content stringlengths 0 129k |
|---|
ত্যাগও সে কম করেনি |
মানুষের কাপড় সেলাই করে যে টাকা উপার্জন করেছে, তার সবটাই বটগাছ লাগাতেই ব্যয় করেছে সে |
কারও কাছে হাত পাতেনি ইদ্রিস |
তার টাকাতেও কেউ ভাগ বসায়নি |
সে বার ইদের আগে অনেক রাত করে বাড়ি ফিরছিল ইদ্রিস |
রাস্তায় পথ আটকে ছিল ছিনতাইকারীরা |
কিন্তু তাকে চিনতে পেরেছিল তারা |
ফলে সামান্য ক্ষতিও করেনি ওরা |
ইদ্রিস আলী আজও ওদের চেনে না |
কেউ একজন পাশ থেকে বলেছিল, গাছপাগলারে ছেড়ে দে |
সেই কণ্ঠটাও বুঝতে পারেনি ইদ্রিস আলী |
নতুন হাটে গাছ লাগাতে লাগাতে দুপুর গড়িয়ে গেল |
তারপর বাড়ির পথে পা বাড়াল |
চলতে চলতে ভাবল, রামুদের হোটেলে দুটো রুটি খেয়ে যাওয়াই ভালো হবে |
প্রতিদিন দুপুরে বড় বাজারের রামুদের হোটেলেই ডাল দিয়ে দু-খানা রুটি খায় ইদ্রিস আলী |
আজও খেয়েই ফিরবে সে |
তবে এখান থেকে বড় বাজারে যেতে চিথুলিয়ার মোড় ঘুরে যেতে হবে |
সে পথেই পা বাড়ায় ইদ্রিস |
দ্রুত হাঁটে |
গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ |
পথের দূরত্বও কম না |
হাঁটতে থাকে সে |
মাইলের পর মাইল হাঁটার অভ্যেস আছে তার |
তাতে কষ্ট হয় না |
কষ্ট হয় যখন দেখে, অনেক ফাঁকা জায়গা পড়ে আছে |
যেখানে গাছ লাগানো যেত |
কিন্তু সেদিকে কারও খেয়াল নাই |
যার যার জীবন সংসার নিয়েই মহাব্যস্ত সবাই |
তারা আসলে বুঝেও বোঝে না |
গাছপালা কমে যেতে যেতে একদিন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে |
দীর্ঘ খরা আসবে |
প্রবল বন্যা হবে |
অতি বৃষ্টিতে ভেসে যাবে সব |
কিংবা বহুদিন অপেক্ষা করতে হবে তুমুল বৃষ্টির জন্য |
গাছ লাগানো ছাড়া এ বিপদ থেকে রক্ষার পথ নাই |
এখনও সে কথা মাথায় ঢুকছে না মানুষের |
চিন্তায় অন্ধকার দেখে ইদ্রিস আলী |
চিথুলিয়ার মোড় পার হয়েই থমকে দাঁড়ায় ইদ্রিস আলী |
রাস্তার টং দোকানের পাশেই তার লাগানো বটগাছ |
বিশাল ছাতার মতো দাঁড়িয়ে আছে |
অনেকদিন আসা হয় না এ পথে |
গাছটা বেশ বড়ই হয়ে গেছে |
এতো বড় যে, ইদ্রিস আলী দেখে অবাক হয়ে যায় |
সেই সাথে ভয়ানক একটা ব্যথা বুকের ভেতর টের পায় |
বটবৃক্ষের ডালে বড় বড় পেরেক ঠুকিয়ে বিলবোর্ড লাগিয়েছে দোয়াপ্রার্থী এক নেতা |
এই মুহুর্তে পেরেকগুলো যেন ইদ্রিস আলীর বুকের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে |
ব্যথায় কুঁকরে উঠছে সে |
বটগাছের নিচে শিকড়ের ওপর বসে পড়ে ইদ্রিস আলী |
কিছুক্ষণ ভাবে |
তারপর শুরু করে অনশন |
ঢং দোকান থেকে লোকজন এগিয়ে আসে |
ইদ্রিস সবাইকে জানিয়ে দেয়, বটবৃক্ষের ডাল থেকে পেরেক না উঠালে এখান থেকে সরবে না সে |
এ খবর চলে যায় সেই নেতার কাছে |
নেতার লোকজন আসে |
কথা কাটাকাটি চলে বেশ সময় ধরে |
ইদ্রিস তাদের বোঝাতে চায়, গাছেরও জীবন আছে |
স্যার জগদ্বীশ চন্দ্র বসু তা প্রমাণ করেছেন |
