content
stringlengths
0
129k
'বিজ্ঞানী হাতছাড়া হয়ে যাবার পর সুযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাকে পণবন্দী করা হয়েছে চাপ সৃষ্টি করে বিজ্ঞানেীকে ফেরত পাওয়া বা অন্য কোন সুবিধা লাভের ক্ষীণ আশায়
' বলল ডেভিড ইয়াহুদ
'আপনাদের সিদ্ধান্ত ঠিকই তাৎক্ষণিক, সুচিন্তিত নয়
কারণ প্রধান বিচারপতির বিনিময়ে তারা বিজ্ঞানীকে আমাদের হাতে তুলে দেবে না
প্রধান বিচারপতিকেই উদ্ধারের জন্যে তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করবে
প্রধান বিচারপতিকে বন্দী করে রাখার মধ্যে কোন লাভ নেই, ষোল আনাই ক্ষতির আশংকা
' বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমান বলল
'আপনার পরামর্শ কি তাহলে?' জিজ্ঞাসা ডেভিড ইয়াহুদের
চোখ বন্ধ করে এক মুহুর্ত ভেবে বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমান বলল, 'তাকে ছেড়ে দিয়ে আসাই সব দিক থেকে মঙ্গল
প্রধান বিচারপতিকে পেলে ওদের অনুসন্ধান বন্ধ হয়ে যাবে
আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রক্ষা পেয়ে যাবে এবং নতুন করে সংঘবদ্ধ হয়ে আমরা নতুন উদ্যোগে কিছু করার সুযোগ পাব
ডেভিড ইয়াহুদ একটু ভেবে বলল, 'আপনার যুক্তিই ঠিক মি. আরিয়েহ
তাহলে ওদের আমি বলে দিই ওরা তাকে রাস্তার পাশে কোন এক জায়গায় ফেলে রেখে আসবে
'উনি কি অবস্থায় আছেন?' জিজ্ঞাসা বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমানের
'উনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আছেন
আগে চোখ বাঁধা ছিল, এখন বাঁধা নেই
' বলল ডেভিড ইয়াহুদ
'ঠিক আছে, যেভাবে বলেছেন সেটাই করুন
আপদ বিদায় হোক!' বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমান বলল
'আসছি আমি, বলে আসি ওদের
বলে ডেভিড ইয়াহুদ দ্রুত উঠে গেল
দু'মিনিট পরে ফিরে এলো ডেভিড ইয়াহুদ
বলল, 'ওদের পাঠিয়ে দিয়েছি
সাবধানে কাজটা সারতে বলেছি
ডেভিড ইয়াহুদ বসল বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমান আরিয়েহর পাশে
'এটাই ভালো হলো, ড. ডেভিড ইয়াহুদ! আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে
নিশ্চিত লাভ ছাড়া ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ানোর কোন দরকার নেই
' বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহ বলল
সোফায় গা এলিয়ে দিয়েছিল ডেভিড ইয়াহুদ
সোজা হয়ে বসল
তার সারা মুখ জুড়ে হতাশার ছাপ
বলল ধীরে ধীরে, 'অনেক দিনের পরিকল্পনার জাল পেতে বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসিকে ধরলাম
লাভ হলো না
জাল কেটে বেরিয়ে গেল
এই আহমদ মুসাই অতীতে আমাদের বার বার সর্বনাশ করেছে
এবারের সর্বনাশটাও সে-ই করল
সে দৃশ্যপটে উদিত না হলে সোর্ডের ফর্মুলা, সোর্ডের মডেল সবই এতদিন আমাদের হাতে এসে যেত
হঠাৎ কোত্থেকে উদয় হলো এই শয়তানটা!'
'হঠাৎ কেন আসবে? ওআইসি ও তুরস্ক সরকার পরিকল্পনা করেই তাকে নিয়ে এসেছে
আহমদ মুসা এখন ইসলামী বিশ্বের শেষ তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়িয়েছে
দেখা যাচ্ছে, যেখানেই তাদের অনতিক্রম্য ক্রাইসিস, সেখানেই আহমদ মুসাকে হাজির করা হচ্ছে
' বলল বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহ
'বুঝতে পারছি না আমি, আমরা এখন কোন্ পথে এগোবো? আমি নতুন করে তেলআবিব ও ই্উরোপ-আমেরিকার আমাদের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করেছিলাম, আহমদ মুসাকে মোকাবিলা করতে পারে এমন কাউকে পাঠানোর জন্যে
তারা কোন আশ্বাস দিতে পারেনি
তারা বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসিকে হাতে আনাকেই গুরুত্ব দিয়েছিল সবচেয়ে বেশি
কিন্তু তাকে হাতে এনেও রাখতে পারলাম না
আমি ভাবছি, তাকে কিডন্যাপ করার নতুন উদ্যোগ শুরু করার কোন বিকল্প নেই
একজন ব্যক্তিকে তারা তো বাক্সবন্দী করে রাখতে পারবে না
