text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
ভারতে ৫০ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম করোনা শনাক্ত হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এই সময়ে মৃত্যুও কমেছে। আজ সোমবার এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৩ হাজার ১২৮ জন। সবশেষ এই তথ্য নিয়ে ভারতে করোনায় সংক্রমিত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৪। মারা যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ১০০ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার) ভারতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। মারা যান ৩ হাজার ৪৬০ জন। শুক্রবার শনাক্ত হয় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯২১। মারা যান ৩ হাজার ৬১৭ জন। ভারতে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর যে হিসাব দেশটির সরকার দিচ্ছে, তার চেয়ে প্রকৃত সংখ্যা বেশি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ বাড়ছে। এই সংক্রমণের জেরে বাড়ছে মৃত্যুও। ২৪ মে ভারতে দৈনিক করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্তের সংখ্যা গত ১৪ এপ্রিলের পর প্রথম দুই লাখের নিচে নেমেছিল। এদিন দৈনিক করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও চার হাজারের নিচে নেমেছিল। গত মার্চের মাঝামাঝিতে ভারতে এক দিনে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। তারপর দেশটিতে সংক্রমণ বাড়ে। ৩ এপ্রিল ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই কোটির মাইলফলক ছাড়ায়। ২৩ মে করোনায় মৃত্যু তিন লাখের মাইলফলক ছাড়ায়। ৩০ এপ্রিল ভারতে প্রথম এক দিনে চার লাখের বেশি মানুষের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তারপর একাধিক দিন দেশটিতে চার লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়। ৭ মে ভারতে প্রথম এক দিনে করোনায় চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তারপর একাধিক দিন দেশটিতে চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বিশ্বের কোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড এখন ভারতের দখলে। ২২ এপ্রিলের আগপর্যন্ত এ রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গত জানুয়ারিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। ওয়ার্ল্ডোমিটারস শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনাবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য দিয়ে আসছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ভারত। ভারতের পর রয়েছে ব্রাজিল। সম্প্রতি সংক্রমণের দিক দিয়ে ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ভারত। আর মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরেই রয়েছে ভারত। ভারতে সংক্রমণ 'বিস্ফোরণের' জন্য করোনার ভারতীয় ধরনকে অনেকাংশে দায়ী করা হয়। করোনার ভারতীয় ধরনকে 'উদ্বেগজনক' হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা বিজ্ঞানীরা আগে জানালেও তাতে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির মুখে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়। ১ মে থেকে সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে (১৮ বছরের ঊর্ধ্বে) টিকাদানের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ভারত। তবে বিভিন্ন রাজ্য টিকার সংকটের কথা জানাচ্ছে। এনডিটিভির তালিকা অনুসারে, ভারতে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রে। তারপর রয়েছে কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও ওডিশা। ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে আরম্ভ হয়। ভারতে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশটি তার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। অক্সিজেন, জরুরি ওষুধ, হাসপাতালে শয্যার অভাবসহ নানা গুরুতর সংকটে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। এ অবস্থায় ভারতের পাশে এসে দাঁড়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। | 3 |
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অসহায় সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদান দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিক সমাজ কৃতজ্ঞ জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে যখন পুরো দেশ প্রায় স্থবির। সব পেশাজীবী মানুষের মধ্যে যখন উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীরা জীবিকার প্রশ্নে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক সমাজের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি চলমান সংকট মোকাবেলায় অসহায়, অস্বচ্ছল ও সমস্যা জর্জরিত সাংবাদিকদের মাঝে ৩ কোটি টাকার আর্থিক অনুদান মঞ্জুর করেছেন। তিনি বলেন, ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের তিন ধাপে এই তিন কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন অন্যের ওপর ভর করে ক্ষমতায় যেতে অন্ধকারে চোরাগলি খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেলক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ধর্মীয় সহনশীলতা বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ার করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মীমাংসিত বিষয় নিয়ে আপোস করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বা সমাবেশ করলে সরকার কোনো বাধা দেবে না, তবে আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টি করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। দলীয় নেতাকর্মীদের সাবধান করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দল করলে দলের শৃঙ্খলা মানতে হবে। উন্নয়ন-অর্জনে কোনো লাভ হবে না, যদি দলে শৃঙ্খলা ফিরে না আসে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ খারাপ করে উন্নয়নকে ম্লান না করারও আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতোমধ্যে যারা বিদ্রোহ করেছে কিংবা আবার নির্বাচিত বা পরাজিত হয়েছে তাদের আর দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দলে মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্য করা থেকে বিরত থাকতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, দিনের পর দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করার জন্য দলের পদ-পদবি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। কোনো নেতিবাচক ঘটনায় দলের ও সরকারের ইতিবাচক অর্জনগুলো যেন ম্লান না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই বেগমগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। কোনো অবস্থাতেই লক্ষ্মীপুর পিছিয়ে থাকবে না, লক্ষ্মীপুরের লক্ষ্মী ফিরিয়ে আনা হবে। লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সাবেক মন্ত্রী শাহাজান কামাল, সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান, জেলা আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়নসহ লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। | 6 |
অভিনেত্রী সাগুফতা আলী। দীর্ঘ চার বছর হাতে কোনো কাজ নেই। নিজেও অসুস্থ। চার বছরে নিজের সঞ্চয় ভেঙে, গাড়ি, গয়নাগাটি বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে করোনা। বিক্রি করার মতো কোনো সম্পত্তিও এখন আর তাঁর কাছে নেই। পরিবার নিয়ে ভয়াবহ অর্থকষ্টে পড়েছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর এই অবস্থা তুলে ধরে খবর প্রচার করে বিভিন্ন গণমাধ্যম। খবরটা 'ডান্স দিওয়ানে'র লোকজনের চোখে পড়ে। অভিনেত্রীর সাহায্যে এগিয়ে আসে তারা। সাগুফতা আলীকে ডান্স দিওয়ানের মঞ্চে এনে হাজির করে তারা। নাচের তালে দুলতে থাকা অনুষ্ঠান যেন হঠাৎই আবেগে থরো থরো। উপস্থাপক, প্রতিযোগী থেকে বিচারক সবার চোখই আর্দ্র। মঞ্চে সাগুফতা তাঁর অর্থকষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, '৩৬ বছরের ক্যারিয়ারের ৩২ বছর বেশ ভালোই কেটেছিল। প্রচুর কাজ করেছি। পরিবারকে সাহায্য করেছি। চার বছর আগে অনেক অডিশনে গেলাম। অনেক কিছুই হলো। কিন্তু কাজ করার আর সুযোগ হলো না। এর মধ্যেই আমার ডায়াবেটিস বেড়ে যায়। চোখে সমস্যা শুরু হয়।' কথা বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেন সাগুফতা। জানান, ৩৬ বছর এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়েছেন। এটাই তাঁর ঘর। সাগুফতাকে জড়িয়ে ধরেন উপস্থাপক ভারতী সিং। বিচারকের আসন থেকে উঠে আসেন মাধুরী দীক্ষিত। সাগুফতাকে পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক দিয়ে বলেন, 'আপনি লিখেছেন যে বিক্রি করার মতো আপনার কাছে আর কিছুই নেই, এমন একটা পরিস্থিতিতে আপনি পড়েছেন। এ কারণে ডান্স দিওয়ানে টিম থেকে আমরা আপনাকে কিছু দিতে চাই।' শুধু 'ডান্স দিওয়ানে থ্রি'ই নয়, ইন্ডাস্ট্রির নানাজনই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। রোহিত শেঠি, নীনা গুপ্তা, সুমিত রাঘবন ও সুশান্ত সিং তাঁকে সহযোগিতা করেছেন।সাগুফতা আলী ভারতীয় টিভি ও চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী। তাঁর অভিনীত টিভি সিরিজের মধ্যে 'পুনর্বিবাহ', 'শ্বশুরাল সিমর কা', 'সাথ নিভানা সাথিয়া' উল্লেখযোগ্য। 'গঙ্গা যুমনা কি লালকার', 'ইন্টারন্যাশন্যাল খিলাড়ি', 'লায়লা মজনু' ইত্যাদি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। | 2 |
এই তো কদিন আগের কথা। নতুন বছরের শুরুতে ক্যামেরুনের ইবো ফরেস্টে বিজ্ঞানীরা নতুন একটি গাছের সন্ধান পেয়েছিলেন। হলিউড তারকা লিউনার্দো ডিক্যাপ্রিওর নামে যার নামকরণ করা হয়। তার মানে, একদিকে যেমন নানা প্রজাতির গাছ বিলুপ্ত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি আবিষ্কৃত হচ্ছে নতুন নতুন প্রজাতি। বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে আমরা গাছ হারাচ্ছি। কিন্তু হারানোর আগে আমাদের কী ছিল? তা না জানলে তো গাছগুলো চিরদিনই অজানা থেকে যাবে। এই তাগিদ থেকেই বিজ্ঞানীরা নড়েচড়ে বসেন। নেমে পড়েন গবেষণায়। সেই গবেষণার বরাত দিয়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীতে এখনো অজানা বা নাম না পাওয়া ৯ হাজার ২০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে।বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট সায়েন্স ডেইলিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। শতাধিক বিজ্ঞানী সারা বিশ্বের ১ লাখ বনাঞ্চলের কয়েক কোটি গাছের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই তথ্য জানিয়েছেন।গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া গাছের প্রজাতির সংখ্যা ৬৪ হাজার ১০০। তবে বনাঞ্চলের সম্পূর্ণ তথ্য ও উন্নত পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখা গেছে, পৃথিবীতে যে গাছগুলোর সঙ্গে আমরা কমবেশি পরিচিত, তার চেয়েও প্রকৃত গাছের সংখ্যা আরও ১৪ শতাংশ বেশি। গাছের প্রজাতির মোট সংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজার ৩০০। অর্থাৎ ৯ হাজার ২০০ প্রজাতির গাছ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। জানা যায়নি সেগুলোর নাম।সায়েন্স ডেইলির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন শনাক্ত হওয়া নাম না জানা এসব প্রজাতির অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ পাঁচটি মহাদেশের ক্রান্তীয় বা উপক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকায় রয়েছে সবচেয়ে বেশি ৪৩ শতাংশ নাম না জানা গাছ। এর পরে ইউরেশিয়ায় ২২ শতাংশ, আফ্রিকায় ১৬ শতাংশ, উত্তর আমেরিকায় ১৫ শতাংশ এবং ওশেনিয়ায় ১১ শতাংশ প্রজাতির গাছ পাওয়া যায়।গবেষকেরা বলেছেন, বিশ্বজুড়ে বন সংরক্ষণের প্রচেষ্টাকে জানান দেওয়া কিংবা বনাঞ্চল নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে গাছের প্রজাতির সংখ্যা বের করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনের সহলেখক এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজির পরিচালক অধ্যাপক ড. পিটার রিচ বলেন, 'গাছ নিয়ে নতুন তথ্যগুলো আমাদের অঞ্চলভিত্তিক জীববৈচিত্র্যের ধারণা দেবে। এর মাধ্যমে জানা যাবে, কোন এলাকার জীববৈচিত্র্য কতটা হুমকির মুখে রয়েছে। ফলে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে পারব।'অধ্যাপক পিটার রিচ বলেছেন, 'আমরা জানি, বন উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা গাছ হারাচ্ছি। গাছের নানা প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। হারানোর আগে আপনার কাছে কী আছে, কী ছিল-সেটা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাটিতে আমরা আসলে এমন কিছুই জানতে চেয়েছি।'গবেষণার প্রধান লেখক ও ইতালির বোলোগানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্তো গাজ্জোলা গাট্টি বলেছেন, 'বর্তমানে যেসব প্রজাতির গাছ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত জানাটা জরুরি। বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হলে এ ধরনের জ্ঞান কার্যকর ভূমিকা রাখবে।' বনাঞ্চলের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিতেও ভোলেননি এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, 'গাছ বিনা মূল্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কার্বন শোষণ, মাটির গঠন মজবুত রাখাসহ বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে, জ্বালানি কাঠের সরবরাহ জোগাচ্ছে, অক্সিজেন সরবরাহ করছে, খাদ্য উৎপাদন করছে।' | 6 |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যোগ দিয়েছেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম। আজ রোববার তিনি যোগ দেওয়ার পর বিচারাধীন বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শুনানির তারিখ নির্ধারণসহ ১৮টি আদেশ দিয়েছেন।এর আগে সকালে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও অপর সদস্য বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সাক্ষাৎ শেষে তিন সদস্যর বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হয়।গত ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি আমির হোসেন মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে ট্রাইব্যুনালের একজন সদস্যের পদ শূন্য হলে বন্ধ হয়ে যায় বিচারকাজ। | 6 |
মেষ(২১ মার্চ-২০ এপ্রিল)ব্যবসায়িক ভ্রমণ ফলপ্রসূ হতে পারে। পাওনা আদায়ে প্রভাবশালী কারও সহায়তা পেতে পারেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের অবসান হবে। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য আজ সুখবর আছে। রাজনৈতিক তৎপরতা শুভ।বৃষ(২১ এপ্রিল-২১ মে)কর্মস্থলে আপনার ওপর বসের সুনজর পড়তে পারে। সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি পাবেন। হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান জিনিস খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য দিনটি বিশেষ শুভ। স্বাস্থ্য ভালো যাবে।মিথুন(২২ মে-২১ জুন)ব্যবসায়ে আজ লাভের পাল্লাই ভারী থাকবে। আজ আপনার অর্থভাগ্য বিশেষ শুভ। প্রেমবিষয়ক জটিলতার অবসান হবে। নতুন চাকরিতে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন। যাত্রা শুভ।কর্কট(২২ জুন-২২ জুলাই)ফাটকা ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন। পারিবারিক সমস্যার সমাধানে আপনার উদ্যোগ ফলপ্রসূ হতে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া পাবেন। রাজনৈতিক তৎপরতা শুভ।সিংহ(২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট)বিদেশযাত্রায় প্রবাসী আত্মীয়ের সহায়তা পেতে পারেন। পাওনা আদায়ে অগ্রগতি হবে। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য দিনটি বিশেষ শুভ। বেকারদের কারও কারও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আছে। দূরের যাত্রায় সতর্ক থাকুন।কন্যা(২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর)চাকরির জন্য বিদেশে আবেদন করে কেউ কেউ ইতিবাচক সাড়া পেতে পারেন। মামলা-মোকদ্দমার রায় আপনার পক্ষে যেতে পারে। যেকোনো চুক্তি সম্পাদনের জন্য দিনটি শুভ। প্রেমের ক্ষেত্রে ইতবাচক সাড়া পাবেন।তুলা(২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর)ব্যবসায়ে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আজ কারও প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিতে হতে পারে। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হতে পারে।বৃশ্চিক(২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর)বেকারদের কারও কারও জন্য দিনটি সাফল্যের বার্তা বয়ে আনতে পারে। আজ আকস্মিকভাবে অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে। চাকরিতে কারও কারও বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। প্রেমে সাফল্যের দেখা পাবেন।ধনু(২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর)কর্মস্থলে আজ আপনার কর্মদক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন হতে পারে। বেকারদের কারও কারও বিদেশযাত্রার প্রচেষ্টা সফল হতে পারে। আজ আপনার অর্থভাগ্য বিশেষ শুভ। যাত্রাপথে সতর্ক থাকুন।মকর(২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি)ফাটকা ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেতে পারে। আজ আপনার অর্থভাগ্য বিশেষ শুভ। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য আজ সুখবর আছে। যাবতীয় কেনাকাটা শুভ।কুম্ভ(২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি)দিনটি শুরু হতে পারে প্রিয়জনের কাছ থেকে পাওয়া সুখবর দিয়ে। আজ কারও কাছ থেকে ব্যবসাসংক্রান্ত প্রস্তাব পেতে পারেন। প্রেমের ব্যাপারে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন। সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি পাবেন।মীন(১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ)কর্মস্থলে পদস্থ ব্যক্তিদের আনুকূল্য পাবেন। ব্যবসায়ে ঝুঁকি গ্রহণ করে লাভবান হতে পারেন। প্রেমিক-প্রেমিকার মনের আকাশে জমে থাকা কালো মেঘ আজ দূর হতে পারে। রাজনৈতিক তৎপরতা শুভ। | 6 |
কুয়েতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম তারকা সুন্দোস আল কাত্তান তার দেশে ফিলিপাইনের গৃহকর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়ায় বৈষম্যমূলক মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তার ব্যাপক প্রভাব থাকার পরেও এমন বেফাঁস মন্তব্য করে বিপাকে পরেছেন এই আরব তারকা। তবে দমে না গিয়ে নিজের মতামতের ওপরই অটল রয়েছেন সুন্দোস। মূলত ব্লগে তিনি রূপচর্চা নিয়ে লেখেন। আরবিয় অঞ্চলের নারীদের রূপচর্চা ও ফ্যাশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন কুয়েতের মডেল সুন্দোস আল কাত্তান। ইনস্টাগ্রামে তার ২৩ লাখ ফলোয়ার রয়েছে। কিন্তু বৈষম্যমূলক মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে গেছেন তিনি। গত ১০ জুলাই তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে কুয়েতে অবস্থান করা ফিলিপাইনের গৃহকর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটি মঞ্জুর করা নিয়ে বিধিমালার কঠোর সমালোচনা করেন এ রূপচর্চাবিষয়ক লেখিকা। সুন্দোস ভিডিওবার্তায় বলেন, 'এটি কীভাবে সম্ভব যে আপনার বাড়িতে একজন গৃহকর্মী থাকবেন আর তার পাসপোর্ট তিনি নিজের কাছে রাখবেন! এর চেয়েও অদ্ভুত বিষয়, প্রতি সপ্তাহে তাদের একদিন ছুটি দিতে হবে! গৃহকর্মী যদি পালিয়ে যায় তাহলে আমার ক্ষতিপূরণ দেবে কে? একথা সত্য আমি এই আইনের সাথে একমত না, এখন থেকে আমার ফিলিপাইনের আর কোনো গৃহকর্মীই লাগবে না।' তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনা করেই আমি গৃহকর্মীদের পাসপোর্ট তার কতৃপক্ষের কছে রাখতে বলেছি। আর আমার এ ব্যক্তব্যের সাথে কাতার ও আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর মানুষও সমর্থন দিবে। একজন কফিল তার নিয়োজিত কর্মচারীর পাসপোর্ট কফিলের কাছে রাখার অধিকার তার রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা তো কর্মচারীকে বঞ্চিত করছিনা বা তার টাকা মেরে দিচ্ছি না। তাই এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে পারেনা। এই ভিডিও প্রকাশের পরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্য ও ফিলিপাইনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহারকারীদের মধ্যে আক্রমণাত্নক মন্তব্য শুরু হয়। কুয়েতের নতুন বিধিমালা অনুসারে গৃহকর্মীর পাসপোর্ট গৃহকর্তা আটকে রাখতে পারবেন না। যদিও কুয়েতের আইনে অন্য গৃহকর্মীদের ব্যাপারে তাদের পাসপোর্ট গৃহকর্তার কাছে রাখার কথা বলা হয়েছে। ফিলিপাইনের গৃহকর্মীদের এ সুযোগ-সুবিধা মেনে নিতে পারেননি সুন্দোস। সুন্দোসের এমন মন্তব্যকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে আরবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এসব সমালোচনার মুখে তিনি এক ভিডিওবার্তায় এসব সমালোচনাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তিনি তার কর্মচারীদের সাথে ন্যায্যতা বজায় রাখেন ও তাদেরকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কাজে লাগিয়ে রাখেন না। যারা তাকে বাইরে থেকেই সুন্দরী বলে সমালোচনা করেছে তিনি তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। কিন্তু সমালোচকদের কাছে মাথা নত করেননি। তার বৈষম্যমূলক এমন মন্তব্যের পর তিনি যেসব আন্তর্জাতিক রুপচর্চা সামগ্রীর সৌজন্যে ব্লগ লিখতেন ও ভিডিও প্রকাশ করতেন তারা এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এরই মধ্যে সুন্দোসের সঙ্গে সব ধরণের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় আন্তর্জাতিক রূপচর্চা সামগ্রীর প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ফ্যাক্টর আরাবিয়া। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সুন্দোস আল কাত্তানের নিকট থেকে এমন মন্তব্যে তারা বিস্মিত। এটা সুন্দোসের নিজস্ব মতামত এর সাথে ম্যাক্স ফ্যাক্টরের কোন সম্পর্ক নেই। ম্যাক্স ফ্যাক্টর নারীর ক্ষমতায়নকে সমর্থন করে এবং ব্যক্তিত্ব, জাতিসত্তা, পেশাকে সম্মান করে। আরেকটি জাপানী প্রসাধনী কোম্পানীও সুন্দোসের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কুয়েত ফিলিপাইনের গৃহকর্মীদের সুরক্ষার জন্য নতুন কিছু আইন করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ফিলিপাইন সাময়িকভাবে কাতারে গৃহকর্মী পাঠানো নিষিদ্ধ করে। ৪০ লাখের জনসংখ্যার দেশ কাতারে ৬ লাখ ৬০ হাজার গৃহকর্মী রয়েছে। | 3 |
রাজবাড়ির গোয়ালন্দে মরা পদ্মায় চোরাবালিতে আটকে পড়া হাতি 'আকবর বাহাদুরকে' প্রায় ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে রাজবাড়ীর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হাতিটিকে উদ্ধার করা হয।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাসান হাবিব।
এর আগে সোমবার সকাল ৮টায় উপজেলার উজানচর নতুন পাড়া এলাকায় মরা পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে চোরাবালিতে আটকে পড়ে ২৫ বছর বয়সী হাতি আকবর বাহাদুর।
হাতির মাহুত মো. বাবু খান ও শান্ত মোল্লা জানান, গত কয়েকদিন ধরে ফরিদপুরের টেকের হাট এলাকায় দ্যা নিউ কমলা সার্কাস দলের সাথে আকবর বাহাদুর রয়েছে। সার্কাসের প্রদর্শনী না থাকায় তারা হাতিটিকে নিয়ে রোববার রাতে গোয়ালন্দ এলাকায় আসেন। সোমবার সকাল ৮টার দিকে হাতিটিকে গোসল করানোর জন্য নতুন পাড়া এলাকায় মরা পদ্মা নদীর অগভীর পানিতে নামেন। গোসল শেষে হাতিটিকে উপরে উঠার জন্য সংকেত দিলেও সে কোনভাবেই পানি থেকে উঠতে পারছিল না। পরে তারা বুঝতে পারেন হাতিটি চোরাবালিতে আটকা পড়েছে। এ অবস্থায় তারা স্থানীয়দের সহায়তায় সারাদিন চেষ্টা করেও হাতিটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় হাতিটিকে উদ্ধার করে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাসান হাবিব জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় হাতিটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
| 6 |
২০ বছর আগে মার্কিন গোয়েন্দা ব্যর্থতার ফল হচ্ছে ৯/১১-এ টুইন টাওয়ার হামলা। পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রচারণাই রয়েছে। এই হামলা সন্ত্রাসবাদবিরোধী নামের এক অভিনব ও অন্যায্য যুদ্ধের সূচনা করেছিল। অভিনবত্বের কারণ, এই যুদ্ধে সবাইকে একযোগে সমর্থন জানাতে হয়েছে। কোনো ধরনের প্রশ্ন করলেই শয়তানের অক্ষে চলে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো দেশ থেকে যে কাউকে ধরে কুখ্যাত গুয়ানতানামো বে কারাগারে নিয়ে নির্যাতনের একধরনের বৈধতা দিয়েছিল। মার্কিনদের তুষ্ট কেউ কেউ আবার নিজ নাগরিকদের তুলে দিয়েছে বা হত্যাও করেছে। কার্যত মার্কিন নেতৃত্বে মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক রহস্যময় লড়াইয়ের নাম হচ্ছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ। আইএস, আল-কায়েদা, বোকো হারাম, আল শাবাবের ক্ষমতার উৎস কী, অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র কোথা থেকে আসে, ঝাঁ-চকচকে শত শত গাড়ি নিয়ে কীভাবে সিরিয়ায় একের পর এক শহর দখল করে-এসব নিয়ে প্রশ্ন করার খুব বেশি সুযোগ ছিল না। বরং শেষবিচারের দিনের মতো সবাই সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে যোগ দিয়ে নিজের আমলনামা নিশ্চিত করতেই ব্যস্ত ছিল। গোয়েন্দা ব্যর্থতা যেমন এই যুদ্ধের সূচনা করেছিল, আবার এই লড়াইয়ের শেষ পরিণতিও হচ্ছে আরেকটি মার্কিন গোয়েন্দা ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই। সর্বজনবিদিত ধারণা হচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দারা বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও তীক্ষ্ণ ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু এই সুপ্রশিক্ষিত গোয়েন্দারা বিশ্বের পরিবর্তন, বিপ্লব, হামলা বা আঘাতের তথ্য পূর্বাহ্ণেই অনুমান করতে পারেন না অনেক ক্ষেত্রে। ১৯৪১ সালে পার্ল হারবার আক্রমণ সম্পর্কে গোয়েন্দারা মার্কিন সরকারকে সতর্ক করতে পারেননি। সম্প্রতি তালেবানদের কাবুল দখল নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের আগাম ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। প্রথমে মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমে আমরা জেনেছি, মার্কিন সেনা কাবুল ত্যাগের ছয় মাসের মধ্যে তালেবানরা দখল করবে। এরপর বলা হলো, তিন মাসের মধ্যে কাবুল তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বাভাসে ওপর যাঁরা আস্থা রেখেছিলেন, তাঁদের জন্য নিদারুণ এক চমক অপেক্ষা করছিল। শেষ অবধি দেখা গেল মার্কিন সৈন্যরা কাবুল বিমানবন্দরে থাকা অবস্থায়ই তালেবানরা কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন ২০১২ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ১০টি বড় ধরনের ব্যর্থতার তালিকা প্রকাশ করে। ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলার ঘটনা তালিকায় ৯ নম্বরে ছিল। মার্কিন গোয়েন্দাদের ব্যর্থতার শুরু পার্ল হারবারে জাপানের হামলার মধ্য দিয়ে। এরপর ১৯৬১ সালে কিউবাতেও মার্কিন গোয়েন্দারা হার মানেন। ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধও মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণার মধ্যে ছিল না। ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামিক বিপ্লব সংঘটিত হতে পারে, এমন ধারণা মার্কিনদের ভাবনারও নাকি বাইরে ছিল। ওই সময় মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, ইরানে বিপ্লব বা বিপ্লব-পূর্ব পরিস্থিতি নেই। একই বছর আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দারা আগে থেকেই ধরতে পারেননি। যে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এত এত পরিকল্পনা, প্রচারণা, সেই সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনও নাকি মার্কিন গোয়েন্দারা আগাম অনুধাবন করতে পারেননি। ৯/১১-এর পর ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কেও ভয়াবহ ভুল ধারণা দিয়েছিলেন মার্কিন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মজুত রয়েছে। কিন্তু ইরাককে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার পর দেখা গেল সবই ভুল। তত দিনে ইরাকে রক্তের হোলিখেলা সম্পন্ন হয়েছে। বরং বিষফোড়ার মতো আইসিসের উদ্ভব ঘটে। তালেবানদের দ্রুততম সময়ে আফগানিস্তান দখল মার্কিন গোয়েন্দা-ব্যর্থতার তালিকায় নতুন সংযোজন হবে কি, তা বলা মুশকিল। তবে মার্কিন সৈন্য চলে গেলে তালেবানরা তাৎক্ষণিকভাবে কাবুল দখল করবে, এটা সবাই কমবেশি বুঝতে পেরেছিল। কেবল যুক্তরাষ্ট্রই মনে হয় বুঝতে পারেনি। আর যদি আগাম তথ্য পেয়েও মার্কিনরা চেপে যায়, তবে এটা হবে বিরাট এক ধাপ্পাবাজি। তাহলে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধকে এক পবিত্র ধর্মযুদ্ধে পরিণত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যযুগে নিজেদের সাহসী, ধর্মপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী প্রমাণের জন্য ক্রুসেডে যোগ দেওয়া অনেকটা বাধ্যতামূলক ছিল। তেমনি সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে যোগ দেওয়া সব রাষ্ট্রের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কোন দেশে কোন ব্যক্তি বা দল ক্ষমতায় থাকবে, সেটাও এই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সম্পৃক্ততা ঠিক করে দিত। অনেক দেশের রাজনৈতিক নেতারা এর সুবিধাও নিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ রাজনীতিকে আমূল বদলে দিয়েছে। গণতন্ত্রের জায়গা দখল করে নিয়েছে ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদী শাসন। টুইন টাওয়ারে হামলা হয়েছিল প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের প্রশাসনে নিউ কনজারভেটিভরা জায়গা পাওয়ার পরপরই। পেন্টাগন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট হোয়াইট হাউসে তখন নিউ কনজারভেটিভ ও পলিটিক্যাল রিয়েলিস্টদের রমরমা অবস্থা। কনজারভেটিভ ও পলিটিক্যাল রিয়েলিস্টরা আমেরিকার নতুন শতাব্দী নির্মাণের স্বপ্নে বিভোর। তাঁদের লক্ষ্য ছিল স্নায়ুযুদ্ধোত্তর যুগে আমেরিকার একক সামরিক ও অর্থনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। টুইন টাওয়ারে হামলা যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন শতাব্দীতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত সুযোগ করে দেয়। যুদ্ধটা শুরু হয়েছিল আল-কায়েদা ও তালেবানদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এরপর এই যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয়। আফগানিস্তানে হামলার পর তালেবানরা দুই মাসের মতো টিকে ছিল। তালেবানরা একপর্যায়ে কাবুল ত্যাগ করে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যুদ্ধ থেমে যায়নি। ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট বুশ স্টেট অব ইউনিয়ন বক্তৃতায় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা জানিয়ে দেন। তিনি শয়তানের অক্ষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহায়তাদান এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করেন। বুশের অভিযুক্ত শয়তানের অক্ষে ছিল ইরাক, ইরান, উত্তর কোরিয়া, কিউবা। তবে অন্য দেশে হামলা না করে বুশ ইরাকে হামলা করেন। আফগানিস্তান ও ইরাকে হামলার পরপরই আইএসের বিস্তার ঘটতে থাকে। ইরাক ও সিরিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছিল আইএস। সিরিয়া ও ইরাকে কথিত খিলাফতের পতনের পর অনেকেই মনে করেছিলেন আইএসের তৎপরতা থেমে গেছে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। বরং নতুন নতুন দেশে আইএসের উপস্থিতি দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আইএস বিভিন্ন নামে আফ্রিকা ও দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সক্রিয় হয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অধিকাংশ মার্কিন গোয়েন্দা-ব্যর্থতা নতুন নতুন যুদ্ধের শুরু করেছে অথবা নিদেনপক্ষে মার্কিনদের নতুন ঘাঁটি তৈরির সুযোগ করেছে। সব যুদ্ধে যে মার্কিনরা বিজয়ী হয়েছে, এমন নয়। বরং ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি। ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর সদস্যদের নিয়ে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ায় চারটি যুদ্ধে জড়িয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধেই ব্যর্থ হয়েছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদের জন্ম দিয়ে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে যুদ্ধের ময়দান ত্যাগ করেছে মার্কিনরা। লিবিয়ায় মার্কিনদের ব্যর্থতা পুরো আফ্রিকায় সন্ত্রাসবাদের ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে। বিশেষ করে সাহারা অঞ্চলে আল শাবাব, বোকো হারামের তৎপরতা লক্ষ করা যায়। এদিকে আমরাও খুব বেশি স্বস্তিতে নেই। দেশে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নড়াচড়া লক্ষ করা যায়। দক্ষিণ থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে বলে মার্কিন গোয়েন্দারা সতর্ক করেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বড় বড় হামলার বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা পূর্বানুমান করতে না পারলেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কর্মতৎপরতা সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে তাঁদের পূর্বানুমান মিলেও যায়। যেমন কাবুলে সম্প্রতি আইএস হামলা করতে পারে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা বারবার সতর্ক করেছে। শেষ পর্যন্ত আইএস-কে নামে নতুন এক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কাবুল বিমানবন্দরে হামলাও করেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, ৯/১১ হামলার ২০ বছর পর সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের প্রত্যক্ষ বৈশ্বিক প্রভাব হচ্ছে আইএস, বোকো হারাম, আল শাবাব বা আইএস-কের মতো নতুন নতুন গোষ্ঠীর বিস্তার এবং জনসাধারণের রাজনৈতিক অধিকার আরও সংকুচিত হওয়া। সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ নামের অন্যায্য যুদ্ধ সন্ত্রাসবাদকে রুখতে পারেনি, বরং এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশকে দীর্ঘমেয়াদি ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে কখনো জেতা যায় না, সফল হওয়া যায় না। তাই সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধও সফল হয়নি। উপরন্তু আফগানিস্তানে আবার তালেবানদেরই ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠাতে এই সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বরং সন্ত্রাসী তকমা লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধোত্তরকালে উদার গণতান্ত্রিক বিশ্বের যে সম্ভাবনা ছিল, তা আটকে দিয়েছে এই সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ। ড. মারুফ মল্লিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক | 8 |
ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার) বলেছেন, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আজ সোমবার দুপুরে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে 'বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট-২০২০ উদযাপন' উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্তে এক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠান সীমিত আকারে পালন করা হচ্ছে। প্রচুর লোক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ায় লন্ডনে গ্রেড-৪ লকডাউন চলছে। তাই বাংলাদেশেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল প্রকার অনুষ্ঠান সীমিত আকারে পালিত হচ্ছে। বড়দিন উপলক্ষে চার্চে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা ও প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। চার্চগুলোতে এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে ভালো হবে। কমিশনার আরও বলেন, থার্টি ফার্স্টে সন্ধ্যা থেকে বারগুলো বন্ধ থাকবে। সামাজিক দূরত্ব ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে যথারীতি রাত ৮টার পর সকল ফার্স্টফুড দোকানসহ মার্কেট বন্ধ থাকবে। সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 6 |
দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সরকারকে এমন সব উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে ব্যবসা করা সহজ হয়। এ জন্য তারা আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট আয়কর কমানো, অগ্রিম আয়কর নেওয়া বন্ধ করা, উৎসে আয়কর কমানো, ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করা, নীতির ধারাবাহিকতা রাখা, সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতাসহ নানা উদ্যোগ চেয়েছেন। পাশাপাশি রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করারও প্রস্তাব করেছেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা করহার কমিয়ে করের আওতা বাড়িয়ে এনবিআরের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোর যৌথভাবে এর আয়োজন করে। ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্য দেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন। তিনি সংবাদপত্র শিল্পের আয়কর কমানো, নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে ভ্যাট প্রত্যাহারসহ বর্তমান সংকটে এ শিল্পে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সভায় আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আর্থিক খাত, শিল্প-বাণিজ্য এবং অবকাঠামো খাত- এই চার বিষয়ে আলাদা আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব রাখা হয়। আয়কর ও ভ্যাট বিষয়ে ডিসিসিআই বলেছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির দেওয়া লভ্যাংশ থেকে যে ১০ শতাংশ উৎসে কর নেওয়া হয়, তা চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়, সব ধরনের কোম্পানির করপোরেট করহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমাতে হবে। করপোরেট ডিভিডেন্ড আয়ে কর ২০ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করতে হবে। কর ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করারও প্রস্তাব এসেছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। অন্যান্য বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- খেলাপি ঋণ কমানো, কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পকে আলাদা করে সংজ্ঞায়ন করা এবং মাঝারি ব্যবসাকে আলাদা করা, স্থানীয় বাজারে পাটপণ্য বিক্রিতে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা আরও পাঁচ বছর বাড়ানো, অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমির লিজ মূল্যের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, একটি দীর্ঘমেয়াদি লজিস্টিক নীতি প্রণয়ন ইত্যাদি। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন হচ্ছে। আরও যেসব উন্নয়ন দরকার, সেগুলো সরকারকে অবশ্যই করতে হবে। বেসরকারি খাতের সক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়েছে। সরকারের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাতের আরও বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যা সব দেশেই আছে। বাংলাদেশে হয়তো তুলনামূলকভাবে বেশি। এক জায়গায় হাত দিতে গেলে ২০ জায়গা নড়ে ওঠে। সরকারি কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ববাদী আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার মনে হয় কর্তৃত্ববাদিতা পছন্দ করে। তা না হলে এই সময়ে এসেও কেন বিভিন্ন সংস্থার নামে কর্তৃপক্ষ শব্দটি যুক্ত করা হয়। তিনি আলোচনায় উঠে আসা প্রস্তাব সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরবেন বলে আশ্বাস দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অ্যাপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, যেখানে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। এসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে চাকরি পাবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, সবাইকে যাতে চাকরির খোঁজ করতে না হয়, তার জন্য ব্যবসার সুযোগ করে দিতে হবে। ব্যবসা করার পরিবেশ সহজ হলে দেশে এসএমই খাত বড় হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, সব ব্যবসায়ী সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ চান। এ পরিবেশ দিতে হবে। এ ছাড়া করোনার সময়ে যেসব ছোট প্রতিষ্ঠান সরকারের সহযোগিতা নিতে পারেনি, তাদের সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য বাজেটে উদ্যোগ দরকার। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি। বিশেষ অতিথি এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাজেট প্রণয়নে এনবিআর ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও বাজেটে তা প্রতিফলিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের মতামত ছাড়াই নীতি নেওয়া হয়ে থাকে; যা অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি বলেন, অগ্রিম আয়কর কেটে রাখায় ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যেহেতু এ কর শেষ পর্যন্ত সমন্বয় বা ফেরত দেওয়া হয়, সেহেতু কেটে না রাখলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এমসিসিআই সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, করপোরেট করহার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। গত দুটি অর্থবছরে কমানো হয়েছে। তবে আগামী বাজেটে আরও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমাতে হবে। উৎসে কর কমানো এবং রিফান্ড নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
মেঘনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা দুর্দান্ত ও অদম্য। সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা দেশকে এগিয়ে নেবেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সহযোগিতা করতে চায় না। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন দরকার। তিনি বলেন, শিল্প বহুমুখীকরণের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু সরকারি দপ্তরের লোকেরা ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবে সহয়োগিতা করছেন না। বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরের জমির লিজে ভ্যাট আছে। বিনিয়োগের স্বার্থে এ ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা ও ইউটিলিটি খরচ কমানোর উদ্যোগ দরকার। বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, কোনো নীতি খণ্ডকালীন করা উচিত নয়। বর্তমানে নতুন ধরনের পণ্য তৈরি করতে হচ্ছে। কিন্তু নতুন কিছু আমদানি করতে গেলেই এইচএস কোডের জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। এ জটিলতা দূর করতে হবে। ব্যবসায়ীদের ঘাটে ঘাটে দৌড়ানোর পরিবেশ দূর করা না গেলে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ব্যবসাকে করোনার আগের জায়গায় নেওয়ার উদ্যোগ দরকার। এ জন্য কর কমাতে হবে। পুঁজিবাজারে এসএমই প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তিকে বেগবান করতে প্রণোদনা দিতে হবে।
ইফাদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিন আহমেদ বলেন, অটোমোবাইল শিল্পে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা দরকার। এনবিআরের সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বের হবে দেশ। তখন আমদানি পর্যায়ে অনেক রাজস্ব কমবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্বের জোগান দিতে হবে। ফলে ব্যাপক বিনিয়োগ দরকার। এনবিআর ভ্যাট আইন এবং অগ্রিম আয়কর বিষয়ে বাজেটে নতুন করে ভাববে বলে তিনি আশা করেন।
শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান বলেন, ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ থেকে বের করতে হবে। সেজন্য বন্ড মার্কেট উন্নয়ন করতে হবে। সঞ্চয়পত্রে সুদ বেশি থাকায় বন্ড বাজার দাঁড়াচ্ছে না। মিউচুয়াল ফান্ডও আকর্ষণীয় হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ব্যাংক খাত বাজেটের ঘাটতি অর্থায়ন পূরণ করে থাকে। ব্যাংক খাত থেকে বিদেশি সংস্থা ও সঞ্চয়পত্রের তুলনায় সুবিধামতো সহনীয় পর্যায়ে অর্থ পাওয়া যায়।
ফিকি সভাপতি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, একদিকে পণ্যমূল্য বাড়ছে। অন্যদিকে রিজার্ভ কমে আসছে। এ অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ঠিক রাখতে সভরেন বন্ড ইস্যু করা দরকার। পুঁজিবাজার ও বন্ড বাজার উন্নয়নে উদ্যোগ দরকার। অ্যালায়েন্স হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী জওহর রিজভী বলেন, বর্তমানে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে এ খাতে প্রণোদনা দিয়ে ও কর কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এক্সপো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আনাম বলেন, লজিস্টিক বাবদ দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে খরচ বেশি। আগামী পাঁচ বছরে সমুদ্রগামী রপ্তানি দ্বিগুণ হবে। ফলে লজিস্টিকসের চাহিদা বাড়বে। এ বিষয়ে এখনই একটি নীতিমালা দরকার।
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসিং অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নাভিদুল হক বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য বিতরণ ব্যবস্থায় উন্নয়ন দরকার। অন্য আলোচকরা করপোরেট ডিভিডেন্ট আয়ের ওপর কর কমানো, টার্নওভার করের ঊর্ধ্বসীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ, কর রিফান্ড সহজ করা, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে নমনীয় ভ্যাট হার, বন্ড বাজার শক্তিশালী করা, এসএমই খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন দাবি জানান। সভায় আরও বক্তব্য দেন ইউনাইটেড গ্রুপের পরিচালক তালহা ইসমাইল বারী, ঢাকা চেম্বারের পরিচালক ব্যারিস্টার সামি সাত্তার, ইশমত জেরিন খান, জিয়া উদ্দিন ও খায়রুল মজিদ মাহমুদ।
| 0 |
সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে 'অস্ত্রের ধার' আর 'অর্থের ভার' দুই-ই লাগে। আগেও লাগত, এখনো লাগে।কিছু ধারালো ব্লেড বা অস্ত্র আছে, যা পৃথিবীর বুক চিরে ইতিহাস লিখেছে। এই ধারালো ব্লেডগুলো দুর্বল মানুষের মনে ভয় আর সবল জাতির ক্ষমতার মোহকে অনুপ্রাণিত করে এসেছে কয়েক হাজার বছর ধরে। তার কিছু উদাহরণ তুলে ধরা যাক।প্রাচীনকাল থেকেই সেনা অভিযানে ধারালো তরোয়াল, ছুরি ও ছুরির মতো কিছু অস্ত্র বিশ্বজুড়ে যোদ্ধাদের খুব পছন্দের। অস্ত্র, ক্ষমতা আর অর্থ এক সুতোয় বাঁধা, যার এক একপ্রান্তে থাকে নির্ভীক সাধারণ একজন সৈনিক, আর অন্য প্রান্তে থাকে শিল্পী। যুগে যুগে দেশে দেশান্তরে কামারশালার শিল্পীদের বানানো এ সমস্ত ক্ষুরধার ব্লেড বীর যোদ্ধা, রাজা, সেনাপতিদের মনে স্বপ্ন ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। খোপেশব্রোঞ্জ যুগে আবিষ্কৃত প্রথম দিকের তরোয়ালগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। প্রাচীন মিসরীয় কাস্তে আকৃতির অস্ত্র খোপেশ, যার বাইরের প্রান্ত ধারালো থাকত। এ অস্ত্র মিসরে জন্ম নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত পৌঁছায়। অবশ্য ভারত ভূখণ্ডে এর দেখা মেলেনি। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যখন বিশ্বজুড়ে মাথা চাড়া দিচ্ছে, তখন এই ধারালো অস্ত্র ফারাওদের সেনাবাহিনীকে সুসজ্জিত করে।শিল্পীরা খোপেশে সুন্দর কারুকার্য করে ফারাওদের পিরামিড সাজাত। তুতেন খামেনের পিরামিডে দুটো দুই আকারের খোপেশ পাওয়া গেছে। এগুলো 'সিঙ্গল পিস' ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি। এর প্রথম অংশ বা হাতলের অংশটি কালো রঙের, আর দ্বিতীয় অংশটি হাতলের ওপরে-তাতে একটা পদ্মফুল খোদাই করা। তৃতীয় অংশ কাস্তের আকারে বাঁকানো। পরবর্তীতে আরও ভালো ধাতুবিদ্যা আর অস্ত্র তৈরির কৌশল আবিষ্কার হলে খোপেশকে স্বাভাবিকভাবেই রাস্তা ছেড়ে দিতে হয়। তবুও ইতিহাস একে মনে রেখেছে সভ্যতার শুরুর দিনে তার অনবদ্য অবদানের জন্য। খুকরিকয়েক শতাব্দী ধরে যুদ্ধের ইতিহাসে নেপালের এই ছোট্ট, একটু বাঁকা ছুরি এক ঐতিহ্যবাহী গোর্খা সেনা হাতিয়ার। অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে ইউরোপীয়রা প্রথম খুকরির প্রেমে পড়ে। এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নেপালি গোর্খা যোদ্ধাদের সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সৈন্য বাহিনী সংঘর্ষে লিপ্ত হলে নেপালিদের খুকরি চালানোর দক্ষতা দেখে ব্রিটিশ কমান্ডার অকটারলোনি গোর্খাদের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ইউনিটে পরিণত করেন।খুকরি বর্তমান ব্রিটিশ ও ভারতীয় আর্মিতে 'স্ট্যান্ডার্ড ইস্যু' অস্ত্র হিসেবে গোর্খাদের দেওয়া হয়। রয়্যাল গোর্খা বা ভারতীয় গোর্খা রেজিমেন্টের লোগো এই খুকরি। আর এই ব্লেডের স্বাদ সবচেয়ে ভালো পেয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান আফ্রিকা কোর এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী-বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও কারগিল যুদ্ধে। ফালকাটাফালকাটা দুই ফুট লম্বা তরোয়াল, যা প্রাচীন স্পেনে সেল্টবেরিয়ান যোদ্ধারা ব্যবহার করত। ধাতুবিদ্যা উন্নত হওয়ার ফলে স্টিল বা লোহা নিয়ে চলতে থাকা নিরীক্ষার প্রাথমিক ফল এই অস্ত্র। হাতলের কাছে একদিকে ধার, কিন্তু মাথার দিকে দুদিকে ধারালো হয়ে থাকে ফালকাটা। একটু বাঁকা এই তরোয়াল একসঙ্গে কুঠারের চিরে দেওয়া, আর ধারালো তরোয়ালের কেটে ফেলার কাজ করত।ফালকাটা ছিল কার্থেজের সেনাপতি হ্যানিবলের প্রিয় অস্ত্র। তিনি রোমের বিরুদ্ধে পিউনিক যুদ্ধ চলাকালে আফ্রিকান সেনাদের এই অস্ত্রে সজ্জিত করেছিলেন। কিছু ঐতিহাসিকের মতে, হাতাহাতি যুদ্ধে তরোয়ালটির কার্যকারিতা হানিবল সেনার রোমানদের বিরুদ্ধে জয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। উলফবার্টএটি ভাইকিং তরোয়াল। অষ্টম শতাব্দীর শুরু থেকে ভাইকিং নৌ-যোদ্ধারা ইউরোপের সমুদ্র উপকূলীয় জনবসতিতে তাদের বর্বর আক্রমণ চালিয়ে সমগ্র এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়।মোট ১৭০টি প্রাচীন উলফবার্ট তরোয়াল পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে চুয়াল্লিশটি নরওয়ে, আর একত্রিশটি ফিনল্যান্ড থেকে পাওয়া গেছে। পাগান সভ্যতার রীতি অনুযায়ী এগুলো বেশির ভাগ কবরস্থান থেকে পাওয়া। এ ছাড়া কিছু ইংল্যান্ডের মরা নদীর বুঁজে যাওয়া খাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।উদ্ধার করা প্রতিটি তরোয়ালে উলফবার্ট বা (++) খোদাই করা থাকত। হাতলে লেড বা দস্তার কাজ করা, আর এর ধারালো ব্লেডের অংশ হাই কার্বন স্টিল দিয়ে তৈরি। ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের আগে কীভাবে এই উন্নত স্টিল এল, সেটাও একটা জিজ্ঞাসার বিষয়। অবশ্য কেউ বলেন, জার্মানির এক খনি থেকে; আবার কেউ বলেন আরব-পারস্য থেকে রপ্তানি করা হয়েছিল এই উন্নত স্টিল। তবে যেখান থেকেই আসুক, এই তরোয়াল কয়েক শ বছর পৃথিবীর একটা বিশাল অংশের মেরুদণ্ড দিয়ে শিরশিরে হাওয়া বইয়ে দিয়েছিল। বোলো ছুরি'বোলো' মূলত ঘাস, বাঁশ বা ফসল কাটার কাজে ব্যবহৃত ফিলিপাইনের একটি 'মাল্টিপারপাস' অস্ত্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিপ্লবীদের হাতে এটি যুদ্ধের এক দুর্দান্ত অস্ত্রে পরিণত হয়।১৮৯৬ সালে ফিলিপাইন বিপ্লব, স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ, আর ফিলিপাইন-আমেরিকান যুদ্ধে ফিলিপাইনের দেশীয় গেরিলারা মূল অস্ত্র হিসেবে এ বোলোকে ব্যবহার করে। গেরিলা যুদ্ধে রাইফেল-গুলি ফুরিয়ে গেলেও এই 'বোলোমেন' প্রায়ই তাদের ছুরি নিয়ে যুদ্ধের মাঠে হারজিতের লড়াইয়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলত।এক আমেরিকান সেনা লিখেছেন, 'তারা মানুষের জীবন নেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ এবং গর্বিত। তাদের গর্বের কারণ হলো এক কোপে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা!' এই ভয়ংকর ব্লেড পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আবার অ্যাকশনে এসেছিল। বর্তমানে ফিলিপিনো মার্শাল আর্টে এটি একটি সাধারণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হয়। কাতানাজাপানের মধ্যযুগীয় ইতিহাসের আইকোনিক অস্ত্র এটি। কয়েক শতাব্দী ধরে এই বাঁকা, এক ধারযুক্ত ব্লেডগুলো সামুরাই যোদ্ধাদের পছন্দের অস্ত্র ছিল। জাপানের বীর যোদ্ধারা তাদের রাজাদের দেশ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেছিল এই তরোয়াল দিয়ে। ৮০০ বছর আগে সেরা সামুরাই তার কাতানা তরোয়ালের হালকা-ক্ষিপ্র আঘাতে শত্রুর মুণ্ডু ধড় থেকে আলাদা করার দক্ষতাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।কিংবদন্তি 'হোনজো মাসামুনে'কে শ্রেষ্ঠ কাতানা তরোয়াল বলে মনে করা হয়। সম্ভবত তেরো শতকে এর সৃষ্টি। তারপর অনেক বীরের হাত ঘুরে এই তরোয়াল ষোলো শতকে বীর যোদ্ধা হনজো শিগেনাগার হাতে আসে। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে অদৃশ্য হয়ে যায়। সম্ভবত কোনো আমেরিকান সেনা অফিসার সেটাকে চুরি করে নিয়ে যায় বা নষ্ট করে ফেলে। প্রচুর অনুসন্ধান করেও জাপানের এই মূল্যবান জাতীয় নিদর্শনটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বুয়ি নাইফজিম বুয়ি এক আমেরিকান-ইউরোপিয়ান দাস ব্যবসায়ী এবং মারপিটের জন্য বিখ্যাত মানুষ। তাঁর নামে এই চাকুও বিখ্যাত। জিম বুয়ি এ ধরনের একটা চাকু দিয়েই ডুয়েল বা হাতাহাতি লড়াইয় জেতেন।'বুয়ি নাইফ' খবরের কাগজ আর বিজ্ঞাপনের দৌলতে বিশ্ববিখ্যাত হয়ে ওঠে। আসলে এটা 'বুচার নাইফ' বা আমাদের কসাইদের হাতে যেমন ছুরি দেখি, সেই জিনিস। তবে এর একটি 'স্পেশাল ডিজাইন' বুয়ি নিজে এক কামারশালায় অর্ডার দিয়ে বানিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকেই এই নাম।টেক্সাস দখল করতে আমেরিকানরা যে যুদ্ধ করে, তাতে এই চাকুর বহুল ব্যবহার হয়। বুয়ি নিজেও টেক্সাস রেভ্যুলিউশনে যোগ দেন এবং নিহত হন। তারপরও ম্যাক্সিকান যুদ্ধ, ক্যালিফোর্নিয়ার সোনার খোঁজে 'গোল্ডরাশ', কানসাসে জনযুদ্ধ, পরে আমেরিকান রেড ইন্ডিয়ানদের সঙ্গে ঝামেলা-এসবেও বুয়ি নাইফ কাজে লাগে। মজার ব্যাপার হলো, আব্রাহাম লিঙ্কনকে হত্যা করার সময় হত্যাকারী জন উইলকিস বুথ পালানোর সময় একটা বুয়ি নাইফ ফেলে পালিয়েছিল। পিস্তল বা রিভলবার সহজলভ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত আমেরিকান হাতাহাতি বা সাহিত্য সবখানেই এর উপস্থিতি একে কল্পনার জগতে নিয়ে গেছে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকান মেরিন কোরের 'কা-বার' ছুরি এ বুয়ি নাইফের বংশধর। আমেরিকান অস্ত্র কোম্পানি আর্নেস্ট এমারশন বুয়ি নাইফের ছবি তাদের লোগোতে ব্যবহার করে। এই কোম্পানি নাসার মহাকাশ যাত্রীদের জন্য চাকু বানায়! আমেরিকান আর্মির ৩৯ নম্বর ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড টিমের লোগো এই বুয়ি নাইফ! ভারতের এয়ার ফোর্স পাইলটদের সার্ভাইভাল কিটের মধ্যেও এই বুয়ি নাইফ থাকে। জাইফোস (ক্ষিপোস)এটি দুদিকে ধারালো গ্রিক তরোয়াল। দৈর্ঘ্য দেড় থেকে দুই ফুট, সোজা, ওজন এক কেজির কম। আলেক্সান্ডার তাঁর ম্যাসিডনের আর্মি নিয়ে সারা মধ্যপ্রাচ্য লুট করে ভারত পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন এই তরোয়াল হাতে নিয়েই।আসলে গ্রিকদের কাছে এটা ছিল সাহায্যকারী অস্ত্র। স্পিয়ার বা বল্লম ওদের প্রধান অস্ত্র ছিল। কিন্তু কোনোভাবে বল্লম ভেঙে গেলে বা হাত থেকে ছিটকে গেলে, তখন কোমরে ঝোলানো জাইফোস বের করে, হা রে! রে! রে! করে শত্রুর ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ত তারা।শব্দটা যেমন মিসরের খোপেশের কাছাকাছি, তেমনি টেকনোলজিও। এই অস্ত্র ব্রোঞ্জ যুগের ডিজাইন। মাঝখানটা মোটা আর দুই ধার সরু। ব্লেড বেশি লম্বা নয়। কারণ ব্রোঞ্জের শক্তি কম। ভারতীয় যুদ্ধ শাস্ত্রে এ ধরনের অস্ত্র দেখা যায় না। এর কারণ হয়তো ভারতবর্ষের উন্নত ধাতুবিদ্যা। অবশ্য এখানকার খড়্গ বা খাঁড়া দেখতে অনেকটা এর কাছাকাছি।স্পার্টার যোদ্ধারা যে গ্লডিয়াস ব্যবহার করত, সেটা এরই চাচাতো ভাই! যে কয়েকখানা জাইফোস উদ্ধার হয়েছে, তা প্রায় সবই কবরখানা থেকে। তার মানে যোদ্ধাদের সমাধিতে জাইফোস রাখা হতো। অর্থাৎ, গ্রিকদেরও ভূতের ভয় ছিল! | 5 |
বগুড়ায় চাকরি ও ঘর দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জরিনা বেগম (২৮) নামে এক ভুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) গ্রেপ্তার করেছে গাবতলী থানা পুলিশ। জরিনা বেগম উপজেলার তেরপাখী গ্রামের রাজমিস্ত্রি বিকুল হোসেনের স্ত্রী। সোমবার (২১ মার্চ) গাবতলী উপজেলার তেরপাখী গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে গাবতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গাবতলী থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, জরিনা বেগম নিজেকে ইউএনও দিপ্তি রানী পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। সম্প্রতি, উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ব্যবসায়ী বিপ্লব দাসের স্ত্রী বীণা রানীর কাছে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মাস্টার রোলে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য এক লাখ টাকা দিতে বলেন জরিনা বেগম। দিপ্তি রানী পরিচয় দিয়ে ফোনে বীণা রানীকে জানান, জরিনা বেগম নামে তার এক বিশ্বস্ত কর্মচারী টাকা নিতে আসবে। এর আগে, গত বছর তিন মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা বলে টাকার জন্য বীণা রানীর কাছে গেলে জরিনা বেগমকে ৪০ হাজার টাকা এবং এক মাস পর আরও ৬০ হাজার টাকা দেন ভুক্তভোগী বীণা। ওসি জানান, জরিনা বেগমের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় বীণা রানী নিজেই গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন দিপ্তি রানী নামে কোনো কর্মকর্তা সেখানে নেই। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জরিনা বেগম গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে এ বছরের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত একইভাবে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তেরপাখী গ্রামের আসমা খাতুনের কাছ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা, ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একই গ্রামের গোলাপী বেগমের কাছে থেকে এক লাখ ২৪ হাজার টাকা, পিয়ারা বেগমের থেকে ৪০ হাজার টাকা, পান্না বেগমের থেকে পাঁচ হাজার টাকা, মোমেনা বেওয়ার থেকে পাঁচ হাজার টাকা, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আশা রানীর থেকে ১৭ হাজার টাকা ও সুরাতের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী বীণা রানীর স্বামী বিপ্লব দাসের করা মামলায় জরিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। | 6 |
শর্তসাপেক্ষে নোভাভ্যাক্স টিকার অনুমোদনের সুপারিশ করেছে ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ)। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) ইএমএ'র পক্ষ থেকে তাদের বিশেষজ্ঞদের এমন সুপারিশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর ডয়চে ভেলের। ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভের আগে ইতোমধ্যেই নোভাভ্যাক্স টিকার ২০০ মিলিয়ন ডোজ কেনার চুক্তি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে নোভাভ্যাক্স ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলে এটি হবে এ অঞ্চলে অনুমোদনপ্রাপ্ত পঞ্চম টিকা। নোভাভ্যাক্স বলছে, উত্তর আমেরিকায় তাদের টিকা একটি ট্রায়ালে করোনার বিরুদ্ধে ৯০ দশমিক চার শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে টিকা সরবরাহ শুরুর ব্যাপারে সংস্থাটি আশাবাদী। | 3 |
চট্টগ্রামে সাগরিকা মোড়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশের ১৩ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় পলাতক চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে পাহাড়তলী ফইল্যাতলী বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার চালকের নাম মো. নাহিদুল ইসলাম স্বপন।পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান আজ রোববার আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।ওসি বলেন, এই দুর্ঘটনায় শিল্প পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত নাহিদুল ইসলাম স্বপনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।এর আগে গতকাল সকালে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা মোড় অতিক্রম করছিল। এমন সময় অলংকারগামী ১১ নম্বর রুটের একটি দ্রুতগামী বাস পিকআপ ভ্যানের মাঝ বরাবর ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপ ভ্যানটি উল্টে যায়। ওই ঘটনায় পিকআপ ভ্যানে থাকা শিল্প পুলিশের ১৩ জন সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চমেক (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাসটি জব্দ করলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে যান। | 6 |
চতুর্থ দিন ৫০৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ২১ রান তুলতেই পাকিস্তান হারায় ২ উইকেট। এমন অবস্থায় ম্যাচ বাঁচানোর চিন্তা হয়তো পাকিস্তানের অন্ধ ভক্তরাও করেননি। দিন শেষে অবশ্য পাকিস্তানকে আশা বাঁচানোর বার্তা দেন বাবর আজম ও আবদুল্লাহ শফিক জুটি।২ উইকেটে ১৯২ রানে শেষ দিনের খেলা শুরু করে পাকিস্তান। শেষ দিনে এ অবস্থা থেকেও ম্যাচ বাঁচানো রীতিমতো পাহাড় টপকানোর মতোই কঠিন। শফিককে নিয়ে সেই পাহাড় টপকানোর কাজই শুরু করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। সেঞ্চুরি থেকে ৪ রানে দূরে থাকতে শফিক (৯৬) যখন ফেরেন তখন কপালের ভাঁজ বাড়ে পাকিস্তান সমর্থকদের। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় ফাওয়াদ আলম (৯) বিদায় নিলে। ২৭৭ রানে পাকিস্তান হারায় ৪ উইকেট। সেখান থেকে পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনের দুই স্তম্ভ বাবর ও মোহাম্মদ রিজওয়ান শুরু করেন নিজেদের লড়াই। অজি বোলারদের হতাশা উপহার দিয়ে এ দুজন একপর্যায়ে জেতার সম্ভাবনাও উসকে দিয়েছিলেন।অনবদ্য ব্যাটিংয়ে বাবর এগিয়ে যাচ্ছিলেন ডাবল সেঞ্চুরির দিকে। আর রিজওয়ান ছুটছিলেন সেঞ্চুরি সামনে রেখে। এর মধ্যে চতুর্থ ইনিংসে অধিনায়কদের সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ডও গড়েন বাবর। তবে বাবর যখন ডাবল থেকে ৪ রান দূরে, তখনই তাঁকে ফেরান নাথান লায়ন। এর মধ্যে দিয়ে শেষ হয় ৪২৫ বলে ২১ চার ও ১ ছক্কায় ১৯৬ রানের টেস্ট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো বাবরের ইনিংসটিও।অধিনায়ককে হারিয়ে কিছুটা দিশেহারা পাকিস্তান হেরে বসে কি না সেই আশঙ্কাতেই ছিল পাকিস্তানের সমর্থকেরা। ফাহিম আশরাফ ও সাজিদ খান দ্রুত বিদায় নিলে বিপদ আরও ত্বরান্বিত হয়। তবে ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে শেষের হিসাবটা ঠিকই মিলিয়ে দেন রিজওয়ান। নিশ্চিত হারতে থাকা ম্যাচটাই ড্র করে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। | 12 |
রাঙামাটি সদরের যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রে ৩৮তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের এই ভাবনা কেন্দ্রে গত রোববার শুরু হওয়া ধর্মীয় অনুষ্ঠান গতকাল সোমবার বিকেলে শেষ হয়। কঠিন চীবর দানোৎসবে দূর-দুরন্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থী অংশ নেন। অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল বুদ্ধপূজা, বুদ্ধ মূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সূত্র পাঠ, ধর্মীয় দেশনা, কল্পতরু দান ও ফানুস উৎসর্গ।সোমবার সকালে প্রথমে ভদন্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন ভক্তরা। পরে পঞ্চশীল পাঠ করেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পূর্ণচক্র চাকমা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্র বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পুর্ণচক্র চাকমা ও সাবেক সভাপতি দয়াল কৃষ্ণ চাকমা। এতে আরও বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার সহধর্মিণী রিপা চাকমা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগীয় প্রকৌশলী মহিনী রঞ্জন চাকমার সহধর্মিণী নিরালা চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রূপক চাকমা অরুণ চাকমা।ধর্মীয় সভায় পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে ধর্ম দেশনা দেন, ভদন্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির। অন্যান্য ভিক্ষুদের মধ্য ধর্মদেশনা দেন, রাজবন বিহারের সিনিয়র ভিক্ষু ভদন্ত সত্যপ্রেম মহাস্থবির প্রমুখ।এ সময় অন্য সিনিয়র ভিক্ষুর মধ্য উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা বনবিহার আবাসিক সিনিয়র ভিক্ষু ভদন্ত শ্রীমৎ শুভবর্ধণ মহাস্থবির, ধুতাঙ্গটিলা বনবিহার অধ্যক্ষ দেবধাম্মা মহাস্থবির, যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রের বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ কল্যাণ জ্যোতি মহাস্থবির। | 6 |
বরিশাল জিলা স্কুলের এক শিক্ষার্থী কীর্তনখোলা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছে। বন্ধুদের সাথে নৌ ভ্রমণে গিয়ে ট্রলার থেকে সে নদীতে পড়ে যায় বলে জানিয়েছেতার সহপাঠীরা। তাকে উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটনা। নিখোঁজ ছাত্রের নাম ফাহাদ হাসান (১৭)। সে বরিশাল জিলা স্কুলের এএসসি পরীক্ষার্থী। তার বাসা নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায়। সহপাঠীদের মধ্য থেকে কেউ একজন চিৎকার করে ফাহাদ পড়ে গেছে বলে চিৎকার করে। চালক ট্রলার থামানোর পর নদীর পানিতে পায়ের জুতা ভাসতে দেখা যায়। কিন্তু ফাহাদকে আর দেখা যায়নি। এরপর ওই যুবকদের মধ্য থেকে কেউ একজন ৯৯৯ এ ফোন করে ফাহাদের নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সেখানে উপস্থিত হয়ে তল্লাশি শুরু করে। তবে রাত ১০টা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার এসআই ফজলুল হক জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের সহায়তায় নিখোঁজ ফাহাদকে উদ্ধারের চেষ্ট চলছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
