাসের ফলে জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা (এনএসও) হিসেবে বিবিএস একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। সঠিক ও সময়োপযোগী পরিসংখ্যান প্রণয়নে জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ আবশ্যক, তাই পরিসংখ্যানকে আরও জনকল্যাণমুখী ও মানুষের দোরগোড়ায় উপস্থাপনের নিমিত্তে একটি 'জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস' খুবই প্রয়োজন। বাংলাদেশে অনেক জাতীয় দিবস পালন হয়ে থাকে, কিন্তু জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস নেই। বিষয়টি পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে যোগদানের পর থেকেই আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী ও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মরত থাকাকালীন আমি প্রতিবছর ২৭ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস হিসেবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সদয় বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সারসংক্ষেপ পাঠাই। ৮ জুন ২০২০ তারিখ সোমবার বেলা ১২টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রতিবছর ২৭ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালনের প্রস্তাব উপস্থাপন করি। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় প্রতি বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখকে 'জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস' হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের তথ্য-উপাত্তভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৪ সালের ২৬ আগস্ট সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা তৎকালীন চারটি পরিসংখ্যান সংস্থাকে একীভূত করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রতিষ্ঠা করা হয়।সঠিক, সময়োপযোগী ও মানসম্মত পরিসংখ্যান প্রস্তুত করে দেশের পরিকল্পনা প্রণয়ন, উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বিবিএস অফিশিয়াল পরিসংখ্যান প্রণয়ন ও প্রকাশ করে জনশুমারি, কৃষিশুমারি, অর্থনৈতিক শুমারিসহ বিভিন্ন ধরনের সার্ভে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করে থাকে বিবিএস। জাতীয় ও স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়নে নিয়োজিত পরিকল্পনাবিদ, নীতিনির্ধারক, সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, এনজিও এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংকল্প, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের দায়িত্ব বিবিএস নিয়মিতভাবে পালন করে আসছে।দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও পরিকল্পনা প্রণয়নে পরিসংখ্যানের অপরিহার্যতা উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৯ সালের ২৫ অক্টোবর ঢাকার আগারগাঁওয়ে ২ একর ১৪ শতক জমির ওপর নির্মাণ শেষে একটি সুদৃশ্য ও দৃষ্টিনন্দন পরিসংখ্যান ভবন উদ্বোধন করেন। অতঃপর ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়ণের অন্যতম শক্তি 'পরিসংখ্যান ও তথ্যপ্রযুক্তি' বিবেচনায় ২০১২ সালে পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও গণমুখী করার লক্ষ্যে তিনি বিস্তৃত পরিসরে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন 'পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ'। পরিসংখ্যানব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান তথা এর আইনগত ভিত্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি 'পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩' মহান জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। দেশের পরিসংখ্যানব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান উন্নয়নে জাতীয় কৌশলপত্র (এনএসডিএস) অনুমোদন করেন। এনএসডিএস হলো পরিসংখ্যানব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত একটি বিস্তারিত, বাস্তবসম্মত, অংশগ্রহণমূলক, পরিবর্তনশীল ও রাষ্ট্রীয় স্বত্বাধীন একটি পরিকল্পনা দলিল।বিভিন্ন বিষয় অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। এটা শুধু কথার কথা নয়, সঠিক পরিসংখ্যানভিত্তিক নির্ভরযোগ্য তথ্যের আলোকে আজ আমরা উন্নয়নের সূচকসমূহ অর্জন করে চলেছি। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমজিডি) অর্জনে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। বাংলাদেশকে বলা হয়ে থাকে এমডিজি বাস্তবায়নের রোল মডেল। এই সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসজিডি) অর্জনের মাধ্যমে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশ সরকার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এসডিজি পরিবীক্ষণে ডেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হালনাগাদ ও 'ডিসএগ্রেগেটেড ডেটা' প্রস্তুতে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কাজ করছে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গত, ৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিসংখ্যান সরবরাহের ক্ষেত্রে বিবিএসসহ সব উপাত্ত সরবরাহকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুমোদনক্রমে সচিব, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যবিশিষ্ট একটি জাতীয় উপাত্ত সমন্বয় কমিটি (ন্যাশনাল ডেটা কো-অর্ডিনেশন কমিটি-এনডিসিসি) গঠন করা হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এসডিজিসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত প্রাপ্তির লক্ষ্যে তথ্য সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় সাধনের জন্য জাতীয় উপাত্ত সমন্বয় কমিটি (এনডিসিসি) কাজ করে যাচ্ছে।পরিসংখ্যান-সংক্রান্ত কার্যাবলি সমন্বয় ও সুসংহত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগে বিদ্যমান 'পরিকল্পনা উইং/অধিশাখাকে 'পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান উইং/অধিশাখা হিসেবে নামকরণপূর্বক বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে বিসিএস পরিসংখ্যান ক্যাডারের ৫৮টি পদ সৃজনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ২৯/১০/২০১৮ তারিখে সারসংক্ষেপে সানুগ্রহ অনুমোদন প্রদান করেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে একজন করে উপপরিচালক/পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদায়ন করা হলে মন্ত্রণালয়/বিভাগের পরিসংখ্যান-সংক্রান্ত কার্যাবলির সুষ্ঠু সমন্বয় করা সহজ হবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও পরিসংখ্যানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে পত্রযোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।উল্লেখ্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নির্ভুল ও সময়োচিত পরিসংখ্যান প্রণয়নে বিবিএস সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা ও প্রশংসা অর্জনসহ দেশের অফিশিয়াল পরিসংখ্যান প্রস্তুতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিবিএসের জনবলের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিকল্পে 'জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির' দুটি ফ্লোর 'বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড রিসার্চ (বিআইএসআর)' হিসেবে ব্যবহারের জন্য সানুগ্রহ অনুশাসন প্রদান করেছেন।২০১৯ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর নিয়োগ, পদোন্নতিসহ সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য 'বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯' চূড়ান্তভাবে অনুমোদনক্রমে ১৮ মে ২০১৯ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাঠ পর্যায়ের সব কার্যক্রম গতিশীল ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ২০১৮ সালে বিবিএসের মাঠ পর্যায়ের জেলা ও বিভাগীয় অফিসসমূহে গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২০ সোলে মাঠ পর্যায়ের উপজেলা ও থানা পরিসংখ্যান অফিসসমূহে মোটরসাইকেল ও নারী কর্মকর্তাদের জন্য স্কুটি সরবরাহ করা হয়েছে। ইহা বিবিএসের জন্য কম গৌরবের কথা নয়।জাতির পিতার হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠান তথা পরিসংখ্যান ভবনের লবিতে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই জাতির পিতাকে।বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫), ডেলটা প্ল্যান ২১০০ প্রভৃতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিবিএসের বস্তুনিষ্ঠ ও সময়োচিত পরিসংখ্যান সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে। সঠিক পরিসংখ্যান চর্চার আকাঙ্ক্ষায় শুরু হোক আগামীর স্বপ্ন।লেখক: সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার | 8 |
নরসিংদীর শিবপুরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার সৈয়দ নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। নিহতদের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- নরসিংদীর নাগরিয়াকান্দি এলাকার তাহের মিয়ার ছেলে বাস চালক আনোয়ার হোসেন (৪৫), শিবপুরের ঘোড়াগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল হকের ছেলে আলাউদ্দিন (৬০) ও কারারচর গ্রামের নাছির উদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৪৪)। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ওভারটেকিং করার সময় বিপরীত দিক সিলেট থেকে ঢাকাগামী নিরাপদ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রীসহ দুই জন নিহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয় এবংহাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। দুর্ঘটনার ইটাখোলা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ও শিবপুর এবং নরসিংদীর ফায়ার সার্ভিসে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করেন এবং আহতদের নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আটজনকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক। শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, বেপরোয়া গতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিবপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজ বলেন, দুর্ঘটনার পর পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে পাঠায়। তিনি জানান, মহাসড়ককে যান চলাচল সচল রাখতে সড়কের ওপর থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। | 6 |
আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর যুবক লুইজো। এই যুবক একসঙ্গে তিন বোনকে বিয়ে করেছেন। স্বামীর সঙ্গে তিন বোনের ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিন বোনের নাম নাতাশা, নাতেলি ও নাদেগি। আশ্চর্য প্রেমকাহিনি! প্রথমে ওই যুবকের পরিচয় হয়েছিল নাতেলির সঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়। কথা বলতে বলতে যা একদিন গড়ায় প্রেমে। ব্যাপারটা একেবারেই চেনা প্রেমকাহিনি। তবে এরপরই কাহিনি বদলে যায়। একসঙ্গে তিন বোনের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে লুইজোর। সম্প্রতি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের পূর্ব অংশে, রুয়ান্ডার সীমান্তের কাছে কালেহেতে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে ওই বিয়ে হয়। তবে যুবকের বাবা-মা বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন না। বর বলেন, 'আমি তাদের বিয়ে করতে বাধ্য ছিলাম। এটা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। কারণ এখন পর্যন্ত আমার বাবা-মা বুঝতে পারছেন না আমি কী করছি।' লুইজোর মা-বাবা বিয়েতে না আসার কারণ, তারা একসঙ্গে তিন বোনকে বিয়ে করার পক্ষে ছিলেন না। 'অন্যরা যা ভাবুক না কেন, আমি তিনজনকে বিয়ে করতে পেরে খুশি। আমার বাবা-মা আমার সিদ্ধান্তকে মেনে নেননি। তাই তারা আমার বিয়েতে যোগ দেননি। কিন্তু আমি শুধু বলতে পারি, ভালোবাসার কোনো সীমা নেই',- বলেন বর। বোনদের মধ্যে একজন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, 'যখন আমরা তাকে বলেছিলাম যে তাকে আমাদের সবাইকে বিয়ে করতে হবে, তখন তিনি হতবাক হয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু তিনি ইতোমধ্যেই আমাদের সকলের প্রেমে পড়েছেন, আমরাও তার প্রেমে ছিলাম। তাই কিছুই আমাদের পরিকল্পনাকে থামাতে পারেনি।' 'যদিও মানুষ তিনজন নারী পক্ষে এক স্বামীকে ভাগ করা অসম্ভব বলে মনে করা হয়। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই সব কিছু শেয়ার করে এসেছি আমরা। তাই এবারও শেয়ার করতে কোনো সমস্যা হবে না। সূত্র : মিরর বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 5 |
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হাসানুর আলম খান জুয়েলকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল ইসলাম ও সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল নোমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে জুয়েলকে প্রধান আসামি করে মোট পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাট কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মেডিকেল মোড় বৈশাখী হোটেল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।গ্রেপ্তার রুবেল ইসলাম হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও আব্দুল্লাহ আল নোমান সদস্যসচিব। এ ছাড়া ভুক্তভোগী হাসানুর আলম খান জুয়েল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। তিনি বর্তমানে বিএনপির কোনো পদে নেই। মেডিকেল গেট এলাকায় হেনা ফার্মেসি নামে তাঁর একটি ওষুধের দোকান রয়েছে।জানা গেছে, ছাত্রদল নিয়ে বাজে মন্তব্য ও কটূক্তি করায় গত বুধবার রাতে জুয়েলের দোকানে গিয়ে হামলা করে অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল ইসলামকে প্রধান আসামি করে মোট আটজনের নাম উল্লেখ করে হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন হাসানুর আলম খান জুয়েল। সেই মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে রুবেল ও নোমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, 'বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রুবেল ও নোমানকে আজ দুপুরে লালমনিরহাট কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই পক্ষ থেকেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।' | 6 |
