text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদে সংস্থাটির কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তাঁরা।'মুজিব বর্ষে শপথ করি, দুর্যোগ জীবন-সম্পদ রক্ষা করি' এই স্লোগান সামনে রেখে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ। এর উদ্বোধন উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক শামীম আহসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান। সভাপতির বক্তব্যে শামীম আহসান চৌধুরী সপ্তাহ সফল করতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। | 6 |
দৃষ্টিহীন বৃদ্ধা উলফাতুন্নেছা ও রিজিয়ার দুঃখের সংসারের খবর পেয়ে তাদের দুঃখ ঘুচাতে ছুটে গেলেন মেহেরপুর সদর থানার এসআই শরীফ হাবিবুর রহমান। এই দুই অসহায় মা-মেয়ের জন্য ঘর করে দেবেন তিনি। সেইসঙ্গে ওই বৃদ্ধার দৃষ্টি ফেরাতে অপারেশনের ব্যবস্থাও তিনি করবেন। জানা গেছে, ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা উলফাতুন্নেছা তার একমাত্র মেয়ে রিজিয়া খাতুনকে নিয়ে মেহেরপুর শহরের অদূরে কালাচাঁদপুরে ইয়ার আলীর বাঁশ বাগানে টিনের বেড়া দিয়ে কোনোরকমে বসবাস করে আসছিল। উলফাতুন্নেছার স্বামী দীর্ঘদিন আগে মৃত্যুবরণ করেন। রেখে গেছেন স্ত্রী উলফাতুন খাতুনসহ এক ছেলে ও মেয়েকে। মেয়ে রিজিয়ারও স্বামী গত হয়েছে আনেক আগেই। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার ঠাঁই হয় মায়ের কাছেই। কিন্তু সংসারের হাল ধরার একমাত্র ছেলে তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর, তিনি জানান, বৃদ্ধার দু চোখ অপারেশন করাসহ ঘর তৈরি করার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেবেন তিনি। এস আই শরিফ হাবিবুর রহমান বলেন, মেহেরপুর শহরের কালাচাঁদপুরের দৃষ্টিহীন উলফাতুন্নেছার দুই চোখ অপারেশন করার ব্যবস্থা করা হবে। তার ঘর তৈরি করে দেব। এর জন্য যত টাকা খরচ হয়, সেই টাকা খরচ করব। উল্লেখ্য, শরীফ হাবিবুর রহমান মেহেরপুর সদর থানায় যোগদান করার পর থেকেই গরিব, অসহায় মানুষকে আর্থিক ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
জার্মানির নির্বাচনে বিদায়ী চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলের দল হেরে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১০ মিনিটে প্রকাশিত সাময়িক ফলে দেখা যাচ্ছে, এসপিডি মেরকেলের সিডিইউ/সিএসইউ দলের চেয়ে ১.২ শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছে এই ফলে দেখা যাচ্ছে এসপিডি (২৫.৭ শতাংশ), সিডিইউ/সিএসইউ (২৪.৫ শতাংশ), সবুজ দল (১৪.৩ শতাংশ), এফডিপি (১১.৫ শতাংশ), অভিবাসনবিরোধী এএফডি (১০.৫ শতাংশ), বাম দল (৫ শতাংশ) ও অন্যান্য (৮.৫ শতাংশ) ভোট পেয়েছে এর আগে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গিয়েছিল সিডিইউ/সিএসইউ দল এবং এসপিডি ২৫ শতাংশ করে ভোট পেতে যাচ্ছে সবুজ দল পেতে যাচ্ছে ১৫ শতাংশ ভোট ২০১৭ সালের নির্বাচনের তুলনায় এসপিডি প্রায় সাড়ে চার শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছে সবুজ দলের ভোট বেড়েছে ছয় শতাংশের বেশি চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলের সিডিইউ দলের ভোট কমেছে প্রায় আট শতাংশ এসপিডির চ্যান্সেলর প্রার্থী ওলাফ শলৎস বলেছেন, ভোটাররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা তাকে 'পরবর্তী চ্যান্সেলর' হিসেবে চান সিডিইউ/সিএসইউর চ্যান্সেলর প্রার্থী আরমিন লাশেট বলেছেন, খারাপ ফল সত্ত্বেও একটি নতুন সরকার গঠনের জন্য 'আমরা যতটুকু পারি' চেষ্টা করে যাব 'নির্বাচনের এমন ফলে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারি না,' সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন তিনি লাশেট বলেন, 'আমরা রক্ষণশীলদের নেতৃত্বে একটি সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাব কারণ জার্মানদের এখন এমন জোট প্রয়োজন যেটা আমাদের দেশের আধুনিকায়নের জন্য দরকার' সবুজ দলের চ্যান্সেলর প্রার্থী আনালেনা বেয়ারবক বলেন গত নির্বাচনের চেয়ে ভোট বাড়লেও তার দল প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পায়নি 'আমরা আরো চেয়েছিলাম আমরা তা পাইনি এর একটা কারণ প্রচারণার শুরুতে আমরা কিছু ভুল করেছিলাম- আমারও ভুল ছিল,' সমর্থকদের বলেন তিনি সারাদিনের চিত্র স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আট কোটি মানুষের এই দেশে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ভোটাররা দু'টি করে ভোট দিয়েছেন একটি ভোট সরাসরি প্রার্থী নির্বাচনের, অপরটি পছন্দের দলকে দ্বিতীয় তালিকায় দলীয় সমর্থনের অনুপাতের ভিত্তিতে সংসদে অর্ধেক আসনে প্রার্থী স্থির করা হয় তবে কে চ্যান্সেলর হতে যাচ্ছেন তা আজই নির্ধারিত হবে না পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা চ্যান্সেলর নির্বাচিত করবেন ২৯৯টি সংসদীয় এলাকায় সরাসরি নির্বাচন হয়েছে অন্য আসনগুলো দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী মীমাংসিত হয় নিয়ম অনুযায়ী, দলগুলো তাদের ভোটপ্রাপ্তির সংখ্যাতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেও মনোনীত প্রার্থীদের পার্লামেন্টে পাঠাতে পারে কোনো দল ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে পার্লামেন্টে যাওয়ার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে এবারের নির্বাচনে ৪৭টি দল ৬ হাজার ২১১ জন প্রার্থী দিয়েছে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ছয় হাজারসূত্র : ডয়চে ভেলে | 3 |
সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দেশের বিভিন্ন জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে। অন্যদিকে, তাপমাত্রা বাড়লেও দেশের অনেক অঞ্চলের তাপমাত্রা এখনও ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, পাবনা, মৌলভীবাজার ও সীতাকুণ্ড উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগাম, রাজশাহী, পাবনা, মৌলভীবাজার জেলাসমূহ ও সীতাকুণ্ড উপজেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে। সীতাকুণ্ডে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কম থাকায় সেখানে তীব্র শীত পড়েছে। মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঢাকায় ১২.২, ময়মনসিংহে ১১.৪, চট্টগ্রামে ১৩.৫, সিলেটে ১২.৪, রাজশাহী ৯.৪, রংপুরে ১০.৮, খুলনায় ১৩.০ এবং বরিশালে ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পরবর্তী তিন দিনে বৃষ্টিপাত হতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকায় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫%। ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫ টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬ টা ৩৫ মিনিটে। | 6 |
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের বাছাই পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। দশম গ্রেডের পদের এ পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জানুয়ারি। ওই দিন বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের ১ মার্চে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সিনিয়র স্টাফ নার্সে পদের সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ বলা হয়েছিল। পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় অংশ নিতে ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হবে প্রার্থীদের। পরীক্ষা হলে কোনো বই, ব্যাগ, হাতঘড়ি, মুঠোফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের এমসিকিউ (লিখিত) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এই পরীক্ষায় মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকবে। এক ঘণ্টার এই পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। প্রার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। ভুল উত্তরের জন্য ০.৫ নম্বর কাটা যাবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী দশম গ্রেডের ১৬ হাজার টাকা স্কেলে বেতন ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য ভাতা বা সুবিধা পাবেন।পরীক্ষার আসনবিন্যাস দেখতে ক্লিক করুন। | 1 |
ভাবা হচ্ছিল, এই বুঝি বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্সে। বছরের শুরু থেকে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। অনেকে রোনালদোর শেষের শুরুও হয়তো দেখে ফেলেছিল। কিন্তু সমর্থকদের ভাবনা এক ঝটকায় উড়িয়ে গত রাতে রোনালদো প্রমাণ করলেন বয়স তাঁর কাছে শুধুই সংখ্যা।ওল্ড ট্রাফোর্ডে শনিবার রাতে টটেনহামের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। রেড ডেভিলদের হয়ে তিনটি গোলই করেছেন রোনালদো। আর এই হ্যাটট্রিকে রেকর্ডের পাতা এলোমেলো করেছেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এটি রোনালদোর ৫৯তম হ্যাটট্রিক। এই হ্যাটট্রিকে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পেশাদার ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন রোনালদোই।আনঅফিশিয়াল পরিসংখ্যানবিদদের সংগঠন 'আরএসএসএসএফ'-এর হিসাব অনুযায়ী, সাবেক অস্ট্রিয়া ও তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার স্ট্রাইকার জোসেফ বাইকানের গোল ৮০৫টি। ম্যাচের ১২ মিনিটে প্রথম গোল করে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন ৮০৫ গোল করা বাইকানকে। ৩৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে তাঁকেও ছাড়িয়ে যান। আর ৮১ মিনিটে জয়সূচক গোল করে ইউনাইটেডের হয়ে নিজের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। | 12 |
ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ইসরায়েলের সম্ভাব্য আকস্মিক হামলা মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষক ইউরি বেন মেনাখাম। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিন এ লক্ষ্যে ড্রোনসহ সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। কিছু দিন আগে হামাস আগ্রাসন মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ মহড়া চালিয়েছে বলেও জানান তিনি। ইসরায়েলি দৈনিক ইয়াদিউত অহোরনোত জানিয়েছে, সম্প্রতি হামাস ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোয়েন্দা তথ্য জানতে পেরেছে। পত্রিকাটি আরও লিখেছে, হামাস নতুন কৌশলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা হিব্রু ভাষায় পারদর্শী ব্যক্তিদেরকে নিয়োগ দিচ্ছে যারা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
১৯৯১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিয়েই আবৃত্তি সংগঠন স্বননে সম্পৃক্ত হলাম। ১৯৮১ সালে এই সংগঠনের গোড়াপত্তনের অন্যতম কুশীলব ছিলেন হাসান আজিজুল হক। স্বনন নামটি তাঁরই দেওয়া।স্বনন সূত্রেই হাসান স্যারের সান্নিধ্য লাভ। মমতাজ উদ্দীন কলা ভবনের ১৩৭ নম্বর কক্ষটি ছিল হাসান স্যারের বসার ঘর। স্বননের প্রধান পুরুষ নাজিম মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়ার পর আমরা স্বননের বসার জায়গা হারিয়ে ফেললাম। বিশ্ববিদ্যালয় তখন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাসী তৎপরতায় সন্ত্রস্ত। স্বননের কার্যক্রমসহ সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিবিধ বাধা আসছিল প্রশাসনের তরফ থেকে। একপর্যায়ে নিষিদ্ধ হয়ে গেল সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। সন্ধ্যার আগেই মেয়েদের হলে ফেরা বাধ্যতামূলক করা হলো। আড্ডা ও গানের শব্দ পেলেই প্রক্টরের বাহিনী এমনকি প্রক্টর নিজেও ধমক ও হুমকি দেওয়া শুরু করলেন। স্বনন বসার জায়গা হারাল। এমনকি আমাদের প্রিয় শিক্ষকগণ কবিতা পড়ার জন্য একটু জায়গা আমাদের দিতে পারছিলেন না ভয়ে। সেই ভীত-সন্ত্রস্ত ক্যাম্পাসে হাসান স্যার তাঁর মমতাজ উদ্দীন কলা ভবনের নিজ কক্ষের একটি চাবি আমাদের হাতে তুলে দিয়ে বললেন, 'যত দিন আমি আছি, আমার ঘরে বসবে তোমরা, আমি কাউকে ভয় পাই না।'কেবল স্বনন নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি থিয়েটার গ্রুপ থেকে শুরু করে সব সাংস্কৃতিক সংগঠনের অভিভাবক ছিলেন তিনি। সে সময়কার ইসলামী ছাত্র শিবিরের ভয়াবহ হুমকিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রগতিশীল ছাত্র-ছাত্রীদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পরম প্রেরণা হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের। তাঁর বন্ধুদের অনেক সময়ই তাঁর বিষয়ে হতাশা ব্যক্ত করতে দেখেছি। তাঁরা মনে করতেন, হাসান এসব করতে গিয়ে লেখালেখির পেছনে কম সময় দিচ্ছেন! হ্যাঁ, কথা ঠিক। তবে তাঁর পরম বন্ধু নাজিম মাহমুদকে বলতে শুনেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দায়িত্ব পালন করার কথা, সে দায়িত্ব থেকে সরে গেছে। তাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে মানবিক, সাংস্কৃতিক ও মুক্তচিন্তা বিস্তারের বিকল্প প্রতিষ্ঠান করে তুলতে হাসান আজিজুল হক, নাজিম মাহমুদ, শহিদুল ইসলাম, রমেন্দ্রনাথ ঘোষ, আলী আনোয়ার, জুলফিকার মতিন, জাহেদুল হক টুকু, সনৎ কুমার সাহা, মলয় ভৌমিক, মোহাম্মদ নাসের প্রমুখ শিক্ষকদের স্বপ্রণোদিত ভূমিকা পালন করতে হয়েছে।সত্যি বলতে কি হাসান আজিজুল ছিলেন হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর পথ প্রদর্শক। নতুন প্রজন্মকে ধর্মনিরপেক্ষ মুক্তচিন্তার পথ দেখাতে যত রকম বিকল্প খুঁজে পেয়েছেন, সব পদ্ধতিই অবলম্বন করেছেন হাসান আজিজুল হক ও তাঁর সতীর্থগণ। তাঁর ডাকনাম 'কালো'। ওদিকে নাজিম মাহমুদের ডাকনাম 'আলো'। নাজিম মাহমুদই সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খান সারোয়ার মুরশিদকে অনুরোধ করে হাসানকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে এসেছিলেন। তত দিনে হাসান তাঁর 'শকুন' গল্পের জন্য বিদ্বৎমহলে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তা ছাড়া খান সারোয়ার মুরশিদ জানতেন তরুণ হাসানের পাণ্ডিত্য সম্পর্কে। কেননা, খুলনায় হাসান আজিজুল হক, কবি আবুবকর সিদ্দিক, খালেদ রশিদ গুরু, সাধন সরকারসহ এক ঝাঁক যুবক সন্দীপন নামক সংগঠনের মাধ্যমে '৬৯-এর গণ-আন্দোলনের আগে থেকেই সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। নাজিম মাহমুদ ও আবুবকর সিদ্দিক আগুনঝরা গান লিখছেন তখন, আর সাধন সরকার সুর করছেন। হাসান আজিজুল হক, খালেদ রশিদ গুরু বলিষ্ঠ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাঙালিকে জাগিয়ে তোলার কাজ করছেন-এসবই জানতেন খান সারোয়ার মুরশিদ। এ রকম মানুষ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা মানে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান আপনা থেকেই কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়া। হাসানকে খুলনার ফুলতলা কলেজ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে তিনি আর দেরি করেননি।হ্যাঁ, কেবল ঘরে বসে সাহিত্য করে সন্তুষ্ট থাকেননি হাসান স্যার। তিনি সত্যিকারের পরিবর্তন চেয়েছেন। কূপমণ্ডূকতার অবসান ঘটিয়ে মুক্তবুদ্ধির বিকাশ ঘটাতে চেয়েছেন। বৈষম্যহীন, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ কর্মসাধনা করে গেছেন।একদিন দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটে দাঁড়িয়ে আছেন হাসান স্যার। আমি পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। স্যার দুজন স্থানীয় ব্যক্তির ঝগড়া শুনছেন ও দেখছেন মন দিয়ে। ঝগড়া করতে করতে তাঁরা পরস্পরকে এমন সব গালি দিচ্ছিলেন যে, স্যারের সামনে লজ্জা পাচ্ছিলাম। স্যার বুঝতে পেরে হাসি হাসি মুখ করে বলেছিলেন, 'দেখ, মানুষ রেগে গেলে কেমন অঙ্গভঙ্গি করে, গালিগুলো শুনছ তো, আহা, শব্দ তো নয় যেন মুখ থেকে মধু ঝরছে। সবকিছু থেকেই শেখার আছে, বুঝলে!' বলেই তাঁর আইকনিক হাসি ছড়িয়ে দিলেন কাজলা গেটের ওপারে। স্যারের সঙ্গে এক মিনিট বাক্য বিনিময় করলেও, তা সে যত সিরিয়াস বিষয়েই হোক, তিনি ওইটুকু সময়ের মধ্যে হাসিয়ে ছাড়বেন। অথচ, সাহিত্যে তিনি একেবারেই উল্টো। স্যারের 'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা' আমার কাছ থেকে নিয়ে পড়ার পর একবার আমার ক্লাস টেনের এক ছাত্রী বইটা ফেরত দেওয়ার সময় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল। কান্নার কারণ জানতে চাইলে বলল-এত সুন্দর ভাষায় এমন ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা পড়ে ঠিক থাকতে পারছি না! এই তো হাসান আজিজুল হক।'তরলা বালা' আর লেখা হলো নাআমরা অনেকেই জানি না, অনেক বড় মাপের অভিনয় শিল্পী ছিলেন হাসান স্যার। নাটক করেছেন মনোজ মিত্রের, রবীন্দ্রনাথের, নাজিম মাহমুদের। কেবল অভিনয় করেছেন তা নয়, নির্দেশনাও দিয়েছেন। আবৃত্তি করেছেন সাবলীল। নাজিম মাহমুদের চেতনার সৈকতে অ্যালবামে ভূমিকা বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে রেখেছেন পরম উৎকর্ষের ছাপ। হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে শিখিয়েছেন কীভাবে শব্দ ও বাক্যের অর্থ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে হয়!হাসান আজিজুল হকের বক্তৃতা যারা একবার হলেও শুনেছেন, তাঁরা জানেন তাঁর কথায় কখনো পাণ্ডিত্যের প্রকাশ ছিল না। আমরা সবাই তাঁর প্রতিটি শব্দ বুঝতাম। সেগুলো এমনই সরস যে, আমরা হাসিতে ফেটে পড়তাম, রাগে জ্বলে উঠতাম। তবে তাঁর বক্তব্যে কোথাও কোনো সস্তা আবেগ ছিল না। হাস্যকৌতুকের উপমায় মৌলবাদীদের পিঠের ওপর শক্ত চাবুক চালাতেন তিনি অকুতোভয় যোদ্ধার মতো। যোদ্ধাই ছিলেন তিনি। কেবল তাঁর কথা শোনার জন্য নিজের ডিপার্টমেন্টের ক্লাস বাদ দিয়ে দর্শনের ক্লাসে গিয়ে বসে থাকতাম। আমাদের সময়ের অনেকেই করত কাজটা।একবার অধ্যাপক আব্দুল খালেক যখন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খালেক স্যারকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য কাজি নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। হাসান আজিজুল হক সে অনুষ্ঠানে বললেন, 'সবাই স্বপ্ন দেখছেন যে, প্রফেসর আব্দুল খালেক উপাচার্য হয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কালাকানুন রাতারাতি পাল্টে যাবে। আমি তেমন সম্ভাবনার ক্ষীণ আলো দেখলেও ততটা আশা করতে পারছি না। যে দাঁড়িপাল্লা দিয়ে এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা মাপা শুরু হয়েছে, সেটা দিয়েই ওঁকেও (আব্দুল খালেক) মাপামাপি করতে হবে। দাঁড়িপাল্লায় ত্রুটি থাকলে যত সৎ ব্যবসায়ীই হোন, জিনিস ঠিকঠাক মাপতে পারবেন না। দরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোগত পরিবর্তন।'খালেক স্যার ও হাসান স্যার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবু ঘনিষ্ঠজনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সবাই যখন তেলতেলে বক্তব্য দিয়ে হাততালি নিচ্ছিলেন, হাসান আজিজুল হক বেশ কঠোর বার্তাই দিয়েছিলেন সেদিনের নতুন উপাচার্যের বরাবর। তাঁর এসব প্রতিবাদী ও পথনির্দেশনামূলক ভূমিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। ছুটে যেতেন দেশের যেকোনো জেলা শহরে, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামে, আদিবাসী পল্লিতে-সর্বত্র রয়েছে হাসান স্যারের উদ্দীপনাময় পদচ্ছাপ। কথাসাহিত্যিক হিসেবে হাসান আজিজুল হকের উচ্চতাই শেষ কথা নয়। সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে হাসান স্যারের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কয়েক প্রজন্মের মানস গঠনে। মাঝেমধ্যে অবাক লাগত, এই যে এত সব কাজে জড়িয়ে থাকতেন, হই-হুল্লোড়-আড্ডায় মেতে থাকতেন, লিখতেন কখন! গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ছাড়াও তাঁকে লিখতে হতো অসংখ্য স্মরণিকা, লিফলেট, শুভেচ্ছা বার্তা, নতুন লেখকদের বইয়ের ভূমিকা, আরও কত কী, তার হিসেব নেই। এ রকম মানুষ এ দেশে আর কি দ্বিতীয়টি ছিলেন, যিনি রাজধানীর মোহে আকৃষ্ট হননি, অথচ প্রান্তে টেনে নিয়ে গেছেন বৃহত্তর বাংলাকে! বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বাংলার নানা প্রান্ত থেকে তাঁর কাছে যিনিই গিয়েছেন, তাঁকেই তিনি সময় দিয়েছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন। বাংলাদেশের প্রথম থিয়েটার ওয়ার্কশপটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় বলেই জানি। সে ওয়ার্কশপের অন্যতম পুরোহিত ছিলেন হাসান স্যার। যত দূর জানা যায়, নাট্যজন মলয় ভৌমিক এবং অনুশীলন নাট্যদল সেই থিয়েটার ওয়ার্কশপেরই ফসল।হাসান আজিজুল হক: একজন চেনা মানুষ, চেনা লেখকবিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়ার পর স্যার নিজের বাড়ি তৈরি করলেন শহর থেকে বেশ দূরে, বিহাস আবাসিক এলাকায়। বাড়ির নাম দিলেন উজান। জানতে পেরে কলকাতার বন্ধুরা (সুশীল সাহার উদ্যোগে) উজান নামে একটি স্যুভেনির ছাপিয়ে রাজশাহীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সেখানে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় কি মহাশ্বেতা দেবী (আজ আর স্পষ্ট মনে করতে পারছি না) লিখেছেন, 'হাসানের বাড়ি হলো মানে আমাদেরই বাড়ি হলো। আমাদের সবার আশ্রয় হলো!' সুবিশাল ছিল হাসানের ভালোবাসার পরিসর।হাসান স্যার নিজের জন্মদিন পালন করতেন না। আমরা একবার জানতে পারলাম (সম্ভবত ১৯৯৪) হাসান স্যারের জন্মদিন ২ ফেব্রুয়ারি। স্বনন আয়োজন করল তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠান। সেই প্রথম হাসান স্যারকে দেখলাম স্যুট-টাই পরেছেন। জন্মদিনের বক্তৃতায় নিজেকে নিয়ে রসিকতা করতে ছাড়লেন না। তিনি জানালেন, তাঁদের একান্নবর্তী পরিবারে জন্মদিন মনে রাখার সংস্কৃতি ছিল না। তাঁর জন্মদিন ২ ফেব্রুয়ারি কি-না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে যেহেতু লিখতে হয়, তাই এই তারিখটাকেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। আর বললেন, ডাকনাম 'কালো' হলেও গাঁয়ে আমাকে 'কেলো' বলে ডাকত।হাসানের লাখো ভক্তের কাছে একটি সংবাদ অবিদিতই ছিল ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। আর তা হচ্ছে এই যে, তিনি কবিতাও লিখেছেন। 'ওসব কিছু হয়নি' বলে কখনো প্রকাশ করেননি। বড় ভাই কবি মোহাম্মদ কামালের সৌজন্যেই সম্ভবত হাসান আজিজুল হকের কবিতার খাতা আমাদের হস্তগত হয়। সরাসরি স্যারের খাতা থেকে আমার ডায়েরিতে একটি কবিতা টুকে রেখেছিলাম। কবিতাটির কোনো শিরোনাম ছিল না। সেই কবিতাটি উদ্ধৃত করছি:কি কি বদলে নেওয়া যায় না?আপন জন্ম আর অন্যের যৌবনকপালের একেবারে ভিতরের দিকেখোদাই করা খুদে খুদে অক্ষরদুই চোখের পাশে চামড়ার উপরকাকের পায়ের ছাপহয়তো আরও আছেআঁকাবাঁকা আঙুল, ফাটা পায়ের ভিতরে শুকনো হাড়ফিরে পাওয়া যায় নামৃত্যুর পরে কাটিয়ে আসা জীবনফেরা যায় না উৎস-মুখে-পাথরে, লবণে, মাটিতে জলের রেখায়এরা সবই একমুখে বয়ে যায়শূন্য থেকে শূন্যে।'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি'এই কবিতাকে কি প্রকাশের অযোগ্য বলা সম্ভব! 'ফিরে পাওয়া যায় না/ মৃত্যুর পরে কাটিয়ে আসা জীবন/ ফেরা যায় না উৎস-মুখে-/ পাথরে, লবণে, মাটিতে জলের রেখায়...।' ভাবতে হয়। কিন্তু তিনি কবিতা প্রকাশ করার সামান্য উৎসাহও বোধ করেননি। কলকাতায় তাঁকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকে। সেটি কে তৈরি করেছিলেন ভুলে গেছি। তবে হাসানের জন্মজগৎ চেনার জন্য তথ্যচিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই। বাংলাদেশে তা সংরক্ষণ করা আবশ্যক।হাসান স্যারের সঙ্গে শেষ দেখা করতে গিয়ে কড়া বকা খেয়েছি। আদিবাসীদের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সুলতানা কামাল আপাসহ রাজশাহী থেকে ফেরার পথে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। সুলতানা আপাও রাজি হলেন। উজানের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই তিনি আমাকে বললেন, 'তুমি তো আমার ছেলের মতোই, আমার কোনো সমালোচনা করতে হলে সরাসরি আমাকেই বলতে পারতে। অলক্ষ্যে সমালোচনা করা, আর পেছন থেকে ছুরি মারা তো একই কথা।' আমি লজ্জা পেলাম। আমার মনে পড়ল, প্রথম আলোয় স্যারের একটি গল্প ছাপা হয়েছিল। যেটি গল্পকার হাসানের মানের নয় বলে আমার মনে হয়েছিল। ওনাকে সরাসরি না বলে ফেসবুকে লেখায় স্যার রাগ করেছিলেন। স্যার নিশ্চয় আমাকে ক্ষমা করেছিলেন। চা না খেয়ে তো আসতে দেননি। স্যারের কাছে এই শিক্ষা আমি নিয়েছি-কাউকে যদি কিছু বলার থাকে, সরাসরি তাকে বলাই সংগত।স্যার, সংবাদমাধ্যমগুলো প্রচার করেছে যে, 'হাসান আজিজুল হক মারা গেছেন'। খুব কান্না পেয়েছে। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। হাসান আজিজুল হক মারা যেতে পারেন না। স্বার্থহীন সৃষ্টিশীল প্রাণ অমর। আপনি থাকছেন বাঙালির অন্তরে।নূরুননবী শান্ত: গল্পকার, অনুবাদক | 2 |
ভারতের বিহারের এক এমএলএকে যুবতীর হাত ধরে জনসমক্ষে নাচতে দেখা গেছে। গোপাল মণ্ডল নামের ওই এমএলএ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের দলের সদস্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই এমএলএ যুবতীর সঙ্গে নাচার পাশাপাশি নগদ টাকা ছড়াচ্ছেন এবং ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিচ্ছেন। এমন কাজের পর দলীয় সমালোচনার শিকার হয়েছেন তিনি।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর, বিহারের জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) গোপাল মণ্ডলের আচরণের সমালোচনা করে তাঁর আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও এমএলএ পদের মর্যাদা রক্ষা করতে বলেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বিহারের ভাগলপুর নির্বাচনী আসনের এমএলএ গোপাল মণ্ডল ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁর পরনের কুর্তা টেনে তুলে এক যুবতীর হাত ধরে নাচছেন। ওই যুবতীকে ওই অনুষ্ঠানে নাচার জন্যই ডেকে আনা হয়েছিল।শুধু সরকারের সমালোচনা করলেই সাংবাদিক গ্রেপ্তার করা যাবে নাস্থানীয়দের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানাচ্ছে, ভাগলপুরের ফতেহপুর এলাকার ওই অনুষ্ঠানে গোপাল মণ্ডল তাঁর আসন ছেড়ে ওঠে গিয়ে ওই যুবতীর সঙ্গে নাচতে শুরু করেন। এর অল্প সময় পরই তাঁর সঙ্গে বসে থাকা আরও দুজন নাচে যোগ দেন।এমন কাজের পর তিনি তাঁর দলের মধ্যেই সমালোচনার শিকার হয়েছেন। তবে, তিনি নিজেকে রক্ষার্থে বলেছেন, তাঁর নাচের বিষয়টি সঠিক ছিল না।এর আগে অতীতেও একবার জনসমক্ষে তিনি নেচেছিলেন। তখনো তিনি সমালোচনার শিকার হন। সে সময় মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের প্রশ্নের জবাবে গোপাল জানিয়েছিলেন, গান শোনার পর আর তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। গোপাল সে সময় মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আরও বলেছিলেন, 'একজন শিল্পীকে নাচা থেকে কেউই বিরত রাখতে পারে না।'জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) বিহার ইউনিটের সভাপতি উমেশ কুশওয়াহা গোপাল মণ্ডলকে তাঁর আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও তাঁর পদের মর্যাদা রক্ষা করতে বলেছেন।গোপাল মণ্ডল এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে 'দিল্লিওয়ালা গার্লফ্রেন্ড' গানে নেচে সমালোচনা মুখোমুখি হয়েছিলেন। তারও আগে, ট্রেনে ভ্রমণকালে অন্তর্বাস পরে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, তাঁর পেট খারাপ হয়েছিল। | 3 |
রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পরে মোহাম্মদ আলী (২২) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৯ নং সড়কের ২২ নম্বর নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত ওই শ্রমিক জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নুর ইসলামের ছেলে। তিনি নির্মাণাধীন ওই ভবনে থেকেই নির্মাণকাজ করে আসছিলেন। তাঁর সহকর্মী রাজিব বলেন, 'চারতলার ছাদে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত মোহাম্মদ আলী নিচের রডের ওপর পরে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।'ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, 'মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।'উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিক বলেন, 'উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।' | 6 |
মানুষের ভোটের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে জোর করে কেড়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশকে বিরোধী দল শুন্য করতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো কারণ ছাড়াই মিথ্যা মামলা দিয়ে কারান্তরীণ করা হচ্ছে। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, যে কোনো মূহুর্তে ক্ষোভে ফেটে পড়া মানুষ বর্তমান সরকারের রাজসিংহাসন উল্টে দিতে রাজপথ কাঁপিয়ে ধেয়ে আসবে। তিনি বলেন, এই লক্ষ্যে মানুষের ভোটের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে জোর করে কেড়ে নেয়া হয়েছে। দেশকে বিরোধী দল শুন্য করতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো কারণ ছাড়াই মিথ্যা মামলা দিয়ে কারান্তরীণ করা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগের রাতে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্লজ্জভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী, কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকার এখন পুরোপুরি ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ শাসন শুরু করেছে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে সরিয়ে দিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া ও গায়েবী মামলা দায়ের এবং গ্রেফতার করা যেন বর্তমান অবৈধ আওয়ামী সরকারের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় স্থান পেয়েছে। ভুয়া, বানোয়াট ও সাজানো মামলায় নোয়াখালী জেলাধীন সেনবাগ উপজেলার ৭ নং মহম্মদপুর ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ও সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের ১ম যুগ্ম আহবায়ক ফখরুল ইসলাম রুবেলকে গ্রেফতার বর্তমান গণধিকৃত সরকারের ধারাবাহিক অপকর্মেরই অংশ। তিনি আরও বলেন, সরকার দেশ শাসনে সর্বক্ষেত্রে নজিরবিহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাগারে আটকে রাখতে উন্মাদ হয়ে গেছে। তবে সরকারের সকল অপকর্ম ও অপশাসনের মূলোৎপাটনে জনগণের ক্ষোভ এখন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। যে কোনো মূহুর্তে ক্ষোভে ফেটে পড়া মানুষ বর্তমান সরকারের রাজসিংহাসন উল্টে দিতে রাজপথ কাঁপিয়ে ধেয়ে আসবে। বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে ফখরুল ইসলাম রুবেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অসত্য মামলা প্রত্যাহার এবং তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান। | 6 |
