content
stringlengths
0
129k
মানুষ জাগতিক কোন লাভের জন্যে এভাবে জীবন পণ করে কাজ করতে পারেনা
একমাত্র আল্লাহ্‌র জন্যে যে কাজ সে কাজেই মানুষ এতটা নিবেদিত, এতটা বেপরোয়া হতে পারে
' বললেন প্রেসিডেন্ট
ঘরে প্রবেশ করল প্রেসিডেন্টের পি.এস.
বলল সে প্রেসিডেন্টকে, 'স্যার, ডাক্তার ও নার্স এসেছেন
আমরা অনেক সময় নিয়েছি
ওঁদের আসতে বল
আমরা উঠছি
বলেই উঠে দাঁড়ালেন প্রেসিডেন্ট
উঠে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী, জেনারেল মোস্তফা, আহমদ মুসা সকলেই
প্রেসিডেন্ট কয়েক ধাপ এগিয়ে আহমদ মুসার সাথে হ্যান্ডশেক করে বললেন, 'ইয়াংম্যান, আপনি আমাদের গর্ব
আল্লাহ্‌ আপনার বুদ্ধি, শক্তি সব বাড়িয়ে দিন
আজ আসি, আবার দেখা হবে
আসসালামু আলাইকুম
প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিল
সব শেষে বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলো আহমদ মুসা ও জেনারেল মোস্তফা
হাসপাতালের লাউঞ্জে বেরিয়ে জেনারেল মোস্তফা আহমদ মুসাকে ডেকে নিয়ে এক প্রান্তের নিরিবিলি সোফায় গিয়ে বসল
বলল, 'অবস্থা সত্যিই ভয়ংকর
কোন্‌ পথে কিভাবে এগোবেন বলে ভাবছেন?'
'পথ এখনও বের হয়নি
পথ বের করার জন্যে কিছু কাজ করতে হবে
সেদিন আপনি যে পাম গার্ডেনের ঠিকানা দিয়েছিলেন, গোপনে সেখানে একটা হানা দেব
দেখি সেখানে কোন ক্লু মিলে কিনা?' বলল আহমদ মুসা
'আমাদের কিছু করনীয় আছে?' জিজ্ঞেস করল জেনারেল মোস্তফা
'আপনাকে জানাবো
আমি সেখানে যাবার আগে আপনার সাথে তো আলোচনা হবেই
' বলল আহমদ মুসা
'ধন্যবাদ মি. খালেদ খাকান
তাহলে আমি উঠছি
আপনি না হয় আমাদের অফিসে চলুন
এক সাথে যাওয়া হবে
' জেনারেল মোস্তফা বলল
'গেলে বাড়তি কি লাভ হবে?' জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা
তার মুখে হাসি
হাসল জেনারেল মোস্তফাও
বলল, 'আপনি যে ধরনের লাভের কথা বলছেন, তেমন কিছু আমার হাতে নেই
তবে আপনাকে একটা সাইন্স ফিকশন দেখাতে পারি
সদ্য রিলিজড্‌ হয়েছে
বিজ্ঞানের যে দিকটা আলোচনা হলো, সে ধরনের বিষয়েরই একটা ছবি
'আপনি যখন দেখেছেন, তখন অবশ্যই ভালো হবে
আমারও লোভ জাগছে
' বলল আহমদ মুসা
দু'জন উঠে দাঁড়াল
লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে এগোলো গাড়ির দিকে
জেনারেল মোস্তফার প্রতিশ্রুত সিনেমাটি দেখল আহমদ মুসা
প্রথমে হালকা মুডে, রসিকতার মধ্যে দেখা শুরু করলেও শীঘ্রই সে সিরিয়াস হয়ে উঠল
দেখল আহমদ মুসা, দু'জন প্রতিদ্বন্দ্বী বিজ্ঞানীর কাহিনী সিনেমাটি
দু'জন বিজ্ঞানীর একজন হলেন প্ল্যানেট আর্থ-এর বিজ্ঞানী ড. লেভী, অন্য বিজ্ঞানী পৃথিবীর প্রতিবেশী গ্রহ 'নেবুলা'র ড. ক্রিস্টি ক্রায়েস্ট
দু'জন বিজ্ঞানী একে অপরকে টপকে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় পাগল
