text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
চাকরিতে নতুন যোগ দেওয়ার পরপরই কোনো উৎসব থাকলে এখন থেকে সরকারি কর্মচারীরা এক মাসের মূল বেতনের সমান উৎসব ভাতা পাবেন। আগে চাকরির মেয়াদ এক বছর পূর্ণ না হলে এই ভাতা দেওয়া হতো না কিংবা দেওয়া হলেও সেটা হতো আংশিক। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আজ সোমবার এ বিষয়ে 'অফিস স্মারক' আকারে একটি নির্দেশনা জারি করেছে। সরকারি, আধা সরকারি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নবনিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, 'একজন নবনিযুক্ত কর্মচারী যে মাসে উৎসব অনুষ্ঠিত হবে, সেই মাসে বা তার আগের মাসে যত তারিখেই যোগদান করুক না কেন, যোগদানকৃত পদের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসব ভাতা হিসেবে প্রাপ্য হবেন।' বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, হিসাব মহা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিজিএ), বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের কাছে আজই নির্দেশনাটির কপি পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত সরকারি কর্মচারীরা এত দিন আংশিক উৎসব ভাতা পেতেন। অর্থাৎ একজন সরকারি কর্মচারী ২ তারিখে চাকরিতে যোগ দিলে আর ১৫ তারিখে কোনো উৎসব এলে ওই নবনিযুক্ত সরকারি কর্মচারী তখন ১৩ দিনের উৎসব ভাতা পেতেন। তবে অর্থ বিভাগেরই আরেকটি সূত্র জানায়, চাকরির মেয়াদ এক বছর পূর্ণ না হলে উৎসব ভাতা দেওয়া হতো না, একসময় এমন নিয়মও ছিল।
0
হারলেই প্লে-অফের স্বপ্ন শেষ। কঠিন এই সমীকরণ মাথায় নিয়ে রাতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মুখোমুখি হচ্ছে মোস্তাফিজুর রহমানের রাজস্থান রয়্যালস।আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইয়ের হয়ে এক মৌসুম (২০১৮ সালে) কাটিয়েছেন মোস্তাফিজ। আগের ম্যাচে ভীষণ খরুচে (৪ ওভারে ৫১ রান দিয়েছেন) ফিজ আজ সাবেক ফ্র্যাঞ্চাইজির বিপক্ষে আলো কাড়ার অপেক্ষায়।আইপিএলের প্লে-অফ পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস, ঋষভ পন্তের দিল্লি ক্যাপিটালস ও বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আর সবার আগে দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছে ফিজেরই আরেক সাবেক দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।বাকি একটিমাত্র স্পটের জন্য লড়তে হচ্ছে চার দলকে। ১২টি করে ম্যাচ খেলা রাজস্থান-মুম্বাইয়ের পয়েন্টও সমান ১০। তবে রানরেটে এগিয়ে থাকায় টেবিলের পাঁচে আছেন মোস্তাফিজরা, ছয়ে রোহিত শর্মার মুম্বাই।আজ জিততে পারলে সাকিব আল হাসানের কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ছুঁয়ে ফেলবে মোস্তাফিজের রাজস্থান। সে ক্ষেত্রে আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের দুই তারকার লড়াইয়ে যিনি জিতবেন, তাঁর দল উঠে যাবে শেষ চারে।আইপিএলের আরব আমিরাত পর্বে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে পরশুর ম্যাচ ছাড়া বাকিগুলোতে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন ফিজ। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে ১২ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন 'কাটার মাস্টার'।শেষ চারে জায়গা করে নিতে আজও নিশ্চয়ই মোস্তাফিজের দিকে চেয়ে থাকবে রাজস্থান।
12
প্রাক মৌসুম যুক্তরাষ্ট্র সফরে জুভেন্টাসের হয়ে খেলছেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই সফরে এমএলএস অল-স্টার কিংবা ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপ- কোনোটিতেই পর্তুগীজ এই তারকাকে দেখা যাবে না। ক্লাব সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সোমবার জুভেন্টাসের খেলোয়াড় হিসেবে রোনালদোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। সেখানেই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন ৩০ জুলাই তিনি জুভেন্টাসের হয়ে প্রাক মৌসুম অনুশীলন শুরু করবেন। আগামী ৪ আগস্ট জুভেন্টাস রোনালদোর সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে। সিরি-আ চ্যাম্পিয়নরা অবশ্য নিশ্চিত করেছে ৩৩ বছর বয়সী রোনালদো দলের সাথে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকবেন। তুরিনের অনুশীলনে রোনালদো গঞ্জালো হিগুয়েইন, পাওলা দিবালা, হুয়ান কুয়াড্রাডো, রডরিগো কেনটাকার, ডগলাস কস্তাদের সাথে মিলিত হবেন। তবে ১৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন মৌসুমের আগে দলের সাথে যোগ দিবেন বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট মারিও মান্দজুকিচ, মার্কো পিয়াকা, ব্লেইস মাতৌদিরা। আগামী ১২ আগস্ট জুভেন্টাসের যুব দলের বিপক্ষে ঐতিহ্যগত প্রীতি ম্যাচটির মাধ্যমে জুভেন্টাসের হয়ে রোনালদোর অভিষেক হতে পারে। আগামী ২৫ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে জুভেন্টাস তাদের আইসিসি মিশন শুরু করবে। এরপর ২৮ জুলাই নিউ জার্সিতে বেনফিকার মুখোমুখি হবে। ১ আগস্ট এমএলএস অল-স্টারদের ম্যাচটির তিন দিন পরে রিয়ালের মোকাবেলা করবে।
12
ডিজিটাল খাতা খুলে বসে আছি, প্রতি শুক্রবারের মতো নিজের কলাম লিখব বলে। লিখতে পারছি না। একটা শব্দও টাইপ করতে পারিনি। ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে একটা সুইসাইড নোট। খানিক পরে ছেড়ে যাবেন যে দেহটাকে, তাকে কাটাছেঁড়া না করতে অনুরোধ করেছেন একজন গীতিকবি। এক জীবনের শেষ অনুরোধ। কবি কি আসলে দেহে থাকেন? রক্তমাংসের দেহকে কেটে-ছিঁড়ে জানা যায় কি কবিকে? জানা যায় মৃত্যুর কারণ? কবির কি মৃত্যু হয়? কবি বরাবর সত্য বলেন। কিন্তু কবি রাসেল ও'নীল শেষ কথাটা মিথ্যা লিখে গেলেন। লিখে গেলেন, 'কেউ দায়ী নয়'।বললেই হলো কেউ দায়ী নয়? মৃত্যু কোনো আনন্দভ্রমণ নয় যে স্বপ্রণোদিত হয়ে কেউ খুশিমনে টিকিট কেটে হাসতে হাসতে চেপে বসবে মৃত্যু-শকটে। অনন্যোপায় শেষযাত্রায় পা বাড়ানোর কঠোরতম সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পেছনে কেউ তো নিশ্চয়ই দায়ী। কে সেটা? কিংবা, কে কে? জানা যাবে না। কোনো দিন আর জানা যাবে না। কারণ, কবি নিজেই চাননি জানাতে। আমরা তাঁর কে, যাকে উজাড় করে জানাবেন অন্তর-বাহির? আমরা কতটাই-বা জানতে চেয়েছি? জানতে চাই? একজন কবিকে? বিশেষ করে, গীতিকবিকে? তিনি যা জানান, তাও তো আমরা 'তাঁর কথা' বলে জানি না। জেনে নিই, কিংবা ধরে নিই এবং মেনে নিই অন্য কারও কথা বলে। যাঁর কণ্ঠে শুনি সেই গীতিকাব্য, তাঁর কথাই ভাবি সবচেয়ে বেশি। আর তারপর, নিজের কথা। আমার জন্যই গেয়েছেন আমার প্রিয় শিল্পী। কে লিখে দিলেন সেই গান-তিনি তখন অনেক তফাতে। তাই রাসেল ও'নীলের গান শোনেননি এমন শ্রোতা এই প্রজন্মে বিরল হলেও রাসেলেরই যে গান এগুলো-এই কথা তাদের কজন জানতেন? কজন জানেন!মৃত্যু অনেক কারণেই হতে পারে। তার মধ্যে সবচেয়ে তুচ্ছ কারণ আত্মহত্যা। যার কোনো মানে নেই। যার কোনো ব্যাখ্যা নেই, যার কোনো কারণও নেই বলে দাবি করি আমরা সবাই। আমিও করি। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে-যখন এটা ঘটে, মানে এই হৃদয়বিদারক, প্রায় অসম্ভব অঘটনটা...ঠিক ওই মুহূর্তে, ওই ব্যক্তিটির স্থানে নিজেকে স্থাপন করতে চেষ্টা করে দেখুন না! দেখবেন, তখন পৃথিবীতে আর কোনো কারণ নেই, নেই কোনো আশা, কোনো সম্ভাবনা, কোনো একটা হেল্পলাইন। নচেত তিনি সফল হন কী করে আত্মহননে? আমি নিজে একাধিকবার চেষ্টা করে দেখেছি, পারিনি এবং মেনে নিয়েছি-এই পৃথিবীতে আত্মহননের চেয়ে কঠিন কাজ আর নেই, আমার পক্ষে যা করা হয়তো সম্ভব হবে না কোনো দিন।তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল একবারই। সেটা সম্ভবত ২০০৫ কিংবা ২০০৬ সালে। খুবই সাধারণ একটা সাক্ষাৎ। পুরানা পল্টনে সংবাদ পত্রিকার অফিসে। তিনি তখন চাকরি করতেন সেখানে। সম্ভবত বিনোদন বিভাগে। আমাকে তাঁর অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন আমার বন্ধু সুজন আরিফ। মাত্র কিছুদিন আগে আরিফের একটা নতুন গান তৈরি হয়েছিল আমার লিরিকে। সেই গান শুনে প্রশংসা করেছিলেন রাসেল ভাই। 'ভালোবাসিরে' শিরোনামের সেই গানটা আসলে পুরোটা আমার লেখা নয়। আরিফ নিজেই গানের মুখটুকু তৈরি করেছিল নিজের কথা ও সুরে। পরে অন্তরার সুর করে হৃদয় খান, আমি সেই সুরের ওপরে কথা সাজাই। রাসেল ভাই তখন পর্যন্ত মানতেন যে, সুর অনুসরণ করে ভালো লিরিক লেখা যায় না। আমি সুরের ওপরে লিরিক লিখি শুনে বকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আরিফের সেই গানটা শুনে, সেটা ওভাবেই লেখা জেনে তিনি নিজের কথা ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। বলেছিলেন, 'এইটা আমার ভালো লেগেছে। মেনে নিচ্ছি, পরে লিরিক লিখেও, মানে বাঁধা মিটারে কথা সাজিয়েও ভালো লিরিক লেখা যায়।' কিন্তু আবার এটাও বলেছিলেন, 'আপনাকে কবিতার মতো করে, অর্থাৎ সুরের আগে লিরিক লিখার প্র্যাকটিস ছেড়ে দিলে হবে না। কারণ, আপনি লিরিকে যা বলতে চান, তা পুরোপুরি বলতে পারবেন তখনই, যখন আপনার সামনে কোনো প্যারামিটার থাকবে না।'রাসেল ভাই, আপনি লিরিকে যা বলতে চেয়েছিলেন, তা কি পুরোপুরি বলতে পেরেছিলেন? অন্তত যে লিরিকে লিখেছিলেন সেই কথাগুলো, একদম ভেতরের কথা, গহিনের কথা, সেই লিরিকগুলো কি শোনাতে পেরেছেন কোনো শ্রোতাকে? কোনো সুরকার কি সুর দিয়েছেন তাতে? গেয়েছেন কোনো গায়ক? 'রাসেলের গান' বা 'রাসেল ও'নীলের গান হয়ে উঠতে পেরেছিল কি কোনো গান? এখনকার বাংলাদেশে কোনো গীতিকারই কি শেষ পর্যন্ত লিখতে পারে সেই কথাগুলো? প্যারামিটার ছাড়া একটা ধবধবে শাদা-শুভ্র গানের খাতা কেউ কি দিয়েছে কোনো গীতিকারকে? দেয় কেউ!আপনার মৃত্যু অন্য কোনো রোগে হলে বা কোনো রোগ ছাড়াই...হয়তো দুর্ঘটনায়, কিংবা ঘুমের মধ্যে স্বাভাবিক মৃত্যু, অথবা...ওই যে ডাক্তারেরা বলেন না, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে...দেখুন, মানুষের শরীরে কতই না অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। আমরা বলি না মস্তিষ্কযন্ত্র, বলি না ফুসফুসযন্ত্র, বলি না বৃক্কযন্ত্র বা যকৃৎযন্ত্র; কিন্তু আমরা বলি হৃদ্যন্ত্র! হৃদয় ব্যাপারটা জড়িত যার সঙ্গে, তাকেই আমরা যন্ত্র বানিয়ে দিলাম! যন্ত্রের মতো চলতে থাকাই যার কাজ। কোনো মানবিক আবেগ স্পর্শ করবে না, কোনো ভাবালুতায় আক্রান্ত হওয়া যাবে না, সিঁড়ির নিচের কোনায় লুকানো পানির পাম্পের মতো একঘেয়ে চলতে থাকতে হবে আর রক্ত পাম্প করতে থাকতে হবে সারা শরীরে-এই হলো কাজ আমাদের হৃদয়ের। সেই যন্ত্র-কঠিন হৃদয়টা যদি সেইভাবে চালিয়ে যেতে দিতে পারতেন, যদি তাকে থামতে দিতেন নিজের নিয়মে, নিজের নির্ধারিত সময়ে, তার আগে আপনিই তাকে আগবাড়িয়ে থামিয়ে না দিতেন; এত কথা হয়তো উঠত না। মানুষ তো কতভাবেই নিজেকে ধ্বংস করে। নিজের অমিত সম্ভাবনা নষ্ট করে, প্রতিভার প্রতি অন্যায় করে, সৃজনশীলতা নষ্ট করে, নিজের স্বাধীনতা ধ্বংস করে, নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছার গলা টিপে মারে, নিজের কণ্ঠস্বরকে বাজেয়াপ্ত হতে দেয়...আপনি নিজের জীবনটাকেই শেষ করে দিলেন।...আপনার সাথে আমার ওই একটা দিনের পরিচয়, একদিনের আলাপ। তারপর আর কোনো দিন দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। আমরা ফেসবুকেও ছিলাম না পরস্পরের ফ্রেন্ড লিস্টে। কিন্তু আপনার লেখা গান আমি শুনতাম। জানি না, আপনিও শুনতেন কিনা আমার লেখা গান। আমার শোনার উপযোগী গান আপনি লিখতেন নিয়মিত, আপনার শোনার উপযোগী গান আমি লিখতে পেরেছি কিনা জানি না, ওই একটা ছাড়া। একটা গোটাও নয়, অর্ধেকের একটু বেশি। সেই গানটা আপনার ভালো লেগেছিল। আর আমার ভালো লেগেছিল আপনার আন্তরিক ব্যবহার। অন্য অনেকের মতো কপট গাম্ভীর্য ধরে রেখে, কিংবা 'ধরি মাছ না ছুঁই পানি' ভদ্রতা দেখিয়ে 'জি ভাই, ভালো আছেন'-টাইপ ফর্মালিটির ধার না ধেরে আপনি সরাসরি বলেছিলেন আপনার পছন্দ-অপছন্দের কথা। বয়সে এবং কাজের অভিজ্ঞতায় অল্প কয়েক বছরের অগ্রজ হলেও সুপরামর্শ দিতে আপনি কার্পণ্য করেননি, এবং তা করেছেন আন্তরিকতা নিয়েই। ভান-ভণিতা আমি দেখিনি আপনার আচরণে।আর 'যদি না হয় কথা/জমে নীরবতা', তাহলে কী হবে? আপনি বলেছিলেন, 'ফের দেখা হবে।' বলেছিলেন 'চোখে রাখতে চোখ', বলেছিলেন, 'চোখে চোখে কথা হোক'। হায়, চোখই বুঁজে ফেললেন এত তাড়াতাড়ি? এই অবেলায়! বলে গেলেন, 'যত দূরেই যাই/জানি না তো কবে/জেনে রেখো শুধু/ফের দেখা হবে।' অথচ, এত দূরে চলে গেলেন, আর কবে দেখা হবে?...কিংবা, কে জানে, হতো বেশি দূরেও নয়, খুব দেরিও নেই! আমিই কি জানি, আমি কতটা দূরে আছি সেই শেষ গন্তব্যের?
2
গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীতে কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে আহত এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম আশিক হোসেন। বয়স ১২ বছর। শনিবার সকালে বিস্ফোরণে আহত হওয়ার পর দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, শিশুটিকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে সে মারা যায়। শনিবার সকাল ৬টার দিকে টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীতে টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেডের কারখানায় বয়লার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর কারখানাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পাঁচতলা ভবনটির ওপরের তিনতলার অনেকটাই ধসে গেছে। বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
6
লাল বলের ক্রিকেটে সময়টা বাজে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের। পারফরম্যান্সের গ্রাফ এতটাই নিম্নমুখী যে, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে ইংলিশরা। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে জো রুটের নেতৃত্ব নিয়ে। চাপের মুখে এ মাসের শুরুর দিকে সরে দাঁড়ান তিনি। তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করতে আসছেন বেন স্টোকস।বৃহস্পতিবার স্টোকসকে টেস্ট দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এই অলরাউন্ডার হতে যাচ্ছেন ইংলিশদের ৮১ তম টেস্ট অধিনায়ক। নেতৃত্ব পাওয়ার পর ভীষণ উচ্ছ্বসিত স্টোকস বলেছেন, 'ইংল্যান্ড টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিতবোধ করছি। এই মৌসুম শুরু করতে আমার তর সইছে না।'২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ইংল্যান্ড টেস্ট দলে অভিষেক থেকে এ পর্যন্ত ৭৯টি ম্যাচ খেলেছেন স্টোকস। ২০১৭ সালের শুরুর দিকে তাঁকে সহ-অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচন করা হয়। ২০২০ সালে সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে রুট যখন ছুটিতে গিয়েছিলেন তাঁর অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ডকে লাল বলের ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন স্টোকস।কিউই বংশোদ্ভূত এই অলরাউন্ডার টেস্ট ক্রিকেটার ৩৫.৮৯ ব্যাটিং গড়ে করেছেন ৫ হাজারের বেশি রান। এ ছাড়া বল হাতে শিকার করেন ১৭৪টি উইকেট। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর দাঁড়িয়ে ২০১৯ সালে স্বপ্নের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড।
12
আজ ৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস। তৎকালীন মহকুমা গোপালগঞ্জ ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের এই দিনে পাক হানাদারের কবল থেকে মুক্ত হয়।গোপালগঞ্জে পাক হানাদারদের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ থেকেই। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্তি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল গোপালগঞ্জ।মুসলিম লীগ নেতাদের সহযোগিতায় ৩০ এপ্রিল গোপালগঞ্জে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী প্রবেশ করে মুক্তিকামী মানুষের ওপর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ (বর্তমানে) সংলগ্ন জয়বাংলা পুকুর পাড়ে গড়ে তোলে মিনি ক্যান্টনমেন্ট। পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাপ্টেন ফয়েজ সেখানে (বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন) অবস্থান করতেন।তারা প্রথমে শহরের ব্যাংক পাড়ায় বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক বাড়ি (বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়) পুড়িয়ে দেয়। এরপর পাকিস্তানি সৈন্যরা ১০ থেকে ১২টি দলে বিভক্ত হয়ে শহরের হিন্দু অধ্যুষিত স্বর্ণপট্টি, সাহাপাড়া, সিকদারপাড়া, চৌরঙ্গী এবং বাজার রোডে লুটপাট করে আগুন দেয়। এতে প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে যায়। পরে তারা হত্যা আর নারী ধর্ষণ শুরু করে। পাকিস্তানি হানাদাররা মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিকামী মানুষ ও সংগঠকদের উপজেলা পরিষদের মিনি ক্যান্টনমেন্টে ধরে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে গণকবর দেয়।৬ ডিসেম্বর সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে বিভক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করতে শুরু করে। চারিদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করতে করতে এগিয়ে আসেন। প্রবাসী সরকারকে ভারতের স্বীকৃতি দেওয়ার সংবাদ শুনে এখানকার পাক হানাদার বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়।মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনীর গোপালগঞ্জের মিনি ক্যান্টনমেন্ট দুর্বল হয়ে পড়ে।গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করবে রাজাকারদের মাধ্যমে এমন সংবাদ জানতে পেরে পাক সেনারা ক্যাপ্টেন ফয়েজের নেতৃত্বে ৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে মিনি ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায়।৭ ডিসেম্বর সকালে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষ শহরে মিছিল বের করে বিজয়ের আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন।মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে গোপালগঞ্জ, মাঝিগাতী, দিগনগর সুকতাইল, ভাটিয়াপাড়া, ফুকরা, রাজাপুর, বৌলতলী, সাতপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়।দিবসটি উপলক্ষে গোপালগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শহরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিসের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন মুক্তিযোদ্ধারা। আজ সকালে ৭১-এর বধ্যভূমি (জয়বাংলা পুকুর পাড়) স্মৃতিসৌধ ও শহরের লঞ্চঘাটের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সকালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। বিকেল ৩টায় শহরের শেখ ফজলুল হক মণি স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আঞ্চলিক মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
6
শ্রাবণ মাসের ৬ তারিখ শুক্রবার, ২১ জুলাই ১৯৭২। মনে হচ্ছিল বৃষ্টি হবে অঝোরে। কিন্তু অবাক করা সকাল। আকাশে টুকরো টুকরো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে, কোথাও সাদা, কোথাও ধূসর। কিন্তু রোদ আছে।মাত্র সাত মাস হলো দেশ স্বাধীন হয়েছে। মনটা ফুরফুরে থাকার কথা। ভোর থেকেই মুহসীন হলে উত্তেজনা। ছাত্রলীগের তিন দিনের সম্মেলন শুরু হবে। কয়েকজন সঙ্গী-সাথি নিয়ে রওনা দিলাম। পল্টন ময়দানে হাজি চান মিয়া ডেকোরেটরের বানানো বিশাল শামিয়ানার নিচে শুরু হলো সম্মেলন কাঁটায় কাঁটায় ১০টায়। শুরুতে ছিল কিছু আনুষ্ঠানিকতা। উদ্বোধন করার কথা ছিল মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ছাত্রলীগের নেতা স্বপন কুমার চৌধুরীর বাবার। তিনি আসেননি। তাঁর বড় ভাই অধ্যাপক রূপেন চৌধুরী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু তিনি পল্টনে না এসে চলে গেছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ওখানেও সম্মেলন চলছে ছাত্রলীগের আরেক গ্রুপের। উদ্বোধন ছাড়াই শুরু হলো আমাদের সম্মেলন। আ স ম আবদুর রব আর শাজাহান সিরাজ ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। তাঁরা কিছু কথাবার্তা বললেন। তারপর ঘণ্টাখানেকের বিরতি। ওই সময় লাল মলাটের একটা বুকলেট বিলি করা হলো। রাজনৈতিক রিপোর্ট। আমরা তখন দিল্লি-মস্কোর চোখ দিয়ে দুনিয়া দেখার চেষ্টা করছি। পুস্তিকায় তার ছাপ আছে। এক জায়গায় মন্তব্য ছিল, 'পীত সাম্রাজ্যবাদী চীন'। এই শব্দচয়ন আমাদের অনেকেরই ভালো লাগেনি। কিন্তু চোখ আটকে গেল অন্য একটি বাক্যে, '১৯৬২ সাল থেকেই ছাত্রলীগের ভেতরে একটি নিউক্লিয়াস বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছিল।' ১৯৬৯ সালের শেষ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেখেছি, ছাত্রলীগের মধ্যে দুটি স্রোতোধারা। একটির কেন্দ্রে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শেখ ফজলুল হক মণি, অন্যটির মধ্যমণি ছাত্রলীগের আরেক সাবেক নেতা সিরাজুল আলম খান। আমি কেমন করে জানি সিরাজুল আলম খানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ঘরানার মধ্যে ঢুকে গেছি। আমি জানতাম এমন একটা প্রক্রিয়ার কথা, যেখানে আমরা সরাসরি স্বাধীনতা ও সমাজতন্ত্রের কথা বলতাম। অন্য গ্রুপের বন্ধুরা আমাদের নিয়ে মশকরা করত। বলত, পাতি বিপ্লবী। বিজ্ঞানে নিউক্লিয়াস বলতে যা বোঝায়, রাজনীতিতে তার রূপ হয়তো আলাদা। এটা এমন একটা প্রক্রিয়া, যাকে একজন বা একটি ছোট গ্রুপ সঞ্চালন করে, নিয়ন্ত্রণ করে। তখন থেকেই জানি, শেখ মুজিব হলেন আসল নেতা। তাঁর সবচেয়ে আস্থাভাজন শিষ্য হলেন সিরাজুল আলম খান। আমরা শেখ মুজিবকে বলি বঙ্গবন্ধু আর সিরাজুল আলম খানকে বলি সিরাজ ভাই। স্বাধীনতার পর তিনি কলকাতা থেকে ফিরে এলেন। তখন লক্ষ করলাম, অনেকেই তাঁকে 'দাদা' বলতে শুরু করেছে। 'দাদা' শব্দটির ব্যাপারে আমার অ্যালার্জি ছিল। উগান্ডার স্বৈরশাসক ইদি আমিনকে দাদা নামে সম্বোধন করা হতো।আমার ধারণা ছিল, শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য গোপনে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে তিনি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করেন, অন্তত প্রকাশ্যে। কিন্তু সিরাজুল আলম খানকে দিয়ে তিনি অনেক কাজ করান। সিরাজ হলেন শেখ মুজিবের ডান হাত। কিন্তু যখন শুনলাম, শেখ মুজিব পল্টনের সম্মেলনে অতিথি হিসেবে না এসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলে গেছেন, তখন বিষম ধাক্কা খেলাম মনে। এটা কী হলো? এমনটা হবে তা তো আগে কেউ বলেনি?দিন যায়, মাস যায়, বছর গড়ায়। ছাত্রলীগের এই সিরাজপন্থী গ্রুপ থেকে তৈরি হলো জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। সংক্ষেপে জাসদ। জাতীয় সমাজতন্ত্র তো হিটলারের আদর্শ ছিল। এই নামের ভূত আমাদের ঘাড়ে চাপল কেন? এর কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পেলাম না। আসলে তখন যাঁরা এসবের পরিকল্পনা করতেন বা সিদ্ধান্ত নিতেন, তাঁরা হয়তো বিষয়টি খতিয়ে দেখেননি। হয়তো তাঁরা দুনিয়ার খবর রাখেন না। কিন্তু নিউক্লিয়াস শব্দটি চাউর হতে থাকল। জানতে পারলাম, এটি ছিল তিনজনের একটি চক্র বা সেল। সিরাজুল আলম খান ছাড়াও আরও ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমদ। বাহাত্তর সালেই এই নিউক্লিয়াস ভেঙে যায়। আবদুর রাজ্জাক থেকে যান আওয়ামী লীগে। কাজী আরেফের সঙ্গে সিরাজুল আলম খানের রাজনৈতিক বিচ্ছেদ ঘটে ১৯৮৪ সালের দিকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ছাত্রত্ব শেষ হলো ১৯৭৫ সালে এমএ পরীক্ষা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। তার বছরখানেকের মধ্যেই আমি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিই। আমি বুঝলাম, এটা আমার পথ নয়। কিন্তু রাজনীতির প্রতি আগ্রহ রয়েই গেল। সিরাজুল আলম খানের সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৭০ সালের শুরুর দিকে। তাঁকে আমি অনেকবার বলেছি, 'আপনার কাজ, আপনার অভিজ্ঞতার কথা লিখুন। সবাই জানুক।' তিনি বলেছিলেন, 'আমি তো লিখতে পারি না।' আসলেও তা-ই। তিনি বলেন, অন্যেরা লেখে। অথবা অন্যেরা লেখে, তিনি দেখে দেন কখনো-সখনো। ১৯৬৭-৬৯ সালে আমি ঢাকা কলেজে পড়েছি। আমার ক্লাসের বন্ধুদের মধ্যে যারা বেশি রকম রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল, তারা হলো শেখ কামালউদ্দিন, রেজাউল হক মুশতাক ও নিজামুদ্দিন আজাদ। মুশতাক ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিল। আজাদ ছিল কলেজ শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। কামাল ছাত্রলীগের হলেও সে কোনো পদে ছিল না। শেখ মুজিবের ছেলে হিসেবে তার অন্য রকম একটি পরিচিতি দাঁড়িয়ে যায়। ওই সময় শেখ মুজিব কারাবন্দী থাকায় কামালের ওপর আমাদের সবার মমতা ছিল। আজাদের সঙ্গে সখ্যের কারণে আমি ছাত্র ইউনিয়নে ভিড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু উনসত্তরের গণ-আন্দোলন আমাকে অনেক বদলে দিয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হই। অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই ১৯৭০ সালে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আজাদ শহীদ হয়। পঁচাত্তরের নির্মম হত্যাকাণ্ডে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কামালকেও আমরা হারাই। মুশতাক তত দিনে রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি আর যুক্ত ছিল না। তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল বরাবর।১৯৮৩ সালে আমি জাসদকে নিয়ে একটি গবেষণার কাজ শুরু করি। অক্টোবরের এক সকালে মুশতাককে সঙ্গে নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের ধানমন্ডির বাসায় যাই। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন বড় নেতা, সাধারণ সম্পাদক। শেখ হাসিনা দলের সভাপতি। তাঁদের মধ্যকার রসায়নটি কাজ করেনি। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেন। আরেক বহিষ্কৃত নেতা মহিউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে তিনি তৈরি করলেন বাকশাল নামে আরেকটি দল। রাজ্জাক সাহেবের বাসায় লোকজনের ভিড়। একজনের পর একজন আসছেন আর যাচ্ছেন। জননেতাদের বোধ হয় এমনই জীবন। আমি দেখলাম, যে উদ্দেশ্যে আসা, অর্থাৎ তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নেব, সেটি এই হট্টগোলের মধ্যে সম্ভব নয়। মুশতাক আর আমি তাঁকে নিয়ে চলে এলাম মুশতাকের ভূতের গলির বাসায়। সেখানে তাঁর সঙ্গে কথা হলো প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা। তিনি মেলে ধরলেন নিউক্লিয়াস-বৃত্তান্ত। তাঁর ভাষ্য ছিল এ রকম: এটা ঠিক যে আমরা নিউক্লিয়াস তৈরি করেছিলাম। চিন্তাটা হয়েছিল ১৯৬২ সালে। ১৯৬৪ সালে তার একটা কাঠামো দাঁড় করানো হয়। সিরাজ ভাই রূপকার, বিষয়টা এমন নয়। আমাদের মধ্যে কাজ ভাগ করা ছিল। সিরাজ ভাই ছিলেন আমাদের থিওরেটিশিয়ান। আমি রিক্রুটিংয়ের কাজ দেখতাম। আরেফ ছাত্রলীগের মধ্যে আমাদের চিন্তার প্রসার ঘটাত। এরপর চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয় আবুল কালাম আজাদ। আমরা আঙুল কেটে রক্ত দিয়ে শপথ নিই, দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ব্যক্তিগত সুখ-সুবিধার পেছনে ছুটব না। বিয়ে করব না। আমাদের না জানিয়ে আবুল কালাম আজাদ স্কুলপড়ুয়া একটা নাবালিকাকে বিয়ে করলে আমরা তাকে বহিষ্কার করি। মুজিব ভাইকে সামনে রেখেই আমরা এটা শুরু করি। তিনিই আমাদের নেতা। এ ব্যাপারে তাঁকে আমরা কিছুটা জানিয়েছিলাম ১৯৬৬ সালে। ১৯৬৯ সালে তাঁকে ডিটেইল জানানো হয়। আমাদের সেলটির নাম দেওয়া হয় 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ'। নামটি গোপন ছিল। কাজকর্ম হতো খুবই গোপনে। আমরা বিপ্লবী বাংলা নামে হাতে লেখা একটা বুলেটিন বের করি। সাইক্লোস্টাইল করে এর কপি করা হতো। দুটো সংখ্যা বেরিয়েছিল। সিরাজ ভাইকে আমরা নেতা মানতাম। তবে তাঁর পারসোনাল লাইফের অ্যানার্কি আমরা পছন্দ করতাম না। সিরাজুল আলম খান ছিলেন অন্তর্মুখী। সাধারণ মানুষকে একটা ধারণা দেওয়া হতো, তিনি প্রচারবিমুখ। এখন অবস্থা পাল্টেছে। অনেক বছর ধরেই তিনি তাঁর নিউক্লিয়াস-তত্ত্ব প্রচার করছেন, নিজে লিখছেন না। তবে ডিকটেশন দিয়ে অন্যদের দিয়ে লেখাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তাঁর উদ্যোগে ও প্রশ্রয়ে ছাপা হয়েছে অগুনতি বই, বেশির ভাগই আধা ফর্মা বা এক ফর্মার, সেখানে তুলে ধরা হচ্ছে 'নিউক্লিয়াসের' বিবরণ। এসব পুস্তিকায় তাঁর বয়ানটি পড়ে মনে হয়, এটা শুধু একটা প্রক্রিয়া ছিল না, এটা বাস্তবিক অর্থেই ছিল একটি সংগঠন, গোপন রাজনৈতিক দলের ভ্রূণ। এই দলে অনেকেই সংশ্লিষ্ট হয়েছেন। তিনি দাবি করছেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত-লেখক কামরুদ্দীন আহমদ এবং অধ্যাপক আহমদ শরীফ নিউক্লিয়াসের পরামর্শদাতা ছিলেন। ঢাকা ছাড়িয়ে তাঁদের এই নেটওয়ার্ক জেলা পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছিল। আহমদ শরীফের নানান লেখা ও চিঠিতে শেখ ফজলুল হক মণি, আবদুল আজিজ বাগমার, আল মুজাহিদী প্রমুখ ছাত্রলীগ নেতার উল্লেখ থাকলেও সিরাজুল আলম খানের প্রসঙ্গ নেই। বরং আহমদ শরীফের লেখা থেকে জানা যায়, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের একসময়ের সভাপতি আবদুল আজিজ বাগমার স্বাধীন বাংলাদেশের কথা ভাবতেন। জানা যায়, ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে বাগমার স্বাধীনতার তিনটি ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন। তৈরি করেছিলেন 'অস্থায়ী পূর্ববঙ্গ সরকার'। সংক্ষেপে 'অপূর্ব সংসদ'।প্রথম ইশতেহারটি লিখে দিয়েছিলেন অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী। দ্বিতীয়টি বাগমারের নিজের লেখা, সম্পাদনা করে দিয়েছিলেন মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ও আহমদ শরীফ। তৃতীয়টি আহমদ শরীফের লেখা 'ইতিহাসের ধারায় বাঙালি'। সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে 'আমার সোনার বাংলা' গানটির উল্লেখ আছে। বাগমারের ব্যাপারে আহমদ শরীফের স্নেহ ও উৎসাহের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো বিশ শতকে বাঙালী বইটি বাগমারের নামে উৎসর্গ করা। উৎসর্গলিপিতে তিনি লেখেন, 'স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রয়াসে পথিকৃৎ আবদুল আজিজ বাগমার প্রিয়বরেষু।' বাগমারের নেতা ছিলেন শেখ মুজিব। ছয় দফার মধ্যে বাগমার তাঁর লক্ষ্য অর্জনের দিশা পেয়ে যান। প্রক্রিয়াটি এখানেই শেষ। আমি শুনছিলাম, ছাত্ররাজনীতিতে সিরাজুল আলম খানের উত্থান ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের হাত ধরে। পঞ্চাশের দশকের শেষে ষাটের দশকের শুরুতে আওয়ামী বৃত্তের তরুণদের মধ্যে শেখ মুজিবের পরেই জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন তুঙ্গে। ২০১৪ সালে আমি আওয়ামী লীগ নিয়ে একটি গবেষণামূলক কাজে হাত দিই। তো ওই সময়ের ইতিহাসের সন্ধানে ২০১৫ সালের ৯ অক্টোবর আমি একদিন হাজির হই তাঁর গুলশানের ডেরায়। যথারীতি আমার সঙ্গী রেজাউল হক মুশতাক। আমাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ মোয়াজ্জেম ইতিহাসের এক অধ্যায় তুলে ধরেন, যা এত দিন আমার জানা ছিল না। পূর্ব বাংলা স্বাধীন করার ব্যাপারে শেখ মুজিবুর রহমান যে কত বেপরোয়া ছিলেন, তার আভাস পাওয়া যায় শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের ভাষ্যে। দিন-তারিখ মনে নেই শাহ মোয়াজ্জেমের। এতটুকু স্মরণ আছে যে তখন আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারি ছিল। আমার সঙ্গে তাঁর কথোপকথন ছিল এ রকম: মহিউদ্দিন আহমদ: আমরা শুনেছি ওই সময় দেশ স্বাধীন করার জন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ সম্পর্কে আপনি যতটুকু জানেন, বলবেন কি? শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন: মুজিব ভাই একটা লিফলেট ড্রাফট করেছেন 'পূর্ববঙ্গ মুক্তি ফ্রন্ট' নাম দিয়ে। সাইকেল চালিয়ে নিজেই প্রেসে গিয়ে ছেপেছেন। উনি আমাকে একটা সাইকেল প্রেজেন্ট করেছিলেন। আমাকে ডাকলেন। আমি ওই সাইকেল চালিয়েই গেলাম। উনি আমার হাতে এক বান্ডিল লিফলেট দিয়ে বললেন, 'তোর বিশ্বস্ত লোক নিয়া এগুলি ডিস্ট্রিবিউট করবি।' লিফলেটটি লেখা হয়েছিল ইংরেজিতে। আমি এটা দেখালাম রফিকুল্লাহ চৌধুরীকে। উনি একসময় ছাত্রলীগে আমার প্রেসিডেন্ট ছিলেন, আমি তখন ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারি। উনি লিফলেটটা দেখলেন। বললেন, 'বানান ভুল আছে, টেনস কয়েক জায়গায় ভুল। বাট ইট ক্যারিজ দ্য মিনিং।' আমি পাঁচজনের একটা টিম করলাম। কে এম ওবায়দুর রহমান, সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মণি, ফরিদপুরের আনিস আর আমি নিজে। রাত ১২টার পর বের হতাম। ধরা পড়লে স্ট্রেট ফাঁসি। কিন্তু নেতার নির্দেশে আমরা এটা করেছি। চাদর গায়ে দিয়ে সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন এমবাসির গেটের সামনে ফেলে দিয়ে চলে আসতাম। এখন অনেকেই স্বাধীনতার কথা নানাভাবে মনের মাধুরী মিশিয়ে বলে। বাট দিস ইজ দ্য ফ্যাক্ট। বাংলাদেশপন্থী কেউ ছিল না, আমরাই ছিলাম। শেখ সাহেবের অনুসারীরাই ছিলাম। কমিউনিস্টরা আমাদের বলত ইললিটারেট গ্র্যাজুয়েটের শিষ্য। মহি: সিরাজুল আলম খানের সঙ্গে আপনার পরিচয়-ঘনিষ্ঠতা হলো কীভাবে? মোয়াজ্জেম: একদিন খবর পেলাম ফজলুল হক হলে নতুন একটা ছেলে এসেছে। সারা দিন তাস খেলে। তার পার্টনার বদল হয়। কিন্তু তার বদল হয় না। কী ব্যাপার? আমার কৌতূহল হলো। তাকে ডেকে পাঠালাম এবং মুহূর্তেই তাকে পছন্দ করে ফেললাম। তাকে রিক্রুট করলাম। এভাবেই সিরাজুল আলম খান আমার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ হলো। ও ছিল খুব ভালো, হার্ডওয়ার্কিং। দিন-রাত কাজ করত। মহি: উনি তো বলছেন, উনি ছাত্রলীগের মধ্যে স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস তৈরি করেছেন ১৯৬২ সালে। তো আপনারা শেখ মুজিবের দেওয়া স্বাধীনতার লিফলেট একসঙ্গে বিলি করলেন। এদিকে উনি বলছেন, উনি এটা শুরু করেছেন। উনি তো আপনার কথা বলেন না। এটা কি ওনার মনের সংকীর্ণতা? মোয়াজ্জেম: তা বলতে পারব না। হয়তো তার মেমোরিতে এটা নেই। মনের সংকীর্ণতাও হতে পারে। তবে ও আমার খুব আস্থাভাজন ছিল। অমানুষিক পরিশ্রম করতে পারত। আমিই তো ওকে ছাত্রলীগের সেক্রেটারি বানিয়েছিলাম। শাহ মোয়াজ্জেমের কথায় বোঝা যায়, পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা নিয়ে শেখ মুজিবের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য তিনি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালান। এর একটি বিস্ময়কর বিবরণ পাওয়া যায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের তৎকালীন উপহাইকমিশনের পলিটিক্যাল অফিসার শশাঙ্ক শেখর ব্যানার্জির কাছ থেকে। ব্যানার্জি পুরান ঢাকায় চক্রবর্তী ভিলায় থাকতেন। পাশের বাড়িতেই ছিল ইত্তেফাক অফিস। ১৯৬২ সালের ২৪ মার্চ মাঝরাতে ইত্তেফাক সম্পাদক মানিক মিয়া একটি ছেলেকে পাঠিয়ে ব্যানার্জিকে ইত্তেফাক অফিসে ডেকে আনেন। মানিক মিয়ার সঙ্গে ছিলেন শেখ মুজিব। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁরা কথা বলেন। ব্যানার্জি দেখলেন, একপর্যায়ে শেখ মুজিব ও মানিক মিয়ার কথাবার্তার ধরন বদলে গেল। তাঁরা কিছু একটা বলতে বা দেখাতে চাইছেন। ব্যানার্জি জানতে চান তাঁরা উঁচুপর্যায়ের কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো বার্তা পৌঁছাতে চাচ্ছেন কি না। মুজিব মুখ খুললেন। বললেন, এই বৈঠক ডাকার উদ্দেশ্য হলো, তাঁরা ব্যানার্জির মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা গোপনীয় চিঠি পাঠাতে চান। মুজিব চিঠিটা ব্যানার্জির হাতে দিলেন। তাঁর মধ্যে তাড়াহুড়ো ছিল। চিঠিটা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহরুকে ব্যক্তিগতভাবে সম্বোধন করে লেখা। ভূমিকার পর সরাসরি একটা কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। মুজিব বললেন, তিনি বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনা করবেন। মানিক মিয়া ইত্তেফাক-এ লেখনীর মাধ্যমে প্রচারকাজ চালাবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৬৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে মুজিব লন্ডনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে প্রবাসী সরকার গঠন করবেন। চিঠির শেষ প্যারাগ্রাফে নৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন ও সাজসরঞ্জাম চেয়ে নেহরুকে অনুরোধ জানানো হয় এবং এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুজিব গোপনে নেহরুর সঙ্গে দেখা করতে চান।* চিঠি পাঠানো হলো। ভারত তখন চীনের সঙ্গে যুদ্ধে বিপর্যস্ত। দিল্লি থেকে খবর এল, মুজিবকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। মুজিব ভাবলেন, ঢাকায় ভারতীয় উপহাইকমিশনের আমলাদের কারণেই দেরি হচ্ছে। ধৈর্য হারিয়ে তিনি কৌশল পাল্টালেন। গোপনে সীমান্ত পেরিয়ে আগরতলায় গেলেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। আগরতলায় মুজিবকে রেখে শচীন সিং দিল্লি যান এবং নেহরুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন। চীনের সঙ্গে যুদ্ধের পর নেহরু আরেকটি ফ্রন্ট খুলতে চাননি। শচীন সিং আগরতলা ফিরে এসে মুজিবকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁকে সাহায্য দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তা ভারতের ঢাকা উপহাইকমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নেহরুর পরামর্শ ছিল, এরপর থেকে মুজিব যেন ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমেই যোগাযোগ করেন, আগরতলার মাধ্যমে নয়।