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা বাতিল বা স্থগিত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।আজ বুধবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্যাড ব্যবহার করে এক শ্রেণির অসাধু চক্র ভুয়া তথ্য প্রচার করছে। এর সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব তথ্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে (. . . ) প্রকাশ করা হয়। এর বাইরে অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।সব পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এরই মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। এটি বাতিল বা স্থগিতের কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে যথারীতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। | 1 |
উদুপির সরকারি কলেজে মেয়েদের হিজাব পরে ক্লাসে ঢোকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকে রাজ্যের সব স্কুল ও কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি গিয়েছে আইন-আদালত পর্যন্ত। এ বিষয়ে কোনো চুড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যে ধর্মীয় পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ করেছে কর্ণাটক হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রিতু রাজ আওয়াস্তি, বিচারপতি কৃষ্ণা এস, দিক্ষীত ও বিচারপতি জে এম খাজির সমন্বয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন কর্ণাটক হাইকোর্ট। এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এদিকে, আদালতের নিয়মিত শুনানিতে হিজাব বিষয়ক মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে নেওয়ার ব্যাপারে বলা হলেও তা খারিজ করে দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় চালু করার জন্য অনুরোধ করার পাশাপাশি আমরা আদেশ দিচ্ছি। সেই সঙ্গে পোশাক নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর যেন কোনো চাপ না দেওয়া হয়, কারণ আমরা রাজ্যে শান্তি চাই।" হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, "আমরা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় পোশাক পরে ক্লাসে যেতে পারবে না।" বৃহস্পতিবারের শুনানি শুরু হলে শিক্ষার্থীদের পক্ষের আইনজীবী হিজাব পরিধানের বিধিনিষেধের শিথিলতার জন্য আবেদন করেন। তবে বিষয়গুলোর সঙ্গে ব্যক্তিগত আইনের কিছু দিক বিবেচনায় সাংবিধানিক সমস্যা জড়িত। সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিবাল হিজাব বিষয়ক মামলাটি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে তোলার জন্য করা পিটিশনের কথা জানালে ভারতের প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা বলেন, "হাইকোর্টের শুনানির আগ পর্যন্ত অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। এত আগে এ মামলার ওপর আমাদের হাত দেওয়া উচিত না। আমরা তার আগে পিটিশন তালিকাভুক্ত করলে হাইকোর্ট আর শুনবে না।" প্রত্যুত্তরে সিবাল যুক্তি হিসেবে স্কুল-কলেজ বন্ধ ও মেয়েদের কুক্ষিগত করে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি। পরে ভারতের প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা বলেন, "হাইকোর্টে শুনানি চলছে, তাদেরকে তাদের মতো কাজ করতে দিন। সময় দিন।" | 3 |
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। সোমবার (৮ নভেম্বর) সকালে ইউনিয়নের রাধাগোবিন্দপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। নিহতরা হলেন, লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের জাহারুল ইসলাম (৫০) ও তার ভাই সাহাদুল ইসলাম (৪৮)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক। কাথুলী ইউনিয়নের লক্ষীনারায়নপুর ধলাগ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমান ইউপি সদস্য আজমাইন হোসেন টুটুল জানান, গ্রামের মধ্যে ভোট চাইতে গেলে প্রতিপক্ষ ইউপি সদস্য প্রার্থী আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় তার কর্মী ও চাচাতো দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা। এসময় তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে গাংনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি আরও জানান, কয়েকবছর আগে আমার ছোট ভাই এনামুল হোসেন নইলুকে কুপিয়ে হত্যা করে আতিয়ার রহমানসহ তার সহযোগিরা। সেই মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আতিয়ার রহমানের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: বজলুর রহমান জানান, সহিংসতার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। পুলিশ সুপার রাফিউল আলম বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে যাতে কোন সহিংসতা না হয় সেজন্য পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। | 6 |
দই বেগুন উপকরণ: বেগুন ৫০০ গ্রাম, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, পুদিনা পাতাবাটা ১ চা-চামচ, গোটা শুকনা মরিচ ৪টি, চিনি আধা চামচ/স্বাদমতো, টক দই আধা কাপ, গোলমরিচগুঁড়া সিকি চা-চামচ, লবণ দেড় চা-চামচ, ময়দা সিকি চা-চামচ বা স্বাদ অনুযায়ী, তেল (শুকনা মরিচ ফোড়নের জন্য) ৩ টেবিল চামচ ও চিলি ফ্লেক্স আধা চা-চামচ। প্রণালি: বেগুন ১ সেন্টিমিটার পুরু ও গোল টুকরা কেটে ১ চা-চামচ লবণ মেখে ৩০ মিনিট রেখে দিন। বেগুন ভালো করে ধুয়ে ঝাঁজরিতে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার বেগুনে হলুদগুঁড়া, সিকি চা-চামচ মরিচগুঁড়া ও আধা চা-চামচ লবণ মেখে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিন। পুনরায় বেগুনের পানি ঝরিয়ে নিন। একটি শুকনা পাত্রে ময়দা নিয়ে তাতে বাকি মরিচগুঁড়া ও আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। ফ্রাই প্যান গরম করে প্রতিবার ২ টেবিল চামচ করে তেল দিয়ে বেগুন ময়দার মিশ্রণে গড়িয়ে নেড়ে নিন। অতিরিক্ত ময়দা সরিয়ে কয়েক টুকরা বেগুন তেলে ভেজে নিন। এক পাশ ভাজা হলে উল্টে দিন। মাঝারি আঁচে ভাজুন। এভাবে একই নিয়মে সবগুলো বেগুন লালচে করে ভেজে পরিবেশন পাত্রে সাজিয়ে নিন। ঠান্ডা হতে দিন। দই মসৃণ করে ফেটে তাতে গোলমরিচগুঁড়া, রসুনবাটা, বাকি লবণ, চিনি ও পুদিনাপাতা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই দইয়ের মিশ্রণ বেগুনের ওপর ঢেলে দিন। চুলায় অন্য একটি ফ্রাই প্যানে ৩ টেবিল চামচ তেল গরম করে শুকনা মরিচ ভেজে বেগুন ও দইয়ের ওপরে ঢেলে দিন। ওপর থেকে চিলি ফ্লেক্স ছিটিয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন। শীতের নিরামিষ উপকরণ: বাঁধাকপি (মোটা কুচি) ১টার চার ভাগের তিন ভাগ, ফুলকপি (ছোট) ১টি, আলু আধা কেজি, গাজর (মাঝারি) ২টি, নারকেলের ঘন দুধ ১ কাপ, তেল এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ, শুকনা মরিচ ৩-৪টি, তেজপাতা ১টি, কালোজিরা আধা চা-চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ, জিরাগুঁড়া আধা চা-চামচ, গোলমরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, গরমমসলাগুঁড়া ১ চা-চামচ, লেবুর রস ২ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি (ঐচ্ছিক) স্বাদমতো, টমেটো (টুকরা করা) ৩টি, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ ও রসুনবাটা আধা টেবিল চামচ। প্রণালি: ফুলকপির ফুলগুলো ভেঙে ছোট টুকরা করুন। গাজর ও টমেটো চৌকো করে কাটুন। অন্যান্য সব সবজি ধুয়ে পানি ঝরিয়ে আলাদা রাখুন। প্যানে তেল গরম করে শুকনা মরিচ ফোড়ন দিন। ভাজা মরিচের গন্ধ বের হলে তেল ছেঁকে উঠিয়ে রাখুন। মরিচ উঠিয়ে তেলে তেজপাতা ও কালোজিরার ফোড়ন দিন। গাজর ও ফুলকপি দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। এবার সব বাটা মসলা দিয়ে বাঁধাকপি দিন। কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। কষানো হলে গরমমসলা বাদে লবণ ও অন্যান্য গুঁড়া মসলা দিয়ে আবারও নাড়ুন। নারকেলের দুধ দিয়ে ঢেকে অল্প আঁচে রান্না করুন। সবজি সেদ্ধ হয়ে এলে চিনি ও টমেটো দিন। গরমমসলাগুঁড়া ও লেবুর রস দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন পাত্রে তুলে রাখুন। ওপরে ভাজা শুকনা মরিচ দিয়ে লুচি, পরোটা, চাপাতি বা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন। ঝাল ভাজা মুরগিউপকরণ: মুরগি (দেড় কেজি ওজনের) ১টি, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, অয়েস্টার সস ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ২ চা-চামচ, রসুনবাটা ২ চা-চামচ, মরিচগুঁড়া ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচগুঁড়া ২ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিকেন পাউডার ১ চা-চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, ময়দা ২ কাপ বা প্রয়োজনমতো, চিনি স্বাদমতো, ঠান্ডা পানি, তেল ভাজার জন্য ও বেকিং পাউডার ১ চা-চামচ। প্রণালি: মুরগির চামড়া ছাড়িয়ে ৮ টুকরা করুন। একবার ধুয়ে ২ চা-চামচ লবণ মেখে ২০-২৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একটি পাত্রে ময়দা ও তেল বাদে অন্য সব উপকরণ একসঙ্গে মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে দিন। একটি শুকনা পাত্রে ময়দা নিয়ে তাতে ১ চা-চামচ মরিচগুঁড়া, ১ চা-চামচ গোলমরিচগুঁড়া, সামান্য লবণ, চিনি ও বেকিং পাউডার মিশিয়ে রাখুন। একটি বোলে ঠান্ডা পানি রাখুন। একেকটি মুরগির টুকরা আলতো ভাবে ময়দায় গড়িয়ে, পানিতে ডুবিয়ে ভালো করে ঝরিয়ে পুনরায় ময়দায় গড়িয়ে নিন। চুলায় তেল গরম করে ডুবো তেলে অল্প আঁচে ভেজে নিন। মুচমুচে সোনালি রং করে ভেজে তেল ছেঁকে উঠিয়ে রাখুন। পরিবেশন পাত্রে সাজিয়ে সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন ঝাল ভাজা চিকেন। কষা বিফ-ভিন্দালুউপকরণ: গরুর মাংস হাড়সহ (ছোট টুকরা) ৫০০ গ্রাম, তেল সোয়া ২ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, আদাবাটা ১ চা-চামচ, ধনেগুঁড়া ১ চা-চামচ, জিরাগুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, ২টি কাঁচা মরিচ দিয়ে সরিষাবাটা দেড় চা-চামচ, মরিচগুঁড়া ২ চা-চামচ, গোলমরিচগুঁড়া সিকি চা-চামচ, সিরকা ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৪টি, শুকনা মরিচ ৪টি, রসুন ৫-৬ কোয়া ও লবণ স্বাদমতো।প্রণালি: মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। প্যানে তেল গরম করে মাংস দিয়ে ভাজুন। মাংসের রং বদল হলে সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। সিরকা ও লবণ দিতে হবে। ১ কাপ গরম পানি দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। চুলার আঁচ কমিয়ে দিন।ঢাকনা খুলে পানি শুকিয়ে এলে আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। এবার আরও ১ কাপ পানি দিয়ে কাঁচা মরিচ ও রসুনের কোয়া দিয়ে অল্প আঁচে ঢেকে রান্না করুন। মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে পাশের চুলার প্যানে ২ টেবিল চামচ তেল গরম করে শুকনা মরিচের ফোড়ন দিন। মরিচ মচমচে হয়ে এলে তেল ও ভাজা মরিচ একসঙ্গে মাংসের প্যানে দিয়ে আঁচ বাড়িয়ে রান্না করুন। ঝোল কমে এলে আঁচ একেবারে কমিয়ে ঢেকে রাখুন। মাখা মাখা হয়ে তেল ছেড়ে দিলে চুলা বন্ধ করে দিন। পরোটা, লুচি, গরম ভাত বা পোলাওর সঙ্গে পরিবেশন করুন। নারকেলের দুধে চিংড়ি-মিষ্টিকুমড়াউপকরণ: চিংড়ি মাছ (খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে নেওয়া) ২৫০ গ্রাম, মিষ্টিকুমড়া ৫০০ গ্রাম, তেল ৩ টেবিল চামচ, গোটা জিরা আধা চা-চামচ, গোটা শুকনা মরিচ ৩-৪টি, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, আদাবাটা আধা চা-চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, তেঁতুলের ক্বাথ ২ চা-চামচ বা স্বাদমতো, নারকেলের দুধ ১ কাপ, লবণ ও চিনি স্বাদমতো, মিষ্টিকুমড়াবাটা সিকি কাপ।প্রণালি: মিষ্টিকুমড়া খোসা ছাড়িয়ে আড়াই সেন্টিমিটার চৌকো করে কেটে নিয়ে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। প্যানে তেল গরম করে শুকনা মরিচ ভেজে তুলে রেখে জিরার ফোড়ন দিন। অন্যান্য মসলা ও বাটা মিষ্টিকুমড়া সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। সামান্য লবণ ও চিংড়ি মাছ ২ মিনিট ঢেকে রান্না করুন। অল্প কিছুক্ষণ নেড়ে মসলা থেকে মাছগুলো তুলে নিন। এবার মসলা ও তেল যে হাঁড়িতে আছে, তাতে মিষ্টিকুমড়া দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। নারকেলের দুধ দিয়ে আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে ঢেকে দিন। মিষ্টিকুমড়া সেদ্ধ হলে লবণ, চিনি ও তেঁতুলের ক্বাথ জ্বাল দিন। এবার বাকি নারকেলের দুধ দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। মাঝারি আঁচে ২-৩ মিনিট রাখুন। চুলা বন্ধ করে দিন। পরিবেশন পাত্রে বেড়ে ওপরে ভাজা শুকনা মরিচ দিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন। কাঁটা গলানো বেকড ইলিশ উপকরণ: ইলিশ মাছ ১টি (১ কেজি ওজনের), রসুনবাটা ২ চা-চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, ফিশ সস ২ চা-চামচ, চারটি কাঁচা মরিচ দিয়ে সাদা সরিষাবাটা ২ টেবিল চামচ, গোলমরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, লেবুর রস দেড় টেবিল চামচ, টোস্ট বিস্কুটের গুঁড়া পরিমাণমতো ও আটা হাঁড়ির মুখ আটকে দেওয়ার জন্য। প্রণালি: ইলিশ মাছের আঁশ ছাড়িয়ে নিন। মাথার নিচে বুকের দিকে পাশ থেকে সামান্য চিরে পেটের ময়লা পরিষ্কার করে নিন। ডুবো পানিতে মাছের পেটের ভেতর বাইরে ভালো করে ধুয়ে নিন কয়েকবার। পানি ঝরিয়ে নিন। একটি পাত্রে মাছ, বিস্কুটের গুঁড়া, আধা চা-চামচ গোলমরিচের গুঁড়া ও আধা চা-চামচ ফিশ সস বাদে অন্যান্য উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। একটি ট্রেতে লেজ ও মাথাসহ আস্ত ইলিশ নিয়ে তাতে সস ও মসলার মিশ্রণ ভালো করে দুই পিঠে মেখে নিন। কিছু মিশ্রণ মাথার ভেতরে ও পেটের ভেতরেও মেখে নিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিন। আটা মথে নিন। একটি বড় হাঁড়িতে পানি নিন। হাঁড়িভর্তি পানি নিতে হবে। এবার এই পানিতে মসলার মিশ্রণ দিয়ে মেখে রাখা মাছটি দিন। হাঁড়ির চারপাশে আটা দিয়ে রোল করে চেপে চেপে লাগিয়ে ঢাকনা দিয়ে মুখ বন্ধ করুন। খেয়াল রাখবেন যেন কোনো বাষ্প ভেতর থেকে বের না হয়। প্রথমে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিন। পানি শুকিয়ে অর্ধেক হলে আঁচ একেবারে কমিয়ে সারা রাত চুলায় রাখুন। খেয়াল রাখবেন যেন পোড়া না লাগে। পানি একেবারে কমে গেলে চুলা বন্ধ করে দিন। এবার হাঁড়ির মুখ খুলে খুব সাবধানে বেকিং ট্রেতে মাখন ব্রাশ করে মাছটি উঠিয়ে নিন। হাঁড়িতে খুব বেশি পরিমাণে পানি থাকলে তা চুলায় জ্বাল দিয়ে ঘন গ্রেভি তৈরি করে মাছের ওপরে ও তার চারপাশে দিয়ে দিন। গ্রেভি ঘন হওয়ার সময় লবণ দেখে নেবেন। যদি কম মনে হয় তাহলে বাকি ফিশ সস দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। বিস্কুটের গুঁড়ায় বাকি গোল দিয়ে মেখে মাছের উপরিভাগে মাথার অংশ বাদ দিয়ে পুরো মাছ ঢেকে দিন। প্রি-হিটেড ওভেনে ১৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ১৫-২০ মিনিট বেক করুন। সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। | 4 |
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্নাকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ছেলে ও তার বাবার করা জিডির প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ঝর্ণাকে উদ্ধার করে। গোয়েন্দা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ১১ এপ্রিল জান্নাত আরা ঝর্ণার বড় ছেলে আব্দুর রহমান জামি মাকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ঝর্ণার বাবা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য কলাবাগান থানায় আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জান্নাত আরা ঝর্ণার অবস্থান জানার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় ঝর্ণাকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই বাসাটি মামুনুল হকের বোন দিলরুবার বাসা বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসএইচ | 6 |
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম সাত মাসে (এপ্রিল-অক্টোবর) স্বল্প আয় ও অনানুষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা চাকরি বা উপার্জন হারিয়েছে বেশি। তাতে ৭৭ শতাংশ পরিবারের মাসিক গড় আয় কমেছে। ৩৪ শতাংশ পরিবারের কেউ না কেউ চাকরি অথবা উপার্জন সক্ষমতা হারিয়েছে। দৈনন্দিন খরচ মেটাতে পরিবারগুলো সঞ্চয় ও ধারদেনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সে জন্য পরিবারগুলোর মাসিক গড় সঞ্চয় ৬২ শতাংশ কমে গেছে। আর ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় ৩১ শতাংশ। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ ও নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটিতে করোনাকালে বিপরীতমুখী অভিবাসনের প্রভাবে বাংলাদেশের মধ্যম মানের শহর, উপজেলা ও গ্রামীণ অঞ্চলের জনমিতি, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা-ও তুলে ধরা হয়েছে। ব্র্যাকের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। 'কোভিড-১৯-এর কারণে জনমিতি ও আর্থসামাজিক পরিবর্তনসমূহ: নতুন পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক এই গবেষণার ফলাফল গতকাল বুধবার রাতে অনলাইনে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংলাপে প্রকাশ করা হয়। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের প্রোগ্রাম প্রধান লিয়া জেমোর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ। পরে বক্তব্য দেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি শোকো ইশিকাওয়া, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেনিয়েল নাওজোকস এবং ব্র্যাক ইউএসএর পরিচালক (স্বাস্থ্য) অ্যাডাম সোয়ার্টজ। সংখ্যা ও পরিমাণবাচক উভয় পদ্ধতিতে গত বছরের ১০ থেকে ২৫ ডিসেম্বর গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে ৬ হাজার ৩৭০টি খানা বা পরিবার অংশ নেয়। গবেষণায় গত বছরের এপ্রিল-অক্টোবর সময়কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা থেকে গ্রামে বা মফস্বলে ফেরত যাওয়া কিংবা দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের পরিবারের ৬১ শতাংশের অন্তত একজন সদস্য করোনায় চাকরি বা উপার্জনের সুযোগ হারিয়েছে। আবার গ্রামাঞ্চল বা মফস্বল শহরে ফিরে আসা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের প্রায় ৭৭ শতাংশ মনে করেন, কাজ বা চাকরি খুঁজে পাওয়া তাঁদের জন্য কঠিন হবে। গবেষণায় দেখা যায়, অনেক পরিবার গ্রাম বা মফস্বলে ফিরে আসায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর চাপ তৈরি হবে। অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাদের গড় বয়স ৫-১৬ বছর। পুনরায় স্কুল খোলার পর যদি তারা তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরত না যেতে পারে, তবে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া ফেরত আসা প্রায় ১৩ দশমিক ৩৫ শতাংশের বয়স চল্লিশোর্ধ্ব এবং ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশের বয়স পঞ্চাশের ওপরে। তারা আগের এলাকায় ফিরে না গেলে স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর বিশেষ করে অসংক্রামক ব্যাধির ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ বিদেশফেরত অভিবাসীরা অভিবাসন ঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তাঁদের ঋণের পরিমাণ ৭৬ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত। | 0 |
রিচমন্ড কানাডা সিটিতে কাঙ্ক্ষিত প্রকৃতির অপরূপ শোভায় শোভিত আধুনিক সব নাগরিক সুবিধাসংবলিত প্লট আছে। রিচমন্ড কানাডা সিটিতে থাকছে নাগরিক সব সুযোগ ও সুবিধা। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বিনোদন পার্ক, খেলার মাঠ, মসজিদ, মাদ্রাসা, জিমনেসিয়াম, কনভেনশন সেন্টার, শপিং মল, ব্যাংক-বিমা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের শাখা অফিস, সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থার জন্য উন্নত মানের সিসিটিভি সারভাইলেন্স, সেফটি ও সিকিউরিটি ব্যবস্থা। সার্বক্ষণিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পানি, টেলিফোন ও সর্বাধুনিক সুয়ারেজ সিস্টেমও থাকবে। রিচমন্ড কানাডা সিটি তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ কানাডার আধুনিক শহরের অনুকরণে। আবাসন প্রকল্পের সরকারি সব নিয়ম ও নীতি অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সম্পূর্ণ যানজট ও কোলাহলমুক্ত দীর্ঘস্থায়ী প্রশস্ত সড়ক। প্রকল্পের প্রধান সড়ক ১০০ ফুট, অ্যাভিনিউ সড়ক ৮০ ও ৬০ ফুটের এবং সর্বনিম্নসড়কের প্রশস্ততা হবে ৩০ ফুট। প্রকল্পজুড়ে থাকবে আধুনিক ডিজাইনের নয়নাভিরাম কৃত্রিম লেক, প্রশস্ত ফুটপাত/ওয়াকওয়ে। এর পাশ দিয়ে থাকবে সবুজে ঘেরা বৃক্ষরাজি। রিচমন্ড কানাডা সিটিতে আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে সুলভ মূল্যে ও সহজ কিস্তিতে প্লট বুকিং চলছে। এই প্রজেক্ট ভিজিটের জন্য রয়েছে সার্বক্ষণিক গাড়ির সুবিধা। | 0 |
স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ শিগগিরই কোভিড-১৯ টিকা উৎপাদনে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম চালান পাওয়ার পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'এটি যৌথভাবে উৎপাদন করা হবে। তারা (অংশীদার দেশগুলো) আমাদের বাল্ক মেডিসিন পাঠাবে, আমাদের এখানে বোতলজাত ও লেভেলিং করা হবে।' ড. মোমেন বলেন, যে দেশগুলো যৌথভাবে উৎপাদনে টিকা উৎপাদন করছে তারা ভালো ফল পাচ্ছে। এর আগে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় জাপান থেকে ক্যাথে প্যাসিফিকের একটি ফ্লাইটে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২ লাখ ৪৫ হাজার টিকার ডোজ ঢাকায় পৌঁছে। টিকার চালান এসে পৌঁছালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন তা গ্রহণ করেন। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: এ বি এম আবদুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : ইউএনবি | 9 |
সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ফুটবল মাঠ এখন পশুচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। মাঠটিকে মিনি স্টেডিয়াম করার কথা ঘোষণা দেওয়া হলেও বেহাল দশায় বর্তমানে সেটি পশুচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর কোনো খেলা মাঠে গড়ায়নি। এ কারণে খেলার মাঠটি ধীরে ধীরে আবর্জনার স্তূপে পরিণত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে মাঠে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন না থাকায় স্থানীয় যুবসমাজের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এসব কারণে মাঠটি সংস্কার করে ঐতিহ্যবাহী সেই রূপ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও বিশিষ্টজনেরা।জানা যায়, পাটকেলঘাটার এই ফুটবল মাঠটিতে পদার্পণ করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। স্থানীয় জনসাধারণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফুটবল মাঠটি মিনি স্টেডিয়াম করার প্রস্তাব করা হলে সরকারের পক্ষ থেকে মাপ জরিপ হয়। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।স্থানীয় মাওলানা আবু মুসা বলেন, মাঠে আমরা আবাহনী-মোহামেডানের খেলোয়াড়দের খেলা করতে দেখেছি। তা ছাড়া বছরের সব সময় ফুটবল ক্রিকেটসহ নানা ধরনের খেলা দেখেছি এই মাঠে। এখানে এসেছেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। এ মাঠে কয়েক হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে তাবলীগ জামাতের আঞ্চলিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন দিবসে মাঠে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের গণজমায়েত ও খেলাধুলা হয়ে থাকে।মাঠের সার্বিক সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে পাটকেলঘাটায় বিশিষ্ট ফুটবল খেলোয়াড় ফুটবলের প্রশিক্ষক উদয় কুমার ঘোষ বলেন, খেলার মাঠে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায়। মাঠটি অত্যন্ত নিচু হওয়ায় দীর্ঘদিনেও সেই বৃষ্টির পানি বের হয় না। ফলে মাঠে খেলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অনেকের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। ফলে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয় যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। তাই সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মাঠ সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনদ কুমার বলেন, সরকার খেলাধুলার প্রতি খুবই আন্তরিক। করোনা মহামারির কারণে দেশের উন্নয়ন কিছুটা থমকে গিয়েছিল। বর্তমানে করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই পর্যায়ক্রমে সকল উন্নয়ন হবে। পাটকেলঘাটার ফুটবল মাঠটি সংস্কারে সরকার কয়েকবার বরাদ্দ দিয়েছে। | 6 |
মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ। শুধু তাই নয়, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণও দিতে রাজি হয়েছে পত্রিকাটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে গত সপ্তাহে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে তারা। 'দ্য মিস্টরি অব মেলানিয়া' শিরোনামে গত শনিবার টেলিগ্রাফ ম্যাগাজিনের প্রথম পাতায় ছাপা হয়। সেখানে পত্রিকাটি দাবি করে, ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মডেলিং পেশায় থিতু হতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মেলানিয়া। এটাকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন মেলানিয়া। এর পরই সুর পাল্টায় পত্রিকাটি। এক সপ্তাহ পর শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে পত্রিকাটি বলেছে, মেলানিয়াকে নিয়ে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা উচিত হয়নি। তারা আরও বলেছে, 'ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হওয়ার বহু আগেই নিজের মডেলিং পেশায় সফলতা অর্জন করেন মেলানিয়া। স্বামীর সহযোগিতা ছাড়াই তিনি একজন সফল মডেল হয়ে ওঠেন। এ ছাড়া মেলানিয়ার মামলার খরচ ছাড়া অন্যান্য ক্ষতিপূরণ দিতেও সম্মত হয়েছে টেলিগ্রাফ। খবর বিবিসির। | 3 |
উচ্চ আদালতের বিচারকদের বেতন সংক্রান্ত সামরিক আমলের অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইন করতে সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে। নতুন আইনে বিচারকদের বেতন না বাড়লেও কিছু ভাতা যোগ হয়েছে। এতে নিরাপত্তা ও বাবুর্চির ভাতা রাখা হয়েছে। আজ রোববার বিলটি পাস হয়েছে।আইনমন্ত্রী আনিসুল হক 'বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২১' সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠান এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তির পর বিলটি ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। ১৯৭৮ সালের 'সুপ্রিম কোর্ট জাজেস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) ' বাতিল করে নতুন আইন করার জন্য বিলটি পাস হয়েছে। এর আগে গতকাল শনিবার বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন আইনমন্ত্রী।বিলে প্রধান বিচারপতির 'নিয়ামক ভাতা' বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি মাসে ১২ হাজার টাকা হারে এই ভাতা পান। নতুন আইনে তা ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকেরা আগের মতোই আট হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা নিয়ামক ভাতা পাবেন। বিলে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের একজন বিচারক তাদের বাসায় একজন বাবুর্চির পরিবর্তে প্রতি মাসে ১৬ হাজার টাকা করে 'কুক ভাতা' পাবেন। বর্তমান আইনে একজন বিচারক 'ডমেস্টিক এইড' ভাতা পান। বিলে সেটা রাখা হয়নি।বিলে বলা হয়েছে, বিচারকরা তাদের ইয়ারমার্কড, স্বতন্ত্র, একক বাসা, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে একজন করে নিরাপত্তা প্রহরী পদের সুবিধার পরিবর্তে প্রতি মাসে ১৬ হাজার টাকা সিকিউরিটি ভাতা প্রাপ্য হবেন।উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৬ সালে বিচারকদের বেতন ও ভাতা বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি এক লাখ ১০ হাজার টাকা, আপিল বিভাগের বিচারক এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক ৯৫ হাজার বেতন পান। এছাড়া বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বিশেষ ভাতা পান তারা, যা নতুন আইনেও বলবৎ থাকছে। | 6 |