দেশের সবচেয়ে বড় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন ও শতভাগ বিদ্যুতায়নের নানা দিক নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম শামসুল আলম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মহিউদ্দিন প্রথম আলো: বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সবার আগে উৎপাদনে এসেছে পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী? নসরুল হামিদ: গত ৫০ বছরের ইতিহাসে কম সময়ে এমন বড় অবকাঠামো নির্মাণ করা বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য বড় সাফল্য। প্রকল্পের ব্যয় বা মেয়াদ বাড়েনি; বরং টাকা সাশ্রয় হয়েছে। জমি অধিগ্রহণসহ এ প্রকল্পের কোনো কিছু নিয়ে বিতর্ক ওঠেনি। পরিবেশদূষণসহ বিশেষজ্ঞরা নানা শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। দুই বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, ক্ষতিকর কিছুই ঘটেনি। কেউ চাইলে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। প্রথম আলো: এমন বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দক্ষিণাঞ্চলকে বেছে নেওয়ার বিশেষ কোনো কারণ ছিল? নসরুল হামিদ: পদ্মা সেতু এ অঞ্চলের ১৯ জেলাকে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করছে। দক্ষিণাঞ্চলে বন্দর হচ্ছে, শিল্পকারখানা হচ্ছে, নতুন হাউজিং হচ্ছে। একের পর এক বিনিয়োগ হচ্ছে, আরও হবে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র ইতিমধ্যে এখানকার জীবনমান বদলে দিয়েছে; মানুষ ছোট-বড় বিনিয়োগে ঝুঁকছে, এখানকার অর্থনীতি বদলে যাচ্ছে। যদিও আমলাতন্ত্র, বিশেষজ্ঞসহ নানা দিক থেকে বাধা ছিল। সব দিক ভেবেই কেন্দ্রটি নির্মাণে পিছিয়ে পড়া দক্ষিণাঞ্চলকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম আলো: শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা হলো। কীভাবে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এগিয়ে নিলেন? নসরুল হামিদ: ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশের দিকে যেতে এটি করা জরুরি ছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে এ মন্ত্রণালয় ও অধীন সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দলগতভাবে কাজ করেছেন। এর ফলে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নে আগে থেকেই এক নম্বরে এ মন্ত্রণালয়। এখন শতভাগ বিদ্যুতায়ন এ মন্ত্রণালয়ের জন্য শতভাগ সাফল্যের একটি দৃষ্টান্ত। প্রথম আলো: দেশের সব উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন হলো, এতে কি দেশের সব গ্রামে বিদ্যুৎ-সুবিধা পৌঁছে গেল? নসরুল হামিদ: অবশ্যই, দেশের প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুৎ-সুবিধা পৌঁছ গেছে। প্রাথমিকভাবে বিচ্ছিন্ন চর ও দুর্গম পাহাড়ে লক্ষ্য ছিল সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের। ৬০ লাখ ঘরে সোলার হোম সিস্টেম করা হয়েছে। কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ মূলত রোদের ওপর নির্ভর করে। সব সময় তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। কিন্তু নিজ এলাকাকে ব্যবসা-বাণিজ্যর কেন্দ্র বানাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায় তারা। তাই নদী-সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেব্ল টেনে এসব অঞ্চলে বিদ্যুৎ-সুবিধা পৌঁছানো হচ্ছে। এটা একটা বিরাট কর্মযজ্ঞ। তবু নির্ধারিত সময়ের আগেই শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ করা হয়েছে। প্রথম আলো: সমুদ্র-নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেব্ল টানা, বিচ্ছিন্ন পাহাড়ে সংযোগ-সুবিধা নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ব্যয়বহুল ও জটিল, এটা নিয়ে আপনারা কী ভেবেছেন? নসরুল হামিদ: বাণিজ্যিকভাবে এটা কোনোভাবেই লাভজনক নয়। কিন্তু সরকারের কাজ তো ব্যবসা করা নয়। মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকের কথা চিন্তা করতে হয়। এটাই সরকারের দায়িত্ব। এসব গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ১০০ বছর বিল নিলেও আরইবির খরচ উঠবে না। কিন্তু বিদ্যুৎ-সুবিধা পেয়ে ছেলেমেয়েদের রাতে লেখাপড়ার ব্যবস্থা হয়েছে। হাটবাজারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে। বিনিয়োগের বিপরীতে এটার মূল্য অনেক। আর এসব কারণেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথম আলো: বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা অর্ধেকের বেশি, এটা নিয়ে নানা বিতর্কও আছে, আপনি কী বলবেন? নসরুল হামিদ: ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেই শতভাগ বিদ্যুতায়নের চিন্তা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময়েই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার কথা চিন্তা করেন তিনি। এ নিয়ে অনেক বাধা ছিল। কিন্তু বেসরকারি খাত ছাড়া এটা অসম্ভব ছিল। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসায় বিদ্যুৎ খাতে একটা বিরাট ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে। কাজের মধ্যে তুলনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে জবাবদিহি বেড়েছে। প্রথম আলো: সহনীয় দামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি, এটা নিয়ে কী ভাবছেন? নসরুল হামিদ: সহনীয় দামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চ্যালেঞ্জ এখন সামনে। বিদ্যুৎ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হলেও মানুষের আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে বিদ্যুতের মূল্য ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন সরবরাহ ব্যাহত না হয়, সে দিকটি খেয়াল রাখতে হবে। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য সমন্বিত মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। | 8 |
লাভ হয়েছে বেশি, ছাঁটাইও হয়েছে বেশি-আমাদের ব্যাংকগুলো এ রকম একটি ঘটনার জন্ম দিয়েছে এই করোনাকালে। ভয়াবহ করোনাকালে লাভের পরিমাণ বাড়লেও কোনো কোনো ব্যাংক তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করে একরকম নির্মমতার পরিচয় দিয়েছে। আজকের পত্রিকায় পর পর চাকরিচ্যুতি প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাসংক্রান্ত খবর গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে।আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট পেশার মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই বলাই যায়, যাঁরা ব্যাংকার নন বা ব্যাংকে চাকরি করেন না, তাঁরা কেন এ বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাবেন? সব ব্যাংকারকেই-বা এ নিয়ে ভাবতে হবে কেন? নিজে বাঁচলে বাপের নাম! তাই ভাববেন শুধু তাঁরাই, যাঁরা করোনার এই ভয়াল সময়টাতে ব্যাংক থেকে চাকরি হারিয়েছেন!দুই. কেবল ব্যাংকপাড়ায়ই এই অনাচার হয় বা হয়েছে, তা তো নয়। আমাদের দ্রুত উন্নয়নের দিকে ধাবমান অর্থনীতির বিভিন্ন ফাঁকফোকরে বহু ধরনের অনাচার হচ্ছে, তার হিসাব রাখছে কে? দক্ষতা ও অদক্ষতার বিচার যদি স্বাভাবিক নিয়মে হতো, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠত না। প্রশ্ন ওঠে তখনই, যখন চাকরিজগতে একজন ক্ষমতাবানের চারপাশে জুটে যায় একদল মোসাহেব, হীরক রাজার পারিষদদের মতোই যারা সেই ক্ষমতাবানের সব কথার জবাবে বলতে থাকে, 'ঠিক, ঠিক।' ক্ষমতাবানকে যা কিছু করার সার্টিফিকেট দিয়ে দেয় তারা বিনা শর্তে। এবং তখন একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে জায়গা করে নিতে থাকে নানামুখী অব্যবস্থাপনা এবং অরাজকতা।এ রকম দুঃসময়ে ব্যাংকারদের চাকরি যাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের একটি চক্রের হাত থাকতেই পারে। যাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁদের মধ্যে পেশাজীবী আচরণের জায়গায় অমানবিকতা এসে ভর করতে পারে এবং তাঁরা বুঝতেও পারেন না, এই অমানবিকতার নাম পেশাজীবী আচরণ নয়।তিন. একজন ব্যাংকার চাকরিচ্যুত হন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে তো যুক্ত থাকে একটি পরিবার। তিনি যদি সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে সেই পরিবারের দশা কী হয়, তা কি একবারও ভেবে দেখা হয়? বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা একটা আলোর দিশা দেখতেই পারেন, কিন্তু এই নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেক্টরে চাকরিসংক্রান্ত জটিলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা যাবে কিংবা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না, এ রকম গ্যারান্টি নেই।চার. এবার একটু তাসের উল্টোপিঠের দিকে তাকাই। আমার ব্যাংকার বন্ধুদের কাছ থেকে নানা সময় যা জেনেছি, তার ওপর দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলা বোধ হয় ভুল হবে না।ব্যাংকে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীই যে দক্ষতার সঙ্গে তাদের কাজ করে থাকেন, তা সত্য নয়। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মতোই ভালো, মাঝারি আর খারাপ মানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যাংকেও আছেন। খারাপ মানের কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্য কোনো পেশার মতোই ব্যাংকিং পেশায়ও গোদের ওপর বিষফোড়া। বছরের পর বছর তাঁদের কাজের কোনো উন্নতি হয় না। এ অবস্থায় তাঁর জায়গায় যোগ্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার চিন্তা করা হতেই পারে।কিন্তু তার আগে একটা প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হয়। যখন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তখন কি যাচাই-বাছাই করে লোক নেওয়া হয়নি? যদি যাচাই-বাছাই করেই লোক নেওয়া হয়, তাহলে হঠাৎ করে তিনি অদক্ষ হয়ে পড়েন কেন?নিয়োগব্যবস্থায় কি এমন কিছু ঘটে, যাতে অদক্ষ মানুষেরা অনায়াসে ঢুকে পড়তে পারেন চাকরিতে? এর উত্তর হয়তো এ রকম: যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মতোই ব্যাংকেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে লোক নিয়োগ হয়। কিন্তু তার পাশাপাশি 'রেফারেন্স' নামক এক ঘটনাও চাকরিপ্রাপ্তির একটি বড় নির্ণায়ক হয়ে থাকে। বড় কোনো কর্মকর্তার রেফারেন্স কিংবা রাজনৈতিক বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবশালী কারও 'আবদার' রক্ষা করার জন্যও কিছু নিয়োগ হয়ে থাকে। মূলত প্রভাবশালীদের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরাই অদক্ষ হয়ে থাকেন। স্বাভাবিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারলে কোনো রেফারেন্সের মাধ্যমে তাঁদের চাকরির মাঠে এভাবে আসতে হতো না।এই সমস্যা সমাধানের প্রথম উপায় হলো, পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ হবে, রেফারেন্সের মাধ্যমে নয়। রেফারেন্সের মাধ্যমে নিয়োগ ঠেকাতে পারবেন তাঁরাই, যাঁদের হাতে নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা। তাঁরাই, যাঁরা করোনার মধ্যেও সাধারণ ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করেছেন। তাঁরা কি রেফারেন্সের মাধ্যমে চাকরি দেওয়া বন্ধ করতে পারবেন?পাঁচ. কিন্তু যিনি চাকরি পেয়ে গেছেন (সেটা যেভাবেই হোক), তাঁকে কি কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য, তাঁর দক্ষতা বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে? তাঁর অযোগ্যতাগুলোকে কি যোগ্য করে তোলার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? তাঁর দক্ষতা বিকাশে কি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো অবদান রেখেছে? যদি কর্মকর্তা-কর্মচারী এরপরও অযোগ্য থেকে যান, তাহলে কি এ কথাও সত্য নয় যে, যাঁরা তাঁকে গড়েপিটে নেবেন বলে ঠিক করেছিলেন, তাঁরা নিজেরাই ততটা যোগ্য প্রশিক্ষক নন?দোষটা কি শুধু অযোগ্য চাকরিজীবীর, নাকি অযোগ্য চাকরিদাতারও?এ প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ওপরের দিকে যাঁরা নীতিনির্ধারক হয়ে বসে আছেন, তাঁদের অদক্ষতার দিকে আঙুল তোলার সুযোগই নেই। তাঁরা অদক্ষ, অমানবিক, অপেশাজীবী হলেও তাঁরাই নীতি তৈরি করতে পারেন, তার প্রয়োগ ঘটাতে পারেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের কারণে দক্ষ কর্মকর্তারাও সুচারু অবদান রাখতে পারেন না।ছয়. ব্যাংকে চাকরি যাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মূলত কাজ করে, তার একটি হলো গ্রুপিং। একটি হলো, ব্যবস্থাপনা পরিষদের সঙ্গে মাখামাখি বা দূরত্ব। একটি হলো, দক্ষতার অভাব। আরও অনেক বিষয় নিশ্চয় আছে; তবে চাকরি 'খেয়ে' নেওয়ার জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ হলো, কাউকে পছন্দ না হলে তাঁর জন্য এমন একটা টার্গেট ঠিক করে দেওয়া, যা পূরণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা ব্যাংক সেক্টর থেকে একটু সরে গিয়ে এ বিষয়টি বুঝতে চেষ্টা করব। ধরুন, চিড়িয়াখানায় যিনি বাঘের দেখভাল করেন, তাঁকে যদি টার্গেট দেওয়া হয় সুন্দরবন থেকে গোটা পাঁচেক বাঘ ধরে এনে দিতে হবে, তাহলে কি এই লোকের পক্ষে সেই টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হবে? যাঁদের চাকরি গেছে এই দুঃসময়ে, তাঁদের কী ধরনের টার্গেট দেওয়া হয়েছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত।সাত. আমরা যে অমানবিক হয়ে গেছি, তার প্রমাণ পাওয়া যাবে করোনাকালে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের 'পদত্যাগ'পত্রগুলো দেখলেই। কী এক 'অলৌকিক কারণে বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে তিন হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী 'স্বেচ্ছায়' পদত্যাগ করেছেন। হ্যাঁ, ভুল শোনেননি। তাঁরা স্রেফ 'স্বেচ্ছায় পদত্যাগ' করেছেন। তাঁরা নতুন কোনো লোভনীয় চাকরি পেয়ে ব্যাংকে চাকরির ক্যারিয়ার ছেড়ে 'স্বেচ্ছায়' পদত্যাগ করেছেন-এ রকমটা ভাবার কোনো কারণ নেই। একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই আপনি বুঝতে পারবেন, চাকরি ছাড়তে বাধ্য করে বলে দেওয়া হয়, ব্যাংক থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন, এ কথা লিখে দিতে হবে। নইলে কী হবে? নইলে ব্যাংক থেকে যে পাওনা রয়েছে, তার কিছুই জুটবে না কপালে। এমনিতেই চাকরি থাকবে না, তার ওপর পাওনা টাকাও মার গেলে তো একেবারে অতলান্ত গহ্বরে গিয়ে পড়তে হবে। তাই পরাজিত সৈনিকের মতো 'স্বেচ্ছায়' পদত্যাগ করছেন বলে জানাতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।আট. বাংলাদেশ ব্যাংক যে নির্দেশনা দিয়েছে, তাতে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশায় বুক বাঁধতে পারেন। আমরাও চাইব, এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটে উঠুক। যাঁরা উঁচু পদে বসে থেকে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাঁদের মনে করিয়ে দেব, এই ব্যাংক কর্মচারীরাই সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক জীবনকে চাঙা রেখেছেন। আর সে কাজ করতে গিয়ে গত মে মাস পর্যন্ত ২৫ হাজার ৩৯৯ জন ব্যাংকার কোভিড-আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৩৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেছেন।তাঁদের কাজের মূল্যায়নের জন্য নীতিনির্ধারকেরা কিছু ভাবতে পারতেন। মুনাফার ভাগ দেওয়ার কথা ভাবতে পারতেন। প্রণোদনা দেওয়ার কথা ভাবতে পারতেন। তা না ভেবে তাঁরা বেছে নিয়েছেন সবচেয়ে সহজ ও অমানবিক কাজটাই-চাকরিচ্যুতি!ঘটনাটা একটু ভালোর দিকে এবার মোড় নিক।লেখক: উপসম্পাদক, আজকের পত্রিকা | 8 |
বাগেরহাটের চন্দ্রমহল ইকোপার্ক থেকে উদ্ধার করা বন্য প্রাণী সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে র্যাব-৬ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্র এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির ১৭টি প্রাণী অবমুক্ত করেন।এ সময় র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল, মৎস্য বিশেষজ্ঞ মো. মফিজুর রহমান, করমজল বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবীরসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।অবমুক্ত করা বন্যপ্রাণীগুলোর মধ্যে ১টি কুমির, ২টি হরিণ, ৩টি বানর, ২টি কচ্ছপ, ৭টি বক ও ২টি মাছমুড়াল পাখি রয়েছে।এর আগে গত ১৫ নভেম্বর সদর উপজেলার রণজিতপুরে অবস্থিত চন্দ্রমহল ইকোপার্ক থেকে ১৬ প্রজাতির ৪৩টি বন্য প্রাণী উদ্ধার করে বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং র্যাব-৬। এর মধ্যে ১৭টি প্রাণী সুন্দরবনের করমজলে ও বাকি প্রাণীগুলো সাফারি পার্ক, যশোরের কেশবপুর ও বন বিভাগের বিভাগীয় দপ্তরে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল।করমজল বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবীর বলেন, দুষ্টচক্রের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া বন্য প্রাণী বিভিন্ন সময় করমজল এলাকায় অবমুক্ত করা হয়। অবমুক্ত করা এসব বন্য প্রাণী করমজলে প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজেদের মতো করে বসবাস করে। এখানে অবমুক্ত প্রাণীগুলো যাতে সুস্থভাবে বনে ফিরে যেতে পারে এ জন্য তাঁদের নজরদারি থাকে। অবমুক্ত করা ইকোপার্কের প্রাণীগুলো সুন্দরবনে ভালোই থাকবে বলে আশা করেন তিনি।র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী র্যাব-৬ কাজ করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চন্দ্রমহল ইকোপার্ক থেকে বেশ কিছু বন্য প্রাণী উদ্ধার করা হয়। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রাণীগুলোকে সুন্দরবনের করমজল এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে। বন্য প্রাণী রক্ষায় ভবিষ্যতেও র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। | 6 |
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অফিস কর্তৃপক্ষ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা শুরু করেছে। তবে এমন ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) অফিস চলাকালীন সময়ে পতাকা উত্তোলন করা হলেও সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ও গতকাল শনিবারে (২৬ অক্টোবর) জাতীয় পতাকা উত্তোলিত থাকে নামানো হয়নি। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামানোর এমন উদাসিনতার কারণে এলাকার সচেতন মানুষদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও প্রাণিসম্পদ অফিসে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখে স্থানীয়রা সংবাদকর্মীদের ফোন দিতে থাকেন। বিষয়টি জানার পর শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সরজমিন উপজেলার তাজপুর খাশিপাড়া রোডস্থ প্রাণিসম্পদ অফিস ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। অফিসের কলাপসেবল গেইটেও তালা ঝুলানো বাহিরে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডে জাতাীয় পতাকা উড়ছে। জাতীয় পতাকা নিয়ে এমন উদাসিনতা ও অবমাননার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। ওসমানীনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের নাইট গার্ড নেই এজন্য এরকম হয়েছে। বিষয়টি আমি দেখছি। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামোনের ব্যাপারে এমন উদাসিনতা ও অবমাননা কেন করা হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেন নি। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তাহমিনা আক্তার বলেন, বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে পতাকা নিয়ে এমন আচরণ কেমন করে হয়। বিষয়টি আমি সরজমিন দেখছি। | 6 |
দেশে করোনায় আরও একটি দিন মৃত্যুহীন কাটল। এ নিয়ে গত তিন দিনে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে কেউ মারা যাননি। পাশাপাশি পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হারও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকাল আটটা থেকে আজ শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৫ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। আগের ২৪ ঘণ্টায় এ হার ছিল ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, এখন পর্যন্ত দেশে ১৯ লাখ ৫১ হাজার ২৩৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ১৩১ জন। সুস্থতার হার ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ। আর আজ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯ হাজার ১১৮ জন। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর জানানো হয়। শুরুতে মৃত্যু অনিয়মিত থাকলেও ওই বছরের ৪ এপ্রিল থেকে করোনায় মৃত্যু ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এর পর থেকে দুই বছর ধরে চলা এই মহামারিকালে গত বছরের ২১ নভেম্বর ও ৯ ডিসেম্বর-এই দুই দিন ছিল করোনায় মৃত্যুশূন্য। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে করোনা সংক্রমণের চিত্রে কয়েক দফা ওঠানামা দেখা গেছে। দেশে করোনা পরিস্থিতি প্রায় সাড়ে তিন মাস নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। করোনার নতুন ধরন অমিক্রনের প্রভাবে দ্রুত বাড়তে থাকে রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার। গত ৬ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। এর দুই সপ্তাহের মাথায় ২০ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্ত ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় দৈনিক রোগী শনাক্ত ১৫ হাজারের ওপরে উঠেছিল। ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তা ১০ হাজারের ওপরেই ছিল। এরপর নিয়মিতভাবে রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার কমছে। দেশে করোনা সংক্রমণ কমায় আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। তুলে নেওয়া হয়েছে বিধিনিষেধ। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর দেশের ইতিহাস বিকৃতির যে চেষ্টা হয়েছিল তা আর কেউ কোনো দিন করতে পারবে না। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে তিনি একথা বলেন। গণভবন থেকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,জাতির পিতাকে হত্যার পর ইতিহাস একেবারেই মুছে ফেলা হয়েছিল, পুরো পরিবর্তন।এখন একটা আত্মবিশ্বাস এসে গেছে যে, বাংলাদেশের ইতিহাস আর কেউ কোনো দিন বিকৃত করতে পারবে না। আর মুছতে পারবে না। প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও ছোট বোন শেখ রেহানা। এরপরবিদেশে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। | 6 |
গুজরাটের উত্তরাঞ্চলীয় দিশা তালুকার টিটোডা গ্রামে করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসায় ৪০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, ওই হাসপাতালে রোগীদের গরুর দুধ, ঘি, গোমূত্র ও গোবর থেকে তৈরি ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হবে। স্থানীয় গুজরাটি ভাষার দৈনিক পত্রিকা গুজরাট সমাচার জানিয়েছে, 'এ হাসপাতালে রোগীদের পঞ্চগব্য থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হবে।' গোমূত্র, গোবর, গরুর দুধ ও দুধ থেকে উৎপন্ন ঘি ও দই, এই পাঁচ উপাদান মিলেই হয় পঞ্চগব্য। প্রকাশিত খবরে বলা হয়, স্থানীয় গোশালাতে স্থাপিত 'বেদলক্ষণা পঞ্চগব্য আয়ুর্বেদিক কোভিড আইসোলেশন সেন্টার' নামের এই হাসপাতালে ৪০টি শয্যা রয়েছে। শয্যাগুলো একটি বড় হলরুমে অবস্থিত যার চারপাশে সবুজ ঘাস ফলানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দুটি উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে, প্রথমত এ সবুজ ঘাস গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে আর দ্বিতীয়ত এই ঘাস হাসপাতালটিকে ঠাণ্ডা রাখছে। এই হলরুমে বৈদ্যুতিক পাখা আর এয়ারকুলারও লাগানো হয়েছে। গরুর বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ পঞ্চগব্য কিটও প্রস্তুত করা হয়েছে করোনা রোগীদের জন্য। জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় এ গোশালা হাসপাতালে প্রচুর অক্সিজেন সিলিন্ডারও রাখা হয়েছে। পঞ্চগব্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রোগীদেরক গোবর, গোমূত্র ও ঘির মিশ্রনের বাস্প থেকে নিশ্বাস নিতে হয়। আবার চিকিৎসার অংশ হিসেবে রোগীদের সমস্ত শরীর গরুর গোবরের আস্তরণ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। সূত্র : মুসলিম মিরর | 3 |
ওয়ানডে ক্যারিয়ারে আগেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন তাসকিন আহমেদ। তবে এই প্রথম সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতলেন তিনি। তাও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের ক্ষণে। এমন পুরস্কার প্রাপ্তিতে খুবই খুশি তাসকিন। সঙ্গে গর্বিতও। তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাঙলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী বাংলাদেশ। পাচ উইকেট নেয়ার সুবাদে ম্যাচ সেরা তাসকিন। তিন ম্যাচে ৮ আট উইকেট নেয়ার সুবাদে সিরিজ সেরাও তিনি। পুরস্কারপ্রাপ্তির পর তাসকিন বলেন, 'আমি খুবই খুশি ও গর্বিত। প্রথমবারের মতো সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতলাম। গত দেড় দুই বছর আমি একটা নির্দিষ্ট প্রসেসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। প্রতি ম্যাচেই আমার ক্যাপ্টেন সাপোর্ট করেন। আমাকে বলে, আগ্রাসী হও, উইকেট নাও। আমি খুবই খুশি সিরিজ জেতায়। আমি এখনো শিখছি কিভাবে ফ্লাড উইকেটে পাচ উইকেট নেয়া যায়।' তিন ম্যাচ সিরিজে সর্বোচ্চ ৮ উইকেট তাসকিনের। ৬ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাগিসো রাবাদা। তৃতীয় স্থানে থাকা মিরাজের উইকেটও মোট ৬টি। | 12 |
জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো 'পানিতে ডুবে মৃত্যু বা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া রোধে সচেতনতা সৃষ্টি' বিষয়ক রেজুলেশন গ্রহণের ক্ষেত্রে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বুধবার 'পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ' বিষয়ক গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস্ এর এক সভায় সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ও লন্ডনভিত্তিক রয়্যাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (আরএনএলআই) সহ জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহের ১৩ জন প্রতিনিধি ছিলেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে ২০১৭ সালে জাতিসংঘের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সমন্বয়ে 'পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ' বিষয়ক গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস্ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে বাংলাদেশের নেতৃত্বে এই গ্রুপটি গঠনে এগিয়ে আসে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, আয়ারল্যান্ড, ফিজি ও তানজানিয়া। সংগঠনটি শিশুদের মৃত্যু ও আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কারণ ডুবে যাওয়া প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে গ্রুপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে এগিয়ে নিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, "আমরা শিশু ও নবজাতকের মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পেরেছি, কিন্তু পানিতে ডুবে মৃত্যুহার যদি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে না পারি তাহলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগসহ অন্যান্য বিষয়ে আমাদের সাফল্য এবং এসডিজি-৩ এর অর্জন অসমাপ্ত থেকে যাবে।" বৈশ্বিক ও প্রতিরোধযোগ্য এই মহামারির বিষয়টি অবশ্যই আন্তর্জাতিক নীতি-নির্ধারণীতে স্থান পেতে পারে মর্মে উল্লেখ করেন স্থায়ী প্রতিনিধি। পানিতে ডুবে মৃত্যু বিষয়ে বাংলাদেশ যে সকল নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। যার মধ্যে রয়েছে, ২০১৫ সালে গৃহীত সকল শিশুকে সাতার শেখানোর মতো সরকারি সিদ্ধান্ত। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে শিক্ষা, মহিলা ও শিশু, সমাজ কল্যাণ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে বাংলাদেশ যে আন্তঃসরকারি টাস্কফোর্স গঠন করেছে তা উল্লেখ করেন তিনি। এই টাস্কফোর্স পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ক একটি জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন করছে, যা প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে সভাকে অবহিত করেন মাসুদ বিন মোমেন। বক্তারা পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়টির গভীর তাৎপর্য উল্লেখ করে বলেন, গত এক দশকে বিশ্বে শিশু, নারী ও পুরুষ মিলে কমপক্ষে ৪০ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছে। তারা আরও বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে এগিয়ে আসা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে আবশ্যকীয় একটি কাজ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আরএনএলআই এর প্রতিনিধিরা বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যুর এই সাম্প্রতিক হার আমরা যদি নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনতে পারি তাহলে এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বিশেষ করে শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক অর্জনে বিরাট ভূমিকা রাখবে। এই গ্রুপ অব ফেন্ডস্ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলতি ৭৪তম অধিবেশনে উপস্থাপন করার জন্য পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ে একটি খসড়া রেজুলেশন প্রস্তুতের বিষয়ে আলোচনা করেন। গ্রুপটির সদস্যরা ঐতিহাসিক এই পদক্ষেপ গ্রহণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 4 |
দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে সিলেটে দুর্নীতিবিরোধী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ নভেম্বর। ওই দিন সকাল ৯টায় নগরীর রিকাবীবাজারে কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গণশুনানিতে প্রধান অতিথি থাকবেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক।বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হলে গণশুনানিতে অভিযোগ করতে পারবেন ভুক্তভোগীরা।অভিযোগের জন্য ভুক্তভোগী বা আগ্রহী ব্যক্তিকে ২৫ নভেম্বরের মধ্যে দুদক, সমন্বিত সিলেট জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর-ই-আলম (ফোন ০১৭১০৪৩৭৫০৫) অথবা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমদের (ফোন ০১৭১৮০৩৪৩৭০) সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। | 6 |
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রথম দিনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস গুজব ছাড়া কিছু নয়, কেউ কেউ গুজব ছড়াতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলছেন। এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই।রোববার রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো মন্দ খবর শোনা যায়নি। সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃংখলভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।এর আগে মন্ত্রী, সচিব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজন কর্মকর্তা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রোববার শুরু হওয়া এই পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ২৬ নভেম্বর।প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার মোবাইলে প্রশ্নপত্রের ছবি তোলার সুযোগ নেই। পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন বাইরে চলে যাওয়ার একটা মাধ্যম হলো মোবাইল ফোন। কিন্তু এবার কোনো শিক্ষক মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন না। কেউ যদি ভুল করেও নিয়ে আসেন, সেটা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে রেখে যেতে হবে।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশের ভেতরের ৭ হাজার ২৬৭টি এবং দেশের বাইরের ১২টি কেন্দ্রে এ বছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে। এবার মোট ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পরীক্ষার্থী ২৮ লাখ ৪ হাজার ৫০৯ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ১৫ লাখ ৪ হাজার ৫২৪ জন এবং ছাত্র ১২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৮৫ জন। ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এবার অংশ নিচ্ছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৬ জন।
| 6 |
দিনাজপুরের খানসামায় প্রথমবারের মতো নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার প্রশাসনিক দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফ হাসান নতুন ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এরপর ইউএনও রাশিদা আক্তার বিদায়ী ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামের কাছে থেকে তাঁর দায়িত্বভার বুঝে নেন।ইউএনও রাশিদা আক্তার বলেন, সবার সঙ্গে সমন্বয় করে আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। | 6 |
অবশেষে সুসময়ের দেখা পাচ্ছে সিলেট সিক্সার্স। নতুন অধিনায়ক অলোক কাপালির 'কপালে'ই হয়ত ভাগ্য ফিরলো সিলেটের। টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিলো তারা। আজ খুলনা টাইটান্সকে ৫৮ রানে হারিয়ে আসরের চতুর্থ জয় তুলে নিলো তারা। এর ফলে পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান এখন পাঁচ নম্বরে। ১০টি ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিতেছে তারা। এর আগে গতকাল চট্টগ্রামে শুরু হওয়া চতুর্থ ধাপের প্রথম ম্যাচে নতুন অধিনায়ক অলোক কাপালির নেতৃত্বে রাজশাহীকে হারায় তারা। তবে আগে থেকে নতুন অধিনায়ক ঘোষণার কথা জানায়নি কর্তৃপক্ষ। ম্যাচের আগে জানা যায়, আগের ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়া পাকিস্তানি পেসার তানভীর সোহলের কাছ থেকে অধিনায়কের দায়িত্ব ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। মাত্র একটি ম্যাচেই দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। এবং হারের কারণে দায়িত্ব অব্যাহত রাখার উপযুক্ত মনে করা হয়নি তাকে। তানভীরের আগে দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। তিনি তৃতীয় ধাপের শেষ ম্যাচ খেলে বিদায় নেন ইনজুরির কারণে। তার নেতৃত্বেও দল ভালো করতে পারেনি। সাত ম্যাচে দুটিতে জিতেছিল সিলেট। এদিকে আজ টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় সিলেট সিক্সার্স। দারুণ সূচনা করেন সিলেটের দুই ওপেনার আফিফ হোসেন ধ্রুব ও লিটন দাস। ৮ ওভারে ৭১ রানের জুটি গড়েন। আফিফ ৩৭ বলে ৪৯ ও লিটন ২২ বলে ৩৪ রান করে বিদায় নেয়ার পর দলটির ইংলিশ ব্যাটসম্যান জেসন রয়ও দ্রুত বিদায় নেন। তবে মিডল অর্ডারে সাব্বির রহমান ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ নওয়াজের দুটি ইনিংসে ভর করে শেষ পর্যন্ত ১৯৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় দলটি। সাব্বির ২৯ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেছেন ৪টি চার ও দুটি ছক্কায়। আর নওয়াজ অপরাজিত ছিলেন ২১ বলে ৩৯ রান করে। তার ইনিংসে ছিলে ৩ চার ও ২ ছক্কা। খুলনার পক্ষে বামহাতি অফ স্পিনার তাইজুল ইসলাম সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন ৩০ রানে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই সিলেটের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে খুলনা। কেউই বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারছিলেন না। সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন ওপেনার ব্রেন্ডন টেইলর। বাকিরা আসা-যাওয়ার মধ্যেই ছিলেন। ফলে ১৩৭ রানে গুটিয়ে যায় তারা। সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন নাবিল সামাদ। দুটি তাসকিন আহমেদ। | 12 |
ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি'র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক উপজেলা সোনারগাঁয়ে। ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত মোগল শাসক ঈসা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত বড় সরদারবাড়ির সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধারণ করা হয় এবারের 'ইত্যাদি'। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের 'সংগ্রাম' তৈলচিত্রের আদলে তৈরি ভাস্কর্যকে ঘিরে উপস্থিত ছিল সীমিতসংখ্যক দর্শক। বড় সরদারবাড়ির সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে নির্মাণ করা আলোকিত মঞ্চে 'ইত্যাদি'র শুটিং চলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত।এবারের অনুষ্ঠানে দুটি গান থাকছে। একটি গেয়েছেন শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ ও চিশতী বাউল। কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইবরার টিপু। সোনারগাঁয়ের ইতিহাসগাথা ও কৃষ্টিকথা নিয়ে মনিরুজ্জামান পলাশের লেখা আরেকটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন স্থানীয় অর্ধশতাধিক নৃত্যশিল্পী। এবারের 'ইত্যাদি' তে নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ওপর রয়েছে দুটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। রয়েছে গ্রিসের প্রাচীন নিদর্শন অ্যাক্রোপোলিসের ওপর তথ্যবহুল প্রতিবেদন। থাকছে সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু নাট্যাংশ। 'ইত্যাদি'র শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।'ইত্যাদি'র নতুন পর্বটি প্রচারিত হবে ২৯ অক্টোবর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বিটিভি ওয়ার্ল্ডে। 'ইত্যাদি'র রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। | 2 |
বৃটেনে বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির হাতে বাংলাদেশের সাংবাদিক ফারজানা রূপার আক্রান্ত হওয়ার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএফইউজে - বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন।
বিএফইউজে সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব ওমর ফারুক এক বিবৃতিতে বলেন: কমনওয়েলথ শীর্ষ সন্মেলনের খবর সংগ্রহের জন্য একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা রূপা বৃটেনে অবস্থান করছেন। কমনওয়েলথ শীর্ষ সন্মেলনের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি সেদেশে জামায়াত শিবিরের বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতার বিষয় নিয়েও তিনি তার টেলিভিশনে রিপোর্ট করেন। বৃটেনের চ্যানেল-৪ এ যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের উদ্ধৃত করে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বৃটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্য টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিককে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক খবর সম্প্রচারের বিষয়টিও তার রিপোর্টে তুলে ধরা হয়। এতে বৃটেনে আশ্রয় নেতা জামায়াত শিবির চক্র রূপার উপর রুষ্ট।
বৃহস্পতিবার নিউ ক্যাসেল এলাকায় রিপোর্ট সংগ্রহের সময় ওই সন্ত্রাসী চক্র দ্রূত গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে রূপাকে হত্যার প্রচেষ্টা চালায় এবং ক্যামেরা ও ট্রাইপড ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমরা বৃটেনের মত সভ্য দেশে প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনার নিন্দা জানাই।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি মাত্র সূত্র ব্যবহার করে চ্যানেল ৪ যে 'উদ্দেশ্যমূলক' সংবাদ সম্প্রচার করেছে তারও প্রতিবাদ জানাই, এই রিপোর্টে ভালো সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরন করা হয়নি।
বিএফইউজে ফারজানা রূপার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবিলম্বে লুণ্ঠিত ক্যামেরা উদ্ধার করার জন্য বৃটিশ পুলিশবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আশা করেন, আধুনিক গণতন্ত্রের পীঠস্থান নিশ্চয়ই যুদ্ধাপরাধী, দন্ডপ্রাপ্ত আসামি বা সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম হবে না। | 6 |