** শচীন সিংহের ভাষ্যে এবং অন্যান্য সূত্রে জানা যায়, শেখ মুজিব আগরতলা গিয়েছিলেন ১৯৬৩ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে। তিনি সেখানে ছিলেন ১৫ দিন। তাঁর আগরতলা মিশন সম্বন্ধে দলের সহকর্মীরা এবং সরকারের গোয়েন্দারা ছিলেন সম্পূর্ণ অন্ধকারে। ১৯৯১ সালে মফিদুল হক দিল্লিতে শচীন সিংহের সঙ্গে দেখা করলে তিনি ঘটনাটি নিজের হাতে লিখে দিয়েছিলেন। সেই ভাষ্য ফয়েজ আহমদ উল্লেখ করেছেন তাঁর আগরতলা মামলা, শেখ মুজিব ও বাংলার বিদ্রোহ বইয়ে। এ তো গেল শেখ মুজিবের উদ্যোগের কথা। এর মধ্যে সিরাজুল আলম খানের নিউক্লিয়াস-তত্ত্ব কতটুকু প্রাসঙ্গিক বা গুরুত্বপূর্ণ? সম্প্রতি তাঁর অনুসারীরা, বিশেষ করে তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত আ স ম আবদুর রব দাবি করেছেন, সিরাজুল আলম খানই সবার আগে স্বাধীনতার কথা বলেছেন। তিনিই স্বাধীনতার রূপকার। বিষয়টি ভেবে দেখার মতো। নিউক্লিয়াস কিংবা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের কার্যক্রমের কোনো দালিলিক সূত্র পাওয়া যায় না। যাঁরা 'বিপ্লবী বাংলা' নামের মুখপত্রটির কথা বলেন, তাঁরা কেউ আজ পর্যন্ত এর কোনো কপি দেখাতে পারেননি। গোপনীয়তার স্বার্থে এগুলো সংরক্ষণ করা বিপজ্জনক, এটা মেনে নিয়েও বলা যায়, এর কনটেন্ট কী ছিল, তা-ও জানা যায়নি। তবে নিউক্লিয়াসের তৈরি হাতে লেখা এবং সাইক্লোস্টাইল কপি করা একটা প্রচারপত্র আমি দেখেছি। এটা আমাদের দেওয়া হয়েছিল ১৯৭০ সালের অক্টোবরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন রোজার ছুটি চলছে। ডাকসুর সহসভাপতির কামরায় কাজী আরেফ আহমদ আমাকে এবং আরও অনেককে এটি দিয়ে বলেছিলেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন লক্ষ্য করে প্রতিটি কনস্টিটিউন্সিতে গিয়ে এটার ভিত্তিতে আলাপ করতে হবে এবং একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে হবে। প্রচারপত্রের শিরোনাম ছিল 'জয় বাংলা'। প্রচারপত্রে বলা হয়, গ্রামে গ্রামে সংগঠন করতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও শাসকগোষ্ঠী যদি ৬ দফা ও ১১ দফাভিত্তিক সংবিধান তৈরি করতে না দেয়, তাহলে 'বাঙালির মুক্তিসংগ্রামই হবে একমাত্র খোলা পথ'। জাতীয় নেতার (মুজিব) প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস এবং আদর্শের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা রেখে প্রত্যেক কর্মীকে 'মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে। এ ধরনের চিন্তা তো আসমান থেকে হঠাৎ করে পড়েনি। এ নিয়ে নিশ্চয়ই অনেক দিন ধরে আলোচনা হচ্ছে, কাজ হচ্ছে। আমি এর গোড়ায় যেতে চাইলাম। সিরাজুল আলম খানের সঙ্গে সখ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি বিষয়টি বারবার এড়িয়ে গেছেন। মুখ খুলতে চাননি। আবার যাদের ডিকটেশন দিয়ে তিনি লেখান, সেগুলো বেশির ভাগই অগোছালো। আমি লেগে থাকলাম। রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে আমি গবেষণার কাজ করছি ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে। তখন থেকে মাঝেমধ্যে সিরাজুল আলম খানের সঙ্গে দেখা ও কথা হতো। প্রশ্ন করলে তিনি সরাসরি জবাব দেন না। এ ধরনের আচরণ বা স্টাইলের কারণে 'রাজনীতির রহস্যপুরুষ' হিসেবে তাঁর একটি পরিচিতি দাঁড়িয়ে গেছে। তাঁর একটাই কথা, 'আমি বলতে যাব কেন? তোমরা খুঁজে বের করো।' এটা রাগের কিংবা ক্ষোভের প্রকাশ হতে পারে। ইদানীং তিনি একটু একটু করে মুখ খুলছেন। আমি আমার বিভিন্ন লেখায় তা উদ্ধৃত করে আসছি। ২০১৪-১৮ সালে আমি তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটাই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলি। কথাগুলো রেকর্ড করি। তাঁর সঙ্গে আমার কথাবার্তার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরলাম: মহিউদ্দিন আহমদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন কোন বছর? সিরাজুল আলম খান: ১৯৫৮ সালে। ম্যাথমেটিকসে। ফজলুল হক হলে রেসিডেন্ট হলাম। যে রুমে গেলাম, সেটা ছিল ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারির রুম। সারা ইস্ট পাকিস্তানের জেনারেল সেক্রেটারি। রফিকুল্লাহ চৌধুরী হলেন প্রেসিডেন্ট, আজহার আলী জেনারেল সেক্রেটারি। সেই রুমে আমি উঠেছি। বুঝতেই পারো। একজন জেনারেল সেক্রেটারির রুমে-একটা অভাগা ঢুকলেও তো অনেক দিক দিয়ে একটা... মহি: ভিআইপি! সিরাজুল আলম খান: হ্যাঁ। রফিকুল্লাহ চৌধুরী আসতেন। আজহার ভাই তো ছিলেনই। উনি পরে ব্যারিস্টারি পড়তে গেছেন। পরে আবার বাংলাদেশবিরোধী হয়ে গিয়েছিলেন। হি ডাইড অ্যাজ আ পাকিস্তানি। বছর পাঁচ-ছয় আগে লন্ডনে মারা গেছেন। ছাত্রলীগের অফিস সেক্রেটারি ছিলেন সৈয়দ রেজা কাদের। উনিও ওই রুমে। মহি: এটা কি থ্রি-সিটেড রুম? সিরাজ: থ্রি-সিটেড রুম। পরে হয়ে গেছে ফোর-সিটেড। মহি: রুম নম্বর মনে আছে? সিরাজ: টি ই ফোর। টপ ইস্ট ফোর। পরে আবার টি বাদ দিয়ে দিয়েছে। শুধু ইস্ট ফোর। এক নম্বরে থাকতেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। তত দিনে বেরিয়ে গেছেন। তখন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী সম্পর্কে ছাত্রদের ধারণা ভালো ছিল। তখনো তিনি পেপারে লিখতেন। চাকরি করতেন। তখন তো ইউনিভার্সিটিতে সবাই ভালো ছাত্র। সৈয়দ রেজা কাদের ভাই তো পলিটিক্যাল সায়েন্সে ছিলেন। যেকোনো কারণে উইদিন শর্ট পিরিয়ড আমি পরিচিত হয়ে গিয়েছিলাম। টেবিল টেনিস, ক্যারম, ভলিবল খেলতাম। জিমনেসিয়ামে যেতাম। ডিবেটে অংশগ্রহণ করতাম। গানবাজনার আসরে যেতাম। আবার এই হলে ওই হলে ঝগড়া-খেলার সময় এগুলোও করতাম। ছাত্রলীগের সেন্ট্রাল নেতাদের রুম হওয়াতে যারা ছাত্রলীগ করে-টরে...তখনো কিন্তু মার্শাল ল হয়নি। হয়ে যাবে কয়েক দিন পরে। সবার আসা-যাওয়ার ফলে, সিনিয়র-জুনিয়র সবাই, সবার সঙ্গে পরিচয় হয়ে গেল এবং ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিতি হলো। তখন তো রাজনীতি বন্ধ। ছাত্রসংগঠনগুলো সব বন্ধ। আজহার ভাই চলে গেলেন। রফিকুল্লাহ ভাই প্রেসিডেন্ট। মোয়াজ্জেম ভাই সেক্রেটারি হবেন। পুরোনো আর্টস বিল্ডিংয়ে ইফতার পার্টি করে ৬০-৭০ জন জোগাড় করে, গোপনে সন্ধ্যার পরে আমাদের একটা কমিটি করা হলো। দুই বছরের জন্য। পরের বছর রেজা কাদের ভাই আমার নাম এক্সিকিউটিভ কমিটিতে দিয়ে দিলেন। কমিটির মেম্বার হিসেবে দিলেন। পরের বছর রফিক ভাই চলে গেলেন। মহি: তাহলে '৫৯ সালে আপনাকে কমিটিতে নেওয়া হলো। সিরাজ: '৬০ সালের শুরুর দিকে। ওই রোজার টাইমে। পরের বছর মোয়াজ্জেম ভাই হলেন প্রেসিডেন্ট, শেখ মণি সেক্রেটারি। আমি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হওয়ারও একটা গল্প আছে। যে ছেলেটা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ছিল, নাজমুল হক, সে আবার রেডিও পাকিস্তানে চাকরি পেয়ে গেছে। সরকারি চাকরি হওয়াতে সে তো আর সংগঠন করবে না। রিজাইন দিয়েছে। আমাকে এক্সিকিউটিভ মেম্বার থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বানিয়েছে। মহি: তাহলে '৬০ সালের কমিটিতে আপনি এক্সিকিউটিভ মেম্বার। সেখান থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। সিরাজ: প্রথমবার মেম্বার। তারপর নাজমুল হক চলে যাওয়াতে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। মহি: ভারপ্রাপ্ত। সিরাজ: হ্যাঁ। তার পরেরবার সরাসরি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। মাঝেমধ্যে রুমের মধ্যে দেখি যে সৈয়দ রেজা কাদের ভাইয়ের কাছে লোকজন আসে, কথাবার্তা বলে। সবাই ছাত্রলীগের। আমাকে বলে, থাকো তুমি। অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হওয়ার পরে, মণির গলা থেকে হঠাৎ করে রক্ত বের হলো। ডাক্তার টিবি সাসপেক্ট করে বললেন, 'তুমি কমপ্লিট রেস্টে যাও।' তখন আমি অ্যাক্টিং জেনারেল সেক্রেটারি হলাম। অ্যাক্টিং জেনারেল সেক্রেটারি হওয়ার ফলে সারা ইস্ট পাকিস্তানে চিঠি লিখে লিখে যোগাযোগ হতো। রেজা কাদের ভাই আছেন তখনো। মহি: উনি তখন কী? সিরাজ: উনি আউটগোয়িং। কিন্তু তখনো হলে থাকেন। আমি সব ধরনের খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত থাকতাম। মহি: তাস খেলতেন? সিরাজ: ব্রিজ খেলতাম। মহি: মোয়াজ্জেম ভাই আপনার সম্পর্কে আমাকে একটা ইনফরমেশন দিয়েছেন। সিরাজ: কী? ব্রিজ খেলতাম? মহি: মোয়াজ্জেম ভাইয়ের সঙ্গে আপনার পরিচয় কি ফজলুল হক হলে গিয়ে? উনি আমাকে বলেছেন, একটা খবর পেলাম, একটা ছেলে আসছে। তার রুমে সারা দিন তাস খেলা হয়। তার পার্টনার বদল হয়। সে বদল হয় না। আপনি সারা দিন তাস খেলতেন-এ কথাটা কি ঠিক? সিরাজ: আমাকে খুব তাড়াতাড়ি যে কেউ পিনপয়েন্ট করে ফেলতে পারত। আছে না অনেকে, চোখে পড়ার মতো? মহি: আপনি কি কলেজে থাকতে ছাত্রলীগের সঙ্গে ছিলেন? সিরাজ: তখন ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগ-ছাত্র ইউনিয়ন ছিল না। পাইওনিয়ার্স পার্টি আর ডেমোক্রেটিক পার্টি। আমরা ছিলাম পাইওনিয়ার্স পার্টিতে। এখানেও ছাত্রলীগাররা ছিল, আবার ডেমোক্রেটিক পার্টিতেও ছাত্রলীগাররা ছিল। আবার এই দুটোতেই ছাত্র ইউনিয়ন ছিল। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ডেমোক্রেটিক পার্টিতে ছিলেন। তখন যোগাযোগ ও দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু কোনো রিলেশন গড়ে ওঠেনি। মহি: ঢাকা কলেজে আপনার সঙ্গে তো সাক্ষাৎ হওয়ার কথা না। উনি তো আউটগোয়িং আর আপনি ঢুকলেন। দুই বছরের ডিফারেন্স তো? সিরাজ: দুই বছরের। মহি: তাহলে ঢাকা কলেজে আপনার সঙ্গে তো তার দেখা হয়নি? সিরাজ: না, উনি তো পাস কোর্সে পড়েছেন, বিএ পাস করেছেন। মহি: ও আচ্ছা। তাহলে উনি ঢাকা কলেজ থেকে বিএ পাস করে ফজলুল হক হলে গেছেন? সিরাজ: হ্যাঁ। অ্যাটাচড ছাত্র ছিলেন। মহি: হলের রেসিডেন্ট ছিলেন না? সিরাজ: না। উনি বিএ পাস করে ল পড়েছেন। এমএ পড়লেও পরে পড়েছেন। মহি: আমাকে উনি বলেছেন, উনি এমএ পড়েছেন হিস্ট্রিতে। তাহলে পরে পড়েছেন হয়তো। সিরাজ: আগে উনি ল পাস করেছেন। ক্লাস এইট-নাইন থেকেই উনি পলিটিক্যাল। জেলেও গেছেন ক্লাস নাইনে থাকতে। মহি: ভাষা আন্দোলনের সময়? সিরাজ: ইয়াঙ্গেস্ট জেলখাটা ছাত্র। মহি: তাহলে ঢাকা কলেজে উনি করলেন ডেমোক্রেটিক পার্টি আর আপনি করেছেন পাইওনিয়ার্স পার্টি? সিরাজ: হ্যাঁ। আবার পাইওনিয়ার্স পার্টির লিডার হলেন এম এ আউয়াল। তিনি আবার ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট। মহি: এম এ আউয়াল তো আরও সিনিয়র? শাহ মোয়াজ্জেমেরও সিনিয়র? সিরাজ: হ্যাঁ। রফিকুল্লাহ চৌধুরীরও সিনিয়র। মহি: উনি করতেন পাইওনিয়ার্স পার্টি। সিরাজ: হ্যাঁ। মহি: তাহলে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, এগুলো ঢাকা কলেজে অ্যালাউড ছিল না। সিরাজ: গভর্নমেন্ট কলেজে খুব স্ট্রিক্ট ছিল। এর মধ্যে এসে গেল '৬২ সালের মুভমেন্ট। মহি: রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে আপনার পরিচয়ের ইতিহাসটা তো বলতে হবে। সিরাজ: সে তো আমার এক বছর-দুই বছরের জুনিয়র। একই হলে আসল। ফজলুল হক হলে ভর্তি হলো। সে ছিল আবার কুস্তিগির, জিমনেসিয়ামে যেত। আমিও জিমনেসিয়ামে যেতাম। সেখানে দেখা। মহি: হলের জিমনেসিয়াম? সিরাজ: হ্যাঁ, হলের। ইলেকশন উপলক্ষে যে অ্যাসোসিয়েশনগুলো গড়ে ওঠে, ঢাকা কলেজের কারণে... সে তো প্রথমে হলের এজিএস হয়েছিল। ফজলুল হক হলের এজিএস। তারপর তো শুরু হয়ে গেল কথাবার্তা, আলোচনা। মহি: রাজ্জাক ভাইয়ের কোন দিকটা আপনাকে আকর্ষণ করেছে? আরও তো অনেকে ছিল? সিরাজ: হি কুড অর্গানাইজ। খুব সহজে মিশতে পারে। অর্গানাইজ করার সেন্সে আমার চেয়েও হি ওয়াজ বেটার ইন সাম রেসপেক্ট। চিন্তার জগৎটাতে আমি তাকে হেল্প করতাম। মহি: কোন ডিপার্টমেন্টে পড়তেন তিনি? সিরাজ: পলিটিক্যাল সায়েন্স। মহি: তখন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা কারা? ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে? সিরাজ: নেতা অরিজিনালি হলো ফরহাদ ভাই। পরবর্তীকালে এসেছে কাজী জাফর। সারা বছরই কিন্তু...শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট আসল। হামুদুর রহমান কমিশন, শরিফ কমিশন ইত্যাদি। মহি: তখন শরিফ কমিশন। একটা কথা বলি, শরিফ কমিশনের রিপোর্ট আপনারা কেউ পড়েছেন? সিরাজ: পড়েছি মানে, আউটলাইনগুলো জানি। মহি: ওটাতে এমন কিছু ছিল না। যা ছিল, তা এখন এ দেশে ইমপ্লিমেন্ট হচ্ছে। মানে আইয়ুববিরোধী একটা আন্দোলন করতে চেয়েছিলেন আপনারা? সিরাজ: না, না, ওই যে তিন বছরের পাস কোর্স? আমরা এটার পক্ষে ছিলাম না। মহি: কিন্তু তিন বছর হলে অনার্স আর পাস কোর্সের মধ্যে যে একটা ফারাক ছিল, ওটা বন্ধ হতো? সিরাজ: না। পাস কোর্স দুই বছরেরই হবে। অনার্স হবে তিন বছরের। পাস কোর্স তিন বছরের হবে কেন, এই ছিল কথাটা। কিন্তু ওখানে সেমিস্টার সিস্টেমটা ছিল। এটা বাদ দিতে গিয়ে সেমিস্টার সিস্টেমও বাদ গেল। যে কারণে আমরা পিছিয়ে পড়লাম। সেমিস্টার সিস্টেমটা তো খুবই ইফেকটিভ সিস্টেম। তো সারা বছর স্ট্রাইক হচ্ছে। আন্দোলন, মিটিং, মিছিল, এসব হচ্ছে, পুলিশের দাবড়া-দাবড়ি হচ্ছে। এর মধ্যেই পশ্চিম পাকিস্তান আমাদের ওপর অত্যাচার করছে, আমাদের শোষণ করছে, এসব ধারণা আস্তে আস্তে আসা শুরু হলো। আমি আর রাজ্জাক এগুলো আলাপ করতাম। খুবই সংক্ষেপে আর সতর্কভাবে। তখন আরেফ জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হলো, বা ইন্টারমিডিয়েট পাস করে বিএ পড়ছে। আন্দোলনে সে-ও যুক্ত ছিল। সে এতখানি চোখে পড়ার মতো না। মহি: আরেফ ভাইয়ের সঙ্গে আপনার প্রথম যোগাযোগ হলো কীভাবে? সিরাজ: যখন আমরা সিক্সটি টুতে...শিক্ষা আন্দোলনে। বিভিন্ন কলেজে গিয়ে আমরা যখন ছোট ছোট গ্রুপে আলোচনা করতাম, তখন দেখি যে একটা ছেলে বসে থাকে। বাট হি ইজ ভেরি অ্যাটেনটিভ অ্যান্ড হি ইজ ভেরি রেগুলার। জগন্নাথ কলেজে পড়ত। গোপীবাগ থাকে হেঁটে এভরি ডে ইকবাল হলে আসা। আবার ফিরে যাওয়া। হি ওয়াজ অ্যান অ্যাসেট ফর বাংলাদেশ পলিটিকস। আমরা তিনজনই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছি। লাইক ওয়ান সলিড রক।ধীরস্থির ছেলেটা। আন্দোলনগুলোয় আছে। কিন্তু হইচই করার মধ্যে নাই। একটা র্যাপোর্ট। প্রথম র্যাপোর্টটা হলো-আমি আর রাজ্জাক, এরপরের র্যাপোর্টটা হলো আমি আর আরেফ। এর পরে হলো আবুল কালাম আজাদ। পরে প্রাইমারি শিক্ষকদের নেতা হয়েছিল। হতে হতে আমরা একসময় তিনজন, আবার একসময় চারজন বসা শুরু করলাম-এ আন্দোলনগুলো কীভাবে চালানো যায়। কীভাবে ইফেকটিভ করা যায়। ছাত্রলীগকে কীভাবে আরও বেশি অর্গানাইজ করা যায়। এই করার মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার কথাটা আস্তে আস্তে আসল। বাট নট ইন আ কংক্রিট টার্ম। একটা লম্বা সময় ধরে বিষয়টা মাথায় ঘুরছে। '৬২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে, রাত ১১টা-১২টা হবে, আউটার স্টেডিয়ামে কাঠের গ্যালারি ছিল, ভলিবল খেলার জায়গা, মসজিদের ওখানে। ওখানে আমরা আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টার জন্য মিট করতাম। তিন-চারবার মিট করে আমরা উদ্যোগী হলাম। আমাদের কী বয়স-সেটাও বুঝতাম। আরেকটা জিনিস বুঝতাম। ক্যাস্ট্রো কম বয়সে, আলজেরিয়ার বেন বেল্লা কম বয়সে, তিন-চারজন দিয়ে শুরু করেছে। এগুলির খবরাখবর আসতেছে। '৬২-এর শেষের দিকে আমরা-এখনকার দিনে যাকে ককাস বলে-ঠিক করলাম আমরা সেন্ট্রাল সেল টাইপের কিছু একটা করব। আউটার স্টেডিয়ামে পাঁচ-সাতটা মিটিং দেওয়ার পর আমরা ইকবাল হলের মাঠে বসতাম, টেনিস গ্রাউন্ডে। বললাম, আমরা এই কাজটা শুরু করি। একটা নাম, নিউক্লিয়াস নামে একটা শুরু করা। ছোট আকারে, আমরা এই চারজন মিলে। মহি: নিউক্লিয়াস শব্দটাই কি তখন ব্যবহার করেছিলেন? সিরাজ: হ্যাঁ, এ শব্দটাই। হাতে হাত রেখে-বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে হবে। মহি: চারজনে? সিরাজ: হ্যাঁ। চারজন থেকে তিনজন এসে গেল কীভাবে, তা একটু বলে রাখি। দুই বছরের মাথায় জেলে গেলাম। আজাদও জেলে গেল। রাজ্জাকও জেলে। আরেফ কিন্তু জেলে যায় নাই। আজাদ বলল যে, সিরাজ ভাই আমি বোধ হয় এটার সাথে থাকতে পারব না। আমাকে বাদ দিয়ে আপনারা কাজ করেন। তবে এটার প্রতি আই উইল রিমেইন সিনসিয়ার। আমি খুব গরিব ঘরের ছেলে। মহি: জেলে এই আলাপ হলো? সিরাজ: জেলে। জেলে তো আমরা ২০-২৫ জন একসঙ্গে থাকতাম। মণি, ওবায়দুর রহমান, আমি, রাজ্জাক, আজাদ, ছাত্র ইউনিয়নের অল লিডার্স, বদরুল হক বাচ্চু-পরে জাস্টিস হয়েছিল, হায়দার আকবর খান রনো, রাশেদ খান মেনন, রেজা আলী। আজাদ বলল, আমি গরিব ঘরের ছেলে। আমার ভাইদেরকে পড়াতে হবে। তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল চিঠির মাধ্যমে। আমি তখন অ্যাক্টিং জেনারেল সেক্রেটারি। বিভিন্ন কলেজে তো ইলেকশন হতো। যারা আসত, তাদের নামে আমি চিঠি দিতাম। যোগাযোগটা হতো। তখন সারা বাংলাদেশে জেলা এবং মহকুমায় চিঠির মাধ্যমে এদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এখনকার জেলাগুলো সব মহকুমা ছিল তখন। আজাদকে জোর করে ধরে রাখার তো দরকার নাই। ওটা তো হার্মফুল ফর আওয়ার কজ। আমরা আবার তিনজন। তারপর তো অ্যারেস্ট হয়ে গেলাম। অ্যারেস্ট হওয়ার আগে আমরা তিনজন বসলাম-আমি, রাজ্জাক আর আরেফ। আমরা ছাত্রলীগের মধ্যে একজন-দুজন করে খুব সতর্কভাবে কাজ করব। আমাদের ট্যাকটিসটা ছিল, ঢাকা সিটিতে মেইন কমিটি, ডিস্ট্রিক্টের মেইন কমিটির প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিকে আমরা টার্গেট করব। আমরা জেলে যাওয়ার পর, সিটিতে আরেফ এভাবে কাজ করতে থাকল। কলেজ লেভেলের কমিটিগুলোতে সে চেষ্টা করত। এবং করেছেও। দেশের অন্যান্য জায়গায় তার তো যোগাযোগ ছিল না। আমরা এগুলো দেখতাম। কিন্তু জেলে থাকার কারণে বেশি দূর এগোতে পারিনি। জেলে যাওয়ার আগে আমি জেনারেল সেক্রেটারি হলাম। সব কানেকশনগুলো সেট হয়ে গেছে। জেল থেকে বেরিয়ে কনফারেন্স করলাম। মনে আছে, কনফারেন্স হলো ৬ সেপ্টেম্বর। রাজ্জাক জেনারেল সেক্রেটারি হলো। মহি: এটা সিক্সটি ফাইভে? সিরাজ: হ্যাঁ। আমি তো আউটগোয়িং। সেদিন লাস্ট বক্তৃতা দিয়ে বললাম, আমি আপনাদের সাথে থাকব, তবে বক্তৃতা-বিবৃতিতে থাকব না। আমি একটা উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেছি। কারোর বুঝতে পারার কথা না। না বুঝলেও সেটা আমার জানার কথা না। এই শুরু হলো। জেল থেকে বেরিয়ে আমরা-কখনো নিউক্লিয়াস, কখনো স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ-যেভাবে নামটা সুবিধা হয়, সেভাবে আমরা বলতাম। এর একটা ডিসিপ্লিনও করলাম। ওপরের দিকে আমাকে চিনবে তুমি। কিন্তু নিচের দিকে সবাইকে চিনবে না। এটার একটা সিগন্যালিং নামও ছিল। ওপরের দিকে আর নিচের দিকে। রক্ষীবাহিনীর যে সরোয়ার মোল্লা-ও ছিল রাজ্জাকের রিক্রুট। সে কীভাবে যে নিউক্লিয়াসের হয়েছে-এইটা 'ওদিব'-ওপরের দিকে বিপ্লবী, আর 'নিদিব'-নিচের দিকে বিপ্লবী, এই লিংকআপটা হতো। মহি: আমার কাছে উনি অভিযোগ করেছেন, আমার জাসদের বইয়ে বিভিন্ন জেলায় নিউক্লিয়াসের কনট্যাক্টগুলোর যে নাম দিয়েছিলাম, ফরিদপুরের ছিলেন আমির হোসেন। তখন তো গ্রেটার ফরিদপুর। উনি আমাকে বললেন, 'আপনি কীসব নাম-টাম দিছেন? নিউক্লিয়াসের লোক তো আমি?' তাঁকে বললাম, এটা তো আমি জানি না। সিরাজ: সরোয়ার মোল্লা, খুব সিনসিয়ার ছিল। নিউক্লিয়াস এগোল কিন্তু খুব স্লো প্রসেসে। আমাদের দুইটা টার্গেট ছিল। একটা হলো, ছাত্রলীগকে বদনাম থেকে বাঁচানো। এটা আওয়ামী লীগের একটা স্টুজ হিসেবে পরিচিত হয়ে গিয়েছিল। কোথাও গেলে ছাত্র ইউনিয়ন-এনএসএফের ছেলেরা বলত-দেখছ দেখছ, মন্ত্রীর সাথে এম এ আউয়াল গেল, এটা তো নিকৃষ্ট কাজ। আর ভালো ছাত্ররা ছাত্রলীগ করে না, ছাত্র ইউনিয়ন করে। ছাত্রলীগে থাকার কারণে দুইটা বদনাম ছিল না আমার। আমি তো ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলাম। আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো কানেকশন নাই। আমি নিজেও তো বুঝি, সেটা নাই। মোয়াজ্জেম ভাই আমাকে প্রথম নিয়ে যায় শেখ মুজিবুর রহমান-মুজিব ভাইয়ের কাছে-উনি আলফা ইনস্যুরেন্স ইস্ট পাকিস্তানের জেনারেল ম্যানেজার। তৎকালীন জিন্নাহ অ্যাভিনিউ-এখনকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে অফিস। সামনে একটা সাদা কাগজ। সেখানে কিছু লিখলেন। মোয়াজ্জেম ভাইকে বললেন, তুই তো থাকছিস না। মণি প্রেসিডেন্ট, ওবায়দুর রহমান জেনারেল সেক্রেটারি, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সিরাজুল আলম খান। তারপর অন্য প্রসঙ্গে তিনি চলে গেলেন। বললেন, ভালো করে কাজ কর ইত্যাদি। আমার কাছে কেন যেন ভালো লাগেনি। প্রথম কথা হলো, ওই যে দুই নম্বর হব না। অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মানেই তো দুই নম্বর। এর আগে মোয়াজ্জেম তো এক নম্বর। জেনারেল সেক্রেটারিও এক নম্বর। আগেই মোয়াজ্জেম ভাইয়ের কাছ থেকে আমি জেনে নিয়েছি-ছাত্রলীগ কী। এটা কি প্রেসিডেন্ট-বেইজড অর্গানাইজেশন, নাকি জেনারেল সেক্রেটারি-বেইজড অর্গানাইজেশন। উনি বললেন, এটা জেনারেল সেক্রেটারি-বেইজড অর্গানাইজেশন। হি ইজ দ্য এক্সিকিউটিভ চিফ। প্রেসিডেন্ট তো প্রেসিডেন্টই। ওখানে কোনো কথা বলার তো দরকার নাই। আমি চলে এসেছি। বললাম, হাউ আই কেম ইন কনট্যাক্ট উইথ মুজিব ভাই।মহি: মোয়াজ্জেম ভাই তো যাবেন '৬৩ সালে। আপনি তো '৬৩ সালে সেক্রেটারি হলেন।সিরাজ: হ্যাঁ। ওখানে দেখলাম, যারা ফরিদপুর আর বরিশাল থেকে এসেছে, ওরা আমার বিরুদ্ধে। আর সবাই আমার পক্ষে, ইনক্লুডিং ঢাকা সিটি। হোল হাউস ঢাকা সিটির নেতৃত্বে আমার পক্ষে। আর অন্য পক্ষে আমি সেক্রেটারি না। ওবায়দুর রহমান প্রেসিডেন্ট। চিটাগাং থেকে সামবডি অথবা অন্য জায়গা থেকে কার কার নাম এসেছে। বাট নট মি। আমি তো সাপোর্টেড বাই শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। কী কারণে আমাকে নিয়ে দুই পক্ষ হলো, আমি আজও বুঝি না। ইন অ্যানি ওয়ে, পরে তো আমি জেনারেল সেক্রেটারি হলাম। মহি: ফেরদৌস কোরেশীর সঙ্গেই বোধ হয় এটা হয়েছিল? সিরাজ: ফেরদৌস কোরেশী আর পরে শুনেছি আবদুল হাই সাচ্চু। ওই যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। ফেরদৌস কোরেশী তো শেখ মুজিবের পক্ষে বা মণির পক্ষে না। এটা হলো চিটাগাংওয়ালাদের কাজ। ফেরদৌস কোরেশীর একটা সুনামও ছিল। তখন যে বন্যা হয়েছিল, বন্যার জন্য সারা দেশে আমরা সাহায্য নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি চিটাগাংয়ের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। তাঁর নামটা সবাই জেনে গিয়েছিল। আমাকে জেনেছিল অ্যাক্টিং সেক্রেটারি হওয়ার কারণে, সবার সঙ্গে আমার যোগাযোগ সেই কারণে। আমি তো সেক্রেটারি হয়ে গেলাম। আবার সেক্রেটারি থেকে বিদায় নিচ্ছি জেল থেকে বেরিয়ে। তারপর তো কাজের ধারা আমরা স্পিডআপ করলাম। আমরা বিপ্লবী বাংলা নামে একটা পেপার বের করলাম। হাতে লিখে। কয়েকটা সংখ্যা করেছিলাম। এগুলি খুব গোপন। কারণ ধরা পড়লেই, মানে বেত মারা। আর জেল তো আছেই। রাজশাহীতে একটা স্কুলের ছেলে একটা গোপন দলের পোস্টার লাগাতে গিয়েছিল-তাকে আটটা বেত মারা হয়েছে। সে যখন জেল থেকে বের হলো, তাকে এক্সিবিট করা হলো-ছাত্র ইউনিয়ন ওটা করল। আমরা পক্ষে ছিলাম। কিন্তু ছাত্র ইউনিয়ন ওই ছেলেকে তাদের পকেটে নিয়ে গেল। মহি: এই যে আপনারা ক্ল্যানডেসটাইন কাজ করছিলেন, ওই সময় যারা আপনাদের সিনিয়র বা কনটেম্পোরারি ছিল, বিশেষ করে মোয়াজ্জেম ভাই বা মণি ভাই, এঁদেরকে কনফিডেন্সে নিলেন না কেন? আমি মোয়াজ্জেম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। উনি বলেছেন, পূর্ববঙ্গ মুক্তি ফ্রন্ট। উনি তারিখ বলতে পারেননি। মনে হয়, ১৯৬১ সালের শেষ দিকে অথবা ১৯৬২ সালের শুরুর দিকে। সিরাজ: হতে পারে। মহি: একটা লিফলেট। শেখ মুজিব তাঁকে দিয়েছেন। উনি আমাকে বলেছেন-আমি পাঁচজনের টিম করলাম-আমি, মণি, ওবায়েদ, সিরাজ, আরেকজন... সিরাজ: সৈয়দ আকবর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। মহি: না, উনি বলেছেন ফরিদপুরের একজন-আনিস। এই পাঁচজন মিলে আপনারা বিভিন্ন এমবাসির সামনে ফেলে এসেছেন। সিরাজ: এমবাসি না, হলে হলে। মহি: এটা কি শেখ মুজিবের সঙ্গে আপনার দেখা হওয়ার আগে? সিরাজ: আগে-পরে, টাইমটা ঠিকমতো বলতে পারব না। কিন্তু মাথায় তো পোকা আছে। মোয়াজ্জেম ভাই হঠাৎ আমাকে আর মণিকে ডাকলেন হসপিটালে ব্রাদার-সিস্টাররা যেখানে থাকেন, তাঁদের চিফের বাসায় ছিলেন। আজিমপুর কলোনিতে। আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, সারেন্ডার করতে হবে। পেপারে নাম দিয়েছে সারেন্ডার করার জন্য। তাদের নামে তখন হুলিয়া। বললেন, সারেন্ডার করব। মহি: এটা মোয়াজ্জেম ভাই বললেন? সিরাজ: হ্যাঁ। বললেন, দেশ থেকে একটু ঘুরে আসি। মুন্সিগঞ্জ থেকে। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করায় বললেন, পরে জানাব। বের হয়ে এসে মণি বলল যে তোরা ঢোকার আগে উনি আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, উনি এটার সঙ্গে থাকবেন না। মহি: মোয়াজ্জেম ভাই থাকবেন না? এটা মণি ভাইকে আগেই বলেছিলেন? সিরাজ: আগে মানে ওই বৈঠকের আগে। এই ওনার ডিসঅ্যাসোসিয়েশন হয়ে গেল। আর মণির ডিসঅ্যাসোসিয়েশন হলো-তার গলায় রক্ত। আর সে বিয়ে করে ফেলল। সেরনিয়াবাত সাহেবের মেয়ে। ওদের একই বংশের মধ্যে বিয়ে হয়, জানো তো? আমি পড়ে গেলাম একা। কিন্তু মাথায় তো পোকাটা ঢুকে গেছে। ওইটার সাথে আর ওরা নাই। আমরা যেটা শুরু করলাম, একেবারে লিংকবিহীন। আমাদের নিউক্লিয়াসটা শুরু করলাম। আমি তখন গুরুত্ব দিলাম নিজের ওপর, আরও পড়াশোনা করার। ইংরেজি পড়ার সঙ্গে যুক্ত হলাম। এবং পড়ার সাথে একটা মিশে যাওয়া, এটা শুরু হয়ে গেল। রাজ্জাকও চেষ্টা করত। কাজী আরেফ ঠিক পড়তে পারত না। কিন্তু আমরা পড়ার পরে তার সঙ্গে আলাপ করতাম। হি ওয়াজ লিসনার, কম কথা বলত। খুব কড়া ধরনের অর্গাইনাইজার ছিল। আমি তো একটু লিবারেল। ও এর মধ্যে নাই। নিউক্লিয়াসের মধ্যে ভেটো পাওয়ার ছিল। এই ভেটো পাওয়ারের কারণে-সে-ই বেশি ভেটো দিত। কত সিদ্ধান্ত যে নিতে পারিনি তার জন্য? আর সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হতো। এক মাস, দুই মাস। যেমন জয় বাংলা স্লোগান। সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের এক সপ্তাহ দেরি হয়েছিল। আমরা এটা মিস করে যাচ্ছিলাম। আমি গুরুত্ব দিয়ে বললাম, যদি ভেটোর কারণে আরও দেরি হয়ে যায়, তাহলে আন্দোলনের গতি কিন্তু মিস হয়ে যাবে। মহি: ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল? সিরাজ: তখন থেকেই ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে আই হ্যাভ আ কর্ডিয়াল রিলেশন। এমনিতেই সবার সঙ্গে আমার একটা কর্ডিয়াল রিলেশন ছিল। মহি: ফরহাদ ভাই তো অন বিহাফ অব কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের কাজ কো-অর্ডিনেট করতেন। সিরাজ: করত এবং হি ওয়াজ দ্য গাইড। মহি: ওনার সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা হলো কীভাবে? সিরাজ: আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকতেন উনি। আর এরা জানত যে আই অ্যাম দ্য মেইন ম্যান ইন ছাত্রলীগ। ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি হিসেবে যারা ছিল, ওরা, মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। কোথায় দেখা হবে?-ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির আহসানউল্লাহ হলে। মহি: আপনি অনেক দিন আগে আমাকে একটা স্টোরি বলেছিলেন। চিকা মারার গল্পটা। সিরাজ: হয়েছে কী, ছাত্রলীগের দু-তিনজন, আমিসহ, আর ছাত্র ইউনিয়নের সাইফুদ্দিন মানিক আর রেজা আলী। আমরা ছাত্রলীগ আর ছাত্র ইউনিয়ন একসঙ্গে যেতাম। খুব ফ্রেন্ডলি ছিলাম। হাতে থাকত রঙের বালতি আর ব্রাশ। দুই পার্টির জন্য দুইটা। আর পুলিশের গাড়ি আসে কি না, অবজারভেশন পোস্ট থাকত। একবার আমরা ইকবাল হল থেকে বেরিয়ে এস এম হলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি-ও, এগুলোতে তো গতকাল মারা হয়েছে। এরপর লক্ষ্য হলো আর্কিটেকচার বিল্ডিং। এখানে বিরাট একটা পুকুর ছিল। নতুন আর্কিটেকচার বিল্ডিং হবে। এ জন্য দেড়-দুই বছর ধরে ইট আনা হচ্ছে। ইট জমা হচ্ছে। দেয়ালে লেখা শুরু হয়। হঠাৎ একটা ইঁদুর যায়। ইঁদুর-জাতীয় কিছু-চিকা। সামনে দিয়ে চলে গেল। বললাম, এটারে মারি। তো এটা তো ইটের মধ্যে ঢুকে গেছে। চারদিকে ঘিরে দাঁড়ালাম-হুস হুস করছি। এইটা তো আর বের হয় না। ভোর সোয়া পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটা বেজে গেছে। আচ্ছা, বাদ দাও, আজ আর করব না। আবার হয়তো দুদিন পরে প্রোগ্রাম হলো। প্রোগ্রামটা হতো বিকেল বেলা, ইকবাল হলের ক্যানটিনে। আমরা তো বলতে পারব না, গোপনে রাতে দেয়ালে রং দিয়ে লিখতে যাচ্ছি। বলতাম, ওই যে, ওই যে, চিকাটাকে মারতে হবে না? এরপর যেদিনই যেতাম কী কাজ, চিকা মারা। চিকা মারতে বের হব ওই টাইমটায়। ইট ওয়াজ সো পপুলার! ইনস্পায়ার্ড ফিল করত সবাই। ওখান থেকেই চিকা মারা কথাটা এসেছে। মহি: এটা কোন সময়? আপনি অ্যারেস্ট হওয়ার আগে?সিরাজ: হ্যাঁ। আমি তো লাস্ট ম্যান, অ্যারেস্ট হলাম।মহি: আপনার সঙ্গে কি বাদশা ভাই (আমিনুল হক বাদশা) ছিলেন?সিরাজ: হ্যাঁ, ও লিখে দিত। আমাদের মধ্যে লেখার একমাত্র লোক ছিল বাদশা। আমরা ডিপেন্ড করতাম ছাত্র ইউনিয়নের ওপর। সাইফুদ্দিন মানিকও লিখতে পারত, আর আর্ট কলেজ থেকে তিন-চারজন নিয়ে আসত।মহি: হাশেম খান তো আপনার কনটেম্পোরারি? সিরাজ: তাকে আমরা অনেক সময় বলতাম। তখন একসঙ্গে তিন শ, চার শ, পাঁচ শ পোস্টার ওখানে প্রোডাকশন হতো। তারপর ডিস্ট্রিবিউশন হয়ে যেত। সব আমাদের ছেলেরা করত। কেউ জানে না। কীভাবে শহীদ মিনারে একুশ তারিখ সকালে ফুল আসল, ঝাড়-পোঁছ করল, গরুর গোবরের সঙ্গে মানুষের পায়খানাও পরিষ্কার করল, কেউ কোনো দিন জানে নাই। এন এম হারুন জানে। মওলা ছিল। মহি: কামরুল আলম খান খসরুর ওস্তাদ মওলা। সিরাজ: খসরুর শাগরেদ মওলা। আর আর্টিস্ট ছিলেন গোলাম মওলা ভাই। আমাদের লিডাররা তো কেউ বের হতেন না। আমরা কী করতাম? তখন তো ফুল পাওয়া যেত না। বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে ফুল আনতাম। পরে কয়েকটা বাড়িতে গিয়ে চুরি করে নিয়ে আসতাম। বোটানিক্যাল গার্ডেনের যিনি ইনচার্জ ছিলেন, তিনি পরদিন ফুল চুরি হয়ে গেল বলে নাইটগার্ডকে খুব গালাগাল করতেন। কিন্তু আমরা নাইটগার্ডকে তো বাগায়া ফেলেছি। রাত বারোটা-একটার দিকে ধুয়েমুছে ফুলগুলো ওখানে রেখে আসতাম। তখন তো ওভাবে মিছিল-টিছিল আসত না। দু-একটা হল থেকে প্রভাতফেরি হতো। ফুল দিয়ে শেষ। এগুলো লাইনআপ করে ফুলগুলো দেওয়া। কেউ তো জানত না, কোথা থেকে কী হচ্ছে। সবাই তো সকাল সাতটা-আটটা-নয়টায় গিয়ে ফুল দিচ্ছে। রাজ্জাক থাকত অনেক সময়। ও তো ঘুমপাগল ছিল। ঘুমাতে হবেই, রাত তিনটা-চারটা হলেও। কাজটাজ শেষ করে ঘুমাতে যেত। তার তো অন্য রকম একটা অর্গানাইজিং ক্যাপাসিটি ছিল। মহি: ছয় দফা দেওয়ার সময়টার কথা বলুন। সিরাজ: '৬৫-এর যুদ্ধ একটা বিষয় শো করেছে। ইস্ট পাকিস্তানকে ভারত আক্রমণ করল না, এটা দখলও করল না। মহি: ভারতের মার্সির ওপর থাকল। সিরাজ: না। মানে হলো, পূর্ব পাকিস্তান একা থাকতে পারে। এই একটা ধারণা। পূর্ব পাকিস্তানকে যদি একা থাকতে হয়, ইন্ডিয়া তো কিছু করবে না? এই একটা বিষয় মাথার মধ্যে ঢুকে গেল। কিন্তু খুব একটা ফাইনাল সিদ্ধান্ত আকারে, তা না। ছেষট্টিতে যখন ছয় দফা দিল, একদিন দেখলাম ইত্তেফাক-এ থার্ড কলামের মাঝে সাত-আটটা লাইনে-শেখ মুজিবের ছয় দফা। মানে একটা ইমপোরট্যান্ট নিউজকে নেগলেক্ট করে যেভাবে দিতে হয়। ফার্স্ট পেজে দিতে হবে কিন্তু নেগলেক্ট করে। নিউজটা পড়লাম। মণি ডেকে নিয়ে বলল, দোস্ত, চল, এক জায়গায় যাব। গেলাম। মুজিব ভাইয়ের অফিসে। আলফা ইনস্যুরেন্সে। বলল, তুই বস, আমি আসছি। সে ফিরে এসে একটা কাগজ দিল আমাকে। টাইপ করা। ওটা পড়ে-আমি জানি না আমার কী হয়েছে, আমি চলে এলাম। মহি: শেখ মুজিব তখন অফিসে নেই?সিরাজ: অফিসে আছে।মহি: লাহোর যাওয়ার আগে তাহলে?সিরাজ: না, লাহোর থেকে আসার পরে। আমি কীভাবে যে ইকবাল হলে চলে আসলাম, কীভাবে যে রাজ্জাককে খবর দিলাম, আরেফকে কীভাবে খবর দিলাম, আর হুঁশ নাই। বললাম, পড়ো। রাজ্জাক বলল, 'এই তো পাইয়া গেছি।'ছাত্রলীগ কনফারেন্সগুলোকে রিক্রুটের কাজে ব্যবহার করতাম। রাজ্জাককে সারা দেশে ট্যুরে পাঠাতাম। সেন্ট্রাল কনফারেন্সের আগে বিভিন্ন জেলায় কনফারেন্স হয় না? আর সিটিতে কাজী আরেফ। প্রত্যেক ডিস্ট্রিক্টে প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির মধ্যে কমপক্ষে একজনকে আমাদের রিক্রুট হিসাবে। হয়তো নিউক্লিয়াস না বলে। তারা বুঝে যেত যে একটা ভালো কাজের সঙ্গে, কঠিন কাজের সঙ্গে তারা যুক্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ তাদের করতে হবে, এটা তারা বুঝে গেছে। আমরা তো সব সময় খুঁজতাম, কোথায় কোথায় পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের ডিফারেন্স বা পার্থক্য। ছয় দফা পাওয়ার পরে, আমরা তিনজন কতবার যে পড়েছি। মনে হলো একটা স্বপ্ন দেখার মতো। এটাই তো হলো একমাত্র ডকুমেন্ট, যেটা দেশকে স্বাধীন করার প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এটা তো সেভাবে প্রচার করার বিষয় না। আওয়ামী লীগও এটাকে নিয়ে এগোতে পারল না। কোনো বিবৃতি দিল না আওয়ামী লীগ। তখন মাজহারুল হক বাকী হলো ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট।* তার সঙ্গে আমার আলাদা একটা সখ্য থাকার কারণে...। সে তো কোনো অবস্থায়ই শেখ মুজিবকে টলারেট করতে পারে না। একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে এটা ছাপাতে তাকে কনভিন্স করলাম। এদিকে আইয়ুব খান একটা ট্যাকটিকস নিয়েছে। তখন একটা প্রো-চায়নিজ এক্সিস ঘটানোর চেষ্টা করছে। করতে গেলে ইন্টারনালিও তো এটা খাওয়াতে হবে। সে মাওলানা ভাসানীকে চুজ করল। আইয়ুব খান ছয় দফার বিরুদ্ধে কঠিন একটা বক্তব্য দিয়েছিল-প্রয়োজনে অস্ত্রের ভাষা দিয়ে এটা মোকাবিলা করা হবে। পলিটিক্যালি হি ইউজড মাওলানা ভাসানী। মাওলানা ভাসানী বলল, একটা শর্ত। আমার সব নেতা যারা আন্ডারগ্রাউন্ডে আছে, তাদের মুক্তি দিতে হবে। ছয়জনকে-আসহাবউদ্দিন চিটাগাংয়ের, মোহাম্মদ তোয়াহাসহ আরও দু-তিনজন যারা আছে, আর ভুলক্রমে হলো প্রফেসর মোজাফফর আহমদ। তার নামটাও উনি দিয়েছিলেন। এরা জেলে ছিল। রিলিজ হলো। তখন ছাত্র ইউনিয়ন ব্রেক হয়ে গেছে। মেনন গ্রুপ তো আরও বেশি খ্যাপা ছিল। মাওলানা ভাসানীর কারণে তখন তারা অ্যান্টি-মুজিব স্টেপটা নিচ্ছে। যেহেতু ভাসানী বলেছে। তাদের এই স্ট্যান্ড, আর আমাদের হলো এর পক্ষে স্ট্যান্ড। তাদের এটা গুরুত্ব পেল কালচারাল ফ্রন্টে। তখন বিএনআর ছিল-ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন। যারা প্রতিষ্ঠিত, তারা সবাই এটার নেতা। প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকেরা পাকিস্তানভিত্তিক সমাজতন্ত্র করবে। আর শেখ মুজিব দেশটাকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে-এই প্রচার। এ জন্য লব্ধপ্রতিষ্ঠ কোনো শিল্পী-সাহিত্যিককে আমরা পাইনি। যাদেরকে পেলাম, তারা হলো, আল মুজাহিদী, মাহবুব তালুকদার, নাসিরুল ইসলাম বাচ্চু, আমিনুল হক বাদশা। বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আমরা কামরুদ্দীন আহমদ আর আহমদ শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতাম। আর ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্যাল সায়েন্সের নূর মোহাম্মদ মিয়া। কে এই আন্দোলনের নেতা হবে, এটা আমরা বহু চেষ্টা করলাম। হামিদুল হক চৌধুরীর সঙ্গেও দেখা করলাম। ফজলুল কাদের চৌধুরীর সঙ্গেও দেখা করলাম। এস এম সোলায়মান-কৃষক-শ্রমিক পার্টি, তার সঙ্গেও দেখা করলাম। আওয়ামী লীগও দুই ভাগে ভাগ। আতাউর রহমান খান থাকলেন এনডিএফে। আর এদিকে হলো শেখ মুজিব। ছিটেফোঁটা ছিল চিটাগাংয়ের এম এ আজিজ, খুলনায় শেখ আজিজ, ফরিদউদ্দিন, সোহরাব হোসেন-ডিস্ট্রিক্ট নেতা বলা হতো এদের। আসলে এরা হলো থানাপর্যায়ের নেতা। সবাই চলে গেছে, হয় সালাম খানের সঙ্গে অথবা এনডিএফ-আতাউর রহমান খানের সঙ্গে। আর শক্তি হলো ছাত্রলীগ। আমরা ছাত্রলীগকে কন্ট্রোল করতাম। পরে দেখলাম যে নিউক্লিয়াস দিয়ে তো আর উইং করা যায় না, ২০-৩০-৪০-১০০ জনকে মেম্বার করা যায় না। তখন আমরা এটাকে পলিটিক্যাল উইং আর মিলিটারি উইং করলাম। তখন আমাদের মধ্যে ভিয়েতনাম ওয়ারের একটা ইনফ্লুয়েন্স আসল। এভাবে গড়াতে গড়াতে, আমাদের শক্তি বেশ। রাজ্জাকের সেক্রেটারিশিপে আমাদের শক্তি তখন, ঢাকায় আমাদের ৪০০-৫০০ পর্যন্ত মেম্বারশিপ। মহি: ফেরদৌস কোরেশী আপনাদের সঙ্গে থাকলেন না কেন? সিরাজ: উই ডিডনট ফিল, তার থাকা না-থাকা। একজনের একটা মাইন্ড থাকে তো? তার ছিল না। ওবায়দুর রহমানের ছিল না। আর এটা গোপন সংগঠন তো। যে এটা না জানবে, সে কিছুই জানবে না। অনেকে বলে না, আমরা জানতাম না। গোপন সংগঠন, তুমি জানবা কেমন করে? নূরে আলম সিদ্দিকী বলে না অনেক সময়? গোপন জিনিস সে জানবে কী করে? ছয় দফা মুভমেন্টকে আমরা কোনো অবস্থায় দাঁড় করাতে পারছিলাম না। আমাদের চিন্তা হলো, ছয় দফা যদি পেতে হয়, তাহলে এটাকে একটা পিপলস ক্যারেক্টর দিতে হবে। কীভাবে সম্ভব? আমরা সারা দেশের ক্রস-সেকশন অব পিপল-তখন তো শ্রেণি-পেশা বলা হতো না? ক্রস-সেকশন অব পিপলকে যদি দাবিদাওয়াভিত্তিক একটা পলিটিক্যাল সাইড নিয়ে আসতে চাই, তাহলে ইট ক্যান ব্রিং সাম রেজাল্ট। আমাদের নিউক্লিয়াসে এ আলোচনাটা হলো। আমরা ছাত্র ইউনিয়নকে এটা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। ফরহাদ ভাই তখন কমিউনিস্ট পার্টি অর্গানাইজ করছেন। আন্ডারগ্রাউন্ডে। উনি তো খুবই ভালো মানুষ। এত উঁচু পর্যায়ের চিন্তার মানুষ খুব পাওয়া যায় না। সো পোলাইট, সো কনভিন্সিং! 'হ্যাঁ হ্যাঁ প্রো-পিপল হতে পারে।' বললাম ঠিক আছে, আমরা স্বায়ত্তশাসনের দাবিটা দিই? স্বায়ত্তশাসন বলাতে ওরা খুব খুশি হয়ে গেল। এক নম্বরেই স্বায়ত্তশাসন। এটা ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে। এই হ্যান্ডলিংটা আমি করাচ্ছি ছাত্রলীগকে দিয়ে। রউফ প্রেসিডেন্ট, খালেদ মোহাম্মদ আলী সেক্রেটারি। যখন স্বায়ত্তশাসনের কংক্রিট প্রস্তাব আসল, ওরা বেঁকে বসল। না, হবে না, ছয় দফা দিয়ে হবে না। এটা আমেরিকান প্রোগ্রাম। বহু সময় যায়। আলোচনা হয়। কোনো অবস্থাতেই তাদের মানানো যায় না। ঠিক আছে ছয় দফার কথা না দিয়ে আমরা টার্মগুলো ব্যবহার করি? হ্যাঁ, এসব টার্মনোলজিতে এমন সব কথা আছে, তখন এটা তো আর স্বায়ত্তশাসন থাকে না। অন্য কিছু হয়ে যায়। তাহলে যে জায়গাটায় অন্য কিছু হয়ে যাবে, সেটা বাদ। তাহলে তিন নম্বরটা-দুই মুদ্রা?আমি বললাম, দুই মুদ্রা বাদ। আমি উদাহরণ দিলাম। যদি একটা পরীক্ষায়-অনেক সময় প্রশ্ন থাকে-এইটা অথবা ওইটা। আমি যদি 'অথবা'টা নিই, আমার অসুবিধা কিসের? আমি তো উত্তর দিচ্ছি। প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা না হয় দিলাম না? আলাদা মুদ্রা বা এখানকার টাকা ওখানে যেতে পারবে না। এখানকার হিসাব এখানে থাকবে। রাজি হয়ে গেল। ছয় দফা শব্দটা না থাকলেও এক-দুই-তিন-চার-পাঁচ-ছয় করে রেখেছি। ছাত্রলীগকেও বলতে সুবিধা হবে, ছয় দফাভিত্তিক এগারো দফা। পরে বিভিন্ন দাবিদাওয়া মিলিয়ে হলো এগারো দফা। এগুলো আবার পাস-টাস করাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। মুজিব ভাই তো জেলে। অল লিডারস আর ইন জেল। মুজিব ভাইয়ের সঙ্গে মাঝে আই ওয়াজ ক্লোজ। খুবই ক্লোজ। আমিও লাইক করতাম। উনিও লাইক করতেন। এমন কিছু কাজ উনি করতেন-একটা উদাহরণ দিই। একটা ঘূর্ণিঝড় হলো। ঝড়ের পরে কিছু সাহায্য যাবে, আওয়ামী লীগ থেকে লিডার নিয়ে যাবে। ২০০-৩০০ টাকার জিনিস কিনতে হবে। বললেন, 'সিরাজ, তুমি এগুলো কিনে নিয়ে আসো।' আমি তো এগুলো চিনি না। ঢাকা শহরে গাজী গোলাম মোস্তফা ছাড়া দুই কসাই-রশিদ, আরেকজনের কী যেন নাম...। কসাই মাঝে মাঝে মাংস দিয়ে আসত মুজিব ভাইয়ের বাসায়। বললেন, 'আমি রশিদকে দিচ্ছি। তুই তার সঙ্গে যাবি।' গিয়ে দেখলাম, তার লাগে, পেরেক লাগে, হাতুড়ি লাগে, কিছু কাঠ লাগে-ঘরবাড়ি বানাতে যা যা লাগে আরকি। ৩০০ টাকা তো তখন বিরাট টাকা। ৬৭-৬৮ টাকা বাঁচল। দুপুরে খেলাম। আমার পয়সায় খেলাম আমি। মালপত্র মুজিব ভাইয়ের বাসায় রাখলাম। ৬৮ টাকা ফেরত দিলাম। রশিদরা কিছু খেয়ে এসেছে। তারা এসে মুজিব ভাইকে বলে, 'মুজিব ভাই, একটা মানুষ পাইছেন। এ রকম খাঁটি পার্টি পাইবেন না।' অর্থাৎ আন্তরিক আর অনেস্ট-এ হলো ফার্স্ট। আমার ধারণা হলো আরকি। এটাই ফার্স্ট কি না, জানি না। আমার সম্পর্কে তাঁর ধারণা উঁচু পর্যায়ে হয়ে যাওয়া। মহি: কোন ইয়ারে? সিক্সটি ফাইভের আগে না পরে? সিরাজ: পরে। মহি: উনি অ্যারেস্ট হওয়ার আগে? সিরাজ: হ্যাঁ। এই হলো এক। দ্বিতীয় হলো, তাঁর অফিসে যাওয়া-আসা করতাম। অফিস ছিল ১৫ নম্বরে, ৫১-তে না। মহি: ১৫ পুরানা পল্টন। সিরাজ: হ্যাঁ। তিন রুম। তিনি বক্তৃতা দিচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়। অ্যারেস্ট হচ্ছেন। আবার জামিন নিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন। একদিন আমাকে গাড়িতে করে ধানমন্ডিতে নিয়ে এলেন। বললেন, কালকে নারায়ণগঞ্জে মিটিং। আমি কি যাব সেখানে? না, যাইস না। আমাকে অ্যারেস্ট করবে। আর আমাকে বেইল দেবে না। কারণ, ওখানে বেইল করার লোক নাই। আমাকে ১১০০-১২০০ টাকা দিলেন। কাজ করবি। যোগাযোগ থাকবে। কার মাধ্যমে যোগাযোগ? এছলাম। তোর ভাবির কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে নিস। ইসলাম আরকি। উনি বলতেন এছলাম। এ রকম আরও কয়েকবার গাড়িতে উনি আমাকে হলে নামিয়ে দিতেন। আমি তখন এস এম হলে থাকি। একদিন বললাম, মুজিব ভাই আমার একটা ইচ্ছা আছে, আওয়ামী লীগকে... বল, বল? গাড়িতে আমি সাধারণত সামনে বসতাম। উনি পেছনে, গাড়ি থামিয়ে বললেন, তুই পেছনে আয় তো? তারপর গাড়ি যাচ্ছে আবার। বললাম, আওয়ামী লীগকে ইংল্যান্ডের লেবার পার্টির মতো করলে কেমন হয়? লেবার পার্টি সম্পর্কে আমার যে ভালো ধারণা আছে, তা-ও না। কিছু একটা ধারণা ছিল। যে, এটা মানুষের উপকার করে, শ্রমিকশ্রেণির। বললেন, খুব ভালো, করতে পারবি? কর। কোনো অসুবিধা নাই। উনি আমাদের নিউক্লিয়াসের কোনো কিছু ঘুণাক্ষরেও জানেন না। এই কথা হলো নারায়ণগঞ্জের মিটিংয়ের আগের দিন। তারপর তো উনি জেলে চলে গেলেন। সিক্সটি সিক্সের সাতই জুন। তাজউদ্দীন ভাইকে তো জেলে নিয়ে গেল। মিজান চৌধুরী হলেন অ্যাক্টিং সেক্রেটারি। হরতাল হবে ৭ জুন। মণি এসে জয়েন করল। আদমজীতে অ্যারোমা টি একটা সেকশন খুলেছিল। সে এটার দায়িত্বে। গাড়িতে করে, গাড়ি মানে সাইকেলে ভ্যান লাগিয়ে ঘোরে না? মহি: যেভাবে আইসক্রিম বিক্রি করে? সিরাজ: হ্যাঁ। এটার পেছনে চড়ে আর সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চা দিয়ে আসত। মধুর ক্যানটিনে, বিভিন্ন হলের ক্যানটিনে... মহি: ডিস্ট্রিবিউটর? সিরাজ: হ্যাঁ। কমার্শিয়াল সাইড দেখত। ১০০ না ২০০ টাকার চাকরি। এসে বলল, দোস্ত, কাজ করে নিই। কী বলবি বল? আমি কীভাবে করব। আমার যোগাযোগ নাই। তখন আমার একটা ৫০ সিসি হোন্ডা আছে। এর আগে একটা ডিসিশন ছিল, শ্রমিকদের মধ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। তো যোগাযোগটা কীভাবে হবে? আমি তো কিছুই চিনি না। অনলি কানেকশন হতে পারে নোয়াখালী কানেকশন। মানুষ যেমন, বিভিন্ন কানেকশনকে গুরুত্ব দিয়ে ঢোকে, এই সেন্সে। তেজগাঁওতে পেয়ে গেলাম। রুহুল আমিন ভূঁইয়া না। অন্য একজন। আদমজীতে পেয়ে গেলাম আজিজুল হক, আওয়ামী লীগের ভক্ত। আমার দুই বছরের সিনিয়র। আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া হিসেবে তখন আছে ডেমরা, আর শাহজাহান ভাইয়ের পোস্তগোলা। হ্যাঁ। সামান্য কিছু চটকল, ম্যাচ ফ্যাক্টরি এই। নোয়াখালী কানেকশন। বলল যে আমরা তো এটা করতে পারব না। আমাদের বড় নেতাদের বলতে হবে। কে বড় নেতা? রুহুল আমিন ভূঁইয়া, আবদুল মান্নান। এখানে পোস্তগোলায় পেলাম মেসবাহকে। সে বলল, তারও কিছু কানেকশন আছে। তার কানেকশন নিয়ে মুভ করে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বললাম। আওয়ামী লীগ অফিসে তাদের নিয়ে আসলাম। মিজান ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললাম। তারা মিজান ভাইকে বলল, কিছু টাকা খরচ করতে হবে। কত টাকা খরচ করতে হবে? ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। তখন তো এটা অনেক টাকা। বললেন, আপনারা কাজ শুরু করেন। সিরাজ তো যোগাযোগ রাখবে। সিরাজ, তুমি এদের পেছনে লাগো। টাকা আমি জোগাড় করব। যেভাবেই হোক। টাকা সংগ্রহ হলো। কেউ ১০০, কেউ ২০০। আদমজীতে সাদুকে পেয়ে গেলাম। সাইদুল হক সাদু, গাট্টাগোট্টা। চেহারাসুরতও সে রকম। বলিষ্ঠ, পেটানো শরীর। কী কারণে আমি তাকে লাইক করে ফেলেছি। আজিজ ভাইকে বললাম। 'গুন্ডা মার্কা, প্রস্টিটিউশনে পড়ে থাকে, এটাকে নিয়ে কী করবেন?' বললাম, কাজ হলেই তো হলো। একটা ভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রপাগান্ডায় আমরা নেমে গেলাম। প্রথম যেদিন নামলাম, মোয়াজ্জেম ভাই বাইরে, মিজান ভাই বাইরে। হরতালটা ডাকা হবে কীভাবে? বায়তুল মোকাররমের ওখানটা, মোয়াজ্জেম ভাই বলে, 'সিরাজ, তুই কর।' আমার তখন গা কাঁপতেছে। বললাম, কী বলব? 'বল, বল?' তখন আমি তো বক্তৃতা-টক্তৃতা দিই। একটা দোকান থেকে টুল নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে বললাম, এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে, পূর্ব পাকিস্তানের দাবির পক্ষে, রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে সাতই জুন হরতাল। লোক ছিল ৭-৮ জন। ১৫-২০ জন হলো এসবির লোক। তখনো বায়তুল মোকাররম মসজিদের সিঁড়িগুলো হয়নি। অত দূর পর্যন্ত যেতে মোয়াজ্জেম ভাই বললেন-ভাগ। আর একটু হলে অ্যারেস্ট করে ফেলবে। ভেগে চলে আসলাম। আমাদের নিউক্লিয়াসে যেহেতু ১০০-২০০-৩০০ মেম্বার হয়ে গেছে, আমরা স্টুডেন্টদের মধ্যে প্রচার শুরু করলাম। তেজগাঁওয়ে তো স্কুল আছে। স্টুডেন্টদের বললাম, কোথায় কোথায় শ্রমিক আছে, আমাদের খোঁজ দাও। আদমজীতে কলেজ আছে। তাদের খোঁজ দাও। সেভাবেই আমরা যোগাযোগ করেছি। নোয়াখাইল্যা আর ছাত্রলীগের কানেকশনে। ডিস্ট্রিক্টেও ছড়িয়ে গেল। যে হরতাল হলো, আনপ্রিসিডেন্টেড। মনে হলো, যেন একটা পাখিও ওড়েনি। আর সারা ঢাকার রাস্তায় ইট পেতে দেওয়া হয়েছে। তখন তো গাছ কাটার অভ্যাস হয়নি। আদমজীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে-সাদু তোমাদের ওপর নির্ভর করছে ঢাকার হরতাল। বলল, 'মুসলমান হিসাবে কথা দিলাম-হবে। আপনাকে কোথায় খুঁজব।' আওয়ামী লীগ অফিসে। রাতে থাকলাম মঞ্জুদের (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) বাসায়। তখন বেশির ভাগ সময় মঞ্জুদের বাসায় থাকতাম। ওর একটা প্রিন্স গাড়ি ছিল। ওটায় চড়ে আমরা ঘুরতাম। রাস্তায় এমনভাবে ইট বসানো। ইট সরিয়ে সরিয়ে গেলাম, হরতাল কেমন হয়েছে জানার জন্য। কাছে কী আছে? তেজগাঁও। যেভাবে ইট ছড়ানো, বহু কষ্টে-সোনারগাঁও হোটেল তো তখন ছিল না, ওই পর্যন্ত আসতে দেখলাম, ছাত্ররা মিছিল বের করার চেষ্টা করছে। তেজগাঁওয়ে গুলিতে শ্রমিক মারা গেছে-মনু মিয়া নাম। পরে পেপারে ছাপা হওয়ায় নাম জেনেছি। তারপর আওয়ামী লীগ অফিসে গেলাম। হঠাৎ পুলিশের একটা জিপ আসল। আমরা তো কোনো অবস্থায় অ্যারেস্ট হব না। ভেতরে এসে বলল, সিরাজুল আলম খান কার নাম? বললাম, আমার নাম। ওখানে দেখলাম, তার সঙ্গে জিপে এসেছে সাদুর সঙ্গের এক লোক। পুলিশ বলল, এই শ্রমিক এসেছে আপনার সঙ্গে কথা বলতে। দেখলাম, তার নাম শফি। বলে যে আমরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত এসেছি। সাদু ভাই বলেছে, আপনাকে নিয়ে যেতে। পুলিশ অফিসারটা বলছে, 'আমরা বলেছি হরতাল হয়ে গেছে। ওরা বলে যে উনি না বললে আমরা যাব না।' ২০ থেকে ২২ হাজার লোকের মিছিল। হাতে হলো আগুনের লুয়া। তখন তো মশাল বলত না। আদমজী এমনিতেই তো জুট মিল। পাটের কোনো অভাব নেই। কাঠের কোনো অভাব নেই। পেট্রলপাম্প আছে। তেলের কোনো অভাব নেই। তিন থেকে চার হাজার লোকের হাতে লাঠি। মাথায় পাট, তাতে আগুন। একটু অন্যমনস্ক হলেই সারা ঢাকায় আগুন জ্বলে যাবে। এই রকম অবস্থা। পুলিশ অফিসার আমাকে এটা বলেছে, 'আমি চিনি না আপনাকে, যে-ই হোন, ওখানে গিয়ে তাদের থামান।' গেলাম। সবাই সেখানে বসে আছে। কিছু লেবু দেওয়া হয়েছে। লেবুর শরবত খাচ্ছে, ১৩ মাইল হেঁটে আসার পর। বললাম, মিছিল হয়েছে। এখন তোমরা যাও। সবাই জিন্দাবাদ দিয়ে দিয়ে আবার চলে গেল। মোট খরচ হয়েছে দেড় শ টাকা। লেবুর শরবত। আর তো কিছু দেওয়া যায় না। অনেকেই বাধ্য হলো হরতালের খবর দিতে, কীভাবে ডিভাস্টেটিং হরতাল হলো। তখনই আমাদের ধারণা হলো, ইয়েস, শ্রমিকদের অর্গানাইজ করতে পারলে ইট ক্যান বি ডান। আত্মবিশ্বাস এসে গেল। শ্রমিক সংগঠন থাকলে, ইট ক্যান বি ডান। এটা তো বলতে গেলে একেবারে ওয়ানম্যান শো, আমার দ্বারা। আর আমার মোটরসাইকেল আর মেসবাহ। আর পেয়ে গেলাম সিনিয়র লোকগুলোকে। মান্নান ভাই তো সমাজবাদী দলের। তাঁকে বললাম, শ্রমিকনেতা থাকবেন। শ্রমিকনেতা থেকে যদি একজন পার্লামেন্ট মেম্বার হতে পারেন, আপনি কত কথা সামনাসামনি বলতে পারবেন? সারা দেশের লোক জানবে? এ কথাগুলো উনি অ্যাপ্রিসিয়েট করলেন। এই তো হলো শ্রমিক সংগঠন করার গোড়ার কথা। নাম না দিয়ে নিউক্লিয়াস, সেল সেল সেল। একেকটা ইন্ডাস্ট্রিতে পাঁচটা, সাতটা, দশটা পর্যন্ত সেল। আদমজীতে তো ২০-২৫টা সেল বানিয়ে ফেলেছি। আর এদিকে হলো ছয় দফাকে এগারো দফায় পরিণত করা। এক দিকে আন্দোলন, আরেক দিকে সংগঠন। এই জায়গাটায় আসতে ১৯৬৯ এসে গেল। মহি: শেখ মুজিব যে টাকা দিলেন, কত টাকা? সিরাজ: ১১০০-১২০০, তাদের খরচের জন্য। ওই কথা, তোর ভাবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখিস। আর ইসলাম হলো মূলত পোস্টার লেখার লোক। মাঝেমধ্যে ১০০-২০০ পোস্টার লিখে দিত সে। আমরা আমাদের লোকের মাধ্যমে এটা লাগাতাম। মহি: ওনার পুরো নাম নুরুল ইসলাম নাকি? নাম শুনেছি। সিরাজ: হ্যাঁ। একটা বইও লিখেছে। আমার একটা নিক নেম ব্যবহার করা হতো। ভাবির কাছে ফোন করার জন্য-ইটালা-মানে ইটওয়ালা। তখন বাড়ির কনস্ট্রাকশন হচ্ছে তো। ইট সাপ্লাই হতো। তো ফোনে কে বলছেন আপনি? ইটালা বলতেছি। ও আচ্ছা, ঠিক আছে আসেন। কোনো জরুরি খবরটবর থাকলে, ওয়ানস ইন আ মান্থ। ঢাকার বাইরে জেলাগুলোতে আমরা একটা ফরমেশনে চলে গেলাম। ছাত্রলীগ হলো মেইন অর্গানাইজেশন। তারপর আন্ডারগ্রাউন্ড বা ব্যাকআপ নিউক্লিয়াস। শ্রমিক সংগঠনের ওপর জোর দেওয়া হলো। আওয়ামী লীগের স্ট্রাকচার তো নাথিং। মহি: আপনাদের নিউক্লিয়াসের এক্সপানশনটা কখন শুরু হলো? সিরাজ: তখন থেকেই। পার্টিকুলারলি সিক্সটি ফাইভে, যখন জেল থেকে বের হলাম। এর আগে আমাদের সদস্যসংখ্যা কত? ২০-২৫-৩০-৪০-৫০। আর জেলে যাওয়ার পর, আরেফ একা কাজ করত। তুমি বুঝতে যে, আমার সঙ্গে তোমার চলাফেরার মধ্যে একটা আনন্দ আছে। আর আমিও তোমাকে চুজ করছি। বাট আই অ্যাম নট টেলিং ইউ এভরিথিং যে, এটা একটা গোপন সংগঠন। তুমি তো বুঝেই ফেলবে যে, হাউ ইমপোরট্যান্ট ইট ইজ। একটা সময় বোঝা যাবে যে উই আর ওয়ার্কিং ফর আ কজ। মহি: আচ্ছা আবদুল আজিজ বাগমার-এদের ব্যাপারটা কী? এই যে অপূর্ব সংসদ? সিরাজ: শুনেছি পরে। সে তো আমারে ধরায়া দিছে। এসবির এজেন্ট ছিল। আই ওয়াজ দ্য লাস্ট ম্যান টু বি অ্যারেস্টেড ইন নাইনটিন সিক্সটি থ্রি। একসঙ্গে নিয়ে গেল হলে। ইঞ্জিনিয়ারিং হলে। ইঞ্জিনিয়ারিং হলগুলো তখন আন্ডারকনস্ট্রাকশন। সেখানে তার পরিচিত এক রুমে থাকলাম। অন ফোর্থ ডে-বুঝলাম সে কাজটা করিয়েছে। ভুল বোঝার কোনো কারণ নাই-করিয়েছে। আবার ভুলও হতে পারে, অন্য কোনোভাবে সে হয়তো, কেউ হয়তো তাকে ফলো করেছে। তারপর এখানে এসে আমাকে ধরল। এটা হতে পারে। এমনি খারাপ ছিল না। খুব সোশ্যাল, অ্যাকটিভ ছিল। আরও অনেকে এ রকম এসেছে। সেগুলি আমরা অন্যভাবে কভার করতে পেরেছি। আসলে বাংলাদেশ স্ট্রাগল-এগুলো লিখতে গেলে, আমাদের সাইডটা-ইটস আ বিগ বিগ... মহি: অনেক ডাইমেনশন, অনেক ডিটেইলস। সিরাজ: আমাদের এই বয়সে, আমি তো বুঝি, আমাকে কী কষ্ট করতে হয়েছে। আমি তো অনেক সুঠাম দেহের, অনেক তেজি মানুষ। অনেক কষ্ট সহ্য করার মানুষ কিন্তু। যেটা খুব কম লোকের মধ্যে আছে। এই আমি এবং আমার মতো যারা নিউক্লিয়াসের সঙ্গে জড়িত ছিল, কঠোর পরিশ্রম, কঠোর। মাইলকে মাইল হাঁটা, ফর নো রিজন। শাজাহান সিরাজ তো প্রায়ই বলে, দাদার সঙ্গে চার-পাঁচ মাইল হাঁটা, আবার ফিরলাম, বুঝলাম না যে হাঁটছি। কী জন্য হাঁটছি, বুঝি নাই। পরে বুঝেছি, এই হাঁটার কারণে আমার যে ইন্টারেস্ট এবং ক্ষমতা, এগুলোর প্রমাণ পেয়ে গেছে সে। দেন হি ওয়াজ আসকড টু জয়েন আ সিক্রেট মুভমেন্ট-স্বাধীনতা। সরাসরি নিউক্লিয়াসের মেম্বার করার তো সুযোগ কম। ডিস্ট্রিক্টে ডিস্ট্রিক্টে একজন করে, তারা তখনো জানে না, নিউক্লিয়াস কী। পরে জেনেছে। মহি: জাস্ট কনট্যাক্ট পারসন? সিরাজ: কনট্যাক্ট পারসন। আমাকে ফজলুল হক হল থেকে এক্সপেলড করেছিল। তারপর ঢাকা হলে গেলাম। সেখান থেকেও এক্সপেল করল আমাকে। দুই জায়গায় একই রকম লেখা। ল্যাঙ্গুয়েজটা হলো সে কী করে, এটা আমরা বুঝি না। ঢাকা হলের প্রভোস্ট লিখেছে, হাউস টিউটর লিখেছে, প্রভোস্ট সাইন করেছে-হোয়াই সিরাজুল আলম খান কামস লেট এভরি নাইট। উই ডোন্ট নো। বাট মে বি দ্য রিজন ইজ নোন টু হিম। খুব সুন্দর একটা সেনটেন্স। কী করে, সে নিজেই জানে, আর কেউ জানে না। আমাকে এক্সপেল করে দিলেন। এখন কেউ না দেখলে, না জানলে তো বুঝবে না। রাত বারোটা-একটা পর্যন্ত ওইসব রেস্টুরেন্টে বসে, ওই যে গুলনার রেস্টুরেন্ট, ইসমাত রেস্টুরেন্ট। এগুলো ছিল সেক্রেটারিয়েটের উল্টো দিকে। মহি: তোপখানা রোডে? সিরাজ: হ্যাঁ। এখন তো অন্য কিছু হয়ে গেছে। তারপর তো ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে আমাকে এক্সপেল করল। মহি: ওটা ১৯৬৪ সালে। সিরাজ: আমি তো পরীক্ষা দিলাম '৬৩ সালে। মহি: আপনাকে তো এক্সপেল করল কনভোকেশনের দিনে গন্ডগোলের কারণে? সিরাজ: অথচ ওই দিন আমি ছিলাম না। মহি: আপনাকে দুই বছরের জন্য এক্সপেল করেছিল। আপনাদের মধ্যে একজন মামলা করেছিল-জাকির আহমদ। সিরাজ: হ্যাঁ, পরে জাস্টিস হয়েছিল। মহি: তার মামলাটা করেছিলেন এস আর পাল। আপনাদের পক্ষে ইকবাল হলের একজন কর্মী ছিলেন, সিরাজুল হক। উনি আমাকে বলেছিলেন। উনি পরে বিএনপিতে গেছেন। আমার আওয়ামী লীগকে নিয়ে লেখা বইয়ে তো সবগুলো নাম দিয়েছি। নামগুলো আমি পেয়েছি অলি আহাদের বইয়ে। সেখানে অবশ্য নামের বানান-টানানে কিছু ভুল আছে। সিরাজ: অলি আহাদ আমাকে ভীষণ পছন্দ করতেন। ল্যাঙ্গুয়েজ মুভমেন্টে তো হি ওয়াজ দ্য মেইন ম্যান। '৯২ সালে আমি যখন অসুস্থ, অপারেশন হলো স্পাইনাল কর্ডে, অলি আহাদ ভাই দেখতে এসেছিলেন। আউট অব দ্য ওয়ে। ধানমন্ডিতে ২ নম্বর রোডে উনি একটা রুম ভাড়া করে থাকতেন। আমাকে বেশ কয়েক দিন নিয়ে গেছেন। দেখতাম, অনেক বই। শেখ সাহেবের জন্য এঁরা রাজনীতিতে থাকতে পারলেন না। এটা কি তার নিজস্ব কারণে, নাকি সুদূরপ্রসারী একটা চিন্তা আছে তাঁর মাথায়, সে কারণে; সেটা আমি এখনো বের করতে পারিনি। আমি '৪৮, '৫৪, '৫৫ সালের কথা বলছি। আমরাও অ্যাগ্রেসিভ ছিলাম। স্বাধীনতার প্রশ্নে নিউক্লিয়াস যে কাজ করছিল, এ কাজে যদি কেউ হ্যাম্পার করে, নির্মম হতে পারতাম, মারপিট করে, কেউ দাঁড়াতে পারত না। এ রকম একটা শক্তি ছিল। বিশেষ করে, মিছিলগুলোতে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে। ওদের স্লোগান ছিল জয় সর্বহারা, আমাদের হলো জয় বাংলা। ওদের হলো শ্রমিক-কৃষক অস্ত্র ধরো, আমাদের হলো বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো। একটা হলো ক্ল্যাসিক মুভমেন্ট অব সমাজতন্ত্র, আরেকটা হলো ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট। এগুলো এস্টাবলিশ করতে কত-কী যে করেছি? এবং কামরুল আলম খান খসরু আর মোস্তফা মোহসীন মন্টুর অবদান অসম্ভব! এরা তো ১৯৬২ সাল থেকে আমার সঙ্গে। আর এই মুভমেন্টগুলোর সুযোগে ছাত্রলীগ থেকে বিরাট বাহিনী বের করে নেওয়া হয়েছিল আন্ডার দেয়ার কমান্ড। কামালউদ্দিন ফিরু। কী ডেয়ারিং। খসরুর সামনে কেউ দাঁড়াবে। আনথিংকেবল! যেভাবে তার গ্যাংগুলিকে সে অর্গানাইজ করত। তার আন্ডারে ঢাকায় আমাদের মিনিমাম একেবারে হেলেফেলে হলেও ৬০ জন-আপ টু ওয়ান হানড্রেড। স্ট্যান্ডবাই থাকত। হল-বেসিস, কলেজ-বেসিস, পাড়া-বেসিস। আমাদের খুব বেশি পয়সা খরচ করতে হতো না। মিনিমাম কস্ট। সবাই তো যার যার বাড়িতে থাকত। হলে যারা আছে, তাদের বাপ তো বাড়ি থেকে টাকা পাঠায়। সে জন্য বেশি পয়সা লাগত না, আনলেস স্পেশাল কোনো অকেশনে যদি কিছু খরচটরচ করতে হতো। খসরু একজনই। মহিউদ্দিনও ছিল। একটু ভীরু ছিল সে। ফিরু ছিল খুব সাহসী। ও প্রথমে এনএসএফের সঙ্গে যুক্ত ছিল। মহি: পরে নিউট্রাল করেছেন। সিরাজ: পরে তো খসরু-মন্টু-ফিরু-মহিউদ্দিন। এরা এখন অনেকেই সেলফ সেন্টারড হয়ে গেছে। চিন্তাগুলো অত প্রসারিত হয়নি বা আমাদের সমাজজীবনের কারণে, দে হ্যাভ টু বি ফ্যামিলি ম্যান। কিন্তু আমার জীবনে অনেক সুন্দর সুন্দর মানুষকে পেয়েছি। কাউকে কাউকে মনে হয়েছে আমার চেয়েও ভালো মানুষ। এমনিতে আমি তো খারাপ মানুষ না-এটা আমি বুঝি। কারও সঙ্গে খারাপ কথা বলি না। কোনো অবস্থাতে খারাপ চিন্তাই আমি করি না। তোমার কোনো অনিষ্ট হতে পারে-ইট ইজ নট ইন মাই প্ল্যান, ইন মাই থিংকিং প্রসেস। কমবেশি একটা ফিলসফিক্যাল মাইন্ড তো গড়ে উঠেছে। আর এমনিতেই আমি লিবারেল-মাইন্ডেড ম্যান। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের আছে একটি বিস্তৃত পটভূমি। বিভিন্ন সময়ে এ লক্ষ্যে নানান উদ্যোগের কথা জানা যায়। অনুসন্ধানী গবেষণা যত বেশি হবে, ততই এর গভীরে যাওয়া যাবে, জানা যাবে এর পেছনের মানুষগুলোর স্বপ্ন, লড়াই আর তিতিক্ষার কথা। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের সময় থেকেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের ওপর অনেক বাঙালির আস্থায় চিড় ধরেছিল। এমনকি যাঁরা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে হাঁটতেন, তাঁদের কারও কারও মধ্যেও। ঘটনা পরম্পরায় দেখা যায়, ওই সময় থেকেই আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নানামুখী উদ্যোগ ছিল। শেখ মুজিবের অনুসারীরা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে থাকলেও সেখানে একাধিক স্রোতোধারার সন্ধান পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ তখন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। স্বাধীনতার কথা প্রকাশ্যে প্রচার করার অনুকূল পরিবেশ ছিল না। এমনকি গোপন প্রচারের পক্ষেও জোরালো কোনো প্রবণতা দৃশ্যমান হয়নি। কিছু কিছু সাহসী তরুণ এ লক্ষ্যে কাজ করতেন গোপনে, সতর্কতার সঙ্গে। এ ক্ষেত্রে কেবল একটি প্রক্রিয়া বহমান ছিল, এমনটি বলা যাবে না। এ হলো নদীর জলধারার মতো। একটির সঙ্গে আরেকটির সংযোগ নেই। যেমন তিতাস জানে না তিস্তার কথা, কংস জানে না কুমারের কথা। জানাজানি হয় তখনই, যখন তারা এক মোহনায় মেশে। দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে ছিলেন শেখ মুজিব অথবা তাঁকে অবলম্বন করেই আবর্তিত হয়েছে একাধিক ধারা। এই পরিক্রমার একটি সুনির্দিষ্ট মাইলফলক হলো ছয় দফা, যা ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঝোড়ো হাওয়ার সূচনা করেছিল। তারপর শুধুই এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু পথটি সহজ ছিল না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য এ প্রক্রিয়াগুলোর সুলুকসন্ধান খুবই জরুরি। সিরাজুল আলম খানের নিউক্লিয়াস তেমনই একটি উদ্যোগ। এখানে তার সূচনা পর্বের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ কথোপকথনের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। যেকোনো প্রক্রিয়া বা উদ্যোগের সঙ্গে যাঁরা জড়িয়ে আছেন, তাঁদের বয়ানে অনেক সময় নিজের সম্পর্কে অতিরঞ্জন কিংবা অন্যকে খাটো করে দেখার চেষ্টা থাকে। ইতিহাসের সত্য বের করার জন্য দরকার সবাইকে নির্মোহভাবে পাদপ্রদীপের আলোয় তুলে আনা। যাঁর যা প্রাপ্য, তাঁকে তা দিতেই হবে। তা না হলে ইতিহাস হবে না, তৈরি হবে মিথ।
8
সাজ সাজ রব বলতে যা বোঝায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণের পরিবেশ এখন ঠিক তাই। জয়নুল গ্যালারির সামনের চত্বরে নবীন আঁকিয়েরা এখন বেশ ব্যস্ত। গভীর মনোযোগে কেউ আঁকছেন জলরঙের ছবি, কেউ নকশা করছেন মাটির সরায়, কেউ কেউ বানাচ্ছেন বাহারি মুখোশ। টেপাপুতুল, ঘোড়া, ফুল, পেঁচা, মাছসহ নানা রকমের শিল্পকর্ম তৈরি করে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। লোকজন কিনতে আসছেন। এসব শিল্পকর্ম বিক্রির টাকা দিয়েই পয়লা বৈশাখের বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। বর্ষবরণের অন্যতম আকর্ষণ হলো ঢাবির চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা ইতিমধ্যেই ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়নি। ২০২১ সালে হয়েছে সীমিত পরিসরে। তাই এবারের আয়োজন নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন আয়োজকেরা। মঙ্গল শোভাযাত্রা ১৪২৯ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'করোনাকালে যা কিছু আমাদের জীবনকে মলিন করে দিয়েছে সেগুলো মুছে যাক। জীবন হোক নির্মল ও মঙ্গলময়। এবারে পয়লা বৈশাখেই এটাই আমাদের চাওয়া।' এমন প্রত্যাশা থেকেই এবারের মূল প্রতিপাদ্য নেওয়া হয়েছে রজনীকান্ত সেনের গান থেকে 'নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে'। এবারের আয়োজন সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন চারুকলা অনুষদের ২২ ও ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। প্রাচ্যকলা বিভাগের ২৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুপ্রিয় ঘোষ বলেন, 'পয়লা বৈশাখের আগেই সব কাজ শেষ হবে। শিক্ষকেরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করছেন।' সরেজমিন দেখা যায়, দেয়ালচিত্র ও রংতুলিসহ বিভিন্ন কাজে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা। শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান সঞ্জয় চক্রবর্তী। আজকের পত্রিকাকে সঞ্জয় বলেন, 'শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ছবি আঁকা ছিল মূলত বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরা, লোকজ সংস্কৃতির সেই চেতনা ধারণ করাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। এ কারণেই আমাদের পথচলা, ত্যাগ ও পরিশ্রম।'এদিকে পয়লা বৈশাখে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে ঢাবি ক্যাম্পাসে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। ক্যাম্পাসে নববর্ষের দিন সব ধরনের অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে।বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন সফল করতে ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
6
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেছেন, মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া নারীকে পথ দেখিয়েছেন, সম্মানিত করেছেন। বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে নারীর অংশগ্রহণই প্রমাণ করে তিনি সফল হয়েছেন। বেগম রোকেয়া দিবস ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকালে শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সমাজকর্মী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মেয়র।ময়মনসিংহ জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এবং স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির সহযোগিতায় এই আয়োজন করা হয়। এ সময় মেয়র তাঁর বক্তব্যে নারী উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নারীদের উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, বিনা মূল্যে শিক্ষা, উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধাসহ নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি নারী-পুরুষ সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করেছেন বলে উল্লেখ করেন মেয়র।ইকরামুল হক টিটু আরও বলেন, একটি দেশের সঠিক লক্ষ্য না থাকলে উন্নয়ন আসে না। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশের কাতারে উন্নীত করা।নির্দিষ্ট পেশার বাইরে সমাজকল্যাণে বিশেষ অবদান রাখায় ১০ জন্যকে অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল, আলী ইউসুফ, আমেনা বেগম, মুহাম্মদ হোসেন, তানিয়া ইসলাম, বেগম রোকেয়া, ফাতেমা আক্তার খাতুন, ফেরদৌস আরা মাহমুদা হেলেন, জিয়া রহমান ও জান্নাতুল নাঈম চঞ্চল।
6
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে গত দেড় যুগে কোনো আওয়ামী লীগের প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হননি। তবে এই সময়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে প্রচার করে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। এদিকে জয়ের ধারাবাহিকতায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নেমে পড়েছেন ভোটারের মন জয়ে। ফলে উপজেলার ৩ ইউপিতে আওয়ামী লীগের লড়াই হবে স্বতন্ত্রী প্রার্থীদের সঙ্গে।চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে লক্ষ্মীছড়ির তিন ইউপিতে চেয়ারম্যান, সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে মোট প্রার্থী ১১৭ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১১ জন। তাঁদের পাশাপাশি সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০৬ প্রার্থী ভোটারদের কাছে নানা কৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন।লক্ষ্মীছড়ি সদর ইউপিতে ভোটার ৮ হাজার ৮৭২ জন। এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জনের মধ্যে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী উষাজাই চৌধুরী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান প্রবিল কুমার চাকমা, মোটরসাইকেল প্রতীকে স্বপন চাকমা ও চশমা প্রতীকে জয়া চাকমা নির্বাচন করছেন।এদিকে দূল্যাতলী ইউপিতে ভোটার ৫ হাজার ৮০৫ জন। চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন নৌকা প্রতীকে উচাই প্রু মারমা ও চশমা প্রতীকে ত্রিলন চাকমা। এ ছাড়া বর্মাছড়ি ইউপিতে ভোটার ৫ হাজার ১৪৭ জন। এখানে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নীলবর্ণ চাকমা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে হরিমোহন চাকমা, চশমা প্রতীকে পাইসুখই মারমা, টেবিল ফ্যান প্রতীকে লক্ষ্মীধন চাকমা ও আনারস প্রতীকে সুইশালা মারমা নির্বাচন করছেন।গত রোববার উপজেলার সদরে সাপ্তাহিক হাটের দিনে তিন ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সকাল থেকে গণসংযোগ চালিয়েছেন। দলীয় নেতাদের নিয়ে ভাসমান দোকানি ও দূর থেকে বাজারে আসা ভোটারদের হাতে লিফলেট ধরিয়ে দেন। অনুন্নত এই জনপদে উন্নয়নের স্বার্থে বিজয় সুনিশ্চিত করতে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইতে দেখা গেছে তাঁদের।নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উষাজাই চৌধুরী, উচাই প্রু মারমা ও নীলবর্ণ চাকমা বলেন, পাহাড়কে অনুন্নত রেখে নিজের সুবিধা আদায়কারীরা নৌকা প্রতীকে ভোট প্রদান ও প্রচারে গোপনে বাধা সৃষ্টি করছে। সাধারণ ও সচেতন ভোটারেরা বিষয়টি অনুধাবন করে এ বছর নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন বলে মনে করেন তাঁরা।এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দোকানপাটে গণসংযোগ ও নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। সদর ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবিল কুমার চাকমা বলেন, 'সদর ইউপির অসমাপ্ত উন্নয়ন শেষ করতে আমি আবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠে নেমেছি। মাঠের অবস্থা ভালো। আমি আবারও জনপ্রতিনিধি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি।'ইউপি নির্বাচন বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী বলেন, 'পার্বত্য চুক্তির পর সদর ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ছিলেন বর্তমানে দলের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য রেম্রাচাই চৌধুরী। তাঁর সময় এই জনপদে শুরু হওয়া আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু দেড় যুগের বেশি সময় ধরে তিন ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে তৃণমূলে সেই উন্নয়ন হোক তাঁরা মন থেকে চান না। পক্ষান্তরে উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেন। তাই লক্ষ্মীছড়িবাসীর উন্নয়নে নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন বলে আমরা আশাবাদী।'উপজেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কিরণ বিকাশ চাকমা আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'লক্ষ্মীছড়ির ৩ ইউপির ২৭টি কেন্দ্রের ৬৬টি বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছি। তিনটির অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ব্যালট ও মালামাল নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।'
6
চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা বিদেশে নিতে চায় বিএনপি। এ দাবি দলীয় কর্মসূচি ও জাতীয় সংসদে করে আসছে দলটির নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ বিষয়টি আবারও উত্থাপন করেন সাংসদ হারুনুর রশীদ। তবে তাঁর এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, তাঁর চিকিৎসায় বিদেশ হতে চিকিৎসক আনতে আমরা বলেছি। কিন্তু তারা সেটা নিয়ে চিন্তা করছে না। কোন পদক্ষেপও নিচ্ছে না।বৃহস্পতিবার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী। বুধবার জাতীয় সংসদে এ সাধারণ আলোচনার জন্য প্রস্তাব তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে সংসদে স্মারক বক্তৃতা দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি একাধিকবার সংসদ নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বলেছি, আজকে ওনার (খালেদা জিয়া) শারীরিক যে অবস্থা ওনাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার অনুমতি দিতে অসুবিধা কোথায়? আপনি তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগটি দিন। এতে আপনি সম্মানিত হবেন। দেশের মানুষ আপনাকে অবশ্যই সম্মান করবে। তাঁর (খালেদা জিয়া) যে বয়স, তাঁর যে অবস্থা এই অবস্থায় তাকে এইটা বিবেচনা করা উচিত।হারুনের কথার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপির সকলেই বলে আমাদের নেত্রীকে এখনই বিদেশে পাঠাতে হবে। আর ওনার চিকিৎসা করাতে হবে বিদেশে। আমাদের দেশের চিকিৎসা খুব খারাপ। বিএনপি নেতা খালেদা জিয়া তিন তিনবার হাসপাতালে গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। আমরা বলেছি বিদেশ থেকে যদি চিকিৎসক আনতে চান। সেই কথা চিন্তাও করবে না, পদক্ষেপও নেবে না। শুধু বলবে বিদেশ পাঠাই দেন। বিদেশ থেকে একজন চিকিৎসক এনে যদি চিকিৎসা করায়'মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ সাহেব বলেছেন বাঙালি খালি বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ছুটে চলে যান। ওনারাতো ২৬ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। আমি বলব সেবা করেন নাই, শাসন করেছেন। ওনারা কি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি করেছেন? যেটা থেকে মানুষ বিদেশে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিবে না কেন? এখনো বাংলার গরিব জনগণ চায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে বা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের চিকিৎসা হোক। কারণ তাঁরা বলেন সেখানে চিকিৎসা পায়। কম খরচে ও বিনা পয়সায় চিকিৎসা পায়। ওনারাতো দেখেন খালি পশ্চিম দিক, কাবা শরীফের পরে আর আমাদের চেয়ে আগে। ওই জায়গার মধ্যে ওনারা ন্যস্ত। সেটা থেকে বের হতে পারছেন না।১৯৯৬ সাল পরবর্তী আওয়ামী লীগর ক্ষমতা গ্রহণকে সোনালী অধ্যায় বলে দাবি করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নিয়ে আইনের শাসন চালু করে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করেন। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। আইন মন্ত্রী বলেন, একটা উন্নয়ন সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যায় না। এটা ভাঙা সুটকেস থেকে আলাউদ্দিনের চেরাগ নয় যে, কোকো জাহাজ হয়ে যাবে। এটা করতে হলে প্রথম ভৌত অবকাঠামো দাঁড় করাতে হয়। এই ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী সেটা করেছেন। এটার ফল আগামী ১২ বছরে দেখবেন। সেনানিবাস থেকে রাজনৈতিক দলকে আইনের শাসন বলে দাবি করে বিএনপি জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল তাঁরা। এটাকে তারা বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা। আর ছেঁড়া গেঞ্জি হয়ে যায় ড্যান্ডি ডাইংসহ বড় বড় শিল্প কারখানা আর ভাঙা সুটকেস থেকে বের হয়ে আসে কোকো জাহাজ। কৃষক সার চাইতে গেলে বন্দুকের গুলি নামে গণতন্ত্র। অন্ধকার অধ্যায়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বঙ্গবন্ধুর আইনের শাসনকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা এবং বন্দুকের নলের মাধ্যমে দেশ শাসন করা।
6
জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্যাপন উপলক্ষে শেরপুরে সাংবাদিকদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতকাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় মিলনায়তনে এই কর্মশালা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ।কর্মশালায় জানানো হয়, আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ দিনব্যাপী জেলায় জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন চলবে। এ ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী ২৩ হাজার ৭১৪ শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫০ শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুলসহ মোট ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬৪ শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।জেলায় ১ হাজার ৩৩৩টি স্থায়ী ও ১৩টি অস্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ১ হাজার ৩৪৬টি কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
6
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে যড়যন্ত্র হয়েছে। ষড়যন্ত্র যারা করে, তাদের জন্মই হয়েছিল ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে। তারা সেই ষড়যন্ত্র থেকে দূরে আসতে পারেনি। তারা সব সময় একটা না একটা ষড়যন্ত্র করেছে। সম্প্রতি যে ষড়যন্ত্র করেছে, তারা ও তাদের সহোদর জামায়াতে ইসলামী শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই লবিস্ট নিয়োগে ৪ দশমিক ১৩২ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এর মধ্যে জামায়াত দশমিক ৩৮২ মিলিয়ন এবং বিএনপি ৩ দশমিক ৭৫ ডলার খরচ করেছে। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে লবিস্ট ষড়যন্ত্র এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের করণীয়' শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ আইনবিরোধী নয়। বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লবিস্ট নিয়োগ করে। ব্যবসার জন্য ও রাজনৈতিক কারণে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়। কিন্তু পৃথিবীতে কোনো দেশ নেই, কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, একটা বিরোধী দল যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করার কাহিনী। এটা আমরা প্রথম জানলাম। অন্য কোনো দেশের বিরোধী দল দেশের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করে, এটা আগে দেখিনি। এ সময় ড. মোমেন বলেন, আমরা বলতে চাই বিএনপি-জামায়াত লবিস্ট নিয়োগের হিসাব-নিকাশ দেখিয়েছে কিনা। এই টাকা কীভাবে বিদেশে পাঠাল। ট্যাক্স দিয়েছে কিনা। আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কিনা। এসব আমাদের জানার বিষয়। তিনি বলেন, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বলেছে, বাংলাদেশে কোনো সহায়তা দেবেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক। তারা এখানে অনেক বিনিয়োগ করেছে। এতে আমাদের উন্নয়ন হয়েছে। তবে এই বিনিয়োগ যেন না করে, সেজন্য লবিং হয়েছে। যারা এসব করেছে, তারা বাংলাদেশের মানুষের মঙ্গল চায় না। এটা নিয়ে দেশবাসীর প্রশ্ন করা উচিত। ড. মোমেন বলেন, বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের কাছে ১৮টি চিঠি দিয়েছে। এসব চিঠিতে অসত্য প্রচারণা চালানো হয়েছে। এসব মানুষকে জানানো দরকার। ড. মোমেন বলেন, র্যাবের কারণেই সন্ত্রাস কমেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা কাজ করছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তবে র্যাবের বিরুদ্ধেই এখন ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, বিদেশে আমাদের লবিস্ট আমাদের দূতাবাস। তারা আমাদের এক নম্বর লবিস্ট। তবে দেশের জন্য নিজের পয়সায় অনেকেই লবিস্টের কাজ করেন। আমিও দেশের জন্য লবিস্টের কাজ করেছি। কিন্তু কোনোদিন পয়সা নেইনি। অনেক প্রবাসী বিনা পয়সায় দেশের জন্য, দেশের ভালোর জন্য লবি করে। তিনি বলেন, বিএনপি কত নিচে নামতে পারে তার একটি উদাহরণ দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র শেখ সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিবারকে তারা কিডন্যাপ করতে চেয়েছিল। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় আগামী দুই বছর এ রকম আরও অনেক ষড়যন্ত্র হবে। এজন্য আমাদের বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ঠান্ডু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক।
6
সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কুরাইশিকে হত্যা করেছে মার্কিন সেনারা। সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকা ইদলিবের একটি বাড়িতে গত বুধবার মার্কিন সেনারা তাকে ঘেরাও করলে তিনি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহত্যা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে এই সফল অপারেশনের কথা জানান। একই সঙ্গে এতে অংশ নেয়া মার্কিন সেনাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। খবর স্কাই নিউজ। খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনারা আল-কুরাইশির বাড়ি ঘিরে ফেললে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। এতে তিনিসহ তার পরিবারের সদস্যরা মারা যান। সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকা ইদলিবের একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন আল-কুরাইশি। তাকে ধরতে ২ ঘণ্টা ধরে ওই অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন সেনাবাহিনী। এতে মোট ১৩ জন নিহত হন। তবে মার্কিন সেনাদের কেউ হতাহত হননি। আইএস প্রধানকে হত্যার খবর দিয়ে অভিযানে অংশ নেয়া সেনা সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বাইডেন বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও সাহসিকতার জন্য ধন্যবাদ, আমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কুরাইশিকে সরিয়ে দিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও মিত্রদের সুরক্ষিত করতে এবং বিশ্বকে নিরাপদ করতে এই সন্ত্রাসবিরোধী অপারেশন পরিচালনা করা হয়। ২০১৯ সালে আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যার পর আল-কুরাইশিকে জিহাদি সংগঠনটির প্রধান করা হয়। আইএসের কথিত ইসলামি খেলাফত ধ্বংস করা গেলেও সংগঠনটির জিহাদিরা এখনো বিভিন্নভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি কারাগারসহ বেশ কিছু স্থানে হামলা চালিয়েছে তারা। আইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে গত বুধবার মধ্যরাতে আল-কুরাইশির অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে সেখানে হেলিকপ্টার ও গুলির শব্দ পাওয়া যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। মার্কিন সেনারা লাউডস্পিকার দিয়ে সেখানকার নারী ও শিশুদের স্থান ত্যাগের আহ্বান জানায়। তবে আল-কুরাইশির আত্মঘাতী বিস্ফোরণে তারাও নিহত হন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬ নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে।
3
করোনার কারণে অনলাইন ক্লাসের ভিডিও সরবরাহ, ক্যাম্পাস খোলার পর ন্যূনতম দুই সপ্তাহ সশরীরে ক্লাস, সশরীরে ব্যবহারিক ক্লাস এবং ক্লাসে উপস্থিতির পরিবর্তে ক্লাস পারফরম্যান্স অনুযায়ী নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এই নিয়ম মানছেন না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা। ফলে সার্বিক ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কায় আছেন অনেক শিক্ষার্থী।গত বছরের ৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনলাইন ক্লাসের ভিডিও ইউটিউব ও ফেসবুকে আপলোড করতে হবে যেন শিক্ষার্থী যেকোনো সময় তা দেখতে পারে। মিডটার্ম বা কোনও পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়া যাবে না। তবে অ্যাসাইনমেন্ট অনলাইনে নেওয়া যাবে।ব্যবহারিক ক্লাসের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরু হলে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে, সে সময় ব্যবহারিক ক্লাস হবে। এরপর একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের থিসিস জমা ও ইন্টার্নশিপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান একাডেমিক কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানানো হয়। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের ক্লাসের উপস্থিতির পরিবর্তে ক্লাস পারফরম্যান্স অনুযায়ী নম্বর দেওয়ার কথা বলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সেমিস্টারের প্রতিটি ১০০ নম্বর কোর্সের ৩০ নম্বর সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষক সরাসরি মূল্যায়ন করেন। কোর্স শিক্ষক শিক্ষার্থীর মিডটার্ম, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, ক্লাসে উপস্থিতি ইত্যাদি যাচাই করে তার ওপর এ নম্বর দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে বিভাগ ভেদে ৫ বা ১০ নম্বর বরাদ্দ থাকে ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির ওপর। কিন্তু সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস উপস্থিতির ওপর নম্বর বাতিল করে অ্যাসাইনমেন্ট, কুইজ, মিডটার্ম পরীক্ষা নিয়ে সেই নম্বর দেওয়ার কথা জানানো হয়।যেখানে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির জরিপ অনুযায়ী, ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের বাইরে ছিলেন।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ নিয়ম অমান্য করে মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির ওপর নম্বর দিচ্ছে। এ নম্বর পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে যোগ হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া বেশিরভাগ শিক্ষক নিজেদের অনলাইন ক্লাসের কোনো ভিডিও শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করছেন না। রসায়ন বিভাগ সশরীরে ক্লাস ও ল্যাব না নিয়েই সেমিস্টার পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে করে নির্ধারিত কোর্স সর্ম্পকে ন্যূনতম ধারণা ছাড়াই সেমিস্টার শেষ করছেন শিক্ষার্থীরা।বিশ্ববিদ্যালয় পরিসংখ্যান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, অনলাইনে ক্লাস করার মতো শক্তিশালী নেটওয়ার্ক অনেকের বাড়িতে ছিল না। মাঝে মধ্যে কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে অনেকে ক্লাস করেছে। ক্যাম্পাস খোলা থাকাকালীন যারা উপস্থিতির ওপর প্রায়ই পুরো নম্বর পেতো তারা এখন অনলাইনে ক্লাস না করতে পারায় নম্বর কম পাচ্ছে। অনেকে এক, দুই করেও পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে সন্তান। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী এসব শিক্ষার্থীর পক্ষে উচ্চমূল্যে ইন্টারনেট কিনে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। সেখানে অনলাইন ক্লাসের ওপর মার্কিং করে তাঁদের বঞ্চিত করা হবে। অনলাইন ক্লাসের শুরুতে তাঁরা জেনেছেলন, ক্লাস উপস্থিতির ওপর কোনো নম্বর থাকবে না। এখন তা করা হচ্ছে। রেজাল্টে এটি প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।রসায়ন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের কোনো ব্যাচেরই সশরীরে ক্লাস নেওয়া হয়নি। প্রথম সেমিস্টারের ল্যাব হয়েছে, দ্বিতীয় সেমিস্টারের বাকি আছে। এমনিতেই বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় সশরীরে ক্লাস-ল্যাব না হলে তাঁরা সেভাবে কিছুই বুঝতে পারেন না। সশরীরে ক্লাস নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা বারবার চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি কর্ণপাত করছেন না।অনলাইন ক্লাসের ভিডিও সরবরাহ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী কাওসার আহমেদ বলেন, 'একজন শিক্ষক তো রাগ করে ভিডিও দেনই-নি। আরেকজনের ভিডিও অনেক বড় হয়ে গেছে বলে দেয় নাই। অনেকের কাছে পেনড্রাইভে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভিডিও আপলোড করলে নাকি সেটাতে শিক্ষকদের প্রাইভেসি নষ্ট হয়। এজন্য আমরা ক্লাসের ভিডিও পাইনি। কিছু শিক্ষক তো ঠিকমতো ক্লাসই নেননি। কোর্স সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা দিয়ে ফেলেছি। ক্লাস নিতে বললে রাগ দেখায়, ভয়ে পরে ক্লসের কথাই বলি না। শিক্ষকদের বিরাগভাজন হলে দেখা যাবে পুরো ব্যাচের নম্বর কমিয়ে দিয়েছে। এভাবে আমাদের ক্যারিয়ার তো নষ্ট করতে পারবো না!'তবে পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দীন শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, 'এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই যে, কেউ যদি ক্লাসে উপস্থিত না থাকতে পারে তাহলে তাঁকে নম্বর কীভাবে দিব?' শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা বললে তিনি বলেন, 'ক্লাসের প্রতি শিক্ষার্থীর আগ্রহ থাকলে সে কারো থেকে শেয়ার করতে পারতো। কিন্তু কেউ যদি তা না করে সে নম্বর পাবে না, এটাই স্বাভাবিক।'রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামছুন নাহার বলেন, আমরা চাচ্ছি শিক্ষার্থীরা করোনার কারণে যে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে তা যেন দ্রুত পুষিয়ে উঠতে পারে। ল্যাব ক্লাসগুলো সশরীরে নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বলেছি থিওরী ক্লাস নিয়ে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট কোর্সের শিক্ষকের সাথে কথা বলতে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধামত ক্লাসের পন্থা ঠিক করবে। তিনি আরও বলেন, সশরীরে ক্লাস নেয়ার বিষয়ে শুরুতেই নীতিমালা ছিল। এখন তার অনেক কিছুই মানা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সশরীরে ক্লাসের বিষেয়ে উপাচার্য আমাদের মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন। করোনা এখনো শেষ হয়নি, তাই শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করেই আমাদের সব সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।অনেক শিক্ষকের অনলাইন ক্লাসের নীতিমালা মানতে অনীহার কথা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন বলেন, 'অনলাইন ক্লাস শুরুর সময়ে একটি নীতিমালা হয়েছিল, সেটা অনেকেই এখন মানছেন না। তবে যেসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে গেলেই সেটা সমাধান হওয়ার কথা। এরপরও যদি কোনো সমস্যার সমাধান না হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আছেন। ওনার নজরে আনলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।'এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইমদাদুল হকের কাছে জানাতে চাওয়া হলে, তিনি পরে কথা বলবেন বলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