স্বামী-সন্তানদের নিয়ে অনেক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে থাকছি। সবকিছুই কত সুন্দরভাবে চলছিল। হঠাৎ যেন সব এলোমেলো হয়ে গেল। করোনাভাইরাস সবকিছুকে বদলে দিল। জীবনে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, ভাবিনি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশেও করোনায় কত মানুষ যে মারা যাচ্ছে! এখানে অনেক বাঙালির মারা যাওয়ার খবরও শুনছি। আর পারছি না এত এত মৃত্যুর খবর নিতে। আমার দুই মেয়ে বিয়েশাদি করে অন্য জায়গায় থাকে। নিউ জার্সির এই বাড়িতে ছেলেকে নিয়ে আমি ও সাদিক সাহেব (ওয়াহিদ সাদিক) থাকি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে আমরা পুরোপুরি ঘরবন্দী হয়ে যাই। ৪৬ দিন ধরে আমি ঘরের ভেতরেই। হাঁটতে বাইরে বের হই না। আমাদের বাড়িটি তিনতলা। ঘরের মধ্যেই হাঁটাহাঁটি করি। আমি এমনিতেও অবশ্য খুব একটা ঘরের বাইরে বের হই না। নিতান্তই প্রয়োজন কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠান ছাড়া লম্বা সময় ঘরে থাকা লাগবে না। এত বছরের জীবনে কখনোই এভাবে ঘরবন্দী হয়ে থাকিনি। তবে আমার কিন্তু সময় কেটে যাচ্ছে। সারা দিনই কোনো না কোনো কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমি যেহেতু পুরোদস্তুর সংসারী মানুষ, ঘরে অনেক ধরনের কাজ থাকে। সেসব করে দিন কেটে যায়। সাদিক ব্যবসা করতেন, তাঁকে বাইরে যেতে হতো। এই সময়টায় তাঁর ঘরে থাকতে যদিও কিছু সমস্যা হচ্ছে, তারপরও তিনি মানিয়ে নিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, নিয়ম না মেনেও উপায় নেই। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দেশ-বিদেশে মানুষের মৃত্যুর মিছিল খুব বিষণ্ন করে তোলে। আমরা মানুষ নিজেদের কত কী ভাবি, অথচ আমরা যে কিছুই না, করোনাভাইরাস তা বুঝিয়ে দিয়েছে। একটা সামান্য ভাইরাস, যা চোখে দেখছি না, সেটি পুরো পৃথিবীকে অস্থির করে তুলল। এখনে পর্যন্ত কেউ ভ্যাকসিন কিংবা ওষুধ আবিষ্কার করতে পারল না। পৃথিবীর বড় সব বিজ্ঞানী চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমাদের এখন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমি মনে করি, তাঁর ইশারায় এই ভাইরাসের পৃথিবীতে আগমন, মানুষের ভেতরে উপলব্ধি ও বোধ জাগাতে। পৃথিবীতে স্রষ্টার সৃষ্ট মানুষ যেন তার অন্য সব সৃষ্টির প্রতিও যত্নবান করতে। মানবিক হয়। একদিন কোনো কিছুর অসিলায় তা থেকে তিনি সবাইকে মুক্তিও দিয়ে দেবেন। তাই সবারই উচিত বেশি বেশি প্রার্থনা করা। আমরা সৃষ্টির সেরা জীব হয়ে স্রষ্টার অন্য সব সৃষ্টির প্রতি দিনের পর দিন অনেক অত্যাচার করেছি। সেসব থেকে আমরা যেন সরে আসি। আমার কাছে মনে হচ্ছে, এসব বিষয় গভীরভাবে ভাবার সময়ও এসেছে। মানুষ দিয়েই শুধু পৃথিবী নয়, এই পৃথিবীতে অরও অনেক কিছুর অস্তিত্ব রয়েছে। আমরা মানুষেরা নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবে এসব অস্তিত্ব বিলীনের রাস্তা তৈরি করেছি। করোনার এই সময়টাতে ঘরে বসে খবর দেখি বেশি। বাংলাদেশের খবর দেখে আঁতকে উঠি। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় এখনো লকডাউন বিষয়টি মানছে না। ঘর থেকে মানুষ বের হচ্ছে। বুঝতে চাইছে না, এই ভাইরাস কতটা ভয়াবহ। এটা থেকে মুক্তি যে শুধু ঘরে থাকা, সেটাও মানতে চাইছে না। করোনার এই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকার কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নিয়ম নিজের জন্য যেমন মানা উচিত, তেমনি অন্যকে ভালো রাখার জন্য সবারই মানা উচিত। করোনার এই সময়টায় অহসায়, অসচ্ছল, দিন আনে দিন খাওয়া মানুষেরা কষ্টে আছে। সরকার পাশে দাঁড়াচ্ছে। পাশাপাশি করোনার এই সংকট সময়ে সামর্থ্যবানদের উচিত বেশি বেশি করে গরিব, অসহায় ও অসচ্ছলদের পাশে থাকা। ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আমি দেখছি স্বল্প আয়ের মানুষেরা অনেক বেশি কষ্টে আছেন। লকডাউনের এই সময়ে কাজ করতে পারছে না, বাইরে বের হতে পারছে না। আয়ও করতে পারছেন না। করোনার এই সময়ে এমনও শুনছি, অনেক দিন ঘরে থাকতে থাকতে কেউ কেউ নাকি একঘেয়েমিতেও ভুগছেন। এটা কোনো অবস্থায় হওয়া যাবে না। মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিতে হবে। নিজেদের নানা কর্মে ব্যস্ত রাখতে হবে। এত দিন যাঁরা বলতেন, কাজের ব্যস্ততায় অনেক কিছুই করতে পারছি না, তাঁদের জন্য অনেক কিছু করার মোক্ষম সুযোগ। এখন তো সবাই ঘরে ঘরে, বাইরে কোনো কাজ নেই। সব থেমে আছে। এই করোনা একদিন চলে যাবে। তখন যত ইচ্ছা বাইরে থাকতে পারবেন। পড়াশোনা যাঁরা করেন, তারা বেশি পড়ায় মনোযোগী হন। যে যেই কাজে আনন্দ পান, সেই কাজটাই করে যান। পাশাপাশি যে যেই ধর্মের, প্রার্থনা করে সময় কাটাতে পারেন। টেলিভিশন দেখুন। বিনোদনের অনেক অপশনও আছে। করোনা একটা একটা শিক্ষা। এই শিক্ষাটাকে আমাদের সামনের জীবনে কাজে লাগাতে হবে। একটা সুন্দর জীবন গড়ার শপথ করতে হবে। দেশের সবাইকে বলব, তোমরা অকারণে ঘর থেকে বের হোয়ো না। সাবধানে থেকো, নিরাপদে থেকো, সবাইকে নিরাপদে রেখো। | 2 |
২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নেমে এসেছিল রাজপথে। তখনই নির্মাতা শামীম আহমেদ রনীর মাথায় এল, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সিনেমা বানাবেন। কাহিনিকার দেলোয়ার হোসেন দিলকে জানালেন গল্পের প্লট। নাম ঠিক হলো 'বিক্ষোভ'। গল্প তৈরি হলে শুরু হয় টিনএজ বয়সের নায়ক খোঁজা। শাপলা মিডিয়ার ঘরের ছেলে শান্ত খান তখন একটি মাত্র সিনেমা 'প্রেম চোর' করেছেন।প্রায় মাসখানেক শান্তকে চরিত্র অনুযায়ী গ্রুমিং করালেন নির্মাতা। প্রযোজকের ইচ্ছা শান্তর সঙ্গে কলকাতার কোনো নায়িকাকে নেবেন। কলকাতা গিয়ে শ্রাবন্তীকে গল্প শোনালেন পরিচালক। গল্প শুনে অভিনয়ে সম্মতি জানালেন শ্রাবন্তী। সিনেমায় শ্রাবন্তী একটি কলেজের প্রভাষক। সেই কলেজের ছাত্র শান্ত। শ্রাবন্তী যেদিন কলেজে প্রথম আসেন, সেদিনই তাঁকে দেখে ভালো লাগে শান্তর। কিন্তু মনের কথা জানানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় সহপাঠীকে হারান শান্ত। গল্প মোড় নেয় অন্যদিকে। শ্রাবন্তীই প্রথম রাজপথে নেমে আসেন শান্তর সঙ্গে। ছাত্রদের প্রতি শ্রাবন্তীর দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতা শান্তকে আরও মুগ্ধ করে। নতুন এক যাত্রা শুরু হয়। শ্রাবন্তী বলেন, 'শান্ত খুব লাজুক ছেলে। শুটিংয়ের এক-দুই দিন যেতেই বুঝলাম ওকে সহজ না করলে সমস্যায় পড়ব। তখন কাছে ডেকে গল্প করতাম। ধীরে ধীরে সে কিছুটা সহজ হয়। একদিন তো খুব বকা দিয়েছিলাম! বকা খাওয়ার পর দেখলাম আরও বেটার করছে।'শান্তর সঙ্গে এখনো শ্রাবন্তীর নিয়মিত যোগাযোগ হয়। শান্ত বলেন, 'শ্রাবন্তী দিদি কলকাতার প্রথম সারির নায়িকা। আমি তো ভয়ে ছিলাম। ভেবেছিলাম আমার সঙ্গে হয়তো ঠিকমতো কথাই বলবেন না। কিন্তু তিনি এত সহজভাবে আমার সঙ্গে মিশেছেন, মনে হয়েছে অনেক দিনের পরিচিত। দ্বিতীয় লটের শুটিংয়ে ঢাকায় আসার সময় আমার জন্য চকলেট, টি-শার্টসহ অনেক গিফট এনেছিলেন! দিদি যাওয়ার সময় আমি দিয়েছিলাম পদ্মার বড় বড় ৩০টি ইলিশ।'শ্রাবন্তী এখন আছেন লন্ডনে। সেখান থেকে বলেন,'অনেক দিন পর বাংলাদেশে আমার সিনেমা রিলিজ হচ্ছে। এ জন্য আমি খুবই এক্সাইটেড। ইচ্ছে ছিল সিনেমাটি রিলিজের সময় বাংলাদেশে থাকব। কিন্তু লন্ডনে শুটিং পড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে আসা হলো না। সবাইকে অনুরোধ করছি হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখবেন।' | 6 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ৩১২ নম্বর কেবিনে তিনি ভর্তি হয়েছেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ওয়ালিদ ফয়েজ জানান, আজ সকালে সেতুমন্ত্রী বিএসএমএমইউতে যান। চিকিৎসকেরা তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা বলেছেন। এ জন্য তাকে হাসপাতালে মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ওবায়দুল কাদের বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তবে সেই ব্যথা কমে গেছে। তার অক্সিজেন স্যাচুরেশনও ভালো। চিকিৎসকেরা ওবায়দুল কাদেরকে বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন। ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল থেকে তিনি কিছুটা শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করছিলেন। আজ সকালে বুকে ব্যথা বেড়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তার অবস্থা ভালো আছে বলেও জানা গেছে। এর আগে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিএসএমএমইউয়েই ভর্তি হয়েছিলেন কাদের। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে দুই মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। | 6 |
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি এখন রাজনীতির ময়দানে লড়তে পারে না। সে জন্যই তারা ইডি, সিবিআই ব্যবহার করছে। ভয় দেখাচ্ছে রাষ্ট্রপতির শাসন বা ৩৫৬ ধারা জারির। ভারতের দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে এবার তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন মোদির মন্ত্রিসভার সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। বাবুল সুপ্রিয়র সমর্থনে আজ দুপুর দুইটায় তৃণমূলের উদ্যোগে এক রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। রোড শোটি দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হয়ে শিয়ালদহের কাছাকাছি মল্লিক বাজারে গিয়ে শেষ হয়। রোড শোর নেতৃত্ব দেওয়া তৃণমূলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসব কথা বলেন। রোড শোতে তৃণমূলের অন্যান্য নেতা-কর্মীও উপস্থিত ছিলেন। রোড শোতে অংশ নেওয়া তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বাবুল সুপ্রিয়কে বিপুল ভোটে জেতানোর অঙ্গীকার করেন। এই আসনে সিপিএম প্রার্থী দিয়েছে সায়রা শাহ হালিম আর বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে কেয়া ঘোষকে। আজ রোড শোর পর মল্লিকবাজারে আয়োজিত তৃণমূলের প্রার্থীর পক্ষের পথসভায় বক্তব্য দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'বাবুল সুপ্রিয় জয় শ্রীরামের রাজনীতি ছেড়ে জয় বাংলার রাজনীতিতে এসেছেন। জয় শ্রীরামের রাজনীতি ছেড়ে জয় হিন্দের রাজনীতিতে এসেছেন। সেই বাবুল সুপ্রিয় এবার বালিগঞ্জ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য হবে বাবুল সুপ্রিয়কে বিপুল ভোটে জয়ী করে বিজেপিকে পরাস্ত করা। হটিয়ে দেওয়া। বিজেপি আর আজ রাজনীতির ময়দানে লড়তে পারে না। সে জন্যই তারা ইডি, সিবিআই ব্যবহার করছে। ভয় দেখাচ্ছে রাষ্ট্রপতির শাসন বা ৩৫৬ ধারা জারির। ওরা ৩৫৬ ধারা জারি করুক। আমরাই জিতব। পরের বছর ২৫০ আসন পাব।' অভিষেক আরও বলেন, নারদের যিনি কাগজে মুড়ে টাকা নিয়েছেন, আজ তিনি বিজেপিতে গিয়ে সাধু বনেছেন। কিন্তু মানুষ তো এখন মমতার দিকে। রাজ্যবাসীও ছুড়ে দিয়েছে বিজেপিকে। | 3 |
তাইওয়ান সীমান্তে চীনের সাম্প্রতিক সামরিক উপস্থিতির মধ্যেই দেশটিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বলেছে, 'স্বাধীনতা মানে যুদ্ধ'। তবে তাইওয়ান এ হুমকির নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। চীন মনে করে, তাইওয়ান তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি প্রদেশ। তাইওয়ান কোনো সময় স্বাধীনতা ঘোষণা করলে চীনের পক্ষ থেকে শক্তিপ্রয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টি কখনোই নাকচ করেনি বেইজিং। ১৯৪৯ সাল থেকে চীন ও তাইওয়ান পৃথকভাবে শাসিত হচ্ছে। তাইওয়ানের দাবি, গত সপ্তাহের শেষের দিকে চীনের কয়েকটি যুদ্ধ ও বোমারু বিমান দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা জোনে ঢুকে পড়ে। এরপর বেইজিংকে তাইওয়ানের ওপর চাপ বন্ধ করতে আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। চীন মনে করে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন বারবার বলছেন যে তাইওয়ান ইতিমধ্যে একটি 'স্বাধীন দেশ' এবং এর আনুষ্ঠানিক নাম 'দ্য রিপাবলিক অব চায়না'। তাইওয়ানের সীমানার কাছে চীনের বিমানবাহিনীর সাম্প্রতিক মহড়া প্রসঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উ কিয়ান এক মাসিক সংবাদ বিফ্রিংয়ে বলেছেন, তাইওয়ান হচ্ছে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আরও বলেছেন, তাইওয়ান প্রণালিতে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও চীনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেই সেখানে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির এসব কর্মকাণ্ড। মুষ্টিমেয় কিছু লোক তাইওয়ানের স্বাধীনতা দাবি করছে উল্লেখ করে উ বলেন, 'তাইওয়ান ইনডিপেনডেন্স' বাহিনীর উসকানি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামীদের সতর্ক করতে চাই। যাঁরা আগুন নিয়ে খেলছেন, আগুন তাঁদের পুড়িয়ে দেবে। তাইওয়ানের স্বাধীনতা মানেই হচ্ছে যুদ্ধ।' তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল বলেছে, চীনের চিন্তাভাবনা করে কথা বলা উচিত। এই দ্বীপ রাষ্ট্রটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার সংকল্পকে ছোট করে দেখা ঠিক হবে না। তাইওয়ান চীনের এ হুমকির নিন্দা জানিয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং রাষ্ট্রটির স্বাধীনতা রক্ষা ও দমন-নিপীড়নের শিকার না হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। | 3 |
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে সহিংসতার ঘটনায় করা তিনটি মামলা সুষ্ঠু ও নিবিড় তদন্তের স্বার্থে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসকন কর্তৃপক্ষের একটি ও পুলিশ বাদী হয়ে করা দুটি মামলা রয়েছে। এদিকে জেলায় নতুন আরও তিনজনসহ মোট ২০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গতকাল বুধবার সকালে মামলা হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম।শহীদুল ইসলাম জানান, হামলার দিন ব্যাংক রোডে দুটি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এসআই জামাল হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। কলেজ রোডে হামলার ঘটনায় এসআই জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন এবং যতন সাহা ও প্রান্ত দাস নিহতের ঘটনায় ইসকনের পক্ষ থেকে রত্নেশ্বর দেবনাথ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এ তিনটি মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছয়জন আসামি নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তিনজনকে।প্রসঙ্গত, কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৫ অক্টোবর নোয়াখালীর চৌমুহনীর শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর নিত্যানন্দ বিগ্রহ (ইসকন) মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জেরে জেলার বিভিন্ন মন্দিরে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬টি মামলা হয়েছে।যাতে ৪১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাড়ে ৭ হাজার আসামি করা হয়েছে। | 6 |
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে সমুদ্র উপকূলবর্তী সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় গত শনিবার থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে শত শত বিঘা জমির আমন ধান নুয়ে পড়েছে। বোরো ধানের বীজতলাও পানিতে ডুবে গেছে।তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, 'থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হলে ফসলের মাঠে পানি বেশিদিন জমে থাকতে পারবে না। তাই ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম।'এদিকে গত শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ঘরবাড়ি এবং গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি না হলেও উপজেলার শতাধিক একর জমির আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে এসব ধান কেটে ঘরে তুলতেন কৃষকেরা। এখন বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।গতকাল সোমবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সবজিখেত, আলু, পেঁয়াজ, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অনেক কৃষকের কাটা ধান পানিতে ভাসছে। এলাকার অনেকে খেতের পানি নালা দিয়ে বের করে দিতে ব্যস্ত।পাটকেলঘাটার জুজখোলা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা বেগম জানান, বৃষ্টিতে কৃষকের কিছু আমন ধান, সবজিখেত ও বোরো বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। তবে আজ থেকে যদি বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কমবে। | 6 |
লক্ষীপূজা দেখে বাড়ি ফিরছিল বিকাশ চন্দ্র বর্মণ (১৬) নামে এক কিশোর। পথে মোবাইল ফোনের জন্য জবাই করা হয় তাকে। নিহতের লাশ তার বাড়ির ৫৫০ গজ দূরে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। লাশের পাশেঅন্য এক ব্যক্তির এক জোড়া জুতাও খুঁজে পায় পুলিশ। মঙ্গলবার কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আজিম-উল-আহসান।তবে উদ্ধার হওয়া জুতা খুনিকে গ্রেফতারকরতে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি। নিহতবিকাশ চন্দ্র বর্মণকুমিল্লার মুরাদনগর সদর এলাকার জেলে পাড়ার প্রহলাদ চন্দ্র বর্মণের ছেলে। সে পেশায়দর্জি ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সূত্রে ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুরাদনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাহিদ আহম্মেদ জানান, গত ৩০ অক্টোবরবিকাশ চন্দ্র বর্মণ লক্ষীপূজা দেখতে ঘর থেকে বের হন। পূজা দেখে ফেরার পথে বৃষ্টি শুরু হয়। বাড়ির অদূরে একটি ছয়তলা দালানের পাশে আশ্রয় নেয় বিকাশ ও তার সঙ্গী উত্তম বর্মণ (২১), অজয় চন্দ্র সরকার (২২) ও আসামি শাকিব। একটি পূজা মণ্ডপে একসাথে নাচ-গান করেছিল তারা। বৃষ্টি না থামায় বিকাশকে রেখে উত্তম বর্মণ ও অজয় চন্দ্র সরকার বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি চলে যায়। তার একটু পরে বিকাশও বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকাশের পিছু নেয় শাকিব। এক পর্যায়ে শাকিব বিকাশের পথরোধ করে। বিকাশের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিতে ধস্তাধস্তি শুরু করে। শাকিব তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে বিকাশকে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় বিকাশ দৌড়ে বাড়ির কাছে চলে যায়। এ সময় শাকিবও দৌড়ে বিকাশের ঘাড়ে আঘাত করে। বিকাশ নিস্তেজ হয়ে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। রাত তখন সাড়ে ৩টা। ঝুম বৃষ্টি। সে বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও গভীর রাত আর বৃষ্টির শব্দে তার ডাক কারো কানে পৌঁছেনি। শাকিব তাকে জবাই করে। তিন দফা হামলায় বিকাশের মৃত্যু নিশ্চিত করে ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের মোবাইল ফোনটি নিয়ে চলে যায় সাকিব। এ সময় সাকিব তার পায়ের জুতাগুলো রেখে চলে যায়। এ ঘটনায় ২ নভেম্বর অজ্ঞাত আসামি করে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা প্রহলাদ চন্দ্র বর্মণ। পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। লাশের সাথে উদ্ধার হওয়া জুতার মালিককের সন্ধান করতে থাকে। পুলিশ কর্মকর্তা নাহিদ আহম্মেদ জানান, উদ্ধার হওয়া জুতা ও মোবাইল ফোনের কললিস্ট ধরে তদন্ত শুরু করা হয়। চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকা থেকে সোমবার রাতে শাকিবকে গ্রেফতারকরা হয়। গ্রেফতারহওয়ার পর সাকিব স্বীকারোক্তি দেয়, লাশের পাশে উদ্ধার হওয়া জুতা জোড়া তার। সে পেশায় কখনো সিএনজি অটোরিকশা চালক,কখনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক। মোবাইল ফোনের জন্য বিকাশকে খুন করে। এ সময় খুনের কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
গণতন্ত্রহীনতার কারণে জনজীবন চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর বিএনপিসহ বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন, অপহরণ ও গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছে। তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের কারাগারে নিক্ষেপ করছে। সরকারের ক্ষমতায় থাকার অতিলোভ, তাদেরকে স্বৈরাচারী ও বেপরোয়া করে তুলেছে।'
মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
ড. মোশাররফ বলেন, 'কারো জানমালের নিরাপত্তা নেই। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘর থেকে বের হলে স্বজনরা উৎকণ্ঠায় থাকে। এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের বিকল্প নেই।'
বিএনপির এ নেতা বলেন, 'মানবাধিকার আজ ভুলুন্ঠিত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাংলাদেশের মানবাধিকার লংঘন নিয়ে কিছু বললে, সরকার তাদের তিরষ্কার করছে।'
ডা. শাহিদুল হাসান (বাবুল)'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনামুল হক (সফর তালুকদার)।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষিবিদ ইব্রাহীম খলিল, অধ্যাপক ডা. আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক ড. নুরুল আমীন, অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান, ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও রুহুল আমিন খোকন, উদ্যোক্তা সদস্য দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী।
| 9 |
নরসিংদীর চরাঞ্চলে শখের বশে আওলাদ হোসেন লালন-পালন করেন বড় আকৃতির দুইটি গরু। আদর করে নাম রাখেন পালোয়ান ও শেরখান। লালনপালনে যত্নের কোনো ত্রুটি করেননি খামারি। খাওয়ান দেশীয় খাবার। এবারের ঈদে আকর্ষণীয় এই দুটি গরু হাটে তুলবেন সদর উপজেলার নজরপুর গ্রামের আওলাদ। প্রায় ৩২ মণ ওজনের পালোয়ানের দাম ১৩ লাখ ও ২৮ মণওজনের শেরখানের দাম ১২ লাখ টাকা হাঁকছেন তিনি। তবে তার বাড়ি থেকে যদি কেউ কোরবানির জন্য এই গরু দুটি কিনতে চান সেক্ষেত্রে থাকবে বিশেষ ছাড়। প্রায় ৩২ মণ ওজনের পালোয়ানের দাম ১৩ লাখ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক ও পশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ওষুধ প্রয়োগ করা হয়নি। খামারি আওলাদ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেক যত্নে পালন করেন গরু দুটি। দীর্ঘদিন ধরে লালনপালন করা ও আকর্ষণীয় হওয়ায় বিশাল আকৃতির গরু দুটি দেখতে ভিড় করছেন এলাকাবাসী। কেনার জন্য বাড়িতে আসছেন ক্রেতারাও। করছেন দর কষাকষি। কালোর মাঝে অল্প সাদা রংয়ের পালোয়ানের বর্তমান ওজন প্রায় ৩২ মণ, উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট এবং সাদার মাঝে অল্প কালো রংয়ের শেরখানের ওজন ২৮ মণ, উচ্চতা ৬ ফুট। খামারি বলেন, আমি নিজে একা উদ্যোগী হয়ে গরু দুটি লালনপালন করছি। কোরবানির ঈদকে ঘিরে চেষ্টা করবো বাড়ি থেকেই পালোয়ান ও শেরখানকে বিক্রির জন্য। বাড়ি থেকে যারা কিনবেন তাদের বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। আমি যদি এই গরু দুটি বিক্রি করে লাভবান হতে পারি তাহলে হয়তো অন্যরা এমন গরু পালনে আগ্রহী হবেন। সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আওলাদ হোসেন একজন সৌখিন খামারি। তিনি প্রতি বছরই এমন বড় ধরনের একাধিক গরু পালন করেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে গরু দুটি লালন-পালনের জন্য কাঁচা ঘাসের পাশাপাশি দেশীয় বিভিন্ন খাবারের মিশ্রণ খাওয়ানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি সেভাবেই কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই গরু দুটি বড় করেছেন। আমার জানা মতে জেলায় এই দুটি গরু এবার কোরবানির জন্য সবচেয়ে বড় গরু। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
দখলকৃত ভূমিতে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
প্রস্তাবে এসব বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রস্তাবটি পাস হওয়ায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও, ইসরায়েল জানিয়েছে, প্রস্তাবের শর্তগুলো তারা মানবে না।
প্রথমে মিশর এই প্রস্তাবটি এনেছিল, কিন্তু এর বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার জন্য নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করে ইসরায়েল। এরপর মিশর প্রস্তাবটি ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু পরে মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, সেনেগাল আর ভেনিজুয়েলা আবার প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে তোলে।
১৫ সদস্য দেশের পরিষদে ১৪-০ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়, ভোট দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
এ ধরনের ভোটাভুটিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ভেটো বা আপত্তি দিয়ে থাকে। তবে এই প্রস্তাবের ভোটের সময় দেশটি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার বলেছেন, 'প্রস্তাবের সব শব্দ বা বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বলে এর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র নয়। আবার আমরা বিরুদ্ধেও দাড়াইনি, কারণ সমস্যার সমাধানে যে দুই দেশ নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, এই প্রস্তাব তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।'
প্রস্তাবটি পাসে সন্তোষ প্রকাশ করে ফিলিস্তিনি নেতারা বলেছেন, এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইনের বড় বিজয় এবং ইসরায়েল যে উগ্র কর্মকাণ্ড করছে, সেটির প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ব।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর জানিয়েছে, ইসরায়েল এই প্রস্তাবের শর্ত মানবে না বরং এই প্রস্তাবের কার্যকারিতা ঠেকাতে তারা নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য অপেক্ষা করবেন।
ট্রাম্প এরই মধ্যে বলেছেন, আগামী জানুয়ারিতে তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর পরিস্থিতি অন্যরকম হবে।
বসতি নির্মাণের বিষয়টি ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাকর বিষয় এবং শান্তি আলোচনার বড় বাধা বলে বিবেচনা করা হয়।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা জমিতে ১৪০টি বসতি তৈরি করেছে ইসরায়েল, যেখানে প্রায় ৫ লাখ ইহুদি বসবাস করেন।
| 3 |
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, গত মাসে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতের পর প্রায় দুই লাখ ফিলিস্তিনির স্বাস্থ্যসহায়তা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে গত বুধবার এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরসহ দখল করা ফিলিস্তিন অঞ্চলে প্রায় দুই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসহায়তা প্রয়োজন। আর তা সরবরাহে ডব্লিউএইচও তার তৎপরতা জোরদার করেছে। এতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি ভয়ংকর। ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার ৭৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রায় ৩০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংস্থাটি প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা সরবরাহ ও এ কাজে যুক্ত লোকজনকে গাজায় অবাধে ঢুকতে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। গত মাসে অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েল বিমান হামলা ও গাজা থেকে হামাস পাল্টা রকেট হামলা চালায়। উভয় পক্ষে ১১ দিনের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। এ সময় ইসরায়েলি হামলায় ৬৬ শিশুসহ ২৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। অপর পক্ষে হামাসের ছোড়া রকেটে ১২ ইসরায়েলি প্রাণ হারায়। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইসরায়েল এর স্থল ও আকাশসীমা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। বহির্বিশ্বের সঙ্গে গাজার যোগাযোগের একমাত্র পথ রাফা ক্রসিং, যার সুরক্ষা দিয়ে আসছে মিসর। | 3 |
মিঠুন চক্রবর্তীর ছেলে মহাক্ষয় চক্রবর্তী ও অভিনেতার স্ত্রী যোগিতা বালির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা ও জোর করে গর্ভপাতের অভিযোগ দায়ের করেছেন এক মডেল। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভারতের ওশিওয়ারা থানায় অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতা মডেল। তার দাবি, মহাক্ষয় চক্রবর্তীর সঙ্গে ২০১৫ সাল থেকে তিনি সম্পর্কে ছিলেন। সে সময় একদিন মহাক্ষয় তাঁকে বাড়িতে ডেকে পানীয়র মধ্যে কিছু মিশিয়ে দেন এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহাক্ষয় তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এরই এক পর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মহাক্ষয় তাঁকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। এমনকি মিমোর মা যোগিতা বালি তাঁকে ফোন করে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে নির্যাতিতা মডেল মহাক্ষয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে বলে জানিয়েছিলেন নির্যাতিতা। পরে তিনি দিল্লির রোহিনী আদালতের দ্বারস্থ হন। আদলতের নির্দেশেই এবার ওশিওয়ারা থানায় মহাক্ষয় চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ও তাঁর মা যোগিতা বালির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা মডেল। | 2 |
