content
stringlengths
0
129k
স্থানীয়রা পাথর উত্তোলণের বাধা দিলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী চক্রের হুমকিতে পাথর উত্তোলণ বন্ধ করা যাচ্ছে না
বছরে অক্টোবর মাস হতে শুরু করে জুন মাস পর্যন্ত চলে পাথর উত্তোলণ
অন্যদিকে পাহাড়ে উপর আম, কাজুবাদাম, কলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের বাগানে কৃষকরা পানির অভাবে বাগানে ঔষধ স্প্রে করতে পারছেন না
যার দরুন এলাকার মানুষের আয় উপার্জনও দিন দিন কমে এসেছে
পাহাড়ে খেতে খাওয়ার কৃষক শ্রেনি সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা উপর চরম দুর্বিসহ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা
উপজেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যর্পূন এক একটা ইউনিয়ন এলাকায় দর্শণীয় স্থান রেমাক্রি মুখ,নাফাকুম, ঙাক্ষ্যং খাল, আমিয়াখুম, বেলাখুম, সাতভাইখুমসহ আশে পাশে ঝিড়িগুলো হতে পাথর উত্তোলণ চলমান রয়েছে
সদর ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড এলাকা কাইতং পাড়া, বোডিং পাড়া, কংহ্লা পাড়া, চমি পাড়া, লাকপাইক্ষ্যং পাড়া,হাব্রু হেডম্যান পাড়া, চংরই পাড়া আশে পাশে এলাকার ঝিড়ি গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে
পাথর উত্তোলণের কারনে এই সমস্ত পাড়ার উপরে বিরোধ প্রভাব পরেছে
আইলমারা ঝিড়ি, বালু ঝিড়ি, মাংগই ঝিড়ি, শিলা ঝিড়ি ও নাইক্ষ্যং ঝিড়ির পাথর উত্তোলনের কারনে ইতোমধ্যে পানি অভাবে পার্শ্ববর্তী অনিল, কমলা বাগান মারমা, ত্রিপুরা, চাকমা, ডাকছৈ, সাখৈ, মেরোওয়া ও হয়তং পাড়া জনসাধারণের মাঝে দুর্বিসহ হয়ে উঠছে
পাথর খেকোদের হাত থেকে রেহাই পাইনি চয়ক্ষ্যং ঝিড়ি, সালোকক্যা ঝিড়ি, থাংদয় ঝিড়ি, পদ্ম ঝিড়িসহ শতাধিক ঝিড়িগুলো
প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক সম্পদ পানি উৎস্যে একমাত্র উপাদান ঝিড়ি পাথর আর নেই
পাহাড়ে জীব বৈচিত্র হারাতে বসেছে
প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর হুমকিতে পড়েছে থানচি
এভাবে চলতে থাকলে অদুর ভবিষ্যৎতে পাহাড় হবে মরুভূমি
এলাকার সচেতন সমাজ মনে করেন, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বারবার অভিযান পরিচালনা করে জড়িমানা করে বসে থাকলে চলবেনা
প্রকৃতিকে বাঁচাতে পর্যটন এলাকা হিসাবে এই উপজেলাকে স্থায়ী ভাবে পাথর উত্তোলণ বন্ধ করার দরকার
তাই প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্বনয়ের প্রকৃতিকে বাঁচাতে স্থায়ীভাবে পাথর উত্তোলণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহনের সচেতন নাগরিকগণের একমাত্র দাবি
কমলা বাগান পাড়া কারবারী গুড়িকালা চাকমা বলেন, আমাদের পাড়ায় পানি সমস্যা
৪/৫ বছর আগে এপ্রিল মাসেও কোন খাবার পানি সমস্যা হয়না
জিএফএস লাইনের পানি এখন খুব কম আসে, কোন কোন সময় একেবারে পানি আসে না, পানি লাইন বন্ধ থাকে
আমরা পানি জন্য সমস্যায় আছি, শুধু আমরা নয়, আশে পাশে পাড়াগুলোতেও পানি সমস্যা রয়েছে
এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান জেলা পরিদর্শক (জুনিয়র ক্যামিস্ট) মোঃ আবদুল সালাম বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ এভাবে নষ্ট করতে দেয়া হবে না, পাথর উত্তোলনকারী চোরদের সাথে কোন আপোষ নয়
তারা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসকারী, পাথর উত্তোলণকারীদের বিরূদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
আপনারা পাথর উত্তোলণ খবর নিয়ে আমাদের জানাবেন, প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁচাতে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান অফিস সব সময় পাশে আছি, থাকব
