content
stringlengths
0
129k
হাদিসের শেয়ার লিঙ্ক
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২১১৯-[১১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না
(এগুলোতে কুরআন তিলাওয়াত করো) কারণ যেসব ঘরে সূরা আল বাকারাহ্ তিলাওয়াত করা হয় সে ঘর হতে শয়তান ভেগে যায়
(মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ৭৮০, তিরমিযী ২৮৭৭, আহমাদ ৭৮২১, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৫৮
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَا تَجْعَلُوا بِيُوتَكُمْ مَقَابِرَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ من الْبَيْت الَّذِي يقْرَأ فِيهِ سُورَة الْبَقَرَة" . رَوَاهُ مُسلم
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تجعلوا بيوتكم مقابر إن الشيطان ينفر من البيت الذي يقرأ فيه سورة البقرة" . رواه مسلم
ব্যাখ্যা: ''তোমাদের ঘরগুলোকে কবর স্থানে পরিণত করো না'' এর অর্থ হলো কবরগুলো যেমন সালাত, জিকির-আযকার 'ইবাদাতহীন জায়গা, তোমাদের ঘর বাড়িগুলোতে নফল সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির আযকার ইত্যাদি আদায় না করে ঐ রূপ কবরস্থানের ন্যায় করে রেখ না
বরং বাড়িতে নিয়মিত নফল সালাত কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি আদায়ের মাধ্যমে 'ইবাদাতের স্থানে পরিণত কর
এ হাদীসে বলা হয়েছে সূরা আল বাকারাহ্ যে ঘরে তিলাওয়াত করা হয় সে ঘর থেকে শয়তান পালায়
তিরমিযীর এক বর্ণনায় এসেছে, শয়তান সে ঘরে প্রবেশ করতে পারে না
ইবনু হিব্বান-এর এক বর্ণনায় এসেছে, রাতে যে ঘরে সূরা আল বাকারাহ্ তিলাওয়াত করা হয় তিন রাত পর্যন্ত শয়তান সে ঘরে প্রবেশ করতে পারে না
আর দিনে তিলাওয়াত করলে তিন দিন পর্যন্ত শয়তান সে ঘরে প্রবেশ করতে পারে না
সূরা আল বাকারাহ্'র এ বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ফাযীলাত এর বৃহত্তের কারণে এবং এ সূরার মধ্যে আল্লাহর নামসমূহ বেশি ব্যবহার হওয়ার কারণে
আর এ সূরাতে দীনের আহকাম বেশি আছে সে কারণেও
বলা হয় এতে এক হাজার আদেশ এক হাজার নিষেধ, এক হাজার হুকুম এবং এক হাজার খবর রয়েছে
হাদিসের মানঃ সহিহ ()
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৮: কুরআনের মর্যাদা (كتاب فضائل القراٰن) 8.
শেয়ার ও অন্যান্য
শেয়ার লিঙ্ক আলাদা পেজে খুলুনইমেইল করুন ভুল পেলে রিপোর্ট করুন
হাদিসের শেয়ার লিঙ্ক
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২১২০-[১২] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা কুরআন পড়
কারণ কুরআন পাঠ কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে
তোমরা দু' উজ্জ্বল সূরা আল বাকারাহ্ ও আ-লি 'ইমরান পড়বে
কেননা কিয়ামতের দিন এ সূরা দু'টি মেঘখণ্ড অথবা দু'টি সামিয়ানা অথবা দু'টি পক্ষ প্রসারিত পাখির ঝাঁকরূপে আসবে
এ দু' সূরার পাঠকদের জন্য আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবে
বিশেষ করে তোমরা সূরা আল বাকারাহ্ পড়বে
কারণ সূরা আল বাকারাহ্ পড়া বারাকাত আর তা না পড়া আক্ষেপ
এ সূরা দু'টি পড়তে পারবে না অলস বেকুবরা
(মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ৮০৪, শু'আবূল ঈমান ১৮২৭, সহীহ ইবনু হিববান ১১৬, সহীহাহ্ ৩৯৯২
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: "اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ اقْرَءُوا الزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ وَسُورَةَ آلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ كَأَنَّ...
