text
stringlengths
1
58.1k
label
int64
0
12
'নেন ভাই, নেন, তাড়াতাড়ি শেষ করেন। অনেকদিন পর বাসায় যাব।' অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পঞ্চম তথা শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ন'উইকেট পড়ার পরই এমনই বললেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান। সোমবার ঢাকায় প্রথমে ব্যাট করে আট উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তোলে বাংলাদেশ। সিরিজের ফয়সালা হয়ে গেলেও মর্যাদা রক্ষার জন্য খেলছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই মর্যাদা যে অজিরা রক্ষা করতে পারবেন, তা ভেবে নেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। অস্ট্রেলিয়া ১২০ বলে ১২৩ রান তাড়া করতে নামার পরই সেই ছবিটা পালটে যায়। দ্বিতীয় ওভারেই অজিদের ধাক্কা দেয় বাংলাদেশ। খবর হিন্দুস্তান টাইমস। তারপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। বরং ৮.৪ ওভারে তিন উইকেটে ৪৮ রান থেকে ১৩.৪ ওভারে ৬২ রানেই অল-আউট হয়ে যান ম্যাথু ওয়েডরা। চার উইকেট নেন শাকিব-আল-হাসান। তার ফলে ৪-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতে যায় বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জার মুখেও পড়তে হয় অস্ট্রেলিয়াকে। তারইমধ্যে ১৪ তম ওভারের প্রথম বলে নাথান এলিসকে আউট করেন বাংলাদেশের তারকা অল-রাউন্ডার শাকিব। তারপর ক্রিজে আসেন অ্যাডাম জাম্পা। তিনি ক্রিজে আসতেই শাকিবকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশি উইকেটরক্ষক বলেন, 'নেন ভাই, নেন, তাড়াতাড়ি শেষ করেন। অনেকদিন পর বাসায় যাব।' নুরুলের সেই ইচ্ছাপূরণ করতে অবশ্য বেশি সময় নেননি শাকিব। ১৪ তম ওভারে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বলে দু'রান করে নেন জাম্পা। চতুর্থ বলে শাকিবের লেংথ বলে ড্রাইভ মারতে যান অজি বোলার। কিন্তু তা শর্ট কভারের বেশি যেতে পারেনি। সহজ ক্যাচ ধরেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ।
12
মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন রিয়া চক্রবর্তী। কিন্তু সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনা ক্রমশ জটিল হচ্ছে। প্রথম থেকে জানা যাচ্ছিল অভিনেতা আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে এই দাবি মানতে রাজি হননি অনেকেই। এই মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি খুন তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তদন্তকারী সংস্থাগুলো সম্প্রতি এমন কিছু তথ্যের সম্মুখীন হয়েছে, যা থেকে খুনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। সিবিআই সূত্রে গেছে, মৃত্যুর আগের দিন সুশান্তের মোবাইল ফোন যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তা বেশ সন্দেহজনক। কিছু অস্বাভাবিকতা তার মধ্যে দেখা গিয়েছে। খবর টাইমস নাও- এর। প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, তদন্তকারী সংস্থা একটি বিষয়ের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে। সুশান্তের রাঁধুনি নীরজ জানিয়েছেন- মৃত্যুর দিন সকালে এক গ্লাস জুস খেয়ে ছিলেন অভিনেতা। কিন্তু কেন, এই নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে তার ব্লাডার খালি ছিল। দীপেশ সাওয়ান্ট জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিনি দরজায় নক করছিলেন। এছাড়াও আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, সুশান্তের একটি দামি ঘড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। ঘড়িটির দাম ছিল ১৪ লাখ টাকা। সেটি তার ঘরের ড্রয়ারে ছিল। প্রশ্ন উঠছে, মৃত্যুর দিন সুশান্তের বাড়িতে পৌঁছলে কেন পরিবারের সদস্যদের হাতে বাড়ির চাবি দেওয়া হয়নি। জানা যাচ্ছে, সুশান্তের বাড়ির লোকজন যখন এই দুর্ঘটনার খবর শুনে অভিনেতার বাড়িতে পৌঁছে তখন তারা দেখেন সুশান্তের বাড়ির অন্যান্যরা কেউ রান্না করছে, আবার কেউ খেতে বসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে তারা নাকি বেশ অবাক হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। বিডি প্রতিদিন/কালাম
2
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে লাগেজ পার্টির বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কাপড় ও প্রাণীজ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৪ ভারতীয় নাগরিক ও ৪ জন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কাস্টমস অতিক্রম চলে যাওয়ার সময় শুল্ক গোয়েন্দা ও বিজিবির নজরদারিতে এসব সামগ্রী ধরা পরে। জব্দকৃত কাপড় ও ওষুধের বাজার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা বলে কাস্টমসকর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগরতলা-আখাউড়া ইমিগ্রেশন হয়ে ৪ ভারতীয় নাগরিক ও ৪ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় তাদের সাথে বড় বড় ১৮টি লাগেজ ছিল। ওই যাত্রীদের মধ্যে ২ ভারতীয় নাগরিক কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় শুল্ক গোয়েন্দা মোস্তাক আহমেদ বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আটক করে। পরে কাস্টমস অফিসে নিয়ে গিয়ে তাদের লাগেজ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট ও প্যান্ট পায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস ধরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে কিছু ভারতীয় এবং বাংলাদেশি নাগরিক ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ কাপড় বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। পরে বন্দর সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ম্যানেজ করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কাপড়গুলো নিয়ে যায়। অনেক সময় কাস্টমসে প্রবেশ না করে চোরাই পথে চলে যায়। এসব কাপড় ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। স্থানীয় কিছু লাগেজ পার্টি এদের সাথে জড়িত বলে জানা যায়। এরাই ভারতীয় নাগরিক দিয়ে ভারত থেকে কাপড় আনছে। আখাউড়া কাস্টমস স্থল শুল্ক রাজস্ব কর্মকর্তা শাহ নোমান সিদ্দিকী বলেন, জব্দকৃত মালামালের বাজার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। কাপড়গুলো তালিকা করে গুদামে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ট্যাক্স পরিশোধ করে কাপড়গুলো নিতে পারবে। প্রাণী ওষুধগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সংগ্রহ সাপেক্ষে নিতে পারবে, অন্যথায় শুল্ক গুদামে পাঠিয়ে দেব। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
অবৈধভাবে মোংলা বন্দরে পণ্য পরিবহন করায় "এম বি জামাল" নামে একটি বাল্কহেড (বালু টানার ছোট নৌযান) জব্দ করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার ও কঞ্জারভেন্সি বিভাগ গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পশুর নদী থেকে এই নৌযানটিকে জব্দ করে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাল্কহেডটি ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বহন করছিল বলেও জানান তিনি।মোংলা বন্দরে বাল্কহেডে করে যেকোনো পণ্য পরিবহন নিষিদ্ধ। এই নিয়ম অমান্য করে পণ্য পরিবহন করা বাল্কহেডের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। জব্দ বাল্কহেডটি বন্দরের হারবাড়িয়া-৭ এ অবস্থানরত ভিয়েতনাম পতাকাবাহী "এম ভি কনভিং ৮৯" জাহাজ থেকে ইউরিয়া সার বোঝাই করেছে বলে হারবার বিভাগ জানায়।বাল্কহেডটি এখন বন্দরের ৬ নম্বর জেটিতে রাখা হয়েছে। এটির মালিক ঢাকার আশুগঞ্জের মো. জামাল উদ্দিন। বাল্কহেডটিতে ছয়জন কর্মচারী রয়েছে বলে জানা গেছে।হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন জানান, অবৈধভাবে পণ্য পরিবহন করায় বাল্কহেডটির বিরুদ্ধে বন্দরের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গত ১৬ নভেম্বর মোংলা বন্দরে অবৈধভাবে কয়লা পরিবহনের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পশুর নদীতে ডুবে যায় ফারদিন-১ নামে একটি বাল্কহেড। সেসময় বাল্কহেডে থাকা পাঁচ নাবিক মারা যান।
6
ব্যথা, বেদনাবিহীন অনায়াস মৃত্যু। সময় লাগবে এক মিনিটেরও কম। এমনই এক যন্ত্রের আইনি স্বীকৃতি দিল সুইজারল্যান্ড। কফিন আকৃতির ওই যন্ত্রে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কমিয়ে এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে মৃত্যু ডেকে আনা হয়। যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছে 'সারকো'। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'এগজিট ইন্টারন্যাশনাল' এই যন্ত্রটি তৈরি করেছে। সংস্থার অধিকর্তা ফিলিপ নিটশে, যিনি 'ডক্টর ডেথ' হিসেবেও পরিচিত, রয়েছেন এই যন্ত্রের উদ্ভাবনের নেপথ্যে। কী ভাবে কাজ করবে যন্ত্রটি? সংস্থার দাবি, বাইরে থেকে যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি ভিতর থেকেও তা চালু করা যাবে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। অর্থাৎ মৃত্যুর প্রত্যাশায় যে ব্যক্তি ওই যন্ত্রের ভিতর ঢুকবেন, তিনি নিজেও যন্ত্রটি চালাতে পারবেন। এখানেই রয়েছে মূল সমস্যা। মরণেচ্ছু ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়, এই পরিস্থিতিতে তারা অচেতন হয়ে পড়েন। পেশিশক্তি ব্যবহার করে কোনও কাজ করার মতো পরিস্থিতি তাঁদের বেশির ভাগের থাকে না। এই যন্ত্রে তারও সমাধান করা গিয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির। 'এগজিট ইন্টারন্যাশনাল'-এর দাবি, ওই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে শুধুমাত্র চোখের পাতার নড়াচাড়া আঁচ করেই যন্ত্র সঙ্কেত গ্রহণ করতে পারবে। এমনই দাবি ব্রিটেনের একটি দৈনিক সংবাদপত্রের। সংস্থা জানিয়েছে, আপনার যেখানে প্রয়োজন সেখানেই নিয়ে যাওয়া যাবে সারকোকে। মূল মেশিন থেকে সারকোকে আলাদা করলে তা দেখতে হবে অনেকটা কফিনের মতো। সেই কফিনে এক বার শুয়ে পড়লেই সব শেষ! বিশেষ ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডে আত্মহত্যায় সহায়তা প্রদান করা আইনি ভাবে বৈধ। সূত্রের খবর, গত বছর অন্তত ১,৩০০ মানুষ এই প্রক্রিয়ার সাহায্য নিয়েছেন। সংস্থার দাবি, এ বার আইনি বৈধতা পেল আত্মহত্যা করার যন্ত্র 'সারকো'। 'ডক্টর ডেথ' চিকিৎসক ফিলিপ বলছেন, ''আগামী বছরের মধ্যে সারকো ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যাবে সুইজারল্যান্ডে। এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পে বহু অর্থব্যয় হয়েছে। কিন্তু আমাদের আশা, আমরা প্রয়োগের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি।'' তবে যন্ত্র নিয়ে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। অনেকে বলছেন যে, এই যন্ত্রটি আসলে গ্যাস চেম্বারকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেকের মতে, এই যন্ত্রের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যাকে সব ক্ষেত্রে মান্যতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত দু'টি এমন সারকো যন্ত্র তৈরি হয়ে রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে আরও একটি যন্ত্রের থ্রি-ডি প্রিন্টিং শুরু করেছে এগজিট ইন্টারন্যাশনাল। আগামী বছর থেকে সুইৎজারল্যান্ডে এই পরিষেবা দেওয়া শুরু করাই লক্ষ্য সংস্থার। যদিও তাতে বিতর্কের ঢেউ থামছে না।
3
বুলেট উপেক্ষা করে দলের নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয়তাবাদী প্রত্যাগত প্রবাসী দল এ সভার আয়োজন করে। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, 'নেতাকর্মীরা একবার সাহস করে রাস্তায় নামলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে লাখো মানুষের ঢল নামবে। ফলে সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হবে। সেমিনার, সভা-সমাবেশ করে কোনো লাভ হবে না। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই সরকারকে বিদায় করার একমাত্র পথ।' খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তারা ভুল করেছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। সারাদেশে দলের ৫০ লাখ নেতাকর্মী সরকারের জুলুমের শিকার দাবি করে খন্দকার মাহবুব বলেন, 'মিথ্যা মামলায় তারা দিনের পর দিন আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। নেতাকর্মীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এ অবস্থায় দেশ চলতে পারে না।' আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এসএম সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এম তরিকুল ইসলাম তারেকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান, এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
9
শ্রীলঙ্কান বোর্ডের প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো, নিজের পারিশ্রমিক প্রায় ৫০ হাজার ডলার কমে যাওয়া ও সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রতি বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। এ অভিমানে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান তিনি। এবার তার অভিমানের বরফ গলেছে। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফেরার ইচ্ছা জানিয়ে বোর্ডের কাছে মেইল করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে একটি বৈঠক শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। বৈঠক শেষে তারা জানায়, আসন্ন সূচিতে তাকে দলে দেখা যাবে। গত এপ্রিলে দেশের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর থেকে আর কোন ধরনের ক্রিকেটই খেলেননি ম্যাথুজ। এই সময়টায় তার অবসরের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছিল। তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ থিসারা পেরেরা তো অবসর নিয়েই নেন।
12
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক এবং দুই টাকার কয়েন কেউ নিতে চাচ্ছে না। ক্রেতা-বিক্রেতা কারও এই কয়েনের প্রতি আগ্রহ নেই। এসব কয়েন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার সব পর্যায়ের মানুষ।সরকারি নিয়মে লেনদেন বা কেনাকাটায় কাগজের নোটের পাশাপাশি বাজারে প্রচলিত যে কোনো মূল্যমানের কয়েন যে কেউ নিতে বাধ্য। কিন্তু আলমডাঙ্গা উপজেলায় লেনদেনের সময় এক ও দুই টাকার কয়েন নিতে অনীহা দেখাচ্ছে সবাই। সহজে কেউই নিতে চাচ্ছে না। এ কারণে ব্যবসায়ীদের কাছে পড়ে আছে হাজার হাজার টাকার কয়েন।রিকশা, ভ্যান, বাসভাড়া বা মুদি দোকানদারেরাও কেনাকাটায় কয়েন নিতে অনাগ্রহী। এক টাকা মূল্যের কোনো পণ্য কিনে পাঁচ টাকার কয়েন বা নোট দিলে দোকানিরা ভাংতি নেই বলে এক টাকা ফেরত দেন না। আবার অনেক সময় এক টাকার বদলে ধরিয়ে দেওয়া হয় একটি চকলেট। এমনকি ফকিরও দুই-এক টাকার কয়েন নিতে চায় না। অনেক দোকানদার আবার ফেরত না দিয়ে ভাংতি নেই বলে নিজের কাছে রেখে দেন।কয়েনের ব্যাপারে আলমডাঙ্গা সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক মো. আসাদুল হক বলেন, 'পকেটে বা টাকা রাখার ব্যাগে কয়েন রাখতে সমস্যা হয়। হাঁটলে খচর-মচর খচর-মচর শব্দ হয় যা বিরক্তিকর।'এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. ওয়াদুদ আলী বলেন, 'সরকারের পক্ষ থেকে এক টাকা বা দুই টাকার কয়েন চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে প্রচুর পরিমাণ কয়েন পড়ে আছে অলস টাকা হিসেবে। এতে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে।'এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রনি আলম নুর বলেন, 'সরকার থেকে কোনো নিষেধ নাই। এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'
6
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়িজ প্রদেশে বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় কমপক্ষে সাত হুথি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সামরিক সূত্র জানায়, তায়িজ প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের এক স্থাপনায় জোটের বিমান হামলা চলাকালে এসব বিদ্রোহী নিহত হয়। গত কয়েকদিন ধরেই তায়িজের গ্রামাঞ্চলে সরকারপন্থী ইয়েমেনি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সশস্ত্র সংঘাত ঘটতে দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় ২০১৪ সালের শেষের দিক থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সরকার বাধ্য হয়ে রাজধানী সানার বাইরে চলে যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হাদির সরকারের সমর্থনে ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেন সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে। বিডি প্রতিদিন/কালাম
3
ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয়া ও ইরাকের এলাকাগুলো আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পুরোপুরি মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, আগামী সপ্তাহের যেকোন সময় এই ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত না রাখলে আইএস জঙ্গিরা আবারও সংগঠিত হয়ে ফিরে আসতে পারে। তাদের এই সতর্কবার্তার মধ্যেই ট্রাম্পের এমন বক্তব্য এলো। মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আইএস 'পরাজিত হয়েছে'। তখন ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের এক মাসের মধ্যে ফিরিয়ে নিতে চান বলে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ নিয়ে সেসময় নিজ দল রিপাবলিকান পার্টি এবং মিত্র দেশগুলোর সমালোচনার মুখে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
3
বলিউডের যে সুপারস্টাররা নানা দেশপ্রেমমূলক ছবি করেছেন, তাদেরই অন্যতম আমির খান - যার ঝুলিতে আছে 'সরফরোশ', 'মঙ্গল পান্ডে', 'লগান' বা 'রং দে বাসন্তী'-র মতো এই ঘরানার অজস্র জনপ্রিয় মুভি। কিন্তু সেই আমির খানের 'অপরাধ' হলো তুরস্কে শ্যুটিং করতে গিয়ে তিনি সে দেশের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ানের সঙ্গে দেখা করেছেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবসে (১৫ আগস্ট) সেই ছবি নিজেই টুইট করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী, জানিয়েছেন বিখ্যাত এই ভারতীয় অভিনেতার সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি কতটা আনন্দিত। আরএসএস মুখপত্র পাঞ্চজন্য তাদের সাম্প্রতিকতম সংখ্যায় আমির খানকে নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছে, যার শিরোনাম হলো 'ড্রাগন-কা প্যায়ারা খান', অর্থাৎ চীনের প্রিয় খান। সেখানে লেখা হয়েছে, "একদিকে যখন অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগন, কঙ্গনা রানাওয়াতের মতো অভিনেতারা একের পর জাতীয়তাবাদী ছবিতে অভিনয় করে নিজেদের দেশপ্রেমের পরিচয় দিচ্ছেন - তখন আমির খান ভারতের শত্রু দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করার মধ্যে কোনও অন্যায় দেখেন না!" তুরস্ক যে তাদের কাশ্মীর নীতিতে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের অবস্থানকেই সমর্থন করে, সে কথাও মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে নিবন্ধে। এছাড়া আমির খান যে চীনা মোবাইল কোম্পানি ভিভো-র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবেও ভারতে বহুদিন ধরে বিজ্ঞাপন করে আসছেন, উল্লেখ করা হয়েছে সে কথাও। সোজা কথায়, আমির খান যে 'পয়সার জন্য' চীন বা তুরস্কর মতো ভারতের শত্রু দেশগুলোর সাথে হাত মেলাতেও দ্বিধা করেন না, আরএসএস সম্পাদকীয় সরাসরি তার বিরুদ্ধে সেই অভিযোগই এনেছে। এর ক'দিন আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও আমির খানকে ইঙ্গিত করে বলেছিল, "দেশের কয়েকজন ব্যক্তি ও তারকার ভারত-বিরোধী শক্তিগুলোর প্রতি প্রেম ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে আমরা লক্ষ্য করছি।" বছরকয়েক আগে আমির খান এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার স্ত্রী কিরণ রাও ভারতে থাকতে আতঙ্কিত বোধ করেন কারণ এ দেশে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সেই বিতর্কিত সাক্ষাৎকারের পরও আমির খানকে ভারত-ছাড়া করার দাবি তুলেছিল বিভিন্ন সংগঠন। পাঞ্চজন্যর সম্পাদক হিতেশ শঙ্কর 'দ্য প্রিন্ট' নিউজ পোর্টালকে বলেছেন, "যে কোনও কারণেই হোক আমির খান কিন্তু চীনা কমিউনিস্ট পার্টির খুব প্রিয় - তারা স্পষ্টতই আমির খানের মুভিকে প্রোমোট করে।" "নিবন্ধে সে কারণেই মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, "সালমান খানের 'সুলতান' চীনে তেমন না-চললেও আমির খানের 'দঙ্গল' কিন্তু সে দেশে রমরম করে চলেছে ও সুপারহিট হয়েছে।" আমির খান ও তার শ্যুটিং টিম এখন তুরস্কেরই নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে তার নির্মীয়মান ছবি 'লাল সিং চাড্ডা'র শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত - তার বা তার সংস্থার পক্ষ থেকে এই সব অভিযোগের ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি। আরএসএসের দাবি, আমির খানের এখনই সেই শ্যুটিং বন্ধ করে দেশে ফিরে আসা উচিত - নইলে তারা ধরেই নেবে "দেশের মানুষের ভাবাবেগকে আমির খান দুপয়সাও দাম দেন না!" সূত্র : বিবিসি বাংলা বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
2
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, করোনাভাইরাসের পাশাপাশি ক্ষুধা মোকাবিলায় সাধ্যমত সবকিছু করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সারাবিশ্ব এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেসব সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে তা মোকাবিলা করছেন, বিশ্বের অন্য কোনো দেশ তা এখনো করতে পারেনি। রবিবার নিজ নির্বাচনী এলাকার নাজিরপুরে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দ্বিতীয় পর্যায় ১৫ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ অনুষ্ঠান উদ্বোধনের সময় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদারও বক্তব্য রাখেন। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন
9
ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।সোমবার দুপুর ১২টায় সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলেরোববার বিকেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় বলা হয়। সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা সমকালকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডাকসুর ভিপি নুর ও তার সহযোদ্ধাদের হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে সোমবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে অংশ নিতে দেশের সব শিক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান জানাই। এর আগে রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ভিপি নুর ও তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে নুরসহ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্তত ২৪ জন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় ভাংচুর করা হয় ভিপির কক্ষের কম্পিউটার, চেয়ারসহ আসবাবপত্র। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে রাজু ভাষ্কর্যে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে ডাকসু ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যায়। একপর্যায়ে সেখানে ভিপি নুরসহ তার অনুসারীদের সঙ্গে মঞ্চের নেতাকর্মীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে মঞ্চের কিছু নেতাকর্মী নুরদের উদ্দেশে ডাকসু ভবনের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। মঞ্চের কিছু নেতাকর্মী ডাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপরে উঠতে চাইলে নুরের অনুসারীরা ডাকসু ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন ডাকসু ভবনের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের কিছু অনুসারীও ঢুকে পড়েন ডাকসুতে। সনজিত-সাদ্দাম ভিপি নুরের কক্ষে গিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগতদের বের করে দেয়ার নির্দেশনা দেন। কিন্তু এতে ভিপি আপত্তি জানালে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এ সময় ছাত্রলীগের অন্য নেতাকর্মীরা ভিপি নুরের কক্ষে থাকা তার সংগঠন 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের' নেতাকর্মীদের এক এক করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। সিঁড়িতে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা তখন তাদের লাঠিপেটা করেন। এক পর্যায়ে সনজিত ও সাদ্দাম ভিপির কক্ষ থেকে বের হয়ে মধুর ক্যান্টিনের দিকে চলে যান। তারা চলে যাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লাঠিসোঠা নিয়ে ভিপির কক্ষে ঢুকে লাইট বন্ধ করে নুর ও তার অনুসারীদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে নুরসহ আহত হন পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, রাশেদ খানসহ সংগঠনটির ২৪ নেতাকর্মী। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় তাদের বের করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হামলায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। তিনি বলেন, 'ভিপি নুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত ক্যাডারদের নিয়ে এসে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিল। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই খবর শুনে তা প্রতিহত করতে যায়। এখানে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কোন সম্পৃক্ততা নেই।' মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কোন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় তারা সাধারণ শিক্ষার্থী।' ঘটনার পর সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা চাই না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটুক। গত কয়েকদিন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও নুরের সঙ্গে শিবির সংশ্লিষ্টদের ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনা দেখছি। আজকেও ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিন ও ডাকসু ভবনে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান করেছিল। আমরা নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। আমরা দুই পক্ষকেই আহ্বান জানাই তারা যেন নিজেদের ভেতরের সমস্যা সমাধান করে নেয়।' হামলায় ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন তিনি। ঘটনার পর ছাত্রলীগের সনজিতকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হামলার বিষয়ে নুরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, 'ছাত্রলীগের নেতৃত্বে প্রশাসনের প্রশ্রয়ে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন, মশিউর রহমানসহ অন্তত ৪০ জনের ওপর হামলা হয়েছে। কারও পা ভেঙ্গে গেছে, নাক মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে, বমি করছে, বুকের হাড় ভেঙ্গে গেছে। অনেকে আইসিইউতে রয়েছে। অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়ে আমরা আশঙ্কা করছি।' এদিকে ঘটনার পর ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, 'নুর নিজের দুর্নীতি ঢাকতে বহিরাগতদের নিয়ে ডাকসুকে ব্যবহার করে অরাজকতা করছেন। সে সকাল থেকে বহিরাগতদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকসুতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন।' বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, 'নুরসহ আহতদের ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে পাঠিয়েছি। সেখানে সহকারী প্রক্টররা আছেন। আগে চিকিৎসা হোক, পরে সবার বক্তব্য শুনে তারপর ব্যবস্থা নিব।' এদিকে নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিকেলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, ইশা ছাত্র আন্দোলন। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন।
9
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১০ অনুষদের ডিন নির্বাচন চলছে বৃহস্পতিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এই লক্ষ্যে সকাল ৯টা থেকেই ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে কলা ও বিজ্ঞান অনুষদ এবং ২য় তলায় বাকি অনুষদগুলোর জন্য ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নীল দল ও বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সাদা দল। সাদা দলের প্রার্থী হিসেবে এবার কলা অনুষদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছিদ্দিকুর রহমান খান, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইমরান কাইয়ুম, জীব বিজ্ঞান অনুষদে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসাইন খান, চারুকলা অনুষদে গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. ইসরাফিল রতন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম আমান উল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তবে আইন অনুষদ, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রণমেন্টাল সায়েন্সস অনুষদ এবং ফার্মেসি অনুষদে সাদা দল প্রার্থী দিতে পারেনি। এদিকে নীল দলের পক্ষে মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন- কলা অনুষদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে অর্গানাইজেশন স্ট্রাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল মঈন, বিজ্ঞান অনুষদে ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক আব্দুস ছামাদ, আইন অনুষদে অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ, ফার্মেসি অনুষদে সীতেশ চন্দ্র বাছার, জীব বিজ্ঞান অনুষদে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম মাহবুব হাসান, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু, চারুকলা অনুষদে অংকন ও চিত্রায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নিসার হোসেন এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
1
এমন এক উৎসব হোলি, যে উৎসব কোনো রং মানে না। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট যখন জ্বলছে ধর্মীয় বিবাদে, তখন এই উৎসব যে কতটা 'রঙিন' হলো সে বিষয়ে আপনার মতো আমিও খানিক সন্দিহান। হোলি তো নেহাতই ধর্মীয় উৎসব নয়, এত মিলনের উৎসব। সম্প্রীতির উৎসব। যা কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পড়ে না। এই উৎসব তো ন্যায়ের জয় অন্যায়ের ওপর। হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে এই উৎসব। সম্ভবত যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও আগে থেকে এই উৎসব আমাদের দেশে প্রচলিত- এ রকম তথ্য পাওয়া যায়।যাই হোক, তথ্য নিয়ে তত্ত্বকথা লেখার উদ্দেশ্য শ্রীলেখার নয়। তদুপরি জ্ঞান দেয়ারও ইচ্ছে আমার নেই। তবু মনে হয় চলুন না একবার ফিরে যাই ছোটবেলার দিনগুলোতে। যখন পাড়ার সোমা, রাজু, সুবীর, মিমিদের সঙ্গে পিচকিরিতে রঙিন জল গুলে অপেক্ষা করতাম বাড়ির ছাদে বা রাস্তার কোনো গলিতে যে, কখন পরিষ্কার জামা-কাপড় পরা কারোকে দেখে একদম পারফেক্ট এইম করে পিচকিরির জল বা বেলুনটা ছুড়ে মারতে পারব। ঠিক 'মারব' না এ ক্ষেত্রে, যাকে রাঙিয়ে দেব আমার রঙে সে জুলিয়া নাকি জুবেদা, জোসেফ নাকি জসপ্রীত, সেটা নেহাতই গৌণ, আনন্দটাই মুখ্য। উৎসবটাই যেখানে উদ্দেশ্য, ধর্ম বিধেয়, সেখানে ধর্ম বিধেয় হয়েই থাকুক না আমার আপনার আমাদের সেকুলার ভারতবর্ষে।
2