কাকভোরেই উঠে পড়ে ইদ্রিস আলী
বাইরে যায়
নামাজ পড়ে
কিছুক্ষণ কোরান তেলাওয়াত করে
তারপর গ্রামের রাস্তা ধরে চলে যায় অনেকদূর
এই রাস্তার তিনটি মোড়ে বড় হচ্ছে তিনটি বটবৃক্ষের চারা
চারাগুলো নিজহাতে রোপন করেছে ইদ্রিস
শুধু রোপন করেই ফেলে রাখেনি
বেড়া দিয়েছে
চারপাশের আগাছা পরিস্কার করেছে
আর এখন প্রতিদিন ভোরে এসে একবার করে দেখে যায়
রাস্তার শেষ মাথায় আছে আরেকটা বটবৃক্ষ
সেটাও লাগিয়েছিল ইদ্রিস আলী
গাছটা এখন অনেক বড় হয়েছে
বড়বিলের বিশাল ফাঁকা মাঠ
মাঠের মাঝখানে এই একটাই গাছ
শুকনো মৌসুমে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে করতে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে
রোদের তেজ যখন অসহ্য লাগে
তখন সবাই এসে একটু জিরিয়ে নেয় ইদ্রিস আলীর বটতলায়
এই পথ দিয়ে যাতায়ত করা পথিকেরাও একটু বসে যায়
অসংখ্য পাখির কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে থাকে বটবৃক্ষের ডালগুলো
অনেকদিন পর ইদ্রিস আলী আজ বড় বটগাছটা পর্যন্ত চলে এসেছে
প্রতিদিন আসা হয় না তার
শুধু চারাগাছগুলো দেখেই বাড়ি ফেরে
আজ হাতে বেশ সময় আছে
তাই সে এসেছে রাস্তার শেষ মাথায়
যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার হাতে লাগানো বটগাছটি
আস্তে আস্তে গাছের নীচেই চলে আসে
একটা কাঠবিড়ালী শিকড়ের ওপর খেলছিল
ইদ্রিস আলীকে দেখে তরতর করে উঠে যায় উঁচু ডালে
দেখতে খুব ভালো লাগে তার
এখনো ভোরের রেশ কাটেনি
তাই থামেনি পাখিদের কলরব
জোরে জোরে চেচাঁমেচি করছে পাখিরা
পুরো বটগাছ জুড়ে পাখি আর পাখি
এ যেন পাখিদের মেলা
যাক, এই শূন্য মাঠে বড় একটা আশ্রয় পেয়েছে পাখিগুলো
মনে মনে প্রশান্তি অনুভব করে ইদ্রিস আলী
বড় বাজারে দর্জির কাজ করে ইদ্রিস আলী
প্রতিদিন ভোরে বটগাছের চারাগুলো দেখাশোনা করে বাড়িতে যায়
বাড়ি বলতে আটখানা টিনের ছাপড়াঘর
অল্প একটু জায়গার ওপর সেই ঘরখানি
সে একাই সেই ঘরের মালিক
ছোটোবেলাতেই বাবা-মা মরে গেছে
ভাইদের কাছে বড় হয়েছে
ভাইয়েরাও যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত
কিন্তু বিয়ে করে সংসার পাতা হয় নাই ইদ্রিস আলীর
এবার ছাপান্ন নম্বর বসন্ত সে একাই পার করেছে
বাজারে দর্জির কাজ করে দু-বেলা খাবার ব্যবস্থা সে নিজেই করে
প্রতি শনিবার বন্ধ থাকে বাজারের সব দোকানপাট
আজ শনিবার
সে কারণেই বাড়ি ফেরার তাড়া নাই ইদ্রিস আলীর
তাই বটগাছটার নিচে অনেকক্ষণ বসে থাকতে ইচ্ছে করে তার
কিন্তু আজও বেশ কাজ আছে ইদ্রিস আলীর হাতে
কেননা, গ্রামের এই রাস্তার বটগাছগুলোই নয়
আশেপাশের গ্রামে আরও অনেক বটগাছ তারই লাগানো
একেবারে কিশোরবেলা থেকেই বটগাছকে ভালোবাসে ইদ্রিস
আর তখন থেকেই যেখানে যেমন সুযোগ পেয়েছে বটগাছ লাগিয়েছে সে
আজও কয়েকটা গাছ লাগাতে হবে
কিছু টাকা জমেছিল দর্জিগিরি করে
সেই টাকায় গতকাল হাট থেকে চারা কিনেছে
আজ চারাগুলো লাগাতে যাবে দূরের একটা গ্রামে
সেখানে হাট বসে
কোন গাছ-গাছালি নাই হাটে
চারাগুলো সেই হাটের মাঝখানে লাগাতে যাবে ইদ্রিস আলী
ফেরার পথে দেখা হয় গ্রাম থেকে মাঠের দিকে যাওয়া কৃষকদের সাথে
তাঁদের কেউ চাচা বলে
কেউ ভাই বলে
কেউ বলে, গাছপাগলা
যে যাই বলুক না কেন, ইদ্রিস আলী সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলে
লোকেরা তাকে সম্মানও কম করে না
কেউ কেউ 'বটবৃক্ষ প্রেমিক' বলে উপাধি দিয়েছে
দেশের বিশাল একটা রাজনৈতিক দল তাকে উপজেলা কমিটিতে পদ দিয়েছে
যদিও রাজনীতি করতে তার মন সায় দেয় না
তবু স্থানীয় বড় বড় নেতারা তাকে ডেকে নিয়ে 'বন ও পরিবেশ সম্পাদক' হিসেবে মনোনীত করেছে
তার এ পাওনা জুটেছে গাছের প্রতি ভালোবাসার কারণেই