content
stringlengths
0
129k
কাউকে কিছু না বলে রাস্তায় নেমে আসে মন্মথ
বুড়ো ময়না চেঁচাতে থাকে, 'বাড়াবাড়ি হলে খবর পাঠাস, বাড়াবাড়ি হলে খবর পাঠাস...'
শীতের প্রারম্ভে অলস দুপুরে মন্মথ আজ হেঁটে যাবে বলে ঠিক করে
নীল আকাশে আজ মেঘের লেশ মাত্র নেই, কিন্তু রোদের হলুদকে অসুখের মত মনে হয়
মনে হয় সে যেন জ্বরের জন্য অপেক্ষা করে আছে, সন্ধেবেলা যার কিনা আসার কথা, সমস্ত উত্তাপ শরীরে নিয়ে যদি জানালা দিয়ে বাইরে তাকাও, দেখবে অমাবস্যার কালো এক সন্ধেবেলা, কালীপূজো বলে আতসবাজি আর হাউই-এর কেরামতি সব, তুবড়ি ছুটছে এইসান একটা শেষ না হতেই আরেকটা, বাঁইবাঁই করে চরকা ঘুরতে লেগেছে আর এদের সবার শেষে গন্ধকের কটু গন্ধ নিয়ে সেইসব উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে দেহ আর মন জুড়ে, যেন এক কালজ্বর বলে মনে হবে একে
আজ চিৎপুরের দিকে না ঘেঁষাই ভালো, বাজারের ভিড়ে ওইদিকটাতে আজ হাঁটার জো থাকেনা
ছোকরাদের দল রাস্তার বিভিন্ন যায়গায় জটলা করে ফানুসের খোলের উপরে রঙিন কাগজ লাগাচ্ছে
সেন্ট্রাল আভেনিউ ধরে এগিয়ে খানিক দূর হাঁটলে ফের মানদাসুন্দরীর কথা মনে আসে তার
এ রাস্তার নাম পালটে গেছে কয়েক বচ্ছর হল
দেশবন্ধু মারা যেতে কর্পোরেশন থেকে এ রাস্তা তার নামে করে দিয়েছে বলে হালে সক্কলে সি আর আভেনিউ বলার চেষ্টা করলেও ভুলে যাচ্ছে খালি আর রাস্তার নাম সেন্ট্রাল আভেনিউই রয়ে যাচ্ছে
মানদাসুন্দরীর কষ্টটাও ক্রমে মন্মথর নিস্তেজ রোদের মত লাগে
যে রোদের আঁচে আতপ্ত শরীরের অনুভূতি প্রবল হলে ভীষণ ভাবে নিজের বেঁচে থাকাটা অনুভব করা যায়, তা না হয়ে থেকে থেকে মৃত্যুর কথা মনে আসছে
মৃত্যুকে প্রবল অযত্নে বানানো ডাকিনীর মত মনে হলে মৃতকেও ট্রাইএঙ্গুলার স্তন নিয়ে বীভৎস এক ডাকিনীর মুখের মতো মনে হচ্ছে...মানদাসুন্দরীর স্মৃতি থেকে কুয়াসা আর শীতের মতো এক শীতল ঠাণ্ডা ভাব উঠে আসছে বলে মন্মথর এসময়ে দম বন্ধ হয়ে আসছে, আর তপ্ত সেই সমস্ত সন্ধেকালীন জ্বরকে অধিক প্রিয় বলে মনে হওয়ার দরুন বিলাসের কথা মনে পড়ছে
বিলাসকে আজ সন্ধেবেলা তুবড়ির খেলা দেখাতে নিয়ে যাবে বলেছে মন্মথ
বলেছে বড়বাজার থেকে হাউই কিনে আনবে
কিন্তু এই মরা মাছের মত দুপুর গড়িয়ে যেরকম ভাবে বিকেল আসছে সেই সময়গুলিকে ছুঁতে চেয়েও তারা যেন পাঁকের মাছের মত হাত থেকে পিছলে বেরিয়ে যেতে লেগেছে
কমলাদিদির বাড়ি থেকে সেন্ট্রাল আভিনিউ দেখতে পাওয়া যায়
মন্মথও কমলাদিদি ডাকে তাই সে যে বয়সে মন্মথর থেকে বড় এমনটা নয়, আর সেভাবে হিসেব কষে দেখলে বেশ খানিক ছোটই হবে
কিন্তু এরকমই হয়, এরকমটাই দস্তুর
কমলাদিদির বাড়ির রোয়াকে সকাল থেকে চণ্ডু টেনে ভোলা ঠায় শিবনেত্র হয়ে বসে আছে
মসজিদ-বাড়ির রাস্তায় ওদের পৈতৃক ভাঙের দোকান আছে কিন্তু দেখাশোনার অভাবে সে দোকান ঠিক উজিয়ে ওঠে না