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মার ভাঙনে৪ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, ঝুঁকিতে পড়েছে ফেরিঘাট। ভাঙনের কবলে রয়েছে বসতবাড়ীসহ আরও নানা স্থাপনা। সোমবার ফেরিঘাটের সিদ্দিক কাজী পাড়া এলাকায় এ ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনের কবলে পড়া মসজিদসহ অন্তত ৫টি বসতবাড়ী নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ওই এলাকার অর্ধশত স্থাপনা। হুমকিতে রয়েছে লঞ্চ এবং ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাটসহ দুই শতাধিক বাড়ী। ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। কাজের গতি কম বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এদিকে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, গোয়ালন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোস্তফা মুন্সি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল হক খান মামুন, দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রহমান মন্ডলসহ আরও অনেকে। দৌলতদিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম আশরাফ জানান, সোমবার সকাল থেকে ৪ নম্বর ঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বহু বাড়ী সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ-র উপসহকারী প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বলেন, ভাঙন রোধে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, ঘাট এলাকায় স্থায়ী কাজ করা হবে। ভাঙন রোধে বিআইডব্লিউটিএ বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করেছে। কাজের গতি বাড়াতে বিআইডব্লিউটিএকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে শুকনো খাবার দেয়া হবে।
6
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটি আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) করোনা ভাইরাসজনিত মহাবিপর্যয় রোধে পার্টি সদস্য, সমর্থকদের জরুরি নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, আমরা না চাইলেও শত সতর্কতার মধ্যেও যেকোন সময় করোনা ভাইরাস সংক্রমন সারাদেশে ব্যাপক ভিত্তিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মহাবিপর্যয়কালে জেলা কমিটিসমূহকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করতে নিম্নলিখিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় কন্ট্রোল রুম প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জেলাবাসীর কাছে কন্ট্রোল রুমের ঠিকানা প্রচার করতে হবে। যাতে প্রয়োজনে তারা সিপিবি'র সহযোগিতা নিতে পারে। পার্টি কর্মী, জনগণের মধ্য থেকে স্বাস্থ্য কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বাছাই করে তালিকা বানিয়ে রাখতে হবে। প্রয়োজনে তারা যেন কাজে ঝাপিয়ে পড়তে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে তাদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আপদকালীন সময়ে ব্যয় নির্বাহের জন্য পার্টি কর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও জনগণের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের কাজ জারি রাখতে হবে। পার্টির লিফলেট নিয়ে শ্রমজীবীদের বস্তি ও নিম্নআয়ের মানুষের আবাসিক এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা জারি রাখতে হবে। ছাত্র ইউনিয়ন-যুব ইউনিয়ন-উদীচী কর্তৃক পরিচালিত হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রকল্পসমূহ চালু রাখতে হবে এবং গরিব মানুষের কাছে বিতরণের কাজ জারি রাখতে হবে। পার্টির ৬৫ বছরোর্ধ্ব কমরেডদের প্রতি পার্টি কমিটি থেকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের বাসায় অবস্থান ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পালনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
6
কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে কংগ্রেস কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। রবিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুবলীগ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এই বৈঠকে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তও হয়েছে। যুবলীগের আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে বয়সসীমা ৫৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি ওষুধ মজুত করে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে র্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে শিবগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মরদানা গ্রাম থেকে ৫ হাজার ৯৪৪টি সরকারি বিভিন্ন ট্যাবলেটসহ তাঁকে আটক করা হয়।আজ শুক্রবার আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। র্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।আটক জারজিস আলম টুটুল (৩৬) চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মরদানা গ্রামের মো. ইউসুফ আলীর ছেলে।র্যাব বলছে, সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মরদানা গ্রামে জারজিস আল আলম টুটুলের বাড়ির সামনে থেকে এসব সরকারি ওষুধসহ হাতেনাতে তাঁকে আটক করে।র্যাব আরও জানায়, আটক ব্যক্তি একটি সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে সরকারি বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুত রেখে দরিদ্র লোকদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করতেন বলে র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি। এই সিন্ডিকেট চক্র হাসপাতাল বা ফার্মেসিতে যেতে বাধা প্রদানের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে চড়া মূল্যে ওষুধ কিনতে বাধ্য করে।এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় র্যাব।এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরী জোবায়ের আহম্মেদ বলেন, আটক ব্যক্তিকে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
6
ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকাল থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অবস্থানের কারণে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করে ছাত্রদলের ডজনখানেক নেতা-কর্মী আজকের পত্রিকাকে এ অভিযোগ জানিয়েছেন।তাঁরা বলেন, 'এখন বিভিন্ন বিভাগে আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা চলছে। ছাত্রলীগের অনেকেই আমাদের চেনে, তাই আমরা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে শঙ্কায় আছি।'নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করে এক ছাত্রদল কর্মী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমাদের ক্লাস চলছে। এক সপ্তাহ ধরে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। আগামী সপ্তাহে আমার সপ্তম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারব কি না, তা এখনো বুঝতে পারছি না।'নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের আরেক কর্মী বলেন, 'প্রতিদিন ছাত্রলীগ যদি এভাবে অবস্থান করে, তাহলে আগামী সপ্তাহ থেকে পরীক্ষা দেব কীভাবে? ক্যাম্পাসে এখন একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।'ফুয়াদ নামের এক সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন, 'আমি কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না। ক্যাম্পাসে আসতে আমার ভয় কাজ করে। পরিবারের লোকজন আমাকে নিয়ে খুব চিন্তিত।'এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকতার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ছাত্রলীগ যেভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে, তাতে শুধু ছাত্রদল নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কে আছে। তারা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এ দায় সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।' বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগকে আশকারা দিয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আকতার হোসেন।এদিকে প্রতিদিন সকাল থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগের অবস্থানের কারণে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অনেকেই সাময়িকভাবে অথবা স্থায়ীভাবে হল ছাড়ছেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার ক্লাস চলাকালে ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে যাওয়া লাগে। প্রতিদিন সকালে ৮টা থেকে প্রোগ্রাম শুরু। টানা চার দিন প্রোগ্রাম করার কারণে আমি ক্লান্ত শরীর নিয়ে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হলে থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। আমি আপাতত আজিমপুরের একটি মেসে উঠেছি।'সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীর অধিকার। কোনো শিক্ষার্থী লিখিতভাবে আমাদের কাছে অভিযোগ জানালে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করব।' তবে কোনো শিক্ষার্থীর হল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ তাঁর কাছে নেই বলে জানান প্রক্টর।
1
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে গাছের সঙ্গে মোটারসাইকেলের ধাক্কায় শামসুজ্জামান দিপু (২১) নামের এক মেডিকেল ছাত্র নিহত হয়েছেন। দিপু উপজেলার দখলপুর গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস-এর ছাত্র। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সাধুহাটি তৈলটুপি সড়কের পারদখলপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, দিপু উপজেলা শহর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রাস্তার ওপর হেলেপড়া একটি গাছের সঙ্গে মোটারসাইকেলটির ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জিল্লুর রহমান জানান, হাসপাতালে আনার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে। ওই যুবক মাথায় ও বুকে মারাত্মক আঘাত পেয়েছিলেন। হরিণাকুণ্ডু থানার পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
6
ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক অভিযানের প্রথম দিনটি সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ এ তথ্য জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ হামলায় তাঁর দেশের অন্ত ১৩৭ জন সেনা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩১৬ জন। খবর আল-জাজিরার। ইগর কোনাশেনকভ বলেন, তার দেশের সামরিক বাহিনী ইউক্রেনে হামলার প্রথম দিনটির জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল সেটি তারা অর্জন করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম দিন তারা সমতলে থাকা ইউক্রেনের ৮৩টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। হামলার প্রথম দিনই ইউক্রেনের চেরনোবিলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। এদিন বেলারুশ সীমান্ত থেকে চেরনোবিলের নিষিদ্ধ এলাকায় জড়ো হওয়ার পর ইউক্রেনের আরও ভেতরে ঢুকে পড়ে রুশ সেনারা। চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় রাশিয়া। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে সামরিক পথে অগ্রসর না হওয়ার বার্তা দিতেই কেন্দ্রটির দখল নিয়েছে রুশ বাহিনী। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, রুশ হামলার পর ইউক্রেনের প্রায় এক লাখ মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এ দিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, রুশ সেনারা ইতিমধ্যে রাজধানী কিয়েভে প্রবেশ করেছে। তিনি ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি ইউক্রেনকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
3
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কিত্তলী এলাকায় একটি বিদেশি পিস্তল, শুটারগান, ছয়টি গুলিসহ এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজশাহী র্যাব-৫-এর নাটোর ক্যাম্পের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার তরুণের নাম মিজান শেখ (২২)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার প্রসাদপুর বাগদোয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। র্যাবের নাটোর ক্যাম্প (সিপিসি-২) থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে র্যাবের একটি দল নওগাঁর মান্দা উপজেলার কিত্তলী এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সানরিয়া চৌধুরী ও উপ-অধিনায়ক (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) ফরহাদ হোসেন। অভিযানে গিয়ে কিত্তলী গ্রামে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক-সংলগ্ন জ্যোতি কোল্ড স্টোরেজের পাশ থেকে মিজান শেখ নামের সন্দেহভাজন এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাঁর কাছে থাকা একটি শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল, দেশি একটি ওয়ান শুটারগান, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ওই তরুণের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে মান্দা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব দাবি করেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ওই তরুণ একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী। অজ্ঞাত স্থান থেকে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশে তিনি মান্দার কিত্তলী এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
6
অভিনয়ের মাধ্যমে লাখো ভক্তের হদয় জয় করেছেন বলিউডের দাপুটে অভিনেতা ইরফান খান। সম্প্রতি 'নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার' অর্থাৎ ক্যানসার বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। এই খবরে বলিউডে শোকের ছায়া নেমে আসে। ইরফানের ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। চিকিৎসার জন্য তিনি দীর্ঘদিন লন্ডনে ছিলেন। কথা ছিলো দেশে ফিরেই তিনি কাজে মন দিবেন। এবার জানা গেলো, আপাতত আগামী কয়েক বছর অভিনয় করবেন না ইরফান! ডেকান ক্রনিকেল জানায়, গত সপ্তাহে ইরফান খানের শুটিংয়ে ফেরা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। 'হিন্দি মিডিয়াম ২'-এর মাধ্যমে তিনি কাজে মনোনিবেশ করবেন বলে জানা যায়। কিন্তু পরে জানা যায়, ইরফান ওই ছবিতে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। ইরফানের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'ইরফানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে আপাতত কিছুদিন সে কাজে ফিরবে না। খুব কষ্টদায়ক পদ্ধতিতে চিকিৎসা হচ্ছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলেও অন্তত এক বছর তাকে কোন ছবিতে দেখা যাবে না।' তিনি আরও বলেন, 'হিন্দি মিডিয়াম টুতে' তো নয়ই, বরং আগামী ক'বছর অন্য কোনও ছবি করারও প্রশ্ন উঠছে না।' ২০১৭ সালের ১৯ মে মুক্তি পায় 'হিন্দি মিডিয়াম'। সে ছবির সাফল্যের পর সিক্যুয়েল তৈরির সিদ্ধান্ত নেন নির্মাতারা। প্রথমটিতে অভিনয় করেন ইরফান এবং পাক অভিনেত্রী সাবা কামার।পরের ছবিতেও কাজ করার কথা ছিল ইরফানের।
2
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভির আরও ৬ কোটি টিকা কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এসব টিকা দেশে আসবে। দামের বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। তবে আগের নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে টিকা কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি ২৭তম সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সিনোফার্ম থেকে ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) ডোজ টিকা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছি। আমরা হিসাব করে দেখেছি দেশের ১৩ কোটি ৮২ লাখ জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিনেটেড করতে হবে। তার জন্য ২৭ কোটি ৬৫ লাখ টিকা কেনা প্রয়োজন। এর মধ্যে ২ কোটি ৫৫ লাখ টিকা আমাদের হাতে আছে। বাকিটা সংগ্রহ করতে হবে। আজ আমরা ৬ কোটি ডোজ কেনার জন্য অনুমোদন দিলাম। বাকিটা আমরা পর্যায়ক্রমে আনব। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২৭ কোটি ডোজ টিকার দামটা আমাদের কাছে নেই। কারণ বাকিগুলো নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। দাম নির্ধারিত হলে আমরা বলতে পারব। দাম চূড়ান্ত হয়নি, সেজন্য আমরা এখন বলতে পারছি না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, টিকা ক্রয়ের বিষয়ে চীনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মূল্য প্রকাশে বাধা আছে। এটা নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (তথ্য প্রকাশ না করার শর্তে চুক্তি)। সে জন্য মূল্য প্রকাশের তথ্য দেয়া যাবে না। তবে আমরা আশা করি ৬০ মিলিয়ন সিনোফার্মের টিকা পাব। আশা করা যাচ্ছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যে আমরা এ টিকা পাব। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, 'আমরা ১৩ কোটি ৮২ লাখ লোককে টিকা দেব। এর জন্য টিকা লাগবে ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডোজ। এ পর্যন্ত টিকা দেয়া হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ লোককে। বাকি টিকা চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এ টিকা দেয়া হবে। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকা ক্রয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে করোনা প্রতিরোধী টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে টিকা সংগ্রহের একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে সরকার, যা বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। জানা গেছে, আজকের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে ৬০ মিলিয়ন ডোজ টিকা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) চুক্তিপত্রে উল্লিখিত একক মূল্যে কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর আগে সরকার চীনের কাছ থেকে সিনোফার্মের দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনে। তার মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ টিকা ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। এর বাইরে কোভ্যাক্সের আওতায় দেশে আরও ১৭ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা এসেছে। চীন থেকে উপহার হিসেবে বাংলাদেশ পেয়েছে আরও ১১ লাখ ডোজ টিকা।
4
কাজের চাপে ঘরে থাকা হয়নি অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার। দেশ-বিদেশের শুটিং সেট আর চলচ্চিত্র উৎসবে দিনের পর দিন কেটে গেছে তাঁর। এত দিন এতটা নিবিড়ভাবে সংসার করার সুযোগ আসেনি তিশা-ফারুকী দম্পতির, যতটা সুযোগ তাঁরা পেয়েছেন এই লকডাউনে। সাধারণ ছুটিতে গৃহবন্দী হওয়ার পর গত ১০০ দিন যেন নিবিড়ভাবে সংসার করলেন তিশা। লকডাউনে ঘরবন্দী হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও সংসারের প্রতি অনেক মনোযোগ দিতে পেরেছেন তিশা। আগে শুটিংয়ের জন্য সকালে বের হওয়া ও রাতে ফিরে ঘুমাতে যাওয়ার রুটিনে এসেছে বিস্তর পরিবর্তন। এখন বাড়িতে পরিপূর্ণ সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা। তিশা বলেন, 'মায়ের সঙ্গে সময় কাটাইনি বহু বছর। এখন তাঁর সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। স্বাভাবিক সময়ে সকালে মাকে চুমু দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যেতাম। রাতে ফিরে এসে দেখতাম মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। এখন দিনের প্রায় পুরোটা সময় আমি মাকে দিতে পারছি। যে আত্মীয়রা দেশের বাইরে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে আগে খুব কম যোগাযোগ হতো। এখন তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়।' লকডাউনে তিশাদের ঘরবন্দী হওয়ার শততম দিন আজ শুক্রবার। এ নিয়ে মোটেও হতাশ নন তিনি। তিশা জানান, এখনো হাল ছাড়েননি। ছবি আঁকা, নানা রকম জিনিস বানানো, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করা, পড়া, সিনেমা দেখার মতো আনন্দময় কাজগুলো করে চমৎকার কেটে যাচ্ছে তাঁর দিন। তিনি বলেন, 'আমি নিজের মতো করে বাগান করছি, সরয়ারকে নতুন গল্পে সাহায্য করছি। এত দিন আসলে এত চাপ ছিল যে নিজেকেও সময় দেওয়া হয়নি। এই প্রথম মনে হচ্ছে, আমি একজন আদর্শ গৃহিণীর মতো টানা সংসার করছি। এই জীবনটাও আমি ভীষণ উপভোগ করছি।' কোন জীবন বেশি উপভোগ্য? জানতে চাইলে তিশা বলেন, 'আমি দুটি জীবনই দারুণ উপভোগ করছি। শুটিংয়ের সময়টা এক রকম আর এই বাড়িতে থাকা সময়টা আরেক রকম। শিগগির হয়তো শুটিংয়ে ফিরব। শিল্পী হিসেবে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে বুঝতে পারছি যে আমাকে কাজ শুরু করতে হবে। আজীবন আমি ঘরে বসে থাকতে পারব না। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদে শুটিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।' আসছে জুলাই মাসে অভিনেত্রী তিশা ও চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিয়ের এক দশক পূর্ণ হবে। বিয়ের দশকপূর্তি বিশেষভাবে উদ্যাপন করবেন কি না, তা জানতে চাইলে তিশা বলেন, 'এখনো সে রকম কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। আমাদের প্রতিটি দিনই আনন্দে কাটছে।' টেলিভিশন নাটক ছাড়াও চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত 'ডুব' ছবিতে শেষ দেখা গিয়েছিল তিশাকে। সেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন সদ্য প্রয়াত বলিউড তারকা ইরফান খান। এ ছাড়া বাংলাদেশে মুক্তির অপেক্ষায় আছে এই পরিচালকের 'শনিবার বিকেল' ছবিটি। ইতিমধ্যে তিনি শেষ করেছেন নতুন চলচ্চিত্র 'নো ল্যান্ডস ম্যান'। এ ছবিতে যুক্ত হয়েছেন অস্কারজয়ী ভারতীয় সংগীত পরিচালক, সুরকার এ আর রহমান, বলিউড তারকা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিসহ আরও অনেকে।
2
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফের বিপর্যস্ত ভারত। গত এক দিনে দেশটিতে ১ হাজার ৭৬১ জন মারা গেছেন। ভারতে এখন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৫০ জন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ছাড়িয়েছে। রাজধানী দিল্লিতেও এক দিনে রেকর্ড মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রাজ্যটিতে মারা যান ২৪০ জন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গতকাল সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেন ভারতে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যায় ভারত এখন দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। করোনা মহামারির শুরু থেকে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের পরই ব্রাজিলের অবস্থান। এদিকে সংক্রমণ রোধে গতকাল সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, আগামী ১ মে থেকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সব লোককেই টিকা দেওয়া শুরু হবে। যদিও সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকা দিতে গেলে লাগবে বাড়তি ডোজের সরবরাহ। কিন্তু অনেক রাজ্যে টিকা সরবরাহের ঘাটতি দেখা গেছে। ফলে বাড়তি ডোজ কোথা থেকে আসবে, সেটি এখনো অস্পষ্ট। বর্তমানে স্বাস্থ্যকর্মী, সম্মুখসারির অন্যান্য কর্মী এবং ৪৫ বছরের বেশি বয়সী লোকদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক রাজ্যে টিকা সরবরাহের ঘাটতি দেখা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্রও। রাজ্যটিতে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সেখানকার হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহেরও ব্যবস্থা নেই। রাজ্যটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রায় ৫৯ হাজার লোক আক্রান্ত হয়েছেন, মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ। মহারাষ্ট্রে গতকাল মারা যান ৩৫১ জন, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ হাজার ৮২৪ জন।করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লিতে গতকাল সোমবার রাত ১০টা থেকে ছয় দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী শহরটিতে ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লিতে এক দিনে এখন পর্যন্ত এটাই রেকর্ড মৃত্যু। গতকাল নতুন করে ২৩ হাজার ৬৮৬ জন লোক আক্রান্ত হয়েছেন রাজ্যটিতে। কেরালাতে আজ থেকে দুই সপ্তাহের জন্য সন্ধ্যাকালীন কারফিউ জারি হচ্ছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ভারতে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়েছিল রাজ্যটিতে। বিহার, রাজস্থান, তামিলনাড়ু ও মনিপুরে নতুন করে বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। শপিং মল, স্কুল, সিনেমা হল ও ধর্মীয় উপাসনা কেন্দ্রগুলো বিহারে ১৫ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
3
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালি এই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। তবে নয়াদিল্লির তরফে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের ক্ষেত্রগুলিতে তৃতীয় কারও হস্তক্ষেপ মানা হবে না। মার্কিন মুলুকে ক্ষমতা বদলের পরে ট্রাম্প প্রশাসন ভারত সম্পর্কে কী নীতি নিয়ে এগোবে, তা এখনও সাউথ ব্লকের কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া খুবই সতর্ক ভাবে দিয়েছে দিল্লি। গতকাল হ্যালি সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেছিলেন, ''ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে সংঘাতের পরিস্থিতি রয়েছে, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এই সংঘাত কীভাবে কমানো যায়, তা খতিয়ে দেখতে চাইছি আমরা। কিছু ঘটে যাওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত নয়।'' এর সঙ্গেই তার ইঙ্গিত, দু'দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল ওয়াগলের মন্তব্য, ''ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। আমরা আশা করছি, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি পাকিস্তান থেকে সৃষ্টি হওয়া সন্ত্রাস বন্ধের জন্য চাপ দেবে।'' নয়াদিল্লির মতে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদতে সন্ত্রাস বন্ধে যে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ স্বাগত। কিন্তু ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষকে জায়গা দেওয়া হবে না। সূত্র: আনন্দবাজার বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ
3
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম): উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানাকে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে কচাকাটা থানা পুলিশ। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারীবাড়ি গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ মে কেদার ইউনিয়নের সাতানা গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটা নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় সাতানা গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে সবদের আলী (৪০) এবং মৃত করিম মিয়ার স্ত্রী শাহিদা বেগম (৫৫) নিহত হন। ওইদিন শাহিদা বেগমের ভাতিজা আশরাফ আলী বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় ছাত্রলীগ সভাপতি সোহেল রানা অন্যতম আসামি।কাচাকাটা থানার ওসি মাহাবুব আলম জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে খুনের মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
6
দেহরক্ষী বাহিনীর প্রাক্তন উপপ্রধান সুথিদা তিজাইকে বিয়ে করলেন থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালঙ্গকর্ন। এটি তার চতুর্থ বিয়ে। থাইল্যান্ডের রাজপরিবার সূত্রে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে এই ছবি এএফপি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে বসার কথা তার। থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালঙ্গকর্ন তার আগেই চতুর্থ বিয়েটা সেরে ফেললেন। বৃহস্পতিবার রাজপ্রাসাদে এক আদ্যন্ত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে বছর চল্লিশের সুথিদা তিজাইকে বিয়ে করেন ৬৬ বছরের রাজা। থাইল্যান্ডের নতুন রানি এর আগে রাজার দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ২০১৬ সালে মারা যান ভাজিরালঙ্গকর্নের বাবা রাজা ভুমিবল অদুল্যদেজ। প্রায় ৭০ বছর ধরে থাইল্যান্ডের রাজা ছিলেন অদুল্যদেজ। তার মৃত্যুর পরে দীর্ঘদিন ধরে শোকপালন করা হয় গোটা দেশে। ভাজিরলঙ্গকর্ন এত দিন ধরে দেশের সাংবিধানিক রাজার দায়িত্ব পালন করলেও আনুষ্ঠানিক ভাবে তার সিংহাসনে আরোহণ করা হয়নি। শনিবার সেই অনুষ্ঠানই হওয়ার কথা রাজপ্রাসাদে। নববধূকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত থাকবেন তিনি। বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ মতে নানা আচার পালন করার কথা তার। তাই টিভি চ্যানেলে বিয়ের কিছু অনুষ্ঠানের ছবি দেখানো হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে হাল্কা গোলাপি রঙা পা ঢাকা সিল্কের পোশাকে বিয়ের নানা আচার অনুসরণ করছেন নতুন রানি। রাজাকে তিনি ট্রে-তে করে ফুল আর সুগন্ধী ধূপকাঠি উপহার দিচ্ছেন। নতুন রানিকে রাজা রাজপরিবারের নানা ঐতিহ্যশালী জিনিস উপহার দেন। সাদা পোশাক পরা রাজার পাশে এক সময়ে হাসি মুখে বসে থাকতেও দেখা গিয়েছে নতুন রানিকে। রাজার বাহিনীতে যোগ দেয়ার আগে থাই এয়ারওয়েজে বিমানবালার কাজ করতেন রানি সুথিদা। অনেকেই মনে করেন বিমানেই নতুন রানির সঙ্গে প্রথম আলাপ হয়েছিল রাজার। তার পরে প্রেম। এর আগে তিনজন স্ত্রী ছিল থাই রাজার। রয়েছে সাত সন্তানও। শেষ বার ২০১৪ সালে বিচ্ছেদ হয় তার। রাজার সঙ্গে আলাপ ও বন্ধুত্বের পরে বিমানবালার কাজ ছেড়ে দেন সুথিদা। ২০১৩ সালে রাজপরিবারের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। নিরাপত্তা বাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন এত দিন। সেনাবাহিনীর প্রধান রাজা নিজেই। টিভি চ্যানেলে বিয়ের ছবি আর খবর দেখে প্রায় চমকে উঠেছেন দেশের মানুষ। রাজা যে সিংহাসন আরোহণের আগেই বিয়েটা সেরে ফেলবেন, ঘূর্ণাক্ষরেও তা টের পাননি কেউই। তবে চমকে উঠলেও মুখ খুলছেন না কেউ। কারণ থাইল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী, রানির সমালোচনা বা তাকে উদ্দেশ করে অপমানসূচক মন্তব্য করা যায় না। কেউ সেটা করলে শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে তার।
3
'ফিফা বর্ষসেরা' ফুটবলারদের ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ফিফা। শীর্ষ ১০ জনের তালিকায় মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম থাকলেও জায়গা হয়নি নেইমারের। ফিফার অফিসিয়াল টুইটার একাউন্ট থেকে এক টুইটে সেরা ১০ পুরুষ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় স্থান পেয়েছেন- লিওনেল মেসি, রোনালদো, ফ্রাঙ্কি ডি জং, ম্যাথিয়াস ডি লিট, ইডেন হ্যাজার্ড, হ্যারি কেইন, সাদিও মানে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, মোহামেদ সালাহ ও ভার্জিল ভ্যান ডাইক। সেরা নারী ফুটবলারদের তালিকায় আছেন- লুসি ব্রোঞ্জ (ইংল্যান্ড), জুলি এর্তজ (ইউএসএ), ক্যারোলিন গ্রাহাম হানসেন (নরওয়ে), স্যাম কের (অস্ট্রেলিয়া), অ্যালেক্স মরগান (ইউএসএ), এলেন হুয়াইট (ইংল্যান্ড), অ্যাডা হেগেরবার্গ (নরওয়ে), অ্যামান্দাইন হেনরি (ফ্রান্স), রোজ লাভেলে (ইউএসএ), ভিভিয়ানে মিয়েডেমা (নেদারল্যান্ডস), মেগান র্যাপিনোয়ে (ইউএসএ), ওয়েন্দি রেনার্ড (ফ্রান্স)। বর্ষসেরা ১০ কোচের তালিকায় আছেন- জামেল বেলমাদি (আলজেরিয়া), দিদিয়ের দেশম (ফ্রান্স), মার্সেলো গায়ার্দো (রিভার প্লেট), রিকার্দো গারেসা (পেরু), পেপ গার্দিওলা (ম্যানচেস্টার সিটি), ইয়ুর্গেন ক্লপ (লিভারপুল), মাওরিসিও পচেত্তিনো (টটেনহ্যাম), ফের্নান্দো সান্তোস (পর্তুগাল), এরিক টেন হ্যাগ (আয়াক্স) ও তিতে (ব্রাজিল)। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করেছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞদের বিশেষ প্যানেল। এখান থেকে সেরা তিন বেছে নিতে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে এখন থেকেই। ক্রীড়া সাংবাদিক, জাতীয় দলের কোচ এবং অধিনায়কদের পাশাপাশি ভোট দিতে পারবেন সমর্থকরাও। এরপর তিন বর্ষসেরা- সেরা কোচ, সেরা পুরুষ ফুটবলার ও সেরা নারী ফুটবলারের নাম ঘোষণা করা হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।
12
