content stringlengths 0 129k |
|---|
তারপর আমাকে বললেন, আপনি দু'টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন |
এটা আপনার আগে আর কোন নবীকে দেয়া হয়নি |
(তাহলো) সূরা আল ফাতিহাহ্ ও সূরা আল বাকারাহ্'র শেষাংশ |
আপনি এ দু'টি সূরার যে কোন বাক্যই পাঠ করুন না কেন নিশ্চয়ই আপনাকে তা দেয়া হবে |
(মুসলিম)[1] |
[1] সহীহ : মুসলিম ৮০৬, নাসায়ী ৯১২, মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১২২৫৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ২০৫২, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৫৬ |
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ |
وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: بَيْنَمَا جِبْرِيلُ قَاعِدٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ نَقِيضًا مِنْ فَوْقِهِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: "هَذَا بَابٌ مِنَ السَّمَاءِ فُتِحَ الْيَوْمَ لَمْ يُفْتَحْ قَطُّ إِلَّا الْيَوْمَ فَنَزَلَ مِنْهُ مَلَكٌ فَقَالَ هَذَا مَلَكٌ نَزَلَ إِلَى الْأَرْضِ لَمْ يَ... |
وعن ابن عباس قال: بينما جبريل قاعد عند النبي صلى الله عليه وسلم سمع نقيضا من فوقه فرفع رأسه فقال: "هذا باب من السماء فتح اليوم لم يفتح قط إلا اليوم فنزل منه ملك فقال هذا ملك نزل إلى الأرض لم ينزل قط إلا اليوم فسلم وقال أبشر بنورين أوتيتهما لم يؤتهما نبي قبلك فاتحة الكتاب وخواتيم سورة البقرة لن تقرأ بحرف منهما إلا أعطيت... |
ব্যাখ্যা: সূরা আল ফাতিহাহ্ ও সূরা আল বাকারাহ্'র শেষ অংশ নিয়ে মালাকের অবতরণ ছিল দ্বিতীয় পর্যায়ে |
কেননা সূরা আল ফাতিহাহ্ একবার মক্কায় নাযিল হয়েছিল এবং এ সময় তা জিবরীলের মাধ্যমেই নাযিল হয়েছিল |
পরবর্তীবার অন্য মালাকের মাধ্যমে তা নাযিল ছিল তার সাওয়াব সহ নাযিল হওয়া |
এ নাযিলের সময় জিবরীল (আঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছেই ছিলেন |
এ নাযিলের সময় জিবরীলকে সম্পৃক্ত করা হলে তার অর্থ হবে তিনি এ সূরা ও আয়াতের ফাযীলাত নিয়ে অন্য মালাকের আগমনের সংবাদ নিয়ে এবং তার তা'লিমের জন্য আগেই এসেছিলেন |
সুতরাং এতে তিনিও যেন অংশীদার |
সূরা ফাতিহাহ্ এবং সূরা বাকারাহ্'র শেষ অংশকে দু'টি নূর বলে নামকরণ করা হয়েছে এজন্য যে, কিয়ামতের দিন এ দু'টি তার পাঠকের জন্য নূর হয়ে তার সামনে দিয়ে চলতে থাকবে |
অথবা এর অর্থ এ দু'টি সূরা ও আয়াত দু'টি তাকে সিরাতে মুস্তাক্বীমের পথ দেখিয়ে থাকে এবং হিদায়াত দান করে থাকে |
হাদিসের মানঃ সহিহ () |
পুনঃনিরীক্ষণঃ |
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) |
পর্ব-৮: কুরআনের মর্যাদা (كتاب فضائل القراٰن) 8. |
শেয়ার ও অন্যান্য |
শেয়ার লিঙ্ক আলাদা পেজে খুলুনইমেইল করুন ভুল পেলে রিপোর্ট করুন |
হাদিসের শেয়ার লিঙ্ক |
বাংলা/ العربية |
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ |
২১২৫-[১৭] 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত |
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল বাকারার শেষ দু'টি আয়াত, অর্থাৎ- 'আ-মানার রসূলু' হতে শেষ পর্যন্ত পড়ে, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট হবে |
(বুখারী, মুসলিম)[1] |
[1] সহীহ : বুখারী ৫০৪০, মুসলিম ৮০৭, মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৪৩ |
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ |
وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "الْآيَتَانِ مِنْ آخَرِ سُورَة الْبَقَرَة من قَرَأَ بهما فِي لَيْلَة كفتاه" |
وعن أبي مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الآيتان من آخر سورة البقرة من قرأ بهما في ليلة كفتاه" |
ব্যাখ্যা: সূরা আল বাকারাহ্'র ঐ মহিমান্বিত আয়াত দু'টি হলো আ-মানার্ রসূলু থেকে শেষ পর্যন্ত |