ব্যাংক বন্ধের কারণে রোববার শেয়ারবাজারও বন্ধ ছিল। তাই গতকাল সোমবার ছিল শেয়ারবাজারে সপ্তাহের প্রথম লেনদেন দিবস। দিনটি শেষ হয়েছে একাধিক রেকর্ড দিয়ে। তাই বলা চলে, শেয়ারবাজারের জন্য গতকাল সোমবারটি ছিল 'গুড মানডে'। অবশ্য শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে মানডে সুপরিচিত 'ব্ল্যাক মানডে' হিসেবে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল এক দিনে তিনটি রেকর্ড হয়েছে। বাজার মূলধন, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করা ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচকে এ রেকর্ড হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় দুই মাস পর লেনদেন ছাড়িয়েছে আবার ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল এক দিনে ৫৬ পয়েন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৮২ পয়েন্টে। প্রধান সূচকটি এখন সাড়ে ৬ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক ছুঁই ছুঁই করছে। আজ মঙ্গলবার ডিএসইএক্স সূচকটি মাত্র ১৮ পয়েন্ট বাড়লেই ছুঁয়ে ফেলবে সাড়ে ৬ হাজার পয়েন্টের মাইলফলকটি। এ ছাড়া ভালো মানের বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত এ বাজারের অপর সূচক ডিএস-৩০ গতকাল ১৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৪৪ পয়েন্টে। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি এ দুটি সূচক চালু হয়েছিল। চালু হওয়ার প্রায় সাড়ে আট বছর পর এসে সূচক দুটি সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠেছে। ঢাকার বাজারের সার্বিক বাজার মূলধন গতকাল এক দিনে ৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৩১ কোটি টাকায়। এর আগে সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই এটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকার সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত এপ্রিলে মার্জিন ঋণ নীতিমালা পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বাজারে একধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। সে সময় সূচকের সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়। বাজারের প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীদের অনেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সেই বার্তা বুঝতে পেরেছিলেন। সেই অনুযায়ী বিনিয়োগ করেন। তাতে সূচক ও শেয়ারের দাম বেড়ে নতুন উচ্চতায় উঠেছে। কী ছিল এপ্রিলের সেই বার্তায় গত ৪ এপ্রিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারের ঋণসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। সেখানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের ৭ হাজার পয়েন্ট পর্যন্ত ঋণের সীমা বাড়ানো হয়। ডিএসইএক্স সূচকটি ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম না করা পর্যন্ত ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হয় প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ৮০ টাকা। আগে ঋণের সর্বোচ্চ এ সীমা ছিল প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ৫০ টাকা। বিএসইসির সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডিএসইএক্স সূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করলে ঋণসীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে ১০০ টাকার বিপরীতে ৫০ টাকায় নেমে যাবে। বিএসইসি তাদের নির্দেশনায় ওই সময় বলেছিল, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঋণসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঋণসীমা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই শেয়ারবাজারে লেনদেন বেড়ে যায়। কারণ, গ্রাহকের শেয়ার কেনার সক্ষমতা বাড়ে। এখন একজন গ্রাহকের নিজের এক লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকলে তার বিপরীতে তিনি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। তাতে নিজের ১ লাখ ও ঋণের ৮০ হাজার মিলিয়ে একজন গ্রাহক মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার কিনতে পারছেন। এরপর ওই বিনিয়োগকারীর শেয়ারের দাম যত বাড়বে, তার ঋণ নেওয়ার সক্ষমতাও তত বাড়বে। এভাবেই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে বড় বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি ছিল কারসাজির ঘটনাও। তাতে তরতর করে বেড়েছে কিছু শেয়ারের দাম। জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসা বলেন, 'এপ্রিলে সূচকের সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণসীমা নির্ধারণের সময়ই নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি বার্তা বাজারে দিয়েছিল। যাঁরা বাজারের খেলোয়াড়, তাঁরা সেই বার্তা ভালোই বুঝতে পেরেছিলেন। তার প্রতিফলন আমরা সূচকে দেখতে পাচ্ছি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ডিএসইএক্স সূচকটি ৭ হাজার পয়েন্টে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না।' মোহাম্মদ মুসা আরও বলেন, গত কয়েক মাসে সূচক বেশ বাড়লেও ভালো মৌলভিত্তির অনেক শেয়ারের দাম এখনো অবমূল্যায়িত আছে। সেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়তে থাকলে সূচকটি আরও তরতর করে বাড়বে। গত ৪ এপ্রিল যেদিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে ঋণসুবিধা বাড়ানো হয়েছিল, সেদিন ডিএসইর প্রধান সূচকটি ছিল ৫ হাজার পয়েন্টের অবস্থানে। বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার ঘরে। সেখানে চার মাসের ব্যবধানে প্রধান সূচকটি বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পয়েন্ট বা ২৭ শতাংশ। আর বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় লাখ কোটি টাকা। | 0 |
গাইবান্ধায় দুই দিন ধরে হঠাৎ করে ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। সারা দিন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে গোটা জেলা। তাপমাত্রা দিনের বেলায় ২০ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকলেও রাতে তা নেমে আসে ১২ ডিগ্রির নিচে।সেই সঙ্গে হিমেল হাওয়া। শীতের কারণে সন্ধ্যার পর রাস্তায় লোক চলাচল কমে গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে অনেকে দিনের বেলায় গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছেন। এ ছাড়া শীত থেকে বাঁচতে পুরোনো কাপড়ের দোকানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।জানা যায়, গত রোববার সকাল থেকে কনকনে হিমেল বাতাস বইতে শুরু করে। হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় গরিব মানুষ বিপাকে পড়েন। রাতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝরে কুয়াশা। ফলে শীতের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। দুপুরের পর থেকেই জবুথবু হয়ে পড়ে এ অঞ্চলের মানুষ। জেলার চরাঞ্চলগুলোর মানুষ ও গবাদিপশুর অবস্থা আরও ভয়াবহ। বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। শীতে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা কষ্ট পাচ্ছেন বেশি।এ ছাড়া জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীপথে ঘন কুয়াশার কারণে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ফলে মূল ভূমির সঙ্গে চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে সরিষাখেতের ফুল ঝরে পড়ছে এবং বীজতলায় বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া রবি ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। | 6 |
বেলটিয়া বাজার-পুলিশ লাইনস জামালপুরের পুরোনো একটি সড়ক। পুলিশ লাইনস এই সড়কেই পড়েছে। পুলিশ ছাড়াও অন্তত হাজার পাঁচেক মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে এত দিন পানিনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কোনো নালা না থাকায় সড়কটি বেশির ভাগই জলাবদ্ধ থাকে। আর বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। এই সড়কেরই দুই পাশে ৯২০ মিটার করে পাকা নালা নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দও করেছে তারা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাম কনস্ট্রাকশন-সাম ইঞ্জিনিয়ারিং (জেবি)। স্থানীয়ভাবে কাজটি তদারক করছেন এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০২০ সালের মার্চ থেকে তারা কাজও শুরু করে দিয়েছে। সত্যি বলতে কি, নালার কাজ অনেকটা হয়েও গেছে। ৪ মে বহু কাঙ্ক্ষিত সেই নালাই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন পৌরসভার মেয়র। কেন? কারণ কাজের মান। কিন্তু কাজের মান দেখভালের দায়িত্ব তো প্রকৌশলীর, তিনি কী করছিলেন? তাঁর দাবি, শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দরপত্রের শর্ত মানছিল না। ঢালাইয়ের কাজ প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে করার কথা। অথচ তাঁকে না জানিয়ে রাতারাতি ঢালাই করা হয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধে প্রথমে মৌখিকভাবে ও পরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারপরও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কাজ অব্যাহত রাখে তারা। সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ২৯ এপ্রিল কাজ বন্ধ করে দেয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। নালার যে অংশ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেটুকু ভেঙে দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী করার জন্য তাদের সময় বেঁধে দেয় তারা। সেই নির্দেশও না মানায় গত মঙ্গলবার বুলডোজার দিয়ে প্রায় ১৫০ মিটার নালা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, ত্রুটি নির্দেশ করার পরও কেন তারা তা সংশোধন করল না? তাদের কোনো আপত্তি থাকলে কেন তারা জানাল না? লিখিত অভিযোগের জবাব কেন তারা দিল না? তারপরও কেন তারা কাজ চালিয়ে গেল? এসবই অনিয়ম করে পার পেয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি; কঠোর শাস্তি ছাড়া তা বন্ধ হবে না। সারা দেশের অধিকাংশ ঠিকাদারি কাজেরই কমবেশি এই চিত্র। প্রকৌশলী ও মেয়রের আপত্তির মুখে জামালপুরের বিষয়টা সর্বসমক্ষে এসেছে, অন্যত্র হয়তো টাকাপয়সা দিয়ে ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হতো। নিম্নমানের বা অপ্রতুল সামগ্রী দিয়ে বানানো এই নালা হয়তো কয়েক দিন পরই ভেঙে পড়ত, আবার জলাবদ্ধ হতো রাস্তা, প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ত হাজারো স্থানীয় মানুষ। কিন্তু তাদের ভোগান্তি নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় কি প্রশাসনের মাথাদের আছে? | 8 |
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আইয়ুব রানার বয়স এখন সত্তর। ১৫ বছর ধরে কিডনির ডায়ালাইসিস করেই বেঁচে আছেন তিনি। এই জটিল রোগের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তিন বছর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ও হাসপাতালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু হয়। এর পর থেকে অল্প টাকায় চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন তিনি। সেই সেবাটি হঠাৎ বন্ধ হওয়ার খবরে অন্য সবার মতো তিনিও আতঙ্কিত ছিলেন।আজকের পত্রিকার সঙ্গে যখন তিনি কথা বলছিলেন তখন তাঁর বাম হাতের রক্তনালি দিয়ে ডায়ালাইসিস চলছিল। তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী, আমাদের বাঁচান। এখানে অনেক গরীব রোগী আছেন, যাঁরা নামমাত্র টাকা দিয়ে ডায়ালাইসিস করে বেঁচে আছেন। তাই চমেকের ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হলে চিকিৎসার খরচ মেটাতে না পেরে শত শত কিডনি রোগী মারা যাবে।'পটিয়া থেকে আসা রুপন কান্তি দাশ গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বেলা ১২টার দিকে কিডনি ডায়ালাইসিস করার জন্য সিরিয়াল পান। অনেক ধার-দেনা করে তাঁকে ডায়ালাইসিসের খরচ মেটাতে হয়। প্রতি মাসে তাঁকে ৯ বার ডায়ালাইসিস করাতে হয়। গরীব রোগীর কোটায় প্রতি ডায়ালাইসিসের জন্য তাঁকে দিতে হয় ৫১০ টাকা।রুপন কান্তি দাশ বলেন, 'গতকাল (মঙ্গলবার) ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ থাকার খবরে চিন্তিত ছিলাম। কারণ বাইরে চিকিৎসা করানোর মতো টাকা নেই। চিকিৎসার অভাবে মরতেই হতো।'চমেক হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস কার্যক্রম হঠাৎই বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর মেডিকেইডস (প্রা.) লিমিটেড। তাঁদের পক্ষ থেকে গত ২ জানুয়ারি এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেওয়া ওই নোটিশে বলা হয়, ৫ জানুয়ারি থেকে চমেক হাসপাতালে ডায়ালাইসিস বন্ধ থাকবে। এ জন্য তাঁরা বিকল্প ব্যবস্থা নিতে রোগীদের প্রতি অনুরোধ জানান।ডায়ালাইসিস সেন্টারের ইনচার্জ ডা. হিমেল আচার্য বলেন, তাঁদের শয্যা রয়েছে ৩১টি। প্রতিদিন প্রায় ১৫০ রোগী ডায়ালাইসিস করান। মাসে এই সংখ্যা প্রায় আড়াই আজার।চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আফতাব উল ইসলাম বলেন, স্যান্ডরের সঙ্গে ২০১৭ সালে সরকারের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী তাঁরা এত দিন সেবা দিয়ে আসছে। সেবার বিপরীতে তাদের যে পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা তা পরিশোধ না করায় সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।আফতাব উল ইসলাম আরও বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা সেবা চালিয়ে নেবেন বলে জানিয়েছেন। টাকার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেও বলেছি।'স্যান্ডর মেডিকেইডসের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, সরকারের কাছে গত দুই বছরের প্রায় ২৩ কোটি টাকা পান তাঁরা। টাকা পরিশোধের জন্য তাঁদের কাছে স্বাস্থ্য বিভাগ ১০ তারিখ পর্যন্ত সময় চেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে ফের সেবা বন্ধ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। | 6 |
চ্যাম্পিয়নস লিগের পর উল্টো রথে নতুন লিগ মৌসুম শুরু করেছিল পিএসজি। নেইমার-এমবাপ্পে-ডি মারিয়ারা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় মৌসুম শুরু করেছিল হার দিয়ে। পরের ম্যাচে নেইমার-ডি মারিয়া ফিরলেও মার্সেইয়ের বিপক্ষে হারে টমাস টুখেলের দল। তৃতীয় ম্যাচে শেষ সময়ে ১-০ গোলের জয় পায় প্যারিসের দলটি। তবে চতুর্থ ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে ফিরে দলকে নাইচের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতিয়েছেন। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ১-০ গোলের লিড এনে দেন ফ্রান্স ফরোয়ার্ড। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোল করেন ডি মারিয়া। দলের জয়ের ব্যবধান ৩-০ করেন পিএসজি অধিনায়ক মারকুইনোস। নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে না পারা নেইমার বিহীন দলকে দারুণ জয় এনে দেন দলের তিন মূল সদস্য। এমবাপ্পে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও ম্যাচে তার প্রভাব ছিল দারুণ। নাইচও নিজেদের সেরা দল নিয়ে নামতে পারেনি করোনার কারণে। তাদের দলেও প্রভাব ফেলেছে ভাইরাসটি। তারপরও ঘরের মাঠে দারুণ প্রতিযোগিতার আভাস দেয় তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিএসজির বিপক্ষে গোল করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ম্যাচে তারা পিএসজির সমান ৫০ ভাগ বল পায়ে নিয়ে খেলেছে। পিএসজির ছয়টির বিপরিতে গোলে শট নিয়েছে পাঁচটি। | 12 |
বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও'র বাসভবনে হামলার জের ধরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ কয়েকশ' নেতাকর্মীর নামে পৃথক দুটি মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর মহিলা আওয়ামীগ। বেলা ৩টায় নগরীর সোহেল চত্বরস্থ আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেন। এছাড়া ইউএন 'র বাসায় হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করেন বক্তারা। এ সময় বরিশাল জেলা ও মহানগর মহিলা আ.লীগের নেতৃবৃন্দসহ, বরিশাল সিটির মহিলা কাউন্সিলরগণ, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মহিলা আ.লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ চলাকালে "সাদিক ভাই, ভয় নাই, সাদিক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো" এ ধরণের নানা শ্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। এদিকে আজ শুক্রবার সকাল থেকে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করার কথা থাকলেও বরিশালের পরিস্থিতি শান্ত থাকায় এ মূহুর্তে বিজিবি নামানোর কোন প্রয়োজন নেই বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল। তবে প্রয়োজন হলে তার জন্য বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান বিভাগীয় কমিশনার। | 6 |
করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে চীনের উহান থেকে দেশে ফেরা ৩১৬ বাংলাদেশির মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৩০৯ জনকে আশকোনায় হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, বিমানবন্দরের কাছে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাতজনের মধ্যে চারজনের শরীরে জ্বর এবং বাকি তিনজনের সর্দি ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, উহান থেকে ফেরা ব্যক্তিরা আপাতত স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন না। বিমানবন্দর থেকে তাদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। সেখানে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের কোয়ারেন্টাইন (আলাদা) ব্যবস্থায় তাদের রাখা হবে। স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার জন্য ১৪ দিন পর্যন্ত তাদের সেখানে রাখা হতে পারে। তারপর তাদের শরীরে করোনাভাইরাস নেই এটা নিশ্চিত হলে বাড়ি ফিরতে পারবেন তারা। চীন থেকে ফেরত আসাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রসঙ্গে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, 'আমরা আশা করছি, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত কেউ নেই। তারপরও আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। হজ ক্যাম্পে তাদের রাখা হবে। সেখানে আমাদের চারটি মেডিক্যাল টিম থাকবে। সেখানে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।' এর আগে, শনিবার সকালে করোনাভাইেোসের উৎসস্থল চীনের উহান শহর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট সকালে দেশে ফেরেন ৩১৬ বাংলাদেশি। বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মোকাব্বির হোসেন জানান, বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে বিজি ৭০০২ ফ্লাইটযোগে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। গত শুক্রবার বিশেষ বিমানযোগে বাংলাদেশের নাগরিকদের ফেরত আনার অনুমতি দেয় চীনের বিমান কর্তৃপক্ষ। চীনে করোনাভাইরাসে ১১ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে হুবেই প্রদেশ ও তার রাজধানী উহানে। চীনে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়ে ২৫৯ জনে। মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ঠিক কীভাবে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে এবং এটি কতটা মারাত্মক, তা বোঝার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের মানুষদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং আমেরিকা, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশে মানবদেহের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। | 6 |
ভারতীয় পার্লামেন্ট লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-র বিপুল জয়ের মধ্যেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন বছর পঁচিশের মেহনাজ বেগম। উত্তরপ্রদেশের গোণ্ডা জেলার পরসারপুর মাহরৌর গ্রামের বাসিন্দা ওই মহিলা নিজের সদ্যোজাত শিশুপুত্রের নাম রেখেছিলেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি! সে সময় তিনি জানান, ২৩ মে নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিনই জন্মেছিল তার সন্তান। সেই জন্যই প্রধানমন্ত্রীর নামে নামকরণ হয়েছিল তার! কিন্তু মাসখানেক পরে এখন শিশুর নাম বদলে ফেলতে চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি। এতদিন পর এহেন মতবদলের কারণ কী? মেহনাজ এখন জানাচ্ছেন, ২৩ মে নয়, তার ছেলের জন্ম হয়েছিল ১২ মে। কিন্তু তার মামাত ভাই মুস্তাক আহমেদ তাকে বুঝিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নামে সন্তানের নাম রাখা উচিত। তাতে গোটা দেশের নজর কাড়া যাবে। ওই মামাত ভাই একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের সাংবাদিক। এর দু-দিন পরে, ২৫ মে হিন্দুস্তান নামে ওই সংবাদপত্রের লখনৌ সংস্করণে মেহনাজের ছেলের খবর প্রকাশিত হয়। মুস্তাকের সঙ্গে একযোগে ওই প্রতিবেদন লেখেন ব্যুরো চিফ কামার আব্বাস। সংবাদমাধ্যমে ওই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই ভারতজুড়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। মেহনাজের প্লাস্টারবিহীন বাড়ির সামনে উপচে পড়ে সংবাদমাধ্যমের ভিড়। এরপর থেকেই তাদের প্রতি বিরূপ হন প্রতিবেশীদের একাংশ। মেহনাজ জানান, তাকে এড়িয়ে চলছেন গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ। এই বছর ঈদের সময়ও বাড়িতে আসেননি পড়শিরা। সম্প্রতি মেহনাজ বলেন, "আমার মামাত ভাই সাংবাদিক। ও-ই আমাকে বুঝিয়েছিল ছেলের নাম নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদি রাখা উচিত। জন্মতারিখ ভুল বলার কথাও ও-ই শিখিয়ে দিয়েছিল। সংবাদমাধ্যমকে কী বলতে হবে, তা-ও শিখিয়ে দিয়েছিল। যা করার ও-ই করেছে। এখন দেখছি বড় ভুল হয়ে গেছে। আমি অশিক্ষিত মানুষ। বুঝতে পারিনি। নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কেও বিশেষ কিছু আমি জানি না।" সম্প্রতি ছেলের নাম আফতাব রাখতে চান বলে জেলাপ্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন মেহনাজ। সূত্রের খবর, মেহনাজের স্বামী দুবাইতে কর্মরত। ছেলের নাম সংক্রান্ত বিতর্কের খবর পেয়ে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত। সংসার চালানোর জন্য প্রতি মাসে ৪০০০ রুপি বাড়িতে পাঠাতেন তিনি। বিতর্কের জেরে সেই টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। মেহনাজের কথায়, "আমার কোনো রোজগার নেই। স্বামীর টাকাই ভরসা। জানি না এখন কী করে চলবে!" মেহনাজের দাবি অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন মুস্তাক। তার কথায়, "ও নিজেই আমাকে বলেছিল ছেলের নাম প্রধানমন্ত্রীর নামে রাখতে চায়। এখন চাপে পড়ে অন্য কথা বলছে। একই কথা বলেছেন কামার আব্বাস নামের ওই সিনিয়র সাংবাদিকও।"সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস | 3 |
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দিল্লির সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রণব মুখার্জি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী, দেশটির বিজেপি নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, আসামের মন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মাসহ বিজেপি, কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে লিখেছেন, 'ভারতরত্ন শ্রী প্রণব মুখার্জীর মৃত্যুতে ভারত শোক প্রকাশ করছে। তিনি দেশের উন্নয়নের গতিপথে অসামান্য অবদান রেখে গিয়েছেন।' শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রণব মুখার্জি কংগ্রেসের রাজনীতি করলেও ভারতে দল-মত নির্বিশেষে সবাই শ্রদ্ধা করতেন। প্রণব মুখার্জির মৃত্যুকে 'ব্যক্তিগত ক্ষতি' আখ্যা দিয়ে টুইট করেছেন বিজেপি সরকারের মন্ত্রী রাজনাথ সিং। টুইটারে তিনি লিখেছেন, জনজীবনে প্রণবদার অবদান অপরিসীম। সমাজের সব শ্রেণির মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করতেন। তার মৃত্যুতে ব্যক্তিগত ক্ষতি হয়ে গেল। ভারতের ইতিহাস, কূটনীতি, জননীতি এমনকি প্রতিরক্ষা বিষয়েও তার গভীর জ্ঞান ছিল। বিজেপি মন্ত্রী অমিত শাহ টুইটারে লিখেছেন, ভারতরত্ন শ্রী প্রণব মুখার্জীর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। তার ক্যারিয়ার দেশের জন্য অনেক বেশি সম্মানের। তিনি একজন অভিজ্ঞ নেতা যিনি দেশকে মন-প্রাণ উৎসর্গ করে সেবা করেছেন। উল্লেখ্য, ৯ আগস্ট রবিবার রাতে প্রণব মুখার্জি বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। সেদিন রাত ১২টায় তাঁকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর মস্তিষ্কে অপারেশন হয়, তার আগে রীতি মেনে কোভিড পরীক্ষা করা হলে দেখা যায় তিনি পজিটিভ। উল্লেখ্য, প্রণব মুখার্জি ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এর আগে একাধিক মন্ত্রণালয়ে তিনি কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। | 3 |
শনিবার রাতের ও দিনের নফল নামাজহজরত আবু হুরায়রা (রা.) ও হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, শনিবার রাতে চার রাকাত নফল নামাজ রয়েছে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি শনিবার দিন চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন, যারা কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকবে এবং কিরামান কাতেবিন তার জন্য শহীদের সওয়াব লিখতে থাকবে; সমুদ্রের ফেনা ও আকাশের তারকা সমান তার গোনাহ থাকলেও তা মাফ করে দেওয়া হবে। রোববারের নফল নামাজহজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, রোববার চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে। সোমবারের নফল নামাজহজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি সোমবার দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে, সে অসংখ্য সওয়াবের অধিকারী হবে। হজরত উমর (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি সোমবার দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে, তার জীবনের সব পাপ মাফ করে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার রাতের ও দিনের নফল নামাজহজরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, মঙ্গলবার রাতে ছয় রাকাত নফল নামাজ আছে। হজরত আনাস (রা.) বলেন, মঙ্গলবার দিনে ১০ রাকাত নফল নামাজ রয়েছে। হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণনা করেন, মঙ্গলবার সূর্য ওঠার পর চার রাকাত নফল নামাজ পড়বে। বুধবার রাতের ও দিনের নফল নামাজহজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, বুধবার রাতে চার রাকাত নফল নামাজ আছে। হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় চার রাকাত নফল নামাজ পড়বে। হজরত আনাস (রা.) বলেন, বুধবার দিনে চার রাকাত নফল নামাজ রয়েছে। বৃহস্পতিবারের নফল নামাজহজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, বৃহস্পতিবার আট রাকাত নফল নামাজ পড়বে। হজরত আনাস (রা.) বলেন, বৃহস্পতিবার আট রাকাত নামাজ রয়েছে। জুমার রাতের নফল নামাজহজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, শবে জুমুআ বা জুমার রাতে (বৃহস্পতিবার বাদ এশা) দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে। এই নামাজ বিশেষ ফলপ্রদ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে, তার পঠিত প্রতিটি হরফে আলোর জ্যোতি তৈরি হবে। সেই আলো হাশরের দিন তার সামনে সামনে দৌড়াবে। তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে। দোজখ থেকে তাকে নিষ্কৃতি দেওয়া হবে। সে ৭০ জন সগোত্রীয় পাপীর জন্য সুপারিশ করতে পারবে। শুক্রবারের নফল নামাজজুমার দিনে মসজিদে গিয়ে চার রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিনে মসজিদে গিয়ে চার রাকাত নফল নামাজ পড়লে ওই নামাজির জান, মাল, সন্তান, পরিজন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সম্পদ আল্লাহ তাআলা অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন। আশুরার নফল নামাজআশুরা তথা ১০ মহররমের রাতে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়। আশুরার দিনেও ৮ রাকাত নফল নামাজ রয়েছে। হাদিস শরিফে আছে, যে ব্যক্তি এই নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে অসংখ্য সওয়াব দান করবেন এবং পরবর্তী এক বছর তার পরিবারে পর্যাপ্ত রিজিক প্রদান করবেন। সলাতুর রগায়িব বা পয়লা রজবের নফল নামাজহজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রজব মাসের প্রথম তারিখে ১০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়। হজরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, অতি মহান চারটি রাত; যথা: রজব মাসের প্রথম রাত, শাবান মাসের মধ্য দিবসের রাত (শবে বরাত), শাওয়াল মাসের প্রথম রাত (ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদের রাত), জিলহজ মাসের দশম রাত (ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদের রাত)। অন্য বর্ণনায় আছে, রজব মাসের প্রথম তারিখ মাগরিব ও এশার মাঝে দুই দুই রাকাত করে ২০ রাকাত নফল নামাজ পড়বে।রজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবারের নফল নামাজরজব মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার রোজা রাখবে এবং প্রথম জুমার রাতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত সন্ধ্যায়) মাগরিব ও এশার মাঝে দুই দুই রাকাত করে ১২ রাকাত নফল নামাজ পড়বে। রজব মাসের প্রথম শুক্রবারের নফল নামাজরজব মাসের প্রথম শুক্রবার জোহর ও আসরের মধ্যখানে চার রাকাত বা ১২ রাকাত নফল নামাজ পড়বে। মধ্য রজবের নফল নামাজরজব মাসের ১৫ তারিখে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহাব। রজব মাসের শেষার্ধের নফল নামাজরজব মাসের ১৬ তারিখ থেকে শেষ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহাব। শবে মিরাজের নফল নামাজশবে মিরাজে (রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে) ১২ রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহসান; একে সালাতুল মিরাজ বলে। শাবান মাসের প্রথম দিনের নফল নামাজহজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, শাবান মাসের প্রথম তারিখে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে; এর বিনিময়ে আল্লাহ পরকালে জান্নাতে এমন কিছু দান করবেন, যা মানুষের চোখ কখনো দেখেনি, কান কখনো তার বর্ণনা শোনেনি এবং কোনো মানুষের মনে অনুরূপ কল্পনাও হয়নি। এ নামাজের বরকতে তাকে দুনিয়াবি ঝামেলা থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হবে, রিজিক বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে এবং হাশরের দিনে কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা করা হবে। শাবান মাসের প্রথম দিনের নফল নামাজ বা সালাতুল খায়ের নফল নামাজহজরত আনাস (রা.) থেকে এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মুজাহিদ (র.) বর্ণনা করেন, শাবান মাসের মধ্যরাতে (শবে বরাতে) ১০০ রাকাত নফল নামাজ রয়েছে। এই নামাজ দুই রাকাত করে পড়তে হয়। ২৭ শাবানের নফল নামাজহজরত ওয়াসিলা ইবনে আসকা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ২৭ শাবান রাতে চার রাকাত নফল নামাজ রয়েছে। রমজান মাসের বিভিন্ন তারিখের নফল নামাজরমজান মাসের ১০ তারিখ রাতে চার রাকাত নফল নামাজ; ১৫ রজমানের রাতে চার রাকাত; ২০ রমজানের রাতে দুই রাকাত বিশেষ নফল নামাজ পড়া উত্তম। শবে কদরের নফল নামাজরমজান মাসের ২৭ তারিখ রাতে (শবে কদরে) নফল নামাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কদরের রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে, আল্লাহ তার ও তার পিতা-মাতার গোনাহ মাফ করে দেবেন। ফেরেশতাদের তার জান্নাতে গাছ লাগানোর জন্য পাঠাবেন; বেহেশতে প্রাসাদ নির্মাণ করবেন; তথায় চার প্রকার নদী প্রবাহিত করার আদেশ দেবেন। এই ব্যক্তি মৃত্যুর আগে দুনিয়াতে থেকেই এসব স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে যাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করবে। শেষ রমজানের নফল নামাজরমজান মাসের ৩০ তারিখ রাতে ১২ রাকাত নফল নামাজ রয়েছে। ঈদুল ফিতরের রাতের ও দিনের নফল নামাজশাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদ। এই রাতে ১০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়। ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদের নামাজ থেকে ফেরার পর চার রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়। শাওয়াল মাসের নফল নামাজহজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) হজরত আনাস (রা.) সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি শাওয়াল মাসে (দিনে বা রাতে) আট রাকাত নফল নামাজ পড়বে, আল্লাহ তার অন্তরে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ধারা প্রবাহিত করে দেবেন। তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং ওই অবস্থায় সে মারা গেলে শহীদি মর্যাদা লাভ করবে। তাকে ঋণমুক্ত করা হবে, তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে, জান্নাতে বাগান লাভ করবে। জিলহজ মাসের নফল নামাজ৯ জিলহজ (৮ জিলহজ দিবাগত রাত) আরাফাতের রাতে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়া অতি উত্তম।মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব: বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক: আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম।[] | 10 |