عن أبي أمامة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "اقرءوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعا لأصحابه اقرءوا الزهراوين البقرة وسورة آل عمران فإنهما تأتيان يوم القيامة كأنهما غمامتان أو كأنهما غيايتان أو فرقان من طير صواف تحاجان عن أصحابهما اقرءوا سورة البقرة فإن أخذها بركة وتركها حسرة ولا تستطيعها البطلة" . رواه...
ব্যাখ্যা: ''আমরা কুরআন পড়'' এর অর্থ নিয়মিত তিলাওয়াত কর
কিয়ামতের দিন কুরআন এমন একটি রূপ ধারণ করে তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে যা লোকেরা প্রকাশ্যে দেখবে, যেমন আল্লাহ তা'আলা বান্দার 'আমলগুলোকে আকার আকৃতি দিয়ে মীযানের পাল্লায় ওযন দিবেন
আল্লাহ তো সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল
এ জাতীয় কার্যাবলীর ব্যাপারে মু'মিনদের ঈমান আনাই কেবল দায়িত্ব
এ দু'টি সূরাকে উজ্জ্বল নক্ষত্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে এজন্য যে, এর হিদায়াত এবং সাওয়াব খুব বেশি ও বড়
যেন তা আল্লাহর নিকট অন্যান্য সূরার তুলনায় সমগ্র তারকার মধ্যে আকাশের দু'টি চন্দ্রের ন্যায়
এ দু'টি সূরার ফাযীলাত এজন্য বেশি যে, এতে শার'ঈতের আহকামের নূর এবং আল্লাহ তা'আলার আসমায়ে হুসনার উল্লেখ বেশি রয়েছে
কিয়ামতের দিন এ সূরা দু'টি তার তিলাওয়াতকারীর মাথার উপর মেঘের ন্যায় অথবা আবরের ন্যায় অথবা পাখির পাখার ন্যায় ছায়া বিস্তার করে থাকবে
এ দু'টি সূরা বান্দার পক্ষে আল্লাহর সামনে জেরা করবে, অর্থাৎ- সুপারিশ করবে এবং তাকে আগুন থেকে বাধা প্রদান করবে
ইমাম শাওকানী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর সামনে এ সূরা দু'টির জেরা করার অর্থ হলো তিলাওয়াতকারীর পক্ষে হুজ্জত কায়িম করা
এ দু'টি সূরাকে পড়ার জন্য বিশেষভাবে তাকীদ করা হয়েছে, কারণ এতে রয়েছে অপরিমিত বারাকাত, পক্ষান্তরে তা বর্জনে রয়েছে অপরিমিত ক্ষতি এবং লোকসান, যা হবে কিয়ামতের দিন ভীষণ আফসোসের কারণ
নির্বোধ অলস ব্যক্তিরাই কেবল এর তিলাওয়াত বর্জন করে থাকে
হাদিসের মানঃ সহিহ ()
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৮: কুরআনের মর্যাদা (كتاب فضائل القراٰن) 8.
শেয়ার ও অন্যান্য
শেয়ার লিঙ্ক আলাদা পেজে খুলুনইমেইল করুন ভুল পেলে রিপোর্ট করুন
হাদিসের শেয়ার লিঙ্ক
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২১২১-[১৩] নাওয়াস ইবনু সাম্'আন (রাঃ) হতে বর্ণিত
তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কুরআন ও কুরআন পাঠকদের যারা কুরআন অনুযায়ী 'আমল করত (তাদের) কিয়ামতের দিন উপস্থিত করা হবে
তাদের সামনে দু'টি মেঘখণ্ড অথবা দু'টি কালো ছায়ারূপে থাকবে সূরা আল বাকারাহ্ ও সূরা আ-লি 'ইমরান
এদের মাঝখানে থাকবে দীপ্তি
অথবা থাকবে প্রসারিত- পালক বিশিষ্ট পাখির দু'টি ঝাঁক
তারা আল্লাহর নিকট কুরআন পাঠকের পক্ষে সুপারিশ করবে
(মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ৮০৫, তিরমিযী ২৮৮৩, আহমাদ ১৭৬৩৭, শু'আবূল ঈমান ২১৫৭, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৬৫
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَن النواس بن سمْعَان قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "يُؤْتَى بِالْقُرْآنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَهْلِهِ الَّذِينَ كَانُوا يَعْمَلُونَ بِهِ تَقْدُمُهُ سُورَةُ الْبَقَرَةِ وَآلُ عِمْرَانَ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ ظُلَّتَانِ سَوْدَاوَانِ بَيْنَهُمَا شَرْقٌ أَوْ كَأَنَّهُمَا...