1
প্রথম ছবি নূর জাহান-এর পর পূজা চেরি ফুরসত পাননি। এরপর তাঁকে দেখা গেছে পোড়ামন ২, দহন-এর মতো আলোচিত ছবির নায়িকা হিসেবে। পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতিও। ব্যক্তিজীবনে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে উঠেছেন কলেজে, কিন্তু এরপরও সেই 'পিচ্চি নায়িকা'র আওয়াজ পিছু ছাড়েনি পূজার। তিনি বলেন, 'নায়িকা হিসেবে যখন অভিনয় শুরু করি, তখন থেকে অনেকেই পিচ্চি নায়িকা বলে ডাকতেন। শুনে রাগ হতো, খুব মন খারাপ হতো। অনেক সময় পরিচিতজনেরা পিচ্চি নায়িকা বললে তাঁদের সঙ্গে ঝগড়াও করতাম।' পূজার কথা, ছোটবেলা থেকে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। যখন কোনো নায়িকাকে অটোগ্রাফ দিতে দেখতেন, তখন হিংসা হতো। ভাবতেন, 'ইশ্! যদি নায়িকা হতে পারতাম।' কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ হলেও নায়িকা পরিচয়ের আগে 'পিচ্চি' বিশেষণ বড্ড উত্ত্যক্ত করত তাঁকে। 'পিচ্চি' বলার দিন শেষ দহন ছবিতে কাজ করতে এসে একটু একটু পূজার ভেতর ভর করতে থাকে পরিপক্বতা। পূজা বলেন, 'পোড়ামন ২ ছবিতে আলোচনায় আসা এবং দহন-এ অভিনয়ের পর থেকে সবার দৃষ্টিভঙ্গি একটু একটু করে বদলাতে থাকে। অভিনয়ে যে বয়সের প্রভাব পড়ে না, তা অনেকেই বুঝতে শুরু করেন। সিনেমাতে অভিনয় করার সময় আমাকে নায়িকার মতো লাগে না, এমন কথা কেউই বলতে পারবেন না। কারণ, আমি যখন অভিনয় করি, তখন একজন পরিপক্ব অভিনেত্রীর মতোই কাজ করার চেষ্টা করি।' তবে এই নায়িকা জানান, এখনো মাঝেমধ্যে মজা করে কেউ কেউ 'পিচ্চি নায়িকা' বলে ডাকেন, কিন্তু পূজা শুরুর সময়ের মতো আর বিরক্ত হন না, বরং উপভোগই করেন। হাসতে হাসতে পূজা বললেন, 'কত নায়িকাই তো তাঁদের বয়স কমাতে চান। সেখানে আমার বয়স লোকে মুখে মুখেই কমিয়ে রাখছেন। এতে তো আমারই সুবিধা হবে । হা হা হা...।' বড় নায়কের নায়িকা খুব অল্প সময়েই ঢালিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন পূজা চেরি। প্রযোজক ও পরিচালকদেরও আগ্রহ বেড়েছে তাঁকে ঘিরে। তাঁর হাতে এখন বেশ কয়েকটি ছবি। শান, জ্বীন, সাইকো-তিনটি ছবির কাজ শেষ। আগামী ঈদ থেকে পর্যায়ক্রমে ছবিগুলো মুক্তি পাবে। মুক্তির প্রতীক্ষায় থাকা ছবিগুলো নিয়ে পূজা বলেন, 'ছবিগুলো নিয়ে আমি আশাবাদী। এগুলো বড় পরিসর, বড় বাজেটের। প্রতিটি চরিত্রের জন্য আমাকে পরিশ্রম করতে হয়েছে।' এক নায়িকার চার নায়ক কলকাতার আদ্রিত থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সিয়াম, রোশান ও সজলের বিপরীতে কাজ করেছেন ঢালিউডের নতুন যুগের এই নায়িকা। সিয়াম ও আদ্রিতের বিপরীতে অভিনীত ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছে। এখন সজল ও রোশানের বিপরীতে পূজার অভিনয় দেখা বাকি। চার নায়কের মধ্যে পূজার সবচেয়ে ভালো রসায়ন কার সঙ্গে-পূজা বলেন, 'সিয়াম ও সজলের সঙ্গে বেশি ভালো কাজ হয়েছে। সিয়ামের গুণ হলো, তিনি দ্রুতই সহশিল্পীকে নিয়ে কাজে মিশে যেতে পারেন। আর সজল টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র দুই মাধ্যমেই অভিজ্ঞ। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।' সামনেই পরীক্ষা গল্পে গল্পে পূজা জানালেন, সামনে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এপ্রিলে শেষ হবে। দুটি বড় কাজের কথা চলছে। হয়তো এর মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। পরীক্ষা শেষ করেই আবার কাজে নেমে পড়বেন, ব্যস্ত হয়ে উঠবেন এই সময়ের এ তরুণ নায়িকা।
2
আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য "টিএম রেকর্ড-সিজেএফবি পারফর্মেন্স অ্যাওয়ার্ড" আসরে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। এটি সিজেএফবি'র ২০তম আসর। আগামী শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম-এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে "সিজেএফবি পারফর্মেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২০"। অন্যান্য সময়ের মতো এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশসেরা তারকাদের উপস্থিতিতে উদযাপিত হবে অনুষ্ঠানটি। চলচ্চিত্র, সংগীত ও টেলিভিশন মাধ্যমে বছর সেরা তারকাদের পারফর্মেন্স এর ভিত্তিতে সিজেএফবি সদস্যদের জরিপের মাধ্যমে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। পুরস্কার প্রদানের মাঝে মাঝে থাকবে দেশসেরা তারকাদের পরিবেশনা। এবারের আসরে আজীবন সম্মাননা ও বিশেষ বিভাগে ২টি পুরস্কারসহ ২০টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন মোট ৬০ জন। এছাড়া জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল "গান বাংলা" জনপ্রিয় অনুষ্ঠান "উইন্ড অব চেঞ্জ" এর মাধ্যমে বাংলা গানকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখায় সিজেএফবি বিশেষ সম্মাননা পাচ্ছে। উল্লেখ্য, দেশের জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংস্কৃতিক সাংবাদিকদের সংগঠন কালচারাল জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ-সিজেএফবি।
2
মেহেরপুরে ঢিলেঢালাভাবে চলছে ৩য় দিনের লকডাউন। কিছু কিছু দোকানপাট বন্ধ থাকলেও খোলা ছিল অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জন চলাচলও ছিল স্বাভাবিক। যাত্রী কম থাকলেও রাস্তাজুড়ে দেখা গেছে ছোট খাটো পরিবহন। এছাড়াও সকাল থেকে শুরু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের একাধিক দল মাঠে থাকলেও গায়ে মাখছে না কেউ। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হলেও প্রভাব পড়ছে না সাধারণ মানুষের মাঝে। লকডাউনের প্রথম দিনে মোটামুটি দোকনপাট বন্ধ থাকলেও ৩য় দিনে এসে গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। এছাড়াও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মেহেরপুরের অধিকাংশ ব্যাংকেই নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় গুলো ঘুরে দেখা যায় গ্রাহক সমাগম। বিশেষ করে সোনালী ব্যাংক, অগ্রনী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকে যেন তিলধারণের জায়গা নেই। ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই। ব্যাংকের বাইরেও প্রতিরোধমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কয়েক শ গ্রাহক ব্যাংকের ভিতর থেকে মেইন গেট পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব না মেনে গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এদের কেউ কেউ মাস্ক ব্যবহার করলেও অধিকাংশ গ্রাহককে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দাবি, লেনদেনের সময় কমিয়ে দেওয়া এ ভিড়ের কারণ। মেহেরপুর সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার নাজমুল হক বলেন, আমরা সরকার থেকে নির্দেশনা পেয়েছি সাড়ে বারোটা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকবে। খোলা থাকার সময় কমিয়ে দিলে যে জনসমাগম কম হবে এমন তো না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু আমরা সবদিক থেকে চেষ্টা করেও পারছি না। এদিকে স্বস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে গাংনী র্যাব-৬ এর একটি দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর সহযোগী হিসেবে মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। সহকারী কমিশনার সুজন দাস গুপ্ত, মাহামুদুল হাসান, কাজী মোহম্মদ অনিক ইসলাম, সবিতা সরকার আলাদা আলাদা ভাবে দিনভর সচেতনতা মূলক প্রচার অভিযান পরিচালনা করেন। সহকারী কমিশনার কাজী অনিক ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত ও লকডাউন কার্যকর করতে আমরা শুরু থেকেই মাঠে আছি। জনসচেতনতা মূলক প্রচার অভিযান সহ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বেশ কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে। ইভূ
6
পান্তা-ইলিশ একঘেয়ে মনে হচ্ছে। স্বাদ বদলে দেশি মেন্যুতেই আনতে পারেন বৈচিত্র্য। দেখুনআতিয়া আমজাদের দেওয়া রেসিপিগুলো। ছানা-সবজির নিরামিষ উপকরণ: ছানা ২ টেবিল-চামচ। পেঁয়াজকুচি, আলু, গাজর, ফুলকপি, মটরশুঁটি, মিষ্টি কুমড়া সব মিলিয়ে ২ কাপ, সরিষা বাটা ১ চা-চামচ, আদা ও রসুনবাটা আধা চা-চামচ করে, জিরাবাটা আধা চা-চামচ, ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, সয়াবিন তেল ২ টেবিল-চামচ, কাঁচা মরিচ ফালি করে কাটা ২টি, ধনেপাতা কুচি প্রয়োজনমতো, পাঁচফোড়ন আধা চা-চামচ, ঘি সামান্য। প্রণালি: হাঁড়িতে তেল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে নিন। বাকি সব মসলা দিয়ে একটু পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। এবার গুঁড়া মসলা দিয়ে ভেজে নিন। ছানা দিয়ে সামান্য পানিসহ মসলার সঙ্গে কষিয়ে নিন। সবজি দিয়ে লবণ দিন। সবজি সেদ্ধ হওয়ার জন্য একটু পানি দিতে পারেন। ঢাকনা ছাড়া রাঁধলে সবজির রং সুন্দর থাকবে। সেদ্ধ হয়ে গেলে হাঁড়ি নামিয়ে নিন। অন্য হাঁড়িতে ঘি গরম করে পাঁচফোড়ন ও কাঁচা মরিচ ভেজে সবজিতে বাগাড় দিন। ওপরে ধনেপাতা ছিটিয়ে পরিবেশন করুন। টাকি-ব্রকলি ভর্তা উপকরণ: টাকি মাছ ৫-৬ টি, ব্রকলি (শুধু ফুল) আধা কাপ, হলুদ গুঁড়া সামান্য, শুকনা মরিচ ৪টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, রসুন কুচি ১ কোয়া, লবণ পরিমাণমতো, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, কাচামরিচ কুচি ১ চা-চামচ, সরিষার তেল পরিমাণমতো। প্রণালি: মাছে হলুদ-মরিচ গুঁড়া মেখে রাখুন ২০ মিনিট। ব্রকলির ফুলগুলো ভাপিয়ে নিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে মাছ ভেজে নিন। কাঁটা বেছে মাছ আলাদা করে রাখুন। মাছভাজার তেলে শুকনা মরিচ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি নরম করে ভেজে নিন। মচমচে করবেন না। এবার সব উপকরণ হাতে কচলে মেখে নিন। বাহারি ডাল-চাটনি উপকরণ: মসুর ডাল ২ টেবিল চামচ, মুগ ডাল ২ টেবিল চামচ টেলে নেওয়া, মাষকলাই ডাল খোসাসহ ৮ টেবিল চামচ, বুটের ডাল ২ টেবিল চামচ, কাঁচা আম ২ টুকরা, লবণ স্বাদমতো, শুকনা মরিচ টেলে নেওয়া ৩টি, কাঁচা মরিচ ৪টি, রসুনকুচি ১ চা-চামচ, আদাবাটা আধা চা-চামচ, জিরা টেলে গুঁড়া করা আধা চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, ধনেপাতা এক মুঠো, সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ। প্রণালি: সব রকম ডাল ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। বুটের ডাল আগের দিন রাতে ভিজিয়ে রাখুন। ডালগুলো একসঙ্গে লবণ, হলুদ, জিরা ও কাঁচা মরিচ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। কাঁচা আমের ফালি দিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। কড়াইয়ে সরিষার তেল গরম করে শুকনা মরিচ ফোড়ন দিন। এবার রসুন কুচি ও আদাবাটা ভেজে ডাল বাগাড় দিয়ে নিন। ডাল ঠান্ডা হলে এক মুঠ ধনেপাতা কুচি দিয়ে ব্লেন্ডারে পেস্ট করে নিন। বেশি আঠালো যেন না হয়। বাটিতে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। পনির সবজির কাটলেট উপকরণ: পনির বা ছানা ১ কাপ, আলু মাঝারি ১টা, গাজরকুচি ১টা, ফুলকপি কুচি ১টা, মটরশুঁটি দানা ১ কাপ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ২ টেবিল-চামচ, কাঁচা মরিচ ২টা, লবণ স্বাদমতো, ভাজা জিরার গুঁড়া আধা চা-চামচ, টালা শুকনা মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, পুদিনাপাতা কুচি ১ মুঠ, ডিম ২টি, তেল ভাজার জন্য। প্রণালি: আলু সেদ্ধ করে ছিলে চটকে নিন। বাকি সবজিগুলো সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। পনির বা ছানা, পুদিনাপাতা কুচি, ১ চা-চামচ বেরেস্তা ও লবণ একসঙ্গে কচলে নিন। আলু সবজি ও তেল ছাড়া বাকি সব মসলা একসঙ্গে মেখে নিন। এর ভেতরের পনির মিশ্রণের পুর ভরে কাটলেটের আকার করে নিন। এগুলো ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। ভাজার আগে বাটিতে সামান্য লবণ দিয়ে ডিম ফেটিয়ে নিন। কাটলেটগুলো ডিমের মিশ্রণে গড়িয়ে অল্প তেলে ভেজে নিন। পুর দিতে না চাইলে পনিরের মিশ্রণ সবজির সঙ্গে মেখে একবারে কাটলেট বানাতে পারেন। সরিষা-মাংস ভুনাউপকরণ: গরু বা খাসির চর্বি ও হাড়ছাড়া মাংস আধা কেজি, পেঁয়াজবাটা ২ টেবিল-চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, আদাবাটা ১ চা-চামচ, জিরাবাটা ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচগুঁড়া ১ টেবিল-চামচ, সরিষাবাটা ১ টেবিল-চামচ, লবণ ১ চা-চামচ বা পরিমাণমতো, সরিষার তেল আধা কাপ, সয়াবিন তেল ৪ টেবিল-চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা বাটা ১ টেবিল-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া আধা চা-চামচ, ভাজা জিরার গুঁড়া আধা চা-চামচ, পাকা পেঁপে কোরানো ২ টেবিল-চামচ, পানি ১ কাপ।প্রণালি: সরিষার তেল, পেঁয়াজবাটা, ভাজা জিরার গুঁড়া ও গরমমসলার গুঁড়া ছাড়া সবকিছুসহ মাংস মাখিয়ে ২ ঘণ্টা রেখে দিন। এবার হাঁড়িতে সরিষার তেল গরম করে পেঁয়াজবাটা দিয়ে ভেজে নিন ১ মিনিট। এবার মাখানো মাংস দিয়ে ঢেকে দিন এবং চুলার আঁচ একদম কমিয়ে দিন। এভাবেই রান্না হবে সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত। মাঝে মাঝে নাড়ুন। মাংস থেকে বের হওয়া পানি শুকিয়ে গেলে ১ কাপ পানি দিন। আবারও অল্প আঁচে রান্না করতে থাকুন। মাংস সেদ্ধ হয়ে গেলে গরমমসলা ও ভাজা জিরার গুঁড়া ছড়িয়ে দিন এবং ২০ মিনিট দমে রাখুন তাওয়ার ওপরে। গরম গরম পরিবেশন করুন। কড়াই ইলিশউপকরণ: মাঝারি বা বড় ইলিশ মাছ ১টি, টমেটো ২টি, ক্যাপসিকাম ১টি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ২ চা-চামচ, ধনে ও জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ করে, এলাচ ও লবঙ্গ তিনটি করে, তেজপাতা ১টি, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, সয়াবিন তেল ৫ টেবিল চামচ, কালোজিরা আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি এক চিমটি, কাঁচা মরিচ কুচি ২-৩টি, পানি ২ কাপ।প্রণালি: মাছ টুকরা করে কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। টমেটো ও ক্যাপসিকাম কুচি করে নিন। শুকনা কড়াইয়ে ক্যাপসিকাম কুচি টেলে নিন। কড়াইয়ে ৪ টেবিল চামচ তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। এতে এলাচ-লবঙ্গ-তেজপাতা দিন। কালোজিরা বাদে একে একে বাকি মসলাগুলোও দিয়ে কষিয়ে নিন। টমেটো ও ক্যাপসিকাম কুচি দিয়ে একটু নাড়ুন। এবার এই মিশ্রণ ব্লেন্ডারে মিহি পেস্ট করে নিন। অন্য কড়াইয়ে বাকি তেল গরম করে কালোজিরা ফোড়ন দিন। এতে মসলার পেস্ট দিয়ে দিন। একটু কষিয়ে ২ কাপ পানি দিন। ঝোল ফুটলে মাছ বিছিয়ে দিয়ে লবণ ছিটিয়ে দিন। এক ঘণ্টা তাওয়ার ওপর দমে রেখে দিন। ঝোল মাখা মাখ হলে নামিয়ে একটু চিনি ছিটিয়ে দিন। গরম গরম পরিবেশন করুন। ডিম বেগুনি উপকরণ: গোল বেগুন ১টি গোল চাক করে কাটা, ডিম ১টি, লবণ ২ চা-চামচ, তেল ভাজার জন্য, যেকোনো আচারের তেল ৪ টেবিল-চামচ, পেঁয়াজকুচি ছোট ১টি, কাঁচা মরিচ কুচি ১টি, ধনেপাতাকুচি ১ টেবিল-চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ। প্রণালি: ৩ কাপ পানিতে দেড় চা-চামচ লবণ মিশিয়ে বেগুনের চাকগুলো ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে করে বেগুনের কষ বেরিয়ে যাবে। এবার পানি ঝরিয়ে বেগুনের চাকে চিকন ছুরি দিয়ে আড়াআড়ি দাগ কেটে দিন। তাহলে মসলা ভালোমতো ভেতরে ঢুকবে। এবার বাকি লবণ, হলুদ ও মরিচের গুঁড়া দিয়ে বেগুন মাখিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। আরেকটি বাটিতে এক চিমটি লবণ, পেঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতাকুচিসহ ডিম ফেটিয়ে রাখুন। এবার কড়াইতে একটু করে সাদা তেল ও আচারের তেল মিশিয়ে দিয়ে গরম করে ১টি করে বেগুনের চাক দিন। আড়াআড়ি করে কাটা পাশটি আগে তেলে ছাড়বেন। উল্টে দিয়ে অপর পাশে ছোট চামচে করে ৩ চামচ ডিমের মিশ্রণ দিয়ে ঢেকে দিন। চুলার আঁচ মাঝারি থাকবে। এক পাশ সোনালি হয়ে এলে উল্টে দিয়ে আবারও ঢেকে দিন ৩/৪ মিনিট। নামিয়ে নিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। জিরা ভাতউপকরণ: বাসমতী চাল দেড় কাপ, পানি ৫ কাপ, এলাচি-লবঙ্গ ২টি করে, দারুচিনি ১ ইঞ্চি ১টি, তেজপাতা ১টি, লবণ ১ চা-চামচ, সয়াবিন তেল ২ টেবিল-চামচ, ঘি দেড় টেবিল-চামচ, জিরা ২ চা-চামচ, ধনেপাতাকুচি এক মুঠ।প্রণালি: চাল ধুয়ে আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে নিন। পাতিলে ৫ কাপ দিয়ে গরমমসলাগুলো ছেড়ে দিন এবং জ্বালে বসিয়ে দিন। পানি গরম হয়ে গেলে চাল ও লবণ দিয়ে অল্প আঁচে ভাত রান্না করুন এবং ভাত হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। এবার আরেকটি কড়াইয়ে তেল ও ঘি গরম করে জিরার ফোড়ন দিন। ২ মিনিট মাঝারি আঁচে ভাজুন, যেন ভেতরে কাঁচা না থাকে। এবার আলতো করে এই জিরার ফোড়নটি ভাতে ঢেলে মিশিয়ে দিন। ধনেপাতা ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।পনির চাটনি শাশলিকউপকরণ: পনির কিউব করে কাটা প্রয়োজনমতো, কাঁচা আম ১ ফালি, কাঁচা মরিচ ১টি, ধনেপাতা এক মুঠ, পুদিনাপাতা ১ মুঠ, সয়াবিন তেল ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, পানমসলা সাজানোর জন্য (ঐচ্ছিক) ও টুথপিক প্রয়োজনমতো। প্রণালি: ননস্টিক প্যানে অল্প তেল ব্রাশ করে পনির কিউবগুলো সবদিকে সেঁকে নিন। খেয়াল রাখুন যাতে গলে না যায়। এবার বাকি উপকরণ মিশিয়ে ব্লেন্ড করে চাটনি বানিয়ে নিন। পনির ঠান্ডা হলে একটি করে কিউব টুথপিকে গেঁথে তা চাটনিতে গড়িয়ে পানমসলায় গড়িয়ে নিন। সব কটি বানানো হলে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন। চিংড়ি-আলুর শাশলিক উপকরণ: মাঝারি চিংড়ি খোসা ও মাথা ছাড়া ২০টি, আলু কিউব করে কাটা ৪০ টুকরা, লবণ পরিমাণমতো, চিলি সস ২ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ চা-চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা-চামচ, সয়াবিন তেল ১ টেবিল চামচ, আলু-সবজি ভাজার জন্য সয়াবিন তেল আধা কাপ, টুথপিক প্রয়োজনমতো। প্রণালি: আলুর কিউবগুলো পাঁচ মিনিট ফুটন্ত গরম পানিতে সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। প্রয়োজনমতো লবণ দিয়ে তেলে সোনালি করে ভেজে নিন। কাচ বা স্টিলের বাটিতে বাকি মসলাগুলো চিংড়ির সঙ্গে মেখে ৩০ মিনিট রাখুন। এবার কড়াইয়ে ১ কাপ পানি দিয়ে মাঝ বরাবর চিংড়ির বাটি বসিয়ে ঢেকে দিন। ১৫ মিনিট ভাপে রান্না করুন। কড়াইয়ের পানি যেন বাটিতে না ঢোকে। চিংড়ি নামিয়ে টুথপিকে একটি করে গেঁথে নিন। চিংড়ির পর আলুর কিউব, তারপর চিংড়ি, আবার আলুর কিউব এভাবে সাজিয়ে নিন। ওপরে সামান্য ধনেপাতা কুচি ছিটিয়ে পরিবেশন করতে পারেন। কোয়েলের ডিম ভুনা উপকরণ: কোয়েল পাখির ডিম ৪ হালি, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, পেঁয়াজবাটা ৩ টেবিল-চামচ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, আদা অমসৃণ করে বাটা আধা চা-চামচ, জিরাবাটা আধা চা-চামচ, ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ, তেজপাতা ১টি, এলাচি ২টি, সরিষা বাটা ১ চা-চামচ (সরিষা বাটার সময় লবণ ও ১টি কাঁচা মরিচসহ বাটলে তিতকুটে ভাব থাকলেও চলে যায়), লবণ পরিমাণমতো, কাঁচা মরিচ ৩টি, সয়াবিন তেল ২ টেবিল-চামচ, সরিষার তেল ২ টেবিল-চামচ। প্রণালি: ডিমগুলো সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিন। কড়াইতে দুই রকমের তেল গরম করে তেজপাতা ও এলাচি দিন। ১ মিনিট পর পেঁয়াজকুচি দিয়ে সোনালি করে ভেজে নিন। এবার একে একে বাটা মসলাগুলো দিয়ে আধা কাপ পানিসহ কষিয়ে নিন। গুঁড়া মসলাগুলো দিয়ে ভাজুন। মসলা কষানো হয়ে গেলে ২ কাপ পানি ও লবণ দিয়ে ঢেকে দিন। ঝোলের পানি ফুটে উঠলে সেদ্ধ ডিমগুলো দিয়ে ঢেকে ১০ মিনিট মাঝারি আঁচে রান্না করুন। এবার কাঁচা মরিচ ফালি করে কেটে দিন এবং আরও ২ মিনিট ঢেকে রান্না করুন। নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। রংধনু শরবতউপকরণ: যেকোনো স্বচ্ছ কোমল পানীয় প্রয়োজনমতো, লেবু ১টি, পানি ১ গ্লাস, চিনি ৪ টেবিল-চামচ, ফুড কালার ৩-৪ রকম, সাদা বরফ ১ কাপ।প্রণালি: এক গ্লাস পানিতে চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে শরবত বানিয়ে নিন। বরফের ছাঁচে শরবত ঢেলে দিয়ে একেক ছাঁচে একেক রং মেশান। কটন বাডে সামান্য রং নিয়ে সেটা গুলিয়ে দিন। এবার বরফ জমতে দিন। আপনি পেয়ে যাবেন ভিন্ন ভিন্ন রঙের বরফ। রঙিন বরফ জমে গেলে আলাদাভাবে হালকা গুঁড়া করে নিন। সাদা বরফও গুঁড়া করে নিন। এবার বড় গ্লাসে যেকোনো এক রকম রঙিন বরফ ঢেলে দিন। এর ওপর কিছু সাদা বরফকুচি বিছান। তার ওপর আরেক রঙের বরফ দিন। আবার সাদা বরফ দিন, তার ওপর আরেক স্তর রঙিন বরফ। এভাবে ইচ্ছেমতো স্তর করে সাজান। এই গ্লাস ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন এক ঘণ্টা। গ্লাস বের করে অল্প করে কোমল পানীয় ঢালুন। দেখবেন রংধনুর মতো নানা রং দেখা যাচ্ছে। এবার পরিবেশন করুন। ডাবের শরবতউপকরণ: ডাবের পানি ১ লিটার, শাঁস জুলিয়ান করে কাটা ২ কাপ, চিনি ৬ টেবিল চামচ, পানি ১ কাপ, পেস্তা বাদাম আধা কাপ, বরফকুচি পরিমাণমতো।প্রণালি: চিনি ও পানি একসঙ্গে জ্বাল দিয়ে পাতলা শিরা বানিয়ে নিন। ডাবের পানির সঙ্গে শিরা ভালো করে গুলিয়ে নিন। পেস্তা বাদাম গরম পানিতে ভিজিয়ে নরম করে ছিলে নিন। গ্লাসে ডাবের পানির মিশ্রণ ঢেলে শাঁস আর বাদাম দিয়ে অন্তত দুই ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। বরফ কুচিসহ ঠান্ডা পরিবেশন করুন। সাগু-জেলো পুডিংউপকরণ: নিচের স্তরের জন্য: দুধ ১ লিটার, সাগু এক মুঠ, চিনি স্বাদমতো, তেজপাতা-এলাচি-দারুচিনি ১টি করে, লবণ ১ চিমটি।ওপরের স্তরের জন্য: দুধ আধা লিটার, চিনি ৫ টেবিল-চামচ, আগার আগার পাউডার ১ টেবিল-চামচ, পানি ৫ টেবিল-চামচ, যেকোনো ফুড কালার ৩-৪ ফোঁটা।প্রণালি: দুধে এলাচি-দারুচিনি-তেজপাতা দিয়ে জ্বাল দিন। ঘন হয়ে অর্ধেক হয়ে এলে সাগু দিয়ে দিন। সেদ্ধ হয়ে এলে চিনি ও এক চিমটি লবণ দিন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে পরিবেশন গ্লাসের মাঝ বরাবর ঢালুন এবং ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিন। এরপর ফ্রিজে অন্তত দুই ঘণ্টা রাখুন। ফিরনির ওপর সর জমতে হবে। এবার ওপরের স্তর তৈরির জন্য আগার আগার পাউডার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার দুধে চিনি মিশিয়ে ফুড কালার দিন। এতে আগার আগার মিশ্রণটি ঢেলে দিন। চুলায় দিয়ে ঘন ঘন নাড়ুন। বলক এলে নামান। এবার সাগু ফিরনির ওপর একটু করে ঢেলে দিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। ফ্রিজে রেখে দিন। পরিবেশনের আগে বের করুন।
4
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের বেশ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল ৯টার দিকে কুমিল্লা মডার্ন স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা। অন্যদিকে, সকাল ৯টা ২০ মিনিটে হোচ্ছা মিয়া হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু। নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ ও স্বতন্ত্র থেকে চারজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যেই হবে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে প্রথমবারের মতো বড় কোনো নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে জানা গেছে, এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের আঞ্জুম সুলতানা সীমা, বিএনপির মনিরুল হক সাক্কু, জাসদ মনোনীত প্রার্থী শিরিন আক্তার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ। এছাড়া কাউন্সিলর পদে ১৬৩ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিডি-প্রতিদিন/৩০ মার্চ, ২০১৭/এনায়েত/মাহবুব
6
রাজধানীর পল্টন থানায় ২০১৩ সালের এক মামলায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীবের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর লালবাগ থেকে মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীবকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি টিম। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও আরামবাগসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহন ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করা হয়। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
6
কোটচাঁদপুরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এ দিন নির্বাচন অফিসে চেয়ারম্যান পদে ৩৯ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৮৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা পদে ৫০ জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অহেদ মুরাদ জানান, তফসিল অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর কোটচাঁদপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মনোনয়ন জমাদানের শেষদিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। উপজেলার ৫ ইউপিতে ৩৯ জন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।যার মধ্যে ১ নম্বর সাবদারপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে জমা দিয়েছেন নওশের আলী নাসির, আব্দুল মান্নান, হীরন খান, তাফসিরুজ্জামান তপন, মফিজুল ইসলাম।২ নম্বর দোড়া ইউনিয়ন থেকে জমা দিয়েছেন কাবিল উদ্দিন বিশ্বাস, শামীম আরা হ্যাপী, জাহিদুর রহমান, আশরাফুল আলম, আব্দুল মালেক, জাকির হোসেন, আব্দুল জলিল, ফারুক হোসেন, আব্দুল লতিফ।৩ নম্বর কুশনার আব্দুল হান্নান, আবদুর রশিদ, গোলাম কিবরিয়া বিপ্লব, আলী হামজা, রওশন আলী, আতিয়ার রহমান, মোহাম্মদ আলী, শরিফুল ইসলাম, শাহাবুজ্জামান, আশাদুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম।৪ নম্বর বলুহর ইউনিয়নে জমা দিয়েছেন আব্দুল মতিন, রফিউদ্দিন মল্লিক, সফিকুর রহমান, নজরুল ইসলাম, শাহাজান আলী ও আবু বক্কর মণ্ডল।এ ছাড়া ৫ নম্বর এলাঙ্গী ইউনিয়ন থেকে জমা দিয়েছেন মিজানুর রহমান, আমিনুর রহমান, ইসলাফিল হোসেন, বদরুজ্জোহা লাবু, জামারুল ইসলাম, মজনুর রহমান, আবু তালেব।সংরক্ষিত মহিলা পদে ৫০ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সাবদারপুর ইউনিয়নের ১০ জন, দোড়ার ১৩ জন, কুশনার ১০ জন, বলুহরের ১০ জন ও এলাঙ্গীর ৭ জন প্রার্থী।
6
৬ জুলাই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮তম প্রতিষ্ঠবার্ষিকী। দীর্ঘ এ পথপরিক্রমায় দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের এই শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নাম যুক্ত হয়েছে। শুধু ইতিহাস-ঐতিহ্যেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্যারিস রোডের গগন শিরীষগাছগুলোর মতোই দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রেখে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি।দেশের উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ অন্যান্য অঞ্চলের মানুষকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। ১৯৪৭ সালে স্যাডলার কমিশনের সুপারিশে এ অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫০ সালে রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি হয়। ১৯৫২ সালে শহরের ভুবনমোহন পার্কে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে জনসভা হয়। অনেক আন্দোলনের পর তৎকালীন আইনসভার সদস্য মাদার বখশের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আইন পাস হয়। প্রফেসর ইতরাত হোসেন জুবেরীকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।ক্লাস শুরু হয় শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজে। সাতটি বিভাগে মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে ১৯৬১ সালে অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি ড. সোয়ানি টমাসের পরিকল্পনায় মতিহারের সবুজ চত্বরের নিজ ক্যাম্পাসটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা শহীদ হওয়ায় বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার যুক্ত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। মহান মুক্তিযুদ্ধেও বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক হবিবুর রহমান, মীর আবদুল কাইয়ুম, সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাড়াও ৩০ জন ছাত্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারী শহীদ হন।১৯৫৩ সালে শুরু হওয়া সাতটি বিভাগের ১৬১ জন ছাত্রের জায়গায় কলেরব বেড়ে এখন এর বিভাগ ৫৯টি এবং শিক্ষার্থী প্রায় চল্লিশ হাজার। এখানে শিক্ষক কর্মরত আছেন প্রায় ১২৫০ আর কর্মকর্তা-কর্মচারী ২৬০০-র কাছাকাছি। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়াশোনা করছেন। ৭৫৩ একর জায়গায় একাডেমিক ও আবাসিকের বাইরে এর সুবৃহৎ লাইব্রেরি, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর একেকটা অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে আছে। এর ছয়টি উচ্চতর গবেষণা ইনস্টিটিউট আর ইন্টারন্যাশনাল ডরমিটরি বিদেশি শিক্ষার্থীকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।দীর্ঘ ৬৮ বছরের পথচলায় এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন দেশবরেণ্য জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ভাষাবিজ্ঞানী ড. এনামুল হক, বিজ্ঞানী পিটার বার্টচি, বিচারপতি হাবিবুর রহমান, প্রফেসর হাসান আজিজুল হক, প্রফেসর সনৎ কুমার সাহা, প্রফেসর অরুণ কুমার বসাক, প্রফেসর বদরুদ্দীন উমরের মতো শিক্ষকেরা। কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় শিক্ষকেরা গুণগত মানের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে স্ট্রবেরি, আমের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ, মসলিন পুনরুদ্ধার, খরাপ্রবণ অঞ্চলে পানির সংকট হ্রাস নিয়ে অভিজ্ঞ গবেষকেরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৯ সালে স্কোপাসের বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। এখানকার ছাত্ররাজনীতির দিকপালরা দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন পদে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন ও অদ্যাবধি করছেন। হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট এখন দেশ ও বিদেশের মাটিতে নিজের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়কে কর্ম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আলোকিত করছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যালামনাইরাও তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে জ্যোতি ছড়াচ্ছেন।সব দিক থেকে বর্তমান শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা যেমন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পান, তেমনি কিছু বিষয় আবার সামনে এগিয়ে চলার পথে প্রতিবন্ধকতাও তৈরি করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে বিশ্বমানের করতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ মাঝে মাঝেই পাওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের '৭৩-এর অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে সিনেট ও রাকসু অকার্যকর রাখায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সুশাসনের সংকট দেখা দিচ্ছে ও ছাত্ররাজনীতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে হলেও প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ পদগুলো মাঝে মাঝে দীর্ঘদিন ফাঁকা রাখায় বিশ্ববিদ্যালয়টির বিষয়ে সরকার কতটা আন্তরিক, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক এবং মাঝে মাঝেই বিতর্কিত নিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে-তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সংকট নিরসনের প্রচেষ্টার পরও শিক্ষার্থীদের আবাসন, বিভাগের শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষকদের চেম্বার সংকট আছেই। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনাময় অ্যালামনাইদের একক বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে আনা যাচ্ছে না। আরও মানসম্মত ও বিশ্বমানের গবেষণা, প্রকাশনা, বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ, ভাবমূর্তির উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ওয়েবসাইটের আধুনিকায়নসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়াটা জরুরি। সে জন্য উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বিভিন্ন লিঙ্ক প্রোগ্রাম বাড়ানোটাও সময়ের দাবি। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের সিলেবাসগুলো আরও আধুনিকায়নের বিকল্প নেই।শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিলাসী ছোটগল্পে বলেছিলেন, 'টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, এবং অতীকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।' বাংলাদেশের একজন মানুষের গড় আয়ু এখন সত্তরের ঘরে, যেটি ছুঁইছুঁই করছে এ প্রতিষ্ঠান। মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কিছু মিল রয়েছে। মানুষ বা প্রতিষ্ঠান যা-ই হোক না কেন, অন্য মানুষ বা বৃহৎ পরিসরে জাতির কল্যাণে কাজ না করতে পারলে কেউই মনে রাখে না। আবার মানুষ বা প্রতিষ্ঠান উভয়েরই পথচলায় হোঁচট খেতে হয় মাঝে মাঝেই। আমরা বিশ্বাস করি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নিজের ও অ্যালামনাইদের কর্মের মাধ্যমে স্বমহিমায় যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। সেখানে থাকবে বাধাবিপত্তিও। সেগুলো মোকাবিলা করে বিশ্ববিদ্যালয়টি এগিয়ে যাবে। প্রাণের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠবার্ষিকী শুভ হোক।লেখক: সহকারী অধ্যাপক গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
8
হাঙ্গেরির কড়া চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষ মুহূর্তের ঝড়ে ম্যাচ জিতে এবারের ইউরো অভিযান শুরু করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ম্যাচে দু'টি গোল করার পাশাপাশি একাধিক নজিরও গড়েন সিআর সেভেন। ঘরের মাঠে তারকাখচিত পর্তুগীজদের বিপক্ষে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দেয় হাঙ্গেরি দল। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত দুই দলই গোলের দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়। তবে কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা ও কিছুটা একক দক্ষতায় নিশ্চিত ড্র-র দিকে এগানো ম্যাচ অবশেষে ৩-০ গোলে জিতে নেন রোনালদোরা। এই হার না মানা নাছোড় মনোভাবকেই হাতিয়ার করে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পর্তুগীজ মহাতারকার। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। ম্যাচের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে রোনাদো লিখেন, 'জিততে গেলে নানা রকম বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। সব সময় নিজের দক্ষতার ওপর বিশ্বাস রেখে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এমন একটি মঞ্চ যেখানে সেরার সেরারা অংশগ্রহণ করে, এখানে কোন সহজ ম্যাচ বা প্রতিপক্ষ নেই। প্রতিটা ম্যাচেই কঠোর লড়াই করে জিততে হবে। দারুণ একটা ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়েছে দল।' পাশাপাশি দলের সতীর্থদের উদ্দেশ্যেও দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 'চল, দলগতভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে আরও এগিয়ে যাই। আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে নিজেদের দেশের জনগণ, যারা সবসময় আমাদের সমর্থন করে, তাদের মুখে আবারও হাসি ফোটানোর কাজে লেগে পড়ি।' লিখেন রোনাদো।
12