তিন দলের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের পর্দা উঠছে রবিবার। এর মধ্য দিয়ে করোনার কারণে সাত মাস বন্ধ থাকার পর প্রথম কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলতে মাঠে নামবে জাতীয় দল ও হাই পারফরম্যান্স দলের ক্রিকেটাররা। উদ্বোধনী ম্যাচে দুপুর দেড়টায় মাহমুদউল্লাহ একাদশের বিপক্ষে মাঠে নামবে নাজমুল একাদশ। এদিন ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে ঘরোয়া এ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে মরিয়া হয়ে আছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টস কাপ টুনামেন্টের ট্রফি উন্মোচনের সময় এ কথা বলেছেন। এছাড়া ৩ দলের এই প্রতিযোগিতাকে আকর্ষণীয় করে তোলার সব চেষ্টাই করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাই খুব বেশি না হলেও প্রাইজমানি আর ব্যক্তিগত পুরস্কার থাকছে প্রেসিডেন্টস কাপে। এ টুনামেন্ট আয়োজনে কোনো পৃষ্ঠপোষক না নিলেও খেলোয়াড়দের আর্থিকভাবে অনুপ্রাণিত করতে চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ দলের জন্য ১৫ লাখ টাকার প্রাইজমানি রাখছে বিসিবি। সেই সঙ্গে থাকছে সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলারের জন্য আলাদা আর্থিক পুরস্কার। সব মিলিয়ে ২৫-৩০ লাখ টাকার পুরস্কার রাখা হচ্ছে খেলোয়াড়দের জন্য। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। এছাড়া ক্রিকেটপ্রেমীদেরও একটি সুখবর দিয়েছে বিসিবি। এ টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ সরাসরি দেখা যাবে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে। বিসিবি থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্ট এর প্রতিটি খেলা ভিডিও স্ট্রিমিং এর মাধ্যমে বিসিবির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ হতে সরাসরি সম্প্রপ্রচার করা হবে। তাছাড়া বাংলাদেশ বেতারে খেলাগুলোর ধারা বিবরণী পাওয়া যাবে। প্রেসিডেন্টস কাপ টুনামেন্টে প্রাইজমানির বিষয় নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, এটা আমাদের পরীক্ষামূলক সিরিজ, আসল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সিরিজের মতো হবে না। একেবারে প্রস্তুতি ম্যাচের মতো যেন না হয় তাই আমরা প্রেসিডেন্টস কাপকে আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য করে তোলার সম্ভাব্য সবরকম চেষ্টাই করছি। তাই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের জন্য প্রাইজমানি থাকবে। তাছাড়া ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার হিসেবে ট্রফির পাশাপাশি নগদ অর্থও দেয়া হবে। প্রেসিডেন্টস কাপ টুনামেন্টে খেলার আগে তামিম-মাহমুদউল্লাহদের ৩দিন ছুটি দিয়েছিল বিসিবি। শনিবার ছুটি শেষে ফের জৈব সুরক্ষাবলয়ে প্রবেশ করেছেন সবাই। তবে তার আগে গত পরশু খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা, দলের সহকারী, টিম বাসের চালক, সহকারী ও হোটেল সোনারগাঁওয়ের কর্মীসহ ১২৬ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। ভালো খবর হলো, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও সাপোর্ট স্টাফদের কেউই করোনা পজিটিভ নন। সবাই পাশ করে গেছেন। তবে এত দিন সুরক্ষাবলয়ে ছিলেন ২৭ ক্রিকেটার। এখন ৩ দল মিলিয়ে সেটি দাঁড়াচ্ছে ৪৫ জনে। সব মিলিয়ে সোনারগাঁওয়ের সুরক্ষাবলয়ে ঢুকছেন ৬৩ জন। | 12 |
বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগের কথা জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এ দেশে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। দুবাইয়ের কনরাড হোটেলে আজ রোববার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের মূল বক্তা প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তাঁর পক্ষে নিযুক্ত জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট পিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিনিয়োগের ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশের তিন শর বেশি সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তা দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ২০ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন সালমান এফ রহমান। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী বাংলাদেশি। সেখানে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে দেড় লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। দুবাই থেকে বিনিয়োগ আসা প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে সালমান এফ রহমান বলেন, 'আমরা সব সময় চীন, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় ধরনের বিনিয়োগ দেখে আসছি। এখন আমরা বিশ্বাস করি, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন।' সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান বলেন, 'গত বছর বাংলাদেশের অর্থনীতি ৭ দশমিক ৯ শতাংশ হারে উন্নীত হয়েছে এবং আমরা আশা করছি এই বছর নাগাদ তা ৮ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাবে। | 0 |
বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের অভিনয়ে 'অভিশপ্ত আগস্ট' নাটকটি নারায়ণগঞ্জের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিনায়তনে মঞ্চস্থ হয়েছে। শুক্রবার রাতে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। এটি ছিল বাংলাদেশ পুলিশের ৬৮তম মঞ্চায়ন। বাংলাদেশ পুলিশ ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমানের পরিকল্পনা, গবেষণা ও তথ্য সংকলনে এবং পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুর রহমানের রচনা ও নির্দেশনায় ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের ওপর নাটকটির মঞ্চায়ন করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের দক্ষ অভিনয়ে নাটকটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, "বিপথগামী কিছু কুলাঙ্গার সদস্য বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরা মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সঠিক নেতৃত্ব পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নাটকের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছেন।" এ জন্য বাংলাদেশ পুলিশকে ধন্যবাদ জানান সিটি মেয়র। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌসসহ পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, 'বিএনপি বলছে নির্বাচনে অংশ নেবে না, কিন্তু তারা বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনে ঠিকই অংশ নিচ্ছে। এটা আসলে জনগণের সাথে প্রতারণা করার শামিল। তারা নানান সময়ে নানান কথা বলে। সকালে এক রকম বিকালে আরেক রকম কথা বলে। বিভিন্ন কথা ও মিথ্যাচার করতে করতে বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি প্রতারক দল হিসেবে তারা চিহ্নিত হয়েছে।' বৃহস্পতিবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ডুবাইরচর এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে কর্মী সভা শেষে সাংবাদিকদের মাহবুব-উল-আলম হানিফ এসব কথা বলেন। এসময় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমিকুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কাজে কুমিল্লায় আসিনি, সাংগঠনিক কাজে এসেছি। কারণ আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল। কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন থানা, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কারণে আমরা সাংগঠনিক কাজ করতে পারছি না। তাই সিটির বাইরে কর্মীদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে।' উল্লেখ্য, ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীসহ ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিডি প্রতিদিন/ফারজানা | 6 |
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এখন সপ্তম দিনে পৌঁছেছে। সাত দিনের মাথায় এসে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে রাশিয়ার বোমা হামলা জোরদার হয়েছে। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর খারসন দখল করেছে রাশিয়ার সৈন্যরা। সেখানকার মেয়র এ তথ্য জানিয়েছেন। খারসন হচ্ছে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শহর যেটি রাশিয়ার সৈন্যরা দল করে নিয়েছে। শহরের মেয়র জানিয়েছেন, রাশিয়ার সৈন্যরা সিটি কাউন্সিল ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে এবং বাসিন্দাদের উপর কারফিউ জারি করেছে। বিবিসির যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, খারসন শহরের কেন্দ্রস্থলে রাশিয়ার সৈন্যরা রয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বাহিনী বলছে, রাশিয়ার প্যারাট্রুপার খারকিভ শহরে নেমেছে। সেখানকার রাস্তায় ইউক্রেনের সৈন্যদের সাথে রাশিয়ার সৈন্যদের লড়াই চলছে। মারিওপোল এবং খারকিভ শহর ঘিরে রেখেছে রাশিয়ার সৈন্যরা। মারিওপোল শহরের ডেপুটি মেয়র বলেছেন, শহরটিতে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় যাবত একটানা বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। ফলে সেখান পরিস্থিতি এখন মানবিক বিপর্যয়ের কাছাকাছি। একটি আবাসিক অঞ্চলে কয়েক শ' মানুষ নিহত হয়েছে বলে ডেপুটি মেয়র আশংকা করছেন। নিহতদের মধ্যে তার বাবাও রয়েছেন। ইউক্রেনের সাথে আজ দ্বিতীয় বৈঠকইউক্রেন সংকট অবসানের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসছে দুই দেশের কর্মকর্তারা। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই এই আলোচনা হচ্ছে। আর সমঝোতার জন্য রাশিয়া কঠিন শর্ত আরোপ করেছে। রাশিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, বৃহস্পতিবার সকালে যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে অংশ নিতে ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে রওনা হয়েছেন। রাশিয়ার পক্ষে প্রধান মীমাংসাকারী ভ্লাদিমির মেদনিস্কি রুশ মিডিয়াকে বলেছেন, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা কিয়েভ থেকে রওনা হয়েছেন, রুশ সৈন্যরা তাদের জন্য একটি নিরাপত্তা করিডোর নিশ্চিত করছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনো কিছু শোনা যায়নি। সূত্র : বিবিসি | 3 |
রাজধানীর নিউমার্কেটে ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা মকবুল হােসেনের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ২৬ এপ্রিল রাজধানীসহ সব মহানগরে প্রতিবাদ সভা করবে বিএনপি। শনিবার (২৩ এপ্রিল) গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি। ভার্চুয়াল এ সভার সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিউমার্কেটে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদগটনের জন্য একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব। ফখরুল বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে যে সত্যটি উদঘটিত হয়েছে যে, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী। ভিডিও ফুটেজ থেকে অন্তত তিনজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। গণমাধ্যমের রিপাের্টে এটা স্পষ্ট যে প্রধানত: চাঁদাবাজির কারণে এবং নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের ভয়াবহ সন্ত্রাসীরা এই ঘটনার জন্য দায়ী। শুধু এই ঘটনাই নয় নিউমার্কেটসহ পাশ্ববর্তী এলাকাগুলাের দীর্ঘদিন ধরেই শাসক গােষ্ঠীর ছাত্র-ছায়ায় ব্যাপক চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ পুলিশের সহায়তায় অপরাধ জগৎ গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে, সবক্ষেত্রে ব্যর্থতার বিরুদ্ধে যখন জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে তখন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘোরানোর জন্য সরকার উদ্দেশ্য মূলক ভাবেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপিকে জড়াচ্ছে। সরকার পূর্বের মতই মামলার বেড়া জালে বিএনপির নেতাকর্মীদের বন্দী করার চক্রান্ত করছে। মামলা, গ্রেপ্তার, গুম, খুন, হত্যা এ সরকারের প্রধান অস্ত্র যা দিয়ে বিএনপিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে, বর্তমান অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার গত এক যুগ ধরে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই, ব্যবসায়ের কোনো পরিবেশ নেই। বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়েছে, মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। সংবিধানকে লঙ্ঘন করে একের পর এক নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন করে একটা ফ্যসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তােলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিউমার্কেটের সন্ত্রাসী সংঘর্ষ, পুলিশের ভূমিকা এবং পরবর্তীতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার আবারও প্রমাণ করলাে আওয়ামী লীগ সরকার ভয় দেখিয়ে, নির্যাতন করে এবং হত্যা করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চয়। | 6 |
মুজিববর্ষে সরকারের ঘোষণার আওতায় প্রথম ধাপে শনিবার ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাচ্ছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী 'মুজিববর্ষে' এটিই হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৪৯২টি উপজেলায় যুক্ত হয়ে গৃহহীন-ভূমিহীনদের মুজিববর্ষের এ উপহার তুলে দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপকারভোগীদের ঘর বুঝিয়ে দেবেন। মুজিব বর্ষের মধ্যে সবার জন্য ঘর নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৯ লাখ পরিবারকে ঘর করে দেবে শেখ হাসিনার সরকার। এরমধ্যে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী প্রদান করবেন। এছাড়া ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি গ্রামে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করে তাদের ঘর করে দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। ছয় মাসেরও কম সময়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও প্রায় এক লাখ পরিবারকে ঘর উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। শুধু ঘরই নয়, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পরিবারগুলোর কর্মসংস্থানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই ঘরগুলো দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৪১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকায় তৈরি করা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৩৮টি ঘর। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনশীল ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকায় ৩৮ হাজার ৫৮৬টি ঘর এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ৫২ কোটি ৪১ লাখ টাকায় ৩ হাজার ৬৫টি ঘর নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পগুলোতে মোট ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। | 6 |
একদিকে এফডিসিতে চলছে 'রিভেঞ্জ' সিনেমার শুটিং। সেই ছবির সেটেই নতুন সিনেমার ঘোষণা দিলেন প্রযোজক ও পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল। সেখানেও তার পাত্র-পাত্রী রোশান ও শবনম বুবলী। ছবির নাম 'বিট্রে'। রবিবার (৩০ জানুয়ারি) ছবিটির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন 'চোখ' ও 'রিভেঞ্জ' দিয়ে আলোচনায় আসা রোশান ও বুবলী জুটি। জানা গেছে, 'রিভেঞ্জ' সিনেমার কাজ শেষ হলে 'বিট্রে'র শুটিং শুরু হবে। এখানে আরও একঝাঁক তারকাকে দেখা যাবে অভিনয় করতে। থাকবে কিছু রোমান্টিক আমেজের গানও। এদিকে গতকাল এফডিসির প্রশাসনিক ভবনের সামনে 'রিভেঞ্জ' ছবির গানের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন রোশান ও বুবলী। নানা ইস্যু নিয়ে উত্তাল এফডিসিতেও কর্মচাঞ্চল্য ধরে রেখেছিলেন তারা। প্রসঙ্গত, চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী অভিনীত 'টান' নামের একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ২৭ জানুয়ারি। সেটি তেমন আলোচনায় আসেনি। এছাড়া তার 'ক্যাসিনো', 'তালাশ', 'লিডার: আমিই বাংলাদেশ' সিনেমাগুলো মুক্তির অপেক্ষায়। অন্যদিকে রোশান অভিনীত 'মুখোশ' সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে। | 2 |
রেল আসবে বরিশালে-দক্ষিণের মানুষের এই আশা হোঁচট খেয়েই চলেছে। রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পের মেয়াদ আবারও বেড়েছে। এ নিয়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও বরিশালে মাঠপর্যায়ে তেমন অগ্রগতি চোখে পড়েনি। যাচাই-বাছাই, মাপজোখ, মার্কিংই ছিল প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাজ। নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা তিন বছর আগের ওই 'লাল দাগে'র ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় উন্নয়নকাজ এবং জমি কেনাবেচা অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এদিকে পদ্মা সেতু চালু হতে চললেও বরিশালে রেললাইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ থমকে যাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর পেরিয়ে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা প্রকল্প ২০১৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু পিছিয়ে এটি এখন ২০২২ সালের জুনে গিয়ে ঠেকেছে। তাতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।নগরের ৩০, ২৮, ২২, ২৩ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা পড়েছে সম্ভাব্য এই রেললাইনের আওতায়। এটি যাচাইয়ে ২০১৮ সালে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকাগুলোতে মাপজোখ, দাগ কাটা, সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন। এই ৫ ওয়ার্ডের শত শত বাড়িঘর, জমি, গাছপালা চিহ্নিত করে লাল রং দিয়ে যান সমীক্ষাসংশ্লিষ্টরা।নগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির বাড়িসংলগ্ন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আমির আলী জানান, ২০১৮ সালের আগস্টে তাঁর বাসায় লাল চিহ্ন দেওয়া হয়। পার্শ্ববর্তী মাঝিবাড়িতে চলে গণশুনানি। তাঁরা ওই সময় জমি মেপে নম্বর বসিয়ে গেছে। শুনানিকালে আশ্বাস দিয়েছে যাঁদের বাড়িঘর, গাছপালা রেললাইনের আওতায় পড়বে, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। উন্নয়নের স্বার্থে তাঁরা রাজিও হয়েছেন। কিন্তু তিন বছর পেরোলেও আর খবর নেই। যে কারণে রেললাইনের আওতায় আসায় তাঁর মতো অনেক বাসিন্দা বাসাবাড়ির উন্নয়ন করতে পারছেন না।২৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা শামিম আহমেদ বলেন, ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট তাঁর এলাকার মাঝিবাড়ি রেললাইন সমীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্তরা গণশুনানি করেন। ওই সময় রেলপথ হওয়ার জন্য বাসাবাড়িতে লাল দাগ দিয়ে যায়। রেললাইন হলে তাঁরা আশ্বাসও দেন ক্ষতিপূরণের। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও তার খবর নেই। যে কারণে ওই সব এলাকায় সব ধরনের উন্নয়ন ও জমি কেনাবেচা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এম সাইদুর রহমান জাকির জানান, তাঁর ওয়ার্ডসংলগ্ন দুর্গবাড়ির পোলের পাশ দিয়ে কয়েক একর জমি রেললাইন অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে। কয়েক বছর আগে যে জরিপ করা হয়েছিল, এর অগ্রগতি দেখছেন না। তিনি দ্রুত বরিশালে রেললাইন বাস্তবায়নের দাবি জানান।প্রস্তাবিত রেলপথে ভাঙ্গায় মূল জংশন থেকে টেকেরহাট, মাদারীপুর, গৌরনদী, বরিশাল বিমানবন্দর, বরিশাল নগর, বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী, আমতলী, পায়রা বিমানবন্দর ও পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা স্টেশনে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌহুতপুরে একটি জংশন হতে পারে। চৌহুতপুরের বাসিন্দা মরহুম খোকন চৌধুরীর ছেলে নয়ন চৌধুরী বলেন, তাঁদের পুরোনো বাড়িও রেললাইনের আওতায় পড়েছে। শুনেছেন নগরের মধ্যে এখানেই জংশন হতে পারে। কিন্তু এর কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশ এলাকাবাসী।ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল-কুয়াকাটা রেললাইন প্রতিষ্ঠা সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, পদ্মা সেতু চালুর সঙ্গে সঙ্গে রেললাইন দক্ষিণাঞ্চলে আসবে-এমনটাই প্রত্যাশা ছিল বৃহত্তর বরিশালবাসীর। এ নিয়ে তাঁরা জোরালো দাবিও তোলেন। সভা, সমাবেশ, স্মারকলিপি দেন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আগামী জুনে পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে। কিন্তু রেললাইনের খবর নেই। কেবল লাল দাগ টেনেই সমীক্ষার নামে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। রেলের সুবিধা দেশের সব অঞ্চলের মানুষ পেলেও এখনো বরিশালবাসী বঞ্চিত। এই সমীক্ষার কাজ আরও ছয় মাস পিছিয়েছে। এমনটা হলে রেলের দেখা কবে মিলবে বরিশালে? আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রেল নিয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন এই অঞ্চলের মানুষ। দ্রুত রেললাইন প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে এর জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে। | 6 |
বিভাগীয় লেখক পরিষদের ১১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ে সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আসরে আয়োজন করা হয়। লেখক পরিষদের পঞ্চগড় জেলা শাখা এই সাহিত্য আসর আয়োজন করে। পঞ্চগড়সহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত সবাইকে উত্তরীয় পরিয়ে ও ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। সাহিত্য আসরের উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ ও জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনিছুর রহমান, জেলা শিশু কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান, জেলা উদীচীর সভাপতি শফিকুল ইসলাম, জেলা পর্যটন পরিষদের সভাপতি হাসনুর রসিদ বাবু, রংপুর বিভাগীয় সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুজ্জামান সোহাগ, নাট্যদল ভূমিজের সভাপতি সরকার হায়দার প্রমুখ।বিভাগীয় লেখক পরিষদের পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাহিত্য আসরে আলোচনা শেষে উপস্থিত কবি, সাহিত্যিকেরা স্বরচিত রচনা পাঠ করেন। কবিতা আবৃত্তি ও বাউল সংগীত পরিবেশন করে পঞ্চগড় বাউল পরিষদ। সাহিত্য আসরে এবার গুণীজন সম্মাননা পান কবি শওকত আলী। | 6 |
বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের তিন দিন পর অবশেষে আলোচিত সেই টিটিই শফিকুল ইসলাম ট্রেনে নিয়মিত ডিউটি পালনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী আন্তনগর ট্রেন রূপসা এক্সপ্রেসের টিটিই হিসেবে নিজের ডিউটি শুরু করেন তিনি।রেল সূত্রে জানা যায়, টিটিই শফিকুল ইসলাম ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন থেকে ডিউটি শুরু করেন। এর আগে বেলা ১১টায় ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন প্ল্যাটফর্মে টিটিই হেডকোয়ার্টারের নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে ঈশ্বরদী স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলে তিনি ট্রেনে টিকিট চেকিংয়ের কাজ শুরু করেন।গত রোববার তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও গত দুই দিনে শফিকুল ইসলাম ট্রেনের টিকিট চেকিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন না। আজ মঙ্গলবার কাজে যোগদানের পর অনেক যাত্রী ও পরিচিতরা টিটিইকে চিনতে পেরে তাঁর সঙ্গে করমর্দন করেন।টিটিই শফিকুল ইসলাম বলেন, 'ডিউটি পালনের শুরুতেই আমি মাননীয় রেলমন্ত্রী, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম), অন্যান্য রেল কর্মকর্তাসহ সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আমার কাজে আবার ফিরতে পেরে অনেক খুশি।'টিটিই শফিকুলের বর্ণনায় সেদিনের ঘটনাউল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে বিনা টিকিটে এসি রুমে ওঠেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের তিন আত্মীয়। ঈশ্বরদীতে তাঁদের বিনা টিকিটে রেলভ্রমণের দায়ে জরিমানা করে সাময়িক বরখাস্ত হন ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।এ বিষয়ে গত শনিবার ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলামকে প্রধান এবং সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী শিপন আলী ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ড্যান্ট আবু হেনা মোস্তফা কামালকে সদস্য করা হয়। দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ডিআরএমের নির্দেশে আরও দুই দিন সময় বাড়ানো হয়েছিল।কর্মস্থলে ফিরেছেন টিটিই শফিকুল, সহকর্মীদের অভিনন্দনপরদিন রোববার দুপুরে তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের শুরুতেই পাকশীর ডিআরএম মো. শাহীদুল ইসলাম তাঁর নিজ দায়িত্ববলে ঈশ্বরদীর টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ডিআরএম ওই দিন বিকেলে বরখাস্তের আদেশ প্রদানকারী পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন। এর সাত দিনের মধ্যে ডিসিও নাসির উদ্দিনকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।এ সম্পর্কিত পড়ুন:রেলপথমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিনা টিকিটে ভ্রমণ, জরিমানা করায় টিটিই বরখাস্তটিটিই শফিকুল চাকরিতে পুনর্বহাল, নির্দোষ হলে পুরস্কৃত করবে রেলবিনা টিকিটের যাত্রীরা মন্ত্রীর আত্মীয় নয়, দাবি রেলমন্ত্রীরটিটিইর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার, পাকশির ডিসিওকে শোকজ: রেলমন্ত্রীআমার স্ত্রী আমাকে না জানিয়ে যেটা করেছেন, সেটা ঠিক করেননি'অভিযোগকারী যাত্রীরা আমার স্ত্রীর আত্মীয়: রেলমন্ত্রী | 6 |
রাজধানীর আনন্দ বাজারে চাঁদা দাবির অভিযোগবিষয়ক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তাঁরা বলেছেন, আনন্দ বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা বিএনপি-জামায়াতের সাবেক পদধারী এবং তাঁদের ছত্রচ্ছায়ায় আনন্দ বাজারে সরকারি খাসজমি বেদখল, মসজিদের টাকা আত্মসাৎ ও নানা অসামাজিক ও অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গতকাল সোমবার 'আনন্দ বাজারে চাঁদা দাবি ছাত্রলীগের, বন্ধ ৭ দোকান' শিরোনামে প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এককালীন ১০ লাখ ও প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় বাজারের ৭টি দোকান বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। চাঁদা না পেলে ব্যবসায়ীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেন ছাত্রলীগের নেতারা। গতকাল রাতে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এনায়েত এইচ মনন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হাসান ওরফে সোহাগ বলেন, একটি বিশেষ অসাধু গোষ্ঠী ও কুচক্রী মহল ছাত্রদের জন্য হল শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রমগুলো ভালোভাবে নিতে না পেরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। এরই বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখতে পাই প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত 'আনন্দ বাজারে চাঁদা দাবি ছাত্রলীগের, বন্ধ ৭ দোকান' শিরোনামের সংবাদটিতে। এ সংবাদের সব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, আনন্দ বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা বিএনপি-জামায়াতের সাবেক পদধারী এবং তাঁদের ছত্রচ্ছায়ায় আনন্দ বাজারে সরকারি খাসজমি বেদখল, মসজিদের টাকা আত্মসাৎ ও নানা অসামাজিক-অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সংবাদে বর্ণিত পরিস্থিতি অভিযোগকারীদের অন্তর্কোন্দলের ফলাফল। এর সঙ্গে অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের চরিত্রহননের লক্ষ্যে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের নাম যুক্ত করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগ বিশ্বাস করে, কোনো অপশক্তি তাদের 'দাবায়ে রাখতে পারবে না'। মিথ্যা সংবাদের বিরুদ্ধে হল শাখা ছাত্রলীগ তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানাচ্ছে। 'আনন্দ বাজারে চাঁদা দাবি ছাত্রলীগের, বন্ধ ৭ দোকান' শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি যথাযথভাবেই লেখা হয়েছে। এতে কোনো অসত্যের আশ্রয় নেওয়া হয়নি। আনন্দ বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক যাচাইয়ে যা উঠে এসেছে, তা-ই সংবাদে তুলে ধরা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ব্যবসায়ীদের কেউ স্বনামে বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে সংবাদে তাঁদের কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। উল্লিখিত সংবাদে অভিযুক্ত অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এনায়েত এইচ মনন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হাসানের বক্তব্যও যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে প্রতিবেদকের কোনো 'ষড়যন্ত্র', 'উদ্দেশ্য' বা 'চরিত্রহননের লক্ষ্য' ছিল না। | 9 |
দুর্নীতির মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ওই আদালতে তিনি জামিন চাইলে সেটিও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রুলসহ এ আদেশ দেন। রুলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় সাক্কুকে বিশেষ আদালতের অব্যাহতির আদেশ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দুদক ও সাক্কুসহ সংশ্নিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে দুদকের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশিদ আলম খান। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি সাক্কুর বিরুদ্ধে ঢাকার রমনা থানায় মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ। এ মামলায় গত বছরের ১৮ এপ্রিল অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে সাক্কুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত। ওই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন সাক্কু। এরপর গত ২২ নভেম্বর দুর্নীতির এই মামলা থেকে সাক্কুকে অব্যাহতি দেন ঢাকার ৮ নম্বর বিশেষ জজ আদালত। বিচারিক আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। বৃহস্পতিবার ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারিসহ সাক্কুকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। | 6 |
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের মধ্যলুন্দি গ্রামের মসজিদের ইমামের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ৬ দিন পরে ওই এলাকার আরো ৩ কিশোরের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ইমামের সংস্পর্শে আসা মোট ৯ জনের করোনা শনাক্ত হলো। সোমবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এনিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২ জনে। রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল বলেন, "রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের ২৫নং মধ্যলুন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জামে মসজিদে ইমাম করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তার সংস্পর্শে আসা আরো তিন কিশোরের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এদের বয়স ১৪, ১৬, ১৭ বছর। এর মধ্যে একজন প্রতিবন্ধি রয়েছেন। যার চিকিৎসা তার বাড়িতে বসেই দেয়া হবে। বাকি দুইজনকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে শনিবার ইমাম এর সংস্পর্শে আসা আরো ৬ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। ওই ৬ জন রাজৈর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইমামের সংস্পর্শে আসা মোট ৯ জনের করোনা শনাক্ত হলো।" মাদারীপুর সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ মীর রিয়াজ আহমেদ জানান, মাদারীপুর জেলায় এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫২ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১০, শিবচর উপজেলা ২৪, রাজৈর উপজেলা ১৭ ও কালকিনি উপজেলায় ১ জন। পর্যায়ক্রমে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৯ জন, চিকিৎসাধীন ২১ জন এবং ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। | 6 |
দুই যুগ আগে বহুল আলোচিত চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার পলাতক ও অভিযোগপত্রের একনম্বর আসামি আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে দশটার দিকে রাজধানীর গুলশানের পিংক সিটি সংলগ্ন ১০৭ রোডের ২৫/বি 'ফিরোজা গার্ডেন' থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার একটি দল। এসময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার হয় বলে জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এর আগে রাত দশটার দিকে গুলশানের ওই বাড়িটি র্যাব সদস্যরা র্যাব সদস্যরা ঘিরে রাখেন। নায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় গত ২০ মার্চ ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আব্দুল আজিজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-২। পরোয়ানাভুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন- ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম ও সেলিম খান। প্রসঙ্গত, বনানীর ১৭ নম্বর রোডের আবেদীন টাওয়ারে ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান সোহেল চৌধুরী। ওই ঘটনায় সোহেল চৌধুরীর ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী এ মামলায় ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে আছে আসামি আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীর নাম। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ দেন। দুই বছর পর মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওই সময় এক আসামি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট বিভাগের তৎকালীন বিচারপতি এমএ মতিন ও সৈয়দ রিফাত আহমদের বেঞ্চ ২০০৩ সালের ১৯ নভেম্বর ওই রিট আবেদনে প্রথমে তিন মাসের জন্য নিম্ন আদালতে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। এরপর ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রিটের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলাটির নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর গত ২০ মার্চ ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জাকির হোসেন ওই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২০ মার্চ দিন ধার্য করেন। ওই দিন শুনানি শেষে আদালত তিনজনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 6 |
