content
stringlengths
0
129k
এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ এই ঘটনাকে 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, কোয়েটা সফররত চীনের রাষ্ট্রদূত আরেকটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন
সে জন্য হামলার সময় তিনি সে হোটেলে ছিলেন না
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম দরিদ্র রাজ্য
বহুদিন ধরেই সেখান সশস্ত্র গোষ্ঠী ‍ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় রয়েছে
বিচ্ছিন্নতাবাদীরা মনে করে দেশটির গোয়েদার বন্দরে বিনিয়োগ ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ বেলুচিস্তানকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে
তাই ওই প্রদেশে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে চীন
পূর্ববর্তী নিবন্ধএ বছরের ফিতরা নির্ধারণ
পরবর্তী নিবন্ধহেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আইয়ূবী গ্রেপ্তার
://..
সম্পর্কিত নিবন্ধলেখক থেকে আরো
অল ইউরোপিয়ান বাংলা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
'ক্ষমা না চাইলে মুরাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা'
মুরাদের পদ হারানোর পর লাইভে এসে যা বললেন মাহি
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ
টানা বৃষ্টিতে রাজধানীসহ সারা দেশে ভোগান্তি
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিএনপির
68,094ভক্তমত
197অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
0গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব
2021
4 5 6 7 8 9 10
11 12 13 14 15 16 17
18 19 20 21 22 23 24
25 26 27 28 29 30 31
- -
আমাদের সম্পর্কে
@ ( ) . . : -01719198836, -01817721646, -01747738999, -01821713588. [ ] (), [ ] ().
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: [ ]
আমাদের অনুসরণ করো
আরো লেখাসমূহ
অল ইউরোপিয়ান বাংলা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
7, 2021
'ক্ষমা না চাইলে মুরাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা'
6, 2021
মুরাদের পদ হারানোর পর লাইভে এসে যা বললেন মাহি
6, 2021
'); _ = _[].(/\\(\'(?!\:)/, _() { ' (\'' + _ + '/' + .(/\(\'/, '').(/^\+|\+$/,''); }); _ += ""; } __ = ('#--'); (__.) { __.(_); } } }); } })();
বিরল প্রজাতির সাইবেরিয়ান বাঘের সেলফি প্রকাশ করেছে রাশিয়ার চিতাবাঘের ভূমি নামে পরিচিত ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ
বনরক্ষকের স্থাপন করা গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয় ছবি এবং ভিডিও
বাঘের দেখাশোনা এবং বাঘকে বিপদগ্রস্ততা থেকে রক্ষার জন্য ক্যামেরা স্থাপন করা হয় বলে 'দি সাইবেরিয়ান টাইমস' এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি
ছবিতে দেখা যায়, সাইবেরিয়ান চিতাবাঘের পরিবারটি সুন্দরভাবে খেলছে, আবার কখনো মারামারি করছে
ছবিগুলো দেখে মনে হতে পারে, তারা ছবি উঠানোর জন্য ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছে
ধারণা করা হয়, সাইবেরিয়ার ওই পার্ক ‍অঞ্চলে ২৬০,০০০ হেক্টরের মধ্যে ২২টি বাঘ এবং ৭টি বাঘের বাচ্চা আছে
চোরাকারবারীদের শিকারের ফলে এই প্রজাতির বাঘ একসময় বিলুপ্তির কাছাকাছি চলে আসে, কিন্তু এখন সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে
মায়ের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠেছে বাচ্চা বাঘ
মাটি সংলগ্ন স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা থেকে ধারণ করা হয় ছবি
কোন প্রাণির পারিবারিক জীবনের ধারণ করা স্বচ্ছ প্রথম ছবি এগুলো
মায়ের কাছে বসে বাচ্চা বাঘগুলো
ভিডিও এবং ‍ছবিতে দেখা যায়, বাঘের বাচ্চারা খেলাধুলা করছে এবং একসময় মা বাঘিনী আবার সবাইকে শান্ত করছে
এর আগে ২০১৪ সালে এই বাঘিনী ক্যামেরায় তিনটি বাচ্চাসহ ধরা পড়ে
তিনটির মধ্যে দুটি বাচ্চা ইতিমধ্যে বড় হয়ে পাশের দেশ চীনে চলে গেছে
ক্যামেরা ভাঙ্গতে প্রস্তুত
অন্য আরেকটি ছবিতে দেখা যায় একটি বাচ্চা ক্যামেরার দেখার পর তা ভাংতে চেষ্টা করছে
ফলে ক্যামেরা থেকে মেমরি কার্ডটি পড়ে গেলে ভিডিওটি বন্ধ হয়ে যায়
--- বিভাগ বিভাগ পর্যায়ের সরকারি অফিস জেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস উপজেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস আঞ্চলিক অফিসসমূহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহ
সরকারি অন্যান্য পোর্টাল দেখুন
বিভাগ বিভাগ পর্যায়ের সরকারি অফিস জেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস উপজেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস আঞ্চলিক অফিসসমূহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহ
--- বিভাগ বিভাগ পর্যায়ের সরকারি অফিস জেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস উপজেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস আঞ্চলিক অফিসসমূহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহ
সরকারি অন্যান্য পোর্টাল দেখুন
বিভাগ বিভাগ পর্যায়ের সরকারি অফিস জেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস উপজেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস আঞ্চলিক অফিসসমূহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহ
--- বিভাগ বিভাগ পর্যায়ের সরকারি অফিস জেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস উপজেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস আঞ্চলিক অফিসসমূহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহ
সরকারি অন্যান্য পোর্টাল দেখুন
বিভাগ বিভাগ পর্যায়ের সরকারি অফিস জেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস উপজেলা পর্যায়ের সরকারি অফিস আঞ্চলিক অফিসসমূহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহ
এ সবের অনেক দিন আগেই মন্মথ বিলাসিনীকে কথা দিয়েছিল
আজ ঠাকুরের পদপ্রান্তে, ওই দূরবর্তী পাহাড়শ্রেণী যে নীলাভ স্বচ্ছতায় চোখের সামনে, যেন এমন যে আঁকা হয়ে রয়েছে দুইদিন হল, ফলে কাগজের তুলোট বুননে সে ছবির চোখ এখনো সজল লাগে, তাকে বাতাস হেন তীব্র গতিতে পেরিয়ে মনে হবে এইতো, স্মৃতিতে ভর করেই যেন কুড়িটা বছর কেমন পেরিয়ে আসা গেল!
মন্মথ মিত্র জলের অনেকটা কাছে গিয়ে সিঁড়িতে বসে ছিল, ফলে উপলখণ্ডে বাধাপ্রাপ্ত জলের যে রেণু, জলকণার যে ক্ষুদ্র রেশ চোখে মুখে যেন হাত বুলিয়ে চলে যাচ্ছে, তাতে মন্মথর অসুবিধে না হলেও বিলাসিনীর হয়েছিল