ভোলাই মাঝে মাঝে বানিয়ে খায়
তবে কমলাদিদির পেয়ারের লোক
এটা সেটা কাজে কম্মে তো লাগেই, উপরে কোঠার নজরদারিও চলে
দিনকাল আর আগের মত নেই, ছেলে ছোকরারা বড় ফাজিল হয়েছে, দুদ্দাড় ঢুকে আসে, এ পাড়ায় এলে আগে অল্প বয়সীদের ভিতরে যে জড়তা বা লজ্জা থাকত তাও কেমন দিন দিন কমে যাচ্ছে, কমলার এমনটাই মনে হয়
ভোলা ঠায় বসে থাকে বলে কমলা বুকে বল পায়
কমলাদিদির বাড়ির একতলা অন্ধকার লাগে, প্রথমে বাইরে থেকে ঢুকে দেখলে কিছুই দেখা যাচ্ছে না, ক্রমে চোখে সে অন্ধকার সয়ে গেলে মনে হবে হাড় আর শরীরের ভেতরে যেন নোনা লেগে গেছে, একমুহূর্তের জন্য এমনটাও মনে হতে পারে যেন এখান থেকে বেরিয়ে গেলেই ভালো
কিন্তু আঁশটে এই দুপুর প্রায় শেষ হয়ে এসেছে বলে একতলার বাড়ির কোর্টইয়ার্ডে যে অতল এক চৌবাচ্চা রয়েছে, বিলাস তার জলে মুখ ঝুঁকিয়ে কিছু দেখছিল
দোতলার দেওয়ালের রঙ্গিন জাফরি কাঁচ ফেরতা রঙিন পানসে রোদ জলের উপরে এসে পড়ছে আর চৌবাচ্চার গভীর জলে যে মহাকাল মাগুর মাছ বাস করত, যার শ্যাওলা ধরা শরীরের উপর থেকে ঠাণ্ডা ভাপ উঠে এসে সেই চৌবাচ্চার জলকে থেকে থেকে আরও হিম শীতল করে তুলত, সেই মাছ একবার জল কেটে বেরিয়ে গেলে সে জাফরি রঙের আলোছায়া ভেঙে ভেঙে যেতে লেগেছে, এসময়ে বিলাসিনী মুখ তুলে চাইতে মন্মথকে দেখতে পেয়ে শুধোয়, 'জানো এই চৌবাচ্চা নীচ দিয়ে আমাদের এই গঙ্গায় গিয়ে মিশেছে...'!
মন্মথ সারা শরীর দিয়ে হেসে উঠতেই যেন চারিদিকের অন্ধকার আর নিশ্চুপ থমথমে ভাব একটু সরে গেল, কিন্তু সেও ক্ষণিক
হাসি থামলে যেন থমথমে স্যাঁতলা ভাব দ্বিগুণ জ্বরের মত ফিরে এলো
'এতো হুগলী বিলাস...গঙ্গা সে কি জানো কোথায়...' বিলাসিনী এত কিছু তো জানেনা, সে মাথায় হাত ঠেকায়... 'কমলাদিদি বলে সব জলই যে এক...' মন্মথ হাসতে হাসতে চৌবাচ্চার দিকে ঝুঁকে এলে বিলাসিনী বলে চলেছিল...'গঙ্গা মা হয়...মাকে নিয়ে অমন কথা...ছি...তাও কিনা পূজোগণ্ডার দিনে...' মন্মথ জলের উপরে আরও ঝুঁকে এলে সেই কালো জলের তলায় দেখতে পেলে মানদাসুন্দরী শুয়ে আছে, আর সে মহাকাল মাগুর ঠুকরে চলেছে মানদাসুন্দরীর ট্রাইএঙ্গুলার স্তন
মানদাসুন্দরী ধীরে ধীরে অতল চৌবাচ্চার তলা দিয়ে সেই মহামীনের সাথে যেই মাত্র নদী উজিয়ে সমুদ্র, সমুদ্র উজিয়ে সাগর, সাগর উজিয়ে নক্ষত্রমণ্ডলীর দিকে যাত্রা করবে বলে প্রস্তত হয়েছে কী হয়নি, মন্মথ ছিটকে চৌবাচ্চা থেকে সরে আসে
বিলাসিনীর হাত ধরে টেনে সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠতে থাকলে অষ্টাদশীর কব্জিতে লালচে ছাপ পড়ে যায়
বিলাসিনী এ আকস্মিকতায় একটু হতচকিত হলেও অনায়াস ভঙ্গিতে তাকে লুকিয়ে ফেলে
নীচের তলার ঘর থেকে বিনির খিলখিলিয়ে হাসি ভেসে আসে... 'কি ভুল করেছি লো...এত সত্যি হাউই বাজি...আসল রে সই...'