মার্ভেলের সবশেষ মুক্তি পাওয়া 'ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস' সিনেমাটির সাফল্যের মুকুটে আরেকটি পালক যোগ হলো। বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ ও এলিজাবেথ ওলসেন অভিনীত 'ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস' এ বছরের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল সিনেমা হিসেবে এর প্রতিদ্বন্দ্বী ডিসি'র 'দ্য ব্যাটম্যান'কে ছাড়িয়ে গেছে।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, 'ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস' ছবিটি মুক্তির প্রথম মাসেই ৮৭৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে। যা ব্যবসার দিক থেকে ২০২২ সালে এ পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া ছবির মধ্যে সর্বোচ্চ। আর ডিসি'র 'দ্য ব্যাটম্যান' ছবিটি মুক্তি পায় গত মার্চ মাসে। বিশ্বজুড়ে ৭৭০ মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করেছে এই ছবি। এবার এই ছবির জনপ্রিয়তাকে ফিকে করে প্রথম স্থান দখল করল এবার 'ডক্টর স্ট্রেঞ্জ' এর সিক্যুয়াল। কেবল আমেরিকায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করেছে 'ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস'। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৯৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করে ফেলবে ছবিটি। এখন ব্যবসার দিক থেকে বিলিয়নের কোটা স্পর্শ করতে পারবে কিনা সেটাই দেখার।করোনা মহামারির জেরে বড়পর্দায় ছবি মুক্তি পায়নি বহুদিন। ওটিটির এই যুগে দর্শক এখন বাড়িতে বসে মুঠোফোনের পর্দায় ছবি দেখতে অভ্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে দর্শককে হলমুখী করা বেশ মুশকিল বলা যায়। তবে মার্ভেল ভক্তরা যে ঠিকই হাজির হয়েছেন হলে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেই কারণেই বক্স অফিসে সাত হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করতে পেরেছে এই ছবি। | 2 |
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু। তার আশঙ্কা, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ।একই সঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের এই মেয়র প্রার্থী। তিনি বলেছেন, রংপুরে বিএনপির অস্তিত্ব নেই। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের নামে মূলত জাতীয় পার্টিকেই সহায়তা করছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।তারপরও নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হলে নৌকা প্রতীক বিজয়ী হবে বলে মনে করছেন সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু। তিনি সোমবার সৈয়দপুরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, দুই সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।এই বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেছেন, মন্ত্রী পদমর্যাদার কারণে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের ওপর এক ধরণের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এ কারণেই নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবমুক্ত রাখার বেলায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সহায়তা চেয়েছেন জাতীয় পার্টি হয়ে আওয়ামী লীগে আসা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু।কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, নির্বাচন শতভাগ অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। স্থানীয় প্রশাসনে কারোরই হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ থাকবে না। এই বৈঠক থেকেই নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু। তিনি বৈঠকের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের জরুরি হস্তক্ষেপ চান। বিশেষ করে নির্বাচনের দিনে নেতাকর্মীদের সার্বক্ষনিক সবর ভূমিকা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন এই মেয়র প্রার্থী। অবশ্য এর আগেই দলের রংপুর জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, রংপুর মহানগর সভাপতি শফিউর রহমান শফি ও সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডলের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।এদিকে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। দুই নেতা রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েই আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
| 9 |
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গতকাল বৃহস্পতিবার আনা হয়েছে ২ হাজার ৪৭১টি গরু ও মহিষ। এসব পশুর বাজারমূল্য প্রায় ২৩ কোটি টাকা। গত রোববার জেলা চোরাচালান প্রতিরোধ টাস্কফোর্স কমিটির সভায় করিডর দিয়ে গবাদিপশু আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার থেকে করিডর দিয়ে মিয়ানমারের পশু আমদানি বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মধ্যে গতকাল সকাল থেকে করিডরে আসতে থাকে মিয়ানমারের পশুবোঝাই ট্রলার ও কাঠের জাহাজ। বিকেল পর্যন্ত অন্তত ২২টি জাহাজ ও ট্রলারে পৌঁছেছে ২ হাজার ৪৭১টি গরু ও মহিষ। শাহপরীর দ্বীপ জেটি দিয়ে পশুগুলো খালাস করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ও শুল্ক বিভাগের সদস্যরা। পরে প্রতিটি পশুর বিপরীতে ৫০০ টাকা করে সরকারি রাজস্ব আদায় করে ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জানতে চাইলে টেকনাফ কাস্টমস সুপার আব্দুন নূর বলেন, গতকাল ১০-১২ জন ব্যবসায়ী ২ হাজার ৪৭১টি গরু ও মহিষ এনেছেন। এসব পশুর বিপরীতে সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। বন্ধ করিডরে পশু আমদানি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই শুল্ক কর্মকর্তা বলেন, জেলা চোরাচালান টাস্কফোর্স কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মতে গত সোমবার থেকে করিডর দিয়ে পশু আমদানি বন্ধ করা হয়েছিল। গত তিন দিনে এ করিডর দিয়ে কোনো পশু আমদানি হয়নি। এখন যেহেতু বিপুল পশু এসে গেছে, তাই রাজস্বও আদায় করতে হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পশু আমদানিকারক প্রথম আলোকে বলেন, কাল-পরশু আরও কয়েক হাজার পশু টেকনাফ করিডরে পৌঁছাতে পারে। মিয়ানমারের আকিয়াব (সিঠুয়ে) ও টংগু এলাকায় পশুগুলো জাহাজ ও ট্রলারে বোঝাই করা হচ্ছে। বন্ধ করিডর দিয়ে পশু আনার বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী বলেন, আমদানির পথে থাকা (বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে অবস্থান করা) কিছু পশু শাহপরীর দ্বীপ করিডরে এসেছে। শাহপরীর দ্বীপ করিডর চালু হয় ২০০৩ সালে। গত চার মাসে (মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন) ৪৪ হাজার ৪৩৬টি পশু আমদানির বিপরীতে সরকার রাজস্ব আদায় করেছে ২ কোটি ২২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। করিডরে প্রতিটি গরু ও মহিষের বিপরীতে রাজস্ব দিতে হয় ৫০০ টাকা। | 0 |
এএফপির খবরে জানা যায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিচালিত মায়াওয়াদ্দি টিভিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণায় বলা হয়েছে, মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এমন পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ইয়াঙ্গুনের সিটি হল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সু চিকে আটকের পর অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, সিটি হল চত্বরে সেনাবাহিনীর পাঁচটি ট্রাক রয়েছে। যারা কাজে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তাদের সেনাসদস্যরা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেনাবাহিনী আবার ক্ষমতা দখল করবে এমন গুঞ্জন চলছিল। প্রায় পাঁচ দশক ধরে মিয়ানমারের ক্ষমতায় ছিল দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি জয় পায়। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী। | 3 |
তিন দিনে ইন্দোর টেস্টে ফলাফল এলেও ম্যচের অবশিষ্ট ২ দিন ভেন্যুর শহরেই অবস্থান করছে উভয় দল। ইন্দোরেই থাকছে লাল-সবুজের প্রতিনিধি ও ম্যন ইন ব্লুরা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ২২ নভেম্বর কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। ১৯ নভেম্বর সকালে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হবে মুমিনুল বাহিনী। বাংলাদেশকে চরম লজ্জা দিয়ে তিন দিনের মাথায় সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে নেয় ভারত। অনেকেই হয়তো ভেবেছিল, সে ক্ষেত্রে কলকাতার বিমান ধরতে পারে টিম বাংলাদেশ। কলকাতায় এসে গোলাপি বলের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে টাইগাররা। কিন্তু সূচি অনুযায়ী, দুদিন তারা ইন্দোরেই থাকছে এবং সেখানেই দিবা-রাত্রির টেস্টের জন্য গোলাপি বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুধু টাইগাররা নয়, জানা গেছে ভারতীয় দলও দুদিন ইন্দোরে থাকছে এবং সেখানেই তারা রাতের আলোয় প্রস্তুতি সারছে। বাড়তি পাওয়া এই সময়টা হেলায় নষ্ট না করে ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামে রবিবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় গোলাপি বলে অনুশীলন করে টাইগাররা। একই মাঠে বিকেল ৫টায় অনুশীলনে নামে স্বাগতিক ভারতও। যেহেতু কলকাতায় সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলা হবে দিবা-রাত্রে গোলাপি বলেই। ইন্দোর টেস্ট থেকে বাংলাদেশ দলের প্রাপ্তি বলতে গেলে শূন্যই। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং কোনো বিভাগেই শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে কুলিয়ে উঠতে পারেনি টাইগাররা। তবে এমন ব্যর্থতায় ভরা এক টেস্টের পরও সুখবর পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম আর আবু জায়েদ রাহী। ইন্দোর টেস্টে দল খারাপ করলেও ব্যক্তিগত পারফরমেন্সের সুবাদে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে এই দুজনের। টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ ধাপ উন্নতি হয়েছে মুশফিকের। বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক এখন বিশ্বের টেস্ট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ৩০তম স্থানে। আর টেস্ট বোলার র্যাঙ্কিংয়ে ১৮ ধাপ এগিয়ে রাহী উঠে এসেছেন ৬২ নম্বরে। ভারতের ৬ উইকেটের মধ্যে ৪টি উইকেটই নিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার। | 12 |
নাটোরের গুরুদাসপুরে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বখাটের অত্যাচারে স্কুল ও কোচিংয়ে যেতে পারছিলেন না। পরে বাধ্য হয়ে ওই স্কুলছাত্রী গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তমাল হোসেনের কাছে আসেন। স্কুলছাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে। ইউএনও মো. তমাল হোসেন জানান, স্কুলছাত্রীর অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ওই এলাকায় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্ত ছেলে ও তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে হাজির করা হয়। অভিযুক্ত ছেলের বয়স কম হওয়ার কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী সময়ে যেন ওই মেয়েকে আর বিরক্ত না করে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ৭৭ জনের মৃত্যু জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ৬৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। ২৬ হাজার ৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩৪৩ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৭। শনিবার (১০ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দিনে ৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত বুধবার রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এর আগে একদিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর এসেছিল গত বৃহস্পতিবার। সেদিন করোনায় ৭৪ জনের মৃত্যু হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সেরে উঠেছেন ৩ হাজার ৮৩৭ জন। তাদের নিয়ে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হিসেবে শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। | 4 |
চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখায় চীনকে ছাড়িয়ে গেল ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে এ পযর্ন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০৫ জনে। যা চীনের মৃতের সংখ্যার চেয়ে ১৫৬ জন বেশি। অন্যদিকে দেশটিতে নতুন করে ৫ হাজার ৩২২ জন আক্রান্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪১ হাজার ৩৫ জন। চীনে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকার মধ্যেই ইতালিতে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতালিতে দেশব্যাপি লকডাইনের মধ্যেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক বাড়ছে দেশটিতে। হাসপাতালগুলো রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ডাক্তার-নার্সরাও আক্রান্ত হচ্ছেন ভাইরাসটিতে। লকডাইন শেষ করে আগামী ৩ এপ্রিল স্কুলগুলো খুলে দেয়ার কথা থাকলেও তারিখ আরো পিছানো হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। | 3 |
