content
stringlengths
0
129k
.
বাংলাদেশে কোরোনা
করোনাভাইরাস
সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
তথ্য সূত্রঃ করোনা কেইস বাংলাদেশ
সংক্ষিপ্ত সংবাদ
দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন
দেবিদ্বারে চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের মাঝে পিপিই বিতরণ
দেবিদ্বারে অগ্নিকান্ডে ১কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধনের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর
দেবিদ্বারে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
আখাউড়া প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন
দেবিদ্বারে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী শামছুল আলম গ্রেফতার
তিতাসের দ্বীনিয়া মাদরাসায় মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
ব্রা‏হ্মণপাড়ায় জামায়াতের আমির উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ আটক-২২
বাংলাদেশ সীমান্তে ৮০০ কি.মি. সড়ক নির্মাণ করবে সেনাবাহিনী
মুরাদনগরে লাঠিয়ার বিল দখল নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আহত ২০
দাউদকান্দির খিদমা ডিজিটাল হসপিটাল বন্ধের নির্দেশ
লাকসাম যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা
অবশেষে জয় পেল কুমিল্লা
করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী সাংবাদিক ও পুলিশ কুমিল্লার সন্তান
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী সভাপতি- আক্তারুজ্জামান'কে সাধারন সম্পাদক করে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা
মুরাদনগরে 'বন্দুকযুদ্ধে' ডাকাত নিহত
ফেসবুকে আমাদের বন্ধু হোন
অন্যান্য আইন আদালত আখউড়া আন্তর্জাতিক আশুগঞ্জ ইতিহাস ইন্ডিয়ান রান্না উপজেলা নির্বাচন সংবাদ উপন্যাস ক. কুমিল্লা সদর কচুয়া কসবা কুমিল্লা জেলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট খ. কুমিল্লা সদর দক্ষিণ খেলাধুলা গ. বরুড়া গল্প ঘ. চান্দিনা ঙ. দাউদকান্দি চ. লাকসাম চাইনিজ রান্না চাঁদপুর জেলা চাঁদপুর সদর ছ. ব্রাহ্মণপাড়া ছড়া-ক...
গত রাতে ঘুমোতে যাবার সময়ও নীলা ভাবেনি, আজ সারাদিন সে কি করবে
বাড়ি ফিরতে রাত নটা বেজে যায়
তখন তার পরের দিনের পরিকল্পনার কথা মাথায় আসেনি
পরিবারের আর সকলের দিকে চোখাচোখি, প্রশ্নোত্তরে, বিশ্রামের পরিতৃপ্তিতে তখন সে তখনকার মতো ছিল
এখন এই ছুটির দিনে রবিবারে, আর এক রকমভাবে আছে
বস্তির দুপুর যেমন থাকে, তেমনটাই ছিল তার চারপাশে
ধোঁয়া ধুলো-গরম-চিৎকার-চেঁচামেচি
নোংরা-দুর্গন্ধ যেমন থাকার তেমনই ছিল
কিন্তু নীলা কীভাবে এই ছুটির দিনটা কাটাবে, তার হারে কাছে কিছুই ছিল না
ছুটির দিন বলেই বড়জোর সকাল সাতটা পর্যন্ত ঘুমিয়েছিল
তারপর থেকে এই দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত যাপনের সংকটের মধ্যে পড়েছে
কীভাবে এই এখানে একা একা সারাটা দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা পার করবে? তারপরই পরিবারে আর সকলে ফিরে আসবে
ফিরলই যদি, তাহলেও নীলার সংকট কাটছে না
তারপর তো রান্নার আয়োজন, ঘষা-মাজা, জল তোলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে
মাবাবা দাদা-বৌদি বড়দিরা
উনুন ধোঁয়া উগরোবে
নানা কিছু
যে সমস্ত নানাকিছুতে থাকতে ভাল লাগবে না নীলার