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে খানিকটা। আমরা আরও বিচার চাই। বাইরে থাকা অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হোক। যারা মারা গেছে, যেমন খন্দকার মোশতাক সে তো বেঁচে নেই অথবা জিয়াউর রহমান, ধরে নিই যারা ইনডেমনিটি জারি করেছিলেন তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সে ক্ষেত্রে আমার দাবি তাদের মরণোত্তর বিচার করতে হবে। আমরাতো মরণোত্তর পুরস্কার দিচ্ছি। সেই ক্ষেত্রে মরণোত্তর তিরস্কার করা যেতে পারে।'গতকাল রোববার সকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ সিনেট ভবনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশে একটি স্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়ে অধ্যাপক আব্দুল খালেক আরও বলেন, সৌদি আরবে যারা হজ করতে গিয়েছেন তারা দেখেছেন সেখানে বড় ও ছোট শয়তানকে পাথর মারার জন্য স্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। ঠিক আমাদের দেশেও এমন স্তম্ভ তৈরির দাবি জানাই। যাতে করে পরবর্তীতে প্রজন্ম সেখানে গিয়ে জুতা মেরে এই খুনিদের ঘৃণা প্রকাশ করতে পারে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আরেক উপাচার্য অধ্যাপক মিজান উদ্দীন। আলোচনা সভা শেষে রাবি টিএসসিসি নির্মিত বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।এর আগে দিবসের শুরুতে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনসহ অন্যান্য ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় রুটিন দায়িত্বে নিযুক্ত উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য সুলতান-উল-ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল, সন্ধ্যা ৬টায় কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা এবং শহীদ মিনার চত্বরে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজ নিজ কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।
6
প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের পক্ষে যুদ্ধের জন্য কোনো সৈন্য পাঠাবে না বাংলাদেশ। তবে ১৮০০ সৈন্য যাবে ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তে মাইন অপসারণের জন্য। সৌদি সামরিক বাহিনীকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বিদেশ সফরের উপর আজ বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন। জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলন ও আমিরাতে প্রতিরক্ষা সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এ সফরে আমিরাতের সাথে কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে ড. আব্দুল মোমেন ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। আরো পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী জার্মান সফরে যাচ্ছেন আগামীকালবাসসপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফেরার পথে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রীর অফিসের একজন মুখপাত্র বলেন, দেশ দুটিতে ছয় দিনের সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানির মিউনিখে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিবেন। এছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে যোগ দিবেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট আগামীকাল সকালে ঢাকা ত্যাগ করবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি মিউনিখ সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছুবে। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি বৈঠক করবেন। মিউনিখে প্রধানমন্ত্রী শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও হেলথ ক্যাম্পেইনারদের সাথেও বৈঠক করবেন। মুখপাত্র বলেন, শেখ হাসিনা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবুধাবিতে সফর করবেন। সেখানে তিনি ১৪তম আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শণী (আইডিইএক্স-২০১৯)-তে অংশ নিবেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। মিউনিখে পৌঁছার কয়েক ঘন্টা পর প্রধানমন্ত্রী হোটেল শেরাটনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেয়া একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজক জার্মানির বাংলাদেশ মিশন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। শেখ হাসিনা পরের দিন নিরাপত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তৃতা করবেন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর আলোচনায় অংশ নেবেন।
9
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে উপজেলা বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। সমাবেশে যোগ দিতে সকাল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা-কমীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় হঠাৎ করে বিপরীত দিক থেকে উপজেলা যুবলীগের ব্যানারে একটি মিছিল বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ওই এলাকায় আসে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, ওই মিছিল থেকে যুবলীগের নেতা-কর্মী ও ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষই বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে বিএনপি কার্যালয় ঢুকে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় একজন পুলিশ কনস্টেবলসহ দুই পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির আহ্বায়ক খলিলুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাওলাদার, ফারুক হাওলাদার, যুবদলের সদস্যসচিব রিপন শরীফ, সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামীম হাওলাদার, শ্রমিক দলের সভাপতি হাবিবুর রহমানকে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপির খলিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হয়েছিল। এই কর্মসূচি বানচাল করতেই আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতা-কমীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁদের মিছিলে হামলা চালিয়েছেন। এ সময় তাঁদের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপির অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে জামায়াত-বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবলীগ মিছিল বের করেছিল। বিএনপির সন্ত্রাসীরা ওই মিছিলে হামলা করেছিলেন। এতে তাঁদের অন্তত ১০ জন কমী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বরিশালের শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
6
পানি অপচয় রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'পানি সম্পদ অপচয় করলে কোনো সম্পদই শেষ পর্যন্ত থাকে না। আমাদের যে অমূল্য সম্পদটা রয়েছে, এটা কীভাবে সংরক্ষণ করে ব্যবহার করব এবং ভবিষ্যৎ বংশধররা ব্যবহার করতে পারবে, সেই দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।' আজ সোমবার বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে গ্রিন রোডের পানি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।সরকার প্রধান বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে পরিশুদ্ধ করে পাইপে পানি সরবরাহ করা হয়। এতে অনেক খরচ হয়। তাই পানির অপচয়টা বন্ধ করতে হবে। সেটা নির্মাণকাজ, গৃহস্থালি বা গাড়ি ধোয়া বা যে কাজেই হোক, সব ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।বৃষ্টির পানি যাতে ভূগর্ভে যেতে পারে সেই দিকে দৃষ্টি রেখেই পরিকল্পনা নিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দিলাম, আর বৃষ্টির পানি গড়িয়ে চলে গেল, সেটা হবে না। বৃষ্টির পানি যেন আশপাশের জলাধারে সংরক্ষণ করা যায় সে ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে হবে।দেশের ভৌগোলিক ও ভূপ্রকৃতির অবস্থা বিবেচনা করে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, পানি সম্পদ রক্ষা করা একান্তভাবে প্রয়োজন। তাই ভূগর্ভস্থ পানি কম ব্যবহার করে ভূউপরিস্থ পানি যত বেশি ব্যবহার করা যায়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার।নগরায়ণ ও বাসস্থান নির্মাণের ক্ষেত্রে যেন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং জলাধার রাখা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে ৯৭ ভাগ সাফল্য অর্জনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রকৃত পক্ষে মিঠা পানির দেশ। তারপরও জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি-৬ বাস্তবায়নের দিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এসডিজি-৬ এর সব থেকে বড় লক্ষ্য। এরই মধ্যে স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে আমরা ৯৭ ভাগ সাফল্য অর্জন করেছি। স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় সারা দেশেই স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরি করা হয়েছে। প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ কমই দেখা যায়, সেটা নেই। সেই দিক থেকে আমরা যথেষ্ট অগ্রগামী।সুপেয় পানি ব্যবস্থার জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে সুপেয় পানি পাওয়া কষ্টকর। কিন্তু আমাদের বিশাল পানি সম্পদ রয়েছে। আমাদের এই সম্পদ যদি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারি, আমাদের দেশের মানুষের এই কষ্টটা হবে না। আমরা বিশ্বকে পানি সরবরাহ করতে পারব। সেই বিষয়টা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।'ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার সীমিত করার জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ঢাকায় নদীর পানি পরিশুদ্ধ করে সরবরাহ করা শুরু করেছি। ঠিক সেইভাবে জেলা ও উপজেলায় যেখানে লাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি দিচ্ছি, সেখানেও নদীর পানি পরিশুদ্ধ করে দিচ্ছি।'প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তা ছাড়া আমাদের দেশে বন্যা হয়, সেখানে অনেক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার জন্য আমরা ড্রেজিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। সেটা শুধু নদীর নাব্যতাই বাড়াবে না, নৌপথগুলো সচল হবে। এর ফলে স্বল্পমূল্যে পণ্য পরিবহন করতে পারব।সরকার প্রধান বলেন, 'বন্যার সঙ্গেই আমাদের বসবাস করতে হবে। একে আপন করতে হবে। বন্যার সময় বসবাসের পদ্ধতি আমাদের শিখতে হবে। কারণ বাংলাদেশ বদ্বীপ। বন্যার সময় পলি পড়ে আমাদের। জলবায়ুর অভিঘাতের কারণে আমাদের দেশ ও ছোট ছোট দ্বীপগুলোতে লাগছে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।'রাস্তাঘাট নির্মাণের সময় পানির প্রবাহ ও নৌপথ যাতে ঠিক থাকে সেই দিকে নজর রাখার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাওর-বাঁওড় এলাকায় রাস্তা নির্মাণের সময়, সেগুলো মাটি ভরাট করে যাতে না করা হয়। সেটা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয়।এ সময় বাঁধ নির্মাণ ও সড়ক নির্মাণের সময় দুপাশে বৃক্ষরোপণ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার।
6
শ্রমিক ভিসায় কাতারে গিয়ে একটি সুপারশপে কাজ করতেন সাইফুল ইসলাম সাগর (২৮)। রাতে কিংবা অবসরে চষে বেড়াতেন ইন্টারনেট। ফেসবুকে তরুণীদের আইডিতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন তাদের বিষয়ে। নাম-ঠিকানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলসহ যেসব ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুকে পাওয়া সম্ভব সংগ্রহে রাখতেন। তরুণীদের পোস্ট করা ছবি আর স্ট্যাটাস থেকে ধারণা নিতেন তাদের বর্তমান মানসিক অবস্থার। সাগরের মূল টার্গেট বিষণ্ণতা বা হতাশায় ভুগছেন এমন তরুণীরা। প্রথমেই টার্গেট তরুণীকে 'ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট' পাঠাতেন না তিনি। যোগাযোগ করতেন ফেসবুক মেসেঞ্জারে। পরিচয় দিতেন কখনও সুইডেন, কখনও সুইজারল্যান্ড, কখনও-বা কাতার প্রবাসী প্রকৌশলী হিসেবে; কখনও জানাতেন, এমফিল করছেন। কিছুদিন এভাবে চলার পর টার্গেট তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া ছিল সাগরের প্রতারণার অন্যতম কৌশল। বিয়ের প্রলোভনে তরুণীর 'ব্যক্তিগত' ছবি এবং ভিডিও চাইতেন তিনি। কেউ কেউ এই ফাঁদে পা দিতেন। তারপর প্রতারণার শিকার হতে চলেছেন বুঝতে পেরে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। তখন ভয়ংকর চেহারায় আবির্ভূত হতেন সাগর। ছবি পর্নোসাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দিনের পর দিন আরও ছবি কিংবা ভিডিও পাঠাতে বাধ্য করা হতো তাকে। দেশে থাকার সময়ও সাগরের 'ব্ল্যাকমেইলে'র শিকার হয়েছেন কয়েকজন তরুণী। ফাঁদে ফেলে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও তৈরি করেছেন সাগর। তবে প্রতারণার শিকার হয়েও মানসম্মানের ভয়ে মুখ খুলতেন না কেউ। কিন্তু সম্প্রতি পেশায় চিকিৎসক এক তরুণীর অভিযোগে সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। গত ২৮ জুন কাতার থেকে বিমানে এসে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেন তাকে। কৌশলী সাগর কোনো তরুণীকেই আসল নাম-পরিচয় ও ঠিকানা দেননি। তার ফেসবুক আইডিও ছিল একাধিক। যে কারণে তাকে শনাক্ত করার মতো তেমন কোনো তথ্যই ছিল না। তবে এক তরুণী যে কোনোভাবে তার পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহে রেখেছিলেন। ওই পাসপোর্ট নম্বর ধরে সিআইডি তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে তার বিষয়ে তথ্য দিয়ে রাখে। ২৮ জুন বিমান থেকে নেমে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পরই ধরা পড়েন সাগর। সেখানে তাকে আটকে রেখে খবর দেওয়া হয় সিআইডিকে। সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম সমকালকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও সঙ্গে পরিচয়ের ক্ষেত্রে তরুণীদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। অজ্ঞাত কারও পাঠানো বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করা উচিত নয়। যে মাধ্যমেই হোক না কেন, পরিচিত হওয়ার পর কেউ 'ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও' চাইলে বুঝতে হবে, তার অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। তদন্ত সূত্র জানাচ্ছে, সাগরের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার জোতপাড়ায়। ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতেন তিনি। তবে পড়ালেখা শেষ না করেই ২০১৯ সালে শ্রমিক ভিসায় কাতার যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর তার অপকর্মের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। সিআইডি প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, সাগর বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ২৫ জন তরুণীর 'ব্যক্তিগত' ছবি নিয়ে প্রতারণা করেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের 'ব্যক্তিগত' ছবি এবং ভিডিও পর্নোসাইটেও আপলোড করেছেন তিনি। তদন্ত সূত্র জানতে পেরেছে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন সাগর। একপর্যায়ে তারা প্রতারণা ধরতে পারলেও মানসম্মানের ভয়ে আইনের আশ্রয় নেননি। অবশ্য সাগরের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী সিআইডিতে যোগাযোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কুমিল্লার একটি থানায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী পর্নোগ্রফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর মিরপুর থানায় এক চিকিৎসক সাগরের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জুনে সাগর অজ্ঞাত ফেসবুক আইডি থেকে তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি বার্তা পাঠান। মেসেজে সাগর জানান, তিনি ওই চিকিৎসক তরুণীকে চেনেন, জানেন এবং দেখেছেন। তার ছোট বোনও চিকিৎসক। তরুণীকে তিনি জানান, সুইডেনে 'ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজির' ছাত্র হিসেবে এমফিল করছেন। এভাবে তরুণীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি। কয়েকবার এভাবে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা বলার পর সাগর তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তরুণী তাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। সাগর জানান, এক মাস পর দেশে ফিরে তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। জুনের তৃতীয় সপ্তাহের পর তিনি ইমো অ্যাপস থেকে তরুণীর ইমোতে ফোন করে জানান, ১২ জুলাই দেশে ফিরবেন সুইডেন থেকে। ওই দিন দুপুরে বনানীতে সাগরদের বাসায় তরুণীর পরিবারকে বিয়ের ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য যেতে বলেন তিনি। এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১১ জুলাই সকালে সাগর আবারও ইমোতে কল করে তরুণীর দুর্বলতার সুযোগে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ব্যক্তিগত ছবি এবং ভিডিও পাঠাতে বলেন। পরদিনই বিয়ের কথাবার্তা হবে, এমন সরল বিশ্বাসে মেয়েটি ছবি এবং ভিডিও পাঠান। এরপর ১২ জুলাই সাগরের দেওয়া বনানীর ঠিকানায় গিয়ে তার বাসা পাননি তরুণীর স্বজনরা। এ সময় সাগরের যোগাযোগের সব মাধ্যমও বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ১৩ জুলাই সাগর নিজেই মেসেজ পাঠান। মেয়েটি জানিয়ে দেন, তিনি আর তার সঙ্গে যোগাযোগে আগ্রহী নন। এরপর সাগরের ভয়ংকর চেহারা বেরিয়ে আসে। তিনি হুমকি দেন, তার কথামতো না চললে তিনি তরুণীর 'ব্যক্তিগত' ছবি এবং ভিডিও পর্নোসাইটে ভাইরাল করে দেবেন। মানসম্মানের ক্ষতির চিন্তা করে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি যোগাযোগ বন্ধ না করলেও সাগরের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তরুণী জানতে পারেন, একাধিক মেয়ের সঙ্গে একইভাবে সাগর প্রতারণা করেছেন। তখন ২০১৯ সালের নভেম্বরে তিনি সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে একজন পরিচিত ব্যক্তি তাকে জানান, বিভিন্ন পর্নোসাইটে তার ছবি আর ভিডিও পাওয়া গেছে। কুমিল্লা জেলার একটি থানায় করা মামলায় ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেছেন, তাকেও বিয়ের প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন তুলে সাগর তার 'ব্যক্তিগত' ছবি এবং ভিডিও পাঠাতে বলেন। শিক্ষার্থীটি সাগরকে সেগুলো পাঠিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, তার প্রতি আস্থা রয়েছে। এভাবে সাগর একাধিকবার তাকে ছবি পাঠাতে বাধ্য করেন।
6
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পৌর কাউন্সিলর একরাম হত্যার অডিও প্রমাণ করে, মাদকবিরোধী অভিযানে সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল। তিনি আরও বলেন, 'এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে কি না, এ নিয়ে আমাদের শঙ্কা ছিল। এই অডিও যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রমাণিত হয়, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে সরকার জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে চায়।' রংপুর মেডিকেল কলেজ জাতীয়তাবাদী প্রাক্তন ছাত্রকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ সব কথা বলেন। আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডির ফখরুদ্দীন কনভেনশন সেন্টারে এর আয়োজন হয়।মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা মাদকবিরোধী অভিযানকে প্রথমেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছি। বলেছিলাম, এই অভিযান চালানো হয়েছে সম্পূর্ণভাবে একটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে, একটি ভিন্ন কারণে।' তিনি আরও বলেন, 'একটা স্বাধীন মুক্ত দেশে পাখির মতো মানুষকে গুলি করে মারা হচ্ছে, তার কোনো বিচার হবে না। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড-এই কোনো দেশে বাস করছি আমরা!'নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, 'এগুলোকে প্রতিরোধ করে আমাদের দাঁড়াতে হবে। আমাদের পথে নামতে হবে, পথেই এদের পরাজিত করতে হবে।'মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, গণতন্ত্রকে বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশে সুশাসন বলতে কিছু নেই। সে কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। চালের দাম যেভাবে বেড়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যে হারে বেড়েছে, যেটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও আবুল কানানের পরিচালনায় ইফতার অনুষ্ঠানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক, সহসভাপতি অধ্যাপক ফরহাদ হালিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোস্তাক রহিম, চিকিৎসক এ কে এম মোজাম্মেল হক, এ টি এম ফরিদউদ্দিন, ফরহাদ হাসান চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
9
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় চুরি বেড়েছে। গত এক মাসে উপজেলায় প্রায় অর্ধশত চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় মাত্র একটি মামলা হয়েছে।বামনী ইউনিয়নের সাগরদী গ্রামের মধ্য সাগরদী জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা এমরান হোসেন জানান, কদিন আগে তাঁর ও মুয়াজ্জিন দাউদ আলমের কক্ষের তালা ভেঙে চোর টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়। একই রাতে পূর্ব সাগরদী জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শিহাব উদ্দিনের কক্ষের তালা ভেঙে চুরির চেষ্টা করা হয়। তবে সেখানে মূল্যবান কিছু ছিল না।গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে কেরোয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সানা উল্যার ঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। এতে ঘরে থাকা ৫০ হাজার টাকাসহ স্বর্ণালংকার চুরি করে চোরের দল। একই রাতে রাখালিয়া এলাকার চালতাতলি জামে মসজিদের জানালার গ্রিল ভেঙে ব্যাটারি, মাইকের মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়।গত ১৫ ডিসেম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া বাজার পাশে একটি অটোরিকশা চুরি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত চুরির মালামাল উদ্ধার বা কোনো চোর আটক হয়নি।গত ৫ ডিসেম্বর রায়পুর গাজী মার্কেটের সামনে থেকে এক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেল চুরি হয়। গত মাসে উপজেলার চরপাতা গ্রামের মোস্তফা মিয়ার খামার থেকে দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। চলতি মাসে পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তির অটোরিকশা চুরি হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, 'চুরির পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর আর খোঁজ রাখে না। সাধারণ মানুষ হিসেবে আর কী করার আছে আমাদের?'রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কার্তিক বিশ্বাস বলেন, 'চুরি রোধে আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। এখনো চেষ্টা করছি। গত এক সপ্তাহে চুরির কোনো ঘটনা কেউ পুলিশকে জানায়নি। তবে আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেসব বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চুরি রোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।'
6
ছাত্রদের আন্দোলনের ওপর ভর করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সোমবার রাতে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় এক ছাত্র নিহত হয়েছে। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। এ ঘটনা একটু বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই, এ ঘটনা থেকে কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যানুযায়ী ঘটনাটি ঘটে রাত পৌনে ১১টায়। এর ১২ মিনিট পর ১০টা ৫৭ মিনিটে 'নিরাপদ সড়ক চাই' তাদের যে ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ করেছে। রাত ১১টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয়। আর সেখান থেকে সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। হাছান মাহমুদ বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনে ভর করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, সোমবার রাতের ঘটনা থেকে সেটি স্পষ্ট। ছাত্রদের গায়ে কালিমা লেপন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ছাত্ররা অনেক দিন ধরে আন্দোলন করছে, তারা কিন্তু কোনো জায়গায় গাড়িতে আগুন দেয়নি। এমনকি ভাঙচুরের ঘটনা সেভাবে ঘটেনি। সেদিন ঘটনার ১৫ মিনেটের মধ্যে ১২ থেকে ১৫টি বাসে আগুন দেওয়া হলো, এগুলো দুস্কৃতিকারীরা করেছে। যারা দেশে কোনো কিছুর ওপর ভর করে অতীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা নিয়েছে বর্তমানেও এই ছাত্রদের ওপর ভর করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার উদ্দেশ্যে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল। রামপুরার ঘটনাটি কি দুর্ঘটনা ছিল, নাকি পরিকল্পিত ছিল। এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে এবং হবে। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদেরখুঁজে বের করে নিশ্চয়ই শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মামলাও হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই
9
প্রিয় দলের জার্সি সংগ্রহ করা অনেকের আগ্রহ ও ভালোবাসার বিষয়। তাই বলে ৩ হাজার জার্সি সংগ্রহ করা নিশ্চয়ই কোনো সাধারণ সমর্থকের কাজ নয়! গত ২৫ বছর এ অবিশ্বাস্য কাজটিই করেছেন নেদারল্যান্ডসের ফুটবল ভক্ত ও সংগ্রাহক আরিয়ান ভাইনগার্ড।'এখন আপনাকে এই সংগ্রহের প্রদর্শনী করতে হলে একটি জাদুঘর ভাড়া করতে হবে'-গতকাল শনিবার মেসেঞ্জারে আজকের পত্রিকাকে বলছিলেন ৪৩ বছর বয়সী ভাইনগার্ড।১৯৯৭ সালে ভাইনগার্ডকে ইংলিশ ক্লাব এভারটনের একটি জার্সি দেওয়া হয়। তখন থেকে জার্সি সংগ্রহের নেশা চাপে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত জার্সি সংগ্রহশালাটি এখন তাঁর। ভাইনগার্ডকে নিয়ে এরই মধ্যে ব্রিটেনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। গতকাল আজকের পত্রিকাও যোগাযোগ করেছে তাঁর সঙ্গে।কোচও বেলমাথা, গোলিও বেলমাথা- গোল তো খাইবইকীভাবে এই পাগলামি ভর করেছে তাঁর ওপর? ভাইনগার্ডের ভাষ্য, 'কেন এটা (জার্সি সংগ্রহ) করি, নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। হয়তো ফুটবলকে ভীষণ ভালোবাসি বলেই। স্টেডিয়ামে গিয়ে জার্সি না পেলে স্কার্ফ সংগ্রহ করি। আসলে শার্টের চেয়ে স্কার্ফ বা পিন সংগ্রহ করলেই ভালো হতো। সেগুলো সস্তা, রাখতেও জায়গা কম লাগে।'ভাইনগার্ডের ঘরে ঢুঁ মারলেই সত্যতা মিলবে। জার্সির ভারে দেওয়ালগুলোই যেন নুইয়ে পড়েছে। এমনকি দরজা-জানালাগুলোও এই 'যন্ত্রণা' থেকে বাদ পড়েনি। প্রথম দেখায় তাঁর ঘরকে জার্সির কারখানাও মনে হতে পারে।রোমাঞ্চ ছড়াল ফুটবলকরোনা মহামারির আগে জার্সি কিনতে ভাইনগার্ড বছরে পাঁচবার ভ্রমণে যেতেন। বেশির ভাগ সময়ই গন্তব্যস্থল ছিল ব্রিটেন। সংগ্রহ বাড়ানোর গল্পটাও শোনালেন তিনি, 'ক্লাবের দোকান (মার্চেনডাইজ স্টোর) থেকেই জার্সি কিনতে পছন্দ করি। যদিও সব সময় সম্ভব হয় না। মাঝে মাঝে অনলাইন থেকেও কিনতে হয়।' এত সংগ্রহের ভিড়ে অবশ্য সময়ের সেরা দুই তারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জার্সি নেই ভাইনগার্ডের কাছে। এ নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপও নেই, 'চেষ্টা করলে অবশ্যই পারতাম। তবে আমি কখনো বড় ক্লাব আর তারকা খেলোয়াড়ের পেছনে ছুটিনি। একেবারেই যে নেই, তা নয়। আরিয়েন রোবেনেরটা আছে। সে তখন বায়ার্ন মিউনিখে খেলত।'ওমানিরা কেন ফুটবল বেশি ভালোবাসেনঅখ্যাত দল ও দুষ্প্রাপ্য জার্সিগুলোই নিজের দখলে রাখতে পছন্দ করেন ভাইনগার্ড। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দলের জার্সি আছে কি না, জিজ্ঞেস করতেই ভুটান জাতীয় দলের একটি জার্সির ছবি পাঠালেন তিনি। ৩ হাজার জার্সি থেকে সবচেয়ে পছন্দেরটি বের করা কঠিন। তবু একটিকে বেছে নিতে বলা হলে ই-মেইলে এফসি খ্রোনিঙেনের জার্সির ছবি পাঠান ভাইনগার্ড। বলেন, 'এটি আমার ঘরের ক্লাব খ্রোনিঙেনের পুরোনো জার্সি। বেশ দুর্লভ। এই ম্যাচ জার্সির বয়স প্রায় ৪০ বছর।'নিজের সংগ্রহের জার্সিগুলোর প্রদর্শনীর জন্য ভাইনগার্ড একটি ওয়েবসাইট খুলেছেন। এর কারণও খুলে বললেন তিনি, 'এর মাধ্যমে অন্যরা জানতে পারবে, আমার সংগ্রহে কী আছে। জার্সিতে যদি কখনো আগুন লাগে কিংবা চুরি হয়, তাহলে বিমা কর্তৃপক্ষকে প্রমাণ দেওয়া যাবে।'মেসির অন্ধ ভক্ত সাবেক ব্রাজিলিয়ান অধিনায়কজার্সি সংগ্রহের এই নেশা কবে থামাতে চান- ভাইনগার্ডের সাফ জবাব, 'থামাথামির ইচ্ছে নেই। যত দিন বেঁচে আছি, সংগ্রহ বাড়াতেই থাকব। জাদুঘর গড়ে তোলার কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছি।'নিখাদ ফুটবলপ্রেমীরাও নিশ্চয়ই চাইবেন, ভাইনগার্ডের সংগ্রহশালা হোক আরও বড়।
6
এখন তো টোটাল লকডাউন, ছুটিতে আছি। আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করলাম। দেড় লাখ কেজি চাল দিয়েছি যাদের প্রয়োজন সে রকম মানুষদের। খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। এর পাশাপাশি ১০ হাজার পিপিই (পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট) কিট দেব। বেলুড় মঠে দু'হাজার কেজি চাল দিলাম। ওঁরা প্রচুর গরিব মানুষকে খাওয়ান। ওঁদের মাধ্যমে ঠিক জায়গায় পৌঁছনো যায়। আমি তো নিজে পৌঁছতে পারি না সব জায়গায়, সে জন্য 'ইস্কন'-এর সঙ্গে টাই আপ করেছি। আমার আর আমার ফাউন্ডেশনের (সৌরভ গাঙ্গুলি ফাউন্ডেশন) পক্ষ থেকে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মানুষকে খাওয়াই। এসবই করছি এখন, যতটা আমাদের পক্ষে সম্ভব। এভাবেই মানুষের পাশে আছি। সবাইকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। না হলে সিচুয়েশন থেকে বেরোনো যাবে না। খুব টাফ সিচুয়েশন। আমি জীবনে কখনও এ রকম দেখিনি। কথাগুলো গণমাধ্যমকে বলছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ও ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। আপনার স্ত্রী ডোনা এবং কন্যা সানা বাড়ি কি সামলাচ্ছেন? উত্তরে বিসিসিআই সভাপতি বললেন, না, সানাকে কিছু করতে হয় না। ডোনা আছে, মা আছেন, বাড়িতে আরও মানুষরা আছেন, তারাই বাড়ি সামলাচ্ছেন। সারা দিন কী করছেন, জানতে চাইলে গাঙ্গুলি বলেন- বাড়িতেই থাকি বাড়ির মানুষদের সঙ্গে। আর সুইমিং করি, এক্সারসাইজ করি যাতে শরীরটাকে রেজিস্ট্যান্ট করে তুলতে পারি। এক্সারসাইজ ইজ ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট। ডায়েট মেনটেন করি। গরম পানি, মধু খাই। প্যারাসিটামল খেতে থাকি যাতে টেম্পারেচার না আসে। করোনার তো কোনও ওষুধ নেই, আপাতত সেভাবে কোনও চিকিৎসা নেই। তাই যতটা ঠিক থাকা যায়। বাইরে গেলে কীভাবে সংস্পর্শ এড়ানোর চেষ্টা করছেন? এ ব্যাপারে তিনি বলেন, বেলুড় মঠ ছাড়া আর কোথাও যাইনি। সূত্র: আনন্দবাজার বিডি প্রতিদিন/কালাম
12