ঘরের জানালা দিয়ে রোদ সরে গেছে, এখন শুধুই ম্লান দিনের আলো দেখা যাবে...মন্মথ যে সময়ে বিলাসকে বিদীর্ণ করেছিল সে অনুভূতি অন্য দিনের মত ছিল না, যা কিনা বিলাসিনী আর মন্মথ দুজনেই বুঝতে পারছিল
মনের আকস্মিক অনুভূতির তারতম্য, শারীরিক দৃঢ়তায় তার ছাপ রেখে যাচ্ছিল, ফলে বিলাসিনীও বুঝতে সক্ষম হয়েছিল আজকের এই শারীরিক নৈকট্য আর পাঁচটা দিনের মত নয়
মন্মথ আজ বিলাসিনীর ঘরে দিগভ্রান্তর মতোই আচরণ করেছে
এখন একটু খেয়াল হতে বুঝতে পারলে, সে বিলাসিনীর উপরে শুয়ে আছে, দরজার দিকে মুখ করে, এ উল্লেখযোগ্য, কারণ মন্মথ এ সমস্ত সময়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতে পছন্দ করে
কিন্তু আজ, সময় এগোতে থাকলে বিলাসিনীর বোধহয় এবারে ব্যথা লাগে, সে আঃ করে উঠে মুখ কুঁচকে অস্ফুট স্বরে বলে একটু আস্তে, সে ভালো লাগার না সত্যি ব্যথার মন্মথ বুঝতে চেষ্টা করেও পারে না... কমলাদিদির বেড়াল আলনার সামনে ঠায় বসেছিল, বিলাসিনীর গলার কাতরানিতে সে অলস ভাবে চাইতে গিয়ে মন্মথর দিকে তাকিয়ে ফেলে
মন্মথ চোখ সরিয়ে নিয়ে আলনার পাশে দেওয়ালে ঝোলানো গুপ্ত প্রেসের বাংলা ক্যালেন্ডারের দিকে চোখ রাখলে
কিন্তু চোখের দৃষ্টির বাইরের অংশ যেন দরজায় কোন এক ধরনের চলাচল অনুভব করে খেয়াল করলে নীচের চৌবাচ্চার একটি কাছিম কী উপায়ে গুটি পায়ে উপরে উঠে এসেছে, ঘরের ভিতরে যে আলো আঁধারি ধীরে ধীরে নামবে বলে মনস্থির করেছিল তারাও যেন এক অনুপলের জন্য থমকে দাঁড়াতে, কাছিমটি মুখ তুলে ওদের দুজনের দিকে চেয়ে আছে, এমনটা মন্মথর মনে হল
এক ঝটকায় বিলাসিনীর শরীরের উপর থেকে নিজেকে নামিয়ে এনে হাঁপাতে থাকলে বিলাসিনী কী হল কী হল বলে উঠতে উঠতে, চৌবাচ্চায় পোকা খেয়ে ফেলার জন্য পোষা কাছিমটিকে দেখতে পেতে আরে গোবিন্দ, তুমি কী দেখতে এসেছ শুনি...খালি খালি বিরক্ত করা...এমন বলতে বলতে তাকে হাতে তুলে নিয়ে দরজা খুলে বারণ্ডা উজিয়ে সিঁড়ির কাছে গিয়ে বিনি...এই বিনি...বলে ডেকে উঠতে থাকলে মন্মথ চোখ বন্ধ করে...