ইউক্রেন সংকট নিয়ে কিছুদিন ধরে ভারতকে একধরনের কূটনৈতিক টানাটানির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এই ইস্যুতে মস্কো ও পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইউক্রেন সংকট নিয়ে নয়াদিল্লি প্রথম যে বিবৃতিটি দিয়েছে, তাতে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিবৃতিতে নয়াদিল্লি বলেছে, সংকটের সমাধানে কূটনীতি ও সংলাপকে সুযোগ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে কর্ণপাত করা হয়নি বলে তারা দুঃখিত। বিবৃতি দিলেও ইউক্রেনে হামলা চালানোর জন্য রাশিয়ার সমালোচনা করা থেকে বিরত রয়েছে ভারত। ভারত কী কারণে রাশিয়ার সমালোচনা করছে না, তা এক বিশ্লেষণে তুলে ধরেছে বিবিসি অনলাইন। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব তোলা হয়। এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির আগেই রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র 'সঠিক কাজ' করার জন্য নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। একটি সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়া প্রকাশ্যে নয়াদিল্লির প্রতি আবেদন পর্যন্ত জানিয়েছিল। কিন্তু ভারত নিরাপত্তা পরিষদে ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের দেওয়া বিবৃতিটি ভালোভাবে পড়লে বোঝা যায়, নয়াদিল্লি পরোক্ষভাবে মস্কোকে আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করতে বলেছে। ভারত জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্বের কথা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি বলেছে, সংকট সমাধানের লক্ষ্যে একটি গঠনমূলক পন্থা খুঁজে পেতে সব সদস্যরাষ্ট্রকে এই নীতিগুলোকে সম্মান করতে হবে। নিরাপত্তা পরিষদে ভোটদানে ভারতের বিরত থাকার সিদ্ধান্তটি, বিশেষ করে পশ্চিমে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্নটি হলো, ইউক্রেন ইস্যুতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতের আরও সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল কি না। ভালো বিকল্প নেইভারতের সাবেক কূটনীতিক জে এন মিশ্রের মতে, ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতের সামনে যেসব বিকল্প আসে, তা কোনোটিই ভালো নয়। জে এন মিশ্র বলেন, কেউ একই সময় উভয় দিকে কাত হতে পারে না। ভারত তার বিবৃতিতে কোনো দেশের নাম নেয়নি। যার অর্থ দাঁড়ায়, নয়াদিল্লি মস্কোর বিরুদ্ধে যাবে না। এ অবস্থায় ভারতকে একটি সূক্ষ্ম পন্থা বেছে নিতে হয়। ইউক্রেন ইস্যুতে কূটনৈতিক ভারসাম্যের একটি অবস্থান খুঁজে পেতে ভারতকে বেগ পেতে হয়েছে। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, মস্কোর সঙ্গে নয়াদিল্লির সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক। রাশিয়া এখনো ভারতের বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে রয়ে গেছে। যদিও এই সরবরাহের পরিমাণ ৭০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ভারত অস্ত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে অস্ত্র উৎপাদনের পদক্ষেপ নিয়েছে। রাশিয়া এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মতো সামরিক সরঞ্জাম ভারতকে সরবরাহ করছে। এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চীন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রতিরোধ গড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। সংগত কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির সত্ত্বেও রাশিয়ার কাছ থেকে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাওয়ার প্রক্রিয়া থেকে বিরত হয়নি ভারত। প্রতিরক্ষা সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণবেশ কিছু বিষয়ে দশকের পর দশক ধরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের যে কূটনৈতিক সহযোগিতা, তার ইতিহাসকে হুট করে উপেক্ষা করা নয়াদিল্লির পক্ষে কঠিন।ভারতকে কাশ্মীরের মতো দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে সাহায্য করতে মস্কো অতীতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে তার 'বিখ্যাত' কৌশল অনুসরণ করছে। সংকট সমাধানের জন্য সংলাপের বার্তা প্রচার করছে ভারত। থিঙ্কট্যাংক উইলসন সেন্টারের উপপরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটে ভারতের অবস্থান বিস্ময়কর নয়। নয়াদিল্লির এই অবস্থান তার অতীত কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ইউক্রেনে যা ঘটছে, তাতে নয়াদিল্লি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না। কিন্তু তাই বলে নয়াদিল্লির অবস্থান বদল করারও কোনো সম্ভাবনা নেই। উইলসন সেন্টারের উপপরিচালক বলেন, প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনৈতিক প্রয়োজনে এই মুহূর্তে ভারত তার অবস্থান বদল করতে পারবে না। তবে ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নয়াদিল্লি কিছু কঠোর শব্দ উচ্চারণ করেছে। নয়াদিল্লি যে ইউক্রেন সংকটে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না, তা বোঝাতেই তারা এমনটা করেছে। ইউক্রেন থেকে ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিককে, যাঁদের বেশির ভাগই ছাত্র, সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও নয়াদিল্লির জন্য একটি কঠিন কাজ। ভারতের সাবেক কূটনীতিক অনিল ত্রিগুনায়াত একসময় রাশিয়া ও লিবিয়ায় কাজ করেছেন। ২০১১ সালে লিবিয়ায় সংঘাত শুরু হয় ভারতীয় নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজের তদারকি করেন অনিল ত্রিগুনায়াত। তিনি বলেন, ইউক্রেন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার অভিযান সফল করার জন্য এই সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার প্রয়োজন। অনিল ত্রিগুনায়াত বলেন, ভারত তার নাগরিকদের নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে ফেলে একটি পক্ষ নিতে পারে না। একই সঙ্গে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে এখানে ভারতের জন্য সব কটি চ্যানেল খোলা রাখা জরুরি। তা ছাড়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে একটি 'অনন্য' অবস্থানে রয়েছে। কারণ, ভারত এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে ওয়াশিংটন ও মস্কো উভয়েরই সুসম্পর্ক রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। ভারতের সাবেক কূটনীতিক অনিল ত্রিগুনায়াত বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রাখার ক্ষেত্রে ভারত ভালো করছে। অনিল ত্রিগুনায়াত বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে ভারত সরাসরি রাশিয়ার সমালোচনা করেনি। কিন্তু বিষয়টি এমনও নয় যে ভারত ইউক্রেনবাসীর ওপর নেমে আসা দুর্ভোগ-দুর্দশার ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। ভারত একটি ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারত আঞ্চলিক অখণ্ডতা সম্পর্কে জোরালো বক্তব্য রেখেছে। এর স্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো, ইউক্রেনের দুর্দশার কথা তুলে ধরা। কিন্তু ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা যদি রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ অব্যাহত রাখে, তাহলে মস্কোর সঙ্গে নয়াদিল্লির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এই মুহূর্তে ভারতের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে বলে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সব সময় যে এই দৃষ্টিভঙ্গি বহাল রাখবে, তার নিশ্চয়তা নেই। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেননি। তিনি বলেন, 'আমরা ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে পরামর্শ করতে যাচ্ছি। আমরা বিষয়টি পুরোপুরি সমাধান করিনি।' বিবিসি অনলাইন অবলম্বনে | 3 |
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় টেঁটা দিয়ে খুঁচিয়ে পাঁচ ফুট লম্বা একটি রাসেল'স ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ মারা হয়েছে। বুধবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের আব্দুল হাই খানের হাট এলাকার একটি ধানক্ষেতে সাপটি দেখেন স্থানীয়রা। ভয় পেয়ে টেঁটা দিয়ে খুঁচিয়ে সাপটিকে মেরে ফেলেন তারা। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের আমিন খার ডাঙ্গী এলাকায় একটি চন্দ্রবোড়া সাপ পিটিয়ে মারার পর মাটিতে পুঁতে রাখে স্থানীয়রা। ওই সাপটি আনুমানিক সাড়ে চার ফুট লম্বা ছিল। স্থানীয়রা জানান, চর হরিরামপুর ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের চর শালিপুর পশ্চিম গ্রামের শেখ মোশারফ (৪৩) নামে এক ব্যক্তি বুধবার সকালে তার ধানক্ষেতে গেলে ফোঁস ফোসঁ শব্দ শুনে ভয়ে চিৎকার দেন। তার চিৎকারে শুনে পাশে কাজ করতে থাকা অন্য কৃষকরা এগিয়ে এসে সাপটি মেরে আগুনে পুড়ে ফেলেন। ছবি দেখে সাপটির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ইব্রাহিম আল হায়দার। তিনি বলেন, "এটি বিষধর রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ। এই সাপটিকে আইইউসিএন বাংলাদেশ ২০০২ সালের নিরীক্ষায় বাংলাদেশে বিলুপ্ত বলে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে (কারো কারো মতে ২০০৯ সালে) পুনরায় রাজশাহীর চরাঞ্চলে দেখা যায়। সম্প্রতি এই সাপটি পদ্মা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী জেলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও লক্ষীপুরে দেখা গেছে। এই প্রজাতির সাপ নিউরোটক্সিক ও হিমোটক্সিক বিষ ধারণ করে। এই প্রজাতির সাপের দংশনের ফলে প্রাথমিক অবস্থায় দংশিত স্থান ফুলে যায়, ধীরে ধীরে স্নাযুতন্ত্র ও কিডনি বিকল হয়ে পরে। ফলশ্রুতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।" ইব্রাহিম আল হায়দার আরও বলেন, "তবে বর্তমানে বাংলাদেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অধিকাংশ জেলা সদর হাসপাতালে এই সাপের বিষের প্রতিষেধক পাওয়া যায়। তাই এই সাপের দংশনের পর দংশনের শিকার রোগীকে অতিদ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গেলে মৃত্যু ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।" চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, "২০১৬ সালের শেষের দিক থেকে চরভদ্রাসন এলাকায় চন্দ্রবোড়া সাপ দেখতে পাওয়া যায়। তিনি বলেন গত ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এ সাপের দংশনে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত এ সাপের দংশনে আট থেকে ১০জনের মৃত্যু হয়েছে।" তিনি বলেন, "বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার প্রতিষেধক থাকায় সাপের দংশনে মৃত্যুর হার কমে আসছে।" | 6 |
গওহর খান। বলিউডের প্রতিভাবান এই অভিনেত্রী তাঁর চমৎকার ভঙ্গিমা আর কাজের প্রতি অনুরাগ ও নিয়মানুবর্তিতার কারণে মন জয় করেছেন সবার। এর জন্য প্রচুর সময় ও শ্রম দিয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্র ও ছোট পর্দায় অভিনয় ছাড়াও তিনি বলিউড মিউজিক্যাল চলচ্চিত্র 'জানগুরা'তে একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। এ ছাড়া তিনি গানের প্রতিযোগিতামূলক রিয়েলিটি শো ইন্ডিয়ান র স্টার (২০১৪) ইয়ো ইয়ো হানি সিংয়ে উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন। তবে হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ডায়েট চার্টের ব্যাপারে বেশ সচেতন। তাঁর সুন্দর ত্বকের রহস্য হলো, তিনি প্রচুর পানি পান করেন। একই সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল খেয়ে থাকেন। এ ছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে তিনি সবুজ জুস ও অ্যালকালাইন-জাতীয় খাবার প্রচুর পরিমাণে খেয়ে থাকেন। তাঁর মতে, একজন অভিনয়শিল্পীর জীবনে নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সারা দিনের কর্মব্যস্ততার পরও তাঁদের দর্শকের মনোরঞ্জন করতে হয়। তাই সৌন্দর্য ধরে রাখা ও নিজেকে ফিট রাখা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে বয়স, ওজন, শরীরের রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী নিজের জন্য উপযুক্ত ডায়েট প্ল্যান নির্ধারণ করতে হবে। তিনি নিয়ম করে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রচুর পানি পান করে থাকেন, যা তাকে সারা দিন কর্মক্ষম এবং সুন্দর থাকতে সাহায্য করে। এরপর নাশতায় তিনি যথাসম্ভব স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকেন। নাশতায় তিনি ডিম, ব্ল্যাক টি ও মসলা-চা খেতে খুব ভালোবাসেন। তিনি নিজের ডায়েট চার্টকেও মাঝেমধ্যে ফাঁকি দিয়ে থাকেন। তবে শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজনে ওয়ার্কআউট কমবেশি করে ভারসাম্য বজায় রাখাটা খুব জরুরি, যা তিনি সব সময় করে থাকেন। ডাল ও সবজি তাঁর খুবই পছন্দের খাবার। দুপুরে তিনি হালকা ধরনের খাবার খেতে ভালোবাসেন। বিভিন্ন রকমের সবজি, বিশেষ করে সবুজ শাকসবজি খেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তা ছাড়া তিনি শস্যজাতীয় খাবার ও পনির খেতে খুব ভালোবাসেন। বিকেলে হালকা স্ন্যাক্স খেতে পছন্দ করেন। তিনি সাধারণত রাত আটটার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নেন। তবে এর ব্যতিক্রমও যে একেবারেই ঘটে না, তা নয়। অন্য সবার মতো তিনিও কখনো কখনো নিয়ম ভেঙে একটু দেরিতে রাতের খাবার খান, তবে খুব বাড়াবাড়ি রকমের অনিয়ম তিনি করেন না। দেরি হলেও সেটি সাড়ে ৯টা অতিক্রম করে না। রাতে খাবারের মেন্যুতে স্যুপ তার চাই-ই। সঙ্গে সেদ্ধ বা গ্রিল্ড কিছু থাকতে হবে। তিনি হার্ট-ফ্রেন্ডলি খাবার খেতে পছন্দ করেন। অল্প মসলায় রান্না খাবারে স্বাদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে অতিরিক্ত মেদও জমতে পারে না। তা ছাড়া তিনি খাবারে চিনি ও লবণ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। নিয়মমাফিক খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, ঘুম ও বিশ্রাম খুবই জরুরি। তাই তিনি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত ওয়ার্কআউট করতে ভোলেন না। এ ছাড়া তিনি নিয়মিত জিম এবং হাঁটার মাধ্যমে নিজেকে সতেজ ও সুন্দর রাখেন। | 4 |
কৃষি ও কৃষি প্রধান ৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের গুচ্ছ বা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত পরীক্ষার হল পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা সর্বনিম্ন ১ হাজার ৩০ নম্বর পেয়েছে তারাই এবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী, প্রতি আসনের বিপরীতে ১০ জন শিক্ষার্থী ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী প্রশ্নের (এমসিকিউ) উত্তর দেন।শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে ১০, প্রাণীবিজ্ঞানে ১৫, উদ্ভিদবিজ্ঞানে ১৫, পদার্থ বিজ্ঞানে ২০, রসায়নে ২০ এবং গণিতে ২০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে তাদের।বহুনির্বাচনী প্রশ্নের নম্বর ছাড়াও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ২০ নম্বর এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ২৫ নম্বর যোগ করে ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এমরান হোসেন আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। | 6 |
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিশিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। খবর বাসসের আতিকুল ইসলাম বলেন, 'কলকাতায় ডেঙ্গু নিয়ে যিনি কাজ করেছেন, তার নাম অনিক ঘোষ। আমি তাকে ফোন করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, আমাকে আমন্ত্রণপত্র পাঠান। আমি বুধবার রাত ১০ টায় আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছি। আগামী রোববার অনিক ঘোষ বাংলাদেশে আসবেন বলে কথা দিয়েছেন।' যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর মশক নিধন নতুন ওষুধ আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, 'ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমাদের সততার কমতি নেই। তবে, অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে। আমি মনে করি, ডেঙ্গু রোগের জন্য অবশ্যই ৩৬৫ দিনই গবেষণা করতে হবে। এটা সিজনাল না, যেকোনো সময় আসতে পারে। তাই এটি নিয়ে জাতীয়ভাবে একটি গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করা দরকার।' বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাচিপ সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সনাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, আফগানিস্তানে যদি সব পক্ষকে নিয়েই তালেবান সরকার গঠন করে, তবে আঙ্কারা তাদের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগদান শেষে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এই কথা জানান তিনি। এরদোগান বলেন, 'তালেবানের পদক্ষেপ বর্তমানে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে সকলকে নিয়ে সমন্বিত নেতৃত্ব এখনো গঠন করা হয়নি।' এর আগে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তালেবান সকলকে নিয়ে সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীণ সরকার গঠনে তালেবানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব থেকেই মন্ত্রিসভা প্রস্তুত করা হয়, যাদের বেশির ভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ পশতুন জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, 'এখন পর্যন্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনার কিছু বার্তা রয়েছে যে নেতৃত্বে সমন্বয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।' তিনি বলেন, 'আমরা এখনো তা দেখিনি। যদি এরকম কোনো পরিস্থিতি হয়, তবে আমরা একত্রে কি কাজ করতে পারি সেই বিষয়ে আলোচনার জন্য অগ্রসর হবো।' এর আগে বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত জিহাদ এরগিনাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরগিনাই এক টুইট বার্তায় বলেন, 'তুরস্ক আফগান জনগণকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং আমাদের ঐতিহাসিক বন্ধনের ওপর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।' তুরস্ক বর্তমানে কাতারের সাথে মিলে কাবুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় সহায়তা করছে। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড | 3 |
পূর্ব জেরুজালেমই ফিলিস্তিনের রাজধানী হবে বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ। রবিবার আম্মানে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এমন কথা বলেন। খবর রয়টার্স'র। গত জুলাই মাসে আম্মানে ইসরায়েলি দূতাবাসের প্রহরীরা দুই জর্ডানি নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ইসরায়েল দুঃখ প্রকাশ করার পর বাদশাহ আব্দুল্লাহ এমন বিবৃতি দিলেন। ওই ঘটনায় জর্ডান সরকারের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ ডলার দিয়েছে দেশটি। খুব দ্রুত সেখানে দূতাবাসের কার্যক্রম চালু করা হবে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েল।
বিডি প্রতিদিন/২২ জানুয়ারি ২০১৮/হিমেল | 3 |
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অস্ত্রোপচার কক্ষ তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অভাবে অস্ত্রোপচার সেবা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরা। স্বল্প মূল্যের সেবা বঞ্চিত হয়ে বাড়তি অর্থ খরচে তাঁদের এখন বেসরকারি হাসপাতালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।প্রসবজনিত জরুরি সেবা (ইওসি) টিমের সদস্য চিকিৎসা কর্মকর্তা (গাইনি) শামীমা নাসরিন বদলি হয়ে গত ১৬ জানুয়ারি অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে চিকিৎসকের অভাবে অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিদিন অসংখ্য গর্ভবতী নারী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব করানো সম্ভব হলেও জরুরি অস্ত্রোপচার (সিজার) করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে অনেক গরিব রোগী আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৪৪ জন গর্ভবতী নারী এখানে সন্তান জন্ম দেন। এর মধ্যে ১৭৯ জন স্বাভাবিক ও ১৬৫ জন অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসব করেন।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেবিকা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, 'গর্ভবতী নারীদের স্বাভাবিক প্রসব ও পরামর্শ সেবা চালু রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অভাবে কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। গরিব রোগীদের কান্না আমাদেরও কষ্ট দিচ্ছে।'উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অবেদনবিদ) মোবারক হোসেন বলেন, 'ইওসি টিমে একজন গাইনি চিকিৎসকের অভাবে আমাদের এখানে আপাতত কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। রোগীরা চোখের সামনে কান্না শুরু করলেও তাঁদের জন্য কিছু করতে না পারায় আমরাও কষ্টে রয়েছি।'উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, প্রসবজনিত জরুরি সেবা (ইওসি) বিভাগে একজন গাইনি চিকিৎসকের অভাবে অপারেশন (সিজার) করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন চিকিৎসকের পদায়নের জন্য আমরা সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আহমেদ কবির আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমি কয়েক দিন আগে এ জেলায় যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত হয়েছি। দ্রুত একজন চিকিৎসকে পদায়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'আজকের পত্রিকায় গত ২৬ জানুয়ারি 'প্রসূতি সেবাপ্রার্থীরা এবার সরকারি হাসপাতালমুখী' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভালো সেবা পেয়ে সরকারি এই হাসপাতালে সেবা নিতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই হাসপাতালে এই সংকট দেখা দিল। | 6 |
প্রবৃদ্ধির হার বাড়া মানেই জনগণের মঙ্গল নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. কামাল বলেন, 'উন্নয়নের ব্যাপারে অনেক বক্তৃতা শুনতে হয়। আমি এ ব্যাপারে নেতিবাচক কোনো কথা বলতে চাই না, বলবোও না। কিন্তু আমিও অর্থনীতির ছাত্র ছিলাম। প্রবৃদ্ধির হার বাড়া মানেই জনগণের উন্নয়নও না, মঙ্গলও না।' তিনি বলেন, 'গণতন্ত্র যদি না থাকে, মানবাধিকার যদি না থাকে, মানুষ যদি মালিকের ভূমিকার থাকতে না পারে তাহলে এটাকে উন্নয়নও বলা যায় না। তারা একটা কথা বলে না- উন্নয়ন চান না গণতন্ত্র চান? এটা ছিল ৪০ বছর আগের পুরনো কথা। উন্নয়ন আর গণতন্ত্র একটা আরেকটার বিপরীত না। গণতন্ত্রেই উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।' ড. কামাল হোসেন বলেন, 'আজকে এই নির্বাচন হলো তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে, যারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আজকে আমাদের ঐক্যের ভিত হলো স্বাধীনতার শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করা, সংবিধানে যে কথা লেখা আছে। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তরিত করার পথ সংবিধানে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই নির্বাচন হলো সেই পথের এক নম্বর দিক।' তিনি বলেন, 'এই নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা ৩০০ লোক নির্বাচিত করেন। কারণ ১৬ কোটি ১৭ কোটি লোক এক জায়গায় হয়ে তো শাসন করতে পারে না। সে জন্য প্রতিনিধি আপনাদেরকে নির্বাচন করতে হয়। সেটাই হলো এই নির্বাচনের গুরুত্ব এবং আপনারা এটা উপলব্ধি করছেন বলেই আমি দেখি কীভাবে আপনারা আগ্রহের সঙ্গে ছুটে আসেন।' জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি জনগণ ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে দাবি করে ড. কামাল হোসেন বলেন, 'আমার কাছে তো সারাদেশ থেকে অসংখ্য ফোন আসে, বলে- কামাল ভাই, অসাধারণ সাড়া! বিশ্বাস করেন অসাধারণ সাড়া! প্রথম কথাই এটা বলে। আমি বলি আলহামদুলিল্লাহ। তবে এই যে দু'চারজন, পাঁচজনকে অ্যারেস্ট করছে, এটা শুনতে এতো খারাপ লাগে, এতো ঘৃণা লাগে...যেখানে মানুষ এতো উৎসাহিত।' তিনি বলেন, 'মানুষ তো চাচ্ছে ভোট দিয়ে স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে। তারা তো পকেট ভারি করার জন্য খুশি হচ্ছে না। খুশি হচ্ছে এই জন্য যে, আপনারা-আমরা সবাই দেশের মালিকানা পেলে মাথা উঁচু করে হাঁটতে পারবো।' জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেরমুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগগীর এ সময় উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
শ্রীনগরে এ বছর সরিষা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা। নানা প্রতিকূলতার কারণে গেল বছরের তুলনায় উপজেলায় এবছর সরিষার আবাদের জমির পরিমাণ অনেকাংশে কমেছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, বিভিন্ন খাল ভরাট ও দখলের কারণে পানি নিস্কাশনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে বিভিন্ন কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও অসময় বৃষ্টির কারণে জমিতে সরিষার বীজ বপনে অপেক্ষা করতে হয়েছে কৃষকের। এতে করে কিছু কিছু টান জমিতে সরিষার লক্ষ্য করা গেলেও, প্রায় জমিতেই সরিষার বীজ মাত্র ফুঁটে চারাগাছে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার চাষ কম বেশী হলেও বীরতারা এলাকায় সরিষার চাষ বেশি হয়। এখানেও এবছর বিভিন্ন কারণে অনেক কৃষক সরিষা চাষে আগ্রহ হাড়াচ্ছেন। সূত্র মতে জানা যায়, শ্রীনগরে গেল বছর ৩৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার সরিষার চাষ করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, এ বছর এখানে এই চাষাবাদে জমির পরিমাণ একেবারেই কম। সরেজমিনে দেখা গেছে, বীরতারা ইউনিয়নের ছয়গাঁও ও সাতগাঁও বিলে বেশ কিছু জমিতে সরিষার চাষ করা হচ্ছে। লক্ষ্য করা গেছে, বেশীর ভাগ জমিতে সরিষার বীজ কেবলমাত্র ফুঁটতে শুরু করেছে। যা কিনা অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন! এসময় সাতগাঁও গ্রামের প্রভাত মন্ডলের পুত্র কৃষক গণেশ মন্ডল (৫০), গোদাই বাড়ৈর পুত্র নরেতন বাড়ৈ (৫১), হাকিম আলীর পুত্র মো. বাবুল, ছয়গাঁও গ্রামের সার্থক আলীর পুত্র মো. হালিমসহ অনেকেই জানান, এবছর সরিষা চাষে বিলম্ব হয়েছে। এখনও অনেক জমিতে বীজ মাত্র ফুটে উঠেছে। তারা বলেন, এই বিলের অনেক জমির পানি নিস্কাশন হচ্ছে না। এতে করে সরিষার চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। খালগুলের বিভিন্ন স্থানে ভরাট ও দখলের কারণে পানি নিস্কাশনে বাঁধাগ্রস্ত হয়ে পরেছে। অপরদিকে অসময়ে বৃষ্টিতো আছেই। এই অঞ্চলে গেল বছর আলু চাষ করে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় এখানকার অনেকে সরিষার জমিতে এবছর আলু চাষ করেছে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, প্রতি বিঘা (৩৪ শতাংশ) জমিতে সরিষা চাষাবাদে ইউরিয়া, পটাস ও টিএসপি সারের প্রয়োজন পরে ১২৫ থেকে ১৩০ কেজি। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে সরিষার চাষাবাদে সব খরচ বাদে এখানকার কৃষকের শূন্য হাতে ঘরে ফিরতে হবে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য বছর সরিষার জমিতে মৌ-চাষীরা মধু সংগ্রহ করতে আসলেও, এ বছর সরিষার জমির পরিমাণ অনেকাংশে কম হওয়ায় এখানে কোনও মধু চাষীকে আসতে দেখা যায়নি। এ ব্যাপরে শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার শান্তনা রানী বলেন, জমির পানি নিস্কাশন না হওয়ার পাশাপাশি অসময়ে বৃষ্টির কারণে সরিষা চাষাবাদে কৃষকদের বিলম্ব হচ্ছে। উপজেলায় মোট ২৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রর্দশনী রয়েছে ৫০টি। | 6 |
শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠিত হচ্ছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিতরণ না হওয়া লভ্যাংশ নিয়ে এ তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এ কারণে তহবিলটির আকার কমবেশি হতে পারে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আজ সোমবারের সভায় তহবিল গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সভা শেষে বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিএসইসি জানিয়েছে, তহবিলটির নাম হবে 'পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিল'। শুরুতে এ তহবিলে যুক্ত হবে শেয়ারবাজারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণ না হওয়া লভ্যাংশ। আইন করে এসব লভ্যাংশ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তহবিলে নিয়ে আসা হবে। বর্তমানে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সমমূল্যের বিতরণ না হওয়া লভ্যাংশ রয়েছে। যার মধ্যে নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার। আর বোনাস লভ্যাংশের বাজার মূল্য প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এই তহবিল গঠনে নতুন একটি বিধি করেছে বিএসইসি। সেখানে বলা হয়েছে, এখন থেকে শেয়ারবাজারের কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে বিনিয়োগকারী বা গ্রাহকের অর্থ তিন বছরের বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত অবস্থায় পড়ে থাকলে তা নতুন এ তহবিলে স্থানান্তর করতে হবে। তহবিলটির অর্থ শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। তবে কখনো যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে কোনো বিনিয়োগকারী তার লভ্যাংশ দাবি করেন, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে তা তহবিল থেকে নিষ্পত্তি করা হবে। | 0 |