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার শান্তি চুক্তির আলোকে পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করেছি। এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সকল খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পার্বত্য জেলাসমূহের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সমুন্নত রাখা ও পর্যটন শিল্পের প্রসারেও আমরা নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছি।' প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল শনিবার 'আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস-২০২১' উপলক্ষে আজ শুক্রবার দেয়া এক বাণীতে আরো বলেন, সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে আজ পার্বত্য জেলাসমূহ কোন পিছিয়ে পড়া জনপদ নয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ অঞ্চলের জনগণ সম-অংশীদার। পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, এর টেকসই ব্যবহার এবং সকল উপকারভোগীর নিকট সমান সুবিধা পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার ন্যাশনাল বায়োডাইভারসিটি স্ট্রাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশান প্ল্যান ২০১৬-২০২১ বাস্তবায়ন করছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও 'আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস-২০২১' পালিত হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য সাসটেইনব্যাল মাউনটেন ট্যুরিজম সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় ২২ শতাংশ পার্বত্য অঞ্চল প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের বসবাস এবং ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মিঠা পানির উৎস। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন অত্যন্ত বৈচিত্রময়। পর্বতমালা, নদ-নদী, বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী এ অঞ্চলকে করেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম আধুনিকতার ছোঁয়া বিবর্জিত পশ্চাদপদ পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনেন এবং পার্বত্যবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে পাহাড়ী ছাত্র-ছাত্রীদের সম-সুযোগ প্রদানের ব্যবস্থা নেন। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭৩ সালের জুন মাসে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহে পাহাড়ী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর কোন তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই আওয়ামী লীগ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ব ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জাতিগত হানাহানি বন্ধ হয়। অনগ্রসর ও অনুন্নত পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় শান্তি ও উন্নয়নের ধারা। ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার অর্জন এই চুক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির স্মারক। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত সংস্কৃতি ও বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এ অঞ্চল সারা দেশের জনগণের নিকট অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও এখন পার্বত্য অঞ্চল ভ্রমণে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন, যা শান্তি চুক্তির আগে ছিল অলীক কল্পনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস আয়োজনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে টেকসই পর্যটনের প্রচার ও প্রসার ঘটবে এবং নতুন প্রজন্ম দেশের বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। তিনি 'আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস-২০২১' উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। সূত্র : বাসস
9
সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগির ঘাতক দলের চার সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়। খবরে বলা হয়, খাসোগি হত্যায় অংশ নেওয়া সৌদির চার এজেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে আধা সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। আর এই চারজনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর অনুমোদন দিয়েছিল। খাসোগি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক। তিনি একসময় সৌদির রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরে কট্টর সমালোচক বনে যান। বিশেষ করে সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের কট্টর সমালোচনা করছিলেন তিনি। খাসোগি তাঁর বিয়ের জন্য কাগজপত্র আনতে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান। সৌদি আরব থেকে পাঠানো ঘাতক দল সেখানে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাঁর লাশ কেটে টুকরা টুকরা করে গায়েব করে দেওয়া হয়। তাঁর দেহাবশেষ আর পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, 'টায়ার ১ গ্রুপ' নামের একটি বেসরকারি মার্কিন নিরাপত্তা কোম্পানি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন খাসোগির ঘাতক দলের চার সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসভিত্তিক এই কোম্পানিটি ২০১৭ সালে সৌদির ওই চার এজেন্টকে আধা সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন ২০১৪ সালে প্রথম সৌদির এজেন্টদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি অনুমোদন দেয়। পরে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের শুরুর দিক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। 'টায়ার ১ গ্রুপ' নামের কোম্পানিটির মূল মালিক সারবেরাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। সারবেরাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লুইস বারমার এক নথিতে নিশ্চিত করেছেন যে সৌদির এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল 'টায়ার ১ গ্রুপ'। তবে বারমারের ভাষ্য, এই প্রশিক্ষণ ছিল মূলত নিরাপত্তামূলক। পরবর্তী সময়ে সৌদির এজেন্টরা যে জঘন্য কাজ করেছেন, তার সঙ্গে এই প্রশিক্ষণের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। লুইস বারমারের বিবরণ অনুযায়ী, খাসোগির ঘাতক দলের চার সদস্য ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টায়ার ১ গ্রুপে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অবশ্য চারজনের মধ্যে দুজন ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পূর্ববর্তী একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন। এ বিষয়ে জানতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি। কিন্তু তারা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। তবে তারা মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বশীল ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব প্রথমে খাসোগি খুন হওয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে। পরে তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। খাসোগিকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শুরু থেকেই সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সন্দেহ করা হয়। তবে তিনি এই হত্যায় তাঁর সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছেন। অবশ্য সৌদির শাসক হিসেবে তিনি এই হত্যার দায় এড়াতে পারেন না বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। খাসোগি হত্যার দায়ে সৌদির আদালত দেশটির পাঁচজন নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তিনজনকে দিয়েছেন কারাদণ্ড। পরে খাসোগির পরিবার হত্যাকারীদের মাফ করে দিলে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পাঁচজনের সাজা কমিয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড করা হয়।
3
প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখর এখন দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি। ২০০ কোটি রুপির বেশি প্রতারণার মামলায় হাজত বাস করছেন তিনি। এই মামলার সঙ্গে জড়িয়ে আরও একটি বড় তথ্য ফাঁস হয়েছে। ভারতের অর্থনৈতিক আইনকানুন প্রয়োগ ও আর্থিক অপরাধ দমনসংক্রান্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তদন্তে উঠে এসেছে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ, নোরা ফতেহি, শ্রদ্ধা কাপুর, শিল্পা শেঠি ছাড়াও বলিউডের আরও তিন নায়িকা সুকেশের নিশানায় ছিলেন। ভারতের একটি শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখর বলিউডের তিন নায়িকা জাহ্নবী কাপুর, সারা আলী খান আর ভূমি পেড়নেকরকে নিজের জালে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি এই তথ্য ফাঁস হয়েছে যে সুকেশ তাঁর প্রতারণার অর্থ থেকে এই তিন নায়িকাকে দামি উপহারও দিয়েছিলেন। ইডির জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই প্রতারক সারা, ভূমি আর জাহ্নবীর নাম বলেছেন। ২০২১ সালে সারাকে প্রতারণার জন্য নিশানা করেছিলেন সুকেশ। গত বছর ২১ মে সারাকে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন তিনি। সুকেশ নিজের আসল পরিচয় গোপন রেখে সারাকে তাঁর নাম সুরজ রেড্ডি বলেছিলেন। এই মেসেজে সুকেশ জানিয়েছিলেন যে পারিবারিক নিয়ম অনুযায়ী সারাকে তিনি গাড়ি উপহার দিতে চান। এই প্রতারক এ-ও জানিয়েছিলেন, তাঁর কোম্পানির সিইও শ্রীমতী ইরানি তাঁকে (সারাকে) অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। ইরানি সুকেশের এই কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। এই নারী অভিনেত্রীদের প্রতারক সুকেশের সঙ্গে দেখা করানোর জন্য রাজি করাতেন। শ্রীমতী ইরানি জ্যাকুলিনের সঙ্গে সুকেশের দেখা করিয়েছিলেন। এদিকে সুকেশের ছদ্মবেশী সুরজ অভিনেত্রী সারাকে একের পর এক মেসেজ পাঠাতে থাকেন। দামি উপহার দিতে চেয়েছিলেন। সারা আলী খানকে ইডি এসব উপহার নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সারা এ বছর ১৪ জানুয়ারি ইডিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এই চিঠিতে সারা বলেছেন, সুকেশের থেকে তিনি বারবার উপহার নিতে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু সুকেশ নাছোড়বান্দা ছিলেন। অবশেষে সুকেশের জিদের কাছে হার মেনেছিলেন সারা। এই বলিউড নায়িকা বলেন, তাঁকে এক বাক্স চকলেট পাঠাতে। কিন্তু সুকেশ চকলেটের সঙ্গে সারাকে ফ্রাঙ্ক মুলার ব্র্যান্ডের একটি দামি ঘড়ি উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। এই ঘড়ির দাম ভারতে কয়েক লাখ রুপি। এদিকে বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবীকেও প্রতারক সুকেশ নিশানা বানিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী লীনা মারিয়া পলের মাধ্যমে। জাহ্নবীকে ১৮ লাখ রুপি দিয়েছিলেন সুকেশের স্ত্রী। এই অর্থ জেলে বন্দী থাকা অবস্থায় দিল্লির এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীর কাছ থেকে আত্মসাৎ করেছিলেন সুকেশ। জাহ্নবীকে একটি বিউটি পারলারের মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন লীনা মারিয়া। ২০২১ সালের ১৯ জুলাই বেঙ্গালুরুর একটি সেলুন উদ্বোধনের জন্য জাহ্নবীকে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। জাহ্নবী প্রতারক সুকেশ আর তাঁর স্ত্রী লীনার আসল পরিচয় জানতেন না। সেলুন উদ্বোধনের জন্য লীনা এই বলিউড নায়িকাকে ১৮ কোটি ৯৪ লাখ রুপি পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন। এই অর্থ সোজা জাহ্নবীর ব্যাংকে জমা হয়। এই বলিউড তারকা ইডিকে জানিয়েছেন, এই অর্থ ছাড়া লীনার মা তাঁকে ক্রিশ্চিয়ান ডিয়রের একটি দামি ব্যাগও উপহার দিয়েছিলেন। জাহ্নবী ইডিকে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেখিয়েছেন। সুকেশ অভিনেত্রী ভূমি পেড়নেকরকে নিজের জালে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন। পিঙ্কি ইরানি এই বলিউড অভিনেত্রীকে প্রথম প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে পিঙ্কি তাঁকে বলেছিলেন, তাঁদের সংস্থার গ্রুপ চেয়ারম্যান তাঁর অনেক বড় ভক্ত। তাই সুকেশ একটি বড় প্রকল্পের ব্যাপারে ভূমির সঙ্গে কথা বলতে চান। এই প্রতারক ভূমিকে একটা গাড়ি উপহার দিতে চেয়েছিলেন। সুকেশ এখানে ভূমিকে নিজের নাম শেখর বলে জানিয়েছিলেন। ২০২১ সালের মে মাসে পিঙ্কি ইরানি মেসেজে ভূমিকে জানান, শেখর ওরফে সুকেশ কোটিপতি। তিনি তাঁকে গাড়ি উপহার দিতে চান, কারণ তিনি তাঁর কাছের বন্ধুদের গাড়ি উপহার দিতে পছন্দ করেন। তবে ভূমি ইডিকে জানিয়েছেন, শেখর ওরফে সুকেশ তাঁকে কোনো কিছু উপহার দেননি। সুকেশ এর আগে জ্যাকুলিন আর নোরাকেও দামি উপহার দিয়েছিলেন বলে খবরে উঠে আসে। জ্যাকুলিনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও প্রকাশ্যে এসে গিয়েছিল। এমনকি তাঁদের অন্তরঙ্গ ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছিল। ইডির দাবি, সুকেশ বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিনকে সোনা ও হীরার অলংকার, চারটি পার্শিয়ান বিড়াল, ৫২ লাখ টাকার দামি ঘোড়াসহ আরও অনেক কিছু উপহার দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এই প্রতারক প্রায় ১০ কোটি রুপির উপহার জ্যাকুলিনকে দিয়েছিলেন। সুকেশ ইডিকে জানিয়েছিলেন, ২০১৫ সাল থেকে তিনি শ্রদ্ধা কাপুরকে চিনতেন। আর মাদক মামলার সঙ্গে যখন শ্রদ্ধার নাম জড়িয়েছিল, তখন তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলে ইডির কাছে দাবি করেছেন সুকেশ। জাহ্নবী, সারা, ভূমি ছাড়া আরও বেশ কিছু নায়িকা ও মডেল সুকেশের প্রতারণার নিশানায় ছিলেন। ২০১৫ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত এই প্রতারক বলিউড নায়িকা আর মডেলদের পেছনে ২০ কোটি রুপির বেশি খরচ করেছেন বলে ইডির দাবি।
2
মাত্রই শেষ হলো ২০১৯ সাল। সালটি কেমন গেল আর নতুন বছরে অর্থনীতির কী হবে, এ নিয়ে কথাবার্তা এখনো হচ্ছে। পঞ্জিকা বর্ষ নিয়ে প্রাক্কলন করা একটু কঠিন। কারণ, সব দেশেরই একটা অর্থবছর থাকে। যেমন বাংলাদেশে অর্থবছর শুরু ১ জুলাই থেকে। আর ভারতে ১ এপ্রিল থেকে। সুতরাং ২০২০ সালে কোন দেশের অর্থনীতি কেমন হবে, তা সংখ্যায় প্রকাশ করা সহজ নয়। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নিয়মিত সব দেশের অর্থনীতির প্রাক্কলন করে থাকে। তার ভিত্তিতে ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে এমন অর্থনীতির একটি তালিকা করা যেতে পারে। ১. ইথিওপিয়াআফ্রিকার দ্বিতীয় জনবহুল দেশ। একসময় পরিচিতি ছিল দুর্ভিক্ষের দেশ। এখনো দেশটির ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজে জড়িত। ২০২০ সালে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার হবে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার কমে হবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ২. রুয়ান্ডাগৃহযুদ্ধের দেশ নামেই বিশ্বব্যাপী পরিচিত। গত ১০ বছরে দেশটি অর্থনীতিতে অনেক এগিয়েছে। প্রাক্কলন হচ্ছে, ২০২০ সালে জিডিপির হার হবে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, আর ২০২৩ সালে হবে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ৩. ভারতএখন অবশ্য বেশ ঝামেলাতেই আছে। বলা হচ্ছে, অর্থনীতি শ্লথ হয়ে পড়ছে। পরিসংখ্যানও তা-ই বলছে। তবে আগের প্রাক্কলন ছিল ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, আর ২০২৩ সালে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। তবে এখন বলা হচ্ছে নতুন বছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের বেশি হবে না। ৪. বাংলাদেশকয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ দ্রুত অগ্রসরমাণ দেশগুলোর একটি। প্রাক্কলন হচ্ছে, ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ আর ২০২৩ সালে তা কমে হবে ৭ শতাংশ। তবে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের প্রাক্কলন হচ্ছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ৫. মিয়ানমারপাশের দেশ। রোহিঙ্গা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে বাংলাদেশের সঙ্গে। অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের মধ্যে থাকা দেশটির ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন হচ্ছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ৬. আইভরি কোস্টআফ্রিকার আরেকটি দেশ। কৃষিপ্রধান দেশ। প্রাক্কলন হচ্ছে ২০২০ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ আর ২০২৩ সালে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ৭. লাওসগণতন্ত্র নেই, তবে অর্থনীতি এগোচ্ছে, এ রকম আরেকটি দেশের উদাহরণ লাওস। প্রাক্কলন হচ্ছে ২০২০ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে সাড়ে ৬ শতাংশ। ৮. কম্বোডিয়াগত এক দশক ধরেই দেশটির অর্থনীতি এগোচ্ছে। দেশটি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২০ সালে কম্বোডিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলিত হার হচ্ছে সাড়ে ৬ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
0
মুরাদ হাসানেই শেষ, না সামনে আরও আসছে? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরেফিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে সরকারি দলের ভেতরে। ফলে দলের মধ্যে কেউ অস্বস্তিতে, কেউ আতঙ্কে, আবার কেউ একে আশীর্বাদ হিসেবে মনে করছেন। চিন্তিতদের চিন্তার প্রধান কারণ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বিদায়ে ফোনালাপে কু-কথা বলাই একমাত্র কারণ না অন্য কিছু আছে। আর এসব বক্তব্য ফাঁস হচ্ছে কীভাবে তা নিয়েও চিন্তা বাড়ছে।বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বেশ কিছু নাম শোনা যাচ্ছে। অন্তত তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আলোচনায় আছেন। আছেন একাধিক দলীয় নেতা। আর মুরাদ-কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ সরকার ও দলে বেশ কিছু প্রভাবশালীর মন্ত্রী ও নেতার চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। দলের মধ্যে আরেক পক্ষ এই অশ্লীল বক্তব্য দানকারী ও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া নেতাদের দলের বোঝা হিসেবেই মনে করছেন। বিশেষ করে নারীদের প্রতি যাঁদের কথাবার্তায় বিন্দুমাত্র সম্মান বোধ নেই, তাঁদের মতো এই ধরনের নেতার যত তাড়াতাড়ি বিদায় দেওয়া যায়, ততই দলের মঙ্গল।আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, একজন প্রতিমন্ত্রীর ফোনালাপ ফাঁস হওয়াটা খুবই অপ্রীতিকর। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।'দেশের রাজনীতিতে ফোনালাপ ফাঁস নতুন কিছু নয়। অতীতে অনেক রাজনৈতিক নেতার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। যার মধ্যে ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সে সময়ের বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ফোনালাপ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফোনালাপ, প্রয়াত আইনজীবী মওদুদ আহমদ এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার নাজমুল হাসানের ফোনালাপ, বিএনপির নেতা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার আলাপ, ভিকারুননিসা নূন কলেজের অধ্যক্ষের ফোনালাপ, মামুনুল হকের ফোনালাপ, যশোর-৬ আসনের সাংসদ শাহীন চাকলাদারের ফোনালাপ, ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের ফোনালাপ, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের ফোনালাপ রয়েছে।মুরাদ হাসানের ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী ও সাংসদদের। বিশেষ করে যাঁদের নানা বিষয়ে দুর্বলতা আছে। গোয়েন্দা সংস্থাসহ নানা দপ্তরে কাছের সোর্স পাঠিয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে।আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, 'বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে নেতাদের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা আমরা দেখেছি। কিন্তু কারও ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা তেমন দেখা যায়নি। ব্যক্তিগত আলাপ ফাঁস হওয়া অপরাধ। যাঁরা ফাঁস করেছেন, তাঁদের শাস্তি হওয়া দরকার।'বিষয়টি নিয়ে সরকারের পাঁচজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয়। যাঁদের অধিকাংশই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান না। দুজন বলছেন, 'আমরা রাজনীতি করি। অনেক সময় অনেক কথা বলি রাজনীতির প্রয়োজনে। স্পর্শকাতরও কিছু থাকতে পারে। সেটা ফাঁস হয়ে যাওয়া আমাদের জন্য বিব্রতকর। এখন কথা বলতে আমাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।'দুজন নেতা বিষয়টি নিয়ে মোবাইল ফোনে কোনো কথাই বলতে চাননি। তাঁরা বলেন, 'অনেক দিন ধরেই আমরা মোবাইল ফোনে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলি না। প্রয়োজন হলে অ্যাপসে কথা বলি। কিন্তু অতীতে নিজের অজান্তে কিছু বলে থাকলে, সেটা ফাঁস হলে খুবই বিব্রতকর হয়ে যাবে। তাই সরকারের উচিত এগুলো নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা।'মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে ফোনালাপ ফাঁসের বিষয়ে মন্তব্য চাইলে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পরামর্শ দেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাঁদের সঙ্গে কথা বলার।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, 'আমার ব্যক্তিগত জীবন আছে। বন্ধুবান্ধব রয়েছে। তাদের আমরা অনেক কথা বলে থাকি। সেখানে হাসি-ঠাট্টা এমনকি গালিগালাজ করি। এখন তো মনে হচ্ছে সেগুলো কখন না জানি ফাঁস হয়ে যায়। এটা সভ্য কোনো কাজ হতে পারে না। রাষ্ট্রবিরোধী কথা বললে সেটা দেশ ও জাতির স্বার্থে ফাঁস করা যেতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের কথোপকথন ফাঁস করা মানে হলো রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন করা। সেটা কখনোই উচিত না।'আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে মানুষ কথায় কথায় দুর্নীতির অভিযোগ তোলে। সেটাকে বেশির ভাগ মানুষই ঢালাও বলে মনে করে। কিন্তু দেশ ও সমাজের চোখে ব্যক্তির চারিত্রিক উপাদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একটু পিছলে গেলে সমাজ খুব খারাপভাবে দেখে। এতে ব্যক্তি, পরিবার ও দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তবে মুরাদ হাসানের ঘটনা সবাইকে সাবধান হওয়ার বার্তা দিয়েছে বলে মানছেন সবাই। 'হানি ট্র্যাপ' বা রোমান্স কিংবা যৌনতার আশ্বাসে ফাঁদে ফেলা শব্দটিও রাজনীতির মাঠে প্রচলিত আছে বলে মনে করিয়ে দেন মন্ত্রিত্ব না পাওয়া ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতা।আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, 'আজকে এই (তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী) বিষয়টা ফাঁস হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যদি ফাঁস হয়ে যায়, তখন কী হবে? প্রযুক্তির বিষয়ে আমাদের আরও ভাবা উচিত।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'তাঁর (মুরাদ) ঘটনাটিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে নিতে পারি। তা শুধু বাচনভঙ্গি নয়, অশ্লীল কথা কিংবা কাজ-সবকিছু হতে। সবাইকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।'২০০৬ এবং পরে ২০১০ সালে টেলিকমিউনিকেশন আইনকে সংশোধন করে নাগরিকদের টেলিফোন রেকর্ড করার অবাধ ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়। আইনের ৯৭ ক ধারামতে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সরকার গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে যেকোনো টেলিযোগাযোগ রেকর্ড করার ক্ষমতা দিতে পারবে বলা হয়। এ কাজে টেলিযোগাযোগ সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সহায়তা না করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ফোন রেকর্ড করার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে।আড়ি পাতা রোধে এবং ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনা কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ১০ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেন ১০ জন আইনজীবী। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর রিটটি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
6
ভারতের কর্নাটক রাজ্যের উদুপির গভর্নমেন্ট গার্লস পিইউ কলেজে হিজাব পরার দাবিতে মাসখানেক ধরে বিক্ষোভরত মুসলিম ছাত্রীদের ছয়জনের ব্যক্তিগত তথ্য নেটমাধ্যমে ফাঁস করে দেয়া হয়েছে। ওই ছাত্রীদের অভিভাবকরা ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। উদুপির পুলিশ সুপার এন বিষ্ণুবর্ধনের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরে শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক অভিভাবক বলেন, 'আমার মেয়ে ও তার বান্ধবীদের নাম, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বরসহ নানা তথ্য নেটমাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে। আশঙ্কা করছি, ভবিষ্যতে তাদের হুমকি দিতে সেগুলো ব্যবহার করা হবে।' এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বিষ্ণুবর্ধন বলেন, 'লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ওই ছাত্রীদের থেকে এ সংক্রান্ত অনলাইন তথ্য চাওয়া হয়েছে। তা পাওয়া গেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।' জানুয়ারি মাসে কর্নাটকের উদুপির ওই কলেজে হিজাব পরিহিত ছাত্রীদের ক্লাস করতে না দেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। জেলা প্রশাসনের 'বার্তা' পেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষই হিজাব পরে ক্যাম্পাসে না ঢোকার নির্দেশিকা জারি করেছিল বলে অভিযোগ। কয়েকজন মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। ওই ছয়জন ছাত্রী তার প্রতিবাদ করেছিলেন। এর পর তাদের সমর্থনে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় মুসলিম ছাত্রদের একাংশ। এর পাল্টা হিসেবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো হিজাব নিষিদ্ধের দাবিতে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ শুরু করে। চলমান এ হিজাব-বিতর্কের ইতি টানতে চলতি মাসে কর্নাটকের সরকারি কলেজগুলোতে পোশাক নির্দেশিকা জারি করেছে সে রাজ্যের বিজেপি সরকার। কর্নাটক শিক্ষা আইন ১৯৮৩-এর কথা উল্লেখ করে ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট করে দেয়া পোশাক পরেই শিক্ষার্থীদের কলেজে আসতে হবে। যেসব কলেজে নির্দিষ্ট কোনো পোশাকবিধি নেই, সেখানে এমন পোশাক পরা যাবে না যাতে শিক্ষাঙ্গনের ভারসাম্য, ঐক্য ও শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। কর্নাটকের শিক্ষা আইন অনুযায়ী, সরকারি কলেজগুলো নিজস্ব পোশাকবিধি চালু করতে পারে। কয়েকটি সরকারি কলেজে মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরে আসার অনুমতি থাকলেও হিজাব পরে ক্লাস করা যাবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
3
রাশিয়া দাবি করেছে যে ইউক্রেনের মারিউপোল শহরে দেশটির সহস্রাধিক সেনা তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বুধবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর-জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের অবরুদ্ধ মারিউপোল শহরে দেশটির একহাজার ২৬ জন সেনা আত্মসমর্পণ করেছে। এসব ইউক্রেনীয় সেনারা দেশটির ৩৬তম মেরিন ব্রিগ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। তারা মারিউপোল শহরের একটি স্টিল কারখানায় আত্মসমর্পণ করেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আত্মসমর্পণ করা এসব ইউক্রেনীয় সেনাদের মধ্যে ১৬২ জন অফিসার, ৪৭ জন নারী সেনা ও ১৫১ জন আহত সেনা আছেন। আহত ইউক্রেনীয় সেনাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা অলেক্সি আরেস্টোভিচ এ আত্মসমর্পণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু তিনি এক টুইটে বলেছেন, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে দেশটির ৩৬তম মেরিন ব্রিগ্রেডের সেনারা একটি ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপের কথা বলেছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ইউক্রেনের মারিউপোল শহর অবরোধ করে রেখেছে রুশ সেনারা। এসব রুশ সেনারা এখন বিভিন্ন সঙ্কটের মধ্যে পড়ার পরেও মারিউপোল শহর অবরোধ থেকে পিছু হটেনি। সূত্র : আল-জাজিরা, স্টার ট্রিবিউন
3
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গত নভেম্বরে গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয় করেছে সরকার। এতে বাসের ভাড়া বেড়েছে ২৬.৫ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত। কিন্তু সরকার-নির্ধারিত হার না মেনে যাত্রীদের কাছ থেকে বর্ধিত ভাড়ার চেয়েও বেশি টাকা নিচ্ছে হাতিরঝিলের চক্রাকার বাস সার্ভিস। এই রুটে বিকল্প কোনো গণপরিবহন না থাকায় বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে তাঁদের।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাস সার্ভিস পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এইচ আর ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, 'অন্য রুটের সঙ্গে এই রুটের তুলনা করলে হবে না। অন্যান্য বাস সরকারকে কত ট্যাক্স দেয়, আমরা কত ট্যাক্স দিই-সেটাও দেখতে হবে।' ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এই বাস সার্ভিস ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে রাজউক।হাতিরঝিল প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা রাজউকের উন্নয়ন উইংয়ের সদস্য মেজর (অব.) ইঞ্জি. সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এখানে সরকার-নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।' তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালে চক্রাকার বাস চালুর সময় যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তা আর বাড়ানো হয়নি। জ্বালানির দাম বাড়ার পর সেই ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ভাড়া বাড়ানোর আরও নানা যৌক্তিকতা তুলে ধরে এই কর্মকর্তা বলেন, এরপরও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সরকার-নির্ধারিত হার অনুযায়ী ঢাকায় এখন বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১৫ পয়সা এবং মিনিবাসে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৫ পয়সা। মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৮ টাকা। কিন্তু হাতিরঝিলের চক্রাকার সার্ভিসের মিনিবাসে সর্বনিম্ন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা। গুলশান পুলিশ প্লাজা থেকে রামপুরা পর্যন্ত এই ভাড়া নেওয়া হয়। এফডিসি মোড় থেকে পুরো হাতিরঝিল চক্রাকারে ঘুরে আসতে মোট ভাড়া লাগছে ৩৫ টাকা। অথচ ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ রুটে নতুন হার অনুযায়ী ভাড়া হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ২০ টাকা। তেমনি এফডিসি মোড় থেকে রামপুরা পর্যন্ত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরত্বে ভাড়া হওয়ার কথা ৮ টাকা ৬১ পয়সা, কিন্তু চক্রাকার বাসে আদায় করা হচ্ছে ২০ টাকা। অর্থাৎ হাতিরঝিলের প্রতিটি রুটে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৭৫-১৫০ শতাংশ ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।কিন্তু হাতিরঝিল রুটে অন্য কোনো যানবাহন না থাকায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে এই রুটে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এই রুটের নিয়মিত যাত্রী চলচ্চিত্র পরিচালক সৈয়দ মুখলেছুর রহমান বলেন, 'বেসরকারি বাসের কথা বাদ দিলাম। রাজউকের বাসেই যদি সরকার-নির্ধারিত ভাড়া মানা না হয়; তাহলে কাকে কী বলব?' আরেক যাত্রী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতাহার ইসরাক আবিদ জানান, ভাড়া বাড়ার কারণে তাকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে।বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক এম শামসুল হক বলেন, 'অজুহাত দেখিয়ে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের ঘটনা মোটেও স্বাভাবিক নয়। সেবা খাতকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিলে তারা ন্যূনতম পয়সায় সর্বোচ্চ লাভের চিন্তা করবে। আর রাজউক পরিবহনের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয়। তারা একটি উদ্যোগ শুরু করতে পারবে; কিন্তু সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজন।'
6