বারন্ডা থেকে হাসির শব্দ আর ফিসফিসিয়ে কথার ফাঁক দিয়ে দূরদূরান্ত থেকে মাঝে মাঝে দু চারটে শব্দ বাজির আওয়াজ কানে আসে...চোখ বন্ধ করে থাকতে গিয়ে ধীরে ধীরে ঘুম নেমে আসে মন্মথর চোখে...যদিও সে সময়ে তাকে তন্দ্রা বলে...সেই আধো তন্দ্রার অতল থেকে জ্বর আর অস্বস্তির বুননে যে ভালবাসার অভিব্যক্তি প্রকাশ পেল না, সেই সমস্ত ভীষণ শারীরিক উপস্থিতি শরীরকে আতপ্ত করে তুলতে লাগলো
তন্দ্রা ভাঙতে সে এক ভীষণ টেম্পারেচার, মাথা ভারী লাগে, তাও ঘাড় ঘুরিয়ে জানালায় চোখ রাখলে আকাশের দিকে তাকায় মন্মথ
বিলাসিনী অস্ফুটে গান গেয়ে মাথার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছিল
বিলাসের চুল থেকে যে তেলের গন্ধ ভেসে আসছিল সেই গন্ধ মৃত্যুর মত মনে হয় মন্মথর
না না এ সেই মৃত্যু নয়, বরং এই সমস্ত দিন, যারা চলে যাচ্ছে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে, সবাই পাল্লা দিয়ে পালটে যাচ্ছে পা মিলিয়ে আর এইভাবে বারোয়ারী দিনগুলি, এই শহর কলকাতা, সমস্ত ভাবনাকেই একটা তেতো শেষ বলে মনে হয় মন্মথর, যেন কোন গ্র্যাঞ্জার থাকার কথা কোনদিন ছিলও না
'এটা কি গান গাইছ বিলাস...' বিলাস বলে পুরনো দিনের একটা গান...গেল হপ্তায় যে ছোকরা এসেছিল...এমন ভর সন্ধেতেই তো...বলে কী মনে হতে থেমে যেতে...বাকি গানখানি গাইতে লেগেছে...
সই সেই কালো চোখে সজল তরীখানি
যদি ছাড়িয়া দিলেম আমার চোখের জলে
তবে শ্রাবণ উজানে আজ এ দিবসে সই
কেমনে আঁখি রাখি সে জলে মন বেঁধে...
ঘরে সে সময়ে নিভৃত অন্ধকার নেমে এসেছিল, বিলাস ডান হাতে ভর দিয়ে বাম তর্জনীর অগ্রভাগে মন্মথর বাম বাজুতে ঢেউ খেলান আঁকিবুঁকি কেটেছিল বোধকরি, কারণ মন্মথ বিলাসিনীর চুল মুঠো করে তীব্র সে কেশতৈলের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে জিজ্ঞেস করলে...বিলাস তোমার নদী খুব প্রিয় তাই না...তোমায় আমি গঙ্গা নদী দেখাতে নিয়ে যাব...সেই হরিদ্বারে...যেখানে দেখবে উপলখণ্ডে জল কেমন আটকা পড়ে থাকে, তারপর সেই প্রবল গতিপথে উড়িয়ে নিয়ে যায় সবকিছু, সমস্ত কিছু ভেঙে তছনছ করে দিয়ে অবশেষে শান্ত হয়ে সে অন্য নাম নিয়ে আমাদের শহরের পাশ দিয়ে বয়
মন্মথ আকাশে চোখ রাখলে দেখতে পায়, শহরের সন্ধে আকাশের বুকে একটার পরে একটা ফানুস উড়ছে...