ইদ্রিসের কোনো কথা শুনতে চায় না তারা |
'গাছেরও জীবন আছে' এ কথা অট্টহাসি দিয়ে উড়িয়ে দেয় |
এক পর্যায়ে তারা জোর করে সরিয়ে দিতে চায় ইদ্রিসকে |
তখন শরীরের সব শক্তি দিয়ে গর্জে ওঠে ইদ্রিস |
ইদ্রিসকে তারা চেনে |
বহুদিন ধরে দেখে আসছে |
কিন্তু এই গর্জন তারা দেখেনি কোনোদিন |
পিছু হটে চলে যায় নেতার লোকজন |
ঠাঁয় বসে থাকে ইদ্রিস আলী |
হঠাৎ এক ফোটা পানি এসে পড়ে তার মুখের ওপর |
চমকে ওঠে সে |
বটগাছটা কাঁদছে! কষ্টে বুক ভারী হয়ে ওঠে তার |
ইদ্রিস জানে, গাছেরা পাতার মধ্যে রান্না-বান্না করে |
আর সেই খাবার খেয়ে তারা বেড়ে ওঠে |
শিকড় দিয়ে শোষণ করা পানি, সূর্যের আলো আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিশিয়ে চলে তাদের রান্নার কাজ |
রান্না শেষে অতিরিক্ত পানি তারা ফেলে দেয় |
পত্ররন্ধ দিয়ে তাই ফোটা ফোটা পানি মাঝে-মধ্যে ঝরে পড়ে |
গ্রামের অজানা মানুষগুলো এটাকে ভূতের থুথু অথবা প্রসাব বলে ভয় পায় |
পরপর আরও দু-ফোটা পানি পড়ে ইদ্রিস আলীর গায়ে |
কষ্টটা তার আরও বেড়ে যায় |
খবর পেয়ে তিনজন সাংবাদিক আসে |
ইদ্রিস আলীর সাক্ষাৎকার নেয় |
বিলবোর্ডগুলোর ছবিও তোলে |
লোকজন জড়ো হয়েছে অনেক |
ভোটপ্রার্থী নেতাও আসে |
অবস্থা বেগতিক দেখে নিজেই ক্ষমা চেয়ে নেয় ইদ্রিস আলীর কাছে |
তার লোকজনকে বিলবোর্ড খুলে ফেলার আদেশ করে |
কিছুক্ষণ আগে ইদ্রিস আলীর সাথে খারাপ ব্যবহার করা লোকগুলো মাথা নিচু করে বিলবোর্ড খোলে |
দোয়াপ্রার্থী নেতা কথা দেয়, আর কখনো গাছে পেরেক ঠুকে বিলবোর্ড লাগাবে না |
কাউকে লাগাতেও দিবে না |
সবার সামনে সে পাকা কথা দেয় |
সে কথায় অনশন ভঙ্গ করে ইদ্রিস আলী |
কিন্তু তার চোখে ভেসে ওঠে অসংখ্য গাছ |
গাছের সাথে লাগানো বিলবোর্ড |
অসংখ্য পেরেক যেন তীরের বেগে ধেয়ে আসছে |
ইদ্রিস আলীর চোখের দিকে |
"সরকারের আনা করোনা ভ্যাকসিনের প্রতি আস্থা নেই বলে চিৎকার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছিলেন যারা, তাদের মধ্যে থেকে প্রথম সারিতেই ভ্যাকসিন নিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা |
" এরকম শিরোনামের একটি তথ্য আজ বিকেল হতে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি হতে ভাইরাল করা হচ্ছে |
এমন ভাইরাল কিছু ফেসবুক পোস্টের আর্কাইভ সংস্করণ দেখুন এখানে এবং এখানে |
ফ্যাক্ট চেক |
দেশে করোনা টিকা প্রয়োগের দ্বিতীয় দিনে দুই প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও চিকিৎসকসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বাস্থ্য কর্মীকে টিকা প্রদান করা হয়েছে |
এর মধ্য থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. শামীমা আক্তারের করোনা টিকা নেয়া সময়কার একটি ছবিকে বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.