ডুনেডিনে বাংলাদেশের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো নিউজিল্যান্ড। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে তারা নির্ধারিত ৫০ ওভারে করেছে ৮ উইকেটে ৩৩০ রান। নিকলস, টেলর ও ল্যাথামের ফিফটিতে তারা এই স্কোর করে। তবে শেষ দিকে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ঝড় বইয়ে দিয়ে স্কোর আরো বড় করে তোলেন। তিনি মাত্র ১৫ বলে ৪টি চার আর দুটি ছক্কা দিয়ে অপরাজিত ৩৭ রান করেন। আর মিচেল স্যান্টনার ৯ বলে ১৬ রান করেন।বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান দুটি এবং মাশরাফি, রুবেল, সাইফুদ্দিন ও মিরাজ একটি করে উইকেট পেয়েছেন। এই ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোররাত ৪টায় ডানেডিনে শুরু হয় চলতি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ হারিয়েছে সফরকারীরা। শেষ ম্যাচটি জিতে ইতিবাচকভাবে সিরিজ শেষ করার লক্ষ্য মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের। আগের দুই ম্যাচে দুই ফিফটি করা মোহাম্মদ মিঠুন হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরির কারণে এ ম্যাচে খেলতে পারছেন না। তার পরিবর্তে একাদশে এসেছেন ডানহাতি পেসার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশ একাদশতামিম ইকবাল, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মোহাম্মদ সাঈফউদ্দীন, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিুজর রহমান। নিউজিল্যান্ড একাদশমার্টিন গাপটিল, হেনরি নিকোলাস, কলিন মুনরো, রস টেলর, টম ল্যাথাম (উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক) জিমি নিশাম, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনার, লকি ফার্গুসন, টিম সৌদি ও ট্রেন্ট বোল্ট। রেটিং বাঁচাতে তৃতীয় ওয়ানডে জিততেই হবে বাংলাদেশপ্রথম দুই ম্যাচ হেরে ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হারলে হোয়াইটওয়াশের লজ্জাও পাবে টাইগাররা। এমনকি তিনটি মূল্যবান রেটিংও হারাবে বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে জিতলে তিনটি রেটিং বাচাঁতে পারবে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। সেক্ষেত্রে সিরিজ হারলেও, র্যাংকিং-এ আগের অবস্থান ও রেটিং ধরে রাখতে পারবে বাংলাদেশ।সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের রেটিং ছিলো ৯৩। অবস্থান- সপ্তম। তবে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে এখন টাইগারদের রেটিং ৯১। অবস্থান- আগেরটিই। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হারলে আগের অবস্থানে থাকলেও, তাদের রেটিং হবে ৯০। অর্থাৎ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলে তিনটি মূল্যবান রেটিং হারাবে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ ম্যাচ জিতলে আগের রেটিং ধরে রাখতে পারবে তারা। অর্থাৎ সিরিজ শুরুর আগে ৯৩ ছিলো, ২-১ ব্যবধানে হারেরও পরও ৯৩ই থাকবে বাংলাদেশের। তাই তিনটি রেটিং বাঁচাতে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে জয় ছাড়া কোন পথ খোলা নেই বাংলাদেশের। অপরদিকে, সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবাদে বর্তমানে ওয়ানডে র্যাংকিং-এ তৃতীয়স্থানে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। তাদের এখন রেটিং ১১২। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারলে নিউজিল্যান্ড ১১২ রেটিং নিয়ে তৃতীয় স্থান ধরে রাখতে পারবে কিউইরা। আর ২-১ ব্যবধানে নিউজিল্যান্ড সিরিজ জিতলে তাদের রেটিং থাকবে ১১১। তখন চতুর্থস্থানে নেমে যাবে কিউইরা।সূত্র : বাসস
12
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ২ টায় তার সঙ্গে শপথ নেবেন শমসেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর কেন্দ্রের দুজন বিজয়ী প্রার্থী। তিন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাজ্যপাল জগদীপ ধানখড়। এর আগে সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পীকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করেন। সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় চেয়েছিলেন রাজভবনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি করা হোক। কিন্তু সোমবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় এক চিঠিতে জানান, ৭ অক্টোবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ হিসেবে বিধানসভায় শপথ নেবেন এবং সেই অনুষ্ঠানে রাজ্যপালকে শপথবাক্য পাঠ করানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
3
বাগেরহাটের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সিংগা এলাকায় বয়স বাড়িয়ে ১১ বছর বয়সী শিশুকে তিন দফায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করেছেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য কৃষ্ণপদ বিশ্বাস। ইউনিয়ন পরিষদ প্রদত্ত জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে ওই শিশুকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে তার পরিবার। তবে পরিবারের অন্যায় চেষ্টা ও অসাধু ইউপি সদস্যের বিচারের দাবিতে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছেন ওই শিশুর বড় ভাই অসিম বিশ্বাস।অসিম বিশ্বাস বলেন, 'আমার ছোট বোন ছোট সিংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। কিন্তু স্থানীয় ইউপি সদস্য কৃষ্ণপদ বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগী উৎসব রায় কোনো আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে আমার মা গীতা বিশ্বাসকে ভুল বুঝিয়ে অর্থের বিনিময়ে আমার বোনের ভুয়া জন্মসনদ ও টিকা কার্ড তৈরি করেন। তার প্রকৃত জন্মতারিখ ৫ এপ্রিল ২০১০-এর জায়গায় ৭ জুলাই ২০০৩ হিসেবে টিকা কার্ডে ভুয়া জন্মতারিখ করে দিয়েছে ইউপি সদস্য কৃষ্ণপদ বিশ্বাস। ভুয়া জন্মসনদ অনুযায়ী গত সোমবার সন্ধ্যায় আমার বোনকে একই গ্রামের নিলয় মৃধার ছেলে দিবস মৃধার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পেরে বিয়ে বন্ধ করে দেন।'পরবর্তী সময়ে স্থান পরিবর্তন করে পার্শ্ববর্তী পাতিলাখালি গ্রামে আমার মামার বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বন্ধ করা হয়েছে। পরে পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর উপজেলার শেখ মাটিয়া গ্রামে বিয়ের আয়োজন করলে উপজেলার প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা-ও বন্ধ হয়। কিন্তু বোনের বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনকে অবহিত করার কারণে ইউপি সদস্য কৃষ্ণপদ বিশ্বাস ও বিয়ের পাত্র দিবস মৃধাসহ তাঁদের লোকজন বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকিধমকি দিচ্ছেন। আমার মাকে ভুল বুঝিয়ে নগদ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই ভুয়া জন্মসনদ করা হয়।' ছোট সিংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) পিযুষ অধিকারী বলেন, 'চতুর্থ শ্রেণির একটি মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা আইনের লঙ্ঘনের সঙ্গে সঙ্গে ওই মেয়ের জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার শামিল। যারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।'অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কৃষ্ণপদ বিশ্বাস বলেন, 'নিলয় মৃধার ছেলে দিবস মৃধা আমার কাছে জন্মসনদের কাগজ নিয়ে এলে আমি সই করে দিয়েছি। টাকার বিনিময়ে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।'বিষ্ণুপুর ইউপির চেয়ারম্যান এমডি মাসুদ রানা বলেন, 'অনেকেই জন্মসনদসহ নানা সেবার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে যাচাইয়ের সুযোগ আমার থাকে না। যার কারণে জন্মনিবন্ধনে সচিবের স্বাক্ষরের পাশাপাশি স্থানীয় ইউপি সদস্যের যাচাই ও স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করেছি। বিতর্কিত ওই জন্মনিবন্ধন সনদ আমার পরিষদের। কিন্তু স্থানীয় চকিদার, ইউপি সদস্য ও সচিব শনাক্তের পর আমি স্বাক্ষর করি। ওই তিন ব্যক্তি কোন কাগজের ভিত্তিতে শনাক্ত করলেন এবং স্বাক্ষর দিলেন এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানাচ্ছি।'এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, 'বাল্যবিবাহের আয়োজনের কথা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরে কয়েক দফায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছিল। ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে ভুয়া জন্মসনদ তৈরির লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
6
ফরিদপুরের পদ্মা নদীর পাড় তিন দিন ধরে ভাঙছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন নদী তীর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। দ্রুত বাঁধ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে।ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের কয়েকটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার অংশের সি সি ব্লক ধসে গেছে। গত তিন দিনে বিভিন্ন সময় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তীর সংরক্ষণ বাঁধ। এই কারণে নদী পাড়ের বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর ওবায়দুলের বাড়ি সংলগ্ন তীর সংরক্ষণ বাঁধে ধস শুরু হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসেন।হঠাৎ করে ভাঙনের ব্যাপকতা বাড়ায় পাউবো ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছেন।স্থানীয়রা জানান, নদীর স্বাভাবিকতা না থাকায় প্রতি বছরই বাড়ি ঘর ও ফসলের জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তাঁরা চান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই নদী ভাঙন প্রতিরোধ।ডিক্রীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু বলেন, 'নদীতে স্রোত বেশি থাকায় আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে।'এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা জানান, ভাঙন প্রতিরোধে জরুরিভাবে জিও ব্যাগ ডাম্পিং অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের গভীরতা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নদীর অপর পাড়ের ভাঙনের বিষয়ে তিনি বলেন, 'এটা তো নদী থেকে জেগে উঠা বালু চর। এখানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে কোনো লাভ হবে না। পরবর্তীতে অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রকল্প গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
সাংবাদিক মুজাক্কির ও সিএনজি অটোরিকশাচালক আলাউদ্দিন হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বলেন, প্রশাসনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। আমাদের যে সব মামলা আছে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বুধবার পৌরসভা মিলনায়তনে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মাঝে ঈদ উপহার দেওয়ার সময় এ দাবি জানান তিনি। কাদের মির্জা আরও বলেন, কোম্পানীগঞ্জে যার কাছে অস্ত্র আছে তা উদ্ধার করতে হবে। আমার লোকের কাছেও যদি অস্ত্র থাকে সেগুলোও উদ্ধার করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেয়রের অনুসারী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ, কোম্পানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি একেএম আনোয়ার তোহা, সাধারণ সম্পাদক জাফর উল্যাহ পলাশ, সমকাল প্রতিনিধি তবিবুর রহমান টিপু, যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিনিধি রতি লাল দাস, যুগান্তর প্রতিনিধি শরফুদ্দিন শাহীনসহ সাংবাদিকরা।
6
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতির ইতিহাসে সেরা বাঙালি নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিরোধী দল সিপিএমের সদস্য অজন্তা বিশ্বাস। তৃণমূলের দৈনিক পত্রিকা 'জাগো বাংলায়' গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত এক ধারাবাহিক লেখায় মমতার নানা প্রশংসায় মেতেছেন তিনি। এর জের ধরে সিপিএমের সমালোচনার মুখে পড়েছেন অজন্তা। অজন্তা বিশ্বাস সিপিএমের সাবেক রাজ্য সম্পাদক ও পলিট ব্যুরো সদস্য প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের মেয়ে। এ ছাড়া তিনি কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সিপিএমের অধ্যাপক ও গবেষক সংগঠনের সদস্য। অজন্তা জাগো বাংলায় 'বঙ্গ রাজনীতির নারীশক্তি' শীর্ষক একটি ধারাবাহিক লেখেন। সেখানে তিনি ভারতের স্বাধীনতাপূর্ব সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলার নারীশক্তির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। লেখাগুলোতে তিনি মমতাকে 'দিদি, জননেত্রী, অগ্নিকন্যা' বলে সম্বোধন করেছেন। ওই ধারাবাহিক লেখায় অজন্তা বলেন, ২০১১ সালে রাজ্যের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা এক ইতিহাস রচনা করেছেন। তিনি সিঙ্গুরে মমতার টাটাবিরোধী জমি আন্দোলনের প্রশংসা করেছেন। তাঁর নানা সংগ্রামের বিষয়েও কথা বলেছেন তিনি। এদিকে অজন্তার এই মমতাস্তুতি নিয়ে সিপিএমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কেন এমন লেখা, জানতে তাঁকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এমন পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল শনিবার আইএসএফ বা ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি সিপিএমের মুখপত্র 'দৈনিক গণশক্তিতে' এক লেখায় দলটির প্রশংসা করেছেন। সেখানে স্তুতি গেয়েছেন সিপিএমের নেতা তথা বাম ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুরও। উল্লেখ করেছেন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিধানসভা নির্বাচনোত্তর সহিংসতার কথা। লেখায় তিনি নিজেকে বিজেপি ও তৃণমূল বিধায়কদের প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফের সঙ্গে গত বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়ে সিপিএম ও কংগ্রেস। তাদের এই জোট ২৭টি আসনে লড়ে মাত্র একটিতে জেতে। নওশাদ সিদ্দিকি হয়ে যান কংগ্রেস-বাম জোটের একমাত্র বিধায়ক। তবে নির্বাচনে কংগ্রেস বা বাম জোট এককভাবে একটি আসনেও জিততে পারেনি।
3
এই সরকারের আমলে বিরোধী মত প্রকাশ করায় শত শত মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে মন্তব্য করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এই সরকারকে বিতাড়িত করতে সবাইকে একযোগে আন্দোলন করতে হবে। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ লেবার পার্টি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। মান্না বলেন, এই সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এই সরকারের আমলে বিরোধী মত প্রকাশ করায় শত শত মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে। লাখ লাখ মানুষকে অন্যায়ভাবে কারাবরণ করতে হয়েছে। তাই এই সরকারের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, আন্দোলনের জন্য তৈরি হন। এই সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। আমাদের একযোগে লড়াই করতে হবে। বড় বড় দলগুলোকে বলি, আপনারা যদি ভেবে থাকেন আগামী নির্বাচনটা দেখি, তাহলে ভুল হবে। কারণ তারা ৭-এর জায়গায় ৭০টা সিট দিবে, কিন্তু ক্ষমতা দিবে না। সুতরাং তাদের ক্ষমতা থেকে না নামিয়ে নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের বিরুদ্ধে সারাদেশকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ একমাত্র জনগণই পারে এমন শাসকদলকে হটিয়ে দিতে। আগামীতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে লেবার পার্টির সভাপতি ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে বাকস্বাধীনতা হরণের হাতিয়ার আর ১৬ জুন ১৯৭৫ সংবাদপত্রে ইতিহাসে একটি কলো অধ্যায়। সরকার বিরোধী মতকে দমন করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরী করছে। বিগত বছরগুলোতে এই আইনে নাগরিকরা সরকারের নির্যাতন, নিপীড়ন, গ্রেফতার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীরা ভয়ে সত্য প্রকাশ করতে পারছে না। তাই নিবর্তনমূলক ডিজিটাল বাকস্বাধীনতা হরণকারী আইনটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। নাগরিক সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তৈমূর আলম খন্দকার, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ড. নুরুল আমিন বেপারী, লেবার পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমাউন কবির প্রমুখ।
9
রাশিয়ার ২৩ জন কূটনীতিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সাবেক রুশ গুপ্তচর ও তার মেয়েকে নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যাচেষ্টা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া বলে বুধবার পার্লামেন্টে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। বিবিসি জানায়, গত ৪ মার্চ যুক্তরাজ্যের সালিসবেরির উইল্টশায়ারে একটি পার্কের বেঞ্চে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে ছিলেন সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল (৬৬) ও তার মেয়ে ইউলিয়া (৩৩)। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দলত্যাগের পর সাবেক রুশ গুপ্তচর স্ট্রিপাল যুক্তরাজ্যে বসাবাস করছেন। তেরেসা মে বলেন, ভিয়েনা কনভেশনের আওতায় যুক্তরাজ্য ২৩ রুশ কূটনীতিককে বরখাস্ত করবে। ছদ্মবেশে থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্য ছাড়তে হবে। ৪ মার্চের ওই ঘটনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি। ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কার ছাড়াও চলতি বছর অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপে রাশিয়ায় সরকারি প্রতিনিধি পাঠানো থেকেও যুক্তরাজ্য বিরত থাকবে বলে জানান তেরেসা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। যুক্তরাজ্যে রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্তকে 'অদূরদর্শী, অগ্রহণযোগ্য এবং অবিচার' বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
3
রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত পূণ বিবেচনা করে কিভাবে সরকারীভাবে পাটকলগুলো আধুনীকীকায়ন করে লাভজনক করা যায় সে প্রস্তাব দিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। বুধবার (১৫ জুলাই) বিজয়নগর শ্রম ভবেন অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি। এসময় শ্রমপ্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, শ্রমসচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং স্কপের পক্ষে যুগ্ম সমন্বয়কারী ফজলুল হক মন্টু এবং নাঈমুল আহসান জুয়েল, শ্রমিক নেতা সাইফুজ্জামান বাদশা, কামরুল আহসান বুলবল, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিল। এ বিষয়ে কামরুল আহসান বুলবুল ভোরের কাগজকে জানান, মূলত পাটকল বন্ধ্যের বিষয়টি পূণবিবেচনা ও শ্রমিকদের বেতন ভাতার বিষয়ে আমরা শ্রমমন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম এক যৌথ বৈঠক করতে। সেখানে আমরা স্কপের দেয়া আগের দাবি- অর্থাৎ পাটকল বন্ধ বা পিপিপিতে না দিয়ে সরকারীভাবে আধুনীকীকায়ন করে কিভাবে লাভজনক করা যায় সে বিষয়ে আমাদের মন্তব্য তুলে ধরেছি। শ্রমপ্রতিমন্ত্রী-সচিব তা মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। তিনি বলেছেন, যেহেতু এটি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত, সেকারণে তিনি এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন। তবে দক্ষ শ্রমিকদের পূণরায় পাটকল আধুনীকীকায়ণ হলে কাজে যোগ দিতে পারবেন বলে তিনি আশ্বস্থ করেছেন। বুলবুল বলেন, আমরা প্রতিমন্ত্রীকে আরো জানিয়েছে যাতে ঈদের এক সপ্তাহ আগে শ্রমিকরা বকেয়া মজুরী ও পূর্ণ উৎসব ভাতা পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। স্কপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত রমজানের ঈদ শ্রমিকরা প্রচন্ড কষ্টে অতিবাহিত করেছেন। মালিকদের দুরভিসন্ধি ও অবহেলার কারনে শ্রমিকরা বেতন, বোনাস নিয়ে দুর্ভোগের পাশাপাশি ছাঁটাই এবং লে-অফের যন্ত্রনা ভোগ করেছেন। সরকারের প্রণোদনা নিয়েও মজুরী পরিশোধে তালবাহানা করেছে অনেক গার্মেন্টস মালিক। এই পরিস্থিতি যেন কুরবানি ঈদের সময় না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন নেতৃবৃন্দ। ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার বিষয়টি শ্রম প্রতিমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে দেখবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন।
6
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ডিজিটাল ব্যবসায় সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য "ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১" প্রণয়ন করা হয়েছে। গত ৪ জুলাই তা সরকারের গেজেট আকারে প্রকাশত হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা ও অংশিজনদের মতামতের ভিত্তিতে এ ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা তৈরী করা হয়েছে। এতে মার্কেটপ্লেসে বিক্রয়যোগ্য পণ্য ও সেবার তথ্য প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয়, সাধারণ নিয়মাবলী, মার্কেটপ্লেসে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন, পণ্য ডেলিভারী, অগ্রিম পরিশোধিত মূল্য সমন্বয় ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। যা গ্রাহকদের জন্য সহায়ক হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল কমার্সের আওতায় নেশা সামগ্রী, বিস্ফোরক দ্রব্য বা অন্য কোন নিষিদ্ধ সামগ্রী বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। জুয়া বা অনলাইন বিটিং বা অনলাইন গেমব্লিং এর আয়োজন বা অংশগ্রহণ করা যাবে না। ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিত কোন ধরণের লটারি'র আয়োজন করতে পারবে না। মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বা নেটওয়ার্ক ব্যবসায় পরিচালনা করা যাবে না। বাণিজ্যমন্ত্রী আজ (০৬ জুলাই) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি (জুম প্লাটফর্মে) "ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১" জারির বিষয়ে অবহিতকরন সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করে বক্তব্য প্রদানের সময় এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য বিক্রেতা বা তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে "ষ্টকে নেই" কথাটি স্পষ্টভাবে পণ্যের পাশে লিপিবদ্ধ করেতে হবে। নিত্যপণ্য ও খাদ্য সামগ্রীর বা সংখ্যায় প্রকাশ করা যায় না এমন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে স্টকের পরিমানের পরিবর্তে "এভেইলেবল ফর ডেলিভারি" কাথাটি লেখা থাকতে হবে। অগ্রিম মূল্য আদায়ের ক্ষেত্রে প্রদর্শিত পণ্য অবশ্যই দেশের ভিতরে 'রেডি টু শিপ' পর্যায়ে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণের পরবর্তি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ডেলিভারী পারসন বা প্রতিষ্ঠাণের নিকট হস্তান্তর করার মত অবস্থায় নেই এমন পণ্যের ক্ষেত্রে পণ্যমূল্যের ১০% এর বেশি অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিস এর মাধ্যমে ১০০% পর্যন্ত অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে। বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শিত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরবর্তি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পণ্য ডেলিভারীম্যান বা ডেলিভারী সংস্থার নিকট হস্তান্তর করতে হবে এবং ক্রেতাকে তা টেলিফোন, ই-মেইল বা এসএমএস এর মাধ্যমে জানাতে হবে। টিপু মুনশি বলেন, পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়ে থাকলে ক্রেতা ও বিক্রেতা একই শহরে অবস্থান করলে ক্রয়াদেশ গ্রহণের পরবর্তি সর্বোচ্চ পাঁচ দিন এবং ভিন্ন শহরে বা গ্রামে অবস্থিত হলে সর্বোচ্চ দশ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারী প্রদান করতে হবে। পচনশীল দ্রব্য দ্রুততম সময়ে ডেলিভারি দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ডেলিভারির সময় যাতে পণ্যের কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যে কোন ধরনের ঘোষিত ডিসকাউন্ট বিক্রয় কার্যক্রম এর সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করতে হবে। ক্যাশব্যাক অফার মূল্য পরিশোধের পরবর্তি ৭২ ঘন্টার মধ্যে কার্যকর হতে হবে। বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের প্রতিনিধি, ই-ক্যাব এর সভাপতি শমি কায়সার, বিভিন্ন এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।
0
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ১৮ ডিসেম্বর তিনদিনের সফরে ভারত যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সফরের নতুন তারিখ খুব শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে। ঢাকায় সংশ্লিষ্ট একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র এ তথ্য দিয়েছে। তবে সফর স্থগিত হওয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সূত্র। সূত্র জানায়, একেবারে শেষ মুহূর্তে সফরের তারিখসহ সূচিতে কিছু পরিবর্তন আসছে। খুব দ্রুতই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সফরের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। দিল্লীর একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভারত দু'পক্ষের মধ্যে সৌহাদ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই সফরের তারিখ পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানসহ দু'দেশের নিবিড় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঢাকার কোনো সূত্র থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ভারতের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং অবশ্যই আমরা আশাবাদী। তবে এবারের ভারত সফরে তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন হবে কী না সে ব্যাপারে কিছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী। ২০১৫ সালের ৬ জুন দু'দিনের সফরে ঢাকা আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সে সফরের সময় ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। সে সফরে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা স্থল সীমান্তচুক্তি বাস্তবায়নের সর্বশেষ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং ছিট মহল বিনিময়সহ অন্য বিষয়গুলোর প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সে সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু'জনেই বলেছিলেন, এখন থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। সে সময় 'নতুন প্রজন্ম, নয়া দিশা' নামে দু'দেশের যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। ওই ঘোষণায় দু'দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও নিবিড় করার ব্যাপারে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়। এরপর চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের গোয়ায় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন। সে সময়ও তার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ হয়। সে সময়ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বন্টন নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছিল। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সফরে এসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে আস্থা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
6
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বাগানের পাশ থেকে এক নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছেলে নবজাতকটির বয়স আনুমানিক ১দিন। আজ শুক্রবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে সকালে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে বাগানের পাশ থেকে নবজাতকটি উদ্ধার করা হয়। কেউ নবজাতকটি মৃত অবস্থায় ওখানে ফেলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা ফেলে গেছে তা বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
6
পোশাক কারখানাগুলোতে টেকসই পানি ব্যবহারে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে ওয়াটারএইড ও বিজিএমইএর মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাব্য উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। ওয়াটারএইড মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার জন্য আরও দক্ষভাবে পানি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে কারখানাগুলোকে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থাটি কারখানাগুলোকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রযুক্তিগত জ্ঞান দিয়ে সহায়তায় ইচ্ছুক। ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহানের নেতৃত্বে ওয়াটারএইডের একটি প্রতিনিধিদল গত বুধবার গুলশানস্থ বিজিএমইএ পিআর অফিসে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ ইচ্ছার কথা জানান। বৈঠকে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম এবং ওয়াটারএইডের পলিসি এন্ড এডভোকেসি বিভাগের পরিচালক পার্থ হেফাজ শাইখ, মিডিয়া অ্যা ন্ড ক্যাম্পেইন বিভাগের হেড অব কমিউনিকেশনস ফয়সাল আব্বাস এবং কমিউনিকেশনস অফিসার শাদমা মালিক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পৃথিবী ও মানুকে বাঁচাতে পরিবেশ রক্ষায় পানির দায়িত্বশীল ব্যবহার অপরিহার্য। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক জল ও দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি আমাদের কারখানাগুলোতে কর্মচারী ও শ্রমিকদের মাঝে পানির অপচয় কমানোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে বলেও জানান তিনি।
6
কুষ্টিয়া বাগান উজাড় করে ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। রোববার সকালে সড়ক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দ্রুত গাছ কাটা বন্ধ, চৌড়হাসে ভবন নির্মাণসহ নানা দাবি জানানো হয়। জানা যায়, কুষ্টিয়ায় গণপূর্তের গাছ উজাড় করে সড়ক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ। শহরের সাদ্দাম বাজার মোড়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে গণপূর্তের অফিস। একই অফিসের মধ্যে সড়ক ও জনপথের কার্যালয়ের সামনে বিশাল একটি ফলজ ও বনজ বাগান রয়েছে। গণপূর্তের দাবি অনুযায়ী ভবন ও বাগানটি তাদের জায়গায়। কিন্তু ভুল করে সড়ক ভবনের নামে রেকর্ড হওয়ায় তারা বাগান কেটে গায়ের জোরে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছে। সমাবেশে পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে শহরের চৌড়হাস মোড়ে সড়ক ও জনপথের বিপুল পরিমাণ যে ফাঁকা জায়গা পড়ে আছে সেখানে ভবন নির্মাণের দাবি জানান। সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা। এতে বক্তব্য রাখানে সামাজিক সংগঠন ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতা শরীফ বিশ্বাস, শ্যামলী খন্দকার, শ্রমিক নেতা মতিউর রহমানসহ অন্যরা। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, 'ভবনটি ও বাগানটি আমাদের জায়গায়। আমরা খাজনা পরিশোধ করে আসছি। এখানে অন্যায় কিছু করা হচ্ছে না।'
6
মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশটির বেসামরিক মানুষ খুন করেছে, মানব ঢাল হিসেবেও তাদের ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার গ্রুপ ফোর্টিফাই রাইটস। পূর্বাঞ্চলীয় কারেন্নি রাজ্যে সেনাবাহিনীর এসব ধারাবাহিক সহিংসতা যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য করা যেতে পারে। মঙ্গলবার মিয়ানমারভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপটির নতুন এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। খবর আল জাজিরার। মানবাধিকার গ্রুপটি বলেছে, তারা কারেন্নি রাজ্যের চার্চ, আবাসিক বাড়ি, বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির এবং অন্যান্য বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার তথ্য সংগ্রহ করেছে। ২০২১ সালের মে মাস থেকে শুরু করে ২০২২ সালের জানুয়ারির মধ্যে এসব হামলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৬১ বেসামরিককে হত্যা করা হয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান সদস্যদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফোর্টিফাই রাইটস। মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরাতে গত বছরের এপ্রিলে আসিয়ানের সঙ্গে পাঁচ দফা সম্মতিতে রাজি হয় সেনাবাহিনী। ওই দফাগুলো বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি। ফলে মিয়ানমারকে বাদ দিয়ে কম্বোডিয়ায় বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে আসিয়ানের অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ফোর্টিফাই রাইটস বলছে, মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞায় আসিয়ানের সমর্থন দেওয়ার এখনই সময়। ফোর্টিফাই রাইটস এর আঞ্চলিক পরিচালক ইসমাইল ওলফ বলেন, 'বিশ্ববাজারে উৎপাদিত অস্ত্র দিয়ে মানুষ খুন করছে মিয়ানমার জান্তা আর সেটা অবশ্যই থামাতে হবে। বেসামরিক মানুষের ওপর আক্রমণ চালানোর আগে মিয়ানমার জান্তাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করতে স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জরুরিভাবে আরোপ করতে হবে আর আসিয়ানের জন্য কৌশলগত ও দায়িত্ববান অবস্থান হবে এতে সমর্থন দেওয়া। প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে ৩১ প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেঁচে যাওয়া মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। এ ছাড়া যাচাই করা ছবি ও ভিডিও প্রমাণ বিশ্নেষণ করেছে তারা। ওই প্রতিবেদনে এইচপ্রসু টাউনিশিপে বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় এক হত্যাকাণ্ডের নতুন বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। ওই ঘটনায় শিশু এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের দুই কর্মীসহ অন্তত ৪০ বেসামরিক নিহত হন।
3
চীনের কাছে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা চায়নি রাশিয়া। ইউক্রেনে লক্ষ্য যথাসময়ে ও সম্পূর্ণরূপে অর্জনে রাশিয়ার পর্যাপ্ত সামরিক ক্ষমতা রয়েছে। সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবন ক্রেমলিন বিষয়টি জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ বিবৃতিতে এই বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেছিলেন-রাশিয়া চীন থেকে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। তার জবাবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই বিবৃতি দেওয়া হলো।ইউক্রেন যুদ্ধে চীনের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পশ্চিম: বেইজিংএর আগে, একই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন। দেশটি-ইউক্রেন যুদ্ধে চীন যে ভূমিকা পালন করছে সে সম্পর্কে 'বিভ্রান্তিমূলক তথ্য' ছড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছে। বেইজিং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য নিয়ে ইউক্রেন ইস্যুতে এসব বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে।রাশিয়ার অস্ত্র চাওয়ার কথা 'অস্বীকার' করল চীনসোমবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নিয়মিত বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এমন এক সময়ে চীনের পক্ষ থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হলো যখন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চীন-যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত দ্বয়ের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন ইস্যুতে চীনকে উদ্দেশ্য করে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে, বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য নিয়ে।' এর আগে, আজ সোমবার মার্কিন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য চীনের কাছে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা চেয়েছে। তারই জবাবে চীন এই মন্তব্য করেছে।
3
বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের (ইউসিএলবি) জাতীয় প্লেনামের (বর্ধিত সভা) উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তারা দেশের সব বাম দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিচ্ছিন্ন আন্দোলন করে এ সরকারকে বিদায় করা যাবে না। তাদের টেনে ক্ষমতার মসনদ থেকে নামাতে হবে। এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন কমিউনিস্টপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ শক্তি।সমাবেশে বক্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ২০২৩ সালে যেনতেন নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। সমাবেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আগামী ২৮ মার্চ অর্ধদিবস হরতাল পালনের আহ্বান জানানো হয়।৩ দিনব্যাপী জাতীয় প্লেনাম গতকাল বুধবার থেকে বরিশালে শুরু হয়েছে। বেলা ১১টায় নগরের অশ্বিনীকুমার হল চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউসিএলবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশারফ হোসেন নান্নু।সমাবেশ শেষে বিপুলসংখ্যক নারীর অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সদর উপজেলার কর্নকাঠী গ্রামে বিকেল থেকে শুরু হয়েছে ইউসিএলবির সাংগঠনিক অধিবেশন। এ অধিবেশন চলবে ২৫ মার্চ পর্যন্ত। ২৫ জেলার ৬০ জন ডেলিগেট এতে অংশ নিচ্ছেন। সাংগঠনিক অধিবেশনের মাধ্যমে ৯ বছর পর ইউসিএলবির নতুন কমিটি গঠিত হবে।উদ্বোধনী সমাবেশে দলটির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু বলেন, দেশে দুর্নীতি, লুটপাট ও বিদেশে অর্থ পাচারের মহোৎসব চলছে। রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতায় আমলারা এখন দেশ চালাচ্ছেন। সরকারের এক মন্ত্রী স্বীকার করেছেন, কানাডার বেগমপাড়ায় বাংলাদেশের ২৮ জনের বাড়ি চিহ্নিত হয়েছে।আরও বক্তব্য দেন, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির, ইউসিএলবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার ও রনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কেন্দ্রীয় নেতা শামীম ইমাম, নজরুল ইসলাম, বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জলিলুর রহমান। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক নৃপেন্দ্র নাথ বাড়ৈ।
6
চুলের সমস্যার মধ্যে খুশকি অন্যতম। প্রায় প্রত্যেক মানুষই খুশকির সমস্যায় ভুগে থাকেন। সময়মতো সচেতন না হলে ও সঠিক যত্ন না নিলে এ সমস্যা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। রেড বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, খুশকির কারণে চুল পড়তে পারে। যখন আমাদের মাথার ত্বক অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে যায় ও মরা কোষগুলো উঠতে থাকে, তখন সেটাকে আমরা খুশকি বলি। যখন এই মরা কোষ অনেক বেশি পরিমাণে উঠতে থাকে, তখন চুল অপুষ্টিতে তো ভোগেই, পাশাপাশি গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে। ঘরে বসে ভেষজ উপাদান দিয়ে খুশকির সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে।আমাদের সবার বাড়িতেই ছোলার ডাল থাকে। ছোলার ডালে রয়েছে ভিটামিন বি-৬ (পাইরিডক্সিন) ও জিঙ্ক। ছোলার ডালবাটার সঙ্গে দই মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন।খুশকি নিরাময়ে মাথার ত্বকে রসুনবাটা লাগাতে পারেন। যাঁদের ত্বক সেনসিটিভ, তাঁরা স্কাল্পে রসুনের রসে পানি মিশিয়ে লাগাতে পারেন।স্নানে শেষবার চুল ধোয়ার আগে মাথার ত্বকে আপেলের রস ম্যাসাজ করতে পারেন।কলায় রয়েছে ভিটামিন বি-৬, এ, সি, ই ও খনিজ, যেমন: জিঙ্ক, পটাশিয়াম ও লোহা। এতে আরও রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। সরাসরি কলা খান বা টকদই ও কলার পেস্ট মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন।ভিনেগার খুশকি দূর করতে খুব ভালো কাজ করে। ভিনেগারে তুলো ভিজিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
4