মা-বাবার দেওয়া নাম ছায়েদ বিন রাব্বি শান্ত। তবে ট্রান্সজেন্ডার (রূপান্তরিত) নারী হিসেবে ছায়েদ নিজের নাম রেখেছেন সাদমুআ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে দেশ-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। শুক্রবার যৌন নির্যাতন, হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনি রাজধানীর ভাটারা থানায় এক নারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সাদমুআ বলেন, ১০ জানুয়ারি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক রেস্তোরাঁয় বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন তিনি। তখন মুঠোফোনে এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করেন। তাঁর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হয়েছিল। ওই ব্যক্তি দেখা করতে চাইলে তাঁকে রেস্তোরাঁয় আসতে বলেন। পরে রেস্তোরাঁর বাইরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। নিজের বাসা কাছে জানিয়ে ওই ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে 'সারপ্রাইজ' দেওয়ার জন্য তাঁকে বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেন। তারপর তাঁর বাসায় যান তিনি। সাদমুআ অভিযোগ করে বলেন, 'বাসায় গিয়ে রুমে বসার পরই একজন নারী ও একজন পুরুষ এসে মুঠোফোনে ভিডিও করা শুরু করেন। বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। তাঁরা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকেন। আমার জেন্ডার নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। আমি ওই লোকের বাসায় অনৈতিক কাজ করতে গিয়েছি, তা বলতে বলেন। তাঁরা বলতে থাকেন, কথা না শুনলে আমাকে মেরে ফেলবেন। তাঁরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক বলে দাবি করেন। তাঁদের সঙ্গে ওয়াকিটকি, ওয়্যারলেস ছিল।' মুঠোফোনসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে তাঁকে বাসার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং ওই দুজন পুরুষ তাঁকে থানায় নিয়ে যাচ্ছে বলে গাড়িতে তোলেন বলে জানান সাদমুআ। তিনি বলেন, 'তারপর রামপুরার দিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে চলে যান তাঁরা। এরপর এক ট্রাফিক পুলিশের পরামর্শে ভাটারা থানায় যাই ১৩ জানুয়ারি। সেখানে বিভিন্ন তথ্য চায়। তারপর বেশকিছু তথ্য সংগ্রহ করে ১৬ জানুয়ারি থানায় অভিযোগ করি। সেই অভিযোগের তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে এবং থানায় মামলা না নিলে র্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তায় ২১ জানুয়ারি ভাটারা থানায় মামলা করি।' মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাদমুআর কাছ থেকে আইফোন (১২ প্রো ম্যাক্স), হোয়াইট গোল্ডের চেইন, ডেবিট কার্ড ও এর পাসওয়ার্ড, বিকাশ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, ব্যাগে থাকা টাকাসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার সামগ্রী কেড়ে নিয়েছেন ওই চক্রের সদস্যরা। এ বিষয়ে সাদমুআ বলেন, 'আমার একটি পরিচিতি আছে। তারপরও তাঁরা আমার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করার সাহস পেয়েছেন। তাহলে অন্য ট্রান্সজেন্ডার নারীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে পারে, তা বুঝতে পারছি। ওই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, যেকোনোভাবে হোক আমাকে বেঁচে ফিরতে হবে। ঘটনার পর থেকে আমি ট্রমার মধ্যে আছি। আমি চাই অপরাধীরা যথাযথ শাস্তি পাক।' ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসান মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, 'মামলার তদন্ত চলছে। এখনই এ ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।'ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স করা আরেক ট্রান্সজেন্ডার নারী হোচিমিন ইসলাম ঘটনার পর থেকেই সাদমুআর পাশে ছিলেন। মামলা করার ক্ষেত্রেও সহায়তা করেন তিনি। হোচিমিন প্রথম আলোকে বলেন, তিনিসহ ট্রান্সজেন্ডার নারীদের প্রায় সময়ই এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। বিভিন্ন চক্র তাঁদের নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে। এবার শিকার হলেন সাদমুআ। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। সাদমুআ দেশের প্রথম পুরুষ বিউটি ভ্লগার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত। মেকআপ টিউটেরিয়ালসহ বিউটি কেয়ারের বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্ট বানান তিনি। ফেসবুক, ইউটিউবে তাঁর লাখো ফলোয়ার রয়েছেন। | 6 |
উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতি, শহীদ-জায়া বেগম মুশতারী শফী গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ৮৩ বছর বয়সী বেগম মুশতারী শফী দীর্ঘ দিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন। রক্তে হিমগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট আরও বেড়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত বুধবার ভোরে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে আছেন। একাত্তরের ঘাতক-দালালবিরোধী আন্দোলন, চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক-নাগরিক আন্দোলনে সামনের সারির সংগঠক এবং মুক্তিযুদ্ধে স্বামী-ভাই হারানো বেগম মুশতারী শফীর সুস্থতার জন্য তার পরিবার এবং উদীচী চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে সবার কাছে শুভকামনা প্রত্যাশা করা হয়েছে। | 6 |
অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি প্রধান অতিথি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) বিশেষ অতিথি ছিলেন। সাংসদ ছানোয়ার হোসেন, আতাউর রহমান খান ও তানভীর হাসান ছোট মনিরসহ যুবলীগের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ড. রাজ্জাক বলেন, 'ছাত্ররাই ছাত্রলীগ করবে। অছাত্র, বেশি বয়সী ও বিবাহিতদের ছাত্রলীগে স্থান দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে যে নীতিমালা রয়েছে তা কঠোরভাবে মানা হবে।' তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি সুশৃঙ্খল, সুদক্ষ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এই সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চেতনার ও দর্শনের সংগঠন। ছাত্রলীগের কর্মীদের এ বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো কাজে জড়িত হওয়া যাবে না বলেও মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
উত্তরবঙ্গ গামি যানবাহন চলাচলে বর্তমানে ভোগান্তির মূল কারণ সিরাজগঞ্জের নলকা সেতু। সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আজ রাত থেকে এখনও সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ভোগান্তি চরমে।হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার এবং হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে বনপাড়া মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার, বগুড়া মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার ও পাবনা মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাটিকুমরুল গোলচত্বর দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের আংশিক প্রায় ২২ জেলার যানবাহন চলাচল করে থাকে।এ সময় মাইক্রোবাসের ড্রাইভার শিহাব হোসেন জানান, ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে যানজটে আটকে যাই। রাত ২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত এখনো আটকে আছি। এ যানজট কখন শেষ হবে এটার কোন সিয়র নেই। যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার টি আই রফিকুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরশনে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা-পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যায় বেলা ১১টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে। | 6 |
সুশান্ত সিং রাজপুতের হয়ে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিতেন রিয়া। অভিনতাকে না জানিয়ে তার সমস্ত আর্থিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন রিয়া চক্রবর্তী। এমন তথ্য দিয়েছেন সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার শ্রুতি মোদী। গত সোমবার টানা ৭-৮ ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় শ্রুতি মোদীকে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সামনে শ্রুতি মোদী দাবি করেন, কোনও বেআইনি কার্যকলাপের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। প্রসঙ্গত, সুশান্তের খবর জানতে চেয়ে রিয়া এবং শ্রুতিকে একাধিকবার মেসেজ করলেও, অভিনেতার বাবার কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি তারা। সংবাদমাধ্যমের সামনে কে কে সিংয়ের সেই মেসেজ উঠে আসতেই ফের একদফা শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে রিয়া কোনও পাল্টা দাবি করেননি। এদিকে সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা যেমন রিয়াদের পাশাপাশি শ্রুতি মোদীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন পাটনার রাজীব নগর থানায়, তেমনি সিবিআইয়ের পক্ষেও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় এফআইআর। সূত্র: জি নিউজ বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 2 |
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, ২৬ ও ২৭ নভেম্বর সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পরই মধ্যপ্রাচ্যে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শনিবার এক দিনের সফরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এসে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ কোর্স ও বঙ্গবন্ধু কর্ণারের উদ্বোধন করেন। পরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চত্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী। এতে সভাপতিত্ব করেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী নাবিলা নুঝাত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের সচিব সেলিম রেজা, অতিরিক্ত সচিব মোশাররফ হোসেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব শামসুল রেজা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক। মতবিনিময়ে মন্ত্রী আরো বলেন, নারীকর্মীরা যাতে বিদেশে গিয়ে নিরাপদে ও সম্মান নিয়ে কাজ করতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা করবো। ব্যর্থ হলে অন্য ব্যবস্থা নেব। নির্যাতিতা সুমির ব্যাপারে তিনি বলেন, সুমির নির্যাতনের বিষয়টি মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী অনুধাবন করেছেন বলেই দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তার নির্যাতনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্য-উপাত্তসহ লিখিত অভিযোগ পেলে সুমির প্রসঙ্গেও সৌদি আরব কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্য নকশিকাঁথা ও সোনামসজিদ আকানো একটি প্লেট মন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হয়। এদিন সোনামসজিদ স্থলবন্দরসহ শিবগঞ্জের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। | 6 |
ভারত শাসিত কাশ্মির অঞ্চলের শ্রীনগরে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাশ্মিরে ভারতীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যাওয়া একটি বাসের ওপর সন্দেহভাজন স্বাধীনতাকামীরা ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় তিন পুলিশ সদস্য নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। ভারতীয় পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোমবার শ্রীনগর শহরে একটি পুলিশ ফাঁড়ির কাছে বাসের ওপর তিন সন্দেহভাজন স্বাধীনতাকামী নির্বিচার গুলি চালায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং হামলার বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। এখন গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং হামলাকারীদের সন্ধানে তৎপরতা চলছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেন, ওই পুলিশ সদস্যরা দিনের কাজ শেষ করে যখন তাদের ক্যাম্পে ফিরছিল তখন তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা হামলা চালালে রাতের অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে তারা জানান। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারতীয় পুলিশের সহকারী সাব ইন্সপেক্টর গুলাম হাসান ও কনস্টেবল শফিক আলি সোমবার রাতে মারা গেছেন এবং গুরুতর আহত তৃতীয় কনস্টেবল রামিজ আহমদ বাবা মঙ্গলবার সকালে মারা যান। ভারত শাসিত কাশ্মিরে দেশটির পুলিশ বাহিনীর ইন্সপেক্টর জেনারেল ভিজয় কুমার এক বিবৃতিতে বলেছেন, জঈশ-ই-মোহাম্মদ গোষ্ঠীর একটি শাখা দল কাশ্মির টাইগারস এ হামলা চালিয়েছে বলে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর আছে। এ জঈশ-ই-মোহাম্মদই ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে ভারত শাসিত কাশ্মিরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছিল। ওই হামলায় অন্তত ৪৬ ভারতীয় সৈন্য মারা যায়। এটা ছিল ওই এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী এক হামলা। ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মির পুরোপুরিভাবে তাদের অংশ বলে দাবি করে থাকে, যদিও কাশ্মিরের বিভিন্ন অংশের প্রশাসনের দায়িত্ব পরমাণু শক্তিধর দু'প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তনের হাতে রয়েছে। কাশ্মির উপত্যকায় সন্দেহভাজন স্বাধীনতাকামী আন্দোলনে মদদ যোগানোর জন্য ভারত দীর্ঘ দিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আভিযোগ করে আসছে। এমন অভিযোগকে পাকিস্তান বরাবরই নাকচ করেছে। ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক দু'মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি টুইট বার্তায় এ ঘটনার জন্য তাদের শোক প্রকাশ করেছেন। মেহবুবা মুফতি আরো বলেছেন, এ ঘটনা থেকে এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে নরেন্দ্র মোদি সরকার 'কাশ্মিরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে যে আশ্বাস দিচ্ছে তা মিথ্যা।' ভারত-শাসিত কাশ্মিরে ১৯৮০র দশকের শেষ দিক থেকে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সৃষ্টি হয়। কাশ্মিরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ভারত সরকারের সাথে কাশ্মির অঞ্চলের সম্পর্কও একটা টানাপোড়েনে আছে। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুসারে কাশ্মিরকে যে বিশেষ স্বায়ত্বশাসিত এলাকার মর্যাদা দেয়া হয়েছিল, ২০১৯ সালে মোদি সরকার ওই মর্যাদা বাতিল করে দেয়ার পর থেকে এ সম্পর্ক এখন তলানিতে আছে। সূত্র : বিবিসি | 3 |
নবগঠিত নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের ভোটাধিকার হরণের নতুন কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। শনিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ময়মনসিংহের পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা. এ কে এম ওয়ালি উল্লাহর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. গোলাম হাফিজ কেনেডি, ময়মনসিংহ মহানগর ড্যাবের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা.আনোয়ারুল হক, জিয়া পরিষদের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. নুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক এড. মঞ্জুরুল হক বাচ্চু, এড. আনোয়ারুল আজিজ টুটুল, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, জিয়া পরিষদ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ড. শামসুল আলম ভূঁইয়া, জেলা আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এড. মাসুদুল আলম খান তান্না, ড্যাব ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সদস্য সচিব ডা. মো. সায়েম মনোয়ার, ডা. সাইফুল ইসলাম, ডা. অনিরুদ্ধ বসু, ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আইয়ুব আলী, আমান উল্লাহ জাহাঙ্গীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ময়মনসিংহ মহানগর ও জেলায় অনুষ্ঠিতব্য বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে দলটি। আগামী ২৮ ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিতব্য বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও জেলায় ২ মার্চ বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। শারীরিক জটিলতা যেমন ছিল তেমনই আছে। শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাসহ কিডনি ও ডায়াবেটিসের সমস্যার এখনও কোনও উন্নতি হয়নি। এ অবস্থায় করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাঁকে।গত ২৭ এপ্রিল থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। ৩ মে তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা সব সময় তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছেন। বুধবার বিকালেও তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।খালেদার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) এখনও ঝুঁকির মধ্যেই আছেন। তাঁর সব রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাঁর ডায়াবেটিস এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইনসুলিন দিয়ে ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। হৃদযন্ত্রের অবস্থাও ভালো নয়। পাশাপাশি প্রোটিনের ঘাটতি রয়েছে। কিডনির জটিলতাও কমছে না। হাঁটু, কব্জি, কনুইয়ের ব্যথাও সারছে না পুরোপুরি।এদিকে খালেদা জিয়ার ফুসফুসে পানি জমা আগের চেয়ে একটু নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত এক চিকিৎসক। তিনি জানান, ফুসফুসের পানি বের করার জন্য বুকের ডাম ও বাম পাশে দুটি পাইপ বসানো হয়েছিলো। পানি জমে যাওয়াটা আগের চেয়ে নিয়ন্ত্রণে আসায় একটি পাইপ খুলে নেওয়া হয়েছে। তবে উন্নতি হচ্ছে কী-না, সেটা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। | 9 |
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, 'হাওরের ফসল রক্ষায় সহায়ক বাঁধ নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। আমরা আবারও মৌসুমি বাঁধ নির্মাণ করব। অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢল মোকাবিলায় আগামীতে নদ-নদী, খাল-বিল খনন করা হবে। এখন থেকে হাওরের মধ্যে আর কোনো উঁচু সড়ক নির্মাণ করা হবে না, যা হাওর এলাকায় পানি চলাচলে বাধা দেয়। এখন থেকে হাওরে শুধু উড়াল সেতু হবে। ডোবা জায়গায় আর কোনো রাস্তা করা হবে না।'আজ সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত ত্রাণ শুকনো খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গ্রামকে শহরে রূপান্তর করতে আমরা কাজ করছি। শহরের সকল নাগরিক সুবিধা এখন গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হচ্ছে।'পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, 'আমরা আমাদের জীবদ্দশায় সুন্দর বাংলাদেশের সূচনা দেখে যাচ্ছি। বাংলাদেশের জয়যাত্রা এখন আর কেউ থামাতে পারবে না। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাবে আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। যা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।'এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম। এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহাঙ্গীর হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিক আহমদ, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকমল হোসেন প্রমুখ। | 6 |
খুলনার কয়রা উপজেলায় সরকারি মহিলা কলেজের এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে কলেজে পাঠদান না করিয়ে ১০ বছরে ধরে বেতন উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এলাকায় বিভিন্ন সংসদ সদস্যের সহকারী হিসেবে পরিচিত।কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোলের প্রভাষক মো. আক্তারুজ্জামান কলেজে অনুপস্থিত আছেন বছরের পর বছর। কলেজের পরিচালনা কমিটির যখন যিনি সভাপতি হন, তাঁকে ও অধ্যক্ষকে হাত করে একদিন এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের সই করেন এবং বেতন উত্তোলন করেন।কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মো. আক্তারুজ্জামান ২০০১ সালের ১২ নভেম্বর কলেজে যোগদান করেন। ২০১১ সালের ১ নভেম্বর বেতন চালু হয় এবং ৩০ মার্চ ২০১৬ সালে জাতীয়করণ হয়। তিনিসহ বর্তমান বিদ্যালয়ে ৩৩ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বর্তমানে ওই কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৭৮।গত রোববার বেলা ১১টার দিকে সরকারি মহিলা কলেজে গিয়ে কথা হয় বিভিন্ন শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। এ সময় একাদশ শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রী বলে, আমাদের কলেজে মো. আক্তারুজ্জামান নামের এক শিক্ষকের কথা শুনেছি। কিন্তু তিনি কোনো দিন আমাদের ক্লাস নেননি, তাঁকে চিনিও না।' এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী বলে, ওই নামে কোনো শিক্ষককে তারা চেনে না এবং তাদের ক্লাসও নেন না। এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, 'আমরা আর কী বলব, অধ্যক্ষ স্যার ভালো জানেন।'নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শুরুর দিকে ক্লাস নিলেও ২০০৯ সালের পর থেকে মো. আক্তারুজ্জামান আর কোনো ক্লাস নেন না। তাঁর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এমপির সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় যখন যিনি কলেজের সভাপতি হন, তখন তাঁকে ও প্রিন্সিপাল স্যারকে হাত করে একদিন এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের সই করেন এবং সরকারি বেতন উত্তোলন করেন।প্রভাষক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, 'একেবারেই ক্লাস করাই না, এমন নয়। মাঝেমধ্যে করাই। কলেজটি সরকারিকরণে আমি দীর্ঘ সময় ঢাকায় থেকেছি। এ ছাড়া কয়রার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প পাস করার জন্য কাজ করেছি। এ কারণে ক্লাস নিতে পারিনি। এটা আমার ভুল হয়েছে।'এ ব্যাপারে কলেজের অফিসার-ইন-চার্জ আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রভাষক আক্তারুজ্জামান 'মাঝেমধ্যে আসেন। কলেজটি সরকারিকরণের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আছে।' তাই বলে কলেজে না এসে বেতন পাওয়ার কোনো বিধান আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তা অবশ্য নেই। তাহলে ওই শিক্ষক কীভাবে বেতন পান এমন প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি রাজি হননি।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা বলেন, 'আমি এখন অসুস্থ। সুস্থ না হয়ে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইছি না।'খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, 'আক্তারুজ্জামান আমার অফিশিয়াল কোনো সহকারী না। আমি যত দূর জানি, সে মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন কাজ করে দেয়। আমার তাঁর সঙ্গে পরিচয় রয়েছে। তবে সে আমার এপিএস না।'এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর শেখ হারুন অর রশীদ বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। | 1 |
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদারের দাফন কুমিল্লার লাকসামে সম্পন্ন হয়েছে। গত বুধবার মাগরিবের নামাজে পর উপজেলার শানিচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় ও শেষ জানাজা হয়। পরে বিদ্যালয়সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।আবদুল বাসেত মজুমদারের জানাজায় লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. ইউনুছ ভূঁইয়া, লালমাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম হিরাসহ দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন। এর আগে বিকেল সাড়ে চারটায় হরিশ্চর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগে সভাপতি ও সাংসদ মো. বাহাউদ্দিন বাহার তাঁর মরদেহ গ্রহণ করেন।গত বুধবার সকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল বাসেত মজুমদার ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মেরুদণ্ডের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বনানী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে, দ্বিতীয় জানাজা হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে।আবদুল বাসেত মজুমদারের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার লাকসামে। ১৯৬৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আব্দুল বাসেত মজুমদার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।আবদুল বাসেত মজুমদার দুস্থ আইনজীবীদের জন্য নিজের নামে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেন। দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতিতে এ ফান্ড থেকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। দীর্ঘ পেশাজীবনে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনা মূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন তিনি। এ কারণে তিনি 'গরিবের আইনজীবী' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। | 6 |
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করে নির্বাচনের ফল বাতিলের জন্য মামলা করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্যের আদালতে এ মামলা করেন তিনি। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসসহ আট জনকে। ইশরাকের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারির সিটি নির্বাচনে মানুষ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি। নির্বাচনে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। আমরা এ নির্বাচন বাতিল চেয়ে নতুন নির্বাচনের জন্য মামলা করেছি। এর আগে সোমবার (২ মার্চ) ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের ফল বাতিল চেয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামালা করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। প্রসঙ্গত, গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচনে মেয়র পদে জয়লাভ করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। | 6 |
দুই দশক ধরে কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিয়মিত মুখ ঐশ্বরিয়া রাই। মূলত আন্তর্জাতিক প্রসাধনী পণ্যের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেই কানে হাজির হন তিনি। কানে অংশ নেওয়া তারকাদের মধ্যে বরাবরই আলোচনায় থাকেন তিনি। তার ফ্যাশনের প্রশংসাও হয় প্রচুর, তবে মাঝে মাঝে ট্রলও হয়। মা হওয়ার পর মুটিয়ে যাওয়ার পরও ট্রলের শিকার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি কখনই এসবে পাত্তা দেননি। এ বছর ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবেও সমহিমায় হাজির সাবেক এ বিশ্বসুন্দরী। এরইমধ্যে বিভিন্ন লুকে কানের লালগালিচায় দেখা গেছে তাকে। তার ফ্যাশনও নজর কেড়েছে সবার। কালো রঙের গাউনে ফুলের নকশা নজর কেড়েছে ফ্যাশনপ্রেমীদের এবার স্বামী অভিষেক বচ্চন ও মেয়ে আরাধ্যাকে নিয়ে কানে পাড়ি জমিয়েছেন ঐশ্বরিয়া রাই।। কানে প্রথম দিন ডলসে ও গাবানার নজরকাড়া কালো গাউন পরেছিলেন তিনি। গৌরব গুপ্তার ডিজাইন করা গোলাপি পোশাক পরেও নজর কেড়েছেন তিনি। এ বছর ঐশ্বরিয়া ছাড়াও কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। তিনি এবার কানের অন্যতম বিচারক। এছাড়াও ভারত থেকে কানে অংশ নিয়েছেন হিনা খান, পূজা হেগড়ে, আর মাধবন, এ আর রহমান, হেলি শাহ, তামান্না ভাটিয়া। ২০০২ সালে দেবদাস ছবিটি নিয়ে শাহরুখ খান ও সঞ্জয় লীলা বানশালির সঙ্গে প্রথম কান চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া
প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে কানে বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন ঐশ্বরিয়া রাই সূত্র: এনডিটিভি বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়ার অভিযোগ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দার পাশাপাশি গ্রেফতার মাওলানা জহিরুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও গণমানুষের নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামকে চট্টগ্রামের কোতওয়ালী থানার টেরিবাজার এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। মহিমান্বিত এ রমজান মাসে তারাবির আগ মুহূর্তে একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে বিনা ওয়ারেন্টে ডিবি পলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর থেকে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। খোঁজ না পেয়ে তার পরিবার খুবই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। বিবৃতিতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছিল না। কী কারণে তাকে উঠিয়ে নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। পবিত্র রমজান মাসে যখন মানুষের সাথে কোমল আচরণ করার কথা, তখন পুলিশ নিরীহ মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। আমি পুলিশের এই অন্যায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সরকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জুলুম-নিপীড়নের পরিণতি কখনো শুভ হয় না। ভিন্নমতের মানুষকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ওপর জুলুম-নিপীড়ন চালিয়ে সরকার বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামসহ সারাদেশে গ্রেফতার সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবিও জানানো হয় জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের বিবৃতিতে। বিজ্ঞপ্তি | 9 |