মন্মথর চোখের সামনে দিয়ে শুধু তার নয়, বিলাস, কমলাদিদি আর তার বিড়াল, কাছিম, এই সোনাগাছি, মানদাসুন্দরী, ও বাড়ির বুড়ো ময়না, কলকাতা শহর সব্বার, সব্বাইকার বয়স যেন ছুটতে লেগেছে...কেউ যেন এই পৃথিবীর বাসিন্দাই নয় এমন, তাই সবাই মিলে স্যাজিটেরিয়াস, ক্রাক্স, উরসা মেজর, গামা পেগাসি আর ওরাইঅন, আলফা অ্যানড্রোমেডির পাশ দিয়ে ছুটে চলেছে...কে আগে বয়স্ক হয় তার কম্পিটিশন যেন, একে এমন মনে হবে...বিলাসিনী শুধোয়... 'ও তো শুনেছি দেবস্থান...আমাদের কে থাকতে দেবে সে শহরে...' মন্মথ কথার উত্তর দেয় না
শুধু ঘরের ভিতরে অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসে, বিড়ালটা ঘর থেকে বেরোবে বলে মাঝে মাঝে ডেকে ওঠে, চারিদিকে আতসবাজির রোশনাই আর অঘ্রান মাস তাই শীত আসছে বলে সমস্ত কুয়াসা টুয়াসা হিম গন্ধক বাষ্প এদেরকে সরিয়ে নিভতে নিভতে একটি ফানুস অনেক অনেকটা উপর থেকে ধীরে ধীরে আমাদের শহর কলকাতায় নেমে আসছে...
[লেখক - ব্যাঙ্গালোর প্রবাসী, পেশায় উচ্চতর গণিতের কনসালট্যান্ট ও তথ্যচিত্র নির্মাতা, সম্পাদক
রাবণ প্রকাশনা থেকে পূর্ব প্রকাশিত বই 'শহরে অনুপস্থিত দৃশ্যাবলী' (২০১৬) ও 'শহরবিলাস' (২০১৯)
নলতায় নৌকার পোস্টার টানাতে বাঁধা; তৎপর বিএনপি-জামায়াত - নলতায় নৌকার পোস্টার টানাতে বাঁধা; তৎপর বিএনপি-জামায়াত -
ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক
লাইফস্টাইল
সাক্ষাতকার
নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি ব্যবসায়িক পণ্য জরিপ ও বাজার যাচাই করতে খুবই যুগোপযোগী এখন যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ২৪ বছরে পার্বত্য শান্তি চুক্তি, বাস্তবায়ন নিয়ে ক্ষোভ দুই সিটি করপোরেশনের ভাড়াটে চালকরা পালিয়েছেন : নগরজুড়ে বর্জ্যের স্তূপ সাভারে শবে বরাতের রাতে ৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা : ১৩ জনের ফাঁসির আদেশ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করছে বিএনপিঃ বাহাউদ্দিন নাছিম উইঘুরদের নির্যাতন-পীড়নে চীনের নেতারা, ফাঁস জিনজিয়াং পেপারস 'বিজয়ের মাসে ৫জি যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ' বাসচাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিএনপি! যেসব খাতে পাকিস্তান-ভারতকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ছবিতে তাসনুভা আনান করোনা বাড়লে আবারও বন্ধ হবে স্কুল: প্রধানমন্ত্রী ১১ দফা দাবি পূরণ না হলে সড়ক ছাড়বেন না শিক্ষার্থীরা আফ্রিকা থেকে দেশে আসা নিরুৎসাহিত করতে মিশনে মিশনে চিঠি দুর্ঘটনা কেন ঘটলো, তা খুঁজে বের করা হবে : প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন মেয়র আব্বাস, পালাতে চেয়েছিলেন দেশ থেকেও অসুস্থ সালামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন আব্দুর রহমান 'নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস' ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থন দেবে পৃথিবীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায় বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল ঢাকার সড়ক জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আর নেই খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা : বিএনপির সমাবেশ বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর, ৮০ হাজার শ্রমিক নেবে ইতালি শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর 'শর্তসাপেক্ষে' বিআরটিসি বাসের ভাড়া পঞ্চাশ ভাগ কমানোর সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী রেনেসাঁ ডিবেটিং ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি শাহপরান, সম্পাদক সোহান অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুকুরে মিলল ১০ রুপালি জাটকা!