একজনকে আরেকজন মিথ্যা প্রমাণিত করতে পারলে খুব খুশি
একজন একটা আবিষ্কার করলে, তার বেটার ভারশন তৈরি করতে না পারলে অন্যজন স্থির থাকতে পারে না
দু'জনের প্রতিযোগিতা শেষে বিধ্বংসী প্রতিযোগিতায় রূপ নিল
ড. লেভী হয়ে দাঁড়ালেন পৃথিবীর রক্ষক, আর ড. ক্রিস্টি ক্রায়েস্ট তাঁর গ্রহ-রাজ্য নেবুলার পাহারাদার
তাঁদের এই বিপজ্জনক অবস্থায় ঠেলে দিল প্ল্যানেট আর্থ ও প্ল্যানেট নেবুলা উভয়কেই
নেবুলার বিজ্ঞানী ড. ক্রিস্টি ক্রায়েস্ট পরমাণুর নিউক্লিয়াসের কানেকটিভিটির সুত্র আবিষ্কার করে তাঁকে কাজে লাগিয়ে এ্যান্টি -রিঅ্যাকটিভ 'ডিঅ্যাকটিভ ভিটিং এন্ড ডিফিউজিং ওয়েভগান' নামের অস্ত্র তৈরি করছে
ভয়াবহ এই অস্ত্র প্ল্যানেট আর্থের একটি প্রাণীরও কোন ক্ষতি না করে পৃথিবীর সব অস্ত্র মুহূর্তে অচল করে দিতে পারে
অন্য দিকে এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে প্ল্যানেট আর্থের বিজ্ঞানী ড. লেভী আলোর ফোটন পারটিকেলস-এর গ্রেড এইড থেকে 'হর্ন অব গড' ওরফে 'সাইলেন্ট ডেথ ওয়ারিওর' নামের অস্ত্র আবিষ্কার করেছে
এই মারণাস্ত্র শুধু প্ল্যানেট নেবুলার সব অস্ত্র ভাণ্ডার নয়, সেখানকার সব ধরনের মেটালকে মুহূর্তের মধ্যে হাওয়া করে দিবে
ফলে প্ল্যানেট নেবুলার সব কল-কারখানা বন্ধ করা সহ অফিস-আদালত ও বাড়ি-ঘরের কাজও অচল করে দেবে
এই আবিষ্কারের কথা ঘোষিত হবার পর প্ল্যানেট নেবুলার অনুরোধে প্ল্যানেট আর্থ ও প্ল্যানেট নেবুলা'র মধ্যে বৈঠক বসল
আলোচনার পর নিঃশর্তভাবে সারেন্ডার করল নেবুলার বিজ্ঞানী ড. ক্রিস্টি ক্রায়েস্ট
এই হলো সিনেমাটির কাহিনী
সিনেমাটি শেষ হবার পর ক্রেডিট লাইনের এক জায়গায় কাহিনীর আইডিয়ার জন্যে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়েছে জনৈক বিজ্ঞানী ডঃ আরিয়েল আরিয়েহ-এর
প্রথমে দু'চারটি কথা বললেও আহমদ মুসা নির্বাকভাবে সিনেমাটি দেখা শেষ করল
সিনেমাটি তাঁকে দারুণভাবে বিস্মিত করল
তাঁর মনে হলো, তাঁদের আইআরটির প্রতিরক্ষা অস্ত্র 'সোর্ড' ও 'থ্রি জিরো'র ফোটন পারটিকেলসের বিধ্বংসী অস্ত্রের কথা পরোক্ষভাবে সিনেমায় বলা হয়েছে
সিনেমাটি আমেরিকায় তৈরি
নাম দেখা গেল, নির্মাতা সংস্থাটি একটি লিমিটেড ফার্ম
তারা এ ধরনের একটা সিনেমা কিভাবে তৈরি করতে পারল? ব্যাপারটা কাকতালীয়? একটা সাইন্স ফিকশন লেখকের চিন্তা ও একটি বাস্তবতা কি কাকতলীয়ভাবেই মিলে গেছে? কাহিনীর আইডিয়া এসেছে ড. আরিয়েল আরিয়েহর কাছ থেকে
এই বিজ্ঞানী ড. আরিয়েল আরিয়েহ কে? হঠাৎ মনে পড়ল 'থ্রি জিরো' র বিজ্ঞানী ড. আবু আবদুর রহমানের নামের শেষেও আরিয়েহ আছে
তাহলে ড. আরিয়েল আরিয়েহও কি ইহুদি বিজ্ঞানী? তাই হবে
আরিয়েল আরিয়েহ পুরোটাই হিব্রু নাম যার অর্থ ঈশ্বরের সিংহ আরিয়েহ