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত যাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, তাঁদের একজন চৌধুরী মঈনুদ্দীন। পলাতক থাকায় তাঁর দণ্ড কার্যকর হতে পারেনি। যেমন পারেনি আশরাফুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুদণ্ডও। স্বাধীনতার পরপরই চৌধুরী মঈনুদ্দীন যুক্তরাজ্যে এবং আশরাফুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচার হয়। অন্যদিকে, আবুল কালাম আজাদ বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হতেই দেশ ত্যাগ করেন। পরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চৌধুরী মঈনুদ্দীনের বিষয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার কোনো সাড়া দেয়নি। সেই দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলের বিরুদ্ধে ৬০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ, কেন তাঁকে যুদ্ধাপরাধী বলা হলো। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি তাঁর একটি টুইটে তাঁর মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন তুলে ধরেন। তাতে বলা হয়েছে, চৌধুরী মঈনুদ্দীন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং বাংলাদেশের আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। প্রীতি প্যাটেল আরও বলেছেন, যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর বিদেশি কোনো অপরাধী এক বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তাঁকে ফেরত দেওয়া হবে। মঈনুদ্দীন বর্তমানে ব্রিটেনের নাগরিক। তিনি একাত্তরে যখন আলবদর কমান্ডার হিসেবে অপরাধ করেছেন, তখন নাকি তিনি বিদেশেই ছিলেন। তবে মঈনুদ্দীন তাঁর বিবৃতি ও ব্রিটেনের বিভিন্ন পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে একটি কথা স্বীকার করেছেন যে একাত্তরে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তিনি এখন দাবি করছেন, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতিতে তাঁর মানহানি ঘটেছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতির বহু আগে প্রমাণিত যে তিনিই সহযোগীদের নিয়ে বিজয়ের প্রাক্-মুহূর্তে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছেন, যাঁর একজন ছিলেন পূর্বদেশ পত্রিকার তাঁরাই সহকর্মী আ ন ম গোলাম মুস্তাফা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহ্রিয়ার আলম মঈনুদ্দীনের এই বক্তব্যকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাঁকেসহ বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত সব অপরাধীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিও তাঁর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চৌধুরী মঈনুদ্দীনের দাবি যে সর্বৈব মিথ্যা, তার একটি প্রমাণ স্বাধীনতার পরপরই দেশ থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়া। তিনি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা এবং ঘাতক বাহিনী আলবদর কমান্ডার। তিনি যদি হত্যাকাণ্ড না ঘটাবেন, তাহলে পালিয়ে গেলেন কেন? পাকিস্তান সমর্থনকারী অনেক ব্যক্তি দেশে ছিলেন এবং যাঁরা হত্যা, লুটপাট ও ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাঁদের বাইরে কারও বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি। সে সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকাগুলোয় চৌধুরী মঈনুদ্দীনের অপকর্মের বিবরণও ছাপা হয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যসহ। চৌধুরী মঈনুদ্দীনের বক্তব্য ও মানহানি মামলা যে ভিত্তিহীন, তার আরেকটি প্রমাণ 'ওয়ার ক্রাইমস ফাইল' নামের প্রামাণ্যচিত্র। হাওয়ার্ড ব্রাডবার্ন ও ডেভিড বার্গম্যান ১৯৯৫ সালে এই প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেন ব্রিটিশ চ্যানেল ফোরের জন্য। পরে তথ্যচিত্রটি পুরস্কারও পেয়েছে। 'ওয়ার ক্রাইমস ফাইল'-এ তিন যুদ্ধাপরাধীর অপরাধ তুলে ধরা হয়েছিল-চৌধুরী মঈনুদ্দীন, লুৎফর রহমান ও আবু সাইদ। তাঁরা তিনজনই স্বাধীনতার পর যুক্তরাজ্যে পালিয়ে গিয়েছিলেন। আলবদর কমান্ডার চৌধুরী মঈনুদ্দীন তখন হামিদুল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন পূর্বদেশ পত্রিকার রিপোর্টার ছিলেন। অবজার ভবনে সে সময়ে কর্মরত সাংবাদিক এবং ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ডেভিড বার্গমান দেখিয়েছেন, চৌধুরী মঈনুদ্দীন এবং অপর দুই আলবদর কমান্ডার কীভাবে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের খুন করেছেন। সেই প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের সঙ্গে বাংলাদেশেরও অনেকে যুক্ত ছিলেন। যুক্ত ছিলেন এনায়েতউল্লাহ খান, তানভীর মোকাম্মেল, আনু মুহাম্মদ, আতিকুর রহমান, সারা হোসেন, আহমদ হোসেন প্রমুখ। আহমদ হোসেন বর্তমানে কানাডাপ্রবাসী। তিনি চৌধুরী মঈনুদ্দীনের বাড়ির ছবি তোলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন এভাবে- '৯৫-এর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ফেনীর শুটিং ছিল। ভিপি জয়নাল আবেদিনের সাক্ষাৎকার ধারণ করা হয়। পরে ফাজিলের হাট। রাজাকার চৌধুরী মঈনুদ্দীনের বাড়ি। যেখানে এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই আমরা। স্থানীয় যুবকেরা আমাদের ঘেরাও করে ফেলে। সাদা মানুষ দেখে তাদের কৌতূহল বেড়ে যায়। চিন্তার ফাঁকে চোখে পড়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সার স্মৃতি পাঠাগার। তখন দ্রুত মিথ্যার জাল বুনি। বলি এরা ব্রিটেন থেকে এসেছে শহীদুল্লা কায়সার, জহির রায়হানের স্মৃতি স্মরণে কিছু করা যায় কি না, সেটা সরেজমিনে দেখার জন্য। পরিচালক হাওয়ার্ড, ডেভিড, সাউন্ড রেকর্ডিং টিমের তখন অস্থিরতা। আমার মাথায় তখন অন্য চিন্তা খেলা করছে। চৌধুরী মঈনুদ্দীনের বাড়িতে কীভাবে যাওয়া যায়, তাইই চিন্তা করছিলাম। সরাসরি কিছু বলতে পারছিলাম না। যুবকদের প্রশ্ন করলাম, আর কে এখানে বিখ্যাত আছেন? তারা আবারও জহির রায়হান, শমী কায়সারের নাম বলল। একপর্যায়ে নেতা টাইপের একজন কাঙ্ক্ষিত উত্তর দেয়, আরেকজন আছে, তবে বিখ্যাত না-কুখ্যাত। আমাদের গ্রামের কলঙ্ক। তার জন্য আমাদের অনেক লজ্জা। চৌধুরী মঈনুদ্দীন, বড় রাজাকার ছিল। ক্লু পেয়ে গেলাম। বাড়িটি কোথায় বলতে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল খুবই কাছে। আরও জানলাম তার ভিটেতে কেউ নেই। ক্যামেরাবন্দী হলো বাড়ির আঙিনা, পুকুর, গাছগাছালি। আমরা নিয়ে এলাম চৌধুরী মঈনুদ্দীনের ঘরের ছবি।' এই চৌধুরী মঈনুদ্দীন যুক্তরাজ্যে গিয়ে মুসলিম কমিউনিটির নেতা হয়েছেন। প্রিন্স চার্লস ও ব্রিটিশ সরকারের অনেক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে চৌধুরী মঈনুদ্দীনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হলে ডেইলি মিরর তাঁর প্রতিবেশীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। তাঁরা বলেছেন, 'এ রকম ভয়ংকর অপরাধী তাঁদের এলাকায় বাস করেন, এটি আগে জানা ছিল না।' চৌধুরী মঈনুদ্দীন এখন বড় বড় কথা বলেন। তিনি যদি বৃদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড না ঘটিয়ে থাকবেন, কেন দেশে এসে মামলা মোকাবিলা করলেন না? পঁচাত্তরের পর ২১ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে ছিল। তিনি যে দল করতেন, সেই জামায়াতে ইসলামী ২০০১-০৬ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরিক ছিল। তারপরও চৌধুরী মঈনুদ্দীন, লুৎফর রহমান, আবু সাইদরা দেশে আসতে সাহস পাননি। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার যুদ্ধাপরাধীদের ফেরত দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার তা বিবেচনায় নেয়নি। কারণ মৃত্যুদন্ড কার্যকরের জন্য তারা আইন অনুযায়ী কাউকে অন্য দেশের কাছে হস্তান্তর করতে পারে না। এখন দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী ব্রিটিশ সরকারের খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছেন। সোহরাব হাসান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি[] | 8 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। আজ বুধবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তাদের এ সাক্ষাৎ হয়। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু পরে গণভবনে প্রবেশ করেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং গণমাধ্যমকে জানানো হয়, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন জোলি। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন তিনি। এদিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরে বুধবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং সচিব শহীদুল হকের সঙ্গেও বৈঠক করেন ইউএনএইচসিআর-এর এই দূত। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পৌঁছান অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এরপর যান কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এ সময় মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের কথা শোনেন তিনি। পাশাপাশি ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিশু-নারীদের সঙ্গে সময় কাটান হলিউড অভিনেত্রী। উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জোলি।রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশে আসেন ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। | 6 |
লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও টিকা গ্রহণে আগ্রহী করতে নিবন্ধন ও এসএমএস ছাড়া টিকা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন টিকাপ্রত্যাশীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় টিকাকেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কোনো কোনো কেন্দ্রে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ টিকা দেওয়া হয়েছে।গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পা ফেলার জায়গা নেই। কোনো ধরনের কাগজ ছাড়াই টিকা নেওয়ার সুযোগ পেয়ে এসএমএসের অপেক্ষায় থাকা মানুষের পাশাপাশি যাঁদের কোনো নিবন্ধন, এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তাঁরাও টিকা নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। ফলে টিকাদান কিছুটা বেগবান হয়েছে।টিকা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে সেভাবেই টিকা দেওয়া হচ্ছে।২৬ ফেব্রুয়ারির পর প্রথম ডোজ না পাওয়ার ঘোষণায় টিকা নিতে অনেকের আগ্রহ বেড়েছে। যাঁরা এত দিন এসএমএস পাননি, টিকা নেবেন কি না দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন তাঁরাও সহজভাবে টিকা পাওয়ায় কেন্দ্রে চলে আসেন। ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও যারাই কেন্দ্রে আসছেন প্রত্যেককে টিকা দেওয়া হচ্ছে, কাউকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না।গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা। রাজধানীর শ্যামলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে টিকাপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন। পুরুষের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নারীরাও। নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় মঞ্জুরুল ইসলাম (৩৮)। এই রিকশাচালক বলেন, 'টিকা নিতে চাইলেও নানা সমস্যায় হয় নাই। কালকে শুনেছি চলতি মাসের পর নাকি আর প্রথম ডোজের টিকা দেবে না। তাই আজ টিকা নিতে এসেছি।'হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, স্বাভাবিক সময়ে এই কেন্দ্রে ১০০০ থেকে ১২০০ জনকে টিকা দেওয়া হতো। টিকা নিতে সহজ ব্যবস্থা হওয়ায় আজ (বৃহস্পতিবার) অনেক বেশি মানুষ টিকা নিতে এসেছেন।এদিকে নিবন্ধন করলেও এখনো এসএমএস পাননি রাকিব হাসান। তাই বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রে আসেন। তাঁর মতো অনেককে টিকা নিতে দেখা যায়, যাঁদের কোনো নিবন্ধন নেই।শুধু রাজধানী নয়, ঢাকার বাইরেও এদিন টিকাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় দেখা গেছে। আগামী সপ্তাহে তা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, অনেকেই জানলেও বেশির ভাগই এখনো জানেন না। টিকাপ্রত্যাশীদের জন্য আমরা প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মসজিদ থেকে শুরু করে প্রশাসনিকভাবেও মানুষকে জানানোর চেষ্টা চলছে। সবাই যাতে টিকার আওতায় আসে সে জন্য যা করা দরকার আমরা করব।দেশের ৭০ ভাগ জনগোষ্ঠী বা ১২ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় টিকাদান কার্যক্রম। এরই মধ্যে ১০ কোটি ১৪ লাখের বেশি মানুষ প্রথম ডোজের আওতায় চলে এসেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের। ২৬ ফেব্রুয়ারির পর টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্তটিকাদান কার্যক্রম জোরদার হলেও দেশে থামছে না করোনায় মৃত্যুর ঘটনা। কখনো কমছে, কখনো বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৫। ওমিক্রনের দাপটে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৫৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১২ দশমিক ২০ শতাংশ। | 6 |
তোলিয়ার চেহারাটা আজও ভুলিনি। ও ছিল কসাই।কসাই না বলে মাংসবিক্রেতা বললেই বুঝি ভালো হয়। আমাদের কুবান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যে রাস্তাটা চলে গেছে, তারই এক কোনে 'আগ্রোপ্রোম' নামে একটি মাছ-মাংস-সবজির দোকান ছিল। এই দোকানের আলুর স্বাদ আমি কোনো দিন ভুলব না। কোন যৌথ খামার থেকে এই আলু আসত, জানি না, কিন্তু যেভাবেই তা রান্না করতাম বা ভাজতাম, তাতে আলুর স্বাদটা হতো মনের মতো। আলুও যে আলাদাভাবে সুস্বাদু হতে পারে, সেটা আগ্রোপ্র্রোমের আলু খেয়েই প্রথম বুঝেছি। এর আগে আলু নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা ছিল না।আরও একটা কথা, 'নতুন আলু' যে স্বাদে-গন্ধে পুরোনো আলুর চেয়ে একেবারেই আলাদা, সেটাও সোভিয়েত জীবন শুরু হওয়ার পর বুঝতে শুরু করেছিলাম।ক্লাসের পর যখন একা লাগত, তখনই বের হয়ে পড়তাম। কখনো ট্রামে, কখনো ট্রলিবাসে, কখনো বাসে করে চলে যেতাম বহু দূর। সে অভিজ্ঞতার কথাও বলব ধীরে ধীরে। আজ বলব সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যখন দেশগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তার পরের কথা। সোভিয়েত যুগের নিশ্চিন্ত নির্ভরতা তত দিনে হারিয়ে গেছে। রুশ দেশের মানুষেরা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে কত ধানে কত চাল। দুর্নীতি বেড়ে গেছে, তৈরি হয়েছে মাফিয়ার দল, বাইরের দেশ থেকে পণ্য আসছে, তা বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে। তার বেশির ভাগই কালো বাজার। মানুষের হাতে টাকা নেই। আবার একদল মানুষ টাকার পাহাড়ে বসে আছে। এ রকম এক অরাজক অবস্থায় আমরা দিন কাটাচ্ছিলাম। এখন যে ঘটনার কথা বলব, সেটা মনে হয় ১৯৯৪-৯৫ সালের দিকের ঘটনা।আগ্রোপ্রোম দোকানটায় বিদেশিরা খুব একটা যেত না। রাশান বা প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের লোকেরাই যেত। আমি সেখান থেকে কখনো কখনো বাজার করতাম।সেই দোকানে মাংস বিক্রি করত তোলিয়া। আমার চেয়ে বয়সে বড়। আনাতোলিকে আদর করে তোলিয়া নামে ডাকা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের রীতি অনুসারে সবাইকে লাইনে দাঁড়াতে হতো। একের পর এক ক্রেতা নিজেদের পছন্দমতো মাংসের টুকরো বেছে নিতেন।একদিন তোলিয়া জিজ্ঞেস করল, 'তোমার নাম কী?'বললাম।'কোন দেশ থেকে এসেছ, কিউবা? ইন্ডিয়া?''না। বাংলাদেশ।''এটা কোথায়?''ইন্ডিয়ার পাশেই।''ইন্ডিয়ায় তো গরু খায় না!''কেউ কেউ খায়। ওই দেশে অনেকগুলো ধর্মের মানুষ থাকে। কেউ গরু খায়, কেউ খায় না। আমরা বাংলাদেশে গরু খাই।''ভালো ভালো!'আমি আমার মনের মতো মাংস কিনে ফিরে এলাম।এর পর থেকে ঘটতে থাকল এক অদ্ভুত ঘটনা। আমি যখনই আগ্রোপ্রামে যেতাম, লাইনে দাঁড়াতাম, তোলিয়া আড়চোখে আমাকে দেখত। কিন্তু কোনো কথা বলত না। আমি যখন একটু একটু করে লাইনের এক নম্বরে আসতাম, তখন ও আমাকে দাঁড়াতে বলে একটা মাংসের ট্রে নিয়ে চলে যেত ভিতরে। সেখান থেকে কুড়ালে মাংস কাটার শব্দ শোনা যেত। তারপর এমন মাংস নিয়ে আসত, যাতে হাড়ের চেয়ে মাংসের পরিমাণ অনেক বেশি।প্রথম দিকে কেউ সেটা খেয়াল করত না। কিছু হিংসুটে বুড়ি সব দেশেই থাকে। ওরা সবখানেই একটা গন্ডগোল বাধিয়ে দেয়। সে রকমই এক বুড়ির চোখে পড়ল, আমার পালা আসতেই তোলিয়া চলে যায় ভিতরে, সেখান থেকে ভালো ভালো মাংস নিয়ে আসে। তা থেকেই বেছে আমাকে দেয়।সেই বুড়ি ছিল আমার ঠিক পেছনে। বিড়বিড় করে বলছিল, 'এইবার কসাই ভিতরে গিয়ে ভালো মাংস নিয়ে আসবে। এই বিদেশি ছেলেটার জন্য আলাদা আয়োজন।'বুড়ির বিড়বিড়ানি তোলিয়ার কানে গেল। সে বলল, 'হ্যাঁ, ওর জন্য আমি ট্রে নিয়ে মাংস আনতে যাব।''ওরা তো এ দেশে এসে দেশটা ছারখার করে দিল। আমরা এ দেশের নাগরিকেরাই খেতে পাই না, আর এরা এসে আমাদের খাওয়ায় ভাগ বসাচ্ছে!''ওরা তো উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। ওরা পড়াশোনা করছে। দেশে ফিরে প্রত্যেকেই বিজ্ঞানী হবে।''ওদের বিজ্ঞানী হওয়ার নিকুচি করি। নিজের দেশে গিয়ে বিজ্ঞানী হোক। আমাদের দেশটাকে জ্বালাচ্ছে কেন?'তোলিয়া বলল, 'আমি ট্রেতে করে মাংস নিয়ে এলে কি সব মাংস ও নিয়ে যাবে? ওটার ভাগ আপনি পাবেন না?'এবার কথাটা বুঝতে পারে বুড়ি। আসলে আমার জন্য মাংস কেটে আনলে তার ভাগ্যেও জুটবে কম হাড়ওয়ালা মাংস। কিন্তু তাতেও তিনি দমলেন না। এবার লড়াইটা চালালেন অন্যভাবে, 'ও এখান থেকেই মাংস নিক। কিংবা একটু অপেক্ষা করুক। তুমি আমার জন্য ট্রে ভরে নিয়ে এস। আগে আমি নেব, তারপর ও নেবে।'তোলিয়া বলল, 'এটা আমার দোকান। আমি যেভাবে চাইব, সেভাবেই হবে। আপনি মাংস নিলে নেবেন, না হলে লাইন থেকে সরে দাঁড়ান। অযথা এখানকার পরিবেশ নষ্ট করবেন না!'তোলিয়ার সঙ্গে তর্ক করে পারবে না বলে বুড়ি এবার আমাকেই গালাগাল দিতে লাগল। আমাদের কারণেই নাকি সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙেছে, আমাদের পালতে গিয়েই সোভিয়েতরাজের খাজাঞ্চিখানা উজাড় হয়ে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি।তখন খুব মেজাজ খারাপ হয়েছিল। কিন্তু এখন ভাবি, সে সময় বুড়িরা হঠাৎ করে দারিদ্র্যের যে অকুল দরিয়ায় পড়েছিল, তাতে পৃথিবীর সবকিছুর প্রতিই তাদের রাগ হওয়াটাই স্বাভাবিক।১৯৯৬ সালের জুলাই মাসে দেশে ফেরার আগপর্যন্ত তোলিয়া আমার জন্য ওর নিয়মটাই বহাল রেখেছিল। এসব ছোট ছোট ভালোবাসার গল্পগুলোই আনন্দ দেয়। | 2 |
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার বাগুলাটের বানিয়াপাড়া জামে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।আহত ব্যক্তিরা হলেন-ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল খালেক ব্যাপারী (৬৮), বানিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিন (৪৫) ও বাঁশগ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন।এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক নবা গ্রুপের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি নির্বাচনের নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আলী হোসেন গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আসন্ন নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক নৌকায় প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন আজিজুল হক নবা। আলী হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরোধ আরও বেড়ে যায়। বিরোধের জেরেই গতকাল রাত ৮টার দিকে দুই গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।নবা গ্রুপের সমর্থকেরা জানান, তাঁরা ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সভা করে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বানিয়াপাড়া মসজিদের কাছে পৌঁছালে গ্রুপের নেতা আলীসহ তাঁর সমর্থকেরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁদের তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও সাগর নামে একজনকে রক্তাক্ত জখম করা হয়।আলী গ্রুপের সমর্থকেরা জানান, নবা গ্রুপ রাতে মিছিল করছিল। মিছিলে তাঁদের গ্রুপকে কটাক্ষ করে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। এতে প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে খালেক ব্যাপারী ও আব্দুল মতিন গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।বাগুলাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হক নবা বলেন, রাতে ৯ নম্বর ওয়ার্ড দলীয় সভা শেষে ফেরার পথে আলীসহ তাঁর সমর্থকেরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমার এক কর্মী আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।আওয়ামী লীগ নেতা ও আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আলী হোসেন বলেন, আমি রাতে ঘটনাস্থলে ছিলাম না। সন্ধ্যায় আমার একটি মোটরসাইকেল বহর অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতে প্রতিপক্ষের নবা বিশ্বাসের ছেলে ও তাঁর সমর্থকেরা আমার অফিসে এসে ভাঙচুর ও নেতা-কর্মীদের মারপিট করেন। আমার দুজন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।মো. আলী হোসেন আরও বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেরা নিজের গাড়ি ভাঙচুর করে আমাদের মিথ্যা দোষারোপ করছেন।কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ আধিপত্য বিস্তারের পাঁয়তারা করছে। রাতে দু'পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছেন। | 6 |
মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। | 6 |
সঙ্গীতশিল্পী কেকের মৃত্যুর তদন্ত করুক সিবিআই, এই মর্মে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। কেকে-র মৃত্যু নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে সিবিআই তদন্তের অনুরোধ জানান আইনজীবী রবিশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে তিনি একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার অনুমতি চান আদালতের কাছে। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ সেই অনুমতি দিয়েছে। গত মঙ্গলবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে এক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পর মৃত্যু হয় বলিউডের গায়ক কেকের। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এই জনপ্রিয় গায়কের। তারপর থেকে নানা বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, নজরুল মঞ্চে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ে। শীতাতপ যন্ত্র ঠিক মতো কাজ না করেছিল কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
রাজধানীর খিলক্ষেত বনরুপা এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতনামা এক যুবক নিহত হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ২৫বছর। শনিবার ভোর রাত (২৬ সেপ্টেম্বর) ৩টার দিকে খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ পরিদশর্ক (এএসআই) মো: মহিউদ্দিন জানান, শনিবার ভোর রাত ৩টার দিকে খিলক্ষেত বনরুপা রেলগেট সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার মাথা থ্যাতলানো ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্য হয়েছে। তিনি আরো জানান, নিহতের নাম পরিচয় জানা যায়নি। তার পরনে ছিলো পায়জামা ও খয়তি হাফহাতা গেনজি। তার পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চলছে। | 6 |
সকালবেলা হাসিমুখে বাসা থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল সুমনা আক্তার। বাসার লোকজনও হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিল সুমনাসহ তার পাঁচ সহপাঠীকে। কিন্তু সুমনার আর পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়া হলো না; দ্বিতীয় দিনের প্রাথমিক সমাপনী (প্রাইমারি এডুকেশন সার্টিফিকেট-পিইসি) পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা আগে আকস্মিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় ফুটফুটে শিশুটি চলে গেল অনন্তলোকে- না ফেরার দেশে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানার পুরাতন পোর্ট মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুমনা ও তার সহপাঠী পিংকীকে বহন করা রিকশাটিকে পেছন থেকে একটি টমটম ধাক্কা দিলে পড়ে গিয়ে টমটমের চাকার নিচে চলে যায় সুমনা। এ ঘটনায় তার বন্ধু আরেক পরীক্ষার্থী পিংকীর একটি পা ভেঙে গেছে। নিহত সুমনা ওই এলাকার ঘাসফুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। তাদের বাড়ি সন্দ্বীপের রহমতপুর এলাকায়। থাকত পোর্ট কলোনি ৩ নম্বর রোডের রেলওয়ে স্টাফ কোয়ার্টারে। তার বাবা বাবর উদ্দিন ট্রাকচালক। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে রিকশা করে নিমতলা মকবুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল সুমনা ও পিংকী। তাদের বহনকারী রিকশাকে একটি টমটম (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশার অ্যাপেল ভেঙে তারা দু'জন রাস্তায় পড়ে যায়। এ সময় সুমনা টমটমটির চাকার নিচে চলে যায়। হাসপাতালে আনা হলে সুমনাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার সহপাঠী পিংকীর পা ভেঙে গেছে। সুমনার খালু মো. জসিম বলেন, আমার মেয়ে পিংকী, সুমনাসহ পাঁচজন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল। তাদের দুটি রিকশা ঠিক করে দিয়েছিলাম। সুমনা আর পিংকী ছিল এক রিকশায়। টমটম ধাক্কা দেওয়ার পর ওরা রিকশা থেকে পড়ে যায়। অন্য রিকশার চালক এসে তাদের রাস্তা থেকে তুলে বন্দর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে আহত দু'জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, সুমনা আগেই মারা গেছে। | 6 |
ইন্দোনেশিয়ার সম্ভাব্য নতুন রাজধানী বোর্নিওতে ভয়াবহ সুনামির একটি ঝুঁকি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। বোর্নিও ও সুলাওসি দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী মাকাসার প্রণালিতে একাধিক প্রাচীন ভূগর্ভস্থ ভূমিধসের ম্যাপ তৈরি করে এ তথ্য দিয়েছেন গবেষকরা। তারা দাবি করছেন, আগের মতো কোনো ভূমিধস হলে নতুন রাজধানীর বালিকপাপন বে অঞ্চল ডুবে যাওয়ার মতো সুনামি সৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ব্রিটিশি-ইন্দোনেশিয়ার একটি গবেষক দল মকাসার সমুদ্রপৃষ্ঠে পলল ও তাদের কাঠামো বুঝতে ভূমিকম্পের তথ্য ব্যবহার করেছেন। জরিপে ১৯টি নির্দিষ্ট এলাকার কাদা, বালি ও পলি নিয়ে গবেষণা করা হয়। তাতে দেখা গেছে, ভূমিধ্বসে শত শত কিউবিক কিলোমিটার উপাদান স্থানান্তরিত হয়েছে যা সমুদ্রপৃষ্ঠে বিশাল ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে। ভূমিধ্বসের আশঙ্কার কথা বললেও কবে নাগাদ তা ঘটতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেননি গবেষকেরা। এর আগে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়াঢ ভূমিধ্বসের কারণে দুটি সুনামির ঘটনা ঘটেছে। তাই ২০০৪ সালের সুমাত্রার সুনামির মতো না হলেও ভূমিধ্বসে সৃষ্ট সুনামি নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো গত বছর ঘোষণা দেন যে রাজধানী জাকার্তা থেকে সরিয়ে বোর্নিওতে করা হবে। | 3 |
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (আরএমইউ) অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠতে পারে। প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি চলতি মাসেই অনুমোদন পেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।এর আগে পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনায় কয়েক দফা কাটছাঁট হয় প্রকল্পের। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্প পাসের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আরএমইউ কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতাল। দেশের উত্তরাঞ্চলে মেডিকেল শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ বিশ্ববিদ্যালয়।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রকল্পের ডিপিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ডিপিপিতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, হাসপাতাল, স্কুল ও ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এ ধাপে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা।মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতালে সেবার পরিসর বাড়বে কয়েক গুণ। বিশেষায়িত ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখবে এ হাসপাতাল। রাজশাহী মহানগরীতে ৬৮ একর জায়গায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। মোট ৬৯টি বিভাগ থাকবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইতিমধ্যে ৮০টি মেডিকেল, নার্সিং, ডেন্টাল কলেজ এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে এখানে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ জেড এম মোস্তাক হোসেন বলেন, 'প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি চলতি মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাবে। অনুমোদন পেলে খুব শিগগির অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে।' তিনি বলেন, চিকিৎসকের পাশাপাশি দক্ষ নার্স তৈরির জন্য ক্যাম্পাসে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটও প্রতিষ্ঠা করা হবে।ইতিমধ্যে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ এবং ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিকে আরএমইউর আওতাধীন করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ১৩টি সরকারি ও ১৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। দুটি সরকারি ও পাঁচটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, ছয়টি সরকারি ও ৩১টি বেসরকারি নার্সিং কলেজ, একটি সরকারি ও দুটি বেসরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং ৭৪টি অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে।আরএমইউ ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমবিবিএস, বিডিএস, ফিজিওথেরাপি ও ইউনানি মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (বিইউএমএস) কোর্স সফলভাবে পরিচালনা করছে। ডাটা এন্ট্রি, শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণসহ সব কার্যক্রম ডিজিটালভাবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। | 6 |
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের গভীর সাগর থেকে ৫৭ জন রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও একজন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় দুই পাচারকারীকেও আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা নারী, শিশুদের মালয়েশিয়ায় পাচার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব। শুক্রবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজার র্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান কক্সবাজার র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে কর্নেল খাইরুল ইসলাম। তিনি জানান, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর উপকূলের গভীর সাগরে এ অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১১ জন শিশু, ২৪ জন নারী ও ২৩ জন পুরুষ। এসব রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা। তবে আটক দুই পাচারকারীর নাম পরিচয় জানায়নি র্যাব। র্যাব কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, "শামলাপুর সমুদ্র উপকূল দিয়ে ট্রলারে করে সাগরপথে কিছু লোকজনকে মালয়েশিয়া পাচারের খবরে র্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে গভীর সাগরে সন্দেহজনক একটি ট্রলার দেখতে পেয়ে জব্দ করা হয়। এসময় ট্রলার থেকে ৫৭ জন রোহিঙ্গা এবং একজন স্থানীয় নাগরিক এবং পাচারকাজে জড়িত দুইজনকে উদ্ধার করা হয়।" তিনি আরও বলেন, "দালাল চক্র ফাঁদে ফেলে উদ্ধার হওয়া লোকজনকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচার করছিল। তাদের ছোট ট্রলার থেকে বড় ট্রলারে তুলে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দ্যেশ ছিল পাচারকারিদের। আটকরা মানব পাচারকারি চক্রের সক্রিয় সদস্য।" | 6 |