وعن النواس بن سمعان قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "يؤتى بالقرآن يوم القيامة وأهله الذين كانوا يعملون به تقدمه سورة البقرة وآل عمران كأنهما غمامتان أو ظلتان سوداوان بينهما شرق أو كأنهما فرقان من طير صواف تحاجان عن صاحبهما" . رواه مسلم
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের ব্যাখ্যা পূর্বের হাদীসের ব্যাখ্যার প্রায় অনুরূপই
কুরআন তিলাওয়াতকারী এবং তার ওপর 'আমলকারীর জন্য এ মর্যাদা, কিন্তু যারা শুধু তিলাওয়াত করেছে, কিন্তু কুরআনের বিধান মতো 'আমল করেনি সে আহলে কুরআনরূপে বিবেচিত হবে না, আর কুরআন তার জন্য সুপারিশকারীও হবে না, বরং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী হবে
মানুষ 'আমলের যেমন রূপ-অবয়ব ওযনে দেখতে পবে তেমনি আল কুরআনের সূরাগুলোরও রূপ-অবয়ব প্রত্যক্ষ করতে পারবে
হাদিসের মানঃ সহিহ ()
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৮: কুরআনের মর্যাদা (كتاب فضائل القراٰن) 8.
শেয়ার ও অন্যান্য
শেয়ার লিঙ্ক আলাদা পেজে খুলুনইমেইল করুন ভুল পেলে রিপোর্ট করুন
হাদিসের শেয়ার লিঙ্ক
বাংলা/ العربية
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২১২২-[১৪] উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবূল মুনযির! তুমি কি বলতে পারো তোমার জানা আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ? আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলই ভাল জানেন
(এরপর) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন, হে আবূল মুনযির! তুমি বলতে পারো কি তোমার জানা আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি শ্রেষ্ঠতর? এবার আমি বললাম, ''আল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়ূম
'' উবাই বলেন, এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার বুকে হাত মেরে বললেন, হে আবূল মুনযির! জ্ঞান ও প্রজ্ঞা তোমার জন্য মুবারক হোক
(মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ৮১০, আবূ দাঊদ ১৪৬০, আহমাদ ২১২৭৮, মুসতাদারাক লিল হাকিম ৫৩২৬, শু'আবূল ঈমান ২১৬৯, সহীহ আত্ তারগীব ১৪৭১
اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ
وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَك أعظم؟" . قَالَ: قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: "يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَك أعظم؟" . قَالَ: قُلْتُ (ال...
قَالَ فَضرب فِي صَدْرِي وَقَالَ: "وَالله لِيَهنك الْعلم أَبَا الْمُنْذر" . رَوَاهُ مُسلم
وعن أبي بن كعب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا أبا المنذر أتدري أي آية من كتاب الله معك أعظم؟" . قال: قلت الله ورسوله أعلم قال: "يا أبا المنذر أتدري أي آية من كتاب الله معك أعظم؟" . قال: قلت (الله لا إله إلا هو الحي القيوم) قال فضرب في صدري وقال: "والله ليهنك العلم أبا المنذر" . رواه مسلم
ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেছিলেন তোমার জানা কোন্ আয়াতটি কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত? তিনি উত্তরে দিলেন, আয়াতুল কুরসী
উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-এর আল কুরআনের সবগুলো আয়াত-ই মুখস্থ ছিল, অর্থাৎ- তিনি পূর্ণ কুরআনের হাফেয ছিলেন
সুতরাং প্রশ্ন এবং উত্তরের অর্থ হলো আয়াতুল কুরসী সমগ্র কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত