content
stringlengths
0
129k
হাসপাতালে ফিরুন
আমি ওঁকে নিয়ে হাসপাতালে আসছি
' কথা শেষ করেই গাড়ি নিয়ে উনি ছোটেন সিজলীর দিকে
আমার মনে হয় লোকটি কোন সরকারি লোক হবেন
'লোকটি কেমন? ইউনিফর্মে ছিল?' জিজ্ঞাসা ড. ইয়াহুদের
'না, সিভিল ড্রেসে
একহারা সাধারণ ফিগার
এশীয় চেহারা
' বলল ওপার থেকে জোনাহ
'ঠিক আছে তোমরা চলে এসো
বলে মোবাইল মুখের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে অফ করে দিল
মোবাইলের লাউড স্পীকার অন ছিল
মোবাইলের সব কথা ড. আরিয়েহও শুনছিল
মোবাইল বন্ধ করে ড. ইয়াহুদ কিছু বলার আগেই ড. আরিয়েহ বলে উঠল, 'মি. ইয়াহুদ, বুঝা যাচ্ছে, যে লোকটি প্রধান বিচারপতিকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেছে সে তাকে উদ্ধার করতেই এদিকে আসছিল এবং জেনারেল মোস্তফারাও আসছিল উদ্ধার অভিযানেই
কিন্তু এদিকে কেন?'
থামল ড. আরিয়েহ
তার চোখে-মুখে উদ্বেগের ছায়া
বলল সে, 'টেলিফোনে জোনাহ যা বলল তাতে তো বুঝা যাচ্ছে ওরা এদিকেই আসছিল
কিন্তু কেন এদিকে বলা মুস্কিল
এ পথ দিয়ে তো অনেক দিকেই যাওয়া যায়
'তা যাওয়া যায়
এখানেও তো আসা যায়
' বলল ড. আরিয়েহ
'তা আসা যায়
কিন্তু তারা এখানে আসবে কেন?' বলল ড. ইয়াহুদ
'এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই
কিন্তু যে উত্তর আমাদের জানা নেই, তা কারও জানা নেই, তা ঠিক নাও হতে পারে
ডেভিড হারজেলের বাড়ির সন্ধান তারা পেয়েছিল, এ কথা আমরা জানি
সুতরাং আমাদের এ ঠিকানার নিরাপত্তা নিয়ে আশংকা আমরা করতেই পারি
' বলল ড. আরিয়েহ
ড. ইয়াহুদ কোন উত্তর দিল না
তাকিয়ে ছিল সে ড. আরিয়েহর দিকে
একটু সময় নিয়ে ধীর কণ্ঠে সে বলল, 'ড. আরিয়েহ, আপনি ঠিক বলেছেন
আহমদ মুসা যেন বাতাস থেকে সব কিছুর গন্ধ পায়! এখন আমাদের করণীয় কি ভাবছেন?'
'আমি আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছি
এ ঠিকানাও ছেড়ে দিতে হয় কিনা তা আমাদের ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়াল
' ড. আরিয়েহ বলল
'আপনার ভাবনা ঠিক
কিন্তু প্রধান বিচারপতিকে উদ্ধারের পর আমাদের এই ঠিকানা ওদের সন্দেহের তালিকায় আর নেই
কারণ প্রধান বিচারপতিকে তারা পেয়েছে অন্য এক জায়গায়
এর অর্থ এখানে তাকে আনা হয়নি
অতএব, এ ঠিকানার সন্ধান তারা পেলেও এটা এখন তাদের ভুলে যাবার কথা
' বলল ড. ইয়াহুদ
'আপনার যুক্তি ঠিক
প্রধান বিচারপতিকে উদ্ধারের পর আমাদের এ ঠিকানা নিয়ে তাদের ভাববার কথা নয়
এ যুক্তির সাথে আমিও একমত
কিন্তু আশংকা থেকে মুক্ত হতে পারছি না
' ড. আরিয়েহ বলল
'আশংকা থাকা ভালো
আমরা সাবধান হতে পারব
কিন্তু সাবধান থাকার জন্য বেশি কিছু করার দরকার নেই
' বলল ড. ইয়াহুদ
'আপনার কথা ঠিক
কিন্তু আমাদের 'ডাবল ডি' মানে 'ফোটন সাইলেন্স ডেসস্ট্রাকশন ডেমন' () গবেষণার অংশ বিশেষ অন্যত্র আমি সরিয়ে ফেলতে চাই, বিশেষ করে 'মডেল' ও 'টেস্ট' অংশ অন্যত্র সরিয়ে রাখাই ভালো
শুধু 'রিসার্চ অংশ এখানে থাকবে
' ড. আরিয়েহ বলল
'কিন্তু এত বড় জায়গা কোথায় পাওয়া যাবে?' জিজ্ঞাসা ড. ইয়াহুদের
'চিন্তা করুন
আমিও চিন্তা করছি
জায়গা অবশ্যই পাওয়া যাবে
ইউরোপ-আমেরিকার দূতাবাস কর্তৃপক্ষ যারা ইস্তাম্বুলে আছেন তারাও আনন্দের সাথে আমাদের সাহায্য করবেন