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামে দিনমজুর ফজলু মিয়ার মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে আছমা আক্তার (৩৩) ও ছেলে জাহাঙ্গীরকে (২৬) তিন বছর ধরে লোহার শিকলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বয়সের ভারে ফজলু মিয়া এখন মজুরির কাজও করতে পারছেন না। অর্থের অভাবে ছেলে-মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের চিকিৎসা এবং খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য প্রশাসনিকভাবে সাহায্য করা হোক। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, ভাই-বোনের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য কোনোভাবে আর সহায়তা করা যায় কী না দেখা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আছমা ঢাকায় এক পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। মা-বাবাকে টাকা পাঠানোর পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যতের জন্য কিছু টাকা জমাও রাখতেন একজনের কাছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরে বেশকিছু টাকা জমা হয়। হঠাৎ করেই জমানো সেই টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় লোকটি। এরপর আছমা চাকরি ছেড়ে দেন এবং একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর শ্রমিকের কাজ ও ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। একদিন বড় বোন আছমা আক্তার মা ফজিলা বেগমকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন ও তাঁকে মারপিট করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর আছমা আক্তারকে মারপিট করেন। এ ঘটনার পর থেকে জাহাঙ্গীরও ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বয়সের ভারে মা ফজিলা খাতুন ঠিকমতো চোখে দেখেন না। দিনমজুর বাবা ফজলু মিয়ার পক্ষে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। এদিকে ছেলে-মেয়ের পাগলামি বেড়ে গেলে এবং হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে তাঁদের শিকলে বেঁধে রাখেন। এভাবেই চলছে তাঁদের দিন। ফজলু মিয়ার চার মেয়ে ও এক ছেলে। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এখন বয়সের ভারে মজুরির কাজও করতে পারছেন না।সম্প্রতি ফজলু মিয়ার বাড়ি গেলে দেখা যায়, ভাঙা ঘরে একটি চৌকি ছাড়া আর কোনো আসবাব নেই। বাড়িতে ঢুকতেই দেখা গেল গাছের সঙ্গে জাহাঙ্গীরকে এবং আছমাকে সিমেন্টের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। মানুষ দেখলেই তাঁরা শিকল দেখিয়ে খুলে দেওয়ার জন্য ইশারা করেন।উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মইনুর রহমান মনির বলেন, 'গনেরগাঁও গ্রামের দিনমজুর ফজলু মিয়ার প্রতিবন্ধী মেয়ে আছমা আক্তার ও ছেলে জাহাঙ্গীরকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনোভাবে সরকারি সহযোগিতা করা যায় কী না এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে পরামর্শ করব।' | 6 |
গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের 'জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার' সমাবেশে যোগ দিয়েছেন বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের নেতারা। পূর্বনির্বারিত সময় বেলা তিনটায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চের সমাবেশে যোগ দেন তাঁরা। বেলা তিনটার কিছু আগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন নাট্যমঞ্চের সমাবেশস্থলে আসেন। তার আগেই গণফোরামের নেতা-কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। এর পরপরই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগান দিয়ে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা 'জাতীয় ঐক্য জিন্দাবাদ' বলেও স্লোগান দেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি মিছিল সেখানে আসে। বেলা সোয়া তিনটার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সমাবেশ উপস্থিত হন দলটির স্থায়ী কমিটির আরও তিন সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ ও আবদুল মইন খান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন ড. কামাল হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি আছেন বিকল্পধারার সভাপতি ও যুক্তফ্রন্টের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর। ইতিমধ্যে সেখানে যুক্তফ্রন্টের শরিক দুই দল জাসদের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায় মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী এসেছেন। বিএনপির পক্ষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ডা. জাফরুল্লাহও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মঈনুল হোসেন সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। বেলা সাড়ে তিনটায় সমাবেশ শুরু হয়। এতে সূচনা বক্তব্য দেন ড. কামাল। তিনি বলেন, কার্যকর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই তাঁদের এই ঐক্য প্রক্রিয়া। | 9 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (১৪ মে)। গত বছরের এই দিনে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি ছিলেন দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক, ভাষা সংগ্রামী, মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী, সংবিধানের অনুবাদক ও দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রবর্তী মানুষ। আনিসুজ্জামান স্যার ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এ টি এম মোয়াজ্জেম ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক। ১৯৫৬ ও ১৯৫৭ সালে স্নাতক সম্মান এবং এমএ-তে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন আনিসুজ্জামান। অনার্সে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার কৃতিত্বস্বরূপ 'নীলকান্ত সরকার স্বর্ণপদক' বৃত্তি লাভ করেন তিনি। তিনি ১৯৬৫ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ভাষা আন্দোলন, রবীন্দ্র উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলন, রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এছাড়া শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত গণআদালতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। আনিসুজ্জামান স্যারের উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে 'স্মৃতিপটে সিরাজুদ্দীন হোসেন', 'শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্মারকগ্রন্থ', 'নারীর কথা', 'মধুদা, ফতোয়া', 'ওগুস্তে ওসাঁর বাংলা-ফারসি শব্দসংগ্রহ' ও আইন-শব্দকোষ অন্যতম। আনিসুজ্জামান শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য একাধিক পুরস্কার লাভ করেছেন। প্রবন্ধ গবেষণায় অবদানের জন্য ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য তাকে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে ভারত সরকার তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'পদ্মভূষণ' পদক প্রদান করেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া তিনি ১৯৯৩ ও ২০১৭ সালে দু'বার আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃক প্রদত্ত আনন্দ পুরস্কার, ২০০৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট. ডিগ্রি এবং ২০১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদক লাভ করেন। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে 'জাতীয় অধ্যাপক' হিসেবে নিয়োগ দেন। | 6 |
বছর শুরু না হতেই রেকর্ড গড়েছে কানাডার তাপমাত্রা। দেশটিতে ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার কুইবেকের লা গ্রান্ডেতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মাইনাস ৪৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুধুই কুইবেকেই নয়, আলবার্টা, অন্টারিওসহ চার প্রদেশেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। তাপমাত্রার কারণে জনজীবনেও তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দেশটির বিমানবন্দরের বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি ফ্লাইট চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বিত হয়েছে। শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিডি প্রতিদিন/২ জানুয়ারি, ২০১৮/ফারজানা | 3 |
বাংলাদেশের দর্শকরা বরাবরই বাংলাদেশ বনান ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট খেলা উপভোগ করেন। অন্য যে কোন দলের চেয়ে ভারতের সাথে খেলা হলো আলোচনাও হয় বেশি। কিন্তু ভারতের দিক থেকে বাংলাদেশের সাথে খেলার ব্যাপারের অধিকাংশ সময়ই অনীহা দেখা হয়। এই কারণেই ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সিরিজও হয় না। এসব নিয়ে সমালোচনা হলে ভারতীয় ক্রিকেটারাও বিষয়টাকে হাল্কাভাবে নেন, তাদের মনোভাব এমন থাকে যেন বাংলাদেশের সাথে খেলা না হলেই ভালো। কিন্তু বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশকে নিয়ে পজেটিভ মন্তব্য করেছেন টিম ইন্ডিয়ার সাবেক সহ-অধিনায়ক বীরেন্দর শেবাগ। দুই মাস পর ইংল্যান্ডে শুরু হবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই। কার হাতে উঠবে আরাধ্য শিরোপা-জানা যাবে ১৪ জুলাই লর্ডসের ফাইনাল শেষে। তবে কোন দল কেমন, সেটি এখনই বলা যায়। এবার অংশ নেওয়া ১০ দল নিয়ে যেমন বললেন বীরেন্দর শেবাগ। ফেসবুকে নিজেদের পেজে একটা ভিডিও প্রকাশ করেছে আইসিসি। সেখানে শেবাগ এক বাক্যে বলছেন প্রতিটি দল নিয়ে। অস্ট্রেলিয়া দলটা কেমন? বিরুর জবাব-'ভয়ংকর!' তবে সবচেয়ে সেরা বিশেষণ তিনি বাংলাদেশের পাশেই ব্যবহার করেছেন। বাংলাদেশ দলকে তুলনা করেছেন বাঘের সঙ্গে। ব্রাজিল ফুটবল দল যেমন 'সেলেসাও', স্পেন 'লা রোজা'; ক্রিকেটে বাংলাদেশ পরিচিত 'দ্য টাইগার্স' নামে। নিজেদের দিনে বাংলাদেশ কতটা ভয়ংকর হতে পারে শেবাগ সেটি ভালো করেই জানেন। পোর্ট অব স্পেনে ২০০৭ বিশ্বকাপে সেই হারটা ভারতীয় ওপেনারের স্মৃতিতে ভালো করেই থাকার কথা। বাংলাদেশকে নিয়ে শেবাগের মূল্যায়ন, 'তারা বাঘের মতো, নিজেদের দিনে ভালো শিকার করতে পারে।' মজাটা হচ্ছে, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের আগে শেবাগ বলেছিলেন, 'এই দলটা খুবই অর্ডিনারি।' তাঁর এ মন্তব্যে নিয়ে কম আলোচনা-সমালোচনা হয়নি তখন! সময়ের সঙ্গে ধারণা পাল্টেছে, এখন বাঘের তকমা ব্যবহার করছেন শেবাগ। বাংলাদেশ তো আছেই। বাকি ৯ দল নিয়ে বিরু কী বলেছেন, একবারে দেখে নেয়া যেতে পারে- অস্ট্রেলিয়া: ভয়ংকরবাংলাদেশ: বাঘের মতো, নিজেদের দিনে ভালো শিকার করতে পারে।পাকিস্তান: অননুমেয়ইংল্যান্ড: বিশ্বকাপ জেতার ভালো সম্ভাবনা আছে তাদেরনিউজিল্যান্ড: আন্ডারডগশ্রীলঙ্কা: ভালোবাসা যায়দক্ষিণ আফ্রিকা: আশা করি ভালো করবেআফগানিস্তান: নিজেদের সেরা দিনে যেকোনো দলকেই হারাতে পারেওয়েস্ট ইন্ডিজ: খুবই ভয়ংকর দলভারত: যদি ভালো খেলে যেকোনো দলকেই হারাতে পারে | 12 |
এই বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে আগস্ট মাসে। আগস্টের ২৮ দিনে ৬ হাজার ৯১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত এই বছরের সর্বোচ্চ শনাক্ত। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪১ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এর মধ্যে ২৯ জনই মারা গেছেন আগস্টে। শনিবার (২৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য থেকে এসব জানা যায়। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ২৬৫ জন। এদের মধ্যে ২১৪ জনই ঢাকার আর ঢাকার বাইরে ৫১ জন। সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ১১১ জন রোগী ভর্তি আছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই আছে ৯৬৭ জন, আর বাকি ১৪৪ জন ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগে। এই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৯ হাজার ৫৬৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ছাড়া পেয়েছেন ৮ হাজার ৪১৫ জন। | 6 |
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শুরুর দিকে আর্জেন্টিনা কিছুটা অগোছালো ছিল। কিন্তু সময় গড়িয়ে ম্যাচটি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। আনহেল দি মারিয়ার একমাত্র গোলে বহু কষ্টে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে এ জয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের স্থান নিশ্চিতের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। খবর রয়টার্স ও হিন্দুস্তান টাইমসের। শনিবার (১৩ নভেম্বর) ভোরে উরুগুয়ের মাঠ মন্তেভিদিও থেকে জয় ছিনিয়ে আনেন লিওনেল মেসিরা। যদিও এদিন ম্যাচ শুরুর একাদশে মাঠে নামেননি দলের সেরা তারকা মেসি। আহত হওয়ার কারণে পিএসজি স্ট্রাইকার ম্যাচের ১৫ মিনিট বাকি থাকতে বদলি হয়ে মাঠে নামে। এদিন ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই গোল পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ডান দিক থেকে পাওলো দিবালার পাস পেয়ে ডি-বক্সে ধরে গোলে শট নেন পিএসজি মিডফিল্ডার দি মারিয়া। বল উরুগুয়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে পোস্ট ঘেঁষে ঠিকানা খুঁজে নেয়। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ হলেও দু'দলের আর কেউ গোলের দেখা পায়নি। খেলার ৩২তম মিনিটে গোল বঞ্চিত হয় উরুগুয়ে। লুইস সুয়ারেসের শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও পোস্টে লেগে ফেরে। ফিরতি বল ফাঁকায় পেয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ স্ট্রাইকার নেন লক্ষ্যভ্রষ্ট শট। আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও ম্যাচে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে উরুগুয়ে। ফলে বিরতির পরও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে দলটি। পঞ্চম মিনিটে আবারও আর্জেন্টিনার সীমানায় উরুগুয়ের হানা। এ যাত্রায় ডি-বক্সে ঢুকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন হোয়াকিন পিকেরেস। আর ৮৪তম মিনিটে আলভারেস মার্তিনেসের হেড ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে গেলে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। তবে শেষ পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি উরুগুয়ে। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার এটি অষ্টম জয়। সঙ্গে চার ড্রয়ে ১২ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। ব্রাজিল ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। মেসিদের চেয়ে ৮ পয়েন্ট কম নিয়ে তিন নম্বরে আছে ১৩ ম্যাচ খেলা একুয়েডর। সমান ম্যাচ খেলে যথাক্রমে পরের তিনটি স্থানে আছে চিলি, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে। তাদের সবার পয়েন্ট ১৬। এ অঞ্চল থেকে শীর্ষ চারটি দল কাতার বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকেট পাবে। পঞ্চম স্থানে থাকা দলকে খেলতে হবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ। আর্জেন্টিনা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ২৬ ম্যাচে অপরাজিত আছে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তাদের আর হারের তিক্ত স্বাদ নিতে হয়নি। বাছাই পর্বের পরের রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার ভোরে দেশের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে মেসিরা। এরই মধ্যে কাতার বিশ্বকাপের মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। | 12 |
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে আম্বরখানার দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়।বাসদ সিলেট মহানগর শাখার সমন্বয়ক আবু জাফরের সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্য প্রণব জ্যোতি পালের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মনজুর আহমদ, শফিকুল ইসলাম কাজল, হারুন মিয়া, ইয়াছিন আহমদ, পিন্টু জাদব, সুরুজ আলী, মানিক মিয়া প্রমুখ।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিংয়ে চরম ব্যর্থ ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রী। সরকার দেশের গোটা বাজার ব্যবস্থাকে নৈরাজ্যের মাঝে ঠেলে দিয়ে বাজার ব্যবস্থাকে সিন্ডিকেট-মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়েছে।বক্তারা অবিলম্বে চাল-ডাল-তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। | 6 |
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিলের শুনানি আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। কায়সার কামাল বলেন, এ মামলায় খালেদা জিয়ার রিভিউ শুনানি সোমবার, এজন্য আমরা সময়ের আবেদন করি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। সেদিন থেকেই তিনি পুরান ঢাকার কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় খালাস চেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। আরো পড়ুন : খালেদা জিয়ার রিভিউ আবেদনের শুনানি ৯ জুলাইজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালাস চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন চেম্বার আদালত। গত বৃস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই আদেশ দেন। আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। এর আগে গত ২৭ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হয়। গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া তার সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যে আপিল দায়ের করেছিলেন তা ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়। | 6 |
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, খুনি চক্র বঙ্গবন্ধুর ছায়াকেও ভয় পেত বলেই জাতির পিতার পরিবার-পরিজনকে হত্যা করেছে। সেই খুনিদের পৃষ্ঠপোষকেরাও বঙ্গবন্ধুর ছায়াকে ভয় পায়। তাই তারা বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে, অস্বীকার করার অপচেষ্টা চালায়। তথ্যমন্ত্রী রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবন মিলনায়তনে 'সংকটে সংগ্রামে নির্ভীক সহযাত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব-এর ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন' শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের তিন সংস্থা চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে জাতির সামনে প্রশ্ন রাখেন, 'তারা কেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে হত্যা করল, তারা কেন ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলকেও হত্যা করল?' তিনি বলেন, আসলে খুনিচক্র বঙ্গবন্ধুর ছায়াকেও ভয় পেত বলে তারা বঙ্গমাতা থেকে ছোট্ট শেখ রাসেলকেও হত্যা করেছে। আর সেই খুনি চক্রের দোসররা এখনো বাংলাদেশে আস্ফালন করে। কিন্তু ক্রমাগতভাবে যারা বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করেছে, খলনায়ককে নায়ক বানানোর অপচেষ্টা চালিয়ে এসেছে, আস্তে আস্তে তারাই ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাচ্ছে, মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আজীবন বঙ্গবন্ধুর ছায়ার মতো সঙ্গী ছিলেন, মরণেও তিনি সঙ্গী হয়েছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে করোনার টিকা নিয়ে বিএনপির বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার কোটি কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করায় বিএনপি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, 'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীই ছিলেন না, নিকটতম প্রাজ্ঞ সহকর্মী ও সবচেয়ে বড় প্রেরণাদাত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে বলেই আজ আমরা বঙ্গমাতার জন্মদিন পালন করতে পারছি, আগে তা সম্ভব হয়নি।' অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্যসচিব মকবুল হোসেন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স ম গোলাম কিবরিয়া এবং চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে 'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবন ও কর্ম'ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। | 9 |
বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ৫০ শয্যা করা হয়েছে। কিন্তু জনবলের অভাবে চালু হয়নি বাড়তি শয্যার সেবা কার্যক্রম।২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাজ শেষে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।নতুন ভবন হস্তান্তরের প্রায় তিন বছর পার হয়ে গেলেও বাড়তি জনবল নিয়োগের অনুমোদন মেলেনি। শুরু হয়নি ৫০ শয্যার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।এদিকে, ৩১ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রয়েছে চিকিৎসক ও জনবল সংকট। ১৮৯ পদের ৫৯টিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। আটজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ছয়জন। প্রতিদিন হাসপাতালে আসা পাঁচ শতাধিক রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবাসহ দাপ্তরিক কার্যক্রম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুটিই বিকল।সম্প্রতি চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগম, আলখাছ আলীসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার কম থাকায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অনেকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, জনসাধারণের কথা চিন্তা করে হাসপাতালে যেন আরও ডাক্তার বাড়ানো হয়। তাতে আমাদের কষ্ট কমবে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কমপ্লেক্সে প্রথম শ্রেণির ছয়জন কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও), একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, একজন মেডিকেল অফিসার, একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যানেসথেসিয়া, একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন এবং একজন মেডিকেল অফিসার (হোমিওপ্যাথি) রয়েছেন।এ ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স (মিড ওয়াইফ) ১২ জন, স্টোর কিপার একজন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে পরিসংখ্যানবিদ একজন, অফিস সহকারী একজন, স্যাকমো দুজন, ফার্মাসিস্ট একজন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) একজন, সহকারী নার্স একজন), স্বাস্থ্য পরিদর্শক একজন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক দুজন, সিএইচসিপি ছয়জন, স্বাস্থ্য সহকারী আটজন এবং টিএলসিএ একজনের পদ শূন্য রয়েছে।এ ছাড়া চতুর্থ শ্রেণির পদের মধ্যে নিরাপত্তা প্রহরী একজন, অফিস সহায়ক তিনজন এবং জুনিয়র মেকানিকের একটি পদে দীর্ঘদিন ধরে কেউ নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৫টি পদের মধ্য ১৩টিই শূন্য রয়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আব্দুর রহমান মুসা বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল অফিসারের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগীকে সেবা দিতে হয়। অনেক সময় আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে ২৪ ঘণ্টাই হাসপাতালে থেকে রোগী দেখতে হয়। বহির্বিভাগে ভিড় বাড়লে তিনি নিজেই রোগী দেখেন। ৫০ শয্যা হাসপাতালের ভবন হস্তান্তর হলেও জনবল নিয়োগের অনুমোদন হয়নি। ফলে এখনো ৩১ শয্যারই কার্যক্রম চলছে। জনবল নিয়োগের পর ৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু হলে রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। | 6 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ট্রাকচাপা দিয়ে মো: রাসেল মিয়া নামের এক মাদরাসাছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে নিহত হওয়া ওই ছাত্রের পরিবার উপজেলার টেকপাড়া গ্রামের মো: কাপ্তান মিয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ট্রাকের নিচে চাপা দিয়ে রাসেল মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রাসেল মিয়া উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের টেকপাড়ার মো: আওয়াল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় হরিপুর আলিয়া মাদরাসার প্রথম শ্রেণীতে পড়ত। রাসেল মিয়ার পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে টেকপাড়া গ্রামের মাটির রাস্তা দিয়ে ৪০টি ট্রাক দিয়ে ইটভাটার জন্য মাটি আনা-নেয়া হচ্ছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গতকাল রোববার রাস্তা নষ্ট করে মাটি আনতে বাধা দেন নিহতের বাবা মো: আওয়াল মিয়া, কিন্তু ট্রাকের মালিক ও ইটভাটার অংশীদার মো: কাপ্তান মিয়া তার প্রতিবাদের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। পরে এরই পরিপ্রেক্ষিতে কাপ্তান মিয়া রাসেলের পরিবারসহ স্থানীয়দের হুমকি দেন। এ সময় কাপ্তান মিয়া স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ঘোষণা দেন যে, ট্রাকের সামনে যা পড়বে সব মাটির সাথে পিষে ফেলা হবে। এমন ঘোষণার ঠিক একদিন পর সোমবার দুপুরে ইটভাটায় মাটি নেয়ার সময় নিহত রাসেল মিয়া ট্রাকের সামনে এসে ট্রাকটি ধীরে চালাতে বলে, তখনই চালক তাকে ট্রাকের নিচে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় রাসেল। পরে নাসিরনগর থানার পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে হত্যার এ অভিযোগ অস্বীকার করেন মো: কাপ্তান। তার দাবি, ট্রাকের ড্রাইভার ছেলেটিকে হত্যা করেছেন। এ বিষয়ে তার কোন হাত নেই। হুমকির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি কাউকে হুমকিও দেইনি। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে একজনের নিহত হওয়ার খবর শুনেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। | 6 |
টানা ছয় মাস দেশের বাজারে মাসভিত্তিক তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে আসছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু বেঁধে দেওয়া দামে কখনোই এলপিজি কিনতে পারছেন না ভোক্তারা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে অন্তত ১০০-২০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে তাঁদের।চলতি মাসের জন্য ১২ কেজির এলপি গ্যাসের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য ১ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। গত ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। ওই সময় বলা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হবে। এপ্রিলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ১২ কেজির সিলিন্ডারের এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় ৯৭৫ টাকা। মে মাসে যা ছিল ৯০৬ টাকা, জুনে ৮৪২ টাকা, জুলাইয়ে ৮৯১ টাকা আর আগস্টে ৯৯৩ টাকা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বাইরে গতকাল বুধবার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ১১০০-১১৫০ টাকায়। ঢাকার কিছু এলাকায় তা ১২০০ টাকা পেরিয়ে গেছে।বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরাও। এ বিষয়ে ওমেরা এলপিজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল হক আহমেদ বলেছেন, বিইআরসির মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সাতটি দুর্বলতা রয়েছে। এ কারণেই বেঁধে দেওয়া দামে পণ্য বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, মূল্য নির্ধারণের সময় বোতলজাতকরণ খরচ কমিয়ে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশক পর্যায়ে ৫০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৮০ টাকা মুনাফা দেওয়া যৌক্তিক। কিন্তুবিইআরসি এ দুই পর্যায়ে যথাক্রমে ২৪ ও ৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এসব কারণে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ১২ কেজির এলপিজির জন্য বিইআরসির বেঁধে দেওয়া দামের সঙ্গে অন্তত ২০০ টাকার ফারাক রয়েছে ব্যবসায়ীদের হিসাবের।এসব বিষয় তুলে ধরে এলপিজি বাজারজাতকারী ১৮টি প্রতিষ্ঠান মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ সেপ্টেম্বর গণশুনানির আয়োজন করছে বিইআরসি।তবে ব্যবসায়ীদের দাবিকে আইনগতভাবে শুদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভোক্তা অধিকার বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, 'ব্যবসায়ীরা কোনো প্রকার দালিলিক প্রমাণ দাখিল না করে নানা পর্যায়ে খরচের কথা বললে তা আইনগতভাবে বৈধ হতে পারে না। বিইআরসি দাম বেঁধে দেওয়ার পরও তা না মেনে ভোক্তাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিয়ে এলপিজি ব্যবসায়ীরা অপরাধ করছেন। তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে।'বিইআরসি নিয়মিত দাম নির্ধারণ করে এলেও, বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে না পারার কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল জানান, দেশে ব্যবসা করতে হলে বিইআরসির আইন মানতে হবেই। কে বা কারা কমিশনের বেঁধে দেওয়া দাম মানছে না, তা সুনির্দিষ্ট করতে একটি কমিটি কাজ করছে। ৩১ আগস্টের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও, করোনার কারণে পারেনি। শিগগিরই তারা প্রতিবেদন দেবে। তিনি বলেন, 'ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কমিশনের আইন না মানার দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।'আব্দুল জলিল আরও বলেন, সারা দেশে এলপিজি বিক্রির সঙ্গে জড়িত পাইকারি এবং খুচরা বিক্রেতাদের কেউই বিইআরসি থেকে ব্যবসা করার অনুমোদন নেননি। এ জন্য এলপিজি অপারেটরদের কাছে তাদের তালিকাভুক্ত পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের তালিকাও তলব করেছে কমিশন। | 0 |
করোনার ধকল কাটিয়ে দীর্ঘ ২১ মাস পর মাঠের গ্যালারিতে বসে খেলার দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। তাই আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টিকিটের জন্য মিরপুরে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে আগামীকাল ১৯শে নভেম্বর প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ সকাল ৯টায় শুরু হয় টিকিট বিক্রির কার্যক্রম। টিকিট থাকা সাপেক্ষে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে টিকিট বুথ। তবে সকাল ৬টা থেকে টিকিট বুথের সামনে ভিড় করেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। এই সিরিজের জন্য ধারণ ক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট দেওয়া হবে না। করোনাভাইরাসের ডাবল ডোজ টিকা নিয়েছেন কেবল তারাই খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। সমর্থকদের দাবি, ১টির বেশি টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। তারা প্রত্যাশা করেছিলেন, একজন অন্তত ২টি টিকিট কিনতে পারবেন। টিকিট বুথ ১টি হওয়ায় টিকিট প্রত্যাশীদের লাইন ক্রমেই বড় হচ্ছে। সিরিজের টিকিটের দামও নির্ধারণ করে দিয়েছে বিসিবি। টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ধরা হয়েছে ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল্য এক হাজার টাকা। দর্শকদের জন্য ইস্টার্ন স্ট্যান্ড ১০০ টাকা, সাউদার্ন ও নর্দার্ন স্ট্যান্ড ১৫০ টাকা, ক্লাব হাউজ ৩০০ টাকা, ভিআইপি স্ট্যান্ড ৫০০ টাকা ও গ্র্যান্ড হাউজের মূল্য এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে ১৯, ২০ ও ২২ নভেম্বর। সবকটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করে আগামী ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রামের রওনা করবে তারা। সেখানে প্রথম টেস্ট শেষে ঢাকায় ফিরে দ্বিতীয় টেস্ট খেলবে পাকিস্তান দল। | 12 |