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চূড়ান্ত প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন। আজ সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে মুনের এমন প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়া এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।মুন জে ইন বলেন, তাঁর সরকার শেষ পর্যন্ত আন্ত-কোরীয় সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি অপরিবর্তনীয় পথ অনুসরণ করবে। এ ছাড়া তিনি তাঁর প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি সময়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় জোর চেষ্টা চালাবেন।চলতি বছরের মে মাসে মুনের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের ৫ বছর শেষ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, 'আমি আশা করি পরবর্তী দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতায় যারা আসবেন তাঁরাও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।'কিন্তু ইংরেজি নববর্ষ শুরুর আগে দেওয়া এক ভাষণে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা বা কূটনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতির ব্যাপারে কিছুই বলেননি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রের আলোচনার ব্যাপারেও কিছু জানাননি।২০১৮ ও ২০১৯ সালে মুন কিমের সঙ্গে পিয়ংইয়ংসহ একাধিক শীর্ষ বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু সেগুলো উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যক্রম এবং শত্রুভাবাপন্ন নীতির কারণে ভেস্তে যায়। তারপরও মুন কোরীয় যুদ্ধের ফলে দুই কোরিয়ার মধ্যে তৈরি হওয়া বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। | 3 |
করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রমে হঠাৎ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৭ আগস্ট ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপকহারে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ৭ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। আপাতত শুধু প্রতিটি টিকা কেন্দ্রে অগ্রিম রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা দেওয়া হবে। ১৪ আগস্ট পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ৭ আগস্ট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান চলবে। এর আগে সরকার দেশের ১৫ হাজার ২৮৭টির বেশি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ১০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। হঠাৎ এ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হলো। | 4 |
ঢাকা: এই ঈদে তৌসিফ মাহবুব অভিনীত পঞ্চাশের অধিক নাটক প্রচার হবে। কোনো এক উৎসবে একজন অভিনয়শিল্পীর সর্বোচ্চ নাটক আসার রেকর্ড বলা যায়। এটা নিয়ে তাঁর ভক্তদের মাঝে যেমন উচ্ছ্বাস দেখা গেছে তেমনি অনেকে এটা নিয়ে ট্রল করেছে। শতভাগ কাজ কখনো ভালো হবে না কারো তবে তাঁর ভক্তরা বিশ্বাস করে যে বেশ কিছু ভালো কাজ তারা পাবে। আর এটা বিশ্বাস করার কারণ হচ্ছে এবছর তার অভিনীত কাজ গুলোর মধ্যে বেশির ভাগ কাজই আলোচনায় ছিলো। এই পঞ্চাশটি নাটক প্রায় ৪০জন পরিচালকের পরিচালনায় অভিনয় করেছেন। তাঁর বিপরীতে আছেন ৮জন অভিনেত্রী।তৌসিফের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো- চিরকাল, নাবিক, ৩০০ টাকার প্রেম ১০০ টাকা, হ্যালো লেডিস, রকিং রিংকু, হারানো দিনের গান, রিভার্স, আওয়াজ, ১০ লাখ মারবেল, উইল ইউ ম্যারি মি, বিপরীতে তুমি আমি, ফরেন বাবুর্চি, ল্যাম্পপোস্ট, একটি অস্থির প্রেম, নাবিক, হ্যালো লেডিস, রিভার্স, রকিং রিংকু, আওয়াজ, ঢাকাইয়া খানদান, হারানো দিনের গান, চান্স, পেইন গেস্ট, ফরেন বাবুর্চি, তেরেকেটে সারেগামা, উই আর ওয়েটার, কেমন আছেন দুলাভাই, যে ছিলো আমার, ম্যারাডোনার ছেলে, একদানে বড় লোক, লাভ ম্যাজিক, মিচকা শয়তান, ইয়েস নো ভেরী গুড, হাওয়াই মিঠাই, টু ইন ওয়ান, পরিণয়, মনের মতো বাগান, অকাজের কাজী, বাবা পুলিশ ছেলে ফুলিশ, বেবি গার্ল, উরাধুরা ভালোবাসা, সাত সতেরো, পাঁচ ভাই চম্পা, ট্রুথ অর ডেয়ার, তুমি শুধু আমার, বিপরীতে তুমি আমি, আমি খুব বিরক্ত, লাইফ গেম, পিছলা, পা।অন্যদিকে তৌসিফ মাহবুব- সাফা কবির জুটির নাটক আসছে ২২টি। এছাড়া সাফা কবির অভিনয় জোভানের সঙ্গে জুটি হয়েও একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। সব মিলিয়ে সাফা কবিরের প্রায় ৩০টি নাটক ঈদে প্রচার হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায়- চিরকাল, নাবিক, আধাঁরী, চরের মাস্টার ইঞ্জিনিয়ার, ঢাকাইয়া খানদান, লকডাউনে প্রেম, যে ছিল আমার, ট্রুথ এন্ড ডেয়ার। | 2 |
ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৪২ হাজার পেরিয়ে গেছে। বৈশ্বিক আক্রান্তের দিক থেকে ইতিমধ্যেই রাশিয়াকে পিছনে ফেলে করোনাআক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। আর প্রাণহানির দিক থেকে বিশ্বে অষ্টম। খবর এনডিটিভির। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ হাজার ৭৫২ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে ৭ লাখ ৪২ হাজার ৪১৭ জন আক্রান্ত শনাক্ত হলেন। আক্রান্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে বাড়ছে মৃত্যুও। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪৮২ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যু হল ২০ হাজার ৬৪২ জনের। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রেই মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ২৫০ জনের। দিল্লিতে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪১৫ জনে। তৃতীয় স্থানে থাকা গুজরাটে মারা গেছেন ১ হাজার ৯৭৭ জন। তামিলনাড়ুতে মারা গেছেন ১ হাজার ৬৩৬ জন। এ ছাড়া উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে ৮২৭ জন, পশ্চিমবঙ্গে ৮০৪জন ও মধ্যপ্রদেশে ৬২২ মারা গেছেন। আক্রান্ত দ্রুত বাড়লেও ভারতে করোনা রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার পরিসংখ্যানটাও বেশ স্বস্তিদায়ক। এখনও পর্যন্ত সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। অর্থাৎ আক্রান্তের ৬১ শতাংশই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৮৮৩ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩১ জন করোনার কবল থেকে মুক্ত হলেন। এ দিকে ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) এক পূর্বাভাসে বলেছে, করোনার টিকা না তৈরি হেলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতে প্রতি দিন প্রায় তিন লাখ করে মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন ভাইরাসটিতে। ৮৪টি দেশের করোনা সংক্রমণের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এমআইটির স্লোয়ান স্কুল অফ ম্যানেজমেন্টের গবেষকদের পূর্বাভাস, কোনও কার্যকরী টিকা না বের হলে আগামী বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে গোটা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছাবে ২০ থেকে ৬০ কোটির মধ্যে। | 3 |
হাসান আজিজুল হক গল্প বলতেন, গল্প বলতে ভালোবাসতেন, চমৎকারভাবে গল্প বলতে জানতেন। তাঁর এই গুণের কথা সবাই জানেন-যাঁদের সৌভাগ্য হয়েছে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে জানার। যেমনটা আমার হয়েছে। কিন্তু তাঁর ওই গুণের খবর তাঁর পাঠকেরা বিলক্ষণ রাখেন। যে জন্য তাঁর প্রতি তাঁদের আকর্ষণের শেষ নেই। তাঁর লেখা খুব সহজে কাছে টেনে নেয়, কৌতূহল ধরে রাখে এবং তাতেই শেষ হয় না, ওই সঙ্গে ভাবিয়ে তোলে, চিন্তিত করে। গল্প তিনি জীবন থেকে সংগ্রহ করেন। বোঝা যায়, তাঁর কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসা সব সময় সজাগ; কিন্তু এই গল্পগুলো শুধু গল্প নয়, এদের প্রতিটিতে উপাদান থাকে চিন্তার। তিনি চিন্তা করতেন, চিন্তা করে লিখতেন, অভিজ্ঞতাকে সজীব করতেন কল্পনার সাহায্যে, তাকে গভীর করতেন চিন্তা দিয়ে। কোনো সাহিত্যই মহৎ হয় না, যদি তার মধ্যে ওই চিন্তাটা না থাকে। হাসান আজিজুল হক জীবন ও জগৎ সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতেন; লেখায় তাঁর ভাবনাগুলো একেবারেই স্বাভাবিকরূপে চলে এসেছে। তিনি নিজে বোঝেন, পাঠককে বুঝতে সাহায্য করেন। হাসান আজিজুল হক দর্শন অধ্যয়ন করেছেন, অধ্যাপনা করেছেন দর্শন বিষয়ে এবং তাঁর কাজ একজন সাহিত্যিকের, তাঁর লেখায় দর্শনের সঙ্গে সাহিত্যের যোগটা ঘটেছে একেবারে ভেতর থেকেই।তাঁর বলার ধরনটা সম্পূর্ণ নিজস্ব। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় তাঁর ভাষার। পড়তে শুরু করলেই বোঝা যায়, এ ভাষা অন্য কারও নয়। শুধু কথাসাহিত্যে নয়, তাঁর প্রবন্ধেও ওই বলার ধরন এবং ভাষার ব্যবহার বলে দেয়-তিনি তাঁর নিজের মতোই। সব সময়।আর দেখেছি সংযম। তড়িঘড়ি করে লেখেননি, যা লিখেছেন অত্যন্ত যত্ন করে। পরিশ্রম ছিল নিশ্চয়ই; কিন্তু পরিশ্রমের ছাপ থাকে না, শিল্পের কারণে। তাঁর লেখা প্রবন্ধের মধ্যেও ওই সংযমটা দেখেছি। আড়ম্বর থাকে না, থাকে না অতিরেক, আর সে জন্যই পড়ার পর অনেক দিন মনে থাকে।সংযম দেখেছি আরও একটা জায়গায়। তিনি রাজধানীমুখী নন। রাজধানীকেই বরং নিয়ে যেতে চেয়েছেন রাজশাহীতে। রাজশাহী তাঁর কর্মক্ষেত্র; কিন্তু নিতান্ত বাধ্য হয়েই সেখানে ছিলেন, কর্মজীবন শেষ হয়ে যাওয়া মাত্র ঢাকায় ছুটতে হবে-এমন কোনো অস্থিরতা তাঁর মধ্যে ছিল না। না-থাকায় ঢাকার ক্ষতি হয়েছে, লাভ হয়েছে রাজশাহীর। রাজশাহী আমার কৈশোরের শহর। এখন গেলে চিনতে পারি না। কারণ, পদ্মা নদী আর নেই। কৈশোরে দেখতাম ওই শহরের একটা সাংস্কৃতিক জীবন আছে; পদ্মা শুকালেও ওই জীবনটা কিন্তু শুকায়নি, এবং তাকে সজীব রাখার কাজে হাসান আজিজুল হক যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সে জন্য তাঁর প্রতি অতিরিক্ত কৃতজ্ঞতা।সাহিত্যসৃষ্টির পেছনে বেদনা থাকে। হাসান আজিজুল হকের লেখার মধ্যে যেমন লেখার পেছনেও তেমনি গভীর বেদনা যে ছিল, সেটি টের পাই। ব্যক্তিগত বেদনা সবারই থাকে, থাকবেই; তবে আমাদের সমষ্টিগত বেদনার বিশেষ ক্ষেত্র দুটি। একটি সাতচল্লিশের, অপরটি একাত্তরের। সাতচল্লিশের ঘটনা তাঁকে শরণার্থী করে ওপার থেকে এপারে নিয়ে এসেছিল। একাত্তরে এপারেই সবাই আমরা উৎপাটিত হব-এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ওই দুই ক্ষতিকে আমরা নানাভাবে ধারণ করে চলেছি; হাসান আজিজুল হক ধারণ করেছেন তাঁর সৃষ্টিশীলতার মধ্যে। এ কাজ সৃষ্টিশীলরাই শুধু পারেন।ব্যক্তিগত কথা বলি। হাসান আজিজুল হকের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় তাঁর লেখার মধ্য দিয়েই। অনেককাল আগের কথা; কিন্তু পরিষ্কার মনে আছে। আমি তখন যুক্ত ছিলাম মাসিক পত্রিকা 'পরিক্রম'-এর সম্পাদনার কাজের সঙ্গে। সম্পাদকদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওনা নতুন লেখকের সন্ধান পাওয়া। ডাকে একটি গল্প এসেছিল, নাম 'আত্মজা ও একটি কবরী গাছ'। প্রথমে গল্পের নামটি পড়ে, এবং তারপরই প্রথম বাক্যটির ওপর চোখ রেখেই নিশ্চিত হয়েছিলাম-একজন বড়মাপের লেখকের আগমন ঘটেছে। এরপর তাঁর অন্য লেখা যত পড়েছি ততই নিশ্চিন্ত হয়েছি আমার ওই প্রথম প্রতিক্রিয়ার নির্ভুলতার ব্যাপারে।ব্যক্তিগত স্মৃতি আরও একটি আছে। আমার স্ত্রী নাজমা জেসমিন চৌধুরী মারা যান ১৯৮৯-তে। তখন ওই গভীর বেদনার সময় অনেকেই চিঠি লিখেছেন। ফোন করেছেন; টেলিগ্রাম পেয়েছি, বাসায় এসেছেন তো বটেই। রাজশাহী থেকে হাসান আজিজুল হক যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন তাঁর সেই পরিচিত হস্তাক্ষরে ও ভাষায়, সেটির কথা এখনো মনে পড়ে।তাঁর সৃষ্টিশীলতা সবার মাঝে ছড়িয়ে থাকুক, তাঁর এই চলে যাওয়ার বেদনা ও কষ্ট; অন্য সবার যেমন, তেমনি আমারও। তাঁর লেখার প্রতি আমার আকর্ষণের শেষ নেই, শেষ থাকবেও না।রৌদ্র হয়তো প্রতিদিনই পাওয়া যাবে, কোনো না কোনোভাবে; কিন্তু সকালের রোদের মতো উজ্জ্বল হাসান আজিজুল হকের সঙ্গে আর যে কোনো দিন দেখা হবে না, এই সত্যটাকে মেনে নিই কীভাবে? মেনে নেওয়াটা শুধু কঠিন নয়, মনে হচ্ছে অসম্ভবই। প্রাকৃতিক শূন্যতার কথা স্বতন্ত্র, মানবিক শূন্যতা কি পূরণ হয় কখনো? হয় না। হবেও না।ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | 6 |
দেশে ১৪ বছরের কম বয়সের শিশুদের কাজে যোগদান নিষিদ্ধ করার আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এ-সংক্রান্ত ১৩৮ নম্বর কনভেনশনে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আইএলওর সদর দপ্তরে গতকাল স্বাক্ষর করা কনভেনশনের অনুসমর্থনপত্রটি সংস্থাটির মহাপরিচালক গাই রাইডারের হাতে তুলে দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। এর মাধ্যমে আইএলওর সব কটি মৌলিক কনভেনশনে অনুসমর্থন করল বাংলাদেশ। মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জবরদস্তিমূলক শ্রমসংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন, ১৯৩০-এর প্রটোকল ২০১৪ অনুসমর্থন করেছে। এখন কনভেনশন ১৩৮ অনুসমর্থনের মাধ্যমে সব মৌলিক কনভেনশন এবং এ-সংক্রান্ত প্রটোকল অনুসমর্থন করল।' বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, '১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আইএলওর ৫টি মৌলিক কনভেনশনসহ ২৯টি দলিলে অনুসমর্থন করে। সরকার আইএলও শ্রমমান বজায় রাখতে সব সময় অঙ্গীকারবদ্ধ।' শ্রম প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী, সব খাত থেকে শিশুশ্রম নিরসন করা হবে। সম্প্রতি সরকার নতুন করে আরও পাঁচটি খাতকে শিশুশ্রমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে ঘোষণা করেছে। | 0 |
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক শিক্ষার্থীই দেশের বাইরে পড়াশোনার সুযোগ খোঁজেন। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়া বেশ জনপ্রিয়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় জনপ্রিয় দেশ। অন্যান্য দেশের তুলনায় কম খরচে মানসম্মত শিক্ষার কারণে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশটিতে প্রতিবছর হাজারো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আবেদন করেন।বিশ্বের প্রথম সারির কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে অস্ট্রেলিয়ায়। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এএনইউ) অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেয়ায় অবস্থিত একটি জাতীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। কিউএস শীর্ষ জরিপে এটি বিশ্বের ২৭তম বিশ্ববিদ্যালয়। ডেভিড মরিসন, জন ব্রাশ, গ্রেথ ইভান্স, এর বর্তমান উপাচার্য ব্রায়ান পল স্মিথসহ অস্ট্রেলিয়ার অনেক জ্ঞানী মানুষের বিচরণ ঘটেছে এই ক্যাম্পাসে। বাংলাদেশের বেশ কিছু শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।এই বছর স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। যেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফল অর্জন করেছেন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থেকে নেতৃত্বের গুণাবলী লাভ করেছেন সেসব মেধাবী ও সৃজনশীল শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপটি দেওয়া হবে।সুযোগ-সুবিধাসম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হবে।শিক্ষার্থীদের বছরে ২৮ হাজার ৫৯৭ ডলার প্রদান করা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকা।গবেষণা ভাতা প্রদান করা হবে।স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।আবাসন সুবিধা প্রদান করা হবে।স্বাস্থ্য ও ভ্রমণভাতা প্রদান করা হবে।আবেদনের যোগ্যতাযেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।একাডেমিক ফল ভালো থাকতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।আইইএলটিএস পরীক্ষায় অন্তত ৬.৫ থাকতে হবে।প্রয়োজনীয় কাগজপত্রআবেদনকারীর সিভি, পাসপোর্ট, রেফারেন্স লেটার, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রিসার্চ প্রপোজাল।ওয়েবসাইট: ://...আবেদনের শেষ সময়: ১৫ এপ্রিল ২০২২ | 6 |
অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী বার্নাবি জয়েসের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে তাঁর করোনা শনাক্ত হয়। সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী বার্নাবি জয়েস।আজ বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়।অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, সফরে থাকা বাকিদের করোনা শনাক্ত হয়নি। জয়েসকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁর মৃদু উপসর্গ রয়েছে। বৈশ্বিক মহামারি শুরু হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া সরকারের সর্বোচ্চ পদধারীদের মধ্যে জয়েসই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হলেন।গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান বার্নাবি জয়েস। | 3 |
অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গ্রেফতার করা হয় শিমুর স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে (৪৭)। পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী শিমুকে হত্যা করেন নোবেল। শিমুর স্বামী নোবেলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি শিমুকে হত্যা করেছেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা-৮টার দিকে তিনি শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন। এরপর ফরহাদকে মুঠোফোনে কল করে ডেকে নেন। প্রথমে নোবেল ও ফরহাদ মিরপুরের দিকে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে লাশ গুমের উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে তারা আবার বাসায় ফেরেন। রবিবার সন্ধ্যায় আবার তারা লাশ গুম করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে যান। আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টায় মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে ঝোপের ভেতর লাশটি ফেলে চলে যান তারা। অভিনেত্রী শিমু সপরিবারে রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন গ্রিন রোড এলাকায় থাকতেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার হযরতপুর ইউনিয়নের আলীপুর ব্রিজ এলাকায় রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতর থেকে শিমুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার জানান, পারিবারিক বিষয় ও দাম্পত্য কলহের কারণে চিত্রনায়িকা ও মডেল রাইমা ইসলাম শিমুকে (৩৫) হত্যা করেছেন তার স্বামী শাখাওয়াত আলী নোবেল। এরপর শিমুর লাশ বস্তায় ভরে গুম করতে সহায়তা করেছেন নোবেলের বন্ধু ফরহাদ। ঘটনাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মডেল শিমুর স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেফতার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেফতার দুজনই মাদকাসক্ত ও বেকার বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নোবেল ও ফরহাদকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 2 |
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় গলায় জাহাঙ্গীর হোসেনের (১৮) নামে এক যুবকের যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে নিজ ঘরে ওই যুবক গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা যায়। নিহত জাহাঙ্গীর মোংলা পৌর শহরের ট্রের্ডাস মসজিদ ক্রস রোডের বাসিন্দা দিনমজুর জামাল হোসেনের ছেলে। প্রতিবেশীরা জানান, ওই এলাকার একটি মেয়েটিকে পছন্দ করতো জাহাঙ্গীর। শুক্রবার বিকেলে মেয়েটিকে আইসক্রিম কিনে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি না হলে মেয়েটির ওড়না রেখে দেয় ছেলেটি। পরে রাতে ওই ওড়না গলায় পেঁচিয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে জাহাঙ্গীর। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার বিষয়ে কোনো অভিযোগ করতে রাজি হয়নি। তবে তারা মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করতে চেয়েছিল। রহস্য উদঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে বলেও জানান পুলিশে এ কর্মকর্তা। | 6 |
বগুড়ার দক্ষিণ কাটনারপাড়ার বাসিন্দা সুমন রায় জ্বর ও সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ৮ জুলাই তাকে নগরীর মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। মৃতের বড় ভাই দীপক রায় সমকালকে জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর সুমনের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৫১-তে নেমে গিয়েছিল। তার ভাইয়ের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা চিকিৎসকরা মৌখিকভাবে জানালেও নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। এমনকি মৃত্যুর পরও নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। সুমনের মতো দেশের গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনার উপসর্গ নিয়ে অনেকে মারা যাচ্ছেন। আবার অনেকে করোনার উপসর্গ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমন হাজার হাজার মানুষের শনাক্ত ও মৃত্যু সরকারি হিসাবে আসছে না। সরকারি পরিসংখ্যানও বলছে, গ্রামে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর রাজধানী ঢাকার বাইরে ১৬ মাসে মোট শনাক্তের ৩৩ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং মৃত্যুর ৩৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ হয়েছে গত এক মাসে। অর্থাৎ মোট শনাক্ত ও মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশ এক মাসে হয়েছে। পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, গ্রামে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। গ্রামে করোনার সংক্রমণ বিস্তারের পেছনে উদাসীনতা এবং অসচেতনতাকেই দায়ী করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করেন না। এমনকি তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। ঢাকা কিংবা বিভিন্ন নগরী থেকে গিয়ে আইসোলেশনে না থেকে অনায়াসে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন। আবার করোনার উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা না করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমন অসচেতনতার কারণে গ্রামাঞ্চলে করোনা সংক্রমণে বিপর্যয় নেমে এসেছে। অনেকে মনে করেন, গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরীর মতো গ্রামও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার সূত্র ধরে অন্তত পাঁচ জেলার সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এক শতাংশেরও কম মানুষ নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করছেন। হাট-বাজারে ভিড়ের মধ্যে চলছে কেনাকাটা। সামাজিক দূরত্ব একেবারেই মানা হয় না। এর মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরী থেকে যাওয়া ব্যক্তিও অনায়াসে তাদের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছেন। করোনা আক্রান্ত অনেকে সাধারণ সর্দি-জ্বর মনে করে নমুনা পরীক্ষাও করান না। এসব কারণে গ্রামে করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের প্রকল্প বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির (বিপিএ) গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ মার্চ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে করোনার উপসর্গ নিয়ে ২ হাজার ৯৩৯ জন মারা গেছেন। প্রতিষ্ঠানটি ২৪টি সংবাদমাধ্যমে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর তালিকা থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সমকালকে বলেন, গ্রামে সচেতনতার অভাব রয়েছে। রোগীর অবস্থা জটিল হওয়ার পর অনেক সময় হাসপাতালে আনা হয়। এরপর রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানোর পর রোগীর মৃত্যু হয়। রিপোর্ট পাওয়ার আগের মৃত্যুকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু উল্লেখ করে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দিয়ে থাকে। আবার অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলেও সেটিকে করোনায় উপসর্গ বলে চালানো হয়। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সবাই করোনা সংক্রমিত ছিলেন- এমনটি বলা সঠিক হবে না বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি সমকালকে বলেন, মৃত ব্যক্তিদের কেউ করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন, আবার কেউ নাও হতে পারেন। পরীক্ষা না করে কেউ এটি বলতে পারেন না। তবে গ্রামে নমুনা পরীক্ষা কম হয়। একই সঙ্গে মানুষের এ বিষয়ে আগ্রহও কম। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মহাপরিচালক বলেন, ঈদের পর রাজধানীর তিনটি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দশজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, তাদের আটজনই গ্রামের। ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি গিয়েও মানুষের জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করেছি। করোনার উপসর্গ থাকলেও অধিকাংশ মানুষ নমুনা পরীক্ষা করাতে অনাগ্রহী। স্বাস্থ্যবিধিও মানতে চান না। অথচ স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে প্রচার ও প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ সেটি আমলে নিচ্ছে না। গ্রামে মোট শনাক্ত ও মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশই এক মাসে :গত ২৫ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত এক মাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২৫ জুন পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় রোগী ছিল ১২ হাজার ৫৭৭ জন এবং মারা যান ২৯৬ জন। আর ২৪ জুলাই রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৬ জন এবং মৃত্যু ৪৮৪ জনে। মাত্র এক মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৪২৯ জন এবং মারা গেছেন ১৮৮ জন। একই সময়ে চট্টগ্রামের ১১ জেলায় রোগী ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ১৯৪ জন এবং মারা গেছেন দুই হাজার ৬৫০ জন। ২৪ জুলাই রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৮ হাজার ৪৪২ জন এবং মৃত্যু তিন হাজার ৪৭২ জন। অর্থাৎ গত এক মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৫ হাজার ২৪৮ জন এবং মারা গেছেন ৮২২ জন। ২৫ জুন পর্যন্ত রাজশাহীতে রোগী ছিল ৫১ হাজার ২৫৮ জন এবং মারা গেছেন ৯৫২ জন। ২৪ জুলাই রোগী বেড়ে ৭৬ হাজার ৯৯২ জন এবং মৃত্যু বেড়ে এক হাজার ৪৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৫ হাজার ৭৩৪ জন এবং মারা গেছেন ৫১২ জন। ২৫ জুন পর্যন্ত রংপুরে রোগী ছিল ২৩ হাজার ৮২১ জন এবং মারা গেছেন ৫৬৫ জন। ২৪ জুলাই রোগী বেড়ে ৩৯ হাজার ১৬৯ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে ৯৩০ জনে পৌঁছায়। এক মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৩৪৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৬৫ জনের। ২৫ জুন পর্যন্ত খুলনায় রোগী ছিল ৪৯ হাজার ৯৪৯ জন এবং মারা গেছেন এক হাজার ১১৪ জন। ২৪ জুলাই রোগী বেড়ে ৮৫ হাজার ৬১৬ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে দুই হাজার ৪৬৫ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ এক মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ৬৬৭ জন এবং মারা গেছেন এক হাজার ৩৫১ জন। ২৫ জুন পর্যন্ত বরিশালে রোগী ছিল ১৬ হাজার ৮৩৫ জন এবং মারা গেছেন ৪১৩ জন। ২৪ জুলাই রোগী বেড়ে ২৮ হাজার ১৮৬ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে ৫৮১ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ এক মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৩৫১ জন এবং মারা গেছেন ১৬৮ জন। ২৫ জুন পর্যন্ত সিলেটে রোগী ছিল ২৪ হাজার ৩২১ জন এবং মারা গেছেন ৫১৪ জন। ২৪ জুলাই রোগী বেড়ে ৩৪ হাজার ৭২০ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে ৬৭২ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ এক মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩৯৯ জন এবং মারা গেছেন ১৫৮ জন। একইভাবে ২৫ জুন রাজধানী ছাড়া ঢাকা বিভাগের ১২ জেলায় রোগী ছিল ৭৭ হাজার ৫৯৬ জন এবং মারা গেছেন দুই হাজার ৩৬ জন। ২৪ জুলাই রোগী বেড়ে এক লাখ ১২ হাজার ৩৫৯ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে দুই হাজার ৮১০ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ এক মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৬৩ জন এবং মারা গেছেন ৭৭৪ জন। রাজধানী ঢাকা ছাড়া সারাদেশে ২৫ জুন পর্যন্ত রোগী ছিল তিন লাখ ৬৯ হাজার ৫৫১ জন এবং মারা গেছেন আট হাজার ৫৪০ জন। ২৪ জুলাই রোগী বেড়ে পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে ১২ হাজার ৮৭৮ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ এক মাসে সারাদেশে রোগী শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৯ জন এবং মারা গেছেন চার হাজার ৩৩৮ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ হিসাবে দেশে করোনা সংক্রমণের ১৬ মাস চলছে। এর মধ্যে গত ১৫ মাসে ঢাকার বাইরে যতসংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে ৩৩ দশমিক ৭২ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে সর্বশেষ এক মাসে। একই সময়ে মারা গেছেন প্রায় সমসংখ্যক ৩৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ শনাক্ত ও মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশ গত এক মাসে ঘটেছে। 'গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন' :গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজধানীসহ বিভিন্ন নগরীতে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদাসীনতা রয়েছে। তবে বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে সেটি কিছুটা কমে এসেছে। কিন্তু গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে শতভাগ মানুষ এ বিষয়ে উদাসীন। এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট গ্রামেও পরিচালনা করতে হবে। এ ছাড়া সরকার গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত যে কমিটি গঠন করেছে, সেই কমিটিকে কাজে লাগাতে হবে। মাস্ক ব্যবহার না করলে তাকে শাস্তি ও জরিমানা করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, অসচেতনতায় গ্রামেও করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এখন নগরীর মতো গ্রামেও প্রায় সমান হারে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, বাড়ছে মৃত্যুও। এজন্য অসচেতনতা ও অসতর্কতা দায়ী। কারণ মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে গ্রামে উদাসীনতা শুরু থেকেই ছিল। সংক্রমণ বৃদ্ধির পরও তা বন্ধ হয়নি। সরকারকে দ্রুততম সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গ্রামে সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে চরম বিপর্যয়ে পড়তে হবে। সুতরাং স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক ব্যবহারে সারাদেশেই উদাসীনতা রয়েছে। তবে গ্রামে এ প্রবণতা অনেকগুণ বেশি। শহরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনা হয়; কিন্তু গ্রামে সেটি সম্ভব হয়নি। তবে সারাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে যে সুরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেটি সক্রিয় করে গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক ব্যবহারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সবার প্রতি আবারও আহ্বান থাকবে, মাস্ক ব্যবহার করুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখুন। (প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সমকালের বগুড়া ব্যুরো প্রধান মোহন আকন্দ) | 6 |