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎলাইনের সাব-স্টেশন চালু হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে রামু-নাইক্ষ্যংছড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। সাব-স্টেশনটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের বিছামারা এলাকায় অবস্থিত। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা।উপজেলার একাদিক বাসিন্দা জানান, ১ বছর ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়াসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুতের ভোল্টেজ সমস্যা ও লোডশেডিং ছিল। রামু বিদ্যুৎ অফিস জানান, নানা জটিলতার কারণে এত দিন এই অঞ্চলের মানুষ কষ্টে ছিলেন। এখন তা কেটে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় এ সাব-স্টেশনটি চালু হয়েছে। এতে লাখো পাহাড়ি-বাঙালির দীর্ঘ দিনের কষ্ট লাগব হবে।কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গনি বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির সাব-স্টেশনের এক পাশে ৩৩ কেভি, অপর পাশে ১১ কেভির বিদ্যুৎ এর লাইন স্থাপিত আছে। আগে রামু থেকে ভায়া হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামুর গজর্নিয়া এলাকা বিতরণ করা হতো।তিন পার্বত্য জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী উজ্জ্বল বড়ুয়া বলেন, ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাব-স্টেশনটি শুক্রবার বাদজুমা পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয়েছে। প্রথম কয়েক দিন সামান্য সমস্যা দেখা দিলেও কদিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে।এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তিন পার্বত্য জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীমো. সাইফুর রহমান, চট্টগ্রামের-৩ এর এনার্জি এডিটিং ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল আহসান, কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুনর রশিদ, ঢাকার সিস্টেম প্রোটেকশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জান্নাতুন নাঈম, ঢাকা ডিজাইন ও নকশা-২ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রুহিন আফরোজ।রামু বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী এম এম মঈনুল ইসলাম বলেন, এত দিন তিন কারণে এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হচ্ছিল। তবে ৩৩ কেভি লাইনের বিদ্যুৎ চালু, চাকঢালা বিদ্যুৎ লাইনে সংস্কার ও গর্জনিয়া মাঝিরকাটা গ্রামে বিদ্যুতায়নের কাজ পূর্ব ঘোষণা মতো সমাধান হয়েছে।রামু বিদ্যুৎ অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, তিনি এ ব্লকের (ফিডার) দায়িত্বে আছেন। এ ব্লকে বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ৩ হাজার। এখন সমস্যা আর নেই। গ্রাহকেরা এখন থেকে নিয়মিত সেবা পাবেন।
6
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ থেকে খোয়া গেছে ১৭টি নথি। গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি নজরে আসে মন্ত্রণালয়ের। ওই দিনই শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, নথি হারিয়ে যাওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। কী ধরনের নথি হারিয়েছে, সেটা এখন বলা যাচ্ছে না। কারণ জিডিতে শুধু স্মারক নম্বর দেওয়া রয়েছে। বিভিন্ন তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে।প্রকল্প বাস্তবায়ন-১ শাখার উপসচিব নাদিরা হায়দার, যিনি ক্রয় ও সংগ্রহ-২ শাখার অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন, তিনি জিডিটি করেছেন।জিডিতে বলা হয়েছে, গত বুধবার (২৭ অক্টোবর) অফিস টাইমে নথিগুলো কেবিনেটে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে খোঁজ করে আর নথিগুলো পাওয়া যায়নি।তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের নিচতলায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদৎ হোসাইনের কক্ষ। পাশের লাগোয়া কক্ষটিতে বসেন ক্রয় ও সংগ্রহ শাখা-২-এর সাঁট মুদ্রাক্ষরিক ও কম্পিউটার অপারেটর আয়েশা সিদ্দিকা এবং জোসেফ সরদার। হারিয়ে যাওয়া নথিগুলো এই দুই কর্মীর কেবিনেটে ছিল।অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদৎ হোসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের পাঁচটি গাড়ি কেনা, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের জন্য বরাদ্দের নথি ছিল। সবকিছু নির্দিষ্ট করে আসলে এখন বলা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরসহ কিছু প্রকল্পের নথি সেখানে ছিল।নকল চাবি দিয়ে তালা খোলা হয়েছে বলে ধারণার কথা জানান শাহাদাৎ হোসাইন। তিনি বলেন, সব গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হয়েছে। গায়েবের কারণ ও জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। নথিগুলো উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। নথিগুলো চলমান ছিল না বলেও জানান তিনি।স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব আলী নূর আজকের পত্রিকাকে জানান, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন। যেহেতু তদন্ত চলছে, এখন আর কিছু বলা যাচ্ছে না।এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ্আলমের নেতৃত্বে সেই কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে বলেও জানান আলী নূর।তবে জিডি করার পরপরই ছুটির দিন পরে যাওয়ায় এখনো তেমন নিশ্চিত তথ্য আসেনি তদন্ত সংস্থার হাতে।
6
ঘরবন্দী অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের উদ্দেশে মানবতার ভ্যান চালু করেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সংগঠনের সভাপতি জননেতা নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক জননেতা আফজালুর রহমান বাবু এর উদ্বোধন করেন। এর পর ঢাকার দোহারে নয়াবাড়ি ইউনিয়ন থেকে দুইটি ভ্যান ঘরবন্দী অসহায় কর্মহীন ৪০০ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতি পরিবারকে ১ কেজি ছোলা বুট, মরিচ, ১ কেজি খেজুর, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি আলু, ১ কেজি চিনি ও ১ প্যাকেট নুডলস দেওয়া হয়। মানবতার ভ্যান যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরনের এ কর্ম সূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান নেতারা। নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে বিপর্যস্থ বিশ্ব অর্থনীতি যখন হুমকির মুখে, ঠিক তখনই, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার নির্দেশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সারা বাংলাদেশে দূর্যোগ দূর্বিপাকে মানবিক সেবা নিয়ে সবসময় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। একেএম আফজালুর রহমান বাবু বলেন, উগ্র ধর্ম ব্যবসায়ী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি চক্র এ দেশকে আফগানিস্তান, পাকিস্তানের মতো বানাতে চায়! সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন! সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সফল হতে দেওয়া হবে না! এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপ প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা।
6
নীলফামারীর জলঢাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (নীলফামারী-৩) মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল। এতে করে জলঢাকা পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের জমে থাকা দাবি পূরণ হল এসময় এমপি সোহেল পৌরসভার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় আবর্জনা বহনকারী নতুন একটি ট্রাকের চাবি পৌর মেয়রের হাতে তুলে দেন। জলঢাকা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার এবং জাইকার অর্থায়নে পৌরসভার জিরো পয়েন্ট থেকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও উপজেলা পরিষদের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে আউলিয়াখানা নদীতে ১২০৯ মিটার ড্রেন সংযোগ কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। নর্দান বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এ প্রকল্পের সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। খাইরুল কবির রানা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজটি সম্পন্ন করবে। ১ কিলোমিটার রাস্তা ও ১২০৯ মিটার ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের আগে স্থানীয় জিরো পয়েন্ট মোড়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পৌর মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুজাউদ্দৌলা, জেলা জাসদ সভাপতি অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন সাদের প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সোহেল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মাধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হবে।
6
নতুন অর্থবছর ২০২২-২৩ এর প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ হাজার ২২৩ কোটি টাকার পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে নৌ-পরিবহন খাতে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই খাতে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৪ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের চেয়ে বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা।আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতার মাধ্যমে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর চতুর্থ বাজেট। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট এটি।বাজেট অধিবেশন চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে ব্যাংক থেকেই ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে।জাতীয় বাজেট সম্পর্কে জানতে: এখানেক্লিককরুনবাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, 'সরকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র, স্থল ও নৌ-বন্দরসমূহের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে নৌরুট ও বন্দরসমূহ সংস্কার ও আধুনিকায়নে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন ও বহির্গমনকারী বাণিজ্যিক জাহাজসমূহের নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ডিজিটাল বার্থিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর সম্প্রসারণ ও এটিকে বিশ্বমানে উন্নীতকরণের জন্য পতেঙ্গা-হালিশহর উপকূলে বে-টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের টার্ন এরাউন্ড টাইম ২.৬ দিন থেকে কমে ২৪-৩৬ ঘণ্টায় নেমে আসবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৬ মিটার ড্রাফট এবং ৮,০০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার কন্টেইনার জাহাজ গ্রহণের লক্ষ্যে মাতারবাড়িতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।'এই সম্পর্কিত পড়ুন:দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যেরদাম কমতে পারে যেসব পণ্যেরজরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১ হাজার মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তাবাজেটে ঘাটতি বেড়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকাআমরা কি 'ফাঁপা' অর্থনীতিতেই আস্থা রাখছি?মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জনারীর জন্য কেমন বাজেট প্রয়োজনবড় অঙ্কের কঠিন বাজেট আসছে
0
বগুড়ায় পোড়াদহের মাছের মেলার পরদিন শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বউমেলা। এই মেলায় কোনো পুরুষ আসতে পারেন না। বিভিন্ন বয়সী নারীরা মেলা ঘুরে করেন কেনাকাটা। এমনকি এখানকার বেশির ভাগ দোকানের বিক্রেতাও নারী। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে মেলা ঘুরে তাঁদের প্রসাধনীসহ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন নারীরা।গাবতলী উপজেলায় শুধু নারীদের জন্য এমন মেলা হয়ে আসছে ৩০ বছর ধরে। সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মেলা।গতকাল বৃহস্পতিবার ওই উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের ইছামতী নদীর তীরে পোড়াদহ নামক স্থানে আয়োজন করা হয় বউমেলার। যেখানে সকাল থেকেই আশপাশের গ্রামে নারীরা হরেক রকম জিনিস কিনতে মেলায় আসতে শুরু করেন।গ্রামীণ ঐতিহ্য অনুযায়ী মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের নারীরা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলাও মুখর হয়ে ওঠে। উপজেলাজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় বউমেলা ঘিরে।মেয়েদের প্রসাধনসামগ্রী ছাড়াও মেলায় রয়েছে ছোটদের খেলনা আর গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় পণ্যের স্টল। এ ছাড়া রয়েছে মিষ্টান্নর দোকান।মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামগুলোর বাড়িতে শুরু হয় উৎসব। প্রতিটি বাড়িতে বউ-জামাই বেড়াতে আসেন। এ ছাড়া তাঁদের আত্মীয়স্বজনকেও নিমন্ত্রণ করে বাড়িতে আনা হয়।মহিষাবান ইউনিয়নের শিউলি আক্তার বলেন, 'মেলা উপলক্ষে আমরা বান্ধবী, চাচাতো-ফুপাতো ভাইবোনেরা সবাই একত্র হই। গ্রামটা মিলনমেলা হয়ে যায়।'এর আগে গত বুধবার একই স্থানে ঐতিহাসিক পোড়াদহ মেলা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে মেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহউদ্দিন আহমেদ। তারপরও চলতে থাকে মেলা। পোড়াদহ মেলার ঐতিহ্য অনুযায়ী পরদিনই বউমেলার আয়োজন করা হয়।বউমেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, এবার মেলায় ২০০টি স্টল (দোকান) বসেছে। নারীদের প্রসাধনী, ছোটদের খেলনা ও ঘর সাজানোর সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে।প্রথম দিনের মেলায় নারীরা আসতে পারেন না। তাই পরদিন নারীদের জন্য আলাদা মেলা হয়। এটাতে আবার কোনো পুরুষ আসতে পারেন না।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলার অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয়রা চায় মেলা হোক। তাই সীমিত পরিসরে মেলা হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহউদ্দিন আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
6
মারপিট করাসহ চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। রবিবার দুপুর দুইটার সময় উপজেলার বাঁশভাগ গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম কাজীর ছেলে মো. ইউনুছ কাজী বাদী হয়ে নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. খোরশেদ আলমের আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। এসময় বিচারক শুনানি শেষে আগামী ০২ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত পূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলায় আসাদসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আসাদ নলডাঙ্গা উপজেলার রামশার কাজীপুর গ্রামের মো. আনিছুর রহমান শাহ এর ছেলে এবং নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তবে নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান আসাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়। তাকে হয় হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উল্টো বাদীর কাছ থেকে ২৯ হাজার টাকা পাওনা আছে। তার কাছে ওই টাকা চাইলে তারাই আমাকে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। পরে থানায় বসে এক সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে আমাকে ২৯ হাজার টাকার চেক দেন ইউনুছ। কিন্তু ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে দেখেন তার অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা নেই। বিডি-প্রতিদিন/শফিক
6
করোনা মহামারির বন্ধে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আপ্যায়ন-ওভারটাইম ভাতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে, এটি অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের।আজ মঙ্গলবার ইউজিসিতে 'পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন' শীর্ষক দু'দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।আবু তাহের বলেন, কমিশন সব সময় অনুৎপাদনশীল খাতে বাজেট বরাদ্দ নিরুৎসাহিত করে আসছে। করোনা সময়ে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল। কিন্তু এ সময়ে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আপ্যায়ন ও ওভারটাইম ভাতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে, যা অনভিপ্রেত।তিনি আরও বলেন, উৎপাদনশীল খাত যেমন গবেষণা, ল্যাব উন্নয়ন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করা হবে। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা, ল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ উৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য ড. দিল আফরোজা বেগম বলেন, দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় অডিট আপত্তির সম্মুখীন হচ্ছে। আর্থিক শৃঙ্খলা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে এমনটি হচ্ছে। আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অডিট আপত্তি কমিয়ে আনতে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করার ওপর জোর দেন তিনি।সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর বিধিবিধান মেনে বেতন-ভাতা প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ব্যক্তিকে উচ্চতর স্কেলে বেতন দেওয়া হচ্ছে। এতে আর্থিক বিধি-বিধানের ব্যত্যয় ঘটছে।ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ ও ইউজিসি সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ইউজিসির বিভাগীয় প্রধান এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
1
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশ প্রেরণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে দশটার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিক্ষোভ সমাবেশের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য রাখবেন। যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব এর সভাপতিত্বে সমাবেশে যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন। যুবদলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রেসক্লাবের সামনে যান চলাচল বিলম্বিত হচ্ছে। সমাবেশকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
6
২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে বিশেষ মন্ত্রিপরিষদ। নিয়মানুযায়ী বৃহস্পতিবার (৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে সংসদ ভবনে বসে বিশেষ মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক। সেখানে ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পরে মধ্যাহ্নভোজনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। এরপরে তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট অধিবেশন প্রবেশ করবেন। পরে স্পিকার প্রধানমন্ত্রীসহ সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা ও সালাম বিনিময় করে অর্থমন্ত্রীকে বাজেট পেশের জন্য আহ্বান জানাবেন। পরে অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে বাজেটের সারাংশ পাঠ করবেন। পরে রীতি অনুযায়ী অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করবেন স্পিকার।
0
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা। চার দশকের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে আর শতাধিক নাটকে। কয়েক বছর আগে বাম চোখে সমস্যা দেখা দিলে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করান। এখন তিনি ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।চোখের সমস্যার কী অবস্থা? চোখে ইনফেকশন হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। কলকাতায় চিকিৎসার পর এখন অনেকটাই ঠিক হয়েছে। কথা ছিল প্রতি ছয় মাসে একবার চেকআপের জন্য কলকাতায় যাব। করোনার কারণে প্রায় দুই বছর হলো যেতে পারছি না। তবে এখন চোখে দেখছি। লেখালেখি করে সময় কাটাচ্ছি।কী লিখছেন?বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হয়েছি। সেখানে আমার লেখা নাটক নিয়মিত যাবে। অনেক দিন ধরেই লেখালেখি করছি। নাটক, সিনেমার গল্প লিখেছি। 'প্রেমিক ডাকাত' নামে নিজের প্রযোজনার একটি ছবির গান ও গল্প আমার লেখা। ওই ছবিতে অর্থলগ্নির পর থেকেই ভীষণ অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ি।সেটা কীভাবে?আমি যখন ছবিটি প্রযোজনা করি, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই সময়টা ছিল অশ্লীল ছবির যুগ। আমি সুস্থধারার ছবি নির্মাণ করলাম সাহস করে। সময়টা এমন ছিল যে ওই গল্প চলল না। অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। তখন আমার অভিনয়ের বয়স ১৮ বছর। আমার সব সঞ্চয় ব্যয় করেছি ছবিটির জন্য। আস্তে আস্তে কাজও কমতে থাকল, অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে শুরু করলাম। এই সমস্যার কথা আপনজনদেরই বোঝাতে পারি না, অন্য মানুষকে আর কী বোঝাব।এখন কি কাজ করতে পারবেন?করোনার আগেও টুকটাক কাজ করেছি। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন আমি অসুস্থ, চোখে দেখি না, তাই কাজে ডাকে না। আমার চোখের যে সমস্যা ছিল সেটা তো কয়েক বছর আগের কথা। অপারেশনের পর একটা চোখ একটু ছোট হয়ে গেছে। কিন্তু তাতে কি আর আমি খালেদা আক্তার কল্পনা না? মানুষ কি আমাকে চিনতে পারবে না? যেভাবেই হোক নাটক আর চলচ্চিত্রের মানুষের মাঝে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আমরা ছবির মানুষ বলে অনেকে নাটকে ডাকে না। নাটক বা ওয়েব সিরিজে আমাদের অভিনয়ের সুযোগ হতে পারে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না।সহশিল্পীদের সঙ্গে কথা হয়?একটা সময় নিয়মিত কথা হতো। ধীরে ধীরে সবাই দূরে সরে গেছে। তারাও কল দেয় না, আমিও দিই না। আমি অনেক দিন পর্যন্ত অনেকেরই খোঁজখবর নিয়েছি। আত্মীয়স্বজনেরও নিয়েছি। একতরফা কত খবর নেওয়া যায়!সমিতিগুলো খোঁজখবর নেয়?ওরাই এই দুঃসময়ে সবচেয়ে কাছে এসেছে। সমিতিতে তো আমরা চাঁদাও দিচ্ছি না। কিন্তু কিছুদিন পরপর বাসায় প্যাকেট পাঠিয়ে দেয়। কখনো কখনো টাকাও দিচ্ছে। ওরা যে আমাদের জন্য কিছু করতে চায়, সেই চেষ্টাটা দেখা যায়।তবে এটাও ঠিক, ওদেরও তো সীমাবদ্ধতা আছে। কতটাই-বা পারে।পরিবার নিয়ে কিছু বলবেনআমি ছেলে, পুত্রবধূ আর দুই নাতির সঙ্গে থাকি। মেয়ে পরিবার নিয়ে থাকে স্কটল্যান্ডে। বিয়ে হয়েছে, দুই সন্তান তার। আর আমার ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন বেশির ভাগই চট্টগ্রামে থাকে। মা মারা গেলেন ছয় মাস আগে।ক্যারিয়ারের শুরু থেকে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে?আমি দুই বাচ্চার মা হয়েই চলচ্চিত্রে এসেছি। নায়িকা হতে আসিনি। আমি বলেছি, মা, ভাবি যে চরিত্রেই আমাকে পছন্দ হয় নেবেন। নায়িকা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করিনি। অর্থনৈতিক সমস্যাও ছিল। মা হিসেবে সেই সময় যেসব চরিত্র করেছি, তাতে আফসোস নেই; বরং মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে আমি গর্বিত।
2
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা ধীরগতিতে খেলেন, কোচের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এখন তার কাছ থেকে যদি সেরাটা ম্যানইউ পেতে চায় তাহলে খেলায় গতি আনতে হবে। কোচকে এমন কথাই নাকি বলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জুভেন্টাস থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ফিরেই ধামাকা দেখিয়েছেন রোনালদো। এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলে পাঁচটি গোল করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে তিনটি ম্যাচ খেলে করেছেন তিনটি গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুটি ম্যাচ খেলে করেছেন দুটি গোল। এই দুটি গোলের মধ্যে একটি হলো ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে করা জয়সূচক গোল। তবে রোনালদো সফলতা পেলেও তার দল ম্যানইউ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইয়ং বয়েজ ও প্রিমিয়ার লিগে অ্যাস্টনভিলার বিপক্ষে হেরে যায়। আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে পুরো ম্যাচটিতেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে পর্তুগিজ সুপারস্টার তাই কোচের কাছে জানিয়েছেন সাফল্য পেতে হলে পুরো দলের গতি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ দলের অর্ধেক যাওয়ার পর। বর্তমানে রোনালদোকে সেন্টার ফরোয়ার্ডে খেলাচ্ছেন কোচ। তার সঙ্গে জাদোন সানচো ও মাসন গ্রিনউড থাকছেন। সঙ্গে পল পগবা ও ব্রুনো ফার্নান্দেজও অ্যাটাকিংয়ে রয়েছেন। ইএসপিএন জানিয়েছেন ম্যানইউ কোচ ওলে গানার সুলশার ডিফেন্ডারদের বলেছেন বল তাদের পায়ে না রেখে দ্রুত ছেড়ে দেয়ার জন্য। এর মাধ্যমে পল পগবা, ফার্নান্দেজ ও গ্রিনউড যেন রোনালদোকে দ্রুত বল বানিয়ে দিতে পারেন। কোচ আসলে বিষয়টি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন দলে রোনালদোর উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেয়ার পর। ম্যানইউর কোচিং স্টাফরা মনে করেন রাফায়েল ভারানে খেলায় দলের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে রোনালদো চান পুরো দলে আরো বেশি গতি আসুক, যেন এ মৌসুমেই নিজেদের শিরোপা খরা কাটাতে পারে তারা। রোনালদো প্রায় এক যুগ পর ম্যানইউতে ফিরলেও এখন দলে তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আসলে এই জায়গাটি তৈরি করে নিয়েছেন তিনি। এখন কোচ সুলশারও বেশিরভাগ সময় রোনালদোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকেন। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জয়ের পর রোনালদোকে নিয়ে সুলশার বলেছিলেন, যখন মাঠে রোনালদো আছে, তখন শেষ পর্যন্ত আপনার জয়ের সুযোগ আছে। গোলবারের সামনে সে দুর্দান্ত। তার দলে থাকার ব্যাপারটিও দর্শক, খেলোয়াড় ও পুরো ক্লাবের ওপর প্রভাব ফেলে। এরকমটি সে অনেকবার করেছে (শেষ মুহূর্তে গোল করা)। পর্তুগালের হয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এক মাস আগের ম্যাচটি দেখুন। ম্যাচটিতে সে প্রথমে একটি পেনাল্টি মিস করে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুটি অসাধারণ হেড করে দুটি গোল করেন। তার পুরো ক্যারিয়ারেই অসংখ্যবার এমনটি করেছে। সে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে থাকে। আমি তাকে পুরো দিন দেখেছি, সে এ ম্যাচটির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে। আর যখনই সে গোল করার সুযোগটি পেল, ওইটিই গোল হয়ে গেল। এর মাঝে সে কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু একজন শ্রেষ্ঠ ফিনিশারের মতো সে শান্ত ছিল যখন সুযোগটি এসেছিল।
12
মুমিনুল হকের টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। কিন্তু তাঁর ব্যাটে দীর্ঘদিন থেকে চলছে রানের খরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবান টেস্ট থেকে সর্বশেষ ৮ ইনিংসে দুই অঙ্কের ঘরের দেখা পাননি মুমিনুল।ব্যাটে রান নিয়ে তাই প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। লম্বা সময় ব্যাটে রান না থাকায় মুমিনুল বেসিক থেকে সরে গেছেন বলে মনে করেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম।মুমিনুলের সঙ্গে মিরপুরের ইনডোরে কাজ করছেন ফাহিম। আজ অনুশীলনের এক ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন দেশের স্বনামধন্য এ ক্রিকেট বিশ্লেষক। মুমিনুলের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ফাহিম বলেন, 'মুমিনুল বেশ লম্বা সময় ধরেই খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় অনেকে ভালো করতে গিয়ে আরও খারাপ করে ফেলে। এগুলো করতে করতে মূল জায়গা থেকেই সরে যায়। বেসিক নিয়েই কাজ করেছি।'মুমিনুল চাপে আছেন, মেনে নিলেন ডমিঙ্গোনিয়মিত রান করতে না পারার কারণে মুমিনুল বেসিক থেকে সরে গেছেন বলে মনে করেন ফাহিম। বর্তমানে বিকেএসপির এই ক্রিকেট উপদেষ্টা বলেন, 'আমার মনে হয় একসময় বেসিক ভালো ছিল, এখন সেটা নেই। সেটা নিয়ে কাজ করেছি। দেখে আগের চেয়ে ভালো লাগছে। আরও ২-১ দিন কাজ করলে আরও ভালো হবে।'মুমিনুল হক সম্পর্কিত পড়তে - এখানে ক্লিক করুনমুমিনুল চাপে থাকার বিষয়টি ঢাকা টেস্টের শেষ দিনের সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করে নিয়েছিলেন রাসেল ডমিঙ্গো। অধিনায়কত্ব মুমিনুলের ওপর বাড়তি চাপ বাড়াচ্ছে বলেও মনে করেন অনেকে। অনেকটা একই মত ফাহিমেরও, 'রান করলে অধিনায়কত্ব নিয়ে এত কথা হতো না। যেহেতু ভালো করছে না, এটা চাপ হচ্ছে এমন কথা উঠবেই। সেটার উত্তর ওকে দিতে হচ্ছে। একটু চাপে তো থাকবেই।'খেলাসম্পর্কিত আরও পড়ুন:২৩ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে 'রবিন হুড'র নটিংহ্যাম ফরেস্টফুটবলারদের পেটাতে মাঠে নামলেন নিজ দলের সমর্থকেরাএমবাপ্পেকে আমরা ভুলে গেছিইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এখন পাকিস্তানপরের বছর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফাইনালের টিকিট কেটে রাখতে বললেন ক্লপপ্যারিসের রাতটা নিজের করে নিয়েছেন ভিনিসিয়ুসনিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আনচেলত্তি
12
অবসরপ্রাপ্ত এক কাস্টমস কর্মকর্তার গোপন 'ইউজার আইডি' ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮৫০ কোটি টাকার চার হাজার চালান খালাস করে নিয়ে গেছে জালিয়াত চক্র। শুধু তাই নয়, বদলি হওয়া আরেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার আইডি ব্যবহার করে ৩ হাজার ৬৮১ বার 'অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে' লগইন করার ভয়ংকর তথ্যও উদ্ঘাটন করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পরে এটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘটা এমন জালিয়াতিতে সাত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আট কাস্টমস কর্মকর্তার যোগসাজশও পেয়েছে তারা। গত বুধবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করে দুদক। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, অন্যায় কাজে যারা যুক্ত থাকবেন তাদের শাস্তি পেতে হবে। আবার নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। জালিয়াতির যে ঘটনাটি এখন দুদক তদন্ত করছে তখন কাস্টম হাউসের দায়িত্বে আমি ছিলাম না। তবে এখনও এ চক্র সক্রিয় আছে। তিনি বলেন, দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী এই প্রতিষ্ঠানে জনবল আছে প্রয়োজনের অর্ধেক। অনুমোদিত ১ হাজার ২৪৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে ৬৪৭ জন। এটিকেও সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে জালিয়াত চক্র। ৮৫০ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় সাত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পেলেও এ সংগঠনের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আমদানিকারকের প্রতিনিধি হিসেবে পণ্য খালাসের কাজ করে। কোন কনটেইনারে কী আনা হয়েছে তা সবার আগে জানেন আমদানিকারক। পণ্য খালাস করতেও অনুমতি লাগে আমদানিকারকের। আর খালাসের ছাড়পত্র দেয় কাস্টমস কর্মকর্তারা। তাই সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দায়ী করার কোনো সুযোগ নেই। কাস্টমসের এই জালিয়াতি নিয়ে দুদক চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি। দুদকের মুখোমুখি ৮ কাস্টমস কর্মকর্তা: জালিয়াতি করে ৮৫০ কোটি টাকার চালান খালাসের ঘটনায় ৮ কাস্টমস কর্মকর্তার যোগসাজশ পেয়েছে দুদক। এ জন্য বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন একটি অনুসন্ধান দল চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওই আট কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই কর্মকর্তারা হলেন- রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাইফুন নাহার জনি, মির্জা সাইদ হাসান ফরমান, মো. মাহমুদুল হাসান মুন্সী, মো. মাহবুবর রহমান, মো. ওমর ফারুক, সাইফুল ইসলাম ও মাহমুদা আক্তার লিপি। জালিয়াতির নেপথ্যে ৭ সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান: কাস্টমস কর্মকর্তাদের ইউজার আইডির অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য চালান খালাস নেওয়া ৭টি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। এগুলোর মধ্যে শুধু ছয়টি প্রতিষ্ঠানই পাঁচ বছরে খালাস করেছে ৩ হাজার ৬৫১টি চালান। শুল্ক গোয়েন্দার ধারণা, ৮৫০ কোটি টাকা মূল্যের অন্তত চার হাজার চালান খালাস করেছে এরা। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- মেসার্স লাইলা ট্রেডিং কোম্পানি, এমঅ্যান্ডকে ট্রেডিং করপোরেশন, এমআর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, চাকলাদার সার্ভিস, মজুমদার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, স্মরণিকা শিপিং কাইজেন লি. ও লাবনী এন্টারপ্রাইজ লি.। এসব সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের বিস্তারিত তথ্য কাস্টম থেকে সংগ্রহ করেছে দুদকও। কাস্টমস কর্মকর্তাদের গোপন কোড জালিয়াত চক্রের হাতে: ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জারার এন্টারপ্রাইজের একটি সন্দেহভাজন চালান (বি/ই নং: সি-৯২০৯২৮) খালাস না করতে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে ২০১৮ সালের ২৪ জুন অনুরোধ জানায় শুল্ক গোয়েন্দা। একই সঙ্গে পণ্য চালানের বিএল লক করা হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর চালানটি কায়িক পরীক্ষার জন্য আমদানিকারক ও তার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়। কিন্তু তারা কেউই উপস্থিত হননি। পরে খোঁজ নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা জানতে পারে, চালান শুল্কায়ন না করার অনুরোধ সত্ত্বেও ওইদিনই চট্টগ্রাম কাস্টমস (২৪ জুন) চালানটির বিল অব এন্ট্রি গ্রহণ, একই দিন শুল্কায়ন ও শুল্ক আদায় করে। ২৬ সেপ্টেম্বর পণ্য চালানটি বন্দর থেকে খালাসও করে ফেলে তারা। এ বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে পরে আরও ভয়ংকর তথ্য পেয়েছে শুল্কগোয়েন্দা। শুল্ক গোয়েন্দার বিএল লক অবমুক্ত করতে অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস কর্মকর্তা ডিএএম মুহিবুল ইসলামের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের ইউজার আইডি ব্যবহার করা হয়। মুহিবুল ইসলাম ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম কাস্টমসে কর্মরত ছিলেন। সে সময় পণ্য খালাসের জন্য কাস্টম হাউস থেকে তার ই-মেইলের ঠিকানায় একটি ইউজার আইডি দেওয়া হয়, যেটি ব্যবহার করতেন তিনি। ওই কর্মকর্তা পরে অন্য দপ্তরে বদলি হয়ে ২০১৫ সালে অবসরে যান। কিন্তু তার আইডি ব্যবহার করে খালাস হতে থাকে একের পর এক চালান। চট্টগ্রাম কাস্টমসে ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৬ বার কাস্টমসের গোপনীয় সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে লগইন ও লগআউট করা হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সাবেক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ফজলুল হকের ইউজার আইডি ব্যবহার করেও জালিয়াত চক্র খালাস করেছে অনেক চালান। তার আইডি থেকে ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৮১ বার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে লগইন করা হয়েছে। যখন জালিয়াত চক্র এ অপকর্ম করছিল তখন এই কর্মকর্তা ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত ছিলেন। প্রমাণ মুছে ফেলায় বেকায়দায় দুদক: তিন বছর আগে জালিয়াতির এ ঘটনা উদ্ঘাটন হলেও এখনও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি দুদক। জালিয়াত চক্র প্রমাণ না রাখতে সার্ভার থেকে অনেক তথ্য মুছে ফেলে। ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে তারা আইডিও ব্যবহার করে অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস কর্মকর্তার। এখন দুদক যাদের যোগসাজশ খুঁজে পেয়েছে, তারা এটিকে 'সিস্টেমের ত্রুটি' বলে দাবি করছেন। গত বুধবার দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের নির্দোষ বলেও দাবি করেছেন। ২০১৮ সালে এ জালিয়াতি উদ্ঘাটন হলেও সার্ভারে কিছু তথ্য না থাকায় দুদকও শেষ করতে পারছে না তাদের তদন্ত।
6
দেশীয় চলচ্চিত্রের বরপুত্র খ্যাত স্টাইলিশ ও ফ্যাশন আইকন নায়ক সালমান শাহর চিরপ্রস্থানের আজ ২৫ বছর। মৃত্যুর এত বছর পরও দর্শক হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন তিনি। এবারের মৃত্যুবার্ষিকীতে সালমান শাহকে স্মরণ করছে গোটা ইন্ডাস্ট্রি ও সিনেমাপ্রেমী অগণিত মানুষ। প্রিয় এই নায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার বর্তমান সময়ের আলোচিত নায়িকা ববি হক। তিনি নিজের ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, 'হিরোর পরিপূর্ণ উদাহরণ আপনি। তারা সৌভাগ্যবান যারা আপনাকে পেয়েছে, আর আমরা রয়ে গেলাম দুর্ভাগাদের কাতারে। কিন্তু অন্তরের অন্তস্তল থেকে সবসময়ই আপনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। আপনার প্রতিটি লুক, স্টাইল ও অভিনয়ের অনুকরণ করেই প্রতিনিয়ত তৈরি হবে নতুন নতুন চরিত্র। বেঁচে থাকুন সবার মাঝে আমাদের বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে উজ্জ্বলতম তারকা হয়ে।' বিডি-প্রতিদিন/শফিক
2
ঢাকা: টিকটকের মডেল বানানো ও উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নারী পাচার করত টিকটককেন্দ্রিক একটি চক্র। এ চক্রের মূল হোতা আশরাফুল ইসলাম ওরফে বস রাফি। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আশরাফুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগী আবদুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেন।আজ মঙ্গলবার বস রাফিসহ চারজনকে চার দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যরা হলেন আবদুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখ, ম্যাডাম সাহিদা ওরফে সাহিদা বেগম ও ইসমাইল সরদার।তদন্ত কর্মকর্তা দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করতে আবেদন জানান। মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার আরমান শেখের ও মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম বস রাফির জবানবন্দি নেন। অন্য দুজনের রিমান্ডের আবেদন না থাকায় তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।এর আগে ১ জুন অভিযান চালিয়ে যশোর, ঝিনাইদহ ও বেনাপোল থেকে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।বস রাফি ও আরমান শেখ স্বীকার করেন, রাফি এই নারী পাচার চক্রের মূল হোতা। কিশোরী-তরুণীদের টিকটক তারকা বানিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জনের লোভ দেখাতেন তিনি। প্রথমে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতেন। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন রিসোর্টে তাঁদের নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। ঢাকায় টিকটক হৃদয় বাবুও এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। এসব অনুষ্ঠানে কিশোরী-তরুণীদের মোটিভেট করার পর উচ্চ বেতনে ভারতে চাকরির লোভ দেখানো হতো। ২০১৭ সাল থেকে তাঁরা এইভাবে ভারতে নারী পাচার করে আসছেন।বস রাফি আদালতকে জানান, তাঁদের তৎপরতা ছিল মূলত রাজধানীর হাতিরঝিলের লেকের পাড়কে ঘিরেই। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কে ৭০/৮০ জনকে নিয়ে এবং সেপ্টেম্বরে গাজীপুরের আফরিন পার্কে টিকটক হ্যাংআউট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন হৃদয়। পরে কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারেও এ ধরনের অনুষ্ঠান করার কথা বলে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আরেক চক্রের মাধ্যমে তাঁদের ভারতে পাচার করা হয়।আরমান শেখ আদালতকে বলেন, তাঁর বাড়ি যশোরের বেনাপোলে। তিনি ছিলেন এই চক্রের এজেন্ট। তার একটি গ্রুপ আছে বেনাপোল সীমান্তের আশপাশে। ঢাকা থেকে হৃদয় বাবু ও বস রাফিসহ আরও কয়েকজন নিয়মিত নারীদের নিয়ে সীমান্তে পৌঁছে দিতেন। আরমান চক্রের কাজ ছিল তাদের বিভিন্ন বাসায় রাখা। এরপর মূল চক্রের সঙ্গে দরাদরি সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁরা ভারতে পাচারের জন্য অন্য একটি গ্রুপের কাছে এই নারীদের তুলে দিতেন। এই চক্রের সঙ্গে আরমান শেখ ২০১৭ সাল থেকে জড়িত বলে আদালতকে জানান।সূত্রে জানা গেছে, রাফি ও আরমান দুজনই স্বীকার করেছেন, যাঁদের পাচার করা হতো তাঁদের কোনো চাকরি দেওয়া হতো না। বিক্রি করা হতো। ভারতে তাদের দেহব্যবসায় ব্যবহার করা হতো। এই নারীরা সেখানে শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হন।তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, দুজনই তাঁদের বেশ কয়েকজন সহযোগীর নাম বলেছেন। তবে গ্রেপ্তার ও তদন্তের স্বার্থে সূত্রটি তাঁদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি।এদিকে ভারত থেকে ফিরে আসা এক তরুণীর করা মামলায় সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার আমিরুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম মোল্লাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদ পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