ইরান সফরে গেছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আলে সানি। সফরের অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ঠিক কোন কোন ইস্যুতে কথা হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে এখনও জানা যায়নি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসাকে 'সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা' বলে মনে করছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, 'কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব ছাড়াই শেষ হয়েছে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্ক। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রতিবেশী দেশগুলোকে পাশে নিতে পারেনি সরকার।'শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, দলের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মুনির হোসেন, গোলাম মুর্তজা তুলা প্রমুখ।রিজভী বলেন, 'নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনকে বিষয়টি বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। প্রথম থেকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছিল স্থবির-নীরব-নির্বাক। এ ব্যাপারে তারা কিছুই বলেনি। শুরু থেকে বিষয়টি যদি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের জন্য জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো যেত, তাহলে আরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংগঠিত হতো। বর্তমানে মিয়ানমারের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা আরও বেশি হতো।'তিনি বলেন, 'রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকার বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোকে পাশে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথম থেকে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা সক্রিয় থাকলে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করা যেত। বর্তমান সংকটে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার তাতে সাড়া না দিয়ে একপক্ষ নীতি অবলম্বন করছে।'সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও বলেন, 'শারদীয় দুর্গাপূজায় কেরানীগঞ্জের মির্জাপুরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাড়ির পূজামণ্ডপে নেতা-কর্মীদের যেতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এটি। বিএনপির হিন্দু সম্প্রদায়ের যেসব নেতা দুর্গাপূজার আয়োজন করেছেন, তাদের অনেকেই নিজ এলাকায় নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারছেন না।'
| 9 |
বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেছেন, ৭২ বছরের আওয়ামী লীগকে আরো শক্তিশালী, টেকসই ও অধিকতর জনপ্রিয় করতে হলে দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক চর্চা আরো বাড়াতে হবে। বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা তিনটি বই 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী', 'কারাগারের রোজনামচা' এবং 'আমার দেখা নয়া চীন' ভালোভাবে পড়তে হবে। আত্মস্থ করতে হবে। তাহলে এই দল ও দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর সুদূরপ্রসারী চিন্তাচেতনার পাশাপাশি তার অবদান সম্পর্কে নেতাকর্মীরা জানতে পারবেন। নিজেকে সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারবে। তাহলেই আওয়ামী লীগ আরো শক্তিশালী দল হবে। ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পূর্বক্ষণে ভোরের কাগজের কাছে দেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সম্পর্কে এভাবেই নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি। সাক্ষাৎকারে দলটির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন তিনি। আফজালুর রহমান বাবু বলেন, সবার জানা উচিত আওয়ামী লীগ, দেশ ও মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধুর কী পরিমাণ ভালোবাসা, দেশপ্রেম ও একাগ্রতা ছিল। উনি পরিবারের দিকে তাকাননি। ব্যক্তিগত স্বাদ-আহ্লাদের দিকে তাকাননি। বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। তার একটাই চাওয়া ছিল, বাঙালির মুক্তি। সেজন্যই জীবনের মায়া করেননি। রাজনৈতিক কর্মীদের এসব জানতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে তিনি বলেন, সময় ও জাতির প্রয়োজনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়। এই সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী ছিল। বঙ্গবন্ধু দলটির প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েই বাঙালির অধিকার আদায়ে কাজ শুরু করেন। ধাপে ধাপে স্বাধীনতা এনেছেন। আওয়ামী লীগের জন্যই স্বাধীনতা পেয়েছি। চলার পথে বহু ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু থেমে থাকেননি। আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্বের দক্ষতা সম্পর্কে তিনি বলেন, অল্প বয়সে দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনা দলকে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছেন। শেখ হাসিনাই একমাত্র মুক্তির দিশারী। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশকে এই জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পরিচালিত হচ্ছে, দেশ পরিচালিত হচ্ছে। বাঙালি অধিকার ফিরে পেয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতকে পেছনে ফেলে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। যদি শেখ হাসিনা না থাকেন, জানি না, তখন কী হবে। তবে বিশ্বাস করি, আমরা যদি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে ফলো করি, তবেই আওয়ামী লীগ নামক অনুভূতির সঙ্গে সবসময় এক থাকতে পারব। এক প্রশ্নের জবাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, '৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর আওয়ামী লীগ এবং দলটির নেতাকর্মীদের কঠিন দুঃসময় ছিল। পুরো জাতি দিশেহারা ছিল। তখন দলটির নেতারা নানা গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত ছিল। সম্মেলনে মারামারি, দলাদলি, নেতাদের বাসায় বাসায় হাজিরা দেয়া। সেই অবস্থা থেকে ১৯৮১ সালে দলটি মুক্তি পেয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফেরার পর। টানা ৪০ বছর সুযোগ্য নেতৃত্ব, সুচিন্তিত মতামত, ভালোবাসার কর্মীদের প্রেমের কারণে তিনি আজকের আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন। তৃণমূলের প্রতিটি এলাকায় তার পদচারণা। ঘুরে ঘুরে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। দলকে ক্ষমতায় এনেছেন। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্যম আয়ের হয়েছে। তিনি উন্নত দেশ গড়ছেন। ডেল্টা প্ল্যান করেছেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চাওয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা আরো বেশি আস্থাশীল হই। আমাদের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও জ্ঞানী-গুণী আছেন- সবার কাজ করা উচিত। আমরা যদি সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করি, তবেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্থকতা আসবে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, আওয়ামী লীগ ততদিনই থাকবে। | 6 |
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হলেও তা 'চর্চার সুযোগ নেই' বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ইসিও গঠন করতে পারেন না। তবে রাষ্ট্রপতি ডাকলে বিকল্পধারা সাড়া দেবে।'
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত সংগঠন আদর্শ নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত 'স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে নাগরিকদের ভাবনা' শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিকল্পধারা সভাপতি বি. চৌধুরী।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হবে। তাই গত কয়েক মাস ধরেই চলছে নতুন ইসি কীভাবে গঠিত হবে তা নিয়ে আলোচনা। ১৮ নভেম্বর খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য 'শক্তিশালী' ইসি গঠনে বিএনপির ১৩ দফা প্রস্তাব পেশ করে। আওয়ামী লীগ এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ইসি গঠনের এখতিয়ার শুধু রাষ্ট্রপতির। সরকারি দল আলোচনায় রাজি না হওয়ায় বিএনপি রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে দলীয় প্রস্তাব তুলে ধরতে সময় চেয়ে বঙ্গভবনে চিঠি দিয়েছে।
বিগত মহাজোট সরকারের সময় বাতিল করা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি থেকে সরে এসেছে বিএনপি। খালেদা জিয়া এরই মধ্যে 'নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারে'র অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। যথাসময়ে ওই সরকারের রূপরেখা দেবেন বলেও জানিয়েছেন।
বি. চৌধুরী জানান, তার দলও আগামী সপ্তাহে রূপরেখা দেবে।
আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ, সাবেক এমপি সিরাজুল হক, গোলাম মওলা রনি, আবদুল্লাহ হিল মাসুদ প্রমুখ।
| 9 |
ধান কাটা ও মাড়াই করার সময়ে কর্মসৃজন কর্মসূচি চালু হওয়ায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দেখা দিয়েছে ধান কাটা শ্রমিকের সংকট। এই সুযোগে বৃদ্ধি পেয়েছে মজুরি। ফলে খেতের পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।কৃষকেরা বলছেন, আগের বছর প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিকেরা নিয়েছেন ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এবার তাঁরা সেই ধান কাটতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা নিচ্ছেন।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ীর ৬ ইউনিয়নে মোট ২ হাজার ৩৬০ জন সুবিধাভোগী শ্রমিক কর্মসৃজন প্রকল্পে সম্পৃক্ত আছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন কর্মসূচি চালু করা হয়। যার ফলে শ্রমিক না পেয়ে কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল সময়মতো ঘরে তুলতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন।সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অনেক কৃষকের পাকা ধান খেতে পড়ে আছে। অনেকের খেত পানিতে অর্ধেক ডুবে গেছে। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। নানা চেষ্টা করে পাওয়া গেলেও মজুরি অনেক বেশি।ঘোগারকুটি গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, 'আমার গ্রামে যারা ধান কাটার কাজ করতেন, তাঁদের অনেকেই এখন মাটি কাটার কাজ করছেন। শ্রমিকের অভাবে ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসতে পারছি না। খেতের পাকা ধান খেতেই ঝরে যাচ্ছে।'পূর্ব ধনিরাম গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। ধান পেকে গেছে। কাটার শ্রমিক পাচ্ছেন না। বিঘা প্রতি ৬ হাজার টাকা করে দিতে চাচ্ছেন তবুও শ্রমিক মিলছে না। তাঁর প্রশ্ন-শ্রমিকের অভাবে যদি পাকা ধান খেতেই নষ্ট হয়ে যায়, এর থেকে কষ্টের আর কী হতে পারে?সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়াল ও আব্দুর রাজ্জাক জানান, ধান কাটা মৌসুমের শুরুতে বিঘাপ্রতি ২ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্রমিকেরা কাজ করতেন। কিন্তু মাটি কাটা কর্মসূচি চালু হওয়ার পর থেকে প্রতি বিঘার ধান ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা দিয়ে কেটে নিতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় টাকা বেশি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব শ্রমিক ধান কাটার কাজ করতেন তাঁরা সড়কে মাটি কাটার কাজ করছেন। ধান কাটার ভরা মৌসুমে এই কাজ সাময়িক বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।এই গ্রামের গফুর মিয়া, হেলাল উদ্দিন, আক্কাস আলী, একরামুল হকসহ কর্মসৃজন কর্মসূচির কয়েকজন সুবিধাভোগী বলেন, তাঁরা এ প্রকল্পের মাটি কেটে দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরি পান। তবে এখন যারা ধান কাটার কাজ করছেন তাঁরা দিনে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আয় করছেন। ধান কাটার কাজ আর সপ্তাহখানেক থাকবে।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সবুজ কুমার গুপ্ত বলেন, 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গৃহীত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি সারা দেশে একযোগে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ধান কাটার জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টিভ রোডসকে বিদায় জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (জুলাই ১১) সকালে বিসিবি কার্যালয়ে এসে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন এই ইংলিশ কোচ। যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলেননি তিনি। এসময় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন সাংবাদিকদের বলেন, 'আসলে এটা একটা আনুষ্ঠানিকতার অংশ ছিল। অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার কিছু কাজ বাকি ছিল। এছাড়া আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় ছিল, সেগুলোর কাজ আমরা শেষ করলাম। তিনি সম্ভবত আজকেই ঢাকা ছাড়বেন।' গণমাধ্যেমের সাথে রোডসের কথা না বলার বিষয়ে প্রধান নির্বাহী বলেন, 'স্বাভাবিকভাবেই যখন একটা সম্পর্কের ইতি হয় তখন সেখানে অনেক ব্যাখ্যা থাকে। হয়তো তিনি সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। এটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়।' তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বাংলাদেশে পরবর্তী কোচ নিয়ে বিসিবি'র পদক্ষেপ কি হবে। নিজামউদ্দিন বলেন, 'কোচ খোঁজার কাজ বিসিবি শুরু করে দিয়েছে। শুধুমাত্র প্রধান কোচ নয়, অন্যান্য কোচিং স্টাফের পদ যেগুলো ফাঁকা রয়েছে সবগুলোই পূরণ করা হবে। মূলত বিসিবি ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করেই কোচ নিযোগ দিয়েছিল। এবার সেসব নিয়ে বিসিবি কোনো চিন্তা করবে না।' | 12 |
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুরুন্ডির বিপক্ষে ম্যাচে খেলবেন এই পোস্টার বয়। শুধু খেলবেনই না, ম্যাচে গোল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। উরুর চোটের কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে পারেননি। দ্রুত রিকোভারি করে এখন আবার মাঠে নামার জন্য উদগ্রিব হয়ে আছেন তিনি। সব ধরনের সেশনেই অংশ নিয়ে গতকাল দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেছেন। নিজেকে প্রায় পুরোপুরি ফিট মনে করছেন জামাল ভঁ,ইয়া। বলেন- এখন ভালো আছি, প্র্যাকটিস করেছি। একটু হালকা পেইন আছে। কিন্তু ম্যাচ খেলতে পারব আশা করি। জামাল ভূঁইয়াকে ছাড়াই লঙ্কানদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। মতিন-ইব্রাহিমদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত জামাল সেমিফাইনালে বুরুন্ডির বিপক্ষে গোল করতে চান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক মতিন মিয়া। বিয়ের পর মাঠে নেমেই মতিন সাফল্য পেয়েছেন। সদ্য বিবাহিত জামালও মতিনের মতো গোল পাবেন? গতকাল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব মাঠে জাতীয় দলের অনুশীলন শেষে দেশের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার বলেছেন, মতিন দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করেছে। আমিও সেমিফাইনালে গোল করতে চাই। সেমিফাইনালে না পারলেও দল ফাইনালে উঠলে গোল করবোই। সব মিলে আশার কথা হলো অধিনায়ক ফিরছেন ওই ম্যাচে। তবে গত ম্যাচে তার বদলে অভিষেক হয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনীর মানিক হোসেন মোল্লার। প্রথম ম্যাচের পারফরমেন্সের বিচারে কোচের সুনজরেও আছেন মানিক । তাই মানিককে একাদশে নিয়েই দল সাজাবেন জেমি ডে এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে ভালভাবেই পর্যবেক্ষণে রেখেছেন দেশের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। বাংলাদেশের চেফে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৩৬ ধাপ এগিয়ে বুরুন্ডি। এসব মাথায় না নিয়ে নিজেদের মতো কৌশল সাজিয়ে জয় তুলে নিতে চান ফুটবলাররা। এবার বুরুন্ডি অভিষেক টুর্নামেন্টেই দুই ম্যাচে ৭ গোল করেছে। তাই আসল পরীক্ষাটা রক্ষণের হবে বলে মনে করেন জামাল। বুরুন্ডিকে হারাতে সতীর্থদের প্রতি তার পরামর্শ, বুরুন্ডি সংগঠিত দল। ওদের ডিফেন্স লাইনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারলে ভালো হবে। আর আগে গোল করতে পারলে আমাদের জয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। আমরা এই ম্যাচেও পোস্ট অক্ষত রাখতে চাই। | 12 |
আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামীকাল ৩১ আগস্ট। ইতিমধ্যে ন্যাটোর অধিকাংশ সদস্য বেসামরিক ফ্লাইট কার্যক্রম শেষে করেছে। গতকাল রোববার থেকে বেসামরিক ফ্লাইট শেষ করে একটানা সামরিক ফ্লাইট শুরু কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।২০ বছরের সামরিক অভিযান শেষ করার পর বিভিন্ন কারণে আফগানিস্তানে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় পশ্চিমা জোট। এ জন্য একটি বিমানবন্দর এবং নিরাপদ অঞ্চলের কোনো বিকল্প নেই। এ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং তুরস্ককে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে।১৫ আগস্ট তালেবান কাবুল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগে সেখানকার হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তুরস্ককে আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকও করেছেন। কিন্তু দেশটি ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় ৩১ আগস্টের পর আফগানিস্তানে কোনো তুর্কি সেনা থাকার পরিণতি খারাপ হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করে তালেবান। এ অবস্থায় কিছুদিন চুপ মেরে যায় আঙ্কারা। কিন্তু সম্প্রতি কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য তুরস্কের কারিগরি সহায়তা চেয়েছে তালেবান। এ উপলক্ষে তাদের মধ্যে আলোচনা হলেও নিরাপত্তার কারণে এখনোও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি তুরস্ক।রয়টার্স ও আল জাজিরার তথ্য, গত শনিবার থেকের কাবুল বিমানবন্দরে বাইরের কিছু ফটকের দায়িত্ব তালেবানের হাতে হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তা ছাড়া একই দিন আফগানিস্তান ছেড়ে গেছে তুরস্কের সব সেনা। এ অবস্থায় বিমানবন্দর পরিচালনায় নিজেদের টিম প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তালেবানের ভারপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রী জাবিয়ুল্লাহ মুজাহিদ। তবে কারিগরি সহায়তার জন্য তালেবান কাতারেরও সহায়তা চাইতে পারে বলে জানিয়েছে দু-একটি সূত্র।এ অবস্থায় আফগানিস্তানের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতিসংঘের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক। এ জন্য স্থায়ী কমিটির পাঁচ সদস্য ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়ার জাতিসংঘের দূতদের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।বৈঠক কাবুলে একটি নিরাপদ এলাকা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পেশ করবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। গতকাল রোববার এক ফরাসি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেন, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে কাবুলে একটি নিরাপদ এলাকা প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রস্তাবের মূল কথা, যার মাধ্যমে সেখানে মানবিক কার্যক্রম চালানো যাবে। তা ছাড়া এটাকে ব্যবহার করে তালেবানের ওপর চাপ তৈরি করা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। | 3 |
অবশেষে বন্ধ করা হলো পঞ্চগড়ের প্রধান পশুর বাজার রাজনগর হাট। শনিবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি এক বৈঠকে ওই হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যেও পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় জমায় সামাজিক গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছিল। জেলার প্রধান পশুর হাট রাজনগরে সপ্তাহে দুইদিন বৃহষ্পতিবার ও রবিবার পশুর হাট বসে। করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশের মতো পঞ্চগড়েও প্রথম দিন থেকে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল থেকেই পুলিশ বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতার মধ্যে রাজনগর পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়। জেলার আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার পশুর হাট বন্ধ থাকায় সেখানকার বেপারিরাও এসে ভিড় করেন এই রাজনগর হাটে। লকডাউনের মধ্যেও পশুর হাটে এমন জনসমাগমের ভিড়ের কারণে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দেখা দেয়। শনিবার বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদের আয়োজনে জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রাজনগর পশুর হাট বন্ধা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফ হোসেন, পৌরসভা মেয়র জাকিয়া খাতুন, হাট ইজারাদার মো. মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, পশুর হাট বন্ধ নিয়ে আলাদা কোন নির্দেশনা ছিল না। সারা দেশের মতো পঞ্চগড়েও কঠোর লকডাউন মানলেও রাজনগর পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা কঠিন হচ্ছিল। তাই হাট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এখন থেকেই রাজনগর পশুর হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা অন্য পশুর হাটগুলোও পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে।। | 6 |
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট স্টুয়ার্ড বা কেবিন ক্রুদের ৩০তম ব্যাচের রজতজয়ন্তী (২৫ বছর পূর্তি) উপলক্ষে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর বারিধারার একটি রেস্তোরাঁর এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। আয়োজন করা হয় ডিজে পার্টির। এছাড়া ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ব্যাচের ২৮ জনেরও বেশি কেবিন ক্রু তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তারা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর কেক কাটার মধ্য দিয়ে রজতজয়ন্তী উৎসবের শুরু হয়। কেবিন ক্রু কাজী জাবিনা আফরোজা শ্বেতা জানান, 'কেক কাটা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর আমরা পরস্পরের মধ্যে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বণ্টন করি। পরিবার-পরিজন নিয়ে উপস্থিত থাকায় পরিচিতি পর্বেরও আয়োজন করা হয়।' কেবিন ক্রু সোনালী, মার্জিয়া, রেবেকা ও তন্বী বলেন, '২৫ বছর ধরে আমরা এই পেশায় আছি। কিন্তু পেশাগত ব্যস্ততায় আমাদের মধ্যে দেখা হয় খুবই কম। আমরা তাই এই মিলনমেলার আয়োজন করেছি। যারা চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় গেছে তারাও এসেছিল অনুষ্ঠানে।' | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পিকআপ-সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল পৌনে ৭টায় ঢাক-সিলেট মহাসড়কের বিজয়নগর উপজেলার রামপুরায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, বিজয়নগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের দুদু মিয়া (৬২), মোর্শেদা বেগম (৫০), হোসনে আরা বেগম (৫০) ও ফরিদ মিয়া (৪৮)। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল পৌনে ৭টায় ঢাকাগামী আরএফএল কোম্পানির একটি পিকআপের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় মোর্শেদা বেগম ওদুদু মিয়া নামেদু'জন যাত্রীকে ব্রাহ্মণবাড়িযা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তারা মারা যান। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন হতাহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল আলম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। | 6 |
ঢাকা: মার্কিন বিজ্ঞানী জন বি গুডএনাফ ১৯৮০ সালে দশকে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি উদ্ভাবন ও এ নিয়ে তাঁর কাজের জন্য ২০১৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। নোবেল জেতা সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি তিনিই। ৯৮ বছর বয়সেও তিনি ব্যাটারি নিয়েই গবেষণা করছেন।তথ্য: নোবেলপ্রাইজ ডটওআরজি | 5 |
খুলনা মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের ছাত্র আল-মাহমুদ সাকিব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কলেজ হোস্টেল থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি তিনি। এ ঘটনায় ৯ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রের মামা ইসমাইল হোসেন নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় জিডি করেছেন। সাকিবের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন কলেজের শিক্ষক ও সহপাঠীরা। ৫ দিনেও কোনো খোঁজ দিতে না পারায় পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। তার সহপাঠীরা জানান, ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কলেজ হোস্টেল থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার জন্য বের হন সাকিব। কিছু সময় পর রুমমেট ছাত্রের কাছে ফোনে ল্যাপটপ, একটি ট্যাব ও তিনটি মোবাইল ফোন জসিম নামে এক ছেলের কাছে দেওয়ার জন্য বলেন। রাত ১০টার দিকে জসিম নামের ওই ব্যক্তি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এসে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এর পর থেকে আল মাহমুদ সাকিব ও জসিম দু'জনের নম্বরই বন্ধ। কলেজ থেকে জানা গেছে, আল মাহমুদ সাকিব লক্ষ্মীপুর সদর থানার উত্তর পঞ্চগড় এলাকার বাসিন্দা আজম হোসেন পাটোয়ারী ও আয়েশা সিদ্দিকার একমাত্র সন্তান। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া সাকিব ২০১৪ সালের নভেম্বরে এমবিবিএসে ভর্তি হন খুলনা মেডিকেল কলেজে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার কথা তার। খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবদুল আহাদ বলেন, পুলিশের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। ৫ দিনেও ছেলেটি ফিরে না আসায় আমরা উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীরাও উদ্বিগ্ন। দ্রুত ওই শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্বে থাকা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার এসআই রোহিত কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু এখনও বলার মতো কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। | 6 |
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁর নিজ জেলা কিশোরগঞ্জ সফরের আজ মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে জেলার মিঠামইনে নির্মাণাধীন সেনানিবাসসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।আজ বিকেলে মিঠামইনে নির্মাণাধীন সেনানিবাস এলাকা পরিদর্শনে যান রাষ্ট্রপতি। সেনানিবাস এলাকায় পৌঁছালে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। পরে, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সেনানিবাসের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়।রাষ্ট্রপতি স্পিড বোটে করে সেনানিবাস এলাকা ঘুরে দেখেন।স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম এবং প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীনসহ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।এর আগে তিনি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ফাউন্ডেশন ভবনের নির্মাণকাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন।পরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অষ্টগ্রামে সবুরে ভাঙা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বাহাদুরপুর ব্রিজ পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শৌলমারায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও এ বিষয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভায় ভাষণ দেবেন। ৩১ মার্চ পাঁচ দিনের সফর শেষে বঙ্গভবনে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। | 6 |
বিল আদায়ের জন্য ১৮ ঘণ্টার বেশি সময় করোনা রোগীর লাশ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে। নিহত রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ১৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা বিলের মধ্যে সাড়ে ১০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করেছেন তারা, বাকি ৪ লাখ টাকা চেকে দিতেও রাজি হন তাঁরা। কিন্তু, তারপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত অবশ্য গতকাল দুপুরে মরদেহ দেওয়া হয় স্বজনদের কাছে।নিহত রোগী শামসুন্নাহার (৪০) নগরীর মুরাদপুরের হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা । করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ৩০ জুলাই জিইসি মোড়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ৩৩ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ৩ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান।রোগীর ভাগনে মো. রবিন এর আগে বলেন, 'এক মাস তিন দিনে মোট ১৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা বিল করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমরা সাড়ে চার লাখ টাকা অগ্রিম বিল পরিশোধ করেছি। শুক্রবার মারা যাওয়ার খবর শুনে সারা রাত চেষ্টার পর আরও ৬ লাখ টাকা জোগাড় করি। এ জন্য আমার নানার পরিবার স্বর্ণও বন্ধক রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বাকি চার লাখ টাকা চেকে দেব বলেছি। অনেক অনুনয়-বিনয় করি। কিন্তু পুরো টাকা ছাড়া তারা মরদেহ দিচ্ছে না। এটা অমানবিক।'বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. মুনীরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা লাশ আটকে রাখিনি। তারা রাতে টাকা জোগাড় করেছে। বিষয়টি নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে সমঝোতা করছি। টাকা বড় কথা না, ওরা চাইলে মরদেহ নিয়ে যেতে পারে।কোভিড চিকিৎসায় গঠিত সার্ভিল্যান্স টিমের আহ্বায়ক চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, মরদেহ আটকে রেখে বিল আদায়ে চাপ দেওয়া কোনো ভাবেই কাঙ্ক্ষিত না।এভাবে মরদেহ আটকে টাকা আদায় নিয়ে জানতে চাইলে, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিকেরা করোনার সময় ন্যূনতম মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন না। উল্টো বাড়তি বিল করছেন।তবে বিষয়টি জানাজানির পর শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় অর্থাৎ প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মরদেহ বুঝে পান স্বজনেরা। এ সময় ২ লাখ টাকা ছাড় দিয়ে সাড়ে বারো লাখ টাকা বিল ধরা হয়। | 6 |
বর্তমানে বাংলাদেশের ই-কমার্স জগতে পরিচিত হয়ে উঠেছে শ্রেষ্ঠ ডটকম। কিছু বিশেষ সেবা শ্রেষ্ঠ ডটকমের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গ্রাহকদের চাহিদা, পছন্দ, পণ্যের সঠিক জোগান এবং যথাসময়ে ডেলিভারিকে গুরুত্ব দিয়ে দেশি-বিদেশি সাতটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে শ্রেষ্ঠ ডটকম। চুক্তিবদ্ধ এই কোম্পানির তালিকায় রয়েছে নিটল নিলয় গ্রুপ, রানার গ্রুপ, এক্সেল টেকনোলজিস (স্যামসাং), আহমেদ ফুডস, গোল্ডেন হারভেস্ট, নেপচুন বাজার এবং এসকে ট্রেডার্স (বাজাজ)। চুক্তি সম্পাদন অনুষ্ঠানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ ডটকমের পক্ষে সিইও খান ইমরান রাসেল, সিটিও জোনায়েত হোসেন, হেড অব ব্র্যান্ড রাহাত হোসেন চৌধুরী এবং লিড কমার্শিয়াল শায়েক আহমেদ উপস্থিত থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেন। এ প্রসঙ্গে শ্রেষ্ঠ ডটকমের সিইও খান ইমরান রাসেল বলেন, শ্রেষ্ঠ ডটকমের মূল লক্ষ্য মানসম্পন্ন প্রোডাক্ট সরবরাহ করা এবং সঠিক সময়ের মধ্যে সেই পণ্য ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেওয়া। সদ্য চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সব সিগনেচার পণ্য শ্রেষ্ঠ ডটকমের ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপস থেকে ক্রেতারা সহজেই কিনতে পারবেন এবং দ্রুত ডেলিভারিও পাবেন। হাজারের অধিক ব্র্যান্ড ও শপ নিয়ে কাজ করছে শ্রেষ্ঠ ডটকম। আগামী দিনে পণ্যের চাহিদা আর জোগানের ভারসাম্য রক্ষা করে বাংলাদেশের ই-কমার্সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে শীর্ষ সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করবে শ্রেষ্ঠ ডটকম। | 4 |
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক হলেন কামরুল হুদা জায়গীরদার। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুল জেলা বিএনপির বিদায়ী কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। বুধবার কামরুলকে আহ্বায়ক করে ২৫ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। এ কমিটিকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে। বিএনপি সূত্র জানায়, প্রথমে সম্ভাব্য আহ্বায়ক হিসেবে অনেকের নাম আলোচনায় এলেও তারা দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। বিশেষ করে আহ্বায়ক পরবর্তী সম্মেলনে প্রার্থী হতে পারবেন না- এমন শর্তের কারণে কেন্দ্রের প্রস্তাবে একাধিক নেতা নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। এতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া প্রায় ৫ মাস বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত কামরুলের পাশাপাশি আরেক সহসভাপতি আশিক উদ্দিন চৌধুরীর নাম সম্ভাব্য আহ্বায়ক হিসেবে আলোচনায় ছিল। তবে কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরীকে সদস্য রাখা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা হলেন- সদ্য সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, অ্যাডভোকেট আব্দুল গফফার, সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ, কাইয়ুম চৌধুরী, অধ্যাপিকা সামিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আশিক চৌধুরী, মঈনুল হক চৌধুরী, আব্দুল হান্নান, ফারুকুল ইসলাম ফারুক, শাহ জামাল নুরুল হুদা, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মামুনুর রশীদ মামুন, ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী, এমরান আহমদ চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন লস্কর, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মাযহারুল ইসলাম ডালিম, অ্যাডভোকেট হাসান পাটোয়ারী রিপন, আব্দুল আহাদ খান জামাল, মাহবুবুল হক চৌধুরী, আবুল কাশেম, শামীম আহমেদ ও আহমেদুর রহমান চৌধুরী। ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলে সরাসরি ভোটে সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই তিনজন দায়িত্ব নেওয়ার ১৪ মাস পর কেন্দ্র থেকে ২৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। গত বছরের অক্টোবরে লন্ডনে 'পলাতক' তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি রায়ের প্রতিবাদে সিলেট জেলা বিএনপির হাতেগোনা কয়েক নেতা মিছিল করেন। এতে ক্ষুব্ধ তারেক সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিতে দেশে অবস্থানরত শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জেলা বিএনপি নেতাদের ঢাকায় ডেকে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে তাদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করেন তারেক। পরে নতুন কমিটি করতে ডা. জাহিদ হোসেনকে প্রধান করে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেওয়া হয়। ডা. জাহিদ বর্ধিত সভা করে যাওয়ার পর পাঁচ মাস ধরে আহ্বায়ক কমিটির অপেক্ষায় ছিলেন জেলার নেতাকর্মীরা। | 9 |
জানুয়ারি মাসের শেষের দিকেই বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পেয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ ভ্যাকসিন আগে করোনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করা সম্মুখ যোদ্ধাদের দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। চিকিৎসার ব্যবস্থা ও মানুষকে সজাগ করা ছাড়া করোনা নিয়ন্ত্রণ কঠিন কাজ মন্তব্য করে জাহিদ মালেক বলেন, আমেরিকার মতো দেশে একদিনে করোনায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ মারা গেছে। দুই দিনে ৮ হাজার মানুষ মারা গেছে। সেখানে বাংলাদেশে ১০ মাসেও ৮ হাজার মানুষ মারা যায়নি। তিনি দাবি করেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিশ্বের দুইশ' দেশের মধ্যে ২০ নম্বর আর দক্ষিণ এশিয়ায় এক নম্বরে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ ফটো, বালিয়াটী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন, সাটুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিন্টু প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 9 |
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে একইস্থানে পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সভা আহবান করায় পুরো বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জের সমগ্র বসুরহাট পৌরসভা এলাকার সর্বত্র এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.জিয়াউল হক মীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর জিয়াউল হক মীর জানান, দু'পক্ষ বসুরহাটে পাল্টাপাল্টি একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় সমগ্র বসুরহাট পৌরসভায় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ সময় সব ধরনের সভা সমাবেশ এই এলাকায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার রাতে সাড়ে ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই তথ্য প্রচার করা হয়। রাতে বসুরহাট বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সোমবার দুপুরে বসুরহাট বাজারের রুপালী চত্ত্বরে বাংলাদেশ আ'লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সমাবেশ আহ্বান করে। পরে একই স্থানে দোয়া মাহফিল ও শোকসভার ঘোষণা করে পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। শনিবার রাতে নিজের ফেইসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি পূর্ব ঘোষিত সকল কর্মসূচি প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়ে আবার এ কর্মসূচির আহবান করেন।এদিকে ১৪৪ ধারা ঘোষণা করার পর রোববার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ১৪৪ ধারার প্রতিবাদ জানিয়েছেন আবদুল কাদের মির্জা। তিনি অভিযোগ করেন, ইউএনও তার নির্ধারিত শোকসভা, প্রতিবাদ সভা ও মিলাদ মাহফিল বানচালের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলভাবে এ সিন্ধান্ত নিয়েছেন। | 6 |
সাপখেলা, বাউলগান, পাতার বাঁশিসহ মনোমুগ্ধকর নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে যশোরে মণিরামপুরে পালিত হলো আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস। বেসরকারি সংস্থা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্স ডেভলপমেন্ট'র (এমআরডিআই) উদ্যোগে বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন কুমার ভট্টাচার্য। এমআরডিআই খুলনা অঞ্চলের সমন্বয়ক মবিনুল ইসলাম মবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মণিরামপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন ও এমআরডিআই'র নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান মুকুর। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেছেন, যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের চেয়ারম্যান সাহেব (শেখ ফজলে শামস পরশ), আমি আপনার কাছে হাত জোড় করলাম। আপনার নির্বাহী কমিটির সদস্য আমাকে করবেন। তিনি বলেন, পরশ ভাই যেভাবে চালাবে যুবলীগ সেভাবে চলবে। দোকানদারি-ব্যবসা চলবে না। আজ থেকে দোকানদারি বন্ধ করে দেওয়া হলো। তিনি বলেন, পরশ ভাই লোক লাগবে, ৫০ হাজার লোক ডা. মুরাদ নিয়ে আসবে। আপনার কাউকে বলতে হবে না আমাকে বলবেন। আমাকে নির্বাহী কমিটির সদস্য করেন। আমি নানক-আযম সেই কমিটির সদস্য ছিলাম ২০০৩ সালে। এখানে সামনে বসা সব আমার ভাই। সবই মনে আছে। মেধাবীরা নেতৃত্ব দেবে। আর কর্মী থাকবে সবাই। আমিও কর্মী। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। এতে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 9 |
যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনাভাইরাসে ২ হাজার ২২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় (গ্রিনিচ মান সময় বুধবার ০০৩০টা) জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি এ তথ্য জানায়। খবর এএফপি'র। যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা দুইদিন হ্রাস পাওয়ার পর এ সংখ্যা অনেক বাড়লো। এর আগে গত ১০ এপ্রিল করোনাভাইরাসে দেশটিতে সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১০৮ জন। আজকের এ সংখ্যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ হাজার ৭৫৭ জনে দাঁড়ালো। এ সংখ্যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকার করোনাভাইরাস সংক্রান্ত শাটডাউন খুব শিগগরই তুলে নেয়া হতে পারে। | 3 |
নাটোরের লালপুরে ঘোষণার পরই এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন দোকানে তরলকৃত ১২ কেজির গ্যাস সরকারি খুচরা মূল্য ৮৯১ টাকা হলেও এখন ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন প্রতি সিলিন্ডারে ১০২ টাকা বাড়িয়ে ৯৯৩ টাকা করার ঘোষণা দেয়। যা আগামীকাল রোববার থেকে কার্যকর হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এলাকার ব্যবসায়ীরা নির্দেশনা অমান্য করে ঘোষণার দিন থেকেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছেন।এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে আসা রাব্বুল ইসলাম বলেন, আজ শনিবার আমি গ্যাস কিনতে এসেছি। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে তাঁদের হাতে জিম্মি হয়ে আমাদের বেশি দাম দিয়েই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।লালপুর বাজারের এলপিজি ব্যবসায়ী সোনার বাংলা ট্রেডার্সের মালিক আমিরুল ইসলাম বলেন, দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকে আমাদেরও বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রিও করতে হচ্ছে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, এ ব্যাপারে বাজার তদারকি করা হবে। যদি কেউ নির্দেশ অমান্য করেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.