অন্য দিনগুলোতে তো থাকে! ছুটির দিরে সন্ধ্যায় তার এ ভাবে কাটানো খুবই অসহ্য মনে হবে
এই দুপুরই কি সহনীয় তার কাছে? এইভাবে একা একা থাকা? এইভাবে ছুটির দিনটাকে শেষ করতে দেওয়া উচিত হবে না তার
শেষ করতে না দেওয়া, সেটা একটা অন্য জিনিস
এই মহার্ঘ দুপুর-বিকেল-সন্ধ্যাকে সে না হয় আঁকড়ে ধরে যথার্থ খরচ করতে চাইবে
সেটা হবে তার যথার্থ যাপন
কিন্তু সেই যান খুঁজে না পেলে বিপদ হয় তার
নিমেষে দুপুর বিকেল-সন্ধ্যা উৎরে গেলে বাঁচত সে
তা তো হবার নয়! আর এমন দুটির দিনটা! সারা সপ্তাহের পর একদিন পায় সে
ভোলার সঙ্গ আশা করেছিল সে কাল থেকে
ভোলাকে পায়নি বস্তিতে তার মাসির ঘরে
হয়তো এসে যাবে, এই অপেক্ষায় আড়াইটে বাজিয়েছে নীলা
সকাল নয়টায় সাবান ঘষে ঘষে স্নান করেছে
চুলে শ্যাম্পু লাগিয়েছে
মাথার ক্লিপ থেকে গার্ডার শৌখিনতার মৃদু আয়োজনে প্রস্তুত রেখেছিল
ভোলা এসে ঘরে দরজার সামনে টুকুতে ছোট ছোট টুল পেতে গল্প করবে, নয়তো প্ল্যাটফরমের বেঞ্চে গিয়ে বসবে, গল্প করবে
কিংবা ভোলা যদি কিছু একটা কাজে ব্যস্ত থাকল তার মাসির ঘরে, তা হলে সে মাসির ঘরের উঠোনে বসে ভোলার সঙ্গে কথার ফুলঝুরি ফোঁটাত
টুকরো টুকরো কাঠ জুড়ে নানা কিছু বানিয়ে দেয় ভোলা তার মাসির
টুল বানায়, সিঁড়ি বানায়, ঠাকুরের আসন বানায়
প্রায় দিনই দেখা যায় ভোলা মাসির ঘরে কিছু না কিছু কাজ করছে
একদিন ওখানে গিয়েই ভোলার সঙ্গে ভাব জমে নীলার
কয়েক পা পরেই ভোলার
ভোলার মাসির রেডিওতে গান বাজছে তাদের ঘর থেকে শুনে গায়ক গায়িকার নাম বলা সম্ভব হয় - এমনই স্পষ্ট শোনা যায়
কত ছেলেই না এ বস্তিতে আছে
কিন্তু কেনই ভোলার সঙ্গে নীলার দেখা হয়, কথা হয়, সেটা একটা রহস্যই
হঠাৎ ঘটে যাওয়া সাধারণ ঘটনার ভেত্র দিয়েই এই ঘনিষ্ঠতা
একবার ভো কাটা ঘুড়ি উড়ছিল মহল্লায়
ভোলার সঙ্গে একটা বাচ্চার দল হই-হই করে মহল্লার এদিক সেদিক দৌড়ে বেড়াচ্ছিল
হাতে কঞ্চি আর শুকনো ডালপালা
শেষে ঘুড়িটা সেদিনের শেষ বিকেলে নীলাদের বাড়ির চালে নেমে পড়ে
নীলা ও নীলার মা বাবা ঘরের বাইরে দাঁড়িয়েছিল
আর তাদের চোখের সামনেই চালের উপরে উঠে যায় ভোলা
নীলার বাবা রাগারাগি করতে এগিয়ে গিয়েছিল, নীলার মা তাকে থামিয়ে দেয়
চালাতে একটা ভাঙা টালি ছিল, তাতে টিনের ফালি খুঁজে দিল ভোলা
ভোলাকে বলতেই করে দিল
আর ভোলা নেমে আসতেই ঝর ঝর করে ভোলার সঙ্গে কথা বলতে লেগে গেল নীলা
কেমন নেকি নেকি, লোক দেখানো গালভরা আনন্দিত কথার আবেগ ঝরিয়ে কথা বলা
এবং ভালও লাগছিল কথা বলতে নীলার
সেই থেকে কথা বলা, ভাল লাগা নীলার, ভোলা নিয়ে
ভাল লাগা নিয়েই থেকেছে
প্রেম প্রেম খেলা খেলেনি সে
লোকে এখানে সেখানে
দেখছেও না তাদের
যেমন করে প্রেম করে ধ্বই
না তেমন প্রেম নয়, ভাল লাগা নিয়ে কথা বলে তারা, মেশে
অথচ সোম থেকে শনি ভোলার সঙ্গে মেশার ও কথা বলার কোনও ফুরসতই থাকে না
তেমন মনেও থাকে না
মনে থাকবার মতো অবসরও খুঁজে পায় না নীলা
কেননা নীলা চাকরি করে
এবং চাকরি করে বলেই একটা দিন ছুটি সে পায়
আর একটা দিন ছুটি কীভাবে কাটাবে, তাকে ভাবতে হয়
সে বাবুর বাড়িতে কাজ করে না, তার চাকরি করাটা তাকে মহল্লার মধ্যে এক বিশেষত্ব দেয়, তেমনই গৌব্বও বাড়ায়
এবং সে যে বাবুর বাড়ি কাজ করতে করতে চাকরি করছে একথা যেমন সত্যি, তেমন এই পারম্পর্য ভুলে যেতে চায় নীলা
বাবুর বাড়ি আগে কাজ করার ব্যাপারটা অস্বীকার করতে চায়
যেমন বাবার বাড়ির মেয়েদের পুরনো পোশাক সে আর পরে না সে কারণে