ঘর সাজাতে আমরা সবাই কমবেশি ভালোবাসি। কিন্তু পরিবারের মাসের খোরাক জুগিয়ে, ডাক্তার-বদ্যির ফি আর পানি-বিদ্যুতের বিল মিটিয়ে ঘর সাজানোর নিত্যনতুন অনুষঙ্গ কেনা আসলেই খুব দুরূহ হয়ে পড়ে। অথচ একটু বুদ্ধি খরচ করলে আর কিছুটা সৃজনশীলতার পরিচয় দিলে যৎসামান্য খরচেই নিজেদের বাড়িঘর নান্দনিক রূপে সাজিয়ে নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই বলতে হয় নিজেদের সুপ্ত সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর কথা। পুরো বিশ্বেই এই নিজেরা করি, 'ডু ইট ইয়োরসেলফ' বা সংক্ষেপে 'ডিআইওয়াই'-এর ধারণা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর গৃহসজ্জার ক্ষেত্রে। অবসর সময়ে আমরা অনেকেই শুধু মুঠোফোন, টেলিভিশন, নেটফ্লিক্স, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইত্যাদির মধ্যে ডুবে থেকে অলস সময় পার করি। অথচ শখের কাজ যেগুলো আগে ঘরে ঘরে প্রচলিত ছিল, সেগুলো নিঃসন্দেহে এর থেকে অনেক ভালো আর ঘর সাজানোর অনন্য সব উপকরণ হাজির করে দিতে পারে প্রায় বিনা পয়সায়। শখের সূচিকর্ম বা কুরুশ কাঁটার কাজের কথাই ধরা যাক না! খুঁজলে আজও আমাদের অনেকের বাড়িতে আলমারির কোণে বা পুরোনো ট্রাংকে মাতামহীর হাতে পরম যত্নে সেলাই করা ভরাট কাজের ফুল, লতা, পাতা, পাখি বা 'মায়ের দোয়া' লেখা এক টুকরো ভাঁজ করা কাপড় পাওয়া যাবে। অমূল্য স্মৃতিবিজড়িত এই শিল্পকর্মগুলো ফ্রেমিং করে নিলে একেবারে অসাধারণ সব ওয়ালপিস পেতে পারি আমরা। এই সূচিশিল্পগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আর সেই সঙ্গে ইন্টারনেটে পাওয়া হাজারো নমুনা দেখে নিজের কল্পনার মিশেলে এমন সূচিকর্ম, ক্রস স্টিচের কাজ, কুরুশ কাঁটার কাজ করে বাঁধিয়ে নিয়ে তা দিয়ে ঘরের সৌন্দর্য অসামান্য রকমের বাড়িয়ে তোলা যায়। আগের দিনের মতো টি-কোজি, ন্যাপকিন, বালিশ বা কুশনকভার, টেবিলক্লথ ইত্যাদিতেও নিজের হাতের কাজের ছোঁয়া অত্যন্ত সুরুচির পরিচয় দেয়। আবার সৃষ্টিশীল মনকে কাজে লাগালে রংবেরঙের কাগজ দিয়ে 'কুইলিং' করা যায়, ধান-ডাল-শর্ষে আঠা দিয়ে বসিয়ে চিত্র তৈরি করা যায়। নিজে আঁকিবুঁকি করা শখের হাঁড়ি, রিকশা পেইন্টিংয়ের আদলে রাঙিয়ে নেওয়া বাক্স, রঙিন মোম বা পুঁতি দিয়ে বানানো শোপিস, কাপড়ের পুতুল-এসবই ঘর সাজানোর অসাধারণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠতে পারে। আর ছবি আঁকার শখ থাকলে তো কথাই নেই। তেলরং, জলরং বা মিশ্র মাধ্যমে করা নিজের হাতের চিত্রকর্ম, ক্যালিগ্রাফি বা ভাস্কর্য দিয়ে সাজানো বসার ঘরটি ঘরে-বাইরের সবার মুগ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আর এতে যে আত্মিক প্রশান্তি বা সন্তুষ্টি পাওয়া যায়, তা লাখ টাকা দিয়ে কেনা দামি দামি শোপিসে কখনোই মিলবে না। এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে ঘর সাজানোর ব্যাপারটিতে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাদের মতামত ও রুচিকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের নিজেদের বানানো অরিগ্যামি (কাগজ ভাঁজ করে বানানো শিল্প), এঁটেল মাটি বা প্লে ডো দিয়ে বানানো নানা রকম শিশুসুলভ জিনিস, লেগো ব্লক দিয়ে গড়া গাড়ি-বাড়ি, এসব দিয়ে তাদের নিজেদের ঘরটি সাজিয়ে-গুছিয়ে নিতে সাহায্য করলে অল্প বয়সেই তাদের মধ্যে গৃহসজ্জার ব্যাপারে সুরুচি আর আগ্রহ তৈরি হবে। এমন কোনো পরিবার নেই, যেখানে শিশুরা কমবেশি আঁকাজোঁকা করে না। দেখতে যতই কাঁচা হাতের আর শিশুসুলভ হোক, তাদের রঙের ব্যবহার আর সৃষ্টিশীলতা কিন্তু বড়দের থেকে বিস্ময়কর রকমের বেশি। চোখ আর মনজুড়ানো এসব মোমরং বা জলরঙে আঁকা ছবি ফ্রেমবন্দী করে ঘরের দেয়ালে পরিকল্পনামাফিক সাজালে ঘরটি অন্য আলোয় ভরে উঠবে। বাড়িতে ফিরে সারা দিনের ক্লান্ত-বিধ্বস্ত শরীর-মন এক নিমেষেই সতেজ-সজীব হয়ে উঠবে সেদিকে চোখ পড়লেই-এ কথা হলফ করে বলা যায়। আবার শিশুটি বড় হয়ে উচ্চশিক্ষার্থে বাড়ির বাইরে গেলে সেই দেয়ালজোড়া প্লেন, গাড়ি, ফুল আর গ্রামের দৃশ্য অমূল্য স্মৃতির মতো মা-বাবাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগাবে প্রতিনিয়ত। শিশুদের ছোটবেলার রংবেরঙের খেলনাগুলোও সুন্দরভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা যায় বসার ঘরের এক কোণের তাকে। শিশুদের সঙ্গে নিয়ে করা বিভিন্ন পারিবারিক গ্রুপ প্রজেক্টের মতো শখের শিল্পকর্ম একদিকে যেমন ছুটির দিনগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভরতা কাটিয়ে বর্ণিল করে তোলে, সেই সঙ্গে ঘর সাজানোর নান্দনিক সব উপকরণও জোগায়। আমাদের নিজেদের বা মা-বাবার ঘরে একটু খোঁজাখুঁজি করলেই আপাতদৃষ্টিতে কাজে লাগবে না মনে হয় এমন অনেক জিনিস পাওয়া যাবে, যা দিয়ে ঘর সাজালে একদম ব্যতিক্রমী একটি ভাব আসবে ঘরে। পূর্বপুরুষদের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, যেমন পুরোনো আমলের গ্র্যান্ড ফাদার ক্লক, হুঁকা, পিতামহের ব্যবহার করা ছড়ি, চেয়ার, কলমদানি, রেডিও, নানি-দাদির পানদানি-এগুলো একটু অন্য রকমভাবে বসার ঘরে সঠিক কম্বিনেশনে রাখলে ঘরের আবহটাই বদলে যাবে। পুরোনো পালঙ্ক, ট্রাংক, গ্রামোফোন, কারুকাজ করা বসার তেপায়া-এসবই একটু রং বা মেরামতি করে অত্যন্ত অভিজাত একটি রূপ দেওয়া যায়। আগে বিয়েবাড়িতে উপহার হিসেবে পিতলের পানপাত্র, সুরাই, ফুলদানি ইত্যাদি দেওয়ার প্রচলন ছিল। পুরোনো এসব সামগ্রীর অ্যান্টিক মূল্য আছে বলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক বা ঘরোয়া পরিষ্কারক দ্রব্য ব্যবহারে পরিষ্কার করে তা দিয়ে ঘরের কোণটি অন্য রকমভাবে সাজিয়ে নেওয়া যায়। আবার অনেক সময় পুরোনো স্মৃতিবিজড়িত বেনারসি বা জামদানি শাড়িটির জমিনের সুতো ফেঁসে গেলে তার জমকালো নয়নাভিরাম আঁচলটি কেটে নিয়ে বাঁধাই করে নিলে একেবারে নজরকাড়া ও ব্যতিক্রমী ওয়ালপিস হিসেবে তা ব্যবহার করা যায়। আমরা প্রবাসে নিজ দেশেও কোথাও বেড়াতে গেলে সেখান থেকে দামি সব স্যুভেনির বা স্মারক কেনার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ি। বিদেশে গিয়ে প্লাস্টিকের লন্ডন বাস, আইফেল টাওয়ার আর কক্সবাজারে গিয়ে চড়া দামে শামুক, কড়ি, ঝিনুক ও প্রবাল কিনে আনি ঘর সাজাতে। অথচ অনেক সময় সমুদ্রসৈকতে কুড়িয়ে পাওয়া এসব শামুক-ঝিনুক, ঝরনা বা জলপ্রপাতের পাশে পড়ে থাকা অন্য রকম কিছু রঙিন নুড়িপাথর ইত্যাদি দিয়ে খুব সুন্দরভাবে ঘর সাজানো যায়। আর এর পেছনের গল্পগুলো আমাদের মধুর সব স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় এক নিমেষেই বহু বছর পরেও। রোজকার প্রাতর্ভ্রমণ বেরোলেও কিন্তু অনেক সময়ে আপনা থেকে জন্মানো খুব শৈল্পিক অবয়বের কোনো শাখা-প্রশাখাযুক্ত শুকনো গাছের ডাল দেখতে পাওয়া যায়। শিকড় উপড়ে ফেলা একটু অন্য রকম গাছের গোড়াও মিলে যায় কখনোবা। বাড়িতে এনে ধুলো-মাটি পরিষ্কার করে ঘরে সাজিয়ে রাখলে অত্যন্ত শৈল্পিক এই প্রাকৃতিক ভাস্কর্য সবার নজর কাড়বে নিঃসন্দেহে। বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন পাতা ও ফুল সংগ্রহ করে এনে বিশেষ উপায়ে শুকিয়ে সেগুলো দিয়ে ফ্রেমবন্দী ড্রাইড ফ্লাওয়ার বা লিভস অ্যারেঞ্জমেন্ট বানানো যায়, যা এখন খুবই ফ্যাশনেবল। দেয়াল বা ঘর সাজাতে যে একেবারে প্রথাগত ও গতানুগতিক ওয়ালপিস বা শোপিস কিনতে হবে, তার কোনোই বাধ্যবাধকতা নেই। ঘর সাজানো আসলে একটি সৃষ্টিশীল কাজ বা শিল্প। সৃজনশীল মনকে কাজে লাগালে একেবারে নামমাত্র খরচে বিচিত্র সব উপায়ে ঘর সাজিয়ে নেওয়া যায় মনের মতো করে। খেয়াল রাখতে হবে, ঘরের সামগ্রিক আবহ, যেমন: দেয়ালের রং, ঘরের কার্যকারিতা, আসবাবপত্রের সঙ্গে যেন এই সাজসজ্জা মানিয়ে যায়। আর সেই সঙ্গে একগাদা জিনিস একসঙ্গে এলোমেলো করে জড়ো না করে পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজালে তবেই সাশ্রয়ী উপায়ে সাজানো এই ঘর আমাদের চোখ জুড়াবে, মন ভরাবে। | 4 |
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম মনজেরের (৪৮) বিরুদ্ধে আদালতে এক নারী মেম্বার ধর্ষণ মামলা করেছেন। যার মামলা নং এনটিসি পিটিশন ৬৯/২০২০। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য হরিণাকুন্ডু থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম আল রাজি। এ সময় চেয়ারম্যানের সাথে ধস্তাধস্তিতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় বলে মামলার বিবরণে ওই নারী উল্লেখ করেছেন। গত ১৯ ফেব্রয়ারি ওই নারী মেম্বার আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় শরিফুল ইসলাম, ফজের আলী, মিন্টু মোল্লা, আল আমিনসহ ৬ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম মনজেরের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে হরিণাকুন্ডু থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, আমি আদালতের আদেশ হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
কোট কাছারি, বিচারক, আইনজীবী, হাজিরা, মামলা, বাদি আর বিবাদি এই শব্দগুলো এখন নিত্যদিনের সঙ্গী ঢালিউড সুপারস্টার পরীমণির। যদিও এসব নিয়ে খুব বেশি বিচলিত না তিনি। সিনেমার কাজেই ধ্যান মগ্ন হয়ে থাকতে পছন্দ করেন পরী।গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত 'গুনিন' ছবির শুটিং সম্প্রতি শেষ করেছেন পরীমণি। ছবিটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। পরী বলেন,'আমার আরেকটি স্বপ্নের কাজ। এক নতুন পরীকে দর্শকরা দেখতে পাবেন এই ছবির মাধ্যমে।' ছবিতে পরী অভিনয় করছেন রাবেয়া চরিত্রে, আর শরিফুল রাজ আছেন রমিজ চরিত্রে। একসঙ্গে প্রথমবার জুটি হয়ে কাজ করা প্রসঙ্গে পরী বলেন,'আমাদের বেশ ভালো রসায়ন। অল্প সময়ের মধ্যেই বন্ধু হয়ে উঠতে পেরেছি। তাই কাজটি বেশ মজায় মজায় শেষ করতে পেরেছি।' গত কয়েক মাসে পরীমণির আদালতে যাওয়া আসা চলছে। মাসের কিছু সময় আদালতে যাওয়ার জন্য রাখছেন, লড়তে হচ্ছে। তবে তিনি আশা করছেন, ন্যায় বিচার পাবেন। ঝামেলা কাটিয়ে সুন্দরভাবে নিজেকে গুছিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন।পরীমণির সামনের মিশন রাশিদ পলাশের 'প্রীতিলতা'। চট্টগ্রামে ছবিটির নতুন লটের শুটিং হবে। পরী জানান, টিম এরই মধ্যে শুটিং স্পটে গিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে তিনিও যোগ দিবেন। ঢাকাতে বসেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রীতিলতা চরিত্রের জন্য চুলও কাটাতে হয়েছে। ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম টফিতে মুক্তি পেয়েছিল পরী অভিনীত ও চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালিত 'বিশ্বসুন্দরী' ছবিটি। এই ছবির দর্শক সফলতার ধারাবাহিকতায় প্ল্যাটফর্মটি রিলিজ দিয়েছে পরী অভিনীত 'স্ফুলিঙ্গ' ছবিটি। ৩ ডিসেম্বর এক্সক্লুসিভলি প্রিমিয়ার হয় তৌকির আহমেদ পরিচালিত ছবিটি। ডিজিটিাল প্লাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার পর ছবি দুটি নিয়ে নতুনভাবে সাড়া পাচ্ছেন।সামনে অরণ্য আনোয়ারের 'মা' সিনেমা ও চয়নিকা চৌধুরীর 'অন্তরালে' নামে একটি ওয়েব ফিল্মের শিডিউল দেওয়া আছে পরীমণির। | 2 |
ইসরাইলি পুলিশ কর্তৃক এক মারাত্মক আহত ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করাকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। রোববার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি। শনিবার মোহাম্মদ সালিমা নামের ২৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি পুলিশ। পুরনো জেরুসালেম শহরের বাইরে দামেস্ক গেটের কাছে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ইসরাইলি পুলিশের অভিযোগ মোহাম্মদ সালিমা নামের ওই যুবক ছুরি হামলা করেছে। এক মানবাধিকারকর্মীর ভিডিওতে দেখা গেছে, মোহাম্মদ সালিমা মারাত্মক আহত হয়ে শুয়ে আছেন, তারপরেও তাকে গুলি করে যাচ্ছেন এক ইসরাইলি পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া চিকিৎসকদেরও পিস্তলের ভয় দেখিয়ে ওই ফিলিস্তিনি যুবকের কাছে যেতে দিচ্ছেন না তিনি। ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা বলেছে, মোহাম্মদ সালিমাকে গুলি করে হত্যা করাকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সমালোচনায় বলেছে যে এটা হলো প্রমাণিত বা নথিভুক্ত যুদ্ধাপরাধ। ইসরাইল কর্তৃক প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের হত্যা করাকে সহ্য করা হবে না। এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইসরাইল কর্তৃক মোহাম্মদ সালিমাকে খুন করার ঘটনাটি হলো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি | 3 |
ঢাকা: দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমিক রপ্তানি আবারও চালু করতে করোনা পরীক্ষায় কোরিয়ার কীট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। কোরিয়ায় শ্রমিক রপ্তানি চালু করা নিয়ে এক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে করোনা পরীক্ষা নিয়ে এক প্রকার অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ওপর। ফলে দক্ষিণ কোরিয়া আবার কবে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া শুরু করবে তা অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সূত্র জানায়, গত এপ্রিল মাসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কোরিয়া শ্রম রপ্তানিতে যাত্রীদের করোনা সংক্রান্ত দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের বোয়েসেলের (বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড) তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়া প্রবেশের পূর্বে কোরিয়ান কীট দিয়ে কোভিড পরীক্ষা করাতে হবে। সেই সঙ্গে ৭ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের সিদ্ধান্ত হয়। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।বিষয়টি নিশ্চিত করে নাম না প্রকাশ করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, এর আগে করোনা পরীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে জালিয়াতি হয়েছে। তখন ২০২০ সালে কোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি ভিসা বন্ধ করে দেয়। এবার আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ই-৭ ভিসা নিয়ে নাজমুস সাকিব ও শয়াইব ইসলাম সিলেট থেকে গত ১৬ই মে কোরিয়া যায়। তাঁরা বাংলাদেশ থেকে করোনা নেগেটিভ নিয়ে যায়। তবে সেখানে গিয়ে তাদের করোনা পজিটিভ আসে। যা বাংলাদেশের করোনা পরীক্ষার পুরো ব্যবস্থাকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ফলে বাংলাদেশিদের ওপর যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেশটি দিয়ে রেখেছে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে কোরিয়া। ফলে নিয়মিত এমপ্লয়েড পারমিট সিস্টেমে (ইপিএস) কর্মীরা দেশটিতে যেতে পারছে না। আগে গড়ে প্রতি বছর ২০০০ বাংলাদেশি উচ্চ বেতনে দেশটিতে যেতে পারত। আর করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির কারণে এটি হয়েছে। ফলে সরকারকে কোরিয়ায় শ্রম রপ্তানি আবারও চালু করতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। | 6 |
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক দুই আসামিকে আটক করেছে র্যাব। গতকাল শনিবার দুপুরে র্যাব-১১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার বড় সাতপাড় এলাকার মো. ইদ্রিস মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম (২৩) এবং মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে মো. ইদ্রিস মিয়া (৪৫)।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১১-এর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান, আটক দুজন দাউদকান্দি মডেল থানার পৃথক দুটি মামলার আসামি। মামলা হওয়ার পর থেকে তাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের মাধ্যমে গত শুক্রবার রাতে তাঁদের আটক করা হয়।আমিনুল ও ইদ্রিসকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। | 6 |
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার অর্থ হলো-দুই দেশের মধ্যকার লড়াইয়ের ফলাফল হিসেবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানিয়েছেন।সিএনএনের সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়ার সঙ্গে আলাপকালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমি তাঁর (পুতিন) সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। বিগত দুই বছর ধরেই প্রস্তুত ছিলাম। আমি মনে করি যে-আলোচনা ছাড়া কোনোভাবেই এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারব না।'জেলেনস্কি আরও বলেন, 'আমাদের সামনে যদি এই যুদ্ধ বন্ধের ১ শতাংশও সম্ভাবনা থাকে আমি মনে করি-আমাদের এই সুযোগটি নেওয়া দরকার। আমাদের সেটা করতে হবে। আমরা প্রতিদিন মানুষ হারাচ্ছি; নিরীহ মানুষ।'জেলেনস্কি আরও বলেন, 'রাশিয়ার সেনাবাহিনী আমাদের হত্যা করতে, নির্মূল করতে এসেছে। আমরা দেখাতে পারি যে-আমাদের জনগণ ও আমাদের সেনাবাহিনীর যে আত্মমর্যাদা তাতে আমরা যেকোনো শক্তিশালী আঘাত মোকাবিলা করতে সক্ষম, পাল্টা আঘাত করতেও সক্ষম। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত-আমাদের আত্মমর্যাদা আমাদের নাগরিকদের জীবন রক্ষা করতে পারছে না। সুতরাং, আমি মনে করি, আমাদের যেকোনো পথ ব্যবহার করতে হবে-আলোচনার জন্য, পুতিনের সঙ্গে কথা বলার জন্য-যেকোনো সম্ভাবনা, যেকোনো সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার অর্থ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু।' | 3 |
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মশার বিস্তার কমাতে হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'ঢাকার হাসপাতালগুলোর দায়িত্বশীলদের বলছি তথ্য দেন। আমরা রোগীদের বাড়িতে গিয়ে স্প্রে করে দেব। মশা নিধন করতে সবার স্বার্থে তথ্য দেবেন।'আজ শনিবার সকালে ডিএনসিসির 'ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে মশক নিধনে চিরুনি অভিযানের উদ্বোধন' অনুষ্ঠানে মেয়র এ কথা বলেন।আতিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন বাসায় গত বছর স্প্রে করে রং লাগিয়ে দিয়ে আসছি। পরে আবার মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। সবাই মিলে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে অভিযান সফল করতে হবে। সবাইকে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে চিরুনি অভিযান ও মাইকিং করা হচ্ছে। আমরা সবাইকে বলছি, তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিন।'এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসির মেয়র বলেন, আমরা অ্যাপসের মাধ্যমে তথ্য নিচ্ছি। প্রতিটি বাসার ঠিকানা আমাদের কাছে আছে। গত বছর ১ হাজার ৭২০টি বাসায় মশার লার্ভা পেয়েছি। গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৫ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির মাত্র ৩৩ জন।'অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়নমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, 'বৃষ্টির কারণে এডিস মশার প্রজনন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মশা নিধনে ২০২০ সাল থেকে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন তাদের কাজ করবে। সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনার বাড়ির আঙিনা আপনাকে পরিষ্কার করতে হবে। মশক নিধন কর্মসূচিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী সবাইকে কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে। ২০১৯ সালের তিক্ত অভিজ্ঞতার পরে ২০২০ সালে আমরা সফল হয়েছি। এই বছর এখনো আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।' | 6 |
এখন থেকে প্রতিবছর দেশে ১৮ অক্টোবর জাতীয়ভাবে 'শেখ রাসেল দিবস' পালন করা হবে। সোমবার (২৩ আগস্ট) প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রতিবছর ১৮ অক্টোবর জাতীয়ভাবে পালিত হবে শেখ রাসেল দিবস। শেখ রাসেল দিবস 'ক' শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালনের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ শেখ রাসেল দিবস পালনের প্রস্তাব দেয় এবং এর যৌক্তিকতা মন্ত্রিসভায় পেশ করলে আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকে তা অনুমোদিত হয়। | 6 |
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ছোট ভাইয়ের পরকীয়ার জের ধরে বড় ভাই জয়নাল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার ভোরে উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চর বসু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় অভিযুক্ত নবী হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত জয়নাল উপজেলার চর বসু গ্রামের বশির আহমেদের ছেলে। আটক নবী একই গ্রামের অলি উল্যার ছেলে। গ্রামবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার চর বসু গ্রামের জয়নালের ছোট ভাই গনির সঙ্গে নবীর স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে গনি রোববার ভোরে নবীর ঘরে প্রবেশ করে। বিষয়টি টের পেয়ে নবী 'ডাকাত-ডাকাত' বলে চিৎকার করেন। এতে গনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে গনির বড় ভাই জয়নাল ছুটে আসেন। এসময় নবীর সঙ্গে জয়নালের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নবী তার মাথায় আঘাত করলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে । অভিযুক্ত নবীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। | 6 |
করোনায় আক্রান্ত জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ, মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসন থেকে ছয়বারের নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ সদস্য, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদকে ঢাকার স্কয়ায় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছেন। সতর্কতার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে তাকে স্কয়ায় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে জানান এমপির একান্ত সচিব (পিএস) আহাদ মো. সাঈদ। এদিকে গত দুইদিন ধরে আব্দুস শহীদ এমপির নির্বাচনী এলাকা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় তার নিজ দল, দলের অঙ্গসংঘটন ও সহযোগীসংঘটন এবং ব্যাক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিভিন্ন মসজিদ মন্দিরে এমপির আশু রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা করা হচ্ছে। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 4 |
চিত্রনায়িকা পরী মনির নিরাপত্তায় তার বনানীর বাসার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া এ তথ্য জানান। তিনি জানান, পরী মনি গণমাধ্যমে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। এরপর আমরা তার নিরাপত্তা জোরদার করেছি। আমাদের একটা টহল টিম সেখানে আছে, সদস্য চার জন। রবিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি করেছিলেন পরীমণি। ঘটনার বিস্তারিত জানাতে রাত সাড়ে ১০টায় তার বনানীর বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন এই অভিনেত্রী। নাসির উদ্দিন নামে উত্তরার এক প্রতাপশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরী মনি এই অভিযোগ আনেন। এসময় সংবাদ সম্মেলনে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা পরিচালক ও নাট্যকার চয়নিকা চৌধুরী পরী মনিকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আপনাকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পরী মনি বলেন, তাহলে নিউজ নিয়ে চলে যাবেন না। আমার কোনো সিকিউরিটি নেই। আমি ভয় পাচ্ছি, আপনারা আমার সঙ্গে এখানে থাকেন। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার নাম বলতে অনুরোধ করা হলে তিনি বলেন, নাসির উদ্দিন মাহমুদ। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার গায়ে বারবার হাত তুলেছে বলেও পরী মনি জানান। এই অভিনেত্রী বলেন, গায়ে হাত তোলার সময় ওই ব্যক্তি বারবার বলছিলেন, 'বেনজির কি তোর বাপ লাগে'? এদিকে ফেসবুকে পরী মনি জানিয়েছেন, গত চারদিনে বিভিন্নভাবে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেও কোথাও বিচারের কোন আশা পাননি। সেজন্যই ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েছেন। তবে বনানী থানায় পরীমনির অভিযোগের কথা বলা হলেও পুলিশ বলছে, তারা কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ অস্বীকার করে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আযম মিয়া দাবি করেছেন, ওই অভিনেত্রী থানায় আসেননি এবং তারা কোন অভিযোগ পাননি। তিনি বলেছেন, তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি কখনো। উনি আসেন নাই আমাদের কাছে। | 2 |
লিটন দাস এতোদিনে বুঝে গেছেন যে পারফরম্যান্স দিয়েই সব সমালোচনার জবাব দিতে হয়। অফফর্মে থাকলে লিটন দাস সমালোচকদের পছন্দের নিশানায় থাকেন। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফর্ম হারিয়ে কী সমালোচনাই না শুনেছেন। অথচ ফরম্যাট বদলাতেই প্রত্যাশিত লিটনের দেখা। টেস্টের পর ওয়ানডেতেও তার পদচারণ দৃষ্টিনন্দন আর মুগ্ধকর। তরুণ এই ওপেনার আজ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সব সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। ৪১তম ওভারে রশিদ খানকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের পাঁচ নম্বর সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এটা তার প্রথম সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের পাঁচ নম্বর সেঞ্চুরি হাঁকাতে লিটন আজ খেলেছেন ১০৭ বল, হাঁকিয়েছেন ১৪টি বাউন্ডারি। তার ১৩৬ রানের ঝলমলে ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ জিতেছে ৮৮ রানের বিশাল ব্যবধানে। সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে লিটনের হাতে। পুরস্কার নেওয়ার সময় লিটন জানালেন তার সেঞ্চুরির রহস্য, 'আমার লক্ষ্য ছিল টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে অন্তত ৩৫ ওভার পর্যন্ত খেলা। যদি ততটুক খেলতে পারি তাহলে ৮০ রানের বেশি হয়ে যাবে। চেষ্টা করেছি ইনিংস যতটা সম্ভব বড় করার।' দুর্দান্ত এই ইনিংস খেলার পথে তৃতীয় উইকেটে মুশফিকুর রহিমের সাথে ২০২ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন লিটন। স্মরণীয় জুটির সঙ্গী মুশফিক বলে লিটনের উচ্ছ্বাসও যেন বেশি। তিনি বলেন, 'জি অবশ্যই, এটা তো আনন্দদায়কই। উনার সাথে আমার অনেকগুলো পার্টনারশিপ আছে।' আফগানদের স্পিন বিশ্বমানের, বিশেষ করে তাদের দলে আছেন বর্তমানের অন্যতম সেরা দুই স্পিনার মুজিব ও রশিদ। তাদের বিপক্ষে পরিকল্পনা করেই মাঠে নেমেছিল লিটন, 'তাদের স্পিন কোয়ালিটি যদি দেখেন দুইটা বোলারই খুব ভালো বোলার। মুজিব ও রশিদ। মুজিবকে আমরা ফুল বিপিএলেই খেলেছি। সেখান থেকে একটা ধারণা আছে। রশিদকেও আগে খেলার একটা অভিজ্ঞতা খেলেছি। ঐ অভিজ্ঞতা থেকেই আমাদের প্ল্যানিংটা সাজানো ছিল। যে কারণে সাকসেস পাওয়ার রেটটা ভালো। এসব বোলারকে প্ল্যানিং করেই খেলতে হয়। আমার মনে হয়, আমি ও মুশি ভাই খুব ভালো প্ল্যানিং করে ব্যাটিং করেছি।' | 12 |
তাঁত নিয়ে শুধু ফ্যাশন নয়, বুননের পেছনের শিল্পীদের নিয়েও জোর কাজ চলছে ভারতে। কিছুদিন আগেই রাজধানী দিল্লিতে হয়ে গেল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা তাঁতি আর তাঁতে বোনা কাপড়ের একটি জমকালো বুনন মেলা। বলিউডের নামী তারকারা তাতে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করলেন। ভারতের বৈচিত্র্যময় শাড়ির বুনন দেখা যায় তারকাদের পরনে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আবারও জিজেলসাবেক ভিক্টোরিয়া'স সিক্রেট অ্যাঞ্জেল এবং সুপার মডেল জিজেল বুন্ডসেনকে এবার দেখা যাবে টিভির পর্দায়। বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড শ্যানেল শুরু করতে যাচ্ছে তাঁর সৌন্দর্যবিষয়ক প্রথম টিভি অনুষ্ঠান। সেখানে জিজেলকে তাঁর ভক্তরা দেখতে পাবেন নতুন রূপে।সূত্র: হার্পার্স বাজার এখনো টাইটানিকটাইটানিক ছবির স্মৃতি এখনো আবেগাপ্লুত করে সংগীততারকা সেলিন ডিওনকে। নিজের গাওয়া বিখ্যাত গানটির চেয়েও নাকি তাঁর বেশি ভালো লাগে জ্যাক আর রোজকে। তাই বুঝি কিছুদিন আগে তাঁকে দেখা গেল টাইটানিকের সেই বিখ্যাত পোস্টারের জলছাপ তোলা পুরোনো টি-শার্টে। টাইটানিকের প্রিমিয়ার পার্টি উপলক্ষে তৈরি হওয়া দুর্লভ কিছু টি-শার্টের একটি ছিল এটি। সূত্র: পপসুগার ফ্যাশন সেই হেয়ারব্যান্ড! শুধু ফ্যাশন নয়, ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটনের সুন্দর চুল নিয়েও মাতামাতির শেষ নেই ব্রিটিশ পত্রিকাগুলোর। সম্প্রতি ছোট্ট রাজকুমারের জন্মদিনের উপহার হিসেবে এয়ার শো দেখতে পুত্র আর পতির সঙ্গে এসেছিলেন কেটও। কাঁধ ছাপানো চুলগুলো পেছনে ঠেলে রেখেছিলেন সাধারণ একটি ব্যান্ডে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর মাধ্যমেই ছোটবেলার সেই হেয়ারব্যান্ডের ফ্যাশনে প্রাণ ফিরবে এবার। সূত্র: ইয়াহু ভাবগম্ভীর বলিউডের 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট'খ্যাত আমির খান ব্যক্তিগত জীবনে সাধারণ পোশাক পরতেই পছন্দ করেন বলে জানে সবাই। তবে যেদিন তাঁর মেজাজ ভালো থাকে, সেদিন তাঁর লুকটাও হয়ে ওঠে অন্য রকম। ২ জুলাই জিকিউ ম্যাগাজিনের একটি অনুষ্ঠানে আমির বেছে নিয়েছিলেন ছেলেদের ক্লাসিক নার্ডি বা চশমা পরা ভাবগম্ভীর লুক। সন্ধ্যাকালীন স্যুটে আর ভারী চশমায় আমিরকে লাগছিলও বেশ। সূত্র: বলিওয়ান নিউজ রঙের জোড়ভদ্রতম ব্রিটিশ অভিনেতা বলে খ্যাত টম হিডলস্টোনকে বিশ্ব চেনে লোকি নামে। অ্যাভেঞ্জার সিরিজের থরের ভাই লোকি কাম টম পর্দায় যেমন ফিটফাট, বাস্তবেও তাই। তাঁর ফ্যাশনের আরেকটি মজার দিক হলো, যেখানেই যান না কেন, বন্ধুর সঙ্গে ম্যাচ করে পোশাক পরতে পছন্দ করেন। কিছুদিন আগে তেমনি এক মুহূর্তে টেইলর সুইফটের সঙ্গে ক্যামেরায় ধরা পড়লেন টম হিডলস্টোন। সূত্র: ইয়াহু সাদামাটায় ঝলমলেআনুষ্ঠানিকতা মানেই মেকআপের আবরণ নয়। বরং উজ্জ্বল লিপস্টিক আর মাসকারাই ভালো। সম্প্রতি ইতালীয় ব্র্যান্ড ফেন্দির ৯০ বছর পূর্তির পার্টিতে সুপার মডেল কেন্ডাল জেনারকে যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের এ কথা মানতেই হবে। ঠোঁটে উজ্জ্বল লাল লিপস্টিক আর হালকা মাসকারাতেই কেন্ডালকে লাগছিল পরির মতো। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ভূষণে অনন্যাভারতের নামী ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো এখন দীপিকা পাড়ুকোনকে পেতে লাইন দিচ্ছে সমানে। সম্প্রতি তেমনই একটি গয়নার ব্র্যান্ডের দূত হলেন দীপিকা পাড়ুকোন। ওই গয়নায় দীপিকার সাহসী ফটোশ্যুট এর মাঝেই সাড়া ফেলে দিয়েছে চারদিকে। সূত্র: মাসালা ডট কম গ্রন্থনা: খাদিজা ফাল্গুনী | 4 |
সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পত্নী লিপি ওসমান ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার স্মৃতিচারণ করে বলেছে, '২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আমি দেশে ছিলাম না। আমি কানাডায় ছিলাম। আসলে আমাদেরকে থাকতে দেয়া হয়নি। ২১ আগস্টের আমার বাসার ল্যান্ডফোনে ফোন আসে। ফোন করেছিলেন সজিব ওয়াজেদ জয়।' ফোন ধরার পর আমাকে ভাবি সম্বোধন করে বললেন, 'ভাবি ঢাকায় আর একটি কেয়ামত হয়ে গেছে। মাকে আবার মারতে চেষ্টা করা হয়েছে। বোমা হামলা হয়েছে। অনেক মানুষ নিহত হয়েছে। আইভী চাচী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।' আমি বললাম আপা কেমন আছে? উত্তরে জয় বললেন, 'মা ভালো আছে।' লিপি ওসমান বলেন, ফোনে কথা বলে আমি সেখানেই বসে পড়ি। নারায়ণগঞ্জের ১৬ জুনের সেই বোমা হামলার ঘটনা আমার মাথায় ঘুরছিল। আমি উপস্থিত হয়েছিলাম সেই রক্তাক্ত স্থানে যেখানে পড়েছিল নিহত মানুষগুলো। আমি যখন নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতাল দিয়ে হাঁটছিলাম কারো হাতের অংশ কারো আঙ্গুল কারো পা সরিয়ে দিয়ে রাস্তা করে দেয়া হচ্ছিল। লিপি বলেন, আমার স্যান্ডেলের সোল রক্তের নিচে ডুবে যাচ্ছিল। আমি সেই নৃশংসতা দেখেছি। আধা ঘণ্টার জন্য জানতাম আমি বিধবা হয়েছি। আধা ঘণ্টার জন্য জানতাম শামীম সাহেব ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। আমি মেইন রোড দিয়ে দৌড়াচ্ছিলাম। তিনি বলেন, আমাকে কেউ একজন রিকশায় তুলে আমার বাবার বাড়িতে নিয়ে গেল। আমি তার নাম জানি না। সেখানে গিয়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। আধাঘণ্টা পরে আমি জানতে পারি শামীম সাহেব বেঁচে আছেন তিনি হাসপাতালে আছেন। কিন্তু আমাদের অনেকে নাই। লিপি ওসমান বলেন, 'সিএমইচে গিয়ে যখন পৌঁছালাম তার আগে প্রধানমন্ত্রীর (তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী) সঙ্গে আমার ফোনে কথা হলো। তিনি শুধু আমাকে এই কথা বললেন যে 'শামীমকে নিয়ে ঢাকায় রওনা হও। যারা এই হামলা করেছে তারা আবার করবে। থেকো না নারায়ণগঞ্জে, তোমার আশেপাশে কারা আছে তাকে দাও আমি ফোনে বলে দিচ্ছি।' প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন শামীম কেমন আছে? আমি বললাম, 'আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি শ্বাস নিচ্ছে কিন্তু হাত পা আছে কি না আমি দেখিনি।' 'আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল ভিপি বাদল ভাই তাকে দিলাম। তিনি ওনাকে নির্দেশ দিলেন। আমরা রাতেই সিএমএইচে চলে গেছি।' ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে আয়োজিত আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমানের সহধর্মীনি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপি কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ কথাগুলো বলেন। বুধবার সদর উপজেলা মিলনায়তনে ওই মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন লিপি ওসমান। এ সময় তিনি ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জে ঘটিত বোমা হামলার দৃশ্য তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার কর্মকর্তা বারী সাহেদ, সোনারগাঁ উপজেলা মহিলা সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, পরিচালক সদস্য প্রফেসর ডা. শিরিন বেগম, ইসরাত জাহান স্মৃতি প্রমুখ। | 6 |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তরের গণরুম গিয়ে ছাত্রলীগকর্মীদের দ্বারা হেনস্থার শিকার হয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক। এসময় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন এবং 'সাধারণ ছাত্র পরিষদে'র অন্যান্য নেতাদের ধাক্কাধাক্কির করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে হলের গণরুমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, এই ঘটনায় ওই হলের দুই শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা হলো, পালি অ্যান্ড বুডিস্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিক হাসান মিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাজেদুর রহমান। এছাড়া ভিপির সঙ্গে থাকা ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন, ফারুক হোসেনসহ অন্যরাও ধাক্কাধাক্কি এবং হেনস্তার শিকার হন। ভিপি নুরুল হক বলেন, দুপুরে বিজয় একাত্তর হলে খাওয়ার পর আমরা কয়েকজন হলের গণরুমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যাই। এসময় ছাত্রলীগ পরিচয়ে কয়েকজন অশোভন আচরণ করেন। গালাগাল করে আমরা কেন সেখানে গেছি, তা জানতে চায়। এই ঘটনায় আরও কয়েকজনকে হেনস্তা করা হয়েছে। আমি উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। এদিকে, সন্ধ্যায় হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভুইঁয়ার কাছে অভিযোগ করেন ভিপি নুর। পরে তার অভিযোগের ভিত্তিতে দুই শিক্ষার্থীকে কেন শাস্তি দেয়া হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন হল প্রাধ্যক্ষ। বিডি প্রতিদিন/মাহবুব/আরাফাত | 1 |