6
আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের কেবল নেটওয়ার্কিং পদ্ধতি ডিজিটাল করবে সরকার। এই সময়ের মধ্যে দুই অঞ্চলের গ্রাহকেরা সেট টপ বক্স না বসালে আর স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখতে পারবেন না বলে সরকারের পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলছে, 'আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে টিভি ক্যাবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আসবে। স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল দেখা অব্যাহত রাখতে ডিশ ক্যাবল গ্রাহকদের এই সময়ের মধ্যে ক্যাবল বা ফিড অপারেটরের সহযোগিতায় অ্যানালগ পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল সেট টপ বক্স স্থাপনের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। অন্যথায় ৩০ নভেম্বরের পর ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল দেখা যাবে না।'২ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের সব কেবল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম ডিজিটালাইজড করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আর আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিভাগীয় ও মেট্রোপলিটন শহর ছাড়াও কুমিল্লা, বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, রাঙামাটি, কক্সবাজার, যশোর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পাবনাসহ সব পুরোনো জেলা শহরের কেবল নেটওয়ার্কও ডিজিটাল করা হবে।
6
সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে সমান দৃষ্টিতে দেখে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি বলেন, 'আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে-সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের সমান চোখে দেখা।' তিনি বলেন, 'ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারদের ওপর প্রচুর চাপ থাকে। প্রিজাইডিং অফিসারের ওপর পুরো ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব। তারা যেন সবসময় নিরাপদে থাকেন, বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তিনি চাওয়া মাত্র তাকে সহযোগিতা করা আপনাদের দায়িত্ব। আপনারা নির্বাচন পরিচালনা করতে যাবেন না।' এ সময় সিইসি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্বপালনের স্বার্থে নির্বাচনী আইন, বিধি, সিআরপিসি, আচরণবিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইন ভালো করে পড়ার আহ্বান জানান। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক। নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ভোটের দিকে জাতি ও বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটদের ভূমিকা এই নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কবিতা খানম বলেন,কমিশনের উদ্দেশ্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। আইন যেন অসম্মানিত না হয়। প্রার্থীর পরিচয় যেন বড় না হয়ে উঠে। আইনের যেন ব্যত্যয় না হয়, সেদিকে খেয়াল লাখতে হবে। আইন সঠিকভাবে জেনে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। রফিকুল ইসলাম বলেন,'ভোট গ্রহণযোগ্য করতে দরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। সেই দায়িত্ব পালন করবেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। আচরণবিধি, আইন আপনাদের পাশে থাকবে। কোনোভাবেই যেন আইনের প্রয়োগে বৈষম্য না হয়।' তিনি বলেন, 'আরপিও পড়তে হবে। কী করবেন, কী করবেন না-সব এখানে আছে। লাইন ধরে ধরে পড়েন। বিচারিক মন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যবহার করেন। জুডিশিয়াল মাইন্ড নিয়ে করলে খুব বেশি বিপদে পড়বেন না। অতি উৎসাহী হওয়া যাবে না।' শনিবার রাজশাহী নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা নিয়ামুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করায়অনুষ্ঠানেএক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
6
ভারতের দিল্লি, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় সড়ক অবরোধ করেছে কৃষকরা। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত কৃষাণ মোর্চা এ ধর্মঘট আহ্বান করে। কৃষকদের এ বনধকে সমর্থন করেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টিসহ বিভিন্ন বামপন্থী দল। বর্তমানে কৃষকরা পাঞ্জাব থেকে দিল্লি পর্যন্ত ঘেরাও করে রেখেছে। এর প্রভাব পড়েছে মহাসড়কেও। হরিয়ানার গুরুগ্রামে দেড় কিলোমিটারজুড়ে যানজটে আটকে রয়েছে হাজারো গাড়ি। ফলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। খবর এনডিটিভির। ১০ ঘণ্টার এ ধর্মঘট ভোর ৬টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। জানা গেছে, বনধের প্রভাব ভারতের অন্যান্য প্রদেশেও পড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে সংযুক্ত কৃষাণ মোর্চার ডাকে বনধের প্রভাবে জেলায় রেল অবরোধ করেছে বামপন্থীরা। কৃষক নেতা রাকেশ তিকাইত বলেন, আমরা কারো পথ আটকাইনি। যারা অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে সংযুক্ত তারা তাদের গন্তব্যে নির্বিঘ্নে যেতে পারেন। আমরা কেবল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি বার্তা দিতে চাই। ভারতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে কৃষিখাত সংস্কারের লক্ষ্যে তিনটি বিতর্কিত আইন পাস করা হয়। এই তিন আইন বাতিলের দাবিতে নভেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করে কৃষকরা।
3
ইরান-পাকিস্তান তাদের তৃতীয় সীমান্ত ক্রসিং উন্মুক্ত করেছে। এর মধ্যমে আশা করা হচ্ছে সীমান্ত বাণিজ্য ও লেনদেন বাড়বে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার লোকজনের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বুধবার সীমান্ত ক্রসিং উদ্বোধন করার জন্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বিষয়ক মন্ত্রী জোবাইদা জালাল আর ইরানের সড়ক ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসমাইলি 'পিশিন-মান্দ' সীমান্ত ক্রসিংয়ে উপস্থিত হন। গত ডিসেম্বর মাসে ইরান ও পাকিস্তান রিমদান-গাব্দ সীমান্ত ক্রসিং উন্মুক্ত করে। এর চার মাসের মধ্যে আরেকটি সীমান্ত ক্রসিং উন্মুক্ত করল। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি যখন ইরান সফর করছেন তখন এ সীমান্ত ক্রসিং উন্মুক্ত করা হলো। মঙ্গলবার তিনি তিন দিনের সফরে তেহরান পৌঁছান। সীমান্ত ক্রসিং উন্মুক্ত করার পর পাক মন্ত্রী জোবাইদা জালাল বলেন, এটা দু'দেশের জন্য মহান ও ঐতিহাসিক অর্জন। এর মধ্যদিয়ে পরিষ্কার হয়ে গেল যে ইমরান খানের সরকার ইরানের সাথে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূত্র : পার্সটুডে
3
ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ রেখেছে। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাউন্সেলর (প্রেস) ইকবাল হোসেনের ভিসা বাড়ানোর বিষয়টি চার মাস ধরে ঝুলে থাকার প্রেক্ষাপটে প্রতিবাদ হিসেবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইকবাল হোসেন গত জানুয়ারিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরে আবেদন করেন। পরে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।ইসলামবাদে এক কূটনীতিক জানান, এর ফলে চার মাস ধরে ভিসা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। ইকবাল হোসেন বর্তমান দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে ওই দায়িত্বও পালন করতেন।ইকবাল গত ৯ জানুয়ারি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরে আবেদন করেন। দুদিন তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।অন্যদিকে তার স্ত্রী ও ছেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাই কমিশনে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাদের ভিসাও এখন পর্যন্ত দেয়া হয়নি।ইকবালের ভিসার মেয়াদ ৩০ মার্চ শেষ হয়েছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাকে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছে।জানা গেছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বছরের মার্চে সাকলায়েন সাইদাকে বাংলাদেশে হাই কমিশনার পদে নিয়োগ করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ তাকে গ্রহণ করেনি।
9
ভারতের দক্ষিণ দিল্লিতে একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ জন । সোমবার দিনগত রাত ২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দু'জন পুরুষ, দু'জন নারী ও দুই শিশু রয়েছে। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চারতলা ভবনে মোট ১৩ টি ফ্ল্যাট আছে।বৈদ্যুতিক মিটার বোর্ড থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে কিছু লোক তাদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এসময় তারা গুরুতর আহত হয়েছেন।আগুনে পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাতটি গাড়ি এবং আটটি বাইক পুড়ে গেছে।দমকল বাহিনীর আটটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলি মর্গে পাঠানো হয়েছে।
3
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া শোক মিছিলে ধারালো অস্ত্র, ধাতব ও দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ বা পোটলা বহন করা যাবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।বুধবার সকালে ডিএমপি সদরদফতরে এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আশুরা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।সভা সূত্র জানায়, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে শোক মিছিলের মধ্য দিয়ে আশুরা উদযাপন শুরু হবে। একই দিনে বড় কাটারা ইমামবাড়া, খোজা শিয়া ইসনুসারী ইমামবাড়া থেকে যথাক্রমে রাত ৮টা ও দুপুর দেড়টায় শোক মিছিল শুরু হবে।মিছিলের নিরাপত্তার স্বার্থে সভায় কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। এগুলো হলো- নির্ধারিত রুট ও সময়সীমা মেনে চলা, মিছিলে কোনো পাইক যেন অংশ নিতে না পারে তা নিশ্চিত করা, নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের বেশি না করা, সমবেত হওয়ার স্থানে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নজরদারি করা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও তাদের ছবিসহ তালিকা সংশ্লিষ্ট উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো, রাস্তার মাঝে বিভিন্ন অলি-গলি থেকে মিছিলে ঢুকতে না দেওয়া, মিছিলে লাঠি, ছোরা, তলোয়ার, বর্শা ও আগুন-আতশবাজির ব্যবহার না করা, মিছিল শুরুর স্থানে প্রবেশের আগে সবাইকে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও হাত দিয়ে দেহতল্লাশি করা, পূজা মণ্ডপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো উস্কানিমূলক শব্দ না করা, রাতের শোক মিছিলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা, উচ্চমাত্রার শব্দ তৈরির যন্ত্র/বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার না করা, একসঙ্গে অনেক ড্রাম বাজিয়ে বিরক্তিকর পরিবেশ ও শব্দদূষণ না করা এবং পোশাকে ধাতব পদার্থ, ছুরি, চাকু, ব্লেড, তলোয়ার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু রীতি/সংস্কৃতি/প্রথা পরিবর্তন করা দরকার বলেও সভায় আলোচনা করা হয়। এগুলো হচ্ছে- পাইক প্রথা, সারাদিন বিকট শব্দে ঢাক-ঢোল ও ড্রামসেট বাজানো, আতশবাজি ব্যবহার, মিছিল করে দৌড়ে হোসেনি দালানসহ অন্যান্য সমবেত হওয়ার স্থানে মূল শোকমিছিলে প্রবেশ বন্ধ করা। পাশাপাশি আশুরা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তার ব্যবস্থাও সভায় তুলে ধরা হয়।
6
পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে বিজ্ঞানীদের 'ঘর' বলা হয় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকে। ১৯৯৮ সালে প্রথম মহাকাশে পাঠানোর পর ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ভরসার জায়গা হয়ে আছে এ স্টেশন। আর কত দিন থাকবে? চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল তবিয়তে থাকবে এ স্টেশন।বাজেট অনুযায়ী, ২০৩১ সালের জানুয়ারিতে থামবে এটি। এরপর নিজের কক্ষপথ থেকে সরে গিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের পয়েন্ট নিমোতে সমাধি হবে এর। জায়গাটি স্থল থেকে ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে এখানেই সমাধি হয়েছে আরও অনেক মহাকাশ যন্ত্রের। তাই অঞ্চলটিকে বলা হয় 'মহাকাশ সমাধি'। নাসা
6
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আব্দুল হক নামে একজনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের অনেকেই নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে ৮নং ওয়ার্ডের করমুল্যা বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহতরা হলেন, একই এলাকার আমিন উল্যার ছেলে আবদুল হক (৪৮), আমিন উল্লার ছেলে মো. সিরাজ (৫৫), ওবায়দুল্লার ছেলে আবদুর রহমান (৫০), সাইদুল হকের ছেলে কামাল উদ্দিন (৩২), মজিবুল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৭), ওবায়দুল্লার ছেলে আবদুর রহমান (৪০), নুর আলমের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৫), আব্দুল কাদের ছেলে সালা উদ্দিন (১৯), আবদুল গনি ছেলে শহীদুল্লা (৪০), আলী আহম্মদের ছেলেলিটন (২৭), আব্দুল বেচুর ছেলে সিরাজ (৪৫)। সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
6
মাত্র এক সপ্তাহ আগে আসন্ন সিনেমা 'বিক্রম বেদা'-র শ্যুটিং শেষ করার কথা জানিয়েছেন অভিনেতা হৃতিক রোশন। ছবিতে হৃতিকের পাশাপাশি অভিনয় করবেন সইফ আলি খান। এরই মধ্যে নতুন ছবির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলিউডের 'গ্রিক গড'। সিদ্ধার্থ আনন্দের 'ফাইটার'-এর প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে পুরোদমে। ফলে ছুটিতে থাকার মতো হাতে খুব কম সময়ই পেয়েছেন হৃতিক। খবর পাওয়া গিয়েছে, অ্য়াকশন ছবির জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে অভিনেতাকে। তীব্র প্রশিক্ষণ শুরু করবেন। আরও সুঠাম শারীরিক গঠন গড়ে তোলার দিকে নজর দিচ্ছেন তিনি। জুলাই থেকেই এই প্রস্তুতি শুরু করবেন। তার আগে ছবির লেখার দল চূড়ান্ত খসড়াটিতে কিছু সমাপ্তি লিখবে। পেশী শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি হৃতিককে মার্শাল আর্টের বিভিন্ন ফর্মের প্রশিক্ষণও নিতে হবে। ছবির নায়িকা দীপিকা পাডুকোনও তার বর্তমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করে, পরের মাসে তীব্র প্রস্তুতির সেশনের জন্য সহ-অভিনেতার সঙ্গে যোগদান করবেন। 'ফাইটার' ভারতের প্রথম অ্যারিয়াল অ্যাকশন ফিল্ম বলে মনে করা হচ্ছে। দর্শকের চাহিদার খাতিরে প্রধান তারকাদের তীব্র শারীরিক ফিটনেস রুটিন গ্রহণ করতে হবে। ছবিটি 'ব্যাং ব্যাং' এবং স্ম্যাশ হিট 'ওয়ার'-এর পর আনন্দের সঙ্গে হৃতিকের তৃতীয় প্রোজেক্ট। এই ছবি দিয়েই প্রথমবার পর্দায় জুটি বাঁধবেন হৃতিক ও দীপিকা। এখন পর্যন্ত খবর, অক্টোবরে ছবির শ্যুটিং শুরু হবে। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।
2
লামায় পুলিশ ও পূঁজাম-পে হামলা, সনাতন ধর্মানুসারীদের দোকান ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশীকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র প্রার্থী মো. শাহীনসহ প্রায় ৭০০জনের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৮ অক্টোবর) ঘটনার পাঁচদিনের মাথায় লামা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশ্রাফ হোসেন এবং লামা কেন্দ্রীয় হরিমন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহভাপতি প্রশান্ত ভট্টাচার্য বাদী হয়ে এসব মামরা দায়ের করেন। এরমধ্যে এসআই আশ্রাফ হোসেন পুলিশের উপর হামলা ও দায়িত্বপালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে সুর্নিদিষ্ট ৪৮জন এবং অজ্ঞাত প্রায় ২০০ জনকে আসামি করেন। অপরদিকে প্রশান্ত ভট্টাচার্য পূঁজামণ্ডপে হামলা, সনাতন ধর্মানুসারীদের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে সুনির্দিষ্ট ৯৪জন এবং প্রায় ৩৫০জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ওসি বলেন, এই দুই মামলায় চারজন গ্রেপ্তার আছে। গ্রেপ্তাররা কাউসার (৩৫), নিজাম উদ্দিন (২৭), আব্দুল খালেক (৪০) ও আল-আমিন ১৯)। ওসি বলেন, পুলিশের উপর হামলা ও দায়িত্বপালনে বাদা দেওয়ার ঘটনায় দায়েকৃত মামলায় গ্রেপ্তারদেরকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালত রিমান্ড শুনানী শেষে প্রত্যেকের ২দিন করে রিমা- মঞ্জুর করে। বাকী আসামি দেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও ওসি জানান। উল্লেখ্য: কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) লামায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে তৌহিদী জনতা। ওই মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে ফেরার পথে একদল উছৃঙ্খল লোক লামা কেন্দ্রীয় হরিমন্দিরের পূঁজামণ্ডপের প্যা-েলে হামলা এবং সনাতন ধর্মানুসারীদের অন্তত ১৫টি দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। সে সময় তাদের দমাতে গিয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ শতাধিক লোক আহত হয়।
6
বলিউড অভিনেতা ইরফান খানের জন্য ছবি আঁকলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অর্ণব। গত বৃহস্পতিবার অর্ণব তার আঁকা ছবি ইরফানকে উপহার দেন। ছবিটি পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত এই বলিউড অভিনেতা। আজ শুক্রবার দুপুরের একটি ফ্লাইটে মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন ইরফান। সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন প্রিয় উপহারটিও। পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছবিটি আঁকা হয়েছে। ইরফান ঢাকায় এসেছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর 'ডুব' ছবিতে অভিনয় করার জন্য। তার শুটিং শেষ, তাই দেশে ফিরেছেন। কিন্তু ছবির শুটিং শুরুর আগে মহরত অনুষ্ঠানে ইরফান জানিয়েছিলেন, অর্ণব তার প্রিয় গায়কদের একজন। সে কথা শুনে অর্ণব কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। আর এখন ছবি এঁকে ভালোবাসার উপহার দিলেন। গত বৃহস্পতিবার তারা একসঙ্গে নৈশভোজেও অংশ নিয়েছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/১৫ এপ্রিল, ২০১৬/মাহবুব
2
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সরকারি খালের ওপর দোকানঘর নির্মাণ করছেন এক ব্যক্তি। ইতিমধ্যে কাঠের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এতে টিনের ছাউনি দেওয়া হবে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের মাগুরা বাজারে সরকারি খালের একপাশ দখল করে স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল হাওলাদার প্রায় ৫০ হাত লম্বা ওই দোকানঘর নির্মাণ করছেন।সজিব সরদার নামের এক ব্যক্তি বলেন, খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। এই ধরনের দোকান নির্মাণ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাগুরা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এর আগেও সরকারি খাল দখল করে কয়েকজন দোকান নির্মাণ করেছেন। এখন মহিদুল সরকারি খাল দখল করে প্রায় ৫০ হাত দীর্ঘ দোকানঘর নির্মাণ করছেন। নিচে সিমেন্টের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ওপর কাঠের কাজ করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন, মিজান আকন ও রাজিব ফকির বলেন, 'আমরা এই সরকারি খাল রক্ষার দাবি জানাই। খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করলে কৃষকদের সেচের সমস্যা হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযান চালিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।'স্থানীয় ব্যবসায়ী আরমান তালুকদার বলেন, 'এ ক্ষেত্রে দখলের খবর পাওয়া মাত্রই দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি সম্পত্তি দখল অনেকটাই কমে আসবে।'রাজিহারের ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদার বলেন, 'আমার ইউনিয়নের মধ্যে যাঁরা সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাঁদের নিষেধ করে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ যদি অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।'জানতে চাইলে মহিদুল হাওলাদার বলেন, 'আমি স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই দোকানঘর নির্মাণ করছি।'ইউএনও আবুল হাশেম বলেন, 'অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দোকানঘর অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে। দখলদারেরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
6
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ভোলার বিভিন্ন স্থানে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে ঘর চাপায় রানু বিবি নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১০ জন। নিহতের স্বজনরা জানায়, শুক্রবার রাতে তেতুলিয়া পাড়ের কোড়ালিয়া গ্রামে প্রবল বেগে ঝড় আঘাত হানে। এসময় সামছুল হক ফরাজির স্ত্রী রানু বিবি (৫০) ঘর চাপা পড়ে মারা যায়। ঝড় কিছুটা কমলে প্রতিবেশীরা তার লাশ উদ্ধার করেন। দক্ষিণ দিঘলদীর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপন জানান, তার ইউনিয়নে শতাধিক ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আরো প্রায় শতাধিক। ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে তাৎক্ষণিক শুকনো খঅবার বিতরণ করা হয়েছে। চরফ্যাশনের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন সমকালকে বলেন, 'ঢালচর চর সত্যেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০টি ও চর পাতিলার ১৫টি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এখনও ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব থাকায় দুর্গম এলাকার খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করছেন। আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছে মেডিকেল টিম।' এদিকে মনপুরার চর নিজাম, পশ্চিম ইলিশা ও ঢালচরে বেশ কিছু কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান।
6
চাঁদপুরের শাহরাস্তির একসময়ের পরিচিত সেচযন্ত্র দোন ও সেঁউতি হারিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে উপজেলার বহুল ব্যবহৃত এই কৃষিযন্ত্রের দেখা আর মেলে না। তবে মাটির উপরিভাগের পানির সঠিক ব্যবহারের জন্য এই ধরনের পরিবেশ বান্ধব সেচযন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন কৃষকেরা। এ ছাড়া এই যন্ত্র ভূগর্ভের পানির ব্যবহারও কমাতে পারে। এ জন্য নদী, খালসহ মাটির উপরিভাগে পর্যাপ্ত পানি থাকার ব্যবস্থা করা হবে।আগের দিনে জমিতে সেচের জন্য টিন বা বাঁশের তৈরি সেঁউতি ও কাঠের দোন ব্যবহার করা হতো। স্থানীয়রা সেঁউতিকে 'হেইত' ও দোনকে 'দোংগা' বলে জানেন। এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষিতে সেচযন্ত্র হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা ছিল। টিন বা বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি সেঁউতি দিয়ে খাল বা নিচু জমি থেকে সেজ করা হতো। এ ছাড়া উঁচু-নিচু জমিতে সেচ দিতে কাঠের দোন ব্যবহার হতো।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আম, কাঁঠাল গাছের মাঝের অংশ খুঁড়ে নালার মতো করে তৈরি হতো দোন। এ দিয়ে জমিতে সেচকাজ চলত। দোন দিয়ে সেচ দিতে শ্রমিকের খরচ ছাড়া বাড়তি কোনো খরচ হয় না। তা ছাড়া এটি সহজে বহনীয়। এ কারণে দোন দিয়ে সেচ দেওয়ায় স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন চাষিরা।এর ব্যবহার সম্পর্কে জানা গেছে, একটি বাঁশের শক্ত খুঁটি পুঁতে তার সঙ্গে লম্বা অন্য একটি বাঁশ বাঁধা হতো। এর এক অংশে দোনের মাথা, অন্য অংশে ভারসাম্য তৈরির জন্য মাটির ভরা বস্তা তুলে দেওয়া হয়। দোনটি পানিতে ডুবিয়ে তুললে এক সঙ্গে অনেক পানি উঠে আসে। এভাবে অনেকটা সময় সেচ দিলে জমিতে পানির চাহিদা মেটে।উপজেলার শাহরাস্তি মডেল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. ফজলে নূর নেহাল জানায়, সে কখনো দোন বা সেঁউতি দেখেনি। তবে বই পড়ে জানতে পেরেছে এসব কৃষি কাজে ব্যবহার করা হয়।নিজমেহার গ্রামের কৃষক মো. আবু ইউসুফ (৪৫) জানান, 'আমি বাপ-দাদাদের দোন ও সেঁউতি ব্যবহার করে সেচকাজ করতে দেখেছি। এ জন্য শখের বশে একটি সেঁউতি তৈরি করে তা দিয়ে পানি সেচ দিয়েছি।'একই গ্রামের মো. আলমাছ (৬৮) জানান, 'আগে আমরা দোন-সেঁউতি দিয়েই সেচ চালাতাম। এখন আধুনিক অনেক যন্ত্রপাতি আসায় এগুলোর ব্যবহার হয় না।'চাষিরা বলেন, আধুনিক যন্ত্র তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হলেও গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসেবে এই ধরনের সহজলভ্য কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করা উচিত।
6
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে)। ২০০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঘোষিত জরুরি অবস্থা চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরে এলে লাখো জনতা তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানায়। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মিছিল শোভাযাত্রা সহকারে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে নিয়ে আসে। দেশে ফিরে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শুরু করেন নবতর সংগ্রাম। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শুরু করেন সংকটের আবর্তে নিমজ্জমান অবস্থা থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার করে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলার সংগ্রাম। দিন বদলের অভিযাত্রায় উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে-, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন উপলক্ষে প্রতিবছর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। কিন্তু এবছর বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সৃষ্ট সংকটে শেখ হাসিনার নির্দেশে সব ধরনের জনসমাগমপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহার করে আসছে আওয়ামী লীগ। এতে আরও বলা হয়, ৭ মে উপলক্ষে বাঙালির চিরঞ্জীব আশা ও অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘয়ূ কামনা করে ঘরে বসেই পরম করুণাময়ের নিকট বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার নির্দেশনা প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে করোনা সংকট মোকাবেলায় চলমান কর্মোদ্যোগকে আরও গতিশীল করে প্রিয় নেত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ।
6
মুসলিমদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের প্রেক্ষাপটে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বুলডোজার-নীতির সমালোচনা করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। গত সপ্তাহে কানপুর, প্রয়াগরাজ, সাহারানপুরে বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়ি-ঘর বেআইনিভাবে, নির্বিচারে ভেঙে ফেলার অভিযোগে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের কৈফিয়ত তলব করেছে শীর্ষ আদালত। আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এ এস বোপান্না এবং বিচারপতি বিক্রম নাথের অবকাশকালীন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার নির্দেশে বলেছে, দেশে যে আইনের শাসন রয়েছে, সে বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে একটি বোধ থাকতে হবে। কর্তৃপক্ষকে (উত্তরপ্রদেশ সরকার) ন্যায্যভাবে আইনের পথ অনুসরণ করে পদক্ষেপ নিতে হবে। দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বিক্ষোভ-মিছিলের প্রতিশোধ নিতে বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া যায় না। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে সম্প্রতি কানপুর, সাহারানপুর এবং প্রয়াগরাজের একাধিক বাড়িতে বুলডোজার চালানো হয়েছে। যে বাড়িগুলো ভাঙা হয়েছে তাদের মালিক বা মালিকের পরিবারের সদস্যরা মহানবী সা:-এর অবমাননার প্রতিবাদে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কারণে পুলিশের খাতায় অভিযুক্ত। বিজেপি মুখপাত্র নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে উত্তরপ্রদেশের আটটি জেলায় মুসলিমদের বিক্ষোভ মিছিল ছড়িয়ে পড়েছিল। তারই জেরে যোগী সরকার ওই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুলডোজার-নীতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে ভারতের ইসলামী সংগঠন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এ ভি রমণাকে লেখা চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের তিন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডি, ভি. গোপাল গৌড়া এবং এ. কে. গঙ্গোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন হাই কোর্টের তিন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং ছয়জন আইনজীবী যোগী সরকারের বুলডোজার-নীতি বাতিল করার আবেদন জানান।সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
3
একটি বিদ্যালয় ভবনে মৌমাছির ২২টি বাসা। কয়েকদিনের ব্যবধানে মৌমাছিগুলো বাসা বেধেঁছে বিদ্যালয়ের ছাদের তিন দিকের কার্নিশে। ঘটনাটি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার উত্তর কচাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মৌমাছি বাসা বাঁধার কয়েকদিনে আট থেকে ১০ শিক্ষার্থীকে হুল ফুটিয়েছে। এরপর থেকে আতঙ্কে রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। মৌমাছির আক্রমণ থেকে বাঁচতে দরজা-জানালা বন্ধ রেখে নেওয়া হচ্ছে বাৎসরিক পরীক্ষা। স্থানীয়রা জানান, দু'একদিন পরপরই আসছে আরো নতুন নতুন মৌমাছি। নতুন করে চাক বোনাচ্ছে বিদ্যালয়ের ছাদের বিভিন্ন অংশে। শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঝে মধ্যেই মৌমাছি উড়ে এসে শরীরে হুল ফুটিয়ে দেয়। তাই সবসময় ভয়ে থাকতে হয় তাদের। শিক্ষকরা জানান, মৌমাছির ভয়ে চুপচাপ রুমে ঢুকে দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে স্কুলে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। রুমের দরজা-জানালা বন্ধ করে বাৎসরিক পরীক্ষা হচ্ছে। বিদ্যালয়টির আশপাশের বাসিন্দারাও দিন কাটাচ্ছেন মৌমাছির আতঙ্কে। স্থানীয় ছামসুল আলম জানান, জোরে বাতাস উঠলে সবাইকে ভয়ে থাকতে হয়। আবার পাখি এসে মৌচাকে আঘাত করলে বিপদ। এগুলো তাড়ানোর ব্যবস্থা করা দরকার। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা খুশি রাণী জানান, একটু বাতাস আসলে বা পাখি উড়লে মৌমাছির দল উড়তে থাকে। এসে আমদের আক্রমণ করে। মাথা, মুখ শরীরে হুল ফুটায়। দু'দিন আগে প্রথম শ্রেণির বেশ কয়েকজনকে হুল ফুটিয়ে আহত করেছে মৌমাছি। বিদ্যালয়টির সহসভাপতি তাইজুল ইসলাম জানান, যখন কম ছিলো তখন আগুন জ্বালিয়ে মৌমাছি তাড়ানোর চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। বরং আরও অনেক এসেছে। বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগম জানান, বিষয়টি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এছাহাক আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। আগুন জ্বালিয়ে ধ্বংস করলে বিল্ডিং ভবন নষ্ট হতে পারে। ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর কথা ভাবছি।
6
টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে আগামী ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন গন্তব্যে কয়েকটি বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ইজতেমায় আগত মুসুল্লিদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ ট্রেন পরিচালনাসহ বিভিন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৫-১৮ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর দুই দফায় ১৬ এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, (দু্ই পক্ষের) আখেরি মোনাজাতের আগে ও মোনাজাতের দিন বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি এ ট্রেন চলবে। ঢাকা-টঙ্গী-ঢাকা: জুমা স্পেশাল (১৫ ফেব্রুয়ারি)। ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফা মোনাজাতে 'মোনাজাত স্পেশাল ১, ২, ৩, ৪' নামে আলাদা ৪টি স্পেশাল ট্রেন ঢাকা-টঙ্গীর মধ্যে চালানো হবে। লাকসাম-টঙ্গী ও জামালপুর-টঙ্গী: দু'টি (শুধুমাত্র ১৭ ফেব্রুয়ারি)। ১৮ ফেব্রুয়ারি, দ্বিতীয় দফায় আখেরি মোনাজাতের দিন। ঢাকা-টঙ্গী আটটি। টঙ্গী-ঢাকা আটটি। টঙ্গী-লাকসাম একটি। টঙ্গী-আখাউড়া একটি। টঙ্গী-ময়মনসিংহ চারটি এবং টঙ্গী-টাঙ্গাইল দু'টি ট্রেন চলাচল করবে। এছাড়াও ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি (দ্বিতীয় দফার আখেরি মোনাজাতের পূর্ব পর্যন্ত) ঢাকা অভিমুখী সব আন্তঃনগর, মেইল এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে দুই মিনিট করে থামবে। ওই সব আন্তঃনগর ট্রেন ও মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো (আপ ও ডাউন) টঙ্গী স্টেশন দুই মিনিট করে থামবে। ইজতেমা উপলক্ষে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ডেমু ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লিদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে টঙ্গী, বিমানবন্দর, তেজগাঁও ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি অফিসারসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।
6
ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়নের কাছে হারের পর থেকেই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের অন্দরে কান পাতলে ভেসে আসছে জিনেদিন জিদানের নাম। সোমবার ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে টটেনহ্যাম হটস্পারের কাছে ০-৩ গোলে হারের পর সেই গুঞ্জন জোরদার হয়েছে। একটি সূত্রের খবর, জিদান নাকি নিজেই পল পগবা এবং অ্যান্টনি মার্শালের কাছে ম্যান ইউয়ের বর্তমান কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চেয়েছেন। উল্লেখ্য, গত জুনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়েছেন ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তিটি। তারপর জুভেন্তাসের স্পোর্টিং ডিরেক্টরের পদ গ্রহণের আমন্ত্রণ তিনি পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই চুক্তি এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থকদের একাংশের ধারণা, জিদানই পারেন দলকে এই দুরবস্থা থেকে সাফল্যের আলোয় নিয়ে আসতে। ক্লাবের সাবেক ফুটবলার লি শার্প বলেছেন, 'ফুটবলার ও কোচ হিসেবে জিদান সর্বোচ্চ পর্যায়ে চূড়ান্ত সফল। গত কয়েক বছরে রিয়াল মাদ্রিদকে ও যে সাফল্য দিয়েছে তা অকল্পনীয়। পর্বতপ্রমাণ চাপ ঘাড়ে নিয়েও কীভাবে ট্রফি আনতে হয় তা জিজু জানে।'
12
শীতে মরক্কোর তিমাহদিতে গ্রামের মানুষ বাইরের জগত বলতে গেলে ভুলেই যান। বরফাবৃত গ্রামে এখন সেখানে এমন শীত যে বাধ্য না হলে কেউ ঘরের বাইরে যেতে চান না। মৌসুমের প্রথম তুষারপাতে ঢাকা পড়েছে 'মাঠ' খেলা আপাতত বন্ধ। তাই বরফে ঢাকা ফুসবল টেবিল নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকে গ্রামের শিশুরা। বরফের ওপরে কাপড় শুকাতে হয়। উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় অ্যাটলাসের ওপরের এই গ্রামটিতে শীতের সময় সব তৃণভোজী প্রাণীর প্রাণ বাঁচানোই মুশকিল। ঘাস, গাছ সব ঢেকে যায় বরফে।তৃণভোজীরা খাবে কী! এক পাল ভেড়ার আহারের সন্ধানে তাই বরফ-রাজ্য চষে বেড়ান গ্রামবাসী। শীতে তো ফসল ফলানোর উপায় থাকেই না, গ্রীষ্মেও খরার কারণে বিপদে পড়েন কৃষিজীবীরা। তাই অনেকেই দিন গোণেন আর ভাবেন, কবে আবার বর্ষা আসবে, বৃষ্টি হবে, বাঁধে পানি জমিয়ে শবজি আর ফল চাষ শুরু করা যাবে। শীতে সোলার প্যানেলের আলো স্কুলের পড়া ও রুম হিটারের কাজ করে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন
5
করোনা সংক্রমণ না কমায় দেশে চলমান কঠোর লকডাউন আরও এক সপ্তাহ অর্থাৎ ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (৫ জুলাই) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই মধ্যরাত থেকে ১৪ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত এ বিধি নিষেধ কার্যকর থাকবে। লকডাউন বাড়ানোর বিষয়ে এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামও। গত ২৮ জুন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ৭ দিন পর এই লকডাউন বাড়ানোর বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুন জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশে ১৪ দিনের 'শাটডাউনে'র সুপারিশ করা হয়। কমিটির সুপারিশের আলোকে ২৮ জুন থেকে ৩০ জুন তিন দিন সীমিত পরিসরে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এরপর ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী শুরু হয় এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে সরকার এ বছর প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে লকডাউন দিয়ে আসছে। দেশব্যাপী লকডাউনের পাশাপাশি এবার স্থানীয় প্রশাসনও বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ লকডাউন জারি করে। কিন্তু তারপরও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সারা দেশে কঠোর লকডাউন দেওয়া হয়। চলমান বিধিনিষেধে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনাবেচা করতে দেওয়া হচ্ছে। টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাচ্ছে। খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি (অনলাইনে কেনা বা খাবার নিয়ে যাওয়া) করতে পারছে। তবে হোটেলে বসে খাওয়ায় রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। বিধিনিষেধের সময় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু চলবে।
6