তার পাতলা সাদা শাড়ি ক্রমে ভিজে ওঠার ফলে অনাবৃত শরীরে, নদীর জলের কাছে অনেকটা নীচ বরাবর যে সমস্ত মেঘরাশি খরস্রোতা জলের গতিতে পেরে না উঠে ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছিল, তাদের ঠাণ্ডা স্বভাব খানিক প্রশ্রয় পেয়ে থাকবে
বিলাসিনীর মধ্য বয়স সে কারণে উন্মনা হয়েছে এমন ভেবে নেওয়া যেতে পারে
হৃষীকেশ শহরের অনতিদূরে বাঁধানো লনের দোতলা বাড়ির ছাতে সে সময়ে ভোর হচ্ছে বলে কুয়াশা ক্রমে কেটে যাচ্ছিল, মন্মথ দুই হাত ভাঁজ করে আকাশের সে সমস্ত আলোর দিকে তাকিয়ে থাকাতে বিলাসিনীর পাশে এসে দাঁড়ানো টের পায়নি...নীল আকাশ প্রাকারের কমলা বর্ণচ্ছটা ক্রমে নামহীন বর্ণনাহীন সে এক রঙে পালটিয়ে যেতে দেখে বিলাসিনী একরকম ফিসফিসিয়ে ওঠে মন্মথর কানে...'আজ বাদে কাল যে স্বাধীন দেশের ওই, ওই স্বর্ণগোলোক, তাকে পুরোনো নামে ডাকা বোধহয় অনুচিত হবে,'...মন্মথ অগোছালো তাকিয়ে দেখেছিল বিলাসের প্রগলভতা তার মুখে সেই অগ্নিগোলকের আলোছায়া তৈরি করেছে...কিন্তু মন্মথর অন্যমনস্ক মন এহেন সকালকেও অপরিষ্কার বলে ভ্রম করলে পরে, স্মৃতির এলোমেলো সূত্র ধরে সে বিলাসিনীকে ফের খানিক দুঃখ দিয়ে ফেললে, 'তোমরা সোনাগাছির মেয়েরা তো সেই সময়ে আন্দোলনে নেমেছিলে, তাই তোমার এই ইন্ডিপেন্ডেন্সের প্রতি ট্রু ফিলিং থাকলে তা অবাক করেনা, কিন্তু আমি! এই ইন্ডিপেন্ডেন্সে আমার অবদান কতটুকু?' মন্মথ আরও বলে চলে কত কিছু...যেমন বয়স কিভাবে অগোচরে এতগুলি বছর কাটিয়ে দিলে যা সে টেরই পেলেনা, এছাড়া মন্মথ যেরকম উত্তর খুঁজে চলেছে, যে এই আনন্দঘন সময়ে কিভাবে অনায়াস প্রবেশ সম্ভব যখন তার নিজের শরীর থেকে সময়েরা সবাই জানান দিয়েছে, এবারে তো গেলেই হয়...কী লাভ এই দেশ এই সময়ের সাথে মনের এহেন গহিন উপস্থিতি, যখন শরীর এদেরকে চিনতে পারছেনা, আলাদা করতে পারছেনা কোনটা সুখ বা কোনটা দুঃখের অনুভূতি বলে!
বেলা পড়ে এলে বিকালের চা'য়ের সময় হলে পর বিলাসিনী জলের ধারে বসে মনের ভিতরে যে দুঃখের অনুভূতিসকল, তাদের উপরে ভর দিতে দিতে মাঝে মাঝেই অনেক বছর আগের ছেড়ে আসা কমলাদিদির ভাড়া বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছিল...এভাবে যাতায়াতও চলেছিল বেশ...এখন বিকেল হয়ে এসেছে বলে হিম আর কুয়াসা, এরা সবাই পাহাড়ের উপর থেকে নীচে নেমে আসছে দ্রুত...আর এই যে মা গঙ্গা...তোমার কাছে নিয়ে আসবে বলে কথা দিয়েছিল সেই কত বছর আগে...আমরা সোনাগাছির মেয়েরা, সে কথা না হয় সে ভুলতে পারেনা, তাহলেও সে তেমন দোষের হয়না
কিন্তু মা, আমাদের পুরনো পাড়ার ভিতর দিয়ে স্যাঁতলা গলি ধরে তোমার যেই ঘাটে আমরা মেয়েরা চান করতে যেতাম, যে অন্য নামে তুমি বয়ে চলেছো মাগো, সেও তো তুমিই হলে...ওখানে ডুব দিয়ে শরীরের পাপ যদি না ধুয়ে যায়, মা গো, এখানেও কি সে মুছবে?
বিলাসিনী ঠাহর করলে ভালোভাবে নদীর ওপারে অন্ধ মহারাজ না জানি কিসের দিকে চেয়ে রয়েছেন নির্নিমেষ, যেন স্থির সে অবয়ব, পাহাড় আর বন ভেদ করে ধীরে অন্ধকার নামবে খানিক পরে, আবার আরেকটা দিন শেষ হয়ে আসলে বিলাস শরীর ও মন থেকে বিগত দিনের সমস্ত কিছু ধুয়ে ফেলার বিশ্বাসকে সেভাবে আঁকড়ে ধরতে অসমর্থ হয়
ইতিমধ্যে নদীর স্রোতে গাছের বড় বড় গুঁড়ি ভেসে চলে হরিদ্বারের দিকে
অনেকগুলি বাকল সমেত গাছের দেহাবশেষ স্রোত আর উপলখণ্ডের মাঝে ধাক্কা খেতে খেতে কুড়ি মাইল দূরত্ব পাড়ি দিতে থাকলে মনে মনে আমোদ পায় বিলাসিনী, মোটর পথে চার মাইল কম পাড়ি দিলেই যেখানে পৌঁছে যাওয়া যায়...
মন্মথ হিসেব কষে, এবারে তো ওপারে যেতে হয়, কারণ অন্ধকার এখানে আচমকা নেমে আসলে এদিকে আবার হাতির পাল মাঝে মাঝে জল খেতে আসে, বিলাসিনীর দিকে চাইলে, দেখলে সে তাকিয়ে আছে মন্মথর হাতে ধরা গুপ্ত প্রেসের পঞ্জিকার দিকে, মন্মথর কোলের উপরে সে বই খোলা থাকায় বাতাস এলে তার পাতাগুলি আওয়াজ করে করে উলটে যাচ্ছে এক এক করে, একে একে পূর্ণিমা, অমাবস্যা, নিশিপালন, উপবাস, একাদশী, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত সরে সরে গেল, ক্রমে দিনের আলো মরে এলে পর দুজনে মিলে ঘরে ফিরলে...
রাতে মন্মথ বিছানায় শুতে এলে বিলাসিনীর ছাতে যেতে মন করে, 'চাদরটা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিও বিলাস, নাহলে ওশ লেগে ফের ব্যামোয় পড়বে...' আকাশে বোধহয় চাঁদ ছিল কোথাও, চারিদিক থেকে আলো এসে পাহাড় রাজির ছায়া সুনিবিড়, আর দুচোখ ছাড়িয়ে যদি চাইলে, তবে ফার পাইনের বনের ভিতর থেকে বাতাস এসে ফিসফিসিয়ে গেলে, ফের পঞ্জিকার পাতা অন্যমনস্ক বিলাসিনীর চোখের উপর থেকে সরে সরে যেতে থাকে...মিথুন, তুলা, মেষ আর বৃশ্চিক রাশির ঘাতচন্দ্র তুলা, শেষে ক্ষত্রিয় বর্ণ, রাক্ষস গণজাত, অষ্টোত্তরী শনি আর বিংশোত্তরী কেতুর দশা নিয়ে নাড়ি,আদি, যোনি, নক্ষত্র, হাঁস এসবের পাতা উলটে গেলে সেই রাজহংস, শ্বেত রাজহংস বিলাসকে নিয়ে ভেসে চলে কমলাদিদির দোতলা কোঠাবাড়ির দিকে...বিলাস মেঘের পাশে কন্যা মীন তুলা রাশির নক্ষত্রদের দেখতে দেখতে ভাবে আমাদের মসজিদ বাড়ির রাস্তা থেকেও তো এদেরকে দেখা যেত...সে এক বয়স ছিল, বিলাস আরো ভাবে, এই নদী, এই জল আর তার স্রোত আর এই সমস্ত তারাদের যেই শহরে দেখে এসেছি..কী লাভ বলতো এদেরকেই আবার অন্য জায়গায় খুঁজতে গিয়ে...শ্বেত রাজহংস কোনও উত্তর দেয়না...সমস্ত নক্ষত্র দোষ কাটিয়ে সে উড়ে চলে...
অঘ্রান মাসের শুরু তাই শীত শীত ভাব লাগে
শহর কলকাতায় সে সময়ে বেশ শীত পড়ত
কমলাদিদি বলে আগে আরো ঠাণ্ডা দিত বলে শীতকালে বাবুদের কাছ থেকে রেট বেশি নেওয়া যেত, বলে কমলাদিদির সে কী হাসি, বলে ঘরে ঢোকার আগে বাবুদের ডন বৈঠকের ধুম লেগে যেত, শরীর আর গরম হয়না...তেমন ঠাণ্ডা তোরা দেখিসনি
কালীপূজা বলে আগের দিন কমলাদিদিকে বলে বিলাস কোন বাবু নেয়নি
এছাড়া সকাল থেকে দুপুর পেরিয়ে গেলে বিলাসিনীর মন উচাটন হয়
বিনি এদিকে বেঁকে বেঁকে এসে ডেকে যায়, 'ও লো সই বিলাস...তোর ফুলঝুরি ত একনো এলেনা...' বিলাস কপট মুখে অন্যদিকে তাকায়...জানালা দিয়ে ম্লান এক ফালি রোদ এসে ঘরে ঢুকছিল, সেই রোদের ভিতরে কমলাদিদির মোটকা বিড়াল এক ফালি তোষকের মতো পড়ে আছে
বিলাস পাখাখানি দিয়ে গুঁতো দিতে সে ঈষৎ বিরক্ত হয়ে বিলাসিনীর দিকে তাকালে বিলাসিনী রেকাব খুলে দুটি লবঙ্গ মুখে ফেলে পান খাওয়া লাল ঠোঁট ফুলিয়ে বিনির দিকে চায়... 'মন্মথবাবু ফুলঝুরি হবে কেন বিনি...', 'ভুল বলেছি সই, তোমার মন্মথসবাবু কি ফুলঝুরি হতে পারে, সে তো হাউই...' বিলাসিনী কপট রাগে পাখাখানি হাতে নিয়ে বিনিকে মারতে উদ্যত হলে তার অলস খোপা খুলে আসে, তেল মাখা চুল বিলাসিনীর কাঁধের একপাশে খুলে পড়লে বিনি হাসতে হাসতে পালায়
বিলাসিনী কান পাতলে শুনতে পায় মসজিদ বাড়ির দিকে আজ সন্ধেবেলা তুবড়ি জ্বালানো হবে বলে রাস্তায় সবাই তাই নিয়ে কথা বলছে, থেকে থেকে টুকরো কথাবার্তা ভেসে আসছে
আহিরীটোলার বাড়ি থেকে বেরোতে আজ একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল মন্মথর
স্ত্রী মানদাসুন্দরীর ব্যারামটা আজ আবার বেড়েছে
সকালে কালী কবিরাজের সাথে কথা বলতে গিয়ে অনেকটা সময় চলে যায়
ফেরার পথে কুমোর পাড়ায় ডাকিনীদের ভয়াবহ অযত্নে তৈরি মূর্তি দেখে এসেছে
ট্রাইএঙ্গেলের মতো তাদের বিকৃত স্তন আর মুখময় রক্ত
কবিরাজ আজ একরকমে বলেই দিলেন ঔষধি কাজ করছে না
পথ্য ছাড়া এখন আর কোনও উপায় নেই
রোগী কালকেও চলে যেতে পারে আবার দশ বচ্ছরকাল এভাবেই কাটিয়ে দিতে পারে
মানদাসুন্দরী গতকাল রাত থেকে ঘোরের মধ্যেই আছেন, মাঝে মাঝে মন্মথকে ডেকে উঠছেন, 'ওগো শুনছো তোমার বিলাসবউয়ের বাড়ি গেলে না...পূজোগন্ডার দিনে...' বলেই মুখ দিয়ে গেঁজলা তুলছে আর ফের একটু জ্ঞান হতেই, 'ও লো বেণুর মা...কপালের সিঁদুরটা একটু ভালো করে এঁকে দে দিকি...পূজোগন্ডার দিন বলে কতা...' বাড়ির বারন্ডায় খাঁচা থেকে বুড়ো ময়নাটাও চেঁচাচ্ছে, 'ভালো করে এঁকে দে...পূজোগন্ডার দিন...'
নির্লজ্জতায় মন্মথর কোন সমস্যা নেই
মানদাসুন্দরীকে মনের গভীরে নিয়ে ভাবলেও বিলাসকে মনে করতে গেলে তা অসুবিধের হয়না
একটি লাল লংকা খাঁচা্র জালের ভিতর দিয়ে ময়নার মুখে দিয়ে মন্মথ বলে যায়, 'বামুন ঠাকুর, বিলাসের কাছে যাচ্ছি, বাড়াবাড়ি হলে কাউকে দিয়ে খবর পাঠাস'