শেরপুর পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মহড়া করার দায়ে আওয়ামী লীগের 'বিদ্রোহী' মেয়র প্রার্থী মো. আরিফ রেজাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে আওয়ামী লীগের 'বিদ্রোহী' স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আরিফ রেজার (চামচ প্রতীক) পক্ষে তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা কয়েক শ মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন। তাঁরা শহরে মহড়া করেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ আল মামুন শহরের নবীনগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আরিফ রেজাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণার কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। মেয়র প্রার্থী আরিফ রেজার পক্ষে কামাল হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন। অভিযান পরিচালনাকালে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনসহ থানার পুলিশ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন। ইউএনও ফিরোজ আল মামুন মেয়র প্রার্থী আরিফ রেজাকে জরিমানা করার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। চতুর্থ ধাপে ১৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুর ও শ্রীবরদী পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। | 9 |
বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। করোনা মহামারির কারণে বছরের শুরুতেও আয়োজকদের আকাশ ছিল কালো মেঘে ঢাকা। অনেক ছাড় দিয়ে আলোচনার টেবিলে সব পক্ষ এক হওয়ায় উড়ে যায় অনিশ্চয়তার মেঘ। ভারত থেকে ভেন্যু সরিয়ে নেওয়া হয় আরব আমিরাত আর ওমানে। ভারতকে স্বাগতিক রেখেই নিউ নরমাল সময়ের বাস্তবতায় পাঁচ বছর পর আজ আবার মাঠে গড়াচ্ছে টি২০ বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের সপ্তম আসরের পর্দা উঠতে বাকি মাত্রই কয়েক ঘণ্টা। মাসকটের আল আমেরাত স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে ওমানের প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউগিনি। আইসিসির দুই সহযোগী দেশের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মাঠে গড়ালেও উদ্বোধনী দিনের মূল আকর্ষণ বাংলাদেশ। আল আমেরাতে রাত ৮টায় স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। এ ম্যাচে ক্রিকেট বিশ্বের ফোকাস থাকবে টাইগারদের ওপর। ক্রিকেটের তারার মেলায় মুখর হবে মাসকট, আবুধাবি, দুবাই ও শারজাহ। এক মাসের অভিযানে হয়তো ক্রিকেটের আকাশে উদিত হবে নতুন কোনো নক্ষত্র। যেখানে আলো ছড়াতে পারেন বাংলাদেশেরও কেউ। মাহমুদউল্লাহদের জন্য এটি শুধুই একটি বিশ্বকাপ নয়। বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে দেশের ক্রিকেটকে দেওয়ার আছে অনেক কিছুই। ১৬ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি মেটাতেই গত কিছুদিন বায়োসিকিউর বাবলে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাওয়া টাইগারদের। জীবনকে বায়োসিকিউর বাবলের কঠোর বিধিনিষেধে বেঁধে রেখে দিনের পর দিন ত্যাগ স্বীকার করা বিশ্বকাপ মঞ্চ মাতানোর জন্যই। মাহমুদউল্লাহ ভালো কিছুর প্রতিশ্রুতি দিতেই গতকাল আল আমেরাত স্টেডিয়ামের হাইব্রিড সংবাদ সম্মেলনে এলেন। টাইগার দলপতি জানালেন, নিকট অতীতের সব ভুলে দূর অতীতের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে সেরা ক্রিকেট খেলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তারা। নিয়মের বেড়াজালে আটকে পড়ায় বাছাই রাউন্ড দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে হচ্ছে বাংলাদেশের। ২০১৪ সালে টি২০ বিশ্বকাপে এই নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকেই বাছাই পর্বের দল টাইগাররা। যে রাউন্ডের পারফরম্যান্স ক্রিকেটের কুলীনকুলে খুব একটা গণ্য করা হয় না। উপস্থিত এক সাংবাদিক মাহমুদউল্লাহকে এই প্রশ্ন ছুড়ে দিলে মুচকি হেসে তিনি বললেন, 'হয়তো হয় না। তবে আমাদের কাছে সব ম্যাচই সমান। প্রথম রাউন্ডে যে তিন প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড, ওমান ও পাপুয়া নিউগিনি- সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। টি২০ ছোট সংস্করণের খেলা। জিততে হলে নির্দিষ্ট দিনে ভালো করতে হয়। আমরা এবার ভালো কিছু করতে চাই। চেষ্টা থাকবে যত বেশি পারা যায় ম্যাচ জেতা। সুপার টুয়েলভে যেতে হলে প্রথম রাউন্ড পার হতে হবে আগে। সে জন্য ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে দল হিসেবে।' বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রবেশের পর উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। টানা তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের পর ওমানে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেও জিততে পারেনি অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে। শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের কাছে হারে আত্মবিশ্বাস কতটা নেমে গেছে, জানতে চাওয়া হলে অধিনায়ক যেন ড্রাইভ খেলে বল বাউন্ডারিতে পাঠাতে চেষ্টা করলেন, 'আত্মবিশ্বাস একটুও কমেনি। প্রস্তুতি ম্যাচের হার কোনো বিষয় নয়। যেটা গেছে সেগুলো নিয়ে ভাবতে চাই না। দুটি ম্যাচেই তো আমাদের সেরা দল খেলেনি। ছেলেরা কেমন করে সেটা দেখাই ছিল অনুশীলন ম্যাচের উদ্দেশ্য। সবাই খুব ভালো টাচে আছে। আশা করি আমরা ভালো করব। দেশে জেতা সিরিজগুলো থেকে যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছি, সেটাই শক্তি। ছেলেদের মধ্যে ভালো খেলার আত্মবিশ্বাস আছে। শুরুটা ভালো করা দরকার। কাল (আজ) আমরা একটা ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব। টিম পারফরম্যান্স করার চেষ্টা করব।' সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়াই হয়েছে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। দু'জনই ছিলেন আইপিএলে। রাজস্থান রয়্যালস লিগ রাউন্ড থেকে বাদ পড়ায় মুস্তাফিজ দলের সঙ্গে একটু আগে যোগ দিতে পারলেও সাকিব টিম হোটেলে ওঠেন গতকালই। কলকাতা নাইট রাইডার্সের ফাইনাল খেলা শেষ করে আমিরাত থেকে সড়ক পথে এসেছেন ওমানের রাজধানী মাসকটে। বিশ্বকাপ ম্যাচ দিয়ে এক হচ্ছে টাইগার স্কোয়াড। সে তুলনায় স্কটল্যান্ড দল অনেক আগে থেকেই একসুতোয় বাঁধা। বিশ্বকাপ ভেন্যুতে চার-পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছে সূক্ষ্ণভাবে। টাইগারদের পরাজিত করা দল আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে স্কটিশ বাহিনী। গতকাল তাদের কোচ শেন বার্জার টাইগারদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে মিলিয়ে। স্কটিশ কোচের মতে, 'আমরা জানি নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে পারলে সব দলকেই বিপাকে ফেলতে পারব। সংক্ষিপ্ত সংস্করণ সব দলকেই কাছাকাছি নিয়ে আসে। আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য আছে। যদি নিজেদের সেরাটা খেলতে পারি তাহলে যে কোনো দলকে হারাতে পারব, তা বাংলাদেশ, ওমান ও পাপুয়া নিউগিনি যে-ই হোক।' প্রতিপক্ষ দলের কোচের কথাকে সামনে এনে মাহমুদউল্লাহর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে সম্মান দেখিয়েই বললেন, 'তারা ভালো দল বলেই বিশ্বকাপ খেলছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে সেরাটা খেলে ম্যাচ জেতা। আমরা অন্য কোনো কিছু নিয়ে ফোকাস করতে চাই না।' টাইগারদের ফোকাস এবার আগের সব আসরকে ছাপিয়ে সেরা পারফরম্যান্স করা। বাছাই রাউন্ডের গি পেরিয়ে সুপার টুয়েলভে একাধিক ম্যাচ জেতা। সেভাবে স্কোয়াড সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান দলপতি। তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ দেখে একাদশ গোছানো হয়েছে। লিটন কুমার দাস, নাঈম শেখ, সৌম্য সরকারকে ওপেনিং স্লটের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। লিটন-নাঈম ওপেন করলে সৌম্য খেলতে পারেন তিন নম্বরে। সাকিব ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং অর্ডার চার ও পাঁচে ভাগাভাগি করা হবে। আফিফ হোসেনকে খেলানো হতে পারে সাত নম্বরে। অলরাউন্ডার বেশি নিয়ে ব্যাটিং লাইনআপ লম্বা রাখার চিন্তা টিম ম্যানেজমেন্টের। যাতে করে টি২০'র কাননে রানের ফুল ফোটাতে পারেন ব্যাটাররা। আর বোলিং লাইনআপে আনা হবে স্পিন ও পেসের ভারসাম্য। উদ্দেশ্য সমন্বিত পারফরম্যান্স করে বিশ্বকাপে ধারাবাহিক ম্যাচ জেতা। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করা। | 12 |
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বেশ কিছু দিন অজ্ঞাত স্থানে বিশ্রাম শেষে গতকাল প্রকাশ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূত। এর আগে চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার সিএমএইচে ভর্তি হন এরশাদ। গত শনিবার হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে নিজের বাসায় না গিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান তিনি। যদিও পার্টির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল এরশাদ তার বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনেই বিশ্রামে আছেন। পরে অবশ্য জানা যায় গুলশানের একটি বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন তিনি। এ সময় তিনি নিজের পছন্দের লোক ছাড়া কারো সাথে যোগাযোগও করেননি। এ নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। সেসব গুঞ্জনকে ছাপিয়ে প্রকাশ্যে এলেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টায় গুলশান-১-এর ইমানুয়েল মিলনায়তনে আসেন। গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে কথা বলেন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাথে। জানান, তিনি কোনো জোটে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত তিনি নিজে নেবেন। ঈঙ্গিতবহ বক্তব্য শেষে তিনি তার বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনে ফিরেও যান। তবে তিনি কেন এ ক'দিন সবার আড়ালে ছিলেন, সে বিয়ে গণমাধ্যমকে কিছুই বলেননি। এর আগেও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে এরশাদকে হঠাৎ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সে সময় তিনি বিএনপি-জামায়াতের মতোই ভোটে না যাওয়ার কথা বলছিলেন। আর দলের একাংশের নেতারাও ভোট থেকে সরে দাঁড়ান, যদিও রওশন এরশাদের নেতৃত্বে আরেক অংশ আবার ভোটে যায়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও রংপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এরশাদ। আর তিনি একা অনেকটা চুপিসারে সংসদে গিয়ে শপথও নেন। দশম সংসদের পুরোটা সময় জাতীয় পার্টি ছিল বিরোধী দলে। যদিও মন্ত্রিসভাতেও তাদের সদস্য ছিল। আর এবার বিএনপি-জামায়াত জোট ভোটে এলে ২০০৮ সালের মতোই আওয়ামী লীগকে নিয়ে মহাজোট করার ঘোষণা আসে দলটির পক্ষ থেকে। এরই মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন এরশাদ। তার দল ৭৬ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন চেয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ এত বেশি দিতে রাজি নয়। প্রত্যাশিত আসন না পেলে জাতীয় পার্টি বিএনপির নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যেতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার কথা জানিয়ে এরশাদ বলেন, রাজনৈতিক কারণে অন্য জোটে যেতে হলে এ সিদ্ধান্ত আমি এককভাবেই নেবো। | 9 |
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ। বৃহস্পতিবার তাকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই প্রজ্ঞাপনে বিজিবির বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নিতে তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। আগামী ২ মার্চ চাকরি থেকে অবসরকালীন ছুটিতে যাচ্ছেন তিনি। মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ এর আগে পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইতিহাসের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে আজ আমরা বিজয় দিবস-২০২০ উদযাপন করতে যাচ্ছি। এ বছর আমরা আমাদের মহান নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। কয়েকদিন পর আমরা আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পদার্পন করবো। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছি। মঙ্গলবার রাতে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এ তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলা করে সমগ্র বিশ্বের বুকে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছি। প্রমত্তা পদ্মার বুক চিরে নিজেদের অর্থায়নে নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে দেশের দুই প্রান্তকে সংযুক্ত করেছে। পৃথিবীর বুকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার প্রত্যয় নিয়ে দেশ এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশের সকল নাগরিককে আমি বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার নেতৃত্বে ২৪ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা - সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ৩০-লাখ শহিদ এবং ২-লাখ নির্যাতিত মা বোনের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার সশ্রদ্ধ সালাম। আমি স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত আমার মা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিনভাই - মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল এবং ১০ বছরের শেখ রাসেল-সহ ওই রাতের সকল শহীদকে। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, আজকের এই মহান দিনে আমি মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাদানকারী বিভিন্ন দেশ ও দেশের জনগণ, ব্যক্তি এবং সংগঠনের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বীর সদস্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ভারতের তৎকালীন সরকার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বোপরি সাধারণ জনগণকে- যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস-সহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে এ বছর যে সব রাজনীতিক, সংসদ সদস্য, বরেণ্য ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষ মারা গেছেন, তাদের সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। | 6 |
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার এক শোকবার্তায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি। সেইসঙ্গে তিনি আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে লাগা আগুন ১১ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বাতাসের কারণে নিয়ন্ত্রণে আসতে দেরি হচ্ছে। ডিপো এলাকায় পানির স্বল্পতায় আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই দলটি ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানায়, রাত ১১টার সময় তারা আগুন লাগার খবর পায়। তখন থেকেই তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। আজ রবিবার সকাল পৌনে ১০টায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ডিপোতে আগুন লাগার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত নিহত বেড়ে ১৯ জন হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মী রয়েছেন। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক। হতাহতদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও আছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেককে ওয়ার্ড ছাড়াও হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে একটি কনটেইনারে রাসায়নিক থাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৪ কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার বলেন, আগুন লাগার পর কনটেইনারে বিস্ফোরণ হয়, সেখানে থাকা কেমিক্যালের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 6 |
গত ১২ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নিম্ন আদালতের ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে মোট ৭৩ হাজার আসামি জামিন পেয়েছেন। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য জানান।সাইফুর রহমান জানান, গত ১২ এপ্রিল হতে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৫৫ কার্যদিবসে সারা দেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ভার্চ্যুয়াল শুনানির মাধ্যমে এক লাখ ৪৩ হাজার ৯৬১টি মামলায় জামিনের দরখাস্ত নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে মোট ৭৩ হাজার ৭৫ জন হাজতি জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হন।ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান আরও জানান, ২০ জুন হতে ৩০ জুন পর্যন্ত শারীরিক উপস্থিতিতে সারা দেশে বিচারকার্য চলাকালীন কিছু কিছু জেলায় স্থানীয় বিধিনিষেধের কারণে ভার্চ্যুয়াল আদালত পরিচালিত হয়। ওই সময় দেশের বিভিন্ন জেলার আদালতসমূহে ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে ছয় হাজার ৬৩১টি ফৌজদারি মামলায় জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি হয়। আর তিন হাজার ৪২০ জন আসামি জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন। | 6 |
বাস ওভারটেক করতে গিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের জুবলি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত মোহাম্মদ আবদুর রহিম (৩৮) উপজেলার নাজিরহাট পৌর এলাকার চরগাঁও পাড়ার মো. নুরুল আলমের ছেলে। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কাজ করতেন। ৮ দিন আগে দেশে ফেরেন রহিম।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সড়ক দিয়ে উপজেলা সদর থেকে নাজিরহাট এলাকার বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন রহিম। পথিমধ্যে সড়কের জুবলি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় খাগড়াছড়িগামী একটি বাসকে ওভারটেক করার সময় বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কের পাশ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তার হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। | 6 |
মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে প্রতারণা করত শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কোম্পানি। এভাবে তাদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শাহ আলম ও তার চার সহযোগীকে গতকাল শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।র্যাব বলছে, প্রতারণা চক্রের সদস্যরা সবাই এক সময় বিভিন্ন ব্যাংকে চাকরি করতেন। এরপর একসময় চাকরি ছেড়ে এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের নিয়োগ দেওয়া তিন শতাধিক মাঠকর্মীর মাধ্যমে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে দুই শতাধিক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা নিজেদের নামে জমি ও ব্যাংকে বিনিয়োগ এবং ব্যাংক লোন নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। ফলে গ্রাহকেরা টাকা ফেরত চাইলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে সবাই আত্মগোপনে যায়। বর্তমানে তাদের যে সম্পদ আছে, তা দিয়ে গ্রাহকের টাকা অর্ধেকও পরিশোধ করা যাবে না বলে দাবি র্যাবের।রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আজ রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।র্যাব কর্মকর্তা বলেন, নরসিংদীর শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কোম্পানিতে বিনিয়োগে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে নেওয়া হতো আমানত। আর প্রতিষ্ঠানটিতে আমানত রাখতে হলে আগে দিতে হতো ধর্মীয় পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় পাস করলেই করা হতো সদস্য, নেওয়া হতো আমানত। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে টাকা ফেরত চাওয়ার পরই আত্মগোপনে চলে যায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকেরা। অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা শাহ আলম, দেলোয়ার হোসেন শিকদার, কাজী মানে উল্লাহ, সুমন মোল্লাহ, আব্দুল হান্নান মোল্লাহ। তাদের সকলের বাড়ি নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায়।ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক সমবায় সমিতিতে বিনিয়োগে মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের দুই'শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নরসিংদীতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার সাধারণ মানুষ বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত করা হয়েছে জানিয়ে র্যাব মুখপাত্র বলেন, ভুক্তভোগীরা নরসিংদীর পলাশ থানায় একটি মামলা করেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও সমবায় অধিদপ্তরে অভিযোগ দেয়। এরপরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।খন্দকার আল মঈন জানান, নরসিংদী এলাকায় বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় কাজ করতেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালকেরা। কাজের সূত্রে পরিচয় কাজে লাগিয়ে শুরু করেন এই প্রতিষ্ঠান। ২০১০ সালে নরসিংদীর সদর থানার চিনিশপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদিয়া এলাকায় গড়ে তোলেন শরিয়াভিত্তিক শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কোম্পানি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এমএলএম কার্যক্রম শুরু করে তারা। সুকৌশলে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সুদ মুক্ত ব্যবসার কথা বলে বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ শুরু করে। সাধারণ মানুষের মাঝে বিশ্বাস অর্জনের জন্য নেওয়া হতো ধর্মের পরীক্ষা। সুদমুক্ত জীবন মুনাফার ফাঁদে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করে প্রতিষ্ঠানটি।সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকা দিয়ে শাহ আলম চারটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য ২৪ জন কর্মচারী ও ২০ জন পরিচালক নিয়োগ করা হয়। পরিচালকদের সবাই প্রতারক শাহ আলমের সহযোগীদের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজন। প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বাড়াতে নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় জাঁকজমকপূর্ণ শাখা অফিস ও কারখানা প্রতিষ্ঠা করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে-শাহ সুলতান এম. সি. এস. কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. , স্বদেশ টেক্সটাইল লিমিটেড, শাহ সুলতান টেক্সটাইল লিমিটেড ও শাহ সুলতান প্রপার্টিজ লিমিটেড।র্যাবের মুখপাত্র বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের মাঠ পর্যায়ে গ্রাহক ও অর্থ সংগ্রহের জন্য তিন শতাধিক কর্মী রয়েছে। যাদের কোনো প্রকার বেতন দেওয়া হতো না। গ্রাহকদের বিনিয়োগের মাধ্যমে এককালীন ১০ শতাংশ ও বছরে ছয় শতাংশের প্রলোভন দেওয়া হতো। আর বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক ১২-১৬ শতাংশ মুনাফার প্রলোভন দেখানো হতো।এ ছাড়া তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি মুনাফায় মাসিক ভিত্তিতে 'ডিপিএস'-এর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করত। বেশ কিছু গ্রাহককে বেশি বা উচ্চ মুনাফায় লোনও দেয়। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান না হলেও তারা ব্যাংকের মতই গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ প্রদান কার্যক্রম করেছিল। গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকায় জমি কেনা ও টেক্সটাইল মিলে (কারখানা) বিনিয়োগ এবং নিজস্ব অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠানটি।ইসলামিক কৌশলে প্রতারণার ব্যাপারে কমান্ডার মঈন বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির পরীক্ষা ও ইসলামিক কিছু কৌশল অবলম্বন করে এই প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। সাধারণ মানুষের বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য তারা ধর্মীয় অনুভূতির পরীক্ষা নিতেন। ইসলামিক শরিয়ত মোতাবেক সবকিছু মেনে চলছেন কী না, এই বিবেচনায় গ্রাহকদের সদস্যপদ ও বিনিয়োগ করার সুযোগ করে দেওয়া হতো। এ ছাড়া একটি নির্দিষ্ট জেলা কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এবং ওই এলাকায় ২০১০ সালের আগে তারা বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা থাকায় মানুষের বিশ্বস্ততার জায়গা অর্জন করে।র্যাবের মুখপাত্র বলেন, গ্রাহকের টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পারসেনটেন্স দেওয়া হতো; বেতন দেওয়া হতো না। আর নিজেদের নামে তারা জমি কিনেছে পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করেছে, আবার সেই ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছে। গ্রাহকদের টাকা দিয়ে দুটি টেক্সটাইল মিল ও স্বদেশ প্রপার্টিজ নামে একটি কোম্পানি খুলেছিল।খন্দকার মঈন বলেন, শাহ সুলতানের চারটি প্রতিষ্ঠানের মোট পাঁচ থেকে ছয় হাজার গ্রাহক রয়েছে। তাদের তথ্যমতে আরও অনেক টাকার প্রতারণা করেছে। তবে এই টাকাগুলো ব্যাংকে রাখেনি। প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের ২০ জন থাকলেও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের তথ্যমতে, করোনাকালীন সময়ে তারা লাভ করতে না পারায় গ্রাহকদের টাকা দিতে পারেনি। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের যে সম্পদ রয়েছে তা বিক্রি করলে ৫০ কোটি টাকার মতো হবে। | 6 |
পশ্চিমবঙ্গের ময়নাগুড়িতে বিকানের গুয়াহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। আহত হয়েছে আরও ৫০ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার দোমোহনি এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এক্সপ্রেসটির বেশ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। জানা যায়, পাটনা থেকে গুয়াহাটিগামী ট্রেনটি গতকাল বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। উদ্ধারকারী দল উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ট্রেনটির চার-পাঁচটি বগি দুমড়েমুচড়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৫০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। নিউ ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে এবং ১৬ জনকে ময়নাগুড়ি সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত যাত্রীদের শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হবে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, লাইনচ্যুত কোচের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আটকে পড়া কোচগুলো কাটতে গ্যাস কাটার ব্যবহার করা হচ্ছে।জানা যায়, ট্রেনটি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ছুটছিল। ট্রেনটি ছাড়ার সময় ৭০০ যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনায় ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে যাওয়ায় অনেকেই চাপা পড়েছেন। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও ট্রেনের নিচে চাপা পড়া যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ওই এলাকার আশপাশের সব হাসপাতাল এবং অন্যান্য হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কর্তৃপক্ষ।এদিকে এই দুর্ঘটনা নিয়ে টুইট করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী টুইটে লিখেছেন, 'রেলমন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে কথা বলেছি। পশ্চিমবঙ্গে ট্রেন দুর্ঘটনার খোঁজ নিয়েছি। শোকাহত পরিবারের পাশে রয়েছি। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এই কামনা করি।'রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে অবহিত করেছেন।ইতিমধ্যে রেল মন্ত্রণালয় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ রুপি, গুরুতর আহত ব্যক্তির পরিবারকে ১ লাখ ও সামান্য আহত ব্যক্তিকে ২৫ হাজার রুপি আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে। | 3 |
শনিবার বেলা তিনটায় সীতাকুণ্ড উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর পথসভা হওয়ার কথা ছিল। এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সভামঞ্চ প্রস্তুত আর সাজসজ্জার কাজও শেষ। সভায় নিরাপত্তা দিতে জেলা থেকে আসা অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নিয়ে সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ সভাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। নেতা-কর্মীরাও আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু দুপুর ১২টায় খবর আসে সীতাকুণ্ডের পথসভা হচ্ছে না। অথচ দুই দিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভক্ত তিনটি পক্ষ একজোট হয়ে সীতাকুণ্ড উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সভামঞ্চ তৈরিসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেছিল। সভা বাতিলের খবর শুনে তাই হতাশ দলের নেতা-কর্মীরা। মূলত সাংসদ দিদারুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভুইয়ার মধ্যে ত্রিমুখী দ্বন্দ্বের কারণে সভাটি হয়নি বলে নেতা-কর্মীদের কথায় স্পষ্ট হয়েছে। জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ ইসহাক দাবি করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংসদকে বাদ দিয়ে পথসভা করতে চায়। এমনকি তাঁর সমর্থিত পাঁচজন চেয়ারম্যান ও একজন মেয়রকেও দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা কেন্দ্রকে জানানো হয়। পরে কেন্দ্র থেকে সভাটি বাতিল করা হয়। সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংসদ দিদারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, 'আমি সভা সম্পর্কে জানি না। মন্ত্রী আমাকে প্রোগ্রাম দেননি। উপজেলা আওয়ামী লীগও আমাকে জানায়নি। সেদিন (গত বুধবার) সভার প্রস্তুতির জন্য জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ ছালাম গিয়েও প্রস্তুতি সভা করতে পারেনি।' এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদসহ সীতাকুণ্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ ছালাম বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে সভা আয়োজনের খরচের কিছু অংশ তাঁকেও (সাংসদ) দিতে বলা হয়েছে। অথচ তিনি বলছেন তিনি জানেন না। সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুনও দায় চাপালেন সাংসদ দিদারুলের ওপর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সভা না হওয়া সীতাকুণ্ডের রাজনীতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ ছালাম প্রথম আলোকে বলেন, ফেনীর পথসভা শেষ করে সীতাকুণ্ডের পথসভায় যোগ দিতে রাত হয়ে যাবে। রাতের বেলায় সীতাকুণ্ডে সভা করতে তাঁরা আগ্রহী নন। তাই কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে সীতাকুণ্ডের সভাটি বাতিল করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার সেকেন্ড অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, পথসভাটির নিরাপত্তা দিতে জেলা পুলিশ লাইন থেকে ৫০ জন অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছিল। এ ছাড়া ছিল গোয়েন্দা পুলিশও। কিন্তু সভা না হওয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। | 9 |
বিএনপি গঠনতন্ত্র থেকে সাত ধারা তুলে দেয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করেছে দাবি মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা নিজেরাই তো নিজেদের মাইনাস করে ফেলেছে। দুর্নীতি না করলে তো আর দণ্ড হতো না। সাহস দেখাতে না পারা, এই ব্যর্থতাই তো তাদেরকে মাইনাস করেছে। তাদের নেগেটিভ রাজনীতির যে ব্যর্থতা, সেই ব্যর্থতাই তাদেরকে মাইনাস করেছে। সরকার মাইনাস করবে কেন?রোববার বিকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন কারও জন্য অপেক্ষা করবে না মন্তব্য করে এ সময় তিনি আরো বলেন, অক্টোবরের আগে বলা যাবে না কে আসবে আর কে আসবে না। তবে আমি এইটুকু বলবো, নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। নির্বাচন স্রোতের মতো কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। কোনো দলের জন্য, কোনো নেতার জন্য নির্বাচন অপেক্ষা করবে না। এর আগে সকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মাইনাস করতে কুটিল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে না আসলে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, বেগম জিয়ার জন্য বিএনপি নির্বাচনে আসবে কী আসবে না, এ নিয়ে বিএনপির নিজেদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ আসতে চাইবে কেউ চাইবে না।কোটা সংস্কার আন্দোলনে মানবন্ধনে ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে কাদের বলেন, ছাত্রলীগের এখন কমিটি নেই। ছাত্রলীগের সম্মেলনের পর এখনো কমিটি ঘোষিত হয়নি। ছাত্রলীগের নামে কেউ কিছু করেছে কিনা এটা আমাকে জেনে বলতে হবে। আমি শিউর না। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, ডা: দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, বি এম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
