content
stringlengths
0
129k
মানুষ চলাচলের রাস্তা পর্যন্ত নেই
ছোট ছোট যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে দাঁড়িয়ে থাকছে
গরমে কষ্ট পাচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা
ভারতগামী যাত্রী সুকুমার দেবনাথ জানান, বেনাপোল বাজার থেকে চেকপোস্ট মাত্র পাঁচ মিনিটের রাস্তা
অথচ এই রাস্তার যানজট পেরিয়ে আসতে সময় লেগেছে প্রায় দেড় ঘণ্টা
স্থানীয় চাকুরজীবী শাহাজান আলী বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর পর শিক্ষার্থীদের স্কুল খুলছে
কিন্তু রাস্তায় যানজটের যে ভয়াবহ অবস্থা তাতে বাচ্চারা সঠিক সময়ে স্কুলে যেতে পারবে না
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দরে ইচ্ছা করেই স্থান সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে
ভারত প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ৪০০ থেকে ৫০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি করলেও বাংলাদেশি পণ্য নেওয়ার
ক্ষেত্রে তারা বরাবরই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
গত চার দিনে রপ্তানি পণ্য নিয়ে অন্তত ৯০০টি ট্রাক বেনাপোল বন্দরে অপেক্ষা করছে ভারতে প্রবেশের জন্য
ভারত প্রতিদিন মাত্র ১৫০ ট্রাক রপ্তানি পণ্য গ্রহণ করছে
অন্যদিকে ভারত প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ৪০০ থেকে ৫০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি করছে
বেনাপোল ট্রাক-লরি
শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে সয়াবিনের ভুষি সেই সঙ্গে পাট ও পাটজাত দ্রব্য এবং গার্মেন্টস ঝুট ভারতে রপ্তানি হচ্ছে
প্রতিদিন এসব পণ্য নিয়ে ২৫০-৩০০ ট্রাক বেনাপোল বন্দরে আসছে
এ কারণে বন্দর এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের
সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, প্রতিদিন রপ্তানি পণ্য বোঝাই প্রায় ৩০০টি ট্রাক ভারতে প্রবেশের জন্য বেনাপোল আসলও ভারত বন্দরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১৫০টি ট্রাক
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য ভারতীয় বন্দর ব্যবহারকারীরা আগামী সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদেশের কাস্টমস, বন্দর,
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রান্সপোর্ট নেতাদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করবেন
যত দ্রæত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করা হবে
তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর কয়েক গুণ বেশি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে ভারতে
← প্রবাসী নারীর ফাঁদে পড়ে ৫৫ লাখ টাকা খোয়ালেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী → শাহবাগে দুই ভবনের মাঝে পড়ে ছিল ব্যারিস্টারের স্ত্রীর নি'থ'র দে'হ!
আমার বিয়ে হয়েছে মাত্র তিন মাস , আমি ঢাকাতে একরুমের একটা সাবলেট বাসায় থাকি
একটা রুম, সাথে বাথরুম ও ছোট্টো একটা বারান্দা
আর রান্নাঘরটা ভাগাভাগি করে চলে
ফ্লোরে একটা পাতলা তোশকের বিছানা , দুটো বালিশ , দুখানা প্লেট, দুটো বাটি দুটো গ্লাস, সবই দু-একটা করে, তাতে কোনো সমস্যা নেই
কারণ, আমি বেশি কাজকর্ম করতে পারি না তাই যা আছে তাতেই যথেষ্ট
কোনোরকম ডালভাত রান্না করি , কখনও আইসক্রিম, কখনও বার্গার, আবার কখনও প্যাকেট বিরিয়ানি খেয়ে দিন চলে যায়
দুজনের গায়েই এখনও ছাত্রজীবনের গন্ধ লেগে আছে
আর যাই হোক রোমাঞ্চ আছে প্রচুর
তিনমাস পর বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাবো
বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখাতে হবে আমি খুব ভালো আছি
এটা শুধু আমি না, প্রায় সব মেয়েই চায় বাবার বাড়ির লোক জানুক মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে খুব ভালো আছে
এটা অনেকটা নিজে ভালো থাকার জন্য, এবং সবাইকে ভালো রাখার জন্য
বিয়ের সময়ের সব জিনিস সবাই দেখে ফেলেছে