রেজাউর রহমান রাজা গত বছরের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও এখনো আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখা হয়নি তাঁর। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও ছিলেন রাজা। ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও সফরটা গুরুত্বপূর্ণ এক শিক্ষাসফর হয়েই থেকেছে ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশ পেসারের কাছে।নতুনত্ব আলিঙ্গন করা রাজা আজকের পত্রিকাকে শোনালেন তাঁর অভিজ্ঞা, 'বাংলাদেশ দলের হয়ে যেকোনো সফর করাটা অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। বিদেশের কন্ডিশন সম্পর্কে অনেক ধারণা পাওয়া।'সিলেট থেকে উঠে আসা রাজার সামনে জাতীয় দলের দুয়ার খুলেছে আকস্মিকভাবেই। বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি), ইমার্জিং দল হয়ে হঠাৎই গত বছরের শেষ দিকে সুযোগ পেলেন বাংলাদেশ দলে। এখন তাঁর একটাই স্বপ্ন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্যের পাখা ওড়ানো। তবে আপাতত বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে যে শিক্ষা পর্বটা তাঁর চলছে, সেখান থেকে আরও ভালোভাবে শিখতে চান। সেটির অংশ হিসেবে রাজা এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে শিখেছেন অনেক কিছুই। বললেন, 'ওখানকার কন্ডিশন যে পেসবান্ধব, সেটা তো জানিই। আমাদের দেশের সঙ্গে ওখানকার উইকেটের লেংথে ভিন্নতা আছে। ১৫ দিনের মতো অনুশীলন করেছি।'দক্ষিণ আফ্রিকায় স্বল্প সময়ের অনুশীলন ক্লাসে শিক্ষক হিসেবে গ্যারি কারস্টেন ও রায়ান বেনকে পেয়েছিলেন রাজা। কারস্টেনের সঙ্গে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ পেসার বললেন, 'গ্যারি আমাকে বোলিং লেংথ ঠিক রাখা নিয়ে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। ওখানে রায়ান বেন নামের একজন কোচ ছিলেন। তাঁর সঙ্গে খুব ভালো কাজ করা হয়েছে। ওই ধরনের কন্ডিশনে কী রকম বোলিং করতে হয়, সেটার একটা ধারণা দিয়েছেন তিনি।'১১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা রাজা এখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেললেও তিনি বেশ ভালোভাবে উপলব্ধি করেছেন, পথটা মোটেও সহজ নয়। তবে সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা তাঁকে সহায়তা করবে পরিণত হয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখতে। বলছেন, 'যেহেতু জাতীয় দলের সঙ্গে একটা সফর করেছি। আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পর্কে একটা ধারণা হয়েছে। যদি কোনো দিন বাংলাদেশ দলের হয়ে অভিষেক হয়, তাহলে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাব।'বিদেশে জিততে হলে পেসারদের দুর্দান্ত খেলতে হয়, এটি বেশ বুঝতে পারছেন রাজাও। বিদেশে ভালো করতে দেশে পেসবান্ধব পরিবেশ চান এই পেসার। রাজা বলছেন, 'অবশ্যই দেশের উইকেটগুলো আরও পেসবান্ধব হবে আশা করি। বোর্ড সেটা চেষ্টা করছে বলেই এখন আগের চেয়ে উইকেট অনেক ভালো হয়েছে। যদি আমরা ওই রকম (দ. আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড) পেসবান্ধব উইকেট পাই, আমাদের যেমন ভালো হবে, তেমনি আমার মনে হয় ব্যাটারদেরও ভালো হবে।'
12
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এই সরকারের কাছে আর কোনো আবেদন নিবেদন নয়, একমাত্র আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) কিশোরগঞ্জে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে ডাকা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারকে 'নিশি রাতের' সরকার উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা এই সরকার যেকোনো অন্যায় কাজ করে ফেলতে পারে। আপনারা জানেন জেনারেল আজিজের ভাই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জোসেফ ও হারিসকে ৪০১ ধারার ক্ষমতাবলে এই সরকার রাতের অন্ধকারে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দিলেও মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করতে দেয়া হচ্ছে না, শুধুমাত্র হত্যা করার উদ্দেশ্যে। আমরা সব বুঝে গেছি। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই আর কোনো দাবি নয়, আবেদন-নিবেদন নয়, আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারে পতন ঘটিয়ে, নতুন সুর্য, নতুন সকাল দেখবো ইনশাআল্লাহ।' শহরের আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শরীফুল আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মো: ওয়ারেছ আলী মামুন, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। সমাবেশে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ কটিয়াদী আসনের বিএনপির সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান রঞ্জন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদব হাজী ইসরাইল মিয়া প্রমুখ। এর আগে সকাল থেকে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপি, কৃষক দল, যুবদল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যানার, ফেস্টুন হাতে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুর দুইটার আগেই মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়।
6
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এবারও কলকতায় 'বাংলাদেশ এর বিজয় উৎসব' আয়োজন করবে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হবে ১৫ ডিসেম্বর (শুক্রবার); চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনে নিযুক্ত প্রেস সচিব মুফাকখারুল ইকবাল জানান, এই উৎসব উপলক্ষে প্রতিদিন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এই দিনগুলোতে দু'দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বহু প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে পাঁচদিনই কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ আলোচনা সভা।বন্ধুপ্রতিম দু'দেশের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করার জন্য এ বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
6
মাঠের বাইরে তিনি শান্ত-চুপচাপ। সেই মেহেদী হাসান ব্যাট হাতে ২২ গজে নামলেই হয়ে ওঠেন অন্য রকম। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চির উচ্চতার ছোটখাটো মানুষটা প্রথম বল থেকেই শুরু করেন ভয়ডরহীন ব্যাটিং। সঙ্গে মেহেদীর ওই অফ স্পিনটা তো বিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে নিয়মিত।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দুর্দান্ত সিরিজ জয়ে ব্যাটে-বলে দারুণ উজ্জ্বল ছিলেন মেহেদী। এই সিরিজটা যেন পুনর্জন্ম দিয়েছে এই অলরাউন্ডারকে। মিরপুরের কঠিন উইকেটে স্বাভাবিক ব্যাটিংটা সেভাবে করতে পারেননি হয়তো। তবে মেহেদী যা কিছু রান করেছেন সেটাই লো স্কোরিং ম্যাচে দলের কাছে হয়েছে বড় পাওয়া। মেহেদীর বোলিংও হয়েছে দারুণ। ইনিংসের শুরুতে বোলিংয়ে এসে সাকিব আল হাসান ও নাছুম আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজটা করে গেছেন পুরো সিরিজজুড়ে।৫ ম্যাচে ব্যাট হাতে ৭২ রান করেছেন মেহেদী। অফ স্পিন বোলিংয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট। উইকেটশিকারে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার পাশাপাশি রান আটকে রাখার কাজটিও ভালোভাবেই করেছেন ২৬ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। পাঁচ টি-টোয়েন্টিতে দিয়েছেন ৪৯টি ডট বল।অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষে কদিনের ছুটি পেতেই মেহেদী ছুটেছেন খুলনায় বাড়িতে। সেখান থেকেই কথা বললেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে। ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের রহস্যটা কি-এমন প্রশ্নে হেসে উঠলেন মেহেদী। এরপর মেহেদীর চকিত জবাব, 'রহস্য নিজেও জানি না!' রহস্যটা পরে মেহেদী খোলাসা করলেন নিজেই, 'সত্যি সব সময় মনে হয় যে হারানোর তো কিছু নেই। বরং পাওয়ার অনেক কিছু থাকে। এই জিনিসটাই মনে হয় সব সময়। ব্যাটিং করতে গেলে ভাবনার প্রয়োজন আছে। তবে পরিস্থিতির চাওয়া অনেক কিছুই পরিবর্তন করে দেয়।'অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে দারুণ এক রেকর্ডও গড়েছেন মেহেদী। দলের হয়ে ব্যাটিং-বোলিং দুটিতেই ইনিংস শুরু করার ছোট্ট তালিকায় উঠে গেছে এই অলরাউন্ডারের নাম। ২০১৮ সালে এশিয়া কাপে লিটন দাসের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজকে। এবার টি-টোয়েন্টিতে সে তালিকায় নাম লেখালেন আরেক মেহেদী। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ওপেনিংয়ে ব্যাটিং-বোলিং করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মেহেদীর এই অভিজ্ঞতা হলো প্রথম। অন্য চার টি-টোয়েন্টিতেও একেকদিন একেক পজিশনে ব্যাটিং করতে হয়েছে মেহেদীকে।যে কোনো পজিশনে ব্যাটিংয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় মেহেদীকে। তবে এই কঠিন বিষয়টিকেই সহজ চোখে দেখছেন এই অলরাউন্ডার, 'এটি অবশ্যই যে কোনো ক্রিকেটারের জন্যই কঠিন। তবে আমার মনে হয় কঠিন কিছু থেকেই ভালো কিছু শেখা যায়। এটাতে কোনো অজুহাতের কিছু নেই। আমি যদি ব্যর্থ হই, অবশ্যই ব্যর্থ। ভালো করলে তো সবাই বাহবা দেবে। ভালো না হয় খারাপ হবে-হারানোর কিছু তো নেই।'ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো প্রমাণের অনেক কিছু আছে মেহেদীর। অবশ্য সেভাবে সুযোগও আসেনি এখনো। প্রায়ই ব্যাটিং করতে হয় কঠিন পরিস্থিতিতে। মেহেদীও মানছে,ন এখনো নিজের সেরাটা দিতে বাকি তাঁর, 'ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে খেলি, জাতীয় দলে এখনো সেভাবে পুরোপুরিভাবে খেলতে পারিনি। আশা করছি সামনে আরও ভালো করতে পারব ইনশা আল্লাহ।'তিন বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেহেদী খেলেছেন ৩ ওয়ানডে ও ১৪ টি-টোয়েন্টি। ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পেলেই ভালোটাও বেরিয়ে আসে যে কোনো ক্রিকেটারের। মেহেদীও মনে করিয়ে দিলেন সেটি, 'একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ যে, একজন খেলোয়াড়ের কাছে ১০-১৫ ম্যাচ দিয়ে কিছু পাওয়া যাবে না। ক্রিকেটে চাওয়া মাত্র কিছু পাওয়া যায় না। বেশি ম্যাচ খেললে ফিডব্যাকটাও সেভাবে পাওয়া যাবে। সব খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই একই। ধৈর্য একটা ব্যাপার।'জিম্বাবুয়ের পর অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও অনেক সিনিয়র ক্রিকেটারকেই পায়নি বাংলাদেশ। সেটি দারুণভাবেই পুষিয়ে দিয়েছেন মোস্তাফিজ, সোহান, মেহেদী, আফিফ, নাছুমরা। তরুণেরা ব্যাটে-বলে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রতি ম্যাচেই। তরুণদের একসঙ্গে জ্বলে ওঠার পেছনে মেহেদী দেখছেন পারস্পরিক বিশ্বাস-বোঝাপাড়াটা। বললেন, 'আমরা যারা তরুণ আছি, সবার সঙ্গে সবার বোঝাপাড়াটা খুবই ভালো। ঘরোয়া কিংবা অন্য ক্রিকেটে দেখা যায় ঘুরেফিরে সবার সঙ্গেই খেলতে হয়। একজন আরেকজনকে চিনি, জানি। একজনের প্রতি আরেকজনের বিশ্বাসটা আছে। সতীর্থের ওপর বিশ্বাস রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখন যে সুন্দর পরিবেশে আছি, তার মূল কারণ দলীয় সংহতি।'
12
ভারতের আরএসএস প্রধান মোহন ভগত বলেছেন, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাধ্যমে ভারতকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা চলছে। বুধবার আসাম প্রদেশের গোয়াহাটিতে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগত বলেন, ১৯৩০ সাল থেকে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভারতে তাদের প্রাধান্য বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। ওই সমাবেশে তিনি আরো বলেন, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যে সকল সমন্বিত কর্মকাণ্ড চলছে তার একমাত্র লক্ষ্য হলো মুসলমানদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করা। তারপরে তারা (মুসলিমরা) ভারতকে পাকিস্তান বানিয়ে ফেলবে। তিনি বলেন, ১৯৩০ সাল থেকেই একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে, যাতে করে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তারা (মুসলিমরা) পাঞ্জাব, সিন্ধু, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। তাদের ওই প্রচেষ্টা অনেকাংশেই সফল হয়েছে। সূত্র : টাইমস নাউ
3
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। মায়ের মতো কানে দুল ঝোলাতে চাইবে ছোট্ট মেয়েটি। কিংবা স্কুলের বন্ধু হয়তো কান ফুঁড়িয়েছে, এই সময় তারও চাই এক জোড়া দুল। বড়দের জীবনে অনেক জোড়া দুল যে আনন্দ আনতে পারে না, শিশুর জন্য এক জোড়া দুলই তা নিয়ে আসে। এই দুলের জন্য কান ফোঁড়াতে হবে। কান ফোঁড়ানোর আনন্দের মধ্যেও অবশ্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে মা-বাবাকে। শিশু যেন কান ফোঁড়ানো নিয়ে কোনো ঝক্কিতে না পড়ে। রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের পরামর্শক অধ্যাপক ডা. মো. জাহেদুল আলম বলেন, 'কান ফোঁড়ানোকে সাধারণভাবে আমরা কোনো কিছু মনেই করি না। কিন্তু এটি ছোটখাটো অস্ত্রোপচার। তাই কিছু বিষয়ে সতর্কতা জরুরি।' রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, আদরের মেয়েটির কানে প্রথমবারের মতো দুল পরানো মা-বাবার অনেক শখের একটা বিষয়। অনেকে এটিকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানও করেন। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে বলে জানালেন তিনিও। কান ফোঁড়ানোর আদ্যোপান্ত কানের কোন অংশ ফোঁড়ানো হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানালেন অধ্যাপক মো. জাহেদুল আলম। তিনি বললেন, কানের নরম অংশের (লতি) মাঝামাঝি জায়গায় ফোঁড়ানো উচিত। অনেকে কানের লতি ছাড়াও অন্যান্য অংশে ফুঁড়িয়ে থাকেন, যা আসলে পরিহার করাই ভালো। কানের লতি ছাড়া অন্য অংশে ফোঁড়ানোর সময় কানের তরুণাস্থি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যার ফলে মারাত্মক প্রদাহ হতে পারে। পরবর্তী সময়ে কানের আকৃতি নষ্ট হয়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দাঁড়াতে পারে, যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। তখন আর কানে অলংকার পরার কথা ভাবার অবস্থাও থাকে না। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়াতে অবশ্যই কানের লতি ছাড়া অন্য অংশ ফোঁড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত, যাতে কানের তরুণাস্থিতে কোনোভাবেই আঘাত না লাগে। যা দিয়ে কান ফোঁড়ানো হচ্ছে, তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। কান ফোঁড়ানোর যন্ত্র বা পিয়ার্সিং গান দিয়ে বিউটি পারলারে কান ফোঁড়ানো হয়ে থাকে। এই যন্ত্রে যে দুলজোড়া দেওয়া হচ্ছে, তা যদি একই কনটেইনারে রাখা অনেকগুলো দুল থেকে তুলে নেওয়া হয়, তাহলে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যায়। তাই একটি সিলগালা কনটেইনারে এক জোড়া দুল আছে, এমন দুল বেছে নেওয়া ভালো। যে সুইয়ের সাহায্যে কান ফোঁড়ানো হচ্ছে তা যেন পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত হয়। আর একই সুই একাধিক ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করা উচিত নয় কখনোই। কারণ, একজনের রক্তে জীবাণু থাকলে তার শরীরে ব্যবহৃত সুইয়ের মাধ্যমে অন্য কারও রক্তে সেই জীবাণু পৌঁছে যেতে পারে অনায়াসেই। হেপাটাইটিস বি, সি (এটির টিকাও নেই) এবং এইচআইভি নামক ভাইরাস (এটি এইডসের কারণ) রক্তের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তাই ব্যবহৃত সুই পুনর্ব্যবহার করবেন না। খুব কম বয়সে কান ফোঁড়ানো ঠিক নয়। সাধারণত ৫-৭ বছর বয়সে কান ফোঁড়ানো হয়ে থাকে। এই বয়সটা সব দিক থেকেই ভালো। শিশু ব্যথা পেতে পারে কান ফোঁড়ানোর সময়। সুইয়ের চেয়ে 'পিয়ার্সিং গান' ব্যবহারে ব্যথা কম হয়। সচরাচর যে ধরনের পদার্থে অ্যালার্জি হয় না, তা দিয়ে কান ফোঁড়ানো উচিত। কানের দুলের বেলায়ও একই কথা। প্রচলিত নানান ধরনের ধাতব পদার্থের মধ্যে সোনার কানের দুল ব্যবহার করাই বেশি নিরাপদ। তবে অন্যান্য ধাতব পদার্থ যদি নন-ইরিট্যান্ট হয়, যেগুলোতে অ্যালার্জি হওয়ার প্রবণতা কম, সেগুলোও পরানো যেতে পারে। কান ফোঁড়ানোর পর 'পিয়ার্সিং গান'-এর সাহায্যে যে টপ জাতীয় দুলটি পরানো হয়, তা ৩-৫ দিন পর খুলে ফেলে রিং পরিয়ে দেওয়া উচিত। এর ফলে ফোঁড়ানোর স্থানটি আর চেপে থাকে না বা ঢেকে থাকে না। ফলে স্থানটি ভালোভাবে শুকিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। কান ফোঁড়ানোর পর তা না শুকানো পর্যন্ত শিশুকে নিয়মিত ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার (টক ফলমূল) খাওয়ানো উচিত। এতে ক্ষতস্থান দ্রুত নিরাময় হয়। জটিলতা যথাযথ নিয়ম মেনে কান ফোঁড়ানো না হলে ফোঁড়ানোর স্থানে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে কান ফোঁড়ানোর বেশ কিছুদিন পর শক্ত গোটা হতে দেখা যায়। এ ধরনের জটিলতা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ছোট্ট কানে ছোট্ট দুল ছোট্ট শিশুর কানে রিং জাতীয় দুলই বেশি মানায় বলে জানালেন আফরোজা পারভীন। কেউ হয়তো সাদামাটা রিং পছন্দ করেন, কেউ পছন্দ করেন চ্যাপ্টা ও চওড়া ধাঁচের রিং। কারও পছন্দ চিকন রিং, কেউ আবার রিং-এর মধ্যে ছোট্ট ছোট্ট গুটলির মতো নকশা পছন্দ করেন। এমন যেকোনো ধরনের রিং-এ ছোট্ট মেয়েদের সুন্দর দেখায়, রিং কানে রাখাটাও ওদের জন্য সহজ। কানের টপ বা ঝোলানো দুলে ছোট্ট শিশুকে খুব একটা মানায় না। তবে চাইলে কেউ তা পরাতেও পারেন, এটি একেবারেই মা-বাবার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। কেউ হয়তো হিরের টপ দেখতে চান মেয়ের কানে। তবে বড়দের মতো নকশাদার দুল শিশুদের জন্য মানানসই নয়। শিশুদের হালকা কানের দুল পরানো উচিত। দোকানপাটে সোনার দোকানে দুলের ওজন অনুযায়ী দামের তারতম্য হয়ে থাকে। দোকানের সংগ্রহ পছন্দ না হলে অর্ডার দিয়ে গড়িয়েও নিতে পারেন। ২১ বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের জন্য ৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়তে পারে বলে জানা গেল বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের নন্দন জুয়েলার্স লিমিটেড ও দি মিনা জুয়েলার্সে কথা বলে। কান ফোঁড়ানোর স্থানটি পুরোপুরি সেরে যাওয়ার অনেক দিন পর শখ করে শিশুকে ইমিটেশনের কানের দুল পরিয়ে থাকেন কেউ কেউ। এ রকমটা ইচ্ছে হলে কে জেড বা জেমস গ্যালারিতে খোঁজ নিতে পারেন। ফুলেল নকশা বা হৃদয়ের আকৃতির কানের দুল বেছে নিতে পারেন। ছোট পাথরের এসব দুল পাবেন আরও নানান দোকানেই। কে জেড-এ ২ জোড়া টপ ও ১ জোড়া হালকা ঝোলানো কানের দুলের সেট পাবেন ১৫০ টাকায়। জেমস গ্যালারিতে ছোট টপ পাবেন ২৫০ টাকায়।
4
সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকবার্তা লিখলেন তার প্রাক্তনী রিয়া চক্রবর্তী। এখন সুশান্ত মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত এই নায়িকা। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। ঠিক এক বছর আগে একই দিনে মুম্বইয়ের নিজের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ। তারিখটি ছিল ১৪ জুন, ২০২০। তারকার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই সকাল থেকেই আবেগে ভাসছেন সুশান্তের ফ্যান ও টিনসেল টাউনে তার সহকর্মীরা। অভিনেতার মৃত্যু ঘিরে উঠে এসেছিল একাধিক প্রশ্নও। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত আজও সিবিআইয়ের হেফাজতে। তদন্ত চলাকালীন উঠে এসেছিল প্রয়াত তারকার প্রাক্তনী অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর নাম। মাদক কাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে হাজতবাসও করেছিলেন তিনি। আপাতত জামিনে মুক্ত রয়েছেন এই অভিনেত্রী। প্রসঙ্গত, সুশান্ত সিং রাজপুত মামলায় নাম জড়ানোর পর গত একবছর ধরে বলিউড থেকে দূরে রিয়া। তাছাড়া নেটদুনিয়ায় ব্যাপক রোষের মুখে পড়েছেন রিয়া। এবার সুশান্তের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তা লিখলেন রিয়া।সঙ্গে পোস্ট করলেন সুশান্তের সঙ্গে তার হাসিখুশি মেজাজের একটি ছবি। সুশান্তকে তার জীবনের 'রক্ষাকর্তা' বলে সম্বোধন করে রিয়া লেখেন আজও যখন সুশান্তের কথা মনে পড়ে, বড্ড কষ্ট হয় তার। সুশান্ত যে আর নেই একথা এক মুহূর্তেরও জন্যও বিশ্বাস করতে রাজি নন তিনি। অভিনেত্রী আরও লিখেছেন, কথায় বলে সময় নাকি সবকিছু ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু তুমিই যে আমার 'সময়' এবং 'সবকিছু' দুইই ছিলে। আমার কেন জানি খুব মনে হয় মেঘের ওপর থেকে তোমার প্রিয় টেলিস্কোপ দিয়ে আমার ওপর নজর রাখছো তুমি। আমাকে সব বিপদের থেকে আগলে রাখছো। এখানেই না থেমে ওই শোকবার্তায় সুশান্তের প্রাক্তনীর সংযোজন, আমি প্রতিদিন অপেক্ষা করি তোমাকে ফের একবার তোমার দেখা পাওয়ার জন্য। কারণ আমার ফ্রির বিশ্বাস তুমি আমার আশেপাশেই রয়েছো সবসময়। কিন্তু যখন বুঝি তা আর হবে না, অদ্ভুত একটা কোস্ট হয় আমার। তারপরেই আমার কানে আজও বাজে আমাকে একসময় বলা তোমার কিছু কথা, যা আজও প্রতিমুহূর্তে শক্তি জোগায় আমাকে। তার 'বেবু' এবং 'পুটপুট' এর উদ্দেশে রিয়া আরও লেখেন যে সে ছাড়া জীবন পুরোপুরি অর্থহীন তার কাছে। সুশান্তকে রোজ মালপোয়া খাওয়াতে এবং পৃথিবীর কোয়ান্টাম ফিজিক্সের ওপর লেখা সব বই দিয়ে উঠতে পারেননি, তার আফসোস আজও যায়নি রিয়ার। বার্তার শেষে সুশান্তের উদ্দেশে 'ফিরে এসো আমার কাছে' বলতে ভোলেননি।
2
খাগড়াছড়িতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় সাদ্দাম হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে জেলা সদরের মাইসছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাদ্দাম হোসেন একই এলাকার মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে। মামলার এজহারে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারী বিকেলে জেলা সদরের শালবন রসুলপুর গ্রামে বাড়ির পাশের জঙ্গলে লাকড়ী নিতে গেলে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে অভিযুক্ত যুবক। ওই সময় শিশুটির চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে সাদ্দাম হোসেন পালিয়ে যায়। পরে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ রশিদ জানান, মামলা দায়ের পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মাইসছড়ি থেকে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
6
বরাবরই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার পিঙ্ক। নিজের কাছে যেটা সঠিক মনে হয়, সেটা করতে কখনো পিছপা হন না। কোনো লুকোছাপাও নেই। নরওয়ের বিচ হ্যান্ডবল নারী দলের পক্ষ হয়ে এবারও দাঁড়ালেন মার্কিন পপশিল্পী। বুলগেরিয়ায় চলছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে অংশগ্রহণ করেছে নরওয়ের পুরুষ ও নারী হ্যান্ডবল দল। ইউরোপিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী পুরুষ দল খেলায় অংশগ্রহণ করবে শর্টস পরে আর নারী দলের সদস্যদের পরতে হবে বিকিনি। পুরুষ ও নারীর মধ্যে এই পার্থক্যকে লিঙ্গবৈষম্য হিসেবে দেখছে নরওয়ের নারী হ্যান্ডবল দল। গত রোববার ছিল ব্রোঞ্জপদকের লড়াই। এই বৈষম্যের প্রতিবাদে সেখানে স্পেনের বিরুদ্ধে বিকিনির পরিবর্তে শর্টস পরেই নামে তারা। নিয়ম না মানায় দলটিকে ১ হাজার ৫০০ ইউরো জরিমানা করে ইউরোপিয়ান হ্যান্ডবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তেরই প্রতিবাদ করেছেন পিঙ্ক। পাশাপাশি জরিমানার টাকাও নিজের পকেট থেকে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। টুইটারে লিখেছেন, 'সেক্সিস্ট নিয়মের প্রতিবাদ করায় আমি নরওয়ের নারী হ্যান্ডবল দলের জন্য গর্ব বোধ করছি। ইউরোপিয়ান ফুটবল ফেডারেশনকেও উল্টো লিঙ্গবৈষম্যের জন্য জরিমানা করা উচিত। অসাধারণ মেয়েরা। তোমাদের হয়ে জরিমানা পরিশোধ করে আমি সুখী হতে চাই। চালিয়ে যাও।' পিঙ্কের এই প্রতিবাদের জন্য শিল্পীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে নরওয়ে দল। টুইটারে দিয়েছে শর্টস পরা তাদের দলের একটি ছবিও। নরওয়ের সরকারও নারী হ্যান্ডবল দলের পাশে দাঁড়িয়েছে। জরিমানার এই সিদ্ধান্তকে 'পুরোপুরি অদ্ভুত' বলেছেন নরওয়ের ক্রীড়ামন্ত্রী।নারী খেলোয়াড়েরা দীর্ঘদিন ধরেই এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন।
2
উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে ইভ্যালির মালিকানাধীন সাতটি গাড়ি। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডি ১৪ নম্বর সড়কের তিন নম্বর বাড়ির ভিক্টোরিয়া কনভেনশন সেন্টারে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।নিলামে ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল রেঞ্জ রোভার। ১ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এটি বিক্রি হয়। গাড়িটি কেনেন ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান নামের এক ক্রেতা। নিলাম তালিকার দ্বিতীয়তে থাকা টয়োটা প্রিউস বিক্রি হয় ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। গাড়িটি কিনেছেন মোহাম্মদ রিপন ইসলাম তারা। নিলামে একাই দুটি গাড়ি কেনেন প্রশান্ত ভৌমিক নামের একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় টয়োটা সিএইচআর এবং ১৫ লাখ টাকায় টয়োটা এক্সিও কেনেন তিনি। আজকের পত্রিকাকে প্রশান্ত ভৌমিক বলেন, 'শখের বশেই তিনি গাড়িগুলো কিনেছেন।'ইভ্যালির মালিকানায় থাকা অন্য একটি টয়োটা এক্সিও বিক্রি হয় ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। গাড়িটি কেনেন আবুল হাসনাত রাসেল।ইভ্যালির গাড়ি ফিরিয়ে না দিলে ব্যবস্থাকানিজ ফাতিমা নামের একজন আইনজীবী ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায় কিনে নেন হোন্ডা ভেসেল। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়িটি কিনেছেন বলে জানান তিনি।নিলাম তালিকার একেবারে শেষে থাকা টয়োটা ব্র্যান্ডের একটি মাইক্রোবাস বিক্রি হয় ২০ লাখ টাকায়। গাড়িটি কেনেন মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন। নিয়ম অনুযায়ী নিলাম চলাকালেই দরের ২০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। বাকি টাকা সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে পরিশোধ করে গাড়ি বুঝে নিতে পারবেন ক্রেতারা। দামের সঙ্গে সাড়ে ১৭ শতাংশ ভ্যাট ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে।বেআইনি পণ্য বেচে ফেঁসে যাচ্ছে দারাজবেলা সাড়ে ১১টায় নিলাম কার্যক্রম শুরু হয়ে আড়াইটা নাগাদ শেষ হয়। নিলাম শেষে ইভ্যালির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সাংবাদিকদের বলেন, 'সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছভাবে নিলাম শেষ হয়েছে। গাড়িগুলো ইভ্যালির কাজে ব্যবহার করা হতো না। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এগুলো ব্যবহার করতেন। এসব গাড়ি আমরা নিজেরা ব্যবহার করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি। আমাদের আশঙ্কা ছিল কিছু সন্ত্রাসী নিলাম বানচালের চেষ্টা করবে। এ জন্য র্যাব এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।'ই-কমার্সসম্পর্কিত আরও পড়ুন:কঠোর নজরদারি, কঠিন হচ্ছে ই-কমার্স ব্যবসাইভ্যালির জন্য অডিট ফার্ম চূড়ান্ত, শিগগিরই ওয়েবসাইট চালুশিগগির শেষ হচ্ছে না গ্রাহকের অপেক্ষাকিউকমের ২০ গ্রাহক পেলেন ৪০ লাখ টাকাই-কমার্সে আস্থা ফেরাতে অ্যাপজোর করে রিভিউ নিয়েও পণ্য দেয়নি দালাল প্লাসআশায় শুরু হতাশায় শেষ ই-কমার্স
0
এক হাতেই ধরা ১৫টা কাঁচি। আর সবকটি কাঁচিই এক সঙ্গে চালাতে ওস্তাদ তিনি। দিনের পর দিন এই কাজই তিনি করে চলেছেন অনায়াসে। তিনি সাদিক আলি। পাকিস্তানের লাহৌরের এক সেলুনের মালিক। সাদিকের সেলুনের বেশ কদর। নিত্যদিনই ভিড় লেগে থাকে সেখানে। চুল কাটার স্টাইলের ক্ষেত্রে সাদিকের জুরি মেলা ভার। অত্যন্ত দক্ষতায় এক সঙ্গে ১৫টা কাঁচি হাতে ধরে চুল কাটতে পারেন তিনি। সাদিকের এই আজব স্টাইলের জন্য সেলুনে উপচে পড়ে ভিড়। সবাই চান একবার না একবার তাঁর ১৫ কাঁচির অভিজ্ঞতার শরিক হতে। তবে, সাদিকের সেলুনের খরচের ধরনটা একটু আলাদা। সময় অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয় এখানে। কুড়ি মিনিট চুল কাটার খরচ একশো টাকা। কিন্তু, কেন এমন আজব পদ্ধতি বেছে নিলেন ৩৩ বছরের সাদিক। 'দ্য ডেইলি মেল'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাদিক জানান, জনৈক চিনা নাপিত জেডং ওয়াংয়ের কথা। যিনি ২০০৭ সালে এক হাতে ১০টা কাঁচি নিয়ে চুল কেটে রেকর্ড করেছিলেন। সাদিকের কথায়, ''ইচ্ছা আছে এক সঙ্গে ১৬টা কাঁচি নিয়ে চুল কাটার। সেই চেষ্টাই করছি।'' পাশাপাশি, নিজের কাজের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সচেতন সাদিক। আর তাই তো দিনে কুড়ি জনের বেশি কারও চুল কাটেন না তিনি। বিডি-প্রতিদিন/ ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭/ তাফসীর
5
নাটোরের সিংড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রুবেল প্রাং (২২) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত রুবেল উপজেলার পশ্চিম ভেংড়ী গ্রামের আ. করিম প্রাং-এর ছেলে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য মোটর সংযোগ দিতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। মৃত রুবেল গত বছর বামিহাল অনার্স কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। বিডি প্রতিদিন/এমআই
6
টাঙ্গাইলের সখিপুরে নিজ এলাকায় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউন সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে পুলিশের মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুল করিম নামের এক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক। এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের একজন ছাত্রনেতা যদি জনগণকে সচেতন করার দায়ে নির্যাতিত হতে পারেন তাহলে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন কী মাত্রা ধারণ করেছে তা সহজেই অনুমেয়। আমরা এই পরিস্থিতির অবসান চাই। নিরাপত্তা বাহিনীর নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এটিসহ প্রত্যেকটি নিপীড়নের ঘটনার বিচার অবিলম্বে শুরু করতে হবে। নিপীড়নের ঘটনায় ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা ম্যাজিস্ট্রেটকে তার ভুলের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থণা করতে হবে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার কচুয়া বাজারে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। তারা নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করেন। সেখানে উপস্থিত থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হা-মীম তাবাসসুম প্রভা গণমাধ্যমকে বলেন, বাজারের একপাশে জটলার মতো দেখে আমি এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি ওই ছেলে পুলিশের সঙ্গে তর্ক করছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এমন কোনও পরিচয় তখন দেননি। মানুষকে সচেতন করছে এমন প্রমাণও তিনি দেখাতে পারেননি। তাই তাকে অর্থদণ্ড করা হয়েছিল। তবে তাকে মারধরের বিষয়টি আমি জানি না। বিডি প্রতিদিন/কালাম
6