মাহেন্দ্রের মধ্যে বাঁশ ঢুকে স্বর্ণা খাতুন (২৫) নামে এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছে। রোববার রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের ভীমনগরের কাছে মাহেন্দ্র গাড়ির মধ্যে বাঁশ ঢুকে এ দুঘর্টনা ঘটে। এ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত স্বর্ণা খাতুন বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের মৌকুড়ী গ্রামের রহমান মিয়ার স্ত্রী ও রাজবাড়ী গোল্ডেশিয়া জুটমিলের শ্রমিক। ওই সময় আরো দু'শ্রমিক আহত হয়, তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। বালিয়াকান্দি ইউপি সদস্য বাচ্চু প্রধান বলেন, রাজবাড়ীর গোল্ডেশিয়া জুটমিলের শ্রমিকবাহী মাহেন্দ্রের মধ্যে সড়কের পাশে থাকা বাঁশ ঢুকে এ দুঘর্টনা ঘটে। | 6 |
জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা আমির সিরাজী রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।আমির সিরাজীর বড় ছেলে হাবিব বিন সিরাজী জানান, গত শুক্রবার রাতে তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই রামপুরার বেটার লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।হাবিব বলেন, 'বাবা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। রোববার হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, লাইফ সাপোর্টে থাকলেও আপাতত তিনি শঙ্কামুক্ত।'বরেণ্য এই অভিনেতার বাড়ি গফরগাঁওয়ে। গত শনিবার দুপুরে তাঁর রোগমুক্তির জন্য বিভিন্ন মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়। তাঁর পরিবার আমির সিরাজীর সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া চেয়েছেন।অভিনেতা আমির সিরাজী দীর্ঘ অভিনয়জীবনে সাড়ে ৭০০ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ৭১ বছর বয়সী এই অভিনেতা খলনায়ক হিসেবে চলচিত্রে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি নবাব সিরাজুদ্দৌলা, দেবদাসসহ অসংখ্য যাত্রাপালায় নামভূমিকায় অভিনয় করে মানুষের মন জয় করেছেন। | 6 |
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে গভীর রাতে আঙুর ফল দিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে এক যুবক। তার নাম দেলোয়ার হোসেন (৩৫)। তিনি ফেনীর দাগনভুঞা উপজেলার দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের আবদুল ওহাবের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে অভিযুক্ত যুবক অটোরিকশায় করে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সেতুমন্ত্রীর গ্রামের বাড়ির প্রধান ফটকে হাজির হন। তার সঙ্গে ছিল দেড় কেজি সবুজ আঙুর। তিনি সেখানে কর্তব্যরত পুলিশকে আঙুরের প্যাকেটটি মন্ত্রীর বাড়ির ভেতরে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করলে পুলিশ বিষয়টি দায়িত্বরত এক কর্মকর্তাকে অবগত করেন। ওই কর্মকর্তা তখনই যুবককে আটকের নির্দেশ দিলে তাকে আটক করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। পুলিশ ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে দাগনভুঞা থেকে এক ব্যক্তি তাকে কিছু টাকা ও আঙুরের প্যাকেটটি দিয়ে মন্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলেন।
সমকালের ফেনী দাগনভুঞা প্রতিনিধি জানান, আটক যুবক উপজেলা বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দলের সক্রিয় সদস্য।
মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র মির্জা কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'বিষয়টি আসলে কি তা বুঝতে পারছি না। ফেনীর দাগনভুঞা থেকে এক ব্যক্তি আঙুর ফলসহ ওই যুবককে পাঠিয়েছে বলে জেনেছি।'
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ ফজলে রাব্বি বলেন, 'বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।'
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, 'গভীর রাতে মন্ত্রীর বাড়িতে ফলের প্যাকেট নিয়ে আসার বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। জব্দ করা আঙুর সিআইডির মাধ্যমে রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। এতে বিষাক্ত কিছু রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া কারা, কি উদ্দেশে মন্ত্রীর বাড়িতে এ ফল পাঠালো তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
| 6 |
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারানো স্বামীর পাশে বসে স্ত্রী নাহিদা আক্তার বলেন, 'হাসপাতালে যখন আনা হয়েছিল তাকে অক্সিজেন ছাড়া অনেকক্ষণ রাখা হয়েছিল। আমার স্বামী তখন যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। আমরা বারবার অনুরোধ করার পরও অক্সিজেন লাগানো হয়নি। শেষ দিকে যখন অক্সিজেন লাগানো হয় তখন আমার স্বামী মারা যায়।' আজ রোববার দুপুরে চমেক হাসপাতালে আজকের পত্রিকাকে এসব কথা বলছিলেন নাহিদা আক্তার।শনিবার চমেক হাসপাতালে রাত ৩টায় চিকিৎসাধীন মো. ফরিদ (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। গতকাল শনিবার রাত ১২টা নাগাদ নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন পাহাড়তলী রেলওয়ে স্টেশন জামে মসজিদ এলাকায় হামলার শিকার হন ওই ব্যবসায়ী। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনেন।ফরিদ পাহাড়তলী রেলওয়ে কলোনি এলাকায় একটি গাড়ি ধোয়ার দোকানের মালিক ছিলেন।ফরিদের স্ত্রী নাহিদা বলেন, 'আমার স্বামীকে মারধর করছে এমন খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে পড়ে আছে। অনেকগুলো লোক হাতে বাটন, ছুরি ও নানান অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে রেখেছে। তারা আরও মারতে চাইলে আমি সাথে সাথে গিয়ে আমার স্বামীকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করি। তা না হলে তারা তখনই আমার স্বামীকে মেরে ফেলত। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।'এর আগে নাহিদা বলেন, 'কাল রাতে আমার স্বামী চা খাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে একটি দোকানে গিয়েছিল। তার এক বন্ধু সাথে ছিল। পরে হঠাৎ আলো নামে এক যুবক ঘটনাস্থলে এসে ফরিদের সাথে ভালোমন্দ কথা বলে। সাথে সাথে মোটরসাইকেল নিয়ে চশমা ফারুকসহ আরও অনেকেই সেখানে আসে। তারা এ সময় ফরিদের বন্ধুকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে সেই বন্ধু ফোন করে আমার স্বামীকে মারধরের বিষয়টি জানায়। আমি খবর শুনে বাসায় কাউকে কিছু না বলে দৌড়ে বাজারে গিয়ে স্বামীকে খোঁজাখুঁজি করি।'ফরিদের স্ত্রী বলেন, 'যারা আমার স্বামীকে খুন করেছে তাদের দেখলে আমি চিনব। তারা চাঁদার জন্য আমার স্বামীকে খুন করেছে। তাদের আমি বিচার চাই।' সেই সঙ্গে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করবেন বলে জানান।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. আরিফ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'প্রাথমিক তথ্যে যা পাওয়া গেছে তাতে মনে হয়েছে চাঁদা না দেওয়ার বিষয় নিয়ে পূর্বশত্রুতার জের ধরে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করেছে। নিহত ব্যক্তির একটি গাড়ি ধোয়ার দোকান ছিল। দোকানটির জন্য স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের পর স্থানীয় কিছু লোক ফরিদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। ফরিদ চাঁদা না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেয়। এর জের ধরে গত শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ফরিদের ওপর হামলা হয়। পেটানোর পাশাপাশি ফরিদের বুকে ছুরিকাঘাতও করা হয়েছে।'এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, 'পুলিশ এ ঘটনায় কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে ও বাকিদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।' | 6 |
পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি মাসের ১১ থেকে ১২ তারিখ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া এ বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রী রণজিৎ কুমার, চেয়ারম্যান উপদেষ্টা পরিষদ, জিসিএনইপি ও প্রধান, এনসিপিডব্লিউ, ডিএই এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন মো আলী হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (এনপি), বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।আজ শুক্রবার ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে চলমান সহযোগিতায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে নিয়োজিত ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা যে সেবা দিচ্ছেন, তার জন্য বাংলাদেশের পক্ষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। উভয় পক্ষই ক্যানসারের যত্ন, পারমাণবিক ওষুধ এবং খাদ্য সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে বিকিরণ প্রযুক্তির সামাজিক প্রয়োগে সহযোগিতার জন্য তাঁদের ইচ্ছার কথা জানিয়েছে।বৈঠকটি ফলপ্রসূ ছিল। এ বৈঠকে স্বাস্থ্য, কৃষি, জল বিশুদ্ধকরণ, নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করা হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। | 6 |
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে পরীক্ষা পূর্ব ঘোষিত তারিখ থেকে প্রায় দুই মাস পিছিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নতুন তারিখ অনুযায়ী চারুকলা অনুষদভুক্ত চ ইউনিটের পরীক্ষা ৩১ জুলাই, বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ক ইউনিটের পরীক্ষা ৬ আগস্ট, কলা অনুষদভুক্ত খ ইউনিটের পরীক্ষা ৭ আগস্ট, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত গ ইউনটের পরীক্ষা ১৩ আগস্ট এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ঘ ইউনিটের পরীক্ষা ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। | 1 |
চোটের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সম্প্রতি লন্ডনে অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফিরেছেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে এখন অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি।ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে সামনে রেখে নিজেকে প্রস্তুত করছেন সাইফউদ্দিন। গত ৩-৪ মাসে চোটের সঙ্গে লড়াই নিয়ে তিনি জানালেন, 'মানুষের জীবনে কখন কী ঘটে বলা মুশকিল। গত ৩-৪ মাস পিঠের চোট নিয়ে অনেক চিন্তিত ছিলাম। পুনর্বাসন শেষ করে এখন ঠিক হয়েছি। ফেনী থেকে আসার আগে সিঁড়ি দিয়ে হাঁটছিলাম অন্যমনস্ক হয়ে, কাঁধে একটু ব্যথা লাগে। এখন একটু ভালো। আমরা পেস বোলার যারা আছি, ছোট কোনো ভুলের কারণে চোটে পড়ে যেতে পারি।'আপাতত সাইফউদ্দিনের ভাবনায় নেই জাতীয় দল। তবে চোটে থাকার সময় জাতীয় দলের কোচরা খবর রাখেনি বলে জানিয়েছেন তিনি, 'এখন আমি জাতীয় দলে নেই। জাতীয় দল নিয়ে তাই ভাবছিও না। যখন ফিরব তখন ভাবব। গত পাঁচ মাস মাঠের বাইরে ছিলাম। জাতীয় দলের কোচিং ম্যানেজমেন্ট থেকে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। আমি নিজ থেকে আসলে কী বলব? যদি দল মনে করে, আমার প্রয়োজন, তখন আমি জাতীয় দল নিয়ে কথা বলব।'এ মাসে শুরু হওয়া ডিপিএলে আবাহনীতে খেলবেন সাইফউদ্দিন। তাঁর ভাবনাজুড়ে তাই এখন শুধু আবাহনী। ফিট থেকে ভালো কিছু করতে চান জানিয়ে তিনি বলেছেন, 'আপাতত লক্ষ্য প্রিমিয়ার লিগে ভালো খেলা। পারফরম্যান্স এবং চোটের ওপর কারও হাত নেই। কেউ জোর গলায় বলতে পারবেন না, চোটে পড়ব না। ফেরার জন্য প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে হবে। বাকিটা ভাগ্যের হাতে। ইনজুরির জন্য ৭-৮ মাস মাঠের বাইরে ছিলাম। আবার আসবে না এটা কেউ বলতে পারবে না।' | 12 |
বিশ্বের সবধরনের সংঘাতেই সবসময় নিরপেক্ষ থাকা ইউরোপীয় দেশ সুইজারল্যান্ড নিজের 'নিরপেক্ষ' অবস্থান ত্যাগ করছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপ করা সব নিষেধাজ্ঞাই প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। সোমবার সুইস ফেডারেল কাউন্সিলের এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ইগনাজিও ক্যাসিস। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে রুশ বিমানের জন্য সুইজারল্যান্ডের আকাশসীমা নিষিদ্ধ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভসহ ইইউর তালিকায় থাকা ৩৩৬ রুশ নাগরিকের সম্পদ জব্দ করা হবে বলে জানান তিনি। ক্যাসিস বলেন, 'এটি সুইজারল্যান্ডের জন্য নজিরবিহীন এক পদক্ষেপ, যে আগে সবসময়ই নিরপেক্ষ ছিলো।' তিনি বলেন, 'রাশিয়ার আক্রমণ স্বাধীনতার প্রতি, গণতন্ত্রের প্রতি, বেসামরিক মানুষের প্রতি এবং এক স্বাধীন দেশের সংস্থাগুলোর প্রতি। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, রাজনৈতিকভাবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে এবং নৈতিকভাবেও তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।' এর আগে বৃহস্পতিবার পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সহায়তায় রুশ স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে পূর্ণমাত্রায় অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর জেরে সোমবার বিদ্রোহীদের দুই রাষ্ট্র 'দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক' ও 'লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক'কে স্বীকৃতি দিয়ে শান্তি রক্ষায় ওই অঞ্চলে সৈন্য পাঠায় রাশিয়া। পরে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার অভিযানের নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের রাশিয়ার হামলার জেরে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সূত্র : বিবিসি ও সিএনএন | 3 |
করোনাভাইরাসের বিরূপ সময়েও বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, করোনা মহামারির মধ্যে যখন সবাই ঘরবন্দি হয়েছেন তখনও অনলাইনে সরকারি-বেসরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আদালত বন্ধ থাকলেও চলেছে বিচারকাজ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও না খুললেও বন্ধ হয়নি লেখাপড়া। এর সবই সম্ভব হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার কারণে। 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' না হলে এখন কী পরিস্থিতির মধ্যে দেশবাসীকে পড়তে হত? শনিবার রাতে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত 'ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ১২ বছর' শীর্ষক এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ জয় এসব কথা বলেন। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার অনুযায়ী গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর রূপকল্প বাস্তবায়ন করে বর্তমানে যে অবস্থায় নিয়ে এসেছে তারই সুফল মহামারিকালে পাচ্ছে দেশবাসী। তিনি বলেন, এই যে ভিন্ন ধরনের একটা বছরে আমরা বাস করছি। এই ২০২০ সালের শুরুতেই বলতে হয় মহামারির কাহিনী। আজ যদি ডিজিটাল বাংলাদেশ না থাকত আমাদের কী অবস্থা হত? আওয়ামী লীগ সরকার, আইসিটি ডিভিশন অনলাইন কাজ করার প্রস্তুতি আমরা এই গত ১২ বছর ধরে নিচ্ছি। শুধু মহামারি যে হবে, এটা তো কেউ জানত না। আমাদের স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে আমরা ডিজিটালাইজড হবো। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ বলেন, আমরা ৪০ হাজারের উপর মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বানিয়েছি। আমরা আমাদের সরকারি কার্যক্রম যাতে অনলাইন সিস্টেমে চলে যায়, তার জন্য আমরা একটা ই-নথি সিস্টেম আবিষ্কার করেছি। আমরা ২০ হাজারের ওপর সরকারি অফিসকে কানেকশন দিয়েছি। যখন এই মহামারি আরম্ভ হয়, দুই মাসের মধ্যে আমাদের দেশকে বন্ধ করে দিতে হয়। তবে আমাদের সরকারি কার্যক্রম কিন্তু থেমে নেই। তখন আমরা সম্পূর্ণ ই-নথিতে চলে যাই। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে চলে যাই। তিনি বলেন, এই যে ডিজিটাল সিস্টেম আমরা করেছি, তাতে আমাদের দেশ চলতে থাকে। কোনো বাধা পড়ে না। ই-জুডিশিয়ারি সিস্টেমের কার্যক্রমও অতি শিগগিরই সম্পন্ন করা হয়, যাতে আদালতের কার্যক্রমও থেমে যায় না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সজীব ওয়াজেদ সে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে এগিয়ে রাখেন বাংলাদেশকে। তিনি বলেন, আমি যে দেশে আছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রৃ তারা এখন আবার লকডাউনে সব বন্ধ করে দিচ্ছে, কারণ কোভিড এখনও বাড়ছে এখানে। এদেশে, বিশ্বের সব থেকে ধনী দেশে আড়াই লাখের ওপর মানুষ প্রাণ হারিয়েছে কোভিডে, কল্পনা করা যায় না। সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ৬ হাজার। ৬ হাজার প্রাণ যে হারানো হয়েছে, এটাও দুঃখের বিষয়। আমরা তাও চাই না। তবে এই তুলনাটা করে দেখেন। যারা মনে করে, আমরা একটা দরিদ্র দেশ, আমরা কিন্তু দরিদ্র দেশ না। আমরা কী পর্যায়ে এগিয়ে আছি, এ রকম মহামারির মধ্যে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিসংখ্যানে শেষমেষ দেখা যাচ্ছে, দুদিন আগে যে সংখ্যা দিয়েছে, আমাদের অর্থনীতি মহামারির মধ্যেও ৭ শতাংশ বেড়েছে। সেখানে যদি তুলনা করেন ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এদের অর্থনীতি ১০ শতাংশ কমে গেছে। সেখানে বাংলাদেশে ৭ শতাংশ আমরা এগিয়ে গেছি। জয় বলেন, এটা সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণে। এটা সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনায়। আমরা এমন কোনো ক্রাইসিস নেই, যেটা আমরা মোকাবিলা করতে পারি না। কারণ আমাদের সরকারের, আমাদের নেতৃত্বের, আমাদের দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস আছে, যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবেলা করতে পারব। আমরা যে কোনো জিনিস, যেটা আমরা করতে চাই, সেটা আমরা বাস্তবায়ন করে ছাড়ব। আমরা নিজেরাই পারি, নিজেদের মেধায় পারি, নিজেদের পরিশ্রমে পারি, আমাদের কারও কাছে হাত পেতে থাকতে হয় না। দেশে এখন প্রায় ১২-১৩ কোটি নাগরিক ইন্টারনেট ব্যবহার করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক কেবল সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা বাড়ানো হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে ফাইভ-জি চালু করা। আমরা ডিজিটালের ক্ষেত্রে কোনো দিকে পিছিয়ে নাই। আমরা মহাকাশ জয় করেছি, আমরা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠিয়েছি, আমাদের দেশে টেলিকমিউনিকেশনের কানেকশন দিচ্ছে। এটা কিন্তু কেউ কল্পনা করতে পারে নাই। তবে এটার লাভটা কী? লাভটা তরুণরা বুঝছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, তরুণ-তরুণীদের আরও একটি কথা বলতে চাই-আমাদের কাছে তারা সব সময় দাবি করে কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থান শুধু তোমাদের করে দিচ্ছি না, তোমাদের নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার সুযোগ করে দিয়েছি। আজকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় পজিশনে আছে ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে। আজকে আইসিটির ৪১টি হাইটেক পার্ক করেছি, সেখানে আমাদের দেশি কোম্পানিগুলো গত বছর ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। আমরা কিন্তু প্রত্যেক বছর হাজার হাজার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি আইসিটি বিভাগ থেকে। গত ৭-৮ বছর ধরে করে যাচ্ছি। গ্রামে বসে কিন্তু একটা ছেলে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং করে মার্কিন ডলার আয় করছে। সে টাকা পেপাল ও জুম এর মাধ্যমে মিনিটে পৌঁছে যাচ্ছে। ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে তাদের যেন সমস্যা না হয় সেজন্য তাদের ফ্রিল্যান্সিং কার্ডও করে দিয়েছি। তিনি বলেন, আগামী চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি খাতে নতুন কিছু আবিষ্কার করবে, তারা নেতৃত্ব দেবে-এটাই তার স্বপ্ন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, মাইক্রোপ্রসেসর এই খাতগুলোতে নতুন কিছু আবিষ্কার করবে বাংলাদেশ- এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি। তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে ও একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরীর সঞ্চালনায় এই ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম। | 6 |
বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বাংলাদেশ নামে একটি সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ হবে। একটি স্বাধীন দেশ। একটি পতাকা। লাল-সবুজ সে পতাকার রং।স্বাধীনতার সেই স্বপ্নের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১। ২৪ বছরে একটু একটু করে বাঙালির প্রতি পাকিস্তানিদের শোষণ, আর বঞ্চনা ক্ষোভের আগুনে পরিণত হয়েছে। সেই ক্ষোভ শক্তিতে রূপান্তর হয়েছে নিমেষেই। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর অগ্নিঝরা সেই ভাষণ স্বাধীনতাকামী বাঙালিকে স্বাধীনতার দীক্ষা দিয়েছিল প্রবলভাবে। হাতে অস্ত্র নেই, কিন্তু মনে ভীষণ জেদ। বুকে বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বান-'মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব...।'নয় মাস ধরে পাকিস্তানি হানাদারদের বীভৎস অত্যাচার সহ্য করেছে বাঙালিরা। চোখের সামনে হারিয়েছে অজস্র তাজা প্রাণ। কিন্তু পিছু হটেনি। শোক পরিণত হয়েছে শক্তিতে।বঙ্গবন্ধু বাংলা দিয়ে গেছেন। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পর্যাপ্ত সময় তাঁকে দেওয়া হয়নি। ১৯৭৫-এর আজকের এই দিনের করুণ কাহিনি সবার জানা। স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু নেই, তাও প্রায় ৪৬ বছর হয়ে গেল।বঙ্গবন্ধু মাথা উঁচু করে বাঁচার প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেশের রাজনীতিতে এসেছে অনেক টানাপোড়েন। বুটের আঘাতে বারবার ছিন্নভিন্ন হয়েছে গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্র এখনো হারিয়ে খুঁজছে বাংলার মানুষ।২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটা নতুন শব্দ ব্যবহার করেছিল। ডিজিটাল বাংলাদেশ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে সেই থেকে দেশে নানা কর্মযজ্ঞ চলছে। দ্রুততম সময়ে সবার ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত দেশের বাজারে হু হু করে বেড়েছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, ডেস্কটপের চাহিদা।এ কথা অনস্বীকার্য, হঠাৎ করে এই ইন্টারনেট বিপ্লব দেশের অগ্রগতিতে একটা নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই যেমন, অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল হয়ে দেশের টিভি চ্যানেলগুলো তাদের লোগোর পাশে লেখা শুরু করল 'এইচডি'। দেশে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হলো ফেসবুক ও ইউটিউব। ফেসবুক ও ওয়েব প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে শুরু করল বাণিজ্য। বিজ্ঞাপনের বাজার দখল করল ওয়েব। নতুন অনেক পেশার সৃষ্টি হলো। ফ্রিল্যান্সিং, ওয়েব ডেভেলপার, ইউটিউবার, ফেসবুকার, ব্লগার, ভ্লগার, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে ডেটা ইঞ্জিনিয়ার, কত রকম নতুন পেশা!প্রায় হারিয়েই গেল দোকানে দোকানে টিঅ্যান্ডটি ফোন, ফ্যাক্স আর চিঠি লেখা। হারিয়ে না গেলেও কমে গেল বাড়িতে বসে টেলিভিশনে আলিফ লায়লা দেখা কিংবা রেডিওতে হারানো দিনের গান শোনা। এটাই হওয়ার কথা অবশ্য। যত দিনে ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা এসেছে, তার অনেকে আগেই উন্নত বিশ্ব ইন্টারনেটকে অবলম্বন করে বাঁচা শুরু করেছে। মানুষের কাজ করা শুরু করেছে রোবট। আজকাল তো ঘরে বসেই সব অর্ডার করা যায়। পছন্দমতো খাবার, গয়না, পোশাক, সবজি, মাছ, মাংস অর্ডার দিলেই চলে আসে দুয়ারে। টাকা পাঠানো যায় মোবাইল ফোন দিয়েই। আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইটও হয়েছে। সেটিও অবিনশ্বর বঙ্গবন্ধুর নামেই।সাইবার প্রযুক্তি মানুষের হাতে হাতে যাওয়ার সুফল পাচ্ছে দেশ। ঘরে বসেই করোনাভাইরাসের টিকার জন্য নিবন্ধন করছে মানুষ। বিপদে পড়লে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাস হয়ে উঠছে জীবন বাঁচানোর অবলম্বন। মানুষ অপ্রয়োজনীয় জিনিস ইচ্ছে হলেই বেচে দিতে পারছে অনলাইনে। মাছের ন্যায্য দাম পাচ্ছে চরফ্যাশনের নিভৃতপল্লিতে বসা জেলেরাও।আজকাল রান্না শেখার জন্য হাপিত্যেশ নেই মানুষের। ইউটিউব জানিয়ে দিচ্ছে ঘরে বসেই পিৎজা তৈরি করে ফেলা যায়। এমনকি চুলায়ও। কোথাও যাওয়ার আগে দেখে নেওয়া যাচ্ছে সেই এলাকার সব তথ্য। লোকেশন দেখে সহজেই অচেনা জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে গাড়ি। এখন আর কাউকে পাড়ার মোড়ে চায়ের দোকানে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করতে হয় না, 'চাচা, করিম মাস্টারের বাড়িটা কোথায়?'এখন গন্তব্য সবার জানা। সবাই সব দেখতে পারে। দেখার ও জানার সেই উন্মুক্ত জানালা দিয়ে আলো-বাতাসের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে পোকামাকড়ও আসছে। সাইবার পৃথিবীর সঙ্গে জন্ম হয়েছে সাইবার অপরাধীরও।ইন্টারনেটে তথ্য চুরি, গুজব ছড়ানো, ব্ল্যাকমেলিং, পাসওয়ার্ড হ্যাকিং ইত্যাদি নানা অপরাধ এখন নিয়মিত বিষয়। ইন্টারনেট তাই স্বস্তির সঙ্গে নিয়ে এসেছে অস্বস্তিও। এ যেন নতুন আরেক লড়াই।ডিজিটাল বাংলাদেশ তো হলো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর আরও আধুনিকায়ন হবে, সেটিও নিশ্চিত করেই বলা যায়। তবে এখন বড্ড প্রয়োজন একটি নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ। সময় এখন দেশের সকল মানুষকে ইন্টারনেটের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করা। মানুষ সচেতন হলেই কেবল ইন্টারনেটের প্রগতিকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ইন্টারনেটের হাত ধরে বাংলাদেশ হাঁটবে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে, যে স্বপ্নটি দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। | 8 |
স্বামী ছিলেন বাংলাদেশের এক নম্বর তারকা। তবু খায়রুন্নেসা লক্ষী নিজে সব সময় আড়ালেই থেকেছেন। নায়করাজ রাজ্জাকের জীবনের সব বাঁক কাছ থেকে দেখেছেন লক্ষী। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। ১৯৬৪ সালে কলকাতা ছেড়ে যখন এ দেশে আসেন নায়করাজ, তখন বড় ছেলে বাপ্পারাজের বয়স আট মাস। একটি অনিশ্চয়তা সবার চোখে-মুখে। এরপর নায়করাজের অভিনেতা হিসেবে উত্তরণ এবং নায়করাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। জীবনসঙ্গী হিসেবে শুরু থেকেই ছায়ার মতো ছিলেন লক্ষী। রাজ্জাক তুমুল ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আর বাচ্চা ও ঘরসংসার সামলাতে লাগলেন লক্ষী। চার বছর হলো নায়করাজ আর নেই। তাকে ছাড়া কেমন আছেন লক্ষী? কণিষ্ঠ ছেলে সম্রাট বলেন, 'আম্মা সুস্থ আছেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও সন্তান ও নাতি-নাতনিরা মিলে চেষ্টা করি তাঁকে প্রফুল্ল রাখতে। মেজোজন বাপ্পী বিদেশে থাকে। আব্বা যেভাবে রেখে গেছেন সেভাবেই আছি আমরা। ওই সিদ্ধান্ত, ওই নিয়মকানুন এখনো আছে। আমি আর সম্রাট বউ-বাচ্চাদের নিয়ে আছি মায়ের কাছে।' বাপ্পারাজের সন্তানদের জন্মের সময় রাজ্জাকের তুমুল ব্যস্ততা। যখন অবসর মিলল তখন কনিষ্ঠ ছেলে সম্রাটের মেয়ে আরিশা ও আরিবা ছোট ছোট। সেই সুবাদে সম্রাটের দুই মেয়ের খেলার সাথি হয়ে উঠেছিলেন রাজ্জাক। জীবনের শেষ সময়টা রাজ্জাকের প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠেছিল নাতি-নাতনিরাই। তারা ভীষণ মিস করে। সম্রাট বলেন, 'আমার ছোট মেয়ের সঙ্গে বেশি অ্যাটাচমেন্ট ছিল আব্বার। ও তো সবার ছোট ছিল। প্রায়ই মনে করে। যখন আপসেট হয়, তখন দাদির কাছে গিয়ে বসে থাকে। দাদাকে নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন করতে থাকে। প্রতি সন্ধ্যায় আমার এক মেয়ে আব্বার চুল আঁচড়ে দিত, আরেক মেয়ে ম্যাসাজ করে দিত। আব্বা কোথাও গেলে ওদের হরেক রকম আবদার থাকত। আব্বাও ওদের জন্য গিফট নিয়ে আসতেন। প্রায়ই ওদের কোলে নিয়ে বসে থাকতেন আব্বা। আমরা শাসন করলেও আব্বা ওদের ডেকে বুকে জড়িয়ে নিতেন।' একটা সময় হইচই আর মানুষের আনাগোনায় ভরে ছিল লক্ষীকুঞ্জ। কত সিনেমার জন্ম এই গুলশান-২-এর লক্ষীকুঞ্জে। সেই দিনগুলো ভীষণ মিস করে এই পরিবার। সম্রাট বলেন, 'আব্বার সমসাময়িক অনেকেই নেই। কবরী আন্টি চলে গেলেন, শাবানা আন্টি বিদেশে, ববিতা আন্টির সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হয়। আব্বা বেঁচে থাকতে ওনাদের ডাকতেন। আড্ডা হতো। আব্বাও যেতেন, খোঁজখবর নিতেন। পরিবারের একটা অ্যাটাচমেন্ট ছিল। তার মধ্যে করোনার কারণে দুই-আড়াই বছর সবাই সবার থেকে দূরে দূরে।' এখন আর তেমন বাইরের মানুষের আনাগোনায় মৌ মৌ করে না এই লক্ষীকুঞ্জ। ছোট্ট নাতনিদের কোলে নিয়ে বসে থাকেন না নায়করাজ। ভুল হলে ধমক দিয়ে শুধরে দেওয়ার সেই মানুষটার অভাবে শুধুই শূন্যতা চারদিকে। | 2 |
ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনে দুর্দান্ত একটি সেশন শেষ করলো টাইগাররা। স্পিনাররা ক্যারিবীয় শিবিরে ত্রাস সৃষ্টি করে শিকার করে নিয়েছেন নয়টি উইকেট। তিন স্পিনার সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামই দাপট দেখিয়ে চলেছেন। সকালে ৫ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে ক্রিজে আসেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ব্যাটসম্যান সিমরন হেটমিয়ার ও শন ডোরিচ। কাল ৪৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দিন শেষ করেছিলেন এই জুটি। কিন্তু আজ এই জুটির ভাঙন ধরান মিরাজ। শুরুতেই সাজঘরে ফেরান হেটমিয়ারকে। এরপর ত্রাস সৃষ্টি করে আরো তিনটি উইকেট শিকার করে নেন এই তরুণ স্পিনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে কফিনে পেরেক ঠুকেন সাকিব। ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। প্রথম ইনিংসের উইকেট ভাগাভাগি করে নেন সাকিব আর মিরাজ। একাই সাতটি উইকেট শিকার করেন মিরাজ। আর তিনটি সাকিব। ফলোঅনে পড়ে আবার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু স্পিনারদের দাপট তখনো অব্যাহত। ক্রিজে টিকে থাকাটাই মুশকিল হয়ে উঠে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রথম ওভারের শেষ বলে আঘাত হানেন সাকিব। সাজঘরে ফেরান ওপেনার ক্রেইগ ব্রেথওয়েটকে। এর পর দ্বিতীয় উইকেটটি শিকার করেন মিরাজ। বিদায় করেন আরেক ওপেনার কাইরন পাওয়েলকে। এই দুই স্পিনারের রাজত্বে ভাগ বসাতে আসেন তাইজুল ইসলাম। জোড়া আঘাত হেনে সাজঘরে ফেরান সুনিল অ্যামব্রিস ও রস্টোন চেজ। এখন মধ্যাহ্নের বিরতি চলছে। ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৪৬ রান। | 12 |
জালালাবাদ থানার ডিসেম্বর মাসের 'ওপেন হাউস ডে' গত বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ।উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শফিকুল ইসলাম, উপকমিশনার (উত্তর) মো. আজবাহার আলী শেখ পিপিএম, জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা খাঁন, জালালাবাদ থানার ১ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উবাইদুল ইসহাকসহ বিভিন্ন বিট এলাকার কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিরা। | 6 |
মুজিববর্ষ উপলক্ষে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল "দুরন্ত মাউন্টেন বাইক প্রতিযোগিতা"। শনিবার (২০ নভেম্বর) সকালে জেলার রাজার মাঠে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের আয়োজনে ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সহযোগিতায় এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন উড়িয়ে মাউন্টেন বাইক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এবারের মাউন্টেন বাইক প্রতিযোগিতায় ১০০ জন সাইক্লিস্ট অংশ নেন। রাজার মাঠ থেকে শুরু করে ১০০ কিলোমিটার পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিয়ে নীল-দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্র হয়ে মিলনছড়িতে এসে এই প্রতিযোগিতার সমাপ্তি হয়। পরে বিকেল ৩টায় রাজার মাঠে এক সমাপনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। মাউন্টেন বাইক প্রতিযোগিতায় প্রথম হন রাকিবুল হাসান, দ্বিতীয় সায়েম মাহমুদ আর তৃতীয় স্থান অর্জন করেন শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠানে ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড এর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জিয়াউল হক, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. লুৎফুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাজিম উদ্দিন, বাংলাদেশে সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাহের উল আলম চৌধুরী, পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বাংলাদেশে সাইক্লিং ফেডারেশনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.