প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে তাকে হাতে পাওয়ার একটা সুযোগ পাওয়া যাবেই
' বলল ড. ডেভিড ইয়াহুদ
দূর্বল ও বেদনার্ত কণ্ঠ তার
সোফায় গা হেলান দিয়ে ভাবছিল বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহ
তার চোখ দু'টি বোজা ছিল
সে সোজা হয়ে বসল
মাথা নিচু হলো তার
বলল, 'ফোটন পারটিকেলস'-এর ঝাঁককে একটা স্বয়ংক্রিয় ডিফেনসিভ শিল্ডে পরিণত করা এবং তাকে স্বয়ংক্রিয় ক্যারিয়ারে পরিণত করে বন্দী মারণাস্ত্রকে গভীর মহাশূণ্যে নিয়ে ধ্বংস করার বিজ্ঞান ও টেকনোলজি আমার কাছে এখনও আকাশ কুসুম বলেই মনে হয়
বুঝতেই পারছি না এই অসাধ্য ও কল্পনার একটা বিষয়কে ড. আন্দালুসিরা কিভাবে বাস্তবে পরিণত করল
এতো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ডিফেন্স টেকনোলজি! একে হাত করতে না পারলে তো আমাদের সব আশা-ভরসাই শেষ হয়ে যাবে!' হতাশ কণ্ঠস্বর বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহর
'আমাদের সাফল্য আর কত দূরে ড. আরিয়েহ?' জিজ্ঞাসা ডেভিড ইয়াহুদের
'ল্যাবরেটরি টেস্ট তো অনেক আগেই হয়ে গেছে
মডেল টেস্টও সফল হয়েছে
অপারেশন শুরুর জন্যে প্রস্তুত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে
' বলল ড. আরিয়েহ
ড. ইয়াহুদের চোখ দু'টি উজ্জ্বল হয়ে উঠল
বলল, 'রোমেলী দুর্গের ওদের 'ইনস্টিটউট অব রিসার্চ এন্ড টেকনোলজি', ওদের সোর্ড, ওদের বিজ্ঞানীরা আমাদের প্রথম টার্গেট হতে পারে না? সবার অলক্ষ্যে ওদের সব চিহ্ন আমরা দুনিয়ার বুক থেকে মুছে ফেলতে পারি না?'
'একটা বিকল্প পথ হিসেবে এটা আমাদের সামনে আছে
কিন্তু এর পথে আছে অদৃশ্য দেয়ালের বাধা
ওদের সোর্ডের ডিফেনসিভ শিল্ডের মনিটর যদি সুপার সেনসেটিভ হয় এবং যদি সোর্ডের শিল্ড হাইয়েস্ট পাওয়ার পারটিকেলের হয়, তাহলে আমাদের ফোটন সাইলেন্ট ডেস্ট্রাকশন ডেমন ( -) ধ্বংস করার বদলে সোর্ডের হাতে বন্দী হয়ে যেতে পারে
সুতরাং আমাদের ফোটন সাইলেন্ট ডেস্ট্রাকশন ডেমন () বা 'ডাবল ডি' ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা আছে
' বলল বিজ্ঞানী আরিয়েহ গম্ভীর কণ্ঠে
'কিন্তু তারা যদি অপ্রস্তুত অবস্থায় থাকে এবং সে সম্ভাবনাই বেশি
' ড. ডেভিড ইয়াহুদ বলল
'সেটাও সম্ভাবনার ব্যাপার
' নিশ্চিত করে বলা যায় না যে, তারা সব সময় প্রস্তুত থাকে না
থাকারই কথা
' বলল ড. আরিয়েহ
'আর কি বিকল্প আছে?' বলল হতাশ কণ্ঠে ড. ডেভিড ইয়াহুদ
'বিকল্প আর কিছু নেই
ওদের বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসিকে কিডন্যাপ করা অথবা মেরে ফেলা অথবা ওদের ধ্বংস করা-এই দুই পথেই আমাদের এগোতে হবে
' ড. আরিয়েহ বলল
'কিন্তু ওদের ধ্বংস করার পথই তো অনিশ্চিত
' বলল ডেভিড ইয়াহুদ
'আমি তত্ত্বগত অসুবিধার কথা বলেছি
বাস্তবে সুবিধাও থাকতে পারে, আশংকা সত্য নাও হতে পারে
বিষয়টা আরও বিবেচনা সাপেক্ষ, যা ভাবছি সে রকম অসম্ভব নাও হতে পারে
' ড. আরিয়েহ বলল
ড. আরিয়েহর কথা শেষ হবার আগেই ড. ডেভিড ইয়াহুদের টেলিফোন বেজে উঠেছিল
ড. ইয়াহুদ তার মোবাইল বের করে নিয়েছিল তার পকেট থেকে
ড. আরিয়েহর কথাও তখন শেষ হয়ে যায়
ড. ইয়াহুদ মোবাইলে ও প্রান্তের সাড়া পেতেই বলে উঠল, 'কি খবর জোনাহ, কাজ শেষ?'
'হ্যাঁ, শেষ
তাকে এই মাত্র ওরা তুলে নিয়ে গেছে
' বলল ওপার থেকে
'এত তাড়াতাড়ি? তোমরা ওখানেই?' এপার থেকে প্রশ্ন ড. ইয়াহুদের
আমরা তাকে হাইওয়ের বাঁদিকেই চৌরাস্তার টপ ফ্লাইওভারে ফেলে রেখে চলে এসে আবার রাস্তা ঘুরে ওদিকে গিয়েছিলাম
মানুষের জটলা দেখে আমরা যাচ্ছিলাম ওখানে
পৌঁছতেই দেখলাম একজন তার সংজ্ঞাহীন দেহ গাড়িতে তুলল
গাড়িতে তুলে দরজা বন্ধ করে মোবাইলে কথা বলতে বলতে গাড়ির ড্রাইভিং সিটের দিকে যাচ্ছিল
স্পষ্ট শুনলাম উনি বলছিলেন, 'জেনারেল, তাকে পাওয়া গেছে মাঝপথেই
প্রয়োজন নেই আর আপনাদের আসার