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভূমি রেজিস্ট্রেশনের কাজ। ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়েই পরিত্যক্ত ওই ভবনে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরের দক্ষিণপাশে নির্বাচন অফিসসংলগ্ন জরাজীর্ণ একতলা ভবনের দুটি কক্ষ নিয়ে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়। কক্ষ দুটির মধ্যে বিমের ও ছাদের একাধিক স্থানের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে আছে। ওই রডগুলোয় মরিচা ধরেছে। এ ছাড়া দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিস সংলগ্ন শৌচাগার থাকলেও এখানে জনসাধারণের জন্য নেই কোনো শৌচাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা। অথচ জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা শত শত লোকের যাতায়াত এ অফিসে।জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সাবরেজিস্ট্রি অফিসটি মেরামতের জন্য তৎকালীন সাবরেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একটি আবেদন ঝিনাইদহ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর পাঠানো হয়। এরপর ঝিনাইদহ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিস পরিদর্শন করেন। তাঁরা মেরামতের অযোগ্য বলে জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো পত্রে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার সুপারিশ করেন। এরপর কেটে গেছে কয়েক বছর। তবে জমি অধিগ্রহণ করা হলেও দরপত্রসহ ভবন নির্মাণের কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা উপজেলার ধাওড়া গ্রামের মফিজুল ইসলাম বলেন, 'সাবরেজিস্ট্রি অফিসটি একবারেই জরাজীর্ণ। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করতে এসেছি। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।'উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান মনীর বলেন, 'অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই জমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া এখানে অনেক মূল্যবান কাগজপত্র সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আশা করি স্বল্প সময়েই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।'এ বিষয়ে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার ইয়াসমিন শিকদার বলেন, 'বেশ ঝুঁকির মধ্যে অফিস করছি। রুমে বাঁশের সঙ্গে ফ্যান ঝোলানো রয়েছে। রুমের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে। পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।' তবে ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে নতুন ভবনের দরপত্র হতে পারে বলে জানান ইয়াসমিন শিকদার।সাবরেজিস্ট্রি অফিস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা লিজা। | 6 |
রাজশাহীতে থাকা কালজয়ী চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটক, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, স্যার যদুনাথ সরকার এবং কবি রজনীকান্ত সেনের বাড়ি সরকারের সংরক্ষণ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বাবু। রাজশাহীতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের খোঁজখবর নেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে একটি মুক্তমঞ্চ করার জন্য এখানকার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বারবার বলে আসছেন। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মুক্তমঞ্চ যেন হয় সেটির ব্যবস্থাও আমি করব। মতবিনিময় সভায় রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি ডা. মনসুর রহমান, ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি ডা. এফএমএ জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের জেলার সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য কামারুল্লাহ সরকার, বাংলাদেশ যাত্রা ফেডারেশনের জেলার সভাপতি গোলাম মোর্শেদ, রাজশাহী আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 9 |
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র নৃ তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ব্র্যাক সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি-ইনডিজেনাস পিপলসের আয়োজনে উপজেলার ব্র্যাক কার্যালয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন রংপুর জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট বিনয় টপ্য। বক্তব্য দেন ব্র্যাকের জয়পুরহাট অঞ্চলের সিনিয়র জেলা ব্যবস্থাপক নির্মল কেরকেটা, উপজেলার ব্র্যাক আইডিপির সোনারাম মারর্ডি ও রুহুল আমিন প্রধান প্রমুখ। | 6 |
মুক্তির দুইসপ্তাহের মাথায় দেড়শো কোটির ক্লাবে ঢুকে গেছে 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস'। এর আগে এতটা সাফল্য পাননি পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনুপম খের ও মিঠুন চক্রবর্তী। ছবিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। আমির খান, অক্ষয় কুমার, কঙ্গনা রানাউতসহ অনেকে ছবির প্রশংসা করেছেন। আবার সমালোচনাও শোনা যাচ্ছে। বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকর এই ছবিটি সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, 'হিন্দু ও মুসলিম; দুই সম্প্রদায়ের মানুষই এই ভারতের বাসিন্দা। দুই সম্প্রদায়েরই শান্তিতে থাকা উচিত। এদের একে-অন্যকে প্রয়োজন। পরস্পরকে ছাড়া থাকতে পারবেনও না। কোনও এক ছবির জন্য এই দুইয়ের মধ্যে বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া ঠিক নয়। দেখতে হবে সকলেই যেন শান্তিতে থাকেন।' সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 2 |
ঢাকা: এখনো নিজের কাজ নিয়ে প্রতিদিনই ব্যস্ত সময় পার করছেন দিলশাদ নাহার কণা। শিডিউল করা আছে আরও অনেক কাজের। আসছে লকডাউনে বদলে যাচ্ছে সব শিডিউল। কী হবে তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় কণা। নিজের কাজ ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।পাঠককে জানানোর জন্য এই মুহূর্তে আপনার সবচেয়ে বড় খবর কী?সপ্তাহে সাত দিনই কাজ করছি, ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। এটাই এখন বড় খবর।সাত দিনের ব্যস্ততাই বড় খবর?সময়টা তো ভালো যাচ্ছে না। মানুষ কাজ হারাচ্ছে। যে যার পেশা নিয়েই চিন্তিত। গানের মানুষ হিসেবে আমিও চিন্তিত। এই যেমন প্রতিদিন গান রেকর্ড করছি, কিন্তু ঠিক জানি না এগুলো কবে প্রচার শুরু হবে। কোম্পানিগুলোও চাচ্ছে গান প্রকাশ হোক। কিন্তু প্রতিদিন আমরা যেভাবে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তাতে সাহস হচ্ছে না গান প্রকাশ করার। আমি বিশ্বাস করি সুদিন আসবেই, সেই দিনের অপেক্ষায় আছি। সেই ব্যস্ততার ফিরিস্তি?প্রতিদিনই তো কোনো না কোনো কাজ করছি। হয় রেকর্ডিং নয় শুটিং। এই তো বসে আছি ঈদের একটি টিভি অনুষ্ঠানের রেকর্ডিংয়ে যাব বলে। সম্প্রতি বাপ্পা মজুমদার তাঁর পছন্দের ছয় গায়িকাকে নিয়ে একটা প্রজেক্ট করছেন। এতে তাঁর শ্রদ্ধা ও প্রীতিভাজন ছয় নারী শিল্পীর জন্য গান বানাবেন তিনি। এই পছন্দের তালিকায় রয়েছেন সামিনা চৌধুরী, আলিফ আলাউদ্দীন, এলিটা করিম, সোমনূর মনির কোনাল, ফারহিন খান জয়িতা ও আমি। আমি গেয়েছি 'মন ভালো' শিরোনামের একটি গান। এখন চলছে গানটির ভিডিওর পরিকল্পনা। ভিডিও হয়ে গেলেই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করবেন বাপ্পা মজুমদার। এই সপ্তাহে ব্র্যাক ব্যাংক, প্যারাসুটের বিজ্ঞাপনের জন্য গাইলাম। নিজেরও কয়েকটা গান নতুন করে গাইছি আমার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য। আরও বেশ কিছু গান ও জিঙ্গেলে কণ্ঠ দেওয়ার কথা হয়ে রয়েছে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে করোনা পরিস্থিতির ওপর।লকডাউন তো শুরু হয়ে গেল। ঈদের কাজ কতটা গোছানো হয়েছে?টেনশনে আছি। ঈদের কোনো কাজই বলতে গেলে গোছাতে পারিনি। সবকিছু এলোমেলো হয়ে আছে। জানি না কোন কাজগুলো এই ঈদে আসছে। কোম্পানিগুলোও আছে টেনশনে। তারা শুধু গান রেকর্ড করে নিচ্ছে। কবে রিলিজ করবে জানাতে পারছে না।গত বছর লকডাউনে তো গাজীপুরে চলে গিয়েছিলেনপাঁচ মাসের বেশি সময় ঢাকার বাড়ি ছেড়ে সেখানে ছিলাম। বাড়ি থেকে একদমই বের হইনি। ঘরে থেকেই সচেতনতামূলক গান ও বেশ কিছু ভয়েজ ওভারের কাজ করেছি। তবে এবার ঢাকাতেই থাকব। বরং মা-বাবাকে নিয়ে আসা যায় কি না, সেই চেষ্টা করছি। সামনে ঈদ, রেকর্ডিং হচ্ছে। গ্রামের বাড়ি থেকে তো কাজ করা কঠিন। তাই এবার ঢাকাতেই থাকব আশা করি। কাজের চাপেই কি এবার লকডাউনে ঢাকায় থাকার পরিকল্পনা?তা বলতে পারেন। বেশ কিছু কাজের শিডিউল তো হয়েই আছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে কাজ করা হবে কি না, সেটাই বুঝতে পারছি না। পরিস্থিতি বুঝে নতুন পরিকল্পনা সাজাতে হবে।কদিন আগে তো স্টেজ শোতে গান গেয়েছেন?অল্প কয়েকটি স্টেজ শো করছিলাম। করোনাকালে সাত-আট মাস একটি শোও ছিল না। আসলে স্টেজ শোর অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না এখন। ঘরোয়া কিছু শো হচ্ছিল। এখন তো আবার সব ধরনের আয়োজনই বন্ধ। স্টেজ শো শিল্পীদের আয়ের বড় এক উৎস। সেই পথও এখন বন্ধ। | 2 |
রোনালদোর সঙ্গে বিপাশা বসুর চুম্বনের ছবি ভাইরাল হতে শুরু করেছে সোশ্যাল সাইটে। তবে ছবিটি বেশ পুরনো। বিপাশার সঙ্গে রোনালদোর সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই নেট জনতা যেন নস্টালজিক হয়ে পড়েন। ৯০ এর দশকে বিপাশা যখন বি টাউনের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী, সেই সময় তাঁর সঙ্গে রোনালদোর সেই চুম্বন দৃশ্য যেন আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে জন আব্রাহামের সঙ্গে বেশ কয়ক বছর লিভ ইন করার সময় তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায় বাঙালি কন্যার। এরপর অ্যালোনের শ্যুটিংয়ের সময় করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে বিপাশার রসায়ন দেখে মুগ্ধ হয়ে যান দর্শকরা। ওই সময় থেকেই করণের সঙ্গে বিপাশার রসায়ন নিয়ে রিলের বাইরেও আলোচনা হতে শুরু করে। এরপর ঢাকঢোল পিটিয়ে অবশেষ করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গেই সাতপাকে বাঁধা পড়েন বিপাশা বসু। যদিও করণের সঙ্গে বিপাশার বিয়ে নিয়ে অনেকেই অনেকরকম মন্তব্য করতে শুরু করেন। বি টাউন জুড়ে তাঁদের বিয়ে নিয়ে যতই জল্পনা হোক না কেন, বিয়ের ৪ বছর পরও সুখেই করণের সঙ্গে সংসার করছেন তিনি। | 2 |
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, 'ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের কারণে মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছে। নিরাপদ খাদ্যের জন্য সব পেশাজীবীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সবাইকে নিজের ঘর থেকেই নিরাপদ খাদ্য অভিযান শুরু করতে হবে।' বুধবার নগরের মোটেল সৈকতের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত 'নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা' শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও বিভাগীয় প্রশাসন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ, বিএফএসএর চেয়ারম্যান সৈয়দা সারোয়ার জাহান, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোছাম্মৎ নাজমুন আরা খানম প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএসএর সদস্য এ কে এম নুরুল আফসার। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে এক মিনিট মাদক ও এক মিনিট নিরাপদ খাদ্য, ইমাম তার খুতবায় এক মিনিট মাদক ও এক মিনিট নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে বললে এ প্রচেষ্টা সফল হবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেম্বার, এনজিওকর্মীরা এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারেন। মন্ত্রী বলেন, এক সময় বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ছিল। সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সে ঝুঁকি আমরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। এ সময় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট অভিযান জোরদার করতে সংশ্নিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি বছর ১০ জনে একজন অনিরাপদ খাদ্যে সৃষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ আক্রান্ত হয় ডায়রিয়ায়। | 6 |
আজ ২ নভেম্বর দিনটি ভারতবর্ষের কয়েক কোটি মানুষের জন্য খুব স্পেশ্যাল, কারণ আজ তাদের প্রিয় তারকার জন্মদিন। এদিন ৫৬-য় পা দিলেন বলিউডের 'কিং অফ রোম্যান্স'। রাজ, রাহুল থেকে কখনও কবীর খান কিংবা মোহন ভার্গব সিলভার স্ক্রিনের সব চরিত্র জীবন্ত হয়ে উঠেছে শাহরুখের অভিনয় গুণে। এর পাশাপাশি অভিনেতার মায়বী চাউনি, গালের ডিম্পল কিংবা মিষ্টি হাসিতে আজও ফিদা ষোড়শীর হৃদয়। হাঁটুর বয়সী মেয়েরাও তাঁকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে, তিনি হাজার হাজার তরুণীর বুকের ধুকপুকানি বাড়িয়ে দেন নিমেষে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। তবে অন্যান্য বছরের থেকে এই বছর শাহরুখের জন্মদিনটা একদম আলাদা। সদ্যই বড় ছেলে আরিয়ান খানের নাম মাদককাণ্ডে জড়ানোর নানান প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হয়েছেন শাহরুখ খান। ছেলেমেয়েকে মানুষ করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন এমন অভিযোগ এনেছেন কেউ, অনেকে আবার কঠিন সময়ে প্রিয় তারকার পাশে দাঁড়িয়েছেন। কাকতালীয়ভাবে শাহরুখের জন্মদিনের দিনই ক্রুজ ড্রাগ পার্টি কাণ্ডেরও একমাস পূর্তি। ২রা অক্টোবর গোয়াগামী প্রমোদতরী থেকে আটক হয়েছিল আরিয়ান খান। এবছর জন্মদিনটা কোথায় কাটাবেন শাহরুখ? আদৌও কোনও সেলিব্রেশন হবে? শাহরুখ- গৌরীর পরিচিতমহল সূত্রে খবর, মাসকয়েক আগে থেকে আলিবাগের আলিশান বাড়িতে শাহরুখের জন্মদিনটা সেলিব্রেট করবার প্ল্যান করে রেখেছিলেন তারকা দম্পতি। আব্রামেরও তেমনই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সব প্ল্যানিং নাকি ভেস্তে গিয়েছে গত একমাসের ঘটনার ঘনঘটায়। আলিবাগ যেতে হলে কোলাবা থেকে জলপথে রওনা দিতে হবে শাহরুখ-গৌরীদের। পাপারাতজিদের ভিড় মন্নতের বাইরে সারাক্ষণ লেগে রয়েছে। এই অবস্থায় কোনওভাবেই আরিয়ানকে নিয়ে আলিবাগে যাওয়ার রিস্ক নিতে রাজি নন শাহরুখ। তবে ছেলে ফেরায় ঘরোয়াভাবে জন্মদিনটা কাটাবেন তিনি। ছেলে ফিরবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন তিনি। এখন কিছুটা স্বস্তিতে আছেন বলিউডের এ বাদশা। সূত্রের খবর, আরিয়ানের জেলমুক্তির পর হাসি ফুটেছে শাহরুখের মুখে। শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন, মেসেজের জবাবও দিয়েছেন। তবে এখনই কাউকে মন্নতে আসতে বারণ করেছেন শাহরুখ, ছেলেকে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য একটু সময় দিতে চান তিনি। | 2 |
নগ্ন অবস্থায় সড়কে দাঁড়িয়ে যান চলাচলে বাধা দেওয়ায় মালয়েশিয়ার পুচং শহরে এক ব্যক্তিকে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডেপুটি ওসিপিডি ফাইরুজ জাফর রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ ২৬ নভেম্বর ওই ব্যক্তির ব্যাপারে জানতে পারার পর এ ব্যবস্থা নেয়। নগ্ন অবস্থায় ওই ব্যক্তি একটি লরির ওপর উঠছেন, এমন একটি ভিডিও নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় এসব তথ্য জানান ডেপুটি ওসিপিডি ফাইরুজ জাফর। পুচংয়ের পেকান বাতু এলাকার কামপুং বারু সেতুতে এ ঘটনা ঘটে। কাজাং হাসাপাতালে পাঠানোর আগে ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাইরুজ জাফর বলেন, ওই ব্যক্তি এখন হাসপাতালে মানসিক রোগীদের ওয়ার্ডে ভর্তি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশি এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তবে পরিচয় চিহ্নিত করার মতো কোনো কাগজপত্র তাঁর কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। | 3 |
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম থেকে ১ হাজার ৯শ পিস ইয়াবাসহ রহমত উল্লাহ (২৬) নামের এক রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে ঘুমধুম পুলিশ। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।আটক রহমত উল্লাহ কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৩ এর রোহিঙ্গা আজিম উল্লাহর ছেলে।নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর হোসেনের জানান, ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্ব এসআই ইউনুছের সঙ্গীয় টিম মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াহিয়া গার্ডেনের প্রবেশ মুখ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা হয়েছে। | 6 |
দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর টেলিভিশন পর্দায় আবার আসছে ধারাবাহিক নাটক 'গুলশান এভিনিউ: সিজন ২'। নাটকটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তারিক আনাম খান, পরিচালক হিসেবে আছেন তাঁর স্ত্রী নিমা রহমান। আগামী পহেলা ডিসেম্বর থেকে বাংলাভিশনে নাটকটির প্রচার শুরু হবে। ২৮ নভেম্বর টেলিভিশন কার্যালয়ে নাটকটির প্রচার উপলক্ষে প্রেস শোর আয়োজন করা হয়। সেখানে তারিক আনাম খান বলেন, দেড় হাজার পর্ব প্রচারের লক্ষ্যে নাটকটির নির্মাণ শুরু হয়েছে। নাটকটির বর্তমান গল্পের সঙ্গে আগের গল্পের কোনো মিল নেই। নতুন প্রজন্মের দর্শক ধরতে তাঁদের ভিন্ন কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। নাটকটির পরিচালক নিমা রহমান বলেন, '"গুলশান এভিনিউ"-এ আগেও গল্পের দিক থেকে কোনো ঘাটতি ছিল না। এবারও হবে না। গতবারের মতো এবারও আমরা সাকসেসফুল হব। আমাদের নাটকে যে শিল্পীরা রয়েছেন, তাঁদের সবাইকে বলা হয়েছে, টানা অভিনয় করে যেতে হবে। আমাদের গল্প আগের চেয়ে অনেক বেশি ইনটেনসিভ। বর্তমান জেনারেশনের কথা মাথায় রেখেই আমরা নাটকটি নির্মাণ করছি। এখন সবাই স্মার্ট। ডিজিটালকে আমরা যেভাবে ক্যারি করতে পারব, সেভাবেই নাটক এগোবে।' গল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এটি বর্তমান সময়ের উচ্চ শ্রেণির মানুষের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সম্পত্তি নিয়ে লড়াই, তাদের জীবনযাপনের টানাপোড়েনের গল্প।' সংবাদ সম্মেলনে তারিক আনাম খান বলেন, 'প্রথম সিজনে আমরা প্রায় ৪ বছরে ৯০০-এর কাছাকাছি পর্বের শুটিং শেষ করেছিলাম। সেই সময় আমাদের আলাদা একটা দর্শক তৈরি হয়েছিল। সেই নাটক আবার নতুন করে নির্মাণে এনেছি। আশা করছি আবারও আমরা দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারব, এটা আমরা প্রমাণ করব। আমরা স্ক্রিনে একটি ভিন্নতা আনতে চেষ্টা করছি। কস্টিউম থেকে শুরু করে সব আমাদের কেনা। কলকাতায় একটা কথা আছে, 'দাদা, শুধু বডিটা নিয়ে আসবেন, বুঝলেন।' আমাদের নাটকেও এমন একটা ব্যাপার আছে। কোনো শিল্পীকে সঙ্গে কিছু আনতে হবে না।' আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন বুধ থেকে রোববার রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রচারিত হবে। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, তানভীন সুইটি, দীপা খন্দকার, ফারজানা চুমকি, মিম চৌধুরী, সুব্রত চক্রবর্তী, চৌধুরী মাজহার আলী-শীবা, শতাব্দী ওয়াদুদ, শেলী আহসান, সিরাজুল ইসলাম, রিয়াদ রায়হান, তৃষ্ণা হাওলাদার, আফরোজা আক্তার, নিলুফার ইয়াসমিন, অধরা প্রিয়া, নাঈমা আলম মাহা, মোস্তাফিজ শাহিন, জোনায়েদ বোগদাদী, সালমান আরাফাত, বাপ্পা, শ্রাবণ, মুন্নাসহ আরও অনেকে। বাংলাভিশনে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাভিশনের চেয়ারম্যান আবদুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এ কে আনোয়ারুজ্জামান, হেড অব প্রোগ্রাম তারেক আখন্দ প্রমুখ। | 2 |
পানির অপচয়রোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার সৃষ্টির জন্য মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু করেছে আরএফএল বাথরুম ফিটিংস।সম্প্রতি বাড্ডায় আরএফএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরএন পাল। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া পানির অপচয়রোধে আইডিয়া শেয়ার করে যে কেউ জিতে নিতে পারেন আকর্ষণীয় পুরষ্কার।এ ক্যাম্পেইনের বিস্তারিত জানা যাবে আরএফএল বাথরুম ফিটিংসের ফেসবুক পেজে (../)। অনুষ্ঠানে আরএন পাল বলেন, 'আমাদের অসচেতনতার কারণে উত্তোলিত পানির বেশিরভাগ অপচয় হয়। একটু সচেতন হলে এই মূল্যবান পানির অপচয় রোধ করা সম্ভব। আমরা শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নই, আমরা কর্পোরেট হাউস। আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। সেই কাজে সকলের সহযোগিতা চাই।' তিনি আরও বলেন, আরএফএল বাথরুম ফিটিংসে সায়েন্টিফিক ভাল্ব ও ১০০% ব্রাশের তৈরি কার্টিজ ব্যবহার করা হয়, যা সম্পূর্ণ পানি লিকেজ মুক্তের নিশ্চয়তা দেয়।এছাড়া আমরা খুব শিগগির সেন্সর ভিত্তিক ও লিভার টাইপ বাথরুম ফিটিংস বাজারজাত শুরু করবো, যা পানির অপচয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আরএফএল বাথরুম ফিটিংসের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের দৈনন্দিন অপচয়ের কারণে বিশুদ্ধ পানি ক্রমশ কমে যাচ্ছে যা আমাদের জীবনের ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি।এই হুমকি মোকাবিলায় সবার মধ্যে অভ্যাসগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পানির অপচয়রোধের জন্য আমরা শুরম্ন করেছি খামখেয়ালিপানি" শীর্ষক ক্যাম্পেইন। অনুষ্ঠানে আরএফএল বাথরুম ফিটিংসের বিজনেস ইনচার্জ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ডিজিটাল মিডিয়ার কর্মকর্তা এরশাদুল হোসেনসহ কোম্পানির উধ্বর্তন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি | 0 |
সম্পদের জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। তবে এ জন্য হাজারখানেক মানুষ মিলে একটা গ্রাম পুরো খুঁড়ে একাকার করে দেওয়ার ঘটনা সম্ভবত এবারই প্রথম ঘটল। কেউ হয়তো যুক্তি দেখাতে পারেন, কৃষিকাজের জন্য জমিতে তো খোঁড়াখুঁড়ি, লাঙল দেওয়াই হয়। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ওই গ্রামের খোঁড়াখুঁড়ির সঙ্গে কৃষিকাজের কোনো যোগসূত্র নেই। অজ্ঞাত এক পাথরের কারণে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে ওই গ্রামের মানুষ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ঘটনাটি দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের কোয়াহ্লাথি গ্রামের। গত শনিবার থেকে ওই গ্রামে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে স্থানীয় লোকজন। দেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও অনেকে ছুটে গেছে সেখানে। গত সোমবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খোঁড়াখুঁড়ি চলছিল। ঘটনার শুরু এক পশুপালকের একটি পাথর খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে। পশু চরাতে গিয়ে একটি খোলা মাঠে মাটি খুঁড়ে তিনি ওই পাথর পান। পাথরটি আসলে কী, তা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে স্থানীয় লোকজন এটাকে হীরা বলে ধরে নিয়েছে। এরপর খবর ছড়িয়ে পড়ে, কোয়াহ্লাথি গ্রামে মাটির নিচে হিরা রয়েছে। আর তারপরই দলে দলে মানুষ ওই গ্রামে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। ২৭ বছর বয়সী স্থানীয় এক তরুণ বলেন, খোঁড়াখুঁড়ি করে তিনি বেশ কয়েকটি পাথর পেয়েছেন, যদিও সেগুলো আকারে ছোট। তিনি বলেন, 'পাথরগুলো আমাদের জীবন বদলে দেবে। কারণ, আমি যে কাজ করি, তা সম্মানজনক নয়। পাথরগুলো নিয়ে যখন বাড়ি ফিরলাম, সবাই আনন্দে নেচে উঠেছিল।' এদিকে গ্রামজুড়ে ওই খোঁড়াখুঁড়ির খবর সরকারের কাছেও চলে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার খনিজ সম্পদ দপ্তর সোমবার বলেছে, তারা ওই গ্রামে একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। এই দল নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে জানাবে, পাথরগুলো আসলে কী। তবে খনিজ সম্পদ দপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বসে নেই স্থানীয় লোকজন। তারা এরই মধ্যে পাথরগুলো আকারভেদে ১০০ র্যান্ড (৭ দশমিক ২৯ মার্কিন ডলার) থেকে ৩০০ র্যান্ড দরে বিক্রি শুরু করে দিয়েছে। এদিকে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ অনুসন্ধানের সুযোগ দিতে খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করে সবাইকে সরে যেতে বলেছে প্রাদেশিক সরকার। সরকারের আশঙ্কা, এভাবে হাজারো মানুষ একসঙ্গে জড়ো হওয়ার কারণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে কর্তৃপক্ষের কোনো কথাই কানে তুলছে না কেউ। | 3 |
ভারী বৃষ্টিতে উত্তর কোরিয়ায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজারের বেশি ঘরবাড়ি, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দেশটির পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিটিভির বরাত দিয়ে আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। কেসিটিভির এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বন্যাকবলিত এলাকায় পানি প্রায় বাড়ির ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি সেতু। দেশটির হ্যামগিউ প্রদেশে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির নিচে চলে গেছে রাস্তাঘাট। প্রদেশটিতে নদীর তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণে নির্মাণ করা বাঁধগুলোও ভেঙে পড়েছে। দক্ষিণ হ্যামগিউ প্রদেশে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোয় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সহায়তা পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন বলে রোববার কেসিএনএর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছেন উত্তর কোরিয়ার আবহাওয়া অফিসের উপপ্রধান রি ইয়ং ন্যাম। তিনি বলেন, আরও বৃষ্টিপাত বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছে উত্তর কোরিয়া। গত জুনে খাদ্যসংকটের কথা স্বীকার করে দেশটির সরকার। দীর্ঘ সময় ধরেই দেশটির কৃষিব্যবস্থা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। এর জেরে দেশটির খাবারের জোগান মেটাতে হিমশিম খেতে হয় পিয়ংইয়ংকে। গত মাসে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানায়, চলতি বছরে উত্তর কোরিয়ায় ৮ লাখ ৬০ হাজার টন খাদ্যের সংকট রয়েছে। এর জের ধরে দেশটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। দুর্বল অবকাঠামো এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত বেশি প্রকট হয় উত্তর কোরিয়ায়। নির্বিচারে বন উজাড় দেশটিতে বন্যার ঝুঁকি বহু গুণে বাড়িয়ে তুলেছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। | 3 |
বিশ্বে করোনায় মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮৪৬। শনাক্ত হয়েছে ১২ কোটি ৬৭ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০ কোটি ২১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৫ জন। খবর ওয়াল্ডোমিটারের। বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬ জন। আর এই মহামারিতে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭ জনের। যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ব্রাজিল। আক্রান্ত ও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ২৪ লাখ ৪ হাজার ৪১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ১১২ জনের। মৃত্যু বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী মেক্সিকো রয়েছে তৃতীয় স্থানে। আক্রান্ত বিবেচনায় দেশটির অবস্থান ১৩ নম্বরে। মেক্সিকোতে শনিবার সকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৮৬২ জনের। মৃত্যুর দিক থেকে চতুর্থ স্থানে ভারত, পঞ্চম স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এ পর্যন্ত ভারতে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৪৯ জনের, যুক্তরাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৫ জনের।
| 3 |
যুক্তরাষ্ট্র কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ফাইজারের আরও ৬০ লাখ ডোজ করোনা টিকা অনুদান দিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ফেব্রুয়ারি) ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এই অনুদানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উপহার দেয়া মোট টিকার সংখ্যা সাড়ে চার কোটি ডোজ ছাড়ালো। এছাড়া উপহারের আরও টিকা বাংলাদেশে আসার পথে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার টিকা অনুদানের একাধিক চালান পাঠানোর মাধ্যমে যতো বেশি সম্ভব বাংলাদেশি নাগরিকদের টিকা দেয়ার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৭ হাজারের বেশি স্বাস্থ্য সেবাদানকারীকে টিকাদান কার্যক্রম উপযুক্তভাবে ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কোল্ড চেইন পদ্ধতি মেনে সংরক্ষণ ও পরিবহনের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.