রাতে এ দু'টি আয়াত পাঠ করে কেউ ঘুমালে রাতের তাহাজ্জুদে কুরআন তিলাওয়াত অথবা সালাতের বাহিরে কুরআন তিলাওয়াতের যে হক বান্দার ওপর ছিল তা আদায় হয়ে যাবে এবং তার ফাযীলাত সে পাবে |
কেউ বলেছেন, রাতে শয়তানের অনিষ্টতা থেকে বাঁচার জন্য তাই যথেষ্ট হবে |
কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ হলো সে জিন্-ইনসানের সকল অনিষ্টতা থেকে এবং রাতের সকল প্রকার ক্ষতি ও বিপদ থেকে রক্ষার জন্য তাই যথেষ্ট হবে |
মনীষীদের প্রত্যেকের এ ব্যাখ্যাগুলোর অনুকূলে হাদীস রয়েছে |
হাদিসের মানঃ সহিহ () |
পুনঃনিরীক্ষণঃ |
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) |
পর্ব-৮: কুরআনের মর্যাদা (كتاب فضائل القراٰن) 8. |
শেয়ার ও অন্যান্য |
শেয়ার লিঙ্ক আলাদা পেজে খুলুনইমেইল করুন ভুল পেলে রিপোর্ট করুন |
হাদিসের শেয়ার লিঙ্ক |
বাংলা/ العربية |
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ |
২১২৬-[১৮] আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত |
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ-এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে |
(মুসলিম)[1] |
[1] সহীহ : মুসলিম ৮০৯, আবূ দাঊদ ৪৩২৩, তিরমিযী ২৮৮৬, আহমাদ ২১৭১২, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৩৩৯১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৯৯৭, রিয়াযুস্ সলিহীন ১০২৮, সহীহাহ্ ৫৮২, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৭২, সহীহ আল জামি' ৬২০১ |
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ |
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ حَفِظَ عشر آيَات من أول سُورَة الْكَهْف عصم من فتْنَة الدَّجَّال" . رَوَاهُ مُسلم |
وعن أبي الدرداء قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من فتنة الدجال" . رواه مسلم |
ব্যাখ্যা: সূরা আল কাহাফ-এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থকারী দাজ্জাল থেকে নিরাপদ থাকবে, এর অর্থ হলোঃ সে দাজ্জালের ফিৎনা ও অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকবে |
ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, কেউ কেউ বলেছেন, এর শুরুতে আযায়িব বা বিস্ময়কর বিষয়সমূহ এবং আয়াত বা আল্লাহর বিশেষ নিদর্শনের কথা বিধৃত হয়েছে |
সুতরাং যে ব্যক্তি ঐগুলো নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করবে সে দাজ্জালের ফিৎনায় পতিত হবে না |
'আল্লামা ত্বীবী বলেন, (এ সূরায় বর্ণিত বিস্ময়কর ঘটনা) যুবকেরা যেমন স্বেচ্ছাচার যালিম বাদশাহের অনিষ্টতা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন তেমনিভাবে আল্লাহ তা'আলা (ঐ দশ আয়াত) পাঠকারীকে যালিমের হাত থেকে অথবা সৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করবেন |
সহীহ মুসলিম ও সুনান আবী দাঊদ-এর বর্ণনায় সূরা কাহাফ-এর প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করার কথা বলা হয়েছে |
কিন্তু তিরমিযীর বর্ণনায় তিন আয়াত পড়ার কথা বলা হয়েছে |
দুই রকম বর্ণনার মাঝে সমাধান এভাবে দেয়া যায় যে, দশ আয়াত সংক্রান্ত হাদীসটি পরে বর্ণিত হাদীস |
সুতরাং এটার উপর 'আমল করতে হবে |
যে দশের 'আমল করবে সে তিনের ফাযীলাত অবশ্যই পাবে |
অথবা তিনের হাদীস-ই পরের হাদীস, তিন আয়াত পাঠ করে যদি নিরাপদ হয়ে যায় তাহলে দশ আয়াত পাঠের কোন প্রয়োজন নেই |
আবার কেউ বলেছেন, দশ আয়াতের হাদীস হলো মুখস্থ করার ক্ষেত্রে আর তিন আয়াতের হাদীস হলো দেখে দেখে পাঠের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে |
ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেন, দশ আয়াত আর তিন আয়াতের মধ্যে কোন বিরোধ নেই |
বেশি সংখ্যার উপর 'আমল করাই আবশ্যক |