আর 'আরিয়েহ' হলো ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাত-এর একজন সেনাধ্যক্ষ
সিনেমার আরেকটি জিনিস আহমদ মুসার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো
সেটা হলো, ড. লেভী নিরব ধ্বংসের যে অস্ত্র তৈরি করেছে, সেটা ফোটন পারটিকেলস-এর এইটথ গ্রেড থেকে তৈরি
'থ্রি জিরো' র বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহ নিরব ধ্বংসের অস্ত্র তৈরি করেছে, সেটা তাহলে কত গ্রেড থেকে তৈরি? ফোটন পারটিকেলস-এর অষ্টম গ্রেড? কিন্তু আলোর পারটিকেলস-এর তো কোন অষ্টম গ্রেড নেই? নাম হর্ন অব গড, ড. লেভীর মারণাস্ত্রগুলো খুব মজার মনে হলো আহমদ মুসার কাছে
'হর্ন অব গড' অর্থাৎ আল্লাহ্‌র শিং-ই শেষ পর্যন্ত জয়ী হল
আহমদ মুসা চিন্তায় একেবারে বুঁদ হয়ে গিয়েছিল
কখন কথা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু সম্বিত ফিরে আসেনি আহমদ মুসার
জেনারেল মোস্তফা হাসি মুখে তাকিয়ে আছে আহমদ মুসার দিকে
এক সময় বলে উঠল, 'মি. খালেদ খাকান, আপনাকে নিয়ে এসে বৃথা যায় নি
সিনেমাটি আপনাকে দারুণভাবে ভাবাতে পেরেছে দেখছি
ভাবনার জগত থেকে ফিরে এলো আহমদ মুসা
তাকাল জেনারেল মোস্তফার দিকে
বলল, 'জেনারেল মোস্তফা, ফিল্মটি তো আপনি আগে অবশ্যই দেখেছেন
আমরা সামরিক হাসপাতালে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম, সেটার পর এ ফিল্মটি আবার দেখে আপনার কি মনে হচ্ছে?'
গম্ভীর হল জেনারেল মোস্তফা
'কিছু যে মনে হবে, এজন্যেই ফিল্মটি দেখার জন্যে আপনাকে নিয়ে এসেছি
সত্যিই আমি ভেবে অবাক হয়েছি, ফিল্মটি যেন আমাদের আইআরটির সোর্ড ও থ্রি জিরোর ফোটন মারনাস্ত্রেরই কাহিনী! পার্থক্য শুধু এটুকু যে, ফিল্মের বিজ্ঞানী ক্রিস্টি ক্রায়েস্টের 'ডিএ্যাকটিভেটিং অ্যান্ড ডিফিউজিং' অস্ত্র গিয়ে সব অস্ত্রাগারের সব অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে দেয়
আর সোর্ড মাত্র এটাকিং অস্ত্রকে আটকে ফেলে দূর আকাশে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধ্বংস করে দেয়
' বলল জেনারেল মোস্তফা
'বিষয়টাকে আপনি কি কাকতালীয় বলবেন?' জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার
'বলতে কষ্ট হবে, কিন্তু আর কি ব্যাখ্যা হতে পারে বলুন তো?' জেনারেল মোস্তফা বলল
'থ্রি জিরো ইহুদিবাদীদের সংস্থা, আর ফিল্মটিও নিশ্চয় কোন ইহুদিবাদীর পরিকল্পিত
' আহমদ মুসা বলল
'তাদের মধ্যে কোন যোগসূত্র থাকার কথা বলছেন?'
'অনুমান করে বলার মধ্যে কোন লাভ নেই
এটা অনুসন্ধানের বিষয়, বিশেষ করে বিজ্ঞানী ড. আরিয়েল আরিয়েহ কে, তা জানতে পারলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে
' আহমদ মুসা বলল
টেলিফোন বেজে উঠল জেনারেল মোস্তফার