হঠাৎই জেমি ডের প্রতি কঠোর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার নির্বাহী কমিটির সভা শেষে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সরাসরি বলে দিলেন, 'আমি চাই মাঠে গিয়ে জেমি খেলা দেখুক।' তিন বছর ধরে জাতীয় দলের কোচের পদে থাকা জেমি খেলা না থাকলে বেশিরভাগ সময়ই ছুটি কাটান। এটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। সালাউদ্দিনের এমন মন্তব্যের পর চাপটাও বেড়ে গেল ব্রিটিশ এ কোচের ওপর।তবে বর্তমানে ইংল্যান্ডে অবস্থান করা জেমি ডে এটা নিয়ে মোটেও মাথা ঘামাচ্ছেন না; বরং তার সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে বাফুফের, সেখানে নাকি লেখা নেই মাঠে গিয়ে খেলা দেখার।গতকাল সমকালের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোচ বলেন, 'বাফুফের সঙ্গে আমার যে চুক্তি তাতে লেখা নেই মাঠে গিয়ে খেলা দেখার। তবে আমি একজন কোচ। আর দল নির্বাচন করতে গেলে আমাকে খেলা দেখতেই হবে। তাই আমি বেশিরভাগ ম্যাচ মাঠে গিয়ে দেখার চেষ্টা করব। জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসব আমি। প্রিমিয়ার লিগের খেলা দেখব। এখন এখানে বসে টিভিতে খেলা দেখছি।'গত ১৩ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ফুটবল ম্যাচের পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন জেমি ডে। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়াতে পারেননি বাংলাদেশ কোচ। কভিড পজিটিভ হয়ে কাতারে গিয়ে ৪ ডিসেম্বর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ছিলেন। সেখান থেকে ঢাকায় না এসে চলে যান ইংল্যান্ডে। তখনই গুজব ওঠে, তাকে বরখাস্ত করতে যাচ্ছে বাফুফে। তবে সেটা যে সেফ্র গুজব ছিল, তা পরে নিশ্চিত করেন ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাফুফে সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ এমপি। সেই সময় কাজী নাবিলও বলেছিলেন যে, জেমি কতদিন ঢাকায় থাকবেন আর কতদিন ছুটি কাটাবেন, তা চুক্তিতেই আছে। নাবিলের মতো একই কথা শুক্রবার বলেছেন জেমি, 'চুক্তি সম্পর্কে আমি এবং বাফুফে দু'পক্ষই অবগত আছি। আমি কতদিন বাংলাদেশে থাকব, আর কতদিন ছুটি কাটাব, তা চুক্তিতেই লেখা আছে। চুক্তির বাইরেও তো আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু করি। আসলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা পরিবারের মতো। এখানে কোনো ইস্যু সামনে না আনাটাই ভালো। আর আমি তো সর্বশেষ হওয়া লিগের ৩৪ রাউন্ডের মধ্যে ২৯ রাউন্ড দেখেছি। আমি নব্বই ভাগের মতো খেলা দেখেছি। তবে আমি একটা জিনিস আপনাকে পরিষ্কার করে বলতে চাই, মাঠে থাকা আর না থাকা কোনো ব্যাপার নয়। খেলা দেখতে পারাটাই বড় বিষয়।' হঠাৎই জেমি ডের প্রতি কঠোর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার নির্বাহী কমিটির সভা শেষে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সরাসরি বলে দিলেন, 'আমি চাই মাঠে গিয়ে জেমি খেলা দেখুক।' তিন বছর ধরে জাতীয় দলের কোচের পদে থাকা জেমি খেলা না থাকলে বেশিরভাগ সময়ই ছুটি কাটান। এটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। সালাউদ্দিনের এমন মন্তব্যের পর চাপটাও বেড়ে গেল ব্রিটিশ এ কোচের ওপর।তবে বর্তমানে ইংল্যান্ডে অবস্থান করা জেমি ডে এটা নিয়ে মোটেও মাথা ঘামাচ্ছেন না; বরং তার সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে বাফুফের, সেখানে নাকি লেখা নেই মাঠে গিয়ে খেলা দেখার। গতকাল সমকালের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোচ বলেন, 'বাফুফের সঙ্গে আমার যে চুক্তি তাতে লেখা নেই মাঠে গিয়ে খেলা দেখার। তবে আমি একজন কোচ। আর দল নির্বাচন করতে গেলে আমাকে খেলা দেখতেই হবে। তাই আমি বেশিরভাগ ম্যাচ মাঠে গিয়ে দেখার চেষ্টা করব। জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসব আমি। প্রিমিয়ার লিগের খেলা দেখব। এখন এখানে বসে টিভিতে খেলা দেখছি।' ২২ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে ফেডারেশন কাপ ফুটবল। ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি পর্দা নামবে নতুন মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্টটি। ১৩ জানুয়ারি শুরু হবে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যে লকডাউনের মধ্যে আছেন জেমি। বড়দিনের উৎসব ঘরে বসেই করতে হয়েছে পরিবার নিয়ে, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবারের বড়দিন ঘরে বসেই কাটাতে হয়েছে। কারণ এখানে লকডাউন করা হয়েছে।' ঘরে বসেই ফেডারেশন কাপের ম্যাচগুলো দেখেছেন বলে জানিয়েছেন জেমি, 'আমি এ পর্যন্ত হওয়া সব ম্যাচই দেখেছি। এখন পর্যন্ত আমার কাছে মনে হয়েছে বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ভালো করছে। আসলে সব দলের পারফরম্যান্স যে এক হবে, তা কিন্তু নয়। আপনি জানেন যে, করোনার কারণে অনেক দলই অনুশীলন করতে পারেনি। আর এটা তো মৌসুমের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট।'
12
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী 'লাইম লাইটে' থাকার জন্য প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করেন। এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। আজ শনিবার ঢাকার মৌচাকে বার্তা সংস্থা ইউএনবি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ এ মন্তব্য করেন। রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপির উপদেষ্টা পদ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, 'রিজভী সাহেবের এ ধরনের মন্তব্য কতটা শালীন, তা ভাবা জরুরি। রিজভী সাহেব প্রতিদিনই একটা না একটা সংবাদ সম্মেলন করে কথা বলেন, শুধু লাইমলাইটে থাকার জন্য।' হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার নামে যে আন্দোলন করেছে, তা নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস আর সমন্বয়হীনতার কারণে দুর্বল ছিল। খালেদা জিয়ার ভবিষ্যৎ আদালতই নির্ধারণ করবেন। হাছান মাহমুদ বলেন, গত ১০ বছরে বিএনপির রাজনীতি খালেদা ও তারেক রহমানকে অপরাধের বিচারের হাত থেকে বাঁচানো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। জনগণের জন্য কিছু ছিল না। তিনি বলেন, এসব করতে গিয়ে বিএনপি জনগণকে পুড়িয়ে মেরেছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে। ফলে তারা ক্রমেই জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলে অভিহিত করেন এবং 'বানোয়াট সংবাদ' পরিবেশন প্রতিহত করতে সব গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যমকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখা জরুরি। ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েতুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান বক্তব্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
9
বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলমান আছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশে নালা নির্মাণের কাজ চলছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নালার নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজের মেয়াদ আছে চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত। শুরুতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ জোরেশোরে চললেও বেশ কিছুদিন ধরে কাজ বন্ধ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। নির্মাণাধীন নালার ওপর মাচা দিয়ে চলাচল করছেন পথচারীসহ আশপাশের দোকান ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, এভাবে চলাচলের সময়ে যেকোনো সময় ঢালাইয়ের রডের ওপর পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনো কাজের সময় আছে। বর্তমানে সেখানে পানি জমে থাকার কারণে কাজ বন্ধ আছে।২০২১ সালের শুরুতে নালার গভীরতা ও প্রশস্ত কম থাকায় কাজে নির্মাণকাজে বাধা দেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ ছিল এ নালা নির্মাণ করা হলে তাতে পানি নিষ্কাশনতো দূরের কথা, আরও জলাবদ্ধতা বাড়বে। পরে জনসাধারণের দাবির মুখে ও পৌর মেয়রের প্রচেষ্টায় ৫ ফুট গভীর ও ৪ ফুট প্রশস্ত নালার নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে আশার আলো দেখতে পান এলাকাবাসী।অল্প কিছু শ্রমিক দিয়ে এ কাজ চলতে থাকে। এখন বেশ কিছুদিন হলো ওই কাজ বন্ধ হয়ে আছে। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ কাজটি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।ভুক্তভোগীরা বলেন, কৈগাড়ী থেকে নন্দীগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ পর্যন্ত রাস্তার পাশে বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, ব্যাংক, বিমাসহ বিভিন্ন অফিস এ সড়কের পাশে অবস্থিত। নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়ার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।কলেজপাড়ার বাসিন্দা শুভ মাস্টার বলেন, 'ড্রেন নির্মাণকাজে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। আমাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল নিয়ে পাড়ায় ঢোকা যায় না। ভারী কোনো জিনিসপত্র বাজার থেকে আনতে হলে খুব বিপদে পড়তে হচ্ছে আমাদের।'হোটেল ব্যবসায়ী আরব আলী বলেন, 'একটু বৃষ্টি হলেই কাদামাটি রাস্তায় চলে আসায় গাড়ি চলাচলের সমস্যা হচ্ছে। ড্রেনের ওপর যে মাচা করে আমরা চলাচল করছি তাঁতে দোকানের মালামাল ভেতর আনা ও বের করা খুব কঠিন। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।'পথচারী আবু হানিফ বলেন, ড্রেন নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে না পারলে বর্ষায় এ রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে পারবে না। আর ড্রেন ঢালাইয়ের রড যেভাবে বের হয়ে আছে তাতে এর ওপর মানুষ পরে গিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান বলেন, 'ড্রেন নির্মাণকাজটি করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা ভেবে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য আমি বারবার ঠিকাদারের লোকজনদের বলছি।'ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ম্যানেজার রাসেল আহম্মেদ বলেন, 'নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ড্রেনে পানি জমার কারণে একটু দেরি হচ্ছে। অল্প শ্রমিক দিয়ে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, যেখানে যতজন শ্রমিক প্রয়োজন সেখানে ততজন শ্রমিক দেওয়া হচ্ছে।'বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, 'আগস্ট মাস পর্যন্ত কাজের মেয়াদ আছে। তবে যেহেতু জনসাধারণের দুর্ভোগ হচ্ছে, আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলব ওই কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য।'
6
'৭ মার্চের ভাষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।' আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ৭ মার্চের আলোচনা সভায় দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আমার মা। ওই দিন সকাল থেকে অনেক নেতা অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকে চিরকুট রেখে গেছেন। দুপুরে খাবারের পর মা আব্বাকে বললেন, আপনাকে একটু রেস্ট নিতে হবে। তখন আব্বাকে বেডরুমে নিয়ে গেলেন। ১৫ মিনিট রেস্ট নেন। সেসময় মা আব্বাকে বলেছিলেন, অনেকে কথা বলেছে। আজকে তুমি তোমার মন যা বলবে, তাই বলবা। কারণ তোমার এই ভাষণের ওপর বাঙালির ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তুমি যা ভালো মনে করবে বলবে। এই ভাষণের আবেদন কখনো ফুরাবে না। এ ভাষণ যুগ যুগ ধরে থাকবে, এ ভাষণ এখনো আমাদের প্রেরণা জোগায়। এজন্যই এটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ। যারা একসময় এটাকে নিষিদ্ধ করেছে, ধীরে ধীরে তারা আস্তাকুড়েই যাবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের গণ-অভ্যুত্থানের রিপোর্ট সংগ্রহ করেছি, এটা ১৪ খণ্ডে বের হবে। এ থেকে আপনারা সবই জানবেন। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস জানার জন্য এ বই যথেষ্ট হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসহযোগ আন্দোলনটাও যদি দেখেন, পৃথিবীর কেউ এমন অসহযোগ আন্দোলন করতে পারেনি। এমনকি ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে আসলে বাঙালি বাবুর্চিও রান্না করেনি। ৩২ নম্বর থেকে ফোন আসার পর রান্না করেন। কাজেই আপনারা বুঝতে পারেন জাতির পিতার নেতৃত্বে বাঙালি কতটা ঐক্যবদ্ধ ছিলো। আমাদের বিজয়ের পর মাত্র সাড়ে ৩ বছর বঙ্গবন্ধু সময় পেয়েছিলেন। এরপর আমাদের জীবনে অমানিশার অন্ধকার। এমনকি এই ৭ মার্চের ভাষণও সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
6
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।আহতরা হলেন-জান্নাতুল ফেরদৌস, আরমান সিদ্দিক সোহাগ, মাসুদ রানা ও হাসান মিয়া। আহতদের মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস ও আরমান সিদ্দিক সোহাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ইমানেরকান্দি গ্রামের জয়নাল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে গিরদান গ্রামের নুর মোহাম্মদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নুর মোহাম্মদের ছেলে জান্নাতুল ফেরদৌস ও তাঁর বন্ধুরা ইমানেরকান্দি বাজারে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জয়নাল মিয়ার নেতৃত্বে শাহ জালাল, রুবেল, রাজিব, শরীফ, রিয়াজ, শাহ আলম, সাইফুল ইসলাম, রিয়াজ, রমজানসহ ১০ / ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ওই ৪ জনকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এ ঘটনায় জান্নাতুল ফেরদৌসের বাবা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ বিষয়ে আহত জান্নাতুল ফেরদৌসের বাবা নুর মোহাম্মদ বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে জয়নাল মিয়া ও তাঁর লোকজন আমার ছেলে ও তিন বন্ধুকে কুপিয়ে জখম করেছে।অভিযুক্ত জয়নাল মিয়া বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার লোকজন জড়িত থাকতে পারে। কিন্তু এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
6
ঘুষ গ্রহণ, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচার আইনে করা সাবেক ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিকের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৯ জানুয়ারি। আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম রায়ের তারিখ ধার্য করেন।আসামি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এই রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়।মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৫-এ বিচারাধীন ছিল। ওই আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন গত ১৭ জুন পার্থ গোপালকে জামিন দেন। রাতের অন্ধকারে জামিন দেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট জামিন বাতিল করেন। জামিন প্রদানকারী বিচারককে হাইকোর্টে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এরপর তিনি জামিন দেওয়া ভুল হয়েছে স্বীকার করে হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা চান। পরে মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালত-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। এরপর মামলার বাকি সাক্ষ্য গ্রহণ করে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ মামলার রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়।গত বছরের ৪ নভেম্বর পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর ১৫ ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। একই বছরের ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ডিআইজি পার্থের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এতে মোট ১৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।রাজধানীর নর্থ রোডের ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিল দুদক।অভিযোগপত্রে বলা হয়, পার্থ গোপাল বণিকের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৮০ লাখ টাকার কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। অর্থাৎ তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৮০ লাখ টাকা উপার্জন করে পাচারের উদ্দেশে বাসায় লুকিয়ে রেখেছেন বলে প্রমাণিত হয়।
6
পিরোজপুর সদর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহবুব শুভর জানাজা শেষে পিরোজপুর পৌর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজের ইমামতি করেন পিরোজপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি জোবায়ের আহমেদ।প্রায় ৫ সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতিতে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক হাকিম হাওলাদার, পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেক, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজীসহ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা। জানাজা শেষে তাঁকে পিরোজপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।উল্লেখ্য গত ৭ নভেম্বর রোববার নির্বাচনী সভা থেকে শহরে ফেরার পথে শংকরপাশা ইউনিয়নের মল্লিক বাড়ি স্ট্যান্ডে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসির উদ্দিন মাতুব্বরের লোকজন শুভর ওপর হামলা করে। তাঁদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুলিবিদ্ধ শুভকে উদ্ধার করে প্রথমে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল এবং পরে খুলনা সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে গত ৮ নভেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড্ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত সোমবার রাত ১১টায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
6
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তেলের বিনিময়ে করোনার টিকা চান দেশের মানুষের জন্য। রোববার (২৮ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। খবর এএফপির। ভেনেজুয়েলায় করোনার টিকা হিসেবে রাশিয়ার তৈরি স্পুতনিক ভি ও চীনের সিনোফার্মের তৈরি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, 'ভেনেজুয়েলার তেলের ট্যাংকার আছে। তেলের ক্রেতাও আছে। প্রয়োজনে তেলের উৎপাদনের কিছু অংশ করোনার টিকা পাওয়ার জন্য বরাদ্দ করবে। তেলের বদলে টিকা চায় দেশটি। ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। দেশটি বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আছে। এসব নিষেধাজ্ঞা মূলত দেশটির তেল খাতকে লক্ষ্য করেই জারি করা হয়েছে। এসব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় প্রধানত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভেনেজুয়েলার তেল খাত। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় করোনার সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। দেশটিতে ব্রাজিলে শনাক্ত হওয়া করোনার ধরনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন ভেনেজুয়েলার সরকার।
3
বিশ্ব আতঙ্কিত করোনার তাণ্ডবে। এই ভাইরাসটির বিস্তার রোধে দেশগুলো লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব ধরণের গণ যোগাযোগ। কিন্তু তার পরেও মানুষ মানছে না সামাজিক দূরত্ব। তবে এবার দেখো গেছে ভিন্ন ধররেণর এক ঘটনা। সম্প্রতি একটি ভাইরাল ছবিতে দেখা যায় সামাজিক দূরত্ব মেনে ফল খাচ্ছে এক ঝাঁক বানর। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এই ছবিটি টুইট করেন। চবিটিতে আরো দেখা যায়, একজন যুবক কিছু তরমুজ কেটে বানরের হাতে দিচ্ছেন। রাস্তার একাংশ জুড়ে বসে রয়েছে বেশ কয়েকটি বানর। তবে প্রত্যেকেই নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে বসে আছে। তারা এক এক করে হাত বাড়িয়ে ওই তরমুজ নিচ্ছে। এভাবেই কলাও নিয়েছে তারা। কোনো তাড়াহুড়ো না করে দিব্যি দূরত্ব বজায় রেখে খাবার খাচ্ছে বানরেরা। অরূপ কালিতা নামে এক ব্যক্তি অরুণাচল প্রদেশের ভালুকপংয়ে এই ছবিটি তোলেন। সেই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। চোখের নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই অবাক হয়ে লিখেছেন, "বানরেরা তো সামাজিক দূরত্ব সম্পর্কে কিছুই জানে না। তা সত্ত্বেও কীভাবে তা বজায় রাখছে তারা?" কেউ কেউ আবার বলছেন, "মানুষের থেকে জীবজন্তুরা যে অনেক বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীব, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এ ছবি যেন আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।" সাধারণ মানুষকে লকডাউনের জন্য বোঝাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকর্মীদের। তা সত্ত্বেও নিয়ম মানতে নারাজ তারা। অথচ বানরেরা কিছু না জানা সত্ত্বেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে। প্রশ্ন উঠছে, অবলা পশুদের থেকেও কি কোনও শিক্ষা নিতে পারি না আমরা? করোনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কিন্তু আর কবে হুঁশ ফিরবে সকলের, মাথাচাড়া দিচ্ছে সেই প্রশ্নও।
3
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নানি-নাতনি নিহত হয়েছেন। এতে আরও দুইজন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের কৈকুরী পাকা রাস্তার মোজাফ্ফর আলীর বাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নিজপাড়া ইউনিয়নের জগদিশপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের স্ত্রী জহুরা বেওয়া (৪৫) ও তার নাতনি জুই (৭)। আহতরা হলেন- নিহত জহুরার ছেলে মাজম (২০) ও অপর সঙ্গী স্বাধীন (১৬)। বীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিলা পারভীন জানান, জগদিশপুর গ্রাম থেকে চারজন এক মোটরসাইকেলে চড়ে বীরগঞ্জ শহরে আসছিলেন। পথিমধ্যে কৈকুর গ্রামে দ্রুতগামী একটি ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-চ-১৬-১০৭৪) তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে নানি ও নাতনি নিহত হন। আহত হন দুইজন। ঘাতক ট্রাকটির চালক একই উপজেলার মরিচা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বরে ট্রাক রেখে পালিয়ে গেছে।
6
নিজ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বিষয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হাইকোর্টের তলবাদেশে ভার্চুয়ালি হাজির হয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরে ব্যাখ্যা প্রদান শেষে তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত। মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইউসুফ আলী। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত অবমাননার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে রুল জারি করেছিলেন আদালত। আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। প্রসঙ্গত, বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় ২০১৬ সালে গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাবেক ১৪ কর্মী। পরে বকেয়া পরিশোধ চেয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ৯৩টি মামলা করেন তার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কর্মীরা। ফলে ঢাকার শ্রম আদালতে ইউনূসের বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ১০৭টি মামলা হয়।
6
এক মুসলিম ব্যক্তিকে তার মেয়ের সামনে শহরের রাস্তাজুড়ে নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাকে 'জয় শ্রীরাম' বলতে বাধ্য করা হয়েছে। ছোট্ট মেয়েটির কান্নায়ও বাবাকে নির্যাতন থেকে দমেনি পাষণ্ডরা। এমনকি পরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার পরও নির্যাতন করা হয়েছে ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিটিকে। ঘটনাটি বুধবার ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। স্থানীয়দের করা ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট্ট শিশুটি তার বাবাকে আঁকড়ে ধরে আছে এবং বাবাকে আর না মারতে আক্রমণকারীদের কাছে অনুরোধ করছে। ভিডিওতে এটাও দেখা যায়, পুলিশ ওই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয়ার সময়ও আক্রমণকারীরা তাকে মারধর করতে থাকে। বুধবার একটি মোড়ে সমাবেশ করছিল কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দল। তাদের অভিযোগ ছিল, মুসলমানরা একটি হিন্দু মেয়েকে ধর্মান্তরিত করে তাদের সম্প্রদায়ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। বৈঠকটি শেষ হওয়ার পরপরই সমাবেশস্থলের ৫০ গজের মধ্যেই মারধরের ঘটনাটি ঘটায় তারা। এদিকে এক বিবৃতিতে কানপুর পুলিশ জানায়, এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মারধরের শিকার ওই ব্যক্তি বিয়ের ব্যান্ড পরিচালনা করা স্থানীয় এক ব্যক্তি, তার ছেলে ও নাম উল্লেখ না করে আরো ১০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে বজরং দলের কারো নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে কিনা পুলিশ তা পরিষ্কার করেনি। নির্যাতনের শিকার পেশায় রিকশা ড্রাইভার ওই ব্যক্তি মামলার অভিযোগে বলেন, 'আমি বিকেল ৩টার দিকে আমার ব্যাটারিচালিত রিকশাটি চালাচ্ছিলাম। তখনই তারা আমাকে হেনস্থা ও নির্যাতন করা শুরু করে এবং পরিবারসহ আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে আমি পুলিশী হস্তক্ষেপে বাঁচতে পারি।' জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিটি একটি পরিবারের আত্মীয়, যাদের পার্শ্ববর্তী একটি হিন্দু পরিবারের সাথে আইনি দ্বন্দ্বে রয়েছে। বিবদমান পরিবার দুটি একে অপরের বিপক্ষে মামলা করেছে। মুসলিম পরিবারটি প্রথমে নির্যাতন ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করে। পরে হিন্দু পরিবারটি 'এক নারীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা'র অভিযোগ করে একটি মামলা দায়ের করে। সম্প্রতি বজরং দল বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে এবং মুসলিম পরিবারটির বিরুদ্ধে জোর করে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ তুলে। সূত্র : এনডিটিভি
3
ইতোমধ্যেই আড্ডা টাইমসের জন্য সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের 'ফেলুদা ফেরত' সিরিজের কাজ শেষ হয়েছে। যে কোনো সময় সিরিজটি মুক্তি পাবে। এদিকে হইচই প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি সিরিজ নির্মাণ করবেন নির্মাতা। সম্প্রতি এমনই ঘোষণা দিয়েছে হইচই। এরই মধ্যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, নেটফ্লিক্সের জন্য সত্যজিৎ রায়ের গল্প নিয়ে সিরিজ নির্মাণ করবেন সৃজিত! সিরিজটির নাম 'এক্স রে'। ভারতে লকডাউন ওঠার পর ভায়াকম ১৮ মোশন পিকচার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, করোনার আগে দেশের নানা জায়গায় শুট করার কথা ছিল 'এক্স রে'র। সব দিক আলোচনা করে, সরকারি নির্দেশিকা মেনে আপাতত তাই গোয়াতেই শুট হবে। এছাড়া পরিস্থিতি বদলালে শুট হতে পারে হায়দরাবাদ, কর্ণাটক, কোলহাপুর, কেরালাসহ দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে। শোনা যাচ্ছে, সত্যজিৎ রায়ের নানা স্বাদের ছোটগল্প নিয়ে তৈরি ১২ পর্বের এ সিরিজের একটিতে জুটি বাঁধছেন শ্বেতা বসু প্রসাদ এবং আলি ফজল। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী শ্বেতা জানিয়েছেন, তিনি কাজ করছেন সৃজিতের সঙ্গে। তবে কোন প্রজেক্টে এখনই তা বলবেন না তিনি!
2
রমিজ রাজা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই দেশটিতে সফর বাতিল করেছে নিউজিল্যান্ড। রমিজ মনে করেন, নিউজিল্যান্ডের এমন সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবে এই চাপ সামলে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানানোর বার্তা দিয়েছেন ৫৯ বছর বয়সী রমিজ।নিরাপত্তার শঙ্কায় নিউজিল্যান্ডের পাকিস্তান সফর বাতিলের পর বড় ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান। দেশটিতে অক্টোবরে ইংল্যান্ড ও আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অস্ট্রেলিয়া সফরের পাশেও বসে গেছে বড় প্রশ্ন চিহ্ন। তারা এরই মধ্যে জানিয়েছে, সফরের পরিকল্পনা ও নিরাপত্তার বিষয়টি তারা নতুন করে পর্যবেক্ষণ করবে।এই সবকিছু নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন রমিজ। এক ভিডিও বার্তায় রমিজ পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের উদ্বুদ্ধ করতে বলেছেন, 'এই হতাশা দূর করার ভালো উপায় বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করা। আমরা যখন বিশ্বমানের দল হয়ে উঠব, অন্য দলগুলো তখন আমাদের বিপক্ষে খেলতে লাইন দেবে। তাই আমি চাই আমরা এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাই। হতাশ হওয়ার কিছু নেই।'রমিজের মতে, নিউজিল্যান্ডের এমন সিদ্ধান্তের পর বেশ চাপে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট। তবে এতে অবশ্য তিনি দমে যাচ্ছেন না। এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন, 'অনেক চাপ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে। আমরা যে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করি, তার ভিত্তি হচ্ছে টিকে থাকতে লড়াই করার ক্ষমতা। তাই পাকিস্তান ক্রিকেট যদি আবারও চাপের মধ্যে পড়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, আমরা তাদের চ্যালেঞ্জ জানাব।'
12
সারিকা। মডেল ও অভিনেত্রী। এনটিভিতে আজ রাতে প্রচার হবে তার অভিনীত একক নাটক 'তোমায় পাব কি'। এ নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে- অভিনয়ের বিষয়ে অন্যদের চেয়ে আপনাকে একটু বেশি বাছবিচার করতে দেখা যায়। সে হিসেবে 'তোমায় পাবো কি' নাটকে আপনাকে নতুন কোনো চরিত্রে দেখা যাবে কি? আমার আগের নাটকগুলোর চরিত্রের সঙ্গে 'তোমায় পাবো কি' নাটকের চরিত্রে কোনো মিল খুঁজে পাবেন না। মেহরাব জাহিদের লেখা নাটকের গল্প পড়ার পর সুহা চরিত্র কিছুটা ভিন্ন ধরনের মনে হয়েছে। পরিচালক ফজলুল সেলিমও চেষ্টা করেছেন, এই চরিত্র এমনভাবে তুলে ধরার, যার কাজকর্ম দর্শকের কাছে অতিরঞ্জিত মনে না হয়। বেকার ছেলের সঙ্গে এক তরুণীর বিয়ে নিয়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা নিয়েই মূলত নাটকের গল্প। যা দেখে দর্শক মজা পাবেন বলে আমার ধারণা। অনেকের অভিযোগ- অভিনয় জগৎ থেকে প্রায়ই উধাও হয়ে যান। মাঝেও বেশ কিছুদিন নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন। হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া এবং পুনরায় অভিনয়ে ফিরে আসার পেছনে কি বিশেষ কোনো কারণ রয়েছে? অনেকের মতো আমারও অভিনয়ের বাইরে আলাদা এক জীবন রয়েছে। আছে পরিবার ও সন্তান। তাদের জন্যও তো কিছুটা সময় হাতে রাখা উচিত। এটাই আমার পিছুটান। তাদের ফেলে রেখে সবসময় কাজে ডুবে থাকতে পারি না। খ্যাতির মোহে আমার মেয়েকে ফেলে একের পর এক কাজ করে যাব- এই মানসিকতা আমার নেই। মেয়েকে সময় দেওয়া ছাড়াও অসুস্থ বাবার পাশে আমাকে থাকতে হয়েছে। এ জন্য মাঝে বেশ কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলাম। এখন সবকিছু গুছিয়ে এনেছি তাই আবার অভিনয়ে সময় দিতে পারছি। বিরতির পর নতুন কী কাজ করলেন? এখন ঈদের নাটকের কাজ নিয়েই ব্যস্ত। এর মধ্যে নির্মাতা তুহিন হোসেনের 'অন্যদিন' ও 'চুল তার কবেকার', মাকসুদুর রহমান বিশালের 'অনুভূতি' নামের নাটকের কাজ শেষ করেছি। আরও বেশক'টি নাটকের শুটিং সিডিউল দেওয়া আছে। একে একে সেগুলোর কাজ শেষ করব। অনেক নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন। কখনও চলচ্চিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা হয়নি? কখনও ইচ্ছা হয়নি কিংবা সিনেমা করব না- এমন কথা বলব না। সিনেমায় কাজ করতেও পারি, যদি প্রবল ইচ্ছা হয়। কিন্তু কখন কার কোন সিনেমা করব সেটা বলতে পারব না। আসলে এই প্রশ্নের উত্তর নিজের কাছেও নেই। এটা সত্যি যে, অনেক নির্মাতা সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। এখনও সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পাই। কিন্তু কেন জানি কাউকে অভিনয় করব- এমন আশ্বাস দিতে পারিনি। এখন ভালো ভালো সিনেমা তৈরি হচ্ছে। তাই উত্তর কোনো এক সময় 'হ্যাঁ' হয়েও যেতে পারে। অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে আলাদা করে কোনো পরিকল্পনা কখনও করিনি। এমন কিছু কাজ করতে চাই, যার মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে অনেকদিন বেঁচে থাকা যায়। এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই।
2
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপি হলেও চিঠি পাঠানো হয়েছে গণফোরামের কার্যালয়ে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে 'শুভেচ্ছা বিনিময় ও চা-চক্রে'র আমন্ত্রণ এটি। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) বিকেলে তাদের গণভবনে এ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। এ বিষয়ে গণফোরামের প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক জানান, 'গণভবন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আমন্ত্রণের একটি চিঠি এসেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সব সদস্যের নামে আলাদা আলাদা চিঠি দেওয়া হয়েছে।' শনিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় দাওয়াতকার্ডগুলো মোটরসাইকেলযোগে গণভবনের দুই ব্যক্তি আরামবাগের ইডেন গার্ডেনে গণফোরামের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছে দিয়ে গেছেন। তাদের নাম জিজ্ঞাসা করা হয়নি জানিয়ে পথিক বলেন, গণফোরাম অফিসের স্টাফ হারুন এ চিঠি গ্রহণ করেন। এ সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বরাবর দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২০ মাঘ, ১৪২৫ বিকেল সাড়ে ৩টায় গণভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় ও চা-চক্রে আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।' এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮৮ আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এ নির্বাচনে মাত্র আটটি আসনে জিততে পারে ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনের শুরু থেকেই কারচুপি-জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আসছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচকতার স্বার্থে সব রাজনৈতিক পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানায় জাতিসংঘ।
9
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এক নারী কবিরাজের চিকিৎসায় হাসিনা বেগম নামের এক নারীর সমস্ত মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। এলাকাবাসী ওই নারী কবিরাজ ও তাঁর সহযোগীকে আটক করে পুলিশে হাতে তুলে দেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার দেওয়ানের খামার (লাকী হল পাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নারী কবিরাজ ছকিনা বেগম ও তাঁর সহযোগী জাহানারা বেগম নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে এসেছিলেন বলে জানা যায়। এ দিকে ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে ভূরুঙ্গামারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ভুক্তভোগীর স্বামী রাসেদুন্নবী বুলু জানান, বেশ কিছুদিন যাবৎ তাঁর স্ত্রী অসুখে ভুগছিলেন। নাগেশ্বরী উপজেলার উত্তর ব্যাপারী হাট নামক এলাকা থেকে ছকিনা বেগম নামের এক নারী কবিরাজ প্রতিবেশী আমিনুরের বাড়িতে চিকিৎসা দিতে আসতেন। সোমবার হাসিনা বেগমকে চিকিৎসার জন্য ওই কবিরাজের কাছে নেওয়া হয়। কবিরাজের চিকিৎসায় হাসিনা বেগমের সারা মুখে ফোসকা ওঠে। এ ছাড়া তাঁর শরীরে মারের দাগ পাওয়া গেছে। রোগী সুস্থ না হলে কবিরাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।ভূরুঙ্গামারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসিনা বেগমের মুখমণ্ডলে অধিকাংশই ঝলসে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অ্যাসিড জাতীয় কোনো পদার্থ ছোড়া হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, এলাকাবাসী এক নারী কবিরাজ ও তাঁর সহযোগীকে আটক করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
6
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর ২০ শতাংশের বেশি মার্কিন ধনীর পুরো আয় অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবায় প্রদর্শন করা হয়নি, যা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যতম শীর্ষ এই ধনীদের ১ শতাংশ যে আয়কর ফাঁকি দেন, তার পরিমাণ হিসাব করলে বছরে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৪ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তাঁরা তাদের আয়ের এক-পঞ্চমাংশ ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসকে (আইআরএস) প্রদর্শন করেন না। গবেষকেরা বলেন, যদিও বেতনসহ আয়ের অনেক ধরনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইআরএসে চলে যায় এবং সহজেই নিরীক্ষণ করা যায়। তবে ব্যক্তিগত ব্যবসায়ের লাভ এবং বিনিয়োগ অংশীদারত্বের লাভ নির্ণয় করা বেশ কঠিন। আর এভাবেই চালাকি করেন ধনীরা। গবেষণাটি আইআরএস গবেষক জন গায়টন ও প্যাট্রিক ল্যাঙ্গিয়েইগ এবং তিনজন অধ্যাপক দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। এই অধ্যাপকেরা হলেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের ড্যানিয়েল রেক, কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক রিখ এবং বার্কলেতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাব্রিয়েল জুকম্যান। তাঁরা মনে করছেন মার্কিন ধনীরা কর ফাঁকি দেওয়ার নতুন উপায় খুঁজে বের করেছেন। গবেষকেরা পরামর্শ দেন যে আয়কর ফাঁকি ঠেকাতে আইআরএসকে আরও গভীর নিরীক্ষণ করতে হবে এবং সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুসারে, ২০২০ সালে এই ১ শতাংশের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের পারিবারিক আয় বেড়েছে বছরে ৪৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার, যা তার আগের বছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। গত বছর উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ। ট্রাম্প ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছর মোটেও কোনো আয়কর দেননি। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২ বছরে মাত্র ৭৫০ ডলার ফেডারেল আয়কর দেন তিনি। দুই দশকের বেশি সময়ের ট্যাক্সের বিবরণী থেকে তথ্য নিয়ে এটি ফাঁস করে 'নিউইয়র্ক টাইমস'। ট্রাম্পের মতো অনেক ধনী মার্কিন নাগরিকই কর ফাঁকি দেওয়ার নিত্যনতুন পন্থা নেন। কর ফাঁকি দেওয়া যে দেশটিতে অবৈধ, এতে কোনো বিভ্রান্তি নেই, তবে কর এড়িয়ে যাওয়া সেভাবে অবৈধ নয়, যদিও অনেকেই এটিকে অন্যায্য বলে মনে করেন। আসলে কর এড়াতে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের চেয়ে ধনী করদাতাদের বেশি উপায় থাকে। গবেষকেরা আইআরএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ধনী আমেরিকানরা হলেন অপ্রদর্শিত আয়ের বৃহত্তম উৎস। ন্যাশনাল ট্যাক্স জার্নালে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শীর্ষস্থানীয় আমেরিকান করদাতাদের মধ্যে প্রায় ১ শতাংশের কাছে অপ্রদর্শিত আয়ের ৩৪ শতাংশ রয়েছে। সূত্র: ফরচুন
0
বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে স্টার্টআপ গো জায়ানের নাম। পর্যটকদের অনলাইনভিত্তিক নানা রকম সেবা দেওয়া এই প্রতিষ্ঠান ২৬ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে, দেশীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২২ কোটি ১০ লাখ টাকা। গো জায়ান গতকাল বৃহস্পতিবার বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। তারা বলেছে, গো জায়ানে সিড রাউন্ডে নতুন এই বিনিয়োগের নেতৃত্ব দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েভ মেকার পার্টনার্স। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আছে ১৯৮২ ভেঞ্চারস, ইটারেটিভ ও সেঞ্চুরি ওক ক্যাপিটাল। প্রি সিড রাউন্ডে গো জায়ানে বিনিয়োগ করেছে ব্র্যাক ওসাইরিস ইমপ্যাক্ট ভেঞ্চারস ও ওএস ভেঞ্চার। ২০১৭ সালের ১৪ আগস্ট ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের অনলাইন সেবা দিতে যাত্রা শুরু করে গো জায়ান। তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বুকিংয়ের পাশাপাশি বাসের টিকিট কেনা যায়। এমনকি অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা দেয় গো জায়ান। মাত্র তিনজন কর্মী নিয়ে শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কাজ করেন ৭০ জন। জানতে চাইলে গো জায়ানের প্রতিষ্ঠাতা রিদওয়ান হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, 'বর্তমানে আমরা মাসে ৫ লাখ মানুষকে সেবা দিচ্ছি।' বিদেশি বিনিয়োগের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, 'বর্তমানে মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ ফ্লাইটের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়। আর ১ শতাংশ পর্যটক হোটেল বুকিং করেন অনলাইনে। ফলে সেখানে অনেক সম্ভাবনা আছে। আমরা আমাদের সেবার পরিধি বাড়াতেই বিদেশি বিনিয়োগের অর্থ ব্যয় করব।' সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম সপ্তাহে সাড়ে ৭ কোটি মার্কিন ডলার বা ৬৪০ কোটি টাকার বড় বিনিয়োগ পায় শপআপ। দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্টার্টআপ যাত্রী ১২ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পায়। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই বিনিয়োগ পেয়েছে।
0