সুতরাং প্রথমের দশ আয়াত পাঠ করবে |
আরেকটি বিষয় জ্ঞাতব্য যে, কোন হাদীসে সূরা আল কাহাফ-এর শেষ দশ আয়াতের কথা বর্ণিত হয়েছে |
ইমাম আহমাদ, মুসলিম, আবূ দাঊদ, নাসায়ী প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন |
উভয় হাদীসের সমন্বয়ে ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেন, তিলাওয়াতকারী সূরার শুরু থেকে দশ আয়াত এবং শেষ থেকে দশ আয়াত পাঠ করবে |
আর যে ব্যক্তি চায় সকল হাদীসের উপর তার 'আমল হোক সে যেন পূর্ণ সূরাটাই তিলাওয়াত করে নেয় |
হাদিসের মানঃ সহিহ () |
পুনঃনিরীক্ষণঃ |
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) |
পর্ব-৮: কুরআনের মর্যাদা (كتاب فضائل القراٰن) 8. |
শেয়ার ও অন্যান্য |
শেয়ার লিঙ্ক আলাদা পেজে খুলুনইমেইল করুন ভুল পেলে রিপোর্ট করুন |
হাদিসের শেয়ার লিঙ্ক |
বাংলা/ العربية |
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ |
২১২৭-[১৯] আবূ দারদা (রাঃ) হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত |
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কি প্রতি রাতে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন তিলাওয়াতে সক্ষম? সাহাবীগণ বললেন, প্রতি রাতে কি করে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন পড়া যাবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সূরা 'কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ' কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান |
(মুসলিম)[1] |
[1] সহীহ : মুসলিম ৮১১, দারিমী ৩৪৭৪, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৮০ |
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ |
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أَيَعْجَزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ فِي لَيْلَةٍ ثُلُثَ الْقُرْآنِ؟" قَالُوا: وَكَيْفَ يَقْرَأُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ؟ قَالَ: "قُلْ هُوَ الله أحد" يعدل ثلث الْقُرْآن . رَوَاهُ مُسلم |
وعن أبي الدرداء قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أيعجز أحدكم أن يقرأ في ليلة ثلث القرآن؟" قالوا: وكيف يقرأ ثلث القرآن؟ قال: "قل هو الله أحد" يعدل ثلث القرآن . رواه مسلم |
ব্যাখ্যা: সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান- এ কথার ব্যাখ্যায় মনীষীগণ বিভিন্ন মতামত করেছেন |
একদল বলেন, কুরআনে তিনটি বিষয় আলোচিত হয়েছেঃ |
১. আহকাম ২. ঘটনা বা ইতিহাস ৩. তাওহীদ বা একত্ববাদ |
সূরা ইখলাস তৃতীয়টি প্রকাশে শ্রেষ্ঠ সূরা |
সুতরাং এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান |
এ কথার সহায়ক সহীহ মুসলিমের বর্ণনা, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা পূর্ণ কুরআনকে তিন অংশে বিভক্ত করেছেন, কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ পুরো কুরআনের তিন ভাগের একভাগ |
ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেন, এ সূরার মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নামসমূহের এমন দু'টি নাম ব্যবহার হয়েছে যার মধ্যে তার সকল গুণাবলীর পূর্ণতা নিহীত রয়েছে |
অন্য কোন সূরার মধ্যে তা খুঁজে পাওয়া যায় না |
এ দু'টি সিফাতে কামাল বা পূর্ণগুণবাচক নাম হলো আল আহাদ এবং আস্ সামাদ |
আল্লাহ তা'আলার এ দু'টি গুণবাচক নাম তার পবিত্র সত্তার একত্বের অর্থ প্রকাশক এবং তার চূড়ান্ত বিশেষণ |
এ বর্ণনা এ অনুভূতি জাগ্রত করে যে, এই একত্বের গুণ কেবল তার জন্যই খাস এতে অন্য কারো অংশীদারিত্বের সুযোগ নেই |
আস্ সামাদ নামটির এ অনুভূতি জাগ্রত করে যে, অমুখাপেক্ষিতার পূর্ণগুণ একমাত্র আল্লাহর জন্যই খাস |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.