দেশের মাটিতে সিরিজের স্কোয়াডে ছয়জন পেসার নেওয়াকে বিলাসিতা মনে হতে পারে। তবে ২০১৫ সালের হোম সিরিজের দিকে লক্ষ্য করলে তেমন মনে হবে না। ক্রিকেটানুরাগীদের নিশ্চয় মনে পড়বে বিশ্বকাপ-উত্তর সময়ে চান্ডিকা হাথুরুসিংহে বাজি খেলেছিলেন পেসারদের নিয়ে। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে মিরপুরে চার পেসার নিয়ে খেলে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিলেন ভারতের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনজন পেসার। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজেও বাজির ঘোড়া হতে পারেন ফাস্ট বোলাররা। শনিবার বিসিবির ঘোষিত ১৮ সদস্যের ওয়ানডে দলে রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সঙ্গে নবাগত দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। স্পিন বিভাগে নতুন মুখ একজন মেহেদী হাসান। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানান, কভিড-উত্তর নিউ নরমাল সময়ে স্কোয়াড বড় হওয়ায় বিকল্প বেশি নিতে পেরেছেন তারা। বাংলাদেশ শেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে ২০২০ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ী সিরিজও ছিল সেটি। মাশরাফি-উত্তর টাইগার বাহিনী ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে নতুনভাবে। যেখানে পেস ইউনিটের পর অলরাউন্ডারদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দলে। আইসিসির এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছেন বিশ্বসেরা ওয়ানডে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাহমুদুল্লাহ, সাইফউদ্দিন, আফিফ, মিরাজের সঙ্গে নবাগত মেহেদী ব্যাটিং-বোলিং দুটোই ভালো পারেন। সেদিক থেকে দেখলে স্কোয়াডে বিশেষজ্ঞ স্পিনার কেবল বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম। তবে ব্যাটিং বিভাগে গত চার-পাঁচ বছর একসঙ্গে খেলা ব্যাটসম্যানদের ধরে রেখেছে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু দল নিয়ে এক ব্যাখ্যায় বলেন, 'কভিড পরিস্থিতি মাথায় রেখেই আমরা স্কোয়াড বড় করেছি। কারণ কেউ অসুস্থ হলে বাইরে থেকে বিকল্প নেওয়া সুযোগ নেই। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনজন নতুন নিয়েছি। ২০২৩ বিশ্বকাপ মাথায় রেখে ওদের তৈরি করবে টিম ম্যানেজমেন্ট।' করোনাকালীন সময়ে ছয় মাস বিরতি দিয়ে দেশে সীমিত পরিসরে ক্রিকেট ফিরলেও জাতীয় দল গড়ার কাজ সহজ ছিল না। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ ও বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হলেও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধান নির্বাচক, 'এখানে সব ধরনের সমন্বয় করা হয়েছে, যখন যে পরিকল্পনা দরকার হবে, সেটা করা যাবে। ব্যাটিং, বোলিং সব দিক দিয়ে একটা ভারসাম্য রাখা হয়েছে। অভিজ্ঞরাই খেলার সুযোগ পাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, এই দল ভালো একটি সিরিজ উপহার দেবে।' ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আইসিসির নিষেধাঞ্জা পেয়েছিলেন সাকিব। বাঁহাতি এ অলরাউন্ডারকে ছাড়া খেলা সিরিজগুলোতে খুব একটা ভালো করেনি বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ এ অলরাউন্ডারের প্রত্যাবর্তনে স্বাগত জানান নান্নু, 'বিশ্বের এক নম্বর ওয়ানডে অলরাউন্ডার দলের সঙ্গে রয়েছে। তার অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করলে দল উপকৃত হবে। আমরা মনে করি, সে নিজেও একদম সতেজ হয়ে শুরু করছে। ওর কাছে আমরা অনেক ভালো পারফরম্যান্স আশা করি।' তবে বহর বড় হলেও সর্বশেষ ওয়ানডে দলের চারজন আল আমিন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাঈম শেখ, শফিউল ইসলাম নেই। মাশরাফিকে রাখা হয়নি নতুন পরিকল্পনায়, শফিউল বাদ গেছেন চোটের কারণে। আল আমিন আর নাঈম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়েছেন। সে যাই হোক, এই স্কোয়াড নিয়ে ২০, ২২ ও ২৫ জানুয়ারি খেলবে ওয়ানডে সিরিজ।
12
নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মেয়েদের ভূমিকা, অংশগ্রহণ ও গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ফ্যাশন সচেতনতাও। এখন কোনো অনুষ্ঠানের দাওয়াত এলে প্রথমে অনুষ্ঠানের ধরন, সময় ও তাৎপর্য বিবেচনা করে পোশাকের ধরন, উপাদান, রং, সাজ ও অনুষঙ্গ বাছাই করা হয়। পোশাক পরার সময় যে বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়, তা হলো অনুষ্ঠানটি ফরমাল, না ক্যাজুয়াল। এরপর নিজের পছন্দ, চলতি ধারা বুঝে পোশাক নির্বাচন। পৃথিবীর সব জায়গায় এখন স্থান-কাল-পাত্র বুঝে পোশাক পরা হয়। আর পোশাক তো ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও মাধ্যম। তাই যা পরছি, তা ফ্যাশনেবল কি না-দেখার পাশাপাশি ওই অনুষ্ঠান বা জায়গার জন্য উপযোগী কি না, সে ব্যাপারে লক্ষ রাখা উচিত। বেড়াতে গিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও অন্যান্য নিদর্শন দেখার আগ্রহ ও প্রবণতা দিন দিন অনেক বেড়েছে। তাই বেড়াতে যাওয়ার আগে আপনাকে ওই জায়গার ধরন অনুযায়ী পোশাক নিয়ে যেতে হবে। সমুদ্রতীরে বেড়াতে বা পানিতে নামার সময় মেয়েদের শাড়ি বা ঢিলেঢালা পোশাক না পরাই বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে টি-শার্ট, টিউনিক, টপের সঙ্গে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, লেগিংস পরা সুবিধাজনক হবে। পাহাড়ি এলাকায় যেতে মেয়েদের ট্র্যাকিং স্যুট, টি-শার্ট, ট্রাউজার ইত্যাদি পরা ভালো। সাথে কেডস নিতে ভুলবেন না। হিলওয়ালা জুতা পরিহার করতে হবে। শীতল এলাকায় বেড়াতে যেতে প্রয়োজনীয় উলের বা পশমি পোশাক নিয়ে যেতে হবে। বিয়ে কিংবা জমকালো অনুষ্ঠানে বিয়ে হলো এমন একটি অনুষ্ঠান, যেখানে বাঙালি মেয়েরা সবচেয়ে বেশি আনন্দ করে থাকে। বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেলেই প্রথমে চলে আসে, কী পরব? একটা সময় ছিল, বিয়ে মানেই শাড়ি পরতে হবে। তবে এখন পরিবর্তন এসেছে অনেকটাই। বিয়েতে এখন অনেকে কামিজ, লেহেঙ্গা, সারারা ইত্যাদি পরে থাকে। তবে যা-ই পরুন না কেন, সবকিছুতেই চাই গর্জিয়াস লুক। এ ক্ষেত্রে কারচুপির কাজ করা শাড়ি বা পোশাকের কদর বেশি থাকে। শাড়ি পরলে ব্লাউজের কাপড় ও কাটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইদানীং অধিকাংশ বিয়ে রাতে হয়, তাই মেয়েদের গাঢ় রঙের পোশাক পরতে বেশি দেখা যায়। বিয়ে হলে গায়ে হলুদ হবে না, তা তো হতে পারে না। গায়ে হলুদে হলুদ রঙের শাড়িকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও এখন অন্য রঙের চলও রয়েছে। গায়ে হলুদে মেয়েরা ফুলের গয়না পরতে বেশি পছন্দ করে। ধর্মীয় উৎসবের সময় ঈদ, পূজা ও বড়দিন বড় ধর্মীয় উৎসব। এই আনন্দের দিনগুলোতে সবাই নতুন পোশাক পরে থাকেন। ঈদে পোশাক পরার ক্ষেত্রে সবাই ব্যক্তিগত পছন্দকেই গুরুত্ব দেন। ঈদে কামিজ, শাড়ি, লেহেঙ্গা, সারারা ইত্যাদি পরতে দেখা যায়। অনেকে বর্ণিল ও গর্জিয়াস পোশাক পরে থাকেন। ঈদ এখন গরমের সময় হওয়ায় অনেকে আরামদায়ক সুতির পোশাককে প্রাধান্য দিচ্ছে। পূজায় লাল-সাদা শাড়িতে ঐতিহ্যবাহী নকশার প্রিন্ট বেশি গুরুত্ব পায়। তবে বর্তমানে কামিজ, টিউনিক, লেহেঙ্গা ইত্যাদি অনেকেই পরে থাকেন। বড়দিনে পশ্চিমা সংস্কৃতির ছাপ থাকায় পোশাকেও এর প্রভাব থাকে। পছন্দমতো রঙের শাড়ি, কামিজ বা টিউনিক, টপ, ব্লেজার, স্কার্ট ইত্যাদির সঙ্গে মেয়েরা প্যান্ট পরে থাকে। ছোট আয়োজনে জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীর মতো অনুষ্ঠানে এখন প্রায়ই যেতে হয়। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মেয়েরা তাঁদের নিজস্ব পছন্দকে গুরুত্ব দিতে পারেন। তবে বিবাহবার্ষিকীতে গর্জিয়াস শাড়ি পরা যায়। সেদিকে ঝোঁকটা এখন বেশিই দেখা যাচ্ছে। অফিসে কর্মজীবী মেয়েদের অফিসের কাজে কিংবা মিটিং, সম্মেলন, সেমিনার ইত্যাদি জায়গায় আনুষ্ঠানিক বা ফরমাল পোশাক পরতে হয়। এ ধরনের আয়োজনে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ যা-ই পরুন না কেন, সেটা এক রঙের হলে ভালো হয়। অর্থাৎ এসব অনুষ্ঠানে প্রিন্টের কাপড় না পরাই ভালো। পোশাকের রঙের ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে। উজ্জ্বল বা শকিং কোনো রঙের পোশাক না পরাই উত্তম। শাড়ি পরলে ব্লাউজের কাটের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের ওপর ব্লেজার পরতে পারেন, যা স্মার্টনেস বাড়িয়ে দেয়। চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে যাওয়ার সময়ও আনুষ্ঠানিক পোশাক পরা প্রয়োজন। পেশাদার কাজে কারও সঙ্গে দেখা করতে গেলেও এ ধরনের পোশাক পরা ভালো। নানা দিবসের আবহ ধরে বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দিবসে মেয়েদের বিশেষ পোশাক পরতে দেখা যায়। বিশ্ব নারী দিবস মেয়েরা বেগুনি কিংবা গোলাপি রঙের শাড়ি, কামিজ পরে উদ্যাপন করে থাকেন। বিজয় দিবসে লাল-সবুজ, ভাষা দিবসে সাদা-কালো, আর ভালোবাসা দিবসে লাল রঙের পোশাক-এ তো মোটামুটি আবশ্যকই। ঐতিহ্যের উৎসবে বাংলা বর্ষবরণ বা পয়লা বৈশাখ বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী উৎসব। আগে সাদা রঙের কাপড়ের ওপর লাল রঙের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী নকশা করা শাড়ি পরার প্রচলন ছিল। এখন অবশ্য মেয়েরা নিজেদের পছন্দমতো রঙের কামিজ বা শাড়ি ও ফুলের গয়না পরতে ভালোবাসে। এ ছাড়া পয়লা ফাল্গুনে বাসন্তী রঙের শাড়িই প্রাধান্য পায়।
4
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সফরকালে নিখুঁত ও চমৎকার আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৫ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এক চিঠিতে ড. এ কে আবদুল মোমেনকে ধন্যবাদ জানান। নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন যে, সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা ও মত বিনিময়ে তিনি আনন্দিত। অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। গত ২৬ ও ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করেন।
3
বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাস মহামারিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ কোটি ৭৮ লাখ ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস্ হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১০ মে) সকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ কোটি ৭৮ লাখ ৮৮ হাজার ৬২ জনে ছাড়িয়েছে এবং মারা গেছেন ৬২ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৫ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা আট কোটি ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৫ জন। বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ ভারতে মোট চার কোটি ৩১ লাখ সাত হাজার ৩২২ জনের সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে। একই সময়ে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ২৪ হাজার ৯৩ জনে। বাংলাদেশে ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ১২৭ জন এবং মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৮২৯ জন।
3
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্প্রতি দুটি পদে লোকবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ৬৫ জনকে নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। অনলাইনে পদগুলোর জন্য আবেদন শুরু হবে আগামী রোববার। আবেদন করা যাবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগামী ৭-১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্স কনস্ট্যাবিউলারি (এমওডিসি) সেন্টার অ্যান্ড রেকর্ডস, রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস কর্তৃক নির্ধারিত জেলা কোটা অনুযায়ী এ নিয়োগ দেওয়া হবে। এমওডিসিতে ৬৩ জন জিডি পেশায় এবং ২ জন ড্রাইভার পেশায় সৈনিক পদে পুরুষ ভর্তি করা হবে। প্রতিটি পদে আবেদনের জন্য আবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বয়সসীমা আলাদা আলাদা। পদভেদে আবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বয়সসীমার শর্তাবলি জানা যাবে নিচের বিজ্ঞপ্তিতে। আগ্রহী প্রার্থীদের বয়স এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা (://.../) ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। পূরণ করা আবেদনপত্র ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা।
1
মিরাজদের উড়িয়ে জয়ের ধারায় ফিরলেন তামিমরা জয়ের ধারায় ফিরল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে এসেই হোঁচট খায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে এসেই জয়ের ধারায় ফিরেলেন তামিম-কায়েসরা। রাজশাহী কিংসকে পাঁচ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচে কুমিল্লাকে ১২৫ রানের টার্গেট দেয় রাজশাহী। তারকা ব্যাটসম্যানদের নিয়া গড়া কুমিল্লার জন্য এটা মামুলি টার্গেটই। ৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। কুমিল্লার ব্যাটিং অর্ডারেও আজ দেখা যায় ভিন্নতা। ওপেন করতে নামেন বিজয়-লুইস। নিয়মিত ওপেনার তামিম নেমেছেন দুই নম্বরে। দুই ওপেনার ব্যাট থেকেই রান পায় কুমিল্লা। ৬৫ রানে লুইসের আউটের মাধ্যমে ভাঙে ওপেনিং জুটি। লুইসের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন বিজয়। ৩২ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয়ের মারে তিনি এ রান করেন। তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। মাত্র ২ রানে কায়েসের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান শোয়েব মালিক। আফ্রিদি ৯ ও ডওসন ১২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চমক দেখান রাজশাহীর অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ। ব্যাট হাতে তিনিই নামে ওপেন করতে। শুরুও করেছিলেন দুর্দান্ত। তার ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। যেটি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অবশ্য সর্বোচ্চ ৩২ রান আসে টেল এন্ডার ব্যাটসম্যান ইসুরু উদানার ব্যাট থেকে। তিনি আউট হন ৩২ রান করে। মিরাজ ছাড়া টপ অর্ডার-মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা বড় রান করতে ব্যর্থ হন। মোহাম্মদ হাফিজ ১৬ ও জাকির হোসেন করেন ২৭ রান। এ ছাড়া কেউ দেখেননি দুই অংকের মুখ। কুমিল্লার হয়ে দুর্দান্ত বল করেন শহীদ আফ্রিদি। তিনি চার ওভার বল করে মাত্র ১০ রান দিয়ে তুলে নেন দিন উইকেট। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন-রনি-ডওসন প্রত্যেকের ঝুলিতে জমা হয় দুকই উইকেট করে।
12
রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার সৈকত মণ্ডল কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট দেয়ার ঘটনায় তাকে গত ১৮ অক্টোবর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ বলছে, সৈকত ছাত্রলীগে একজন অনুপ্রবেশকারী। ওই সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সৈকত মন্ডল ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার দুপুরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈকত মন্ডলের বাড়ি উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের চেরাগপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের রাশেদুলের ছেলে। পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও শাহ্ আব্দুর রউফ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়ান। পরে রংপুর কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। সৈকতের বিরুদ্ধে কুমিল্লার ঘটনার পর মাঝিপাড়ায় সহিংসতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এদিকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ বলছে, সৈকত ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দিয়ে কলেজের দর্শন বিভাগ কমিটির সহ-সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়েছে। তিনি কারমাইকেল কলেজের ছাত্র নন। রংপুর জেলা ও কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি এবং পীরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈকতকে অনুপ্রবেশকারী দাবি করে মাঝিপাড়ার ঘটনায় তার দৃষ্টান্তমৃলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এজেডএম সেকেন্দার আলী বলেন, জীবন্তবৃত্তান্ত বা পরিচয় না জেনে টাকার লোভে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করলে এমন ঘটনা ঘটবেই। সৈকত অন্য কলেজের হয়ে কি করে কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়?' ভালোভাবে পরিচয় না জেনে পদ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সম্পাদকের বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি। এদিকে কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার বলেন, 'অপরাধী যে দলেরই হোক অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। আইন সবার জন্যই সমান।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পরে জানতে পেরেছি সৈকত ছাত্রলীগে একজন অনুপ্রবেশকারী। এও জানতে পারছি, তিনি কারমাইকেল কলেজের ছাত্রও না। অথচ কমিটি গঠনের সময় কারমাইকেল কলেজের প্রত্যয়ন জমা ছিল। ১৭ তারিখ রাতে আমরা তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করেছি। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান রনি বলেন, মাঝিপাড়ার ঘটনায় যারাই জড়িত হোক সকলকে বিচারের আওতায় আনতে শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে গত রোববার রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, বটতলা ও হাতীবান্ধা জেলেপল্লীর বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
6
২০২১ সালে ৩ কোটি ৩৫ লাখ নতুন গ্রাহক পেয়েছেন 'নগদ'। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ৯৪ হাজার জনের বেশি গ্রাহক 'নগদ'-এর নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, 'নগদ'-এ নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮০ লাখ। শুধু *১৬৭ ডায়াল করে গত এক বছরে 'নগদ'-এ যুক্ত হয়েছে ২ কোটি ১ লাখ মানুষ, যা মুঠোফোন আর্থিক সেবায় হিসাব খোলার নতুন একটি রেকর্ড। ফলে দেশে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর উজ্জ্বল একটি উদাহরণ তৈরি করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। 'নগদ'-এর অন্যতম সেরা উদ্ভাবন *১৬৭ ডায়াল করে হিসাব খোলার পদ্ধতি গত এক বছরে মুঠোফোন আর্থিক খাতের চেহারাই বদলে দিয়েছে। এই উদ্ভাবনের ফলে দেশের সাধারণ মানুষ এখন যেকোনো অপারেটর থেকে শুধু *১৬৭ ডায়াল করে ৪ ডিজিটের পিন সেট করলেই মুহূর্তে যুক্ত হতে পারছে 'নগদ'-এ। 'নগদ'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, "শুরুর পর থেকে দেশে মোবাইল আর্থিক সেবায় বিপ্লব নিয়ে এসেছে 'নগদ'। গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রাহকবান্ধব, সহজ ও সাশ্রয়ী সেবার কারণে প্রতিষ্ঠার তিন বছর হওয়ার আগেই 'নগদ' এখন দেশ সেরা মোবাইল আর্থিক সার্ভিস।" বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ করায় গ্রাহক পর্যায়ে দিন দিন বাড়ছে 'নগদ' ব্যবহারের প্রবণতা। তাই বাংলাদেশে 'নগদ' অ্যাপ ডাউনলোডের সংখ্যাও বেড়েছে বহু গুণ। বছরের বিভিন্ন সময়ে প্লেস্টোরগুলোতেও 'নগদ' অ্যাপ জায়গা করে নিয়েছে শীর্ষ তালিকায়। পাশাপাশি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বিতরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে নগদ।
0
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ভেরা মেনডোনচার নেতৃত্বে একটি দল। আজ বৃহস্পতিবার উপাচার্যের দপ্তরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।জানা যায়, সৌজন্য সাক্ষাতে ইউনিসেফ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করেন। পরে দলটি প্রকৌশল অনুষদের সভাকক্ষে রাবির ২৫ জন শিক্ষক ও ১৫ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ইউনিসেফের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করে। সেখানে রাবি জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রদীপ কুমার পাণ্ডে উপস্থিত ছিলেন।ইউনিসেফের প্রতিনিধি দলে ছিলেন, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান নাজিবুল্লাহ হামিম ও সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়র চেঞ্জ অফিসার মঞ্জুর আহমেদ।
1
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ার এই সময়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তারাগঞ্জের হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কুমারেশ রায়কে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার ডাংগীরহাট ব্যবসায়ী সমিতির আয়োজনে ডাংগীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বিকেল ৫টায় এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি সাংসদ হাসানুল হক ইনু, কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান প্রমুখ।কুমারেশ রায় গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে জাসদ মনোনীত হয়ে মশাল প্রতীকে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।গণসংবর্ধনায় উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও প্রতিষ্ঠান উপজেলা জাসদের সভাপতি কুমারেশ রায়কে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেন। ঢাক-ঢোল, সানাই বাজিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় ১০ হাজার মানুষ এতে অংশ নেন।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আলোচনা শেষে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
6
শরীরে রশি দিয়ে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় এক বৃদ্ধকে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে গাজীরভিটা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।শারীরিক নির্যাতন হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. দুলাল মিয়া (৫৫)। তাঁর বাড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুজাখালির তেঁতুল তলা গ্রামে।অভিযুক্ত ওই চেয়ারম্যানের নাম মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে মুজাখালী গ্রামের দুলাল মিয়ার জায়গা থেকে মাটি নিয়ে রাস্তার কাজ শুরু করেছেন পার্শ্ববর্তী ইউপি চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় দুলাল মিয়া বাঁধা দিতে গেলে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে দুলালকে তাঁর নিজ গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন।এ ঘটনায় পর আহত অবস্থায় দুলালকে হালুয়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন তাঁর পরিবারের লোকজন। ঘটনার দিনেই হালুয়াঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনকে না পেয়ে তাঁর মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও বন্ধ পাওয়া যায়।হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
6
চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের তিলতলি মাঠ সংলগ্ন করাঙ্গী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলটন চন্দ্র পাল।এ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল চুনারুঘাট থানা-পুলিশের একটি টিম।এ সময় বালু উত্তোলন এ ব্যবহৃত ১টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়। অভিযান টের পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়নি। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলটন চন্দ্র পাল জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
6
নীলফামারীর ডিমলায় এক ইউপি চেয়ারম্যান দরপত্র ছাড়াই পরিত্যক্ত সেতু ভেঙে বিক্রি করছেন। তবে ওই চেয়ারম্যান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে সেতু ভাঙার কথা জানান। অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাউর রহমান জানান, সেতু ভাঙার পর মালামাল ইউনিয়ন পরিষদে জমা করে নিলামে তোলা হবে।মেজবাউর রহমান আরও বলেন, 'আমাদের নিষেধ সত্ত্বেও চেয়ারম্যান সেতু ভাঙার কাজ শুরু করেন। মালামাল চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছে। চেয়ারম্যান ইট ও রড বিক্রি করে থাকলে এর দায়ভার আমাদের না।'সূত্রে জানা যায়, ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ায় কুমলাই নদের সেতুটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে ১৫ মিটার সেতু নির্মাণের দরপত্র দেওয়া হয়। এর আগে টেন্ডার ছাড়াই গয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক তড়িঘড়ি করে ১ জানুয়ারি থেকে শ্রমিক দিয়ে সেতুটি ভাঙার কাজ শুরু করেন। ভাঙা সেতু থেকে প্রতিদিন ইট, খোয়া ও রড নিলাম ছাড়াই বিক্রি করছেন।সরেজমিন দেখা যায়, ১৫ মিটার দীর্ঘ সেতুর উপরিভাগের পুরোটাই ভাঙার কাজ শেষ হয়েছে। এখন নিচের অংশ ভাঙার কাজ চলছে। এখান থেকে প্রাপ্ত ইট ও রড ইউনিয়ন পরিষদে জমা না করে নিজের বাড়ি থেকে চেয়ারম্যান সামছুল হক তা বিক্রি করেন।সেতু ভাঙার কাজের শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, 'ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে দৈনিক হাজিরায় সেতু ভাঙার কাজ করছি। প্রতিদিন ১৪-১৫ জন শ্রমিক এ কাজ করি। সেতুটি ভাঙতে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ লাগবে।'এদিকে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক বলেন, 'উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাউর রহমানের নির্দেশে শ্রমিক দিয়ে সেতু ভাঙার কাজ শুরু করেছি। ওই কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেই গত এক সপ্তাহের ইট ও রড বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি দিয়েছি। এখানে আমার কোনো দায়ভার নেই। সেতুর বাকি অংশের মালামাল বিক্রি শেষে শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।'
6
এ বছরের শুরু থেকে প্রতি মাসের সেরা খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। জুলাই মাসের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে মনোনীত হলেন বাংলাদেশ দলের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মনোনয়নপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল মার্শ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইডেন ওয়ালশ। এর আগে গত মে মাসের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। মাস সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করার ক্ষেত্রে রয়েছে সমর্থকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ। আইসিসির বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ৯০ শতাংশ এবং সমর্থকদের ভোটের ১০ শতাংশ বিবেচনায় এনে ঘোষণা করা হয় চূড়ান্ত ফলাফল। সাকিবকে ভোট দিতে প্রবেশ করুন এই লিংকে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
12
'সকাল সাতটার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন। সে সময় আমার রান্না শেষের দিকে। বের হওয়ার সময় আমি তাঁকে বলেছিলাম, খেয়ে যাও। তিনি বলেছিলেন, পাঁচ মিনিটের জন্য আসছি। তার সেই যাওয়াই যে শেষ যাওয়া হবে বুঝতে পারিনি। তিনি ফিরলেন, তবে লাশ হয়ে। এ কষ্ট এখন আমি কেমন করে সইব।'কথাগুলো বলেই হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন নাছরিন খাতুন। গত শনিবার সকালে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন তাঁর স্বামী ইয়াসিন আলম (৩৫)।ইয়াসিন পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা গ্রামের বাসিন্দা।চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাড়ারা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। ইয়াসিনের সঙ্গে একই পরিবার থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাঁরই চাচাতো ভাই সুলতান মাহমুদ খান। স্বজনদের দাবি, প্রার্থী হলেও চাচাতো ভাইয়ের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষেই কাজ করছিলেন ইয়াসিন আলম।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে তাঁদের নির্বাচনী প্রচারের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু সাইদ খান ও তার সমর্থকেরা বাধা দিলে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে গুরুতর আহত হন ইয়াসিন আলম। পরে পাবনা থেকে রাজশাহী নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করায় ইয়াসিনকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বজনরা।ইয়াসিন আলমের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছার পর শুরু হয় শোকের মাতম। শনিবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশী স্বজনদের ভিড়। ঘরের বাইরে কান্নার শব্দ ভেসে আসে। ছেলের জন্য আহাজারি করছেন মা শেফালী বেগম। স্বামীর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্ত্রী নাছরিন খাতুন। বাবাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ১১ বছরের শিশু চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইম খান। তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও যেন হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরা।পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত ১৪ বছর ধরে দেশের বাইরে ছিলেন ইয়াসিন আলম। সিঙ্গাপুর থেকে দেড় মাস আগে বাড়িতে আসেন তিনি। প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে কাগজপত্র ঠিক হলে আগামী জানুয়ারি নাগাদ সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা ছিল তাঁর।কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইয়াসিন আলমের স্ত্রী নাছরিন খাতুন বলেন, 'আমার স্বামী চিরতরে হারিয়ে গেলেন। আমার একটাই ছেলে। তাকে কেমন করে মানুষ করব? কি হবে আমাদের? কোথায় যাব? তবে সাইদ খানের যেন শাস্তি হয়। আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই। সাইদ এর আগে অনেক মার্ডার করেছে। কিন্তু কোনো শাস্তি হয়নি।'ছেলের জন্য বিলাপ করছিলেন মা শেফালী বেগম। বুক চাপড়ে আহাজারি করে বলেন, 'বেটা আমার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল। এসে খাচ্ছি বলে চলে গেল। আর বেটাকে দেখি নাই। বেটা তো কোনো দোষ করে নাই। তালি সে মইরলো ক্যা। সাইদ কি জন্যি আমার বেটাক মাইরলো? ওর বিচার করেন আপনেরা।'
6
পাকিস্তানের সরকার ও দেশটির উগ্রবাদী সশস্ত্র সংগঠন তেহরিকে তালেবান (টিটিপি) এক মাসের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সোমবার পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরি এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'পাকিস্তান সরকার ও নিষিদ্ধ তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (পাকিস্তানি তালেবান) সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।' তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের সাথে উগ্রবাদী সংগঠনটির যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আফগানিস্তানের তালেবান সরকার সহায়তা করেছে। এছাড়া উভয়পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ফাওয়াদ চৌধুরি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পাকিস্তান টিভির (পিটিভি) কাছে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, শান্তি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে উভয়পক্ষ আলোচনা করবে। এদিকে টিটিপির মুখপাত্র মোহাম্মদ খুরসানি সোমবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন, ৯ নভেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার ও টিটিপির মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলবে। এরমধ্যে আলোচনার জন্য উভয়পক্ষই একটি কমিটি গঠন করবে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরি জানান, আলোচনার অগ্রগতি হলে যুদ্ধবিরতির সময় আরো বাড়ানো হবে। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়া সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন তালেবানের থেকে পৃথক সংগঠন তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। ২০০৭ সালে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশের উপজাতীয় অঞ্চলে পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত সংগঠনটি গড়ে ওঠে। আফগান তালেবানের পাকিস্তানি সমর্থকদের দলচ্যুত কয়েক ব্যক্তি মিলে এই সংগঠন গড়ে তুলে। গঠনের পর থেকে গত ১৪ বছরে দলটির বিভিন্ন হামলায় কয়েক হাজার লোক নিহত হয়েছে। সূত্র : আলজাজিরা
3