নলতায় নৌকার পোস্টার টানাতে বাঁধা; তৎপর বিএনপি-জামায়াত
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা:
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১, ০৬:০৫:২৭ পিএম
/ ৬৫ বার খবরটি পড়া হয়েছে
২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নে নৌকার পোস্টার টানাতে বাঁধা প্রদান করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা
এসময় বিএনপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগ সমার্থাকদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে
ঘটনাটি রোববার (১৪ নভেম্বর) সন্ধায় নলতা ইউনিয়নের ইন্দ্রনগর মোড় নামক স্থানে ঘটে
জানাযায়, আগামী ২৮ নভেম্বর নলতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের ২০১৩ সালের নাশকতার আসামীরা জামিনে এলাকায় ফিরে আওয়ামীলীগকে সাতক্ষীরার মাটি থেকে মুছে ফেলার লক্ষে নলতার ইন্দ্রনগর মোড় নামক স্থানে আওয়ামীলীগর মনোনীত নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হোসেনের পক্ষে কর্মীরা নৌকার পোস্টার টানাতে গেলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাঁধা প্রদান করে
এসময় দু'পক্ষের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে
এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে এলাকাবাসীরা জানায়
এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী আবুল হোসেন জানান, ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াত-বিএনপি সহিংসতার চেষ্টা চালাচ্ছে
তারা যে কোন সময় এলাকায় যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে
সংযোগকারী পৃষ্ঠাসমূহ পাতা: নামস্থান: সমস্ত (প্রধান) আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিপিডিয়া উইকিপিডিয়া আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা প্রবেশদ্বার প্রবেশদ্বার আলোচনা মডিউল মডিউল আলাপ গ্যাজেট গ্যাজেট আলোচনা গ্যাজেট সংজ্ঞা গ্যাজেট সংজ্ঞার আলোচনা বিপরীত নির্বাচন
মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাত জেলায় বিধিনিষেধ (লকডাউন) ঘোষণা করেছে সরকার
এই সাত জেলায় লকডাউন ঘোষণার কারণে মঙ্গলবার (২২ জুন) ভোর ৬টা থেকে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে
সোমবার (২১ জুন) রাতে এ ঘোষণা দিয়েছে বাস মালিক সমিতি
এর আগে মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলায় বিধিনিষেধ (লকডাউন) ঘোষণা করা হয়
মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ওই সাত জেলায় এই বিধিনিষেধ (লকডাউন) কার্যকর হবে
লকডাউন চলাকালে এই সাত জেলার অন্তর্গত কোনো জায়গায় ট্রেনও থামবে না বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন
সময় সংবাদকে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের গন্তব্যে যেতে যদি কোনো লকডাউন এলাকা পড়ে সেখানে ট্রেন থামবে না, যাত্রী উঠাবে না, নামাবেও না
লকডাউন এলাকা ক্রস করে ট্রেন গন্তব্যে যাবে
অন্যদিকে লকডাউনের মধ্যে সাত জেলায় নৌযান চলাচল করবে কিনা সে বিষয়ে কথা বলেছেন বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক
সোমবার (২১ জুন) সময় সংবাদকে তিনি জানান, লকডাউন ঘোষণা করা সাত জেলায় সব যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল আগামীকাল মঙ্গলবার (২২ জুন) থেকে বন্ধ থাকবে
আরিচা ও মাওয়া ঘাটের লঞ্চ ও স্পিডবোটও বন্ধ থাকবে, ফেরিতে শুধুমাত্র মালবাহী গাড়ি পারাপার হতে পারবে
ঢাকা বা ঢাকার বাইরে থেকে ছেড়ে আসা কোনো নৌযান এই সাত জেলার মধ্যে কোনো ঘাটে দাঁড়াতে পারবে না বলেও তিনি জানান
এর আগে সোমবার (২১ জুন) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলায় বিধিনিষেধ (লকডাউন) সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলাসমূহে সার্বিক কার্যাবলি/চলাচল মঙ্গলবার (২২ জুন) ভোর ৬টা থেকে আগামী ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলো
এ সময়ে শুধু আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন-কৃষি উপকরণ, খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এবং পণ্যবাহী ট্রাকগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জরুরি বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ সাত জেলায় মালবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না
এর বাইরে আরও কোনো জেলা যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে জেলা প্রশাসন লকডাউন দিতে পারবে
এদিকে করোনা পরিস্থিতি বিস্তাররোধে দেশে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত করা হয়
গত ১৬ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়
:
...