তিন মাস পর আবার সেই ব্যাগ, সেই জুতো, এসব তো পুরাতন লাগছে
সবাই ভাববে এগুলো তো বিয়ের সময়ের জিনিস
তিন মাসের মধ্যে আর কিচ্ছু কিনতে পারে নাই ? তাহলে তো ওর হাজব্যান্ডের বেতন একদম কম
এসব ভেবেচিন্তে দেখলাম, যদি কমদামিও হয় আমার নতুন কিছু কিনতে হবে
দুজন মিলে চলে গেলাম নিউমার্কেট
গিয়ে ঝকমকা একজোড়া স্যান্ডেল, সেই সাথে ঝাকানাকা একটা ভ্যানিটি ব্যাগ কিনে ফেললাম
ওহ্ কী শান্তি ! রিকশায় বসে দুজন দুটো আইসক্রিম খেতে খেতে আমার সাবলেট বাসায়
আজ শুক্রবার বাবার বাড়িতে যাবো
বনফুল থেকে মিষ্টি কিনে নিয়ে এসেছি
আমার হাজব্যান্ড খুব একটা খুশি না, ওনার একটু লজ্জা-লজ্জা লাগছে
ছেলেরা অবশ্য শ্বশুরবাড়ি যেতে একটু লজ্জাই পায়
রেডি হতে দেরি করে
ওরা সব সময় নিজের বাড়িতে যেতে গেলে দারুণ খুশি - তিন লাফে রেডি
আমার হাজব্যান্ড নিরব ও তার ব্যতিক্রম নয়
কি কষ্ট করে হাসছে ! মনে হচ্ছে শীতকাল
হাসতে গেলে ঠোঁট ফেটে যাবে
আমাদের যাত্রা শুরু গাবতলী থেকে
বাসে উঠেছি
আমার বাড়ি পদ্মা পার হলেই
বলতে পারেন পদ্মাপাড়ের মেয়ে আমি
আরিচা ঘাটে এসে লঞ্চে খুব ভিড় - ধাক্কাধাক্কি করে, ছোটোখাটো যুদ্ধশেষে লঞ্চে উঠলাম
ব্যাগের ঝামেলা নিরবের কাছে
কিন্তু লঞ্চে উঠতে গিয়েই আমার পা থেকে একটা স্যান্ডেল খুলে পানিতে পড়ে উধাও
স্যান্ডেল আর কানের দুল একটা হারিয়ে গেলে আর একটা মূল্যহীন
অগত্যা আর একটা স্যান্ডেলও আমি ভাসিয়ে দিলাম
দুই দিনের সফর তাই এক জোড়া স্যান্ডেল যথেষ্ট ছিলো
আমার এত সাধের ঝকমকা স্যান্ডেল ভেসে গেল চোখের সামনে
তবে লঞ্চে উঠেই দারুণ এক ভদ্রলোকের সাথে দেখা - আমি এতটাই মুগ্ধ আমার হাজব্যান্ড ও স্যান্ডেল দুটোই ভুলে গিয়েছি
ভদ্রলোক বেশ পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা
সুন্দর গুছিয়ে কথা বলছে
দেখতেও সুন্দর
সাক্ষাতেই উনি আমার পায়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে দিলেন আমি কোনো কিছু না ভেবেই বললাম আমার একটা স্যান্ডেল পানিতে পড়ে গেছে তাই আরেকটা রেখে কী হবে ? ওটাও ভাসিয়ে দিয়েছি
ঘটনাটা শুনে ভদ্রলোক চুপচাপ হালকা মাথা ঝাকালেন
লঞ্চে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দুজনেই পদ্মার পানির উথালপাথাল ঢেউ দেখছি
ওনাকে বেশ শুচিবাই টাইপের মনে হচ্ছে
লোকজন দেখলে এমন ভাব করছে, মনে হচ্ছে মঙ্গল গ্রহ থেকে এসেছে
এবার ওনার এক বন্ধুর সাথে ওনার গল্প শুরু হলো
দোস্ত চাকুরি না করে দেশে গিয়ে কি করছিস ? তার বন্ধুটা মনে হলো একটু গম্ভীর প্রকৃতির
সে সহাস্যে বললো গ্রামে একটা কারিগরি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি
অনেক ছাত্রছাত্রী
ভালোই আছি
কিন্তু আমার সহযাত্রী ভদ্রলোক খুব সুন্দর করে বলছে আমিও আছি রাজার হালে
একটা চাকরি করি মাঝেমাঝে ট্যুরে যাই
হোটেলে থাকি অফিস খরচ দেয়
হোটেলের ছেলেগুলো আমি রুমে ঢুকলেই নতুন সাদা চাদর পেতে দেয়
জগভর্তি পানি, গ্লাস - সব রেডি করে দেয়
দুদিন থাকি
চারশো টাকা বিল হয়
আমি কাগজটা অফিসে জমা দেই
অফিস টাকা দিয়ে দেয়
আমি খুব মনোযোগ দিয়ে গল্পগুলো শুনছি
ভদ্রলোক এত প্রশান্তি নিয়ে গল্প করছে - আমার ভীষণ ভালো লাগছে
সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার আমি যে খালিপায়ে - এটা ভুলে গেছি
আর এক ফাঁকে দেখলাম নিরব আমার উপর রেগে সানগ্লাস চোখে খুব ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে দেখছে
আমি দারুণ মজা পাচ্ছি
একদিকে ঐ ভদ্রলোক, অন্যদিকে আমার হাজব্যান্ড
যদিও আমার হাজব্যান্ড দারুণ হ্যান্ডসাম
একদম তরুণ, তবুও এই মুহূর্তে আমি তাকে নিতে পারছি না
কারণ আমি এখন ভদ্রলোকের ব্যাপারে আগ্রহী
ভদ্রলোকের বন্ধু জিজ্ঞেস করলো তোর বাসা ভাড়া কতো ? ভদ্রলোক বললো বাসা নয় একটা বাড়ি ভাড়া নিয়েছি আমার তো চোখ কপালে যেখানে আমি থাকি সাবলেট উনি পুরো একটা বাড়ি ?! আহা কী শান্তি ! টিনশেডের দুই রুমের একটা ঘর, একটা বাথরুম আর একটা রান্নাঘর সাড়ে তিন হাজার টাকা ভাড়া
সামনে একটু জায়গা আছে
আমার মেয়ে টা ওখানে খেলাধুলা করে
আমি খুব ভালো আছি