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় মামলা করে বিপাকে পড়েছেন শাহানারা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নারী। মামলাগুলো প্রত্যাহারে তাঁকে গত কয়েক দিন থেকেই অব্যাহত চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন অভিযুক্ত মো. মিরাজ (৩৫) ও তাঁর লোকজন। উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের পশ্চিম চরপাতা গ্রামের মজুমদার বাড়ির ঘটনা এটি। তবে গতকাল শুক্রবার দুপুরে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. মিরাজ।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই বাড়ির আব্দুর রব মিয়ার ছেলে মো. মিরাজ। বাড়িটিতে ১০-১২টি পরিবারের বসবাস হলেও কেউই তাঁর ভয়ে কথা বলতে নারাজ। এলাকায় পরিচিতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে। গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সদস্য (মেম্বার) হিসেবে ভোট করে পরাজিত হয়েছেন। ইতোমধ্যে হত্যা, চাঁদাবাজি, মারধর, দাঙ্গাহাঙ্গামাসহ বিভিন্ন ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে থানায় জিডি ও আদালতে মামলার সংখ্যা অন্তত ২০টি।শাহানারা বেগম (৬০) বলেন, আমার স্বামী আব্দুল মান্নান প্রবাসে থাকা অবস্থায় ১৯৯২ সনে মারা যান। শিশু সন্তানদেরকে আমি অনেক কষ্টে মানুষ করি। এক ছেলে মুফতি হিসেবে চট্টগ্রামে কর্মরত ও অপর ছেলে প্রবাসে রয়েছে। জায়গা-জমি নিয়ে মিরাজ পরিবারের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলছে। এ পর্যন্ত মিরাজ, তাঁর বাবা আব্দুর রব ও তাঁর পক্ষের দুর্বৃত্তরা আমার ওপর অন্তত ৩৫-৪০ বার হামলা চালিয়েছে। মারধরের আঘাত নিয়ে অসংখ্যবার হাসপাতালে গিয়েছি। তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে থানায় ২৫-৩০টি জিডি ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। প্রতিটি তদন্তেই প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত তাঁদের দৃশ্যমান কোনো শাস্তি না হওয়ায় আরো বেপরোয়া হয়ে ঊঠেছে। এ অবস্থয় আমি আতঙ্কগ্রস্ত ও ভীতিকর অবস্থার মধ্যে আছি। আমি ও আমরা বাঁচতে চাই। শান্তিতে থাকতে চাই।'অভিযোগের বিষয়ে মো. মিরাজ বলেন, জমি নিয়ে আমাদের দু'পরিবারে বিরোধ ও মামলা চলছে। আমাদেরকে তাঁরা অন্যায়ভাবে হয়রানি করছে। মিথ্যা কথা রটিয়ে সম্মানহানি করে চলেছে। চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মামুনুর রশিদ বলেন, মিরাজ আমাদের দলের সক্রিয় কর্মী। তিনি কোনো পদে নেই। নেতা না হলেও চালচলনে তিনি নেতা। ওই গৃহবধূর পরিবারের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি আমাকে অনেক আগে জানানো হয়েছিল। তবে সম্প্রতি কোনো বিষয়ে অবগত নই।রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া বলেন, জায়গা-জমি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। মিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই নারী হুমকির বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।
6
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রধান ডেভিড বিসলে খাদ্যের মূল্য নিয়ে যে কথা বলেছেন, তাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। তাঁর সতর্কবাণী, ইউক্রেন সংকটের জেরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্য আকাশ ছুঁতে পারে। অবস্থাপন্ন মানুষের জন্য তা বিশেষ উদ্বেগের না হলেও দরিদ্র মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সমস্যা হচ্ছে বিবদমান দুই দেশ, অর্থাৎ ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়ই মৌলিক খাদ্যসামগ্রী রপ্তানিকারক। যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য রপ্তানিতে প্রভাব পড়েছে। ইতিমধ্যে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে শুরু করেছে, বেড়েছে দাম। ডেভিড বিসলে বলেছেন, এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিষয়টি হলো দুই বছর ধরে সারা বিশ্ব করোনার সঙ্গে লড়াই করতে করতে যখন ক্লান্ত, যখন মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল, আর বুঝি খারাপ দিন আসবে না, তখনই এই যুদ্ধ। বাস্তবতা হলো পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন একসময় 'ইউরোপের রুটির ঝুড়ি' আখ্যা পেয়েছিল। বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ গম ও অর্ধেক সূর্যমুখীজাত পণ্য রপ্তানি করে এই দুই দেশ। আর ইউক্রেন প্রচুর ভুট্টা রপ্তানি করে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধের ফলে শস্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী গমের দাম দ্বিগুণ হতে পারে। ডেভিড বিসলে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের বিজনেস ডেইলি প্রোগ্রামকে বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের আগেই বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি থেকে বেড়ে ২৭ কোটি ৬০ লাখে উন্নীত হয়েছিল। এর জন্য তিনটি কারণ চিহ্নিত করেন তিনি-সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনাভাইরাস। তিনি বলেন, যেসব দেশ কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে শস্যের বড় অংশ আমদানি করে, চলমান সংকটের প্রভাব তাদের ওপরই বেশি পড়বে। এ প্রসঙ্গে লেবাননের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তারা যত খাদ্যশস্য আমদানি করে, তার অর্ধেকই করে ইউক্রেন থেকে। এই তালিকায় আরও আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন, সিরিয়া ও তিউনিসিয়া-তালিকা আরও দীর্ঘ করা সম্ভব। বিষয়টি হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন ও সিরিয়া এখন খাদ্য আমদানি করতে না পারলে নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। নরওয়ের রাসায়নিক কোম্পানি ইয়ারা ইন্টারন্যাশনাল বিবিসিকে বলেছে, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হলে 'বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকট' দেখা দিতে পারে। ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সালিস বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী ইভানা ডোরিচেঙ্কো বলেছেন, ইউক্রেনের অনেক কৃষক রুশ আক্রমণ ঠেকাতে অস্ত্র হাতে নিয়েছেন। সে জন্য তাঁরা ইতিমধ্যে ফসলের মাঠ ছেড়েছেন। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে, তা বলাই বাহুল্য। ইভানা ডোরিচেঙ্কো বিবিসিকে বলেছেন, যাঁরা জমিতে কাজ করেন, তাঁরা সবাই এখন আমাদের জমি রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, জমি রক্ষা করা না গেলে পরবর্তী প্রজন্মের কিছুই করার থাকবে না। এই মুহূর্তে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি মাতৃভূমি রক্ষার চেষ্টা করছেন না। ডোরিচেঙ্কো আরও বলেন, এই যুদ্ধের কারণে কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা ধসে পড়েছে। রুশ আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বন্দরে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করেছে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের আগেই খাদ্যের মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক দেশ সংকটের মুখে ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতিবিদ ওয়ানডিল সিহলোবো বলেছেন, তিনি আফ্রিকাসহ বেশ কিছু শস্য আমদানিকারক দেশের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে চিন্তিত। দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি ব্যবসাবিষয়ক চেম্বারের প্রধান অর্থনীতিবিদ সিহলোবো বিবিসিকে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে যেমন সাময়িক মূল্যস্ফীতি হতে পারে, তেমনি যুদ্ধের পর প্রয়োজনীয় ফসলের ঘাটতি হতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। সোমবার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার কোম্পানি ইয়ারা ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছে, এই যুদ্ধের প্রভাবে সার উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। পরিণামে খাদ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে, এমন আশঙ্কা আছে। গ্যাসের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির আগে থেকেই বিশ্ববাজারে সারের দাম বাড়ছিল। বিষয়টি হলো রাশিয়ায় প্রচুর পরিমাণে সারের পুষ্টি উপাদান, যেমন পটাশ ও ফসফেট উৎপাদিত হয়। এখন রাশিয়া এসব উৎপাদন করতে না পারলে সারের সংকট হবে, স্বাভাবিকভাবেই মানুষের জীবন বিঘ্নিত হবে। এই পরিস্থিতিতে আইএমএফ বলছে, যুদ্ধের কারণে বিশ্বের সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়বে। তবে উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশের মানুষেরাই বেশি বিপাকে পড়বে। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, উন্নয়নশীল দেশে শুধু জ্বালানি ও খাদ্যের চাহিদা বেশি, তা-ই নয়, এর পেছনে খরচও বেশি। যেমন পৃথিবীতে গড়ে চাহিদার ৩০ শতাংশ হলো জ্বালানি ও খাদ্য, সেখানে আফ্রিকা মহাদেশের ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশ, যার অনেকটাই আমদানি করতে হয়। আবার উন্নত দেশগুলোতে মোট খরচের ১০ শতাংশ হয় এই দুইয়ের পেছনে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তা ২৫ শতাংশ ও কম আয়ের দেশগুলোতে ৫০ শতাংশ। মানুষের ব্যয় বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। তখন ব্যয় কমাতে তারা ভোগ কমায়, এটাই রীতি। আর তাতে পুনরুদ্ধারপ্রক্রিয়া আবার পিছিয়ে পড়বে।
0
অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানাকে সাউথ এশিয়ান ল'ইয়ার্স ফোরামের (সাল্ফ) ন্যাশনাল চাপ্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে। সাউথ এশিয়ান ল' ইয়ার্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ বিদেশে অবস্থান করায় গত সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা ন্যাশনাল চাপ্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
6
ক্যাচ মিস তো ম্যাচ, ক্রিকেটের বহুল চর্বিত প্রবচন। আর সেটা দেখা গেল পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। চরম উত্তেজনা মুহূর্তে পাক পেসার হাসান আলির এক ক্যাচ মিসে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল দুরন্ত গতিতে এগিয়ে আসা পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে উত্তেজনাকর সেমিতে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। জয়ের নায়ক ম্যাথু ওয়েড। শাহিন শাহ আফ্রিদির ১৯তম ওভারের শেষ তিন বছরে ছক্কা হাঁকান তিনি। তাতেই এক ওভার হাতে রেখে জয় পায় অজিরা। অথচ পুরো ম্যাচে ছিল পাকিস্তানের আধিপত্য। শেষ ১২ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২২ রান। ১৯তম ওভার করতে আসেন পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ বোলিং করা পেসার শাহীন শাহ। প্রথম বল ডট। দ্বিতীয় বলে লেগ বাই এক রান। এরপর একটি ওয়াইড। তৃতীয় বলে ছক্কা হাকাতে গিয়ে আউট হয়ে যাচ্ছিলেন ওয়েড। কিন্তু তার ক্যাচ নিতে পারেননি হাসান আলি। এখানেই যেন ম্যাচ ছুটে যায় পাকিস্তানের। হলোও তাই। শেষ তিন বলে সেই জীবন পাওয়া ওয়েড হাঁকান তিন অবিশ্বাস ছক্কা। শেষ ওভার আর খেলার প্রয়োজন হয়নি। কারণ ১৯তম ওভারেই আসে প্রয়োজনীয় ২২ রান। ম্যাচ শেষে হয়তো আফসোসে পুড়ছেন হাসান আলী। তিনি ক্যাচটা নিতে পারলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত। কিন্তু হয়নি তা। তাতে থামলো পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য পথচলা। আগামী রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া মোকাবিলা করবে নিউজিল্যান্ডের। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার সেই হারের শোধ তোলার পালা নিউজিল্যান্ডের।
12
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি-মন্দিরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে ছাত্রজনতা। এসময় ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। পরে তিনি বিক্ষুব্ধদের শান্ত করতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে একটি মিছিল শুক্রবার দুপুরে টিএসসি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যায়। সেখানে অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে নাসিরনগরের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেন। পরে বেলা সোয়া ১২টার দিকে তারা শাহবাগে এসে সড়ক অবরোধ করেন। তাদের অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা শাহবাগ মোড় হয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষ করে ফেরার পথে ওই বিক্ষোভে আটকা পড়েন মাহবুবউল আলম হানিফ। এসময় অবরোধকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে হানিফ গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবউল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, 'নাসিরনগরে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিল। আমি তখন ঢাবিতে একটি অনুষ্ঠান শেষে ওই দিক দিয়ে ফিরছিলাম। তাদের বিক্ষোভে এসময় সব গাড়িই আটকে ছিল। আমি গাড়িতে ছিলাম এটা বোধহয় তারা দেখেননি। এরপর আমি নেমে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বললে তারা শান্ত হয়ে চলে যায়।' শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষার্থীরা প্রেসক্লাবে মানববন্ধন শেষে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছিল। তবে সেখানে কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তারা চলে যাওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তিনি আরও জানান, অবরোধ চলাকালে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফের গাড়িও আটকে ছিল। পরে তিনি নেমে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে অংশ নেন। 'ইসলাম অবমাননার' অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওসির উপস্থিতিতে সমাবেশে 'উসকানিমূলক' বক্তব্যের পর ওই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। শুক্রবারও ফের নতুন করে বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
6
সতেরো মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। অষ্টগ্রামে সব বিদ্যালয়ে চলছে জোর প্রস্তুতি। উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় থেকে নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করা হচ্ছে।উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্কুল পরিষ্কার, মেরামত, শিক্ষার্থীদের অবস্থান, বাড়ির কাজ ও শিক্ষকদের স্কুলে অবস্থানের নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি চলছে।সোমবার সকালে কলমা ইউনিয়নের শিবলা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষক মো. উজ্জ্বল মিয়া ও জুয়েল চন্দ্র রায়সহ চারজন শিক্ষক স্কুল ধোয়ামোছার কাজ করছেন। তাঁরা জীবাণুনাশক দিয়ে স্কুলের মেঝে, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল পরিষ্কার করেছেন।এরই মধ্যে পূর্ব অষ্টগ্রাম কবিরখান্দান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য অষ্টগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পরাশরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান।জানা যায়, কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের ৮ ইউনিয়নে ৮৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী প্রায় ২৩ হাজার। শিক্ষক ৫১১ জন। এ ছাড়া ১৮টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষার্থী প্রায় ২ হাজার ৫০০। শিক্ষক ১৪৫ জন।তবে, উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় নিবন্ধিত কিন্ডারগার্টেন ১০ টি। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে তিনটি কিন্ডারগার্টেন।শিক্ষক মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, স্কুল পরিষ্কার করছি, ভালো লাগছে। স্কুল খোলা হলে ছাত্রছাত্রীরা আসবে, এটাই আনন্দের। অপেক্ষা করছি, নির্দেশ পেলেই পাঠদান শুরু করা হবে।উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় উপজেলার সব বিদ্যালয় যথারীতি শিক্ষকেরা খুলেছেন। শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণকৃত ওয়ার্কশিট মূল্যায়ন, বিদ্যালয়ের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি ও গৃহ পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করে বিদ্যালয় খোলার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছি।
6
সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা, এমনকি সমর্থকেরা পর্যন্ত চিরকাল সব দেশে সরকারি সুযোগসুবিধা বেশি ভোগ করেন। মানুষ এটাকে স্বাভাবিক প্রথা হিসেবেই মেনে নিয়েছে। সেকালে অবিভক্ত বাংলার তিন প্রধানমন্ত্রী-ফজলুল হক, নাজিমুদ্দিন ও সোহরাওয়ার্দী তাঁদের নিজেদের লোকদের চাকরি দিয়েছেন অন্য দলের অপেক্ষাকৃত যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও। মানুষ তাতে তেমন কিছু মনে করেনি। ১৯৫৫-৫৮ সময়ে আওয়ামী লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টি চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করেছে। মুসলিম লীগপন্থীরা সুবিধা করতে পারেননি, যে সুবিধা তাঁরা ১৯৪৭ থেকে ৫৪ পর্যন্ত পেয়েছিলেন। কিছু সরকারি আনুকূল্য বেশি পাওয়া আর দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে রাষ্ট্রকে শুষে ছোবড়া বানিয়ে দেওয়া এক জিনিস নয়। ভোগবাদ একটি সংক্রামক জিনিস। ভোগবাদের স্পৃহা একজনকে দেখে আরেকজনের মধ্যে জেগে ওঠে এবং শুধু জেগে ওঠে না, আরও বেশি ভোগের আকাঙ্ক্ষা জাগে। অন্যদিকে কৃচ্ছ্রব্রত ও নীতিপরায়ণতা সাধনাসাপেক্ষ। এখন দুর্মূল্যের বাজার। তবু একজন উচ্চ মধ্যবিত্তের অত্যন্ত বিলাসী জীবন যাপন করতে কী পরিমাণ টাকার দরকার? কতটা সম্পদ তাঁর নিজের ও বংশধরদের জন্য প্রয়োজন? ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলোপের আগপর্যন্ত বাংলার বড় জমিদারেরা প্রজাদের শোষণ করে খুবই বিলাসী জীবন যাপন করেছেন। তা করার ভেতরে মানুষ কোনো অস্বাভাবিকতা দেখতে পায়নি। তাঁদের বিলাসী জীবনযাপন সাধারণ মানুষের মধ্যে সমীহ সৃষ্টি করেছে। তাঁদের প্রতি মানুষের ঘৃণার উদ্রেক করেনি। বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি দেশে প্রধান দল দু-তিনটি থাকে। সেসব দলে সব বয়সী নেতা-কর্মী থাকেন। সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত থেকে শুরু করে অতি বৃদ্ধ পর্যন্ত। বাংলাদেশেও বড় দলগুলোর অঙ্গসংগঠন রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রসংগঠন, কৃষক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন। পেশাজীবী সংগঠনগুলো দলের স্বার্থে শ্রেণি-পেশাজীবীদের মধ্যে কাজ করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে যে যুব সম্প্রদায়, তাদের জন্য দলের দরজা খোলা। দলের নেতা-কর্মী হিসেবে কাজ করতে তাদের বাধা নেই। তাদের জন্য আলাদা একটি সংগঠন গড়ে তোলার উপযোগিতা কী? মানবজীবনের কয়েকটি ভাগ রয়েছে। একেবারে প্রথমটি শৈশব-১০-১২ বছর পর্যন্ত। আর একটি সংক্ষিপ্ত পর্যায় রয়েছে, সেটা কৈশোর-১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। যুবা বয়স ১৬ থেকে সর্বোচ্চ ৪০। চল্লিশের ওপরে যাঁরা, তাঁদের যুব হিসেবে গণ্য করা যায় না। বছর দুই আগে পদ্মার এক ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কয়েকজন বলিষ্ঠদেহী মানুষ কী নিয়ে জটলা করছিলেন। তাঁদের একজন মধ্যবয়সী নিজেই এগিয়ে এসে পরিচয় দিলেন, আমি জেলা যুব অমুক সংগঠনের অমুক। ক্ষমতাশালী পদ। একজনকে হুকুম দিলেন, যা, স্যারের জন্য চা-বিস্কুট নিয়ে আয়। চা-কে আপত্তি বলায়, তা অইলে ডাব আন। যুবনেতার বয়স পঞ্চাশের মতো। মাথায় টাক পড়ার উপক্রম। মানানসই ভুঁড়ি। ছেলেমেয়ে কলেজে পড়লেও পড়তে পারে। দেখে বোঝা যায় একজন প্রতিষ্ঠিত বিত্তবান মানুষ। তাঁর পক্ষে মূল দলের নেতা হলেই স্বাভাবিক হতো। তিনি যদি যুব সংগঠনের নেতা হন, প্রকৃত যুবরা যাবেন কোথায়? ৩০-৩৫ বছর বয়সী যুবাদের কচি-কাঁচারা সরে যাওয়া ছাড়া উপায় কী? ওই প্রবীণ ব্যক্তি যে যুব সংগঠনের নেতা, সেই সংগঠন যিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯৭২ সালে, তখন তাঁর বয়স ছিল ৩২। যুব সংগঠন গড়ার সে-ই উপযুক্ত বয়স। তখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতার বয়স ছিল ৫২ বছর। তখন আমাদের অর্থমন্ত্রীর বয়স ছিল ৪৭ বছর। তখন রাষ্ট্র পরিচালনা করছিলেন যেসব নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, তাঁদের প্রায় সবারই বয়স ছিল ৩৫ থেকে ৫০-এর মধ্যে। এটাই গঠনমূলক কাজ করার শ্রেষ্ঠ সময়। ৬০, ৭০, ৮০-তে মানুষের পরিশ্রম করার ক্ষমতা কমে যায়। মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন, মৃত্যুর পরোয়া করেননি, তাঁরা প্রায় সবাই ১৫ থেকে ৪০-এর কোঠায় ছিলেন। আমরা শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে মুক্তিযুদ্ধ করলেও স্বাধীনতার পর থেকে যে ধারায় চলতে শুরু করি, তাতে ওই অঙ্গীকার অর্থহীন হয়ে পড়ে। শাসকশ্রেণির পছন্দমতো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন নতুন সংগঠনের প্রয়োজন হয়। সংগঠন ছাড়া ব্যক্তি শক্তিশালী হতে পারে না। সংগঠনের নীতি, আদর্শ কোনো ব্যাপার নয়, থাকতে হবে পেশিবল। সেই পেশিবল দলকে শক্তিশালী করে শারীরিক দিক থেকে, কিন্তু দলকে বিপদে রক্ষা করতে পারে না; বরং বিপদের মধ্যে, দুর্দিনে সংগঠন ও সংগঠনের পরাক্রমশালী নেতাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। সেটা আমরা দেখেছি পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পরে, দেখেছি যখন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারারুদ্ধ হলেন। তখন ছাত্র ও যুবদের বাহুবলের কোনো পরিচয় পাওয়া গেল না। ২০০৯-এ সরকার গঠনের পরই ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতাদের প্রবল শক্তির প্রকাশ ঘটে। সংগঠনের নেতাদের ব্যক্তি হিসেবে মূল্য নেই। একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে যে ছাত্রনেতারা 'ঈদের সালামি' হিসেবে কোটি দুয়েক টাকা নেন, বা উপাচার্যের কাছে উন্নয়নকাজের ৪ থেকে ৬ ভাগ দাবি করেন, সেখানে ব্যক্তির কোনো দাম নেই। ওই নেতারা যদি সংগঠনের বড় পদে না থাকতেন, তাহলে উপাচার্যের কাছে মিঠাই মণ্ডা খাওয়ার জন্য হাজার দুই টাকা চাইলেও পেতেন না। আসলে ব্যাপার হলো পদ। উপাচার্য একটি পদ। যে পদের একজনের উন্নয়ন প্রকল্পে টাকা ব্যয় করার ক্ষমতা রয়েছে। হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার ক্ষমতা যদি উপাচার্যের না থেকে অন্য কোনো সংস্থার থাকত, তাহলে উপাচার্যের ড্রয়িংরুমে কোনো ছাত্র পদধূলি দিতেন না। সুতরাং, দোষটা ব্যক্তি উপাচার্যের নয়, ব্যবস্থার। বিদ্যমান ব্যবস্থায় যিনি উপাচার্যের চেয়ারে বসবেন, তাঁকেই ঈদের সালামি হোক বা ছাত্রনেতার ম্যারেজ ডের অনুষ্ঠান উপলক্ষে হোক, সালামি দিতেই হবে। যে ছাত্র-যুবনেতারা বিচিত্র সূত্র থেকে সালামি নিয়ে থাকেন, তাঁরা ব্যক্তি হিসেবে কেউ কিছু নন। হাসন রাজার ভাষায় বলতে গেলে তাঁরা বলতে পারেন, 'আমি কিছু নয় রে, আমি কিছু নয়'। সবই পদের মহিমা। সে জন্য বেশি বেশি সংগঠন বানাতে হয়। চড়া দামে পদ বিক্রিও হয়। ছাত্রসংগঠনের সর্বোচ্চ পদ যদি জনাব 'ক'-এর না হয়ে 'খ' বা 'গ'-এর হতো, সালামি দাবিদার তিনি হতেন। যে নেতাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যদি আবার উপাচার্যের কাছে চাঁদা দাবি করতে যান, ধারণা করি কিছুই পাবেন না। রাষ্ট্রের যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তা না ভাঙা হলে মানুষগুলোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সমাজের কোনো উপকার হবে না। সংগঠন আছে বলেই পদ আছে, পদ আছে বলেই চাঁদাবাজি আছে, ক্যাসিনো খেলা আছে, হাজার হাজার কোটি কালোটাকা আছে, হাজার হাজার ভরি স্বর্ণ আছে, নামে-বেনামে ফ্ল্যাট ও জমি আছে। কোন পদ ব্যবহার করে কোন নেতা কোথায় কী করছেন, তা মূল দলের নেতাদের অজানা থাকার কথা নয়। কারও আচরণ সন্দেহজনক হলে দল থেকে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। বহিষ্কার করা যায়। প্রশাসনকে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দলের জন্য মানহানিকর। মূল দল যদি মনে করে অঙ্গসংগঠনের কিছু কিছু নেতা খুব বেড়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতিহত করা যাচ্ছিল না, সুতরাং তাঁদের ডানা কিছুটা ছেঁটে দেওয়া দরকার। সে জন্য শুদ্ধি অভিযান। তাতে সার্বিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। সত্যিকারের যুবসমাজ পৃথিবীতে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বাংলাদেশেও রয়েছে বিশাল যুবশক্তি। তাদের নিষ্ক্রিয় রেখে বয়োবৃদ্ধ যুবনেতারা জাতিকে প্রাণহীন অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারবেন, কিছু দিতে পারবেন না। দু-তিন সপ্তাহ ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ও অস্ট্রেলিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বিরুদ্ধে লাখ লাখ যুবক-যুবতী রাজপথে আন্দোলন করছেন। আমাদের যুব সংগঠনগুলোর বৃদ্ধ নেতারা ১০ জন মানুষ নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াননি। বড় প্রকল্পের কাজের টেন্ডার নিয়ে কামড়াকামড়ি, বিরোধী দলের জনসভায় যোগদানকারী কর্মীদের বাসের গতি রোধ করার মধ্যে যুবসমাজের শক্তির প্রকাশ নয়। বসবাসযোগ্য সুন্দর অবদান রাখতে অক্ষম যেসব যুব সংগঠন, সেগুলো বিলুপ্ত করাই জাতির জন্য কল্যাণকর। সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক
8
অবশেষে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার গতকাল সোমবার আলোচিত ভিক্ষু আসিন উইরাথুকে মুক্তি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, কোনো কারণ উল্লেখ না করেই ভিক্ষু উইরাথুর বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ তুলে নিয়েছে সামরিক জান্তা। আসিন উইরাথু একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন বলে জানানো হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারিতে পতন হওয়া নির্বাচিত সরকারের বিরোধিতা করায় কারাগারে ছিলেন এই বৌদ্ধ ভিক্ষু। আটক হওয়ার আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন নেত্রী অং সান সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির কড়া সমালোচনা করেছিলেন আসিন উইরাথু। উল্লেখ্য, কট্টর জাতীয়তাবাদ ও মুসলিমবিরোধী অবস্থানের কারণে বহুবার আসিন উইরাথু আলোচনায় এসেছেন। সামরিক বাহিনীর প্রতি অনুরাগী হিসেবেও তিনি পরিচিত। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মীয় সর্বোচ্চ পরিষদ আসিন উইরাধুকে ধর্মপ্রচারে নিষিদ্ধ করে। পরে ২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে তার পেজ মুছে দেওয়া হয়। বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির
3
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে নতুন কাপড়ের ঘ্রাণ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের সর্বোচ্চ পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সমাজের অসচ্ছল সাধারণ মানুষের মাঝে হাঁসি ফোটাতে চট্টগ্রামের নগরে ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। বৃহস্পতিবার মাহে রমজানের ২৬তম দিবসে নগরীর সিআরবি, গোয়ালপাড়া, তুলাতুলি ও বিআরটিসির জামতলা বস্তি এলাকায় প্রায় ৪ হাজার মানুষের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে নতুন কাপড় বিতরণ করেন তিনি। ঈদ উপহার বিতরণকালে হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর বলেন, 'ঈদ আনন্দ কেবল মাত্র সমাজের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর নয়, এই ঈদ আনন্দ বাংলার প্রতিটি পরিবারের আনন্দ। তাই এই আনন্দ প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌছানো সমাজের সামর্থ্য বানদের দায়িত্ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবারের ঈদে ঈদ উপহার সরূপ দেশের ৩৩ হাজার ভূমিহীন, গৃহহীনদের নতুন ঘর উপহার দিয়েছেন। ৩৩ হাজার পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা গড়ে দিয়েছেন, তাদের মুখে হাঁসি ফুটিয়েছেন। এদেশের মানুষের স্বাধীনতা এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নও হয়েছে আওয়ামীলীগের হাত ধরে। তাই আমাদের উচিত ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবেশী ও আশেপাশের সাধারণ মানুষের পাশে থাকা। তবেই গড়ে উঠবে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ, সোনার বাংলাদেশ।' ঈদ উপহার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর যুবলীগ নেতা শিবু প্রসাদ চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ওমর ফারুক, মোর্শেদুল আলম, দেলোয়ার হোসেন, চাঁন মিয়া, মকবুল আহম্মেদ, দেলোয়ার হোসেন রুবেল প্রমুখ।
6
রমজান মাসে ঘিরে ইফতারসামগ্রীর দাম যখন ঊর্ধ্বগতি, তখন নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১০ টাকায় ইফতারসামগ্রী দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিক্রমপুর মানবসেবা ফাউন্ডেশন।গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া স্কুলমাঠে '১০ টাকায় ইফতার বাজার' নামক এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। অস্থায়ী এই বাজার থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে তেল, খেজুর, পেঁয়াজ, ছোলা, চিনি, চিড়া ও মুড়িসহ ইফতারে ৭টি পণ্য কিনে নেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এমন আয়োজনে অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটে।সরেজমিনে দেখা যায়, অস্থায়ী এই বাজারের ভিন্ন ভিন্ন স্টলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে তেল, খেজুর, পেঁয়াজ, ছোলা, চিনি, চিড়া ও মুড়ি। অন্য সব বাজারের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ পছন্দমতো পণ্য সংগ্রহ করছেন। তবে সেগুলোর দাম রাখা হচ্ছে ১০ টাকা।দিঘিপাড় এলাকার বাসিন্দা রুনা বেগম (৫৫) বলেন, 'পাশের বাড়ির একজন ছোলা-মুড়ি দিছিল। পাঁচ রোজায় সব শেষ হয়ে গেছে। পরে আর কিনে খাইতে পারি নাই। এহন ১০ টাকা দিয়া কত কিছু কিনে নিলাম। যা দিয়া বাকি রমজানগুলো কাটিয়ে দিতে পারমু।'পূর্বরাখি এলাকার বাসিন্দা লুৎফর ব্যাপারী (৬০) বলেন, 'আগের দিন বাজারে কয়েকজনের কাছে শুনলাম, এখানে ১০ টাকা দিয়ে বাজার করা যাইব। প্রথমে বিশ্বাস না করলেও আজ সকালে এসে সত্যি সত্যি ১০ টাকা দিয়ে বাজার থেকে সবকিছু কিনছি। এর আগেও তাদের সংগঠন থেকে ঈদের খাবার, শীতের কম্বল পাইছি।'রাউৎভোগ গ্রামের নাজমা বেগম (৩৫) বলেন, 'বাজারে যেখানে ১ লিটার তেলের দাম ৭০ টাকা; সেখানে ৭টি পণ্য মাত্র ১০ টাকায় পেয়েছি। এখানে এসে মনে হলো বাপ-দাদার আমলের অল্প টাকায় আমরা বাজার থেকেই পণ্য নিচ্ছি। রোজার বাকি দিনগুলো ভালোভাবে কাটবে, চিন্তামুক্ত।'সংগঠনে সদস্য মুন্নি আক্তার বলেন, 'আমরা চাইলে ইফতারসামগ্রীগুলো বিনা মূল্যে তাদের দেওয়া যেত। তবে আমাদের সংগঠনের সদস্যরা চান, তাঁরা সামান্য মূল্যে ক্রয় করুক। এতে তাঁদের আত্মসম্মান অক্ষুণ্ন থাকবে। পাশাপাশি বাজার থেকে ক্রয় করার মতো একটি অনুভূতি লাভ করবেন।'সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রিয়াদ হোসাইন বলেন, বর্তমান বাজারের অবস্থা বিবেচনা করে আমরা এই অস্থায়ী বাজারের আয়োজন করেছি। সংগঠনের সদস্যদের দান ও মাসিক চাঁদা দিয়ে বাজার পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা আরও বড় ছিল। তবে আর্থিক সংকটের কারণে কিছুটা সীমিত পরিসরে করা হচ্ছে। এই কাজটি দেখে যাতে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয় ও এগিয়ে আসে, সেটিই আমাদের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।'সংগঠনের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক হিরা বলেন, প্রথম পর্যায় এই বাজার থেকে দুই শতাধিক মানুষ সহায়তা পেয়েছেন। আমরা অসহায় মানুষের আগ্রহ ও তৃপ্তির হাসি দেখে আনন্দিত হয়েছি।
6
বাংলাদেশে মাত্র তিনশ টাকায় একশ চ্যানেল দেখা যায়, এভাবে চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি পরিবার, আমরা সবাই মিলে এই ক্লিনফিড বাস্তবায়ন করব। বিদেশি বিজ্ঞাপন এবং বিদেশি সবকিছুই আমাদের নির্ধারিত মূল্য ও আইন অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। ডা. মুরাদ হাসান আরও বলেন, আমি কানাডার টরেন্টো, মন্ট্রিল, অটোয়া, ভ্যানকুভার কোথাও একটা নিউজ দেখতে পারলাম না টাকা দেওয়া ছাড়া। আর আমার বাংলাদেশে, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে, বঙ্গবন্ধুকন্যার বাংলাদেশে সারা পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ এসে দেখতে পারবে মাত্র তিনশ টাকা লাগে একশটি চ্যানেল দেখতে। এভাবে বাংলাদেশ চলবে না। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত
9
যুক্তরাষ্ট্রের জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি করোনাভাইরাসের এক ডোজের টিকার প্রয়োগ বন্ধ করা হয়েছিল। এ টিকা নিয়ে এবার সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। গতকাল সোমবার বলেছে, এ টিকা গ্রহণে একধরনের বিরল স্নায়বিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। স্নায়বিক এ জটিলতা গুলেন বারি সিনড্রোম নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে যাঁরা করোনার পূর্ণাঙ্গ টিকা পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ফাইজার ও মডার্নার টিকা নিয়েছেন। এর বিপরীতে ১ কোটি ২৮ লাখ মানুষ জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে এ টিকার কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এফডিএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাঁরা জনসনের টিকা নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১০০ জন গুলেন বারি সিনড্রোমে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এফডিএর এ প্রতিবেদন প্রাথমিক। এতে আরও বলা হয়েছে, যাঁরা এই স্নায়বিক জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। যাঁদের জনসনের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং যাঁরা গুলেন বারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের তথ্যসহ এ সতর্কবার্তা দিয়েছে এফডিএ। তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, যাঁরা জনসনের টিকা নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এই সিনড্রোম দেখা দেওয়ার আশঙ্কা কম। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় জনসনের টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে এ সিনড্রোম দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি। এফডিএ বলেছে, স্নায়ুকোষ দুর্বল হয়ে গেলে এ সিনড্রোম দেখা দেয়। এর কারণে মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং সাময়িকভাবে ওই ব্যক্তি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগ নতুন নয়। ফি বছর প্রতি ১০ লাখে ১০ জন এ রোগে আক্রান্ত হন।
3
ইআরএফ ও আইসিএবি আয়োজিত আলোচনায় কালোটাকা সাদা করার বিপক্ষে অবস্থান নেন দেশের দুটি বড় ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি। এবার ঢালাওভাবে কালোটাকা সাদা করার বিপক্ষে অবস্থান নিলেন দেশের দুটি বড় ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি। তাঁরা দুজন হলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির ও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। তাঁরা ঢালাওভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগের সমালোচনা করে বলেন, সৎ ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ হারে কর দেন। আর অনেকে চুরি-ডাকাতির টাকা ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে সাদা করে ফেলেন। এতে সৎ করদাতাদের প্রতি অন্যায় করা হয়। তাঁরা কর দিতে নিরুৎসাহিত হন। অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) যৌথ উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার অনলাইনে আয়োজিত বাজেট আলোচনায় ওই দুই ব্যবসায়ী কালোটাকা সাদা করার বিপক্ষে মত দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইসিএবির সাবেক সভাপতি হুমায়ূন কবির। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আগামী বাজেট যেন গতানুগতিক না হয়। করোনা সংকট মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশও করেন তাঁরা। বেশির ভাগ আলোচক বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির 'মোহ' থেকে বেরিয়ে এসে করোনা সংকট উত্তরণে স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দিতে হবে। কালোটাকা প্রসঙ্গে এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, 'অর্থমন্ত্রী প্রফুল্ল হয়ে বলেন, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ায় শিল্প খাত ভালো আছে। কিন্তু আমার তো ভালো লাগে না। নৈতিকভাবে ব্যবসা করে ৩০ বছর ধরে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ১০ শতাংশ কর দিয়ে অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছেন।' নিহাদ কবির আরও বলেন, 'দামি রেস্তোরাঁ ইজুমিতে কোন কোন ব্যবসায়ী খেতে গেলেন, তা চিন্তা না করলেও হবে। দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছেন কারা, তাঁদের দিকে নজর দিন।' এর আগে ইআরএফেরই এক অনুষ্ঠানে কর নিয়ে ব্যবসায়ীদের তীব্র সমালোচনার জবাবে সরকারের একজন উপমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবসায়ীদের দামি রেস্তোরাঁয় খাওয়ার প্রসঙ্গটি অবতারণা করেন। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, 'কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত আয় ও অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের মধ্যে পার্থক্য থাকা উচিত। চুরি-ডাকাতির টাকা ১০ শতাংশ কর দিয়ে সাদা করার সুযোগ দেওয়া মানব না। এতে সৎ করদাতারা বঞ্চিত হন।' কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ায় সৎ করদাতারা কীভাবে নিরুৎসাহিত হতে পারেন, এর একটি উদাহরণ দেন রিজওয়ান রহমান। তিনি বলেন, 'আমরা ৩২ শতাংশ হারে কর দিই। ব্যবসায়িক মনোভাব বিবেচনা করলে, আমি আগামী বছর আয়ের ৩২ শতাংশ হারে কর দেব না। কিন্তু পরের বছর ১০ শতাংশ কর দিয়ে ওই টাকা সাদা করে ফেলব। ২২ শতাংশ কম কর দিতে হবে, এটাই আমার লাভ।' একইভাবে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও এ কে খান গ্রুপের পরিচালক আবুল কাশেম খানও মনে করেন, ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে সৎ করদাতাদের প্রতি অন্যায় করা হয়। ব্যবসায়ীদের প্রতি একমত পোষণ করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর মতে, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে নিয়মিত করদাতাদের কর প্রদানে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে। চলতি বাজেটে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পাশাপাশি নগদ টাকা, ব্যাংকে গচ্ছিত কালোটাকাও ১০ শতাংশ কর দিয়ে সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এলাকাভেদে আয়তন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে জমি-ফ্ল্যাট কিনেও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। কেউ কালো টাকা সাদা করলে এনবিআর ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) কোনো সংস্থা টাকার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারবে না। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা করপোরেট কর কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম বলেন, এত করপোরেট কর দিয়ে ব্যবসা করা কঠিন। করহার এত বেশি হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে আসবেন না। এ ছাড়া এ দেশে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও করহারের পার্থক্য কম। এটিও বড় বাধা। অন্তত পাঁচ বছর একই করহার রাখতে হবে বলে মনে করেন তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, পাঁচ-দশ বছর করহার এক থাকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা আসবে। তাঁরা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন তিন কোটি টাকার বেশি হলে লাভ-ক্ষতিনির্বিশেষে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। এ নিয়ে আপত্তি করেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রথম বছরেই লাভ হবে, এর নিশ্চয়তা নেই। ব্যবসায় 'না লাভ, না লোকসান বা ব্রেক ইভেনে' যেতেও কয়েক বছর সময় লাগে। প্রথম বছর থেকে কর দিতে হলে কে ব্যবসা করবে?' করহার কমানোর বিষয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, কর কমানোর ফলে বিনিয়োগ বেড়েছে কি না, তা দেখা দরকার। তিনি মনে করেন, আস্থার ঘাটতি থাকলে বিনিয়োগ কমবে। ব্যাংক খাত ও কর প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে। করোনাকালে কীভাবে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বক্তারা বলেন, ভোক্তার খরচ করার সামর্থ্য বাড়াতে পারলে পণ্য বা সেবার চাহিদা বাড়বে। যা উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য টিকে থাকবে। ভোক্তা খরচ করলে প্রণোদনা বা ছাড় দেওয়ার সুপারিশ করেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে রেস্তোরাঁয় খেতে ভোক্তারা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পান। ছাড়ের টাকা সরকার দিয়ে দেয়। বাংলাদেশেও ভোক্তাদের ছাড় দেওয়া হলে ভোগে উৎসাহিত হবেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ উদ্বেগজনক বলে মনে করেন গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, শ্রমজীবী ও শহুরে গরিবদের প্রণোদনা দিতে হবে। তাঁরা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাশুরুর রিয়াজ বলেন, আগামী এক বছরে যদি ৫০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে না পারি, তবে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম 'শূন্য' থেকে শুরু করতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রথম আলোর বিশেষ বার্তা সম্পাদক শওকত হোসেন আগামী বাজেটের অগ্রাধিকারের বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, 'আমরা চাই না আগামী বাজেটে জিডিপি নিয়ে আলোচনা হোক। আগামী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি মোটেও মূল বিষয় হতে পারে না। আগামী বাজেটে উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও ভোক্তা চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।' সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানও জিডিপির প্রবৃদ্ধির মোহ থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে করোনা সংকট মোকাবিলাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, জিডিপিকে প্রাধান্য না দিয়ে করোনায় সংকটে পড়া মানুষকে প্রাধান্য দিতে হবে। আগামী বাজেটে জীবন ও জীবিকায় বড় বরাদ্দ রাখতে হবে।
0
আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিমেন্ট খাতে যে করভার কমানো হয়েছে, তা খুবই নগণ্য। বিশ্ববাজারে সিমেন্টের কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে বাজেটে দেওয়া এ ছাড় দামের ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। আবার উদ্যোক্তারাও খুব বেশি লাভবান হবেন না। সিমেন্ট যেহেতু নির্মাণশিল্পের অন্যতম উপকরণ, সে কারণে বাজেটে নির্মাণশিল্প খুব বেশি সুবিধাভোগী হচ্ছে না। সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাটের অগ্রিম কর ১ শতাংশ করে কমানো হয়েছে। এর ফলে অগ্রিম কর বাবদ প্রতি বস্তা সিমেন্টে তিন টাকা কমবে। সিমেন্টের অন্যতম কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানিতে শুল্কহার এখন টনপ্রতি ৫০০ টাকা। আমাদের দাবি ছিল, আমদানি মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ শুল্কহার ধার্য করার। সেটি করা হলে ভোক্তারা কিছুটা হলেও সুবিধা পেত। প্রতি ব্যাগ সিমেন্টে ১২-১৩ টাকা খরচ কম পড়ত।বাজেটে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তাতে যে সিমেন্টের দামে কোনো প্রভাব পড়বে না, তার একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। গত অর্থবছরের বাজেটের সময় বিশ্ববাজারে সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের প্রতি টনের দাম ছিল ৪০-৪২ মার্কিন ডলার। সেটি এখন বেড়ে হয়েছে ৬০-৬২ ডলার। এর ফলে ৫০ কেজি সিমেন্টের বস্তায় বাড়তি খরচ হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। উদ্যোক্তারা প্রতি বস্তায় ৫০-৬০ টাকা সমন্বয় করেছেন। সেই হিসাবে বলা যায়, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি বস্তা সিমেন্টের উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৭০-৮০ টাকা। বাজেটে কর কমানোর যে ঘোষণা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দিয়েছেন, তাতে প্রতি বস্তা সিমেন্টের উৎপাদন খরচ কমবে তিন টাকা। এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, সিমেন্ট খাতে উদ্যোক্তারা যেমন নগণ্য সুবিধা পাচ্ছেন, তেমনি সেই সুবিধার বিপরীতে ভোক্তাদের জন্য সুখবর থাকার সম্ভাবনা নেই। কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে সিমেন্টের দামে কর কমানোর প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। করোনাকালে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান তৈরি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্মাণশিল্পের প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। সিমেন্টের দাম বাড়লে সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের খরচও বেড়ে যায়। তাই বাজেট পাসের সময় বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে বলে প্রত্যাশা।
0
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত 'শোকের মাস, ষড়যন্ত্রের মাস আগস্ট' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল। জিয়াউর রহমান সরকার গঠনের পর পাকিস্তানের দোসরদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নেপথ্যে তারা ছিল। জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় যারা ছিলেন তারা পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রিসভাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। এর আগে আলোচনা সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। তিনি ভারতে অবস্থান করে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তিনি যে ক্যাম্পে অবস্থান করতেন সেখান থেকে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন দিকে চলে যেতেন। কোথায় যেতেন তা কেউ জানতো না। তবে তাকে মুক্তিযুদ্ধে কোথাও অংশ নিতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে একাধিক সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর রক্ত বাংলাদেশে থাকলে বাংলাদেশকে মেরে ফেলা যাবে না। তাই বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যে তার শিশুসন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্ত বা তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশের ক্ষমতা নিয়ে দেশকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে না এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আগামী প্রজন্ম জানতে চায় কেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। তার হত্যার বিচারের জন্য কেন ২১ বছর দেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। কেন নেপথ্যের মানুষদের এখন পর্যন্ত বিচার হয়নি। সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব একেএম আতিকুর রহমান, সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, মার্টিন অধিকারী, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার প্রমুখ।
6
গণসংহতি আন্দোলনকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দিতে হাইকোর্টের রায় ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কেন কার্যক্রম ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সিইসি কে এম নুরুল হুদার বিরুদ্ধে এই আবেদন করা হয়। তবে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, এরমধ্যে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তার মেয়াদ শেষ হয়। পরে নতুন সিইসি নিয়োগ পান। তাই আবেদন সংশোধন করে মামলায় নতুন সিইসিকে বিবাদী করা হয়। গণসংহতি আন্দোলন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন চেয়ে ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করে। পরের বছরের ১৯ জুন নির্বাচন কমিশন এক পত্রের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাবে না মর্মে অবহিত করে। পরে গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষে প্রধান সমন্বয়ক মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রিট মামলায় উচ্চ আদালত ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল রুল মঞ্জুর করেন এবং রায় ও আদেশের অনুলিপি প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন প্রদানের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
6
সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার মহারাজা হাট শাখা গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ নেকমরদ সোনালী ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে মটরসাইকেলযোগে অফিস যাওয়ার পথে দুর্লভপুর নামক স্থানে দুই ছিনতাইকারী পিস্তল দেখিয়ে ১ রাউন্ড গুলি ফুটিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ৬ লাখ টাকা ও বিদেশী পিস্তলসহ ২ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে । মঙ্গলবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ এসব কথা বলেন । চিৎকার শুনে বুঝতে পেরে নেকমরদ ইউপি সদস্য ইলিয়াস রাণীশংকৈল পুলিশকে জানালে ছিনতাইকালে পুলিশ দ্রুত বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। ছিনতাইকারীরা মহারাজা নামক স্থানে জনতা, পুলিশ ও রাস্তায় গাছের ব্যারিকেড দেখে আতঙ্কে ছিটকে পড়ে। এ সময় পুলিশ হরিপুর উপজেলার লোহুচাঁদ গ্রামের আমিন উদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামান লিটন (৩৩) ও একই গ্রামের বদরুল ইসলামের ছেলে আবু সায়েদ (২৮) কে গ্রেফতার করে। তাদের তল্লাসী চালিয়ে একটি বিদেশী পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। কাছে থাকা ছিনতাইয়ের ৬ লাখ টাকা ও তাদের ব্যবহৃত মটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। পরে ছিনতাইকারীদের দেয়া তথ্য মতে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত থাকায় রাণীশংকৈল থানার ভবানন্দপুর (টাওয়ারপাড়া) গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে তান্নু আনসারী (২১) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় দ্রুত বিচার আইনে ও অস্ত্র মামলায় পৃথক ২টি মামলা করা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল আলম, রানীশংকৈল সার্কেল এসপি হাবিবুল আলম হাবিব, ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ মিঞা, ওসি অপারেশন কফিল উদ্দিন আহমেদ, রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান, জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
6
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্যবসায়ী তুষার হোসেনের ডান হাতের কব্জি কেটে নিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান নাইস। আজ শনিবার (১৮ মে) দুপুরে কলারোয়া পৌর শহরে এ ঘটনা ঘটে। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, পৌরসভার একখণ্ড জমি নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও তুষার ইলেক্ট্রনিক্সের স্বত্ত্বাধিকারী তুষার ও স্থানীয় মন্টুর মধ্যে বিরোধ চলছিল। সকালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান নাইসের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মন্টুকে ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেন। এসময় তুষার বাধা দিতে গেলে তাকে পিটিয়ে আহত করে ও রাম দা দিয়ে কুপিয়ে তার ডান হাতের কব্জি কেটে নেন নাইস। তুষারকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
6
মোগল আমলের প্রথমার্ধে মাগুরার শালিখা উপজেলার ছান্দড়া গ্রামের জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করেন জমিদার অলঙ্গল মোহন দেব রায়।জনশ্রুতি রয়েছে যে, এই অঞ্চলের মধ্যে ছান্দড়ার জমিদার অত্যন্ত প্রতাপশালী ছিলেন। জমিদারি আমলে এই বাড়ি থেকেই এলাকার কর, খাজনা আদায় করা হতো এবং এখান থেকেই এলাকার শাসনকার্য পরিচালিত হতো। এই জামিদারবাড়ির ধ্বংসাবশেষ এখনো টিকে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।এখানে কেউ না থাকলেও রয়ে গেছে জমিদারের নির্মিত শানবাঁধানো একটি পুকুরঘাট, দুর্গা ও কালীমন্দির। এখানে রয়েছে জমিদারের ব্যবহৃত একটি হাতিশালা, যা ব্যাঙ নদীতে বিলুপ্ত হয়েছে। জমিদারি অস্তিত্বের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে শতবর্ষী একটি আমগাছ। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী বটগাছটি।জমিদারবাড়ির অদূরেই বাউল মাহেদ্র সাধকের বাড়ি। শালিখা উপজেলার সীমাখালী বাজার থেকে তিন কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই জমিদারবাড়ি। এর অদূরেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতীয় ক্রিকেট তারকা সৌরভ গাঙ্গুলির জন্মভিটা।ছান্দড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা অমল কৃষ্ণ মালাকার বলেন, 'জমিদার অলঙ্গল মোহন দেব রায় বাড়িটি তৈরি করেন। তবে ঠিক কত সালে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়, তার সঠিক কোনো তথ্য নেই।'সরেজমিনে দেখা যায়, জমিদারবাড়িটির পাশে গড়ে উঠেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাশেই ছান্দড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। প্রতিদিন ভ্রমণপিপাসুরা জমিদারবাড়িটি দেখতে আসেন। তবে বাড়িটির কিছু স্থান ভেঙে পড়েছে। সংরক্ষণ করা গেলে পুরোনো এই জমিদারবাড়ি পর্যটনের সম্ভাবনাময় স্থান হতে পারে।এ প্রসঙ্গে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিফ-উল-হাসান বলেন, 'উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমিদারবাড়ির পুরোনো স্মৃতি রক্ষায় আমরা কাজ করছি।'
6
বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি নিয়ে অনেক ভুল ধারণা ছড়িয়েছিল। কোভিডের বিস্তার নিয়ে যেমন, তেমনি এর টিকা নিয়েও ছড়িয়ে ছিল নানা সংশয়। ফলে করোনা টিকা গ্রহণে মানুষের মধ্যে একটা সময় পর্যন্ত নানা দ্বিধা কাজ করেছে, যা এখনো আছে কিছু মাত্রায়। জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে অবশ্য বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়। কারণ, এই রোগ সম্পর্কে ভয়, ভুল ধারণা ইত্যাদি পেরিয়ে এটি প্রতিরোধের চেষ্টা শুরু হয়েছিল বহু আগে। তারপরও জলাতঙ্ক বিষয়ে এখনো কিছু কিছু ভুল ধারণা রয়ে গেছে।আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। জলাতঙ্ক নিয়ে এখনো বিদ্যমান বিভিন্ন ভুল ধারণা থেকে মুক্ত হতে দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্যে ঠিক করা হয়েছে-'জলাতঙ্ক: ভয় নয়, সচেতনতায় জয়'। এ বছর জলাতঙ্ক সম্পর্কিত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার ওপর নজর দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও এ সম্পর্কিত প্রচলিত মিথ্যের ওপর নির্ভর করে এ নিয়ে ভয় না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, জলাতঙ্ক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, এর প্রতিরোধের উপায়, পশুকে টিকা দেওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করার জন্য সঠিক তথ্য অপরিহার্য। তথ্য ছাড়া এ রোগের গুরুতর প্রকৃতি সম্পর্কে জানা যাবে না। সে ক্ষেত্রে অন্যকেও সচেতন করা সম্ভব হবে না। তারা বলেন, জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী হলেও এটি শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতি বছর গোটা বিশ্বে হাজার হাজার মানুষ ও প্রাণী জলাতঙ্কে মারা যাচ্ছে। তাই সঠিক তথ্য ব্যবহার করে সচেতনতা বাড়াতে হবে।দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্যে উল্লিখিত 'ভয়' শব্দের মাধ্যমে তিন ধরনের ভয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, এটি জলাতঙ্কজনিত সাধারণ ভয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই সাধারণ ভয়ের মধ্যে ভয়াবহ পশুর মুখোমুখি হওয়ার সময় মানুষ যে ভীতি অনুভব করে, তা এবং কোনো গোষ্ঠীতে জলাতঙ্ক রোগী নিয়ে বিদ্যমান যে ভয়, তার কথা বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই ভয় রোগে লক্ষণের কারণে সৃষ্ট ভীতির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ অনুভব করে। আর তৃতীয়ত, এই ভয় এই রোগ সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান নানা ভুলধারণা ও প্রচলিত নানা মিথের সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষ টিকা দিতে ভয় পায়, পশুদের জীবাণুমুক্ত করতে বা টিকা দিতে ভয় পায়। আবার দেখা যায় তারা রোগের প্রচলিত কিন্তু অকার্যকর নানা চিকিৎসায় বিশ্বাস করে। এই সব ধরনের ভয় ও ভুল ধারণাকে প্রতিহত করতেই এবারের প্রতিপাদ্য হিসেবে সচেতনতার কথা বলা হয়েছে গুরুত্বের সঙ্গে।দিবসটিকে সামনে রেখে সরকার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেমিনার, মুক্ত আলোচনা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২১ উপলক্ষে তাঁর বাণীতে বলেছেন, 'জনসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা ও টিকা প্রদান, ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাদান (এমডিভি), কুকুরের জন্ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে (আমরা) জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করতে পারি।' দেশে জলাতঙ্কে মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে। গত ১২ বছরে এ মৃত্যু বছরে ২ হাজার থেকে কমে ৩০-এ নেমে এসেছে।র্যাবিস ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি মারাত্মক রোগ হলো জলাতঙ্ক। জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার অনেক বেশি। অর্থাৎ, রোগলক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে রোগীকে বাঁচানো অনেক কঠিন। জলাতঙ্ক সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই জেনে রাখা জরুরি।কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, বানর, বেজি, বাদুড় ইত্যাদি র্যাবিস জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে এবং আক্রান্ত উল্লেখিত প্রাণী মানুষকে কামড়ালে মানুষের এ রোগ হয়। এসব আক্রান্ত প্রাণীর মুখের লালায় র্যাবিস ভাইরাস থাকে। এ লালা পুরোনো ক্ষতের বা দাঁত বসিয়ে দেওয়া ক্ষতের বা সামান্য আঁচড়ের মাধ্যমে রক্তের সংস্পর্শে এলে রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে জলাতঙ্ক রোগীর ৯৫ শতাংশই কুকুরের কামড়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়।সন্দেহজনক প্রাণী কামড়ানোর ৯ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেয়। কারও শরীরে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে উন্মত্ত বা পাগলামো আচরণ এবং মৌন আচরণ-দুই ধরনের আচরণই দেখা দিতে পারে। অস্বাভাবিক আচরণে আক্রান্ত ব্যক্তির কথাবার্তা ও ভাবভঙ্গি হবে অস্বাভাবিক। সে উদ্দেশ্য ছাড়াই ছুটে বেড়াবে, ক্ষুধামান্দ্য হবে, বিকৃত আওয়াজ করবে, বিনা প্ররোচনায় অন্যকে কামড়াতে আসবে ইত্যাদি।এ ছাড়া পানির পিপাসা খুব বেড়ে যাবে, তবে পানি খেতে পারবে না। পানি দেখলেই আতঙ্কিত হবে, ভয় পাবে। আলো-বাতাসের সংস্পর্শে এলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যাবে। খাবার খেতে খুবই কষ্ট হবে, খেতে পারবে না। শরীরে কাঁপুনি, মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ হবে। কণ্ঠস্বর কর্কশ হতে পারে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে, আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দেবে।জলাতঙ্কের জীবাণু বহন করে এমন কোনো প্রাণী কামড়ে দিলে বা আঁচড় দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে গেলে। চিকিৎসকের পরামর্শমতো র্যাবিস টিকা নিতে হবে। সাধারণত প্রথম দিন এ টিকা দেওয়ার পর ৩,৭, ১৪ ও ২৮ তম দিনে মোট ৫টি ডোজে ভ্যাকসিন দিতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে হিউম্যান র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিনও দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।আরও পড়ুন:২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে জলাতঙ্কমুক্তজলাতঙ্কে মৃত্যুহার বিবেচনায় বিশ্বে তৃতীয় বাংলাদেশ
4
কাপ্তাই লেকে পড়ে সাবেক ইউপি সদস্য অমর চাকমা (৫৫) নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের দুর্গম ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভাইবোনছড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অমর চাকমা ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য।কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, গত রোববার সন্ধ্যায় আমি খবরটি পাওয়ার পর কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাই। ইউএনও বলেন, যেহেতু এলাকাটি অনেক দুর্গম তাই সোমবার ভোর ৫টায় কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ওই এলাকায় গিয়ে সন্ধান শুরু করবে বলে জানান।১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদল চাকমা জানান, নিখোঁজের পর এলাকাবাসী পানিতে তল্লাশি চালিয়ে ওই ব্যক্তির কোন সন্ধান পায়নি।এদিকে সোমবার সকাল হতে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থল এবং এর আশপাশের এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে।
6
সাতকানিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় দুই জনের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও হয়নি মামলা। এদিকে অস্ত্রসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় চাপাতি, ছুরি ও ৩টি লোহার টুকরো উদ্ধার হয়। পুলিশের দাবি নির্বাচনের দিন এ আগ্নেয়াস্ত্র কেন্দ্রে গোলাগুলিতে ব্যবহৃত হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম জসিম উদ্দিন (৪২)। সে ওই এলাকার ছৈয়দ আহমদের ছেলে। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার খাগরিয়ার ৪নং ওয়ার্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। নির্বাচনী সহিংসতায় পৃথক দুজন নিহতের ঘটনায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবদুল জলিল। তিনি জানান, নির্বাচনের দিন খাগরিয়ায় ভোট কেন্দ্রের বাইরে যেসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে ছবি ও ভিডিও দেখে আমরা তাদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। নিহত ব্যক্তির পরিবারের কেউ চাইলে মামলা করতে পারবেন। বাজালিয়ার ২নং ওয়ার্ডের বাইরে ভোট কেন্দ্রে গুলিতে নিহত আব্দুস শুক্কুরের বিরুদ্ধে বোয়ালখালী থানায় ডাকাতি মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার সাতকানিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুপুর ১২টায় নলুয়ার ৮নং ওয়ার্ডের বোড় অফিস ভোট কেন্দ্রের বাইরে বহিরাগতদের সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে শিশু তাসিফ (১৩) ও বাজালিয়ার বোড অফিস কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে আব্দুস শুক্কুর নিহত হয়। এদিকে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন চৌধুরীসহ এলাকার লোকজন। মঙ্গলবার বিকালে সোনাকানিয়ার মির্জাখীল বাংলাবাজার এলাকায় ভোটকেন্দ্র দখল ও ফলাফল পরিবর্তনের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম উদ্দিন চৌধুরীর দাবি করে বলেন, সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জসিম উদ্দীন, তার কর্মী-সমর্থক ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। পরে তারা অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেন। এরপর আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট পেপার নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে ভরে দেন। মির্জাখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবুল কাশেম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুর রকিব চৌধুরী ও ব্যবসায়ী সরওয়ার্দী।
6