'ঈশ্বর আমাদের সহায় হোন! আমরা আরও একটু ভাবনা-চিন্তা করি
আপনি যেটা বলেছেন সে রকমই সিদ্ধান্ত হতে পারে, যদি জায়গা পাওয়া যায়
ধন্যবাদ ড. আরিয়েহ আমি উঠি
আমাদের কোথায় কি অবস্থা একটু খোঁজ নিতে হবে
উঠে দাঁড়াল ড. ইয়াহুদ
ড. আরিয়েহও উঠে দাঁড়াল
হাত বাড়িয়ে দিল ড. ইয়াহুদের দিকে
বলল, 'ভাববেন না, ড. ইয়াহুদ, আমরা দুর্বল হইনি
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মারণাস্ত্র এখন আমাদের হাতে এবং এই খবর কেউ জানে না, ইউরোপ-আমেরিকাও নয়
ওরা জানলে পাগল হয়ে যাবে
আমাদের কোন শর্তই ওরা অপূর্ণ রাখবে না
সোর্ড ইউরোপ-আমেরিকার আতংকের কারণ বটে, কিন্তু 'ডাবল ডি'র খবর জানলে ওদের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাবে
অতএব, আমাদের চিন্তার কিছু নেই
'ধন্যবাদ ড. আরিয়েহ
'সোর্ড'-এর ফর্মুলা হাত করা এবং সোর্ড ও তার গবেষণা ধ্বংস করার জন্যে ওরা আমাদের সাহায্য করছে
এই সাহায্য আমাদের ও আমাদের 'ডাবল ডি'র শত্রু 'সোর্ড'কে ধ্বংস করতে যেমন আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি আমাদের 'ডাবল ডি'র গবেষণা তৈরিতেও সাহায্য করছে
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ
তিনি তাঁর আশীর্বাদ আমাদের ওপর ঢেলে দিয়েছেন
কথা শেষ করে ড. আরিয়েহর হাত ছেড়ে দিয়ে বলল, 'আসি, বাই!'
'ঈশ্বর আমাদের সহায় হোন! আসুন
' বলল ড. আরিয়েহ
ইস্তাম্বুল সামরিক হাসপাতালের ভিভিআইটি স্যুট
ইজি চেয়ারে শুয়ে বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি
তার বাম ও ডান পাশের সোফাগুলোর বাম পাশের একটি সোফায় বসে আছে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ সিকউরিটি চীফ জেনারেল মোস্তফা কামাল এবং ডান পাশের পাশাপাশি দু'সোফায় বসে আছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আহমদ আরদোগাল বাবাগলু ও প্রধানমন্ত্রী হোসেইন ইসমাইল সেলিক
প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দেখতে এসেছেন বিজ্ঞানী ড. আব্দুল্লাহ আন্দালুসিকে
জেনারেল মোস্তফা কামাল হাসপাতালেই ছিলেন
ভিভিআইপি অতিথিদের তিনিই সাথে করে কক্ষে নিয়ে এসেছেন
বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি অনেকখানি সুস্থ হয়ে উঠেছেন
তার সুস্থ হেয়ে উঠতে সময় লাগছে
ইলেক্ট্রিক শক তার দেহের কোষগুলোর বিরাট ক্ষতি করেছে
আস্তে আস্তে সেরে উঠছেন
সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে
কুশল বিনিময় ও টুকটাক কথা চলছিল বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে
প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দু'জনেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছিলেন যে, আল্লাহ শুধু বিজ্ঞানীকে নন, একটা শ্রেষ্ঠ গবেষণাকে তিনি রক্ষা করেছেন
'ঠিক বলেছেন স্যার, মানবতার পক্ষের একটা গবেষণাকে তিনি সব দিক দিয়েই সাহায্য করেছেন
খালেদ খাকান কে আমি জানি না
তবে তাকে সাক্ষাত ফেরেশতা বলে মনে হয়েছে আমার কাছে
তিনি আসার পর যা ঘটছে, তিনি যা করছেন এবং আমাদের উদ্ধারের ঘটনা আমি দেখলাম, তাতে তিনি আল্লাহর তরফ থেকে এক জীবন্ত সাহায্য
আপনাদের মোবারকবাদ যে, এমন একজন ব্যক্তিকে আপনারা বাছাই করেছেন